(খণ্ড: ১) আন-নুশুয বাইনায যাওজাইন (পৃষ্ঠা: -)
النشوز بين الزوجين   (عايد الحربي)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: النشوز بين الزوجين

المؤلف: عايد بن عبد الله الحربي

الناشر: الجامعة الاسلامية بالمدينة المنورة

الطبعة: العدد 128 - السنة 37 - 1425هـ

عدد الصفحات: 95

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অবাধ্যতা   (আয়েদ আল-হারবি)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ


বই: স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অবাধ্যতা

লেখক: আয়েদ বিন আব্দুল্লাহ আল-হারবি

প্রকাশক: মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়

সংস্করণ: সংখ্যা ১২৮ - বর্ষ ৩৭ - ১৪২৫ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৫

[বইয়ের পৃষ্ঠাসংখ্যা মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলা-তে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আন-নুশুয বাইনায যাওজাইন (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌مقدمة

…

بسم الله الرحمن الرحيم

الآيات:

قال الله تعالى: {الرِّجَالُ قَوَّامُونَ عَلَى النِّسَاءِ بِمَا فَضَّلَ اللَّهُ بَعْضَهُمْ عَلَى بَعْضٍ وَبِمَا أَنْفَقُوا مِنْ أَمْوَالِهِمْ فَالصَّالِحَاتُ قَانِتَاتٌ حَافِظَاتٌ لِلْغَيْبِ بِمَا حَفِظَ اللَّهُ وَاللَّاتِي تَخَافُونَ نُشُوزَهُنَّ فَعِظُوهُنَّ وَاهْجُرُوهُنَّ فِي الْمَضَاجِعِ وَاضْرِبُوهُنَّ فَإِنْ أَطَعْنَكُمْ فَلا تَبْغُوا عَلَيْهِنَّ سَبِيلاً إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيّاً كَبِيراً. وَإِنْ خِفْتُمْ شِقَاقَ بَيْنِهِمَا فَابْعَثُوا حَكَماً مِنْ أَهْلِهِ وَحَكَماً مِنْ أَهْلِهَا إِنْ يُرِيدَا إِصْلاحاً يُوَفِّقِ اللَّهُ بَيْنَهُمَا إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيماً خَبِيراً} سورة النساء، الآيات: 34، 35.

وقال تعالى: {وَإِنِ امْرَأَةٌ خَافَتْ مِنْ بَعْلِهَا نُشُوزاً أَوْ إِعْرَاضاً فَلا جُنَاحَ عَلَيهِمَا أَنْ يُصْلِحَا بَيْنَهُمَا صُلْحاً وَالصُّلْحُ خَيْرٌ وَأُحْضِرَتِ الْأَنْفُسُ الشُّحَّ وَإِنْ تُحْسِنُوا وَتَتَّقُوا فَإِنَّ اللَّهَ كَانَ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيراً. وَلَنْ تَسْتَطِيعُوا أَنْ تَعْدِلُوا بَيْنَ النِّسَاءِ وَلَوْ حَرَصْتُمْ فَلا تَمِيلُوا كُلَّ الْمَيْلِ فَتَذَرُوهَا كَالْمُعَلَّقَةِ وَإِنْ تُصْلِحُوا وَتَتَّقُوا فَإِنَّ اللَّهَ كَانَ غَفُوراً رَحِيماً. وَإِنْ يَتَفَرَّقَا يُغْنِ اللَّهُ كُلّاً مِنْ سَعَتِهِ وَكَانَ اللَّهُ وَاسِعاً حَكِيماً} سورة النساء، الآيات: 128، 129، 130.
ভূমিকা

…

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

আয়াতসমূহ:

আল্লাহ তাআলা বলেন: {পুরুষেরা নারীদের ওপর কর্তৃত্বশীল, যেহেতু আল্লাহ তাদের এককে অন্যের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন এবং যেহেতু তারা তাদের ধনসম্পদ ব্যয় করে। সুতরাং পুণ্যবতী নারীরা অনুগতা এবং আল্লাহর হেফাজতে লোকচক্ষুর অন্তরালে (স্বামীদের আমানত) রক্ষণাবেক্ষণকারিণী। আর তোমরা যাদের অবাধ্যতার আশঙ্কা করো, তাদের সদুপদেশ দাও, তাদের শয্যা ত্যাগ করো এবং তাদের প্রহার করো। যদি তারা তোমাদের অনুগত হয়, তবে তাদের বিরুদ্ধে অন্য কোনো পথ খুঁজো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সমুন্নত, মহান। আর যদি তোমরা তাদের উভয়ের মধ্যে বিচ্ছেদের আশঙ্কা করো, তবে স্বামীর পরিবার থেকে একজন সালিস এবং স্ত্রীর পরিবার থেকে একজন সালিস নিযুক্ত করো। যদি তারা উভয়েই নিষ্পত্তি চায়, তবে আল্লাহ তাদের মধ্যে মিমাংসার সুযোগ করে দেবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সম্যক অবহিত।} সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৩৪, ৩৫।

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {আর যদি কোনো নারী তার স্বামীর পক্ষ থেকে দুর্ব্যবহার কিংবা উপেক্ষার আশঙ্কা করে, তবে তারা উভয়ে আপস-নিষ্পত্তি করলে তাদের কোনো গুনাহ নেই; আর আপস-নিষ্পত্তিই উত্তম। মানুষের মন কৃপণতার প্রতি আসক্ত। আর যদি তোমরা সৎকর্ম করো এবং তাকওয়া অবলম্বন করো, তবে তোমরা যা করো আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্যক অবহিত। আর তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে ন্যায়বিচার করতে পারবে না, যদিও তোমরা তার প্রবল আকাঙ্ক্ষা করো। অতএব তোমরা কোনো একজনের দিকে পূর্ণরূপে ঝুঁকে পড়ো না এবং অপরকে ঝুলন্ত অবস্থায় রেখো না। আর যদি তোমরা সংশোধন করো এবং তাকওয়া অবলম্বন করো, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। আর যদি তারা পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তবে আল্লাহ স্বীয় প্রাচুর্য থেকে প্রত্যেককে অভাবমুক্ত করে দেবেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময়, প্রজ্ঞাময়।} সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১২৮, ১২৯, ১৩০।
(খণ্ড: ১) আন-নুশুয বাইনায যাওজাইন (পৃষ্ঠা: ১৪)
المقدمة

إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله؛ {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} (1) ، {يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيراً وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيباً} (2) ، {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلاً سَدِيداً. يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزاً عَظِيماً} (3) .

أما بعد:

فإن الحياة الزوجية القائمة على أساس من التقوى لله عز وجل ومراعاة ما يجب من الحقوق وحسن العشرة بين الزوجين، لهي حياة السعادة والمودة، حياة الرحمة والألفة والمحبة، الحياة التي تكفل لبيت الزوجية كل خير وهناء، وكل أنس وطمأنينة، قوامها الثقة والاحترام. وإن الإخلال بهذا المبدأ لهو السبب في سوء العشرة وزرع الفرقة والنفرة بين الزوجين، يتمثل ذلك بتعالي أحد الزوجين على الآخر، ونزوعه عن طاعته، أو تقصيره عن القيام ببعض حقوقه وما يجب له من حسن العشرة والاحترام، وهو ما يسمى بالنشوز.

--------------------------------------------

(1) سورة آل عمران، الآية: (102) .

(2) سورة النساء، الآية: (1) .

(3) سورة الأحزاب، الآية: (70-71) .
ভূমিকা

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও রাসুল। {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না} (১), {হে মানবসমাজ! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার সঙ্গিনীকে সৃষ্টি করেছেন; আর তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী বিস্তার করেছেন। আর আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের কাছে চাও এবং রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়স্বজনদের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন} (২), {হে মুমিনগণ! আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য লাভ করবে} (৩)।

অতঃপর:

নিশ্চয়ই মহান আল্লাহর প্রতি তাকওয়ার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা এবং পাওনা অধিকারসমূহের পরিপালন ও পারস্পরিক সদ্ব্যবহারের প্রতি লক্ষ্য রাখা দাম্পত্য জীবনই হলো সুখ ও সৌহার্দ্যের জীবন; এটি দয়া, সম্প্রীতি ও ভালোবাসার জীবন। এমন জীবন দাম্পত্য নীড়কে যাবতীয় কল্যাণ, সুখ, প্রশান্তি ও স্থিরতার নিশ্চয়তা দেয়, যার মূল ভিত্তি হলো নির্ভরযোগ্যতা (الثقة) ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা। আর এই মূলনীতির ব্যত্যয় ঘটানোই হলো দাম্পত্য কলহ এবং স্বামী-স্ত্রীর মাঝে বিচ্ছেদ ও বিদ্বেষের বীজ বপনের কারণ। এটি প্রকাশ পায় যখন স্বামী বা স্ত্রীর কোনো একজন অপরজনের ওপর অহমিকা প্রদর্শন করে, তার আনুগত্য থেকে বিমুখ হয় কিংবা তার প্রাপ্য অধিকারসমূহ আদায়ে এবং আবশ্যক সদ্ব্যবহার ও শ্রদ্ধা প্রদর্শনে অবহেলা করে; আর একেই 'নুশূজ' (অবাধ্যতা) বলা হয়।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-ইমরান, আয়াত: (১০২)।

(২) সূরা আন-নিসা, আয়াত: (১)।

(৩) সূরা আল-আহযাব, আয়াত: (৭০-৭১)।
(খণ্ড: ১) আন-নুশুয বাইনায যাওজাইন (পৃষ্ঠা: ১৫)
أهمية الموضوع وسبب اختياره:

لما كان هذا الأمر - النشوز - من أسباب فساد العشرة، وزرع الفتنة والعداوة بين الزوجين، بل ربما تعاظم الأمر فأوصلها إلى حد النفرة والفرقة وهدم البيوت التي حث الإسلام على رعايتها وتعاهدها بالصلاح والإصلاح وحسن العشرة، بل وسد كل طريق قد يكون سبباً للاختلاف والفرقة.

ولخطورة هذا الأمر وأثره على حياة الزوجين أنزل الله جل وعلا بيانه وعلاجه في كتابه الكريم، وفي سنة رسوله صلى الله عليه وسلم، وذلك بأمر كلٍّ من الزوجين بالقيام بحقوق الآخر واحترامه، وتلافي أسباب الفتنة والاختلاف، فأمر الزوج - عند خوفه نشوز زوجته - بوعظها ومناصحتها وتذكيرها بحقه عليها، ثم بهجرها في المضجع إن لم تستجب لوعظه، ثم بضربها إن ألجأته لذلك ورآه ناجعاً في إصلاحها وتأديبها، كما أرشد المرأة - عند خوفها نشوز زوجها - إلى مصالحته بما تراه يستجلب رضاه، كأن تتنازل له عن بعض حقوقها عليه، أو تدفع له شيئاً من المال تستعطفه وتستميله به مقابل أن يبقيها في عصمته، وذلك برضاها واختيارها، أما إن استفحل الأمر وخيف ازدياد الشقاق، فقد أمر أهل الحل والعقد ومن له كلمة مسموعة عند الزوجين بالتدخل بقصد الإصلاح والنصح، بل وبعث الحكمين عند الحاجة واستدعاء الأمر لذلك، كل ذلك لتلافي أسباب الفرقة والنفرة، وليبقى بيت الزوجية سعيداً آمناً. لذا رأيت أن أفرد تفسير آيات النشوز بين الزوجين ببحث مستقل، مستعرضاً فيه تلك الآيات، مبينا تفسيرها، مع دراسة ما تضمنته من معاني وأحكام؛ واللهَ أسأل أن يبارك الجهد، ويسدد الخطا، ويوفقنا لكل خير.

* خطة البحث:

تقوم خطة البحث على مقدمة ضمنتها أهمية الموضوع والداعي للكتابة
বিষয়ের গুরুত্ব ও এটি নির্বাচনের কারণ:

যেহেতু এই বিষয়টি—অর্থাৎ অবাধ্যতা (نشوز)—দাম্পত্য সম্পর্কের অবনতি এবং স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ফিতনা ও শত্রুতার বীজ বপনের অন্যতম কারণ; এমনকি কখনও কখনও বিষয়টি প্রকট আকার ধারণ করে ঘৃণা, বিচ্ছিন্নতা এবং ঘর ভাঙার পর্যায়ে নিয়ে যায়, যে ঘরকে রক্ষণাবেক্ষণ করার এবং সংশোধন, সংস্কার ও উত্তম আচরণের মাধ্যমে যত্ন নেওয়ার নির্দেশ ইসলাম প্রদান করেছে, বরং বিচ্ছেদ ও মতভেদের কারণ হতে পারে এমন সকল পথ ইসলাম রুদ্ধ করে দিয়েছে।

এই বিষয়ের ভয়াবহতা এবং স্বামী-স্ত্রীর জীবনে এর প্রভাবের কারণে মহান আল্লাহ তাঁর সম্মানিত কিতাবে এবং তাঁর রাসূলের সুন্নাহ (سنة)-তে এর ব্যাখ্যা ও প্রতিকার অবতীর্ণ করেছেন। আর তা হলো স্বামী ও স্ত্রীর প্রত্যেককে অপরের অধিকার আদায় ও সম্মান করার নির্দেশ প্রদানের মাধ্যমে এবং ফিতনা ও মতভেদের কারণগুলো পরিহার করার মাধ্যমে। ফলে আল্লাহ স্বামীকে নির্দেশ দিয়েছেন—যখন সে তার স্ত্রীর অবাধ্যতা (نشوز)-এর আশঙ্কা করে—তাকে উপদেশ দিতে, নসিহত করতে এবং তার ওপর স্বামীর যে অধিকার রয়েছে তা স্মরণ করিয়ে দিতে। এরপর যদি সে উপদেশে সাড়া না দেয়, তবে শয্যা ত্যাগ করতে। অতঃপর যদি পরিস্থিতি তাকে বাধ্য করে এবং স্বামী তাকে সংশোধন ও শিষ্টাচার শেখানোর জন্য এটি কার্যকর মনে করে, তবে তাকে প্রহার করতে। একইভাবে তিনি নারীকেও নির্দেশনা দিয়েছেন—যখন সে তার স্বামীর অবাধ্যতা (نشوز)-এর আশঙ্কা করে—তার সাথে এমনভাবে আপস-মিমাংসা করতে যা তার সন্তুষ্টি আনয়ন করে, যেমন তার প্রাপ্য কিছু অধিকার ছেড়ে দেওয়া, অথবা তাকে কিছু অর্থ প্রদান করা যাতে তার অনুকম্পা ও অনুরাগ লাভ করা যায় এবং সে তাকে নিজ বিবাহবন্ধনে (عصمة) বহাল রাখে; আর এটি হবে স্ত্রীর সন্তুষ্টি ও স্বেচ্ছাধীন পছন্দের ভিত্তিতে। তবে যদি বিষয়টি জটিল রূপ ধারণ করে এবং বিরোধ (شقاق) বৃদ্ধির আশঙ্কা থাকে, তবে ইসলাম ‘আহলুল হাল্লি ওয়াল আক্বদি’ (أهل الحل والعقد) বা সমাজপতি এবং স্বামী-স্ত্রীর নিকট যাদের কথা গ্রহণযোগ্য, তাদেরকে সংশোধন ও উপদেশের উদ্দেশ্যে হস্তক্ষেপ করার নির্দেশ দিয়েছে। এমনকি প্রয়োজনবোধে এবং পরিস্থিতির দাবিতে দুজন সালিশ (حكمين) নিয়োগ করারও নির্দেশ দিয়েছে। এই সবকিছুই করা হয়েছে বিচ্ছেদ ও ঘৃণার কারণগুলো দূর করার জন্য এবং দাম্পত্য জীবনকে সুখী ও নিরাপদ রাখার জন্য। তাই আমি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার অবাধ্যতা (نشوز) সংক্রান্ত আয়াতসমূহের তাফসির নিয়ে একটি স্বতন্ত্র গবেষণা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যেখানে আমি সেই আয়াতগুলো উপস্থাপন করব, সেগুলোর ব্যাখ্যা প্রদান করব এবং এর অন্তর্ভুক্ত অর্থ ও বিধানসমূহ (أحكام) নিয়ে পর্যালোচনা করব। আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন এই প্রচেষ্টায় বরকত দান করেন, আমাদের পদক্ষেপসমূহ সঠিক পথে পরিচালিত করেন এবং আমাদের সকল কল্যাণের তাওফিক দান করেন।

* গবেষণার রূপরেখা:

গবেষণার রূপরেখাটি একটি ভূমিকার ওপর ভিত্তি করে বিন্যস্ত করা হয়েছে, যেখানে আমি বিষয়ের গুরুত্ব ও এটি রচনার কারণ উল্লেখ করেছি।
(খণ্ড: ১) আন-নুশুয বাইনায যাওজাইন (পৃষ্ঠা: ১৬)
فيه، ثم قسم البحث والدارسة، ثم الفهارس.

وقد اشتمل قسم الدراسة على تعريف النشوز لغة واصطلاحاً، ثم الشروع في تفسير آيات النشوز، وذلك باستعراض تلك الآيات وتفسيرها تفسيراً تحليلياً مفصلاً، مع بيان ما تضمنته من معاني، وما اشتملت عليه من دلائل وأحكام، وذلك في موضعه من الآية عند وروده في معرض تفسيرها.

وكان مما اشتملت عليه تلك الدراسة ما يلي:

بيان المعاني اللغوية للمفردات، وكذا ما يلزم من أوجه الإعراب والقراءات والبيان.

بيان المعاني التفسيرية للمفردات والجمل.

إيضاح ما دلت عليه تلك الآيات من معاني، وما استنبط منها من دلائل ومسائل وأحكام، وذلك بدراسة تلك المعاني والأحكام، دراسةً مفصلةً مستفيضة، مع بسط الأقوال والأدلة، ثم الترجيح حسب الإمكان.

ومن أبرز تلك المسائل والأحكام التي تضمنتها الدراسة:

مفهوم النشوز من قبل الزوجة، وحكمه، وكيفية معالجته، وبيان ما يترتب عليه من أحكام.

بعث الحكمين وما يتعلق بهما من وصف، وما يترتب على حكمهما من مسائل.

مفهوم النشوز والإعراض من قبل الزوج، وكيفية معالجته.

الحقوق الزوجية وما يترتب على الإخلال بها من مفاسد وآثام.

إلى غير ذلك مما ورد في ثنايا البحث من مسائل ومباحث شتى.

كل ذلك تمت دراسته في موضعه من الآية، عند وروده في معرض تفسيرها.

الفهارس: فهرس المصادر، فهرس الموضوعات.
এতে (রয়েছে), অতঃপর গবেষণা ও অধ্যয়ন বিভাগ, এরপর নির্ঘণ্ট।

অধ্যয়ন বিভাগটি শাব্দিক ও পারিভাষিক (اصطلاح) অর্থে ‘নুশূয’ (نشوز) এর সংজ্ঞা প্রদান, অতঃপর ‘নুশূয’ সংক্রান্ত আয়াতসমূহের তাফসিরের সূচনাকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এটি করা হয়েছে উক্ত আয়াতসমূহ পর্যালোচনা এবং সেগুলোর বিস্তারিত বিশ্লেষণমূলক (تحليلي) তাফসির প্রদানের মাধ্যমে। সেই সাথে আয়াতসমূহের অন্তর্ভুক্ত অর্থসমূহ এবং সেগুলোতে বিদ্যমান প্রমাণাদি ও বিধানসমূহের বর্ণনা সংশ্লিষ্ট আয়াতের তাফসির উপস্থাপনকালেই যথাযথ স্থানে প্রদান করা হয়েছে।

উক্ত অধ্যয়নটি যেসব বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করেছে তা নিম্নরূপ:

শব্দাবলির ভাষাতাত্ত্বিক অর্থের বর্ণনা, সেই সাথে প্রয়োজনীয় পদান্বয় (إعراب), পঠনশৈলী (قراءات) এবং অলঙ্কারশাস্ত্রীয় (بيان) দিকসমূহের বর্ণনা।

শব্দ ও বাক্যসমূহের ব্যাখ্যামূলক অর্থের বর্ণনা।

উক্ত আয়াতসমূহ যেসব অর্থের প্রতি নির্দেশ করে তা স্পষ্টীকরণ এবং তা থেকে উৎসারিত প্রমাণাদি, মাসআলা ও বিধানসমূহের বিশদ ও বিস্তারিত পর্যালোচনা। এতে বিভিন্ন মত ও দলিল উপস্থাপনের পাশাপাশি যথাসম্ভব প্রাধান্যযোগ্য মতটি নিরূপণ (ترجيح) করা হয়েছে।

উক্ত অধ্যয়নে অন্তর্ভুক্ত হওয়া সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য মাসআলা ও বিধানসমূহের মধ্যে রয়েছে:

স্ত্রীর পক্ষ থেকে ‘নুশূয’ (نشوز) বা অবাধ্যতার ধারণা, এর বিধান, প্রতিকার পদ্ধতি এবং এর ফলে উদ্ভূত বিধানসমূহের বর্ণনা।

দুইজন সালিশ (حكمين) নিয়োগ এবং তাদের গুণাবলি সংক্রান্ত বিষয়াদি, আর তাদের ফয়সালার ওপর ভিত্তি করে উদ্ভূত মাসআলাসমূহ।

স্বামীর পক্ষ থেকে ‘নুশূয’ (نشوز) বা বিমুখতার ধারণা এবং এর প্রতিকার পদ্ধতি।

দাম্পত্য অধিকার এবং তা লঙ্ঘনের ফলে সৃষ্ট নানাবিধ বিপর্যয় ও পাপসমূহ।

এছাড়াও গবেষণার পরতে পরতে আরও নানাবিধ মাসআলা ও বিবিধ আলোচনা স্থান পেয়েছে।

এই সমস্ত বিষয় সংশ্লিষ্ট আয়াতের তাফসির আলোচনার সময়েই যথাযথ স্থানে অধ্যয়ন করা হয়েছে।

নির্ঘণ্টসমূহ: উৎসগ্রন্থের নির্ঘণ্ট, বিষয়সূচির নির্ঘণ্ট।
(খণ্ড: ১) আন-নুশুয বাইনায যাওজাইন (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌قوامة الرجل على المرأة،

مفهومها، وحكمتها وسبب استحقاقها

قال الله تعالى: {الرِّجَالُ قَوَّامُونَ عَلَى النِّسَاءِ بِمَا فَضَّلَ اللَّهُ بَعْضَهُمْ عَلَى بَعْضٍ وَبِمَا أَنْفَقُوا مِنْ أَمْوَالِهِمْ}

مناسبة الآية للآيات قبلها:

لما نهى سبحانه كلاً من الرجال والنساء عن تمني ما فضل الله به بعضهم على بعض، في أمر الكسب والمعاش، فقال تعالى: {وَلا تَتَمَنَّوْا مَا فَضَّلَ اللَّهُ بِهِ بَعْضَكُمْ عَلَى بَعْضٍ لِلرِّجَالِ نَصِيبٌ مِمَّا اكْتَسَبُوا وَلِلنِّسَاءِ نَصِيبٌ مِمَّا اكْتَسَبْنَ} (1) . وقد ورد أنها نزلت في قول أم سلمة: يا رسول الله، يغزو الرجال ولا نغزو، ولنا نصف الميراث،

فذكر هنا أسباب ذلك التفضيل (2) .

وقد أخرج ابن جرير الطبري بسنده عن الحسن البصري: أن رجلاً لطم امرأته، فأتت النبي صلى الله عليه وسلم فأراد أن يقصها منه فأنزل الله: {الرِّجَالُ قَوَّامُونَ عَلَى النِّسَاءِ بِمَا فَضَّلَ اللَّهُ بَعْضَهُمْ عَلَى بَعْضٍ وَبِمَا أَنْفَقُوا مِنْ أَمْوَالِهِمْ} فدعاه النبي صلى الله عليه وسلم، فتلاها

--------------------------------------------

(1) سورة النساء، آية: (32) .

(2) وانظر: تفسير الفخر الرازي 10/90، وتفسير المراغي 4/205.
নারীর ওপর পুরুষের অভিভাবকত্ব (قوامة); এর ধারণা, তাৎপর্য এবং তা প্রাপ্তির কারণসমূহ

আল্লাহ তাআলা বলেন: {পুরুষেরা নারীদের ওপর দায়িত্বশীল (قوامون); কারণ আল্লাহ তাদের মধ্যে একজনকে অন্যজনের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন এবং যেহেতু তারা তাদের ধন-সম্পদ থেকে ব্যয় করে}

পূর্ববর্তী আয়াতসমূহের সাথে বর্তমান আয়াতের প্রাসঙ্গিকতা:

যখন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা উপার্জন ও জীবনযাত্রার ক্ষেত্রে আল্লাহ যাকে যা দিয়ে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন তা নিয়ে পুরুষ ও নারী উভয়কে আকাঙ্ক্ষা করতে নিষেধ করেছেন, তখন আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর তোমরা সেই জিনিসের আকাঙ্ক্ষা করো না, যার মাধ্যমে আল্লাহ তোমাদের একজনকে অন্যজনের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন; পুরুষদের জন্য অংশ রয়েছে তারা যা উপার্জন করে তা থেকে এবং নারীদের জন্যও অংশ রয়েছে তারা যা উপার্জন করে তা থেকে} (১)। বর্ণিত রয়েছে যে, এই আয়াতটি উম্মে সালামাহ (রা.)-এর এই উক্তির পরিপ্রেক্ষিতে অবতীর্ণ হয়েছে: "হে আল্লাহর রাসুল, পুরুষেরা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে কিন্তু আমরা করি না, আর আমাদের জন্য রয়েছে মিরাসের অর্ধেক অংশ।"

অতঃপর এখানে সেই শ্রেষ্ঠত্বের কারণসমূহ বর্ণনা করা হয়েছে (২)।

ইবনে জারির তাবারী তাঁর সনদ (سند) সহকারে হাসান বসরী থেকে বর্ণনা করেছেন যে: এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে চড় মারলে সে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এল। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার অনুকূলে প্রতিশোধ গ্রহণের সংকল্প করলেন, তখন আল্লাহ অবতীর্ণ করলেন: {পুরুষেরা নারীদের ওপর দায়িত্বশীল (قوامون); কারণ আল্লাহ তাদের মধ্যে একজনকে অন্যজনের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন এবং তারা তাদের ধন-সম্পদ থেকে ব্যয় করে}। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে ডাকলেন এবং আয়াতটি তেলাওয়াত করলেন।

--------------------------------------------

(১) সূরা আন-নিসা, আয়াত: (৩২)।

(২) আরও দেখুন: তাফসিরে ফখর রাযী ১০/৯০, এবং তাফসিরে মারাগী ৪/২০৫।
(খণ্ড: ১) আন-নুশুয বাইনায যাওজাইন (পৃষ্ঠা: ১৮)
عليه، وقال: "أردت أمراً وأراد الله غيره " (1) .

وأخرج نحوه عن قتادة، وابن جريج، والسدي (2) .

وبالنظر إلى ما تقدم في آيات المواريث من تفضيل الذكر على الأنثى في الميراث بإعطائه مثل حظ الأنثيين، ثم النهي عن تمني الرجال والنساء ما فضل الله به بعضهم على بعض، كما ورد في سبب نزول قوله: {وَلا تَتَمَنَّوْا مَا فَضَّلَ اللَّهُ بِهِ بَعْضَكُمْ عَلَى بَعْضٍ … } الآية، يأتي قوله تعالى: {الرِّجَالُ قَوَّامُونَ عَلَى النِّسَاءِ … } بياناً وإيضاحاً لسبب ذلك التفضيل، وتعليلاً وجواباً لما قد يرد من تساؤل حول تفضيل الرجال على النساء في أمور: كالميراث، والغزو، والإمامة، والشهادة، والدية، والولاية في النكاح، والطلاق، والرجعة، وغيرها؛ والله أعلم.

وقوام: صيغة مبالغة من القيام على الأمر، بمعنى حفظه ورعايته، فالرجل قوام على امرأته، كما يقوم الولي على رعيته بالأمر والنهي، والحفظ والصيانة (3) .

يقول محي الدين شيخ زاده في حاشيته على تفسير البيضاوي: القوام: اسم لمن يكون مبالغاً في القيام بالأمر، مسلطاً عليه، نافذ الحكم في حقه، ليصير كأنه أمير عليه، والقوام والقيم بمعنىً واحد، والقوام أبلغ، وهو القائم بالمصالح والتدبير والاهتمام بالحفظ (4) .

--------------------------------------------

(1) تفسير الطبري 5/58، وذكره السيوطي في الدر المنثور 2/167، وزاد نسبته لابن أبي حاتم من طريق أشعث بن عبد الملك عن الحسن، كما نسبه السيوطي أيضاً لعبد بن حميد من طريق قتادة عن الحسن، وللفريابي وعبد بن حميد وابن جرير وابن المنذر وابن أبي حاتم وابن مردويه من طريق جرير بن حازم عن الحسن.

(2) المصدر السابق.

(3) تفسير آيات الأحكام للشيخ محمد علي السايس 2/96.

(4) حاشية محي الدين زاده على تفسير البيضاوي 2/31.
তার সম্পর্কে, এবং তিনি বললেন: "আমি একটি বিষয় চেয়েছিলাম, আর আল্লাহ অন্য কিছু চাইলেন" (১)।

কাতাদাহ, ইবনে জুরাইজ এবং সুদ্দী থেকেও অনুরূপ বর্ণনা উদ্ধৃত (أخرج) হয়েছে (২)।

মিরাসের আয়াতসমূহে নারীকে যে অংশ দেওয়া হয় পুরুষকে তার দ্বিগুণ প্রদানের মাধ্যমে নারীর ওপর পুরুষের যে শ্রেষ্ঠত্বের বিষয়টি ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে, অতঃপর আল্লাহ তাআলা যার মাধ্যমে একে অপরের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন তা কামনা করা থেকে পুরুষ ও নারীদের যে বারণ করা হয়েছে, যেমনটি আল্লাহ তাআলার এই বাণী: {আর তোমরা আকাঙ্ক্ষা করো না সেই বিষয়ের যার মাধ্যমে আল্লাহ তোমাদের একজনকে অন্যজনের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন...} আয়াতের শানে নুযুল (سبب النزول) প্রসঙ্গে বর্ণিত হয়েছে—তার প্রেক্ষিতে মহান আল্লাহর বাণী: {পুরুষগণ নারীদের ওপর দায়িত্বশীল (قوامون)...} এই শ্রেষ্ঠত্বের কারণ বর্ণনা ও ব্যাখ্যা হিসেবে এবং মিরাস, যুদ্ধ, ইমামত, সাক্ষ্য, দিয়াত (রক্তপণ), বিবাহে অভিভাবকত্ব, তালাক, রাজআত (প্রত্যাবর্তন) এবং অন্যান্য বিষয়ে পুরুষদেরকে নারীদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব প্রদানের ব্যাপারে যে প্রশ্ন উত্থাপিত হতে পারে তার কারণ ও উত্তর হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছে; আল্লাহই ভালো জানেন।

'কাওয়াম' (قوام) শব্দটি 'আল-কিয়াম' (القيام) থেকে আধিক্যবোধক রূপ (صيغة مبالغة), যার অর্থ কোনো বিষয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করা তথা রক্ষণাবেক্ষণ ও দেখাশোনা করা। সুতরাং পুরুষ তার স্ত্রীর ওপর তদারককারী, যেমন একজন অভিভাবক আদেশ, নিষেধ, হিফাজত ও সুরক্ষার মাধ্যমে তার অধীনস্তদের ওপর দায়িত্ব পালন করেন (৩)।

মহিউদ্দিন শেখ জাদাহ তাফসির আল-বায়দাবির ওপর তাঁর টিকায় (حاشية) বলেন: 'কাওয়াম' এমন ব্যক্তির নাম যে কোনো দায়িত্ব পালনে অত্যন্ত যত্নশীল, তার ওপর ক্ষমতাবান এবং যার নির্দেশ কার্যকর হয়, যাতে সে তার ওপর আমীর বা নেতার মতো হয়ে যায়। 'কাওয়াম' এবং 'কায়্যিম' একই অর্থবোধক, তবে 'কাওয়াম' শব্দটি অধিক অর্থবহ; আর তিনি হলেন ওই ব্যক্তি যিনি কল্যাণ সাধন, ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণের গুরুত্ব প্রদান করেন (৪)।

--------------------------------------------

(১) তাফসির তাবারী ৫/৫৮; সুয়ূতী আদ-দুররুল মানসুর ২/১৬৭-এ এটি উল্লেখ করেছেন এবং আশ'আস ইবনে আব্দুল মালিকের সূত্র (طريق) থেকে হাসানের বর্ণনা হিসেবে এটি ইবনে আবি হাতিমের দিকেও সম্বন্ধ করেছেন। তদ্রূপ সুয়ূতী কাতাদাহর সূত্র (طريق) থেকে হাসানের বর্ণনা হিসেবে এটি আবদ ইবনে হুমাইদের দিকেও এবং জারীর ইবনে হাযিমের সূত্র (طريق) থেকে হাসানের বর্ণনা হিসেবে এটি ফিরইয়াবি, আবদ ইবনে হুমাইদ, ইবনে জারীর, ইবনুল মুনযির, ইবনে আবি হাতিম ও ইবনে মারদুওয়াইহের দিকেও সম্বন্ধ করেছেন।

(২) পূর্বোক্ত উৎস।

(৩) তাফসির আয়াতিল আহকাম, শায়খ মুহাম্মদ আলী আস-সাইস ২/৯৬।

(৪) তাফসির আল-বায়দাবির ওপর মহিউদ্দিন জাদাহর টিকা (حاشية) ২/৩১।
(খণ্ড: ১) আন-নুশুয বাইনায যাওজাইন (পৃষ্ঠা: ১৯)
وعلى هذا فقوامة الرجل على المرأة تستلزم رعايته لها، وتربيتها، وإصلاحها بما أوتي من عقل أكمل من عقلها، وعلم أغزر من علمها غالباً، وبعد نظر في مبادئ الأمور ونهاياتها أبعد من نظرها، يضاف إلى ذلك أنه دفع مهراً لم تدفعه، والتزم بنفقات لم تلتزم هي بشيء منها (1) .

هذا مع ما أوتي الرجل من قوة وهيبة ليست لها، لذا استحق عليها شرعاً وعقلاً وفطرة الرئاسة والقوامة، ووجبت له عليها الطاعة بالمعروف.

قوله تعالى: {بِمَا فَضَّلَ اللَّهُ بَعْضَهُمْ عَلَى بَعْضٍ وَبِمَا أَنْفَقُوا مِنْ أَمْوَالِهِمْ}

أي: جعل الله القوامة للرجال على النساء لسببين: أحدهما: وهبي فطري، والآخر: كسبي.

وأشار إلى الأول بقوله: {بِمَا فَضَّلَ اللَّهُ بَعْضَهُمْ عَلَى بَعْضٍ} ، أي: يقومون عليهن بالحماية والرعاية والولاية والكفاية قيام الولاة على الرعية بسبب تفضيل الله بعضهم وهم الرجال على بعض وهم النساء، وذلك بما جعل لهم ما ليس لهن من الحول والقوة والاستعداد الفطري في أصل الخلقة، وكمال العقل والإدراك، واعتدال العاطفة، مع سداد في الرأي، وقوة في العزم، والحزم، والتحمل، وكذا بعد النظر، ومزيد القوة في العلوم والأعمال والطاعات.

وهذا لا يعني انعدام تلك الصفات في النساء، لكنها في الرجال أقوى وأكمل وأتم. فكان التفاوت في التكاليف والأحكام أثر التفاوت في الفطرة والاستعداد. ثم إن تلك القوامة إنما استحقت بالفضل، لا بالتغلب والاستطالة والقهر.

وأما السبب الآخر في استحقاق الرجال القوامة على النساء فهو كسبي، وأشار إليه بقوله: {وَبِمَا أَنْفَقُوا مِنْ أَمْوَالِهِمْ} أي: من المهور والنفقات والسكنى

--------------------------------------------

(1) وانظر: أيسر التفاسير للشيخ أبي بكر الجزائري 1/396.
এ অনুযায়ী নারীর ওপর পুরুষের অভিভাবকত্ব (قوامة) তার তত্ত্বাবধান, পরিচর্যা ও সংশোধনের দাবি রাখে; যেহেতু তাকে এমন পূর্ণাঙ্গ বুদ্ধিবৃত্তি (عقل), প্রখর জ্ঞান (علم) এবং বিষয়াবলির শুরু ও পরিণতির বিষয়ে সুদূরপ্রসারী দূরদর্শিতা দান করা হয়েছে যা সাধারণত নারীর মধ্যে থাকে না। এর সাথে যুক্ত হয়েছে যে, তিনি মোহর প্রদান করেছেন যা নারী করেনি এবং তিনি সেই সব ব্যয়নির্বাহের দায়িত্ব নিয়েছেন যেগুলোর কোনোটির দায়ভার নারীর ওপর নেই (১) ।

এর পাশাপাশি পুরুষকে এমন শক্তি ও প্রভাব দান করা হয়েছে যা নারীর নেই। ফলে শরয়ি, যৌক্তিক ও স্বভাবজাত বিবেচনায় তিনি নেতৃত্ব ও অভিভাবকত্বের (قوامة) অধিকারী হয়েছেন এবং ন্যায়সঙ্গত কাজে তার আনুগত্য করা নারীর ওপর ওয়াজিব হয়েছে।

আল্লাহ তাআলার বাণী: {যেহেতু আল্লাহ তাদের একজনকে অন্যজনের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন এবং যেহেতু তারা তাদের সম্পদ ব্যয় করে}

অর্থাৎ: আল্লাহ তাআলা দুটি কারণে নারীদের ওপর পুরুষদের অভিভাবকত্ব (قوامة) সাব্যস্ত করেছেন: একটি হলো দানকৃত ও প্রকৃতিগত (وهبي فطري), আর অন্যটি হলো অর্জিত (كسبي)।

তিনি প্রথম কারণটির দিকে ইঙ্গিত করেছেন তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: {যেহেতু আল্লাহ তাদের একজনকে অন্যজনের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন}। অর্থাৎ, শাসকরা যেমন প্রজাদের দেখাশোনা করেন, পুরুষরাও তেমনি সুরক্ষা, তত্ত্বাবধান, অভিভাবকত্ব (ولاية) ও ভরণপোষণের মাধ্যমে নারীদের ওপর দায়িত্ব পালন করেন। কারণ আল্লাহ তাদের মধ্যে পুরুষদের এক বিশেষ মর্যাদা দিয়েছেন যা নারীদের দেননি। এর অন্তর্ভুক্ত হলো সৃষ্টিগতভাবে সামর্থ্য, শক্তি, স্বভাবজাত যোগ্যতা, বুদ্ধিবৃত্তি (عقل) ও উপলব্ধির পূর্ণতা, আবেগের ভারসাম্য, সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা, দৃঢ় সংকল্প, সতর্কতা, ধৈর্য ও দূরদর্শিতা এবং জ্ঞান, আমল ও ইবাদতের ক্ষেত্রে অধিকতর সক্ষমতা।

এর অর্থ এই নয় যে, নারীদের মধ্যে এসব গুণাবলি একেবারেই অনুপস্থিত; বরং পুরুষদের মধ্যে এগুলো অধিক শক্তিশালী, পূর্ণাঙ্গ ও নিখুঁত। সুতরাং দায়িত্ব ও বিধানের (أحكام) যে পার্থক্য দেখা যায়, তা সৃষ্টিগত প্রকৃতি ও যোগ্যতার পার্থক্যেরই প্রতিফলন। অধিকন্তু, এই অভিভাবকত্ব (قوامة) শ্রেষ্ঠত্বের মাধ্যমেই অর্জিত হয়েছে, জবরদস্তি, দাম্ভিকতা বা বলপ্রয়োগের মাধ্যমে নয়।

আর পুরুষদের অভিভাবকত্ব (قوامة) লাভের দ্বিতীয় কারণটি হলো অর্জিত (كسبي)। তিনি এর দিকে ইঙ্গিত করেছেন তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: {এবং যেহেতু তারা তাদের সম্পদ ব্যয় করে} অর্থাৎ মোহরানা, ভরণপোষণ এবং বাসস্থানের ব্যয়ভার বহনের মাধ্যমে।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: শায়খ আবু বকর আল-জাযাইরি রচিত আইসারুত তাফাসির ১/৩৯৬।
(খণ্ড: ১) আন-নুশুয বাইনায যাওজাইন (পৃষ্ঠা: ২০)
ونحوها مما أوجبه الله عليهم لهن في كتابه وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم، فالرجال أقدر على الكسب والتحصيل والتصرف في سائر الأمور، فلأجل هذا كانوا هم المكلفين بنفقة النساء ورعايتهن وحمايتهن، والقائمين بأمر الولاية والرئاسة عليهن.

وفي تفسير المنار: قوله: {وَبِمَا أَنْفَقُوا مِنْ أَمْوَالِهِمْ} ومن ذلك المهور، فإن في المهور تعويضاً للنساء ومكافأة على دخولهن بعقد الزوجية تحت رئاسة الرجال، فالشريعة كرمت المرأة إذ فرضت لها مكافأة عن أمر تقتضيه الفطرة ونظام المعيشة، وهو أن يكون زوجها قيماً عليها، فجعل هذا الأمر من قبيل الأمور العرفية التي يتواضع الناس عليها بالعقود لأجل المصلحة … فلا ينبغي للرجل أن يبغي بفضل قوته على المرأة، ولا للمرأة أن تستثقل فضله وتعده خافضاً لقدرها … وقد مضت الحكمة في فضل الرجل على المرأة في القوة والقدرة على الكسب والحماية، وذلك هو الذي يتيسر لها به القيام بوظيفتها الفطرية، وهي الحمل والولادة وتربية الأطفال، وهي آمنة في سربها، مكفية ما يهمها من أمر رزقها … (1) .

وجاء في تفسير آيات الأحكام للشيخ محمد علي الصابوني: قضت السنة الكونية وظروف الحياة الاجتماعية أن يكون في الأسرة قيم يدير شؤونها، ويتعهد أحوالها، وينفق من ماله عليها، لتؤدي رسالتها على أكمل الوجوه، ولتكون نواةً للمجتمع الإنساني الذي ينشده الإسلام، إذ في صلاح الأسرة صلاح المجتمع، وفي فساد الأسرة وخرابها خراب المجتمع.

ولما كان الرجل أقدر على تحمل هذه المسؤولية من المرأة، بما وهبه الله من العقل وقوة العزيمة والإرادة، وبما كلفه من السعي والإنفاق على المرأة

--------------------------------------------

(1) تفسير المنار 5/67-69.
এবং এ জাতীয় অন্যান্য বিষয় যা আল্লাহ তাদের জন্য পুরুষদের ওপর তাঁর কিতাব এবং তাঁর রাসুলের সুন্নাহতে আবশ্যক করেছেন (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। পুরুষরা উপার্জনকরণ, আহরণ এবং যাবতীয় বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণে অধিকতর সক্ষম; একারণেই তারা নারীদের ভরণপোষণ, দেখাশোনা ও সুরক্ষার দায়িত্বপ্রাপ্ত এবং তাদের অভিভাবকত্ব ও নেতৃত্বের আঞ্জামদানকারী।

এবং তাফসীরে আল-মানারে রয়েছে: মহান আল্লাহর বাণী: {এবং তারা তাদের সম্পদ হতে যা ব্যয় করে}, এর অন্তর্ভুক্ত হলো মোহরানা। কেননা মোহরানার মধ্যে রয়েছে নারীদের জন্য ক্ষতিপূরণ এবং পুরুষদের নেতৃত্বের অধীনে বৈবাহিক চুক্তিতে প্রবেশের একটি প্রতিদান। শরীয়াহ নারীকে সম্মানিত করেছে যখন এটি তার জন্য এমন এক প্রতিদান নির্ধারণ করেছে যা স্বভাবজাত প্রবৃত্তি এবং জীবন ব্যবস্থার দাবি; আর তা হলো তার স্বামী তার রক্ষণাবেক্ষণকারী হবে। ফলে এই বিষয়টি এমন প্রথাগত বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে যা মানুষ জনকল্যাণের স্বার্থে চুক্তির মাধ্যমে স্থির করে থাকে … সুতরাং পুরুষের উচিত নয় তার শক্তির আধিক্য দিয়ে নারীর ওপর অবিচার করা, আর নারীর জন্যও তার শ্রেষ্ঠত্বকে বোঝা মনে করা এবং একে নিজের মর্যাদা হানিকর গণ্য করা সমীচীন নয় … পুরুষের শক্তিমত্তা এবং উপার্জন ও সুরক্ষার সক্ষমতার ক্ষেত্রে নারীর ওপর শ্রেষ্ঠত্বের মধ্যে প্রজ্ঞা নিহিত রয়েছে, যার মাধ্যমে নারীর জন্য তার স্বভাবজাত দায়িত্ব পালন করা সহজ হয়—যা হলো গর্ভধারণ, সন্তান প্রসব এবং শিশু প্রতিপালন; এমতাবস্থায় সে তার গৃহে নিরাপদ থাকে এবং তার জীবিকার প্রয়োজনীয় বিষয়াদি থেকে নিশ্চিন্ত থাকে … (১)।

শায়খ মুহাম্মাদ আলী আস-সাবুনীর তাফসীরু আয়াতিল আহকাম-এ এসেছে: মহাজাগতিক নিয়ম এবং সামাজিক জীবনের প্রেক্ষাপট নির্ধারণ করেছে যে, পরিবারে একজন রক্ষণাবেক্ষণকারী থাকবে যে তার কার্যাবলি পরিচালনা করবে, অবস্থাদি তদারকি করবে এবং নিজের সম্পদ থেকে ব্যয় করবে; যাতে পরিবার তার দায়িত্ব পূর্ণাঙ্গভাবে পালন করতে পারে এবং ইসলাম যে মানবিক সমাজ কামনা করে তার ভিত্তি হতে পারে। কেননা পরিবারের সংশোধনের মধ্যেই সমাজের সংশোধন নিহিত, আর পরিবারের বিচ্যুতি ও ধ্বংসের মধ্যেই সমাজের ধ্বংস নিহিত।

যেহেতু পুরুষ এই দায়িত্ব পালনে নারীর চেয়ে অধিক সক্ষম—যা আল্লাহ তাকে বুদ্ধি, দৃঢ় সংকল্প ও ইচ্ছাশক্তির মাধ্যমে দান করেছেন এবং নারীর জন্য প্রচেষ্টা ও ব্যয়ের যে দায়িত্ব তাকে অর্পণ করেছেন তার মাধ্যমে।

--------------------------------------------

(১) তাফসীরে আল-মানার ৫/৬৭-৬৯।
(খণ্ড: ১) আন-নুশুয বাইনায যাওজাইন (পৃষ্ঠা: ২১)
والأولاد، كان هو الأحق بهذه القوامة، التي هي في الحقيقة درجة مسؤولية وتكليف … وليست للسيطرة والاستعلاء، إذ لابد لكل أمر هام من رئيس يتولى شؤون التدبير والقيادة. وقد جعل الله للرجال حق القيام على النساء بالتأديب والتدبير والحفظ والصيانة (1) .

والحاصل: أن الرجل أكمل من المرأة، ويسد ما لا تسده المرأة من المناصب الدينية والدنيوية، والولايات وحفظ الثغور والجهاد وعمارة الأرض، وغير ذلك من الأعمال والصنائع.

ويقول الشيخ العلامة عبد الرحمن بن ناصر السعدي رحمه الله:

هذا خبر وأمر، أي: الرجال قوامون على النساء في أمور الدين والدنيا، يلزمونهن بحقوق الله، والمحافظة على فرائضه، ويكفونهن عن جميع المعاصي والمفاسد، وبتقويمهن بالأخلاق الجميلة والآداب الطيبة. وقوامون أيضا عليهن بواجباتهن من النفقة والكسوة والمسكن وتوابع ذلك؛ {بِمَا فَضَّلَ اللَّهُ بَعْضَهُمْ عَلَى بَعْضٍ وَبِمَا أَنْفَقُوا مِنْ أَمْوَالِهِمْ} ، أي: ذلك بسبب فضل الرجال عليهن وإفضالهم عليهن، فتفضيل الرجال على النساء من وجوه متعددة: من كون الولايات كلها مختصة بالرجال، وكذا النبوة والرسالة، وباختصاصهم بالجهاد البدني، ووجوب الجماعة والجمعة ونحو ذلك، وبما تميزوا به عن النساء من العقل والرزانة والحفظ والصبر والجلد والقوة التي ليست للنساء، وكذلك يده هي العليا عليها بالنفقات المتنوعة، بل وكثير من النفقات الأخر والمشاريع الخيرية، فإن الرجال يفضلون النساء بذلك كما هو مشاهد، ولهذا حذف المتعلق في قوله: {وَبِمَا أَنْفَقُوا مِنْ أَمْوَالِهِمْ} ، ليدل على التعميم، فعلم من ذلك أن الرجل

--------------------------------------------

(1) تفسير آيات الأحكام للصابوني 1/473-474.
এবং সন্তান-সন্ততি; তিনিই এই অভিভাবকত্বের অধিকতর যোগ্য, যা মূলত দায়িত্ব ও কর্তব্যের একটি পর্যায় … এবং এটি আধিপত্য বিস্তার বা শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশের জন্য নয়, কেননা প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের জন্য একজন প্রধান থাকা আবশ্যক যিনি ব্যবস্থাপনা ও নেতৃত্বের বিষয়গুলো পরিচালনা করবেন। আর আল্লাহ তাআলা পুরুষদেরকে শাসন, ব্যবস্থাপনা, হেফাজত ও রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে নারীদের ওপর কর্তৃত্বের অধিকার দান করেছেন (১)।

সারকথা হলো: পুরুষ নারীর চেয়ে অধিকতর পূর্ণাঙ্গ এবং সে দ্বীনি ও দুনিয়াবি পদমর্যাদা, নেতৃত্ব, সীমান্ত রক্ষা, জিহাদ, পৃথিবীর আবাদ এবং অন্যান্য কাজ ও শিল্পে এমন সব শূন্যস্থান পূরণ করে যা নারী করতে সক্ষম নয়।

আল্লামা শায়খ আব্দুর রহমান ইবনে নাসির আস-সাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন:

এটি একটি সংবাদ ও আদেশ, অর্থাৎ: পুরুষরা দ্বীন ও দুনিয়ার বিষয়ে নারীদের ওপর দায়িত্বশীল, তারা তাদেরকে আল্লাহর হকসমূহ পালন এবং তাঁর ফরজসমূহ সংরক্ষণে বাধ্য করবে এবং তাদেরকে যাবতীয় পাপাচার ও অনর্থক বিষয় থেকে বিরত রাখবে এবং সুন্দর চরিত্র ও উত্তম শিষ্টাচারের মাধ্যমে তাদের সংশোধন করবে। তারা তাদের ওপর আরও অভিভাবকত্ব পালন করে তাদের পাওনা ভরণপোষণ, পোশাক, বাসস্থান এবং এর আনুষঙ্গিক বিষয়াদি প্রদানের মাধ্যমে; {যেহেতু আল্লাহ তাদের একের ওপর অন্যকে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন এবং তারা তাদের সম্পদ থেকে ব্যয় করে}, অর্থাৎ: এটি নারীদের ওপর পুরুষদের মর্যাদা ও অনুগ্রহের কারণে। নারীদের ওপর পুরুষদের এই শ্রেষ্ঠত্ব বহুবিধ দিক থেকে: যেমন যাবতীয় নেতৃত্ব পুরুষদের জন্য নির্দিষ্ট হওয়া, তদ্রূপ নবুওয়াত ও রিসালাত, শারীরিক জিহাদের বিশেষত্ব, জামায়াত ও জুমার ওয়াজিব হওয়া এবং এই জাতীয় বিষয়সমূহ। এছাড়া তারা আকল, গাম্ভীর্য, স্মরণশক্তি (حفظ), ধৈর্য, সহনশীলতা ও শক্তির দিক থেকেও নারীদের চেয়ে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের অধিকারী, যা নারীদের মাঝে নেই। তেমনিভাবে বিভিন্ন ব্যয়ের ক্ষেত্রে তার হাতই তাদের ওপর উচ্চ থাকে, বরং অন্যান্য অনেক দান ও কল্যাণকর প্রকল্পের ক্ষেত্রেও পুরুষরা নারীদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব রাখে যেমনটি পরিলক্ষিত হয়। এই কারণেই তাঁর বাণী—{এবং তারা তাদের সম্পদ থেকে যা ব্যয় করে}—এ ব্যয় করার ক্ষেত্রটি উহ্য রাখা হয়েছে যাতে ব্যাপকতা বোঝানো যায়। এ থেকে জানা গেল যে, পুরুষ

--------------------------------------------

(১) তাফসিরু আয়াতিল আহকাম, আস-সাবুনি ১/৪৭৩-৪৭৪।
(খণ্ড: ১) আন-নুশুয বাইনায যাওজাইন (পৃষ্ঠা: ২২)
كالوالي والسيد على امرأته، وهي عنده أسيرة عانية تحت أمره وطاعته، فليتق الله في أمرها، وليقومها تقويما ينفعه في دينه ودنياه، وفي بيته وعائلته، يجد ثمرات ذلك عاجلاً وآجلاً، وإلا يفعل فلا يلومن إلا نفسه (1) .

وحول بعض المباحث اللغوية والبلاغية في الآية يقول الشيخ محمد الطاهر ابن عاشور: وقيام الرجال على النساء هو قيام الحفظ والدفاع، وقيام الاكتساب والإنتاج المالي، ولذلك قال: {بِمَا فَضَّلَ اللَّهُ بَعْضَهُمْ عَلَى بَعْضٍ وَبِمَا أَنْفَقُوا مِنْ أَمْوَالِهِمْ} أي بتفضيل الله بعضهم على بعض، وبإنفاقهم من أموالهم إن كانت ((ما)) في الجملتين مصدرية، أو بالذي فضل الله به بعضهم، وبالذي أنفقوه من أموالهم إن كانت ((ما)) فيهما موصولة … فالتفضيل هو المزايا الجبلية التي تقتضي حاجة المرأة إلى الرجل في الذب عنها وحراستها … وهذا التفضيل ظهرت آثاره على مر العصور والأجيال، فصار حقا مكتسباً للرجال، وهذه حجة برهانية على كون الرجال قوامين على النساء، فإن حاجة النساء إلى الرجال من هذه الناحية مستمرة، وإن كانت تقوى وتضعف.

وقولُه: {وَبِمَا أَنْفَقُوا} جيء بصيغة الماضي للإيماء إلى أن ذلك أمر قد تقرر في المجتمعات الإنسانية منذ القدم، فالرجال هم العائلون لنساء العائلة، من أزواج وبنات. وأضيفت الأموال إلى ضمير الرجال، لأن الاكتساب من شأن الرجال، فقد كان في عصور البداوة بالصيد وبالغارة وبالغنائم والحرث، وذلك من عمل الرجال، وزاد اكتساب الرجال في عصور الحضارة بالغرس والتجارة والإجارة والأبنية ونحو ذلك، وهذه حجة خطابية، لأنها ترجع إلى مصطلح غالب البشر، لاسيما العرب.. ومن بديع الإعجاز صوغ قوله: {بِمَا فَضَّلَ اللَّهُ

--------------------------------------------

(1) تيسير اللطيف المنان في خلاصة تفسير القرآن ص 108-109.
যেমন একজন অভিভাবক এবং তার স্ত্রীর ওপর একজন কর্তার ন্যায়; আর স্ত্রী তার নিকট তার আদেশ ও আনুগত্যের অধীনে একজন বন্দিনীর মতো। সুতরাং তার ব্যাপারে সে যেন আল্লাহকে ভয় করে এবং তাকে এমনভাবে পরিচালিত করে যা তার দ্বীন ও দুনিয়ায় এবং তার ঘর ও পরিবারের ক্ষেত্রে উপকারে আসে। সে এর ফল দ্রুত অথবা বিলম্বে লাভ করবে; অন্যথায় সে যেন কেবল নিজেকেই তিরস্কার করে (১)।

আয়াতের কিছু ভাষাগত ও অলঙ্কারশাস্ত্রীয় আলোচনা প্রসঙ্গে শাইখ মুহাম্মদ আত-তাহির ইবনে আশুর বলেন: নারীদের ওপর পুরুষদের এই শ্রেষ্ঠত্ব বা পরিচালনা (قيام) হলো রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রতিরক্ষা এবং উপার্জন ও আর্থিক উৎপাদনের পরিচালনা। আর এই কারণেই তিনি বলেছেন: {যেহেতু আল্লাহ তাদের এককে অপরের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন এবং যেহেতু তারা তাদের সম্পদ থেকে ব্যয় করে}। অর্থাৎ আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের এককে অপরের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব প্রদানের মাধ্যমে এবং তাদের সম্পদ ব্যয়ের মাধ্যমে—যদি উভয় বাক্যে ‘মা’ শব্দটি ক্রিয়ামূলীয় (مصدرية) অর্থে হয়; অথবা সেই শ্রেষ্ঠত্বের কারণে যা আল্লাহ তাদের এককে অন্যের ওপর দান করেছেন এবং যা তারা ব্যয় করেছে—যদি উভয় ক্ষেত্রে ‘মা’ শব্দটি সম্বন্ধসূচক (موصولة) অর্থে হয় … এখানে শ্রেষ্ঠত্ব বলতে সেই সহজাত বৈশিষ্ট্যসমূহকে (المزايا الجبلية) বোঝানো হয়েছে যা নারীর নিরাপত্তা ও সুরক্ষার ক্ষেত্রে পুরুষের মুখাপেক্ষী হওয়ার দাবি রাখে … আর এই শ্রেষ্ঠত্বের প্রভাব যুগ যুগ ধরে প্রকাশ পেয়েছে, ফলে তা পুরুষদের জন্য একটি অর্জিত অধিকারে পরিণত হয়েছে। আর এটি পুরুষদের নারীদের ওপর কর্তৃত্বশীল (قوامون) হওয়ার পক্ষে একটি অকাট্য যুক্তি (حجة برهانية); কারণ এই দিক থেকে পুরুষদের প্রতি নারীদের প্রয়োজনীয়তা নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যমান, যদিও তা কখনো বৃদ্ধি পায় আবার কখনো হ্রাস পায়।

আর তাঁর বাণী: {এবং যেহেতু তারা ব্যয় করে}—এখানে অতীতকাল ব্যবহার করা হয়েছে এটা ইঙ্গিত করার জন্য যে, বিষয়টি প্রাচীনকাল থেকেই মানব সমাজে সুনির্ধারিত হয়ে আছে। সুতরাং পুরুষরাই হলো পরিবারের নারী সদস্যদের, তথা স্ত্রী ও কন্যাদের ভরণপোষণকারী। আর সম্পদকে পুরুষদের সর্বনামের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে, কারণ উপার্জন করা পুরুষদেরই বৈশিষ্ট্য। যা যাযাবর যুগে শিকার, অভিযান, যুদ্ধলব্ধ সম্পদ এবং চাষাবাদের মাধ্যমে সম্পন্ন হতো এবং তা ছিল পুরুষদেরই কাজ। পরবর্তীতে সভ্যতার যুগে বাগান করা, ব্যবসা-বাণিজ্য, ইজারা এবং অট্টালিকা নির্মাণের মাধ্যমে পুরুষদের উপার্জন বৃদ্ধি পায়। আর এটি একটি আলঙ্কারিক যুক্তি (حجة خطابية), কারণ এটি অধিকাংশ মানুষের, বিশেষ করে আরবদের প্রচলিত পরিভাষার দিকে প্রত্যাবর্তন করে... আর অলৌকিকত্বের এক অনুপম সৌন্দর্য হলো তাঁর এই বাণী প্রদান: {যেহেতু আল্লাহ শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন...

--------------------------------------------

(১) তাইসীরুল লাতীফিল মান্নান ফী খুলাসাতিত তাফসীরিল কুরআন, পৃ. ১০৮-১০৯।
(খণ্ড: ১) আন-নুশুয বাইনায যাওজাইন (পৃষ্ঠা: ২৩)
بَعْضَهُمْ عَلَى بَعْضٍ وَبِمَا أَنْفَقُوا مِنْ أَمْوَالِهِمْ} في قالب صالح للمصدرية وللموصولية، فالمصدرية مشعرة بأن القيامية سببها تفضيل من الله وإنفاق. والموصولية مشعرة بأن سببها ما يعلمه الناس من فضل الرجال ومن إنفاقهم، ليصلح الخطاب للفريقين، عالمهم وجاهلهم … ولأن في الإتيان بـ ((ما)) مع الفعل على تقدير احتمال المصدرية جزالة لا توجد في قولنا: بتفضيل الله وبالإنفاق، لأن العرب يرجحون الأفعال على الأسماء في طرق التعبير (1) .

--------------------------------------------

(1) التحرير والتنوير 5/39-40.
...একে অপরের ওপর এবং তারা তাদের সম্পদ থেকে যা ব্যয় করে তার কারণে} - এটি এমন এক কাঠামোতে বিন্যস্ত যা ভাববাচক এবং সংযোজক উভয় অর্থ প্রকাশের উপযোগী। এখানে ভাববাচক হওয়ার বিষয়টি ইঙ্গিত দেয় যে, এই অভিভাবকত্বের কারণ হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রদত্ত শ্রেষ্ঠত্ব এবং সম্পদ ব্যয়। আর সংযোজক হওয়ার বিষয়টি ইঙ্গিত দেয় যে, এর কারণ হলো পুরুষদের মর্যাদা ও তাদের ব্যয় সম্পর্কে মানুষের জানাশোনা; যাতে এই সম্বোধন আলিম ও সাধারণ—উভয় শ্রেণির মানুষের জন্যই সাবলীল হয় … আর যেহেতু ক্রিয়ার সাথে 'মা' ব্যবহার করে ভাববাচক অর্থ গ্রহণের সম্ভাবনা রাখা এমন এক ভাষাগত গাম্ভীর্য তৈরি করে যা আমাদের 'আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান ও ব্যয়ের মাধ্যমে' বলার মধ্যে পাওয়া যায় না। কারণ আরবরা তাদের প্রকাশভঙ্গিতে বিশেষ্যের তুলনায় ক্রিয়াকেই প্রাধান্য দিয়ে থাকে (১)।

--------------------------------------------

(১) আত-তাহরির ওয়াত-তানভির ৫/৩৯-৪০।
(খণ্ড: ১) আন-নুশুয বাইনায যাওজাইন (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌صلاح الزوجة، مفهومه، وأثره في حياة الزوجين

قال الله تعالى: {فَالصَّالِحَاتُ قَانِتَاتٌ حَافِظَاتٌ لِلْغَيْبِ بِمَا حَفِظَ اللَّهُ}

قال القرطبي: هذا كله خبر، ومقصوده الأمر بطاعة الزوج والقيام بحقه في ماله وفي نفسها في حال غيبة الزوج (1) .

فقوله: {فَالصَّالِحَاتُ} أي المستقيمات الدين، العاملات بالخير.

وقولُه: {قَانِتَاتٌ} أي مطيعات لله ولأزواجهن. وأصل القنوت مداومة الطاعة، ومنه القنوت في الوتر لطول القيام.

وقولُه: {حَافِظَاتٌ لِلْغَيْبِ} أي حافظات لأنفسهن عند غيبة أزواجهن عنهن في فروجهن وأموالهم، وللواجب عليهن من حق الله في ذلك وغيره.

وقولُه: {بِمَا حَفِظَ اللَّهُ} أي حفظ الله إياهن من معاصيه وما أمدهن به من معونته وتوفيقه (2) . "

وأخرج ابن جرير الطبري بسنده عن أبي هريرة، قال: قال رسوله الله صلى الله عليه وسلم: "خير النساء امرأة إذا نظرت إليها سرتك، وإذا أمرتها أطاعتك وإذا غبت عنها حفظتك في نفسها ومالك"، قال: ثم قرأ رسول الله صلى الله عليه وسلم: {الرِّجَالُ قَوَّامُونَ عَلَى النِّسَاءِ} الآية.

ثم قال ابن جرير: وهذا الخبر عن رسول الله صلى الله عليه وسلم يدل على صحة ما قلنا في تأويل ذلك، وأن معناه: صالحات في أديانهن، مطيعات لأزواجهن، حافظات لهم في أنفسهن وأموالهم (3) .

--------------------------------------------

(1) تفسير القرطبي 5/170.

(2) تفسير الطبري 5/59-60، وأحكام القرآن للجصاص 2/188.

(3) تفسير الطبري 5/60.
স্ত্রীর নেককার হওয়া: এর ধারণা এবং দম্পতির জীবনে এর প্রভাব

আল্লাহ তাআলা বলেন: {সুতরাং নেককার নারীগণ অনুগত এবং আল্লাহর হিফাযতে (স্বামীর) অনুপস্থিতিতে হিফাযতকারী}

ইমাম কুরতুবী বলেন: এ সবটুকুই সংবাদ (خبر), তবে এর মূল উদ্দেশ্য হলো স্বামীর আনুগত্য করার এবং স্বামীর অনুপস্থিতিতে তার সম্পদ ও নিজের ব্যাপারে তার অধিকার আদায় করার নির্দেশ প্রদান করা (১)।

তাঁর বাণী: {নেককার নারীগণ} এর অর্থ হলো দ্বীনের ওপর অবিচল এবং সৎকর্মশীল নারী।

তাঁর বাণী: {অনুগত} এর অর্থ হলো আল্লাহ এবং তাদের স্বামীদের অনুগত। মূলত 'কুনুত' (قنوت) এর মূল অর্থ হলো আনুগত্যে অবিচল থাকা; আর এ থেকেই দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার কারণে বিতর নামাজে কুনুত পড়ার নামকরণ করা হয়েছে।

তাঁর বাণী: {অনুপস্থিতিতে হিফাযতকারী} এর অর্থ হলো স্বামীর অনুপস্থিতিতে নিজেদের সতীত্ব ও স্বামীর সম্পদের হিফাযতকারী এবং এ বিষয়ে আল্লাহর হকের অন্তর্ভুক্ত অন্যান্য ওয়াজিব বিষয়াদি হিফাযতকারী।

তাঁর বাণী: {যেহেতু আল্লাহ হিফাযত করেছেন} এর অর্থ হলো আল্লাহ তাআলা তাদেরকে তাঁর অবাধ্যতা থেকে হিফাযত করেছেন এবং তাদেরকে তাঁর সাহায্য ও তাওফীক প্রদান করেছেন (২)।

ইবনে জারীর তাবারী তাঁর সনদ (سند) সহ আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "সেই নারীই সর্বোত্তম, যার দিকে তাকালে সে তোমাকে আনন্দিত করে, তাকে আদেশ করলে সে তোমার আনুগত্য করে এবং তুমি তার থেকে দূরে থাকলে সে নিজের সতীত্ব ও তোমার সম্পদের হিফাযত করে।" বর্ণনাকারী বলেন: এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঠ করলেন: {পুরুষগণ নারীদের উপর কর্তৃত্বশীল...} আয়াতটি।

এরপর ইবনে জারীর বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত এই সংবাদ (خبر) আমাদের করা ব্যাখ্যার সঠিকতা (صحة) প্রমাণ করে। আর এর অর্থ হলো: তারা তাদের দ্বীনের ব্যাপারে নেককার, স্বামীদের অনুগত এবং তাদের অনুপস্থিতিতে নিজেদের সতীত্ব ও সম্পদের হিফাযতকারী (৩)।

--------------------------------------------

(১) তাফসীর কুরতুবী ৫/১৭০।

(২) তাফসীর তাবারী ৫/৫৯-৬০ এবং জাসাসের আহকামুল কুরআন ২/১৮৮।

(৩) তাফসীর তাবারী ৫/৬০।
(খণ্ড: ১) আন-নুশুয বাইনায যাওজাইন (পৃষ্ঠা: ২৫)
ويقول محي الدين شيخ زاده في حاشيته على تفسير البيضاوي:

قولُه تعالى: {قَانِتَاتٌ} أي مطيعات، والطاعة عام في طاعة الله وطاعة الأزواج، والصالحات: جمع محلى باللام، فيحمل على الاستغراق، فيدل على أن كل امرأة صالحة لابد أن تكون مطيعة لله تعالى دائماً ولزوجها كذلك، وأن تكون عند غيبة الزوج حافظة لموجوب الغيبة، وظاهر الآية إخبار، والمراد الأمر، فعلم منه أن المرأة لا تكون صالحة إلا إذا كانت مطيعة لله تعالى ولزوجها حال حضوره، وحافظة لحق الزوج وحرمته حال غيبته (1) .

وفي فتح القدير للشوكاني: قوله: (َالصَّالِحَاتُ) أي من النساء (قَانِتَاتٌ) أي مطيعات لله قائمات بما يجب عليهن من حقوق الله وحقوق أزواجهن،

(حَافِظَاتٌ لِلْغَيْبِ) أي لما يجب حفظه عند غيبة أزواجهن عنهن، من حفظ نفوسهن وحفظ أموالهم، و ((ما)) في قوله: (بِمَا حَفِظَ اللَّهُ) مصدرية، أي بحفظ الله، والمعنى: أنهن حافظات لغيب أزواجهن بحفظ الله لهن ومعونته وتسديده، أو حافظات له بما استحفظهن من أداء الأمانة إلى أزواجهن على الوجه الذي أمر الله به، أو حافظات له بحفظ الله لهن بما أوصى به الأزواج في شأنهن من حسن العشرة. ويجوز أن تكون ((ما)) موصولة والعائد محذوف. وقرأ أبو جعفر (بِمَا حَفِظَ اللَّهُ) بنصب الاسم الشريف، والمعنى: بما حفظن الله، أي حفظن أمره، أو حفظن دينه، فحذف الضمير الراجع إليهن للعلم به. و ((ما)) على هذه القراءة مصدرية، أو موصولة، كالقراءة الأولى، أي بحفظهن الله، أو بالذي حفظن الله به (2) .

--------------------------------------------

(1) حاشية محي الدين شيخ زاده على تفسير البيضاوي 2/32.

(2) فتح القدير 1/694-695، وانظر: القراءات في قوله: ? {بِمَا حَفِظَ اللَّهُ} مع توجيهها في اللباب في علوم الكتاب لابن عادل الحنبلي 6/361-362، والنشر في القراءات العشر لابن الجزري 2/249.
মুহিউদ্দীন শেখ জাদা তাঁর তাফসিরে বায়দাওয়ীর হাশিয়ায় বলেন:

মহান আল্লাহর বাণী: {কানিতাত} অর্থাৎ অনুগত; আর আনুগত্য মহান আল্লাহর আনুগত্য এবং স্বামীদের আনুগত্য—উভয় ক্ষেত্রেই ব্যাপক। আর ‘আস-সালিহাত’ হলো ‘লাম’ যুক্ত বহুবচন, যা ব্যাপকতা নির্দেশ করে। ফলে এটি প্রমাণ করে যে, প্রত্যেক পুণ্যবতী নারীর জন্য সর্বদা মহান আল্লাহর অনুগত থাকা এবং একইভাবে তার স্বামীর অনুগত থাকা অপরিহার্য। এছাড়া স্বামীর অনুপস্থিতিতে তার (স্বামীর) অনুপস্থিতিকালীন প্রাপ্য বিষয়গুলো রক্ষা করাও আবশ্যক। আয়াতের বাহ্যিক রূপটি সংবাদমূলক হলেও এর দ্বারা মূলত নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। ফলে এ থেকে জানা গেল যে, কোনো নারী ততক্ষণ পর্যন্ত পুণ্যবতী হতে পারবে না যতক্ষণ না সে মহান আল্লাহর অনুগত হবে এবং স্বামীর উপস্থিতিতে তার প্রতি অনুগত থাকবে, আর স্বামীর অনুপস্থিতিতে তার হক ও মর্যাদার হেফাজতকারী হবে (১)।

শাওকানী রচিত ফাতহুল কাদীর গ্রন্থে রয়েছে: মহান আল্লাহর বাণী: (আস-সালিহাত) অর্থাৎ সেই সকল নারী যারা (কানিতাত) তথা আল্লাহর অনুগত এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের ওপর অর্পিত হকসমূহ ও স্বামীদের হকসমূহ পালনে যত্নশীল।

(হাফিজাতুন লিল-গাইবি) অর্থাৎ স্বামীদের অনুপস্থিতিতে যা রক্ষা করা আবশ্যক, যেমন নিজেদের সতীত্ব রক্ষা এবং স্বামীদের সম্পদের হেফাজত করা। আর (বিমা হাফিজাল্লাহ) বাণীর মধ্যে ‘মা’ শব্দটি ক্রিয়ামূলীয় বিশেষ্য বা মাসদারিয়্যাহ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে; অর্থাৎ আল্লাহর হেফাজতের মাধ্যমে। এর অর্থ হলো: তারা তাদের স্বামীদের অনুপস্থিতিতে সেগুলোর হেফাজতকারী মূলত মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের রক্ষা, সাহায্য এবং সঠিক পথে পরিচালনার বদৌলতে। অথবা তারা তা রক্ষা করে আল্লাহ তাদের ওপর স্বামীদের আমানত আদায়ের যে দায়িত্ব অর্পণ করেছেন সেই অনুযায়ী, যেভাবে আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন। অথবা তারা তা রক্ষা করে আল্লাহ নারীদের ব্যাপারে স্বামীদের সাথে সদাচরণের যে অসিয়ত করেছেন তার বিনিময়ে আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের প্রতি হেফাজতের কারণে। এখানে ‘মা’ শব্দটি সম্বন্ধসূচক সর্বনাম বা মাউসুলাহ হওয়াও বৈধ, সেক্ষেত্রে উহ্য সর্বনামটি বিলোপ করা হয়েছে বলে গণ্য হবে। আবু জাফর (বিমা হাফিজাল্লাহ) পাঠ করেছেন মহান আল্লাহর নামের শেষে নসব বা জবর দিয়ে; এর অর্থ হলো: তারা আল্লাহর নির্দেশের হেফাজত করে অথবা তাঁর দ্বীনের হেফাজত করে। এখানে নারীদের দিকে প্রত্যাবর্তনকারী সর্বনামটি জানা থাকার কারণে বিলোপ করা হয়েছে। আর এই কিরাত অনুযায়ী ‘মা’ শব্দটি মাসদারিয়্যাহ অথবা মাউসুলাহ হতে পারে, যা প্রথম কিরাতের মতোই; অর্থাৎ তাদের আল্লাহর বিধান রক্ষার মাধ্যমে অথবা যার দ্বারা তারা আল্লাহর বিধান রক্ষা করে (২)।

--------------------------------------------

(১) তাফসিরে বায়দাওয়ীর ওপর মুহিউদ্দীন শেখ জাদার হাশিয়া, ২/৩২।

(২) ফাতহুল কাদীর ১/৬৯৪-৬৯৫, এবং দেখুন: ইবন আদিল আল-হাম্বালী রচিত আল-লুবাব ফি উলূমিল কিতাব-এ ‘বিমা হাফিজাল্লাহ’ বাণীর কিরাতসমূহ ও সেগুলোর বিশ্লেষণ ৬/৩৬১-৩৬২, এবং ইবনুল জাযারী রচিত আন-নাশরু ফিল কিরাআতিল আশর ২/২৪৯।
(খণ্ড: ১) আন-নুশুয বাইনায যাওজাইন (পৃষ্ঠা: ২৬)
وهذا الصنف من النساء، الموصوف بما تقدم في الآية يستدعي من الرجال إزاء تلك الصفات كل إكرام واحترام وشفقة وإحسان، مع القيام بكامل حقوقهن وحسن معاشرتهن، دون منٍ أو أذى، بل بكل مودة ورحمة وحسن أداء.

أما الصنف الآخر منهن فله شأن آخر، وهو المذكور في الجزء الآتي من الآية.
নারীদের এই শ্রেণী, যাদের বৈশিষ্ট্যসমূহ আয়াতে ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে, তাদের সেই গুণাবলির প্রেক্ষিতে পুরুষদের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সম্মান, শ্রদ্ধা, মমতা ও সদাচার পাওয়ার দাবি রাখে। সেই সাথে তাদের প্রাপ্য অধিকারসমূহ পূর্ণরূপে আদায় করা এবং কোনো প্রকার খোঁটা বা কষ্ট না দিয়ে বরং অত্যন্ত ভালোবাসা, দয়া ও নিষ্ঠার সাথে তাদের সাথে উত্তম জীবন যাপন করা কর্তব্য।

অন্যদিকে নারীদের মধ্যে যে দ্বিতীয় শ্রেণীটি রয়েছে, তাদের বিষয়টি ভিন্ন; যা আয়াতের পরবর্তী অংশে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আন-নুশুয বাইনায যাওজাইন (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌نشوز الزوجة، مفهومه، وكيفية معالجته من قبل الزوج

قال الله تعالى: {وَاللَّاتِي تَخَافُونَ نُشُوزَهُنَّ فَعِظُوهُنَّ وَاهْجُرُوهُنَّ فِي الْمَضَاجِعِ وَاضْرِبُوهُنَّ}

هذا هو القسم الثاني من قسمي النساء اللاتي جعل الله للرجال عليهن حق القيام كما سبق، وهو خطاب للأزواج وإرشاد لهم إلى طريق القيام عليهن.

(واللاتي) جمع التي، (تخافون) الخوف: هو ما يحصل للمرء من شعور بالفزع، وعدم الأمن عند توقع ضرر أو مكروه، وذلك بظهور بعض الإمارات الدالة عليه. (نشوزهن) : نشوز المرأة ترفعها على الزوج بمخالفته ومعصيته فيما يلزمها من طاعته، مأخوذ من نشز الأرض، وهو الموضع المرتفع منها (1) .

يقول ابن جرير الطبري رحمه الله: وأما قوله: (نشوزهن) فإنه يعني استعلاءهن على أزواجهن، وارتفاعهن عن فرشهم بالمعصية منهن، والخلاف عليهم فيما لزمهن طاعتهم فيه، بغضاً منهن وإعراضاً عنهم.

وأصل النشوز: الارتفاع، ومنه قيل للمكان المرتفع من الأرض نشز، ونشاز (2) .

ونقل الفخر الرازي عن الإمام الشافعي رحمه الله قوله: النشوز قد يكون قولاً وقد يكون فعلا، فالقول مثل أن كانت تلبيه إذا دعاها، وتخضع له بالقول إذا خاطبها، ثم تغيرت، والفعل مثل أن كانت تقوم إليه إذا دخل عليها، أو كانت

تسارع إلى أمره وتبادر إلى فراشه باستبشار إذا التمسها، ثم إنها تغيرت

--------------------------------------------

(1) أحكام القرآن للجصاص 2/189، وتفسير الفخر الرازي 10/92-93.

(2) تفسير الطبري 5/62.
স্ত্রীর অবাধ্যতা (نشوز), এর ধারণা এবং স্বামীর পক্ষ থেকে এর প্রতিকারের পদ্ধতি

মহান আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর যাদের মধ্যে তোমরা অবাধ্যতার (نشوز) আশঙ্কা করো, তবে তাদের সদুপদেশ দাও, তাদের শয্যা বর্জন করো এবং তাদের প্রহার করো}

এটি নারীদের সেই দ্বিতীয় প্রকার যাদের ওপর আল্লাহ পুরুষদের কর্তৃত্ব ও রক্ষণাবেক্ষণের অধিকার প্রদান করেছেন যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। এটি স্বামীদের প্রতি সম্বোধন এবং তাদের স্ত্রীদের পরিচালনার সঠিক পদ্ধতির প্রতি তাদের জন্য দিকনির্দেশনা।

(ওয়াল্লাতী) হলো 'আল্লাতী' এর বহুবচন। (তাখাফুনা) ভয় (الخوف): এটি মানুষের অন্তরে উদিত এমন এক আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি যা কোনো ক্ষতি বা অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয় ঘটার আশঙ্কায় তৈরি হয়, যখন এর পেছনে কিছু লক্ষণ পরিলক্ষিত হয়। (নুশুযুহুন্না): স্ত্রীর অবাধ্যতা (نشوز) হলো স্বামীর অবাধ্য হওয়া এবং যেসব বিষয়ে আনুগত্য করা তার ওপর আবশ্যক সেসব ক্ষেত্রে বিরোধিতার মাধ্যমে নিজেকে স্বামীর ঊর্ধ্বে তুলে ধরা। এটি 'নাশজুল আরদ' (نشز الأرض) থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ হলো ভূমির উঁচু স্থান (১)।

ইবনে জারীর তাবারী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: আর তাঁর বাণী: (নুশুযুহুন্না) এর অর্থ হলো স্বামীদের ওপর তাদের অহংকার প্রদর্শন করা, অবাধ্যতার মাধ্যমে তাদের শয্যা থেকে বিমুখ হওয়া এবং তাদের প্রতি ঘৃণা ও বিমুখতা বশত আবশ্যকীয় আনুগত্যের বিষয়ে বিরোধিতা করা।

অবাধ্যতা বা 'নুশুয' (نشوز) শব্দের মূল অর্থ হলো উচ্চতা। এ কারণেই জমিনের উঁচু স্থানকে 'নাশজ' বা 'নাশায' বলা হয় (২)।

ফখর রাযী ইমাম শাফিঈ (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণনা করেন যে তিনি বলেছেন: অবাধ্যতা (نشوز) কথা ও কাজ উভয় মাধ্যমে হতে পারে। কথার মাধ্যমে অবাধ্যতা হলো যেমন: স্ত্রী আগে স্বামী ডাকলে উত্তর দিত এবং কথা বলার সময় নম্রতা বজায় রাখত, কিন্তু পরবর্তীতে তা পরিবর্তন হয়ে গেল। আর কাজের মাধ্যমে অবাধ্যতা হলো যেমন: আগে স্বামী ঘরে প্রবেশ করলে সে উঠে দাঁড়াত অথবা স্বামীর আহ্বানে সানন্দে দ্রুত শয্যায় আসত, কিন্তু পরবর্তীতে তার আচরণ বদলে গেল...

--------------------------------------------

(১) জাসসাস রচিত আহকামুল কুরআন ২/১৮৯ এবং তাফসিরে ফখর রাযী ১০/৯২-৯৩।

(২) তাফসিরে তাবারী ৫/৬২।
(খণ্ড: ১) আন-নুশুয বাইনায যাওজাইন (পৃষ্ঠা: ২৮)
عن كل ذلك، فهذه إمارات دالة على نشوزها وعصيانها، فحينئذ ظُنّ نشوزها، ومقدمات هذه الأحوال توجب خوف النشوز (1) .

وفي تفسير المنار: قوله عز وجل: {وَاللَّاتِي تَخَافُونَ نُشُوزَهُنَّ … } النشوز في الأصل بمعنى الارتفاع، فالمرأة التي تخرج عن حقوق الرجل قد ترفعت عليه، وحاولت أن تكون فوق رئيسها، بل ترفعت أيضا عن طبيعتها وما يقتضيه نظام الفطرة في التعامل، فتكون كالناشز من الأرض الذي خرج عن الاستواء، وقد فسر بعضهم خوف النشوز بتوقعه فقط، وبعضهم بالعلم به، ولكن يقال لم ترك لفظ العلم واستبدل به لفظ الخوف، أو لِمَ لم يقل: واللاتي ينشزن؟، لا جرم أن في تعبير القرآن حكمة لطيفة، وهي: أن الله تعالى لما كان يحب أن تكون المعيشة بين الزوجين معيشة محبة ومودة وتراض والتئام لم يشأ أن يسند النشوز إلى النساء إسناداً يدل على أن من شأنه أن يقع منهن فعلاً، بل عبر عن ذلك بعبارة تومئ إلى أن من شأنه أن لا يقع، لأنه خروج عن الأصل الذي يقوم به نظام الفطرة، وتطيب به المعيشة، ففي هذا التعبير تنبيه لطيف إلى مكانة المرأة وما هو أولى في شأنها، وإلى ما يجب على الرجل من السياسة لها وحسن التلطف في معاملتها، حتى إذا آنس منها ما يخشى أن يؤول إلى الترفع وعدم القيام بحقوق الزوجية، فعليه أولاً أن يبدأ بالوعظ الذي يرى أنه يؤثر في نفسها … (2) .

--------------------------------------------

(1) تفسير الفخر الرازي 10/92.

(2) تفسير المنار 5/72.
এসব কিছুর মাধ্যমে এটি প্রমাণিত হয় যে, এগুলো তার অবাধ্যতা (نشوز) ও অবাধ্য হওয়ার পরিচায়ক লক্ষণ। তখন তার অবাধ্যতার (نشوز) প্রবল ধারণা হয় এবং এই পরিস্থিতির প্রাথমিক লক্ষণসমূহ অবাধ্যতার (نشوز) আশঙ্কাই তৈরি করে (১)।

তাফসীরে মানার-এ বর্ণিত হয়েছে: মহান আল্লাহর বাণী: {যাদের অবাধ্যতার (نشوز) তোমরা আশঙ্কা করো… } 'নুশুজ' (نشوز) শব্দের মূল অর্থ হলো উচ্চতা বা উন্নীত হওয়া। সুতরাং যে নারী তার স্বামীর প্রাপ্য অধিকার থেকে বিচ্যুত হয়, সে মূলত তার স্বামীর উপরে নিজেকে উন্নীত করে এবং তার অভিভাবকের ঊর্ধ্বে হওয়ার চেষ্টা করে। এমনকি সে তার স্বভাবজাত প্রকৃতি এবং ফিতরাতের বিধিবদ্ধ নিয়ম থেকেও বিচ্যুত হয়। ফলে সে জমিনের সেই উঁচু অংশের মতো হয়ে যায় যা সমতল ভূমি থেকে উপরে উঠে আসে। কেউ কেউ অবাধ্যতার (نشوز) ভয় বা আশঙ্কাকে কেবল এর প্রত্যাশা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন, আবার কেউ কেউ একে নিশ্চিত জ্ঞান (علم) লাভ করা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তবে প্রশ্ন তোলা যায় যে, কেন 'নিশ্চিত জ্ঞান' (علم) শব্দ বাদ দিয়ে 'ভয়' বা 'আশঙ্কা' (خوف) শব্দ ব্যবহার করা হলো? অথবা কেন বলা হলো না: "যারা অবাধ্যতা করে"? নিঃসন্দেহে কুরআনের এই বাচনভঙ্গিতে এক সূক্ষ্ম প্রজ্ঞা নিহিত রয়েছে। তা হলো: মহান আল্লাহ যখন পছন্দ করেন যে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার জীবন হবে ভালোবাসা, হৃদ্যতা, পারস্পরিক সন্তুষ্টি ও মিলমিশপূর্ণ, তখন তিনি নারীদের প্রতি অবাধ্যতাকে (نشوز) এমনভাবে সম্বন্ধ করতে চাননি যা নির্দেশ করে যে এটি তাদের পক্ষ থেকে বাস্তবে সংঘটিত হওয়াই স্বাভাবিক বিষয়। বরং তিনি এমন এক অভিব্যক্তি ব্যবহার করেছেন যা ইঙ্গিত দেয় যে, এটি সংঘটিত না হওয়াই বাঞ্ছনীয়। কারণ এটি সেই মূল নীতি থেকে বিচ্যুতি যার ওপর ফিতরাতের শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত এবং যার মাধ্যমে জীবন আনন্দময় হয়। এই বাচনভঙ্গিতে নারীর মর্যাদা এবং তার জন্য যা অধিকতর উপযোগী সেদিকে সূক্ষ্ম দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। সেইসাথে নারীর সাথে পুরুষের সুন্দর পরিচালনা ও কোমল ব্যবহারের আবশ্যকতাও নির্দেশ করা হয়েছে। এমনকি যখন পুরুষ তার স্ত্রীর মধ্যে এমন কিছু আঁচ করবে যা দাম্পত্য অধিকার আদায় না করা বা অহমিকার দিকে নিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি করে, তখন তার কর্তব্য হলো প্রথমে উপদেশ প্রদানের মাধ্যমে শুরু করা, যা স্ত্রীর মনে প্রভাব ফেলবে বলে সে মনে করে… (২)।

--------------------------------------------

(১) তাফসীরে ফখর রাযী ১০/৯২।

(২) তাফসীরে মানার ৫/৭২।
(খণ্ড: ১) আন-নুশুয বাইনায যাওজাইন (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌مراحل معالجة نشوز الزوجة

‌‌المرحلة الأولى: مرحلة الوعظ

قوله تعالى: {فَعِظُوهُنَّ}

هذه أول مرحلة ينبغي أن يسلكها الزوج عند ظهور بعض إمارات النشوز من زوجته، فيذكرها ما أوجب الله له عليها من حسن الصحبة وجميل العشرة، والاعتراف بالدرجة التي له عليها، وما له عليها من حق يجب أداؤه، وما يترتب على إضاعته من سخط الله وعذابه، فهو ترغيب بأجر الطاعة، وترهيب من عقوبة المعصية، فيما يتعلق بحق الزوج عليها.

وقد قال الرسول صلى الله عليه وسلم: "لو كنت آمراً أحداً أن يسجد لأحد لأمرت المرأة أن تسجد لزوجها، من عظم حقه عليها " (1) .

وروى البخاري ومسلم عن أبي هريرة رضي الله عنه، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إذا دعا الرجل امرأته إلى فراشه فأبت عليه، لعنتها الملائكة حتى تصبح" (2) .

وبالجملة ينبغي أن يبدأ بالوعظ الذي يرى أنه يؤثر في نفسها، وهذا يختلف باختلاف حال المرأة، فمنهن من يؤثر في نفسها التذكير بحكم الله ورسوله في وجوب طاعة الزوج وما يترتب على ذلك من الثواب، والتحذير من معصيته وما يترتب عليها من العقاب. ومنهن من يؤثر في نفسها التهديد والتحذير من

--------------------------------------------

(1) أخرجه الترمذي في كتاب النكاح، باب ما جاء في حق الزوج على المرأة، من حديث أبي هريرة، برقم: (1159) .

(2) صحيح البخاري، برقم: (3237) ، واللفظ له، ومسلم، برقم: (1436) .
স্ত্রীর অবাধ্যতা (نشوز) প্রতিকারের ধাপসমূহ

‌‌প্রথম ধাপ: উপদেশ (وعظ) প্রদানের পর্যায়

মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর তোমরা তাদেরকে উপদেশ দাও}

স্ত্রীর মধ্যে যখন অবাধ্যতার (نشوز) কিছু লক্ষণ পরিলক্ষিত হবে, তখন স্বামীর উচিত এই প্রথম ধাপটি অনুসরণ করা। সে তাকে আল্লাহর পক্ষ থেকে তার ওপর অবধারিত সদ্ব্যবহার ও সুন্দর সাহচর্যের বিষয়গুলো স্মরণ করিয়ে দেবে। স্বামীর যে উচ্চমর্যাদা আল্লাহ দান করেছেন তার স্বীকৃতি এবং স্বামীর পাওনা যে অধিকারগুলো আদায় করা আবশ্যক সে সম্পর্কে তাকে জানাবে। আর এই অধিকার খর্ব করলে আল্লাহর অসন্তুষ্টি ও শাস্তির যে ভয়াবহতা রয়েছে তা তুলে ধরবে। সুতরাং এটি স্বামীর হকের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আনুগত্যের সওয়াবের প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং নাফরমানির শাস্তির ব্যাপারে ভীতি প্রদর্শন।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমি যদি কাউকে নির্দেশ দিতাম অন্য কাউকে সিজদাহ করার জন্য, তবে আমি স্ত্রীকে নির্দেশ দিতাম তার স্বামীকে সিজদাহ করতে; তার ওপর স্বামীর সুমহান হকের কারণে।" (১) .

ইমাম বুখারি ও মুসলিম আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যখন কোনো ব্যক্তি তার স্ত্রীকে বিছানায় ডাকে আর সে তা অস্বীকার করে, তখন ফেরেশতারা সকাল হওয়া পর্যন্ত তাকে অভিশাপ দিতে থাকে।" (২) .

সারকথা হলো, স্বামী এমন উপদেশ (وعظ) দিয়ে শুরু করবে যা স্ত্রীর মনে রেখাপাত করে বলে সে মনে করে। এটি স্ত্রীর অবস্থাভেদে ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। তাদের মধ্যে কেউ এমন আছে যার অন্তরে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের নির্দেশ অর্থাৎ স্বামীর আনুগত্যের আবশ্যকতা এবং এর ফলে অর্জিত সওয়াব স্মরণ করিয়ে দিলে তা প্রভাব ফেলে, সেই সাথে নাফরমানি ও এর ফলে প্রাপ্ত শাস্তির বিষয়ে সতর্ক করলেও কাজ হয়। আবার তাদের মধ্যে কেউ এমন আছে যার ওপর ধমকি ও ভীতি প্রদর্শন বেশি কার্যকর হয়...

--------------------------------------------

(১) এটি তিরমিজি 'নিকাহ' অধ্যায়ে, 'স্ত্রীর ওপর স্বামীর হক' অনুচ্ছেদে আবু হুরায়রা বর্ণিত হাদিস হতে বর্ণনা (أخرجه) করেছেন, নম্বর: (১১৫৯)।

(২) সহিহ বুখারি, নম্বর: (৩২৩৭), শব্দাবলি তাঁর (اللفظ له), এবং মুসলিম, নম্বর: (১৪৩৬)।
(খণ্ড: ১) আন-নুশুয বাইনায যাওজাইন (পৃষ্ঠা: ৩০)
سوء العاقبة في الدنيا، بذكر ما يترتب على ذلك من قطع حقوقها وإباحة هجرها وضربها ومنعها بعض طلباتها ورغباتها ونحو ذلك. واللبيب لا يخفى عليه الوعظ الذي له المحل في قلب امرأته (1) .

--------------------------------------------

(1) انظر: تفسير المنار5/72، وتيسير اللطيف المنان في خلاصة تفسير القرآن للشيخ عبد الرحمن السعدي ص 109.

দুনিয়ায় মন্দ পরিণতি, এভাবে যে, এর ফলে তার প্রাপ্য অধিকারসমূহ খর্ব করা, তাকে বর্জন করা বৈধ হওয়া, তাকে প্রহার করা এবং তার কিছু দাবি ও আকাঙ্ক্ষা পূরণ না করা ইত্যাদি বিষয়গুলো উল্লেখ করার মাধ্যমে। আর বুদ্ধিমান ব্যক্তির নিকট এমন নসিহত অজানা নয়, যা তার স্ত্রীর অন্তরে প্রভাব বিস্তার করার সক্ষমতা রাখে (১) ।

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: তাফসিরে আল-মানার ৫/৭২, এবং শাইখ আবদুর রহমান আস-সা’দীর 'তৈসিরুল লতিফ আল-মান্নান ফি খুলাসাতি তাফসিরিল কুরআন', পৃষ্ঠা ১০৯।
(খণ্ড: ১) আন-নুশুয বাইনায যাওজাইন (পৃষ্ঠা: ৩০)
‌‌المرحلة الثانية: مرحلة الهجر في المضاجع

قوله تعالى: {وَاهْجُرُوهُنَّ فِي الْمَضَاجِعِ}

هذا لمن لم يتقومن بالوعظ والتذكير، ومعنى ((واهجروهن)) : من الهجران، وهو البعد، يقال: هجره أي تباعد منه ونأى عنه وتركه. والمضاجع: جمع مضجع، وهو محل الاضطجاع.

قال ابن عباس: هجرها بأن يوليها ظهره في الفراش، ولا يلتفت إليها، وفي ضمنه ترك كلامها وجماعها. وإذا هجرها في المضجع فإن كانت تحب الزوج شق ذلك عليها، وإن كانت تبغضه وافقها ذلك الهجران، فدل على كمال نشوزها. وقيل: المضاجع المبايت، والمراد تركهن منفردات في حجرهن ومحل مبيتهن، وفي ذلك ترك جماعهن وكلامهن. وقيل: الهجران في المضاجع كناية عن ترك الجماع، لأن إضافة الهجران إلى المضاجع يفيد ذلك. وقيل: (في) للسببية، أي اهجروهن بسبب المضاجع، أي بسبب تخلفهن عن المضاجعة، وإليه يشير كلام ابن عباس رضي الله عنهما، فالهجران على هذا بالمنطق، قال عكرمة: بأن يغلظ لها القول. وقيل: اهجروهن: أي شدوهن بالوثاق في بيوتهن، من قولهم: هجر البعير، أي ربطه بالهجار، وهو حبل يشد به البعير (2) . واختاره

--------------------------------------------

(2) انظر: تفسير الطبري 5/63-65، وتفسير القرطبي 5/171، وتفسير الآلوسي 5/25.
‌‌দ্বিতীয় পর্যায়: শয্যায় বর্জনের (الهجران) পর্যায়

মহান আল্লাহর বাণী: {আর তাদেরকে শয্যায় বর্জন করো}

এটি তাদের জন্য যারা উপদেশ ও স্মারক আলোচনার মাধ্যমে সংশোধিত হয়নি। "ওয়াহজুরুহুন্না" (واهجروهن) এর অর্থ: বিচ্ছিন্নতা (الهجران) থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ হলো দূরত্ব। বলা হয়: তাকে বর্জন করেছে (هجره) অর্থাৎ সে তার থেকে দূরে সরে গেছে, বিচ্ছিন্ন হয়েছে এবং তাকে পরিত্যাগ করেছে। আর "মাদাজি" (المضاجع) হলো শয্যা (مضجع)-এর বহুবচন, যা হলো শয্যায় শায়িত হওয়ার স্থান।

ইবনে আব্বাস (রাযি.) বলেন: তাকে বর্জন করার পদ্ধতি হলো শয্যায় তার দিকে পিঠ ফিরিয়ে থাকা এবং তার দিকে ভ্রুক্ষেপ না করা; এর অন্তর্ভুক্ত হলো তার সাথে কথা বলা ও সহবাস (جماع) পরিত্যাগ করা। যখন শয্যায় তাকে বর্জন করা হয়, তখন সে যদি স্বামীকে ভালোবাসে তবে তা তার জন্য কষ্টকর হয়। আর যদি সে তাকে ঘৃণা করে, তবে এই বর্জন (الهجران) তার মনঃপূত হয়, যা তার চূড়ান্ত অবাধ্যতা (نشوز) প্রমাণ করে। কেউ কেউ বলেছেন: "মাদাজি" (المضاجع) হলো রাত কাটানোর স্থান; এর মর্ম হলো তাদেরকে তাদের কক্ষে ও শয্যার স্থানে একাকী পরিত্যাগ করা এবং এর মাধ্যমে তাদের সাথে সহবাস ও কথা বলা বর্জন করা। আবার কেউ বলেছেন: শয্যায় বর্জন করা হলো সহবাস ত্যাগের রূপক (كناية); কারণ বর্জনকে শয্যার সাথে সম্পৃক্ত করা একথাই ব্যক্ত করে। কেউ কেউ বলেছেন: "ফি" (في) অব্যয়টি এখানে কারণ দর্শাতে (للسببية) ব্যবহৃত হয়েছে। অর্থাৎ শয্যায় আসার ক্ষেত্রে তাদের অস্বীকৃতির কারণে তাদেরকে বর্জন করো। ইবনে আব্বাস (রাযি.)-এর বক্তব্য একথাই নির্দেশ করে। এই মতানুসারে বর্জন হবে কথার মাধ্যমে। ইকরিমা বলেন: এর অর্থ হলো তার সাথে কর্কশ ভাষায় কথা বলা। আবার কেউ কেউ বলেছেন: "ওয়াহজুরুহুন্না" (اهجروهن) অর্থাৎ তাদেরকে তাদের ঘরে শক্তভাবে বেঁধে রাখো; এটি আরবদের এই কথা থেকে গৃহীত: "উটকে বেঁধে রাখা" (هجر البعير), অর্থাৎ তাকে রশি (الهجار) দিয়ে বাঁধা—আর এটি এমন এক রশি যা দিয়ে উটকে বাঁধা হয় (২)। এবং এটি গ্রহণ করেছেন—

--------------------------------------------

(২) দেখুন: তাফসিরে তাবারি ৫/৬৩-৬৫, তাফসিরে কুরতুবি ৫/১৭১ এবং তাফসিরে আলুসি ৫/২৫।
(খণ্ড: ১) আন-নুশুয বাইনায যাওজাইন (পৃষ্ঠা: ৩১)
الطبري رحمه الله دون سائر الأقوال، وانتصر له (1) .

وهو وجه بعيد في تفسير الآية، وقد رده المفسرون؛ جاء في تفسير المنار: وأما الهجر فهو ضرب من ضروب التأديب لمن تحب زوجها، ويشق عليها هجره إياها، وذهب بعض المفسرين - ومنهم ابن جرير الطبري - أن المرأة التي تنشز لا تبالي بهجر زوجها، بمعنى إعراضه عنها، وقالوا: إن معنى ((واهجروهن)) قيدوهن، من هجر البعير إذا شده بالهجار وهو القيد الذي يقيد به، وليس هذا الذي قالوه بشيء، وما هم بالواقفين على أخلاق النساء وطباعهن، فإن منهن من تحب زوجها ويزين لها الطيش والرعونة النشوز عليه، ومنهن من تنشز امتحاناً لزوجها، ليظهر لها أو للناس مقدار شغفه بها وحرصه على رضاها … ومنهن من تنشز لتحمل زوجها على إرضائها بما تطلب من الحلي والحلل أو غير ذلك، ومنهن من يغريها أهلها بالنشوز لمآرب لهم …، وفي الهجر في المضجع نفسه معنى لا يتحقق بهجر المضجع أو البيت الذي هو فيه، لأن الاجتماع في المضجع هو الذي يهيج شعور الزوجية، فتسكن نفس كل من الزوجين إلى الآخر، ويزول اضطرابهما الذي أثارته الحوادث قبل ذلك، فإذا هجر الرجل المرأة وأعرض عنها في هذه الحالة رجي أن يدعوها ذلك الشعور والسكون النفسي إلى سؤاله عن السبب، ويهبط بها من نشز المخالفة إلى صفصف الموافقة (2) .

وفي في ظلال القرآن: قوله: {وَاهْجُرُوهُنَّ فِي الْمَضَاجِعِ} : والمضجع هو موضع الإغراء والجاذبية التي تبلغ فيها المرأة الناشز المتعالية قمة سلطانها، فإذا استطاع الرجل أن يقهر دوافعه تجاه هذا الإغراء، فقد أسقط من يد المرأة الناشز

--------------------------------------------

(1) تفسير الطبري 5/65-66.

(2) تفسير المنار 5/72-83.
তাবারী (রহিমাহুল্লাহ) অন্যান্য সকল মতের পরিবর্তে এটিকেই গ্রহণ করেছেন এবং এর পক্ষাবলম্বন করেছেন (১)।

আয়াতের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে এটি একটি দূরবর্তী সম্ভাবনা এবং মুফাসসিরগণ এটিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন; তাফসির আল-মানারে বর্ণিত হয়েছে: আর বর্জন (হাজর) হলো সেই স্ত্রীর জন্য এক প্রকার শিষ্টাচারমূলক ব্যবস্থা, যে তার স্বামীকে ভালোবাসে এবং স্বামীর বিমুখতা তার জন্য অত্যন্ত কষ্টকর হয়। কিছু মুফাসসির—যাদের মধ্যে ইবনে জারীর তাবারী অন্যতম—মনে করেন যে, যে নারী অবাধ্যতা (নুশুজ) করে, সে স্বামীর বর্জন বা তার থেকে বিমুখ হওয়াকে কোনো পরোয়া করে না। তারা বলেন: ((তাদের বর্জন করো)) এর অর্থ হলো তাদের বেঁধে রাখা; এটি উটকে ‘হিজার’ তথা রশি বা বেড়ি দিয়ে বাঁধার অর্থ থেকে এসেছে। তবে তাদের এই বক্তব্যটি সঠিক নয়। তারা নারীদের স্বভাব এবং প্রকৃতি সম্পর্কে সঠিক অবগত নন; কারণ তাদের মধ্যে এমন নারী রয়েছে যারা স্বামীকে ভালোবাসে, কিন্তু চপলতা ও নির্বুদ্ধিতাবশত স্বামীর অবাধ্য হওয়াকেই সৌন্দর্য মনে করে। আবার কেউ কেউ স্বামীর ভালোবাসা ও সন্তুষ্টির আকাঙ্ক্ষা পরীক্ষা করার জন্য অবাধ্যতা প্রদর্শন করে … আবার কেউ কেউ অবাধ্য হয় স্বামীকে তার অলংকার, পোশাক বা অন্য কোনো চাহিদা মেটাতে বাধ্য করার জন্য। আবার কোনো কোনো নারীকে তার পরিবারের সদস্যরা নিজেদের হীন স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে অবাধ্য হতে প্ররোচিত করে …। আর শয্যা বর্জনের মধ্যে এমন এক গূঢ় তাৎপর্য রয়েছে যা ঘর বর্জন বা আলাদা থাকার মাধ্যমে অর্জিত হয় না; কারণ একই শয্যায় একত্র হওয়া বৈবাহিক অনুভূতিকে জাগ্রত করে, ফলে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের মন শান্ত হয় এবং আগের ঘটে যাওয়া অপ্রীতিকর ঘটনাপ্রসূত অস্থিরতা দূর হয়। এমতাবস্থায় স্বামী যদি স্ত্রীকে বর্জন করে এবং তার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে আশা করা যায় যে সেই বৈবাহিক টান ও মানসিক প্রশান্তি তাকে কারণ অনুসন্ধানে উদ্বুদ্ধ করবে এবং তাকে বিরোধিতার উচ্চশিখর থেকে ঐকমত্যের সমতলে নামিয়ে আনবে (২)।

ফি জিলালিল কুরআন-এ বলা হয়েছে: আল্লাহর বাণী: {তাদের শয্যা বর্জন করো}: শয্যা হলো আকর্ষণ ও মোহের এমন এক স্থান যেখানে একজন অবাধ্য ও অহংকারী নারী তার কর্তৃত্বের চরম শিখরে অবস্থান করে। সুতরাং পুরুষ যদি এই আকর্ষণের মুখে নিজের প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, তবে সে অবাধ্য নারীর হাত থেকে তার প্রধান শক্তিটি কেড়ে নিল।

--------------------------------------------

(১) তাফসির তাবারী ৫/৬৫-৬৬।

(২) তাফসির আল-মানার ৫/৭২-৮৩।
(খণ্ড: ১) আন-নুশুয বাইনায যাওজাইন (পৃষ্ঠা: ৩২)
أمضى أسلحتها التي تعتز بها، وكانت في الغالب أميل إلى التراجع والملاينة أمام هذا الصمود من زوجها، وأمام بروز خاصية قوة الإرادة والشخصية فيه في أحرج مواضعها … على أن هناك أدباً معينا في هذا الإجراء إجراء الهجر في المضاجع، وهو ألا يكون هجراً ظاهراً في غير مكان خلوة الزوجين، لا يكون هجرا أمام الأطفال، يورث نفوسهم شراً وفساداً، ولا هجراً أمام الغرباء يذل الزوجة أو يستثير كرامتها، فتزداد نشوزاً، فالمقصود علاج النشوز لا إذلال الزوجة ولا إفساد الأطفال، وكلا الهدفين يبدو أنه مقصود من هذا الإجراء (1) .

قلت: وإذا كان المقصود من الهجر في المضجع هو التأديب وإصلاح الحال، فينبغي أن يكون ذلك على قدر ما يفي بالغرض، دون التعدي والتشفي وما يلحق ذلك من البغض والكراهية، فإن هذا ليس من الهجر الجميل النافع، بل ذلك من الهجر المذموم الذي لا يحصل به تقويم ولا مصلحة، إنما يجر إلى مزيد من التنافر والتباعد والاختلاف، وما ينتج عنه من حقد وكراهية وهدم للحياة الزوجية.
এটি তার অত্যন্ত শক্তিশালী অস্ত্রগুলোকে অকেজো করে দিয়েছিল যার জন্য সে গর্ববোধ করত। স্বামীর এই দৃঢ়তা এবং অত্যন্ত সংকটাপন্ন মুহূর্তে তার প্রবল ইচ্ছাশক্তি ও ব্যক্তিত্বের বলিষ্ঠ প্রকাশের সামনে সে (স্ত্রী) সাধারণত পিছু হটতে এবং নমনীয় হতে বাধ্য হতো … তবে শয্যা ত্যাগের (الهجر) এই পদক্ষেপ গ্রহণের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট শিষ্টাচার রয়েছে। আর তা হলো, দম্পতির নির্জন স্থান ব্যতীত অন্য কোথাও এটি প্রকাশ্য বর্জন (هجراً ظاهراً) হবে না। সন্তানদের সামনে এমন বর্জন (هجراً) হওয়া চলবে না, যা তাদের মনে মন্দ ও কলুষতা তৈরি করতে পারে। আবার বহিরাগতদের সামনেও এমন বর্জন (هجراً) করা যাবে না যা স্ত্রীকে লাঞ্ছিত করে বা তার আত্মসম্মানকে আঘাত করে, যার ফলে তার অবাধ্যতা (نشوزاً) আরও বেড়ে যায়। কেননা মূল উদ্দেশ্য হলো অবাধ্যতা (النشوز) সংশোধন করা, স্ত্রীকে অপমান করা বা সন্তানদের চরিত্র নষ্ট করা নয়। আর উভয় লক্ষ্যই এই পদক্ষেপের মাধ্যমে উদ্দিষ্ট বলে প্রতীয়মান হয় (১)।

আমি বলছি: যদি শয্যা ত্যাগের (الهجر) উদ্দেশ্য হয় শাসন এবং অবস্থার সংশোধন, তবে তা কেবল ততটুকুই হওয়া উচিত যা উদ্দেশ্য পূরণের জন্য যথেষ্ট। এক্ষেত্রে সীমালঙ্ঘন, আক্রোশ চরিতার্থ করা কিংবা ঘৃণা ও বিদ্বেষের বশবর্তী হওয়া অনুচিত। কেননা এটি কোনো উত্তম বর্জন (الهجر الجميل) বা উপকারী নয়, বরং এটি নিন্দনীয় বর্জন (الهجر المذموم), যার মাধ্যমে কোনো সংশোধন বা কল্যাণ (مصلحة) অর্জিত হয় না। বরং এটি কেবল পারস্পরিক অনীহা, দূরত্ব ও বিরোধকে বৃদ্ধি করে এবং এর ফলে ঘৃণা, বিদ্বেষ ও দাম্পত্য জীবন ধ্বংসের পথ উন্মোচিত হয়।
(খণ্ড: ১) আন-নুশুয বাইনায যাওজাইন (পৃষ্ঠা: ৩২)
‌‌المرحلة الثالثة: مرحلة الضرب

قوله تعالى: {َاضْرِبُوهُنَّ}

حين يستنفد الزوج وسائل الأدب الأخرى، من الوعظ والهجر، ثم لا يرى لذلك أثراً من إنابة وصلاح، فإن رأى - حينئذ - ضربها ناجعاً فله ذلك؛ وهذا يختلف باختلاف الأحوال والأشخاص. على أن يكون الضرب على قدر ما يحصل به الغرض، دون تجاوز أو تعد، لأن المقصود هو الزجر والتأديب،

--------------------------------------------

(1) في ظلال القرآن 2/654.
তৃতীয় পর্যায়: প্রহারের পর্যায়

মহান আল্লাহর বাণী: {আর তোমরা তাদেরকে প্রহার করো}

যখন স্বামী উপদেশ দান ও বিছানা পৃথক করার মতো অন্যান্য শিষ্টাচারমূলক পন্থাগুলো নিঃশেষ করে ফেলেন এবং এতেও তাদের মধ্যে অনুশোচনা ও সংশোধনের কোনো প্রভাব দেখতে না পান, তখন তিনি যদি মনে করেন যে প্রহার করা কার্যকর হবে, তবে তা করার অনুমতি তাঁর রয়েছে। এটি অবস্থা এবং ব্যক্তিনির্ভর। তবে প্রহার হতে হবে উদ্দেশ্য হাসিলের পরিমাণ অনুযায়ী, সীমা লঙ্ঘন বা বাড়াবাড়ি না করে; কেননা এর মূল উদ্দেশ্য হলো নিবৃত্ত করা এবং শাসন করা।

--------------------------------------------

(১) ফি জিলালিল কুরআন ২/৬৫৪।
(খণ্ড: ১) আন-নুশুয বাইনায যাওজাইন (পৃষ্ঠা: ৩৩)
لا الإيلام والإيذاء. وذلك هو ضرب الأدب غير المبرح وغير الشائن، بحيث لا يكسر عظماً ولا يتلف عضواً، ولا يورث شيناً أو جرحاً، ويتجنب الوجه، ولا يوالي به في موضع واحد، لئلا يعظم الضرر، ويقتصر فيه على قدر الكفاية (1) .

ومع أن الضرب مباح إلا أن تركه أفضل، فقد أخرج أبو داود، والنسائي، وابن ماجة من حديث إياس بن عبد الله بن أبي ذئاب، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "لا تضربوا إماء الله"؛ فجاء عمر إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: ذئرن (2) النساء على أزواجهن، فرخص في ضربهن، فأطاف بآل رسول الله صلى الله عليه وسلم نساء كثير يشكون أزواجهن، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: "لقد طاف بآل محمد نساء كثير يشكون أزواجهن، ليس أولئك بخياركم " (3) .

وأخرج مسلم في صحيحه من حديث جابر رضي الله عنه، عن النبي صلى الله عليه وسلم، أنه قال في حجة الوداع: "واتقوا الله في النساء، فإنهن عندكم عوان، ولكم عليهن ألا يوطئن فرشكم أحداً تكرهونه، فإن فعلن ذلك فاضربوهن ضرباً غير مبرح، ولهن عليكم رزقهن وكسوتهن بالمعروف" (4) .

ولا يخفى أن تحمل أذى النساء والصبر عليهن أفضل من ضربهن، إلا لداع قوي.

قال الفخر الرازي: وبالجملة فالتخفيف مراعى في هذا الباب على أبلغ الوجوه، والذي يدل عليه أنه تعالى ابتدأ بالوعظ، ثم ترقى منه إلى الهجران في

--------------------------------------------

(1) انظر: تفسير القرطبي 5/172، وتفسير ابن كثير 2/295، وتفسير الفخر الرازي 10/93.

(2) ذئرت المرأة على بعلها، وهي ذائر: نشزت واجترأت وتغير خلقها. اللسان، مادة: ذأر.

(3) أبو داود، برقم: (2146) ، والنسائي، برقم: (9167) ، وابن ماجة، برقم: (1975) .

(4) صحيح مسلم، برقم: (1218) .
ব্যথা প্রদান বা কষ্ট দেওয়া উদ্দেশ্য নয়। আর তা হলো এমন শিষ্টাচারমূলক প্রহার যা অতি কঠোর নয় এবং অপমানজনক নয়; যাতে কোনো হাড় না ভাঙে, কোনো অঙ্গহানি না ঘটে এবং কোনো দাগ বা ক্ষত সৃষ্টি না করে। মুখমণ্ডল এড়িয়ে চলতে হবে এবং শরীরের একই স্থানে বারবার আঘাত করা যাবে না যাতে ক্ষতির মাত্রা বৃদ্ধি না পায়; এটি কেবল প্রয়োজনীয় সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে (১)।

প্রহার বৈধ হওয়া সত্ত্বেও তা বর্জন করাই উত্তম। আবু দাউদ, নাসাঈ এবং ইবনে মাজাহ ইয়াস ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবি যিআব বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা (أخرج) করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা আল্লাহর বান্দীদের (নারীদের) প্রহার করো না।" অতঃপর উমর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললেন: নারীরা তাদের স্বামীদের ওপর অবাধ্য হয়ে উঠেছে, ফলে তিনি তাদের প্রহার করার অনুমতি দিলেন। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পরিবারের নিকট অনেক নারী তাদের স্বামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে উপস্থিত হলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "মুহাম্মাদের পরিবারের নিকট অনেক নারী তাদের স্বামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে এসেছে; তারা (যারা প্রহার করে) তোমাদের মধ্যে উত্তম ব্যক্তি নয়" (৩)।

মুসলিম তার সহিহ গ্রন্থে জাবির (রা.) বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা (أخرج) করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় হজের ভাষণে বলেছেন: "তোমরা নারীদের বিষয়ে আল্লাহকে ভয় করো, কারণ তারা তোমাদের নিকট আশ্রিতা। তোমাদের তাদের ওপর অধিকার রয়েছে যে, তারা তোমাদের অপছন্দনীয় কাউকে তোমাদের বিছানায় স্থান দেবে না। যদি তারা সেটি করে তবে তোমরা তাদের প্রহার করো যা অতি কঠোর নয়। আর প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী তাদের ভরণপোষণ ও পোশাক-পরিচ্ছদ প্রদান করা তোমাদের দায়িত্ব" (৪)।

এটি সুস্পষ্ট যে, নারীদের পক্ষ থেকে আসা কষ্ট সহ্য করা এবং তাদের প্রতি ধৈর্য ধারণ করা প্রহারের চেয়ে উত্তম, যদি না কোনো জোরালো কারণ থাকে।

ফখর রাজি বলেন: মোদ্দাকথা হলো, এই পরিচ্ছেদে শিথিলতার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হয়েছে। যার প্রমাণ হলো, আল্লাহ তাআলা প্রথমে সদুপদেশ দিয়ে শুরু করেছেন, তারপর সেখান থেকে শয্যা ত্যাগের দিকে অগ্রসর হয়েছেন...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তাফসিরে কুরতুবি ৫/১৭২, তাফসিরে ইবনে কাসির ২/২৯৫, তাফসিরে ফখর রাজি ১০/৯৩।

(২) স্ত্রী তার স্বামীর ওপর অবাধ্য হয়েছে: অর্থাৎ সে বিদ্রোহী হয়েছে, ধৃষ্টতা দেখিয়েছে এবং তার আচরণের পরিবর্তন ঘটেছে। লিসানুল আরব, মূলশব্দ: ذأر।

(৩) আবু দাউদ, নম্বর: (২১৪৬), নাসাঈ, নম্বর: (৯১৬৭), ইবনে মাজাহ, নম্বর: (১৯৭৫)।

(৪) সহিহ মুসলিম, নম্বর: (১২১৮)।
(খণ্ড: ১) আন-নুশুয বাইনায যাওজাইন (পৃষ্ঠা: ৩৪)
المضاجع، ثم ترقى منه إلى الضرب، وذلك تنبيه يجري مجرى التصريح في أنه مهما حصل الغرض بالطريق الأخف وجب الاكتفاء به، ولم يجز الإقدام على الطريق الأشق … قال بعضهم: حكم هذه الآية مشروع على الترتيب، فإن ظاهر اللفظ وإن دل على الجمع، إلا أن فحوى الآية يدل على الترتيب، قال أمير المؤمنين علي ابن أبي طالب رضي الله تعالى عنه: يعظها بلسانه، فإن انتهت فلا سبيل له عليها، فإن أبت هجر مضجعها، فإن أبت ضربها، فإن لم تتعظ بالضرب بعث الحكمين.

وقال آخرون: هذا الترتيب مراعى عند خوف النشوز، أما عند تحقق النشوز فلا بأس بالجمع بين الكل (1) .

وقال أبو حيان في تفسيره: قال الرازي ما ملخصه: يبدأ بلين القول في الوعظ، فإن لم يفد فبخشنه، ثم بترك مضاجعتها، ثم بالإعراض عنها كلية، ثم بالضرب الخفيف، كاللطمة واللكزة ونحوها، مما يشعر بالاحتقار وإسقاط الحرمة، ثم بالضرب بالسوط والقضيب اللين ونحوه، مما يحصل به الألم والإنكاء، ولا يحصل عنه هشم ولا إراقة دم … وأي شيء من هذه رجعت به عن نشوزها على ما رتبناه لم يجز له أن ينتقل إلى غيره، لقولِه: {فَإِنْ أَطَعْنَكُمْ فَلا تَبْغُوا عَلَيْهِنَّ سَبِيلاً} (2) .

والقرآن عندما أباح ضرب المرأة إنما جعله علاجاً يحتاج إليه عند الضرورة، فالمرأة إذا أساءت عشرة زوجها، وتمادت في صلفها ونشز غرورها، لا تكف ولا ترعوي عن عصيانها واستعلائها، فماذا يصنع الزوج في مثل هذه الحالة؟، أيهجرها ويستمر في هجرها، دون أن يرى لذلك أثراً؟، أم يطلقها؟، أم

--------------------------------------------

(1) تفسير الفخر الرازي 10/93-94.

(2) البحر المحيط 3/628.
শয্যা ত্যাগ করা, তারপর তা থেকে প্রহারের দিকে উন্নীত হওয়া; আর এটি এমন এক সতর্কতা যা সুস্পষ্ট বিবৃতির পর্যায়ভুক্ত যে, যতক্ষণ পর্যন্ত লঘু পন্থায় উদ্দেশ্য হাসিল হওয়া সম্ভব হয়, ততক্ষণ সেটিই গ্রহণ করা আবশ্যক, এবং কঠোরতর পন্থার দিকে অগ্রসর হওয়া বৈধ নয় … কেউ কেউ বলেছেন: এই আয়াতের বিধানটি ক্রমবিন্যাস অনুসারে প্রবর্তিত হয়েছে। কারণ শব্দের বাহ্যিক রূপ যদিও একত্রে সম্পাদনের প্রতি নির্দেশ করে, তবে আয়াতের মর্মার্থ ক্রমধারার প্রতিই ইঙ্গিত করে। আমীরুল মুমিনীন আলী ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) বলেছেন: স্বামী তাকে মুখে উপদেশ প্রদান করবে, যদি সে বিরত হয় তবে তার বিরুদ্ধে আর কোনো পদক্ষেপের সুযোগ নেই। আর যদি সে অস্বীকার করে, তবে সে তার শয্যা বর্জন করবে। আর যদি সে তবুও অস্বীকার করে, তবে তাকে প্রহার করবে। এরপরও যদি সে শিক্ষা গ্রহণ না করে, তবে সে সালিশদ্বয়কে প্রেরণ করবে।

অন্যান্যরা বলেছেন: এই ক্রমধারা কেবল অবাধ্যতা (نشوز) এর আশঙ্কার সময় পালনীয়; কিন্তু যখন অবাধ্যতা (نشوز) নিশ্চিতভাবে প্রকাশ পাবে, তখন সবকটি পন্থা একত্রে প্রয়োগ করাতে কোনো দোষ নেই (১)।

আবু হাইয়ান তাঁর তাফসীর গ্রন্থে বলেছেন: ইমাম রাজি যা বলেছেন তার সারসংক্ষেপ হলো: উপদেশের ক্ষেত্রে কোমল কথা দিয়ে শুরু করবে, যদি তাতে কাজ না হয় তবে কঠোর কথা বলবে। এরপর তার সাথে শয্যা ত্যাগ করবে, তারপর তাকে পুরোপুরি এড়িয়ে চলবে। এরপর হালকা প্রহার, যেমন চড় বা ধাক্কা এবং অনুরূপ কিছু যা তুচ্ছজ্ঞান করা এবং সম্মানহানির অনুভূতি জাগায়। এরপর দোররা বা নমনীয় লাঠি এবং অনুরূপ কিছু দিয়ে প্রহার করা যা দ্বারা বেদনা ও যাতনা অনুভূত হয়, কিন্তু তাতে কোনো হাড় ভাঙবে না বা রক্তপাত ঘটবে না … আর আমাদের বর্ণিত এই ক্রমধারা অনুযায়ী এর যে কোনো একটির মাধ্যমে যদি সে তার অবাধ্যতা (نشوز) থেকে ফিরে আসে, তবে স্বামীর জন্য অন্য পন্থায় পদার্পণ করা বৈধ হবে না। কারণ আল্লাহর বাণী: {অতঃপর যদি তারা তোমাদের অনুগত হয়, তবে তাদের বিরুদ্ধে কোনো পথ অন্বেষণ করো না} (২)।

আর কুরআন যখন স্ত্রীকে প্রহারের অনুমতি দিয়েছে, তখন একে কেবল একটি চিকিৎসা হিসেবে নির্ধারণ করেছে যা প্রয়োজনের মুহূর্তে কাম্য। কেননা স্ত্রী যখন তার স্বামীর সাথে মন্দ আচরণ করে, এবং তার ঔদ্ধত্য ও অহংকারের অবাধ্যতায় (نشوز) অটল থাকে, যা থেকে সে নিবৃত্ত হয় না এবং তার অবাধ্যতা ও শ্রেষ্ঠত্ববোধ থেকে ফিরে আসে না; তবে এমতাবস্থায় স্বামী কী করবে? সে কি তাকে বর্জন করবে এবং কোনো প্রভাব না দেখেই এই বর্জন অব্যাহত রাখবে? নাকি তাকে তালাক দিবে? নাকি

--------------------------------------------

(১) তাফসীরে ফখরে রাজি ১০/৯৩-৯৪।

(২) আল-বাহরুল মুহিত ৩/৬২৮।
(খণ্ড: ১) আন-নুশুয বাইনায যাওজাইন (পৃষ্ঠা: ৩৫)
يتركها تصنع ما تشاء؟.

لقد أرشد القرآن الكريم إلى اتخاذ الطرق الحكيمة في معالجة هذا النشوز والعصيان، فأمر بالصبر والأناة، ثم بالوعظ والإرشاد، ثم بالهجر في المضاجع، فإذا لم تنفع كل هذه الوسائل، ورأى الزوج أن في ضربها كسراً لشأفة كبريائها واستعلائها، وخفضاً لصلفها ونشوزها، فيباح له - حينئذ - أن يضربها ضرباً غير مبرح، حيث اضطرته إلى ذلك، وللضرورة أحكامها. فضربها للتأديب والإصلاح أقل ضرراً من إيقاع الطلاق عليها إذا هي تمادت في عصيانها، ولم ترجع للطاعة وأداء الحق؛ إذ الطلاق هدم لكيان الأسرة وتمزيق لشملها. ثم إن الضرب ليس إهانة للمرأة - كما قد يظن البعض - وإنما هو طريق من طرق التقويم والتأديب والإصلاح، ينفع في بعض الحالات مع بعض النفوس التي لا ينفع معها الجميل، ولا يقيمها إلا التأديب (1) .

وفي تفسير المنار: يستكبر بعض مقلدة الإفرنج في آدابهم منا مشروعية ضرب المرأة الناشز، ولا يستكبرون أن تنشز وتترفع عليه، فتجعله وهو رئيس البيت مرؤوساً، بل محتقراً، وتصر على نشوزها حتى لا تلين لوعظه ونصحه، ولا تبالي بإعراضه وهجره، ولا أدري بم يعالجون هؤلاء النواشز، وبم يشيرون على أزواجهن أن يعاملوهن به، لعلهم يتخيلون امرأة ضعيفة نحيفة، مهذبة أديبة، يبغي عليها رجل فظ غليظ، فيطعم سوطه من لحمها الغريض، ويسقيه من دمها العبيط، ويزعم أن الله تعالى أباح له مثل هذا … وحاش لله أن يأذن بمثل هذا الظلم أو يرضى به … (2) .

--------------------------------------------

(1) انظر: روائع البيان في تفسير آيات الأحكام، للشيخ محمد بن علي الصابوني 1/474-475؛ بشيء من الزيادة والتصرف.

(2) انظر: تفسير المنار 5/74.
তিনি কি তাকে তার ইচ্ছামতো কাজ করতে ছেড়ে দেবেন?

পবিত্র কুরআন এই অবাধ্যতা (نشوز) ও বিরুদ্ধাচরণ নিরসনে বিজ্ঞোচিত পদ্ধতি গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করেছে। এতে ধৈর্য ও সহনশীলতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এরপর উপদেশ ও দিকনির্দেশনার, তারপর শয্যা ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অতঃপর যদি এই সকল উপায় কার্যকর না হয় এবং স্বামী মনে করেন যে তাকে প্রহার করার মাধ্যমে তার অহংবোধ ও দাম্ভিকতার মূলে আঘাত হানা এবং তার ঔদ্ধত্য ও অবাধ্যতাকে (نشوز) দমিত করা সম্ভব, তবে সেই অবস্থায় তাকে কঠোর নয় এমন (غير مبرح) প্রহার করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে; যখন সে তাকে এই কাজে বাধ্য করে, আর প্রয়োজনের রয়েছে নিজস্ব বিধান। সুতরাং অবাধ্যতা (نشوز) ও হক আদায়ে অনীহা প্রদর্শন অব্যাহত রাখলে তাকে শাসন ও সংশোধনের উদ্দেশ্যে প্রহার করা তালাক প্রদানের চেয়ে কম ক্ষতিকর; কেননা তালাক হলো পারিবারিক কাঠামোর ধ্বংস এবং এর সংহতি বিনষ্টকারী। তদুপরি, এই প্রহার নারীর জন্য কোনো অবমাননা নয়—যেমনটি কেউ কেউ মনে করতে পারেন—বরং এটি সংশোধন, শাসন ও সংস্কারের অন্যতম একটি পন্থা, যা বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে এমন কিছু মানুষের জন্য ফলপ্রসূ হয় যাদের ক্ষেত্রে কোমলতা কার্যকর হয় না এবং শাসন ব্যতীত যারা সোজা হয় না (১)।

তাফসীর আল-মানার-এ উল্লিখিত হয়েছে: পাশ্চাত্য আদব-কায়দার অনুসারী কেউ কেউ আমাদের নিকট অবাধ্য (نشوز) নারীর প্রহারের বৈধতাকে অত্যন্ত আপত্তিকর মনে করেন, অথচ তারা নারীর অবাধ্য হওয়া এবং স্বামীর ওপর আধিপত্য বিস্তার করাকে আপত্তিকর মনে করেন না, যার ফলে সেই নারী গৃহকর্তা স্বামীকে অধীনস্ত বরং তুচ্ছজ্ঞান করে এবং নিজের অবাধ্যতায় (نشوز) অটল থাকে, এমনকি স্বামীর উপদেশ ও পরামর্শে নমনীয় হয় না এবং তার বিমুখতা ও শয্যা ত্যাগের পরোয়া করে না। আমি জানি না তারা এই অবাধ্য (نشوز) নারীদের কীভাবে সংশোধন করবেন এবং তাদের স্বামীদের তাদের সাথে কীরূপ আচরণের পরামর্শ দেবেন। সম্ভবত তারা এমন এক দুর্বল, ক্ষীণকায়, মার্জিত ও সুশিক্ষিত নারীর কল্পনা করেন, যার ওপর কোনো এক রূঢ় ও কঠোর ব্যক্তি চড়াও হয়েছে এবং নিজের চাবুককে তার কোমল মাংস দিয়ে আহার করাচ্ছে আর তাজা রক্ত দিয়ে তৃষ্ণা মেটাচ্ছে, এবং দাবি করছে যে আল্লাহ তাআলা তার জন্য এমনটি জায়েজ করেছেন... আল্লাহ এমন জুলুমের অনুমতি দেওয়া বা তাতে সন্তুষ্ট হওয়া থেকে অনেক ঊর্ধ্বে... (২)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: রওয়াইউল বায়ান ফী তাফসীরি আয়াতিল আহকাম, শেখ মুহাম্মদ বিন আলী আস-সাবুনী, ১/৪৭৪-৪৭৫; কিছুটা পরিবর্ধন ও পরিমার্জনসহ।

(২) দেখুন: তাফসীর আল-মানার ৫/৭৪।
(খণ্ড: ১) আন-নুশুয বাইনায যাওজাইন (পৃষ্ঠা: ৩৬)
والحاصل: أن الضرب علاج مر، قد يضطر إليه الزوج حين تصر المرأة على نشوزها، ولا تلين لوعظه ونصحه، ولا تبالي بإعراضه وهجره، فيباح له - حينئذ- أن يضربها ضرباً غير مبرح، يخفض من صلفها، ويردها عن نشوزها، فشرع تلك الوسائل والتوجيهات لمعالجة أعراض النشوز قبل استفحالها، وأحاطها بالتحذيرات من سوء استعمالها، وحدد صفتها، والنية المصاحبة لها، والغاية من ورائها.

ومن المعلوم أن تلك الوسائل التأديبية لا مكان لها حال الوفاق بين الزوجين، فهي لا تكون إلا وهناك انحراف ما، يستدعي المعالجة، فحين لا تجدي الموعظة ولا يجدي الهجر في المضجع، فلا بد أن يكون هذا الإنحراف من نوع آخر، قد تجدي فيه وسيلة أخرى، وسيلة الضرب غير مبرح، لعل وعسى.

وربما استنكر البعض ضرب المرأة الناشز، وعده ظلماً وجوراً واعتداءً بكل حال، وقد جار في حكمه هذا وما أنصف، نعم ((ولن يضرب خياركم)) ، وقد يستغني عن ذلك الخيّر الكريم، لكن بالمقابل قد يضطر إليه من ابتلي بمن لا ترجع عن صلفها ونشوزها إلا به، وللضرورة حكمها وقدرها. ثم إن الذي شرع ذلك وأباحه عند الحاجة إليه هو الخالق سبحانه، وهو أعلم بخلقه وما يناسب أحوالهم، وما يصلح به شأنهم، فجعل لكل حال حكم يناسبها في شرعه.

وأي فساد يقع في الأرض إذا أبيح للرجل التقي الفاضل أن يخفض من صلف إحداهن ويردها عن نشز غرورها بلطمة أو لكزة خفيفة، أو ضربة يسيرة بسوط أو عصا، تؤدب وتصلح، ولا تؤذي أو تجرح؛ وذلك عندما تفسد الطباع وتسوء الأخلاق، ولم ير الرجل بداً منه، ولا ترجع المرأة عن نشوزها إلا به. أما عند ما تستجيب المرأة للنصح، أو تزدجر بالهجر، فلا مكان للضرب ولا سبيل إليه، فهو ضرورة زالت بزوال سببها، إذ نحن مأمورون بالرفق بالنساء
সারকথা হলো: প্রহার একটি তিক্ত চিকিৎসা, স্বামী এতে বাধ্য হতে পারেন যখন স্ত্রী তার অবাধ্যতায় (نشوز) অটল থাকেন, তার ওয়াজ ও উপদেশে নমনীয় হন না এবং স্বামীর বিমুখতা ও শয্যা ত্যাগের পরোয়া করেন না; এমতাবস্থায় স্বামীর জন্য তাকে নির্দয় নয় এমন (غير مبرح) প্রহার করার অনুমতি রয়েছে, যা তার অহমিকা চূর্ণ করবে এবং তাকে অবাধ্যতা (نشوز) থেকে ফিরিয়ে আনবে। সুতরাং অবাধ্যতার (نشوز) লক্ষণগুলো প্রকট হওয়ার পূর্বেই তা নিরাময়ের জন্য এই মাধ্যম ও নির্দেশনাগুলো বিধিবদ্ধ করা হয়েছে এবং এর অপব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কবাণী দ্বারা পরিবেষ্টিত করা হয়েছে, আর এর ধরণ, সংশ্লিষ্ট নিয়ত ও উদ্দেশ্য সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

এটি সর্বজনবিদিত যে, স্বামী-স্ত্রীর সুসম্পর্কের সময় এই শাসনমূলক ব্যবস্থার কোনো স্থান নেই; এটি কেবল তখনই কার্যকর হয় যখন এমন কোনো বিচ্যুতি দেখা দেয় যা সংশোধনের দাবি রাখে। যখন উপদেশ ও শয্যা ত্যাগের ব্যবস্থা ফলপ্রসূ হয় না, তখন বুঝতে হবে এই বিচ্যুতি ভিন্ন প্রকৃতির, যেখানে অন্য কোনো মাধ্যম সম্ভবত কার্যকর হতে পারে, আর তা হলো নির্দয় নয় এমন (غير مبرح) প্রহারের মাধ্যম।

হয়তো কেউ কেউ অবাধ্য (ناشز) স্ত্রীর প্রহারকে অপছন্দ করতে পারেন এবং একে সর্বাবস্থায় জুলুম, অন্যায় ও আক্রমণ হিসেবে গণ্য করতে পারেন। তারা তাদের এই বিচারে অবিচার করেছেন এবং ন্যায়বিচার করেননি। হ্যাঁ, ((তোমাদের মধ্যে যারা সর্বোত্তম তারা প্রহার করে না))। একজন সজ্জন ও সম্মানিত ব্যক্তি হয়তো এটি থেকে বিমুখ থাকেন, কিন্তু বিপরীতে সেই ব্যক্তি এতে বাধ্য হতে পারেন যিনি এমন জীবনসঙ্গিনীর পরীক্ষায় পড়েছেন যে তার দাম্ভিকতা ও অবাধ্যতা (نشوز) এটি ব্যতীত পরিহার করে না। আর প্রয়োজনের বিধান ও সীমা নির্ধারিত। অতঃপর, যিনি প্রয়োজনের সময় একে বৈধ করেছেন তিনি স্বয়ং মহান স্রষ্টা, তিনি তাঁর সৃষ্টি সম্পর্কে সম্যক অবগত এবং জানেন তাদের অবস্থার জন্য কোনটি উপযোগী ও কিসে তাদের অবস্থার সংশোধন হবে। তাই তিনি তাঁর শরিয়তে প্রতিটি অবস্থার জন্য যুৎসই বিধান রেখেছেন।

পৃথিবীতে এমন কী বিপর্যয় ঘটবে যদি একজন পরহেজগার ও মহৎ ব্যক্তিকে অনুমতি দেওয়া হয় যে, তিনি হালকা একটি চড় বা মৃদু ধাক্কার মাধ্যমে তাদের কারো দাম্ভিকতা চূর্ণ করবেন এবং অহংবোধ থেকে জন্ম নেওয়া অবাধ্যতা (نشوز) থেকে ফিরিয়ে আনবেন; কিংবা চাবুক বা লাঠির এমন সামান্য আঘাত যা তাকে শিষ্টাচার শেখাবে ও সংশোধন করবে, কিন্তু কোনো যাতনা বা ক্ষত সৃষ্টি করবে না? আর এটি তখনই যখন স্বভাব কলুষিত হয় ও চরিত্রের অবনতি ঘটে এবং স্বামী এর কোনো গত্যন্তর দেখে না এবং স্ত্রীও এটি ব্যতীত অবাধ্যতা (نشوز) থেকে ফিরে আসে না। তবে নারী যখন উপদেশে সাড়া দেয় কিংবা শয্যা ত্যাগের মাধ্যমে সতর্ক হয়, তখন প্রহারের কোনো অবকাশ নেই এবং তার কোনো সুযোগও নেই। কারণ এটি একটি বিশেষ প্রয়োজন যা তার কারণ বিলুপ্ত হওয়ার সাথে সাথে শেষ হয়ে যায়; যেহেতু আমরা নারীদের প্রতি কোমলতা প্রদর্শনের জন্য আদিষ্ট হয়েছি।
(খণ্ড: ১) আন-নুশুয বাইনায যাওজাইন (পৃষ্ঠা: ৩৭)
واجتناب ظلمهن، وإمساكهن بمعروف أو تسريحهن بإحسان (1) .

أخرج أبو داود في سننه من حديث حكيم بن معاوية القشيري، عن أبيه، قال: قلت: يا رسول الله، ما حق زوجة أحدنا عليه؟، قال: " أن تطعمها إذا طعمت، وتكسوها إذا اكتسيت، ولا تضرب الوجه، ولا تقبح، ولا تهجر إلا في البيت " (2) .

أما إذا ما استمرت المرأة في نشوزها وتعاليها على زوجها، فلم تستجب لنصحه وطلبه، ولم تقم بما عليها من حقه، فإن ذلك يسقط حقها في النفقة وغيرها، حتى ترجع عن نشوزها.

وهذا من الأحكام المترتبة على النشوز من قبل المرأة.

جاء في تفسير القرطبي: قال ابن خويزمنداد: والنشوز يسقط النفقة وجميع الحقوق الزوجية، ويجوز معه أن يضربها الزوج ضرب الأدب غير المبرح، والوعظ والهجر حتى ترجع عن نشوزها، فإذا رجعت عادت حقوقها، وكذلك كل ما اقتضى الأدب فجائز للزوج تأديبها.

وقال ابن المنذر: اتفق أهل العلم على وجوب نفقات الزوجات على أزواجهن إذا كانوا جميعاً بالغين، إلا الناشز منهن الممتنعة.

وقال أبو عمر: من نشزت عنه امرأته بعد دخوله، سقطت عنه نفقتها، إلا أن تكون حاملاً (3) .

قوله: {فَإِنْ أَطَعْنَكُمْ فَلا تَبْغُوا عَلَيْهِنَّ سَبِيلاً}

--------------------------------------------

(1) انظر: تفسير المنار 5/74-76، وفي ظلال القرآن 2/654-655.

(2) سنن أبي داود، برقم: (2142) .

(3) تفسير القرطبي 5/174، وانظر: المغني لابن قدامة 11/409-410.
এবং তাদের ওপর জুলুম পরিহার করা, সদ্ভাবে তাদের সাথে বসবাস করা অথবা অনুগ্রহের সাথে তাদের বিদায় দেওয়া (১)।

আবু দাউদ তার সুনান গ্রন্থে হাকিম বিন মুআবিয়া আল-কুশাইরী থেকে, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আমাদের কারো ওপর তার স্ত্রীর অধিকার কী? তিনি বললেন: "তুমি যখন আহার করবে তখন তাকেও আহার করাবে, তুমি যখন পরিধান করবে তাকেও পরিধান করাবে, চেহারায় আঘাত করবে না, তাকে কটু বাক্য বলবে না এবং ঘরের বাইরে তাকে পৃথক (هجر) রাখবে না" (২)।

পক্ষান্তরে, নারী যদি তার অবাধ্যতা (نشوز) এবং স্বামীর ওপর অহমিকা প্রদর্শনে অটল থাকে, তার উপদেশ ও আহ্বানে সাড়া না দেয় এবং স্বামীর প্রাপ্য অধিকারসমূহ আদায় না করে, তবে সেই অবাধ্যতা (نشوز) থেকে ফিরে না আসা পর্যন্ত তার ভরণপোষণ ও অন্যান্য অধিকার রহিত হয়ে যাবে।

আর এটি নারীর পক্ষ থেকে সংঘটিত অবাধ্যতা (نشوز)-এর কারণে আরোপিত বিধানসমূহের অন্তর্ভুক্ত।

তাফসিরে কুরতুবীতে এসেছে: ইবন খুওয়াইয মানদাদ বলেন: অবাধ্যতা (نشوز) ভরণপোষণ ও যাবতীয় দাম্পত্য অধিকারকে রহিত করে দেয়; এমতাবস্থায় স্বামীর জন্য বৈধ যে, সে তাকে শিষ্টাচার শেখানোর উদ্দেশ্যে মৃদু প্রহার করবে, নসিহত করবে এবং পৃথক (هجر) রাখবে যতক্ষণ না সে তার অবাধ্যতা (نشوز) থেকে ফিরে আসে। যখন সে ফিরে আসবে, তখন তার অধিকারসমূহও পুনর্বহাল হবে। একইভাবে শিষ্টাচার পরিপন্থী যেকোনো বিষয়ের ক্ষেত্রে স্বামীর জন্য তাকে শাসন করা বৈধ।

ইবনুল মুনযির বলেন: আলেমগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, স্বামী-স্ত্রী উভয়ই প্রাপ্তবয়স্ক হলে স্ত্রীদের ভরণপোষণ প্রদান করা স্বামীর ওপর আবশ্যক (واجب); তবে অবাধ্য (ناشز) ও অধিকার আদায়ে অস্বীকৃতি জ্ঞাপনকারী নারী এর ব্যতিক্রম।

আবু উমর বলেন: বাসর যাপনের পর যার স্ত্রী তার প্রতি অবাধ্যতা (نشوز) করবে, তার ভরণপোষণ রহিত হয়ে যাবে, যদি না সে গর্ভবতী হয় (৩)।

মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর তারা যদি তোমাদের আনুগত্য করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কোনো পথ অন্বেষণ করো না।}

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তাফসিরে আল-মানার ৫/৭৪-৭৬, এবং ফি যিলালিল কুরআন ২/৬৫৪-৬৫৫।

(২) সুনান আবু দাউদ, নম্বর: (২১৪২)।

(৩) তাফসিরে কুরতুবী ৫/১৭৪, এবং দেখুন: ইবন কুদামা রচিত আল-মুগনী ১১/৪০৯-৪১০।
(খণ্ড: ১) আন-নুশুয বাইনায যাওজাইন (পৃষ্ঠা: ৩৮)
أي فإن رجعن وانقدن إلى ما أوجب الله عليهن من طاعتكم، وحصل المقصود بواحدة من تلك الخصال التأديبية {فَلا تَبْغُوا عَلَيْهِنَّ سَبِيلاً} أي فلا سبيل لكم عليهن بعد ذلك بالتعنت والإيذاء بالهجران والضرب ونحوه.

فعند تحقق الغاية تقف الوسيلة، فالمضي في تلك الإجراءات بعد الرجوع عن النشوز إلى الطاعة المعروفة بغي وتحكم، فمتى استقام لكم الظاهر فلا تبحثوا عما في السرائر ولا تكلفوهن ما ليس بأيديهن، من محبتكم وميول قلوبهن إليكم، كما ينبغي تناسي الأمور السالفة وعدم ذكرها، فإن ذلك أحرى لدوام الوفاق والائتلاف، والبعد عن أسباب الفرقة والاختلاف.

قوله تعالى: {إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيّاً كَبِيراً}

أي له العلو المطلق بجميع الوجوه والاعتبارات، علو الذات، وعلو القدر، وعلو القهر.

الكبير الذي لا أكبر منه، ولا أجل ولا أعظم، كبير الذات والصفات (1) .

وفي ختم الآية بهذين الاسمين العظيمين تمام المناسبة، فإنه لما كان في تأديبهن بما أمر الله تعالى به الزوج اعتلاء للزوج على المرأة، ختم تعالى الآية بصفة العلو والكبر، لينبه العبد على أن المتصف بذلك حقيقة هو الله تعالى، وإنما أذن لكم فيما أذن على سبيل التأديب لهن، فلا تستعلوا عليهن، ولا تتكبروا عليهن، فإن ذلك ليس مشروعاً لكم، وفي هذا وعظ عظيم للأزواج وإنذار لهم بأن قدرة الله عليكم فوق قدرتكم عليهن (2) ، فإنهن وإن ضعفن عن دفع ظلمكم، وعجزن عن الانتصاف منكم، فالله سبحانه علي قاهر، كبير قادر،

--------------------------------------------

(1) تفسير الشيخ عبد الرحمن السعدي 1/319-320.

(2) انظر: البحر المحيط لأبي حيان 3/628.
অর্থাৎ, তারা যদি ফিরে আসে এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের ওপর অর্পিত তোমাদের আনুগত্যের প্রতি অনুগত হয়, আর ঐসকল সংশোধনমূলক বিষয়ের কোনো একটির মাধ্যমে উদ্দেশ্য অর্জিত হয়, তবে {তাদের বিরুদ্ধে কোনো পথ অন্বেষণ করো না}। অর্থাৎ এরপর অবাধ্যতা প্রদর্শন এবং শয্যাত্যাগ ও প্রহার প্রভৃতির মাধ্যমে তাদের কষ্ট দেওয়ার কোনো সুযোগ তোমাদের জন্য অবশিষ্ট থাকবে না।

কেননা উদ্দেশ্য সাধিত হলে উপায়ের ব্যবহার বন্ধ করতে হয়। সুতরাং অবাধ্যতা পরিহার করে স্বাভাবিক আনুগত্যে ফিরে আসার পর এই ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা জারি রাখা হবে সীমালঙ্ঘন ও জবরদস্তি। তাই যতক্ষণ তারা বাহ্যিকভাবে সঠিক থাকবে, ততক্ষণ তাদের অন্তরের বিষয়াদি নিয়ে অনুসন্ধান করো না এবং তাদের সাধ্যের বাইরে কোনো কিছুর (যেমন—তোমাদের প্রতি ভালোবাসা ও হৃদয়ের টান) জন্য তাদের বাধ্য করো না। তেমনিভাবে অতীতের বিষয়গুলো ভুলে যাওয়া এবং তা আলোচনা না করাই শ্রেয়। কারণ এটি দীর্ঘস্থায়ী ঐক্য ও সম্প্রীতির জন্য এবং বিবাদ ও বিচ্ছেদের কারণ থেকে দূরে থাকার জন্য অধিক সহায়ক।

মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই আল্লাহ সুউচ্চ ও মহান}

অর্থাৎ সর্বদিক থেকে এবং সর্ববিচারে তাঁর জন্যই পরম উচ্চতা নির্ধারিত; চাই তা সত্তাগত উচ্চতা হোক, মর্যাদাগত উচ্চতা হোক কিংবা প্রভাব-প্রতিপত্তি ও ক্ষমতার উচ্চতা হোক।

তিনিই সুমহান, যাঁর চেয়ে বড়, মহান বা শ্রেষ্ঠ আর কেউ নেই। তিনি তাঁর সত্তা ও গুণাবলিতে মহান (১)।

আয়াতের শেষে এই দুটি সুমহান নামের উল্লেখ অত্যন্ত সামঞ্জস্যপূর্ণ। কারণ, আল্লাহ তাআলা স্ত্রীকে শাসন করার জন্য স্বামীকে যে নির্দেশ দিয়েছেন, তাতে স্ত্রীর ওপর স্বামীর এক প্রকার প্রাধান্য পরিলক্ষিত হয়। তাই আল্লাহ তাআলা আয়াতটি উচ্চতা ও মহত্বের গুণাবলি দিয়ে শেষ করেছেন, যাতে বান্দাকে এই মর্মে সতর্ক করা যায় যে, প্রকৃতপক্ষে এই গুণাবলির অধিকারী কেবল আল্লাহ তাআলাই। আর তোমাদের যা অনুমতি দেওয়া হয়েছে তা কেবল তাদের সংশোধনের উদ্দেশ্যে। সুতরাং তোমরা তাদের ওপর নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করো না এবং অহংকার প্রদর্শন করো না; কারণ তা তোমাদের জন্য বৈধ নয়। এর মধ্যে স্বামীদের জন্য এক মহান উপদেশ এবং এই মর্মে সতর্কবাণী রয়েছে যে, তোমাদের ওপর আল্লাহর ক্ষমতা তাদের ওপর তোমাদের ক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি (২)। তারা যদি তোমাদের জুলুম প্রতিহত করতে দুর্বল হয় এবং তোমাদের থেকে নিজেদের অধিকার আদায়ে অক্ষম হয়, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সুউচ্চ, পরাক্রমশালী, সুমহান ও সর্বশক্তিমান।

--------------------------------------------

(১) তাফসিরুশ শায়খ আবদুর রহমান আস-সা’দি ১/৩১৯-৩২০।

(২) দেখুন: আল-বাহরুল মুহিত লি আবি হাইয়ান ৩/৬২৮।
(খণ্ড: ১) আন-নুশুয বাইনায যাওজাইন (পৃষ্ঠা: ৩৯)
ينتقم ممن ظلمهن وبغى عليهن، فلا تغتروا بكونكم أعلى يداً منهن، وأكبر درجة، فالله أعلى وأكبر، فاتقوه، واحذروا عقوبته وانتقامه.

যিনি তাদের ওপর জুলুমকারী এবং সীমালঙ্ঘনকারীদের থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করেন। সুতরাং তোমরা তাদের তুলনায় প্রভাবশালী এবং উচ্চতর মর্যাদার অধিকারী হওয়ার কারণে বিভ্রান্ত হয়ো না; কেননা আল্লাহ সর্বাপেক্ষা উচ্চ এবং সর্বশ্রেষ্ঠ। অতএব, তোমরা তাঁকে ভয় করো এবং তাঁর শাস্তি ও প্রতিশোধ থেকে সতর্ক থাকো।