(খণ্ড: ১) আল-ওয়ারাকাতু ফীমা ইখতালিফা ফীহির রিজালু ওয়ান নিসা (পৃষ্ঠা: -)
الورقات فيما يختلف فيه الرجال والنساء   (أحمد بن عبد الله العمري)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: الورقات فيما يختلف فيه الرجال والنساء

المؤلف: أحمد بن عبد الله العمري

الناشر: الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة

الطبعة: السنة الخامسة والثلاثون. العدد 121. (1424هـ) /2004م

عدد الصفحات: 225

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-ওয়ারাকাত ফিমা ইয়াখতালিফু ফিহির রিজালু ওয়ান নিসা   (আহমদ বিন আব্দুল্লাহ আল-উমরি)

বিভাগ: ফিকহি মাসআলাসমূহ


গ্রন্থ: আল-ওয়ারাকাত ফিমা ইয়াখতালিফু ফিহির রিজালু ওয়ান নিসা

লেখক: আহমদ বিন আব্দুল্লাহ আল-উমরি

প্রকাশক: মদীনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়

সংস্করণ: ৩৫তম বর্ষ. সংখ্যা ১২১. (১৪২৪ হিজরি) /২০০৪ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২২৫

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-ওয়ারাকাতু ফীমা ইখতালিফা ফীহির রিজালু ওয়ান নিসা (পৃষ্ঠা: ১৫৯)
‌‌مقدمة

…

اَلْوَرَقَات فِيمَا يَخْتَلِفُ فِيهِ الرِّجَالُ وَالنِّسَاءُ فِي أَبْوَابٍ مِّنَ الْمُعَامَلَات

إِعْدادُ:

د. أَحْمدِ بْنِ عَبْدِ الله العَمْريِّ

الأُسْتاَذِ المُسَاعِدِ في كُلِّيَّةِ الشَّرِيعَةِ في الجَامِعَةِ
ভূমিকা

…

মুয়ামালাত (লেনদেন) সংক্রান্ত বিভিন্ন অধ্যায়ে নারী ও পুরুষের মধ্যকার পার্থক্যসমূহ সম্পর্কিত সংক্ষিপ্ত নিবন্ধ

প্রস্তুতিতে:

ড. আহমদ বিন আব্দুল্লাহ আল-আমরি

বিশ্ববিদ্যালয়ের শরিয়াহ অনুষদের সহকারী অধ্যাপক
(খণ্ড: ১) আল-ওয়ারাকাতু ফীমা ইখতালিফা ফীহির রিজালু ওয়ান নিসা (পৃষ্ঠা: ১৬১)
المقدمة

الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم تسليماً كثيراً.

أما بعد فإن أنفس ما تُقضى فيه الأعمار، وتُستنفد فيه الأوقات، الفقه في دين الله، وكفى بذلك شرفاً وسمواً، كيف لا والمشتغلون به ينهلون من ميراث محمد صلى الله عليه وسلم ويترسمون خطاه إضافة إلى أن الله قد أراد بهم خيراً إذ هداهم للتفقه في دينه قال صلى الله عليه وسلم: "من يرد الله به خيراً يفقه في الدين" 1.

ولكن هذا الشرف لا يتأتّى لطالب العلم إلا إذا خلصت نيته لله رب العالمين فلم يخالط قلبه رياء ولا سمعة ولا حب لمماراة العلماء أو مجارات السفهاء، وسلمت نيته من كل شائبة تتنافى مع ما يدعو إليه العلم من الإخلاص وسلامة الصدر، نسأل الله أن يطهر قلوبنا من كل سوء وأن يجعل علمنا وعملنا خالصاً لوجهه الكريم.

وحرصاً مني على التشبه بالقوم قمت بإعداد هذا البحث في موضوع له أهمية بالغة في نظري ألا وهو موضوع تحرير المرأة الذي هبّت رياحه من ديار الغرب.

وهذا البحث يقع ضمن سلسلة بدأتها برسالتي الدكتوراه والتي نُشرت بعنوان (الإحكام فيما يختلف فيه الرجال والنساء من الأحكام) قسم العبادات ثم أتبعته ببحث آخر في البيوع تحت عنوان (اللموع فيما يختلف فيه الرجال والنساء من أحكام البيوع) .

--------------------------------------------

1 صحيح البخاري مع الفتح 1/164، في العلم باب من يرد به خيراً يفقه، حديث 71، صحيح مسلم 2/718، في الزكاة باب النهي عن المسألة، حديث 1037.
ভূমিকা

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক এবং তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সাহাবীগণের ওপর অগণিত সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন।

অতঃপর, জীবন অতিবাহিত করার এবং সময় ব্যয় করার জন্য সবচেয়ে মূল্যবান বিষয় হলো আল্লাহর দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন করা; আর মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের জন্য এটিই যথেষ্ট। কেনই বা হবে না, যেখানে এই জ্ঞান চর্চাকারীরা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মিরাস থেকে জ্ঞান আহরণ করেন এবং তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করেন। উপরন্তু, আল্লাহ তাআলা তাঁদের কল্যাণের ইচ্ছা করেছেন বিধায় তাঁদেরকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জনের তাওফিক দিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: "আল্লাহ যার মঙ্গল চান, তাকে দ্বীনের সঠিক বুঝ দান করেন।" ১

তবে এই গৌরব একজন ইলম অন্বেষণকারীর জন্য ততক্ষণ অর্জিত হয় না, যতক্ষণ না তার নিয়ত রাব্বুল আলামীনের জন্য একনিষ্ঠ হয়; ফলে তার অন্তরে লোকদেখানো মানসিকতা, প্রচারপ্রিয়তা কিংবা আলিমদের সাথে বিতর্কে লিপ্ত হওয়া বা নির্বোধদের সাথে তর্কে জড়ানোর কোনো ইচ্ছা মিশে থাকে না। তার নিয়ত যেন এমন সব কলুষতা থেকে মুক্ত থাকে যা ইলমের মূল দাবি তথা ইখলাস ও হৃদয়ের স্বচ্ছতার পরিপন্থী। আমরা আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের অন্তরকে যাবতীয় অনিষ্ট থেকে পবিত্র করেন এবং আমাদের জ্ঞান ও আমলকে কেবল তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন।

পুণ্যবান ব্যক্তিবর্গের সাদৃশ্য অবলম্বনের প্রবল আগ্রহ থেকে আমি এই গবেষণাটি প্রস্তুত করেছি। এটি এমন একটি বিষয়ে যা আমার দৃষ্টিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, আর তা হলো 'নারী মুক্তি'র প্রসঙ্গ, যার হাওয়া পশ্চিমা বিশ্ব থেকে ধেয়ে আসছে।

এই গবেষণাটি একটি ধারাবাহিক কার্যক্রমের অংশ যা আমি আমার পিএইচডি অভিসন্দর্ভের মাধ্যমে শুরু করেছিলাম। সেটি 'আল-ইহকাম ফিমা ইখতালাফা ফিহির রিজালু ওয়ান নিসাউ মিনাল আহকাম' (ইবাদত অধ্যায়) শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছে। অতঃপর আমি ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত মাসআলা নিয়ে 'আল-লুমু ফিমা ইখতালাফা ফিহির রিজালু ওয়ান নিসাউ মিন আহকামিল বুয়ু' শিরোনামে আরেকটি গবেষণা সম্পন্ন করি।

--------------------------------------------

১. ফাতহুল বারীসহ সহীহ বুখারী ১/১৬৪, ইলম অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: আল্লাহ যার মঙ্গল চান তাকে দ্বীনের গভীর বুঝ দান করেন, হাদিস ৭১; সহীহ মুসলিম ২/৭১৮, জাকাত অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: সাহায্য যাচনা করা নিষেধ, হাদিস ১০৩৭।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়ারাকাতু ফীমা ইখতালিফা ফীহির রিজালু ওয়ান নিসা (পৃষ্ঠা: ১৬২)
ثم تلوته بهذا البحث وسميته (الورقات فيما يختلف فيه الرجال والنساء في أبواب من المعاملات) .

وهذه السلسلة أهدف من خلالها إلى بيان الفروق بين الرجال والنساء في الأحكام الفقهية حتى يتبيّن الفرق بين الطائفتين مما يجعل المسلم يتمسك بدينه عن قناعة تامة غير قابلة للتشكيك؛ لأن دعاة تحرير المرأة يسعون إلى بث دعاواهم بأساليب براقة يتظاهرون من خلالها بالمطالبة بحقوق المرأة وتحريرها من ظلم الرجل زعموا لي غير ذلك من الدعاوى التي لا يُراد بها ألا تحرير المرأة من قيم الدين والكرامة والطهر والعفاف والسعي إلى جعلها لعبة ممتهنة يقضي منها الرجل وطره دون التزام بأي حق من حقوقها الشرعية التي كفلها لها الإسلام من حق الاستمتاع بالزوج الحلال وحق النفقة والسكنى والكسوة والتوقير التام ضمن تشريعات دقيقة تضمن للمرأة المسلمة حقوقها، أماً وبنتاً وأختاً وعمةً وخالةً وزوجةً إلى غير ذلك مما لا يوجد له مثيل في أي نظام وضعي.

ومع أن دعاوى تحرير المرأة ومساواتها بالرجل ظاهرة العوار إلا أنه قد أُشْرِبَها كثير من الناس الذين تحقق فيهم قول النبي صلى الله عليه وسلم: "لتتبعن سنن من كان قبلكم حذو القذة بالقذة شبراً بشبر وذراعاً بذراع حتى لو دخلوا جحر ضب لدخلتموه" 1.

والواقع أكبر شاهد على تأثر المجتمعات الإسلامية بهذه الدعاوى حتى إن الناظر في كثير من المدن في بلاد المسلمين لا يجد فرقاً بينها وبين غيرها من بلاد الكفار.

--------------------------------------------

1 صحيح البخاري مع الفتح 13/300، في الاعتصام، باب قول النبي صلى الله عليه وسلم، لتتبعن سنن من كان قبلكم، حديث 7320، صحيح مسلم 4/2054، في العلم باب اتباع سنن اليهود والنصارى، حديث 2669
অতঃপর আমি এর সাথে এই গবেষণাটি যুক্ত করেছি এবং এর নামকরণ করেছি (লেনদেন সংক্রান্ত বিভিন্ন অধ্যায়ে নারী ও পুরুষের মধ্যকার পার্থক্যের প্রেক্ষাপটে কিছু ক্ষুদ্র গবেষণা)।

এই ধারাবাহিকের মাধ্যমে আমার লক্ষ্য হলো ফিকহী বিধানসমূহের ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের মধ্যকার পার্থক্যসমূহ স্পষ্ট করা, যাতে উভয় শ্রেণির মধ্যাকার ব্যবধান স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়। এর ফলে একজন মুসলিম পূর্ণ দৃঢ় বিশ্বাস ও সংশয়হীন চিত্তে নিজ দ্বীনের ওপর অবিচল থাকতে পারে। কারণ, নারী স্বাধীনতার প্রবক্তারা অত্যন্ত চটকদার পন্থায় তাদের দাবিগুলো প্রচারের চেষ্টা করে থাকে। তারা নারী অধিকার আদায়ের এবং তাদের তথাকথিত দাবি অনুযায়ী পুরুষের জুলুম থেকে নারীকে মুক্ত করার বাহানা করে। প্রকৃতপক্ষে এসব দাবির উদ্দেশ্য নারীকে দ্বীনি মূল্যবোধ, মর্যাদা, পবিত্রতা ও চারিত্রিক শুচিতা থেকে বিচ্যুত করা ছাড়া আর কিছুই নয়। তারা নারীকে একটি অবমাননাকর খেলনার বস্তুতে পরিণত করতে চায়, যার মাধ্যমে পুরুষ কোনো শরয়ি অধিকার রক্ষা ছাড়াই নিজ কামনা চরিতার্থ করবে। অথচ ইসলাম একজন নারীকে তার হালাল স্বামীর সাহচর্য উপভোগের অধিকার, খোরপোশ, আবাসন, পোশাক-পরিচ্ছদ এবং পূর্ণ সম্মানের নিশ্চয়তা প্রদান করেছে। সূক্ষ্ম ও নিখুঁত বিধিনিয়মের মাধ্যমে ইসলাম মা, মেয়ে, বোন, ফুফু, খালা এবং স্ত্রী হিসেবে একজন মুসলিম নারীর অধিকার সুনিশ্চিত করেছে, যার কোনো নজির অন্য কোনো মানব রচিত ব্যবস্থায় নেই।

যদিও নারী মুক্তি ও পুরুষের সাথে তার সমতার দাবিগুলোর অসারতা অত্যন্ত স্পষ্ট, তবুও অনেক মানুষ এর দ্বারা প্রভাবিত হয়ে পড়েছে। তাদের ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীর প্রতিফলন ঘটেছে: "তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদের রীতিনীতি হুবহু অনুকরণ করবে, তীরের পালকের সাথে পালকের সমতার ন্যায়, এক বিঘত পরিমাণ এক বিঘতের সমান করে এবং এক হাত পরিমাণ এক হাতের সমান করে। এমনকি তারা যদি কোনো সান্ডার গর্তে প্রবেশ করে থাকে, তবে তোমরাও তাতে প্রবেশ করবে।" ১

মুসলিম সমাজগুলো যে এই দাবিগুলোর দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে, বর্তমান বাস্তবতা তার বড় প্রমাণ। এমনকি মুসলিম দেশগুলোর অনেক শহরের দিকে তাকালে দেখা যায় যে, সেগুলোর সাথে অমুসলিম দেশগুলোর শহরের কোনো পার্থক্য নেই।

--------------------------------------------

১. ফাতহুল বারীসহ সহীহ বুখারী ১৩/৩০০, আল-ইতিসাম অধ্যায়, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী অনুচ্ছেদ: তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদের রীতিনীতি অনুসরণ করবে, হাদিস ৭৩২০; সহীহ মুসলিম ৪/২০৫৪, ইলম অধ্যায়, ইহুদি ও নাসারাদের রীতিনীতি অনুসরণ অনুচ্ছেদ, হাদিস ২৬৬৯
(খণ্ড: ১) আল-ওয়ারাকাতু ফীমা ইখতালিফা ফীহির রিজালু ওয়ান নিসা (পৃষ্ঠা: ১৬৩)
ومادام الأمر كذلك فإن التصدي لهذه الدعاوى بالردود العقدية والفكرية والفقهية يكون من فروض الكفايات.

وإن هذا البحث يهدف إلى بيان الفروق الفقهية بين الرجال والنساء في أبواب من المعاملات مما يجعل القول بالتسوية بين الرجال والنساء سفهاً لا يقبله نقل صحيح ولا عقل صريح.

وقد سرت في بحثي هذا على المنهج التالي:

1- قمت بتتبع المسائل التي تدخل تحت هذا الموضوع بالبحث في مظانها، وبعد أن تم لي جمعها جعلتها في مقدمة وفصلين وخاتمة:

2- قمت بجمع أقوال أهل العلم في كل مسألة ولم ألتزم بتقديم مذهب معين.

3- قمت بتوثيق كل قول من مصادره الأصلية خاصة المذاهب الأربعة، أما غير المذاهب الأربعة فانقلها من مظانها: كالمصنفات وكتب شروح الحديث وكتب الفقه المقارن.

4- جعلت نصب عيني أن أذكر أقوال المذاهب الأربعة الحنفية والمالكية والشافعية والحنابلة مع ذكر أقوال الصحابة والتابعين غالباً.

5- بعد ذكر الأقوال أبدأ في الاستدلال لها فأذكر أدلة القول الأول مقدماً الأدلة النقلية على الأدلة العقلية ذاكراً ما على كل دليل من مناقشة بعده مباشرة، وإن كان هناك جواب على المناقشة ذكرته بعد ذلك، وهكذا حتى تتم أدلة القول الأول، ثم أدلة القول الثاني وهكذا.

6- إذا لم أجد أهل العلم ذكروا أدلة لبعض الأقوال، حاولت الاستدلال لها وأحياناً أضيف بعض الأدلة لبعض الأقوال.

7- قد أناقش أدلة قول ومع ذلك أرجحه وذلك لما يلي:
যেহেতু বিষয়টি এরূপ, তাই আকিদাগত, বুদ্ধিবৃত্তিক এবং ফিকহশাস্ত্রীয় খণ্ডনমূলক উত্তরের মাধ্যমে এই দাবিগুলোর মোকাবিলা করা ফরজে কিফায়া।

এই গবেষণার লক্ষ্য হলো লেনদেন সম্পর্কিত বিভিন্ন অধ্যায়ে নারী ও পুরুষের মধ্যকার ফিকহগত পার্থক্যসমূহ বর্ণনা করা; যার ফলে নারী ও পুরুষের মাঝে সমতার দাবি করাটা এমন এক নির্বুদ্ধিতা হিসেবে গণ্য হবে যা কোনো বিশুদ্ধ (صحيح) বর্ণনা কিংবা সুস্পষ্ট বিবেক গ্রহণ করে না।

আমি আমার এই গবেষণায় নিম্নলিখিত পদ্ধতি অনুসরণ করেছি:

১- আমি এই বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত মাসআলাগুলো সেগুলোর মূল উৎসসমূহে অনুসন্ধান করেছি এবং সেগুলো সংগ্রহের পর একটি ভূমিকা, দুইটি পরিচ্ছেদ ও একটি উপসংহারে বিন্যস্ত করেছি:

২- আমি প্রতিটি মাসআলায় বিজ্ঞ আলেমদের মতামতসমূহ সংগ্রহ করেছি এবং কোনো নির্দিষ্ট মাযহাব অনুসরণের বাধ্যবাধকতা অবলম্বন করিনি।

৩- আমি প্রতিটি মতামতকে এর মূল উৎস হতে যাচাই করেছি, বিশেষ করে চার মাযহাবের ক্ষেত্রে। আর চার মাযহাব ব্যতীত অন্যান্যদের মতামতসমূহ সেগুলোর সম্ভাব্য উৎস থেকে যেমন: মুসান্নাফ গ্রন্থসমূহ, হাদিসের ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ এবং তুলনামূলক ফিকহশাস্ত্রের কিতাবসমূহ থেকে উদ্ধৃত করেছি।

৪- আমি চার মাযহাব—হানাফি, মালেকি, শাফেয়ি ও হাম্বলি-এর মতামত উল্লেখ করার পাশাপাশি অধিকাংশ ক্ষেত্রে সাহাবী ও তাবেয়ীদের মতামতসমূহ উল্লেখ করার বিষয়টি লক্ষ্য রেখেছি।

৫- মতামতসমূহ উল্লেখ করার পর আমি সেগুলোর সপক্ষে দলিল উপস্থাপন শুরু করেছি। এক্ষেত্রে আমি যুক্তিনির্ভর দলিলের চেয়ে বর্ণনামূলক দলিলকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রথম মতের দলিলগুলো উল্লেখ করেছি এবং প্রতিটি দলিলের পরপরই সে সম্পর্কে কোনো পর্যালোচনা থাকলে তা সরাসরি উল্লেখ করেছি। পর্যালোচনার কোনো উত্তর থাকলে তাও এর পরে উল্লেখ করেছি। এভাবে প্রথম মতের দলিলগুলো শেষ করেছি, এরপর দ্বিতীয় মতের দলিলগুলো এবং এভাবেই অগ্রসর হয়েছি।

৬- যদি আমি কোনো মতের সপক্ষে আলেমদের উল্লেখ করা কোনো দলিল না পেয়েছি, তবে নিজে তার সপক্ষে দলিল উপস্থাপনের চেষ্টা করেছি এবং কখনও কখনও কোনো কোনো মতের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত দলিল যোগ করেছি।

৭- কখনও আমি কোনো মতের দলিল নিয়ে পর্যালোচনা করেছি, তা সত্ত্বেও সেই মতটিকে অগ্রাধিকার দিয়েছি। আর এর কারণসমূহ হলো নিম্নরূপ:
(খণ্ড: ১) আল-ওয়ারাকাতু ফীমা ইখতালিফা ফীহির রিজালু ওয়ান নিসা (পৃষ্ঠা: ১৬৪)
أ - إما لأن تلك المناقشة غير قوية في نظري فلا تكفي لردها.

ب - وإما لأن هناك أدلة قوية غير التي ناقشتها.

ج - وإما لاعتبارات أخرى أذكرها في حينها.

8- قسمت البحث إلى فصلين والفصل إلى مباحث.

9- اعتنيت ببيان النصوص التي أنقلها عن أهل العلم، إما بوضعها بين قوسين، أو بأن أبدأ الكلام بقولي: قال فلان، ثم أضع الإحالة في آخر الكلام.

10- خرّجت الأحاديث والآثار قدر الاستطاعة فما ورد في الصحيحين اكتفيت بالإحالة إليهما وما ورد في غيرهما حاولت بيان درجته من كتب الفن.

11- إذا ورد الحديث في الكتب الستة ذكرت الجزء والصفحة والكتاب والباب ورقم الحديث؛ وذلك لكثرة طبعات هذه الكتب، أما غير الكتب الستة فأذكر الجزء والصفحة فقط.

12- رمزت لمصنف عبد الرزاق برمز (عب) ولمصنف ابن أبي شيبة برمز (شب) .

13- عزوت الآيات إلى أماكنها من القرآن الكريم.

14- قمت بتخريج الحديث عند أول ورده.

15- إذا رجّحت أن بين الرجل والمرأة فرقاً في مبحث ما، فإن كان الفرق ظاهراً اكتفيت ببيان حكم كل من الرجل والمرأة، وإن لم يكن واضحاً لخصت الفرق بينهما في آخر المبحث.

16- بينت الراجح في كل مسألة حسب طاقتي.

17- ختمت البحث بفهارس تفصيلية.

هذا وقد رسمت لعملي في هذا البحث الخطة التالية:
ক - হয় এই কারণে যে, সেই আলোচনাটি আমার দৃষ্টিতে শক্তিশালী নয়, তাই তা প্রত্যাখ্যান করার জন্য যথেষ্ট নয়।

খ - অথবা এই কারণে যে, আমি যা আলোচনা করেছি তা ছাড়াও আরও শক্তিশালী প্রমাণাদি রয়েছে।

গ - অথবা অন্য কোনো বিবেচনার কারণে, যা আমি যথাসময়ে উল্লেখ করব।

৮- আমি গবেষণাপত্রটিকে দুটি পরিচ্ছেদে এবং প্রতিটি পরিচ্ছেদকে কয়েকটি অনুচ্ছেদে বিভক্ত করেছি।

৯- আমি আলেমদের থেকে উদ্ধৃত করা বক্তব্যসমূহ বর্ণনার ক্ষেত্রে বিশেষ যত্ন নিয়েছি; হয় সেগুলো বন্ধনীভুক্ত করার মাধ্যমে, অথবা বক্তব্যের শুরুতে ‘অমুক বলেছেন’ উল্লেখ করার মাধ্যমে এবং বক্তব্যের শেষে তার তথ্যসূত্র প্রদান করেছি।

১০- আমি সাধ্যানুযায়ী হাদিসসমূহ এবং আসার বা বর্ণনাগুলোর (آثار) উৎস নির্দেশ (تخريج) করেছি। যা বুখারি ও মুসলিম (সহিহাইন)-এ বর্ণিত হয়েছে, সেক্ষেত্রে আমি শুধু সেই কিতাবদ্বয়ের উদ্ধৃতি প্রদান করেছি। আর যা এই দুটি কিতাব ব্যতীত অন্য কিতাবে বর্ণিত হয়েছে, সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শাস্ত্রের কিতাবসমূহ হতে সেটির মান বা স্তর (درجة) বর্ণনা করার চেষ্টা করেছি।

১১- যদি হাদিসটি কুতুবুস সিত্তাহ-তে বর্ণিত হয়ে থাকে, তবে আমি খণ্ড, পৃষ্ঠা, কিতাব, অধ্যায় এবং হাদিস নম্বর উল্লেখ করেছি; কারণ এই কিতাবগুলোর অনেক সংস্করণ বিদ্যমান। তবে কুতুবুস সিত্তাহ ব্যতীত অন্যান্য কিতাবের ক্ষেত্রে আমি শুধু খণ্ড ও পৃষ্ঠা নম্বর উল্লেখ করেছি।

১২- আমি মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক-এর জন্য (عب) এবং মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবাহ-এর জন্য (شب) সংকেত ব্যবহার করেছি।

১৩- আমি পবিত্র কুরআনের আয়াতসমূহকে তাদের নির্দিষ্ট সূরার অন্তর্ভুক্ত করেছি।

১৪- আমি হাদিস প্রথমবার উল্লেখ করার সময়ই তার উৎস নির্দেশ (تخريج) সম্পন্ন করেছি।

১৫- যদি আমি কোনো বিষয়ে পুরুষ ও মহিলার মধ্যে পার্থক্য থাকার বিষয়টিকে প্রাধান্য দেই, তবে সেই পার্থক্যটি সুস্পষ্ট হলে আমি কেবল পুরুষ ও মহিলার উভয়ের বিধান বর্ণনার ওপর ক্ষান্ত হয়েছি। আর যদি তা স্পষ্ট না হয়, তবে অনুচ্ছেদের শেষে তাদের উভয়ের মধ্যকার পার্থক্যটি সংক্ষেপে বর্ণনা করেছি।

১৬- আমি আমার সাধ্যমতো প্রতিটি মাসআলায় অগ্রগণ্য (راجح) মতটি স্পষ্ট করেছি।

১৭- আমি বিস্তারিত নির্ঘণ্ট বা সূচিপত্রের মাধ্যমে গবেষণাপত্রটি সমাপ্ত করেছি।

পরিশেষে, আমি আমার এই গবেষণাকর্মের জন্য নিম্নোক্ত পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছি:
(খণ্ড: ১) আল-ওয়ারাকাতু ফীমা ইখতালিফা ফীহির রিজালু ওয়ান নিসা (পৃষ্ঠা: ১৬৫)
جعلته في مقدمة وفصلين وخاتمة:

المقدمة: وضمنتها منهج البحث وخطة العمل فيه:

الفصل الأول: الحجر: وفيه خمسة مباحث:

المبحث الأول: علامات البلوغ التي يختلف فيها الذكور والإناث.

المبحث الثاني: حكم دفع المال للشاب والجارية بعد البلوغ.

المبحث الثالث: حكم تصرف كل من الزوجين في ماله دون إذن الآخر.

المبحث الرابع: حكم تصدق الرجل من مال زوجته وتصدقها من ماله.

المبحث الخامس: حكم ولاية الأب، والأم على مال الصبي:

الفصل الثاني: الهبة والوصية، وفيه خمسة مباحث:

المبحث الأول: حكم قبول الوالد والوالدة الهبة للصبي.

المبحث الثاني: حكم رجوع الوالد في هبته لولده ورجوع الوالدة.

المبحث الثالث: كيفية التسوية في العطايا والهبات بين البنين والبنات.

المبحث الرابع: حكم رجوع الزوج في هبته لزوجته ورجوعها في هبتها له.

المبحث الخامس: حكم الوصية إلى الرجل والمرأة.

الخاتمة: في أهم النتائج.
আমি এটি একটি ভূমিকা, দুটি অধ্যায় এবং একটি উপসংহারে বিন্যস্ত করেছি:

ভূমিকা: এতে আমি গবেষণার পদ্ধতি এবং কর্মপরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত করেছি:

প্রথম অধ্যায়: আল-হাজর (الحجر) বা আর্থিক লেনদেনে নিষেধাজ্ঞা; এতে পাঁচটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: সাবালকত্বের (البلوغ) লক্ষণসমূহ যাতে পুরুষ ও নারীর মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সাবালকত্বের (البلوغ) পর যুবক ও যুবতীর হাতে সম্পদ হস্তান্তরের বিধান (حكم)।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: একে অপরের অনুমতি ব্যতীত স্বামী ও স্ত্রীর প্রত্যেকের নিজ নিজ সম্পদে স্বাধীনভাবে হস্তক্ষেপ বা ব্যয়ের বিধান (حكم)।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: স্ত্রীর সম্পদ থেকে স্বামীর দান করা এবং স্বামীর সম্পদ থেকে স্ত্রীর দান করার বিধান (حكم)।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: শিশুর সম্পদের ওপর পিতা ও মাতার অভিভাবকত্বের (ولاية) বিধান (حكم):

দ্বিতীয় অধ্যায়: হেবা (الهبة) এবং অসিয়ত (الوصية); এতে পাঁচটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: শিশুর পক্ষ থেকে পিতা ও মাতার হেবা (الهبة) গ্রহণের বিধান (حكم)।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সন্তানকে দেওয়া হেবা (الهبة) থেকে পিতা ও মাতার ফিরে আসার (প্রত্যাহারের) বিধান (حكم)।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: পুত্র ও কন্যাদের মাঝে উপহার ও হেবা (الهبة) প্রদানের ক্ষেত্রে সমতা বিধানের পদ্ধতি।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: স্ত্রীকে দেওয়া হেবা (الهبة) থেকে স্বামীর ফিরে আসা এবং স্বামীকে দেওয়া হেবা থেকে স্ত্রীর ফিরে আসার বিধান (حكم)।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: পুরুষ ও মহিলার অনুকূলে অসিয়ত (الوصية) করার বিধান (حكم)।

উপসংহার: প্রধান ফলাফলসমূহ।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়ারাকাতু ফীমা ইখতালিফা ফীহির রিজালু ওয়ান নিসা (পৃষ্ঠা: ১৬৮)
‌‌الحجر

‌‌المبحث الأول: علامات البلوغ التي يختلف فيها الذكور والإناث

…

المبحث الأول: علامات البلوغ التي يختلف فيها الذكور والإناث.

قبل الدخول في تفاصيل الكلام حول علامات البلوغ ألفت النظر إلى أن كثيراً من أهل العلم يذكرون علامات البلوغ في كتاب الحجر ليبينوا متى يجب دفع المال للصبي المحجور عليه للصغر ولهذا أوردتُ هذا المبحث في هذا المكان بالذات. أما عن الكلام حول هذه المسألة فأقول:

علامات البلوغ التي ذكرها العلماء منها ما يشترك فيه الذكر والأنثى ومنها ما يخص المرأة دون الذكر.

فأما علامات البلوغ التي توجد في الذكر والأنثى فهي:

1- إنبات الشعر الخشن حول الفرج.

2- السن إذا لم تظهر علامة تحدد البلوغ غيره.

3- الاحتلام1.

فأما بالنسبة لإنبات الشعر الخشن حول الفرج فمالك والشافعي وأحمد يعدونه من علامات البلوغ إلا أن بعض الشافعية يرونه بلوغاً في حق الكفار دون المسلمين.

وذهب الإمام أبو حنيفة إلى أنه لا يدل على البلوغ بحال، ولا يهمنا تحقيق الراجح

هنا؛ لأن ما يقال في حق الذكر يقال في حق الأنثى وغرضنا هنا بيان الفرق بين الذكور والإناث2. علماً بأن الإنبات دليل بلوغ في حق الذكر

--------------------------------------------

1 تكملة شرح فتح القدير 9/270، حاشية ابن عابدين 6/153، تفسير القرطبي 5/34، 35، الخرشي على خليل 5/291، تكملة المجموع 13/359، 363، فتح الباري 5/277، المغني 6/597، الإنصاف 5/320.

2 انظر: المصادر السابقة إضافة إلى روضة الطالبين 4/178، عمدة القاري 11/ 153.
প্রতিবন্ধকতা (الحجر)

প্রথম পরিচ্ছেদ: সাবালকত্বের (البلوغ) লক্ষণসমূহ যাতে পুরুষ ও নারীর মধ্যে পার্থক্য রয়েছে

...

প্রথম পরিচ্ছেদ: সাবালকত্বের (البلوغ) লক্ষণসমূহ যাতে পুরুষ ও নারীর মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।

সাবালকত্বের (البلوغ) লক্ষণসমূহ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনায় প্রবেশের পূর্বে আমি এই বিষয়টির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যে, ইলমে দ্বীনের অনেক পণ্ডিত সাবালকত্বের (البلوغ) লক্ষণসমূহকে 'হজর' বা আইনগত প্রতিবন্ধকতা (الحجر) অধ্যায়ে উল্লেখ করেন, যাতে এটি স্পষ্ট করা যায় যে অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার কারণে যে বালকের সম্পদ আটকে রাখা হয়েছে, কখন তাকে তার সম্পদ বুঝিয়ে দেওয়া ওয়াজিব হবে। এই কারণে আমি এই পরিচ্ছেদটিকে বিশেষভাবে এই স্থানেই উল্লেখ করেছি। আর এই মাসআলাটি সম্পর্কে আমি বলব:

ওলামায়ে কেরাম সাবালকত্বের (البلوغ) যেসব লক্ষণের কথা উল্লেখ করেছেন, তার মধ্যে কিছু রয়েছে যা পুরুষ ও নারী উভয়ের ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য এবং কিছু রয়েছে যা কেবল নারীর জন্য নির্দিষ্ট, পুরুষের জন্য নয়।

পুরুষ ও নারী উভয়ের ক্ষেত্রে সাবালকত্বের (البلوغ) যে লক্ষণগুলো পাওয়া যায় তা হলো:

১- লজ্জাস্থানের চারপাশে শক্ত লোম গজানো।

২- বয়স, যখন এটি ছাড়া সাবালকত্ব (البلوغ) নির্ধারণকারী অন্য কোনো লক্ষণ প্রকাশ না পায়।

৩- স্বপ্নদোষ (الاحتلام) ১।

লজ্জাস্থানের চারপাশে শক্ত লোম গজানোর ব্যাপারে ইমাম মালিক, শাফেঈ এবং আহমাদ একে সাবালকত্বের (البلوغ) লক্ষণ হিসেবে গণ্য করেন, তবে শাফেঈ মাযহাবের কোনো কোনো আলেম একে মুসলিমদের পরিবর্তে কেবল কাফেরদের ক্ষেত্রে সাবালকত্বের (البلوغ) আলামত হিসেবে গণ্য করেন।

ইমাম আবু হানিফা এই মত পোষণ করেছেন যে, এটি কোনো অবস্থাতেই সাবালকত্বের (البلوغ) প্রমাণ দেয় না। আর এখানে অগ্রগণ্য (الراجح) মতটি বিশ্লেষণ করা আমাদের মূল উদ্দেশ্য নয়; কারণ পুরুষের ক্ষেত্রে যা বলা হয়, নারীর ক্ষেত্রেও তা-ই বলা হয় এবং আমাদের এখানে মূল উদ্দেশ্য হলো পুরুষ ও নারীর মধ্যকার পার্থক্য স্পষ্ট করা। উল্লেখ্য যে, লোম গজানো পুরুষের ক্ষেত্রে সাবালকত্বের (البلوغ) একটি প্রমাণ (دليل) ২।

--------------------------------------------

১ তাকমিলাহ শারহু ফাতহিল কাদির ৯/২৭০, হাশিয়াহ ইবনে আবিদিন ৬/১৫৩, তাফসিরে কুরতুবি ৫/৩৪, ৩৫, আল-খারশি আলা খালিল ৫/২৯১, তাকমিলাহ আল-মাজমু ১৩/৩৫৯, ৩৬৩, ফাতহুল বারি ৫/২৭৭, আল-মুগনি ৬/৫৯৭, আল-ইনসাফ ৫/৩২০।

২ দেখুন: পূর্বোক্ত উৎসসমূহ, এর সাথে রওদাতুত তালিবিন ৪/১৭৮, উমদাতুল কারি ১১/১৫৩।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়ারাকাতু ফীমা ইখতালিফা ফীহির রিজালু ওয়ান নিসা (পৃষ্ঠা: ১৬৯)
والأنثى إن شاء الله كما هو قول الجمهور.

ودليله: ما روى أهل السنن وغيرهم من حديث عطية القرظي قال: "كنت يوم حكم سعد في بني قريظة غلاماً فشكّوا فيّ فلم يجدوني أنبت فاستُبقيت فها أنذا بين أظهر كم"1. هذا لفظ النسائي0

وقال الترمذي: هذا حديث حسن صحيح0

فمن هذا الحديث يتضح جلياً أن الإنبات يدل على البلوغ إذا لم يتضح البلوغ باحتلام أوسن، وإذا ثبت في حق الكفار فلا فرق فيه بينهم وبين المسلمين ولا فرق فيه بين الذكور والإناث0

وأما بالنسبة للسن فهو مما يختلف فيه حكم الذكر عن الأنثى عند كثير من أهل العلم وإن كان الراجح أنه لا فرق فيه بين الذكور والإناث إن شاء الله، وقد فصلت القول فيه في مبحث مستقل بعنوان (سن تكليف الرجل والمرأة) 2. فأغنى عن إعادته0

وأما الاحتلام فكتب أهل العلم التي اطلعت عليها لا تفرق فيه بين حكم الذكر والأنثى وجميعهم يرون أنه من علامات البلوغ في حق الذكور والإناث3

--------------------------------------------

1 سنن أبي داود 4/ 561 في الحدود باب في الغلام يصيب الحد حديث رقم 4404، 4405، سنن الترمذي 4/145، في السير باب ما جاء في النزول على الحكم حديث رقم 1584، سنن النسائي 6/155، في الطلاق باب متى يقع طلاق الصبي حديث 3430، سنن ابن ماجة 2/849، في الحدود باب من لا يجب عليه الحد حديث رقم 2541، 2542.

2 ما أشرت إليه من التفصيل في هذه المسألة موجود في رسالتي الدكتوراه وهي منشورة بعنوان (الإحكام فيما يختلف فيه الرجال والنساء من الأحكام) .

3 انظر مصادر الإحالة السابقة.
এবং নারীদের ক্ষেত্রেও, ইনশাআল্লাহ, যেমনটি সংখ্যাগরিষ্ঠ (الجمهور) মতের অনুসারীদের অভিমত।

এর প্রমাণ হলো: সুনান গ্রন্থকারগণ এবং অন্যান্যরা আতিয়্যাহ আল-কুরাজি থেকে বর্ণিত হাদিস উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন: "সা'দ (রা.) যখন বনু কুরাইজার ব্যাপারে ফয়সালা দিয়েছিলেন, তখন আমি কিশোর ছিলাম। তারা আমার ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করল, অতঃপর তারা দেখতে পেল যে আমার নাভিদেশীয় লোম গজায়নি। তাই আমাকে জীবিত রাখা হলো, আর এই যে আমি তোমাদের মাঝে উপস্থিত।"১ এটি নাসায়ীর শব্দ।

ইমাম তিরমিজি বলেন: এটি একটি হাসান (حسن) সহিহ (صحيح) হাদিস।

সুতরাং এই হাদিস থেকে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, যদি স্বপ্নদোষ বা বয়সের মাধ্যমে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া স্পষ্ট না হয়, তবে নাভিদেশীয় লোম গজানো প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার প্রমাণ বহন করে। আর যদি এটি কাফেরদের ক্ষেত্রে সাব্যস্ত হয়, তবে এ ক্ষেত্রে তাদের এবং মুসলিমদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই এবং নারী ও পুরুষের মধ্যেও কোনো পার্থক্য নেই।

আর বয়সের ক্ষেত্রে বলা যায় যে, অনেক বিজ্ঞ আলেমের নিকট এ ক্ষেত্রে পুরুষের বিধান নারীর থেকে ভিন্ন, যদিও বিশুদ্ধ (الراجح) মত হলো যে, ইনশাআল্লাহ নারী ও পুরুষের মধ্যে এ ক্ষেত্রে কোনো পার্থক্য নেই। আমি 'পুরুষ ও নারীর শরয়ী দায়িত্ব অর্পণের বয়স' শিরোনামে একটি স্বতন্ত্র পরিচ্ছেদে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। তাই এখানে তার পুনরাবৃত্তির প্রয়োজন নেই।

আর স্বপ্নদোষের ক্ষেত্রে আমি বিজ্ঞ আলেমদের যেসব কিতাব অধ্যয়ন করেছি, তাতে নারী ও পুরুষের বিধানের মধ্যে কোনো পার্থক্য করা হয়নি এবং তারা সবাই মনে করেন যে, এটি নারী ও পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার অন্যতম লক্ষণ।৩

--------------------------------------------

১ সুনান আবু দাউদ ৪/৫৬১, কিতাবুল হুদুদ, অনুচ্ছেদ: কিশোর যখন হদযোগ্য অপরাধ করে, হাদিস নং ৪৪০৪, ৪৪০৫; সুনান তিরমিজি ৪/১৪৫, কিতাবুস সিয়ার, অনুচ্ছেদ: ফয়সালার ওপর উপনীত হওয়া প্রসঙ্গে যা বর্ণিত হয়েছে, হাদিস নং ১৫৮৪; সুনান নাসায়ী ৬/১৫৫, কিতাবুত তালাক, অনুচ্ছেদ: শিশুর তালাক কখন কার্যকর হয়, হাদিস নং ৩৪৩০; সুনান ইবনে মাজাহ ২/৮৪৯, কিতাবুল হুদুদ, অনুচ্ছেদ: যার ওপর হদ ওয়াজিব হয় না, হাদিস নং ২৫৪১, ২৫৪২।

২ এই মাসআলায় যে বিস্তারিত আলোচনার দিকে আমি ইঙ্গিত করেছি, তা আমার ডক্টরেট থিসিসে বিদ্যমান এবং তা 'পুরুষ ও নারীর বিধানগত পার্থক্যের বিধিবিধান' শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছে।

৩ পূর্বোক্ত তথ্যসূত্রগুলো দেখুন।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়ারাকাতু ফীমা ইখতালিফা ফীহির রিজালু ওয়ান নিসা (পৃষ্ঠা: ১৭০)
إلا ما رأيت في بعض كتب الشافعية من أنهم يرون أن الاحتلام يدل على البلوغ في حق الذكر وفي دلالته على البلوغ في حق المرأة وجهان:

الأول: أنه لا يكون دليلاً على بلوغها.

والثاني: أنه يدل عليه1.

دليل الوجه الأول ما روى أبو داود وابن ماجة والحاكم من حديث عائشة رضي الله عنها أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "رفع القلم عن ثلاثة: عن النائم حتى يستيقظ وعن المبتلى حتى يبرأ وعن الصبي حتى يحتلم" فخص الصبي بالاحتلام2.

قلت: يجاب عنه بأن تخصيص الصبي بالذكر لا يدل على عدم شمول الحكم للصبية ما دامت تحتلم كالصبي فكما أن النبي صلى الله عليه وسلم خص المبتلى بالذكر ولم يدل ذلك على عدم دخول المبتلاة في الحكم وكذا النائم ولم يدل على عدم شموله للنائمة فكذلك الحال في حق الصبية ولعل النبي صلى الله عليه وسلم اكتفى بذكر المذكر تغليباً.

وأما دليل الوجه الثاني فما يلي:

1- قوله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لِيَسْتَأْذِنْكُمُ الَّذِينَ مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ وَالَّذِينَ لَمْ يَبْلُغُوا الْحُلُمَ مِنْكُمْ} 3 والمراد بالذين لم يبلغوا الحلم الصبيان ذكوراً وإناثاً4.

ثم قال: {وَإِذَا بَلَغَ الأَطْفَالُ مِنْكُمُ الْحُلُمَ فَلْيَسْتَأْذِنُوا} 5 والأطفال هنا هم الذكور والإناث أيضاً فمن الآيتين يتضح أن الاحتلام يكون في الذكر والأنثى، وأن الاحتلام دليل بلوغ فيهما يوجب عليهما الاستئذان عند الدخول.

--------------------------------------------

1 انظر: تكملة المجموع 13/ 363، روضة الطالبين 4/ 178.

2 انظر تكملة المجموع 13/363.

3 سورة النور، آية 58.

4 روح المعاني، 18/210.

5 سورة النور، آية 59.
তবে আমি শাফেয়ি মাযহাবের কিছু কিতাবে যা দেখেছি তা হলো, তারা মনে করেন যে স্বপ্নদোষ (الاحتلام) পুরুষের ক্ষেত্রে সাবালকত্বের (البلوغ) প্রমাণ দেয় এবং নারীর ক্ষেত্রে সাবালকত্বের প্রমাণ হওয়ার বিষয়ে দুটি অভিমত (وجهان) রয়েছে:

প্রথমটি: এটি তার সাবালকত্বের (البلوغ) প্রমাণ হবে না।

দ্বিতীয়টি: এটি তার ওপর প্রমাণ বহন করে ১।

প্রথম অভিমতটির দলিল হলো যা আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ এবং হাকিম আয়েশা (রা.)-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "তিন ব্যক্তি থেকে কলম উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে: ঘুমন্ত ব্যক্তি থেকে যতক্ষণ না সে জাগ্রত হয়, বিপদগ্রস্ত (المبتلى) ব্যক্তি থেকে যতক্ষণ না সে আরোগ্য লাভ করে এবং শিশুর থেকে যতক্ষণ না তার স্বপ্নদোষ (يحتلم) হয়।" এখানে তিনি কেবল বালকের ক্ষেত্রে স্বপ্নদোষের বিষয়টি নির্দিষ্ট (خص) করেছেন ২।

আমি বলি: এর উত্তরে বলা যায় যে, কেবল বালকের কথা উল্লেখ করার দ্বারা এটি সাব্যস্ত হয় না যে বালিকার ক্ষেত্রে এই বিধানটি (الحكم) কার্যকর হবে না, যতক্ষণ না সে বালকের মতো স্বপ্নদোষগ্রস্ত হবে। কেননা নবী (সা.) যেমন বিপদগ্রস্ত (المبتلى) পুরুষের কথা নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন অথচ তা বিপদগ্রস্ত নারীর ক্ষেত্রে এই বিধান (الحكم) না হওয়াকে বোঝায় না, এবং একইভাবে ঘুমন্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রেও তা ঘুমন্ত নারীর ওপর বিধানটি কার্যকর না হওয়া বোঝায় না; ঠিক তেমনিভাবে বালিকার ক্ষেত্রেও বিষয়টি প্রযোজ্য। সম্ভবত নবী (সা.) প্রাধান্য প্রদানের (تغليباً) ভিত্তিতে কেবল পুংলিঙ্গবাচক শব্দ উল্লেখ করে ক্ষান্ত হয়েছেন।

আর দ্বিতীয় অভিমতটির দলিল হলো নিম্নরূপ:

১- মহান আল্লাহর বাণী: {হে মুমিনগণ! তোমাদের মালিকানাধীন দাস-দাসীরা এবং তোমাদের মধ্যে যারা এখনও বয়ঃসন্ধিতে (الحلم) পৌঁছায়নি তারা যেন তোমাদের নিকট অনুমতি প্রার্থনা করে} ৩। আর যারা বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছায়নি বলতে বালক ও বালিকা উভয়কেই বোঝানো হয়েছে ৪।

অতঃপর তিনি বলেছেন: {আর তোমাদের শিশুরা যখন বয়ঃসন্ধিতে (الحلم) পৌঁছাবে, তখন তারাও যেন অনুমতি প্রার্থনা করে} ৫। এখানে ‘শিশুরা’ বলতে বালক এবং বালিকা উভয়কেই বোঝানো হয়েছে। সুতরাং এই দুই আয়াত থেকে এটি স্পষ্ট হয় যে, স্বপ্নদোষ (الاحتلام) পুরুষ ও নারী উভয়ের ক্ষেত্রেই হতে পারে এবং স্বপ্নদোষ উভয়ের ক্ষেত্রেই সাবালকত্বের (البلوغ) প্রমাণ, যা ঘরে প্রবেশের সময় তাদের ওপর অনুমতি প্রার্থনা করাকে আবশ্যক করে।

--------------------------------------------

১ দেখুন: তাকমিলাতুল মাজমু ১৩/ ৩৬৩, রওদাতুত তালিবিন ৪/ ১৭৮।

২ দেখুন: তাকমিলাতুল মাজমু ১৩/৩৬৩।

৩ সূরা আন-নূর, আয়াত ৫৮।

৪ রুহুল মাআনি, ১৮/২১০।

৫ সূরা আন-নূর, আয়াত ৫৯।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়ারাকাতু ফীমা ইখতালিফা ফীহির রিজালু ওয়ান নিসা (পৃষ্ঠা: ১৭১)
2- ما روى مسلم وغيره من حديث أم سلمة قالت: جاءت أم سليم إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقالت: يا رسول الله إن الله لا يستحيي من الحق فهل على المرأة من غسل إذا احتلمت؟ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "نعم إذا رأت الماء" فقالت أم سلمة: يا رسول الله وتحتلم المرأة؟ فقال: "تربت يداك فبِمَ يشبهها ولدها" 1.

فهذا الحديث ناصع الدلالة على أن المرأة تحتلم أي أنه يخرج منها الماء الذي يكون منه الولد والولد لا يأتي إلا من بالغة، وبالتالي يتبين أن ما ذهب إليه بعض الشافعية من عدم اعتبار الاحتلام دليل بلوغ في حق المرأة مردود لقوة أدلة هذا القول ولما تقدم من الإجابة عن دليل القول الأول.

وأما علامات البلوغ التي تختص بها المرأة وتختلف بها عن الرجل فهي:

1- الحيض.

2- الحبل.

فأما بالنسبة للحيض فلا خلاف بين العلماء أنه من أدلة بلوغ المرأة وأن الفرائض والأحكام تجب به عليها 2ومن الأدلة على ذلك ما يلي:

1- ما روى الإمام أحمد وأبو داود والترمذي وابن ماجة والحاكم والبيهقي من حديث عائشة رضي الله عنها قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "لا يقبل الله صلاة حائض إلا بخمار" 3 حسنه الترمذي وصححه الحاكم فأوجب عليها

--------------------------------------------

1 صحيح مسلم 1/251 في الحيض باب وجوب الغسل على المرأة بخروج المني منها .... حديث 313.

2 الهداية وتكملة شرح فتح القدير وشرح العناية 9/720، الدر المختار مع حاشية ابن عابدين 6/153، تفسير القرطبي 5/35، الخرشي على خليل 5/291، الحاوي 6/347، المهذب مع تكملة المجموع 13/360، 365، المقنع والإنصاف 5/320، 321، المغني 6/599.

3 مسند أحمد 6/150، سنن أبي داود 1/421، في الصلاة باب المرأة تصلي بغير خمار حديث 641، سنن الترمذي 2/215، في الصلاة باب ما جاء لا تقبل صلاة المرأة إلا بخمار حديث 377، سنن ابن ماجة 1/215 في الطهارة باب ما إذا حاضت الجارية لم تصل إلا بخمار، حديث 655، المستدرك 1/251، السنن الكبرى 2/233
২- ইমাম মুসলিম ও অন্যান্যগণ উম্মে সালামাহ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উম্মে সুলাইম (রা.) নবী সালাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! আল্লাহ সত্য প্রকাশে লজ্জা করেন না, সুতরাং নারীর যদি স্বপ্নদোষ হয়, তবে কি তার ওপর গোসল করা আবশ্যক? তখন আল্লাহর রাসুল সালাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "হ্যাঁ, যদি সে বীর্য দেখতে পায়।" তখন উম্মে সালামাহ (রা.) বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! নারীর কি স্বপ্নদোষ হয়? তিনি বললেন: "তোমার হাত ধুলিময় হোক! তবে তার সন্তান তার সদৃশ হয় কীভাবে?" ১।

এই হাদিসটি এ বিষয়ে সুস্পষ্ট প্রমাণ যে, নারীর স্বপ্নদোষ হয়; অর্থাৎ তার থেকে সেই বীর্য নির্গত হয় যা থেকে সন্তান সৃষ্টি হয়, আর সন্তান কেবল সাবালিকা থেকেই জন্ম নেয়। ফলশ্রুতিতে এটি স্পষ্ট হয় যে, কিছু শাফিঈ আলিম নারীর ক্ষেত্রে স্বপ্নদোষকে সাবালকত্বের প্রমাণ হিসেবে গণ্য না করার যে মত পোষণ করেছেন, তা এই মতের স্বপক্ষে শক্তিশালী দলিলের কারণে এবং প্রথম মতের দলিলের উত্তর পূর্বে প্রদান করার কারণে প্রত্যাখ্যাত (مردود)।

আর সাবালকত্বের যেসব চিহ্ন কেবল নারীর সাথে নির্দিষ্ট এবং যার মাধ্যমে সে পুরুষের চেয়ে আলাদা হয়, সেগুলো হলো:

১- ঋতুস্রাব।

২- গর্ভধারণ।

ঋতুস্রাবের ব্যাপারে ওলামায়ে কেরামের মাঝে কোনো মতভেদ নেই যে, এটি নারীর সাবালকত্বের অন্যতম প্রমাণ এবং এর মাধ্যমেই তার ওপর ফরজ কাজ ও বিধানসমূহ ওয়াজিব হয় ২। এ বিষয়ে দলিলের অন্তর্ভুক্ত হলো নিম্নোক্ত বিষয়গুলো:

১- ইমাম আহমাদ, আবু দাউদ, তিরমিজি, ইবনে মাজাহ, হাকেম এবং বায়হাকি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল সালাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "ঋতুবতী নারীর সালাত ওড়না ব্যতীত আল্লাহ কবুল করেন না।" ৩। ইমাম তিরমিজি এটিকে হাসান (حسن) বলেছেন এবং ইমাম হাকেম একে সহিহ (صحيح) বলেছেন। ফলে এটি তার ওপর (সালাত) ওয়াজিব করে দেয়...

--------------------------------------------

১ সহিহ মুসলিম ১/২৫১, ঋতু অধ্যায়, নারীর বীর্য নির্গত হলে গোসল ওয়াজিব হওয়া অনুচ্ছেদ... হাদিস ৩১৩।

২ আল-হিদায়াহ ও তাকমিলাতু শারহি ফাতহিল কাদির এবং শারহুল ইনায়াহ ৯/৭২০; আদ-দুররুল মুখতার মা'আ হাশিয়া ইবনে আবিদিন ৬/১৫৩; তাফসিরে কুরতুবি ৫/৩৫; আল-খারশি আলা খালিল ৫/২৯১; আল-হাউয়ি ৬/৩৪৭; আল-মুহাজ্জাব মা'আ তাকমিলাতুল মাজমু ১৩/৩৬০, ৩৬৫; আল-মুকনি ওয়াল ইনসাফ ৫/৩২০, ৩২১; আল-মুগনি ৬/৫৯৯।

৩ মুসনাদে আহমাদ ৬/১৫০; সুনানে আবু দাউদ ১/৪২১, সালাত অধ্যায়, ওড়না ছাড়া নারীর সালাত আদায় অনুচ্ছেদ, হাদিস ৬৪১; সুনানে তিরমিজি ২/2১৫, সালাত অধ্যায়, ওড়না ছাড়া নারীর সালাত কবুল না হওয়া সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ, হাদিস ৩৭৭; সুনানে ইবনে মাজাহ ১/২১৫, পবিত্রতা অধ্যায়, বালিকা ঋতুবতী হলে ওড়না ছাড়া সালাত পড়বে না অনুচ্ছেদ, হাদিস ৬৫৫; আল-মুস্তাদরাক ১/২৫১; আস-সুনানুল কুবরা ২/২৩৩।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়ারাকাতু ফীমা ইখতালিফা ফীহির রিজালু ওয়ান নিসা (পৃষ্ঠা: ১৭২)
في الصلاة الاختمار بخلاف الصغيرة وما ذاك إلا لبلوغها.

2- ما روى أبو داود بإسناده عن سعيد بن بشير عن قتادة عن خالد قال يعقوب ابن دريك عن عائشة رضي الله عنها أن أسماء بنت أبي بكر دخلت على رسول الله صلى الله عليه وسلم وعليها ثياب رقاق فأعرض عنها رسول الله صلى الله عليه وسلم وقال "يا أسماء إن المرأة إذا بلغت المحيض لم تصلح أن يُري منها إلا هذا وهذا وأشار إلى وجهه وكفيه" 1.

قال أبو داود: هذا مرسل، خالد بن دريك لم يدرك عائشة رضي الله عنها وقال المنذري: في إسناده سعيد بن بشير أبو عبد الرحمن البصري نزيل دمشق مولى بني نصر، وقد تكلم فيه غير واحد، وذكر الحافظ أبو أحمد الجرجاني هذا الحديث وقال: لا أعلم من رواه عن قتادة غير سعيد بن بشير2.

وذهب الشيخ الألباني إلى تحسينه3.

قال الماوردي: فجعلها بالحيض عورة يحرم النظر إليها فدل على أنها بالحيض صارت بالغة4.

وأما الحبل: فأيضاً هو من أدلة بلوغ المرأة التي تختلف بها عن الرجل إذ أن حملها دليل إنزالها إلا أنه ليس ببلوغ في نفسه بل هو دليل على تقدم البلوغ وإنما كان كذلك لأن الولد مخلوق من ماء الرجل وماء المرأة 5. قال الله تعالى:

--------------------------------------------

1 سنن أبي داود 4/358، في اللباس باب فيما تبدي المرأة من زينتها حديث رقم 4104:

2 مختصر المنذري 6/58 حديث 3945.

3 ارواء الغليل 6/203 رقم 1795.

4 الحاوي 6/347.

5 انظر المصادر السابقة في الحيض.
নামাযের মধ্যে ওড়না পরা (অপরিহার্য), যা ছোট মেয়ের ক্ষেত্রে ভিন্ন; আর এটি তার বালেগ বা বয়ঃপ্রাপ্ত হওয়ার কারণেই।

২- আবু দাউদ তাঁর সনদে সাঈদ বিন বশীর থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি খালিদ (ইয়াকুব ইবনে দুরেয়ক বলেছেন) থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আসমা বিনতে আবি বকর (রা.) রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট প্রবেশ করলেন এমতাবস্থায় যে তার পরনে ছিল পাতলা কাপড়। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন এবং বললেন: "হে আসমা! নারী যখন ঋতুবতী হওয়ার বয়সে পৌঁছে, তখন তার শরীরের এই এবং এই অংশ ছাড়া আর কিছু দেখা যাওয়া বৈধ নয়।" এবং তিনি তাঁর মুখমণ্ডল ও দুই কবজির দিকে ইশারা করলেন। ১।

আবু দাউদ বলেন: এটি বিচ্ছিন্ন (مرسل), কারণ খালিদ বিন দুরেয়ক আয়েশা (রা.)-এর সাক্ষাৎ পাননি। আল-মুনজিরি বলেন: এর সনদে সাঈদ বিন বশীর আবু আব্দুর রহমান আল-বসরি রয়েছেন, যিনি দামেস্কের অধিবাসী এবং বনু নাসরের আযাদকৃত দাস। তাঁর সম্পর্কে একাধিক মুহাদ্দিস সমালোচনা (تكلم فيه) করেছেন। হাফেজ আবু আহমদ আল-জুরজানি এই হাদিসটি উল্লেখ করে বলেছেন: আমি জানি না সাঈদ বিন বশীর ছাড়া আর কে এটি কাতাদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন। ২।

আর শায়খ আলবানী এটিকে হাসান (حسن) হিসেবে গণ্য করার দিকে মত দিয়েছেন। ৩।

ইমাম মাওয়ার্দি বলেন: সুতরাং ঋতুস্রাব হওয়ার কারণে তিনি তাকে সতর সাব্যস্ত করেছেন যার দিকে তাকানো হারাম, যা প্রমাণ করে যে ঋতুস্রাবের মাধ্যমে সে বালেগ হয়েছে। ৪।

আর গর্ভধারণ: এটিও নারীর বালেগ হওয়ার অন্যতম প্রমাণ যা তাকে পুরুষের থেকে পৃথক করে; কারণ তার গর্ভধারণ হলো তার বীর্যপাতের প্রমাণ। তবে এটি সরাসরি বালেগ হওয়া নয়, বরং তা পূর্বে বালেগ হওয়ার প্রমাণ। এটি এমন হওয়ার কারণ হলো, সন্তান পুরুষ ও নারীর বীর্যের সংমিশ্রণে সৃষ্টি হয়। ৫। মহান আল্লাহ তা'আলা বলেন:

--------------------------------------------

১. সুনান আবু দাউদ ৪/৩৫৮, পরিচ্ছদ: পোশাক, অধ্যায়: নারী তার সৌন্দর্যের যা প্রকাশ করবে, হাদিস নং ৪১০৪:

২. মুখতাসার আল-মুনজিরি ৬/৫৮, হাদিস ৩৯৪৫।

৩. ইরওয়াউল গালীল ৬/২০৩, নং ১৭৯৫।

৪. আল-হাবি ৬/৩৪৭।

৫. ঋতুস্রাব সংক্রান্ত পূর্ববর্তী উৎসসমূহ দেখুন।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়ারাকাতু ফীমা ইখতালিফা ফীহির রিজালু ওয়ান নিসা (পৃষ্ঠা: ১৭৩)
{فَلْيَنْظُرِ الأِنْسَانُ مِمَّ خُلِقَ خُلِقَ مِنْ مَاءٍ دَافِقٍ يَخْرُجُ مِنْ بَيْنِ الصُّلْبِ وَالتَّرَائِبِ} 1 يعني أصلاب الرجال وترائب النساء 2.

وقال تعالى: {إِنَّا خَلَقْنَا الأِنْسَانَ مِنْ نُطْفَةٍ أَمْشَاجٍ نَبْتَلِيه} 3 أي أخلاط؛ فإذا كان الولد مخلوقاً من مائيهما دل الحمل على تقدم إنزالها فصار دليلاً على تقدم بلوغها4.

وبهذا يتلخص من هذا المبحث أن إنبات الشعر من علامات البلوغ في حق الذكور والإناث وأن السن والاحتلام مما فرق فيه بعض العلماء بين الذكر والأنثى وأن الحيض والحبل مما تختص به المرأة دون الرجل.

--------------------------------------------

1 سورة الطارق، آية 7،8.

2 الحاوي، 6/347.

3 سورة الدهر، آية 2:

4 الحاوي 6/347.
{অতএব মানুষের দেখা উচিত তাকে কী থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে? তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে সবেগে নির্গত পানি থেকে, যা নির্গত হয় মেরুদণ্ড ও বক্ষপিঞ্জরের মধ্য থেকে} ১ অর্থাৎ পুরুষদের মেরুদণ্ড এবং নারীদের বক্ষপিঞ্জর ২।

মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয়ই আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি মিশ্র শুক্রবিন্দু থেকে, যাতে আমি তাকে পরীক্ষা করি} ৩ অর্থাৎ মিশ্রণ; সুতরাং সন্তান যখন উভয়ের বীর্য থেকে সৃষ্টি হয়, তখন গর্ভধারণ (حمل) নির্দেশ করে যে তার বীর্যপাত (إنزال) ইতিপূর্বেই ঘটেছে, ফলে তা তার বালেগ হওয়া (بلوغ) সম্পন্ন হওয়ার প্রমাণ হিসেবে গণ্য হয় ৪।

এর মাধ্যমে এই পরিচ্ছেদ থেকে এটিই সংক্ষেপিত হয় যে, লোম গজানো নারী ও পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই বালেগ হওয়ার (بلوغ) লক্ষণসমূহের অন্তর্ভুক্ত এবং বয়স ও স্বপ্নদোষ (احتلام) এমন বিষয় যাতে কোনো কোনো আলেম নারী ও পুরুষের মধ্যে পার্থক্য করেছেন। আর ঋতুস্রাব (حيض) ও গর্ভধারণ (حبل) এমন বিষয় যা পুরুষের পরিবর্তে কেবল নারীর বৈশিষ্ট্য।

--------------------------------------------

১ সূরা আত-তারিক, আয়াত ৭, ৮।

২ আল-হাভী, ৬/৩৪৭।

৩ সূরা আদ-দাহর, আয়াত ২।

৪ আল-হাভী ৬/৩৪৭।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়ারাকাতু ফীমা ইখতালিফা ফীহির রিজালু ওয়ান নিসা (পৃষ্ঠা: ১৭৪)
‌‌المبحث الثاني: حكم دفع المال للشاب والجارية بعد البلوغ

…

المبحث الثاني: حكم دفع المال للصبي والجارية بعد البلوغ والرشد

هذه المسألة تُبْحَثُ في باب الحجر وذلك أن من الأسباب المقتضية للحجر الصغر فالصغير لا يدرك مصالحه وربما بذَّر ماله في أمر لا يعود عليه بنفع ومن هنا شرع الإسلام الحجر عليه في المال حتى يبلغ رشيداً فإذا وصل إلى هذه الغاية فلا يخلو من أن يكون ذكراً أو أنثى.

فإن كان المحجور عليه ذكراً فقد اتفق العلماء على أنه إذا بلغ رشيداً1 دُفع إليه المال وهذا مما لا خلاف فيه وعليه المذاهب الأربعة 2.

وقد استدلوا لذلك بالمنقول والمعقول من ذلك:

قوله تبارك وتعالى: {وَابْتَلُوا الْيَتَامَى حَتَّى إِذَا بَلَغُوا النِّكَاحَ فَإِنْ آنَسْتُمْ مِنْهُمْ رُشْداً فَادْفَعُوا إِلَيْهِمْ أَمْوَالَهُمْ} 3 فالآية دليل على أن من بلغ رشيداً دُفِعَ إليه ماله وهذا لا خلاف فيه،

وإنما اختلفوا فيما إذا بلغ سفيها 4.

2- ما روى أبو داود في سننه من حديث علي رضي الله عنه قال: حفظت عن رسول الله صلى الله عليه وسلم "لا يتم بعد احتلام …" 5.

--------------------------------------------

1 اختلف العلماء في المراد بالرشد فالجمهور على أنه الصلاح في حفظ المال وإدارته وقال ابن حزم وجماعة إنه الصلاح في الدين0 المحلى 8/286، وما بعدها0

2 بدائع الصنائع 7/170، بداية المجتهد 2/280، التنبيه، ص 72، المغني 6/594.

3 سورة النساء، آية 6.

4 انظر تفسير الطبري تحقيق محمود شاكر 7/574، وما بعدها، القرطبي 5/34، الإجماع ص 59.

5 سنن أبي داود 3/393 في الوصايا باب متى ينقطع اليتم حديث 2873.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সাবালকত্ব অর্জনের পর যুবক ও যুবতীর হাতে সম্পদ হস্তান্তরের বিধান

...

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সাবালকত্ব (بلوغ) ও পরিপক্বতা (رشد) অর্জনের পর বালক ও বালিকার হাতে সম্পদ হস্তান্তরের বিধান

এই বিষয়টি বিধি-নিষেধ (حجر) অধ্যায়ে আলোচনা করা হয়। কেননা বিধি-নিষেধ (حجر) আরোপের অন্যতম একটি কারণ হলো অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়া। অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি তার নিজের স্বার্থ বুঝতে পারে না এবং সম্ভবত সে তার সম্পদ এমন কাজে অপচয় করবে যা তার কোনো উপকারে আসবে না। এ কারণেই ইসলাম তার সম্পদের ওপর বিধি-নিষেধ (حجر) আরোপের বিধান দিয়েছে যতক্ষণ না সে পরিপক্বতা (رشد) সহ সাবালক (بلغ) হয়। যখন সে এই পর্যায়ে পৌঁছাবে, তখন সে পুরুষ হোক বা নারী (উভয়ের ক্ষেত্রেই বিধান প্রযোজ্য)।

যদি বিধি-নিষেধের (حجر) আওতাধীন ব্যক্তিটি পুরুষ হয়, তবে ওলামায়ে কেরাম একমত হয়েছেন যে, সে যখন পরিপক্বতা (رشد) সহ সাবালক হবে, তখন তার সম্পদ তার হাতে হস্তান্তর করা হবে। এটি এমন একটি বিষয় যাতে কোনো মতপার্থক্য নেই এবং চার মাজহাবের অবস্থানও এটিই।

তারা এর সপক্ষে বর্ণিত এবং যৌক্তিক প্রমাণের মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে:

মহান আল্লাহ তাআলার বাণী: "আর তোমরা এতিমদের পরীক্ষা করো, যতক্ষণ না তারা বিবাহের বয়সে (সাবালকত্বে) পৌঁছায়। অতঃপর যদি তোমরা তাদের মধ্যে পরিপক্বতা (رشد) দেখতে পাও, তবে তাদের সম্পদ তাদের নিকট সমর্পণ করো।" সুতরাং এই আয়াতটি প্রমাণ করে যে, যে ব্যক্তি পরিপক্বতা (رشد) সহ সাবালক হবে, তার সম্পদ তার নিকট হস্তান্তর করা হবে এবং এতে কোনো মতভেদ নেই।

তবে তারা সেই ক্ষেত্রে মতভেদ করেছেন যখন কেউ নির্বোধ (سفيه) অবস্থায় সাবালক হয়।

২- ইমাম আবু দাউদ তাঁর সুনান গ্রন্থে আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন: "আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে মুখস্থ করেছি যে, 'স্বপ্নদোষ হওয়ার (অর্থাৎ সাবালক হওয়ার) পর আর কোনো এতিমত্ব থাকে না...'"।

--------------------------------------------

১. পরিপক্বতা (رشد) বলতে কী বোঝানো হয়েছে সে বিষয়ে ওলামায়ে কেরাম মতভেদ করেছেন। জমহুর (جمهور) বা অধিকাংশ আলিমের মতে এটি হলো সম্পদ সংরক্ষণ ও পরিচালনার যোগ্যতা। পক্ষান্তরে ইবনে হাজম এবং একটি দলের মতে এটি হলো দ্বীনদারি বা ধর্মের ক্ষেত্রে সঠিকতা। আল-মুহাল্লা ৮/২৮৬ এবং পরবর্তী অংশ।

২. বাদায়েউস সানায়ে ৭/১৭০, বিদায়াতুল মুজতাহিদ ২/২৮০, আত-তামবিহ পৃষ্ঠা ৭২, আল-মুগনি ৬/৫৯৪।

৩. সূরা আন-নিসা, আয়াত ৬।

৪. দেখুন: তাফসিরে তবারি, মাহমুদ শাকিরের তাহকিক ৭/৫৭৪ এবং পরবর্তী অংশ, কুরতুবি ৫/৩৪, আল-ইজমা পৃষ্ঠা ৫৯।

৫. সুনান আবু দাউদ ৩/৩৯৩, অসিয়ত অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: কখন এতিমত্ব শেষ হয়, হাদিস নং ২৮৭৩।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়ারাকাতু ফীমা ইখতালিফা ফীহির রিজালু ওয়ান নিসা (পৃষ্ঠা: ১৭৫)
وقد نقل المنذري عن الخطابي وغيره ما يدل على ضعفه، وكذلك تكلم عليه ابن القيم، وضعف الألباني إسناده ثم حكم عليه بالصحة لطرقه وشواهده1.

قال الخطابي: ظاهر هذا القول يوجب انقطاع أحكام اليتم عنه بالاحتلام وحدوث أحكام البالغين له … الخ 2.

3- ولأن الحجر عليه إنما كان لعجزه عن التصرف في ماله على وجه المصلحة حفظاً لماله عليه وبهذين المعنيين يقدر على التصرف ويحفظ ماله فيزول الحجر لزوال سببه3.

وأما إن كان المحجور عليه لصغره أنثى فقد اختلف أهل العلم في وقت رفع الحجر عنها على أقوال ثلاثة:

القول الأول: لجمهور العلماء ومنهم الأحناف والشافعية والحنابلة في الصحيح قالوا يرتفع الحجر عنها ببلوغها رشيدة كالذكر تماماً4.

القول الثاني: للإمام مالك أنه لا يرفع الحجر عن الجارية حتى تبلغ رشيدة ويدخل بها زوجها ويشهد العدول على صلاحها5.

القول الثالث: لا يُرفع الحجر عنها إلا ببلوغها رشيدة وبشرط أن تتزوج وتلد أو تقيم في بيت زوجها سنة، هذا القول رواية لأحمد اختارها أبو بكر والقاضي وابن عقيل والشيرازي، وقال الموفق: روي عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه

--------------------------------------------

1 مختصر المنذري 4/152، إرواء الغليل 5/80 وما بعدها.

2 معالم السنن مع مختصر المنذري 4/152:

3 المغني 6/594 0

4 أحكام القرآن للجصاص 2/358، بدائع الصنائع 7/170، التنبيه ص 72، مغني المحتاج 2/166، المغني 6/601، الإنصاف 5/320 0

5 الكافي 2/833، الخرشي على خليل 5/295 0
আল-মুনজিরি আল-খাত্তাবি ও অন্যদের থেকে এমন কিছু উদ্ধৃত করেছেন যা এর দুর্বলতা (ضعف) নির্দেশ করে। একইভাবে ইবনুল কাইয়্যিমও এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন। আলবানি এর সনদ (إسناد)-কে দুর্বল (ضعيف) বলেছেন, অতঃপর এর বিভিন্ন সূত্র (طرق) ও শাহেদ বা সমর্থক বর্ণনার (شواهد) কারণে একে সহিহ (صحيح) হওয়ার রায় দিয়েছেন ১।

আল-খাত্তাবি বলেছেন: এই বক্তব্যের বাহ্যিক দিকটি স্বপ্নদোষের মাধ্যমে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার সাথে সাথে তার ওপর থেকে এতিম হওয়ার বিধান রহিত হওয়া এবং তার জন্য প্রাপ্তবয়স্কদের বিধানাবলি কার্যকর হওয়া আবশ্যক করে … ইত্যাদি ২।

৩- কারণ তার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করার উদ্দেশ্য ছিল মূলত তার সম্পদ সুরক্ষার স্বার্থে সম্পদের সঠিক ব্যবস্থাপনায় তার অক্ষমতা। এই দুটি বিষয়ের প্রেক্ষিতে সে ব্যবস্থাপনায় সক্ষম হয় এবং তার সম্পদ রক্ষা পায়, ফলে কারণটি অপসারিত হওয়ায় বিধিনিষেধও অপসারিত হয় ৩।

তবে শৈশবজনিত কারণে বিধিনিষেধপ্রাপ্ত ব্যক্তি যদি নারী হয়, তবে তার ওপর থেকে এই বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার সময় সম্পর্কে ওলামায়ে কেরাম তিনটি মতভেদ করেছেন:

প্রথম মত: জুমহুর উলামায়ে কেরাম (جمهور العلماء), যাদের মধ্যে হানাফি, শাফেয়ি এবং হাম্বলিদের বিশুদ্ধ মত (صحيح) অনুসারে—তাঁরা বলেছেন: পুরুষ শিশুর মতোই সুবোধ হয়ে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার মাধ্যমে তার ওপর থেকে বিধিনিষেধ অপসারিত হবে ৪।

দ্বিতীয় মত: ইমাম মালিকের মতে, কোনো কন্যার ওপর থেকে বিধিনিষেধ অপসারিত হবে না যতক্ষণ না সে সুবোধ হয়ে প্রাপ্তবয়স্ক হয়, তার স্বামী তার সাথে বাসর সম্পন্ন করে এবং নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিরা (عدول) তার যোগ্যতার সাক্ষ্য প্রদান করে ৫।

তৃতীয় মত: সুবোধ হয়ে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া এবং সেই সাথে তার বিয়ে হওয়া ও সন্তান জন্মদান করা অথবা স্বামীর ঘরে এক বছর অবস্থানের শর্ত ছাড়া তার ওপর থেকে বিধিনিষেধ অপসারিত হবে না। এই মতটি ইমাম আহমদের একটি বর্ণনা (رواية), যা আবু বকর, আল-কাজি, ইবনে আকিল এবং আল-শিরাজি গ্রহণ করেছেন। মুয়াফফাক বলেছেন: এটি ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে।

--------------------------------------------

১ মুখতাসার আল-মুনজিরি ৪/১৫২, ইরওয়াউল গালিল ৫/৮০ এবং পরবর্তী অংশ।

২ মাআলিমুস সুনান সহ মুখতাসার আল-মুনজিরি ৪/১৫২।

৩ আল-মুগনি ৬/৫৯৪।

৪ আহকামুল কুরআন লিল জাসসাস ২/৩৫৮, বাদায়েউস সানায়ে ৭/১৭০, আত-তানবিহ পৃষ্ঠা ৭২, মুগনি আল-মুহতাজ ২/১৬৬, আল-মুগনি ৬/৬০১, আল-ইনসাফ ৫/৩২০।

৫ আল-কাফি ২/৮৩৩, আল-খারশি আলা খালিল ৫/২৯৫।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়ারাকাতু ফীমা ইখতালিফা ফীহির রিজালু ওয়ান নিসা (পৃষ্ঠা: ১৭৬)
وبه قال شريح والشعبي وإسحاق والحسن البصري وابن سيرين وعطاء ومجاهد وقتادة والأوزاعي1.

الأدلة:

أدلة القول الأول:

استدل أهل القول الأول بما يلي:

1- ما تقدم من قوله تعالى: {وَابْتَلُوا الْيَتَامَى حَتَّى إِذَا بَلَغُوا النِّكَاحَ فَإِنْ آنَسْتُمْ مِنْهُمْ رُشْداً فَادْفَعُوا إِلَيْهِمْ أَمْوَالَهُمْ} 2.

فالآية أمرت بدفع أموال اليتامى إليهم عند بلوغهم راشدين ولم تفرق بين ذكر وأنثى.

2- ما تقدم من قوله صلى الله عليه وسلم: "لا يتم بعد احتلام" والحجر عليها إنما كان لأجل الصغر وقد زال بالاحتلام:

3- ولأنها بالغة رشيدة فجاز لها التصرف في مالها كالتي دخل بها الزوج3.

أدلة القول الثاني:

قال ابن رشد: وحجة مالك أن إيناس الرشد لا يُتَصور من المرأة إلا بعد اختبار الرجال 4.

قلت: يحصل الاختبار من قبل أبيها أو وصيه فلا وجه لتخصيص الاختبار بالزوج.

--------------------------------------------

1 المغني 6/601، الإنصاف 5/321، المحلى 8/310 0

2 سورة النساء آية 6.

3 المغني 6/601 0

4 بداية المجتهد 2/281 0
শুরাইহ, শা’বী, ইসহাক, হাসান বসরী, ইবনে সিরীন, আতা, মুজাহিদ, কাতাদা এবং আওযাঈ ১ এই মত পোষণ করেছেন।

দলিলসমূহ:

প্রথম মতের দলিলসমূহ:

প্রথম মতের প্রবক্তাগণ নিম্নলিখিত দলিলসমূহ পেশ করেছেন:

১- আল্লাহ তাআলার পূর্বোক্ত বাণী: {আর তোমরা এতিমদের পরীক্ষা করো, যতক্ষণ না তারা বিবাহের বয়সে পৌঁছে। অতঃপর যদি তোমরা তাদের মধ্যে সমঝদারির (رشد) পরিচয় পাও, তবে তাদের সম্পদ তাদের কাছে হস্তান্তর করো।} ২

এই আয়াতে এতিমদের সম্পদ তাদের কাছে হস্তান্তর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যখন তারা প্রাপ্তবয়স্ক ও সমঝদার (رشد) অবস্থায় পৌঁছায়; এখানে নারী ও পুরুষের মধ্যে কোনো পার্থক্য করা হয়নি।

২- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পূর্বোক্ত বাণী: "স্বপ্নদোষের (احتلام) পর আর কোনো এতিমত্ব থাকে না।" আর তার ওপর আর্থিক নিষেধাজ্ঞা (الحجر) মূলত অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার কারণে ছিল, যা স্বপ্নদোষের (احتلام) মাধ্যমে অপসারিত হয়েছে।

৩- এবং যেহেতু সে প্রাপ্তবয়স্ক ও সমঝদার (رشيدة), তাই তার জন্য নিজের সম্পদে হস্তক্ষেপ করা বৈধ, যেমনটি সেই নারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যার সাথে তার স্বামী সংসার শুরু করেছে ৩।

দ্বিতীয় মতের দলিলসমূহ:

ইবনে রুশদ বলেন: ইমাম মালিকের যুক্তি হলো যে, কোনো নারীর সমঝদারির (رشد) বিষয়টি স্বামী কর্তৃক পরীক্ষার মাধ্যম ছাড়া কল্পনা করা যায় না ৪।

আমি বলি: এই পরীক্ষা তার পিতা বা অভিভাবকের পক্ষ থেকেও হতে পারে, সুতরাং এই পরীক্ষাকে কেবল স্বামীর সাথে সুনির্দিষ্ট করার কোনো অবকাশ নেই।

--------------------------------------------

১ আল-মুগনী ৬/৬০১, আল-ইনসাফ ৫/৩২১, আল-মুহাল্লা ৮/৩১০।

২ সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৬।

৩ আল-মুগনী ৬/৬০১।

৪ বিদায়াতুল মুজতাহিদ ২/২৮১।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়ারাকাতু ফীমা ইখতালিফা ফীহির রিজালু ওয়ান নিসা (পৃষ্ঠা: ১৭৭)
وقال القرطبي معللاً لذلك: حتى إذا تزوجت ودخل إليها الناس، وخرجت، وبرز وجهها عرفت المضار والمنافع 1.

أدلة القول الثالث:

ما روى شريح أنه قال: عهد إليَّ عمر بن الخطابرضي الله عنه أن لا أُجيز لجارية عطية حتى تلد ولداً أو تحول في بيتها حولاً 2.

قال ابن قدامة: إن صح أي أثر عمر رضي الله عنه فلا يترك به الكتاب، والقياس، على أن حديث عمر مختص بمنع العطية فلا يلزم منه المنع من تسليم مالها إليها ومنعها من سائر التصرفات 3.

الترجيح:

الذي يظهر لي والله أعلم أن القول الأول أقوى لقوة أدلتهم وضعف أدلة المخالف من جهة ومصادمتها للكتاب والسنة والقياس من جهة أخرى وبناءً على ذلك يتضح أنه لا فرق بين الغلام والجارية في هذا الحكم فمتى بلغ أحدهما رشيداً سُلِّم إليه ماله والله أعلم.

--------------------------------------------

1 الجامع لأحكام القرآن 5/29 0

2 المغني 6/601 0 قال الموفق رواه سعيد في سننه وانظر المحلى 8/310 0

3 المغني 6/602 0
ইমাম আল-কুরতুবি এর কারণ দর্শাতে গিয়ে বলেছেন: "এমনকি সে যখন বিবাহ করবে এবং লোকজন তার নিকট যাতায়াত করবে, সে বাইরে বের হবে এবং তার চেহারা প্রকাশ পাবে, তখন সে নিজের ক্ষতি ও লাভ সম্পর্কে বুঝতে পারবে ১।"

তৃতীয় মতের দলীলসমূহ:

শুরাইহ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) আমাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, আমি যেন কোনো বালিকার দান অনুমতি না দেই যতক্ষণ না সে সন্তান প্রসব করে অথবা তার গৃহে এক বছর অতিবাহিত হয় ২।"

ইবনু কুদামা বলেছেন: "যদি উমর (রা.)-এর এই বর্ণনাটি (أثر) বিশুদ্ধ (صحيح) হয়, তবে এর কারণে কুরআন এবং কিয়াস বা অনুমানকে (قياس) বর্জন করা যাবে না। তদুপরি উমরের হাদিসটি কেবল দান প্রদানের নিষেধাজ্ঞার সাথে সুনির্দিষ্ট; ফলে এটি তার সম্পদ তাকে বুঝিয়ে দিতে বাধা দেওয়া কিংবা অন্যান্য সকল প্রকার লেনদেন থেকে তাকে বিরত রাখার আবশ্যকতা তৈরি করে না ৩।"

প্রাধান্যদান (ترجيح):

আমার নিকট যা প্রতীয়মান হয় এবং আল্লাহই সর্বজ্ঞ যে, প্রথম মতটিই অধিক শক্তিশালী। কারণ একদিকে তাদের দলীলসমূহের শক্তি এবং অন্যদিকে বিরোধীদের দলীলসমূহের দুর্বলতা (ضعف) এবং কুরআন, সুন্নাহ ও কিয়াসের (قياس) সাথে সেগুলোর সংঘাত। এর ভিত্তিতে এটি স্পষ্ট হয় যে, এই বিধানের ক্ষেত্রে বালক ও বালিকার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই; যখনই তাদের কেউ বিচক্ষণ (رشيد) হবে, তখনই তার সম্পদ তাকে বুঝিয়ে দেওয়া হবে। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

--------------------------------------------

১ আল-জামি লি-আহকামিল কুরআন ৫/২৯ ০

২ আল-মুগনি ৬/৬০১ ০ মুওয়াফফাক বলেছেন এটি সাঈদ তার সুনানে বর্ণনা করেছেন এবং দেখুন আল-মুহাল্লা ৮/৩১০ ০

৩ আল-মুগনি ৬/৬০২ ০
(খণ্ড: ১) আল-ওয়ারাকাতু ফীমা ইখতালিফা ফীহির রিজালু ওয়ান নিসা (পৃষ্ঠা: ১৭৮)
المبحث الثالث: حكم تصرف كل من الزوجين في ماله دون إذن الآخر

الزواج رابطة وطيدة وميثاق غليظ يوجب على كل واحد من الزوجين حقوقاً والتزامات للآخر لا يجوز الإخلال بها إلا أنه مع هذا الترابط يبقى لكل من الزوجين حرية التصرف في أمور كثيرة دون نظر إلى أخذ رأي الآخر وهناك أشياء جرى فيها خلاف منها المال فإنه لأجل هذا الترابط بينهما تكلم العلماء في باب الحجر عن حكم تصرف كل واحد منهما في ماله الخاص به دون إذن صاحبه.

فأما بالنسبة للرجل فإن أحداً من العلماء لم يقل بإن الزوجة لها الحق في منع زوجها من التصرف في ماله الخاص به حسب اطلاعي بل ليس لها إلا النفقة الواجبة عليه ولا نظر لها في تدبير ماله بوجه من الوجوه.

ويمكن الاستدلال لذلك بما يلي.

1- قوله تعالى: {وَلا تُؤْتُوا السُّفَهَاءَ أَمْوَالَكُمُ الَّتِي جَعَلَ اللَّهُ لَكُمْ قِيَاماً} 1.

قال ابن عباس رضي الله عنهما: هم بنوك والنساء وكذا قال ابن مسعود والحكم بن عتيبة والحسن والضحاك ومعاوية بن قرة ومجاهد وسعيد بن جبير وأبو مالك2 فالآية على هذا التفسير تنهى عن إعطاء الرجل ماله لنسائه بل ينفق عليهن بالمعروف وبهذا يُعلم أنه لا سلطان لها على ماله بحال من الأحوال3.

--------------------------------------------

1 سورة النساء آية 5

2 تفسير الطبري 7/560 - 562، الجامع لأحكام القرآن 5/29، تفسير القرآن العظيم 1/681، المحلى 9/ 288 0

3 سقت هذا الدليل مع أني لا أرى تفسير السفهاء بالنساء بل أرى أن قول من فسرها بالصبيان الذين لم يبلغوا الحلم أصح لكن غرضي من هذا أنه لا تسلط للمرأة على الرجل في ماله بل من العلماء من فهم أن القرآن ينهى عن إعطائها المال وَعَدَّها سفيهة لا تحسن التصرف فيه 0
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: অপর সঙ্গীর অনুমতি ব্যতিরেকে স্বামী-স্ত্রীর প্রত্যেকের নিজ সম্পদে হস্তক্ষেপের বিধান

বিবাহ একটি সুদৃঢ় বন্ধন এবং একটি সুসংহত অঙ্গীকার, যা স্বামী-স্ত্রীর প্রত্যেকের ওপর অপরজনের জন্য এমন কিছু অধিকার ও বাধ্যবাধকতা আবশ্যক করে, যা লঙ্ঘন করা বৈধ নয়। তবে এই নিবিড় সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও, স্বামী ও স্ত্রীর প্রত্যেকের অনেক বিষয়েই অন্য সঙ্গীর মতামতের তোয়াক্কা না করে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার রয়েছে। তবে এমন কিছু বিষয় রয়েছে যাতে মতভেদ সৃষ্টি হয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো সম্পদ। তাদের মধ্যকার এই নিবিড় সম্পর্কের কারণেই আলেমগণ 'হাজর' বা আইনি সীমাবদ্ধতা অধ্যায়ে একে অপরের অনুমতি ব্যতিরেকে প্রত্যেকের নিজস্ব মালিকানাধীন সম্পদে হস্তক্ষেপ বা তা ব্যবহারের বিধান নিয়ে আলোচনা করেছেন।

স্বামীর ক্ষেত্রে আমার জানামতে কোনো আলেম এই কথা বলেননি যে, স্ত্রীর তার স্বামীকে তার ব্যক্তিগত সম্পদে হস্তক্ষেপ করতে বাধা দেওয়ার অধিকার রয়েছে। বরং স্ত্রীর অধিকার কেবল স্বামীর ওপর ওয়াজিব হওয়া খোরপোশ বা ভরণপোষণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ; স্বামীর সম্পদ ব্যবস্থাপনার কোনো বিষয়েই স্ত্রীর কোনো প্রকার হস্তক্ষেপের অবকাশ নেই।

এর সপক্ষে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো থেকে দলীল গ্রহণ করা যেতে পারে:

1- মহান আল্লাহর বাণী: {আর তোমরা নির্বোধদের হাতে তোমাদের সেই সম্পদ অর্পণ করো না, যা আল্লাহ তোমাদের জন্য জীবনধারণের অবলম্বন করেছেন} ১।

ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন: "তারা হলো তোমাদের সন্তান এবং স্ত্রীগণ।" অনুরূপ কথা বলেছেন ইবনে মাসউদ, আল-হাকাম বিন উতাইবা, আল-হাসান, আদ-দাহহাক, মুয়াবিয়া বিন কুররা, মুজাহিদ, সাঈদ বিন জুবায়ের এবং আবু মালিক ২। এই তাফসীর অনুযায়ী, আয়াতটি পুরুষকে তার সম্পদ স্ত্রীদের হাতে তুলে দিতে নিষেধ করছে, বরং তাদের ওপর ন্যায়সঙ্গতভাবে ব্যয় করার নির্দেশ দিচ্ছে। এর মাধ্যমেই জানা যায় যে, কোনো অবস্থাতেই স্বামীর সম্পদের ওপর স্ত্রীর কোনো কর্তৃত্ব নেই ৩।

--------------------------------------------

১ সূরা আন-নিসা, আয়াত ৫

২ তাফসীর তাবারী ৭/৫৬০ - ৫৬২, আল-জামি' লি-আহকামিল কুরআন ৫/২৯, তাফসীরুল কুরআনিল আযীম ১/৬৮১, আল-মুহাল্লা ৯/২৮৮ ০

৩ আমি এই দলীলটি উল্লেখ করেছি যদিও আমি 'সুফাহা' (নির্বোধ) শব্দের ব্যাখ্যায় নারী অর্থ গ্রহণ করাকে সঙ্গত মনে করি না; বরং যারা এর ব্যাখ্যায় অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুদের কথা বলেছেন, তাদের মতটিই আমার কাছে অধিকতর সঠিক বলে মনে হয়। তবে আমার উদ্দেশ্য হলো এটি দেখানো যে, সম্পদের ক্ষেত্রে পুরুষের ওপর নারীর কোনো কর্তৃত্ব নেই; বরং কোনো কোনো আলেম কুরআন থেকে এটিই বুঝেছেন যে, কুরআন তাদের হাতে সম্পদ তুলে দিতে নিষেধ করেছে এবং তাদের এমন নির্বোধ হিসেবে গণ্য করেছে যারা তা সঠিকভাবে পরিচালনা করতে সক্ষম নয় ০
(খণ্ড: ১) আল-ওয়ারাকাতু ফীমা ইখতালিফা ফীহির রিজালু ওয়ান নিসা (পৃষ্ঠা: ১৭৯)
2- قوله تعالى: {الرِّجَالُ قَوَّامُونَ عَلَى النِّسَاءِ بِمَا فَضَّلَ اللَّهُ بَعْضَهُمْ عَلَى بَعْضٍ وَبِمَا أَنْفَقُوا مِنْ أَمْوَالِهِمْ} 1.

قال ابن جرير في تفسيرها: الرجال أهل قيام على نسائهم في تأديبهن والأخذ على أيديهن فيما يجب عليهن لله ولأنفسهم بما فضل الله به الرجال على أزواجهم من سوقهم إليهن مهورهن وإنفاقهم عليهن أموالهم وكفايتهم إياهن مؤنهن وذلك تفضيل الله تبارك وتعالى إياهم عليهن ولذلك صاروا قُوّاماً عليهن نافذي الأمر عليهن فيما جعل الله إليهم من أمورهن2.

قلت: فإذا كان الرجل من زوجه بهذه المثابة فلا يكون لها تصرف في ماله بحيث تنهاه أو تأمره فيه بشيء.

وأما المرأة فإن العلماء اختلفوا في حكم تصرفها في مالها دون إذن زوجها على قولين:

القول الأول: يجوز للمرأة الرشيدة التصرف في مالها كله بالتبرع والمعاوضة دون نظر إلى إذن الزوج أو رضاه هذا قول جماهير العلماء وعليه الأحناف والشافعية وأحمد في المذهب والظاهرية3.

القول الثاني: ليس للمرأة الرشيدة التصرف المطلق في مالها 0 ثم اختلف أصحابه فقال مالك وأحمد في رواية ليس لها التصرف فيما زاد على الثلث من

--------------------------------------------

1 سورة النساء، آية 34.

2 جامع البيان 8/290 0

3 الهداية وشرح فتح القدير 9/254، بدائع الصنائع 7/169، الحاوي 6/342، روضة الطالبين 4/177، المغني 6/602، الإنصاف 5/342، المحلى 8/309، 312 0
2- মহান আল্লাহর বাণী: {পুরুষেরা নারীদের ওপর দায়িত্বশীল, যেহেতু আল্লাহ তাদের একে অপরের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন এবং যেহেতু তারা তাদের সম্পদ ব্যয় করে} ১।

এর তাফসিরে ইবন জারীর বলেন: পুরুষরা তাদের স্ত্রীদের ওপর শাসন ও শিষ্টাচার শিক্ষা দেওয়ার এবং আল্লাহর প্রতি ও তাদের নিজেদের প্রতি নারীদের যে সকল আবশ্যকীয় কর্তব্য রয়েছে তা পালনে নিবৃত্ত করার বা বাধ্য করার অধিকারী। এটি এ কারণে যে, আল্লাহ পুরুষদের তাদের স্ত্রীদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন; যেমন তাদের মোহর প্রদান করা, তাদের পেছনে সম্পদ ব্যয় করা এবং তাদের যাবতীয় প্রয়োজন পূরণ করা। আর এটিই আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার পক্ষ থেকে তাদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান। এ কারণেই তারা নারীদের ওপর দায়িত্বশীল হয়েছেন এবং আল্লাহ নারীদের যেসব বিষয় তাদের ওপর ন্যস্ত করেছেন, সেগুলোতে তারা আদেশ প্রদানের অধিকারী হয়েছেন ২।

আমি বলি: স্বামী যখন তার স্ত্রীর প্রতি এমন মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে অধিষ্ঠিত, তখন তার (স্ত্রীর) জন্য স্বামীর সম্পদে এমন কোনো হস্তক্ষেপ করার অধিকার থাকে না যে, সে তাকে কোনো বিষয়ে আদেশ বা নিষেধ করবে।

আর নারীর ক্ষেত্রে, স্বামীর অনুমতি ব্যতিরেকে নিজের সম্পদে তার হস্তক্ষেপ করার বিধান সম্পর্কে উলামায়ে কেরাম দুটি মতে বিভক্ত হয়েছেন:

প্রথম মত: বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন নারীর জন্য তার সমস্ত সম্পদে দান বা বিনিময়ের মাধ্যমে হস্তক্ষেপ করা জায়েজ, এক্ষেত্রে স্বামীর অনুমতি বা সন্তুষ্টির প্রতি লক্ষ্য রাখা আবশ্যক নয়। এটি অধিকাংশ আলিমের অভিমত এবং এর ওপর হানাফি, শাফেয়ি, মাজহাব অনুযায়ী ইমাম আহমদ এবং জাহেরিগণ রয়েছেন ৩।

দ্বিতীয় মত: বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন নারীর জন্য তার সম্পদে নিরঙ্কুশ হস্তক্ষেপ করার অধিকার নেই। অতঃপর এ মতের অনুসারীগণ পুনরায় মতভেদ করেছেন। ইমাম মালেক এবং ইমাম আহমদ থেকে বর্ণিত একটি বর্ণনায় (رواية) বলা হয়েছে যে, এক-তৃতীয়াংশের অতিরিক্ত সম্পদে তার হস্তক্ষেপ করার অধিকার নেই...

--------------------------------------------

১ সূরা আন-নিসা, আয়াত ৩৪।

২ জামিউল বায়ান ৮/২৯০।

৩ আল-হিদায়া ও শারহু ফাতহিল কাদির ৯/২৫৪, বাদায়েউস সানায়ে ৭/১৬৯, আল-হাউয়ি ৬/৩৪২, রওজাতুত তালিবিন ৪/১৭৭, আল-মুগনি ৬/৬০২, আল-ইনসাফ ৫/৩৪২, আল-মুহাল্লা ৮/৩০৯, ৩১২।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়ারাকাতু ফীমা ইখতালিফা ফীহির রিজালু ওয়ান নিসা (পৃষ্ঠা: ১৮০)
مالها بدون عوض كالهبة والعتق إلا بإذن زوجها وهو مروي عن أنس وأبي هريرة والحسن ومجاهد، وقال طاوس ليس لها التصرف في شيء من مالها مطلقاً، وعن الليث لا يجوز إلا في الشيء التافه1.

الأدلة:

أدلة القول الأول:

1- عموم آيات القرآن كقوله تعالى: {لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّى تُنْفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ} 2 وقوله تعالى: {وَالْمُتَصَدِّقِينَ وَالْمُتَصَدِّقَات} 3. وقوله تعالى: {وَجَاهِدُوا بِأَمْوَالِكُمْ وَأَنْفُسِكُمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ} 4 وكحثه على الإنفاق. فصح أن كل أحد مندوب إلى فعل الخير والصدقة والعتق والنفقة في وجوه البر ليقي نفسه بذلك نار جهنم يدخل فيه ذات الزوج وغيرها ولا يخرج من هذا الحكم إلا من أخرجه النص ولم يخرج النص إلا المجنون حتى يفيق والصبي حتى يبلغ 5.

2- قوله تعالى: {فَإِنْ آنَسْتُمْ مِنْهُمْ رُشْداً فَادْفَعُوا إِلَيْهِمْ أَمْوَالَهُمْ} 6.

قال ابن قدامة: وهذا ظاهر في فك الحجر عنهن وإطلاقهن في التصرف7.

3- قوله تعالى: {وَإِنْ طَلَّقْتُمُوهُنَّ مِنْ قَبْلِ أَنْ تَمَسُّوهُنَّ وَقَدْ فَرَضْتُمْ لَهُنَّ فَرِيضَةً

--------------------------------------------

1 المحلى 8/310، الشرح الكبير 3/307، القوانين الفقهية ص 276، فتح الباري 5/218، المغني 6/602، الإنصاف 5/342 0

2 سورة آل عمرآن، آية 92

3 سورة الأحزاب آية 35

4 سورة التوبة آية 41

5 المحلى بتصرف 8/279، 280 0

6 سورة النساء آية 6 0

7 المغني 6/603 0
বিনিময়ে ছাড়া তার সম্পদ, যেমন দান (هبة) বা দাসমুক্তি (عتق), স্বামীর অনুমতি ব্যতীত ব্যয় করতে পারবে না। এটি আনাস, আবু হুরায়রা, হাসান এবং মুজাহিদ থেকে বর্ণিত (مروي)। তাউস বলেন, সে তার সম্পদের কোনো কিছুতেই কোনোভাবেই হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। লাইস থেকে বর্ণিত যে, অতি তুচ্ছ বিষয় ব্যতীত এটি বৈধ নয়।১।

দলীলসমূহ:

প্রথম মতের দলীলসমূহ:

১- কুরআনের আয়াতসমূহের ব্যাপকতা, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত পুণ্য লাভ করতে পারবে না, যতক্ষণ না তোমরা তোমাদের প্রিয় বস্তু হতে ব্যয় করবে} ২ এবং মহান আল্লাহর বাণী: {দানশীল পুরুষ ও দানশীল নারীগণ} ৩। এবং মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা আল্লাহর পথে তোমাদের মাল ও জান দিয়ে জিহাদ করো} ৪ এবং দান-খয়রাতের প্রতি তাঁর উৎসাহ প্রদান। সুতরাং এটি প্রমাণিত হয় যে, প্রতিটি ব্যক্তিই ভালো কাজ, সদকা, দাসমুক্তি এবং নেক কাজে ব্যয় করার জন্য পছন্দনীয় (مندوب), যাতে সে এর মাধ্যমে নিজেকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করতে পারে। বিবাহিতা নারী এবং অন্যরা এর অন্তর্ভুক্ত। এই বিধান থেকে কেবল তাকেই বাদ দেওয়া হবে যাকে অকাট্য প্রমাণ (نص) বাদ দিয়েছে। আর অকাট্য প্রমাণ (نص) কেবল উন্মাদ—যতক্ষণ না সে সুস্থ হয় এবং শিশু—যতক্ষণ না সে প্রাপ্তবয়স্ক হয়, তাদের ব্যতীত কাউকে বাদ দেয়নি ৫।

২- মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর যদি তোমরা তাদের মধ্যে বিচারবুদ্ধির পরিচয় পাও, তবে তাদের সম্পদ তাদের নিকট সমর্পণ করো} ৬।

ইবনে কুদামা বলেন: এটি তাদের ওপর থেকে সীমাবদ্ধতা (حجر) তুলে নেওয়ার এবং সম্পদ ব্যবহারের ক্ষেত্রে তাদের স্বাধীনতার ব্যাপারে স্পষ্ট ৭।

৩- মহান আল্লাহর বাণী: {আর যদি তোমরা তাদেরকে স্পর্শ করার পূর্বে তালাক দাও, অথচ তাদের জন্য মোহরানা নির্ধারণ করেছ...}

--------------------------------------------

১ আল-মুহাল্লা ৮/৩১০, আশ-শারহুল কাবীর ৩/৩০৭, আল-কাওয়ানীন আল-ফিকহিয়্যাহ পৃষ্ঠা ২৭৬, ফাতহুল বারী ৫/২১৮, আল-মুগনী ৬/৬০২, আল-ইনসাফ ৫/৩৪২।

২ সূরা আল-ইমরান, আয়াত ৯২

৩ সূরা আল-আহযাব, আয়াত ৩৫

৪ সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত ৪১

৫ আল-মুহাল্লা (সংক্ষেপিত) ৮/২৭৯, ২৮০।

৬ সূরা আন-নিসা, আয়াত ৬।

৭ আল-মুগনী ৬/৬০৩।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়ারাকাতু ফীমা ইখতালিফা ফীহির রিজালু ওয়ান নিসা (পৃষ্ঠা: ১৮১)
فَنِصْفُ مَا فَرَضْتُمْ إِلاّ أَنْ يَعْفُونَ} 1.

قال الطحاوي: فأجاز عفوهن عن مالهن بعد طلاق زوجها إياها بغير استئمار من أحد فدل ذلك على جواز أمر المرأة في مالها، وعلى أنها في مالها كالرجل في ماله2.

4- ما روى مسلم في صحيحه أن أسماء باعت جارية لها قالت: فدخل عليَّ الزبير وثمنها في حجري فقال: هبيها لي. قالت: إني قد تصدقت بها3.

قال ابن حزم: فهذا الزبير، وأسماء بنت الصديق قد أنفذت الصدقة بثمن خادمها، وباعتها بغير إذن زوجها ولعلها لم تكن تملك شيئاً غيرها أو كان أكثر ما معها4.

5- ما تقدم من حديث جابر عند مسلم أنه صلى الله عليه وسلم قال: "يا معشر النساء تصدقن فإنَّكن أكثر أهل النار فجعلن يتصدقن من حليهن يلقين في ثوب بلال".

قال الطحاوي: فهذا رسول الله صلى الله عليه وسلم قد أمر النساء بالصدقات وقبلها منهن ولم ينتظر في ذلك رأي أزواجهن5.

6- ما روى الشيخان من حديث زينب امرأة عبد الله أنه قال لها رسول الله صلى الله عليه وسلم وامرأة أخرى عندما سألاه هل يجزيهن أن يتصدقن على أزواجهن وأيتام لهن قال: "لهما أجران أجر القرابة وأجر الصدقة" 6.

--------------------------------------------

1 سورة البقرة آية 237

2 شرح معاني الآثار 4/352 0

3 صحيح مسلم 4/1717 في السلام باب جواز إرداف المرأة الأجنبية … حديث 2182.

4 المحلى 8/311 0

5 شرح معاني الآثار 4/353 0

6 صحيح البخاري مع الفتح 3/328 في الزكاة باب الزكاة على الزوج حديث 1466، صحيح مسلم 2/694 في الزكاة باب فضل النفقة والصدقة على الأقربين حديث 1000.
{অতঃপর তোমরা যা নির্ধারণ করেছ তার অর্ধেক (প্রদান করবে), যদি না তারা ক্ষমা করে দেয়।} ১।

ইমাম তাহাবি বলেন: স্বামী তাকে তালাক প্রদানের পর অন্য কারো পরামর্শ গ্রহণ ছাড়াই নারী তার নিজ সম্পদ থেকে ক্ষমা করার (ছেড়ে দেওয়ার) বিষয়টিকে তিনি বৈধ সাব্যস্ত করেছেন। এটি প্রমাণ করে যে, নারী তার সম্পদের বিষয়ে স্বাধীন এবং স্বীয় সম্পদের ক্ষেত্রে সে পুরুষের মতোই (অধিকারী)। ২।

৪- সহিহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে যে, আসমা (রা.) তার এক দাসী বিক্রয় করেছিলেন। তিনি বলেন: জুবাইর আমার নিকট প্রবেশ করলেন এমতাবস্থায় যে তার মূল্য (বিক্রয়লব্ধ অর্থ) আমার কোলে ছিল। তিনি বললেন: এটি আমাকে দান করো। তিনি (আসমা) বললেন: আমি তো এটি সদকা করে দিয়েছি। ৩।

ইবনে হাজম বলেন: এই যে জুবাইর এবং সিদ্দীক-কন্যা আসমা (রা.); তিনি তার দাসীর বিক্রয়লব্ধ অর্থ সদকা হিসেবে কার্যকর করেছেন এবং স্বীয় স্বামীর অনুমতি ছাড়াই তা বিক্রয় করেছেন। সম্ভবত তিনি সেটি ছাড়া অন্য কোনো কিছুর মালিক ছিলেন না অথবা সেটিই ছিল তার নিকট থাকা অধিকাংশ সম্পদ। ৪।

৫- ইতিপূর্বে জাবিরের হাদিসে সহিহ মুসলিমে যা অতিক্রান্ত হয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "হে নারী সমাজ! তোমরা সদকা করো, কারণ তোমরা জাহান্নামের অধিকাংশ অধিবাসী।" তখন তারা তাদের অলংকারাদি থেকে সদকা করতে শুরু করলেন এবং বিলালের কাপড়ে তা নিক্ষেপ করতে লাগলেন।

ইমাম তাহাবি বলেন: এখানে রাসুলুল্লাহ (সা.) নারীদের সদকা করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং তাদের থেকে তা গ্রহণ করেছেন; এ ক্ষেত্রে তিনি তাদের স্বামীদের মতামতের অপেক্ষা করেননি। ৫।

৬- শাইখাইন (বুখারি ও মুসলিম) আব্দুল্লাহর স্ত্রী জয়নবের হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে এবং অন্য এক নারীকে বলেছিলেন—যখন তারা উভয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে, তাদের স্বামী এবং তাদের নিকট থাকা এতিমদের ওপর সদকা করা তাদের জন্য যথেষ্ট হবে কি না? তিনি বললেন: "তাদের জন্য দুটি প্রতিদান রয়েছে; একটি আত্মীয়তার প্রতিদান এবং অন্যটি সদকার প্রতিদান।" ৬।

--------------------------------------------

১. সূরা আল-বাকারা, আয়াত ২৩৭।

২. শারহু মাআনিল আসার ৪/৩৫২।

৩. সহিহ মুসলিম ৪/১৭১৭, আস-সালাম অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: পরনারীকে সওয়ারিতে পিছনে বসানোর বৈধতা... হাদিস ২১৮২।

৪. আল-মুহাল্লা ৮/৩১১।

৫. শারহু মাআনিল আসার ৪/৩৫৩।

৬. ফাতহুল বারীসহ সহিহ বুখারি ৩/৩২৮, যাকাত অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: স্বামীর ওপর যাকাত প্রদান, হাদিস ১৪৬৬; সহিহ মুসলিম ২/৬৯৪, যাকাত অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: নিকটাত্মীয়দের ওপর ব্যয় ও সদকার ফজিলত, হাদিস ১০০০।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়ারাকাতু ফীমা ইখতালিফা ফীহির রিজালু ওয়ান নিসা (পৃষ্ঠা: ১৮২)
قال ابن قدامة: لم يذكر لهن هذا الشرط1 أي استئذان الزوج، وتأخير البيان عن وقت الحاجة لا يجوز.

وقال ابن حجر: وفيه جواز تبرع المرأة بمالها بغير إذن زوجها2.

7- ما روى الشيخان من حديث ميمونة رضي الله عنها أنها أعتقت وليدة لها ولم تستأذن النبي صلى الله عليه وسلم فلما كان يومها الذي يدور عليها فيه قالت: "أشعرت يا رسول الله أني أعتقت وليدتي؟ قال: أو فعلت؟ قالت: نعم. قال: أما إنك لو أعطيتها أخوالك كان أعظم لأجرك" 3.

قال ابن حجر: ووجه دخول حديث ميمونة في الترجمة أنها كانت رشيدة وأنها أعتقت قبل أن تستأمر النبي صلى الله عليه وسلم فلم يستدرك ذلك عليها بل أرشدها إلى ما هو الأولى، فلو كان لا ينفذ لها تصرف في مالها لأبطله 4.

8- استدلوا بالعقل، فقال الطحاوي: ثم النظر من بعد يدل على ما ذكرنا وذلك أنا رأيناهم لا يختلفون في المرأة في وصاياها من ثلث مالها أنها جائزة من ثلثها كوصايا الرجال ولم يكن لزوجها عليها في ذلك سبيل ولا أمر، وبذلك نطق الكتاب العزيز، قال الله عز وجل: {وَلَكُمْ نِصْفُ مَا تَرَكَ أَزْوَاجُكُمْ إِنْ لَمْ يَكُنْ لَهُنَّ وَلَدٌ فَإِنْ كَانَ لَهُنَّ وَلَدٌ فَلَكُمُ الرُّبُعُ مِمَّا تَرَكْنَ مِنْ بَعْدِ وَصِيَّةٍ يُوصِينَ بِهَا أَوْ دَيْنٍ} 5.

--------------------------------------------

1 المغني 6/604 0

2 فتح الباري 3/330 0

3 صحيح البخاري مع الفتح 5/217 في الهبات باب هبة المرأة لغير زوجها حديث 2592، صحيح مسلم 2/694 في الزكاة باب فضل النفقة والصدقة على الأقربين حديث 999.

4 فتح الباري 3/303 0

5 سورة النساء آية 12 0
ইবনে কুদামা বলেন: তাদের (নারীদের) জন্য এই শর্ত (الشرط) উল্লেখ করা হয়নি—অর্থাৎ স্বামীর অনুমতি গ্রহণ। আর প্রয়োজনের সময় বিধান বর্ণনা (البيان) বিলম্বিত করা বৈধ নয়।

ইবনে হাজার বলেন: এতে স্বামীর অনুমতি ব্যতিরেকে নারীর নিজ সম্পদ দান করার বৈধতা (جواز) প্রমাণিত হয়।

7- শাইখাইন (বুখারি ও মুসলিম) মায়মুনা (রা.)-এর সূত্রে বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি তার এক দাসীকে মুক্ত করে দিয়েছিলেন এবং এ বিষয়ে নবী (সা.)-এর অনুমতি গ্রহণ করেননি। অতঃপর যখন তার পালার দিন এল, তখন তিনি বললেন: "হে আল্লাহর রাসুল! আপনি কি জানতে পেরেছেন যে আমি আমার দাসীকে মুক্ত করে দিয়েছি?" তিনি বললেন: "তুমি কি সত্যিই তা করেছ?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ।" তিনি (সা.) বললেন: "শোনো, তুমি যদি সেটি তোমার মামাদের দান করতে, তবে তা তোমার সওয়াবের জন্য অধিক মহান হতো।"

ইবনে হাজার বলেন: অনুচ্ছেদের শিরোনামের (الترجمة) অধীনে মায়মুনার হাদিসটি অন্তর্ভুক্ত করার তাৎপর্য হলো, তিনি বুদ্ধিমতী (رشيدة) ছিলেন এবং নবী (সা.)-এর কাছে অনুমতি চাওয়ার আগেই দাসী মুক্ত করেছিলেন। নবী (সা.) তার ওপর কোনো আপত্তি করেননি, বরং তাকে যা অধিক উত্তম ছিল সেদিকে পথপ্রদর্শন করেছেন। যদি তার সম্পদে তার কর্তৃত্ব কার্যকর না হতো, তবে তিনি অবশ্যই তা বাতিল করে দিতেন।

8- তারা যুক্তির মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন। ইমাম তহাবি বলেন: অতঃপর যৌক্তিক বিশ্লেষণও আমরা যা উল্লেখ করেছি তার সপক্ষে প্রমাণ দেয়। আর তা হলো, আমরা দেখতে পাই যে, নারীদের তাদের সম্পদের এক-তৃতীয়াংশ থেকে অসিয়ত (وصية) করার বিষয়ে আলেমগণ একমত; পুরুষের অসিয়তের মতোই তাদের এক-তৃতীয়াংশ থেকে করা অসিয়ত বৈধ। এ বিষয়ে তাদের ওপর তাদের স্বামীদের কোনো কর্তৃত্ব বা নির্দেশ নেই। আর মহাগ্রন্থ আল-কুরআনেও এ কথাই বলা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {তোমাদের স্ত্রীদের পরিত্যক্ত সম্পদের অর্ধেক তোমাদের জন্য, যদি তাদের কোনো সন্তান না থাকে। কিন্তু যদি তাদের সন্তান থাকে, তবে তাদের পরিত্যক্ত সম্পদ থেকে তোমাদের জন্য চার ভাগের এক ভাগ; তারা যা অসিয়ত (وصية) করে যাবে তা পূরণ করার পর অথবা ঋণ (دين) পরিশোধের পর}।

--------------------------------------------

১ আল-মুগনি ৬/৬০৪ ০

২ ফাতহুল বারি ৩/৩৩০ ০

৩ ফাতহসহ সহিহ বুখারি ৫/২১৭, দান অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: স্বামী ব্যতীত অন্য কাউকে নারীর দান করা, হাদিস ২৫৯২; সহিহ মুসলিম ২/৬৯৪, জাকাত অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: নিকটাত্মীয়দের ওপর ব্যয় ও সদকার ফজিলত, হাদিস ৯৯৯।

৪ ফাতহুল বারি ৩/৩০৩ ০

৫ সূরা আন-নিসা, আয়াত ১২ ০
(খণ্ড: ১) আল-ওয়ারাকাতু ফীমা ইখতালিফা ফীহির রিজালু ওয়ান নিসা (পৃষ্ঠা: ১৮৩)
فإذا كانت وصاياها في ثلث مالها جائزة بعد وفاتها فأفعالها في حياتها أجوز من ذلك1.

9- أن من وجب دفع ماله إليه لرشده جاز له التصرف فيه من غير إذن كالغلام 2.

10- قال الإمام الشافعي: "ولو زعم زاعم أن زوجها شريك لها في مالها سئل بالنصف؟ فإن قال نعم قيل فتصنع بالنصف الآخر ما شاءت… فإن قال مالها مرهون له قيل له فبكم هو مرهون حتى تفتديه؟ فإن قال ليس بمرهون قيل له فقل فيه ما أحببت فهو لا شريكٌ لها في مالها وليس له عندك وعندنا أن يأخذ من مالها درهماً وليس مالها مرهوناً بفتكه وليس زوجها ولياً لها ومن خرج من هذه الأقاويل لم يخرج إلى أثر يتبع ولا قياس ولامعقول وإذا جاز للمرأة أن تُعطي من مالها الثلث لا تزيد عليه فلم يجعلها مُوَلّىً عليها ولم يجعل زوجها شريكاً ولا مالها مرهوناً في يديه ولا هي ممنوعة من مالها ولا مخلَّىً بينها وبينه ثم يجيز لها بعد زمانٍ إخراج الثلث والثلث بعد زمان حتى ينفد مالها فما منعها مالها ولا خلاّها وإياه والله المستعان، فإن قال هو نكحها على اليسر قيل أفرأيت إن نُكحت مفلسة ثم أيسرت بعدُ عنده أيدعها ومالها؟ فإن قال نعم فقد أخرجها من الحجر وإن قال لا فقد منعها ما لم تغرُّه به 3.

أدلة القول الثاني:

1- ما روى ابن ماجة في سننه من حديث عبد الله بن يحي رجل من

--------------------------------------------

1 شرح معاني الآثار 4/354 0

2 المغني 6/604 0

3 الأم 3/217 قد أثبت الإمام الشافعي رحمه الله أنه لا سلطان لزوجها على مالها بالقرآن والسنة والمعقول وإنما نقلت ما تقدم لحسنه فراجع الأم وسترى العجب:
সুতরাং যদি তার মৃত্যুর পর তার সম্পদের এক-তৃতীয়াংশ (ثلث) বিষয়ে করা অসিয়ত বৈধ (جائز) হয়, তবে তার জীবদ্দশায় তার কৃত কাজসমূহ তার চেয়েও অধিকতর বৈধ (أجوز)।

9- যার বিচক্ষণতা বা পরিপক্কতার (رشد) কারণে তার সম্পদ তাকে বুঝিয়ে দেওয়া ওয়াজিব হয়েছে, তার জন্য অনুমতি ছাড়াই তাতে তসরুফ বা ব্যয় করা বৈধ (جاز), যেমনটি বালকের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে।

10- ইমাম শাফেঈ রহ. বলেন: "যদি কোনো দাবিদার দাবি করে যে, তার স্বামী তার সম্পদের অংশীদার (شريك), তবে তাকে কি অর্ধাংশ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে? সে যদি বলে ‘হ্যাঁ’, তবে তাকে বলা হবে, তাহলে সে বাকি অর্ধাংশ নিয়ে যা ইচ্ছা করতে পারে… আর যদি সে বলে যে তার সম্পদ স্বামীর কাছে বন্ধক (مرهون) রাখা, তবে তাকে বলা হবে—কত টাকার বিনিময়ে তা বন্ধক রাখা হয়েছে যাতে সে তা মুক্ত করতে পারে? যদি সে বলে যে বন্ধক রাখা নয়, তবে তাকে বলা হবে—তাহলে এ বিষয়ে আপনার যা ইচ্ছা বলতে পারেন, কিন্তু সে তার সম্পদের অংশীদার নয়। আপনার কাছে এবং আমাদের কাছেও এটিই সাব্যস্ত যে, তার সম্পদ থেকে এক দিরহাম নেওয়ার অধিকারও স্বামীর নেই; আর তার সম্পদ তার সতীত্বের বিনিময়ে বন্ধকও নয়, এবং তার স্বামী তার অভিভাবক বা কর্মবিধায়ক (ولي) নয়। যে ব্যক্তি এই বক্তব্যগুলো থেকে বিচ্যুত হবে, সে অনুসরণযোগ্য কোনো বর্ণনা (أثر), অনুমান বা কিয়াস (قياس) কিংবা যুক্তির (معقول) আশ্রয় নিতে পারবে না। আর যদি মহিলার জন্য তার সম্পদ থেকে এক-তৃতীয়াংশ (ثلث) প্রদান করা বৈধ (جاز) হয় এবং এর বেশি না হয়, তবে এর মাধ্যমে তাকে কারো তত্ত্বাবধানে (مولى عليها) ন্যস্ত করা হয়নি, তার স্বামীকে অংশীদার করা হয়নি, তার সম্পদ তার হাতের বন্ধক করা হয়নি, তাকে তার সম্পদ থেকে বারণও করা হয়নি, আবার তাকে তার সম্পদের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণও দেওয়া হয়নি। এরপর তিনি যদি দীর্ঘ সময় পর পর এক-তৃতীয়াংশ করে সম্পদ ব্যয় করার অনুমতি দেন যতক্ষণ না তার সম্পদ নিঃশেষ হয়ে যায়, তবে তাকে তার সম্পদ থেকে বাধাও দেওয়া হলো না আবার পূর্ণ স্বাধীনতাও দেওয়া হলো না। আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি। যদি সে বলে যে, সে তাকে সচ্ছল মনে করে বিবাহ করেছে, তবে তাকে বলা হবে—আপনার অভিমত কী হবে যদি সে দরিদ্র অবস্থায় বিবাহিত হয় এবং পরে আপনার কাছে সচ্ছলতা লাভ করে? তবে কি সে তাকে এবং তার সম্পদকে তার নিজের অবস্থায় ছেড়ে দেবে? যদি সে বলে ‘হ্যাঁ’, তবে সে তাকে নিষেধাজ্ঞা বা নিয়ন্ত্রণ (حجر) থেকে মুক্ত করল। আর যদি সে বলে ‘না’, তবে সে তাকে এমন কিছু থেকে বঞ্চিত করল যা দিয়ে সে তাকে প্রতারিত করেনি।"

দ্বিতীয় মতের দলীলসমূহ:

1- ইবনে মাজাহ তার সুনান গ্রন্থে আবদুল্লাহ ইবনে ইয়াহইয়া নামক এক ব্যক্তির হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন…

--------------------------------------------

1 শারহু মাআনিল আসার 4/354 0

2 আল-মুগনি 6/604 0

3 আল-উম্ম 3/217। ইমাম শাফেঈ রহ. কুরআন, সুন্নাহ এবং যুক্তির (معقول) আলোকে এটি সাব্যস্ত করেছেন যে, স্ত্রীর সম্পদের ওপর স্বামীর কোনো কর্তৃত্ব নেই। আমি কেবল এর সৌন্দর্যের কারণে পূর্বোক্ত অংশটি উদ্ধৃত করেছি। আল-উম্ম গ্রন্থটি দেখুন এবং আপনি বিস্ময়কর সব বিষয় দেখতে পাবেন:
(খণ্ড: ১) আল-ওয়ারাকাতু ফীমা ইখতালিফা ফীহির রিজালু ওয়ান নিসা (পৃষ্ঠা: ১৮৪)
أولاد كعب بن مالك عن أبيه عن جده أن امرأة كعب بن مالك أتت رسول الله صلى الله عليه وسلم بحلي لها فقالت إني تصدقت بهذا فقال لها رسول الله صلى الله عليه وسلم: "لا يجوز للمرأة في مالها إلا بإذن زوجها فهل استأذنت كعباً؟ " قالت: نعم 0 فبعث رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى كعب بن مالك زوجها فقال: "هل أذنت لخيرة أن تتصدق بحليها؟ " فقال: نعم فقبله رسول الله صلى الله عليه وسلم منها" 1.

قال البوصيري: هذا إسناد ضعيف، عبد الله بن يحي لا يعرف في أولاد كعب ابن مالك 2.

وقال الطحاوي: حديث شاذ لا يثبت مثله 3 0

وقال ابن عبد البر: إسناده ضعيف لا تقوم به الحجة4 وحكم الألباني بصحته لشواهده5.

2- ما روى الإمام أحمد وأبو داود والنسائي وابن ماجة والحاكم من حديث عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "لا يجوز لامرأة عطية إلا بإذن زوجها": هذا اللفظ لأحمد وأبي داود والنسائي

وفي لفظ للنسائي "لا يجوز لامرأة هبة في مالها إذا ملك زوجها عصمتها" ومثله عند ابن ماجة بإسقاط كلمة (هبة) وفي لفظ لأبي داود والحاكم "لا يجوز لامرأة أمر في مالها إذا ملك زوجها زوجها عصمتها" 6.

--------------------------------------------

1 سنن ابن ماجة 2/798 في الهبات باب عطية المرأة بغير إذن زوجها حديث 2389.

2 مصباح الزجاجة 2/40 حديث 843 0

3 شرح معاني الآثار 4/353 0

4 نقله الألباني في سلسلة الأحاديث الصحيحة تحت حديث 825.

5 صحيح ابن ماجة 2/47، سلسلة الأحاديث الصحيحة حديث 825 0

6 المسند 2/179، 184، سنن أبي داود 3/816 في البيوع باب في عطية المرأة بغير إذن زوجها حديث 3546، 3547، سنن النسائي 6/278 في العرايا باب عطية المرأة بغير إذن زوجها حديث 3756، 3757، سنن ابن ماجة 2/798 في الهبات باب عطية المرأة بغير إذن زوجها حديث 2389، المستدرك 2/ 47 0
কাব ইবনে মালিকের বংশধরগণ তাদের পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণনা করেন যে, কাব ইবনে মালিকের স্ত্রী রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট তাঁর কিছু অলঙ্কার নিয়ে আসলেন এবং বললেন, "আমি এগুলো সদকা করে দিয়েছি।" রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে বললেন: "স্বামীর অনুমতি ব্যতীত স্ত্রীর জন্য তার সম্পদে (ব্যয় করা) বৈধ নয়। তুমি কি কাবের অনুমতি নিয়েছ?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ।" অতঃপর রাসুলুল্লাহ (সা.) তার স্বামী কাব ইবনে মালিকের নিকট লোক পাঠালেন এবং বললেন: "তুমি কি খাইরাকে তার অলঙ্কার সদকা করার অনুমতি দিয়েছ?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ।" তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) তা তার থেকে গ্রহণ করলেন। ১।

বুসিরি বলেন: এই সনদটি দুর্বল (ضعيف), কাব ইবনে মালিকের সন্তানদের মধ্যে আব্দুল্লাহ ইবনে ইয়াহইয়া নামে কাউকে চেনা যায় না। ২।

তহাবি বলেন: এটি একটি শায (شاذ) হাদিস, যার অনুরূপ হাদিস সাব্যস্ত হয় না। ৩।

ইবনে আব্দুল বার বলেন: এর সনদটি দুর্বল (ضعيف), যা দ্বারা দলিল (الحجة) প্রতিষ্ঠিত হয় না। আর আলবানি তার শাহিদ বা সমর্থনকারী বর্ণনার (شواهد) কারণে হাদিসটিকে সহিহ (صحيح) হওয়ার হুকুম দিয়েছেন। ৫।

২- ইমাম আহমদ, আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ এবং হাকেম আমর ইবনে শুআইব থেকে, তিনি তার পিতা এবং তিনি তার দাদার সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "স্বামীর অনুমতি ব্যতীত কোনো নারীর জন্য দান করা বৈধ নয়।" এই শব্দটি আহমদ, আবু দাউদ এবং নাসাঈর।

নাসাঈর এক বর্ণনায় রয়েছে: "কোনো নারীর জন্য তার সম্পদে হিবাহ করা বৈধ নয় যখন তার স্বামী তার অভিভাবকত্বের (নিকাহর) মালিক হয়।" ইবনে মাজাহর নিকটও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে তবে সেখানে 'হিবাহ' শব্দটি নেই। আবু দাউদ ও হাকেমের এক বর্ণনায় রয়েছে: "কোনো নারীর জন্য তার সম্পদে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া বৈধ নয় যখন তার স্বামী তার অভিভাবকত্বের মালিক হয়।" ৬।

--------------------------------------------

১. সুনান ইবনে মাজাহ ২/৭৯৮, হেবা অধ্যায়, স্বামীর অনুমতি ব্যতীত মহিলার দান পরিচ্ছেদ, হাদিস ২৩৮৯।

২. মিসবাহুজ জুজাজাহ ২/৪০, হাদিস ৮৪৩।

৩. শরহু মাআনিল আসার ৪/৩৫৩।

৪. আলবানি সিলসিলাতুল আহাদিসিস সহিহা-তে ৮২৫ নম্বর হাদিসের অধীনে এটি বর্ণনা করেছেন।

৫. সহিহ ইবনে মাজাহ ২/৪৭, সিলসিলাতুল আহাদিসিস সহিহা, হাদিস ৮২৫।

৬. আল-মুসনাদ ২/১৭৯, ১৮৪; সুনান আবু দাউদ ৩/৮১৬, ক্রয়-বিক্রয় অধ্যায়, স্বামীর অনুমতি ব্যতীত মহিলার দান পরিচ্ছেদ, হাদিস ৩৫৪৬, ৩৫৪৭; সুনান নাসাঈ ৬/২৭৮, আরায়া অধ্যায়, স্বামীর অনুমতি ব্যতীত মহিলার দান পরিচ্ছেদ, হাদিস ৩৭৫৬, ৩৭৫৭; সুনান ইবনে মাজাহ ২/৭৯৮, হেবা অধ্যায়, স্বামীর অনুমতি ব্যতীত মহিলার দান পরিচ্ছেদ, হাদিস ২৩৮৯; আল-মুস্তাদরাক ২/৪৭।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়ারাকাতু ফীমা ইখতালিফা ফীহির রিজালু ওয়ান নিসা (পৃষ্ঠা: ১৮৫)
قال الحاكم: هذا حديث صحيح الإسناد ولم يخرجاه ووافقه الذهبي.

وقال الشوكاني: الحديث من طريق عمرو بن شعيب وحديثه من قسم الحسن 1 وكذا حسنه الألباني2.

واعترض ابن قدامة على الاستدلال به بقوله: حديثهم ضعيف وشعيب لم يدرك عبد الله بن عمرو فهو مرسل وعلى فرض صحته فهو محمول على أنه لا يجوز عطيتها لماله بغير إذنه بدليل أنه يجوز عطيتها ما دون الثلث 3وقال ابن حزم عن هذا الحديث: صحيفة منقطعة، ثم لو صح لكان منسوخاً بخبر ابن عباس4.

ما روى ابن حزم في المحلى من طريق ابن أبي شيبة وسعيد بن منصور بإسناديهما عن شريح قال: عهد إليَّ عمر بن الخطاب أن لا أجيز عطية جارية حتى تلد ولداً أو تحول في بيتها حولاً5.

وأجاب عنه بأن عمر أبطل فعلها جملة قبل أن تلد أو تبقى في بيت زوجها سنة ثم أجازه بعد ذلك جملة، ولم يجعل للزوج في شيء من ذلك مدخلاً ولا حدَّ

--------------------------------------------

1 نيل الأوطار 6/18 0

2 سلسلة الأحاديث الصحيحة حديث 825 0

3 المغني 6/604 0

4 المحلى 8/317، ومراده بخبر ابن عباس ما ثبت في الصحيح من أمره صلى الله عليه وسلم النساء بالصدقة في صلاة العيد وقبوله للصدقة منهن وقد مر من حديث جابر في أدلة القول الأول 0

5 المحلى 8/310 0
ইমাম হাকেম বলেন: এটি সঠিক সূত্রবিশিষ্ট (صحيح الإسناد) একটি হাদিস, তবে তারা দুজন (বুখারি ও মুসলিম) এটি বর্ণনা করেননি এবং ইমাম যাহাবিও তার সাথে একমত হয়েছেন।

ইমাম শাওকানি বলেন: হাদিসটি আমর ইবনে শুয়াইবের সূত্রে বর্ণিত এবং তার বর্ণিত হাদিস হাসান (الحسن) স্তরের ১ এবং আলবানিও একে হাসান (حسنه) হিসেবে অভিহিত করেছেন ২।

ইবনে কুদামা এই হাদিস দ্বারা দলিল গ্রহণের ব্যাপারে আপত্তি জানিয়ে বলেন: তাদের বর্ণিত হাদিসটি দুর্বল (ضعيف) এবং শুয়াইব আবদুল্লাহ ইবনে আমরকে সরাসরি পাননি, তাই এটি বিচ্ছিন্ন (مرسل)। আর যদি এর বিশুদ্ধতা (صحته) ধরেও নেওয়া হয়, তবে একে এ অর্থে ধরা হবে যে, স্বামীর অনুমতি ব্যতীত স্ত্রীর পক্ষে তার সম্পদ দান করা বৈধ নয়; এর প্রমাণ হলো যে এক-তৃতীয়াংশের কম সম্পদ দান করা তার জন্য বৈধ ৩। ইবনে হাজম এই হাদিস সম্পর্কে বলেন: এটি একটি বিচ্ছিন্ন পাণ্ডুলিপি (صحيفة منقطعة), আর যদি এটি বিশুদ্ধ (صح) হতো তবে ইবনে আব্বাসের বর্ণনা দ্বারা তা রহিত (منسوخاً) হিসেবে গণ্য হতো ৪।

ইবনে হাজম ‘আল-মুহাল্লা’ গ্রন্থে ইবনে আবি শায়বাহ এবং সাঈদ ইবনে মনসুরের সূত্রে তাদের নিজ নিজ সনদসহ শুরাইহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: উমর ইবনুল খাত্তাব আমাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন আমি কোনো দাসীর দানকে বৈধতা না দেই যতক্ষণ না সে সন্তান জন্ম দেয় অথবা তার ঘরে এক বছর অতিবাহিত করে ৫।

এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, উমর (রা.) সন্তান জন্ম দেওয়ার আগে বা স্বামীর ঘরে এক বছর থাকার আগে তার কর্মকাণ্ডকে পুরোপুরি বাতিল করে দিয়েছিলেন, তারপর একে সামগ্রিকভাবে অনুমতি দিয়েছিলেন। তিনি এর কোনো বিষয়েই স্বামীর কোনো হস্তক্ষেপ বা সীমা নির্ধারণ করেননি।

--------------------------------------------

১ নাইলুল আওতার ৬/১৮।

২ সিলসিলাতুল আহাদিস আস-সহিহাহ, হাদিস নং ৮২৫।

৩ আল-মুগনি ৬/৬০৪।

৪ আল-মুহাল্লা ৮/৩১৭, এবং ইবনে আব্বাসের বর্ণনা দ্বারা তিনি সেই হাদিসকে বুঝিয়েছেন যা সহিহ (হাদিস গ্রন্থ)-এ বর্ণিত হয়েছে, যেখানে নবী (সা.) ঈদুল ফিতরের সালাতে মহিলাদের সদকা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং তাদের সদকা গ্রহণ করেছিলেন; আর এটি প্রথম মতের দলিলের ক্ষেত্রে জাবেরের বর্ণিত হাদিসে ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।

৫ আল-মুহাল্লা ৮/৩১০।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়ারাকাতু ফীমা ইখতালিফা ফীহির রিজালু ওয়ান নিসা (পৃষ্ঠা: ১৮৬)
ثلثاً من أقل ولا من أكثر1.

قلت: وكذا لا دلالة فيه لمن منعها مطلقاً لأن هذا المنع محدد بحول واحد.

4- أن حق الزوج متعلق بمالها فإن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "تنكح المرأة لمالها وجمالها ودينها" 2 والعادة أن الزوج يزيد في مهرها من أجل مالها، ويتبسط فيه وينتفع به3.

وأُجيب عنه بأنه منتقض بالمرأة فإنها تنتفع بمال زوجها وتتبسط فيه عادة ولها النفقة منه وانتفاعها بماله أكثر من انتفاعه بمالها وليس لها الحجر عليه4.

وأجاب ابن حزم بأن الحديث فيه زجر عن أن تنكح المرأة لغير الدين لقوله صلى الله عليه وسلم في هذا الخبر نفسه "فاظفر بذات الدين" ثم أي دليل فيه على أنها ممنوعة من مالها بكونه أحد الطامعين في مال لا يحل له منه شيء إلا ما يحل من مال جاره وهو ما طابت له به نفسها ونفس جاره ولا مزيد5.

قلت: فمن منعها من التصرف في ما زاد على الثلث حمل الأدلة التي تبيح للمرأة التصرف في مالها على الثلث والأدلة الناهية على ما زاد على الثلث 6.

ويجاب عنه بأنه لم يرد تحديد بالثلث فيكون ذلك تحكماً لا دليل عليه 7.

--------------------------------------------

1 المرجع السابق 8/313

2 صحيح البخاري مع الفتح 9/132 في النكاح باب الأكفاء في الدين حديث 5090، صحيح مسلم 2/1086 في الرضاع باب استحباب نكاح ذات الدين حديث 1466 0

3 المغني 6/603 0

4 المرجع السابق 6/604

5 المحلى 8/315 0

6 فتح الباري 5/218 0

7 المحلى 8/313، المغني 6/604 0
এক-তৃতীয়াংশ, তার কমও নয় এবং বেশিও নয়১।

আমি বলছি: একইভাবে, যারা তাকে সাধারণভাবে (مطلقاً) নিষিদ্ধ করেন তাদের জন্য এতে কোনো দলিল নেই, কারণ এই নিষেধাজ্ঞা এক বছরের জন্য সীমাবদ্ধ।

৪- স্বামীর অধিকার স্ত্রীর সম্পদের সাথে সংশ্লিষ্ট। কেননা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নারীকে বিবাহ করা হয় তার সম্পদ, সৌন্দর্য এবং দ্বীনদারির জন্য।" ২ সাধারণত স্বামী তার স্ত্রীর সম্পদের কারণে মোহর বাড়িয়ে দেয় এবং তাতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে ও তা থেকে উপকৃত হয় ৩।

এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, এটি স্ত্রীর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে; কারণ সেও সাধারণত স্বামীর সম্পদ থেকে উপকৃত হয় ও তা স্বচ্ছন্দে ব্যবহার করে এবং তার ভরণপোষণও সেখান থেকে হয়। এমনকি স্বামীর সম্পদ থেকে তার উপকার লাভ, স্ত্রীর সম্পদ থেকে স্বামীর উপকার লাভের চেয়েও বেশি। অথচ স্ত্রীর জন্য স্বামীর ওপর নিষেধাজ্ঞা (الحجر) আরোপের কোনো অধিকার নেই ৪।

ইবনে হাজম উত্তর দিয়েছেন যে, এই হাদিসে দ্বীনদারি ব্যতিরেকে অন্য কোনো কারণে বিয়ে করার ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে। কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এই বর্ণনায় নিজেই বলেছেন, "সুতরাং তুমি দ্বীনদার নারীকেই জয় করে নাও।" এরপর এতে এমন কী দলিল আছে যে, তাকে তার নিজের সম্পদ থেকে বাধা দেওয়া হবে শুধু এই কারণে যে, স্বামী সেই সম্পদের প্রত্যাশীদের একজন? অথচ তার জন্য স্ত্রীর সম্পদের কিছুই হালাল নয়, কেবল ততটুকুই হালাল যতটুকু তার প্রতিবেশীর সম্পদ থেকে হালাল হয়। আর তা হলো যা স্ত্রী এবং প্রতিবেশী স্বতঃস্ফূর্তভাবে দেয়, এর অতিরিক্ত কিছু নয় ৫।

আমি বলছি: যারা এক-তৃতীয়াংশের অতিরিক্ত সম্পদে তার অধিকার প্রয়োগ নিষিদ্ধ করেছেন, তারা নারীর সম্পদ ব্যয়ের অনুমতি দানকারী দলিলগুলোকে এক-তৃতীয়াংশের ওপর প্রয়োগ করেছেন এবং নিষেধাজ্ঞার দলিলগুলোকে এক-তৃতীয়াংশের অতিরিক্তের ওপর প্রয়োগ করেছেন ৬।

এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, এক-তৃতীয়াংশের কোনো সীমাবদ্ধতা বর্ণিত হয়নি, সুতরাং এটি হবে দলিলবিহীন একটি একতরফা নির্দেশ ৭।

--------------------------------------------

১ পূর্বোক্ত উৎস ৮/৩১৩

২ ফাতহুল বারীসহ সহীহ বুখারী ৯/১৩২, বিবাহ অধ্যায়, দ্বীনের ক্ষেত্রে সমতা পরিচ্ছেদ, হাদিস ৫০৯০; সহীহ মুসলিম ২/১০৮৬, দুগ্ধপান অধ্যায়, দ্বীনদার নারীকে বিবাহের গুরুত্ব পরিচ্ছেদ, হাদিস ১৪৬৬।

৩ আল-মুগনি ৬/৬০৩

৪ পূর্বোক্ত উৎস ৬/৬০৪

৫ আল-মুহাল্লা ৮/৩১৫

৬ ফাতহুল বারী ৫/২১৮

৭ আল-মুহাল্লা ৮/৩১৩, আল-মুগনি ৬/৬০৪
(খণ্ড: ১) আল-ওয়ারাকাতু ফীমা ইখতালিফা ফীহির রিজালু ওয়ান নিসা (পৃষ্ঠা: ১৮৭)
وأما من منعها مطلقاً فحجتهم إطلاق الأدلة الناهية كما مر.

الترجيح:

إذا دقق الباحث النظر في هذه المسألة رأى أن قول القائلين بجواز تصرف المرأة في مالها دون إذن زوجها أقوى لأمور كثيرة منها:

1- قوة ما استدلوا به من الآيات والأحاديث إذ أنها تدل صراحة على جواز تصرفها في مالها دون إذن زوجها.

2- أن الأصل جواز تصرف الإنسان في ماله ما لم يمنع من ذلك دليل.

3- أنه لم يختلف العلماء في جواز تصرف المرأة في مالها إذا لم تكن ذات زوج، ولم تكن سفيهة فالقياس يقتضي أن لها التصرف إذا كانت ذات زوج كغيرها من الأُمهات والأخوات.

قال الشافعي: ولا يختلف أحد من أهل العلم علمته أن الرجل والمرأة إذا صار كل واحد منهما إلى أن يجمع البلوغ والرشد سواءٌ في دفع أموالهما إليهما1.

4- أن أدلة المانعين للمرأة من التصرف في مالها فيها نظر، فالحديث الأول فيه راوٍ مجهول، والثاني من حديث عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده وفيه ما فيه خاصة عندما يعارض أدلة من الكتاب والسنة في غاية القوة كما في مسألتنا بل إن الإمام الشافعي أنكر أن يصح شيء مما استدلوا به من السنة 2.

5- أنه ليس في الأدلة التي استدلوا بها ما يؤيد تحديد تصرفها بالثلث ومن هنا يبدو لي أن في صحة أدلة المانعين نظراً إذ أنها عارضت القرآن وصحيح

--------------------------------------------

1 الأم 3/216 0

2 الأم 3/216، 217 0
আর যারা একে (নারীর সম্পদের ব্যবহারের অধিকারকে) নিরঙ্কুশভাবে নিষেধ করেছেন, তাদের দলিল হলো ইতিপূর্বে বর্ণিত নিষেধাজ্ঞামূলক দলিলগুলোর ব্যাপকতা।

প্রাধান্যপ্রাপ্ত মত (তারজিহ):

গবেষক যদি এই মাসআলায় গভীর দৃষ্টিপাত করেন, তবে তিনি দেখতে পাবেন যে, স্বামীর অনুমতি ব্যতিরেকে নারীর নিজ সম্পদে হস্তক্ষেপের বৈধতার প্রবক্তাদের অভিমতটি অনেক কারণে শক্তিশালী, যার মধ্যে রয়েছে:

১- তাদের উপস্থাপিত আয়াত ও হাদিসসমূহের শক্তির দিক, কেননা তা স্পষ্টভাবে স্বামীর অনুমতি ছাড়াই নারীর নিজ সম্পদে হস্তক্ষেপের বৈধতা নির্দেশ করে।

২- মূল বিধান হলো মানুষের নিজ সম্পদে হস্তক্ষেপের বৈধতা, যতক্ষণ না কোনো দলিল তা থেকে বারণ করে।

৩- নারী যদি বিবাহিত না হন এবং নির্বোধ না হন, তবে তার নিজ সম্পদে হস্তক্ষেপের বৈধতার বিষয়ে আলেমদের মাঝে কোনো মতপার্থক্য নেই; সুতরাং কিয়াস দাবি করে যে, বিবাহিত হলেও অন্যান্য মা ও বোনদের মতোই তার হস্তক্ষেপের অধিকার থাকবে।

ইমাম শাফেয়ী বলেন: "আমার জানামতে কোনো আলেম দ্বিমত পোষণ করেননি যে, পুরুষ এবং নারী—উভয়ই যখন বালেগ এবং সঠিক বুদ্ধিসম্পন্ন হওয়ার পর্যায়ে পৌঁছে যায়, তখন তাদের সম্পদ তাদের হাতে সোপর্দ করার ক্ষেত্রে তারা সমান"১।

৪- যারা নারীকে তার সম্পদে হস্তক্ষেপ করা থেকে বারণ করেন তাদের দলিলসমূহ পর্যালোচনার দাবি রাখে; কেননা প্রথম হাদিসটিতে একজন অজ্ঞাত বর্ণনাকারী (راو مجهول) রয়েছেন এবং দ্বিতীয়টি হলো আমর ইবনে শুয়াইবের হাদিস যা তিনি তার পিতা ও তার দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন, যার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে—বিশেষত যখন তা কুরআন ও সুন্নাহর অত্যন্ত শক্তিশালী দলিলের বিরোধী হয়, যেমনটি আমাদের এই মাসআলায় ঘটেছে। বরং ইমাম শাফেয়ী সুন্নাহ থেকে তাদের পেশকৃত কোনো দলিলই বিশুদ্ধ (صحيح) হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন২।

৫- তাদের পেশকৃত দলিলসমূহে এমন কিছু নেই যা নারীর হস্তক্ষেপকে এক-তৃতীয়াংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ করাকে সমর্থন করে। এখান থেকেই আমার নিকট প্রতীয়মান হয় যে, নিষেধকারীদের দলিলের বিশুদ্ধতার (صحة) ক্ষেত্রে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে, যেহেতু তা কুরআন এবং সহিহ (صحيح) এর পরিপন্থী।

--------------------------------------------

১ আল-উম্ম ৩/২১৬।

২ আল-উম্ম ৩/২১৬, ২১৭।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়ারাকাতু ফীমা ইখতালিফা ফীহির রিজালু ওয়ান নিসা (পৃষ্ঠা: ১৮৮)
السنة فلعل ضعفها أصح، أو لعلها منسوخة كما قال ابن حزم إذ أن أمر النبي صلى الله عليه وسلم النساء بالصدقة كان في آخر حياته، أو لعلها تُحمل على أنها لا تتصدق من ماله إلا بإذنه1 كما ذكر ابن قدامة، أو لعل الأمر بالاستئذان فيها مبني على حسن العشرة كما ذكر الخطابي2 والله أعلم.

--------------------------------------------

1 المغني 6/604.

2 معالم السنن مع عون المعبود 9/463.
সুন্নাহ (السنة) সম্পর্কে সম্ভবত এর দুর্বলতা (ضعف)-ই অধিকতর বিশুদ্ধ (أصح), অথবা সম্ভবত এটি রহিত (منسوخ) হয়েছে যেমনটি ইবনে হাজম বলেছেন। কেননা নারীদের প্রতি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দান-সদকার নির্দেশটি ছিল তাঁর জীবনের শেষভাগে। অথবা হতে পারে একে এভাবে ব্যাখ্যা করা হবে যে, স্ত্রী তার স্বামীর সম্পদ থেকে তাঁর অনুমতি ব্যতিরেকে দান করবে না, যেমনটি ইবনে কুদামা উল্লেখ করেছেন। অথবা সম্ভবত অনুমতির এই নির্দেশটি সদ্আচরণের শিষ্টাচারের ওপর ভিত্তি করে প্রদান করা হয়েছে, যেমনটি খাত্তাবি উল্লেখ করেছেন। আর আল্লাহই অধিক পরিজ্ঞাত।

--------------------------------------------

১ আল-মুগনি ৬/৬০৪।

২ মাআলিমুস সুনান সাথে আউনুল মাবুদ ৯/৪৬৩।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়ারাকাতু ফীমা ইখতালিফা ফীহির রিজালু ওয়ান নিসা (পৃষ্ঠা: ১৮৯)
‌‌المبحث الرابع: حكم تصرق الرجل من مال زوجته وتصدقها من ماله

…

المبحث الرابع: حكم تصدق الرجل من مال زوجته وتصدقها من ماله

من المتقرر شرعاً أن نفقة الزوجة واجبة على زوجها حتى وإن كانت غنية وبهذا يعلم أن لها حقاً في ماله بينما لا يجب عليها أن تنفق عليه حتى مع غناها وفقره، كما أن المرأة راعية في بيت زوجها لها أن تأكل منه وتطعم بنيها وتكتسي إلى غير ذلك من التصرفات المأذون فيها شرعاً ومع هذا فإنه ليس لها التصرف في ماله بإطلاق ومن هنا تكلم العلماء في باب الحجر على حكم تصدقها من ماله ولبيان الفرق بينهما أذكر حكم تصدقه من مالها أيضاً فأقول:

أما حكم تصدق الرجل من مال زوجته:

فإني لم أجد أحداً من أهل العلم نص على حكمه صراحة، إلا ابن حزم حيث قال: لا يجوز له أن يتصدق من مالها بشيء أصلاً إلا بإذنها 1 لكن الذي يظهر لي أن سبب السكوت عنه كونه من المسلمات المعروفة التي لم يُختلف في حكمها حتى إن الحنابلة عندما ذكروا الرواية المنقولة عن الإمام أحمد في منع تصدق المرأة من مال زوجها استدلوا لها بالقياس على الرجل فقالوا: لا يجوز لها أن تتصدق من ماله كما أنه لا يجوز له أن يتصدق من مالها 2 فلهذا أرى أنه لا يجوز للرجل أن يتصدق من مال زوجته بشيء ما لم تأذن له فيه ويمكن أن يستدل لذلك بما يلي:

1- قوله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُمْ بَيْنَكُمْ بِالْبَاطِلِ} 3. فهي

--------------------------------------------

1 المحلى 8/318 0

2 الفروع 5/326، الإنصاف 5/353 0

3 سورة النساء آية 29.
‌‌চতুর্থ পরিচ্ছেদ: স্ত্রীর সম্পদ থেকে স্বামীর ব্যয় এবং স্বামীর সম্পদ থেকে স্ত্রীর দান করার বিধান

…

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: স্ত্রীর সম্পদ থেকে স্বামীর ব্যয় এবং স্বামীর সম্পদ থেকে স্ত্রীর দান করার বিধান

শরীয়তের একটি সুপ্রতিষ্ঠিত নীতি হলো যে, স্ত্রীর ভরণপোষণ করা স্বামীর ওপর ওয়াজিব, এমনকি স্ত্রী ধনী হলেও। এর মাধ্যমে জানা যায় যে, স্বামীর সম্পদে স্ত্রীর একটি অধিকার রয়েছে; পক্ষান্তরে স্ত্রীর ওপর স্বামীর ভরণপোষণ করা ওয়াজিব নয়, এমনকি স্ত্রী ধনী এবং স্বামী দরিদ্র হলেও। তদ্রূপ নারী তার স্বামীর ঘরের রক্ষণাবেক্ষণকারী, সে তা থেকে আহার করতে পারে, সন্তানদের খাওয়াতে পারে এবং পরিধেয় বস্ত্র গ্রহণ করতে পারে, এছাড়া শরীয়ত অনুমোদিত অন্যান্য ব্যবহারও সে করতে পারে। তা সত্ত্বেও, স্বামীর সম্পদে তার নিরঙ্কুশ ব্যবহারের অধিকার নেই। এ কারণেই আলেমগণ ‘আল-হাজর’ (সম্পদ ব্যয়ের সীমাবদ্ধতা) অধ্যায়ে স্বামীর সম্পদ থেকে স্ত্রীর দান করার বিধান সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট করার জন্য আমি স্ত্রীর সম্পদ থেকে স্বামীর দান করার বিধানটিও উল্লেখ করছি। আমি বলছি:

স্ত্রীর সম্পদ থেকে স্বামীর দান করার বিধান প্রসঙ্গে:

আমি আলেমগণের মধ্যে ইবনে হাজম ব্যতীত কাউকে এ বিষয়ে স্পষ্টভাবে কোনো বিধান বর্ণনা করতে দেখিনি। তিনি বলেছেন: স্ত্রীর অনুমতি ব্যতীত তার সম্পদ থেকে স্বামীর কোনো কিছু দান করা মোটেও বৈধ নয়। ১ তবে আমার নিকট যা প্রতীয়মান হয় তা হলো, এ বিষয়ে নীরব থাকার কারণ হলো এটি একটি সুপ্রতিষ্ঠিত ও সর্বজনবিদিত বিষয়, যার বিধানে কোনো মতভেদ নেই। এমনকি হাম্বলিগণ যখন ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত বর্ণনা (رواية) উল্লেখ করেছেন—যেখানে স্বামীর সম্পদ থেকে স্ত্রীর দান করা নিষেধ করা হয়েছে—তখন তারা স্বামীর অবস্থার ওপর কিয়াস বা তুলনার মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন। তারা বলেছেন: স্ত্রীর জন্য স্বামীর সম্পদ থেকে দান করা জায়েজ নয়, ঠিক যেমন স্বামীর জন্য স্ত্রীর সম্পদ থেকে দান করা জায়েজ নয়। ২ তাই আমি মনে করি, স্ত্রীর অনুমতি ব্যতীত তার সম্পদ থেকে কোনো কিছু দান করা পুরুষের জন্য বৈধ নয়। এর স্বপক্ষে নিম্নলিখিত দলিল পেশ করা যেতে পারে:

১- আল্লাহ তায়ালার বাণী: {হে মুমিনগণ! তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না।} ৩। এটি

--------------------------------------------

১ আল-মুহাল্লা ৮/৩১৮।

২ আল-ফুরু ৫/৩২৬, আল-ইনসাফ ৫/৩৫৩।

৩ সূরা আন-নিসা, আয়াত ২৯।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়ারাকাতু ফীমা ইখতালিফা ফীহির রিজালু ওয়ান নিসা (পৃষ্ঠা: ১৯০)
وإن كانت تنص على تحريم أكل أموال الناس بالباطل فإنها تدل بمفهومها على تحريم الاعتداء على أموال الآخرين بالباطل بأي وجه من الوجوه.

2- ما روى مسلم في صحيحه من حديث جابر رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم "إن دماءكم وأموالكم حرام عليكم كحرمة يومكم هذا في شهركم هذا في بلدكم هذا" 1.

فهذا نصٌ عام في تحريم أموال المسلمين على بعضهم ما لم يدل دليل على جواز الأخذ من مال الغير ولم يأت ما يدل على جواز تصدق الرجل من مال زوجته أو أكله منه بدون إذنها فيبقى على أصل التحريم.

أما حكم تصدق المرأة من مال زوجها ففيه خلاف على قولين:

القول الأول: يجوز لها أن تتصدق من مال زوجها باليسير بغير إذنه هذا ما ذهب إليه الإمام أحمد في رواية صححها موفق الدين ابن قدامة ورجحها صاحب الإنصاف ونقل تصحيحها عن جماعة من الحنابلة وقال به أبو محمد ابن حزم 2.

القول الثاني: لا يجوز للمرأة أن تتصدق من مال زوجها بشيء إلا بإذنه، هذا ما ذهب إليه الإمام أحمد في رواية مرجوحة في المذهب 3 وقال البغوي: العمل على هذا عند عامة أهل العلم أن المرأة ليس لها أن تتصدق بشيء من مال الزوج دون إذنه 4 وممن صرح بهذا القول الإمام النووي لكنه قال: والإذن ضربان: أحدهما، الإذن الصريح في النفقة والصدقة، والثاني الإذن المفهوم من اطراد العرف 5.

--------------------------------------------

1 مسلم 2/889 في الحج باب حجة النبي صلى الله عليه وسلم حديث رقم 1218 0

2 المغني 6/605، الفروع 4/325، الإنصاف 5/352، المحلى 8/318 0

3 المغني 6/605، الفروع 4/325، الإنصاف 5/325 0

4 شرح السنة 6/205 0

5 شرح النووي على مسلم 7/112 0
যদ্যপি এটি অন্যায়ভাবে মানুষের সম্পদ গ্রাস করার অবৈধতা বা হারাম (تحريم) হওয়ার বিষয়ে সুস্পষ্ট বক্তব্য (نص) প্রদান করে, তবুও এটি তার মর্মার্থ বা মাফহুম (مفهوم) দ্বারা যেকোনো উপায়ে অন্যের সম্পদের ওপর অন্যায়ভাবে হস্তক্ষেপ করার অবৈধতা বা হারাম (تحريم) হওয়ার প্রতি নির্দেশ করে।

২- ইমাম মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, "নিশ্চয়ই তোমাদের রক্ত এবং তোমাদের সম্পদ তোমাদের জন্য তেমনি হারাম (حرام), যেমন হারাম তোমাদের এই দিনটি, তোমাদের এই মাসটি এবং তোমাদের এই শহরটি।" ১।

এটি মুসলমানদের সম্পদ একে অপরের জন্য হারাম (تحريم) হওয়ার ব্যাপারে একটি সাধারণ নস (نص عام), যতক্ষণ না অন্যের সম্পদ গ্রহণ বৈধ হওয়ার পক্ষে কোনো দলিল (دليل) পাওয়া যায়। আর স্বামীর জন্য স্ত্রীর সম্পদ থেকে তার অনুমতি ব্যতীত সদকাহ করা বা তা ভোগ করার বৈধতার পক্ষে কোনো দলিল (دليل) আসেনি; ফলে তা হারাম (تحريم) হওয়ার মূলনীতির (أصل) ওপরই বহাল থাকবে।

তবে স্বামীর সম্পদ থেকে স্ত্রীর সদকাহ করার বিধানের (حكم) ব্যাপারে দুটি মতের ভিত্তিতে মতভেদ (خلاف) রয়েছে:

প্রথম মত: স্বামীর অনুমতি ছাড়াই তার সম্পদ থেকে সামান্য পরিমাণ সদকাহ করা স্ত্রীর জন্য বৈধ (يجوز)। ইমাম আহমাদ একটি বর্ণনা (رواية) অনুযায়ী এই মত পোষণ করেছেন, যাকে মুওয়াফফাকুদ্দিন ইবনে কুদামা সহিহ (صححها) সাব্যস্ত করেছেন এবং ইনসাফ গ্রন্থের লেখক একে প্রাধান্য (رجحها) দিয়েছেন। তিনি একদল হাম্বলি আলেম থেকে এর বিশুদ্ধতা (تصحيح) বর্ণনা করেছেন এবং আবু মুহাম্মদ ইবনে হাজমও এই মত ব্যক্ত করেছেন। ২।

দ্বিতীয় মত: অনুমতি ছাড়া স্বামীর সম্পদ থেকে কোনো কিছুই সদকাহ করা স্ত্রীর জন্য বৈধ নয় (لا يجوز)। ইমাম আহমাদ মাযহাবের একটি অগ্রহণযোগ্য বা মারজুহ (مرجوحة) বর্ণনা (رواية) অনুযায়ী এই মত পোষণ করেছেন। ৩। ইমাম বাগাউয়ি বলেন: অধিকাংশ আলেমদের নিকট আমল (العمل) এর ওপরই যে, স্বামীর অনুমতি ব্যতিরেকে স্ত্রীর জন্য তার সম্পদ থেকে কিছু সদকাহ করা বৈধ নয়। ৪। এই মতটি স্পষ্টভাবে ব্যক্তকারীদের মধ্যে রয়েছেন ইমাম নববী, তবে তিনি বলেছেন: অনুমতি দুই প্রকার: প্রথমটি হলো, ভরণপোষণ ও সদকাহ করার ব্যাপারে সুস্পষ্ট অনুমতি (الإذن الصريح), আর দ্বিতীয়টি হলো, প্রচলিত প্রথা থেকে অনুমিত অনুমতি (الإذن المفهوم)। ৫।

--------------------------------------------

১ মুসলিম ২/৮৮৯, হজ অধ্যায়, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হজ অনুচ্ছেদ, হাদিস নং ১২১৮।

২ আল-মুগনি ৬/৬০৫, আল-ফুরু ৪/৩২৫, আল-ইনসাফ ৫/৩৫২, আল-মুহাল্লা ৮/৩১৮।

৩ আল-মুগনি ৬/৬০৫, আল-ফুরু ৪/৩২৫, আল-ইনসাফ ৫/৩২৫।

৪ শারহুস সুন্নাহ ৬/২০৫।

৫ মুসলিমের ওপর নববীর শারহ ৭/১১২।