(খণ্ড: ১) আদ-দাওয়াতুল কাবীর (পৃষ্ঠা: -)
الدعوات الكبير   (أبو بكر البيهقي)

القسم: كتب السنة


الكتاب: الدعوات الكبير

المؤلف: أحمد بن الحسين بن علي بن موسى الخُسْرَوْجِردي الخراساني، أبو بكر البيهقي (ت 458هـ)

المحقق: بدر بن عبد الله البدر

الناشر: غراس للنشر والتوزيع - الكويت

الطبعة: الأولى للنسخة الكاملة، 2009 م

عدد الأجزاء: 2

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

(مع الشكر للأخ/ أحمد الخضري)

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আদ-দাওয়াতুল কাবীর   (আবু বকর আল-বাইহাকী)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: আদ-দাওয়াতুল কাবীর

লেখক: আহমাদ বিন আল-হুসাইন বিন আলী বিন মূসা আল-খুসরওজিরদী আল-খুরাসানী، আবু বকর আল-বাইহাকী (মৃত্যু ৪৫৮ হিজরী)

সম্পাদক: বদর বিন আব্দুল্লাহ আল-বদর

প্রকাশক: গেরাছ পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন - কুয়েত

সংস্করণ: পূর্ণাঙ্গ সংস্করণের প্রথম সংস্করণ، ২০০৯ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ২

[কিতাবের নম্বর প্রদান মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

(ভাই আহমাদ আল-খিদরীর প্রতি কৃতজ্ঞতা সহকারে)

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ٢) আদ-দাওয়াতুল কাবীর (পৃষ্ঠা: ٥)
‌‌بَابُ الْقَوْلِ وَالدُّعَاءِ عَقِيبَ الْوِتْرِ
বিতর সালাত পরবর্তী জিকির ও দুআ সংক্রান্ত অধ্যায়
(খণ্ড: ٢) আদ-দাওয়াতুল কাবীর (পৃষ্ঠা: ٥)
434 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ الرُّوذْبَارِيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ بَكْرٍ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي عُبَيْدَةَ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ طَلْحَةَ الْإِيَامِيِّ، عَنْ ذَرٍّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبْزَى، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا سَلَّمَ فِي الْوِتْرِ قَالَ: «سُبْحَانَ الْمَلِكِ الْقُدُّوسِ»
৪৩৪ - আবু আলী আর-রূজবারী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে বকর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু দাউদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উসমান ইবনে আবী শায়বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে আবী উবায়দাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-আ’মাশ থেকে, তিনি তালহা আল-ইয়ামি থেকে, তিনি যারর থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আবযা থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি উবাই ইবনে কাব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন বিতর সালাতে সালাম ফিরাতেন, তখন বলতেন: «পবিত্র সেই সত্তার, যিনি প্রকৃত মালিক এবং অতিশয় পবিত্র।»
(খণ্ড: ٢) আদ-দাওয়াতুল কাবীর (পৃষ্ঠা: ٥)
435 - وَأَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، وَأَبُو سَعِيدِ بْنُ أَبِي عَمْرٍو قَالَا: حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بنُ يَعْقُوبَ، حَدَّثَنَا أُسَيْدُ بْنُ عَاصِمٍ، حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ حَفْصٍ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ زُبَيْدٍ، حَدَّثَنِي ذَرٌّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبْزَى، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ كَانَ يُوتِرُ بِ سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الْأَعْلَى فِي الرَّكْعَةِ الْأُولَى، وَفِي الْأُخْرَى بِ قُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ وَفِي الثَّالِثَةِ بِ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ فَإِذَا أَرَادَ أَنْ يَنْصَرِفَ قَالَ: «سُبْحَانَ الْمَلِكِ الْقُدُّوسِ» ثَلَاثَ مَرَّاتٍ يَرْفَعُ بِهَا صَوْتَهُ فِي الثَّالِثَةِ
৪৩৫ - এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিজ এবং আবু সাঈদ বিন আবু আমর, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু আল-আব্বাস মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন উসাইদ বিন আসিম, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আল-হুসাইন বিন হাফস, সুফইয়ান থেকে, তিনি যুবাইদ থেকে, তিনি বলেন: আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন যারর, তিনি সাঈদ বিন আব্দুর রহমান বিন আবযা থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বিতর নামাযের প্রথম রাকাতে ‘সাব্বিহিসমা রাব্বিকাল আ’লা’, দ্বিতীয় রাকাতে ‘কুল ইয়া আইয়্যুহাল কাফিরুন’ এবং তৃতীয় রাকাতে ‘কুল হুয়াল্লাহু আহাদ’ পাঠ করতেন। এরপর যখন তিনি নামায শেষ করতে চাইতেন, তখন তিনি তিনবার বলতেন: ‘মহা রাজাধিরাজ, পরম পবিত্র সত্তার পবিত্রতা বর্ণনা করছি’ এবং তৃতীয়বার বলার সময় তিনি উচ্চস্বরে তা পাঠ করতেন।
(খণ্ড: ٢) আদ-দাওয়াতুল কাবীর (পৃষ্ঠা: ٦)
436 - وَأَخْبَرَنَا أَبُو طَاهِرٍ الزِّيَادِيُّ، مِنْ أَصْلِهِ، أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ الْقَطَّانُ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْحَسَنِ الدَّارَابَجِرْدِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو جَابِرٍ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ أَبِي جَعْفَرٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جُحَادَةَ، عَنْ زُبَيْدٍ، عَنْ ذَرٍّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبْزَى، عَنْ أَبِيهِ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُوتِرُ بِسَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الْأَعْلَى وَقُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ وَقُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ فَإِذَا قَعَدَ فِي آخِرِ الصَّلَاةِ سَلَّمَ ثُمَّ قَالَ: «سُبْحَانَ الْمَلِكِ الْقُدُّوسِ، سُبْحَانَ الْمَلِكِ الْقُدُّوسِ، سُبْحَانَ الْمَلِكِ الْقُدُّوسِ» ، ثُمَّ يَقُولُ: «اللَّهُمَّ اجْعَلْ فِي قَلْبِي نُورًا، وَفِي سَمْعِي نُورًا، وَفِي بَصَرِي نُورًا، وَاجْعَلْ فِي لِسَانِي نُورًا، وَعَنْ يَمِينِي نُورًا، وَعَنْ شِمَالِي نُورًا، وَمِنْ فَوْقِي نُورًا، وَمِنْ تَحْتِي نُورًا، وَاجْعَلْ خَلْفِي نُورًا، وَأَمَامِي نُورًا، اللَّهُمَّ أَعْظِمْ لِي نُورًا» وَرُوِّينَا فِي غَيْرِ هَذَا الْإِسْنَادِ أَنَّهُ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقْرَأُ فِي الرَّكْعَةِ الثَّالِثَةِ بِ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ وَالْمُعَوِّذَتَيْنِ
৪৩৬ - এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তাহির আজ-জিয়াদী, তাঁর মূল পাণ্ডুলিপি থেকে; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন আল-কাত্তান; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী ইবনুল হাসান আদ-দারাবাজিরদী; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু জাবির; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাসান ইবনে আবি জাফর; মুহাম্মদ ইবনে জুহাদা থেকে; তিনি জুবাইদ থেকে; তিনি যার্র থেকে; তিনি আবদুর রহমান ইবনে আবজা থেকে; তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিতর সালাতে ‘সাব্বিহিসমা রাব্বিকাল আ’লা’, ‘কুল ইয়া আইয়্যুহাল কাফিরুন’ এবং ‘কুল হুয়াল্লাহু আহাদ’ পাঠ করতেন। অতঃপর যখন তিনি সালাতের শেষে বসতেন তখন সালাম ফিরাতেন এবং বলতেন: «পবিত্রতা ঘোষণা করছি মহা পবিত্র রাজাধিরাজের, পবিত্রতা ঘোষণা করছি মহা পবিত্র রাজাধিরাজের, পবিত্রতা ঘোষণা করছি মহা পবিত্র রাজাধিরাজের»। এরপর তিনি বলতেন: «হে আল্লাহ! আমার অন্তরে নূর দান করুন, আমার শ্রবণে নূর দান করুন, আমার দৃষ্টিতে নূর দান করুন, আমার জিহ্বায় নূর দান করুন, আমার ডানে নূর দান করুন, আমার বামে নূর দান করুন, আমার ওপর থেকে নূর দান করুন, আমার নিচ থেকে নূর দান করুন, আমার পেছনে নূর দান করুন এবং আমার সামনে নূর দান করুন। হে আল্লাহ! আমার জন্য নূরকে মহান করে দিন»। আর এই সনদ ব্যতিরেকে অন্য সূত্রে আমাদের কাছে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তৃতীয় রাকাআতে ‘কুল হুয়াল্লাহু আহাদ’ এবং ‘মুআউবিজাতাইন’ (সুরা ফালাক ও নাস) পাঠ করতেন।
(খণ্ড: ٢) আদ-দাওয়াতুল কাবীর (পৃষ্ঠা: ٨)
437 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدُوسٍ الْعَلَوِيُّ، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ سَعِيدٍ الدَّارِمِيُّ، حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عَمْرٍو الْفَزَارِيِّ، قَالَ الدَّارِمِيُّ: وَهُوَ أَقَدْمُ شَيْخٍ لِحَمَّادِ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ هِشَامٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ كَرَّمَ اللَّهُ وَجْهَهُ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقُولُ فِي آخِرِ وِتْرِهِ: اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِرِضَاكَ مِنْ سَخَطِكَ، وَبِمُعَافَاتِكَ مِنْ عُقُوبَتِكَ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْكَ، لَا أُحْصِي ثَنَاءً عَلَيْكَ، أَنْتَ كَمَا أَثْنَيْتَ عَلَى نَفْسِكَ "
৪৩৭ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিজ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুস আল-আলাভি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উসমান ইবনে সাঈদ আদ-দারিমি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুসা ইবনে ইসমাইল, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ, হিশাম ইবনে আমর আল-ফাজারি থেকে। আদ-দারিমি বলেন: তিনি হলেন হাম্মাদ ইবনে সালামাহ-এর সবচেয়ে প্রবীণ উস্তাদ। তিনি আব্দুর রহমান ইবনে আল-হারিস ইবনে হিশাম থেকে, তিনি আলী ইবনে আবি তালিব (আল্লাহ তাঁর চেহারাকে সম্মানিত করুন) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বিতর নামাজের শেষে বলতেন: "হে আল্লাহ! আমি আপনার সন্তুষ্টির মাধ্যমে আপনার অসন্তুষ্টি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি, আপনার ক্ষমার মাধ্যমে আপনার শাস্তি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি, আর আমি আপনার নিকট আপনার থেকেই আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আমি আপনার প্রশংসা গণনা করে শেষ করতে পারব না; আপনি তেমনই, যেমন আপনি নিজের প্রশংসা করেছেন।"
(খণ্ড: ٢) আদ-দাওয়াতুল কাবীর (পৃষ্ঠা: ١٠)
‌‌بَابُ الْقَوْلِ وَالدُّعَاءِ عَقِيبَ صَلَاةِ الضُّحَى
চাশতের সালাত পরবর্তী যিকির ও দুআ সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ
(খণ্ড: ٢) আদ-দাওয়াতুল কাবীর (পৃষ্ঠা: ١٠)
438 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ الْفَقِيهُ، أَخْبَرَنَا بِشْرُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ الدُّولَابِيُّ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ حُصَيْنٍ، عَنْ هِلَالِ بْنِ يَسَافٍ، عَنْ زَاذَانَ، عَنْ عَائِشَةَ رضي الله عنها قَالَتْ: صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلَاةَ الضُّحَى، ثُمَّ قَالَ: " اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي، وَارْحَمْنِي، وَتُبْ عَلَيَّ، إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الْغَفُورُ، حَتَّى قَالَهَا مِائَةَ مَرَّةٍ
৪৩৮ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ আল-হাফিজ, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মাদ বিন ইসহাক আল-ফকিহ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন বিশর বিন মুসা, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন মুহাম্মাদ বিন আস-সাব্বাহ আদ-দুলাবি, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন খালিদ বিন আবদুল্লাহ, হুসাইন থেকে বর্ণিত, তিনি হিলাল বিন ইয়াসাফ থেকে, তিনি যাদান থেকে, তিনি আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) চাশতের সালাত আদায় করলেন, অতঃপর বললেন: "হে আল্লাহ, আমাকে ক্ষমা করুন, আমার প্রতি দয়া করুন এবং আমার তওবা কবুল করুন; নিশ্চয় আপনি তওবা কবুলকারী, পরম ক্ষমাশীল", এমনকি তিনি এটি একশ বার বললেন।
(খণ্ড: ٢) আদ-দাওয়াতুল কাবীর (পৃষ্ঠা: ١٢)
‌‌بَابُ مَا يَقُولُ فِي سُجُودِ التِّلَاوَةِ
তিলাওয়াতের সিজদাহয় যা বলতে হয় সেই সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ
(খণ্ড: ٢) আদ-দাওয়াতুল কাবীর (পৃষ্ঠা: ١٢)
439 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمُقْرِئُ، أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ يَعْقُوبَ الْقَاضِي، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ الثَّقَفِيُّ، عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ، عَنْ عَائِشَةَ رضي الله عنها أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقُولُ فِي سُجُودِ الْقُرْآنِ بِاللَّيْلِ: «سَجَدَ وَجْهِي لِلَّذِي خَلَقَهُ وَشَقَّ سَمْعَهُ وَبَصَرَهُ بِحَوْلِهِ وَقُوَّتِهِ»

 

440 - وَأَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ الرُّوذْبَارِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ دَاسَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، حَدَّثَنَا خَالِدٌ الْحَذَّاءُ، عَنْ رَجُلٍ، عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ، فَذَكَرَهُ بِنَحْوِهِ
৪৩৯ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হাসান আলী বিন মুহাম্মাদ আল-মুকরি, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-হাসান বিন মুহাম্মাদ বিন ইসহাক, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইউসুফ বিন ইয়াকুব আল-কাদি, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন আবি বকর, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আব্দুল ওয়াহহাব আল-ছাকাফি, তিনি আবু আল-আলিয়াহ থেকে, তিনি আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রাতে কুরআনের (তেলাওয়াতের) সিজদাতে বলতেন: «আমার মুখমণ্ডল সিজদা করেছে তাঁর জন্য যিনি তাকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর সামর্থ্য ও শক্তির মাধ্যমে তার শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তি উন্মুক্ত করেছেন»

 

৪৪০ - এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী আল-রূদবারী, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু বকর বিন দাসাহ, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুসাদ্দাদ, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইসমাইল, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন খালিদ আল-হাদ্দী, তিনি একজন ব্যক্তি থেকে, তিনি আবু আল-আলিয়াহ থেকে বর্ণনা করেন, অতঃপর তিনি অনুরূপ হাদীস উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ٢) আদ-দাওয়াতুল কাবীর (পৃষ্ঠা: ١٤)
441 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ عَلِيِّ بْنِ مُكْرَمٍ الْبَزَّارُ بِبَغْدَادَ، حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ شَاكِرٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ بْنِ خُنَيْسٍ، حَدَّثَنِي حَسَنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي يَزِيدَ، قَالَ: قَالَ لِيَ ابْنُ جُرَيْجٍ: يَا حَسَنُ، حَدَّثَنِي جَدُّكَ، عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي يَزِيدَ قَالَ: حَدَّثَنِي ابْنُ عَبَّاسٍ، قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنِّي رَأَيْتُ فِي هَذِهِ اللَّيْلَةِ فِيمَا يَرَى النَّائِمُ، كَأَنِّي أُصَلِّي خَلْفَ شَجَرَةٍ، فَرَأَيْتُ كَأَنِّيَ قَرَأْتُ سَجْدَةً فَسَجَدْتُ، فَرَأَيْتُ الشَّجَرَةَ كَأَنَّهَا تَسْجُدُ بِسُجُودِي، فَسَمِعْتُهَا، وَهِيَ سَاجِدَةٌ وَهِيَ تَقُولُ: اللَّهُمَّ اكْتُبْ لِي عِنْدَكَ بِهَا أَجْرًا، وَاجْعَلْهَا لِي عِنْدَكَ ذُخْرًا، وَضَعْ عَنِّي بِهَا وِزْرًا، وَاقْبَلْهَا مِنِّي كَمَا قَبِلْتَهَا مِنْ عَبْدِكَ دَاوُدَ. قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: فَرَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَرَأَ السَّجْدَةَ ثُمَّ سَجَدَ، فَسَمِعْتُهُ وَهُوَ سَاجِدٌ يَقُولُ مِثْلَ مَا قَالَ الرَّجُلُ عَنْ كَلَامِ الشَّجَرَةِ قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ بْنِ خُنَيْسٍ: كَانَ الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي يَزِيدَ يُصَلِّي بِنَا فِي الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ فِي شَهْرِ رَمَضَانَ، وَكَانَ يَقْرَأُ السَّجْدَةَ فَيَسْجُدُ فَيُطِيلُ السُّجُودَ، فَقِيلَ لَهُ فِي ذَلِكَ؟ فَيَقُولُ: قَالَ لِيَ ابْنُ جُرَيْجٍ: أَخْبَرَنِي جَدُّكَ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي يَزِيدَ بِهَذَا وَرَوَاهُ الْبَاغَنْدِيُّ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَزِيدَ فَقَالَ فِي الْحَدِيثِ: «اللَّهُمَّ اكْتُبْ لِي عِنْدَكَ بِهَا ذِكْرًا، وَاجْعَلْ لِي بِهَا عِنْدَكَ ذُخْرًا، وَأَعْظِمْ لِي بِهَا عِنْدَكَ أَجْرًا»

 

442 - أَخْبَرَنَاهُ أَبُو طَاهِرٍ الْفَقِيهُ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حَمْشَاذَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمَانَ الْبَاغَنْدِيُّ، فَذَكَرَهُ، وَلَمْ يَذْكُرْ قَوْلَ مُحَمَّدِ بْنِ يَزِيدَ فِي آخِرِهِ 27
৪৪১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিজ, তিনি বলেন: বাগদাদে আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আব্দুস সামাদ বিন আলী বিন মুকরিম আল-বাযযার, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন জাফর বিন মুহাম্মদ বিন শাকির, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন ইয়াযিদ বিন খুনাইস, তিনি বলেন: আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন হাসান বিন মুহাম্মদ বিন উবাইদুল্লাহ বিন আবি ইয়াযিদ, তিনি বলেন: ইবনে জুরাইজ আমাকে বলেছেন: হে হাসান, তোমার দাদা উবাইদুল্লাহ বিন আবি ইয়াযিদ আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে আব্বাস আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জনৈক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমি আজ রাতে ঘুমের ঘোরে দেখলাম যেন আমি একটি গাছের পেছনে সালাত আদায় করছি। এমতাবস্থায় আমি সিজদার আয়াত পাঠ করলাম এবং সিজদা করলাম। তখন আমি গাছটিকে দেখলাম যে, সে আমার সিজদার সাথে সিজদা করছে। আমি সিজদারত অবস্থায় গাছটিকে বলতে শুনলাম: হে আল্লাহ, আমার জন্য আপনার নিকট এর বিনিময়ে সওয়াব লিখে রাখুন, একে আমার জন্য আপনার নিকট গচ্ছিত সম্পদ হিসেবে গণ্য করুন, এর মাধ্যমে আমার ওপর থেকে গুনাহের বোঝা কমিয়ে দিন এবং আমার পক্ষ থেকে এটি কবুল করুন যেমনটি আপনি আপনার বান্দা দাউদের নিকট থেকে কবুল করেছিলেন। ইবনে আব্বাস বলেন: অতঃপর আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখলাম যে তিনি সিজদার আয়াত পাঠ করলেন এবং সিজদা করলেন। আমি তাঁকে সিজদারত অবস্থায় ঠিক তেমনই বলতে শুনলাম যা ঐ ব্যক্তি গাছটির উক্তি সম্পর্কে বর্ণনা করেছিলেন। মুহাম্মদ বিন ইয়াযিদ বিন খুনাইস বলেন: হাসান বিন মুহাম্মদ বিন উবাইদুল্লাহ বিন আবি ইয়াযিদ রমজান মাসে মসজিদে হারামে আমাদের সালাত পড়াতেন এবং তিনি সিজদার আয়াত পাঠ করে সিজদা করতেন ও সিজদাকে দীর্ঘ করতেন। তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলতেন: ইবনে জুরাইজ আমাকে বলেছেন: "তোমার দাদা উবাইদুল্লাহ বিন আবি ইয়াযিদ আমাকে এটি জানিয়েছেন।" বাগন্দীও মুহাম্মদ বিন ইয়াযিদ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি হাদীসের শব্দে বলেছেন: «হে আল্লাহ, আমার জন্য আপনার নিকট এর বিনিময়ে সুখ্যাতি লিখে রাখুন, একে আপনার নিকট আমার জন্য গচ্ছিত সম্পদ হিসেবে গণ্য করুন এবং আমার জন্য এর বিনিময়ে আপনার নিকট বড় প্রতিদান প্রদান করুন»

 

৪৪২ - আবু তাহের আল-ফকীহ আমাদের এটি সংবাদ দিয়েছেন, আলী বিন হামশায আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ বিন সুলাইমান আল-বাগন্দী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, অতঃপর তিনি উক্ত হাদীসটি উল্লেখ করেছেন, তবে তিনি এর শেষে মুহাম্মদ বিন ইয়াযিদের কথাটি উল্লেখ করেননি। 27
(খণ্ড: ٢) আদ-দাওয়াতুল কাবীর (পৃষ্ঠা: ١٨)
‌‌بَابُ الْقَوْلِ وَالدُّعَاءِ عَقِيبَ صَلَاةِ اللَّيْلِ النَّفَلِ
নফল রাতের নামাজের পরবর্তী জিকির ও দুআ সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ
(খণ্ড: ٢) আদ-দাওয়াতুল কাবীর (পৃষ্ঠা: ١٨)
443 - أَخْبَرَنَا أَبُو طَاهِرٍ الزِّيَادِيُّ، مِنْ أَصْلِهِ، أَخْبَرَنَا أَبُو عُثْمَانَ الْبَصْرِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو أَحْمَدَ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْوَهَّابِ، حَدَّثَنَا عَامِرُ بْنُ خِدَاشٍ، أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ هَارُونَ، قَالَ: سَمِعْتُ ابْنَ جُرَيْجٍ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ أَبِي عَاصِمٍ، عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " تُصَلِّي اثْنَتَيْ عَشْرَةَ رَكْعَةً مِنْ لَيْلٍ أَوْ نَهَارٍ تَشَهَّدُ بَيْنَ كُلِّ رَكْعَتَيْنِ، فَإِذَا جَلَسْتَ فِي آخِرِ صَلَاتِكَ فَأَثْنِ عَلَى اللَّهِ عز وجل وَصَلِّ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ كَبِّرْ وَاسْجُدْ، وَاقْرَأْ وَأَنْتَ سَاجِدٌ فَاتِحَةَ الْكِتَابِ سَبْعَ مَرَّاتٍ، وَآيَةَ الْكُرْسِيِّ سَبْعَ مَرَّاتٍ، وَقُلْ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكُ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ عَشْرَ مَرَّاتٍ، ثُمَّ قُلِ: اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ بِمَعَاقَدِ الْعِزِّ مِنْ عَرْشِكَ، وَمُنْتَهَى الرَّحْمَةِ مِنْ كِتَابِكَ، وَاسْمِكَ الْأَعْظَمِ، وَجَدِّكَ الْأَعْلَى، وَكَلِمَاتِكَ التَّامَّةِ، ثُمَّ تَسْأَلُ بَعْدُ حَاجَتَكَ، ثُمَّ ارْفَعْ رَأْسَكَ فَسَلِّمْ عَنْ يَمِينِكَ وَعَنْ شِمَالِكَ، وَاتَّقِ السُّفَهَاءَ أَنْ تُعَلِّمُوهَا فَيَدْعُونَ رَبَّهُمْ فَيُسْتَجَابَ لَهُمْ "
৪৪৩ - আবু তাহের আল-জিয়াদি তাঁর মূল পাণ্ডুলিপি থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু উসমান আল-বাসরি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আহমদ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমির ইবনে খিদাশ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন উমর ইবনে হারুন, তিনি বলেন: আমি ইবনে জুরায়জকে দাউদ ইবনে আবি আসিম থেকে, তিনি ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, তিনি বলেছেন: "তুমি রাতে বা দিনে বারো রাকাত সালাত আদায় করবে এবং প্রতি দুই রাকাতের পর তাশাহহুদ পাঠ করবে। অতঃপর যখন তুমি তোমার সালাতের শেষে বসবে, তখন মহান আল্লাহর প্রশংসা করবে এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর দরুদ পাঠ করবে। এরপর তাকবির বলে সিজদায় যাবে এবং সিজদাবনত অবস্থায় সাত বার সুরা ফাতিহা, সাত বার আয়াতুল কুরসি এবং দশ বার এই দোয়াটি পাঠ করবে: 'আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই, রাজত্ব তাঁরই এবং প্রশংসা তাঁরই জন্য, আর তিনি সবকিছুর ওপর পূর্ণ ক্ষমতাবান।' অতঃপর বলবে: 'হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট প্রার্থনা করছি আপনার আরশের সম্মানের উচ্চ মর্যাদাসমূহের উসিলায়, আপনার কিতাবের রহমতের চূড়ান্ত সীমার উসিলায়, আপনার মহান নামের উসিলায়, আপনার সুউচ্চ শ্রেষ্ঠত্বের উসিলায় এবং আপনার পরিপূর্ণ বাক্যসমূহের উসিলায়।' এরপর তুমি তোমার প্রয়োজনের কথা প্রার্থনা করবে। তারপর তোমার মাথা উঠিয়ে ডানে ও বামে সালাম ফিরাবে। আর সাবধান! এটি নির্বোধদের শিক্ষা দিও না, অন্যথায় তারা তাদের রবের নিকট প্রার্থনা করবে এবং তাদের দোয়া কবুল হয়ে যাবে।"
(খণ্ড: ٢) আদ-দাওয়াতুল কাবীর (পৃষ্ঠা: ٢٢)
‌‌بَابُ صَلَاةِ التَّسْبِيحِ
সালাতুত তাসবীহ অধ্যায়
(খণ্ড: ٢) আদ-দাওয়াতুল কাবীর (পৃষ্ঠা: ٢٢)
444 - حَدَّثَنَا أَبُو الْحَسَنِ مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ دَاوُدَ الْعَلَوِيُّ إِمْلَاءً، أَخْبَرَنَا أَبُو حَامِدٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَسَنِ الْحَافِظُ إِمْلَاءً عَلَيْنَا مِنْ حِفْظِهِ سَنَةَ خَمْسٍ وَعِشْرِينَ وَثَلَاثِمِائَةٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ بِشْرِ بْنِ الْحَكَمِ الْعَبْدِيُّ، حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ الْقِنْبَارِيُّ، حَدَّثَنَا الْحَكَمُ بْنُ أَبَانَ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لِلْعَبَّاسِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ: " يَا عَبَّاسُ، يَا عَمَّاهُ، أَلَا أُعْطِيكَ؟ أَلَا أَحْبُوكَ؟ أَلَا أُجِيزُكَ؟ أَلَا أَفْعَلُ لَكَ عَشْرَ خِصَالٍ إِذَا أَنْتَ فَعَلْتَ ذَلِكَ غَفَرَ اللَّهُ لَكَ ذَنْبَكَ، أَوَّلَهُ وَآخِرَهُ، قَدِيمَهُ وَحَدِيثَهُ، عَمْدَهُ وَخَطَأَهُ، سَرَّهُ وَعَلَانِيَتَهُ، أَظُنُّهُ قَالَ: صَغِيرَهُ وَكَبِيرَهُ، عَشْرَ خِصَالٍ: أَنْ تُصَلِّيَ أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ، تَبْدَأُ فَتُكَبِّرُ، ثُمَّ تَقْرَأُ بِ فَاتِحَةِ الْكِتَابِ وَسُورَةٍ، ثُمَّ تَقُولُ عِنْدَ فَرَاغِكَ مِنَ السُّورَةِ وَأَنْتَ قَائِمٌ: سُبْحَانَ اللَّهِ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ، وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ، خَمْسَ عَشْرَةَ مَرَّةً، ثُمَّ تَرْكَعُ فَتَقُولُ وَأَنْتَ رَاكِعٌ عَشْرًا، ثُمَّ تَرْفَعُ فَتَقُولُ، وَأَنْتَ قَائِمٌ عَشْرًا، ثُمَّ تَسْجُدُ فَتَقُولُ عَشْرًا، ثُمَّ تَرْفَعُ فَتَقُولُ عَشْرًا، ثُمَّ تَسْجُدُ فَتَقُولُ عَشْرًا، ثُمَّ تَرْفَعُ فَتَقُولُ عَشْرًا، فَذَلِكَ خَمْسٌ وَسَبْعُونَ مَرَّةً فِي كُلِّ رَكْعَةٍ، إِنِ اسْتَطَعْتَ أَنْ تُصَلِّيَ فِي كُلِّ يَوْمٍ مَرَّةً فَافْعَلْ، فَإِنْ لَمْ تَسْتَطِعْ فَفِي كُلِّ جُمُعَةٍ مَرَّةً، فَإِنْ لَمْ تَسْتَطِعْ فَفِي كُلِّ شَهْرٍ مَرَّةً، فَإِنْ لَمْ تَسْتَطِعْ فَفِي كُلِّ سَنَةٍ مَرَّةً، فَإِنْ لَمْ تَسْتَطِعْ فَفِي عُمُرِكَ مَرَّةً "

⦗ص: 25⦘

 

445 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، حَدَّثَنَا أَبُو عَلِيٍّ الْحُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ الْحَافِظُ، إِمْلَاءً، أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ دَاوُدَ بْنِ عَبْدِ الْغَفَّارِ، بِمِصْرَ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ كَامِلٍ، حَدَّثَنَا إِدْرِيسُ بْنُ يَحْيَى، عَنْ حَيْوَةَ بْنِ شُرَيْحٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: وَجَّهَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم جَعْفَرَ بْنَ أَبِي طَالِبٍ إِلَى بِلَادِ الْحَبَشَةِ، فَلَمَّا قَدِمَ اعْتَنَقَهُ وَقَبَّلَ بَيْنَ عَيْنَيْهِ، ثُمَّ قَالَ: «أَلَا أَهَبُ لَكَ؟» فَذَكَرَ الْحَدِيثَ بِبَعْضِ مَعْنَاهُ وَزَادَ فِي الْأَذْكَارِ: «لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ» وَقَالَ عِنْدَ رَفْعِ الرَّأْسِ مِنَ السَّجْدَةِ الثَّانِيَةِ: «ثُمَّ يَقُومُ فَيَقُولُهُنَّ عَشْرًا تَمَامَ هَذِهِ الرَّكْعَةِ قَبْلَ أَنْ تَبْتَدِئَ الْقِرَاءَةَ فِي الثَّانِيَةِ» . أَحْمَدُ بْنُ دَاوُدَ الْمِصْرِيُّ ضَعِيفٌ، وَقَدْ رُوِّينَا فِي حَدِيثِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو فِي إِحْدَى الرِّوَايَتَيْنِ مَرْفُوعًا أَنَّهُ يَقُولُهَا قَبْلَ الْقِرَاءَةِ فِي كُلِّ رَكْعَةٍ خَمْسَ عَشْرَةَ مَرَّةً وَبَعْدَ الْقِرَاءَةِ عَشْرًا، وَلَا يَقُولُهَا فِي جَلْسَةِ الِاسْتِرَاحَةِ وَرُوِّينَا عَنِ ابْنِ الْمُبَارَكِ أَنَّهُ سُئِلَ عَنِ صَلَاةِ التَّسْبِيحِ فَذَكَرَهَا خَمْسَ عَشْرَةَ مَرَّةً قَبْلَ الْقِرَاءَةِ وَعَشْرًا بَعْدَهَا وَرُوِيَ فِي رِوَايَةٍ أُخْرَى عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، وَمِنْ رِوَايَةِ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ وَرُوِّينَا عَنْ مُوسَى الرَّبَذِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي رَافِعٍ كَذَلِكَ مَرْفُوعًا
৪৪৪ - আমাদের কাছে আবু আল-হাসান মুহাম্মদ ইবনে আল-হুসাইন ইবনে দাউদ আল-আলাভি শ্রুতিলিপি হিসেবে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে আবু হামিদ আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আল-হাসান আল-হাফিজ ৩২৫ হিজরী সনে তাঁর স্মৃতি থেকে আমাদের নিকট শ্রুতিলিপি হিসেবে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে আবদুর রহমান ইবনে বিশর ইবনে আল-হাকাম আল-আবদি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে মুসা ইবনে আবদুল আজিজ আল-কিনবারি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে আল-হাকাম ইবনে আবান বর্ণনা করেছেন ইকরিমাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিবকে বললেন: "হে আব্বাস! হে চাচাজান! আমি কি আপনাকে কিছু প্রদান করব না? আমি কি আপনাকে দান করব না? আমি কি আপনাকে পুরস্কৃত করব না? আমি কি আপনার জন্য দশটি কাজ (পদ্ধতি) বলে দেব না, যা করলে আল্লাহ আপনার পূর্বের ও পরের, পুরাতন ও নতুন, ইচ্ছাকৃত ও অনিচ্ছাকৃত, গোপন ও প্রকাশ্য—বর্ণনাকারী বলেন: আমার ধারণা তিনি ছোট ও বড় গুনাহর কথাও বলেছেন—সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন? সেই দশটি বৈশিষ্ট্য হলো: আপনি চার রাকাত নামাজ পড়বেন। নামাজ শুরু করে তাকবীর দেবেন, তারপর সূরা ফাতিহা ও অন্য একটি সূরা পাঠ করবেন। যখন কিরাত শেষ করবেন, তখন দাঁড়ানো অবস্থায় পনেরো বার বলবেন: 'আল্লাহ অতি পবিত্র, সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং আল্লাহ মহান।' তারপর রুকু করবেন এবং রুকু অবস্থায় থাকা অবস্থায় দশ বার এটি বলবেন। এরপর রুকু থেকে মাথা উঠাবেন এবং দাঁড়ানো অবস্থায় দশ বার বলবেন। তারপর সিজদাহ করবেন এবং সিজদাহ অবস্থায় দশ বার বলবেন। এরপর সিজদাহ থেকে মাথা উঠাবেন এবং (বসা অবস্থায়) দশ বার বলবেন। এরপর পুনরায় সিজদাহ করবেন এবং দশ বার বলবেন। তারপর সিজদাহ থেকে মাথা উঠিয়ে (পরবর্তী রাকাতে যাওয়ার আগে) দশ বার বলবেন। এভাবে প্রতি রাকাতে মোট পঁচাত্তর বার হবে। যদি আপনি প্রতিদিন একবার এই নামাজ পড়তে পারেন, তবে তা করুন। যদি না পারেন, তবে প্রতি জুমুয়াহতে (সপ্তাহে) একবার। যদি তাও না পারেন, তবে প্রতি মাসে একবার। যদি তাও না পারেন, তবে বছরে একবার। আর যদি তাও সম্ভব না হয়, তবে আপনার জীবনে অন্তত একবার এই নামাজ পড়ুন।"

⦗পৃষ্ঠা: ২৫⦘

 

৪৪৫ - আমাদের কাছে আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-হাফিজ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে আবু আলী আল-হুসাইন ইবনে আলী আল-হাফিজ শ্রুতিলিপি হিসেবে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মিসরে আমাদের কাছে আহমদ ইবনে দাউদ ইবনে আব্দুল গাফফার বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে ইসহাক ইবনে কামিল বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে ইদ্রিস ইবনে ইয়াহইয়া বর্ণনা করেছেন হাইওয়াহ ইবনে শুরাইহ থেকে, তিনি ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবিব থেকে, তিনি নাফে থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাফর ইবনে আবি তালিবকে হাবাশা দেশে প্রেরণ করেছিলেন। তিনি যখন ফিরে এলেন, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে আলিঙ্গন করলেন এবং তাঁর দুই চোখের মাঝখানে চুম্বন করলেন। এরপর বললেন: «আমি কি তোমাকে একটি উপহার দেব না?» এরপর তিনি হাদিসের অবশিষ্টাংশ একই অর্থে বর্ণনা করলেন এবং জিকিরের মধ্যে এই অংশটি বৃদ্ধি করেছেন: «আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত (পাপ থেকে) ফিরে আসার এবং (ইবাদত করার) কোনো শক্তি নেই»। এবং দ্বিতীয় সিজদাহ থেকে মাথা উঠানোর সময় সম্পর্কে তিনি বলেছেন: «এরপর তিনি দাঁড়াবেন এবং দ্বিতীয় রাকাতে কিরাত শুরু করার আগে এই জিকিরগুলো দশ বার বলবেন যাতে এই রাকাতটি পূর্ণ হয়»। আহমদ ইবনে দাউদ আল-মিসরি নামক বর্ণনাকারী দুর্বল। আমরা আব্দুল্লাহ ইবনে আমরের হাদিসে দুই বর্ণনার একটিতে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছি যে, তিনি প্রতিটি রাকাতে কিরাত শুরু করার আগে পনেরো বার এবং কিরাতের পর দশ বার এটি বলতেন, এবং বিশ্রামের বৈঠকে (জলসা-এ-ইস্তিরাহাতে) এটি বলতেন না। ইবনে আল-মুবারক থেকেও বর্ণিত হয়েছে যে, তাঁকে তাসবিহ নামাজ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি কিরাতের আগে পনেরো বার এবং কিরাতের পরে দশ বার পড়ার কথা উল্লেখ করেছেন। এটি আব্দুল্লাহ ইবনে আমর থেকে অন্য একটি সূত্রে এবং ইকরিমাহর মাধ্যমে ইবনে আব্বাস থেকেও বর্ণিত হয়েছে। আমরা মুসা আর-রাবাযি থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে আবি সাঈদ থেকে, তিনি আবু রাফি থেকে অনুরূপ মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছি।
(খণ্ড: ٢) আদ-দাওয়াতুল কাবীর (পৃষ্ঠা: ٢٩)
‌‌بَابُ الصَّلَاةِ وَالدُّعَاءِ عِنْدَ الِاسْتِخَارَةِ
ইস্তিখারার সময় সালাত ও দুআ সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ
(খণ্ড: ٢) আদ-দাওয়াতুল কাবীর (পৃষ্ঠা: ٢٩)
446 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ إِسْحَاقَ الْفَقِيهُ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، وَأَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ الرُّوذْبَارِيُّ، وَاللَّفْظُ لَهُ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ الْقَعْنَبِيُّ، وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُقَاتِلٍ، خَالُ الْقَعْنَبِيِّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى، الْمَعْنَى وَاحِدٌ قَالُوا: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي الْمَوَالِ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْمُنْكَدِرِ، أَنَّهُ سَمِعَ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُعَلِّمُنَا الِاسْتِخَارَةَ كَمَا يُعَلِّمُنَا السُّورَةَ مِنَ الْقُرْآنِ، يَقُولُ لَنَا: " إِذَا هَمَّ أَحَدُكُمْ بِالْأَمْرِ فَلْيَرْكَعْ رَكْعَتَيْنِ مِنْ غَيْرِ الْفَرِيضَةِ، وَلْيَقُلِ: اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْتَخْيِرُكَ بِعِلْمِكَ، وَأَسْتَقْدِرُكَ بِقُدْرَتِكَ، وَأَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ الْعَظِيمِ، فَإِنَّكَ تَقْدِرُ وَلَا أَقْدِرُ، وَتَعْلَمُ وَلَا أَعْلَمُ، وَأَنْتَ عَلَّامُ الْغُيُوبِ، اللَّهُمَّ فَإِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الْأَمْرَ - تُسَمِّيهِ بِعَيْنِهِ الَّذِي تُرِيدُ - خَيْرٌ لِي فِي دِينِي، وَمَعَاشِي، وَمَعَادِي، وَعَاقِبَةِ أَمْرِي، فَاقْدُرْهُ لِي، وَيَسِّرْهُ لِي، وَبَارِكْ لِي فِيهِ، اللَّهُمَّ وَإِنْ كُنْتَ تَعْلَمُهُ شَرًّا لِي - مِثْلَ الْأَوَّلِ - فَاصْرِفْنِي عَنْهُ، وَاصْرِفْهُ عَنِّي، وَاقْدُرْ لِيَ الْخَيْرَ حَيْثُ كَانَ، ثُمَّ رَضِّنِي بِهِ " أَوْ قَالَ: «فِي عَاجِلِ أَمْرِي وَآجِلِهِ» قَالَ ابْنُ مَسْلَمَةَ وَابْنُ عِيسَى: عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ جَابِرٍ
৪৪৬ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফেজ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর বিন ইসহাক আল-ফকিহ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-মুসান্না, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-কা'নাবি। এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলি আল-রুজবারি—শব্দগুলো তার—আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন মাসলামাহ আল-কা'নাবি এবং আব্দুর রহমান বিন মুকাতিল—যিনি আল-কা'নাবির মামা—এবং মুহাম্মাদ বিন ঈসা; সকলের বর্ণিত অর্থের মর্ম এক। তারা বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুর রহমান বিন আবিল মাওয়াল, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন আল-মুনকাদির যে, তিনি জাবির বিন আব্দুল্লাহকে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের ইস্তিখারা শিক্ষা দিতেন যেমন তিনি আমাদের কুরআনের সূরা শিক্ষা দিতেন। তিনি আমাদের বলতেন: "যখন তোমাদের কেউ কোনো কাজের সংকল্প করে, তখন সে যেন ফরজ সালাত ব্যতীত দুই রাকাত সালাত আদায় করে এবং বলে: হে আল্লাহ! আমি আপনার জ্ঞানের অসিলায় আপনার নিকট কল্যাণ প্রার্থনা করছি, আপনার কুদরতের অসিলায় আপনার নিকট শক্তি প্রার্থনা করছি এবং আমি আপনার মহান অনুগ্রহের প্রার্থনা করছি। কেননা আপনি সক্ষম, কিন্তু আমি সক্ষম নই; আপনি জানেন, কিন্তু আমি জানি না; আর আপনি অদৃশ্যের সকল বিষয় সম্পর্কে সম্যক পরিজ্ঞাত। হে আল্লাহ! আপনি যদি জানেন যে এই কাজটি—আপনি যা করতে চাইছেন তার নাম নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করবেন—আমার দ্বীন, আমার জীবনোপজীবিকা, আমার পরকাল এবং আমার কাজের পরিণতির জন্য কল্যাণকর, তবে তা আমার জন্য নির্ধারিত করুন, তা আমার জন্য সহজ করে দিন এবং তাতে আমার জন্য বরকত দান করুন। হে আল্লাহ! আর যদি আপনি জানেন যে এটি আমার জন্য অকল্যাণকর—পূর্বের বর্ণনার ন্যায়—তবে আমাকে তা থেকে ফিরিয়ে রাখুন এবং তাকেও আমার থেকে দূরে সরিয়ে দিন; আর কল্যাণ যেখানেই থাকুক না কেন তা আমার জন্য নির্ধারিত করুন, অতঃপর আমাকে তাতে সন্তুষ্ট রাখুন।" অথবা তিনি বলেছিলেন: "আমার বর্তমান ও ভবিষ্যতের বিষয়ে।" ইবনে মাসলামাহ এবং ইবনে ঈসা এটি মুহাম্মাদ বিন আল-মুনকাদির থেকে, তিনি জাবির থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ٢) আদ-দাওয়াতুল কাবীর (পৃষ্ঠা: ٣١)
‌‌بَابُ الصَّلَاةِ وَالدُّعَاءِ إِذَا أَرَادَ سَفَرًا أَوْ فَارَقَ مَنْزِلًا
সফরের ইচ্ছা করলে অথবা গৃহ ত্যাগ করার সময় সালাত ও দুআ সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ
(খণ্ড: ٢) আদ-দাওয়াতুল কাবীর (পৃষ্ঠা: ٣١)
447 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ الْخَيَّاطُ بِبَغْدَادَ، حَدَّثَنَا أَبُو قِلَابَةَ عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رضي الله عنه قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لَا يَنْزِلُ مَنْزِلًا إِلَّا وَدَّعَهُ بِرَكْعَتَيْنِ
৪৪৭ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিজ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন বাগদাদে আবু আল-হুসাইন মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-খাইয়াত, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু কিলাবা আব্দুল মালিক ইবনে মুহাম্মদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আসিম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উসমান ইবনে সাদ, আনাস ইবনে মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কোনো স্থানে অবতরণ করলে দুই রাকাত সালাত আদায়ের মাধ্যমে তা বিদায় জানানো ছাড়া সেখান থেকে প্রস্থান করতেন না।
(খণ্ড: ٢) আদ-দাওয়াতুল কাবীর (পৃষ্ঠা: ٣٢)
448 - وَأَخْبَرَنَا أَبُو الْفَتْحِ هِلَالُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْحَفَّارُ بِبَغْدَادَ أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ يَحْيَى بْنِ عَيَّاشٍ، حَدَّثَنَا أَبُو الْأَشْعَثِ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ سُلَيْمَانَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَرْجِسٍ، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ إِذَا سَارَ: «اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ وَعْثَاءِ السَّفَرِ، وَكَآبَةِ الْمُنْقَلَبِ، وَمِنَ الْحَوْرِ بَعْدَ الْكَوْنِ، وَدَعْوَةِ الْمَظْلُومِ، وَسُوءِ الْمَنْظَرِ فِي الْأَهْلِ وَالْمَالِ» قِيلَ لِعَاصِمٍ: مَا الْحَوْرُ بَعْدَ الْكَوْنِ؟ قَالَ: كَانَ يُقَالُ: حَارَ بَعْدَ مَا كَانَ
৪৪৮ - এবং বাগদাদে আবুল ফাতহ হিলাল ইবনে মুহাম্মদ আল-হাফফার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আল-হুসাইন ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আইয়াশ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবুল আশআস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ ইবনে যায়েদ আসিম ইবনে সুলাইমান থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে সারজিস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সফরে বের হতেন তখন বলতেন: «হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট সফরের ক্লান্তি, ফিরে আসার বিষণ্ণতা, সুাবস্থা থেকে কুাবস্থায় ফিরে যাওয়া, মজলুমের বদদোয়া এবং পরিবার ও সম্পদের অশুভ দৃশ্য দেখা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।» আসিমকে জিজ্ঞেস করা হলো: সুাবস্থা থেকে কুাবস্থায় ফিরে যাওয়া (আল-হাওর বাদাল কাওন) কী? তিনি বললেন: বলা হতো—সে তার পূর্বের ভালো অবস্থার পর বিচ্যুত হয়েছে।
(খণ্ড: ٢) আদ-দাওয়াতুল কাবীর (পৃষ্ঠা: ٣٣)
449 - وَأَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْفَضْلِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سَلَمَةَ، حَدَّثَنَا حَامِدُ بْنُ عُمَرَ الْبَكْرَاوِيُّ، وَأَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ الضَّبِّيُّ، عَنْ عَبْدِ الْوَاحِدِ بْنِ زِيَادٍ، عَنْ عَاصِمٍ الْأَحْوَلِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَرْجِسٍ، قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا سَافَرَ قَالَ: «اللَّهُمَّ أَنْتَ الصَّاحِبُ فِي السَّفَرِ، وَالْخَلِيفَةُ فِي الْأَهْلِ، اللَّهُمَّ اصْحَبْنَا فِي سَفَرِنَا، وَاخْلُفْنَا فِي أَهْلِنَا، اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ وَعْثَاءِ السَّفَرِ، وَكَآبَةِ الْمُنْقَلَبِ، وَمِنَ الْحَوْرِ بَعْدَ الْكَوْنِ، وَمِنْ دَعْوَةِ الْمَظْلُومِ، وَمِنْ سُوءِ الْمَنْظَرِ فِي الْأَهْلِ وَالْمَالِ»
449 - এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিয, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-ফদল বিন ইব্রাহিম, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন সালামাহ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হামিদ বিন উমর আল-বাকরাওয়ী এবং আহমাদ বিন আবদাহ আদ-দাব্বী, তাঁরা আবদুল ওয়াহিদ বিন যিয়াদ থেকে, তিনি আসিম আল-আহওয়াল থেকে, তিনি আবদুল্লাহ বিন সারজিস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন সফরে বের হতেন তখন বলতেন: «হে আল্লাহ, আপনিই সফরে একমাত্র সাথী এবং পরিবার-পরিজনের দেখাশোনার ক্ষেত্রে স্থলাভিষিক্ত। হে আল্লাহ, আমাদের সফরে আমাদের সাথী হোন এবং আমাদের পরিবারের দেখাশোনার ভার গ্রহণ করুন। হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে সফরের কষ্ট-ক্লান্তি, ফিরে আসার সময়ের বিষণ্ণতা, পূর্ণতার পর অপূর্ণতা (বা কল্যাণের পর অকল্যাণ), মজলুমের বদদোয়া এবং পরিবার ও ধন-সম্পদে কোনো মন্দ দৃশ্য দেখা থেকে আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।»
(খণ্ড: ٢) আদ-দাওয়াতুল কাবীর (পৃষ্ঠা: ٣٤)
450 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ السَّقَّا، وَأَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ الْمُقْرِئُ قَالَا: حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، أَخْبَرَنَا يُوسُفُ بْنُ يَعْقُوبَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنِ ابْنِ عَجْلَانَ، حَدَّثَنِي سَعِيدُ بْنُ أَبِي سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ كَانَ إِذَا سَافَرَ قَالَ: «اللَّهُمَّ أَنْتَ الصَّاحِبُ فِي السَّفَرِ، وَالْخَلِيفَةُ فِي الْأَهْلِ، اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ وَعْثَاءِ السَّفَرِ، وَكَآبَةِ الْمُنْقَلَبِ، وَسُوءِ الْمَنْظَرِ فِي الْأَهْلِ وَالْمَالِ، اللَّهُمَّ اطْوِ لَنَا الْبُعْدَ، وَهَوِّنْ عَلَيْنَا السَّفَرَ»
৪৫০ - আবুল হাসান আলী বিন মুহাম্মদ বিন আলী আস-সাক্কা এবং আবুল হাসান আলী বিন মুহাম্মদ বিন আলী আল-মুকরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: হাসান বিন মুহাম্মদ বিন ইসহাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইউসুফ বিন ইয়াকুব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ বিন আবি বকর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে আজলান থেকে বর্ণিত, সাঈদ বিন আবি সাঈদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত যে, তিনি যখন সফরে বের হতেন তখন বলতেন: «হে আল্লাহ, আপনিই সফরের সঙ্গী এবং পরিবারের দেখাশোনাকারী। হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে সফরের কষ্ট, ফিরে আসার বিষণ্ণতা এবং পরিবার ও সম্পদের অশুভ দৃশ্য থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। হে আল্লাহ, আমাদের জন্য দূরত্বকে সংকুচিত করে দিন এবং আমাদের জন্য সফরকে সহজ করে দিন।»
(খণ্ড: ٢) আদ-দাওয়াতুল কাবীর (পৃষ্ঠা: ٣٥)
‌‌بَابُ الْقَوْلِ وَالدُّعَاءِ إِذَا نَهَضَ مِنْ جُلُوسِهِ لِلسَّفَرِ
সফরের উদ্দেশ্যে বসা থেকে উঠার সময় যে কথা বলতে হয় ও যে দুআ করতে হয় সেই সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ
(খণ্ড: ٢) আদ-দাওয়াতুল কাবীর (পৃষ্ঠা: ٣٥)
451 - أَخْبَرَنَا أَبُو نَصْرٍ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ قَتَادَةَ، وَأَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْعَطَّارُ، وَأَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْفَارِسِيُّ، قَالُوا: أَخْبَرَنَا أَبُو عَمْرِو بْنُ مَطَرٍ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَلِيٍّ الذُّهْلِيُّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، أَنْبَأَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمُحَارِبِيُّ، عَنْ عُمَرَ بْنِ مُسَاوِرٍ الْعِجْلِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: لَمْ يُرِدْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سَفَرًا قَطُّ إِلَّا قَالَ حِينَ يَنْهَضُ مِنْ جُلُوسِهِ: «اللَّهُمَّ بِكَ انْتَشَرْتُ وَإِلَيْكَ تَوَجَّهْتُ، وَبِكَ اعْتَصَمْتُ، وَعَلَيْكَ تَوَكَّلْتُ، اللَّهُمَّ أَنْتَ ثِقَتِي، وَأَنْتَ رَجَائِي، اللَّهُمَّ اكْفِنِي مَا هَمَّنِي، وَمَا لَا أَهْتَمُّ لَهُ وَمَا أَنْتَ أَعْلَمُ بِهِ مِنِّي، عَزَّ جَارُكَ، وَجَلَّ ثَنَاؤُكَ، وَلَا إِلَهَ غَيْرُكَ، اللَّهُمَّ زَوِّدْنِي التَّقْوَى، وَاغْفِرْ لِي ذَنْبِي، وَوَجِّهْنِي لِلْخَيْرِ أَيْنَ مَا تَوَجَّهْتُ» ثُمَّ يَخْرُجُ

 

452 - وَحَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ الْأَصْبَهَانِيُّ، إِمْلَاءً، أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ يَزِيدَ بْنِ مَرْوَانَ الْأَنْصَارِيُّ بِالْكُوفَةِ، حَدَّثَنَا أَبُو عِيسَى أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرٍ الْخَلَّالُ، حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنَا الْمُحَارِبِيُّ، عَنْ عُمَرَ بْنِ مُسَاوِرٍ الْعِجْلِيِّ، عَنِ الْحَسَنِ الْبَصْرِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، فَذَكَرَهُ بِنَحْوِهِ لَمْ يَذْكُرْ قَوْلَهُ: «عَزَّ جَارُكَ» إِلَى قَوْلِهِ: «اللَّهُمَّ»
৪৫১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু নাসর উমর ইবন আব্দুল আজিজ ইবন কাতাদাহ, আবু বকর মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল্লাহ আল-আত্তার এবং আবু বকর মুহাম্মাদ ইবন ইবরাহিম আল-ফারিসি; তাঁরা বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আমর ইবন মাতার; আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইবরাহিম ইবন আলী আদ-যুহলি; আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুর রহমান ইবন মুহাম্মাদ আল-মুহারিবি, তিনি উমর ইবন মুসাবির আল-ইজলি থেকে, তিনি আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখনই কোনো সফরের ইচ্ছা করতেন, তখন বসা থেকে ওঠার সময় অবশ্যই বলতেন: «হে আল্লাহ! আপনারই সাহায্যে আমি যাত্রা করছি, আপনারই দিকে আমি মনোনিবেশ করেছি, আপনারই নিকট আমি আশ্রয় গ্রহণ করেছি এবং আপনারই ওপর আমি ভরসা করেছি। হে আল্লাহ! আপনিই আমার আস্থা এবং আপনিই আমার আশা। হে আল্লাহ! যা আমাকে চিন্তিত করে এবং যা আমাকে চিন্তিত করে না, আর যে বিষয়ে আপনি আমার চেয়ে বেশি জানেন—তাতে আপনিই আমার জন্য যথেষ্ট হোন। আপনার আশ্রয় শক্তিশালী, আপনার প্রশংসা মহান এবং আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। হে আল্লাহ! আমাকে তাকওয়া দান করুন, আমার গুনাহ ক্ষমা করুন এবং আমি যেদিকেই মুখ করি আমাকে কল্যাণের দিকে পরিচালিত করুন» এরপর তিনি বের হতেন।

 

৪৫২ - এবং আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আব্দুল্লাহ ইবন ইউসুফ আল-আসবাহানি শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আলী ইবন মুহাম্মাদ ইবন ইয়াজিদ ইবন মারওয়ান আল-আনসারি কুফায়; আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু ঈসা আহমাদ ইবন জাফর আল-খাল্লাল; আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন হারুন ইবন ইসহাক; আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আল-মুহারিবি; তিনি উমর ইবন মুসাবির আল-ইজলি থেকে, তিনি হাসান বসরী থেকে, তিনি আনাস ইবন মালিক থেকে পূর্বের ন্যায় বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি তাঁর এই কথাটি উল্লেখ করেননি: «আপনার আশ্রয় শক্তিশালী» থেকে «হে আল্লাহ» পর্যন্ত।
(খণ্ড: ٢) আদ-দাওয়াতুল কাবীর (পৃষ্ঠা: ٣٧)
‌‌بَابُ مَا يَقُولُ إِذَا خَرَجَ مِنْ بَيْتِهِ
পরিচ্ছেদ: ঘর থেকে বের হওয়ার সময় যা বলতে হয়
(খণ্ড: ٢) আদ-দাওয়াতুল কাবীর (পৃষ্ঠা: ٣٧)
453 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ فُورَكٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ حَبِيبٍ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ الطَّيَالِسِيُّ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ مَنْصُورٍ، سَمِعْتُ الشَّعْبِيَّ، يُحَدِّثُ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا خَرَجَ مِنْ بَيْتِهِ قَالَ: «اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ أَنْ أَزِلَّ، أَوْ أَضِلَّ، أَوْ أَظْلِمَ، أَوْ أُظْلَمَ، أَوْ أَجْهَلَ، أَوْ يُجْهَلَ عَلَيَّ»
৪৫৩ - আমাদের নিকট আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান ইবনে ফুরাক হাদীস বর্ণনা করেছেন, আমাদের আবদুল্লাহ ইবনে জাফর সংবাদ দিয়েছেন, আমাদের নিকট ইউনুস ইবনে হাবিব হাদীস বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবু দাউদ আত-তায়ালিসি হাদীস বর্ণনা করেছেন, শু'বাহ থেকে, তিনি মানসুর থেকে, আমি আশ-শা'বীকে উম্মে সালামাহ থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাঁর ঘর থেকে বের হতেন তখন বলতেন: «হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আমি আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি যেন আমি পদস্খলিত না হই, অথবা পথভ্রষ্ট না হই, অথবা আমি যেন জুলুম না করি, অথবা আমার ওপর যেন জুলুম করা না হয়, অথবা আমি যেন মূর্খতাসুলভ আচরণ না করি, অথবা আমার সাথে যেন মূর্খতাসুলভ আচরণ করা না হয়»
(খণ্ড: ٢) আদ-দাওয়াতুল কাবীর (পৃষ্ঠা: ٣٨)
454 - أَنْبَأَنَا أَبُو عَلِيٍّ الرُّوذْبَارِيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ دَاسَةَ، قَالَ: قَالَ أَبُو دَاوُدَ السِّجِسْتَانِيُّ: حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْحَسَنِ الْخَثْعَمِيُّ، حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " إِذَا خَرَجَ الرَّجُلُ مِنْ بَيْتِهِ فَقَالَ: بِاسْمِ اللَّهِ، تَوَكَّلْتُ عَلَى اللَّهِ، لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ، قَالَ: يُقَالُ حِينَئِذٍ: هُدِيتَ، وَكُفِيتَ، وَوُقِيتَ، فَتَتَنَحَّى لَهُ الشَّيَاطِينُ، فَيَقُولُ شَيْطَانٌ آخَرُ: كَيْفَ لَكَ بِرَجُلٍ قَدْ هُدِيَ وَكُفِيَ وَوُقِيَ؟ "
৪৫৪ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী আর-রূদবারী, আমাদের জানিয়েছেন আবু বকর বিন দাসাহ, তিনি বলেন: আবু দাউদ আস-সিজিস্তানি বলেছেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন ইব্রাহিম বিন হাসান আল-খাসআমি, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন হাজ্জাজ বিন মুহাম্মদ, ইবনে জুরাইজ থেকে, তিনি ইসহাক বিন আব্দুল্লাহ বিন আবু তালহা থেকে, তিনি আনাস বিন মালিক থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যখন কোনো ব্যক্তি তার ঘর থেকে বের হওয়ার সময় বলে: আল্লাহর নামে, আমি আল্লাহর ওপর ভরসা করলাম, আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো উপায় নেই এবং কোনো শক্তি নেই, তখন তাকে বলা হয়: তোমাকে সঠিক পথ দেখানো হয়েছে, তোমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট হয়েছেন এবং তোমাকে রক্ষা করা হয়েছে। ফলে শয়তানরা তার থেকে দূরে সরে যায়। তখন অন্য এক শয়তান বলে: তুমি এমন ব্যক্তির কী করতে পারবে যাকে সঠিক পথ দেখানো হয়েছে, যার জন্য আল্লাহ যথেষ্ট হয়েছেন এবং যাকে রক্ষা করা হয়েছে?"
(খণ্ড: ٢) আদ-দাওয়াতুল কাবীর (পৃষ্ঠা: ٤٠)
‌‌بَابُ مَا يَقُولُ عِنْدَ الْوَدَاعِ

أخبرنا الشيخ الفقيه الفاضل عبد الدايم بن عمر بن حسين بن عبد الواحد الكناني العسقلاني بالمسجد الحرام سنة سبع وستين وخمسمئة قراءةً عليه قال: أخبرنا الشيخ الفقيه الإمام الحافظ الثقة أبو القاسم علي بن الحسن بن هبة الله الشافعي رضي الله عنه ولي منه إجازة مكاتبة قال: أخبرنا الشيخ الإمام أبو عبد الله محمد بن الفضل بن أحمد الفضل بن أحمد الفراوي بقراءتي عليه بنيسابور

قال أخبرنا الشيخ الإمام أبو بكر أحمد بن الحسين بن علي بن موسى البيهقي الحافظ رحمه الله قراءة عليه قال:
বিদায় গ্রহণের সময় যা বলতে হয় তার পরিচ্ছেদ

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ, ফকীহ, বিদগ্ধ পণ্ডিত আবদুল দায়েম বিন উমর বিন হুসাইন বিন আবদুল ওয়াহিদ আল-কিনানী আল-আসকালানী, মসজিদে হারামে পাঁচশত সাতষট্টি হিজরী সনে তাঁর নিকট পাঠের মাধ্যমে; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ, ফকীহ, ইমাম, হাফিজ, নির্ভরযোগ্য আবু আল-কাসিম আলী বিন আল-হাসান বিন হিবাতুল্লাহ আশ-শাফিঈ (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন), এবং তাঁর নিকট থেকে আমার লিখিত অনুমতি (ইজাজাহ) রয়েছে; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ, ইমাম আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আল-ফজল বিন আহমাদ আল-ফরাওয়ী, নিশাপুরে তাঁর নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে।

তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ, ইমাম আবু বকর আহমাদ বিন আল-হুসাইন বিন আলী বিন মূসা আল-বায়হাকী আল-হাফিজ (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন), তাঁর নিকট পাঠের মাধ্যমে; তিনি বলেন:
(খণ্ড: ٢) আদ-দাওয়াতুল কাবীর (পৃষ্ঠা: ٤٠)
455 - أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ جَنَاحُ بْنُ نَذِيرِ بْنِ جَنَاحٍ الْقَاضِي بِالْكُوفَةِ، أَخْبَرَنَا أَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ دُحَيْمٍ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَازِمِ بْنِ أَبِي عَزْرَةَ، أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عُمَرَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ إِسْمَاعِيلَ بْنِ جَرِيرٍ، عَنْ قَزَعَةَ، قَالَ: أَرْسَلَنِي ابْنُ عُمَرَ إِلَى حَاجَةٍ، فَأَخَذَ بِيَدِي وَقَالَ: أُوَدِّعُكَ كَمَا وَدَّعَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَرْسَلَنِي إِلَى حَاجَةٍ لَهُ، فَقَالَ: «أَسْتَوْدِعُ اللَّهَ دِينَكَ، وَأَمَانَتَكَ، وَخَوَاتِيمَ عَمَلِكَ»
৪৫৫ - কুফার বিচারক আবু মুহাম্মাদ জানাহ ইবনে নাযির ইবনে জানাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু জাফর মুহাম্মাদ ইবনে আলি ইবনে দুহাইম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমাদ ইবনে হাযিম ইবনে আবি আযরা আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আবু নুআইম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবদুল আযীয ইবনে উমর আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, ইয়াহইয়া ইবনে ইসমাইল ইবনে জারীর থেকে বর্ণিত, কাযাআ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ইবনে উমর আমাকে একটি প্রয়োজনে পাঠিয়েছিলেন, অতঃপর তিনি আমার হাত ধরলেন এবং বললেন: আমি তোমাকে সেভাবেই বিদায় দিচ্ছি যেভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বিদায় দিয়েছিলেন যখন তিনি আমাকে তাঁর একটি প্রয়োজনে পাঠিয়েছিলেন। তখন তিনি বলেছিলেন: «আমি তোমার দীন, তোমার আমানত এবং তোমার আমলের শেষাংশ আল্লাহর নিকট সোপর্দ করছি»।
(খণ্ড: ٢) আদ-দাওয়াতুল কাবীর (পৃষ্ঠা: ٤٢)
456 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، وَأَبُو، مُحَمَّدِ بْنُ أَبِي حَامِدٍ الْمُقْرِئُ قَالَا: حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ، حَدَّثَنَا الْخَضِرُ بْنُ أَبَانَ الْهَاشِمِيُّ، حَدَّثَنَا سَيَّارُ بْنُ حَاتِمٍ، حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، حَدَّثَنَا ثَابِتٌ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنِّي أُرِيدُ سَفَرًا، فَزَوِّدْنِي قَالَ: «زَوَّدَكَ اللَّهُ التَّقْوَى» قَالَ: زِدْنِي قَالَ: «وَغَفَرَ لَكَ ذَنْبَكَ» قَالَ: زِدْنِي بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي، قَالَ: «وَيَسَّرَ لَكَ الْخَيْرَ حيثُمَا كُنْتَ»
৪৫৬ - আবু আবদুল্লাহ আল-হাফিজ এবং আবু মুহাম্মদ ইবনে আবি হামিদ আল-মুকরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আবুল আব্বাস মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-খাদির ইবনে আবান আল-হাশেমি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাইয়্যার ইবনে হাতিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, জাফর ইবনে সুলাইমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাবিত আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আনাস (রা.) থেকে, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি নবীর নিকট এসে বলল: হে আল্লাহর রাসূল, আমি সফরে যাওয়ার সংকল্প করেছি, সুতরাং আমাকে পাথেয় প্রদান করুন। তিনি বললেন: «আল্লাহ আপনাকে তাকওয়ার পাথেয় দান করুন।» সে বলল: আমাকে আরও বাড়িয়ে দিন। তিনি বললেন: «এবং তিনি আপনার গুনাহ ক্ষমা করুন।» সে বলল: আপনার জন্য আমার পিতা-মাতা উৎসর্গিত হোক, আমাকে আরও বাড়িয়ে দিন। তিনি বললেন: «এবং আপনি যেখানেই থাকুন না কেন, তিনি আপনার জন্য কল্যাণকে সহজ করে দিন।»