0/0
(খণ্ড: ১) মাশাহিরু উলামাইল আমসার (পৃষ্ঠা: -)
مشاهير علماء الأمصار   (ابن حبان)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: مشاهير علماء الأمصار وأعلام فقهاء الأقطار

المؤلف: محمد بن حبان بن أحمد بن حبان بن معاذ بن مَعْبدَ، التميمي، أبو حاتم، الدارمي، البُستي (ت 354هـ)

حققه ووثقه وعلق عليه: مرزوق على ابراهيم

الناشر: دار الوفاء للطباعة والنشر والتوزيع - المنصورة

الطبعة: الأولى 1411 هـ - 1991 م

عدد الصفحات: 315

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

প্রধান শহরসমূহের প্রখ্যাত উলামায়ে কেরাম   (ইবনে হিব্বান)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ


গ্রন্থ: প্রধান শহরসমূহের প্রখ্যাত উলামায়ে কেরাম এবং বিভিন্ন অঞ্চলের প্রসিদ্ধ ফকীহগণ

লেখক: মুহাম্মদ বিন হিব্বান বিন আহমাদ বিন হিব্বান বিন মুয়াজ বিন মাবাদ, আত-তামিমি, আবু হাতিম, আদ-দারিমি, আল-বুস্তি (মৃত্যু ৩৫৪ হি.)

সম্পাদনা, প্রামাণিকরণ ও টীকা প্রদান: মারজুক আলী ইব্রাহিম

প্রকাশক: দারুল ওয়াফা মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণ - মানসুরা

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১১ হিজরি - ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩১৫

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মাশাহিরু উলামাইল আমসার (পৃষ্ঠা: ٥)
بسم الله الرحمن الرحيم

‌‌مقدمة الطبعة الشرعية الأولى

 

الحمد لله رب السماوات والارض ومن فيهن ورب العرش العظيم نحمده ونستعينه

ونستغفره ونستهديه ونعوذ بالله من شرور انفسنا ومن سيئات اعمالنا انه من يهده الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادى له والصلاة والسلام على اشرف المرسلين وخاتمهم ومن اتبع هديه إليه يوم الدين.

وبعد: فان لمعرفة اسماء الرجال فوائد كثيرة منها معرفة مناقبهم واحوالهم فيتأدب بآدابهم ويقتبس المحاسن من آثارهم ومنها معرفة مراتبهم واعصارهم فينزلون منازلهم ولا يقصر بالعالى في الجلالة عن درجته ولا يرفع غيره عن مرتبته وقد قال الله تعالى: (وفوق كل ذى علم عليم) وكذلك امرنا رسول الله صلى الله عليه وسلم ان ننزل الناس منازلهم ومن فوائد معرفة اسماء الرجال كذلك - وفيهم ائمتنا واسلافنا ويقبح بنا ان نجهلهم - ان يكون العمل والترجيح بقول اعلمهم واورعهم إذا تعارضت اقوالهم ومنها بيان مصنفاتهم ما لها وما عليها والتنبيه على مراتبها وفى ذلك ارشاد وتعريف بما يعتمد منها منها وغير ذلك من الفوائد الكثيرة.

ولقد اهتم ديننا الاسلامي الحنيف بالشنهادة وعدالة الرجال فكان في كل عصر من العصور عدول يحملون هذا الدين ويبلغونه ويقيمون عليه ومن هذا المنطلق الف الحافظ المحدث ابن حبان هذا الكتاب في تاريخ الثقات الذين حفظوا شرع الله وحملوه من خير القرون الى عدول هذه الامة من التابعين وابتاع التابعين فيقول ( … فانى لما رايت السنن ملجا المسلمين في الاحوال ومقصد الصالحين في الاعمال وانها وان كان فيها الفضائل الخطيرة فقد شابها الاباطيل الكثيرة وصعب تلخيص الدليل من الصريح مع تمييز السقيم من الصحيح الا بمعرفة تاريخ الثقات بكيفية ما كانوا عليه في الحالات اردت ان املى في مشاهير علماء الامصار واعلام فقهاء الاقطار دون الضعفاء
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

‌‌প্রথম শরয়ী সংস্করণের ভূমিকা

 

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আসমানসমূহ, জমিন এবং এর মধ্যে যা কিছু আছে তার রব এবং সুমহান আরশের রব। আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য চাই, তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং তাঁর কাছে হেদায়েত কামনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। নিশ্চয়ই আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে বিভ্রান্ত করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক রাসূলগণের মধ্যে সবচেয়ে সম্মানিত এবং তাঁদের সর্বশেষ জনের ওপর এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা তাঁর প্রদর্শিত পথ অনুসরণ করবে তাদের ওপর।

অতঃপর: নিশ্চয়ই বর্ণনাকারীদের নাম জানার অনেক উপকারিতা রয়েছে। তার মধ্যে একটি হলো তাদের মর্যাদা ও অবস্থা সম্পর্কে জানা, যাতে তাদের আদব অনুযায়ী আদব শিক্ষা করা যায় এবং তাদের রেখে যাওয়া কীর্তি থেকে কল্যাণ অর্জন করা যায়। আরেকটি হলো তাদের স্তর ও যুগ সম্পর্কে জানা, যাতে তাদের যথাযথ স্থানে আসীন করা যায়; যেন সুউচ্চ মর্যাদাবান ব্যক্তিকে তার মর্যাদা থেকে নিচে নামানো না হয় এবং অন্য কাউকে তার স্তরের উপরে উঠানো না হয়। মহান আল্লাহ বলেছেন: (প্রত্যেক জ্ঞানীর উপরে একজন মহাজ্ঞানী রয়েছেন)। অনুরূপভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন যে, আমরা যেন মানুষকে তাদের যথাযথ মর্যাদা প্রদান করি। বর্ণনাকারীদের নাম জানার আরেকটি উপকারিতা হলো—আর তাদের মধ্যে আমাদের ইমাম ও পূর্বসূরিগণ রয়েছেন এবং তাদের সম্পর্কে আমাদের অজ্ঞ থাকা অত্যন্ত অশোভন—যখন তাদের বক্তব্যের মধ্যে বৈপরীত্য দেখা দেয়, তখন তাদের মধ্যে অধিক জ্ঞানী ও অধিক পরহেজগার ব্যক্তির বক্তব্যের ভিত্তিতে আমল ও অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা। আরেকটি উপকারিতা হলো তাদের রচনাবলির গুণাগুণ বর্ণনা করা এবং সেগুলোর স্তর সম্পর্কে সতর্ক করা। এর মাধ্যমে কোনটির ওপর নির্ভর করা যাবে আর কোনটির ওপর নয়, সে বিষয়ে দিকনির্দেশনা ও পরিচয় পাওয়া যায়। এছাড়াও আরও অনেক উপকারিতা রয়েছে।

নিশ্চয়ই আমাদের দ্বীন ইসলাম সাক্ষ্য প্রদান ও বর্ণনাকারীদের ন্যায়পরায়ণতার প্রতি অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছে। ফলে প্রতিটি যুগে এমন ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিগণ ছিলেন যারা এই দ্বীনকে বহন করেছেন, তা প্রচার করেছেন এবং এর ওপর প্রতিষ্ঠিত থেকেছেন। এই দৃষ্টিকোণ থেকেই হাফেজ মুহাদ্দিস ইবনে হিব্বান নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের ইতিহাসের ওপর এই কিতাবটি রচনা করেছেন, যারা আল্লাহর শরীয়তকে সংরক্ষণ করেছেন এবং সর্বোত্তম যুগ থেকে এই উম্মতের ন্যায়পরায়ণ তাবেয়ী ও তাবে-তাবেয়ীদের কাছে তা পৌঁছে দিয়েছেন। তিনি বলেন ( ... যখন আমি দেখলাম যে, সুন্নাহ হলো বিভিন্ন অবস্থায় মুসলমানদের আশ্রয়স্থল এবং আমলের ক্ষেত্রে সৎকর্মশীলদের লক্ষ্যস্থল; এবং যদিও এতে মহান ফযিলতসমূহ রয়েছে, তবুও এতে প্রচুর বাতিল বিষয় মিশে গেছে। আর নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের ইতিহাস ও তাদের অবস্থার স্বরূপ জানা ছাড়া সহীহ থেকে যয়ীফ পার্থক্য করে স্পষ্ট দলিল নির্যাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই আমি জনপদের প্রসিদ্ধ আলেমগণ এবং বিভিন্ন অঞ্চলের বিশিষ্ট ফকিহগণ সম্পর্কে বর্ণনা করতে চেয়েছি, দুর্বলদের বাদ দিয়ে।
(খণ্ড: ১) মাশাহিরু উলামাইল আমসার (পৃষ্ঠা: ٦)
والمتروكين اضداد العدول من المجروحين كتابا لطيفا للمقتبسين واقصد في ترصيفها للمتعلمين قصد تفصيل المدن في الاصقاع لما يؤمل فيها من الانتفاع لانها ستة اصقاع

تشملها عمارة الاسلام وما وراء المدن يسكنها غير اولى الاحلام.

اولها: الحجاز بحواليها.

والثانى: العراق بنواحيها.

والثالث: الشام باطرافها.

والرابع: مصر بجوانبها.

والخامس: اليمن بما والاها.

والسادس: خراسان بما دار عليها.

هذه المدن المشهورة في الاسلام المعروفة بعلماء الايام نذكر في كل ناحية ذكرناها ومدينة وصفناها مشاهير العلماء والثقات من الفقهاء من الصحابة والتابعين ومن بعدهم من اتباع التابعين ومن تبعهم من الاخيار والصالحين) وقد دون الحافظ ابن حبان هذا الكتاب على طريقة الطبقات فبداه بنبينا محمد صلى الله عليه وسلم ثم مشاهير الصحابة بالمدينة ثم مشاهير الصحابة بمكة والكوفة … وهكذا.

فإذا انتهى من ذكر طبقات مشاهير الصحابة في جميع اصقاع الاسلام بدا بذكر مشاهير التابعين بالمدينة ومكة والبصرة والكوفة والشام … وهكذا ثم يتلو ذلك مشاهير اتباع التابعين بالمدينة ومكة … الخ.

وكان قد طبع هذا الكتاب في بيروت طبعة ناقصة مشوهة دون اذن منى فرايت تصويب ما وقع في هذه الطبعة من تحريفات واخطاء ونقص وقمت بتزويدها بالزيادات النافعة وذيلتها بالفهارس الفنية المتممة للكتاب والتى خلت منها الطبعة السابقة.

والله اسال ان يتقبل هذا العمل وان يكون خالصا لوجهه الكريم.

القاهرة في 29 ربيع الاول 1410 هـ.

الموافق 29 من اكتوبر 1989 م.

مرزوق على ابراهيم

باحث في مركز تحقيق التراث
...এবং দুর্বল বর্ণনাকারীদের মধ্য থেকে পরিত্যক্ত ব্যক্তিরা যারা নির্ভরযোগ্যদের বিপরীত, জ্ঞানান্বেষীদের জন্য তাদের সম্পর্কে একটি চমৎকার গ্রন্থ। আমি এটি বিন্যাসের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে বিভিন্ন অঞ্চলের শহরগুলোর বিস্তারিত বর্ণনার পদ্ধতি অনুসরণ করার সংকল্প করেছি, যাতে এর দ্বারা কাঙ্ক্ষিত উপকার লাভ করা যায়। কারণ অঞ্চল হলো ছয়টি

যা ইসলামের আবাদি এলাকাগুলোর অন্তর্ভুক্ত, আর এই শহরগুলোর বাইরে জ্ঞান ও বিবেকহীন মানুষরা বসবাস করে।

প্রথমত: হিজাজ ও এর আশপাশের এলাকা।

দ্বিতীয়ত: ইরাক ও এর পাশ্ববর্তী অঞ্চলসমূহ।

তৃতীয়ত: শাম ও এর প্রান্তসমূহ।

চতুর্থত: মিসর ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকা।

পঞ্চমত: ইয়ামেন ও এর সংলগ্ন এলাকা।

ষষ্ঠত: খোরাসান ও এর চারপাশের এলাকা।

এগুলো ইসলামের সেই সুপ্রসিদ্ধ শহর যা সমকালীন আলেমদের মাধ্যমে সুপরিচিত। আমরা উল্লেখিত প্রতিটি অঞ্চলে এবং বর্ণিত প্রতিটি শহরের প্রসিদ্ধ আলেম এবং সাহাবী, তাবেয়ী ও তাদের পরবর্তী তাবে-তাবেয়ীন এবং তাদের অনুসরণকারী পুণ্যবান ও নেককারদের মধ্য থেকে বিশ্বস্ত ফকীহদের কথা উল্লেখ করব। হাফেজ ইবনে হিব্বান এই গ্রন্থটি স্তরায়ন পদ্ধতিতে সংকলন করেছেন; তিনি আমাদের নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আলোচনার মাধ্যমে শুরু করেছেন, এরপর মদীনার প্রসিদ্ধ সাহাবীগণ, অতঃপর মক্কা ও কুফার প্রসিদ্ধ সাহাবীগণ … এভাবে ক্রমান্বয়ে বর্ণনা করেছেন।

যখন তিনি ইসলামের সকল অঞ্চলের প্রসিদ্ধ সাহাবীদের স্তরসমূহ উল্লেখ করা শেষ করেছেন, তখন তিনি মদীনা, মক্কা, বসরা, কুফা ও শামের প্রসিদ্ধ তাবেয়ীদের আলোচনা শুরু করেছেন … এভাবে চলবে। এরপর মদীনা ও মক্কার প্রসিদ্ধ তাবে-তাবেয়ীনদের আলোচনা এসেছে … ইত্যাদি।

এই গ্রন্থটি ইতিপূর্বে বৈরুতে আমার অনুমতি ছাড়াই একটি অসম্পূর্ণ ও বিকৃত সংস্করণে মুদ্রিত হয়েছিল। তাই আমি সেই সংস্করণে ঘটে যাওয়া বিকৃতি, ভুল ও অসম্পূর্ণতাগুলো সংশোধন করা আবশ্যক মনে করেছি। আমি এতে উপকারী অতিরিক্ত তথ্য সংযোজন করেছি এবং বইটির পূর্ণতা বিধানে পদ্ধতিগত সূচি যুক্ত করেছি, যা পূর্ববর্তী সংস্করণে ছিল না।

আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন এই কাজ কবুল করেন এবং একে একমাত্র তাঁর মহান সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নিবেদিত করেন।

কায়রো, ২৯ রবিউল আউয়াল ১৪১০ হিজরী।

২৯ অক্টোবর ১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দের সমসাময়িক।

মারজুক আলী ইবরাহিম

ঐতিহ্য গবেষণা কেন্দ্রের গবেষক।
(খণ্ড: ১) মাশাহিরু উলামাইল আমসার (পৃষ্ঠা: ٧)
مشاهير علماء الامصار بين طبعتين صدرت الطبعة الاولى لكتاب (مشاهير علماء الامصار) سنة 1379 هـ تحت - رقم (12) ضمن سلسلة النشريات الاسلامية وعني بتصحيحه المستشرق فلا يشهمر وطبع في القاهرة في مطبعة لجنة التاليف والترجمة والنشر.

وصف المخطوطة التي اعتمدها فلا يشهمر في النشر: ان المخطوطة التي اعتمدها للنشر هي الوحيدة وقد عثر عليها في مكتبة الجامعة في مدينة ليبسك.

ووصفها كارل فولرز باختصار في (فهرس المخطوطات الشرقية لمكتبة الجامعة بليبسك) تحت رقم 688 وقد كتب على الصفحة الاولى لله حبنا (كذا) وحده كتاب مشاهير علماء الامصار رحمهم الله تعالى من تصنيف الامام ابي حاتم محمد بن حبان بن احمد البستي رضى الله عنه … الخ.

ملاحظات على النشرة: قال فلا يشهمر:
জনপদের প্রসিদ্ধ আলেমগণ দুই সংস্করণের মাঝে: 'জনপদের প্রসিদ্ধ আলেমগণ' কিতাবটির প্রথম সংস্করণ ১৩৭৯ হিজরি সালে ইসলামি প্রকাশনা সিরিজের ১২ নম্বর ক্রমিকের অধীনে প্রকাশিত হয়েছে। এর সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেছেন প্রাচ্যবিদ ফ্ল্যাইশহ্যামার এবং এটি কায়রোর রচনা, অনুবাদ ও প্রকাশনা কমিটির ছাপাখানায় মুদ্রিত হয়েছে।

ফ্ল্যাইশহ্যামার প্রকাশনার জন্য যে পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছেন তার বর্ণনা: তিনি প্রকাশনার জন্য যে পাণ্ডুলিপিটি অবলম্বন করেছেন সেটিই একমাত্র এবং এটি লাইপজিগ শহরের বিশ্ববিদ্যালয় লাইব্রেরিতে পাওয়া গেছে।

কার্ল ভোলার্স 'লাইপজিগ বিশ্ববিদ্যালয় লাইব্রেরির প্রাচ্যের পাণ্ডুলিপি তালিকা'-এর ৬৮৮ নম্বরের অধীনে এর সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দিয়েছেন। এর প্রথম পৃষ্ঠায় লেখা ছিল: "আল্লাহর জন্যই আমাদের ভালোবাসা (এরূপই আছে) তিনি একক; জনপদের প্রসিদ্ধ আলেমগণের কিতাব, আল্লাহ তাআলা তাঁদের ওপর রহম করুন, এটি ইমাম আবু হাতিম মুহাম্মাদ বিন হিব্বান বিন আহমাদ আল-বুস্তি (রাজিয়াল্লাহু আনহু) এর সংকলন..." ইত্যাদি।

প্রকাশনা বিষয়ক টীকা: ফ্ল্যাইশহ্যামার বলেছেন:
(খণ্ড: ১) মাশাহিরু উলামাইল আমসার (পৃষ্ঠা: ٨)
[1] جرينا في الطبع وفق الرسم الرائج واوردنا اسماء الاعلام المحذوفة الفها كما تكتب اليوم واعتمدنا مختصرات التعابير الدينية.

(ب) ضمنا النص بعض استدراكات الناسخ المدونة على حواشيه وفي تضاعيفه بدون تنبيه كما انه لم نجد داعيا بالاشارة الى الاخطاء التي جرى تصحيحها في صمت.

(ج) رقمنا التراجم بالتتابع بحيث ان نمكن مراجعتها في الفهرس فاسم المحدث يتخذ

شكلا واحدا في النص والفهرس وصدرنا الكتاب بدليل للموضوعات.

(د) ذكرنا في الهامش بعد نقطتين وبين قوسين () الكلمة كما جاءت في الاصل والمصادر المعتمدة عليها وعند الضرورة كذلك اسباب التصحيح واشرنا الى زياداتنا في النص وفي الهامش بمعكوفتين [] ولم ناخذ في الاعتبار ملاحظات المطالعين ومقارناتهم المدونة الا إذا وجدنا اهميتها) أهـ
[১] আমরা প্রচলিত লিখনপদ্ধতি অনুযায়ী মুদ্রণকার্য পরিচালনা করেছি এবং বিখ্যাত ব্যক্তিদের নামের যে আলিফগুলো বিলুপ্ত ছিল, সেগুলো বর্তমানে যেভাবে লেখা হয় সেভাবেই উল্লেখ করেছি এবং ধর্মীয় পরিভাষাসমূহের সংক্ষিপ্ত রূপ গ্রহণ করেছি।

(খ) আমরা মূল পাঠ্যের মধ্যে লিপিকারের পার্শ্বটীকা এবং পাঠ্যের অভ্যন্তরে থাকা সংশোধনীগুলো কোনো বিশেষ ঘোষণা ছাড়াই অন্তর্ভুক্ত করেছি। একইভাবে, যেসব ভুল নিঃশব্দে সংশোধন করা হয়েছে, সেগুলোর প্রতি আলাদাভাবে ইঙ্গিত করার কোনো প্রয়োজন আমরা অনুভব করিনি।

(গ) আমরা জীবনীগুলোকে ধারাবাহিকভাবে নম্বর প্রদান করেছি যাতে সূচিপত্রে সেগুলো মিলিয়ে দেখা সম্ভব হয়। ফলে মুহাদ্দিসের নাম

মূল পাঠ্য ও সূচিপত্রে অভিন্ন রূপ লাভ করেছে এবং আমরা গ্রন্থের শুরুতে একটি বিষয়ভিত্তিক নির্দেশিকা যুক্ত করেছি।

(ঘ) আমরা পাদটীকায় কোলনের পরে এবং বন্ধনীর () ভেতরে শব্দটি যেভাবে মূল পাণ্ডুলিপি ও নির্ভরযোগ্য উৎসসমূহে এসেছে তা উল্লেখ করেছি এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সংশোধনের কারণও দর্শিয়েছি। মূল পাঠ্য ও পাদটীকায় আমাদের নিজস্ব সংযোজনসমূহকে আমরা বর্গাকার বন্ধনী [] দিয়ে চিহ্নিত করেছি। পাঠকদের পর্যবেক্ষণ ও লিখিত তুলনাগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত না হলে আমরা তা গ্রহণ করিনি। ইতি।
(খণ্ড: ১) মাশাহিরু উলামাইল আমসার (পৃষ্ঠা: ٩)
‌‌نقد الدكتور صلاح الدين المنجد للنشرة الأولى للكتاب بتصحيح فلا يشهمر

[مجلة معهد المخطوطات - السنة السادسة / القسم الثاني: 296 - 298]

كتب الدكتور صلاح الدين المنجد - المحقق المعروف - مقالا ينتقد فيه طبعة فلا يشهمر لكتاب (مشاهير علماء الامصار!!)

ونحن نلخص ما جاء به هنا:

1 - (ذكر فلا يشهمر ان على الصفحة الاولى من الكتاب جاء ما يلى (كتاب مشاهير علماء الامصار من تصنيف الامام ابي حاتم محمد بن حبان بن احمد البستي رضي الله عنه.

في حين نجد في مقدمة المؤلف نفسه انه ذكر (مشاهير العلماء والثقات من الفقهاء من الصحابة والتابعين ومن بعدهم من اتباع التابعين ومن تبعهم من الاخيار والصالحين) .

ثم رجح - حفظه الله - ان هذه النشرة قد تكون مختصرة من كتاب ابن حبان خاصة وانها ساقطة منها (اتباع التابعين) ونقول من المقطوع به بان هذا الكتاب لابن حبان ويؤيد ذلك كثرة الا حالات على كتبه (كالمجروحين) و (الثقات) .

كذلك عند مقابلة نصوص هذا الكتاب على كتب المؤلف الاخرى تجد المطابقة خاصة في اختيار ترجيح في الانساب أو الكنى أو الالقاب … الخ.

2 - ادخل فلا يشهمر استدراكات للناسخ مدونة على الحواشي والتضاعيف دون تنبيه

وهذا مخالف لقواعد النشر فالواجب ان ينبه الى كل ما يدخل في النص من الحواشي أو الهوامش حتى نعلم نص الكتاب وما اضيف إليه فنحن ما ندري ما هذه الاضافات وهل هي حقا من نص الكتاب أو تصحيحات واستدراكات من الناسخ.

وعلى هذا فالنص الذي قدمه فلا يشهمر قد اختلط فيه الحابل بالنابل!! !.
ফ্লাইশহ্যামার কর্তৃক সম্পাদিত বইটির প্রথম সংস্করণের প্রতি ডক্টর সালাহুদ্দিন আল-মুনাজ্জিদের সমালোচনা

[জার্নাল অব দি ইনস্টিটিউট অব ম্যানুস্ক্রিপ্টস - ষষ্ঠ বর্ষ / দ্বিতীয় অংশ: ২৯৬ - ২৯৮]

সুপরিচিত গবেষক ডক্টর সালাহুদ্দিন আল-মুনাজ্জিদ একটি প্রবন্ধ লিখেছেন যেখানে তিনি 'মাশাহির উলামাউল আমসার' গ্রন্থের ফ্লাইশহ্যামার সংস্করণের সমালোচনা করেছেন।

তিনি যা উল্লেখ করেছেন আমরা এখানে তার সারসংক্ষেপ তুলে ধরছি:

১ - (ফ্লাইশহ্যামার উল্লেখ করেছেন যে বইটির প্রথম পৃষ্ঠায় নিম্নোক্ত কথাটি ছিল: "ইমাম আবু হাতিম মুহাম্মদ বিন হিব্বান বিন আহমদ আল-বুস্তি -রাদিয়াল্লাহু আনহু- কর্তৃক সংকলিত মাশাহির উলামাউল আমসার" বইটি।

পক্ষান্তরে, আমরা স্বয়ং লেখকের ভূমিকায় পাই যে তিনি উল্লেখ করেছেন: (সাহাবী, তাবিঈ এবং তাদের পরবর্তী আতবাউত তাবিঈন এবং তাদের অনুসারী নেককার ও সৎ ব্যক্তিদের মধ্য হতে প্রখ্যাত আলিম ও নির্ভরযোগ্য ফকীহগণ)।

এরপর তিনি —আল্লাহ তাকে হিফাযত করুন— এই মত ব্যক্ত করেছেন যে, এই সংস্করণটি ইবনে হিব্বানের মূল গ্রন্থের একটি সংক্ষিপ্তসার হতে পারে, বিশেষ করে যেহেতু এতে 'আতবাউত তাবিঈন' অংশটি বাদ পড়েছে। আমরা বলি যে, এই বইটি যে ইবনে হিব্বানেরই, তা নিশ্চিত; এবং তার অন্যান্য বই যেমন 'আল-মাজরুহীন' ও 'আছ-ছিকাত'-এর প্রতি প্রচুর উদ্ধৃতি এই দাবিকে সমর্থন করে।

একইভাবে, লেখকের অন্যান্য বইয়ের সাথে এই বইটির পাঠ্যসমূহ মিলিয়ে দেখলে মিল খুঁজে পাওয়া যায়, বিশেষ করে বংশলতিকা, উপনাম (কুনিয়াত) বা উপাধি ইত্যাদির ক্ষেত্রে বর্ণনার অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে ... ইত্যাদি।

২ - ফ্লাইশহ্যামার পাণ্ডুলিপির নকলকারীর করা সংশোধনী ও টীকাগুলো, যা মার্জিনে বা পাতার ভাঁজে লেখা ছিল, কোনো সতর্কতা বা ব্যাখ্যা ছাড়াই মূল পাঠের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

এটি প্রকাশনার নিয়মনীতি বিরোধী। মার্জিন বা টীকা থেকে মূল পাঠে যা কিছু অন্তর্ভুক্ত করা হয়, সে সম্পর্কে পাঠককে সতর্ক করা আবশ্যক যেন আমরা বইয়ের মূল পাঠ এবং তাতে পরবর্তীতে যা যোগ করা হয়েছে তার মধ্যে পার্থক্য করতে পারি। কারণ আমরা জানি না এই সংযোজনগুলো কী, এগুলো কি সত্যিই বইয়ের মূল পাঠের অংশ নাকি নকলকারীর পক্ষ থেকে করা কোনো সংশোধন বা পরিমার্জন।

এই কারণে, ফ্লাইশহ্যামার কর্তৃক উপস্থাপিত পাঠ্যটিতে সত্য-মিথ্যা ও মূল-অমূল সব মিশে একাকার হয়ে গেছে!!!।
(খণ্ড: ১) মাশাহিরু উলামাইল আমসার (পৃষ্ঠা: ١٠)
3 - ان هذا الكتاب كله اسماء اعلام ولا يتم تحقيق نص كلمة اعلام الا إذا ضبطت الاسماء بالشكل التام.

وهذا ما لم يفعله المحقق لذلك كان من الصعب الرجوع الى هذا الكتاب!! لان القارئ لا يدري كيف يقرأ فيه اسماء اعلام!! 4 - ضبط المحقق (فلا يشهمر) بعض الالفاظ خطا.

5 - في النص اخطاء مطبعية كثيرة اخطا المحقق في قراءتها 6 - قال المحقق (جرينا في الطبع وفق الرسم الرائج) ولم يفعل في كل الكتاب ما اشترطه على نفسه!!
৩ - এই সম্পূর্ণ গ্রন্থটি ব্যক্তিনাম বা আসমা-উল-আ'লাম বিষয়ক, আর ব্যক্তিনাম সম্বলিত পাঠ্যের সঠিক সম্পাদনা ততক্ষণ পর্যন্ত সম্পন্ন হয় না, যতক্ষণ না নামসমূহ পূর্ণাঙ্গ স্বরচিহ্নসহ নির্ধারণ করা হয়।

আর সম্পাদক এটিই করেননি, যার ফলে এই গ্রন্থটি ব্যবহার করা বা এর সাহায্য নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে!! কারণ পাঠক জানেন না যে এর মধ্যকার ব্যক্তিনামগুলো কীভাবে পাঠ করতে হবে!! ৪ - সম্পাদক কিছু শব্দের উচ্চারণ বা স্বরচিহ্ন নির্ধারণে ভুল করেছেন।

৫ - মূল পাঠ্যে প্রচুর মুদ্রণজনিত ত্রুটি রয়েছে যা পাঠ করার ক্ষেত্রে সম্পাদক ভুল করেছেন। ৬ - সম্পাদক বলেছেন (আমরা প্রচলিত লিখনরীতি অনুযায়ী মুদ্রণ কাজ পরিচালনা করেছি), অথচ তিনি সমগ্র গ্রন্থে সেই শর্তটি পালন করেননি যা তিনি নিজের ওপর আবশ্যক করেছিলেন!!
(খণ্ড: ১) মাশাহিরু উলামাইল আমসার (পৃষ্ঠা: ١١)
‌‌طريقتنا في اخراج هذه الطبعة

* اعتمدنا على طبعة (فلا يشهمر) نظرا لعدم وجود مخطوطة اخرى للكتاب حتى اليوم مع حرصنا على الحصول على اخرى ولم نوفق للان الا اننا قومنا النص قدر الاستطاعة بالرجوع الى الاصول المعتمدة في علم الرجال وخاصة للمصنف (كالثقات) واعتمدنا على الطبعة التي صدرت في حيدر آباد بالهند في تسعة مجلدات.

وكثيرا ما وجدنا اخطاء فاحشة عند المقابلة بين الكتابين.

* وضعنا في الاعتبار كل ما اخذه الدكتور المنجد على المحقق الاول (فلا يشهمر) وتبين لنا صواب ما اتى بها مع وجود اخطاء كثيرة وما اتى به الدكتور المنجد غيض من فيض.

* اثبتنا الصواب الموافق للاصول بين معكوفين [] ثم علقنا بعض التعليقات التي

تمس الحاجة إليها.

* ابدلنا التعابير الدينية (كما سماها فلا يشهمر) بالفاظها كقوله (صلعم) فابدلناها صلى الله عليه وسلم وقوله (رض) ابدلناها رضي الله عنه.

* وضعنا الايات بين اقواس عزيزية كما هو معروف () .

* قمنا بضبط الاعلام المشتبهة التي قد يخطا في نطقها كثير من الناس بالاعتماد على كتب هذا الفن (كاللباب لابن الاثير) والمغني في ضبط اسماء الرجال - (للهندي) .

والمشتبه للذهبي وغيرها.

* وضعنا بالهامش اسماء المصادر التي ترجمت (للعلم) الذي يورده ابن حبان كي يسهل الرجوع الى التفاصيل خاصة والكتاب قد اتي تختصرا جدا.

* قومنا النص وصححنا الاخطاء المطبعية التي وقعت في طبعة فلا يشهمر.
এই সংস্করণটি প্রকাশের ক্ষেত্রে আমাদের পদ্ধতি

* অদ্যবধি এই কিতাবটির অন্য কোনো পাণ্ডুলিপি না থাকায় আমরা (ফ্লায়েশহ্যামার) সংস্করণের ওপর নির্ভর করেছি। যদিও আমরা অন্য কোনো পাণ্ডুলিপি সংগ্রহের জন্য অত্যন্ত সচেষ্ট ছিলাম, কিন্তু এখন পর্যন্ত সফল হতে পারিনি। তবে আমরা ‘ইলমুর রিজাল’ শাস্ত্রে নির্ভরযোগ্য মূল উৎসসমূহ, বিশেষ করে গ্রন্থকারের নিজস্ব কিতাব (যেমন: আস-সিকাত)-এর দিকে প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে যথাসম্ভব পাঠ্য সংশোধন করেছি। এছাড়া আমরা ভারতের হায়দারাবাদ থেকে নয় খণ্ডে প্রকাশিত সংস্করণের ওপরও নির্ভর করেছি।

উভয় কিতাবের মধ্যে তুলনামূলক পর্যালোচনার সময় আমরা প্রায়শই মারাত্মক সব ভুল খুঁজে পেয়েছি।

* প্রথম গবেষক (ফ্লায়েশহ্যামার)-এর ওপর ডক্টর আল-মুনাজ্জিদ যেসব আপত্তি উত্থাপন করেছেন, আমরা সেগুলো বিবেচনায় রেখেছি। আমাদের কাছে তার উপস্থাপিত সংশোধনগুলো সঠিক বলে প্রতীয়মান হয়েছে, তবে সেখানেও অনেক ভুল বিদ্যমান ছিল। ডক্টর আল-মুনাজ্জিদ যা তুলে ধরেছেন তা ছিল বিশাল ভুলের সামান্য অংশ মাত্র।

* আমরা মূল উৎসসমূহের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ সঠিক পাঠ্যটুকু তৃতীয় বন্ধনী [ ]-এর মধ্যে স্থাপন করেছি এবং এরপর প্রয়োজনীয় কিছু টীকা যুক্ত করেছি।

* আমরা ধর্মীয় সংক্ষেপণগুলোকে (ফ্লায়েশহ্যামার যেভাবে নামকরণ করেছিলেন) পূর্ণ শব্দে রূপান্তর করেছি। যেমন: (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সংক্ষিপ্ত রূপের পরিবর্তে পূর্ণ শব্দ ‘সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ এবং (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সংক্ষিপ্ত রূপের পরিবর্তে ‘রাদিয়াল্লাহু আনহু’ লিখেছি।

* আমরা আয়াতসমূহকে প্রচলিত পদ্ধতিতে বন্ধনীর ( ) মধ্যে স্থাপন করেছি।

* অনেক মানুষ উচ্চারণ করতে ভুল করতে পারে এমন অস্পষ্ট নামগুলোকে (আল-আ’লাম আল-মুশতাবিহা) আমরা এই শাস্ত্রের নির্ভরযোগ্য কিতাবসমূহ (যেমন: ইবনুল আসিরের ‘আল-লুবাব’, হিন্দির ‘আল-মুগনি ফি দবতি আসমাঈর রিজাল’, আয-যাহাবীর ‘আল-মুশতাবিহ’ ইত্যাদি) অনুসরণে যথাযথভাবে বিন্যস্ত করেছি।

* আমরা পাদটীকায় ওইসব উৎসের নাম উল্লেখ করেছি যেখানে ইবনে হিব্বান কর্তৃক উল্লিখিত ব্যক্তিদের জীবনী বর্ণিত হয়েছে, যাতে বিস্তারিত বিবরণের জন্য সেগুলোর দিকে প্রত্যাবর্তন করা সহজ হয়; বিশেষ করে এই কিতাবটি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত আকারে সংকলিত হয়েছে।

* আমরা পাঠ্যটি পরিমার্জন করেছি এবং ফ্লায়েশহ্যামার সংস্করণে বিদ্যমান মুদ্রণজনিত ভুলগুলো সংশোধন করেছি।
(খণ্ড: ১) মাশাহিরু উলামাইল আমসার (পৃষ্ঠা: ١٢)
* رجحنا الاسم الذي اختاره المصنف وذكره وهذا ما نطمئن إليه في غياب غلاف المخطوط الذي لم يضعه فلا يشهمر في نشرته.

وهذا ما ذهب ما ذهب إليه الدكتور صلاح الدين المنجد فاخترنا اسم الكتاب: (مشاهير علماء الامصار واعلام فقهاء الاقطار من الصحابة والتابعين ومن بعدهم من اتباع التابعين) هذا ونامل ان تظهر مخطوطة اخرى لهذا الكتاب كي نقدمه في طبعة اخرى اكثر خدمة من هذه وعزاؤنا في هذه الطبعة انها تلاشت اخطاء الطبعة الاولى وظهر الكتاب في اسمه الصحيح - والله من وراء القصد وهو حسبنا ونعم الوكيل.

القاهرة في 23 من رجب 1407 23 من مارس 1987

مرزوق علي ابراهيم
আমরা গ্রন্থকার কর্তৃক নির্বাচিত ও উল্লিখিত নামটিকেই অগ্রাধিকার প্রদান করেছি এবং পাণ্ডুলিপির প্রচ্ছদের অনুপস্থিতিতে—যা তিনি যুক্ত করেননি এবং তাঁর প্রকাশনায় যা প্রসিদ্ধ নয়—আমরা এই নামটির উপরেই আশ্বস্ত হয়েছি।

ডক্টর সালাহউদ্দীন আল-মুনজিদও এই মতটিই ব্যক্ত করেছেন, ফলে আমরা গ্রন্থটির নাম নির্ধারণ করেছি: (জনপদসমূহের প্রসিদ্ধ আলেম ও দিগন্তের প্রখ্যাত ফকীহগণ; যারা সাহাবী, তাবিঈ এবং তাঁদের পরবর্তী তাবি-তাবিঈদের অন্তর্ভুক্ত)। আমরা আশা করি যে এই গ্রন্থের অন্য কোনো পাণ্ডুলিপি প্রকাশ পাবে যাতে আমরা এটিকে বর্তমান সংস্করণের তুলনায় অধিকতর খেদমতের সাথে পরবর্তী কোনো সংস্করণে উপস্থাপন করতে পারি। এই সংস্করণে আমাদের প্রাপ্তি হলো প্রথম সংস্করণের ভুলসমূহ বিলুপ্ত হয়েছে এবং গ্রন্থটি তার সঠিক নামে আত্মপ্রকাশ করেছে—আল্লাহই মূল লক্ষ্য সম্পর্কে সম্যক অবগত এবং তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট ও সর্বোত্তম কর্মবিধায়ক।

কায়রো, ২৩শে রজব ১৪০৭ হিজরি, ২৩শে মার্চ ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দ

মারজুক আলী ইবরাহিম
(খণ্ড: ১) মাশাহিরু উলামাইল আমসার (পৃষ্ঠা: ١٣)
‌‌الامام العالم الفاضل المتقن المحقق الحافظ العلامة محمد بن حبان بن احمد بن حبان التميمي البستي أبو حاتم المتوفى سنة 354 هـ

اسمه ونسبه: هو مخمد بن حبان بن احمد بن حبان - بكسر الحاء المهملة وبالباء الموحدة فيهما - بن معاذ بن معبد - بالباء الوحدة - بن سعيد بن سهيد - بفتح السين المهملة وكسر الهاء - ويقال: ابن معبد ابن هدية - بفتح الهاء وكسر الدال وتشديد الياء آخر الحروف - ابن مرة بن سعد بن يزيد بن مرة بن زيد بن عبد الله بن دارم بن مالك بن حنظلة بن مالك بن زيد بن مناة بن تميم بن مر بن اد بن طانجة بن الياس بن مضر بن نزار بن معد بن عدنان أبو حاتم التميمي البستي القاضي احد الائمة الرحالين والمصنفين.

ولد ببست وهي مدينة كبيرة هراة وغزنة (من بلاد كابل عاصمة افغان اليوم) ذكر نبذة عن شيوخه وذكر ابتداء طلبه للعلم والرحلة فيه: قال الحاكم النيسابوري: (كان ابن حبان من اوعية العلم في الفقه واللغة والحديث والوعظ ومن عقلاء الرجال قدم نيسابور سنة اربع وثلاثين مئة فسار الى قضاء نسا
ইমাম, আলিম, ফাযিল, সুনিপুণ গবেষক, হাফিয, আল্লামা মুহাম্মাদ ইবনে হিব্বান ইবনে আহমাদ ইবনে হিব্বান আত-তামীমী আল-বুসতী আবু হাতিম, মৃত্যু ৩৫৪ হিজরী।

তাঁর নাম ও বংশপরিচয়: তিনি হলেন মুহাম্মাদ ইবনে হিব্বান ইবনে আহমাদ ইবনে হিব্বান—উভয় ক্ষেত্রে 'হা' বর্ণে কাসরা এবং 'বা' বর্ণে এক নুকতা বিশিষ্ট—ইবনে মুআয ইবনে মা’বাদ—'বা' বর্ণে এক নুকতা বিশিষ্ট—ইবনে সাঈদ ইবনে সুহাইদ—'সীন' বর্ণে ফাতহা এবং 'হা' বর্ণে কাসরা বিশিষ্ট—এবং বলা হয়ে থাকে: ইবনে মা’বাদ ইবনে হাদিয়্যাহ—'হা' বর্ণে ফাতহা, 'দাল' বর্ণে কাসরা এবং শেষের 'ইয়া' বর্ণে তাশদীদ বিশিষ্ট—ইবনে মুররাহ ইবনে সাদ ইবনে ইয়াযীদ ইবনে মুররাহ ইবনে যায়িদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে দারিম ইবনে মালিক ইবনে হানযালাহ ইবনে মালিক ইবনে যায়িদ ইবনে মানাত ইবনে তামীম ইবনে মুর ইবনে উদ্দ ইবনে তাবিজাহ ইবনে ইলিয়াস ইবনে মুযার ইবনে নিযার ইবনে মা’আদ ইবনে আদনান আবু হাতিম আত-তামীমী আল-বুসতী আল-কাযী, যিনি অন্যতম পরিব্রাজক ইমাম এবং গ্রন্থকার ছিলেন।

তিনি বুসত নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন, যা হেরাত ও গজনীর মধ্যবর্তী একটি বড় শহর (বর্তমানে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের অন্তর্ভুক্ত)। তাঁর শিক্ষকগণের সংক্ষিপ্ত বিবরণ এবং ইলম অন্বেষণের সূচনা ও এ পথে তাঁর সফরের বর্ণনা: আল-হাকিম আন-নাইসাবুরী বলেন: "ইবনে হিব্বান ফিকহ, লুগাত (ভাষা), হাদীস এবং ওয়ায-নসীহতের ক্ষেত্রে ইলমের এক বিশাল আধার ছিলেন এবং তিনি অত্যন্ত বুদ্ধিমান ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি তিনশত চৌত্রিশ হিজরীতে নাইসাবুরে আগমন করেন, অতঃপর নাসা শহরের বিচারিক দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে রওনা হন।"
(খণ্ড: ১) মাশাহিরু উলামাইল আমসার (পৃষ্ঠা: ١٤)
ثم انصرف الينا في سنة سبع فاقام عندنا بنيسابور وبنى الخانقاه وقرئ عليه جملة من مصنفاته ثم خرج من نيسابور الى وطنه سجستان عام اربعين وكانت الرحلة إليه لسماع حديثه) فهذا نص هام يحفظ لنا نموذج من رحلة (ابن حبان) في طلب العلم اما اهم شيوخه (2] : - الحسن بن سفيان (سمع منه في نسا) .

- عمران بن موسى بن مجاشح الجرجاني (سمع منه بجرجان) .

- محمد بن ابراهيم بن المنذر النيسابوري (سمع منه بمكة المكرمة) .

- احمد بن شعيب بن علي النسائي (سمع منه بفسطاط مصر) .

- عبد الله بن محمد بن مسلم الخطيب المقدسي (سمع منه ببيت المقدس) .

- احمد بن عمير بن جوصاء الحافظ الدمشقي (سمع منه بدمشق) .

- محمد بن الحسن ابي بكر بن قتيبة العسقلاني (سمع منه بالرملة) .

- علي بن سعيد العسكري (سمع منه بسامراء) .

- الحسين بن عبد الله بن يزيد القطان (سمع منه بالرقة) .

- أبو عبد الرحمن: عبد الله بن محمود بن سليمان (سمعه منه بمرو) .

- محمد بن اسحاق بن ابراهيم السراج (سمع منه بنيسابور) .

- احمد بن داود بن محسن بن هلال المصيصي (سمع منه بحلب) .

- محمد بن ابي المعافى بن سليمان الصيداوي (سمع منه بصيدا) .

- حعفر بن محمد الهمداني (سمع منه بصور) .

- محمد بن عبد الله بن الفضل الكلاعي الراهب (سمع منه بحمص) .

فهذا قدر قليل للتعرف على ناحية من شيوخ هذا الامام الحافظ.

(لقد وفق ابن حبان في رحلته الطويلة ايما توفيق فقد اجتمع له من الشيوخ والروايات والاخبار الشئ الكثير والعدد الوفير فقد جاء في مقدمة صحيحه انه كتب عن اكثر من الفي
অতঃপর তিনি (সাত) সালে আমাদের নিকট ফিরে আসেন এবং নিশাপুরে আমাদের সান্নিধ্যে অবস্থান করেন। তিনি সেখানে একটি খানকাহ নির্মাণ করেন এবং তাঁর নিকট তাঁর রচনাবলির একটি বড় অংশ পাঠ করা হয়। অতঃপর তিনি চল্লিশ সালে নিশাপুর হতে স্বীয় জন্মভূমি সিজিস্তানের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। তাঁর নিকট হাদীস শ্রবণের উদ্দেশ্যে জ্ঞানপিপাসুদের সফরের ধারা অব্যাহত ছিল। ইলম অন্বেষণে (ইবনে হিব্বানের) সফরের একটি নমুনা হিসেবে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পাঠ্য যা আমাদের জন্য সংরক্ষিত রয়েছে। তাঁর প্রধান শিক্ষকদের [২] তালিকা নিম্নরূপ:

- আল-হাসান ইবনে সুফিয়ান (নাসায় তাঁর নিকট হতে হাদীস শ্রবণ করেছেন)।

- ইমরান ইবনে মূসা ইবনে মুজাশেহ আল-জুরজানি (জুরজানে তাঁর নিকট হতে হাদীস শ্রবণ করেছেন)।

- মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহীম ইবনে আল-মুনজির আন-নিশাপুরি (মক্কা মুকাররমায় তাঁর নিকট হতে হাদীস শ্রবণ করেছেন)।

- আহমদ ইবনে শুআইব ইবনে আলী আন-নাসায়ী (মিশরের ফুসতাতে তাঁর নিকট হতে হাদীস শ্রবণ করেছেন)।

- আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে মুসলিম আল-খতিব আল-মাকদিসি (বাইতুল মুকাদ্দাসে তাঁর নিকট হতে হাদীস শ্রবণ করেছেন)।

- আহমদ ইবনে উমাইর ইবনে জাওসা আল-হাফিয আদ-দিমাশকি (দামেস্কে তাঁর নিকট হতে হাদীস শ্রবণ করেছেন)।

- মুহাম্মাদ ইবনে আল-হাসান আবু বকর ইবনে কুতাইবা আল-আসকালানি (রামলায় তাঁর নিকট হতে হাদীস শ্রবণ করেছেন)।

- আলী ইবনে সাঈদ আল-আসকারি (সামাররায় তাঁর নিকট হতে হাদীস শ্রবণ করেছেন)।

- আল-হুসাইন ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে ইয়াযীদ আল-কাত্তান (রাক্কায় তাঁর নিকট হতে হাদীস শ্রবণ করেছেন)।

- আবু আবদুর রহমান: আবদুল্লাহ ইবনে মাহমুদ ইবনে সুলাইমান (মার্ভে তাঁর নিকট হতে হাদীস শ্রবণ করেছেন)।

- মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক ইবনে ইবরাহীম আস-সাররাজ (নিশাপুরে তাঁর নিকট হতে হাদীস শ্রবণ করেছেন)।

- আহমদ ইবনে দাউদ ইবনে মুহসিন ইবনে হিলাল আল-মাসিসি (আলেপ্পোতে তাঁর নিকট হতে হাদীস শ্রবণ করেছেন)।

- মুহাম্মাদ ইবনে আবিল মুয়াফা ইবনে সুলাইমান আস-সাইদাবি (সাইদায় তাঁর নিকট হতে হাদীস শ্রবণ করেছেন)।

- জাফর ইবনে মুহাম্মাদ আল-হামদানি (সুরে তাঁর নিকট হতে হাদীস শ্রবণ করেছেন)।

- মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আল-ফাদল আল-কালায়ি আর-রাহিব (হিমসে তাঁর নিকট হতে হাদীস শ্রবণ করেছেন)।

এই হাফিয ইমামের শাইখ বা শিক্ষকদের একটি দিকের সাথে পরিচিত হওয়ার জন্য এটি অত্যন্ত নগণ্য পরিমাণ তথ্য।

(ইবনে হিব্বান তাঁর দীর্ঘ সফরে অভাবনীয় সফলতা লাভ করেছিলেন। তাঁর নিকট বিপুল সংখ্যক শিক্ষক, বর্ণনা এবং ইতিহাসের এক বিশাল সমাবেশ ঘটেছিল। তাঁর 'সহীহ' গ্রন্থের ভূমিকায় বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি দুই হাজারের অধিক শিক্ষকের নিকট হতে ইলম অর্জন করেছেন...)
(খণ্ড: ১) মাশাহিরু উলামাইল আমসার (পৃষ্ঠা: ١٥)
شيخ وهذا العدد الجم من الشيوخ يندر ان تجده في امام من الائمة الا انه حين شرع في تدوين الصحيح اسقط كثيرا من الشيوخ ولم يعتد بمروياتهم لانه لم تتحقق فيهم شروط الصحة التي ابان عنها في مقدمة كتابه واقتصر على مئة وخمسين شيخا منهم اقل أو اكثر وقد عول على عشرين منهم ادار السنن عليهم واقتنع بروايتهم عن رواية غيرهم فقد جاء في المقدمة: (ولم نرو في كتابنا هذا الا عن مئة وخمسين شيخا اقل أو اكثر ولعل معول كتابنا هذا يكون

على نحو من عشرين شيخا ادرنا السنن عليهم واقتنعنا بروايتهم عن رواية غيرهم) ويعلق الامام الذهبي على النص فيقول (كذا فلتكن الهمة هذا مع ما كان عليه من الفقه والعربية والفضائل الباهرة وكثرة التصانيف) .

ثناء اهل العلم عليه: قال أبو سعد عبد الرحمن بن احمد الادريسي: (أبو حاتم البستي كان من فقهاء الناس وحفاط الاثار المشهورين في الامصار والاقطار عالما بالطلب والنجوم وفنون العلوم الف المسند الصحيح والتاريخ والضعفاء والكتب المشهورة في كل فن وفقه الناس بسمرقند ثم تحول الى بست) وقال عبد الله بن محمد الاستراباذي: (وكان ابن حبان من فقهاء الدين وحفاظ الاثار عالما بالطب والنجوم وفنون العلم) وقال الامام الذهبي: (وكان عارفا بالطب والنجوم والفقه راسا في معرفة الحديث) وقال ياقوت الحموي في معجم البلدان: (كان ابن حبان مكثرا من الحديث والرحلة والشيوخ عالما بالمتون والاسانيد اخرج من
শায়খ এবং শায়খদের এই বিশাল সংখ্যা কোনো ইমামের ক্ষেত্রে সচরাচর পাওয়া যায় না। তবে তিনি যখন ‘সহীহ’ সংকলন শুরু করেন, তখন অনেক শায়খকে বাদ দেন এবং তাদের বর্ণিত হাদীসসমূহ আমলে নেননি, কারণ তাদের মধ্যে সহীহ হওয়ার সেই শর্তগুলো পূর্ণ হয়নি যা তিনি তাঁর কিতাবের ভূমিকায় স্পষ্ট করেছেন। তিনি ১৫০ জন বা এর কিছু কম-বেশি শায়খের ওপর সীমাবদ্ধ থাকেন। তিনি তাদের মধ্য থেকে বিশ জনের ওপর নির্ভর করেছেন, যাদেরকে কেন্দ্র করে তিনি সুনান আবর্তিত করেছেন এবং অন্যদের বর্ণনার চেয়ে তাদের বর্ণনার ওপর সন্তুষ্ট হয়েছেন। কিতাবের ভূমিকায় এসেছে: (আমরা আমাদের এই কিতাবে ১৫০ জন বা এর কিছু কম-বেশি শায়খ ছাড়া আর কারো থেকে বর্ণনা করিনি। সম্ভবত আমাদের এই কিতাবের নির্ভরতা হবে

প্রায় বিশ জন শায়খের ওপর, যাদের কেন্দ্র করে আমরা সুনান আবর্তিত করেছি এবং অন্যদের বর্ণনার চেয়ে তাদের বর্ণনার ওপর সন্তুষ্ট হয়েছি)। ইমাম যাহাবী এই বক্তব্যের ওপর মন্তব্য করে বলেন: (উচ্চাকাঙ্ক্ষা যেন এমনই হয়। এর সাথে তাঁর ফিকহ, আরবি ভাষা, উজ্জ্বল শ্রেষ্ঠত্ব ও অসংখ্য রচনার কথা তো আছেই)।

তাঁর সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ আলেমদের প্রশংসা: আবু সা'দ আবদুর রহমান ইবনে আহমাদ আল-ইদ্রিসী বলেন: (আবু হাতিম আল-বুসতী ছিলেন প্রাজ্ঞ ফকীহ এবং বিভিন্ন জনপদ ও অঞ্চলে প্রসিদ্ধ হাদীস হাফেজদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি চিকিৎসাশাস্ত্র, জ্যোতির্বিজ্ঞান এবং জ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় পণ্ডিত ছিলেন। তিনি মুসনাদে সহীহ, তারিখ, দুয়াফা এবং প্রতিটি বিষয়ে প্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহ রচনা করেছেন। তিনি সমরকন্দে মানুষকে ফিকহ শিক্ষা দিয়েছেন, এরপর বুস্তে স্থানান্তরিত হন)। আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ আল-আস্তরাবাদী বলেন: (ইবনে হিব্বান ছিলেন দ্বীনের ফকীহ ও হাদীস হাফেজদের অন্তর্ভুক্ত, তিনি চিকিৎসাশাস্ত্র, জ্যোতির্বিজ্ঞান এবং ইলমের বিভিন্ন শাখায় বিজ্ঞ ছিলেন)। ইমাম যাহাবী বলেন: (তিনি চিকিৎসাশাস্ত্র, জ্যোতির্বিজ্ঞান ও ফিকহ শাস্ত্রে অভিজ্ঞ ছিলেন এবং হাদীস শাস্ত্রের মারেফাতে ছিলেন শীর্ষস্থানীয়)। ইয়াকুত আল-হামাভী ‘মু'জামুল বুলদান’ গ্রন্থে বলেন: (ইবনে হিব্বান ছিলেন প্রচুর হাদীস সংগ্রহকারী, অধিক সফরকারী এবং বহু শায়খের সান্নিধ্য লাভকারী। তিনি মতন ও সনদ সম্পর্কে বিজ্ঞ ছিলেন। তিনি বের করেছেন...
(খণ্ড: ১) মাশাহিরু উলামাইল আমসার (পৃষ্ঠা: ١٦)
علوم الحديث ما عجز عنه غيره ومن تأمل تصانيفه تأمل منصف علم ان الرجل بحرا في العلوم) وقال ابن حجر العسقلاني الحافظ: (كان من ائمة زمانه وطلب الحديث على راس سنة ثلاث مئة) .

وقال ايضا: (وكان عارفا بالطب والنجوم والكلام والفقه راسا في معرفة الحديث) .

ووصفه بانه

صاحب فنون وذكاء مفرط وحفظ واسع الى الغاية.

وقال الحاكم تلميذه صاحب المستدرك: (أبو حاتم البستي القاضي كان من اوعية العلم في اللغة والفقه والحديث والوعظ ومن عقلاء الرجال صنف فخرج له من التصنيف في الحديث ما لم يسبق إليه) وقال الاسنوي: (كان من اوعية العلم لغة وحديثا وفقها ووعظا ومن عقلاء الرجال) .

وقال الصلاح الصفدي: (كان من فقهاء الدين وحفاظ الاثار عالما بالطب والنجوم وفنون العلم) .

وقال ابن العماد الحنبلي: (العالم الحبر والعلامة البحر كان حافظا اماما حجة احد اوعية العلم في الحديث والفقه واللغة والوعظ وغير ذلك حتى الطب والنجوم والكلام) .

وقال ابن الاثير: (امام عصره له تصانيف لم يسبق إليها)
হাদিস শাস্ত্রে এমন পারদর্শিতা অর্জন করেছেন যা অন্য কেউ পারেনি। আর যে ব্যক্তি ন্যায়পরায়ণতার সাথে তাঁর রচনাবলি পর্যবেক্ষণ করবে, সে জানতে পারবে যে এই ব্যক্তি ইলমের এক সমুদ্র ছিলেন। আর হাফিজ ইবনে হাজার আসকালানি বলেন: (তিনি তাঁর সময়ের ইমামগণের অন্যতম ছিলেন এবং তিনশ হিজরি সনের শুরুতে হাদিস অন্বেষণ করেন)।

তিনি আরও বলেন: (তিনি চিকিৎসা শাস্ত্র, জ্যোতির্বিদ্যা, কালাম শাস্ত্র এবং ফিকহ শাস্ত্রে পারদর্শী ছিলেন এবং হাদিস শাস্ত্রে ছিলেন শীর্ষস্থানীয়)।

তিনি তাঁকে এভাবে বর্ণনা করেছেন যে:

তিনি বিভিন্ন বিদ্যায় পারদর্শী, অত্যধিক তীক্ষ্ণ মেধার অধিকারী এবং অত্যন্ত প্রখর স্মৃতিশক্তির অধিকারী ছিলেন।

তাঁর ছাত্র আল-মুস্তাদরাক গ্রন্থের রচয়িতা আল-হাকিম বলেন: (কাজী আবু হাতিম আল-বুস্তি ভাষা, ফিকহ, হাদিস এবং নসিহতের ক্ষেত্রে ইলমের ধারক ছিলেন এবং তিনি অত্যন্ত বুদ্ধিমান ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি এমনভাবে গ্রন্থ রচনা করেছেন যে হাদিস শাস্ত্রে ইতিপূর্বে কেউ তাঁর সমকক্ষ হতে পারেনি)। আর আল-ইসনাভি বলেন: (তিনি ভাষা, হাদিস, ফিকহ ও নসিহতের ক্ষেত্রে ইলমের ধারক ছিলেন এবং অত্যন্ত বুদ্ধিমান ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন)।

সালাহ আস-সাফাদি বলেন: (তিনি ছিলেন দ্বীনের ফকিহ এবং আসার বা হাদিস সংরক্ষণকারীদের অন্তর্ভুক্ত, এছাড়াও তিনি চিকিৎসা শাস্ত্র, জ্যোতির্বিদ্যা ও ইলমের বিভিন্ন শাখায় অভিজ্ঞ ছিলেন)।

ইবনুল ইমাদ আল-হাম্বলি বলেন: (তিনি ছিলেন অগাধ পণ্ডিত ও ইলমের সমুদ্র সদৃশ আল্লামা। তিনি ছিলেন একজন হাফিজ, ইমাম এবং হুজ্জাত বা প্রামাণ্য ব্যক্তিত্ব। তিনি হাদিস, ফিকহ, ভাষা, নসিহত এবং এমনকি চিকিৎসা শাস্ত্র, জ্যোতির্বিদ্যা ও কালাম শাস্ত্রের জ্ঞানভাণ্ডারের অন্যতম ধারক ছিলেন)।

ইবনুল আসির বলেন: (তিনি ছিলেন তাঁর যুগের ইমাম এবং তাঁর এমন কিছু রচনাবলি রয়েছে যার নজির ইতিপূর্বে কেউ স্থাপন করতে পারেনি)।
(খণ্ড: ১) মাশাহিরু উলামাইল আমসার (পৃষ্ঠা: ١٧)
وقال ابن كثير: (محمد بن حبان صاحب (الانواع والتقاسيم) واحد الحفاظ الكبار المصنفين المجتهدين) وقال الخطيب البغدادي: (وكان ابن حبان ثقة نبيلا فاضلا) .

مصادر ترجمته: - الانساب - للسمعاني (2 / 209) .

- الكامل - لابن الاثير (8 / 266) .

- اللباب - لابن الاثير (1 / 151) .

- معجم البلدان - لياقوت الحموي (1 / 415) .

- العبر - للذهبي (2 / 300) .

- انباه الرواة - للقفطي (3 / 122) .

- ميزان الاعتدال للذهبي (3 / 506) .

- النجوم الزاهرة - لابن تغري بردي (3 / 342) .

- مرآة الجنان - لليافعي (2 / 357) .

- البداية والنهاية - لابن كثير (11 / 259) .

- شذرات الذهب - لابن العماد (3 / 16) .

- المختصر في اخبار البشر - لابي الفداء (2 / 105) .

- سير اعلام النبلاء - للذهبي ترجمة 70 / المجلد السادس عشر.

- طبقات الشافعية الكبرى - للسبكي (3 / 131) .

- لسان الميزان - لابن حجر (5 / 112) .

- تذكرة الحفاظ - للذهبي.

(3 / 920) .

- الوافي بالوفيات - للصلاح الصفدي (2 / 317) .

- طبقات الحفاظ للسيوطي (374) .

- الرسالة المستطرفة - للكتاني (ص 20) .
ইবনে কাসীর বলেন: (মুহাম্মাদ বিন হিব্বান, ‘আল-আনওয়া ওয়াত-তাকাসিম’ গ্রন্থের রচয়িতা, তিনি মহান হাফেজ, গ্রন্থকার ও মুজতাহিদগণের একজন) এবং আল-খতিব আল-বাগদাদী বলেন: (ইবনে হিব্বান ছিলেন নির্ভরযোগ্য, মহৎ ও গুণী)।

তাঁর জীবনীগ্রন্থের উৎসসমূহ: - আস-সামআনী-র ‘আল-আনসাব’ (২ / ২০৯)।

- ইবনুল আসীর-এর ‘আল-কামিল’ (৮ / ২৬৬)।

- ইবনুল আসীর-এর ‘আল-লুবাব’ (১ / ১৫১)।

- ইয়াকুত আল-হামাভী-র ‘মু’জামুল বুলদান’ (১ / ৪১৫)।

- আয-যাহাবী-র ‘আল-ইবার’ (২ / ৩০০)।

- আল-কিফতী-র ‘ইনবাহুর রুওয়াত’ (৩ / ১২২)।

- আয-যাহাবী-র ‘মিযানুল ই’তিদাল’ (৩ / ৫০৬)।

- ইবনে তাগরি বারদী-র ‘আন-নুজুম আয-যাহিরা’ (৩ / ৩৪২)।

- আল-ইয়াফেয়ী-র ‘মিরআতুল জিনান’ (২ / ৩৫৭)।

- ইবনে কাসীর-এর ‘আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া’ (১১ / ২৫৯)।

- ইবনুল ইমাদ-এর ‘শাযারাতুয যাহাব’ (৩ / ১৬)।

- আবু আল-ফিদা-র ‘আল-মুখতাসার ফি আখবারিল বাশার’ (২ / ১০৫)।

- আয-যাহাবী-র ‘সিয়ারু আলামিন নুবালা’, জীবনী নং ৭০ / ১৬তম খণ্ড।

- আস-সুবকী-র ‘তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ আল-কুবরা’ (৩ / ১৩১)।

- ইবনে হাজার-এর ‘লিসানুল মিযান’ (৫ / ১১২)।

- আয-যাহাবী-র ‘তাযকিরাতুল হুফফাজ’।

(৩ / ৯২০)।

- সালাহ আস-সাফাদী-র ‘আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত’ (২ / ৩১৭)।

- আস-সুয়ূতী-র ‘তাবাকাতুল হুফফাজ’ (৩৭৪)।

- আল-কাত্তানী-র ‘আর-রিসালাতুল মুসতাতরাফা’ (পৃ. ২০)।
(খণ্ড: ১) মাশাহিরু উলামাইল আমসার (পৃষ্ঠা: ١٨)
- مقدمة الاحسان في ترتيب صحيح ابن حبان - للامير علاء الدين الفارسي.

- مقدمة التحقيق لكتاب موارد الظمان لزوائد ابن حبان - للهيثمي.

- مقدمة التحقيق لكتاب روضة العقلاء - للشيخ علي بن مشرف العمري.

- مقدمة التحقيق للاحسان - تحقيق احمد محمد شاكر.

- مقدمة التحقيق للاحسان - تحقيق الارناؤوط وحسين اسد.
- সহীহ ইবনে হিব্বানের বিন্যাসগ্রন্থ আল-ইহসানের ভূমিকা - আমীর আলাউদ্দীন আল-ফারিসী রচিত।

- হাইসামী রচিত মাওয়ারিদুয যামআন লি-যাওয়াঈদি ইবনে হিব্বান গ্রন্থের সম্পাদনার ভূমিকা।

- শায়খ আলী বিন মুশাররাফ আল-উমরী রচিত রওজাতুল উক্বালা গ্রন্থের সম্পাদনার ভূমিকা।

- আল-ইহসানের সম্পাদনার ভূমিকা - আহমাদ মুহাম্মদ শাকির কর্তৃক সম্পাদিত।

- আল-ইহসানের সম্পাদনার ভূমিকা - আল-আরনাঊত ও হুসাইন আসাদ কর্তৃক সম্পাদিত।
(খণ্ড: ১) মাশাহিরু উলামাইল আমসার (পৃষ্ঠা: ١٩)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله الواحد المبرأ من اشراك المشركين الفرد المنزه عن الحاد الملحدين الذي ليس بمكيف فيحاط بالحواس ولا بذي غاية فيوصف بالانفاس لا يدرك فكر القلوب كنه ربوبيته ولا فطن العقول بعلم كيفية وحدانيته وقد دلت الدلالات الواضحات على ربوبيته والايات المحكمات على الوهيته حتى اصطربت له العقول بانه خالق واطمانت إليه الانفس بانه رازق واشهد ان لا اله الا الذي هو [ … ] الضمائر والصدور الخالق ما في البراري والبحور الذي لا يواري عنه ليل داج ولا سماء ذات ابراج واشهد ان محمدا المبعوث بالحق المبين المتمسك بحبله المتين الملهم اهدى السبيل حتى هدى به من التضليل سيد المرسلين ورسول العالمين فصلى الله عليه ناهيا وآمرا ومبيحا وزاجرا وعلى آله الطيبين الطاهرين اجمعين.

اما بعد: فاني لما رايت السنن ملجا المسلمين في الاحوال ومقصد الصالحين في الاعمال وانها وان كان فيها الفضائل الخطيرة فقد شابها الاباطيل الكثيرة وصعب تلخيص الدليل من الصريح مع تمييز السقيم من الصحيح الا بمعرفة تاريخ الثقات بكيفيتة ما كانوا عليه في الحالات.

اردت ان املي في مشاهير علماء الامصار واعلام فقهاء الاقطار دون الضعفاء والمتروكين واضداد العدول من المجروحين كتابا لطيفا للمقتبسين واقصد في ترصيفها للمتعلمين قصد تفصيل المدن في الاصقاع لما يؤمل فيها من الانتفاع لانها ستة اصقاع تشملها عمارة الاسلام وما وراءها من المدن يسكنها غير اولي الاحلام: اولها: الحجاز بحواليها.

والثاني: العراق بنواحيها.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি একক, মুশরিকদের শিরক থেকে মুক্ত, অদ্বিতীয়, নাস্তিকদের নাস্তিকতা থেকে পবিত্র; যাঁর কোনো ধরন (কাইফিয়্যাত) নেই যে ইন্দ্রিয় দ্বারা পরিবেষ্টিত হবেন, আর যাঁর কোনো শেষ নেই যে নিশ্বাস দ্বারা বিশেষিত হবেন। হৃদয়ের চিন্তা তাঁর রুবুবিয়্যাতের (প্রভুত্বের) স্বরূপ উপলব্ধি করতে পারে না এবং মেধার তীক্ষ্ণতা তাঁর একত্বের ধরন সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করতে পারে না। সুস্পষ্ট প্রমাণাদি তাঁর রুবুবিয়্যাতের প্রতি এবং সুদৃঢ় আয়াতসমূহ তাঁর উলুহিয়্যাতের প্রতি পথপ্রদর্শন করেছে, এমনকি বুদ্ধিবৃত্তিসমূহ তাঁর স্রষ্টা হওয়ার বিষয়ে অভিভূত হয়েছে এবং আত্মাগুলো তাঁর রিযিকদাতা হওয়ার বিষয়ে প্রশান্ত হয়েছে। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, যিনি [ … ] গোপন রহস্য ও বক্ষসমূহের অবস্থা সম্পর্কে অবগত, তিনি মরুভূমি ও সমুদ্রের সবকিছুর স্রষ্টা; নিবিড় অন্ধকার রাত কিংবা নক্ষত্রখচিত আকাশ যাঁর কাছ থেকে কিছুই আড়াল করতে পারে না। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুস্পষ্ট সত্যসহ প্রেরিত হয়েছেন, যিনি আল্লাহর মজবুত রজ্জুকে আঁকড়ে ধরেন এবং যিনি সর্বোত্তম পথের দিশা প্রাপ্ত হয়েছেন; এমনকি তাঁর মাধ্যমে আল্লাহ পথভ্রষ্টতা থেকে হেদায়েত দান করেছেন। তিনি রাসূলগণের সর্দার এবং বিশ্বজগতের জন্য প্রেরিত রাসূল; আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর—যিনি নিষেধকারী, আদেশ প্রদানকারী, বৈধতাদানকারী ও সতর্ককারী হিসেবে প্রেরিত—এবং তাঁর পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন সকল পরিবার-পরিজনের ওপর।

অতঃপর: আমি যখন দেখলাম যে, সুন্নাহ বিভিন্ন অবস্থায় মুসলিমদের আশ্রয়স্থল এবং কর্মক্ষেত্রে নেককারদের গন্তব্যস্থল। আর সুন্নাহর মধ্যে যদিও প্রভূত মর্যাদা নিহিত রয়েছে, তবুও এতে প্রচুর ভিত্তিহীন বিষয় মিশ্রিত হয়ে গেছে। নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের ইতিহাস এবং বিভিন্ন অবস্থায় তাঁরা কেমন ছিলেন সে সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা ব্যতীত সহীহ (বিশুদ্ধ) থেকে সাক্বিম (ত্রুটিপূর্ণ) পৃথক করার পাশাপাশি সুস্পষ্ট দলিল উদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

আমি বিভিন্ন শহরের প্রসিদ্ধ আলেম এবং বিভিন্ন অঞ্চলের প্রখ্যাত ফকীহদের সম্পর্কে—দুর্বল, বর্জনীয় এবং ন্যায়পরায়ণদের বিপরীত অর্থাৎ সমালোচিত ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে—জ্ঞান অন্বেষণকারীদের জন্য একটি সংক্ষিপ্ত কিতাব লিপিবদ্ধ করার ইচ্ছা পোষণ করেছি। এটি বিন্যস্ত করার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের জন্য আমি বিভিন্ন অঞ্চলের শহরগুলোর বিস্তারিত বিবরণের লক্ষ্য স্থির করেছি, যাতে কাঙ্ক্ষিত উপকার লাভ করা যায়। কারণ এগুলো এমন ছয়টি অঞ্চল যেখানে ইসলামী সভ্যতা বিস্তৃত রয়েছে, আর এর বাইরের শহরগুলোতে বিচারবুদ্ধিহীনরা বসবাস করে: প্রথমত: হিজাজ ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকা।

দ্বিতীয়ত: ইরাক ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলসমূহ।
(খণ্ড: ১) মাশাহিরু উলামাইল আমসার (পৃষ্ঠা: ٢٠)
والثالث: الشام باطرافها.

والرابع: مصر بجوانبها.

والخامس: اليمن بما والاها.

والسادس: خراسان بما دار عليها.

هذه المدن المشهورة في الاسلام المعروفة بعلماء الايام نذكر في كل ناحية ذكرناها ومدينة وصفناها مشاهير العلماء والثقات من الفقهاء من الصحابة والتابعين ومن بعدهم من اتباع التابعين ومن تبعهم من الاخيار والصالحين.
এবং তৃতীয়: শাম ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলসমূহ।

এবং চতুর্থ: মিসর ও তার আশপাশের এলাকা।

এবং পঞ্চম: ইয়ামেন ও তার সংলগ্ন অঞ্চল।

এবং ষষ্ঠ: খুরাসান ও তার পরিবেষ্টিত ভূখণ্ড।

ইসলামের এই প্রসিদ্ধ শহরগুলো, যা সমকালীন উলামায়ে কিরামের কারণে সুপরিচিত—আমরা আমাদের উল্লিখিত প্রতিটি অঞ্চলে এবং বর্ণিত প্রতিটি শহরে প্রসিদ্ধ আলেমদের এবং সাহাবী, তাবেঈ, তাঁদের পরবর্তী তাবে-তাবেঈ ও তাঁদের অনুসারী নেককার ও সৎকর্মশীল ফকিহদের মধ্য থেকে নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের কথা উল্লেখ করব।
(খণ্ড: ১) মাশাহিরু উলামাইল আমসার (পৃষ্ঠা: ٢١)
‌‌الصقع الأول ذكر مشاهير الصحابة بالمدينة

قال الامام أبو حاتم رحمه الله نبدأ من هذا الصقع بالمدينة لانها مهبط الوحي ومعدن الرسالة وبها نصر المصطفى صلى الله عليه وسلم كثيرا ومنها انتشر الاسلام وظهر اعلام الدين وبها قبر رسول الله صلى الله عليه وسلم وضجيعيه أبى بكر وعمر رضهما واتاها قطن جلة الصحابة أجمعين الذين هم منار الاسلام وبهم صان الله دينه عن الانثلام

 

وأول ما نبدأ من هذا الكتاب بذكر النبي صلى الله عليه وسلم

‌‌[1] محمد بن عبد الله بن عبد المطلب بن هاشم بن عبد مناف بن قصي بن كلاب بن مرة بن كعب بن لؤي بن غالب بن فهر وهو قريش بن مالك بن النضر بن كنانة بن خزيمة بن مدركة بن الياس بن مضر بن نزار بن معد بن عدنان إلى هنا انتهت أنساب العرب لانه ليس يصح من عدنان إلى إرم فيه إسناد يرجع وكان مولد المصطفى صلى الله عليه وسلم بمكة عام الفيل وذلك يوم الاثنين لاثنتي عشرة ليلة مضت من شهر ربيع الاول في اليوم الذي بعث الله طيرا أبابيل على أصحاب الفيل ونزل عليه الوحي وهو بحراء بعد ان تم له ثلاث وأربعون سنة وأقام بمكة عشر سنين يدعوهم إلى الله جل وعلا ثم

امره الله تعالى بالخروج منها إلى المدينة فهاجر صلى الله عليه وسلم هو وأصحابه إليها فأقام بها عشر سنين ثم قبضه الله جل وعلا آخر يوم الاثنين لثنتى عشرة ليلة خلت من شهر ربيع الاول وكان مقامه بالمدينة عشر حجج سواء ودفن في بيت عائشة رضها ليلة الاربعاء حين زاغت الشمس ونزل في قبره صلى الله عليه وسلم على بن أبى طالب والفضل بن العباس وقثم بن العباس وشقران مولى رسول الله صلى الله عليه وسلم ورضى عنهم أجمعين
প্রথম অঞ্চল: মদিনার প্রসিদ্ধ সাহাবীগণের আলোচনা

ইমাম আবু হাতিম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, আমরা এই অঞ্চল অর্থাৎ মদিনা থেকে শুরু করছি; কারণ এটি ওহী অবতরণের স্থান এবং রিসালাতের উৎসভূমি। এখানেই আল-মুস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে প্রচুর সাহায্য করা হয়েছে এবং এখান থেকেই ইসলাম প্রসারিত হয়েছে ও দ্বীনের নিশানাসমূহ প্রকাশিত হয়েছে। এখানেই আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এবং তাঁর দুই সহশায়ী আবু বকর ও উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর কবর অবস্থিত। এখানেই ইসলামের বাতিঘর স্বরূপ মহান সাহাবীগণ এসে বসতি স্থাপন করেছিলেন, যাদের মাধ্যমে আল্লাহ তাঁর দ্বীনকে অটুট রেখেছেন এবং বিচ্যুতি থেকে রক্ষা করেছেন।

 

এই কিতাবে আমরা সর্বপ্রথম নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আলোচনার মাধ্যমে শুরু করছি।

‌‌[১] মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল মুত্তালিব ইবনে হাশিম ইবনে আব্দ মানাফ ইবনে কুসাই ইবনে কিলাব ইবনে মুররাহ ইবনে কা'ব ইবনে লুয়াই ইবনে গালিব ইবনে ফিহর—যিনি কুরাইশ—ইবনে মালিক ইবনে আন-নাদর ইবনে কিনানাহ ইবনে খুজাইমাহ ইবনে মুদরিকাহ ইবনে ইলিয়াস ইবনে মুদার ইবনে নিজার ইবনে মা'আদ ইবনে আদনান। আরবের বংশপরম্পরা এখানেই শেষ হয়েছে, কারণ আদনান থেকে ইরাম পর্যন্ত কোনো সহীহ সনদ পাওয়া যায় না। আল-মুস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জন্ম হয়েছিল মক্কায় হস্তী বছরে, রবিউল আউয়াল মাসের বারো তারিখ সোমবার। এটি সেই দিন ছিল যখন আল্লাহ হস্তী অধিপতিদের ওপর আবাবিল পাখি প্রেরণ করেছিলেন। তাঁর তেতাল্লিশ বছর পূর্ণ হওয়ার পর হেরা গুহায় থাকা অবস্থায় তাঁর ওপর ওহী অবতীর্ণ হয়। তিনি মক্কায় দশ বছর অবস্থান করে মানুষকে পরাক্রমশালী ও মহান আল্লাহর দিকে আহ্বান জানান। অতঃপর

আল্লাহ তাআলা তাঁকে মক্কা থেকে মদিনার উদ্দেশ্যে বের হওয়ার নির্দেশ দেন। ফলে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও তাঁর সাহাবীগণ সেখানে হিজরত করেন এবং সেখানে তিনি দশ বছর অবস্থান করেন। অতঃপর পরাক্রমশালী ও মহান আল্লাহ রবিউল আউয়াল মাসের বারো তারিখ সোমবারের শেষ ভাগে তাঁর রূহ কবজ করেন। মদিনায় তাঁর অবস্থানের সময়কাল ছিল ঠিক দশ বছর। বুধবার রাতে সূর্য ঢলে পড়ার সময় আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর ঘরে তাঁকে দাফন করা হয়। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কবরে নেমেছিলেন আলী ইবনে আবি তালিব, ফজল ইবনে আব্বাস, কুসাম ইবনে আব্বাস এবং আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মুক্তদাস শুকরান—আল্লাহ তাঁদের সবার প্রতি সন্তুষ্ট হোন।
(খণ্ড: ১) মাশাহিরু উলামাইল আমসার (পৃষ্ঠা: ٢٢)
ذكر مشاهير الصحابة بالمدينة

قال الامام أبو حاتم رحمه الله:

أول من نبدأ من الصحابة الذين كانوا بالمدينة بالخلفاء الراشدين المهديين على حسب ما استخلفوا واحدا بعد الآخر ثم يعقبهم الذين شهد لهم المصطفى صلى الله عليه وسلم بالجنة ثم نذكر بعدهم سائر الصحابة الذين استوطنوا المدينة وقطنوها سواء حلت المنية بهم فيها أو في غيرها إذ الاعتبار استطانهم إياها وان دفعتهم الغزوات والقيام بامور المسلمين إلى الخروج منها إلى غيرها فأولها

‌‌[2] أبو بكر بن أبى قحافة الصديق رضه واسمه عبد الله ولقبه عتيق واسم أبى قحافة عثمان بن عامر بن عمرو بن كعب بن سعد بن تيم بن مرة بن كعب بن لؤي بن غالب بن فهر وهو قريش بن مالك بن النضر وأم أبى بكر رضه أم الخير بنت صخر بن عامر بن عمرو بن كعب بن سعد بن تيم استخلف رضه في اليوم الذي مات فيه رسول الله صلى الله عليه وسلم ثم خطبهم اليوم الثاني من بيعته فلما فرغوا من دفن المصطفى صلى الله عليه وسلم بايعه الناس بيعة العام وسموه خليفة رسول الله صلى الله عليه وسلم واستقام له الامر في السر والاعلان الا ان على بن أبى طالب وجماعة معه من بنى هاشم تخلفوا عن بيعته إلى ان ماتت فاطمة رضها على رأس ستة أشهر من توفى رسول الله صلى الله عليه وسلم ثم بايعه على وأولئك النفر على حسب ما ذكرنا في الكتاب الخلفاء
মদিনার প্রখ্যাত সাহাবীদের বর্ণনা

ইমাম আবু হাতিম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:

মদিনায় অবস্থানকারী সাহাবীদের মধ্যে আমরা প্রথমে খোলাফায়ে রাশেদীন মাহদীয়ীন (সঠিক পথপ্রাপ্ত) দ্বারা শুরু করব, যেভাবে তাঁরা একের পর এক স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন। অতঃপর তাঁদের কথা উল্লেখ করব যাদের জন্য মুস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন। এরপর আমরা সেই সমস্ত সাহাবীদের কথা উল্লেখ করব যারা মদিনায় স্থায়ীভাবে বসবাস করেছিলেন এবং সেখানে বসতি স্থাপন করেছিলেন, মৃত্যু মদিনাতেই হোক বা অন্য কোথাও—কেননা মদিনায় তাঁদের বসবাসই এখানে ধর্তব্য, যদিও যুদ্ধ-বিগ্রহ বা মুসলিমদের গুরুত্বপূর্ণ কাজ পরিচালনার প্রয়োজনে তাঁদেরকে মদিনা থেকে বের হয়ে অন্যত্র যেতে হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে প্রথম হলেন:

‌‌[২] আবু বকর ইবনে আবি কুহাফা আস-সিদ্দিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু), তাঁর নাম ছিল আবদুল্লাহ এবং উপাধি ছিল আতীক। আবু কুহাফার নাম ছিল উসমান ইবনে আমির ইবনে আমর ইবনে কাব ইবনে সাদ ইবনে তাইম ইবনে মুররা ইবনে কাব ইবনে লুয়াই ইবনে গালিব ইবনে ফিহর, যিনি মালিক ইবনে নাদর এর বংশধর কুরাইশ। আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর মা ছিলেন উম্মুল খায়ের বিনতে সাখর ইবনে আমির ইবনে আমর ইবনে কাব ইবনে সাদ ইবনে তাইম। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যেদিন ইন্তেকাল করেন, সেদিনই তিনি খলিফা নিযুক্ত হন। অতঃপর তাঁর বাইআতের দ্বিতীয় দিনে তিনি জনগণের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন। যখন তাঁরা মুস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দাফন কার্য সম্পন্ন করলেন, তখন সর্বস্তরের মানুষ তাঁর হাতে সাধারণ বাইআত গ্রহণ করেন এবং তাঁকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর খলিফা বলে অভিহিত করেন। তাঁর শাসন ব্যবস্থা প্রকাশ্যে ও গোপনে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তবে আলী ইবনে আবি তালিব এবং বনু হাশিমের একদল লোক তাঁর বাইআত থেকে বিরত ছিলেন যতক্ষণ না ফাতেমা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) ইন্তেকাল করেন। ফাতেমা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ইন্তেকালের ছয় মাস পর মৃত্যুবরণ করেন। এরপর আলী এবং সেই ব্যক্তিবর্গ তাঁর নিকট বাইআত হন, যেমনটি আমরা 'আল-খুলাফা' গ্রন্থে উল্লেখ করেছি।
(খণ্ড: ১) মাশাহিরু উলামাইল আমসার (পৃষ্ঠা: ٢٣)
فمضى أبو بكر رضه على منهاج نبيه صلى الله عليه وسلم باذلا نفسه وماله في إظهار دين الله والذب عن حرماته والقيام بنا يوجبه الدين إلى ان حلت المنية به ليلة الاثنين لسبع عشرة ليلة مضت من جمادى الآخرة وكانت خلافته سنتين وثلاثة أشهر واثنين وعشرين يوما وله يوم مات اثنتان وستون سنة ودفن بجنب رسول الله صلى الله عليه وسلم ليلا ونزل قبره عمر بن الخطاب وعثمان بن عفان وطلحة بن عبيد الله وعبد الرحمن بن أبى بكر رضهم أجمعين وورثه أبو قحافة السدس

‌‌[3] عمر بن الخطاب بن نفيل بن عبد العزى بن رياح بن عبد الله بن قرط بن رزاح بن عدى بن كعب بن لؤي بن غالب بن فهر بن مالك أبو حفص العدوى وأم عمر حنتمة بنت هشام بن المغيرة بن عبد الله بن عمر بن مخزوم أخت أبى جهل وكان قد استخلفه أبو بكر الصديق في حياته بعهد كتب له في علته التي توفى فيها فقام عمر بن الخطاب رضه الله عنه يذب عن دين الله ويبالغ المجهود في إظهار سنن المصطفى صلى الله عليه وسلم وأبى بكر الصديق رضه عنه إلى أن فتح الله عليه الامصار وجبى إليه الاموال من غير ان لوث نفسه بشئ من حطام هذه الفانية الزائلة إلى ان حلت به المنية قتله أبو لؤلؤة غلام المغيرة بن شعبة بخنجر وجاءه يوم الاربعاء لاربع ليال بقين من ذي الحجة عند قيامة إلى صلاة الفجر طعنه ثلاث طعنات في ثنته وتوفى عمر رضه وله خمس وخمسون سنة وكانت خلافته عشر سنين وستة أشهر وأربع ليال ودفن بجنب أبى بكر الصديق ودخل قبره عثمان بن عفان وعبد الله بن عمر

‌‌[4] عثمان بن عفان بن أبى العاص بن أمية بن عبد شمس بن عبد مناف بن قصي بن كلاب بن مرة بن كعب بن لؤي بن غالب وكان له ثلاث كنى أبو عمرو وأبو عبد الله وأبو ليلى وأم عثمان أروى بنت كريز بن ربيعة بن حبيب بن عبد شمس وأمها البيضاء أم حكيم بن عبد المطلب بن هاشم بن عبد مناف استخلف عن شورى من ستة أنفس على وعبد الرحمن وسعد بن أبى وقاص وطلحة بن عبيد الله والزبير بن العوام وسادس القوم عثمان رضه الله عنه

وعنهم أجمعين على حسب ما تقدم ذكرنا ذلك في كتاب الخلفاء فمضى عثمان بن عفان لازما للدين الصحيح وان لوثه الناس ببعض اللوث في حياته
অতঃপর আবু বকর (রা.) তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মানহাজ বা পদ্ধতির ওপর অটল থেকে আল্লাহর দ্বীনকে প্রকাশ করতে, তাঁর পবিত্রতা রক্ষা করতে এবং দ্বীনের আবশ্যিক বিধানসমূহ পালন করতে নিজের জীবন ও সম্পদ উৎসর্গ করেছিলেন, যতক্ষণ না জুমাদাল আখিরা মাসের সতেরো দিন অতিক্রান্ত হওয়ার পর সোমবার রাতে তাঁর মৃত্যু উপস্থিত হলো। তাঁর খেলাফতের সময়কাল ছিল দুই বছর তিন মাস বাইশ দিন। মৃত্যুর দিন তাঁর বয়স ছিল বাষট্টি বছর। তাঁকে রাতে আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পাশে দাফন করা হয়। তাঁর কবরে নেমেছিলেন উমর বিন আল-খাত্তাব, উসমান বিন আফফান, তালহা বিন উবাইদুল্লাহ এবং আবদুর রহমান বিন আবু বকর (রা.)। তাঁর পিতা আবু কুহাফা তাঁর উত্তরাধিকার হিসেবে এক-ষষ্ঠমাংশ পেয়েছিলেন।

‌‌[৩] উমর বিন আল-খাত্তাব বিন নুফাইল বিন আব্দুল উযযা বিন রিয়াহ বিন আব্দুল্লাহ বিন কুরত বিন রিযাহ বিন আদি বিন কাব বিন লুয়াই বিন গালিব বিন ফিহর বিন মালিক আবু হাফস আল-আদাবি। উমরের মাতা ছিলেন হানতামাহ বিনতে হিশাম বিন আল-মুগিরা বিন আব্দুল্লাহ বিন উমর বিন মাখজুম, যিনি আবু জাহলের বোন ছিলেন। আবু বকর সিদ্দিক (রা.) তাঁর জীবদ্দশায় যে অসুস্থতায় তিনি মৃত্যুবরণ করেছিলেন সেই অসুস্থ অবস্থায় এক লিখিত চুক্তির মাধ্যমে তাঁকে খলিফা মনোনীত করেছিলেন। অতঃপর উমর বিন আল-খাত্তাব (রা.) আল্লাহর দ্বীন রক্ষায় সচেষ্ট হলেন এবং মুস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও আবু বকর সিদ্দিক (রা.)-এর সুন্নাহসমূহ প্রকাশে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করলেন। শেষ পর্যন্ত আল্লাহ তাঁর জন্য বিভিন্ন দেশ বিজয় করে দিলেন এবং তাঁর কাছে প্রচুর ধনসম্পদ সংগৃহীত হলো, অথচ তিনি এই নশ্বর ও ক্ষণস্থায়ী পৃথিবীর কোনো ভোগবিলাসে নিজেকে কলুষিত করেননি। যতক্ষণ না তাঁর মৃত্যু উপস্থিত হলো; মুগিরা বিন শু’বাহর গোলাম আবু লুলুআ তাঁকে একটি খঞ্জর দিয়ে হত্যা করে। জিলহজ মাসের চার দিন বাকি থাকতে বুধবার দিন ফজরের নামাজের জন্য যখন তিনি দাঁড়িয়েছিলেন, তখন সে তাঁর নাভির নিচে তিনটি আঘাত করে। উমর (রা.) যখন ইন্তেকাল করেন তখন তাঁর বয়স ছিল পঞ্চান্ন বছর। তাঁর খেলাফতের মেয়াদ ছিল দশ বছর ছয় মাস চার দিন। তাঁকে আবু বকর সিদ্দিকের (রা.) পাশে দাফন করা হয় এবং উসমান বিন আফফান ও আব্দুল্লাহ বিন উমর তাঁর কবরে নেমেছিলেন।

‌‌[৪] উসমান বিন আফফান বিন আবুল আস বিন উমাইয়া বিন আব্দু শামস বিন আব্দু মানাফ বিন কুসাই বিন কিলাব বিন মুররাহ বিন কাব বিন লুয়াই বিন গালিব। তাঁর তিনটি উপনাম ছিল: আবু আমর, আবু আব্দুল্লাহ এবং আবু লায়লা। উসমানের মা ছিলেন আরওয়া বিনতে কুরাইজ বিন রাবিয়া বিন হাবিব বিন আব্দু শামস। তাঁর নানী ছিলেন বায়দা উম্মে হাকিম বিনতে আব্দুল মুত্তালিব বিন হাশিম বিন আব্দু মানাফ। তিনি ছয়জনের একটি পরামর্শ সভার মাধ্যমে খলিফা নিযুক্ত হয়েছিলেন: আলী, আব্দুর রহমান, সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস, তালহা বিন উবাইদুল্লাহ, জুবায়ের বিন আল-আওয়াম এবং দলের ষষ্ঠজন ছিলেন উসমান (রা.)।

আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন। আমরা যেমনটি ইতিপূর্বে আমাদের 'কিতাবুল খুলাফা'-এ উল্লেখ করেছি, সে অনুযায়ী উসমান বিন আফফান সঠিক দ্বীনের ওপর অবিচল থেকে পথ চলেছেন, যদিও মানুষ তাঁর জীবদ্দশায় তাঁর নামে কিছু কলঙ্ক আরোপ করার চেষ্টা করেছিল।
(খণ্ড: ১) মাশাহিরু উলামাইল আমসার (পৃষ্ঠা: ٢٤)
الذي قد عداه الله عن حقيقته إلى أن حوصر يوم الجمعة لليلة مضت من ذي القعدة وبقى في الحصار تسعة وأربعين يوما يذود عنه على بن أبى طالب في بنى هاشم وطلحة والزبير فيمن اطاعهما من قريش إلى أن تسلق عليه سودان بن حمران المرادي بالليل ومعه مشقص فوجأه وهو يقرأ سورة البقرة فوقعت أول قطرة من دمعه على قوله فسيكفيكهم الله وكانت خلافته اثنتي عشرة سنة إلا اثنى عشر يوما ودفن بين المغرب والعشاء وصلى عليه جبير بن مطعم وذلك ليلة السبت لثنتى عشرة ليلة بقيت من ذي الحجة ودلته في قبره نائلة وأم البنين

‌‌[5] على بن أبى طالب بن عبد المطلب بن هاشم بن عبد مناف أبو الحسن الهاشمي وأم على فاطمة بنت أسد بن هاشم بن عبد مناف وهاشم أخو هشام فاستخلف على رضه الله عنه بعد دفن عثمان وبايعه الناس في السر والاعلان فجرد على أسباب الدين تجريدا واغضى عن التمويه والتبديل ولزم الطريقة الواضحة ورام رد الناس عن تمكنهم من الدنيا وتمتعهم بنزهتها وطيباتها على ما كان عليه المصطفى صلى الله عليه وسلم فالتاثت عليه الامور حتى كان من أمره ما كان من الحوادث على حسب ما ذكرنا تفصيل الايام في خلافته في كتاب الخلفاء وهو مصر في ذلك كله على إظهار الدين والعزوف عن هذه الفانية القذرة على ما كان فيه ما كان من غير أن تأخذه في الله لومة لائم إلى أن قتله عبد الرحمن بن ملجم المرادي في مسجد الكوفة بسيف مسموم عند قيامه إلى الصلاة وذلك ليلة الجمعة لسبع عشرة ليلة مضت من شهر رمضان ومات رضه غداة يوم الجمعة وله يوم مات اثنتان وستون سنة وكانت خلافته خمس سنين وثلاثة أشهر إلا أربعة عشر يوما واختلفوا في قبره وليس عندي فيه شئ صحيح فاذكره

‌‌[6] الحسن بن على بن أبى طالب بن فاطمة الزهراء كنيته أبو محمد سم حتى نزل

كبده وأوصى إلى أخيه الحسين ومات بالمدينة في شهر ربيع الاول سنة إحدى وخمسين بعد
যাঁকে আল্লাহ তাঁর প্রকৃত অবস্থা হতে সরিয়ে নিয়েছিলেন যতক্ষণ না যিলকদ মাসের এক রাত অতিবাহিত হওয়ার পর জুমার দিনে তিনি অবরুদ্ধ হন। তিনি ঊনপঞ্চাশ দিন অবরোধের মধ্যে ছিলেন। বনু হাশিমের মধ্য থেকে আলী ইবনে আবী তালিব এবং কুরাইশদের মধ্যে যারা ত্বলহা ও যুবাইরকে অনুসরণ করত তারা তাঁকে রক্ষা করছিলেন। অবশেষে রাতে সূদান ইবনে হুমরান আল-মুরাদী একটি তীরের প্রশস্ত ফলা নিয়ে তাঁর কাছে আরোহণ করে এবং তাঁর ওপর অতর্কিত আক্রমণ করে, তখন তিনি সূরা আল-বাকারা তিলাওয়াত করছিলেন। তাঁর রক্তের প্রথম ফোঁটা আল্লাহর বাণী "অতঃপর তাদের বিরুদ্ধে আল্লাহই আপনার জন্য যথেষ্ট হবেন" এর ওপর পড়ে। তাঁর খিলাফতকাল ছিল বারো বছর হতে বারো দিন কম। তাঁকে মাগরিব ও ইশার মধ্যবর্তী সময়ে দাফন করা হয় এবং জুবাইর ইবনে মুতয়িম তাঁর জানাজা পড়ান। সেটি ছিল জিলহজ মাসের বারো রাত অবশিষ্ট থাকতে শনিবার রাতে। তাঁকে কবরে নামিয়েছিলেন নায়িলা ও উম্মুল বানীন।

[৫] আলী ইবনে আবী তালিব ইবনে আব্দুল মুত্তালিব ইবনে হাশিম ইবনে আব্দ মানাফ, আবুল হাসান আল-হাশিমী। আলীর মাতা হলেন ফাতিমা বিনতে আসাদ ইবনে হাশিম ইবনে আব্দ মানাফ, আর হাশিম ছিলেন হিশামের ভাই। উসমানের দাফনের পর আলীকে (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন) খলিফা নিযুক্ত করা হয় এবং মানুষ প্রকাশ্যে ও গোপনে তাঁর নিকট বায়আত গ্রহণ করে। আলী দ্বীনের বিষয়াবলিকে সম্পূর্ণরূপে একনিষ্ঠ করেন, চাতুরি ও পরিবর্তনকে উপেক্ষা করেন এবং সুস্পষ্ট পথ আঁকড়ে ধরেন। তিনি মানুষকে পার্থিব ক্ষমতার মোহ এবং এর ভোগ-বিলাস ও সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য থেকে বিমুখ করে সেই অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে চেয়েছিলেন যার ওপর মনোনীত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছিলেন। ফলে তাঁর ওপর বিষয়গুলো জটিল হয়ে পড়ে এবং তাঁর খিলাফতের দিনগুলোর বিস্তারিত বিবরণ আমরা যেভাবে 'কিতাবুল খুলাফা'-তে উল্লেখ করেছি সে অনুযায়ী নানাবিধ ঘটনা ঘটতে থাকে। এই সব কিছুর মাঝেও তিনি দ্বীনকে বিজয়ী করতে এবং এই নোংরা নশ্বর পৃথিবীর প্রতি অনাসক্ত থাকতে অবিচল ছিলেন; আল্লাহর ব্যাপারে তিনি কোনো নিন্দুকের নিন্দার পরোয়া করেননি, যতক্ষণ না আব্দুর রহমান ইবনে মুলজাম আল-মুরাদী কুফা মসজিদে নামাজের জন্য দাঁড়ানোর সময় বিষাক্ত তলোয়ার দিয়ে তাঁকে আঘাত করে। সেটি ছিল রমজান মাসের সতেরো রাত অতিবাহিত হওয়ার পর জুমার রাত। তিনি জুমার দিন সকালে ইন্তেকাল করেন এবং মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স ছিল বাষট্টি বছর। তাঁর খিলাফতকাল ছিল পাঁচ বছর তিন মাস হতে চৌদ্দ দিন কম। তাঁর কবরের ব্যাপারে আলেমগণ মতভেদ করেছেন এবং এ বিষয়ে আমার কাছে নির্ভরযোগ্য কিছু নেই যা আমি উল্লেখ করতে পারি।

[৬] হাসান ইবনে আলী ইবনে আবী তালিব ইবনে ফাতিমা আয-যাহরা, তাঁর কুনিয়ত আবু মুহাম্মদ। তাঁকে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছিল যতক্ষণ না তাঁর কলিজার টুকরো নির্গত হয়। তিনি তাঁর ভাই হুসাইনের প্রতি অসিয়ত করেন এবং একান্ন হিজরি সালের রবিউল আউয়াল মাসে মদিনায় ইন্তেকাল করেন। এর পরে...
(খণ্ড: ১) মাশাহিরু উলামাইল আমসার (পৃষ্ঠা: ٢٥)
ما مضى من امارة معاوية عشر سنين وصلى عليه سعيد بن العاص ودفن في بقيع الغرقد

‌‌[7] الحسين بن على بن أبى طالب بن فاطمة الزهراء كنيته أبو عبد الله كان بينه وبين الحسن طهر واحد ثم حملت فاطمة به قتل يوم عاشوراء بكربلاء يوم السبت سنة إحدى وستين وهو عطشان في امارة يزيد بن معاوية وحمل رأسه إلى الشام واختلف في موضع رأسه فمنهم من زعم أن رأسه في البرج الثالث من السور على باب الفراديس بدمشق ومنهم من زعم أن رأسه على رأس عمود في مسجد جامع دمشق عن يمين القبلة بجنب القبة الخضراء وقد رأيت ذلك العمود ومنهم من زعم ان رأسه في قبر معاوية وذاك ان يزيد بن معاوية دفن رأسه في قبر أبيه وقال احصنه بعد الممات به فأما جثته فبكربلاء لا شك فيه

‌‌[8] طلحة بن عبيد الله بن عثمان بن عمرو بن كعب بن سعد بن تيم بن مرة بن كعب بن لؤي بن غالب كنيته أبو محمد وكان يقال له الفياض يعد من البدريين ولم يلحق بدرا كان بعثه النبي صلى الله عليه وسلم إلى الحوران ليتجسس أخبار العير فلحق النبي صلى الله عليه وسلم ببدر بعد فراغه من الوقعة فضرب له صلى الله عليه وسلم بسهمه واجره قتله مروان بن الحكم يوم الجمل بسهم رماه سنة ست وثلاثين وهو بن أربع وستين سنة في شهر رجب وقبره بالبصرة مشهور يزار

‌‌[9] الزبير بن العوام بن خويلد بن أسد بن عبد العزى بن قصي بن كلاب بن مرة بن كعب بن لؤي بن غالب كنيته أبو عبد الله كان حوارى المصطفى صلى الله عليه وسلم قتله عمرو بن جرموز يوم الجمل في شهر رجب سنة ست وثلاثين وذاك انه أوصى إلى ابنه عبد الله صبحة يوم الجمل وقال يا بنى ما في بدنى عضو إلا وقد جرح مع رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى انتهى ذلك إلى
মুআবিয়ার শাসনামলের দশ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার সময় (তাঁর ইন্তেকাল হয়), সাঈদ ইবনুল আস তাঁর জানাজার নামাজ পড়ান এবং তাঁকে বাকীউল গারকাদে দাফন করা হয়।

‌‌[৭] আল-হুসাইন ইবন আলী ইবন আবী তালিব ইবন ফাতিমা আয-যাহরা, তাঁর উপনাম আবু আবদুল্লাহ। তাঁর এবং আল-হাসানের (জন্মের) মাঝে মাত্র একটি পবিত্রতা (কাল) অতিক্রান্ত হয়েছিল, এরপরই ফাতিমা তাঁকে গর্ভে ধারণ করেন। তিনি ইয়াজিদ ইবন মুআবিয়ার শাসনামলে একষট্টি হিজরির আশুরার দিন শনিবারে কারবালায় তৃষ্ণার্ত অবস্থায় শহীদ হন। তাঁর মস্তক শামে নিয়ে যাওয়া হয় এবং মস্তকের দাফনের স্থান নিয়ে মতভেদ রয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ দাবি করেন যে, তাঁর মস্তক দামেস্কের প্রাচীরের তৃতীয় বুরুজে ‘বাবু আল-ফারাদিস’-এ রয়েছে। আবার কেউ কেউ দাবি করেন যে, তাঁর মস্তক দামেস্কের জামে মসজিদের কিবলার ডান দিকে সবুজ গম্বুজের পাশের একটি স্তম্ভের উপরিভাগে রয়েছে—এবং আমি সেই স্তম্ভটি দেখেছি। আবার কেউ কেউ দাবি করেন যে, তাঁর মস্তক মুআবিয়ার কবরের ভেতরে রয়েছে; আর তা এভাবে যে, ইয়াজিদ ইবন মুআবিয়া তাঁর মস্তকটি তাঁর পিতার কবরে দাফন করেছিলেন এবং বলেছিলেন, মৃত্যুর পর এর মাধ্যমে তাঁকে (পিতাকে) রক্ষা করছি। তবে তাঁর দেহ যে কারবালায় রয়েছে, সে ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই।

‌‌[৮] তালহা ইবন উবাইদুল্লাহ ইবন উসমান ইবন আমর ইবন কাব ইবন সাদ ইবন তাইম ইবন মুররা ইবন কাব ইবন লুআই ইবন গালিব, তাঁর উপনাম আবু মুহাম্মদ। তাঁকে ‘আল-ফাইয়াদ’ (অত্যধিক দানশীল) বলা হতো। তিনি বদরি সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত গণ্য হন, যদিও তিনি বদরের যুদ্ধে সশরীরে উপস্থিত হতে পারেননি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে কাফেলার খবর সংগ্রহের জন্য হাওরানে পাঠিয়েছিলেন। যুদ্ধের সমাপ্তির পর তিনি বদরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সাক্ষাৎ করেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জন্য গনিমতের অংশ এবং সওয়াব নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন। উট যুদ্ধের (জঙ্গে জামাল) দিন ছত্রিশ হিজরির রজব মাসে মারওয়ান ইবনুল হাকামের নিক্ষেপ করা একটি তীরের আঘাতে তিনি শহীদ হন। তখন তাঁর বয়স হয়েছিল চৌষট্টি বছর। বসরার তাঁর কবরটি সুপরিচিত এবং তা জিয়ারত করা হয়।

‌‌[৯] আয-যুবাইর ইবনুল আওয়াম ইবন খুওয়াইলিদ ইবন আসাদ ইবন আবদিল উজ্জা ইবন কুসাই ইবন কিলাব ইবন মুররা ইবন কাব ইবন লুআই ইবন গালিব, তাঁর উপনাম আবু আবদুল্লাহ। তিনি মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিশেষ সহযোগী (হাওয়ারি) ছিলেন। আমর ইবন জারমুজ তাঁকে উট যুদ্ধের দিন ছত্রিশ হিজরির রজব মাসে হত্যা করে। আর এটি এ কারণে যে, তিনি উট যুদ্ধের দিন সকালে তাঁর পুত্র আবদুল্লাহকে অসিয়ত করে বলেছিলেন, হে বৎস! আমার শরীরের এমন কোনো অঙ্গ নেই যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে থাকাকালীন জখমপ্রাপ্ত হয়নি, এমনকি তা এই পর্যন্ত পৌঁছেছে যে...
(খণ্ড: ১) মাশাহিরু উলামাইল আমসার (পৃষ্ঠা: ٢٦)
فرجى فقتل من آخر يومه وقبره بوادي السباع على أميال من البصرة مشهور يعرف

‌‌[10] سعد بن أبى وقاص واسم أبى وقاص مالك بن وهيب بن عبد مناف بن زهرة بن

كلاب بن مرة بن كعب بن لؤي بن غالب كنيته أبو إسحاق مات في قصره بالعقيق وحمل على اعناق الرجال إلى المدينة سنة خمس وخمسين وقد قيل سنة ثمان وخمسين وصلى عليه مروان بن الحكم وكان عليها لمعاوية وله يوم مات أربع وستون سنة

‌‌[11] سعيد بن زيد بن عمرو بن نفيل بن عبد العزى بن رياح بن عبد الله بن قرط بن رزاح بن عدى بن كعب بن لؤي بن غالب كنيته أبو الأعور لم يشهد بدرا بعثه النبي صلى الله عليه وسلم وطلحة ليتجسسا خبر العير فقدما من الحوران بعد ما فرغ النبي صلى الله عليه وسلم من الوقعة فضرب لهما صلى الله عليه وسلم بسهميهما واجرهما ومات سعيد بالمدينة سنة إحدى وخمسين وهو بن بضع وسبعين سنة ودخل قبره سعد بن أبى وقاص وعبد الله بن عمر بن الخطاب

‌‌[12] عبد الرحمن بن عوف بن عبد عوف بن الحارث بن زهرة بن كلاب بن مرة بن كعب بن لؤي بن غالب كنيته أبو محمد وكان اسمه في الجاهلية عبد عمرو فسماه النبي صلى الله عليه وسلم عبد الرحمن مات لست سنين بقين من خلافة عثمان هو بن خمس وسبعين سنة ودفن بالبقيع
তিনি ফিরে আসলেন এবং দিনের শেষ ভাগে নিহত হলেন। বসরা থেকে কয়েক মাইল দূরে ওয়াদিউস সিবা-তে তাঁর কবর অবস্থিত, যা সুপরিচিত এবং পরিচিত।

‌‌[১০] সা'দ ইবন আবি ওয়াক্কাস। আবু ওয়াক্কাসের নাম মালিক ইবন উহায়ব ইবন আবদে মানাফ ইবন জুহরাহ ইবন

কিলাব ইবন মুররাহ ইবন কা'ব ইবন লুয়াই ইবন গালিব। তাঁর উপনাম আবু ইসহাক। তিনি আকিক উপত্যকায় তাঁর প্রাসাদে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁকে পুরুষদের কাঁধে বহন করে মদিনায় নিয়ে আসা হয়। মৃত্যুর সাল ছিল পঞ্চান্ন হিজরি; কারো মতে আটান্ন হিজরি। মারওয়ান ইবন আল-হাকাম তাঁর জানাজা পড়ান, যিনি তখন মুয়াবিয়ার পক্ষ থেকে মদিনার গভর্নর ছিলেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল চৌষট্টি বছর।

‌‌[১১] সাঈদ ইবন যায়িদ ইবন আমর ইবন নুফায়েল ইবন আবদে উজ্জা ইবন রিয়াহ ইবন আবদুল্লাহ ইবন কুরত ইবন রাজাহ ইবন আদি ইবন কা'ব ইবন লুয়াই ইবন গালিব। তাঁর উপনাম আবু আল-আওয়ার। তিনি বদর যুদ্ধে উপস্থিত থাকতে পারেননি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে এবং তালহাকে কাফেলার খবর সংগ্রহের জন্য পাঠিয়েছিলেন। তাঁরা হাওরান থেকে ফিরে আসেন যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুদ্ধ শেষ করেছেন। ফলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের দুজনের জন্য গনিমতের অংশ এবং সওয়াব নির্ধারণ করেন। সাঈদ একান্ন হিজরিতে মদিনায় মৃত্যুবরণ করেন, তখন তাঁর বয়স ছিল সত্তর বছরের কিছু বেশি। সা'দ ইবন আবি ওয়াক্কাস এবং আবদুল্লাহ ইবন উমর ইবন আল-খাত্তাব তাঁর কবরে নেমেছিলেন।

‌‌[১২] আবদুর রহমান ইবন আউফ ইবন আবদে আউফ ইবন আল-হারিস ইবন জুহরাহ ইবন কিলাব ইবন মুররাহ ইবন কা'ব ইবন লুয়াই ইবন গালিব। তাঁর উপনাম আবু মুহাম্মদ। জাহিলিয়াত যুগে তাঁর নাম ছিল আবদে আমর; নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নাম রাখেন আবদুর রহমান। উসমানের খিলাফতের ছয় বছর অবশিষ্ট থাকতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তখন তাঁর বয়স ছিল পঁচাত্তর বছর। তাঁকে বাকী কবরস্থানে দাফন করা হয়।
(খণ্ড: ১) মাশাহিরু উলামাইল আমসার (পৃষ্ঠা: ٢٧)
‌‌[13] أبو عبيدة بن الجراح اسمه عامر بن عبد الله بن الجراح بن ربيعة بن هلال بن أهيب بن ضبة بن الحارث بن فهر بن مالك بن النضر قال النبي صلى الله عليه وسلم لكل أمة أمين وأمين هذه الامة أبو عبيدة بن الجراح توفى في طاعون عمواس بالشام سنة ثماني عشرة في خلافة عمر بن الخطاب

‌‌[14] عقيل بن أبى طالب بن عبد المطلب أخو على بن أبى طالب كنيته أبو يزيد ورث أبا طالب عقيل وطالب ولم يرثه على ولا جعفر لانهما كانا مشركين مات عقيل في آخر امارة معاوية بن أبى سفيان

‌‌[15] عبد الله بن جعفر بن أبى طالب كنيته أبو جعفر وأمه أسماء بنت عميس بن كعب

بن ربيعة الخثعمي ولدته بأرض الحبشة أول سنة من سنى الهجرة وكان يقال له قطب السخاء مات سنة ثمانين بالمدينة سنة سيل الجحاف الذي ذهب بالحاج من مكة وكان يصفر لحيته

‌‌[16] العباس بن عبد المطلب عم رسول الله صلى الله عليه وسلم كنيته أبو الفضل وأمه ابنة جناب بن
‌‌[১৩] আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ। তাঁর নাম আমির ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনুল জাররাহ ইবনে রাবিয়াহ ইবনে হিলাল ইবনে উহাইব ইবনে দাব্বাহ ইবনুল হারিস ইবনে ফিহর ইবনে মালিক ইবুনন নাদর। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "প্রত্যেক উম্মতের একজন বিশ্বস্ত ব্যক্তি থাকে, আর এই উম্মতের বিশ্বস্ত ব্যক্তি হলেন আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ।" তিনি হিজরি আঠারো সনে উমর ইবনুল খাত্তাবের খিলাফতকালে শামে আমওয়াসের মহামারীতে মৃত্যুবরণ করেন।

‌‌[১৪] আকিল ইবনে আবি তালিব ইবনে আব্দুল মুত্তালিব। তিনি আলী ইবনে আবি তালিবের ভাই। তাঁর উপনাম আবু ইয়াজিদ। আবু তালিবের উত্তরাধিকারী হয়েছিলেন আকিল এবং তালিব। আলী এবং জাফর তাঁর উত্তরাধিকার পাননি, কারণ তাঁরা (আকিল ও তালিব) মুশরিক ছিলেন। আকিল মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ানের শাসনের শেষ দিকে মৃত্যুবরণ করেন।

‌‌[১৫] আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর ইবনে আবি তালিব। তাঁর উপনাম আবু জাফর। তাঁর মা আসমা বিনতে উমাইস ইবনে কাব

ইবনে রাবিয়াহ আল-খাসআমি। তিনি তাঁকে হাবশা (আবিসিনিয়া) ভূমিতে হিজরতের প্রথম বছরে জন্ম দেন। তাঁকে দানশীলতার কেন্দ্রবিন্দু বলা হতো। তিনি আশি হিজরিতে মদীনায় 'সায়লুল জুহাফ' (বিধ্বংসী বন্যা)-এর বছর মৃত্যুবরণ করেন, যা মক্কা থেকে হাজীদের ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। তিনি তাঁর দাড়িতে হলুদ খিজাব ব্যবহার করতেন।

‌‌[১৬] আল-আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চাচা। তাঁর উপনাম আবু ফজল। তাঁর মা ছিলেন জনাব ইবনে... এর কন্যা।
(খণ্ড: ১) মাশাহিরু উলামাইল আমসার (পৃষ্ঠা: ٢٨)
كلب بن مالك بن النمر بن قاسط كان مولده قبل الفيل بثلاث سنين ومات سنة ثنتين وثلاثين في خلافة عثمان بن عفان رضه وهو بن ثمان وثمانين سنة بالمدينة وصلى عليه عثمان بن عفان رضه الله عنه

‌‌[17] عبد الله بن عباس بن عبد المطلب كنيته أبو عباس ولد قبل الهجرة يعنى هجرة النبي صلى الله عليه وسلم بأربع سنين ومات بالطائف سنة ثمان وستين وقد قيل سنة سبعين وصلى عليه محمد بن الحنفية وكبر عليه أربعا وقبره بالطائف مشهور يزار

‌‌[18] الفضل بن العباس بن عبد المطلب كان رديف رسول الله صلى الله عليه وسلم في حجته قتل يوم اليرموك بالشام في عهد عمر بن الخطاب وهو بن ثنتين وعشرين سنة كنيته أبو محمد

‌‌[19] قثم بن العباس بن عبد المطلب كان بقى إلى أن خرج مع سعيد بن عثمان بن عفان في آخر امارة معاوية بن أبى سفيان إلى خراسان ثم خرج منها فعبر النهر وفتح ما وراء النهر واستشهد في تلك الناحية فمنهم من زعم أن قبره بسمرقند ومنهم من زعم أن قبره بمرو

‌‌[20] سعد بن عبادة بن دليم الانصاري ممن شهد العقبتين وبدرا وكان نقيبا وهو الذي يقال له سعد الخزرج كان سيدهم غير مدافع وله ثلاث كنى أبو ثابت وأبو قيس وأبو
কালব বিন মালিক বিন আন-নামির বিন কাসিত। তার জন্ম হয়েছিল হস্তী বর্ষের তিন বছর আগে এবং তিনি বত্রিশ হিজরিতে উসমান বিন আফফানের (রা.) খিলাফতকালে মৃত্যুবরণ করেন। সে সময় মদীনায় তার বয়স ছিল আটাশি বছর। উসমান বিন আফফান (রা.) তার জানাজার সালাত পড়ান।

‌‌[১৭] আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস বিন আব্দুল মুত্তালিব, তার কুনিয়া আবু আব্বাস। তিনি হিজরতের অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হিজরতের চার বছর আগে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৬৮ হিজরিতে তায়েফে মৃত্যুবরণ করেন, কারো কারো মতে ৭০ হিজরিতে। মুহাম্মাদ ইবনে আল-হানাফিয়া তার জানাজার সালাত পড়ান এবং তাতে চার তাকবীর দেন। তায়েফে তার কবর সুপরিচিত এবং তা যিয়ারত করা হয়।

‌‌[১৮] আল-ফজল বিন আব্বাস বিন আব্দুল মুত্তালিব। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হজে তাঁর সওয়ারীর পেছনে বসা ছিলেন। তিনি উমর ইবনুল খাত্তাবের আমলে শামে ইয়ারমুকের যুদ্ধে নিহত হন। সে সময় তার বয়স ছিল বাইশ বছর। তার কুনিয়া ছিল আবু মুহাম্মাদ।

‌‌[১৯] কুসাম বিন আব্বাস বিন আব্দুল মুত্তালিব। তিনি মুয়াবিয়া বিন আবু সুফিয়ানের শাসনামলের শেষ দিকে সাঈদ বিন উসমান বিন আফফানের সাথে খোরাসানের উদ্দেশ্যে অভিযানে বের হওয়া পর্যন্ত জীবিত ছিলেন। এরপর তিনি সেখান থেকে বের হয়ে নদী পার হন এবং মা-ওয়ারাউন নহর বিজয় করেন এবং সেই অঞ্চলেই শাহাদাত বরণ করেন। তাদের মধ্যে কেউ দাবি করেন যে তার কবর সমরকন্দে, আবার কেউ দাবি করেন যে তার কবর মার্ভে।

‌‌[২০] সা’দ বিন উবাদা বিন দুলাইম আল-আনসারী। তিনি সেই ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত যারা উভয় আকাবায় এবং বদর যুদ্ধে উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি একজন নকীব ছিলেন। তাকেই সা’দ আল-খাযরাজ বলা হয়। তিনি ছিলেন তাদের অবিসংবাদিত নেতা। তার তিনটি কুনিয়া ছিল: আবু সাবিত, আবু কায়স এবং আবু...
(খণ্ড: ১) মাশাহিরু উলামাইল আমসার (পৃষ্ঠা: ٢٩)
الحباب مات لسنتين ونصف مضين من خلافة عمر بن الخطاب رضه بالحوران من أرض الشام

 

‌‌[21] عبد الله بن مسعود بن الحارث بن شمخ بن مخزوم بن صاهلة بن الحارث بن تميم بن سعد بن هذيل حليف بنى زهرة وقد قيل انه عبد الله بن مسعود بن عاقل بن شمخ بن قار بن مخزوم بن صاهلة بن الحارث بن سعد بن هذيل بن مدركة بن الياس بن مضر كنيته أبو عبد الرحمن ممن شهد بدرا وسائر المشاهد وكان من فقهاء الصحابة عليهم أجمعين سكن الكوفة مرة كان يلي بيت المال بها ومات بالمدينة سنة ثنتين وثلاثين وأوصى ان يدفن بجنب قبر عثمان بن مظعون فصلى عليه الزبير بن العوام ودفن بالبقيع وكان له يوم مات بضع وستون سنة وكانت أمه أم عبد بنت الحارث بن زهرة بن كلاب

‌‌[22] زيد بن ثابت بن الضحاك بن حارثة بن زيد بن ثعلبة من بنى سلمة أحد بنى الحارث بن الخزرج من فقهاء الصحابة وجلة الانصار وله كنيتان أبو سعيد وأبو خارجة مات في ولاية معاوية بن أبى سفيان سنة خمس وأربعين وقد قيل سنة إحدى وخمسين

‌‌[23] سعد بن عبيد بن النعمان القارئ الانصاري كنيته أبو زيد والد عمير بن سعد والى عمر بن الخطاب على الكوفة وهو أحد الاربعة الذين جمعوا القرآن على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم قتل بالقادسية سنة ست عشرة وكان له يوم قتل أربع وستون سنة
আল-হুবাব উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর খিলাফতের আড়াই বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর শাম দেশের হাওরান অঞ্চলে মৃত্যুবরণ করেন।

 

‌‌[২১] আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ বিন আল-হারিস বিন শামখ বিন মাখজুম বিন সাহিলা বিন আল-হারিস বিন তামীম বিন সাদ বিন হুযাইল, যিনি বনু যুহরার মিত্র ছিলেন। বলা হয়ে থাকে যে, তিনি হলেন আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ বিন আকিল বিন শামখ বিন কার বিন মাখজুম বিন সাহিলা বিন আল-হারিস বিন সাদ বিন হুযাইল বিন মুদরিকা বিন ইলিয়াস বিন মুযার। তাঁর উপনাম ছিল আবু আব্দুর রহমান। তিনি বদর এবং অন্যান্য সকল যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি সাহাবীদের (তাদের সবার ওপর আল্লাহ সন্তুষ্ট হোন) মধ্যে বিজ্ঞ ফকিহদের একজন ছিলেন। একসময় তিনি কুফায় বসবাস করতেন এবং সেখানে বায়তুল মালের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি বত্রিশ হিজরি সনে মদিনায় ইন্তেকাল করেন এবং উসমান বিন মাজউনের কবরের পাশে সমাহিত হওয়ার অসিয়ত করে যান। জুবায়ের ইবনুল আওয়াম তাঁর জানাজার সালাত পড়ান এবং তাঁকে বাকিতে দাফন করা হয়। মৃত্যুর দিন তাঁর বয়স ছিল ষাটের কিছু বেশি বছর। তাঁর মা ছিলেন উম্মে আবদ বিনতে আল-হারিস বিন যুহরা বিন কিলাব।

‌‌[২২] যায়েদ বিন সাবিত বিন আদ-দাহহাক বিন হারিসা বিন যায়েদ বিন সালাবা, বনু সালামার অন্তর্ভুক্ত যিনি বনু আল-হারিস বিন খাযরাজ গোত্রের একজন। তিনি সাহাবীদের মধ্যে অন্যতম ফকিহ এবং আনসারদের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তাঁর দুটি উপনাম ছিল: আবু সাঈদ এবং আবু খারিজা। তিনি মুয়াবিয়া বিন আবু সুফিয়ানের শাসনকালে ৪৫ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন, আবার বলা হয়ে থাকে ৫১ হিজরি সনে।

‌‌[২৩] সাদ বিন উবাইদ বিন আন-নুমান আল-কারী আল-আনসারী, তাঁর উপনাম আবু যায়েদ। তিনি উমর ইবনুল খাত্তাব কর্তৃক কুফার গভর্নর নিযুক্ত হওয়া উমাইর বিন সাদের পিতা। তিনি সেই চারজন ব্যক্তির একজন যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে কুরআন সংকলন করেছিলেন। তিনি ষোলো হিজরি সনে কাদিসিয়ার যুদ্ধে শহীদ হন এবং শাহাদাতের দিন তাঁর বয়স ছিল চৌষট্টি বছর।
(খণ্ড: ১) মাশাহিরু উলামাইল আমসার (পৃষ্ঠা: ٣٠)
‌‌[24] أسامة بن زيد بن حارثة مولى رسول الله صلى الله عليه وسلم وابن حبه كنيته أبو يزيد وقد قيل أبو محمد ويقال أبو زيد توفى بعد ان قتل عثمان بن عفان بالمدينة وكان نقش خاتمه حب رسول الله صلى الله عليه وسلم

‌‌[25] جابر بن عبد الله بن عمرو من بنى جشم بن الخزرج ممن شهد العقبتين مع أبيه ثم شهد بدرا ومن المشاهد تسع عشرة غزاة وقد استغفر له المصطفى صلى الله عليه وسلم ليلة البعير عمه خمسا وعشرين مرة كنيته أبو عبد الله وأبوه من شهداء أحد مات جابر بالمدينة بعد ان عمى سنة ثمان وسبعين وكان يخضب بالحمرة وكان له يوم مات أربع وتسعون سنة

‌‌[26] أبو سعيد الخدري اسمه سعد بن مالك بن سنان الخزرجي من سادات

الانصار وكان أبوه ممن شهد أحدا مات بالمدينة بعد الحرة بسنة سنة أربع وستين

‌‌[27] زيد بن الخطاب أخو عمر بن الخطاب كنيته أبو عبد الرحمن قتله أبو مريم الحنفي في الحديقة في خلافة أبى بكر الصديق يوم اليمامة فكان عمر إذا رأى أبا مريم الحنفي بعد ذاك يقول له ويحك لقد قتلت أخا لي ما هبت الصبا الا ذكرته

‌‌[28] أبو ذر الغفاري اسمه جندب بن جنادة بن سفيان وقد قيل ان اسم أبيه يزيد
[২৪] উসামা ইবনে যায়েদ ইবনে হারিসা, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুক্তদাস এবং তাঁর প্রিয়ভাজন; তাঁর উপনাম আবু ইয়াজিদ, তবে বলা হয় আবু মুহাম্মদ এবং আবু যায়েদও বলা হয়ে থাকে। তিনি উসমান ইবনে আফফান মদিনায় শহীদ হওয়ার পর মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর আংটির খোদাই ছিল 'আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রিয়পাত্র'।

[২৫] জাবির ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আমর, বনু জুশাম ইবনে আল-খাযরাজ গোত্রের অন্তর্ভুক্ত; যিনি তাঁর পিতার সাথে দুই আকাবায় উপস্থিত ছিলেন। এরপর তিনি বদরে এবং অন্যান্য যুদ্ধের মধ্যে মোট ঊনিশটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উটের পিঠের রাতে তাঁর জন্য পঁচিশ বার ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলেন। তাঁর উপনাম আবু আবদুল্লাহ এবং তাঁর পিতা উহুদ যুদ্ধের শহীদদের একজন। জাবির মদিনায় অন্ধ অবস্থায় আঠাত্তর হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি চুলে লাল খেজাব লাগাতেন এবং মৃত্যুর দিন তাঁর বয়স ছিল চুরানব্বই বছর।

[২৬] আবু সাঈদ আল-খুদরি, তাঁর নাম সাদ ইবনে মালিক ইবনে সিনান আল-খাযরাজি; তিনি নেতৃস্থানীয়

আনসারদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তাঁর পিতা উহুদ যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের একজন ছিলেন। তিনি মদিনায় হাররার ঘটনার এক বছর পর চৌষট্টি হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

[২৭] যায়েদ ইবনে আল-খাত্তাব, ওমর ইবনে আল-খাত্তাবের ভাই; তাঁর উপনাম আবু আবদুর রহমান। তাঁকে আবু মারিয়াম আল-হানাফি আবু বকর সিদ্দিকের খিলাফতকালে ইয়ামামার যুদ্ধের দিন বাগানে হত্যা করেন। এরপর ওমর যখনই আবু মারিয়াম আল-হানাফিকে দেখতেন, বলতেন: "তোমার দুর্ভোগ হোক! তুমি আমার এমন এক ভাইকে হত্যা করেছ যে, যখনই পূবালী বাতাস প্রবাহিত হয়, আমি তাঁর কথা স্মরণ করি।"

[২৮] আবু যার আল-গিফারি, তাঁর নাম জুনদুব ইবনে জুনাদা ইবনে সুফিয়ান। বলা হয়ে থাকে তাঁর পিতার নাম ছিল ইয়াজিদ
(খণ্ড: ১) মাশাহিরু উলামাইল আমসার (পৃষ্ঠা: ٣١)
ويقال أيضا سكن وكان أبو ذر ممن هاجر إلى النبي صلى الله عليه وسلم من بنى غفار إلى مكة واختفى في استار الكعبة أياما كثيرة لا يخرج منها الا لحاجة الانسان من غير ان يطعم أو يشرب شيئا الا ماء زمزم حتى رأى رسول الله صلى الله عليه وسلم بالليل فآمن به وهو أول من حياه بتحية الاسلام ثم هاجر إلى المدينة وشهد جوامع المشاهد ومات بالربذة في خلافة عثمان بن عفان سنة ثنتين وثلاثين

‌‌[29] رافع بن خديج بن رافع الانصاري الحارثى له كنيتان أبو عبد الله وأبو خديج مات بالمدينة سنة ثلاث وسبعين

‌‌[30] حكيم بن حزام بن خويلد القرشي كنيته أبو خالد وكان مولده بمكة قبل الفيل بثلاث عشرة سنة دخلت أمه الكعبة فمخضت فيها فولدت حكيم بن حزام في جوف الكعبة عاش في الجاهلية ستين سنة وفى الاسلام ستين سنة ومات وهو بن عشرين ومائة سنة سنة أربع وخمسين بالمدينة

‌‌[31] أبى بن كعب بن قيس من بنى جديلة وجديلة أم معاوية بن عمرو بن مالك كنيته أبو المنذر وكان له بن يقال له الطفيل فكان عمر بن الخطاب يكنيه بالطفيل وكان أبى ممن جمع القرآن على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم وامر الله صفيه صلوات الله عليه أن يقرأ على أبى القرآن ليكون اوكد لحفظ أبى له وأنشط له في وعيه والمحافظة عليه وكان من فقهاء الصحابة وجلة الانصار مات سنة ثنتين وعشرين في خلافة عمر بن الخطاب وقد قيل انه بقى إلى خلافة عثمان بن عفان رضه والاول أصح
আরও বলা হয় যে, তিনি সেখানে বসবাস করতেন। আর আবু যার ছিলেন তাঁদের একজন যারা বনু গিফার থেকে মক্কায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট হিজরত করেছিলেন এবং তিনি দীর্ঘ দিন কাবার পর্দার আড়ালে আত্মগোপন করে ছিলেন। মানুষের প্রাকৃতিক প্রয়োজন ছাড়া তিনি সেখান থেকে বের হতেন না এবং জমজমের পানি ছাড়া কোনো কিছু পানাহার করতেন না। অবশেষে তিনি রাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখতে পান এবং তাঁর প্রতি ঈমান আনেন। তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি তাঁকে ইসলামের সম্ভাষণে (সালাম) অভিবাদন জানিয়েছিলেন। অতঃপর তিনি মদীনায় হিজরত করেন এবং প্রধান সকল যুদ্ধ ও সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন। তিনি ৩২ হিজরি সনে উসমান ইবনে আফফানের খিলাফতকালে রাবাযা নামক স্থানে ইন্তেকাল করেন।

‌‌[২৯] রাফে ইবনে খাদীজ ইবনে রাফে আল-আনসারী আল-হারিছী। তাঁর দুটি উপনাম ছিল—আবু আব্দুল্লাহ এবং আবু খাদীজ। তিনি ৭৩ হিজরি সনে মদীনায় ইন্তেকাল করেন।

‌‌[৩০] হাকীম ইবনে হিযাম ইবনে খুয়াইলিদ আল-কুরাশী; তাঁর উপনাম আবু খালিদ। তাঁর জন্ম হয়েছিল হাতির ঘটনার (আমুল ফিল) তেরো বছর আগে মক্কায়। তাঁর মাতা কাবার ভেতরে প্রবেশ করার পর সেখানে তাঁর প্রসব বেদনা শুরু হয় এবং তিনি কাবার অভ্যন্তরেই হাকীম ইবনে হিযামকে প্রসব করেন। তিনি জাহেলি যুগে ষাট বছর এবং ইসলামে ষাট বছর জীবন অতিবাহিত করেন। তিনি ১২০ বছর বয়সে ৫৪ হিজরি সনে মদীনায় ইন্তেকাল করেন।

‌‌[৩১] উবাই ইবনে কাব ইবনে কায়েস; তিনি বনু জাদীলা গোত্রের লোক—জাদীলা ছিলেন মুয়াবিয়া ইবনে আমর ইবনে মালিকের মা। তাঁর উপনাম আবু মুনযির। তাঁর আল-তুফায়েল নামে এক পুত্র ছিল, তাই উমর ইবনুল খাত্তাব তাঁকে আল-তুফায়েলের পিতা (আবু তুফায়েল) বলে ডাকতেন। উবাই তাঁদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যাঁরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে কুরআন সংকলন করেছিলেন। আল্লাহ তাআলা তাঁর মনোনীত বন্ধুকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নির্দেশ দিয়েছিলেন উবাইয়ের নিকট কুরআন পাঠ করতে, যাতে এটি উবাইয়ের মুখস্থকরণের জন্য অধিকতর দৃঢ় হয় এবং এটি ধারণ ও সংরক্ষণের ব্যাপারে তাঁর উদ্দীপনা বৃদ্ধি পায়। তিনি সাহাবীদের মধ্যে অন্যতম ফকীহ এবং আনসারদের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি ছিলেন। তিনি ২২ হিজরি সনে উমর ইবনুল খাত্তাবের খিলাফতকালে ইন্তেকাল করেন। তবে বলা হয়ে থাকে যে তিনি উসমান ইবনে আফফানের (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) খিলাফতকাল পর্যন্ত জীবিত ছিলেন, কিন্তু প্রথম মতটিই অধিকতর সঠিক।
(খণ্ড: ১) মাশাহিরু উলামাইল আমসার (পৃষ্ঠা: ٣٢)
‌‌[32] أبو الهيثم بن التيهان اسمه مالك بن التيهان بن عتيك من صالحي الانصار نزل عليه رسول الله صلى الله عليه وسلم عند قدومه المدينة مدة وكان ممن شهد بدرا وجوامع المشاهد ومات سنة عشرين في خلافة عمر بن الخطاب

‌‌[33] مسطح بن اثاثة بن عباد بن المطلب بن عبد مناف كنيته أبو عبادة ممن شهد بدرا توفى بالمدينة سنة أربع وثلاثين وهو بن ست وخمسين سنة

‌‌[34] حسان بن ثابت بن المنذر بن حرام بن عمرو بن زيد مناة بن عدى بن عمرو بن مالك بن النجار من القوم الذين يقال لهم بنو مغالة ومغالة أم عدى بن مالك بن النجار كنيته أبو الوليد ممن كان يذب عن المصطفى صلى الله عليه وسلم بيديه وسيفيه ويعينه بلسانه وقد قال النبي صلى الله عليه وسلم اهجهم وجبريل معك ثم قال اللهم أيده بروح القدس مات أيام قتل على بن أبى طالب بالمدينة وهو بن مائة وعشرين سنة سنه وسن أبيه وجده سواء

‌‌[35] جبير بن مطعم بن عدى بن نوفل بن عبد مناف القرشي كنيته أبو سعيد ممن عظم في الجاهلية والاسلام معا وقد قيل كنيته أبو محمد ويقال أيضا أبو عدى مات سنة تسع وخمسين بالمدينة وقد قيل مات مع رافع بن خديج في يوم واحد سنة ثلاث وسبعين وهو اسنه
‌[৩২] আবু আল-হাইসাম বিন আত-তায়্যিহান, তাঁর নাম মালিক বিন আত-তায়্যিহান বিন আতিক; তিনি নেককার আনসারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় আগমনের পর এক মেয়াদে তাঁর নিকট অবস্থান করেছিলেন। তিনি বদর যুদ্ধ এবং সকল গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। উমর বিন আল-খাত্তাবের খিলাফতকালে বিশ হিজরিতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

‌‌[৩৩] মিস্তাহ বিন উসাছাহ বিন আব্বাদ বিন আল-মুত্তালিব বিন আবদ মানাফ, তাঁর উপনাম আবু উবাদাহ; তিনি বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। চৌত্রিশ হিজরিতে ছাপ্পান্ন বছর বয়সে মদীনায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

‌‌[৩৪] হাসসান বিন সাবিত বিন আল-মুনজির বিন হারাম বিন আমর বিন যায়িদ মানাত বিন আদি বিন আমর বিন মালিক বিন আন-নাজ্জার; তিনি সেই গোত্রের লোক যাদেরকে বানু মাগালাহ বলা হয়, আর মাগালাহ হলেন আদি বিন মালিক বিন আন-নাজ্জারের মা। তাঁর উপনাম আবু আল-ওয়ালিদ। তিনি সেই ব্যক্তিবর্গের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যারা মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে স্বীয় হাত ও তরবারি দ্বারা প্রতিরক্ষা করতেন এবং নিজের জিহ্বা দ্বারা তাঁকে সাহায্য করতেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সম্পর্কে বলেছিলেন, ‘তুমি তাদের নিন্দা করে কবিতা আবৃত্তি করো, জিবরাঈল তোমার সাথে আছেন।’ এরপর তিনি বলেছিলেন, ‘হে আল্লাহ! তাঁকে রুহুল কুদুস (পবিত্র আত্মা) দ্বারা সাহায্য করুন।’ আলী বিন আবি তালিব যখন শহীদ হন, সেই সময়ে তিনি মদীনায় মৃত্যুবরণ করেন। তখন তাঁর বয়স ছিল একশ বিশ বছর; তাঁর নিজের, তাঁর পিতার এবং তাঁর দাদার বয়স সমান ছিল।

‌‌[৩৫] জুবাইর বিন মুত’য়িম বিন আদি বিন নাওফাল বিন আবদ মানাফ আল-কুরাশি, তাঁর উপনাম আবু সাইদ; তিনি জাহিলিয়্যাত এবং ইসলাম উভয় যুগেই অত্যন্ত সম্মানিত ছিলেন। বলা হয়ে থাকে যে তাঁর উপনাম আবু মুহাম্মদ, আবার এও বলা হয় যে তাঁর উপনাম আবু আদি। তিনি উনষাট হিজরিতে মদীনায় মৃত্যুবরণ করেন। কেউ কেউ বলেন যে তিনি রাফি বিন খাদিজের সাথে একই দিনে তিয়াত্তর হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন এবং তিনি তাঁর চেয়ে বয়সে বড় ছিলেন।
(খণ্ড: ১) মাশাহিরু উলামাইল আমসার (পৃষ্ঠা: ٣٣)
‌‌[36] اسيد بن حضير بن سماك الاشهلي من سادات الانصار ممن شهد العقبتين وبدرا وجوامع المشاهد كنيته أبويحيى وقد قيل أبو عتيق ويقال أبو حضير مات في خلافة عمر بن الخطاب سنة عشرين وصلى عليه عمر بن الخطاب ودفن بالبقيع

‌‌[37] البراء بن مالك بن النضر النجاري الخزرجي وهو أخو أنس بن مالك من صالحي الانصار ومتقشفيهم قال النبي صلى الله عليه وسلم رب أشعث اغبر ذي طمرين لا يوبه له لو أقسم

على الله لابره منهم البراء بن مالك خرج البراء غازيا فلقى زحفا من المشركين بناحية السوس فقاتلهم فيمن معه من المسلمين فقالوا يا براء ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال لو اقسمت على الله لابرك فأقسم على ربك فقال اقسمت عليك يا رب لما منحتنا اكتافهم فمنحوا اكتافهم وقتل البراء شهيدا وذلك سنة ثلاث وعشرين

‌‌[38] بشير بن سعد بن ثعلبة الانصاري والد النعمان بن بشير ممن شهد بدرا وأحدا قتل بعين التمر بالشام في آخر خلافة أبى بكر الصديق رضنا وعنهم أجمعين

‌‌[39] أبو قتادة اسمه الحارث بن ربعى بن رافع الانصاري السلمي من بنى سلمة بن سعد وقد قيل ان اسم أبى قتادة النعمان بن ربعى ويقال عمرو بن ربعى كان من سادات
[৩৬] উসাইদ ইবনে হুদাইর ইবনে সিমাক আল-আশহালি আনসারদের নেতৃবৃন্দের অন্তর্ভুক্ত, যিনি দুই আকাবা, বদর এবং সকল সমরাঙ্গনে উপস্থিত ছিলেন। তাঁর উপনাম আবু ইয়াহইয়া, তবে আবু আতিকও বলা হয়েছে এবং কেউ কেউ আবু হুদাইরও বলেছেন। তিনি বিশ হিজরি সনে উমর ইবনুল খাত্তাবের খিলাফতকালে ইন্তেকাল করেন। উমর ইবনুল খাত্তাব তাঁর জানাজার সালাত পড়ান এবং তাঁকে বাকিতে দাফন করা হয়।

[৩৭] বারা ইবনে মালিক ইবনে নাদর আল-আনসারি আল-খাযরাজি, তিনি আনাস ইবনে মালিকের ভাই এবং আনসারদের নেককার ও জাহিদদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, "অনেক উস্কোখুস্কো চুলধারী, ধূলিমলিন এবং দুই টুকরো জীর্ণ বস্ত্র পরিহিত ব্যক্তি আছে যাদেরকে মানুষ অবজ্ঞা করে, কিন্তু তারা যদি আল্লাহর নামে শপথ করে তবে আল্লাহ তা পূরণ করে দেন। বারা ইবনে মালিক তাদেরই একজন।"

বারা যুদ্ধের উদ্দেশ্যে বের হলেন এবং সুস অঞ্চলের এক প্রান্তে মুশরিক বাহিনীর মুখোমুখি হলেন। তিনি তাঁর সাথে থাকা মুসলিমদের নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করলেন। তাঁরা বললেন, "হে বারা! রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন যে আপনি যদি আল্লাহর নামে শপথ করেন তবে তিনি তা পূর্ণ করবেন। অতএব আপনি আপনার রবের নামে শপথ করুন।" তখন তিনি বললেন, "হে রব! আমি আপনার কাছে এই শপথ করছি যে আপনি আমাদেরকে তাদের পিঠ (বিজয়) দান করবেন।" অতঃপর তাঁদের বিজয় দান করা হলো এবং বারা শহিদ হলেন। এটি ছিল তেইশ হিজরি সনের ঘটনা।

[৩৮] বশির ইবনে সাদ ইবনে ছালাবা আল-আনসারি, নুমান ইবনে বশিরের পিতা। তিনি বদর ও উহুদ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। আবু বকর সিদ্দিকের খিলাফতের শেষ দিকে শামের আইনুত তামার নামক স্থানে তিনি শহিদ হন। আল্লাহ তাঁদের সবার প্রতি সন্তুষ্ট হোন।

[৩৯] আবু কাতাদা, তাঁর নাম হারিস ইবনে রিবয়ী ইবনে রাফে আল-আনসারি আস-সুলামি, বনু সালামা ইবনে সাদ গোত্রের। বলা হয়ে থাকে যে আবু কাতাদার নাম ছিল নুমান ইবনে রিবয়ী, আবার কেউ বলেন আমর ইবনে রিবয়ী। তিনি নেতৃবৃন্দের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।