0/0
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু খুয়াইকির ফী ফিকহিল ইমাম আহমাদ (পৃষ্ঠা: -)
مختصر خوقير في فقه الإمام أحمد   (أبو بكر خوقير)

القسم: الفقه الحنبلي


الكتاب: مختصر في فقه الإمام المبجل والحبر المفضل شيخ أهل السنة والجماعة أحمد بن محمد بن حنبل

أملاه: أبو بكر بن محمد بن عارف خوقير المكي الحنبلي (1284 - 1349 هـ)

المحقق: أ. د. عبد السلام بن محمد الشويعر

الناشر: ركائز للنشر والتوزيع

الطبعة: الأولى، 1439 هـ - 2018 م

عدد الصفحات: 179

أهداه للشاملة: ركائز للنشر والتوزيع؛ جزاهم الله خيرا

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 7 جُمادَى الأولى 1443

ইমাম আহমদের ফিকহ বিষয়ে মুখতাসার খুক্বাইর   (আবু বকর খুক্বাইর)

বিভাগ: হাম্বলী ফিকহ


বই: আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের শায়খ, শ্রদ্ধেয় ইমাম ও বিশিষ্ট পণ্ডিত আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন হাম্বলের ফিকহ শাস্ত্রের সংক্ষিপ্ত সার

শ্রুতলিখন করেছেন: আবু বকর বিন মুহাম্মদ বিন আরিফ খুক্বাইর আল-মক্কী আল-হাম্বলী (১২৮৪ - ১৩৪৯ হিজরি)

মুহাক্কিক: প্রফেসর ড. আব্দুস সালাম বিন মুহাম্মদ আল-শুওয়াইর

প্রকাশক: রাকাইজ পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩৯ হিজরি - ২০১৮ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৭৯

শামেলা লাইব্রেরিতে উপহার দিয়েছেন: রাকাইজ পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন; আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দান করুন

[বইটির পৃষ্ঠা বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৭ জুমাদাল উলা ১৪৪৩

(খণ্ড: ১) মুখতাসারু খুয়াইকির ফী ফিকহিল ইমাম আহমাদ (পৃষ্ঠা: ৩)
مُخْتَصَرٌ

فِي فِقْهِ الإِمَامِ المُبَجَّلِ والحَبْرِ المُفَضَّلِ

شيخِ أهلِ السُّنَّة والجَمَاعَة

أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ حَنْبَلٍ

إِمْلَاء الشَّيْخِ العَالِمِ العَلَّامَةِ

أَبِي بَكْرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَارِفِ خُوقِير المَكِّيِّ الحَنْبَلِيِّ

(1284 - 1349 هـ)

اعتنى به

أ. د. عبدالسَّلام بن محمد الشُّويعر
একটি সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ

সম্মানিত ইমাম ও শ্রেষ্ঠ আলিমের ফিকহ বিষয়ক

আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের শাইখ

আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন হাম্বল

বিজ্ঞ ও প্রাজ্ঞ শাইখের শ্রুতিলিখনে

আবু বকর বিন মুহাম্মাদ বিন আরিফ খুকীর মক্কি হাম্বলি

(১২৮৪ - ১৩৪৯ হিজরি)

সম্পাদনা ও তত্ত্বাবধানে

প্রফেসর ড. আব্দুস সালাম বিন মুহাম্মাদ আশ-শুওয়াইর
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু খুয়াইকির ফী ফিকহিল ইমাম আহমাদ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌[مقدمة التحقيق للطبعة الثانية]

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله وحده، وأشهد أن لا إله إلا الله وأشهدُ أن محمداً عبدُ الله ورسوله صلى الله عليه وعلى آله وسلم أما بعد

فإنَّ الفقهَ في الدِّين مِن أعظم المنن التي يَمتنُّ الله بها على من شاء من عباده، والموصوف بها في أعلا درجات التفضيل عند الله عز وجل، لذا كان سلوك طريقه من أفضل العبادات وأزكاها، وقد صحَّ عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: (من سلك طريقاً يلتمس فيه علماً سهل الله له به طريقاً إلى طرق الجنة)(1).

ومِن طرائق التفقه التي سار عليها أهل العلم قديماً وحديثاً النظرُ

--------------------------------------------

(1) رواه مسلم (2699) من حديث أبي هريرة رضي الله عنه. واللفظ له.

ورواه أبو داود (3641)، وابن ماجه (223)، والدارمي في (السنن 1/ 98)، وابن حبان (88)، والبغوي في (شرح السنة 1/ 275)، والبزار في مسنده (136 كشف الأستار) من حديث أبي درداء رضي الله عنه بزيادات. قال الحافظ ابن حجر في (الفتح 1/ 212): " له شواهد يتقوى بها ".

‌[দ্বিতীয় সংস্করণের সম্পাদনা সংক্রান্ত ভূমিকা]

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। অতঃপর—

নিশ্চয়ই দ্বীনের ফিকহ বা গভীর জ্ঞান লাভ করা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে অন্যতম শ্রেষ্ঠ অনুগ্রহ, যা তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা দান করেন। ফিকহ বা দ্বীনি জ্ঞানে গুণান্বিত ব্যক্তি আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার নিকট শ্রেষ্ঠত্বের সর্বোচ্চ স্তরে আসীন। তাই ফিকহ অর্জনের পথে চলা অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও পবিত্র ইবাদত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সহীহভাবে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: (যে ব্যক্তি ইলম বা জ্ঞান অন্বেষণের কোনো পথে চলে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের একটি পথ সহজ করে দেন)(১)।

প্রাচীন ও আধুনিককালের আলেমগণ ফিকহ বা প্রজ্ঞা অর্জনের জন্য যে সকল পদ্ধতির অনুসরণ করেছেন, তার মধ্যে একটি হলো...

--------------------------------------------

(১) এটি ইমাম মুসলিম (২৬৯৯) আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন। শব্দ বিন্যাস তাঁরই।

এছাড়াও এটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ (৩৬৪১), ইবনে মাজাহ (২২৩), দারেমী (সুনান ১/ ৯৮), ইবনে হিব্বান (৮৮), বগভী (শারহুস সুন্নাহ ১/ ২৭৫) এবং বাজ্জার তাঁর মুসনাদে (১৩৬ কাশফুল আসতার), যা আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিস থেকে কিছু অতিরিক্ত অংশসহ এসেছে। হাফেজ ইবনে হাজার (ফাতহুল বারী ১/ ২১২) বলেন: "এর এমন অনেক সমর্থক বর্ণনা (শাওয়াহেদ) রয়েছে যার মাধ্যমে এটি শক্তিশালী হয়।"

(খণ্ড: ১) মুখতাসারু খুয়াইকির ফী ফিকহিল ইমাম আহমাদ (পৃষ্ঠা: ৬)
قي المختصرات والمتون القصيرة لما فيها من جمع المسائل المتفرقة في وريقات قليلة ليسهل حفظُها ومراجعتها، واستظهارُ الأحكام حال الحاجة إليها إن عُدم الاجتهاد في المسألة، وتدريسُها في الزمن القصير.

ولما كانت هذه المختصرات لم تجعل للاستدلال للمسائل فإنها خَلَتْ في الجُملةِ مِن الأدلة، فلا تُعابُ بذلك؛ كما لا تُعابُ كُتبُ الفقه أيضاً بخلوِّها مِن الشعر؛ كما قال أبو الفضل النحوي:

أصبحتُ فيمَن له دِينٌ بلا أَدَبٍ … ومَن له أَدَبٌ عارٍ مِن الدِّينِ

أصبحتُ فيهم غريبَ الشَّكلِ مُنفرَداً كبيتِ حَسَّانَ في ديوانِ سحنون(1)

فمَن رام دليل مسألة مذكورة في مختصَرٍ رَجَعَ لأصلِه المبسُوطِ فسيجدُ الدليل فيه في نفس موضعها، فسهَّل المختصَرُ حينئذٍ معرفة موضع المسائل في المطولات.

فهذه المختصرات طريق من طرق التفقه في الدين علَّها تكون الأسهلَ عند الكثير، وهي ليست أدلةً تُعارضُ بها النصوصُ الشرعية، وإنما هي فهوم أهل العلم لهذه النصوص، زادها قوةً اجتماعُ عَددٍ كبيرٍ منهم على هذا الفهم، فالعبرةُ

-في الأصل- بما

--------------------------------------------

(1) يعني به بيت حسان بن ثابت:

و هان على سُرَاة بني لُؤيٍّ … حريقٌ بالبويرة مستطير.

حيث لم يأت في مدونة سحنون غير هذا البيت فقط.

সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ ও ক্ষুদ্র পাঠ্যগ্রন্থসমূহের (মুতুন) গুরুত্ব এই যে, এগুলো বিক্ষিপ্ত বিষয়াবলিকে অল্প কয়েক পৃষ্ঠায় একত্রিত করে, যাতে তা মুখস্থ করা, পুনরালোচনা করা এবং মাসআলাতে ইজতিহাদ করার সামর্থ্য না থাকলে প্রয়োজনে বিধানগুলো বের করা সহজ হয় এবং অল্প সময়ের মধ্যে তা শিক্ষাদান করা সম্ভব হয়।

যেহেতু এই সংক্ষিপ্ত গ্রন্থগুলো মাসআলাসমূহের দলিল প্রদানের উদ্দেশ্যে প্রণীত হয়নি, তাই এগুলো সাধারণত দলিলবিহীন হয়ে থাকে। ফলে এ কারণে এগুলোর সমালোচনা করা যায় না; যেমনটি ফিকহ শাস্ত্রের গ্রন্থসমূহ কবিতা বর্জিত হওয়ার কারণে সমালোচিত হয় না। যেমনটি আবু আল-ফজল আন-নাহবী বলেছেন:

আমি এমন লোকদের মাঝে উপনীত হয়েছি যাদের দ্বীন আছে কিন্তু সাহিত্য নেই... এবং যাদের সাহিত্য আছে কিন্তু দ্বীন নেই।

তাদের মাঝে আমি এক অনন্য ও নিঃসঙ্গ রূপ ধারণ করেছি, যেমন সাহনুনের সংকলনে হাসসানের একটি পঙ্ক্তি।(১)

সুতরাং যে ব্যক্তি কোনো সংক্ষিপ্ত গ্রন্থে উল্লিখিত মাসআলার দলিল অন্বেষণ করতে চায়, সে যেন এর মূল বিস্তারিত গ্রন্থের দিকে ফিরে যায়; তবে সে সেখানে ঠিক একই স্থানে দলিলটি খুঁজে পাবে। ফলে সংক্ষিপ্ত গ্রন্থটি তখন দীর্ঘ কলেবরের গ্রন্থসমূহে মাসআলাগুলোর অবস্থান জানার বিষয়টি সহজ করে দেয়।

দ্বীনি প্রজ্ঞা (তাফাক্কুহ) অর্জনের বিভিন্ন পন্থার মধ্যে এই সংক্ষিপ্ত গ্রন্থগুলো একটি পন্থা, যা অনেকের কাছেই সহজতর। এগুলো এমন কোনো দলিল নয় যা দিয়ে শারঈ নস বা মূল ভাষ্যের বিরোধিতা করা হবে, বরং এগুলো হলো সেই নসগুলোর ব্যাপারে বিজ্ঞ আলিমগণের উপলব্ধি। বিপুল সংখ্যক আলিমের এই একই বুঝের ওপর ঐকমত্য একে আরও শক্তিশালী করেছে। মূলত ধর্তব্য হলো—

--------------------------------------------

(১) এর দ্বারা তিনি হাসসান বিন সাবিতের এই পঙ্ক্তিটি বুঝিয়েছেন:

বনু লুয়াইয়ের প্রধানদের জন্য তা তুচ্ছ ছিল... বুওয়াইরাহ প্রান্তরে ছড়িয়ে পড়া এক লেলিহান অগ্নিশিখা।

যেহেতু সাহনুনের মুদাওওয়ানাহ গ্রন্থে এই একটি মাত্র পঙ্ক্তি ব্যতীত অন্য কোনো কবিতা আসেনি।

(খণ্ড: ১) মুখতাসারু খুয়াইকির ফী ফিকহিল ইমাম আহমাদ (পৃষ্ঠা: ৭)
جاء في كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم، وحاشا أحداً من فقهاء الشريعة أن يقول بخلاف ذلك.

وبعد.

فهذا مختصر في الفقه على المعتمد من مذهب الإمام أحمد بن محمد بن حنبل

-رحمه الله تعالى- حسب ما اعتمده متأخرو علماء المذهب، اختصر فيه ممليه ما في مختصرات متأخري الحنابلة.

فكان هذا المختصَرُ جامعاً لأهم المسائل ورؤوسها، وقد تميَّزَ على غيره من المختصرات في المذهب بأمور سيأتي ذكر بعضها عند التعريف بالكتاب.

لذلك جميعاً، ومحبةً في نشر العلم، والتشبهَ بأهلِه أحببتُ أن أسعَى بنشرِ هَذا المُختصَر اللطيفِ، وذلك بعدما أشارَ عليَّ به من إشارته أمر رحمه الله.

فأسأل الله العظيمَ ربَّ العرشِ الكريمِ أن ينفعَ به الجميعَ، وأن يمنَّ علينا بصلاحِ النيةِ وحُسن العمل على هدي النبي عليه السلام.

وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.

عَبد السَّلام بن محمَّد بن سَعد الشُّويعر

عفا الله عنه وعن والديه ومشايخه والمسلمين
আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহতে যা এসেছে, শরীয়তের ফকীহগণের মধ্য থেকে কেউই এর বিপরীতে কিছু বলবেন বলে আশা করা যায় না।

অতঃপর।

এটি ইমাম আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন হাম্বল —আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন— এর মাযহাবের নির্ভরযোগ্য মতানুসারে ফিকহ শাস্ত্রের একটি সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ, যা মাযহাবের পরবর্তী যুগের আলেমগণের গৃহীত মত অনুযায়ী রচিত। এর সংকলক এতে পরবর্তী যুগের হাম্বলী ফকীহগণের সংক্ষিপ্ত গ্রন্থসমূহের বিষয়বস্তু সংক্ষেপে তুলে ধরেছেন।

ফলে এই সংক্ষিপ্ত গ্রন্থটি গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা ও সেগুলোর প্রধান বিষয়সমূহের একটি সংকলন হয়ে উঠেছে। এটি মাযহাবের অন্যান্য সংক্ষিপ্ত গ্রন্থের তুলনায় এমন কিছু বৈশিষ্ট্যে স্বতন্ত্র, যা কিতাবটির পরিচিতি প্রদানের সময় উল্লেখ করা হবে।

এসব কারণে, এবং ইলম প্রচারের ভালোবাসা ও ইলমওয়ালাদের সাদৃশ্যতা অর্জনের কামনায় আমি এই চমৎকার সংক্ষিপ্ত গ্রন্থটি প্রকাশের প্রচেষ্টা চালাতে আগ্রহী হয়েছি; আর এটি এমন একজনের পরামর্শে হয়েছে যাঁর ইঙ্গিত বা নির্দেশ পালন করা আমার জন্য জরুরি —আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন।

অতএব, আমি মহান আল্লাহর কাছে, যিনি সম্মানিত আরশের রব, প্রার্থনা করি যেন তিনি এর দ্বারা সকলকে উপকৃত করেন এবং আমাদের নিয়তের পরিশুদ্ধি ও নবী আলাইহিস সালামের আদর্শ অনুযায়ী নেক আমল করার তাওফিক দান করেন।

আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।

আবদুস সালাম বিন মুহাম্মাদ বিন সাদ আল-শুওয়াই’ইর

আল্লাহ তাঁকে, তাঁর পিতামাতাকে, তাঁর উস্তাদগণকে এবং সকল মুসলিমকে ক্ষমা করে দিন।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু খুয়াইকির ফী ফিকহিল ইমাম আহমাদ (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌التعريف بالكتاب والمؤلف:

‌‌أولاً: التعريف بالكتاب:

هذا المختصر أملاه الشيخ أبو بكر خُوقير في أخرِ حياته بعد عام 1342 هـ وشارَكَهُ في تحريرِه الشيخ محمد بن حمد ابن راشد الذي أخذ على عاتقِهِ النظرَ فيه، وعَرَضَه على بعض علماء الحنابلة في ذلك الوقتِ لإبداءِ المُلاحَظَات وتصحيحِ العِبَارات، ثم بعد ذلك طبعه على نفقته الخاصة في مصر في السنة التي مات فيها المُؤلِّفه عام (1349 هـ)(1).

فيكون هذا الكتابُ قد اشترَكَ في تأليفِه والنظرِ فيه قَبلِ طباعته جماعةٌ من العلماء؛ مما يزيده قوةً، وضبطاً.

--------------------------------------------

(1) قال الشيخ محمد منير الدمشقي (ت 1367 هـ) صاحب المطبعة المنيرية في كتابه (نموذج من الأعمال الخيرية ص 98) عن الشيخ أبي بكر خوقير: (درس المترجم له المذهب الحنبلي وتمكن فيه، وبرع حتى أملى على أحد تلامذته قبل موته بمدة مختصراً في الفقه، وقمنا بطبعه على نفقة الفاضل الشيخ محمد بن حمد بن راشد المفتش في المدارس الأميرية والأهلية بمكة المكرمة).

وقد أشار لذلك الشيخ محمد ابن راشد في آخر الكتاب؛ كما سيأتي.

গ্রন্থ ও লেখকের পরিচিতি:

প্রথমত: গ্রন্থ পরিচিতি:

এই সংক্ষিপ্ত সারটি (মুখতাসার) শাইখ আবু বকর খুকির তাঁর জীবনের শেষ ভাগে ১৩৪২ হিজরির পর শ্রুতিলিপি হিসেবে প্রদান (ইমলা) করেছিলেন এবং এর সম্পাদনায় শাইখ মুহাম্মাদ বিন হামাদ ইবনে রাশিদ অংশগ্রহণ করেছিলেন, যিনি এটি পর্যালোচনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। তিনি এটি তৎকালীন কিছু হাম্বলী আলেমদের নিকট পর্যবেক্ষণ প্রদান এবং শব্দগত সংশোধনের জন্য পেশ করেছিলেন। অতঃপর তিনি এটি লেখকের মৃত্যুর বছর (১৩৪৯ হিজরি) মিশরে নিজ অর্থায়নে মুদ্রণ করেন।

সুতরাং মুদ্রণের পূর্বে একদল আলেম এই গ্রন্থটির সংকলন ও পর্যালোচনার কাজে অংশগ্রহণ করেছেন; যা এর নির্ভরযোগ্যতা ও নির্ভুলতাকে আরও বৃদ্ধি করেছে।

--------------------------------------------

(১) আল-মুনিরিয়া ছাপাখানার মালিক শাইখ মুহাম্মাদ মুনীর আদ-দিমাশকী (মৃ. ১৩৬৭ হি.) তাঁর ‘নামুজাজ মিনাল আমালিল খাইরিয়্যাহ’ (পৃ. ৯৮) গ্রন্থে শাইখ আবু বকর খুকির সম্পর্কে বলেছেন: (আলোচ্য ব্যক্তি হাম্বলী মাযহাব অধ্যয়ন করেন এবং তাতে গভীর জ্ঞান অর্জন করেন। তিনি এতে পারদর্শিতা লাভ করেন, এমনকি তাঁর মৃত্যুর কিছুকাল আগে তিনি তাঁর এক ছাত্রের নিকট ফিকহ শাস্ত্রের একটি সংক্ষিপ্ত সার শ্রুতিলিপি হিসেবে প্রদান করেন। আমরা মক্কাতুল মুকাররমার সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়সমূহের পরিদর্শক মহোদয় শাইখ মুহাম্মাদ বিন হামাদ বিন রাশিদ-এর অর্থায়নে এটি মুদ্রণ করেছি)।

শাইখ মুহাম্মাদ ইবনে রাশিদ গ্রন্থের শেষেও এ বিষয়ে ইঙ্গিত করেছেন; যেমনটি সামনে আসবে।

(খণ্ড: ১) মুখতাসারু খুয়াইকির ফী ফিকহিল ইমাম আহমাদ (পৃষ্ঠা: ১০)
وطريقة هذا المختصَر الذي تعاقب على تأليف والنظر فيه جمعٌ من علماء الحنابلة -أولهم ممليه الشيخ أبو بكر خوقير، ثم محرره الشيخ محمد بن حمد ابن راشد مروراً بمن عرضه عليهم من علماء الحنابلة-:

- أنّه في الغالب لم يخرج عن ألفاظ المتأخرين وترتيبهم، بل يكاد يوافقهم فيها تمام الموافقة، فقد جرى على المعتمد في المذهب عند المتأخرين.

- أنه حذف كثيراً من المسائل قليلة الحدوث، أو تعداد الصور الكثيرة للأصل الواحد.

- وتميَّز هذا المختصر بسهولة عبارته وسلاستها، ويظهر ذلك ببعده عن كثرة الضمائر التي تصرف الوقت لتأمل عودها. وحرصه على التقسيم والتنويع.

- وممّا تميّز به وحقه التقدم ما وفَّق اللهُ له المختصِر فزان مختصَره فسَلِمَ مما وقع فيه بعض مؤلفي الكتب الفقهية في الأزمنة الفقهية في الأزمنة المتأخرة من الخطأ في بعض المباحث خطأً يخالف عقيدة أهل السنة والجماعة التي عليها سلف الأمة ومَن سار على نهجهم وخصوصاً في باب توحيد الإلاهية.

فكان من نعم الله تعالى على المصنف أنه كما صير مصنَّفَه على المعتمدِ مِن مذهبِ الإمامِ أحمدَ في الفروع كان على مذهبه في
এই সংক্ষিপ্তসারটির (মুখতাসার) পদ্ধতি—যাহার রচনা ও পর্যালোচনায় ধারাবাহিকভাবে হাম্বলি উলামায়ে কেরামের একটি জামাত শরীক ছিলেন; যাহাদের প্রথমজন ছিলেন ইহার শ্রুতলিখনকারী শায়খ আবু বকর খুওয়াক্বীর, অতঃপর ইহার সম্পাদক শায়খ মুহাম্মদ বিন হামাদ ইবনে রাশিদ এবং সেই সকল হাম্বলি উলামায়ে কেরাম যাঁহাদের নিকট এটি পেশ করা হইয়াছিল—তাহা নিম্নরূপ:

- ইহা অধিকাংশ ক্ষেত্রে মুতাআখখিরিনগণের (পরবর্তী আলিমগণের) শব্দচয়ন ও বিন্যাস হইতে বাহির হয় নাই, বরং প্রায় সকল ক্ষেত্রেই তাঁহাদের সহিত পূর্ণ ঐক্য রক্ষা করিয়াছে; ফলে ইহা মুতাআখখিরিনগণের নিকট মাযহাবের মুতামাদ (নির্ভরযোগ্য) মতের উপরই পরিচালিত হইয়াছে।

- ইহা অনেক বিরল মাসআলাসমূহ অথবা একটি মূলনীতির অধীনে অসংখ্য সুরত বা অবস্থার বর্ণনাকে বর্জন করিয়াছে।

- এই সংক্ষিপ্তসারটি ইহার সহজ ও প্রাঞ্জল ভাষার মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমন্ডিত হইয়াছে, যাহা সর্বনামের আধিক্য হইতে মুক্ত থাকার মাধ্যমে প্রকাশ পায়—যেহেতু অধিক সর্বনামের মারজা বা প্রত্যাবর্তনস্থল নির্ণয়ে সময়ের প্রয়োজন হয়। এছাড়াও ইহা বিষয়বস্তুর বিন্যাস ও শ্রেণিবিভাগের প্রতি সচেষ্ট ছিল।

- ইহার অন্যতম বৈশিষ্ট্য এবং অগ্রগণ্যতার দাবিদার হইল সেই বিষয়টি যাহার তাওফীক আল্লাহ তাআলা সংক্ষেপকারীকে দান করিয়াছেন, ফলে তিনি তাঁহার সংক্ষিপ্তসারটিকে সৌন্দর্যমন্ডিত করিয়াছেন এবং পরবর্তী যুগের কতিপয় ফিকহ শাস্ত্রের গ্রন্থকারগণ যে সকল ভুলের শিকারে পরিণত হইয়াছিলেন তাহা হইতে ইহাকে নিরাপদ রাখিয়াছেন। উক্ত ভুলসমূহ আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদার পরিপন্থী ছিল, যে আকিদার উপর উম্মতের সালাফে সালেহীন এবং তাঁহাদের অনুসারীগণ প্রতিষ্ঠিত ছিলেন—বিশেষ করিয়া তাওহিদে উলুহিয়্যাহর অধ্যায়ে।

সুতরাং এটি মুসান্নিফের (গ্রন্থকারের) উপর আল্লাহ তাআলার একটি নিআমত ছিল যে, তিনি যেভাবে ফুরুঈ মাসআলাসমূহের ক্ষেত্রে ইমাম আহমদের মাযহাবের মুতামাদ মতের উপর কিতাবটি রচনা করিয়াছেন, তেমনিভাবে তাঁহার মাযহাব অনুযায়ী...
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু খুয়াইকির ফী ফিকহিল ইমাম আহমাদ (পৃষ্ঠা: ১১)
الأصول، بل مذهب الأئمة جميعاً أبي حنيفة ومالك والشافعي وأحمد وكذا الليث وسفيان والأوزاعي وغيرهم -رحم الله الجميع-.

ومع ذلك فإن الكتاب فيه بعض النقص، وعليه بعض التتبع الذي لا يخلو منه كتاب حاشا كتاب الله - تعالى - وقد علقت على بعضها حَسْب الاستطاعة ومنتهى العلم.
উসুল বা মূলনীতি, বরং এটি আবু হানিফা, মালিক, শাফিঈ ও আহমাদ এবং সেইসাথে লাইস, সুফিয়ান ও আওযাঈ সহ সকল ইমামের মাযহাব—আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি দয়া করুন।

তৎসত্ত্বেও গ্রন্থটিতে কিছু অসম্পূর্ণতা রয়েছে এবং এতে কিছু পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে, যা মহান আল্লাহর কিতাব ব্যতীত অন্য কোনো গ্রন্থের ক্ষেত্রে অনিবার্য। আমি আমার সাধ্য ও জ্ঞানের শেষ সীমা অনুযায়ী তার মধ্য থেকে কিছু বিষয়ের ওপর টীকা প্রদান করেছি।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু খুয়াইকির ফী ফিকহিল ইমাম আহমাদ (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌ثانياً: التعريف بالمؤلف:

‌‌ترجمة الشيخ أبي بكر خوقير (1)

*‌‌ اسمه ونسبه:

هو الشيخ أبو بكر بن محمد عارف بن عبد القادر بن محمد علي خوقير المكي الحنبلي.

واسمه كنيته(2)، وقد رفع بعضُ مُترجميه نسبَه لأبي بكر الصديق رضي الله عنه(3).

--------------------------------------------

(1) ترجمته في المصادر التالية:

مجلة المنار مج 31 ص 240 ربيع الآخر 1349، الأعلام للزركلي 2/ 46، أعيان المكيين للمعلمي 1/ 415، تاريخ نجد وحوادثها للقاضي صـ 27، تسهيل السابلة لابن عثيمين 3/ 1797، جريدة الندوة عدد 10557، الجواهر الحسان لزكريا بيلا ص 595، روضة الناظرين للقاضي 1/ 98، سير وتراجم لعمر عبد الجبار ص 22، علماء آل سليم 2/ 252، فيض الملك المتعالي لعبد الستار الدهلوي 3/ 2052، قرة العين في أسانيد شيوخي من أعلام الحرمين للفاداني 2/ 445، مشاهير علماء نجد وغيرهم ص 300، مصطلحات الفقه الحنبلي ص 251، معجم المطبوعات العربية في المملكة لعلي جواد الطاهر 1/ 358، موسوعة أسبار للعلماء 1/ 132، نظم الدرر لعبد الله غازي ص 527، نثر الدرر لعبد الله غازي ص 17، نموذج من الأعمال الخيرية ص 98.

(2) ووقع في (الجواهر الحسان لزكريا بيلا ص 595) أن اسمه «بكر»، وسائر المصادر على خلافه. وكذا في النسخة الخطية من الجواهر الحسان لزكريا بيلا 3/ 421.

(3) الجواهر الحسان لزكريا بيلا ص 597.

দ্বিতীয়: লেখকের পরিচিতি:

শায়খ আবু বকর খুওয়াক্বীর-এর জীবনী (১)

*‌‌ তাঁর নাম ও বংশপরিচয়:

তিনি হলেন শায়খ আবু বকর বিন মুহাম্মদ আরিফ বিন আব্দুল কাদির বিন মুহাম্মদ আলী খুওয়াক্বীর আল-মাক্কী আল-হাম্বলী।

তাঁর উপনামই (কুনয়াহ) তাঁর নাম(২), এবং তাঁর কতিপয় জীবনীকার তাঁর বংশপরম্পরাকে আবু বকর সিদ্দিক (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর সাথে সম্পৃক্ত করেছেন(৩)।

--------------------------------------------

(১) নিম্নোক্ত উৎসসমূহে তাঁর জীবনী বর্ণিত হয়েছে:

মাজাল্লাতুল মানার, খণ্ড ৩১, পৃষ্ঠা ২৪০, রবিউস সানি ১৩৪৯ হি.; আল-আ’লাম (যিরিকলী), ২/৪৬; আইয়ানুল মাক্কিয়্যীন (মুআল্লিমী), ১/৪১৫; তারিখু নাজদ ওয়া হাওয়াদিসুহা (কাদি), পৃষ্ঠা ২৭; তাসহিলুস সাবিলাহ (ইবনে উসাইমিন), ৩/১৭৯৭; জারিদাতুন নাদওয়াহ, সংখ্যা ১০৫৫৭; আল-জাওয়াহিরুল হিসান (যাকারিয়া বিল্লা), পৃষ্ঠা ৫৯৫; রওদাতুন নাযিরীন (কাদি), ১/৯৮; সিয়ার ওয়া তারাজিম (উমর আব্দুল জব্বার), পৃষ্ঠা ২২; উলামাউ আলি সুলিম, ২/২৫২; ফয়দুল মালিকিল মুতাআলী (আব্দুস সাত্তার দেহলভী), ৩/২০৫২; কুররাতুল আইন ফি আসানিদি শুইউখি মিন আ’লামিল হারামাইন (ফাদানী), ২/৪৪৫; মাশাহিরু উলামাই নাজদ ওয়া গাইরুহুম, পৃষ্ঠা ৩০০; মুসতালাহাতুল ফিকহিল হাম্বলী, পৃষ্ঠা ২৫১; মু’জামুল মাতবু’আতিল আরাবিয়্যাহ ফিল মামলকাতি (আলী জাওয়াদ তাহির), ১/৩৫৮; মাওসুআতু আসবার লিল উলামা, ১/১৩২; নাযমুত দুরার (আব্দুল্লাহ গাজী), পৃষ্ঠা ৫২৭; নাসরুত দুরার (আব্দুল্লাহ গাজী), পৃষ্ঠা ১৭; নামুজাজ মিনাল আ’মালিল খাইরিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ৯৮।

(২) যাকারিয়া বিল্লা রচিত ‘আল-জাওয়াহিরুল হিসান’ (পৃষ্ঠা ৫৯৫)-এ তাঁর নাম ‘বকর’ এসেছে, তবে অন্যান্য সকল উৎস এর বিপরীত। অনুরূপভাবে যাকারিয়া বিল্লা রচিত ‘আল-জাওয়াহিরুল হিসান’-এর পাণ্ডুলিপিতেও (৩/৪২১) তাই রয়েছে।

(৩) আল-জাওয়াহিরুল হিসান (যাকারিয়া বিল্লা), পৃষ্ঠা ৫৯৭।

(খণ্ড: ১) মুখতাসারু খুয়াইকির ফী ফিকহিল ইমাম আহমাদ (পৃষ্ঠা: ১৩)
و (خُوقِير) تعني المالك لحريته، أو طبيعتِه بلغة الفُرْس، وهي لغة مستخدمة حيث كان أجداده ساكنين في الهند.

قال الشيخ المحدث عبد الستار الدهلوي (ت 1355 هـ): (الإمام المحدث السلفي الشهير .. صديقنا الفاضل السلفي، ورفيقنا الكامل الأثري)(1).

وقال عبد الله غازي (ت 1365 هـ): (العلامة المحدث، السلفي الأثري)(2).

وقال الشيخ حسن مشاط (ت 1399 هـ): (عاصرته، وهو من أقران مشايخي، وله لسانٌ طلقٌ كان يلقي علينا أيام الاحتفال بالمدرسة الصولتية سنة 30، 31، 32 خطباً تشجيعاً للعلم، وله وقع وأثر عظيم في قلوب الطلبة جزاه الله خيراً آمين)(3).

وقال الشيخ زكريا بيلا (ت 1413 هـ): (العالِم الوقور، المتضلع السلفي الأثري الكبير .. الإمام بالمسجد الحرام)(4).

--------------------------------------------

(1) فيض الملك المتعالي لعبد الستار الدهلوي 3/ 2052.

(2) نظم الدرر لعبد الله غازي ص 527.

(3) حاشية كتبها الشيخ حسن بخطته على نسخته من ثبت (الأنوار الجلية للشيخ محمد راغب الطباخ ص 436).

(4) الجواهر الحسان لزكريا بيلا ص 595

এবং (খুকীর) অর্থ হলো নিজের স্বাধীনতার মালিক, অথবা পারস্য ভাষায় এর অর্থ তার স্বভাব; এটি এমন একটি ভাষা যা তার পূর্বপুরুষরা যেখানে ভারতে বসবাস করতেন সেখানে প্রচলিত ছিল।

শায়খ মুহাদ্দিস আবদুস সাত্তার দেহলভী (মৃ. ১৩৫৫ হি.) বলেন: (সুপ্রসিদ্ধ ইমাম, মুহাদ্দিস, সালাফি.. আমাদের বিদগ্ধ সালাফি বন্ধু এবং আমাদের পূর্ণাঙ্গ আসারি সঙ্গী)(১)।

আবদুল্লাহ গাজি (মৃ. ১৩৬৫ হি.) বলেন: (আল্লামা মুহাদ্দিস, সালাফি আসারি)(২)।

শায়খ হাসান মাশশাত (মৃ. ১৩৯৯ হি.) বলেন: (আমি তাঁর সমসাময়িক ছিলাম, তিনি আমার উস্তাদদের সমপর্যায়ভুক্ত ছিলেন এবং তিনি ছিলেন বাগ্মী। ১৩৩০, ১৩৩১ ও ১৩৩২ সনে মাদরাসা সওলাতিয়ার বার্ষিক অনুষ্ঠানের দিনগুলোতে তিনি ইলম অর্জনে উৎসাহিত করার জন্য আমাদের সামনে ভাষণ দিতেন। ছাত্রদের হৃদয়ে তাঁর এক মহান মর্যাদা ও গভীর প্রভাব ছিল। আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দান করুন, আমীন)(৩)।

শায়খ জাকারিয়া বিলা (মৃ. ১৪১৩ হি.) বলেন: (গম্ভীর ব্যক্তিত্বের অধিকারী আলেম, বিজ্ঞ বড় সালাফি আসারি.. মসজিদে হারামের ইমাম)(৪)।

--------------------------------------------

(১) আবদুস সাত্তার দেহলভীর ফয়জুল মালিকিল মুতাআলি ৩/ ২০৫২।

(২) আবদুল্লাহ গাজির নাজমুদ দুরার পৃ. ৫২৭।

(৩) শায়খ হাসান শায়খ মুহাম্মাদ রাগিব আল-তাব্বাখের সনদ সংকলন ‘আল-আনওয়ারুল জালিইয়াহ’ (পৃ. ৪৩৬)-এর নিজস্ব কপিতে স্বহস্তে এই টীকাটি লিখেছিলেন।

(৪) জাকারিয়া বিলার আল-জাওয়াহিরুল হিসান পৃ. ৫৯৫

(খণ্ড: ১) মুখতাসারু খুয়াইকির ফী ফিকহিল ইমাম আহমাদ (পৃষ্ঠা: ১৪)
*‌‌ مولده:

ولد في السادس والعشرين من ذي الحجة سنة 1284 بمكة(1).

 

*‌‌ نشأته وطلبه للعلم:

نشأ المترجَم بمكة حيث ولد، (وتربى بها بين أهله وذويه وأقرانه، حتى ترعرع وقرأ القرآن وجوّده، واشتغل بطلب العلوم من صغره، وكان مشغوفاً بعلم الحديث، حتى أدرك كبار أهل عصره من أهل بلده، وارتحل إلى البلدان الشاسعة، وأخذ عن أفاضلها)(2).

وقد تردد على الهند كثيراً(3)، وكان يكثر الذهاب لها للتبضع من الكتب، والإتجار بها وبيعها في مكتبته مقابل باب السلام، وكان

--------------------------------------------

(1) قال الشيخ عبد الستار الدهلوي: (ذاكرته مراراً عن ترجمته وعن سنة ولادته، فسكت، ثم أجابني وقال لي: (أقبل على شأنك)، وإني رويتُ بسندي إلى الإمام الشافعي قال: (سألتُ مالك بن أنس عن سِنّه، فقال: أقبل على شأنك، وقال: ليس من المروءة إخبار الرجل عن سِنّه، إن كان صغيراً استحقروه، وإن كان كبيراً استهرموه.

وإني الآن سألتُ عمّه الفاضل الشيخ صِدِّيق خوقير فأفادني أنه ولد في 26 ذي الحجة عام أربع وثمانين بعد المائتين والألف من الهجرة النبوية بمكة).

(2) فيض الملك المتعالي 3/ 2053.

(3) ذكر أنه لقي السيد محمد نذير حسين بدهلي سنة 1307 هـ والشيخ حسين بن محسن سنة 1313 هـ بالهند، والشيخ محمد بن عبد العزيز المدعو بشيخ محمد الهاشمي الطياري الهندي وزاره في بيته سنة 1317 هـ في بوفال.

فيض الملك المتعالي 3/ 2053.

*‌‌ তাঁর জন্ম:

তিনি ১২৮৪ হিজরীর যিলহজ্জ মাসের ২৬ তারিখে মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন(১)।

 

*‌‌ তাঁর বেড়ে ওঠা ও ইলম অন্বেষণ:

জীবনচরিতের মূল ব্যক্তি মক্কায় যেখানে জন্মগ্রহণ করেছিলেন সেখানেই বেড়ে ওঠেন, (এবং সেখানে তিনি তাঁর পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন ও সমবয়সীদের মাঝে প্রতিপালিত হন, যতক্ষণ না তিনি বড় হলেন এবং কুরআন পাঠ ও তাজভীদ সম্পন্ন করলেন। শৈশব থেকেই তিনি ইলম অন্বেষণে আত্মনিয়োগ করেন। তিনি হাদীস শাস্ত্রের প্রতি অত্যন্ত অনুরক্ত ছিলেন, এমনকি তিনি স্বদেশের তৎকালীন প্রবীণ আলেমদের সান্নিধ্য লাভ করেন। তিনি দূর-দূরান্তের দেশসমূহে সফর করেন এবং সেখানকার শ্রেষ্ঠ আলেমদের থেকে জ্ঞান অর্জন করেন)(২)।

তিনি প্রচুর ভারত সফর করতেন(৩), এবং বই সংগ্রহের জন্য এবং বইয়ের ব্যবসা ও তাঁর লাইব্রেরিতে (যা বাবুস সালামের বিপরীতে অবস্থিত ছিল) তা বিক্রির উদ্দেশ্যে তিনি সেখানে বারবার যেতেন, এবং তিনি ছিলেন

--------------------------------------------

(১) শায়খ আব্দুল সাত্তার দেহলভী বলেন: (আমি তাঁর জীবনী এবং তাঁর জন্মের বছর সম্পর্কে তাঁর সাথে বারবার আলোচনা করেছি, কিন্তু তিনি চুপ থাকতেন। এরপর তিনি আমাকে উত্তর দিয়ে বললেন: "নিজের কাজে মন দাও"। আমি আমার সনদ সহ ইমাম শাফিঈ থেকে বর্ণনা করছি, তিনি বলেছেন: "আমি মালিক ইবনে আনাসকে তাঁর বয়স সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, তখন তিনি বলেছিলেন: 'নিজের কাজে মন দাও'। তিনি আরও বলেছিলেন: 'নিজের বয়স সম্পর্কে অন্যকে জানানো কোনো বীরত্ব বা মহত্ত্বের কাজ নয়। কারণ যদি সে বয়সে ছোট হয় তবে মানুষ তাকে তুচ্ছ জ্ঞান করবে, আর যদি বয়সে বড় হয় তবে তাকে জরাগ্রস্ত বা অতি বৃদ্ধ মনে করবে'।

আর এখন আমি তাঁর সম্মানীয় চাচা শায়খ সিদ্দিক খুক্বীরকে জিজ্ঞাসা করলাম, তখন তিনি আমাকে জানালেন যে, তিনি হিজরী ১২৮৪ সনের ২৬শে যিলহজ্জ মক্কায় জন্মগ্রহণ করেছেন)।

(২) ফায়যুল মালিকিল মুতাআলী ৩/ ২০৫৩।

(৩) উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি ১৩০৭ হিজরীতে দিল্লিতে সাইয়্যেদ মুহাম্মদ নাযীর হোসাইনের সাথে এবং ১৩১৩ হিজরীতে ভারতে শায়খ হোসাইন ইবনে মুহসিনের সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন। এছাড়া তিনি ১৩১৭ হিজরীতে ভুপালে শায়খ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল আযীয (যিনি শায়খ মুহাম্মদ আল-হাশেমী আত-তায়্যারী আল-হিন্দী নামে পরিচিত ছিলেন) এর সাথে তাঁর বাড়িতে গিয়ে সাক্ষাৎ করেন।

ফায়যুল মালিকিল মুতাআলী ৩/ ২০৫৩।

(খণ্ড: ১) মুখতাসারু খুয়াইকির ফী ফিকহিল ইমাম আহমাদ (পৃষ্ঠা: ১৫)
اعتاد الاتجار بالكتب منذ عزله الشريف عون الرفيق من وظائف الحرم، إذ كان غضب على الشيخ عبد الرحمن سراج مفتي مكة ورئيس العلماء فعزله وعزل جميع رجاله من المفتين سنة 1327 هـ. وكان المترجَم يدعو للشريف عون بالرحمة لإلجائه إلى تجارة الكتب الني تعينه على العلم. وصار ملازماً لهذه المهنة حتى غدا لقبُه (الكُتْبِيّ) نسبةً لبيع الكُتُب(1).

تفقَّه المترجَم أولاً بالمذهب الحنفي(2)، وكان أبوه إماماً بالمقام الحنفي(3).

ثم تحول إلى المذهب الحنبلي وتفقه به، وصار إماماً بالمقام الحنبلي بالمسجد الحرام، وتولى إفتاء الحنابلة في البلد الحرام فترة قصيرة سنة 1327 هـ، ثم عُزل بالشيخ عبد الله ابن حميد حفيد صاحب (السحب الوابلة).

--------------------------------------------

(1) وجدتُ على غلاف نسخة من كتاب (شرح متن الألفية الملقب بالأزهار الزينية، للسيد أحمد زيني دحلان) طبع سنة 1310 هـ، بخط الشيخ محمد بن عبد الرحمن بن سيف ما نصّه: (انتقل من صاحبه الأوّل واشتريته من دكان الشيخ بكر خوقري). ينظر: التقييدات النجدية لعبد المحسن آل الشيخ ص 437.

(2) نظم الدرر لعبد الله غازي ص 527.

وينظر قصة انتقاله للمذهب الحنبلي في: الجواهر الحسان لبيلا ص 596.

(3) تنظر ترجمة أبيه في: نزهة الفكر لأحمد الحضراوي 2/ 204.

শরীফ আউন আল-রফিক হারামের দায়িত্বসমূহ থেকে তাঁকে বরখাস্ত করার পর থেকে তিনি বই ব্যবসার সাথে অভ্যস্ত হয়ে পড়েন। কারণ শরীফ মক্কার মুফতি এবং ওলামা প্রধান শেখ আবদুর রহমান সিরাজের ওপর অসন্তুষ্ট হয়ে ১৩২৭ হিজরিতে তাঁকে এবং তাঁর অনুসারী সকল মুফতিকে বরখাস্ত করেছিলেন। যাঁর জীবনী আলোচনা করা হচ্ছে তিনি শরীফ আউনের রহমতের জন্য দোয়া করতেন, কারণ তিনি তাঁকে বই ব্যবসার দিকে ধাবিত করেছিলেন যা তাঁকে জ্ঞানার্জনে সহায়তা করেছিল। তিনি এই পেশায় এতটাই অবিচল ছিলেন যে বই বিক্রির সাথে সম্পৃক্ততার কারণে তাঁর উপাধিই হয়ে যায় 'আল-কুতবি' (বই বিক্রেতা)(১)।

যাঁর জীবনী আলোচনা করা হচ্ছে তিনি প্রথমে হানাফি মাযহাব অনুযায়ী ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন(২) এবং তাঁর পিতা মাকামে হানাফিতে ইমাম ছিলেন(৩)।

পরবর্তীতে তিনি হাম্বলি মাযহাবে স্থানান্তরিত হন এবং তাতে ব্যুৎপত্তি লাভ করেন। তিনি মসজিদে হারামে মাকামে হাম্বলিতে ইমাম হন এবং ১৩২৭ হিজরিতে স্বল্প সময়ের জন্য পবিত্র মক্কায় হাম্বলিদের ফতোয়া প্রদানের দায়িত্ব (ইফতা) পালন করেন। এরপর তাঁর স্থলে 'আস-সুহুবুল ওয়াবিলাহ' গ্রন্থের লেখকের নাতি শেখ আবদুল্লাহ ইবনে হুমাইদকে স্থলাভিষিক্ত করা হয়।

--------------------------------------------

(১) ১৩১০ হিজরিতে মুদ্রিত (সাইয়্যেদ আহমদ জাইনি দাহলান রচিত 'আল-আযহার আয-যাইনিইয়্যাহ' নামক শারহু মাতনিল আলফিয়্যাহ) গ্রন্থের একটি কপির মলাটে শেখ মুহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন সাইফের হস্তাক্ষরে আমি এই বক্তব্য পেয়েছি: (এটি এর প্রথম মালিকের নিকট থেকে এসেছে এবং আমি এটি শেখ বকর খোকরির দোকান থেকে ক্রয় করেছি)। দ্রষ্টব্য: আবদুল মুহসিন আল-শাইখ রচিত 'আত-তাকয়িদাতুন নাজদিয়্যাহ', পৃষ্ঠা ৪৩৭।

(২) আবদুল্লাহ গাজী রচিত 'নাযমুদ দুরার', পৃষ্ঠা ৫২৭।

হাম্বলি মাযহাবে তাঁর স্থানান্তরের কাহিনী দেখুন: বেলা রচিত 'আল-জাওয়াহিরুল হিসান', পৃষ্ঠা ৫৯৬।

(৩) তাঁর পিতার জীবনী দেখুন: আহমদ আল-হাদরাওয়ী রচিত 'নুযহাতুল ফিকর', খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ২০৪।

(খণ্ড: ১) মুখতাসারু খুয়াইকির ফী ফিকহিল ইমাম আহমাদ (পৃষ্ঠা: ১৬)
قال الشيخ المحدث عبد الستار الدهلوي (ت 1355 هـ): (كان سلفياً، اعتقادُهُ مدلولُ الكتاب والسنة لما يجيب عنه، وكان يوصي بقراءة (صحيح البخاري))(1).

كان صادعاً بالدفاع عن عقيدة السلف الصالح، ذاباً عن حياضها، فأوذي وابتلى بسبب ذلك إيذاءً شديداً، وسُجن لذلك مرتين أولاهما ثمانية عشر شهراً، والثانية نحو سبعين شهراً في سنة 1339 هـ، حتى سنة 1343 هـ فأخرج وقد تغير شكلُه بسببِ السجن، وعدم رؤية الشمس.

قال الشيخ المحدث عبد الستار الدهلوي (ت 1355 هـ): (كانت حصلت له محنة شديدة حتى إنه حبس بسبب ذلك، وناله ما نال إمامه المبجل أحمد بن محمد بن حنبل، فرحمه الله وأسكنه الفردوس دار القرار)(2).

ثم عين مدرساً في المسجد الحرم في سنة 1349 هـ(3).

--------------------------------------------

(1) فيض الملك المتعالي لعبد الستار الدهلوي 3/ 2060.

(2) فيض الملك المتعالي لعبد الستار الدهلوي 3/ 2061.

وينظر: مجلة المنار مج 31 ص 240 ربيع الآخر 1349، الجواهر الحسان لبيلا ص 596.

(3) إفادة الأنام بذكر أخبار بلد الله الحرام، لعبدا الله غازي [مخطوط] 4/ 361.

শাইখ মুহাদ্দিস আব্দুল সাত্তার দেহলভি (মৃত্যু ১৩৫৫ হিজরি) বলেছেন: (তিনি ছিলেন সালাফি, তাঁর আকিদা ছিল কুরআন ও সুন্নাহর নির্দেশিত মর্ম অনুযায়ী যা থেকে তিনি জবাব দিতেন, এবং তিনি সহিহ বুখারি পাঠ করার অসিয়ত করতেন)(১).

তিনি সালাফে সালেহিনের আকিদা প্রতিরক্ষায় উচ্চকণ্ঠ ছিলেন এবং এর সীমানা রক্ষা করতেন। ফলে এই কারণে তিনি কঠোরভাবে নির্যাতিত ও পরীক্ষিত হন। এ কারণে তাঁকে দুইবার কারাবরণ করতে হয়; প্রথমবার আঠারো মাস এবং দ্বিতীয়বার ১৩৩৯ হিজরি থেকে ১৩৪৩ হিজরি পর্যন্ত প্রায় সত্তর মাস। যখন তিনি মুক্তি পান, কারাগারের পরিবেশ এবং সূর্যের আলো না দেখার কারণে তাঁর শারীরিক অবয়ব পরিবর্তিত হয়ে গিয়েছিল।

শাইখ মুহাদ্দিস আব্দুল সাত্তার দেহলভি (মৃত্যু ১৩৫৫ হিজরি) বলেছেন: (তাঁর ওপর এক কঠোর পরীক্ষা এসেছিল, এমনকি এ কারণে তাঁকে কারারুদ্ধ করা হয়েছিল। তাঁর ওপর সেই বিপদই আপতিত হয়েছিল যা তাঁর সম্মানিত ইমাম আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন হাম্বলের ওপর এসেছিল। আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন এবং তাঁকে চিরস্থায়ী আবাস জান্নাতুল ফিরদাউসে স্থান দান করুন)(২).

অতঃপর ১৩৪৯ হিজরি সালে তিনি মসজিদুল হারামে শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হন(৩).

--------------------------------------------

(১) আব্দুল সাত্তার দেহলভি রচিত ফয়জুল মালিকিল মুতাআলি ৩/ ২০৬০।

(২) আব্দুল সাত্তার দেহলভি রচিত ফয়জুল মালিকিল মুতাআলি ৩/ ২০৬১।

আরও দেখুন: আল-মানার পত্রিকা, খণ্ড ৩১, পৃষ্ঠা ২৪০, রবিউস সানি ১৩৪৯; বিল্লা রচিত আল-জাওয়াহিরুল হিসান, পৃষ্ঠা ৫৯৬।

(৩) আব্দুল্লাহ গাজি রচিত ইফাদাতুল আনাম বি জিকর আখবার বালাদিল্লাহিল হারাম [পাণ্ডুলিপি] ৪/ ৩৬১।

(খণ্ড: ১) মুখতাসারু খুয়াইকির ফী ফিকহিল ইমাম আহমাদ (পৃষ্ঠা: ১৭)
*‌‌ شيوخه:

من مشايخ الشيخ أبي بكر خوقير(1):

- الشيخ حسين بن محسن الأنصاري اليماني المتوفى بالهند بهوبال (ت 1327 هـ)(2).

- الشيخ أحمد بن عيسى قاضي الجماعة في نجد المتوفى بها (ت 1338 هـ)(3).

--------------------------------------------

(1) وقد رتبتهم حسب ترتيب المؤلف في إجازته لمحمد راغب الطباخ كما سماهم.

(2) قال الشيخ أبو بكر خوقير: (الشيخ حسين بن محسن الأنصاري الخزرجي السعدي لقيته في سياحته بالهند في سنة 1313 هـ، وسمعتُ منه الأولية، وقرأت عليه أوائل الكتب للعلامة محمد سعيد سنبل وأجازني بها .. وكتب لي بخطّه إجازةً مطولةً محفوظةً عندي، وهي من أجلِّ غنمٍ عندي).

(3) ومما قرأ عليه المسند. قال الشيخ عبدالستار الدهلوي: (كنتُ اجتمع به [أي خوقير] كثيراً في أيام شيخنا القاضي أحمد ن إبراهيم بن عيسى حين كان مقيماً بداره وبباب السلام، وبمنزل صديقنا العلامة الهمام الشيخ محمد صالح الميمني بالشامية، وكان مقرئاً لنا حين اجتماعنا وقرائتنا لمسند الإمام ا لمبجل أحمد بن محمد بن حنبل، بحضور الأستاذ المقدّم ذكره، وغيره من أفاضل البلد الحرام).

ووقفتُ على خط الشيخ أبي بكر خُوقير على نسخة من (البلبل في أصول الفقه على مذهب الإمام أحمد للطوفي) فيها ما نصّه: (قد تمت قراءة هذه النسخة مقابلتها على .. حسب الطاقة على شيخنا علامة نجد الأمجد القدوة الأوحد الشيخ أحمد في ربيع الأول عام الثلاثمائة وإحدى عشر من هجرة خير البشر .. كتبه الحقير أبو بكر بن محمد خوقير المكي الكتبي ربيع الأول عام 1311).

তাঁর শিক্ষকবৃন্দ:

শেখ আবু বকর খুকিরের(১) উস্তাদদের মধ্যে রয়েছেন:

- শেখ হুসাইন বিন মুহসিন আল-আনসারী আল-ইয়ামানী, যিনি ভারতের ভোপালে মৃত্যুবরণ করেছেন (মৃত্যু ১৩২৭ হিজরী)(২)।

- শেখ আহমদ বিন ঈসা, নাজদে জামাআতের প্রধান বিচারপতি, যিনি সেখানেই মৃত্যুবরণ করেছেন (মৃত্যু ১৩৩৮ হিজরী)(৩)।

--------------------------------------------

(১) লেখক মুহাম্মদ রাগিব আত-তাব্বাখকে প্রদত্ত ইজাজতনামা বা অনুমতিপত্রে তাঁদের নাম যেভাবে উল্লেখ করেছেন, আমি সেই ক্রম অনুযায়ী তাঁদের সাজিয়েছি।

(২) শেখ আবু বকর খুকির বলেন: (শেখ হুসাইন বিন মুহসিন আল-আনসারী আল-খাযরাজী আস-সা’দী; ১৩১৩ হিজরীতে তাঁর ভারত ভ্রমণকালে আমি তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করেছি। আমি তাঁর নিকট থেকে ‘আল-আউয়ালিয়্যাহ’ হাদীস শ্রবণ করেছি এবং আল্লামা মুহাম্মদ সাঈদ সুনবুলের কিতাবসমূহের শুরুর অংশগুলো তাঁর নিকট পাঠ করেছি এবং তিনি আমাকে সেগুলোর ইজাজত প্রদান করেছেন... তিনি স্বহস্তে আমার জন্য একটি দীর্ঘ ইজাজতনামা লিখে দিয়েছেন যা আমার নিকট সংরক্ষিত আছে; আর এটি আমার কাছে অন্যতম শ্রেষ্ঠ অর্জন)।

(৩) আর তাঁর নিকট পঠিত কিতাবসমূহের মধ্যে ‘আল-মুসনাদ’ অন্যতম। শেখ আব্দুল সাত্তার আদ-দেহলভী বলেন: (আমি তাঁর [অর্থাৎ খুকিরের] সাথে আমাদের উস্তাদ কাযী আহমদ বিন ইব্রাহিম বিন ঈসার সময়ে প্রায়ই মিলিত হতাম, যখন তিনি তাঁর নিজ বাসভবনে, বাবুস সালামে এবং শামিয়্যাহতে আমাদের বন্ধু সুপ্রসিদ্ধ আল্লামা শেখ মুহাম্মদ সালিহ আল-মাইমানীর বাড়িতে অবস্থান করতেন। তিনি আমাদের মজলিসে পাঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন যখন আমরা একত্রিত হয়ে মহান ইমাম আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন হাম্বলের ‘মুসনাদ’ পাঠ করতাম; আর সেখানে পূর্বে উল্লেখিত উস্তাদ এবং মক্কার অন্যান্য মহৎ ব্যক্তিগণ উপস্থিত থাকতেন)।

আমি তুফি রচিত ‘আল-বুলবুল ফী উসুলিল ফিকহ আলা মাযহাবিল ইমাম আহমদ’ কিতাবের একটি পাণ্ডুলিপিতে শেখ আবু বকর খুকিরের স্বহস্তে লিখিত একটি টীকা দেখেছি, যেখানে লেখা ছিল: (সাধ্যানুযায়ী এই কপির পাঠ এবং মূলের সাথে মিলিয়ে দেখা সম্পন্ন হয়েছে... আমাদের উস্তাদ, নাজদের মহান আল্লামা এবং অদ্বিতীয় আদর্শ শেখ আহমদের নিকট; যা সম্পন্ন হয়েছে মানবজাতির শ্রেষ্ঠতম ব্যক্তিত্বের হিজরতের তেরোশত এগারো সনের রবিউল আউয়াল মাসে... এটি লিখেছেন অধম আবু বকর বিন মুহাম্মদ খুকির আল-মাক্কী আল-কুতুবী, রবিউল আউয়াল ১৩১১ সন)।

(খণ্ড: ১) মুখতাসারু খুয়াইকির ফী ফিকহিল ইমাম আহমাদ (পৃষ্ঠা: ১৮)
- الشيخ محمد نذير حسين الدهلوي عالم الهند (ت 1302 هـ).

- السيد محمد الأنصاري السهانفوري ثم المكي (ت 1308 هـ).

- الشيخ محمد بن عبد العزيز الهاشمي الجعفري (ت 1320 هـ).

- السيد أحمد بن زيني دحلان (ت 1304 هـ).

- الشيخ عبد الرحمن سراج (ت 1314 هـ).

- الشيخ يوسف البرقاوي الحنبلي (ت 1320 هـ).

وغيرهم.

وأمّا مشايخه في الفقه الحنبلي، فقال عن نفسه: (وقد لقيتُ المشايخَ الكبار من تلامذة العلامة الشيخ حسن الشطي الحنبلي، واستفدتُ منهم ومن تلامذتهم، منهم: الشيخ يوسف البرقاوي شيخ الحنابلة بمصر، والشيخ محمد الدوماني الخطيب -خطيب دوما وعالم الحنابلة بالمدينة-، والشيخ عبد الله صوفان القدومي، وغيرهم)(1).

قال الشيخ عبد الستار الدهلوي (ت 1355 هـ): (تحصل لي من ذكر مشايخ المترجَم، وعدتهم ثلاثة عشر)(2).

--------------------------------------------

(1) فيض الملك المتعالي 3/ 2060.

(2) فيض الملك المتعالي لعبد الستار الدهلوي 3/ 2060.

- শাইখ মুহাম্মাদ নাযীর হুসাইন দেহলভী, ভারতের আলিম (মৃত্যু ১৩০২ হি.)।

- সাইয়্যিদ মুহাম্মাদ আল-আনসারী আস-সাহানফুরী, অতঃপর আল-মাক্কী (মৃত্যু ১৩০৮ হি.)।

- শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল আযীয আল-হাশিমি আল-জাফারি (মৃত্যু ১৩২০ হি.)।

- সাইয়্যিদ আহমাদ বিন যাইনী দাহলান (মৃত্যু ১৩০৪ হি.)।

- শাইখ আব্দুর রহমান সিরাজ (মৃত্যু ১৩১৪ হি.)।

- শাইখ ইউসুফ আল-বারকাভী আল-হাম্বলী (মৃত্যু ১৩২০ হি.)।

এবং অন্যান্যরা।

আর হাম্বলী ফিকহে তাঁর শাইখগণের ব্যাপারে তিনি নিজের সম্পর্কে বলেন: (আমি আল্লামা শাইখ হাসান আশ-শাত্তি আল-হাম্বলীর ছাত্রদের মধ্য থেকে বড় বড় শাইখদের সাথে সাক্ষাৎ করেছি এবং তাঁদের ও তাঁদের ছাত্রদের থেকে উপকৃত হয়েছি; তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: মিশরের হাম্বলীদের শাইখ ইউসুফ আল-বারকাভী, শাইখ মুহাম্মাদ আদ-দুমানী আল-খাতীব -দুমা’র খতীব এবং মদীনায় হাম্বলীদের আলিম-, শাইখ আব্দুল্লাহ সূফান আল-কুদ্দূমী এবং অন্যান্যরা)(১)।

শাইখ আব্দুস সাত্তার দেহলভী (মৃত্যু ১৩৫৫ হি.) বলেন: (জীবনীকারের শাইখগণের আলোচনা থেকে আমি জানতে পেরেছি যে, তাঁদের সংখ্যা তেরোজন)(২)।

--------------------------------------------

(১) ফায়যুল মালিকিল মুতাআলী ৩/ ২০৬০।

(২) আব্দুস সাত্তার দেহলভী রচিত ফায়যুল মালিকিল মুতাআলী ৩/ ২০৬০।

(খণ্ড: ১) মুখতাসারু খুয়াইকির ফী ফিকহিল ইমাম আহমাদ (পৃষ্ঠা: ১৯)
*‌‌ وظائفه:

ولي المترجَم إفتاء الحنابلة بمكة فترة يسيرة جداً، فذكر في (نشر النور والزهر): في سنة ست وعشرين وثلاثمائة وألف، ولَّي الشريف حسين الشيخَ أبا بكر خوقير إفتاء المذهب الحنبلي، ثم بعد يومين عزله(1).

كما أَمَّ بالمسجد الحرام، ودرّس بالمسجد الحرام في فترات متعددة(2).

وصدر أمر الملك عبد العزيز بتعيينه مدرساً بالحرم المكي ونشر ذلك في جريدة (أم القرى) العدد 292 بتاريخ الجمعة الموافق 15/ 2/ 1349 هـ.

 

*‌‌ مؤلفاته:

من مؤلفات المترجَم:

-التحقيق فيما ينسب لأهل الطريق.

-ثبت الأثبات الشهيرة(3).

--------------------------------------------

(1) نشر النور والزهر لميرداد ص 870، وعنه عبد الله غازي في (نظم الدرر ص 387).

(2) نظم الدرر لعبد الله غازي ص 527.

(3) وقد روى هذا الثبت عنه إجازة عدد من الأعلام ومنهم: الشيخ حسن الفقيه من أهل جدة، والشيخ محمد راغب الطباخ (كما في ثبته ص 610 ط: دار البشائر).

‌ তাঁর দায়িত্বসমূহ:

আলোচ্য ব্যক্তিত্ব মক্কায় হাম্বলি মাযহাবের মুফতি হিসেবে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য দায়িত্ব পালন করেন। ‘নাশরুন নূর ওয়াজ জাহর’ গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে: ১৩২৬ হিজরি সালে শরীফ হুসাইন শেখ আবু বকর খুগিরকে হাম্বলি মাযহাবের ফতোয়া প্রদানের দায়িত্ব প্রদান করেন, কিন্তু দুদিন পরেই তাঁকে উক্ত পদ থেকে অব্যাহতি দেন(১)।

তিনি মসজিদুল হারামে ইমামতি করেছেন এবং বিভিন্ন সময়ে সেখানে পাঠদান করেছেন(২)।

বাদশাহ আব্দুল আজিজ তাঁকে মসজিদুল হারামের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের আদেশ জারি করেন এবং তা ১৩৪৯ হিজরি সনের ১৫ই সফর, শুক্রবার ‘উম্মুল কুরা’ পত্রিকার ২৯২ নম্বর সংখ্যায় প্রকাশিত হয়।

 

*‌‌ তাঁর রচনাবলি:

আলোচ্য ব্যক্তির রচনাবলির মধ্যে রয়েছে:

-আত-তাহকীক ফিমা ইউনসাব লি-আহলিত তরিক।

-সাবাতুল আসবাত আশ-শাহীরাহ(৩)।

--------------------------------------------

(১) মীরদাদ রচিত নাশরুন নূর ওয়াজ জাহর, পৃষ্ঠা ৮৭০; এবং তাঁর সূত্র ধরে আব্দুল্লাহ গাজী ‘নাযমুদ দুরার’ (পৃষ্ঠা ৩৮৭) গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন।

(২) আব্দুল্লাহ গাজী রচিত নাযমুদ দুরার, পৃষ্ঠা ৫২৭।

(৩) বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট আলেম তাঁর থেকে এই ‘সাবাত’টি (সনদ সংকলন) ইজাযত হিসেবে বর্ণনা করেছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: জেদ্দার অধিবাসী শেখ হাসান ফকিহ এবং শেখ মুহাম্মদ রাগিব আত-তাব্বাখ (যেমনটি তাঁর নিজস্ব সাবাতের ৬১০ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে, প্রকাশনী: দারুল বাশাইর)।

(খণ্ড: ১) মুখতাসারু খুয়াইকির ফী ফিকহিল ইমাম আহমাদ (পৃষ্ঠা: ২০)
-حسن الاتصال بفصل المقال في الرد على بابصيل وكمال.

-السجن والمسجونون.

-فصل المقال وإرشاد الضال في توسل الجهال.

-ما لابد منه في أمور الدين على طريقة السلف الصالح.

-ما لا غنى عنه شرح ما لابد منه.

-ما لا يسع المكلف جهله.

-مختصر في الفقه على مذهب الإمام أحمد.

-مسامرة الضيف بمفاخرة الشتاء والصيف.

 

‌‌وفاته:

توفي الشيخ أبو بكر في الطائف في يوم الجمعة غرة ربيع الأول سنة 1349 هـ.
-বাবসিল ও কামালের খণ্ডনে চূড়ান্ত ফয়সালার উত্তম সংযোগ।

-কারাগার ও কারাবন্দীবৃন্দ।

-মূর্খদের উসিলা তালাশ করার ক্ষেত্রে পথভ্রষ্টদের হেদায়েত ও চূড়ান্ত মীমাংসা।

-সালাফে সালেহীনের তরীকা অনুযায়ী দ্বীনের অত্যাবশ্যকীয় বিষয়াবলী।

-যা না হলেই নয়: অত্যাবশ্যকীয় বিষয়াবলীর ব্যাখ্যা।

-মুকাল্লাফ ব্যক্তির জন্য যা না জানা ক্ষমার অযোগ্য।

-ইমাম আহমদের মাযহাব অনুযায়ী ফিকহ শাস্ত্রের সংক্ষিপ্তসার।

-শীত ও গ্রীষ্মের শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনার মাধ্যমে অতিথির সাথে কথোপকথন।

 

‌‌তাঁর মৃত্যু:

শায়খ আবু বকর ১৩৪৯ হিজরি সালের রবিউল আউয়াল মাসের প্রথম দিন শুক্রবার তায়েফে ইন্তেকাল করেন।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু খুয়াইকির ফী ফিকহিল ইমাম আহমাদ (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌ترجمة المحرر الشيخ محمد بن حمد بن راشد (1)

*‌‌ اسمه ونسبه:

هو الشيخ محمد بن حمد بن راشد بن عبيد بن علي بن حسين بن راشد بن رشيد بن مسعود الهزاني(2).

--------------------------------------------

(1) ترجمته في كتاب (شقراء) للدكتور محمد بن سعد الشويعر صـ 143 ط 1. كما استفدت شيئاً من بعض ذريته، ومن أدركه وأخذ عنه.

والشيخ محمد ابن راشد هو عم والدتي نورة بنت عبد العزيز بن عبد الله بن حمد الراشد.

(2) قال الشيخ حمد الجاسر: (ومن الهزازنة: فرع يعرف بآل راشد، فقد رأيتُ ورقةً لدى الشيخ محمد بن حمد بن راشد، الذي كان موظفاً في المعارف في مكة، ثم واعظاً في الحرس الوطني حتى توفي سنة 1398 وهو من الهزازنة، وفي تلك الورقة:

(الهزازنة: آل راشد بن رشيد بن مسعود الهزاني ومن آل راشد: آل عبيد الله بن حسين، وآل زيد بن رشيد، وآل إبراهيم، ثم آل حسين بن هلال، ثم آل عبيد بن علي).

وفيها نسب الشيخ على النحو المذكور على هذا النحو:

محمد بن حمد بن راشد بن عبيد بن علي بن حسين بن راشد بن رشيد بن مسعود الهزاني، من البدور من عنزة) [جمهرة أنساب الأسر المتحضرة في نجد حمد الجاسر 1/ 263].

وقال أيضاً: (الهزازنة: من آل جلاس، من وايل على ما حدثني الشيخ محمد، وأطلعني على ورقة من أمير الحريق الهزاني سنة 1353 هـ).

সম্পাদক শেখ মুহাম্মাদ বিন হামাদ বিন রাশিদ-এর জীবনী(১)

*‌‌ তাঁর নাম ও বংশপরিচয়:

তিনি হলেন শেখ মুহাম্মাদ বিন হামাদ বিন রাশিদ বিন উবাইদ বিন আলী বিন হুসাইন বিন রাশিদ বিন রুশাইদ বিন মাসউদ আল-হাজ্জানি(২).

--------------------------------------------

(১) ডক্টর মুহাম্মাদ বিন সাদ আশ-শুওয়াইর রচিত ‘শাকরা’ গ্রন্থের ১৪৩ পৃষ্ঠায় (১ম সংস্করণ) তাঁর জীবনী বর্ণিত হয়েছে। এছাড়া আমি তাঁর কিছু বংশধর এবং যারা তাঁকে পেয়েছিলেন ও তাঁর নিকট থেকে ইলম হাসিল করেছিলেন, তাদের থেকেও কিছু তথ্য লাভ করেছি।

আর শেখ মুহাম্মাদ ইবনে রাশিদ হলেন আমার মাতা নূরা বিনতে আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন হামাদ আর-রাশিদের চাচা।

(২) শেখ হামাদ আল-জাসির বলেন: (হাজ্জানি গোত্রের একটি শাখা ‘আল-রাশিদ’ নামে পরিচিত। আমি শেখ মুহাম্মাদ বিন হামাদ বিন রাশিদের নিকট একটি কাগজ দেখেছিলাম; তিনি মক্কায় শিক্ষা বিভাগে কর্মরত ছিলেন, অতঃপর ১৩৯৮ হিজরিতে ইন্তেকাল করা পর্যন্ত ন্যাশনাল গার্ডের একজন ওয়ায়েজ (উপদেশক) ছিলেন। তিনি হাজ্জানি গোত্রভুক্ত ছিলেন। সেই কাগজে লিখিত ছিল:

হাজ্জানি: আল-রাশিদ বিন রুশাইদ বিন মাসউদ আল-হাজ্জানি। আর আল-রাশিদ গোত্রের অন্তর্ভুক্ত হলো: আল-উবাইদুল্লাহ বিন হুসাইন, আল-জাইদ বিন রুশাইদ, আল-ইব্রাহিম, এরপর আল-হুসাইন বিন হিলাল, এরপর আল-উবাইদ বিন আলী।

তাতে শেখের বংশপরিচয় নিম্নোক্তভাবে উল্লেখ করা হয়েছে:

মুহাম্মাদ বিন হামাদ বিন রাশিদ বিন উবাইদ বিন আলী বিন হুসাইন বিন রাশিদ বিন রুশাইদ বিন মাসউদ আল-হাজ্জানি, তিনি আনাযা গোত্রের বিদূর শাখাভুক্ত) [হামাদ আল-জাসির, জামহারাতু আনসাবিল উসারিল মুতাহাদদিরা ফি নাজদ ১/২৬৩]।

তিনি আরও বলেন: (হাজ্জানিগণ আল-জালাস ও ওয়াইল বংশোদ্ভূত, যেমনটি শেখ মুহাম্মাদ আমাকে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি আমাকে ১৩৫৩ হিজরি সালের আল-হারিকের আমীর আল-হাজ্জানির একটি কাগজ দেখিয়েছেন)।

(খণ্ড: ১) মুখতাসারু খুয়াইকির ফী ফিকহিল ইমাম আহমাদ (পৃষ্ঠা: ২২)
*‌‌ مولده:

ولد في (شقراء) أحد حواضر وسط الجزيرة العربية (نجد) في حدود سنة (1308 هـ).

 

*‌‌ طلبه للعلم، والأعمال التي تقلدها:

تَعلَّمَ أوَّلاً في بلدِه حيث كانت آهلَةً بأهل العلم وطلبتِه في ذلك الوقت.

ثم انتقل بعد ذلك إلى مكة المكرمة مجاوراً قبل سنة 1340 هـ، واشتغل هناك بالتجارة مع طلب العلم، وحضر على الشيوخ المكيين في الحرم وغيره.

ثم عمل بعد دخول الملك عبد العزيز رحمه الله الحجاز سنة 1344 هـ بالتدريس في المدارس الأميرية (أي الحكومية) والتفتيش فيها(1)؛ كما اشتغل بالوعظ والتدريس في المسجد الحرام.

وفي صفر سنة 1348 هـ صدرَ أمرٌ من الملك عبد العزيز بتشكيل هيئة التدريس والمراقبة في الحرم المكي، وعُيِّن الشيخ محمد ابن راشد مراقباً للدروس(2).

--------------------------------------------

(1) على غلاف كتاب (مختصر خُوقير): (طبع على نفقة الشيخ محمد بن حمد بن راشد المفتش في المدارس الأميرية والأهلية بمكة المكرمة سنة 1349 هـ).

(2) إفادة الأنام بذكر أخبار بلد الله الحرام، لعبد الله غازي [مخطوط] 4/ 348.

*‌‌ তাঁর জন্ম:

তিনি আনুমানিক ১৩০৮ হিজরি সনে মধ্য আরব উপদ্বীপের (নজদ) অন্যতম নগরী (শাকরা)-তে জন্মগ্রহণ করেন।

 

*‌‌ তাঁর জ্ঞানার্জন এবং তাঁর অধিষ্ঠিত পদসমূহ:

তিনি প্রথমে তাঁর নিজ শহরে শিক্ষা গ্রহণ করেন, কেননা সে সময় তা আলেম ও ইলম অন্বেষণকারীদের দ্বারা মুখরিত ছিল।

এরপর তিনি ১৩৪০ হিজরি সনের পূর্বে মক্কা মুকাররমায় বসতি স্থাপন করেন এবং সেখানে জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি ব্যবসার সাথে জড়িত হন। তিনি মসজিদে হারাম এবং অন্যান্য স্থানে মক্কার শায়খদের নিকট পাঠ গ্রহণ করেন।

অতঃপর ১৩৪৪ হিজরিতে বাদশাহ আবদুল আজিজ (রহিমাহুল্লাহ) হিজাজে প্রবেশের পর, তিনি আমিরি (অর্থাৎ সরকারি) বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকতা ও পরিদর্শনের কাজ করেন(১); পাশাপাশি তিনি মসজিদে হারামে ওয়াজ ও শিক্ষকতায় নিয়োজিত ছিলেন।

এবং ১৩৪৮ হিজরির সফর মাসে বাদশাহ আবদুল আজিজের পক্ষ থেকে মসজিদুল হারামে 'শিক্ষাদান ও পর্যবেক্ষণ পর্ষদ' গঠনের নির্দেশ জারি করা হয় এবং শেখ মুহাম্মদ ইবনে রাশিদকে পাঠদান পর্যবেক্ষণকারী হিসেবে নিযুক্ত করা হয়(২)।

--------------------------------------------

(১) 'মুখতাসার খুখির' বইয়ের প্রচ্ছদে রয়েছে: (মক্কা মুকাররমার সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়সমূহের পরিদর্শক শেখ মুহাম্মদ বিন হামাদ বিন রাশিদের অর্থায়নে ১৩৪৯ হিজরি সনে মুদ্রিত)।

(২) ইফাদাতুল আনাম বি জিকর আখবার বালাদিল্লাহিল হারাম, লেখক: আবদুল্লাহ গাজী [পাণ্ডুলিপি] ৪/ ৩৪৮।

(খণ্ড: ১) মুখতাসারু খুয়াইকির ফী ফিকহিল ইমাম আহমাদ (পৃষ্ঠা: ২৩)
عَرَضَ عليه الملكُ عبدُ العزيز القضاءَ، فامتَنَع وتعلَّل بحِدَّةِ طبعه وسرعةِ غضبه، فألزمه الملكُ به حتى شفع فيه الأمير عبد الله بن عبد الرحمن عند أخيه الملك عبد العزيز.

تقلَّبَ بعد ذلك في وظائف التدريس في المدارس الأميرية، ومدرسة الفلاح، والمعهد السعودي في مكة، مع الوعظ في المسجد الحرام.

كما كانت له جهودٌ في الدعوة إلى الله في الهجر والحواضر وله قصصٌ كثيرةٌ تتعلق بذلك، ثم عمل أخيراً مُرشداً دينياً لمنسوبي الحرس الوطني.

 

*‌‌ مشايخه:

تتلمذ المترجَمُ على عدد من أهل العلم، منهم:

الشيخ إبراهيم بن عبد اللطيف الباهلي قاضي الوشم (ت 1352 هـ).

والشيخ أبو بكر خوقير (ت 1349 هـ). وغيرهم.

والشيخ محمد بن عبد اللطيف آل الشيخ (ت 1367 هـ)(1).

--------------------------------------------

(1) وجدتُ على غلاف نسخة من كتاب (سيرة عُمر بن عبد العزيز لابن عبدالحكم)، بخط الشيخ محمد ابن راشد ما نصّه: (هدية من الابن محمد بن حمد بن راشد لشيخنا وحبيبنا الشيخ محمد بن عبد اللطيف بن عبد الرحمن آل الشيخ 19/ 1/ 53). ينظر: التقييدات النجدية لعبد المحسن آل الشيخ ص 112.

বাদশা আব্দুল আজিজ তাঁকে বিচারকের পদের প্রস্তাব দেন, কিন্তু তিনি স্বীয় মেজাজের উগ্রতা ও দ্রুত রাগান্বিত হওয়ার অজুহাত দেখিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেন। ফলে বাদশা তাঁকে উক্ত পদে নিয়োগে অনড় থাকেন, পরিশেষে আমির আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান তাঁর ভাই বাদশা আব্দুল আজিজের নিকট তাঁর জন্য সুপারিশ করেন।

এরপর তিনি পর্যায়ক্রমে আমিরিয়া স্কুলসমূহ, মাদরাসা আল-ফালাহ এবং মক্কার আল-মা'হাদ আস-সাউদি-তে শিক্ষকতার দায়িত্ব পালন করেন, সেই সাথে মসজিদে হারামে ওয়াজ-নসিহত প্রদান করতেন।

পাশাপাশি মরু জনপদ ও শহরগুলোতে আল্লাহর পথে দাওয়াতের ক্ষেত্রেও তাঁর ব্যাপক প্রচেষ্টা ছিল এবং এ সংক্রান্ত তাঁর বহু ঘটনা রয়েছে। সর্বশেষ তিনি ন্যাশনাল গার্ডের সদস্যদের ধর্মীয় উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

 

*‌‌ তাঁর উস্তাদগণ:

আলোচ্য ব্যক্তিত্ব বেশ কয়েকজন বিজ্ঞ আলেমের নিকট শিক্ষালাভ করেছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন:

শায়খ ইব্রাহিম ইবনে আব্দুল লতিফ আল-বাহেলি, আল-ওয়াশমের কাজী (মৃত্যু ১৩৫২ হি.)।

এবং শায়খ আবু বকর খুয়াইকির (মৃত্যু ১৩৪৯ হি.) ও অন্যান্য।

এবং শায়খ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল লতিফ আলুশ শায়খ (মৃত্যু ১৩৬৭ হি.)(১)।

--------------------------------------------

(১) আমি ইবনে আব্দুল হাকাম রচিত (সিরাত উমর ইবনে আব্দুল আজিজ) গ্রন্থের একটি পাণ্ডুলিপির প্রচ্ছদে শায়খ মুহাম্মদ ইবনে রশিদের হস্তাক্ষরে লিখিত এই ভাষ্যটি পেয়েছি: (সন্তান মুহাম্মদ ইবনে হামাদ ইবনে রশিদের পক্ষ থেকে আমাদের শায়খ ও প্রিয় ব্যক্তিত্ব শায়খ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল লতিফ ইবনে আব্দুর রহমান আলুশ শায়খের জন্য উপহার ১৯/১/৫৩)। দ্রষ্টব্য: আব্দুল মুহসিন আলুশ শায়খ রচিত আত-তাকয়িদাতুন নাজদিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ১১২।

(খণ্ড: ১) মুখতাসারু খুয়াইকির ফী ফিকহিল ইমাম আহমাদ (পৃষ্ঠা: ২৪)
الشيخ عمر بن محمد ابن سِليم (ت 1362 هـ)(1).

 

*‌‌ تلاميذه:

للشيخ عدد من التلاميذ، ومِنهم:

الشيخ حمد بن ناصر ابن راشد (ت 1422 هـ) عضو هيئة كبار العلماء، ورئيس ديوان المظالم، ورئيس شؤون الحرمين، وتعليم البنات وغيرها.

وقد كان الشيخ حمد يذكر أنّه لازم المترجَم وانتفع به، وسافر معه في الدعوة إلى الله، وكان يذكر فضلَه وتعليمَه إياه، وكثيراً من أخباره.

 

*‌‌ مؤلفاته:

لم يؤلِّف المترجَم سوى كتاباً واحداً في الأدعية.

إضافةً لمشاركته في تحرير مختصر في الفقه لشيخه أبي بكر خوقير.

--------------------------------------------

(1) على غلاف نسخة من كتاب (مختصر خُوقير)، بخط الشيخ محمد ابن راشد ما نصّه: (هدية لشيخنا وحبيبنا الشيخ المكرّم عمر بن محمد بن سليم من ابنه محمد بن حمد بن راشد 11/ 10/ 49). ينظر الصورة المرفقة.

শেখ উমর ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে সালীম (মৃত্যু ১৩৬২ হিজরি)(১)।

 

*‌‌ তাঁর ছাত্রবৃন্দ:

শেখ-এর অনেক ছাত্র ছিল, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন:

শেখ হামাদ বিন নাসির ইবনে রাশিদ (মৃত্যু ১৪২২ হিজরি), যিনি জ্যেষ্ঠ উলামা পরিষদের সদস্য, দিওয়ানুল মাজালিম-এর প্রধান, হারামাইন শরীফাইন বিষয়ক প্রধান, নারী শিক্ষা এবং অন্যান্য দপ্তরের প্রধান ছিলেন।

শেখ হামাদ উল্লেখ করতেন যে, তিনি উক্ত জীবনীলব্ধ ব্যক্তিত্বের সান্নিধ্যে দীর্ঘকাল অতিবাহিত করেছেন এবং তাঁর নিকট থেকে উপকৃত হয়েছেন। তিনি তাঁর সাথে আল্লাহর পথে দাওয়াতি কাজে সফর করেছেন এবং তিনি তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব, তাঁকে প্রদানকৃত শিক্ষা এবং তাঁর জীবনের অনেক সংবাদ বর্ণনা করতেন।

 

*‌‌ তাঁর রচনাবলি:

উক্ত জীবনীলব্ধ ব্যক্তি দুআ বিষয়ক একটি মাত্র গ্রন্থ ব্যতীত অন্য কিছু রচনা করেননি।

এর পাশাপাশি তিনি তাঁর উস্তাদ আবু বকর খুওয়াইকিরের ফিকহ শাস্ত্রীয় একটি সংক্ষিপ্তসার (মুখতাসার) সম্পাদনায় অংশগ্রহণ করেছিলেন।

--------------------------------------------

(১) ‘মুখতাসার খুওয়াইকির’ গ্রন্থের একটি কপির মলাটের উপর শেখ মুহাম্মাদ ইবনে রাশিদ-এর নিজ হাতের লেখায় যা বর্ণিত হয়েছে তার ভাষ্য নিম্নরূপ: (আমাদের শাইখ এবং প্রিয় ব্যক্তিত্ব সম্মানিত শাইখ উমর বিন মুহাম্মাদ বিন সালীম-এর জন্য তাঁর পুত্র মুহাম্মাদ বিন হামাদ বিন রাশিদ-এর পক্ষ থেকে উপহার, ১১/ ১০/ ৪৯)। সংযুক্ত ছবিটি দেখুন।

(খণ্ড: ১) মুখতাসারু খুয়াইকির ফী ফিকহিল ইমাম আহমাদ (পৃষ্ঠা: ২৫)
*‌‌ وفاته:

توفي رحمه الله تعالى في الرياض في عام 1398 هـ، وقد لزم في آخر حياته القرآن قراءةً وتدبراً، وخلّفاً ولداً اسمه خالد توفي بعده ولم يعقّب.
তাঁর মৃত্যু:

আল্লাহ তা'আলা তাঁর ওপর রহম করুন, তিনি ১৩৯৮ হিজরি সালে রিয়াদে ইন্তেকাল করেন। জীবনের শেষ সময়ে তিনি কুরআন পাঠ এবং তা নিয়ে গভীর চিন্তাভাবনায় নিমগ্ন ছিলেন। তিনি খালেদ নামে এক পুত্র সন্তান রেখে যান, যে তাঁর মৃত্যুর পর ইন্তেকাল করে এবং তার কোনো উত্তরসূরি ছিল না।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু খুয়াইকির ফী ফিকহিল ইমাম আহমাদ (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌ثالثاً/ عملي في الكتاب والنسخ التي اعتمدتها في إخراجه:

طبع هذا الكتاب سنة (1349 هـ) بمطبعة إدارة الطباعة المنيرية بالقاهرة على نفقة محرره الشيخ محمد بن حمد بن راشد، وقد طُبع منه عددٌ قليلٌ من النسخ؛ لذلك لم يكن له نصيبٌ كبيرٌ من الانتشار حتى إن بعضاً من كبار أهل العلم في بلادنا ممن له عناية بكتب المذهب لم يرَ هذا الكتاب؛ كما سمعته من بعضهم، وقاله آخرون في بعض مؤلفاتهم(1).

وقد بحثتُ عن أصل مخطوط لهذا المختصر في المكتبات الشخصية التي هي مظنة وجود (كمكتبة الشيخ محمد بن حمد ابن راشد) وغيرها فلم أصل لخبرٍ، وإن كنت أظنُّ أن الأصل قد ذهبَ إلى مصر للطباعة ولم يَعد؛ كما هي العادة في ذلك الوقت، فاستعنتُ الله بالاعتماد على المطبوع وحده.

وقد يسّر الله تعالى الوقوف على نسخٍ من الطبعة الأولى، وعليها تصويباتٌ بقلمٍ محرر الكتاب الشيخ محمد ابن راشد، وهي:

1/ نسخة أهداها بتاريخ 28/ 10/ 1349 هـ، للشيخ محمد ماجد كردي (ت في ذي الحجة 1349 هـ)(2).

--------------------------------------------

(1) ينظر: المدخل المفصل 2/ 681.

(2) الشيخ محمد ماجد بن صالح كردي رحمه الله صاحب (المطبعة الماجدية) بمكة المكرمة، كان يملك مكتبةً كبيرةً من المخطوطات والمطبوعات، وكانت تُسمّى (الماجدية) وقد ذُكر: إنها أكبر مكتبة خاصة في وقته، وقد صدرت مراسلات بين الشيخ محمد بن عبد العزيز ابن مانع حينما كان رئيساً لهيئة تمييز الأحكام الشرعية بمكة في عام 1362 لنائب الملك في الحجاز الأمير فيصل، بخصوص شراء المكتبة. ينظر: كتاب (من مشاهير علمائنا؛ للوالد د. محمد الشويعر ص 133).

ثم أُوقفت المكتبة بعد شرائها في مكتبة مكة المكرمة التابعة لوزارة الشئون الإسلامية الكائنة بشعب بني هاشم، ومنها صوّرتُ هذه النسخة.

তৃতীয়ত/ গ্রন্থটিতে আমার কর্মপদ্ধতি এবং এটি সম্পাদনায় আমি যে সকল কপির ওপর নির্ভর করেছি:

এই গ্রন্থটি ১৩৪৯ হিজরি সনে কায়রোর ইদারাতুত তিবায়াহ আল-মুনিরিয়্যাহ প্রেসে এর সম্পাদক শেখ মুহাম্মদ বিন হামাদ বিন রাশিদ-এর অর্থায়নে মুদ্রিত হয়েছিল। এর খুব অল্প সংখ্যক কপি মুদ্রিত হয়েছিল; ফলে এটি ব্যাপকভাবে প্রচারিত হওয়ার সুযোগ পায়নি, এমনকি আমাদের দেশের মাযহাবের কিতাবসমূহের প্রতি অনুরাগী বড় আলেমদের কেউ কেউ এই গ্রন্থটি দেখেননি; যেমনটি আমি তাদের কয়েকজনের কাছ থেকে শুনেছি এবং অন্যরাও তাদের কিছু রচনায় তা উল্লেখ করেছেন(১)।

আমি এই সংক্ষিপ্তসারটির মূল পাণ্ডুলিপির সন্ধানে ব্যক্তিগত লাইব্রেরিগুলোতে তল্লাশি চালিয়েছি যেখানে তা থাকার সম্ভাবনা ছিল (যেমন শেখ মুহাম্মদ বিন হামাদ ইবনে রাশিদ-এর লাইব্রেরি) এবং অন্যান্য স্থানে, কিন্তু কোনো হদিস পাইনি। যদিও আমার ধারণা যে, পাণ্ডুলিপিটি মুদ্রণের জন্য মিশরে পাঠানো হয়েছিল এবং আর ফিরে আসেনি; যেমনটি সেই সময়ে সচরাচর ঘটত। তাই আমি আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করে কেবল মুদ্রিত কপির ওপরই নির্ভর করেছি।

আল্লাহ তাআলা প্রথম মুদ্রণের কিছু কপি খুঁজে পাওয়া সহজ করে দিয়েছেন, যেগুলোতে গ্রন্থের সম্পাদক শেখ মুহাম্মদ ইবনে রাশিদ-এর কলমে কিছু সংশোধন রয়েছে, সেগুলো হলো:

১/ একটি কপি যা তিনি ২৮/ ১০/ ১৩৪৯ হিজরি তারিখে শেখ মুহাম্মদ মাজেদ কুর্দি (মৃত্যু ১৩৪৯ হিজরির জিলহজ মাসে)-কে উপহার দিয়েছিলেন(২)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-মাদখাল আল-মুফাসসাল ২/ ৬৮১।

(২) মক্কার (আল-মাতবাআহ আল-মাজেদিয়্যাহ)-এর স্বত্বাধিকারী শেখ মুহাম্মদ মাজেদ বিন সালেহ কুর্দি (রহিমাহুল্লাহ)। তাঁর পাণ্ডুলিপি ও মুদ্রিত কিতাবের এক বিশাল লাইব্রেরি ছিল, যার নাম ছিল (আল-মাজেদিয়্যাহ)। বলা হয়ে থাকে যে, এটি তাঁর সময়ের সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত লাইব্রেরি ছিল। ১৩৬২ হিজরিতে মক্কার হাইআতু তামিযিল আহকাম আশ-শারইয়্যাহ-এর প্রধান থাকাকালীন শেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ ইবনে মানি' এবং হিজাজে বাদশাহর প্রতিনিধি আমির ফয়সালের মধ্যে এই লাইব্রেরিটি ক্রয়ের ব্যাপারে পত্রবিনিময় হয়েছিল। দেখুন: (মিন মাশাহিরি উলামাইনা; লেখক: আমার পিতা ড. মুহাম্মদ আশ-শুয়াইর পৃষ্ঠা ১৩৩)।

অতঃপর লাইব্রেরিটি ক্রয়ের পর সেটি বনু হাশেম উপত্যকায় অবস্থিত ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ মক্কা মুকাররমা লাইব্রেরিতে ওয়াকফ করে দেওয়া হয় এবং সেখান থেকেই আমি এই কপিটির অনুলিপি সংগ্রহ করেছি।

(খণ্ড: ১) মুখতাসারু খুয়াইকির ফী ফিকহিল ইমাম আহমাদ (পৃষ্ঠা: ২৭)
2/ نسخة أهداها بتاريخ 11/ 10/ 1349 هـ، للشيخ عُمر ابن سليم (ت 1362 هـ)، وهي من مَوقُوفات مكتبة الجامع الكبير ببريدة، ثم أُلحقت بالمكتبة العامة حالياً.

وفي كليهما تصحيحات وتصويبات للمطبوع بقلم الشيخ محمد ابن راشد، وقد رمزتُ لما في الأولى بـ (ك)، وللثانية بـ (س).

- كما أني استفدتُ في إخراج النصِّ في هذه الطبعة(1) من تقييداتٍ وتعليقات لشيخين جليلين وفقيهين عَالمين كبيرين كنتُ قد أهديتُهما الكتابَ بطبعته الأولى، فقاما بقراءته وتصحيحه خلال فترة قصيرة، وهما الشيخ عبد الله ابن عقيل (ت 1432 هـ)، والشيخ عبد الله ابن جبرين (ت 1430 هـ) -رحمهما الله تعالى-، فجزاهما الله خير الجزاء عني وعن باقي طلبتهما، فإن لهما من الأفضالِ والسماحةِ في بذل العلم ما يعرفه كُلُّ مَنْ التقى بهما

--------------------------------------------

(1) كنتُ أخرجتُ الطبعة الأولى عام 1424 هـ.

২/ একটি পাণ্ডুলিপি যা ১১/১০/১৩৪৯ হি. তারিখে শায়খ উমর ইবনে সুলাইমকে (মৃত্যু ১৩৬২ হি.) উপহার দেওয়া হয়েছিল। এটি বুরাইদাহর বড় মসজিদের পাঠাগারের ওয়াকফকৃত পাণ্ডুলিপিসমূহের অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা বর্তমানে পাবলিক লাইব্রেরির সাথে যুক্ত করা হয়েছে।

আর এই উভয় কপিতেই শায়খ মুহাম্মদ ইবনে রাশিদের কলমে মুদ্রিত পাঠ্যের ওপর বিভিন্ন সংশোধন ও পরিমার্জন রয়েছে। আমি প্রথমটিকে (কাফ) এবং দ্বিতীয়টিকে (সিন) প্রতীক দ্বারা চিহ্নিত করেছি।

- এছাড়াও আমি এই সংস্করণের(১) পাঠ্য উপস্থাপনে দুই মহান শায়খ এবং দুই প্রথিতযশা ফকিহ ও বড় আলেম মহোদয়ের টীকা ও মন্তব্য থেকে উপকৃত হয়েছি, যাদের আমি বইটির প্রথম সংস্করণ উপহার দিয়েছিলাম। তাঁরা খুব অল্প সময়ের মধ্যে এটি পাঠ ও সংশোধন করেছেন। তাঁরা হলেন শায়খ আব্দুল্লাহ ইবনে আকিল (মৃত্যু ১৪৩২ হি.) এবং শায়খ আব্দুল্লাহ ইবনে জিবরীন (মৃত্যু ১৪৩০ হি.)—আল্লাহ তাআলা তাঁদের প্রতি রহম করুন। আল্লাহ তাঁদেরকে আমার পক্ষ থেকে এবং তাঁদের বাকি ছাত্রদের পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন। জ্ঞান বিতরণে তাঁদের যে অনুগ্রহ ও উদারতা ছিল, তা তাঁদের সান্নিধ্যপ্রাপ্ত প্রত্যেকেই অবগত।

--------------------------------------------

(১) আমি ১৪২৪ হিজরি সালে প্রথম সংস্করণটি প্রকাশ করেছিলাম।

(খণ্ড: ১) মুখতাসারু খুয়াইকির ফী ফিকহিল ইমাম আহমাদ (পৃষ্ঠা: ২৮)
واستفادَ منهما.

وقد أثبتُّ ما رأيتُ مناسبتَه من تصويباتِ الشيخ ابن عقيل برمز (ع)، وتصويبات الشيخ ابن جبرين بـ (ج)، وأمّا تعليقاتهما الفقهية فلم أثبتها لأنّها تخرُجُ عن مَقصودِ التَّحقيق.

* وقد كان عملي في الكتاب ما يلي:

- إخراج الكتاب كما وضعه المؤلف، مع ضبطه التام بالشَّكْل، ووضع علامات الترقيم.

- تعديل الأخطاء الطباعية التي وقعت في الطبعة الأولى، مع الإشارة لكُل تعديل أُورده في الهامش.

- أضفتُ التعديلات التي أوردها الشيخ محمد ابن راشد بخطّه على النسختين السابقتين.

- أضفتُ عدداً من التعديلات التي أثبتها الشيخ ابن عقيل في نسخته.

- التعليق على بعض المواضع المشكلة، مع محاولة الإقلال والاختصار قدر الإمكان لكي لا يخرج هذا الكتاب القصد الذي وضع له وسُمِّي به.
এবং সেই উভয়টি থেকে উপকৃত হওয়া হয়েছে।

আমি শাইখ ইবনে আকীলের সংশোধনীগুলোর মধ্য থেকে যেগুলোকে উপযুক্ত মনে করেছি তা (ع) প্রতীকের মাধ্যমে এবং শাইখ ইবনে জিবরীনের সংশোধনীগুলোকে (ج) প্রতীকের মাধ্যমে সাব্যস্ত করেছি। আর তাদের ফিকহী টীকাগুলো আমি উল্লেখ করিনি, কারণ তা এই তাহকীক বা পাণ্ডুলিপি সম্পাদনার উদ্দেশ্য বহির্ভূত।

* কিতাবটিতে আমার কাজ ছিল নিম্নরূপ:

- কিতাবটিকে লেখক যেভাবে বিন্যস্ত করেছেন সেভাবে উপস্থাপন করা, সাথে সাথে পূর্ণাঙ্গ হরকত প্রদান এবং বিরামচিহ্ন স্থাপন করা।

- প্রথম মুদ্রণে যেসব মুদ্রণজনিত ত্রুটি হয়েছিল তা সংশোধন করা, আর প্রতিটি সংশোধনের ব্যাপারে টীকায় ইঙ্গিত প্রদান করা।

- শাইখ মুহাম্মাদ ইবনে রাশিদ তার নিজ হস্তাক্ষরে পূর্ববর্তী দুই কপিতে যেসব সংশোধন লিখেছিলেন, আমি তা যুক্ত করেছি।

- শাইখ ইবনে আকীল তার কপিতে যেসব সংশোধন সাব্যস্ত করেছিলেন, আমি তার বেশ কিছু অংশ যুক্ত করেছি।

- কিছু জটিল স্থানের ওপর টীকা প্রদান করা, তবে তা যথাসম্ভব সংক্ষিপ্ত রাখার চেষ্টা করা হয়েছে যাতে এই কিতাবটি যে উদ্দেশ্যে সংকলন ও নামকরণ করা হয়েছে তা থেকে বিচ্যুত না হয়।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু খুয়াইকির ফী ফিকহিল ইমাম আহমাদ (পৃষ্ঠা: ২৯)
غلاف النسخة (س)
পাণ্ডুলিপি (স)-এর প্রচ্ছদ
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু খুয়াইকির ফী ফিকহিল ইমাম আহমাদ (পৃষ্ঠা: ৩০)
نموذج لتعليقات ابن راشد على النسخة
পাণ্ডুলিপির ওপর ইবনে রাশিদের টীকাগুলোর একটি নমুনা।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু খুয়াইকির ফী ফিকহিল ইমাম আহমাদ (পৃষ্ঠা: ৩১)
غلاف النسخة (ك)
পাণ্ডুলিপির প্রচ্ছদ (ক)
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু খুয়াইকির ফী ফিকহিল ইমাম আহমাদ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
مُخْتَصَرٌ فِي فِقْهِ

الإِمَامِ المُبَجَّلِ والحَبْرِ المُفَضَّل

شيخ أهل السنة والجماعة

أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ حَنْبَلٍ

المتوفى 241 هـ

إِمْلَاء الشَّيْخِ العَالِمِ العَلَّامَةِ

أَبِي بَكْرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَارِفِ خُوقِير المَكِّيِّ الحَنْبَلِيِّ

(1284 - 1349 هـ)

اعتنى به

أ. د. عبدالسَّلام بن محمد الشُّويعر
ফিকহ শাস্ত্রের সংক্ষিপ্তসার

সম্মানিত ইমাম এবং অনন্য প্রাজ্ঞ পণ্ডিত

আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের শায়খ

আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাম্বল

মৃত্যু: ২৪১ হিজরি

প্রাজ্ঞ আলেম ও প্রথিতযশা শায়খের শ্রুতিলিপি

আবু বকর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আরিফ খুকীর আল-মাক্কী আল-হাম্বলী

(১২৮৪ - ১৩৪৯ হিজরি)

সম্পাদনায়

প্রফেসর ড. আবদুস সালাম বিন মুহাম্মদ আশ-শুওয়াই'ইর
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু খুয়াইকির ফী ফিকহিল ইমাম আহমাদ (পৃষ্ঠা: ৩৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحَمْدُ للهِ الَّذِي وَفَّقَ مَنْ شَاءَ مِنْ عِبَادِهِ فَفَقَّهَهُ فِي الدِّينِ. وَالصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلَى نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ وَآلِهِ وَصَحْبِهِ وَالتَّابِعِينَ. أَمَّا بَعْدُ:

فَهَذِهِ مُقَدِّمَةٌ فِي الفِقْهِ يَحْتَاجُ إِلَيْهَا المُبْتَدِي، وَلَا يَسْتَغْنِي عَنْهَا المُنْتَهِي، عَلَى مَذْهَبِ الإِمَامِ المُبَجَّلِ، وَالحَبْرِ المُفَضَّلِ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ حَنْبَلٍ - قَدَّسَ اللهُ رُوحَهُ وَنَوَّرَ ضَرِيحَهُ -

نَسْأَلُ اللهَ تَعَالَى أَنْ يَجْعَلَ النَّفْعَ بِهَا عَامّاً لِلطَّالِبِينَ شَامِلاً لِلرَّاغِبِينَ فَهُوَ حَسْبُنَا وَنِعْمَ المُعِينُ.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা তাওফিক দান করেছেন এবং তাকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান দান করেছেন। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার, সাহাবী ও তাবেয়ীগণের ওপর। অতঃপর:

এটি ফিকহ শাস্ত্রের ওপর একটি ভূমিকা, যার প্রয়োজন রয়েছে প্রারম্ভিক শিক্ষার্থীর এবং যা থেকে অমুখাপেক্ষী হতে পারেন না উচ্চতর স্তরের বিজ্ঞ ব্যক্তিও; এটি সম্মানিত ইমাম এবং শ্রেষ্ঠ পণ্ডিত আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন হাম্বল — আল্লাহ তাঁর আত্মাকে পবিত্র করুন এবং তাঁর কবরকে আলোকিত করুন — এর মাযহাব অনুযায়ী রচিত।

আমরা আল্লাহ তাআলার কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি এর উপকারিতাকে জ্ঞানান্বেষীদের জন্য সাধারণ এবং আগ্রহীদের জন্য ব্যাপক করে দেন; কারণ তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং কতই না উত্তম সাহায্যকারী।