(খণ্ড: ১)
আল-কামাল ফী আসমাইর রিজাল
(পৃষ্ঠা: -)
الكمال في أسماء الرجال القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: الكمال في أسماء الرجال (وهو أول مصنف في رجال الكتب الستة وأصل «تهذيب الكمال» للمزي)
المؤلف: أبو محمد عبد الغني بن عبد الواحد المقدسي (ت 600 هـ)
دراسة وتحقيق: شادي بن محمد بن سالم آل نعمان
الناشر: الهيئة العامة للعناية بطباعة ونشر القرآن الكريم والسنة النبوية وعلومها، الكويت - شركة غراس للدعاية والإعلان والنشر والتوزيع، الكويت
الطبعة: الأولى، 1437 هـ - 2016 م
عدد الأجزاء: 10
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 13 ربيع الأول 1442
আল-কামাল ফি আসমায়ির রিজাল বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ
গ্রন্থ: আল-কামাল ফি আসমায়ির রিজাল (এটি কুতুবে সিত্তাহর বর্ণনাকারীদের বিষয়ে প্রথম সংকলন এবং আল-মিজ্জি রচিত «তাহজিবুল কামাল»-এর মূল উৎস)
লেখক: আবু মুহাম্মদ আবদুল গনি বিন আবদুল ওয়াহিদ আল-মাকদিসি (মৃত্যু ৬০০ হিজরি)
গবেষণা ও তাহকিক: শাদি বিন মুহাম্মদ বিন সালেম আল নুমান
প্রকাশক: পবিত্র কুরআন, সুন্নাহ এবং এর ইলমসমূহের মুদ্রণ ও প্রকাশনা বিষয়ক সাধারণ কর্তৃপক্ষ, কুয়েত - গিরাস বিজ্ঞাপন, প্রচারণা এবং প্রকাশনা ও বিতরণ কোম্পানি, কুয়েত
সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩৭ হিজরি - ২০১৬ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ১০
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল ছাপানো কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২
(খণ্ড: ١)
আল-কামাল ফী আসমাইর রিজাল
(পৃষ্ঠা: -)
دولة الكويت - الهيئة العامة للعناية بطباعة ونشر القرآن الكريم والسنة النبوية وعلومها (هيئة حكومية)
الكَمَالُ في أَسْمَاءِ الرِّجَالِ
وَهُوَ أَوَّلُ مُصَنَّفٍ فِي رِجَالِ الكُتُبِ السِّتَّةِ وَأَصْلُ «تَهْذِيبِ الكَمَالِ» لِلْمِزِّيِّ
تَصْنِيفُ
الحَافِظِ أَبِي مُحَمَّد عَبْد الغَنِيِّ بْنِ عَبْد الوَاحِدِ المَقْدِسِيِّ المُتَوَفِّى سَنَة 600 هـ
يُنْشَرْ لِأَوَّلِ مَرَّةٍ عَلَى تِسْعِ نُسَخٍ خَطِّيَّةٍ
دِرَاسَةُ وَتَحْقِيقُ
د. شَادِي بْنِ مُحَمَّد بْن سَالِمٍ آل نُعْمَان
راجَعَهُ
الشَّيخ بَدْر بْن عَبْد اللَّهِ البَدْرِ
المُجَلَّدُ الأَوَّلُ
المقَدِّمَةُ - كِتَابُ الصَّحَابَة
কুয়েত রাষ্ট্র - পবিত্র কুরআন, সুন্নাহ এবং এর ইলমসমূহের মুদ্রণ ও প্রকাশনার তত্ত্বাবধায়ক সাধারণ কর্তৃপক্ষ (সরকারি সংস্থা)
আল-কামাল ফি আসমায়ির রিজাল
এটি কুতুবে সিত্তাহর বর্ণনাকারীদের বিষয়ে রচিত প্রথম গ্রন্থ এবং মিযযি-রচিত «তাহযিবুল কামাল»-এর মূল উৎস
রচনা
হাফিজ আবু মুহাম্মদ আব্দুল গনি বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাকদিসি (মৃত্যু: ৬০০ হিজরি)
নয়টি পাণ্ডুলিপির ওপর ভিত্তি করে প্রথমবারের মতো প্রকাশিত
গবেষণা ও তাহকিক
ড. শাদি বিন মুহাম্মদ বিন সালিম আল নুমান
নিরীক্ষণ করেছেন
শায়খ বদর বিন আব্দুল্লাহ আল-বদর
প্রথম খণ্ড
ভূমিকা - সাহাবীগণের অধ্যায়
(খণ্ড: ١)
আল-কামাল ফী আসমাইর রিজাল
(পৃষ্ঠা: -)
مقدمة الناشرالحمد لله الكبير المتعال، المتصف بصفات الكمال والجلال، فهو وحده المستحق للتعظيم والتبجيل والإجلال، والشكر له على ما أسبغ علينا من نعمٍ جِزال، ونشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له في ملكه وتدبيره، فلا ظهير له في خلقه أو رزقه أو تقديره، ونشهد أن محمدًا عبده ورسوله، أرسله رحمة للعالمين، وهدى للناس أجمعين، فصلوات الله وسلامه عليه وعلى آله وصحبه أجمعين، ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.
أما بعد:
فإن الله سبحانه وتعالى قد بعث نبيه بالهدى ودين الحق، وأنزل معه القرآن ليحكم بين الناس فيما اختلفوا فيه، وجعل سنته الأصلَ الثاني، قال تعالى: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا}، فهي والقرآن متلازمان، فقيدت مطلقه، وخصصت عمومه، وبينت مجمله.
وقيّض الله سبحانه وتعالى من هذه الأمة علماء أجلاء، بذلوا أعمارهم وأنفقوا أموالهم لحفظ سنة النبي صلى الله عليه وسلم وخدمتها ولَمِّ شتاتها، وتدوينها في مصنفات جمعت أقوال رسول الله صلى الله عليه وسلم وأفعاله وتقريراته، فجزاهم الله خيرًا على ما قدموه، وأجزل لهم المثوبة على ما بذلوه.
وقد قامت طائفةٌ من أهل العلم والفضل، للبحث والتنقيب في رواة السنة
প্রকাশকের ভূমিকাসমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি মহান ও সুউচ্চ, যিনি পূর্ণতা ও মহিমার গুণাবলীতে ভূষিত। একমাত্র তিনিই মহত্ত্ব, সম্মান ও শ্রদ্ধার যোগ্য। আমাদের ওপর তিনি যে অঢেল নিআমত বর্ষণ করেছেন তার জন্য তাঁরই কৃতজ্ঞতা। আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর রাজত্ব ও পরিচালনায় কোনো অংশীদার নেই। তাঁর সৃষ্টি, রিযিক দান বা নির্ধারণে তাঁর কোনো সাহায্যকারী নেই। আমরা আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল, যাকে তিনি বিশ্বজগতের জন্য রহমত এবং সকল মানুষের জন্য হিদায়াতস্বরূপ প্রেরণ করেছেন। আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীর ওপর, আর কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাদের অনুসরণ করবেন তাদের সবার ওপর।
অতঃপর:
নিশ্চয়ই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর নবীকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন এবং তাঁর সাথে কুরআন অবতীর্ণ করেছেন যাতে তিনি মানুষের মধ্যকার মতভেদপূর্ণ বিষয়ে ফয়সালা করেন। আর তিনি নবীর সুন্নাহকে শরীয়তের দ্বিতীয় মূল উৎস হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: {রাসূল তোমাদের যা দেন তা গ্রহণ করো, আর যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো}। সুতরাং সুন্নাহ ও কুরআন একে অপরের অবিচ্ছেদ্য অংশ; সুন্নাহ কুরআনের অস্পষ্ট বিষয়কে সুনির্দিষ্ট করে, সাধারণ হুকুমকে বিশেষায়িত করে এবং সংক্ষিপ্ত বিষয়কে বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করে।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এই উম্মতের মধ্য থেকে এমন কিছু মহান আলেম মনোনীত করেছেন, যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ সংরক্ষণ, এর খিদমত এবং এর বিক্ষিপ্ত অংশগুলো একত্রিত করার জন্য তাদের জীবন ও সম্পদ উৎসর্গ করেছেন। তারা সুন্নাহকে এমন সব গ্রন্থে সংকলিত করেছেন যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী, কর্ম ও মৌন সম্মতিসমূহকে একত্রিত করেছে। তারা যা পেশ করেছেন তার জন্য আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দান করুন এবং তাদের এই ত্যাগের জন্য তাদের সওয়াবকে বহুগুণ বৃদ্ধি করে দিন।
ইলম ও ফযীলতের অধিকারী একদল বিশেষজ্ঞ সুন্নাহর রাবীদের (বর্ণনাকারীদের) বিষয়ে অনুসন্ধান ও গবেষণার কাজ আঞ্জাম দিয়েছেন...
(খণ্ড: ١)
আল-কামাল ফী আসমাইর রিজাল
(পৃষ্ঠা: -)
ونقلتها، فصنفوا مصنفات لتراجمهم، وذكروا فيها مشايخهم وتلاميذهم، وما ورد فيهم من جرح أو تعديل، مما يعين في معرفة صحة أسانيد الأحاديث أو ضعفها.
فجاءت هذه المصنفات عامّة في جميع الرواة، فلم تكن محددةً برواةِ كتبٍ معينة، حتى جاء الإمام الحافظ عبد الغني بن عبد الواحد المقدسي (541 - 600 هـ) فألف كتابه "الكمال في أسماء الرجال"، وخصه بمن خرج له أصحاب الكتب الستة، وهم: البخاري، ومسلم، وأبو داود، والترمذي، والنسائي، وابن ماجه، فرتبهم على حسب حروف الهجاء، فكان له فضل السبق في كونه أول من صنف في جمع رجال الكتب الستة، فكان عمدةَ مَنْ جاء بعد الحافظ عبد الغني المقدسي ممن صنف في رواة الكتب الستة، ومن أبرزهم الحافظ جمال الدين أبو الحجاج يوسف المزي (654 - 742 هـ) فقد اعتمد على كتابه هذا فقام بتهذيبه مع زيادة الكثير من مشايخ وتلاميذ الرواة الذين ترجم لهم، مع استدراك بعض الأشياء.
ومما يميز كتاب "الكمال" أنه احتوى على نقولاتٍ كثيرة في الجرح والتعديل فات المزي نقلها في تهذيبه، وكذا جملة من الشيوخ والتلاميذ، كما أنه ذكر كثيرًا من أقوال الأئمة بأسانيده إليها.
وقد قام الشيخ الدكتور/ شادي بن محمد بن سالم آل نعمان -وفقه الله- بتحقيق الكتاب بمقابلة نسخه الخطية، وضبط نص الكتاب مميزًا ما أُشكل واشتبه من أسماء الرواة وضبط أنسابهم، ووثق النقول المذكورة فيه، كما أشار إلى بعض الأوهام التي وقع فيها المؤلف والتي استدركها الحافظ المزي
এবং তা বর্ণনা করেছেন; ফলে তারা রাবিদের জীবনী নিয়ে গ্রন্থ সংকলন করেছেন এবং সেখানে তাদের উস্তাদ ও ছাত্রদের কথা উল্লেখ করেছেন। এছাড়া তাদের ব্যাপারে যে সকল সমালোচনা (জারহ) বা প্রশংসা (তাদিল) বর্ণিত হয়েছে তাও উল্লেখ করেছেন, যা হাদিসের সনদের বিশুদ্ধতা বা দুর্বলতা নির্ণয়ে সহায়তা করে।
ফলে এই সংকলনগুলো সাধারণভাবে সকল বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত করে রচিত হয়েছিল এবং কোনো নির্দিষ্ট কিতাবের বর্ণনাকারীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। অবশেষে ইমাম হাফেজ আব্দুল গনি বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাকদিসি (৫৪১ - ৬০০ হিজরি) আবির্ভূত হন এবং তাঁর গ্রন্থ "আল-কামাল ফি আসমাইর রিজাল" রচনা করেন। তিনি এই গ্রন্থটিকে কুতুবে সিত্তাহর (ছয়টি কিতাব) রাবিদের জন্য নির্দিষ্ট করেছেন, যারা হলেন: বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসায়ি ও ইবনে মাজাহ। তিনি বর্ণনাকারীদের নামসমূহ বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজিয়েছেন। কুতুবে সিত্তাহর বর্ণনাকারীদের জীবনবৃত্তান্ত একত্রিত করে গ্রন্থ রচনার ক্ষেত্রে তিনিই প্রথম হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। হাফেজ আব্দুল গনি আল-মাকদিসির পরে যারা কুতুবে সিত্তাহর বর্ণনাকারীদের নিয়ে কাজ করেছেন, এটি ছিল তাদের প্রধান ভিত্তি। তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন হাফেজ জামালুদ্দিন আবুল হাজ্জাজ ইউসুফ আল-মিজ্জি (৬৫৪ - ৭৪২ হিজরি)। তিনি এই কিতাবের ওপর ভিত্তি করেই একে পরিমার্জন (তাহজিব) করেন এবং জীবনীভুক্ত বর্ণনাকারীদের অসংখ্য উস্তাদ ও ছাত্রের নাম সংযোজন করেন, সেই সাথে কিছু বিষয়ের সংশোধনও করেন।
"আল-কামাল" কিতাবটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এতে জারহ ও তাদিল বিষয়ক অনেক উদ্ধৃতি রয়েছে যা হাফেজ মিজ্জি তাঁর পরিমার্জিত সংস্করণে (তাহজিব) উল্লেখ করতে পারেননি। অনুরূপভাবে এতে অনেক উস্তাদ ও ছাত্রের নামও রয়েছে। এছাড়াও তিনি ইমামদের অনেক বাণী স্বীয় সনদসহ উল্লেখ করেছেন।
শেখ ডক্টর শাদি বিন মুহাম্মদ বিন সালিম আল-নুমান -আল্লাহ তাঁকে তাওফিক দান করুন- কিতাবটির পাণ্ডুলিপিগুলোর সাথে তুলনা করে এর সম্পাদনা (তাহকিক) করেছেন। তিনি কিতাবের পাঠ্যকে নির্ভুল করেছেন, বর্ণনাকারীদের নামের অস্পষ্টতা ও সংশয় নিরসন করেছেন এবং তাদের বংশপরিচয় সুনিশ্চিত করেছেন। তিনি এতে উল্লিখিত উদ্ধৃতিগুলোর উৎস যাচাই করেছেন এবং লেখক যেসব ভুলের সম্মুখীন হয়েছিলেন ও হাফেজ মিজ্জি যেগুলোর সংশোধন করেছিলেন, তা নির্দেশ করেছেন।
(খণ্ড: ١)
আল-কামাল ফী আসমাইর রিজাল
(পৃষ্ঠা: -)
رحمهما الله، كما ذكر بعض الفوائد الأخرى في التعليق على الكتاب، وقدم للكتاب بمقدمةٍ اعتنى فيها بذكر منهج المؤلف وأسلوبه وطريقته في كتابه ونوعية التراجم التي تضمنها الكتاب وبيان موارده فيه وغير ذلك.
هذا ومن منطلق خدمة سنة النبي صلى الله عليه وسلم، وإيماننا بأهمية نشر كتب التراث، فإن الهيئة العامة للعناية بطباعة ونشر القرآن الكريم والسنة النبوية وعلومهما بدولة الكويت لتَشْرُف بأن تقدم هذا الكتاب في طبعته الأولى، ليستفيد منه المختصون في علم الحديث وغيرهم.
وقد روجع الكتاب من قبل فضيلة الشيخ: بدر بن عبد الله البدر، فكانت هناك بعض الملاحظات في عمله، قد أُعلم بها فقام بتنفيذها مشكورًا.
وإنا لنرجو الله العلي القدير أن يجزي خيرًا كل من أسهم في إخراج هذا الكتاب تحقيقًا وضبطًا ومراجعةً، حتى خرج بهذه الصورة، فنسأل الله أن يجزي مؤلفه خيرًا على ما قدم لخدمة سنة النبي صلى الله عليه وسلم، كما نسأله أن يعمّ فيه النفع، وأن يجعله خالصًا لوجهه الكريم، إنه ولي ذلك والقادر عليه، وصلى الله على نبيه محمد، وعلى آله وصحبه والتابعين.
د. فهد صياح الديحاني نائب المدير العام للبحوث والدراسات
الهيئة العامة للعناية بطباعة ونشر القرآن الكريم والسنة النبوية وعلومهما
আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি দয়া করুন। তদ্রূপ তিনি কিতাবটির টীকায় আরও কিছু উপকারিতা উল্লেখ করেছেন এবং কিতাবটির জন্য একটি ভূমিকা পেশ করেছেন, যেখানে তিনি গ্রন্থকারের মানহাজ বা পদ্ধতি, শৈলী ও তাঁর কিতাব রচনার পন্থা, কিতাবটিতে অন্তর্ভুক্ত জীবনীসমূহের প্রকৃতি এবং এতে তাঁর উৎসসমূহ বর্ণনা করার বিষয়ে বিশেষ যত্ন নিয়েছেন।
এমতাবস্থায়, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর খিদমত এবং তূরাস বা ঐতিহ্যবাহী কিতাবসমূহ প্রচারের গুরুত্বের প্রতি আমাদের বিশ্বাসের জায়গা থেকে কুয়েত রাষ্ট্রের 'পবিত্র কুরআন, সুন্নাহ এবং তৎসংশ্লিষ্ট ইলমসমূহের মুদ্রণ ও প্রকাশনা বিষয়ক সাধারণ কর্তৃপক্ষ' এই কিতাবটি এর প্রথম সংস্করণে পেশ করতে পেরে সম্মানিত বোধ করছে, যাতে হাদীস শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞগণ এবং অন্যান্যরা এর মাধ্যমে উপকৃত হতে পারেন।
কিতাবটি সম্মানিত শায়খ বদর বিন আব্দুল্লাহ আল-বদর কর্তৃক পর্যালোচিত হয়েছে। তাঁর কাজের ওপর কিছু পর্যবেক্ষণ ছিল, যা তাঁকে জানানো হয়েছিল এবং তিনি তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়ভাবে বাস্তবায়ন করেছেন।
আমরা মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি এই কিতাবটি তাহকীক (গবেষণা), যব্ত (সঠিকভাবে সংরক্ষণ) ও পর্যালোচনার মাধ্যমে এই রূপে প্রকাশ করার পেছনে যারা অবদান রেখেছেন তাদের প্রত্যেককে উত্তম প্রতিদান দান করেন। আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন এর গ্রন্থকারকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর খিদমতে তাঁর অবদানের জন্য সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন। এছাড়া আমরা তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি এর দ্বারা ব্যাপক উপকার সাধন করেন এবং একে কেবল তাঁর মহান সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন। নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর ওপর পূর্ণ ক্ষমতাবান। আল্লাহ তাঁর নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ, সাহাবীগণ এবং তাবেঈগণের ওপর দরূদ ও সালাম বর্ষণ করুন।
ড. ফাহাদ সায়াহ আল-দাইহানি, গবেষণা ও অধ্যায়ন বিষয়ক উপ-মহাপরিচালক
পবিত্র কুরআন, সুন্নাহ এবং তৎসংশ্লিষ্ট ইলমসমূহের মুদ্রণ ও প্রকাশনা বিষয়ক সাধারণ কর্তৃপক্ষ
(খণ্ড: ١)
আল-কামাল ফী আসমাইর রিজাল
(পৃষ্ঠা: ٥)
مقدمة المراجعإن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله صلى الله عليه وسلم وعلى آله وصحبه أجمعين ومن تبعهم إلى يوم الدين.
وبعد:
فقد قال الله عز وجل: {وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ} (النحل: 44)، وقال: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} (الحشر: 7).
فكانت السنة النبوية على صاحبها أزكى الصلاة والتسليم هي الأصل الثاني من أصول الأحكام الشرعية، فهي والقرآن متلازمان. فما ورد في القرآن من الآيات مجملًا أو مطلقًا أو عامًّا فإن السنة
পর্যালোচনাকারীর ভূমিকানিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন তার কোনো পথভ্রষ্টকারী নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তার কোনো পথপ্রদর্শক নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা তাঁদের অনুসরণ করবে তাদের সকলের ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক।
অতঃপর:
আল্লাহ মহান ও পরাক্রমশালী বলেছেন: “আর আমি আপনার প্রতি যিকির (কুরআন) নাযিল করেছি যাতে আপনি মানুষের কাছে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে দেন যা তাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে” (আন-নাহল: ৪৪)। তিনি আরও বলেছেন: “রাসূল তোমাদের যা দেন তা তোমরা গ্রহণ করো, আর যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো” (আল-হাশর: ৭)।
সুন্নাহ—যার প্রবর্তকের প্রতি বর্ষিত হোক সর্বোত্তম সালাত ও সালাম—হলো শরয়ি বিধানের উৎসসমূহের দ্বিতীয় মূল উৎস। কুরআন ও সুন্নাহ একে অপরের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কুরআনের যে আয়াতগুলো সংক্ষিপ্ত, শর্তহীন বা ব্যাপক অর্থে এসেছে, সুন্নাহ সেগুলোকে...
(খণ্ড: ١)
আল-কামাল ফী আসমাইর রিজাল
(পৃষ্ঠা: ٦)
النبوية تبينه، فتقيد مطلقه، وتخصص عامه، وتفسر مجمله.
لذا قامت نخبة ممتازة وصفوة مختارة من هذه الأمة المباركة بخدمة السنة النبوية ولم شتاتها، فقطعوا الفيافي والقفار واصلين الليل بالنهار، لالتقاطها من أفواه سامعيها وجمعها من صدور حامليها، ومن ثم تدوينها.
إلى ما نراه من تلك المصنفات الكثيرة التي جمعت أحاديث النبي الكريم صلى الله عليه وسلم، كما دونوا الكثير من آثار الصحابة الكرام والتابعين الأجلاء.
فجزاهم الله خير الجزاء على ما قدموه من جمع لهذا التراث، وجعل ذلك في موازين حسناتهم.
ومن ثم انبري طائفة من أهل العلم فصنفوا مصنفات لتراجم رواة الحديث، فيها ذكر مشايخهم والرواة عنهم وما ورد فيهم من جرح أو تعديل وسني ولادتهم ووفياتهم، مما يستفاد منه معرفة صحة أو ضعف أسانيد الأحاديث المروية في تلك المصنفات الحديثية ليتم تطبيق قواعد قبولها أو ردها.
وهذه المصنفات التي جمعت تراجم الرواة لم تكن محددة برواةِ كتبٍ معينةٍ بل كانت عامة.
নবিপ্রদত্ত সুন্নাহ তা বর্ণনা করে, এর সাধারণ নির্দেশসমূহকে সীমাবদ্ধ করে, এর ব্যাপক বিধানসমূহকে সুনির্দিষ্ট করে এবং এর সংক্ষিপ্ত বিষয়সমূহকে ব্যাখ্যা করে।
তাই এই বরকতময় উম্মতের একদল উৎকৃষ্ট ও মনোনীত লোক নবিপ্রদত্ত সুন্নাহর সেবা এবং এর বিক্ষিপ্ত অংশগুলোকে একত্রিত করার কাজে আত্মনিয়োগ করেছেন। তারা মরুভূমি ও প্রান্তর পাড়ি দিয়েছেন, রাতকে দিনের সাথে মিলিয়ে দিয়েছেন, যাতে তা শ্রবণকারীদের মুখ থেকে আহরণ করা যায় এবং বহনকারীদের অন্তর থেকে সংগ্রহ করে তা লিপিবদ্ধ করা যায়।
এর ফলে আমরা দেখতে পাই সেই অসংখ্য সংকলনসমূহ যা সম্মানিত নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদিসসমূহকে একত্রিত করেছে, তেমনি তারা সম্মানিত সাহাবী এবং মহান তাবেঈগণের বহু আছারও লিপিবদ্ধ করেছেন।
আল্লাহ তাদের এই ঐতিহ্য সংগ্রহের অবদানের জন্য সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন এবং একে তাদের নেক আমলের পাল্লায় রাখুন।
এরপর আলেমদের একটি দল হাদিস বর্ণনাকারীদের জীবনী বিষয়ক গ্রন্থসমূহ রচনার কাজে আত্মনিয়োগ করেন। সেখানে তাদের শিক্ষকগণ, তাদের থেকে যারা বর্ণনা করেছেন তাদের নাম, তাদের সম্পর্কে বর্ণিত জারহ ও তা'দিল (সমালোচনা বা নির্ভরযোগ্যতা) এবং তাদের জন্ম ও মৃত্যুর সাল উল্লেখ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সেই হাদিস গ্রন্থগুলোতে বর্ণিত হাদিসগুলোর সনদের বিশুদ্ধতা বা দুর্বলতা সম্পর্কে জানা সম্ভব হয়, যাতে তা গ্রহণ বা বর্জনের নিয়মাবলি প্রয়োগ করা যায়।
বর্ণনাকারীদের জীবনী সংবলিত এই সংকলনগুলো কোনো নির্দিষ্ট কিতাবের বর্ণনাকারীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তা ছিল সাধারণ ও ব্যাপক।
(খণ্ড: ١)
আল-কামাল ফী আসমাইর রিজাল
(পৃষ্ঠা: ٧)
حتى جاء الحافظ عبد الغني بن عبد الواحد المقدسي (541 - 600 هـ) وهو صاحب الكتاب المشهور "عمدة الأحكام" وغيره من المصنفات المفيدة، فألف هذا الكتاب "الكمال في أسماء الرجال" وضمنه الرواة الذين روى لهم أصحاب الكتب الستة (البخاري، ومسلم، والنسائي، وأبو داود، والترمذي، وابن ماجه) ورتبهم حسب الحروف الألفبائية فكان أول من صنف في جمع رجال الكتب الستة فكان عمدة من جاءوا بعد الحافظ عبد الغني المقدسي ممن صنف في رواة الكتب الستة، ومن أبرزهم الحافظ جمال الدين أبو الحجاج يوسف المزي (654 - 742 هـ) الذي اعتمد على كتابه هذا وزاد الكثير من مشايخ وتلاميذ الرواة الذين ترجم لهم كما استدرك عليه بعض الأشياء.
كما كلفتني الهيئة الموقرة، بمراجعة الكتاب وإبداء الرأي فيه، فقمت بقراءته كاملًا، وأبديت بعض الملاحظات والتصويبات على عمل المحقق الفاضل، فاستجاب مشكورًا مأجورًا بتنفيذ تلك الملاحظات، وتصويب ما ند عنه من أخطاء طباعية.
هذا وأشكر الهيئة العامة للعناية بطباعة ونشر القرآن الكريم والسنة النبوية وعلومهما التي أشرفت على طباعة ونشر هذا الكتاب القيم بعد أن كان حبيسًا في خزائن المخطوطات ليستفيد منه المختصون في علم الحديث.
পরিশেষে হাফেজ আব্দুল গনি বিন আব্দুল ওয়াহেদ আল-মাকদিসি (৫৪১ - ৬০০ হিজরি) আগমন করেন, যিনি বিখ্যাত গ্রন্থ "উমদাতুল আহকাম" এবং অন্যান্য উপকারী রচনার লেখক। তিনি এই "আল-কামাল ফি আসমায়ির রিজাল" গ্রন্থটি রচনা করেন এবং এতে কুতুবে সিত্তাহর (বুখারি, মুসলিম, নাসাঈ, আবু দাউদ, তিরমিজি এবং ইবনে মাজাহ) রচয়িতাগণ যাদের থেকে বর্ণনা করেছেন সেই রাবিদের (বর্ণনাকারীদের) অন্তর্ভুক্ত করেন। তিনি তাঁদের বর্ণানুক্রমে বিন্যস্ত করেছেন। কুতুবে সিত্তাহর রিজালদের (বর্ণনাকারীদের) একত্র করে গ্রন্থ রচনায় তিনিই ছিলেন প্রথম। ফলে হাফেজ আব্দুল গনি আল-মাকদিসির পরবর্তীকালে যারা কুতুবে সিত্তাহর রাবিদের সম্পর্কে গ্রন্থ রচনা করেছেন, তাঁদের জন্য এটি প্রধান অবলম্বন হয়ে দাঁড়ায়। তাঁদের মধ্যে প্রধানতম হলেন হাফেজ জামালুদ্দিন আবুল হাজ্জাজ ইউসুফ আল-মিজ্জি (৬৫৪ - ৭৪২ হিজরি), যিনি এই গ্রন্থের ওপর ভিত্তি করে কাজ করেছেন এবং যাদের জীবনী বর্ণিত হয়েছে সেই রাবিদের অনেক শায়খ ও ছাত্রের নাম এতে সংযোজন করেছেন, পাশাপাশি কিছু বিষয়ের পর্যালোচনাও করেছেন।
সম্মানিত কর্তৃপক্ষ আমাকে গ্রন্থটি পর্যালোচনা এবং এ বিষয়ে মতামত প্রদানের দায়িত্ব অর্পণ করেন। আমি গ্রন্থটি সম্পূর্ণ পাঠ করেছি এবং বিজ্ঞ মুহাক্কিকের কাজের ওপর কিছু পর্যবেক্ষণ ও সংশোধনী প্রদান করেছি। তিনি কৃতজ্ঞতার সাথে এবং সওয়াবের আশায় সেই পর্যবেক্ষণগুলো বাস্তবায়ন করেছেন এবং যে সকল মুদ্রণজনিত ত্রুটি রয়ে গিয়েছিল তা সংশোধন করেছেন।
পরিশেষে, আমি পবিত্র কুরআন, সুন্নাহ এবং এ সংক্রান্ত জ্ঞানচর্চা ও মুদ্রণের তদারকিতে নিয়োজিত সাধারণ কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাই, যারা এই মূল্যবান গ্রন্থটির মুদ্রণ ও প্রকাশের তত্ত্বাবধান করেছেন। দীর্ঘকাল পাণ্ডুলিপির ভাণ্ডারে আবদ্ধ থাকার পর গ্রন্থটি এখন প্রকাশিত হলো, যাতে হাদিস শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞগণ এর থেকে উপকৃত হতে পারেন।
(খণ্ড: ١)
আল-কামাল ফী আসমাইর রিজাল
(পৃষ্ঠা: ٨)
راجيًا من الله العلي القدير أن يستفاد منه كما أراده مؤلفه رحمه الله وأن يثيب مؤلفه ومحققه على ما قدماه لخدمة سنة النبي صلى الله عليه وسلم.
ونسأل الله العلي القدير أن يوفقنا لما يحبه ويرضاه، إنه ولي ذلك والقادر عليه، وصلى الله على نبيه محمد وعلى آله وصحبه ومن تبع هداهم إلى يوم الدين.
كتبه بدر بن عبد الله البدر
সুউচ্চ ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি যেন এর দ্বারা সেই উদ্দেশ্য সাধিত হয় যা এর লেখক (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) চেয়েছিলেন, এবং আল্লাহ যেন এর লেখক ও গবেষককে সেই খিদমতের জন্য উত্তম প্রতিদান দান করেন যা তাঁরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহর সেবায় পেশ করেছেন।
আর আমরা সুউচ্চ ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের সেই কাজের তাওফীক দান করেন যা তিনি পছন্দ করেন এবং যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন। নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর ওপর পূর্ণ ক্ষমতাবান। আর আল্লাহ রহমত বর্ষণ করুন তাঁর নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ, তাঁর সহচরবৃন্দ এবং বিচার দিবস পর্যন্ত যারা তাঁদের হেদায়েতের অনুসরণ করবে তাদের ওপর।
এটি লিখেছেন বদর বিন আব্দুল্লাহ আল-বদর
(খণ্ড: ١)
আল-কামাল ফী আসমাইর রিজাল
(পৃষ্ঠা: ٩)
مقدمة المحققيَسُرُّني في هذا المقام أن أتقدَّم بالشُّكرِ إلى أخي الكريم (أبي بسطام محمد بن مصطفى)، الذي يُتابعني دائمًا بمخطوطات قيِّمة، وقد تكرَّم بتزويدي بصورة من نسخة المكتبة الظاهرية للكتاب، وصورة من نسخة دار الكتب المصرية، فجزاه الله خيرًا.
وإلى أخي الكريم (أبي إسحاق طارق مصطفى)، الذي زوَّدني بالمخطوطات التركية للكتاب، فجزاه الله خيرًا على تعاونه الدائم معي؛ خاصة فيما يخصُّ المخطوطات التركية.
وإلى أخي الكريم (محمود النحال)؛ الذي زوَّدني بالنسخة اليمنية، ونسخة المتحف البريطاني، فجزاه الله خير الجزاء، وأعانه ووفقه في مشاريعه العلمية النافعة.
والحق أن هذا التعاون العلمي بيننا -نحن طلاب العلم-، يعكس صورة حسنة من التجرُّد لخدمة السنَّة، والبعد عن المصالح الفردية، فالحمد لله أن سَخَّر لخدمة التراث أمثال هؤلاء.
كما أتقدم بالشكر للإخوة الأفاضل الذين ساعدوني في مرحلة مقابلة نَصِّ "الكمال" على المادة التي اقتبسها منه المزي في "تهذيبه"، فقد رأيت أن أقوم بهذه المرحلة مرتين لأهميتها، مرةً بنفسي، ومرة بمساعدة بعض الإخوة، ليخرج العمل بمزيد من الإتقان، وهؤلاء الإخوة هم:
أخي الكريم/ فهد بن علي اللحجي، وهو من إخواننا النُّبهاء
সম্পাদকের ভূমিকাএই পর্যায়ে আমি আমার সম্মানিত ভাই (আবু বিস্তাম মুহাম্মদ বিন মুস্তফা)-কে ধন্যবাদ জানাতে পেরে আনন্দিত, যিনি সর্বদা মূল্যবান পাণ্ডুলিপি দিয়ে আমাকে সহায়তা করেন। তিনি অনুগ্রহ করে আমাকে এই গ্রন্থের যাহিরিয়া লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপির একটি কপি এবং দারুল কুতুব আল-মিসরিয়ার পাণ্ডুলিপির একটি কপি সরবরাহ করেছেন। আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।
এবং আমার প্রিয় ভাই (আবু ইসহাক তারিক মুস্তফা)-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, যিনি আমাকে এই গ্রন্থের তুর্কি পাণ্ডুলিপিগুলো সরবরাহ করেছেন। আল্লাহ তাকে আমার সাথে সর্বদা সহযোগিতার জন্য—বিশেষ করে তুর্কি পাণ্ডুলিপি সংক্রান্ত বিষয়ে—উত্তম প্রতিদান দান করুন।
এবং আমার প্রিয় ভাই (মাহমুদ আন-নাহহাল)-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা, যিনি আমাকে ইয়েমেনি পাণ্ডুলিপি এবং ব্রিটিশ মিউজিয়ামের পাণ্ডুলিপি সরবরাহ করেছেন। আল্লাহ তাকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন এবং তার উপকারী ইলমি প্রকল্পসমূহে তাকে সাহায্য ও তাওফিক দান করুন।
বস্তুত আমাদের ইলমের ছাত্রদের মাঝে এই ইলমি সহযোগিতা সুন্নাহর সেবায় একনিষ্ঠতা এবং ব্যক্তিগত স্বার্থ থেকে দূরে থাকার একটি সুন্দর চিত্র ফুটিয়ে তোলে। সুতরাং সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি এই ঐতিহ্যের সেবায় তাদের মতো ব্যক্তিদের নিয়োজিত করেছেন।
আমি সেই সম্মানিত ভাইদেরও ধন্যবাদ জানাই যারা আল-মিযযি তার "তাহযিব" গ্রন্থে "আল-কামাল" থেকে যা উদ্ধৃত করেছেন, তার সাথে "আল-কামাল"-এর মূল পাঠের মিলকরণের পর্যায়ে আমাকে সাহায্য করেছেন। এর গুরুত্বের কারণে আমি এই পর্যায়টি দুইবার সম্পন্ন করা সমীচীন মনে করেছি—একবার নিজে এবং একবার কতিপয় ভাইয়ের সহযোগিতায়, যাতে কাজটি আরও নিখুঁতভাবে সম্পন্ন হয়। সেই ভাইয়েরা হলেন:
আমার প্রিয় ভাই ফাহাদ বিন আলী আল-লাহজি, তিনি আমাদের মেধাবী ভাইদের অন্যতম।
(খণ্ড: ١)
আল-কামাল ফী আসমাইর রিজাল
(পৃষ্ঠা: ١٠)
الأذكياء، الذين يعينونني في كثير من الأعمال، نفع الله به.
وأخي الكريم الخلوق/ حسين الوعوعي، وهو من إخواننا القائمين على الدعوة وتحفيظ كتاب الله، نفع الله به.
والأخت الكريمة / زينب صالح الحداء، وقد كان عملها متقنًا جيدًا جدًّا، ولو فرَّغَتْ نفسها لخدمة التراث لنفع الله بها.
كما أتقدم بالشُّكر إلى الإخوة الأفاضل/ حفظ الله الزيلعي، وحسن الزيلعي، وطارق الزيلعي، وعبد الحليم النهاري، الذين ساعدوني في مرحلة المقابلة على النسخ الخطية، وقد بذلوا جهدًا مشكورًا.
كما أتقدم بالشكر إلى أخي الكريم/ فؤاد عقيل الزيلعي، الذي قام على صفِّ الكتاب بإتقانه المعهود.
كما أشكر كل من تكرَّم بمراسلتي على البريد الإلكتروني، أو على الهاتف، تشجيعًا وتحفيزًا منه لإنجاز مشروعنا، وقد توالت بفضل الله كلمات الثناء على أعمالنا العلمية من جهات مختصة، ومن مشايخ أفاضل، وتلقَّاها أهل العلم وطلبته بالقبول، على قلة عُدَّتنا، فأسأل الله أن نكون عند حسن ظنهم جميعًا، وأن يعيننا على إنجاز المشروع.
والحمد لله أولًا وآخرًا وظاهرًا وباطنًا.
كتبه د. شادي بن محمد بن سالم آل نعمان
মেধাবীগণ, যারা আমাকে অনেক কাজে সাহায্য করেন, আল্লাহ তাদের দ্বারা কল্যাণ করুন।
এবং আমার সম্মানিত ও সচ্চরিত্র ভাই হুসাইন আল-ওয়ায়ুয়ি, তিনি আমাদের সেই ভাইদের অন্তর্ভুক্ত যারা দা’ওয়াত এবং আল্লাহর কিতাব হিফজ করানোর কাজে নিয়োজিত, আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে কল্যাণ দান করুন।
এবং সম্মানিত বোন যায়নাব সালিহ আল-হিদা, তাঁর কাজ অত্যন্ত নিঁখুত ও চমৎকার ছিল। তিনি যদি নিজেকে ইলমি ঐতিহ্য (তুরাস) খিদমতের জন্য উৎসর্গ করতেন, তবে আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে অনেক কল্যাণ দান করতেন।
তদ্রূপ আমি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি সম্মানিত ভাই হাফিজুল্লাহ আয-যাইলায়ি, হাসান আয-যাইলায়ি, তারিক আয-যাইলায়ি এবং আবদুল হালীম আন-নাহারির প্রতি, যারা পাণ্ডুলিপিগুলোর মুকাবালা (তুলনামূলক যাচাই) পর্যায়ে আমাকে সাহায্য করেছেন এবং তাঁরা প্রশংসনীয় পরিশ্রম করেছেন।
একইভাবে আমি আমার সম্মানিত ভাই ফুয়াদ আকীল আয-যাইলায়ির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, যিনি তাঁর চিরাচরিত নিপুণতার সাথে বইটির কম্পোজের কাজ সম্পন্ন করেছেন।
সেই সাথে আমি তাঁদের প্রত্যেককে ধন্যবাদ জানাই যারা ইমেইল বা ফোনের মাধ্যমে আমার সাথে যোগাযোগ করে আমাদের এই প্রকল্পটি সম্পন্ন করার জন্য উৎসাহ ও উদ্দীপনা জুগিয়েছেন। আল্লাহর অনুগ্রহে বিশেষজ্ঞ মহল এবং বরেণ্য শায়খদের পক্ষ থেকে আমাদের ইলমি কাজগুলোর ব্যাপারে প্রশংসামূলক বাণী অব্যাহতভাবে এসেছে এবং আমাদের উপকরণের স্বল্পতা সত্ত্বেও ইলমের ধারক ও ছাত্রগণ তা কবুল করেছেন। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন আমরা তাঁদের সকলের সুধারণার উপযুক্ত হতে পারি এবং তিনি যেন প্রকল্পটি সম্পন্ন করতে আমাদের সাহায্য করেন।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য—শুরুতে ও শেষে, প্রকাশ্যে ও গোপনে।
এটি লিখেছেন ড. শাদি বিন মুহাম্মাদ বিন সালিম আল-নুমান
(খণ্ড: ١)
আল-কামাল ফী আসমাইর রিজাল
(পৃষ্ঠা: ١١)
مقدمة الدراسة
গবেষণার ভূমিকা
(খণ্ড: ١)
আল-কামাল ফী আসমাইর রিজাল
(পৃষ্ঠা: ١٣)
المبحث الأول ترجمة المصنِّف الحافظ عبد الغني المقدسيلقد كان الحافظ عبد الغني المقدسي من أفراد العلماء العاملين على مَرِّ التاريخ الإسلامي، وقد حفلت حياته العلمية بالأحداث المثيرة، وبالعِبَر، وبالدروس المستفادة؛ ممَّا دفع الحافظ ضياء الدين المقدسي إلى إفراد سيرته في جزئين، كما اعتنى علماء التاريخ والرجال بذكره وترجمته والإطناب في ذلك، وقد ترجمه الحافظ ابن رجب الحنبلي بترجمة حافلة جدًّا في "ذيل طبقات الحنابلة"، وكذا الحافظ الذهبي في "سير أعلام النبلاء"، معتمدين في ذلك على كتاب "الضياء"، ويُنصح طلاب العلم والباحثون بكثرة مطالعة ترجمته وسيرته، ونشرها والاستفادة منها، وهذا ملخص لترجمته:
اسمه ونسبه ولقبه وكنيته:هو: الإمام حافظ الوقت تقي الدين عبد الغني بن عبد الواحد بن علي بن سرور بن رافع بن حسن بن جعفر، الجماعيلي، المقدسي، أبو محمد.
مولده:وُلِد بجماعيل -من أرض نابلس من الأرض المقدسة- سنة إحدى وأربعين وخمس مئة.
প্রথম পরিচ্ছেদ: গ্রন্থকার হাফেজ আব্দুল গনি আল-মাকদিসী-এর জীবনীনিশ্চয়ই হাফেজ আব্দুল গনি আল-মাকদিসী ইসলামি ইতিহাসের পরিক্রমায় সেই সব বিরল আলেমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যারা তাদের অর্জিত জ্ঞান অনুযায়ী আমল করতেন। তাঁর জ্ঞানগর্ভ জীবন রোমাঞ্চকর ঘটনা, শিক্ষা ও উপদেশ দ্বারা পরিপূর্ণ ছিল; যা হাফেজ জিয়াউদ্দিন আল-মাকদিসীকে তাঁর জীবনী দুই খণ্ডে আলাদাভাবে রচনা করতে উদ্বুদ্ধ করেছে। পাশাপাশি ইতিহাসবিদ এবং রিজাল শাস্ত্রের আলেমগণ তাঁর আলোচনা, জীবনী লিখন এবং এর বিস্তারিত বর্ণনায় বিশেষ যত্ন নিয়েছেন। হাফেজ ইবনে রজব আল-হাম্বলী 'যাইলু তাবাকাতিল হানাবিলাহ' গ্রন্থে তাঁর অত্যন্ত বিস্তারিত একটি জীবনী আলোচনা করেছেন। অনুরূপভাবে হাফেজ আয-যাহাবীও 'সিয়ারু আ'লামিন নুবালা' গ্রন্থে তাঁর জীবনী উল্লেখ করেছেন; তাঁরা উভয়েই এ ক্ষেত্রে হাফেজ জিয়াউদ্দিনের 'আল-জিয়া' গ্রন্থের ওপর নির্ভর করেছেন। ইলম অন্বেষণকারী এবং গবেষকদের জন্য তাঁর জীবনী ও জীবনদর্শন অধিক মাত্রায় অধ্যয়ন করার, তা প্রচার করার এবং তা থেকে উপকৃত হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। আর এটি হলো তাঁর জীবনীর একটি সংক্ষিপ্তসার:
তাঁর নাম, বংশপরিচয়, উপাধি ও ডাকনাম:তিনি হলেন: ইমাম, সমসাময়িক যুগের শ্রেষ্ঠ হাফেজ, তাকিউদ্দীন আব্দুল গনি ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে আলী ইবনে সুরুর ইবনে রাফে ইবনে হাসান ইবনে জাফর, আল-জামায়িলি, আল-মাকদিসী, আবু মুহাম্মাদ।
তাঁর জন্ম:তিনি পবিত্র ভূমির নাবলুস অঞ্চলের জামায়িল গ্রামে হিজরি পাঁচশত একচল্লিশ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
(খণ্ড: ١)
আল-কামাল ফী আসমাইর রিজাল
(পৃষ্ঠা: ١٤)
طلبه للعلم ورحلاته وشيوخه:قَدِم الحافظ المقدسي دمشق صغيرًا بعد الخمسين، فسمع بها من أبي المكارم بن هلال، وأبي المعالي بن صابر، وأبي عبد الله بن حمزة بن أبي جميل القرشي، وغيرهم.
ثم رحل إلى بغداد سنة إحدى وستين، هو والشيخ الموفَّق، فأقامَا ببغداد أربع سنين. وكان الموفق ميله إلى الفقه، والحافظ عبد الغني ميله إلى الحديث؛ فنزلا على الشيخ عبد القادر، وكان يراعيهما، ويُحسن إليهما، وقرأا عليه شيئًا من الحديث والفقه.
وحُكيَ أنهما أقاما عنده نحوًا من أربعين يومًا، ثم مات، وأنهما كانا يقرآن عليه كل يوم درسين من الفقه، فيقرأ هو من "الخرقي" من حفظه، والحافظ من كتاب "الهداية".
وبعد ذلك اشتغلا بالفقه والخلاف على ابن المَنِّيِّ، وصارا يتكلمان في المسألة ويناظران.
وسمعا من أبي الفتح بن البَطِّي، وأحمد بن المقري الكَرْخي، وأبي بكر بن النَّقُّور، وهبة الله الدَّقَّاق، وأبي زرعة، وغيرهم. ثم عادا إلى دمشق.
ثم رحل الحافظ المقدسي سنة ست وستين إلى مصر والإسكندرية، وأقام هناك مدة، ثم عاد، ثم رجع إلى الإسكندرية سنة سبعين، وسمع بها من الحافظ السِّلَفي وأكثر عنه، حتى قيل: لعله كتب عنه ألف جزء. وسمع من غيره أيضًا.
ইলম অর্জন, তাঁর সফরসমূহ এবং তাঁর শাইখগণ:হাফেজ মাকদিসি পঞ্চাশ হিজরির পরে শৈশবে দামেশকে আসেন। সেখানে তিনি আবুল মাকারিম ইবনে হিলাল, আবুল মাআলি ইবনে সাবির, আবু আব্দুল্লাহ ইবনে হামজা ইবনে আবু জামিল আল-কুরাশি এবং অন্যান্যদের নিকট থেকে শ্রবণ করেন।
অতঃপর তিনি ৫৬১ হিজরি সালে শাইখ মুওয়াফফাকের সাথে বাগদাদে সফর করেন এবং তাঁরা সেখানে চার বছর অবস্থান করেন। মুওয়াফফাকের ঝোঁক ছিল ফিকহের প্রতি এবং হাফেজ আব্দুল গানীর ঝোঁক ছিল হাদিসের প্রতি। তাঁরা শাইখ আব্দুল কাদিরের সান্নিধ্যে অবস্থান গ্রহণ করেন; তিনি তাঁদের তত্ত্বাবধান করতেন এবং তাঁদের প্রতি সদয় আচরণ করতেন। তাঁরা তাঁর নিকট হাদিস ও ফিকহের কিছু অংশ পাঠ করেন।
বর্ণিত আছে যে, তাঁরা তাঁর নিকট প্রায় চল্লিশ দিন অবস্থান করেছিলেন, এরপর তিনি ইন্তেকাল করেন। তাঁরা তাঁর নিকট প্রতিদিন ফিকহের দুটি করে পাঠ গ্রহণ করতেন। মুওয়াফফাক তাঁর মুখস্থ থেকে "আল-খিরাকি" পাঠ করতেন এবং হাফেজ "আল-হিদায়া" কিতাব থেকে পাঠ করতেন।
এর পরে তাঁরা ইবনুল মান্নির নিকট ফিকহ এবং মতভেদ সংক্রান্ত শাস্ত্রে (ইখতিলাফ) মনোনিবেশ করেন এবং বিভিন্ন মাসআলা নিয়ে আলোচনা ও বিতর্ক করতে শুরু করেন।
তাঁরা আবুল ফাতহ ইবনুল বাত্তি, আহমাদ ইবনুল মুকরি আল-কারখি, আবু বকর ইবনুন নাক্কুর, হিবাতুল্লাহ আদ-দাক্কাক, আবু জুরআ এবং অন্যান্যদের নিকট থেকে শ্রবণ করেন। অতঃপর তাঁরা দামেশকে ফিরে আসেন।
এরপর হাফেজ মাকদিসি ৫৬৬ হিজরি সালে মিশর ও আলেকজান্দ্রিয়ার উদ্দেশ্যে সফর করেন এবং সেখানে কিছুকাল অবস্থান করে ফিরে আসেন। পরবর্তীতে তিনি ৫৭০ হিজরি সালে পুনরায় আলেকজান্দ্রিয়ায় ফিরে যান এবং সেখানে হাফেজ সিলাফির নিকট থেকে শ্রবণ করেন ও তাঁর থেকে প্রচুর ইলম অর্জন করেন; এমনকি বলা হয় যে, সম্ভবত তিনি তাঁর নিকট থেকে এক হাজার জুয লিখেছিলেন। তিনি অন্যান্যদের নিকট থেকেও শ্রবণ করেন।
(খণ্ড: ١)
আল-কামাল ফী আসমাইর রিজাল
(পৃষ্ঠা: ١٥)
وسمع بمصر من أبي محمد بن برِّي النحوي وجماعة، ثم عاد إلى دمشق.
ثم سافر بعد السبعين إلى أصبهان، وكان قد خرج إليها، وليس معه إلا قليل فلوس، فسهَّل الله له مَن حَمله وأنفق عليه، حتى دخل أصبهان وأقام بها مدة، وسمع بها الكثير، وحصل الكتب الجيدة، ثم رجع.
وسمع بهَمَذَان من عبد الرزاق بن إسماعيل القرماني، والحافظ أبي العلاء، وغيرهما.
وبأصبهان من الحافظين: أبي موسى المديني، وأبي سعد الصائغ، وطبقتيهما.
وسمع بالموصل من خطيبها أبي الفضل الطوسي.
وكَتَبَ بخطِّه المُتقن ما لا يوصف كثرة، وعاد إلى دمشق، ولم يزل ينسخ ويصنف، ويحدث، ويفيد المسلمين، ويعبد الله تعالى، حتى توفاه الله على ذلك.
حفاظه على وقته:قال الحافظ الضياء المقدسي: وسمعت الإمام الزاهد إبراهيم بن محمود بن جوهر البعلي يقول: سمعت العماد -يعني: أخا الحافظ عبد الغني- يقول: ما رأيت أحدًا أشد محافظة على وقته من الحافظ عبد الغني.
قال الضياء: كان شيخنا الحافظ رحمه الله، لا يكاد يضيع شيئًا من زمانه بلا فائدة؛ فإنه كان يصلي الفجر، ويلقن الناس القرآن، وربما أقرأ شيئًا
তিনি মিসরে আবু মুহাম্মদ বিন বাররি আন-নাহবি এবং একদল আলিমের নিকট থেকে ইলম অর্জন করেন, তারপর দামেস্কে ফিরে আসেন।
অতঃপর সত্তর হিজরির পর তিনি ইসফাহানের দিকে সফর করেন। যখন তিনি সেখানে রওনা হন, তার সাথে সামান্য কিছু অর্থ ছাড়া আর কিছুই ছিল না। আল্লাহ তার জন্য এমন একজনের ব্যবস্থা করে দিলেন যিনি তাকে সাথে করে নিয়ে যান এবং তার জন্য ব্যয় করেন, অবশেষে তিনি ইসফাহানে প্রবেশ করেন এবং সেখানে দীর্ঘ সময় অবস্থান করেন। সেখানে তিনি প্রচুর হাদিস শ্রবণ করেন এবং অনেক মূল্যবান কিতাব সংগ্রহ করেন, তারপর ফিরে আসেন।
হামাদানে তিনি আবদুর রাজ্জাক বিন ইসমাইল আল-কিরমানি, হাফিজ আবু আল-আলা এবং অন্যদের নিকট থেকে শ্রবণ করেন।
ইসফাহানে তিনি দুই হাফিজের নিকট থেকে শ্রবণ করেন: আবু মুসা আল-মাদিনি এবং আবু সাদ আস-সায়িগ, ও তাদের সমপর্যায়ের অন্যদের থেকে।
মসুলে তিনি সেখানকার খতিব আবুল ফজল আত-তুসির নিকট থেকে শ্রবণ করেন।
তিনি নিজ নিখুঁত হস্তাক্ষরে অবর্ণনীয় পরিমাণে কিতাব লিখেছেন এবং দামেস্কে ফিরে আসেন। তিনি নিরন্তর পাণ্ডুলিপি তৈরি, গ্রন্থ রচনা, হাদিস বর্ণনা ও মুসলিমদের উপকার সাধন এবং মহান আল্লাহর ইবাদত করতে থাকেন, যে পর্যন্ত না আল্লাহ এই অবস্থাতেই তার মৃত্যু দান করেন।
সময়ের প্রতি তার যত্নশীলতা:হাফিজ জিয়া আল-মাকদিসি বলেন: আমি জাহিদ ইমাম ইবরাহিম বিন মাহমুদ বিন জাওহার আল-বালিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আল-ইমাদকে—অর্থাৎ হাফিজ আবদুল গনির ভাইকে—বলতে শুনেছি: আমি হাফিজ আবদুল গনির চেয়ে সময়ের প্রতি অধিক যত্নশীল আর কাউকে দেখিনি।
জিয়া বলেন: আমাদের শাইখ হাফিজ (রাহিমাহুল্লাহ) তার সময়ের কোনো অংশই উপকার ছাড়া নষ্ট করতেন না; তিনি ফজরের সালাত আদায় করতেন এবং মানুষকে কুরআন শিক্ষা দিতেন, আর সম্ভবত কোনো কিতাব পাঠ করতেন...
(খণ্ড: ١)
আল-কামাল ফী আসমাইর রিজাল
(পৃষ্ঠা: ١٦)
من الحديث؛ فقد حفظنا منه أحاديث جمة تلقينًا، ثم يقوم يتوضأ، فيصلي ثلاث مئة ركعة بالفاتحة والمعوذتين إلى قبل وقت الظهر، ثم ينام نومة يسيرة إلى وقت الظهر، ويشتغل إما للتسميع بالحديث، أو بالنسخ إلى المغرب، فإن كان صائمًا أفطر بعد المغرب، وإن كان مفطرًا صلي من المغرب إلى عشاء الآخرة، فإذا صلَّى العشاء الآخرة نام إلى نصف الليل أو بعده، ثم قام كأن إنسانًا يوقظه، فيتوضأ ويصلِّي لحظة كذلك، ثم توضأ وصلَّى كذلك، ثم توضأ وصلَّى إلى قرب الفجر، وربما توضأ في الليل سبع مرات أو ثمانية، أو أكثر، فقيل له في ذلك! فقال: ما تطيب لي الصلاة إلا ما دامت أعضائي رطبة. ثم ينام نومة يسيرة إلى الفجر، وهذا دأبه، وكان لا يكاد يصلِّي صلاتين مفروضتين بوضوء واحد.
ثناء العلماء عليه:- قال الحافظ أبو موسى المديني: قلَّ من قَدِم علينا من الأصحاب يفهم هذا الشأن كفهم الشيخ الإمام ضياء الدين أبي محمد عبد الغني بن عبد الواحد المقدسي، زاده الله توفيقًا. . . وقَل من يفهم في زماننا لما فهم، زاده الله علمًا وتوفيقًا.
- وقال ابن النجار البغدادي: حدَّث بالكثير، وصنف تصانيف حسنة في الحديث، وكان غزير الحفظ، من أهل الإتقان والتجويد، قيمًا بجميع فنون الحديث، عارفًا بقوانينه، وأصوله، وعلله، وصحيحه، وسقيمه، وناسخه، ومنسوخه، وغريبه، وشكله، وفقهه، ومعانيه،
হাদিস শাস্ত্রের ক্ষেত্রে; আমরা তাঁর নিকট হতে শ্রুতির মাধ্যমে অনেক হাদিস মুখস্থ করেছি। এরপর তিনি উঠে অজু করতেন এবং সুরা ফাতিহা ও মুআওয়িযাতাইন (সুরা ফালাক ও নাস) পাঠ করে জোহরের সময়ের পূর্ব পর্যন্ত তিনশ রাকাত নামাজ আদায় করতেন। এরপর জোহরের ওয়াক্ত পর্যন্ত সামান্য সময় ঘুমাতেন। জোহরের পর থেকে মাগরিব পর্যন্ত হয় হাদিস শোনানোর কাজে অথবা পাণ্ডুলিপি অনুলিপির কাজে লিপ্ত থাকতেন। যদি তিনি রোজা রাখতেন তবে মাগরিবের পর ইফতার করতেন, আর রোজা না থাকলে মাগরিব থেকে এশা পর্যন্ত নামাজ পড়তেন। যখন এশার নামাজ শেষ করতেন, তখন মধ্যরাত বা তার পর পর্যন্ত ঘুমাতেন। এরপর তিনি এমনভাবে জেগে উঠতেন যেন কেউ তাকে জাগিয়ে দিয়েছে; অতঃপর তিনি অজু করতেন এবং কিছুক্ষণ নামাজ পড়তেন, পুনরায় অজু করে একইভাবে নামাজ পড়তেন, আবার অজু করে ফজরের নিকটবর্তী সময় পর্যন্ত নামাজ পড়তেন। কখনও কখনও তিনি এক রাতে সাতবার বা আটবার বা তারও বেশি অজু করতেন। এ বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলতেন: "যতক্ষণ আমার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সিক্ত থাকে, ততক্ষণই নামাজ আমার কাছে তৃপ্তিদায়ক মনে হয়।" এরপর তিনি ফজর পর্যন্ত অল্প সময় ঘুমাতেন এবং এটিই ছিল তাঁর নিয়মিত অভ্যাস। তিনি সাধারণত এক অজু দিয়ে দুই ওয়াক্ত ফরজ নামাজ পড়তেন না।
তাঁর সম্পর্কে ওলামায়ে কেরামের প্রশংসা:- হাফেজ আবু মুসা আল-মাদিনী বলেন: আমাদের নিকট আগত সাথীদের মধ্যে শায়খ ইমাম জিয়াউদ্দীন আবু মুহাম্মদ আব্দুল গনি বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাকদিসি যেভাবে এই বিষয়টিকে (হাদিস শাস্ত্র) বোঝেন, তেমনটি খুব কম লোকই বোঝেন। আল্লাহ তাঁর তাওফিক বৃদ্ধি করুন। ... আমাদের যুগে তিনি যা বুঝেছেন, তা বোঝার মতো লোক খুব নগণ্য। আল্লাহ তাঁর জ্ঞান ও তাওফিক বৃদ্ধি করুন।
- ইবনুন নাজ্জার আল-বাগদাদি বলেন: তিনি প্রচুর হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং হাদিস শাস্ত্রে চমৎকার সব গ্রন্থ রচনা করেছেন। তিনি প্রখর মুখস্থ শক্তির অধিকারী এবং অত্যন্ত নিখুঁত ও শুদ্ধ জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন। তিনি হাদিসের সকল শাখায় পারদর্শী ছিলেন; এর নীতিমালা, মূলনীতি, ইলল (সূক্ষ্ম ত্রুটি), সহিহ (বিশুদ্ধ), সাকিম (ত্রুটিযুক্ত), নাসিখ (রহিতকারী), মানসুখ (রহিত), গরিব (বিরল), শব্দ-গঠন, ফিকহ এবং অর্থ সম্পর্কে সম্যক জ্ঞানী ছিলেন।
(খণ্ড: ١)
আল-কামাল ফী আসমাইর রিজাল
(পৃষ্ঠা: ١٧)
وضبط أسماء رواته، ومعرفة أحوالهم.
- وقال أبو الثناء محمود بن همام: سمعت أبا عبد الله محمد بن أميرك الجويني المحدث، يقول: ما سمعت السِّلَفي يقول لأحد: الحافظ، إلا لعبد الغني المقدسي.
عبادته وورعه وما عُرف عنه من الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر:كان الحافظ عبد الغني كثير العبادة، وَرِعًا، متمسكًا بالسنة على قانون السلف.
وذُكر أنه كان دائم الصيام، كثير الإيثار، وكان يصلي كل يوم وليلة ثلاث مئة ركعة، ويأمر بالمعروف وينهى عن المنكر.
وأنه كان رحمه الله يقرأ الحديث يوم الجمعة بعد الصلاة بجامع دمشق، وليلة الخميس بالجامع أيضًا، ويجتمع خلق كثير، وكان يقرأ ويبكي، ويبكي الناس بكاءً كثيرًا، حتى إن من حضر مجلسه مرة لا يكاد يتركه؛ لكثرة ما يطيب قلبه، وينشرح صدره فيه، وكان يدعو بعد فراغه دعاءً كثيرًا.
وذُكر أنه كان يستعمل السواك كثيرًا، حتى كأن أسنانه البَرَد.
وقال أبو الثناء محمود بن سلامة الحراني التاجر بأصبهان: كان الحافظ عبد الغني نازلًا عندي بأصبهان، وما كان ينام من الليل إلا القليل، بل يصلِّي ويقرأ ويبكي، حتى ربما منعنا النوم إلى السحر.
قال: وكان الحافظ لا يرى منكرًا إلا غيره بيده أو لسانه، وكان لا تأخذه في الله لومة لائم، ولقد رأيته مرة يهريق خمرًا، فجبذ صاحبه
এবং তার বর্ণনাকারীদের নামসমূহ নির্ভুলভাবে নির্ধারণ করা এবং তাদের অবস্থা সম্পর্কে অবগত হওয়া।
- এবং আবু আল-সানা মাহমুদ ইবনে হাম্মাম বলেন: আমি মুহাদ্দিস আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আমিরুক আল-জুওয়াইনীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলতেন: আমি আস-সিলাফিকে আব্দুল গনি আল-মাকদিসি ব্যতীত অন্য কাউকে 'হাফিজ' বলতে শুনিনি।
তাঁর ইবাদত, পরহেজগারিতা এবং সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ সম্পর্কে যা জানা যায়:হাফিজ আব্দুল গনি ছিলেন অধিক ইবাদতকারী, পরহেজগার এবং সালফে সালেহীনের নীতি অনুযায়ী সুন্নাহর একনিষ্ঠ অনুসারী।
বর্ণিত আছে যে, তিনি সর্বদা রোজা রাখতেন, প্রচুর ত্যাগ স্বীকার করতেন এবং প্রতিদিন ও রাতে তিনশত রাকাত নামাজ পড়তেন। তিনি সৎকাজের আদেশ দিতেন এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করতেন।
আরও বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) জুমার দিন নামাজের পর দামেস্কের জামে মসজিদে এবং বৃহস্পতিবার রাতেও সেই মসজিদে হাদিস পাঠ করতেন। সেখানে বিশাল জনসমাগম হতো। তিনি পাঠ করতেন এবং কাঁদতেন, আর মানুষও প্রচুর কাঁদত। এমনকি যে ব্যক্তি একবার তাঁর মজলিসে উপস্থিত হতো, সে তা আর ছাড়তে চাইত না; কারণ এতে তার অন্তর প্রশান্ত হতো এবং বক্ষ উন্মোচিত হতো। পাঠ শেষ করে তিনি অনেক দোয়া করতেন।
উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি অধিক পরিমাণে মিসওয়াক ব্যবহার করতেন, যার ফলে তাঁর দাঁতগুলো শিলাবৃষ্টির দানার ন্যায় শুভ্র দেখাত।
ইসফাহানের ব্যবসায়ী আবু আল-সানা মাহমুদ ইবনে সালামাহ আল-হাররানী বলেন: হাফিজ আব্দুল গনি ইসফাহানে আমার নিকট অবস্থান করেছিলেন। তিনি রাতে খুব সামান্যই ঘুমাতেন, বরং তিনি নামাজ পড়তেন, তিলাওয়াত করতেন এবং কাঁদতেন, এমনকি অনেক সময় ভোর পর্যন্ত আমাদের ঘুম আসত না।
তিনি বলেন: হাফিজ কোনো অন্যায় দেখলে তা নিজের হাত বা মুখ দ্বারা পরিবর্তন না করে ছাড়তেন না। আল্লাহর পথে তিনি কোনো নিন্দুকের নিন্দার পরোয়া করতেন না। আমি একবার তাঁকে মদ ঢেলে ফেলে দিতে দেখেছি, অতঃপর তিনি এর মালিককে টেনে ধরলেন...
(খণ্ড: ١)
আল-কামাল ফী আসমাইর রিজাল
(পৃষ্ঠা: ١٨)
السيف، فلم يخف من ذلك، وأخذه من يده، وكان رحمه الله قويًّا في بدنه، وفي أمر الله، وكثيرًا ما كان بدمشق ينكر المنكر، ويكسر الطنابير والشبابات.
حُب الناس له:قال الحافظ الضياء: وما أعرف أحدًا من أهل السنة رأى الحافظ [عبد الغني] إلا أحبه حبًّا شديدًا، ومدحه مدحًا كثيرًا.
وذكر أنه كان بأصبهان، فاصطف الناس في السوق ينظرون إليه. وقالوا: لو أقام الحافظ بأصبهان مدة وأراد أن يملكها، لملكها. يعني من حبهم له، ورغبتهم فيه.
وقال الضياء: ولما وصل إلى مصر كان إذا خرج يوم الجمعة إلى الجامع، لا نقدر نمشي معه من كثرة الخلق الذين يجتمعون حوله.
صفاته الخَلْقية:كان الحافظ عبد الغني رحمه الله ليس بالأبيض الأمهق، بل يميل إلى السمرة، حسن الشعر، كثّ اللحية، واسع الجبين، عظيم الخلق، تام القامة، كأن النور يخرج من وجهه، فكان قد ضعف بصره من كثرة البكاء، والنَّسْخ، والمطالعة.
صفاته الخُلُقية:
وكان سخيًّا جوادًا كريمًا لا يدَّخر دينارًا ولا درهمًا، ومهما حصل له أخرجه، وقد ذكروا عنه أنه كان يخرج في بعض الليالي بقفاف الدقيق إلى بيوت المحتاجين، فيدق عليهم، فإذا علم أنهم يفتحون الباب ترك
তরবারি, তবে তিনি তাতে ভীত হননি এবং সেটি তাঁর হাত থেকে কেড়ে নিয়েছিলেন। তিনি (রহিমাহুল্লাহ) শারীরিকভাবে এবং আল্লাহর দ্বীনের ব্যাপারে অত্যন্ত শক্তিশালী ছিলেন। দামেস্কে অবস্থানকালে তিনি প্রায়ই অন্যায়ের প্রতিবাদ করতেন এবং তম্বুর ও বাঁশি ভেঙে ফেলতেন।
তাঁর প্রতি মানুষের ভালোবাসা:হাফিজ আদ-দিয়া বলেন: আহলুস সুন্নাহর এমন কাউকে আমি চিনি না, যিনি হাফিজ [আবদুল গনী]-কে দেখেছেন অথচ তাঁকে গভীরভাবে ভালোবাসেননি এবং তাঁর অনেক প্রশংসা করেননি।
বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি যখন ইসফাহানে ছিলেন, তখন বাজারে মানুষ তাঁকে দেখার জন্য সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে যেত। তারা বলত: হাফিজ যদি কিছুকাল ইসফাহানে অবস্থান করতেন এবং এর মালিক হতে চাইতেন, তবে তিনি এর মালিক হয়ে যেতেন। অর্থাৎ তাঁর প্রতি তাঁদের ভালোবাসা এবং অনুরাগের কারণে তাঁরা এমনটা বলতেন।
আদ-দিয়া বলেন: যখন তিনি মিশরে পৌঁছালেন, জুমার দিন তিনি যখন জামে মসজিদের উদ্দেশ্যে বের হতেন, তখন তাঁর চারপাশে সমবেত হওয়া বিপুল জনসমুদ্রের কারণে আমরা তাঁর সাথে হাঁটতে পারতাম না।
শারীরিক বৈশিষ্ট্য:হাফিজ আবদুল গনী (রহিমাহুল্লাহ) ধবধবে সাদা বর্ণের ছিলেন না, বরং তাঁর গায়ের রঙ ছিল কিছুটা শ্যামল। তাঁর চুল ছিল সুন্দর, দাড়ি ছিল ঘন, ললাট ছিল প্রশস্ত, দেহসৌষ্ঠব ছিল বিশাল এবং তিনি সুঠাম দেহের অধিকারী ছিলেন। মনে হতো যেন তাঁর চেহারা থেকে নূর বিচ্ছুরিত হচ্ছে। অত্যধিক ক্রন্দন, পাণ্ডুলিপি অনুলিপি করা এবং ব্যাপক অধ্যয়নের কারণে তাঁর দৃষ্টিশক্তি দুর্বল হয়ে পড়েছিল।
চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য:
তিনি ছিলেন অত্যন্ত দানশীল, বদান্য ও মহানুভব; তিনি একটি দিনার বা দিরহামও সঞ্চয় করে রাখতেন না। যা-ই তাঁর হস্তগত হতো, তিনি তা দান করে দিতেন। তাঁর সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে, কোনো কোনো রাতে তিনি আটার ঝুড়ি নিয়ে অভাবী মানুষের দুয়ারে দুয়ারে যেতেন এবং কড়া নাড়তেন; যখন তিনি বুঝতে পারতেন যে তারা দরজা খুলছে, তখন তিনি তা রেখে চলে যেতেন।
(খণ্ড: ١)
আল-কামাল ফী আসমাইর রিজাল
(পৃষ্ঠা: ١٩)
ما معه ومضى؛ لئلَّا يعرفه أحد.
وقد كان يُفتح له بشيء من الثياب والبرد فيعطي الناس، وربما كان عليه ثوب مرقع.
وقد أوفي غير مرة سرًّا ما يكون على بعض أصحابه من الدَّيْن ولا يُعْلِمهم بالوفاء.
قال الشيخ الموفق عنه: كان جوادًا، يُؤْثر بما تصل إليه يده سرًّا وعلانية.
مصنفاته:أطنب الحافظ ابن رجب الحنبلي في "ذيل طبقات الحنابلة"، والحافظ الذهبي في "السير" في ذكر مصنفات الحافظ عبد الغني، ومن أهم ذلك:
- كتاب "عمدة الأحكام" مما اتفق عليه البخاري ومسلم، وهو كتاب كتب الله له القبول في كل العصور، وسارت به الركبان.
- كتاب "المصباح في عيون الأحاديث الصحاح" ثمانية وأربعين جزءًا، يشتمل على الأحاديث الصحيحة.
- كتاب "نهاية المراد من كلام خير العباد" لم يبيضه كله، في السُّنَن، نحو مئتي جزء.
- كتاب "الآثار المرضية في فضائل خير البرية" أربعة أجزاء.
- جزء كتاب "الاقتصاد في الاعتقاد" جزء كبير.
- كتاب "تبيين الإصابة لأوهام حصلت في معرفة الصحابة" الذي
তাঁর সাথে যা ছিল তা নিয়ে তিনি চলে যেতেন; যাতে কেউ তাঁকে চিনতে না পারে।
কখনো কখনো তাঁকে কিছু পোশাক ও চাদর প্রদান করা হতো এবং তিনি তা মানুষকে দিয়ে দিতেন, অথচ সম্ভবত তাঁর নিজের পরনে তালি দেওয়া কাপড় থাকত।
তিনি একাধিকবার গোপনে তাঁর কোনো কোনো সাথীর ঋণ পরিশোধ করে দিয়েছেন এবং সেই ঋণ পরিশোধের কথা তাঁদের জানতেও দেননি।
শাইখ আল-মুওয়াফফাক তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: তিনি ছিলেন অত্যন্ত দানশীল, তাঁর হাতে যা আসত তা দিয়ে তিনি গোপনে ও প্রকাশ্যে অন্যদের অগ্রাধিকার দিতেন।
তাঁর রচনাবলী:হাফেজ ইবনে রজব আল-হাম্বলী 'যাইল তবাকাত আল-হানাবিলাহ' গ্রন্থে এবং হাফেজ আয-যাহাবী 'আস-সিয়ার' গ্রন্থে হাফেজ আব্দুল গনী-র রচনাবলী সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন, সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো:
- 'উমদাতুল আহকাম' গ্রন্থটি, যা বুখারী ও মুসলিমের ঐকমত্যপূর্ণ হাদিসসমূহের সংকলন। এটি এমন একটি কিতাব যার জন্য আল্লাহ সকল যুগে কবুলিয়াত লিখে দিয়েছেন এবং যা দেশ-দেশান্তরে খ্যাতি লাভ করেছে।
- 'আল-মিসবাহ ফি উয়ুন আল-আহাদিস আস-সিহাহ' কিতাবটি আটচল্লিশ খণ্ড বিশিষ্ট, যা সহীহ হাদিসসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে।
- 'নিহায়াতুল মুরাদ মিন কালাম খাইরিল ইবাদ' কিতাবটি, সুনান বিষয়ক এই গ্রন্থটির সবটুকু তিনি পাণ্ডুলিপি আকারে চূড়ান্ত করতে পারেননি, যা প্রায় দুইশ খণ্ড বিশিষ্ট।
- 'আল-আসারুল মারদিয়্যাহ ফি ফাদাইল খাইরিল বারিয়্যাহ' কিতাবটি চার খণ্ড বিশিষ্ট।
- 'আল-ইকতিসাদ ফিল ইতিকাদ' কিতাবটির একটি অংশ, যা একটি বৃহৎ অংশ।
- 'তাবয়ীনুল ইসাবাহ লি-আওহামিন হাসালাত ফি মারিফাতিস সাহাবাহ' কিতাবটি যা...
(খণ্ড: ١)
আল-কামাল ফী আসমাইর রিজাল
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
ألفه أبو نعيم الأصبهاني في جزء كبير.
- وكتاب "الكمال في أسماء الرجال"، وهو الذي بين يديك.
مِحَنُهُ:ابتُلي الحافظ عبد الغني المقدسي ابتلاءً شديدًا في حياته، كما هو الشأن في سير الكثير من ورثة الأنبياء من علماء الإسلام، فمن ذلك:
محنة دمشق:
كان الحافظ عبد الغني بدمشق يُحدِّث، وينتفع به الناس، إلى أن تكلم في الصفات والقرآن بشيء أنكره عليه أهل التأويل، وشنعوا به عليه، وعقد له مجلس بدار السلطان، حضره القضاة والفقهاء، فأصر على قوله، وأباحوا إراقة دمه، فشفع فيه جماعة إلى السلطان من الأمراء والأكراد، وتوسطوا في أمره على أن يخرج من دمشق إلى ديار مصر، فأُخرج إلى مصر، وأقام بها خاملًا إلى حين وفاته.
محنة أخرى في دمشق:
كان الحافظ يقرأ الحديث بدمشق، ويجتمع الخلق عليه، ويبكي الناس، وينتفعون بمجالسه كثيرًا، فوقع الحسد عند المخالفين بدمشق، وشرعوا يعملون وقتًا يجتمعون في الجامع، ويقرأ عليهم الحديث، ويجمعون الناس من غير اختيارهم، فهذا ينام، وهذا قلبه غير حاضر، فلم تشتف قلوبهم بذلك، فشرعوا في المكيدة بأن أمروا الإمام الناصح أبا الفرج عبد الرحمن بن نجم بن الحنبلي الواعظ بأن يجلس يعظ في الجامع تحت قُبة النسر بعد الجمعة، وقت جلوس الحافظ.
আবু নুআয়ম আল-আসফাহানি এটি একটি বিশাল খণ্ডে রচনা করেছেন।
- এবং 'আল-কামাল ফি আসমাইর রিজাল' গ্রন্থটি, যা বর্তমানে আপনার সামনে রয়েছে।
তাঁর পরীক্ষাসমূহ:হাফেজ আব্দুল গনি আল-মাকদিসি তাঁর জীবনে কঠোর পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছিলেন, যেমনটি ইসলামের আলেমদের মধ্যে নবীদের অনেক উত্তরসূরিদের জীবনীতে লক্ষ্য করা যায়। তার মধ্যে অন্যতম হলো:
দামেস্কের পরীক্ষা:
হাফেজ আব্দুল গনি দামেস্কে হাদিস পাঠ করাতেন এবং মানুষ তাঁর দ্বারা উপকৃত হতো। একপর্যায়ে তিনি আল্লাহর গুণাবলি ও কুরআন সম্পর্কে এমন কিছু বিষয়ে কথা বললেন যা ব্যাখ্যাকারীরা অস্বীকার করল এবং তারা তাঁর বিরুদ্ধে অপবাদ রটালো। সুলতানের দরবারে তাঁর জন্য একটি সভার আয়োজন করা হলো, যেখানে বিচারক ও ফকিহগণ উপস্থিত ছিলেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে অটল থাকলেন এবং তারা তাঁর রক্ত প্রবাহিত করা বৈধ ঘোষণা করল। তখন একদল আমির ও কুর্দি ব্যক্তি সুলতানের কাছে তাঁর জন্য সুপারিশ করলেন এবং এই শর্তে মধ্যস্থতা করলেন যে, তিনি দামেস্ক ছেড়ে মিসর অভিমুখে চলে যাবেন। ফলে তাঁকে মিসরে পাঠিয়ে দেওয়া হয় এবং মৃত্যু অবধি তিনি সেখানে নিভৃতে অবস্থান করেন।
দামেস্কে অন্য একটি পরীক্ষা:
হাফেজ দামেস্কে হাদিস পাঠ করতেন, অসংখ্য মানুষ তাঁর কাছে সমবেত হতো, লোকজন কান্নাকাটি করত এবং তাঁর মজলিস থেকে অনেক উপকৃত হতো। এতে দামেস্কের বিরোধীদের মনে হিংসার উদ্রেক হয়। তারা মসজিদে একটি সময় নির্ধারণ করে নিজেরা সমবেত হতে শুরু করল এবং সেখানে হাদিস পাঠ করা হতে লাগল। তারা অনিচ্ছুক মানুষদেরও সেখানে জড়ো করত; ফলে কেউ ঘুমাতো, আবার কারো মন উপস্থিত থাকত না। এতেও বিরোধীদের অন্তর শান্ত হলো না। এরপর তারা চক্রান্ত শুরু করল এবং নসিহতকারী ইমাম আবুল ফারাজ আব্দুর রহমান ইবনে নাজদ ইবনে আল-হাম্বলি ওয়ায়েজকে নির্দেশ দিল যেন তিনি জুমার নামাজের পর মসজিদের 'কুব্বাতুন নাসর'-এর নিচে ওয়াজ করতে বসেন—ঠিক সেই সময়ে যখন হাফেজ মজলিস করতেন।
(খণ্ড: ١)
আল-কামাল ফী আসমাইর রিজাল
(পৃষ্ঠা: ٢١)
فاختلف الحافظ المقدسي مع الناصح، ثم اتفقا على أن يجلس الناصح بعد صلاة الجمعة، ثم يجلس الحافظ بعد العصر، فلما كان بعض الأيام، والناصح قد فرغ من مجلسه، وكان قد ذكر الإِمام أحمد رحمه الله في مجلسه، فدسوا إليه رجلًا ناقص العقل من بيت ابن عساكر، فقال للناصح كلامًا معناه: إنك تقول الكذب على المنبر. فضرب ذلك الرجل وهرب، فأتبع، فخبئ في الكلاسة، ومشوا إلى الوالي، وقالوا له: هؤلاء الحنابلة ما قصدهم إلا الفتنة. . .إلى آخر محنته.
محنته في مصر:
لما وصل الحافظ إلى مصر، تُلقِّي بالبِشْر والإِكرام، وأقام بها يُسمِع الحديث بمواضع منها، وبالقاهرة، وقد كان بمصر كثير من المخالفين، لكن كانت رائحة السلطان تمنعهم من أذي الحافظ لو أرادوه، ثم جاء الملك العادل وأخذ مصر، وأكثر المخالفون عنده على الحافظ، وبعضهم بذل في قتل الحافظ خمسة آلاف دينار.
قال الحافظ عبد الغني عن الملك العادل ملك مصر: اجتمعت به، وما رأيت منه إلا الجميل، فأقبل عليّ وأكرمني، وقام لي والتزمني، ودعوت له. ثم قلت: عندنا قصور، فهو الذي يوجب التقصير. فقال: ما عندك لا تقصير ولا قصور. وذكر أمر السنة، فقال: ما عندك شيء يعاب في أمر الدين ولا الدنيا، ولا بد للناس من حاسدين.
قال: ثم سافر العادل إلى دمشق، وبقي الحافظ بمصر، والمخالفون لا يتركون الكلام فيه، فلما أكثروا عزم الملك الكامل على إخراجه من
হাফেজ মাকদিসির সাথে নাসিহ-এর মতভেদ সৃষ্টি হলো, অতঃপর তারা এই মর্মে একমত হলেন যে, নাসিহ জুমার সালাতের পর মজলিসে বসবেন এবং হাফেজ আসরের পর বসবেন। একদিন যখন নাসিহ তার মজলিস শেষ করলেন—যেখানে তিনি ইমাম আহমাদ রহিমাহুল্লাহর উল্লেখ করেছিলেন—তখন ইবনে আসাকিরের পরিবার থেকে এক অল্পবুদ্ধি সম্পন্ন ব্যক্তিকে তার কাছে পাঠানো হলো। সে নাসিহ-কে এমন কথা বলল যার সারমর্ম হলো: আপনি মিম্বারে দাঁড়িয়ে মিথ্যা বলছেন। তখন সেই লোকটিকে প্রহার করা হলো এবং সে পালিয়ে গেল। তার পিছু নেওয়া হলো এবং সে কাল্লাসায় আত্মগোপন করল। তারা ওয়ালীর নিকট গিয়ে বলল: এই হানবালিদের উদ্দেশ্য ফিতনা সৃষ্টি করা ছাড়া আর কিছু নয়। ...তার পরীক্ষার শেষ পর্যন্ত।
মিশরে তাঁর পরীক্ষা:
হাফেজ যখন মিশরে পৌঁছালেন, তখন তাঁকে অত্যন্ত আনন্দ ও সম্মানের সাথে অভ্যর্থনা জানানো হলো। তিনি সেখানে অবস্থান করে বিভিন্ন স্থানে এবং কায়রোতে হাদিস পাঠ করে শোনাতেন। মিশরে অনেক বিরোধী লোক ছিল, কিন্তু সুলতানের প্রভাব তাদের হাফেজকে কোনো প্রকার কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত রাখত, যদিও তারা তা করতে চাইত। অতঃপর মালিক আল-আদিল এসে মিশর অধিকার করলেন এবং বিরোধীরা তাঁর নিকট হাফেজের বিরুদ্ধে ব্যাপক প্ররোচনা দিল। এমনকি তাদের কেউ কেউ হাফেজকে হত্যা করার জন্য পাঁচ হাজার দিনার পর্যন্ত দেওয়ার প্রস্তাব করল।
হাফেজ আব্দুল গনি মিশরের সুলতান মালিক আল-আদিল সম্পর্কে বলেন: আমি তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করলাম এবং তাঁর থেকে কেবল সৌজন্যই প্রত্যক্ষ করলাম। তিনি আমার দিকে এগিয়ে এলেন, আমাকে সম্মান প্রদর্শন করলেন, আমার সম্মানে দাঁড়িয়ে গেলেন এবং আমাকে আলিঙ্গন করলেন; আমিও তাঁর জন্য দোয়া করলাম। অতঃপর আমি বললাম: আমাদের মধ্যে অপূর্ণতা রয়েছে, যা আমাদের দায়িত্ব পালনে ত্রুটির কারণ হয়। তিনি বললেন: আপনার মাঝে কোনো ত্রুটি বা অপূর্ণতা নেই। তিনি সুন্নাহর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বললেন: দ্বীন বা দুনিয়ার কোনো বিষয়েই আপনার মাঝে নিন্দনীয় কিছু নেই; আর মানুষের তো হিংসুক থাকবেই।
তিনি বলেন: অতঃপর আল-আদিল দামেশকে চলে গেলেন এবং হাফেজ মিশরেই রয়ে গেলেন। কিন্তু বিরোধীরা তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার করা থেকে বিরত হলো না। যখন তারা এর মাত্রা বাড়িয়ে দিল, তখন মালিক আল-কামিল তাঁকে সেখান থেকে বহিষ্কার করার সংকল্প করলেন...
(খণ্ড: ١)
আল-কামাল ফী আসমাইর রিজাল
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
مصر، واعتقل في دارٍ سبع ليال، فقال: ما وجدت راحة بمصر مثل تلك الليالي.
محنة أخرى في مصر:
خرج الحافظ عبد الغني إلى بعلبك، ثم سافر إلى مصر، فنزل عند الطحانين، وصار يقرأ الحديث، فأفتى فقهاء مصر بإباحة دمه، وكتب أهل مصر إلى الصفي بن شكر وزير العادل: أنه قد أفسد عقائد الناس، ويذكر التجسيم على رءوس الأشهاد، فكتب إليه والي مصر ينفيه إلى المغرب، فمات قبل وصول الكتاب.
محنته بأصبهان:
قال الإِمام أبو محمد عبد الله بن أبي الحسن الجبائي: كان أبو نعيم الحافظ قد أخذ على الحافظ أبي عبد الله بن مَنْدَه أشياء في كتاب "معرفة الصحابة"، وكان الحافظ أبو موسى المديني يشتهي أن يأخذ على أبي نعيم -يعني: في كتاب "معرفة الصحابة"- فما كان يحسن، فلما جاء الحافظ عبد الغني إلى أصبهان أشار إليه بذلك، قال: تأخذ على أبي نعيم في كتابه "معرفة الصحابة" نحوًا من مائتين وتسعين موضعًا، قال: فلما سمع بذلك الصدر عبد اللطيف بن الخُجندي طلب الحافظ عبد الغني وأراد إهلاكه، فاختفى الحافظ.
وذلك أن بيت الخجندي أشاعرة، كانوا يتعصبون لأبي نعيم، وكانوا رؤساء البلد.
মিশর, এবং তাকে একটি বাড়িতে সাত রাত বন্দি করে রাখা হয়েছিল, তখন তিনি বলেছিলেন: মিশরে আমি ঐ রাতগুলোর মতো আর কোনো আরাম পাইনি।
মিশরে আরেকটি পরীক্ষা:
হাফেজ আব্দুল গনি বালবাকের উদ্দেশ্যে বের হলেন, তারপর মিশরে সফর করলেন। তিনি সেখানে আটা পেষণকারীদের নিকট অবস্থান করলেন এবং হাদিস পাঠ করতে শুরু করলেন। তখন মিশরের ফকিহগণ তার রক্ত বৈধ (হালাল) হওয়ার ফতোয়া প্রদান করেন। মিশরের অধিবাসীরা আদিলের উজির সফি ইবনে শুকরের নিকট এই মর্মে পত্র লিখল যে: তিনি মানুষের আকিদা নষ্ট করে ফেলেছেন এবং জনসমক্ষে তাজসিম (আল্লাহর দেহধারী হওয়া) উল্লেখ করছেন। অতঃপর মিশরের ওয়ালি তাকে মরক্কোতে নির্বাসিত করার জন্য পত্র লিখলেন, কিন্তু পত্রটি পৌঁছানোর পূর্বেই তিনি ইন্তেকাল করেন।
আসবাহানে তার পরীক্ষা:
ইমাম আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ ইবনে আবিল হাসান আল-জুব্বায়ী বলেন: হাফেজ আবু নুআইম হাফেজ আবু আব্দুল্লাহ ইবনে মানদাহর "মা'রিফাতুস সাহাবা" কিতাবের কিছু বিষয়ের ওপর সমালোচনা করেছিলেন। হাফেজ আবু মুসা আল-মাদিনিও আবু নুআইমের কিতাব—অর্থাৎ "মা'রিফাতুস সাহাবা"—এর সমালোচনা করতে চাচ্ছিলেন, কিন্তু তিনি তা পারছিলেন না। যখন হাফেজ আব্দুল গনি আসবাহানে আসলেন, তিনি তাকে সেদিকে ইঙ্গিত করলেন। তিনি আবু নুআইমের "মা'রিফাতুস সাহাবা" কিতাবে প্রায় দুইশত নব্বইটি স্থানে ভুল ধরেন। তিনি বলেন: সদর আব্দুল লতিফ ইবনুল খুজান্দি যখন তা শুনতে পেলেন, তিনি হাফেজ আব্দুল গনিকে তলব করলেন এবং তাকে ধ্বংস করতে চাইলেন, তখন হাফেজ আত্মগোপন করলেন।
আর এর কারণ ছিল খুজান্দি পরিবার ছিল আশআরি আকিদার অনুসারী, তারা আবু নুআইমের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট ছিল এবং তারা ছিল শহরের প্রভাবশালী প্রধান।
(খণ্ড: ١)
আল-কামাল ফী আসমাইর রিজাল
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
محنته بسبب كتاب العقيلي:
قال الضياء: وسمعت الحافظ يقول: كنا بالموصل نسمع "الجرح والتعديل" للعُقيلي، فأخذني أهل الموصل وحبسوني، وأرادوا قتلي؛ من أجل ذكر أبي حنيفة فيه، فجاءني رجل طويل ومعه سيف، فقلت: لعل هذا يقتلني وأستريح. قال: فلم يصنع شيئًا، ثم إنهم أطلقوني.
قال: وكان يسمع هو والإمام ابن البرني الواعظ، فأخذ ابن البرني الكراس التي فيها ذكر أبي حنيفة، فاشتالها، فأرسلوا، وفتشوا الكتاب فلم يجدوا شيئًا؛ فهذا سبب خلاصه. والله أعلم.
وفاته ووصيته:قال أبو موسي ابن الحافظ عبد الغني: مرض والدي رحمه الله في ربيع الأول سنة ست مئة مرضًا شديدًا منعه من الكلام والقيام، واشتد به مدة ستة عشر يومًا، وكنت كثيرًا ما أسأله: ما تشتهي؟ فيقول: أشتهي الجنة، أشتهي رحمة الله تعالى. لا يزيد على ذلك.
فلما كان يوم الاثنين جئت إليه، وكان عادتي أبعث من يأتي كل يوم بكرة بماء حار من الحمام يغسل أطرافه، فلما جئنا بالماء على العادة مدَّ يده، فعرفت أنه يريد الوضوء، فوضأته وقت صلاة الفجر، ثم قال: يا عبد الله، قم فصل بنا وخفف. فقمت فصليت بالجماعة، وصلَّى معنا جالسًا، فلما انصرف الناس جئت، فجلست عند رأسه وقد استقبل القبلة، فقال لي: اقرأ عند رأسي سورة يس. فقرأتها، فجعل يدعو الله وأنا أُؤَمِّن، فقلت: هاهنا دواء قد عملناه، تشربه؟ فقال: يا بنيّ، ما بقي
উকায়লীর কিতাবের কারণে তাঁর পরীক্ষা:
যিয়া (আল-মাকদিসি) বলেন: আমি হাফিজ (আব্দুল গণী)-কে বলতে শুনেছি: আমরা মোসেলে ছিলাম এবং উকায়লীর 'আল-জারহু ওয়াত-তাদীল' পাঠ করছিলাম, তখন মোসেলবাসীরা আমাকে ধরে বন্দি করল এবং আমাকে হত্যা করতে চাইল; কারণ তাতে ইমাম আবু হানিফার উল্লেখ ছিল। তখন একজন লম্বা লোক তলোয়ার নিয়ে আমার কাছে এল, আমি মনে মনে বললাম: হয়তো এই ব্যক্তি আমাকে হত্যা করবে আর আমি মুক্তি পাব। তিনি বললেন: কিন্তু সে কিছুই করল না, এরপর তারা আমাকে মুক্তি দিল।
তিনি বলেন: তিনি এবং ওয়ায়েজ ইমাম ইবনুল বারনী এটি শুনছিলেন, তখন ইবনুল বারনী সেই পাণ্ডুলিপিটি সরিয়ে নিলেন যাতে ইমাম আবু হানিফার উল্লেখ ছিল। এরপর তারা লোক পাঠাল এবং কিতাবটি তল্লাশি করল কিন্তু কিছুই পেল না; আর এটাই ছিল তাঁর মুক্তির কারণ। আল্লাহই ভালো জানেন।
তাঁর মৃত্যু ও অসিয়ত:হাফিজ আব্দুল গণীর পুত্র আবু মুসা বলেন: আমার পিতা (রাহিমাহুল্লাহ) ছয়শত হিজরি সনের রবিউল আউয়াল মাসে কঠিন রোগে আক্রান্ত হন, যা তাঁকে কথা বলা এবং দাঁড়ানো থেকে বিরত রাখে। ষোলো দিন পর্যন্ত তাঁর অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর ছিল। আমি তাঁকে প্রায়ই জিজ্ঞাসা করতাম: আপনি কী আকাঙ্ক্ষা করছেন? তিনি বলতেন: আমি জান্নাত আকাঙ্ক্ষা করছি, আমি আল্লাহ তাআলার রহমত আকাঙ্ক্ষা করছি। তিনি এর বেশি কিছু বলতেন না।
যখন সোমবার দিন এল, আমি তাঁর কাছে গেলাম। আমার অভ্যাস ছিল প্রতিদিন সকালে হাম্মাম থেকে গরম পানি আনানোর জন্য কাউকে পাঠানো যাতে তাঁর হাত-পা ধুইয়ে দেওয়া যায়। অভ্যাস অনুযায়ী যখন আমরা পানি নিয়ে এলাম, তিনি তাঁর হাত বাড়িয়ে দিলেন। আমি বুঝতে পারলাম যে তিনি অজু করতে চাইছেন, তাই ফজর নামাজের ওয়াক্তে তাঁকে অজু করালাম। তারপর তিনি বললেন: হে আব্দুল্লাহ, ওঠো এবং আমাদের নিয়ে নামাজ পড়াও এবং সংক্ষেপ করো। তখন আমি দাঁড়ালাম এবং জামাতের সাথে নামাজ পড়ালাম, আর তিনি আমাদের সাথে বসে নামাজ পড়লেন। যখন মানুষ চলে গেল, আমি এসে তাঁর মাথার কাছে বসলাম এবং তিনি কিবলামুখী ছিলেন। তিনি আমাকে বললেন: আমার মাথার কাছে সূরা ইয়াসিন তিলাওয়াত করো। আমি তা তিলাওয়াত করলাম, আর তিনি আল্লাহর কাছে দোয়া করতে শুরু করলেন এবং আমি 'আমিন' বলতে লাগলাম। আমি বললাম: এখানে একটি ওষুধ আছে যা আমরা তৈরি করেছি, আপনি কি তা পান করবেন? তিনি বললেন: হে বৎস, আর কিছুই বাকি নেই।
(খণ্ড: ١)
আল-কামাল ফী আসমাইর রিজাল
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
إلا الموت. فقلت: ما تشتهي شيئًا؟ قال: أشتهي النظر إلى وجه الله تعالى. فقلت: ما أنت عني راضٍ؟ قال: بلى والله، أنا عنك راضٍ وعن إخوتك، وقد أجزت لك ولإخوتك ولابن أختك إبراهيم.
وقال: أوصاني أبي عند موته: لا تضيعوا هذا العلم الذي تعبنا عليه -يعني: الحديث-. فقلت: ما توصي بشيء؟ قال: ما لي على أحد شيء، ولا لأحد علي شيء. قلت: توصيني بوصية. قال: يا بني، أوصيك بتقوى الله، والمحافظة على طاعته. فجاء جماعة يعودونه، فسلموا عليه، فرد عليهم، وجعلوا يتحدثون، ففتح عينيه وقال: ما هذا الحديث؟ اذكروا الله تعالى، قولوا: لا إله إلا الله. فقالوها، ثم قاموا، فجعل يذكر الله، ويحرك شفتيه بذكره، ويشير بعينيه، فدخل رجل فسلم عليه، وقال له: ما تعرفني يا سيدي؟ فقال: بلي. فقمت لأُناوله كتابًا من جانب المسجد، فرجعت وقد خرجت روحه، وذلك يوم الاثنين الثالث والعشرين من شهر ربيع الأول من سنة ست مئة.
وبقي ليلة الثلاثاء في المسجد، واجتمع الغد خلق كثير من الأئمة والأمراء، ما لا يحصيهم إلا الله عز وجل، ودُفن يوم الثلاثاء بالقرافة.
مما قيل في رثائه:رثي الإمامَ عبد الغني غيرُ واحد، منهم الإِمام أبو عبد الله محمد بن سعد المقدسي الأديب بقصيدة طويلة، أولها:
هذا الذي كنت يوم البين أحتسب
… فليقض دمعي عنك بعض ما يجب
يا سائرين إلى مصر بربِّكم
… رفقًا علَّي، فإن الأجر مكتسب
কেবল মৃত্যু ব্যতীত। আমি বললাম: আপনি কি কিছু আকাঙ্ক্ষা করছেন? তিনি বললেন: আমি মহান আল্লাহর চেহারার দিকে তাকানোর আকাঙ্ক্ষা করি। আমি বললাম: আপনি কি আমার ওপর সন্তুষ্ট নন? তিনি বললেন: হ্যাঁ আল্লাহর শপথ, আমি তোমার ওপর এবং তোমার ভাইদের ওপর সন্তুষ্ট। আর আমি তোমাকে, তোমার ভাইদেরকে এবং তোমার ভাগ্নে ইব্রাহিমকে (হাদিস বর্ণনার) অনুমতি প্রদান করেছি।
তিনি আরও বললেন: আমার পিতা তাঁর ইন্তেকালের সময় আমাকে অসিয়ত করেছিলেন: তোমরা এই ইলমকে নষ্ট করো না যার জন্য আমরা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছি—অর্থাৎ: হাদিস। আমি বললাম: আপনি কি কোনো কিছুর অসিয়ত করবেন? তিনি বললেন: কারো কাছে আমার কোনো পাওনা নেই, আর আমার কাছেও কারো কোনো পাওনা নেই। আমি বললাম: আমাকে একটি অসিয়ত করুন। তিনি বললেন: হে বৎস, আমি তোমাকে আল্লাহভীতি এবং তাঁর আনুগত্যের ওপর অটল থাকার অসিয়ত করছি। অতঃপর একদল লোক তাঁকে দেখতে এলেন, তাঁরা তাঁকে সালাম দিলেন এবং তিনি উত্তর দিলেন। তাঁরা নিজেদের মধ্যে কথাবার্তা বলতে শুরু করলে তিনি তাঁর চোখ মেলে বললেন: এই কথাবার্তা কীসের? মহান আল্লাহকে স্মরণ করো, বলো: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। তাঁরা তা বললেন, অতঃপর উঠে দাঁড়ালেন। এরপর তিনি আল্লাহকে স্মরণ করতে শুরু করলেন এবং জিকিরের মাধ্যমে তাঁর ঠোঁট দুটি নড়াচড়া করতে লাগলেন ও চোখের ইশারায় কথা বলতে লাগলেন। এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি প্রবেশ করে তাঁকে সালাম দিলেন এবং বললেন: হে আমার সরদার, আপনি কি আমাকে চিনতে পারছেন না? তিনি বললেন: হ্যাঁ। অতঃপর আমি মসজিদের এক পাশ থেকে তাঁকে একটি কিতাব দেওয়ার জন্য উঠলাম, কিন্তু ফিরে এসে দেখি তাঁর রূহ বের হয়ে গেছে। আর তা ছিল ছয়শত হিজরি সনের রবিউল আউয়াল মাসের তেইশ তারিখ, সোমবার।
মঙ্গলবার রাতে তিনি মসজিদেই থাকলেন। পরের দিন বহু ইমাম ও আমীর সমবেত হলেন, যাদের সংখ্যা মহান আল্লাহ ব্যতীত কেউ গণনা করতে পারবে না। মঙ্গলবার দিন তাঁকে কারাফায় দাফন করা হয়।
তাঁর স্মরণে রচিত শোকগাথা:ইমাম আব্দুল গণির স্মরণে একাধিক ব্যক্তি শোকগাথা রচনা করেছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন সাহিত্যিক ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন সাদ আল-মাকদিসি। তিনি একটি দীর্ঘ কবিতা রচনা করেছেন, যার প্রারম্ভিক অংশ হলো:
এটিই সেই বিচ্ছেদ যা আমি বিচ্ছেদের দিনের জন্য আশঙ্কা করতাম
… সুতরাং আমার চোখের পানি তোমার বিচ্ছেদে আবশ্যিক হকের কিছুটা পূর্ণ করুক।
হে আল্লাহর কসম দিয়ে মিসরের পানে যাত্রীরা
… আমার প্রতি সদয় হও, কারণ এতে সওয়াব অর্জিত হবে।
(খণ্ড: ١)
আল-কামাল ফী আসমাইর রিজাল
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
قالوا لساكنها: حُييت من سكن
… يا منية النفس، ماذا الصد والغضب؟
بالشام قوم وفي بغداد قد أسفوا
… لا البعد أخْلَق بلواهم ولا الحقب
قد كنت بالكتب أحيانًا تعللهم
… فاليوم لا رسل تأتي ولا كتب
أنسيتَ عهدهم أم أنت في جدث
… تسفى وتبكي عليك الريح والسحب
بل أنت في جنة تجنى فواكهها
… لا لغو فيها ولا غول ولا نصب
يا خير من قال بعد الصحب: "حدثنا"
… ومن إليه التُّقى والدين ينتسب
لولاك مادَ عمود الدين وانهدمت
… قواعد الحق واغتال الهدى عطب
فاليوم بعدك جمر الغيّ مضطرم
… بادي الشرار وركن الرشد مضطرب
فلَيبكيِنَّك رسول الله ما هتفت
… ورق الحمام وتبكي العجم والعرب
لم يفترق بكما حال فموتكما
… في الشهر واليوم هذا الفخر والحسب
أحييت سنته من بعد ما دفنت
… وشِدْتها وقد انهدت لها رتب
وصنتها عن أباطيل الرواة لها
… حتى استنارت، فلا شك ولا ريب
ما زلت تمنحها أهلًا، وتمنعها
… من كان يلهيه عنها الثغر والشنب
قوم بأسماعهم عن سمعها صمم
… وفي قلوبهم من حفظها قُضب
تنوب عن جمعها منهم عمائمهم
… أيضًا ويغنيهم عن عرسها اللقب
يا شامتين وفينا ما يسوؤهم
… مستبشرين وهذا الدهر محتسب
ليس الفناء بمقصور على سبب
… ولا البقاء بممدود له سبب
ما مات من عز دين الله يعقبه
… وإنما الميت منكم من له عقب
ولا تقوض بيت كان يعمده
… مثل العماد ولا أودى له طنب
علا العلي بجمال الدين بعد كما
… تحيي العلوم بمحيي الدين والقرب
তারা এর অধিবাসীকে বলল: হে অধিবাসী, তোমার প্রতি অভিবাদন
… হে প্রাণের আকাঙ্ক্ষা, এই বিমুখতা ও ক্রোধ কেন?
শাম দেশে এক কওম এবং বাগদাদেও তারা ব্যথিত হয়েছে
… দীর্ঘ দূরত্ব বা মহাকাল তাদের দুঃখকে মলিন করতে পারেনি।
আপনি কিতাবের মাধ্যমে কখনো তাদের সান্ত্বনা দিতেন
… আজ কোনো বার্তাবাহকও আসে না, কোনো কিতাবও আসে না।
আপনি কি তাদের প্রতিশ্রুতি ভুলে গেছেন, নাকি আপনি কবরে শায়িত
… আপনার ওপর ধূলি উড়ানো হচ্ছে এবং বাতাস ও মেঘ আপনার জন্য কাঁদছে।
বরং আপনি জান্নাতে আছেন যার ফল আহরণ করা হয়
… সেখানে নেই কোনো অসার কথা, নেই কোনো ক্ষতিকর বস্তু কিংবা ক্লান্তি।
হে সাহাবীদের পর ‘আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন’ (হাদ্দাসানা) বলা ব্যক্তিদের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম
… এবং যার প্রতি তাকওয়া ও দীন সম্পৃক্ত।
আপনি না থাকলে দীনের স্তম্ভ হেলে পড়ত এবং হকের ভিত্তিগুলো ধসে যেত
… আর ধ্বংস হেদায়াতকে গ্রাস করে নিত।
আজ আপনার বিদায়ে বিভ্রান্তির অঙ্গার প্রজ্বলিত
… যার স্ফুলিঙ্গ প্রকাশ্য এবং সঠিক পথের স্তম্ভ বিচলিত।
আল্লাহর রাসূল অবশ্যই আপনার জন্য কাঁদবেন যতক্ষণ কপোতসমূহ কুজন করবে
… আর অনারব ও আরবরাও আপনার বিচ্ছেদে ক্রন্দনরত।
আপনাদের উভয়ের অবস্থায় কোনো ভিন্নতা নেই, আপনাদের মৃত্যু
… একই মাস ও দিনে হওয়া এক মহান গৌরব ও আভিজাত্য।
আপনি তাঁর সুন্নাতকে পুনর্জীবিত করেছেন তা বিলীন হওয়ার পর
… এবং আপনি একে সুদৃঢ় করেছেন যখন এর স্তরসমূহ ধসে গিয়েছিল।
আপনি একে বর্ণনাকারীদের অসারতা থেকে রক্ষা করেছেন
… এমনকি তা উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে, ফলে এতে কোনো সন্দেহ বা সংশয় নেই।
আপনি সর্বদা যোগ্য ব্যক্তিদের তা প্রদান করতেন এবং তাদের থেকে একে বিরত রাখতেন
… যাদেরকে আমোদ-প্রমোদ ও বাহ্যিক সৌন্দর্য তা থেকে বিমুখ রাখত।
এমন এক কওম যাদের কানে তা শোনার ব্যাপারে বধিরতা রয়েছে
… এবং তাদের অন্তরে তা হিফয করার পথে প্রতিবন্ধকতা রয়েছে।
তাদের বড় বড় পাগড়িই ইলম সংগ্রহের স্থলাভিষিক্ত হয়েছে
… আর উপাধিগুলোই তাদেরকে ইলমের প্রকৃত স্বাদ আস্বাদন থেকে বিমুখ করে রেখেছে।
হে বিদ্রূপকারীরা, আমাদের মধ্যে এমন কিছু আছে যা তোমাদের অপছন্দ
… তোমরা আনন্দিত হচ্ছ, অথচ কাল এর হিসাব রাখছে।
মৃত্যু কোনো নির্দিষ্ট কারণের ওপর সীমাবদ্ধ নয়
… আর স্থায়িত্ব কোনো উপায়ের মাধ্যমে দীর্ঘায়িত হয় না।
সে ব্যক্তি মরেনি যার উত্তরাধিকার হিসেবে আল্লাহর দীনের মর্যাদা অবশিষ্ট রয়েছে
… বরং তোমাদের মধ্যে প্রকৃত মৃত তো সে-ই, যার কেবল বংশধরই অবশিষ্ট আছে।
এমন কোনো গৃহ ভেঙে পড়েনি যাকে তিনি খুঁটির ন্যায় অবলম্বন দিয়েছিলেন
… এবং তার কোনো রশিও ছিঁড়ে যায়নি।
‘আলী’ উচ্চমর্যাদায় ভূষিত হলেন ‘জামালুদ্দীন’-এর মাধ্যমে, যেমনভাবে
… ইলমসমূহ জীবিত হয় ‘মুহিউদ্দীন’ ও নৈকট্যের দ্বারা।
(খণ্ড: ١)
আল-কামাল ফী আসমাইর রিজাল
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
وتسبق الخيل تاليها إن بعدت
… وغاية السبق لا تعيى له النجب
مثل الدراري السواري شيخنا أبدًا
… نجم يغور ويبقى بعده شهب
من معشر هجروا الأوطان وانتهكوا
… حمر الخطوب وأبكار العلى خطبوا
شُمُّ العرانين ملح لو سألتهم
… بذل النفوس لما هابوا بأن يهبوا
بيض مفارقهم سود عواتقهم
… يمشي مسابقهم من حظه التعب
نور إذا سألوا نار إذا حملوا
… سحب إذا نزلوا أسد إذا ركبوا
الموقدون ونار الحرب خامدة
… والمقدمون ونار الحرب تلتهب
هذا الفخار فإن تجزع فلا جزع
… على المحب وإن تصبر فلا عجب
مصادر الترجمة:ترجم للحافظ عبد الغني عدد كبير من المصادر، منها: "معجم البلدان" (2/ 160)، و"التقييد" لابن نقطة (2/ 138)، و"ذيل تاريخ بغداد" لابن الدبيثي، كما في "المختصر المحتاج" (3/ 82، 83)، و"ذيل تاريخ بغداد" لابن النجار، كما في "المستفاد" (ص 167 - 169)، و"التكملة لوفيات النقلة" (2/ 17)، و"الذيل على الروضتين" (ص 46، 47)، و"تذكرة الحفاظ" (4/ 1372)، و"سير أعلام النبلاء" (21/ 443 - 471)، و"العبر" (3/ 129)، و"دول الإسلام" (2/ 107)، و"المعين في طبقات المحدثين" (ص 186)، و"المقصد الأرشد" (2/ 152)، و"ذيل التقييد" (2/ 136)، و"البداية والنهاية" (13/ 38، 39)، و"ذيل طبقات الحنابلة" (1/ 136) وهي ترجمة حافلة جدًّا، و"النجوم الزاهرة" (6/ 185)، و"طبقات الحفاظ" (ص 346، 485)، و"حسن
আর ঘোড়দৌড়ে অগ্রগামী ঘোড়া তার পশ্চাদগামীকে ছাড়িয়ে যায় যদি ব্যবধান দীর্ঘ হয়
... আর অগ্রগামী হওয়ার লক্ষে অভিজাত অশ্বগুলো ক্লান্ত হয় না।
আমাদের শায়খ সর্বদা ভ্রমণশীল উজ্জ্বল নক্ষত্ররাজির মতো
... এমন এক নক্ষত্র যা অস্তমিত হয়, আর তার পেছনে থেকে যায় উল্কাপিন্ড।
এমন এক দল থেকে যারা স্বদেশ ত্যাগ করেছে এবং মোকাবিলা করেছে
... রক্তিম বিপদসঙ্কুল পরিস্থিতির, আর উচ্চমর্যাদার শিখর তারা জয় করেছে।
তারা উন্নত নাসিকা সম্পন্ন ব্যক্তিত্ব, যদি আপনি তাদের কাছে
... জীবন বিলিয়ে দেওয়ার আবেদন করেন, তবে তারা তা দান করতে দ্বিধাবোধ করবে না।
তাদের ললাট উজ্জ্বল, তাদের কাঁধগুলো কৃষ্ণবর্ণ
... তাদের সাথে পাল্লাদানকারী কেবল ক্লান্তিই লাভ করে।
তারা আলো যখন তাদের কাছে কিছু চাওয়া হয়, তারা আগুন যখন তারা আক্রমণ করে
... তারা মেঘ যখন তারা অবতরণ করে, তারা সিংহ যখন তারা আরোহণ করে।
তারা প্রজ্জ্বলনকারী যখন যুদ্ধের আগুন নির্বাপিত থাকে
... আর তারা অগ্রগামী যখন যুদ্ধের আগুন দাউদাউ করে জ্বলে।
এটাই হলো গৌরব; সুতরাং আপনি যদি বিচলিত হন তবে প্রেমিকের জন্য
... কোনো আক্ষেপ নেই, আর যদি ধৈর্য ধরেন তবে তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই।
জীবনীর উৎসসমূহ:হাফেজ আব্দুল গনির জীবনী বিপুল সংখ্যক উৎসে বর্ণিত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে: "মু'জামুল বুলদান" (২/ ১৬০), ইবনুন নুক্বতাহ রচিত "আত-তাকয়িদ" (২/ ১৩৮), ইবনুদ দুবাইসী রচিত "যাইলু তারিখি বাগদাদ" যেমনটি "আল-মুখতাসারুল মুহ্তাজ" (৩/ ৮২, ৮৩)-এ রয়েছে, ইবনুুন নাজ্জার রচিত "যাইলু তারিখি বাগদাদ" যেমনটি "আল-মুস্তাফাদ" (পৃষ্ঠা ১৬৭ - ১৬৯)-এ রয়েছে, "আত-তাকমিলাতু লি-ওয়াফায়াতিন নাক্বলাহ" (২/ ১৭), "আয-যাইলু আলার রওদাতাইন" (পৃষ্ঠা ৪৬, ৪৭), "তাযকিরাতুল হুফফায" (৪/ ১৩৭২), "সিয়ারু আ'লামিন নুবালা" (২১/ ৪৪৩ - ৪৭১), "আল-ইবার" (৩/ ১২৯), "দুওয়ালুল ইসলাম" (২/ ১০৭), "আল-মু'ঈন ফী তাবাক্বাতিল মুহাদ্দিসীন" (পৃষ্ঠা ১৮৬), "আল-মাক্বসাদুল আরশাদ" (২/ ১৫২), "যাইলুত তাক্বয়িদ" (২/ ১৩৬), "আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া" (১৩/ ৩৮, ৩৯), "যাইলু তাবাক্বাতিল হানাবিলাহ" (১/ ১৩৬) যা অত্যন্ত সমৃদ্ধ একটি জীবনী, "আন-নুজুমুয যাহিরাহ" (৬/ ১৮৫), "তাবাক্বাতুল হুফফায" (পৃষ্ঠা ৩৪৬, ৪৮৫), এবং "হুসন..."।
(খণ্ড: ١)
আল-কামাল ফী আসমাইর রিজাল
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
المحاضرة" (1/ 354)، و"تاريخ الصالحية" (2/ 439)، و"كشف الظنون" (ص 1013، 1164، 1509، 2035)، و"شذرات الذهب" (4/ 345، 346)، و"التاج المكلل" (ص 213)، و"ذيل كشف الظنون" (2/ 69، 148، 196، 296، 308، 318، 493)، و"الرسالة المستطرفة" (ص 49)، و"الأعلام" للزركلي (4/ 34)، و"معجم المؤلفين" (5/ 375).
* * *
'আল-মুহাদারা' (১/ ৩৫৪), 'তারিখুস সালিহিয়্যাহ' (২/ ৪৩৯), 'কাশফুয যুনুন' (পৃষ্ঠা ১০১৩, ১১৬৪, ১৫০৯, ২০৩৫), 'শাযারাতুয যাহাব' (৪/ ৩৪৫, ৩৪৬), 'আত-তাজুল মুকাল্লাল' (পৃষ্ঠা ২১৩), 'যাইলু কাশফিয যুনুন' (২/ ৬৯, ১৪৮, ১৯৬, ২৯৬, ৩০৮, ৩১৮, ৪৯৩), 'আর-রিসালাতুল মুস্তাতরাফাহ' (পৃষ্ঠা ৪৯), যিরিকলি রচিত 'আল-আ'লাম' (৪/ ৩৪), এবং 'মু'জামুল মুয়াল্লিফীন' (৫/ ৩৭৫)।
* * *
(খণ্ড: ١)
আল-কামাল ফী আসমাইর রিজাল
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
المبحث الثاني: أهمية كتاب «الكمال في أسماء الرجال» والإضافة التي نقدمها بنشر كتابه1 - ترجع أهمية كتاب «الكمال» إلى أنه أول كتاب يصنف في جمع رجال الكتب الستة، التي هي دواوين السنة النبوية.
فكان الحافظ أبو محمد عبد الغني المقدسي هو مَن سَنَّ التصنيف في هذا الباب، حتى قال الحافظ مغلطاي في مقدمة «إكمال تهذيب الكمال»
(1): على أن أبا محمد -رحمه الله تعالى هو الذي نهج للناس هذا الطريق، وأخرجهم إلى السعة بعد الضيق». .
2 - وكل من صنف في رجال الكتب الستة بعد الحافظ عبد الغني كان عالة على كتابه، ولم يخرج أحد ممن صنف في ذلك عن إطار كتابه «الكمال»، بل عمدوا إلى تهذيبه، واختصاره، والزيادة عليه.
لهذا يقول الحافظ مغلطاي مقدرا جهود الحافظ عبد الغني في ذلك، و مبينا أن كل من صنف بعده لم يبذل من الجهد ما بذله: «فكان الفضل للمتقدم، وكان تعبه - أي: تعب عبد الغني- أكثر من تعب الشيخ جمال الدين- أي: المزي في «تهذيب الكمال» -؛ لأنه جمع مفرقا، وهذا
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: 'আল-কামাল ফি আসমায়ির রিজাল' গ্রন্থের গুরুত্ব এবং এই গ্রন্থটি প্রকাশের মাধ্যমে আমাদের সংযোজন১ - 'আল-কামাল' গ্রন্থের গুরুত্বের মূল কারণ হলো এটি কুতুবে সিত্তাহ (ছয়টি প্রধান হাদিস গ্রন্থ)-এর বর্ণনাকারীদের জীবনী একত্রিত করার ক্ষেত্রে সংকলিত প্রথম গ্রন্থ, যা সুন্নাহর মৌলিক সংকলন বা দেওয়ান।
হাফেজ আবু মুহাম্মদ আবদুল গনি আল-মাকদিসিই এই বিষয়ের সংকলন পদ্ধতি প্রবর্তন করেন, এমনকি হাফেজ মুগলতাই 'ইকমালু তাহজিবিল কামাল' (১) গ্রন্থের ভূমিকায় বলেছেন: "আবু মুহাম্মদ —আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন— তিনিই মানুষের জন্য এই পথ উন্মোচন করেছেন এবং সংকীর্ণতার পর তাদের প্রশস্ততার দিকে নিয়ে এসেছেন।"
২ - হাফেজ আবদুল গনির পরে কুতুবে সিত্তাহর বর্ণনাকারীদের নিয়ে যারাই সংকলন করেছেন, তারা সবাই তাঁর গ্রন্থের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। এ বিষয়ে সংকলনকারীদের কেউই তাঁর 'আল-কামাল' গ্রন্থের কাঠামোর বাইরে যাননি, বরং তারা এটিকে পরিমার্জন, সংক্ষিপ্তকরণ এবং এতে নতুন তথ্য সংযোজনের প্রতিই মনোনিবেশ করেছেন।
এজন্য হাফেজ মুগলতাই এ ক্ষেত্রে হাফেজ আবদুল গনির প্রচেষ্টার মূল্যায়ন করে এবং তাঁর পরবর্তী সংকলনকারীরা তাঁর মতো পরিশ্রম করেননি তা স্পষ্ট করে বলেন: "মর্যাদা তো অগ্রবর্তীদের জন্যই, আর তাঁর পরিশ্রম —অর্থাৎ আবদুল গনির পরিশ্রম— শেখ জামালুদ্দিনের —অর্থাৎ 'তাহজিবুল কামাল' গ্রন্থে আল-মিজ্জির— পরিশ্রমের চেয়েও বেশি ছিল; কারণ তিনি বিক্ষিপ্ত তথ্যসমূহ একত্রিত করেছেন, আর এটি..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-কামাল ফী আসমাইর রিজাল
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
هذب محققا»
(1).
3 - ومعلوم أن أهمية أي كتاب من الكتب تعرف من مدى استفادة من جاء بعده منه، وإذا أكثر المتأخر النقل عن كتاب المتقدم؛ عُرِفت أهميته بذلك، فكيف بكتاب اعتمد عليه من جاء بعده اعتمادا كليا في التصنيف؟! فقد استوعب الحافظ المزي نصوص هذا الكتاب، ولم يستثن منها سوى أسانيد الحافظ عبد الغني، وما ترجح لديه أنه من أوهامه، ووجدتُ الحافظ المزي ينقل عنه عددا كبيرا من السطور حرفا بحرف، وكذا أفاد منه من جاء بعد المزي.
4 - لهذا كله توالت عبارات الثناء على كتاب «الكمال» ممن جاء بعد الحافظ عبد الغني؛ فقال المزي عن كتابه: «وهو كتاب نفيس، كثير الفائدة»
(2).
وقال عنه الحافظ ابن حجر: «فإن كتاب «الكمال في أسماء الرجال» الذي ألفه الحافظ الكبير أبو محمد عبد الغني بن عبد الواحد بن سرور المقدسي، وهذبه الحافظ الشهير أبو الحجاج يوسف بن الزكي المزي، من أجل المصنفات في معرفة حملة الآثار وضعا، وأعظم المؤلفات في بصائر ذوي الألباب وقعا»
(3).
5 - ومما يزيد أهمية الكتاب: أنه احتوى على مادة زائدة على ما في
--------------------------------------------
তাহকীকসহ পরিমার্জিত করা হয়েছে»
(১).
৩ - এটি সর্বজনবিদিত যে, যেকোনো গ্রন্থের গুরুত্ব অনুধাবন করা যায় তার পরবর্তী সময়ের পণ্ডিতগণ সেটি থেকে কতটা উপকৃত হয়েছেন তার মাধ্যমে। যখন পরবর্তী লেখকগণ পূর্ববর্তী লেখকের গ্রন্থ থেকে প্রচুর পরিমাণে উদ্ধৃতি প্রদান করেন, তখন তার মাধ্যমেই গ্রন্থটির গুরুত্ব স্বীকৃত হয়। তবে সেই গ্রন্থের গুরুত্ব কতটুকু হবে, যার ওপর পরবর্তী লেখকগণ গ্রন্থ রচনার ক্ষেত্রে সর্বতোভাবে নির্ভর করেছেন?! হাফেজ মিযযী এই গ্রন্থের বিষয়বস্তুসমূহ পূর্ণাঙ্গভাবে গ্রহণ করেছেন; তিনি কেবল হাফেজ আব্দুল গনির সনদসমূহ এবং যে বিষয়গুলোকে হাফেজ আব্দুল গনির ভ্রম হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন, সেগুলোই কেবল বাদ দিয়েছেন। আমি দেখেছি যে, হাফেজ মিযযী এই গ্রন্থ থেকে অনেকগুলো পঙক্তি হুবহু উদ্ধৃত করেছেন; একইভাবে মিযযীর পরবর্তী পণ্ডিতগণও এটি থেকে উপকৃত হয়েছেন।
৪ - এসব কারণেই হাফেজ আব্দুল গনির পরবর্তী পণ্ডিতদের পক্ষ থেকে 'আল-কামাল' গ্রন্থের প্রশংসাসূচক উক্তি অব্যাহত রয়েছে। মিযযী এই গ্রন্থটি সম্পর্কে বলেছেন: "এটি একটি মূল্যবান গ্রন্থ, যার উপকারিতা অনেক"
(২).
হাফেজ ইবনে হাজার এটি সম্পর্কে বলেছেন: "নিশ্চয়ই মহান হাফেজ আবু মুহাম্মদ আব্দুল গনি বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন সুরূর আল-মাকদিসি কর্তৃক রচিত এবং সুপ্রসিদ্ধ হাফেজ আবু হাজ্জাজ ইউসুফ বিন আল-জাকি আল-মিযযী কর্তৃক পরিমার্জিত 'আল-কামাল ফি আসমায়ির রিজাল' গ্রন্থটি হাদিসের বাহকদের পরিচিতি লাভের ক্ষেত্রে সংকলন হিসেবে অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং প্রজ্ঞাবানদের দৃষ্টিতে প্রভাবের দিক থেকে মহানতম গ্রন্থসমূহের অন্তর্ভুক্ত"
(৩).
৫ - যে বিষয়টি এই গ্রন্থের গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি করে তা হলো: এতে এমন কিছু অতিরিক্ত উপাদান রয়েছে যা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-কামাল ফী আসমাইর রিজাল
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
"تهذيب الكمال"، فقد وقفتُ فيه على نقولات في جرح وتعديل بعض الرواة فات المزي أن ينقلها في "تهذيبه"، وكذا جملة من شيوخ وتلامذة الرواة ممن فات المزي أن ينقلهم في كتابه.
6 - أسند الحافظ عبد الغني في هذا الكتاب كثيرًا من أقوال أئمة الجرح والتعديل، وبعضُ ذلك لم أجده إلا في كتابه، ومعلومٌ لدى الباحثين أهمية الوقوف على أسانيد أقوال أئمة الجرح والتعديل خاصَّةً عند التعارض والترجيح بين أقوالهم.
7 - لنَشْرِ هذا الكتاب أهمية في الدراسات التاريخية عن المُصَنَّفات في رجال الكتب الستة بصفة خاصة، وفي فن "التراجم" بصفة عامة، ولا يمكن أن تكتمل دراسة ذلك دون الرجوع إلى الكتاب الأصلي في هذا الباب الذي اعتمد عليه كل مَن صَنَّف بعده فيه.
8 - يعكس هذا الكتاب جانبًا من شخصية الحافظ عبد الغني المقدسي العلمية، ويُبين براعته في التصنيف في فنِّ الرجال، ودقته في ذلك.
9 - يعكس هذا الكتاب جانبًا من الحالة العلمية السَّائدة في عصر الحافظ عبد الغنيِّ المقدسي، وقد تميزت بالنشاط العلمي.
"তাহযীবুল কামাল"; এতে আমি কিছু বর্ণনাকারীর জারহ এবং তা'দীল (দোষ ও গুণ বর্ণনা) সংক্রান্ত এমন কিছু উদ্ধৃতি পেয়েছি যা আল-মিযযী তার "তাহযীব" গ্রন্থে উল্লেখ করতে পারেননি। অনুরূপভাবে বর্ণনাকারীদের একদল উস্তাদ এবং ছাত্রদের নামও রয়েছে যা আল-মিযযী তার কিতাবে উল্লেখ করতে বাদ দিয়েছেন।
৬ - হাফেয আব্দুল গনি এই কিতাবে জারহ এবং তা'দীলের ইমামদের অনেক উক্তি সনদসহ উল্লেখ করেছেন, যার কিছু আমি কেবল তাঁর এই কিতাব ছাড়া অন্য কোথাও পাইনি। গবেষকদের কাছে জারহ ও তা'দীলের ইমামদের উক্তিগুলোর সনদ জানার গুরুত্ব সুপরিচিত, বিশেষ করে যখন তাঁদের উক্তিগুলোর মধ্যে বৈপরীত্য দেখা দেয় এবং একটিকে অন্যটির ওপর প্রাধান্য দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে।
৭ - এই কিতাবটি প্রকাশের গুরুত্ব রয়েছে বিশেষভাবে কুতুবে সিত্তা-এর বর্ণনাকারীদের বিষয়ক সংকলনসমূহের ঐতিহাসিক গবেষণার ক্ষেত্রে এবং সাধারণভাবে "জীবনী" শিল্পের ক্ষেত্রে। এই বিষয়ের মূল কিতাবটির দিকে প্রত্যাবর্তন করা ছাড়া এই সংক্রান্ত গবেষণা পূর্ণ হওয়া সম্ভব নয়, যার ওপর তাঁর পরবর্তী সকল সংকলক নির্ভর করেছেন।
৮ - এই কিতাবটি হাফেয আব্দুল গনি আল-মাকদিসীর ইলমী ব্যক্তিত্বের একটি দিক প্রতিফলিত করে এবং রিজাল শাস্ত্রে কিতাব সংকলনে তাঁর দক্ষতা ও সূক্ষ্মতা প্রকাশ করে।
৯ - এই কিতাবটি হাফেয আব্দুল গনি আল-মাকদিসীর যুগে প্রচলিত ইলমী অবস্থার একটি দিক প্রতিফলিত করে, যা ইলমী সক্রিয়তা দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ছিল।