(খণ্ড: ১)
আন-নাকসু মিনান নাসসি হাকিকাতুহু ওয়া হুকমুহু ওয়া আসারু যালিকা ফিল ইহতিজাজি বিস-সুন্নাতিল আহাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
النقص من النص حقيقته وحكمه وأثر ذلك في الاحتجاج بالسنة الآحادية القسم: أصول الفقه
الكتاب: النقص من النص حقيقته وحكمه وأثر ذلك في الاحتجاج بالسنة الآحادية
المؤلف: عمر بن عبد العزيز بن عثمان
الناشر: الجامعة الاسلامية بالمدينة المنورة
الطبعة: السنة 20 - العددان 77-78 محرم - جماد الآخر 1408هـ/1988م
عدد الصفحات: 101
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
নস (মূলপাঠ) থেকে বিয়োজন: এর স্বরূপ, বিধান এবং একক (آحاد) সুন্নাহর মাধ্যমে দলিল গ্রহণের ক্ষেত্রে এর প্রভাব বিভাগ: উসুল আল-ফিকহ
বই: নস (মূলপাঠ) থেকে বিয়োজন: এর স্বরূপ, বিধান এবং একক (آحاد) সুন্নাহর মাধ্যমে দলিল গ্রহণের ক্ষেত্রে এর প্রভাব
লেখক: উমর ইবনে আব্দুল আজিজ ইবনে উসমান
প্রকাশক: মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়
সংস্করণ: ২০তম বর্ষ - সংখ্যা ৭৭-৭৮ মহররম - জমাদিউল আখির ১৪০৮ হিজরি/১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১০১
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আন-নাকসু মিনান নাসসি হাকিকাতুহু ওয়া হুকমুহু ওয়া আসারু যালিকা ফিল ইহতিজাজি বিস-সুন্নাতিল আহাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
مقدمة…النقص من النص حقيقته وحكمه
وأثر ذلك في الاحتجاج بالسنة الَاحادية
دكتور: عمر بن عبد العزيز
بقسم الدراسات العليا بالجامعة الإسلامية
بالمدينة المنورة
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله رب العالمين حمدا كثيرا مباركا فيه.
وأشهد أن لا اله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن نبينا محمدا عبده ورسوله. اللهم صل وسلم وبارك على نبينا محمد وعلى آله وصحبه ومن تمسك بسنته، واهتدى بهديه.
أما بعد: فإن الحرص على السنة المطهرة، وإعمالها في شتى مجالات الحياة، والعمل بما تأتي به من الأحكام الدنيوية والأخروية، وعدم ترك العمل بأي نوع من أنواعها مادام صح عن الرسول صلى الله عليه وسلم مما ينبغي أن يتحلى به كل مسلم، ولاسيما العلماء الذين يستنبطون منها الأحكام باعتبارها ثانية المصادر التي تستقي منها الشريعة السمحة أحكامها، وتأخذ الأمة منها نظامها، وتؤسس بها كيانها.
وقد تحلى بذلك العلماء من السلف الصالح من هذه الأمة رضي الله عنهم حرصوا على السنة المطهرة أشد الحرص، وتمسكوا بها بجميع أنواعها وعملوا بمقتضاها في شتى الميادين.
ومن الحرص على السنة، إزالة أي عقبة تعترض طريق تطبيق أي نوع من أنواع السنة، وإذابة أي عثرة تعوق العمل بها في أي زاوية من زواياها وإتاحة المكنة لسلوك المداخل المؤدية إلى إعمالها والأخذ بموجبها.
وهناك بعض القواعد قد يكون مدخلا إلى مس العمل بالسنة في نوع من أنواعها، وقد قال بها علماء لا نعلم أن الحرص على السنة ينقصهم، أو أن التمسك بها يعوزهم.
ومن هذه القواعد، قاعدة: "النقص من النص نسخ ".
فإني رأيت أن القول بها مطلقا يؤثر في العمل بالسنة الآحادية في بعض حالاتها مع الكتاب الكريم أو السنة المتواترة.
উপস্থাপনা…মূল পাঠ (নস) থেকে কোনো অংশ হ্রাস করা: এর স্বরূপ ও বিধান
এবং একক সূত্রীয় (آحادية) সুন্নাহর ভিত্তিতে দলিল পেশ করার ক্ষেত্রে এর প্রভাব
ডক্টর: উমর বিন আব্দুল আজিজ
মদীনা মুনাওয়ারার ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর গবেষণা বিভাগ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এমন প্রশংসা যা প্রচুর ও বরকতময়।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক এবং তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। হে আল্লাহ! আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ, তাঁর সঙ্গীগণ এবং যারা তাঁর সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরেছেন ও তাঁর প্রদর্শিত পথে পরিচালিত হয়েছেন, তাঁদের সকলের ওপর রহমত, শান্তি ও বরকত বর্ষণ করুন।
অতঃপর: পবিত্র সুন্নাহর প্রতি গভীর যত্নশীল হওয়া, জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে তা প্রয়োগ করা, এর মাধ্যমে প্রাপ্ত ইহকাল ও পরকালের বিধিবিধান অনুযায়ী আমল করা এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত কোনো সুন্নাহর ওপর আমল করা থেকে বিরত না থাকা—এমন এক গুণ যা প্রত্যেক মুসলিমের অর্জন করা উচিত। বিশেষ করে সেই সকল আলিমদের জন্য এটি অধিক প্রয়োজনীয়, যারা সুন্নাহ থেকে বিধিবিধান আহরণ করেন। কেননা এটি শরিয়তের দ্বিতীয় উৎস যেখান থেকে বিধানসমূহ গ্রহণ করা হয়, উম্মাহ এর মাধ্যমেই তাদের জীবনপদ্ধতি নির্ধারণ করে এবং তাদের অস্তিত্বের ভিত্তি নির্মাণ করে।
এই উম্মতের সালাফে সালেহীন (পুণ্যবান পূর্বসূরি) বিদ্বানগণ—আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন—এই গুণেই ভূষিত ছিলেন। তাঁরা পবিত্র সুন্নাহর ব্যাপারে অত্যন্ত যত্নশীল ছিলেন, এর সকল প্রকারকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরতেন এবং সর্বক্ষেত্রে এর দাবি অনুযায়ী আমল করতেন।
সুন্নাহর প্রতি এই অনুরাগের একটি অংশ হলো, সুন্নাহর যেকোনো প্রকার প্রয়োগের পথে আসা যেকোনো অন্তরায় দূর করা, এর ওপর আমল করার ক্ষেত্রে যেকোনো বাধা অপসারণ করা এবং সুন্নাহর ওপর আমল ও এর নির্দেশাবলি গ্রহণের পথগুলোকে সুগম করা।
সেখানে এমন কিছু মূলনীতি রয়েছে যা হয়তো সুন্নাহর কোনো কোনো প্রকারের ওপর আমল করার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে। এই মূলনীতিগুলো এমন কিছু আলিম প্রদান করেছেন, যাদের সুন্নাহর প্রতি অনুরাগ বা তা আঁকড়ে ধরার আগ্রহে কোনো ঘাটতি ছিল বলে আমাদের জানা নেই।
এই সকল মূলনীতির মধ্যে একটি হলো: "মূল পাঠ (নস) থেকে কোনো অংশ হ্রাস করা রহিতকরণ (نسخ) হিসেবে গণ্য।"
আমি লক্ষ্য করেছি যে, এই মূলনীতিটি নিঃশর্তভাবে প্রয়োগ করা পবিত্র কুরআন অথবা অবিচ্ছিন্ন বহুসূত্রীয় (متواترة) সুন্নাহর সাথে কোনো কোনো ক্ষেত্রে একক সূত্রীয় (آحادية) সুন্নাহর ওপর আমল করার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে।
(খণ্ড: ১)
আন-নাকসু মিনান নাসসি হাকিকাতুহু ওয়া হুকমুহু ওয়া আসারু যালিকা ফিল ইহতিজাজি বিস-সুন্নাতিল আহাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
فأحببت أن أدرس هذه القاعدة، وأبحث عن مكامن أثرها في الاحتجاج بالسنة الآحادية.
وقد خططت أن يقع البحث في ثلاثة فصول على النحو التالي:
الفصل الأول: النقص من النص. ويتضمن مبحثين:
المبحث الأول: تمهيد يتضمن: تعريفه، ولشرحه، وتمثيله.
المبحث الثاني: أنواعه. ويتضمن ثلاثة مطالب:
المطلب الأول: نقص الشرط.
المطلب الثاني: نقص الجزء.
المطلب الثالث: نقص الجزئي.
الفصل الثاني: حكم النقص من النص. ويتضمن مبحثين:
المبحث الأول: حكم نقص الشرط والجزء.
المبحث الثاني: حكم نقص الجزئي. وفيه مطلبان:
المطلب الأول: التخصيص.
المطلب الثاني: التقييد.
الفصل الثالث: أثر النقص من النص في الاحتجاج بالسنة الآحادية. وفيه ثلاثة مباحث:
المبحث الأول: تعريف السنة الآحادية.
المبحث الثاني: تأثير نقص الشرط والجزء.
المبحث الثالث: تأثير نقص الجزئي. وفيه مطلبان:
المطلب الأول: بالنسبة للتخصيص.
المطلب الثاني: بالنسبة للتقييد.
وأسأل الله سبحانه وتعالى أن يجعل أعمالنا خالصة لوجهه الكريم وأن يهدينا سواء السبيل، وأن يوفقنا للعمل بكتابه وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم ويرشدنا إلى الصواب.
14 رمضان 1409 هـ
عمر بن عبد العزيز المدينة المنورة
তাই আমি এই নীতিটি (قاعدة) অধ্যয়ন করতে এবং একক সংবাদ ভিত্তিক সুন্নাহর (السنة الآحادية) মাধ্যমে দলিল গ্রহণের (الاحتجاج) ক্ষেত্রে এর প্রভাবের ক্ষেত্রগুলো অনুসন্ধান করতে পছন্দ করেছি।
আমি পরিকল্পনা করেছি যে গবেষণাটি নিম্নোক্তভাবে তিনটি অধ্যায়ে (فصل) বিন্যস্ত হবে:
প্রথম অধ্যায় (الفصل الأول): মূল পাঠ থেকে বিয়োজন (النقص من النص)। এটি দুটি পরিচ্ছেদ (مبحث) নিয়ে গঠিত:
প্রথম পরিচ্ছেদ (المبحث الأول): একটি ভূমিকা, যা এর সংজ্ঞা (تعريف), ব্যাখ্যা ও উদাহরণ ধারণ করে।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ (المبحث الثاني): এর প্রকারভেদ (أنواع)। এটি তিনটি অনুচ্ছেদ (مطلب) নিয়ে গঠিত:
প্রথম অনুচ্ছেদ (المطلب الأول): শর্তের বিয়োজন (نقص الشرط)।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ (المطلب الثاني): অংশের বিয়োজন (نقص الجزء)।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ (المطلب الثالث): আংশিক বিয়োজন (نقص الجزئي)।
দ্বিতীয় অধ্যায় (الفصل الثاني): মূল পাঠ থেকে বিয়োজনের বিধান (حكم)। এটি দুটি পরিচ্ছেদ (مبحث) নিয়ে গঠিত:
প্রথম পরিচ্ছেদ (المبحث الأول): শর্ত ও অংশের বিয়োজনের বিধান (حكم)।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ (المبحث الثاني): আংশিক বিয়োজনের বিধান (حكم)। এতে দুটি অনুচ্ছেদ (مطلب) রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ (المطلب الأول): বিশেষায়ন (التخصيص)।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ (المطلب الثاني): সীমাবদ্ধকরণ (التقييد)।
তৃতীয় অধ্যায় (الفصل الثالث): একক সংবাদ ভিত্তিক সুন্নাহর (السنة الآحادية) মাধ্যমে দলিল গ্রহণের (الاحتجاج) ক্ষেত্রে মূল পাঠ থেকে বিয়োজনের প্রভাব। এতে তিনটি পরিচ্ছেদ (مبحث) রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ (المبحث الأول): একক সংবাদ ভিত্তিক সুন্নাহর (السنة الآحادية) সংজ্ঞা (تعريف)।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ (المبحث الثاني): শর্ত ও অংশের বিয়োজনের প্রভাব।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ (المبحث الثالث): আংশিক বিয়োজনের প্রভাব। এতে দুটি অনুচ্ছেদ (مطلب) রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ (المطلب الأول): বিশেষায়নের (التخصيص) প্রেক্ষিতে।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ (المطلب الثاني): সীমাবদ্ধকরণের (التقييد) প্রেক্ষিতে।
আমি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের আমলসমূহকে শুধুমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন, আমাদের সরল পথ প্রদর্শন করেন এবং তাঁর কিতাব ও তাঁর রাসুলের সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করার তাওফিক দান করেন ও আমাদের সঠিক পথের দিশা দেন।
১৪ রমজান ১৪০৯ হিজরি
উমর ইবনে আব্দুল আজিজ, মদিনা মুনাওয়ারা
(খণ্ড: ১)
আন-নাকসু মিনান নাসসি হাকিকাতুহু ওয়া হুকমুহু ওয়া আসারু যালিকা ফিল ইহতিজাজি বিস-সুন্নাতিল আহাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
الفصل الأول: النقض من النص
المبحث الأول: تمهيد
المطلب الاول: تعريف وشرح وتمثيله…الفصل الأول - النقص من النص
المبحث الأول: تعريفه، وشرحه، وتمثيله.
النقص: مصدر نقص ينقص بفتح القاف في الماضي، وضمها في المضارع من باب نصر.
وهو في اللغة بمعناه المصدري: القلة، والخسة، والضعف.
يقال: "نقص الشيء نقصا ونقصانا" أي خسر، وقَلَّ. و: "نقص عقله لما أي ضعف. والنقص أيضا: الخسران، وذهاب شيء من الشيء بعد تمامه.
وذكر: أن الذهاب بعد التمام يطلق عليه النقصان فقط، وأن الضعف يطلق عليه النقص فقط. فيقال: "دخل عليه نقص في عقله، ولا يقال: نقصان " ويطلق النقص والنقصان اسما للقدر الذاهب من المنقوص. من إطلاق المصدر على اسم المفعول1.
والنقص قد يكون لازما لا يتوقف فهم فعله2 على فهم أمر غير الفاعل3. قال الله تعالى: {قَدْ عَلِمْنَا مَا تَنْقُصُ الأَرْضُ مِنْهُمْ....} الآية"4
والنقص المتضمن في الفعل {تَنْقُصُ} المسند إلى الأرض بطريق الصدور والقيام لم يتوقف فهمه على شيء آخر يتعلق به الفعل تعلق الوقوع عليه بحيث لا يمكن تعقل الفعل، وتصوره إلا بعد تعقل ذلك الشيء وتصوره. بل يجوز فهمه مادام الفاعل المسند إليه الفعل قد فهم مع عدم خطو رأي متعلق غيره بالبال.
--------------------------------------------
প্রথম অধ্যায়: পাঠ (নাস) হতে খণ্ডন (النقض)
প্রথম পরিচ্ছেদ: ভূমিকা
প্রথম অনুচ্ছেদ: সংজ্ঞা, ব্যাখ্যা ও উদাহরণ…প্রথম অধ্যায় - পাঠ (নাস) হতে স্বল্পতা (النقص)
প্রথম পরিচ্ছেদ: এর সংজ্ঞা, ব্যাখ্যা ও উদাহরণ।
'আন-নাকস' (النقص): এটি 'নাকাসা-ইয়ানকাসু' এর ক্রিয়ামূল (مصدر), যা অতীতে ক্বাফ বর্ণে ফাতহা এবং বর্তমানে যাম্মাহ (পেশ) সহযোগে 'নাসারা' (نصر) এর বাব থেকে ব্যবহৃত হয়।
আভিধানিক অর্থে এর মাসদারী অর্থ হলো: স্বল্পতা (القلة), তুচ্ছতা (الخسة) এবং দুর্বলতা (الضعف)।
বলা হয়: "বস্তুটি কমে গিয়েছে (نقص الشيء نقصا ونقصانا)" অর্থাৎ তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং হ্রাস পেয়েছে। এবং: "তার বুদ্ধি কমে গিয়েছে", অর্থাৎ দুর্বল হয়ে পড়েছে। 'নাকস' (النقص) বলতে লোকসান এবং কোনো বস্তু পূর্ণতা পাওয়ার পর তার কিছু অংশ চলে যাওয়াকেও বোঝায়।
উল্লেখ্য যে: পূর্ণতা লাভের পর কোনো কিছু চলে যাওয়াকে কেবল 'নুকসান' (نقصان) বলা হয় এবং দুর্বলতাকে কেবল 'নাকস' (نقص) বলা হয়। এজন্য বলা হয়: "তার বুদ্ধিতে স্বল্পতা (نقص) প্রবেশ করেছে, এক্ষেত্রে 'নুকসান' (نقصان) বলা হয় না।" আবার 'নাকস' (النقص) ও 'নুকসান' (النقصان) উভয় শব্দই মূল বস্তু থেকে যতটুকু অংশ হ্রাস পেয়েছে তার নাম হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। এটি ক্রিয়ামূল (مصدر) শব্দকে কর্মপদ (اسم المفعول) হিসেবে ব্যবহারের অন্তর্ভুক্ত।১
'নাকস' (النقص) শব্দটি কখনো অকর্মক (لازما) হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যেখানে ক্রিয়ার (الفعل)২ অর্থ বোঝার জন্য কর্তা (الفاعل)৩ ব্যতীত অন্য কোনো বিষয়ের ওপর নির্ভর করতে হয় না। মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন: {নিশ্চয়ই আমি জানি জমিন তাদের মধ্য থেকে যা কমিয়ে দেয় (تنقص)...} (আয়াত)।৪
'তানকুসু' (تَنْقُصُ) ক্রিয়ার (الفعل) মধ্যে যে কমার বিষয়টি নিহিত আছে এবং যা জমিনের দিকে সম্বন্ধিত হয়েছে, তা বোঝার জন্য অন্য কোনো বিষয়ের ওপর নির্ভর করতে হয় না যার ওপর ক্রিয়াটি পতিত হবে; অর্থাৎ সেই বিষয়টি কল্পনা করা ছাড়া ক্রিয়াটি অনুধাবন করা অসম্ভব নয়। বরং যতক্ষণ পর্যন্ত কর্তা (الفاعل) সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত অন্য কোনো বিষয়ের কথা মাথায় না আসলেও এই ক্রিয়াটির অর্থ বোঝা সম্ভব।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাকসু মিনান নাসসি হাকিকাতুহু ওয়া হুকমুহু ওয়া আসারু যালিকা ফিল ইহতিজাজি বিস-সুন্নাতিল আহাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
وقد يكون النقص متعديا يتوقف فهم فعله على فهم أمر غير الفاعل1. قال الله تعالى: {أَوَلَمْ يَرَوْا أَنَّا نَأْتِي الأَرْضَ نَنْقُصُهَا مِنْ أَطْرَافِهَا} 2.
والنقص كما يكون في معاني مدلولات الألفاظ، كذلك يكون في الألفاظ الدالة على المعاني بأقسامها الثلاثة: الاسم3 والفعل والحرف4.
ففي الاسم مثل: الفاعل للفعل المبني للمفعول. حيث ينقص بحذفه، وإقامة المفعول به مقامه. مثل: "نيل خبر نائل " فأصل الكلام (نال زيد خبر نائل) فحذف الفاعل وهو (زيد) وأقيم المفعول به وهو (خبر نائل) مقامه، فأخذ حكم المفاعل من الرفع، والتأخر عن الفعل الرافع له. والفاعل اسم5.
وفي الفعل مثل: الفعل الذي يدل دليل عليه وإن لم يذكر. فإنه يجوز حذفه مثل (زيد) مقولا في جواب قول القائل: من قرأ؟ فإن تقدير الجواب (قرأ زيد) لكن الفعل (قرأ) حذف لدلالة الاستفهام عليه6.
وفي الحرف مثل: الهمزة في (يكرم) مضارع أكرم. فإن أصله (يؤكرم) حذفت منه الهمزة. والهمزة حرف7.
والنقص بالحذف لابد أن ينطوي على فائدة تعود إما إلى اللفظ بالطلاوة والحسن والرقة والخفة. وإما إلى المعنى كتوقير المحذوف أو تحقيره أو غيرهما.
والنقص بالحذف يشترط العلماء فيه - بالإِضافة إلى كونه مفيدا - أن لا ينقص من بلاغة
--------------------------------------------
কখনও বিয়োজন (نقص) সকর্মক (متعدي) হতে পারে, যার ক্রিয়ার অর্থ অনুধাবন করা কর্তা (فاعل) ব্যতীত অন্য কোনো বিষয় অনুধাবন করার ওপর নির্ভর করে। আল্লাহ তাআলা বলেন: "তারা কি লক্ষ্য করে না যে, আমি জমিনকে তার প্রান্তসমূহ থেকে সংকুচিত (نقص) করছি?"
শব্দের অর্থের ক্ষেত্রে যেমন বিয়োজন (نقص) হয়, তেমনি অর্থের পরিচায়ক শব্দের তিনটি প্রকার: বিশেষ্য (اسم), ক্রিয়া (فعل) এবং অব্যয় (حرف)-এর ক্ষেত্রেও তা ঘটে থাকে।
বিশেষ্যের (اسم) উদাহরণ যেমন: কর্মবাচ্যের (مبني للمفعول) ক্রিয়ার ক্ষেত্রে কর্তা (فاعل)। এখানে কর্তাকে বিলোপ (حذف) করার মাধ্যমে বিয়োজন ঘটে এবং কর্মকে (مفعول به) তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়। যেমন: "নীলা খাবারা নায়েলিন" (نيل خبر نائل), এই বাক্যের মূল ছিল "নালা জাইদুন খাবারা নায়েলিন" (نال زيد خبر نائل)। এখানে কর্তা (فاعل) তথা "জায়েদ" (زيد)-কে বিলোপ (حذف) করা হয়েছে এবং কর্ম (مفعول به) তথা "খাবারা নায়েলিন" (خبر نائل)-কে তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে। ফলে তা কর্তার বিধান তথা পেশ (رفع) প্রাপ্ত হয়েছে এবং ক্রিয়ার পরে আসার বৈশিষ্ট্য লাভ করেছে। আর কর্তা (فاعل) হলো একটি বিশেষ্য (اسم)।
ক্রিয়ার (فعل) উদাহরণ যেমন: এমন ক্রিয়া যার প্রতি কোনো প্রমাণ বিদ্যমান থাকে, যদিও তা উল্লেখ করা না হয়। এক্ষেত্রে ক্রিয়াটিকে বিলোপ (حذف) করা বৈধ। যেমন কেউ প্রশ্ন করল: "কে পাঠ করেছে?" এর উত্তরে "জায়েদ" (زيد) বলা। এখানে উত্তরের প্রাক্কলিত রূপ হলো "জায়েদ পাঠ করেছে" (قرأ زيد), কিন্তু প্রশ্নবোধক বাক্যের ইঙ্গিতের কারণে "পাঠ করেছে" (قرأ) ক্রিয়াটি বিলোপ (حذف) করা হয়েছে।
অব্যয়ের (حرف) উদাহরণ যেমন: "আকরামা" এর বর্তমান বা ভবিষ্যৎ কাল (مضارع) রূপ "ইউকরিমু" (يكرم)-এর হামজা (الهمزة)। এর মূল রূপ ছিল "ইউআকরিমু" (يؤكرم), যা থেকে হামজা (الهمزة) বিলোপ (حذف) করা হয়েছে। আর হামজা (الهمزة) হলো একটি অব্যয় (حرف)।
বিলোপের (حذف) মাধ্যমে বিয়োজন (نقص) অবশ্যই কোনো না কোনো উপকারের সাথে সংশ্লিষ্ট হতে হবে; যা হয় শব্দের শ্রুতিমাধুর্য (طلاوة), সৌন্দর্য (حسن), সূক্ষ্মতা (رقة) ও সাবলীলতার (خفة) ক্ষেত্রে, অথবা অর্থের ক্ষেত্রে যেমন বিলুপ্ত শব্দটির প্রতি সম্মান প্রদর্শন (توقير) বা তাকে তুচ্ছজ্ঞান (تحقير) করা ইত্যাদি।
বিলোপের (حذف) মাধ্যমে বিয়োজনের (نقص) ক্ষেত্রে আলেমগণ—উপকারী হওয়ার পাশাপাশি—এই শর্তারোপ করেছেন যে, তা যেন অলঙ্কারশাস্ত্রের (بلاغة) মান ক্ষুণ্ণ না করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাকসু মিনান নাসসি হাকিকাতুহু ওয়া হুকমুহু ওয়া আসারু যালিকা ফিল ইহতিজাজি বিস-সুন্নাতিল আহাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الكلام1، ولا يخل بالمعنى لأنه أحد قسمي الإيجاز2. والإيجاز فن من فنون البلاغة. ففي الأمثلة التي مرت نرى أن النقص أتى بفوائد كانت تنتفي لو قدر للنقص أن ينتفي.
ففي قول القائل: (نيل خير نائل) تتزاحم احتمالات الفوائد من التوقير بعدم استرذاله، أو التحقير بصون اللسان عنه، أو ادعاء تعينه، أو غير ذلك من كونه معروفا لا يحتاج إلى الذكر، أو مجهولا لا يمكن ذكره3.
وفي قول القائل: "زيد" جوابا للمستفهم بـ (من قرأ؟) يتضمن نقص الفعل وحذفه فائدة الاختصار لأن الفعل (قرأ) قد دلت الجملة المستفهم بها عليه فعرف، وعندئذ يكون ذكره لمعرفته قد وجدت فائدته دونه فاقتضى فائدة الاختصار حذفه.
وفي (يكرم) حذفت الهمزة للتخفيف. لأن من حروف المضارعة الهمزة، فعندما يعبر المتكلم وحده عن إكرامه في الحال أو المستقبل يقول
… لو لم تحذف الهمزة: "أؤكرم فتجتمع همزتان، إحداهما حرف المضارعة والثانية من صيغة الفعل، فيثقل على اللسان النطق به. فحذفت الهمزة الثانية وحذفت تلك الهمزة مع بقية حروف المضارعة طردا للباب - كما يقولون - ولتتحد صيغة المضارع في باب الأفعال في المتكلم والمخاطب والغائب4
وفي موضوع النقص من النص يقصد بالنقص: النقص الذي يكون في المعاني مدلولات الألفاظ.
النص: مصدر نص ينص من باب نصر.
--------------------------------------------
বক্তব্য১, এটি অর্থের কোনো ব্যাঘাত ঘটায় না, কারণ এটি সংক্ষেপণ (إيجاز)২-এর দুটি প্রকারের একটি। আর সংক্ষেপণ (إيجاز) হলো অলঙ্কারশাস্ত্র (بلاغة)-এর অন্যতম একটি শিল্প। পূর্বের উদাহরণগুলোতে আমরা দেখেছি যে, (শব্দের) স্বল্পতা বা উহ্য রাখা এমন কিছু বিশেষ উপকারিতা নিয়ে আসে যা সেই স্বল্পতা না থাকলে অর্জিত হতো না।
যেমন কোনো বক্তার উক্তি: (শ্রেষ্ঠ দাতার দান লাভ)—এখানে সম্মান প্রদর্শনার্থে তাকে তুচ্ছ না করা, অথবা তার নাম মুখে আনা থেকে বিরত থেকে অবজ্ঞা করা, অথবা নির্দিষ্ট করার দাবি করা, অথবা সে অত্যন্ত পরিচিত (معروف) হওয়ার কারণে তার উল্লেখ নিষ্প্রয়োজন হওয়া, কিংবা অজ্ঞাত (مجهول)৩ হওয়ার কারণে তার উল্লেখ করা সম্ভব না হওয়ার মতো নানাবিধ উপকারিতার সম্ভাবনা তৈরি হয়।
এবং প্রশ্নকর্তার প্রশ্ন "(কে পাঠ করেছে?)"-এর জবাবে যখন কেউ বলে "জায়েদ", তখন ক্রিয়াটি উহ্য রাখা এবং বিলোপ (حذف) করার মধ্যে সংক্ষিপ্তকরণের উপকারিতা নিহিত রয়েছে। কারণ "পাঠ করেছে" ক্রিয়াটি প্রশ্নবোধক বাক্যের মাধ্যমে আগেই নির্দেশিত হয়েছে এবং তা পরিচিত (معروف) হয়ে গেছে; এমতাবস্থায় সেটি উল্লেখ করা ছাড়াও যেহেতু উদ্দেশ্য হাসিল হয়, তাই সংক্ষিপ্তকরণের স্বার্থে সেটি বিলোপ (حذف) করাই শ্রেয়।
এবং "ইউকরিমু" শব্দটিতে সহজকরণের জন্য হামজা বিলোপ (حذف) করা হয়েছে। কারণ বর্তমান বা ভবিষ্যৎকাল নির্দেশক হরফসমূহের অন্যতম একটি হলো হামজা। বক্তা যখন নিজের একার পক্ষ থেকে বর্তমানে বা ভবিষ্যতে সম্মান প্রদানের কথা ব্যক্ত করেন, তখন তিনি বলেন
… যদি হামজা বিলোপ (حذف) করা না হতো তবে শব্দটি হতো "আ-উকরিমু", ফলে দুটি হামজা একত্রিত হতো; যার একটি মুজারের হরফ এবং দ্বিতীয়টি ক্রিয়ার মূল গঠনের অংশ। এমতাবস্থায় তা উচ্চারণ করা জিহ্বার জন্য কষ্টকর হতো। তাই দ্বিতীয় হামজাটি বিলোপ করা হয়েছে এবং সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী (طردا للباب) মুজারের অন্যান্য রূপ থেকেও সেই হামজা বিলোপ করা হয়েছে—যেমনটি ভাষাবিদগণ বলে থাকেন—যাতে উত্তম পুরুষ, মধ্যম পুরুষ এবং নাম পুরুষের ক্ষেত্রে মুজারের রূপটি অভিন্ন হয়৪।
মূল পাঠ (نص) থেকে শব্দের স্বল্পতা বা উহ্য রাখার বিষয়টি দ্বারা মূলত অর্থের স্বল্পতা বা শব্দের অন্তর্নিহিত অর্থের অপূর্ণতাকে বোঝানো হয়েছে।
মূল পাঠ (نص): এটি 'নাসারা' বাব থেকে 'নাসসা-ইয়ানুসসু'-এর মাসদার (ক্রিয়ামূল)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাকসু মিনান নাসসি হাকিকাতুহু ওয়া হুকমুহু ওয়া আসারু যালিকা ফিল ইহতিজাজি বিস-সুন্নাতিল আহাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وقد جاء بمعناه المصدري في اللغة بعدة معان يرجع معظمها إلى الرفع والإظهار1
وقد ورد في حديث رفعه صلى الله عليه وسلم من عرفات: "فإذا وجد فجوة نص"2 أي رفع ناقته في السير وأسرع كما ذكره شراح الحديث3.
ويقال: "نص الشيء نصا" أي أظهره4.
وأما في الاصطلاح: فقد تناولته اصطلاحات متعددة بالإطلاق اختلف ما يقصد به حسب اختلاف تلك الاصطلاحات5.
والذي يعنينا منها هو الاصطلاح الشرعي العام.
لقد أريد بالنص في هذا الاصطلاح: الكتاب والسنة.
يقال: (هذا ثبت بالنص) أي بالكتاب والسنة.
وهذا الاصطلاح عندما نقل النص إلى هذا المعنى لم يبعد به عن معناه اللغوي. إذ أن ثبوت الكتاب عن الله عز وجل، ورفع السنة الشريفة بإسنادها إلى الرسول صلى الله عليه وسلم، وإظهار ألفاظهما لمعانيها وإظهارها للأحكام ودلالتها عليها تبرز المناسبة القوية بين هذا المعنى الاصطلاحي وبن المعنى اللغوي للنص6.
ويعني علماء الأصول بالنقص من النص: "أن يوجد نص شرعي ويتناول ذا شرط أو جزء أو جزئيات ثم يأتي نص آخر أو ما في حكمه ويزيل الشرط أو يخرج بعض أجزاء أو جزئيات ما تناوله النص الأول من حكمه "7.
--------------------------------------------
এটি (নস শব্দটি) আভিধানিক অর্থে কয়েকটি মূলধাতুগত অর্থে এসেছে, যার অধিকাংশ উচ্চ করা (الرفع) ও প্রকাশ করা (الإظهار) অর্থে ব্যবহৃত হয়।১
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরাফাত থেকে বর্ণিত একটি মারফু (رفع) হাদিসে এসেছে: "যখন তিনি খালি জায়গা পেতেন, তখন তিনি দ্রুত চলতেন (نص)"।২ অর্থাৎ চলার পথে তিনি তাঁর উষ্ট্রীকে গতি বাড়িয়ে দ্রুত চালনা করতেন, যেমনটি হাদিস ব্যাখ্যাকারগণ উল্লেখ করেছেন।৩
বলা হয়: "নাস্সাশ শাইয়া নাসসান" (نص الشيء نصا) অর্থাৎ সেটিকে প্রকাশ করা (أظهره) হয়েছে।৪
আর পারিভাষিক অর্থে: এই শব্দটি বিভিন্ন পরিভাষায় ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে, যেখানে সেগুলোর ভিন্নতা অনুযায়ী এর উদ্দিষ্ট অর্থেও ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়।৫
আমাদের কাছে এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো সাধারণ শরয়ি পরিভাষা।
এই পরিভাষায় 'নস' বলতে কুরআন ও সুন্নাহকে বোঝানো হয়েছে।
বলা হয়: (এটি নস দ্বারা প্রমাণিত), অর্থাৎ কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা।
আর এই পরিভাষাটি যখন 'নস' শব্দটিকে এই অর্থে রূপান্তরিত করেছে, তখন তা আভিধানিক অর্থ থেকে খুব বেশি দূরে সরে যায়নি। কেননা, মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে কুরআনের প্রামাণ্যতা এবং সুন্নাহকে ইসনাদ (إسناد) বা সূত্রের মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পর্যন্ত মারফু (رفع) করা, এবং শব্দাবলির মাধ্যমে অর্থের প্রকাশ ও বিধানাবলি স্পষ্ট করা এবং সেগুলোর ওপর দালালাত (دلالة) বা নির্দেশনা প্রদান—এই পারিভাষিক অর্থ ও আভিধানিক অর্থের মধ্যে একটি শক্তিশালী যোগসূত্র তৈরি করে।৬
উসুল বিশেষজ্ঞগণ 'নস থেকে হ্রাসকরণ' বলতে বোঝেন: "একটি শরয়ি নস বিদ্যমান থাকা যা কোনো শর্ত, অংশ বা অংশবিশেষকে অন্তর্ভুক্ত করে, এরপর অন্য একটি নস বা সমপর্যায়ের কিছু আগমন করে সেই শর্তটি রহিত করে দেয় অথবা প্রথম নসটি যে বিধানকে (حكم) অন্তর্ভুক্ত করেছিল তার কিছু অংশ বা অংশবিশেষকে সেই বিধান থেকে বের করে দেয়।"৭
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাকসু মিনান নাসসি হাকিকাতুহু ওয়া হুকমুহু ওয়া আসারু যালিকা ফিল ইহতিজাজি বিস-সুন্নাতিল আহাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
المبحث الثاني: أنواعة
المطلب الأول: نقص الشرط…المبحث الثاني: أنواع النقص من النص.
وفيه ثلاثة مطالب:
يتنوع النقص من النص إلى ثلاثة أنواع:
المطلب الأول: نقص الشرط.
والشرط بفتح الشين وسكون الراء لغة: الإِلزام والالتزام، ويطلق على ما يوضع ليلتزم به في العقود ونحوها.
والشرط يطلق بمعنيين: أحدهما مصدري والآخر اسمي.
ويكون المراد منه باعتبار المعنى الأول: التعليق الذي يعني به ربط حصول مضمون جملة بحصول مضمون جملة أخرى. مثل قوله تعالى: {وَإِنْ كُنْتُمْ جُنُباً فَاطَّهَّرُوا} 1.
فالآية الكريمة علّقت حصول مضمون جملة هي: {فَاطَّهَّرُوا} ومضمونها وجوب التطهر الذي يقتضيه الأمر به، بحصول مضمون جملة أخرى هي: {كُنْتُمْ جُنُباً} بأداة تدل على هذا الربط بين المضمون وهي: "إن الشرطية. فالجملة الأولى الشرط والثانية الجزاء.
وبناء على هذا المعنى وهو التعليق، يكون الشرط مصدرا ووصفا للمتكلم وباعتبار المعنى الثاني يطلق على مضمون الجملة الأولى التي ربط حصول مضمون الأخرى بحصول مضمونها.
وبناء على هذا يكون اسما للكلام وهو الجملة الأولى.
وإذا كان النحاة قد اصطلحوا على أن الشرط هو: "ما دخل عليه أحد الحرفين (إن) أو (إذا) أو ما يقوم مقامهما مما يدل على سببية الأول ومسببية الثاني " وهذا هو الشرط اللغوي – فإن للأصوليين اصطلاحا آخر. حيث إنهم يعنون به: "ما يتوقف عليه الشيء ولا يكون داخلا في ماهيته ولا مؤثرا فيه "2 والشرط الذي نحن الآن بصدده، هو الذي اصطلح عليه الأصوليون.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এর প্রকারভেদ
প্রথম অনুচ্ছেদ: শর্তের ঘাটতি…দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: টেক্সট বা নস (النص) থেকে ঘাটতির প্রকারভেদ।
এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
নস (النص) থেকে ঘাটতি তিন প্রকার হয়ে থাকে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: শর্তের (الشرط) ঘাটতি।
শীন বর্ণের ওপর ফাতহা এবং রা বর্ণের ওপর সুকুন সহকারে ‘শর্ত (الشرط)’ শব্দের আভিধানিক (لغة) অর্থ হলো: আবশ্যক করা এবং প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়া। এটি এমন বিষয়ের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয় যা চুক্তি বা এ জাতীয় ক্ষেত্রে মেনে চলার জন্য নির্ধারণ করা হয়।
‘শর্ত (الشرط)’ শব্দটি দুটি অর্থে ব্যবহৃত হয়: একটি ক্রিয়ামূলীয় (مصدري) এবং অন্যটি নামবাচক (اسمي)।
প্রথম অর্থ অনুযায়ী এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: সংশ্লিষ্টকরণ (التعليق), যার অর্থ হলো একটি বাক্যের বিষয়বস্তুর অর্জনকে অন্য একটি বাক্যের বিষয়বস্তুর অর্জনের সাথে সংযুক্ত করা। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {وَإِنْ كُنْتُمْ جُنُباً فَاطَّهَّرُوا} (যদি তোমরা অপবিত্র থাকো, তবে পবিত্রতা অর্জন করো)। ১
এই মহিমান্বিত আয়াতে আল্লাহ তাআলা একটি বাক্যের বিষয়বস্তুর অর্জনকে সংশ্লিষ্ট করেছেন, আর তা হলো: {فَاطَّهَّرُوا} যার বিষয়বস্তু হলো পবিত্রতা অর্জনের আবশ্যকতা যা নির্দেশের মাধ্যমে অর্জিত হয়; অন্য একটি বাক্যের বিষয়বস্তুর অর্জনের সাথে, আর তা হলো: {كُنْتُمْ جُنُباً}। এই দুই বিষয়বস্তুর মধ্যে সংযোগ স্থাপনের জন্য এমন একটি অব্যয় ব্যবহার করা হয়েছে যা এই সম্পর্ককে নির্দেশ করে, আর তা হলো: ‘শর্তবাচক ইন (إن الشرطية)’। এখানে প্রথম বাক্যটি হলো শর্ত (الشرط) এবং দ্বিতীয় বাক্যটি হলো প্রতিদান বা ফলাফল (الجزاء)।
সংশ্লিষ্টকরণ (التعليق) বা এই অর্থের ওপর ভিত্তি করে শর্ত (الشرط) শব্দটি একটি ক্রিয়ামূল (مصدر) এবং বক্তার একটি বিশেষণ হিসেবে গণ্য হয়। আর দ্বিতীয় অর্থের বিবেচনায় এটি প্রথম বাক্যের বিষয়বস্তুর ওপর প্রয়োগ করা হয়, যার সাথে অন্য বাক্যের বিষয়বস্তুর অর্জনকে সংযুক্ত করা হয়েছে।
এর ওপর ভিত্তি করে এটি সেই বাণীর একটি নাম হিসেবে গণ্য হয় যা হলো প্রথম বাক্য।
ব্যাকরণবিদগণ (النحاة) যদিও পারিভাষিকভাবে (اصطلاحا) সংজ্ঞায়িত করেছেন যে শর্ত (الشرط) হলো: "যার শুরুতে ‘ইন’ (إن) অথবা ‘ইযা’ (إذا) অথবা এই দুইটির স্থলাভিষিক্ত এমন কিছু যুক্ত হয় যা প্রথম বাক্যের কারণতা (سببية) এবং দ্বিতীয় বাক্যের কার্যকারণতা (مسببية) নির্দেশ করে"—আর এটিই হলো আভিধানিক শর্ত (الشرط اللغوي)—তবে উসুলবিদদের (الأصوليون) নিকট এর ভিন্ন একটি পরিভাষা রয়েছে। তারা এর দ্বারা উদ্দেশ্য নেন: "এমন বিষয় যার ওপর কোনো কিছু নির্ভর করে, কিন্তু সেটি ওই জিনিসের সত্তার (ماهية) অন্তর্ভুক্ত নয় এবং তাতে কোনো প্রভাবও বিস্তার করে না।" ২ আর আমরা বর্তমানে যে শর্ত (الشرط) নিয়ে আলোচনা করছি, তা উসুলবিদদের (الأصوليون) পরিভাষা অনুযায়ী।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাকসু মিনান নাসসি হাকিকাতুহু ওয়া হুকমুহু ওয়া আসারু যালিকা ফিল ইহতিজাজি বিস-সুন্নাতিল আহাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
المطلب الثاني: نقص الجزءوالجزء: بضم الجيم وسكون الزاي لغة: البعض والقسم.
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: অংশের (الجزء) অসম্পূর্ণতাআর আল-জুয (الجزء) শব্দটি—জীম বর্ণে পেশ এবং যা বর্ণে সুকুন যোগে—আভিধানিক অর্থে: কিয়দাংশ (البعض) এবং ভাগ (القسم)।
(খণ্ড: ১)
আন-নাকসু মিনান নাসসি হাকিকাতুহু ওয়া হুকমুহু ওয়া আসারু যালিকা ফিল ইহতিজাজি বিস-সুন্নাতিল আহাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
ووفي الاصطلاح " مايتركب الشيء منه ومن غيره"1 مثل: (اليد) للإنسان. حيث إن الإنسان يتركب منها ومن غيرها كالعين والأنف وغيرهما من أعضاء الإنسان.
ومن حكم الجزء أنه لا يحمل عليه كله بحمل هوهو، فلا يصح أن يجعل الجزء مبتدءاً ويجعل كله خبراً له، فلا يقال مثلا: "يد زيد زيد".
--------------------------------------------
পরিভাষায় (اصطلاح) এর অর্থ হলো: "এমন কিছু যা দ্বারা এবং অন্য কিছু দ্বারা কোনো বস্তু গঠিত হয়"১ উদাহরণস্বরূপ: মানুষের জন্য (হাত)। কেননা মানুষ হাত এবং অন্যান্য অঙ্গ যেমন চোখ, নাক ও অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দ্বারা গঠিত।
আর অংশের (الجزء) বিধান হলো যে, এর ওপর তার পূর্ণকে ‘হুবহু আরোপ’ (حمل هو هو) করা যায় না। সুতরাং অংশকে উদ্দেশ্য (مبتدأ) এবং তার পূর্ণকে বিধেয় (خبر) হিসেবে গণ্য করা শুদ্ধ নয়। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় না: "জায়েদের হাত হলো জায়েদ।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাকসু মিনান নাসসি হাকিকাতুহু ওয়া হুকমুহু ওয়া আসারু যালিকা ফিল ইহতিজাজি বিস-সুন্নাতিল আহাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
المطلب الثالث: نقص الجزئي.
والجزئي نسبة إلى الجزء. وقد مر معناه اللغوي.
وهو في الاصطلاح: "ما يمنع نفس تصور مفهومه عن وقوع الشركة فيه" (1) . مثل: (محمد) فإنه يدل على ذات واحدة هي المسماة بهذا الاسم وهي مفهومه ويمتنع أن يشترك مع محمد غيره في هذا المفهوم. واشتراك غيره معه في اسمه لا يقدح في جزئيته، لأن الاشتراك في الاسم لا يستلزم الاشتراك في المعنى الخاص والمفهوم المعين الذي به صار محمد جزئيا. والاشتراك في الاسم لم يأت نتيجة صفة مشتركة جعلتهم يشتركون في هذا الاسم بل جاء نتيجة اتفاق ومصادفة.
هذا هو الجزئي الحقيقي.
وهناك نوع آخر من الجزئي يسمى بالجزئي الإِضافي. ويقصدون به: "كل أخص تحت أعم " مثل: (الرجل) بالنسبة إلى الإنسان، فإن (الرجل) في الحقيقة وواقع الأمر كلي لأنه لا يمنع نفس تصوره عن اشتراك كثيرين فيه، ولكن جزئيته بالإضافة إلى الإنسان المشتمل عليه وعلى غيره الذي هو المرأة (2) . والمقصود في النقص هو الجزئي الإضافي.
--------------------------------------------
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: বিশেষের অসম্পূর্ণতা (نقص الجزئي).
জুজয়ি (الجزئي) বা বিশেষ শব্দটি জুজ (الجزء) বা অংশের সাথে সম্পর্কিত। এর শাব্দিক অর্থ ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।
পারিভাষিক (اصطلاح) সংজ্ঞায় এটি হলো: "এমন কিছু যার মূল ধারণার কল্পনা তাতে অংশীদারিত্বের (الشركة) সম্ভাবনাকে বাধা প্রদান করে" (১)। উদাহরণস্বরূপ: (মুহাম্মদ); এটি কেবল একটি নির্দিষ্ট সত্তাকেই নির্দেশ করে যাকে এই নামে নামকরণ করা হয়েছে এবং এটাই তার মূল অর্থ; আর এই নির্দিষ্ট অর্থের ক্ষেত্রে মুহাম্মদের সাথে অন্য কারো অংশীদার হওয়া অসম্ভব। নামের ক্ষেত্রে অন্য কারো অংশীদারিত্ব তার বিশেষত্ব বা আংশিকতার (الجزئية) ক্ষেত্রে কোনো ত্রুটি সৃষ্টি করে না; কারণ নামের সাধারণ অংশীদারিত্ব সেই বিশেষ অর্থ এবং নির্দিষ্ট ধারণার ক্ষেত্রে অংশীদারিত্বকে আবশ্যক করে না, যার মাধ্যমে মুহাম্মদ শব্দটি বিশেষ (جزئي) হিসেবে গণ্য হয়েছে। আর নামের এই অংশীদারিত্ব কোনো সাধারণ গুণের কারণে ঘটেনি যা তাদেরকে এই নামের ক্ষেত্রে অংশীদার করেছে, বরং এটি কেবল একটি সাধারণ ঐকমত্য ও আকস্মিকতার ফল।
এটিই হলো প্রকৃত বিশেষ (الجزئي الحقيقي)।
বিশেষের আরেকটি প্রকার রয়েছে যাকে আপেক্ষিক বিশেষ (الجزئي الإضافي) বলা হয়। এর দ্বারা তারা উদ্দেশ্য গ্রহণ করেন: "প্রতিটি এমন সুনির্দিষ্ট বিষয় যা কোনো সাধারণ বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত" যেমন: মানুষের তুলনায় 'পুরুষ'। প্রকৃতপক্ষে 'পুরুষ' শব্দটি একটি সার্বিক বা সাধারণ (كلي) শব্দ, কারণ এর মূল কল্পনা অনেকের এতে অংশীদার হওয়াকে বাধা দেয় না। তবে মানুষের সাপেক্ষে এটি বিশেষ (جزئي), যেহেতু 'মানুষ' শব্দটি পুরুষ এবং নারী (২) উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে। আর অসম্পূর্ণতার (نقص) ক্ষেত্রে এই আপেক্ষিক বিশেষই (الجزئي الإضافي) উদ্দেশ্য।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাকসু মিনান নাসসি হাকিকাতুহু ওয়া হুকমুহু ওয়া আসারু যালিকা ফিল ইহতিজাজি বিস-সুন্নাতিল আহাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
الفصل الثاني: حكم النقص من النص
المبحث الأول: نقص الشرط والجزء
المطلب الأول: المذاهب وأدلتها…الفصل الثاني - حكم النقص من النص
وفيه مبحثان:
المبحث الأول: نقص الشرط والجزء. وفيه مطلبان:
المطلب الأول: المذاهب وأدلتها.
بالنسبة للنوعين الأولين نقص الشرط والجزء.
اتفق العلماء على أن ذلك النقص نسخ1 لذلك الشرط والجزء2. لأن النسخ هو: الرفع والإزالة وقد تناول الشرط والجزء الذي نقص3 واختلفوا في كون النقص نسخا لجميع المنقوص منه إلى ثلاثة مذاهب:
الأول: أنه ليس بنسخ للمنقوص منه مطلقا. وإليه ذهب معظم الحنفية والمالكية والجمهور من الشافعية والحنابلة على الصحيح في المذهب4.
الثاني: أنه نسخ مطلقا. وإليه ذهب بعض الحنفية5 وبعض الشافعية6.
الثالث: أن نقص الجزء نسخ دون نقص الشرط7.
الأدلة:
أولا: أدلة المذهب الأول:
استدل القائلون بأن نقص الجزء والشرط ليس نسخا للمنقوص عنه بما يلي:
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: নস বা মূল পাঠ থেকে কোনো কিছু হ্রাসের বিধান
প্রথম পরিচ্ছেদ: শর্ত (شرط) এবং অংশ (جزء) হ্রাস করা
প্রথম অনুচ্ছেদ: অভিমতসমূহ এবং সেগুলোর প্রমাণাদি…দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ - নস বা মূল পাঠ থেকে কোনো কিছু হ্রাসের বিধান
এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: শর্ত (شرط) এবং অংশ (جزء) হ্রাস করা। এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: অভিমতসমূহ এবং সেগুলোর প্রমাণাদি।
প্রথম দুই প্রকার অর্থাৎ শর্ত (شرط) এবং অংশ (جزء) হ্রাসের ব্যাপারে:
উলামায়ে কেরাম একমত হয়েছেন যে, উক্ত হ্রাসকরণ সেই শর্ত (شرط) ও অংশের (جزء) জন্য রহিতকরণ (نسخ) ১। কারণ রহিতকরণ (نسخ) হলো: কোনো কিছু তুলে নেওয়া বা অপসারণ করা। আর এটি সেই শর্ত (شرط) ও অংশকে (جزء) অন্তর্ভুক্ত করেছে যা হ্রাস করা হয়েছে ৩। তবে এই হ্রাসকরণটি যে বিষয় থেকে হ্রাস করা হয়েছে তার পূর্ণ বিষয়ের জন্য রহিতকরণ (نسخ) হিসেবে গণ্য হবে কি না, সে ব্যাপারে তিনটি অভিমত রয়েছে:
প্রথম: এটি কোনোভাবেই মূল বিষয়ের জন্য রহিতকরণ (نسخ) নয়। অধিকাংশ হানাফি, মালিকি এবং শাফেয়ি ও হাম্বলিদের জমহুর (جمهور) বা সংখ্যাগরিষ্ঠদের নিকট মাযহাবের বিশুদ্ধ (صحيح) মতানুসারে এটিই তাদের অভিমত ৪।
দ্বিতীয়: এটি সাধারণভাবে রহিতকরণ (نسخ)। কোনো কোনো হানাফি ৫ এবং কোনো কোনো শাফেয়ি ফকিহ ৬ এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
তৃতীয়: অংশের (جزء) হ্রাসকরণ রহিতকরণ (نسخ) হিসেবে গণ্য হলেও শর্তের (شرط) হ্রাসকরণ রহিতকরণ (نسخ) নয় ৭।
প্রমাণাদি:
প্রথমত: প্রথম মতের সপক্ষে প্রমাণাদি:
যারা মনে করেন অংশ (جزء) এবং শর্ত (شرط) হ্রাস করা মূল বিষয়ের জন্য রহিতকরণ (نسخ) নয়, তারা নিম্নোক্ত বিষয়গুলো দ্বারা দলিল পেশ করেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাকসু মিনান নাসসি হাকিকাতুহু ওয়া হুকমুহু ওয়া আসারু যালিকা ফিল ইহতিজাজি বিস-সুন্নাতিল আহাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
1 - لو كان نقص الجزء والشرط نسخا للمنقوص منه لاحتاج إلى دليل آخر يثبت حكمه وهذا الاحتياج باطل.
وجه الملازمة: أن كون النقص نسخا يقتضي ارتفاع الدليل الدال على حكم المنقوص منه جريا على مقتضى النسخ من كونه رفعا وإزالة، وعندئذ: إما أن يكون حكم المنقوص منه ثابت بلا دليل بناء على عدم احتياجه إلى دليل آخر، وإما أن يحتاج إلى دليل آخر، وكونه ثابتا بلا دليل متفق على بطلانه، فتعين حاجته إلى دليل آخر.
ووجه بطلان اللازم الذي هو الاحتياج هو: أن الاتفاق مع الأطراف المختلفة حاصل على أن حكم المنقوص منه ثابت بعد النقص دون حاجة إلى دليل غير الدليل المثبت له قبل النقص1.
وأجيب عن هذا الدليل بما يلي:
أ - بمنع الملازمة وعدم التسليم بإفضاء كون النقص نسخا للمنقوص منه إلى الاحتياج إلى دليل آخر لإثْبات حكمه.
لأن دليل التنقيص هو نفسه يدل على بقاء الباقي. فالنص الدال على النقص مزدوج الدلالة، فقي الوقت الذي يدل على زوال المنقوص، يدلى على بقاء المنقوص منه أيضا، وازدواجية الدلالة هذه شأن كل دال أن على النقصان وأمثاله، ومن هنا ينتفي الاحتياج إلى دليل غير الأول، وبالطبع ينتفي ثبوت الحكم بلا دليل.
ب - النقض بلزوم الحاجة إلى دليل آخر على تقدير التسليم بعدم النسخ أيضا لأن النص الدال على المجموع (المنقوص، والمنقوص منه) قد ارتفع بورود الدال على النقص الذي اتفق على كونه نسخا للمنقوص.
لأن الدليل الأول إنما كان يدل على حكم المنقوص منه في ضمن حكم المجموع ولم يكن دالا على حكم المنقوص منه فقط استقلالا. وقد ارتفعت دلالته على المجموع بورود النقص فلم يبق دليلا، فيحتاج الباقي المنقوص منه إلى دليل آخر يثبت حكمه.
فإذا لم تكن الحاجة إلى دليل آخر مانعة من نسخ المنقوص، لا تكون تلك الحاجة مانعة من نسخ الباقي المنقوص منه أيضا 2.
--------------------------------------------
১ - যদি কোনো অংশ বা শর্তের হ্রাসকরণ (نقص) অবশিষ্টাংশের (منقوص منه) জন্য রহিতকরণ (نسخ) হিসেবে গণ্য হতো, তবে তার বিধান (حكم) সাব্যস্ত করার জন্য অন্য একটি দলিলের (دليل) প্রয়োজন হতো, আর এই প্রয়োজনীয়তা অসার।
অনিবার্য সংশ্লেষের দিকটি হলো: হ্রাসের বিষয়টি রহিতকরণ (نسخ) হওয়ার দাবি রাখে যে, অবশিষ্টাংশের (منقوص منه) বিধান (حكم) জ্ঞাপক দলিলটি (دليل) রহিতকরণ (نسخ)-এর দাবি অনুযায়ী অপসারিত ও বিলুপ্ত হয়ে যাবে; যেহেতু রহিতকরণ (نسخ) মানেই হলো কোনো কিছু তুলে নেওয়া ও অপসারিত করা। এমতাবস্থায়: হয় অবশিষ্টাংশের (منقوص منه) বিধান (حكم) কোনো দলিল (دليل) ছাড়াই সাব্যস্ত হবে—এই ভিত্তিতে যে তার জন্য অন্য দলিলের (دليل) প্রয়োজন নেই, অথবা অন্য একটি দলিলের (دليل) প্রয়োজন হবে। আর দলিল (دليل) ছাড়া বিধান (حكم) সাব্যস্ত হওয়া সর্বসম্মতভাবে অসার, ফলে অন্য একটি দলিলের (دليل) প্রয়োজনীয়তা অবধারিত হয়ে যায়।
আর এই প্রয়োজনীয়তা রূপী অনিবার্য ফলাফলের অসারতার দিকটি হলো: বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে এই ঐকমত্য রয়েছে যে, হ্রাসের পর অবশিষ্টাংশের (منقوص منه) বিধান (حكم) সাব্যস্ত থাকে সেই দলিল (دليل) ছাড়াই যা হ্রাসের পূর্বে তাকে সাব্যস্ত করেছিল।১
এই দলিলের (دليل) উত্তর নিম্নোক্তভাবে দেওয়া হয়েছে:
ক - অনিবার্য সংশ্লেষকে অস্বীকার করার মাধ্যমে এবং হ্রাসের বিষয়টি অবশিষ্টাংশের (منقوص منه) জন্য রহিতকরণ (نسخ) হওয়া যে তার বিধান (حكم) সাব্যস্ত করতে অন্য দলিলের (دليل) মুখাপেক্ষী করে তোলে—তা মেনে না নেওয়ার মাধ্যমে।
কারণ হ্রাসকরণের দলিল (دليل) নিজেই অবশিষ্টাংশের টিকে থাকার প্রমাণ দেয়। হ্রাস জ্ঞাপক মূল পাঠ (نص) দ্বিমুখী অর্থবহ; এটি যে সময়ে কোনো অংশ বিলুপ্ত হওয়ার প্রমাণ দেয়, ঠিক সেই সময়েই তা অবশিষ্টাংশের (منقوص منه) টিকে থাকার ওপরও প্রমাণ দেয়। হ্রাস জ্ঞাপক প্রতিটি দলিলেরই (دليل) বৈশিষ্ট্য এটি, আর এ কারণেই প্রথম দলিল (دليل) ব্যতীত অন্য কোনো দলিলের প্রয়োজনীয়তা নাকচ হয়ে যায় এবং স্বাভাবিকভাবেই দলিল (دليل) ছাড়া বিধান (حكم) সাব্যস্ত হওয়ার বিষয়টিও দূর হয়ে যায়।
খ - রহিতকরণ (نسخ) না হওয়ার বিষয়টি মেনে নেওয়ার অনুমানের ভিত্তিতেও অন্য দলিলের (دليل) প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য হওয়ার মাধ্যমে খণ্ডন। কারণ সমষ্টির (হ্রাসকৃত অংশ ও অবশিষ্টাংশ) ওপর প্রমাণদানকারী মূল পাঠ (نص) হ্রাস জ্ঞাপক দলিলের আগমনে রহিত হয়ে গেছে, যা হ্রাসকৃত অংশের ক্ষেত্রে রহিতকরণ (نسخ) হিসেবে সর্বসম্মত।
কেননা প্রথম দলিলটি (دليل) অবশিষ্টাংশের (منقوص منه) বিধানকে (حكم) কেবল সমষ্টিগত বিধানের (حكم) অধীনেই নির্দেশ করছিল, স্বতন্ত্রভাবে শুধু অবশিষ্টাংশের (منقوص منه) বিধানের (حكم) ওপর তা প্রমাণ দিচ্ছিল না। হ্রাসের আগমনে সমষ্টির ওপর এর প্রমাণ বিলুপ্ত হয়ে গেছে, ফলে তা আর দলিল (دليل) হিসেবে অবশিষ্ট নেই। এমতাবস্থায় অবশিষ্টাংশের (منقوص منه) বিধান (حكم) সাব্যস্ত করার জন্য অন্য একটি দলিলের (دليل) প্রয়োজন হবে।
সুতরাং, অন্য দলিলের (دليل) প্রয়োজনীয়তা যদি হ্রাসকৃত অংশের রহিতকরণ (نسخ)-এর ক্ষেত্রে বাধা না হয়, তবে সেই প্রয়োজনীয়তা অবশিষ্টাংশের (منقوص منه) রহিতকরণ (نسخ)-এর ক্ষেত্রেও বাধা হতে পারে না। ২।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাকসু মিনান নাসসি হাকিকাতুহু ওয়া হুকমুহু ওয়া আসারু যালিকা ফিল ইহতিজাজি বিস-সুন্নাতিল আহাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
2 - لو كان النقص نسخا للجميع للزم أن يكون التخصيص موجبا لسقوط جميع ما تضمنه العام المخصوص. واللازم باطل، فيبطل ما يستلزمه، وهو كون النقص ناسخا للجميع.
وجه الملازمة.
أن النقص والتخصيص صنوان في أن كلا منهما إخراج لبعض ما تناوله اللفظ. ولا فرق بينهما من حيث ذات الإِخراج، فيؤدي كون النقض نسخا للجميع إلى كون التخصيص إسقاطا للجميع، وإلا لزم التحكم والتفريق بين المتماثلين. وكل ذلك لا يجوز.
ووجه بطلان اللازم هو:
أن الاتفاق حاصل بين جميع الأطراف المختلفة على أن التخصيص لا يؤدي إطلاقا إلى سقوط جميع ما تناوله النص العام المخصوص1.
ويمكن أن يجاب عن هذا الدليل بمنع الملازمة ووجود الفرق بينهما، النقص والتخصيص لأن النقص أعم من التخصيص حيث يشمل رفع ما أريد رفعه أيضا.
أما التخصيص فهو دفع فقط. والأعم لا يستلزم أن يكون حكمه حكم الأخص لجواز أن يكون حكم الأعم بالنسبة لما لا يلتقي فيه مع الأخص.
3 - أنّ النّسخ إزالة وهي تنافي البقاء. والمنقوص منه باق ثابت والإِزالة إنما تتعلق ببعض مدلول النص الدال عليه، وهذا لا يستلزم تعلقها بجميع المدلول لأن الناقص والمنقوص منه أمران لكل منهما حكمه، ونسخ أحد الحكمين لا يستلزم نسخ الحكم الآخر2.
وقد أجيب عن هذا الدليل:
بأن الإزالة والبقاء إنما يتنافيان إذا كانا من جهة واحدة. أما إذا اختلفت جهتهما فإن أحدهما لا يستلزم نفي الآخر.
وبقاء المنقوص منه بعد النقص من جهة حكمه السابق من وجوب وغيره ونسخه من جهة أخرى وهي الإِجزاء وعدم الإجزاء وحده. فقد يكون باقيا من الجهة الأولى زائلا من الجهة الثانية.
--------------------------------------------
2 - যদি হ্রাসকরণ (نقص) পুরো বিষয়ের জন্য রহিতকরণ (نسخ) হতো, তবে এর অর্থ দাঁড়াত যে বিশেষায়ন (تخصيص) বিশেষায়িত সাধারণ শব্দ (عام مخصوص) এর অন্তর্ভুক্ত সমস্ত বিষয় বাতিল করার দাবি রাখে। আর এই দাবিটি বাতিল, সুতরাং যা এই দাবিকে অপরিহার্য করে তাও বাতিল; আর তা হলো হ্রাসকরণকে (نقص) পুরো বিষয়ের রহিতকারী (نسخ) হিসেবে গণ্য করা।
পারস্পরিক অপরিহার্যতার (ملازمة) দিক।
হ্রাসকরণ (نقص) ও বিশেষায়ন (تخصيص) এ দিক থেকে অভিন্ন যে, উভয়ের প্রতিটিই শব্দের আওতাভুক্ত কিছু অংশকে বহির্ভূতকরণ (إخراج) নির্দেশ করে। বহির্ভূতকরণের (إخراج) মূল প্রকৃতির দিক থেকে উভয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। ফলে হ্রাসকরণকে (نقص) সবকিছুর রহিতকরণ (نسخ) হিসেবে গ্রহণ করলে তা বিশেষায়নকে (تخصيص) সবকিছুর বাতিলের (إسقاط) দিকে নিয়ে যাবে। অন্যথায় এটি দুটি সমজাতীয় বিষয়ের মধ্যে কোনো কারণ ছাড়াই পার্থক্য ও খামখেয়ালি করার শামিল হবে। আর এর কোনোটিই বৈধ নয়।
উক্ত দাবির অসারতার কারণ হলো:
মতভেদকারী সকল পক্ষের মধ্যে এই বিষয়ে ঐকমত্য (اتفاق) রয়েছে যে, বিশেষায়ন (تخصيص) কোনোভাবেই বিশেষায়িত সাধারণ (عام مخصوص) নস বা পাঠের অন্তর্ভুক্ত সবকিছু বাতিলের (سقوط) দিকে নিয়ে যায় না।১
এই দলিলের উত্তরে বলা যেতে পারে যে, এখানে পারস্পরিক অপরিহার্যতা (ملازمة) অসিদ্ধ এবং হ্রাসকরণ (نقص) ও বিশেষায়নের (تخصيص) মধ্যে পার্থক্য বিদ্যমান। কারণ হ্রাসকরণ (نقص), বিশেষায়নের (تخصيص) তুলনায় অধিক ব্যাপক (أعم), যেহেতু এটি যা দূর করার ইচ্ছা করা হয়েছে তার রহিতকরণকেও শামিল করে।
পক্ষান্তরে বিশেষায়ন (تخصيص) হলো কেবল প্রতিকার বা বাধা দেওয়া মাত্র। আর অধিক ব্যাপক (أعم) কোনো বিষয়ের হুকুম (حكم) বা বিধান এমন হওয়া জরুরি নয় যা অধিক সুনির্দিষ্ট (أخص) বিষয়ের বিধানের অনুরূপ হবে; কেননা অধিক ব্যাপক (أعم) বিষয়টি যেখানে অধিক সুনির্দিষ্ট (أخص) বিষয়ের সাথে মিলিত হয় না, সেখানে তার হুকুম ভিন্ন হওয়া সম্ভব।
3 - নিশ্চয়ই রহিতকরণ (نسخ) হলো অপসারণ (إزالة), যা স্থায়িত্বের (بقاء) পরিপন্থী। অথচ হ্রাসকৃত বিষয়ের অবশিষ্টাংশ স্বস্থানে বহাল ও সাব্যস্ত থাকে। আর অপসারণ (إزالة) কেবল সংশ্লিষ্ট নস বা পাঠের নির্দেশিত অর্থের (مدلول) কিছু অংশের সাথে সম্পৃক্ত হয়। এর মানে এই নয় যে, এটি সমস্ত নির্দেশিত অর্থের সাথে সম্পৃক্ত হবে। কারণ হ্রাসকৃত অংশ এবং অবশিষ্ট অংশ দুটি ভিন্ন বিষয়, যার প্রতিটির জন্য আলাদা বিধান বা হুকুম (حكم) রয়েছে। আর দুটি বিধানের একটি রহিত (نسخ) হওয়া অন্য বিধানটি রহিত (نسخ) হওয়াকে অপরিহার্য করে না।২
এই দলিলের উত্তরে বলা হয়েছে:
অপসারণ (إزالة) এবং স্থায়িত্ব (بقاء) তখনই পরস্পর বিরোধী হবে যখন তারা একই দিক বা দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচিত হবে। কিন্তু যদি তাদের প্রেক্ষিত ভিন্ন হয়, তবে একটির অস্তিত্ব অন্যটির অনুপস্থিতিকে অপরিহার্য করে না।
আর হ্রাসকরণের (نقص) পর অবশিষ্টাংশের স্থায়িত্ব (بقاء) হলো তার পূর্ববর্তী ওয়াজিব হওয়া বা অন্যান্য হুকুমের (حكم) দিক থেকে। আর তার রহিতকরণ (نسخ) হলো অন্য একটি দিক থেকে, যা হলো কেবল স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে যথেষ্ট হওয়া (إجزاء) বা না হওয়া। সুতরাং একটি বিষয় প্রথম দিক থেকে অবশিষ্ট (بقاء) থাকতে পারে এবং দ্বিতীয় দিক থেকে অপসারিত (زائل) হতে পারে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাকসু মিনান নাসসি হাকিকাতুহু ওয়া হুকমুহু ওয়া আসারু যালিকা ফিল ইহতিজাজি বিস-সুন্নাতিল আহাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
وإذا كان نسخ أحد الأمرين لا يستلزم نسخ الأمر الآخر، فإن نسخه لا يمنع أيضا من نسخ الآخر1.
أدلة المذهب الثاني:
استدل القائلون بأن نقص الجزء والشرط نسخ للمنقوص منه مطلقا بما يلي:
ا - أن المنقوص منه عندما يكون واجبا تكون حرمته ثابتة بلا جزء أو شرط قبل ورود ما أنقص الجزء أو الشرط، فما كان الإتيان به جائزا بدونهما وبورود النقص قد ارتفعت هذه الحرمة، فأصبح الإتيان بالمنقوص منه بدون الجزء أو الشرط الذي نقص جائزا.
وكل من الحرمة والجواز حكم شرعي، فيكون رفع أحدهما بالآخر نسخا، لأن النسخ ما هو إلا رفع لحكم شرعي بحكم شرعي متراخ عنه2.
وأجيب عن هذا الدليل:
بأن حرمة المنقوص منه بدون الجزء أو الشرط معناها وجوبهما فيه، وجوازه بدونهما معناه عدم وجوبهما فيه.
فالذي ارتفع إذًا إنما هو وجوب الجزء أو الشرط، وهو حكم لهما لا له، فيستلزم ارتفاعه نسخهما لا نسخه.
وكون إنقاصهما نسخا لهما مما لا خلاف فيه، والكلام إنما هو في نسخ المنقوص منه والدليل لم ينهض لإثباته3.
دفع هذا الجواب:
لم يعتبر المستدلون هذا الجواب هازا لدليلهم، واعتبروا أن تقرير الدليل هو الذي شق له الطريق، فسعوا إلى سد المنفذ الذي نفذ منه الجواب بتقرير الدليل على وجه آخر يتلخص فيما يلي:
إن إجزاء المنقوص منه قبل النقص كان مقيدا باقترانه بالجزء أو الشرط. وبعد النقص أصبح مطلقا في إجزائه، وزال عنه التقيد بحال الاقتران. وبهذا يكون حكم المنقوص منه قد تغير من التقييد إلى الإطلاق وأن النقص أزال قيد الاقتران.
--------------------------------------------
যদf দুটি বিষয়ের মধ্যে একটির রহিতকরণ (نسخ) অন্যটির রহিতকরণকে (نسخ) অপরিহার্য না করে, তবে একটির রহিতকরণ (نسخ) অন্যটির রহিতকরণকেও (نسخ) বাধা প্রদান করে না১।
দ্বিতীয় মতের দলিলসমূহ:
যারা কোনো অংশ বা শর্তের ঘাটতিকে মূল বিষয়ের ক্ষেত্রে নিরঙ্কুশভাবে রহিতকরণ (نسخ) হিসেবে গণ্য করেন, তারা নিম্নলিখিত যুক্তি প্রদান করেছেন:
১- যখন মূল বিষয়টি ওয়াজিব (واجب) ছিল, তখন অংশ বা শর্ত হ্রাসের বিধান আসার আগে তা ছাড়া আদায় করা নিষিদ্ধ (حرمة) হিসেবে সাব্যস্ত ছিল। সুতরাং অংশ ও শর্ত ছাড়া যা আদায় করা ইতিপূর্বে বৈধ (جائز) ছিল না, ঘাটতির বিধান আসার পর সেই নিষিদ্ধতা (حرمة) অপসারিত হয়েছে। ফলে অংশ বা শর্ত ছাড়াই মূল বিষয়টি আদায় করা এখন বৈধ (جائز) হয়ে গেছে।
আর নিষিদ্ধতা (حرمة) এবং বৈধতা (جواز) উভয়ই শরয়ি বিধান (حكم شرعي)। সুতরাং একটির মাধ্যমে অন্যটির বিলুপ্তি ঘটানোই হলো রহিতকরণ (نسخ); কারণ রহিতকরণ (نسخ) হলো পরবর্তী কোনো শরয়ি বিধানের (حكم شرعي) মাধ্যমে পূর্ববর্তী শরয়ি বিধান (حكم شرعي) রহিত করা২।
এই দলিলের উত্তরে বলা হয়েছে:
অংশ বা শর্ত ব্যতীত মূল বিষয়টি আদায়ের ক্ষেত্রে নিষিদ্ধতার (حرمة) অর্থ হলো উক্ত বিষয়ের মধ্যে ঐ অংশ বা শর্তটি ওয়াজিব (وجوب) হওয়া, আর সেগুলো ছাড়া আদায় বৈধ (جواز) হওয়ার অর্থ হলো উক্ত বিষয়ে সেই অংশ বা শর্তের ওয়াজিব (وجوب) না থাকা।
সুতরাং যা অপসারিত হয়েছে তা হলো মূলত অংশ বা শর্তের ওয়াজিব (وجوب) হওয়ার বিধান। এটি ঐ অংশ বা শর্তের বিধান, মূল বিষয়ের বিধান নয়। অতএব, এটি অপসারিত হওয়ার অর্থ হলো ঐ অংশ বা শর্ত রহিত (نسخ) হওয়া, মূল বিষয়টি রহিত (نسخ) হওয়া নয়।
আর সেই দুটির (অংশ বা শর্তের) ঘাটতি বা বিলুপ্তি যে রহিতকরণ (نسخ) হিসেবে গণ্য হবে সে বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই। মূল আলোচনা হলো মূল বিষয়টি রহিত (نسخ) হওয়া নিয়ে, আর এই দলিলটি তা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়নি৩।
এই উত্তরের খণ্ডন:
দলিল পেশকারীরা এই উত্তরকে তাদের দলিলের জন্য যুতসই মনে করেননি। তারা মনে করেন যে, দলিলের উপস্থাপনাটিই এর পথ তৈরি করে দিয়েছে। তাই তারা যে দিক দিয়ে উত্তরটি এসেছে সেটি বন্ধ করার চেষ্টা করেছেন এবং দলিলটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করেছেন, যার সারসংক্ষেপ নিম্নরূপ:
ঘাটতি আসার আগে মূল বিষয়টি আদায় হওয়ার বিষয়টি অংশ বা শর্তের সাথে যুক্ত হওয়ার দ্বারা সীমাবদ্ধকরণ (تقييد) অবস্থায় ছিল। কিন্তু ঘাটতি আসার পর তা আদায়ের ক্ষেত্রে নিরঙ্কুশ (مطلق) হয়ে গেছে এবং যুক্ত থাকার সেই সীমাবদ্ধতা দূর হয়ে গেছে। এর মাধ্যমে মূল বিষয়ের বিধান সীমাবদ্ধকরণ (تقييد) থেকে নিরঙ্কুশতায় (إطلاق) পরিবর্তিত হয়েছে এবং ঘাটতি আসার কারণে যুক্ত থাকার সেই বাধ্যবাধকতা দূর হয়ে গেছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাকসু মিনান নাসসি হাকিকাতুহু ওয়া হুকমুহু ওয়া আসারু যালিকা ফিল ইহতিজাজি বিস-সুন্নাতিল আহাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
والنسخ هو الإزالة. فيكون النقص نسخا للمنقوص منه1.
وبهذا التقرير للدليل اطمئنوا إلى أنه لا ينخدش بتصبيب التغير جراء النقص على حكم الجزء أو الشرط وإبعاد المنقوص منه عن ساحته، لأن التغير قد انصب على حكم المنقوص منه بناء على هذا التقرير.
ولم يروا التلازم بين تقيد إجزاء المنقوص منه قبل النقص بحال مقارنته للجزء أو الشرط وبين كون كل منهما واجبا فيه يقضِ مضجع الدليل. لأنهم رأوا في هذا التلازم مسعفا للتغاير بينهما. إذ كون المنقوص منه مجزءاً حال المقارنة بالجزء أو الشرط ملازما لكونهما واجبين فيه، يدل على أن ذلك الإجزاء غير ذلك الوجوب، لأنه من المسلم به، أن اللازم غير الملزوم لا أنه عينه، لأن اللازم لا يكون عين الملزوم.
فالإِجزاء صفة للمنقوص منه، والوجوب صفة للجزء أو الشرط فلا يكون أحدهما الآخر2.
2 - أن المنقوص منه قبل النقص كان مطلوبا ضمن الكل وهو المجموع المكون من المنقوص منه والجزء أو الشرط، ولم يكن وحده مقصودًا بالطلب، مستقلا فيه عن جزئه أو شرطه. وبعد النقص أصبح وحده مقصودا بالطلب مستقلا3.
وبهذا يكون الحكم قد تغير بالنسبة له، حيث استجد له حكم - وهو استقلاله في كونه مطلوبا - لم يكن ثابتا له قبل النقص، وزال عنه حكم - وهو عدم كونه مطلوبا بالاستقلال بل ضمن الجميع - كان ثابتا له قبل النقص، وهذا هو االنسخ. فيكون النقص نسخا للمنقوص منه4.
وقد أجيب عن هذا الدليل:
بأن الذي زال إنما هو طلب الجزء أو الشرط. وأما المنقوص منه فإنه باق على الطلب الأصلي الثابت له قبل النقص، ولم يتجدد بالنسبة له شيء فلم يزل عنه حكم، ولم يثبت له آخر، فلم يتأت بالنسبة له النسخ5.
3 - أن الشيء المطلوب إذا نقص منه واقتصر على بعضه، فإن ذلك النقص ينسخ
--------------------------------------------
রহিতকরণ (النسخ) হলো অপসারণ (الإزالة)। সুতরাং কোনো কিছু হ্রাস করা হলো যা থেকে হ্রাস করা হয়েছে (المنقوص منه) তার জন্য রহিতকরণ (نسخ) স্বরূপ ১।
দলিলের এই ব্যাখ্যার মাধ্যমে তারা নিশ্চিত হয়েছেন যে, কোনো অংশ (الجزء) বা শর্তের (الشرط) বিধানের (حكم) ওপর হ্রাসের ফলে সৃষ্ট পরিবর্তন আরোপ করা এবং যা থেকে হ্রাস করা হয়েছে (المنقوص منه) তাকে এর আওতা থেকে দূরে রাখার দ্বারা এই দলিলটি ক্ষতিগ্রস্ত হবে না; কারণ এই ব্যাখ্যার ভিত্তিতে পরিবর্তনটি মূল বিষয়ের বিধানের (حكم) ওপরই নিপতিত হয়েছে।
তারা হ্রাসের পূর্বে মূল বিষয়ের পর্যাপ্ততা (إجزاء) তার অংশ (الجزء) বা শর্তের (الشرط) সাথে মিলিত থাকার অবস্থার সাথে সীমাবদ্ধ হওয়া এবং তাদের প্রত্যেকের সেখানে ওয়াজিব (واجب) হওয়ার মধ্যে এমন কোনো অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক (التلازم) দেখেননি যা দলিলের ভিত্তিকে দুর্বল করে দেয়। কারণ তারা এই অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কের মধ্যে উভয়ের মধ্যকার পার্থক্যের প্রমাণ পেয়েছেন। কেননা অংশ (الجزء) বা শর্তের (الشرط) সাথে মিলিত থাকা অবস্থায় মূল বিষয়ের পর্যাপ্ততা (إجزاء) এবং তাদের ওয়াজিব (واجب) হওয়ার আবশ্যকতা নির্দেশ করে যে, সেই পর্যাপ্ততা (إجزاء) আর সেই ওয়াজিব (وجوب) হওয়া এক বিষয় নয়। কারণ এটি সর্বজনস্বীকৃত যে, যা আবশ্যক (اللازم) এবং যার জন্য আবশ্যক করা হয়েছে (الملزوم) তা এক নয়, বরং ভিন্ন; কেননা আবশ্যকীয় বিষয় (اللازم) মূল বিষয়ের হুবহু সত্তা হতে পারে না।
সুতরাং পর্যাপ্ততা (الإجزاء) হলো মূল বিষয়ের (المنقوص منه) একটি গুণ, আর ওয়াজিব হওয়া (الوجوب) হলো অংশ (الجزء) বা শর্তের (الشرط) গুণ, তাই একটি অন্যটির সদৃশ হতে পারে না ২।
২ - হ্রাসের পূর্বে মূল বিষয়টি সমষ্টির অন্তর্ভুক্ত হিসেবে কাম্য (مطلوب) ছিল, যা মূল বিষয় এবং অংশ (الجزء) বা শর্তের (الشرط) সমন্বয়ে গঠিত ছিল। এটি তার অংশ বা শর্ত থেকে পৃথকভাবে স্বতন্ত্রভাবে কাম্য (مطلوب) ছিল না। আর হ্রাসের পরে এটি এককভাবে স্বতন্ত্র কাম্য (مطلوب) হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে ৩।
এর মাধ্যমে তার ক্ষেত্রে বিধান (الحكم) পরিবর্তিত হয়েছে, যেখানে তার জন্য একটি নতুন বিধান (حكم) তৈরি হয়েছে—আর তা হলো কাম্য হওয়ার ক্ষেত্রে তার স্বতন্ত্রতা—যা হ্রাসের পূর্বে তার জন্য সাব্যস্ত ছিল না। এবং তার থেকে একটি বিধান (حكم) বিলুপ্ত হয়েছে—আর তা হলো স্বতন্ত্রভাবে কাম্য না হয়ে বরং সমষ্টির অন্তর্ভুক্ত হওয়া—যা হ্রাসের আগে সাব্যস্ত ছিল। আর এটিই হলো রহিতকরণ (النسخ)। সুতরাং হ্রাস করা হলো মূল বিষয়ের (المنقوص منه) জন্য রহিতকরণ (نسخ) ৪।
এই দলিলের উত্তরে বলা হয়েছে:
যা বিলুপ্ত হয়েছে তা হলো কেবল অংশ (الجزء) বা শর্তের (الشرط) চাহিদা (طلب)। আর মূল বিষয়ের ক্ষেত্রে তা হ্রাসের পূর্বে সাব্যস্ত থাকা মূল চাহিদার (طلب) ওপরেই বহাল আছে। তার ক্ষেত্রে নতুন কিছু ঘটেনি, ফলে তার কোনো বিধান (حكم) বিলুপ্ত হয়নি এবং নতুন কোনো বিধান সাব্যস্তও হয়নি। তাই তার ক্ষেত্রে রহিতকরণ (النسخ) সংঘটিত হওয়া সম্ভব নয় ৫।
৩ - কোনো কাম্য বস্তু থেকে যদি কিছু হ্রাস করা হয় এবং তার কিয়দাংশের ওপর সীমাবদ্ধ থাকা হয়, তবে সেই হ্রাসকরণ রহিত (ينسخ) করে দেয়
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাকসু মিনান নাসসি হাকিকাতুহু ওয়া হুকমুহু ওয়া আসারু যালিকা ফিল ইহতিজাজি বিস-সুন্নাতিল আহাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
أصل المطلوب. لأن حقيقة النسخ، الرفع والتبديل. وقد كان حكم الكل أنه مطلوب جميعه وبالنقص نسخ ذلك بالكلية، لأن البعض الباقي المقتصر عليه مطلوب آخر استؤنف طلبه لا أنه بعض من المطلوب الأول.
فمثلا: لو أنقص الشارع من الصلاة الرباعية ركعتين واقتصر عليهما، فإن الركعتين عبادة أخرى غير الرباعية لا أنهما بعض منها.
ويدل على نفي هذه البعضية أن من صلى الصبح أربعا لا يعتبر أنه أتى بالواجب وزيادة. فلو كانت الركعتان بعضا من الأربع للزم أن يكون آتيا بالواجب وزيادة لأن الدرهم الواحد لما كان بعضا من الدرهمين، كان الذي وجب عليه درهم فتصدق بدرهمين آتيا بالواجب وزيادة1.
وأجيب عن هذا الدليل:
بأن كون البعض الباقي مستأنف الطلب في حيز المنع، لأن الطلب الأول بالنسبة له ما زال باقيا، وأن عدم اعتبار صلاة ممن صلى الصبح أربعا لا ينفي هذه البعضية لأن عدم الاعتبار هذا لا دخل له بالبعضية، أوعدمها، وإنما هو ناشئ من تحريم الزيادة في الصلاة.
ولذا فإن الزيادات عندما لا تكون محرمة، أو محرمة لكن لا لذاتها، يكون الآتي بالمزيد عليه مع الزيادة آتيا بالمطلوب حيث يكون المزيد عليه مجزئا فلا يشكل عليه التصدق بدرهمين رغم كون المطلوب واحدا، لأن الضم والزيادة ليست محرمة ولا بالزيادة في الجلدات، حيث تكون الجلدات المقررة مع الزيادة مجزئة. لأن الزيادة وإن كانت محرمة إلا أن تحريمها ليس لذاتها، بل لكونها إضرارا بالمجلود.
فإذا علمنا أن الزيادة في الصلاة محرمة لذات الزيادة ظهر لنا الفرق بينها وبين التصدق والجلد2.
دليل المذهب الثالث
استدل الذاهبون إلى أن نقص الجزء نسخ دون الشرط بما يلي:
إن نقص الجزء رفع لنفي إجزاء الكل من دون ذلك الجزء. حيث كان الكل لا يجزئ
--------------------------------------------
মূল কাম্য বিষয়। কারণ রহিতকরণের (النسخ) প্রকৃত অর্থ হলো কোনো বিধান উঠিয়ে নেয়া (الرفع) এবং পরিবর্তন করা (التبديل)। পূর্বে পুরো বিধানটির হুকুম এমন ছিল যে এর প্রতিটি অংশই কাম্য, কিন্তু কোনো অংশ কমে যাওয়ার মাধ্যমে সেই হুকুমটি সম্পূর্ণরূপে রহিত (نسخ) হয়ে গেছে। কারণ যে অবশিষ্ট অংশটুকুর ওপর সীমাবদ্ধ থাকা হয়েছে, তা একটি ভিন্ন কাম্য বিষয় যা নতুনভাবে তলব (استئناف) করা হয়েছে; এটি প্রথম কাম্য বিষয়ের কোনো অংশ নয়।
উদাহরণস্বরূপ: যদি শারিয়াত প্রণেতা (الشارع) চার রাকাতবিশিষ্ট সালাত থেকে দুই রাকাত কমিয়ে দেন এবং সেই দুই রাকাতেই সীমাবদ্ধ করেন, তবে এই দুই রাকাত চার রাকাতের ইবাদত থেকে ভিন্ন একটি স্বতন্ত্র ইবাদত হিসেবে গণ্য হবে, এটি চার রাকাতের অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে না।
এই আংশিকতাকে অস্বীকার করার দলীল হলো—যে ব্যক্তি ফজরের সালাত চার রাকাত আদায় করে, তাকে ওয়াজিব (الواجب) পালনকারী এবং অতিরিক্ত আমলকারী হিসেবে গণ্য করা হয় না। যদি দুই রাকাত চার রাকাতের অংশ হতো, তবে আবশ্যক হতো যে সে ওয়াজিব (الواجب) পালন করেছে এবং সাথে অতিরিক্ত কিছু করেছে। কারণ এক দিরহাম যখন দুই দিরহামের অংশ হয়, তখন যার ওপর এক দিরহাম দান করা ওয়াজিব (وجب) ছিল সে যদি দুই দিরহাম সদকা করে, তবে সে ওয়াজিব (الواجب) আদায়কারী এবং অতিরিক্ত আমলকারী হিসেবে গণ্য হয়।
এই দলীলের উত্তরে বলা হয়েছে:
অবশিষ্ট অংশটুকু নতুনভাবে তলবকৃত হওয়ার বিষয়টি অগ্রহণযোগ্য; কারণ এর ক্ষেত্রে প্রথম নির্দেশটি বা তলবটি এখনো বলবৎ রয়েছে। আর ফজরের সালাত চার রাকাত আদায়কারীর সালাত গণ্য না হওয়ার বিষয়টি এই আংশিকতাকে নাকচ করে না। কেননা এই গণ্য না হওয়ার বিষয়টি আংশিকতা থাকা বা না থাকার সাথে সংশ্লিষ্ট নয়, বরং এটি সালাতে অতিরিক্ত করার নিষিদ্ধতা (تحريم) থেকে উদ্ভূত হয়েছে।
এজন্য যখন অতিরিক্ত বিষয়টি নিষিদ্ধ (محرمة) হয় না, অথবা নিষিদ্ধ (محرمة) হলেও তা সত্তাগত কারণে নয়, তখন মূল বিষয়ের সাথে অতিরিক্ত বৃদ্ধিকারী ব্যক্তি কাম্য বিধান আদায়কারী হিসেবেই গণ্য হন, যেখানে মূল বিষয়টি পর্যাপ্ত (مجزئ) হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই কাম্য বিষয় এক হওয়া সত্ত্বেও দুই দিরহাম সদকা করার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা তৈরি হয় না; কারণ সেখানে যুক্ত করা বা বৃদ্ধি করা নিষিদ্ধ (محرمة) নয়। অনুরূপভাবে বেত্রাঘাতের সংখ্যার ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত করা হলে তা পর্যাপ্ত (مجزئ) হবে; যদিও অতিরিক্ত বেত্রাঘাত করা নিষিদ্ধ (محرمة), তবে এই নিষিদ্ধতা তার সত্তাগত কারণে নয়, বরং যাকে বেত্রাঘাত করা হচ্ছে তার ক্ষতির আশঙ্কার কারণে।
যখন আমরা জানলাম যে সালাতের মধ্যে বৃদ্ধি করা স্বয়ং সেই বৃদ্ধির কারণেই নিষিদ্ধ (محرمة), তখন আমাদের কাছে সালাত এবং সদকা ও বেত্রাঘাতের মধ্যকার পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে গেল।
তৃতীয় মতের দলীল
যারা মনে করেন যে, অংশের বিলোপ ঘটানো রহিতকরণ (نسخ) হিসেবে গণ্য হবে কিন্তু শর্তের (الشرط) ক্ষেত্রে নয়, তারা নিম্নোক্ত দলীল পেশ করেছেন:
অংশের বিলোপ ঘটানো হলো মূলত সেই অংশ ব্যতীত পূর্ণাঙ্গ বিষয়ের অপর্যাপ্ততাকে রহিত (رفع) করা। যেহেতু পূর্বে সেই অংশ ব্যতীত পূর্ণাঙ্গ বিষয়টি পর্যাপ্ত (يجزئ) হতো না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাকসু মিনান নাসসি হাকিকাতুহু ওয়া হুকমুহু ওয়া আসারু যালিকা ফিল ইহতিজাজি বিস-সুন্নাতিল আহাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
بل النقص من دون ذلك الجزء، لأن ذلك الجزء" كان داخلا في ماهية الكل محققا مع الأجزاء الأخرى لحقيقته. وبالنقص أصبح مجزئا بدونه فارتفع عدم الإِجزاء. وهو حكم شرعي إن كان الكل مطلوبا شرعا فيكون رفعه نسخا.
وأما الشرط فإنه تابع للمشروط خارج عن ماهيته.
ونسخ التابع لا يكون نسخا للمتبوع لأنهما كيانان. فإذا ارتفع أحدهما لمقتض اقتصر عليه، لا يقتضي ذلك ارتفاع الآخر لأن رابطة الشرطية مهما قويت لا تنفي التغاير بين الشرط والمشروط1.
قد أجيب عن هذا الدليل:
بأن نسخ الباقي لو تصور فإنما يتصور بالنسبة لإِجزائه أو عدم إِجزائه، ولا فرق بين الجزء والشرط في توقف هذا الإجزاء عليهما واعتداده بهما. كما أنه لا فرق بينهما في زوال اعتباره شرعا بفقدانهما.
ولو أنعم النظر فإنه يصل إلى أن مآل الجزء فيما ذكر من الإجزاء وعدمه إلى الشرط، لأن الجزء قبل النقص كان شرطا أيضا بالنسبة للباقي، حيث إنه خارج عنه، واعتداده موقوف عليه وما الشرط إلا هذا2.
هذا الجواب بناء على تسليم كون الإِجزاء أو عدمه حكما شرعيا. وهناك من لم يسلم ذلك فأجاب عن الدليل بجواب ثان مفاده:
أن الإِجزاء عبارة عن موافقة الأمر وعدم القضاء وموافقة الأمر نسبة عدمية بين الفعل والأمر لأنهما عبارة عن عدم المطالبة به، وعدم القضاء عبارة عن عدم ورود نص بطلبه، فانتفى عن الإِجزاء وعدمه أن يكونا حكمين شرعيين لأمرين:
أحدهما: عدميتهما. والحكم الشرعي إنما هو حكم الله تعالى الوجودي المتعلق على وجه خاص.
ثانيهما: أنهما عبارتان عن النسبة وعدمها، والنسب أو عدمها ليست أحكاما شرعية، فلا يكون رفعها نسخا3.
--------------------------------------------
বরং সেই অংশ (جزء) ছাড়াই হ্রাস ঘটে থাকে, কারণ সেই অংশ (جزء) সমগ্রের সত্তার (ماهية) অন্তর্ভুক্ত ছিল যা অন্যান্য অংশের (أجزاء) সাথে মিলে তার প্রকৃত রূপ দান করত। হ্রাসের ফলে তা তাকে ছাড়াই পর্যাপ্ত (مجزئ) হয়ে যায় এবং এর ফলে অপর্যাপ্ততা দূর হয়। আর এটি একটি শরিয়তের বিধান (حكم شرعي), যদি সেই সমগ্রটি শরিয়ত কর্তৃক আদিষ্ট (مطلوب) হয়ে থাকে, তবে সেটি রহিত করা রহিতকরণ (نسخ) হিসেবে গণ্য হবে।
আর শর্ত (شرط) হলো শর্তযুক্ত বিষয়ের (مشروط) অনুগামী (تابع), যা তার সত্তার (ماهية) বহির্ভূত।
আর অনুগামীর (تابع) রহিতকরণ (نسخ) অনুসরিত বিষয়ের (متبوع) রহিতকরণ (نسخ) নয়, কারণ তারা দুটি স্বতন্ত্র সত্তা। সুতরাং যখন কোনো অনিবার্য কারণে তাদের একটি রহিত হয়, তখন তা কেবল সেটির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে; তা অপরটি রহিত হওয়ার দাবি রাখে না। কারণ শর্তের (شرط) সম্পর্ক যতই জোরালো হোক না কেন, তা শর্ত (شرط) ও শর্তযুক্ত বিষয়ের (مشروط) মধ্যকার ভিন্নতাকে নাকচ করে না।
এই দলিলের উত্তরে বলা হয়েছে: অবশিষ্ট বিষয়ের রহিতকরণ (نسخ) যদি কল্পনা করা হয়, তবে তা সেটির পর্যাপ্ততা (إجزاء) বা অপর্যাপ্ততার নিরিখেই কল্পনা করা সম্ভব। আর এই পর্যাপ্ততা (إجزاء) নির্ভর করা এবং সেটির ওপর ভিত্তি করার ক্ষেত্রে অংশ (جزء) ও শর্ত (شرط) এর মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। ঠিক যেমন এই দুটির অনুপস্থিতিতে শরিয়তের দৃষ্টিতে সেটির গ্রহণযোগ্যতা বিলুপ্ত হওয়ার ক্ষেত্রেও তাদের মাঝে কোনো পার্থক্য নেই।
যদি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়, তবে দেখা যাবে যে পর্যাপ্ততা (إجزاء) বা অপর্যাপ্ততার ক্ষেত্রে উল্লিখিত অংশের (جزء) পরিণতি শর্তের (شرط) দিকেই ফিরে যায়। কারণ হ্রাসের পূর্বে সেই অংশটি (جزء) অবশিষ্ট অংশের জন্য একটি শর্ত (شرط) ছিল, যেহেতু তা তার বাইরে অবস্থিত এবং সেটির গ্রহণযোগ্যতা এর ওপর নির্ভরশীল ছিল; আর শর্ত (شرط) বলতে তো এটিই বোঝায়।
এই উত্তরটি পর্যাপ্ততা (إجزاء) বা অপর্যাপ্ততাকে একটি শরিয়তের বিধান (حكم شرعي) হিসেবে মেনে নেওয়ার ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়েছে। তবে এমন অনেকে আছেন যারা এটি স্বীকার করেন না, তারা এই দলিলের দ্বিতীয় একটি উত্তর দিয়েছেন যার সারমর্ম হলো: পর্যাপ্ততা (إجزاء) বলতে আদেশের (أمر) অনুকূল হওয়া এবং পুনরায় আদায় (قضاء) করার প্রয়োজন না থাকাকে বোঝায়। আর আদেশের (أمر) সাথে অনুকূল হওয়া হলো কাজ ও আদেশের (أمر) মধ্যকার একটি নেতিবাচক সম্বন্ধ (نسبة عدمية), কারণ তারা উভয়েই সেই কাজের পুনরাবৃত্তির দাবি না থাকাকে বোঝায়। আর পুনরায় আদায় (قضاء) না করা বলতে সেটি তলব করার বিষয়ে কোনো নস (نص) না থাকাকে বোঝায়। সুতরাং দুটি কারণে পর্যাপ্ততা (إجزاء) ও অপর্যাপ্ততা শরিয়তের বিধান (حكم شرعي) হওয়া নাকচ হয়ে যায়:
প্রথমত: তাদের নেতিবাচক (عدمي) প্রকৃতি। অথচ শরিয়তের বিধান (حكم شرعي) হলো আল্লাহ তাআলার বিশেষ পন্থায় সংশ্লিষ্ট কোনো অস্তিত্বশীল (وجودي) বিধান।
দ্বিতীয়ত: তারা হলো সম্বন্ধ (نسبة) এবং তার অভাবের বহিঃপ্রকাশ মাত্র; আর সম্বন্ধ (نسبة) বা তার অভাব শরিয়তের বিধান (حكم شرعي) নয়। সুতরাং সেগুলোর বিলুপ্তি রহিতকরণ (نسخ) হবে না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাকসু মিনান নাসসি হাকিকাতুহু ওয়া হুকমুহু ওয়া আসারু যালিকা ফিল ইহতিজাজি বিস-সুন্নাতিল আহাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
دليل المذهب الرابع
استدل القائلون بأن نقص الجزء والشرط نسخ إن غير حكم المنقوص وإلا فلا بما يلي:
إن النسخ عبارة عن إزالة الحكم الثابت بالشرع المتقدم بدليل شرعي متأخر عنه والمنقوص منه الباقي بعد النقص قد كان تقدم ورود الخطاب بأنه بانفراده ليس مطلوبا واستقر ذلك وثبت. فإذا ورد بعد ذلك خطاب بأنه مطلوب تام بانفراده فإن ذلك يكون نسخا له.
ومثلوا له بما لو نقصت ركعتان من أربع ركعات فإن هذا النقص يغير حكم الركعتين الباقيتين من عدم كونهما عبادة بانفرادهما إلى كونهما عبادة تامة.
أما النقص الذي لا يغير حكم المنقوص منه فإنه لا يتأتى فيه معنى النسخ من الإزالة والرفع، فلا يكون نسخا.
وقد مثلوا له بما لو نقص الشارع ستر العورة من الصلاة أو وقوف المأموم عن يمين الإمام1.
--------------------------------------------
চতুর্থ মতের দলিল
যারা মনে করেন যে, কোনো অংশ (جزء) বা শর্ত (شرط) হ্রাস করা রহিতকরণ (نسخ) হিসেবে গণ্য হবে যদি তা অবশিষ্টাংশের বিধানকে পরিবর্তন করে, অন্যথায় নয়; তারা নিম্নোক্ত বিষয়াদির মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন:
রহিতকরণ (نسخ) মূলত পূর্ববর্তী শরয়ি বিধানকে পরবর্তী কোনো শরয়ি দলিল (دليل شرعي) দ্বারা অপসারণ করাকে বোঝায়। আর হ্রাসের পর অবশিষ্ট অংশটির ব্যাপারে পূর্বে এমন সম্বোধন বা নির্দেশ (خطاب) বিদ্যমান ছিল যে, তা এককভাবে কাম্য বা উদ্দেশ্য নয় এবং এটিই সুপ্রতিষ্ঠিত ও সাব্যস্ত ছিল। অতঃপর যদি এরপর এমন কোনো নির্দেশ (خطاب) আসে যা বলে যে, এটি এককভাবেই একটি পূর্ণাঙ্গ কাম্য বিষয়, তবে তা পূর্বের বিধানের জন্য রহিতকরণ (نسخ) হিসেবে গণ্য হবে।
তারা এর উদাহরণ দিয়েছেন এভাবে যে, যদি চার রাকাত থেকে দুই রাকাত কমিয়ে দেওয়া হয়, তবে এই হ্রাস অবশিষ্ট দুই রাকাতের বিধানকে পরিবর্তন করে দেয়; অর্থাৎ যা আগে এককভাবে ইবাদত (عبادة) ছিল না, তা এখন এককভাবেই একটি পূর্ণাঙ্গ ইবাদত (عبادة) হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
পক্ষান্তরে, যে হ্রাস অবশিষ্টাংশের বিধানকে পরিবর্তন করে না, তার ক্ষেত্রে রহিতকরণের (نسخ) মূল অর্থ অর্থাৎ অপসারণ (إزالة) ও বিলোপ (رفع) করা প্রযোজ্য হয় না, তাই তা রহিতকরণ (نسخ) হিসেবে গণ্য হবে না।
তারা এর উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যদি শরিয়ত প্রণেতা নামাজে সতর ঢাকা (ستر العورة) অথবা ইমামের ডানে মুক্তাদির দাঁড়ানোর বিধানটি রহিত বা হ্রাস করেন।১
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাকসু মিনান নাসসি হাকিকাতুহু ওয়া হুকমুহু ওয়া আসারু যালিকা ফিল ইহতিজাজি বিস-সুন্নাতিল আহাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
المطلب الثاني: الموازنة والترجيح…المطلب الثاني: الموارنة والترجيح
بالرجوع إلى الأدلة التي احتجت المذاهب بها يظهر ما يلي:
1- أن المذهب الأول القائل بأن النقص من النص ليس بنسخ مطلقا قد ساق ثلاثة أدلة قدحت الإجابة في نهوض اثنين منها للحجية وهما الأول والثالث ولم أطلع على إجابة عن الثاني المتمثل في قياس نقص الجزء والشرط على التخصيص، واستلزام ناسخيه النقص للمنقوص منه لكون التخصيص ناسخا للباقي بعده.
وبإنعام النظر يتبين للناظر أن هذا القياس قياس مع الفارق وأن التلازم في حيز المنع.
ووجه الفرق أن النقص أعم والتخصيص أخص.
تكمن أعمية النقص في شموله لرفع ما أريد من النص بعد ثبوته، ودفع ما تناوله النص من أن يثبت قبل ثبوته. وتكمن أخصية التخصيص في انحصاره في دفع ما تناوله النص من أن يثبت. والأعم لا يستلزم أن يكون حكمه حكم الأخص، لجواز أن يكون حكم الأعم بالنسبة لأفراده التي لا يلتقي فيها مع الأخص، فلا يلزم من كون النقص نسخا، كون التخصيص نسخا مثله فامتنعت الملازمة وخرجت الإجابة عن هذا الدليل أيضا.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তুলনামূলক বিশ্লেষণ ও অগ্রাধিকার প্রদান…দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তুলনামূলক বিশ্লেষণ ও অগ্রাধিকার প্রদান
মাযহাবসমূহ যেসব দলিলের মাধ্যমে যুক্তি প্রদর্শন করেছে, তা পর্যালোচনা করলে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো প্রতীয়মান হয়:
১- প্রথম মতাবলম্বীগণ, যারা মনে করেন যে নস (نص) থেকে কোনো কিছু হ্রাস করা সাধারণভাবে রহিতকরণ (نسخ) নয়, তারা তিনটি দলিল পেশ করেছেন। এগুলোর মধ্যে প্রথম ও তৃতীয় দলিলের প্রামাণিকতা খণ্ডন করে উত্তর দেওয়া হয়েছে। তবে দ্বিতীয় দলিলটির ব্যাপারে আমি কোনো উত্তর খুঁজে পাইনি, যা হলো অংশ বা শর্ত হ্রাস করাকে বিশেষায়ন (تخصيص)-এর ওপর কিয়াস (قياس) করা এবং হ্রাসকারী বিষয়ের কারণে মূল বিধান থেকে হ্রাসকৃত অংশের রহিতকরণ (نسخ) আবশ্যক হওয়া; যেহেতু বিশেষায়ন (تخصيص) তার পরবর্তী অবশিষ্ট অংশের জন্য রহিতকারী হিসেবে গণ্য।
গভীর পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয় যে, এই কিয়াস (قياس) হলো ‘কিয়াস মাআল ফারিগ’ (পার্থক্যপূর্ণ কিয়াস) এবং এদের মধ্যকার পারস্পরিক আবশ্যকতা অগ্রহণযোগ্য।
পার্থক্যের দিকটি হলো—হ্রাসকরণ ব্যাপকতর এবং বিশেষায়ন (تخصيص) সুনির্দিষ্টতর।
হ্রাসকরণের ব্যাপকতা নিহিত রয়েছে নস (نص) সাব্যস্ত হওয়ার পর তার উদ্দিষ্ট বিধান তুলে নেওয়া এবং নস (نص) সাব্যস্ত হওয়ার আগে তার আওতাভুক্ত বিষয়গুলোকে সাব্যস্ত হওয়া থেকে প্রতিহত করা—এই উভয় বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করার মধ্যে। আর বিশেষায়ন (تخصيص)-এর সুনির্দিষ্টতা নিহিত রয়েছে শুধুমাত্র নস (نص) যে বিষয়গুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে, তা সাব্যস্ত হওয়া থেকে প্রতিহত করার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার মাঝে। ব্যাপকতর বিষয়ের বিধান সুনির্দিষ্টতর বিষয়ের বিধান হওয়া আবশ্যক নয়; কারণ ব্যাপকতর বিষয়ের বিধান এমন স্বতন্ত্র ক্ষেত্রের জন্যও হতে পারে যেখানে সুনির্দিষ্টতর বিষয়ের সাথে তার মিলন ঘটে না। সুতরাং হ্রাসকরণ রহিতকরণ (نسخ) হওয়ার কারণে বিশেষায়ন (تخصيص)-কেও অনুরূপ রহিতকরণ (نسخ) হতে হবে—এমন কোনো আবশ্যকতা নেই। ফলে এই পারস্পরিক সম্পর্কটি অকার্যকর হয়ে গেল এবং এই দলিলের উত্তরও স্পষ্টভাবে প্রতিভাত হলো।
(খণ্ড: ১)
আন-নাকসু মিনান নাসসি হাকিকাতুহু ওয়া হুকমুহু ওয়া আসারু যালিকা ফিল ইহতিজাজি বিস-সুন্নাতিল আহাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
2 - وأما المذهب الثاني فإنه قد أتى بثلاثة أدلة أيضا. وقد تصدوا لها بالإجابة عنها. غير أن الأول منها المتضمن ثبوت حرمة المنقوص منه - إن كان واجبا - بدون الجزء والشرط قبل النقص وارتفاع تلك الحرمة بالنقص قد دفع الجواب عنه بما يظهر أنه أعاد القوة إليه للنهوض للحجية.
3 - أما المذهب الثالث فقد أجيب عن دليله الوحيد.
4 - وأما المذهب الرابع فإنه قد سبك دليله الوحيد سبكا أتقن إحكامه بحيث سد المنافذ التي يمكن أن ينفذ منه الغبار المثار عن الاعتراضات. ويرجع ذلك إلى انتزاع دليله من واقع النسخ، وحقيقته التي يقرها الجميع، فعلق كون النقص نسخا على تأتي هذه الحقيقة ونفى نسخيته على انتفائها، فأصبح الدليل بمنجاة عن الإجابة عنه والاعتراض عليه.
صحيح أن المذهب نفسه قد ترك المجال أمام الاعتراض بأنه علق النسخ على التغيير وهما شيء واحد، لأن دليله أنبأ أن مراده من التغيير الرفعِ والإزالة بخصوصهما وليس التغيير بمعناه الأعم الشامل للرفع والدفع والتقييد، فيكون مآل المذهب أن النقص نسخ إن كان نسخا. وتعليق الشيء على نفسه خال عن التحصيل ممتنع.
لكن بيان المراد من المذهب بأن أمر النقص من حيث كونه نسخا أو ليس بنسخ لا ينضبط كليا لا إثباتا ولا نفيا، فلا يحكم على كل نقص بأنه نسخ ولا يحكم عليه كله بأنه ليس بنسخ، بل في بعض الأحكام يكون مغيرا لحكم شرعي فيكون نسخا وفي بعض الأحكام لا يكون مغيرا فلا يكون نسخا.
هذا البيان يسد ذلك المجال لهذا الاعتراض فيعيد المذهب إلى نطاق المذاهب المفيدة الحاوية للتحصيل.
بقي النظر في تمثيله، ففي الوقت الذي لا تختلف وجهات النظر - في نظري - في كون الأول (نقص ركعتين من أربع) مغيرا نجد تلك الوجهات مختلفة في عدم كون الثاني (نقص ستر العورة أو وقوف المأموم على يمين الإمام) مغيرا.
فإن هناك من يجعل نقص الشرط مغيرا وبين وجه تغييره للمنقوص منه.
وعلى كل فإن اختلاف وجهات النظر في المثال لا يقدح في الممثل له. ومن جهة
2 - আর দ্বিতীয় মতের ক্ষেত্রেও তিনটি দলিল পেশ করা হয়েছে এবং প্রতিপক্ষ সেগুলোর উত্তর প্রদানে সচেষ্ট হয়েছেন। তবে প্রথম দলিলটি—যা কোনো ওয়াজিব (واجب) বিধানের অংশ (جزء) বা শর্ত (شرط) ব্যতিরেকে তার অলঙ্ঘনীয়তা (حرمة) সাব্যস্ত থাকা এবং পরে হ্রাস (نقص) এর মাধ্যমে সেই অলঙ্ঘনীয়তা বিলুপ্ত হওয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করে—সেটির ব্যাপারে প্রদত্ত উত্তরটি এমনভাবে খণ্ডন করা হয়েছে যাতে প্রতীয়মান হয় যে, দলিলটি পুনরায় প্রমাণযোগ্যতার (حجية) দাবি নিয়ে দাঁড়ানোর সক্ষমতা ফিরে পেয়েছে।
3 - তৃতীয় মতের ক্ষেত্রে, এর একমাত্র দলিলের উত্তর দেয়া হয়েছে।
4 - চতুর্থ মতটি তার একমাত্র দলিলটিকে অত্যন্ত সুসংহতভাবে বিন্যস্ত করেছে, ফলে আপত্তির মাধ্যমে উত্থাপিত ধূলিকণা প্রবেশের সকল পথ রুদ্ধ হয়ে গিয়েছে। এর কারণ হলো, দলিলটি রহিতকরণের (نسخ) বাস্তবতা এবং তার সর্বজনস্বীকৃত মূল সত্তা (حقيقة) থেকে আহরণ করা হয়েছে। ফলে কোনো কিছুর হ্রাস (نقص) হওয়াকে রহিতকরণ (نسخ) হিসেবে গণ্য করাকে এই মূল সত্তার উপস্থিতির ওপর নির্ভরশীল করা হয়েছে এবং তার অনুপস্থিতিতে রহিতকরণ (نسخ) হওয়ার বিষয়টিকে নাকচ করা হয়েছে। এভাবে দলিলটি পাল্টা জবাব বা আপত্তির ঊর্ধ্বে পৌঁছে গিয়েছে।
এটা সত্য যে, এই মতটি নিজেই আপত্তির সুযোগ রেখে দিয়েছে এই যুক্তিতে যে, এটি রহিতকরণকে (نسخ) পরিবর্তনের (تغيير) ওপর নির্ভরশীল করেছে, অথচ এ দুটি মূলত একই জিনিস। কারণ তাদের দলিল নির্দেশ করছে যে, পরিবর্তন বলতে তাদের উদ্দেশ্য নির্দিষ্টভাবে রহিতকরণ (رفع) ও অপসারণ (إزالة); পরিবর্তন বলতে এখানে ব্যাপক অর্থ—যা রহিতকরণ (رفع), প্রতিরোধ (دفع) এবং সীমাবদ্ধকরণকে (تقييد) অন্তর্ভুক্ত করে—তা উদ্দেশ্য নয়। ফলে মতটির সারকথা দাঁড়ায়: হ্রাস (نقص) হওয়া তখনই রহিতকরণ (نسخ) হবে যদি তা রহিতকরণ (نسخ) হয়। আর কোনো বিষয়কে স্বয়ং সেই বিষয়ের ওপরই নির্ভরশীল করা নিরর্থক ও অসম্ভব।
তবে এই মতের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলা যায় যে, হ্রাস (نقص) হওয়াটি রহিতকরণ (نسخ) কি না—তা ইতিবাচক বা নেতিবাচক কোনোভাবেই ঢালাওভাবে নির্ণয় করা সম্ভব নয়। সুতরাং প্রতিটি হ্রাস (نقص) কেই রহিতকরণ (نسخ) বলা যাবে না, আবার সবগুলোকে রহিতকরণ (نسخ) নয় বলেও রায় দেয়া যাবে না। বরং কিছু বিধানের ক্ষেত্রে এটি শরয়ি বিধানের পরিবর্তনকারী (مغير) হয় বিধায় রহিতকরণ (نسخ) হিসেবে গণ্য হয়, আর কিছু ক্ষেত্রে এটি পরিবর্তনকারী (مغير) হয় না বিধায় রহিতকরণ (نسخ) হয় না।
এই ব্যাখ্যাটি আপত্তির সেই পথকে রুদ্ধ করে দেয় এবং মতটিকে অর্থবহ ও সারগর্ভ মতবাদের আওতায় ফিরিয়ে আনে।
এখন এর উদাহরণের বিষয়ে দৃষ্টিপাত করা প্রয়োজন। আমার দৃষ্টিতে প্রথম উদাহরণটি (চার রাকাত থেকে দুই রাকাত হ্রাস পাওয়া) পরিবর্তনকারী (مغير) হওয়ার বিষয়ে কোনো মতভেদ না থাকলেও, দ্বিতীয় উদাহরণটি (সতর ঢাকা বা ইমামের ডানে মুক্তাদির দাঁড়ানো বাদ পড়া) পরিবর্তনকারী (مغير) না হওয়ার বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি পরিলক্ষিত হয়।
কেননা কেউ কেউ শর্ত (شرط) হ্রাস করাকেও পরিবর্তনকারী (مغير) হিসেবে গণ্য করেন এবং যে বিষয়ের বিধান হ্রাস করা হয়েছে সেখানে এই পরিবর্তনের ধরণ বর্ণনা করেছেন।
যাই হোক না কেন, উদাহরণের ক্ষেত্রে মতভেদ থাকাটি মূল বিষয়ের (ممثل له) জন্য ক্ষতিকর নয়। এবং একদিক থেকে...
(খণ্ড: ১)
আন-নাকসু মিনান নাসসি হাকিকাতুহু ওয়া হুকমুহু ওয়া আসারু যালিকা ফিল ইহতিজাজি বিস-সুন্নাতিল আহাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
أخرى، فإن التمثيل للمغير وغير المغير بهذين المثالين قد يدخل في الروع رجوع هذا المذهب إلى المذهب القائل بكون نقص الجزء نسخا دون الشرط، ولكن إذا لوحظ أن المغير أعم من الركن والشرط وكذلك غير المغير إذا غض النظر عما يلازمهما، يتلاشى وهم هذا الرجوع، إذ الشرط إذا ثبت تغيير نقصه للمنقوص منه يكون نسخا عند هذا المذهب دون المذهب الآخر.
وقبل أن نغادر هذا الموطن لابد من العودة إلى الدليل الأول من أدلة المذهب الثاني
القائل بالنسخ مطلقا والذي تمثل دليله في أن المنقوص منه إذا كان واجبا، فإن نقص الجزء أو الشرط يرفع حرمته بدونهما قبل النقص.
وسبب العودة إليه هو أن هذا الدليل وإن أجيب عنه غير أن الجواب عنه قد دفع مما يجعل الدليل ناهضا، ومعنى نهوض الدليل قيام المذهب، وربما ترجيحه، وبإنعامِ النظر في دفع الجواب يتبين أنه يعود إلى جعل النقص مغيرا لإِثبات النسخ له، مما يجعل مآله راجعا إلى هذا المذهب.
وبهذا يظهر لي رجحان هذا المذهب القائل بالنسخ عند التغيير وعدمه عند عدمه. والله أعلم.
অন্যদিকে, পরিবর্তনকারী (مغير) এবং অপরিবর্তনকারী (غير مغير)-কে এই দুটি উদাহরণের মাধ্যমে চিত্রিত করার ফলে অন্তরে এই ধারণার উদ্রেক হতে পারে যে, এই মতবাদটি (مذهب) সেই মতবাদের দিকেই ধাবিত হচ্ছে যা কোনো অংশের (جزء) হ্রাসকে রহিতকরণ (نسخ) হিসেবে গণ্য করে কিন্তু শর্তের (شرط) ক্ষেত্রে তা মানে না। তবে যদি লক্ষ্য করা যায় যে, পরিবর্তনকারী (مغير) শব্দটি রুকন (ركن) ও শর্ত (شرط) উভয়ের চেয়ে অধিক ব্যাপক এবং একইভাবে অপরিবর্তনকারী (غير مغير) শব্দটিও যদি তাদের অবিচ্ছেদ্য বিষয়সমূহ বাদ দিয়ে বিবেচনা করা হয়, তবে এই প্রত্যাবর্তনের সংশয় দূরীভূত হয়। কারণ, শর্তের (شرط) হ্রাস যদি মূল বিষয়ের পরিবর্তন ঘটানো সাব্যস্ত হয়, তবে এই মতবাদ (مذهب) অনুযায়ী তা রহিতকরণ (نسخ) হবে, যা অন্য মতবাদের ক্ষেত্রে ভিন্ন।
এই স্থান ত্যাগ করার পূর্বে দ্বিতীয় মতবাদের (مذهب) প্রমাণসমূহের (أدلة) মধ্য থেকে প্রথম দলিলের (دليل) দিকে ফিরে যাওয়া আবশ্যক
যারা নিঃশর্ত রহিতকরণ (النسخ مطلقا)-এর প্রবক্তা; তাদের দলিল (دليل) হলো—যা থেকে হ্রাস করা হয়েছে তা যদি ওয়াজিব (واجب) হয়, তবে কোনো অংশ (جزء) বা শর্তের (شرط) হ্রাস ঐ অংশ বা শর্ত ব্যতিরেকে হ্রাসের পূর্ববর্তী যে অলঙ্ঘনীয়তা (حرمة) ছিল তা রহিত করে দেয়।
এই দলিলের (دليل) দিকে পুনরায় ফিরে আসার কারণ হলো, যদিও এই দলিলটির উত্তর প্রদান করা হয়েছে, তবে সেই উত্তরটি পুনরায় খণ্ডন করা হয়েছে, যা দলিলটিকে (دليل) শক্তিশালী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। আর দলিলের (دليل) এই শক্তি অর্জনের অর্থ হলো সংশ্লিষ্ট মতবাদের (مذهب) প্রতিষ্ঠা এবং সম্ভবত সেটির অগ্রাধিকার (رجحان)। আর উক্ত উত্তরের খণ্ডনটি গভীর পর্যবেক্ষণে প্রতীয়মান হয় যে, এটি হ্রাসের বিষয়টিকে পরিবর্তনকারী (مغير) হিসেবে সাব্যস্ত করে তার জন্য রহিতকরণ (نسخ) প্রমাণ করার দিকেই প্রত্যাবর্তন করে, যার ফলে এর চূড়ান্ত পরিণতি এই মতবাদেই (مذهب) পর্যবসিত হয়।
এর মাধ্যমেই আমার নিকট সেই মতবাদটির অগ্রাধিকার (رجحان) প্রকাশ পাচ্ছে যা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে রহিতকরণ (نسخ) সাব্যস্ত হওয়ার এবং পরিবর্তন না হলে রহিতকরণ না হওয়ার কথা বলে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ১)
আন-নাকসু মিনান নাসসি হাকিকাতুহু ওয়া হুকমুহু ওয়া আসারু যালিকা ফিল ইহতিজাজি বিস-সুন্নাতিল আহাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الصالح لها بلا حصر" مثل: الإِنسان. فإنه يتناول دفعة واحدة كل ما يصلح أن يكون فردا من أفراده، مندرجا تحته. مثل زيد وعمرو وبكر وغيرهم، ولا ينبئ عن انحصار هذه الأفراد في عدد معين.
ويقصد بقصره على بعض أفراده بيان أنه عند وروده أريد به بعض من تلك الأفراد الصالحة للانضواء تحته. مثل قوله سبحانه وتعالى: {فَمَنْ شَهِدَ مِنْكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ وَمَنْ كَانَ مَرِيضاً أَوْ عَلَى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِنْ أَيَّامٍ أُخَرَ} 1. فإن (من) في {فَمَنْ شَهِدَ} من ألفاظ العموم يتناول جميع الشاهدين للشهر المقيمين منهم والمسافرين، الأصحاء منهم والمرضى. فجاء قوله تعالى: {وَمَنْ كَانَ مَرِيضاً أَوْ عَلَى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِنْ أَيَّامٍ أُخَرَ} وأخرج المرضى والمسافرين من حكم من شهد الشهر وهو وجوب الصوم المستفاد من الأمر به بـ {فَلْيَصُمْهُ} وقصر ذلك على المقيمين الأصحاء الذين هم بعض أفراد (من) في {فَمَنْ شَهِدَ مِنْكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ} وبيَّن أنهم هم المقصودون بهذا الحكم وأن غيرهم من المرضى والمسافرين لهم أن يفطروا في شهر رمضان حال مرضهم وسفرهم، ويصوموا مكان الأيام التي أفطروا فيها عدة من أيام أخر.
الفرع الثاني: العلاقة بين التخصيص والنسخ:
بيان العلاقة بين التخصيص والنسخ يتطلب ذكر أنواع النسخ باعتبار الأفراد المرفوع عنها الحكم لتعيين النوع الذي يعقد التشابه رابطة تربطه بالتخصيص فتميزه أوجه الفرق عنه.
فالنسخ بهذا الاعتبار نوعان:
الأول: نسخ الحكم بالنسبة لجميع أفراد العام، ومثلوا له بقوله سبحانه وتعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا نَاجَيْتُمُ الرَّسُولَ فَقَدِّمُوا بَيْنَ يَدَيْ نَجْوَاكُمْ صَدَقَةً ذَلِكَ خَيْرٌ لَكُمْ وَأَطْهَرُ فَإِنْ لَمْ تَجِدُوا فَإِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَحِيم} 2.
ذكروا أن هذه الآية نسخها قوله تعالى: {أَأَشْفَقْتُمْ أَنْ تُقَدِّمُوا بَيْنَ يَدَيْ نَجْوَاكُمْ صَدَقَاتٍ فَإِذْ لَمْ تَفْعَلُوا وَتَابَ اللَّهُ عَلَيْكُمْ فَأَقِيمُوا الصَّلاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ وَأَطِيعُوا اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَاللَّهُ خَبِيرٌ بِمَا تَعْمَلُونَ} 3.
--------------------------------------------
"অনির্ধারিতভাবে প্রযোজ্য" যেমন: মানুষ। কারণ এটি একই সাথে এর অন্তর্গত হতে পারে এমন সকল ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করে। যেমন যায়িদ, আমর, বকর এবং অন্যান্যরা। এটি এসকল ব্যক্তিগণকে নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার কথা প্রকাশ করে না।
আর এর কতিপয় বিষয়ের ওপর সীমাবদ্ধ করার উদ্দেশ্য হলো—এটি বর্ণনা করা যে, এটি আগমনের সময় এর দ্বারা কেবল সেসব ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে যারা এর অন্তর্ভুক্ত হওয়ার যোগ্য। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তোমাদের মধ্যে যে কেউ এই মাস পাবে, সে যেন তাতে রোজা রাখে। আর যে অসুস্থ থাকবে অথবা সফরে থাকবে, সে অন্য দিনগুলোতে এই সংখ্যা পূরণ করবে}। এখানে {যে কেউ} কথাটি সাধারণ পরিভাষা (ألفاظ العموم) এর অন্তর্ভুক্ত, যা মাসটি প্রত্যক্ষকারী মুকিম (অবস্থানকারী) ও মুসাফির (ভ্রমণকারী), সুস্থ ও অসুস্থ সকলকেই শামিল করে। এরপর আল্লাহর বাণী এলো: {আর যে অসুস্থ থাকবে অথবা সফরে থাকবে, সে অন্য দিনগুলোতে এই সংখ্যা পূরণ করবে}। এই বাক্যটি অসুস্থ ও মুসাফিরদের সেই সাধারণ বিধান (حكم) থেকে বের করে দিল যারা মাসটি প্রত্যক্ষ করেছে। আর সেই বিধান (حكم) হলো—রোজা রাখা ওয়াজিব হওয়া, যা {সে যেন রোজা রাখে} নির্দেশের মাধ্যমে প্রাপ্ত হয়েছে। এবং বিষয়টিকে কেবল সুস্থ ও মুকিমদের ওপর সীমাবদ্ধ করে দিয়েছে, যারা {তোমাদের মধ্যে যে কেউ এই মাস পাবে, সে যেন তাতে রোজা রাখে} আয়াতের অন্তর্ভুক্ত কতিপয় ব্যক্তি। এর মাধ্যমে স্পষ্ট করে দেয়া হয়েছে যে, কেবল তারাই এই বিধানের (حكم) অন্তর্ভুক্ত এবং অন্যান্যরা যেমন—অসুস্থ ও মুসাফিরগণ রমজান মাসে তাদের অসুস্থতা ও সফর অবস্থায় রোজা ভঙ্গ করতে পারবে এবং রোজা ভঙ্গ করার পরিবর্তে অন্য দিনগুলোতে সেই সংখ্যা পূরণ করে নিবে।
দ্বিতীয় শাখা: সুনির্দিষ্টকরণ (تخصيص) এবং রহিতকরণ (نسخ)-এর মধ্যকার সম্পর্ক:
সুনির্দিষ্টকরণ (تخصيص) এবং রহিতকরণ (نسخ)-এর মধ্যকার সম্পর্ক স্পষ্ট করার জন্য সেই সকল ব্যক্তিদের বিবেচনায় রহিতকরণ (نسخ)-এর প্রকারভেদ উল্লেখ করা প্রয়োজন যাদের ওপর থেকে বিধান (حكم) তুলে নেয়া হয়েছে; যাতে এমন প্রকারটি নির্ধারণ করা যায় যা সুনির্দিষ্টকরণ (تخصيص)-এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ এবং পার্থক্যের দিকগুলোও স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।
এই বিবেচনায় রহিতকরণ (نسخ) দুই প্রকার:
প্রথমত: সাধারণ (عام) বিধানের সকল বিষয়ের ক্ষেত্রে বিধান (حكم) রহিত হওয়া। এর উদাহরণ হিসেবে মহান আল্লাহর এই বাণীটি পেশ করা হয়: {হে মুমিনগণ! তোমরা যখন রাসূলের সাথে চুপিচুপি কথা বলতে চাও, তখন তোমাদের চুপিচুপি কথার আগে কিছু দান করো। এটা তোমাদের জন্য কল্যাণকর ও অধিকতর পবিত্র। তবে যদি তোমরা তাতে অক্ষম হও, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়ালু}।
তারা উল্লেখ করেছেন যে, এই আয়াতটি মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে রহিত (نسخ) হয়েছে: {তোমরা কি তোমাদের চুপিচুপি কথার আগে দান-সদকা করতে ভীত হয়ে গেলে? যখন তোমরা তা করলে না এবং আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করে দিলেন, তখন তোমরা নামাজ কায়েম করো, জাকাত প্রদান করো এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করো। আর তোমরা যা করো আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্যক অবহিত}।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাকসু মিনান নাসসি হাকিকাতুহু ওয়া হুকমুহু ওয়া আসারু যালিকা ফিল ইহতিজাজি বিস-সুন্নাতিল আহাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
فالآية الكريمة الأولى عامة شملت جميع المؤمنين، فعمهم الأمر بتقديم الصدقة بين يدي مناجاة الرسول صلى الله عليه وسلم وشملهم وجوبه. ومما دل على هذا العموم، اسم الموصول {الَّذِينَ} إذ هو من ألفاظ العموم.
والآية الكريمة الثانية أيضا عامة، لأنها خوطب بها من خوطب بالأولى. فرفعت عن الجميع وجوب التقديم1.
وهذا النوع لا يربطه بالتخصيص تشابه، ولا يلتبس به لأن الحكم كان متعلقا بجميع الأفراد عند نزوله ثم انتهى عنها جميعا بعد ذلك.
والتخصيص لا ينهي الحكم عن جميع أفراد العام، بل لا بد من بقاء بعض من الأفراد ينتهي إليه التخصيص.
النوع الثاني: نسخ الحكم عن بعض أفراد العام:
وقد مثلوا له بقوله تعالى: {وَالْمُطَلَّقَاتُ يَتَرَبَّصْنَ بِأَنْفُسِهِنَّ ثَلاثَةَ قُرُوءٍ} 2 وذكروا أنه نسخ من هذه الآية الكريمة حكم الحامل بقوله تعالى: {وَأُولاتُ الأَحْمَالِ أَجَلُهُنَّ أَنْ يَضَعْنَ حَمْلَهُنَّ} 3.
فالآية الكريمة الأولى عامه تتناول جميع المطلقات، فتوجب عليهن أن يعتدن ثلاثة قروء، ودل على هذا العموم لفظ {وَالْمُطَلَّقَاتُ} حيث إنه جمع معرف ب (أل) وهي من صيغ العموم.
والآية الكريمة الثانية خاصة بالحاملات جعلت عدتهن وضع الحمل، فذكروا أنها نسخت بالنسبة لهن العدة بتربص ثلاثة قروء.
وبهذا تكون الثانية ناسخة للأولى نسخا جزئيا، لأنها رفعت حكم الأولى بالنسبة لبعض أفرادها وهو الحوامل، دون البعض الآخر وهو غير الحوامل، وقد كانت المطلقات عامة شاملة للصنفين4.
وهذا النوع يربطه بالتخصيص علاقة اشتراكهما في اختصاص الحكم ببعض ما يتناوله
--------------------------------------------
প্রথম সম্মানিত আয়াতটি সাধারণ (عام), যা সকল মুমিনকে অন্তর্ভুক্ত করে। ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে নির্জনে কথা বলার পূর্বে সদকা পেশ করার আদেশ তাদের সবাইকে শামিল করেছে এবং এর আবশ্যকতাও তাদের সবার ওপর প্রযোজ্য হয়েছে। এই ব্যাপকতার (عموم) প্রমাণ হলো ইসমে মাওসুল 'الَّذِينَ' (যারা), কারণ এটি ব্যাপকতা জ্ঞাপক শব্দগুলোর (ألفاظ العموم) অন্তর্ভুক্ত।
দ্বিতীয় সম্মানিত আয়াতটিও সাধারণ (عام), কারণ এর মাধ্যমে তাদেরকেই সম্বোধন করা হয়েছে যাদেরকে প্রথম আয়াতের মাধ্যমে সম্বোধন করা হয়েছিল। ফলে এটি সকলের ওপর থেকে সদকা পেশ করার আবশ্যকতা রহিত করে দিয়েছে।
এই প্রকারটির সাথে সুনির্দিষ্টকরণের (تخصيص) কোনো সাদৃশ্য নেই এবং এর সাথে বিভ্রান্ত হওয়ারও সুযোগ নেই; কারণ বিধানটি অবতীর্ণ হওয়ার সময় সমস্ত ব্যক্তির সাথে সংশ্লিষ্ট ছিল, অতঃপর তা সবার থেকেই রহিত হয়ে গেছে।
আর সুনির্দিষ্টকরণ (تخصيص) সাধারণের (عام) অন্তর্ভুক্ত সমস্ত ব্যক্তির ওপর থেকে বিধানকে নিঃশেষ করে দেয় না, বরং সেখানে অবশ্যই কিছু ব্যক্তি অবশিষ্ট থাকে যাদের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্টকরণ (تخصيص) সম্পন্ন হয়।
দ্বিতীয় প্রকার: সাধারণের (عام) কিছু ব্যক্তির ওপর থেকে বিধান রহিতকরণ (نسخ):
এর উদাহরণ হিসেবে তাঁরা আল্লাহ তাআলার এই বাণীকে পেশ করেছেন: "আর তালাকপ্রাপ্তা নারীগণ তিন 'কুরু' (তিন ঋতু বা তিন পবিত্রতা) পর্যন্ত নিজেদেরকে অপেক্ষায় রাখবে।" এবং তাঁরা উল্লেখ করেছেন যে, এই সম্মানিত আয়াত থেকে গর্ভবতী নারীদের বিধানটি আল্লাহ তাআলার এই বাণীর মাধ্যমে রহিত (نسخ) করা হয়েছে: "আর গর্ভবতী নারীদের ইদ্দতকাল হলো সন্তান প্রসব করা পর্যন্ত।"
প্রথম সম্মানিত আয়াতটি সাধারণ (عام) যা সকল তালাকপ্রাপ্তা নারীকে অন্তর্ভুক্ত করে, ফলে এটি তাদের ওপর তিন 'কুরু' পর্যন্ত ইদ্দত পালন করা ওয়াজিব করে। এই ব্যাপকতার (عموم) প্রমাণ হলো 'الْمُطَلَّقَاتُ' শব্দটির ব্যবহার, যেখানে এটি 'আলিফ-লাম' যুক্ত বহুবচন, আর এটি ব্যাপকতা জ্ঞাপক শব্দরীতির (صيغ العموم) অন্তর্ভুক্ত।
দ্বিতীয় সম্মানিত আয়াতটি গর্ভবতী নারীদের জন্য বিশেষ (خاص), যা তাদের ইদ্দতকে সন্তান প্রসব পর্যন্ত নির্ধারণ করেছে। তাই তাঁরা উল্লেখ করেছেন যে, এটি গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে তিন 'কুরু' পর্যন্ত অপেক্ষা করার বিধানকে রহিত (نسخ) করে দিয়েছে।
এর মাধ্যমে দ্বিতীয় আয়াতটি প্রথম আয়াতের জন্য আংশিক রহিতকারী (نسخا جزئيا) হিসেবে গণ্য হবে। কারণ এটি প্রথম আয়াতের বিধানকে তার অন্তর্ভুক্ত কিছু ব্যক্তির ওপর থেকে তুলে নিয়েছে—আর তারা হলো গর্ভবতী নারীগণ; অন্য ব্যক্তিদের ওপর থেকে নয়—যারা গর্ভবতী নয়। অথচ তালাকপ্রাপ্তা শব্দটি উভয় শ্রেণীকেই অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে সাধারণ (عام) ছিল।
এই প্রকারটি সুনির্দিষ্টকরণের (تخصيص) সাথে সংশ্লিষ্ট, কারণ তারা উভয়ই বিধানকে তার আওতাভুক্ত কিছু বিষয়ের সাথে নির্দিষ্ট করার ক্ষেত্রে পরস্পর সাদৃশ্যপূর্ণ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাকসু মিনান নাসসি হাকিকাতুহু ওয়া হুকমুহু ওয়া আসারু যালিকা ফিল ইহতিজাজি বিস-সুন্নাতিল আহাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
العام، ونظراً لهذا الاشتراك والتشابه، قد يلتبس التخصيص بالنسخ عند البعض إلى درجة الاعتقاد باندراج النسخ في تعريف التخصيص لأنه يصدق عليه أنه: قصر العام على بعض أفراده.
ومن هنا اعترضوا على تعريف التخصيص بأنه غير مانع لأنه صدق على النسخ مع أنه ليس من المعرف ودخل في التخصيص مع أنه ليس منه.
غير أن هذا الاعتراض قد دفع بأن العام الذي نسخ حكمه بالنسبة لبعض أفراده لم يكن مقصورا على بعض أفراده عند الإطلاق بل أريد به جميع الأفراد ثم رفع البعض بالنسخ. أما العام الذي خصص بعض أفراده فإنه لم يرد به عند الإطلاق إلا البعض، فلا يتناول تعريفه النسخ، فيكون مانعا منه1.
وتوخي بيان العلاقة بين التخصيص والنسخ يحدونا إلى ذكر أهم ما بينه العلماء من أوجه الاختلاف بينهما. من هذه الأوجه:
ا - أن التخصيص دفع، ويقصدون به أن التخصيص بيان أن حكم العام لم يتعلق إلا ببعض أفراده حين وروده دون البعض الآخر فخرج من حكمه من وقت الورود. بخلاف النسخ فإنه رفع. ويقصدون به أن حكم العام كان متعلقا بكل الأفراد ثم بعد ذلك تغير الحكم بالنسبة لبعض أفراد العام، فرفع الحكم عنها بعد ثبوته لها.
2 - أن التخصيص يجوز فيه اقتران المخصص بالعام، بل عند من لا يجوز تأخير البيان، يجبَ اقترانه به، كما يجوز عند الجمهور أن يكون مقدما عليه.
وجواز الاقتران هذا ينبعث من طبيعة التخصيص وحقيقته وهي أنه بيان لما أريد من العام، واقتران البيان لما اكتنفه نوع من الإبهام لا يفضي إلى محظور، بل هو من سائغ الأمور، بل ربما ارتقى إلى درجة الأولوية، بل الوجوب فيما إذا حان وقت تطبيق العام.
وهذه الحقيقة نفسها جوزت تقدم المخصص على العام، إذ لا مانع من تقدم المبين على المبين ذاتاً مادام يتأخر عنه صفة وهي كونه بيانا، حيث إن البيانية لا تتأتى إلا بعد ورود العام لأنه محل لها. بخلاف النسخ حيث إنه لا يجوز فيه اقتران الناسخ بالمنسوخ، بل يشترط تراخيه عنه وبطريق أولى لا يجوز تقدمه عليه.
وعدم الجواز هذا نابع من حقيقة النسخ التي هي الرفع، إذ أن الرفع فرع الثبوت، فلا يتأتى إلا لما ثبت، فلا بد للشيء أن يثبت أولا حتى يطرأ عليه الرفع، والطروء يستلزم
--------------------------------------------
সাধারণ (عام), এবং এই অংশীদারিত্ব ও সাদৃশ্যের পরিপ্রেক্ষিতে, কারও কারও কাছে বিশেষীকরণ (تخصيص) রহিতকরণের (نسخ) সাথে গুলিয়ে যেতে পারে, যা এমনকি রহিতকরণকে (نسخ) বিশেষীকরণের (تخصيص) সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত মনে করার পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। কারণ রহিতকরণের ক্ষেত্রেও এ কথাটি সত্য হয় যে: এটি সাধারণ (عام)-কে তার কিছু সদস্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা।
এ কারণেই তারা বিশেষীকরণের (تخصيص) সংজ্ঞার ওপর এই আপত্তি জানিয়েছেন যে, এটি বর্জনকারী নয়; কারণ এটি রহিতকরণের (نسخ) ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হয়, অথচ রহিতকরণ সংজ্ঞায়িত বিষয়ের অংশ নয় এবং এটি বিশেষীকরণের (تخصيص) সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়ছে যদিও তা তার অন্তর্ভুক্ত নয়।
তবে এই আপত্তির উত্তর এভাবে দেওয়া হয়েছে যে, যে সাধারণ (عام) শব্দের বিধান তার কিছু সদস্যের ক্ষেত্রে রহিত করা হয়েছে, তা প্রয়োগের সময় কেবল কিছু সদস্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং এর দ্বারা সকল সদস্যকেই উদ্দেশ্য করা হয়েছিল; পরবর্তীতে রহিতকরণের (نسخ) মাধ্যমে কিছু অংশ তুলে নেওয়া হয়েছে। পক্ষান্তরে, যে সাধারণ (عام) শব্দকে বিশেষিত করা হয়েছে, প্রয়োগের সময় তার দ্বারা কেবল বিশেষ অংশটিই উদ্দেশ্য ছিল। সুতরাং বিশেষীকরণের সংজ্ঞা রহিতকরণকে (نسخ) অন্তর্ভুক্ত করে না, ফলে তা রহিতকরণ থেকে বর্জনকারী হিসেবেই গণ্য হয়।১
বিশেষীকরণ (تخصيص) এবং রহিতকরণের (نسخ) মধ্যকার সম্পর্ক স্পষ্ট করার প্রচেষ্টা আমাদের আলেমগণ কর্তৃক বর্ণিত এই দুইয়ের মধ্যকার পার্থক্যের প্রধান দিকগুলো উল্লেখ করতে উদ্বুদ্ধ করে। এই দিকগুলোর মধ্যে রয়েছে:
১ - বিশেষীকরণ (تخصيص) হলো প্রতিরোধ (دفع); এর মাধ্যমে তাঁরা উদ্দেশ্য নিয়েছেন যে, বিশেষীকরণ (تخصيص) হলো এই বর্ণনা (بيان) যে, সাধারণ (عام) শব্দের বিধানটি অবতীর্ণ হওয়ার সময় থেকেই কেবল তার কিছু সদস্যের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিল, অন্যদের সাথে নয়; ফলে তা আসার সময় থেকেই ওই বিধানের বহির্ভূত ছিল। পক্ষান্তরে রহিতকরণ (نسخ) হলো রহিত করা (رفع); এর দ্বারা তাঁরা উদ্দেশ্য নিয়েছেন যে, সাধারণ (عام) শব্দের বিধানটি প্রথমে সকল সদস্যের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিল, অতঃপর সাধারণ (عام) শব্দের কিছু সদস্যের ক্ষেত্রে বিধানটি পরিবর্তিত হয়ে যায়, ফলে তা সাব্যস্ত হওয়ার (ثبوت) পর রহিত করা হয়।
২ - বিশেষীকরণের (تخصيص) ক্ষেত্রে বিশেষকারী (مخصص) দলিলটি সাধারণ (عام) শব্দের সাথে যুক্ত থাকা জায়েজ। বরং যাদের মতে ব্যাখ্যা বিলম্বিত করা জায়েজ নয়, তাদের নিকট এটি সাধারণ শব্দের সাথে থাকা ওয়াজিব। যেমনটি জমহুর (অধিকাংশ আলেম)-এর নিকট এটি সাধারণ (عام) শব্দের আগে আসাও জায়েজ।
এই সাথে থাকা জায়েজ হওয়ার বিষয়টি বিশেষীকরণের (تخصيص) প্রকৃতি ও হাকীকত থেকে উদ্ভূত; আর তা হলো এটি সাধারণ (عام) শব্দ দ্বারা যা উদ্দেশ্য তা স্পষ্ট করার একটি বর্ণনা (بيان)। কোনো অস্পষ্টতা আবৃত বিষয়ের সাথে তার ব্যাখ্যা (بيان) যুক্ত থাকা কোনো নিষিদ্ধ বিষয় নয়, বরং এটি একটি অনুমোদিত বিষয়; এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে তা উত্তম হওয়ার স্তরে পৌঁছে যায়, আবার সাধারণ (عام) শব্দের ওপর আমল করার সময় হলে তা ওয়াজিব হয়ে যায়।
এই হাকীকত বা প্রকৃত অবস্থাই বিশেষকারীকে (مخصص) সাধারণ (عام) শব্দের আগে আসার অনুমতি দেয়; কারণ ব্যাখ্যা প্রদানকারী সত্তাগতভাবে ব্যাখ্যার পাত্রের আগে আসতে কোনো বাধা নেই, যতক্ষণ পর্যন্ত তা গুণগতভাবে অর্থাৎ ব্যাখ্যা (بيان) হিসেবে পরে থাকে। কারণ ব্যাখ্যামূলক হওয়া সাধারণ (عام) আসার পরেই সম্ভব, যেহেতু তা-ই ব্যাখ্যার স্থল। পক্ষান্তরে রহিতকরণের (نسخ) ক্ষেত্রে রহিতকারী (ناسخ) দলিল রহিতকৃত (منسوخ) দলিলের সাথে যুক্ত থাকা জায়েজ নয়; বরং এটি তার থেকে বিলম্বে আসা শর্ত, এবং সংগত কারণেই তা আগে আসা জায়েজ নয়।
এই না-জায়েজ হওয়ার কারণ রহিতকরণের (نسخ) হাকীকত বা প্রকৃত অবস্থা থেকেই উৎসারিত, যা হলো রহিত করা (رفع)। যেহেতু রহিত করা হলো সাব্যস্ত হওয়ার (ثبوت) একটি শাখা; তাই যা সাব্যস্ত হয়েছে কেবল তা-ই রহিত হতে পারে। সুতরাং কোনো বিষয় রহিত হওয়ার আগে অবশ্যই তা সাব্যস্ত হতে হবে, আর এই নতুন অবস্থা সৃষ্টির জন্য আবশ্যক...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাকসু মিনান নাসসি হাকিকাতুহু ওয়া হুকমুহু ওয়া আসারু যালিকা ফিল ইহতিজাজি বিস-সুন্নাতিল আহাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
تراخي الطارئ عن المطروء عليه. والاقتران ينفي الطرءان ثم إن الرفع - وهو نفي - لا يمكن اقترانه بالإثبات - وهما يعرضان على شيء واحد - لأنه يفضي إلى التناقض. والشريعة منزهة عنه.
3 - أن التخصيص لا يتطرق إلا إلى الحكم الذي ظاهره التعلق بأفراد كثيرة، أما الذي يتعلق بحق شخص واحد فإنه لا يتطرق إليه.
ونعود إلى حقيقة التخصيص مرة أخرى لنأخذ منها عدد التطرق هذا، إذ أن هذه الحقيقة إذا كانت عبارة عن بيان ما أريد بالنص عند وروده بإخراج ما لم يرد به فإن الحكم الثابت في حق شخص واحد يأبى هذا الإخراج، إذ أنه لا يبقي شيئا يتناوله النص، ويبين أن النص عندما ورد لم يرد به شيء، فيفضي إلى كون الكلام المخرج منه لغوا من الكلام. ونصوص الشريعة منزهة عن اللغو. بخلاف النسخ، فإنه يتطرق إلى الحكم الثابت في حق شخص واحد وحقيقة النسخ أيضا هي التي تسيغ هذا التطرق، لأنها عبارة عن رفع الحكم الثابت بالنص. وهذا يقتضي أن النص عندما ورد أريد به هذا الشخص الواحد، والإرادة تنفي اللغوية عن النص ولا تؤثر في هذا النفي قلة ما أريد به أو كثرته، إنما المؤثر حصوله أو عدمه فلم يفض تطرقه هذا إلى محظور فتطرق كما يتطرق إلى الحكم الثابت في حق أفراد كثيرة.
4 - أن التخصيص لا يفقد العام صلاحية الاحتجاج مطلقا في مستقبل الزمان، بل يعمل به في غير صورة التخصيص، لأنه لا بد من بقاء بعض أفراد العام بعد تخصيصه، ولا يمكن أن يتناول التخصيص كل أفراده نأيا للعام عن اللغو كما ذكر ودلالة العام على أفراده الباقية تحته بعد التخصيص باقية، والتخصيص لا يبطلها بل يبقيها، فيبقى الاحتجاج به المبني عليها. بخلاف النسخ. فإن الدليل الذي نسخ حكمه قد يخرجه النسخ عن أن يعمل به ويفقده صلاحية الاحتجاج به حينما يكون الحكم ثابتا في حق شخص واحد، أو في حق كثيرين ويكون النسخ كليا لأن دلالة المنسوخ في هاتين الحالتين تبطل بالنسخ في مستقبل الزمان بالكلية، فلا يبقى النسخ دلالة المنسوخ مطلقا، فلا يبقى الاحتجاج به المبني عليها.
وبهذه الفروق الثلاثة المرتبطة وثيق الارتباط بحقيقة التخصيص والنسخ وماهيتهما، يظهر بوضوح تميز كل منهما عن الآخر تميزا يجعل السر في القادم من الكلام على بينة. وهذا ما توخيناه من بيانها1.
--------------------------------------------
মূল বিষয়ের ওপর আপতিত বিষয়ের বিলম্ব হওয়া। আর যুগপৎ হওয়া আপতনকে নাকচ করে। তদুপরি প্রত্যাহার (الرفع) - যা মূলত একটি অস্বীকৃতি (نفي) - তা অনুমোদনের (الإثبات) সাথে যুগপৎ হওয়া অসম্ভব - অথচ উভয়ই একই বিষয়ের ওপর আপতিত হয় - কারণ এটি বৈপরীত্যের দিকে নিয়ে যায়। আর শরিয়ত এ থেকে পবিত্র।
৩ - বিশেষায়ন (التخصيص) কেবল এমন বিধানের (الحكم) ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হয় যার বাহ্যিক রূপ অনেক বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার দাবি রাখে; কিন্তু যা কেবল একজন ব্যক্তির অধিকারের সাথে সম্পৃক্ত, তাতে এটি প্রবেশাধিকার পায় না।
আমরা পুনরায় বিশেষায়নের (التخصيص) হাকিকত বা প্রকৃত অর্থের দিকে ফিরে যাই যাতে এই প্রয়োগের সীমাবদ্ধতা অনুধাবন করা যায়। কারণ এই হাকিকত যদি নস (النص) অবতীর্ণ হওয়ার সময় যা উদ্দেশ্য নয় তা বাদ দিয়ে যা উদ্দেশ্য তা বর্ণনা করা হয়, তবে একজন ব্যক্তির ক্ষেত্রে সাব্যস্ত বিধান (الحكم) এই বর্জনকে অস্বীকার করে। কারণ এটি এমন কিছু অবশিষ্ট রাখে না যা নস (النص) গ্রহণ করতে পারে, এবং এটি প্রকাশ করে যে নস (النص) যখন অবতীর্ণ হয়েছিল তখন তার দ্বারা কিছুই উদ্দেশ্য ছিল না; ফলে তা মূল বক্তব্যের মধ্য থেকে বর্জিত অংশটিকে নিরর্থক কথায় পরিণত করে। অথচ শরিয়তের নসসমূহ (النصوص) নিরর্থকতা থেকে পবিত্র। রহিতকরণের (النسخ) বিষয়টি এর বিপরীত, কারণ এটি একজন ব্যক্তির ক্ষেত্রে সাব্যস্ত বিধানের (الحكم) ওপরও আপতিত হয়। রহিতকরণের (النسخ) হাকিকতও এই প্রয়োগকে বৈধতা দেয়, কারণ এটি হলো নস (النص) দ্বারা সাব্যস্ত বিধানকে (الحكم) তুলে নেওয়া বা প্রত্যাহার (رفع) করা। এটি দাবি করে যে, নস (النص) যখন অবতীর্ণ হয়েছিল তখন এই একজন ব্যক্তিই উদ্দেশ্য ছিল, আর এই উদ্দেশ্য থাকা নস (النص) থেকে নিরর্থকতাকে নাকচ করে দেয়। উদ্দেশ্যকৃত বিষয়ের স্বল্পতা বা আধিক্য এই নাকচের ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলে না; বরং এর উপস্থিতি বা অনুপস্থিতিই প্রভাবক। ফলে এর প্রয়োগ কোনো নিষিদ্ধ বিষয়ের দিকে নিয়ে যায় না, তাই এটি সেভাবেই প্রযুক্ত হয় যেভাবে অনেক ব্যক্তির ক্ষেত্রে সাব্যস্ত বিধানের (الحكم) ওপর প্রযুক্ত হয়।
৪ - বিশেষায়ন (التخصيص) ভবিষ্যৎ সময়ে সাধারণ (العام) শব্দের দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্যতার (الاحتجاج) যোগ্যতাকে পুরোপুরি বিলুপ্ত করে না, বরং বিশেষায়নের (التخصيص) ক্ষেত্র ব্যতিরেকে অন্যান্য ক্ষেত্রে তা কার্যকর থাকে। কারণ বিশেষায়নের (التخصيص) পরেও সাধারণ (العام) শব্দের কিছু একক অবশিষ্ট থাকা আবশ্যক, এবং বিশেষায়ন (التخصيص) এর সকল একককে অন্তর্ভুক্ত করতে পারে না যাতে পূর্বোল্লিখিত বর্ণনানুযায়ী সাধারণ (العام) শব্দটি নিরর্থক হওয়া থেকে বেঁচে যায়। বিশেষায়নের (التخصيص) পর এর অন্তর্ভুক্ত অবশিষ্ট এককগুলোর ওপর সাধারণ (العام) শব্দের দালিলিক নির্দেশনা (دلالة) বহাল থাকে; বিশেষায়ন (التخصيص) একে বাতিল করে না বরং বজায় রাখে। ফলে এর ওপর ভিত্তি করে দলিল হিসেবে উপস্থাপন (الاحتجاج) করার বিষয়টিও অবশিষ্ট থাকে। রহিতকরণের (النسخ) বিষয়টি এর বিপরীত। কারণ যে দলিলের বিধান রহিত করা হয়েছে, রহিতকরণ (النسخ) তাকে আমলযোগ্য হওয়া থেকে বের করে দিতে পারে এবং তার দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্যতার (الاحتجاج) যোগ্যতা বিলুপ্ত করে দিতে পারে—যখন বিধানটি একজন বা অনেক ব্যক্তির ক্ষেত্রে সাব্যস্ত হয় এবং রহিতকরণ (النسخ) যদি পূর্ণাঙ্গ হয়। কারণ এই দুই অবস্থায় রহিত (المنسوخ) বিষয়ের দালিলিক নির্দেশনা (دلالة) ভবিষ্যৎ সময়ের জন্য সম্পূর্ণরূপে বাতিল হয়ে যায়। ফলে রহিতকরণ (النسخ) রহিত (المنسوخ) বিষয়ের দালিলিক নির্দেশনা (دلالة) বিন্দুমাত্র অবশিষ্ট রাখে না, এবং এর ওপর ভিত্তি করে দলিল হিসেবে উপস্থাপন (الاحتجاج) করার সুযোগও থাকে না।
বিশেষায়ন (التخصيص) ও রহিতকরণের (النسخ) হাকিকত ও সত্তার সাথে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত এই তিনটি পার্থক্যের মাধ্যমে উভয়ের একে অপরের থেকে স্বাতন্ত্র্য স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে; এমন স্বাতন্ত্র্য যা পরবর্তী আলোচনার মূল রহস্যকে সুস্পষ্ট করে তোলে। আর এটিই ছিল আমাদের বর্ণনার মূল লক্ষ্য।১
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাকসু মিনান নাসসি হাকিকাতুহু ওয়া হুকমুহু ওয়া আসারু যালিকা ফিল ইহতিজাজি বিস-সুন্নাতিল আহাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
تحقق التخصيص
يتحقق التخصيص عند اختلاف حكم العام والخاص الذي هو: "لفظ وضع لمعنى واحد على سبيل الانفراد، أو لكثير محصور". مثل: زيد وأسماء الأعداد مثل: عشرة، فالأول خاص لانفراده والثاني لانحصاره.
ويقصد باختلاف حكم العام والخاص: أن يرد نص عام ويقتضي حكماً، ثم يرد نص خاص يقتضي حكماً لأفراده خلاف ما يقتضيه النص العام بالنسبة لهذه الأفراد. مثل ما ذكرنا في قوله تعالى: {َمَنْ شَهِدَ مِنْكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْه} وقوله تعالى: {َمَنْ كَانَ مَرِيضاً أَوْ عَلَى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِنْ أَيَّامٍ أُخَر} .
والاختلاف بينهما إنما يتأتى في أفراد الخاص، إذ هي التي تناولها النصان العام والخاص.
وهذا الاختلاف يتأتى في حالات متعددة هي ما يلي:
الحالة الأولى: مقارنة الخاص بالعام وتأخر الخاص عنه
وتعني المقارنة نزول أو ورود العام والخاص معا في وقت واحد من الزمن. ويعني التأخر: أن يذكر الخاص بعد ذكر العام مثل آية الصيام بالنسبة لمن شهد الشهر وبالنسبة للمريض والمسافر.
وهذه الحالة متفق على حكمها بين جميع المجيزين للتخصيص. وهو أن الخاص يخصص العام. لأن التخصيص حينئذ يحتمه إعمال الدليلين، الخاص في كل أفراده، والعام فيما عدا أفراد الخاص من أفراده. ويحتمه أيضا تعيين الخاص بيانا لما أريد من العام عند وروده بانقطاع سبل الجمع بينهما غيره.
الحالة الثانية: تراخي الخاص عن العام
ويتأتى ذلك بورود الخاص بعد العام بفترة زمنية. ومثلوا له بقوله تعالى: {وَالَّذِينَ يَرْمُونَ الْمُحْصَنَاتِ ثُمَّ لَمْ يَأْتُوا بِأَرْبَعَةِ شُهَدَاءَ فَاجْلِدُوهُمْ ثَمَانِينَ جَلْدَةً} . مع قوله تعالى: {وَالَّذِينَ يَرْمُونَ أَزْوَاجَهُمْ وَلَمْ يَكُنْ لَهُمْ شُهَدَاءُ إِلَّا أَنْفُسُهُمْ فَشَهَادَةُ أَحَدِهِمْ أَرْبَعُ شَهَادَاتٍ بِاللَّهِ إِنَّهُ لَمِنَ الصَّادِقِينَ} . فالآية الكريمة الأولى عامة تشمل كل من يرمي محصنة، الأزواج وغيرهم، والآية الكريمة الثانية خاصة بالأزواج.
বিশেষায়ন (تخصيص) নিশ্চিত হওয়া
বিশেষায়ন (تخصيص) তখনই নিশ্চিত হয় যখন সাধারণ (عام) এবং বিশেষ (خاص)-এর বিধানের (حكم) মধ্যে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। বিশেষ (خاص) হলো: "এমন শব্দ (لفظ) যা এককভাবে একটি মাত্র অর্থের জন্য নির্ধারিত, অথবা একটি সীমাবদ্ধ আধিক্যের জন্য নির্ধারিত"। যেমন: জায়েদ এবং সংখ্যাবাচক শব্দ যেমন: দশ। এখানে প্রথমটি একক হওয়ার কারণে বিশেষ (خاص) এবং দ্বিতীয়টি সীমাবদ্ধ হওয়ার কারণে বিশেষ (خاص)।
সাধারণ (عام) ও বিশেষ (خاص)-এর বিধানের (حكم) পার্থক্যের অর্থ হলো: একটি সাধারণ (عام) নস (نص) আসবে যা একটি বিধান (حكم) দাবি করবে, এরপর একটি বিশেষ (خاص) নস (نص) আসবে যা তার অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলোর জন্য এমন একটি বিধান (حكم) দাবি করবে যা উক্ত বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে সাধারণ (عام) নস (نص)-এর দাবিকৃত বিধানের বিপরীত। যেমন আমরা আল্লাহ তাআলার এই বাণীতে উল্লেখ করেছি: {তোমাদের মধ্যে যে এই মাস প্রত্যক্ষ করবে, সে যেন তাতে রোজা রাখে} এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর যে ব্যক্তি অসুস্থ থাকে বা সফরে থাকে, তবে অন্য দিনগুলোতে সংখ্যা পূরণ করে নিতে হবে}।
এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য কেবল বিশেষ (خاص)-এর অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলোর ক্ষেত্রেই ঘটে, কারণ সাধারণ (عام) ও বিশেষ (خاص) উভয় নস (نص) কেবল সেগুলোকেই শামিল করে।
এই পার্থক্য বিভিন্ন অবস্থায় হতে পারে, যা নিম্নরূপ:
প্রথম অবস্থা: সাধারণ (عام)-এর সাথে বিশেষ (خاص) যুগপৎ হওয়া (مقارنة) এবং বিশেষ (خاص) বিলম্বে আসা (تأخر)
যুগপৎ হওয়া (مقارنة) বলতে সময়ের একই মুহূর্তে সাধারণ (عام) ও বিশেষ (خاص) অবতীর্ণ হওয়া বা বর্ণিত হওয়াকে বোঝায়। আর বিলম্বে আসা (تأخر) বলতে বোঝায়: সাধারণ (عام) উল্লেখ করার পর বিশেষ (خاص) উল্লেখ করা, যেমন সিয়ামের আয়াতটি—যা মাস প্রত্যক্ষকারী এবং অসুস্থ ও মুসাফির উভয়ের ক্ষেত্রে বর্ণিত হয়েছে।
বিশেষায়ন (تخصيص) অনুমোদনকারী সকল আলিমের নিকট এই অবস্থার বিধান (حكم) সর্বসম্মত। আর তা হলো বিশেষ (خاص) দ্বারা সাধারণ (عام)-কে বিশেষায়িত (تخصيص) করা হবে। কারণ তখন উভয় দলিল (دليل)-এর ওপর আমল করা অপরিহার্য হয়ে পড়ে; বিশেষ (خاص) দলিলটি তার অন্তর্ভুক্ত সকল বিষয়ের ক্ষেত্রে এবং সাধারণ (عام) দলিলটি বিশেষ (خاص)-এর অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলো বাদে অন্য সবকিছুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। তদুপরি, সাধারণ (عام) নস (نص) আসার সময় তা দ্বারা যা উদ্দেশ্য ছিল, তার ব্যাখ্যা (بيان) হিসেবে বিশেষ (خاص)-কে নির্দিষ্ট করাও তখন অপরিহার্য হয়ে পড়ে, কারণ উভয়ের মধ্যে সমন্বয় করার অন্য কোনো পথ খোলা থাকে না।
দ্বিতীয় অবস্থা: সাধারণ (عام)-এর অনেক পরে বিশেষ (خاص) আসা (تراخي)
এটি ঘটে যখন সাধারণ (عام) আসার একটি নির্দিষ্ট সময় পর বিশেষ (خاص) বর্ণিত হয়। এর উদাহরণ হিসেবে আলিমগণ আল্লাহ তাআলার এই বাণীটি পেশ করেছেন: {যারা সচ্চরিত্রা নারীদের প্রতি অপবাদ আরোপ করে, অতঃপর চারজন সাক্ষী উপস্থিত করে না, তোমরা তাদের আশিটি বেত্রাঘাত করো}। এর সাথে আল্লাহ তাআলার এই বাণী: {আর যারা নিজেদের স্ত্রীদের প্রতি অপবাদ আরোপ করে এবং নিজেরা ছাড়া তাদের কোনো সাক্ষী নেই, তবে তাদের প্রত্যেকের সাক্ষ্য হবে আল্লাহর নামে চারবার সাক্ষ্য দেওয়া যে, নিশ্চয়ই সে সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত}। এখানে প্রথম আয়াতটি সাধারণ (عام), যা সচ্চরিত্রা নারীকে অপবাদদানকারী স্বামী এবং অন্য সকলকে অন্তর্ভুক্ত করে। আর দ্বিতীয় আয়াতটি স্বামীদের জন্য বিশেষ (خاص)।
(খণ্ড: ১)
আন-নাকসু মিনান নাসসি হাকিকাতুহু ওয়া হুকমুহু ওয়া আসারু যালিকা ফিল ইহতিজাজি বিস-সুন্নাতিল আহাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
وقد اختلف حكمهما بالنسبة للأزواج، حيث اقتضى ظاهر الأولى أنهم إذا رموا المحصنات ولم يأتوا بأربعة شهداء يجلدون ثمانين جلدة واقتضت الثانية عدم جلدهم عند الرمي وعدم إحضار الشهود، وأن شهادة أحدهم أربع شهادات بالله إنه لمن الصادقين. وقد نزلت الآية الكريمة الثانية الخاصة بالأزواج بعد الآية الكريمة الأولى العامة في الأزواج وفي غيرهم1.
وقد اختلف العلماء في حكم هذه الحالة: فذهب الجمهور إلى أن الخاص يخصص العام2. وذهب الحنفية إلى عدم التخصيص، بل إن الخاص ينسخ العام بقدره3.
الأدلة: أولا: أدلة الجمهور
استدل الجمهور على أن الخاص المتراخي عن العام يخصصه بما يلي:
ا - قوله تعالى: {ِنَّكُمْ وَمَا تَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ حَصَبُ جَهَنَّمَ أَنْتُمْ لَهَا وَارِدُونَ} 4
وقوله سبحانه وتعالى: {إِنَّ الَّذِينَ سَبَقَتْ لَهُمْ مِنَّا الْحُسْنَى أُولَئِكَ عَنْهَا مُبْعَدُونَ} 5.
فالآية الكريمة الأولى عامة تعم كل معبود ولم يقترن بها تخصيص، والآية الكريمة الثانية خاصة بالذين سبقت لهم من الله الحسنى كعيسى ابن مريم والملائكة عليهم السلام، وأخرجتهم من عموم الأولى فخصصتها، وقد نزلت الثانية بعد الأولى متراخية عنها6.
فلو لم يكن التخصيص بالمتراخي جائزاً لما وقع لكنه وقع في هذه الآية الكريمة، والوقوع يستلزم الجواز، فدل هذا على أن تأخير المخصص جائز7.
وأجيب عن هذا الدليل:
أ - بأن قوله تعالى: {إِنَّكُمْ وَمَا تَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ حَصَبُ جَهَنَّمَ} لا يعم المعبودين كلهم، وإنما يعم معبود المخاطبين وهم أهل مكة فقط، وهو الأصنام. لأن الأصنام هي الموصوفة بعبادة المخاطبين لها، والموصول إنما يعم الموصوفين بالصلة، فلا تعم الآية الذين
--------------------------------------------
স্বামীদের ক্ষেত্রে এই দুই আয়াতের বিধানে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। প্রথম আয়াতের বাহ্যিক দিক দাবি করে যে, তারা যদি সচ্চরিত্রা নারীদের অপবাদ দেয় এবং চারজন সাক্ষী উপস্থিত না করে, তবে তাদের আশিটি বেত্রাঘাত করা হবে। আর দ্বিতীয় আয়াত দাবি করে যে, অপবাদ দেওয়ার সময় তাদের বেত্রাঘাত করা হবে না এবং সাক্ষী উপস্থিত করারও প্রয়োজন নেই; বরং তাদের একজনের সাক্ষ্য আল্লাহর নামে চারবার সাক্ষ্য প্রদানের সমান হবে যে, সে অবশ্যই সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত। স্বামীদের বিষয়ে এবং অন্যদের বিষয়ে অবতীর্ণ প্রথম সাধারণ (عام) আয়াতের পর স্বামীদের জন্য বিশেষ (خاص) দ্বিতীয় আয়াতটি অবতীর্ণ হয়েছে।১
এই অবস্থার বিধান নিয়ে উলামায়ে কেরাম ভিন্নমত পোষণ করেছেন: জমহুর বা সংখ্যাগুরু ওলামাদের মতে, বিশেষ (خاص) দলিল সাধারণ (عام) দলিলকে বিশেষায়িত (تخصيص) করে।২ আর হানাফীদের মতে, এখানে বিশেষায়ন (تخصيص) হয় না, বরং বিশেষ (خاص) দলিলটি সাধারণ (عام) দলিলকে সেই পরিমাণ রহিত (ينسخ) করে।৩
প্রমাণসমূহ: প্রথমত: জমহুর বা সংখ্যাগুরুদের প্রমাণ
জমহুর এই মর্মে দলিল পেশ করেছেন যে, সাধারণ (عام) দলিলের পরবর্তী সময়ে আগত বিশেষ (خاص) দলিল একে বিশেষায়িত (تخصيص) করে। যার সপক্ষে দলিল নিম্নরূপ:
ক - মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয় তোমরা এবং আল্লাহ ব্যতীত তোমরা যাদের ইবাদত করো, তারা জাহান্নামের ইন্ধন; তোমরা সেখানে প্রবেশ করবে।} ৪
এবং মহান ও পবিত্র আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয় যাদের জন্য আমার পক্ষ থেকে পূর্বেই কল্যাণ নির্ধারিত হয়েছে, তারা তা থেকে দূরে থাকবে।} ৫
প্রথম আয়াতটি সাধারণ (عام), যা সকল উপাস্যকে অন্তর্ভুক্ত করে এবং এর সাথে কোনো বিশেষায়ন (تخصيص) যুক্ত ছিল না। আর দ্বিতীয় আয়াতটি তাদের জন্য বিশেষ (خاص) যাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে কল্যাণ নির্ধারিত হয়েছে, যেমন— ঈসা ইবনে মারিয়াম এবং ফেরেশতাগণ (আলাইহিমুস সালাম)। এই দ্বিতীয় আয়াতটি তাদেরকে প্রথম আয়াতের সাধারণ (عام) বিধান থেকে বের করে এনেছে এবং একে বিশেষায়িত (تخصيص) করেছে। আর দ্বিতীয় আয়াতটি প্রথম আয়াতের বেশ কিছুকাল পরে অবতীর্ণ হয়েছে।৬
যদি পরবর্তী দলিলের মাধ্যমে বিশেষায়ন (تخصيص) জায়েজ না হতো, তবে তা এখানে ঘটত না; কিন্তু এই আয়াতে তা ঘটেছে। আর কোনো কিছু ঘটা তার বৈধতাকে প্রমাণ করে। সুতরাং এটি প্রমাণ করে যে, বিশেষায়নকারী (مخصص) দলিল পরে আসা বৈধ।৭
এই দলিলের উত্তর দেওয়া হয়েছে এভাবে:
অ - মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয় তোমরা এবং আল্লাহ ব্যতীত তোমরা যাদের ইবাদত করো, তারা জাহান্নামের ইন্ধন}—এটি সকল উপাস্যকে অন্তর্ভুক্ত করে না। বরং এটি শুধুমাত্র যাদের সম্বোধন করা হয়েছে তাদের উপাস্যদের অর্থাৎ মক্কাবাসীদের মূর্তিদের অন্তর্ভুক্ত করে। কারণ মূর্তিরাই সেই গুণের অধিকারী যাদের সম্বোধনকৃত ব্যক্তিরা ইবাদত করত। আর 'ইসমে মাউসুল' কেবল তাদেরই অন্তর্ভুক্ত করে যারা সেই সম্পর্কের (সিলাহ) গুণের অধিকারী। সুতরাং এই আয়াতটি তাদেরকে অন্তর্ভুক্ত করবে না...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাকসু মিনান নাসসি হাকিকাতুহু ওয়া হুকমুহু ওয়া আসারু যালিকা ফিল ইহতিজাজি বিস-সুন্নাতিল আহাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
سبقت لهم من الله الحسنى، فلا تتناول مثل عيسى والملائكة عليهم السلام، ولا يدخلون في عمومها، فلا يتحقق الإخراج بالنسبة لهم لأنهم لم يدخلوا والإخراج فرع الدخول. ولهذا لا يكون قوله تعالى: {إِنَّ الَّذِينَ سَبَقَتْ لَهُمْ مِنَّا الْحُسْنَى
… } الآية إخراجاً لهم وتخصيصاً لعموم الآية الأولى. وإنما هو تأكيد لعدم دخولهم الذي علم سابقاً أو تأسيس لإِظهار بعدهم عنها فضلاً عن دخولهم فيها، لقطع تعنت المتعنتين.
ب - على فرض تسليم تناول الآية بعمومها لغير معبود المخاطبين أيضاً، فإنها لا تتناولهم أيضاً لأنهم عقلاء، و (ما) لغير العقلاء فلا تتناول من يعقل ويعلم وإذا لم تكن الآية متناولة لهم، فلا داعي إلى إخراجهم لعدم الحاجة إلى إخراج مالا دخول له.
وأما قوله تعالى: {إِنَّ الَّذِينَ سَبَقَتْ لَهُمْ مِنَّا الْحُسْنَى
… } الآية فهو إما للتأكيد أو لبيان بعدهم عنها على النحو الذي ذكر.
ج - على فرض تسليم أن الآية تتناولهم فإن قوله تعالى: {إِنَّ الَّذِينَ سَبَقَتْ لَهُمْ مِنَّا الْحُسْنَى} لا يكون تخصيصا أيضاً لأنهم خصوا بالعقل، ذلك أن العقل يقضي بأن الجريمة إذا صدرت عن الغير لا تكون سبباً في تعذيب من لم يقترفها ولم يدع إليها ولم يرض بها. والمسيح والملائكة طبعاً لم يدعوا إلى عبادتهم لهم ولم يرضوا بها، فالعقل يخرجهم من عموم الآية الأولى فيكون هو المخصص، لا الآية الثانية. وإنما هي تأكيد لما حضر في عقولهم عند الخطاب بالآية الأولى. فالمخصص إذاً كان مقارنا للآية، ودعوى تأخره في خير المنع 1.
2 - قال الله تعالى: {إِنَّا مُهْلِكُو أَهْلِ هَذِهِ الْقَرْيَةِ إِنَّ أَهْلَهَا كَانُوا ظَالِمِين} 2 فهذه الآية الكريمة عامة تعم من في القرية، المؤمنين وغيرهم، ولذلك قال إبراهيم عليه السلام للملائكة الذين قالوا له هذا الكلام الكريم: {إِنَّ فِيهَا لُوطاً} ، فبينوا بعد ذلك تخصيص عموم هذه الآية، وإخراج لوط ومن معه من المؤمنين بالقول الكريم: {نَحْنُ أَعْلَمُ بِمَنْ فِيهَا لَنُنَجِّيَنَّهُ وَأَهْلَه} 3 ولم يكن هذا التخصيص إلا بعد سؤال إبراهيم عليه السلام4 فلو لم يكن التخصيص بالمتراخي جائزاً لما أخروه
--------------------------------------------
যাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে পূর্বেই কল্যাণ নির্ধারিত হয়েছে, তারা ঈসা (আলাইহিস সালাম) এবং ফেরেশতাগণের (আলাইহিমুস সালাম) মতো ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করে না। তারা এই আয়াতের ব্যাপকতার (عموم) মধ্যে প্রবেশ করেন না। সুতরাং তাদের ক্ষেত্রে কোনো কিছু বাদ দেয়া (إخراج) বাস্তবায়িত হয় না, কারণ তারা তো আদৌ প্রবেশই করেননি, আর কোনো কিছু বাদ দেয়া (إخراج) হলো তাতে পূর্বপ্রবেশের একটি আনুষঙ্গিক বিষয়। একারণেই মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই যাদের জন্য আমাদের পক্ষ থেকে পূর্বেই কল্যাণ নির্ধারিত হয়েছে...} আয়াতটি তাদের বাদ দেয়া (إخراج) এবং প্রথম আয়াতের ব্যাপকতাকে সুনির্দিষ্টকরণ (تخصيص) হিসেবে গণ্য হবে না। বরং এটি তাদের অন্তর্ভুক্ত না হওয়ার বিষয়টিকে জোরালো করা (تأكيد), যা আগে থেকেই জানা ছিল; অথবা এটি তাদের সেই পরিস্থিতি থেকে দূরবর্তী হওয়ার বিষয়টিকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য—তাদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া তো দূরের কথা—যাতে হঠকারিতাকারীদের হঠকারিতা বন্ধ করা যায়।
খ - যদি এটি মেনেও নেয়া হয় যে, আয়াতের ব্যাপকতা (عموم) সম্বোধিত ব্যক্তিদের উপাস্য ব্যতীত অন্যদেরও অন্তর্ভুক্ত করে, তবুও এটি তাদের অন্তর্ভুক্ত করবে না। কারণ তারা বিবেকসম্পন্ন, আর ‘মা’ (ما) অব্যয়টি বিবেকহীনদের জন্য ব্যবহৃত হয়। সুতরাং যারা অনুধাবন করতে পারে এবং জানে, তাদের এটি অন্তর্ভুক্ত করে না। আর যখন আয়াতটি তাদের অন্তর্ভুক্তই করে না, তখন তাদের বাদ দেয়ার (إخراج) কোনো প্রয়োজন নেই; কারণ যা প্রবেশই করেনি তা বাদ দেয়ার (إخراج) কোনো আবশ্যকতা থাকে না।
আর মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই যাদের জন্য আমাদের পক্ষ থেকে পূর্বেই কল্যাণ নির্ধারিত হয়েছে...} আয়াতটি হয় জোরালো করার (تأكيد) জন্য অথবা উপরে বর্ণিত পদ্ধতিতে তাদের সেই পর্যায় থেকে দূরবর্তী হওয়ার বিষয়টি বর্ণনা করার জন্য।
গ - যদি এটি মেনে নেয়া হয় যে আয়াতটি তাদের অন্তর্ভুক্ত করে, তবে মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই যাদের জন্য আমাদের পক্ষ থেকে পূর্বেই কল্যাণ নির্ধারিত হয়েছে} এটিও সুনির্দিষ্টকরণ (تخصيص) হবে না। কারণ তারা বিবেকের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট (خصوا) হয়েছেন। কারণ বিবেক ফয়সালা দেয় যে, কোনো অপরাধ যদি অন্য কেউ করে তবে তা সেই ব্যক্তির শাস্তির কারণ হতে পারে না যে তা করেনি, বা সেদিকে আহ্বান করেনি কিংবা তাতে সন্তুষ্ট ছিল না। আর মসীহ (আ.) এবং ফেরেশতাগণ স্বাভাবিকভাবেই তাদের ইবাদত করার জন্য আহ্বান জানাননি এবং তাতে সন্তুষ্টও ছিলেন না। সুতরাং বিবেকই তাদের প্রথম আয়াতের ব্যাপকতা (عموم) থেকে বের করে দেয়, ফলে বিবেকই হবে সুনির্দিষ্টকারী (مخصص), দ্বিতীয় আয়াতটি নয়। বরং দ্বিতীয় আয়াতটি কেবল সেই বিষয়েরই জোরালো সমর্থন (تأكيد) যা প্রথম আয়াতের সম্বোধনের সময় তাদের বিবেকে উপস্থিত ছিল। সুতরাং সুনির্দিষ্টকারী (مخصص) যখন আয়াতের সমসাময়িক ছিল, তখন তার বিলম্বিত হওয়ার দাবিটি প্রত্যাখ্যাত ১।
২ - মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন: {নিশ্চয়ই আমরা এই জনপদের অধিবাসীদের ধ্বংস করতে যাচ্ছি, নিশ্চয়ই এর অধিবাসীরা ছিল জালিম} ২। এই মহিমান্বিত আয়াতটি হলো ব্যাপক (عام), যা জনপদের মুমিন এবং অন্যদের সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করে। একারণেই ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম) ফেরেশতাগণকে বলেছিলেন যারা তাকে এই মহিমান্বিত কথাটি বলেছিল: {নিশ্চয়ই এতে লুত রয়েছে}। তখন তারা এই আয়াতের ব্যাপকতাকে সুনির্দিষ্টকরণ (تخصيص العموم) এবং লুত ও তার সাথে থাকা মুমিনদের বাদ দেয়ার (إخراج) বিষয়টি এই মহান বাণীর মাধ্যমে স্পষ্ট করেন: {আমরাই বেশি জানি যে সেখানে কে আছে, আমরা অবশ্যই তাকে ও তার পরিবারকে রক্ষা করব} ৩। আর এই সুনির্দিষ্টকরণ (تخصيص) ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর জিজ্ঞাসার পরেই কেবল সংঘটিত হয়েছিল ৪। সুতরাং বিলম্বিত সুনির্দিষ্টকরণ (التخصيص بالمتراخي) যদি বৈধ না হতো, তবে তারা তা বিলম্বিত করতেন না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাকসু মিনান নাসসি হাকিকাতুহু ওয়া হুকমুহু ওয়া আসারু যালিকা ফিল ইহতিজাজি বিস-সুন্নাতিল আহাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
وأجيب عن هذا الدليل:
بأن التخصيص لم يتأخر عن هذه الآية بل اقترن بها، ويدل على ذلك قول الملائكة: {إِنَّ أَهْلَهَا كَانُوا ظَالِمِين} فإن هذا تعليل للهلاك دل على تخصيص الهلاك بالظالمين، وأن من لم يكن ظالماً لا يدخلِ ضمن من يلحقهم الهلاك، ولم يكن لوط ومن معه ظالمين.
ثم إن بين قول الملائكة: {إِنَّا مُهْلِكُو أَهْلِ هَذِهِ الْقَرْيَةِ} وبين قولهم: {نَحْنُ أَعْلَمُ بِمَنْ فِيهَا لَنُنَجِّيَنَّهُ وَأَهْلَه} لم يتخلل إلا سؤال إبراهيم بقوله: {إِنَّ فِيهَا لُوطا} والتخلل بمثل هذا لا يعد - تأخيرا، لأن مثل هذا يجري فيما بين المبين والبيان كالتخلل بانقطاع نفس، أو سعال - مثلاً - مع أنة يعتبر مقارناً.
فسؤال إبراهيم عليه السلام ينزل منزلة ذلك، فلا يجعل التخصيص متأخراً، ولأنه لو لم يكن لبادر بالّسؤال لبادر الملائكة بالبيان والتخصيص. فلا دليل في الآية على جواز تأخير التخصيص1.
3 - قال الله تعالى لنوح عليه السلام: {حَتَّى إِذَا جَاءَ أَمْرُنَا وَفَارَ التَّنُّورُ قُلْنَا احْمِلْ فِيهَا مِنْ كُلٍّ زَوْجَيْنِ اثْنَيْنِ وَأَهْلَكَ
… } الآية2 فالأهل بعمومه كان شاملاً للابن ثم خرج ابنه بقوله تعالى: {إِنَّهُ لَيْسَ مِنْ أَهْلِ} 3 وكان هذا الإخراج متراخياً بعد أن نادى نوح ربه فقال: {رَبِّ إِنَّ ابْنِي مِنْ أَهْلِي وَإِنَّ وَعْدَكَ الْحَقُّ وَأَنْتَ أَحْكَمُ الْحَاكِمِينَ} 4 فقال تعالى: {يَا نُوحُ إِنَّهُ لَيْسَ مِنْ أَهْلِكَ إِنَّهُ عَمَلٌ غَيْرُ صَالِح} 5.
فتأخير تخصيص الأهل في هذه الآية الكريمة يدل على جواز التخصيص بالمتراخي6.
وأجيب عن هذا الدليل:
بأن قوله تعالى: {يَا نُوحُ إِنَّهُ لَيْسَ مِنْ أَهْلِكَ} ليس تخصيصا تراخي عن العام وإنما هو أحد أمرين:
الأمر الأول: أنه بيان للمجهول؛ لأن الأهل شاع في مفهومين: النسب كالابن والزوجة وغيرهما والأتباع الموافقون، وإذا كان المفهوم الأول معروفاً غنياً عن الاستدلال فإن
--------------------------------------------
এই দলিলের উত্তর এভাবে দেওয়া হয়েছে:
নির্দিষ্টকরণ (التخصيص) এই আয়াত থেকে বিলম্বিত হয়নি, বরং এর সাথেই যুক্ত ছিল। ফেরেশতাদের এই উক্তিই তার প্রমাণ দেয়: {নিশ্চয়ই এর অধিবাসীরা ছিল জালিম}। কেননা এটি ধ্বংসের কারণ সাব্যস্ত করে এবং এটি প্রমাণ করে যে ধ্বংস হওয়া জালিমদের সাথে নির্দিষ্ট (تخصيص)। সুতরাং যারা জালিম ছিল না, তারা ধ্বংসপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে না; আর লুত (আলাইহিস সালাম) ও তাঁর সঙ্গীরা জালিম ছিলেন না।
অধিকন্তু, ফেরেশতাদের উক্তি: {আমরা এই জনপদের অধিবাসীদের ধ্বংস করতে যাচ্ছি} এবং তাদের উক্তি: {সেখানে কে আছে আমরা তা ভালো করেই জানি, আমরা অবশ্যই তাকে এবং তার পরিবারকে রক্ষা করব}- এই দুই বাণীর মাঝখানে কেবল ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর এই কথাটি ছাড়া অন্য কোনো ব্যবধান ছিল না যে: {সেখানে তো লুত রয়েছে}। এই ধরনের মধ্যবর্তী ব্যবধানকে বিলম্ব (تأخير) হিসেবে গণ্য করা হয় না। কারণ এটি ব্যাখ্যাকারী (المبين) ও ব্যাখ্যার (البيان) মাঝখানে শ্বাস নেওয়ার বিরতি বা কাশির কারণে বিরতির মতোই, যা বিরতি হওয়া সত্ত্বেও সংলগ্ন হিসেবেই বিবেচিত হয়।
ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর প্রশ্নটিও সেই স্তরেরই, তাই নির্দিষ্টকরণকে (التخصيص) বিলম্বিত (متأخراً) গণ্য করা হবে না। এছাড়া তিনি যদি প্রশ্ন না করতেন, তবে ফেরেশতারাই ব্যাখ্যা (البيان) ও নির্দিষ্টকরণ (التخصيص) প্রদানে অগ্রণী হতেন। অতএব, এই আয়াতে নির্দিষ্টকরণ (التخصيص) বিলম্বিত করার বৈধতার কোনো প্রমাণ নেই।
৩ - আল্লাহ তাআলা নূহ (আলাইহিস সালাম)-কে বলেছেন: {অবশেষে যখন আমার আদেশ এল এবং চুলা উথলে উঠল, তখন আমি বললাম—তাতে তুলে নাও প্রত্যেক জোড়া থেকে দুটি করে এবং তোমার পরিবারকে...}। আয়াত২। এখানে 'পরিবার' শব্দটি তার সাধারণ (عام) অর্থের দিক থেকে পুত্রকেও শামিল করেছিল। অতঃপর আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে তার পুত্র বহির্ভূত হয়ে যায়: {সে তোমার পরিবারের অন্তর্ভুক্ত নয়}। ৩ এই পৃথকীকরণটি বিলম্বিত (متراخياً) ছিল, যা ঘটেছিল নূহ (আলাইহিস সালাম) তাঁর প্রতিপালককে ডাকার পর। তিনি বলেছিলেন: {হে আমার প্রতিপালক, আমার পুত্র তো আমার পরিবারের অন্তর্ভুক্ত এবং আপনার প্রতিশ্রুতি সত্য, আর আপনিই শ্রেষ্ঠ বিচারক}। ৪ তখন আল্লাহ বললেন: {হে নূহ, সে তোমার পরিবারের অন্তর্ভুক্ত নয়, নিশ্চয় সে অসৎকর্মশীল}। ৫
সুতরাং এই মহিমান্বিত আয়াতে 'পরিবার' শব্দের নির্দিষ্টকরণ (تخصيص) বিলম্বিত হওয়া প্রমাণ করে যে, বিলম্বিত প্রমাণের (بالمتراخي) মাধ্যমে নির্দিষ্টকরণ (التخصيص) করা বৈধ। ৬
এই দলিলের উত্তর এভাবে দেওয়া হয়েছে:
আল্লাহর বাণী {হে নূহ, সে তোমার পরিবারের অন্তর্ভুক্ত নয়} সাধারণ (العام) শব্দ থেকে বিলম্বিত (تراخي) কোনো নির্দিষ্টকরণ (تخصيص) নয়; বরং এটি দুটি বিষয়ের একটি:
প্রথম বিষয়: এটি অজানা বিষয়কে স্পষ্ট করার ব্যাখ্যা (بيان للمجهول); কারণ 'পরিবার' (আহল) শব্দটি দুটি ধারণায় প্রচলিত: বংশীয় সম্পর্ক—যেমন পুত্র, স্ত্রী ও অন্যান্য; এবং অনুসারী যারা একমত পোষণ করে। যেহেতু প্রথম ধারণাটি সুপরিচিত এবং কোনো দলিলের মুখাপেক্ষী নয়, সেহেতু...
--------------------------------------------