(খণ্ড: ১) মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা যাওয়াইদি ইবনে হিব্বান - তা আব্দুল রাজ্জাক হামজাহ (পৃষ্ঠা: -)
موارد الظمآن إلى زوائد ابن حبان - ت عبد الرزاق حمزة   (نور الدين الهيثمي)

القسم: كتب السنة


الكتاب: موارد الظمآن إلى زوائد ابن حبان

المؤلف: أبو الحسن نور الدين علي بن أبي بكر بن سليمان الهيثمي (ت 807 هـ)

المحقق: محمد عبد الرزاق حمزة [ت 1392 هـ]

الناشر: دار الكتب العلمية

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা যাওয়ায়িদি ইবনে হিব্বান - তাহকীক: আব্দুর রাজ্জাক হামজা   (নূরুদ্দীন আল-হাইসামি)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা যাওয়ায়িদি ইবনে হিব্বান

লেখক: আবুল হাসান নূরুদ্দীন আলী বিন আবী বকর বিন সুলাইমান আল-হাইসামি (ওফাত ৮০৭ হিজরি)

মুহাক্কিক: মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক হামজা [ওফাত ১৩৯২ হিজরি]

প্রকাশক: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ

খণ্ড সংখ্যা: ১

[কিতাবটির নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা যাওয়াইদি ইবনে হিব্বান - তা আব্দুল রাজ্জাক হামজাহ (পৃষ্ঠা: ٢٨)
‌‌مُقَدّمَة

 

بسم الله الرحمن الرحيم

اللَّهُمَّ صل وَسلم على سيدنَا مُحَمَّد وَآله وَصَحبه

الْحَمد لله الَّذِي خلق السَّمَوَات وَالْأَرْض وَجعل الظُّلُمَات والنور وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شريك لَهُ شَهَادَة تنجي قَائِلهَا يَوْم الْبَعْث والنشور وَأشْهد أَن مُحَمَّدًا عَبده وَرَسُوله المنعوت فِي الْقُرْآن والتوراة وَالْإِنْجِيل وَالزَّبُور. صلى الله عليه وسلم وعَلى آله وَصَحبه صَلَاة تضَاعف لصَاحِبهَا الأجور.

وَبعد فقد رَأَيْت أَن أفرد زَوَائِد صَحِيح أبي حَاتِم مُحَمَّد بن حبَان البستي رضي الله عنه على صَحِيح البُخَارِيّ وَمُسلم رضي الله عنهما مُرَتبا ذَلِك على كتب فقه أذكرها لكَي يسهل الْكَشْف مِنْهَا فَإِنَّهُ لَا فَائِدَة فِي عزو الحَدِيث إِلَى صَحِيح ابْن حبَان مَعَ كَونه فِي شَيْء مِنْهُمَا وَأَرَدْت أَن أذكر الصَّحَابِيّ فقد وَأسْقط السَّنَد اعْتِمَادًا على تَصْحِيحه فَأَشَارَ عَليّ سَيِّدي الشَّيْخ الإِمَام الْعَلامَة الْحَافِظ ولي الدّين أَبُو زرْعَة ابْن سَيِّدي الشَّيْخ الإِمَام الْعَلامَة شيخ الْإِسْلَام أبي الْفضل عبد الرَّحِيم بن الْعِرَاقِيّ بِأَن أذكر الحَدِيث بِسَنَدِهِ لِأَن فِيهِ أَحَادِيث تكلم فِيهَا بعض الْحفاظ فَرَأَيْت أَن ذَلِك هُوَ الصَّوَاب فَجمعت زوائده ورتبتها على كتب أذكرها هِيَ

كتاب الْإِيمَان

كتاب الْعلم

كتاب الطَّهَارَة

كتاب الصَّلَاة

كتاب الْجَنَائِز

كتاب الزَّكَاة

كتاب الصّيام

كتاب الْحَج

كتاب الْأَضَاحِي وَفِيه الصَّيْد والذبائح والعقيقة والوليمة

كتاب الْبيُوع

كتاب الْأَيْمَان وَالنُّذُور

كتاب الْقَضَاء

كتاب الْعتْق

كتاب الْوَصَايَا

كتاب الْفَرَائِض

كتاب النِّكَاح وَالطَّلَاق وَالْعدة

كتاب الْأَطْعِمَة

كتاب الْأَشْرِبَة

كتاب الطِّبّ وَفِيه الرقى وَغير ذَلِك

كتاب اللبَاس والزينة

كتاب الْحُدُود والديات

كتاب الْإِمَارَة

كتاب الْجِهَاد

كتاب السّير وَفتح فَارس وَغَيرهَا

كتاب التَّفْسِير

كتاب التَّعْبِير

كتاب الْقدر

كتاب الْفِتَن

كتاب الْأَدَب

كتاب الْبر والصلة

كتاب عَلَامَات النُّبُوَّة وَفِيه من ذكر من الْأَنْبِيَاء صلى الله على نَبينَا وَعَلَيْهِم أَجْمَعِينَ

كتاب المناقب

كتاب الْأَذْكَار.
ভূমিকা

 

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

হে আল্লাহ! আমাদের নেতা মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার-পরিজন ও তাঁর সাথীদের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টি করেছেন এবং অন্ধকার ও আলো তৈরি করেছেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই—এমন এক সাক্ষ্য যা এর প্রদানকারীকে পুনরুত্থান ও হাশরের দিনে মুক্তি দেবে। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, যাঁর গুণাবলি কুরআন, তাওরাত, ইঞ্জিল ও যাবুর গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সাথীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক—এমন রহমত যা এর অধিকারীর জন্য প্রতিদানকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

অতঃপর, আমি সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমের বিপরীতে আবু হাতিম মুহাম্মদ বিন হিব্বান আল-বুস্তি (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সহীহ-এর অতিরিক্ত হাদীসগুলোকে (যা বুখারী-মুসলিমে নেই) ফিকহের কিতাবসমূহের বিন্যাসে পৃথক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি যাতে তা থেকে অনুসন্ধান করা সহজ হয়। কারণ কোনো হাদীস ওই দুই কিতাবের কোনো একটিতে থাকা সত্ত্বেও তাকে সহীহ ইবনে হিব্বানের দিকে সম্বন্ধ করার কোনো উপকারিতা নেই। আমি শুধু সাহাবীর নাম উল্লেখ করতে এবং তাঁর (ইবনে হিব্বানের) সহীহ হওয়ার ওপর নির্ভর করে সনদ বাদ দিতে চেয়েছিলাম। অতঃপর আমার উস্তাদ শায়খ, ইমাম, আল্লামা, হাফেজ ওলিউদ্দিন আবু জুরআ—যিনি আমার উস্তাদ শায়খ, ইমাম, আল্লামা, শায়খুল ইসলাম আবুল ফজল আবদুর রহীম বিন আল-ইরাকীর পুত্র—আমাকে হাদীসগুলো সনদসহ উল্লেখ করার পরামর্শ দিলেন, কারণ এতে এমন কিছু হাদীস রয়েছে যেগুলোর ব্যাপারে কোনো কোনো হাফেজ সমালোচনা করেছেন। আমি দেখলাম যে এটিই সঠিক। তাই আমি এর অতিরিক্ত হাদীসগুলো সংগ্রহ করলাম এবং সেগুলোকে নিম্নে বর্ণিত কিতাবসমূহের ক্রমানুসারে সাজালাম:

ঈমান অধ্যায়

ইলম অধ্যায়

পবিত্রতা অধ্যায়

সালাত অধ্যায়

জানাযা অধ্যায়

যাকাত অধ্যায়

সিয়াম অধ্যায়

হজ্জ অধ্যায়

কুরবানী অধ্যায়, যার মধ্যে শিকার, যবেহ, আকিকা ও ওলিমা অন্তর্ভুক্ত

ক্রয়-বিক্রয় অধ্যায়

শপথ ও মানত অধ্যায়

বিচার ব্যবস্থা অধ্যায়

দাসমুক্তি অধ্যায়

অসিয়ত অধ্যায়

ফারায়েজ (উত্তরাধিকার) অধ্যায়

নিকাহ, তালাক ও ইদ্দত অধ্যায়

খাদ্যদ্রব্য অধ্যায়

পানীয় অধ্যায়

চিকিৎসা অধ্যায়, যার মধ্যে রুকইয়াহ ও অন্যান্য বিষয় রয়েছে

পোশাক ও সাজসজ্জা অধ্যায়

হদ ও দিয়াত অধ্যায়

শাসন ক্ষমতা অধ্যায়

জিহাদ অধ্যায়

সীরাত, পারস্য বিজয় ও অন্যান্য অধ্যায়

তাফসীর অধ্যায়

স্বপ্ন ব্যাখ্যা অধ্যায়

তকদীর অধ্যায়

ফিতনা অধ্যায়

আদব (শিষ্টাচার) অধ্যায়

সদাচরণ ও আত্মীয়তা রক্ষা অধ্যায়

নবুওয়াতের নিদর্শনসমূহ অধ্যায়, যার মধ্যে নবীদের আলোচনা রয়েছে (আমাদের নবী ও তাঁদের সকলের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক)

মর্যাদা ও গুণাবলি অধ্যায়

যিকিরসমূহ অধ্যায়।
(খণ্ড: ১) মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা যাওয়াইদি ইবনে হিব্বান - তা আব্দুল রাজ্জাক হামজাহ (পৃষ্ঠা: ٢٩)
كتاب الْأَدْعِيَة. كتاب التَّوْبَة كتاب الزّهْد كتاب الْبَعْث كتاب صفة النَّار كتاب صفة الْجنَّة.

وَقد سميته (موارد الظمآن إِلَى زَوَائِد ابْن حبَان) وأسأل الله النَّفْع بِهِ لي وللمسلمين آمين.

وَقد أَخْبرنِي بِصَحِيح ابْن حبَان الْمُسَمّى بالتقاسيم والأنواع خلا مَا فِيهِ من الْكَلَام على الحَدِيث الشَّيْخَانِ الإمامان الحافظان الْعَلامَة بهاء الدّين عبد الله بن مُحَمَّد ابْن أبي بكر بن خَلِيل الْمَكِّيّ بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ وقاضي الْمُسلمين عز الدّين أَبُو عمر عبد الْعَزِيز ابْن قَاضِي الْمُسلمين بدر الدّين مُحَمَّد بن إِبْرَاهِيم بن جمَاعَة الْكِنَانِي قراءه عَلَيْهِ وَأَنا أسمع بِقِرَاءَة سَيِّدي وشيخي شيخ الْإِسْلَام زين الدّين أبي الْفضل عبد الرَّحِيم بن الْحُسَيْن الْعِرَاقِيّ قَالَا أخبرنَا الشَّيْخ الإِمَام رَضِي الدّين إِبْرَاهِيم بن مُحَمَّد بن إِبْرَاهِيم الطَّبَرِيّ قَالَ الشَّيْخ بهاء الدّين بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ وَقَالَ الآخر قِرَاءَة عَلَيْهِ وَأَنا أسمع قَالَ أَنبأَنَا الشَّيْخ شرف الدّين أَبُو عبد الله مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ أبي الْفضل المرسي قَالَ أَنبأَنَا أَبُو روح عبد الْمعز بن مُحَمَّد الْهَرَوِيّ ح قَالَ ابْن جمَاعَة وأنبأنا بِهِ أَبُو الْفضل أَحْمد بن هبة الله بن عَسَاكِر عَن أبي روح قَالَ أَنبأَنَا تَمِيم بن أبي سعيد الْجِرْجَانِيّ قَالَ أَنبأَنَا عَليّ بن مُحَمَّد البحاثي قَالَ أَنبأَنَا مُحَمَّد بن أَحْمد بن هَارُون الزوزني قَالَ أَنبأَنَا أَبُو حَاتِم ابْن حبَان البستي.
দুআ অধ্যায়। তাওবা অধ্যায়। যুহদ অধ্যায়। পুনরুত্থান অধ্যায়। জাহান্নামের বিবরণ অধ্যায়। জান্নাতের বিবরণ অধ্যায়।

আমি এর নাম রেখেছি (মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা যাওয়াইদি ইবনে হিব্বান) এবং আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি এর মাধ্যমে আমাকে ও মুসলিমদের উপকৃত করার জন্য, আমীন।

ইবনে হিব্বানের সহীহ, যা ‘আত-তাকাসিম ওয়াল আনওয়া’ নামে পরিচিত—তাতে হাদীসের বর্ণনার ওপর যে আলোচনা রয়েছে তা ব্যতীত—আমাকে তার সংবাদ দিয়েছেন দুই শায়খ, দুই ইমাম, দুই হাফিয, আল্লামা বাহাউদ্দীন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ ইবনে আবি বকর বিন খালীল আল-মাক্কী, তাঁর নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে; এবং মুসলিমদের বিচারক ইযযুদ্দীন আবু উমর আব্দুল আযীয ইবনে কাযিউল মুসলিমীন বদরুদ্দীন মুহাম্মাদ বিন ইবরাহীম বিন জামাআহ আল-কিনানী, তাঁর নিকট পাঠের মাধ্যমে আর আমি শ্রবণ করছিলাম আমার সাইয়্যেদ ও শায়খ, শাইখুল ইসলাম যয়নুদ্দীন আবুল ফজল আব্দুর রহীম বিন আল-হুসাইন আল-ইরাকীর পাঠের মাধ্যমে। তাঁরা উভয়ে বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ ইমাম রাযিউদ্দীন ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ বিন ইবরাহীম আত-তাবারী। শায়খ বাহাউদ্দীন বলেন, তাঁর নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে, আর অন্যজন (ইবনে জামাআহ) বলেন, তাঁর নিকট পাঠের মাধ্যমে যখন আমি শ্রবণ করছিলাম। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ শরফুদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন আবুল ফজল আল-মুরসী। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু রূহ আব্দুল মুইয বিন মুহাম্মাদ আল-হারাভী। (হ) ইবনে জামাআহ বলেন, আমাদের এটি সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফজল আহমাদ বিন হিবাতুল্লাহ বিন আসাকির, তিনি আবু রূহ থেকে। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন তামীম বিন আবি সাঈদ আল-জিরজানী। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলী বিন মুহাম্মাদ আল-বাহ্হাছী। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন হারুন আয-যাওযানী। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু হাতিম ইবনে হিব্বান আল-বুস্তী।
(খণ্ড: ১) মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা যাওয়াইদি ইবনে হিব্বান - তা আব্দুল রাজ্জাক হামজাহ (পৃষ্ঠা: ٣٠)
-‌‌ كتاب الْإِيمَان

1-‌‌ بَاب فِيمَن شهد أَن لَا إِلَه إِلَّا الله

1- أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ خُزَيْمَةَ حَدَّثَنَا مُحَمَّد بن يحيى الْأَزْدِيّ حَدثنَا عبد الْوَهَّاب بن عَطاء حَدَّثَنَا سَعِيدٌ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ مُسْلِمِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ حُمْرَانَ بْنِ أَبَانَ عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "إِنِّي لأَعْلَمُ كَلِمَةً لَا يَقُولُهَا عَبْدٌ حَقًّا من قلبه فَيَمُوت وَهُوَ عَلَى ذَلِكَ إِلا حَرَّمَهُ الِلَّهِ عَلَى النَّارِ لَا إِلَه إِلَّا اللَّهِ".

2- أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سَلْمٍ أَنبأَنَا هَارُون بن إِسْحَاق حَدثنَا مُحَمَّد بن عبد الْوَهَّاب حَدثنَا مسعر عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ عَنِ الشَّعْبِيِّ عَنْ يَحْيَى بْنِ طَلْحَةَ عَنْ أُمِّهِ سُعْدَى الْمُرِّيَّةِ قَالَتْ مَرَّ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ بِطَلْحَةَ بعد وَفَاة رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَهُوَ مكتئب فَقَالَ أَسَاءَتْكَ إِمْرَةُ ابْنِ عَمِّكَ قَالَ لَا وَلَكِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: "إِنِّي لأَعْلَمُ كَلِمَةً لَا يَقُولُهَا عَبْدٌ عِنْدَ مَوْتِهِ إِلا كَانَتْ لَهُ نُورًا لِصَحِيفَتِهِ وَإِنَّ جَسَدَهُ وَرُوحَهُ لَيَجِدَانِ لَهَا رَوْحًا عِنْدَ الْمَوْت فَقبض" وَلم أسأله فَقَالَ مَا أعلمها إِلَّا الْكَلِمَة الَّتِي أَرَادَ عَلَيْهَا عَمَّهُ وَلَوْ عَلِمَ أَنَّ شَيْئا أنجى لَهُ مِنْهَا لأَمره بِهِ.

3- أَخْبَرَنَا ابْنُ قُتَيْبَةَ حَدَّثَنَا حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى حَدثنَا ابْن وهب أَخْبرنِي حَيْوَة حَدَّثَنَا ابْنُ الْهَادِ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيَمَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الصَّلْتِ عَنْ سُهِيَلِ بْنِ بَيْضَاء قَالَ بَينا نَحْنُ فِي سَفَرٍ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فحبس مَنْ كَانَ بَيْنَ يَدَيْهِ وَلَحِقَهُ مَنْ كَانَ خَلفه حَتَّى إِذا اجْتَمَعُوا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "إِنَّهُ مَنْ شَهِدَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلا اللَّهُ حَرَّمَهُ الِلَّهِ عَلَى النَّارِ وَأَوْجَبَ لَهُ الْجنَّة".

4- أخبرنَا عَليّ بن الْحُسَيْن العسكري بالرقة حَدثنَا عَبْدَانِ بن مُحَمَّد الْوَكِيل حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي زَائِدَةَ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ عَنْ جَابِرٍ أَنَّ مُعَاذًا لَمَّا حَضَرَتْهُ الْوَفَاةُ قَالَ اكْشِفُوا عَنِّي سِجْفَ الْقُبَّةِ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: "مَنْ شَهِدَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلا اللَّهُ مُخْلِصًا مِنْ قَلْبِهِ دَخَلَ الْجَنَّةَ".

5- أَخْبَرَنَا الْفَضْلُ بْنُ الْحُبَابِ حَدَّثَنَا مُسَدَّدُ بْنُ مسرهد عَن ابْن أبي عدي حَدثنَا
ঈমান অধ্যায়

১-‌‌ অনুচ্ছেদ: যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দেয় যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই

১- মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ইবনে খুযায়মাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া আল-আযদি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, আব্দুল ওয়াহহাব বিন আতা আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, সাঈদ কাতাদা থেকে, তিনি মুসলিম বিন ইয়াসার থেকে, তিনি হুমরান বিন আবান থেকে, তিনি উসমান বিন আফফান থেকে, তিনি উমর বিন আল-খাত্তাব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমি এমন একটি কালিমা জানি, কোনো বান্দা যদি তা অন্তরের অন্তস্থল থেকে সত্য বলে সাক্ষ্য দেয় এবং সেই অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে, তবে আল্লাহ তাকে জাহান্নামের জন্য হারাম করে দেবেন; আর তা হলো: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ (আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই)।"

২- আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সালম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হারুন ইবনে ইসহাক আমাদের জানিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, মিসআর ইসমাঈল ইবনে আবি খালিদ থেকে, তিনি শাবি থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে তালহা থেকে, তিনি তাঁর মা সু’দা আল-মুররিয়্যাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওফাতের পর উমর ইবনে আল-খাত্তাব তালহার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তালহা অত্যন্ত বিষণ্ণ অবস্থায় ছিলেন। উমর বললেন: আপনার চাচাতো ভাইয়ের (আবু বকরের) শাসনভার গ্রহণ কি আপনাকে ব্যথিত করেছে? তিনি বললেন: না, বরং আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "আমি এমন একটি কালিমা জানি, কোনো বান্দা যদি তার মৃত্যুর সময় তা বলে, তবে তা তার আমলনামার জন্য নূর হবে এবং মৃত্যুর সময় তার দেহ ও আত্মা তার ফলে প্রশান্তি লাভ করবে।" কিন্তু তিনি ইন্তেকাল করলেন আর আমি তাঁকে সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে পারিনি। তখন উমর বললেন: আমি সেই কালিমাটি ছাড়া অন্য কিছু জানি না যা তিনি তাঁর চাচার (আবু তালিবের) জন্য চেয়েছিলেন। যদি তিনি জানতেন যে তার চেয়ে অধিক নাজাতদানকারী কিছু আছে, তবে অবশ্যই তাকে তার আদেশ দিতেন।

৩- ইবনে কুতায়বাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হারমালা ইবনে ইয়াহইয়া আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, ইবনে ওয়াহাব আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, হায়ওয়াহ আমাকে জানিয়েছেন, ইবনে আল-হাদ মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল সালত থেকে, তিনি সুহাইল ইবনে বায়দা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: একদা আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে এক সফরে ছিলাম। তিনি সামনের লোকদের থামিয়ে দিলেন এবং পেছনের লোকদের এসে মিলিত হওয়ার সুযোগ দিলেন। যখন সবাই একত্রিত হলো, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দেয় যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, আল্লাহ তাকে জাহান্নামের জন্য হারাম করে দেবেন এবং তার জন্য জান্নাত অবধারিত করবেন।"

৪- আর-রাক্কাহর আলী ইবনে আল-হুসাইন আল-আসকারি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবদান ইবনে মুহাম্মদ আল-ওয়াকিল আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, ইবনে আবি জায়িদাহ সুফিয়ান থেকে, তিনি আমর ইবনে দিনার থেকে, তিনি জাবির থেকে বর্ণনা করেন যে, মুয়াজ ইবনে জাবাল যখন মৃত্যুশয্যায় ছিলেন, তখন তিনি বললেন: আমার চারপাশ থেকে তাঁবুর পর্দা সরিয়ে দাও। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "যে ব্যক্তি তার অন্তরের একাগ্রতার সাথে সাক্ষ্য দেবে যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।"

৫- আল-ফজল ইবনুল হুবাব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুসাদ্দাদ ইবনে মুসারহাদ ইবনে আবি আদি থেকে আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন...
(খণ্ড: ১) মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা যাওয়াইদি ইবনে হিব্বান - তা আব্দুল রাজ্জাক হামজাহ (পৃষ্ঠা: ٣١)
حجاج الصَّواف أَخْبرنِي حميد بن هِلَال حَدثنِي هصان بن كَاهِل قَالَ جَلَسْتُ مَجْلِسًا فِيهِ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ سَمُرَة فَلَا أَعْرِفُهُ فَقَالَ حَدَّثَنَا مُعَاذْ بْنُ جَبَلٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "مَا على الأَرْض نفس تَمُوت وَلَا تشرك بِاللَّه شَيْئا وَتشهد أَنْ لَا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَأَنِّي رَسُولُ اللَّهِ يَرْجِعُ ذَلِكَ إِلَى قَلْبٍ مُوقِنٍ إِلا غفر لَهَا".

6- أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ بْنِ يُوسُفَ حَدَّثَنَا نصر بن عَليّ الْجَهْضَمِي حَدثنَا بشر ابْن الْمفضل حَدَّثَنَا خَالِدٌ الْحَذَّاءُ عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ مُسْلِمٍ أَبِي بِشْرٍ قَالَ سَمِعْتُ حُمْرَانَ بْنَ أَبَانَ يَقُولُ سَمِعْتُ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُول: "مَنْ مَاتَ وَهُوَ يَعْلَمُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا الله دخل الْجنَّة" 1.

7- أخبرنَا الْفضل بن الْحباب حَدثنَا حَفْص بن عمر الحوضي حَدثنَا مُحرز بْنُ قَعْنَبٍ الْبَاهِلِيُّ حَدَّثَنَا رِيَاحُ بْنُ عُبَيْدَةَ عَنْ ذَكْوَانَ السَّمَّانِ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ بَعَثَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: "نَادِ فِي النَّاسِ مَنْ قَالَ لَا إِلَهَ إِلا اللَّهُ دَخَلَ الْجَنَّةَ" فَخَرَجَ فَلَقِيَهُ عُمَرُ فِي الطَّرِيقِ فَقَالَ أَيْنَ تُرِيدُ قُلْتُ بَعَثَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِكَذَا وَكَذَا قَالَ ارْجِعْ فَأَبَيْتُ فلهزني لهزة فِي صَدْرِي ألمتها فَرَجَعْتُ وَلَمْ أَجِدْ بُدًّا قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ بَعَثْتَ هَذَا بِكَذَا وَكَذَا قَالَ: "نَعَمْ" قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ النَّاسَ قَدْ طمعوا وخبثوا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "اقعد".

8- أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سَلْمٍ حَدثنَا عبد الرَّحْمَن بن إِبْرَاهِيم حَدثنَا الْوَلِيد بن مُسلم وَمُحَمّد بن شُعَيْب عَن الْأَوْزَاعِيّ قَالَ حَدَّثَنِي الْمُطَّلِبُ بْنُ حَنْطَبٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ ابْن أبي عمْرَة عَنْ أَبِيه قَالَ كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي غَزْوَةٍ فَأَصَابَ النَّاسَ مَخْمَصَة فَاسْتَأْذنُوا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فِي نحر بعض ظُهُورهمْ فَقَالَ عُمَرُ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَكَيْفَ بِنَا إِذا لَقينَا عدونا جياعا رجَالًا وَلَكِنْ إِنْ رَأَيْتَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَنْ تَدْعُو النَّاس بِبَقِيَّة أَزْوَادهم فَجَاءُوا بِهِ يَجِيءُ الرَّجُلُ بِالْحَفْنَةِ مِنَ الطَّعَامِ وَفَوْقَ ذَلِك فَكَانَ أَعْلاهُمُ الَّذِي جَاءَ بِالصَّاعِ مِنَ التَّمْرِ فَجَمَعَهُ عَلَى نِطَعٍ ثُمَّ دَعَا اللَّهَ بِمَا شَاءَ أَن يَدْعُو ثمَّ دَعَا

--------------------------------------------

1 من خطّ شيخ الْإِسْلَام بن حجر رحمه الله: "قلت: حَدِيث عُثْمَان بن عَفَّان هَذَا رَوَاهُ مُسلم فِي صَحِيحه من طَرِيق بشر بن الْمفضل بِهَذَا الْإِسْنَاد والمتن".
হাজ্জাজ আস-সাওয়াফ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হুমাইদ বিন হিলাল আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, হুসান বিন কাহিল আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি এক মজলিসে বসলাম যেখানে আব্দুর রহমান বিন সামুরা উপস্থিত ছিলেন, কিন্তু আমি তাঁকে চিনতাম না। তখন তিনি বললেন, মুআজ বিন জাবাল আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "পৃথিবীর বুকে এমন কোনো ব্যক্তি নেই যে আল্লাহর সাথে কোনো কিছুকে শরিক না করে এবং এই সাক্ষ্য দিয়ে মৃত্যুবরণ করে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল—আর এ কথাটি তার সুনিশ্চিত হৃদয়ের বিশ্বাস থেকে আসে—তবে আল্লাহ তাকে অবশ্যই ক্ষমা করে দেবেন।"

৬- মুহাম্মাদ বিন উমর বিন ইউসুফ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, নাসর বিন আলী আল-জাহদামি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, বিশর ইবনুল মুফাদ্দাল আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, খালিদ আল-হাজ্জা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ওলীদ বিন মুসলিম আবু বিশর থেকে, তিনি বলেন: আমি হুমরান বিন আবানকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি উসমান বিন আফফানকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "যে ব্যক্তি এই অবস্থায় মৃত্যুবরণ করল যে সে জানে যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।" ১।

৭- ফজল বিন আল-হুবাব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হাফস বিন উমর আল-হাওজি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, মুহরিজ বিন কানাব আল-বাহিলি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, রিয়াহ বিন উবাইদাহ আমাদের কাছে যাকওয়ান আস-সাম্মান থেকে, তিনি জাবির বিন আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে পাঠালেন এবং বললেন: "মানুষের মাঝে ঘোষণা করে দাও যে, যে ব্যক্তি বলবে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' (আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই), সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।" অতঃপর আমি বের হলাম এবং পথে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সাথে আমার দেখা হলো। তিনি বললেন, তুমি কোথায় যাওয়ার ইচ্ছা করছ? আমি বললাম, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে অমুক অমুক বিষয় দিয়ে পাঠিয়েছেন। তিনি বললেন, ফিরে যাও। আমি অস্বীকার করলাম। তখন তিনি আমার বুকে এমন এক ধাক্কা দিলেন যা আমাকে ব্যথিত করল। ফলে আমি ফিরে এলাম এবং এছাড়া আর কোনো উপায় দেখলাম না। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি একে অমুক অমুক বিষয় দিয়ে পাঠিয়েছেন? তিনি বললেন: "হ্যাঁ"। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! মানুষ তো এর ওপর নির্ভর করে কর্মবিমুখ হয়ে পড়বে। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "বসে পড়ো"।

৮- আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন সালম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আব্দুর রহমান বিন ইব্রাহিম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, ওলীদ বিন মুসলিম ও মুহাম্মাদ বিন শুয়াইব আমাদের কাছে আওযায়ি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মুত্তালিব বিন হানতাব আমার কাছে আব্দুর রহমান ইবনে আবি আমরা থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা একটি যুদ্ধে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে ছিলাম। তখন মানুষের মাঝে চরম ক্ষুধা ও খাদ্যসংকট দেখা দিল। তারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে তাদের কিছু সওয়ারি পশু জবাই করার অনুমতি চাইল। তখন উমর বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা যদি ক্ষুধার্ত অবস্থায় পদব্রজে শত্রুর মুখোমুখি হই তবে আমাদের কী দশা হবে? বরং আপনি যদি সমীচীন মনে করেন হে আল্লাহর রাসূল, আপনি মানুষকে তাদের অবশিষ্ট পাথেয় নিয়ে আসতে বলুন। তখন তারা তা নিয়ে এল; কেউ এক মুষ্টি খাবার নিয়ে এল, কেউ তার চেয়েও বেশি, তাদের মধ্যে সর্বোচ্চ ছিল যে ব্যক্তি এক 'সা' খেজুর নিয়ে এসেছিল। তিনি তা একটি চামড়ার দস্তরখানের ওপর একত্র করলেন, অতঃপর তিনি আল্লাহর কাছে যা চাওয়ার তা চাইলেন, এরপর তিনি ডাকলেন...

--------------------------------------------

১ শাইখুল ইসলাম ইবনে হাজার (রাহিমাহুল্লাহ)-এর পাণ্ডুলিপি থেকে: "আমি বলছি: উসমান বিন আফফানের এই হাদিসটি ইমাম মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে বিশর ইবনুল মুফাদ্দালের এই সনদ ও মতন (মূল পাঠ) সহ বর্ণনা করেছেন।"
(খণ্ড: ১) মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা যাওয়াইদি ইবনে হিব্বান - তা আব্দুল রাজ্জাক হামজাহ (পৃষ্ঠা: ٣٢)
النَّاسَ بِأَوْعِيَتِهِمْ فَمَا بَقِيَ فِي الْجَيْشِ وِعَاءٌ إِلَّا ملئوه وَبَقِيَ مِثْلُهُ فَضَحِكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى بَدَتْ نَوَاجِذُهُ ثُمَّ قَالَ: "أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنِّي رَسُولُ اللَّهِ وَأَشْهَدُ عِنْدَ اللَّهِ لَا يَلْقَاهُ عَبْدٌ مُؤْمِنٌ بِهِمَا إِلا حَجَبَتَاهُ عَنِ النَّار يَوْمِ الْقِيَامَةِ".

9 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سلم حَدثنَا عبد الرَّحْمَن بن إِبْرَاهِيم حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ أبي كثير حَدَّثَنِي هِلالُ بْنُ أَبِي مَيْمُونَةَ قَالَ حَدَّثَنِي عَطَاءُ بْنُ يَسَارٍ قَالَ حَدَّثَنِي رِفَاعَةُ بْنُ عَرَابَةَ الْجُهَنِيُّ قَالَ صَدَرْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ مَكَّةَ فَجَعَلَ نَاسٌ يَسْتَأِذْنُونَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَجَعَلَ يَأْذَنُ لَهُمْ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "مَا بَالُ شِقِّ الشَّجَرَة الَّتِي تلِي رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَبْغَضَ إِلَيْكُمْ مِنَ الشِّقِّ الآخَرِ" قَالَ فَلَمْ نَرَ مِنَ الْقَوْمِ إِلا بَاكِيًا قَالَ يَقُولُ أَبُو بَكْرٍ إِنَّ الَّذِي يَسْتَأْذِنُكَ بَعْدَ هَذَا لَسَفِيهٌِ فِي نَفْسِي فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ وَكَانَ إِذا حَلَف َقَالَ: "وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ أَشْهَدُ عِنْدَ اللَّهِ مَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ ثمَّ يسدد إِلَّا سلك فِي الْجَنَّةِ وَلَقَدْ وَعَدَنِي رَبِّي أَنْ يُدْخِلَ من أمتِي الْجنَّة بِلَا حِسَابٍ وَلا عَذَابٍ وَإِنِّي لأَرْجُو أَنْ لَا تدخلوها حَتَّى تبوءوا أَنْتُمْ وَمَنْ صَلَحَ مِنْ أَزْوَاجِكُمْ وَذَرَارِيِّكُمْ مَسَاكِنَ فِي الْجنَّة" ثمَّ قَالَ: "إِذَا مَضَى شَطْرُ اللَّيْلِ أَوْ ثُلُثَاهُ ينزل الله إِلَى السَّمَاء الدُّنْيَا فَيَقُول لَا يسْأَل عَنْ عِبَادِي غَيْرِي مَنْ ذَا الَّذِي يَسْأَلُنِي فَأُعْطِيَهُ مَنْ ذَا الَّذِي يَسْتَغْفِرُنِي فَأَغْفِرَ لَهُ مَنْ ذَا الَّذِي يَدْعُونِي فَأَسْتَجِيبَ لَهُ حَتَّى ينفجر الصُّبْح".

10- أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ الْقَطَّانُ بِالرَّقَّةِ حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: مثله يَعْنِي مثل حَدِيث قبله وَمَتنه1 كُنْتُ أَمْشِي مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِحَرَّةِ الْمَدِينَةِ فَاسْتَقَبْلُنَا أُحُدٌ فَقَالَ: "يَا أَبَا ذَرٍّ مَا يسرني أَن لي أحدا ذَهَبا أَمْسَى وَعِنْدِي مِنْهُ دِينَار إِلَّا أَن أرصده لِدَيْنٍ" ثُمَّ مَشَى وَمَشَيْتُ مَعَهُ فَقَالَ: "يَا أَبَا ذَرٍّ" قُلْتُ لَبَّيْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَسَعْدَيْكَ قَالَ: "الْأَكْثَرُونَ هُمُ الأَقَلُّونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ" ثُمَّ قَالَ: "يَا أَبَا ذَر لَا تَبْرَح

--------------------------------------------

1 نبه الْحَافِظ ابْن حجر على أَن هَذَا الحَدِيث لَا وَجه لاستدراكه. وَكَلَامه فِي الْهَامِش أَصَابَهُ قطع فِي التجليد فَلم نتمكن من إثْبَاته كَامِلا.
মানুষ তাদের পাত্রসমূহ নিয়ে এল, ফলে বাহিনীর মধ্যে এমন কোনো পাত্র বাকি রইল না যা তারা পূর্ণ করেনি এবং সমপরিমাণ আরও অবশিষ্ট রয়ে গেল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসলেন এমনকি তাঁর মাড়ির দাঁত প্রকাশিত হয়ে পড়ল। এরপর তিনি বললেন: "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আমি আল্লাহর রাসূল। আমি আল্লাহর নিকট সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, কোনো মুমিন বান্দা এই দুই সাক্ষ্য নিয়ে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করলে কিয়ামতের দিন তা তাকে জাহান্নাম থেকে আড়াল করবেই।"

৯ - আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সালাম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবদুর রহমান ইবনে ইবরাহিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আওযায়ী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসির আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, হিলাল ইবনে আবি মায়মুনা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আতা ইবনে ইয়াসার আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, রিফাআ ইবনে আরাবা আল-জুহানি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে মক্কা থেকে রওনা হলাম। তখন কিছু লোক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে (ফিরে যাওয়ার) অনুমতি চাইতে লাগল এবং তিনি তাদের অনুমতি দিচ্ছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "কি হলো যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটবর্তী গাছের অংশটি অন্যদিকের অংশ অপেক্ষা তোমাদের কাছে বেশি অপছন্দনীয় হয়ে গেল?" তিনি বলেন, তখন আমরা উপস্থিত লোকজনকে ক্রন্দনরত ছাড়া আর কিছুই দেখলাম না। তিনি বলেন, আবু বকর (রা.) বলছিলেন, "এরপরে যে আপনার কাছে অনুমতি চাইবে সে আমার নজরে অবশ্যই নির্বোধ।" এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়ালেন এবং আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করলেন। তিনি যখন কসম করতেন তখন বলতেন: "সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ, আমি আল্লাহর কাছে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যে আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে এরপর সঠিক পথে অবিচল থাকে, তবে সে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর আমার রব আমাকে ওয়াদা দিয়েছেন যে, তিনি আমার উম্মতের এক দলকে হিসাব ও আযাব ছাড়াই জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। আর আমি আশা করি যে, তোমরা এবং তোমাদের স্ত্রী ও সন্তানদের মধ্যে যারা সৎকর্মশীল তারা জান্নাতের আবাসস্থলে ঠিকানা গ্রহণ না করা পর্যন্ত তোমরা তাতে প্রবেশ করবে না।" এরপর তিনি বললেন: "যখন রাতের অর্ধেক অথবা দুই-তৃতীয়াংশ অতিবাহিত হয়, তখন আল্লাহ দুনিয়ার আকাশে নেমে আসেন এবং বলেন, আমার বান্দাদের সম্পর্কে অন্য কাউকে জিজ্ঞাসা করা হবে না; কে আছে যে আমার কাছে চাইবে আমি তাকে দান করব? কে আছে যে আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে আমি তাকে ক্ষমা করব? কে আছে যে আমাকে ডাকবে আমি তার ডাকে সাড়া দেব? এভাবে সুবহে সাদিক উদিত হওয়া পর্যন্ত চলতে থাকে।"

১০- হুসাইন ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে ইয়াযিদ আল-কাত্তান আর-রাক্কায় আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হিশাম ইবনে আম্মার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ঈসা ইবনে ইউনুস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমাশ আমাদের নিকট আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু দারদা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: অনুরূপ হাদিস অর্থাৎ এর আগের হাদিসের মতো, আর এর মূল পাঠ হলো: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে মদিনার হাররায় হাঁটছিলাম, তখন আমাদের সামনে উহুদ পাহাড় এল। তখন তিনি বললেন: "হে আবু যার, আমার জন্য উহুদ পাহাড় সমপরিমাণ স্বর্ণ হওয়া আমাকে খুশি করবে না যদি সন্ধ্যা হওয়ার সময় আমার কাছে তার এক দিনারও অবশিষ্ট থাকে, তবে ঋণের জন্য যা আমি জমা রাখব তা ব্যতীত।" এরপর তিনি হাঁটলেন এবং আমিও তাঁর সাথে হাঁটলাম। তারপর তিনি বললেন: "হে আবু যার!" আমি বললাম, "লাব্বাইক ইয়া রাসূলুল্লাহ এবং সা'দাইক (আমি উপস্থিত ও ধন্য)!" তিনি বললেন: "দুনিয়াতে যারা অধিক সম্পদশালী, কিয়ামতের দিন তারাই হবে (সওয়াবের দিক থেকে) স্বল্পতম।" এরপর তিনি বললেন: "হে আবু যার, তুমি এই জায়গা ত্যাগ করো না..."

--------------------------------------------

১ হাফিয ইবনে হাজার সতর্ক করেছেন যে, এই হাদিসটির পুনরুল্লেখ করার কোনো কারণ নেই। আর তাঁর মন্তব্য যা টীকায় ছিল, তা গ্রন্থ বাঁধাইয়ের সময় কর্তিত হয়েছে, ফলে আমরা তা পূর্ণাঙ্গভাবে সংস্থাপন করতে পারিনি।
(খণ্ড: ১) মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা যাওয়াইদি ইবনে হিব্বান - তা আব্দুল রাজ্জাক হামজাহ (পৃষ্ঠা: ٣٣)
حَتَّى آتِيَكَ" ثُمَّ انْطَلَقَ حَتَّى تَوَارَى فَسَمِعْتُ صَوْتًا فَقُلْتُ أَنْطَلِقُ ثُمَّ ذَكَرْتُ قَوْلَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَلَبِثْتُ حَتَّى جَاءَ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي سَمِعت صَوتا فَأَرَدْت أَن آتِيك فَذكرت قَوْلك لي فَقَالَ: "ذَاك جِبْرِيلُ أَتَانِي فَأَخْبَرَنِي أَنَّهُ مَنْ مَاتَ مِنْ أُمَّتِي لَا يُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيْئًا دَخَلَ الْجَنَّةَ" قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَإِنْ زَنَى وَإِنْ سرق قَالَ: "وَإِن زنى وَإِن سرق".
"যতক্ষণ না আমি তোমার নিকট ফিরে আসি।" এরপর তিনি প্রস্থান করলেন এবং দৃষ্টির আড়ালে চলে গেলেন। তখন আমি একটি শব্দ শুনতে পেলাম। আমি যাওয়ার ইচ্ছা করলাম, কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বাণী স্মরণ করলাম। ফলে আমি অবস্থান করলাম যতক্ষণ না তিনি ফিরে এলেন। আমি বললাম, "হে আল্লাহর রাসূল! আমি একটি শব্দ শুনেছিলাম এবং আপনার নিকট আসার সংকল্প করেছিলাম, কিন্তু আপনার নির্দেশ আমার স্মরণে এলো।" তিনি বললেন, "তিনি জিবরাঈল ছিলেন। তিনি আমার নিকট আগমন করে সংবাদ দিলেন যে, আমার উম্মতের মধ্যে যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোনো কিছুকে শরিক না করে মৃত্যুবরণ করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।" আমি বললাম, "হে আল্লাহর রাসূল! যদিও সে ব্যভিচার করে এবং যদিও সে চুরি করে?" তিনি বললেন, "যদিও সে ব্যভিচার করে এবং যদিও সে চুরি করে।"
(খণ্ড: ১) মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা যাওয়াইদি ইবনে হিব্বান - তা আব্দুল রাজ্জাক হামজাহ (পৃষ্ঠা: ٣٣)
2-‌‌ بَاب مَا يحرم دم العَبْد

11- أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى حَدَّثَنَا شَيْبَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ الْمُغِيرَةِ حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ هِلالٍ قَالَ أَتَانِي أَبُو الْعَالِيَةِ وَصَاحِبٌ لِي فَقَالَ هَلُمَّا فَإِنَّكُمَا أَشَبُّ شَبَابًا وَأَوْعَى لِلْحَدِيثِ مِنِّي فَانْطَلَقْنَا حَتَّى أَتَيْنَا بِشْرَ بْنَ عَاصِمٍ اللَّيْثِيَّ قَالَ أَبُو الْعَالِيَةِ حَدِّثْ هَذَيْنِ قَالَ بِشْرٌ حَدَّثَنَا عُقْبَةُ بْنُ مَالِكٍ وَكَانَ مِنْ رَهْطِهِ قَالَ بَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سَرِيَّةً فَغَارَتْ عَلَى قَوْمٍ فَشَذَّ مِنَ الْقَوْمِ رَجُلٌ وَاتَّبَعَهُ رَجُلٌ مِنَ السَّرِيَّةِ وَمَعَهُ السَّيْفُ شَاهِرُهُ فَقَالَ إِنِّي مُسْلِمٌ فَلَمْ يَنْظُرْ فِيمَا قَالَ فَضَرَبَهُ فَقتله فنما الْحَدِيثُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ فِيهِ قولا شَدِيدا فَبَيْنَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَخْطُبُ إِذْ قَالَ: وَالله يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا قَالَ الَّذِي قَالَ إِلا تَعَوُّذًا مِنَ الْقَتْلِ فَأَعْرَضَ عَنْهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَعَن من قِبَلَهُ مِنَ النَّاسِ فَلَمْ يَصْبِرْ أَنْ قَالَ الثَّانِيَة فَأَقْبَلَ عَلَيْهِ تُعْرَفُ الْمَسَاءَةُ فِي وَجْهِهِ فَقَالَ: "إِن الله حرم عَليّ أقتل مُؤمنا" ثَلَاث مَرَّات.

12- أخبرنَا أَحْمد بن عمر بن يُوسُف بِدِمَشْق حَدثنَا مُحَمَّد بن حَمَّاد الظهراني حَدثنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ أَنْبَأَنَا مَعْمَرٌ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَدِيِّ بْنِ الْخِيَارِ أَن عبد الله بن عدي حَدَّثَهُ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم بَيْنَمَا هُوَ جَالِسٌ بَيْنَ ظَهْرَانَيِ النَّاسِ إِذْ جَاءَهُ رجل يَسْتَأْذِنهُ أَن يسَاره فَأذن لَهُ فَسَارَّهُ فِي قَتْلِ رَجُلٍ مِنَ الْمُنَافِقِينَ فَجَهَرَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم بِكَلامِهِ وَقَالَ: "أَلَيْسَ يَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلا اللَّهُ" قَالَ بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ وَلا شَهَادَةَ لَهُ قَالَ: "أَلَيْسَ يُصَلِّي" قَالَ بلَى يَا رَسُول الله وَلَا صَلَاة لَهُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "أُولَئِكَ الَّذين نهيت عَن قَتلهمْ".

13- أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بن أبي شيبَة حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحِيمِ بْنُ سُلَيْمَانَ عَنْ إِسْرَائِيلَ عَنْ سِمَاكٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ مَرَّ رَجُلٌ مِنْ بَنِي سُلَيْمٍ
২-‌‌ পরিচ্ছেদ: যা বান্দার রক্ত হারাম করে

১১- আহমাদ ইবন আলী ইবনুল মুসান্না আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, শাইবান ইবন আবু শাইবা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, সুলায়মান ইবনুল মুগীরা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, হুমাইদ ইবন হিলাল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আল-আলিয়া এবং আমার এক সাথী আমার কাছে এলেন এবং বললেন, "তোমরা উভয়ে এসো, কারণ তোমরা আমার চেয়ে যুবক এবং হাদীস মুখস্থ রাখার ক্ষেত্রে অধিক সক্ষম।" অতঃপর আমরা রওনা হলাম এবং বিশর ইবন আসিম আল-লায়সীর নিকট পৌঁছলাম। আবু আল-আলিয়া বললেন, "এই দুইজনকে হাদীস শোনান।" বিশর বললেন, উকবা ইবন মালিক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন—আর তিনি ছিলেন তাঁর গোত্রভুক্ত—তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি সামরিক অভিযান প্রেরণ করলেন, যারা একটি গোত্রের ওপর আক্রমণ চালালো। সেই গোত্রের এক ব্যক্তি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ল এবং অভিযানের এক ব্যক্তি কোষমুক্ত তরবারি নিয়ে তার পিছু নিল। তখন সে (পলায়নকারী ব্যক্তিটি) বলল, "আমি তো মুসলিম!" কিন্তু সে যা বলল তা তিনি ভ্রূক্ষেপ করলেন না এবং তাকে আঘাত করে হত্যা করলেন। এই সংবাদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে পৌঁছলে তিনি এ ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোর কথা বললেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন খুতবা দিচ্ছিলেন, তখন সেই ব্যক্তি (হত্যাকারী) বললেন: "আল্লাহর কসম, হে আল্লাহর রাসূল! সে যা বলেছে তা কেবল হত্যার হাত থেকে বাঁচতেই বলেছে।" রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার থেকে এবং তার সামনের লোকদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। সে দ্বিতীয়বার কথাটি না বলে সবুর করতে পারল না। তখন তিনি তার দিকে ফিরলেন, তাঁর চেহারায় অসন্তুষ্টির ছাপ পরিলক্ষিত হচ্ছিল, অতঃপর তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার ওপর কোনো মুমিনকে হত্যা করা হারাম করেছেন"—এ কথা তিনি তিনবার বললেন।

১২- আহমাদ ইবন উমর ইবন ইউসুফ দামেশকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, মুহাম্মাদ ইবন হাম্মাদ আজ-জাহরানী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবদুর রাজ্জাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মা’মার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন জুহরী থেকে, তিনি আতা ইবন ইয়াযীদ থেকে, তিনি উবায়দুল্লাহ ইবন আদী ইবন আল-খিয়ার থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আবদুল্লাহ ইবন আদী তাকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মানুষের মাঝে উপবিষ্ট ছিলেন, তখন এক ব্যক্তি তাঁর কাছে এসে কানে কানে কথা বলার অনুমতি চাইল। তিনি তাকে অনুমতি দিলেন। সে তাঁর সাথে এক মুনাফিক ব্যক্তিকে হত্যা করার বিষয়ে চুপিচুপি কথা বলল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উচ্চস্বরে বললেন: "সে কি সাক্ষ্য দেয় না যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই?" সে বলল, "হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল, কিন্তু তার সাক্ষ্যের কোনো ভিত্তি নেই।" তিনি বললেন: "সে কি সালাত আদায় করে না?" সে বলল, "হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল, কিন্তু তার সালাতের কোনো ভিত্তি নেই।" তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "এরাই তারা, যাদের হত্যা করতে আমাকে নিষেধ করা হয়েছে।"

১৩- আল-হাসান ইবন সুফিয়ান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু বকর ইবন আবু শাইবা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুর রহীম ইবন সুলায়মান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসরাঈল থেকে, তিনি সিমাক থেকে, তিনি ইকরিমা থেকে এবং তিনি ইবন আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: বনু সুলাইম গোত্রের এক ব্যক্তি অতিক্রম করছিল...
(খণ্ড: ১) মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা যাওয়াইদি ইবনে হিব্বান - তা আব্দুল রাজ্জাক হামজাহ (পৃষ্ঠা: ٣٤)
عَلَى نَفَرٍ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَمَعَهُ غَنَمٌ فَسَلَّمَ عَلَيْهِمْ فَقَالُوا مَا سَلَّمَ عَلَيْكُمْ إِلا لِيَتَعَوَّذَ مِنْكُمْ فَعَدَوْا عَلَيْهِ فَقَتَلُوهُ وَأَخَذُوا غَنَمَهُ فَأَتَوْا بِهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَنْزَلَ الله: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا ضَرَبْتُمْ فِي سَبِيلِ اللهِ فَتَبَيَّنُوا} إِلَى آخر الْآيَة1.

--------------------------------------------

1 فِي هَامِش الأَصْل: من خطّ شيخ الْإِسْلَام ابْن حجر رحمه الله: قلت هَذَا رَوَاهُ البُخَارِيّ من طَرِيق عَمْرو بن دِينَار عَن عَطاء عَن ابْن عَبَّاس.
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একদল সাহাবীর নিকট (এক ব্যক্তি আসলেন), এমতাবস্থায় যে তাঁর সাথে একপাল বকরী ছিল। তিনি তাঁদের সালাম দিলেন। তাঁরা বললেন: "সে কেবল তোমাদের থেকে আত্মরক্ষার জন্যই সালাম দিয়েছে।" এরপর তাঁরা তাঁর ওপর চড়াও হলেন এবং তাঁকে হত্যা করলেন ও তাঁর বকরীগুলো নিয়ে নিলেন। এরপর তাঁরা সেগুলো নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসলেন। তখন আল্লাহ নাযিল করলেন: {হে মুমিনগণ! যখন তোমরা আল্লাহর পথে যাত্রা করবে, তখন তোমরা যাচাই করে নেবে}—আয়াতের শেষ পর্যন্ত১।

--------------------------------------------

১ মূল পাণ্ডুলিপির পার্শ্বটীকায়: শায়খুল ইসলাম ইবনে হাজার রহিমাহুল্লাহ-এর হস্তলিপিতে: আমি বলি, এটি বুখারী আমর ইবনে দীনারের সূত্রে আতা থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা যাওয়াইদি ইবনে হিব্বান - তা আব্দুল রাজ্জাক হামজাহ (পৃষ্ঠা: ٣٤)
3-‌‌ بَاب بيعَة النِّسَاء

14- أخبرنَا عمر بن سعيد بن شَيبَان أَنْبَأَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ عَنْ مَالِكٍ عَن مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ عَنْ أُمَيْمَةَ بِنْتِ رُقَيْقَةَ أَنَّهَا قَالَتْ أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي نسْوَة نُبَايِعهُ فَقُلْنَ نُبَايِعُكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ عَلَى أَنْ لَا نُشْرِكَ بِاللَّهِ شَيْئًا وَلا نَسْرِقَ وَلا نَزْنِيَ وَلا نَقْتُلَ أَوْلادَنَا وَلا نَأْتِيَ بِبُهْتَانٍ نَفْتَرِيهِ بَيْنَ أَيْدِينَا وَأَرْجُلِنَا وَلا نَعْصِيَكَ فِي مَعْرُوف قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم: "فِيمَا استطعتن وأطعتن" 1 قَالَتْ فَقُلْتُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَرْحَمُ بِنَا مِنْ أَنْفُسنَا هَلُمَّ نُبَايِعك يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "إِِنِّي لَا أُصَافِحُ النِّسَاءَ إِِنَّمَا قَوْلِي لِمِائَةِ امْرَأَةٍ كَقَوْلِي لامْرَأَةٍ وَاحِدَةٍ".

15- أَخْبَرَنَا أَبُو خَلِيفَةَ حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ حَدثنَا إِسْحَاق بن عُثْمَان حَدثنَا إِسْمَاعِيل بن إِبْرَاهِيم بْنِ عَطِيَّةَ عَنْ جَدَّتِهِ أُمِّ عَطِيَّةَ قَالَتْ لَمَّا قَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمَدِينَةَ جَمَعَ نِسَاءَ الأَنْصَارِ فِي بَيْتٍ فَأَرْسَلَ إِلَيْنَا عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ فَقَامَ عَلَى الْبَابِ فَسَلَّمَ عَلَيْنَا فَرَدَدْنَا عليه السلام ثُمَّ قَالَ أَنَا رَسُولُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إلَيْكُنَّ فَقُلْنَ مَرْحَبًا بِرَسُولِ اللَّهِ وَبِرَسُولِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ تُبَايِعْنَنِي عَلَى أَنْ لَا تُشْرِكْنَ بِاللَّه شَيْئا وَلَا تسرقن وَلَا تزنين الْآيَة قَالَت فَقُلْنَا نعم فَمَدَّ يَدَهُ مِنْ خَارِجِ الْبَيْتِ وَمَدَدْنَا أَيْدِيَنَا مِنْ دَاخِلِ الْبَيْتِ ثُمَّ قَالَ اللَّهُمَّ اشْهَدْ قَالَت وأمرنا بالعيدين وَأَنْ نُخْرِجَ فِيهِ الْحُيَّضَ وَالْعُتَّقَ وَلا جُمُعَةَ علينا قَالَ إِسْمَاعِيلُ فَسَأَلْتُ جَدَّتِي عَنْ قَوْلِهِ وَلا يَعْصِينَك فِي مَعْرُوف قَالَت نَهَانَا عَن النِّيَاحَة.

--------------------------------------------

1 لَعَلَّه "وأطقتن".
৩-‌‌ নারীগণের বায়'আত গ্রহণ অধ্যায়

১৪- উমর ইবনে সাঈদ ইবনে শায়বান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমদ ইবনে আবু বকর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মালিক থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে মুনকাদির থেকে, তিনি উমাইমা বিনতে রুকাইকা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: আমি একদল নারীর সাথে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে তাঁর হাতে বায়'আত গ্রহণ করতে আসলাম। তারা বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা আপনার কাছে এই মর্মে বায়'আত করছি যে, আমরা আল্লাহর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করব না, চুরি করব না, ব্যভিচার করব না, আমাদের সন্তানদের হত্যা করব না, আমরা আমাদের হাত ও পায়ের মাঝখানে কোনো মিথ্যা অপবাদ রটাব না এবং কোনো সৎ কাজে আপনার অবাধ্য হব না। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "যেটুকু তোমরা সামর্থ্য রাখো এবং যেটুকু তোমরা আনুগত্য করতে পারো।" উমাইমা বলেন, আমি বললাম, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল আমাদের প্রতি আমাদের নিজেদের চেয়েও বেশি দয়ালু। হে আল্লাহর রাসূল! আসুন আমরা (মুসাফাহার মাধ্যমে) বায়'আত করি। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "আমি নারীদের সাথে মুসাফাহা করি না। একশ জন নারীর উদ্দেশ্যে আমার মৌখিক কথা, একজন নারীর উদ্দেশ্যে আমার কথার মতোই।"

১৫- আবু খলিফা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু ওয়ালিদ আল-তায়ালিসি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসহাক ইবনে উসমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসমাইল ইবনে ইব্রাহিম ইবনে আতিয়্যাহ তাঁর দাদি উম্মে আতিয়্যাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় আসলেন, তিনি আনসারী নারীদের একটি ঘরে একত্রিত করলেন এবং আমাদের কাছে উমর ইবনে খাত্তাবকে পাঠালেন। তিনি দরজায় দাঁড়িয়ে আমাদের সালাম দিলেন। আমরা তাঁর সালামের উত্তর দিলাম। তারপর তিনি বললেন, আমি তোমাদের কাছে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রেরিত প্রতিনিধি। তখন নারীরা বলল, আল্লাহর রাসূল এবং আল্লাহর রাসূলের প্রতিনিধির প্রতি স্বাগতম। তিনি বললেন, তোমরা কি এই মর্মে বায়'আত করবে যে, আল্লাহর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করবে না, চুরি করবে না, ব্যভিচার করবে না—এই আয়াত (শেষ পর্যন্ত)। উম্মে আতিয়্যাহ বলেন, আমরা বললাম, হ্যাঁ। এরপর তিনি ঘরের বাইরে থেকে তাঁর হাত প্রসারিত করলেন এবং আমরা ঘরের ভেতর থেকে আমাদের হাত প্রসারিত করলাম। তারপর তিনি বললেন, হে আল্লাহ! আপনি সাক্ষী থাকুন। তিনি বলেন, আর তিনি আমাদের দুই ঈদে বের হওয়ার আদেশ দিয়েছেন এবং তাতে ঋতুবতী নারী ও পর্দানশীন কুমারীদেরও বের করার নির্দেশ দিয়েছেন, তবে আমাদের ওপর জুমার নামাজ (আবশ্যক) নেই। ইসমাইল বলেন, আমি আমার দাদিকে "এবং কোনো সৎ কাজে আপনার অবাধ্য হবে না" এই কথাটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, এর দ্বারা তিনি আমাদের বিলাপ করতে নিষেধ করেছেন।

--------------------------------------------

১ সম্ভবত এটি "এবং যা তোমরা সহ্য করতে পারো"।
(খণ্ড: ১) মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা যাওয়াইদি ইবনে হিব্বান - তা আব্দুল রাজ্জাক হামজাহ (পৃষ্ঠা: ٣٤)
4-‌‌ بَاب فِي قَوَاعِد الدّين

16-أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ خُزَيْمَةَ حَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ وَاضِحٍ الْهَاشِمِيُّ حَدَّثَنَا
৪-‌‌ দ্বীনের মূলনীতিসমূহ সম্পর্কিত অধ্যায়

১৬-মুহাম্মাদ বিন ইসহাক বিন খুজাইমাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইউসুফ বিন ওয়াদিহ আল-হাশিমী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন
(খণ্ড: ১) মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা যাওয়াইদি ইবনে হিব্বান - তা আব্দুল রাজ্জাক হামজাহ (পৃষ্ঠা: ٣٥)
مُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ يَحْيَى بن يعمر قَالَ قلت يَعْنِي لِابْنِ عمر يَا أَبَا عبد الرَّحْمَن إِنَّ أَقْوَامًا يَزْعُمُونَ أَنْ لَيْسَ قَدْرٌ قَالَ هَلْ عِنْدَنَا مِنْهُمْ أَحَدٌ قُلْتُ لَا قَالَ فأبلغهم عني إِذا لَقِيتَهُمْ إِنَّ ابْنَ عُمَرَ يَبْرَأُ إِلَى اللَّهِ مِنْكُمْ وَأَنْتُمْ بُرَآءُ مِنْهُ حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ قَالَ بَيْنَمَا نَحْنُ جُلُوسٌ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي أُنَاسٍ إِذْ جَاءَهُ رجل لَيْسَ عَلَيْهِ سِيمَا سَفَرٍ وَلَيْسَ مِنْ أَهْلِ الْبَلَدِ يَتَخَطَّى حَتَّى وَرَكَ فَجَلَسَ بَيْنَ يَدَيْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ مَا الْإِسْلَام فَقَالَ: "الإِسْلامُ أَنْ تَشْهَدَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ وَأَنْ تُقِيمَ الصَّلاةَ وَتُؤْتِيَ الزَّكَاةَ وَتَحُجَّ وَتَعْتَمِرَ وَتَغْتَسِلَ مِنَ الْجَنَابَةِ وَأَنْ تُتِمَّ الْوُضُوءَ وَتَصُومَ رَمَضَانَ" قَالَ فَإِذا فعلت ذَلِكَ فَأَنَا مُسْلِمٌ قَالَ: "نَعَمْ" قَالَ صَدَقْتَ قَالَ: يَا مُحَمَّدُ مَا الإِيمَانُ قَالَ: "أَنْ تُؤْمِنَ بِاللَّهِ وَمَلائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ وَتُؤْمِنَ بِالْجَنَّةِ وَالنَّارِ وَالْمِيزَانِ وَتُؤْمِنَ بِالْبَعْثِ بَعْدَ الْمَوْتِ وَتُؤْمِنَ بِالْقدرِ خَيره وشره" قَالَ فَإِذا فعلت ذَلِكَ فَأَنَا مُؤْمِنٌ قَالَ: "نَعَمْ" قَالَ صَدَقْتَ قَالَ: يَا مُحَمَّدُ مَا الإِحْسَانُ قَالَ: "الإِحْسَانُ أَن تعبد الله كَأَنَّكَ تَرَاهُ فَإِنَّكَ إِنْ لَا تَرَاهُ فَإِنَّهُ يراك" قَالَ فَإِذا فعلت ذَلِك فَأَنَا مُحْسِنٌ قَالَ: "نَعَمْ" قَالَ صَدَقْتَ قَالَ: فَمَتَى السَّاعَةُ قَالَ: "سُبْحَانَ اللَّهِ مَا الْمَسْئُولُ عَنْهَا بِأَعْلَمَ مِنَ السَّائِلِ وَلَكِنْ إِنْ شَئْتَ نبأتك عَن أشراطها" قَالَ أجل قَالَ: "إِذا رَأَيْت الْحُفَاةَ الْعُرَاةَ يَتَطَاوَلُونَ فِي الْبِنَاءِ وَكَانُوا مُلُوكًا": قَالَ: مَا الْعَالَةُ الْحُفَاةُ الْعُرَاةُ قَالَ: الْعُرَيْبُ قَالَ: "وَإِذا رَأَيْت الْأمة تَلد رَبهَا فَذَاك مِنْ أَشْرَاطِ السَّاعَةِ" قَالَ صَدَقْتَ ثُمَّ نَهَضَ فَوَلَّى فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "عَلَيَّ بِالرَّجُلِ" فَطَلَبْنَاهُ كُلَّ مَطْلَبٍ فَلَمْ نَقَدِرْ عَلَيْهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "أَتَدْرُونَ من هَذَا هَذَا جِبْرِيل عليه السلام أَتَاكُمْ لَيُعَلِّمَكُمْ دِينَكُمْ خُذُوا عَنْهُ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ مَا شُبِّهَ عَلَيَّ مُنْذُ أَتَانِي قَبْلُ مرتي هَذِه وَمَا عَرفته حَتَّى ولى". قلت رَوَاهُ مُسلم بِاخْتِصَار.

17- أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سَلْمٍ بِبَيْتِ الْمَقْدِسِ حَدَّثَنَا حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ أَنَّ ابْنَ أَبِي هِلالٍ حَدَّثَهُ عَنْ نُعَيْمٍ الْمُجْمِرٍ أَنَّ صُهَيْبًا مَوْلَى الْعُتْوَارِيِّينَ حَدَّثَهُ أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَة وَأَبا سعيد يُخْبِرَانِ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ جَلَسَ عَلَى الْمِنْبَرِ ثُمَّ قَالَ: "وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ" ثَلاثَ مَرَّاتٍ ثُمَّ سَكَتَ وأكب كل رجل منا يبكي حَزينًا لِيَمِينِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ قَالَ: "مَا مِنْ عَبْدٍ يُؤَدِّي الصَّلَوَاتِ الْخمس ويصوم
মুতামির ইবনে সুলাইমান তাঁর পিতা হতে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ামুর হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: আমি ইবনে উমরকে বললাম, অর্থাৎ আবু আব্দুর রহমানকে, হে আবু আব্দুর রহমান! নিশ্চয়ই একদল লোক ধারণা করে যে, তাকদীর বলতে কিছু নেই। তিনি বললেন: আমাদের নিকট কি তাদের কেউ আছে? আমি বললাম: না। তিনি বললেন: যখন তুমি তাদের সাথে সাক্ষাৎ করবে, তখন তাদের আমার পক্ষ হতে পৌঁছে দিও যে, নিশ্চয়ই ইবনে উমর আল্লাহর সমীপে তোমাদের থেকে দায়মুক্ত এবং তোমরাও তার থেকে দায়মুক্ত। উমর ইবনুল খাত্তাব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: একদিন আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট কিছু লোকের সাথে বসা ছিলাম, এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি তাঁর নিকট আসলেন যার ওপর সফরের কোনো চিহ্ন ছিল না এবং তিনি এই শহরের অধিবাসীও ছিলেন না। তিনি সামনে অগ্রসর হয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে জানু পেতে বসলেন। অতঃপর তিনি বললেন: হে মুহাম্মদ! ইসলাম কী? তিনি বললেন: "ইসলাম হলো এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল; সালাত কায়েম করা; জাকাত প্রদান করা; হজ ও উমরা পালন করা; অপবিত্রতা হতে গোসল করা; পূর্ণাঙ্গভাবে ওজু করা এবং রমজানের রোজা রাখা।" তিনি বললেন: যখন আমি তা পালন করব তখন কি আমি মুসলিম? তিনি বললেন: "হ্যাঁ।" তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। তিনি বললেন: হে মুহাম্মদ! ঈমান কী? তিনি বললেন: "তুমি আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ এবং তাঁর রাসূলগণের প্রতি ঈমান আনবে; জান্নাত, জাহান্নাম ও মিজানের প্রতি ঈমান আনবে; মৃত্যুর পর পুনরুত্থানের প্রতি ঈমান আনবে এবং তাকদীরের ভালো ও মন্দের প্রতি ঈমান আনবে।" তিনি বললেন: যখন আমি তা করব তখন কি আমি মুমিন? তিনি বললেন: "হ্যাঁ।" তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। তিনি বললেন: হে মুহাম্মদ! ইহসান কী? তিনি বললেন: "ইহসান হলো এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত করা যেন তুমি তাঁকে দেখছ, আর যদি তুমি তাঁকে দেখতে না পাও তবে নিশ্চয়ই তিনি তোমাকে দেখছেন।" তিনি বললেন: যখন আমি তা করব তখন কি আমি মুহসিন? তিনি বললেন: "হ্যাঁ।" তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। তিনি বললেন: কিয়ামত কখন হবে? তিনি বললেন: "সুবহানাল্লাহ! এ বিষয়ে জিজ্ঞাসিত ব্যক্তি জিজ্ঞাসাকারীর চেয়ে অধিক অবগত নন, তবে তুমি চাইলে আমি তোমাকে এর নিদর্শনসমূহ সম্পর্কে অবহিত করতে পারি।" তিনি বললেন: অবশ্যই। তিনি বললেন: "যখন দেখবে নগ্নপদ ও বস্ত্রহীনরা অট্টালিকা নির্মাণে প্রতিযোগিতা করছে এবং তারা শাসক হবে।" তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: এই অভাবী নগ্নপদ ও বস্ত্রহীনরা কারা? তিনি বললেন: "আরব মরুবাসী।" তিনি বললেন: "আর যখন দেখবে দাসী তার মনিবকে প্রসব করছে, তখন সেটি কিয়ামতের নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত।" তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। অতঃপর তিনি উঠে চলে গেলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "লোকটিকে আমার কাছে নিয়ে আসো।" আমরা তাকে প্রতিটি স্থানে খুঁজলাম কিন্তু তাকে পেলাম না। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "তোমরা কি জানো তিনি কে? তিনি জিবরীল আলাইহিস সালাম। তিনি তোমাদের দ্বীন শেখাতে তোমাদের নিকট এসেছিলেন। তোমরা তাঁর থেকে তা গ্রহণ করো। সেই সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ, ইতিপূর্বে তিনি যখনই আমার নিকট এসেছেন আমি তাঁকে চিনতে পেরেছি, কিন্তু এবারের এই আসার ক্ষেত্রে তিনি চলে যাওয়া পর্যন্ত আমি তাঁকে চিনতে পারিনি।" আমি বলছি, মুসলিম এটি সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন।

১৭- বায়তুল মাকদিসে আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সালম আমাদের খবর দিয়েছেন, হারমালা ইবনে ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে ওয়াহাব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমর ইবনুল হারিস আমাকে খবর দিয়েছেন যে, ইবনে আবি হিলাল তাঁকে নুআইম আল-মুজমির হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি সুহাইব মাওলা আল-উতওয়ারিয়্যীন হতে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আবু হুরায়রা ও আবু সাঈদকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করতে শুনেছেন যে, তিনি মিম্বারের ওপর বসলেন এবং তিনবার বললেন: "সেই সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ।" অতঃপর তিনি নীরব হলেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শপথের কারণে আমাদের প্রত্যেকেই বিষণ্ণ হয়ে কাঁদতে লাগলেন। অতঃপর তিনি বললেন: "যে বান্দা পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করবে এবং রোজা রাখবে..."
(খণ্ড: ১) মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা যাওয়াইদি ইবনে হিব্বান - তা আব্দুল রাজ্জাক হামজাহ (পৃষ্ঠা: ٣٦)
رَمَضَانَ وَيَجْتَنِبُ الْكَبَائِرَ السَّبْعَ إِلا فُتِحَتْ لَهُ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ الثَّمَانِيَةُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ حَتَّى إِنَّهَا لَتَصْطَفِقُ" ثُمَّ تَلا {إِنْ تَجْتَنِبُوا كَبَائِرَ مَا تُنْهَوْنَ عَنْهُ نُكَفِّرْ عَنْكُمْ سَيِّئَاتِكُمْ وَنُدْخِلْكُمْ مُدْخَلاً كَرِيماً}

18- أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ حَدَّثَنَا فُلَيْحُ بْنُ سُلَيْمَانَ عَنْ هِلالِ بْنِ عَلِيٍّ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي عَمْرَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: "من آمن بِاللَّه وَرُسُله وَأَقَامَ الصَّلاةَ وَصَامَ رَمَضَانَ كَانَ حَقًّا عَلَى اللَّهِ أَنْ يُدْخِلَهُ الْجَنَّةَ هَاجَرَ فِي سَبِيلِ الله أَو جلس حَيْثُ وَلدته أمه".

19- أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ عَبْدِ الْجَبَّارِ الصُّوفِيُّ حَدَّثَنَا يَحِيَى بْنُ مَعِينٍ حَدَّثَنَا الْحَكَمُ بْنُ نَافِعٍ عَنْ شُعَيْبِ بْنِ أَبِي حَمْزَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أبي حُسَيْن عَن عِيسَى بن طَلْحَة عَن عَمْرَو بْنَ مُرَّةَ الْجُهَنِيَّ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ إِنْ شَهِدْتُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَأَنَّكَ رَسُولُ اللَّهِ وَصَلَّيْتُ الصَّلَوَاتِ الْخَمْسَ وَأَدَّيْتُ الزَّكَاةَ وَصُمْتُ رَمَضَانَ وَقُمْتُهُ فَمِمَّنْ أَنَا قَالَ: "مِنَ الصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ".

20- حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بن أبي بكر الْمقدمِي حَدثنَا فُضَيْل بْنُ سُلَيْمَانَ حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ عُقْبَةَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَلْمٍانَ الأَغَرُّ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي أَيُّوبَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "مَا مِنْ عَبْدٍ يَعْبُدُ اللَّهَ لَا يُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا وَيُقِيمُ الصَّلاةَ وَيُؤْتِي الزَّكَاةَ وَيَصُومُ رَمَضَانَ وَيَجْتَنِبُ الْكَبَائِرَ إِلَّا دخل الْجَنَّةِ".

21- أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى حَدَّثَنَا عَليّ بن الْجَعْد أَنبأَنَا ابْنُ ثَوْبَانَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ مَكْحُولٍ عَنْ معَاذ بن جبل وَعَن عُمَيْر بن هانىء عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ غَنْمٍ أَنَّهُ سَمِعَ معَاذ بن جبل عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ قُلْتُ حَدِّثْنِي بِعَمَلٍ يُدْخِلُنِي الْجَنَّةَ قَالَ: "بَخٍ بَخٍ سَأَلْتَ عَنْ أَمْرٍ عَظِيمٍ وَهُوَ يَسِيرٌ لِمَنْ يَسَّرَهُ الِلَّهِ عَلَيْهِ تُقِيمُ الصَّلاةَ الْمَكْتُوبَةَ وَتُؤْتِي الزَّكَاةَ الْمَفْرُوضَةَ وَلا تشرك بِاللَّه شَيْئا".

22- أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمِنْهَالِ الضَّرِيرُ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ حَدَّثَنَا هِشَامٍ الدَّسْتُوَائِيِّ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ عَنْ أَبِي جَعْفَرٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "أفضل الْأَعْمَال عِنْد الله تَعَالَى إِِيمَانٌ لَا شَكَّ فِيهِ وَغَزْوٌ لَا غُلُولَ فِيهِ وَحَجٌّ مَبْرُورٌ" قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ حَجَّةٌ مبرورة تكفر خَطَايَا سنة.
"রমযান এবং সে সাতটি কবীরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকে, তবে তার জন্য কিয়ামতের দিন জান্নাতের আটটি দরজাই খুলে দেওয়া হবে, এমনকি সেগুলো (খুশিতে) সশব্দে নড়াচড়া করতে থাকবে।" এরপর তিনি তিলাওয়াত করলেন: {তোমরা যদি সেসব কবীরা গুনাহ থেকে বিরত থাকো যা তোমাদের নিষেধ করা হয়েছে, তবে আমি তোমাদের ছোট পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবো এবং তোমাদের এক সম্মানজনক স্থানে প্রবেশ করাবো।}

১৮- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ, তিনি বলেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইসহাক ইবনে ইব্রাহীম, তিনি বলেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু আমির, তিনি বলেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ফুলাইহ ইবনে সুলাইমান, হিলাল ইবনে আলী থেকে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে আবি আমরাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি ও তাঁর রাসূলগণের প্রতি ঈমান আনল, সালাত কায়েম করল এবং রমযানের সিয়াম পালন করল, আল্লাহর ওপর হক (অধিকার) হয়ে যায় যে তিনি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, চাই সে আল্লাহর পথে হিজরত করুক কিংবা সে যেখানে জন্ম গ্রহণ করেছে সেখানেই অবস্থান করুক।"

১৯- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ ইবনুল হাসান ইবনে আব্দুল জাব্বার আস-সূফী, তিনি বলেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন, তিনি বলেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন হাকাম ইবনে নাফি, শুয়াইব ইবনে আবি হামযাহ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আবি হুসাইন থেকে, তিনি ঈসা ইবনে তালহা থেকে, তিনি আমর ইবনে মুররা আল-জুহানি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: জনৈক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার অভিমত কী—যদি আমি সাক্ষ্য দেই যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আপনি আল্লাহর রাসূল, আর আমি পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করি, যাকাত প্রদান করি, রমযানের সিয়াম পালন করি এবং রাতের কিয়াম (সালাত) আদায় করি, তবে আমি কাদের অন্তর্ভুক্ত হব? তিনি বললেন: "সিদ্দীক ও শহীদদের অন্তর্ভুক্ত।"

২০- আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আহমাদ ইবনে আলী ইবনুল মুসান্না, তিনি বলেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুহাম্মাদ ইবনে আবু বকর আল-মুকাদ্দামী, তিনি বলেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ফুদাইল ইবনে সুলাইমান, তিনি বলেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুসা ইবনে উকবা, তিনি বলেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আব্দুল্লাহ ইবনে সালমান আল-আগারর, তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু আইয়ুব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে বান্দা আল্লাহর ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কাউকে শরিক করবে না, সালাত কায়েম করবে, যাকাত প্রদান করবে, রমযানের সিয়াম পালন করবে এবং কবীরা গুনাহসমূহ থেকে বিরত থাকবে, সে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে।"

২১- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ ইবনে আলী ইবনুল মুসান্না, তিনি বলেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আলী ইবনুল জাদ, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনে সাওবান, তাঁর পিতা থেকে, তিনি মাকহুল থেকে, তিনি মুয়াজ ইবনে জাবাল থেকে এবং উমায়ের ইবনে হানি থেকে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে গানম থেকে, তিনি মুয়াজ ইবনে জাবালকে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করতে শুনেছেন যে, আমি (মুয়াজ) বললাম: আমাকে এমন একটি আমল বলে দিন যা আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে। তিনি বললেন: "সাবাশ! সাবাশ! তুমি এক মহান বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছ, তবে এটি তার জন্য সহজ যার জন্য আল্লাহ একে সহজ করে দেন। তা হলো—তুমি নির্ধারিত ফরয সালাত কায়েম করবে, ফরয যাকাত প্রদান করবে এবং আল্লাহর সাথে কোনো কিছু শরিক করবে না।"

২২- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাসান ইবনে সুফিয়ান, তিনি বলেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুহাম্মাদ ইবনুল মিনহাল আদ-দারীর, তিনি বলেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইয়াযীদ ইবনে যুরাই, তিনি বলেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন হিশাম আদ-দাস্তুওয়ায়ী, ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসীর থেকে, তিনি আবু জাফর থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহ তাআলার নিকট সর্বোত্তম আমল হলো এমন ঈমান যাতে কোনো সন্দেহ নেই, এমন যুদ্ধ (জিহাদ) যাতে কোনো আত্মসাৎ (গনীমতের মালে খেয়ানত) নেই এবং মকবুল হজ্জ।" আবু হুরায়রা বলেন: একটি মকবুল হজ্জ এক বছরের গুনাহসমূহ মিটিয়ে দেয়।
(খণ্ড: ১) মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা যাওয়াইদি ইবনে হিব্বান - তা আব্দুল রাজ্জাক হামজাহ (পৃষ্ঠা: ٣٧)
5-‌‌ بَاب فِي الْإِسْلَام وَالْإِيمَان

23- أَخْبَرَنَا الْفَضْلُ بْنُ الْحُبَابِ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كثير أَنبأَنَا سُفْيَانُ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ رِبْعِيٍّ عَنْ عَلِيٍّ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: "لَا يُؤْمِنُ الْعَبْدُ حَتَّى يُؤْمِنَ بِأَرْبَعٍ يَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَأَنِّي رَسُولُ اللَّهِ وَيُؤْمِنُ بِالْبَعْثِ بَعْدَ الْمَوْتِ وَيُؤْمِنُ بِالْقَدْرِ".

24- أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ صَالِحِ بْنِ ذَرِيحٍ بِعُكْبَرَاءَ أَنبأَنَا إِسْمَاعِيل بن مُوسَى الْفَزارِيّ حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ عَنْ مَنْصُورٍ عَنِ الْحَسَنِ عَنْ أَبِي بَكْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "الْبَذَاءُ مِنَ الْجَفَاءِ وَالْجَفَاءُ فِي النَّارِ وَالْحَيَاءُ مِنَ الإِيمَانِ وَالإِيمَانُ فِي الْجَنَّةِ".

25- أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْجُنَيْدِ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ أَنبأَنَا اللَّيْث بن سعد حَدثنِي أَبُو هانىء الْخَوْلانِيُّ عَنْ عَمْرِو بْنِ مَالِكٍ الْجَنْبِيِّ قَالَ حَدَّثَنِي فَضَالَةَ بْنِ عُبَيْدٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ: "أَلا أُخْبِرُكُمْ بِالْمُؤْمِنِ مَنْ أَمِنَهُ النَّاسُ عَلَى أَمْوَالِهِمْ وَأَنْفُسِهِمْ وَالْمُسْلِمُ مَنْ سَلِمَ النَّاسُ مِنْ لِسَانِهِ وَيَدِهِ وَالْمُجَاهِدُ مَنْ جَاهَدَ نَفْسَهُ فِي طَاعَةِ اللَّهِ وَالْمُهَاجِرُ مَنْ هَجَرَ الْخَطَايَا والذنُوب".

26- أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ عَبْدِ الْجَبَّارِ حَدَّثَنَا أَبُو نَصْرٍ التَّمَّارُ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ يُونُسَ بْنِ عُبَيْدٍ وَحُمَيْدٍ وَذَكَرَ الصُّوفِيُّ آخر مَعَهُمَا عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: "الْمُؤْمِنُ مَنْ أَمِنَهُ النَّاسُ وَالْمُسْلِمُ مَنْ سَلِمَ الْمُسْلِمُونَ مِنْ لِسَانِهِ وَيَدِهِ وَالْمُهَاجِرُ مَنْ هجر السُّوءَ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ من لَا يَأْمَن جَاره بوائقه".

27- أخبرنَا عَبْدَانُ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَعْمَرٍ حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ أَخْبَرَنِي أَبُو الزُّبَيْرِ أَنَّهُ سَمِعَ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُول: "أسلم النَّاس إِسْلامًا مَنْ سَلِمَ الْمُسْلِمُونَ مِنْ لِسَانِهِ وَيَدِهِ" قلت هُوَ فِي الصَّحِيح بِلَفْظ الْمُسلم من سلم.

28- أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْحَجَّاجِ السَّامِيُّ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ أَبِي قَزَعَةَ عَنْ حَكِيمِ بْنِ مُعَاوِيَةَ عَنْ أَبِيهِ أَنَّهُ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ مَا أَتَيْتُكَ حَتَّى حَلَفْتُ عَدَدَ أَصَابِعِي هَذِهِ أَنْ لَا آتِيَكَ فَمَا الَّذِي بَعَثَكَ بِهِ قَالَ: "الإِسْلامُ" قَالَ وَمَا الإِسْلامُ قَالَ: "أَنْ تُسْلِمَ قَلْبَكَ لِلَّهِ وَأَنْ تُوَجِّهَ وَجْهَكَ لِلَّهِ وَأَنْ
৫-‌‌ ইসলাম ও ঈমান অধ্যায়

২৩- ফাদল ইবনুল হুবাব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন মুহাম্মদ ইবনে কাসীর আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন সুফিয়ান আমাদের জানিয়েছেন মানসূর থেকে, তিনি রিবঈ থেকে, তিনি আলী থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "বান্দা ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারে না, যতক্ষণ না সে চারটি বিষয়ের প্রতি ঈমান আনে: সে সাক্ষ্য দেবে যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল, আর সে মৃত্যুর পর পুনরুত্থানে বিশ্বাস করবে এবং তাকদিরে বিশ্বাস করবে।"

২৪- মুহাম্মদ ইবনে সালিহ ইবনে যারীহ উকবারা নামক স্থানে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন ইসমাঈল ইবনে মূসা আল-ফাযারী আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন হুশাইম আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মানসূর থেকে, তিনি হাসান থেকে, তিনি আবু বাকরা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "অশ্লীলতা বা কটু কথা হলো কঠোরতার অংশ, আর কঠোরতা জাহান্নামে। আর লজ্জা হলো ঈমানের অংশ, আর ঈমান জান্নাতে।"

২৫- মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনুল জুনাইদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আবদুল ওয়ারিস ইবনে উবায়দুল্লাহ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন লাইস ইবনে সাদ আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন আবু হানি আল-খাওলানী আমর ইবনে মালিক আল-জানবী থেকে আমার কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন ফাদালাহ ইবনে উবাইদ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় হজ্জে বলেছেন: "আমি কি তোমাদের মুমিন সম্পর্কে সংবাদ দেব না? মুমিন সেই ব্যক্তি যার কাছে মানুষ তাদের জান ও মালের ব্যাপারে নিরাপদ বোধ করে। আর মুসলিম সেই ব্যক্তি যার জিহ্বা ও হাত থেকে মানুষ নিরাপদ থাকে। আর মুজাহিদ সেই ব্যক্তি যে আল্লাহর আনুগত্যের পথে নিজের নফসের বিরুদ্ধে জিহাদ করে। আর মুহাজির সেই ব্যক্তি যে ভুলত্রুটি ও গুনাহ বর্জন করে।"

২৬- আহমদ ইবনুল হাসান ইবনে আবদুল জব্বার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আবু নাসর আত-তাম্মার আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন হাম্মাদ ইবনে সালামাহ ইউনুস ইবনে উবায়েদ ও হুমাইদ থেকে আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন—সুফী তাদের সাথে আরও একজনের কথা উল্লেখ করেছেন—তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "মুমিন সেই ব্যক্তি যাকে মানুষ নিরাপদ মনে করে, আর মুসলিম সেই ব্যক্তি যার জিহ্বা ও হাত থেকে মুসলিমরা নিরাপদ থাকে, আর মুহাজির সেই ব্যক্তি যে মন্দ বিষয় বর্জন করে। আর যাঁর হাতে আমার প্রাণ তাঁর শপথ, সেই ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না যার অনিষ্ট থেকে তার প্রতিবেশী নিরাপদ থাকে না।"

২৭- আবদান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন মুহাম্মদ ইবনে মামার আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন আবু আসিম ইবনে জুরাইজ থেকে আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন আবু যুবাইর আমাকে জানিয়েছেন যে তিনি জাবির ইবনে আবদুল্লাহকে বলতে শুনেছেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "মানুষের মাঝে উত্তমভাবে ইসলাম গ্রহণকারী সেই ব্যক্তি, যার জিহ্বা ও হাত থেকে মুসলিমরা নিরাপদ থাকে।" আমি বলছি: এটি সহীহ গ্রন্থে 'মুসলিম সেই ব্যক্তি যার থেকে নিরাপদ থাকে' এই শব্দে বর্ণিত হয়েছে।

২৮- আহমদ ইবনে আলী ইবনুল মুসান্না আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন ইবরাহীম ইবনুল হাজ্জাজ আস-সামী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন হাম্মাদ ইবনে সালামাহ আবু কাযাআ থেকে, তিনি হাকীম ইবনে মুআবিয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: হে আল্লাহর রাসূল, যিনি আপনাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন তাঁর শপথ, আমি আপনার কাছে আসব না বলে আমার এই আঙুলগুলোর সমপরিমাণ বার কসম খেয়েছিলাম। সুতরাং আপনি কী নিয়ে প্রেরিত হয়েছেন? তিনি বললেন: "ইসলাম।" তিনি জিজ্ঞেস করলেন: ইসলাম কী? তিনি বললেন: "তুমি তোমার অন্তরকে আল্লাহর কাছে সমর্পণ করবে, তোমার চেহারাকে আল্লাহর দিকে নিবদ্ধ করবে এবং..."
(খণ্ড: ১) মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা যাওয়াইদি ইবনে হিব্বান - তা আব্দুল রাজ্জাক হামজাহ (পৃষ্ঠা: ٣٨)
تُصَلِّيَ الصَّلاةَ الْمَكْتُوبَةَ وَتُؤَدِّيَ الزَّكَاةَ الْمَفْرُوضَةَ أَخَوَانِ بصيران لَا تقبل مِنْ عَبْدٍ تَوْبَةً أَشْرَكَ بَعْدَ إِسْلامِهِ".

29- أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بن إِسْمَاعِيل بن أبي شيبَة حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ عَنْ حُسَيْنٍ الْمُعَلِّمِ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: "لَا يبلغ العَبْد حَقِيقَةَ الإِيمَانِ حَتَّى يُحِبَّ لِلنَّاسِ مَا يُحِبُّ لنَفسِهِ من الْخَيْر".

30- أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ قَحْطَبَةَ حَدَّثَنَا الْعَبَّاسُ بن عبد الْعَظِيم الْعَنْبَري حَدَّثَنَا مُؤَمَّلُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ مُعلى بْنِ عَطَاءٍ عَنْ وَكِيعِ بْنِ عُدُسٍ عَنْ عَمِّهِ أَبِي رَزِينٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "مَثَلُ الْمُؤْمِنِ مَثَلُ النَّحْلَةِ لَا تَأْكُلُ إِلا طَيِّبًا وَلا تَضَعُ إِلَّا طيبا".
তুমি ফরয সালাত আদায় করবে এবং নির্ধারিত যাকাত প্রদান করবে; এই দুটি হলো পরস্পর ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ইসলাম গ্রহণের পর শিরক করেছে এমন কোনো বান্দার তাওবা কবুল করা হবে না।

২৯- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ বিন আলী বিন আল-মুসান্না, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন ইসমাঈল বিন আবী শায়বাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবন আবী আদী, হুসাইন আল-মুআল্লিম থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি আনাস থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "কোনো বান্দা ঈমানের প্রকৃত হাকীকতে পৌঁছাতে পারবে না, যতক্ষণ না সে মানুষের জন্য সেই কল্যাণ পছন্দ করে যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে।"

৩০- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল্লাহ বিন কাহতাবাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্বাস বিন আব্দুল আযীম আল-আনবারী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুয়াম্মাল বিন ইসমাঈল, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শু'বাহ, মুয়াল্লা বিন আতা থেকে, তিনি ওয়াকী' বিন উদুস থেকে, তিনি তাঁর চাচা আবু রাযীন থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "মুমিনের উদাহরণ হলো মৌমাছির ন্যায়; সে পবিত্র বস্তু ব্যতীত ভক্ষণ করে না এবং পবিত্র বস্তু ব্যতীত নির্গত করে না।"
(খণ্ড: ১) মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা যাওয়াইদি ইবনে হিব্বান - তা আব্দুল রাজ্জাক হামজাহ (পৃষ্ঠা: ٣٨)
6-‌‌ بَاب فِي الموجبتين ومنازل النَّاس فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَة

31- أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بشار حَدثنَا أَبُو دَاوُد حَدثنَا شَيبَان النَّحْوِيّ حَدَّثَنَا الرُّكَيْنُ بْنُ الرَّبِيعِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَمه وَهُوَ يَسِيرِ بْنِ عَمِيلَةَ عَنْ خُرَيْمِ بْنِ فَاتِكٍ الأَسَدِيِّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "النَّاسُ أَرْبَعَةٌ وَالأَعْمَالُ سِتَّةٌ مُوجِبَتَانِ وَمثل بِمثل وحسنة بِعشر أَمْثَالهَا وحسنة بسبعمائة ضِعْفٍ وَالنَّاسُ مُوَسَّعٌ عَلَيْهِ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ وَمُوَسَّعٌ عَلَيْهِ فِي الدُّنْيَا مَقْتُورٌ عَلَيْهِ فِي الآخِرَةِ وَمَقْتُورٌ عَلَيْهِ فِي الدُّنْيَا مُوَسَّعٌ عَلَيْهِ فِي الآخِرَةِ وَمَقْتُورٌ عَلَيْهِ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ وَشَقِيٌّ فِي الدُّنْيَا وَشَقِيٌّ فِي الآخِرَةِ وَالْمُوجِبَتَانِ مَنْ قَالَ لَا إِِلَهَ إِِلا اللَّهُ أَوْ قَالَ مُؤْمِنًَا بِاللَّهِ دَخَلَ الْجَنَّةَ وَمَنْ مَاتَ وَهُوَ يُشْرِكُ بِاللَّهِ دَخَلَ النَّارَ وَمَنْ هَمَّ بِحَسَنَةٍ فَعَمِلَهَا كُتِبَتْ لَهُ عَشَرَةُ أَمْثَالِهَا وَمَنْ هَمَّ بِحَسَنَةٍ فَلَمْ يَعْمَلْهَا كَتَبْتُ لَهُ حَسَنَةً وَمَنْ هَمَّ بِسَيِّئَةٍ فَلَمْ يَعْمَلْهَا كُتِبَتْ لَهُ حَسَنَةٌ وَمَنْ هَمَّ بِسَيِّئَةٍ فَعَمِلَهَا كُتِبَتْ لَهُ سَيِّئَةٌ وَاحِدَةٌ غَيْرُ مُضَعَّفَةٍ وَمَنْ أَنْفَقَ نَفَقَةً فاضلة فِي سَبِيل الله فسبعمائة ضعف".
৬-‌‌ জান্নাত ও জাহান্নাম ওয়াজিবকারী দুটি বিষয় এবং দুনিয়া ও আখিরাতে মানুষের স্তরসমূহ সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ

৩১- হাসান ইবনে সুফিয়ান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন মুহাম্মদ ইবনে বাশশার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আবু দাউদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন শাইবান আন-নাহবী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি রুকাইন ইবনে রাবী' থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি তার চাচা ইয়াসীর ইবনে আমীলাহ থেকে, তিনি খুরাইম ইবনে ফাতিক আল-আসাদী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "মানুষ চার প্রকার এবং আমল ছয় প্রকার। আমলগুলো হলো: ওয়াজিবকারী (প্রতিদান নিশ্চিতকারী) দুটি বিষয়, সমমানের প্রতিদান, দশ গুণ সওয়াব এবং সাতশত গুণ সওয়াব। আর মানুষ হলো: সেই ব্যক্তি যার জন্য দুনিয়া ও আখিরাত উভয়ই প্রশস্ত করা হয়েছে; সেই ব্যক্তি যার জন্য দুনিয়ায় প্রশস্ততা রয়েছে কিন্তু আখিরাতে সে সংকীর্ণতায় থাকে; সেই ব্যক্তি যার দুনিয়া সংকীর্ণ কিন্তু আখিরাত প্রশস্ত; এবং সেই ব্যক্তি যার দুনিয়া ও আখিরাত উভয়ই সংকীর্ণ; আর সে দুনিয়াতেও দুর্ভাগা এবং আখিরাতেও দুর্ভাগা। ওয়াজিবকারী দুটি বিষয় হলো: যে ব্যক্তি বলে 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই' অথবা আল্লাহর প্রতি ঈমান আনয়ন করে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে; আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শিরক করা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে, সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে। যে ব্যক্তি কোনো নেক কাজের সংকল্প করল এবং তা সম্পাদন করল, তার জন্য দশ গুণ সওয়াব লেখা হয়। আর যে ব্যক্তি কোনো নেক কাজের সংকল্প করল কিন্তু তা সম্পাদন করতে পারল না, তার জন্য একটি নেকি লেখা হয়। যে ব্যক্তি কোনো মন্দ কাজের সংকল্প করল কিন্তু তা করল না, তার জন্য একটি নেকি লেখা হয়। আর যে ব্যক্তি কোনো মন্দ কাজের সংকল্প করল এবং তা সম্পাদন করল, তার জন্য একটিই গুনাহ লেখা হয়, যা বৃদ্ধি করা হয় না। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে অতিরিক্ত সম্পদ ব্যয় করে, তার জন্য সাতশত গুণ সওয়াব রয়েছে।"
(খণ্ড: ১) মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা যাওয়াইদি ইবনে হিব্বান - তা আব্দুল রাজ্জাক হামজাহ (পৃষ্ঠা: ٣٨)
7-‌‌ بَاب مَا جَاءَ فِي الْوَحْي والإسراء

32- أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُسَيِّبِ بْنِ إِسْحَاقَ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ إِشْكَابٍ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ عَنِ الأَعْمَشِ عَنْ مُسْلِمٍ عَنْ مَسْرُوقٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "إِنَّ اللَّهَ إِذَا تَكَلَّمَ بِالْوَحْيِ سَمِعَ أَهْلُ السَّمَاءِ لِلسَّمَاءِ صَلْصَلَةً كَجَرِّ السِّلْسِلَةِ عَلَى الصَّفَا فَيُصْعَقُونَ فَلا يَزَالُونَ كَذَلِك حَتَّى يَأْتِيهم جِبْرِيل فَإِذا جَاءَهُم فُزِّعَ عَنْ قُلُوبِهِمْ فَيَقُولُونَ
৭-‌‌ ওহী এবং ইসরা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে সেই অধ্যায়

৩২- মুহাম্মদ ইবনুল মুসাইয়্যিব ইবনে ইসহাক আমাদের অবহিত করেছেন, আলী ইবনুল হুসাইন ইবনে ইশকাবে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু মুআবিয়া আমাদের নিকট আ’মাশ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি মুসলিম থেকে, তিনি মাসরুক থেকে, তিনি আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ যখন ওহীর মাধ্যমে কথা বলেন, তখন আসমানের অধিবাসীরা আসমানের পক্ষ থেকে মসৃণ পাথরের ওপর শিকল টানার শব্দের ন্যায় ঝনঝন শব্দ শুনতে পায়। ফলে তারা সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ে। জিবরীল তাদের নিকট আসা পর্যন্ত তারা এভাবেই থাকে। যখন তিনি তাদের নিকট আসেন, তখন তাদের অন্তর থেকে আতঙ্ক দূর করা হয়। এরপর তারা বলে..."
(খণ্ড: ১) মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা যাওয়াইদি ইবনে হিব্বান - তা আব্দুল রাজ্জাক হামজাহ (পৃষ্ঠা: ٣٩)
يَا جِبْرِيلُ مَاذَا قَالَ رَبُّكَ فَيَقُولُ الْحَقَّ فينادون الْحق الْحق".

33- أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى حَدَّثَنَا خَلَفُ بْنُ هِشَامٍ الْبَزَّارُ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زيد حَدثنَا عَاصِمِ بْنِ أَبِي النَّجُودِ عَنْ زِرِّ بْنِ حُبَيْشٍ قَالَ أَتَيْتُ حُذَيْفَةَ فَقَالَ مَنْ أَنْتَ يَا أَصْلَعُ قُلْتُ أَنَا زِرُّ بْنُ حُبَيْشٍ حَدِّثْنِي بِصَلاةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي بَيْتِ الْمَقَدْسِ حِينَ أُسْرِيَ بِهِ قَالَ من أخْبرك يَا أَصْلَعُ قُلْتُ الْقُرْآنُ قَالَ الْقُرْآنُ فَقَرَأْتُ سُبْحَانَ الَّذِي أسرى بِعَبْدِهِ من اللَّيْل وَهَكَذَا هِيَ فِي قِرَاءَةُ عَبْدِ اللَّهِ إِلَى قَوْلِهِ إِنَّهُ {هُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ} قَالَ فَهَل تَرَاهُ صَلَّى فِيهِ قُلْتُ لَا قَالَ إِنَّهُ أُتِيَ بِدَابَّةٍ قَالَ حَمَّادٌ وَصَفَهَا عَاصِمٌ لَا أَحْفَظُ صِفَتَهَا قَالَ فَحَمَلَهُ عَلَيْهَا جِبْرِيلُ أَحَدُهُمَا رَدِيفُ صَاحِبِهِ فَانْطَلَقَ مَعَهُ مِنْ لَيْلَتِهِ حَتَّى أَتَى بَيْتَ الْمَقَدْسِ فَأُرِيَ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الأَرْضِ ثُمَّ رَجَعَا عَوْدَهُمَا عَلَى بدئهما فَلم يصل فِيهِ وَلَو صلى فِيهِ لكَانَتْ سنة.

34- أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ المتَوَكل المقرى حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ وَاضِحٍ حَدَّثَنَا الزُّبَيْرُ بْنُ جُنَادَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "لَيْلَةَ أُسْرِيَ بِي انْتَهِيَتُ إِلَى بَيْتِ الْمَقَدْسِ فَخَرَقَ جِبْرِيلُ الصَّخْرَةَ بِإِصْبَعِهِ وَشَدَّ بِهَا الْبُرَاقَ"

35- أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمِنْهَالِ الضَّرِيرُ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ حَدَّثَنَا هِشَامٌ الدَّسْتُوَائِيُّ حَدَّثَنَا الْمُغِيرَةُ خَتَنُ مَالِكِ بْنِ دِينَارٍ عَنْ مَالِكِ بْنِ دِينَارٍ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "رَأَيْتُ لَيْلَةَ أُسْرِيَ بِي رجَالًا تقْرض شفاههم بمقاريض من النَّار فَقُلْتُ مَنْ هَؤُلاءِ يَا جِبْرِيلُ فَقَالَ الْخُطَبَاءُ من أمتك الَّذين يَأْمُرُونَ النَّاسَ بِالْبِرِّ وَيَنْسَوْنَ أَنْفُسَهُمْ وَهُمْ يَتْلُونَ الْكتاب أَفلا يعْقلُونَ".

36- أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ حَدَّثَنَا هُدْبَةُ بْنُ خَالِدٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ: "مَرَرْتُ لَيْلَةَ أُسْرِيَ بِي بِرَائِحَةٍ طَيْبَةٍ فَقُلْتُ مَا هَذَا يَا جِبْرِيلُ فَقَالَ هَذِه ماشطة ابْنة فِرْعَوْنَ كَانَتْ تَمْشُطُهَا فَوَقَعَ الْمُشْطُ مِنْ يَدَهَا فَقَالَت بِسم الله فَقَالَت ابْنة فِرْعَوْن أبي فَقَالَت رَبِّي وَرَبُّكِ وَرَبُّ أَبِيكِ قَالَتْ أَقُولُ لَهُ قَالَتْ قُولِي فَقَالَتْ فَقَالَ لَهَا أَلَكِ مِنْ رَبٍّ غَيْرِي قَالَتْ رَبِّي وَرَبُّكَ الَّذِي فِي السَّمَاء قَالَ فأحمى لَهَا بقرة من
"হে জিবরীল! আপনার রব কী বলেছেন? তিনি বলবেন, সত্য। তখন তারা উচ্চস্বরে বলবে, সত্য সত্য।"

৩৩- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ বিন আলী বিন আল-মুসান্না, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন খালাফ বিন হিশাম আল-বাযযার, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ বিন যায়েদ, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আসিম বিন আবি আল-নাজুদ, তিনি যির বিন হুবায়শ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি হুযায়ফার নিকট আসলাম। তিনি বললেন, হে টাক মাথার লোক! তুমি কে? আমি বললাম, আমি যির বিন হুবায়শ। আমাকে বাইতুল মাকদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নামায সম্পর্কে বলুন, যখন তাঁকে সেখানে রাতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তিনি বললেন, হে টাক মাথার লোক! তোমাকে কে সংবাদ দিয়েছে? আমি বললাম, কুরআন। তিনি বললেন, কুরআন? তখন আমি পাঠ করলাম, 'পবিত্র সেই সত্তা যিনি তাঁর বান্দাকে রাতে ভ্রমণ করিয়েছিলেন...' এবং এভাবেই এটি আবদুল্লাহর ক্বিরাআতে রয়েছে, 'নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা' পর্যন্ত। তিনি বললেন, আপনি কি মনে করেন তিনি সেখানে নামায পড়েছিলেন? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, তাঁর নিকট একটি সওয়ারী আনা হয়েছিল। হাম্মাদ বলেন, আসিম সেটির বর্ণনা দিয়েছিলেন যা আমার স্মরণ নেই। তিনি বলেন, জিবরীল তাঁকে সেটির উপর বহন করেছিলেন, একজন অন্যজনের পেছনে বসা ছিলেন। তিনি তাঁকে নিয়ে সেই রাতেই রওয়ানা হলেন যতক্ষণ না বাইতুল মাকদিসে আসলেন। অতঃপর তাঁকে আসমান ও যমীনে যা কিছু আছে তা দেখানো হলো। এরপর তাঁরা যে পথে গিয়েছিলেন সে পথেই ফিরে আসলেন। তিনি সেখানে নামায পড়েননি, যদি তিনি সেখানে নামায পড়তেন তবে তা সুন্নাত হয়ে যেত।

৩৪- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ইয়ালা, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবদুর রহমান বিন আল-মুতাওয়াক্কিল আল-মুকরী, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া বিন ওয়াদিহ, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন যুবায়ের বিন জুনাদাহ, তিনি আবদুল্লাহ বিন বুরায়দাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে রাতে আমাকে মিরাজে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, আমি বাইতুল মাকদিসে পৌঁছলাম। অতঃপর জিবরীল তাঁর আঙুল দিয়ে পাথরটি ছিদ্র করলেন এবং তার সাথে বুরাকটিকে বাঁধলেন।"

৩৫- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-হাসান বিন সুফিয়ান, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আল-মিনহাল আদ-দারীর, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইয়াযীদ বিন যুরাই, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন হিশাম আদ-দাস্তাওয়ায়ী, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুগীরাহ যিনি মালিক বিন দীনারের জামাতা, তিনি মালিক বিন দীনার থেকে, তিনি আনাস বিন মালিক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমি মিরাজের রাতে এমন কিছু লোক দেখলাম যাদের ঠোঁট আগুনের কাঁচি দিয়ে কাটা হচ্ছিল। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, হে জিবরীল! এরা কারা? তিনি বললেন, এরা আপনার উম্মতের সেই সকল বক্তা যারা মানুষকে সৎকাজের নির্দেশ দেয় কিন্তু নিজেদের কথা ভুলে যায়, অথচ তারা কিতাব তিলাওয়াত করে। তারা কি তবে বোঝে না?"

৩৬- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-হাসান বিন সুফিয়ান, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন হুদবাহ বিন খালিদ, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ বিন সালামাহ, তিনি আতা বিন আস-সাইব থেকে, তিনি সাঈদ বিন জুবায়ের থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "মিরাজের রাতে আমি একটি চমৎকার সুগন্ধির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, হে জিবরীল! এটি কীসের সুগন্ধি? তিনি বললেন, এটি ফেরাউনের মেয়ের চুল আঁচড়ানি (দাসী) ও তার সন্তানদের সুগন্ধি। সে তাদের চুল আঁচড়াচ্ছিল এমতাবস্থায় তার হাত থেকে চিরুনিটি পড়ে যায়, তখন সে বলে ওঠে, বিসমিল্লাহ (আল্লাহর নামে)। ফেরাউনের মেয়ে বলল, আমার পিতার নামে? সে বলল, আমার রব, তোমার রব এবং তোমার পিতার রব। মেয়েটি বলল, আমি কি তাকে এ কথা বলব? সে বলল, হ্যাঁ বলো। তখন সে তাকে সংবাদ দিল। ফেরাউন তাকে ডাকল এবং বলল, আমি ছাড়া কি তোমার আর কোনো রব আছে? সে বলল, আমার রব এবং তোমার রব হলেন তিনি যিনি আসমানে আছেন। ফেরাউন বলল, তবে তার জন্য একটি তামার গাভী (পাত্র) উত্তপ্ত করো..."
(খণ্ড: ১) মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা যাওয়াইদি ইবনে হিব্বান - তা আব্দুল রাজ্জাক হামজাহ (পৃষ্ঠা: ٤٠)
نُحَاس وَقَالَت لَهُ لِي إِلَيْكَ حَاجَةً قَالَ وَمَا حَاجَتُكِ قَالَتْ حَاجَتِي أَنْ تَجْمَعَ بَيْنَ عِظَامِي وَبَيْنَ عِظَامِ وَلَدِي قَالَ ذَلِكَ لَكِ لَمَّا لَكِ عَلَيْنَا من الْحق فألقاها وَوَلدهَا فِي الْبَقَرَة وَاحِدًا وَاحِدًا وَكَانَ لَهَا صبي فَقَالَ يَا أمتاه فاصبري فَإِنَّكِ عَلَى الْحَقِّ" قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ أَرْبَعَةٌ تكلمُوا وهم صغَار ابْن ماشطة فِرْعَوْن وَصبي جريج وَعِيسَى بن مَرْيَم وَالرَّابِع لَا أحفظه.

37- أَخْبَرَنَا جَعْفَرُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ صُلَيْحٍ1 بِوَاسِطَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ بَيَانَ السُّكَّرِيُّ حَدَّثَنَا يزِيد بن هَارُون أَنبأَنَا حَمَّاد بن سَلمَة فَذكر بِإِسْنَادِهِ نَحوه بِاخْتِصَار حَاجَتهَا.

--------------------------------------------

1 كَذَا وَلَعَلَّ صَوَابه "سِنَان" انْظُر تذكرة الْحفاظ 2: 285.
পিতল। সে তাকে বলল, "আপনার কাছে আমার একটি প্রার্থনা আছে।" তিনি বললেন, "তোমার প্রার্থনা কী?" সে বলল, "আমার প্রার্থনা হলো আপনি আমার অস্থি এবং আমার সন্তানদের অস্থিগুলো একত্রে সমাহিত করবেন।" তিনি বললেন, "আমাদের ওপর তোমার যে অধিকার রয়েছে, তার খাতিরে এটি তোমার জন্য মঞ্জুর করা হলো।" অতঃপর তিনি তাকে এবং তার সন্তানদের একে একে সেই (তপ্ত পিতলের) গাভী-সদৃশ পাত্রে নিক্ষেপ করলেন। তার একটি দুগ্ধপোষ্য শিশু ছিল, সে বলল, "হে আম্মাজান! আপনি ধৈর্য ধরুন, কেননা আপনি সত্যের ওপর অটল আছেন।" ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, "চারজন শিশু শৈশবে কথা বলেছিল: ফেরাউনের পরিচারিকার (মাশিতা) পুত্র, জুরাইজের (ঘটনার) শিশুটি, মারইয়াম-পুত্র ঈসা এবং চতুর্থ একজন—যার কথা আমার স্মরণে নেই।"

৩৭- জাফর ইবনে আহমদ ইবনে সুলিহ ১ ওয়াসিতে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আব্দুল হামিদ ইবনে বায়ান আস-সুক্কারী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াজিদ ইবনে হারুন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ ইবনে সালামাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; অতঃপর তিনি তার সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন, তবে তার প্রার্থনার বিষয়টি সংক্ষেপে উল্লেখ করেছেন।

--------------------------------------------

১. মূল পাঠে এভাবেই আছে, তবে সম্ভবত সঠিক নাম হবে "সিনান", দেখুন: তাযকিরাতুল হুফফাজ ২: ২৮৫।
(খণ্ড: ১) মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা যাওয়াইদি ইবনে হিব্বান - তা আব্দুল রাজ্জাক হামজাহ (পৃষ্ঠা: ٤٠)
8-‌‌ بَاب فِي الرُّؤْيَة

38- أخبرنَا أَحْمد بن عَمْرو الْمعدل بواسط أَنبأَنَا أَحْمَدُ بْنُ سِنَانٍ الْقَطَّانُ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَنْبَأَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَدْ رَأَى مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم ربه.

39- أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْهَمْدَانِيُّ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بن إِسْمَاعِيل البُخَارِيّ حَدثنَا الْحجَّاج بن الْمنْهَال حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ يَعْلَى بْنِ عَطَاءٍ عَنْ وَكِيعِ بْنِ حُدُسٍ عَنْ عَمِّهِ أَبِي رَزِينٍ الْعُقَيْلِيِّ قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَلْ نَرَى رَبَّنَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ قَالَ: "هَلْ تَرَوْنَ لَيْلَةَ الْبَدْرِ الْقَمَرَ أَوِ الشَّمْسَ بِغَيْر سَحَاب" قَالُوا نعم قَالَ: "فَالله أعلم" قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيْنَ كَانَ رَبُّنَا قَبْلَ أَنْ يَخْلُقَ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ قَالَ: "فِي عَمَاءٍ مَا فَوْقَهُ هَوَاءٌ وَمَا تَحْتَهُ هَوَاءٌ".
৮-‌‌ দর্শন অধ্যায়

৩৮- ওয়াসিতে আহমদ বিন আমর আল-মুয়াদ্দিল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, আহমদ বিন সিনান আল-কাত্তান আমাদের জানিয়েছেন, ইয়াযিদ বিন হারুন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ বিন আমর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সালামাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর রবকে দেখেছেন।

৩৯- উমর বিন মুহাম্মদ আল-হামদানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-বুখারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাজ্জাজ বিন আল-মিনহাল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ বিন সালামা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়ালা বিন আতা থেকে, তিনি ওয়াকি বিন হুদুস থেকে, তিনি তাঁর চাচা আবু রাযিন আল-উকাইলি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি কিয়ামতের দিন আমাদের রবকে দেখতে পাব? তিনি বললেন: "তোমরা কি পূর্ণিমার রাতে চাঁদ অথবা মেঘমুক্ত সূর্য দেখতে পাও?" তারা বললেন: হ্যাঁ। তিনি বললেন: "আল্লাহ অধিক অবগত।" আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আসমান ও জমিন সৃষ্টির পূর্বে আমাদের রব কোথায় ছিলেন? তিনি বললেন: "তিনি ছিলেন আমা-তে (মেঘমালায়), যার উপরেও ছিল বাতাস এবং নিচেও ছিল বাতাস।"
(খণ্ড: ১) মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা যাওয়াইদি ইবনে হিব্বান - তা আব্দুল রাজ্জাক হামজাহ (পৃষ্ঠা: ٤٠)
9-‌‌ بَاب إِن للْملك لمة وللشيطان لمة

40- أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى حَدَّثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ عَنْ مُرَّةَ الْهَمْدَانِيِّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "إِنَّ لِلشَّيْطَانِ لَمَّةً وَلِلْمَلَكِ لَمَّةً فَأَمَّا لَمَّةُ الشَّيْطَانِ فَإِيعَادٌ بِالشَّرِّ وَتَكْذِيبٌ بِالْحَقِّ وَأَمَّا لَمَّةُ الْمَلَكِ فَإِيعَادٌ بِالْخَيْرِ وَتَصْدِيقٌ بِالْحَقِّ فَمَنْ وَجَدَ ذَلِكَ فَلْيَحْمَدِ اللَّهَ وَمَنْ وجد الآخر فَلْيَتَعَوَّذْ مِنَ الشَّيْطَانِ". ثُمَّ قَرَأَ: {الشَّيْطَانُ يَعِدُكُمُ الْفَقْرَ} الْآيَة.
৯-‌‌ অধ্যায়: নিশ্চয়ই ফিরিশতার পক্ষ থেকে আবেশ রয়েছে এবং শয়তানের পক্ষ থেকেও আবেশ রয়েছে

৪০- আহমাদ বিন আলী বিন আল-মুসান্না আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হান্নাদ বিন আস-সারী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবু আল-আহওয়াস আমাদের কাছে আতা বিন আস-সাইব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি মুররাহ আল-হামদানী থেকে, তিনি আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই শয়তানের একটি আবেশ রয়েছে এবং ফিরিশতারও একটি আবেশ রয়েছে। শয়তানের আবেশ হলো মন্দের ভয় দেখানো এবং সত্যকে অস্বীকার করা; আর ফিরিশতার আবেশ হলো কল্যাণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া এবং সত্যকে সত্যায়ন করা। সুতরাং যে ব্যক্তি তা (ফিরিশতার আবেশ) অনুভব করে, সে যেন আল্লাহর প্রশংসা করে। আর যে ব্যক্তি অন্যটি অনুভব করে, সে যেন শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে।" এরপর তিনি পাঠ করলেন: {শয়তান তোমাদেরকে দারিদ্র্যের ভয় দেখায়}—এই আয়াতটি।
(খণ্ড: ১) মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা যাওয়াইদি ইবনে হিব্বান - তা আব্দুল রাজ্জাক হামজাহ (পৃষ্ঠা: ٤٠)
10-‌‌ بَاب مَا جَاءَ فِي الوسوسة

41- أَخْبَرَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَسَّانَ السَّامِيُّ بِالْبَصْرَةِ حَدَّثَنَا كَثِيرُ بْنُ عُبَيْدٍ
১০-‌‌ কুমন্ত্রণা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে তার পরিচ্ছেদ

৪১- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্বাস ইবনে আহমাদ ইবনে হাসান আস-সামি বসরায়, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন কাসীর ইবনে উবাইদ।
(খণ্ড: ১) মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা যাওয়াইদি ইবনে হিব্বান - তা আব্দুল রাজ্জাক হামজাহ (পৃষ্ঠা: ٤١)
الْمذْحِجِي حَدثنَا مَرْوَان بْنُ مُعَاوِيَةَ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "لَنْ يَدَعَ الشَّيْطَانُ أَنْ يَأْتِيَ أَحَدَكُمْ فَيَقُولُ مَنْ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ فَيَقُولُ الِلَّهِ فَيَقُولُ فَمَنْ خَلَقَكَ فَيَقُولُ الِلَّهِ فَيَقُول من خلق الله فَإِذا أحس أحدكُم بذلك فَلْيقل آمَنت بِاللَّه وبرسله".

42- أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيرَةَ قَالَ قَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا لَنَجِدُ فِي أَنْفُسِنَا شَيْئًا مَا نحب أَن نتكلم بِهِ وَإِنَّ لَنَا مَا طَلَعَتْ عَلَيْهِ الشَّمْسُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "قد وَجَدْتُمْ ذَلِكَ" قَالُوا نَعَمْ قَالَ: "ذَاكَ صَرِيحُ الْإِيمَان".

43- أَخْبَرَنَا أَبُو عَرُوبَةَ بِحَرَّانَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ عَاصِمِ بْنِ بَهْدَلَةَ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيرَةَ أَنَّهُمْ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا لَنَجِدُ فِي أَنْفُسِنَا شَيْئًا لأَنْ يَكُونَ أَحَدُنَا حُمَمَةً أَحَبُّ إِلَيْهِ مِنْ أَنْ يتَكَلَّم بِهِ قَالَ: "ذَاك مَحْض الْإِيمَان".

44- أخبرنَا أَبُو خَليفَة حَدثنَا مُسَدّد حَدَّثَنَا خَالِدٌ عَنْ سُهِيَلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِيهِ فَذكر نَحوه.

45- أخبرنَا مُحَمَّد بن مسرور بن يسَار بِأَرْغِيَانَ حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الصَّبَّاحِ حَدَّثَنَا إِِسْحَاقُ الأَزْرَقُ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ حَمَّادٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَن رجلا أَتَى النَّبِي صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِِنِّي لأَجِدُ فِي صَدْرِيَ الشَّيْءَ لأَنْ أَكُونَ حُمَمَةً أَحَبُّ إِِلَيَّ مِنْ أَنْ أَتَكَلَّمَ بِهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "الِلَّهِ أَكْبَرُ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي رَدَّ أَمْرَهُ إِِلَى الْوَسْوَسَةِ".

46- أخبرنَا مُحَمَّد بن إِسْحَاق بن إِبْرَاهِيم مولى ثَقِيفٍ حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ ذَرٍّ عَنْ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ شَدَّادِ بْنِ الْهَادِ عَنْ ابْن عَبَّاس.. فَذكر نَحوه.
আল-মাযহিজী, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মারওয়ান ইবনে মুআবিয়া, তিনি হিশাম ইবনে উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "শয়তান তোমাদের কারো কাছে এসে এ কথা বলা থেকে বিরত হবে না যে, আসমান ও জমিন কে সৃষ্টি করেছেন? সে বলবে, আল্লাহ। তখন সে বলবে, তাহলে তোমাকে কে সৃষ্টি করেছেন? সে বলবে, আল্লাহ। এরপর সে বলবে, তাহলে আল্লাহকে কে সৃষ্টি করেছেন? তোমাদের কেউ যখন এমন কিছু অনুভব করবে, তখন সে যেন বলে, আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলগণের ওপর ঈমান আনলাম।"

৪২- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ইয়ালা, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু বকর ইবনে আবি শায়বাহ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে বিশর, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আমর, তিনি আবু সালামাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা আমাদের অন্তরে এমন কিছু অনুভব করি যা মুখে উচ্চারণ করার চেয়ে সূর্য যে জিনিসের ওপর উদিত হয় তার মালিক হওয়া আমাদের কাছে অধিক প্রিয়। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন: "তোমরা কি সত্যিই তা অনুভব করেছ?" তাঁরা বললেন, হ্যাঁ। তিনি বললেন: "এটিই হলো স্পষ্ট ঈমান।"

৪৩- হাররানে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আরুবাহ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে বাশশার, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইবনে আবি আদী, তিনি শু'বাহ থেকে, তিনি আসিম ইবনে বাহদালাহ থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তাঁরা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা আমাদের অন্তরে এমন কিছু অনুভব করি যে, আমাদের কারো জন্য কয়লা হয়ে যাওয়া তা মুখে উচ্চারণ করার চেয়ে বেশি প্রিয়। তিনি বললেন: "এটিই হলো খাঁটি ঈমান।"

৪৪- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু খলিফাহ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুসাদ্দাদ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন খালিদ, তিনি সুহাইল ইবনে আবি সালিহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, এরপর তিনি অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

৪৫- আরগিয়ানে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে মাসরুর ইবনে ইয়াসার, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হাসান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সাব্বাহ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইসহাক আল-আযরাক, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান, তিনি হাম্মাদ থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি নবী (সা.)-এর কাছে এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আমার অন্তরে এমন কিছু অনুভব করি যে, কয়লা হয়ে যাওয়া আমার কাছে তা মুখে উচ্চারণ করার চেয়ে অধিক প্রিয়। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন: "আল্লাহু আকবার, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তার (শয়তানের) চক্রান্তকে কুমন্ত্রণার দিকেই ফিরিয়ে দিয়েছেন।"

৪৬- সাকীফ গোত্রের মুক্তদাস মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন কুতায়বা ইবনে সাঈদ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন জারীর, তিনি মানসুর থেকে, তিনি যারর থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে শাদ্দাদ ইবনে আল-হাদ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে... এরপর তিনি অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা যাওয়াইদি ইবনে হিব্বান - তা আব্দুল রাজ্জাক হামজাহ (পৃষ্ঠা: ٤١)
11-‌‌ بَاب فِيمَا يُخَالف كَمَال الْإِيمَان

47- أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ الصَّبَّاحِ الْبَزَّارُ حَدَّثَنَا مُؤَمَّلُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ عَنْ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ عَنْ ثَابِتٍ عَنْ أنس بن مَالِكٍ قَالَ خَطَبَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ فِي
১১-‌‌ ঈমানের পূর্ণতার পরিপন্থী বিষয়সমূহের অধ্যায়

৪৭- আবু ইয়ালা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আল-হাসান ইবনুস সাব্বাহ আল-বাযযার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুআম্মাল ইবনু ইসমাঈল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ ইবনু সালামাহ থেকে, তিনি সাবিত থেকে, তিনি আনাস ইবনু মালিক (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ প্রদান করেন এবং তাতে বলেন—
(খণ্ড: ১) মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা যাওয়াইদি ইবনে হিব্বান - তা আব্দুল রাজ্জাক হামজাহ (পৃষ্ঠা: ٤٢)
خطبَته: "لَا إِيمَانَ لِمَنْ لَا أَمَانَةَ لَهُ وَلا دين لمن لَا عهد لَهُ".

48- أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ الرِّفَاعِيُّ أَبُو هِشَامٍ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَمْرٍو الْفُقَيْمِيُّ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "لَيْسَ الْمُؤْمِنُ بِالطَّعَّانِ وَلا اللِّعَانِ وَلَا البذىء وَلَا الْفَاحِش".
তাঁর খুতবা: "যার আমানতদারী নেই তার ঈমান নেই এবং যার অঙ্গীকার নেই তার দ্বীন নেই।"

৪৮- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ ইবনে আলী ইবনুল মুসান্না, তিনি বলেন আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে ইয়াযিদ আল-রিফায়ি আবু হিশাম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আবু বকর ইবনে আইয়াশ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাসান ইবনে আমর আল-ফুকাইমি বর্ণনা করেছেন, তিনি মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে ইয়াযিদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "মুমিন ব্যক্তি খোঁটা দানকারী, অভিশাপকারী, অশ্লীল ও কটুভাষী হয় না।"
(খণ্ড: ১) মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা যাওয়াইদি ইবনে হিব্বান - তা আব্দুল রাজ্জাক হামজাহ (পৃষ্ঠা: ٤٢)
12-‌‌ بَاب مَا جَاءَ فِي الْكبر

49- أخبرنَا مُحَمَّد بن زُهَيْر بِالأُبُلَّةِ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ الْكِنْدِيِّ حَدَّثَنَا ابْنُ فُضَيْلٍ عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ اللَّهِ جَلَّ وَعَلا: "الْكِبْرِيَاءُ رِدَائِي وَالْعَظَمَةُ إِزَارِي فَمَنْ نَازَعَنِي فِي شَيْءٍ مِنْهُ أدخلته النَّار".
১২-‌‌ অহংকার সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে তার পরিচ্ছেদ

৪৯- উবুল্লার মুহাম্মদ ইবন জুহাইর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবদুল্লাহ ইবন সাঈদ আল-কিন্দি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবন ফুযাইল আতা ইবনুস সাইব থেকে, তিনি সাঈদ ইবন জুবাইর থেকে, তিনি ইবন আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ হতে বর্ণনা করেছেন: "অহংকার আমার চাদর এবং মহিমা আমার ভূষণ। সুতরাং যে ব্যক্তি এই দুইটির কোনো একটি নিয়ে আমার সাথে টানাটানি করবে, আমি তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবো।"
(খণ্ড: ১) মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা যাওয়াইদি ইবনে হিব্বান - তা আব্দুল রাজ্জাক হামজাহ (পৃষ্ঠা: ٤٢)
13-‌‌ بَاب فِي الْكَبَائِرِ

50- أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى حَدَّثَنَا هَارُون بن مَعْرُوف حَدثنَا الْمُقْرِئ حَدثنَا حَيْوَة حَدثنِي أَبُو هَانِئٍ عَنْ أَبِي عَلِيٍّ عَمْرِو بْنِ مَالِكٍ الْجَنْبِيِّ عَنْ فَضَالَةَ بْنِ عُبَيْدٍ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: "ثَلَاثَة لَا تسْأَل عَنْهُم رجل فَارق الْجَمَاعَة وَعصى إِمَامه وَعبد أبق من سَيّده فَمَاتَ وَمَات عَاصِيا وَامْرَأَة غَابَ عَنْهَا زَوْجُهَا وَقَدْ كَفَاهَا مُؤْنَةَ الدُّنْيَا فَخَانَتْهُ بَعْدَهُ وَثَلَاثَة لَا تسْأَل عَنْهُم رجل نَازع اللَّهَ رِدَاءَهُ فَإِِنَّ رِدَاءَهُ الْكِبْرُ وَإِِزَارَهُ الْعِزُّ وَرَجُلٌ فِي شَكٍّ مِنْ أَمْرِ اللَّهِ وَالْقَانِطُ من رَحْمَة الله".

51- أخبرنَا الْقَطَّانُ بِالرَّقَّةِ حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ حَدَّثَنَا صَدَقَة بن خَالِد حَدثنَا خَالِد بن دهقان حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي زَكَرِيَّا قَالَ سَمِعْتُ أُمَّ الدَّرْدَاءِ تَقُولُ سَمِعْتُ أَبَا الدَّرْدَاءِ يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "يَقُولُ كُلُّ ذَنْبٍ عَسَى اللَّهُ أَنْ يغفره إِلَّا من مَاتَ مُشْركًا أَو قتل مُؤمنا مُتَعَمدا".

52- أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سعيد حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي الْمَوَالِ عَنْ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مَوْهَبٍ عَنْ عَمْرَةَ عَنْ عَائِشَةَ أَنّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: "سِتَّة لعنهم اللَّهُ وَكُلُّ نَبِيٍّ مُجَابٌ الزَّائِدُ فِي كِتَابِ الله والمكذب بِقدر الله والمتسلط
১৩-‌‌ কবিরা গুনাহ (মহাপাপ) সম্পর্কিত অধ্যায়

৫০- আহমাদ বিন আলী বিন আল-মুসান্না আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হারুন বিন মারুফ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-মুকরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাইওয়াহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু হানি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আলী আমর বিন মালিক আল-জানবি থেকে, তিনি ফাদালাহ বিন উবাইদ থেকে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "তিন ব্যক্তি সম্পর্কে তোমরা জিজ্ঞাসা করো না (অর্থাৎ তাদের ধ্বংস অনিবার্য): যে ব্যক্তি মুসলিম জামাত ত্যাগ করেছে এবং তার নেতার অবাধ্য হয়েছে, আর এমন দাস যে তার মনিবের নিকট থেকে পালিয়ে গেছে এবং অবাধ্য অবস্থায় মারা গেছে। আর এমন নারী যার স্বামী তার থেকে অনুপস্থিত এবং সে তার পার্থিব প্রয়োজন মিটিয়ে দিয়েছে, কিন্তু স্বামী চলে যাওয়ার পর সে তার সাথে বিশ্বাসঘতকতা করেছে। আর তিন ব্যক্তি সম্পর্কে তোমরা জিজ্ঞাসা করো না: যে ব্যক্তি আল্লাহর চাদর নিয়ে তাঁর সাথে টানাটানি (প্রতিদ্বন্দ্বিতা) করে, কেননা আল্লাহর চাদর হলো অহংকার এবং তাঁর লুঙ্গি হলো মর্যাদা। আর সেই ব্যক্তি যে আল্লাহর নির্দেশের ব্যাপারে সংশয়ে রয়েছে এবং আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ ব্যক্তি।"

৫১- আর-রাক্কায় আল-কাত্তান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হিশাম বিন আম্মার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাদাকাহ বিন খালিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, খালিদ বিন দিহকান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ বিন আবি জাকারিয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমি উম্মুদ দারদাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: আমি আবু দারদাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলছেন: "আশা করা যায় আল্লাহ প্রতিটি গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন, কেবল সেই ব্যক্তি ব্যতীত যে মুশরিক অবস্থায় মারা গেছে অথবা যে কোনো মুমিনকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করেছে।"

৫২- আল-হাসান বিন সুফিয়ান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, কুতাইবা বিন সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুর রহমান বিন আবিল মাওয়ালি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উবাইদুল্লাহ বিন আবদুর রহমান বিন মাওহাব থেকে, তিনি আমরাহ থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "ছয় ব্যক্তি যাদেরকে আল্লাহ অভিশাপ দিয়েছেন এবং প্রত্যেক নবী যাদের দোয়া কবুল হয় তারাও অভিশাপ দিয়েছেন: আল্লাহর কিতাবে যে ব্যক্তি কোনো কিছু বৃদ্ধি করে, আল্লাহর তকদিরকে যে অস্বীকার করে এবং যে ব্যক্তি জবরদখলকারী ক্ষমতাধর..."
(খণ্ড: ১) মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা যাওয়াইদি ইবনে হিব্বান - তা আব্দুল রাজ্জাক হামজাহ (পৃষ্ঠা: ٤٣)
بالجبروت ليذل بذلك من أعز الله ويعز بِهِ مَنْ أَذَلَّ اللَّهُ وَالْمُسْتَحِلُّ لِحَرَمِ اللَّهِ وَالْمُسْتَحِلُّ مِنْ عِتْرَتِي مَا حَرَّمَ اللَّهُ وَالتَّارِكُ لسنتي".

53- أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَة حَدثنَا عبد الْملك بن عَمْرو يَعْنِي أَبَا عَامر الْعَقدي حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ مُحَمَّدٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ أَبِي عَمْرٍو عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: "لَعَنِ اللَّهُ مَنْ ذَبَحَ لِغَيْرِ اللَّهِ وَلَعَنَ اللَّهُ مَنْ غَيَّرَ تُخُومَ الأَرْضِ وَلَعَنَ اللَّهُ من كمه أعمى عَنِ السَّبِيلِ وَلَعَنَ اللَّهُ مَنْ سَبَّ وَالِدَيْهِ وَلَعَنَ اللَّهُ مَنْ تَوَلَّى غَيْرَ مَوَالِيهِ وَلَعَنَ اللَّهُ مَنْ عَمِلَ عَمَلَ قَوْمِ لُوطٍ" قَالَهَا ثَلَاثًا فِي عمل قوم لوط.

54- أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الأَزْدِيُّ حَدَّثَنَا إِسْحَاق بن إِبْرَاهِيم حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ مَسْعَدَةَ عَنِ ابْنِ عَجْلانَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: "ثَلاثَةٌ لَا يَنْظُرُ اللَّهُ إِِلَيْهِمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ الشَّيْخُ الزَّانِي وَالْإِمَام الْكذَّاب والعائل المزهو".

55- أخبرنَا إِسْحَاق بن إِبْرَاهِيم بن إِسْمَاعِيل ببست حَدثنَا إِسْمَاعِيل بن مَسْعُود الجحدري حَدثنَا يزِيد بن زُرَيْع حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِسْحَاقَ عَنْ سَعِيدٍ بْنُ أَبِي سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيُّ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ.. فَذكره بِنَحْوِهِ

56- أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ قُتَيْبَةَ حَدَّثَنَا يزِيد بن موهب حَدثنَا ابْن وهب أَخْبَرَنِي عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَسَارٍ سَمِعَ سَالِمَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ يَقُولُ قَالَ ابْنُ عُمَرَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "ثَلاثَةٌ لَا يَنْظُرُ اللَّهُ إِِلَيْهِمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ الْعَاقُّ لِوَالِدَيْهِ وَمُدْمِنُ الْخمر والمنان مَا أعْطى".

57- أخبرنَا أَحْمد بن عُمَيْر بن جوصاء بِدِمَشْقَ حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى حَدَّثَنَا بشر بن مُحَمَّد عَن الْأَوْزَاعِيّ قَالَ حَدثنِي إِسْمَاعِيل بن عبيد الله قَالَ حَدَّثَتْنِي كَرِيمَةُ بِنْتُ الْحَسْحَاسِ الْمُزَنِيَّةُ قَالَتْ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ وَهُوَ فِي بَيْتِ أُمِّ الدَّرْدَاءِ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "ثَلَاث من الْكفْر شقّ الجيب والنياحة والطعن فِي النّسَب".

58- أخبرنَا عبد الْأَعْلَى بن مُحَمَّد بن سَالم قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا الْفرْيَابِيّ قَالَ حَدثنَا الْأَوْزَاعِيّ فَذكر نَحوه إِلَّا أَنه قَالَ ثَلَاث هِيَ الْكفْر بِاللَّه.
...জবরদস্তির মাধ্যমে, যাতে এর দ্বারা সে তাকে অপদস্থ করতে পারে যাকে আল্লাহ সম্মানিত করেছেন এবং তাকে সম্মানিত করতে পারে যাকে আল্লাহ অপদস্থ করেছেন; আর আল্লাহর নিষিদ্ধ বিষয়কে (হারাম) হালালকারী এবং আমার বংশধরের ব্যাপারে আল্লাহর হারামকৃত বিষয়কে হালালকারী এবং আমার সুন্নাত বর্জনকারী।

৫৩- আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ বিন আলী বিন আল-মুসান্না, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু খাইসামাহ, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আব্দুল মালিক বিন আমর অর্থাৎ আবু আমির আল-আকাদী, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন যুহায়ের বিন মুহাম্মাদ, তিনি আমর বিন আবি আমর থেকে, তিনি ইকরিমাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "আল্লাহর লানত তার ওপর যে আল্লাহ ছাড়া অন্যের উদ্দেশ্যে জবেহ করে; আল্লাহর লানত তার ওপর যে জমির সীমানা পরিবর্তন করে; আল্লাহর লানত তার ওপর যে অন্ধকে পথ ভুলিয়ে দেয়; আল্লাহর লানত তার ওপর যে নিজ পিতামাতাকে গালি দেয়; আল্লাহর লানত তার ওপর যে নিজ মওলা (অভিভাবক) ব্যতীত অন্যকে মওলা হিসেবে গ্রহণ করে; এবং আল্লাহর লানত তার ওপর যে কওমে লুতের (লুত সম্প্রদায়ের) ন্যায় কর্মে লিপ্ত হয়।" লুত সম্প্রদায়ের কর্মের কথাটি তিনি তিনবার বলেছেন।

৫৪- আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আল-আযদী, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইসহাক বিন ইবরাহিম, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ বিন মাসআদাহ, তিনি ইবনে আজলান থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "তিন শ্রেণির লোক এমন রয়েছে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাদের দিকে তাকাবেন না: বৃদ্ধ ব্যভিচারী, মিথ্যাবাদী শাসক এবং অহংকারী অভাবী।"

৫৫- আমাদের নিকট বোস্ত নগরে সংবাদ দিয়েছেন ইসহাক বিন ইবরাহিম বিন ইসমাইল, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইসমাইল বিন মাসউদ আল-জাহদারী, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইয়াযীদ বিন যুরায়, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আব্দুর রহমান বিন ইসহাক, তিনি সাঈদ বিন আবি সাঈদ আল-মাকবুরী থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে.. অতঃপর তিনি অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

৫৬- আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মাদ বিন আল-হাসান বিন কুতাইবাহ, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইয়াযীদ বিন মাওহাব, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইবনে ওয়াহাব, তিনি বলেন আমাকে সংবাদ দিয়েছেন উমর বিন মুহাম্মাদ, তিনি আব্দুল্লাহ বিন ইয়াসার থেকে, তিনি সালিম বিন আব্দুল্লাহকে বলতে শুনেছেন যে, ইবনে উমর বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তিন শ্রেণির লোক এমন রয়েছে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাদের দিকে তাকাবেন না: পিতামাতার অবাধ্য সন্তান, মদ্যপানে আসক্ত ব্যক্তি এবং দান করার পর খোঁটা দানকারী।"

৫৭- আমাদের নিকট দামেশকে সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ বিন উমায়ের বিন জাওসা, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইউনুস বিন আব্দুল আলা, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন বিশর বিন মুহাম্মাদ, তিনি আওযায়ী থেকে, তিনি বলেন আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন ইসমাইল বিন উবায়দুল্লাহ, তিনি বলেন আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন কারিমাহ বিনতে হাসহাস আল-মুযানী, তিনি বলেন আমি আবু হুরায়রাকে উম্মুদ দারদার ঘরে থাকাবস্থায় বলতে শুনেছি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তিনটি বিষয় কুফরের অন্তর্ভুক্ত: (শোক প্রকাশে) কাপড়ের বুক চিরে ফেলা, উচ্চস্বরে বিলাপ করা এবং বংশমর্যাদায় অপবাদ দেওয়া।"

৫৮- আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল আলা বিন মুহাম্মাদ বিন সালিম, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আব্দুর রহমান বিন ইবরাহিম, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ফিরইয়াবী, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আওযায়ী। অতঃপর তিনি অনুরূপ বর্ণনা করেছেন, তবে তিনি বলেছেন: "তিনটি বিষয় যা আল্লাহর সাথে কুফরি।"
(খণ্ড: ১) মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা যাওয়াইদি ইবনে হিব্বান - তা আব্দুল রাজ্জাক হামজাহ (পৃষ্ঠা: ٤٤)
14-‌‌ بَاب المراء فِي الْقُرْآنَ

59- أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الأَزْدِيُّ حَدَّثَنَا إِسْحَاق بن إِبْرَاهِيم الْحَنْظَلِي حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: "المراء فِي الْقُرْآن كفر".
14-‌‌ কুরআন বিষয়ে বিবাদ সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ

59- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-আজদি, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইসহাক বিন ইব্রাহিম আল-হানজালি, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ বিন উবাইদ, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ বিন আমর, আবু সালামাহ থেকে বর্ণিত, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: "কুরআন বিষয়ে বিবাদ করা কুফরি।"
(খণ্ড: ১) মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা যাওয়াইদি ইবনে হিব্বান - তা আব্দুল রাজ্জাক হামজাহ (পৃষ্ঠা: ٤٤)
15-‌‌ بَاب فِيمَن أكفر مُسلما

60- أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عُمَرَ بْنِ شَقِيقٍ حَدَّثَنَا سَلَمَةُ بْنُ الْفَضْلِ عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ عَنْ عَاصِمِ بْنِ عُمَرَ بْنِ قَتَادَةَ عَنْ مَحْمُودِ بْنِ لَبِيدٍ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "مَا أَكْفَرَ رَجُلٌ رَجُلا إِلا بَاءَ أَحَدُهُمَا بِهَا إِنْ كَانَ كَافِرًا وَإِلَّا كفر بتكفيره".
১৫-‌‌ পরিচ্ছেদ: যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমকে কাফির বলে

৬০- আল-হাসান ইবনে সুফিয়ান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আল-হাসান ইবনে উমর ইবনে শাকিক আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, সালামাহ ইবনে আল-ফাদল আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, ইবনে ইসহাক থেকে, তিনি আসিম ইবনে উমর ইবনে কাতাদাহ থেকে, তিনি মাহমুদ ইবনে লাবীদ থেকে, তিনি আবু সাঈদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "কোনো ব্যক্তি যদি অপর কোনো ব্যক্তিকে কাফির বলে, তবে তাদের দুজনের একজন অবশ্যই সেই কুফরির দায়ভার নিয়ে ফিরে আসে; যদি সে (যাকে বলা হয়েছে) আসলেই কাফির হয় (তবে তো হলোই), অন্যথায় তাকে কাফির বলার কারণে সে (বক্তা) নিজেই কাফির হয়ে যায়।"