(খণ্ড: ১) আন-নুবুওয়াহ: ইসতিফা ওয়া কুদওয়াহ (পৃষ্ঠা: -)
النبوة: اصطفاء وقدوة   (أحمد مختار البزرة)

القسم: السيرة النبوية


الكتاب: النبوة: اصطفاء وقدوة (السنة 33 - العدد 113)

المؤلف: أحمد مختار البزرة

الناشر: الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة

الطبعة: السنة الثانية - العدد الثالث، محرم 1390هـ/1970م

عدد الصفحات: 199

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

নবুওয়াত: মনোনীতকরণ ও আদর্শ   (আহমদ মুখতার আল-বিযরাহ)

বিভাগ: সীরাতুন নবী


বই: নবুওয়াত: মনোনীতকরণ ও আদর্শ (বর্ষ ৩৩ - সংখ্যা ১১৩)

লেখক: আহমদ মুখতার আল-বিযরাহ

প্রকাশক: মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়

সংস্করণ: দ্বিতীয় বর্ষ - তৃতীয় সংখ্যা, মুহাররম ১৩৯০ হিজরি/১৯৭০ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৯৯

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আন-নুবুওয়াহ: ইসতিফা ওয়া কুদওয়াহ (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌‌‌مدخل

مدخل

…

النبوة: اصطفاء وقدوة

للشيخ أحمد مختار البزرة المدرس بكلية الدعوة

إن العالم يتطلع في هذا العصر إلى أمة تتحمل الواجب المقدس في الدفاع عن الإنسان، هذه الأمة يجب أن تصير قدوة، ولا تصير قدوة إلا إذا عرفت في تاريخها مثلاً يحتذى.

المحاضرة الرابعة في الموسم الثقافي لعام 89-90 الذي تقيمه الجامعة الإسلامية بالمدينة. وقد ألقاها المحاضر على جمع غفير من رجال العلم والحجاج وطلاب الجامعة بمقر دار الحديث.

يعيش إنسان العالم المعاصر أياماً شداداً؛ تظله غيوم التشاؤم، ويملأ نفسه اليأس، إنه في عالم العصر الحديث؛ عصر المدنية الغربية الذاهبة شرقاً وغرباً؛ مدنية المعجزات العلمية والمخترعات الباهرات، مدنية شقَّ صانعوها أجواء الفضاء وحزموا الحقائب للسفر إلى الكواكب؛ مدنية فتحت لأعينها آيات رائعات على عظمة قدرة الله الخالق ودلائل على البارئ المقدر الحكيم! ومع ذلك فإن إنسان هذه المدنية في قنوط وعجز وخوف؛ خوف من مدنيته التي شيدتها يداه، ينظر في كل مكان فيرى رؤوس القنابل النووية في البر والبحر والجو مشرعة تريد أن تنقضَّ، فيغمض عينيه ويهرب بنفسه إلى دنيا الوجوديين والعراة والخنافس والمخدرات؛ خوف على خوف إذا وضع يده على قلبه أنكره. إنسان هذه المدنية يلوك خيبة مريرة، لقد قضى قروناً بحثاً عن السعادة والمعرفة والحق والخير والجمال، وأقام دهراً طويلاً يتشدق بالحرية والعدالة والمساواة، لكنه
‌‌‌ভূমিকা

ভূমিকা

…

নবুওয়াত: চয়ন ও আদর্শ

দাওয়া অনুষদের শিক্ষক শায়খ আহমদ মুখতার আল-বিযরাহ্‌-এর লেখনী

বর্তমান যুগে বিশ্ব এমন এক উম্মাহর পথ চেয়ে আছে, যারা মানুষের সুরক্ষায় পবিত্র দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেবে। এই উম্মাহকে অবশ্যই আদর্শ হতে হবে, আর তারা ততক্ষণ আদর্শ হতে পারবে না যতক্ষণ না তারা তাদের ইতিহাসে অনুসরণযোগ্য কোনো দৃষ্টান্ত খুঁজে পায়।

মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক আয়োজিত ৮৯-৯০ হিজরি শিক্ষাবর্ষের সাংস্কৃতিক মৌসুমের চতুর্থ বক্তৃতা। বক্তা এটি দারুল হাদিস মিলনায়তনে বিজ্ঞ আলেম সমাজ, হাজিগণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এক বিশাল সমাবেশে প্রদান করেন।

সমকালীন বিশ্বের মানুষ অত্যন্ত কঠিন দিনাতিপাত করছে; হতাশাবাদীর মেঘ তাকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে এবং তার আত্মা নিরাশায় পরিপূর্ণ। সে বর্তমান আধুনিক বিশ্বের গোলকধাঁধায় বাস করছে; যে পশ্চিমা সভ্যতা প্রাচ্য ও প্রতীচ্যে বিস্তার লাভ করেছে; যা বৈজ্ঞানিক অলৌকিকত্ব এবং বিস্ময়কর উদ্ভাবনের সভ্যতা। যে সভ্যতার কারিগররা মহাকাশ বিদীর্ণ করেছে এবং বিভিন্ন গ্রহে ভ্রমণের জন্য ব্যাগ গুছিয়ে নিয়েছে। এমন এক সভ্যতা, যা মানুষের চোখের সামনে মহান স্রষ্টা আল্লাহর অসীম ক্ষমতার বিস্ময়কর নিদর্শন এবং প্রজ্ঞাময় স্রষ্টার প্রমাণাদি উন্মোচিত করেছে! তা সত্ত্বেও এই সভ্যতার মানুষ চরম হতাশা, অক্ষমতা এবং ভয়ের মধ্যে নিমজ্জিত; তার নিজের হাতে গড়া সভ্যতার ভয়। সে যেখানেই তাকায়, সেখানেই স্থল, জল এবং অন্তরীক্ষে পারমাণবিক বোমার মুখগুলো তাক করা দেখতে পায়, যা যেন এখনই আঘাত হানবে। তখন সে চোখ বন্ধ করে অস্তিত্ববাদীদের জগত, নগ্নতাবাদ, হিপি সংস্কৃতি এবং মাদকের মাঝে আশ্রয় খোঁজে; ভয়ের ওপর ভয়, যখন সে নিজের হৃদয়ে হাত রাখে, তখন সে তা চিনতে অস্বীকার করে। এই সভ্যতার মানুষ এক চরম তিক্ত ব্যর্থতার স্বাদ চিবোচ্ছে। সে সুখ, জ্ঞান, সত্য, কল্যাণ এবং সুন্দরের সন্ধানে শতাব্দীকাল ব্যয় করেছে এবং দীর্ঘ সময় ধরে স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার ও সমতার বুলি আওড়িয়েছে, কিন্তু সে...
(খণ্ড: ১) আন-নুবুওয়াহ: ইসতিফা ওয়া কুদওয়াহ (পৃষ্ঠা: ৮)
أخفق في تحصيلها، وأخذ بنفسه وبالآخرين لما فرض نفسه وحضارته عليهم دليلاً وقيما. فأشقى نفسه وألقى على أمم الأرض الشقاء.

إنسان هذه المدنية - على عديد تجاربه في الحياة وضخامة وسائله وإمكاناته - ليس كالإنسان الذي كرمه الخالقة أول مرة وأمر الملائكة بالسجود له. إنه إنسان فقَدَ نقاء الفطرة، وانحط عن مرتبة الكمال الأمثل، إنسان رضي بالأرض قسما وباع السماء بيعة وكس، وقطع بينه وبينها الأسباب وعاش في الأرض للأرض لا لربه ولا لنفسه، ومنها اشتق معناه الوجودي معنى مادياً بحتاً، ووزن نفسه بترابها؛ بذهبها أو حديدها أو نحاسها أو زينتها أو حبها فلم يعرف لنفسه قدراً وقيمة إلا بمقدار ما جمع منها وما حاز. وكان الوزن عند الله الحق والعدل والخير والأمانة.

كان هذا انحرافا كبيراً عن الصراط المستقيم الذي هدى الله إليه الإنسان؛ انحرافاً قذف به إلى الجانب المظلم الداكن من الحياة؛ إلى الخوف بعد الأمن.. إلى الظلم بعد العدل.. إلى العبودية بعد الحرية.. إلى الشقاء بعد السعادة.. إلى القلق بعد الطمأنينة.. إلى الكفر بعد الإيمان.. إلى الحرب بعد السلام.

ويقف هذا الإنسان وقد أعد كل شيء للحرب والفتك ليخادع نفسه كما خدعها مراراً وليبحث ويتحدث في السلام.

يالها من أغنية حلوة عذبه! كذلك يتغنى السجناء بأناشيد الحرية من وراء القضبان.

قالت خديجة رضي الله عنها: "الله السلام ومنه السلام"1. وحق ما قالت، فمن أراد السلام فليلتمسه في حمى الله؛ في شريعته ومبادئه.

وأية جدوى في البحث عنه في قلوب خاوية من تعاليم الرب لم تبق فيها شهوة المادة شعاعاً من نور، ولا نبضة من رحمه؟.

إن السلام ينبثق من المحبة، والمحبة تتفجر من الإيمان. وأن الحرب تلدها البغضاء، والبغضاء سليلة الكفر والإلحاد. إذن لا أمل للإنسانية في سلام ونجاة وللكفر والإلحاد في الأرض دولة وسلطان.

إن خلاص الإنسانية الحقيقي أن تجد سبيلاً إلى محبة؛ محبة خالصة منزهة وليست هي في المادة! فإن المادة تستولي على قلب الإنسان ولا تورثه إلا أثرة وشحناء. وليست المحبة في الإلحاد، فإن الإلحاد في حقيقته حقد جاحد؛ حقد مخلوق متكبر على الخالق المنعم. وكيف يعطى قلب خلا من الإيمان جاحد بموجده،

--------------------------------------------

1 ابن هشام م1 ص 241. تحقيق مصطفى السقا وزملائه.
তিনি তা অর্জনে ব্যর্থ হলেন, এবং নিজেকে ও অন্যদের এক বিপাকে ফেললেন যখন তিনি নিজেকে ও নিজের সভ্যতাকে তাদের জন্য পথপ্রদর্শক ও মানদণ্ড হিসেবে চাপিয়ে দিলেন। ফলে তিনি নিজেকে দুর্ভাগা করলেন এবং পৃথিবীর জাতিসমূহের ওপর দুর্ভোগ চাপিয়ে দিলেন।

এই সভ্যতার মানুষ—জীবনে তার অজস্র অভিজ্ঞতা এবং তার উপায়-উপকরণ ও সম্ভাবনার বিশালতা সত্ত্বেও—সেই মানুষের মতো নয় যাকে স্রষ্টা প্রথমবার সম্মানিত করেছিলেন এবং ফেরেশতাদের নির্দেশ দিয়েছিলেন তাকে সিজদাহ করার জন্য। সে এমন এক মানুষ যে স্বভাবজাত পবিত্রতা (ফিতরাত) হারিয়েছে, এবং শ্রেষ্ঠত্বের পরিপূর্ণ মাকাম থেকে বিচ্যুত হয়েছে। সে এমন এক মানুষ যে জমিনকেই নিজের অংশ হিসেবে গ্রহণ করে সন্তুষ্ট হয়েছে এবং আসমানকে এক লোকসানি চুক্তিতে বিক্রি করে দিয়েছে। সে নিজের ও আসমানের মধ্যকার যোগসূত্র ছিন্ন করেছে এবং জমিনে কেবল জমিনের জন্যই বেঁচে আছে; তার রবের জন্য নয়, এমনকি নিজের প্রকৃত কল্যাণের জন্যও নয়। এখান থেকেই সে তার অস্তিত্বের অর্থ হিসেবে এক নিছক জড়বাদী অর্থ গ্রহণ করেছে এবং নিজেকে এর মাটির নিক্তিতে মেপেছে; এর সোনা, লোহা, তামা, সৌন্দর্য কিংবা এর মোহ দ্বারা। ফলে সে নিজের মর্যাদা ও মূল্য বুঝতে পারেনি কেবল ততটুকু ছাড়া যতটুকু সে এখান থেকে জমা করেছে এবং কুক্ষিগত করেছে। অথচ আল্লাহর নিকট পরিমাপের মানদণ্ড হলো সত্য, ন্যায়বিচার, কল্যাণ ও আমানতদারিতা।

এটি ছিল সেই সিরাতুল মুস্তাকিম (সরল পথ) থেকে এক বড় বিচ্যুতি, যার দিকে আল্লাহ মানুষকে হেদায়েত দিয়েছিলেন; এমন এক বিচ্যুতি যা তাকে জীবনের ঘোর অন্ধকারাচ্ছন্ন দিকে ঠেলে দিয়েছে; নিরাপত্তার পর ভীতির দিকে... ন্যায়ের পর অন্যায়ের দিকে... স্বাধীনতার পর দাসত্বের দিকে... সুখের পর দুর্ভাগ্যের দিকে... প্রশান্তির পর উৎকণ্ঠার দিকে... ঈমানের পর কুফরের দিকে... শান্তির পর যুদ্ধের দিকে।

আর এই মানুষ যুদ্ধের ও ধ্বংসলীলার যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করে দাঁড়িয়ে আছে যাতে সে নিজেকে প্রতারিত করতে পারে, যেমনটি সে বারবার করেছে, এবং সে শান্তির খোঁজ করে ও শান্তি নিয়ে কথা বলে।

কী চমৎকার ও সুমধুর সেই গান! এভাবেই কয়েদিরা শিকলবন্দী অবস্থায় স্বাধীনতার সংগীত গায়।

খাদিজাহ রাযিয়াল্লাহু আনহা বলেছেন: "আল্লাহই শান্তি এবং তাঁর পক্ষ থেকেই শান্তি আসে"১। তিনি যথার্থই বলেছেন, সুতরাং যে ব্যক্তি শান্তি চায় সে যেন তা আল্লাহর আশ্রয়ে; তাঁর শরীয়ত ও মূলনীতিসমূহের মাঝে অনুসন্ধান করে।

আর এমন সব হৃদয়ে শান্তি খোঁজার কী সার্থকতা যা রবের শিক্ষা থেকে শূন্য, যেখানে জাগতিক বস্তুর লালসা কোনো নূরের রশ্মি কিংবা রহমতের স্পন্দন বাকি রাখেনি?

নিশ্চয়ই শান্তি উৎসারিত হয় ভালোবাসা থেকে, আর ভালোবাসা প্রস্ফুটিত হয় ঈমান থেকে। অন্যদিকে যুদ্ধ জন্ম নেয় বিদ্বেষ থেকে, আর বিদ্বেষ হলো কুফর ও নাস্তিকতার বংশধর। অতএব, মানবতার জন্য শান্তি ও মুক্তির কোনো আশা নেই যতক্ষণ পৃথিবীতে কুফর ও নাস্তিকতার রাষ্ট্র ও প্রতাপ বিদ্যমান থাকে।

মানবতার প্রকৃত মুক্তি হলো ভালোবাসার পথ খুঁজে পাওয়া; এমন এক ভালোবাসা যা অকৃত্রিম ও পবিত্র এবং যা পার্থিব বস্তুর মাঝে নেই! কেননা জড়বাদ মানুষের অন্তরকে দখল করে নেয় এবং তাকে কেবল স্বার্থপরতা ও শত্রুতা ছাড়া আর কিছুই দেয় না। আর ভালোবাসা নাস্তিকতার মাঝেও নেই, কেননা নাস্তিকতা তার হাকীকতে হলো এক অকৃতজ্ঞ বিদ্বেষ; দয়াময় স্রষ্টার প্রতি এক অহংকারী সৃষ্টির বিদ্বেষ। আর যে হৃদয় ঈমান থেকে শূন্য এবং নিজ অস্তিত্বদানকারীর প্রতি অকৃতজ্ঞ, সে কীভাবে (ভালোবাসা) দান করবে?

--------------------------------------------

১ ইবনে হিশাম, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৪১। মুস্তফা আস-সাক্কা ও তাঁর সহযোগীদের তাহকীক।
(খণ্ড: ১) আন-নুবুওয়াহ: ইসতিফা ওয়া কুদওয়াহ (পৃষ্ঠা: ৯)
حاقد على ربه محبة صادقة نقية معينة؟ وهل يجتمع نقي الحب وأسود الحقد في قلب واحد؟.

إن مستنقع الحقد لا ينبت فيه إلا الخبيث، وإن الإلحاد فحمة الحقد على نور السماء.

تعيش البشرية هذه الأيام الشداد، وعلى الذين يستطيعون أن يقدموا لها شيئاً في إنقاذها أن يسرعوا في أداء واجبهم قبل أن تحق من الله كلمة العذاب.

إن الدول الكبرى قدَّمت ما عندها للآخرين؛ القوة المادية الجبارة التي لا ترحم وقالت هذه الدول كلمتها "البقاء والحق للأقوى" فقضت بذلك على آمال الإنسانية التاريخية بالعدالة والإخاء لقد قالت هذه الدول كلمتها الأخيرة، وما في كلمتها إلا الاستعباد والظلم والاضطهاد وخنق الروح والضمير. وإن الواجب يفرض على أولئك الذين عرفوا في تاريخهم وشريعتهم قانوناً غير مظلم والاستعباد أن يقولوا كلمتهم.

إن الدول الكبرى قالت كلمتها، وحيل بيننا نحن المسلمين وبين كلمتنا أن نقولها في حاضرنا ومستقبلنا وفي حاضر الإنسانية ومستقبلها. وأني لأقول - وما قولي بادعاء - ما على ظهر الأرض أمة غيرنا عندها للحق بيان ومنهج، فإن كتابنا يحتفظ بكلمة السماء في صفائها الأزلي الأوَّلي، وإن تاريخنا يشهد بواقع تطبيقي حسن لهذه الكلمة.

إن العالم يتطلع في هذا العصر المضني إلى أمة تتحمل الواجب المقدس في الدفاع عن الإنسان وإخراجه من الظلام إلى النور؛ أمة تستطيع بما فيها من ذخر روحي، وما عندها من قيم إلهية أن تكون أرقى بني الإنسان فكرا وشعورا وأنبله غاية وهدفا، وأقدره على تسلم القيادة في معمع الأخطار. هذه الأمة يجب أن تصير قدوة ولا تصير قدوة إلا إذا عرفت في تاريخها مثلا يقتدى، فريدا كاملا من البشر؛ كاملا في إنسانيته، في حبه الخير وبغضه الشر، لا عوج في طريقته ولا انحراف في شخصيته، تجده كتلة من المعاني الخالدة المتجسدة كلمات وعمل وتنظيم. إذا اتبعته أمته، وتبنت أهدافه ورفعت شعاره، وانطلقت في دروب سيرته صارت حياتها أشبه شيء بحياته.

هذه الأمة التي تستطيع ذلك بإذن ربها هم المسلمون، وذلك المثال الرفيع هو محمد صلى الله عليه وسلم.

إنه لم يبق لنا في هذه الأيام الشداد إلا أن نعود على نبع الفطرة الصافي نستقي منه؛ إنه لابد من العودة إلى الأنبياء.

ولقد جاء كبار الرسل أممهم على حال لا تختلف بما فيها من قلق وظلم وفساد والإلحاد وانحدار في القيم
একজন তার রবের প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারী হয়েও কি সত্য, খাঁটি এবং সুনির্দিষ্ট ভালোবাসা পোষণ করতে পারে? আর হৃদয়ের শুভ্র ভালোবাসা এবং কৃষ্ণ বিদ্বেষ কি একই সাথে এক হৃদয়ে একত্রিত হতে পারে?

নিশ্চয়ই বিদ্বেষের জলাভূমিতে কেবল মন্দ ও অপবিত্র বস্তুই জন্ম নেয়। আর নাস্তিকতা হলো আসমানি নূরের প্রতি বিদ্বেষের এক জ্বলন্ত অঙ্গার।

মানবজাতি বর্তমানে এই কঠিন দিনগুলো অতিবাহিত করছে। আর যারা একে উদ্ধারের জন্য কিছু পেশ করতে সক্ষম, আল্লাহর পক্ষ থেকে আযাবের ফয়সালা অবধারিত হওয়ার আগেই তাদের উচিত নিজ কর্তব্য পালনে ত্বরান্বিত হওয়া।

নিশ্চয়ই বড় রাষ্ট্রগুলো অন্যদের সামনে তাদের যা ছিল তা পেশ করেছে; তা হলো এক নিষ্ঠুর ও প্রবল বস্তুবাদী শক্তি। এই রাষ্ট্রগুলো তাদের চূড়ান্ত কথা বলে দিয়েছে— "টিকে থাকা এবং অধিকার কেবল শক্তিমানের জন্য"। এর মাধ্যমে তারা ন্যায়বিচার ও ভ্রাতৃত্বের বিষয়ে মানবতার ঐতিহাসিক প্রত্যাশাকে নস্যাৎ করে দিয়েছে। এই রাষ্ট্রগুলো তাদের শেষ কথা বলে দিয়েছে, আর তাদের সেই কথায় দাসত্ব, জুলুম, নিপীড়ন এবং আত্মা ও বিবেকের টুঁটি চেপে ধরা ছাড়া আর কিছুই নেই। এখন যাদের ইতিহাসে ও শরীয়তে জুলুম ও দাসত্বমুক্ত আইনের পরিচয় রয়েছে, তাদের ওপর এই দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে যে তারা যেন তাদের কথা বলে।

বড় রাষ্ট্রগুলো তাদের কথা বলেছে, আর আমরা মুসলিমদেরকে আমাদের বর্তমান ও ভবিষ্যতে এবং মানবতার বর্তমান ও ভবিষ্যতে আমাদের কথা বলা থেকে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। আমি বলছি—এবং আমার এই কথা কোনো নিছক দাবি নয়—এই ভূখণ্ডে আমাদের ছাড়া এমন কোনো জাতি নেই যাদের কাছে সত্যের সুস্পষ্ট বর্ণনা ও কর্মপন্থা রয়েছে। কারণ আমাদের কিতাব আসমানি বার্তাকে তার চিরন্তন ও আদি বিশুদ্ধতায় সংরক্ষণ করে রেখেছে, আর আমাদের ইতিহাস এই বাণীর এক উত্তম ব্যবহারিক প্রয়োগের সাক্ষী দেয়।

বর্তমান বিশ্বের এই শ্রান্ত যুগে মানবতা এমন এক জাতির দিকে তাকিয়ে আছে, যারা মানুষকে রক্ষা করার এবং অন্ধকার থেকে আলোর দিকে নিয়ে আসার পবিত্র দায়িত্ব গ্রহণ করবে; এমন এক জাতি যারা তাদের আধ্যাত্মিক সম্পদ এবং ঐশী মূল্যবোধের মাধ্যমে চিন্তা ও অনুভূতিতে সর্বশ্রেষ্ঠ মানবগোষ্ঠী হতে পারবে, উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যে হবে মহত্তম এবং বিপদের মহাসমুদ্রে নেতৃত্ব দানে সর্বাধিক সক্ষম। এই জাতিকে অবশ্যই আদর্শ হতে হবে। আর কোনো জাতি আদর্শ হতে পারে না যতক্ষণ না তাদের ইতিহাসে এমন এক অনুসরণীয় আদর্শের পরিচয় পাওয়া যায়, যিনি মানুষের মাঝে এক অনন্য ও পূর্ণাঙ্গ সত্তা; স্বীয় মানবিকতায় পূর্ণ, কল্যাণকামিতায় এবং অকল্যাণের প্রতি ঘৃণায় অবিচল। যাঁর পদ্ধতিতে কোনো বক্রতা নেই এবং ব্যক্তিত্বে কোনো বিচ্যুতি নেই। আপনি তাঁকে পাবেন শব্দ, কর্ম ও সুশৃঙ্খলার রূপ পরিগ্রহকারী এক শাশ্বত মহিমার আধার হিসেবে। যদি তাঁর জাতি তাঁকে অনুসরণ করে, তাঁর লক্ষ্যগুলোকে গ্রহণ করে, তাঁর স্লোগান তুলে ধরে এবং তাঁর সীরাতের পথে চলতে শুরু করে, তবে তাদের জীবন তাঁর জীবনের মতোই হয়ে উঠবে।

আল্লাহর অনুমতিক্রমে যারা এটি করতে সক্ষম সেই জাতি হলো মুসলিম উম্মাহ, আর সেই মহান আদর্শ হলেন মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)।

এই কঠিন দিনগুলোতে আমাদের জন্য ফিতরাতের সেই স্বচ্ছ ঝরনাধারার দিকে ফিরে যাওয়া ছাড়া আর কোনো পথ বাকি নেই যেখান থেকে আমরা তৃষ্ণা মেটাব; নবীগণের প্রদর্শিত পথের দিকে ফিরে যাওয়া এখন অপরিহার্য।

বড় বড় রাসূলগণ তাঁদের উম্মতদের কাছে এমন এক অবস্থায় এসেছিলেন যা বর্তমান সময়ের অস্থিরতা, জুলুম, দুর্নীতি, নাস্তিকতা এবং মূল্যবোধের অবক্ষয় থেকে কোনো অংশেই ভিন্ন ছিল না।
(খণ্ড: ১) আন-নুবুওয়াহ: ইসতিফা ওয়া কুদওয়াহ (পৃষ্ঠা: ১০)
الإنسانية عن عصرنا. فلنقف إذن لحظات مع:

1- مع عصر النبوة.

ولننظر 2- في اصطفاء الذات النبوية.

ولنتأمل 3- في إعداد الله للرسول:

أ- إعداداً نفسياً.

ب- التمهيد لظهوره تاريخياً.

ج- والتهيئة له اجتماعيا.

فإذا أحطنا بذلك بدت لنا 4- ضرورة القدوة.
আমাদের যুগের মানবতা। সুতরাং আসুন আমরা কিছু মুহূর্ত অতিবাহিত করি:

১- নবুওয়াতের যুগের সাথে।

এবং ২- নবী সত্তার নির্বাচনের বিষয়ে আমরা দৃষ্টিপাত করি।

এবং ৩- রাসূলের জন্য আল্লাহর প্রস্তুতির বিষয়ে আমরা গভীরভাবে চিন্তা করি:

ক- মনস্তাত্ত্বিক প্রস্তুতি।

খ- ঐতিহাসিকভাবে তাঁর আবির্ভাবের পটভূমি প্রস্তুতকরণ।

গ- এবং সামাজিকভাবে তাঁর জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা।

যখন আমরা এই বিষয়গুলো অনুধাবন করব, তখন ৪- আদর্শের প্রয়োজনীয়তা আমাদের নিকট প্রতিভাত হবে।
(খণ্ড: ১) আন-নুবুওয়াহ: ইসতিফা ওয়া কুদওয়াহ (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌‌‌عصر البعثة النبوية

عصر البعثة النبوية

…

عصر البعثة النبوية:

لا مراء في أن عصر البعثة النبوية عصر ممتاز بين الأعصر الزمنية له في علم الله ميعاد معلوم كسر من أسرار الغيب، حتى يأذن الله بإنزال رسالته على عبده المختار. (ولوددت لو يتسع للقول مجال للحديث عن خصائص عصر النبوة، لكن المحاضرة تضيق عن هذا القصد. حتى الحديث الفائض عن عصر البعثة المحمدية يزيد على حظنا من الوقت. ومن ثم أجتزئ بالكلام عن العام الذي ولد فيه رسول الله صلى الله علية وسلم، لعلنا نظفر بفائدة وحكمه) .

فليس من شك إذن أن الله يختار للنبي عصره، ويؤقت له: ميلاده، ومبعثه، ووفاته. ولقد قال تعالى لموسى عليه السلام بعد أن ذكره بأطوار ماضيه وكلاءته له فيه {ثُمَّ جِئْتَ عَلَى قَدَرٍ يَا مُوسَى} 1 وكذلك فإن ميلاد محمد صلى الله عليه وسلم على قدر وموعد إلهي مع الزمان، وكان عام الفيل الذي ولد فيه عاما حافلا في تاريخ الإنسانية، عاما مليئا بالأحداث الضخام. أقبل فيه أبرهة الأشرم يريد هدم الكعبة بعد أن نجح الأحباش في احتلال اليمن. وكان أبرهة قائداً جلدا طموحا بعيد الأهداف، قد أزمع أن يجعل من اليمن قاعدة ملك له تنطلق منها عساكره للسيطرة على جزيرة العرب سيطرة سياسية وعسكرية واقتصادية، وأن يشد إليه قبائل العرب المتنافرة المتدابرة بخيوط وأوتار يحركها ويضرب عليها كيفما شاء. وأعمل أبرهة الفكر وكان ذا نظرة استعمارية داهية، لا يعوزها شيء من حنكة المتخصصين باستعمار الشعوب في العصر الحديث، فصمم خطته لتحويل العرب تحويلا دينيا يجعل الطريق أمامه معبدا ذللا لتحقيق أغراضه الاستعمارية. وهو أمر لا يختلف في عن الغزو الفكري وأهدافه الذي يستهدف العرب والمسلمين اليوم.

وكان أبرهة نصرانيا فأراد حمل العرب على اعتناق النصرانية بالمكر والسيف، فكان صاحب أول حمله صليبيه في التاريخ على بلاد العرب.

وهذا ما أدركه العرب واضحا

--------------------------------------------

1 سورة طه، الآية: 40
‌‌‌নবুওয়াতের মিশনের যুগ

নবুওয়াতের মিশনের যুগ

…

নবুওয়াতের মিশনের যুগ:

নিঃসন্দেহে নবুওয়াতের মিশনের যুগ সকল সময়ের মধ্যে এক অনন্য যুগ। আল্লাহর জ্ঞানে এর একটি নির্ধারিত সময় ছিল যা অদৃশ্যের রহস্যসমূহের অন্যতম একটি রহস্য, যতক্ষণ না আল্লাহ তাঁর মনোনীত বান্দার ওপর তাঁর রিসালাত অবতীর্ণ করার অনুমতি প্রদান করেন। (আমি যদি নবুওয়াতের যুগের বৈশিষ্ট্যসমূহ নিয়ে আলোচনার সুযোগ পেতাম তবে খুশি হতাম, কিন্তু এই আলোচনার পরিসর সেই উদ্দেশ্যের জন্য যথেষ্ট নয়। এমনকি মুহাম্মদী মিশনের যুগ সম্পর্কে বিস্তৃত আলোচনাও আমাদের নির্ধারিত সময়ের চেয়ে অনেক বেশি। তাই আমি সেই বছরের আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকব যে বছর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জন্মগ্রহণ করেছিলেন, সম্ভবত এর মাধ্যমে আমরা কোনো উপকার ও হিকমত অর্জন করতে পারব)।

অতএব এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আল্লাহই নবীর জন্য তাঁর যুগ নির্বাচন করেন এবং তাঁর জন্ম, নবুওয়াত প্রাপ্তি ও মৃত্যুর সময় নির্ধারণ করেন। মহান আল্লাহ মূসা আলাইহিস সালামের অতীতের বিভিন্ন পর্যায় এবং তাতে তাঁর প্রতি আল্লাহর রক্ষণাবেক্ষণের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার পর বলেছিলেন: {অতঃপর হে মূসা! তুমি নির্ধারিত সময়েই উপস্থিত হয়েছ} ১। ঠিক তেমনি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মও ছিল সময়ের সাথে এক ঐশ্বরিক নির্ধারণ ও প্রতিশ্রুত সময় অনুযায়ী। আর যে হস্তিবর্ষে তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন, তা ছিল মানব ইতিহাসে এক ঘটনাবহুল বছর, যা ছিল বড় বড় সব ঘটনায় পূর্ণ। হাবশীরা ইয়েমেন দখল করার পর আবরাহা আল-আশরাম কাবা ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে সেই বছর এগিয়ে এসেছিল। আবরাহা ছিল একজন কঠোর ও উচ্চাভিলাষী সেনাপতি যার লক্ষ্য ছিল সুদূরপ্রসারী। সে ইয়েমেনকে তার রাজত্বের ভিত্তি হিসেবে গড়ে তোলার সংকল্প করেছিল, যেখান থেকে তার সৈন্যরা আরব উপদ্বীপের রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য যাত্রা করবে এবং আরবের পরস্পর বিচ্ছিন্ন ও বিবাদমান গোত্রগুলোকে এমন সুতোয় বাঁধতে চেয়েছিল যা সে নিজের ইচ্ছেমতো নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। আবরাহা তার বুদ্ধিকে কাজে লাগিয়েছিল এবং সে ছিল এক ধূর্ত ঔপনিবেশিক দৃষ্টিভঙ্গির অধিকারী, আধুনিক যুগে জাতিসমূহের ওপর উপনিবেশ স্থাপনে পারদর্শী বিশেষজ্ঞদের অভিজ্ঞতার কোনো ঘাটতিই তার মধ্যে ছিল না। তাই সে আরবদের ধর্মীয় রূপান্তরের পরিকল্পনা করেছিল যাতে তার ঔপনিবেশিক লক্ষ্য অর্জনের পথ সুগম ও সহজ হয়। এটি এমন একটি বিষয় যা বর্তমান সময়ে আরব ও মুসলিমদের লক্ষ্য করে পরিচালিত বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসন ও তার লক্ষ্য থেকে ভিন্ন কিছু নয়।

আবরাহা ছিল একজন খ্রিস্টান, তাই সে চক্রান্ত এবং তরবারির জোরে আরবদের খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত করতে চেয়েছিল। ফলে সে ছিল আরব ভূখণ্ডে ইতিহাসের প্রথম ক্রুসেড বা ক্রুশীয় অভিযানের নায়ক।

আর আরবরা এটি স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করেছিল

--------------------------------------------

১ সূরা ত্বহা, আয়াত: ৪০
(খণ্ড: ১) আন-নুবুওয়াহ: ইসতিফা ওয়া কুদওয়াহ (পৃষ্ঠা: ১১)
من غرض تحركاته العسكرية، وأفصح عنه عبد المطلب وهو أخذ بحلقة باب الكعبة يستغيث الله:

لاهم أن العبد يمنع … رحله فامنع حلالك

لا يغلبن صليبهم … ومحالهم غدوا محالك2

وكانت الكعبة منذ أغوار الزمن مثابة العرب وأمنهم ومهوى أفئدتهم يلتفون حولها بمشاعرهم وشعائرهم في جو من الرضا العضوي والتقديس لمقام إبراهيم من منزلة في قلوبهم، وارتقت مطامع أبرهة إلى القضاء على أسباب وحدة العرب الروحية المجتمعة في الكعبة واستبد به التفكير في تهديمها فجاءت خطته تعد في الحقيقة تغيير جذري في مرافق العرب ومستقبلهم (خطة لا تختلف في كثير عن خطة اليهود في تحريق المسجد الأقصى وزعزعة قواعده لقطع صله المسلمين بمسجد يشدون إليه الرحال) . وقدَّم أبرهة لهذه الخطة النكراء ببناء القليس - كنيسة لم ير مثلها في زمانها بشيء من الأرض -3 وأوضح الغرض منها في تقرير أرسله إلى سيده ملك الحبشة يقول فيه: "لست بمنته حتى أصرف إليها حج العرب"4 ولما عرضها للعرب لم تهو إليها أفئدتهم وأنكروا مضاهاتها لمقام إبراهيم عليه السلام، وأحدث بناؤها رد فعل عنيف في نفوسهم تجلى في إعراضهم عنها ونهوض بعضهم للتعبير عن سخطهم ونقمتهم وهوانها عليهم بأساليب خاصة فردية فأيقن أبرهة بإفلاس القليس ما دام للعرب حول الكعبة مقام فبيَّت غزو مكة وتهديم كعبتها المشرفة، وعبأ جيشه وأعلن بالزحف.

ولم يكن طريقه إلى مكة لا أشواك فيه، إذ من العسير على العرب أن يتسامعوا بغزو بيت الله الحرام فلا يستثارون ولا يثورون. فهب فريق ممن أوتوا حمية وغيرة يعترضون جيش أبرهة اللجب. وكانت أولى المقاومة من قوة يمانية على رأسها الملك ذو نفر5 صمد لأبرهة بقبيلته وجماعات من العرب، ولم يكن ثمة تكافؤ بين الفريقين، فأحاط به أبرهة وأسره وكبَّله وسيره في الجيش تشهيراً وتخويفاً وردعاً للآخرين. على أن مصير ذي نفر لم يمنع قوة عربية أخرى للمقاومة من قبيلة خثعم بقيادة سيدها نفيل بن حبيب6 فلم يلبث إلا يسيرا حتى أسر وأدني للقتل ولكنه أعلن ولاءه وولاء قبيلته الكبيرة لأبرهة وتطوع أن يكون دليله

--------------------------------------------

2 ابن هشام: السيرة م1 ص51.

3 ابن هشام: السيرة م1 ص 43.

4 المصدر نفسه: م1 ص 43.

5 المصدر نفسه: م1ص46

6 المصدر نفسه: م1 ص46
তাঁর সামরিক অভিযানের উদ্দেশ্য সম্পর্কে, এবং আবদুল মুত্তালিব কাবার দরজার কড়া ধরে আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে তা স্পষ্ট করেছেন:

হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই একজন দাস তার সম্পদ রক্ষা করে, সুতরাং আপনি আপনার পবিত্র ঘর রক্ষা করুন।

তাদের ক্রুশ এবং তাদের কৌশল যেন আগামীকাল আপনার কৌশলের ওপর জয়ী হতে না পারে।২

প্রাচীনকাল থেকেই কাবা ছিল আরবদের মিলনস্থল, তাদের নিরাপত্তার আশ্রয় এবং অন্তরের কেন্দ্রবিন্দু। তারা তাদের আবেগ ও ইবাদতের মাধ্যমে একে ঘিরে থাকত, যা তাদের অন্তরে ইবরাহিমের মাকামের সুউচ্চ মর্যাদার প্রতি এক গভীর সন্তুষ্টি ও পবিত্রতার আবহে সম্পন্ন হতো। আবরাহার লালসা কাবাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা আরবদের আধ্যাত্মিক ঐক্যের কারণগুলো নির্মূল করার পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল। এটি ধ্বংস করার চিন্তা তাকে আচ্ছন্ন করে ফেলেছিল, ফলে তার পরিকল্পনাটি প্রকৃতপক্ষে আরবদের জীবনযাত্রা ও ভবিষ্যতের এক আমূল পরিবর্তনের রূপ নেয় (এটি এমন এক পরিকল্পনা যা মসজিদুল আকসা পুড়িয়ে দেওয়ার এবং এর ভিত্তি নাড়িয়ে দেওয়ার ইহুদি পরিকল্পনার চেয়ে খুব একটা আলাদা নয়, যার উদ্দেশ্য হলো মুসলমানদের সেই মসজিদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা যেখানকার দিকে তারা সফরের প্রস্তুতি নেয়)। আবরাহা এই জঘন্য পরিকল্পনার সূচনা করেছিল 'আল-কুল্লাইস' নির্মাণের মাধ্যমে—যা এমন এক গির্জা ছিল যার সমতুল্য সেই সময়ে পৃথিবীতে আর কিছু দেখা যায়নি।৩ তিনি তাঁর মনিব আবিসিনিয়ার রাজার কাছে পাঠানো এক প্রতিবেদনে এর উদ্দেশ্য স্পষ্ট করে বলেছিলেন: "আরবদের হজ্জকে এর দিকে ঘুরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত আমি ক্ষান্ত হব না।"৪ যখন তিনি এটি আরবদের কাছে পেশ করলেন, তাদের অন্তর এর প্রতি আকৃষ্ট হলো না এবং তারা ইবরাহিম আলাইহিস সালামের মাকামের সাথে এর সাদৃশ্যকে অস্বীকার করল। এর নির্মাণ তাদের মনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করল, যা তাদের উপেক্ষা এবং কারো কারো ব্যক্তিগতভাবে ঘৃণা ও ক্ষোভ প্রকাশের মাধ্যমে ফুটে উঠল। ফলে আবরাহা নিশ্চিত হলেন যে, যতক্ষণ কাবার প্রতি আরবদের সম্মান অটুট থাকবে, ততক্ষণ আল-কুল্লাইস ব্যর্থই থাকবে। তাই তিনি মক্কা আক্রমণ এবং সম্মানিত কাবা ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র করলেন, তাঁর বাহিনী প্রস্তুত করলেন এবং অভিযানের ঘোষণা দিলেন।

মক্কার দিকে তাঁর পথ নিষ্কণ্টক ছিল না; কারণ আল্লাহর পবিত্র ঘর আক্রান্ত হওয়ার খবর শুনে আরবরা উত্তেজিত হবে না বা বিদ্রোহ করবে না—এটি অসম্ভব ছিল। ফলে আত্মমর্যাদা ও চেতনাসম্পন্ন একদল লোক আবরাহার বিশাল বাহিনীর গতিরোধ করতে এগিয়ে এলেন। প্রথম প্রতিরোধ এসেছিল এক ইয়েমেনি শক্তির পক্ষ থেকে, যার নেতৃত্বে ছিলেন রাজা 'যু নাফর'।৫ তিনি তাঁর গোত্র ও কিছু আরব দল নিয়ে আবরাহার মোকাবিলা করেন। কিন্তু উভয় দলের মধ্যে শক্তির কোনো ভারসাম্য ছিল না, ফলে আবরাহা তাঁকে চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলেন, বন্দি করেন এবং অন্যদের সতর্ক করার ও ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে শেকলবদ্ধ অবস্থায় সেনাবাহিনীর সাথে নিয়ে চলেন। তবে 'যু নাফর'-এর এই পরিণতি খাশআম গোত্রের অন্য একটি আরব শক্তিকে প্রতিরোধের পথ থেকে দমাতে পারেনি, যাদের নেতৃত্বে ছিলেন তাদের নেতা নুফাইল ইবনে হাবিব।৬ তবে অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি বন্দি হন এবং হত্যার মুখোমুখি হন, কিন্তু তিনি আবরাহার প্রতি নিজের এবং তাঁর বিশাল গোত্রের আনুগত্য প্রকাশ করেন এবং পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করার প্রস্তাব দেন।

--------------------------------------------

২. ইবনে হিশাম: আস-সিরাহ, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৫১।

৩. ইবনে হিশাম: আস-সিরাহ, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৪৩।

৪. একই উৎস: খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৪৩।

৫. একই উৎস: খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৪৬।

৬. একই উৎস: খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৪৬।
(খণ্ড: ১) আন-নুবুওয়াহ: ইসতিফা ওয়া কুদওয়াহ (পৃষ্ঠা: ১২)
في طريق مخوف، فرضي أبرهة من ذلك ليأمن ظهر الجيش وليستفيد من حصر القوى العربية معه. وكان من خطته أن يتحاشى سفك الدماء ما استطاع حتى يأمن الثارات والحزازات ويضمن للمستقبل صفاء القلوب، ولما حاصر ثقيفاً في الطائف خرجوا إليه وأعلنوا الطاعة والعبودية لأبرهة ورضوا بأن يهدم بيت الله على أن يسلم لهم بيت اللات1 وقد كشف إخفاق المقاومة العربية عن نواح خطيرة في واقع العرب:

1- عظم مكانة الكعبة في نفوسهم واستعداد العرب للقتال في سبيل بقائها. ولكن هذه النية الحسنة لم تظفر بالقدرة المنفذة.

2- عجز قوى المقاومة عن اجتماع بعضها البعض وتنسيق خططها.

3- انشغال غالبية العرب في الجزيرة وخارجها بخصومتهم المحلية، وعداوتهم القبلية وأحقادهم التاريخية عن الاحتشاد لقضية كبرى في حياتهم ومستقبل وجودهم، وجعلها فوق العداء القبلي والخصومات السياسية. وقد عانت جزيرة العرب قبل الإسلام عبر أمد مديد حروباً وغزوات فيما بين القبائل، فاستنزفت قواها في غير طائل، وغرقت في الحروب حتى كادت تتفانى، ولهذا، ولم تستطع أن تتناسى الخصام العنيد والعداء المميت وأن تنسلخ من أضعاف وأحقاد تتوارثها جيلاً بعد جيل. فبات تلاقيها أمراً مستحيلاً استحالة التقاء الماء والنار. ولعل هذه الحال تكشف عن معنى العظيم في معجزة الله في قوله لنبيه صلى الله عليه وسلم: {وَأَلَّفَ بَيْنَ قُلُوبِهِمْ لَوْ أَنْفَقْتَ مَا فِي الْأَرْضِ جَمِيعاً مَا أَلَّفْتَ بَيْنَ قُلُوبِهِمْ وَلَكِنَّ اللَّهَ أَلَّفَ بَيْنَهُمْ إِنَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ} 2 هكذا كانوا يوم أصحاب الفيل في استعصاء على الالتقاء في سبيل أية قضية حتى ألفت بينهم كلمة التوحيد ورسالته الله.

4- ضعف القوة المعنوية وانخفاض المستوى النفسي لدى المقاومين منهم؛ إذ سرعان ما ألقوا بأيديهم إلى الاستسلام وحرصوا وكانوا أشد حرصاً على الحياة، ورضوا بأن يكونوا عبيداً وأعواناً وعملاء في صفوف الأعداء يكشفون لهم الطريق ويتحسسون لهم أحوال القبائل الأخرى مما يدل على أن الحياة لديهم كانت بشكلها الرفيع أو الوضيع، الذليل أو العزيز أحب إليهم وأغلى عندهم من أية قضية لهم، بل لا أجحد التاريخ إذا قلت أن العرب قبل محمد صلى الله علية وسلم لم يكن لهم قضية يضحون في سبيلها إلا قضايا خفيفة جزئية تأكل منهم ولا تعطيهم، قضايا العداء والثأر المحلي.

--------------------------------------------

1 المصدر نفسه: م1 ص47

2 الأنفال: الآية 63.
একটি ভীতিকর পথে, আবরাহা এতে সন্তুষ্ট হলো যাতে সে তার সেনাবাহিনীর পশ্চাৎভাগ সুরক্ষিত রাখতে পারে এবং তার সাথে থাকা আরব শক্তিগুলোকে অবরুদ্ধ করার সুযোগ গ্রহণ করতে পারে। তার পরিকল্পনা ছিল যতটুকু সম্ভব রক্তপাত এড়িয়ে চলা, যাতে সে প্রতিশোধ ও বিদ্বেষ থেকে নিরাপদ থাকতে পারে এবং ভবিষ্যতের জন্য মানুষের অন্তরের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পারে। যখন সে তায়েফে সাকিফ গোত্রকে অবরোধ করল, তারা তার কাছে বেরিয়ে এল এবং আবরাহার প্রতি আনুগত্য ও দাসত্ব ঘোষণা করল। তারা আল্লাহর ঘর ধ্বংস করার বিষয়ে একমত হলো এই শর্তে যে, তাদের লাত-এর ঘরটি যেন নিরাপদ থাকে।১ আরব প্রতিরোধের এই ব্যর্থতা আরবদের বাস্তব অবস্থার কিছু বিপজ্জনক দিক উন্মোচন করে দিয়েছে:

১- তাদের হৃদয়ে কাবার সুমহান মর্যাদা এবং এর অস্তিত্ব রক্ষার জন্য আরবদের যুদ্ধের প্রস্তুতি। কিন্তু এই সদিচ্ছা কার্যকর করার মতো সক্ষমতা অর্জন করতে পারেনি।

২- প্রতিরোধ শক্তিগুলোর একে অপরের সাথে একত্রিত হওয়া এবং তাদের পরিকল্পনাগুলো সমন্বিত করার অক্ষমতা।

৩- জাজিরাতুল আরব (আরব উপদ্বীপ) এবং এর বাইরের অধিকাংশ আরবের স্থানীয় বিবাদ, গোত্রীয় শত্রুতা এবং ঐতিহাসিক বিদ্বেষে লিপ্ত থাকা, যার ফলে তারা তাদের জীবন ও অস্তিত্বের ভবিষ্যতের জন্য কোনো বড় ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধ হতে পারেনি এবং একে গোত্রীয় শত্রুতা ও রাজনৈতিক বিবাদের ঊর্ধ্বে স্থান দিতে পারেনি। ইসলাম-পূর্ব আরব উপদ্বীপ দীর্ঘ সময় ধরে গোত্রগুলোর মধ্যে যুদ্ধ ও অভিযানের শিকার হয়েছিল, যার ফলে তাদের শক্তি বৃথা নিঃশেষ হয়ে গিয়েছিল এবং তারা যুদ্ধে এমনভাবে নিমজ্জিত হয়েছিল যে প্রায় ধ্বংস হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। এই কারণে তারা জেদি বিবাদ ও প্রাণঘাতী শত্রুতা ভুলে যেতে পারেনি এবং বংশপরম্পরায় চলে আসা দুর্বলতা ও বিদ্বেষ থেকে নিজেদের মুক্ত করতে পারেনি। ফলে তাদের একত্র হওয়া পানি ও আগুনের মিলনের মতোই অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। সম্ভবত এই পরিস্থিতিই আল্লাহর সেই মুজিজার মহান তাৎপর্য প্রকাশ করে যা তিনি তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন: "আর তিনি তাদের অন্তরের মধ্যে প্রীতি স্থাপন করেছেন। যদি তুমি জমিনের সব কিছু ব্যয় করতে, তবুও তাদের অন্তরের মধ্যে প্রীতি স্থাপন করতে পারতে না; কিন্তু আল্লাহ তাদের মধ্যে প্রীতি স্থাপন করেছেন। নিশ্চয় তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।"২ হাতি বাহিনীর ঘটনার দিন তারা এভাবেই যে কোনো ইস্যুতে একত্রিত হওয়ার ক্ষেত্রে অক্ষম ছিল, যতক্ষণ না তাওহীদের বাণী ও আল্লাহর রিসালাত তাদের মধ্যে সম্প্রীতি স্থাপন করল।

৪- তাদের মধ্যকার প্রতিরোধকারীদের নৈতিক শক্তির দুর্বলতা এবং মানসিক স্তরের অবনমন; কেননা তারা খুব দ্রুতই আত্মসমর্পণের পথ বেছে নিল এবং জীবনের প্রতি ছিল তাদের প্রবল মোহ। তারা শত্রুদের কাতারে গোলাম, সাহায্যকারী এবং দালাল হতে রাজি হলো, যারা তাদের জন্য পথ দেখিয়ে দিত এবং অন্যান্য গোত্রগুলোর খবরাখবর সংগ্রহ করত। এটি প্রমাণ করে যে, জীবন—তা উন্নত হোক বা হীন, লাঞ্ছিত হোক বা সম্মানিত—তাদের কাছে তাদের যে কোনো ইস্যুর চেয়ে অধিক প্রিয় ও মূল্যবান ছিল। বরং আমি ইতিহাসকে অস্বীকার করব না যদি বলি যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পূর্বে আরবদের কাছে এমন কোনো আদর্শ ছিল না যার জন্য তারা আত্মত্যাগ করতে পারে, শুধু কিছু তুচ্ছ ও খণ্ডিত বিষয় ছাড়া যা তাদের শক্তি ক্ষয় করত কিন্তু কিছুই দিত না—যেমন স্থানীয় শত্রুতা ও প্রতিশোধের বিষয়গুলো।

--------------------------------------------

১. একই উৎস: খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৪৭

২. আল-আনফাল: আয়াত ৬৩।
(খণ্ড: ১) আন-নুবুওয়াহ: ইসতিফা ওয়া কুদওয়াহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
ويظهر جلاء الأمر إذا قابلنا بين موقفهم من أبرهة وموقف العرب المسلمين من أعدائهم الكفرة؛ قيل لزيد ابن الدثنة وهو يقدَّم للقتل: "أتحب أن محمداً عندنا الآن في مكانك نضرب عنقه، وأنك في أهلك؟ قال: والله ما أحب أن محمداً الآن في مكانه الذي هو فيه تصيبه شوكة. . تؤذيه، وأني جالس في أهلي"1.

وكان قياصرة الروم أحياناً يروزون حرص المسلمين على دينهم فيغرونهم الإغراء المذهل ليفتنوهم، فما ينفصمون من دينهم شعرة فيلبس القياصرة من ثباتهم ويقينهم، ذلك أن صار للعرب قضية يعيشون لها، ولا يجدون شيئاً باهظاً أن يستشهدوا في سبيلها. ولا يفلح عرب ولا مسلمون لا قضية لهم، وخير القضايا طراً قضية السماء.

الانقسام والسطحية في العقيدة: ولعل أفدح العوامل في مأساة العرب عام الفيل - وفي كل مأساة من مآسي تاريخهم كله - خمود نيران الحمية الدينية في القلوب، وفقدان الأشداء من المؤمنين: أعمدة الثبات والتثبيت في الملمات والحروب. فبينما كان أعداءهم الأحباش يتقدمون إلى بيت الله الحرام بحمية صليبيه طاغية، كانت أفئدة العرب خلواً من شعور ديني مقدس دفاق قادر على دحر الموجة الصليبية. ولو فتشنا قلوبهم يوم ذاك لما وجدنا فيها حقيقة من حقائق الدين، ولا معنى واضحا من معانية يعتصبون به وينطلقون منه. كل ما فيها يوم ذاك ظلال من دين إبراهيم غمرها من الوثنية غبار كثيف. . أفسدت عليهم الأصنام دين التوحيد وباعدت بين معتقداتهم وقلوبهم وألقت البغضاء بينهم إذ ذهبت كل قبيلة بصنم، تعبده دون القبائل الأخرى، فكان هذا الانقسام في الدين عاملا خطيرا في تفتيت وحدتهم كأمة لها دور في التاريخ. حتى صارت بعض القبائل لا تجد ضيرا في تهديم الكعبة إذا سلم لها إلهها كما رضيت ثقيف بذلك على أن تبقى لها اللات وجرى العرب في عبادة الأوثان على تقليد ذميم وليس لها في طباعهم وتفكيرهم أصالة واستقرار. ولم يكن في مقدور الأوثان أن تلهب القلوب بحمية ما. فاجتمع لهم إلى الانقسام السطحية في الدين، وهو داء عياء خذال قتال في المواقف الكبرى التي يتقرر فيها المصير، وكان العرب يوم ذاك بما هم عليه من هذا على شفا الضياع والهلاك؛ لئن لم يخلعوا الأصنام التي قسمتهم والوثنية التي أماتت شعورهم وحميتهم ذهبوا وضاعوا وهلكوا. ولهذا لما أراد الله بهم خيرا بدلهم

--------------------------------------------

1 السيرة لأبن هشام: م2 ص172 والقائل هو أبو سفيان بن حرب.
বিষয়টি স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে যদি আমরা আবরাহার ব্যাপারে তাদের অবস্থান এবং তাদের কাফের শত্রুদের বিরুদ্ধে মুসলিম আরবদের অবস্থানের মধ্যে তুলনা করি। জায়েদ ইবনুদ দাছিনাহ-কে যখন হত্যার জন্য নিয়ে আসা হচ্ছিল, তখন তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো: "তুমি কি পছন্দ করবে যে, মুহাম্মাদ এখন আমাদের কাছে তোমার জায়গায় থাকুক এবং আমরা তাঁর গর্দান উড়িয়ে দিই, আর তুমি তোমার পরিবারের মাঝে থাকো?" তিনি বললেন: "আল্লাহর কসম, আমি এটা পছন্দ করি না যে মুহাম্মাদ এখন যেখানে আছেন সেখানে তাঁকে একটি কাঁটাও বিঁধুক যা তাঁকে কষ্ট দেবে, আর আমি আমার পরিবারের মাঝে বসে থাকব।"১

রোমক সম্রাটগণ মাঝে মাঝে তাদের দ্বীনের প্রতি মুসলমানদের একাগ্রতা পরীক্ষা করতেন এবং তাদের বিচ্যুত করার জন্য বিস্ময়কর প্রলোভন দেখাতেন। কিন্তু তারা তাদের দ্বীন থেকে এক চুল পরিমাণও বিচ্যুত হতেন না, ফলে সম্রাটগণ তাদের অবিচলতা ও দৃঢ় বিশ্বাস দেখে হতভম্ব হয়ে যেতেন। কারণ আরবদের সামনে এমন একটি আদর্শ বা উদ্দেশ্য তৈরি হয়েছিল যার জন্য তারা বেঁচে থাকত এবং এর পথে শহীদ হওয়াকে তারা মোটেই কঠিন বা বোঝা মনে করত না। যে আরব বা মুসলমানদের কোনো সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নেই তারা সফল হতে পারে না; আর সমস্ত উদ্দেশ্যের মধ্যে সর্বোত্তম হলো আসমানী আদর্শ।

আকিদার ক্ষেত্রে বিভাজন ও অগভীরতা: সম্ভবত হস্তিবাহিনীর বছরে আরবদের বিপর্যয়ের—এবং তাদের সমগ্র ইতিহাসের প্রতিটি বিপর্যয়ের—সবচেয়ে ভয়াবহ কারণ ছিল হৃদয়ে ধর্মীয় তেজস্বিতার নির্বাপণ এবং মুমিনদের মধ্য থেকে শক্তিশালী ও দৃঢ়চেতা ব্যক্তিদের অভাব, যারা বিপদ ও যুদ্ধে অবিচলতা ও দৃঢ়তার স্তম্ভ হিসেবে কাজ করে। যখন তাদের শত্রু হাবশারা (আবিসিনীয়রা) এক প্রচণ্ড ক্রুসেডার উন্মাদনা নিয়ে আল্লাহর পবিত্র ঘরের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল, তখন আরবদের হৃদয় এমন এক প্রবাহমান পবিত্র ধর্মীয় অনুভূতি থেকে শূন্য ছিল যা সেই ক্রুসেডার ঢেউকে প্রতিহত করতে সক্ষম। আমরা যদি সেদিনের তাদের অন্তরগুলো খুঁজি, তবে সেখানে দ্বীনের কোনো হাকিকত খুঁজে পাব না, আর না পাব দ্বীনের কোনো সুস্পষ্ট মর্মবাণী যার ওপর তারা একতাবদ্ধ হতে পারত এবং যা থেকে তারা প্রেরণা পেতে পারত। সেদিন তাদের হৃদয়ে যা ছিল তা কেবল ইব্রাহিমী দ্বীনের কিছু ছায়া মাত্র, যাকে মূর্তিপূজার ঘন ধুলোবালি আচ্ছন্ন করে ফেলেছিল। মূর্তিপূজা তাদের তাওহীদী দ্বীনকে কলুষিত করেছিল এবং তাদের বিশ্বাস ও হৃদয়ের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করেছিল। এটি তাদের মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টি করেছিল, কারণ প্রতিটি গোত্রই অন্য গোত্রকে বাদ দিয়ে নিজেদের জন্য আলাদা মূর্তি গ্রহণ করেছিল এবং তার উপাসনা করত। দ্বীনের এই বিভাজন ইতিহাসে ভূমিকা রাখা একটি জাতি হিসেবে তাদের ঐক্য বিনষ্ট করার ক্ষেত্রে একটি মারাত্মক কারণ ছিল। এমনকি কোনো কোনো গোত্র কাবার ধ্বংস সাধনেও কোনো ক্ষতি দেখত না যদি তাদের নিজেদের মাবুদ নিরাপদ থাকে, যেমন ছাকীফ গোত্র তাতে রাজি হয়েছিল এই শর্তে যে তাদের 'লাত' মূর্তিটি যেন বহাল থাকে। আরবরা মূর্তিপূজার ক্ষেত্রে এক নিন্দনীয় অন্ধ অনুকরণ অনুসরণ করেছিল, যা তাদের স্বভাব ও চিন্তাধারায় কোনো মৌলিকত্ব বা স্থায়িত্ব রাখেনি। মূর্তিদের পক্ষে সম্ভব ছিল না কোনো প্রকার ধর্মীয় আবেগে হৃদয়গুলোকে প্রজ্বলিত করা। ফলে বিভাজনের সাথে দ্বীনের অগভীরতা যুক্ত হয়েছিল, যা বড় বড় সংকটময় মুহূর্তে—যেখানে ভাগ্য নির্ধারিত হয়—একটি মরণঘাতী রোগ এবং লাঞ্ছনার কারণ। আরবরা সেদিন এই অবস্থার কারণে বিলুপ্তি ও ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে ছিল; যদি না তারা সেই মূর্তিগুলোকে বর্জন করত যা তাদের বিভক্ত করেছিল এবং সেই মূর্তিপূজা ত্যাগ করত যা তাদের অনুভূতি ও তেজস্বিতাকে নিস্তেজ করে দিয়েছিল, তবে তারা নিঃশেষ ও ধ্বংস হয়ে যেত। এই কারণেই আল্লাহ যখন তাদের কল্যাণ চাইলেন, তখন তিনি তাদের অবস্থা পরিবর্তন করে দিলেন...

--------------------------------------------

১ ইবনে হিশামের সীরাত: ২য় খণ্ড, ১৭২ পৃষ্ঠা এবং উক্তিটি আবু সুফিয়ান ইবনে হারবের।
(খণ্ড: ১) আন-নুবুওয়াহ: ইসতিফা ওয়া কুদওয়াহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
بعقائدهم المشتتة الباهتة المميتة عقيدة التوحيد المجمعة المتألقة بالنور الدفاقة بالحياة. قال تعالى يذكرنا بهذه النعمة الكبرى والمنة العظمى: {وَاذْكُرُوا نِعْمَتَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ إِذْ كُنْتُمْ أَعْدَاءً فَأَلَّفَ بَيْنَ قُلُوبِكُمْ فَأَصْبَحْتُمْ بِنِعْمَتِهِ إِخْوَاناً وَكُنْتُمْ عَلَى شَفَا حُفْرَةٍ مِنَ النَّارِ فَأَنْقَذَكُمْ مِنْهَا} 1 ، ولا غرو أن المعجزة الرائعة التي حققها المسلمون في مجال الفتوح والدعوة ما كانت لتنجز على أيديهم لولا العقيدة الجديدة؛ عقيدة التوحيد التي وحدت القلوب والصفوف والخطط والعمل.

لما كر أبرهة الأشرم في الطائف إلى مكة يتقدمه أبو رغال الثقفي دليلا علم أن قد صفى المقاومة العربية بأدنى وأبخس ثمن. والحق أن أبرهة لم يعوق مسيره من اليمن إلى مكة حرب ضروس، وإنما مناوشات يتبعها استسلام وخضوع وتبعية.

ورضي أبرهة عن هذه النتائج أيما رضا إذا وفرت عليه الوقت والجهد والدماء، ولم يخامره شك في أنه أوفى على بلوغ مأربه عندما أنزله أبو رغال بالقرب من مكة. وقد طمع أن يظفر من قريش بمثل ما ظفر من ثقيف وغيرها، بتسليم كلي ليبلغ ما أراد من تهديم الكعبة برضا من أهل الحرم على مشهد من العرب وعلى أسمع العالم وبصره ليدعي هوان أمره على أهله، إمعانا في الامتهان لسكانه والمهانة لحجاجه وقاصديه. وانطلاقا من هذا القصد أرسل دورية تأديبية هجمت على أموال لقريش فساقته إلى المعسكر، ثم بعث رسولاً إلى قريش يطلب إليهم أن يرسلوا إليه بسيدهم لمباحثته. فوجهت إليه بسيدها عبد المطلب بن عبد مناف بن هاشم، شيخ وقور مهيب جاوز المئة من عمره، جرب الأيام وجربته فطن يضع القول مواضعه مخلص للبيت ولرب البيت، فسلك أبرهة مسلكاً لإرهابه وإدخال الوهن على نفسه ليسهل فرض رغباته وطلباته عليه، فأعوز إلى رجاله أن يطوفوا بعبد المطلب على الأسرى من أسياد العرب وملوكهم، فأدخل على ذي نفر وكان في حديد، ورأى نفيلاً الحنفي وآخرين مقهورين على أمرهم يقومون بخدمة أبرهة ورجاله، فحزت المرارة في نفسه إذ رأى رجالات العرب قد هزموا نفسياً وعسكرياً. وعرف عبد المطلب أنه مقبل على معركتين مع أبرهة؛ نفسية وعسكرية. وأيقن أن الثانية لا نفع في خوضها فرغب عنها غير مستسلم وأما الأولى فصمم على الثبات فيها. ولما أذن له بالدخول على أبرهة دخل ميدان الحرب النفسية ونظر أبرهة في وجه عبد المطلب بحثاً عن معاني الخوف والفرق والتخاذل فلم يجد شيئاً ووجد مهابة وصرامة وحفاظاً.

--------------------------------------------

1 آل عمران: 103.
তাদের বিক্ষিপ্ত, ম্লান এবং প্রাণহীন আকিদাহর বিপরীতে তাওহীদের সেই আকিদাহ যা সংহতি আনয়নকারী, নূরের জ্যোতিতে উদ্ভাসিত এবং জীবনোচ্ছ্বাসে ভরপুর। মহান আল্লাহ আমাদের এই বিশাল নেয়ামত এবং মহান অনুগ্রহের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন: "তোমরা তোমাদের ওপর আল্লাহর অনুগ্রহের কথা স্মরণ করো, যখন তোমরা ছিলে পরস্পরের শত্রু, অতঃপর তিনি তোমাদের হৃদয়ে প্রীতি স্থাপন করলেন, ফলে তাঁর অনুগ্রহে তোমরা ভাই ভাই হয়ে গেলে। আর তোমরা ছিলে আগুনের গর্তের কিনারায়, অতঃপর তিনি তোমাদেরকে তা থেকে রক্ষা করলেন।" ১ এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, বিজয় ও দাওয়াতের ক্ষেত্রে মুসলিমরা যে চমৎকার অলৌকিক সাফল্য অর্জন করেছিল, তা তাদের হাতে সম্পন্ন হতো না যদি না এই নতুন আকিদাহ থাকত; তাওহীদের আকিদাহ যা হৃদয়, কাতার, পরিকল্পনা ও কর্মকে ঐক্যবদ্ধ করেছিল।

আবরাহা আল-আশরাম যখন তায়েফ থেকে মক্কার অভিমুখে অগ্রসর হলো এবং আবু রিগাল আস-সাকাফি তাকে পথপ্রদর্শক হিসেবে নিয়ে যাচ্ছিল, তখন সে বুঝতে পেরেছিল যে আরবের প্রতিরোধকে সে অত্যন্ত স্বল্প ও নগণ্য মূল্যে স্তব্ধ করে দিয়েছে। বাস্তবিকপক্ষে, ইয়েমেন থেকে মক্কা পর্যন্ত আবরাহার অগ্রযাত্রায় কোনো ভয়াবহ যুদ্ধ বাধা সৃষ্টি করতে পারেনি, বরং ছিল কেবল কিছু সংঘর্ষ, যার পর এসেছিল আত্মসমর্পণ, বশ্যতা ও আনুগত্য।

আবরাহা এই ফলাফলে অত্যন্ত সন্তুষ্ট ছিল, কারণ এতে তার সময়, পরিশ্রম এবং রক্ত বেঁচে গিয়েছিল। আর আবু রিগাল যখন তাকে মক্কার কাছাকাছি নিয়ে এল, তখন তার মনে বিন্দুমাত্র সন্দেহ ছিল না যে সে তার উদ্দেশ্য হাসিলের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে। সে সাকাফ ও অন্যান্যদের মতো কুরাইশদের থেকেও পূর্ণ আত্মসমর্পণের প্রত্যাশা করেছিল, যাতে সে হারামবাসীদের সম্মতিতেই কাবার ধ্বংস সাধনের লক্ষ্য পূরণ করতে পারে—আর তা হবে আরবদের উপস্থিতিতে এবং গোটা বিশ্বের সামনে, যাতে সে প্রমাণ করতে পারে যে এর অধিবাসীদের কাছে এর গুরুত্ব কত নগণ্য। এর মাধ্যমে সে এর বাসিন্দাদের লাঞ্ছিত করতে এবং এর হাজি ও দর্শকদের চূড়ান্ত অবমাননা করতে চেয়েছিল। এই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে সে একটি শাস্তিমূলক টহল বাহিনী পাঠাল যা কুরাইশদের সম্পদের ওপর হামলা চালিয়ে তা শিবিরে নিয়ে এল। এরপর সে কুরাইশদের কাছে একজন দূত পাঠাল এই মর্মে যে, তারা যেন আলোচনার জন্য তাদের নেতাকে তার কাছে পাঠায়। কুরাইশরা তাদের নেতা আব্দুল মুত্তালিব ইবনে হাশিমকে তার কাছে পাঠাল। তিনি ছিলেন এক গম্ভীর ও শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব, যাঁর বয়স একশ বছর ছাড়িয়ে গিয়েছিল। তিনি ছিলেন অভিজ্ঞ এবং কালজয়ী প্রজ্ঞার অধিকারী, যিনি শব্দ চয়নে বিচক্ষণ এবং কা’বা ঘর ও কা’বা ঘরের রবের প্রতি একনিষ্ঠ ছিলেন। আবরাহা তাকে ভীতসন্ত্রস্ত করার এবং তার মনে দুর্বলতা ঢুকিয়ে দেওয়ার পথ অবলম্বন করল যাতে সে তার ইচ্ছা ও দাবিগুলো সহজে চাপিয়ে দিতে পারে। সে তার লোকজনকে নির্দেশ দিল আব্দুল মুত্তালিবকে যেন আরব নেতা ও রাজাদের মধ্যে যারা বন্দী ছিল তাদের সামনে দিয়ে ঘুরিয়ে আনা হয়। তাকে যুল-নাফরের কাছে নিয়ে যাওয়া হলো যে তখন লোহার শিকলে বন্দি ছিল। তিনি নুফাইল আল-হানাফি এবং অন্যদেরও দেখলেন যারা নিরুপায় হয়ে আবরাহা ও তার লোকদের সেবা করছিল। আরবের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের এভাবে মনস্তাত্ত্বিক ও সামরিকভাবে পরাজিত হতে দেখে তাঁর মনে চরম তিক্ততা জেগে উঠল। আব্দুল মুত্তালিব বুঝতে পারলেন যে তিনি আবরাহার সাথে দুটি যুদ্ধের সম্মুখীন: মনস্তাত্ত্বিক এবং সামরিক। তিনি নিশ্চিত ছিলেন যে দ্বিতীয়টিতে লিপ্ত হওয়া নিরর্থক, তাই তিনি আত্মসমর্পণ না করেও তা থেকে বিমুখ হলেন। তবে প্রথমটিতে তিনি অটল থাকার সংকল্প করলেন। যখন তাকে আবরাহার কাছে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলো, তিনি মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের ময়দানে প্রবেশ করলেন। আবরাহা আব্দুল মুত্তালিবের মুখে ভয়, আতঙ্ক বা হীনমন্যতার চিহ্ন খুঁজতে লাগল, কিন্তু সে কিছুই পেল না; বরং সেখানে পেল গাম্ভীর্য, দৃঢ়তা এবং আত্মমর্যাদাবোধ।

--------------------------------------------

১. আলে ইমরান: ১০৩।
(খণ্ড: ১) আন-নুবুওয়াহ: ইসতিফা ওয়া কুদওয়াহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
وفرضت شخصية الشيخ المهيب الثابت الوقور نفسها على الغازي فانحط عن عرشه وجلس على البساط وأجلس سفير قريش وسيدها إلى جانبه، لعل اللين والتواضع أجدى إذ لم ينفع التخويف والترهيب.

كانت هذه مظاهر من الحفاوة والإكرام اصطنعها الداهية ليستميل إليه عبد المطلب وليبعث فيه ثقة واطمئناناً إذ بدا لأبرهة أن مقدرات مكة وكعبتها أمست بين أنامله وأن قريشاً في قبضته؛ رجالها ونساءها وأموالها، وإن جيشه قادر على الفتك وإنزال العار. وكان أبرهة يريد الكعبة لا قريشاً وأستقدم عبد المطلب ليهب أبرهة له قريشاً وليأخذ منه الكعبة فيظفر بما أراد وقد من على قريش وسيدها وأفضل. وأما عبد المطلب فقد جاء أبرهة وهو يحمل معه أمانتين؛ أمانة الله فهو حاجب الكعبة وساقي الحجيج، وأمانة قومه فهو نائب قريش وصاحب كلمتها في هذا الموقف الصعب. ولقد توقع أبرهة أن يتهالك عبد المطلب على كرسيه يطلب رحمته كما فعل من قبله، وأدرك عبد المطلب ما في نفس أبرهة فصمت، ولم يفتح الحديث تجاهلا منه للأمر العظيم الذي يريده أبرهة، وتحاشيا أن يطلب مطلبا يتخذ منه أبرهة ركيزة للمساومة على الكعبة. لقد كان عبد المطلب في موقف ضنك فإن أية كلمة تحمل معنى الاسترحام لقريش والإبقاء عليها تنطوي على تنازل خطير في حق بيت الله الحرام. ومن ثم آثر ألا يتكلم في منجاة قومه حتى ألا يضيَّع أمانة الله ولما ضاق أبرهة بصمته سأله عن حاجته فقال: "حاجتي أن يرد علي الملك مئتي بعير أصابها لي" أهذا المَطْلَب كان همَّ عبد المطلب ومصدر قلقه؟ ألهذا طيف به في الجيش وعلى الأسارى واستقدم إلى الملك؟ وماذا يفعل بالشاء والبعير ومكة كلها في خطر داهم، كلا لم يكن هذا المطلب من واقع الحساب في شيء، ولكن عبد المطلب عمد إلى تجاهل مراد أبرهة تجاهلا تاما ليعلمه أن لا تنازل عنده في حق بيت الله الحرام ولو قيد شعرة، وأن التسليم بتهديمه ليس موضوع بحث على الإطلاق ولا مساومة فيه. وفهم أبرهة ما في طلب القرشي من معنى فاستشاط غضباً وعمد إلى إثارة الموضوع من قبله قائلا - وهو مغيظ -: "قد كنت أعجبتني حين رأيتك، ثم زهدت فيك حين كلمتني، أتكلمني في مئتي بعير أصبتها لك، وتترك بيتاً هو دينك، ودين آبائك قد جئت لهدمه، لا تكلمني فيه1 وأجاب عبد المطلب بقول مرهف حاسم لا مجال بعده لجدال أو ادهان: "إني أنا رب الإبل، وإن للبيت ربا

--------------------------------------------

1 السيرة لابن هشام م1 ص500.
সেই মহিমান্বিত, অটল ও গাম্ভীর্যপূর্ণ শায়খের ব্যক্তিত্ব আক্রমণকারীর ওপর নিজের প্রভাব বিস্তার করল। ফলে সে তার সিংহাসন থেকে নেমে গালিচার ওপর বসল এবং কুরাইশদের প্রতিনিধি ও নেতাকে তার পাশে বসাল; সম্ভবত ভয়ভীতি ও ত্রাস যখন কাজে আসেনি, তখন কোমলতা ও বিনয়ই অধিক কার্যকর মনে হয়েছিল।

এগুলো ছিল সেই ধূর্ত ব্যক্তির পক্ষ থেকে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও সম্মানের প্রদর্শন, যা সে আব্দুল মুত্তালিবকে নিজের দিকে টানতে এবং তার মধ্যে আত্মবিশ্বাস ও প্রশান্তি জাগিয়ে তুলতে তৈরি করেছিল। কারণ আবরাহার কাছে মনে হয়েছিল যে, মক্কা ও কাবার ভাগ্য এখন তার হাতের মুঠোয় এবং কুরাইশরা তার কবজায়—তাদের পুরুষ, নারী ও ধনসম্পদ সব কিছুই। তার সেনাবাহিনী ধ্বংসলীলা চালাতে ও চরম অপমান করতে সক্ষম ছিল। আবরাহা মূলত কাবাকে চেয়েছিল, কুরাইশদের নয়। সে আব্দুল মুত্তালিবকে তলব করেছিল যাতে সে তাকে কুরাইশদের নিরাপত্তা দান করে বিনিময়ে তার কাছ থেকে কাবাকে গ্রহণ করতে পারে। এভাবে সে যা চেয়েছিল তা লাভে সফল হবে এবং কুরাইশ ও তাদের নেতার ওপর অনুগ্রহ ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শন করবে। আব্দুল মুত্তালিব আবরাহার কাছে এসেছিলেন দুটি আমানত বহন করে: আল্লাহর আমানত—কেননা তিনি কাবার রক্ষক ও হাজীদের পানি পান করাতেন; আর তার কওমের আমানত—কেননা তিনি কুরাইশদের প্রতিনিধি এবং এই কঠিন পরিস্থিতিতে তাদের মুখপাত্র ছিলেন। আবরাহা প্রত্যাশা করেছিল যে, আব্দুল মুত্তালিব তার সামনে লুটিয়ে পড়ে দয়া ভিক্ষা করবেন, যেমনটি তার পূর্ববর্তীরা করেছিল। আব্দুল মুত্তালিব আবরাহার মনের উদ্দেশ্য বুঝতে পেরে নীরব থাকলেন। আবরাহা যে বড় বিষয়টি চাচ্ছিল, সেটিকে উপেক্ষা করার জন্য তিনি কোনো কথা শুরু করেননি। এছাড়া তিনি এমন কোনো দাবি করা থেকে বিরত থাকলেন, যাকে আবরাহা কাবার বিষয়ে দরকষাকষির ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। আব্দুল মুত্তালিব এক অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে ছিলেন; কারণ কুরাইশদের জন্য দয়া প্রার্থনা বা তাদের অস্তিত্ব রক্ষার বিষয়ে যেকোনো শব্দ আল্লাহর পবিত্র ঘরের হকের ক্ষেত্রে এক মারাত্মক আপস হিসেবে গণ্য হতো। তাই তিনি তার কওমের নিরাপত্তার বিষয়ে কথা না বলাকেই শ্রেয় মনে করলেন, যাতে আল্লাহর আমানত বিনষ্ট না হয়। যখন আবরাহা তার নীরবতায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়ল, তখন সে তাকে তার প্রয়োজনের কথা জিজ্ঞাসা করল। তিনি বললেন: "আমার প্রয়োজন হলো, বাদশা যেন আমার সেই দুইশটি উট আমাকে ফিরিয়ে দেন যা তিনি দখল করেছেন।" এই দাবিটিই কি আব্দুল মুত্তালিবের প্রধান লক্ষ্য ও উদ্বেগের উৎস ছিল? এ জন্যই কি তাকে সেনাবাহিনীর মধ্য দিয়ে ও বন্দিদের সামনে দিয়ে বাদশার কাছে আনা হয়েছিল? ছাগল ও উট দিয়ে তিনি কী করবেন যখন সমগ্র মক্কা এক ভয়াবহ বিপদের মুখে? না, এই দাবিটি বাস্তব পরিস্থিতির বিচারে কোনো বিষয়ই ছিল না। বরং আব্দুল মুত্তালিব আবরাহার উদ্দেশ্যকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করার পথ বেছে নিয়েছিলেন তাকে এটি বোঝানোর জন্য যে, আল্লাহর পবিত্র ঘরের হকের ক্ষেত্রে তার কাছে চুল পরিমাণ কোনো আপস নেই। আর এটি ধ্বংস করার বিষয়টি মেনে নেওয়া মোটেও আলোচনার বিষয় নয় এবং এতে কোনো দরকষাকষিও চলতে পারে না। আবরাহা এই কুরাইশী নেতার দাবির মর্মার্থ বুঝতে পেরে ক্রোধে ফেটে পড়ল এবং নিজেই বিষয়টি উত্থাপন করে রাগান্বিত স্বরে বলল: "তোমাকে যখন দেখেছিলাম তখন তুমি আমাকে মুগ্ধ করেছিলে, কিন্তু যখন কথা বললে তখন তোমার প্রতি আমার শ্রদ্ধা চলে গেল। তুমি আমার সাথে তোমার দুইশটি উট নিয়ে কথা বলছ, অথচ সেই ঘরটির কথা ছেড়ে দিচ্ছ যা তোমার ও তোমার পিতৃপুরুষের ধর্ম এবং যা ধ্বংস করার জন্য আমি এসেছি? তুমি কি সে বিষয়ে আমার সাথে কথা বলবে না?" আব্দুল মুত্তালিব এক তীক্ষ্ণ ও চূড়ান্ত জবাব দিলেন, যার পর আর কোনো বিতর্ক বা তোষামোদের সুযোগ ছিল না: "আমি হলাম উটের মালিক, আর এই ঘরের একজন প্রতিপালক আছেন [যিনি একে রক্ষা করবেন]।"

--------------------------------------------

১ সীরাতে ইবনে হিশাম, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৫০০।
(খণ্ড: ১) আন-নুবুওয়াহ: ইসতিফা ওয়া কুদওয়াহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
سيمنعه"1. وخرج من عند أبرهة إلى قومه خرج من المعركة النفسية منتصراً، ولم يظفر منه بطائل، ولقد كان في الكلمات الموجزة الحادة كل ما أراد عبد المطلب أن يفصح عنه وأن يفهم الغازي. قال له: "أنا رب الإبل؛ الإبل مال اكتسبتُه واكتسبتْه قريش فلي ولهم الحق أن يطلبوه. وإذا كان لي ولهم الحق في طلب أو مباحثة أو جدل فيما هو ملك لنا ومن حقنا. وأما البيت فهو بيت الله وليس لي ولا لأحد فيه من الحق كما في الإبل، ولا يحل لي بحال من الأحوال أن أتكلم فيه، أو أساوم عليه، أو أتذلل لك في أمره فإن ربه أولى به وبحمايته". إن عبد المطلب قد أوضح في هذا القول البليغ الحدود التي تقف عندها صلاحيات الزعامة، والموقف العدل الحق الذي إن التزمه الزعيم كان من الموفقين. فبيَّن فيه أن ثمة حقوقا كبرى في حياة الأمة وذمما تاريخية وإلهية لا يحق لأي ذي سلطان أو نفوذ أن يمسها وأن يجعل في مهب أهوائه ومصالحه إن شاء أخفرها أو ساوم عليها. وإن التاريخ يشهد بأن النصر يقف دائما حيث يقف أولئك الزعماء الذين يلتزمون الحق الأعلى لا يجاوزنه ولا يقبلون به عدلا أو حلا وسطا. وقد رضي الله لعبد المطلب صلابته في حرمة بيت الله وثباته فأرسل على الغزاة العتاة جنداً من السماء: {طَيْراً أَبَابِيلَ، تَرْمِيهِمْ بِحِجَارَةٍ مِنْ سِجِّيلٍ، فَجَعَلَهُمْ كَعَصْفٍ مَأْكُولٍ} 2 وما كان هذا التوفيق الإلهي في تلك الساعة لعبد المطلب نفسه وإنما لجنين في رحم آمنة بنت وهب قد بلغ منه سبعة أشهر وكان أبوه في تلك الأثناء في يثرب يلفظ أنفاسه الأخيرة وأمه تجلس في بيتها تنتظر عودة زوجها الغائب وتترقب مع الناس قلقة أوبة حميها في معسكر أبرهة: هذا الجنين الذي أذن الله له أن يتنسم أنسام مكة بعد خمسين يوما من غزوة أصحاب الفيل هو محمد بن عبد الله بن عبد المطلب، به قد وفق الله جده وأكرمه وأكرم العرب والعالمين.

كانت هزيمة أصحاب الفيل وما زالت آية من آيات الله ومعجزة من معجزاته جعلها بين يدي مبعث رسول الله صلى الله عليه وسلم، وكانت المنة بها على أهل مكة عظيمة، ولكن القوم كانوا في جاهلية ظلماء فما أن ذهب عنهم الروع وفزع عنهم حتى عادوا يسدرون في غيهم ومظالمهم ومفاسدهم. ولم تكن الإشارة التي حملتها المعجزة لتنزعهم من الغي والضلال، فأتم

1المصدر نفسه. وكان التحدي أعظم إذ قال له أبرهة: "ما كان ليمتنع مني". فقال له عبد المطلب: "أنت وذاك".

--------------------------------------------

2سورة الفيل.
১. তিনি আবরাহার নিকট থেকে নিজের সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে এলেন; তিনি মানসিক যুদ্ধে বিজয়ী হয়ে ফিরেছিলেন এবং আবরাহা তাঁর কাছ থেকে বিশেষ কিছু হাসিল করতে পারেনি। আব্দুল মুত্তালিব যে সব সংক্ষিপ্ত ও ধারালো কথা বলেছিলেন, তাতে তিনি যা প্রকাশ করতে চেয়েছিলেন এবং আক্রমণকারীকে যা বোঝাতে চেয়েছিলেন তার সবই নিহিত ছিল। তিনি তাকে বলেছিলেন: "আমি উটের মালিক; উট হলো এমন সম্পদ যা আমি এবং কুরাইশরা অর্জন করেছি, তাই এগুলো ফেরত চাওয়ার অধিকার আমার ও তাদের আছে। আর যদি আমাদের মালিকানাধীন এবং আমাদের অধিকারভুক্ত কোনো বিষয়ে দাবি করা, আলোচনা করা বা বিতর্ক করার অধিকার আমাদের থাকে (তবে তা উটের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য)। কিন্তু এই ঘর (কাবা) আল্লাহর ঘর; উটের ব্যাপারে আমার যে অধিকার আছে, এই ঘরের ব্যাপারে আমার বা অন্য কারো সে ধরনের কোনো অধিকার নেই। কোনো অবস্থাতেই আমার জন্য এই ঘর নিয়ে কথা বলা, দরকষাকষি করা বা আপনার কাছে এ ব্যাপারে বিনীত হওয়া সমীচীন নয়। কারণ এই ঘরের রবই এর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য যথেষ্ট।" আব্দুল মুত্তালিব এই সাবলীল বক্তব্যের মাধ্যমে নেতৃত্বের ক্ষমতার সীমা স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন। এটি ছিল এমন এক ইনসাফপূর্ণ ও সত্য অবস্থান, যা কোনো নেতা গ্রহণ করলে তিনি সফলকাম হন। তিনি এতে স্পষ্ট করেছেন যে, জাতির জীবনে এমন কিছু বড় অধিকার এবং ঐতিহাসিক ও ঐশ্বরিক আমানত রয়েছে যা কোনো ক্ষমতাধর বা প্রভাবশালী ব্যক্তির স্পর্শ করার অধিকার নেই। তিনি এগুলোকে নিজের খেয়ালখুশি বা স্বার্থের অনুকূলে ব্যবহার করতে পারেন না যে, চাইলে তিনি তা ভঙ্গ করবেন কিংবা তা নিয়ে দরকষাকষি করবেন। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে, বিজয় সর্বদা সেই সব নেতার সঙ্গী হয় যারা সর্বোচ্চ সত্যকে আঁকড়ে ধরেন, তা অতিক্রম করেন না এবং এর কোনো বিকল্প বা আপস মেনে নেন না। আল্লাহর ঘরের পবিত্রতার রক্ষায় আব্দুল মুত্তালিবের এই কঠোরতা ও অবিচলতায় আল্লাহ সন্তুষ্ট হয়েছিলেন। ফলে তিনি ওই অবাধ্য আক্রমণকারীদের বিরুদ্ধে আসমানি বাহিনী প্রেরণ করেছিলেন: "ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি, যারা তাদের ওপর কঙ্কর নিক্ষেপ করছিল, অতঃপর তিনি তাদের ভক্ষিত তৃণের ন্যায় করে দিলেন।" ২ সেই মুহূর্তে এই ঐশ্বরিক সাহায্য কেবল আব্দুল মুত্তালিবের একার জন্য ছিল না, বরং তা ছিল আমিনা বিনতে ওয়াহাবের গর্ভে থাকা সেই ভ্রূণের সম্মানে, যার বয়স তখন সাত মাস পূর্ণ হয়েছিল। সেই সময়ে তাঁর পিতা ইয়াসরিবে (মদিনায়) তাঁর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করছিলেন এবং তাঁর মা ঘরে বসে তাঁর অনুপস্থিত স্বামীর ফেরার অপেক্ষায় দিন গুনছিলেন এবং মানুষের সাথে সাথে অত্যন্ত উদ্বেগের সাথে আবরাহার শিবিরে থাকা তাঁর শ্বশুরের ফিরে আসার প্রতীক্ষা করছিলেন। এই সেই ভ্রূণ, যাঁকে আল্লাহ হাতি বাহিনীর যুদ্ধের পঞ্চাশ দিন পর মক্কার বাতাসে শ্বাস নেওয়ার অনুমতি দিয়েছিলেন; তিনি হলেন মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল মুত্তালিব। তাঁর অসিলাতেই আল্লাহ তাঁর দাদাকে তৌফিক দিয়েছিলেন, তাঁকে সম্মানিত করেছিলেন এবং আরব জাতি ও বিশ্ববাসীকে সম্মানিত করেছিলেন।

আসহাবে ফিলের (হাতি বাহিনী) পরাজয় ছিল আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে একটি বড় নিদর্শন এবং তাঁর অন্যতম মোজেজা, যা তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নবুওয়াত প্রাপ্তির আগে প্রকাশ করেছিলেন। মক্কাবাসীদের ওপর এর অনুগ্রহ ছিল অপরিসীম। কিন্তু তারা ছিল ঘোর জাহেলিয়াতের অন্ধকারে নিমজ্জিত। ফলে তাদের আতঙ্ক ও ভীতি দূর হতে না হতেই তারা পুনরায় তাদের ভ্রষ্টতা, অন্যায় ও পাপাচারের দিকে ফিরে গেল। এই মোজেজার মাধ্যমে দেওয়া ইঙ্গিত তাদের পথভ্রষ্টতা ও গোমরাহি থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেনি।

১. প্রাগুক্ত উৎস। চ্যালেঞ্জটি আরও বড় ছিল যখন আবরাহা তাকে বলেছিল: "সে আমাকে বাধা দিতে পারবে না।" তখন আব্দুল মুত্তালিব তাকে বলেছিলেন: "তুমি আর তোমার সেই জেদ (দেখা যাবে)।"

--------------------------------------------

২. সূরা আল-ফিল।
(খণ্ড: ১) আন-নুবুওয়াহ: ইসতিফা ওয়া কুদওয়াহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
الله عليهم وعلى العالمين فضله بمعجزة أعلى وأسمى فأرسل إليهم محمداً صلى الله عليه وسلم ليبوئهم مكانا عزيزا كريما؛ في عام الإنقاذ هذا ولد المنقذ الأكبر محمد رسول الله صلى الله عليه وسلم فجاء العرب وهم أعجز الناس عن حماية حوزتهم وحرمهم ورد الغزاة فلم يلبثوا إلا يسيرا حتى صنع الله منهم فاتحي العالم ومنائر الحق والحكمة.

هكذا كان ماضي أجدادنا عام الفيل ما أردنا من تفصيل الحديث فيه إلا الذكرى والاعتبار. وأيم الله {إِنَّ فِي ذَلِكَ لَذِكْرَى لِمَنْ كَانَ لَهُ قَلْبٌ أَوْ أَلْقَى السَّمْعَ وَهُوَ شَهِيدٌ} 1.

--------------------------------------------

1 سورة ق: 37.
আল্লাহ তাদের ওপর এবং বিশ্ববাসীর ওপর তাঁর অনুগ্রহকে এক মহান ও সর্বোচ্চ মুজিজার মাধ্যমে পূর্ণ করেছেন। অতঃপর তিনি তাদের নিকট মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রেরণ করেছেন যাতে তিনি তাদেরকে এক অনন্য ও সম্মানিত অবস্থানে অধিষ্ঠিত করেন। এই মুক্তির বছরেই মহান মুক্তিদাতা আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জন্মগ্রহণ করেন। আরবরা তখন এমন অবস্থায় ছিল যে, তারা তাদের ভূখণ্ড ও পবিত্র স্থান রক্ষা করতে এবং আক্রমণকারীদের প্রতিহত করতে মানুষের মধ্যে সর্বাধিক অক্ষম ছিল। কিন্তু অল্পকাল পরেই আল্লাহ তাদের মধ্য থেকে বিশ্ববিজয়ী এবং সত্য ও হিকমতের আলোকবর্তিকা তৈরি করলেন।

হস্তীবাহিনীর বছরে আমাদের পূর্বপুরুষদের অতীত এমনই ছিল। আমরা এই আলোচনার বিস্তারিত বিবরণের মাধ্যমে কেবল উপদেশ ও শিক্ষা গ্রহণই উদ্দেশ্য করেছি। আল্লাহর কসম, "নিশ্চয়ই এতে উপদেশ রয়েছে তার জন্য যার অন্তর আছে অথবা যে উপস্থিত হৃদয়ে মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ করে।" ১

--------------------------------------------

১. সূরা ক্বাফ: ৩৭।
(খণ্ড: ১) আন-নুবুওয়াহ: ইসতিফা ওয়া কুদওয়াহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌‌‌اصطفاء الذات النبوية

اصطفاء الذات النبوية

…

2- اصطفاء الذات النبوية.

الاصطفاء انتخاب الله صفوة البشر ليكونوا المثال الواقعي الحي للمثل الإلهية والقيم الربانية التي ارتضاها للبشرية شرعة ومنهاجا، تخوض بها تجربة الحياة والابتلاء بغية النجاة والظفر بمرضاة الله تعالى.

إن تجسيد القيم في أفعال وخطط يعطيها معناها الإمكاني الحق إذ يتعرف الناس على هذه المثل في واقع حياتي حي، فلتلتحم الفكرة العلوية بصورتها الأرضية، وتجري الأفكار والتعاليم الإلهية ملموسة دفاقة في الأرض جريان السيل لا ظن ولا توهم ولا مراء. ومن ثم ينتخب لها أولئك الذين تبدو العقيدة فيهم رائعة الجلاء والنقاء كما ينم البلور ذو الصفاء عما حوى، حتى إنك لا تميز بين الوعاء وما وعى. هؤلاء الصفوة يتولى الله سبحانه اختيارهم وهو العليم الخبير، ويجعل فيهم بقدرته ومشيئته الاستعداد للنبوة ليكونوا حقائق العقيدة المتحركة على الأرض. هذه النخبة يمكن أن يقال فيها: "أنها ليست وليدة بيئتها ولا من صنع مجتمعها، أنها جنس منفصل وجد كالغريب في بقعه نائية. وأنها لتحس بغربتها قبل أن يأتيها خبر السماء وتتجافى عن ضلال الناس كأن عالمها غير عالمهم وكأن قوة علوية تجتذبها إليها -تلمس آثارها وتشعر بتأثيرها فيما يجري لها ولكن تبقى محجوبة عن السر حتى يكشف الحجاب ويأتيها الوحي - فيتصل حبلها المقطوع بالعالم الذي كانت تستشعر وجوده ولا تدري كنهه، وتجد نفسها بعد ضلال {أَلَمْ يَجِدْكَ يَتِيماً فَآوَى، وَوَجَدَكَ ضَالاً فَهَدَى} 2 وتعرف حقيقتها ومهمتها فيزول عنها الإحساس بالغربة، وتستشعر نفسها وكيانها بقوة وتمكن، وتأخذ في التلقي من الله تلقيا تلقائيا آنيا فلا تتردد ولا تتحرج ولا تجادل ولا تماري، وإنما تستجيب للأمر وتتمثل للأمر للكلمة الإلهية آنيا كما ينبثق النور آنيا لا يدري أول شعاعه من أخره لسرعته تلك الاستجابة التي تلمس حقيقتها في إبراهيم. . {إِذْ قَالَ لَهُ رَبُّهُ أَسْلِمْ

--------------------------------------------

2 الضحى: 6- 7.
‌‌‌নবীগণের সত্তার নির্বাচন

নবীগণের সত্তার নির্বাচন

…

২- নবীগণের সত্তার নির্বাচন।

নির্বাচন হলো আল্লাহ কর্তৃক মানবজাতির সর্বোত্তম ব্যক্তিদের বেছে নেওয়া, যাতে তারা ঐশী আদর্শ এবং রব্বানী মূল্যবোধের এক বাস্তব ও জীবন্ত উদাহরণ হতে পারেন; যা তিনি মানবতার জন্য জীবনবিধান ও পথ হিসেবে পছন্দ করেছেন। এর মাধ্যমে মানুষ ইহজাগতিক জীবন ও পরীক্ষার অভিজ্ঞতা পাড়ি দেয়, যার লক্ষ্য হলো মুক্তি এবং মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন।

মূল্যবোধকে কর্ম ও পরিকল্পনায় রূপদান করা একে প্রকৃত বাস্তবসম্মত অর্থ প্রদান করে, কারণ মানুষ তখন একটি জীবন্ত জীবনবাস্তবতায় এই আদর্শগুলোর পরিচয় পায়। ফলে উচ্চতর চিন্তা তার পার্থিব রূপের সাথে একীভূত হয় এবং ঐশী চিন্তা ও শিক্ষাগুলো পৃথিবীতে প্রবহমান স্রোতের ন্যায় স্পর্শযোগ্য ও বেগবান হয়ে প্রবাহিত হয়, যেখানে কোনো ধারণা, কল্পনা বা বিতর্কের অবকাশ থাকে না। অতঃপর এর জন্য আল্লাহ এমন ব্যক্তিদের মনোনীত করেন যাদের মাঝে আকিদা বা বিশ্বাস অত্যন্ত চমৎকার স্পষ্টতা ও বিশুদ্ধতায় উদ্ভাসিত হয়, যেমন স্বচ্ছ স্ফটিক তার অভ্যন্তরের বস্তুকে প্রকাশ করে; এমনকি আপনি পাত্র এবং পাত্রের আধেয় এর মধ্যে কোনো পার্থক্য করতে পারবেন না। এই নির্বাচিত ব্যক্তিদের বাছাইয়ের দায়িত্ব স্বয়ং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা গ্রহণ করেন, আর তিনি সর্বজ্ঞ ও সম্যক অবহিত। তিনি তাঁর কুদরত ও ইচ্ছায় তাদের মধ্যে নবুওয়াতের যোগ্যতা সৃষ্টি করেন, যাতে তারা জমিনে বিচরণকারী আকিদার জীবন্ত সত্যে পরিণত হন। এই অভিজাত দলটি সম্পর্কে বলা যেতে পারে: "তারা তাদের পরিবেশের ফসল নয় এবং তাদের সমাজের সৃষ্টিও নয়; তারা যেন এক স্বতন্ত্র জাতি যারা সুদূর কোনো জনপদে আগন্তুক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। আসমানি সংবাদ আসার পূর্বেই তারা তাদের এই পরবাস বা একাকীত্ব অনুভব করেন এবং মানুষের পথভ্রষ্টতা থেকে দূরে থাকেন, যেন তাদের জগত অন্য সবার জগত থেকে আলাদা। যেন কোনো এক ঊর্ধ্বজগত তাদের নিজের দিকে আকর্ষণ করছে—তারা তাদের জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনায় এর চিহ্ন ও প্রভাব অনুভব করেন, কিন্তু রহস্যটি উন্মোচিত হওয়ার ও ওহী আসার আগ পর্যন্ত তা পর্দার আড়ালেই থাকে। অতঃপর সেই জগতের সাথে তাদের বিচ্ছিন্ন বন্ধনটি পুনরায় যুক্ত হয়, যার অস্তিত্ব তারা অনুভব করতেন কিন্তু স্বরূপ জানতেন না। দীর্ঘ অস্পষ্টতার পর তারা নিজেদের খুঁজে পান {তিনি কি আপনাকে এতিম হিসেবে পাননি, অতঃপর আশ্রয় দিয়েছেন? আর তিনি আপনাকে পথ না জানা অবস্থায় পেয়েছেন, অতঃপর পথ দেখিয়েছেন} ২। তারা তাদের প্রকৃত স্বরূপ ও দায়িত্ব সম্পর্কে অবগত হন, ফলে তাদের একাকীত্বের অনুভূতি দূর হয়ে যায়। তারা নিজেদের সত্তা ও অস্তিত্বকে দৃঢ়ভাবে ও সক্ষমতার সাথে অনুভব করেন এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে সরাসরি ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে জ্ঞান লাভ করতে শুরু করেন। তারা কোনো দ্বিধা করেন না, সংকীর্ণতা বোধ করেন না, বিতর্ক বা বিবাদ করেন না। বরং তারা নির্দেশের প্রতি সাড়া দেন এবং ঐশী বাণীর প্রতি তাৎক্ষণিকভাবে অনুগত হন, যেমনভাবে আলো তাৎক্ষণিকভাবে বিচ্ছুরিত হয় যার গতির কারণে তার শুরু ও শেষ আলাদা করা যায় না। এই সাড়াদানের প্রকৃত রূপটি ইব্রাহিমের মধ্যে পরিলক্ষিত হয়... {যখন তাঁর রব তাঁকে বললেন: তুমি আত্মসমর্পণ করো

--------------------------------------------

২ আদ-দোহা: ৬-৭।
(খণ্ড: ১) আন-নুবুওয়াহ: ইসতিফা ওয়া কুদওয়াহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
قَالَ أَسْلَمْتُ لِرَبِّ الْعَالَمِينَ} 1 ولم لا يسلم للحظته وقد بحث طويلا عن ربه في ملكوت السموات والأرض فلما اجتباه ربه وكشف حيرته وهدى ضلاله لم يبق إلا الامتثال والتلبية. عندها يعلم المصطفى المختار أسباب عزوفه عن قومه ونفوره من تقاليدهم وعباداتهم، ويوقن أن عناية الله كانت تلاحظه قبل الوحي الصريح والخبر الوثيق فيلجأ إلى ربه ليستمد منه وليستضيء بنوره ويغرف من معين هديه. وتتمايز نفسه تمايزا كليا عما حولها وتصبح قوة فعاله تأتي بالمعجزات ولا تبالي بالمعوقات. فلا تهاب أن تدخل معبد الوثنين الفأس بيدها تهزأ بالأصنام وتجعلها جذاذ ثم تقف وحدها تتحدى صخب الجمهور الضال، وطغيان الحاكم الجبار والتحريق بالنار، وتقابل التحدي صخب العجاج بتحد صليب مرهف نافذ. ولا عجب أن تقف وحدها على الصفا لتقول كلمتها المأمورة بها وتبلغ رسالته المنوطة بها، وليس عجيبا أن تقول: "والله لو وضعوا الشمس في يميني والقمر في يساري، على أن أترك هذا الأمر، حتى يظهره الله، أو أهلك فيه، ما تركته "2 لأنها أيقنت أن معنى وجودها هو أداء رسالة الله، فإن لم تؤديها فلا معنى لبقائها. ولهذا تبلغ في الاستبسال مدى لا تحتمله النفوس الأخرى، وفي الصبر شأوا يعجز عنه أولو العزم في غير الأنبياء، وتصبح شجاعتها وصبرها موضع الدهشة من الخصوم. وهذا التحدي المنتصر؛ تحدى فرد وحده لأمة أو مم لا يصدر عن أفراد عاديين، إذ لا يملك فرد مستضعف أعزل أن يغير نظام العقيدة، والمجتمع والتاريخ لأُمة إلا إذا أيدته قوة قاهرة على القوى فاستمد من ذخرها للصمود والهجوم والانتصار إن هؤلاء الأفراد الذين اختارهم الله وخلق فيهم هذه القدرات والإمكانيات هم وحدهم أمم، فإن كلا منهم مبدأ أمة جديدة وتاريخ محدث، جمع الله له في نفسه القوى اللازمة للمستقبل الجديد، فسرت منه إلى قلوب الأجيال قال تعالى: {إِنَّ إِبْرَاهِيمَ كَانَ أُمَّةً قَانِتاً لِلَّهِ حَنِيفاً وَلَمْ يَكُ مِنَ الْمُشْرِكِينَ} 3.

وفي القران الكريم إشارات واضحة إلى تلك الصفوة المختارة في ملايين البشر المبعوثين في الأرض قال تعالى مخبرا عن طريقته في الإرسال: {اللَّهُ يَصْطَفِي مِنَ الْمَلائِكَةِ رُسُلاً وَمِنَ النَّاسِ إِنَّ اللَّهَ سَمِيعٌ بَصِيرٌ} 4 وهو يعلم أولئك الذين يطيقون النهوض بتبعاتها إذ: {اللَّهُ أَعْلَمُ حَيْثُ يَجْعَلُ رِسَالَتَهُ} 5 ومن ثم كان اصطفاؤه لأفراد مخصوصين متميزين

--------------------------------------------

1 البقرة: 121.

2 السيرة لابن هشام: م1 ص266.

3 النحل: 120.

4 الحج: 75.

5 الأنعام: 124.
"তিনি বললেন, আমি বিশ্বজাহানের রবের কাছে আত্মসমর্পণ করলাম।" ১ আর কেনই বা তিনি সেই মুহূর্তেই আত্মসমর্পণ করবেন না, যখন তিনি আসমান ও যমীনের বিশাল রাজত্বে দীর্ঘ সময় ধরে তাঁর রবকে অনুসন্ধান করেছিলেন। অতঃপর যখন তাঁর রব তাঁকে বেছে নিলেন, তাঁর অস্থিরতা দূর করলেন এবং পথভ্রষ্টতা থেকে হিদায়াত দান করলেন, তখন আনুগত্য ও আহ্বানে সাড়া দেওয়া ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট থাকল না। তখনই সেই মনোনীত ও নির্বাচিত নবী তাঁর কওম থেকে বিমুখ হওয়া এবং তাদের প্রথা ও ইবাদতের প্রতি তাঁর অনীহার কারণগুলো বুঝতে পারেন। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, প্রত্যক্ষ ওহী ও সুনিশ্চিত সংবাদ আসার পূর্বেই আল্লাহর বিশেষ কৃপা তাঁকে পর্যবেক্ষণ করছিল। ফলে তিনি তাঁর রবের আশ্রয় গ্রহণ করেন যেন তাঁর নিকট থেকে সাহায্য পেতে পারেন, তাঁর নূর দ্বারা আলোকিত হতে পারেন এবং তাঁর হিদায়াতের ঝরনাধারা থেকে সিঞ্চিত হতে পারেন। তাঁর সত্তা চারপাশের পরিবেশ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা হয়ে যায় এবং এক কার্যকর শক্তিতে পরিণত হয় যা মুজিযা প্রদর্শন করে এবং কোনো বাধা-বিপত্তির পরোয়া করে না। সেই সত্তা মূর্তিপূজারীদের উপাসনালয়ে প্রবেশ করতে ভয় পায় না, হাতে কুঠার নিয়ে মূর্তিগুলোকে উপহাস করে এবং সেগুলোকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে ফেলে। অতঃপর তিনি একাকী পথভ্রষ্ট জনতার শোরগোল, অত্যাচারী শাসকের জুলুম এবং অগ্নিতে দাহ করার হুমকির সামনে দাঁড়িয়ে চ্যালেঞ্জ ঘোষণা করেন; আর এই প্রবল উত্তেজনার মোকাবিলা করেন এক সুদৃঢ় ও তীক্ষ্ণ প্রত্যয় দিয়ে। আর এটা বিস্ময়ের কিছু নয় যে, তিনি একাকী সাফা পাহাড়ে দাঁড়িয়ে তাঁর আদিষ্ট বাণী প্রচার করবেন এবং তাঁর ওপর অর্পিত রিসালাতের দায়িত্ব পৌঁছে দেবেন। এটিও আশ্চর্যের কিছু নয় যে তিনি বলবেন: "আল্লাহর কসম, যদি তারা আমার ডান হাতে সূর্য এবং বাম হাতে চাঁদ এনে দেয় যেন আমি এই দীন প্রচার ত্যাগ করি, যতক্ষণ না আল্লাহ একে বিজয়ী করেন অথবা আমি এতে ধ্বংস হয়ে যাই, তবুও আমি তা ত্যাগ করব না।" ২ কারণ তিনি নিশ্চিত হয়েছিলেন যে, তাঁর অস্তিত্বের সার্থকতা হলো আল্লাহর রিসালাত পালন করা। যদি তিনি তা সম্পাদন না করেন, তবে তাঁর বেঁচে থাকার আর কোনো অর্থ থাকে না। এই কারণেই তিনি বীরত্ব ও আত্মত্যাগে এমন এক চরম সীমায় পৌঁছান যা সাধারণ মানুষের পক্ষে সহ্য করা সম্ভব নয় এবং সবরের ক্ষেত্রে এমন উচ্চতায় আসীন হন যা নবীগণ ব্যতীত অন্য দৃঢ়সংকল্প ব্যক্তিদের পক্ষেও অসাধ্য। তাঁর সাহসিকতা ও ধৈর্য শত্রুদের বিস্ময়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আর এই বিজয়ী চ্যালেঞ্জ; যা একজন ব্যক্তির পক্ষ থেকে একটি জাতির বা বহু জাতির বিরুদ্ধে করা হয়, তা সাধারণ মানুষের দ্বারা সম্ভব নয়। কারণ একজন দুর্বল ও নিরস্ত্র ব্যক্তির পক্ষে একটি জাতির আকিদা, সমাজ ও ইতিহাসের ধারা পরিবর্তন করা সম্ভব নয়, যদি না কোনো অপরাজেয় শক্তি তাকে সমর্থন জোগায়। ফলে তিনি সেই শক্তির ভাণ্ডার থেকে অবিচল থাকা, মোকাবিলা করা এবং বিজয় লাভের সামর্থ্য অর্জন করেন। নিশ্চয়ই সেই সকল ব্যক্তি যাদেরকে আল্লাহ মনোনীত করেছেন এবং যাদের মধ্যে এই সক্ষমতা ও সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছেন, তাঁরা নিজেরাই একেকটি উম্মাহ। তাঁদের প্রত্যেকেই একেকটি নতুন উম্মাহ ও নবতর ইতিহাসের সূচনাকারী। আল্লাহ তাঁদের সত্তার মধ্যে আগামীর জন্য প্রয়োজনীয় সকল শক্তি পুঞ্জীভূত করে দিয়েছেন, যা তাঁদের থেকে পরবর্তী প্রজন্মগুলোর হৃদয়ে সঞ্চারিত হয়েছে। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন: "নিশ্চয়ই ইবরাহিম ছিলেন এক উম্মাহ, আল্লাহর অনুগত, একনিষ্ঠ এবং তিনি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না।" ৩.

কুরআনে কারীমে পৃথিবীতে প্রেরিত কোটি কোটি মানুষের মধ্য থেকে এই মনোনীত ও নির্বাচিত ব্যক্তিবর্গের প্রতি স্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে। আল্লাহ তাআলা তাঁর রসূল প্রেরণের পদ্ধতি সম্পর্কে সংবাদ দিয়ে ইরশাদ করেন: "আল্লাহ ফেরেশতাদের মধ্য থেকে এবং মানুষের মধ্য থেকে রসূল মনোনীত করেন; নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।" ৪ আর তিনি খুব ভালো করেই জানেন কারা এই সুমহান দায়িত্ব পালনে সক্ষম। কারণ: "আল্লাহ অধিক অবগত যে, কোথায় তাঁর রিসালাত অর্পণ করতে হবে।" ৫ এই কারণেই তাঁর মনোনয়ন ছিল কিছু নির্দিষ্ট ও স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ব্যক্তিদের জন্য।

--------------------------------------------

১ আল-বাকারাহ: ১২১।

২ আস-সিরাহ লি-ইবনি হিশাম: খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৬৬।

৩ আন-নাহল: ১২০।

৪ আল-হজ: ৭৫।

৫ আল-আনআম: ১২৪।
(খণ্ড: ১) আন-নুবুওয়াহ: ইসতিফা ওয়া কুদওয়াহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
ذهبوا بخلود الذكر في الدنيا والآخرة: {إِنَّ اللَّهَ اصْطَفَى آدَمَ وَنُوحاً وَآلَ إِبْرَاهِيمَ وَآلَ عِمْرَانَ عَلَى الْعَالَمِينَ، ذُرِّيَّةً بَعْضُهَا مِنْ بَعْضٍ وَاللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ} 1.

وهؤلاء الأصفياء - على تباعد الزمان فيما بينهم - بعضهم من بعض، فإن بينهم نسبا هو دين الإسلام الذي ارتضاه الله للبشر منذ أبيهم آدم، ولما بعث خاتم الأنبياء وسيد المرسلين كان اختياره من صفوة الصفوة؛ إن محمدا صلى الله عليه وسلم خير نسمة برأها الله بين سابق البشر ولاحقهم. إن أكمل الرسالات وخاتمتها تستلزم رسولا هو أكمل ما خلق الله من بشر وأطهر. وهذا أمر هيأ الله له الأسباب منذ آدم عليه السلام، قال عليه الصلاة والسلام: "بعثت من خير قرون بني آدم قرنا فقرنا حتى بعثت في القرن الذي أنا فيه" 2 وفي هذا الحديث الذي رواه البخاري دلالة كافية على انتخاب إلهي مستمر خلال أجيال البشرية حتى استخرج منهم محمدا صلى الله عليه وسلم وكان استخراجه من بيت أوله النبوة قال عليه الصلاة والسلام -في حديث رواه مسلم-: "إن الله اصطفى من ولد إبراهيم إسماعيل واصطفى من بني إسماعيل بني كنانة، واصطفى من بني كنانة قريشا، واصطفى من قريش بني هاشم واصطفاني من بني هاشم"3 وكان علية الصلاة والسلام يقول: "أنا دعوة أبي إبراهيم" 4 فجاء رسول الله صلى الله عليه وسلم ملء نفسه وجسده الطهر، إذ اختاره ربه من أطهر نطفة في الأصلاب. روي عن عائشة رضى الله عنها قوله صلى الله عليه وسلم: "ولدت من نكاح غير سفاح" 5 وثبت في الصحيح قوله: "أنا سيد ولد آدم يوم القيامة ولا فخر" 6 ولا عجب فهو مصطفى الأصفياء: طاهر مطهر، وسيد الأنبياء.

--------------------------------------------

1 آل عمران: 24.

2 ابن كثير في البداية والنهاية: ج2 ص256 عن صحيح البخاري.

3 البداية والنهاية ج2 ص256 لابن كثير: عن صحيح مسلم.

4 السيرة لابن هشام م1 ص166 رواه ابن إسحاق عن ثور بن يزيد. وقال فيه ابن كثير في المرجع السابق: هو إسناد جيد.

5 البداية والنهاية ج2 ص256 رواه الزهري عن عروة عن عائشة. رواه ابن سعد في الطبقات الكبرى عن ابن عباس: "ولدت من لدن آدم من نكاح غير سفاح".

6 المصدر نفسه ص257.
তারা দুনিয়া ও আখেরাতে চিরস্থায়ী স্মৃতির অধিকারী হয়েছেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহ আদম, নূহ, ইবরাহিমের বংশধর এবং ইমরানের বংশধরকে বিশ্বজগতের উপর মনোনীত করেছেন। তারা একে অপরের বংশধর এবং আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ} ১।

আর এই মনোনীত ব্যক্তিগণ—তাঁদের মধ্যবর্তী সময়ের দীর্ঘ ব্যবধান থাকা সত্ত্বেও—একে অপরের অংশ। কেননা তাঁদের মধ্যে একটি বংশগত সম্পর্ক রয়েছে, আর তা হলো ইসলাম ধর্ম, যা আল্লাহ তাঁদের পিতা আদমের সময় থেকেই মানবজাতির জন্য পছন্দ করেছেন। আর যখন শেষ নবী ও রাসূলদের সরদারকে পাঠানো হলো, তখন তাঁর নির্বাচন ছিল সেরাদের সেরা থেকে; নিশ্চয়ই মুহাম্মদ (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর উপর বর্ষিত হোক) হলেন পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম সৃষ্টি যাকে আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয়ই পূর্ণাঙ্গ ও সর্বশেষ রিসালাতের জন্য এমন একজন রাসূলের প্রয়োজন ছিল যিনি আল্লাহর সৃষ্টি সকল মানুষের মধ্যে সবচেয়ে নিখুঁত ও পবিত্র। এটি এমন একটি বিষয় যার উপায়-উপকরণ আল্লাহ আদম (আলাইহিস সালাম)-এর সময় থেকেই তৈরি করে রেখেছিলেন। তিনি (সালাত ও সালাম তাঁর উপর বর্ষিত হোক) বলেছেন: "আমি আদম সন্তানের সর্বোত্তম যুগসমূহের এক যুগ থেকে অন্য যুগে প্রেরিত হতে হতে অবশেষে সেই যুগে প্রেরিত হয়েছি যে যুগে আমি বর্তমানে রয়েছি" ২। ইমাম বুখারী বর্ণিত এই হাদিসে মানবজাতির বংশপরম্পরায় এক নিরবচ্ছিন্ন ঐশ্বরিক নির্বাচনের পর্যাপ্ত প্রমাণ রয়েছে, যার মাধ্যমে আল্লাহ তাঁদের মধ্য থেকে মুহাম্মদ (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর উপর বর্ষিত হোক)-কে বের করে এনেছেন। আর তাঁর নির্গমন ছিল এমন এক ঘর থেকে যার শুরুতেই ছিল নবুওয়াত। তিনি (সালাত ও সালাম তাঁর উপর বর্ষিত হোক) মুসলিম বর্ণিত এক হাদিসে বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ ইবরাহিমের সন্তানদের মধ্য থেকে ইসমাইলকে মনোনীত করেছেন, বনু ইসমাইল থেকে বনু কিনানাহকে মনোনীত করেছেন, বনু কিনানাহ থেকে কুরাইশকে মনোনীত করেছেন, কুরাইশ থেকে বনু হাশিমকে মনোনীত করেছেন এবং বনু হাশিম থেকে আমাকে মনোনীত করেছেন" ৩। তিনি (সালাত ও সালাম তাঁর উপর বর্ষিত হোক) বলতেন: "আমি আমার পিতা ইবরাহিমের দোয়া" ৪। অতঃপর আল্লাহর রাসূল (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর উপর বর্ষিত হোক) তাঁর আত্মা ও দেহ পবিত্রতায় পূর্ণ হয়ে আগমন করলেন, কারণ তাঁর রব তাঁকে পৃষ্ঠদেশের পবিত্রতম বীর্য থেকে চয়ন করেছিলেন। আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, নবী (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর উপর বর্ষিত হোক) বলেছেন: "আমি বৈধ বিবাহের মাধ্যমে জন্মগ্রহণ করেছি, কোনো ব্যভিচারের মাধ্যমে নয়" ৫। আর সহিহ হাদিসে তাঁর এই বাণী প্রমাণিত: "কিয়ামতের দিন আমি আদম সন্তানদের সরদার হব এবং এতে কোনো অহংকার নেই" ৬। আর এতে আশ্চর্যের কিছু নেই, কারণ তিনি মনোনীতদের মধ্যে মনোনীত: পবিত্র ও পবিত্রকারী এবং নবীদের সরদার।

--------------------------------------------

১. আল ইমরান: ২৪।

২. ইবনে কাসির, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া: খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ২৫৬, সহিহ বুখারী থেকে।

৩. আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ২৫৬, ইবনে কাসির: সহিহ মুসলিম থেকে।

৪. ইবনে হিশামের সিরাত, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৬৬, ইবনে ইসহাক সাওর ইবনে ইয়াজিদ থেকে বর্ণনা করেছেন। ইবনে কাসির পূর্বোক্ত সূত্রে বলেছেন: এর সনদ উত্তম।

৫. আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ২৫৬, জুহরি ওরওয়াহ থেকে এবং তিনি আয়েশা থেকে বর্ণনা করেছেন। ইবনে সাদ 'আত-তাবাকাত আল-কুবরা'তে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন: "আমি আদমের সময় থেকে বৈধ বিবাহের মাধ্যমে জন্মগ্রহণ করেছি, কোনো ব্যভিচারের মাধ্যমে নয়।"

৬. একই উৎস, পৃষ্ঠা ২৫৭।
(খণ্ড: ১) আন-নুবুওয়াহ: ইসতিফা ওয়া কুদওয়াহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌إعداد الله لعبده للرسالة

‌‌مدخل

…

2- إعداد الله لعبدة للرسالة:

إذا كان لبعث النبي عند الله ميعاد معلوم فإن أحواله وأوضاعه في مختلف مراحل حياته جارية على
রিসালাতের জন্য আল্লাহর বান্দার প্রস্তুতি

ভূমিকা

...

২- রিসালাতের জন্য আল্লাহর বান্দার প্রস্তুতি:

যদি আল্লাহর নিকট নবী প্রেরণের একটি সুনির্দিষ্ট সময় নির্ধারিত থাকে, তবে তাঁর জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে তাঁর অবস্থা ও পরিস্থিতি পরিচালিত হয়...
(খণ্ড: ১) আন-নুবুওয়াহ: ইসতিফা ওয়া কুদওয়াহ (পৃষ্ঠা: ২০)
تقدير وتدبير من الله العزيز الحكيم؛ يختار له الوسط الذي يكتنفه، والمؤثرات التي تحيط به، ويفاعل بين نفسه وبين ما وضعه فيه، فيخلق فيها ردود الفعل المناسبة للمستقبل القريب. إن الله هو الذي يصنع الأنبياء، وينشئهم النشأة المواتية للرسالة، إنه رب العالمين الذي تقبل مريم: {بِقَبُولٍ حَسَنٍ وَأَنْبَتَهَا نَبَاتاً حَسَناً وَكَفَّلَهَا زَكَرِيَّا} 1 وهو الذي صنع موسى على عينه، ووضعه في قصر فرعون آية كبرى من آيات التحدي لطغيان سادر، غير مرعو، لينشأ في حجور الجبابرة، ويخرج من عندهم أكبر ناقم، وأشد ساخط على الظلم وتعبيد الشعوب.

ومن ثم لم يكن شئ في حياة محمد صلى الله عليه وسلم قبل المبعث إلا بتدبير الله الخالص وتهيئته وقد يبدو أن كلامنا هذا تحصيل حاصل فكل ما في الوجود إنما هو بتقديره عز وجل. ولكن قلنا ما قلناه لنوجه الأنظار إلى أهميه الظروف والحوادث التي عاشها نبينا محمد صلى الله عليه وسلم لنكتنه مغزاها العميق ،ولنطيل الفكرة في هذه التنشئة التي انتهت إلى تفجير الحكمة الخالدة في فوائده تلك الحكمة التي رفعها الله نبراسا هاديا مشعا للبشرية إلى يوم الدين.

إن حياة تتفتح عن الحكمة الكلية الأخيرة للإنسانية لجديرة بالتفكر والتدبر والاعتبار وبأن تتأمل في شكلها ومضمونها والأحداث التي صنعت مادتها.

--------------------------------------------

1 آل عمران: 37.
পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময় আল্লাহর পক্ষ থেকে এটি এক সুনির্ধারিত পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা; তিনি তাঁর নবীর জন্য এমন এক পরিবেশ নির্বাচন করেন যা তাঁকে বেষ্টন করে রাখে এবং তাঁকে ঘিরে থাকা প্রভাবকসমূহ নির্ধারণ করেন। তিনি নবীর সত্তা এবং যেখানে তাঁকে রাখা হয়েছে তার মধ্যে সমন্বয় ঘটান, ফলে তাঁর মাঝে অদূর ভবিষ্যতের জন্য উপযুক্ত প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। নিশ্চয়ই আল্লাহই নবীদের গড়ে তোলেন এবং রিসালাতের অনুকূলে তাঁদের লালন-পালন করেন। তিনিই সৃষ্টিকুলের রব, যিনি মারইয়ামকে গ্রহণ করেছিলেন: {উত্তমরূপে গ্রহণ করলেন এবং তাঁকে উত্তম প্রবৃদ্ধি দান করলেন আর যাকারিয়াকে তাঁর অভিভাবক বানালেন} ১। এবং তিনিই মূসাকে তাঁর চোখের সামনে গড়ে তুলেছিলেন এবং তাঁকে ফেরাউনের প্রাসাদে রেখেছিলেন, যা ছিল এক বেপরোয়া ও অবাধ্য স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ স্বরূপ আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে এক বড় নিদর্শন; যাতে তিনি স্বৈরশাসকদের কোলে বেড়ে ওঠেন এবং তাদের নিকট থেকেই জুলুম ও জাতিসমূহের দাসত্বকরণের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় প্রতিবাদী ও কঠোর অসন্তুষ্ট ব্যক্তি হিসেবে বেরিয়ে আসেন।

আর তাই, নবুওয়াত প্রাপ্তির আগে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবনের কোনো কিছুই আল্লাহর বিশুদ্ধ ব্যবস্থাপনা ও প্রস্তুতি ব্যতিরেকে ছিল না। আমাদের এই কথাটি হয়তো স্বতসিদ্ধ মনে হতে পারে, কারণ অস্তিত্বে বিদ্যমান সবকিছুই তো মহান আল্লাহর সুনির্ধারিত পরিকল্পনার অধীন। কিন্তু আমরা এই কথাটি বলেছি যাতে আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে পরিস্থিতি ও ঘটনাবলির মধ্য দিয়ে জীবন অতিবাহিত করেছেন তার গুরুত্বের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা যায়, যেন আমরা এর গভীর তাৎপর্য উপলব্ধি করতে পারি এবং সেই লালন-পালন সম্পর্কে দীর্ঘ চিন্তা করতে পারি যা তাঁর হৃদয়ে চিরন্তন হিকমতের বিচ্ছুরণ ঘটিয়েছিল। সেই হিকমত, যা আল্লাহ কিয়ামত পর্যন্ত মানবতার জন্য এক উজ্জ্বল হেদায়েতের প্রদীপ হিসেবে সমুন্নত করেছেন।

নিশ্চয়ই এমন এক জীবন যা মানবতার জন্য চূড়ান্ত ও পূর্ণাঙ্গ হিকমতের দ্বার উন্মোচন করে, তা চিন্তা, গবেষণা ও শিক্ষা গ্রহণের এবং এর বাহ্যিক রূপ, বিষয়বস্তু ও যেসব ঘটনা এর উপাদান তৈরি করেছে তা নিয়ে গভীরভাবে ভাবার দাবি রাখে।

--------------------------------------------

১. আলে ইমরান: ৩৭।
(খণ্ড: ১) আন-নুবুওয়াহ: ইসতিফা ওয়া কুদওয়াহ (পৃষ্ঠা: ২০)
أ-‌‌ الإعداد النفسي:

كان أول وحي نزل على رسول الله صلى الله عليه وسلم في غار حراء شديد الوطأة. لقد عانى حادثة غير عادية ولا مألوفة ، خفية العلة، ولا يفسر حدوثها بسب من الأسباب الظاهرة (كما ينشأ الغيث في السحاب ، مثلا) فإن مصدرها ليس عالم الشهادة بل عالم الغيب. هنالك لا يسع الإنسان إلا أن يتلقى بالقبول المطلق والتصديق الكلى ، لأن أحداثه فوق منطق الأرض المحدود بالسبب والنتيجة. لذلك لا يقدر على احتمال الوحي إلا الأنبياء الذين أعدهم الله للثبات عند رؤية الملاك، وتصديق ما جاءهم من خبر السماء. ولم يصادف الوحي من رسول الله صلى الله عليه وسلم نفسا لم تهيأ لاستقباله ، بل جاءه بعد إعداد طويل من رب العالمين، عرف فيه حوادث غيبية المنشأ، لم يدر لها علة ظاهرة. فكانت مقدمة صالحة لاستقبال الوحي، رفقا من الله برسوله، ورحمة بنفسه البشرية.

وكأن بعض هذه الحوادث كانت تقول له قبل مبعثه: لست وحدك،
ক-‌‌ মনস্তাত্ত্বিক প্রস্তুতি:

আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর হেরা গুহায় অবতীর্ণ প্রথম ওহি ছিল অত্যন্ত ভারবহ। তিনি এমন এক অস্বাভাবিক ও অপরিচিত ঘটনার সম্মুখীন হয়েছিলেন যার কারণ ছিল নিগূঢ়, আর যার সংঘটন দৃশ্যমান কোনো কারণ দ্বারা ব্যাখ্যা করা যায় না (যেমন উদাহরণস্বরূপ, মেঘ থেকে বৃষ্টির সৃষ্টি হওয়া); কারণ এর উৎস দৃশ্যমান জগৎ নয়, বরং অদৃশ্যের জগত। সেখানে মানুষের পক্ষে নিঃশর্ত গ্রহণ এবং পূর্ণ সত্যয়ন ব্যতীত আর কোনো উপায় থাকে না, কারণ এর ঘটনাবলি কার্যকারণ তত্ত্বে সীমাবদ্ধ পার্থিব যুক্তির ঊর্ধ্বে। তাই নবীগণ ব্যতীত আর কেউ ওহির ভার বহনে সক্ষম হন না, যাদেরকে আল্লাহ ফেরেশতা দর্শনের সময় অবিচল থাকতে এবং আসমানি সংবাদকে সত্য বলে বিশ্বাস করার জন্য প্রস্তুত করেছেন। ওহি যখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলো, তখন তাঁর মন তা গ্রহণের জন্য অপ্রস্তুত ছিল না; বরং রব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে দীর্ঘ প্রস্তুতির পরেই তা এসেছিল। এই প্রস্তুতি পর্বে তিনি অদৃশ্যের জগত থেকে উদ্ভূত এমন কিছু ঘটনার অভিজ্ঞতা লাভ করেছিলেন যার কোনো দৃশ্যমান কারণ জানা ছিল না। এটি ছিল ওহি গ্রহণের এক উপযুক্ত ভূমিকা, যা আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর রাসূলের প্রতি সদয় আচরণ এবং তাঁর মানবসত্তার প্রতি রহমত স্বরূপ ছিল।

নবুওয়াত লাভের পূর্বে এই ঘটনাগুলো যেন তাঁকে বলছিল: আপনি একা নন,
(খণ্ড: ১) আন-নুবুওয়াহ: ইসতিফা ওয়া কুদওয়াহ (পৃষ্ঠা: ২১)
ولا لنفسك وإنما أنت للذي يعدك ويرعاك لتكون امرأ غير الآخرين، وإن في غدك لأمرا فترقبه، فتبعث فيه تساؤلا وتطلعا وترقبا، وربما كان من شأنها أن حببت إليه العزلة والتحنث في حراء. واستقبل أولاها وهو طفل مسترضع في بني سعد يوم جاءه الملكان فشقا صدره واستخرجا قلبه وغسلاه بالثلج والبرد. حادثة فوق إمكان العقل الإنساني ولكنها على الله هينة لذلك لم يكد أبواه في الرضاع يستمعان خبرها من فم الطفل البريء الصادق حتى طارا به إلى أمه في مكة فزعا أن يكون بدأ به عرض مرضي إذ لم يستطيعا أن يصدقا طفلا في أمر لم يألفاه. ومن أدراهما أن من بين أيديهما نبي منتظر؟ ولكن الطفل لم ينس الحادثة، ومرت في شعوره خفيفة الوقع وهو صغير، فلما شب على الأيام تألقت في ذاكرته وإحساسه، ولا شك أنها شغلت تفكيره حتى مبعثه، فلما جاءه الملك ليلة الإسراء، وشق صدره للمرة الثانية وغسل قلبه بماء زمزم استعدادا للسفر به إلى الملأ الأعلى والمثول بين يدي الله تيقن أن حادثة الطفولة كانت إحدى براهين النبوة ليتعرفها في نفسه، وليثبت يوم يزعزع كيانا في غار حراء والملك يفته ويقول {اقْرَأْ} 1 ويوم يقول لخديجة رضي الله عنها: "مالي أي شيء عرض لي؟ لقد خشيت على نفسي"2 في هذه الساعات من الزعزعة الحيرة كان تذكر هذه الحادثة وما أشبهها أنفع شئ في الثبات واليقين، وتستبين حقائق الحاضر بدلائل من الماضي. وقد عرف رسول الله صلى الله عليه وسلم مغزاها الكامل إذ سئل خبرنا عن نفسك يا رسول الله3 فجعلها عليه الصلاة والسلام إحدى أربع علامات للنبوة عرفها في نفسه. ومن يدري؟ ربما ظل رسول الله صلى الله عليه وسلم طوال حياته يستشعر العذوبة والراحة النفسية التي أحس بها عندما استخرج الملكان من قلبه علقة سوداء وغسلاه بالثلج والبرد: إننا لنسمعه يقول في دعاء له "اللهم اغسلني من خطاياي بالثلج، والماء، والبرد"4

--------------------------------------------

1 سورة العلق: 1.

2 البداية والنهاية لابن كثير: ج3 ص7.

3 ابن هشام: م1 ص166.

4 الأذكار للنووي: ص43. ومن هذا القبيل ما كان يومئ بالرسالة المقبلة بصريح اللفظ. قال عليه الصلاة ولسلام: "إني لأعرف حجرا بمكة كان يسلم علي بمكة قبل أن أبعث إني لأعرفه الآن" رواه مسلم وصدق رسول الله فإن تسليم الحجر عليه قبل الوحي كان لتنبيه فكره وإثارة شعوره وتوجيهه إلى استشراف ما هو غيبي المصدر.
আপনি নিজের জন্য নন, বরং আপনি তাঁরই জন্য যিনি আপনাকে প্রস্তুত করছেন এবং আপনার যত্ন নিচ্ছেন যাতে আপনি অন্যদের থেকে ভিন্ন এক ব্যক্তিতে পরিণত হন। আপনার অনাগত ভবিষ্যতে এমন কিছু আছে যার জন্য প্রতীক্ষা করুন, যা আপনার মধ্যে প্রশ্ন, আকাঙ্ক্ষা এবং প্রতীক্ষা জাগিয়ে তোলে। সম্ভবত এ কারণেই নির্জনতা এবং হেরা গুহায় ইবাদত করার বিষয়টি তাঁর কাছে প্রিয় হয়েছিল। তিনি এর প্রথমটির সম্মুখীন হন যখন তিনি বনু সা’দ গোত্রে স্তন্যপায়ী শিশু ছিলেন। সেদিন দুই ফেরেশতা তাঁর কাছে এসে তাঁর বক্ষ বিদীর্ণ করলেন, তাঁর অন্তর বের করলেন এবং তা বরফ ও শীতল পানি দিয়ে ধুয়ে দিলেন। এই ঘটনাটি মানবীয় বুদ্ধিবৃত্তির ক্ষমতার ঊর্ধ্বে, কিন্তু আল্লাহর কাছে এটি অতি সহজ। তাই তাঁর দুগ্ধদানকারী পিতা-মাতা যখন সেই নিষ্পাপ ও সত্যবাদী শিশুর মুখ থেকে এই সংবাদ শুনলেন, তখনই তারা আতঙ্কিত হয়ে তাঁকে মক্কায় তাঁর মায়ের কাছে নিয়ে ছুটে গেলেন। তারা ভয় পাচ্ছিলেন যে এটি হয়তো কোনো রোগের লক্ষণ, কারণ তারা এমন এক বিষয়ে একটি শিশুকে বিশ্বাস করতে পারছিলেন না যা তাদের পরিচিত ছিল না। তারা কীভাবে জানবেন যে তাদের হাতেই সেই প্রতীক্ষিত নবী রয়েছেন? তবে শিশুটি এই ঘটনা ভুলে যাননি। ছোটবেলায় এটি তাঁর অনুভূতিতে মৃদু প্রভাব ফেলেছিল, কিন্তু দিন অতিবাহিত হওয়ার সাথে সাথে যখন তিনি বড় হলেন, তখন এটি তাঁর স্মৃতি ও উপলব্ধিতে উজ্জ্বল হয়ে উঠল। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে তাঁর নবুওয়াত প্রাপ্তি পর্যন্ত এটি তাঁর চিন্তাকে আচ্ছন্ন করে রেখেছিল। এরপর যখন মেরাজের রাতে ফেরেশতা তাঁর কাছে এলেন এবং দ্বিতীয়বারের মতো তাঁর বক্ষ বিদীর্ণ করে তাঁর অন্তর যমযমের পানি দিয়ে ধৌত করলেন—যাতে তাঁকে ঊর্ধ্বজগতে ভ্রমণের জন্য এবং আল্লাহর দুই হাতের সামনে উপস্থিত হওয়ার জন্য প্রস্তুত করা যায়—তখন তিনি নিশ্চিত হলেন যে শৈশবের সেই ঘটনাটি ছিল নবুওয়াতের অন্যতম প্রমাণ, যাতে তিনি নিজের সত্তায় তা উপলব্ধি করতে পারেন। এবং যাতে তিনি সেই দিনে অবিচল থাকতে পারেন যখন হেরা গুহায় এক সত্তা তাঁকে বিচলিত করছিল এবং ফেরেশতা তাঁকে সজোরে চেপে ধরে বলছিলেন "পাঠ করুন" এবং যেদিন তিনি খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে বলছিলেন: "আমার কী হলো? আমার সাথে কী ঘটছে? আমি তো নিজের জীবনের ব্যাপারে শঙ্কিত।" অস্থিরতা ও দ্বিধাদ্বন্দ্বের এই মুহূর্তগুলোতে সেই ঘটনা এবং তদ্রূপ বিষয়গুলোর স্মৃতিচারণ ছিল অবিচলতা ও দৃঢ় বিশ্বাস অর্জনে সবচেয়ে উপকারী। আর এভাবেই অতীতের দলিলের মাধ্যমে বর্তমানের বাস্তবতাগুলো স্পষ্ট হয়ে ওঠে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পূর্ণ তাৎপর্য অনুধাবন করেছিলেন। যখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল, আপনার নিজের সম্পর্কে আমাদের কিছু বলুন, তখন তিনি একে তাঁর নিজের মধ্যে অনুভূত নবুওয়াতের চারটি নিদর্শনের অন্যতম হিসেবে গণ্য করলেন। কে জানে? হয়তো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সারা জীবন সেই মাধুর্য ও মানসিক প্রশান্তি অনুভব করেছিলেন যা তিনি তখন পেয়েছিলেন যখন দুই ফেরেশতা তাঁর অন্তর থেকে একটি কালো জমাট রক্তপিণ্ড বের করেছিলেন এবং তা বরফ ও শীতল পানি দিয়ে ধুয়ে দিয়েছিলেন। আমরা তাঁকে তাঁর এক দোয়ায় বলতে শুনি: "হে আল্লাহ! আমার পাপসমূহ বরফ, পানি ও শীতলতা দিয়ে ধুয়ে দিন।"

--------------------------------------------

১. সূরা আল-আলাক: ১।

২. ইবনে কাসীরের আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া: ৩য় খণ্ড, ৭ম পৃষ্ঠা।

৩. ইবনে হিশাম: ১ম খণ্ড, ১৬৬ পৃষ্ঠা।

৪. ইমাম নববীর আল-আযকার: ৪৩ পৃষ্ঠা। এই ধরনের ঘটনার অন্তর্ভুক্ত হলো সেগুলোও, যা স্পষ্ট ভাষায় আগত রিসালাতের ইঙ্গিত দিচ্ছিল। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমি মক্কার এমন একটি পাথরকে চিনি যা আমার নবুওয়াত প্রাপ্তির আগে আমাকে সালাম দিত, আমি এখনো তাকে চিনি।" ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন। রাসূলুল্লাহ সত্য বলেছেন; ওহী অবতীর্ণ হওয়ার আগে পাথরের এই সালাম প্রদান ছিল তাঁর চিন্তাকে জাগ্রত করার, তাঁর অনুভূতিকে উদ্দীপিত করার এবং গায়েবি উৎসের দিকটি দেখার জন্য তাঁকে পরিচালিত করার উদ্দেশ্যে।
(খণ্ড: ১) আন-নুবুওয়াহ: ইসতিফা ওয়া কুদওয়াহ (পৃষ্ঠা: ২২)
وثمة حوادث تقصد مع تنبيه النفس إلى حينانتها وحياطتها من الوسط الجاهلي. وللبيئة أثر في النفس لا يدفع، وقد تولى حفظ نفس نبيه صلى الله عليه وسلم من أقذارها وإخطارها، حتى يتم له الطهر ويسلم له النظر السليم، والإحساس اليقظ وليفرق بين القيم الحقيقة التي هي كمال الإنسان وبين القيم التي هي النقص والخسران ولقد شاء الله - ومشيئته حق ونور - أن تتمايز هذه النفس عن محيطها لتبصر مساوئه وتنقده نقدا دقيقا عادلا حرا تنقده وهي تنظر فيه بنور الله نقدا لا يعرف الادهان ولا أنصاف الحلول فإن الحق لا يتجزأ أو لا يجزئ بعضه عن بعض؛ إننا لنجد الله قد حمى نبيه أن ينكشف إزاره عن العورة إذا تعرى الصبيان أو الرجال وهم يحملون الأحجار للعب أو لبناء الكعبة1 وفي هذا صيانة لنفسه النبوية من أن تتأذى بما يبعث في النفس من أحاسيس غير كريمة. وحماه من حضور مجالس اللهو والغناء وكان حييا. وكانت الكعبة تزخر بالأصنام وقريش تذبح لها في الأعياد، فحال الله بين نبيه وبينها فلم يمس حياته صنما ولم يحظر عيدا لها. لقد فارق قومه في باطلهم مفارقة كبيرة عرفتها عشيرته فيه قبل النبوة، ومن أعجبها وقوفه بعرفة مع الناس، على حين كانت قريش مما يقفون في المزدلفة.

ذلك أن الله أنعم عليه بالحس السليم الذي يميز بين الحق والباطل فكان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا وجد في قومه فضلا نوَّه به ومِنْ هذا ثناؤه على حلف الفضول الذي تعاقدت قريش فيه على رد الحقوق للمضطهدين وعلى حماية الضعفاء منها ومن غيرها، فقال فيه: "لقد شهدت في دار عبد الله بن جدعان حلفا ما أحب أن لي به حمر النعم ولو أدعى به في الإسلام لأجبت" 2 ولعل هذه العدالة في الحكم ظاهرة الدلالة في قوله: "بعثت لأتمم حسن الأخلاق" 3.

هذه الحوادث وإضرابها من إرهاصات النبوة لم يمنحها المحدثون من كتاب السيرة ما تستحق من عناية وبحث فتجاوزا عن كثير منها، ولم يتلبثوا عندها إلا يسيرا. ولو أمعنوا النظر وتتبعوا أحوال المصطفين والأنبياء لو جدوا فيها سنة من سنن الله في أعداد أنبيائه.

فمن ذلك رؤيا آمنة بنت وهب حين حملت برسول الله صلى الله عليه وسلم إنه:

--------------------------------------------

1 تقرأ البداية والنهاية ج2 ص287.

2 السيرة لابن هشام: م1 ص134.

3 رواه مالك في الموطأ في ص 904 تحقيق فؤاد عبد الباقي وهو حديث مدني صحيح متصل في وجوه صحاح.
আর এমন কিছু ঘটনা রয়েছে যা জাহেলী পরিবেশ থেকে নফসের সুরক্ষা এবং তাকে সজাগ করার উদ্দেশ্যে ঘটেছিল। নফসের ওপর পরিবেশের অনস্বীকার্য প্রভাব রয়েছে। আল্লাহ তাআলা তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নফসকে জাহেলিয়াতের আবর্জনা ও বিপদ থেকে হেফাযত করার দায়িত্ব নিয়েছিলেন, যাতে তাঁর পবিত্রতা পূর্ণ হয় এবং তাঁর সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি ও সজাগ অনুভূতি সুরক্ষিত থাকে; এবং যাতে তিনি প্রকৃত মূল্যবোধ—যা মানুষের পূর্ণতা—এবং সেই মূল্যবোধ যা মূলত ত্রুটি ও ক্ষতি, এই উভয়ের মধ্যে পার্থক্য করতে পারেন। আল্লাহ—যাঁর ইচ্ছা সত্য ও নূর—চেয়েছিলেন যে এই নফসটি যেন তার পারিপার্শ্বিকতা থেকে স্বতন্ত্র হয়, যাতে সে এর মন্দ দিকগুলো প্রত্যক্ষ করতে পারে এবং আল্লাহর নূরের আলোকে অত্যন্ত সূক্ষ্ম, ইনসাফপূর্ণ ও স্বাধীনভাবে তার সমালোচনা করতে পারে। এমন সমালোচনা যাতে তোষামোদ বা আপসকামিতার কোনো স্থান নেই; কারণ সত্য অবিভাজ্য অথবা এর এক অংশ অন্য অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। আমরা দেখতে পাই যে, যখন কিশোর বা প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষরা খেলাধুলার জন্য বা কাবাঘর নির্মাণের জন্য পাথর বহন করার সময় উলঙ্গ হতো, তখন আল্লাহ তাঁর নবীকে তাঁর লুঙ্গি উন্মোচিত হয়ে সতর প্রকাশ পাওয়া থেকে রক্ষা করেছিলেন।১ এতে তাঁর নবুওয়াতী সত্তার সেই সুরক্ষা নিশ্চিত হয়েছিল যাতে নফসের মাঝে কোনো অশালীন অনুভূতি জন্ম দিয়ে তাঁকে কষ্ট না দেয়। আর আল্লাহ তাঁকে আমোদ-প্রমোদ ও গানের আসরে উপস্থিত হওয়া থেকে রক্ষা করেছিলেন এবং তিনি অত্যন্ত লজ্জাশীল ছিলেন। কাবাঘর মূর্তিতে ভরপুর ছিল এবং কুরাইশরা উৎসবের দিনগুলোতে সেগুলোর উদ্দেশ্যে পশুবলি দিত। কিন্তু আল্লাহ তাঁর নবীর মাঝে ও মূর্তির মাঝে অন্তরাল তৈরি করে দিয়েছিলেন; ফলে তাঁর জীবনে কখনো কোনো মূর্তি স্পর্শ করেনি এবং তিনি মূর্তিদের কোনো উৎসবেও উপস্থিত হননি। তিনি তাঁর কওমের বাতিলের সাথে এমন বড় ধরনের বিচ্ছেদ বজায় রেখেছিলেন যা নবুওয়াতের পূর্বেই তাঁর বংশীয়দের কাছে সুপরিচিত ছিল। এর মধ্যে সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় ছিল মানুষের সাথে তাঁর আরাফায় অবস্থান করা, যেখানে কুরাইশরা মুজদালিফায় অবস্থান করত।

তা এ কারণে যে, আল্লাহ তাঁকে এমন সঠিক বোধ দান করেছিলেন যা সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য করে। ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখনই তাঁর কওমের মধ্যে কোনো মহৎ গুণ পেতেন, তখন তার প্রশংসা করতেন। এরই অংশ হিসেবে তিনি 'হিলফুল ফুদুল'-এর প্রশংসা করেছিলেন, যাতে কুরাইশরা মজলুমের অধিকার ফিরিয়ে দিতে এবং নিজেদের বা অন্যদের দুর্বলদের রক্ষা করার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছিল। সে সম্পর্কে তিনি বলেছিলেন: "আমি আবদুল্লাহ ইবনে জুদআনের ঘরে এমন এক চুক্তিতে উপস্থিত ছিলাম, যার বিনিময়ে লাল উট পাওয়াও আমার কাছে প্রিয় নয়। ইসলামের যুগেও যদি আমাকে এর জন্য আহ্বান করা হয়, তবে আমি তাতে সাড়া দেব।" ২ আর বিচারের ক্ষেত্রে এই ইনসাফবোধ সম্ভবত তাঁর এই বাণীতে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে: "আমি প্রেরিত হয়েছি উত্তম চরিত্রকে পূর্ণতা দান করার জন্য।" ৩

নবুওয়াতের পূর্বাভাসস্বরূপ এই সমস্ত ঘটনা ও এর সদৃশ বিষয়াবলিকে সীরাত রচয়িতা আধুনিক লেখকরা যথাযথ গুরুত্ব ও গবেষণা প্রদান করেননি। ফলে তারা এর অনেক কিছু এড়িয়ে গেছেন এবং এগুলোর ওপর সামান্যই আলোকপাত করেছেন। তারা যদি গভীরভাবে লক্ষ্য করতেন এবং নবী ও মনোনীত বান্দাদের অবস্থা অনুসন্ধান করতেন, তবে তারা একে নবীগণের প্রস্তুতির ক্ষেত্রে আল্লাহর সুন্নাতসমূহের (রীতি) অন্তর্ভুক্ত একটি সুন্নাত হিসেবে দেখতে পেতেন।

এর মধ্যে অন্যতম হলো আমিনা বিনতে ওয়াহাবের সেই স্বপ্ন, যা তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে গর্ভে ধারণ করার সময় দেখেছিলেন:

--------------------------------------------

১ আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ২য় খণ্ড, ২৮৭ পৃষ্ঠা।

২ ইবনে হিশামের সীরাত: ১ম খণ্ড, ১৩৪ পৃষ্ঠা।

৩ ইমাম মালিক মুওয়াত্তায় ৯০৪ পৃষ্ঠায় বর্ণনা করেছেন, ফুয়াদ আবদুল বাকীর তাহকীক। এটি একটি মাদানী সহীহ হাদীস যা বিভিন্ন সহীহ সূত্রে বর্ণিত।
(খণ্ড: ১) আন-নুবুওয়াহ: ইসতিফা ওয়া কুদওয়াহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
"خرج منها نور أضاء لها قصور الشام"1.

وحدثت آمنة وحيدها وأثيرها محمدا صلى الله عليه وسلم برؤياها قريرة متفائلة بمستقبل ولدها. فلما أوحي إليه أدرك أنها إحدى أمارات النبوة فحدث بها2.

فهل نجد ما يشبه هذه البشارة لدى أمهات الأنبياء والرسل؟ هل كانت تصدر إليهن الإشارات الإلهية بمستقبل الصغير المنتظر؟ نعم، كانت هذه الإشارات إلى بعضهن أبلغ في الدلالة وأجلى في الصراحة، بل كانت إعلاما وإخبار مكشوفا. فأخبر الله أم موسى عليه السلام وموسى في أيامه الأولى {إِنَّا رَادُّوهُ إِلَيْكِ وَجَاعِلُوهُ مِنَ الْمُرْسَلِينَ} 3 وأعلم الصديقة مريم بمستقبل عيسى قبل أن تلقى إليها الكلمة. . {إِذْ قَالَتِ الْمَلائِكَةُ يَا مَرْيَمُ إِنَّ اللَّهَ يُبَشِّرُكِ بِكَلِمَةٍ مِنْهُ اسْمُهُ الْمَسِيحُ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ وَجِيهاً فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ وَمِنَ الْمُقَرَّبِينَ} 4 ولا شك أن وضع الصديقة الفريد كان أحوج إلى وضوح الإعلام من آمنة ومن أم موسى، إذ كانت تحتاج إلى أن تصدق نفسها في أمرها حتى تقوى على الصمود في وجه تكهنات الناس وتخرصاتهم. ومن ثم حمل عيسى عليه السلام معه آيه خلقه ونبوته عندما نادى أمه من تحتها حين وضعته5 وفي مخاطبته المجتمع المستنكر المتهم وهو في المهد6.

كذلك بشرت الملائكة نبي الله زكريا بحيي عليه السلام7، ومن قبل جاءت إبراهيم البشرى بإسحاق ويعقوب8هذه الدلائل هنا صريحة ولإعلام أم موسى بها، ومريم وزكريا وإبراهيم وزوجه إعلاما مكشوفا، أسباب لا تخفى، ولم يكن سبب منها لآمنة. فكان رؤياها النور الذي أضاء لها القصور من بصرى الشام رمزا للمستقبل. ولو أن الأمر يتطلب ما فوق الرمز لجاءها من الله بيان. ولكنها أعطيت ما يكفيها لتتنبه لشأن وليدها. ولم يعترض حياتها وحياة وليدها من الظروف النادرة أو الخطرة أو المغايرة للمألوف - كظرف إبراهيم

--------------------------------------------

1 السيرة لابن هشام: م1 ص166.

2 المصدر نفسه.

3 القصص: 7.

4 آل عمران: 45.

5 مريم 23: {فَنَادَاهَا مِنْ تَحْتِهَا أَلَاّ تَحْزَنِي قَدْ جَعَلَ رَبُّكِ تَحْتَكِ سَرِيّاً} .

6 مريم 31: {قَالَ إِنِّي عَبْدُ اللَّهِ آتَانِيَ الْكِتَابَ وَجَعَلَنِي نَبِيّاً} .

7 آل عمران 39: {فَنَادَتْهُ الْمَلائِكَةُ وَهُوَ قَائِمٌ يُصَلِّي فِي الْمِحْرَابِ أَنَّ اللَّهَ يُبَشِّرُكَ بِيَحْيَى مُصَدِّقاً بِكَلِمَةٍ مِنَ اللَّهِ وَسَيِّداً وَحَصُوراً وَنَبِيّاً مِنَ الصَّالِحِينَ} .

8 هود 71: {وَامْرَأَتُهُ قَائِمَةٌ فَضَحِكَتْ فَبَشَّرْنَاهَا بِإِسْحَاقَ وَمِنْ وَرَاءِ إِسْحَاقَ يَعْقُوبَ} .
"তার থেকে এমন একটি নূর নির্গত হলো যা তার জন্য শামের প্রাসাদসমূহকে আলোকিত করে দিল"১।

আমিনা তার একমাত্র এবং অতি আদরের সন্তান মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে তাঁর সেই স্বপ্নের কথা শোনালেন, যা দেখে তিনি তাঁর সন্তানের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আনন্দিত ও আশাবাদী ছিলেন। যখন তাঁর কাছে ওহী অবতীর্ণ হলো, তখন তিনি বুঝতে পারলেন যে এটি ছিল নবুওয়তের অন্যতম নিদর্শন, তাই তিনি তা বর্ণনা করলেন২।

আমরা কি নবী ও রাসূলগণের মাতাদের কাছে এই সুসংবাদের সদৃশ কিছু খুঁজে পাই? সেই প্রতীক্ষিত শিশুর ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কি তাঁদের নিকট ঐশী ইঙ্গিতসমূহ আসত? হ্যাঁ, তাঁদের কয়েকজনের নিকট এই সংকেতগুলো ছিল অর্থের দিক থেকে অধিকতর গভীর এবং স্পষ্টতায় অধিকতর উজ্জ্বল, বরং সেগুলো ছিল সুস্পষ্ট ঘোষণা ও সংবাদ। সুতরাং আল্লাহ মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর মাতাকে মূসার শৈশবের দিনগুলোতে সংবাদ দিয়েছিলেন যে, {নিশ্চয় আমি তাকে তোমার কাছে ফিরিয়ে দেব এবং তাকে রাসূলগণের অন্তর্ভুক্ত করব}৩ এবং তিনি সিদ্দিকা মারইয়ামকে ঈসার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে অবহিত করেছিলেন তাঁর নিকট কালেমা (বাণী) পৌঁছানোর পূর্বেই। {স্মরণ করো, যখন ফেরেশতারা বলেছিল, হে মারইয়াম! নিশ্চয় আল্লাহ তোমাকে তাঁর পক্ষ থেকে এক কালিমার সুসংবাদ দিচ্ছেন, যার নাম হলো মসীহ ঈসা ইবনু মারইয়াম; সে ইহকাল ও পরকালে সম্মানিত এবং সান্নিধ্যপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে}৪ এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, সিদ্দিকা মারইয়ামের অনন্য পরিস্থিতি আমিনা এবং মূসার মাতার তুলনায় অধিকতর স্পষ্ট বার্তার মুখাপেক্ষী ছিল, কারণ তাঁর নিজের বিষয়ে নিজের বিশ্বাস দৃঢ় হওয়া প্রয়োজন ছিল যাতে তিনি মানুষের জল্পনা-কল্পনা ও অপবাদের মুখে অটল থাকতে পারেন। সেই হেতু, ঈসা (আলাইহিস সালাম) যখন জন্মগ্রহণ করলেন তখন নিচ থেকে তাঁর মাতাকে ডেকে তাঁর সৃষ্টি ও নবুওয়তের নিদর্শন বহন করেছিলেন৫ এবং দোলনায় থাকা অবস্থায় সেই নিন্দা জ্ঞাপনকারী ও অপবাদ প্রদানকারী সম্প্রদায়ের সাথে কথা বলার মাধ্যমেও তা প্রকাশ পেয়েছিল৬।

অনুরূপভাবে, ফেরেশতারা আল্লাহর নবী যাকারিয়াকে ইয়াহইয়া (আলাইহিস সালাম) সম্পর্কে সুসংবাদ দিয়েছিলেন৭, এবং ইতিপূর্বে ইব্রাহিমের কাছে ইসহাক ও ইয়াকুবের সুসংবাদ এসেছিল৮। এখানে এই প্রমাণগুলো সুস্পষ্ট এবং মূসার মা, মারইয়াম, যাকারিয়া, ইব্রাহিম ও তাঁর স্ত্রীর নিকট এই সুস্পষ্ট বার্তা প্রদানের পেছনে এমন কিছু কারণ ছিল যা গোপন নয়, অথচ আমিনার ক্ষেত্রে সেগুলোর কোনোটি বিদ্যমান ছিল না। ফলে সিরিয়ার বুশরার প্রাসাদসমূহকে আলোকিতকারী সেই নূরের স্বপ্নই ছিল তাঁর জন্য ভবিষ্যতের একটি প্রতীক। যদি বিষয়টি প্রতীকের চেয়ে বেশি কিছুর দাবি রাখত, তবে আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর কাছে বর্ণনা আসত। কিন্তু তাঁকে ততটুকুই দেওয়া হয়েছিল যা তাঁর নবজাতকের মর্যাদা সম্পর্কে সচেতন হওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল। এবং তাঁর জীবনে বা তাঁর নবজাতকের জীবনে ইব্রাহিমের পরিস্থিতির মতো কোনো বিরল, বিপজ্জনক বা অস্বাভাবিক পরিস্থিতি দেখা দেয়নি—

--------------------------------------------

১ সীরাত ইবনে হিশাম: ১ম খণ্ড, ১৬৬ পৃষ্ঠা।

২ একই উৎস।

৩ আল-কাসাস: ৭।

৪ আলে ইমরান: ৪৫।

৫ মারইয়াম: ২৩: {অতঃপর তাঁর নিচ থেকে তাকে আহ্বান জানানো হলো: তুমি দুঃখ করো না; তোমার পালনকর্তা তোমার পাদদেশে একটি নহর সৃষ্টি করেছেন}।

৬ মারইয়াম: ৩১: {সে বলল: নিশ্চয় আমি আল্লাহর বান্দা, তিনি আমাকে কিতাব দান করেছেন এবং আমাকে নবী করেছেন}।

৭ আলে ইমরান: ৩৯: {অতঃপর ফেরেশতারা তাকে ডাক দিল যখন তিনি মেহরাবে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছিলেন যে, নিশ্চয় আল্লাহ তোমাকে ইয়াহইয়ার সুসংবাদ দিচ্ছেন, যে হবে আল্লাহর বাণীর সত্যায়নকারী, নেতা, কঠোর সংযমী এবং পুণ্যবানদের মধ্য থেকে একজন নবী}।

৮ হুদ: ৭১: {আর তাঁর স্ত্রী দাঁড়িয়ে ছিল, সে হেসে ফেলল। অতঃপর আমি তাঁকে ইসহাকের এবং ইসহাকের পরবর্তী ইয়াকুবের সুসংবাদ দিলাম}।
(খণ্ড: ১) আন-নুবুওয়াহ: ইসতিফা ওয়া কুদওয়াহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
وزكريا - ما يقتضي الوحي. فكان الرمز هو القدر المناسب الكافي ليبعث في نفس آمنة التوقع والتفاؤل.
এবং যাকারিয়া - যা ওহী দাবি করে। ফলে সেই প্রতীকটি ছিল উপযুক্ত ও পর্যাপ্ত পরিমাণ, যা একটি আশ্বস্ত চিত্তে প্রত্যাশা ও আশাবাদের সঞ্চার করার জন্য যথেষ্ট ছিল।
(খণ্ড: ১) আন-নুবুওয়াহ: ইসতিফা ওয়া কুদওয়াহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
ب-‌‌ التمهيد التاريخي للرسول:

وتلك التوطئات غرضها إعداد الرسول لقبول الرسالة ليطمئن بها قلبه، وليعلم أنه قد جاءه الحق من ربه. وهي لا تعدو في أثرها نفس الرسول ولا تستهدف غيره ولكن محمدا صلى الله عليه وسلم قد سبق أمر الله أن تختم به الرسالات، وأن يقضي على آثار المرسلين أجمعين، وأن يجعل دعوته عامة لكل عاقل على ظهر الأرض. وهو أمر لم يكتمه الله عن البشر. وإنما هيأ له الأذهان، ووجه إليه الأنظار منذ زمن بعيد، إعلاء لشأنه وإظهارا لأهمية رسالته، وليكون الناس معها على وعد غير مكذوب ولتشرئب نفوسهم إلى الكمال المرتقب وليتشرفوا إلى الانتساب إلى الرسالة الخالدة، وليعلموا أن كمال النبوة وتمام الحق فوق ما حضرهم أو عرفوا من أمر الأنبياء والرسل وليحيي الأمل نفوسا كانت تألم وتتأذى من جهل منتشر وباطل مستمر.

وإرسال الأنبياء عموما أمر لم يكتمه الله عن خلقه، فأعلنه لهم منذ أبيهم آدم وأخبرهم أنه قارب الإنقاذ والنجاة. قال تعالى لما اقترف آدم الخطيئة وهبط من الجنة: {قلنا اهبطوا منها جميعا فإما يأتينكم مني هدى فمن تبع هداي فلا خوف عليهم ولا هم يحزنون} 1 ثم أصدر الله لرسله إعلاما غيبيا بمبعث نبي يتمم به الله الرسالات فكان هذا إرهاصا وتمهيدا تاريخيا لمحمد صلى الله عليه وسلم.

قال تعالى: {وَإِذْ أَخَذَ اللَّهُ مِيثَاقَ النَّبِيِّينَ لَمَا آتَيْتُكُمْ مِنْ كِتَابٍ وَحِكْمَةٍ ثُمَّ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مُصَدِّقٌ لِمَا مَعَكُمْ لَتُؤْمِنُنَّ بِهِ وَلَتَنْصُرُنَّهُ قَالَ أَأَقْرَرْتُمْ وَأَخَذْتُمْ عَلَى ذَلِكُمْ إِصْرِي قَالُوا أَقْرَرْنَا قَالَ فَاشْهَدُوا وَأَنَا مَعَكُمْ مِنَ الشَّاهِدِينَ} 2 فصار الناس بذلك على موعد مع الزمان بمبعث نبي نوه الله بذكره، وأخذ العهد له عليهم منذ الزمن السحيق. وفي الآية دلالة بينة على علو مكانة النبي الموعود به، والحقبة الزمنية المبعوث فيها. ومن ثم ألح بدعوته منذ أجيال وأجيال. وبهذا يجعل الله ميعاد مبعثه منارة تاريخية، يجمل أن نتخذه حدا فاصلا في التاريخ البشري؛ ما كان منه قبل محمد وما يكون منه بعد محمد صلى الله عليه وسلم. وكان احتفاء الله به عظيما؛ لأنه في تقديره عز وجل وتوقيته له، حدث ثقيل في حياة البشر ومستقبلهم. وكيف لا يكون شيئا ثقيلا وحاضرهم في الدنيا، ومستقبلهم الأخير يوم القيامة مرهونان بما حققا من اقتراب منه، وتصديق

--------------------------------------------

1 البقرة: 28.

2 آل عمران 81.
খ-‌‌ রাসুলের জন্য ঐতিহাসিক ভূমিকা:

এই ভূমিকাগুলোর উদ্দেশ্য ছিল রাসুলকে রিসালাত গ্রহণের জন্য প্রস্তুত করা, যাতে তাঁর অন্তর প্রশান্ত হয় এবং তিনি জানতে পারেন যে তাঁর রবের পক্ষ থেকে সত্য তাঁর কাছে এসেছে। এর প্রভাব কেবল রাসুলের সত্তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না এবং তা অন্য কাউকে লক্ষ্যও করেনি, তবে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ব্যাপারে আল্লাহর ফয়সালা পূর্বনির্ধারিত ছিল যে তাঁর মাধ্যমেই রিসালাতের সমাপ্তি ঘটবে, তিনি পূর্ববর্তী সকল রাসুলগণের প্রভাব বা পদাঙ্ক মুছে দেবেন এবং তাঁর দাওয়াতকে পৃথিবীর সকল জ্ঞানসম্পন্ন মানুষের জন্য সর্বজনীন করবেন। এটি এমন এক বিষয় যা আল্লাহ মানবজাতির কাছে গোপন রাখেননি। বরং তিনি প্রাচীনকাল থেকেই এর জন্য মানুষের মনমানসিকতাকে প্রস্তুত করেছেন এবং এর দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছেন, তাঁর মর্যাদা সমুন্নত করার জন্য এবং তাঁর রিসালাতের গুরুত্ব প্রকাশ করার জন্য, যাতে মানুষ এর প্রতি এক অটল প্রতিশ্রুতির অপেক্ষায় থাকে, তাদের প্রাণ যেন সেই প্রত্যাশিত পূর্ণতার দিকে ধাবিত হয় এবং এই চিরন্তন রিসালাতের সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার সম্মান লাভ করতে পারে। আর তারা যেন জানতে পারে যে নবুওয়তের পূর্ণতা এবং সত্যের চরম পরাকাষ্ঠা তাদের সামনে বিদ্যমান অথবা আম্বিয়া ও রাসুলগণের ব্যাপারে তারা যা জেনেছে তার চেয়েও ঊর্ধ্বে। আর এটি যেন সেই সব হৃদয়ে আশার সঞ্চার করে যারা চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়া মূর্খতা ও ক্রমাগত মিথ্যার কারণে ব্যথিত ও প্রপীড়িত ছিল।

সাধারণভাবে নবী প্রেরণ এমন এক বিষয় যা আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির কাছে গোপন রাখেননি, বরং তিনি তাদের আদিপিতা আদম থেকেই এটি তাদের নিকট ঘোষণা করেছেন এবং তাদের সংবাদ দিয়েছেন যে এটিই মুক্তি ও পরিত্রাণের নিকটতম পথ। আল্লাহ তাআলা বলেন যখন আদম ভুল করেছিলেন এবং জান্নাত থেকে অবতরণ করেছিলেন: {আমরা বললাম, তোমরা সবাই এখান থেকে নেমে যাও। অতঃপর যদি আমার পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে কোনো হেদায়েত আসে, তবে যারা আমার হেদায়েত অনুসরণ করবে, তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না} ১। অতঃপর আল্লাহ তাঁর রাসুলগণের প্রতি এক অদৃশ্য ঘোষণা জারি করেন এমন এক নবীর আবির্ভাব সম্পর্কে যার মাধ্যমে আল্লাহ রিসালাতের পূর্ণতা দান করবেন। আর এটিই ছিল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য একটি ঐতিহাসিক পূর্বাভাস ও ভূমিকা।

আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর স্মরণ করো, যখন আল্লাহ নবীগণের অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলেন যে, আমি তোমাদেরকে কিতাব ও হিকমত যা কিছু দিয়েছি, এরপর তোমাদের কাছে যা আছে তার সত্যায়নকারী হিসেবে যখন একজন রাসুল আসবে, তখন তোমরা অবশ্যই তার ওপর ঈমান আনবে এবং তাকে সাহায্য করবে। তিনি বললেন, তোমরা কি স্বীকার করলে এবং এর ওপর আমার দেওয়া প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করলে? তারা বলল, আমরা স্বীকার করলাম। তিনি বললেন, তবে তোমরা সাক্ষী থাকো এবং আমিও তোমাদের সাথে সাক্ষীদের অন্তর্ভুক্ত রইলাম} ২। এর ফলে মানুষ এমন এক নবীর আবির্ভাবের সময়ের অপেক্ষায় রইল যার কথা আল্লাহ বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন এবং অতি প্রাচীনকাল থেকেই যার ব্যাপারে তাদের নিকট থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছেন। এই আয়াতে সেই প্রতিশ্রুত নবীর সুউচ্চ মর্যাদা এবং যে যুগে তিনি প্রেরিত হবেন তার সুস্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে। আর এ কারণেই যুগের পর যুগ ধরে তাঁর দাওয়াতের গুরুত্ব জোরালোভাবে অনুভূত হয়েছে। এর মাধ্যমে আল্লাহ তাঁর আবির্ভাবের সময়কে একটি ঐতিহাসিক আলোকবর্তিকা বানিয়েছেন, যাকে মানব ইতিহাসে একটি বিভাজনরেখা হিসেবে গ্রহণ করা সংগত; যা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পূর্বে ছিল এবং যা তাঁর পরে সংঘটিত হয়েছে। আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি এই বিশেষ গুরুত্ব প্রদান ছিল অত্যন্ত মহান; কারণ মহান আল্লাহর নির্ধারণ ও সময় নির্ধারণ অনুযায়ী এটি ছিল মানবজাতি ও তাদের ভবিষ্যতের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। কেনই বা এটি গুরুত্বপূর্ণ হবে না, যখন দুনিয়াতে তাদের বর্তমান এবং কিয়ামত দিবসের চূড়ান্ত ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে তাঁর কতটা নিকটবর্তী হওয়া এবং তাঁকে বিশ্বাস করার ওপর।

--------------------------------------------

১ বাকারা: ২৮।

২ আলে ইমরান: ৮১।
(খণ্ড: ১) আন-নুবুওয়াহ: ইসতিফা ওয়া কুদওয়াহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
به، أو ابتعاد عنه وتكذيب. وبهذا يتجلى المعنى التاريخي الإنساني العظيم في الآية التي تلاها رسول الله صلى الله عليه وسلم على الناس، على جبل الرحمة، في حجة الوداع: {الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الإِسْلامَ دِيناً} 1 كان يوما مشهودا فاضلا تمت فيه الكلمة الإلهية والنعمة الرحمانية على بني آدم. وكان الله جعل من هذا اليوم قبلة زمانية اتجهت إليها أفئدة الأنبياء والمؤمنين بهم، إقرارا منهم على أنفسهم بأن كلا منهم مرحلة في تاريخ النبوات، وحلقة في سلسلة المرسلين. وشاء الله فأتم السلسلة بمحمد صلى الله عليه وسلم فجاءت رسالته لا يجهلها المؤمنون الصادقون من أهل الكتاب، يعرفونها {كَمَا يَعْرِفُونَ أَبْنَاءَهُمْ} ، وهي تحمل الإيمان بالرسل السابقين، والتقدير لجهودهم في تبليغ الكلمة الربانية إلى الناس، والثناء على صدقهم، وتضحياتهم في سبيل إنقاذ الإنسان من براثين الشيطان، وباركت جهادهم، وحيث إخلاصهم: {وَسَلامٌ عَلَى الْمُرْسَلِينَ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ} 2.

ويبدو أن الأنبياء الذين بعثوا في الزمن المبكر، لم يتجاوز علمهم بالنبي صلى الله عليه وسلم سوى الإخبار بمبعثه، وأخذ العهد عليهم، أو دعوة حارة تجري على لسان إبراهيم عليه السلام فتفتح لها أبواب السماء، وتلتقي بما قدر الله منذ الأزل: {رَبَّنَا وَابْعَثْ فِيهِمْ رَسُولاً مِنْهُمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِكَ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَيُزَكِّيهِمْ إِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ} 3 فلما تأخر الزمان وأنزلت التوراة والإنجيل، توضحت الإشارات وذكرت العلامات، وصار الذين عندهم علم الكتاب على بينة من مجيء رسول {اسْمُهُ أَحْمَدُ} 4 لا يخطئونه. إن رأوه أدركوا يومه. فقد وضح الله لهم كثيرا من علاماته؛ مكان بعثه، مهاجرة، وصفاته. ثم أتى على التوراة والإنجيل ما أتى من التبديل والتغير. وأفسدت الوثنية الدين الذي جاء به عيسى، ودخل أتباعه من بعده في الشرك إذ قالوا: إن الله ثالث ثلاثة. واختفى دين التوحيد فلم يستمسك به إلا رهبان أو أساقفة قلة، منقطعون في الصوامع، أو الكنائس يتجافون عن الناس في شركهم، وفساد عقيدتهم، ولا يجرؤون على النعي عليهم خوفا من بطشهم وتنكيل الحكام بهم. وأغلب الظن أن هؤلاء النفر القليل احتفظوا بصفاء دين عيسى عليه السلام، بما خبؤوا في صوامعهم من صحف الإنجيل الذي

--------------------------------------------

1 المائدة: 3.

2 الصافات: 181.

3 البقرة: 129.

4 الصف: 6.
এর প্রতি বিশ্বাস, অথবা তা থেকে দূরে সরে যাওয়া এবং অস্বীকার করা। আর এর মাধ্যমেই সেই মহান ঐতিহাসিক ও মানবিক তাৎপর্য ফুটে ওঠে যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় হজের সময় জাবালে রহমতে মানুষের সামনে পাঠ করেছিলেন: "আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম, তোমাদের ওপর আমার নিআমত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম।" ১ এটি ছিল এক ঐতিহাসিক ও মহিমান্বিত দিন, যাতে বনী আদমের ওপর খোদায়ী বাণী ও রহমানের নিআমত পূর্ণতা লাভ করেছিল। আল্লাহ এই দিনটিকে একটি সময়ের কিবলা হিসেবে নির্ধারণ করেছিলেন, যার দিকে নবীগণ এবং তাদের প্রতি বিশ্বাসীদের অন্তরসমূহ ধাবিত হয়েছিল; তারা নিজেরা এই স্বীকৃতি দিচ্ছিলেন যে, তাদের প্রত্যেকেই নবুওয়াতের ইতিহাসে এক একটি পর্যায় এবং রাসূলদের সিলসিলার এক একটি কড়া। আল্লাহ চাইলেন এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাধ্যমে এই সিলসিলার সমাপ্তি ঘটালেন। ফলে তাঁর রিসালাত এমনভাবে উপস্থিত হলো যে, আহলে কিতাবদের মধ্য থেকে যারা সত্যনিষ্ঠ মুমিন তারা তা অস্বীকার করতে পারল না, বরং তারা তাঁকে সেভাবেই চিনত "যেভাবে তারা তাদের সন্তানদের চেনে"। এই রিসালাত পূর্ববর্তী রাসূলদের প্রতি ঈমান আনা, মানুষের কাছে রব্বানী বাণী পৌঁছানোর ক্ষেত্রে তাদের প্রচেষ্টার মূল্যায়ন করা এবং শয়তানের থাবা থেকে মানুষকে উদ্ধারের পথে তাদের সত্যবাদিতা ও আত্মত্যাগের প্রশংসাকে ধারণ করে। এটি তাদের জিহাদকে বরকতময় বলে ঘোষণা করেছে এবং তাদের ইখলাসকে মূল্যায়ন করেছে: "আর শান্তি বর্ষিত হোক রাসূলদের ওপর, এবং সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি বিশ্বজগতের প্রতিপালক।" ২।

মনে হয় যে, প্রাথমিক যুগে প্রেরিত নবীগণের কাছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে জ্ঞান কেবল তাঁর আগমনের সুসংবাদ প্রদান এবং তাদের থেকে অঙ্গীকার গ্রহণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল; অথবা এটি ছিল ইবরাহীম আলাইহিস সালামের জবান থেকে উচ্চারিত এক আকুল প্রার্থনা যার জন্য আকাশের দরজাগুলো খুলে গিয়েছিল এবং যা অনাদিকাল থেকে আল্লাহর নির্ধারিত তাকদীরের সাথে মিলে গিয়েছিল: "হে আমাদের প্রতিপালক, তাদের মধ্য থেকেই তাদের কাছে এমন একজন রাসূল প্রেরণ করুন, যিনি তাদের কাছে আপনার আয়াতসমূহ পাঠ করবেন, তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেবেন এবং তাদেরকে পবিত্র করবেন। নিশ্চয়ই আপনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।" ৩ অতঃপর যখন সময় অতিবাহিত হলো এবং তাওরাত ও ইঞ্জীল অবতীর্ণ হলো, তখন ইঙ্গিতসমূহ স্পষ্ট হলো এবং আলামতগুলো বর্ণিত হলো। যাদের কাছে কিতাবের জ্ঞান ছিল তারা এমন এক রাসূলের আগমনের ব্যাপারে সুনিশ্চিত হলো "যার নাম হবে আহমাদ" ৪ তারা তাঁকে চিনতে ভুল করত না। তাঁকে দেখলে তারা তাঁর সময়কাল অনুধাবন করতে পারত। আল্লাহ তাদের জন্য তাঁর অনেক আলামত স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন; যেমন তাঁর আবির্ভাবের স্থান, তাঁর হিজরত এবং তাঁর গুণাবলী। এরপর তাওরাত ও ইঞ্জীলের ওপর পরিবর্তন ও পরিমার্জনের সেই ঝড় বয়ে গেল যা আসার ছিল। মূর্তিপূজা ঈসা আলাইহিস সালাম আনীত দ্বীনকে কলুষিত করল এবং তাঁর পরবর্তী অনুসারীরা শিরকে লিপ্ত হলো যখন তারা বলল: নিশ্চয়ই আল্লাহ তিনের তৃতীয় জন। তাওহীদের দ্বীন অদৃশ্য হয়ে গেল, ফলে মঠ বা গির্জাগুলোতে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকা অল্প কিছু পাদ্রী বা যাজক ছাড়া আর কেউ তা আঁকড়ে ধরেনি। তারা মানুষের শিরক ও আকিদাগত ভ্রষ্টতা থেকে দূরে থাকত, কিন্তু তাদের আক্রমণ ও শাসকদের পক্ষ থেকে কঠোর শাস্তির ভয়ে তাদের নিন্দা করার সাহস পেত না। ধারণা করা হয় যে, এই অল্প সংখ্যক লোক ঈসা আলাইহিস সালামের দ্বীনের শুভ্রতা রক্ষা করেছিলেন সেই সব ইঞ্জীলের সহীফাগুলোর মাধ্যমে যা তারা তাদের মঠগুলোতে লুকিয়ে রেখেছিলেন...

--------------------------------------------

১ আল-মায়িদাহ: ৩।

২ আস-সাফফাত: ১৮১।

৩ আল-বাকারাহ: ১২৯।

৪ আস-সাফ: ৬।
(খণ্ড: ১) আন-নুবুওয়াহ: ইসতিফা ওয়া কুদওয়াহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
كان أقرب شيء إلى الأصل الذي أنزل على نبي الله عيسى عليه السلام. قال ابن هشام لما ذكر الراهب بحيرى: "فلما نزل الركب المصري من أرض الشام، وبها راهب يقال له: بحيرى في صومعة له وكان إليه علم أهل النصرانية، ولم يزل في تلك الصومعة منذ قط راهب، إليه يصير علمهم عن كتاب فيها، فيما يزعمون يتوارثونه كابرا عن كابر"1. ويلتقي هذا الحديث بحديث سليمان الفارسي رضي الله عنه الذي تقلب في كنائس عدد من الأساقفة الصالحين قبل أن يصير إلى أرض العرب قبيل مبعث محمد صلى الله عليه وسلم إذ قال له أسقف عمورية وهو على فراش الموت، وكان آخر أسقف رافقه: "والله ما أعمله أصبح اليوم أحد على مثل ما كان عليه الناس، آمرك به أن تأتيه، ولكنه قد أظل زمان نبي، وهو مبعوث بدين إبراهيم عليه السلام، يخرج بأرض العرب، مهاجره إلى أرض بين حرتين فيهما نخل به علامات لا تخفى؛ يأكل الهدية ولا يأكل الصدقة وبين كتفيه خاتم النبوة فإن استطعت أن تلحق بتلك البلاد فافعل". فكان هؤلاء ينتظرون الوعد الحق؛ ظهور النبي الأمي الذي يجدونه مكتوبا عندهم في التوراة والإنجيل2.

وكانت القراءة المجردة عن الهوى في التوراة والإنجيل كافية لأن تحمل أهل الكتاب على إيمان: {الَّذِينَ آتَيْنَاهُمُ الْكِتَابَ يَتْلُونَهُ حَقَّ تِلاوَتِهِ أُولَئِكَ يُؤْمِنُونَ بِهِ وَمَنْ يَكْفُرْ بِهِ فَأُولَئِكَ هُمُ الْخَاسِرُونَ} 3.

لقد نزلت التوراة والإنجيل يحملان الشهادة التاريخية الواضحة الثابتة على سر من أسرار الغيب العظمى لم يكتمه الله، ولم يجمله، عن اليهود والنصارى أعذارا لهم، وليكونوا السابقين إليه. ومن أولى بنصر كلمه الله ممن يعرفها؟ ولكنهم كانوا قوما فرقوا دينهم شيعا وأحزابا وأتت عليهم عصور من الحسد والبغضاء والعصبية فلم يفلحوا في التجرد من ذلك، والإخلاص للحق المنزل، فمنَّ الله بالدين على قوم أميين سلمت فطرهم من رسوبات الخلاف الديني ومن العقد النفسية، والصيغ المنطقية الموات، فلم يلبثوا أن صاروا به خير الأمم- والحمد لله والمنة -.

--------------------------------------------

1 السيرة لابن هشام: ص181.

2 المصدر نفسه: ص218.

3 البقرة: 121.
এটি আল্লাহর নবী ঈসা আলাইহিস সালামের ওপর অবতীর্ণ মূল বাণীর সবচেয়ে নিকটবর্তী ছিল। ইবনে হিশাম যখন বাহীরা সন্ন্যাসীর কথা উল্লেখ করেন তখন বলেন: "সিরিয়া ভূখণ্ডে যখন মিশরীয় কাফেলা অবতরণ করল, সেখানে বাহীরা নামে এক সন্ন্যাসী তার উপাসনালয়ে অবস্থান করছিলেন। তার কাছেই ছিল খ্রিস্টানদের যাবতীয় জ্ঞান। তিনি সেই উপাসনালয়ে সর্বদা অবস্থান করতেন এবং একটি কিতাবের মাধ্যমে তাদের জ্ঞান তার কাছে স্থানান্তরিত হতো; তাদের দাবি অনুযায়ী তারা এটি বংশপরম্পরায় বড়দের থেকে ছোটদের মাঝে উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করে আসছিল"১। এই বর্ণনাটি সালমান ফারসি রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদীসের সাথে মিলে যায়, যিনি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নবুওয়াত প্রকাশের কিছুকাল আগে আরব ভূখণ্ডে পৌঁছানোর পূর্বে বেশ কয়েকজন নেককার বিশপের সান্নিধ্যে গির্জায় গির্জায় ঘুরেছেন। যখন আম্মুরিয়ার বিশপ মৃত্যুশয্যায় ছিলেন—যিনি ছিলেন সালমানের সাথে থাকা সর্বশেষ বিশপ—তখন তিনি তাকে বলেছিলেন: "আল্লাহর কসম, আমি আজ এমন কাউকে জানি না যে সেই আদর্শের ওপর অটল আছে যার ওপর লোকেরা ছিল এবং আমি তোমাকে যা পালন করতে আদেশ করছি। তবে একজন নবীর আগমনের সময় ঘনিয়ে এসেছে। তিনি ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের দ্বীন নিয়ে আবির্ভূত হবেন, আরব ভূখণ্ড থেকে তাঁর বহিঃপ্রকাশ ঘটবে। তিনি এমন এক ভূখণ্ডে হিজরত করবেন যা দুটি কৃষ্ণবর্ণের পাথুরে মাঠের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত এবং সেখানে খেজুর বাগান রয়েছে। তাঁর মধ্যে এমন কিছু লক্ষণ রয়েছে যা গোপন থাকবে না; তিনি হাদিয়া (উপহার) গ্রহণ করবেন কিন্তু সদকা ভক্ষণ করবেন না এবং তাঁর দুই কাঁধের মাঝে নবুওয়াতের মোহর থাকবে। যদি তুমি সেই দেশে পৌঁছাতে পারো, তবে তাই করো।" সুতরাং তারা সেই সত্য প্রতিশ্রুতির প্রতীক্ষায় ছিলেন; সেই উম্মী (নিরক্ষর) নবীর আবির্ভাবের অপেক্ষায়, যার বিবরণ তারা তাদের কাছে থাকা তাওরাত ও ইঞ্জিলে লিখিত পায়২।

আবেগ ও প্রবৃত্তিমুক্ত হয়ে তাওরাত ও ইঞ্জিল পাঠ করাই আহলে কিতাবদের ঈমানের দিকে ধাবিত করার জন্য যথেষ্ট ছিল: {যাদেরকে আমি কিতাব দিয়েছি, তারা তা যথাযথভাবে পাঠ করে, তারাই এর প্রতি ঈমান আনে। আর যারা একে অস্বীকার করে, তারাই ক্ষতিগ্রস্ত}৩।

তাওরাত ও ইঞ্জিল অবতীর্ণ হয়েছিল গায়েবের এক মহান রহস্যের স্পষ্ট ও অকাট্য ঐতিহাসিক সাক্ষ্য বহন করে, যা আল্লাহ ইহুদি ও খ্রিস্টানদের কাছে গোপন করেননি কিংবা অস্পষ্ট রাখেননি, যাতে তাদের জন্য কোনো অজুহাত না থাকে এবং তারা যেন এর প্রতি ঈমানে অগ্রগামী হতে পারে। আল্লাহর বাণীকে সাহায্য করার ক্ষেত্রে তার চেয়ে বেশি হকদার আর কে হতে পারে যে তা চিনতে পারে? কিন্তু তারা এমন এক জাতি ছিল যারা তাদের দ্বীনকে নানা দল ও উপদলে বিভক্ত করে ফেলেছিল এবং তাদের ওপর হিংসা, বিদ্বেষ ও গোঁড়ামির দীর্ঘ যুগ অতিবাহিত হয়েছিল। ফলে তারা সেই সংকীর্ণতা থেকে মুক্ত হয়ে অবতীর্ণ সত্যের প্রতি একনিষ্ঠ হতে সফল হয়নি। অতঃপর আল্লাহ এই দ্বীনের নিয়ামত দান করলেন এক উম্মী জাতির ওপর, যাদের ফিতরাত (প্রকৃতি) ধর্মীয় বিরোধের জঞ্জাল, মানসিক জটিলতা এবং প্রাণহীন যৌক্তিক সূত্র থেকে মুক্ত ছিল। ফলে অতি দ্রুত তারা এর মাধ্যমে শ্রেষ্ঠ জাতিতে পরিণত হলো—আর সমস্ত প্রশংসা ও অনুগ্রহ আল্লাহরই জন্য।

--------------------------------------------

১ সীরাতে ইবনে হিশাম: পৃষ্ঠা ১৮১।

২ একই উৎস: পৃষ্ঠা ২১৮।

৩ আল-বাকারাহ: ১২১।
(খণ্ড: ১) আন-নুবুওয়াহ: ইসতিফা ওয়া কুদওয়াহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
ج-‌‌ التهيئة الاجتماعية:

هذه توطئات بالنبوة، منها نفسية ذاتية، ومنها تاريخية لتعد النفس النبوة والفكر الإنساني الديني فلا يبدو الوحي غريبا للموحى إليه. ولا إلى الذين عرفوا الكتب المقدسة من
গ-‌‌ সামাজিক প্রস্তুতি:

এগুলো হলো নবুওয়তের কতিপয় প্রাক-প্রস্তুতি বা উপক্রমনিকা, যার কিছু হলো আত্মিক ও মনস্তাত্ত্বিক এবং কিছু হলো ঐতিহাসিক; যাতে নবুওয়তের জন্য সংশ্লিষ্ট সত্তা ও মানুষের ধর্মীয় চিন্তাধারাকে এমনভাবে প্রস্তুত করা যায়, যার ফলে ওহি বা প্রত্যাদেশ যাঁর প্রতি অবতীর্ণ হচ্ছে তাঁর নিকট এবং যারা পবিত্র কিতাবসমূহ সম্পর্কে অবগত ছিল তাদের নিকট তা অপরিচিত বা অদ্ভুত মনে না হয়।
(খণ্ড: ১) আন-নুবুওয়াহ: ইসতিফা ওয়া কুদওয়াহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
قبل، فهي بذلك تصل النبي صلى الله عليه وسلم بالأفق العلوي وتجعله على شفا الوحي والرسالة، وتضعه حيث وضعه الله في السلم الزماني من تاريخ النبوات.

غير أن الرسالة لابد لها من ظرف اجتماعي تملؤه وتتحرك في أنحائه، وتنتشر فيه. ومن ثم كانت التوطئة الاجتماعية، وإعداد من حول النبي للتصديق بنبوته أمرا يتسق والتوطئة النفسية والتاريخية.

ولو نظرنا باقي المجتمع القرشي، قبل المبعث لوجدنا رسول الله صلي الله عليه وسلم، ملحوظ المكانة فيه، ظاهر الشخصية، مرضي السيرة، مرجوا للخير، يدل علي ذلك لقب (الأمين) الذي أضفوه عليه. وهو لقب - لو سبرنا بعيد مدلولاته - ضخم المحتوي، فالأمانة سجية تجمع لصاحبها سلامة السريرة والسلوك، وصدق الطوية والفعل، فلا تناقض بين مظهره ومخبره، بل يصدق فعله قوله، ويصدق قوله وجدانه وخبيئة نفسه. فالأمانة أول معني لها الاطمئنان والثقة؛ اطمئنان الآخرين إلى شخص الأمين، وثقتهم بما يصدر عنه. وهي سجية لا يشهد بها لامرئ إلا بعد التجربة والاختبار المتواتر1 المستمر. ويمكن أن يقال بحق: إن الأمين من أمن الناس لسانه ويده. وهكذا كانت قريش قبل المبعث لا تخشى من رسول الله صلى الله عليه وسلم معرة، ولا يتخوفون منه كذبا، ولا يتوقعون منه إلا استقامة، وخطة حميدة، ولا يعرفون فيه إلا نبلا وشرفا ووفاء. ولا نكاد نجد لقبا أجمع لخصال المروءة والرجولة والعدالة من لقب الأمين. وهي خلال ترشح صاحبها لسيادة الرئاسة والزعامة. وهو لقب ينطوي خصال نابعة من الذات، ومن جوهر النفس ولا ينم عن صفة جسدية - كلقب أبي لهب مثلا - أو على خصلة وحيدة غالبة، منفصلة عن مجموع الخصال التي تؤلف التكامل في الخلق والنفس، - كلقب الفيض والفياض مثلا للكريم المترف - ولا أظن أنه لقِّب في قريش غير محمد بهذا اللقب. ولم يكن محمد صلى الله عليه وسلم في قومه زعيما، ولا طالب زعامة، ولم تعرف له - قبل النبوة - فئة تدعمه ولا شاعر يمدحه. فيكون لقبه منهم وإنما هو لقب فاز به بإجماع قريش كلها رجل كان أبعد الناس عن حياة ذات قصد نفعي، أو إشادة

--------------------------------------------

1 لما وقف رسول الله صلى الله عليه وسلم على الصفا وقال لقريش: "أرأيتم لو أخبرتكم أن خيلا بسفح هذا الجبل تريد أن تغير عليكم صدقتموني؟ " قالوا: "نعم". من حديث رواه ابن كثير في البداية والنهاية ج3 ص38 عن الإمام أحمد.
আগে; এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে উচ্চতর দিগন্তের সাথে সংযুক্ত করে এবং তাঁকে ওহী ও রিসালাতের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যায়, এবং আল্লাহ তাঁকে নবুওয়াতের ইতিহাসের কালানুক্রমিক সোপানে যেখানে স্থাপন করেছেন সেখানে স্থাপন করে।

তবে রিসালাতের জন্য একটি সামাজিক প্রেক্ষাপট থাকা আবশ্যক যা সে পূর্ণ করবে এবং যার সর্বত্র সে বিচরণ করবে ও প্রসারিত হবে। সে কারণে সামাজিক প্রেক্ষাপট প্রস্তুত করা এবং নবীর নবুওয়াতকে সত্য বলে স্বীকার করার জন্য তাঁর চারপাশের লোকদের তৈরি করা এমন একটি বিষয় যা মানসিক ও ঐতিহাসিক প্রস্তুতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল।

আমরা যদি নবুওয়াত প্রাপ্তির আগের কুরাইশ সমাজের অবশিষ্টাংশের দিকে তাকাই, তবে দেখব যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে এক লক্ষণীয় মর্যাদার অধিকারী, প্রকাশ্য ব্যক্তিত্বসম্পন্ন, সন্তোষজনক জীবনচরিতের অধিকারী এবং কল্যাণের জন্য আশার স্থল ছিলেন। তাঁর ওপর তারা যে 'আল-আমান' (বিশ্বস্ত) উপাধি আরোপ করেছিল তা এরই প্রমাণ দেয়। এটি এমন এক উপাধি যা—আমরা যদি এর গভীর তাৎপর্য অনুসন্ধান করি—বিশাল বিষয়বস্তু ধারণ করে। কেননা 'আমানত' (বিশ্বস্ততা) এমন একটি স্বভাব যা তার অধিকারীর মাঝে অন্তরের বিশুদ্ধতা ও আচরণ, এবং মনের উদ্দেশ্য ও কাজের সত্যবাদিতাকে একত্রিত করে। ফলে তাঁর বাহ্যিক রূপ ও অভ্যন্তরীণ অবস্থার মধ্যে কোনো বৈপরীত্য থাকে না; বরং তাঁর কাজ তাঁর কথাকে সত্য প্রমাণিত করে এবং তাঁর কথা তাঁর বিবেক ও মনের গূঢ় রহস্যকে সত্য হিসেবে তুলে ধরে। আমানতের প্রথম অর্থ হলো প্রশান্তি ও আস্থা; আমিনের (বিশ্বস্ত ব্যক্তির) ব্যক্তিত্বের প্রতি অন্যদের প্রশান্তি এবং তাঁর থেকে যা কিছু প্রকাশ পায় তার প্রতি তাদের আস্থা। এটি এমন এক গুণ যা নিরবচ্ছিন্ন ও ধারাবাহিক১ পরীক্ষা ও নিরীক্ষার আগে কারও জন্য সাক্ষ্য দেওয়া যায় না। যথার্থই বলা যেতে পারে যে, আমিন বা বিশ্বস্ত সেই ব্যক্তি যার জিহ্বা ও হাত থেকে মানুষ নিরাপদ থাকে। এভাবেই নবুওয়াত প্রাপ্তির আগে কুরাইশরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছ থেকে কোনো অনিষ্টের আশঙ্কা করত না, তাঁর পক্ষ থেকে কোনো মিথ্যার ভয় পেত না এবং তাঁর কাছ থেকে সততা ও প্রশংসনীয় কর্মপন্থা ছাড়া অন্য কিছু প্রত্যাশা করত না। তারা তাঁর মাঝে মহত্ত্ব, আভিজাত্য ও বিশ্বস্ততা ছাড়া আর কিছুই জানত না। আমরা এমন কোনো উপাধি খুঁজে পাই না যা 'আল-আমিন' উপাধির চেয়ে পৌরুষ, মনুষ্যত্ব ও ন্যায়পরায়ণতার গুণাবলিকে অধিকতর অর্থবহভাবে ধারণ করে। এই গুণগুলোই এর অধিকারীকে নেতৃত্ব ও কর্তৃত্বের পদের জন্য যোগ্য করে তোলে। এটি এমন এক উপাধি যা সত্তা ও আত্মার মূল নির্যাস থেকে উৎসারিত গুণাবলিকে অন্তর্ভুক্ত করে; এটি কোনো শারীরিক বৈশিষ্ট্যের পরিচায়ক নয়—যেমন উদাহরণস্বরূপ আবু লাহাব উপাধিটি—অথবা এটি এমন কোনো একক প্রভাবশালী গুণ নয় যা চরিত্র ও আত্মার পূর্ণতা দানকারী সামগ্রিক গুণাবলি থেকে বিচ্ছিন্ন—যেমন বিত্তশালী দানশীল ব্যক্তির জন্য 'আল-ফায়েদ' বা 'আল-ফাইয়াদ' উপাধি। আমার মনে হয় না যে কুরাইশদের মধ্যে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যতীত অন্য কাউকে এই উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছে। মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কওমের মধ্যে কোনো নেতা ছিলেন না এবং নেতৃত্বপ্রত্যাশীও ছিলেন না। নবুওয়াত প্রাপ্তির আগে তাঁর এমন কোনো গোষ্ঠী ছিল না যারা তাঁকে সমর্থন করত, কিংবা কোনো কবিও ছিল না যে তাঁর প্রশংসা করত যার ফলে তাঁর এই উপাধি তাদের পক্ষ থেকে আসতে পারে। বরং এটি এমন এক উপাধি যা তিনি সমগ্র কুরাইশের ঐক্যমত্যের মাধ্যমে অর্জন করেছিলেন; তিনি ছিলেন এমন একজন মানুষ যিনি স্বার্থপরতা বা আত্মপ্রচারের জীবন থেকে সবচেয়ে দূরে ছিলেন।

--------------------------------------------

১ যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাফা পাহাড়ে দাঁড়িয়ে কুরাইশদের বললেন: "তোমরা কী মনে করো, আমি যদি তোমাদের সংবাদ দিই যে এই পাহাড়ের পাদদেশে একটি অশ্বারোহী বাহিনী তোমাদের ওপর আক্রমণ করতে উদ্যত, তবে তোমরা কি আমাকে বিশ্বাস করবে?" তারা বলল: "হ্যাঁ"। ইবনে কাসির তাঁর 'আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া' ৩য় খণ্ড, ৩৮ পৃষ্ঠায় ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত হাদিসটি উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আন-নুবুওয়াহ: ইসতিফা ওয়া কুদওয়াহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
بالذات، وأزهد الناس في تقدم الصفوف، بلد الرئاسة والشرف. وبهذا يكون مجتمع مكة قد شهد على نفسه، وشهد عليه التاريخ بأن محمد بن عبد الله بن عبد المطلب بن هاشم بن عبد مناف بن قصي كان وحيد قومه في خصال الخير، وأسباب الفضل والعدل، ومؤهلات الزعامة. ولو تحرينا الإنصاف قلنا: إن محمدا صلى الله عليه وسلم كان ولم يزل وحيد الناس، قاطبة، فيها.

ونحن الذين نؤمن بالله ربا وبمحمد نبيا لا نطلب الدليل على صدق ذلك. ولكن الله أقام الأدلة - على ما ذكرناه - في أحداث اجتماعية هامة، لمن شاء أن يتفكر ويتدبر لتظهر هذه المزايا على حقيقتها في مجال التطبيق والعمل في أصدق مظهر في الواقع. وخير حادثة اجتماعية يحيط إطارها بهذه المزايا حادثة الاحتكام إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم في رفع الركن إلى مكانه من الكعبة، عند تجديد بناءها قبل المبعث بخمس سنوات.

لما بنى إبراهيم وإسماعيل عليهما السلام بيت الله الحرام، وأذن إبراهيم في الناس بالحج، وجاءه المؤمنون من كل فج عميق، وعبرت على ذلك قرون، احتلت الكعبة مكانها الأقدس في قلوب العرب، وعلت مكانة الذين حولها يتعهدون الحجابة، والسقاية، والرفادة، والعمارة والشعائر. وتمتعوا بنفوذ وسلطان وأمن، وأصابوا سؤددا وغنى. فتنافس المتنافسون من جرهم ثم خزا عة على مكة وبيتها الحرام، واستضعفوا أبناء إسماعيل، وغلبوهم على أمر البيت. فاعتزل أبناء إسماعيل السلطة والحكم، وصاروا قطعا حلولا وصرما في قومهم بني كنانة1 في السهول والبوادي والجبال، فيما حول مكة، يكاثرون، ويظهرون على مناوئيهم حتى رث أمر خزاعة، فجمع أحد رجالهم الأشداء، قصي بن كلاب، القبائل من فهر، وهي التي تؤلف بمجموعها قريشا، واستعان بقوة من اليمن2، وضرب خزاعة ضربة قاصمة خلصت مكة بعدها له، وانتهي إليه الحكم فيها بغير منازع. وكان قصي بن كلاب أول جد قرشي، لرسول الله صلى الله عليه وسلم حكم مكة فاجتمع له ما للملوك من أسباب الملك، ومن المهابة والسلطان، فدانت له قريش كلها بالسمع والطاعة وجمع في يده السلطة السياسية والدينية فأتاح ذلك لأبنائه3 فرصاً للنبوغ

--------------------------------------------

1 ابن هشام: م1 ص117.

2 قضاعة وكان عليها رزاح بن ربيعة أخو قصي لأمه. انظر ابن هشام م1 ص118.

3 انظر ابن هشام: م1 ص130- 137.
প্রকৃতপক্ষে, তিনি ছিলেন নেতৃত্বের পদের প্রতি মানুষের মধ্যে সবচেয়ে নির্লোভ, যদিও মক্কা ছিল নেতৃত্ব ও সম্মানের দেশ। এর মাধ্যমে মক্কার সমাজ স্বয়ং নিজের সপক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছে এবং ইতিহাসও সাক্ষ্য দিয়েছে যে, মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল মুত্তালিব ইবনে হাশিম ইবনে আবদে মানাফ ইবনে কুসাই তাঁর কওমের মধ্যে চারিত্রিক গুণাবলি, শ্রেষ্ঠত্ব ও ইনসাফের কারণসমূহ এবং নেতৃত্বের যোগ্যতায় অনন্য ছিলেন। আর যদি আমরা ইনসাফের সাথে বিচার করি তবে বলব: মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসকল গুণে সমগ্র মানবজাতির মধ্যে অনন্য ছিলেন এবং চিরকাল থাকবেন।

আমরা যারা আল্লাহকে রব হিসেবে এবং মুহাম্মদকে নবী হিসেবে বিশ্বাস করি, তারা এর সত্যতার প্রমাণের প্রয়োজন বোধ করি না। কিন্তু যারা চিন্তা ও গবেষণা করতে চায়, তাদের জন্য বাস্তব ক্ষেত্রে প্রয়োগ ও কর্মের ময়দানে সবচেয়ে সত্য রূপে এই গুণাবলি ফুটিয়ে তুলতে আল্লাহ তায়ালা কিছু গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ঘটনার মাধ্যমে দলিলসমূহ প্রতিষ্ঠিত করেছেন। আর এই গুণাবলিগুলোকে বেষ্টন করে রাখা সর্বোত্তম সামাজিক ঘটনা হলো কাবা পুনর্নির্মাণের সময় হাজরে আসওয়াদকে তার স্থানে স্থাপন করার বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট বিচার প্রার্থনার ঘটনা, যা নবুওয়াত প্রাপ্তির পাঁচ বছর পূর্বে ঘটেছিল।

যখন ইবরাহীম ও ইসমাঈল আলাইহিমাস সালাম আল্লাহর পবিত্র ঘর নির্মাণ করলেন এবং ইবরাহীম মানুষের মাঝে হজের ঘোষণা দিলেন, তখন দূর-দূরান্ত থেকে মুমিনরা তাঁর কাছে আসতে শুরু করল। এভাবে শতাব্দী পার হওয়ার পর আরবের হৃদয়ে কাবা তার পবিত্রতম স্থান দখল করে নিল। কাবার চারপাশে যারা হাজাবা (পর্দা রক্ষা ও চাবিকাঠি রাখা), সাকায়া (পানি পান করানো), রিফাদা (মেহমানদারি), আবাদ করা এবং ধর্মীয় রীতিনীতি পালনের দায়িত্বে ছিল, তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি পেল। তারা প্রভাব-প্রতিপত্তি, ক্ষমতা ও নিরাপত্তা ভোগ করতে লাগল এবং প্রতিপত্তি ও ঐশ্বর্য লাভ করল। এরপর জুরহুম ও পরবর্তীতে খুযাআ গোত্রের প্রতিদ্বন্দ্বীরা মক্কা ও পবিত্র ঘরের আধিপত্য নিয়ে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হলো এবং তারা বনী ইসমাঈলকে দুর্বল করে কাবার কর্তৃত্ব ছিনিয়ে নিল। ফলে বনী ইসমাঈল ক্ষমতা ও শাসন থেকে বিচ্যুত হলো এবং মক্কার চারপাশের সমভূমি, মরুভূমি ও পাহাড়ে তাদের কওম বনী কেনানা১-এর সাথে বিচ্ছিন্ন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দলে বিভক্ত হয়ে বসবাস করতে লাগল। তারা সংখ্যাবৃদ্ধি করতে থাকল এবং তাদের বিরোধীদের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে থাকল, যতক্ষণ না খুযাআ গোত্রের শাসন দুর্বল হয়ে পড়ল। তখন তাদের একজন শক্তিশালী ব্যক্তি কুসাই ইবনে কিলাব ফিহর গোত্রসমূহকে—যা একত্রিতভাবে কুরাইশ নামে পরিচিত—সংগঠিত করলেন। তিনি ইয়ামেনের একটি বাহিনীর সাহায্য নিলেন২ এবং খুযাআ গোত্রকে এক চূড়ান্ত আঘাত হানলেন, যার ফলে মক্কা তাঁর অধিকারে চলে এল এবং কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী ছাড়াই সেখানে তাঁর শাসন প্রতিষ্ঠিত হলো। কুসাই ইবনে কিলাব ছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রথম কুরাইশী পিতামহ যিনি মক্কা শাসন করেছিলেন। ফলে রাজাদের মতো রাজকীয় উপকরণ, গাম্ভীর্য ও ক্ষমতা তাঁর মাঝে একত্রিত হয়েছিল। সমগ্র কুরাইশ তাঁর আনুগত্য স্বীকার করল। তিনি নিজের হাতে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করেছিলেন, যা তাঁর সন্তানদের জন্য৩ প্রতিভার বিকাশের সুযোগ তৈরি করে দিয়েছিল।

--------------------------------------------

১ ইবনে হিশাম: খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১১৭।

২ কুদাআ গোত্র; এবং এর নেতৃত্বে ছিলেন রিযাহ ইবনে রাবিয়া, যিনি কুসাইয়ের বৈমাত্রেয় ভাই ছিলেন। দেখুন ইবনে হিশাম খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১১৮।

৩ দেখুন ইবনে হিশাম: খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৩০-১৩৭।
(খণ্ড: ১) আন-নুবুওয়াহ: ইসতিফা ওয়া কুদওয়াহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
والظهور والشرف والثراء. ولم يكن له في قريش كلها منافس، وما كان أبناؤه يخشون من بعده مزاحماً، وبدأ البيت الحاكم في مكة في أحسن أحواله منعة جانب، واتحاد رأي ومذهب. ولكن قصياً قبل وفاته أحدث فيه أول زعزعة، إذ جعل الأمر من بعده لابنه عبد الدار، وهو أقل أولاده حظاً من شرف وسؤدد. وكانت الأنظار تتجه إلى عبد مناف لما أصاب من شرف في حياة أبيه، ولكن الأخوة أذعنوا لأمر الأب المهيب، والأمر الحازم، فقد كان قصي لا يخالف ولا يرد عليه بشيء صنعه. واستطاعت هيبة قصي، ومراعاة أبنائه لحقه، واحترامهم لكلمته فيهم ولذكراه أن تحفظ الأمر بينهم من بعده كما أراده أبوهم من غير شقاق أو خصام، وحكم عبد الدار واكتنفته أخوته يساعدونه يعملون لبيتهم ولأنفسهم، لا خلاف ولا نزاع، ولكن أبناءهم من بعدهم لم يكونوا مثلهم في ضبط النفس، والحفاظ على وحدة الحكم فحمي وطيس المنافسة بين أبناء العمومة: بين بني عبد مناف وبين بني عبد الدار. وكان لكل فريق أنصار، ومؤيدين متكافئون وأتى على قريش يوم إذا البيت الحاكم فيه بيتان، وإذا القبيلة قبيلتان، قد تعاقد كل فريق على الموت والفناء فلم يبق إلا السيف والدم، وكانت هذه اللحظة شديدة الحرج، بالغة الخطورة في حياة قريش، ومستقبلها كله، فكان الضياع والخسران والغدر الماحق في انتظارهم جميعاً. وإذا تكافأت القوى المتصارعة وخاف الخطر الناس جميعاً أتيح للعقل دور، وللحكمة مكان. وهكذا كان إذ تداعى الفريقان إلى الصلح، وانتهى الاتفاق إلى إشراك بني عبد مناف في حكم مكة (1) . ثم لم يلبث بنو عبد مناف أن عزوا بني عبد الدار بمكارمهم ومآثرهم، فأخملوا ذكرهم وانصرفت السيادة لبني عبد مناف، وارتفع المجد والشرف بهم. وتعلقت بهم قلوب قريش من غير إكراه وظفروا بتقدير واحترام غيرهم من الأمم (2) بما أوتوا من كياسة وخطة حكيمة نفعوا بها بلدهم وقومهم.

والحق أن البيت المنافي ظهر فيه شخصيات لم يظهر لها نظائر في بيوتات قصي الأخرى. كان هاشم بن عبد مناف من أقواها، وعبد المطلب بن هاشم من أعلاها قبل الإسلام. وقد أقرت قريش كلها بالسيادة لهما. ولكن النزاع الأول خلف وراءه مضاعفات

--------------------------------------------

1- انظر ابن هشام م1 ص 132

2- عقدوا اتفاقيات اقتصادية مع الشام والروم والعراق واليمن. وماتوا - عبد شمس - بعيدين عن مكة في تجاراتهم ومهامهم
খ্যাতি, মর্যাদা এবং প্রাচুর্য। সমগ্র কুরাইশ বংশে তার কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল না এবং তার সন্তানগণ তার পরবর্তীকালে কোনো বিরোধীর আশঙ্কা করতেন না। মক্কার শাসক পরিবার এক সুদৃঢ় অবস্থানে এবং মত ও পথের ঐক্যের মধ্য দিয়ে তাদের শ্রেষ্ঠ সময় অতিবাহিত করছিল। কিন্তু কুসাই তার মৃত্যুর পূর্বে এতে প্রথম অস্থিরতার সৃষ্টি করেন, যখন তিনি তার পরে নেতৃত্বের দায়িত্ব তার পুত্র আবদুদ দারকে প্রদান করেন, যে কি না মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের দিক থেকে তার সন্তানদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা পিছিয়ে ছিল। সকলের দৃষ্টি ছিল আবদে মানাফের প্রতি, কারণ পিতার জীবদ্দশাতেই তিনি প্রভূত মর্যাদা অর্জন করেছিলেন। কিন্তু ভ্রাতৃগণ তাদের পিতার গাম্ভীর্যপূর্ণ ও দৃঢ় আদেশের প্রতি অনুগত রইলেন, কেননা কুসাইয়ের বিরুদ্ধাচরণ করা হতো না এবং তার কোনো সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করা হতো না। কুসাইয়ের প্রভাব-প্রতিপত্তি, তার হকের প্রতি সন্তানদের সজাগ দৃষ্টি এবং তাদের মাঝে তার নির্দেশ ও স্মৃতির প্রতি তাদের শ্রদ্ধা—বিবাদ বা কলহ ছাড়াই তাদের মধ্যকার বিষয়গুলোকে পিতার ইচ্ছানুযায়ী অক্ষুণ্ণ রাখতে সক্ষম হয়েছিল। আবদুদ দার শাসনকার্য পরিচালনা করলেন এবং তার ভাইয়েরা তাকে বেষ্টন করে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে নিজেদের ও নিজেদের পরিবারের জন্য কাজ করে যাচ্ছিলেন। সেখানে কোনো মতভেদ বা বিবাদ ছিল না। কিন্তু পরবর্তীকালে তাদের সন্তানরা আত্মসংযম এবং শাসনের ঐক্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে তাদের মতো ছিলেন না, ফলে চাচাতো ভাইদের মধ্যে, অর্থাৎ বনু আবদে মানাফ এবং বনু আবদুদ দারের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আগুন জ্বলে উঠল। প্রত্যেক পক্ষেরই সমপর্যায়ের সাহায্যকারী ও সমর্থক ছিল এবং কুরাইশদের ওপর এমন এক সময় এল যখন শাসক পরিবারটি দুটি ঘরে এবং গোত্রটি দুটি উপগোত্রে বিভক্ত হয়ে পড়ল। উভয় পক্ষ মৃত্যু ও ধ্বংসের শপথ গ্রহণ করল, ফলে তলোয়ার ও রক্তপাত ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট রইল না। কুরাইশদের জীবন ও সমগ্র ভবিষ্যতের জন্য এই মুহূর্তটি ছিল অত্যন্ত সংকটময় ও চরম ঝুঁকিপূর্ণ; ধ্বংস, ক্ষতি ও সর্বনাশা বিশ্বাসঘাতকতা যেন তাদের অপেক্ষায় ছিল। যখন বিবদমান পক্ষগুলোর শক্তি সমান হয় এবং সবাই বিপদের আশঙ্কা করে, তখন বিবেকের ভূমিকা ও প্রজ্ঞার স্থান তৈরি হয়। এভাবেই উভয় পক্ষ সন্ধির দিকে অগ্রসর হলো এবং মক্কার শাসনে বনু আবদে মানাফকে অংশীদার করার মাধ্যমে চুক্তিতে উপনীত হলো (১)। এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই বনু আবদে মানাফ তাদের মহানুভবতা ও কীর্তিগাঁথার মাধ্যমে বনু আবদুদ দারকে ছাড়িয়ে গেল, ফলে তাদের আলোচনা স্তিমিত হয়ে পড়ল এবং নেতৃত্ব বনু আবদে মানাফের হাতে চলে এল, আর তাদের মাধ্যমেই গৌরব ও মর্যাদা উচ্চশিখরে আরোহণ করল। কোনো প্রকার বাধ্যবাধকতা ছাড়াই কুরাইশদের হৃদয় তাদের সাথে জড়িয়ে গেল এবং তারা তাদের বুদ্ধিমত্তা ও বিজ্ঞ কৌশলের মাধ্যমে অন্যান্য জাতির শ্রদ্ধা ও সম্মান অর্জনে সক্ষম হলো (২), যার দ্বারা তারা তাদের দেশ ও জাতির কল্যাণ সাধন করেছিল।

সত্য কথা এই যে, আবদে মানাফের পরিবারে এমন সব ব্যক্তিত্বের আবির্ভাব ঘটেছিল যাদের সমকক্ষ কুসাইয়ের অন্য পরিবারগুলোতে দেখা যায়নি। ইসলামের পূর্বে হাশিম ইবনে আবদে মানাফ ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম শক্তিশালী এবং আব্দুল মুত্তালিব ইবনে হাশিম ছিলেন সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী। সমগ্র কুরাইশ তাদের উভয়ের নেতৃত্ব স্বীকার করে নিয়েছিল। তবে প্রাথমিক সেই বিরোধ তার পেছনে কিছু জটিলতা রেখে গিয়েছিল।

--------------------------------------------

১- দ্রষ্টব্য: ইবনে হিশাম, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৩২।

২- তারা সিরিয়া, রোম, ইরাক এবং ইয়েমেনের সাথে অর্থনৈতিক চুক্তি সম্পাদন করেছিলেন। আর তারা—আবদু শামস—তাদের ব্যবসা ও কর্মব্যস্ততার কারণে মক্কা থেকে দূরে মৃত্যুবরণ করেন।