(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াহদাতুল ইসলামিয়্যাহ উসুসুহা ওয়া ওয়াসাইলু তাহকিকিহা
(পৃষ্ঠা: -)
الوحدة الإسلامية أسسها ووسائل تحقيقها القسم: كتب عامة
الكتاب: الوحدة الإسلامية أسسها ووسائل تحقيقها
المؤلف: أحمد بن سعد حمدان الغامدي
الناشر: الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة
الطبعة: السنة السابعه عشر - العدد (65 - 66) - محرم - جماد الأخرة 1405هـ
عدد الصفحات: 70
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইসলামী ঐক্য: এর মূলভিত্তি ও বাস্তবায়নের উপায়সমূহ বিভাগ: সাধারণ গ্রন্থসমূহ
গ্রন্থ: ইসলামী ঐক্য: এর মূলভিত্তি ও বাস্তবায়নের উপায়সমূহ
লেখক: আহমদ ইবনে সা’দ হামদান আল-গামদি
প্রকাশক: মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
সংস্করণ: সপ্তদশ বর্ষ - সংখ্যা (৬৫ - ৬৬) - মহররম - জুমাদাল আখিরাহ ১৪০৫ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭০
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যুল হিজজাহ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াহদাতুল ইসলামিয়্যাহ উসুসুহা ওয়া ওয়াসাইলু তাহকিকিহা
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
الوحدة الإسلامية
أسسها ووسائل تحقيقها
للدكتور أحمد بن سعد حمدان الغامدي
أستاذ مساعد بكلية الدعوة وأصول الدين
قال الله تعالى: {وَإِلَهُكُمْ إِلَهٌ وَاحِدٌ لا إِلَهَ إلَاّ هُوَ الرَّحْمَنُ الرَّحِيمُ} . (آية 163 سورة البقرة)
{وَإِنَّ هَذِهِ أُمَّتُكُمْ أُمَّةً وَاحِدَةً وَأَنَا رَبُّكُمْ فَاتَّقُونِ} . (آية 52- سورة المؤمنون)
ال
مقدمة:الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على رسوله الأمن.. وبعد:
فإن إحساس الأمة المسلمة بحاجتها إلى اللقاء والتعاون إحساس منطقي وواقعي.. وذلك لأنها قد أضرت بها الخلافات.. وانهكتها النزاعات التي كانت سببا لضعفها وضياع حقوقها في عصر لم يعد يسمع فيه صوت الضعفاء ولا أنين الجرحى.
قال تعالى: {وَأَطِيعُوا اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَلا تَنَازَعُوا فَتَفْشَلُوا وَتَذْهَبَ رِيحُكُمْ وَاصْبِرُوا إِنَّ اللَّهَ مَعَ الصَّابِرِينَ} 1.
فارتفاع الأصوات المسلمة هنا وهناك تنادى بضرورة وحدة الأمة واجتماع كلمتها أصوات صادقة ينبغي أن تتجاوب لها الأقطار الإسلامية لتنقذ نفسها وتحمى حقها. قال تعالى: {وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعاً وَلا تَفَرَّقُوا} 2.
--------------------------------------------
ইসলামী ঐক্য
এর ভিত্তি ও এটি অর্জনের মাধ্যমসমূহ
ড. আহমাদ বিন সা'দ হামদান আল-গামিদীর রচনা
দাওয়াহ ও উসুল আদ-দীন অনুষদের সহকারী অধ্যাপক
মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন: "আর তোমাদের উপাস্য একমাত্র উপাস্য, তিনি ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই, তিনি পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু।" (সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ১৬৩)
"আর নিশ্চয়ই তোমাদের এই জাতি তো একই জাতি এবং আমিই তোমাদের পালনকর্তা, অতএব আমাকেই ভয় করো।" (সূরা আল-মুমিনুন, আয়াত: ৫২)
ভূমিকা:সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর আমানতদার রাসূলের ওপর.. অতঃপর:
মুসলিম উম্মাহর মধ্যে পারস্পরিক মিলন ও সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার অনুভূতি একটি যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত অনুভূতি.. কারণ, মতপার্থক্য একে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে.. আর দ্বন্দ্ব-সংঘাত একে ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত করে ফেলেছে, যা এমন এক যুগে এর দুর্বলতা ও অধিকার হারানোর কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে দুর্বলদের আওয়াজ কিংবা আর্তদের আর্তনাদ আর শোনা হয় না।
মহান আল্লাহ বলেন: "আর তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করো এবং নিজেদের মধ্যে বিবাদে লিপ্ত হয়ো না, অন্যথায় তোমরা সাহস হারিয়ে ফেলবে এবং তোমাদের শক্তি বিলুপ্ত হবে। আর তোমরা ধৈর্য ধারণ করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।" ১।
সুতরাং উম্মাহর ঐক্য ও সংহতির প্রয়োজনীয়তা জানিয়ে যেখানে সেখানে ধ্বনিত মুসলিমদের কণ্ঠস্বরগুলো হলো সত্যনিষ্ঠ আহ্বান, যার প্রতি মুসলিম দেশগুলোর সাড়া দেওয়া উচিত যাতে তারা নিজেদের রক্ষা করতে পারে এবং নিজেদের অধিকার রক্ষা করতে পারে। মহান আল্লাহ বলেন: "আর তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে শক্তভাবে ধারণ করো এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না।" ২।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াহদাতুল ইসলামিয়্যাহ উসুসুহা ওয়া ওয়াসাইলু তাহকিকিহা
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
ولكنه لابد للأمة المسلمة- وهي تلم شعثها وتوحد صفوفها- لابد لها من إدراك صحيح للأسباب التي كانت وراء هذا الواقع السيئ الذي تعيشه والأسس التي ينبغي أن تلتقي عليها والوسائل التي يمكن أن تتحقق بها تلك الأسس، وذلك لئلا تنتقل من واقع منحرف إلى واقع آخر منحرف.
وإنني إذ أكتب هذا البحث لآمل أن ينفع الله به عز وجل الأمة المسلمة وهى تتجه إلى الله عز وجل وتعمل على توحيد كلمتها إنه سميع مجيب.
وعنوان البحث: (الوحدة الإسلامية: أسسها ووسائل تحقيقها) ، وقد تضمن أربعة أقسام وخاتمة.. وذلك على النحو التالي:
القسم الأول: واقع الأمة الإسلامية:
أولا: في العقيدة.
ثانيا: في العبادة.
ثالثا: في الشريعة.
القسم الثاني: أسباب هذا الواقع:
أولا: الجهل بدين الله عز وجل.
ثانيا: الغزو العسكري لبلدان المسلمين.
ثالثا: الغزو الفكري.
القسم الثالث: أسس وحدة الأمة الإسلامية:
أولا: وحدة الغاية.
ثانيا: وحدة العقيدة.
ثالثا: وحدة القيادة.
رابعا: وحدة التشريع.
القسم الرابع: وسائل تحقيق أسس الوحدة:
أولا: التعليم الموجه.
ثانيا: الإعلام الملتزم.
ثالثا: الاقتصاد المستقل.
رابعا: العمل على الاكتفاء الذاتي.
خامسا: إيجاد مراكز علمية.
তবে মুসলিম উম্মাহর জন্য—যখন তারা তাদের বিক্ষিপ্ত অবস্থাকে গুছিয়ে নিচ্ছে এবং নিজেদের কাতারগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করছে—সেই কারণগুলো সঠিকভাবে অনুধাবন করা অপরিহার্য যা তাদের এই শোচনীয় বাস্তবতার পেছনে কার্যকর রয়েছে। পাশাপাশি সেই ভিত্তিগুলো অনুধাবন করাও জরুরি যার ওপর তাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া উচিত এবং সেই মাধ্যমগুলো সম্পর্কে জানা প্রয়োজন যার দ্বারা ওই ভিত্তিগুলো বাস্তবায়িত হতে পারে; আর তা এই জন্য, যাতে তারা এক বিচ্যুত বাস্তবতা থেকে অন্য কোনো বিচ্যুত বাস্তবতায় স্থানান্তরিত না হয়।
আমি এই গবেষণাটি লেখার মাধ্যমে আশা পোষণ করছি যে, মহান আল্লাহ এর দ্বারা মুসলিম উম্মাহকে উপকৃত করবেন, যারা বর্তমানে মহান আল্লাহর দিকে ধাবিত হচ্ছে এবং নিজেদের সংহতি একীভূত করার লক্ষে কাজ করে যাচ্ছে। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও দুআ কবুলকারী।
গবেষণার শিরোনাম: (ইসলামী ঐক্য: এর ভিত্তি ও তা বাস্তবায়নের উপায়), এটি চারটি পরিচ্ছেদ ও একটি উপসংহার সংবলিত... যা নিম্নরূপ:
প্রথম পরিচ্ছেদ: মুসলিম উম্মাহর বর্তমান বাস্তবতা:
প্রথমত: আকিদাহ বা বিশ্বাসের ক্ষেত্রে।
দ্বিতীয়ত: ইবাদতের ক্ষেত্রে।
তৃতীয়ত: শরীয়তের ক্ষেত্রে।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এই বাস্তবতার কারণসমূহ:
প্রথমত: মহান আল্লাহর দ্বীন সম্পর্কে অজ্ঞতা।
দ্বিতীয়ত: মুসলিম দেশসমূহে সামরিক আগ্রাসন।
তৃতীয়ত: বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসন।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের ভিত্তি:
প্রথমত: উদ্দেশ্যের ঐক্য।
দ্বিতীয়ত: আকিদাহ বা বিশ্বাসের ঐক্য।
তৃতীয়ত: নেতৃত্বের ঐক্য।
চতুর্থত: শরীয়ত বা বিধানের ঐক্য।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: ঐক্যের ভিত্তিগুলো বাস্তবায়নের উপায়:
প্রথমত: দিকনির্দেশনামূলক শিক্ষা।
দ্বিতীয়ত: আদর্শনিষ্ঠ গণমাধ্যম।
তৃতীয়ত: স্বাধীন অর্থনীতি।
fourthly: স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে সচেষ্ট হওয়া।
পঞ্চমত: গবেষণা ও বিজ্ঞান কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা।
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াহদাতুল ইসলামিয়্যাহ উসুসুহা ওয়া ওয়াসাইলু তাহকিকিহা
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
الخاتمة:
وأخيرا أسأل الله عز وجل أن يهيئ أسباب وحدة الأمة وأن يجمع كلمتها على الحق إنه سميع مجيب.
উপসংহার:
পরিশেষে, আমি মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি যে, তিনি যেন উম্মাহর ঐক্যের পথ সুগম করে দেন এবং সত্যের ওপর তাদের ঐক্যবদ্ধ করেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও দুআ কবুলকারী।
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াহদাতুল ইসলামিয়্যাহ উসুসুহা ওয়া ওয়াসাইলু তাহকিকিহা
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
القسم الأولى: واقع الأمة الإسلامية
في العقيدة
انحرافات إلحادية…القسم الأولى
واقع الأمة الإِسلامية
أولا: في العقيدة:
أ- انحرافات إلحادية.
ب- انحرافات في الجانب النظري- العلمي- من العقيدة.
ج- انحرافات طائفية قديمة.
د- انحرافات طائفية حديثة.
ثانيا: في العبادة:
أ- الغلو المفرط في أدائها.
ب- الإهمال المطلق بها.
ج- عدم الالتزام بالأداء الصحيح لها.
ثالثا: في الشريعة:
أ- محاربة الشريعة واستبدال القوانين الوضعية بها.
ب- محاولة التوفيق بين الشريعة الإسلامية والأنظمة الوضعية.
প্রথম বিভাগ: মুসলিম উম্মাহর (الأمة الإسلامية) বাস্তবতাআকিদাহ (العقيدة) প্রসঙ্গেনাস্তিক্যবাদী বিচ্যুতিসমূহ (انحرافات إلحادية)…প্রথম বিভাগ
মুসলিম উম্মাহর (الأمة الإسلامية) বাস্তবতা
প্রথমত: আকিদাহ (العقيدة) প্রসঙ্গে:
ক- নাস্তিক্যবাদী বিচ্যুতিসমূহ (انحرافات إلحادية)।
খ- আকিদাহর (العقيدة) তাত্ত্বিক ও শাস্ত্রীয় দিকের বিচ্যুতিসমূহ (انحرافات)।
গ- প্রাচীন দলগত বিচ্যুতিসমূহ (انحرافات طائفية)।
ঘ- আধুনিক দলগত বিচ্যুতিসমূহ (انحرافات طائفية)।
দ্বিতীয়ত: ইবাদত (العبادة) প্রসঙ্গে:
ক- তা পালনের ক্ষেত্রে চরম অতিরঞ্জন (الغلو)।
খ- এ ক্ষেত্রে চরম অবহেলা।
গ- তা সঠিক পদ্ধতিতে পালনের ব্যাপারে অঙ্গীকারের অভাব।
তৃতীয়ত: শরিয়াহ (الشريعة) প্রসঙ্গে:
ক- শরিয়াহর (الشريعة) বিরোধিতা করা এবং এর পরিবর্তে মানবরচিত আইন (القوانين الوضعية) প্রতিস্থাপন করা।
খ- ইসলামি শরিয়াহ (الشريعة الإسلامية) ও মানবরচিত ব্যবস্থার (الأنظمة الوضعية) মধ্যে সমন্বয় সাধনের প্রচেষ্টা।
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াহদাতুল ইসলামিয়্যাহ উসুসুহা ওয়া ওয়াসাইলু তাহকিকিহা
(পৃষ্ঠা: ৪১)
القسم الأول
واقع الأمة الإسلامية
واقع الأمة الإسلامية واقع مكشوف لا يكاد يجهله أحد، فقد تعرض لأمراض متعددة وانحرافات متنوعة بحيث لا يكاد يسلم جانب من جوانبه- لا في العقيدة ولا في العبادة ولا في الشريعة-.
وسأحاول فيما يأتي الإشارة إلى هذا الواقع بشيء من الإيجاز.
أولا: في العقيدة:
إن أخطر الانحرافات التي تعرضت لها الأمة المسلمة هي الانحرافات في العقيدة ولا نستطيع هنا استيعابها وتفصيلها ولكنا سنكتفي هنا بالتنبيه على بعضها.
أ- انحرافات إلحادية:
هدف أصحابها استبدال المبادئ الكافرة بعقيدة الإسلام، وهم طوائف متعددة وسلكوا طرقاً متنوعة يقول الأستاذ مصطفي صبري: "ومن البلية أن الحركات التي تثار في الأزمنة الأخيرة ترمى إلى محاربة الإسلام في بلاده بأيدي أهله والتي لاشك أنه الكفر وأخبث أفانين الكفر
… "1.
ويقول في مكان آخر: "لكن البلاد الإسلامية عامة ومصر خاصة مباءة اليوم لفئة تملكوا أزمة النشر والتأليف ينفثون من أقلامهم سموم الإلحاد غير مجاهرين بها وربما يتظاهرون بالدين"2.
ويقول الدكتور محمد محمد حسين بعد عرضه للدعوات الهدامة: "كانت هذه الدعوات تسلك إلى أهدافها مسالك متباينة وتلبس أثوابا مختلفة ولكنها جميعا ترمى في آخر الأمر إلى توهين أثر الإسلام في النفوس وتفتيت وحدته التي استعصت على القرون الطوال"3.
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ
মুসলিম উম্মাহর বাস্তবতা
মুসলিম উম্মাহর বর্তমান বাস্তবতা এক উন্মোচিত চিত্র যা কারো কাছেই প্রায় অজানা নয়। এটি বিভিন্ন ধরনের ব্যাধি ও বিবিধ বিচ্যুতি (انحرافات)-তে আক্রান্ত হয়েছে, যার ফলে এর কোনো দিকই—তা আকীদা (عقيدة), ইবাদত (عبادة) কিংবা শরীয়াহ (شريعة) যা-ই হোক না কেন—নিরাপদ থাকতে পারেনি।
নিম্নে আমি সংক্ষিপ্তভাবে এই বাস্তবতার প্রতি ইঙ্গিত করার চেষ্টা করব।
প্রথমত: আকীদার (عقيدة) ক্ষেত্রে:
মুসলিম উম্মাহ যে সমস্ত বিপজ্জনক বিচ্যুতির (انحرافات) সম্মুখীন হয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ হলো আকীদা (عقيدة) বা বিশ্বাসের ক্ষেত্রে বিচ্যুতি। এখানে আমরা সেগুলোর বিস্তারিত বিবরণ ও পূর্ণাঙ্গ আলোচনা করতে সক্ষম হব না, তবে সংক্ষেপে কয়েকটির প্রতি আলোকপাত করাই যথেষ্ট মনে করছি।
ক- নাস্তিক্যবাদী (إلحادية) বিচ্যুতিসমূহ (انحرافات):
এর অনুসারীদের লক্ষ্য হলো ইসলামি আকীদার (عقيدة) পরিবর্তে কুফরি (كافرة) আদর্শের প্রতিস্থাপন করা। তারা বিভিন্ন দলে বিভক্ত এবং বিবিধ পথ অবলম্বন করেছে। উস্তাদ মুস্তাফা সাবরী বলেন: "এটি একটি চরম মুসিবত যে, বর্তমান সময়ে যেসব আন্দোলন মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে, সেগুলোর লক্ষ্য হলো খোদ মুসলিম দেশগুলোতে মুসলিমদের মাধ্যমেই ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা। আর এটি নিঃসন্দেহে কুফর (كفر) এবং কুফরের নিকৃষ্টতম প্রকারের অন্তর্ভুক্ত... "১।
তিনি অন্য জায়গায় বলেন: "কিন্তু বর্তমানে সামগ্রিকভাবে মুসলিম দেশগুলো এবং বিশেষভাবে মিসর এমন এক শ্রেণির চারণভূমিতে পরিণত হয়েছে, যারা প্রকাশনা ও রচনার লাগাম আঁকড়ে ধরেছে। তারা তাদের কলমের মাধ্যমে নাস্তিক্যবাদের (إلحاد) বিষ উগড়ে দিচ্ছে, তবে তা প্রকাশ্যভাবে নয়; বরং অনেক সময় তারা ধার্মিকতার ছদ্মবেশ ধারণ করে থাকে।"২।
ডক্টর মুহাম্মদ মুহাম্মদ হুসাইন ধ্বংসাত্মক দাওয়াতসমূহ উপস্থাপনের পর বলেন: "এই দাওয়াতগুলো তাদের লক্ষ্য অর্জনে ভিন্ন ভিন্ন পথ অবলম্বন করছিল এবং বিভিন্ন লেবাস ধারণ করছিল। কিন্তু পরিশেষে এগুলোর উদ্দেশ্য ছিল মানুষের অন্তরে ইসলামের প্রভাবকে দুর্বল করা এবং ইসলামের সেই ঐক্যকে খণ্ডবিখণ্ড করা, যা দীর্ঘ শতাব্দী ধরে অটুট ছিল।"৩।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াহদাতুল ইসলামিয়্যাহ উসুসুহা ওয়া ওয়াসাইলু তাহকিকিহা
(পৃষ্ঠা: ৪২)
ب-
انحرافات في الجانب النظري- العلمي من العقيدة:وذلك فيما يتعلق بأسماء الله وصفاته وأفعاله.
فقد وجدت الاتجاهات المنحرفة التي تتنكر لهذا الجانب أو لبعضه فأولت الآيات القرآنية والأحاديث المتواترة وردت الأحاديث الأخرى والتي تعرف الناس بربهم عز وجل.
وكان أول من أظهر هذه البدعة الضالة- بدعة الحديث في أسماء الله وصفاته وتأويلها- الجعد بن درهم فأول الاستواء والكلام لله عز وجل1 وتبعه على ذلك المعتزلة الذين أصبحوا فيما بعد فرقة مستقلة في منهجها وفهمها تقابل أهل السنة.
قال الشهرستاني: "الفريقان من المعتزلة والصفاتية متقابلان تقابل تضاد"2.
وقد أتى القوم من ضلال عقولهم القاصرة وظنهم أن إثبات تلك الصفات الواردة في كتاب الله عز وجل وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم -يقتضي التشبيه بالمخلوق.
وينتج عن هذا المذهب أن القرآن الكريم والسنة النبوية لم يستطيعا بيان مراد الله عز وجل من خلقه من أقرب الطرق.
فتعددت بذلك الفرق وانقسم المسلمون إلى متابع لهذه الطائفة ومخالف لها وحدثت في تاريخ الأمة الإسلامية بسببه وحدثت ومشكلات، ولازالت آثار هذه الطائفة قائمة في المجتمع الإسلامي إلى اليوم.
--------------------------------------------
খ-
আকীদার তাত্ত্বিক ও ইলমি দিকের বিচ্যুতিসমূহ:আর তা মহান আল্লাহর নামসমূহ, গুণাবলি (صفات) এবং কার্যাবলি সংক্রান্ত বিষয়াদি।
সেখানে এমন কিছু বিচ্যুত মতাদর্শের উদ্ভব ঘটেছে যারা এই বিষয়টিকে অথবা এর অংশবিশেষকে অস্বীকার করে। ফলে তারা কুরআনের আয়াতসমূহ ও মুতাওয়াতির (متواترة) হাদিসসমূহের অপব্যাখ্যা করেছে এবং অন্যান্য হাদিসসমূহকে প্রত্যাখ্যান করেছে, যা মানুষকে তাদের মহান রব সম্পর্কে পরিচয় করিয়ে দেয়।
এই পথভ্রষ্ট বিদআত—অর্থাৎ আল্লাহর নাম ও গুণাবলি (صفات) নিয়ে আলোচনা এবং সেগুলোর অপব্যাখ্যার বিদআত—সর্বপ্রথম যে ব্যক্তি প্রকাশ করেছিল সে হলো জা’দ বিন দিরহাম। সে মহান আল্লাহর আরশে আরোহণ করা বা ইস্তিওয়া (الاستواء) এবং কথা বলা বা কালাম (الكلام) সংক্রান্ত গুণাবলির অপব্যাখ্যা করেছিল। পরবর্তীতে মুতাজিলারা তার অনুসরণ করে, যারা তাদের মানহাজ (منهج) ও বুঝের ক্ষেত্রে আহলে সুন্নাহর বিপরীতে একটি স্বতন্ত্র দলে পরিণত হয়।
শাহরাস্তানি বলেন: "মুতাজিলা এবং সিফাতিয়্যা—এই দুই দল পরস্পর বিপরীতমুখী দুটি গোষ্ঠী।"
এই লোকগুলো তাদের সংকীর্ণ বুদ্ধিবৃত্তিক পথভ্রষ্টতা এবং এই ভ্রান্ত ধারণার বশবর্তী হয়ে এসব করেছে যে, আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহয় বর্ণিত গুণাবলি (صفات) সাব্যস্ত করার অর্থ হলো সৃষ্টির সাথে সাদৃশ্য (تشبيه) প্রদান করা।
এই মতবাদের অনিবার্য ফলাফল এই দাঁড়ায় যে, পবিত্র কুরআন এবং সুন্নাহ সৃষ্টির নিকট আল্লাহর উদ্দেশ্য সবথেকে নিকটতম ও সহজ পন্থায় স্পষ্টভাবে বর্ণনা করতে সক্ষম হয়নি (নাউযুবিল্লাহ)।
এর ফলে বহু দলের সৃষ্টি হয় এবং মুসলিমরা এই গোষ্ঠীর অনুসারী ও বিরোধীদের মাঝে বিভক্ত হয়ে পড়ে। এর কারণে ইসলামী উম্মাহর ইতিহাসে নানাবিধ সমস্যা ও সংকটের উদ্ভব হয়েছে এবং আজ অবধি মুসলিম সমাজে এই গোষ্ঠীর প্রভাব বিদ্যমান রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াহদাতুল ইসলামিয়্যাহ উসুসুহা ওয়া ওয়াসাইলু তাহকিকিহা
(পৃষ্ঠা: ৪২)
جـ-
انحرافات طائفية قديمة:لازالت قوية ونشطة رغم انحرافها وفساد معتقداتها.
ومن تلك الطوائف: (طائفتا الشيعة والصوفية) .
فالأولى تقوم على عقيدة تخالف عقيدة الإسلام التي جاء بها رسول اللهّ صلى الله عليه وسلم.
فمن ذلك إسباغ صفات الألوهية على أئمتهم وادعاؤهم أنهم يعلمون الغيب وأنهم يتلقون الوحي من السماء وفي كلا الأمرين إساءة إلى الله عز وجل وتكذيب لدينه.
وأخيراً فإنهم يتهمون أصحاب رسول الله له بالخيانة والردة عن الإسلام، وهذا يؤدى إلى إبطال الإسلام.
فأما ادعاؤهم علم الغيب لأئمتهم فقد ورد في أهم مصادرهم بألفاظ صريحة في أبواب مستقلة.
গ-
প্রাচীন ফিরকাগত বিচ্যুতিসমূহ:তাদের বিচ্যুতি এবং আকিদাহর ভ্রষ্টতা সত্ত্বেও তারা আজও শক্তিশালী ও সক্রিয় রয়েছে।
আর সেই দলগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো: (শিয়া ও সুফি—এই দুই সম্প্রদায়)।
প্রথম দলটি এমন এক আকিদাহর ওপর প্রতিষ্ঠিত যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আনীত ইসলামের আকিদাহর পরিপন্থী।
এর উদাহরণ হলো—তাদের ইমামদের ওপর উলুহিয়্যাহর গুণাবলি আরোপ করা এবং তাদের এই দাবি যে, তারা অদৃশ্য বিষয় জানেন এবং আসমান থেকে ওহি প্রাপ্ত হন; এই উভয় বিষয়টিই মহান আল্লাহর শানে ধৃষ্টতা এবং তাঁর দ্বীনকে অস্বীকার করার শামিল।
পরিশেষে, তারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীগণকে বিশ্বাসঘাতকতা এবং ইসলাম থেকে ধর্মত্যাগের অভিযোগে অভিযুক্ত করে, যা মূলত ইসলামকে অসার প্রতিপন্ন করার নামান্তর।
আর তাদের ইমামদের ক্ষেত্রে অদৃশ্য জ্ঞানের যে দাবি তারা করে, তা তাদের প্রধান প্রধান উৎসগ্রন্থগুলোতে স্বতন্ত্র অধ্যায়ে অত্যন্ত স্পষ্ট শব্দে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াহদাতুল ইসলামিয়্যাহ উসুসুহা ওয়া ওয়াসাইলু তাহকিকিহা
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
فقد ورد في كتاب: (أصول الكافي) - وهو أهم كتاب عندهم- 1 عناوين تؤكد ذلك.
منها: (باب أن الأئمة يعلمون متى يموتون وأنهم لا يموتون إلا باختيارهم)
ومنها: (باب أن الأئمة إذا شاءوا أن يعلموا علموا) 3.
ومنها: (باب أن الأئمة عليهم السلام يعلمون ما كان وما يكون وأنه لا يخفى عليهم الشيء صلوات الله عليهم) 4.
وأما ادعاء نزول الوحي على الأئمة فيذكرون عن جعفر الصادق أنه قال- وهو يتحدث عن مصادر علم الأئمة-: "وأما النقر في الأسماع فأمر الملك"5أي صوت الملك.
فعلم الغيب لا يظهر الله عز وجل عليه إلا أنبياءه ورسله كما جاء ذلك في كتاب الله عز وجل حيث يقول: {عَالِمُ الْغَيْبِ فَلا يُظْهِرُ عَلَى غَيْبِهِ أَحَداً. إِلَاّ مَنِ ارْتَضَى مِنْ رَسُولٍ فَإِنَّهُ يَسْلُكُ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ وَمِنْ خَلْفِهِ رَصَداً} 6. ولكن الشيعة تعتقد أن الأئمة يأتيهم خبر السماء كما روى ذلك الكليني مؤلف أصول الكافي فقال: "إن المفضل سأل أبا عبد الله- أي جعفر الصادق- بقوله: جعلت فداك بفرض الله طاعة عبد على العباد ويحجب عنه خبر السماء".قال: "لا: الله أكرم وأرحم وأرأف بعباده من أن يفرض طاعة عبد على العباد ثم يحجب عنه خبر السماء صباحا ومساء"7ويعلق الشارح على هذا القول فيقول: "ولذلك الإمامية ذهبوا إلى أن الإمامة لا تصلح إلا لمن له منزلة النبوة"8.
هذه بعض عقائدهم المنحرفة والتي تجعل لهم اتجاها آخر ودينا يخالف دين المسلمين.
--------------------------------------------
(উসুল আল-কাফি) কিতাবে—যা তাদের নিকট সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিতাব—এমন কিছু শিরোনাম বর্ণিত হয়েছে ১ যা এটি নিশ্চিত করে।
তার মধ্যে রয়েছে: (পরিচ্ছেদ: ইমামগণ জানেন তারা কখন মৃত্যুবরণ করবেন এবং তারা তাদের নিজস্ব পছন্দ ব্যতীত মৃত্যুবরণ করেন না)
এবং তার মধ্যে রয়েছে: (পরিচ্ছেদ: ইমামগণ যখন কোনো কিছু জানতে চান, তখন তারা তা জেনে ফেলেন) ৩।
এবং তার মধ্যে রয়েছে: (পরিচ্ছেদ: ইমামগণ আলাইহিমুস সালাম যা অতীতে ঘটেছে এবং যা ভবিষ্যতে ঘটবে তা জানেন, আর তাদের নিকট কোনো কিছুই গোপন থাকে না, তাদের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক) ৪।
আর ইমামদের ওপর ওহি (وحي) অবতীর্ণ হওয়ার দাবির ব্যাপারে তারা জাফর আস-সাদিক থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি ইমামদের জ্ঞানের উৎস সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেছেন: "আর কানে টোকা দেওয়ার বিষয়টি হলো ফেরেশতার পক্ষ থেকে নির্দেশ" ৫ অর্থাৎ ফেরেশতার কণ্ঠস্বর।
বস্তুত গায়িব (الغيب) বা অদৃশ্যের জ্ঞান আল্লাহ তাআলা তাঁর মনোনীত রাসূলগণ ব্যতীত অন্য কারো কাছে প্রকাশ করেন না, যেমনটি আল্লাহর কিতাবে এসেছে যেখানে তিনি বলেন: {তিনি অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা, তিনি তাঁর অদৃশ্যের জ্ঞান কারো কাছে প্রকাশ করেন না। তবে তাঁর মনোনীত রাসূল ব্যতীত। সেক্ষেত্রে আল্লাহ তাঁর অগ্রে ও পশ্চাতে প্রহরী নিযুক্ত করেন} ৬। কিন্তু শিয়াগণ বিশ্বাস করে যে, ইমামদের কাছে আসমানি সংবাদ আসে, যেমনটি উসুল আল-কাফি কিতাবের লেখক আল-কুলাইনি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: "মুফাজ্জল আবু আব্দুল্লাহকে—অর্থাৎ জাফর আস-সাদিককে—জিজ্ঞেস করলেন: ‘আমি আপনার জন্য উৎসর্গিত হই, আল্লাহ কি বান্দাদের ওপর এমন কোনো বান্দার আনুগত্য ফরজ করেছেন যার নিকট আসমানের খবর পৌঁছানো বন্ধ রাখা হয়?’" তিনি বললেন: "না; আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি অধিক সম্মানিত, দয়ালু ও মমতাশীল যে, তিনি বান্দাদের ওপর কোনো বান্দার আনুগত্য ফরজ করবেন অথচ তার থেকে সকাল-সন্ধ্যা আসমানের খবর গোপন রাখবেন" ৭। এই বক্তব্যের ওপর ব্যাখ্যাকারী মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন: "এই কারণেই ইমামিয়্যাহ (الإمامية) সম্প্রদায় এই মত পোষণ করে যে, ইমামত (الإمامة) নবুওয়াতের মর্যাদা সম্পন্ন ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কারো জন্য যোগ্য নয়" ৮।
এগুলো হলো তাদের কিছু বিচ্যুত আকিদা, যা তাদেরকে মুসলমানদের দ্বীন থেকে ভিন্ন একটি পথে ও দ্বীনে পরিচালিত করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াহদাতুল ইসলামিয়্যাহ উসুসুহা ওয়া ওয়াসাইলু তাহকিকিহা
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
وأما الصوفية فقد ابتدعت تقديس الأفراد ورفع التكاليف عن بعض الناس كما أعادت إلى الأذهان تلك الطقوس الكنسية التي أفسدت الدين النصراني حيث اتخذت من البشر وسائط عند الله بها تقضى الحاجات وتغفر الزلات إلى عشرات أخرى من الا نحرا فات.
فأما دعوى سقوط التكاليف فإنهم يزعمون أن للإنسان درجة إذا وصل إليها سقط عنه التكليف.
قال ابن تيمية رحمه الله: "ومن هؤلاء- أي الصوفية- من يحتج بقوله تعالى: {وَاعْبُدْ رَبَّكَ حَتَّى يَأْتِيَكَ الْيَقِينُ} ويقول معناها: أعبد ربك حتى يحصل لك العلم والمعرفة فإذا حصل ذلك سقطت العبادة، وربما قال بعضهم: اعمل حتى يحصل حال فإذا حصل لك حال تصوفي سقطت عنك العبادة"1.
ويقول عنهم كذلك: "والغالبة في المشايخ قد يقولون: أن الولي محفوظ والنبي معصوم وكثير منهم إن لم يقل ذلك بلسانه فحاله حال من يرى أن الشيخ أو الولي لا يخطئ ولا يذنب"2.
ويقول الدكتور إبراهيم هلال وهو يتحدث عن نتائج غلو الشيعة والصوفية في ذكر فضائل الأولياء: "ولعل أبرز مظاهر هذا التفضيل ما يدعيه بعض الصوفية من حلول الله فيهم أو اتحادهم به مما يتضمن القول بألوهيتهم وتصرفهم في الأكوان وفي الناس"3.
ولعل هذا هو السبب وراء التقديس وصرف العبادة إلى الأولياء المتمثل في بناء القباب على قبورهم والطواف حولها ودعاء أصحابها والذبح والنذر لهم إلى غير ذلك من صور العبادات التي لا يكاد يسلم منها بلد من بلدان المسلمين إلا من رحم الله عز وجل.
وقد كان هذا الانحراف في الفكر الصوفي من الأسباب المباشرة لظهور الشرك في الأمة بتقديس الأموات وطلب الحاجات منهم واتخاذ قبورهم مزارات وأماكن عبادة فزاحم تعظيم الأموات توحيد الله عز وجل في القلوب، فكثرت الأضرحة وتعددت الفرق والأحزاب لكل حزب ضريح به يستغيثون وعنده ينيخون وإليه عند نزول الحوادث يلجئون.
--------------------------------------------
আর সুফিবাদীদের কথা বলতে গেলে বলতে হয়, তারা ব্যক্তিকেন্দ্রিক অতি-পবিত্রতা আরোপ এবং নির্দিষ্ট কিছু মানুষের ওপর থেকে ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়ার মতো নব-উদ্ভাবিত প্রথার প্রবর্তন করেছে। ঠিক যেমনটি তারা সেই গির্জা-কেন্দ্রিক ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানগুলোকে মানুষের স্মৃতিপটে ফিরিয়ে এনেছে যা খ্রিস্টান ধর্মকে কলুষিত করেছিল; যেখানে তারা মানুষকে আল্লাহর নিকট এমন মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গ্রহণ করেছে যাদের মাধ্যমে হাজত পূরণ হয় এবং ত্রুটি-বিচ্যুতি ক্ষমা করা হয়—এভাবে তারা আরও বহু বিচ্যুতির জন্ম দিয়েছে।
আর ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা রহিত হওয়ার দাবির প্রসঙ্গে তারা মনে করে যে, মানুষের এমন একটি স্তর রয়েছে যেখানে পৌঁছালে তার ওপর থেকে ইবাদতের আবশ্যকতা বিলুপ্ত হয়ে যায়।
ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "আর তাদের (অর্থাৎ সুফিবাদীদের) মধ্য থেকে এমন কিছু লোক রয়েছে যারা মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে দলিল হিসেবে পেশ করেন (يحتج): {এবং তোমার রবের ইবাদত করো যতক্ষণ না তোমার নিকট নিশ্চিত বিশ্বাস আসে}। তারা এর অর্থ বলে যে: তোমার রবের ইবাদত করো যতক্ষণ না তোমার জ্ঞান ও মা’রিফাত অর্জিত হয়, আর যখন তা অর্জিত হয়ে যাবে তখন ইবাদত রহিত হয়ে যাবে। তাদের কেউ কেউ হয়তো এমনও বলে: আমল করো যতক্ষণ না আধ্যাত্মিক অবস্থা অর্জিত হয়, আর যখন তোমার সুফিবাদী অবস্থা অর্জিত হবে তখন তোমার ওপর থেকে ইবাদত বিলুপ্ত হয়ে যাবে"১।
তিনি তাদের সম্পর্কে আরও বলেন: "মাশায়েখদের মধ্যে অধিকাংশরাই হয়তো বলে থাকেন যে, ওলি হলো সুরক্ষিত (محفوظ) আর নবী হলেন নিষ্পাপ। তাদের অনেকে যদিও মুখে তা না বলে, কিন্তু তাদের অবস্থা সেই ব্যক্তির মতো যে মনে করে শেখ বা ওলি ভুল করেন না এবং কোনো গুনাহও করেন না"২।
ডক্টর ইবরাহিম হিলাল ওলিদের ফজিলত বর্ণনায় শিয়া ও সুফিদের অতিরঞ্জনের পরিণাম সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন: "এই শ্রেষ্ঠত্ব প্রদানের সম্ভবত সবচেয়ে বড় বহিঃপ্রকাশ হলো যা কিছু সুফি দাবি করে যে, তাদের মধ্যে আল্লাহর অনুপ্রবেশ ঘটেছে অথবা তারা আল্লাহর সাথে একীভূত হয়ে গেছে। যার অনিবার্য অর্থ হলো তাদের প্রভুত্ব এবং মহাবিশ্ব ও মানুষের ওপর তাদের কর্তৃত্বকে মেনে নেওয়া"৩।
সম্ভবত এটাই হলো সেই অতি-পবিত্রতা এবং ওলিদের প্রতি ইবাদত নিবেদনের পেছনের কারণ—যা প্রতিফলিত হয় তাদের কবরের ওপর গম্বুজ নির্মাণ, কবরের চারদিকে তাওয়াফ করা, কবরবাসীর নিকট প্রার্থনা করা এবং তাদের উদ্দেশ্যে জবেহ ও মানত পেশ করার মাধ্যমে। এছাড়া ইবাদতের আরও এমন অনেক ধরন রয়েছে যা থেকে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে খুব কমই রক্ষা পেয়েছে, আল্লাহ যাদের ওপর রহমত করেছেন তারা ব্যতীত।
সুফি চিন্তাধারার এই বিচ্যুতি উম্মাহর মধ্যে শিরক প্রকাশের প্রত্যক্ষ কারণগুলোর একটি ছিল। যার ফলে মৃত ব্যক্তিদের অতি-পবিত্র জ্ঞান করা, তাদের নিকট হাজত প্রার্থনা করা এবং তাদের কবরগুলোকে জিয়ারতগাহ ও ইবাদতের স্থানে পরিণত করা শুরু হয়। ফলে মৃতদের প্রতি এই অতি-সম্মান অন্তরের মধ্যে আল্লাহর তাওহিদের গুরুত্বকে সংকুচিত করে দেয়। এভাবে মাজারের সংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং অনেক দল ও উপদলের সৃষ্টি হয়; প্রতিটি দলের জন্য একটি করে মাজার নির্দিষ্ট থাকে যার কাছে তারা ফরিয়াদ জানায়, তার কাছে গিয়ে তারা সমবেত হয় এবং বিপদ-আপদে তার কাছেই আশ্রয় প্রার্থনা করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াহদাতুল ইসলামিয়্যাহ উসুসুহা ওয়া ওয়াসাইলু তাহকিকিহা
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
6-
انحرافات طائفية حديثة:تتمثل في طوائف مستقلة ـ كالبهائية والقاديانية ـ ونحوها من الطوائف التي خرجت
৬-
আধুনিক ফেরকাগত (طائفية) বিচ্যুতিসমূহ:এগুলো বিভিন্ন স্বতন্ত্র ফেরকা (طوائف)-এর রূপ পরিগ্রহ করে—যেমন বাহাই ও কাদিয়ানী—এবং অনুরূপ অন্যান্য ফেরকা (طوائف) যা (ইসলামের গণ্ডি থেকে) বের হয়ে গেছে।
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াহদাতুল ইসলামিয়্যাহ উসুসুহা ওয়া ওয়াসাইলু তাহকিকিহা
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
على عقيدة الإسلام بدعوى النبوة لزعمائها ونزول الوحي عليهم وهى تتستر في كثير من البلدان باسم الإسلام وهي خارجة عليه لمخالفتها العقيدة (ختم النبوة) التي هي جزء من عقيدته.
فإن زعيم البهائية (حسن علي المازندراني) يزعم أنه نزل عليه الوحي وجمعه في كتاب سماه (الأقدس) 1وقد ورد في هذا الكتاب ما يلي: "لا تحسبن إنا أنزلنا لكم الأحكام بل فتحنا ختم الرحيق المختوم بأصابع القدرة والاقتدار يشهد بذلك ما نزل من قلم الوحي تفكروا يا أولى الأفكار"2فهو يزعم بهذا أنه قد فتح باب النبوة وفض ختمها ليوحي إلى البهاء وهو ما صرح به في كتاب آخر من كتبه حيث ذكر انه: "فك ختم النبيين"3.
وكذلك زعيم القاديانية (غلام أحمد بن غلام مرتضى) له كتاب اسمه (تذكرة وحي مقدس) 4يزعم أنه أوحي إليه وقد كتب بأربع لغات وهي: العربية، والفارسية، والأردية، والإنجليزية.
وقد ورد فيه ما يلي: "إنا أرسلنا أحمد إلى قومه فأعرضوا وقالوا كذاب أشرا"5 و "هو الذي أرسل رسوله بالهدى ودين الحق وتهذيب الأخلاق"6.
وليست هاتان الطائفتان هما الوحيدتين في ادعاء نزول الوحي بل هناك طوائف أخرى وأشخاص آخرون ادعوا نزول الوحي كزعيم البلاليين: (اليجا محمد علي) في أمريكا وغيره.
--------------------------------------------
তারা ইসলামি আকিদার বিরুদ্ধে তাদের নেতাদের জন্য নবুওয়াতের (النبوة) দাবি এবং তাদের ওপর ওহি (الوحي) অবতীর্ণ হওয়ার প্রবঞ্চনা করে। এটি অনেক দেশে ইসলামের ছদ্মবেশে সক্রিয় থাকে, অথচ এটি ইসলাম থেকে বহির্ভূত; কেননা এটি ইসলামের আকিদার অবিচ্ছেদ্য অংশ নবুওয়াতের সমাপ্তি (ختم النبوة) সংক্রান্ত বিশ্বাসের পরিপন্থী।
নিশ্চয়ই বাহাউল্লাহর নেতা (হাসান আলী আল-মাজান্দারানি) দাবি করেন যে, তার ওপর ওহি (الوحي) অবতীর্ণ হয়েছে এবং তিনি তা 'আল-আকদাস' নামক একটি কিতাবে সংকলন করেছেন।১ এই কিতাবে নিম্নোক্ত কথাগুলো বর্ণিত হয়েছে: "তোমরা মনে করো না যে আমি তোমাদের জন্য কেবল বিধিবিধান অবতীর্ণ করেছি, বরং আমি কুদরত ও ইখতিয়ারের অঙ্গুলি দ্বারা মোহরাঙ্কিত সুধার (আর-রাহীকুল মাখতুম) মোহর উন্মোচন করেছি; ওহির (الوحي) কলম থেকে যা অবতীর্ণ হয়েছে তা-ই এর সাক্ষ্য দেয়। হে চিন্তাশীলগণ! তোমরা চিন্তা করো।"২ এই বক্তব্যের মাধ্যমে সে দাবি করে যে, সে নবুওয়াতের (النبوة) দ্বার উন্মুক্ত করেছে এবং এর পরিসমাপ্তির মোহর ভেঙে বাহাউল্লাহর প্রতি ওহি (الوحي) প্রেরণের পথ প্রশস্ত করেছে। এটি সে তার অন্য একটি কিতাবেও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে যেখানে সে বলেছে যে সে: "নবীদের মোহর (ختم النبيين) উন্মোচন করেছে।"৩
অনুরূপভাবে কাদিয়ানিবাদীদের নেতা (গোলাম আহমদ বিন গোলাম মুর্তজা)-এর 'তাযকিরাহ ওহি মুকাদ্দাস' নামক একটি কিতাব রয়েছে।৪ সে দাবি করে যে, এটি তার প্রতি ওহি (الوحي) করা হয়েছে এবং এটি চারটি ভাষায় লিখিত: আরবি, ফারসি, উর্দু এবং ইংরেজি।
তাতে নিম্নোক্ত বক্তব্যটি এসেছে: "নিশ্চয়ই আমি আহমদকে তার সম্প্রদায়ের কাছে পাঠিয়েছি, কিন্তু তারা বিমুখ হয়েছে এবং বলেছে সে এক চরম মিথ্যাবাদী (كذاب) ও দাম্ভিক।"৫ এবং "তিনিই সেই সত্তা যিনি তাঁর রাসুলকে হিদায়াত, সত্য দ্বীন এবং চরিত্রের উৎকর্ষতা দিয়ে প্রেরণ করেছেন।"৬
কেবল এই দুটি দলই ওহি (الوحي) অবতীর্ণ হওয়ার দাবিদার নয়, বরং আরও অনেক দল এবং ব্যক্তি রয়েছে যারা ওহি (الوحي) অবতীর্ণ হওয়ার দাবি করেছে, যেমন আমেরিকায় বিলালীয়ানদের নেতা ইলাইজা মুহাম্মদ আলী এবং অন্যান্যরা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াহদাতুল ইসলামিয়্যাহ উসুসুহা ওয়া ওয়াসাইলু তাহকিকিহা
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
في العبادة
الغلو المفرط في أدائها…ثانيا: في العبادة
لقد تعرضت العبادات إلى انحرافات أخرى متعددة نورد طرفا منها:
أ- الغلو المفرط في أدائها:
والذي كان يتمثل فيما سبق في طائفتي الخوارج والصوفية حيث كان لكل منهما غلو مفرط في جانب أو جوانب منها.
فالخوارج شددوا على أنفسهم وحملوها فوق طاقتها من قيام بالليل وصيام بالنهار حتى ظهر ذلك على ملامح وجوههم ومظاهر أجسادهم.
ইবাদাতের ক্ষেত্রে
তা আদায়ের ক্ষেত্রে চরম অতিরঞ্জন…দ্বিতীয়ত: ইবাদাতের ক্ষেত্রে
ইবাদাতসমূহ আরও বিবিধ বিচ্যুতির সম্মুখীন হয়েছে, যার কিয়দাংশ আমরা এখানে উল্লেখ করছি:
ক- তা আদায়ের ক্ষেত্রে চরম অতিরঞ্জন:
যা ইতিপূর্বে খাওয়ারিজ ও সুফি—এই দুই সম্প্রদায়ের মাঝে পরিলক্ষিত হতো; যেখানে তাদের প্রত্যেকেরই ইবাদাতের এক বা একাধিক ক্ষেত্রে চরম অতিরঞ্জন বিদ্যমান ছিল।
খাওয়ারিজরা নিজেদের ওপর কঠোরতা আরোপ করেছিল এবং রাতভর কিয়াম ও দিনভর সিয়াম পালনের মাধ্যমে নিজেদের ওপর সাধ্যাতীত বোঝা চাপিয়ে দিয়েছিল, এমনকি এর ছাপ তাদের চেহারার অবয়ব ও শারীরিক গঠনেও ফুটে উঠেছিল।
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াহদাতুল ইসলামিয়্যাহ উসুসুহা ওয়া ওয়াসাইলু তাহকিকিহা
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
وقد وصفهم ابن عباس بعد زيارة لهم فقال: "فدخلت على قوم لم أرقط أشد منهم اجتهادا، جباههم قرحة من السجود وأياديهم كأنها ثفن1 الإبل وعليهم قمص مرحضة 2 مشمرين مسهمه 3 وجوههم من السهر.."4
وقد أشار النبي صلى الله عليه وسلم إلى هذه الطائفة بقوله: "يخرج قوم من أمتي يقرؤون القرآن ليس قراءتكم إلى قراءتهم بشيء ولا صلاتكم إلى صلاتهم بشيء ولا صيامكم إلى صيامهم بشيء يقرؤون القرآن يحسبون انه لهم وهو عليهم ولا تجاوز صلاتهم تراقيهم يمرقون من الإسلام كما يمرق السهم من الرمية
…" رواه مسلم وأبو داود5.
وأما الصوفية فقد بالغوا في الذكر والزهد وعاشوا في ظلمات الخلوات للوصول إلى (درجة اليقين) التي تسقط عندها عنهم كل التكاليف الشرعية- بزعمهم-6.
وقد أنكر ابن عقيل رحمه الله عليهم هذه الأهواء والبدع فقال: "ما أعجب أموركم في المتدين: إما أهواء متبعة أو رهبانية مبتدعة"7.
--------------------------------------------
ইবনে আব্বাস তাদের দেখার পর তাদের বর্ণনা দিয়ে বলেন: "আমি এমন এক কওমের নিকট প্রবেশ করলাম যে, তাদের চেয়ে অধিক কঠোর পরিশ্রমী (ইবাদতে) আমি আর কখনো দেখিনি। সিজদার আধিক্যের কারণে তাদের কপাল ছিল ক্ষতবিক্ষত, তাদের হাতগুলো ছিল যেন উটের কড়াপড়া১ হাঁটু। তারা ধৌত করা জীর্ণ পোশাক২ পরিহিত অবস্থায় কাপড় গুটিয়ে তৎপর ছিল এবং রাত জাগরণের ফলে তাদের চেহারা ছিল বিবর্ণ৩..."৪
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দলটির প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন: "আমার উম্মতের মধ্যে এমন একদল মানুষের আবির্ভাব ঘটবে যারা কুরআন পাঠ করবে; অথচ তোমাদের কুরআন পাঠ তাদের পাঠের তুলনায় কিছুই নয়, তোমাদের সালাত তাদের সালাতের তুলনায় কিছুই নয় এবং তোমাদের সিয়াম তাদের সিয়ামের তুলনায় কিছুই নয়। তারা কুরআন পাঠ করবে এবং মনে করবে যে তা তাদের পক্ষে, অথচ তা তাদের বিপক্ষে। তাদের সালাত তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না। তারা ইসলাম থেকে এমনভাবে বেরিয়ে যাবে যেমনটি শিকার ভেদ করে তীর বেরিয়ে যায়
…" মুসলিম ও আবু দাউদ এটি বর্ণনা করেছেন৫।
আর সুফিদের কথা বলতে গেলে, তারা জিকির ও দুনিয়াবিমুখতার (জুহদ) ক্ষেত্রে চরম বাড়াবাড়ি করেছে এবং নির্জনবাসের অন্ধকারে জীবন অতিবাহিত করেছে (ইয়াকিনের স্তরে) পৌঁছানোর জন্য—যাতে করে তাদের দাবি অনুযায়ী—তাদের ওপর থেকে শরয়ি সকল দায়িত্ব ও বিধান রহিত হয়ে যায়৬।
ইবনে আকিল (রহিমাহুল্লাহ) তাদের এই প্রবৃত্তি ও বিদআতসমূহের কঠোর সমালোচনা করে বলেন: "দ্বীনদারির ক্ষেত্রে তোমাদের বিষয়গুলো কতই না বিস্ময়কর: হয় তা অনুসরণকৃত প্রবৃত্তি, নয়তো উদ্ভাবিত বৈরাগ্যবাদ"৭।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াহদাতুল ইসলামিয়্যাহ উসুসুহা ওয়া ওয়াসাইলু তাহকিকিহা
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
الإهمال المطلق بها…ب- الإهمال المطلق للعبادات والاكتفاء بالتلفظ بالشهادتين:
وهذا الانحراف كان من ثمرات الإرجاء الذي لا يعطي للعمل اهتماما إذ أن الإيمان يثبت عند المرجئة بالقول فقط- عند بعضهم- وبالاعتقاد عند البعض الآخر.
وكان جهم بن صفوان هو أول من زعم أن: "الإيمان هو المعرفة بالله تعالى فقط والكفر هو الجهل به فقط"8.
وذكر البغدادي أن المرجئة: "إنما سموا مرجئة لأنهم أخروا العمل عن الإيمان".
--------------------------------------------
এর প্রতি নিরঙ্কুশ অবহেলা…খ- ইবাদতের ক্ষেত্রে নিরঙ্কুশ অবহেলা এবং কেবল শাহাদাতাইন উচ্চারণের ওপর সীমাবদ্ধ থাকা:
এই বিচ্যুতিটি ছিল ইরজা (الإرجاء) এর অন্যতম ফলস্বরূপ যা আমলের প্রতি কোনো গুরুত্ব প্রদান করে না; কেননা মুরজিয়াদের (المرجئة) নিকট ঈমান কেবল মৌখিক স্বীকৃতির মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়—তাদের কারো কারো মতে—আবার অন্যদের মতে কেবল বিশ্বাসের মাধ্যমে।
জাহম বিন সাফওয়ানই প্রথম ব্যক্তি ছিলেন যিনি দাবি করেন যে: "ঈমান হলো কেবল মহান আল্লাহ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা এবং কুফর হলো কেবল তাঁর সম্পর্কে অজ্ঞ থাকা।"৮
আল-বাগদাদী উল্লেখ করেছেন যে, মুরজিয়াদের (المرجئة) মূলত এ কারণেই মুরজিয়া নামকরণ করা হয়েছে কারণ তারা আমলকে ঈমান থেকে পিছিয়ে দিয়েছেন (বিলম্বিত করেছেন)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াহদাতুল ইসলামিয়্যাহ উসুসুহা ওয়া ওয়াসাইলু তাহকিকিহা
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
عدم الإلتزام بالأداء الصحيح لها…ج- عدم التزام كثيرمن المسلمين بالأداء االصحيح للعبادات:
فترى أحدهم يؤدى هذه العبادات ولا يلتزم فيها بشروطها وواجباتها وأوقاتها.
সেগুলোর সঠিক সম্পাদনে দায়বদ্ধতার অভাব…গ- অনেক মুসলিমের ইবাদতসমূহ সঠিকভাবে পালনে অঙ্গীকারবদ্ধ না হওয়া:
আপনি কাউকে কাউকে এসব ইবাদত পালন করতে দেখবেন, অথচ তিনি এর শর্তাবলি (شروط), আবশ্যকীয় বিষয়সমূহ (واجبات) এবং নির্ধারিত সময়ের প্রতি দায়বদ্ধ নন।
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াহদাতুল ইসলামিয়্যাহ উসুসুহা ওয়া ওয়াসাইলু তাহকিকিহা
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
في الشريعة
محاربة الشريعة وإستبدال القوانين الوضعية بها…ثالثا: في الشريعة:
لم تقتصر الانحرافات على الجانبين السابقين بل شملت- كذلك- حتى جانب الشريعة حيث تعرضت في الآونة الأخيرة التي تمزقت فيها الأمة وتحطمت فيها الخلافة الإسلامية- تعرضت إلى انحراف وفساد بل إلى حرب وعداء في كثير من البلدان الإسلامية نعرض طرفا منها:
أ- محاربة الشريعة واستبدال القوانين الوضعية بها:
وهذا من آثار الاستعمار العسكري والفكري الذي فرق الأمة وأفسد عقليتها بحضارته وصناعته وكفره وجحوده. فوجد في المسلمين من يتحمس لقوانينه وفكره ويدعو إلى تطبيقها ومتابعتها.
وقد حظيت هذه الفئة بعناية الاستعمار ورعايته وسلم له زمام المجتمعات التي كان يسيطر عليها فخلفه فيها وقام على تطبيقها وتنفيذها بكل دقة.
ولعل الشروط التي فرضتها دول الاستعمار على مصطفي كمال أتاتورك تبين المخطط الاستعماري لحرب الإسلام ومحاولة فصل الأمة عنه.
يقول الأستاذ محمد محمود الصواف: "وهذه هي الشروط الأربعة المشئومة التي فرضتها دول الاستعمار على تركيا:
ا- إلغاء الخلافة الإسلامية نهائيا من تركيا.
2- أن تقطع تركيا كل صلة مع الإسلام.
3- أن تضمن تركيا تجميد وشل حركة جميع العناصر الإسلامية الباقية في تركيا.
4- أن يستبدلوا الدستور العثماني القائم على الإسلام بدستور مدني بحت.
فقبل مصطفي كمال هذه الشروط ونفذها بحذافيرها فتركته دول الاستعمار"1.
--------------------------------------------
শরীয়ত (الشريعة) প্রসঙ্গেশরীয়তের (الشريعة) বিরুদ্ধে যুদ্ধ এবং এর পরিবর্তে মানবরচিত আইন (القوانين الوضعية) প্রবর্তন…তৃতীয়ত: শরীয়ত (الشريعة) প্রসঙ্গে:
বিচ্যুতিসমূহ কেবল পূর্ববর্তী দুটি দিকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা শরীয়তের (الشريعة) দিকটিকেও অন্তর্ভুক্ত করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে যখন উম্মাহ ছিন্নভিন্ন হয়ে পড়েছে এবং ইসলামী খেলাফত (الخلافة الإسلامية) চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেছে, তখন অনেক মুসলিম দেশে শরীয়ত (الشريعة) বিচ্যুতি ও বিকৃতির সম্মুখীন হয়েছে, এমনকি যুদ্ধ ও শত্রুতার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। আমরা এখানে এর কিছু অংশ তুলে ধরছি:
ক- শরীয়তের (الشريعة) বিরুদ্ধে যুদ্ধ এবং এর পরিবর্তে মানবরচিত আইন (القوانين الوضعية) প্রবর্তন:
এটি সামরিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক সাম্রাজ্যবাদের (الاستعمار) অন্যতম প্রভাব, যা উম্মাহকে বিভক্ত করেছে এবং তার সভ্যতা, কৃত্রিমতা, কুফর (كفر) ও সত্য প্রত্যাখ্যানের (جحود) মাধ্যমে মানুষের চিন্তাধারাকে কলুষিত করেছে। ফলে মুসলমানদের মধ্যে এমন একদল তৈরি হয়েছে যারা সাম্রাজ্যবাদী আইন ও চিন্তাধারার প্রতি অতি উৎসাহী এবং তা বাস্তবায়ন ও অনুসরণের আহ্বান জানায়।
এই গোষ্ঠীটি সাম্রাজ্যবাদের (الاستعمار) বিশেষ যত্ন ও পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করেছিল এবং সাম্রাজ্যবাদ তাদের হাতে ওই সমাজগুলোর নিয়ন্ত্রণ তুলে দিয়েছিল যা তারা শাসন করত। ফলে তারা তাদের উত্তরসূরি হিসেবে কাজ করেছে এবং অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ওই আইনগুলো প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন করেছে।
সম্ভবত মুস্তফা কামাল আতাতুর্কের ওপর সাম্রাজ্যবাদী (الاستعمار) রাষ্ট্রগুলোর আরোপিত শর্তাবলী ইসলামের বিরুদ্ধে তাদের পরিকল্পনা এবং উম্মাহকে ইসলাম থেকে বিচ্ছিন্ন করার প্রচেষ্টাকে স্পষ্ট করে দেয়।
উস্তাদ মুহাম্মদ মাহমুদ আল-সাওওয়াফ বলেন: "এগুলোই হলো সেই অশুভ চারটি শর্ত যা সাম্রাজ্যবাদী (الاستعمار) রাষ্ট্রগুলো তুরস্কের ওপর আরোপ করেছিল:
১- তুরস্ক থেকে ইসলামী খেলাফত (الخلافة الإسلامية) সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত করা।
২- তুরস্ক ইসলামের সাথে তার সকল সম্পর্ক ছিন্ন করবে।
৩- তুরস্কের অবশিষ্ট সকল ইসলামী উপাদানের তৎপরতা স্থবির ও পঙ্গু করে দেওয়ার নিশ্চয়তা প্রদান করা।
৪- ইসলামের ওপর প্রতিষ্ঠিত উসমানীয় সংবিধানের পরিবর্তে একটি নিছক দেওয়ানি বা মানবরচিত সংবিধান প্রবর্তন করা।
মুস্তফা কামাল এই শর্তগুলো গ্রহণ করেছিলেন এবং অক্ষরে অক্ষরে তা পালন করেছিলেন, ফলে সাম্রাজ্যবাদী (الاستعمار) রাষ্ট্রগুলো তাকে ছেড়ে দিয়েছিল।"১
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াহদাতুল ইসলামিয়্যাহ উসুসুহা ওয়া ওয়াসাইলু তাহকিকিহা
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
ب-
محاولة التوفيق بين الشريعة الإسلامية والأنظمة الوضعية:فيؤخذ من الشريعة ما يتعلق بالأمور الشخصية وتكمل بقية الجوانب من القوانين الوضعية.
وقد ذكر الأستاذ محمد الخضر الحسين1عن أسلوب دعاة هذا المبدأ فقال: "فاخترع هؤلاء طريقا حسبوه أقرب إلى نجاحهم وهو: أن يدَّعوا أن الإسلام: توحيد وعبادات ويجحدوا أن يكون في حقائقه ما له مدخل في القضاء والسياسة وجمعوا على هذا ما استطاعوا من الشبه لعلهم يجدون في الناس جهالة أو غباوة فيتم لهم ما بيتوا"2.
ويقول الأستاذ مصطفي صبري3 عن هذه المحاولة والتي تعني فصل الدين عن الحكم والسياسة: "لكن حقيقة الأمر أن هذا الفصل مؤامرة بالدين للقضاء عليه وقد كان في كل بدعة أحدثها العصريون المتفرنجون في البلاد الإسلامية كيد للدين ومحاولة الخروج عليه لكن كيدهم في فصله عن السياسة أدهى وأشد من كل كيد في غيره وهو ثورة حكومية على دين الشعب"4
هذا عرض موجز لواقع المسلمين الذي قد أصيب في كل جانب من جوانبه مما كان له أسوأ الأثر على وحدة الأمة واجتماع كلمتها.. فقد أصيبت الأمة في عقائدها.. وعباداتها.. وشريعتها..
وما لم يصحح هذا الواقع على ضوء التوجيهات الواردة في كتاب الله عز وجل وسنة
رسوله صلى الله عليه وسلم -فلن تقوم للأمة قائمة ولن تجتمع لها كلمة.
--------------------------------------------
খ-
ইসলামী শরিয়ত ও মানবরচিত ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় সাধনের প্রচেষ্টা:এক্ষেত্রে শরিয়ত থেকে কেবল ব্যক্তিগত বিষয়াদি গ্রহণ করা হয় এবং অবশিষ্ট দিকগুলো মানবরচিত আইনের মাধ্যমে পূরণ করা হয়।
উস্তাদ মুহাম্মদ আল-খিদর হুসাইন ১ এই মতাদর্শের প্রবক্তাদের কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে উল্লেখ করে বলেছেন: "এরা এমন এক পথ উদ্ভাবন করেছে যাকে তারা তাদের সফলতার নিকটতম পথ মনে করে; আর তা হলো—তারা দাবি করে যে ইসলাম কেবল তাওহিদ ও ইবাদতসমূহের সমষ্টি এবং তারা ইসলামের প্রকৃত রূপের মধ্যে বিচারব্যবস্থা ও রাজনীতির কোনো প্রবেশাধিকারকে অস্বীকার করে। এই লক্ষ্যে তারা সাধ্যমতো সংশয়সমূহ একত্রিত করেছে, এই আশায় যে তারা হয়তো মানুষের মধ্যে অজ্ঞতা বা মূর্খতা খুঁজে পাবে এবং তাদের ষড়যন্ত্র সফল হবে" ২।
উস্তাদ মুস্তাফা সাবরি ৩ এই প্রচেষ্টার বিষয়ে বলেন—যার অর্থ হলো রাষ্ট্রক্ষমতা ও রাজনীতি থেকে ধর্মকে বিচ্ছিন্ন করা: "কিন্তু প্রকৃত ব্যাপার হলো, এই বিচ্ছিন্নকরণ হলো ধর্মকে নির্মূল করার লক্ষ্যে ধর্মকে কেন্দ্র করে একটি ষড়যন্ত্র। মুসলিম দেশগুলোতে পাশ্চাত্যঘেঁষা আধুনিকতাবাদীরা যে সকল বিদআত (بدعة) সৃষ্টি করেছে, তার প্রতিটিতেই ধর্মের বিরুদ্ধে চক্রান্ত এবং ধর্ম থেকে বিচ্যুত হওয়ার অপপ্রয়াস বিদ্যমান ছিল। তবে রাজনীতি থেকে ধর্মকে বিচ্ছিন্ন করার ক্ষেত্রে তাদের চক্রান্ত অন্য যেকোনো চক্রান্তের চেয়ে অনেক বেশি ভয়ংকর ও কঠোর; আর এটি মূলত জনগণের ধর্মের বিরুদ্ধে একটি সরকারি বিদ্রোহ" ৪
এটি মুসলমানদের বর্তমান অবস্থার একটি সংক্ষিপ্ত উপস্থাপনা, যা জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে উম্মাহর ঐক্য ও সংহতির ওপর অত্যন্ত নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। উম্মাহ তাদের আকিদা, ইবাদত এবং শরিয়তের ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মহান আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ (سنة)-তে বর্ণিত দিকনির্দেশনার আলোকে যতক্ষণ না এই বাস্তবতাকে সংশোধন করা হবে, ততক্ষণ উম্মাহর পুনরুত্থান সম্ভব নয় এবং তাদের ঐক্যও সুসংহত হবে না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াহদাতুল ইসলামিয়্যাহ উসুসুহা ওয়া ওয়াসাইলু তাহকিকিহা
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
القسم الثاني: اسباب هذا الواقع
الجهل بدين الله عز وجل…القسم الثاني
أسباب هذا الواقع
أولا: جهل الأمة بدينها.
ثانيا: الغزو العسكري.
ثالثا: الغزو الفكري.
দ্বিতীয় বিভাগ: এই বাস্তবতার কারণসমূহমহান আল্লাহর দ্বীন সম্পর্কে অজ্ঞতা…দ্বিতীয় বিভাগ
এই বাস্তবতার কারণসমূহ
প্রথমত: উম্মাহর নিজস্ব দ্বীন সম্পর্কে অজ্ঞতা।
দ্বিতীয়ত: সামরিক আগ্রাসন।
তৃতীয়ত: বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসন।
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াহদাতুল ইসলামিয়্যাহ উসুসুহা ওয়া ওয়াসাইলু তাহকিকিহা
(পৃষ্ঠা: ৫১)
القسم الثاني
أسباب هذا الواقع
لقد كانت هناك أسباب متعددة وراء ذلك الواقع نذكر أهمها:
أولا: جهل الأمة بدينها:
فقد انتشر الجهل في الأمة قيادات وشعوبا حتى أصبح كثير منهم لا يعرف من دينه إلا اسمه فلا يعرف أحكامه وعقائده ولا أخلاقه وآدابه فسهل على أعداء الله عز وجل أن ينشروا ضلالهم وأن يبثوا سمومهم بل وسهل عليهم أن يصنعوا لهم عملاء من أبناء المسلمين يحاربون عقيدة المسلمين وينشرون الضلال في صفوفهم.
قال الأستاذ محمد كرد علي: "أصبح الناس بعد المائة السادسة تفتر هممهم شيئا فشيئا في طلب العلم ورغبوا عن الافتنان بفنونه وحصروا نطاقه وعفوا بعض معالمه فأصبحت مجاهل وكثرت البدع وكثر الدعاة إليها والتعويل عليها "1.
ويذكر الأستاذ الندوي وهو يتحدث عن الجهل الذي أصاب تركيا "إنه لم يكن الجمود العلمي والكلال الفكري مقتصرين على تركيا وأوساطها العلمية والدينية فحسب بل كان العالم الإسلامي من شرقه إلى غربه مصابا بالجدب العلمي وشبه شلل فكرى قد أخذه الإعياء والفتور واستولى عليه النعاس"2.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ
এই বাস্তবতার কারণসমূহ
এই বাস্তবতার পেছনে বহুবিধ কারণ বিদ্যমান ছিল, যার মধ্যে আমরা প্রধানগুলো উল্লেখ করছি:
প্রথমত: উম্মাহর নিজ দ্বীন সম্পর্কে অজ্ঞতা:
উম্মাহর নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ জনগণের মধ্যে অজ্ঞতা এমনভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল যে, তাদের অনেকেই দ্বীনের কেবল নাম ছাড়া আর কিছুই জানত না। তারা দ্বীনের বিধান (أحكام), আকিদাহ (عقيدة) এবং আখলাক ও আদব সম্পর্কে অবগত ছিল না। ফলে আল্লাহর শত্রুদের জন্য তাদের পথভ্রষ্টতা (ضلال) ছড়িয়ে দেওয়া এবং বিষবাষ্প ছড়ানো সহজ হয়ে গিয়েছিল; এমনকি মুসলিম সন্তানদের মধ্য থেকে এমন অনুচর তৈরি করাও তাদের জন্য সহজ হয়ে গিয়েছিল যারা মুসলিমদের আকিদাহ (عقيدة)-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে এবং তাদের সারিতে পথভ্রষ্টতা (ضلال) ছড়াবে।
উস্তাদ মুহাম্মদ কুর্দ আলী বলেন: "ষষ্ঠ শতকের পর জ্ঞান অন্বেষণে মানুষের সংকল্প ধীরে ধীরে শিথিল হতে থাকে। তারা জ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় পারদর্শিতা অর্জনে বিমুখ হয়ে পড়ে, এর পরিধিকে সংকুচিত করে ফেলে এবং এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য বিলুপ্ত করে দেয়। ফলে ইলমের অঙ্গনগুলো অজ্ঞতার মরুভূমিতে পরিণত হয় এবং বিদআত (بدعة) ও তার দিকে আহ্বানকারীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং এর ওপরই নির্ভরতা বাড়তে থাকে।"১
উস্তাদ নদভী তুরস্কে জেঁকে বসা অজ্ঞতা সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে উল্লেখ করেন: "বুদ্ধিবৃত্তিক স্থবিরতা ও চিন্তাগত ক্লান্তি কেবল তুরস্ক এবং তার শিক্ষা ও ধর্মীয় মহলে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত সমগ্র মুসলিম বিশ্ব জ্ঞানতাত্ত্বিক দুর্ভিক্ষ এবং এক প্রকার বুদ্ধিবৃত্তিক পক্ষাঘাতগ্রস্ততায় আক্রান্ত ছিল, যা তাকে অবসন্ন ও নিস্তেজ করে দিয়েছিল এবং তন্দ্রা তাকে আচ্ছন্ন করে ফেলেছিল।"২
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াহদাতুল ইসলামিয়্যাহ উসুসুহা ওয়া ওয়াসাইলু তাহকিকিহা
(পৃষ্ঠা: ৫১)
ثانيا:
الغزو العسكري لبلدان المسلمين:كانت الأمة الإسلامية أمة واحدة تستظل براية واحدة وتخضع لقيادة واحدة فكانت ذات شوكة ومنعة ثم لم تلبث أن سرت فيها أمراض فتاكة خلخلت بناءها وأفسدت أبناءها فضعفت قوتها وذلت عزتها فسهل على أعدائها القضاء عليها وتمزيقها إلى دويلات وإمارات واستولت على كثير منها فترات طويلة استطاعت فيها أن تفسد عقائدها وأخلاقها وتغير ولاءها.
يقول برنارد لويس: "وفي أواخر القرن التاسع عشر وأوائل القرن العشرين تعدلت
দ্বিতীয়ত:
মুসলিম দেশসমূহের ওপর সামরিক আক্রমণ:মুসলিম উম্মাহ ছিল এক অবিভাজ্য জাতি, যারা একটি পতাকার ছায়াতলে ঐক্যবদ্ধ ছিল এবং একক নেতৃত্বের অনুগত ছিল। ফলে তারা ছিল প্রতাপশালী ও অপরাজেয়। অতঃপর অনতিবিলম্বে এর অভ্যন্তরে কিছু প্রাণঘাতী ব্যাধি ছড়িয়ে পড়ে, যা এর সুসংহত ভিত্তিকে নড়বড়ে করে দেয় এবং এর সন্তানদের আদর্শিক বিচ্যুতি ঘটায়। এতে তাদের শক্তি স্তিমিত হয়ে পড়ে এবং তাদের মর্যাদা ধূলিসাৎ হয়। ফলে শত্রুদের জন্য তাদের অস্তিত্ব বিলীন করা এবং তাদের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাষ্ট্র ও আমিরাতে খণ্ডবিখণ্ড করা সহজ হয়ে যায়। শত্রুরা দীর্ঘকাল যাবত এই জনপদগুলোর অধিকাংশের ওপর আধিপত্য বজায় রাখে এবং এই সময়ে তারা উম্মাহর আকিদা ও নৈতিকতা বিনষ্ট করতে এবং তাদের আনুগত্যের ধারা পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়।
বার্নার্ড লুইস বলেন: "ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে এবং বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে পরিবর্তিত হয়..."
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াহদাতুল ইসলামিয়্যাহ উসুসুহা ওয়া ওয়াসাইলু তাহকিকিহা
(পৃষ্ঠা: ৫২)
وتغيرت الولاءات التي كانت قائمة للخلافة الإسلامية القديمة والتي كانت تحكم العرب والعجم والترك وحلت محلها أفكار ممزقة مبعثرة أوروبية هي مزيج من الوطنية والقومية ونظريات خيالية عن الوطن والقوم حجبت الحقائق القديمة الواقعية في الدولة والعقيدة"1.
فأصبحت بعد ذلك الأمة الواحدة أمما مختلفة ومجتمعات متعددة لكل منها شعاره ومذهبه فتمزقت وحدة الأمة وتعددت ولاءاتها بحسب شعاراتها ومذاهبها.
وكان هذا كله بسبب الغزو العسكري الذي احتل بلاد المسلمين فترات متفاوتة ركز خلالها على إفساد عقيدة الأمة وأخلاقها وقسمها بعد ذلك إلى دول ومناطق أقام لكل واحدة منها حاكما مستقلا.
--------------------------------------------
প্রাচীন ইসলামী খিলাফতের প্রতি বিদ্যমান আনুগত্যসমূহ পরিবর্তিত হয়ে গেছে, যা এক সময় আরব, অনারব এবং তুর্কিদের শাসন করত। সেগুলোর স্থলাভিষিক্ত হয়েছে ইউরোপীয় ছিন্নভিন্ন ও বিক্ষিপ্ত কিছু চিন্তাধারা, যা স্বাদেশিকতা, জাতীয়তাবাদ এবং স্বদেশ ও জাতি সম্পর্কিত কিছু কাল্পনিক তত্ত্বের সংমিশ্রণ। এগুলো রাষ্ট্র ও আকিদা (عقيدة) বিষয়ক প্রাচীন বাস্তব সত্যসমূহকে আড়াল করে দিয়েছে।"1.
ফলে সেই একক উম্মাহ পরবর্তীতে বিভিন্ন জাতি ও একাধিক সমাজে পরিণত হয়েছে, যাদের প্রত্যেকের নিজস্ব স্লোগান ও মাযহাব (مذهب) রয়েছে। এভাবে উম্মাহর ঐক্য ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় এবং তাদের স্লোগান ও মাযহাব (مذهب) অনুযায়ী আনুগত্যের বহুধা বিভক্তি ঘটে।
আর এ সবকিছুর মূলে ছিল সেই সামরিক আগ্রাসন, যা বিভিন্ন মেয়াদে মুসলিম ভূখণ্ডসমূহ দখল করে রেখেছিল। এই সময়ে তারা উম্মাহর আকিদা (عقيدة) ও নৈতিকতা বিনষ্ট করার প্রতি মনোনিবেশ করেছিল এবং পরবর্তীতে একে বিভিন্ন রাষ্ট্র ও অঞ্চলে বিভক্ত করে প্রতিটি অংশের জন্য একজন করে স্বাধীন শাসক নিযুক্ত করেছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াহদাতুল ইসলামিয়্যাহ উসুসুহা ওয়া ওয়াসাইলু তাহকিকিহা
(পৃষ্ঠা: ৫২)
ثالثا:
الغزو الفكري:لم يكتف الاستعمار بتحطيم الخلافة الإسلامية وتفريق الأمة إلى دول وشعوب.. ونهب خيراتها وتشتيت ولاءاتها.. بل أضافوا إلى ذلك غزوا للعقول والقلوب بشعارات ومبادئ جديدة تفسد العقول وتخرب القلوب ليبقى لهم السيطرة والنفوذ مادامت هذه الشعارات والمبادئ تحكم هذه البلاد.
وقد ذكر الأستاذ محمد محمود الصواف عن وسائل الاستعمار في غزو المسلمين والجبهات التي تشترك في ذلك الغزو، وأكد أن جميع تلك الجبهات تعمل: "سرا وجهرا لأهداف الاستعمار التي يرمى من ورائها إلى إيقاف الوعي الإسلامي وصد المسلمين عن دينهم إبقاء لسَيطرته ونفوذه في بلاد المسلمين وليتمتع هو وجنوده الأبالسة في خيرات بلاد المسلمين ويسعى في سرقة ثرواتهم والسيطرة عليهم فكريا وسياسيا واقتصاديا.
لذا أخذ المستعمرون يبذلون كل الجهود لإشاعة الفساد في المجتمع الإسلامي العظيم وزرع الشكوك في العقول الإسلامية وقتل الطموح في نفوس المسلمين، وبث الفرقة والشقاق في الصف الإسلامي حتى تعاونت جميع أجهزة الاستعمار من دعائية وسياسية وفكرية واقتصادية لتحقيق أهداف الاستعمار"2.
وقد شارك اليهود الاستعمار الصليبي في تصدير الأفكار والمذاهب المنحرفة إلى بلاد المسلمين.. بل لعل اليهود أكثر حماسا وحقدا على الإسلام، والتاريخ يؤكد هذه الحقيقة
--------------------------------------------
তৃতীয়ত:
বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসন:সাম্রাজ্যবাদ কেবল ইসলামী খিলাফত ধ্বংস করা এবং উম্মাহকে বিভিন্ন রাষ্ট্র ও জাতিতে বিভক্ত করা... এবং তাদের সম্পদ লুণ্ঠন ও আনুগত্যকে ছিন্নভিন্ন করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। বরং তারা এর সাথে যুক্ত করেছে মন ও হৃদয়ের ওপর এক বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসন, যা এমন সব নতুন স্লোগান ও মূলনীতির মাধ্যমে পরিচালিত হয় যা মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিকে কলুষিত করে এবং হৃদয়কে বিধ্বস্ত করে; যাতে যতদিন এই স্লোগান ও মূলনীতিগুলো এই দেশগুলোকে শাসন করবে, ততদিন তাদের আধিপত্য ও প্রভাব অটুট থাকে।
উস্তাদ মুহাম্মদ মাহমুদ আস-সাওয়াফ মুসলমানদের ওপর আগ্রাসন চালানোর ক্ষেত্রে সাম্রাজ্যবাদের মাধ্যমসমূহ এবং এই আগ্রাসনে অংশগ্রহণকারী পক্ষগুলো সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। তিনি জোর দিয়ে ব্যক্ত করেছেন যে, এই সকল পক্ষই: "সাম্রাজ্যবাদের সেই লক্ষ্যসমূহ হাসিলের জন্য গোপনে ও প্রকাশ্যে কাজ করে যাচ্ছে, যার নেপথ্য উদ্দেশ্য হলো ইসলামী জাগরণকে স্তব্ধ করে দেওয়া এবং মুসলমানদেরকে তাদের দ্বীন থেকে বিমুখ করা; যাতে মুসলিম দেশগুলোতে তাদের আধিপত্য ও প্রভাব বজায় থাকে এবং সে ও তার শয়তানি সৈন্যরা মুসলিম দেশগুলোর ধন-সম্পদ ভোগ করতে পারে। তারা মূলত তাদের সম্পদ লুণ্ঠন এবং তাদের ওপর বুদ্ধিবৃত্তিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করে।"
"এ কারণেই সাম্রাজ্যবাদীরা মহান ইসলামী সমাজে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে দিতে, মুসলিম মানসপটে সংশয়ের বীজ বপন করতে এবং মুসলমানদের অন্তর থেকে উচ্চাকাঙ্ক্ষা বিলীন করে দিতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা মুসলিম কাতারে বিভেদ ও অনৈক্য ছড়িয়ে দিচ্ছে, এমনকি সাম্রাজ্যবাদের লক্ষ্য হাসিলে তাদের প্রচারমূলক, রাজনৈতিক, বুদ্ধিবৃত্তিক ও অর্থনৈতিক সকল সংস্থাই পরস্পরকে সহযোগিতা করছে।"২
মুসলিম দেশগুলোতে বিভ্রান্তিকর চিন্তাধারা ও মতবাদসমূহ রপ্তানি করার ক্ষেত্রে ইহুদিরা ক্রুসেডার সাম্রাজ্যবাদের সাথে অংশীদার হয়েছে। বরং সম্ভবত ইহুদিরা ইসলামের বিরুদ্ধে অধিকতর উৎসাহী এবং বিদ্বেষপরায়ণ, আর ইতিহাস এই সত্যটিকেই নিশ্চিত করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াহদাতুল ইসলামিয়্যাহ উসুসুহা ওয়া ওয়াসাইলু তাহকিকিহা
(পৃষ্ঠা: ৫৩)
حيث كان اليهود هم أول من وقف في وجه الإسلام وحاولوا القضاء عليه ولكن الله عز وجل رد كيدهم في نحورهم وحفظ دينه وأعلا كلمته.
فعبد الله بن سبأ (يهودي) أظهر الإسلام لإفساد الإسلام، ودعاة الإلحاد وزعماؤه اليوم (يهود) أرادوا إفساد العالم:
كارل ماركس الشيوعي (يهودي)
وفرويد (يهودي)
ودور كايم (يهودي)
وهؤلاء هم زعماء المذاهب المنحرفة في الاقتصاد والأخلاق والاجتماع وقد أثرت مذاهبهم في المجتمعات البشرية عموما وفي المجتمعات الإسلامية على وجه الخصوص.
يقول الأستاذ أنور الجندي: "ولا ريب أن اليهودية العالمية هي التي أثارت في العالم الإسلامي تمزيق وحدة العروبة والإسلام للحيلولة دون الوحدة وعملا على تعميق التجزئة الإقليمية.
ولما كانت وحدة العرب والمسلمين لها جذورها الضخمة البعيدة المدى في الفكر الإسلامي وفي القرآن نفسه فقد طرحت عشرات المذاهب والقضايا والدعوات والأنظمة والنماذج التي طرحت في أوروبا لإفساد المفهوم الإسلامي الجامع للعرب والإسلام"4.
ويعترف اليهود بذلك في (بروتوكولاتهم) حيث يقول البروتوكول التاسع: "ولقد خدعنا الجيل الناشئ من الأميين وجعلناه فاسدا متعفنا بما علمناه من مبادئ ونظريات معروف لدينا زيفها"5.
وكان من جراء هذا الغزو المشترك أن ظهرت في بلاد المسلمين اتجاهات منحرفة تتبنى تلك العقائد الضالة وتحاول نشرها في المجتمعات الإسلامية، ولعل الصورة التي يعرضها اللورد كرومر المصري الجديد – كما تصورها هو – تنطبق إلى حد ما على مجموعات من أبناء المسلمين الذين أثر فيهم الغزو الفكري الغربي.
يقول: "إن المجتمع المصري في مرحلة الانتقال والتطور السريع وكان من نتيجته
--------------------------------------------
যেহেতু ইহুদিরাই সর্বপ্রথম ইসলামের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল এবং একে নির্মূল করার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু আল্লাহ মহিমান্বিত ও পরাক্রমশালী তাদের ষড়যন্ত্র তাদের বিরুদ্ধেই নস্যাৎ করে দিয়েছেন এবং তাঁর দ্বীনকে রক্ষা করেছেন ও তাঁর বাণীকে সমুন্নত করেছেন।
সুতরাং আবদুল্লাহ বিন সাবা (ইহুদি) ইসলামকে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে বাহ্যিকভাবে ইসলাম প্রকাশ করেছিল, আর বর্তমান যুগের নাস্তিক্যবাদের প্রবক্তা ও নেতারাও (ইহুদি) যারা বিশ্বকে কলুষিত করতে চেয়েছিল:
কমিউনিস্ট কার্ল মার্কস (ইহুদি)
ফ্রয়েড (ইহুদি)
এবং ডুরখেইম (ইহুদি)
এরাই হলেন অর্থনীতি, নীতিশাস্ত্র এবং সমাজবিজ্ঞানের বিভ্রান্ত মতবাদসমূহের প্রবক্তা। তাদের মতাদর্শগুলো সাধারণভাবে মানবসমাজে এবং বিশেষভাবে মুসলিম সমাজে গভীর প্রভাব ফেলেছে।
অধ্যাপক আনোয়ার আল-জুনাইদি বলেন: "এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আন্তর্জাতিক ইহুদিবাদই মুসলিম বিশ্বে আরব ও ইসলামের ঐক্যকে খণ্ডিত করার উসকানি দিয়েছে যাতে ঐক্য বাধাগ্রস্ত হয় এবং আঞ্চলিক বিভাজনকে সুসংহত করা যায়।
আর যেহেতু আরব ও মুসলমানদের ঐক্যের শিকড় ইসলামি চিন্তা ও স্বয়ং কুরআনের অনেক গভীরে প্রোথিত, তাই ইউরোপে উদ্ভাবিত কয়েক ডজন মতবাদ, বিষয়, আহ্বান, ব্যবস্থা ও মডেল সামনে আনা হয়েছে যাতে আরব ও ইসলামের সমন্বিত ইসলামি ধারণাটিকে কলুষিত করা যায়।"৪।
ইহুদিরা তাদের 'প্রটোকল'-এ বিষয়টি স্বীকার করেছে, যেখানে নবম প্রটোকলে বলা হয়েছে: "আমরা নিরক্ষরদের মধ্য থেকে উদীয়মান প্রজন্মকে প্রতারিত করেছি এবং আমাদের শেখানো এমন সব আদর্শ ও তত্ত্বের মাধ্যমে তাদের কলুষিত ও পচা গন্ধে ভরিয়ে দিয়েছি, যেগুলোর অসারতা আমাদের কাছে সুপরিচিত।"৫।
এই যৌথ আক্রমণের ফলে মুসলিম দেশগুলোতে এমন কিছু বিচ্যুত ধারার উদ্ভব হয়েছে যা সেই বিভ্রান্ত আকিদাগুলো লালন করে এবং মুসলিম সমাজে তা ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। লর্ড ক্রোমার তার 'নতুন মিশরীয়'-র যে চিত্র তুলে ধরেছেন—যেভাবে তিনি তা কল্পনা করেছিলেন—তা সম্ভবত মুসলিম সন্তানদের সেই গোষ্ঠীগুলোর ওপর অনেকাংশেই প্রযোজ্য যাদের ওপর পশ্চিমা বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসন প্রভাব বিস্তার করেছে।
তিনি বলেন: "মিশরীয় সমাজ বর্তমানে দ্রুত রূপান্তর ও বিবর্তনের একটি পর্যায়ে রয়েছে এবং এর ফলস্বরূপ..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াহদাতুল ইসলামিয়্যাহ উসুসুহা ওয়া ওয়াসাইলু তাহকিকিহা
(পৃষ্ঠা: ৫৪)
الطبيعية إن وجدت جماعة من أفرادهم "مسلمون " ولكنهم متجردون عن العقيدة الإسلامية والخصائص الإسلامية وان كانوا "غربيين " فإنهم لا يحملون القوة المعنوية والثقة بأنفسهم وإن المصري الذي خضع للتأثير الغربي فإنه وان كان يحمل الاسم الإسلامي لكنه في الحقيقة ملحد وارتيابي والفجوة بينه وبين عالم أزهري لا تقل عن الفجوَة بين عالم أزهري وبين أوربي"1.
هذه هي ثمار الغزو الفكري في بلاد المسلمين.
--------------------------------------------
স্বাভাবিক বিষয় হলো, যদি তাদের ব্যক্তিদের মধ্য থেকে এমন একটি দল পাওয়া যায় যারা "মুসলিম", কিন্তু তারা ইসলামি বিশ্বাস (العقيدة) ও ইসলামি বৈশিষ্ট্যসমূহ বর্জিত এবং যদিও তারা "পাশ্চাত্যঘেঁষা", তবুও তারা নৈতিক শক্তি ও আত্মবিশ্বাস ধারণ করে না। আর সেই মিশরীয় ব্যক্তি যে পাশ্চাত্য প্রভাবের বশীভূত হয়েছে, সে যদিও ইসলামি নাম ধারণ করে থাকে, কিন্তু বাস্তবে সে একজন নাস্তিক (ملحد) ও সংশয়বাদী (ارتيابي); এবং তার ও একজন আজহারি আলেমের মধ্যকার ব্যবধান একজন আজহারি আলেম ও একজন ইউরোপীয়র মধ্যকার ব্যবধানের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়।"১।
এগুলোই হলো মুসলিম দেশগুলোতে বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসনের ফল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াহদাতুল ইসলামিয়্যাহ উসুসুহা ওয়া ওয়াসাইলু তাহকিকিহা
(পৃষ্ঠা: ৫৫)
القسم الثالث: اسس وحدة الأمة الإسلامية
وحدة الغاية…القسم الثالث
أسس الوحدة الِإسلامية
أولا: وحدة الغاية.
ثانيا: وحدة العقيدة.
ثالثا: وحدة القيادة.
رابعا: وحدة التشريع.
তৃতীয় বিভাগ: ইসলামী উম্মাহর ঐক্যের ভিত্তিলক্ষ্যের অভিন্নতা…তৃতীয় বিভাগ
ইসলামী ঐক্যের ভিত্তি
প্রথমত: লক্ষ্যের অভিন্নতা।
দ্বিতীয়ত: আকিদাহর (عقيدة) অভিন্নতা।
তৃতীয়ত: নেতৃত্বের অভিন্নতা।
চতুর্থত: বিধান প্রণয়নের (تشريع) অভিন্নতা।
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াহদাতুল ইসলামিয়্যাহ উসুসুহা ওয়া ওয়াসাইলু তাহকিকিহা
(পৃষ্ঠা: ৫৭)
القسم الثالث
أسس الوحدة الإسلامية
إن الأمة الإسلامية تملك أسسا مشتركة تستطيَع بها أن تجمع شتاتها وتوحد كلمتها.. فهي أمة واحدة.. ذات دين واحد.. وكتاب واحد.. ورسول واحد.. وهذه هي الأصول والأسس التي تشترك فيها الأمة الإسلامية.
فإذا ما أدركت جيدا والتزمت بمقتضياتها فإن ذلك يجعل منها أمة واحدة تلتقي على:
أولا: وحدة الغاية.
ثانيا: وحدة العقيدة.
ثالثا: وحدة القيادة.
رابعا: وحدة التشريع.
وبهذا تصبح الشعوب الإسلامية "أمة واحدة" تذوب فيها جميع الأجناس والتجمعات شعارها: {وَإِنَّ هَذِهِ أُمَّتُكُمْ أُمَّةً وَاحِدَةً} فتحقق للأمة الإسلامية عزتها وقوتها المنشودة.
وفيما يلي نبين بإيجاز تلك الأسس:
أولا: وحدة الغاية:
إن لهذا الإنسان الذي يعيش على ظهر هذه الأرض: "غاية" يؤديها أثناء وجوده إذا عرفها وتمثلها في حياته سعد في دنياه وآخرته وإذا جهلها أو أعرض عنها فانه يشقى في الدنيا والآخرة.
هذه الغاية حددها الله عز وجل بنفسه وبينها في كتبه.. فمن أجلها خلق الإنسان..
ألا وهي: "عبادة الله عز وجل " كما قال سبحانه وتعالى: {وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالإنْسَ إلَاّ لِيَعْبُدُونِ} 1.
والمسلمون ولله الحمد يدركون هذه الغاية ويعرفونها ولكنهم فرطوا في القيام بها والعمل بمقتضاها مما كان له أسوأ الأثر في حياتهم.
فلابد من العودة الصادقة إلى تحقيق هذه الغاية والالتزام بمقتضياتها ليحقق المسلمون لأنفسهم السعادة في الدنيا والآخرة.
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদ
ইসলামি ঐক্যের ভিত্তি
নিশ্চয়ই মুসলিম উম্মাহর এমন কিছু অভিন্ন ভিত্তি রয়েছে যার মাধ্যমে তারা তাদের বিভক্তি দূর করতে এবং নিজেদের ঐক্যবদ্ধ করতে সক্ষম। তারা এক উম্মাহ.. এক দ্বীন.. এক কিতাব.. এবং এক রাসূলের অনুসারী.. আর এগুলোই হলো সেই সব মূলনীতি ও ভিত্তি যেগুলোতে মুসলিম উম্মাহ অংশীদার।
সুতরাং তারা যদি এগুলো যথাযথভাবে অনুধাবন করে এবং এর দাবিগুলো মেনে চলে, তবে তা তাদেরকে এমন এক উম্মাহ হিসেবে গড়ে তুলবে যারা নিম্নোক্ত বিষয়গুলোতে ঐক্যবদ্ধ:
প্রথমত: লক্ষ্যের ঐক্য।
দ্বিতীয়ত: আকিদাহ বা বিশ্বাসের ঐক্য।
তৃতীয়ত: নেতৃত্বের ঐক্য।
চতুর্থত: বিধানের ঐক্য।
এর মাধ্যমে মুসলিম জাতিসমূহ এমন এক "একক উম্মাহ"-তে পরিণত হবে যেখানে সকল জাতিগত ও গোষ্ঠীগত বিভেদ বিলীন হয়ে যাবে। তাদের স্লোগান হবে: {আর নিশ্চয়ই তোমাদের এই উম্মাহ তো এক উম্মাহ}। ফলে মুসলিম উম্মাহর জন্য তাদের কাঙ্ক্ষিত মর্যাদা ও শক্তি অর্জিত হবে।
নিম্নে সংক্ষেপে সেই ভিত্তিগুলো আলোচনা করা হলো:
প্রথমত: লক্ষ্যের ঐক্য:
এই পৃথিবীর বুকে বসবাসকারী মানুষের অস্তিত্বের একটি "লক্ষ্য" রয়েছে যা সে তার জীবদ্দশায় পালন করে। যদি সে তা জানতে পারে এবং জীবনে প্রতিফলন ঘটাতে পারে, তবে সে দুনিয়া ও আখেরাতে সৌভাগ্যবান হবে; আর যদি সে এ সম্পর্কে অজ্ঞ থাকে বা বিমুখ হয়, তবে সে উভয় জগতেই দুর্ভাগা হবে।
এই লক্ষ্য স্বয়ং মহান আল্লাহ নির্ধারণ করে দিয়েছেন এবং তাঁর কিতাবসমূহে তা বর্ণনা করেছেন। এই লক্ষ্যের জন্যই মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে।
আর তা হলো: "মহান আল্লাহর ইবাদত"; যেমনটি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন: {আমি জিন ও মানুষকে কেবল আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি} ১।
আলহামদুলিল্লাহ, মুসলিমরা এই লক্ষ্য সম্পর্কে অবগত এবং তারা এটি জানে, কিন্তু তারা তা পালনে এবং এর দাবি অনুযায়ী আমল করার ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শন করেছে, যা তাদের জীবনে অত্যন্ত নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
অতএব, মুসলিমদের নিজেদের জন্য ইহকাল ও পরকালে মুক্তি নিশ্চিত করতে এই লক্ষ্য অর্জনে এবং এর দাবিগুলো পালনে একনিষ্ঠভাবে ফিরে আসা অপরিহার্য।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াহদাতুল ইসলামিয়্যাহ উসুসুহা ওয়া ওয়াসাইলু তাহকিকিহা
(পৃষ্ঠা: ৫৮)
السعادة في الدنيا باجتماع الكلمة ووحدة الأمة وطمأنينة النفس واستقامة الحياة.. وهي آمال يحلم بها جميع شعوب العالم ولكنهم لم يهتدوا إلى أسبابها ووسائلها.
ولكن تعدد الغايات وتنوعها يفتت الأمة ويشتت كلمتها ويجعل كل فئة من الأمة لها غاية تخالف غاية الفئة الأخرى تسعى لتحقيقها والوصول إليها.
فغاية اقتصادية.. وغاية سياسية.. وغاية شهوانية.. وهكذا غايات متعددة تنتهي بهم إلى فئات متصارعة وسبل متفرقة.
قال عز وجل: {وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيماً فَاتَّبِعُوهُ وَلا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَنْ سَبِيلِهِ ذَلِكُمْ وَصَّاكُمْ بِهِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ} 1.
--------------------------------------------
পার্থিব জীবনের সুখ নিহিত রয়েছে বচনের ঐক্য, উম্মাহর একতা, মনের প্রশান্তি এবং জীবনের অবিচলতা (استقامة)-এর মাঝে। এগুলো এমন সব আকাঙ্ক্ষা যা বিশ্বের সকল জাতি স্বপ্ন দেখে, কিন্তু তারা এর কারণ ও উপকরণের দিকে পথ খুঁজে পায়নি।
কিন্তু লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের আধিক্য ও বৈচিত্র্য উম্মাহকে খণ্ডবিখণ্ড করে দেয়, তাদের ঐক্য বিনষ্ট করে এবং উম্মাহর প্রতিটি দলকে এমন ভিন্ন ভিন্ন লক্ষ্যের অনুসারী করে তোলে যা একে অপরের পরিপন্থী; ফলে প্রত্যেকে নিজ লক্ষ্য অর্জনে ও সেখানে পৌঁছাতে সচেষ্ট থাকে।
কখনো তা অর্থনৈতিক লক্ষ্য, কখনো রাজনৈতিক লক্ষ্য, আবার কখনো তা প্রবৃত্তিগত লক্ষ্য; এভাবে বহুবিধ লক্ষ্য তাদেরকে পরস্পর সংঘাতময় গোষ্ঠী এবং বিচ্ছিন্ন পথে পর্যবসিত করে।
মহান আল্লাহ বলেন: “আর এটিই আমার সরল (مستقيم) পথ, সুতরাং তোমরা এরই অনুসরণ করো এবং অন্যান্য পথের অনুসরণ করো না, অন্যথায় তা তোমাদেরকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে। তিনি তোমাদেরকে এই নির্দেশই দিয়েছেন যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো।” ১।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াহদাতুল ইসলামিয়্যাহ উসুসুহা ওয়া ওয়াসাইলু তাহকিকিহা
(পৃষ্ঠা: ৫৮)
ثانيا:
وحدة العقيدة:إن التفرق الذي ابتليت به الأمة في عقيدتها- كما رأينا طرفا منه في أول البحث- لا يمكن أن يكون معه اجتماع للأمة ولا تعاون ولذلك فإنه لابد أولا من علاجِ لذلك التفرق برد الملحدين إلى الله عز وجل وتصحيح عقائد المنحرفين لتتوحد القلوب وتتآلف النفوس. فأما الذين ابتلوا بمرض الإلحاد فقد كان ذلك في غيبة من الوعي الإسلامي وفي وقت الانبهار بالحضارة الغربية التي تمردت على الدين بل حملت لواء الحرب ضده.
والآن وقد بدأ المسلمون يدركون حقيقة الحضارة الغربية وما تحمله من سلبيات وثمرات فاسدة.. بدأ الوعي يدب في صفوفهم ويدركون قيمة هذا الدين وأنه لا سعادة للإنسان في هذه الحياة بدون أن يلتزم بعقيدته وتوجيهاته.
يقول الأستاذ محمد محمود الصواف: "وفي يقيني أن الزمن الذي كان يسمى فيه الإسلام "رجعية" و"تزمتا" قد مضى وانقضى حيث تعرى خصوم الإسلام وانكشفوا وظهر زيف دعواتهم الباطلة من قومية واشتراكية وحزبية قاتلة وغيرها من فتن هذا العصر المضللة ورأى الناس خيبتها وخسرانها وتضييعها للأوطان وتدميرها وعبثها بحقوق الإنسان، ورأوا عن كثب ويلاتها على العرب الذين ابتلوا بها، بل ويلاتها على الجنس البَشرى في جميع أنحاء الأرض ومن دعاتها من رأى ذلك بأم عينه ولكنه معاند مكابر لا يعترف بإخفاقه ولا يريد الخضوع أمام غيره.
ولم يعد الإسلام "رجعية" كما كانوا يسمونه وتسميه إذاعاتهم بأصواتها المنكرة
দ্বিতীয়ত:
আকিদার ঐক্য:আকিদার ক্ষেত্রে উম্মাহ যে বিভক্তির শিকার হয়েছে—যেমনটি আমরা গবেষণার শুরুতে কিছুটা প্রত্যক্ষ করেছি—সেই বিভক্তি বজায় রেখে উম্মাহর ঐক্যবদ্ধ হওয়া বা পারস্পরিক সহযোগিতা সম্ভব নয়। তাই সর্বপ্রথম নাস্তিকদের আল্লাহর পথে ফিরিয়ে আনা এবং বিচ্যুতদের আকিদা সংশোধন করার মাধ্যমে এই বিভক্তির প্রতিকার করা আবশ্যক, যাতে অন্তরসমূহ ঐক্যবদ্ধ হয় এবং আত্মিক সংহতি স্থাপিত হয়। যারা নাস্তিকতার ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়েছিল, তা মূলত ইসলামি চেতনার অনুপস্থিতি এবং পশ্চিমা সভ্যতার মোহে আচ্ছন্ন হওয়ার সময়ে ঘটেছিল; যে সভ্যতা ধর্মের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিল, এমনকি তার বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঝাণ্ডা বহন করেছিল।
বর্তমানে মুসলিমরা পশ্চিমা সভ্যতার স্বরূপ এবং এর নেতিবাচক দিক ও অশুভ পরিণামগুলো উপলব্ধি করতে শুরু করেছে। তাদের মধ্যে নতুন করে সচেতনতা জাগ্রত হচ্ছে এবং তারা এই দ্বীনের গুরুত্ব অনুধাবন করছে। তারা বুঝতে পারছে যে, নিজস্ব আকিদা ও এর দিকনির্দেশনা অনুসরণ করা ব্যতীত মানবজীবনে প্রকৃত সুখ লাভ করা সম্ভব নয়।
উস্তাদ মুহাম্মদ মাহমুদ আল-সাওয়াফ বলেন: "আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে, ইসলামকে 'পশ্চাৎপদতা' ও 'গোঁড়ামি' হিসেবে অভিহিত করার সেই সময় অতীত হয়ে গেছে। ইসলামের শত্রুরা আজ উন্মোচিত এবং তাদের স্বরূপ প্রকাশ হয়ে পড়েছে। জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র ও ধ্বংসাত্মক দলীয় রাজনীতির ন্যায় ভ্রান্ত মতবাদসমূহ এবং বর্তমান যুগের অন্যান্য বিভ্রান্তিকর ফিতনাগুলোর অসারতা আজ প্রমাণিত। মানুষ এগুলোর ব্যর্থতা, বিপর্যয়, স্বদেশ ধ্বংস এবং মানবাধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলার দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেছে। বিশেষ করে আরব বিশ্বের ওপর এগুলোর যে ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে তা তারা খুব কাছ থেকে দেখেছে। শুধু আরব ভূখণ্ডই নয়, বরং সমগ্র বিশ্বের মানবজাতির ওপর এর অশুভ পরিণাম পরিলক্ষিত হয়েছে। এমনকি এসব মতবাদের কোনো কোনো প্রবক্তা স্বচক্ষে এই ব্যর্থতা প্রত্যক্ষ করেছে, কিন্তু তারা হঠকারী ও অহংকারী হওয়ার কারণে নিজেদের পরাজয় স্বীকার করে না এবং অন্যের শ্রেষ্ঠত্ব মেনে নিতে চায় না।"
ইসলাম এখন আর সেই 'পশ্চাৎপদতা' নয়, যা তারা এবং তাদের বেতার কেন্দ্রগুলো তাদের কর্কশ কণ্ঠে প্রচার করত।
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াহদাতুল ইসলামিয়্যাহ উসুসুহা ওয়া ওয়াসাইলু তাহকিকিহা
(পৃষ্ঠা: ৫৯)
المبحوحة.. بل عاد الإِسلام والناس يتلمسونه في الميدان ويسألون عنه في كل مكان ونادى به اليوم من لم يكن يعرفه بالأمس ولم يعرف عنه النداء باسمه من قبل. وامتلأت المساجد بالوافدين الجدد وآب الكثير ون إلى الله سبحانه يسألونه العز والنصر والفرج القريب لهذه الأمة المنكوبة برجالها وشبابها وقادتها في هذا الجيل المخفق الخاسر الذي هو جيل الهزيمة المنكرة.. فإذا كثر سواد الصالحين وزاد عدد المؤمنين فبشر الأمة بالنصر المبين"1.
فالوعي الديني استيقظ في الأمة وهو في حاجة إلى من يوجهه وجهة صحيحة ليكون أساسا واحدا لجمع كلمة الأمة ويقضى على المذاهب المنحرفة والعقائد الضالة المتسللة إلى مجتمعات المسلمين.
وأما الانحرافات الأخرى التي طرأت على عقائد المسلمين سواء في التوحيد العملي أوفي التوحيد العلمي فإن ذلك يستدعى جهودا مخلصة وأقلاما صادقة تعالج تلك الانحرافات بحكمة وموعظة حسنة إذ أن أصحابها أو كثيرا منهم لم يتعمد الانحراف ولا يرضى به لو كشف له، لذلك فإن مخاطبتهم يجب أن تكون بأسلوب لين وبجدال حسن. فإذا قدر للأمة أن تجتمع في عقيدتها فإن ذلك سيفسح المجال للاجتماع والوحدة الإسلامية.
--------------------------------------------
ক্ষীণ... বরং ইসলাম পুনরায় ফিরে এসেছে এবং মানুষ এখন ময়দানে ইসলামের অনুসন্ধান করছে এবং সর্বত্র এর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছে। আজ তারাই ইসলামের পক্ষে আওয়াজ তুলছে যারা গতকাল পর্যন্ত একে চিনত না এবং ইতিপূর্বে যাদের পক্ষ থেকে ইসলামের নামে কোনো আহ্বান শোনা যায়নি। মসজিদগুলো নতুন আগন্তুকদের দ্বারা পূর্ণ হয়ে গিয়েছে এবং বহু মানুষ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার দিকে ফিরে এসেছে; তারা তাঁর কাছে এই পুরুষ, যুবক ও নেতাদের মাধ্যমে পর্যুদস্ত উম্মাহর জন্য সম্মান, বিজয় এবং আসন্ন মুক্তির প্রার্থনা করছে—এই ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত প্রজন্মের জন্য, যা মূলত এক জঘন্য পরাজয়ের প্রজন্ম। সুতরাং যখন নেককারদের সংখ্যাধিক্য ঘটবে এবং মুমিনদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে, তখন এই উম্মাহকে সুস্পষ্ট বিজয়ের সুসংবাদ দিন।"১।
উম্মাহর মধ্যে ধর্মীয় সচেতনতা জাগ্রত হয়েছে এবং একে সঠিক দিশায় পরিচালিত করার জন্য এমন যোগ্য নির্দেশকের প্রয়োজন, যাতে এটি উম্মাহর ঐক্যবদ্ধ হওয়ার একটি একক ভিত্তি হিসেবে গড়ে ওঠে এবং মুসলিম সমাজে অনুপ্রবেশকারী বিচ্যুত মাযহাব (المذاهب المنحرفة) ও পথভ্রষ্ট আকিদা (العقائد الضالة) সমূহের অবসান ঘটে।
আর মুসলিমদের আকিদার ক্ষেত্রে যেসব বিচ্যুতি দেখা দিয়েছে—তা আমলি তাওহিদ (التوحيد العملي) হোক বা ইলমি তাওহিদ (التوحيد العلمي)—তা নিরসনের জন্য একনিষ্ঠ প্রচেষ্টা এবং সত্যনিষ্ঠ লেখনীর প্রয়োজন, যা হিকমত ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে সেই বিচ্যুতিগুলোর চিকিৎসা করবে। কেননা এই মতাদর্শের অনুসারীদের অনেকেই স্বেচ্ছায় বিচ্যুত হয়নি এবং সত্য তাদের সামনে উন্মোচিত হলে তারা এই বিচ্যুতিতে সন্তুষ্ট থাকত না। তাই তাদের সাথে সম্বোধন হতে হবে কোমল ভাষায় এবং উত্তম বিতর্কের (بجدال حسن) মাধ্যমে। যদি উম্মাহর আকিদায় ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে তা ইসলামী ঐক্য ও সংহতির পথ প্রশস্ত করবে।
--------------------------------------------