(খণ্ড: ১) আল আহকামুশ শারইয়্যাহ আল মুতাআল্লিকাতু বিল ওয়াবাই ওয়াত তউন মাআ দিরাসাতিন ফিকহিয়্যাহ লিল আহকামিল মুতাআল্লিকাতু বি ফাইরুস কুরূনা (পৃষ্ঠা: -)
الأحكام الشرعية المتعلقة بالوباء والطاعون مع دراسة فقهية للأحكام المتعلقة بفيروس كورونا   (هيثم الحمري)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: الأحكام الشرعية المتعلقة بالوباء والطاعون مع دراسة فقهية للأحكام المتعلقة بفيروس كورونا

المؤلف: أبو عبد العزيز هيثم بن قاسم الحمري

الناشر: خير زاد للنشر والطباعة، القاهرة - مصر

الطبعة: الأولى، 2020 م

عدد الصفحات: 49

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 17 ذو القعدة 1443

মহামারি ও প্লেগ সংক্রান্ত শরয়ী বিধান এবং করোনা ভাইরাস সংশ্লিষ্ট বিধানাবলির একটি ফিকহী গবেষণা   (হাইসাম আল-হামরি)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ


গ্রন্থ: মহামারি ও প্লেগ সংক্রান্ত শরয়ী বিধান এবং করোনা ভাইরাস সংশ্লিষ্ট বিধানাবলির একটি ফিকহী গবেষণা

লেখক: আবু আব্দুল আজিজ হাইসাম ইবনে কাসিম আল-হামরি

প্রকাশক: খাইরু যদ প্রকাশনা ও মুদ্রণ ভবন، কায়রো - মিশর

সংস্করণ: প্রথম، ২০২০ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৯

[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ১৭ জিলকদ ১৪৪৩ হিজরি

(খণ্ড: ১) আল আহকামুশ শারইয়্যাহ আল মুতাআল্লিকাতু বিল ওয়াবাই ওয়াত তউন মাআ দিরাসাতিন ফিকহিয়্যাহ লিল আহকামিল মুতাআল্লিকাতু বি ফাইরুস কুরূনা (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌المقدمة

الحمد لله الواحد القهار، خلق الداء والدواء والمنافع والمضار، بيده الخير والشر، والنفع والضر، والنهي والأمر، لا إله إلا هو العزيز الغفار، والصلاة والسلام على إمام المرسلين، وقدوة المتوكلين، وعلى آله وصحبه الأبرار.

أما بعد:

فهذه ورقات يسيرة، جمعت فيها ما يحتاجه السائلون، في أحكام الوباء والطاعون، وذلك بعد تفشي الأوبئة، وكثرة انتشارها في هذه الأزمنة، ومن آخرها ما حل في البلاد الصينية، وانتشر في شتى بقاع الكرة الأرضية، حتى حل بالبلاد العربية، من الفيروس الموسوم بـ «فيروس كورونا».

فاستعنت بالله في جمع ما تفرق، وتأليف ما تشتت، من مسائل هذا الباب وأحكامه، مع الحرص على الإيجاز والاختصار، والبعد عن التفصيل والإكثار، لعل ما كتبته يكون فاتحة للعلماء والباحثين، لمزيد من البحث والتنقيب، والتحرير والتقريب، لمسائل هذا الباب وأحكامه(1)،

--------------------------------------------

(1) وهذا ما حدث والحمد لله رب العالمين فقد ظهرت بعد كتابة هذا البحث كثير من الرسائل والأبحاث، وعقدت بعض المؤتمرات لمناقشة الأحكام الشرعية المستجدة في النازلة الحاصلة، ولعل القارئ يجد عذرا لي في عدم ذكر بعض المسائل التي لم تكن مطروقة على الساحة وقت كتابة البحث، وذلك لأن كتابته كانت في وقت مبكر، وهذه المسائل إنما استجدت فيما بعد، وقد سخر الله لها عدد من العلماء والباحثين الذين بينوا أحكامها، ووضحوا مسائلها، والحمد لله رب العالمين.
ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা এক ও মহাপরাক্রমশালী আল্লাহর জন্য, যিনি রোগ ও প্রতিষেধক এবং কল্যাণ ও অকল্যাণ সৃষ্টি করেছেন; যাঁর হাতেই নিহিত রয়েছে মঙ্গল ও অমঙ্গল, উপকার ও অপকার এবং নিষেধ ও আদেশ। তিনি ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি অতিশয় পরাক্রমশালী ও পরম ক্ষমাশীল। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক রাসূলগণের ইমাম এবং তাওয়াক্কুলকারীদের আদর্শের ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও পুণ্যবান সাহাবীগণের ওপর।

অতঃপর:

এগুলো কিছু সংক্ষিপ্ত পৃষ্ঠা, যেখানে আমি মহামারি ও প্লেগ (طاعون) সংক্রান্ত বিধানাবলি (أحكام) বিষয়ে জিজ্ঞাসুদের প্রয়োজনীয় মাসআলাসমূহ একত্রিত করেছি। বর্তমান সময়ে মহামারির প্রাদুর্ভাব এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে এর ব্যাপক বিস্তারের প্রেক্ষিতে এটি প্রস্তুত করা হয়েছে। যার সর্বশেষ রূপ হলো চীন দেশে উদ্ভূত এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়া সেই ভাইরাস, যা ‘করোনা ভাইরাস’ নামে অভিহিত এবং যা আরব দেশগুলোতেও বিস্তার লাভ করেছে।

আমি এই বিষয়ের বিক্ষিপ্ত বিষয়গুলো সংকলন ও বিন্যস্ত করার ক্ষেত্রে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করছি। এক্ষেত্রে আমি বিস্তারিত আলোচনা পরিহার করে সংক্ষেপ ও সংক্ষিপ্তসার করার চেষ্টা করেছি। সম্ভবত আমার এই লেখাটি আলেম ও গবেষকদের জন্য এই বিষয়ের মাসআলা ও বিধানাবলি (أحكام)(১) নিয়ে অধিকতর গবেষণা, অনুসন্ধান, বিশ্লেষণ ও সহজীকরণের একটি দ্বার উন্মোচন করবে।

--------------------------------------------

(১) আলহামদুলিল্লাহ, এটিই ঘটেছে। এই গবেষণাটি সম্পন্ন হওয়ার পর আরও অনেক গবেষণা প্রবন্ধ ও থিসিস প্রকাশিত হয়েছে এবং বর্তমানে উদ্ভূত এই পরিস্থিতির (نازلة) নতুন শরয়ী বিধানাবলি (أحكام) নিয়ে আলোচনার জন্য কিছু সম্মেলনও অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাঠক সম্ভবত আমাকে সেই সব মাসআলা উল্লেখ না করার জন্য মার্জনা করবেন যেগুলো এই গবেষণাটি লেখার সময় সামনে আসেনি; কারণ এটি অত্যন্ত প্রাথমিক পর্যায়ে লেখা হয়েছিল এবং উক্ত মাসআলাগুলো পরবর্তীতে উদ্ভূত হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বেশ কিছু আলেম ও গবেষককে তাওফিক দিয়েছেন যারা সেগুলোর বিধানাবলি (أحكام) সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন এবং মাসআলাসমূহ ব্যাখ্যা করেছেন। সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
(খণ্ড: ১) আল আহকামুশ শারইয়্যাহ আল মুতাআল্লিকাতু বিল ওয়াবাই ওয়াত তউন মাআ দিরাসাতিন ফিকহিয়্যাহ লিল আহকামিল মুতাআল্লিকাতু বি ফাইরুস কুরূনা (পৃষ্ঠা: ৬)
خصوصًا مع مسيس الحاجة إليه، وشح الكتابات فيه، والله أسأل العون والإمداد، والتوفيق والسداد، ومنه أرجو النفع والفائدة، والأجر والعائدة، فهو سبحانه خير مسئول، وأفضل مأمول.

وجعلته على فصول أربعة:

الفصل الأول: حقيقة الطاعون والوباء وفضله والمسائل المتعلقة بذلك.

الفصل الثاني: أحكام البلد المصاب بالطاعون والوباء والمسائل المتعلقة بذلك.

الفصل الثالث: سبل رفع الطاعون والوباء ودفعهما والمسائل المتعلقة بذلك.

الفصل الرابع: بعض الأحكام الفقهية المتعلقة بالوباء والطاعون.

 

أبو عبد العزيز هيثم بن قاسم الحمري

مملكة البحرين - حرسها الله -

الأربعاء 9/ 7/1441 هـ - الموافق 4/ 3/2020 م

للتواصل بالملحوظات:hq-1991@hotmail.com
বিশেষ করে যখন এর একান্ত প্রয়োজনীয়তা রয়েছে এবং এ বিষয়ে রচনার স্বল্পতা বিদ্যমান; আমি আল্লাহর কাছে সাহায্য ও সহায়তা এবং তাওফিক (توفيق) ও সঠিক পথনির্দেশনা প্রার্থনা করছি। তাঁর কাছেই আমি কল্যাণ ও উপকারিতা এবং সওয়াব ও প্রতিদানের আশা রাখি; কারণ তিনি পবিত্র ও মহিমান্বিত, যাঁর কাছে প্রার্থনা করা হয় তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং যাঁদের প্রতি আশা রাখা হয় তাঁদের মধ্যে সর্বোত্তম।

আমি একে চারটি পরিচ্ছেদে বিন্যস্ত করেছি:

প্রথম পরিচ্ছেদ: প্লেগ ও মহামারীর প্রকৃত স্বরূপ (حقيقة) ও এর ফজিলত (فضل) এবং এ সংক্রান্ত মাসআলাসমূহ।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: প্লেগ ও মহামারী আক্রান্ত জনপদের বিধানাবলি (أحكام) এবং এ সংক্রান্ত মাসআলাসমূহ।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: প্লেগ ও মহামারী দূরীকরণ ও প্রতিরোধের উপায়সমূহ এবং এ সংক্রান্ত মাসআলাসমূহ।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: মহামারী ও প্লেগ সংশ্লিষ্ট কিছু ফিকহী (فقهية) বিধানাবলি (أحكام)।

 

আবু আব্দুল আজিজ হাইসাম বিন কাসিম আল-হামরি

বাহরাইন রাজ্য —আল্লাহ একে হেফাজত করুন—

বুধবার ৯/ ৭/ ১৪৪১ হিজরি — মোতাবেক ৪/ ৩/ ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

মতামত বা মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ: hq-1991@hotmail.com
(খণ্ড: ১) আল আহকামুশ শারইয়্যাহ আল মুতাআল্লিকাতু বিল ওয়াবাই ওয়াত তউন মাআ দিরাসাতিন ফিকহিয়্যাহ লিল আহকামিল মুতাআল্লিকাতু বি ফাইরুস কুরূনা (পৃষ্ঠা: ৭)
الفصل الأول

في حقيقة الطاعون والوباء

وفضله والمسائل المتعلقة بذلك
প্রথম পরিচ্ছেদ

প্লেগ ও মহামারির স্বরূপ প্রসঙ্গে

এবং এর ফজিলত ও এতদসংশ্লিষ্ট মাসয়ালাসমূহ
(খণ্ড: ১) আল আহকামুশ শারইয়্যাহ আল মুতাআল্লিকাতু বিল ওয়াবাই ওয়াত তউন মাআ দিরাসাতিন ফিকহিয়্যাহ লিল আহকামিল মুতাআল্লিকাতু বি ফাইরুস কুরূনা (পৃষ্ঠা: ৯)
•‌‌ المسألة الأولى: تعريف الطاعون والوباء والفرق بينهما:

اختلف العلماء في تعريف الطاعون وتحديد ماهيته، ولهم في ذلك مسلكان اثنان:

 

‌‌المسلك الأول: تعريف الطاعون بالمرض العام المهلك، وهذا التعريف عام يشمل كل مرض معد واسع الانتشار يؤدي للموت العام، وقد سلك هذا المسلك جمع من العلماء وأهل اللغة، وتنوعت عبارتهم في ذلك:

فمنهم من عبر عنه: بالمرض العام كما فعل ابن الأثير(1)، وابن منظور(2)، وصاحب المصباح المنير(3).

ومنهم من عبر عنه بالوباء، كما فعل الجوهري(4)، وابن الملقن(5)، والكرماني(6)، والقرطبي(7)، والداوودي(8)، والفيروز آبادي(9)، والعيني(10).

--------------------------------------------

(1) النهاية (3/ 127).

(2) لسان العرب (13/ 267).

(3) المصباح المنير (2/ 373).

(4) الصحاح (6/ 2158).

(5) التوضيح (6/ 434).

(6) الكواكب الدراري (5/ 42، 9/ 69).

(7) المفهم (3/ 757).

(8) بذل الماعون (ص: 96).

(9) القاموس المحيط (ص: 1213).

(10) عمدة القاري (5/ 171).
প্রথম মাসআলা: প্লেগ (طاعون) ও মহামারী (وباء)-এর সংজ্ঞা এবং তাদের মধ্যকার পার্থক্য:

প্লেগের (طاعون) সংজ্ঞা এবং এর স্বরূপ নির্ধারণে আলেমগণ মতভেদ করেছেন; এ বিষয়ে তাদের দুটি পথ বা মত রয়েছে:

 

‌‌প্রথম পথ: প্লেগকে (طاعون) ব্যাপক প্রাণঘাতী ব্যাধি হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা। এটি একটি সাধারণ সংজ্ঞা যা প্রতিটি সংক্রামক রোগকে অন্তর্ভুক্ত করে যা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং গণমৃত্যুর কারণ হয়। একদল আলেম ও ভাষাবিদ এই পথ অনুসরণ করেছেন এবং এ বিষয়ে তাদের বর্ণনা বিভিন্ন ধরনের হয়েছে:

তাদের মধ্যে কেউ কেউ একে ‘সাধারণ ব্যাধি’ হিসেবে ব্যক্ত করেছেন, যেমনটি করেছেন ইবনুল আসীর(১), ইবনে মানযুর(২) এবং আল-মিসবাহুল মুনীর-এর লেখক(৩)।

আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ একে মহামারী (وباء) হিসেবে ব্যক্ত করেছেন, যেমনটি করেছেন আল-জাওহারী(৪), ইবনুল মুলাক্কিন(৫), আল-কিরমানী(৬), আল-কুরতুবী(৭), আদ-দাউদী(৮), আল-ফিরোযাবাদী(৯) এবং আল-আইনী(১০)।

--------------------------------------------

(১) আন-নিহায়াহ (৩/ ১২৭)।

(২) লিসানুল আরব (১৩/ ২৬৭)।

(৩) আল-মিসবাহুল মুনীর (২/ ৩৭৩)।

(৪) আস-সিহাহ (৬/ ২১৫৮)।

(৫) আত-তাওদীহ (৬/ ৪৩৪)।

(৬) আল-কাওয়াকিবুদ দুরারি (৫/ ৪২, ৯/ ৬৯)।

(৭) আল-মুফহিম (৩/ ৭৫৭)।

(৮) বাযলুল মাউন (পৃ: ৯৬)।

(৯) আল-কামূসুল মুহীত (পৃ: ১২১৩)।

(১০) উমদাতুল কারী (৫/ ১৭১)।
(খণ্ড: ১) আল আহকামুশ শারইয়্যাহ আল মুতাআল্লিকাতু বিল ওয়াবাই ওয়াত তউন মাআ দিরাসাতিন ফিকহিয়্যাহ লিল আহকামিল মুতাআল্লিকাতু বি ফাইরুস কুরূনা (পৃষ্ঠা: ১০)
وعبر عنه ابن العربي: بالوجع الغالب الذي يطفئ الروح(1).

وقال أبو الوليد الباجي: مرض يعم كثيرًا من الناس في جهة من الجهات … ويكون مرضهم واحدًا(2).

وقال ابن حزم: هو الموت الذي كثر في بعض الأوقات كثرة خارجة عن المعهود(3).

وهذا المسلك هو الذي ارتضاه صاحب عون المعبود(4)، ومال إليه الشيخ ابن عثيمين -رحمه الله تعالى-(5).

 

‌‌المسلك الثاني: تعريف الطاعون بنوع خاص من الأوبئة المعدية القاتلة، وهو ما ينتج عنه القروح والبثور الجلدية، وانتفاخ الغدد وتوهجها، وغالبًا ما تكون هذه الأورام خلف الأذن والآباط واللحوم الرخوة.

وممن سلك هذا المسلك في تعريف الطاعون ابن عبد البر(6)، والنووي(7)،

--------------------------------------------

(1) المسالك في شرح موطأ مالك (3/ 573).

(2) المنتقى شرح الموطأ (7/ 198).

(3) المحلى بالآثار (3/ 403).

(4) عون المعبود وحاشية ابن القيم (8/ 255).

(5) شرح رياض الصالحين (6/ 569).

(6) الاستذكار (3/ 68).

(7) تهذيب الأسماء واللغات (3/ 187).
এবং ইবনে আল-আরাবি এটিকে এভাবে ব্যক্ত করেছেন: এটি এমন প্রবল বেদনা যা প্রাণপ্রদীপ নিভিয়ে দেয়(1)।

আবু আল-ওয়ালিদ আল-বাজি বলেছেন: এটি এমন এক রোগ যা কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের বহু মানুষকে আক্রান্ত করে … এবং তাদের সকলের রোগ একই হয়ে থাকে(2)।

ইবনে হাজম বলেছেন: এটি এমন মৃত্যু যা নির্দিষ্ট কিছু সময়ে স্বাভাবিক সীমার বাইরে ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়(3)।

আর এই মতটিই আওনুল মাবুদ-এর লেখক পছন্দ করেছেন(4) এবং শেখ ইবনে উসাইমিন—রহিমাহুল্লাহ তাআলা—এর প্রতিই ঝুঁকেছেন(5)।

 

‌‌দ্বিতীয় পন্থা: প্লেগকে (الطاعون) এক প্রকার বিশেষ প্রাণঘাতী সংক্রামক মহামারি (الأوبئة) হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা, যার ফলে চামড়ায় ক্ষত ও ফুসকুড়ি সৃষ্টি হয়, গ্রন্থি ফুলে যায় ও জ্বালাপোড়া করে; এবং সাধারণত এই টিউমারগুলো কানের পিছনে, বগলে এবং নরম মাংসে হয়ে থাকে।

যারা প্লেগের (الطاعون) সংজ্ঞায় এই পথ অনুসরণ করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন ইবনে আব্দুল বার(6) এবং আন-নববী(7)।

--------------------------------------------

(1) আল-মাসালিক ফি শারহি মুয়াত্তা মালিক (৩/ ৫৭৩)।

(2) আল-মুন্তাকা শারহুল মুয়াত্তা (৭/ ১৯৮)।

(3) আল-মুহাল্লা বিল আসার (৩/ ৪০৩)।

(4) আওনুল মাবুদ ওয়া হাশিয়াতু ইবনিল কায়্যিম (৮/ ২৫৫)।

(5) শারহু রিয়াদিস সালিহীন (৬/ ৫৬৯)।

(6) আল-ইস্তিযকার (৩/ ৬৮)।

(7) তাহযীবুল আসমা ওয়াল লুগাত (৩/ ১৮৭)।
(খণ্ড: ১) আল আহকামুশ শারইয়্যাহ আল মুতাআল্লিকাতু বিল ওয়াবাই ওয়াত তউন মাআ দিরাসাতিন ফিকহিয়্যাহ লিল আহকামিল মুতাআল্লিকাতু বি ফাইরুস কুরূনা (পৃষ্ঠা: ১১)
والقاضي عياض(1)، وابن القيم(2)، وابن حجر العسقلاني(3)، وابن نجيم المصري(4)، والخرشي المالكي(5)، والزرقاني(6)، والغزالي(7)، والبندنيجي(8)، وإبراهيم الحربي في غريب الحديث(9).

وقد ذكر القاضي عياض(10)، ومثله ابن حجر العسقلاني(11)، وابن حجر الهيتمي(12)، أن الطاعون مع كون حقيقته مختصة بالمرض المذكور إلا أنه قد يطلق على غيره من الأوبئة بطريق المجاز؛ لاشتراكهما في عموم المرض به أو كثرة الموت(13).

وقد جاء في حديث عائشة رضي الله عنها: «فناء أمتي بالطعن والطاعون» قالت: فقلت يا رسول الله! هذا الطعن قد عرفناه، فما الطاعون؟ قال:

--------------------------------------------

(1) إكمال المعلم (7/ 132).

(2) الطب النبوي لابن القيم (ص: 31).

(3) فتح الباري لابن حجر (10/ 180).

(4) ضبط أهل النقل (ص: 4).

(5) شرح مختصر خليل (4/ 155).

(6) شرح الموطأ (1/ 463).

(7) انظر: بذل الماعون (ص 98).

(8) المصدر السابق (ص: 98).

(9) المصدر السابق (ص: 95).

(10) إكمال المعلم (7/ 132).

(11) فتح الباري لابن حجر (10/ 180).

(12) الفتاوى الكبرى (4/ 27).

(13) فتح الباري (10/ 180) الفتاوى الفقهية الكبرى (4/ 27).
কাজী আয়াজ(১), ইবনুল কাইয়্যিম(২), ইবনে হাজার আসকালানি(৩), ইবনে নুজাইম আল-মিসরি(৪), আল-খারাশি আল-মালিকি(৫), আজ-জুরকানি(৬), আল-গাজালি(৭), আল-বানদানিজি(৮) এবং গারিবুল হাদিস গ্রন্থে ইব্রাহিম আল-হারবি(৯)।

কাজী আয়াজ(১০) এবং তাঁর মতো ইবনে হাজার আসকালানি(১১) ও ইবনে হাজার আল-হাইতামি(১২) উল্লেখ করেছেন যে, প্লেগের প্রকৃত সত্তা উল্লিখিত রোগের সাথে সুনির্দিষ্ট হওয়া সত্ত্বেও এটি রূপক (مجاز) অর্থে অন্যান্য মহামারীর ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হতে পারে; যেহেতু উভয়টির মধ্যে ব্যাপক অসুস্থতা বা অধিক মৃত্যুর সাধারণ বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান রয়েছে(১৩)।

আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে: «আমার উম্মতের ধ্বংস হবে বর্শার আঘাত এবং প্লেগ দ্বারা» তিনি বলেন: আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! বর্শার আঘাত তো আমরা জানি, কিন্তু প্লেগ কী? তিনি বললেন:

--------------------------------------------

(১) ইকমালুল মুয়াল্লিম (৭/ ১৩২)।

(২) ইবনুল কাইয়্যিম রচিত আত-তিব আন-নববি (পৃষ্ঠা: ৩১)।

(৩) ইবনে হাজার রচিত ফাতহুল বারি (১০/ ১৮০)।

(৪) দাবতু আহলিন নাকল (পৃষ্ঠা: ৪)।

(৫) শারহু মুখতাসার খলিল (৪/ ১৫৫)।

(৬) শারহুল মুয়াত্তা (১/ ৪৬৩)।

(৭) দেখুন: বাযলুল মাউন (পৃষ্ঠা: ৯৮)।

(৮) পূর্বোক্ত উৎস (পৃষ্ঠা: ৯৮)।

(৯) পূর্বোক্ত উৎস (পৃষ্ঠা: ৯৫)।

(১০) ইকমালুল মুয়াল্লিম (৭/ ১৩২)।

(১১) ইবনে হাজার রচিত ফাতহুল বারি (১০/ ১৮০)।

(১২) আল-ফাতাওয়া আল-কুবরা (৪/ ২৭)।

(১৩) ফাতহুল বারি (১০/ ১৮০), আল-ফাতাওয়া আল-ফিকহিয়্যাহ আল-কুবরা (৪/ ২৭)।
(খণ্ড: ১) আল আহকামুশ শারইয়্যাহ আল মুতাআল্লিকাতু বিল ওয়াবাই ওয়াত তউন মাআ দিরাসাতিন ফিকহিয়্যাহ লিল আহকামিল মুতাআল্লিকাতু বি ফাইরুস কুরূনা (পৃষ্ঠা: ১২)
«غدة كغدة الإبل … »(1).

ووصف النبي صلى الله عليه وسلم للطاعون بغدة كغدة البعير، يؤيد ما ذهب له الفريق الثاني من اختصاص الطاعون بالطاعون المشهور الذي يكون فيه تورم الغدد انتفاخها، ومما يؤيده كذلك: حديث العرباض بن سارية رضي الله عنه: «يختصم الشهداء والمتوفون على فرشهم إلى ربنا عز وجل في الذين يتوفون من الطاعون، فيقول الشهداء: إخواننا قتلوا كما قتلنا، ويقول المتوفون على فرشهم: إخواننا ماتوا على فرشهم كما متنا على فرشنا، فيقول ربنا عز وجل: انظروا إلى جراحهم، فإن أشبهت جراحهم جراح المقتولين، فإنهم منهم ومعهم، فإذا جراحهم قد أشبهت جراحهم»(2)؛ فوصف إصابتهم بالطاعون بالجروح يؤكد كذلك ما ذهب له الفريق الثاني، والله أعلم.

وإذا نظرنا لتعريف أهل الطب والاختصاص للطاعون، نجد أن الأطباء القدامى يعرفون الطاعون بما عرفه به أصحاب القول الثاني، وهو: الأورام والقروح التي تظهر على وجه مخصوص، كما نقل ذلك الذهبي وابن القيم في كتابيهما في الطب النبوي عن أهل الطب(3)، وهذا ما ذكره ابن سينا في كتابه قانون الطب حيث قال: «إذا

--------------------------------------------

(1) أحمد (26182)، صححه الألباني في الإرواء (1638).

(2) أحمد (17159) والنسائي (3164) حسنه الألباني في صحيح الجامع (8046).

(3) انظر: الطب النبوي للذهبي (ص: 265) والطب النبوي لابن القيم (ص: 30).
«উটের পিণ্ডের মতো পিণ্ড … »(১)।

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মহামারীকে উটের পিণ্ডের মতো একটি পিণ্ড হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা দ্বিতীয় দলের গৃহীত এই মতকে সমর্থন করে যে, ‘তাউন’ বা মহামারী বলতে সেই সুপরিচিত বিশেষ মহামারীকেই (প্লেগ) বোঝায় যেখানে শরীরের গ্রন্থি বা গ্ল্যান্ড ফুলে যায়। এ বিষয়টিকে আরও যা সমর্থন করে তা হলো ইরবাদ ইবন সারিয়া (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস: «মহামারীতে মৃত্যুবরণকারীদের বিষয়ে শহীদগণ এবং নিজ বিছানায় মৃত্যুবরণকারীরা আমাদের মহান রবের কাছে বিতর্ক করবে। শহীদগণ বলবেন: 'আমাদের এই ভাইয়েরা সেভাবেই নিহত হয়েছে যেভাবে আমরা নিহত হয়েছি।' আর বিছানায় মৃত্যুবরণকারীরা বলবে: 'আমাদের এই ভাইয়েরা সেভাবেই নিজ বিছানায় মারা গেছে যেভাবে আমরা আমাদের বিছানায় মারা গেছি।' তখন আমাদের মহান রব বলবেন: 'তোমরা তাদের ক্ষতগুলোর দিকে তাকাও। যদি তাদের ক্ষতগুলো নিহতদের ক্ষতের সদৃশ হয়, তবে তারা তাদেরই অন্তর্ভুক্ত এবং তাদের সাথেই থাকবে।' অতঃপর দেখা গেল যে, তাদের ক্ষতগুলো তাদের (শহীদদের) ক্ষতের সদৃশ হয়ে গেছে»(২); সুতরাং মহামারী আক্রান্ত অবস্থাকে ‘ক্ষত’ হিসেবে বর্ণনা করা দ্বিতীয় দলের মতকেই সুনিশ্চিত করে, আল্লাহ ভালো জানেন।

যদি আমরা চিকিৎসাবিদ এবং বিশেষজ্ঞগণের দেওয়া সংজ্ঞার দিকে দৃষ্টিপাত করি, তবে দেখতে পাই যে প্রাচীন চিকিৎসাবিদগণ মহামারীকে সেভাবেই সংজ্ঞায়িত করেছেন যা দ্বিতীয় দলের প্রবক্তারা করেছেন; আর তা হলো: এমন ফোলা বা ক্ষত যা নির্দিষ্টভাবে প্রকাশ পায়। যেমনটি জাহাবি এবং ইবনুল কায়্যিম তাদের ‘তিব্বে নববী’ বিষয়ক গ্রন্থদ্বয়ে চিকিৎসাবিদদের উদ্ধৃতি দিয়ে উল্লেখ করেছেন(৩)। আর এটিই ইবনে সিনা তার ‘কানুন ফিত তিব্ব’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যেখানে তিনি বলেন: «যখন

--------------------------------------------

(১) আহমদ (২৬১৮২), আলবানি একে ইরওয়া (১৬৩৮) গ্রন্থে সহিহ (صحيح) বলেছেন।

(২) আহমদ (১৭১৫৯) ও নাসায়ি (৩১৬৪), আলবানি একে সহিহুল জামি (৮০৪৬) গ্রন্থে হাসান (حسن) বলেছেন।

(৩) দেখুন: জাহাবির তিব্বে নববী (পৃ. ২৬৫) এবং ইবনুল কায়্যিমের তিব্বে নববী (পৃ. ৩০)।
(খণ্ড: ১) আল আহকামুশ শারইয়্যাহ আল মুতাআল্লিকাতু বিল ওয়াবাই ওয়াত তউন মাআ দিরাসাতিন ফিকহিয়্যাহ লিল আহকামিল মুতাআল্লিকাতু বি ফাইরুস কুরূনা (পৃষ্ঠা: ১৩)
وقع الخراج في اللحوم الرخوة والمغابن وخلف الأذنين والأرنبة وكان من جنس فاسد سمي طاعونًا»(1). وذكر ابن سينا أن الطاعون كان يطلق على كل ورم يكون في الأعضاء الغددية اللحم والخالية، ثم أصبح يطلق على كل ورم قتال … يعرض في أكثر الأمر في الأعضاء الضعيفة مثل الآباط والأربية وخلف الأذن(2).

وأما في الطب المعاصر، فإن منظمة الصحة العالمية، وهي أعلى منظمات الصحة الدولية، تعرف الطاعون بأنه: مرض تسببه بكتيريا حيوانية المنشأ تدعى اليرسنية الطاعونية، وينتقل الطاعون عن طريق لدغ البراغيث المصابة أو بالملامسة أو بالرذاذ الخارج من الجهاز التنفسي للمصاب بالطاعون الرئوي.

وفي موقع وزارة الصحة للمملكة العربية السعودية: الطاعون هو مرض معدٍ شديد الخطورة تسببه بكتيريا، وينتقل عن طريق البراغيث؛ حيث كان يعد من الأمراض الوبائية شديدة الانتشار، والذي أودى بحياة الملايين في السابق.

وتجعل منظمة الصحة العالمية للطاعون ثلاثة أشكال رئيسة:

1 - الطاعون العقدي (الدملي أو الدبلي)، وهو ينجم عن لدغة

--------------------------------------------

(1) القانون في الطب (1/ 108).

(2) المصدر السابق (3/ 164).
কোমল মাংসপেশি, কুঁচকি, কানের পেছনের অংশ এবং নাসিকাগ্রে ফোড়া দেখা দেয় এবং এটি এক প্রকার দূষিত অবস্থার অন্তর্ভুক্ত ছিল যাকে প্লেগ বলা হতো»(১)। ইবনে সিনা উল্লেখ করেছেন যে, প্লেগ শব্দটি প্রতিটি ফোড়ার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হতো যা মাংসল এবং ফাঁকা গ্রন্থিযুক্ত অঙ্গসমূহে দেখা দেয়, পরবর্তীতে এটি প্রতিটি প্রাণঘাতী ফোড়ার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হতে শুরু করে … যা অধিকাংশ ক্ষেত্রে বগল, কুঁচকি এবং কানের পেছনের মতো দুর্বল (ضعيفة) অঙ্গগুলোতে দেখা দেয়(২)।

আর আধুনিক চিকিৎসার ক্ষেত্রে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা—যা সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থা—প্লেগকে এভাবে সংজ্ঞায়িত করে যে: এটি এমন একটি রোগ যা 'ইয়ারসিনিয়া পেস্টিস' নামক প্রাণীজাত ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট হয় এবং এটি আক্রান্ত মাছির কামড়, সংস্পর্শ বা ফুসফুসীয় প্লেগে আক্রান্ত ব্যক্তির শ্বাসতন্ত্র থেকে নির্গত ক্ষুদ্র জলীয় কণার মাধ্যমে সংক্রামিত হয়।

সৌদি আরব রাজ্যের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়েছে: প্লেগ হলো একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক সংক্রামক রোগ যা ব্যাকটেরিয়া দ্বারা ঘটে এবং মাছির মাধ্যমে সংক্রামিত হয়; এটি অত্যন্ত দ্রুত বিস্তারকারী মহামারি রোগ হিসেবে বিবেচিত হতো, যা অতীতে লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন কেড়ে নিয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্লেগের তিনটি প্রধান রূপ নির্ধারণ করেছে:

১ - গ্রন্থিযুক্ত প্লেগ (ডামলি বা ডাবলি), যা কামড়ের ফলে সৃষ্টি হয়

--------------------------------------------

(১) আল-কানুন ফিত তিব (১/ ১০৮)।

(২) পূর্বোক্ত উৎস (৩/ ১৬৪)।
(খণ্ড: ১) আল আহকামুশ শারইয়্যাহ আল মুতাআল্লিকাতু বিল ওয়াবাই ওয়াত তউন মাআ দিরাসাতিন ফিকহিয়্যাহ লিল আহকামিল মুতাআল্লিকাতু বি ফাইরুস কুরূনা (পৃষ্ঠা: ১৪)
برغوث مصاب بعدوى المرض وتظهر أعراضه في الجلد بظهور انتفاخات وأورام وقروح، وغالبًا ما تكون تحت الإبطين وأعلى الفخذ وخلف الأذنين والرقبة، وهذا النوع هو الأشهر، وهو المتعارف عليه قديمًا.

2 - الطاعون الدموي تلوث الدم: وهو ينتج عن عدم علاج الطاعون الدبلي، حيث تنتشر العدوى في الدم وينخر الأنسجة ويحول لونها إلى الأسود، وتظهر القروح والأورام.

3 - الطاعون الرئوي: وهو الذي يصيب الرئتين(1).

 

‌‌والخلاصة في أقوالهم في مسألة التفريق بين المرض والوباء والطاعون:

أن أي إصابة في جسم الإنسان تسبب خللًا او اضطرابًا في شيء من وظائفه، تسمى (مرض)، ثم إن هذا المرض قد يقتصر تأثيره على الشخص المصاب وهو (المرض غير المعدي)، وقد يكون معديًا بحيث ينتقل لغيره وهو (المرض المعدي).

وهذا المرض المعدي إما أن يكون انتقاله محدودًا، فينتقل من الفرد المصاب إلى أشخاص محدودين في نطاق محدود على الوجه

--------------------------------------------

(1) راجع: الموقع الرسمي لمنظمة الصحة العالمية على الشبكة العنكبوتية، والمحتوى التثقيفي في الموقع الرسمي لوزارة الصحة في المملكة العربية السعودية، وانظر كذلك: بذل الماعون في فضل الطاعون (92 - 100) مع مقدمة المحقق ص: (22 - 23) ودائرة معارف القرن العشرين (5/ 737).
একটি মাছি বা কীটপতঙ্গ রোগের সংক্রমণে আক্রান্ত হয় এবং এর উপসর্গসমূহ ত্বকে স্ফীতি, টিউমার ও ক্ষতের আকারে প্রকাশ পায়। এগুলো সাধারণত বগল, উরুর উপরিভাগ, কানের লতি এবং ঘাড়ের পেছনে দেখা দেয়। এটিই সবচেয়ে পরিচিত প্রকার এবং প্রাচীনকাল থেকেই এটি সুপরিচিত।

২ - রক্তঘটিত প্লেগ (الطاعون الدموي) বা রক্তের দূষণ: এটি গ্রন্থিযুক্ত প্লেগের (الطاعون الدبلي) যথাযথ চিকিৎসা না করার ফলে সৃষ্টি হয়, যেখানে সংক্রমণ রক্তে ছড়িয়ে পড়ে এবং শরীরের টিস্যু বা কলাগুলোকে নষ্ট করে দেয় ও সেগুলোর রঙ কালো করে ফেলে এবং শরীরে ক্ষত ও টিউমার দেখা দেয়।

৩ - ফুসফুসীয় প্লেগ (الطاعون الرئوي): এটি এমন প্রকার যা ফুসফুসকে আক্রান্ত করে(১)।

 

‌‌ব্যাধি (المرض), মহামারি (الوباء) এবং প্লেগের (الطاعون) মধ্যে পার্থক্যের বিষয়ে তাঁদের বক্তব্যের সারসংক্ষেপ:

মানুষের শরীরে এমন যে কোনো আঘাত বা সংক্রমণ যা তার শারীরিক কার্যাবলীর কোনো একটিতে বিঘ্ন বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, তাকে ব্যাধি (مرض) বলা হয়। অতঃপর এই ব্যাধির প্রভাব কখনও কেবল আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, যা হলো অসংক্রামক ব্যাধি (المرض غير المعدي); আবার কখনও এটি সংক্রামক হতে পারে যাতে তা অন্যের কাছে স্থানান্তরিত হয়, যা হলো সংক্রামক ব্যাধি (المرض المعدي)।

আর এই সংক্রামক ব্যাধিটির (المرض المعدي) সংক্রমণ কখনও সীমিত পরিসরে হতে পারে, ফলে তা আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে নির্দিষ্ট সীমানার মধ্যে সীমিত সংখ্যক মানুষের কাছে এই পদ্ধতিতে স্থানান্তরিত হয়...

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: ইন্টারনেটে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, সৌদি আরবের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের শিক্ষামূলক বিষয়বস্তু; আরও দেখুন: বাযলুল মাঊন ফী ফাদলিত তাঊন (৯২-১০০) সহ মুহাক্কিকের ভূমিকা পৃষ্ঠা: (২২-২৩) এবং দাইরাতুল মাআরিফ আল-কারন আল-ইশরিন (৫/৭৩৭)।
(খণ্ড: ১) আল আহকামুশ শারইয়্যাহ আল মুতাআল্লিকাতু বিল ওয়াবাই ওয়াত তউন মাআ দিরাসাতিন ফিকহিয়্যাহ লিল আহকামিল মুতাআল্লিকাতু বি ফাইরুস কুরূনা (পৃষ্ঠা: ১৫)
المعتاد، وإما أن يكون انتشاره سريعًا وواسعًا ويتفشى في المجتمع على خلاف العادة، فهذا الأخير هو الذي يعبر عنه أهل اللغة والطب بـ (الوباء)(1)، ثم إن انضاف لهذا الوباء أن يكون مع سعة انتشاره قاتلًا مميتًا، فهذا ما يرى كثير من أهل اللغة والفقه أنه يسمى (طاعونًا)، بينما يرى فريق آخر من العلماء وأهل اللغة أن الطاعون نوع خاص من أنواع الأوبئة الفتاكة، وهو ما ينتج عنه قروح وأورام رديئة تخرج على وجه مخصوص، فليس كل وباء فتاك يعتبر طاعونًا في اصطلاحهم.

وهذا القول في وجهة نظر الباحث هو الأقوى؛ وذلك لورود النص الشرعي الواضح في تفسير الطاعون به، كما سبق بيانه، قال ابن عبد البر رحمه الله: «وأما قوله: «المطعون شهيد» فهو الذي يموت في الطاعون، وقد جاء تفسير الطاعون في حديث عائشة قالت قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إن فناء أمتي بالطعن والطاعون» قالت: أما الطعن فقد عرفناه، فما الطاعون؟ قال: «غدة كغدة البعير تخرج في المراق والآباط من مات منه مات شهيدًا»(2).

وبناء على الاختلاف في نظرة العلماء لمفهوم الطاعون، وقع

--------------------------------------------

(1) انظر في تعريف الوباء: العين (8/ 418) المحيط (2/ 85) النهاية (5/ 144) التعريفات (ص: 35) لسان العرب (1/ 189) مفاتيح العلوم (ص: 190) المجموع المغيث (3/ 377) معجم لغة الفقهاء (ص: 498) مختار الصحاح (ص: 332).

(2) الاستذكار (3/ 69).
সাধারণ এবং স্বাভাবিক পরিস্থিতির বাইরে যদি কোনো রোগের বিস্তার দ্রুত ও ব্যাপক হয় এবং অস্বাভাবিকভাবে সমাজে ছড়িয়ে পড়ে, তবে এই শেষোক্ত অবস্থাকেই ভাষাবিদ এবং চিকিৎসা বিশেষজ্ঞগণ 'মহামারি' (الوباء)(1) হিসেবে অভিহিত করেন। অতঃপর এই মহামারির সাথে যদি ব্যাপক বিস্তারের পাশাপাশি মরণঘাতী হওয়ার বৈশিষ্ট্য যুক্ত হয়, তবে অনেক ভাষাবিদ এবং ফকিহগণের মতে একে 'প্লেগ' (طاعون) বলা হয়। অন্যদিকে একদল আলেম ও ভাষাবিদ মনে করেন যে, প্লেগ (طاعون) হলো এক বিশেষ ধরনের প্রাণঘাতী মহামারি, যার ফলে নির্দিষ্ট এক পদ্ধতিতে শরীরে ক্ষতিকর ক্ষত এবং টিউমার বা ফোলাভাব দেখা দেয়। সুতরাং তাদের পরিভাষায় (اصطلاح) প্রতিটি প্রাণঘাতী মহামারিই প্লেগ (طاعون) নয়।

গবেষকের দৃষ্টিতে এই অভিমতটিই অধিক শক্তিশালী; কারণ প্লেগের ব্যাখ্যায় সুস্পষ্ট শারয়ী বর্ণনা (نص) বিদ্যমান রয়েছে, যা পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। ইবনে আব্দুল বার (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "আর তাঁর (রাসূলের) এই বাণী—'প্লেগ আক্রান্ত ব্যক্তি শহীদ (شهيد)' বলতে তাকেই বোঝায় যে প্লেগ (طاعون) রোগে মৃত্যুবরণ করে। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বর্ণিত একটি হাদিসে প্লেগের ব্যাখ্যা এসেছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: 'আমার উম্মতের বিনাশ হবে বর্শার আঘাত এবং প্লেগের (طاعون) মাধ্যমে।' আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বললেন: 'বর্শার আঘাত তো আমরা জানি, কিন্তু প্লেগ (طاعون) কী?' তিনি বললেন: 'এটি উটের কুঁজের মতো এক প্রকার গ্রন্থি বা পিণ্ড, যা কুঁচকি ও বগলে নির্গত হয়। যে ব্যক্তি এতে মারা যাবে, সে শহীদ (شهيد) হিসেবে গণ্য হবে'।"(2)।

প্লেগের ধারণা নিয়ে উলামায়ে কেরামের এই ভিন্নমতের প্রেক্ষিতে...

--------------------------------------------

(1) মহামারির (الوباء) সংজ্ঞার জন্য দেখুন: আল-আইন (৮/ ৪১৮), আল-মুহিত (২/ ৮৫), আন-নিহায়া (৫/ ১৪৪), আত-তারিফাত (পৃ. ৩৫), লিসানুল আরব (১/ ১৮৯), মাফাতিহুল উলুম (পৃ. ১৯০), আল-মাজমু আল-মুগিস (৩/ ৩৭৭), মুজামু লুগাতিল ফুকাহা (পৃ. ৪৯৮), মুখতারুস সিহাহ (পৃ. ৩৩২)।

(2) আল-ইস্তিজকার (৩/ ৬৯)।
(খণ্ড: ১) আল আহকামুশ শারইয়্যাহ আল মুতাআল্লিকাতু বিল ওয়াবাই ওয়াত তউন মাআ দিরাসাতিন ফিকহিয়্যাহ লিল আহকামিল মুতাআল্লিকাতু বি ফাইরুস কুরূনা (পৃষ্ঠা: ১৬)
الاختلاف في تنزيل الأحكام الشرعية الواردة في الطاعون على كثير من الأمراض الفتاكة التي تنتشر بين الناس.

 

•‌‌ المسألة الثانية: هل فيروس كورونا يعتبر طاعونًا:

بناء على ما تقدم من الاختلاف في تعريف الطاعون، يقع الخلاف في تصنيف (فيروس الكورونا) وغيره من الأوبئة المنتشرة هل تعد طاعونًا أم لا؟ وقد ذهب إلى أن (فيروس كورونا) في حكم الطاعون فضيلة الشيخ عبد العزيز آل الشيخ المفتي العام للمملكة العربية السعودية، وفضيلة الشيخ عبد المحسن العباد البدر، وفضيلة الشيخ سليمان الرحيلي حفظهم الله جميعا، وسبق أن أفتى فضيلة الشيخ عبد المحسن العبيكان في وباء أنفلونزا الخنازير بأنه في حكم الطاعون ومن مات فيه من أهل الإسلام كان شهيدًا، وإذا رجحنا هذا القول ونظرنا لما ذكره أهل الطب المعاصر في أشكال الطاعون فإن فيروس كورونا النازل يشبه أن يكون من النوع الثالث من أنواع الطاعون، ألا وهو الطاعون الرئوي، والله أعلم.

على أن الأظهر من أقوال أهل العلم كما سبق بيانه أن الطاعون نوع خاص من أنواع الأوبئة، ولا تنطبق أوصافه على فيروس كورونا المعاصر، كما جاء وصفه في السنة النبوية: «غدة كغدة البعير»، ويؤكد هذا ما ذُكِرَ من دخول هذا الفيروس إلى المدينة النبوية قبل عدة سنين، وسيأتي بيان أن من خصائص الطاعون عدم دخول المدينة المنورة، والله أعلم.
মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া অনেক মারাত্মক ব্যাধির ওপর প্লেগ (طاعون) সংক্রান্ত শরয়ী বিধানাবলি প্রয়োগের ক্ষেত্রে মতভেদ।

 

•‌‌ দ্বিতীয় মাসআলা: করোনাভাইরাস কি প্লেগ (طاعون) হিসেবে গণ্য হবে:

প্লেগ (طاعون)-এর সংজ্ঞার ক্ষেত্রে ইতোপূর্বে উল্লিখিত মতভেদের ওপর ভিত্তি করে, করোনাভাইরাস এবং অন্যান্য ছড়িয়ে পড়া মহামারিগুলোকে প্লেগ (طاعون) হিসেবে গণ্য করা হবে কি না, সে বিষয়ে শ্রেণিবিভাগে মতভেদ তৈরি হয়েছে। সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতি শায়খ আব্দুল আজিজ আল-শায়খ, শায়খ আব্দুল মুহসিন আল-আব্বাদ আল-বদর এবং শায়খ সুলাইমান আর-রুহাইলি (আল্লাহ তাঁদের সকলকে হিফাজত করুন) এই মত পোষণ করেছেন যে, করোনাভাইরাস প্লেগ (طاعون)-এর বিধানের অন্তর্ভুক্ত। এর আগে শায়খ আব্দুল মুহসিন আল-উবাইকান সোয়াইন ফ্লু মহামারি সম্পর্কে ফতোয়া দিয়েছিলেন যে, এটি প্লেগ (طاعون)-এর বিধানের অন্তর্ভুক্ত এবং এতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারী মুসলিম ব্যক্তি শহীদ (شهيد) হিসেবে গণ্য হবেন। আমরা যদি এই মতটিকে অগ্রাধিকার দেই এবং সমসাময়িক চিকিৎসাবিদদের বর্ণিত প্লেগের বিভিন্ন রূপের দিকে লক্ষ্য করি, তবে বর্তমান করোনাভাইরাস প্লেগের প্রকারভেদের মধ্যে তৃতীয় প্রকার অর্থাৎ নিউমোনিক প্লেগ (الطاعون الرئوي)-এর সদৃশ বলে মনে হয়, আল্লাহই ভালো জানেন।

তবে আলেমদের উক্তিগুলোর মধ্যে অধিকতর স্পষ্ট (الأظهر) মত হলো—যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে—প্লেগ (طاعون) হলো মহামারিগুলোর একটি বিশেষ প্রকার, এবং এর বৈশিষ্ট্যগুলো বর্তমান করোনাভাইরাসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। যেমন সুন্নাহতে এর বর্ণনা এসেছে: "উটের গ্রন্থি ফোলা রোগের মতো এক প্রকার গ্রন্থি।" এর সত্যতা নিশ্চিত করে কয়েক বছর আগে এই ভাইরাসের মদিনা মুনাওয়ারায় প্রবেশের সংবাদ। আর প্লেগ (طاعون)-এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো যে এটি মদিনা মুনাওয়ারায় প্রবেশ করবে না, যা সামনে বিস্তারিত বর্ণিত হবে। আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) আল আহকামুশ শারইয়্যাহ আল মুতাআল্লিকাতু বিল ওয়াবাই ওয়াত তউন মাআ দিরাসাতিন ফিকহিয়্যাহ লিল আহকামিল মুতাআল্লিকাতু বি ফাইরুস কুরূনা (পৃষ্ঠা: ১৭)
•‌‌ المسألة الثالثة: الطاعون وخز أعدائنا من الجن:

جاء في حديث أبي موسى الأشعري رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «فناء أمتي بالطعن والطاعون». فقيل: يا رسول الله! هذا الطعن قد عرفناه، فما الطاعون؟ قال: «وخز أعدائكم من الجن، وفي كل شهداء»(1)، والوخز: طعن غير نافذ.

وقد ذهب بعض أهل العلم إلى أن الطاعون منه ما يكون بسبب الجن، ومنه نوع آخر يكون بسبب الأدواء والتغيرات الطبيعية(2)، وذهب ابن حجر للجمع بين الأمرين فأصله من الجن وينتج عنه التغيرات الظاهرة في البدن(3).

قال ابن القيم: «وهذه العلل والأسباب ليس عند الأطباء ما يدفعها، كما ليس عندهم ما يدل عليها، والرسل تخبر بالأمور الغائبة»(4).

--------------------------------------------

(1) أحمد (19528)، وصححه الألباني الإرواء (1637).

(2) انظر: بذل الماعون (ص: 106 - 107) ونسب هذا القول للكلاباذي في معاني الأخبار.

(3) انظر: المصدر السابق (ص: 108)

(4) زاد المعاد في هدي خير العباد (4/ 36): وقال رحمه الله: «في كون الطاعون وخز أعدائنا الجن حكمة بالغة، فإن أعداءنا منهم شياطينهم، وأما أهل الطاعة منهم فهم إخواننا، والله أمرنا بمعاداة أعدائنا من الجن والإنس، وأن نحاربهم طلبًا لمرضاته، فأبى أكثر الناس إلا مسالمتهم، فسلطهم عليهم عقوبة لهم، حيث استجابوا لهم حين أغووهم وأمروهم بالمعاصي والفجور والفساد في الأرض فأطاعوهم، فاقتضت الحكمة أن يسلطهم عليهم بالطعن فيهم، كما سلّط عليهم أعداءهم من الإنس، حيث أفسدوا في الأرض ونبذوا كتاب الله وراء ظهورهم، فهذه ملحمة من الإنس، والطاعون ملحمة من الجن، و كل منهما بتسليط العزيز الحكيم، عقوبة لمن يستحق العقوبة، وشهادة ورحمة لمن هو أهل لها، وهذه سُنة الله في العقوبات؛ تقع عامة فتكون طهرًا للمؤمنين وانتقامًا من الفاجرين» ا. هـ نقلًا عن بذل الماعون (ص: 153).
‌ তৃতীয় মাসআলা: প্লেগ হলো জিনদের মধ্য থেকে আমাদের শত্রুদের বিঁধানো (وخز):

আবু মুসা আল-আশআরি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «আমার উম্মতের ধ্বংস হবে বর্শার আঘাত এবং প্লেগের মাধ্যমে।» তখন জিজ্ঞাসা করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল! এই বর্শার আঘাত তো আমরা জানি, কিন্তু প্লেগ কী? তিনি বললেন: «তোমাদের শত্রুদের মধ্য থেকে জিনদের বিঁধানো (وخز), এবং এর প্রত্যেকটিতে শহিদ (شهداء) হওয়ার মর্যাদা রয়েছে»(১)। আর 'আল-ওয়াখজ' (وخز) হলো এমন এক প্রকার আঘাত যা শরীর ভেদ করে যায় না।

কিছু আলেম এই মত পোষণ করেছেন যে, প্লেগের কোনো কোনো প্রকার জিনের কারণে হয়ে থাকে এবং অন্য প্রকারটি শারীরিক ব্যাধি ও প্রাকৃতিক পরিবর্তনের কারণে হয়ে থাকে(২)। ইবনে হাজার উভয় মতের মধ্যে সমন্বয় করতে গিয়ে বলেছেন যে, এর মূল উৎস জিন থেকে এবং এর ফলে শরীরে দৃশ্যমান পরিবর্তন সৃষ্টি হয়(৩)।

ইবনুল কাইয়্যিম বলেন: «এই সকল ব্যাধি ও কারণগুলো প্রতিরোধ করার মতো সামর্থ্য চিকিৎসকদের নেই, যেমনটি তাদের কাছে এগুলো প্রমাণ করার মতো কোনো দলিলও নেই; আর রাসূলগণ অদৃশ্যের বিষয়সমূহ সম্পর্কে সংবাদ প্রদান করেন»(৪)।

--------------------------------------------

(১) আহমদ (১৯৫২৮), এবং আলবানী একে সঠিক (صحيح) বলেছেন, আল-ইরওয়া (১৬৩৭)।

(২) দেখুন: বাযলুল মাউন (পৃ: ১০৬ - ১০৭) এবং এই বক্তব্যটি মাআনী আল-আখবার গ্রন্থে কিলাবাদীর প্রতি নিসবত করা হয়েছে।

(৩) দেখুন: পূর্বোক্ত উৎস (পৃ: ১০৮)।

(৪) যাদুল মাআদ ফী হাদয়ি খায়রিল ইবাদ (৪/ ৩৬): তিনি (রহিমাহুল্লাহ) আরও বলেন: «প্লেগ আমাদের শত্রু জিনদের বিঁধানো (وخز) হওয়ার মধ্যে এক সুগভীর প্রজ্ঞা (حكمة) রয়েছে; কেননা তাদের মধ্য থেকে আমাদের শত্রু হলো তাদের শয়তানরা, আর তাদের মধ্যে যারা অনুগত তারা আমাদের ভাই। আল্লাহ আমাদেরকে জিন ও মানুষের মধ্য থেকে আমাদের শত্রুদের সাথে শত্রুতা করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তাদের সাথে আপস করা ছাড়া আর কিছু করতে অস্বীকার করেছে। ফলে আল্লাহ তাদের ওপর শাস্তি হিসেবে জিনদের চাপিয়ে দিয়েছেন, যেহেতু তারা শয়তানের আহ্বানে সাড়া দিয়েছে যখন তারা তাদের বিভ্রান্ত করেছিল এবং পাপাচার ও পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টির আদেশ দিয়েছিল, আর তারা তাদের আনুগত্য করেছিল। ফলে আল্লাহর প্রজ্ঞা (حكمة) এটিই দাবি করে যে, তিনি তাদের ওপর জিনদের আঘাত করার ক্ষমতা দান করবেন, যেমনটি তিনি তাদের ওপর মানুষ শত্রুদের ক্ষমতা দিয়েছিলেন যখন তারা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করেছিল এবং আল্লাহর কিতাবকে তাদের পিছনে ফেলে দিয়েছিল। সুতরাং এটি হলো মানুষের পক্ষ থেকে লড়াই (ملحمة) আর প্লেগ হলো জিনদের পক্ষ থেকে লড়াই (ملحمة); আর এগুলোর প্রতিটিই পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাবান (حكيم) আল্লাহর পক্ষ থেকে কর্তৃত্ব প্রদানের মাধ্যমে ঘটে। যারা শাস্তির যোগ্য তাদের জন্য এটি শাস্তি স্বরূপ, আর যারা এর উপযুক্ত তাদের জন্য এটি শাহাদাত (شهادة) ও রহমত। আর শাস্তির ক্ষেত্রে এটি আল্লাহর একটি চিরাচরিত নিয়ম (سنة); যা ব্যাপকভাবে আপতিত হয় এবং মুমিনদের জন্য পবিত্রতা এবং পাপাচারীদের জন্য প্রতিশোধ স্বরূপ হয়ে থাকে»। সমাপ্ত। বাযলুল মাউন (পৃ: ১৫৩) থেকে উদ্ধৃত।
(খণ্ড: ১) আল আহকামুশ শারইয়্যাহ আল মুতাআল্লিকাতু বিল ওয়াবাই ওয়াত তউন মাআ দিরাসাতিন ফিকহিয়্যাহ লিল আহকামিল মুতাআল্লিকাতু বি ফাইরুস কুরূনা (পৃষ্ঠা: ১৮)
وقد جعل المفرقون بين الطاعون والوباء هذا الأمر من خصائص الطاعون، فالأوبئة تكون من الأسباب الظاهرة، بخلاف الطاعون فهو من وخز أعدائنا من الجن.

 

•‌‌ المسألة الرابعة: منشأ الطاعون:

عن أسامة رضي الله عنه قال النبي صلى الله عليه وسلم: «إن هذا الوجع رجز أو عذاب أو بقية عذاب عذب به أناس من قبلكم»(1)، وفي رواية أخرجها الشيخان: «رجس أرسل على طائفة من بني إسرائيل»(2)، وفي رواية عند الشيخين: «ثم بقي بعد بالأرض، فيذهب المرة ويأتي الأخرى»، وفي رواية عند مسلم: «الطاعون آية الرجز، ابتلى الله عز وجل به ناسًا من عباده».

والرجز: العقوبة والعذاب، وذلك يكون بسبب الذنوب، وأعظم أسبابه ظهور الفواحش والمعاصي فعن ابن عمر رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لم تظهر الفاحشة في قوم قط حتى يعلنوا بها إلا فشا فيهم الطاعون والأوجاع التي لم تكن مضت في أسلافهم»(3)، وهذا عام في الوباء والطاعون(4).

--------------------------------------------

(1) متفق عليه.

(2) متفق عليه.

(3) ابن ماجه (4019)، وصححه الألباني في السلسلة (106).

(4) قال ابن نجيم: «ولعل حكمته أن الزنا لما كان في السر، سلط الله عليهم عدوا في السر، يقتلهم من حيث لا يرونه، وقاعدة العدل أنه إذا نزل بهم البلاء يعم المستحق وغيره، ثم يبعثون على نياتهم».
যারা প্লেগ (الطاعون) এবং মহামারীর (الوباء) মধ্যে পার্থক্য করেছেন, তারা একে প্লেগের (الطاعون) স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য হিসেবে গণ্য করেছেন। কারণ মহামারীসমূহ প্রকাশ্য কারণগুলোর অন্তর্ভুক্ত, পক্ষান্তরে প্লেগ (الطاعون) হলো আমাদের শত্রু জিনদের খোঁচা।

 

•‌‌ চতুর্থ মাসআলা: প্লেগের (الطاعون) উৎস:

উসামা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই এই ব্যাধিটি একটি আজাব (رجز) বা শাস্তি অথবা শাস্তির অবশিষ্টাংশ, যার মাধ্যমে তোমাদের পূর্ববর্তী একদল মানুষকে শাস্তি দেওয়া হয়েছিল»(১)। শাইখাইন (বুখারি ও মুসলিম) কর্তৃক বর্ণিত অন্য এক বর্ণনাতে (رواية) রয়েছে: «এটি একটি অপবিত্রতা (رجس) যা বনী ইসরাঈলের এক দলের উপর পাঠানো হয়েছিল»(২)। শাইখাইনের অপর একটি বর্ণনাতে (رواية) আছে: «অতঃপর তা পৃথিবীতে অবশিষ্ট থেকে যায়, ফলে তা মাঝেমধ্যে চলে যায় এবং অন্য সময়ে পুনরায় ফিরে আসে»। মুসলিমের এক বর্ণনাতে (رواية) আছে: «প্লেগ (الطاعون) হলো আজাবের (الرجز) নিদর্শন, যার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে কিছু মানুষকে পরীক্ষা করেন»।

আর 'রিজজ' (الرجز) হলো দণ্ড ও শাস্তি, যা গুনাহের কারণে হয়ে থাকে। এর সবচেয়ে বড় কারণ হলো অশ্লীলতা ও পাপাচারের প্রকাশ। ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যখন কোনো সম্প্রদায়ের মধ্যে অশ্লীলতা প্রকাশ পায় এমনকি তারা তা প্রকাশ্যে করতে থাকে, তখন তাদের মধ্যে প্লেগ (الطاعون) এবং এমন সব দুরারোগ্য ব্যাধি ছড়িয়ে পড়ে যা তাদের পূর্বপুরুষদের মাঝে ছিল না»(৩)। আর এটি মহামারী (الوباء) এবং প্লেগ (الطاعون) উভয় ক্ষেত্রেই সাধারণ নিয়ম(৪)।

--------------------------------------------

(১) ঐকমত্যপূর্ণ (متفق عليه)।

(২) ঐকমত্যপূর্ণ (متفق عليه)।

(৩) ইবনে মাজাহ (৪০১৯), এবং আলবানী একে সহিহ (صححه) হিসেবে গণ্য করেছেন আস-সিলসিলাহ (১০৬) গ্রন্থে।

(৪) ইবনে নুজাইম বলেন: «সম্ভবত এর হিকমত এই যে, জিনা (ব্যভিচার) যেহেতু গোপনে সংঘটিত হয়, তাই আল্লাহ তাদের ওপর গোপন এক শত্রু চাপিয়ে দেন, যে তাদের এমনভাবে হত্যা করে যা তারা দেখতে পায় না। আর ইনসাফের নিয়ম হলো, যখন তাদের ওপর বিপদ নাজিল হয় তা অপরাধী ও নিরপরাধী নির্বিশেষে সবাইকে গ্রাস করে, অতঃপর তারা তাদের নিয়ত অনুযায়ী পুনরুত্থিত হবে»।
(খণ্ড: ১) আল আহকামুশ শারইয়্যাহ আল মুতাআল্লিকাতু বিল ওয়াবাই ওয়াত তউন মাআ দিরাসাতিন ফিকহিয়্যাহ লিল আহকামিল মুতাআল্লিকাতু বি ফাইরুস কুরূনা (পৃষ্ঠা: ১৯)
•‌‌ المسألة الخامسة: الحكمة من الطاعون:

الطاعون عذاب وعقوبة للكفار والعصاة، ورحمة لعباد الله المؤمنين يمحو الله به خطاياهم ويرفع به درجاتهم، وهو سبب لعودة العباد إلى ربهم، وإقبالهم على إصلاح أنفسهم، والإكثار من الصالحات والابتعاد عن السيئات، ويكرم الله من مات فيه من أهل الإيمان بالشهادة، قال صلى الله عليه وسلم: «فالطاعون شهادة لأمتي، ورحمة، ورجس على الكافر»(1)، وتشترك سائر الأوبئة مع الطاعون في هذه الحكم والغايات.

 

•‌‌ المسألة السادسة: فضل من مات بسبب الطاعون:

في حديث أنس رضي الله عنه: «الطاعون شهادة لكل مسلم»(2)، وفي حديث أبي هريرة رضي الله عنه: «المبطون شهيد، والمطعون شهيد»(3).

وشرط الشهادة أن يكون المرء في مرضه صابرا محتسبا كما في البخاري من حديث عائشة رضي الله عنه: «ما من عبد يكون في بلد يكون فيه، ويمكث فيه لا يخرج من البلد، صابرًا محتسبًا، يعلم أنه لا يصيبه إلا

--------------------------------------------

(1) أحمد (20767) وصححه الألباني في السلسلة (761) والوادعي في الصحيح المسند (1239).

(2) متفق عليه.

(3) البخاري.
•‌‌ পঞ্চম মাসআলা: প্লেগ রোগের হিকমত (প্রজ্ঞা):

প্লেগ কাফের ও পাপাচারীদের জন্য আযাব ও শাস্তি স্বরূপ, এবং আল্লাহর মুমিন বান্দাদের জন্য রহমত স্বরূপ; এর মাধ্যমে আল্লাহ তাদের গুনাহসমূহ মোচন করেন এবং তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করেন। এটি বান্দাদের তাদের রবের দিকে ফিরে আসা, নিজেদের সংশোধনে মনোনিবেশ করা, নেক আমল বৃদ্ধি করা এবং পাপাচার থেকে দূরে থাকার একটি কারণ। আল্লাহ তাআলা প্লেগ আক্রান্ত হয়ে মৃত মুমিনদের শাহাদাত (شهادة)-এর মর্যাদা দান করেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "প্লেগ আমার উম্মতের জন্য শাহাদাত (شهادة) ও রহমত এবং কাফেরদের জন্য শাস্তি।"(১) অন্যান্য মহামারিগুলোও এই হিকমত ও উদ্দেশ্যের ক্ষেত্রে প্লেগ রোগের পর্যায়ভুক্ত।

 

•‌‌ ষষ্ঠ মাসআলা: প্লেগ রোগের কারণে মৃত ব্যক্তির মর্যাদা:

আনাস (রা.) বর্ণিত হাদিসে আছে: "প্লেগ প্রত্যেক মুসলিমের জন্য শাহাদাত (شهادة)।"(২) এবং আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিসে আছে: "পেটের রোগে মৃত ব্যক্তি শহীদ (شهيد) এবং প্লেগ রোগে মৃত ব্যক্তি শহীদ (شهيد)।"(৩)

শাহাদাত (شهادة)-এর শর্ত হলো—অসুস্থ অবস্থায় ব্যক্তিকে ধৈর্যশীল ও সওয়াবের প্রত্যাশী হতে হবে, যেমনটি বুখারি শরিফে আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে: "কোনো বান্দা যদি এমন কোনো জনপদে থাকে যেখানে প্লেগের প্রাদুর্ভাব ঘটেছে, আর সে ব্যক্তি শহর ত্যাগ না করে সেখানেই অবস্থান করে, ধৈর্যশীল ও সওয়াবের প্রত্যাশী হয়ে এবং এই বিশ্বাস রেখে যে, তাকে কেবল তা-ই স্পর্শ করবে যা...

--------------------------------------------

(১) আহমাদ (২০৭৬৭) এবং আলবানী একে সহিহ (صححه) বলেছেন সিলসিলাহ (৭৬১) গ্রন্থে এবং ওয়াদিয়ি সহিহ আল-মুসনাদ (১২৩৯) গ্রন্থে।

(২) মুত্তাফাকুন আলাইহি (متفق عليه)।

(৩) বুখারি।
(খণ্ড: ১) আল আহকামুশ শারইয়্যাহ আল মুতাআল্লিকাতু বিল ওয়াবাই ওয়াত তউন মাআ দিরাসাতিন ফিকহিয়্যাহ লিল আহকামিল মুতাআল্লিকাতু বি ফাইরুস কুরূনা (পৃষ্ঠা: ২০)
ما كتب الله له، إلا كان له مثل أجر شهيد»(1).

وهل ينطبق هذا على الموتى بفيروس كورونا ونحوه كأنفلونزا الطيور والخنازير؟ مسألة تبنى على الخلاف في مفهوم الطاعون الوارد في النصوص، على أن الشيخ ابن عثيمين رحمه الله نص على أن الطاعون سواء قيل إنه وباء معين، أو كل وباء عام مثل الكوليرا وغيرها، فإن من مات به يكتب له أجر الشهيد، إن مات صابرًا محتسبًا(2)، والذي يبدو أن مثل هذا الحكم الغيبي يحتاج إلى نص، والنص جاء خاصًا بالطاعون، وعليه فلا يشمل هذا سائر الأوبئة المشار إليها، لعدم الدليل على ذلك، ومثل هذا الأمر لا يدخله القياس فلا يتأتى الحكم عليهم بالشهادة إلا على مذهب من لا يفرق بين الوباء والطاعون، أو في حالة أن يلتحق بالوباء سبب آخر يدخل صاحبه في أصناف الشهداء، كأن ينتج عنه إصابة ذات الجنب أو البطن أو السل، فهذه الأصناف جاءت النصوص بحكم الشهادة لأصحابها، وقد نص ابن حجر الهيتمي على أن الميت بالوباء المجرد من غير الطاعون ليس بشهيد(3)، والله أعلم.

تنبيه: شهادة المطعون شهادة أخروية، وأما في الدنيا فيعامل معاملة سائر الموتى فيغسل ويصلى عليه(4).

--------------------------------------------

(1) البخاري.

(2) انظر: شرح رياض الصالحين (1/ 233).

(3) الفتاوى الفقهية الكبرى (1/ 141).

(4) صحيح مسلم بشرح النووي (13/ 63) عمدة القاري (21/ 261).
আল্লাহ তার জন্য যা লিখে রেখেছেন তা ব্যতীত কোনো কিছু ঘটে না, তবে তার জন্য শহীদের (شهيد) অনুরূপ সওয়াব বরাদ্দ থাকে।(1)

আর করোনা ভাইরাসের মতো ভাইরাস কিংবা বার্ড ফ্লু ও সোয়াইন ফ্লুতে আক্রান্ত হয়ে মৃত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও কি এটি প্রযোজ্য হবে? বিষয়টি দলিলসমূহে (النصوص) বর্ণিত প্লেগের (الطاعون) সংজ্ঞার মধ্যকার মতপার্থক্যের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়। তবে শায়খ ইবনে উসাইমিন (রহ.) স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, প্লেগ (الطاعون) বলতে কোনো নির্দিষ্ট মহামারী বলা হোক অথবা কলেরা বা অন্যান্য সাধারণ মহামারীর (وباء) মতো যে কোনো সাধারণ মহামারী বলা হোক, যে ব্যক্তি এতে ধৈর্য ধারণ করে এবং সওয়াবের আশায় মৃত্যুবরণ করবে, তার জন্য শহীদের (شهيد) সওয়াব লিপিবদ্ধ করা হবে।(2) কিন্তু যা প্রতীয়মান হয় তা হলো, এ জাতীয় গায়বি বিধানের জন্য স্পষ্ট দলিলের (نص) প্রয়োজন, আর দলিলটি (النص) বিশেষভাবে প্লেগের (الطاعون) ব্যাপারে এসেছে। অতএব, এটি উল্লিখিত অন্যান্য মহামারীকে অন্তর্ভুক্ত করবে না, কারণ এর সপক্ষে কোনো প্রমাণ (دليل) নেই। আর এ জাতীয় বিষয়ে কিয়াস (القياس) করার সুযোগ নেই। ফলে তাদের জন্য শাহাদাতের বিধান প্রযোজ্য হয় না, তবে সেই মাযহাব বা মতানুসারে হতে পারে যারা সাধারণ মহামারী (الوباء) এবং প্লেগের (الطاعون) মধ্যে কোনো পার্থক্য করেন না। অথবা যদি মহামারীর সাথে অন্য কোনো কারণ যুক্ত হয় যা ব্যক্তিকে শহীদের (الشهداء) অন্তর্ভুক্ত করে, যেমন এর ফলে ফুসফুসের আবরণী বেষ্টনী প্রদাহ (ذات الجنب), পেটের রোগ (البطن) বা যক্ষ্মা (السل) সৃষ্টি হয়; তবে এই বিষয়গুলোতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য শাহাদাতের বিধান দলিলসমূহে (النصوص) বর্ণিত হয়েছে। ইবনে হাজার আল-হাইতামি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, প্লেগ (الطاعون) ব্যতিরেকে কেবল সাধারণ মহামারীতে (الوباء) মৃত্যুবরণকারী শহীদ (شهيد) নন।(3) আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।

সতর্কতা: প্লেগ বা মহামারীতে আক্রান্ত ব্যক্তির শাহাদাত হলো পরকালীন শাহাদাত। আর দুনিয়াতে তাকে অন্যান্য সাধারণ মৃত ব্যক্তিদের ন্যায় বিবেচনা করা হবে; ফলে তাকে গোসল দেওয়া হবে এবং তার জানাজার নামাজ পড়া হবে।(4)

--------------------------------------------

(1) বুখারি।

(2) দেখুন: শারহু রিয়াদিস সলিহীন (১/ ২৩৩)।

(3) আল-ফাতাওয়া আল-ফিকহিয়্যাহ আল-কুবরা (১/ ১৪১)।

(4) সহিহ মুসলিম বি-শারহিন নববী (১৩/ ৬৩), উমদাতুল কারি (২১/ ২৬১)।
(খণ্ড: ১) আল আহকামুশ শারইয়্যাহ আল মুতাআল্লিকাতু বিল ওয়াবাই ওয়াত তউন মাআ দিরাসাতিন ফিকহিয়্যাহ লিল আহকামিল মুতাআল্লিকাতু বি ফাইরুস কুরূনা (পৃষ্ঠা: ২১)
•‌‌ المسألة السابعة: فضل الصابر المحتسب في زمن الطاعون ولو لم يمت به:

بوب البخاري في صحيحه: «باب أجر الصابر في الطاعون»، ثم ذكر حديث عائشة رضي الله عنها قالت: سألت رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الطاعون، فأخبرني «كان عذابًا يبعثه الله على من يشاء، فجعله الله رحمة للمؤمنين، ما من عبد يكون في بلد يكون فيه، ويمكث فيه لا يخرج من البلد، صابرا محتسبا، يعلم أنه لا يصيبه إلا ما كتب الله له، إلا كان له مثل أجر شهيد»(1).

قال ابن حجر: «اقتضى منطوقه أن من اتصف بالصفات المذكورة، يحصل له أجر الشهيد، وإن لم يمت بالطاعون، ويدخل تحته ثلاث صور: أن من اتصف بذلك: فوقع به الطاعون فمات به، أو وقع به ولم يمت به، أو لم يقع به أصلا ومات بغيره عاجلا أو آجلا»(2).

وقال ابن حجر الهيتمي: «الميت به، بل وفي زمنه وإن لم يمت به،

--------------------------------------------

(1) البخاري.

(2) فتح الباري (10/ 194) وقال في بذل الماعون: قال "فمن اتصف بهذه الصفات مثلًا فمات بغير الطاعون، فإن ظاهر الحديث أنه يحصل له أجر الشهيد … ويؤيده الرواية السابقة في حديث أبي هريرة عند مسلم بلفظ: «ومن مات في الطاعون فهو شهيد» ولم يقل: بالطاعون، فإن ظاهرها شاهد لما قلناه … و يتفرع من هذا: أن من اتصف بالصفات المذكورة، وذهب الطاعون ولم يمت به ولا في زمنه، هل يكون شهيدًا أو لا؟ ظاهر الحديث يعمّ، وفضل الله واسع، ونية المؤمن أبلغ من عمله ا. هـ وانظر: فيض القدير للمناوي (4/ 288).
•‌‌ সপ্তম মাসআলা: মহামারীর সময়ে ধৈর্যধারণকারী ও সওয়াবের প্রত্যাশাকারী (محتسب)-র ফযিলত, যদিও সে তাতে মৃত্যুবরণ না করে:

বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে অনুচ্ছেদ রচনা করেছেন: ‘মহামারীতে ধৈর্যধারণকারীর সওয়াব সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ’, অতঃপর তিনি আয়েশা (রা.) হতে বর্ণিত হাদিস উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে মহামারী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম, তখন তিনি আমাকে জানালেন যে, «তা ছিল একটি আজাব যা আল্লাহ যার ওপর ইচ্ছা প্রেরণ করতেন, অতঃপর আল্লাহ তাকে মুমিনদের জন্য রহমত হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। কোনো বান্দা যখন এমন কোনো জনপদে থাকে যেখানে মহামারী ছড়িয়ে পড়েছে, অতঃপর সে সেখান থেকে বের না হয়ে সেখানে অবস্থান করে, ধৈর্যধারণকারী (صابر) ও সওয়াবের প্রত্যাশাকারী (محتسب) হিসেবে, আর সে একীন রাখে যে আল্লাহ তার ভাগ্যে যা লিখে রেখেছেন তা ব্যতীত অন্য কিছু তাকে স্পর্শ করবে না, তবে তার জন্য একজন শহীদের (شهيد) সওয়াবের সমতুল্য সওয়াব নির্ধারিত হবে»(1).

ইবনে হাজার বলেন: «এর বাহ্যিক বক্তব্য দাবি করে যে, যে ব্যক্তি উল্লিখিত গুণাবলীতে গুণান্বিত হবে, সে শহীদের (شهيد) সওয়াব লাভ করবে, যদিও সে মহামারীতে মারা না যায়। এর অধীনে তিনটি চিত্র অন্তর্ভুক্ত: যে ব্যক্তি এই গুণে গুণান্বিত হবে: সে মহামারীতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করল, অথবা আক্রান্ত হলো কিন্তু তাতে মারা গেল না, অথবা আদৌ আক্রান্ত হলো না এবং অবিলম্বে বা বিলম্বে অন্য কোনো কারণে মৃত্যুবরণ করল»(2).

ইবনে হাজার আল-হাইতামি বলেন: «তাতে মৃত ব্যক্তি, বরং তার সময়ে যে জীবিত ছিল যদিও সে তাতে মারা না যায়,

--------------------------------------------

(1) বুখারি।

(2) ফাতহুল বারি (১০/ ১৯৪)। তিনি ‘বাযলুল মাউন’ গ্রন্থে বলেন: "অতএব যে ব্যক্তি উল্লিখিত গুণাবলীতে গুণান্বিত হবে এবং মহামারী ব্যতীত অন্য কারণে মৃত্যুবরণ করবে, তবে হাদিসের বাহ্যিক অর্থ এটাই যে সে শহীদের (شهيد) সওয়াব লাভ করবে... এবং এর সমর্থনে মুসলিম-এ বর্ণিত আবু হুরায়রা (রা.)-এর পূর্ববর্তী হাদিসটি রয়েছে যার শব্দমালা হলো: «এবং যে ব্যক্তি মহামারীর সময়ে মৃত্যুবরণ করল সে শহীদ (شهيد)»। তিনি 'মহামারীর কারণে' (بالطاعون) বলেননি। ফলে এর বাহ্যিক অর্থ আমরা যা বলেছি তার অনুকূলে... এর থেকে এটিও নিরূপিত হয় যে: যে ব্যক্তি উল্লিখিত গুণে গুণান্বিত হবে এবং মহামারী চলে যাবে অথচ সে তাতে বা মহামারীর সময়ে মৃত্যুবরণ করবে না, তবে সে শহীদ (شهيد) গণ্য হবে কি না? হাদিসের বাহ্যিক অর্থটি ব্যাপক এবং আল্লাহর অনুগ্রহ প্রশস্ত, আর মুমিনের নিয়ত তার আমলের চেয়েও উত্তম।" সমাপ্ত। এবং দেখুন: মুনাবির ফয়জুল কদির (৪/ ২৮৮)।
(খণ্ড: ১) আল আহকামুশ শারইয়্যাহ আল মুতাআল্লিকাতু বিল ওয়াবাই ওয়াত তউন মাআ দিরাসাতিন ফিকহিয়্যাহ লিল আহকামিল মুতাআল্লিকাতু বি ফাইরুস কুরূনা (পৃষ্ঠা: ২২)
بل وفي غير زمنه إذا مكث في بلده أيامه؛ صابرًا محتسبًا راضيًا بما ينزل به يكون شهيدًا»(1). وهذا الحكم من خصائص الطاعون ولا يقاس عليه غيره.

 

•‌‌ المسألة الثامنة: الطاعون لا يؤثر بنفسه:

الطاعون والعدوى لا تأثير لها بنفسها، وإنما تأثيرها بإذن الله تعالى، قال النبي صلى الله عليه وسلم: «لا عدوى ولا طيرة»(2). أي: لا عدوى مؤثرة بنفسها كما كان اعتقاد أهل الجاهلية، فالأمر لله أولًا وآخرًا، والأسباب لا تملك نفعًا ولا تأثيرًا إلا بإذن مسببها وهو الله رب العالمين، فنشر الخوف والهلع من هذه الأسباب ضعفٌ في التوكل واليقين، وهذا الحكم يشمل الوباء وسائر الأمراض.

--------------------------------------------

(1) الفتاوى الكبرى (1/ 141) وانظر حاشية البجيرمي (1/ 487) والدر المختار (2/ 252).

(2) متفق عليه.
বরং তার সময় ছাড়াও যদি সে তার শহরে ঐ দিনগুলোতে অবস্থান করে; ধৈর্যশীল হয়ে, সওয়াবের প্রত্যাশায় এবং তার ওপর যা আপতিত হচ্ছে তাতে সন্তুষ্ট থেকে, তবে সে একজন শহীদ (شهيد) হবে(১)। আর এই বিধানটি প্লেগ রোগের বিশেষ বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত এবং অন্য কিছুকে এর ওপর কিয়াস করা যাবে না।

 

•‌‌ অষ্টম মাসয়ালা: প্লেগ নিজে নিজে প্রভাব ফেলে না:

প্লেগ এবং সংক্রমণ (عدوى)-এর নিজস্ব কোনো প্রভাব নেই, বরং এর প্রভাব কেবল মহান আল্লাহর অনুমতিতেই হয়ে থাকে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «কোনো সংক্রমণ (عدوى) নেই এবং কোনো কুলক্ষণ (طيرة) নেই»(২)। অর্থাৎ: জাহেলিয়াত যুগের লোকদের যেমন বিশ্বাস ছিল, তেমন কোনো সংক্রমণ (عدوى) নিজে নিজে প্রভাব ফেলতে পারে না। সুতরাং আদি ও অন্ত সকল বিষয় আল্লাহরই ইচ্ছাধীন। মাধ্যম বা কারণসমূহ নিজস্ব কোনো উপকার বা প্রভাব বিস্তারের ক্ষমতা রাখে না, কেবল এদের কারণ-স্রষ্টা তথা বিশ্বপ্রতিপালক আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত। তাই এসব কারণকে কেন্দ্র করে ভয় ও আতঙ্ক ছড়ানো হলো আল্লাহর ওপর নির্ভরতা (توكل) এবং দৃঢ় বিশ্বাস (يقين)-এর দুর্বলতা। আর এই বিধান মহামারি ও অন্যান্য সকল রোগের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

--------------------------------------------

(১) আল-ফাতাওয়া আল-কুবরা (১/ ১৪১) এবং দেখুন হাশিয়াতুল বুজাইরমি (১/ ৪৮৭) ও আদ-দুররুল মুখতার (২/ ২৫২)।

(২) সর্বসম্মত (متفق عليه)।
(খণ্ড: ১) আল আহকামুশ শারইয়্যাহ আল মুতাআল্লিকাতু বিল ওয়াবাই ওয়াত তউন মাআ দিরাসাতিন ফিকহিয়্যাহ লিল আহকামিল মুতাআল্লিকাতু বি ফাইরুস কুরূনা (পৃষ্ঠা: ২৩)
الفصل الثاني

في أحكام البلد المصاب بالطاعون

والمسائل المتعلقة بذلك
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

প্লেগ (طاعون) আক্রান্ত জনপদের বিধানাবলি (أحكام) প্রসঙ্গে

এবং এ সংক্রান্ত মাসআলাসমূহ (مسائل)
(খণ্ড: ১) আল আহকামুশ শারইয়্যাহ আল মুতাআল্লিকাতু বিল ওয়াবাই ওয়াত তউন মাআ দিরাসাতিন ফিকহিয়্যাহ লিল আহকামিল মুতাআল্লিকাতু বি ফাইরুস কুরূনা (পৃষ্ঠা: ২৫)
•‌‌ المسألة الأولى: حكم الخروج من البلد المصاب بالطاعون فرارًا منه.

لا يجوز خروج المرء من البلد المصاب بالطاعون فرارًا منه؛ لقول النبي صلى الله عليه وسلم كما في حديث عبد الرحمن بن عوف رضي الله عنه: «إذا سمعتم به بأرض فلا تقدموا عليه، وإذا وقع بأرض وأنتم بها فلا تخرجوا فرارًا منه»(1)، وذهب جمع من فقهاء المالكية إلى أن النهي للتأديب والإرشاد، والصواب: أن النهي في الحديث للتحريم، وهو قول جماهير العلماء، بل عده بعض العلماء من الكبائر لقول النبي صلى الله عليه وسلم: «الفار من الطاعون كالفار من الزحف»(2)(3).

وهل هذا الحكم خاص بالطاعون أم أنه يعم كل وباء فتاك؟ سيأتي توضيح في المسألة الرابعة بإذن الله تعالى.

 

•‌‌ المسألة الثانية: حكم الذهاب للبلد المصاب بالطاعون:

لا يجوز لمن كان في خارج البلد المصاب بالطاعون أن يقدم عليه؛ للحديث السابق، ولما في ذلك من إلقاء النفس للتهلكة، وهل يشمل ذلك الوباء؟ سيأتي توضيحه في المسألة الرابعة بإذن الله تعالى(4).

--------------------------------------------

(1) متفق عليه.

(2) أحمد (14478)، وصححه الألباني في الجامع (4276).

(3) انظر: شرح مسلم (14/ 205 - 207) الزواجر عن اقتراف الكبائر (2/ 285).

(4) انظر: زاد المعاد (4/ 39).
•‌‌ প্রথম মাসআলা: প্লেগ আক্রান্ত দেশ থেকে পলায়নের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার বিধান.

প্লেগ আক্রান্ত দেশ থেকে পলায়ন করার উদ্দেশ্যে কোনো ব্যক্তির বের হওয়া জায়েজ নেই; কেননা আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «যখন তোমরা কোনো ভূখণ্ডে এর (প্লেগের) কথা শুনবে, তখন সেখানে প্রবেশ করো না; আর যখন কোনো ভূখণ্ডে তা দেখা দেয় এবং তোমরা সেখানে অবস্থান করো, তবে তা থেকে পলায়নের উদ্দেশ্যে বের হয়ো না»(১)। মালিকি ফকিহদের একটি দল মনে করেন যে, এই নিষেধটি শিষ্টাচার ও নির্দেশনার জন্য। তবে সঠিক মত হলো: হাদিসের এই নিষেধটি নিষিদ্ধতা বা হারামের (تحريم) জন্য, যা জমহুর বা অধিকাংশ আলেমের অভিমত; বরং কোনো কোনো আলেম একে কবিরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «প্লেগ থেকে পলায়নকারী ব্যক্তি রণক্ষেত্র থেকে পলায়নকারীর মতো»(২)(৩)।

এই বিধানটি কি কেবল প্লেগের জন্য নির্দিষ্ট নাকি তা প্রতিটি প্রাণঘাতী মহামারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য? ইনশাআল্লাহ চতুর্থ মাসআলায় এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা আসবে।

 

•‌‌ দ্বিতীয় মাসআলা: প্লেগ আক্রান্ত দেশে যাওয়ার বিধান:

প্লেগ আক্রান্ত দেশের বাইরে অবস্থানরত ব্যক্তির জন্য সেখানে প্রবেশ করা জায়েজ নেই; পূর্বোক্ত হাদিসের কারণে এবং এতে নিজেকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়ার সম্ভাবনা থাকার কারণে। এই বিধান কি মহামারীকেও অন্তর্ভুক্ত করবে? ইনশাআল্লাহ চতুর্থ মাসআলায় এ বিষয়ে ব্যাখ্যা আসবে(৪)।

--------------------------------------------

(১) বুখারি ও মুসলিম কর্তৃক সর্বসম্মত (متفق عليه)।

(২) আহমদ (১৪৪৭৮), এবং আলবানী আল-জামি‘ গ্রন্থে (৪২৭৬) একে সহিহ (صحيح) বলেছেন।

(৩) দেখুন: শারহু মুসলিম (১৪/ ২০৫ - ২০৭), আয-যাওয়াজির আন ইগতিরাফিল কাবাইর (২/ ২৮৫)।

(৪) দেখুন: যাদুল মাআদ (৪/ ৩৯)।
(খণ্ড: ১) আল আহকামুশ শারইয়্যাহ আল মুতাআল্লিকাতু বিল ওয়াবাই ওয়াত তউন মাআ দিরাসাতিন ফিকহিয়্যাহ লিল আহকামিল মুতাআল্লিকাতু বি ফাইরুস কুরূনা (পৃষ্ঠা: ২৬)
•‌‌ المسألة الثالثة: علة النهي عن الخروج من البلد المصاب بالطاعون:

اختلف العلماء في علة النهي عن الخروج من البلد المصاب بالطاعون أو الدخول إليه:

فمنهم من جعل الأمر تعبديًّا لا يعقل معناه، ومنهم من جعل العلة شرعية وهي تحقيق صدق التوكل على الله، وتفويض الأسباب إليه، والتسليم لقضائه وقدره وعدم الفرار منه، وعدم مخالفة الصبر المأمور به في هذه الحال، أو خشية وقوع الشرك والتعلق بالأسباب بحيث يظن أن الفرار هو الذي أنجاه أو أن الدخول هو الذي أهلكه ونحو ذلك.

ومنهم من جعل العلة متعلقة بمصلحة العباد، وهي خشية انتشار العدوى، أو خشية ألا يبقى للموتى من يجهزهم وللمرضى من يتعاهدهم ويقوم بأمرهم في البلد المصاب(1).

 

•‌‌ المسألة الرابعة: حكم الخروج من البلد المصاب بالوباء فرارًا منه:

الخلاف في هذه المسألة مبني على الخلاف في علة النهي الوارد في النص، فعلى القول بأن علة النهي خشية انتشار العدوى فيمكن أن يقاس الوباء بالطاعون في هذه المسألة لاشتراكهما في العلة، ولا يتأتى قياس الوباء على الطاعون في العلل الأخرى؛ لعدم اطرادها، ولورود

--------------------------------------------

(1) انظر: بذل الماعون (ص: 302 - 306) والفتاوى الكبرى (4/ 27) الذخيرة للقرافي (13/ 325)
•‌‌ তৃতীয় মাসআলা: প্লেগ (طاعون) আক্রান্ত এলাকা থেকে বহির্গমনের নিষেধাজ্ঞার কারণ (علة):

প্লেগ (طاعون) আক্রান্ত এলাকায় প্রবেশ করা অথবা সেখান থেকে বের হওয়ার নিষেধাজ্ঞার কারণ (علة) সম্পর্কে আলেমগণ মতভেদ করেছেন:

তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ এই বিষয়টিকে এমন একটি ইবাদতগত (تعبدي) বিষয় হিসেবে গণ্য করেছেন যার অন্তর্নিহিত অর্থ বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে অনুধাবনযোগ্য নয়। আবার তাঁদের কেউ কেউ বিষয়টির পেছনে শরয়ি কারণ (علة شرعية) দর্শিয়েছেন, যা হলো আল্লাহর ওপর যথাযথ ভরসা (توكل) নিশ্চিত করা, যাবতীয় উপায়-উপকরণ বা কার্যকারণকে (أسباب) তাঁর ওপর ন্যস্ত করা, তাঁর ফয়সালা ও তাকদিরের (قدر) প্রতি আত্মসমর্পণ করা এবং তা থেকে পলায়ন না করা। এছাড়া এ অবস্থায় নির্দেশিত ধৈর্য (صبر) ধারণের নির্দেশের বরখেলাপ না করা, অথবা শিরকে (شرك) লিপ্ত হওয়া এবং জাগতিক উপায়-উপকরণের (أسباب) ওপর এমনভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়ার আশঙ্কা করা—যাতে কেউ মনে করতে পারে যে পলায়নই তাকে মুক্তি দিয়েছে কিংবা সেখানে প্রবেশই তাকে ধ্বংস করেছে এবং এই জাতীয় বিষয়সমূহ।

আবার তাঁদের কেউ কেউ এই কারণকে (علة) বান্দার জনকল্যাণের (مصلحة) সাথে সংশ্লিষ্ট করেছেন, আর তা হলো সংক্রমণ (عدوى) ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা, অথবা এই আশঙ্কা যে, আক্রান্ত জনপদে মৃতদের দাফন-কাফন ও সৎকার করার এবং অসুস্থদের সেবা-শুশ্রূষা ও দেখাশোনা করার মতো কেউ অবশিষ্ট থাকবে না(১)।

 

•‌‌ চতুর্থ মাসআলা: মহামারি (وباء) আক্রান্ত এলাকা থেকে পলায়নের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার বিধান:

এই মাসআলার মতভেদ মূলত দলিলে (نص) বর্ণিত নিষেধাজ্ঞার কারণ (علة) সংক্রান্ত মতভেদের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। সুতরাং এই মতানুসারে যদি নিষেধাজ্ঞার কারণ (علة) হয় সংক্রমণ (عدوى) ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা, তবে এই মাসআলায় মহামারিকে (وباء) প্লেগের (طاعون) ওপর কিয়াস (قياس) করা সম্ভব; যেহেতু উভয়ের ক্ষেত্রে কারণটি (علة) অভিন্ন। তবে অন্য কারণগুলোর (علل) ক্ষেত্রে মহামারির ওপর প্লেগের কিয়াস (قياس) করা সম্ভব নয়; কারণ সেগুলোর ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা রক্ষা হয় না এবং যেহেতু বর্ণিত হয়েছে...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: বাযলুল মাউন (পৃষ্ঠা: ৩০২ - ৩০৬), আল-ফাতাওয়া আল-কুবরা (৪/ ২৭), আল-যাখিরা লিল কারাফি (১৩/ ৩২৫)
(খণ্ড: ১) আল আহকামুশ শারইয়্যাহ আল মুতাআল্লিকাতু বিল ওয়াবাই ওয়াত তউন মাআ দিরাসাতিন ফিকহিয়্যাহ লিল আহকামিল মুতাআল্লিকাতু বি ফাইরুস কুরূনা (পৃষ্ঠা: ২৭)
النصوص بالأمر بالفرار من أسباب الهلاك، ومواطن العطب.

ويشكل على هذا أن ابن حجر الهيتمي ذكر الإجماع على جواز الفرار من أرض الوباء بخلاف الطاعون، نقل حكاية الإجماع عن السيوطي وأقره(1)، ونقل عن السيوطي أن الطاعون مختص عن سائر الأوبئة بـ (كونه شهادة، ورحمة، وتحريم الفرار منه) والفرار من سائر الأوبئة والمهالك جائز بالإجماع(2).

وسئل الشيخ ابن باز -رحمه الله تعالى-: لو كان الوباء غير الطاعون، هل يخرج فرارًا؟ فأجاب: لا بأس، يخرج(3).

وهذا يقتضي أن سائر الأوبئة لا تقاس بالطاعون في حكم دخول البلد المصاب به والخروج منه فرارًا.

وعلى القول باختصاص الطاعون بهذا الحكم، فإن الوباء إذا انتشر في بلد ما، وتحقق الضرر بالدخول إليه، أو بالخروج منه، فإنه يحرم الدخول إليه والخروج منه، لا على أنه طاعون، بل للضرر الناتج عن ذلك، وقاعدة الشريعة أنه: لا ضرر ولا ضرار، أما إن لم يتحقق الضرر فتحريم الخروج والدخول غير متجه، وذلك بخلاف الطاعون فعموم قول النبي صلى الله عليه وسلم: «فرارًا منه» يقتضي المنع من الخروج سواء تحقق الضرر بالخروج أم لا، والله أعلم.

--------------------------------------------

(1) الفتاوى الفقهية الكبرى (4/ 11)

(2) المصدر السابق (4/ 11)

(3) مسائل الإمام ابن باز (ص: 250)
ধ্বংসের কারণসমূহ এবং বিপদের স্থানসমূহ থেকে পলায়ন করার নির্দেশ সম্বলিত দলিলসমূহ (نصوص)।

এর ওপর প্রশ্ন উত্থাপিত হয় যে, ইবনে হাজার আল-হাইতামি প্লেগ (طاعون) ব্যতীত অন্যান্য মহামারি (وباء) কবলিত ভূমি থেকে পলায়ন বৈধ (جائز) হওয়ার ওপর ঐক্যমত (إجماع) উল্লেখ করেছেন। তিনি ইমাম সুয়ূতি থেকে এই ঐক্যমতের (إجماع) বর্ণনাটি উদ্ধৃত করেছেন এবং তা অনুমোদন করেছেন(১)। তিনি সুয়ূতি থেকে আরও বর্ণনা করেছেন যে, প্লেগ (طاعون) অন্যান্য সকল মহামারি (وباء) থেকে তিনটি বৈশিষ্ট্যের কারণে পৃথক: (এটি শাহাদাত (شهادة), এটি রহমত (رحمة), এবং এটি থেকে পলায়ন করা হারাম (تحريم))। আর অন্যান্য মহামারি (وباء) ও ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতি থেকে পলায়ন করা ঐক্যমতের (إجماع) ভিত্তিতে বৈধ (جائز)(২)।

শাইখ ইবনে বায (রহিমাহুল্লাহ)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: যদি মহামারি (وباء) প্লেগ (طاعون) ব্যতীত অন্য কিছু হয়, তবে কি পলায়নের উদ্দেশ্যে সেখান থেকে বের হওয়া যাবে? তিনি উত্তরে বললেন: এতে কোনো সমস্যা নেই, বের হওয়া যাবে(৩)।

এটি দাবি করে যে, আক্রান্ত জনপদে প্রবেশ করা বা সেখান থেকে পলায়নের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার বিধানের ক্ষেত্রে অন্যান্য মহামারিকে (وباء) প্লেগের (طاعون) ওপর তুলনা করা যাবে না।

প্লেগের (طاعون) জন্য এই বিধান নির্দিষ্ট হওয়ার মতানুসারে, কোনো জনপদে যদি মহামারি (وباء) ছড়িয়ে পড়ে এবং সেখানে প্রবেশ বা সেখান থেকে বের হওয়ার দ্বারা ক্ষতি হওয়া নিশ্চিত হয়, তবে সেখানে প্রবেশ করা এবং সেখান থেকে বের হওয়া হারাম হবে। তবে তা প্লেগ (طاعون) হওয়ার কারণে নয়, বরং এর ফলে সৃষ্ট ক্ষতির কারণে। আর শরিয়তের মূলনীতি (قاعدة) হলো: "ক্ষতি করা যাবে না এবং ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া যাবে না"। আর যদি ক্ষতি হওয়া নিশ্চিত না হয়, তবে বের হওয়া বা প্রবেশ করা হারাম হওয়া যুক্তিযুক্ত নয়। এটি প্লেগের (طاعون) বিধানের বিপরীত, কেননা নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর ব্যাপকতা (عموم): "তা থেকে পলায়ন করার উদ্দেশ্যে", প্রস্থান করা থেকে নিষেধ করে; চাই প্রস্থানে ক্ষতি নিশ্চিত হোক বা না হোক। আল্লাহ সর্বজ্ঞ।

--------------------------------------------

(১) আল-ফাতাওয়া আল-ফিকহিয়্যাহ আল-কুবরা (৪/ ১১)

(২) প্রাগুক্ত উৎস (৪/ ১১)

(৩) মাসাইলুল ইমাম ইবনে বায (পৃ. ২৫০)
(খণ্ড: ১) আল আহকামুশ শারইয়্যাহ আল মুতাআল্লিকাতু বিল ওয়াবাই ওয়াত তউন মাআ দিরাসাতিন ফিকহিয়্যাহ লিল আহকামিল মুতাআল্লিকাতু বি ফাইরুস কুরূনা (পৃষ্ঠা: ২৮)
•‌‌ المسألة الخامسة: حكم الخروج من البلد المصاب بالطاعون أو الوباء لغرض غير الفرار:

الخروج من البلد المصاب بالطاعون لحاجة أو شغل أو غرض غير الفرار جائز، كالخروج للتداوي وطلب العلم ونحو ذلك، ومنه من قدم للبلد لدراسة أو تجارة أو مهمة ما وقد انتهت مهمته، فيجوز له أن يعود إلى بلده، ولا يلزمه أن يبقى؛ لأن المنع في الحديث مقيد بالخروج لغرض الفرار: «فلا تخرجوا فرارًا منه»، وإذا كان هذا الحكم في البلد المصاب بالطاعون فالوباء من باب أولى(1).

 

•‌‌ المسألة السادسة: حكم الخروج من البلد المصاب بالطاعون لمن ثبت طبيًّا عدم إصابته به:

الخلاف في هذه المسالة مبني على الخلاف في المسألة السابقة وهي علة النهي عن الخروج من البلد، فلو جعلنا النهي عن الفرار تعبديًّا، أو جلعنا علته أحد العلل الشرعية المذكورة سابقًا، فإن الخروج يكون ممنوعًا على كل حال، ولو جعلنا العلة متعلقة بمصالح العباد فإن الحكم يختلف باختلاف تلك المصلحة وعدمها، فمثلًا لو جعلنا العلة خشية انتشار العدوى فإنها تنتفي بتحقق سلامة الشخص من الداء، فيكون خروجه جائزًا لا بأس به؛ لانتفاء علة النهي في حقه، وتحقق المصلحة بخروجه، وبهذا الرأي الأخير أفتى

--------------------------------------------

(1) انظر: الآداب الشرعية لابن مفلح (3/ 370) شرح النووي على مسلم (14/ 207) وعمدة القاري (21/ 259) منة المنعم (3/ 463) الذخيرة للقرافي (13/ 325)
•‌‌ পঞ্চম মাসআলা: পলায়নের উদ্দেশ্য ব্যতীত অন্য কোনো প্রয়োজনে প্লেগ বা মহামারি (الوباء) কবলিত এলাকা থেকে বের হওয়ার বিধান:

পলায়নের উদ্দেশ্য ব্যতীত অন্য কোনো প্রয়োজন বা কাজের তাগিদে প্লেগ আক্রান্ত এলাকা থেকে বের হওয়া বৈধ (جائز); যেমন—চিকিৎসা গ্রহণ, জ্ঞান অন্বেষণ বা এ জাতীয় অন্য কোনো উদ্দেশ্যে বের হওয়া। একইভাবে কোনো ব্যক্তি যদি শিক্ষা, ব্যবসা বা কোনো বিশেষ কাজে সেই এলাকায় এসে থাকে এবং তার কাজ শেষ হয়ে যায়, তবে তার জন্য নিজ এলাকায় ফিরে যাওয়া বৈধ (جائز) এবং সেখানে অবস্থান করা তার জন্য আবশ্যক নয়। কারণ হাদিসে বর্ণিত নিষেধাজ্ঞাটি পলায়নের উদ্দেশ্যের সাথে সম্পৃক্ত: «অতএব তোমরা সেখান থেকে পলায়ন করে (فرارًا منه) বের হয়ো না।» আর এই বিধান যদি প্লেগ আক্রান্ত এলাকার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়, তবে মহামারির (الوباء) ক্ষেত্রে এটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রযোজ্য হবে(১).

 

•‌‌ ষষ্ঠ মাসআলা: চিকিৎসাবিজ্ঞানের আলোকে আক্রান্ত না হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর প্লেগ আক্রান্ত এলাকা থেকে বের হওয়ার বিধান:

এই মাসআলার মতভেদটি মূলত পূর্ববর্তী মাসআলার মতভেদের ওপর নির্ভরশীল, আর তা হলো এলাকা থেকে বের হওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞার কারণ (علة)। যদি আমরা পলায়নের ওপর নিষেধাজ্ঞাকে ইবাদতগত (تعبدي) বা নিছক আনুগত্যমূলক মনে করি অথবা এর কারণ (علة) হিসেবে পূর্বে উল্লিখিত শরয়ি কারণসমূহের (العلل الشرعية) কোনোটিকে সাব্যস্ত করি, তবে বের হওয়া সর্বাবস্থায় নিষিদ্ধ (ممنوع) হবে। পক্ষান্তরে, যদি আমরা এই কারণকে (علة) মানুষের কল্যাণের (مصالح العباد) সাথে সংশ্লিষ্ট মনে করি, তবে সেই কল্যাণ (المصلحة) থাকা বা না থাকার ওপর ভিত্তি করে বিধান ভিন্ন ভিন্ন হবে। উদাহরণস্বরূপ, যদি আমরা সংক্রমণের (العدوى) আশঙ্কাকই নিষেধাজ্ঞার কারণ (علة) হিসেবে গণ্য করি, তবে কোনো ব্যক্তির রোগমুক্ত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার মাধ্যমে সেই কারণটি অপসারিত হয়। এমতাবস্থায় তার বের হওয়া বৈধ (جائز) ও এতে কোনো অসুবিধা নেই; কারণ তার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞার কারণটি (علة النهي) আর বিদ্যমান নেই এবং তার বের হওয়ার মধ্যে কল্যাণ (المصلحة) অর্জিত হয়েছে। এই শেষোক্ত মতের ভিত্তিতেই ফতোয়া (أفتى) প্রদান করা হয়েছে

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইবনে মুফলিহ রচিত আদাব আল-শারইয়্যাহ (৩/৩৭০); মুসলিমের ওপর শরহে নববী (১৪/২০৭); উমদাতুল কারি (২১/২৫৯); মিন্নাতুল মুনয়িম (৩/৪৬৩); আল-কারাফি রচিত আল-যাখিরাহ (১৩/৩২৫)।
(খণ্ড: ১) আল আহকামুশ শারইয়্যাহ আল মুতাআল্লিকাতু বিল ওয়াবাই ওয়াত তউন মাআ দিরাসাতিন ফিকহিয়্যাহ লিল আহকামিল মুতাআল্লিকাতু বি ফাইরুস কুরূনা (পৃষ্ঠা: ২৯)
فضيلة الشيخ سليمان الرحيلي، وبيَّن أنه إذا ثبت طبيًّا بالفحوصات الحديثة عدم إصابة المرء بالوباء المنتشر في منطقته فإنه يجوز له الخروج من بلده حينئذ، وبمثل هذا أفتى فضيلة الشيخ عبد المحسن العبيكان.

بينما أشار الشيخ ابن عثيمين -رحمه الله تعالى- إلى أن تعليل ذلك بالحجر الصحي لمنع العدوى خطأ، قال: «لأن النبي صلى الله عليه وسلم راعى ما هو أعم وأهم، وهو الفرار من قدر الله قال: «لا تخرجوا منها فرارًا منه» ا. هـ(1).

وذكر الشيخ عبد المحسن العباد في شرحه لسنن أبي داواد أنه لا يقال أن علة النهي عن الخروج من البلد هي لتفادي العدوى فقط، بل التعليل الشرعي هو الفرار مطلقًا، سواء أصيب بالمرض أو لم يصب، هكذا ذكر حفظه الله تعالى.

وعموم قول النبي صلى الله عليه وسلم: «فرارًا منه» يقتضي المنع من الخروج بهذه النية سواء للصحيح أو المريض، والله أعلم.

 

•‌‌ المسألة السابعة: ضابط المكان الذي يحرم الخروج منه والدخول إليه:

يحرم الدخول أو الخروج من المنطقة أو البلدة التي وقع فيها الوباء لا عموم الدولة والبلد، إذ ان تقسيم البلدان المعاصر إنما هو

--------------------------------------------

(1) الشرح الممتع (11/ 111).
সম্মানিত শাইখ সুলায়মান আর-রুহাইলি বর্ণনা করেছেন যে, আধুনিক পরীক্ষার মাধ্যমে যদি চিকিৎসাবিদ্যায় এটি প্রমাণিত হয় যে কোনো ব্যক্তি তার এলাকায় ছড়িয়ে পড়া মহামারীতে আক্রান্ত নন, তবে তার জন্য তখন নিজ এলাকা থেকে বের হওয়া বৈধ। শাইখ আব্দুল মুহসিন আল-উবাইকানও অনুরূপ ফতোয়া দিয়েছেন।

অপরদিকে শাইখ ইবনে উসাইমিন (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) ইঙ্গিত করেছেন যে, সংক্রমণ প্রতিরোধের জন্য একে সঙ্গনিরোধের মাধ্যমে কারণ দর্শানো (تعليل) ভুল। তিনি বলেছেন: «কেননা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা অধিক ব্যাপক এবং গুরুত্বপূর্ণ তার প্রতি লক্ষ্য রেখেছেন, আর তা হলো আল্লাহর তাকদির থেকে পলায়ন করা। তিনি বলেছেন: ‘তোমরা সেখান থেকে পলায়ন করার (فرارًا منه) উদ্দেশ্যে বের হবে না’»। সমাপ্ত।(1)

শাইখ আব্দুল মুহসিন আল-আব্বাদ সুনান আবু দাউদ-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, এটি বলা যাবে না যে জনপদ থেকে বের হতে নিষেধ করার কারণ (علة) কেবলমাত্র সংক্রমণ এড়ানো; বরং শারয়ি কারণ (التعليل الشرعي) হলো নিরঙ্কুশভাবে পলায়ন করা, চাই সে রোগে আক্রান্ত হোক বা না হোক। তিনি (আল্লাহ তাআলা তাঁকে রক্ষা করুন) এভাবেই উল্লেখ করেছেন।

আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণীর ব্যাপকতা: «পলায়ন করার (فرارًا منه) উদ্দেশ্যে»—সুস্থ ব্যক্তি হোক বা অসুস্থ—উভয়ের ক্ষেত্রেই এই নিয়তে বের হওয়া নিষিদ্ধ হওয়ার দাবি রাখে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

 

•‌‌ সপ্তম মাসয়ালা: যে স্থান থেকে বের হওয়া এবং প্রবেশ করা হারাম তার মানদণ্ড (ضابط):

যে অঞ্চল বা জনপদে মহামারী দেখা দিয়েছে সেখানে প্রবেশ করা বা সেখান থেকে বের হওয়া হারাম, পুরো দেশ বা রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে নয়; কারণ দেশসমূহের সমসাময়িক বিভাজন মূলত—

--------------------------------------------

(1) আশ-শারহুল মুমতি (১১/ ১১১)।
(খণ্ড: ১) আল আহকামুশ শারইয়্যাহ আল মুতাআল্লিকাতু বিল ওয়াবাই ওয়াত তউন মাআ দিরাসাতিন ফিকহিয়্যাহ লিল আহকামিল মুতাআল্লিকাতু বি ফাইরুস কুরূনা (পৃষ্ঠা: ৩০)
أمر حادث لم يكن فيما سلف، والنصوص جاءت بمنع الخروج من الأرض والمنطقة التي وقع بها الطاعون خاصة لا من البلد عامة.

قال شهاب الدين الرملي: «والمراد بالأرض في قوله صلى الله عليه وسلم: «إذا وقع بأرض»: محل الإقامة الواقع به الطاعون سواء كان بلدًا أم قرية أم محلة أو غيرها، لا جميع الإقليم»(1).

 

•‌‌ المسألة الثامنة: متى يعتبر خارجًا من البلد المصاب بالطاعون؟

المرجع في ذلك للعرف، قال ابن حجر الهيتمي: «وإذا كان في بلد مثلًا فهل الفرار منها بالخروج إلى خارج عمرانها أو سورها أو إلى خارج مزارعها؟ لم أر في ذلك كالذي قبله شيئًا، والذي يظهر أنه يتبع في ذلك عرف أهلها فكل محل عدوا الخروج إليه فرارًا حرم الخروج إليه، وإلا فلا»(2).

 

•‌‌ المسألة التاسعة: من خرج فارًّا من الطاعون هل يلزمه الرجوع؟

القول في هذه المسألة كالقول في سابقتها، حيث يختلف حكمها باختلاف القول في علة النهي عن الخروج، فإن قلنا بأن النهي عن الخروج تعبدي وجب الرجوع، وإن جعلنا العلة خشية العدوى فإن كان سليمًا لم تجب عودته، وإن كانت العلة القيام بحق المرضى في

--------------------------------------------

(1) فتاوى الرملي (4/ 233).

(2) الفتاوى الفقهية الكبرى (4/ 26).
এটি একটি নব্য উদ্ভূত বিষয় যা অতীতে ছিল না। বিদ্যমান পাঠ্যসমূহ (نصوص) বিশেষ করে প্লেগ আক্রান্ত ভূমি বা এলাকা থেকে বের হওয়া নিষেধ করে, সাধারণভাবে পুরো দেশ থেকে নয়।

শিহাবুদ্দীন আর-রামলি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: 'যখন কোনো ভূমিতে তা (প্লেগ) সংঘটিত হয়'—এখানে 'ভূমি' বলতে সেই নির্দিষ্ট বসবাসের স্থানকে বোঝানো হয়েছে যেখানে প্লেগ দেখা দিয়েছে; চাই তা কোনো শহর হোক, গ্রাম হোক, মহল্লা হোক বা অন্য কিছু, সমগ্র অঞ্চল নয়।"(1).

 

•‌‌ অষ্টম মাসআলা: কখন একজনকে প্লেগ আক্রান্ত শহর থেকে বহির্গত বলে গণ্য করা হবে?

এক্ষেত্রে মানদণ্ড হলো প্রচলিত প্রথা (عرف)। ইবনে হাজার আল-হাইতামি বলেন: "উদাহরণস্বরূপ কেউ যদি কোনো শহরে থাকে, তবে সেখান থেকে পালিয়ে যাওয়া কি তার লোকালয় বা সীমানাপ্রাচীরের বাইরে যাওয়া বোঝাচ্ছে নাকি তার শস্যক্ষেতের বাইরে যাওয়া বোঝাচ্ছে? এর আগের বিষয়টির মতো এ ব্যাপারেও আমি সুনির্দিষ্ট কিছু দেখিনি। তবে যা প্রতীয়মান হয় তা হলো, এক্ষেত্রে ওই এলাকার অধিবাসীদের প্রচলিত প্রথা (عرف) অনুসরণ করা হবে; সুতরাং তারা যে স্থানে যাওয়াকে পালিয়ে যাওয়া হিসেবে গণ্য করবে সেখানে যাওয়া হারাম (حرام) হবে, অন্যথায় নয়।"(2).

 

•‌‌ নবম মাসআলা: যে ব্যক্তি প্লেগ থেকে পলায়ন করে বের হয়ে গেছে, তার কি ফিরে আসা আবশ্যক?

এ মাসআলার বক্তব্যটি পূর্ববর্তী মাসআলার মতোই, কারণ বের হওয়ার নিষেধাজ্ঞার কারণ (علة) সংক্রান্ত মতপার্থক্যের ভিত্তিতে এর বিধান ভিন্ন ভিন্ন হয়। যদি আমরা বলি যে বের হওয়ার নিষেধাজ্ঞাটি ইবাদতগত বা আনুগত্যমূলক (تعبدي), তবে ফিরে আসা ওয়াজিব (واجب) হবে; আর যদি আমরা সংক্রমণের ভয়কে কারণ (علة) হিসেবে গণ্য করি, তবে সে সুস্থ থাকলে তার ফিরে আসা ওয়াজিব (واجب) নয়। আর যদি এর কারণ (علة) হয় অসুস্থদের অধিকার আদায় করা...

--------------------------------------------

(1) ফাতাওয়া আর-রামলি (৪/ ২৩৩)।

(2) আল-ফাতাওয়া আল-ফিকহিয়্যাহ আল-কুবরা (৪/ ২৬)।
(খণ্ড: ১) আল আহকামুশ শারইয়্যাহ আল মুতাআল্লিকাতু বিল ওয়াবাই ওয়াত তউন মাআ দিরাসাতিন ফিকহিয়্যাহ লিল আহকামিল মুতাআল্লিকাতু বি ফাইরুস কুরূনা (পৃষ্ঠা: ৩১)
البلد المصاب، فإن وجد في البلد من يكفي بالمهمة لم تلزمه العودة، وإلا لزمه، وهكذا(1).

 

•‌‌ المسألة العاشرة: المدينة النبوية لا يدخلها الطاعون وقد يدخلها الوباء:

ثبت بالحديث الصحيح أن الطاعون لا يدخل المدينة النبوية فعن أبي هريرة رضي الله عنه قال النبي صلى الله عليه وسلم: «على أنقاب المدينة ملائكة لا يدخلها الطاعون، ولا الدجال»(2)، وفي رواية للبخاري: «لا يدخل المدينة المسيح، ولا الطاعون»، وهذا الحكم خاص بالطاعون دون سائر الأوبئة والأمراض، فيمكن دخولها المدينة كما سبق.

 

•‌‌ المسألة الحادية عشر: هل يدخل الطاعون والوباء مكة المكرمة؟

أما الوباء فلا إشكال في إمكانية دخوله، وأما الطاعون فقد جاء في رواية لحديث أبي هريرة رضي الله عنه: «المدينة ومكة محفوفتان بالملائكة على كل نقب منها ملك لا يدخلها الدجال ولا الطاعون»(3)، وهذه الرواية تدل على أن مكة لا يدخلها الطاعون كذلك، ولكن مدار هذه الرواية على فليح بن سليمان وهو وإن أخرج له الشيخان، فقد ضعّفه

--------------------------------------------

(1) انظر: الفتاوى الكبرى (4/ 27).

(2) متفق عليه.

(3) رواه البخاري في التاريخ الكبير (2099) وابن أبي خيثمة في أخبار المكيين (19) وابن عساكر في تاريخه (14/ 307) كلهم من طريق فليح بن سليمان عن عمر بن العلاء عن أبيه عن أبي هريرة به. وذكر ابن حجر أن عمر بن شبة اخرجه كذلك في تاريخه، من الطريق نفسه. انظر: فتح الباري (10/ 191).
আক্রান্ত শহর; যদি সেই শহরে এমন কেউ থাকে যে দায়িত্ব পালনের জন্য যথেষ্ট, তবে তার ফিরে আসা আবশ্যক নয়, অন্যথায় আবশ্যক। আর এভাবেই(১)。

 

•‌‌ দশম মাসয়ালা: মদিনা মুনাওয়ারায় প্লেগ (الطاعون) প্রবেশ করে না, তবে মহামারি (الوباء) প্রবেশ করতে পারে:

সহিহ (صحيح) হাদিস দ্বারা সাব্যস্ত হয়েছে যে, মদিনা মুনাওয়ারায় প্লেগ (الطاعون) প্রবেশ করবে না। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «মদিনার প্রবেশপথগুলোতে ফেরেশতারা নিয়োজিত আছেন, সেখানে প্লেগ (الطاعون) বা দাজ্জাল প্রবেশ করবে না»(২)। বুখারির এক বর্ণনায় (رواية) রয়েছে: «মদিনায় মসিহ (দাজ্জাল) এবং প্লেগ (الطاعون) প্রবেশ করবে না»; আর এই বিধানটি কেবল প্লেগের (الطاعون) সাথে নির্দিষ্ট, অন্যান্য মহামারি (الأوبئة) বা রোগব্যাধির ক্ষেত্রে নয়। সুতরাং পূর্বে যেমন উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলো মদিনায় প্রবেশ করতে পারে।

 

•‌‌ একাদশ মাসয়ালা: মক্কা মুকাররমায় কি প্লেগ (الطاعون) ও মহামারি (الوباء) প্রবেশ করে?

মহামারির (الوباء) ক্ষেত্রে এটি প্রবেশের সম্ভাবনায় কোনো সংশয় নেই। তবে প্লেগের (الطاعون) বিষয়ে আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে: «মদিনা ও মক্কা উভয়ই ফেরেশতা দ্বারা পরিবেষ্টিত, এর প্রতিটি প্রবেশপথে একজন করে ফেরেশতা রয়েছেন; সেখানে দাজ্জাল বা প্লেগ (الطاعون) প্রবেশ করবে না»(৩)। এই বর্ণনাটি (رواية) নির্দেশ করে যে, মক্কাতেও অনুরূপভাবে প্লেগ (الطاعون) প্রবেশ করবে না। কিন্তু এই বর্ণনার (رواية) মূল কেন্দ্রবিন্দু (مدار) হলেন ফুলইহ ইবনে সুলায়মান। যদিও দুই শায়খ (الشيخان) তাঁর থেকে হাদিস গ্রহণ করেছেন, তবুও তাঁকে দুর্বল (ضعيف) সাব্যস্ত করা হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-ফাতাওয়া আল-কুবরা (৪/ ২৭)।

(২) ঐক্যমত্যপূর্ণ (متفق عليه)।

(৩) এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি আত-তারিখুল কাবিরে (২০৯৯), ইবনে আবি খাইসামা আখbarুল মাক্কিয়্যিনে (১৯) এবং ইবনে আসাকির তাঁর তারিখে (১৪/ ৩০৭)। তাঁরা সবাই ফুলইহ ইবনে সুলায়মানের সূত্র (طريق) থেকে, তিনি ওমর ইবনুল আলা থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে এই সূত্রে বর্ণনা করেছেন। ইবনে হাজার উল্লেখ করেছেন যে, ওমর ইবনে শাব্বাহ-ও এটি তাঁর তারিখে একই সূত্র (طريق) থেকে বর্ণনা করেছেন। দেখুন: ফাতহুল বারি (১০/ ১৯১)।
(খণ্ড: ১) আল আহকামুশ শারইয়্যাহ আল মুতাআল্লিকাতু বিল ওয়াবাই ওয়াত তউন মাআ দিরাসাতিন ফিকহিয়্যাহ লিল আহকামিল মুতাআল্লিকাতু বি ফাইরুস কুরূনা (পৃষ্ঠা: ৩২)
ابن معين، وأبو حاتم، وأبو داود، والنسائي، وأبو زرعة الرازي(1)، وقال الحافظ ابن حجر: صدوق كثير الخطأ(2)، فمثله لا يقبل تفرده، وقد تفرد بهذه الرواية ولا متابع له فيها، ولذلك قال ابن الملقن: «وقد ورد أن الطاعون لا يدخل مكة أيضًا، وإسناده ضعيف»(3)، وقد ذكر جماعة أن الطاعون دخل مكة سنة 749 هـ، ومن صحح الحديث ذهب إلى أن ما دخلها كان وباء وليس بطاعون، والله أعلم بالصواب.

--------------------------------------------

(1) انظر: تهذيب الكمال (23/ 319) وتهذيب التهذيب (8/ 304) والسير (7/ 353) وتحرير التقريب (3/ 165).

(2) تقريب التهذيب (ص: 448).

(3) التوضيح (27/ 472).
ইবনে মাইন, আবু হাতিম, আবু দাউদ, আন-নাসায়ী এবং আবু জুরআহ আর-রাজি(১); আর আল-হাফিজ ইবনে হাজার বলেছেন: তিনি সত্যবাদী (صدوق) কিন্তু অধিক ভুলকারী (كثير الخطأ)(২)। ফলে তার মতো বর্ণনাকারীর একক হওয়া (تفرد) গ্রহণযোগ্য নয়; আর তিনি এই বর্ণনার (رواية) ক্ষেত্রে একক (تفرد) হয়ে পড়েছেন এবং এতে তার কোনো অনুসরণকারী বর্ণনাকারী (متابع) নেই। এই কারণেই ইবনুল মুলাক্কিন বলেছেন: «বর্ণিত হয়েছে যে প্লেগ (طاعون) মক্কায়ও প্রবেশ করবে না, তবে এর সনদ (إسناد) দুর্বল (ضعيف)»(৩)। একদল আলেম উল্লেখ করেছেন যে, ৭৪৯ হিজরি সনে মক্কায় প্লেগ (طاعون) প্রবেশ করেছিল। আর যারা হাদিসটিকে সহিহ (صحح) সাব্যস্ত করেছেন, তাদের মতে যা প্রবেশ করেছিল তা ছিল মহামারি (وباء), প্লেগ (طاعون) নয়। আল্লাহই সঠিক বিষয় সম্পর্কে সম্যক অবগত।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তাহজিব আল-কামাল (২৩/ ৩১৯), তাহজিব আত-তাহজিব (৮/ ৩০৪), আস-সিয়ার (৭/ ৩৫৩) এবং তাহরির আত-তাকরিব (৩/ ১৬৫)।

(২) তাকরিব আত-তাহজিব (পৃষ্ঠা: ৪৪৮)।

(৩) আত-তাওদিহ (২৭/ ৪৭২)।
(খণ্ড: ১) আল আহকামুশ শারইয়্যাহ আল মুতাআল্লিকাতু বিল ওয়াবাই ওয়াত তউন মাআ দিরাসাতিন ফিকহিয়্যাহ লিল আহকামিল মুতাআল্লিকাতু বি ফাইরুস কুরূনা (পৃষ্ঠা: ৩৩)
الفصل الثالث

في سبل رفع الطاعون

والمسائل المتعلقة بذلك
তৃতীয় পরিচ্ছেদ

প্লেগ বা মহামারি দূরীকরণের উপায় প্রসঙ্গে

এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি
(খণ্ড: ১) আল আহকামুশ শারইয়্যাহ আল মুতাআল্লিকাতু বিল ওয়াবাই ওয়াত তউন মাআ দিরাসাতিন ফিকহিয়্যাহ লিল আহকামিল মুতাআল্লিকাতু বি ফাইরুস কুরূনা (পৃষ্ঠা: ৩৫)
•‌‌ المسألة الأولى: سبل دفع الطاعون والوباء ورفعهما:

الأخذ بالأسباب الشرعية وأهمها توبة الناس من الذنوب والمعاصي، وعدم إظهار الفواحش والمنكرات، والإكثار من الأعمال الصالحات، والتحصن بالأذكار الشرعية كأذكار الصباح والمساء، وإظهار الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، والتضرع لله بالدعاء الصادق، والإكثار من الصدقات والنفقات، والإكثار من الحمد والاستغفار، والتحلل من المظالم، مع الأخذ بالأسباب الطبية والتعليمات الوقائية التي يدعو لها ولاة الأمر وأهل الاختصاص.

 

•‌‌ المسألة الثانية: حكم الدعاء برفع الطاعون والوباء:

يشرع للعبد أن يدعو الله برفع الطاعون والوباء عن نفسه خاصة وعن البلاد عامة، كما نص عليه جمع من أهل العلم، خلافا لبعض الفقهاء الذين منعوا الدعاء برفع الطاعون خاصة، وانظر تعليلات المانعين والجواب عليها في المسألة الآتية(1).

 

•‌‌ المسألة الثالثة: حكم القنوت في المساجد لرفع الطاعون والوباء:

اختلف العلماء هل يشرع القنوت في المساجد عند حلول الطاعون، فذهب الشافعية والحنفية لمشروعيته، خلافا لقول الحنابلة، والأظهر من أقوال أهل العلم جواز ذلك لأن القنوت للنوازل ثابت بالسنة النبوية، وهذ الأمراض الفتاكة تعد من أعظم

--------------------------------------------

(1) انظر: بذل الماعون (316 - 318).
•‌‌ প্রথম মাসআলা: প্লেগ ও মহামারি প্রতিরোধ এবং তা দূর করার উপায়সমূহ:

শরয়ি কারণসমূহ (الأسباب الشرعية) গ্রহণ করা, যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো গুনাহ ও পাপাচার থেকে মানুষের তওবা (توبة) করা, অশ্লীলতা ও মন্দ কাজ প্রকাশ না করা, অধিক পরিমাণে নেক আমল করা, শরয়ি জিকির (الأذكار الشرعية) যেমন সকাল ও সন্ধ্যার জিকিরের মাধ্যমে সুরক্ষা গ্রহণ করা, সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ প্রকাশ্যে আনা, আল্লাহর কাছে কায়মনোবাক্যে দোয়া (الدعاء الصادق) করা, অধিক পরিমাণে সদকা ও দান-খয়রাত করা, বেশি বেশি হামদ ও ইস্তিগফার করা এবং জুলুম থেকে নিজেকে মুক্ত করা। এর পাশাপাশি চিকিৎসা সংক্রান্ত কারণ এবং প্রতিরোধমূলক নির্দেশনাগুলো মেনে চলা, যার প্রতি উলুল আমর (ولاة الأمر) এবং বিশেষজ্ঞগণ (أهل الاختصاص) আহ্বান জানান।

 

•‌‌ দ্বিতীয় মাসআলা: প্লেগ ও মহামারি দূর করার জন্য দোয়া করার বিধান (حكم):

বান্দার জন্য নিজের বিশেষ প্রয়োজনে এবং দেশের সাধারণ কল্যাণে প্লেগ ও মহামারি দূর করার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা শরয়িভাবে অনুমোদিত (يشرع), যেমনটি একদল আলেম (أهل العلم) স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। তবে এটি সেই সকল ফকিহদের (الفقهاء) মতের বিপরীত যারা বিশেষত প্লেগ দূর করার জন্য দোয়া করা নিষেধ করেছেন। নিষেধকারীদের যুক্তি ও তার উত্তর পরবর্তী মাসআলায় দেখুন(1)।

 

•‌‌ তৃতীয় মাসআলা: প্লেগ ও মহামারি দূর করার জন্য মসজিদে কুনুত পাঠের বিধান (حكم):

প্লেগ দেখা দিলে মসজিদে কুনুত পাঠ করা শরয়িভাবে বিধিবদ্ধ (يشرع) কি না সে বিষয়ে ওলামায়ে কেরাম (العلماء) ভিন্নমত পোষণ করেছেন। শাফেয়ি ও হানাফি মাযহাব এর বৈধতার পক্ষে মত দিয়েছেন, যা হাম্বলিদের মতের বিপরীত। আর আলেমদের (أهل العلم) মতামতের মধ্যে অধিকতর স্পষ্ট (الأظهر) অভিমত হলো এটি জায়েজ, কারণ বিপদের সময় কুনুত (القنوت للنوازل) পাঠ করা সুন্নাহ (السنة النبوية) দ্বারা প্রমাণিত। আর এই ধ্বংসাত্মক রোগগুলো অন্যতম বড়...

--------------------------------------------

(1) দেখুন: বাযলুল মাউন (৩১৬ - ৩১৮)।
(খণ্ড: ১) আল আহকামুশ শারইয়্যাহ আল মুতাআল্লিকাতু বিল ওয়াবাই ওয়াত তউন মাআ দিরাসাতিন ফিকহিয়্যাহ লিল আহকামিল মুতাআল্লিকাতু বি ফাইরুস কুরূনা (পৃষ্ঠা: ৩৬)
النوازل، وقد علل المانعون بأن الطاعون رحمة والموت فيه شهادة، فلا يشرع الدعاء برفعه، وأن القنوت له لم ينقل عن الصحابة فعله، والجواب أن الدعاء برفعه لا يعارض فضله، كما في النهي عن تمني لقاء العدو وهو سبب للشهادة، وقد ثبت عن النبي صلى الله عليه وسلم الاستعاذة من أمور ثبت فضل الموت بها وأنه شهادة كالطاعون ومن ذلك قوله صلى الله عليه وسلم: «اللهم إني أعوذ بك من الهدم، وأعوذ بك من التردي، وأعوذ بك من الغرق والحرق، وأعوذ بك أن أموت لديغًا .. »(1)، وسائر الأمراض والابتلاءات قد جعل الله فيها من الفضل والخير للمؤمن الشيء العظيم، ومع ذلك فالمشروع للعبد سؤال العفو والعافية في الدنيا والآخرة، كما أنه لا يباح الدعاء على أحد من المسلمين بالطاعون أو الغرق أو الهدم - بلا موجب - ولو كان في ضمنه الشهادة، وأما كونه لم ينقل عن الصحابة فعله، فعدم النقل ليس نقلًا للعدم.

وقد علل الشيخ ابن عثيمين رحمه الله عدم مشروعية القنوت للطاعون، بأن ظاهر السنة أن القنوت إنما يشرع في النوازل التي تكون من غير الله مثل إيذاء الكفار للمسلمين، أما ما كان من فعل الله كالكسوف والزلازل والقحط والطاعون ونحوها فلا يقنت لها(2)، ويجاب عن هذا بأن تسليط الكفار على بلاد المسلمين إنما هو بأمر

--------------------------------------------

(1) أبو داود (1552)، والنسائي (3194)، وصححه الألباني في صحيح الجامع (1282).

(2) القول المفيد (1/ 301)
আকস্মিক বিপদসমূহ (نوازل); যারা এটি (মহামারিতে কুনুত পড়া) নিষিদ্ধ করেন তারা এই মর্মে যুক্তি দিয়েছেন যে, মহামারি (طاعون) হলো একটি রহমত (رحمة) এবং এতে মৃত্যুবরণ করা শাহাদাত (شهادة), তাই এটি দূর করার জন্য দোয়া করা বৈধ নয়। আর এর জন্য কুনুত (قنوت) পড়ার বিষয়টি সাহাবিদের (صحابة) আমল থেকে বর্ণিত হয়নি। এর উত্তর হলো, বিপদ দূর করার জন্য দোয়া করা এর ফজিলতের পরিপন্থী নয়, যেমনটি শত্রুর মোকাবিলা করার আকাঙ্ক্ষা করতে নিষেধ করা হয়েছে, অথচ তা শাহাদাতের (شهادة) একটি কারণ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এমন সব বিষয় থেকে আশ্রয় চাওয়া প্রমাণিত হয়েছে যার মাধ্যমে মৃত্যু হলে ফজিলত ও শাহাদাত (شهادة) হওয়া সাব্যস্ত হয়, যেমন মহামারি (طاعون)। এর অন্তর্ভুক্ত হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: «হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে চাপা পড়ে মৃত্যু থেকে আশ্রয় চাই, উপর থেকে নিচে পড়ে মৃত্যু থেকে আশ্রয় চাই, পানিতে ডুবে ও আগুনে পুড়ে মৃত্যু থেকে আশ্রয় চাই এবং দংশিত অবস্থায় মৃত্যু থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাই...»(১)। অন্যান্য সমস্ত রোগব্যাধি ও পরীক্ষা-বিপদের (ابتلاءات) মধ্যে আল্লাহ মুমিনের জন্য মহান ফজিলত ও কল্যাণ রেখেছেন, তাসত্ত্বেও বান্দার জন্য দুনিয়া ও আখেরাতে ক্ষমা ও নিরাপত্তা (عافية) প্রার্থনা করা শরিয়তসম্মত। ঠিক যেমন কোনো কারণ ছাড়া কোনো মুসলিমের বিরুদ্ধে মহামারি (طاعون), ডুবে মরা বা চাপা পড়ার বদদোয়া করা বৈধ নয়, যদিও এর ভেতরে শাহাদাত (شهادة) নিহিত রয়েছে। আর সাহাবিদের (صحابة) থেকে এটি বর্ণিত না হওয়ার বিষয়ে বলা যায় যে, বর্ণনা না থাকা কোনো কিছুর অনস্তিত্বের প্রমাণ নয়।

শায়খ ইবনে উসাইমিন (রহ.) মহামারি (طاعون)-এর জন্য কুনুত (قنوت) পড়ার বৈধতা না থাকার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন যে, সুন্নাহর (سنة) বাহ্যিক রূপ থেকে বোঝা যায় কুনুত (قنوت) কেবল এমন আকস্মিক বিপদের (نوازل) ক্ষেত্রে শরিয়তসম্মত যা সরাসরি আল্লাহ ব্যতীত অন্যের মাধ্যমে ঘটে, যেমন কাফেরদের পক্ষ থেকে মুসলিমদের ওপর নিপীড়ন। তবে যা সরাসরি আল্লাহর পক্ষ থেকে ঘটে থাকে, যেমন সূর্যগ্রহণ, ভূমিকম্প, অনাবৃষ্টি ও মহামারি (طاعون) ইত্যাদি—এসবের জন্য কুনুত (قنুত) পড়া যাবে না(২)। এর জবাবে বলা হয় যে, মুসলিম দেশগুলোর ওপর কাফেরদের কর্তৃত্ব আরোপও মূলত আল্লাহর নির্দেশেই (أمر) হয়ে থাকে

--------------------------------------------

(১) আবু দাউদ (১৫৫২), নাসায়ি (৩১৯৪), এবং আলবানি সহিহুল জামে (১২৮২) গ্রন্থে একে সহিহ (صححه) বলেছেন।

(২) আল-কাওলুল মুফিদ (১/ ৩০১)