(খণ্ড: ১)
আহাম্মিয়াতু সালাতিল ইস্তিসক্বা ফিল ইসলামি ওয়াল ইসতিগাসাতিল মাশরুআহ
(পৃষ্ঠা: -)
أهمية صلاة الاستسقاء في الإسلام والاستغاثة المشروعة القسم: مسائل فقهية
الكتاب: أهمية صلاة الاستسقاء في الإسلام والاستغاثة المشروعة
المؤلف: عزيزو محمد المغربي
الناشر: الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة
الطبعة: السنة السادسة - العدد الرابع - ربيع ثاني 1394هـ - ابريل 1974م
عدد الصفحات: 137
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইসলামে ইস্তিসকা নামাজের গুরুত্ব এবং শরীয়তসম্মত সাহায্য প্রার্থনা বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ
গ্রন্থ: ইসলামে ইস্তিসকা নামাজের গুরুত্ব এবং শরীয়তসম্মত সাহায্য প্রার্থনা
লেখক: আজিজু মুহাম্মদ আল-মাগরিবি
প্রকাশক: মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়
সংস্করণ: ষষ্ঠ বর্ষ - চতুর্থ সংখ্যা - রবিউস সানি ১৩৯৪ হিজরি - এপ্রিল ১৯৭৪ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৩৭
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সংগতিপূর্ণ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আহাম্মিয়াতু সালাতিল ইস্তিসক্বা ফিল ইসলামি ওয়াল ইসতিগাসাতিল মাশরুআহ
(পৃষ্ঠা: ১৩২)
أهمية صلاة الاستسقاء في الإسلام والاستغاثة المشروعةللطالب محمد عزيزو المغربي الطالب بالمعهد الثانوي بالجامعة
لقد أعلن جلالة الملك فيصل حفظه الله وأطال عمره لخدمة الإسلام والمسلمين، عن إقامة صلاة الاستسقاء في أنحاء المملكة نظراً لتأخر نزول المطر، وسمع الناس النداء الملكي عن طريق الإذاعة والتلفزيون وفي المساجد، وعُيّن اليوم المشهود لذلك. ولكن مع كامل الأسف والحسرة تخلف الكثير من المسلمين وكأن الأمر لا يعنيهم. ففُتحت المتاجر وعُرضت السلع والبضائع أمام مرأى المارين الممتثلين الأمر والقاصدين المسجد النبوي على صاحبه أفضل الصلاة وأزكى التسليم. هذا المسجد العظيم الذي لم يمتلئ يوْمَها. وكان ينبغي أن يعمره المسلمون فيضيق بهم. وما ذلك التخلف إلا لجهلهم بحكمة وشدة حاجة الملة إلى هذه الشعيرة التعبدية العظيمة.
والاستسقاء هو طلب السقي أو الماء أو الغيث كما سماه الله تعالى في كثير من آيات كتابه العزيز. ولا يُطلب الغيث إلا من المغيث سبحانه وتعالى الذي يقدر وحده على إنزاله. وليس إنزال المطر مجرّد بُخار البحر تحت تأثير حرّ الشمس كما تدعيه عقولٌ مؤمنةٌ بالطبيعة إيماناً أعمى وكافرةٌ وجاحدةٌ لوجود الله، خالق الكون كله ورب العالمين. ثم هذه الطبيعة من خلقها وأوجدها؟ وهل تسمع وتبصر وتعطي وتمنع أم هي صمّاء وعمياء عاجزة لا تقدر؟ ولماذا لم تخلق البشر على صورة واحدة وطبع واحد؟ أأخطأت التقدير أم أساءت التدبير؟ أين عقولكم يا قوم؟
ইসলামে বৃষ্টি কামনার সালাতের গুরুত্ব এবং শরীয়তসম্মত আর্তিবিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমিক ইনস্টিটিউটের ছাত্র মুহাম্মদ আজিজু আল-মাগরিবি কর্তৃক
মহামান্য বাদশাহ ফয়সাল (আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন এবং ইসলাম ও মুসলিমদের সেবার জন্য তাঁর হায়াত দীর্ঘ করুন) বৃষ্টি বর্ষণে বিলম্ব হওয়ার কারণে রাজ্যের সর্বত্র বৃষ্টি কামনার সালাত আদায়ের ঘোষণা দিয়েছেন। মানুষ রেডিও, টেলিভিশন এবং মসজিদের মাধ্যমে রাজকীয় ঘোষণা শুনতে পায় এবং এর জন্য একটি বিশেষ দিন নির্ধারিত হয়েছিল। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপ ও আফসোসের বিষয় এই যে, অনেক মুসলিমই এতে অংশগ্রহণ করেনি, যেন বিষয়টি তাদের কোনো উদ্বেগের কারণই নয়। ফলে দোকানপাট খোলা ছিল এবং সেইসব পথচারীদের চোখের সামনেই পণ্যসামগ্রী প্রদর্শিত হচ্ছিল যারা নির্দেশ পালনকারী এবং মসজিদে নববীর (এর অধিকারীর প্রতি সর্বোত্তম দরুদ ও পবিত্রতম সালাম বর্ষিত হোক) উদ্দেশ্যে গমনকারী ছিল। এই মহান মসজিদ সেদিন পূর্ণ হয়নি, অথচ উচিত ছিল মুসলিমরা এটি কানায় কানায় পূর্ণ করে দেবে। এই বিমুখতা কেবল এই মহান ইবাদতগত বিধানের নিহিত তাৎপর্য এবং এর প্রতি উম্মাহর তীব্র মুখাপেক্ষিতা সম্পর্কে তাদের অজ্ঞতার কারণেই।
ইসতিসকা হলো সেচ, পানি অথবা বৃষ্টির প্রার্থনা; যেমনটি আল্লাহ তাআলা তাঁর মহিমান্বিত কিতাবের বহু আয়াতে একে বৃষ্টি হিসেবে অভিহিত করেছেন। আর এই বৃষ্টি কেবল সাহায্যকারী সুবহানাহু ওয়া তাআলার নিকটই প্রার্থনা করা হয়, যিনি এককভাবে এটি বর্ষণে সক্ষম। বৃষ্টি বর্ষণ কেবল সূর্যের উত্তাপে সমুদ্রের বাষ্পীভবন নয়, যেমনটি সেইসব মস্তিষ্ক দাবি করে যারা প্রকৃতির প্রতি অন্ধ বিশ্বাসী এবং মহাবিশ্বের স্রষ্টা ও রব্বুল আলামীন আল্লাহর অস্তিত্বের প্রতি অবিশ্বাসী ও অস্বীকারকারী। তবে এই প্রকৃতিকে কে সৃষ্টি করেছেন এবং অস্তিত্ব দান করেছেন? এটি কি শুনতে পায়, দেখতে পায়, দান করে বা কোনো কিছু রোধ করে? নাকি এটি বধির, অন্ধ এবং অক্ষম যা কোনো ক্ষমতা রাখে না? কেন এটি মানুষকে একই আকৃতি ও অভিন্ন স্বভাবে সৃষ্টি করল না? এটি কি পরিমাপে ভুল করেছে নাকি ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি করেছে? হে জাতি! তোমাদের বিবেক কোথায়?
(খণ্ড: ১)
আহাম্মিয়াতু সালাতিল ইস্তিসক্বা ফিল ইসলামি ওয়াল ইসতিগাসাতিল মাশরুআহ
(পৃষ্ঠা: ১৩৩)
جاء عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه قال: "مفاتيح الغيب خمس ثم قرأ قوله تعالى: {إِنَّ اللَّهَ عِنْدَهُ عِلْمُ السَّاعَةِ وَيُنَزِّلُ الْغَيْثَ وَيَعْلَمُ مَا فِي الأَرْحَامِ وَمَا تَدْرِي نَفْسٌ مَاذَا تَكْسِبُ غَداً وَمَا تَدْرِي نَفْسٌ بِأَيِّ أَرْضٍ تَمُوتُ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ} ".
هذا الحديث انفرد به البخاري عن مسلم.
ويقول الله عز وجل: {وَهُوَ الَّذِي يُنَزِّلُ الْغَيْثَ مِنْ بَعْدِ مَا قَنَطُوا وَيَنْشُرُ رَحْمَتَهُ وَهُوَ الْوَلِيُّ الْحَمِيدُ} . فسمى الله الغيث رحمة إذ تهتز به الأرض وتربو وتنبت من كل زوج بهيج فتسر الناظرين بعد أن لكانت يابسة ميْتة فينتفع بها الناس والحيوان. والله تعالى ينزل الغيث لحكمة ويؤخره أو يمنعه لأخرى، في الوقت الذي يشاء فيصيب به جهة دون جهة وقوما دون آخرين. ويسلّطه عقاباً أليماً على عباد له عصَوْه وفسقوا عن أمره: {وَأَمْطَرْنَا عَلَيْهِمْ مَطَراً فَسَاءَ مَطَرُ الْمُنْذَرِينَ}
ولا يهمني في عرض هذا الحديث ذكر صفة هذه الصلاة لأن كتب الحديث والفقه هي المرجع الوحيد، بقدر ما يهمني جوهرها. وأعني بالجوهر هو الدعاء والتضرع المشروع فيها، والإنابة والتوبة المرجُوّة منها، والاستقامة على أمر الله ليحصل المقصود منها. أجل إن الدعاء هو العبادة ولُبها. فإن مظهر هذه الصلاة بما فيه من خطبة ووقوف وتحويل للأردية ورفع للأيدي مع الضراعة إلى الله غافر الذنب وقابل التوب، شديد العقاب ذي الطول، بقلوب منيبة معترفة بالخطأ والتقصير نحو الله جلّ وعلا، نادمة وعازمة على الإقلاع عن المعاصي والمخالفات التي تغضب رب الكائنات _ إذ الغضب صفة من صفاته _ مع عدم الرجوع إلى المنهيات؛ وبذلك تَتِمُ شروط توبتها إلى بارئها. هذا المظهر بمافيه من رفع الأيدي السائلة، والعيون الدامعة الذارفة، والأصوات الخافتة، لَهُوَ صورة حية ناطقة وشاهدة على إعلان العباد الافتقار إلى رحمة الله والاحتياج إلى مغفرة الله. وربنا يحب _ إذ المحبة صفة أخرى من صفاته التي تليق بجلاله وعظيم سلطانه _ أن يرى عبده متذللاً خاضعاً، ومنكسر القلب حياء من الرب. ومتى كان العباد صادقين في الطلب وإخلاص الدعاء له، استجاب لهم ربهم
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "অদৃশ্যের চাবিকাঠি পাঁচটি।" অতঃপর তিনি মহান আল্লাহর এই বাণী পাঠ করলেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট কিয়ামতের জ্ঞান রয়েছে, তিনি বৃষ্টি বর্ষণ করেন, মাতৃগর্ভে যা আছে তা তিনি জানেন, কেউ জানে না আগামীকাল সে কী অর্জন করবে এবং কেউ জানে না কোন স্থানে সে মৃত্যুবরণ করবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সম্যক অবহিত।}
এই হাদিসটি ইমাম মুসলিমের বিপরীতে ইমাম বুখারি এককভাবে বর্ণনা করেছেন (انفرد به)।
মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন: {আর তিনিই সেই সত্তা যিনি মানুষেরা হতাশ হওয়ার পর বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং তাঁর রহমত ছড়িয়ে দেন, আর তিনিই অভিভাবক, চির প্রশংসিত।} আল্লাহ তায়ালা বৃষ্টিকে রহমত হিসেবে নামকরণ করেছেন, কারণ এর মাধ্যমে মৃত জমিন সজীব ও স্পন্দিত হয় এবং সব ধরনের নয়নাভিরাম উদ্ভিদ উৎপন্ন করে যা দর্শকদের আনন্দিত করে, ফলে মানুষ ও পশুরা তা থেকে উপকৃত হয়। আল্লাহ তায়ালা কোনো এক হিকমতের কারণে বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং অন্য কোনো হিকমতের কারণে তা বিলম্বিত বা বন্ধ রাখেন; তিনি যখন ইচ্ছা করেন তখন এক অঞ্চলে বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং অন্য অঞ্চলে করেন না, কোনো সম্প্রদায়ের ওপর বর্ষণ করেন কিন্তু অন্যদের ওপর করেন না। আবার কখনো তিনি একে তাঁর অবাধ্য ও পাপাচারী বান্দাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি হিসেবে চাপিয়ে দেন: {আর আমি তাদের ওপর এক বিশেষ বৃষ্টি বর্ষণ করলাম; সুতরাং যাদের সতর্ক করা হয়েছিল তাদের ওপর বর্ষিত সেই বৃষ্টি ছিল কতই না মন্দ।}
এই হাদিসটি উপস্থাপনের ক্ষেত্রে এই নামাজের পদ্ধতি বর্ণনা করা আমার কাছে মুখ্য নয়, কারণ হাদিস ও ফিকহের কিতাবসমূহ এর একমাত্র উৎস; বরং এর মূল নির্যাসটুকুই আমার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। নির্যাস বলতে আমি এতে শরয়ি দোয়া ও কাকুতি-মিনতি, এর মাধ্যমে প্রত্যাশিত আল্লাহর প্রতি প্রত্যাবর্তন ও তাওবা এবং এর উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য আল্লাহর নির্দেশের ওপর অবিচল থাকাকে বোঝাচ্ছি। হ্যাঁ, দোয়াই হলো ইবাদত এবং এর মূল সারবস্তু। এই নামাজের যে অবয়ব—যার মধ্যে রয়েছে খুতবা প্রদান, দণ্ডায়মান হওয়া, চাদর পরিবর্তন করা এবং গুনাহ ক্ষমাকারী, তাওবা কবুলকারী, কঠোর শাস্তিদাতা ও মহানুভব আল্লাহর দরবারে বিনীত প্রার্থনা ও হাত উত্তোলন—তা মূলত মহান আল্লাহর দরবারে নিজেদের ভুল ও ত্রুটি স্বীকারকারী এক বিনীত হৃদয়ের বহিঃপ্রকাশ। এটি জগৎসমূহের প্রতিপালককে রাগান্বিত করে এমন সব পাপাচার ও অবাধ্যতা পরিহার করার অনুশোচনা ও দৃঢ় সংকল্পের নাম (কেননা ক্রোধ তাঁর একটি গুণ)—যেন আর কখনো নিষিদ্ধ কাজগুলোতে ফিরে না যেতে হয়; আর এর মাধ্যমেই স্রষ্টার সমীপে তাওবার শর্তসমূহ পূর্ণ হয়। প্রার্থনাকারীর উত্তোলিত হাত, অশ্রুসজল চোখ এবং অবনমিত কণ্ঠস্বরের এই দৃশ্যটি বান্দার পক্ষ থেকে আল্লাহর রহমতের প্রতি চরম মুখাপেক্ষিতা এবং তাঁর ক্ষমার প্রয়োজনের এক জীবন্ত চিত্র ও সাক্ষী। আমাদের প্রতিপালক পছন্দ করেন (কেননা ভালোবাসা তাঁর মহিমা ও সুমহান কর্তৃত্বের উপযুক্ত তাঁর একটি গুণ) তাঁর বান্দাকে হীনতা ও আনুগত্য প্রকাশকারী এবং প্রভুর লজ্জায় বিদীর্ণ হৃদয়ের অধিকারী হিসেবে দেখতে। আর বান্দারা যখন প্রার্থনা ও একনিষ্ঠভাবে দোয়া করার ক্ষেত্রে সত্যবাদী হয়, তখন তাদের প্রতিপালক তাদের ডাকে সাড়া দেন।
(খণ্ড: ১)
আহাম্মিয়াতু সালাতিল ইস্তিসক্বা ফিল ইসলামি ওয়াল ইসতিগাসাতিল মাশরুআহ
(পৃষ্ঠা: ১৩৪)
ومالكهم وهذا عام في كل العبادات. مِصْداق هذا قوله تعالى على لسان عبده ورسوله نوح عليه السلام {فَقُلْتُ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ إِنَّهُ كَانَ غَفَّارا} . الآية.. . وقوله تعالى: {وإذا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنِّي فَإِنِّي قَرِيبٌ أُجِيبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ فَلْيَسْتَجِيبُوا لِي وَلْيُؤْمِنُوا بِي لَعَلَّهُمْ يَرْشُدُونَ} . وكان السلف الصالح _ رضي الله عنهم _ لا يبرحون مصلاهم حتى تنالهم رحمة الله ويُسقون. وما ذلك الفضل إلاّ لإخلاصهم الدعاء لله تعالى. وإذا أردنا أن نقارن أنفسنا بهم وبمن بعدهم فلا وجه للمقارنة بيننا وبينهم. كم سنزن بجانبهم؟ إذا حاولنا ذاك استصغرنا أنفسنا واحتقرناها وضِعْناَ. فلنستغفر ربنا ولنتب إليه ولنستقم على دينه وشريعته إننا عندما نصلي صلاة الاستسقاء في المساجد وغيرها، إحياء لهذه السنة الكريمة، تمضي الشهور ولا نرى قطرة من الماء تنزل من السماء، بل قد ينقشع السحاب الذي جلل وغطى السماء ونتوقع منه المطر والسقي إذا أذن له خالقه. وليس هناك فرق بين زماننا وزمان الصدر الأول بالنسبة للمظاهر الكونية بل إن الثابت والمشاهد أن الله تعالى بسط علينا من نعمه ما لم يبسطه عليهم مع تميزهم علينا بتقوى الله وطاعته بالتزام كتابه وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم، في حين أننا قد هجرنا تحكيم الكتاب والسنة ونبذناهما وراء ظهرنا.
فاللهم ردنا إلى دينك رداً جميلاً.
وبالمناسبة
أشرح بإيجاز حديث عمر بن الخطاب رضي الله عنه في الاستسقاء بالعباس بن عبد المطلب، عم الرسول صلى الله عليه وسلم تسليماً كثيراً؛ لأن كثيرا ممن ينتسب إلى العلم، وكل العوام الذين ما حققوا توحيد الله بأنواعه، واتباع رسوله صلى الله عليه وسلم علماً ومعرفة فأحرى تطبيقاً _ يغلطون ويغالطون أنفسهم وغيرهم ويحتجون بهذا الحديث _ وبحديث الأعمى الذي جاء يطلب من النبي صلى الله عليه وسلم أن يدعو الله له ليرد عليه بصره 1 _ يحتجون به في جواز التوسل بالرسول صلى الله عليه وسلم أي بذاته. والحقيقة
--------------------------------------------
এবং তাঁদের মালিক; আর এটি সকল ইবাদতের ক্ষেত্রে সাধারণ। এর প্রমাণ হলো তাঁর বান্দা ও রাসূল নূহ আলাইহিস সালামের জবানিতে মহান আল্লাহর বাণী: {আমি বলেছি, তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো, নিশ্চয়ই তিনি পরম ক্ষমাশীল}। (আয়াতের শেষ পর্যন্ত)। এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আর যখন আমার বান্দারা আমার সম্পর্কে আপনাকে জিজ্ঞাসা করে, আমি তো নিকটেই। আমি আহ্বানকারীর ডাকে সাড়া দেই যখন সে আমাকে ডাকে। সুতরাং তারা যেন আমার ডাকে সাড়া দেয় এবং আমার প্রতি ঈমান আনে, যাতে তারা সঠিক পথ পায়}। সালাফে সালেহীন (السلف الصالح) —আল্লাহ তাঁদের ওপর সন্তুষ্ট হোন— তাঁদের সালাতের স্থান ত্যাগ করতেন না যতক্ষণ না আল্লাহর রহমত তাঁদের ওপর বর্ষিত হতো এবং তাঁরা বৃষ্টিসিক্ত হতেন। আর এই শ্রেষ্ঠত্ব অর্জিত হয়েছে কেবল মহান আল্লাহর প্রতি তাঁদের দোয়ার একনিষ্ঠতার কারণেই। যদি আমরা নিজেদেরকে তাঁদের সাথে এবং তাঁদের পরবর্তীগণের সাথে তুলনা করতে চাই, তবে আমাদের ও তাঁদের মধ্যে তুলনার কোনো অবকাশ নেই। তাঁদের পাশে আমাদের ওজন কতটুকু হবে? যদি আমরা তা করার চেষ্টা করি, তবে আমরা নিজেদের তুচ্ছ ও হীন মনে করব এবং পথ হারাব। সুতরাং আসুন আমরা আমাদের রবের কাছে ক্ষমা চাই, তাঁর কাছে তাওবা করি এবং তাঁর দ্বীন ও শরীয়তের ওপর অবিচল থাকি। আমরা যখন এই মহিমান্বিত সুন্নাহ (سنة) পুনর্জীবিত করতে মসজিদে এবং অন্যান্য স্থানে বৃষ্টির জন্য সালাত বা ইস্তিসকা (استسقاء) আদায় করি, তখন মাসের পর মাস অতিবাহিত হয় কিন্তু আকাশ থেকে এক ফোঁটা পানিও বর্ষিত হতে দেখি না। বরং আকাশকে আচ্ছাদনকারী যে মেঘমালা থেকে আমরা বৃষ্টি ও সিক্ত হওয়ার প্রত্যাশা করি, তা স্রষ্টার অনুমতি পেলে অনেক সময় সরে যায়। মহাজাগতিক নিদর্শনের বিচারে আমাদের সময় এবং ইসলামের প্রথম যুগের (الصدر الأول) সময়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। বরং এটি সুপ্রতিষ্ঠিত ও প্রত্যক্ষ যে, মহান আল্লাহ আমাদের ওপর তাঁর এমন নেয়ামতরাজি বিস্তৃত করেছেন যা তাঁদের ওপর করেননি; অথচ তাঁরা আল্লাহর তাকওয়া (تقوى), তাঁর আনুগত্য এবং তাঁর কিতাব ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ (سنة) অনুসরণের মাধ্যমে আমাদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ ছিলেন। অন্যদিকে আমরা কিতাব ও সুন্নাহর (سنة) বিধানকে বর্জন করেছি এবং সেগুলোকে আমাদের পেছনে ছুড়ে ফেলেছি।
হে আল্লাহ! আপনি আমাদের আপনার দ্বীনের দিকে সুন্দরভাবে ফিরিয়ে নিন।
প্রসঙ্গক্রমে আমি
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চাচা আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিবের মাধ্যমে ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর বৃষ্টির প্রার্থনার বা ইস্তিসকার (استسقاء) হাদিসটি সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করব; কারণ ইলমের সাথে সংশ্লিষ্ট অনেকে এবং সেই সব সাধারণ মানুষ যারা আল্লাহর তাওহিদ (توحيد) ও এর প্রকারভেদ সম্পর্কে অবগত হয়নি এবং জ্ঞান ও প্রজ্ঞার সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণকে পূর্ণ করেনি—প্রয়োগের বিষয়টি তো আরও পরের কথা—তারা ভুল করছে এবং নিজেদের ও অন্যদের বিভ্রান্ত করছে। তারা এই হাদিস এবং সেই অন্ধ ব্যক্তির হাদিস দিয়ে দলিল পেশ করে—যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আবেদন করতে এসেছিল যাতে তিনি আল্লাহর নিকট তার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য দোয়া করেন (১)—রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সত্তার মাধ্যমে অসীলা বা তাওয়াসসুল (توسل) গ্রহণের বৈধতার পক্ষে। আর প্রকৃত সত্য হলো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহাম্মিয়াতু সালাতিল ইস্তিসক্বা ফিল ইসলামি ওয়াল ইসতিগাসাতিল মাশরুআহ
(পৃষ্ঠা: ১৩৫)
أنهم ما عقلوا معناه. وإليك أخي المسلم الحائر الجواب، والله الهادي للصواب.
أصاب المدينة _ عام الرمادة _ قحط أجدب الأرض، على عهد الخليفة الراشد عمر ابن الخطاب رضي الله عنه، فاجتمع الناس في مسجد الرسول صلى الله عليه وسلم، وتقدم عمر أمير المؤمنين، وقد تيقن أنه فقد أغلى كنز وهو رسول الله صلى الله عليه وسلم الذي ما دعا الله إلاّ واستجاب له. فتواضعاً منه رضي الله عنه وهو الإمام في الدين والدنيا، التمس أتقى الناس وأخيرهم لأن جلال الموقف وعِظَم الخطب يقتضي ذلك، فعيّن العباس لأنه من قرابة الرسول صلى الله عليه وسلم وطلب منه أن يدعو الله تعالى. فقام العباس رضي الله عنه وتوضأ _ والوضوء وسيلة وعمل صالح تعبدنا الله به إذ هو مكفر للصغائر _ ودعا الله عز وجل، ولتطمئن أخي المسلم من صحة ما بينت لك، إليك هذا النقل الوارد في كتاب فتح الباري شرح البخاري، الجزء الثاني ص396 _ و399 في (باب سؤال الناس الإمام الاستسقاء) .
"وقد بيّن الزبير بن بكار في الأنساب
صفة ما دعا به العباس في هذه الواقعة والوقت الذي وقع فيه ذلك فأخرج بإسناد له أن العباس لما استسقى به عمر قال: اللهم إنه لم ينزل بلاء إلاّ بذنب ولم يكشف إلاّ بتوبة وقد توجه القوم بي إليك لمكاني من نبيك، وهذه أيدينا إليك بالذنوب ونواصينا إليك بالتوبة فاسقنا الغيث، فأرخت السماء مثل الجبال حتى أخصبت الأرض وعاش الناس". وأخرج من طريق داود عن عطاء عن زيد بن أسلم عن ابن عمر بن الخطاب عام الرمادة أن عمر استسقى بالعباس بن عبد المطلب فذكر الحديث. وفيه فخطب الناس عمر فقال: "إن الرسول صلى الله عليه وسلم كان يرى الولد للوالد فاقتدوا أيها الناس برسول الله صلى الله عليه وسلم في عمه العباس واتخذوه وسيلة إلى الله". وفيه فما برحوا حتى سقاهم الله. انتهى الحديث.
وورد أيضا: "حدثنا الحسن بن محمد حدثنا ابن عبد الله الأنصاري حدثني أبي عبد الله بن المثنى عن ثمامة بن عبد الله بن أنس رضي الله عنه أن عمر بن الخطاب كان إذا قُحِطوا استسقى بالعباس ابن عبد المطلب فقال: اللهم إنا
তারা এর মর্মার্থ অনুধাবন করতে পারেনি। হে বিভ্রান্ত মুসলিম ভাই, আপনার জন্য এখানে উত্তর উপস্থাপন করা হলো; আর আল্লাহই সঠিক পথের দিশারি।
খোলাফায়ে রাশেদিনের খলিফা ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর শাসনামলে 'আমুর রামাদা' বা দুর্ভিক্ষের বছর মদিনায় এক চরম খরা দেখা দেয় যা ভূমিকে শুষ্ক ও উষর করে ফেলে। তখন লোকসকল রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মসজিদে সমবেত হলেন। আমিরুল মুমিনিন ওমর (রা.) সামনে অগ্রসর হলেন। তিনি নিশ্চিতভাবে জানতেন যে, তিনি তাঁর সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ অর্থাৎ রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে হারিয়েছেন, যাঁর দোয়া আল্লাহ সর্বদা কবুল করতেন। দ্বীন ও দুনিয়ার ইমাম হওয়া সত্ত্বেও তাঁর বিনয়বশত তিনি সর্বাপেক্ষা মুত্তাকি ও শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিকে অন্বেষণ করলেন, কারণ পরিস্থিতির গাম্ভীর্য ও সংকটের বিশালতা তাই দাবি করছিল। অতঃপর তিনি আব্বাস (রা.)-কে মনোনীত করলেন যেহেতু তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নিকটাত্মীয় ছিলেন এবং তাঁর নিকট মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করার অনুরোধ জানালেন। আব্বাস (রা.) দণ্ডায়মান হলেন এবং অজু করলেন—আর অজু একটি অসিলা ও নেক আমল যার মাধ্যমে আল্লাহ আমাদের ইবাদতের নির্দেশ দিয়েছেন, যেহেতু এটি সগিরা গুনাহসমূহের কাফফারা। এরপর তিনি মহান পরাক্রমশালী আল্লাহর নিকট দোয়া করলেন। হে মুসলিম ভাই, আপনার নিকট আমি যা বর্ণনা করেছি তার বিশুদ্ধতা (صحة) সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার জন্য ফাতহুল বারী শারহু সহিহিল বুখারি গ্রন্থের দ্বিতীয় খণ্ডের ৩৯৬ ও ৩৯৯ পৃষ্ঠার (ইমামের নিকট মানুষের ইস্তিসকা বা বৃষ্টির প্রার্থনার অধ্যায়) এই উদ্ধৃতিটি লক্ষ্য করুন।
"জুবায়ের ইবনে বাক্কার 'আল-আনসাব' গ্রন্থে
এই ঘটনায় আব্বাস (রা.) যে পদ্ধতিতে দোয়া করেছিলেন তার বিবরণ এবং সেই সময়টি উল্লেখ করেছেন। তিনি তাঁর একটি সনদ (إسناد)-এর মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন যে, ওমর (রা.) যখন আব্বাস (রা.)-কে দিয়ে বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করালেন, তখন আব্বাস (রা.) বললেন: হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই কোনো বিপদ গুনাহ ব্যতীত অবতীর্ণ হয় না এবং তাওবা ব্যতীত তা দূরীভূত হয় না। আপনার নবীর সাথে আমার সম্পর্কের কারণে এই কওম আমার মাধ্যমে আপনার অভিমুখী হয়েছে। গুনাহসহ আমাদের এই হাতগুলো আপনার দিকে প্রসারিত এবং তাওবা নিয়ে আমাদের ললাট আপনার অভিমুখী। অতএব আমাদের বৃষ্টি দান করুন। তখন আকাশ পাহাড়ের ন্যায় মেঘমালা নিয়ে বৃষ্টি বর্ষণ করল, এমনকি ভূমি উর্বর হলো এবং মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন শুরু করল।" এবং দাউদ থেকে আতা, যায়েদ ইবনে আসলাম ও ইবনে ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর সূত্রে (طريق) দুর্ভিক্ষের বছরের বর্ণনায় বর্ণিত হয়েছে যে, ওমর (রা.) আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব (রা.)-এর মাধ্যমে বৃষ্টির প্রার্থনা করিয়েছেন এবং হাদিসটি উল্লেখ করেছেন। সেখানে বর্ণিত আছে যে, ওমর (রা.) মানুষের উদ্দেশ্যে খুতবা প্রদান করলেন এবং বললেন: "নিশ্চয়ই রাসুলুল্লাহ (সা.) পিতৃব্যের প্রতি পিতার ন্যায় শ্রদ্ধা পোষণ করতেন। হে লোকসকল, তোমরা তাঁর পিতৃব্য আব্বাসের ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অনুসরণ করো এবং তাঁকে আল্লাহর নৈকট্য লাভের অসিলা হিসেবে গ্রহণ করো।" সেখানে আরও বর্ণিত হয়েছে যে, তারা সেখান থেকে প্রস্থানের পূর্বেই আল্লাহ তাদের বৃষ্টি দান করলেন। হাদিস সমাপ্ত।
আরও বর্ণিত হয়েছে: "হাসান ইবনে মুহাম্মদ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثنا), ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আনসারি আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثنا), আমার পিতা আমাকে বর্ণনা করেছেন (حدثني) আব্দুল্লাহ ইবনুল মুসান্না থেকে, তিনি সুমামা ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) যখন অনাবৃষ্টির কবলে পড়তেন, তখন আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব (রা.)-এর মাধ্যমে বৃষ্টির প্রার্থনা করতেন। তিনি বলতেন: হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আমরা..."
(খণ্ড: ১)
আহাম্মিয়াতু সালাতিল ইস্তিসক্বা ফিল ইসলামি ওয়াল ইসতিগাসাতিল মাশরুআহ
(পৃষ্ঠা: ১৩৬)
كنا نتوسل بنبينا صلى الله عليه وسلم فتسقنا وإنا نتوسل إليك بعم نبينا فاسقنا قال فيُسقوْن". رواه البخاري.
قلت: قوله: "اللهم إنا كنا نستسقي بنبينا فتسقنا": أي بدعاء نبينا وهو صلى الله عليه وسلم حي يتلقى الوحي وبدليل أنه كان يدعو الله ويتضرع إليه وهو الذي شرع لنا الدعاء ولو شرع لنا غيره لما وسعنا إلاّ اتباعه لأنه أعطانا قاعدة جليلة وميزاناً منصفاً: "من عمل عملاً ليس عليه أمرنا فهو رد". رواه البخاري عن عائشة رضي الله عنها.
وقوله: "وإنا نتوسل إليك بعم نبينا فاسقنا" والعباس يومئذ حي يُرزق وقام وتوضأ ودعا. ثم في الحديث محذوف فُهِم من السياق (ودعاء نبينا، ودعاء عم نبينا) . واعلم أخي المتطلع إلى طريق الحق أن التوسل يكون بالأعمال الصالحة المشروعة وبالدعاء. وقد بيّن رسول الله صلى الله عليه وسلم، الناصح الأمين، إيضاح ذلك في حديث الثلاثة نفر الذين آواهم المبيت إلى غار في الجبل فانحدرت صخرة من أعلى الجبل فسدت عليهم الغار إلى آخر الحديث1.
وأما الوسيلة التي يدافع عنها بعضهم ويعادي فيها _ حتى في موسم الحج وقد جاء لمغفرة الذنوب وتصحيح العقيدة في مهبط الوحي ومهد أنصار السلفية _ وهي
التوسل بذوات الأموات والأحياء فهي غير مشروعة من هنا نعلم أنها باطلة لا تجدي نفعاً.
وأما المشروعة هي أن تقول: اللهم إني أتوسل إليك وأتقرب إليك بإيماني بنبيك، وأنت مؤمن به، أو تقول: بمحبتي لنبيك وأنت تحبه، بأتباعي لنبيك وأنت صادق تتبعه.
--------------------------------------------
"আমরা আমাদের নবির মাধ্যমে আপনার কাছে ওয়াসিলা (التوسل) করতাম এবং আপনি আমাদের বৃষ্টি দিতেন। এখন আমরা আমাদের নবির চাচার মাধ্যমে আপনার কাছে ওয়াসিলা (التوسل) করছি, অতএব আপনি আমাদের বৃষ্টি দান করুন।" বর্ণনাকারী বলেন: "অতঃপর তাদের বৃষ্টি দেওয়া হতো।" এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন।
আমি বলি: তাঁর উক্তি "হে আল্লাহ! আমরা আমাদের নবির মাধ্যমে বৃষ্টির প্রার্থনা করতাম এবং আপনি আমাদের বৃষ্টি দিতেন": অর্থাৎ আমাদের নবির দোয়ার মাধ্যমে, যখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জীবিত ছিলেন এবং ওহি প্রাপ্ত হতেন। এর প্রমাণ হলো, তিনি আল্লাহর কাছে দোয়া করতেন ও অনুনয়-বিনয় করতেন। আর তিনিই আমাদের জন্য দোয়া করার বিধান প্রবর্তন করেছেন। তিনি যদি আমাদের জন্য অন্য কোনো বিধান দিতেন, তবে তা অনুসরণ করা ছাড়া আমাদের কোনো উপায় থাকত না। কেননা তিনি আমাদের একটি মহান মূলনীতি ও ন্যায়নিষ্ঠ মানদণ্ড প্রদান করেছেন: "যে ব্যক্তি এমন কোনো কাজ করবে যা আমাদের শরয়ি নির্দেশের বহির্ভূত, তা প্রত্যাখ্যাত (رد)"। এটি আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বুখারি বর্ণনা করেছেন।
আর তাঁর উক্তি: "আর আমরা আপনার কাছে আমাদের নবির চাচার মাধ্যমে ওয়াসিলা (التوسل) করছি, অতএব আমাদের বৃষ্টি দান করুন"; আব্বাস (রা.) তখন জীবিত ছিলেন এবং রিযিকপ্রাপ্ত হচ্ছিলেন। তিনি দাঁড়িয়েছিলেন, অজু করেছিলেন এবং দোয়া করেছিলেন। অতঃপর এই হাদিসে উহ্য কিছু অংশ রয়েছে যা প্রসঙ্গের প্রেক্ষাপটে বোঝা যায় (যেমন: আমাদের নবির দোয়া এবং আমাদের নবির চাচার দোয়া)। হে সত্যের সন্ধানী ভাই! জেনে রাখুন যে, ওয়াসিলা (التوسل) হয়ে থাকে বৈধ নেক আমল এবং দোয়ার মাধ্যমে। বিশ্বস্ত নসিহতকারী রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পাহাড়ের গুহায় আশ্রয় গ্রহণকারী সেই তিন ব্যক্তির হাদিসে এর স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন, যাদের ওপর পাহাড়ের চূড়া থেকে একটি পাথর গড়িয়ে পড়ে গুহার মুখ বন্ধ করে দিয়েছিল... হাদিসের শেষ পর্যন্ত।
আর সেই মাধ্যম (الوسيلة), যার পক্ষে কেউ কেউ ওকালতি করে এবং এর স্বপক্ষে শত্রুতা পোষণ করে—এমনকি হজের মৌসুমেও, অথচ হজ এসেছে গুনাহ মাফ এবং আকিদা সংশোধনের জন্য ওহির অবতরণস্থলে ও সালাফিদের সাহায্যকারীদের চারণভূমিতে—আর তা হলো
মৃত বা জীবিত ব্যক্তিদের সত্তার মাধ্যমে ওয়াসিলা (التوسل); এটি শরয়িভাবে অনুমোদিত নয়। এখান থেকে আমরা জানতে পারি যে, এটি বাতিল (باطل) এবং কোনো উপকারে আসে না।
আর শরয়িভাবে অনুমোদিত পদ্ধতি হলো আপনি বলবেন: "হে আল্লাহ! আমি আপনার নবির প্রতি আমার ঈমানের মাধ্যমে আপনার নিকট ওয়াসিলা (التوسل) করছি ও আপনার নৈকট্য প্রার্থনা করছি"—এমতাবস্থায় আপনি তাঁর প্রতি মুমিন; অথবা বলবেন: "আপনার নবির প্রতি আমার ভালোবাসার মাধ্যমে"—এমতাবস্থায় আপনি তাঁকে ভালোবাসেন; কিংবা "আপনার নবির অনুসরণের মাধ্যমে"—যখন আপনি সত্যনিষ্ঠভাবে তাঁর অনুসরণ করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহাম্মিয়াতু সালাতিল ইস্তিসক্বা ফিল ইসলামি ওয়াল ইসতিগাসাতিল মাশরুআহ
(পৃষ্ঠা: ১৩৭)
وفي الحديث1 الذي رواه المقدسي عن عبد الله بن عمرو بن العاص مرفوعا: "لا يؤمن أحدكم حتى يكون هواه تبعاً لما جئت به".
وفقني الله والمسلمين لمعرفة الحق واتباعه.
وختاماً أخي المؤمن، إن وجدت قوماً قد ساقوا إبلاً أو أبقاراً أوخرفاناً أو غيرها إلى قبر أو حجر لذبحها عنده، زعماً منهم أنهم بذلك يرضون الله ويعملون عملاًصالحاً، فانصحهم وبيّن لهم عدم مشروعية ما يصنعون، وامنعهم وردهم على أعقابهم إن استطعت إلى ذلك سبيلاً. وإياك أن تشاركهم أو تحضر معهم تكثيراً لسوادهم فإن ذلك من شهادة الزور. وعباد الرحمن _كما تعلم عن ربك في كتابه القرآن الكريم _لا يشهدون الزور.
واعلم أن الله تعالى إن أنزل الغيث في تلك الساعة أو بعدها فإنما يريد أن يبتلي إيمانهم ويُمحص قلوبهم، وليس إنزاله المطر استجابة لما قدموا من عمل الجاهلية، أو يريد أن يزيدهم ضلالاً على ضلالهم لتعلقهم بأصحاب القبور وغيرهم ولصرفهم العبادة إلى غيره، إن عَلم سبحانه وتعالى في قلوبهم إعراضاً عن توحيده وإخلاص العبادة له وحده، وإقبالاً على غيره خوفاً وطمعاً ورهبة ورجاء، فتزهق أواحهم وهم كافرون. فنعوذ بالله من الشرك بأنواعه. وربك لا يظلم أحداً، {وَلَوْ عَلِمَ اللَّهُ فِيهِمْ خَيْراً لأَسْمَعَهُمْ} من سورة الأنفال.
الله أسأل أن يصلح أحوال المسلمين ويوفقهم للعمل بالكتاب والسنة؛ فهما النجاة
--------------------------------------------
এবং হাদিস ১-এ, যা আল-মাকদিসি আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আল-আস থেকে রাসূলুল্লাহ (সা.) পর্যন্ত উন্নীত (مرفوع) সূত্রে বর্ণনা করেছেন: "তোমাদের মধ্যে কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না তার প্রবৃত্তি আমি যা নিয়ে এসেছি তার অনুসারী হয়।"
আল্লাহ আমাকে এবং সকল মুসলিমকে সত্য অনুধাবন এবং তা অনুসরণের তাওফিক দান করুন।
পরিশেষে আমার মুমিন ভাই, যদি আপনি এমন কোনো জনসমষ্টিকে দেখেন যারা উট, গরু, ভেড়া বা অন্য কোনো পশু কোনো কবরের কাছে বা কোনো পাথরের কাছে সেখানে জবেহ করার উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছে—তাদের এই ভ্রান্ত ধারণা থেকে যে এর মাধ্যমে তারা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করবে এবং কোনো নেক আমল করবে—তবে আপনি তাদের নসিহত করুন এবং তারা যা করছে তার শরয়ি অবৈধতা তাদের কাছে স্পষ্ট করুন; আর সামর্থ্য থাকলে তাদের বাধা দিন এবং তাদের সেখান থেকে ফিরিয়ে আনুন। আর খবরদার! তাদের সাথে অংশগ্রহণ করবেন না বা তাদের সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য তাদের সাথে উপস্থিত হবেন না, কেননা তা মিথ্যা সাক্ষ্যের অন্তর্ভুক্ত। আর দয়াময় আল্লাহর বান্দারা—যেমনটি আপনি আপনার রবের কিতাব কুরআন মাজিদে জেনেছেন—তারা মিথ্যা সাক্ষ্য দেয় না।
আর জেনে রাখুন যে, আল্লাহ তাআলা যদি সেই মুহূর্তে বা তার পরে বৃষ্টি বর্ষণ করেন, তবে তিনি এর মাধ্যমে তাদের ঈমান পরীক্ষা করতে এবং তাদের অন্তরকে যাচাই করতে চান। আর এই বৃষ্টি বর্ষণ তাদের সেই জাহেলি আমলের প্রতি কোনো সাড়া নয়, বরং আল্লাহ হয়তো তাদের ভ্রষ্টতার ওপর ভ্রষ্টতা বৃদ্ধি করতে চান তাদের কবরের অধিবাসী ও অন্যদের সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়ার কারণে এবং তাঁর ইবাদত অন্যের দিকে বিমুখ করার কারণে। যদি মহান আল্লাহ তাদের অন্তরে তাঁর তাওহিদ ও নিছক তাঁরই জন্য ইবাদতকে একনিষ্ঠ করা থেকে বিমুখতা এবং ভয়, লালসা, ভীতি ও আশার বশবর্তী হয়ে অন্যের প্রতি আসক্তি দেখতে পান, তবে কাফির অবস্থায় তাদের প্রাণের বিনাশ ঘটবে। আমরা সকল প্রকার শিরক থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আর আপনার রব কারো প্রতি জুলুম করেন না, {যদি আল্লাহ তাদের মধ্যে কোনো কল্যাণ জানতেন, তবে তিনি অবশ্যই তাদের শোনাতেন} সূরা আল-আনফাল থেকে।
আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন মুসলিমদের অবস্থা সংশোধন করে দেন এবং তাদের কিতাব ও সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করার তাওফিক দান করেন; কারণ এই দুইটির মধ্যেই রয়েছে মুক্তি।
--------------------------------------------