(খণ্ড: ১) মাওসুআতুল কাবাইলিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
موسوعة القبائل العربية   (محمد سليمان الطيب)

القسم: الأنساب


الكتاب: موسوعة القبائل العربية - بحوث ميدانية وتاريخية

المؤلف: محمد سليمان الطيب

الناشر: دار الفكر العربي

الطبعة: الثالثة، 1421 - 1431 هـ

عدد الأجزاء: 12

تنبيه: المؤلف كما عَنون لكتابه (بحوث … )؛ فقد يَنقُل عن غيره أيضا بحوثا منسوبة لأصحابها، وربما وقعَتْ في صفحات عديدة، وقد يتكرر بعضُ ما فيها مع ما سبق أن ذَكره؛ فيُظَن ذلك تكرارا مِن المؤلف؛ وليس الأمر كذلك (قارن على سبيل المثال 1/ 764 بـ 1/ 769)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 4 ذو القعدة 1443

আরব গোত্রসমূহের বিশ্বকোষ   (মুহাম্মাদ সুলাইমান আল-তাইয়িব)

বিভাগ: বংশবৃত্তান্ত


গ্রন্থ: আরব গোত্রসমূহের বিশ্বকোষ - মাঠপর্যায়ের এবং ঐতিহাসিক গবেষণা

লেখক: মুহাম্মাদ সুলাইমান আল-তাইয়িব

প্রকাশক: দারুল ফিকর আল-আরাবি

সংস্করণ: তৃতীয়, ১৪২১ - ১৪৩১ হিজরি

খণ্ড সংখ্যা: ১২

সতর্কতা: লেখক যেহেতু তার গ্রন্থের শিরোনাম দিয়েছেন (গবেষণা...); তাই তিনি অন্যদের থেকেও তাদের নামে সম্পৃক্ত গবেষণা উদ্ধৃত করে থাকতে পারেন, যা হয়তো অনেক পৃষ্ঠা জুড়ে এসেছে। আবার পূর্বে যা উল্লেখ করেছেন তার কোনো কোনো অংশ পুনরায় আসতে পারে; ফলে একে লেখকের পক্ষ থেকে পুনরাবৃত্তি মনে হতে পারে; কিন্তু বিষয়টি তেমন নয় (উদাহরণস্বরূপ ১/ ৭৬৪ এর সাথে ১/ ৭৬৯ তুলনা করুন)

[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মূল মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৪ জিলকদ ১৪৪৩

(খণ্ড: ১) মাওসুআতুল কাবাইলিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১)
الكتاب: موسوعة القبائل العربية بحوث ميدانية وتاريخية

المؤلف: محمد سليمان الطيب

الناشر: دار الفكر العربي

--------------------------------------------

(تعليق الشاملة): ذكر المؤلف في المقدمة أنها الطبعة الثالثة

وأعوام نشرها كالتالي، كما على أغلفة المجلدات

جـ 1 - 6: 1421 هـ - 2001 م

جـ 7: 1423 هـ - 2002 م

جـ 8: 1424 هـ - 2003 م

جـ 9 و 10: 1425 هـ - 2004 م

جـ 11 و 12: 1431 هـ - 2010 م

বই: আরব গোত্রসমূহের বিশ্বকোষ: মাঠপর্যায়ের এবং ঐতিহাসিক গবেষণা

লেখক: মুহাম্মদ সুলাইমান আল-তাইয়্যিব

প্রকাশক: দারুল ফিকর আল-আরাবি

--------------------------------------------

(শামেলা মন্তব্য): লেখক ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন যে এটি তৃতীয় সংস্করণ

এবং এর প্রকাশের বছরগুলো নিম্নরূপ, যেমনটি খণ্ডগুলোর মলাটে রয়েছে:

খণ্ড ১ - ৬: ১৪২১ হিজরি - ২০০১ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড ৭: ১৪২৩ হিজরি - ২০০২ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড ৮: ১৪২৪ হিজরি - ২০০৩ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড ৯ ও ১০: ১৪২৫ হিজরি - ২০০৪ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড ১১ ও ১২: ১৪৩১ হিজরি - ২০১০ খ্রিস্টাব্দ

(খণ্ড: ১) মাওসুআতুল কাবাইলিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

{يَاأَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَاكُمْ مِنْ ذَكَرٍ وَأُنْثَى وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوبًا وَقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوا إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِنْدَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ (13)}

صدق الله العظيم

[سورة الحجرات]
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

{হে মানুষ! আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি এক পুরুষ ও এক নারী থেকে, আর তোমাদেরকে বিভক্ত করেছি বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে যাতে তোমরা একে অপরের সাথে পরিচিত হতে পারো। নিশ্চয় আল্লাহর কাছে তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই সবচেয়ে বেশি মর্যাদাসম্পন্ন যে তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি তাকওয়াবান। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সম্যক অবহিত। (১৩)}

মহান আল্লাহ সত্য বলেছেন

[সূরা আল-হুজুরাত]
(খণ্ড: ১) মাওসুআতুল কাবাইলিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌الإهداء

* إلى الشعب العربي الكريم متمثلًا في قبائله العربية الأصيلة والعريقة من بني عدنان وبني قحطان.

* إلى سائر الشعوب العربية من المحيط إلى الخليج.

* إلى كلّ من يعتز بعشيرته، وقبيلته، وقومه، وبلاده العربية العزيزة، ويسعى دومًا لمجد أمته وعزتها ورفعتها بين الأمم.

* إلى هؤلاء جميعًا من بني جلدتي الأعزاء .. أهدي هذه الموسوعة لسرد تاريخ وأنساب القبائل العربية، بتجميع دقيق من أشهر الكتب والمخطوطات لكبار النسَّابين والمؤرخين حديثًا وقديمًا؛ مهتديًا بالبحوث الميدانية لتصحيح ما اعترى مصنفات بعض محققي العصر من خطأ أو سهو أو نسيان. وكذلك لإظهار الترابط الدموي والعرقي بين العناصر أو القبائل العربية في شتى البلاد العربية في المشرق والمغرب العربي في قارتي آسيا وإفريقيا، عبر ما يزيد على ألف وخمسمائة عام.

حفظ الله بلادنا العربية وعامة بلاد المسلمين.

 

محمد سليمان الطيب
উৎসর্গ

* বনী আদনান এবং বনী কাহতানের অন্তর্ভুক্ত সুপ্রাচীন ও সম্ভ্রান্ত আরব গোত্রসমূহের প্রতিনিধিত্বকারী সম্মানিত আরব জাতির প্রতি।

* আটলান্টিক মহাসাগর থেকে পারস্য উপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত সমস্ত আরব জনগণের প্রতি।

* যারা নিজেদের বংশ, গোত্র, জাতি এবং প্রিয় আরব দেশ নিয়ে গর্ববোধ করেন এবং যারা সর্বদা বিশ্ব দরবারে নিজ জাতির মর্যাদা, সম্মান ও শ্রেষ্ঠত্বের জন্য সচেষ্ট থাকেন।

* আমার সেই সব প্রিয় স্বজাতীয় ভাইদের প্রতি; আরব গোত্রসমূহের ইতিহাস ও বংশবৃত্তান্ত বর্ণনার লক্ষ্যে রচিত এই বিশ্বকোষটি আমি উৎসর্গ করছি। প্রাচীন ও আধুনিককালের প্রথিতযশা বংশবিশারদ ও ঐতিহাসিকদের বিখ্যাত সব গ্রন্থ ও পাণ্ডুলিপি থেকে অত্যন্ত নিবিড় সংগ্রহের মাধ্যমে এটি সংকলন করা হয়েছে। বর্তমান যুগের কিছু গবেষকের রচনায় যে সকল ভুল, বিচ্যুতি বা বিস্মৃতি ঘটেছে, তা সংশোধনের লক্ষ্যে আমি মাঠপর্যায়ের গবেষণার সহায়তা গ্রহণ করেছি। সেই সাথে এশিয়া ও আফ্রিকা মহাদেশের মাশরিক (প্রাচ্য) ও মাগরিবের (পাশ্চাত্য) বিভিন্ন আরব ভূখণ্ডে বিদ্যমান আরব গোত্রগুলোর মধ্যকার গত দেড় হাজার বছরেরও বেশি সময়ের রক্ত ও জাতিগত বন্ধন ফুটিয়ে তোলাই এর উদ্দেশ্য।

আল্লাহ আমাদের আরব দেশসমূহ এবং সমস্ত মুসলিম রাষ্ট্রকে রক্ষা করুন।

 

মুহাম্মদ সুলাইমান আল-তাইয়িব
(খণ্ড: ১) মাওসুআতুল কাবাইলিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌تنويه

أُقدِّم اعتذاري للقارئ العزيز عن الطبعة الثانية للمجلَّدات من واحد إلى خمسة عام 1418 هـ / 1997 م من موسوعة القبائل العربية، وذلك لما اعتراها من سهو أو نقص في بعض المعلومات عن أنساب وتواريخ بعض القبائل المُرشَّحة في هذه المجلَّدات، فقد حالت ظروفي وإمكانياتي المتواضعة حينئذ أن أُلمَّ بجميع التفصيلات عن هذه القبائل في هذا المصنَّف الموسوعي الضخم، والذي سيكون منهلًا ترتوي منه الاجيال العربية في الحاضر والمستقبل إن شاء الله تعالى.

ويعلم الله سبحانه وتعالى كم كابدت وعانيت من جرَّاء الخوض في هذا العلم الشاف، وكم اعترضتني الصعاب والعقبات في طريقي الوعر .. ورغم هذه المعاناة فما زلت صادق العزم، بل ومُجنِّدًا نفسي لهذه الرسالة العلمية والتاريخية الخالدة لإخراج المزيد من المجلَّدات في الموسوعة خلال السنوات القادمة؛ لتجمع بإذن الله قبائل العرب من المحيط إلى الخليج.

وحقًّا، فقد كان نشر المجلَّد الأول في طبعته الأولى ثم ما تلاه من مجلَّدات في الطبعة الثانية بادرة خير، حيث تلقيت العديد من الملاحظات والإضافات والاستدراكات الهامة من أبناء القبائل في أنحاء وطننا العربي الكبير، مما دفعني إلى عمل المزيد من البحوث الميدانية خلال الثلاث سنوات المنصرمة، إلى جانب اقتناء العديد من المراجع التاريخية الهامة في هذا المضمار، وكانت نتيجة ذلك هو جني ثمرة هذا الجهد المضني والوافر وإخراج هذه الطبعة الثالثة المزيدة والمُنقَّحة التي بين أيديكم عام 1421 م / 2001 م.
সতর্কবার্তা

আরব গোত্রসমূহের বিশ্বকোষের (মাওসুআতুল কাবাইল আল-আরবিয়্যাহ) ১৪১৮ হিজরি / ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত প্রথম থেকে পঞ্চম খণ্ডের দ্বিতীয় সংস্করণ সম্পর্কে আমি প্রিয় পাঠকের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি। উক্ত খণ্ডসমূহে উল্লিখিত কিছু গোত্রের বংশপরিচয় ও ইতিহাসের তথ্যে কিছু অসাবধানতা বা ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়েছে। তৎকালীন আমার পরিস্থিতি এবং বিনম্র সামর্থ্য আমাকে এই বিশাল বিশ্বকোষীয় কর্মে ওইসব গোত্রের যাবতীয় খুঁটিনাটি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরতে বাধা দিয়েছিল। ইনশাআল্লাহ, বর্তমান ও ভবিষ্যতের আরব প্রজন্মের কাছে এটি একটি সুপেয় উৎস হিসেবে পরিগণিত হবে।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা জানেন যে, এই কষ্টসাধ্য বিদ্যায় পদার্পণ করতে গিয়ে আমি কতটুকু ক্লেশ ও ভোগান্তির শিকার হয়েছি এবং আমার এই বন্ধুর পথে কত বাধা ও বিপত্তি আমাকে মোকাবিলা করতে হয়েছে। এই দুর্ভোগ সত্ত্বেও আমি আমার সংকল্পে অটল রয়েছি; বরং আগামী বছরগুলোতে এই বিশ্বকোষের আরও খণ্ড প্রকাশের মাধ্যমে এই কালজয়ী বৈজ্ঞানিক ও ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা পালনে নিজেকে নিয়োজিত করেছি, যাতে আল্লাহর ইচ্ছায় মহাসাগর থেকে উপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত সমস্ত আরব গোত্রকে একত্রিত করা যায়।

প্রকৃতপক্ষে, প্রথম সংস্করণে প্রথম খণ্ডের প্রকাশনা এবং পরবর্তীতে দ্বিতীয় সংস্করণে অন্যান্য খণ্ডের প্রকাশ একটি শুভ সূচনা ছিল। এর মাধ্যমে আমি আমাদের বৃহত্তর আরব ভূখণ্ডের বিভিন্ন প্রান্তের গোত্রীয় ব্যক্তিবর্গের কাছ থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ, সংযোজন ও সংশোধন লাভ করেছি। এটি আমাকে বিগত তিন বছরে আরও অধিক সরেজমিন গবেষণা চালাতে এবং এই বিষয়ের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক তথ্যসূত্র সংগ্রহ করতে উদ্বুদ্ধ করেছে। এর ফলে সেই অক্লান্ত ও ব্যাপক পরিশ্রমের ফসল হিসেবে আপনাদের হাতে থাকা এই পরিমার্জিত ও পরিবর্ধিত তৃতীয় সংস্করণটি ১৪২১ হিজরি / ২০০১ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশ করা সম্ভব হয়েছে।
(খণ্ড: ১) মাওসুআতুল কাবাইলিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
وقد قُسِّمت الموسوعة في هذه الطبعة إلى قسمين: القسم الأول يتناول القبائل العربية التي لها امتداد في إفريقيا (مصر والسودان وبلاد المغرب العربي). وستكون في الوقت الحاضر ثلاثة مجلَّدات ضخمة، وسيستدرك بها مجلَّدين أو ثلاثة في المستقبل إن شاء الله لإكمال باقي القبائل العربية في بلاد المغرب والسودان.

أما القسم الثاني فيبدأ من المجلَّد الرابع حتى السابع ويتناول القبائل العربية في الجزيرة العربية وبلاد الشام والعراق وستكونا في الوقت الحاضر أربعة مجلَّدات ضخمة؛ وسيلحق بها ثمانية مجلَّدات أخرى مستقبلًا إن شاء الله لإكمال باقي القبائل في الأقطار العربية بالمشرق العربي.

وهكذا سنسير على الطريق بحول الله لإنتاج باقي مجلدات الموسوعة تباعًا، ومن سار على الدرب وصل.

والله المستعان وبه تعالى التوفيق،

 

(صاحب الموسوعة)

محمد سليمان الطيب

القاهرة في ديسمبر 2000 م/ شوال 1421 هـ
এই সংস্করণে বিশ্বকোষটিকে দুটি ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে: প্রথম ভাগটি আফ্রিকার (মিসর, সুদান এবং মাগরিব অঞ্চলের দেশসমূহ) সাথে সম্পৃক্ত আরব গোত্রসমূহ নিয়ে আলোচনা করে। বর্তমানে এটি তিনটি বিশাল খণ্ডে সমাপ্ত, এবং ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতে মাগরিব ও সুদানের অবশিষ্ট আরব গোত্রগুলোর বিবরণ সম্পন্ন করতে এর সাথে আরও দুই বা তিনটি খণ্ড যুক্ত করা হবে।

আর দ্বিতীয় ভাগটি চতুর্থ খণ্ড থেকে শুরু হয়ে সপ্তম খণ্ড পর্যন্ত বিস্তৃত, যা আরব উপদ্বীপ, শাম অঞ্চল ও ইরাকের আরব গোত্রসমূহ নিয়ে আলোচনা করে। বর্তমানে এটি চারটি বিশাল খণ্ডে বিন্যস্ত; ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতে আরব মাশরিকের দেশসমূহের অবশিষ্ট গোত্রগুলো সম্পন্ন করার জন্য এর সাথে আরও আটটি খণ্ড যুক্ত করা হবে।

এভাবেই আল্লাহর শক্তিতে বলীয়ান হয়ে আমরা ধারাবাহিকভাবে বিশ্বকোষের বাকি খণ্ডগুলো প্রকাশের পথে এগিয়ে চলব; আর যে ব্যক্তি পথে চলে, সে গন্তব্যে পৌঁছায়।

আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর মাধ্যমেই সাফল্য অর্জিত হয়।

 

(বিশ্বকোষের প্রণেতা)

মুহাম্মদ সুলাইমান আত-তাইয়্যিব

কায়রো, ডিসেম্বর ২০০০ খ্রিষ্টাব্দ / শাওয়াল ১৪২১ হিজরি
(খণ্ড: ১) মাওসুআতুল কাবাইলিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌مقدمة الكتاب

قال نبينا الكريم صلى الله عليه وسلم: "خيركم من تعلَّم العلم وعلَّمه"، وقال أيضًا: "أعوذ باللّه من علم لا ينفع" صدق رسول الله عليه أفضل الصلاة والسلام، وإن شاء الله تعالى، هذا العلم الجليل القدر، والذي أخذني حب جارف للتعمق والغوص فيه، ونَهْل المزيد منه عبر سنوات طويلة، سوف ينفع الله بي بني أُمتي وبني جلدتي وقومي الأعزاء الذين أنا فرد منهم، يسعدني ما يسعدهم. وهذا العلم ينمي عند قومي - العرب - الاعتزاز بأنفسهم، وعروبتهم المجيدة، وجذورهم، وفعالهم، ومعدنهم الكريم، والفخر بتاريخ أجدادهم وماضيهم التليد؛ ليكون العرب بحق: خير أمة أخرجت للناس، بعد أن اختارهم الله ليرفعوا راية الحق والعدل والدين القويم لباقي الأمم، وليكن العرب أحرص ما ينبغي بينهم في السعي دومًا وراء الفضيلة والأمر بالمعروف والنهي عن المنكر؛ ليكونوا قدوة حسنة لسائر المسلمين بل والبشر أجمعين.

وإن علم النسب وتاريخ القبائل وتعريفه للناس أرى فيه العلم الذي يؤلف أبناء المجتمع ولا يُنفِّرهم، ويجعلهم كثر تماسكًا واحترامًا وتقديرًا لأنفسهم أولًا ولغيرهم من إخوانهم العرب ثانيًا، ويُقرِّبهم ولا يباعد بينهم. وإن ذلك نراه في حكمة الخالق سبحانه وتعالى أن جعل النّاس شعوبًا وقبائل مختلفة؛ ليتعارفوا فيما بينهم، ولعلَّ الهدف الأساسي الذي يرمز له مولانا سبحانه وتعالى من وراء هذا التعارف أو ذلك التآلف هو غاية نبيلة يأمرنا بها الله عز وجل، ألا وهي الاختلاط مع الآخرين وليس الانطواء والانعزال، لإثارة غريزة التنافس بين القبائل والشعوب في فعل الخير، وتقليد الشِّيم، والعادات الكريمة، ونبذ الآخرى غير المستحبة أو غير النبيلة؛ لأنَّ الله جَبَل النّاس على الخير وفعله وجعله في الفطرة الإنسانية؛ ولأن الشيء القبيح أو المكروه والسعى ينفر منه النّاس، وتزدريه النفوس البشرية، وتبغضه القلوب، وترفضه العقول، هذا في البشر بصفة عامة.

ونحن العرب أولى النّاس في التمسُّك بالخير، ونبذ الشر وكل ما هو مُشين بعد أن هدانا الخالق بنور القرآن وبعث فينا خير الوري، وقد اصطفاه منا - نحن العرب - دون سائر الأمم، ليظهر دين الحق ويبين الشريعة السمحاء التي يريدها
বইয়ের ভূমিকা

আমাদের প্রিয় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি, যে জ্ঞান অর্জন করে এবং তা শিক্ষা দেয়।" তিনি আরও বলেছেন: "আমি আল্লাহর নিকট এমন জ্ঞান থেকে আশ্রয় চাই যা কোনো উপকারে আসে না।" আল্লাহর রাসূল (তাঁর ওপর সর্বোত্তম সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক) সত্য বলেছেন। ইনশাআল্লাহ তাআলা, এই মর্যাদাপূর্ণ জ্ঞান—যাতে গভীরভাবে নিমগ্ন ও অবগাহন করার এবং দীর্ঘ বছর ধরে তা থেকে আরও আহরণ করার এক প্রবল ভালোবাসা আমাকে পেয়ে বসেছে—আল্লাহ এর মাধ্যমে আমার উম্মতের সন্তানদের, আমার স্বজাতি ও আমার প্রিয় কওমকে উপকৃত করবেন, যাদের আমি একজন সদস্য; যা তাদের আনন্দিত করে তা আমাকেও আনন্দিত করে। এই জ্ঞান আমার কওম—আরবদের—মধ্যে নিজেদের প্রতি আত্মমর্যাদাবোধ, তাদের গৌরবোজ্জ্বল আরবীয় পরিচয়, তাদের শেকড়, কর্মতৎপরতা ও উন্নত বংশীয় আভিজাত্য এবং তাদের পূর্বপুরুষদের ইতিহাস ও সুপ্রাচীন অতীতের প্রতি গর্ববোধ জাগ্রত করে; যাতে আরবরা প্রকৃতপক্ষে 'সর্বোত্তম উম্মত যা মানুষের কল্যাণে বের করা হয়েছে' হতে পারে, যেহেতু আল্লাহ তাদের মনোনীত করেছেন অবশিষ্ট জাতিগুলোর নিকট সত্য, ন্যায় এবং সঠিক দ্বীনের পতাকা সমুন্নত করার জন্য। আর আরবরা যেন সর্বদা সদ্গুণাবলির অনুসরণ এবং সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের ক্ষেত্রে নিজেদের মধ্যে সর্বাধিক যত্নবান হয়; যাতে তারা সকল মুসলিম তথা সমগ্র মানবজাতির জন্য এক উত্তম আদর্শ হতে পারে।

বংশবিদ্যা ও গোত্রসমূহের ইতিহাস এবং মানুষের নিকট এর পরিচয় তুলে ধরার মধ্যে আমি এমন এক জ্ঞান দেখতে পাই যা সমাজের সন্তানদের ঐক্যবদ্ধ করে, তাদের বিমুখ করে না। এটি তাদের প্রথমত নিজেদের প্রতি এবং দ্বিতীয়ত তাদের অন্যান্য আরব ভাইদের প্রতি অধিক সংহতিশীল, শ্রদ্ধাশীল ও মর্যাদাবোধসম্পন্ন করে তোলে এবং তাদের মাঝে দূরত্ব না বাড়িয়ে নিকটবর্তী করে। আমরা এটি স্রষ্টা সুবহানাহু ওয়া তাআলার হিকমতের মধ্যে দেখতে পাই যে, তিনি মানুষকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছেন যাতে তারা একে অপরের সাথে পরিচিত হতে পারে। সম্ভবত আমাদের মাওলা সুবহানাহু ওয়া তাআলা এই পরিচিতি বা হৃদ্যতার পেছনে যে মূল লক্ষ্যের ইঙ্গিত দিয়েছেন, তা হলো একটি মহৎ উদ্দেশ্য যার আদেশ আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল আমাদের দিয়েছেন। আর তা হলো অন্যদের সাথে মেলামেশা করা, নিজেকে গুটিয়ে রাখা বা বিচ্ছিন্ন থাকা নয়; যাতে বিভিন্ন গোত্র ও জাতিগুলোর মধ্যে কল্যাণকর কাজে প্রতিযোগিতার প্রবৃত্তি জাগ্রত হয় এবং মহৎ চরিত্র ও উন্নত অভ্যাসসমূহের অনুসরণ করা হয় এবং অপ্রীতিকর বা অনুদার বিষয়গুলো বর্জন করা হয়। কারণ আল্লাহ মানুষকে কল্যাণের ওপর এবং তা করার ওপর সৃষ্টি করেছেন এবং একে মানুষের ফিতরাত বা স্বভাবজাত প্রকৃতির অন্তর্ভুক্ত করেছেন। কেননা মানুষ কুৎসিত বা অপছন্দনীয় বিষয় ও প্রচেষ্টা থেকে দূরে থাকে, মানুষের আত্মা একে তুচ্ছ জ্ঞান করে, অন্তর একে ঘৃণা করে এবং বুদ্ধি একে প্রত্যাখ্যান করে। এটি সাধারণভাবে সকল মানুষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

আমরা আরবরা কল্যাণকে আঁকড়ে ধরা এবং মন্দ ও কলঙ্কজনক সবকিছু বর্জন করার ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে অধিক যোগ্য, বিশেষ করে স্রষ্টা আমাদের কুরআনের নূর দ্বারা হেদায়েত দেওয়ার পর এবং আমাদের মধ্যে সৃষ্টির সেরা সত্তাকে প্রেরণ করার পর। তিনি তাঁকে অন্য সকল জাতির পরিবর্তে আমাদের থেকে—অর্থাৎ আরবদের থেকে—মনোনীত করেছেন, যাতে তিনি সত্য দ্বীনকে প্রকাশ করেন এবং সেই সহজ-সরল শরীয়তকে স্পষ্ট করেন যা তিনি চান।
(খণ্ড: ১) মাওসুআতুল কাবাইলিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
عزَّ وجلَّ لهداية البشرية، ونحمد الله على نعمائه أبين فَضَّلنا على سائر خلقه بنبيه خاتم وأشرف المرسلين محمد بن عبد الله عليه أفضل الصلاة والتسليم من رب العالمين …

وكما أن النّاس معادن مختلفة تنعكس دائمًا على طباعهم، فقد خلقهم تبارك وتعالى درجات بعضها فوق بعض، سواء في الرزق أو في البنين أو الجاه والسلطان أو في الحسب والأصل الكريم، وهذا التفاوت الطبقي بين النّاس حتى يُعرِّفنا الله الحامد من الساخط، والصالح من الطالح، والكريم من اللئيم، والشجاع من الرعديد، والجيد من الرديء، وحتى تسير مركب الحياة على كوكب الأرض بعبقرية إلهية وحكمة لا يدركها العقل البشري.

وكما يُقال وتؤكد التجربة بأن أصل الإنسان فعله(1)، أي أن الفعال الكريمة هي ترجمة حقيقية واقعية لنقاء الأصل والمعدن، وطيب الجذور، وكرم الحسب والنسب، فالتبر خير المعادن وفعل الرجال بأصلهم كانَ. وهذه بديهية مُسلَّم بها وقد قالها نبينا الكريم: "النّاس معادن وخياركم في الجاهلية خياركم في الإسلام لو فُقِّهوا". وفي نظري أن الفطرة تتغلب دائمًا على طباع النّاس، وتُحرِّك الحميَّة في دمائهم، وتثير النخوة في عقولهم، وتولِّد الإنفة والإباء والشمم في سدوكهم بصفة عفوية تلقائية، وكما يقول المثل العربي: "العرق يمد حتى سابع جد". فحتى لو كان أحدهم أو بعضهم جاهلًا لبعض نسبه، أو حسبه الرفيع، نجد أن الفطرة التي جُبِل عليها ذلك الفرد أو تلك الجماعة مهما كانت عوامل البيئة المحيطة تؤثر قطعًا في السلوك والوجدان، وغالبًا ما نرى بوضوح في مثل هؤلاء، الاعتزاز بالنفس والتحلي بالشِّيم الكريمة والطّوْلات المُشرِّفة التي ترفع الرءوس شامخة، وهذا دائما واضح المعالم عند ذوي المعادن الكريمة، والأحساب الرفيعة، والتي قد تكون مجهولة. لهم ولغيرهم من المخالطين لهم في المجتمع، وهذا لأنَّ المعدن الكريم والنفيس يبقى كما هو ولا يفقد قيمته مهما ران عليه الزمن، فالذهب مهما أحاط به الغُبار نفيس لا يعلوه صدأ، وإعادة البريق إليه وتنقيته سهلة ميسورة ولا تحتاج

--------------------------------------------

(1) يقول المثل العربي: أصل الفتى فعله.

وهناك مثل في معناه يقول: كلّ إناء ينضح مما فيه.

وقال قائل: ما يُبنى البيت إلَّا وله عمد … ولا عماد إذ لَمْ ترس أوتاد
মানবজাতির হিদায়াতের জন্য সেই মহান ও পরাক্রমশালী (আল্লাহ) এবং আমরা আল্লাহর নেয়ামতের প্রশংসা করি যিনি তাঁর নবী, সর্বশেষ এবং সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহর মাধ্যমে আমাদের তাঁর অন্যান্য সকল সৃষ্টির ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন, যাঁর প্রতি রব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে সর্বোত্তম দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক …

আর যেমন মানুষ বিভিন্ন ধাতুর ন্যায় যাদের স্বভাবের ওপর সর্বদা তার প্রতিফলন ঘটে, তেমনই বরকতময় ও সুউচ্চ আল্লাহ তাদের এক স্তরের ওপর অন্য স্তরে সৃষ্টি করেছেন; তা রিজিকে হোক, সন্তানে হোক, সম্মান ও ক্ষমতায় হোক কিংবা বংশমর্যাদা ও আভিজাত্যে হোক। মানুষের মাঝে এই শ্রেণীবিভেদ এ কারণেই যাতে আল্লাহ আমাদের চিনিয়ে দেন কে কৃতজ্ঞ আর কে অসন্তুষ্ট, কে নেককার আর কে বদকার, কে মহৎ আর কে নীচ, কে সাহসী আর কে কাপুরুষ এবং কে ভালো আর কে মন্দ; আর যেন পৃথিবী নামক গ্রহে জীবনের নৌকা এক ঐশ্বরিক মেধা ও প্রজ্ঞায় চলমান থাকে যা মানবীয় বুদ্ধি উপলব্ধি করতে সক্ষম নয়।

যেমনটি বলা হয় এবং অভিজ্ঞতাও নিশ্চিত করে যে, মানুষের মূল পরিচয় তার কর্মেই(১); অর্থাৎ মহৎ কর্মসমূহ হলো মূল বংশ ও ধাতুর বিশুদ্ধতা, মূলের পবিত্রতা এবং বংশ ও আভিজাত্যের মর্যাদার এক বাস্তব ও সত্য অনুবাদ। বিশুদ্ধ স্বর্ণ সর্বোত্তম ধাতু এবং মানুষের কাজ তার মূল অনুযায়ীই হয়ে থাকে। এটি একটি স্বীকৃত ধ্রুব সত্য যা আমাদের প্রিয় নবী বলেছেন: "মানুষ খনি বা ধাতুর ন্যায়, তোমাদের মধ্যে যারা জাহেলিয়াতের যুগে উত্তম ছিল, তারা ইসলামেও উত্তম যদি তারা সঠিক সমঝ লাভ করে"। আমার দৃষ্টিতে, ফিতরাত বা সহজাত প্রবৃত্তি সর্বদা মানুষের স্বভাবের ওপর জয়লাভ করে এবং তাদের রক্তে আত্মমর্যাদাবোধকে জাগ্রত করে, তাদের মস্তিষ্কে বীরত্ববোধকে উদ্দীপ্ত করে এবং তাদের আচরণে স্বতঃস্ফূর্তভাবে আত্মসম্মান ও আভিজাত্যবোধের জন্ম দেয়। যেমনটি আরবি প্রবাদে বলা হয়: "বংশধারা সপ্তম পুরুষ পর্যন্ত প্রভাব বিস্তার করে"। সুতরাং কেউ যদি তার বংশ বা উচ্চ মর্যাদা সম্পর্কে অজ্ঞও থাকে, তবুও আমরা দেখতে পাই যে সেই ব্যক্তি বা দলের সহজাত প্রবৃত্তি—পারিপার্শ্বিক পরিবেশের প্রভাব যাই হোক না কেন—অবশ্যই তাদের আচরণ ও উপলব্ধিতে প্রভাব ফেলে। আমরা প্রায়শই এদের মধ্যে স্পষ্টভাবে আত্মমর্যাদা এবং মহৎ গুণাবলি ও সম্মানজনক শ্রেষ্ঠত্বের বহিঃপ্রকাশ দেখতে পাই যা মস্তককে উন্নত রাখে। আর এটি সর্বদা মহৎ ধাতু ও উচ্চ বংশমর্যাদার অধিকারীদের মধ্যে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়, যা হয়তো তাদের কাছে বা সমাজে তাদের সাথে মেলামেশাকারীদের কাছে অজানা থাকতে পারে। এর কারণ হলো মহৎ ও মূল্যবান ধাতু অপরিবর্তিত থাকে এবং সময়ের পরিক্রমায় জীর্ণ হলেও তার মূল্য হারায় না। স্বর্ণের চারপাশে ধূলিকণা জমলেও তা মূল্যবানই থাকে, তাতে মরিচা ধরে না এবং তার উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনা ও তা পরিশোধন করা সহজ ও সুলভ, যার জন্য প্রয়োজন হয় না

--------------------------------------------

(১) আরবি প্রবাদে বলা হয়: যুবকের পরিচয় তার কর্মে।

একই অর্থে আরেকটি প্রবাদ আছে: প্রতিটি পাত্র থেকে তা-ই চুইয়ে পড়ে যা তার ভেতরে থাকে।

আর জনৈক কবি বলেছেন: কোনো ঘরই নির্মিত হয় না যদি না তার খুঁটি থাকে … আর কোনো খুঁটি টিকে থাকে না যদি খুঁটি পোঁতার কাঠ (গোড়ালি) দৃঢ় না হয়।
(খণ্ড: ১) মাওসুআতুল কাবাইলিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
إلى كبير عناء ولا غير الحدادين، بل فقط لمسات فنية رقيقة من أهل الجوهر والمعادن الكريمة؛ ولذلك فإن الباحثين والمحققين العرب من ذوي الفطن والنظرة الثاقبة لا يكلِّون ولا يتوانون عن البحث والتنقيب عن أصول وأحساب هذه العشائر أو تلك القبائل، لما أنَّها تشتهر بفعالها المكريمة، وقد يلحقها تضارب أو التباس أو تجنٍ أو تشكيك في نقاء وكرم عنصرها أو شرف نسبها - وحسبها بين العرب -.

والباحثون مهما اختلفوا في التحقيقات أو الإسناد التاريخي بخصوص أنساب أو تاريخ مثل هذه القبائل، فإنهم حتمًا بلا ريب يكملون بعضهم البعض كالبنيان المرصوص. فمن أبدع وتألق في السرد أو البحث عن قبيلة أو عن عدة قبائل معينة، وقد ترك قبيلة أو عدة قبائل أخرى دونما إيضاح في تاريخها أو حسم بيان عنصرها أو نسبها، حيتثذ يهبُّ باحث آخر يكمل ما نقص عنده، ويتألق في ذلك، كما تألق زميله؛ ومن هنا يكون الكمال والإنصاف شاملًا لجميع عناصر المجتمع القَبَلي؛ وهذا العدل من إعطاء كلّ ذي حق حقه، يرضاه الله قطعًا، ويحبه المجتمع وتسعد به نفوس النّاس من أبناء مجتمعنا الذي هو مثل العضو الواحد كما قال النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم ما معناه: إذا اشتكى منه عضو تداعى له سائر جسده بالسهر والحُمى. وهكذا نجني الثمرة الطيبة وهي محو الغبن والضغينة بيننا نحن العرب، وأصعب غُبن هو ظلم النّاس في أنسابها أو التعاليِ عليهم رغم رفعتهم، وقال الله تعالى في كتابه العزيز: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا يَسْخَرْ قَوْمٌ مِنْ قَوْمٍ عَسَى أَنْ يَكُونُوا خَيْرًا مِنْهُمْ … (11)} [الحجرات: 11]. فإذا تجنبنا الغُبن بيننا في هذا الشيء كانت نعم المروءة، وأين تكون المروءة إن لَمْ تكن فينا نحن العرب؟! والباحثون هم الذين يحسمون أو يدفعون الظلم في هذا المجال، ولأن الباحث لابد له من التمسك بالحق لأنه قدوة المجتمع كله، فهو وأقرانه يفيضون بنفحات المُثل العليا والعلم، وذلك بعرض تلك الأمور في مصنفات كلّ منهم لكافة طوائف المجتمع، وهكذا العلماء والباحثون هم الذين ينيرون للمجتمع كله ويظهرون الحق، فبهم يهتدي الضال، ويعرف الجاهل ما لم يعرفه عن نفسه أو عشيرته أو مجتمعه ككل بتاريخه وتراثه ومبادئه، والباحثون كالنجوم في السماء كلّ يضيء بقدر علمهُ الذي علَّمه الله له .. وكما أن أي باحث مثله كسائر البشر مُعرَّض للسهو والخطأ
...বড় ধরনের পরিশ্রম বা কামারদের কাজের মতো নয়, বরং তা কেবল জহুরত ও মূল্যবান ধাতু বিশেষজ্ঞদের সূক্ষ্ম শৈল্পিক ছোঁয়ার মতো; আর এই কারণেই তীক্ষ্ণ মেধা ও গভীর অন্তর্দৃষ্টির অধিকারী আরব গবেষক ও পর্যালোচকগণ এই বা সেই গোত্রের বংশমর্যাদা ও মূল শিকড় অনুসন্ধানে ক্লান্ত হন না এবং কোনো শিথিলতা প্রদর্শন করেন না, কারণ এই গোত্রগুলো তাদের মহৎ কর্মের জন্য প্রসিদ্ধ। তবে কখনো কখনো এদের মৌলিক বিশুদ্ধতা, আভিজাত্য বা বংশীয় শ্রেষ্ঠত্বের ক্ষেত্রে স্ববিরোধিতা, অস্পষ্টতা, অবিচার কিংবা সন্দেহের উদ্রেক হতে পারে - আর আরবদের নিকট তাদের বংশমর্যাদাই সব।

গবেষকগণ এই ধরনের গোত্রসমূহের বংশপরম্পরা বা ঐতিহাসিক সূত্রের বিষয়ে গবেষণায় বা দলিলাদিতে যতই ভিন্নমত পোষণ করুন না কেন, তাঁরা নিশ্চিতভাবে একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করেন, যেমন সিসাঢালা প্রাচীর। সুতরাং কেউ যদি কোনো নির্দিষ্ট গোত্র বা একাধিক গোত্র সম্পর্কে বর্ণনা বা গবেষণায় মুন্সিয়ানা ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শন করেন, আর অন্য কোনো গোত্র বা গোত্রসমূহের ইতিহাস স্পষ্ট না করে অথবা তাদের উৎস ও বংশ পরিচয় অমীমাংসিত রেখে যান, তখন অন্য একজন গবেষক আবির্ভূত হয়ে সেই অপূর্ণতা পূরণ করেন এবং তিনিও তাঁর সহকর্মীর মতোই এতে শ্রেষ্ঠত্ব দেখান; আর এভাবেই গোত্রীয় সমাজের সকল উপাদানের ক্ষেত্রে পূর্ণতা ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত হয়। আর প্রত্যেককে তার যথাযথ অধিকার প্রদানের এই ন্যায়বিচার আল্লাহ সুনিশ্চিতভাবে পছন্দ করেন, সমাজ একে ভালোবাসে এবং আমাদের সমাজের মানুষেরা এতে আনন্দিত হয়; আমাদের এই সমাজ একটি দেহের ন্যায়, যেমনটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, যার অর্থ: যদি দেহের কোনো একটি অঙ্গ ব্যথিত হয়, তবে শরীরের বাকি অংশ অনিদ্রা ও জ্বরের মাধ্যমে তার ডাকে সাড়া দেয়। এভাবে আমরা এক উত্তম ফল লাভ করি, যা হলো আমাদের আরবদের মধ্যকার বঞ্চনা ও বিদ্বেষ দূর করা। আর সবচেয়ে কঠিন বঞ্চনা হলো মানুষের বংশমর্যাদার ক্ষেত্রে তাদের প্রতি জুলুম করা কিংবা তাদের উচ্চমর্যাদা সত্ত্বেও তাদের প্রতি অহংকার প্রদর্শন করা। আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয় কিতাবে ইরশাদ করেছেন: {হে মুমিনগণ, কোনো সম্প্রদায় যেন অন্য কোনো সম্প্রদায়কে উপহাস না করে; হতে পারে তারা তাদের চেয়ে উত্তম … (১১)} [আল-হুজুরাত: ১১]। সুতরাং আমরা যদি এই বিষয়ে পারস্পরিক বঞ্চনা পরিহার করতে পারি, তবে তা হবে সর্বোত্তম মনুষ্যত্ব। আর আমাদের আরবদের মাঝে যদি মনুষ্যত্ব না থাকে তবে তা আর কোথায় থাকবে?! গবেষকরাই এই ক্ষেত্রে জুলুমের অবসান ঘটান বা তা প্রতিহত করেন। কারণ একজন গবেষককে অবশ্যই সত্যের ওপর অটল থাকতে হয়, যেহেতু তিনি সমগ্র সমাজের জন্য আদর্শ। তিনি এবং তাঁর সমকক্ষরা আদর্শ ও জ্ঞানের সুবাস ছড়িয়ে দেন, এবং তা সমাজের সকল স্তরের মানুষের কাছে তাঁদের নিজ নিজ রচনার মাধ্যমে তুলে ধরেন। এভাবেই আলিম ও গবেষকগণ সমগ্র সমাজের জন্য আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করেন এবং সত্যকে প্রকাশ করেন। তাঁদের মাধ্যমেই পথভ্রষ্টরা পথ খুঁজে পায় এবং অজ্ঞ ব্যক্তি নিজের সম্পর্কে, নিজের বংশ সম্পর্কে কিংবা তার সমাজ, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও আদর্শ সম্পর্কে যা জানত না তা জানতে পারে। গবেষকগণ আকাশের নক্ষত্ররাজির মতো, আল্লাহ তাঁদের যেটুকু জ্ঞান দান করেছেন সে অনুযায়ী প্রত্যেকেই আলো বিকিরণ করেন। আর যেহেতু যেকোনো গবেষক অন্যান্য মানুষের মতোই ভুল-ত্রুটি বা বিস্মৃতির ঊর্ধ্বে নন...
(খণ্ড: ১) মাওসুআতুল কাবাইলিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
والنسيان وليس معصومًا، ولا يمكن أن يستبد مخلوق بعلم الأنساب أو التاريخ للقبائل القديمة والحديثة جمعاء، كما أن الباحث بشر كسائر البشر، وعقله البشري له طاقة معينة لا يتعداها، وكما أن هناك أنسابًا وتواريخ وأحداثًا لا يمكن أن يضل فيها أحد إلى عين اليقين التام أو التأكيد لها، وسوف تظل مثل هذه الأشياء وحتى يوم القيامة في علم الواحد القهار علَّام الغيوب والذي لا يخفى عليه شيء في الأرض ولا في السماء، ومهما أوتي عالم في أي مجال من العلوم من فراسة أو فطنة فلن يصل إلى قطرة في بحر علم الله الذي لا حدود له ولا نهاية، وإنه بقدر مجهود الباحث وراء العلم وبقدر مجالدته وتفكيره يفتح الله على هذا الباحث كما يريد الله له وبقدر معلوم .. فسبحان الوهاب، يمنح لمن يشاء العلم، ويعطي لمن يشاء سحر البيان .. وحلاوة المنطق وجمال التعبير هما نعمة يهبهما الله ويمن بهما على بعض العلماء، لا كلهم، كي يكون علمهم غزيرًا وسلسبيلًا متدفقًا كالدرر، ويلقى في عقول النّاس استحسانًا وتهوي إليه قلوبهم وتتوق إلى النهل منه، والإقبال عليه، وقال النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم عن نفسه الكريمة ما معناه: "أنا مدينة العلم وعليٌّ بن أبي طالب بابها"، وقال أيضًا عن حلاوة المنطق وحسن الكلام: "إن من البيان لسحرًا" صدق رسول الله .. ولا بيان فوق القرآن العظيم الذي أعجز العرب أن يأتوا بآية واحدة مثله، وسيظل يعجزهم إلى آخر الزمان، رغم أن الله أعطاهم الفصاحة والبلاغة ونظم الشعر - بلغة الضاد - التي هي أقوى لغة تكلَّم بها بنو آدم على وجه الأرض، وندعوا ونبتهل إلى العلي القدير ونقول: اللهم اجعل القرآن العظيم ربيع قلوبنا وشفاء صدورنا، وارزقنا بكل حرف من القرآن حلاوة وبكل كلمة كرامة وبكل آية سعادة وبكل سورة سلامة لنا في الدنيا والآخرة.

إن علم النسب من أصعب العلوم الإنسانية والاجتماعية مسلكًا، وأشدها وعورة، ومما يدلُّ على صعوبة هذا العلم الجليل القدر، هو أن أمة كبيرة كأمتنا العربية لَمْ يطرق منها باب هذا العلم سوى عشرات قلائل من الرجال، ومن تقصى منهم فقط هم الذين أفلحوا واشتهروا ونالوا أسمى آيات التشريف، وهم يُعدُّون على الأصابع، وما زالت مخطوطاتهم تُطبع أو تُحقق حتى الآن رغم مرور مئات السنين على بعضهم، وأبرزهم ابن الكلبي وابن حزم وابن خلدون والقلقشندي والسويدي وغيرهم فهم رجالات قلائل، أما أغلب الذين خاضوا في هذا العلم
...এবং বিস্মৃতি, আর তিনি অভ্রান্ত নন। কোনো সৃষ্টির পক্ষে প্রাচীন ও আধুনিক সকল গোত্রের বংশবিদ্যা বা ইতিহাসের ওপর একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করা সম্ভব নয়। গবেষকও অন্যান্য মানুষের মতোই একজন মানুষ, আর তার মানবীয় বুদ্ধিবৃত্তির একটি নির্দিষ্ট ক্ষমতা রয়েছে যা সে অতিক্রম করতে পারে না। তেমনি এমন কিছু বংশধারা, ইতিহাস এবং ঘটনাবলী রয়েছে যেগুলোর ক্ষেত্রে কেউ পূর্ণ নিশ্চিত বিশ্বাস বা ধ্রুব সত্যে পৌঁছাতে পারে না। এই বিষয়গুলো কিয়ামত পর্যন্ত সেই এক, মহাপরাক্রমশালী এবং অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা আল্লাহর জ্ঞানেই থেকে যাবে, যার কাছে জমিন বা আসমানের কোনো কিছুই গোপন থাকে না। বিজ্ঞানের যেকোনো ক্ষেত্রে একজন আলিমকে যত প্রজ্ঞা বা বিচক্ষণতাই দেওয়া হোক না কেন, তিনি আল্লাহর অসীম ও অন্তহীন জ্ঞান-সমুদ্রের এক বিন্দুর সমানও পৌঁছাতে পারবেন না। জ্ঞানের অন্বেষণে গবেষকের প্রচেষ্টা, পরিশ্রম এবং চিন্তাশক্তির অনুপাতে আল্লাহ সেই গবেষকের জন্য দ্বার উন্মোচন করেন যেভাবে আল্লাহ চান এবং একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অনুযায়ী। সুতরাং পবিত্রতা সেই মহান দাতার, যিনি যাকে ইচ্ছা জ্ঞান দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা জাদুকরী বাগ্মিতা প্রদান করেন। যুক্তির মাধুর্য এবং প্রকাশের সৌন্দর্য এমন এক নিয়ামত যা আল্লাহ দান করেন এবং কিছু সংখ্যক আলিমের ওপর এর অনুগ্রহ বর্ষণ করেন, সবার ওপর নয়, যাতে তাদের জ্ঞান হয় সমৃদ্ধ এবং মুক্তার মালার মতো প্রবহমান ঝরনাধারা, আর তা মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিতে সমাদৃত হয়, মানুষের অন্তর সেদিকে ধাবিত হয় এবং তা থেকে জ্ঞান আহরণ ও গ্রহণে আগ্রহী হয়ে ওঠে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের পবিত্র সত্তা সম্পর্কে বলেছেন যার অর্থ: "আমি জ্ঞানের শহর এবং আলী ইবনে আবি তালিব তার দরজা।" তিনি যুক্তির মাধুর্য এবং সুন্দর কথা সম্পর্কে আরও বলেছেন: "নিশ্চয়ই বাগ্মিতার মাঝে জাদু রয়েছে।" আল্লাহর রাসূল সত্য বলেছেন। আর মহান কুরআনের উপরে কোনো বয়ান বা প্রকাশভঙ্গি নেই, যা আরবদের এর মতো একটি আয়াত নিয়ে আসতেও অক্ষম করে দিয়েছিল এবং শেষ সময় পর্যন্ত তাদের অক্ষম করে রাখবে, যদিও আল্লাহ তাদের দিয়েছিলেন সাবলীলতা, অলঙ্কারশাস্ত্র এবং কাব্য রচনার দক্ষতা—আরবি ভাষার মাধ্যমে—যা পৃথিবীর বুকে আদমসন্তানদের বলা সবচেয়ে শক্তিশালী ভাষা। আমরা মহান পরাক্রমশালী আল্লাহর কাছে দোয়া ও প্রার্থনা করি এবং বলি: হে আল্লাহ, আপনি মহান কুরআনকে আমাদের অন্তরের বসন্ত এবং আমাদের বক্ষসমূহের আরোগ্য বানিয়ে দিন। কুরআনের প্রতিটি হরফের বিনিময়ে আমাদের মাধুর্য দান করুন, প্রতিটি শব্দের বিনিময়ে সম্মান, প্রতিটি আয়াতের বিনিময়ে সুখ এবং প্রতিটি সূরার বিনিময়ে দুনিয়া ও আখিরাতে আমাদের নিরাপত্তা দান করুন।

নিশ্চয়ই বংশবিদ্যা হচ্ছে মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞানসমূহের মধ্যে অত্যন্ত কঠিন এবং দুর্গম একটি পথ। এই মহিমান্বিত বিদ্যার কাঠিন্যের প্রমাণ এই যে, আমাদের আরব উম্মাহর মতো একটি বড় জাতির মধ্যে মাত্র অল্প কয়েকজন ব্যক্তি এই বিদ্যার দ্বারে কড়া নেড়েছেন। তাদের মধ্যে যারা গভীরভাবে অনুসন্ধান করেছেন কেবল তারাই সফল হয়েছেন, খ্যাতি অর্জন করেছেন এবং সর্বোচ্চ সম্মান লাভ করেছেন। তাদের সংখ্যা আঙুলে গণনা করা যায়। শত শত বছর পার হয়ে যাওয়া সত্ত্বেও এখনও তাদের পাণ্ডুলিপিগুলো মুদ্রিত বা সম্পাদিত হচ্ছে। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন ইবনুল কালবি, ইবনে হাজম, ইবনে খালদুন, আল-কালকাশান্দি, আস-সুওয়াইদি এবং আরও অনেকে; তারা সংখ্যায় সামান্যই। আর যারা এই বিদ্যায় অবগাহন করেছেন তাদের অধিকাংশই...
(খণ্ড: ১) মাওসুআতুল কাবাইলিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
فقد طواهم الزمان وخمد ذكرهم، وببساطة القول: "إن الأمر الواجب والحتمي لأي محقق أو باحث يريد التشريف والعرفان، والتقدير والخلود في التاريخ للأجيال أو أن يكتب له وسام بحروف من نور، لابد لهذا الباحث أن يتحرى جميع المصادر لا أن يتعصب لمصدرٍ واحد، وأن يمارس البحث الميداني بقدر المُستطاع كي يغوص في أخبار وأنساب القبائل وخاصة تلك الكيانات الحديثة في القرون الأخيرة، وحتى يأخذ البينة عن الثقات بعد أن يجمع رأيًا موحدًا في الروايات، والتي يتقارب فيها الصحيح المتفق عليه من عدة مصادر، وكما لابد للباحث في هذا المجال ميدانيًّا أن يتجنب أرباب الهوى الإمعات، حيث إن الشق الميداني هام ومفيد بالنسبة لمن يريد حسم الرأي فيما تضاربت فيه الأقوال، وتناقضت لتلك القبائل الحديثة التكوين والتي لَمْ يجمع فيها المحقِّقون رأيا مرجحًا على الأقل في أطوار نمائها الأولى. وكان دغفل بن حنظلة(1) النسابة الشهير الذي يُضرب به المثل في علمه وذكائه وجمال تعبيره في هذا الميدان، وتشبيهاته العبقرية لأسماء بطون وقبائل العرب في زمانه حتى يحفظها النّاس وتكون ممئر شهرة، ودغفل هو أحد بني شيبان ثم بني بكر بن وائل وهم من قبائل ربيعة بن نزار التي انضوت تحت اسم عَنزَة الآن.

ولما سأل معاوية بن أبي سفيان دغفل بن حنظلة بعد أن اختبره ووجده رجلًا علَّامة في أنساب العرب، فقال معاوية: بما نلت ذلك يا دغفل؟ أجاب بحكمة قائلًا: بلسان سئول وقلب عقول، وآفة العلم النسيان. ولدغفل موقف طريف ذكره التاريخ له وكتبه في مصنفه الريحان والريعان أبي القاسم محمد بن إبراهيم ابن خيره، فقد حكي عن أبي بكر الصديق رضي الله عنه أنه كان في علم النسب للقبائل بالمقام الرفيع والجانب الأعلى والقدح المُعلَّي، وقد خرج مع النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم ذات يوم فوقف على قوم من ربيعة العدنانية فقال لهم أبو بكر: ممن القوم؟ قالوا له من ربيعة. قال: وأي ربيعة أنتم أمن هامتها أم لهازمها؟ قالوا من هاماتها العظمى. قال أبو بكر ومن أيِّها؟ قالوا من ذهل الأكبر قال أبو بكر: أفمنكم بسطام بن قيس ذو اللواء أبو القِرَى ومنتهى الأحياء؟ قالوا لا. قال: أفمنكم

--------------------------------------------

(1) هو دغفل بن حنظلة بن يزيد بن عبدة بن عبد الله بن ربيعة بن عمرو بن شيبان بن ذهل بن ثعلبة بن عكابة بن صعب بن علي بن بكر بن وائل بن قاسط بن هنب بن أفصى بن دعمي بن جديله بن أسد بن ربيعة بن نزار بن معد بن عدنان.
কালচক্রে তারা বিলীন হয়ে গেছেন এবং তাদের চর্চা স্তিমিত হয়ে পড়েছে। সহজ কথায় বলতে গেলে: "যেকোনো গবেষক বা অনুসন্ধানকারী যিনি সম্মান ও স্বীকৃতি, এবং মূল্যায়ন ও ইতিহাসের পাতায় প্রজন্মের পর প্রজন্ম অমর হয়ে থাকতে চান অথবা যার জন্য নূরের অক্ষরে কোনো সম্মাননা স্মারক লেখা হোক এমনটি চান, সেই গবেষকের জন্য অবশ্যকর্তব্য হলো—তিনি যেন সকল উৎস অনুসন্ধান করেন এবং কোনো একটি উৎসের প্রতি গোঁড়ামি না করেন। সেইসাথে তাকে সাধ্যমতো মাঠপর্যায়ের গবেষণা পরিচালনা করতে হবে যাতে তিনি গোত্রসমূহের সংবাদ ও বংশলতিকার গভীরে প্রবেশ করতে পারেন, বিশেষ করে গত কয়েক শতাব্দীর আধুনিক সত্তাগুলোর ক্ষেত্রে। এবং যাতে তিনি নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের কাছ থেকে সুষ্পষ্ট প্রমাণাদি গ্রহণ করতে পারেন, বর্ণনাসমূহের মধ্যে একটি ঐক্যবদ্ধ মত গঠনের পর; যেখানে একাধিক উৎস থেকে প্রাপ্ত সহিহ ও সর্বসম্মত মতগুলো কাছাকাছি অবস্থান করে। তেমনিভাবে এই ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ের গবেষকের জন্য আবশ্যক হলো প্রবৃত্তি পূজারী অসার ব্যক্তিদের এড়িয়ে চলা। কারণ, যেখানে বিভিন্ন বক্তব্য সাংঘর্ষিক হয়ে দাঁড়ায় এবং আধুনিককালে গঠিত গোত্রগুলোর ক্ষেত্রে বৈপরীত্য পরিলক্ষিত হয়—যাদের বিকাশের প্রাথমিক স্তর সম্পর্কে গবেষকগণ অন্তত একটি প্রাধান্যযোগ্য মতের ওপর ঐক্যমত হতে পারেননি—সেখানে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য মাঠপর্যায়ের অংশটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ফলপ্রসূ। আর দাঘফাল বিন হানজালা(১) ছিলেন সেই বিখ্যাত বংশলতিকাবিদ, যার জ্ঞান, প্রজ্ঞা এবং প্রকাশভঙ্গির চমৎকারিত্ব এই ক্ষেত্রে প্রবাদতুল্য ছিল। তার সমসাময়িক আরব গোত্র ও শাখাগুলোর নামের ক্ষেত্রে তার প্রতিভাদ্দীপ্ত উপমাগুলো এমন ছিল যা মানুষ সহজেই মুখস্থ করে রাখত এবং তা তার খ্যাতির স্মারক হয়ে উঠেছিল। দাঘফাল ছিলেন বনু শায়বান, অতঃপর বনু বকর বিন ওয়াইল গোত্রের অন্তর্ভুক্ত; তারা রবীয়া বিন নিযার গোত্রের শাখা, যারা বর্তমানে 'আনজা' নামের অধীনে একীভূত হয়েছে।

যখন মুআবিয়া বিন আবি সুফিয়ান দাঘফাল বিন হানজালাকে পরীক্ষা করার পর তাকে আরব বংশলতিকায় একজন মহাজ্ঞানী হিসেবে পেলেন, তখন মুআবিয়া জিজ্ঞাসা করলেন: হে দাঘফাল! তুমি কীভাবে এই জ্ঞান অর্জন করলে? তিনি প্রজ্ঞার সাথে উত্তর দিলেন: প্রশ্নকারী জিহ্বা এবং অনুধাবনকারী হৃদয়ের মাধ্যমে; আর জ্ঞানের আপদ হলো বিস্মৃতি। দাঘফালের একটি কৌতূহলোদ্দীপক ঘটনা ইতিহাস বর্ণনা করেছে এবং আবুল কাসিম মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম ইবন খাইরাহ তার 'আর-রাইহান ওয়ার-রাইয়ান' গ্রন্থে তা লিপিবদ্ধ করেছেন। বর্ণিত আছে যে, আবু বকর সিদ্দিক (রা.) গোত্রীয় বংশলতিকার জ্ঞানে অত্যন্ত উচ্চ মর্যাদা, শ্রেষ্ঠত্ব ও শীর্ষস্থানের অধিকারী ছিলেন। একদিন তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে বের হলেন এবং আদনানি রবীয়া গোত্রের এক দলের সামনে দাঁড়ালেন। আবু বকর তাদের বললেন: তোমরা কোন সম্প্রদায়ের? তারা বলল: আমরা রবীয়া গোত্রের। তিনি বললেন: তোমরা রবীয়ার কোন শাখার? তোমরা কি তাদের প্রধান শাখা থেকে নাকি তাদের পার্শ্ব শাখা থেকে? তারা বলল: তাদের শ্রেষ্ঠ প্রধান শাখা থেকে। আবু বকর বললেন: কোন উপশাখা থেকে? তারা বলল: যোহল আল-আকবার থেকে। আবু বকর বললেন: তোমাদের মধ্যে কি বিসতাম বিন কায়স আছেন, যিনি পতাকাবাহী, মেহমানদারির মূল আধার এবং জীবিতদের শেষ আশ্রয়স্থল? তারা বলল: না। তিনি বললেন: তবে কি তোমাদের মধ্যে...

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন দাঘফাল বিন হানজালা বিন ইয়াযিদ বিন আবদাহ বিন আব্দুল্লাহ বিন রবীয়া বিন আমর বিন শায়বান বিন যোহল বিন সা'লাবা বিন উকাবা বিন সা'ব বিন আলি বিন বকর বিন ওয়াইল বিন কাসিত বিন হানাব বিন আফসা বিন দাউমি বিন জাদিদাহ বিন আসাদ বিন রবীয়া বিন নিযার বিন মা'আদ বিন আদনান।
(খণ্ড: ১) মাওসুআতুল কাবাইলিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
المزدلف بن أبي ربيعة بن ذهل بن شيبان الحر صاحب العمامة الفَرِدة؟ قالوا لا. قال: أفمنكم أخوال الملوك من كنْدة؟ قالوا: لا. قال: أفمنكم أصهار الملوك من لَخْم؟ قالوا: لا. فقال لهم أبو بكر: فلستم بذهل الأكبر بل ذهل الأصغر. حينئذ قام إليه دغفل الشيباني منتفضًا وكان لا يزال غلامًا - وسبحان الوهاب أن يناظر غلام حدث أبو بكر الصديق!! ولكنه ليس كأي غلام ونسبه في حي ليس كأي حي - إنه دغفل(1) الذي ستسمع به الدنيا وإنه لمن شيبان جبابرة بني عدنان. وقيل أن دغفل قد بقل وجهه، أي انتفخ وتغير لونه من شدة الغيظ من أبي بكر عندما أحرج أقاربه، فقال محتدًّا وفي نيته وقصده أن يثأر في الحال من أبي بكر رضي الله عنه وهو لا يعرفه، فقال دغفل لأبي بكر: إن على سائلنا أن نسأله والعبء لا تعرفه أو تحمله، يا هذا؟ إنك قد سألتنا ولم نكتمك شيئًا من خبرنا، فمن الرجل؟ فلما عرف دغفل أنه أبو بكر القُرَشي قال مكررًا سؤاله فمن أي القُرَشيين أنت؟ قال أبو بكر رضي الله عنه مجيبًا من ولد تيِّم بن مُرَّة. قال دغفل له: أمكنت واللّه من سواء الثغرة! (يعني أنه سوف يصيبه وينول مراده) ثم قال لأبي بكر سائلًا أفمنكم قُصي بن كلاب الذي جمع القبائل من قريش وكان يُدعى مُجمَّعا؟ قال: لا. قال: أفمنكم هاشم الذي هشم الثريد لقومه ورجال مكة مُسْنتون عِجاف؟ قال: لا. قال: أفمنكم شيبة الحمد (يقصد عبد المطلب بن هاشم) مُطْعِمَ طير السماء الذي كأن وجهه قمر يضيء في الليلة الظلماء؟ قال: لا. قال: فمن أهل الحجابة أو السقاية أو الرفادة أنت؟ قال أبو بكر: لا. واجتذب أبو بكر رضي الله عنه زمام ناقته من وجه دغفل مندهشًا من براعته وفصاحته فقال دغفل محتدًّا بنخوة شيبانية فائقة فيها نبرة المنتصر الذي أخذ بحقه في التو قال:

صادف در السيل درًّا يدفعه … يهيضه حينًا وحينًا يصدعه

--------------------------------------------

(1) ذكر أبو عبيدة أن ما يقارب دغفل الشيباني من بكر بن وائل (ربيعة) فى علم النسب والنجوم، كان ابن الكيس النمري وهو من بني عوف بن سعد بن تغلب بن وائل (ربيعة)، أي كلاهما من وائل ربيعة العدنانية.

وذلك فقد قال مسكين بن عامر الشاعر:

فحكم دغفلًا وأرحل إليه … ولا تدع المطي من الكلال

أو ابن الكيس النمري زيدًا … ولو أمسى بمنخرق الشمال
আল-মুজদালিফ বিন আবি রাবিআ বিন যুহল বিন শায়বান আল-হুর কি তোমাদের কেউ, যিনি একক পাগড়ির অধিকারী ছিলেন? তারা বলল, না। তিনি বললেন: তবে কি তোমাদের মাঝে কিনদাহ গোত্রের বাদশাহদের মামারা আছে? তারা বলল: না। তিনি বললেন: তবে কি তোমাদের মাঝে লাখম গোত্রের বাদশাহদের বৈবাহিক আত্মীয়রা আছে? তারা বলল: না। তখন আবু বকর তাদের বললেন: তাহলে তোমরা যুহল আল-আকবার (বড় যুহল) নও, বরং তোমরা যুহল আল-আসগর (ছোট যুহল)। সেই মুহূর্তে দাগফাল আশ-শায়বানি উত্তেজিত হয়ে তার সামনে দাঁড়িয়ে গেল, অথচ তখনো সে কিশোর ছিল - পবিত্র সেই দানশীল সত্তা যিনি একজন কিশোরকে আবু বকর সিদ্দিকের সাথে বিতর্কে লিপ্ত হওয়ার শক্তি দেন!! কিন্তু সে তো সাধারণ কোনো কিশোর ছিল না এবং তার বংশের বসতিও সাধারণ ছিল না - সে হলো সেই দাগফাল(১) যার কথা পৃথিবী শুনবে এবং সে শায়বান গোত্রের সেই বীরদের একজন যারা বনী আদনানের অন্তর্ভুক্ত। বলা হয় যে, দাগফালের চেহারা বিবর্ণ হয়ে গিয়েছিল, অর্থাৎ আবু বকর কর্তৃক তার আত্মীয়দের বিব্রত করার কারণে প্রচণ্ড রাগে তার মুখ ফুলে গিয়েছিল এবং রঙ বদলে গিয়েছিল। তখন সে উষ্মাভরে বলল এবং তার সংকল্প ছিল তখনি আবু বকরের (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ওপর প্রতিশোধ নেওয়া, অথচ সে তাকে চিনত না। দাগফাল আবু বকরকে বলল: প্রশ্নকারীর প্রশ্নের উত্তর দেওয়া আমাদের ওপর কর্তব্য, কিন্তু যে দায়ভার তুমি চেনো না বা বহন করতে পারো না তা সম্পর্কে প্রশ্ন করা তোমার উচিত নয়। হে লোক! তুমি আমাদের প্রশ্ন করেছ এবং আমরা আমাদের খবরাখবরের কিছুই তোমার কাছে গোপন করিনি, তা তুমি কোন লোক? যখন দাগফাল জানতে পারল যে তিনি কুরাশি আবু বকর, তখন সে তার প্রশ্ন পুনরাবৃত্তি করে বলল: তবে কুরাইশদের কোন বংশের লোক তুমি? আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু জবাবে বললেন: তাইম বিন মুররার বংশধর। দাগফাল তাকে বলল: আল্লাহর শপথ, তুমি নিশানার ঠিক মাঝখানে সুযোগ করে দিলে! (অর্থাৎ সে এখন তাকে আক্রমণ করবে এবং নিজের উদ্দেশ্য হাসিল করবে)। এরপর সে আবু বকরকে প্রশ্ন করে বলল: তোমাদের মধ্যে কি কুসাই বিন কিলাব আছেন যিনি কুরাইশ গোত্রগুলোকে একত্রিত করেছিলেন এবং যাকে 'মুজাম্মি' (একত্রকারী) বলা হতো? তিনি বললেন: না। সে বলল: তোমাদের মধ্যে কি হাশিম আছেন যিনি তার জাতির জন্য রুটি ভেঙে সুরুয়া তৈরি করেছিলেন যখন মক্কার পুরুষরা দুর্ভিক্ষ ও রুগ্ন দশায় ছিল? তিনি বললেন: না। সে বলল: তোমাদের মধ্যে কি শাইবাতুল হামদ (অর্থাৎ আবদুল মুত্তালিব বিন হাশিম) আছেন যিনি আকাশের পাখিদের অন্নদাতা ছিলেন এবং যার চেহারা ছিল অন্ধকার রাতে উজ্জ্বল চাঁদের মতো? তিনি বললেন: না। সে বলল: তবে তুমি কি কাবা ঘরের চাবিবাহক (হিজাবাহ), হাজিদের পানি পান করানো (সিকায়া) বা মেহমানদারির (রিফাদা) দায়িত্বশীলদের কেউ? আবু বকর বললেন: না। তখন আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু তার বাগ্মিতা ও বাকপটুতায় বিস্মিত হয়ে দাগফালের সামনে থেকে তার উটের লাগাম টেনে ধরলেন। তখন দাগফাল শায়বানি আভিজাত্যের সাথে উষ্মাভরে একজন বিজয়ীর স্বরে যে কিনা তৎক্ষণাৎ তার পাওনা বুঝে নিয়েছে, বলল:

বন্যার স্রোত এমন এক শক্তির সম্মুখীন হয়েছে যা তাকে প্রতিহত করে … তা কখনো তাকে পর্যুদস্ত করে আবার কখনো তাকে ছিন্নভিন্ন করে দেয়।

--------------------------------------------

(১) আবু উবাইদাহ উল্লেখ করেছেন যে, বংশবিদ্যা এবং নক্ষত্রবিদ্যায় বকর বিন ওয়াইল (রাবিআ) গোত্রের মধ্যে দাগফাল আশ-শায়বানির সমকক্ষ ছিল ইবনুল কায়স আন-নামারি, যে বনু আউফ বিন সাদ বিন তাগলিব বিন ওয়াইল (রাবিআ) গোত্রের অন্তর্ভুক্ত ছিল। অর্থাৎ তারা উভয়েই আদনানি ওয়াইল রাবিআ গোত্রের।

আর তাই কবি মিসকিন বিন আমির বলেছিলেন:

তবে তুমি দাগফালের শরণাপন্ন হও এবং তার কাছে যাত্রা করো … ক্লান্তি সত্ত্বেও আরোহী বাহন ত্যাগ করো না

অথবা ইবনুল কায়স আন-নামারি যায়িদ-এর কাছে যাও … যদিও সে উত্তর প্রান্তের জনশূন্য স্থানে অবস্থান করে
(খণ্ড: ১) মাওসুআতুল কাবাইলিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
ثم أردف قائلًا: لو تثبَّت يا أخا قريش لأخبرتك أنك من زمعات قريش أو رعيانها ولست من الذوائب أو ما أنا بدغفل!. فلما أتى أبو بكر النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم أخبره بما جرى له مع دغفل ورجال ربيعة فتبسَّم النبي صلى الله عليه وسلم مسرورًا لما وجد في ربيعة من ولد عدنان هذا العلم وتلك النخوة والفصاحة التي أبداها دغفل في حواره ومناظرته مع الصدِّيق، فقال علي بن أبي طالب - كرم الله وجهه: لقد وقعْتَ من الغلام على باقعة (أي داهية من دواهي العرب) يا أبا بكر .. فقال الصديق مجيبًا: أجل يا أبا الحسن ما من طامة إلَّا فوقها طامة، وإن البلاء موكل بالمنطق!!.

وإن هذه القصة نستشف منها أن العدنانيين من ربيعَة ومُضَر هما ندٌّ لبعضهما البعض وهما صخرتا العرب تكملان بعضهما البعض، فهما من نزار الذي كان من نسله النَّبِيّ المختار، وكل ملك جبار صيته في الآفاق طار، وكل فارس مغوار يضرب بسيف بتَّار ويحمي الذمار، فرحم الله نزار وإبنيه ربيعَة ومُضَر الأخيار، صفوة وصريحي معد بن عدنان من صلب إسفي عيل الذي كان بأبيه بار، فعليه السلام وعلى أبينا إبراهيم خليل الواحد القهَّار.

ومشكلات الأنساب والأحساب والوصول فيها إلى عين اليقين بين العرب قبل الإسلام وبعده كانت تدور رحاها بين نسَّابة القبائل العربية حين الأزمات التي تفوز النعرات القَبَلية، وقد تضاربت - على سبيل المثال - الأقوال في أشهر القبائل في تاريخ العرب، وهذا الشيء نجده منذ الجاهلية، وأبرز ذلك الخلاف في نسب قُضَاعة والذي هو مذبذب بين عدنان وحِمْير قحطان، ومن أشهر قبائل قُضَاعة: بلِّي وجُهَيْنة، وكذلك نسب ثَقيف، رغم أن التأكيد التاريخي يؤيد نسبهم إلى إياد العدنانيين، إلَّا أن جمهرة العَلماء يقولون: إنهم من هوازن - وهذا ما أخالفه - وسوف نشرح ذلك - إنْ شاء الله - بتحليل مطوَّل، وكذلك نسب خُزَاعة وجُذام وخَثْعم وبُجَيْلة، وبالمثل نرى أمثلة في القبائل التي ظهرت بعد الإسلام مثل: حرب وبني خالد وغيرهما ومما سوف نشرح عنهما في هذا المجلد من الموسوعة مثل: بني عطية والمساعيد والحبريطات. وما زالت الآراء تتضارب من محققي هذا القرن في كثير من القبائل، ويتأرجح رأي كلّ منهم لما يأخذ من إسناد تاريخي أو حجة أو قياس زمني أو بحث ميداني إلى غير ذلك. وسنوضح بتحليل تاريخي ومنطقي نسبها الراجح والأقرب للحق والصحة، واللّه سبحانه هو هادينا ومرشدنا، ونحن
এরপর তিনি যোগ করে বললেন: হে কুরাইশ ভ্রাতা, আপনি যদি স্থির থাকতেন তবে আমি আপনাকে জানিয়ে দিতাম যে আপনি কুরাইশের অতি সাধারণ বা তাদের রাখালদের অন্তর্ভুক্ত, আপনি তাদের উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের কেউ নন; অন্যথায় আমি দাগফাল নই! অতঃপর আবু বকর (রা.) যখন নবী (সা.)-এর নিকট এলেন, তখন দাগফাল এবং রাবিয়া গোত্রের লোকদের সাথে যা ঘটেছিল তা তাঁকে অবহিত করলেন। নবী (সা.) অত্যন্ত আনন্দিত হয়ে মুচকি হাসলেন, কারণ আদনানের বংশধর রাবিয়া গোত্রের মধ্যে তিনি সেই জ্ঞান এবং সেই আভিজাত্য ও বাগ্মিতা দেখতে পেলেন যা দাগফাল সিদ্দীকের সাথে তার কথোপকথন ও বিতর্কে প্রকাশ করেছিলেন। তখন আলী বিন আবু তালিব (কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু) বললেন: হে আবু বকর, আপনি এই যুবকের মাঝে এক মহা-বিচক্ষণ ব্যক্তির (অর্থাৎ আরবদের অন্যতম এক ধীমান ব্যক্তির) মুখোমুখি হয়েছিলেন। সিদ্দীক উত্তরে বললেন: হ্যাঁ, হে আবুল হাসান, প্রতিটি মহাবিপদের উপরে আরও বড় বিপদ থাকে, আর নিশ্চয়ই বিপদ কথার সাথে সম্পৃক্ত!!

এই কাহিনী থেকে আমরা অনুধাবন করতে পারি যে, আদনানি বংশোদ্ভূত রাবিয়া ও মুদার গোত্রদ্বয় একে অপরের সমকক্ষ এবং তারা আরবের এমন দুটি ভিত্তিপ্রস্তর যারা একে অপরকে পূর্ণতা দান করে। তারা উভয়ই নিজারের বংশধর, যাঁর বংশ থেকে মনোনীত নবী আবির্ভূত হয়েছেন এবং এমন প্রত্যেক পরাক্রমশালী রাজা যার সুখ্যাতি দিগন্তজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে, এবং প্রত্যেক সাহসী বীর যে ধারালো তলোয়ার দিয়ে আঘাত হানে এবং মর্যাদা রক্ষা করে। আল্লাহ নিজার এবং তাঁর দুই নেককার সন্তান রাবিয়া ও মুদারের ওপর রহমত বর্ষণ করুন; তাঁরা মাআদ বিন আদনানের খাঁটি ও শ্রেষ্ঠ বংশধর, যারা ইসমাইলের বংশোদ্ভূত, যিনি তাঁর পিতার প্রতি অত্যন্ত অনুগত ছিলেন। সুতরাং তাঁর ওপর এবং আমাদের পিতা ইব্রাহিমের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক, যিনি এক ও পরাক্রমশালী আল্লাহর বন্ধু।

ইসলামপূর্ব ও ইসলাম পরবর্তী সময়ে আরবদের মধ্যে বংশপরিচয় ও আভিজাত্যের সঠিক তথ্যে পৌঁছানোর বিষয়টি আরব গোত্রীয় বংশবিদদের বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু ছিল, বিশেষ করে সেই সংকটের মুহূর্তগুলোতে যখন গোত্রীয় গোঁড়ামি জয়ী হতো। উদাহরণস্বরূপ, আরবের ইতিহাসের সবচেয়ে প্রসিদ্ধ গোত্রগুলো সম্পর্কে নানা পরস্পরবিরোধী মত লক্ষ্য করা যায়, যা জাহিলিয়াত যুগ থেকেই বিদ্যমান। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য মতভেদ হলো কুদাআহ গোত্রের বংশ পরিচয় নিয়ে, যা আদনান এবং হিমইয়ার কাহরানের মধ্যে দোলায়মান। কুদাআহ গোত্রের অন্যতম প্রসিদ্ধ শাখা হলো বালি ও জুহাইনা। একইভাবে সাকিফ গোত্রের বংশ পরিচয় নিয়েও মতভেদ রয়েছে, যদিও ঐতিহাসিক তথ্যপ্রমাণ তাদের বংশকে আদনানি ইয়াদ গোত্রের দিকেই সমর্থন করে, তবুও অধিকাংশ আলিম বলেন যে তারা হাওয়াযিন গোত্রের অন্তর্ভুক্ত—যা আমি দ্বিমত পোষণ করি—এবং ইনশাআল্লাহ আমরা দীর্ঘ বিশ্লেষণের মাধ্যমে তা ব্যাখ্যা করব। একইভাবে খুজাআহ, জুযাম, খাসআম ও বুজাইলাহ গোত্রের বংশ পরিচয়ের ক্ষেত্রেও একই রূপ দেখা যায়। একইভাবে আমরা ইসলাম পরবর্তী সময়ে আত্মপ্রকাশ করা গোত্রগুলোর মধ্যেও উদাহরণ দেখতে পাই, যেমন: হারব, বনি খালিদ ও অন্যান্য গোত্র। এই বিশ্বকোষের এই খণ্ডে আমরা বনি আতিয়্যাহ, মাসায়িদ এবং হাবরিতাত গোত্র সম্পর্কেও আলোচনা করব। বর্তমান শতাব্দীর গবেষকদের মাঝেও অনেক গোত্র নিয়ে আজ অবধি মতভেদ বিদ্যমান। তাঁদের প্রত্যেকের মতামত ঐতিহাসিক সনদ, দলিল, কালানুক্রমিক অনুমান বা মাঠ পর্যায়ের গবেষণা ইত্যাদির ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন দিকে ঝুঁকে থাকে। আমরা ঐতিহাসিক ও যৌক্তিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে তাদের বংশ পরিচয়ের সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য এবং সত্য ও সঠিকতার নিকটবর্তী মতটি স্পষ্ট করব। মহান আল্লাহই আমাদের পথপ্রদর্শক ও দিকনির্দেশক, আর আমরা...
(খণ্ড: ১) মাওসুআতুল কাবাইলিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
واثقون في الله أنه سوف يعطينا الهداية والحق ولا يكلنا إلى أنفسنا طرفة عين، ومن يكله إلى نفسه سوف يجف ريقه ويلهث زائغ البصر وراء حاجته دون جدوي، وإننا نستعين باللّه وحده أن نحسم هذه المشكلات التي هي جسيمة على كاهل المحققين جميعًا وأنا فرد منهم، فدعواتنا للّه أن يوفقنا للحق، واللّه لا يخيِّب رجاء من طلب.

ونلفت نظر القارئ العزيز أنه رغم أن هناك قبائلَ عربية صريحة النسب سواء قحطانية أم عدنانية. ومعنى صراحة النسب هو: معرفة الجد المؤسس لمن يرتد في بطون العرب، والجد المؤسس هو الذي تتسمى به القبيلة وهو أب القبيلة التي يعود له تكون هيكلها وكيانها بداية من الأسرة ثم العائلة ثم العشيرة ثم القبيلة - ورغم صراحة النسب هذه - إلَّا أنه من المستحيل أن تظل قبيلة مقتصرة على ذرية جدها المؤسس لها ولا يدخلها عناصر أخرى خارج عمود نسبها، وكم نجد قبائل قحطانية بها عشائر عدنانية، وكم نجد قبائل عدنانية بها عشائر قحطانية؛ وهذا لأنَّ طبيعة المجتمع القَبَلي العربي منذ فجر التاريخ وحتى هذا القرن دائم التنقل والترحال، إما بحثًا عن موارد الحياة أو لظروف اجتماعية قَبَلية أو لظروف سياسية تتعرض لها بعض الكيانات.

ومنذ الجاهلية والعرب على هذا الحال، وطبقًا لهذه السمة السائدة قد نجد قبيلة أو عشيرة تنضم إلى قبيلة أخرى إما رغبة فيها أو رهبة منها، وتنضوي الأولى تحت اسم الثانية ويندثر اسم القبيلة المنضمة، وقد تنتقل قبيلة إلى ديار قبيلة أخرى بعد ضعفها ثم تتوسع في ديارها وتقطن منازلها التاريخية، وقد تنمو القبيلة من جد مؤسس لها في ديار قبيلة، ثم يتكاثر نسل هذا الجد، وقد يطغى اسمه على سائر القبيلة سواء كان يشترك معها في جذوره الأولى أم يختلف نهائيًّا .. وهكذا فقلما نجد قبيلة عربية صافية على عنصرها الأول أو مقتصرة على عمود نسب مؤسسها. ونعود لقوله تعالى في كتابه العزِيز: { … وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوبًا وَقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوا إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِنْدَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ (13)} [الحجرات: 13].

فقد أعلن دستور السماء هذا المفهوم بوضوح تام في هذه الآية الكريمة، كي يعرف كلّ امرئ من أي قبيل هو، أما ميزته في المجتمع ومنزلته عند الله عز وجل فتتجلى بالتقوى والصلاح، وإذا كان على القبائل والشعوب أن تتعارف وتتآلف على اختلاف مذاهبها ومشاربها وميولها ولغاتها وأجناسها، فكيف بنا نحن العرب
আমরা আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থাশীল যে, তিনি আমাদের হিদায়াত ও সত্য দান করবেন এবং চোখের পলকের জন্যও আমাদের নিজেদের ওপর ছেড়ে দেবেন না; আর যাকে তাঁর নিজের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়, অচিরেই তার কণ্ঠ শুকিয়ে যাবে এবং কোনো সুফল ছাড়াই স্বীয় প্রয়োজন মেটানোর জন্য দৃষ্টি বিভ্রান্ত হয়ে হাঁপাতে থাকবে। আমরা একমাত্র আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করছি যেন এই সমস্যাগুলোর সমাধান করতে পারি, যা সমস্ত গবেষকদের কাঁধের ওপর এক বিশাল বোঝা এবং আমি তাদেরই একজন। সুতরাং আল্লাহর কাছে আমাদের প্রার্থনা, তিনি যেন আমাদের সত্যের পথে চলার তৌফিক দান করেন। আর আল্লাহ এমন কোনো ব্যক্তির আশা ভঙ্গ করেন না যে তাঁর কাছে প্রার্থনা করে।

আর আমরা প্রিয় পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যে, যদিও সেখানে কাহতানি কিংবা আদনানি—সুস্পষ্ট বংশলতিকাসম্পন্ন আরব গোত্র রয়েছে (সুস্পষ্ট বংশলতিকার অর্থ হলো: সেই প্রতিষ্ঠাতাপিতার পরিচয় জানা, যাঁর দিকে আরবের শাখা-প্রশাখাগুলো সম্পৃক্ত হয়। প্রতিষ্ঠাতাপিতা হলেন তিনি, যাঁর নামে গোত্রটি নামাঙ্কিত হয় এবং তিনি হচ্ছেন গোত্রের সেই মূল পিতা যাঁর দিকে গোত্রের গঠন ও কাঠামোর সূত্রপাত হয়—পরিবার থেকে শুরু করে গোষ্ঠী, এরপর বংশ এবং সবশেষে গোত্র পর্যন্ত)। বংশলতিকার এই স্পষ্টতা সত্ত্বেও, কোনো একটি গোত্র কেবল তার প্রতিষ্ঠাতাপিতার বংশধরদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা এবং সেখানে বংশধারার বাইরে অন্য কোনো উপাদানের প্রবেশ না করা একপ্রকার অসম্ভব। আমরা প্রায়শই কাহতানি গোত্রগুলোর মধ্যে আদনানি উপগোষ্ঠী এবং আদনানি গোত্রগুলোর মধ্যে কাহতানি উপগোষ্ঠী দেখতে পাই। এর কারণ হলো, ইতিহাসের ঊষালগ্ন থেকে এই শতাব্দী পর্যন্ত আরব গোত্রীয় সমাজের প্রকৃতিই হলো সর্বদা স্থানান্তর ও যাযাবর জীবনযাপন; হয় জীবনধারণের উপকরণের সন্ধানে, অথবা গোত্রীয় সামাজিক পরিস্থিতির কারণে কিংবা কিছু গোষ্ঠী যে রাজনৈতিক পরিস্থিতির সম্মুখীন হয় তার দরুন।

জাহেলিয়াতের যুগ থেকেই আরবরা এই অবস্থায় রয়েছে এবং এই প্রচলিত বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী আমরা দেখতে পাই যে, কোনো একটি গোত্র বা উপগোষ্ঠী অন্য একটি গোত্রের সাথে যুক্ত হচ্ছে—হয় তাদের প্রতি অনুরাগের কারণে অথবা তাদের ভয়ে। ফলে প্রথমটি দ্বিতীয়টির নামের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায় এবং পূর্ববর্তী গোত্রের নামটি বিলুপ্ত হয়ে যায়। আবার কোনো গোত্র দুর্বল হয়ে যাওয়ার পর অন্য কোনো গোত্রের এলাকায় স্থানান্তরিত হতে পারে, এরপর তাদের এলাকায় বিস্তার লাভ করে তাদের ঐতিহাসিক জনপদে বসবাস শুরু করে। কখনো কখনো কোনো এলাকায় এক প্রতিষ্ঠাতাপিতার মাধ্যমে একটি গোত্রের উদ্ভব হয়, এরপর সেই পিতার বংশধর বৃদ্ধি পায় এবং তার নাম পুরো গোত্রের ওপর প্রাধান্য পায়, চাই সে তাদের আদি মূলের অংশীদার হোক বা পুরোপুরি ভিন্ন হোক। এভাবে আমরা এমন আরব গোত্র খুব কমই পাই যারা তাদের আদি উপাদানের ওপর বিশুদ্ধ রয়েছে অথবা কেবল তাদের প্রতিষ্ঠাতাপিতার বংশধারার ওপর সীমাবদ্ধ রয়েছে। আমরা মহান আল্লাহর কিতাবের সেই বাণীর দিকে ফিরে যাই: { ... এবং আমি তোমাদের বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি যাতে তোমরা একে অপরের সাথে পরিচিত হতে পার। নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই অধিক মর্যাদাবান যে তোমাদের মধ্যে অধিক মুত্তাকি। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সম্যক অবহিত। (১৩)} [আল-হুজুরাত: ১৩]।

আসমানি বিধান এই সুমহান আয়াতে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে এই ধারণাটি ঘোষণা করেছে, যাতে প্রত্যেক ব্যক্তি জানতে পারে সে কোন গোত্রের অন্তর্ভুক্ত। আর সমাজে তার বৈশিষ্ট্য এবং মহান আল্লাহর কাছে তার মর্যাদা তাকওয়া ও সততার মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। যদি বিভিন্ন মাযহাব, মতাদর্শ, প্রবৃত্তি, ভাষা ও বর্ণের হওয়া সত্ত্বেও বিভিন্ন গোত্র ও জাতির জন্য একে অপরের সাথে পরিচিত হওয়া ও সম্প্রীতি বজায় রাখা আবশ্যক হয়, তবে আমাদের আরবদের অবস্থা কেমন হওয়া উচিত—
(খণ্ড: ১) মাওসুআতুল কাবাইলিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
أن نحجم عن التعارف والتآلف والتآخي ونحن أمة كرمها الخالق سبحانه وتعالى. ونؤكد أن علم النسب أداة للتعارف، لا أداة للتفاضل أو التعالي أو التباغض أو التنافر، بل هذا العلم هو الوسيلة النبيلة التي تنمي في الشعوب الألفة والترابط الاجتماعي، الذي يستمد منه المرء الحميَّة والنخوة والشهامة والقوة لإثبات ذاته أو كيانه الصغير المتمثل في أسرته وعشيرته التي تؤويه ومن ثم بقبيلته التي يُعزى إليها، وأخيرًا في قومه ومجتمعه العربي الكبير الذي يضم أبناء جنسه وجلدته، وهكذا ينمي هذا العلم بعطاء وجداني وعاطفي لكل إنسان عربي أصيل ويجدد العزم والبأس، ليهُبَّ دائمًا إذا دعا الداعي مع قومه ليحمي الحمى والذمار، ويصون المقدسات والحُرُمات، ويذود عن الأرض والعرض والكرامة في أنحاء وطننا العربي العزيز، وهذا ما يحتمه عصرنا في عالم اليوم الذي تتكتل فيه الشعوب والدول رغم اختلاف مشاربها وأجناسها ولغاتها، وذلك من أجل إظهار القوة والهيمنة على الآخرين وذلك بشتى الطرق والوسائل، إذن فلابد لنا - نحن العرب - في هذا العصر أن نطبِّق كلام الله عز وجل: {وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُوا .... } [آل عمران: 103]، وهذا هو الحل أن نطبق كلامه ونسير بروح القرآن العظيم، وأن نفرَّ إلى الخالق ليمنحنا الثبات والصبر، لننال العزة والرفعة دائمًا كما أرادها الله لنا ومَنَّ بها علينا دون سائر الأمم والشعوب.

إن الإنسان العربي الحر يميل بشدة إلى البحث عن هويته العربية، وحقيقة معدنه وجذوره وشجرة نسبه التي فيها حسبه وأصله وجنسه العربي السامي الكريم، وهذه سمة من سمات العرب منذ فجر التاريخ وحتى الآن، ولأن العرب هم في الأصل أُناس قَبَليون لا شعوبيون، أي لَمْ تذب فيهم الأرومات والأصول والأحساب والأنساب؛ ولذلك نجد أن عنصرهم يتميز بالنقاء، وتتضح الصورة جلية في شتى الأقطار العربية وكما نراها حتى اليوم في تلك الكيانات القبلية المتماسكة والتي ما زالت تحافظ على عنصرها وتراثها وجذورها ونقاء معدنها، وكما أننا نرى أيضًا أن لكل قبيلة عربية مجدها وتاريخها التليد الراسخ في أعماق أبنائها يفاخرون به قولًا أو نثرًا أو شعرًا، وسيظل ذلك التاريخ عن ماضي الأجداد مطبوعًا في العقول لا يُنسى جيلًا وراء جيل، كما كان متناقلًا عن الأسلاف كابرا عن كابر. وحقًّا، فالتنافس الشريف والنبيل بين قبائل العرب والذي يحث على
আমাদের জন্য পরিচিতি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ব থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া অনুচিত, অথচ আমরা এমন এক জাতি যাদের মহান সৃষ্টিকর্তা সুবহানাহু ওয়া তাআলা সম্মানিত করেছেন। আমরা নিশ্চিত করছি যে, বংশতত্ত্বের জ্ঞান হলো পারস্পরিক পরিচিতির একটি মাধ্যম, শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ, অহংকার, বিদ্বেষ বা বিচ্ছিন্নতার কোনো হাতিয়ার নয়; বরং এই জ্ঞান হলো সেই মহান মাধ্যম যা জাতিগুলোর মধ্যে সম্প্রীতি ও সামাজিক বন্ধন বৃদ্ধি করে। এর মাধ্যমেই একজন ব্যক্তি তার আত্মমর্যাদা, বীরত্ব, সাহসিকতা এবং নিজের অস্তিত্ব বা তার ক্ষুদ্র সত্তাকে প্রমাণের শক্তি লাভ করে, যা তার পরিবার ও তাকে আশ্রয় দানকারী বংশের মাধ্যমে এবং পরবর্তীতে তার গোত্রের মাধ্যমে প্রকাশিত হয় যার সাথে সে সম্বন্ধযুক্ত। অবশেষে এটি তার জাতি এবং বৃহত্তর আরব সমাজের সাথে তাকে যুক্ত করে, যা তার স্বগোত্রীয় ও সমজাতীয় লোকদের অন্তর্ভুক্ত করে। এভাবেই এই জ্ঞান প্রতিটি খাঁটি আরব ব্যক্তির মধ্যে আধ্যাত্মিক ও আবেগীয় প্রেরণা সঞ্চার করে এবং সংকল্প ও সাহসকে পুনরুজ্জীবিত করে, যাতে যখনই কোনো আহ্বানকারী ডাক দেয়, সে সর্বদা তার জাতির সাথে মিলে সীমানা ও মর্যাদা রক্ষা করতে, পবিত্র স্থান ও অলঙ্ঘনীয় বিষয়গুলো হেফাজত করতে এবং আমাদের প্রিয় আরব ভূখণ্ডের সর্বত্র ভূমি, ইজ্জত ও সম্মান রক্ষা করতে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে। বর্তমান বিশ্বের এই যুগে এটিই সময়ের দাবি, যেখানে বিভিন্ন জাতি ও রাষ্ট্র তাদের ভিন্ন ভিন্ন মতাদর্শ, বর্ণ ও ভাষা থাকা সত্ত্বেও জোটবদ্ধ হচ্ছে, যাতে বিভিন্ন উপায়ে ও পন্থায় অন্যদের ওপর শক্তি ও আধিপত্য বিস্তার করা যায়। সুতরাং, এই যুগে আমাদের আরবদের জন্য মহান আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লার বাণী পালন করা অপরিহার্য: "তোমরা সকলে আল্লাহর রশি শক্তভাবে ধারণ করো এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না..." [আল-ইমরান: ১০৩]। আর এটিই হলো একমাত্র সমাধান যে, আমরা তাঁর বাণী বাস্তবায়ন করব এবং মহান কুরআনের আদর্শ অনুযায়ী পরিচালিত হব, এবং আমরা সৃষ্টিকর্তার দিকে ধাবিত হব যাতে তিনি আমাদের দৃঢ়তা ও ধৈর্য দান করেন, যার ফলে আমরা সর্বদা সেই মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করতে পারি যা আল্লাহ আমাদের জন্য নির্ধারণ করেছেন এবং অন্যান্য সকল জাতি ও গোষ্ঠীর তুলনায় আমাদের দান করেছেন।

নিশ্চয়ই একজন স্বাধীন আরব ব্যক্তি তার আরব পরিচয়, তার সত্তার প্রকৃত বৈশিষ্ট্য, শিকড় এবং বংশলতিকা অনুসন্ধানের প্রতি প্রবল আগ্রহ বোধ করেন, যেখানে তার আভিজাত্য, মূল ভিত্তি এবং সম্মানিত সামী আরব পরিচয় নিহিত রয়েছে। এটি ইতিহাসের ঊষালগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত আরবদের অন্যতম চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। কারণ আরবরা মূলত গোত্রভিত্তিক মানুষ, তারা জাতিবাদী নয়; অর্থাৎ তাদের মূল উৎস, আভিজাত্য এবং বংশধারা অন্যের মাঝে বিলীন হয়ে যায়নি। এ কারণেই আমরা দেখতে পাই যে তাদের জাতিগত সত্তা অত্যন্ত বিশুদ্ধ। এই বিষয়টি বিভিন্ন আরব ভূখণ্ডে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়, যেমনটি আমরা আজও সেই সুসংহত গোত্রীয় কাঠামোগুলোর মধ্যে দেখতে পাই যারা এখনও তাদের জাতিগত বৈশিষ্ট্য, ঐতিহ্য, শিকড় এবং সত্তার বিশুদ্ধতা বজায় রেখেছে। একইভাবে আমরা আরও দেখি যে, প্রতিটি আরব গোত্রের রয়েছে নিজস্ব গৌরব ও সুপ্রাচীন ইতিহাস যা তাদের সন্তানদের হৃদয়ের গভীরে প্রোথিত, যা নিয়ে তারা কথাবার্তায়, গদ্যে বা কবিতায় গর্ব প্রকাশ করে। পূর্বপুরুষদের সেই গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস প্রজন্মের পর প্রজন্ম একইভাবে মানুষের স্মৃতিতে অম্লান হয়ে থাকবে, যেভাবে তা পূর্ববর্তীদের কাছ থেকে বড়দের মাধ্যমে ছোটদের কাছে ধারাবাহিকভাবে হস্তান্তরিত হয়ে আসছে। আর প্রকৃতপক্ষে, আরব গোত্রগুলোর মধ্যে বিদ্যমান এই সম্মানজনক ও মহৎ প্রতিযোগিতা, যা উৎসাহিত করে...
(খণ্ড: ১) মাওসুআতুল কাবাইলিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
مكارم الأخلاق والتمسك بالشِّيم الكريمة والخصال الحصِدة، جدير بالقول والرضا من المولى عز وجل، وثانيًا فهو مرغوب من سائر المجتمع العربي من المحيط إلى الخليج، وكما أن الاحترام المتبادل بين القبائل العربية يُولِّد الألفة والمودة والمحبة بين أبناء تلك القبائل، وهذا ما يحبذه ديننا الإسلامي، وبالتالي تصبح الشعوب العربية في مجموعها في تعاضد وترابط متين أساسه الأصل واللغة والدين والطباع الواحدة والموطن الممتد والمصير المشترك، وهذا لأنَّ الترابط والالتحام والتآخي هو حجر الأساس القوي لبناء مجتمعنا العربي الإسلامي الحر الأبي، والذي يتمثل في بيت عربي واحد يحمل على كاهله أحمالا كالجبال الراسيات لا يميل ولا يتزعزع له ركن ولا ينقض(1) له جانب على مدى الدهر حتى يرث الله الأرض ومن عليها.

إن سمو معدن العرب قد بينه الخالق سبحانه وتعالى عندما خلق الخلق واختار بني آدم وفضَّلهم على كثير من خلقه تفضيلًا، ثم اختار العرب وكرَّمهم واصطفى منهم سيد المرسلين، خير الورى محمد صلى الله عليه وسلم؛ ليكون هداية لسائر البشرية بل وهداية الثقلين من الإنس والجن .. وعلى ذلك فإن بغض العرب نفاق من جهة الشرع، أما من جهة العقل فقد ثبت بالتواتر المحسوس المشاهد أن العرب أكثر النّاس سخاء ومروءة وشهامة وبلاغة وفصاحة، ولسانهم أتم الألسنة بيانًا وتمييزًا للمعاني، وذلك بتجميع المعاني الكثيرة باللفظ القليل، ويُميِّز بين كلّ لفظين متشابهين بلفظ آخر مختصر، إلى غير ذلك من حقائق اللسان العربي الفصيح الذي كرَّمه المولى عز وجل وجعل أهل الجَنَّة يتكلمون به، وعَدَنا وسائر المؤمنين بها إن شاء الله تعالى.

إن تراث ومجد كلّ قبيلة عربية هو في الحقيقة جزء من كلّ تراث ومجد الأمة العربية، وهذا التراث يسطع بنوره في كوكب الأرض، ويجعلنا نحن العرب من بدو وحضر نرفع هاماتنا بين سائر الأمم، ولتبقى بحول الله عروبتنا شامخة دائمًا وأبدًا لينطبق علينا قولٌ الحق تبارك وتعالى: {كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ … } [آل عمران: 110]. وهكذا فالحالة الوجدانية والعقلية عند أبناء القبائل العربية تمثل هوية شخصية تُشعر المجموعة المحلية بكيانها كشعب وأمة متماسكة مترابطة الجذور متضامنة مع نفسها متآزرة في السرَّاء والضرَّاء، وهكذا هم العرب

--------------------------------------------

(1) ينقض: يتقوض أو ينهار، حفظ الله أمتنا من الإنهيار ووفق ولاة أمورها لما فيه الخير والصلاح.
উন্নত নৈতিকতা এবং মহৎ চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও সুদৃঢ় গুণাবলি আঁকড়ে ধরা মহান প্রতিপালকের নিকট প্রশংসনীয় ও সন্তুষ্টির যোগ্য। দ্বিতীয়ত, এটি মহাসাগর থেকে মহাসাগর পর্যন্ত সমগ্র আরব সমাজের নিকট কাঙ্ক্ষিত। ঠিক যেমন আরব গোত্রগুলোর মধ্যকার পারস্পরিক শ্রদ্ধা সেই গোত্রগুলোর সদস্যদের মাঝে হৃদ্যতা, সৌহার্দ্য ও ভালোবাসা সৃষ্টি করে; আর আমাদের ইসলাম ধর্ম এটিই পছন্দ করে। এর ফলে আরব জাতিসমূহ সামগ্রিকভাবে একটি মজবুত সংহতি ও বন্ধনে আবদ্ধ হয়, যার ভিত্তি হলো বংশসূত্র, ভাষা, ধর্ম, অভিন্ন স্বভাব, বিস্তৃত স্বদেশ এবং অভিন্ন ভবিষ্যৎ। কারণ সংহতি, একতা ও ভ্রাতৃত্ব হলো আমাদের স্বাধীন ও আত্মমর্যাদাশীল আরব-ইসলামি সমাজ বিনির্মাণের শক্তিশালী ভিত্তিপ্রস্তর। যা একটি একক আরব গৃহের ন্যায়, যা তার কাঁধে অটল পাহাড়ের ন্যায় গুরুভার বহন করে; যার কোনো কোণ কখনো হেলে পড়ে না বা বিচলিত হয় না এবং সময়ের পরিক্রমায় যার কোনো অংশই ভেঙে পড়ে না(১) যতক্ষণ না আল্লাহ পৃথিবী ও তার অধিবাসীদের উত্তরাধিকারী হন।

আরবদের মূল উপাদানের শ্রেষ্ঠত্ব সৃষ্টিকর্তা সুবহানাহু ওয়া তাআলা তখনই স্পষ্ট করেছেন যখন তিনি সৃষ্টিজগত সৃষ্টি করলেন এবং আদম সন্তানকে মনোনীত করলেন ও তাঁর সৃষ্টির অনেকের উপর তাদের বিশেষভাবে শ্রেষ্ঠত্ব দান করলেন। এরপর তিনি আরবদের মনোনীত করলেন ও তাদের সম্মানিত করলেন এবং তাদের মধ্য থেকেই রাসূলগণের সরদার, সৃষ্টির সেরা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নির্বাচিত করলেন; যাতে তিনি সমগ্র মানবজাতির জন্য হেদায়েত এবং জিন ও ইনসান—উভয় জগতের জন্য পথপ্রদর্শক হতে পারেন। আর সে অনুযায়ী, আরবদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা শরীয়তের দৃষ্টিতে মুনাফিকি। আর যুক্তির নিরিখে প্রত্যক্ষ ও নিরবচ্ছিন্নভাবে এটি প্রমাণিত যে, আরবরা মানুষের মধ্যে সর্বাধিক দানশীল, উন্নত মানবতাবোধসম্পন্ন, বীরত্বপূর্ণ, অলঙ্কারপূর্ণ ও প্রাঞ্জলভাষী। তাদের ভাষা বর্ণনাশৈলী ও অর্থের পার্থক্যের ক্ষেত্রে সকল ভাষার চেয়ে পূর্ণাঙ্গ, যা অল্প শব্দের মাধ্যমে অনেক অর্থকে একত্রিত করে এবং প্রতিটি সদৃশ শব্দের মাঝে অন্য একটি সংক্ষিপ্ত শব্দের মাধ্যমে পার্থক্য নিরূপণ করে। এছাড়া বিশুদ্ধ আরবি ভাষার আরও অনেক বৈশিষ্ট্য রয়েছে যাকে মহান প্রতিপালক সম্মানিত করেছেন এবং জান্নাতবাসীদের ভাষা হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, যা তিনি আমাদের এবং সকল মুমিনদের জন্য প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, ইনশাআল্লাহু তাআলা।

প্রত্যেকটি আরব গোত্রের ঐতিহ্য ও গৌরব মূলত সমগ্র আরব উম্মাহর ঐতিহ্য ও গৌরবেরই অংশ। এই ঐতিহ্যের আলো পৃথিবী নামক গ্রহে উদ্ভাসিত হয় এবং এটি আমাদের—বেদুইন ও নগরবাসী সকল আরবকে—অন্যান্য জাতির মাঝে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে শেখায়। আল্লাহর শক্তিতে আমাদের আরব পরিচয় যেন সর্বদা সমুন্নত থাকে এবং আমাদের ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর এই সত্য বাণীটি প্রযোজ্য হয়: {তোমরাই হলে সর্বোত্তম উম্মত, যাদের মানবজাতির কল্যাণের জন্য আবির্ভূত করা হয়েছে...} [আলে ইমরান: ১১০]। এভাবেই আরব গোত্রসমূহের সন্তানদের আবেগীয় ও মানসিক অবস্থা একটি ব্যক্তিগত পরিচয়কে তুলে ধরে, যা স্থানীয় জনসমষ্টিকে একটি সুসংহত জাতি ও উম্মাহ হিসেবে নিজের অস্তিত্বের অনুভূতি দান করে, যাদের শিকড় একে অপরের সাথে যুক্ত, যারা নিজেদের মধ্যে সংহতিবদ্ধ এবং সুখে ও দুঃখে একে অপরের সহযোগী। আর আরবরা এমনই।

--------------------------------------------

(১) ভেঙে পড়া: ধসে পড়া বা ধ্বংস হওয়া। আল্লাহ আমাদের উম্মাহকে ধ্বংস হওয়া থেকে রক্ষা করুন এবং এর শাসকদের কল্যাণ ও সংশোধনের কাজে তাওফিক দান করুন।
(খণ্ড: ১) মাওসুআতুল কাবাইলিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
بشهامتهم الفائقة وشيمهم الرفيعة والنبيلة منذ فجر التاريخ وستظل - بإذن الله - ما دامت تشرق الشمس من المشرق.

ومما لا ريب فيه أن القبيلة في مفهومها ككيان متماسك، بعكس ما ينعتها البعض من المائلين إلى الشعوبية البحتة، والذين يخالفون قول الحق سبحانه وتعالى: { … وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوبًا وَقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوا إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِنْدَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ (13)} [الحجرات: 13]، هنا ربنا عز وجل في كتابه العَزيز قد قرن القبائل مع الشعوب وذكر الأمة على حدة، مما يدلُّ على حتمية وجود الكيانات القَبَلية في المجتمع، ولأن الأمة تتكون من عنصرين: الشعوب والقبائل. وهؤلاء أيضًا ينعتون القبيلة بأنها أداة رجعية قديمة متخلفة تمثل تكتلًا اجتماعيًا موحدًا يكون قائمًا على رابطة الدم والأصل المشترك، للدفاع عن مصلحة مشتركة تهم هذا التكتل فقط في البيئة المحيطة به!، فهذا الرأي باطل ومرفوض؛ لأنَّ الإسلام نظَّم هذا الكيان المتمثل في القبائل وأزال عنه كلّ العادات المستهجنة مثل حمية الجاهلية الأولى، فأصبحت الحمية للحق والخير، هذا لمن ينهجون طبعًا أو يتمسكون بتعاليم الإسلام من شتى القبائل في الوطن العربي الكبير، ثانيًا فلابد من التعريف بأن الكيان القَبَلي كتجمُّع تلقائي متماسك البنيان إذا سخره الرجال المصلحون كان خيرًا للمجتمع بأثره، ولقد سخرهُ المجاهدون والأبطال في جزيرة العرب وجمعوا القبائل بحَميَّة الإسلام والعروبة وقد حَطَّموا أعتى الإمبراطوريات في الماضي قبل ثلاثة عشر قرنًا من الزمان، وقد فتح اللهُ على هذه القبائل التي أصبحت جماعة واحدة بعد أن كانت شتى ومتناحرة، وبفضل الإسلام فتح على أيديهم الأمصار والمدن في مشارق الأرض ومغاربها، وقد انتشر الدين الحنيف في بقاع الأرض على أيدي رجال وفرسان من عدنان وقحطان سجل لهم التاريخ صفحات كُتبت من نور، وكما سخر الكيانات القَبَلية زعماء وقادة العرب على مر تاريخ العرب بعد الإسلام وحتى منتصف هذا القرن، وذلك في مقاومة الغزوات الاستعمارية الشرسة على ترابنا العربي الطهور سواء في المشرق أم المغرب، ولا ينكر ناكر ولا يجحد جاحد بأن الفضل للّه ثم في هذا التكتل الاجتماعي التلقائي المتمثل في تماسك القبائل العربية في نواح كثيرة من البلاد العربية؛ وذلك في المحافظة على ديارنا العربية الإسلامية حُرَّة أبيَّة، كما نتمتع نحن أبناء هذا الجيل بها بعد زوال كابوس
ইতিহাসের ঊষালগ্ন থেকে তাদের সুউচ্চ বীরত্ব এবং সুমহান ও মহৎ চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে এবং আল্লাহর ইচ্ছায় তা অব্যাহত থাকবে যতক্ষণ সূর্য পূর্ব দিক থেকে উদিত হবে।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, গোত্র তার ধারণাগত দিক থেকে একটি সুসংহত সত্তা, তাদের দাবির বিপরীতে যারা নিছক শুউবিয়াহ বা উগ্র জাতীয়তাবাদের দিকে ঝুঁকে একে বিশেষায়িত করে এবং যারা সত্যময় আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার বাণীর বিরোধিতা করে: { ... এবং আমি তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি যাতে তোমরা একে অপরের সাথে পরিচিত হতে পারো। নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে তোমাদের মধ্যে সেই সবচেয়ে বেশি সম্মানিত, যে তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মুত্তাকী। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সম্যক অবহিত। (১৩)} [হুজুরাত: ১৩], এখানে আমাদের রব আযযা ওয়া জাল্লা তাঁর সম্মানিত কিতাবে গোত্রসমূহকে জাতিসমূহের সাথে যুক্ত করেছেন এবং উম্মাহর কথা আলাদাভাবে উল্লেখ করেছেন, যা সমাজে গোত্রীয় সত্তার অস্তিত্বের আবশ্যকতা নির্দেশ করে; কারণ উম্মাহ দুটি উপাদানে গঠিত: জাতিসমূহ এবং গোত্রসমূহ। তারা গোত্রকে একটি সেকেলে, প্রাচীন ও পশ্চাৎপদ হাতিয়ার হিসেবেও আখ্যায়িত করে যা রক্ত এবং অভিন্ন বংশীয় সম্পর্কের ভিত্তিতে গঠিত একটি ঐক্যবদ্ধ সামাজিক জোটের প্রতিনিধিত্ব করে, যার উদ্দেশ্য কেবল তার চারপাশের পরিবেশে উক্ত জোটের সংশ্লিষ্ট সাধারণ স্বার্থ রক্ষা করা! এই মতটি বাতিল ও প্রত্যাখ্যাত; কারণ ইসলাম গোত্রের মাধ্যমে প্রতিনিধিত্বশীল এই সত্তাকে সুশৃঙ্খল করেছে এবং তা থেকে প্রাক-ইসলামী জাহেলিয়াতের অন্ধ পক্ষপাতের মতো সমস্ত নিন্দনীয় রীতিনীতি দূর করেছে। ফলে এই পক্ষপাত এখন সত্য ও কল্যাণের জন্য নির্দিষ্ট হয়েছে; এটি অবশ্যই তাদের জন্য যারা বিশাল আরব ভূখণ্ডের বিভিন্ন গোত্রের মধ্য থেকে ইসলামের শিক্ষা অনুসরণ করে বা তা আঁকড়ে ধরে। দ্বিতীয়ত, এটি পরিচিত করা আবশ্যক যে, একটি সুসংহত কাঠামোর স্বতঃস্ফূর্ত সমাবেশ হিসেবে গোত্রীয় সত্তাকে যদি সংস্কারক ব্যক্তিগণ কাজে লাগান, তবে তা সমগ্র সমাজের জন্য কল্যাণকর হয়। আরব উপদ্বীপের মুজাহিদ ও বীরগণ এটিকে কাজে লাগিয়েছিলেন এবং ইসলাম ও আরবীয় চেতনায় গোত্রগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। তাঁরা তেরো শতাব্দী আগে অতীতে শক্তিশালী সাম্রাজ্যগুলোকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিয়েছিলেন। আল্লাহ এই গোত্রগুলোর জন্য বিজয়ের দ্বার উন্মোচন করে দিয়েছেন যারা বিভিন্ন দল ও উপদলে বিভক্ত এবং বিবাদমান থাকার পর এক জামাতে পরিণত হয়েছিল। ইসলামের বদৌলতে তাদের হাতে পৃথিবীর পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তের জনপদ ও শহরগুলো বিজিত হয়েছে। আদনান ও কাহতান বংশের এমন সব পুরুষ ও অশ্বারোহীদের হাতে পৃথিবীর আনাচে-কানাচে এই হানিফ দ্বীন ছড়িয়ে পড়েছে, যাদের জন্য ইতিহাস নূরের অক্ষরে লেখা পৃষ্ঠাগুলো লিপিবদ্ধ করে রেখেছে। ইসলামের পরবর্তী আরব ইতিহাসের পরিক্রমায় এই শতাব্দীর মধ্যভাগ পর্যন্ত আরব নেতা ও অধিনায়কগণ আমাদের পবিত্র আরব ভূমিতে—তা প্রাচ্য হোক বা পাশ্চাত্য—হিংস্র ঔপনিবেশিক আগ্রাসনের মোকাবিলায় গোত্রীয় সত্তাগুলোকে একইভাবে কাজে লাগিয়েছেন। কোনো অস্বীকারকারীই এটি অস্বীকার করতে পারবে না যে, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর এবং অতঃপর আরব দেশগুলোর বহু প্রান্তে আরব গোত্রগুলোর সুসংহতির মাধ্যমে প্রকাশিত এই স্বতঃস্ফূর্ত সামাজিক জোটের, যা আমাদের আরব-ইসলামী ভূখণ্ডকে স্বাধীন ও মর্যাদাপূর্ণ রাখতে ভূমিকা রেখেছে; যার সুফল বর্তমান প্রজন্মের সন্তান হিসেবে আমরা ভোগ করছি দুঃস্বপ্নের অবসানের পর...
(খণ্ড: ১) মাওসুআতুল কাবাইলিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
المستعمرين الغرباء عن بلادنا في مختلف الأرجاء. وحقًّا، فقد كانت القبائل العربية وستظل حصنًا وملاذًا في الظروف الحالكة التي مرت بها أمتنا، كما كانت دومًا ينبوعًا وكنزًا ثمينًا يمد المقاومة العربية ضد حملات الغزاة بموجات وموجات من الرجال والأبطال، الذين اقتحموا غمرات الوغى بعزم صادق على أمل النصر أو الشهادة، وقد سقط الآلاف بل الملايين من أبناء العرب في هذين القرنين الأخيرين. فما بالنا في القرون الأولى فلن نحصر آلاف الشهداء العرب الأبرار الذين روت دماؤهم ثرى بلادنا الطهور، وقد سقطوا في ساحة الشرف والجهاد والحق، ذودًا عن الكرامة العربية وذودًا عن أهليهم وديارهم، ورغم بعض التناحر القَبَلي الذي كان فى جهات عديدة من بلادنا العربية وفي أزمان مختلفة، إلَّا أن هذا الشيء لَمْ يَفُت في عضد الأمة العربية في مجموعها وفي شكلها العام كأمة راسخة البنيان قوية الأركان، فالعربي من أقوى وأشد المتعصبين لأبناء قومه وجلدته، لا يقبل ولا ينام على ضيم حل بهم من أي جنس، ونجد أن الحمية والنخوة العربية تجري في عروق أي عربي مجرى الدم، فهذه فطرة فطرها الله لنا وجُبلنا عليها ونراها تترجم دائمًا بصورة تلقائية إلى طاقة هائلة وشحنة متقدة من هبتنا لحماية الذمار والديار العربية في أي وقت، ولا يأبه العربي باي خلاف جانبي عارض مع إخوانه الآخرين سواء عشيرة أم قبيلة أم حتى شعب بأكمله!، هذه المبادئ وتلك الصفات التي تغلب على طابعنا نحن العرب، وما أجملها من صفات، فحيَّا الله العرب على مر الزمان، وعاش كلّ من رفع لمجد وعزة العرب الرايات، وعروبتنا المجيدة - بعون الله تعالى - لن ينطفئ نجمها ولن يخمد ذكرها بين الأمم، ما دام أبناؤها البررة المصلحون يتحلون بالحق والإخلاص والجهاد في شتى الميادين. فلنضع نصب أعيننا تاريخ وأمجاد أجدادنا البهرام ليكونوا لنا قدوة، بهم نقتدي، وبمبادئهم نحتذي، وعلى عهدهم نسير، وعلى نهجهم نخطو في حاضرنا المشرق بالأمل والخير، ومستقبلنا الزاهر إن شاء الله، ونحمد الله .. فأُمتنا العربية ذاخرة دائمًا في كلّ العصور بالقادة والمصلحين والعلماء المفكرين والرجال المخلصين الذين يجعلون سائر الأمم يشيرون للعرب بالبنان ويعطونهم حقهم من التقدير والاحترام.

المؤلف

محمد سليمان الطيب

القاهرة "مصر العربية"
বিভিন্ন প্রান্তের আমাদের দেশগুলোতে আগত বিদেশী উপনিবেশবাদীগণ। আর প্রকৃতপক্ষে, আরব গোত্রগুলো আমাদের জাতির ওপর দিয়ে অতিক্রান্ত হওয়া অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিস্থিতিতে সর্বদা একটি দুর্গ ও নিরাপদ আশ্রয়স্থল ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। যেমনটি তারা সর্বদা একটি প্রস্রবণ এবং মূল্যবান ভাণ্ডার হিসেবে কাজ করেছে, যা আক্রমণকারীদের অভিযানের বিরুদ্ধে আরব প্রতিরোধকে বীর ও পুরুষদের ঢেউয়ের পর ঢেউ দিয়ে জোগান দিয়েছে। তারা বিজয় অথবা শাহাদাতের আশায় একনিষ্ঠ সংকল্প নিয়ে যুদ্ধের বিভীষিকায় ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। গত এই দুই শতাব্দীতে আরব সন্তানদের হাজার হাজার নয় বরং লক্ষ লক্ষ ব্যক্তি শাহাদাতবরণ করেছেন। তাহলে প্রথম শতাব্দীগুলোর কথা আর কী বলার থাকে! আমরা সেই হাজার হাজার সৎ আরব শহীদদের সংখ্যা গণনা করতে পারব না যাদের রক্ত আমাদের দেশের পবিত্র মাটিকে সিক্ত করেছে। তারা আরব মর্যাদা রক্ষা এবং তাদের পরিবার ও ভূখণ্ড রক্ষার তাগিদে সম্মান, জিহাদ ও হকের ময়দানে শাহাদাতবরণ করেছেন। আমাদের আরব ভূখণ্ডের বিভিন্ন স্থানে এবং বিভিন্ন সময়ে যদিও কিছু গোত্রীয় সংঘাত বিদ্যমান ছিল, তবুও এটি সামগ্রিকভাবে এবং বাহ্যিক রূপরেখায় একটি সুদৃঢ় ভিত্তি ও শক্তিশালী স্তম্ভের অধিকারী জাতি হিসেবে আরব জাতির শক্তিকে দুর্বল করতে পারেনি। কেননা একজন আরব তার স্বজাতি এবং স্বগোত্রের লোকদের প্রতি অত্যন্ত শক্তিশালী ও কঠোর অনুরাগী; সে কোনো জাতির পক্ষ থেকে তাদের ওপর আপতিত হওয়া কোনো জুলুম বা অবিচার মেনে নেয় না এবং তাতে নিশ্চিন্তে বসে থাকতে পারে না। আমরা দেখতে পাই যে, আরবীয় আত্মমর্যাদাবোধ ও বীরত্ব যে কোনো আরবের শিরায় রক্তপ্রবাহের মতো প্রবাহিত হয়। এটি এমন এক ফিতরাত বা স্বভাব যা আল্লাহ আমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন এবং যার ওপর আমাদের মজ্জাগতভাবে গঠন করেছেন। আমরা দেখতে পাই যে এটি সর্বদা স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি বিশাল শক্তি এবং প্রজ্বলিত আবেগে রূপান্তরিত হয় যখনই আমাদের সম্মান ও আরব ভূখণ্ড রক্ষার আহ্বান আসে। আর একজন আরব তার অন্য ভাইদের সাথে কোনো আকস্মিক পার্শ্বীয় বিরোধের পরোয়া করে না, তা কোনো বংশীয় হোক বা গোত্রীয় হোক এমনকি একটি পুরো জাতির সাথেই হোক না কেন! এই নীতিসমূহ এবং এই বৈশিষ্ট্যসমূহ আমাদের আরবীয় চরিত্রের ওপর প্রাধান্য বিস্তার করে আছে, আর এগুলো কতই না সুন্দর গুণাবলী। আল্লাহ যুগে যুগে আরবদের কল্যাণ দান করুন এবং দীর্ঘজীবী হোক তারা যারা আরবের গৌরব ও সম্মানের পতাকাকে সমুন্নত করেছে। আমাদের মহিমান্বিত আরবত্ব—আল্লাহ তাআলার সাহায্যে—জাতির মাঝে এর নক্ষত্র কখনও নিভে যাবে না এবং এর আলোচনা কখনও স্তিমিত হবে না, যতক্ষণ এর সৎ ও সংস্কারকামী সন্তানরা সত্য, একনিষ্ঠতা এবং বিভিন্ন ময়দানে জিহাদের গুণাবলীতে ভূষিত থাকবে। অতএব, আসুন আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের উজ্জ্বল ইতিহাস ও গৌরবকে আমাদের চোখের সামনে রাখি যেন তারা আমাদের জন্য আদর্শ হতে পারেন। আমরা তাদের অনুসরণ করি, তাদের নীতিমালার অনুকরণ করি, তাদের অঙ্গীকারের ওপর অটল থাকি এবং তাদের পথ অনুসরণ করে আমাদের বর্তমানকে আশা ও কল্যাণে উজ্জ্বল করি এবং ইনশাআল্লাহ আমাদের ভবিষ্যৎকে সমৃদ্ধ করি। আর আমরা আল্লাহর প্রশংসা করছি... কেননা আমাদের আরব জাতি প্রতিটি যুগে সর্বদা এমন সব নেতা, সংস্কারক, চিন্তাবিদ আলেম এবং একনিষ্ঠ ব্যক্তিদের দ্বারা সমৃদ্ধ ছিল, যারা অন্যান্য জাতিসমূহকে আরবদের প্রতি অঙ্গুলিনির্দেশ করতে বাধ্য করে এবং তাদের প্রাপ্য মর্যাদা ও সম্মান প্রদান করে।

লেখক

মুহাম্মদ সুলাইমান আল-তাইয়েব

কায়রো "আরব প্রজাতন্ত্র মিসর"
(খণ্ড: ১) মাওসুআতুল কাবাইলিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌أهمية علم النسب

لقد جعل الله سبحانه وتعالى للعرب مكانة مرموقة ورفيعة بين الأمم، وكرَّمهم وأعلى قدرهم، حيث قال سبحانه وتعالى في كتابه العزيز: {كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ … (110)} [آل عمران: 110].

فعلم النسب للقبائل العربية له منزلة عليَّة ومكان رفيع وجلالة قدر بين العلوم الإنسانية والاجتماعية، وقد كان لأبي بكر الصديق رضي الله عنه وأرضاه - الجانب الأوفر والقدح المُعلَّى والمقام الرفيع في علم أنساب العرب، مما يؤكد شرف هذا العلم وأهميته. وقد حث عليه نبينا الكريم صلى الله عليه وسلم في مواضع كثيرة، وأهمية هذا العلم تبرز في عدة أمور منها:

أ - أن العلم بنسب النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم ضرورة مُلِحَّة لصحة الإيمان بأنه النَّبِيّ الهاشمي القرشي العدناني، وكان يسكن بمكة المكَرمة ثم هاجر إلى المدينة المنورة.

ب - حتمية هذا العلم للناس لحرمة أن ينسب أحد لغير آبائه، أو يُعْزى لغير أصله الذي نبع منه، حتى لو حالف أو دخل في عشيرة أو قبيلة أخرى تحت أي ظروف كانت، فلابد لمثل هذا أن يُلِمَّ أو يعرف جذوره وذوي قرابته وأرحامه. وعلى ذلك فلا يمكن ترتيب حكم الورَاثة إلَّا بمعرفة النسب، وكذلك النِّكَاح فلابد من معرفة ذوي المحارم، ولأجل ذلك فلابد من الرجوع إلى علم النسب.

ج - قال رسولنا الكريم محبِّذًا وجود. الحسب والأصل الكريم في المرأة المراد الزواج بها كما ورد في حديثه عليه الصلاة والسلام: "تنكح المرأة لأربع: لجمالها أو حسبها أو مالها أو دينها، فاظفر بذات الدين تربت يداك" صدق رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو القائل أيضًا صلى الله عليه وسلم مؤكدًا ضرورة الحفّاظ على النسل وصيانته من أوباش النّاس فقد قال: "تخيروا لنطفكم فإن العِرق دساس". وقال عليه الصلاة والسلام: "إياكم وخضراء الدّمَنْ"، يعني البعد عن زواج المرأة الحسناء والجميلة التي تنبت في منبت السوء، أي في بيئة أو في وسط وضيع، سواء عائلة أم عشيرة حضرية أم بدوية، وأمثال هؤلاء هم سفلة المجتمعات لا حسب لهم ولا خُلُق ولا شرف ولا ذمة، ولا يخافون على تلويث سمعتهم أو المساس بشرفهم .. وبالطبع هنا نجد أن الأصل والحسب العريق مهم .. لماذا؟
বংশগতি বিদ্যার গুরুত্ব

নিশ্চয়ই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা জাতিসমূহের মাঝে আরবদের জন্য এক মর্যাদাপূর্ণ ও সুউচ্চ অবস্থান নির্ধারণ করেছেন এবং তাদেরকে সম্মানিত ও উচ্চাসীন করেছেন। যেমনটি মহান আল্লাহ তাঁর প্রিয় কিতাবে ইরশাদ করেছেন: {তোমরাই হলে শ্রেষ্ঠ জাতি, মানবজাতির (কল্যাণের) জন্য তোমাদের বের করা হয়েছে... (১১০)} [আল ইমরান: ১১০]।

আরব গোত্রসমূহের বংশগতি বিদ্যার মর্যাদা মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞানসমূহের মধ্যে অত্যন্ত সুউচ্চ, সুমহান ও গৌরবময়। আবু বকর সিদ্দিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) -এর এই আরব বংশগতি বিদ্যায় ছিল সর্ববৃহৎ অংশ, শ্রেষ্ঠত্ব এবং সুউচ্চ মাকাম, যা এই বিদ্যার মর্যাদা ও গুরুত্বকেই নিশ্চিত করে। আমাদের প্রিয় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বহু স্থানে এর প্রতি উৎসাহিত করেছেন। এই বিদ্যার গুরুত্ব কয়েকটি বিষয়ের মাধ্যমে ফুটে ওঠে, যার মধ্যে রয়েছে:

ক - নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বংশ পরিচয় জানা ঈমান সঠিক হওয়ার জন্য একটি জরুরি আবশ্যকতা যে, তিনি হাশেমী, কুরাইশী ও আদনানী বংশোদ্ভূত নবী ছিলেন; তিনি মক্কাতুল মুকাররামায় বসবাস করতেন এবং অতঃপর মদিনাতুল মুনাওয়ারায় হিজরত করেন।

খ - মানুষের জন্য এই বিদ্যার অনিবার্যতা রয়েছে এ কারণে যে, কাউকে তার পিতা ব্যতীত অন্যের দিকে সম্বন্ধ করা কিংবা তার প্রকৃত উৎস ব্যতীত অন্য কোনো মূলের দিকে সম্পৃক্ত করা হারাম। এমনকি যদি কোনো পরিস্থিতির কারণে সে অন্য কোনো গোষ্ঠী বা গোত্রের সাথে মৈত্রীবদ্ধ হয় বা অন্তর্ভুক্ত হয়, তবুও তাকে অবশ্যই তার শিকড়, নিকটাত্মীয় ও রক্ত সম্পর্কীয়দের সম্পর্কে অবগত থাকতে হবে। আর সেই প্রেক্ষিতে, বংশ পরিচয় জানা ব্যতীত উত্তরাধিকারের বিধান কার্যকর করা সম্ভব নয়; তেমনিভাবে নিকাহ বা বিবাহের ক্ষেত্রেও মাহরামদের (যাদের সাথে বিবাহ হারাম) চেনা আবশ্যক। আর একারণেই বংশগতি বিদ্যার শরণাপন্ন হওয়া অনিবার্য।

গ - আমাদের প্রিয় রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিবাহযোগ্য নারীর মাঝে আভিজাত্য এবং বংশীয় শ্রেষ্ঠত্বের উপস্থিতিকে পছন্দনীয় সাব্যস্ত করেছেন, যেমনটি তাঁর হাদীসে বর্ণিত হয়েছে: "নারীকে চারটি গুণের ভিত্তিতে বিবাহ করা হয়: তার সৌন্দর্য, তার আভিজাত্য (বংশমর্যাদা), তার সম্পদ অথবা তার দ্বীনদারি। সুতরাং তুমি দ্বীনদার নারীকেই জয় করে নাও, নতুবা তোমার হাত ধূলিধূসরিত হোক (অর্থাৎ তুমি ক্ষতিগ্রস্ত হবে)।" আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সত্য বলেছেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বংশধারা রক্ষা করা এবং নিচু স্তরের লোকদের সংমিশ্রণ থেকে তা সংরক্ষণের গুরুত্ব নিশ্চিত করতে গিয়ে আরও বলেছেন: "তোমরা তোমাদের বীর্যের (সন্তানের) জন্য শ্রেষ্ঠ আধার নির্বাচন করো, কেননা বংশগত প্রভাব সংক্রামক হয়।" তিনি (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) আরও বলেছেন: "তোমরা আস্তাকুঁড়ের সবুজ ঘাস থেকে বেঁচে থাকো।" অর্থাৎ মন্দের আবহে তথা নিকৃষ্ট পরিবেশে বেড়ে ওঠা সুন্দরী নারীকে বিবাহ করা থেকে দূরে থাকা; হোক তা শহর বা মরু অঞ্চলের কোনো পরিবার বা গোষ্ঠী। এদের মতো লোকেরা সমাজের অধম স্তরের, যাদের কোনো বংশমর্যাদা, চরিত্র, সম্মান বা প্রতিশ্রুতি নেই; তারা তাদের সুনাম কলঙ্কিত করতে বা সম্মানে আঘাত হানতে ভয় পায় না। আর স্বাভাবিকভাবেই এখানে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, বংশীয় উৎস এবং সুপ্রাচীন আভিজাত্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ... কেন?
(খণ্ড: ১) মাওসুআতুল কাবাইলিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
والجواب ببساطة أن من له أسرة أو عشيرة أو قبيلة ذات شرف أو سمعة وحسب بين النّاس، فإن أي فرد فيها من رجل أو امرأة يُقدِّر جيدًا لأي تصرف يقدم عليه عضو هذه الأسرة أو تلك العشيرة؛ لأنه قد لا يخشى فقط على نفسه، ولكن ما يخشاه ويتحسب له قد يكون فيه البلاء والشر المستطير الذي يمكن أن يُشوِّه سمعة عائلته وعشيرته من جرَّاء ما اقترفه من إثم، وهذا ما يفكر فيه أهل الأحساب والأنساب في المجتمع العربي، وقطعًا يكونون أكثر حرصًا في أقوالهم وأفعالهم وأشد في كبح جماح أنفسهم، وإن كلّ نفس لأمَّارة .. ونعوذ بالله من شرور أنفسنا.

د - وقد تكلَّم النَّبِيّ عليه الصلاة والسلام في نسبه الشريف والرفيع وقال عن نفسه الذكية: "نحن بنو النضر بن كِنَانة" وهو بذلك يوضح أنه من كِنَانة وفرعه بني النضر أي قريش التي تناسلت منه. وكما قال أيضًا عن نفسه السامية: أنا خيار من خيار من خيار؛ يقصد أنه صلى الله عليه وسلم من أشراف العرب وسيطًا في قومه، أي صريح النسب من بني هاشم من قريش من عدنان. وهو عليه الصلاة والسلام من صريحي ولد إسماعيل ابن الخليل إبراهيم عليهما السلام. وقال صلى الله عليه وسلم أيضًا: أنا سيد ولد آدم ولا فخر. صدق رسول الله فهو خير الورى حقًّا وصدقًا.

وقال الفاروق عمر رضي الله عنه: تعلموا من النجوم ما تهتدون به، ومن الأنساب ما تعارفون به وتَواصَلون عليه، ومن الأشعار ما تكون حِكَمًا وتدلكم على مكارم الأخلاق. وقال النسَّابة الشهير ابن حزم(1) الأندلسي.

إن علم النسب علم جليل رفيع إذ يكون به التعارف بين النّاس.

--------------------------------------------

(1) هو أبو محمد علي بن أحمد بن سعيد ين حزم بن صالح بن خلف بن معدان بن سفيان بن يزيد (الفارسي الأصل)، مولى يزيد بن أبي سفيان بن حرب القرشي، أي قرشي بالولاء. وكان جده يزيد أول من أسلم س أجداد. وكان جده خلف أول من دخل الأندلس من آبائه ولد العلَّامة والنسَّابة الشهير في رمضان عام 384 هـ ونشأ في بلاد الأندلس في نعمة وجاه عريض وكان أبوه أحمد بن سعيد عالمًا جليلًا ووزيرًا من وزراء المنصور محمد أبي عامر وابنه المظفَّر، وتوفى ابن حزم عام 456 هـ بعد سجل حافل من المؤلفات، وروى ابنه الفضل أنه اجتمع عنده بخط أبيه أبي محمد أربعمائة مجلد تحتوى على نحو ثمانين ألف ورقة".

ويذكر التاريخ أن معظم كتب ابن حزم قد أُحرق علانية ولم يبق سوى سبعة وثلاثين مؤلفًا في شتى العلوم من بينها علم النسب (جمهرة أنساب العرب).
এবং এর সহজ উত্তর হলো, যার এমন কোনো পরিবার, গোষ্ঠী বা গোত্র রয়েছে যা মানুষের মাঝে মর্যাদা, খ্যাতি ও আভিজাত্যের অধিকারী, তার সেই পরিবার বা বংশের যেকোনো পুরুষ বা নারী সদস্য তার যেকোনো পদক্ষেপের বিষয়ে যথাযথ বিবেচনা করেন; কারণ তিনি কেবল নিজের জন্যই ভয় পান না, বরং তার ভয় ও সতর্কতার কারণ হতে পারে সেই চরম বিপর্যয় ও অনিষ্ট যা তার কৃত কোনো পাপের দরুন তার পরিবার ও বংশের মর্যাদাকে কলঙ্কিত করতে পারে। আরব সমাজের উচ্চবংশীয় ও অভিজাত ব্যক্তিরা ঠিক এই বিষয়টিই চিন্তা করেন এবং নিশ্চিতভাবেই তারা তাদের কথা ও কাজে অধিকতর যত্নশীল হন এবং নিজেদের প্রবৃত্তিকে দমনে কঠোরতর থাকেন; আর নিশ্চয়ই প্রতিটি আত্মা মন্দ কর্মপ্রবণ... আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্ট থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

৪ - নবী (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) তাঁর সুউচ্চ ও মর্যাদাপূর্ণ বংশধারা সম্পর্কে আলোচনা করেছেন এবং তাঁর পবিত্র সত্তা সম্পর্কে বলেছেন: "আমরা নজর বিন কিনানার বংশধর।" এর মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে তিনি কিনানা বংশীয় এবং তাঁর শাখা হলো বনী নজর অর্থাৎ কুরাইশ, যারা তাঁর থেকে জন্মলাভ করেছে। যেমন তিনি তাঁর সুউচ্চ মর্যাদা সম্পর্কে আরও বলেছেন: আমি উত্তমের মাঝেও উত্তম এবং তার মাঝেও উত্তম; এর মাধ্যমে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উদ্দেশ্য করেছেন যে, তিনি আরবদের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত এবং নিজ সম্প্রদায়ের মধ্যমণি, অর্থাৎ তিনি বনী হাশিম হতে কুরাইশ ও আদনানের বিশুদ্ধ বংশোদ্ভূত। তিনি (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) খলিলুল্লাহ ইব্রাহিম (আলাইহিমাস সালাম)-এর পুত্র ইসমাইল (আলাইহিস সালাম)-এর সরাসরি সন্তানদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরও বলেছেন: আমি আদম সন্তানদের সরদার, এতে কোনো অহংকার নেই। আল্লাহর রাসূল সত্য বলেছেন, কেননা তিনিই প্রকৃত ও সত্যরূপে সৃষ্টির সেরা।

ফারূক উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: তোমরা নক্ষত্ররাজির মধ্য হতে ততটুকু শেখো যা দ্বারা তোমরা পথনির্দেশ লাভ করতে পারো, আর বংশপরম্পরা থেকে ততটুকু শেখো যা দ্বারা তোমরা একে অপরকে চিনতে পারো ও আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করতে পারো, আর কবিতা হতে তা শেখো যা প্রজ্ঞা ও তোমাদেরকে মহৎ চরিত্রের পথ দেখায়। প্রখ্যাত বংশবিদ ইবনে হাজম(১) আন্দালুসী বলেন।

নিশ্চয়ই বংশবিদ্যা এক সুমহান ও উচ্চতর জ্ঞান, কারণ এর মাধ্যমেই মানুষের মধ্যে পারস্পরিক পরিচয় লাভ সম্ভব হয়।

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন আবু মুহাম্মদ আলী বিন আহমদ বিন সাঈদ বিন হাজম বিন সালেহ বিন খালফ বিন মা'দান বিন সুফিয়ান বিন ইয়াযিদ (মূলত পারস্য বংশোদ্ভূত), কুরাইশ বংশীয় ইয়াযিদ বিন আবু সুফিয়ান বিন হারবের আযাদকৃত দাস, অর্থাৎ মিত্রতার সূত্রে কুরাইশী। তাঁর পূর্বপুরুষ ইয়াযিদ ছিলেন তাঁর পূর্বপুরুষদের মধ্যে সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণকারী। তাঁর পূর্বপুরুষদের মধ্যে খালফ সর্বপ্রথম আন্দালুসে প্রবেশ করেন। এই প্রখ্যাত আলিম ও বংশবিদ ৩৮৪ হিজরীর রমজান মাসে জন্মগ্রহণ করেন এবং আন্দালুসে নেয়ামত ও সুউচ্চ মর্যাদার মাঝে লালিত-পালিত হন। তাঁর পিতা আহমদ বিন সাঈদ একজন বড় আলিম ছিলেন এবং মানসুর মুহাম্মদ আবু আমির ও তাঁর পুত্র মুজাফফরের অন্যতম উজির ছিলেন। ইবনে হাজম ৪৫৬ হিজরীতে অসংখ্য রচনার এক বিশাল ভাণ্ডার রেখে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর পুত্র ফজল বর্ণনা করেছেন যে, তাঁর কাছে তাঁর পিতার স্বহস্তে লিখিত চারশত খণ্ড জমা ছিল যাতে প্রায় আশি হাজার পৃষ্ঠা অন্তর্ভুক্ত ছিল।

ইতিহাস উল্লেখ করে যে, ইবনে হাজমের অধিকাংশ কিতাব জনসমক্ষে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছিল এবং বিভিন্ন শাস্ত্রের মাত্র সাইত্রিশটি গ্রন্থ অবশিষ্ট রয়েছে, যার মধ্যে বংশবিদ্যা শাস্ত্রের (জমহারাতু আনসাবিল আরব) গ্রন্থটি অন্যতম।
(খণ্ড: ১) মাওসুআতুল কাবাইলিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌أنواع العرب

معنى كلمة عرب بإيجاز واختصار:

قال العلَّامة والمؤرخ الكبير عبد الرَّحمن بن خلدون(1):

إن كلمة العرب مشتقة من الإعراب وأُخذت من قولهم أعرب الرجل عن حاجته: أي أبانها، وسُموا عربًا؛ لأنَّ العرب قد اشتهروا بالفصاحة والبلاغة وسحر وروعة البيان بين سائر الأمم، وكل جنس عدا العرب فهو أعجمي.

والعرب نوعان: (عاربة)، و (مستعربة).

فالعاربة: أي الراسخون في العروبية؛ كما يقال: ليل لائل.

والمستعربة: هم الذين دخلوا في العروبة لأنهم ليسوا بخُلَّص. وقد اختلف الرأي فيما بعد في تعريف النوعين، فقال ابن إسحاق والطبرى: أن العاربة هم عاد وثمود وجُديس وجُرهم وغيرهم من تلك الأقوام البائدة، وفي رأيهم أن المستعربة هم بنو قحطان بن عابر وبنو إسماعيل بن إبراهيم عليه السلام، وهذا لأنَّ بني قحطان تعلموا العربية من الأقوام القديمة البائدة قبلهم، وبالتالي تعلم منهم بنو إسماعيل (العدنانية). وقال ابن خلدون وأيده صاحب حماه أن العاربة هم القحطانية والمستعربة هم العدنانية.

--------------------------------------------

(1) عبد الرَّحمن بن خلدون - فيلسوف ومؤرخ عربي عظيم.

* أشهر مؤلفاته تاريخ العبر ومبتدأ الخبر (مجلد 14 جزءًا).

* أصله حضرمي من القحطانية (عرب اليمن).

* هاجرت أسرته من بلاد الأندلس بعد تغلب الفرنجة عليها في القرن الثامن الهجري إلى تونس، ثم ولد ابن خلدون بتونس عام 732 هـ - 1332 م.

* تجول في كثير من البلدان والأمصار ومات بمصر عام 808 هـ - 1406 م.
আরবদের প্রকারভেদ

সংক্ষেপে ‘আরব’ শব্দের অর্থ:

প্রখ্যাত আল্লামা ও মহান ঐতিহাসিক আবদুর রহমান ইবনে খালদুন(১) বলেছেন:

‘আরব’ শব্দটি ‘ই’রাব’ শব্দ থেকে উদ্ভূত এবং এটি তাদের এই উক্তি থেকে নেওয়া হয়েছে: ‘ব্যক্তিটি তার প্রয়োজন সম্পর্কে ই’রাব করেছে’, অর্থাৎ সে তা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছে। তাদের ‘আরব’ নামকরণ করা হয়েছে কারণ আরবরা অন্যান্য সকল জাতির তুলনায় বাগ্মিতা, অলঙ্কারশাস্ত্র এবং বর্ণনার জাদুকরী ও চমৎকারিত্বের জন্য প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। আরব ব্যতীত অন্য প্রতিটি জাতিই ‘আজমি’ বা অনারব।

আরব দুই প্রকার: (আরিবা) এবং (মুস্তা’রিবা)।

আরিবা: অর্থাৎ যারা আরবীয় সত্তায় সুপ্রতিষ্ঠিত; যেমনটি বলা হয়: ‘লাইলুন লাইল’ (নিবিড় রাত)।

মুস্তা’রিবা: তারা হলেন সেই সকল লোক যারা আরবীয় বৈশিষ্ট্যে প্রবেশ করেছেন কারণ তারা বংশগতভাবে খাঁটি আরব নন। পরবর্তীকালে এই দুই প্রকারের সংজ্ঞায় মতভেদ দেখা দিয়েছে। ইবনে ইসহাক ও তবারি বলেছেন: আরিবা হলো আদ, সামুদ, জুদাইস, জুরহুম এবং বিলুপ্ত হওয়া অন্যান্য সম্প্রদায়। তাঁদের মতে, মুস্তা’রিবা হলো কাহতান বিন আবিরের বংশধর এবং ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের পুত্র ইসমাইল আলাইহিস সালামের বংশধর। কারণ কাহতানের বংশধরগণ তাদের পূর্ববর্তী প্রাচীন বিলুপ্ত সম্প্রদায়গুলোর কাছ থেকে আরবি শিখেছিলেন, এবং পরবর্তীতে তাদের কাছ থেকে ইসমাইলের বংশধরগণ (আদনানিরা) আরবি শিখেছিলেন। ইবনে খালদুন বলেছেন এবং হামাহর অধিপতি তাকে সমর্থন করেছেন যে, কাহতানিরাই হলো আরিবা এবং আদনানিরা হলো মুস্তা’রিবা।

--------------------------------------------

(১) আবদুর রহমান ইবনে খালদুন - একজন মহান আরব দার্শনিক ও ঐতিহাসিক।

* তাঁর সবচেয়ে প্রসিদ্ধ গ্রন্থ হলো ‘তারিখুল ইবার ওয়া মুবতাদাউল খাবার’ (১৪ খণ্ডে সমাপ্ত)।

* তাঁর মূল আদি নিবাস কাহতানি বংশোদ্ভূত হাদরামাউত (ইয়েমেনের আরব)।

* হিজরি অষ্টম শতাব্দীতে ফ্রাঙ্করা (ইউরোপীয়রা) আন্দালুস দখল করে নিলে তাঁর পরিবার সেখান থেকে তিউনিসিয়ায় হিজরত করে। পরবর্তীতে ইবনে খালদুন ৭৩২ হিজরি - ১৩৩২ খ্রিস্টাব্দে তিউনিসিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন।

* তিনি অনেক দেশ ও নগরী ভ্রমণ করেন এবং ৮০৮ হিজরি - ১৪০৬ খ্রিস্টাব্দে মিশরে মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ১) মাওসুআতুল কাবাইলিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌صورة تمثيلية لتعريف طبقات النسب

الشَعب: بفتح الشين وهو النسب الأبعد كعدنان وقحطان.

القبيلة: وهو ما انقسم فيه النسب كربيعَة ومُضَر، من بني عدنان وسميت قبيلة؛ لتقابل الأنساب فيها.

العمارة: وهي ما انقسم فيها أقسام القبيلة مثل قريش في كِنَانة وجمعه عمائر.

البطن: وهو ما انقسمت فيه العمارة إلى بطون كبني عبد مناف وبني مخزوم في قريش.

الفخذ: وهو ما انقسم فيه البطن إلى فخوذ كبني هاشم وبني أُمية من عبد مناف.

الفصيلة: وهي ما انقسم عليه الفخذ إلى فصائل كبني أبي طالب وبني العباس في بني هاشم.

وقيل رأي بأن الفصيلة هي العشيرة وهي رهط الرجل الأقربون. وقال الله تعالى عن ذلك: {وَفَصِيلَتِهِ الَّتِي تُؤْوِيهِ (13)} [المعارج: 13]، - ومعناها أي عشيرته التي تمنعه من النّاس ويكون أكثر التصاقًا بها وارتباطه معها مصيري.

 

‌‌موجز عن أصل البشر جميعًا على الأرض

أجمع المؤرخون والنسَّابون القدماء أن جميع الأمم الموجودة على الأرض بعد الطوفان هم من ذرية نوح عليه السلام، أما ما كان مع نوح في السفينة فقد روي أنهم كانوا ثمانين رجلًا(1) من الذين آمنوا به ولكنهم هلكوا عن آخرهم ولم يبق لهم من بقية وهذا شيء لا خلاف عليه من العلماء(2).

--------------------------------------------

(1) وقيل أن نوحا عليه السلام لما نزل الأرض بنى قرية سماها قرية الثمانين على عدد من خرجوا من السفينة وهي إلى الآن في شمالي العراق بنفس الاسم قرب الموصل، والسفينة بعد الطوفان استقرت على جبل الجودي قرب الموصل وهو جبل عظيم ينبت فيه شجر البلوط ومسيرته ثلاثة أيام.

(2) مما يدلُّ على أن جميع أهل الأرض من البشر من ذرية نوح لقوله تعالى {وَجَعَلْنَا ذُرِّيَّتَهُ هُمُ الْبَاقِينَ (77)} [الصافات].
বংশপরম্পরার স্তরসমূহের সংজ্ঞার একটি রূপক চিত্র

আশ-শাব: ‘শিন’ বর্ণে ফাতহা (জবর) যোগে, এটি হলো বংশধারার সবচেয়ে দূরবর্তী স্তর যেমন আদনান ও কাহতান।

আল-কাবিলা (গোত্র): এটি এমন স্তর যেখানে বংশধারা বিভক্ত হয় যেমন আদনানের বংশধরদের মধ্যে রাবিয়াহ ও মুদার। একে কাবিলা বলা হয় কারণ এতে বংশধারাগুলো পরস্পরের সমান্তরাল হয়।

আল-ইমারাহ: এটি হলো গোত্রের উপ-বিভাগ, যেমন কিনানা গোত্রের মধ্যে কুরাইশ। এর বহুবচন হলো আমায়ির।

আল-বাত্ন: এটি হলো ইমারাহ-এর উপ-বিভাগ, যেমন কুরাইশ গোত্রের মধ্যে বনু আবদ মানাফ এবং বনু মাখজুম।

আল-ফাকয: এটি হলো বাত্ন-এর উপ-বিভাগ, যেমন আবদ মানাফ থেকে উদ্ভূত বনু হাশিম ও বনু উমাইয়া।

আল-ফাসিলাহ: এটি হলো ফাকয-এর উপ-বিভাগ, যেমন বনু হাশিমের মধ্যে বনু আবি তালিব ও বনু আব্বাস।

একটি অভিমত অনুযায়ী ফাসিলাহ হলো আশিরাহ বা ব্যক্তির নিকটাত্মীয় গোষ্ঠী। মহান আল্লাহ এ সম্পর্কে বলেছেন: {এবং তাঁর সেই নিকটাত্মীয় গোষ্ঠী, যারা তাঁকে আশ্রয় দান করত (১৩)} [আল-মাআরিজ: ১৩] - এর অর্থ হলো তাঁর সেই বংশীয় স্বজন যারা তাঁকে অন্য মানুষের হাত থেকে রক্ষা করত এবং যাদের সাথে তাঁর সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড় ও ভাগ্য একসূত্রে গাঁথা।

 

‌পৃথিবীর সকল মানুষের আদি উৎস সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ

প্রাচীন ঐতিহাসিক ও বংশতত্ত্ববিদগণ একমত যে, প্লাবনের পর পৃথিবীতে বিদ্যমান সকল জাতি নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর বংশধর। আর নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর সাথে নৌকায় যারা ছিলেন, তাদের সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে তারা আশি জন মুমিন ছিলেন। কিন্তু তারা সকলেই নিঃসন্তান অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন এবং তাদের কোনো উত্তরসূরি অবশিষ্ট নেই। এ বিষয়ে আলেমদের মাঝে কোনো দ্বিমত নেই।

--------------------------------------------

(১) বর্ণিত আছে যে, নূহ (আলাইহিস সালাম) যখন ভূমিতে অবতরণ করেন তখন তিনি একটি গ্রাম নির্মাণ করেন এবং নৌকা থেকে যারা বের হয়েছিলেন তাদের সংখ্যা অনুযায়ী এর নাম দেন ‘আশি জনের গ্রাম’। এটি উত্তর ইরাকের মসুলের কাছে এখনো একই নামে বিদ্যমান। প্লাবনের পর নৌকাটি মসুলের নিকটবর্তী জুদি পাহাড়ে স্থির হয়েছিল। এটি একটি বিশাল পাহাড় যেখানে ওক গাছ জন্মে এবং এটি অতিক্রম করতে তিন দিন সময় লাগে।

(২) পৃথিবীর সকল মানুষ যে নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর বংশধর তার প্রমাণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {এবং আমি তাঁর বংশধরদেরই অবশিষ্ট রেখেছি (৭৭)} [আস-সাফফাত]।
(খণ্ড: ১) মাওসুআতুল কাবাইলিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
ولنوح عليه السلام بنون هم:

الأكبر (يافث)، والأوسط (سام)، والأصغر (حام).

- أما يافث فقد تناسلت منه أمم وشعوب كثيرة وهم كثر عددًا من نسل أخويه سام وحام، فمن يافث الترك ومن في جنسهم من القبجاق والتتر والغز أو السلاجقة والهياطلة والخلج والشركس والخزر والصقالبة والصين والإفرنج والقوط واليونان ويأجوج ومأجوج (الذين ينزلون من مقرهم من كلّ حدب ينسلون ويشربون المياه في طريقهم في آخر الزمان، وبنى عليهم ذو القرنين سورًا من الحديد والنحاس في مكان لا يعلمه إلَّا الله)، وقد اختلف الرأي في الروم(1) هل هم في نسل يافث أم من نسل عيصو بن إسحاق بن إبراهيم عليهما السلام، والله أعلم.

- وأما الابن الأوسط سام ففيه عمود النسب أي النبوة، ونسله أقلّ عددًا من أخويه يافث وحام ومنه العرب والآشوريون والسريان والفُرس والكُرد والكنعانيون والنبط والأرمن وغيرهم من الشعوب في المنطقة العربية كبني مدين(2) وبني يعقوب(3) (إسرائيل).

- أما حام بن نوح الابن الأصغر فتناسلت منه أمم وشعوب منها المصريون القدماء (القبط)، والكوش (السند والهند)، والسودان بأنواعها من الزنج والحبش والنوبة وزويلة، واختُلف في البربر الذين يسكنون بلاد المغرب حتى الآن هل هم من حام أم من غيره؟. وقيل رأي أنهم كنعانيون من ولد سام، وذهب نسَّابة إلى

--------------------------------------------

(1) نفى العلَّامة ابن حزم وجود نسل لعيصو (عيسو) أو مدين من ولد الخليل إبراهيم عليه السلام (الجمهرة) وعليه فالروم من يافث، وقال بعض العلماء: إن الأدوميين في شرق الأردن في زمن موسى عليه السلام من نسل عيسو.

(2) بنو (مدين) هو ابن إبراهيم عليه السلام وهم أصهار سيدنا مرس عليه السلام.

(3) بنو (يعقوب) عليه السلام وهو ابن اسحاق عليه السلام بن إبراهيم عليه السلام.

* قال ابن خلدون في العبر: كان لمدين مع بني اسرائيل (يعقوب) حروب بالشام، ثم تغلب عليهم بنو إسرائيل وانقرضوا جميعًا (ج 3 ص 81)، وكان مدين قد تزوج بابنة لوط وتناسلت منه قبائل سكنت معان وشمال الحجار فعتت مدين وكفرت وبخست الميزان فأرسل الله فيهم شعيبًا نبيًا وكان شعيب يُسمى خطب الأنبياء لفصاحته وبلاغته، وقال عنه صلى الله عليه وسلم عن ابن عباس: ذاك خطيب الأنبياء .. فحص أهل مدين أمر الله فأخذتهم الرجفة فأصبحوا في ديارهم جاثمين.
নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর পুত্রগণ ছিলেন:

জ্যেষ্ঠ (ইয়াফিস), মধ্যম (সাম), এবং কনিষ্ঠ (হাম)।

- ইয়াফিস প্রসঙ্গে বলা যায়, তাঁর থেকে বহু জাতি ও গোষ্ঠীর উদ্ভব হয়েছে। তারা তাঁর অন্য দুই ভাই সাম ও হামের বংশধরদের চেয়ে সংখ্যায় অনেক বেশি। ইয়াফিস থেকে তুর্কি এবং তাদের সমজাতীয় কিপচাক, তাতার, গুয বা সেলজুক, হায়াতিল্লাহ, খালজি, সার্কাসিয়ান, খাযার, সাকালিবা (স্লাভ), চীন, ইফরঞ্জ (ইউরোপীয়), গোথ, গ্রিক এবং ইয়াজুজ ও মাজুজ (যারা শেষ জামানায় তাদের আবাসস্থল থেকে প্রত্যেক উঁচু ভূমি দিয়ে দ্রুত ধাবিত হবে এবং পথে সমস্ত পানি পান করে ফেলবে, আর যাদের বিরুদ্ধে যুলকারনাইন লোহা ও তামার একটি প্রাচীর এমন স্থানে নির্মাণ করেছিলেন যা আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না) উদ্ভূত হয়েছে। রোমকদের ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে(১) যে, তারা কি ইয়াফিসের বংশধর নাকি ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর পুত্র ইসহাক (আলাইহিস সালাম)-এর পুত্র আইসুর বংশধর? আল্লাহই ভালো জানেন।

- আর মধ্যম পুত্র সাম, তাঁর মধ্যেই বংশধারার মূল ভিত্তি তথা নবুওয়াত নিহিত। তাঁর বংশধরদের সংখ্যা ইয়াফিস ও হামের বংশধরদের চেয়ে কম। তাঁর থেকে আরব, আসিরীয়, সিরিয়াক, পারস্যবাসী, কুর্দি, কানানীয়, নাবতি, আরমানি এবং আরব অঞ্চলের অন্যান্য জাতি যেমন মাদইয়ান বংশীয়(২) ও ইয়াকুব বংশীয়(৩) (ইসরাঈল) উদ্ভূত হয়েছে।

- আর নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর কনিষ্ঠ পুত্র হাম, তাঁর থেকে প্রাচীন মিশরীয় (কিবতি), কুশ (সিন্ধু ও হিন্দ), এবং বিভিন্ন প্রকারের সুদান তথা যিঞ্জ (জাঞ্জ), হাবশি, নুবা ও যুওয়াইলা জাতির উদ্ভব হয়েছে। বারবার (বার্বার) জাতি—যারা এখন পর্যন্ত মাগরিব (উত্তর আফ্রিকা) অঞ্চলে বসবাস করছে—তাদের ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে যে, তারা কি হামের বংশধর নাকি অন্য কারো? একটি মত অনুযায়ী তারা সামের পুত্র কানানের বংশধর। জনৈক বংশলতিকাবিদ মনে করেন...

--------------------------------------------

(১) আল্লামা ইবনে হাজম খলীল ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর পুত্র আইসু (ঈষু) বা মাদইয়ানের কোনো বংশধর থাকার কথা অস্বীকার করেছেন (আল-জামহারা)। সেই অনুযায়ী রোমকরা ইয়াফিসের বংশধর। তবে কিছু আলিম বলেছেন: মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর সময় জর্ডানের পূর্ব দিকে বসবাসকারী আদোমীয়রা আইসুর বংশধর।

(২) বনু (মাদইয়ান) হলেন ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর পুত্র এবং তারা আমাদের নেতা মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর শ্বশুরকুল।

(৩) বনু (ইয়াকুব) আলাইহিস সালাম হলেন ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর পুত্র ইসহাক (আলাইহিস সালাম)-এর পুত্র।

* ইবনে খালদুন তাঁর 'আল-ইবার' গ্রন্থে বলেছেন: শামে বনু ইসরাঈলের (ইয়াকুব) সাথে মাদইয়ানবাসীদের যুদ্ধ হয়েছিল, পরে বনু ইসরাঈল তাদের ওপর বিজয়ী হয় এবং তারা সবাই বিলুপ্ত হয়ে যায় (৩য় খণ্ড, ৮১ পৃষ্ঠা)। মাদইয়ান লুত (আলাইহিস সালাম)-এর কন্যাকে বিয়ে করেছিলেন এবং তাঁর থেকে উদ্ভূত গোত্রগুলো মাআন ও হিজাজের উত্তরাঞ্চলে বসবাস করত। পরে মাদইয়ানবাসী অবাধ্য হয়ে কুফরিতে লিপ্ত হয় এবং ওজনে কম দিতে শুরু করে। ফলে আল্লাহ তাদের কাছে শুআইব (আলাইহিস সালাম)-কে নবী হিসেবে প্রেরণ করেন। শুআইব (আলাইহিস সালাম)-কে তাঁর সাবলীলতা ও বাগ্মিতার কারণে 'খতিবুল আম্বিয়া' (নবীদের বক্তা) বলা হতো। তাঁর সম্পর্কে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তিনি হলেন নবীদের বক্তা।" অতঃপর মাদইয়ানবাসীরা আল্লাহর বিধান অমান্য করলে এক প্রচণ্ড ভূকম্পন তাদের পাকড়াও করল এবং তারা নিজেদের গৃহেই উপুড় হয়ে পড়ে রইল।
(খণ্ড: ১) মাওসুআতুল কাবাইলিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
ردهم إلى درية إسماعيل من ولد بر بن قيدر، وقد عصى أباه فقال له أخرج يا بر إلى البر لست بر فسمي (بربر)، وقيل رأي آخر أنهم من اليمن من حِميَر قحطانيون. واللّه أعلم.

 

‌‌أصل جميع العرب

أجمع النسَّابون أن العرب على اختلاف شعوبهم وقبائلهم من ولد سام بن نوح عليه السلام، وبعضهم وضح أنه من لاوذ بن سام بن نوح عليه السلام، كما ذكر بعض العلماء أن عابر هو النَّبِيّ هود عليه السلام والله أعلم. ومن عابر تناسل القحطانيون وهو قحطان بن عابر، ومن عابر أيضًا تناسل سيدنا إبراهيم(1) في بابل من أرض العراق، وقد عبر الفرات للشام هربًا من النمرود حفاظًا على دينه، ومن إسماعيل بن إبراهيم عليهما السلام تناسل العرب العدنانية، ومنه بني مدين بن إبراهيم شعب انقرض أو انصهر مع العرب، وكما هو واضح أن الأمة العربية بشقيها العدناني والقحطانن من جد واحد هو (عابر)، وكما قال القُضاعي الذي كان يستبعده العلماء من نسل العدنانية وهم جمهرة العلماء قال شاعرهم ليريح النّاس: (إلى عابر ألقى معدًا ويلقاني).

ويطلق النسابة على القحطانية اليمانية .. لما أنهم نشاوا في بلاد اليمن بعد انتقال أجدادهم من منبعهم في بلاد العراق من أحفاد عابر، وهذا لوفرة خيرات اليمن وكثرة أمطاره.

وأشهر فروع بنو قحطان هما: كَهْلان - حِمْيَر(2) وكلاهما ابنا

--------------------------------------------

(1) هو "إِبراهيم" عليه السلام بن تارح أو آزر بن ناحور بن شاروغ بن أرغو بن فالغ بن عابر.

(2) (حِمْيَر) هو ابن سبأ بن يشجب بن يعرب بن قحطان، جد جاهلي قديم كان ملك اليمن ونسبه للحمْيَريين أي ملوك اليمن وأقياله له. وكان حِمْيَر شجاعًا مظفرًا، ويقول مؤرخو العرب: إنه حكم بعد أبيه سبأ وعاصمه ملكه صنعاء، وقد عزا وافتتح حتى بلغ بعض غزواته الصين، واتخذ تاجًا من المذهب فكان أول من تتوج به، ويذكرون وقائعه وقتاله لقبائل ثمود وكان مقامها في اليمن ففرقها فارتحلت إلى الحجاز، وأنه عاش خمسين سنة بعد أبيه وله أربعة أولاد مالك، عامر، سعد، وائل، ومن بطون حِميَر السكاسك وقيل أنهم من كِندة، والشعبيون، وبنو الريان، وعبد شمس، وقُضاعة رغم الخلاف من بعض المؤرخين عن قُضَاعة إلَّا أن الجمهرة يؤيدون نسب قضاعة لحمْيَر وله ينسب ملوك التابعة والأذواء والأقيال، كما يروي بعضهم أن حِمْيَر اسمه العرنجج ومعناها في اللغة اعرنجج في الأمر إذا وجد فيه، ولُقب بحِمْيَر لكثرة لبسه الثياب الحمر، وكان يكتب بالمسند على جميع سلاحه وفي الجبال التي يمر بها، ثم حوله إلى الخط الحمْيَري المنسوب إليه.
তারা তাদেরকে ইসমাইল আলাইহিস সালামের বংশধর কাইদারের পুত্র বারের বংশধর বলে মনে করেন। সে তার পিতার অবাধ্য হয়েছিল, তাই তিনি তাকে বলেছিলেন, 'হে বার, তুমি প্রান্তরে (বারর) বেরিয়ে যাও, তুমি সৎ (বারর) নও।' ফলে তার নাম হয়ে যায় 'বারবার'। অন্য এক মতে বলা হয়েছে যে, তারা ইয়েমেনের হিময়ার গোত্রের কাহতানি আরব। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

 

‌‌সকল আরবের মূল পরিচয়

বংশবিদগণ এ বিষয়ে একমত যে, আরবরা তাদের বিভিন্ন জাতি ও গোত্র নির্বিশেষে নূহ আলাইহিস সালামের পুত্র সামের বংশধর। কেউ কেউ স্পষ্ট করেছেন যে, তারা নূহ আলাইহিস সালামের পুত্র সামের পুত্র লাউযের বংশধর। যেমন কোনো কোনো আলেম উল্লেখ করেছেন যে, 'আবির' হলেন নবী হুদ আলাইহিস সালাম, আর আল্লাহই ভালো জানেন। এই আবির থেকেই কাহতানিদের বংশধারা প্রবাহিত হয়েছে, যিনি হলেন কাহতান বিন আবির। আবির থেকেই ইরাকের বাবেল ভূখণ্ডে আমাদের নেতা ইবরাহিম(১) এর বংশধারাও জন্ম নেয়। তিনি নিজের দ্বীন রক্ষার্থে নমরুদের হাত থেকে বাঁচতে ফোরাত নদী পার হয়ে শামে হিজরত করেছিলেন। ইবরাহিমের পুত্র ইসমাইল আলাইহিমাস সালামের বংশধারা থেকেই আদনানি আরবদের উৎপত্তি। আর ইবরাহিমের পুত্র মাদইয়ানের বংশধররা একটি বিলুপ্ত জাতি অথবা তারা আরবদের সাথে মিশে গিয়েছিল। স্পষ্টতই, আরব জাতি তার উভয় শাখা—আদনানি ও কাহতানি—একজন সাধারণ পূর্বপুরুষ (আবির) এর সাথে সম্পর্কিত। কুযা'ঈ—যাকে অধিকাংশ আলেম আদনানি বংশধারা থেকে বাদ দিয়েছেন—তাদের কবি মানুষের দ্বিধা দূর করতে বলেছিলেন: "আবিরের কাছেই মা'আদ এবং আমি মিলিত হই।"

বংশবিদরা কাহতানিদের 'ইয়ামানি' বলে অভিহিত করেন। কারণ তাদের পূর্বপুরুষরা (আবিরের বংশধররা) ইরাকের মূল উৎসভূমি থেকে স্থানান্তরিত হওয়ার পর ইয়েমেন অঞ্চলে বেড়ে উঠেছিলেন। ইয়েমেনের প্রচুর নেয়ামত ও পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের কারণে এটি সম্ভব হয়েছিল।

বনু কাহতানের সবচেয়ে বিখ্যাত দুটি শাখা হলো: কাহলান ও হিময়ার(২) এবং তারা উভয়ই...

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন ইবরাহিম আলাইহিস সালাম বিন তারাহ অথবা আযর বিন নাহুর বিন শারুগ বিন আরগু বিন ফালিগ বিন আবির।

(২) (হিময়ার) হলো সাবা বিন ইয়াশজুব বিন ইয়ারুব বিন কাহতানের পুত্র। তিনি প্রাচীন জাহেলি যুগের একজন পূর্বপুরুষ এবং ইয়েমেনের রাজা ছিলেন। হিময়ারি অর্থাৎ ইয়েমেনের রাজা এবং সেখানকার নেতৃবৃন্দ তার সাথেই সম্পর্কিত। হিময়ার ছিলেন অত্যন্ত সাহসী ও বিজয়ী। আরব ঐতিহাসিকরা বলেন: তিনি তার পিতা সাবার পর শাসনভার গ্রহণ করেন এবং সান'আ ছিল তার রাজত্বের রাজধানী। তিনি অনেক যুদ্ধ ও বিজয় অভিযান পরিচালনা করেন এবং তার কিছু অভিযান চীন পর্যন্ত পৌঁছেছিল। তিনি স্বর্ণের মুকুট পরিধান করেছিলেন এবং তিনিই ছিলেন প্রথম মুকুটধারী রাজা। ঐতিহাসিকগণ তার যুদ্ধসমূহ এবং সামুদ গোত্রের সাথে তার যুদ্ধের কথা উল্লেখ করেন। সামুদ জাতি ইয়েমেনে অবস্থান করত, তিনি তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেন এবং তারা হিজাজে চলে যায়। তিনি তার পিতার মৃত্যুর পর পঞ্চাশ বছর জীবিত ছিলেন এবং তার চার পুত্র ছিল: মালিক, আমির, সা'দ ও ওয়ায়েল। হিময়ারের শাখাগুলোর মধ্যে রয়েছে সাকাসিক (যাদের সম্পর্কে বলা হয় তারা কিনদাহ গোত্রের), শা'বিউন, বনু রাইয়ান, আবদে শামস এবং কুযা'আ। যদিও কুযা'আ সম্পর্কে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতভেদ আছে, তবে অধিকাংশ আলেম কুযা'আকে হিময়ারের বংশধর হিসেবে সমর্থন করেন। তার মাধ্যমেই তুব্বা (তাবিআ), আযওয়া এবং আকিয়াল রাজবংশের উৎপত্তি। কেউ কেউ বর্ণনা করেন যে, হিময়ারের নাম ছিল 'আরানজাজ', যার শাব্দিক অর্থ কোনো কাজে গুরুত্ব দেওয়া বা একনিষ্ঠ হওয়া। অধিক পরিমাণে লাল পোশাক পরার কারণে তাকে 'হিময়ার' (লাল) উপাধি দেওয়া হয়েছিল। তিনি তার সমস্ত অস্ত্রশস্ত্রে এবং যেসব পাহাড় অতিক্রম করতেন সেখানে 'মুসনাদ' লিপিতে লিখতেন, পরবর্তীতে তিনি তা তার নামানুসারে 'হিময়ারি লিপি'তে রূপান্তরিত করেন।
(খণ্ড: ১) মাওসুআতুল কাবাইলিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
سبأ(1) بن يشجب بن يعرب بن قحطان. وسبأ هو المذكور في القرآن الكريم، ومنهم بلقيس الملكة الشهيرة باليمن أيام سليمان عليه السلام.

وقبائل القحطانية كثيرون، وهناك قبائل حِمْيَر وكانت لهم مملكة في بلاد اليمن ظلت سنوات تتابع فيها ملوكهم على بلاد اليمن أشهرهم التبابعة، وهناك جمهرة من العلماء من يرون أن قُضاعة من حِمْيَر، وسوف نوضح ذلك في السرد عن قبائلهم في هذا المجلد إن شاء الله.

ودخل الحِمْيريون في اليهودية ثم في النصرانية وظل فيهم مُلك اليمن حتى جاء الأحباش واستعمروها اثنتين وسبعين عامًا كما ذكر ابن هشام، حتى حررها سيف بن ذي يزن الحِمْيَري بمساعدة الفُرس الذين حكموا اليمن بعد طرد الحبشة حتى جاء الإسلام، لتعود اليمن فى حكم العرب المسلمين مرّة أخرى بعد الحبش والفُرس.

ولملوك التبابعة سيطرة امتدت قديمًا بغزوات ملوكهم الحجار بلاد بني عدنان، ولم تخرج العدنانية من سيطرة وغلبة عرب اليمن إلا بعد موقعة (خزازى)(2)

--------------------------------------------

(1) سبأ أصل اسمه (عبد شمس) وسمي كذلك؛ لأنَّه أول من ابتاع السبي في الحروب. وفي الجمهرة لابن حزم: سبأ هو (عامر).

(2) (خزازى): كان ربيعة بن الحارث التغلبي سيد قبائل ربيعة بن نزار قبل الإسلام، وبعد موته خلفه ابنه كليب (وائل بن ربيعة) في السيادة، وكان لبيد بن عقية أحد عمال ملوك كندة القحطانية قد تزوج أخت كليب وتسمى الزهراء، وقد طغى على ربيعة بن نزار. وثقلت وطأته على قبائلها فأنكرت الزهراء على زوجها صنعه بقومها من ربيعة فقال لها: ما بال أخيك كُليب ينتصر لمضر العدنانية ويهدد الملوك كأنه يعز بغيرهم؟ فقالت الزهراء. ما عرف أعز من كليب أخي وهو كفؤ لها فغضب لبيد ولطمها لطمة قوية أعشت عينها فذهبت إلى أخيها وهي تقول شعرًا:

ما كنت أحسب والحوادث جمة … أنَّا عبيد الحي من قحطان

حتى أتتني من لبيد لطمة … فعشت لها من وقعها العينان

إن ترض أسرة تغلب ابنة وائل … تلك الدنية أو بنو شيبان

لا يبرحو الدهر الطويل أذلة … هدل الأعنَّة عند كل رهان

فلما سمعها كليب ورأى بها أثر اللطمة ثارت به حميته فهجم على لبيد وقتله بالسيف ثم قال شعرًا:

إن يكن قتلنا الملوك خطأ … أو صوابا فقد قتلنا لبيدا

وجعلنا من الملوك ملوكا … بجياد جرد تفل الحديدا

ذا شعار الحرب الذي يحلف النّاس … به قومكم ونذكي الوقودا

أو بردوا لنا الإتاوة والفيء … ولا نجعل الحروب وعيدا

إن تلمني عجائز من نزار … فأراني فيما فعلتُ مجيدا =
সাবা(১) ইবনে ইয়াশজুব ইবনে ইয়ারুব ইবনে কাহতান। আর এই সাবাই পবিত্র কুরআনে বর্ণিত হয়েছেন। তাদের মধ্য থেকেই ছিলেন সুলাইমান (আলাইহিস সালাম)-এর যুগে ইয়ামেনের বিখ্যাত রানি বিলকিস।

কাহতানি গোত্রসমূহ সংখ্যায় অনেক। সেখানে রয়েছে হিমইয়ার গোত্রসমূহ এবং ইয়ামেন ভূখণ্ডে তাদের একটি রাজত্ব ছিল যা দীর্ঘ বছর ধরে স্থায়ী ছিল, সেখানে তাদের রাজন্যবর্গ একে অপরের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে ইয়ামেন শাসন করেছেন; যাদের মধ্যে তুব্বা (তাবাবিআ) রাজগণ সবচেয়ে বিখ্যাত। একদল আলেম মনে করেন যে কুযাআ গোত্র হিমইয়ারের অন্তর্ভুক্ত, ইনশাআল্লাহ এই খণ্ডে তাদের গোত্রসমূহের বর্ণনায় আমরা তা বিস্তারিত ব্যাখ্যা করব।

হিমইয়ারিরা প্রথমে ইহুদি ধর্ম এবং পরবর্তীতে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেছিল এবং ইয়ামেনের রাজত্ব তাদের হাতেই ছিল যতক্ষণ না হাবশারা (আবিসিনীয়রা) এসে তা দখল করে নেয়। ইবনে হিশামের বর্ণনা অনুযায়ী তারা বাহাত্তর বছর তা উপনিবেশ করে রেখেছিল। পরিশেষে হিমইয়ারি বীর সাইফ ইবনে জি-ইয়াযান পারস্যবাসীদের সহায়তায় তা মুক্ত করেন। হাবশাদের বিতাড়িত করার পর পারস্যবাসীরা ইয়ামেন শাসন করে যতক্ষণ না ইসলামের আবির্ভাব ঘটে, ফলে হাবশা ও পারস্যের পর ইয়ামেন পুনরায় মুসলিম আরবদের শাসনাধীনে ফিরে আসে।

তুব্বা রাজাদের আধিপত্য প্রাচীনকাল থেকেই তাদের রাজাদের অভিযানের মাধ্যমে বনু আদনানের ভূখণ্ড পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। খুযা যা-র যুদ্ধের আগ পর্যন্ত আদনানিরা ইয়ামেনি আরবদের নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব থেকে মুক্ত হতে পারেনি।

--------------------------------------------

(১) সাবার আসল নাম ছিল (আবদু শামস) এবং তাকে এই নামে ডাকা হতো কারণ তিনি প্রথম ব্যক্তি যিনি যুদ্ধে বন্দীদের ক্রয়-বিক্রয় করেছিলেন। ইবনে হাযমের 'জামহারাতুল আনসাব' গ্রন্থে উল্লেখ আছে: সাবা হলেন (আমির)।

(২) (খুযা যা): ইসলামপূর্ব যুগে রাবিআ বিন নিজার গোত্রসমূহের নেতা ছিলেন রাবিআ বিন আল-হারিস আত-তাগলিবি। তার মৃত্যুর পর তার পুত্র কুলাইব (ওয়াইল বিন রাবিআ) নেতৃত্বে স্থলাভিষিক্ত হন। কাহতানি কিনদা রাজাদের জনৈক প্রতিনিধি লাবিদ বিন আকিয়্যাহ কুলাইবের বোন জাহরাকে বিয়ে করেছিলেন। তিনি রাবিআ বিন নিজার গোত্রের ওপর জুলুম শুরু করেন। রাবিআ গোত্রের ওপর তার অত্যাচার অসহনীয় হয়ে উঠলে জাহরা তার স্বামীর কাছে নিজ কওমের ওপর তার আচরণের প্রতিবাদ জানান। তখন লাবিদ তাকে বললেন: "তোমার ভাই কুলাইবের কী হয়েছে যে সে মুযার আদনানিদের পক্ষ নিচ্ছে এবং রাজাদের হুমকি দিচ্ছে যেন সে অন্য কারোর শক্তির ওপর ভরসা করছে?" জাহরা বললেন: "আমি আমার ভাই কুলাইবের চেয়ে অধিক শক্তিশালী কাউকে জানি না এবং তিনি এ পদের যোগ্য।" এতে লাবিদ রাগান্বিত হয়ে তাকে সজোরে এক চড় মারলেন যাতে তার চোখ অন্ধকার হয়ে এল। তখন তিনি তার ভাইয়ের কাছে গেলেন এবং এই কবিতা আবৃত্তি করলেন:

আমি কখনো ভাবিনি—যদিও বিপদের শেষ নেই—যে আমরা কাহতান গোত্রের দাস হয়ে থাকব।

যতক্ষণ না লাবিদের পক্ষ থেকে এক চড় আমার ওপর এল, যার আঘাতে আমার উভয় চোখ অন্ধকার হয়ে গেল।

যদি তাগলিবের বংশধররা এবং ওয়াইলের কন্যা অথবা বনু শায়বান এই অপমান মেনে নেয়,

তবে তারা দীর্ঘকাল লাঞ্ছিত হয়ে বেঁচে থাকবে এবং প্রতিটি প্রতিযোগিতায় তাদের ঘোড়ার লাগাম ঢিলা হয়ে পড়ে থাকবে।

যখন কুলাইব এটি শুনলেন এবং চড়ের চিহ্ন দেখলেন, তখন তার আত্মমর্যাদাবোধ জেগে উঠল। তিনি লাবিদের ওপর আক্রমণ করে তাকে তলোয়ার দিয়ে হত্যা করলেন এবং এই কবিতা বললেন:

যদি রাজাদের হত্যা করা আমাদের ভুল বা সঠিক যা-ই হোক না কেন, আমরা তো লাবিদকে হত্যা করেছি।

আমরা রাজাদের মধ্য থেকেই রাজা বানিয়েছি এমন সব ঘোড়ার মাধ্যমে যারা লোহাকে চূর্ণ করে দেয়।

এটিই যুদ্ধের স্লোগান যার কসম মানুষ তোমাদের কওমের ব্যাপারে খায় এবং আমরা যুদ্ধের আগুন প্রজ্বলিত করি।

নয়তো তারা আমাদের কাছে খাজনা এবং কর ফিরিয়ে দিক, অন্যথায় আমরা যুদ্ধকে কেবল হুমকি হিসেবে রাখব না।

যদি নিজার বংশের বৃদ্ধা মহিলারা আমাকে তিরস্কার করে, তবে আমি যা করেছি তাতে নিজেকে শ্রেষ্ঠই মনে করি। =
(খণ্ড: ১) মাওসুআতুল কাবাইলিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
الشهيرة التي تزعمها كُليب (وائل) من تَغْلب ربيعة، وكان معه مُضَر وبعض قُضَاعة وقد صار ملكًا على العدنانية حتى قَتله جساس بن مُرَّة الشيباني من بكر بن وائل أخي تغلب بنو وائل، وكلتا القبيلتين من ربيعة العدنانية، ودامت الحرب بين الحيين أربعين عامًا. أما فرع القحطانية الآخر كهلان فمنه شعوب وقبائل كثيرة أغلبها نزح من اليمن بعد انهيار سد مأرب أشهرهم: الأزد بقبائلهم ومن الأزد الأنصار (الأوس والخزرج)، والغساسنة، وكان لهم مُلكًا بجنوبي الشام قبل الإسلام وكذلك هناك من قبائل كهلان الشهيرة غير الازد: خَوْلان - هَمَدان - طَيْئ - مَذْحِج - لَخْم - عَامِلة - جُذَام - كِنْدة(1) والأخيرة كان لها مُلْكًا في الحجاز واليمن، وعن لَخْم فكأَن لهم مُلكًا غربْ العراق بالحيرة وهم المناذرة اللخْميين، وقيل رأي آخر لنسَّابة مُضَر أيام الفاروق عمر رضي الله عنه أن النعمان بن المنذر وقومه هم أشلاء قنص بن معد بن عدنان، والذين انقرضوا قديمًا ودخلوا في القبائل، ولهذا حُسب النعمان وقومه من لَخْم خطأ، وقد اختلطت قبائل القحطانية

--------------------------------------------

= فلما بلغ ملوك حِمْيَر باليمن جهزوا جيشًا كثيفًا وساروا به نحو ديار ربيعة، ولما عرف كُليب الخبر نادى في قومه بالغارة فأجابته ربيعَة ومُضَر وإياد، وبعض طيئ وقُضاعة رغم أنهما قحطانيتان، وعقد الألوية وتقدم برهطه الأراقم من تَغْلِب حتى غشي جيوش اليمن، فرقعت بينهم الوقائع الدامية وكانت قبائل اليمن قد نزلت بخزازى وعليهم عشرة أقيال من حِمْيَر فحمَّس كليب رجاله وحثهم على الثبات وجعل على كلّ قبيلة معه قائدًا، فجعل الأحوص بن جعفر (هوازن) على مُضَر - وجعل مرّة بن ذهل على ذهل وشيبان - وذهل بن حارثة على باقي ربيعة - وطرفة بن العبد على باقي قيس - وفي مقدمته سلمة بن خالد وهو المسمى السفاح التغلبي وأمره أن يعلو جبل خزازى ويوقد النار ليهتدي بها جيشه وإن غشيه العدو يوقد نارًا أخرى وتقدمت طلائع اليمن على ماء الذنايب فسار إليهم كليب وقتلهم عن آخرهم وهجمت كتائب أخرى من اليمن على السفاح فأوتد نارًا أخرى، وكان معظم المهاجمين من مذحج وقائدهم سلمة بن الحارث، فأقبل كليب في جموع من ربيعة فصبحهم والتقوا بخزازى واقتتلوا قتالًا، شديدًا دام أيامًا فانهزمت جموع اليمن وانتصرت نزار وبني عدنان نصرًا مؤزرًا فقال كليب:

لقد عَرفَت قحطان صبري ونجدتي … غداة خزازى والحتوف دوان

غداة شفيت النفس من ذل حِمْيَر … وأورثتها ذلا بصدق طعان

دلفت إليهم بالصفائح والقنا … على كلّ ليث من بني غَطَفان

ووائل قد جزَّت مقاديم يعرب … فصدفها فيّ صحوها الثقلان

(1) (كنْدة) - فى معجم ما استعجم للبكري

دكر أنَّه يقال إن كندة بن عمير بن معد بن عدنان، ثم ذهب إلى بلاد اليمن ونسب إلى القحطانية، كما ذكر أن الكون والسكاسك أبناء أشرس بن ثورهم أيضًا من حيادة بن معد بن عدنان.

বিখ্যাত সেই নেতৃত্ব যার দাবিদার ছিলেন তাগলিব রাবিয়াহর কুলাইব (ওয়ায়েল)। তার সাথে ছিলেন মুদার ও কুদাআহ’র কিছু অংশ। তিনি আদনানিদের ওপর বাদশাহ হিসেবে অধিষ্ঠিত ছিলেন যতক্ষণ না বকর ইবনে ওয়ায়েলের (তাগলিবের ভাই বনু ওয়ায়েল) জাসসাস বিন মুররাহ আশ-শাইবানি তাকে হত্যা করেন। উভয় গোত্রই রাবিয়াহ আদনানিয়ার অন্তর্ভুক্ত এবং উভয় গোষ্ঠীর মধ্যে যুদ্ধ চল্লিশ বছর স্থায়ী হয়েছিল। অন্যদিকে কাহতানিয়ার অন্য শাখাটি হলো কাহলান। এ থেকে অনেক জাতি ও গোত্র বের হয়েছে যার বেশিরভাগই মারিব বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর ইয়েমেন থেকে হিজরত করেছিল। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হলো: তাদের গোত্রসমূহসহ আযদ। আযদ থেকে এসেছে আনসার (আউস ও খাযরাজ) এবং গাসসানি। ইসলামের আগে সিরিয়ার দক্ষিণে তাদের একটি রাজত্ব ছিল। একইভাবে আযদ ছাড়াও কাহলানের অন্যান্য বিখ্যাত গোত্র হলো: খাওলান, হামাদান, তাইয়্যি, মাযহিজ, লখম, আমিলাহ, জুযাম ও কিন্দাহ(১)। শেষোক্ত কিন্দাহ গোত্রের রাজত্ব ছিল হিজায ও ইয়েমেনে। লখম গোত্র সম্পর্কে বলা হয় যে ইরাকের পশ্চিমে আল-হীরায় তাদের একটি রাজত্ব ছিল এবং তারা ছিলেন লখমীয় মুনাযিরা। ফারুক উমর (রা.)-এর আমলে মুদার বংশবিশারদদের থেকে অন্য এক মত পাওয়া যায় যে, নুমান বিন মুনযির ও তার সম্প্রদায় হলো কানাস বিন মাআদ বিন আদনানের অবশিষ্টাংশ, যারা প্রাচীনকালে বিলুপ্ত হয়ে অন্য গোত্রে মিশে গিয়েছিল। এ কারণেই ভুলবশত নুমান ও তার সম্প্রদায়কে লখমের অন্তর্ভুক্ত গণ্য করা হয়। কাহতানি গোত্রগুলো একে অপরের সাথে মিশে গিয়েছিল...

--------------------------------------------

= যখন ইয়েমেনের হিময়ার সম্রাটরা এই খবর জানতে পারলেন, তারা এক বিশাল বাহিনী প্রস্তুত করে রাবিয়া গোত্রের বসতির দিকে রওনা হলেন। কুলাইব যখন এই সংবাদ পেলেন, তিনি তার সম্প্রদায়ের মধ্যে যুদ্ধের ডাক দিলেন। তার ডাকে সাড়া দিল রাবিয়া, মুদার ও ইয়াদ এবং তাইয়্যি ও কুদাআহ’র কিছু অংশ (যদিও এই দুটি কাহতানি গোত্র ছিল)। তিনি যুদ্ধের পতাকা তৈরি করলেন এবং তাগলিবের আরাকিম গোত্রের লোকদের নিয়ে এগিয়ে গেলেন যতক্ষণ না তারা ইয়েমেনি বাহিনীর মুখোমুখি হলেন। তাদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ সংঘটিত হলো। ইয়েমেনি গোত্রগুলো খাযাযায় অবস্থান নিয়েছিল এবং তাদের নেতৃত্বে ছিলেন হিময়ারের দশজন প্রধান নেতা। কুলাইব তার লোকদের উৎসাহিত করলেন এবং দৃঢ় থাকার আহ্বান জানালেন। তিনি প্রতিটি গোত্রের ওপর একজন করে সেনাপতি নিযুক্ত করলেন। তিনি মুদারের ওপর আহওয়াস বিন জাফরকে (হাওয়াযিন), যুহল ও শাইবানের ওপর মুররাহ বিন যুহলকে, রাবিয়ার বাকি অংশের ওপর যুহল বিন হারিসাহকে এবং কাইসের বাকি অংশের ওপর তারাফা বিন আবদকে নিযুক্ত করলেন। তার অগ্রবর্তী দলে ছিলেন সালামাহ বিন খালিদ, যাকে আস-সাফফাহ আত-তাগলিবি বলা হতো। তাকে আদেশ দেওয়া হলো খাযাযা পাহাড়ের চূড়ায় উঠে আগুন জ্বালাতে যাতে তার বাহিনী পথনির্দেশ পায় এবং শত্রু আক্রমণ করলে যেন অন্য একটি আগুন জ্বালায়। ইয়েমেনের অগ্রবর্তী সেনাদল যানাইব নামক পানির নিকট পৌঁছালে কুলাইব তাদের দিকে অগ্রসর হয়ে তাদের সমূলে বিনাশ করলেন। ইয়েমেনের অন্যান্য বাহিনী সাফফাহর ওপর আক্রমণ করলে তিনি আরেকটি আগুন জ্বালিয়ে দিলেন। আক্রমণকারীদের বেশিরভাগই ছিল সালামাহ বিন হারিসের নেতৃত্বে মাযহিজ গোত্রের। কুলাইব রাবিয়ার এক বিশাল বাহিনী নিয়ে ভোরবেলা তাদের ওপর চড়াও হলেন এবং খাযাযায় তাদের মুখোমুখি হয়ে দিনব্যাপী ভয়াবহ যুদ্ধ করলেন। ইয়েমেনি বাহিনী পরাজিত হলো এবং নিযার ও আদনানের বংশধররা এক ঐতিহাসিক বিজয় লাভ করল। তখন কুলাইব বলেছিলেন:

নিশ্চয়ই কাহতানরা খাযাযার সকালে আমার ধৈর্য ও বীরত্ব সম্পর্কে জেনেছে, যখন মৃত্যু ছিল অতি নিকটে।

সেদিন আমি হিময়ারের লাঞ্ছনা থেকে নিজের আত্মাকে প্রশান্তি দিয়েছি এবং সত্যনিষ্ঠ আঘাতের মাধ্যমে তাদের জন্য অপমান রেখে গিয়েছি।

আমি তলোয়ার ও বর্শা নিয়ে তাদের দিকে ধাবিত হয়েছি, বনু গাতাফানের প্রত্যেক সিংহের ওপর সওয়ার হয়ে।

আর ওয়ায়েল গোত্র ইয়ারুবের অগ্রজদের মস্তক কর্তন করেছে, ফলে তাদের সুস্থ অবস্থায় জিন ও মানুষ তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।

(১) (কিন্দাহ) - আল-বাকরির ‘মুজামু মা ইস্তাজাম’ গ্রন্থে:

উল্লেখ করা হয়েছে যে, বলা হয়ে থাকে কিন্দাহ হলো ইবনে উমাইর ইবনে মাআদ বিন আদনান। এরপর তিনি ইয়েমেনে চলে যান এবং কাহতানিদের সাথে সম্পৃক্ত হন। আরও উল্লেখ আছে যে আল-কাউন ও আস-সাকাসিক, যারা আশরাস বিন সাউরের পুত্র, তারাও হিয়াদাহ বিন মাআদ বিন আদনানের বংশধর।
(খণ্ড: ১) মাওসুআতুল কাবাইলিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
بقبائل العدنانية بأواصر المصاهرة أو الحلف وصاروا شعبًا واحدًا وقد انتهى أي شكل من التناحر منذ بزوغ الإسلام. وكان لحي الأنصار القحطانيين فضلًا في نصرته ونصرة النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم الذي أوصى(1) بالأنصار دون سائر القحطانية لما لهم من الفضل والشرف والكرامة، ومن أراد المزيد عن تاريخ الأنصار المجيد فليطَّلع على سيرة النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم لابن هشام وابن إسحاق.

--------------------------------------------

(1) قال صلى الله عليه وسلم: أوصيكم بالأنصار فإن النّاس يزيدون والأنصار كما هم لا يزيدون.

وفي غزوة حنين لَمْ يعط النبي صلى الله عليه وسلم الأنصار من الغنائم (الإبل والاغنام والماعز وغيرها من هوارن) وقد أعطى صلى الله عليه وسلم أُناسًا من بني عدنان لكي يؤلف قلوبهم فانتابهم ضيق، وقال حسان بن ثابت شعرًا منه:

كما رددنا ببدر دون ما طلبوا … أهل النفاق وفينا ينزل الظفَر

ونحن جندك يوم النعف من أحد … إذا حزبت بطرًا أحزابها مُضَر

ولا تهر جناة الحرب نادينا … ونحن حين تلظى نارها سُعُر

فجمع النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم الأنصار (الأوس والخزرج) وقال لهم: ألا ترضون يا معشر الأنصار أن يذهب النّاس بالشاة والبعير وترجعوا برسول الله إلى رحالكم؟ فوالذي نفس محمد بيده لولا الهجرة لكنت امرءًا من الأنصار ولو سلك النّاس شِعبًا وسلكت الأنصار شعبًا لسلكت شعب الأنصار، اللهم ارحم الأنصار وأبناء الأنصار وأبناه أبناه الأنصار، فبكى القوم حتى أخضَلوا لحاهم أيَ بلوها بالدموع، وقالوا رضينا برسول الله قِسمًا وحظًا.
আদনানি গোত্রগুলোর সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক বা মৈত্রীর বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে তারা এক জাতিতে পরিণত হয়েছে এবং ইসলামের আবির্ভাবের পর থেকে যেকোনো ধরনের সংঘাতের অবসান ঘটেছে। আর কাহলানি আনসারদের বড় অবদান ছিল দ্বীনের সাহায্যে এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহায্যে। তিনি আনসারদের ব্যাপারে(১) অসিয়ত করেছেন অন্য সকল কাহলানিদের তুলনায়, তাদের মর্যাদা, শ্রেষ্ঠত্ব ও সম্মানের কারণে। আর যারা আনসারদের গৌরবময় ইতিহাস সম্পর্কে আরও জানতে চান, তারা যেন ইবনে হিশাম ও ইবনে ইসহাকের সীরাতে নববী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দেখে নেন।

--------------------------------------------

(১) তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আমি তোমাদেরকে আনসারদের বিষয়ে অসিয়ত করছি, কারণ মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে কিন্তু আনসারদের সংখ্যা বর্তমানে যা আছে তেমনই থাকবে, বাড়বে না।

হুনায়নের যুদ্ধে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনসারদের গণিমতের মাল (উট, ভেড়া, ছাগল এবং হাওয়াযিনদের অন্যান্য সম্পদ) থেকে কিছুই দেননি। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনু আদনানের কিছু লোককে দিয়েছিলেন তাদের অন্তর জয় করার জন্য, এতে তারা (আনসাররা) কিছুটা সংকীর্ণতা অনুভব করলেন। আর হাসান বিন সাবিত একটি কবিতা বললেন, যার অংশবিশেষ হলো:

যেমন আমরা বদরের দিন মুনাফিকদের তাদের আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ না হতেই ফিরিয়ে দিয়েছিলাম … আর আমাদের মাধ্যমেই বিজয় অবতীর্ণ হয়।

আমরাই উহুদের উঁচু প্রান্তরের দিনে আপনার সৈন্য ছিলাম … যখন মুদার গোত্র তার দলবল নিয়ে দম্ভের সাথে সমবেত হয়েছিল।

যুদ্ধের উত্তাপ আমাদের মজলিসকে ভীত করতে পারে না … আর যুদ্ধের আগুন যখন দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে তখন আমরাই প্রজ্জ্বলিত শিখা।

অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনসারদের (আউস ও খাযরাজ) একত্রিত করলেন এবং তাদের বললেন: হে আনসার সম্প্রদায়! তোমরা কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, মানুষ ভেড়া ও উট নিয়ে চলে যাবে আর তোমরা আল্লাহর রাসূলকে সাথে করে তোমাদের আবাসে ফিরে যাবে? সেই সত্তার শপথ যার হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! যদি হিজরত না থাকতো তবে আমি আনসারদেরই একজন হতাম। মানুষ যদি কোনো উপত্যকা দিয়ে চলে আর আনসাররা অন্য কোনো উপত্যকা দিয়ে চলে, তবে আমি আনসারদের উপত্যকা দিয়েই চলবো। হে আল্লাহ! আপনি আনসারদের ওপর রহম করুন, আনসারদের সন্তানদের ওপর এবং আনসারদের সন্তানদের সন্তানদের ওপর। তখন উপস্থিত সকলে কান্নায় ভেঙে পড়লেন এমনকি তাদের দাড়ি ভিজে গেল অর্থাৎ চোখের পানিতে সিক্ত হয়ে গেল। তারা বললেন, আমরা বণ্টন ও অংশ হিসেবে আল্লাহর রাসূলকে পেয়েই সন্তুষ্ট।
(খণ্ড: ১) মাওসুআতুল কাবাইলিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
‌‌العدنانيون

وهم من نسل عدنان، وقيل أن أباه أد (أدد)، وهناك خلاف كثير بين العلماء على تسلسل أسماء أجداد عدنان حتى إسماعيل ذبيح الله عليه السلام (صادق الوعد).

ونظرًا لحديث النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم بعدم جواز رفع نسب عدنان إلى إسماعيل في قوله: لا ترفعوا ما بعد عدنان كذب النسَّابون (قالها ثلاثًا)، وقال: لو شاء أن يعلمه الله لنا لعلَّمه ولكن ما بين ذلك قرونًا كثيرة، واتفق العلماء في أن ذرية إسماعيل اندثرت فيما قبل عدنان ولم يعرف لها من بقية، وبذلك فعدنان هو الرجل الذي اختاره الله من ذرية إسماعيل، ولا يُعرف عدد الأجداد أو الزمن ما بين عدنان وإسماعيل، ولكن عدنان وابنه معد وأحفاده كانوا - طبعًا - مسلمين على دين الحنيفية دين إبراهيم عليه السلام، وكل ما أكده العلماء أنه أول مَنْ غير دين نبي الله إبراهيم عليه السلام وذلك لما جاء في أحاديث نبوية - هو عمرو بن لُحَي الذي قال عنه النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم: "رأيت عمرو بن لُحَي يجر قصبهُ(1) في النار".

وأخبر أن عمرو بن لُحي هو أول من وضع الأصنام في الكعبة، وكما يرى جمهرة النسَّابون أنه جد (خُزَاعة) والتي كانت تسيطر على مفاتيح الكعبة، حتى نزعها منهم قُصَي بن كلاب القرشي وهو جد النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم أي في عمود نسبه.

وأما أشهر فروع (بنو عدنان)(2) وهم بني نِزَار بن مَعْد:

(أ) بنو إياد بن نزار.

(ب) بنو أنمار بن نزار.

(ج) بنو ربيعة بن نزار.

(د) بنو مُضَر بن نزار.

--------------------------------------------

(1) قصبهُ: أحشاءه.

(2) كان لعدنان ولد اسمه (عك) وبقي منه نسل حتى بعثة النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم، وقبيلة عك تيامنت ومنها غافق شهدت فتح مصر.

* قال عباس بن مرداس السُّلَمي (بني سُلَيم العدنالية) يمتخر على معدي كرب فارس اليمن الشهير قاصدًا عك بن عدنان وعك بن عدنان تلقبوا … بغسان حتى طردوا كلّ مطرد

وقال شاعر عك مفتخرًا بقومه: وعك بن عدنان أبويا ومن يكن … أباه أبونا يغلب النّاس سؤددا
আদনানিগণ

তারা আদনানের বংশধর, এবং বলা হয়ে থাকে যে তাঁর পিতা হলেন আদ (আদাদ)। আদনানের পূর্বপুরুষদের নামের ধারাবাহিকতা নিয়ে আল্লাহর জবিহ ইসমাঈল আলাইহিস সালাম (যিনি প্রতিশ্রুতির সত্যবাদী ছিলেন) পর্যন্ত আলেমদের মধ্যে অনেক মতভেদ রয়েছে।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীসের প্রেক্ষিতে আদনানের বংশপরম্পরা ইসমাঈল পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া বৈধ নয় বলে তাঁর এই বাণীতে এসেছে: "তোমরা আদনানের পরবর্তী বংশলতিকা বর্ণনা করো না, বংশতাত্ত্বিকগণ মিথ্যা বলেছেন" (তিনি এটি তিনবার বলেছেন)। তিনি আরও বলেছেন: "যদি আল্লাহ তা আমাদের জানাতে চাইতেন তবে জানাতেন, কিন্তু এর মধ্যবর্তী সময়ে বহু শতাব্দী অতিবাহিত হয়েছে।" আলেমগণ একমত হয়েছেন যে, ইসমাঈল আলাইহিস সালাম-এর বংশধরগণ আদনানের পূর্বেই বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল এবং তাদের আর কোনো অবশিষ্টাংশ জানা নেই। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, আদনান হলেন সেই ব্যক্তি যাকে আল্লাহ ইসমাঈলের বংশধরদের মধ্য থেকে মনোনীত করেছিলেন। আদনান এবং ইসমাঈলের মধ্যবর্তী পূর্বপুরুষদের সংখ্যা বা সময়কাল জানা নেই। তবে আদনান, তাঁর পুত্র মা’দ এবং তাঁর পৌত্রগণ স্বাভাবিকভাবেই ইবরাহীম আলাইহিস সালাম-এর দ্বীন তথা হানিফিয়্যাহ-এর অনুসারী মুসলিম ছিলেন। আলেমগণ যা নিশ্চিত করেছেন তা হলো, যিনি সর্বপ্রথম আল্লাহর নবী ইবরাহীম আলাইহিস সালাম-এর দ্বীন পরিবর্তন করেছিলেন—যেমনটি নববী হাদীসসমূহে এসেছে—তিনি হলেন আমর ইবনে লুহাই। যাঁর সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমি আমর ইবনে লুহাইকে জাহান্নামে তার নাড়িভুঁড়ি(১) টেনে নিয়ে বেড়াতে দেখেছি।"

এবং তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, আমর ইবনে লুহাই সর্বপ্রথম কাবাঘরে মূর্তি স্থাপন করেছিলেন। অধিকাংশ বংশতাত্ত্বিকের মতে তিনি খুযা’আ গোত্রের পূর্বপুরুষ ছিলেন, যারা কাবার চাবিকাঠির নিয়ন্ত্রণে ছিল। শেষ পর্যন্ত কুরাইশ বংশীয় কুসাই ইবনে কিলাব—যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সরাসরি বংশলতিকার ঊর্ধ্বতন পুরুষ—তাদের কাছ থেকে তা ছিনিয়ে নেন।

আদনানিদের (বানু আদনান)(২) সবচেয়ে প্রসিদ্ধ শাখাগুলো হলো মা’দ ইবনে নিযারের বংশধর:<

(ক) বনু ইয়াদ ইবনে নিযার।

(খ) বনু আনমার ইবনে নিযার।

(গ) বনু রাবীআ ইবনে নিযার।

(ঘ) বনু মুদার ইবনে নিযার।

--------------------------------------------

(১) নাড়িভুঁড়ি: তার অন্ত্রসমূহ।

(২) আদনানের আক নামে এক পুত্র ছিল এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নবুওয়াত পর্যন্ত তাঁর বংশধারা অবশিষ্ট ছিল। আক গোত্রটি ইয়ামেনমুখী হয়েছিল এবং তাদেরই অংশ গাফিক গোত্র মিশর বিজয়ে অংশগ্রহণ করেছিল।

* আব্বাস ইবনে মিরদাস আস-সুলামী (আদনানি সুলাইম গোত্রীয়) ইয়ামেনের বিখ্যাত অশ্বারোহী মা’দি কারিব-এর ওপর গৌরব প্রকাশ করে আদনানের পুত্র আক সম্পর্কে বলেন—এবং আদনানের পুত্র আক … গাসসান উপাধিতে ভূষিত হয়েছিল যতক্ষণ না তারা সকল বিতাড়িতদের বিতাড়িত করেছিল।

আক গোত্রের জনৈক কবি নিজ গোত্র নিয়ে গর্ব করে বলেন: আদনানের পুত্র আক আমার পিতা; আর আমাদের পিতা যাঁর পিতা হবে … সে আভিজাত্যে মানুষের ওপর জয়ী হবে।
(খণ্ড: ১) মাওসুআতুল কাবাইলিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌بنو إياد بن نزار

كان لهم شرف وعزة ومنعة وكثرة في تهامة في أوائل القرن الثالث الميلادي، وبعد انفراد بنو مُضَر برياسة الحرم اضطرت إياد أن تهاجر إلى العراق ونزلت بسواد الكوفة وغيرها من النواحي بأرض الجزيرة، وتكاثروا وكانوا يغيرون على من يليهم في البوادي ويغزون مع ملوك آل نصر(1) في غزواتهم، وحاربت إياد الأعاجم من الفُرس وهزمتهم، وغزاهم بعد ذلك أنوشروان أحد الأكاسرة فأصاب منهم ونفاهم من معظم البلاد التي قطنوها في العراق، فنزلوا في الموصل والجزيرة شمالًا، فأرسل كسري مالك بن حارثة ومعه فرقة من بني بكر بن وائل (ربيعة) فأخذهم على غِرَّة فلاذوا بالفرار، وأتبعهم الفرس حتى نزلوا في الشام في حمص وحلب وآسيا حتى أنقرة بتركيا وما صاقبها من البلاد التابعة للروم حينئذ، ودانت إياد لغسان وتنصَّروا أي دخلوا في النصرانية مثلهم مثل جَبَلة بن الأَيْهَم أحد ملوك غسان ومثلهم قُضَاعة ذلك الحين، وتفرقوا في أمصار الشام ولحق أغلبهم إلى بلاد أنقرة بعد اجتماع قُضَاعة وغَسَّان، وقد خاف هؤلاء أن يلحقهم ضَيْم من قُضَاعة وغَسَّان أو يصيروا يدًا واحدة عليهم، وكان بعضهم قد حارب مع الفُرس في موقعة عين تمر، وكما استعان بهم الروم عام 12 هـ لما اجتمع العرب المسلمون في الشام، وفي عام 16 هـ حاربوا المسلمين مع الروم شأنهم شأن قُضَاعة وتَغْلِب، ولما خرج الوليد بن عُقبة عام 17 هـ إلى بني تغلب وعرب الجزيرة أخذتهم حميَّة العروبة ضد الروم رغم أن أغلبهم كانوا نصارى على دين الروم، ولكن إيادًا فإنهم هربوا وقد دخلوا بلاد الروم، ولما قام هرقل الروم بآخر محاولة لاستعادة الشام من المسلمين كان جيشه يحتوي على عدد كبير من إياد، ولكن العرب المسلمين غزوا الجزيرة بمساعدة نصارى العرب وفتحوا، كريت، وقد فاوض خالد بن الوليد عرب المدن بالشام، مما أضعف قوة الروم وخاصة بعد انسحاب كثير من العرب من جيشهم، ولما حارب عرب الشام المتفاوضين مع خالد بن الوليد جيش الروم وهزموه، وقد دخلوا في الإسلام عدا إياد هؤلاء! فقد رجعوا مع جيش الروم

--------------------------------------------

(1) بنو نصر اللخميون جدهم نصر بن ربيعة بن عمرو من بني نمارة من لَخم القحطانية، ويقال المناذرة في بادية العراق والحيرة كانوا تابعين لملوك فارس ومدة ملكهم 522 عامًا، وذكر القلقشندي أن من بني نصر هؤلاء في البر الشرقي من أسيوط بالديار المصرية.
বনু ইয়াদ বিন নিযার

তৃতীয় শতাব্দীর শুরুর দিকে তিহামা অঞ্চলে তাদের যথেষ্ট মর্যাদা, প্রতিপত্তি, শক্তি ও লোকসংখ্যা ছিল। বনু মুদার যখন এককভাবে হারামের নেতৃত্ব লাভ করল, তখন ইয়াদ ইরাকে হিজরত করতে বাধ্য হয়। তারা কুফার গ্রামাঞ্চল এবং জাজিরা ভূখণ্ডের অন্যান্য এলাকায় বসতি স্থাপন করে। সেখানে তাদের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং তারা পার্শ্ববর্তী মরুচারীদের ওপর আক্রমণ করত এবং আল-নসর রাজবংশের রাজাদের(১) সাথে তাদের যুদ্ধাভিযানগুলোতে অংশগ্রহণ করত। ইয়াদ গোত্র অনারব পারস্যদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে তাদের পরাজিত করেছিল। এরপর পারস্য সম্রাটদের একজন আনুশিরওয়ান তাদের ওপর আক্রমণ করেন, তাদের পর্যুদস্ত করেন এবং ইরাকের অধিকাংশ এলাকা থেকে তাদের বহিষ্কার করেন। তখন তারা উত্তর দিকে মসুল ও জাজিরায় চলে যায়। অতঃপর কিসরা মালিক বিন হারিসার নেতৃত্বে বনু বকর বিন ওয়ায়েল (রাবিয়াহ) গোত্রের একটি দল পাঠিয়ে তাদের ওপর অতর্কিতে আক্রমণ চালায়, ফলে তারা পলায়ন করে। পারস্যরা তাদের পশ্চাদ্ধাবন করে, এমনকি তারা সিরিয়ার হিমস ও আলেপ্পো এবং এশিয়া মাইনরের আঙ্কারা (তুরস্ক) পর্যন্ত পৌঁছে যায়, যা তখন রোমান সাম্রাজ্যের অধীনস্থ ছিল। ইয়াদ গোত্র গাসসানের আনুগত্য স্বীকার করে এবং তাদের মতো খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করে। গাসসানি রাজাদের একজন জাবালা বিন আইহাম এবং সেই সময়ের কুদায়া গোত্রও অনুরূপ করেছিল। তারা সিরিয়ার বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে এবং কুদায়া ও গাসসানের সম্মিলনের পর তাদের অধিকাংশ আঙ্কারার দিকে চলে যায়। তারা আশঙ্কা করেছিল যে, কুদায়া ও গাসসান তাদের ওপর জুলুম করতে পারে অথবা তাদের বিরুদ্ধে একজোট হতে পারে। তাদের কিছু লোক আইন তামরের যুদ্ধে পারস্যদের হয়ে লড়েছিল। তেমনিভাবে ১২ হিজরিতে যখন মুসলিম আরবরা সিরিয়ায় সমবেত হয়, তখন রোমানরা তাদের সাহায্য নিয়েছিল। ১৬ হিজরিতে তারা কুদায়া ও তাগলিবের মতো রোমানদের সাথে মিলে মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। ১৭ হিজরিতে যখন ওয়ালিদ বিন উকবা বনু তাগলিব এবং জাজিরার আরবদের অভিমুখে রওয়ানা হলেন, তখন রোমানদের বিরুদ্ধে তাদের মাঝে আরবীয় জাতীয়তাবোধ জেগে ওঠে, যদিও তাদের অধিকাংশই রোমানদের ধর্মে অর্থাৎ খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত ছিল। তবে ইয়াদ গোত্রের লোকেরা পলায়ন করে রোমান ভূখণ্ডে প্রবেশ করে। যখন রোমান সম্রাট হিরাক্লিয়াস মুসলিমদের হাত থেকে সিরিয়া পুনরুদ্ধারের সর্বশেষ চেষ্টা করেন, তখন তার বাহিনীতে ইয়াদ গোত্রের বড় একটি অংশ ছিল। তবে মুসলিম আরবরা আরব খ্রিস্টানদের সাহায্যে জাজিরা আক্রমণ করে এবং ক্রিট জয় করে। খালিদ বিন ওয়ালিদ সিরিয়ার শহরগুলোর আরবদের সাথে আলোচনা করেন, যা রোমানদের শক্তিকে দুর্বল করে দেয়, বিশেষ করে তাদের বাহিনী থেকে অনেক আরব সরে যাওয়ার পর। যখন সিরিয়ার আরবরা, যারা খালিদ বিন ওয়ালিদের সাথে আলোচনা করেছিল, রোমান বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে তাদের পরাজিত করল, তখন এই ইয়াদ গোত্র ব্যতীত সবাই ইসলাম গ্রহণ করল! তারা পুনরায় রোমান বাহিনীর সাথে ফিরে গেল।

--------------------------------------------

(১) লাখমীয় বনু নসর: তাদের পূর্বপুরুষ নসর বিন রাবিয়াহ বিন আমর, যিনি কাহতানি লাখম গোত্রের নুমারা শাখার লোক ছিলেন। তাদের আল-মুনাজিরাহ বলা হয়। ইরাকের মরুপ্রান্তর ও আল-হিরায় তারা পারস্য সম্রাটদের অনুগত ছিল এবং তাদের রাজত্বকাল ছিল ৫২২ বছর। কালকাশান্দি উল্লেখ করেছেন যে, এই বনু নসরের এক শাখা মিশরের আসিউতের পূর্ব তীরে বসবাস করত।
(খণ্ড: ১) মাওসুআতুল কাবাইলিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
المهزوم إلى مدينة كليكية فتبعهم المسلمون وأفنوا أغلبهم، وأما بعض إياد في الجزيرة شمال العراق فبعد انتشار الإسلام ودخول القبائل فيه إلَّا أن إيادًا أيضًا هربت من هناك إلى مدن كباد وكيه بتركيا، وقد أرسل عمر بن الخطاب رضي الله عنه إلى هرقل عدة مصاحف للقرآن ليعرضها على العرب في بلاده مهددًا إياه أن لا يمنع عربي من دخول الإسلام ولا يحولن بينه وبين الخروج لبلاد العرب، وإن لَمْ يفعل ذلك فقد هدده الفاروق بتتبع النصارى في بلاد العرب وقتلهم، فلما عرض هرقل المصاحف ووجدها مثل الإنجيل ومتوافق ما فيها من كلام الله أسلموا ودخلوا أفواجًا ولكنهم بقوا على مسكنهم، ومن إياد بن نزار هؤلاء خطباء يُضرب بهم المثل وكان منهم قس بن ساعدة الذي يُضرب به المثل في البلاغة، وقال صاحب كتاب الأوائل: أن قسًّا أول من أظهر التوحيد بمكة مع ورقة بن نوفل، وذكر الرسول صلى الله عليه وسلم قسًّا وسأل عنه وفد إياد عندما جاءوا للنبي، فلما أخبروه أنه قد هلك قال صلى الله عليه وسلم لهم: إنه سوف تُعرض عليه أقواله في الآخرة وإن كان غرضهُ توحيد الله من قولها فسيكون في الجَنَّة، ومن إياد كعب بن مامة وكان يُضرب به المثل في الجود، فقد كان معه ماء ورفيقًا وكان سائرًا في طريق قفر فلما عطش رفيقه أعطاه الماء الذي معه ومات هو عطشًا في الفلاة!!، وقد تعلَّم العرب الخط من بني إياد وعرفوا أيضًا منهم أخبار وعلوم الأقوام القديمة كطسم وجديس.

وقيلت رواية عن إياد وسبب نفيهم من الحرم(1) هى أنهم كانوا في عزة وكثرة ويولد لأحدهم الولد كلّ بضعة أيام، وقد تغلبوا على جميع بني إخوتهم

--------------------------------------------

(1) قال أبو المنذر عن ابن عباس:

كان يولد لإياد بن نزار الولد في الليلة الواحدة العشرة وأكثر من ذلك!! ولا يولد لمُضَر وربيعَة في الشهر إلَّا الولد الواحد فكثرت قبائلهم وتلاحقت نابتتهم وكان فيهم الغمامتان والكردسان وهي قبائل من إياد، فبغت إِياد بكثرتها وقوتها على أخوانهم من مُضَر وربيعَة حتى كان الرجل من إياد يضع قوسه على باب المُضَري والربعي فيكون أحق بما فيه، فيقال والله أعلم أنهم سمعوا مناديًا في جوف الليل على رأس جبل وهو يقول:

(يا معشر إياد أظعنوا من البلاد لمُضَر الأنجاد قد عثتم في الفساد فحلوا بأرض سنداد فليس إلى تهامة من معاد)! ثم رمى الله إياد بقرح، وقال ابن شبه: أنه داء يقال له النخاع، فكان يموت منهم في اليوم والليلة المئة والمئتان، فقال رجل صالح منهم: يا معشر إياد إنما رماكم الله بما ترون لبغيكم على بني أبيكم فاشخصوا عن هذه البلاد فقد أمرتم بذلك لا يصيبكم الله بعذاب، وقيل أن إيادًا لَمْ تزل مع إخوتها بتهامة وما والاها حتى وقعت بينهم حرب فضعفوا فظهرت عليهم ربيعَة ومُضر فالتقوا بناحية من بلادهم يقال لها خانق وهي من بلاد كنانة بن خُزيمة فانتصرت ربيعةَ ومُضَر على إياد وأخرجوهم من تهامة، وقال أحد بني قيس عَيْلان (مُضَر) في ذلك النصر: =
পরাজিত দলটি সিলিসিয়া (কিলিকিয়া) শহরের দিকে চলে যায়, ফলে মুসলিমরা তাদের অনুসরণ করেন এবং তাদের অধিকাংশকে বিনাশ করেন। আর ইরাকের উত্তরাঞ্চলের জাজিরায় অবস্থিত ইয়াদ গোত্রের একাংশের ব্যাপারে বলা যায়, সেখানে ইসলামের প্রসার ও বিভিন্ন গোত্রের ইসলাম গ্রহণের পর ইয়াদ সেখান থেকেও তুরস্কের কাপাদোকিয়া ও কিয়ে শহরে পালিয়ে যায়। উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) হিরাক্লিয়াসের কাছে কোরআনের বেশ কিছু পাণ্ডুলিপি (মাসহাফ) পাঠিয়েছিলেন যেন তিনি তা তাঁর দেশের আরবদের সামনে পেশ করেন। তিনি তাকে এই বলে সতর্ক করেছিলেন যে, কোনো আরবকে ইসলাম গ্রহণে যেন বাধা দেওয়া না হয় এবং আরব ভূখণ্ডে ফিরে আসার পথে কোনো অন্তরায় সৃষ্টি না করা হয়। হিরাক্লিয়াস যদি তা না করেন, তবে ফারুক (রা.) তাকে হুমকি দিয়েছিলেন যে তিনি আরব ভূখণ্ডের খ্রিষ্টানদের খুঁজে বের করবেন এবং তাদের হত্যা করবেন। যখন হিরাক্লিয়াস মাসহাফগুলো পেশ করলেন এবং দেখলেন যে সেগুলো ইঞ্জিলের মতোই এবং তাতে আল্লাহর যে বাণী রয়েছে তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, তখন তারা ইসলাম গ্রহণ করে দলে দলে প্রবেশ করল, তবে তারা তাদের পূর্বের বাসস্থানেই রয়ে গেল। ইয়াদ ইবনে নিযারের বংশধরদের মধ্যে এমন সব বাগ্মী ছিলেন যারা প্রবাদে পরিণত হয়েছিলেন; তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন কুস ইবনে সায়িদা, যার বাগ্মিতা প্রবাদতুল্য ছিল। কিতাবুল আওয়ায়েল-এর লেখক বলেছেন: কুস এবং ওরাকা ইবনে নওফালই মক্কায় সর্বপ্রথম তাওহীদ প্রকাশ করেছিলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কুস-এর কথা উল্লেখ করতেন এবং ইয়াদের প্রতিনিধি দল যখন নবীর কাছে আসত, তখন তিনি তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন। যখন তারা তাঁকে জানাল যে তিনি মারা গেছেন, তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের বললেন: পরকালে তাঁর বাণীগুলো তাঁর সামনে পেশ করা হবে এবং যদি সেই বাণীগুলোর উদ্দেশ্য আল্লাহর একত্ববাদ (তাওহীদ) হয়ে থাকে, তবে তিনি জান্নাতবাসী হবেন। ইয়াদ গোত্র থেকে কাব ইবনে মামাহ-ও ছিলেন, যিনি দানশীলতায় প্রবাদতুল্য ছিলেন। একদা মরুভূমির পথে চলার সময় তাঁর সাথে এক সঙ্গী এবং সামান্য পানি ছিল। যখন তাঁর সঙ্গী তৃষ্ণার্ত হলেন, তিনি নিজের কাছে থাকা পানি তাকে দিয়ে দিলেন এবং নিজে তৃষ্ণার্ত অবস্থায় মরুপ্রান্তরে মৃত্যুবরণ করলেন!! আর আরবরা ইয়াদ গোত্রের নিকট থেকেই লিপি (লিখন শিল্প) শিখেছে এবং তাদের মাধ্যমেই প্রাচীন জাতিসমূহ যেমন তাসম ও জাদিস-এর ইতিহাস ও জ্ঞান লাভ করেছে।

ইয়াদ গোত্র এবং তাদের হারাম শরিফ থেকে বহিষ্কারের কারণ সম্পর্কে একটি বর্ণনা পাওয়া যায়(১) যে, তারা সংখ্যা ও শক্তির প্রাবল্যে ছিল এবং তাদের কয়েক দিন অন্তর অন্তরই সন্তান জন্ম নিত। তারা তাদের সব ভাইদের সন্তানদের ওপর প্রভাব বিস্তার করেছিল।

--------------------------------------------

(১) আবু আল-মুনজির ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন:

ইয়াদ ইবনে নিযারের ঘরে এক রাতেই দশজন বা তারও বেশি সন্তান জন্ম নিত!! অথচ মুযার ও রাবিয়াহ গোত্রে এক মাসে মাত্র একজন সন্তান জন্ম নিত। ফলে তাদের গোত্রগুলো সংখ্যায় বৃদ্ধি পায় এবং তাদের নতুন প্রজন্ম দ্রুত বিস্তার লাভ করে। তাদের মধ্যে গামামাতান ও কুরদুসান নামক ইয়াদ গোত্রের শাখাসমূহ ছিল। ইয়াদ গোত্র তাদের সংখ্যাধিক্য ও শক্তির কারণে তাদের ভাই মুযার ও রাবিয়াহ গোত্রের ওপর জুলুম করতে শুরু করল। এমনকি ইয়াদ গোত্রের কোনো লোক তার ধনুক কোনো মুযার বা রাবিয়াহ গোত্রের লোকের দরজায় রাখলে সেই ঘরের ভেতর যা কিছু আছে তার ওপর সে নিজেকে বেশি হকদার মনে করত। কথিত আছে—আর আল্লাহই ভালো জানেন—তারা রাতের গভীরে পাহাড়ের চূড়া থেকে এক ঘোষণাকারীর কণ্ঠ শুনতে পেল, যে বলছিল:

(হে ইয়াদ সম্প্রদায়! বীর মুযারদের জন্য এ দেশ ছেড়ে চলে যাও, তোমরা অনেক ফাসাদ সৃষ্টি করেছ; তোমরা সিনদাদ ভূমিতে গিয়ে বসতি স্থাপন করো, তিহামায় ফিরে আসার আর কোনো পথ নেই!) অতঃপর আল্লাহ ইয়াদ গোত্রের ওপর এক প্রকার ফোঁড়া বা ক্ষত রোগ চাপিয়ে দিলেন। ইবনে শাব্বাহ বলেন: এটি ছিল 'নুখা' নামক এক ব্যাধি। এতে দিনে-রাতে তাদের একশ থেকে দু’শ লোক মারা যেত। তখন তাদের মধ্যে এক নেককার ব্যক্তি বললেন: হে ইয়াদ সম্প্রদায়! তোমরা তোমাদের ভাইদের ওপর যে জুলুম করেছ, তার কারণেই আল্লাহ তোমাদের এই বিপদে ফেলেছেন। সুতরাং এই দেশ ত্যাগ করো, যেমনটি তোমাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেন আল্লাহ তোমাদের ওপর আর কোনো আজাব নাজিল না করেন। বলা হয়ে থাকে যে, ইয়াদ গোত্র তিহামা ও এর আশেপাশের অঞ্চলে তাদের ভাইদের সাথেই ছিল, যতক্ষণ না তাদের মধ্যে যুদ্ধ বেঁধে যায় এবং তারা দুর্বল হয়ে পড়ে। তখন রাবিয়াহ ও মুযার তাদের ওপর জয়ী হয়। তারা তাদের দেশের 'খানিক' নামক এক স্থানে মিলিত হয়েছিল, যা কিনানাহ ইবনে খুজাইমাহর অঞ্চলের অন্তর্গত। সেখানে রাবিয়াহ ও মুযার ইয়াদ গোত্রের ওপর বিজয় লাভ করে এবং তাদের তিহামা থেকে বের করে দেয়। কায়স আইলান (মুযার)-এর এক ব্যক্তি সেই বিজয় সম্পর্কে বলেছিলেন: