(খণ্ড: ১) আল-ওয়াসিতাতু বাইনাল হাক্কি ওয়াল খালক (পৃষ্ঠা: -)
الواسطة بين الحق والخلق   (ابن تيمية)

القسم: العقيدة


الكتاب: الواسطة بين الحق والخلق

المؤلف: تقي الدين أبو العباس أحمد بن عبد الحليم بن عبد السلام بن عبد الله بن أبي القاسم بن محمد ابن تيمية الحراني الحنبلي الدمشقي (ت 728هـ)

المحقق: محمد بن جميل زينو

الناشر: مطابع الجامعة الإسلامية، المدينة النبوية، المملكة العربية السعودية

الطبعة: الأولى

عدد الصفحات: 45

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

সত্য ও সৃষ্টির মাঝে মাধ্যম   (ইবনে তাইমিয়া)

বিভাগ: আক্বীদা


কিতাব: সত্য ও সৃষ্টির মাঝে মাধ্যম

লেখক: তাক্বীউদ্দীন আবুল আব্বাস আহমাদ বিন আব্দুল হালীম বিন আব্দুস সালাম বিন আব্দুল্লাহ বিন আবিল ক্বাসিম বিন মুহাম্মাদ ইবনে তাইমিয়া আল-হাররানী আল-হাম্বালী আদ-দিমাশকী (মৃত ৭২৮ হি.)

সম্পাদক: মুহাম্মাদ বিন জামীল যাইনু

প্রকাশক: জামেয়া ইসলামিয়া প্রেস, মদিনা মুনাওয়ারা, সৌদি আরব সাম্রাজ্য

সংস্করণ: প্রথম

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৫

[কিতাবের নম্বরকরণ মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যুল হিজ্জাহ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-ওয়াসিতাতু বাইনাল হাক্কি ওয়াল খালক (পৃষ্ঠা: ১৬)
واسطة بين الحق والخلق

تأليف: أحمد بن عبد الحليم ابن تيمية

‌‌[الرسل واسطة تبليغ] 1

سئل شيخ الإسلام ـ قدس الله روحه:

عن رجلين تناظرا، فقال أحدهما: لابد لنا من واسطة بيننا وبين الله، فإنا لا نقدر أن نصل إليه بغير ذلك.

فأجاب:

الحمد لله رب العالمين. إن أراد بذلك أنه لابد من واسطة تبلغنا أمر الله، فهذا حق. فإن الخلق لا يعلمون ما يحبه الله ويرضاه، وما أمر به وما نهى عنه، وما أعده لأوليائه من كرامته، وما وعد به أعداءه من عذابه، ولا يعرفون ما يستحقه الله تعالى من أسمائه الحسنى، وصفاته العليا، التى تعجز العقول عن معرفتها وأمثال ذلك إلا بالرسل، الذين أرسلهم الله إلى عباده.

فالمؤمنون بالرسل المتبعون لهم هم المهتدون الذين يقربهم لديه زُلفى، ويرفع درجاتهم، ويكرمهم فى الدنيا والآخرة.

--------------------------------------------

1 - هذا العنوان والعناوين فيما سيأتي وضعها المحقق
হক ও সৃষ্টির মাঝে মাধ্যম

রচনা: আহমাদ বিন আব্দুল হালীম ইবনে তাইমিয়্যাহ

‌‌[রাসূলগণ প্রচারের মাধ্যম] ১

শাইখুল ইসলাম—আল্লাহ তাঁর আত্মাকে পবিত্র করুন—জিজ্ঞাসিত হলেন:

দুই ব্যক্তির বিতর্ক সম্পর্কে; তাদের একজন বলল: আমাদের ও আল্লাহর মাঝে অবশ্যই একজন মাধ্যম থাকতে হবে, কারণ তা ব্যতীত আমরা তাঁর নিকট পৌঁছাতে সক্ষম নই।

তিনি উত্তর দিলেন:

সমস্ত প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। যদি তিনি এর দ্বারা উদ্দেশ্য করেন যে, আল্লাহর নির্দেশ আমাদের নিকট পৌঁছে দেওয়ার জন্য একজন মাধ্যম থাকা আবশ্যক, তবে এটি সত্য। কেননা সৃষ্টিজগত জানে না আল্লাহ কী পছন্দ করেন ও কিসে সন্তুষ্ট হন, তিনি কীসের আদেশ দিয়েছেন ও কী নিষেধ করেছেন, তিনি তাঁর বন্ধুদের জন্য তাঁর পক্ষ থেকে কী সম্মাননা প্রস্তুত করে রেখেছেন এবং তাঁর শত্রুদের জন্য কী আযাবের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তারা আরও জানে না আল্লাহ তাআলার সেইসব সুন্দর নাম ও সুউচ্চ গুণাবলি যা তাঁর প্রাপ্য, যা পরিজ্ঞাত হতে মানুষের বুদ্ধি অক্ষম; এই জাতীয় বিষয়গুলো রাসূলগণ ব্যতীত জানা সম্ভব নয়, যাদেরকে আল্লাহ তাঁর বান্দাদের নিকট প্রেরণ করেছেন।

সুতরাং রাসূলগণের প্রতি ঈমান আনয়নকারী ও তাঁদের অনুসারীগণই হলেন হেদায়াতপ্রাপ্ত, যাদেরকে তিনি তাঁর সান্নিধ্যে মর্যাদাপূর্ণ নৈকট্য দান করেন, তাঁদের মর্যাদা বৃদ্ধি করেন এবং দুনিয়া ও আখেরাতে তাঁদের সম্মানিত করেন।

--------------------------------------------

১ - এই শিরোনাম এবং পরবর্তী শিরোনামগুলো মুহাক্কিক কর্তৃক সংযোজিত
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াসিতাতু বাইনাল হাক্কি ওয়াল খালক (পৃষ্ঠা: ১৭)
وأما المخالفون للرسل، فإنهم ملعونون، وهم عن ربهم ضالون محجوبون، قال تعالى: {يَا بَنِي آدَمَ إِمَّا يَأْتِيَنَّكُمْ رُسُلٌ مِّنكُمْ يَقُصُّونَ عَلَيْكُمْ آيَاتِي فَمَنِ اتَّقَى وَأَصْلَحَ فَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ وَالَّذِينَ كَذَّبُواْ بِآيَاتِنَا وَاسْتَكْبَرُواْ عَنْهَا أُوْلََئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ} [الأعراف: 35، 36] ، وقال تعالى: {فَإِمَّا يَأْتِيَنَّكُم مِّنِّي هُدًى فَمَنِ اتَّبَعَ هُدَايَ فَلَا يَضِلُّ وَلَا يَشْقَى وَمَنْ أَعْرَضَ عَن ذِكْرِي فَإِنَّ لَهُ مَعِيشَةً ضَنكًا وَنَحْشُرُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَعْمَى قَالَ رَبِّ لِمَ حَشَرْتَنِي أَعْمَى وَقَدْ كُنتُ بَصِيرًا قَالَ كَذَلِكَ أَتَتْكَ آيَاتُنَا فَنَسِيتَهَا وَكَذَلِكَ الْيَوْمَ تُنسَى} [طه: 123: 126] ، قال ابن عباس: تكفل الله لمن قرأ القرآن وعمل بما فيه ألا يضل فى الدنيا، ولا يشقى فى الآخرة.

وقال تعالى عن أهل النار: {كُلَّمَا أُلْقِيَ فِيهَا فَوْجٌ سَأَلَهُمْ خَزَنَتُهَا أَلَمْ يَأْتِكُمْ نَذِيرٌ قَالُوا بَلَى قَدْ جَاءنَا نَذِيرٌ فَكَذَّبْنَا وَقُلْنَا مَا نَزَّلَ اللَّهُ مِن شَيْءٍ إِنْ أَنتُمْ إِلَّا فِي ضَلَالٍ كَبِيرٍ} [الملك: 8، 9] ،
পক্ষান্তরে যারা রাসূলগণের বিরোধিতা করে, তারা অভিশপ্ত; তারা তাদের প্রতিপালক থেকে পথভ্রষ্ট ও পর্দাচ্ছন্ন (বঞ্চিত)। মহান আল্লাহ বলেন: {হে আদম সন্তান! তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের কাছে যখন রাসূলগণ আসবে যারা তোমাদের নিকট আমার আয়াতসমূহ বর্ণনা করবে, তখন যারা তাকওয়া অবলম্বন করবে এবং নিজেদের সংশোধন করবে, তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না। আর যারা আমাদের আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছে এবং সেগুলোর ব্যাপারে অহংকার করেছে, তারাই জাহান্নামের অধিবাসী, তারা সেখানে চিরকাল থাকবে।} [আল-আরাফ: ৩৫, ৩৬], মহান আল্লাহ আরও বলেন: {অতঃপর যদি আমার পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে কোনো হিদায়াত আসে, তবে যে ব্যক্তি আমার হিদায়াত অনুসরণ করবে সে পথভ্রষ্ট হবে না এবং দুর্ভাগাও হবে না। আর যে আমার স্মরণ থেকে বিমুখ হবে, তার জন্য রয়েছে এক সংকীর্ণ জীবন এবং কিয়ামতের দিন আমি তাকে অন্ধ অবস্থায় উঠাব। সে বলবে, ‘হে আমার প্রতিপালক! কেন আমাকে অন্ধ অবস্থায় উঠালেন? আমি তো চক্ষুষ্মান ছিলাম।’ তিনি বলবেন, ‘এভাবেই তোমার কাছে আমার আয়াতসমূহ এসেছিল কিন্তু তুমি তা ভুলে গিয়েছিলে; আর এভাবেই আজ তোমাকে ভুলে যাওয়া হবে’।} [ত্বহা: ১২৩-১২৬], ইবনে আব্বাস বলেন: আল্লাহ তাআলা ওই ব্যক্তির জন্য দায়িত্ব নিয়েছেন যে কুরআন পাঠ করে এবং সে অনুযায়ী আমল করে যে, সে দুনিয়াতে পথভ্রষ্ট হবে না এবং আখিরাতে দুর্ভাগা হবে না।

জাহান্নামীদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন: {যখনই তাতে কোনো দলকে নিক্ষেপ করা হবে, তখন তার রক্ষীরা তাদের জিজ্ঞাসা করবে, ‘তোমাদের কাছে কি কোনো সতর্ককারী আসেনি?’ তারা বলবে, ‘হ্যাঁ, অবশ্যই আমাদের কাছে সতর্ককারী এসেছিল, কিন্তু আমরা তাদের মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিলাম এবং বলেছিলাম, আল্লাহ কিছুই নাযিল করেননি। তোমরা তো কেবল মহা বিভ্রান্তিতে লিপ্ত’।} [আল-মুলক: ৮, ৯] ,
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াসিতাতু বাইনাল হাক্কি ওয়াল খালক (পৃষ্ঠা: ১৮)
وقال تعالى: {وَسِيقَ الَّذِينَ كَفَرُوا إِلَى جَهَنَّمَ زُمَرًا حَتَّى إِذَا جَاؤُوهَا فُتِحَتْ أَبْوَابُهَا وَقَالَ لَهُمْ خَزَنَتُهَا أَلَمْ يَأْتِكُمْ رُسُلٌ مِّنكُمْ يَتْلُونَ عَلَيْكُمْ آيَاتِ رَبِّكُمْ وَيُنذِرُونَكُمْ لِقَاء يَوْمِكُمْ هَذَا قَالُوا بَلَى وَلَكِنْ حَقَّتْ كَلِمَةُ الْعَذَابِ عَلَى الْكَافِرِينَ} [الزمر: 71] ، وقال تعالى: {وَمَا نُرْسِلُ الْمُرْسَلِينَ إِلَاّ مُبَشِّرِينَ وَمُنذِرِينَ فَمَنْ آمَنَ وَأَصْلَحَ فَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ وَالَّذِينَ كَذَّبُواْ بِآيَاتِنَا يَمَسُّهُمُ الْعَذَابُ بِمَا كَانُواْ يَفْسُقُونَ} [الأنعام: 48، 49] ، وقال تعالى: {إِنَّا أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ كَمَا أَوْحَيْنَا إِلَى نُوحٍ وَالنَّبِيِّينَ مِن بَعْدِهِ وَأَوْحَيْنَا إِلَى إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ وَإْسْحَقَ وَيَعْقُوبَ وَالأَسْبَاطِ وَعِيسَى وَأَيُّوبَ َيُونُسَ وَهَارُونَ وَسُلَيْمَانَ وَآتَيْنَا دَاوُودَ زَبُورًا وَرُسُلاً قَدْ قَصَصْنَاهُمْ عَلَيْكَ مِن قَبْلُ وَرُسُلاً لَّمْ نَقْصُصْهُمْ عَلَيْكَ وَكَلَّمَ اللهُ مُوسَى تَكْلِيمًا رُّسُلاً مُّبَشِّرِينَ وَمُنذِرِينَ لِئَلَاّ يَكُونَ لِلنَّاسِ عَلَى اللهِ حُجَّةٌ بَعْدَ الرُّسُلِ وَكَانَ اللهُ عَزِيزًا حَكِيمًا} [النساء: 163: 165] . ومثل هذا فى القرآن كثير.
এবং মহান আল্লাহ বলেন: “আর যারা কুফরি করেছিল তাদেরকে দলে দলে জাহান্নামের দিকে তাড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। যখন তারা সেখানে পৌঁছাবে, তখন তার দরজাগুলো খুলে দেওয়া হবে এবং তার রক্ষীরা তাদেরকে বলবে, ‘তোমাদের কাছে কি তোমাদের মধ্য থেকে রাসূলগণ আসেননি, যারা তোমাদের কাছে তোমাদের রবের আয়াতসমূহ পাঠ করতেন এবং তোমাদের এই দিনের সাক্ষাতের ব্যাপারে সতর্ক করতেন?’ তারা বলবে, ‘হ্যাঁ, অবশ্যই (এসেছিলেন); কিন্তু কাফিরদের ওপর আযাবের বাণী সত্য সাব্যস্ত হয়েছে’।” [আয-যুমার: ৭১], এবং মহান আল্লাহ বলেন: “আর আমি রাসূলদের কেবল সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবেই প্রেরণ করি। সুতরাং যারা ঈমান আনবে এবং নিজেদের সংশোধন করে নেবে, তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না। আর যারা আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছে, তাদের পাপাচারের কারণে আযাব তাদেরকে স্পর্শ করবে।” [আল-আন‘আম: ৪৮, ৪৯], এবং মহান আল্লাহ বলেন: “নিশ্চয়ই আমি তোমার কাছে ওহী পাঠিয়েছি, যেমন ওহী পাঠিয়েছিলাম নূহের কাছে এবং তার পরবর্তী নবীগণের কাছে। আর আমি ওহী পাঠিয়েছিলাম ইবরাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকুব ও তাঁর বংশধরদের কাছে এবং ঈসা, আইয়ুব, ইউনুস, হারূন ও সুলাইমানের কাছে। আর আমি দাউদকে যাবুর দান করেছিলাম। আর এমন অনেক রাসূল যাদের কথা আমি তোমার কাছে ইতিপূর্বে বর্ণনা করেছি এবং এমন অনেক রাসূল যাদের কথা আমি তোমার কাছে বর্ণনা করিনি। আর আল্লাহ মূসার সাথে সরাসরি কথা বলেছেন। (আমি এদের পাঠিয়েছি) সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী রাসূল হিসেবে, যাতে রাসূলদের প্রেরণের পর আল্লাহর বিরুদ্ধে মানুষের কোনো অজুহাত না থাকে। আর আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।” [আন-নিসা: ১৬৩-১৬৫]। এবং কুরআনে এ ধরনের অনেক বর্ণনা রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াসিতাতু বাইনাল হাক্কি ওয়াল খালক (পৃষ্ঠা: ১৯)
وهذا مما أجمع عليه جميع أهل الملل من المسلمين، واليهود، والنصارى، فإنهم يثبتون الوسائط بين الله وبين عباده، وهم الرسل الذين بلغوا عن الله أمره وخبره. قال تعالى: {اللَّهُ يَصْطَفِي مِنَ الْمَلَائِكَةِ رُسُلًا وَمِنَ النَّاسِ إِنَّ اللَّهَ سَمِيعٌ بَصِيرٌ ٌ} [الحج: 75] ومن أنكر هذه الوسائط فهو كَافِرٌ بِإِجْمَاعِ أَهْلِ المِلَل.

والسور التى أنزلها الله بمكة مثل: الأنعام، والأعراف، وذوات: {الر} و {حم} و {طس} ونحو ذلك، هى متضمنة لأصول الدين، كالإيمان بالله ورسله واليوم الآخر.

وقد قص الله قصص الكفار الذين كذبوا الرسل، وكيف أهلكهم، ونصر رسله، والذين آمنوا، قال تعالى: {وَلَقَدْ سَبَقَتْ كَلِمَتُنَا لِعِبَادِنَا الْمُرْسَلِينَ إِنَّهُمْ لَهُمُ الْمَنصُورُونَ وَإِنَّ جُندَنَا لَهُمُ الْغَالِبُونَ} [الصافات: 171: 173] ، وقال: {إِنَّا لَنَنصُرُ رُسُلَنَا وَالَّذِينَ آمَنُوا فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَيَوْمَ يَقُومُ الْأَشْهَادُ} [غافر: 51] .

فهذه الوسائط تُطاع وتُتَّبَع ويقتدى بها. كما قال تعالى: {وَمَا أَرْسَلْنَا مِن رَّسُولٍ إِلَاّ لِيُطَاعَ بِإِذْنِ اللهِ} [النساء: 64]
এটি এমন একটি বিষয় যার ওপর মুসলিম, ইহুদি এবং খ্রিস্টান—সকল ধর্মাবলম্বীগণ ঐক্যমত পোষণ করেছেন। তারা আল্লাহ এবং তাঁর বান্দাদের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীদের সাব্যস্ত করেন, আর তারা হলেন সেই সকল রাসূল যারা আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর আদেশ এবং সংবাদ পৌঁছে দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: "আল্লাহ ফেরেশতাদের মধ্য থেকে রাসূল মনোনীত করেন এবং মানুষের মধ্য থেকেও; নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।" [হজ্জ: ৭৫] আর যে ব্যক্তি এই মধ্যস্থতাকারীদের অস্বীকার করে, সে সকল ধর্মাবলম্বীদের ঐক্যমতে কাফের।

মক্কায় আল্লাহ যে সকল সূরা অবতীর্ণ করেছেন, যেমন: আল-আনআম, আল-আরাফ এবং আলিফ-লাম-রা, হা-মীম ও ত-সীন সম্বলিত সূরাসমূহ ও এই জাতীয় অন্যান্যগুলো, তা দ্বীনের মৌলিক বিষয়সমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে, যেমন আল্লাহর প্রতি ঈমান, তাঁর রাসূলগণের প্রতি ঈমান এবং পরকালের প্রতি ঈমান।

আল্লাহ সেই সকল কাফেরদের কাহিনী বর্ণনা করেছেন যারা রাসূলদের অস্বীকার করেছিল এবং কীভাবে তিনি তাদের ধ্বংস করেছেন এবং তাঁর রাসূলগণ ও যারা ঈমান এনেছে তাদের সাহায্য করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: "আমার প্রেরিত বান্দাদের সম্পর্কে আমার এই কথাটি পূর্বেই স্থির হয়েছে যে, অবশ্যই তারা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে এবং আমার বাহিনীই বিজয়ী হবে।" [আস-সাফফাত: ১৭১-১৭৩] তিনি আরও বলেন: "নিশ্চয়ই আমি আমার রাসূলদের এবং যারা ঈমান এনেছে তাদের দুনিয়ার জীবনে এবং যেদিন সাক্ষীরা দাঁড়াবে সাহায্য করব।" [গাফির: ৫১]

সুতরাং এই মধ্যস্থতাকারীদের আনুগত্য করা হবে, অনুসরণ করা হবে এবং তাঁদের আদর্শ গ্রহণ করা হবে। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আমি কোনো রাসূলই প্রেরণ করিনি এই উদ্দেশ্য ছাড়া যে, আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর আনুগত্য করা হবে।" [আন-নিসা: ৬৪]
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াসিতাতু বাইনাল হাক্কি ওয়াল খালক (পৃষ্ঠা: ২০)
وقال تعالى: {مَّنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللهَ} [النساء: 80] ، وقال تعالى: {قُلْ إِن كُنتُمْ تُحِبُّونَ اللهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللهُ} [آل عمران: 31] ، وقال: {فَالَّذِينَ آمَنُواْ بِهِ وَعَزَّرُوهُ وَنَصَرُوهُ وَاتَّبَعُواْ النُّورَ الَّذِيَ أُنزِلَ مَعَهُ أُوْلَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ} [الأعراف: 157] ، وَقَالَ تعالى: {لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِّمَن كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيرًا} [الأحزاب: 21] .
এবং মহান আল্লাহ বলেন: {যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য করল, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল} [আন-নিসা: ৮০], এবং মহান আল্লাহ বলেন: {বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো, তবে আমার অনুসরণ করো, তাহলে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন} [আল-ইমরান: ৩১], এবং তিনি বলেন: {সুতরাং যারা তাঁর প্রতি ঈমান এনেছে, তাঁকে সম্মান করেছে, তাঁকে সাহায্য করেছে এবং সেই নূরের অনুসরণ করেছে যা তাঁর সাথে নাযিল করা হয়েছে, তারাই সফলকাম} [আল-আরাফ: ১৫৭], এবং মহান আল্লাহ বলেন: {অবশ্যই আল্লাহর রাসূলের মধ্যে তোমাদের জন্য রয়েছে উত্তম আদর্শ, তার জন্য যে আল্লাহ ও পরকাল প্রত্যাশা করে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে} [আল-আহযাব: ২১]।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াসিতাতু বাইনাল হাক্কি ওয়াল খালক (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌[الرسل لا يجلبون النفع]

وإن أراد بالواسطة: أنه لابد من واسطة فى جلب المنافع، ودفع المضار، مثل: أن يكون واسطة فى رزق العباد، ونصرهم، وهداهم، يسألونه ذلك، ويرجون إليه فيه، فهذا من أعظم الشرك، الذى كفر الله به المشركين، حيث اتخذوا من دون الله أولياء وشفعاء، يجتلبون بهم المنافع ويجتنبون المضار.

لكن الشفاعة لمن يأذن الله له فيها، حتى قال: {اللَّهُ الَّذِي خَلَق
[রাসূলগণ কোনো উপকার বয়ে আনেন না]

আর যদি মধ্যস্থতা দ্বারা তার উদ্দেশ্য এই হয় যে: উপকার লাভ এবং অপকার দূর করার ক্ষেত্রে অবশ্যই কোনো মধ্যস্থতাকারীর প্রয়োজন রয়েছে, যেমন: বান্দাদের রিযিক প্রদান, সাহায্য দান এবং হেদায়েত দেওয়ার ক্ষেত্রে তাকে মধ্যস্থতাকারী বানানো, যার কাছে তারা এসব প্রার্থনা করে এবং এই বিষয়ে তার কাছেই আশা রাখে, তবে এটি সেই বড় শিরকের অন্তর্ভুক্ত, যার কারণে আল্লাহ মুশরিকদের কাফির ঘোষণা করেছেন; যেহেতু তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে এমন সব অভিভাবক ও সুপারিশকারী গ্রহণ করেছিল যাদের মাধ্যমে তারা উপকার লাভ করতে চাইত এবং অপকার থেকে বাঁচতে চাইত।

কিন্তু সুপারিশ কেবল তার জন্যই হবে যাকে আল্লাহ অনুমতি দেবেন, এমনকি তিনি বলেছেন: {আল্লাহই তিনি যিনি সৃষ্টি করেছেন...}
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াসিতাতু বাইনাল হাক্কি ওয়াল খালক (পৃষ্ঠা: ২১)
السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ مَا لَكُم مِّن دُونِهِ مِن وَلِيٍّ وَلَا شَفِيعٍ أَفَلَا تَتَذَكَّرُونَ} [السجدة: 4] ، وقال تعالى: {وَأَنذِرْ بِهِ الَّذِينَ يَخَافُونَ أَن يُحْشَرُواْ إِلَى رَبِّهِمْ لَيْسَ لَهُم مِّن دُونِهِ وَلِيٌّ وَلَا شَفِيعٌ لَّعَلَّهُمْ يَتَّقُونَ} [الأنعام: 51] ، وقال: {قُلِ ادْعُواْ الَّذِينَ زَعَمْتُم مِّن دُونِهِ فَلَا يَمْلِكُونَ كَشْفَ الضُّرِّ عَنكُمْ وَلَا تَحْوِيلاً أُولَئِكَ الَّذِينَ يَدْعُونَ يَبْتَغُونَ إِلَى رَبِّهِمُ الْوَسِيلَةَ أَيُّهُمْ أَقْرَبُ وَيَرْجُونَ رَحْمَتَهُ وَيَخَافُونَ عَذَابَهُ إِنَّ عَذَابَ رَبِّكَ كَانَ مَحْذُورًا} [الإسراء: 56، 57] ، وقال: {قُلِ ادْعُوا الَّذِينَ زَعَمْتُم مِّن دُونِ اللَّهِ لَا يَمْلِكُونَ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ فِي السَّمَاوَاتِ وَلَا فِي الْأَرْضِ وَمَا لَهُمْ فِيهِمَا مِن شِرْكٍ وَمَا لَهُ مِنْهُم مِّن ظَهِيرٍ وَلَا تَنفَعُ الشَّفَاعَةُ عِندَهُ إِلَّا لِمَنْ أَذِنَ لَهُ حَتَّى إِذَا فُزِّعَ عَن قُلُوبِهِمْ قَالُوا مَاذَا قَالَ رَبُّكُمْ قَالُوا الْحَقَّ وَهُوَ الْعَلِيُّ الْكَبِيرُ} [سبأ: 22، 23] .

وقالت طائفة من السلف: كان أقوام يدعون المسيح، والعزير، والملائكة: فبين الله لهم أن الملائكة والأنبياء
আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী এবং এ দুইয়ের মধ্যবর্তী যা কিছু আছে তা ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, এরপর তিনি আরশের ওপর উঠেছেন। তিনি ব্যতীত তোমাদের জন্য কোনো অভিভাবক বা সুপারিশকারী নেই। তবে কি তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করবে না? [আস-সাজদাহ: ৪], এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: আর এর মাধ্যমে তাদের সতর্ক করুন যারা তাদের রবের নিকট সমবেত হওয়ার ভয় রাখে; তিনি ব্যতীত তাদের কোনো অভিভাবক নেই এবং কোনো সুপারিশকারীও নেই, যাতে তারা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারে [আল-আনআম: ৫১], এবং তিনি বলেছেন: বলুন, তোমরা আল্লাহ ব্যতীত যাদেরকে ইলাহ মনে করতে তাদেরকে ডাকো, কিন্তু তারা তো তোমাদের থেকে কষ্ট দূর করার বা পরিবর্তন করার কোনো ক্ষমতা রাখে না। তারা যাদেরকে ডাকে, তারা নিজেরাই তো তাদের রবের নৈকট্য লাভের জন্য অসীলা তালাশ করে যে, তাদের মধ্যে কে কত নিকটতর হতে পারে; তারা তাঁর রহমতের আশা করে এবং তাঁর আযাবকে ভয় করে। নিশ্চয় আপনার রবের আযাব অত্যন্ত ভয়ংকর [আল-ইসরা: ৫৬, ৫৭], এবং তিনি বলেছেন: বলুন, তোমরা আল্লাহ ব্যতীত যাদেরকে ইলাহ মনে করতে তাদেরকে ডাকো; তারা আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে অণু পরিমাণ কোনো কিছুরও মালিক নয় এবং এই দুইটিতে তাদের কোনো অংশীদারিত্ব নেই, আর তাদের মধ্য থেকে আল্লাহর কোনো সাহায্যকারী নেই। তাঁর নিকট কেবল তার জন্যই সুপারিশ ফলপ্রসূ হবে যাকে তিনি অনুমতি দেবেন। অবশেষে যখন তাদের অন্তর থেকে ভয় দূর করা হবে, তখন তারা বলবে, তোমাদের রব কী বলেছেন? তারা বলবে, তিনি সত্য বলেছেন, আর তিনি সমুন্নত ও মহান [সাবা: ২২, ২৩]।

সালাফদের একটি দল বলেছেন: একদল লোক মাসীহ, উযাইর এবং ফেরেশতাদের ডাকত; তখন আল্লাহ তাদের নিকট স্পষ্ট করে দিলেন যে, ফেরেশতা ও নবীগণ
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াসিতাতু বাইনাল হাক্কি ওয়াল খালক (পৃষ্ঠা: ২২)
لا يملكون كشف الضر عنهم ولا تحويلا، وأنهم يتقربون إلى الله ويرجون رحمته ويخافون عذابه.

وقال تعالى: {مَا كَانَ لِبَشَرٍ أَن يُؤْتِيَهُ اللهُ الْكِتَابَ وَالْحُكْمَ وَالنُّبُوَّةَ ثُمَّ يَقُولَ لِلنَّاسِ كُونُواْ عِبَادًا لِّي مِن دُونِ اللهِ وَلَكِن كُونُواْ رَبَّانِيِّينَ بِمَا كُنتُمْ تُعَلِّمُونَ الْكِتَابَ وَبِمَا كُنتُمْ تَدْرُسُونَ وَلَا يَأْمُرَكُمْ أَن تَتَّخِذُواْ الْمَلَائِكَةَ وَالنِّبِيِّيْنَ أَرْبَابًا أَيَأْمُرُكُم بِالْكُفْرِ بَعْدَ إِذْ أَنتُم مُّسْلِمُونَ} ؟ [آل عمران: 79: 80] ، فبين سبحانه: أن اتخاذ الملائكة والنبيين أربابا كفر.

فمن جعل الملائكة والأنبياء وسائط يدعوهم، ويتوكل عليهم، ويسألهم جلب المنافع ودفع المضار، مثل أن يسألهم غفران الذنب، وهداية القلوب، وتفريج الكروب، وسد الفاقات، فهو كافر بإجماع المسلمين.

وقد قال تعالى: {وَقَالُوا اتَّخَذَ الرَّحْمَنُ وَلَدًا سُبْحَانَهُ بَلْ عِبَادٌ مُّكْرَمُونَ لَا يَسْبِقُونَهُ بِالْقَوْلِ وَهُم بِأَمْرِهِ يَعْمَلُونَ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلَا يَشْفَعُونَ إِلَّا لِمَنِ ارْتَضَى وَهُم مِّنْ خَشْيَتِهِ مُشْفِقُونَ وَمَن يَقُلْ مِنْهُمْ إِنِّي إِلَهٌ
তারা তাদের কষ্ট দূর করার অথবা তা পরিবর্তনের কোনো ক্ষমতা রাখে না, এবং তারা আল্লাহর নৈকট্য অন্বেষণ করে এবং তাঁর রহমতের আশা করে ও তাঁর শাস্তিকে ভয় করে।

মহান আল্লাহ বলেছেন: "কোনো মানুষের জন্য এটা শোভনীয় নয় যে, আল্লাহ তাকে কিতাব, হিকমত ও নবুওয়ত দান করবেন, অতঃপর সে মানুষকে বলবে: 'তোমরা আল্লাহকে ছেড়ে আমার বান্দা হয়ে যাও'; বরং সে বলবে: 'তোমরা রব্বানী হও, যেহেতু তোমরা কিতাব শিক্ষা দিতে এবং তা অধ্যয়ন করতে।' আর তিনি তোমাদেরকে ফেরেশতা ও নবীদেরকে পালনকর্তা হিসেবে গ্রহণ করার নির্দেশ দেন না। তোমরা মুসলিম হওয়ার পর তিনি কি তোমাদেরকে কুফরির নির্দেশ দেবেন?" [আল-ইমরান: ৭৯-৮০]। সুতরাং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা স্পষ্ট করেছেন যে: ফেরেশতা ও নবীদেরকে পালনকর্তা হিসেবে গ্রহণ করা কুফরি।

সুতরাং যে ব্যক্তি ফেরেশতা ও নবীদেরকে মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করে তাদের ডাকে, তাদের ওপর ভরসা করে এবং তাদের কাছে উপকার লাভ ও অপকার দূর করার প্রার্থনা করে—যেমন তাদের কাছে পাপ মোচন, অন্তরের হিদায়াত, বিপদ মুক্তি এবং অভাব মোচনের প্রার্থনা করা—তবে সে মুসলিমদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত (ইজমা) অনুযায়ী কাফির।

মহান আল্লাহ বলেছেন: "তারা বলে: 'দয়াময় (রহমান) সন্তান গ্রহণ করেছেন।' তিনি অতি পবিত্র! বরং তারা তো তাঁর সম্মানিত বান্দা। তারা তাঁর আগে বেড়ে কথা বলে না এবং তারা তাঁর আদেশ অনুযায়ী কাজ করে। তাদের সামনে ও পেছনে যা কিছু আছে তা তিনি জানেন এবং তিনি যাদের প্রতি সন্তুষ্ট, তারা কেবল তাদের জন্যই সুপারিশ করে। আর তারা তাঁর ভয়ে তটস্থ। আর তাদের মধ্যে যে বলবে: 'নিশ্চয়ই আমি ইলাহ..."
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াসিতাতু বাইনাল হাক্কি ওয়াল খালক (পৃষ্ঠা: ২৩)
مِّن دُونِهِ فَذَلِكَ نَجْزِيهِ جَهَنَّمَ كَذَلِكَ نَجْزِي الظَّالِمِينَ} [الأنبياء 26: 29] ، وقال تعالى: {لَّن يَسْتَنكِفَ الْمَسِيحُ أَن يَكُونَ عَبْداً لِّلّهِ وَلَا الْمَلآئِكَةُ الْمُقَرَّبُونَ وَمَن يَسْتَنكِفْ عَنْ عِبَادَتِهِ وَيَسْتَكْبِرْ فَسَيَحْشُرُهُمْ إِلَيهِ جَمِيعًا} [النساء: 172] ، وقال تعالى: {وَقَالُوا اتَّخَذَ الرَّحْمَنُ وَلَدًا لَقَدْ جِئْتُمْ شَيْئًا إِدًّا تَكَادُ السَّمَاوَاتُ يَتَفَطَّرْنَ مِنْهُ وَتَنشَقُّ الْأَرْضُ وَتَخِرُّ الْجِبَالُ هَدًّا أَن دَعَوْا لِلرَّحْمَنِ وَلَدًا وَمَا يَنبَغِي لِلرَّحْمَنِ أَن يَتَّخِذَ وَلَدًا إِن كُلُّ مَن فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ إِلَّا آتِي الرَّحْمَنِ عَبْدًا لَقَدْ أَحْصَاهُمْ وَعَدَّهُمْ عَدًّا وَكُلُّهُمْ آتِيهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَرْدًا} [مريم: 88 ـ 95] ، وقال تعالى: {وَيَعْبُدُونَ مِن دُونِ اللهِ مَا لَا يَضُرُّهُمْ وَلَا يَنفَعُهُمْ وَيَقُولُونَ هَؤُلاء شُفَعَاؤُنَا عِندَ اللهِ قُلْ أَتُنَبِّئُونَ اللهَ بِمَا لَا يَعْلَمُ فِي السَّمَاوَاتِ وَلَا فِي الأَرْضِ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى عَمَّا يُشْرِكُونَ} [يونس: 18] ، وقال تعالى: {وَكَم مِّن مَّلَكٍ فِي السَّمَاوَاتِ لَا تُغْنِي شَفَاعَتُهُمْ شَيْئًا إِلَّا مِن بَعْدِ أَن يَأْذَنَ اللَّهُ لِمَن يَشَاء وَيَرْضَى} [النجم: 26] ،
...তাঁর পরিবর্তে, তবে তাকে আমি জাহান্নাম দ্বারা প্রতিফল দেব; এভাবেই আমি যালিমদের প্রতিফল প্রদান করি। [আল-আম্বিয়া ২৬: ২৯], এবং মহান আল্লাহ বলেন: "মসীহ আল্লাহর বান্দা হতে কখনো অবজ্ঞা বোধ করেন না এবং নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতারাও নয়। আর যারা তাঁর ইবাদত করতে অবজ্ঞা বোধ করবে এবং অহংকার করবে, অচিরেই তিনি তাদের সকলকে তাঁর নিকট একত্রিত করবেন।" [আন-নিসা: ১৭২], এবং মহান আল্লাহ বলেন: "আর তারা বলে, ‘পরম করুণাময় সন্তান গ্রহণ করেছেন।’ অবশ্যই তোমরা এক জঘন্য বিষয়ের অবতারণা করেছ। এর কারণে আকাশসমূহ ফেটে পড়ার, পৃথিবী বিদীর্ণ হওয়ার এবং পাহাড়সমূহ চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে পড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়—যেহেতু তারা পরম করুণাময়ের প্রতি সন্তান আরোপ করে। অথচ সন্তান গ্রহণ করা পরম করুণাময়ের জন্য শোভন নয়। আসমান ও যমীনে এমন কেউ নেই, যে পরম করুণাময়ের নিকট বান্দা হিসেবে উপস্থিত হবে না। অবশ্যই তিনি তাদের পুরোপুরি আয়ত্তে রেখেছেন এবং তাদের সবিস্তারে গণনা করেছেন। আর কিয়ামতের দিন তাদের প্রত্যেকেই তাঁর নিকট একাকী উপস্থিত হবে।" [মারইয়াম: ৮৮-৯৫], এবং মহান আল্লাহ বলেন: "আর তারা আল্লাহ ছাড়া এমন কিছুর ইবাদত করে যা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারে না এবং কোনো উপকারও করতে পারে না; আর তারা বলে, ‘এরা আল্লাহর নিকট আমাদের সুপারিশকারী।’ আপনি বলুন, ‘তোমরা কি আল্লাহকে আসমান ও যমীনের এমন কোনো বিষয়ের সংবাদ দিচ্ছ যা তিনি জানেন না?’ তিনি পবিত্র এবং তারা যা শরীক করে তা থেকে তিনি অত্যন্ত ঊর্ধ্বে।" [ইউনুস: ১৮], এবং মহান আল্লাহ বলেন: "আর আসমানে কত ফেরেশতা রয়েছে যাদের সুপারিশ কোনো কাজে আসবে না; তবে আল্লাহর অনুমতির পর, যার জন্য তিনি ইচ্ছা করেন এবং যার প্রতি তিনি সন্তুষ্ট হন।" [আন-নাজম: ২৬],
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াসিতাতু বাইনাল হাক্কি ওয়াল খালক (পৃষ্ঠা: ২৪)
وقال تعالى: {مَن ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلَاّ بِإِذْنِهِ} [البقرة: 255] ، وقال: {وَإِن يَمْسَسْكَ اللهُ بِضُرٍّ فَلَا كَاشِفَ لَهُ إِلَاّ هُوَ وَإِن يُرِدْكَ بِخَيْرٍ فلا راد لفضله} [يونس: 107] ، وقال تعالى: {مَا يَفْتَحِ اللَّهُ لِلنَّاسِ مِن رَّحْمَةٍ فَلَا مُمْسِكَ لَهَا وَمَا يُمْسِكْ فَلَا مُرْسِلَ لَهُ مِن بَعْدِهِ} [فاطر: 2] ، وقال تعالى: {قُلْ أَفَرَأَيْتُم مَّا تَدْعُونَ مِن دُونِ اللَّهِ إِنْ أَرَادَنِيَ اللَّهُ بِضُرٍّ هَلْ هُنَّ كَاشِفَاتُ ضُرِّهِ أَوْ أَرَادَنِي بِرَحْمَةٍ هَلْ هُنَّ مُمْسِكَاتُ رَحْمَتِهِ قُلْ حَسْبِيَ اللَّهُ عَلَيْهِ يَتَوَكَّلُ الْمُتَوَكِّلُونَ} [الزمر: 38] ، ومثل هذا كثير فى القرآن.

আর মহান আল্লাহ বলেছেন: {কে সে, যে তাঁর অনুমতি ছাড়া তাঁর নিকট সুপারিশ করবে?} [আল-বাকারা: ২৫৫], এবং তিনি বলেছেন: {আর যদি আল্লাহ তোমাকে কোনো কষ্টের স্পর্শ দেন, তবে তিনি ছাড়া তা দূরকারী আর কেউ নেই; আর যদি তিনি তোমার কোনো মঙ্গল চান, তবে তাঁর অনুগ্রহ রদ করার কেউ নেই।} [ইউনুস: ১০৭], আর মহান আল্লাহ বলেছেন: {আল্লাহ মানুষের জন্য রহমতের যা কিছু উন্মুক্ত করে দেন, তা আটকানোর কেউ নেই; আর যা তিনি আটকে দেন, এরপর তা পাঠানোর আর কেউ নেই।} [ফাতির: ২], এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: {বলুন, ‘তোমরা কি ভেবে দেখেছ, আল্লাহ ছাড়া তোমরা যাদেরকে ডাকো, আল্লাহ যদি আমার কোনো ক্ষতি করতে চান, তবে তারা কি তাঁর সেই ক্ষতি দূর করতে পারবে? অথবা তিনি যদি আমার প্রতি কোনো রহমত করতে চান, তবে তারা কি তাঁর সেই রহমত আটকে রাখতে পারবে?’ বলুন, ‘আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট; নির্ভরকারীরা তাঁর ওপরই নির্ভর করে।} [আয-যুমার: ৩৮], আর কুরআনে এই ধরনের দৃষ্টান্ত অনেক রয়েছে।

(খণ্ড: ১) আল-ওয়াসিতাতু বাইনাল হাক্কি ওয়াল খালক (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌[العلماء ورثة الأنبياء]

ومن سِوَى الأنبياء ـ من مشايخ العلم والدين ـ فمن أثبتهم وسائط بين الرسول وأمته، يبلغونهم، ويعلمونهم، ويؤدبونهم، ويقتدون بهم، فقد أصاب فى ذلك. وهؤلاء إذا أجمعوا فإجماعهم حجة قاطعة، لا يجتمعون
[আলেমগণ নবীদের উত্তরসূরি]

আর নবীগণ ব্যতীত জ্ঞান ও দ্বীনের মাশায়েখদের মধ্য থেকে যারা রয়েছেন—যাঁরা তাঁদেরকে রাসূল এবং তাঁর উম্মতের মাঝে মাধ্যম হিসেবে গণ্য করেন, এই অর্থে যে তাঁরা তাঁদের নিকট (শরীয়তের বাণী) পৌঁছে দেন, তাঁদের শিক্ষা দান করেন, তাঁদের শিষ্টাচার শেখান এবং উম্মত তাঁদের অনুসরণ করে—তবে তিনি এক্ষেত্রে সঠিক সত্যে উপনীত হয়েছেন। আর তাঁরা যখন কোনো বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেন, তখন তাঁদের সেই ইজমা বা ঐকমত্য একটি অকাট্য দলিল হিসেবে গণ্য হয়; তাঁরা (ভ্রান্তিতে) একত্রিত হন না।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াসিতাতু বাইনাল হাক্কি ওয়াল খালক (পৃষ্ঠা: ২৫)
على ضلالة، وإن تنازعوا فى شىء ردوه إلى الله والرسول، إذ الواحد منهم ليس بمعصوم على الإطلاق، بل كل أحد من الناس يؤخذ من كلامه ويترك إلا رسول الله صلى الله عليه وسلم، وقد قال النبى صلى الله عليه وسلم: " العلماء ورثة الأنبياء، فإن الأنبياء لم يورثوا دينارًا ولا درهمًا، وإنما ورثوا العلم، فمن أخذه فقد أخذ بحظ وافر ".

وإن أثبتم وسائط بين الله وبين خلقه ـ كالحجاب الذين بين الملك ورعيته ـ بحيث يكونون هم يرفعون إلى الله حوائج خلقه، فالله إنما يهدى عباده ويرزقهم بتوسطهم، فالخلق يسألونهم، وهم يسألون الله، كما أن الوسائط عند الملوك يسألون الملوك الحوائج للناس، لقربهم منهم، والناس يسألونهم، أدبا منهم أن يباشروا سؤال الملك، أو لأن طلبهم من الوسائط أنفع لهم من طلبهم من الملك؛ لكونهم أقرب إلى الملك من الطالب للحوائج. فمن أثبتهم وسائط على هذا الوجه، فهو كافر مشرك، يجب أن يستتاب، فإن تاب وإلا قتل. وهؤلاء مشبهون لله، شبهوا المخلوق بالخالق، وجعلوا لله أندادا.
ভ্রান্তির ওপর (একমত হবেন না)। আর যদি তারা কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হন, তবে তারা তা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দেন; যেহেতু তাদের মধ্যে কেউই নিরঙ্কুশভাবে নিষ্পাপ নন, বরং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ব্যতীত প্রত্যেক ব্যক্তির কথাই গ্রহণ করা যেতে পারে অথবা বর্জন করা যেতে পারে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই আলিমগণ নবীদের উত্তরাধিকারী। নবীরা কোনো দিনার বা দিরহাম উত্তরাধিকার হিসেবে রেখে যাননি, বরং তাঁরা কেবল ইলমকেই উত্তরাধিকার হিসেবে রেখে গেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি তা গ্রহণ করল, সে এক বিশাল অংশ লাভ করল।"

আর যদি আপনারা আল্লাহ এবং তাঁর সৃষ্টির মাঝে এমন মধ্যস্থতাকারী সাব্যস্ত করেন—যেমন রাজা এবং তার প্রজাদের মাঝে দ্বাররক্ষী থাকে—যাতে তারাই আল্লাহর নিকট সৃষ্টির প্রয়োজনগুলো পেশ করে, আর আল্লাহ তাদের মাধ্যমেই তাঁর বান্দাদের হিদায়াত দেন ও রিযিক দান করেন; ফলে সৃষ্টি তাদের কাছে প্রার্থনা করে এবং তারা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে, ঠিক যেভাবে রাজাদের নিকটস্থ মধ্যস্থতাকারীরা তাদের নৈকট্যের কারণে মানুষের প্রয়োজনাদি রাজার কাছে প্রার্থনা করে, আর মানুষ সরাসরি রাজার কাছে চাওয়াটা শিষ্টাচার পরিপন্থী মনে করে তাদের কাছে চায়, অথবা মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে চাওয়াটা সরাসরি রাজার কাছে চাওয়ার চেয়ে অধিক কল্যাণকর মনে করে কারণ তারা সাহায্যপ্রার্থীর চেয়ে রাজার বেশি ঘনিষ্ঠ; তবে যে ব্যক্তি এই পদ্ধতিতে মধ্যস্থতাকারী সাব্যস্ত করল, সে কাফির ও মুশরিক। তাকে তাওবা করতে বলা হবে; সে তাওবা করলে তো ভালো, অন্যথায় তাকে হত্যা করা হবে। এরা আল্লাহর সাথে সাদৃশ্যদানকারী, তারা সৃষ্টিকে স্রষ্টার সাথে তুলনা করেছে এবং আল্লাহর জন্য সমকক্ষ নির্ধারণ করেছে।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াসিতাতু বাইনাল হাক্কি ওয়াল খালক (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌[أنواع الوسائط المردودة]

وفى القرآن من الرد على هؤلاء، ما لم تتسع له هذه الفتوى.

فإن الوسائط التى بين الملوك وبين الناس، يكونون على أحد وجوه ثلاثة:

الوجة الأول: إما لإخبارهم من أحوال الناس بما لا يعرفونه.

ومن قال: إن الله لا يعلم أحوال عباده حتى يخبره بتلك بعض الملائكة أو الأنبياء أو غيرهم فهو كافر، بل هو ـ سبحانه ـ يعلم السر وأخفى، لا تخفى عليه خافية فى الأرض ولا فى السماء {وَهُوَ السَّمِيعُ البَصِيرُ} [الشورى: 11] . يسمع ضجيج الأصوات باختلاف اللغات على تفنن الحاجات، لا يشغله سمع عن سمع، ولا تغلطه المسائل، ولا يتبرم بإلحاح الملحين.

الوجه الثانى: أن يكون الملك عاجزًا عن تدبير رعيته، ودفع أعدائه ـ إلا بأعوان يعينونه ـ فلابد له من أنصار وأعوان، لذله وعجزه. والله ـ سبحانه ـ ليس له ظهير، ولا ولى من الذل، قال تعالى: {قُلِ ادْعُوا الَّذِينَ زَعَمْتُم مِّن دُونِ اللَّهِ لَا يَمْلِكُونَ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ فِي لسَّمَاوَاتِ وَلَا فِي الْأَرْضِ وَمَا لَهُمْ فِيهِمَا مِن شِرْكٍ وَمَا لَهُ مِنْهُم مِّن ظَهِيرٍ} [سبأ:
[প্রত্যাখ্যাত মধ্যস্থতাকারীদের প্রকারভেদ]

কুরআনে এদের খণ্ডনে এমন অনেক কিছু রয়েছে, যা এই ফতোয়ায় সংকুলান হবে না।

রাজা-বাদশাহ এবং সাধারণ মানুষের মধ্যেকার মধ্যস্থতাকারীরা সাধারণত তিনটি বিষয়ের কোনো একটির ভিত্তিতে কাজ করে:

প্রথম দিক: মানুষের অবস্থা সম্পর্কে রাজাদের এমন তথ্য জানানোর জন্য যা তারা জানেন না।

যে ব্যক্তি বলে: আল্লাহ তাঁর বান্দাদের অবস্থা সম্পর্কে অবগত নন যতক্ষণ না কোনো ফেরেশতা, নবী বা অন্য কেউ তাঁকে তা জানায়, সে কাফের। বরং তিনি—সুবহানাহু—গোপন এবং তার চেয়েও গোপন বিষয় সম্পর্কে জানেন। আসমান বা যমীনে কোনো কিছুই তাঁর কাছে গোপন নেই। {আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা} [আশ-শুরা: ১১]। তিনি বিভিন্ন ভাষার এবং বিচিত্র প্রয়োজনের শব্দের আওয়াজ শোনেন। একটি শ্রবণ তাঁকে অন্য শ্রবণ থেকে বিমুখ করে না, অগণিত প্রার্থনা তাঁকে বিভ্রান্ত করে না এবং প্রার্থনাকারীদের আকুতি তাঁকে বিরক্ত করে না।

দ্বিতীয় দিক: রাজা তার প্রজাদের শাসন করতে এবং শত্রুদের প্রতিহত করতে অক্ষম হওয়ার কারণে সাহায্যকারীদের মুখাপেক্ষী হওয়া—ফলে তার হীনতা ও অক্ষমতার কারণে সাহায্যকারী ও সহযোদ্ধার প্রয়োজন হয়। কিন্তু আল্লাহ—সুবহানাহু—তাঁর কোনো সাহায্যকারী নেই এবং হীনতা থেকে রক্ষা করার মতো কোনো অভিভাবকও নেই। মহান আল্লাহ বলেন: {বলুন, তোমরা তাদের ডাকো যাদের তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে উপাস্য মনে করো। তারা আসমানসমূহ ও যমীনে অণু পরিমাণ কিছুরও মালিক নয়, এ দুটিতে তাদের কোনো অংশীদারিত্ব নেই এবং তাদের মধ্য থেকে আল্লাহর কোনো সাহায্যকারীও নেই।} [সাবা: ২২]
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াসিতাতু বাইনাল হাক্কি ওয়াল খালক (পৃষ্ঠা: ২৭)
22] ، وقال تعالى: {وَقُلِ الْحَمْدُ لِلّهِ الَّذِي لَمْ يَتَّخِذْ وَلَدًا وَلَم يَكُن لَّهُ شَرِيكٌ فِي الْمُلْكِ وَلَمْ يَكُن لَّهُ وَلِيٌّ مِّنَ الذُّلَّ َكَبِّرْهُ تَكْبِيرًا} [الإسراء: 111] .

وَكُلُّ مَا فى الوجود من الأسباب فهو خالقه، وربه ومليكه، فهو الغنى عن كل ما سواه، وكل ما سواه فقير إليه، بخلاف الملوك المحتاجين إلى ظهرائهم وهم ـ فى الحقيقة ـ شركاؤهم فى الملك. والله ـ تعالى ـ ليس له شريك فى الملك، بل لا إله إلا الله وحده لا شريك له، له الملك وله الحمد وهو على كل شىء قدير.

والوجه الثالث: أن يكون الملك ليس مريدًا لنفع رعيته، والإحسان إليهم ورحمتهم إلا بمحرك يحركه من خارج. فإذا خاطب الملك من ينصحه، ويعظمه، أو من يدل علىه، بحيث يكون يرجوه ويخافه، تحركت إرادة الملك وهمته، فى قضاء حوائج رعيته، إما لما حصل فى قلبه من كلام الناصح الواعظ المشير، وإما لما يحصل من الرغبة أو الرهبة من كلام المدل عليه.

والله ـ تعالى ـ هو رب كل شىء ومليكه، وهو أرحم بعباده من الوالدة بولدها، وكل الأشياء إنما تكون بمشيئته، فما شاء كان وما لم يشأ لم يكن، وهو إذا
২২] এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: "আর বল, প্রশংসা আল্লাহরই, যিনি কোনো সন্তান গ্রহণ করেননি, রাজত্বে যাঁর কোনো শরিক নেই এবং হীনতা থেকে বাঁচার জন্য যাঁর কোনো সাহায্যকারীর প্রয়োজন নেই। আর তাঁর মহিমা ঘোষণা কর পূর্ণ মহিমায়।" [আল-ইসরা: ১১১]।

অস্তিত্বে বিদ্যমান সকল কারণের স্রষ্টা, প্রতিপালক এবং মালিক তিনিই। তিনি তাঁর সৃষ্টিজগত থেকে সম্পূর্ণ অমুখাপেক্ষী, আর তাঁর সৃষ্টিজগতের সবকিছুই তাঁর মুখাপেক্ষী। এটি দুনিয়াবি রাজাদের বিপরীত, যারা তাদের সাহায্যকারীদের মুখাপেক্ষী এবং তারা প্রকৃতপক্ষে রাজত্বে তাদের অংশীদার। কিন্তু মহান আল্লাহর রাজত্বে কোনো অংশীদার নেই, বরং আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই, রাজত্ব তাঁরই এবং সকল প্রশংসা তাঁরই জন্য এবং তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান।

তৃতীয় কারণ: কোনো রাজা তার প্রজাদের উপকার করতে, তাদের প্রতি অনুগ্রহ করতে এবং দয়া করতে আগ্রহী হয় না যতক্ষণ না বাইরে থেকে কোনো চালিকাশক্তি তাকে অনুপ্রাণিত করে। যখন রাজাকে এমন কেউ সম্বোধন করে যে তাকে নসিহত করে, তাকে মহিমান্বিত করে অথবা যার কথার প্রভাব রয়েছে—যাকে রাজা আশা বা ভয় করে—তখন প্রজাদের প্রয়োজন মেটানোর জন্য রাজার ইচ্ছা ও সংকল্প জাগ্রত হয়। এটি হয় নসিহতকারী, উপদেশদাতা বা পরামর্শদাতার কথার ফলে রাজার অন্তরে সৃষ্ট প্রভাবের কারণে, অথবা যার কথার গুরুত্ব আছে তার থেকে উদ্ভূত আশা বা ভয়ের কারণে।

আর মহান আল্লাহ হলেন সবকিছুর প্রতিপালক ও মালিক। তিনি তাঁর বান্দাদের প্রতি জননীর সন্তানের প্রতি দয়ার চেয়েও অধিক দয়ালু। সবকিছু কেবল তাঁর ইচ্ছাতেই সম্পন্ন হয়; তিনি যা চান তা হয় এবং যা তিনি চান না তা হয় না। আর তিনি যখন...
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াসিতাতু বাইনাল হাক্কি ওয়াল খালক (পৃষ্ঠা: ২৮)
أجرى نفع العباد بعضهم على بعض، فجعل هذا يحسن إلى هذا ويدعو له ويشفع فيه ونحو ذلك، فهو الذى خلق ذلك كله، وهو الذى خلق فى قلب هذا المحسن الداعى الشافع إرادة الإحسان والدعاء والشفاعة، ولا يجوز أن يكون فى الوجود من يكرهه على خلاف مراده، أو يعلمه ما لم يكن يعلم، أو من يرجوه الرب ويخافه.

ولهذا قال النبى صلى الله عليه وسلم: " لا يقولن أحدكم: اللهم اغفر لى إن شئت، اللهم ارحمنى إن شئت، ولكن ليعزِم المسألة، فإنه لا مكره له ". والشفعاء الذين يشفعون عنده لا يشفعون إلا بإذنه، كما قال: {مَن ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلَاّ بِإِذْنِهِ} [البقرة: 255] ، وقال تعالى: {وَلَا يَشْفَعُونَ إِلَّا لِمَنِ ارْتَضَى} [الأنبياء: 28] ، وقال تعالى: {قُلِ ادْعُوا الَّذِينَ زَعَمْتُم مِّن دُونِ اللَّهِ لَا يَمْلِكُونَ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ فِي السَّمَاوَاتِ وَلَا فِي الْأَرْضِ وَمَا لَهُمْ فِيهِمَا مِن شِرْكٍ وَمَا لَهُ مِنْهُم مِّن ظَهِيرٍ وَلَا تَنفَعُ الشَّفَاعَةُ عِندَهُ إِلَّا لِمَنْ أَذِنَ لَهُ} [سبأ: 22، 23] .

فَبَيَّنَ أنَّ كُلَّ من دعى من دونه ليس له ملك ولا
তিনি বান্দাদের একে অপরের মাধ্যমে উপকৃত হওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। ফলে তিনি কাউকে কারও প্রতি অনুগ্রহশীল করেছেন, কেউ কারও জন্য দোয়া করে এবং কেউ কারও বিষয়ে সুপারিশ করে ইত্যাদি। তিনিই এই সবকিছুর স্রষ্টা। তিনিই এই অনুগ্রহকারী, প্রার্থনাকারী ও সুপারিশকারীর অন্তরে অনুগ্রহ করার, দোয়া করার এবং সুপারিশ করার ইচ্ছা সৃষ্টি করেছেন। অস্তিত্বজগতে এমন কেউ থাকা সম্ভব নয় যে তাঁকে তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে বাধ্য করবে, অথবা তাঁকে এমন কিছু শেখাবে যা তিনি জানতেন না, কিংবা এমন কেউ নেই যার প্রতি প্রতিপালক আশা পোষণ করেন বা যাকে তিনি ভয় পান।

একারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমাদের কেউ যেন অবশ্যই না বলে: হে আল্লাহ! আপনি চাইলে আমাকে ক্ষমা করুন; হে আল্লাহ! আপনি চাইলে আমার প্রতি দয়া করুন। বরং সে যেন প্রার্থনায় দৃঢ়তা অবলম্বন করে, কেননা তাঁকে বাধ্য করার মতো কেউ নেই।" আর সুপারিশকারীরা যারা তাঁর নিকট সুপারিশ করে, তারা তাঁর অনুমতি ব্যতীত সুপারিশ করে না, যেমনটি তিনি বলেছেন: {কে আছে এমন যে তাঁর অনুমতি ব্যতীত তাঁর নিকট সুপারিশ করবে?} [আল-বাকারা: ২৫৫]। আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {তারা কেবল তাদের জন্যই সুপারিশ করে যাদের প্রতি তিনি সন্তুষ্ট} [আল-আম্বিয়া: ২৮]। আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {বলুন, তোমরা তাদের ডাকো যাদের তোমরা আল্লাহ ছাড়া (উপাস্য) মনে করো। তারা আসমানসমূহ ও জমিনে অণু পরিমাণ কিছুরও মালিক নয় এবং এই উভয় জগতে তাদের কোনো অংশীদারিত্ব নেই এবং তাদের মধ্য থেকে তাঁর কোনো সাহায্যকারী নেই। তাঁর অনুমতি প্রাপ্ত ব্যক্তি ছাড়া তাঁর নিকট সুপারিশ কোনো উপকারে আসবে না} [সাবা: ২২, ২৩]।

সুতরাং তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, তাঁকে বাদ দিয়ে যাদের ডাকা হয় তাদের কোনো মালিকানা নেই এবং
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াসিতাতু বাইনাল হাক্কি ওয়াল খালক (পৃষ্ঠা: ২৯)
شرك فى الملك، ولا هو ظهير، وأن شفاعتهم لا تنفع إلا لمن أذن له.

وهذا بخلاف الملوك، فإن الشافع عندهم قد يكون له ملك، وقد يكون شريكًا لهم فى الملك، وقد يكون مظاهرًا لهم معاونا لهم على ملكهم، وهؤلاء يشفعون عند الملوك بغير إذن الملوك هم وغيرهم، والملك يقبل شفاعتهم، تارة بحاجته إليهم، وتارة لخوفه منهم، وتارة لجزاء إحسانهم إليه ومكافأتهم ولإنعامهم عليه، حتى إنه يقبل شفاعة ولده وزوجته لذلك، فإنه محتاج إلى الزوجة وإلى الولد، حتى لو أعرض عنه ولده وزوجته لتضرر بذلك، ويقبل شفاعة مملوكه، فإذا لم يقبل شفاعته، يخاف ألا يطيعه، أو أن يسعى فى ضرره، وشفاعة العباد بعضهم عند بعض، كلها من هذا الجنس، فلا يقبل أحد شفاعة أحد إلا لرغبة أو رهبة.

والله ـ تعالى ـ لا يرجو أحدًا، ولا يخافه، ولا يحتاج إلى أحد بل هو الغنى، قال تعالى: {أَلا إِنَّ لِلّهِ مَن فِي السَّمَاوَات وَمَن فِي الأَرْضِ وَمَا يَتَّبِعُ الَّذِينَ يَدْعُونَ مِن دُونِ اللهِ شُرَكَاء إِن يَتَّبِعُونَ إِلَاّ الظَّنَّ وَإِنْ هُمْ إِلَاّ يَخْرُصُونَ} [يونس: 66] .إلى 68 إلى قوله: {قَالُوا اتَّخَذَ اللَّهُ وَلَداً
রাজত্বে কোনো অংশীদারিত্ব নেই এবং তিনি কোনো সাহায্যকারীও নন, আর তাদের সুপারিশ কেবল তার জন্যই উপকারে আসবে যাকে তিনি অনুমতি দেবেন।

এটি পার্থিব রাজাদের বিপরীত। কারণ তাদের নিকট যে সুপারিশ করে, হতে পারে তার নিজস্ব রাজত্ব আছে, অথবা সে তাদের রাজত্বের অংশীদার, কিংবা সে তাদের রাজত্ব পরিচালনায় সাহায্যকারী ও সহযোগী। এরা এবং অন্যরা রাজাদের অনুমতি ছাড়াই তাদের কাছে সুপারিশ করে থাকে। আর রাজারা তাদের সুপারিশ গ্রহণ করে কখনও তাদের প্রতি নিজের প্রয়োজনের তাগিদে, কখনও তাদের থেকে ভীতিবশত, আবার কখনও তাদের কৃত উপকারের বিনিময়, পুরস্কার বা অনুগ্রহের প্রতিদান স্বরূপ। এমনকি রাজা তার সন্তান ও স্ত্রীর সুপারিশও এই কারণেই গ্রহণ করে থাকে; কেননা সে স্ত্রী ও সন্তানের মুখাপেক্ষী। এমনকি যদি তার সন্তান বা স্ত্রী তার থেকে বিমুখ হয়ে যায়, তবে সে তাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সে তার দাসের সুপারিশও গ্রহণ করে থাকে, কারণ সে যদি তার সুপারিশ গ্রহণ না করে, তবে ভয় থাকে যে সে হয়তো তার আনুগত্য করবে না অথবা তার ক্ষতি করার চেষ্টা করবে। বান্দাদের একে অপরের নিকট করা সুপারিশের সবটুকুই এই প্রকৃতির। সুতরাং কোনো ব্যক্তি অন্যের সুপারিশ গ্রহণ করে না আগ্রহ কিংবা ভীতি ব্যতিরেকে।

আর আল্লাহ তাআলা কারো নিকট কোনো আশা পোষণ করেন না, কাউকে ভয় পান না এবং তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন, বরং তিনি অমুখাপেক্ষী। আল্লাহ তাআলা বলেন: "জেনে রাখো, আসমানসমূহে যারা আছে এবং জমিনে যারা আছে তারা সবাই আল্লাহর। আর যারা আল্লাহকে ছেড়ে অংশীদারদের ডাকে, তারা কিসের অনুসরণ করে? তারা তো কেবল ধারণারই অনুসরণ করে এবং তারা কেবল অনুমানই করে।" [ইউনূস: ৬৬]। ৬৮ নম্বর আয়াত পর্যন্ত, যেখানে তাঁর বাণী রয়েছে: "তারা বলে, আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছেন।"
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াসিতাতু বাইনাল হাক্কি ওয়াল খালক (পৃষ্ঠা: ৩০)
سُبْحَانَهُ هُوَ الْغَنِيُّ لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ}

والمشركون يتخذون شفعاء من جنس ما يعهدونه من الشفاعة، قال تعالى: {وَيَعْبُدُونَ مِن دُونِ اللهِ مَا لَا يَضُرُّهُمْ وَلَا يَنفَعُهُمْ وَيَقُولُونَ هَؤُلاء شُفَعَاؤُنَا عِندَ اللهِ قُلْ أَتُنَبِّئُونَ اللهَ بِمَا لَا يَعْلَمُ فِي السَّمَاوَاتِ وَلَا فِي الأَرْضِ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى عَمَّا يُشْرِكُونَ} [يونس: 18] وقال تعالى: {فَلَوْلَا نَصَرَهُمُ الَّذِينَ اتَّخَذُوا مِن دُونِ اللَّهِ قُرْبَانًا آلِهَةً بَلْ ضَلُّوا عَنْهُمْ وَذَلِكَ إِفْكُهُمْ وَمَا كَانُوا يَفْتَرُونَ} [الأحقاف: 28]

وأخبر عن المشركين أنهم قالوا: {مَا نَعْبُدُهُمْ إِلَّا لِيُقَرِّبُونَا إِلَى اللَّهِ زُلْفَى} [الزمر: 3] ، وقال تعالى: {وَلَا يَأْمُرَكُمْ أَن تَتَّخِذُواْ الْمَلَائِكَةَ وَالنِّبِيِّيْنَ أَرْبَابًا أَيَأْمُرُكُم بِالْكُفْرِ بَعْدَ إِذْ أَنتُم مُّسْلِمُونَ} [آل عمران: 80]
তিনি অতি পবিত্র, তিনি অভাবমুক্ত; আসমানসমূহে যা কিছু আছে এবং যমিনে যা কিছু আছে সব তাঁরই।}

আর মুশরিকরা এমন সব সুপারিশকারী গ্রহণ করে যা তাদের পরিচিত সুপারিশের প্রকারভুক্ত। আল্লাহ তাআলা বলেন: {তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে এমন কিছুর ইবাদত করে যা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারে না এবং কোনো উপকারও করতে পারে না, আর তারা বলে যে, এরা আল্লাহর নিকট আমাদের সুপারিশকারী। আপনি বলুন, তোমরা কি আল্লাহকে আসমানসমূহ ও যমিনের এমন কিছুর সংবাদ দিচ্ছ যা তিনি জানেন না? তিনি অতি পবিত্র এবং তারা যা শরিক করে তা থেকে তিনি অনেক উচ্চে।} [ইউনুস: ১৮] এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: {অতঃপর আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে তারা যাদেরকে উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করেছিল, তারা কেন তাদেরকে সাহায্য করল না? বরং তারা তাদের থেকে হারিয়ে গেল; আর তা ছিল তাদের মিথ্যাচার এবং তাদের মনগড়া উদ্ভাবন।} [আল-আহকাফ: ২৮]

আর তিনি মুশরিকদের সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন যে তারা বলেছিল: {আমরা তাদের ইবাদত কেবল একারণেই করি যে, তারা আমাদের আল্লাহর নিকটবর্তী করে দিবে।} [আয-যুমার: ৩], এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর তিনি তোমাদের নির্দেশ দেন না যে, তোমরা ফেরেশতাদের ও নবীদের রব হিসেবে গ্রহণ করো। তোমরা মুসলিম হওয়ার পর তিনি কি তোমাদের কুফুরির নির্দেশ দেবেন?} [আল-ইমরান: ৮০]
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াসিতাতু বাইনাল হাক্কি ওয়াল খালক (পৃষ্ঠা: ৩০)
‌‌[الشفاعة الباطلة والصحيحة]

وقال تعالى: {قُلِ ادْعُواْ الَّذِينَ زَعَمْتُم مِّن دُونِهِ فَلَا
[বাতিল ও সঠিক সুপারিশ]

এবং মহান আল্লাহ বলেন: {বলুন, তোমরা তাদেরকে ডাকো যাদেরকে তোমরা তাঁর পরিবর্তে (উপাস্য) মনে করতে, অতঃপর তারা...}
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াসিতাতু বাইনাল হাক্কি ওয়াল খালক (পৃষ্ঠা: ৩১)
يَمْلِكُونَ كَشْفَ الضُّرِّ عَنكُمْ وَلَا تَحْوِيلاً أُولَئِكَ الَّذِينَ يَدْعُونَ يَبْتَغُونَ إِلَى رَبِّهِمُ الْوَسِيلَةَ أَيُّهُمْ أَقْرَبُ وَيَرْجُونَ رَحْمَتَهُ وَيَخَافُونَ عَذَابَهُ إِنَّ عَذَابَ رَبِّكَ كَانَ مَحْذُورًا} [الإسراء: 56، 57] . فأخبر أن ما يدعى من دونه لا يملك كشف ضر ولا تحويله، وأنهم يرجون رحمته، ويخافون عذابه، ويتقربون إليه فهو ـ سبحانه ـ قد نفى ما من الملائكة والأنبياء، إلا من الشفاعة بإذنه، والشفاعة هى الدعاء.

ولا ريب أن دعاء الخلق بعضهم لبعض نافع، والله قد أمر بذلك، لكن الداعى الشافع ليس له أن يدعو ويشفع إلا بإذن الله له فى ذلك، فلا يشفع شفاعة نهى عنها، كالشفاعة للمشركين والدعاء لهم بالمغفرة، قال تعالى: {مَا كَانَ لِلنَّبِيِّ وَالَّذِينَ آمَنُواْ أَن يَسْتَغْفِرُواْ لِلْمُشْرِكِينَ وَلَوْ كَانُواْ أُوْلِي قُرْبَى مِن بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّهُمْ أَصْحَابُ الْجَحِيمِ وَمَا كَانَ اسْتِغْفَارُ إِبْرَاهِيمَ لِأَبِيهِ إِلَاّ عَن مَّوْعِدَةٍ وَعَدَهَا إِيَّاهُ فَلَمَّا تَبَيَّنَ لَهُ أَنَّهُ عَدُوٌّ لِلّهِ تَبَرَّأَ مِنْهُ} [التوبة: 113، 114] ، وقال تعالى فى حق المنافقين: {سَوَاء عَلَيْهِمْ أَسْتَغْفَرْتَ لَهُمْ أَمْ لَمْ تَسْتَغْفِرْ لَهُمْ لَن يَغْفِرَ اللَّهُ لَهُمْ} [المنافقون: 6] .
{তারা তোমাদের দুঃখ-কষ্ট দূর করার বা তা পরিবর্তন করার কোনো ক্ষমতা রাখে না। তারা যাদেরকে আহ্বান করে, তারা নিজেরাই তাদের রবের কাছে নৈকট্য লাভের মাধ্যম সন্ধান করে যে, তাদের মধ্যে কে কত বেশি নিকটবর্তী হতে পারে, আর তারা তাঁর রহমতের আশা করে এবং তাঁর আজাবকে ভয় পায়। নিশ্চয়ই তোমার রবের আজাব ভীতিপ্রদ।} [আল-ইসরা: ৫৬, ৫৭]। সুতরাং তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, তাঁকে বাদ দিয়ে যাদেরকে ডাকা হয়, তারা কোনো দুঃখ-কষ্ট দূর করার বা তা পরিবর্তন করার মালিক নয়; বরং তারা নিজেরাও তাঁর রহমতের আশা করে, তাঁর আজাবকে ভয় পায় এবং তাঁর নৈকট্য অনুসন্ধান করে। অতএব তিনি—সুবহানাহু—ফেরেশতা ও নবীদের ক্ষেত্রে তাঁর অনুমতিক্রমে সুপারিশ ব্যতীত অন্য সব ক্ষমতা নাকচ করে দিয়েছেন; আর সুপারিশ হলো মূলত দোয়া।

নিঃসন্দেহে সৃষ্টিজীবের একে অপরের জন্য দোয়া করা উপকারী এবং আল্লাহ তাআলা এর নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু সুপারিশকারী ও প্রার্থনাকারীর আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত দোয়া বা সুপারিশ করার কোনো অধিকার নেই। অতএব সে এমন কোনো সুপারিশ করবে না যা থেকে নিষেধ করা হয়েছে, যেমন মুশরিকদের জন্য সুপারিশ করা এবং তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা। আল্লাহ তাআলা বলেন: {নবী ও মুমিনদের জন্য সংগত নয় যে তারা মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে, যদিও তারা নিকটাত্মীয় হয়; তাদের কাছে এটা স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার পর যে তারা প্রজ্বলিত আগুনের অধিবাসী। আর ইবরাহিমের তার পিতার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা ছিল কেবল একটি প্রতিশ্রুতির কারণে যা সে তাকে দিয়েছিল। অতঃপর যখন তার নিকট স্পষ্ট হয়ে গেল যে সে আল্লাহর শত্রু, তখন সে তার থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করল।} [আত-তাওবা: ১১৩, ১১৪]। মুনাফিকদের ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {তুমি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো অথবা না করো, উভয়ই তাদের জন্য সমান; আল্লাহ তাদের কখনই ক্ষমা করবেন না।} [আল-মুনাফিকুন: ৬]।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াসিতাতু বাইনাল হাক্কি ওয়াল খালক (পৃষ্ঠা: ৩২)
وقد ثبت فى الصحيح: أن الله نهى نبيه عن الاستغفار للمشركين والمنافقين، وأخبر أنه لا يغفر لهم، كما فى قوله: {إِنَّ اللهَ لَا يَغْفِرُ أَن يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَن يَشَاء} [النساء: 48، 116] ، وقوله: {وَلَا تُصَلِّ عَلَى أَحَدٍ مِّنْهُم مَّاتَ أَبَدًا وَلَا تَقُمْ عَلَىَ قَبْرِهِ إِنَّهُمْ كَفَرُواْ بِاللهِ وَرَسُولِهِ وَمَاتُواْ وَهُمْ فَاسِقُونَ} [التوبة: 84] ، وقد قال تعالى: {ادْعُواْ رَبَّكُمْ تَضَرُّعًا وَخُفْيَةً إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُعْتَدِينَ} [الأعراف: 55]ـ فى الدعاء ـ ومن الاعتداء فى الدعاء: أن يسأل العبد ما لم يكن الرب ليفعله، مثل: أن يسأله منازل الأنبياء وليس منهم، أو المغفرة للمشركين، ونحو ذلك. أو يسأله ما فيه معصية الله، كإعانته على الكفر والفسوق والعصيان.

فالشفيع الذى أذن الله له فى الشفاعة، شفاعته فى الدعاء الذى ليس فيه عدوان.

ولو سأل أحدهم دعاء لا يصلح له لا يقر عليه فإنهم معصومون أن يقروا على ذلك. كما قال نوح: {إِنَّ ابُنِي مِنْ أَهْلِي وَإِنَّ وَعْدَكَ الْحَقُّ وَأَنتَ أَحْكَمُ الْحَاكِمِينَ} [هود: 45] ، قال تعالى: {قَالَ يَا نُوحُ إِنَّهُ لَيْسَ مِنْ أَهْلِكَ إِنَّهُ عَمَلٌ
সহিহ হাদিসে এটি প্রমাণিত হয়েছে যে, আল্লাহ তাঁর নবিকে মুশরিক ও মুনাফিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে নিষেধ করেছেন এবং সংবাদ দিয়েছেন যে তিনি তাদের ক্ষমা করবেন না, যেমনটি তাঁর এই বাণীতে রয়েছে: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে শরিক করাকে ক্ষমা করেন না এবং এছাড়া অন্য সবকিছু যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন।" [নিসা: ৪৮, ১১৬] এবং তাঁর বাণী: "তাদের মধ্যে কারও মৃত্যু হলে কখনও তার জানাজা পড়বে না এবং তার কবরের পাশে দাঁড়াবে না; তারা তো আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে অস্বীকার করেছিল এবং তারা ফাসেক অবস্থায় মারা গিয়েছে।" [তাওবাহ: ৮৪]। এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: "তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ডাকো বিনীতভাবে ও সংগোপনে। নিশ্চয়ই তিনি সীমালঙ্ঘনকারীদের পছন্দ করেন না।" [আরাফ: ৫৫]—দোয়ার ক্ষেত্রে—আর দোয়ার মধ্যে সীমালঙ্ঘন হলো: বান্দা এমন কিছু প্রার্থনা করা যা প্রতিপালক করবেন না; যেমন: নবিদের মর্যাদা প্রার্থনা করা অথচ সে তাদের অন্তর্ভুক্ত নয়, অথবা মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা এবং এই জাতীয় বিষয়। অথবা আল্লাহর অবাধ্যতা রয়েছে এমন কিছু চাওয়া, যেমন কুফরি, পাপাচার ও অবাধ্যতার কাজে তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা।

সুতরাং যে সুপারিশকারীকে আল্লাহ সুপারিশের অনুমতি দিয়েছেন, তাঁর সুপারিশ হবে এমন দোয়ার ক্ষেত্রে যাতে কোনো সীমালঙ্ঘন নেই।

আর যদি তাঁদের (নবিদের) কেউ এমন কোনো দোয়া করেন যা তাঁর জন্য সমীচীন নয়, তবে তাঁকে সেটির ওপর বহাল রাখা হয় না; কেননা তাঁরা এমন বিষয়ের ওপর বহাল থাকা থেকে সুরক্ষিত। যেমন নুহ বলেছিলেন: "নিশ্চয়ই আমার পুত্র আমার পরিবারভুক্ত এবং আপনার প্রতিশ্রুতি সত্য, আর আপনিই বিচারকদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বিচারক।" [হুদ: ৪৫]। মহান আল্লাহ বললেন: "হে নুহ! নিশ্চয়ই সে তোমার পরিবারভুক্ত নয়। নিশ্চয়ই এটি অসৎ কাজ...
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াসিতাতু বাইনাল হাক্কি ওয়াল খালক (পৃষ্ঠা: ৩৩)
غَيْرُ صَالِحٍ فَلَا تَسْأَلْنِ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ إِنِّي أَعِظُكَ أَن تَكُونَ مِنَ الْجَاهِلِينَ قَالَ رَبِّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ أَنْ أَسْأَلَكَ مَا لَيْسَ لِي بِهِ عِلْمٌ وَإِلَاّ تَغْفِرْ لِي وَتَرْحَمْنِي أَكُن مِّنَ الْخَاسِرِينَ} [هود: 46، 47] .

وكل داع شافع دعا الله سبحانه وتعالى وشفع: فلا يكون دعاؤه وشفاعته إلا بقضاء الله وقدره، ومشيئته، وهو الذى يجيب الدعاء ويقبل الشفاعة، فهو الذى خلق السبب والمسبب، والدعاء من جملة الأسباب التي قدرها الله سبحانه وتعالى.
{সে সৎকর্মশীল নয়। সুতরাং আমার কাছে এমন কিছু প্রার্থনা করো না যে বিষয়ে তোমার জ্ঞান নেই। আমি তোমাকে উপদেশ দিচ্ছি যেন তুমি অজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত না হও। তিনি বললেন, ‘হে আমার রব! যে বিষয়ে আমার জ্ঞান নেই, তেমন কিছু আপনার কাছে চাওয়া থেকে আমি আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আপনি যদি আমাকে ক্ষমা না করেন এবং আমার প্রতি দয়া না করেন, তবে আমি ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হব।'} [হুদ: ৪৬, ৪৭] ।

আর প্রত্যেক দোয়া কারী ও সুপারিশকারী যারা মহান আল্লাহর নিকট দোয়া করে এবং সুপারিশ করে: তাদের দোয়া এবং সুপারিশ কেবল আল্লাহর ফয়সালা, তাকদীর এবং তাঁর ইচ্ছানুক্রমেই হয়ে থাকে। তিনিই দোয়ার উত্তর দেন এবং সুপারিশ কবুল করেন। কারণ তিনিই কার্যকারণ এবং এর ফলাফল সৃষ্টি করেছেন। আর দোয়া হচ্ছে সেই সকল কার্যকারণের অন্তর্ভুক্ত যা মহান আল্লাহ নির্ধারণ করে দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াসিতাতু বাইনাল হাক্কি ওয়াল খালক (পৃষ্ঠা: ৩৩)
‌‌[مقدار الأسباب]

وإذا كان كذلك: فالالتفات إلى الأسباب شرك في التوحيد، ومَحْو الأسباب أن تكون أسبابا نَقْصٌ فى العقل، والإعراض عن الأسباب بالكلية قدْحٌ في الشرع، بل
[উপকরণের মর্যাদা]

আর বিষয়টি যখন এমনই, তখন উপকরণের প্রতি ভ্রূক্ষেপ করা তাওহীদের ক্ষেত্রে শিরক; উপকরণসমূহ যে উপকরণ হতে পারে—তা অস্বীকার করা বুদ্ধিবৃত্তিক ত্রুটি; এবং উপকরণসমূহ থেকে পুরোপুরি বিমুখ হওয়া শরিয়তের অবমাননা। বরং
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াসিতাতু বাইনাল হাক্কি ওয়াল খালক (পৃষ্ঠা: ৩৪)
العبد يجب أن يكون تَوكُّله ودعاؤه وسؤاله ورغبته إلى الله سبحانه وتعالى والله يقدر له من الأسباب ـ من دعاء الخلق وغيرهم ـ ما شاء.

والدعاء مشروع، أن يدعو الأعلى للأدنى، والأدنى للأعلى فطلب الشفاعة والدعاء من الأنبياء كما كان المسلمون يستشفعون بالنبي صلى الله عليه وسلم في الاستسقاء، ويطلبون منه الدعاء، بل وكذلك بعده استسقى عمر والمسلمون بالعباس عمه، والناس يطلبون الشفاعة يوم القيامة من الأنبياء، ومحمد صلى الله عليه وسلم وهو سيد الشفعاء، وله شفاعات يختص بها ومع هذا فقد ثبت في الصحيحين عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: " إذا سمعتم المؤذن فقولوا مثل ما يقول، ثم صلوا علىّ، فإنه من صلى علىّ مرة صلى الله عليه عشراً، ثم سلوا الله لى الوسيلة، فإنها درجة فى الجنة لا تنبغى إلا لعبد من عباد الله، وأرجو أن أكون ذلك العبد! فمن سأل الله لى الوسيلة حَلت عليه شفاعتى يوم القيامة ". وقد قال صلى الله عليه وسلم لعمر ـ لما أراد أن يعتمر وودعه ـ: " يا أخى لا تنسنى من دعائك ".

فالنبي صلى الله عليه وسلم قد طلب من أمته أن يدعوا له، ولكن ليس
একজন দাসের উচিত তার ভরসা, দোয়া, প্রার্থনা ও আকাঙ্ক্ষা কেবল মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার প্রতি নিবদ্ধ রাখা; আর আল্লাহ তার জন্য সৃষ্টির দোয়া বা অন্য যা কিছু চান তা উপায়-উপকরণ হিসেবে নির্ধারণ করেন।

দোয়া করা একটি শরয়ি বিধান; উচ্চস্তরের ব্যক্তি নিম্নস্তরের ব্যক্তির জন্য দোয়া করতে পারে, আবার নিম্নস্তরের ব্যক্তিও উচ্চস্তরের ব্যক্তির জন্য দোয়া করতে পারে। তাই নবীদের কাছে সুপারিশ ও দোয়া প্রার্থনা করা বৈধ, যেমনটি মুসলিমগণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট বৃষ্টি প্রার্থনার সময় সুপারিশ কামনা করতেন এবং তাঁর কাছে দোয়া চাইতেন। এমনকি তাঁর ইন্তেকালের পরেও উমর ও মুসলিমগণ তাঁর চাচা আব্বাসের মাধ্যমে বৃষ্টির দোয়া করেছিলেন। মানুষ কিয়ামতের দিন নবীদের কাছে সুপারিশ প্রার্থনা করবে, আর মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হলেন সুপারিশকারীদের নেতা এবং তাঁর এমন কিছু বিশেষ সুপারিশ রয়েছে যা কেবল তাঁরই বৈশিষ্ট্য। এতৎসত্ত্বেও সহীহাইন গ্রন্থে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "যখন তোমরা মুয়াজ্জিনকে আযান দিতে শুনবে, তখন সে যা বলে তোমরাও তাই বলো। অতঃপর আমার ওপর দরূদ পাঠ করো; কেননা যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরূদ পাঠ করে, আল্লাহ তার বিনিময়ে তার ওপর দশবার রহমত বর্ষণ করেন। এরপর আল্লাহর কাছে আমার জন্য 'ওয়াসিলা' প্রার্থনা করো, কারণ তা জান্নাতের এমন একটি সুউচ্চ স্তর যা আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কেবল একজনের জন্যই উপযোগী। আমি আশা করি, আমিই সেই বান্দা হব। সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে আমার জন্য 'ওয়াসিলা' প্রার্থনা করবে, কিয়ামতের দিন তার জন্য আমার সুপারিশ অবধারিত হবে।" নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমরকে লক্ষ্য করে বলেছিলেন—যখন তিনি উমরা করার ইচ্ছা পোষণ করে তাঁর থেকে বিদায় নিচ্ছিলেন—: "হে আমার ভাই, তোমার দোয়ায় আমাকে ভুলে যেও না।"

সুতরাং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উম্মতের নিকট তাঁর জন্য দোয়া করার আবেদন করেছেন, কিন্তু তা...
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াসিতাতু বাইনাল হাক্কি ওয়াল খালক (পৃষ্ঠা: ৩৫)
ذلك من باب سؤالهم، بل أمره بذلك لهم كأمره لهم بسائر الطاعات التى يثابون عليها، مع أنه صلى الله عليه وسلم له مثل أجورهم فى كل ما يعملونه، فإنه قد صح عنه أنه قال: " من دعا إلى هُدًى كان له من الأجر مثل أجور من اتبعه من غير أن ينقص من أجورهم شيئًا، ومن دعا إلى ضلالة كان عليه من الوِزْر مثل أوزار من اتبعه من غير أن ينقص من أوزارهم شيئًا "، وهو داعى الأمة إلى كل هدى، فله مثل أجورهم فى كل ما اتبعوه فيه.

وكذلك إذا صلوا عليه، فإن الله يصلى على أحدهم عشرًا، وله مثل أجورهم مع ما يستجيبه من دعائهم له، فذلك الدعاء قد أعطاهم الله أجرهم عليه، وصار ما حصل له به من النفع نعمة من الله عليه، وقد ثبت عنه فى الصحيح أنه قال: " ما من رجل يدعو لأخيه بظهر الغيب بدعوة إلا وكل الله به ملكًا، كلما دعا لأخيه بدعوة قال الملك الموكل به: آمين ولك مثل ذلك "، وفى حديث آخر: " أسرع الدعاء دعوة غائب
এটি কেবল তাদের চাওয়ার বিষয় নয়, বরং এটি তাদের প্রতি তাঁর পক্ষ থেকে তেমন আদেশ যেমন অন্যান্য আনুগত্যের কাজের ক্ষেত্রে আদেশ করা হয়েছে যার জন্য তারা সওয়াবপ্রাপ্ত হয়; যদিও তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা কিছু তারা আমল করে তার অনুরূপ সওয়াব লাভ করেন। কারণ তাঁর থেকে সহীহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি হিদায়াতের দিকে আহ্বান করে, তার জন্য তাকে অনুসরণকারীদের অনুরূপ সওয়াব থাকবে, এতে তাদের সওয়াবের কিছুই হ্রাস পাবে না। আর যে ব্যক্তি পথভ্রষ্টতার দিকে আহ্বান করে, তার উপর তাকে অনুসরণকারীদের অনুরূপ গুনাহ বর্তাবে, এতে তাদের গুনাহের কিছুই হ্রাস পাবে না।" আর তিনি হলেন উম্মতকে সকল হিদায়াতের দিকে আহ্বানকারী, তাই তারা যে বিষয়েই তাঁর অনুসরণ করে তাতে তাদের সওয়াবের অনুরূপ সওয়াব তিনি লাভ করেন।

তদ্রূপ যখন তারা তাঁর প্রতি দরুদ পাঠ করে, তখন আল্লাহ তাদের একজনের ওপর দশবার রহমত বর্ষণ করেন এবং তাদের সওয়াবের অনুরূপ সওয়াব তিনিও লাভ করেন, সেই সাথে তাদের পক্ষ থেকে তাঁর জন্য করা দোয়াও আল্লাহ কবুল করেন। সুতরাং আল্লাহ তাদের সেই দোয়ার সওয়াব দান করেছেন এবং এর মাধ্যমে তাঁর যে উপকার অর্জিত হয়েছে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি এক নিয়ামত। আর তাঁর থেকে সহীহ সূত্রে এটি প্রমাণিত যে তিনি বলেছেন: "কোনো ব্যক্তি যখন তার ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে তার জন্য দোয়া করে, তখন আল্লাহ তার সাথে একজন ফেরেশতা নিয়োজিত করেন; যখনই সে তার ভাইয়ের জন্য কোনো দোয়া করে, নিয়োজিত ফেরেশতা তখন বলে: আমীন, এবং তোমার জন্যও অনুরূপ হোক।" আর অন্য একটি হাদীসে রয়েছে: "সবচেয়ে দ্রুত কবুল হওয়া দোয়া হলো অনুপস্থিত ব্যক্তির জন্য অনুপস্থিত ব্যক্তির দোয়া।"
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াসিতাতু বাইনাল হাক্কি ওয়াল খালক (পৃষ্ঠা: ৩৬)
لغائب ". فالدعاء للغير ينتفع به الداعى، والمدعو له وإن كان الداعى دون المدعو له، فدعاء المؤمن لأخيه ينتفع به الداعى والمدعو له. فمن قال لغيره: ادع لى وقصد انتفاعهما جميعًا بذلك كان هو وأخوه متعاونين على البر والتقوى، فهو نبه المسؤول وأشار عليه بما ينفعهما، والمسؤول فعل ما ينفعهما، بمنزلة من يأمر غيره ببر وتقوى، فيثاب المأمور على فعله، والآمر أيضًا يثاب مثل ثوابه؛ لكونه دعا إليه، لا سيما ومن الأدعية ما يؤمر بها العبد، كما قال تعالى: {وَاسْتَغْفِرْ لِذَنبِكَ وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ} [محمد: 19] ، فأمره بالاستغفار، ثم قال: {وَلَوْ أَنَّهُمْ إِذ ظَّلَمُواْ أَنفُسَهُمْ جَآؤُوكَ فَاسْتَغْفَرُواْ اللهَ وَاسْتَغْفَرَ لَهُمُ الرَّسُولُ لَوَجَدُواْ اللهَ تَوَّابًا رَّحِيمًا} [النساء: 64] .

فذكر ـ سبحانه ـ استغفارهم، واستغفار الرسول لهم إذ ذاك مما أمر به الرسول، حيث أمره أن يستغفر للمؤمنين والمؤمنات، ولم يأمر الله مخلوقًا أن يسأل مخلوقًا شيئًا لم يأمر الله المخلوق به، بل ما أمر الله العبد أمر إيجاب أو استحباب ففعله هو عبادة لله، وطاعة وقربة
অনুপস্থিত ব্যক্তির জন্য। অন্যের জন্য দুআ করার মাধ্যমে দুআকারী এবং যার জন্য দুআ করা হচ্ছে—উভয়ই উপকৃত হয়, যদিও দুআকারী ব্যক্তি যার জন্য দুআ করা হচ্ছে তার চেয়ে নিম্নমর্যাদার হয়ে থাকে। মুমিনের আপন ভাইয়ের জন্য দুআ করার দ্বারা দুআকারী এবং যার জন্য দুআ করা হচ্ছে উভয়েই উপকৃত হয়। সুতরাং যে ব্যক্তি অন্যকে বলল: "আমার জন্য দুআ করুন" এবং এর মাধ্যমে উভয়েরই উপকৃত হওয়ার উদ্দেশ্য রাখল, তবে সে এবং তার ভাই পুণ্য ও তাকওয়ার কাজে পরস্পর সহযোগিতা করল। সে জিজ্ঞাসিত ব্যক্তিকে সচেতন করল এবং এমন বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করল যা উভয়ের জন্য উপকারী। আর জিজ্ঞাসিত ব্যক্তি এমন কাজ করল যা উভয়ের জন্যই কল্যাণকর। এটি সেই ব্যক্তির মর্যাদার ন্যায় যে অন্যকে পুণ্য ও তাকওয়ার আদেশ দেয়; ফলে আদিষ্ট ব্যক্তি তার কাজের জন্য সওয়াব লাভ করে এবং আদেশদাতাও তার অনুরূপ সওয়াব পায়; যেহেতু সে সেই কাজের দিকে আহ্বান করেছে। বিশেষ করে এমন কিছু দুআ রয়েছে যা করার জন্য বান্দাকে আদেশ দেওয়া হয়েছে। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আপনার গুনাহের জন্য এবং মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন" [মুহাম্মাদ: ১৯]। তিনি তাকে ইস্তিগফারের নির্দেশ দিয়েছেন। অতঃপর তিনি বলেছেন: "আর তারা যখন নিজেদের প্রতি জুলুম করেছিল, তখন যদি তারা আপনার কাছে আসত এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করত আর রাসূলও তাদের জন্য ক্ষমা চাইতেন, তবে অবশ্যই তারা আল্লাহকে তওবা কবুলকারী ও পরম দয়ালু হিসেবে পেত" [আন-নিসা: ৬৪]।

অতঃপর তিনি—পবিত্র সত্তা—তাদের ইস্তিগফার এবং তাদের জন্য রাসূলের ইস্তিগফারের কথা উল্লেখ করেছেন, কারণ তা এমন বিষয় ছিল যার নির্দেশ রাসূলকে দেওয়া হয়েছিল। যেহেতু তিনি তাকে মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। আল্লাহ কোনো সৃষ্টিকে অন্য কোনো সৃষ্টির কাছে এমন কিছু চাওয়ার নির্দেশ দেননি যার নির্দেশ আল্লাহ সেই সৃষ্টিকে দেননি। বরং আল্লাহ বান্দাকে ওয়াজিব বা মুস্তাহাব হিসেবে যা কিছুর নির্দেশ দিয়েছেন, তা পালন করাই হলো আল্লাহর ইবাদত, আনুগত্য এবং তাঁর নৈকট্য লাভের উপায়।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াসিতাতু বাইনাল হাক্কি ওয়াল খালক (পৃষ্ঠা: ৩৭)
إلى الله، وصلاح لفاعله وحسنة فيه، وإذا فعل ذلك كان أعظم لإحسان الله إليه، وإنعامه عليه، بل أجل نعمة أنعم الله بها على عباده أن هداهم للإيمان.

والإيمان قول وعمل، يزيد بالطاعة والحسنات، وكلما ازداد العبد عملا للخير، ازداد إيمانه. هذا هو الإنعام الحقيقى المذكور فى قوله: {صِرَاطَ الَّذِينَ أَنعَمتَ عَلَيهِمْ غَيرِ المَغضُوبِ عَلَيهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ} [الفاتحة: 7] ، وفى قوله: {وَمَن يُطِعِ اللهَ وَالرَّسُولَ فَأُوْلَئِكَ مَعَ الَّذِينَ أَنْعَمَ اللهُ عَلَيْهِم} [النساء: 69] ، بل نعم الدنيا بدون الدين هل هى من نعمه أم لا؟ فيه قولان مشهوران للعلماء من أصحابنا وغيرهم.

والتحقيق: أنها نعمة من وجه وإن لم تكن نعمة تامة من وجه، وأما الإنعام بالدين الذي ينبغى طلبه فهو ما أمر الله به من واجب ومستحب، فهو الخير الذي ينبغي طلبه باتفاق المسلمين، وهو النعمة الحقيقية عند أهل السنة، إذ عندهم أن الله هو الذي أنعم بفعل الخير. والقدرية عندهم إنما أنعم بالقدرة عليه، الصالحة للضدين فقط.

والمقصود هنا:
আল্লাহর নিকট, এবং তার সম্পাদনকারীর জন্য কল্যাণ ও তাতে পুণ্য। যখন সে তা করে, তখন তা তার প্রতি আল্লাহর মহান ইহসান এবং অনুগ্রহ হিসেবে গণ্য হয়। বরং আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি যে সর্বশ্রেষ্ঠ নিয়ামত দান করেছেন তা হলো তাদের ঈমানের পথে হেদায়াত দান করা।

আর ঈমান হলো কথা ও কাজ, যা আনুগত্য ও পুণ্যকর্মের মাধ্যমে বৃদ্ধি পায়। বান্দা যখনই সৎকর্ম বাড়িয়ে দেয়, তার ঈমানও বৃদ্ধি পায়। এটিই সেই প্রকৃত নিয়ামত যার উল্লেখ করা হয়েছে আল্লাহর এই বাণীতে: {তাদের পথ, যাদেরকে আপনি নিয়ামত দান করেছেন; তাদের পথ নয় যারা ক্রোধভাজন এবং যারা পথভ্রষ্ট।} [সুরা ফাতিহা: ৭], এবং আল্লাহর এই বাণীতে: {আর যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, তারা তাদের সঙ্গী হবে যাদের প্রতি আল্লাহ নিয়ামত দান করেছেন।} [সুরা নিসা: ৬৯]। বরং দ্বীন ছাড়া দুনিয়াবী নিয়ামতসমূহ কি আল্লাহর পক্ষ থেকে নিয়ামত হিসেবে গণ্য হবে কি না? এ বিষয়ে আমাদের আলিমগণ এবং অন্যদের নিকট দুটি প্রসিদ্ধ মত রয়েছে।

সঠিক বিশ্লেষণ হলো: এটি এক দিক থেকে নিয়ামত, যদিও অন্য দিক থেকে এটি পূর্ণাঙ্গ নিয়ামত নয়। আর দ্বীনি নিয়ামত যা প্রার্থনা করা উচিত, তা হলো আল্লাহ যা করার আদেশ দিয়েছেন—চাই তা ওয়াজিব হোক বা মুস্তাহাব। মুসলিমদের ঐকমত্যে এটিই সেই কল্যাণ যা প্রার্থনা করা উচিত। আর আহলে সুন্নাহর নিকট এটিই হলো প্রকৃত নিয়ামত, কারণ তাদের বিশ্বাস অনুযায়ী আল্লাহই হলেন তিনি যিনি সৎকর্ম করার তাওফিক প্রদানের মাধ্যমে নিয়ামত দান করেছেন। আর কাদরিয়াদের মতে, তিনি কেবল তা করার সক্ষমতা দানের মাধ্যমেই নিয়ামত দিয়েছেন, যা কেবল উভয় বিপরীতমুখী কাজের (ভালো ও মন্দ) জন্যই সমানভাবে কার্যকর।

আর এখানে উদ্দেশ্য হলো:
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াসিতাতু বাইনাল হাক্কি ওয়াল খালক (পৃষ্ঠা: ৩৮)
أن الله لم يأمر مخلوقاً أن يسأل مخلوقاً إلا ما كان مصلحة لذلك المخلوق، إما واجب أو مستحب، فإنه سبحانه لا يطلب من العبد إلا ذلك، فكيف يأمر غيره أن يطلب منه غير ذلك؟ بل قد حرم على العبد أن يسأل العبد ماله إلا عند الضرورة.

وإن كان قصده مصلحة المأمور أو مصلحته ومصلحة المأمور، فهذا يثاب على ذلك، وإن كان قصده حصول مطلوبه من غير قصد منه لانتفاع المأمور، فهذا من نفسه أتى، ومثل هذا السؤال لا يأمر الله به قط، بل قد نهى عنه، إذ هذا سؤال محض للمخلوق من غير قصده لنفعه ولا لمصلحته، والله يأمرنا أن نعبده ونرغب إليه، ويأمرنا أن نحسن إلى عباده، وهذا لم يقصد لا هذا ولا هذا، فلم يقصد الرغبة إلى الله ودعائه، وهو الصلاة، ولا قصد الإحسان إلى المخلوق الذي هو الزكاة، وإن كان العبد قد لا يأثم بمثل هذا السؤال، لكن فرق ما بين ما يؤمر به العبد وما يؤذن له فيه، ألا ترى أنه قال فى حديث السبعين ألفاً الذين يدخلون الجنة بغير حساب: إنهم [لا يسترقون] . وإن كان الاسترقاء
নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো সৃষ্টিকে অন্য কোনো সৃষ্টির নিকট কিছু চাওয়ার নির্দেশ দেননি, কেবল সেই বিষয় ব্যতীত যা ওই সৃষ্টির জন্য কল্যাণকর, হোক তা ওয়াজিব কিংবা মুস্তাহাব। কেননা তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা বান্দার নিকট কেবল তাই চান; সুতরাং তিনি কীভাবে অন্যকে তার নিকট এর ভিন্ন কিছু চাওয়ার নির্দেশ দেবেন? বরং তিনি বান্দার জন্য অন্যের কাছে তার সম্পদ চাওয়া হারাম করেছেন, অবশ্য বিশেষ প্রয়োজন ব্যতীত।

আর যদি তার উদ্দেশ্য হয় আদিষ্ট ব্যক্তির কল্যাণ কিংবা নিজের এবং আদিষ্ট ব্যক্তির উভয়ের কল্যাণ, তবে এর জন্য সে সওয়াব পাবে। কিন্তু যদি তার উদ্দেশ্য হয় আদিষ্ট ব্যক্তির কোনো উপকারের নিয়ত ছাড়াই কেবল নিজের উদ্দেশ্য হাসিল করা, তবে এটি তার নিজের পক্ষ থেকেই এসেছে। আল্লাহ তাআলা এই ধরনের প্রার্থনার আদেশ কখনোই দেন না, বরং তিনি তা থেকে নিষেধ করেছেন। কেননা এটি সৃষ্টির নিকট নিছক একটি প্রার্থনা যাতে তার কোনো উপকার বা কল্যাণের উদ্দেশ্য নেই। আল্লাহ আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন তাঁর ইবাদত করতে এবং তাঁর প্রতি অনুরাগী হতে, আর তিনি নির্দেশ দিয়েছেন তাঁর বান্দাদের প্রতি সদ্ব্যবহার করতে। অথচ এই ব্যক্তি এর কোনোটিই উদ্দেশ্য করেনি; সে আল্লাহর প্রতি অনুরাগ এবং তাঁর কাছে দুআ করার নিয়ত করেনি—যা হলো সালাত, আর না সে সৃষ্টির প্রতি সদ্ব্যবহার করার নিয়ত করেছে—যা হলো জাকাত। যদিও বান্দা এই ধরনের চাওয়ার কারণে হয়তো গুনাহগার হবে না, তবে বান্দাকে যে কাজের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং তাকে যা করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে—এই দুইয়ের মাঝে পার্থক্য রয়েছে। আপনি কি দেখেননি যে, সত্তর হাজার ব্যক্তির হাদিসে—যারা বিনা হিসেবে জান্নাতে প্রবেশ করবেন—তিনি বলেছেন: "তারা ঝাড়ফুঁক প্রার্থনা করে না।" যদিও ঝাড়ফুঁক প্রার্থনা করা...
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াসিতাতু বাইনাল হাক্কি ওয়াল খালক (পৃষ্ঠা: ৩৯)
جائزاً. وهذا قد بسطناه فى غير هذا الموضع.

والمقصود هنا: أن من أثبت وسائط بين الله وبين خلقه، كالوسائط التى تكون بين الملوك والرعية، فهو مشرك، بل هذا دين المشركين عُبّاد الأوثان كانوا يقولون: إنها تماثيل الأنبياء والصالحين، وإنها وسائل يتقربون بها إلى الله، وهو من الشرك الذى أنكره الله على النصارى حيث قال: {اتَّخَذُواْ أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَابًا مِّن دُونِ اللهِ وَالْمَسِيحَ ابْنَ مَرْيَمَ وَمَا أُمِرُواْ إِلَاّ لِيَعْبُدُواْ إِلَهًا وَاحِدًا لَاّ إِلَهَ إِلَاّ هُوَ سُبْحَانَهُ عَمَّا يُشْرِكُونَ} [التوبة: 31] ، وقال تعالى: {وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنِّي فَإِنِّي قَرِيبٌ أُجِيبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ فَلْيَسْتَجِيبُواْ لِي وَلْيُؤْمِنُواْ بِي لَعَلَّهُمْ يَرْشُدُونَ} [البقرة: 186] ، أى فليستجيبوا لى إذا دعوتهم بالأمر والنهى، وليؤمنوا بى أن أجيب دعاءهم لى بالمسألة والتضرع.

وقال تعالى: {فَإِذَا فَرَغْتَ فَانصَبْ وَإِلَى رَبِّكَ فَارْغَبْ} [الشرح: 7، 8] . وقال تعالى: {وَإِذَا
বৈধ। আর এটি আমরা অন্য স্থানে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।

এখানে উদ্দেশ্য হলো: যে ব্যক্তি আল্লাহ এবং তাঁর সৃষ্টির মাঝে এমন মধ্যস্থতাকারী সাব্যস্ত করে, যেমন মধ্যস্থতাকারী রাজা ও প্রজাদের মাঝে থাকে, তবে সে মুশরিক। বরং এটিই মূর্তিপূজারী মুশরিকদের ধর্ম ছিল; তারা বলত: এগুলো নবী ও পুণ্যবান ব্যক্তিদের প্রতিমূর্তি, এবং এগুলো এমন মাধ্যম যার সাহায্যে তারা আল্লাহর নৈকট্য লাভ করে। আর এটি সেই শিরকের অন্তর্ভুক্ত যা আল্লাহ নাসারাদের ব্যাপারে অস্বীকার করেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন: "তারা আল্লাহকে ছেড়ে তাদের পণ্ডিত ও সংসারবিরাগীদের এবং মারইয়াম-পুত্র মাসীহকে রবরূপে গ্রহণ করেছে। অথচ তাদের কেবল এক ইলাহের ইবাদত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই। তারা যে শরিক করে, তিনি তা থেকে পবিত্র।" [আত-তাওবাহ: ৩১], এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: "আর যখন আমার বান্দারা আমার সম্পর্কে আপনাকে জিজ্ঞাসা করে, তখন আমি তো অতি নিকটে। আমি আহ্বানকারীর আহ্বানে সাড়া দেই যখন সে আমাকে ডাকে। সুতরাং তারা যেন আমার আহ্বানে সাড়া দেয় এবং আমার ওপর ঈমান আনে, যাতে তারা সঠিক পথ পায়।" [আল-বাক্বারাহ: ১৮৬], অর্থাৎ তারা যেন আমার আহ্বানে সাড়া দেয় যখন আমি তাদের আদেশ ও নিষেধের মাধ্যমে আহ্বান করি, এবং তারা যেন আমার ওপর বিশ্বাস রাখে যে আমি যাঞ্চা ও কাকুতি-মিনতির মাধ্যমে করা তাদের প্রার্থনা কবুল করি।

আল্লাহ তাআলা বলেন: "অতএব যখনই তুমি অবসর পাও, তখনই পরিশ্রমে আত্মনিয়োগ করো। আর তোমার রবের প্রতিই অনুরাগী হও।" [আশ-শারহ: ৭, ৮]। এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: "এবং যখন
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াসিতাতু বাইনাল হাক্কি ওয়াল খালক (পৃষ্ঠা: ৪০)
مَسَّكُمُ الْضُّرُّ فِي الْبَحْرِ ضَلَّ مَن تَدْعُونَ إِلَاّ إِيَّاهُ} [الإسراء: 67] ،وقال تعالى: {أَمَّن يُجِيبُ الْمُضْطَرَّ إِذَا دَعَاهُ وَيَكْشِفُ السُّوءَ وَيَجْعَلُكُمْ خُلَفَاء الْأَرْضِ} [النمل: 62] ، وقال تعالى: {يَسْأَلُهُ مَن فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ كُلَّ يَوْمٍ هُوَ فِي شَأْنٍ} [الرحمن: 29]

وقد بين الله هذا التوحيد فى كتابه، وحسم مواد الإشراك به حتى لا يخاف أحد غير الله، ولا يرجو سواه، ولا يتوكل إلا عليه، وقال تعالى: {فَلَا تَخْشَوُاْ النَّاسَ وَاخْشَوْنِ وَلَا تَشْتَرُواْ بِآيَاتِي ثَمَنًا قَلِيلاً} [المائدة: 44] ، {إِنَّمَا ذَلِكُمُ الشَّيْطَانُ يُخَوِّفُ أَوْلِيَاءهُ} أى يخوفكم أولياءه {فَلَا تَخَافُوهُمْ وَخَافُونِ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ} [آل عمران: 175] ،وقال تعالى: {أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ قِيلَ لَهُمْ كُفُّواْ أَيْدِيَكُمْ وَأَقِيمُواْ الصَّلَاةَ وَآتُواْ الزَّكَاةَ فَلَمَّا كُتِبَ عَلَيْهِمُ الْقِتَالُ إِذَا فَرِيقٌ مِّنْهُمْ يَخْشَوْنَ النَّاسَ كَخَشْيَةِ اللهِ أَوْ أَشَدَّ خَشْيَةً} [النساء: 77] ، وقال تعالى: {إِنَّمَا يَعْمُرُ مَسَاجِدَ اللهِ مَنْ آمَنَ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ وَأَقَامَ الصَّلَاةَ وَآتَى الزَّكَاةَ وَلَمْ يَخْشَ إِلَاّ اللهَ} [التوبة: 18] ، وقال تعالى: {وَمَن يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيَخْشَ اللَّهَ وَيَتَّقْهِ فَأُوْلَئِكَ هُمُ الْفَائِزُونَ}
"যখন সমুদ্রে তোমাদের বিপদ স্পর্শ করে, তখন তিনি ব্যতীত অন্য যাদের তোমরা ডাকো তারা বিলীন হয়ে যায়" [আল-ইসরা: ৬৭]। এবং মহান আল্লাহ বলেন: "নাকি তিনি, যিনি আর্তের আহ্বানে সাড়া দেন যখন সে তাঁকে ডাকে এবং বিপদ দূর করেন এবং তোমাদেরকে যমীনের প্রতিনিধি বানান?" [আন-নামল: ৬২]। এবং মহান আল্লাহ বলেন: "আসমানসমূহ ও যমীনে যারা আছে তারা সবাই তাঁর নিকট প্রার্থনা করে; প্রতিদিন তিনি কোনো না কোনো কাজে রত থাকেন" [আর-রাহমান: ২৯]।

আল্লাহ তাঁর কিতাবে এই তাওহীদ বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর সাথে শিরক করার সকল পথ রুদ্ধ করে দিয়েছেন, যাতে কেউ আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে ভয় না করে, অন্য কারও কাছে আশা না করে এবং একমাত্র তাঁরই ওপর ভরসা করে। মহান আল্লাহ বলেন: "সুতরাং তোমরা মানুষকে ভয় করো না, বরং আমাকেই ভয় করো এবং আমার আয়াতের বিনিময়ে তুচ্ছ মূল্য গ্রহণ করো না" [আল-মায়িদাহ: ৪৪]। "নিশ্চয়ই এ তো শয়তান, যে তার বন্ধুদের ভয় দেখায়" অর্থাৎ সে তোমাদেরকে তার বন্ধুদের ভয় দেখায়, "সুতরাং তোমরা যদি মুমিন হও তবে তাদেরকে ভয় করো না, বরং আমাকেই ভয় করো" [আলে ইমরান: ১৭৫]। এবং মহান আল্লাহ বলেন: "আপনি কি তাদের দেখেননি যাদের বলা হয়েছিল, তোমাদের হাত গুটিয়ে রাখো, সালাত কায়েম করো এবং যাকাত প্রদান করো? অতঃপর যখন তাদের ওপর যুদ্ধ ফরজ করা হলো, তখন তাদের একদল মানুষকে আল্লাহকে ভয় করার মতো অথবা তার চেয়েও কঠোরভাবে ভয় করতে লাগল" [আন-নিসা: ৭৭]। এবং মহান আল্লাহ বলেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহর মসজিদসমূহ তারাই আবাদ করবে যারা আল্লাহ ও পরকালের ওপর ঈমান এনেছে এবং সালাত কায়েম করেছে, যাকাত প্রদান করেছে এবং আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে ভয় করেনি" [আত-তাওবাহ: ১৮]। এবং মহান আল্লাহ বলেন: "আর যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, আল্লাহকে ভয় করে এবং তাঁর তাকওয়া অবলম্বন করে, তারাই সফলকাম।"