(খণ্ড: ১)
আল-মানহাজুস সহীহ ওয়া আসারুহু ফিদ দাওয়াহ ইলাল্লাহি তাআলা
(পৃষ্ঠা: -)
المنهج الصحيح وأثره في الدعوة إلى الله تعالى القسم: كتب عامة
الكتاب: المنهج الصحيح وأثره في الدعوة إلى الله تعالى
المؤلف: د. حمود بن أحمد بن فرج الرحيلي
الناشر: الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة
الطبعة: العدد 119 - السنة 35 - 1423 هـ/2003م
عدد الصفحات: 202
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
সঠিক (الصحيح) মানহাজ এবং মহান আল্লাহর দিকে দাওয়াতের ক্ষেত্রে এর প্রভাব বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ
বই: সঠিক (الصحيح) মানহাজ এবং মহান আল্লাহর দিকে দাওয়াতের ক্ষেত্রে এর প্রভাব
লেখক: ড. হামুদ বিন আহমদ বিন ফারাজ আল-রুহাইলি
প্রকাশক: মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
সংস্করণ: সংখ্যা ১১৯ - বর্ষ ৩৫ - ১৪২৩ হিজরি/২০০৩ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২০২
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর ছাপানো সংস্করণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যুল হিজ্জাহ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-মানহাজুস সহীহ ওয়া আসারুহু ফিদ দাওয়াহ ইলাল্লাহি তাআলা
(পৃষ্ঠা: ১২৭)
ال
مقدَّمةإنَّ الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضلّ له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلاّ الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، أرسله بالهدى ودين الحق ليظهره على الدين كله ولو كره الكافرون.
وبعد؛ فإنّ الدعوة إلى الله تعالى هي سبيل الأنبياء والمرسلين، وطريق صفوة الخلق أجمعين، نبينا محمد صلى الله عليه وسلم وطريق أتباعه إلى يوم الدين.
قال تعالى: {قُلْ هَذِهِ سَبِيلِي أَدْعُو إِلَى اللَّهِ عَلَى بَصِيرَةٍ أَنَا وَمَنِ اتَّبَعَنِي وَسُبْحَانَ اللَّهِ وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ} 1.
وقال عز وجل: {ادْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ وَجَادِلْهُمْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَن} 2.فدعوة النبي صلى الله عليه وسلم وصحابته وأتباعه تقوم على العلم والبصيرة في الدين، ودعوة الناس بالحكمة والموعظة الحسنة، والمجادلة بالتي هي أحسن. وذلك لا خراجهم من ظلمات الشرك والكفر إلى نور التوحيد والإيمان، ومن ظلمات البدع إلى نور السنة، ومن المعاصي إلى الطاعة، ومن النار إلى الجنة.
والدعاة إلى الله تعالى المقتفون لسنة رسوله صلى الله عليه وسلم لهم المكانة العالية والمنزلة السامية في كل عصر، قال تعالى: {وَمَنْ أَحْسَنُ قَوْلاً مِمَّنْ دَعَا إِلَى اللَّهِ وَعَمِلَ صَالِحاً وَقَالَ إِنَّنِي مِنَ الْمُسْلِمِينَ} 3.
ولأهمية الدعوة إلى الله تعالى على المنهج الصحيح قد جعلت هذا البحث بعنوان "المنهج الصحيح وأثره في الدعوة إلى الله تعالى" وذلك لا سباب، من أهمها:
--------------------------------------------
ভূমিকানিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শনকারী কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল; আল্লাহ তাঁকে হেদায়েত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন, যেন তিনি একে সকল দ্বীনের ওপর বিজয়ী করেন, যদিও কাফিররা তা অপছন্দ করে।
অতঃপর; নিশ্চয়ই আল্লাহর দিকে দাওয়াত প্রদান হলো নবী ও রাসুলগণের পথ এবং সমগ্র সৃষ্টির মধ্য হতে মনোনীত ব্যক্তিবর্গের পথ; যা আমাদের নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পথ এবং কিয়ামত পর্যন্ত তাঁর অনুসারীদের পথ।
মহান আল্লাহ বলেন: {বলুন, এটিই আমার পথ। আমি আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেই সুস্পষ্ট জ্ঞানের ভিত্তিতে—আমি এবং যারা আমার অনুসরণ করেছে তারা। আর আল্লাহ পবিত্র এবং আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই।} ১।
মহান পরাক্রমশালী আল্লাহ আরও বলেন: {আপনি আপনার রবের পথের দিকে হিকমত ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে দাওয়াত দিন এবং তাদের সাথে বিতর্ক করুন উত্তম পন্থায়।} ২। সুতরাং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), তাঁর সাহাবীগণ এবং তাঁদের অনুসারীদের দাওয়াত দ্বীনের ক্ষেত্রে ইলম ও দূরদর্শিতার ওপর প্রতিষ্ঠিত, এবং মানুষকে হিকমত ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে দাওয়াত প্রদান এবং সর্বোত্তম পন্থায় বিতর্কের ওপর আধারিত। আর তা করা হয় মানুষকে শিরক ও কুফরের অন্ধকার থেকে তাওহীদ ও ঈমানের আলোর দিকে, বিদআতের (بدعة) অন্ধকার থেকে সুন্নাহর (سنة) আলোর দিকে, পাপাচার থেকে আনুগত্যের দিকে এবং জাহান্নাম থেকে জান্নাতের দিকে বের করে আনার জন্য।
আর আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহর (سنة) যথাযথ অনুসরণকারী আল্লাহর পথের দাওয়াতদানকারীদের মর্যাদা ও অবস্থান প্রত্যেক যুগে সুউচ্চ। মহান আল্লাহ বলেন: {ঐ ব্যক্তির চেয়ে উত্তম কথা আর কার হতে পারে যে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেয়, সৎকর্ম করে এবং বলে যে, ‘নিশ্চয়ই আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত’?} ৩।
সঠিক (صحيح) মানহাজের (منهج) ওপর ভিত্তি করে আল্লাহর দিকে দাওয়াতের গুরুত্বের কারণে আমি এই গবেষণা কর্মটির শিরোনাম নির্ধারণ করেছি "সঠিক (صحيح) মানহাজ (منهج) এবং আল্লাহর দিকে দাওয়াতের ক্ষেত্রে এর প্রভাব"। এর বেশ কিছু কারণ রয়েছে, যার মধ্যে প্রধান হলো:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মানহাজুস সহীহ ওয়া আসারুহু ফিদ দাওয়াহ ইলাল্লাহি তাআলা
(পৃষ্ঠা: ১২৮)
أولاً: ما يلاحظ على أكثر الجماعات العاملة في الساحة الإسلامية من إغفال أو إهمال للجانب الأساسي والأهم، وهو دعوة الناس إلى "التوحيد " وتصحيح عقائدهم، فكثير من هؤلاء الدعاة يسلكون مسالك شتى، لا تتوافق مع منهج الرسول صلى الله عليه وسلم وهو المنهج الذي يجب على كل داعية إلى الله تعالى أن يسلكه ويسير عليه، عملاً بقوله تعالى: {لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَنْ كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيراً ً} 1.
والدعوة إلى التوحيد هى أول دعوة الرسل - عليهم الصلاة والسلام - إلى أقوامهم، وكل الكتب المنزلة إنما نزلت لبيان عقيدة التوحيد، وبيان مايبطلها ويناقضها أو ينقصها، فعقيدة التوحيد هي التي يقوم عليها كيان المجتمع الإسلامي، ومنها يستلهمون طريق وحدتهم وعزتهم، إلا أن أكثر الأساليب والوسائل المتعددة التي تنادي بوحدة المسلمين، وجمع كلمتهم، ولمّ شملهم لم تحقق الأهداف المنشودة، مع مابذل فيها من الجهد والوقت والمال، بل الذي نتج عن هذه الدعوات وتلك المناهج إنما هو التعصب، والاختلاف، والتطرف، والغلوّ، والابتداع والتكفير
… وماذلك إلا لا نَّ هذه المناهج وتلك الدعوات لم تقم على المنهج الصحيح الذي سار عليه النبي صلى الله عليه وسلم وصحابته الكرام ومن تبعهم بإحسان، حيث نجد أنَّ جماعة من هؤلاء تهتم بالسياسة والجهاد، وجماعة تدعو إلى الترغيب والترهيب والزهد والورع، وأخرى تهتم بالأخلاق، وهكذا قلَّ أن تجد من بين هذه الجماعات من يهتم بالركن الأساسي والأهم وهو الدعوة إلى التوحيد، الذي هو المنطلق المتين لوحدة المسلمين ولمَّ شملهم.2
--------------------------------------------
প্রথমত: ইসলামি অঙ্গনে সক্রিয় অধিকাংশ দলের মধ্যে যা পরিলক্ষিত হয় তা হলো মৌলিক ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ের প্রতি উপেক্ষা বা অবহেলা, আর তা হলো মানুষকে "তাওহিদ"-এর দিকে আহ্বান করা এবং তাদের আকিদা সংস্কার করা। কারণ এই দাঈদের অনেকেই বিভিন্ন পথে চলেন যা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মানহাজের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। অথচ আল্লাহর দিকে আহ্বানকারী প্রত্যেক দাঈর জন্য সেই মানহাজ অনুসরণ করা ও সেই পথে চলা আবশ্যক, মহান আল্লাহর এই বাণীর ওপর আমল করে: {নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ, তার জন্য যে আল্লাহ ও শেষ দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে।} ১।
তাওহিদের দিকে আহ্বান হলো নিজ কওমের প্রতি রাসূলগণের (আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম) প্রথম দাওয়াত। আর সকল অবতীর্ণ কিতাব কেবল তাওহিদের আকিদা বর্ণনা করতে এবং যা একে বাতিল করে, এর পরিপন্থী বা এতে ঘাটতি সৃষ্টি করে তা স্পষ্ট করার জন্যই নাযিল হয়েছে। এই তাওহিদের আকিদার ওপরই ইসলামি সমাজের ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত এবং এর থেকেই তারা তাদের ঐক্য ও মর্যাদার পথের প্রেরণা লাভ করে। তবে মুসলিমদের ঐক্য, তাদের ঐক্যবদ্ধ করা এবং সংহতি বজায় রাখার জন্য যে বিভিন্ন বহুবিধ পদ্ধতি ও মাধ্যমের আহ্বান জানানো হয়, তার অধিকাংশ কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে, যদিও তাতে অনেক প্রচেষ্টা, সময় ও অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। বরং এই সব দাওয়াত ও মানহাজ থেকে যা অর্জিত হয়েছে তা হলো গোঁড়ামি, মতভেদ, চরমপন্থা, অতিরঞ্জন, বিদআত (ابتداع) এবং তাকফির (تكفير)
… আর এটি কেবল এই কারণেই যে, এই মানহাজ ও দাওয়াতসমূহ সেই সঠিক মানহাজের ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়নি যার ওপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), তাঁর সম্মানিত সাহাবীগণ এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করেছেন তাঁরা চলেছেন। যেখানে আমরা দেখতে পাই যে, তাদের মধ্যে একদল রাজনীতি ও জিহাদ নিয়ে ব্যস্ত, একদল উৎসাহ প্রদান ও ভীতি প্রদর্শন (ترغيب وترهيب), দুনিয়াবিমুখতা (زهد) ও পরহেজগারি (ورع) এর দিকে আহ্বান জানায়, আবার অন্য দল আখলাক বা চরিত্রের গুরুত্ব দেয়। এভাবেই আপনি এই দলগুলোর মধ্যে এমন কাউকে খুব কমই পাবেন যারা সবচেয়ে মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ অর্থাৎ তাওহিদের দাওয়াতের প্রতি গুরুত্ব দেয়, যা মুসলিমদের ঐক্য ও সংহতির সুদৃঢ় ভিত্তি। ২
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মানহাজুস সহীহ ওয়া আসারুহু ফিদ দাওয়াহ ইলাল্লাহি তাআলা
(পৃষ্ঠা: ১২৯)
ثانياً: إني لم أقف على من أفرد هذا البحث بهذا الاسم - على حد علمي القاصر.
ومن هنا فإن الحاجة ماسة إلى بيان المنهج الصحيح القائم على كتاب الله تعالى، وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم ومنهج السلف الصالح - رضوان الله تعالى عليهم - لذا فقد رغبتُ في الكتابة في هذا الموضوع للمشاركة في توضيح الحق، وبيانه للناس، لا ن هذا هو المنهج الذي يجب اتباعه دون ماسواه من المناهج المخالفة.
قال تعالى: {وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيماً فَاتَّبِعُوهُ وَلا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَنْ سَبِيلِهِ ذَلِكُمْ وَصَّاكُمْ بِهِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ} 1.
وقال سبحانه: {وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعاً وَلا تَفَرَّقُوا} 2.
وقال رسول الهدىصلى الله عليه وسلم: "تركت فيكم أمرين، لن تضلوا ماتمسكتم بهما: كتاب الله وسنتي"3.
ويقول الإمام مالك بن أنس رحمه الله! "لن يصلح آخر هذه الأمة إلا بما صلح به أولها"4.
--------------------------------------------
দ্বিতীয়ত: আমার সল্প জ্ঞান মতে, আমি এমন কাউকে পাইনি যিনি এই নামে এই বিষয়ে স্বতন্ত্রভাবে কোনো গবেষণা পরিচালনা করেছেন।
এখান থেকেই মহান আল্লাহ তাআলার কিতাব, তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ এবং সালাফ আস-সালেহীন (পূর্বসূরি পুণ্যবানগণ) —আল্লাহ তাঁদের ওপর সন্তুষ্ট হোন— এর অনুসৃত পথের ওপর প্রতিষ্ঠিত সঠিক মানহাজ (পদ্ধতি) বর্ণনার প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত জোরালো হয়ে দেখা দিয়েছে। তাই সত্যকে স্পষ্ট করার এবং মানুষের নিকট তা বর্ণনা করার উদ্দেশ্যে আমি এই বিষয়ে লেখার আগ্রহ প্রকাশ করেছি; কারণ এটিই সেই মানহাজ যা অনুসরণ করা আবশ্যক, এর বিপরীত অন্য কোনো মানহাজ নয়।
মহান আল্লাহ বলেন: "আর এটিই আমার সঠিক পথ, সুতরাং তোমরা এরই অনুসরণ করো এবং অন্যান্য পথের অনুসরণ করো না, অন্যথায় তা তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত করে দেবে। তিনি তোমাদেরকে এই নির্দেশ দিয়েছেন যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করো।" ১।
এবং তিনি সুবহানাহু বলেন: "তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরো এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না।" ২।
এবং হিদায়াতের রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমি তোমাদের মাঝে দুটি বস্তু রেখে যাচ্ছি, যতক্ষণ তোমরা তা আঁকড়ে থাকবে ততক্ষণ তোমরা পথভ্রষ্ট হবে না: আল্লাহর কিতাব ও আমার সুন্নাহ।" ৩।
ইমাম মালিক ইবন আনাস রাহিমাহুল্লাহ বলেন: "এই উম্মতের পরবর্তী অংশ সংশোধন হবে না কেবল তা দ্বারাই, যা দ্বারা এর প্রথম অংশ সংশোধিত হয়েছিল।" ৪।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মানহাজুস সহীহ ওয়া আসারুহু ফিদ দাওয়াহ ইলাল্লাহি তাআলা
(পৃষ্ঠা: ১৩০)
وعندما أقول بوجوب الاهتمام بالدعوة إلى التوحيد، والبدء به أولاً، لا يعني إهمال الجوانب الأخرى التي يحتاج إليها المسلم، وتتفق مع عقيدته، وإنما المقصود أن نبدأ بالدعوة إلى التوحيد، ثم الأهم فالأهم مع جعل أعمالنا كلها تقوم على أساس العقيدة الصحيحة.
আর আমি যখন তাওহিদের (التوحيد) দাওয়াতের প্রতি গুরুত্বারোপ করা এবং তা দিয়ে শুরু করা আবশ্যক হওয়ার কথা বলি, তখন তার অর্থ এই নয় যে, একজন মুসলিমের প্রয়োজনীয় অন্যান্য দিকসমূহ যা তার আকিদার (عقيدة) সাথে সংগতিপূর্ণ, সেগুলোকে উপেক্ষা করা হবে। বরং উদ্দেশ্য হলো এই যে, আমরা তাওহিদের (التوحيد) দাওয়াত দিয়ে শুরু করব, অতঃপর অধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো ক্রমানুসারে প্রাধান্য দেব এবং আমাদের সকল আমলকে সঠিক আকিদার (العقيدة الصحيحة) ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করব।
(খণ্ড: ১)
আল-মানহাজুস সহীহ ওয়া আসারুহু ফিদ দাওয়াহ ইলাল্লাহি তাআলা
(পৃষ্ঠা: ১৩১)
خطة البحث
وقد جعلت البحث في مقدمة، وأربعة فصول، وخاتمة.
اشتملت المقدمة على أهمية الموضوع، وسبب الاختيار، والخطة ومنهجي في البحث.
والفصل الأول: أهمية العقيدة الصحيحة ووجوب التمسك بها، وفيه ثلاثة مباحث:
المبحث الأول: وجوب التمسك بالعقيدة الصحيحة.
المبحث الأول: وجوب التمسك بالعقيدة الصحيحة.
المبحث الثاني: أهمية التوحيد وفضله.
المبحث الثالث: البدء بالدعوة إلى التوحيد أولاً.
والفصل الثاني: الدعائم التي يقوم عليها المنهج الصحيح في الدعوة إلى الله تعالى، ويشتمل على مايلي:
أولاً: العلم.
ثانياً: الإخلاص.
ثالثاً: المتابعة.
رابعاً: الحكمة.
خامساً: الرفق والحلم.
سادساً: الصبر.
سابعاً: التحلي بالأخلاق الفاضلة.
والفصل الثالث: أسباب انحراف الأمة عن المنهج الصحيح، وفيه ستة مباحث:
المبحث الأول: الغلو في الدين.
গবেষণার পরিকল্পনা
আমি গবেষণাকর্মটিকে একটি ভূমিকা, চারটি অধ্যায় এবং একটি উপসংহারে বিন্যস্ত করেছি।
ভূমিকাটি বিষয়ের গুরুত্ব, গবেষণার কারণ, পরিকল্পনা এবং আমার গবেষণা পদ্ধতির ওপর বিন্যস্ত হয়েছে।
প্রথম অধ্যায়: সঠিক আকিদা (العقيدة)-র গুরুত্ব এবং তা আঁকড়ে ধরার আবশ্যকতা। এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: সঠিক আকিদা (العقيدة) আঁকড়ে ধরার আবশ্যকতা।
প্রথম পরিচ্ছেদ: সঠিক আকিদা (العقيدة) আঁকড়ে ধরার আবশ্যকতা।
вто দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাওহিদ (التوحيد)-এর গুরুত্ব ও ফজিলত।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: দাওয়াত (الدعوة)-এর ক্ষেত্রে প্রথমেই তাওহিদ (التوحيد) দিয়ে শুরু করা।
দ্বিতীয় অধ্যায়: আল্লাহ তাআলার দিকে দাওয়াত (الدعوة)-এর ক্ষেত্রে সঠিক মানহাজ (المنهج) যে স্তম্ভগুলোর ওপর প্রতিষ্ঠিত, যা নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে:
প্রথমত: জ্ঞান (العلم)।
দ্বিতীয়ত: ইখলাস (الإخلاص)।
তৃতীয়ত: অনুসরণ (المتابعة)।
চতুর্থত: হিকমাহ (الحكمة)।
পঞ্চমত: নম্রতা (الرفق) ও সহনশীলতা (الحلم)।
ষষ্ঠত: ধৈর্য (الصبر)।
সপ্তমত: উত্তম চরিত্রের গুণাবলি অর্জন করা।
তৃতীয় অধ্যায়: সঠিক মানহাজ (المنهج) থেকে উম্মাহর বিচ্যুত হওয়ার কারণসমূহ। এতে ছয়টি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: দ্বীনের ব্যাপারে অতিশয়োক্তি (الغلو)।
(খণ্ড: ১)
আল-মানহাজুস সহীহ ওয়া আসারুহু ফিদ দাওয়াহ ইলাল্লাহি তাআলা
(পৃষ্ঠা: ১৩২)
المبحث الثاني: الجهل.
المبحث الثالث: الابتداع في الدين.
المبحث الرابع: اتباع الهوى.
المبحث الخامس: تقديم العقل على النقل.
المبحث السادس: التفرق والتحزب.
والفصل الرابع: أثر المنهج الصحيح في الدعوة إلى الله تعالى.
وأما الخاتمة: فقد أوجزتُ فيها أهم نتائج البحث.
وقد عزوت الآيات الكريمة إلى مواضعها من السور، وخرجتُ الأحاديث النبوية الواردة في البحث، كما وثقت النصوص التي نقلتها عن بعض العلماء من مصادرها الأصلية، ثم ألحقت به قائمة بأهم المصادر والمراجع مرتبة حسب حروف الهجاء، وقائمة أخرى للموضوعات.
ولا يفوتني أن أقول: إن هذا جهد المقلَّ، فما كان فيه من صواب فهو من فضل الله تعالى وتوفيقه لي، وأشكره سبحانه على ذلك، وماكان فيه من خطأ ونقص فأستغفر الله منه وأتوب إليه، وأرجو ممن قرأه ووجد فيه خللاً أن ينبهني إليه امتثالاً لقوله تعالى: {وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَى} 1.
وسأكون شاكراً لنصحه وتوجيهه، وله من الله الأجر والمثوبة.
وأسأل الله ـ جلّت قدرته ـ أن يجعل عملي خالصاً لوجهه الكريم، وأن ينفع به من يراه من الدعاة المخلصين، وأن يجعله في موازين حسناتي يوم الدين وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.
وكتب:
د. حمود بن أحمدالرحيلي
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: অজ্ঞতা।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: দ্বীনের মধ্যে নব উদ্ভাবন (ابتداع)।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: প্রবৃত্তির অনুসরণ।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: শ্রুত প্রমাণের (النقل) ওপর বিবেকের প্রাধান্য।
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: বিভক্তি ও দলাদলি।
চতুর্থ অধ্যায়: আল্লাহর পথে দাওয়াতের ক্ষেত্রে সঠিক (صحيح) মানহাজের প্রভাব।
আর উপসংহার: আমি এতে গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলগুলো সংক্ষেপে বর্ণনা করেছি।
আমি সম্মানিত আয়াতসমূহকে সূরার সংশ্লিষ্ট স্থানে নির্দিষ্ট করেছি এবং গবেষণায় উল্লিখিত হাদিসসমূহের তখরিজ (تخريج) করেছি। সেই সাথে আলেমদের থেকে উদ্ধৃত বক্তব্যগুলো তাদের মূল উৎস থেকে যথাযথভাবে প্রমাণীকরণ করেছি। এরপর আমি এতে বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজানো গুরুত্বপূর্ণ উৎস ও তথ্যসূত্রের একটি তালিকা এবং বিষয়বস্তুর একটি তালিকা সংযোজন করেছি।
আমি আরও বলতে চাই যে: এটি আমার একটি নগণ্য প্রচেষ্টা মাত্র। এতে যা কিছু সঠিক হয়েছে তা মহান আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাওফিকের ফল, এর জন্য আমি তাঁর কৃতজ্ঞতা আদায় করছি। আর যা কিছু ভুল ও ত্রুটি হয়েছে তার জন্য আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাঁর কাছে তাওবা করছি। যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবেন এবং কোনো ত্রুটি খুঁজে পাবেন, মহান আল্লাহর এই বাণীর অনুসরণে তিনি যেন আমাকে তা অবহিত করেন বলে আমি আশা রাখি: {তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ার ক্ষেত্রে একে অপরকে সহযোগিতা করো} ১।
আমি তাঁর নসিহত ও দিকনির্দেশনার জন্য কৃতজ্ঞ থাকব এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর জন্য পুরস্কার ও প্রতিদান রয়েছে।
আমি আল্লাহ তাআলার কাছে—তাঁর ক্ষমতা সুমহান—প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমার এই কাজটিকে কেবল তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন এবং এর মাধ্যমে একনিষ্ঠ দাঈদের উপকৃত করেন এবং কিয়ামতের দিন এটি যেন আমার নেক আমলের পাল্লায় যুক্ত হয়। আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
ইতি:
ড. হাম্মুদ বিন আহমদ আল-রুহাইলি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মানহাজুস সহীহ ওয়া আসারুহু ফিদ দাওয়াহ ইলাল্লাহি তাআলা
(পৃষ্ঠা: ১৩৩)
الفصل الأول: أهمية العقيدة الصحيحة ووجوب التمسك بها
المبحث الأول: وجوب التمسك بالعقيدة الصحيحة…الفصل الأول
أهمية العقيدة الصحيحة ووجوب التمسك بها، ويشتمل على ثلاثة مباحث:
المبحث الأول
وجوب التمسك بالعقيدة الصحيحة
إنَّ العقيدة الصحيحة هي الأساس المتين، والركن العظيم لدين الإسلام، ولذا فإنَّ الأنبياء عليهم الصلاة والسلام أول ماقاموا به في دعوة أقوامهم هو دعوتهم إلى تصحيح الاعتقاد، وإلى توحيد الله جلَّ وعلا، فصلاح الأمم مرهون بسلامة عقيدتها، وصحة أفكارها، وكل بناءٍ لا تكون العقيدة أساسه، إنما هو بناء متهدم الأركان، وليس له بقاء ولا قرار، وبدون تصحيح العقيدة لا فائدة من الأعمال أياً كان نوعها.
قال الله تعالى: {إِنَّهُ مَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدْ حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ وَمَأْوَاهُ النَّارُ وَمَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ أَنْصَارٍ} 1.
وقال تعالى: {وَلَقَدْ أُوحِيَ إِلَيْكَ وَإِلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكَ لَئِنْ أَشْرَكْتَ لَيَحْبَطَنَّ عَمَلُكَ وَلَتَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ} 2.
وقد مكث النبي صلى الله عليه وسلم في مكة ـ بعد بعثته ـ ثلاث عشرة سنة، يدعو إلى تصحيح العقيدة، وإلى توحيد الله وإفراده بالعبادة، ولم تنزل عليه الفرائض إلا في المدينة ماعدا الصلاة، أما بقية الشرائع ففرضت في المدينة، مما يدُّل دلالة واضحة على أنه لا يُطالب أحد بالأعمال إلا بعد تصحيح العقيدة، وتصفيتها من كل
--------------------------------------------
প্রথম অধ্যায়: সঠিক (صحيحة) আকিদাহর গুরুত্ব এবং তা আঁকড়ে ধরার আবশ্যকতাপ্রথম পরিচ্ছেদ: সঠিক (صحيحة) আকিদাহ আঁকড়ে ধরার আবশ্যকতা…প্রথম অধ্যায়
সঠিক (صحيحة) আকিদাহর গুরুত্ব এবং তা আঁকড়ে ধরার আবশ্যকতা; এটি তিনটি পরিচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:
প্রথম পরিচ্ছেদ
সঠিক (صحيحة) আকিদাহ আঁকড়ে ধরার আবশ্যকতা
নিশ্চয়ই সঠিক (صحيحة) আকিদাহ হলো ইসলাম ধর্মের মজবুত ভিত্তি এবং সুমহান স্তম্ভ। এই কারণেই আম্বিয়া (আলাইহিমুস সালাম) তাঁদের কওমকে দাওয়াহ দেওয়ার ক্ষেত্রে সর্বপ্রথম যে বিষয়টি সম্পাদন করেছেন, তা হলো আকিদাহ সংশোধনের আহ্বান এবং মহান আল্লাহর তাওহিদের দিকে আহ্বান। সুতরাং উম্মাহর কল্যাণ তাদের আকিদাহর বিশুদ্ধতা এবং চিন্তাধারার সঠিকতার ওপর নির্ভরশীল। আর যে ইমারতের ভিত্তি আকিদাহর ওপর নয়, তা মূলত ভেঙে পড়া স্তম্ভের ওপর দণ্ডায়মান এক ইমারত, যার কোনো স্থায়িত্ব বা স্থিরতা নেই। আকিদাহ সংশোধন ব্যতিরেকে যে কোনো ধরনের আমলের কোনো উপকারিতা নেই।
আল্লাহ তাআলা বলেন: {নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শিরক করবে, আল্লাহ তার ওপর জান্নাত হারাম করে দিয়েছেন এবং তার ঠিকানা হবে জাহান্নাম। আর জালেমদের জন্য কোনো সাহায্যকারী নেই।} ১।
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {তোমার প্রতি এবং তোমার পূর্ববর্তীদের প্রতি ওহি পাঠানো হয়েছে যে, যদি তুমি শিরক করো তবে তোমার আমল অবশ্যই নিস্ফল হয়ে যাবে এবং তুমি অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।} ২।
নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর নবুয়ত প্রাপ্তির পর মক্কায় তেরো বছর অবস্থান করেছিলেন। এ সময় তিনি আকিদাহ সংশোধন এবং আল্লাহর তাওহিদ ও এককভাবে কেবল তাঁরই ইবাদত করার দিকে আহ্বান জানিয়েছেন। সালাত ব্যতীত অন্য কোনো ফরজ বিধান মদীনায় হিজরতের আগে অবতীর্ণ হয়নি। বাকি শরিয়তের বিধানসমূহ মদীনায় ফরজ করা হয়েছে। এটি সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, আকিদাহ সংশোধন এবং সর্বপ্রকার পঙ্কিলতা থেকে তা মুক্ত করার পূর্ব পর্যন্ত কাউকে আমলের ব্যাপারে দাবি করা হয় না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মানহাজুস সহীহ ওয়া আসারুহু ফিদ দাওয়াহ ইলাল্লাহি তাআলা
(পৃষ্ঠা: ১৩৪)
شائبة، وإذا صلحت العقيدة صلحت أعمال المسلم، وذلك لا ن العقيدة الصحيحة تحمل المسلم على الأعمال الصالحة، وتوجهه إلى الأفعال الحميدة.
فالواجب على الداعية إلى الله تعالى أن يهتم بعقيدة السلف الصالح - رضوان الله عليهم - علماً وعملاً بها، ودعوة إليها، لا نها العقيدة التي أُمرنا بالتمسك بها، والمحافظة عليها، والتي لا يجوز لا ي داعية أن يعدل عنها أو أن يتخذ أي عقيدة سواها.
قال تعالى: {وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيماً فَاتَّبِعُوهُ وَلا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَنْ سَبِيلِهِ} 1.
وقال تعالى: {شَرَعَ لَكُمْ مِنَ الدِّينِ مَا وَصَّى بِهِ نُوحاً وَالَّذِي أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ وَمَا وَصَّيْنَا بِهِ إِبْرَاهِيمَ وَمُوسَى وَعِيسَى أَنْ أَقِيمُوا الدِّينَ وَلا تَتَفَرَّقُوا فِيهِ} 2 وقال تعالى في فضل المهاجرين والأنصار والذين اتبعوهم بإحسان: {وَالسَّابِقُونَ الْأَوَّلُونَ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُمْ بِإِحْسَانٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ وَأَعَدَّ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي تَحْتَهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَداً ذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ} 3.
يقول الحافظ أبو القاسم اللالكائي في كتابه القيّم "شرح أصول اعتقاد أهل السنة والجماعة": "فإنَّ أوجب ماعلى المرء معرفة اعتقاد الدين، وما كلف الله به عباده من فهم توحيده، وصفاته، وتصديق رسله بالدلائل واليقين، والتوصل إلى طرقها، والاستدلال عليها بالحجج والبراهين، وكان من أعظم منقول،
--------------------------------------------
কলুষতা ছাড়াই; আর যখন আকীদা সঠিক হয়, তখন মুসলিমের আমলসমূহও সঠিক হয়। এর কারণ হলো, সঠিক আকীদা একজন মুসলিমকে সৎকর্মে উদ্বুদ্ধ করে এবং তাকে প্রশংসনীয় কার্যাবলীর দিকে পরিচালিত করে।
সুতরাং আল্লাহর পথে আহ্বানকারীর জন্য কর্তব্য হলো সালাফে সালেহীন—আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন—তাঁদের আকীদার প্রতি জ্ঞান ও আমলের মাধ্যমে গুরুত্ব প্রদান করা এবং সেটির দিকে মানুষকে আহ্বান করা। কারণ এটিই সেই আকীদা যা আমাদের দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরার এবং সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো আহ্বানকারীর জন্যই এটি থেকে বিচ্যুত হওয়া অথবা এটি ছাড়া অন্য কোনো আকীদা গ্রহণ করা বৈধ নয়।
আল্লাহ তাআলা বলেন: "আর এটিই আমার সরল পথ, সুতরাং তোমরা এরই অনুসরণ করো এবং অন্যান্য পথের অনুসরণ করো না, অন্যথায় তা তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে।" ১।
আল্লাহ তাআলা বলেন: "তিনি তোমাদের জন্য দ্বীনের সেই বিধানই নির্ধারিত করেছেন, যার নির্দেশ তিনি নূহকে দিয়েছিলেন এবং যা আমি আপনার প্রতি ওহী হিসেবে পাঠিয়েছি এবং ইব্রাহীম, মূসা ও ঈসাকে যার নির্দেশ দিয়েছিলাম এই বলে যে, তোমরা দ্বীন কায়েম করো এবং এতে অনৈক্য সৃষ্টি করো না।" ২। আল্লাহ তাআলা মুহাজির, আনসার এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করেছেন তাঁদের মর্যাদা সম্পর্কে বলেন: "আর মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যারা প্রথম অগ্রগামী এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করেছে, আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তাঁরাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন। তিনি তাঁদের জন্য এমন জান্নাত প্রস্তুত করে রেখেছেন যার তলদেশ দিয়ে নদীসমূহ প্রবাহিত, সেখানে তাঁরা চিরকাল থাকবে। এটিই মহাসাফল্য।" ৩।
হাফিজ (الحافظ) আবু কাসিম আল-লালকাঈ তাঁর মূল্যবান গ্রন্থ "শারহু উসুলি ইতিকাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামাআহ"-তে বলেন: "নিশ্চয়ই মানুষের ওপর সবচেয়ে বড় আবশ্যিক বিষয় হলো দ্বীনের আকীদা সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা এবং আল্লাহ তাঁর বান্দাদের ওপর তাঁর তাওহীদ ও গুণাবলী অনুধাবন করার এবং দলীল ও সুনিশ্চিত (يقين) বিশ্বাসের মাধ্যমে তাঁর রাসূলদের সত্যয়ন করার যে দায়িত্ব অর্পণ করেছেন তা বুঝা। তদুপরি এসবের উৎস পর্যন্ত পৌঁছানো এবং যুক্তি ও প্রমাণের মাধ্যমে এগুলোর স্বপক্ষে দলীল পেশ করা। আর এটি ছিল বর্ণিত (منقول) বিষয়সমূহের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মানহাজুস সহীহ ওয়া আসারুহু ফিদ দাওয়াহ ইলাল্লাহি তাআলা
(পৃষ্ঠা: ১৩৫)
وأوضح حجة ومعقول: كتاب الله الحق المبين، ثم قول رسول الله صلى الله عليه وسلم وصحابته الأخيار المتقين، ثم ماأجمع عليه السلف الصالحون، ثم التمسك بمجموعها، والمقام عليها إلى يوم الدين، ثم الاجتناب عن البدع والاستماع إليها مما أحدثها المضلون، فهذه الوصايا الموروثة المتبوعة، والآثار المحفوظة المنقولة، وطرائق الحق المسلوكة، والدلائل اللائحة المشهورة، والحجج الباهرة المنصورة، التي عمل عليها الصحابة والتابعون ومن بعدهم خاصة الناس وعامتهم من المسلمين، واعتقدوها حجة فيما بينهم وبين الله رب العالمين"1.
ويقول أبو نصر الوايلي السجزي في وصف أهل السنة والجماعة: "أهل السنة هم الثابتون على اعتقاد مانقله إليهم السلف الصالح رحمهم الله عن الرسول صلى الله عليه وسلم، أو عن أصحابه رضي الله عنهم فيمالم يثبت فيه نص في الكتاب، ولا عن الرسول صلى الله عليه وسلم، لا نهم رضي الله عنهم أئمة ـ، وقد أمرنا باقتفاء آثارهم، واتباع سنتهم، وهذا أظهر من أن يحتاج إلى إقامة برهان"2.
وجماعة المسلمين: الصحابة، والتابعون لهم بإحسان إلى يوم الدين، وهم الطائفة المنصورة، والفرقة الناجية، المنتسبون لسنة النبي صلى الله عليه وسلم وطريقته، الراغبون فيها دون ماسواها من الأهواء والبدع، وهم السلف الصالح، ومن هنا لما ظهرت البدع والأهواء المضلة، قيل لمعتقدهم السلفي، أو العقيدة السلفية، وهم الذين يمثلون الصراط المستقيم، سيراً على منهاج النبوة وسلفهم الصالح، ولم يحصل تمام البروز والظهور لهذه الألقاب الشريفة لجماعة المسلمين، إلا حين
--------------------------------------------
সবচেয়ে স্পষ্ট ও বুদ্ধিগ্রাহ্য দলিল (حجة) হলো: আল্লাহর সত্য ও সুস্পষ্ট কিতাব, এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী এবং তাঁর উত্তম ও মুত্তাকি সাহাবিগণের (الصحابة) বক্তব্য, এরপর সালাফে সালেহীন (السلف الصالح) যে বিষয়ের ওপর ঐকমত্য (أجمع) পোষণ করেছেন তা, অতঃপর এই সবকিছুর সমষ্টিকে আঁকড়ে ধরা এবং কিয়ামত পর্যন্ত এর ওপর অবিচল থাকা। এরপর পথভ্রষ্টদের উদ্ভাবিত বিদআত (البدع) বর্জন করা এবং সেগুলোর প্রতি কর্ণপাত করা থেকে বিরত থাকা। এগুলোই হলো সেই উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত ও অনুসৃত অসিয়তসমূহ, সংরক্ষিত ও বর্ণিত বর্ণনা (الآثار), সত্যের অনুসৃত পথসমূহ, সুস্পষ্ট ও প্রসিদ্ধ নিদর্শনাবলি এবং প্রদীপ্ত ও বিজয়ী দলিলসমূহ, যার ওপর সাহাবি (الصحابة), তাবেয়ি (التابعون) এবং তাঁদের পরবর্তী বিশিষ্ট ও সাধারণ সকল মুসলিম আমল করেছেন এবং একেই তাঁরা নিজেদের এবং রাব্বুল আলামীন আল্লাহর মাঝে দলিল (حجة) হিসেবে বিশ্বাস করেছেন।"১
আবু নাসর আল-ওয়াইলি আস-সিজজি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের বর্ণনায় বলেন: "আহলে সুন্নাত তারাই যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিংবা সাহাবিদের (الصحابة) (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে সালাফে সালেহীন (السلف الصالح) (রহিমাহুল্লাহ) যা বর্ণনা করেছেন, সেই আকিদাহর ওপর অটল থাকেন; বিশেষ করে যেসব বিষয়ে কিতাবুল্লাহ কিংবা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কোনো অকাট্য দলিল (نص) প্রমাণিত নেই। কারণ সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) হলেন ইমাম বা অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব। আমাদের তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ ও সুন্নাহর (سنة) ইত্তিবা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এটি প্রমাণ করার জন্য কোনো দলিল (برهان) উপস্থাপনের প্রয়োজনীয়তার চেয়েও অধিক স্পষ্ট।"২
মুসলিমদের জামাআত (الجماعة) হলো: সাহাবি (الصحابة) এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন তারা। তারাই হলো সাহায্যপ্রাপ্ত দল (الطائفة المنصورة) এবং মুক্তিপ্রাপ্ত দল (الفرقة الناجية), যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ (سنة) ও পদ্ধতির সাথে সম্পৃক্ত এবং প্রবৃত্তি (الأهواء) ও বিদআত (البدع) বর্জন করে সুন্নাহর প্রতিই অনুরাগী। তারাই হলো সালাফে সালেহীন (السلف الصالح)। আর এখান থেকেই যখন পথভ্রষ্ট প্রবৃত্তি (الأهواء) ও বিদআতের (البدع) উদ্ভব ঘটে, তখন তাঁদের বিশ্বাস বা মানহাজকে 'সালাফি' বা 'সালাফি আকিদাহ' বলা হতে থাকে। তাঁরাই নবুওয়াতের মানহাজ (منهاج النبوة) এবং সালাফে সালেহীনের (السلف الصالح) পথে চলার মাধ্যমে সিরাতুল মুস্তাকিমের (الصراط المستقيم) প্রতিনিধিত্ব করেন। মুসলিম উম্মাহর জন্য এই মহিমান্বিত উপাধিগুলোর পূর্ণ বিকাশ ও প্রকাশ তখনই ঘটেছিল যখন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মানহাজুস সহীহ ওয়া আসারুহু ফিদ দাওয়াহ ইলাল্লাহি তাআলা
(পৃষ্ঠা: ১৩৬)
دبت في المسلمين الفرقة، وتعددت على جنبتي الصراط الفرق، وتكاثرت الأهواء، وخلفت الخلوف، فبرزت هذه الألقاب الشريفة للتميز عن معالم الفرق الضالة، وهي مع ذلك ألقاب لا تختص برسم يخالف الكتاب والسنة، زيادة أو نقصاً، وإنما يمثلون في الحقيقة والحال الامتداد الطبعي لما كان عليه النبي صلى الله عليه وسلم، وأصحابه رضي الله عنهم في الشكل والمضمون والمادة والصورة1.
وتتلخص عقيدة أهل السنة والجماعة في الإيمان بالله وملائكته وكتبه ورسله واليوم الآخر وبالقدر خيره وشره، فهذه الأمور الستة هي أصول العقيدة الصحيحة التي نزل بها كتاب الله العزيز، وبعث الله بها رسوله محمداً عليه الصلاة والسلام، ويتفرع عن هذه الأصول كل مايجب الإيمان به من أمور الغيب2.
قال تعالى: {لَيْسَ الْبِرَّ أَنْ تُوَلُّوا وُجُوهَكُمْ قِبَلَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ وَلَكِنَّ الْبِرَّ مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَالْمَلائِكَةِ وَالْكِتَابِ وَالنَّبِيِّينَ} 3.
--------------------------------------------
মুসলিমদের মধ্যে বিভক্তি ছড়িয়ে পড়েছে, সিরাতুল মুস্তাকিমের দুই প্রান্তেই বহু দল (الفرق) তৈরি হয়েছে, কুপ্রবৃত্তি (الأهواء) বৃদ্ধি পেয়েছে এবং পরবর্তী অযোগ্য উত্তরসূরিদের আগমন ঘটেছে। এমতাবস্থায় পথভ্রষ্ট দলগুলোর বৈশিষ্ট্য থেকে স্বতন্ত্র করার জন্য এই সম্মানিত উপাধিগুলো প্রকাশ পেয়েছে। এই উপাধিগুলো কুরআন ও সুন্নাহর বিরোধী কোনো নতুন রূপ বা চিত্র বহন করে না, চাই তা পরিবর্ধন বা পরিমার্জন—কোনো অর্থেই হোক না কেন। বরং তারা হাকিকত ও অবস্থার বিচারে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর সাহাবীগণের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) আনীত আদর্শের আকৃতি, বিষয়বস্তু, সারবত্তা ও কাঠামোর এক স্বাভাবিক ধারাবাহিকতাকে উপস্থাপন করে।১
আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদাহর সারকথা হলো আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাকুল, কিতাবসমূহ, রাসুলগণ, পরকাল এবং ভাগ্যের ভালো ও মন্দের ওপর ঈমান আনা। এই ছয়টি বিষয় হলো সহিহ (صحيحة) আকিদাহর মূলনীতি (أصول), যা মহান আল্লাহর মর্যাদাপূর্ণ কিতাবে অবতীর্ণ হয়েছে এবং যা নিয়ে আল্লাহ তাঁর রাসুল মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে প্রেরণ করেছেন। ঈমান আনা ওয়াজিব এমন সব অতীন্দ্রিয় বা গায়েবী বিষয়সমূহ এই মূলনীতিগুলো (أصول) থেকেই শাখা হিসেবে নির্গত হয়।২
মহান আল্লাহ বলেন: {পুণ্য কেবল পূর্ব কিংবা পশ্চিম দিকে তোমাদের মুখ ফেরানোর মধ্যে নিহিত নয়; বরং পুণ্য হলো যে ব্যক্তি আল্লাহ, পরকাল, ফেরেশতাকুল, কিতাব ও নবীগণের ওপর ঈমান আনে} ৩।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মানহাজুস সহীহ ওয়া আসারুহু ফিদ দাওয়াহ ইলাল্লাহি তাআলা
(পৃষ্ঠা: ১৩৭)
وقال سبحانه: {إِنَّا كُلَّ شَيْءٍ خَلَقْنَاهُ بِقَدَرٍ} 1.
فعلى الدعاة إلى الله تعالى أن يتمسكوا بعقيدة أهل السنة والجماعة وأصولهم، في الاعتقاد والعمل والسلوك، وأن يتركوا كل ماخالف هذا المنهج القويم والصراط المستقيم، من البدع المضلة، والمناهج الفاسدة، والأفكار السيئة، التي ضللت المسلمين، وجعلتهم فرقاً وأحزاباً، كلٌ يدعي العصمة لمنهجه وطريقته، زاعماً أنَّ الحق معه، على حد قول القائل:
وكلٌ يدعي وصلاً لليلى
… وليلى لا تُقرُّ لهم بذاكا
وإن المنهج الحق الذي يجب اتباعه هو منهج أهل السنة والجماعة الذين جاءت الأدلة بفضلهم، والثناء عليهم، فإنه طريق الفلاح والسعادة في الدنيا والآخرة.
--------------------------------------------
মহান আল্লাহ বলেন: "নিশ্চয়ই আমি প্রত্যেক বস্তু সৃষ্টি করেছি নির্ধারিত পরিমাপে (بقدر)।" ১।
অতএব আল্লাহর পথে আহ্বানকারীদের উচিত আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকিদা ও তাদের মূলনীতিসমূহ (أصول) বিশ্বাস, কর্ম ও আচরণের ক্ষেত্রে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা। এবং এই সঠিক আদর্শ ও সরল পথের পরিপন্থী সকল পথভ্রষ্ট বিদআত (بدع), কলুষিত মানহাজ ও মন্দ চিন্তাধারা বর্জন করা, যা মুসলিমদের পথভ্রষ্ট করেছে এবং তাদের বিভিন্ন দল ও উপদলে বিভক্ত করেছে। প্রত্যেকেই নিজ নিজ মানহাজ ও পদ্ধতির নির্ভুলতার (عصمة) দাবি করে এবং সত্য তাদের সাথেই আছে বলে ধারণা করে, যেমনটি কবি বলেছেন:
সবাই লায়লার সাথে সখ্যতার দাবি করে
… অথচ লায়লা তাদের কারো দাবিই স্বীকার করে না।
আর নিশ্চয়ই সেই সত্য মানহাজ যা অনুসরণ করা আবশ্যক (واجب), তা হলো আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের মানহাজ, যাদের শ্রেষ্ঠত্ব ও প্রশংসায় অসংখ্য দলিল (أدلة) বর্ণিত হয়েছে। কেননা এটিই ইহকাল ও পরকালে মুক্তি ও সৌভাগ্যের পথ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মানহাজুস সহীহ ওয়া আসারুহু ফিদ দাওয়াহ ইলাল্লাহি তাআলা
(পৃষ্ঠা: ১৩৮)
المبحث الثانيأهمية التوحيد وفضلهإن التوحيد هو الأمر الذي بعث الله من أجله الرسل، وأنزل من أجله الكتب، وخلق من أجله الثقلين - الإنس والجن - وبقية الأحكام تابعة لذلك.
قال تعالى: {وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْأِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ} 1والمعنى لتخصوه ـ سبحانه ـ بالعبادة وتفردوه جلَّ وعلا بها، ولم تُخْلَقُوا عبثاً ولاسُدىً.
وقال تعالى: {إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ} 2.
والتوحيد هو: أول دعوة جميع الأنبياء والرسل ـ عليهم الصلاة والسلام ـ وما من أمة إلا بعث الله فيهم رسولاً يدعوهم إلى التوحيد ويحذرهم من الشرك.
قال تعالى: {وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولاً أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ فَمِنْهُمْ مَنْ هَدَى اللَّهُ وَمِنْهُمْ مَنْ حَقَّتْ عَلَيْهِ الضَّلالَةُ} 3.
والتوحيد هو: إفراد الله تعالى بالعبادة، وترك عبادة ما سواه.
وقد تكرر موضوع التوحيد في كتاب الله، ولا تكاد تخلو سورة من سور القرآن العظيم إلا وفيها ذكر للتوحيد، وأمر به، وحث عليه.
فالقرآن كله في التوحيد، لا نه إما خبر عن الله سبحانه وتعالى وأسمائه وصفاته وأمر بعبادته وحده لا شريك له ونهى عن الشرك به، وإما بيان لجزاء الموحدين
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদতওহিদের গুরুত্ব ও ফজিলতনিশ্চয়ই তওহিদ হলো এমন এক বিষয় যার জন্য আল্লাহ তাআলা রাসূলগণকে প্রেরণ করেছেন, কিতাবসমূহ অবতীর্ণ করেছেন এবং জিন ও মানবজাতিকে সৃষ্টি করেছেন; আর অন্যান্য সকল বিধান এরই অনুসারী।
আল্লাহ তাআলা বলেন: {আমি জিন এবং মানবজাতিকে কেবল আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি} ১। এর অর্থ হলো—আপনারা তাঁকে (আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা) ইবাদতের জন্য সুনির্দিষ্ট করবেন এবং কেবলমাত্র তাঁরই জন্য ইবাদতকে একক সাব্যস্ত করবেন; আর তোমাদেরকে বৃথা বা উদ্দেশ্যহীনভাবে সৃষ্টি করা হয়নি।
আল্লাহ তাআলা বলেন: {আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি এবং কেবল আপনারই সাহায্য প্রার্থনা করি} ২।
আর তওহিদ হলো: সকল নবী ও রাসূলগণের—তাঁদের ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক—প্রথম দাওয়াত। এমন কোনো উম্মত নেই যাদের কাছে আল্লাহ তওহিদের দাওয়াত দেওয়ার জন্য এবং শিরক থেকে সতর্ক করার জন্য কোনো রাসূল প্রেরণ করেননি।
আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর আমি প্রত্যেক উম্মতের মধ্যেই রাসূল পাঠিয়েছি এই মর্মে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাগুত বর্জন করো। অতঃপর তাদের মধ্যে কিছু লোককে আল্লাহ হিদায়াত দিয়েছেন এবং কিছু লোকের ওপর পথভ্রষ্টতা অবধারিত হয়েছে} ৩।
আর তওহিদ হলো: ইবাদতের ক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলাকে একক সাব্যস্ত করা এবং তিনি ব্যতীত অন্য সব কিছুর ইবাদত বর্জন করা।
আল্লাহর কিতাবে তওহিদের বিষয়টি বারবার আলোচিত হয়েছে। মহাগ্রন্থ কুরআনের এমন কোনো সূরা নেই বললেই চলে যাতে তওহিদের উল্লেখ নেই, কিংবা এর নির্দেশ দেওয়া হয়নি অথবা এর প্রতি উৎসাহিত করা হয়নি।
বস্তুত পুরো কুরআনই তওহিদ সংক্রান্ত; কেননা এটি হয় আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এবং তাঁর নাম ও গুণাবলি সম্পর্কে সংবাদ প্রদান করে, অথবা তাঁর শরিকহীন একক ইবাদতের নির্দেশ দেয় এবং শিরক থেকে নিষেধ করে, অথবা এটি তওহিদপন্থীদের পুরস্কারের বর্ণনা দেয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মানহাজুস সহীহ ওয়া আসারুহু ফিদ দাওয়াহ ইলাল্লাহি তাআলা
(পৃষ্ঠা: ১৩৯)
الذين أخلصوا العبادة لله عز وجل في الدنيا والآخرة، وبيان لجزاء المشركين الذين أعرضوا عن التوحيد وما حلَّ بهم من العقوبات في الدنيا وما ينتظرهم في الآخرة. وإما إخبارهم عن الموحدين من الرسل وأتباعهم. أو إخبار عن المكذبين من المشركين وأتباعهم من الأمم السابقة: كقوم نوح، وقوم هود، وقوم صالح، وقوم شعيب، وقوم إبراهيم، وأصحاب مدين، والمؤتفكات، وغيرهم من الأمم لما أعرضوا عن التوحيد وعصوا الرسل ماذا حل بهم؟ وإما بيان للحلال والحرام وهذا من حقوق التوحيد، فكون الإنسان يحل الحلال ويكتسب الحلال، ويستعمل الحلال، ويحرم الحرام ويبتعد عن الحرام وعن كسب الحرام هذا من حقوق التوحيد أيضاً.
فالقرآن كله توحيد، لا نه إما لبيان التوحيد وبيان مناقضاته ومنقصاته. وإما إخبار عن أهل التوحيد، وماأكرمهم الله به، أو أخبار عن المشركين وما انتقم الله تعالى منهم في الدنيا وما أعدَّ لهم في الآخرة، وإما أحكام وبيان للحلال والحرام وهذا من حقوق التوحيد1.
ومما يدل على أهمية التوحيد، وأنه أساس العمل، تكفيره للذنوب والكبائر، يدل على ذلك ماجاء عن عبادة بن الصامت رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "من شهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأن محمداً عبده ورسوله، وأن عيسى
--------------------------------------------
যারা দুনিয়া ও আখেরাতে মহান আল্লাহর জন্য ইবাদতকে একনিষ্ঠ করেছেন এবং ঐ সকল মুশরিকদের প্রতিদানের বর্ণনা যারা তাওহীদ থেকে বিমুখ হয়েছে এবং দুনিয়াতে তাদের ওপর যে আযাব আপতিত হয়েছে এবং আখেরাতে তাদের জন্য যা প্রতীক্ষা করছে। অথবা রাসূলগণের মধ্য থেকে তাওহীদবাদী (موحدين) এবং তাঁদের অনুসারীদের সম্পর্কে সংবাদ প্রদান। অথবা পূর্ববর্তী জাতিসমূহের মধ্য থেকে সত্য অস্বীকারকারী মুশরিক ও তাদের অনুসারীদের সম্পর্কে সংবাদ প্রদান: যেমন নূহ-এর কওম, হূদ-এর কওম, সালেহ-এর কওম, শুআইব-এর কওম, ইবরাহীম-এর কওম, মাদইয়ানবাসী, উল্টে দেওয়া জনপদসমূহ (المؤتفكات) এবং অন্যান্য উম্মত যখন তারা তাওহীদ থেকে বিমুখ হয়েছিল এবং রাসূলগণের অবাধ্য হয়েছিল, তখন তাদের কী দশা হয়েছিল? অথবা হালাল ও হারামের বর্ণনা, যা তাওহীদের হকের অন্তর্ভুক্ত। কোনো ব্যক্তির হালালকে হালাল গণ্য করা ও হালাল উপার্জন করা, হালাল ব্যবহার করা এবং হারামকে হারাম গণ্য করা ও হারাম বর্জন করা এবং হারাম উপার্জন থেকে দূরে থাকা—এটিও তাওহীদের হকের অন্তর্ভুক্ত।
বস্তুত পুরো কুরআনই তাওহীদ বিষয়ক; কারণ এটি হয় তাওহীদের বর্ণনা এবং এর পরিপন্থী ও ক্ষতিকারক বিষয়সমূহের বর্ণনা। অথবা এটি তাওহীদপন্থীদের সংবাদ এবং আল্লাহ তাঁদেরকে যে সম্মান দান করেছেন তার বর্ণনা। অথবা এটি মুশরিকদের সংবাদ এবং দুনিয়াতে আল্লাহ তাঁদের থেকে যে প্রতিশোধ নিয়েছেন ও আখেরাতে তাঁদের জন্য যা প্রস্তুত রেখেছেন তার বর্ণনা। অথবা এটি বিভিন্ন বিধান এবং হালাল ও হারামের বর্ণনা, আর এটি তাওহীদের হকের অন্তর্ভুক্ত১।
তাওহীদের গুরুত্ব এবং এটি যে আমলের ভিত্তি—তার অন্যতম প্রমাণ হলো এটি গুনাহ ও কবিরা গুনাহসমূহ (الكبائر) মোচন করে। এর প্রমাণ হিসেবে উবাদাহ ইবনে সামিত (রাযি.) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি সাক্ষ্য প্রদান করবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, আর ঈসা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মানহাজুস সহীহ ওয়া আসারুহু ফিদ দাওয়াহ ইলাল্লাহি তাআলা
(পৃষ্ঠা: ১৪০)
عبد الله، ورسوله وكلمته ألقاها إلى مريم وروح منه، والجنة حق، والنار حق، أدخله الله الجنة على ماكان من العمل" 1.
وعن عتبان بن مالك الأنصاري رضي الله عنه: "فإن الله حرَّم على النار من قال: لا إله إلا الله يبتغي بذلك وجه الله"2.
وعن عبد الله بن عمرو بن العاص رضي الله عنهما من حديث صاحب البطاقة حيث ينشر له تسعة وتسعون سجلاً كل سجل مد البصر، ثم يؤتى ببطاقة فيها: "أشهد أن لا إله إلا الله وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، فتوضع السجلات في كفه، والبطاقة في كفة فتطيش السجلات وتثقل البطاقة" 3.
--------------------------------------------
"আল্লাহর বান্দা, তাঁর রসূল এবং তাঁর কালিমা যা তিনি মারিয়ামের নিকট প্রেরণ করেছিলেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে একটি রূহ; আর জান্নাত সত্য, জাহান্নাম সত্য—আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন তার আমল যা-ই হোক না কেন।" 1.
উতবান ইবনে মালিক আল-আনসারী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: "নিশ্চয়ই আল্লাহ সেই ব্যক্তির জন্য জাহান্নাম হারাম করে দিয়েছেন, যে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে বলে: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই।" 2.
আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আল-আস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত 'কাগজের টুকরোর অধিকারী' (সাহিবুল বিতাকা) ব্যক্তির হাদিস থেকে, যেখানে তার জন্য নিরানব্বইটি আমলনামার খাতা উন্মুক্ত করা হবে, যার প্রতিটি খাতা হবে দৃষ্টিসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত। অতঃপর একটি কাগজের টুকরো আনা হবে যাতে থাকবে: "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রসূল"। তখন আমলনামার খাতাগুলো এক পাল্লায় রাখা হবে এবং কাগজের টুকরোটি অন্য পাল্লায়। ফলে আমলনামার খাতাগুলো হালকা হয়ে যাবে এবং কাগজের টুকরোটি ভারী হয়ে যাবে। 3.
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মানহাজুস সহীহ ওয়া আসারুহু ফিদ দাওয়াহ ইলাল্লাহি তাআলা
(পৃষ্ঠা: ১৪১)
وللترمذي عن أنس بن مالك رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "قال الله تعالى: "يابن آدم لو أتيتني بقراب الأرض خطايا ثم لقيتني لا تشرك بي شيئاً لا تيتك بقرابها مغفرة"1.
--------------------------------------------
তিরমিজিতে আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি: "আল্লাহ তাআলা বলেন: 'হে আদম সন্তান! তুমি যদি জমিনভর্তি গুনাহ নিয়ে আমার কাছে উপস্থিত হও এবং আমার সাথে কাউকে শরিক না করে আমার সাথে সাক্ষাৎ করো, তবে আমিও তোমার কাছে জমিনভর্তি ক্ষমা নিয়ে উপস্থিত হব।'"1.
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মানহাজুস সহীহ ওয়া আসারুহু ফিদ দাওয়াহ ইলাল্লাহি তাআলা
(পৃষ্ঠা: ১৪২)
المبحث الثالثالبدء بالدعوة إلى التوحيد أولاًإن البدء في الدعوة إلى الله تعالى بالأهم قبل المهم والتدرج في الدعوة حسب الأوليات لهو من أهم الضروريات التي يجب على الداعية إلى الله تعالى معرفتها والعمل على تحقيقها.
وقد دلَّ على ثبوت هذا المبدأ الكتاب والسنة وعمل سلف هذه الأمة الصالح رضوان الله عليهم.
إذ قص الله تعالى علينا في كتابه الكريم قصص الأنبياء وأخبارهم مع أقوامهم، فكان كل واحد منهم يبدأ بدعوة قومه إلى توحيد الله تعالى واخلاص العبادة له وحده ونبذ الشرك وأهله.
قال تعالى عن نوح عليه السلام: {لَقَدْ أَرْسَلْنَا نُوحاً إِلَى قَوْمِهِ فَقَالَ يا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ} 1.
وقال سبحانه عن هود عليه السلام: {وَإِلَى عَادٍ أَخَاهُمْ هُوداً قَالَ يا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ} 2.
وقال جلَّ ذكره عن صالح عليه السلام: {وَإِلَى ثَمُودَ أَخَاهُمْ صَالِحاً قَالَ يا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ} 3.
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদপ্রথমত তাওহীদের দিকে দাওয়াতের মাধ্যমে শুরু করামহান আল্লাহর দিকে দাওয়াতের ক্ষেত্রে কম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের চেয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে শুরু করা এবং অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে দাওয়াতের ক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমিক ধারা বজায় রাখা সেই সকল অতিব প্রয়োজনীয় বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত, যা আল্লাহর পথে আহ্বানকারীর (দাঈর) জন্য জানা এবং তা বাস্তবায়নে সচেষ্ট হওয়া আবশ্যক।
আর কুরআন, সুন্নাহ এবং এই উম্মতের সালাফে সালেহীন (পুণ্যবান পূর্বসূরি)-গণের (তাঁদের প্রতি আল্লাহর সন্তুষ্টি বর্ষিত হোক) কর্মপদ্ধতি এই মূলনীতির প্রমাণের ওপর দলিল পেশ করে।
কেননা মহান আল্লাহ তাঁর সম্মানিত কিতাবে আমাদের নিকট নবিগণের কাহিনী এবং তাঁদের কওমের সাথে তাঁদের সংবাদসমূহ বর্ণনা করেছেন। তাঁদের প্রত্যেকেই তাঁর কওমকে মহান আল্লাহর তাওহীদ এবং একমাত্র তাঁরই ইবাদতে একনিষ্ঠ হওয়া এবং শিরক ও শিরকপন্থীদের বর্জনের দাওয়াতের মাধ্যমে দাওয়াতের কাজ শুরু করতেন।
নূহ (আলাইহিস সালাম) সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয় আমি নূহকে তার সম্প্রদায়ের কাছে পাঠিয়েছি। সে বলেছিল, হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য কোনো উপাস্য নেই।} ১।
আর হুদ (আলাইহিস সালাম) সম্পর্কে তিনি পবিত্র সত্তা বলেন: {আমি আদ সম্প্রদায়ের কাছে তাদের ভাই হুদকে পাঠিয়েছি। সে বলেছিল, হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য কোনো উপাস্য নেই।} ২।
আর সালিহ (আলাইহিস সালাম) সম্পর্কে তাঁর জিকির মহিমান্বিত, তিনি বলেন: {আর সামুদ জাতির কাছে তাদের ভাই সালিহকে পাঠিয়েছি। সে বলেছিল, হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য কোনো উপাস্য নেই।} ৩।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মানহাজুস সহীহ ওয়া আসারুহু ফিদ দাওয়াহ ইলাল্লাহি তাআলা
(পৃষ্ঠা: ১৪৩)
وقال عن إبراهيم عليه السلام: {وَإِبْرَاهِيمَ إِذْ قَالَ لِقَوْمِهِ اعْبُدُوا اللَّهَ وَاتَّقُوهُ ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ} 1
وقال تعالى عن يعقوب عليه السلام: {أَمْ كُنْتُمْ شُهَدَاءَ إِذْ حَضَرَ يَعْقُوبَ الْمَوْتُ إِذْ قَالَ لِبَنِيهِ مَا تَعْبُدُونَ مِنْ بَعْدِي قَالُوا نَعْبُدُ إِلَهَكَ وَإِلَهَ آبَائِكَ إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَاقَ إِلَهاً وَاحِداً وَنَحْنُ لَهُ مُسْلِمُونَ} 2.
وقال تعالى عن يوسف عليه السلام: {وَاتَّبَعْتُ مِلَّةَ آبَائي إِبْرَاهِيمَ وَإِسْحَاقَ وَيَعْقُوبَ مَا كَانَ لَنَا أَنْ نُشْرِكَ بِاللَّهِ مِنْ شَيْءٍ ذَلِكَ مِنْ فَضْلِ اللَّهِ عَلَيْنَا وَعَلَى النَّاسِ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لا يَشْكُرُونَ يا صَاحِبَيِ السِّجْنِ أَأَرْبَابٌ مُتَفَرِّقُونَ خَيْرٌ أَمِ اللَّهُ الْوَاحِدُ الْقَهَّارُ مَا تَعْبُدُونَ مِنْ دُونِهِ إِلَّا أَسْمَاءً سَمَّيْتُمُوهَا أَنْتُمْ وَآبَاؤُكُمْ مَا أَنْزَلَ اللَّهُ بِهَا مِنْ سُلْطَانٍ إِنِ الْحُكْمُ إِلَّا لِلَّهِ أَمَرَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ ذَلِكَ الدِّينُ الْقَيِّمُ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لا يَعْلَمُونَ} 3.
وقال تعالى عن شعيب عليه السلام: {وَإِلَى مَدْيَنَ أَخَاهُمْ شُعَيْباً قَالَ يا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ} 4.
وقال عن موسى عليه السلام: {قَالَ أَغَيْرَ اللَّهِ أَبْغِيكُمْ إِلَهاً وَهُوَ فَضَّلَكُمْ عَلَى الْعَالَمِينَ} 5.
وقال عن عيسىعليه السلام: {إِنَّ اللَّهَ رَبِّي وَرَبُّكُمْ فَاعْبُدُوهُ هَذَا صِرَاطٌ مُسْتَقِيمٌ} 6.
وهذا المنهج هو الذي سار عليه خاتم الأنبياء والمرسلين، نبينا محمد صلى الله عليه وسلم الذي أرسله الله رحمة للعالمين، بشيراً ونذيراً، وداعياً إلى الله بإذنه وسراجاً منيرا، فقد
--------------------------------------------
এবং ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম) সম্পর্কে তিনি বলেছেন: {আর স্মরণ করুন ইব্রাহিমের কথা, যখন তিনি তাঁর সম্প্রদায়কে বলেছিলেন, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাঁকে ভয় করো; তোমাদের জন্য এটাই উত্তম, যদি তোমরা জানতে} ১
এবং মহান আল্লাহ ইয়াকুব (আলাইহিস সালাম) সম্পর্কে বলেছেন: {তোমরা কি তখন উপস্থিত ছিলে যখন ইয়াকুবের মৃত্যু নিকটবর্তী হয়েছিল? যখন তিনি তাঁর সন্তানদের বললেন, আমার পর তোমরা কার ইবাদত করবে? তারা বলল, আমরা আপনার ইলাহ এবং আপনার পিতৃপুরুষ ইব্রাহিম, ইসমাইল ও ইসহাকের ইলাহ—সেই অদ্বিতীয় ইলাহ-এর ইবাদত করব এবং আমরা তাঁরই প্রতি আত্মসমর্পণকারী} ২।
এবং মহান আল্লাহ ইউসুফ (আলাইহিস সালাম) সম্পর্কে বলেছেন: {আর আমি আমার পিতৃপুরুষ ইব্রাহিম, ইসহাক ও ইয়াকুবের আদর্শ অনুসরণ করেছি। আল্লাহর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করা আমাদের কাজ নয়। এটি আমাদের ওপর এবং মানুষের ওপর আল্লাহর এক অনুগ্রহ, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না। হে আমার কারাসঙ্গীদ্বয়! ভিন্ন ভিন্ন বহু প্রতিপালক উত্তম, নাকি পরাক্রমশালী এক আল্লাহ? তাঁকে বাদ দিয়ে তোমরা কেবল কতগুলো নামের ইবাদত করছো, যা তোমরা এবং তোমাদের পিতৃপুরুষরা সাব্যস্ত করে নিয়েছ; এ ব্যাপারে আল্লাহ কোনো প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি। বিধান দেওয়ার অধিকার কেবল আল্লাহরই। তিনি আদেশ দিয়েছেন যে, তোমরা তিনি ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করবে না। এটিই সঠিক ধর্ম, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না} ৩।
এবং মহান আল্লাহ শুয়াইব (আলাইহিস সালাম) সম্পর্কে বলেছেন: {আর আমি মাদইয়ানবাসীদের কাছে তাদের ভাই শুয়াইবকে পাঠিয়েছিলাম। তিনি বলেছিলেন, হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য কোনো সত্য ইলাহ নেই} ৪।
এবং মূসা (আলাইহিস সালাম) সম্পর্কে তিনি বলেছেন: {তিনি বললেন, আমি কি আল্লাহ ছাড়া তোমাদের জন্য অন্য কোনো ইলাহ তালাশ করব? অথচ তিনি তোমাদেরকে বিশ্বজগতের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন} ৫।
এবং ঈসা (আলাইহিস সালাম) সম্পর্কে তিনি বলেছেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার প্রতিপালক এবং তোমাদের প্রতিপালক। অতএব তোমরা তাঁর ইবাদত করো। এটাই সরল পথ} ৬।
আর এই পদ্ধতিটিই হচ্ছে সেই পথ যার ওপর সর্বশেষ নবী ও রাসুলগণ চলেছেন; আমাদের নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), যাঁকে আল্লাহ বিশ্বজগতের জন্য রহমত হিসেবে, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে এবং আল্লাহর নির্দেশে তাঁর দিকে আহ্বানকারী ও উজ্জ্বল প্রদীপ হিসেবে প্রেরণ করেছেন। প্রকৃতপক্ষে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মানহাজুস সহীহ ওয়া আসারুহু ফিদ দাওয়াহ ইলাল্লাহি তাআলা
(পৃষ্ঠা: ১৪৪)
بدأ صلى الله عليه وسلم بما بدأ به كل الأنبياء، وانطلق من حيث انطلقوا بدعوتهم من عقيدة التوحيد والدعوة إلى إخلاص العبادة لله وحده.
وقد أمره ربه تبارك وتعالى أن يدعو الناس جميعاً إلى التوحيد، فقال تعالى: {قُلْ يا أَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُمْ جَمِيعاً الَّذِي لَهُ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ لا إِلَهَ إِلَّا هُوَ يُحْيِي وَيُمِيتُ فَآمِنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ النَّبِيِّ الْأُمِّيِّ الَّذِي يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَكَلِمَاتِهِ وَاتَّبِعُوهُ لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ} 1.
وقال تعالى: {قُلْ إِنَّ صَلاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ. لا شَرِيكَ لَهُ وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا أَوَّلُ الْمُسْلِمِينَ} 2.
وقد استمر النبي صلى الله عليه وسلم طيلة ثلاث عشرة سنة في مكة لا يكلُّ ولا يَمَلُّ صابراً على كل ألوان الأذى، وهو يدعو الناس إلى التوحيد، وينهاهم عن الشرك قبل أن يا مرهم بالصلاة، والزكاة، والصوم والحج، وقبل أن ينهاهم عن الربا، والزنا، والسرقة، وقتل النفوس بغير حق3.
اللهم إلاّ ماكان يا مر به قومه من معالي الأخلاق كصلة الرحم، والصدق، والعفاف، وأداء الأمانة، وحسن الجوار ونحو ذلك، ولكن الموضوع الأساسي، ومحور الدعوة إنما هو عن التوحيد وتحقيقه.
--------------------------------------------
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেই বার্তা দিয়েই শুরু করেছিলেন যা দিয়ে সকল নবীগণ শুরু করেছিলেন। তিনি তাঁর দাওয়াতের ক্ষেত্রে সেখান থেকেই যাত্রা শুরু করেছিলেন যেখান থেকে তাঁরা শুরু করেছিলেন, অর্থাৎ তাওহীদের আকিদা এবং একমাত্র আল্লাহর ইবাদতে একনিষ্ঠতার আহ্বান।
আর তাঁর বরকতময় ও সুউচ্চ প্রতিপালক তাঁকে সকল মানুষকে তাওহীদের প্রতি আহ্বান করার নির্দেশ দিয়েছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {বলুন, হে মানুষ! আমি তোমাদের সকলের জন্য আল্লাহর রাসূল, যাঁর হাতে আসমান ও যমীনের রাজত্ব। তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান। সুতরাং তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনো, যিনি উম্মি নবী, যিনি আল্লাহ ও তাঁর বাণীসমূহের প্রতি ঈমান রাখেন। আর তোমরা তাঁর অনুসরণ করো যাতে তোমরা হিদায়াত প্রাপ্ত হও} ১।
মহান আল্লাহ আরও বলেন: {বলুন, আমার সালাত, আমার কুরবানি, আমার জীবন ও আমার মৃত্যু বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহরই জন্য। তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমাকে এরই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আর আমিই প্রথম মুসলিম} ২।
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মক্কায় দীর্ঘ তেরো বছর ক্লান্তিহীন ও ধৈর্যশীলভাবে সব ধরনের কষ্ট সহ্য করে তাওহীদের দাওয়াত অব্যাহত রেখেছিলেন। তিনি সালাত, জাকাত, সিয়াম ও হজের নির্দেশ প্রদানের আগে এবং সুদ, ব্যভিচার, চুরি ও অন্যায়ভাবে মানুষ হত্যা থেকে বারণ করার আগে মানুষকে তাওহীদের দিকে আহ্বান করতেন এবং শির্ক থেকে বারণ করতেন ৩।
অবশ্য তিনি তাঁর কওমকে উচ্চাঙ্গের নৈতিক গুণাবলি যেমন— আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা, সত্যবাদিতা, চারিত্রিক পবিত্রতা, আমানত রক্ষা করা এবং সুন্দর প্রতিবেশীসুলভ আচরণ প্রভৃতির নির্দেশ দিতেন। কিন্তু মূল প্রতিপাদ্য বিষয় এবং দাওয়াতের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল তাওহীদ এবং তার বাস্তবায়ন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মানহাজুস সহীহ ওয়া আসারুহু ফিদ দাওয়াহ ইলাল্লাহি তাআলা
(পৃষ্ঠা: ১৪৫)
وبعد أن هاجر رسول الله صلى الله عليه وسلم وأصحابه الكرام إلى المدينة، وقامت دولة الإسلام على أساس التوحيد ظل الاهتمام بهذا الأمر على أشده والآيات القرآنية تنزل به، والتوجيهات النبوية تدور حوله.
ولم يكتف رسول الله صلى الله عليه وسلم بهذا بل كان يبايع على عقيدة التوحيد عظماء الصحابة فضلاً عن غيرهم بين الفينة والفينة، كلما تسنح له فرصة للبيعة عليها.
قال تعالى: {يا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِذَا جَاءَكَ الْمُؤْمِنَاتُ يُبَايِعْنَكَ عَلَى أَنْ لا يُشْرِكْنَ بِاللَّهِ شَيْئاً وَلا يَسْرِقْنَ وَلا يَزْنِينَ وَلا يَقْتُلْنَ أَوْلادَهُنَّ وَلا يا تِينَ بِبُهْتَانٍ يَفْتَرِينَهُ بَيْنَ أَيْدِيهِنَّ وَأَرُجُلِهِنَّ وَلا يَعْصِينَكَ فِي مَعْرُوفٍ فَبَايِعْهُنَّ وَاسْتَغْفِرْ لَهُنَّ اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَحِيمٌ} 1.
وهذه الآية وإن كانت في بيعة النساء فإن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يبايع على مضمونها الرجال2.
فعن عبادة بن الصامت رضي الله عنه قال: "كان رسول الله صلى الله عليه وسلم في مجلس، فقال: "تبايعوني على أن لا تشركوا بالله شيئاً ولا تسرقوا ولا تزنوا ولا تقتلوا أولادكم" والآية التي أخذت على النساء {إِذَا جَاءَكَ الْمُؤْمِنَاتُ} فمن وفى منكم فأجره على الله، ومن أصاب من ذلك شيئاً فعوقب به فهو كفارة له، ومن أصاب من ذلك شيئاً فستره الله عليه فهو إلى الله، إن شاء عفا عنه، وإن شاء عذبه"3.
--------------------------------------------
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর সম্মানিত সাহাবীগণ মদিনায় হিজরত করার পর এবং তাওহীদের ভিত্তিতে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এই বিষয়ের প্রতি গুরুত্বারোপ পূর্ণমাত্রায় অব্যাহত থাকে। এ বিষয়ে কুরআনের আয়াতসমূহ অবতীর্ণ হতে থাকে এবং নববী দিকনির্দেশনাগুলো একে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হতে থাকে।
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কেবল এতেই ক্ষান্ত হননি, বরং যখনই সুযোগ পেতেন, তখনই মাঝেমধ্যে অন্যান্যদের পাশাপাশি বিশিষ্ট সাহাবীদের থেকেও তাওহীদের আকীদার ওপর বায়আত গ্রহণ করতেন।
মহান আল্লাহ তাআলা বলেন: {হে নবী! যখন মুমিন নারীরা আপনার কাছে এসে এই মর্মে বায়আত করে যে, তারা আল্লাহর সাথে কোনো কিছুকে শরীক করবে না, চুরি করবে না, ব্যভিচার করবে না, তাদের সন্তানদের হত্যা করবে না, তারা সজ্ঞানে কোনো অপবাদ রচনা করে আনবে না এবং কোনো সৎ কাজে আপনার অবাধ্য হবে না, তখন আপনি তাদের বায়আত গ্রহণ করুন এবং তাদের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। নিশ্চয়ই আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।} ১
আর এই আয়াতটি যদিও নারীদের বায়আত প্রসঙ্গে, তবুও রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পুরুষদের থেকেও এর বিষয়বস্তুর ওপর বায়আত গ্রহণ করতেন। ২
উবাদাহ ইবনে সামিত (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক মজলিসে থাকাকালীন বললেন: 'তোমরা আমার কাছে এই মর্মে বায়আত করো যে, তোমরা আল্লাহর সাথে কোনো কিছুকে শরীক করবে না, চুরি করবে না, ব্যভিচার করবে না এবং তোমাদের সন্তানদের হত্যা করবে না।' আর (তিনি) নারীদের থেকে যে আয়াতের মাধ্যমে প্রতিশ্রুতি নেওয়া হয়েছিল—{যখন মুমিন নারীরা আপনার নিকট আসে}—সেটি তিলাওয়াত করলেন। 'অতঃপর তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এটি পূর্ণ করবে, তার পুরস্কার আল্লাহর জিম্মায়। আর যে এর কোনোটিতে লিপ্ত হবে এবং সে কারণে তাকে দুনিয়ায় দণ্ড প্রদান করা হবে, তবে তা তার জন্য কাফফারা (كفارة) স্বরূপ হবে। আর যে এর কোনোটিতে লিপ্ত হবে এবং আল্লাহ তা গোপন রাখবেন, তবে তা আল্লাহর ইচ্ছাধীন; তিনি চাইলে তাকে ক্ষমা করতে পারেন অথবা চাইলে তাকে শাস্তি দিতে পারেন'।" ৩
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মানহাজুস সহীহ ওয়া আসারুহু ফিদ দাওয়াহ ইলাল্লাহি তাআলা
(পৃষ্ঠা: ১৪৬)
أما السنة ففيها الشيء الكثير الدال على أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يفتتح دعوته بالتوحيد ويختتمها بذلك، واستمراره على ذلك طيلة حياته صلى الله عليه وسلم بلا كلل أو ملل.
1-عن عمرو بن عبسة السلمي رضي الله عنه قال: "كنت وأنا في الجاهلية، أظن أن الناس على ضلالة، وأنهم ليسوا على شيء، وهم يعبدون الأوثان، فسمعت برجل بمكة يخبر أخباراً فقعدت على راحلتي فقدمت عليه، فإذا رسول الله صلى الله عليه وسلم مستخفياً جُرءَاءُ عليه قومه فتلطفت، حتى دخلت عليه بمكة، فقلت له: ما أنت؟ فقال: "أنا نبي" فقلت: وما نبي؟ قال: "أرسلني الله" فقلت: وبأي شيء أرسلك؟ قال: "أرسلني بصلة الأرحام، وكسر الأوثان، وأن يوحدوا الله لا يُشْرَكُ به شيء" فقلت: ومن معك على هذا؟ قال: "حر وعبد"، قال: ومعه يومئذ أبو بكر وبلال ممن آمن به
…" الحديث1.
2-قول جعفر بن أبي طالب رضي الله عنه للنجاشي ملك الحبشة: "أيها الملك، كنا قوماً أهل جاهلية نعبد الأصنام، ونأكل الميتة، ونأتي الفواحش، ونقطع الأرحام، ونسيء الجوار، يا كل القوي منا الضعيف، فكنا على ذلك حتى بعث الله إلينا رسولاً منا، نعرف نسبه وصدقه وأمانته وعفافه، فدعانا إلى الله لنوحده ونعبده ونخلع ماكنّا نحن نعبد وآباؤنا من دونه من الحجارة، والأوثان
… " الحديث2.
--------------------------------------------
সুন্নাহর মধ্যে এমন অনেক বিষয় রয়েছে যা নির্দেশ করে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর দাওয়াতের সূচনা তাওহীদ দ্বারা করতেন এবং এর মাধ্যমেই তা সমাপ্ত করতেন। তিনি সারা জীবন কোনো প্রকার ক্লান্তি বা বিরক্তি ছাড়াই নিরবচ্ছিন্নভাবে এর ওপর অবিচল ছিলেন।
১-আমর ইবনে আবাসা আস-সুলামী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমি জাহেলিয়াতের যুগে মনে করতাম যে, মানুষ পথভ্রষ্টতার ওপর রয়েছে এবং তারা সঠিক কোনো কিছুর ওপর নেই, আর তারা মূর্তিপূজা করত। অতঃপর আমি মক্কায় এক ব্যক্তির কথা শুনতে পেলাম যিনি বিভিন্ন সংবাদ দিচ্ছেন। তখন আমি আমার সওয়ারিতে চড়ে তাঁর কাছে আসলাম। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আত্মগোপন করে ছিলেন এবং তাঁর কওম তাঁর ওপর চড়াও ছিল। আমি কৌশলে মক্কায় তাঁর কাছে প্রবেশ করলাম। আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম: আপনি কে? তিনি বললেন: 'আমি একজন নবী'। আমি বললাম: নবী কী? তিনি বললেন: 'আল্লাহ আমাকে পাঠিয়েছেন'। আমি বললাম: তিনি আপনাকে কী দিয়ে পাঠিয়েছেন? তিনি বললেন: 'তিনি আমাকে আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করা, মূর্তিসমূহ ধ্বংস করা এবং যেন আল্লাহর একত্ববাদ ঘোষণা করা হয় ও তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক না করা হয়—এই নির্দেশ দিয়ে পাঠিয়েছেন'। আমি বললাম: এ কাজে আপনার সাথে আর কে আছে? তিনি বললেন: 'একজন স্বাধীন ব্যক্তি এবং একজন দাস'। বর্ণনাকারী বলেন: সেদিন যারা তাঁর ওপর ঈমান এনেছিলেন তাদের মধ্যে তাঁর সাথে আবু বকর ও বিলাল (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) ছিলেন..." হাদিস ১।
২-আবিসিনিয়ার রাজা নাজ্জাশীর প্রতি জাফর ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর বক্তব্য: "হে রাজা! আমরা ছিলাম জাহেলিয়াতের এক জাতি, আমরা মূর্তিপূজা করতাম, মৃত প্রাণী ভক্ষণ করতাম, অশ্লীল কাজে লিপ্ত হতাম, আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করতাম, প্রতিবেশীর সাথে অসদাচরণ করতাম এবং আমাদের মধ্যকার শক্তিশালীরা দুর্বলদের গ্রাস করত। আমরা এভাবেই ছিলাম, যতক্ষণ না আল্লাহ আমাদের নিকট আমাদেরই মধ্য থেকে একজন রাসূল পাঠালেন, যাঁর বংশমর্যাদা, সত্যবাদিতা, আমানতদারি ও চারিত্রিক পবিত্রতা সম্পর্কে আমরা অবগত। তিনি আমাদের আল্লাহর দিকে আহ্বান জানালেন, যেন আমরা তাঁর একত্ববাদ স্বীকার করি, তাঁর ইবাদত করি এবং আমরা ও আমাদের পূর্বপুরুষরা আল্লাহ ব্যতীত যেসব পাথর ও মূর্তির পূজা করতাম তা বর্জন করি..." হাদিস ২।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মানহাজুস সহীহ ওয়া আসারুহু ফিদ দাওয়াহ ইলাল্লাহি তাআলা
(পৃষ্ঠা: ১৪৭)
3-وفي أسئلة هرقل لا بي سفيان في مدة صلح الحديبية عن حال رسول الله صلى الله عليه وسلم قال لا بي سفيان: ماذا يا مركم؟ قال أبو سفيان قلت: يقول: "اعبدوا الله وحده ولا تشركوا به شيئاً واتركوا مايقول آباؤكم، ويأمر بالصلاة، والصدق والعفاف، والصلة"1.
فهذه الأحاديث الشريفة تبين لنا أن الدعوة إلى التوحيد هي أول ما يدعو إليه النبي صلى الله عليه وسلم.
وهذا المنهج الذي سار عليه رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يا مر به رسله إذا بعثهم للقيام بالدعوة.
4-وعن ابن عباس رضي الله عنهما أنه قال: "قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لمعاذ بن جبل حين بعثه إلى اليمن: "إنك ستأتي قوماً أهل كتاب، فإذا جئتهم، فادعهم إلى أن يشهدوا أن لا إله إلا الله وأن محمداً رسول الله، فإن هم أطاعوا لك بذلك فأخبرهم أن الله تعالى قد فرض عليهم خمس صلوات في كل يوم وليلة، فإن هم أطاعوا لك بذلك فأخبرهم أن الله تعالى قد فرض عليهم صدقة تؤخذ من أغنيائهم فترد على فقرائهم
…" الحديث2.
وإذا أراد الداعية إلى الله تعالى دعوة الناس، فليبدأ بالدعوة إلى التوحيد، الذي هو معنى شهادة أن لا إله إلا الله، إذ لا تصح الأعمال إلا به، فهو أصلها الذي تبنى عليه، ومتى لم يوجد لم ينفع العمل، بل هو حابط، إذ لا تصح العبادة
--------------------------------------------
3-হুদায়বিয়ার সন্ধিকালীন সময়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অবস্থা সম্পর্কে হিরাক্লিয়াস কর্তৃক আবু সুফিয়ানকে জিজ্ঞাসার বর্ণনায় রয়েছে; তিনি (হিরাক্লিয়াস) আবু সুফিয়ানকে জিজ্ঞেস করলেন: "তিনি তোমাদের কী নির্দেশ দেন?" আবু সুফিয়ান বলেন, আমি বললাম: তিনি বলেন: "তোমরা এক আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করো না। তোমাদের পূর্বপুরুষরা যা বলত তা পরিহার করো।" এছাড়া তিনি আমাদের সালাত, সত্যবাদিতা, পবিত্রতা এবং আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখার নির্দেশ দেন।১।
এই হাদিসগুলো আমাদের নিকট এটি স্পষ্ট করে যে, তাওহিদের প্রতি আহ্বানই হলো সর্বপ্রথম বিষয়, যার দিকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাওয়াত দিতেন।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে পদ্ধতির ওপর পরিচালিত ছিলেন, তিনি যখন তাঁর প্রতিনিধিদের দাওয়াত প্রচারের জন্য পাঠাতেন, তখন তাঁদেরকেও এই নির্দেশই প্রদান করতেন।
4-ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মুয়াজ ইবনে জাবালকে ইয়ামেনে প্রেরণ করেন, তখন তাঁকে বলেছিলেন: 'তুমি শীঘ্রই আহলে কিতাব সম্প্রদায়ের এক জাতির কাছে উপস্থিত হবে। সুতরাং যখন তুমি তাদের কাছে পৌঁছাবে, তখন তাদের এই সাক্ষ্য প্রদানের প্রতি আহ্বান জানাবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবুদ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল। তারা যদি এ বিষয়টি মেনে নেয়, তবে তাদের অবগত করবে যে, আল্লাহ তাআলা তাদের ওপর প্রতি দিন ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করেছেন। তারা যদি এ বিষয়টিও মেনে নেয়, তবে তাদের জানাবে যে, আল্লাহ তাআলা তাদের ওপর সদকা ফরজ করেছেন, যা তাদের ধনীদের থেকে গ্রহণ করা হবে এবং তাদের দরিদ্রদের মাঝে বণ্টন করা হবে...'" হাদিস। ২।
যখন আল্লাহর পথে আহ্বানকারী মানুষকে দাওয়াত দিতে ইচ্ছা করেন, তখন তিনি যেন তাওহিদের দাওয়াত প্রদানের মাধ্যমে শুরু করেন, যা "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ"-এর সাক্ষ্য প্রদানেরই প্রকৃত অর্থ। কেননা তাওহিদ ব্যতীত কোনো আমলই সহিহ (صحيح) হয় না। এটিই হলো মূল ভিত্তি যার ওপর আমলসমূহ নির্মিত হয়। আর যখন তাওহিদ বিদ্যমান থাকে না, তখন আমল কোনো উপকারে আসে না, বরং তা নিষ্ফল হয়ে যায়। কেননা ইবাদত সহিহ (صحيح) হওয়ার জন্য তাওহিদ অপরিহার্য।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মানহাজুস সহীহ ওয়া আসারুহু ফিদ দাওয়াহ ইলাল্লাহি তাআলা
(পৃষ্ঠা: ১৪৮)
مع الشرك، كما قال تعالى: {مَا كَانَ لِلْمُشْرِكِينَ أَنْ يَعْمُرُوا مَسَاجِدَ اللَّهِ شَاهِدِينَ عَلَى أَنْفُسِهِمْ بِالْكُفْرِ أُولَئِكَ حَبِطَتْ أَعْمَالُهُمْ وَفِي النَّارِ هُمْ خَالِدُونَ} 1، ولأن معرفة معنى هذه الشهادة هو أول واجب على العباد، فكان أول ما يُبدأ به في الدعوة2.
قال شيخ الإسلام رحمه الله: "وقد عُلم بالاضطرار من دين الرسول، واتفقت عليه الأمة أن أصل الإسلام، وأول ما يؤمر به الخلق شهادة أن لا إله إلا الله وأن محمداً رسول الله، فبذلك يصير الكافر مسلماً، والعدو ولياً
… وفيه البداءة في الدعوة والتعليم بالأهم فالأهم"3.
تلك هي دعوة الأنبياء جميعاً وعلى رأسهم أولو العزم من الرسل عليهم السلام يبدأون دعوتهم بالتوحيد في كل زمان ومكان مما يدل على أن هذا هو الطريق الوحيد الذي يجب أن يسلك في دعوة الناس إلى الله تعالى وسنة من سننه التي رسمها لا نبيائه وأتباعهم الصادقين، لا يجوز تبديلها ولا العدول عنها 4.
--------------------------------------------
শিরকের সাথে (কোনো আমলই গ্রহণযোগ্য নয়), যেমন মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {মুশরিকদের জন্য এটি সংগত নয় যে, তারা আল্লাহর মসজিদসমূহ আবাদ করবে, যেখানে তারা নিজেদের কুফরির বিষয়ে নিজেরাই সাক্ষ্য দিচ্ছে। এদের সকল আমল নিষ্ফল হয়ে গেছে এবং তারা আগুনেই চিরকাল অবস্থান করবে} ১। আর যেহেতু এই সাক্ষ্যের (শাহাদাহ) মর্মার্থ জানাই হলো বান্দাদের ওপর অর্পিত সর্বপ্রথম কর্তব্য, তাই দাওয়াতের ক্ষেত্রে এটিই সর্বপ্রথম শুরু করার বিষয় ২।
শাইখুল ইসলাম (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "রাসূলের দীন থেকে স্বতঃসিদ্ধভাবে এটি জানা যায় এবং এ বিষয়ে উম্মাহ ঐকমত্য পোষণ করেছে যে, ইসলামের মূল ভিত্তি এবং সৃষ্টির প্রতি সর্বপ্রথম নির্দেশিত বিষয় হলো—এই সাক্ষ্য প্রদান করা যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল। এর মাধ্যমেই একজন কাফির মুসলিমে পরিণত হয় এবং শত্রু বন্ধুতে রূপান্তরিত হয়... এবং এতে দাওয়াত ও শিক্ষার ক্ষেত্রে অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ বিষয় দিয়ে পর্যায়ক্রমে শুরু করার বিষয়টি নিহিত রয়েছে ৩।"
এটিই সকল নবী-রাসূলদের দাওয়াত, যাঁদের শীর্ষে রয়েছেন উলুল আজম (দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ) রাসূলগণ (আলাইহিমুস সালাম)। তাঁরা প্রতিটি যুগে এবং প্রতিটি স্থানে তাওহিদের মাধ্যমেই তাঁদের দাওয়াত শুরু করেন, যা একথাই প্রমাণ করে যে, মানুষকে মহান আল্লাহর দিকে ডাকার জন্য এটিই একমাত্র পথ যা অনুসরণ করা আবশ্যক। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত একটি পদ্ধতি, যা তিনি তাঁর নবীগণের জন্য এবং তাঁদের সত্যনিষ্ঠ অনুসারীদের জন্য নির্ধারণ করেছেন; যা পরিবর্তন করা বা যা থেকে বিমুখ হওয়া বৈধ নয় ৪।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মানহাজুস সহীহ ওয়া আসারুহু ফিদ দাওয়াহ ইলাল্লাহি তাআলা
(পৃষ্ঠা: ১৪৯)
الفصل الثانيالدعائم التي يقوم عليها المنهج الصحيح في الدعوة إلى الله
تتلخص الدعائم التي يقوم عليها المنهج الصحيح في الدعوة إلى الله تعالى - كما دلَّ على ذلك الكتاب والسنة فيما يلي1:
أولاً: العلم:
فلابدّ للداعي إلى الله تعالى أن يكون عالماً بحكم الشرع فيما يدعو إليه، فالجاهل لا يصلح أن يكون داعية.
قال تعالى مخاطباً نبيه محمدا ًصلى الله عليه وسلم: {فَاعْلَمْ أَنَّهُ لا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاسْتَغْفِرْ لِذَنْبِكَ وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ وَاللَّهُ يَعْلَمُ مُتَقَلَّبَكُمْ وَمَثْوَاكُمْ} 2.
وبوّب الإمام البخاري رحمه الله لهذه الآية بقوله: "باب العلم قبل القول والعمل"3.
قال الإمام ابن حجر رحمه الله في الفتح: قال ابن المنير: أراد به أن العلم شرط في صحة القول والعمل، فلا يعتبران إلا به، فهو مقدم عليهما؛ لا نه مصحح للنية المصححة للعمل، فنبه المصنف على ذلك حتى لا يسبق إلى الذهن من قولهم: (إن العلم لا ينفع إلا بالعمل) تهوين أمرالعلم والتساهل في طلبه4.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় অধ্যায়আল্লাহর পথে দাওয়াতের সঠিক পদ্ধতি যে স্তম্ভগুলোর ওপর প্রতিষ্ঠিতকুরআন ও সুন্নাহর নির্দেশনার আলোকে আল্লাহর পথে দাওয়াতের সঠিক পদ্ধতিটি যে স্তম্ভগুলোর ওপর প্রতিষ্ঠিত, তা সংক্ষেপে নিচে আলোচনা করা হলো১:প্রথমত: জ্ঞান (العلم):
আল্লাহর পথে দাওয়াত প্রদানকারীর জন্য এটি আবশ্যক যে, তিনি যে বিষয়ে দাওয়াত দিচ্ছেন, সে বিষয়ে শরঈ বিধান (حكم الشرع) সম্পর্কে অবগত থাকা। কেননা একজন অজ্ঞ ব্যক্তি দাঈ হওয়ার যোগ্য নন।
আল্লাহ তাআলা তাঁর নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে সম্বোধন করে বলেন: {অতএব জেনে রাখুন যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আপনার ত্রুটি-বিচ্যুতির জন্য ও মুমিন নর-নারীদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন। আল্লাহ তোমাদের বিচরণ ও অবস্থান সম্পর্কে সম্যক অবগত।}২।
ইমাম বুখারী (রহিমাহুল্লাহ) এই আয়াতের শিরোনাম দিতে গিয়ে বলেন: "কথা ও কাজের পূর্বে জ্ঞান (العلم) অর্জন পরিচ্ছেদ (باب)"৩।
ইমাম ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ) ফাতহুল বারী গ্রন্থে বলেন: ইবনুল মুনাইয়ির বলেছেন: এর মাধ্যমে তিনি উদ্দেশ্য করেছেন যে, কথা ও কাজ শুদ্ধ হওয়ার জন্য জ্ঞান (العلم) হলো একটি শর্ত (شرط)। সুতরাং জ্ঞান ব্যতীত এ দুটির কোনোটিই ধর্তব্য (يعتبر) হবে না। আর জ্ঞান আমলের অগ্রবর্তী; কারণ জ্ঞানই নিয়তকে শুদ্ধ করে, যা আমল শুদ্ধ হওয়ার পূর্বশর্ত। গ্রন্থকার এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন যেন মানুষের মনে এমন ধারণা না জন্মে যে, "আমল ব্যতীত জ্ঞানে কোনো ফায়দা নেই"—এই উক্তির মাধ্যমে জ্ঞানের গুরুত্ব হ্রাস করা হচ্ছে বা জ্ঞান অর্জনে শিথিলতা (التساهل) দেখানো হচ্ছে৪।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মানহাজুস সহীহ ওয়া আসারুহু ফিদ দাওয়াহ ইলাল্লাহি তাআলা
(পৃষ্ঠা: ১৫০)
والعلم الحقيقي هو معرفة كتاب الله تعالى وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم قال تعالى: {بِالْبَيِّنَاتِ وَالزُّبُرِ وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ} 1.
ولا يكون الداعية إلى الله ناجحاً في دعوته، حكيماً في أمره ونهيه إلا بالعلم الشرعي، وإن لم يصحب الداعية من أول قدم يضعه في الطريق إلى آخر قدم ينتهي إليه فسلوكه على غير الطريق، وهو مقطوع عليه طريق الوصول، ومسدود عليه سبيل الهدى والفلاح، وهذا إجماع من العارفين، ولا شك أنه لا ينهى عن العلم إلا قطاع الطريق، ونواب إبليس وشُرَطُه 2.
ومن الأدلة الواردة في فضل العلم والحث عليه قوله تعالى: {قُلْ هَلْ يَسْتَوِي الَّذِينَ يَعْلَمُونَ وَالَّذِينَ لا يَعْلَمُونَ إِنَّمَا يَتَذَكَّرُ أُولُو الْأَلْبَابِ} 3.
وقوله: {يَرْفَعِ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنْكُمْ وَالَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ دَرَجَاتٍ} 4.
وقوله سبحانه: {إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ} 5.
ومن الأحاديث: ماجاء عن معاوية رضي الله عنه قال: سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول: "من يرد الله به خيراً يفقهه في الدين" 6.
--------------------------------------------
প্রকৃত ইলম হলো আল্লাহ তাআলার কিতাব এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ (سنة) সম্পর্কে অবগত হওয়া। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {সুস্পষ্ট প্রমাণাদি ও অবতীর্ণ কিতাবসমূহ সহকারে এবং আমি আপনার প্রতি উপদেশ অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি মানুষের নিকট স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে দেন যা তাদের প্রতি অবতীর্ণ করা হয়েছে} ১।
শরয়ি ইলম ব্যতীত আল্লাহর পথে আহ্বানকারী (দাঈ) তার দাওয়াতে সফল এবং আদেশ ও নিষেধের ক্ষেত্রে প্রজ্ঞাবান হতে পারেন না। দাওয়াতে ইলাল্লাহর এই পথে পথচলার প্রথম কদম থেকে শেষ কদম পর্যন্ত যদি ইলম দাঈর সঙ্গী না হয়, তবে তার এই পথচলা হবে সঠিক পথ ব্যতিরেকে অন্য পথে; তার গন্তব্যে পৌঁছানোর পথ হবে রুদ্ধ এবং হিদায়েত ও কামিয়াবির পথ তার জন্য বন্ধ হয়ে যাবে। আর এটি বিজ্ঞজনদের ঐক্যমত্য (إجماع)। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ইলম অর্জনে কেবল ওইসব লোকেরাই বাধা দেয় যারা মূলত ডাকাত এবং ইবলিসের প্রতিনিধি ও তার বাহিনী। ২।
ইলমের ফজিলত এবং এর প্রতি উৎসাহিত করার ব্যাপারে বর্ণিত দলীলসমূহের মধ্যে মহান আল্লাহর এই বাণী অন্যতম: {বলুন, যারা জানে আর যারা জানে না তারা কি সমান হতে পারে? কেবল বোধসম্পন্ন ব্যক্তিরাই উপদেশ গ্রহণ করে} ৩।
এবং মহান আল্লাহর বাণী: {তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদেরকে ইলম দান করা হয়েছে, আল্লাহ তাদেরকে মর্যাদায় উন্নত করবেন} ৪।
এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার বাণী: {আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কেবল আলেমগণই তাঁকে ভয় করে} ৫।
হাদিসসমূহের মধ্যে রয়েছে: মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের গভীর প্রজ্ঞা দান করেন।" ৬।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মানহাজুস সহীহ ওয়া আসারুহু ফিদ দাওয়াহ ইলাল্লাহি তাআলা
(পৃষ্ঠা: ১৫১)
وعن ابن مسعود رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "لا حسد إلا في اثنتين: رجل آتاه الله مالاً فسلطه على هلكته في الحق، ورجل آتاه الله الحكمة فهو يقضي بها ويعلمها" 1.
وعن أبي موسى الأشعري رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "مثل مابعثني الله به من الهدى والعلم كمثل الغيث الكثير أصاب أرضاً فكان منها نقية قبلت الماء فأنبتت الكلأ والعشب الكثير، وكانت منها أجادب أمسكت الماء، فنفع الله بها الناس، فشربوا وسَقوا وزرعوا، وأصاب منها طائفة أخرى إنما هى قيعان لا تمسك ماءً ولا تنبت كلأً فذلك مثلُ من فقه دين الله، ونفعه مابعثني الله به فعلم وعلّمَ، ومثل من لم يرفع بذلك رأساً، ولم يقبل هدى الله الذي أرسلت به" 2.
إلى غير ذلك من الأدلة الكثيرة من الكتاب والسنة التي تدل على فضل العلم والحث عليه والعمل به.
وليس القصد هنا سرد الأدلة في هذا الأمر، فهذا شيء معروف، ولكن أحب أن أُوكد على أنه يجب على من أراد أن ينصب نفسه للدعوة إلى الخير، والأمر
--------------------------------------------
ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "কেবল দুই ব্যক্তির ক্ষেত্রে ঈর্ষা করা যায়: এক ব্যক্তি যাকে আল্লাহ সম্পদ দান করেছেন এবং তাকে তা সত্যের পথে ব্যয় করার পূর্ণ সামর্থ্য দিয়েছেন; আর অন্য ব্যক্তি যাকে আল্লাহ হিকমত (প্রজ্ঞা) দান করেছেন, ফলে সে তার মাধ্যমে বিচার-ফয়সালা করে এবং তা শিক্ষা দেয়।" ১।
আবু মুসা আল-আশআরী (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহ আমাকে যে হিদায়াত ও ইলম (জ্ঞান) দিয়ে পাঠিয়েছেন তার উদাহরণ হলো সেই প্রচুর বৃষ্টির মতো যা কোনো ভূমিতে পতিত হয়। সেই ভূমির একটি অংশ ছিল উর্বর, যা পানি গ্রহণ করে এবং প্রচুর ঘাস ও লতা-পাতা উৎপন্ন করে। আর কিছু অংশ ছিল শক্ত ও অনুর্বর যা পানি ধরে রাখে, ফলে আল্লাহ তার দ্বারা মানুষের উপকার করেন; তারা তা থেকে পান করে, পানি পান করায় এবং চাষাবাদ করে। আর বৃষ্টির পানি অন্য এক প্রকার ভূমিতেও পতিত হয় যা কেবল সমতল প্রান্তর, যা পানিও ধরে রাখে না এবং ঘাসও উৎপন্ন করে না। এটি হলো সেই ব্যক্তির উদাহরণ যে আল্লাহর দ্বীন সম্পর্কে প্রজ্ঞা লাভ করেছে এবং আল্লাহ আমাকে যা দিয়ে পাঠিয়েছেন তা তার উপকারে এসেছে, ফলে সে নিজে ইলম অর্জন করেছে এবং অন্যকে শিক্ষা দিয়েছে। আর এটি সেই ব্যক্তির উদাহরণ যে এর প্রতি ভ্রূক্ষেপ করেনি এবং আল্লাহর সেই হিদায়াত গ্রহণ করেনি যা দিয়ে আমাকে পাঠানো হয়েছে।" ২।
এছাড়াও কুরআন ও সুন্নাহ থেকে আরও অনেক দলিল রয়েছে যা ইলমের মর্যাদা, এর প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং সেই অনুযায়ী আমল করার বিষয়ের ওপর প্রমাণ পেশ করে।
আর এখানে এই বিষয়ের দলিলসমূহ বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা উদ্দেশ্য নয়, কারণ এটি একটি সুপরিচিত বিষয়। তবে আমি এটি জোর দিয়ে বলতে চাই যে, যে ব্যক্তি নিজেকে কল্যাণের পথে দাওয়াত এবং সৎ কাজের নির্দেশ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মানহাজুস সহীহ ওয়া আসারুহু ফিদ দাওয়াহ ইলাল্লাহি তাআলা
(পৃষ্ঠা: ১৫২)
بالمعروف، والنهي عن المنكر، قياماً بما أوجب الله عليه، والنصح لعباده، وطمعاً فيما وعد الله به أهل تلك الأعمال من الأجر العظيم والنعيم المقيم، فليتفقه في دينه وليأخذ العلم عن أهله الراسخين فيه، السائرين في طريقه القويم، طريق السلف الصالح المتمثل في منهج أهل السنة والجماعة. فالذي يريد أن يدعو الناس لا بدَّ له أن يتعلم على أيدي العلماء الربانيين قبل أن يتصدى للدعوة إلى الله تعالى، حتى يقوم بذلك بحجة ودليل ويعرف كيف يسير في ذلك الطريق، على هدى ونور.
يوضح شيخنا فضيلة الدكتور محمد أمان بن علي الجامي رحمه الله أهمية البصيرة للدعاة إلى الله، ووجوب الرجوع لسيرة السلف الصالح، وطريقة دعوتهم، وأنَّ أي طريقة أو جماعة لا تنتهج نهج النبي صلى الله عليه وسلم وصحابته، فمصيرها الفشل لا محالة، فيقول:
"تُوجد في العصر الحديث جماعات تدعو إلى الله، ولكنها في الغالب تتخبط على غير بصيرة، فالواجب على دعاة الحق أن يكونوا على بصيرة فاهمين ما يدعون إليه ومتصورين له ومؤمنين به {قُلْ هَذِهِ سَبِيلِي أَدْعُو إِلَى اللَّهِ عَلَى بَصِيرَةٍ أَنَا وَمَنِ اتَّبَعَنِي} 1.
هاتان صفتان لا تباع محمد عليه الصلاة والسلام:
1-القيام بواجب الدعوة.
2-أن يكسبوا البصيرة قبل أن يشرعوا في الدعوة.
البصيرة هي: العلم الذي مصدره الوحي، والفقه الدقيق، الذي يستفيد منه الداعية الحكمة، وحسن الأسلوب، وكسب القلوب، والتحبب إلى الناس.
--------------------------------------------
সৎকাজের আদেশ এবং মন্দ কাজের (المنكر) নিষেধ করার মাধ্যমে, আল্লাহ তার ওপর যা ফরজ করেছেন তা পালন করার উদ্দেশ্যে, আল্লাহর বান্দাদের প্রতি কল্যাণকামিতা এবং সেই মহান প্রতিদান ও চিরস্থায়ী নিয়ামতের প্রত্যাশায় যা আল্লাহ এই সকল কাজের অধিকারীদের জন্য ওয়াদা করেছেন; সুতরাং সে যেন তার দ্বীনের গভীর জ্ঞান (فقه) অর্জন করে এবং ইলম গ্রহণ করে সেই গভীর জ্ঞানের অধিকারী বিদ্বানদের থেকে যারা এতে সুপ্রতিষ্ঠিত, যারা সঠিক পথে পরিচালিত, যারা সালাফ সালেহীনের পথে অবিচল যা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মানহাজের অন্তর্ভুক্ত। যে ব্যক্তি মানুষকে আহ্বান করতে চায়, তাকে আল্লাহর পথে দাওয়াতের কাজে লিপ্ত হওয়ার আগে অবশ্যই রব্বানী আলেমদের নিকট শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে, যাতে সে দলিল ও প্রমাণের ভিত্তিতে তা সম্পাদন করতে পারে এবং হিদায়াত ও নূরের ওপর সেই পথে কীভাবে চলতে হয় তা জানতে পারে।
আমাদের শাইখ ফদিলতুশ শাইখ ডক্টর মুহাম্মদ আমান বিন আলী আল-জামী (রহিমাহুল্লাহ) আল্লাহর পথে আহ্বানকারীদের জন্য অন্তর্দৃষ্টির (بصيرة) গুরুত্ব এবং সালাফ সালেহীনের সীরাত ও তাদের দাওয়াতের পদ্ধতিতে ফিরে আসার আবশ্যকতা স্পষ্ট করেছেন। তিনি আরও বলেছেন যে, কোনো পদ্ধতি বা দল যদি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও তাঁর সাহাবীদের মানহাজ অনুসরণ না করে, তবে তার পরিণতি অনিবার্যভাবে ব্যর্থতা। তিনি বলেন:
"বর্তমান যুগে এমন অনেক দল রয়েছে যারা আল্লাহর পথে আহ্বান করে, কিন্তু তাদের অধিকাংশই অন্তর্দৃষ্টি (بصيرة) ছাড়াই লক্ষ্যহীনভাবে হাতড়ে বেড়ায়। সুতরাং সত্যের পথে আহ্বানকারীদের জন্য আবশ্যক হলো তারা যেন অন্তর্দৃষ্টির (بصيرة) ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকে, তারা কিসের দিকে আহ্বান করছে তা যেন তারা বোঝে, হৃদয়ে ধারণ করে এবং বিশ্বাস করে: {বলুন, এটাই আমার পথ। আমি এবং যারা আমার অনুসরণ করেছে, আমরা সচেতন অন্তর্দৃষ্টির (بصيرة) সাথে আল্লাহর দিকে আহ্বান করি।} ১।
মুহাম্মদ (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর অনুসারীদের দুটি বৈশিষ্ট্য হলো:
১-দাওয়াতের দায়িত্ব পালন করা।
২-দাওয়াত শুরু করার আগে অন্তর্দৃষ্টি (بصيرة) অর্জন করা।
অন্তর্দৃষ্টি (بصيرة) হলো: সেই ইলম যার উৎস হলো ওহী এবং এমন সূক্ষ্ম বোধ বা গভীর জ্ঞান (فقه), যা থেকে একজন দাঈ প্রজ্ঞা, উত্তম কৌশল, মানুষের মন জয় করা এবং তাদের কাছে প্রিয় হওয়ার শিক্ষা লাভ করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মানহাজুস সহীহ ওয়া আসারুহু ফিদ দাওয়াহ ইলাল্লাহি তাআলা
(পৃষ্ঠা: ১৫৩)
وهذه الجماعات أشبهها بالأحزاب السياسية المتنافسة لمصالحها الشخصية وأغراضها الذاتية، وهي ذاتها محنة من المحن ومشكلة من المشكلات للدعوة والدعاة معاً، إذا بقيت على وضعها ولم تعد النظر في سلوكها ومنهج عملها وبرامجها، وأساليب دعوتها وسياستها، فخطرها على الدعوة يفوق كل خطر يهدد الدعوة من خارجها.
فعلى هذه الجماعات أن تدرس تاريخ الدعاة الأولين من الصحابة والتابعين الذين نطق بهم القرآن، وبه نطقوا، والذين انتشر الإسلام بدعوتهم، بل عليهم أن يفهموا الدين كما فهم أولئك السادة، ويسيروا سيرتهم، وينسجوا على منوالهم، مع ملاحظة الأساليب المناسبة في العصرالحديث، والملابسات والظروف وأحوال الناس، وإن لم يسلكوا هذا المسلك فسوف لا يكتب للدعوة أي نجاح أو أي تقدم لا نه عمل لم يستوف الشروط، وهو عمل غير صالح1.
ثانياً: الإخلاص:
إن من أهم مايجب على الداعية إلى الله تعالى أن يكون مخلصاً لله في دعوته، وأمره ونهيه، بحيث لا يرجو إلا الجزاء من الله تعالى وحده، فلا يكون هدفه طمعاً مادياً أو غرضاً دنيوياً، ولا يكون هدفه من ذلك الرياء أو السمعة وطلب الشهرة أو شيء من حطام الدنيا، أو أن يظهر فضله في دينه أو علمه أو عمله أو عقله على من يدعوه أو يا مره وينهاه، مما يزينه الشيطان، ويكيد به الإنسان ليبطل عمله ويفسد سعيه.
وقد أمر الله سبحانه المؤمنين بإخلاص نياتهم وأعمالهم وعباداتهم لله تعالى وحده، قال تعالى مخاطباً نبيه محمداً صلى الله عليه وسلم وآمراً له أن يخاطب أمته بذلك: {قُلْ إِنِّي أُمِرْتُ أَنْ أَعْبُدَ اللَّهَ مُخْلِصاً لَهُ الدِّينَ} 2.
--------------------------------------------
এই দলসমূহকে আমি ব্যক্তিগত স্বার্থ ও নিজস্ব উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার লড়াইয়ে লিপ্ত প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ মনে করি। এগুলো দাওয়াতি কার্যক্রম ও দাঈদের জন্য একই সাথে একটি সংকট ও সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে; যদি তারা তাদের বর্তমান অবস্থাতেই স্থির থাকে এবং তাদের আচরণ, কর্মপদ্ধতি, কর্মসূচি, দাওয়াহর কৌশল ও নীতি পুনর্মূল্যায়ন না করে। দাওয়াহর বহিরাগত যেকোনো হুমকির চেয়ে এর অভ্যন্তরীণ ঝুঁকি অনেক বেশি।
সুতরাং এই দলগুলোর কর্তব্য হলো সাহাবী (صحابة) ও তাবিঈদের (تابعين) ন্যায় প্রথম যুগের দাঈদের ইতিহাস অধ্যয়ন করা, যাদের সম্পর্কে কুরআন বর্ণনা করেছে এবং যারা কুরআনের অনুসারী ছিলেন। যাঁদের দাওয়াহর বরকতে ইসলাম প্রসারিত হয়েছে। বরং তাঁদের উচিত দ্বীনকে সেই সকল মহান ব্যক্তিবর্গের ন্যায় অনুধাবন করা, তাঁদের জীবনপদ্ধতি অনুসরণ করা এবং তাঁদের আদর্শের পদাঙ্ক অনুসরণ করা; সেই সাথে আধুনিক যুগের উপযোগী কৌশল, পারিপার্শ্বিকতা, পরিস্থিতি এবং মানুষের অবস্থার প্রতি লক্ষ্য রাখা। যদি তারা এই পথ অনুসরণ না করে, তবে দাওয়াহর ক্ষেত্রে কোনো সফলতা বা অগ্রগতি নিশ্চিত হবে না; কারণ এটি এমন এক কর্ম যা প্রয়োজনীয় শর্তাবলি পূরণ করেনি এবং তা একটি অযোগ্য কাজ১।
দ্বিতীয়ত: ইখলাস (একনিষ্ঠতা):
আল্লাহর পথে আহ্বানকারীর (দাঈ) জন্য সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তাঁর দাওয়াহ, আদেশ ও নিষেধে আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ হওয়া, যাতে তিনি কেবল মহান আল্লাহর নিকট হতেই প্রতিদান আশা করেন। তাঁর উদ্দেশ্য যেন কোনো পার্থিব লোভ বা জাগতিক লক্ষ্য না হয়। রিয়া বা লৌকিকতা, সুখ্যাতি ও প্রসিদ্ধি অন্বেষণ অথবা পার্থিব কোনো তুচ্ছ সামগ্রী লাভ যেন তাঁর লক্ষ্য না হয়। যাকে দাওয়াহ দেওয়া হচ্ছে বা যাকে আদেশ ও নিষেধ করা হচ্ছে, তার নিকট নিজের দ্বীনদারি, ইলম, আমল কিংবা প্রজ্ঞার শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করাও যেন উদ্দেশ্য না হয়; যা শয়তান সুশোভিত করে এবং মানুষের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে যাতে তার আমল নিষ্ফল হয় এবং তার প্রচেষ্টা ধূলিসাৎ হয়ে যায়।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা মুমিনদেরকে তাঁদের নিয়ত, আমল ও ইবাদত একমাত্র আল্লাহর জন্য নিবেদন করার নির্দেশ দিয়েছেন। মহান আল্লাহ তাঁর নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে সম্বোধন করে এবং তাঁর উম্মতকেও তা পৌঁছে দেওয়ার আদেশ দিয়ে ইরশাদ করেছেন: {বলুন, আমি আল্লাহর ইবাদত করতে আদিষ্ট হয়েছি তাঁর প্রতি আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে} ২।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মানহাজুস সহীহ ওয়া আসারুহু ফিদ দাওয়াহ ইলাল্লাহি তাআলা
(পৃষ্ঠা: ১৫৪)
وقال عز وجل: {قُلِ اللَّهَ أَعْبُدُ مُخْلِصاً لَهُ دِينِي} 1.
وقال جل شأنه: {مَنْ كَانَ يُرِيدُ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا وَزِينَتَهَا نُوَفِّ إِلَيْهِمْ أَعْمَالَهُمْ فِيهَا وَهُمْ فِيهَا لا يُبْخَسُونَ أُولَئِكَ الَّذِينَ لَيْسَ لَهُمْ فِي الْآخِرَةِ إِلَّا النَّارُ وَحَبِطَ مَا صَنَعُوا فِيهَا وَبَاطِلٌ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ} 2.
وعن عمر بن الخطاب رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "إنما الأعمال بالنيات وإنما لكل امرئ ما نوى" 3.
قال الإمام ابن حجر رحمه الله: "ومعناه كل عمل بنية، فلا يقبل عمل بدون نية"4.
وعن جابر رضي الله عنه قال: "كنا مع النبي صلى الله عليه وسلم في غزاة فقال: "إنَّ بالمدينة لرجالاً ماسرتم مسيراً ولا قطعتم واديا إلاكانوا معكم حبسهم المرض" 5 فهؤلاء كتب الله لهم من الأجر ماكتب لا خوانهم المجاهدين في سبيل الله وذلك بسبب صلاح نياتهم واخلاصهم لله وحده.
وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال: "قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: قال الله تبارك وتعالى: "أنا أغنى الشركاء عن الشرك من عمل عملاً أشرك فيه معي غيري تركته وشركه" 6.
--------------------------------------------
وقال عز وجল: {বলুন, আমি আল্লাহরই ইবাদত করি আমার দীনকে তাঁর জন্য একনিষ্ঠ করে} ১。
তিনি আরও ইরশাদ করেছেন: {যে ব্যক্তি পার্থিব জীবন ও তার সৌন্দর্য কামনা করে, আমি দুনিয়াতেই তাদের আমলসমূহের পূর্ণ ফল প্রদান করি এবং সেখানে তাদের কোনো কমতি করা হয় না। এরাই তারা, যাদের জন্য পরকালে আগুন ছাড়া আর কিছুই নেই এবং তারা যা করেছে তা সেখানে নিষ্ফল হয়ে গেছে এবং তারা যা করত তা বাতিল হয়ে গেছে} ২。
উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি: "নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল এবং প্রত্যেক ব্যক্তি তা-ই পাবে যার সে নিয়ত করেছে" ৩。
ইমাম ইবনে হাজার (রহ.) বলেন: "এর অর্থ হলো প্রত্যেক আমল নিয়তের সাথে সংশ্লিষ্ট, সুতরাং নিয়ত ছাড়া কোনো আমল কবুল হয় না" ৪。
জাবির (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমরা একটি যুদ্ধে নবী (সা.)-এর সাথে ছিলাম। তখন তিনি বললেন: 'মদিনায় এমন কিছু লোক রয়েছে, তোমরা যে পথেই চলেছ এবং যে উপত্যকাই অতিক্রম করেছ, তারা তোমাদের সাথেই ছিল; অসুস্থতা তাদের আটকে দিয়েছে' ৫। সুতরাং আল্লাহ তাআলা তাদের জন্য সেই সওয়াবই লিপিবদ্ধ করেছেন যা আল্লাহর পথে জিহাদকারী তাদের ভাইদের জন্য লিখেছিলেন এবং এটি সম্ভব হয়েছে তাদের নিয়তের শুদ্ধতা ও একমাত্র আল্লাহর জন্য তাদের একনিষ্ঠতার কারণে।"
আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন: আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা বলেন: 'আমি শরিকদের শিরক (অংশীদারিত্ব) থেকে অমুখাপেক্ষী। যে ব্যক্তি কোনো আমল করল এবং তাতে আমার সাথে অন্য কাউকে শরিক করল, আমি তাকে ও তার শিরককে বর্জন করি' ৬।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মানহাজুস সহীহ ওয়া আসারুহু ফিদ দাওয়াহ ইলাল্লাহি তাআলা
(পৃষ্ঠা: ১৫৫)
وقد وردت بعض الآثار عن بعض السلف تبين أهمية النية ودورها في قبول العمل منها ماورد عن مطرف بن عبد الله قال: "صلاح القلب بصلاح العمل، وصلاح العمل بصلاح النية"1.
وعن ابن المبارك قال: "رُبَّ عمل صغير تُعظمه النية، ورُب عمل كبير تصغره النية"2.
وعن أبي سليمان: "طوبى لمن صحت له خطوة لا يريد بها إلا الله تعالى" 3.
فعلى الداعية إلى الله تعالى أن يخلص نيته لله تعالى، وأن يتجرد من حظوظ النفس ومن نزغات الشيطان، وأن يكون قصده وهدفه ابتغاء وجه الله والدار الآخرة، وفي أنبياء الله ورسله عليهم السلام القدوة الحسنة، فإن القصد من دعوتهم إصلاحهم، وابتغاء الأجر والمثوبة من الله وحده.
قال تعالى عن نوح عليه السلام: {وَمَا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ إِنْ أَجْرِيَ إِلَّا عَلَى رَبِّ الْعَالَمِينَ} 4وهكذا بقية الأنبياء ـ عليهم الصلاة والسلام ـ لا يريدون من دعوتهم إلا مرضاة الله تعالى.
لذا فإن على الداعية إلى الله تعالى على بصيرة أن يهتم بالإخلاص، ويحذر على نفسه من الرياء والسمعة، فإن الشيطان حريص على أن يفسد عليه عمله، وقد تدعوه النفس الأمارة بالسوء إلى حب الظهور أو الشهرة أو ماشابههما من أغراض الدنيا الفانية، ومن ثم يقع في المحذور والعياذ بالله.
--------------------------------------------
পূর্বসূরিদের (السلف) পক্ষ থেকে এমন কিছু বর্ণনা (الآثار) বর্ণিত হয়েছে যা নিয়তের গুরুত্ব এবং আমল কবুল হওয়ার ক্ষেত্রে এর ভূমিকা স্পষ্ট করে। তার মধ্যে একটি হলো মুতাররিফ বিন আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: "অন্তরের সংশোধন হয় আমলের সংশোধনের মাধ্যমে, আর আমলের সংশোধন হয় নিয়তের সংশোধনের মাধ্যমে।"1.
ইবনুল মুবারক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "অনেক সময় ছোট আমল নিয়তের কারণে মহিমান্বিত হয়ে ওঠে, আবার অনেক সময় বড় আমল নিয়তের কারণে তুচ্ছ হয়ে যায়।"2.
আবু সুলায়মান থেকে বর্ণিত: "সেই ব্যক্তির জন্য সুসংবাদ যার একটি পদক্ষেপও শুদ্ধ (صحت) হয়েছে এবং সেটির মাধ্যমে সে কেবল মহান আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি চেয়েছে।" 3.
সুতরাং আল্লাহর পথে আহ্বানকারীর উচিত তার নিয়তকে আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ করা এবং নফসের প্রবৃত্তি ও শয়তানের প্ররোচনা থেকে মুক্ত থাকা। তার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হওয়া উচিত কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি ও পরকাল অর্জন। আল্লাহর নবী ও রাসূলগণের (আলাইহিমুস সালাম) মধ্যে উত্তম আদর্শ নিহিত রয়েছে; কেননা তাঁদের দাওয়াতের উদ্দেশ্য ছিল মানুষের সংশোধন এবং কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রতিদান ও সওয়াব লাভ করা।
নূহ (আলাইহিস সালাম) সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন: {আমি তোমাদের কাছে এর জন্য কোনো প্রতিদান চাই না; আমার প্রতিদান তো কেবল বিশ্বজগতের রবের নিকট রয়েছে।} 4 এবং একইভাবে অন্যান্য নবীগণও—তাদের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক—তাঁদের দাওয়াতের মাধ্যমে কেবল মহান আল্লাহর সন্তুষ্টিই কামনা করতেন।
তাই দূরদৃষ্টিসম্পন্ন আল্লাহর পথে আহ্বানকারীর কর্তব্য হলো ইখলাসের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া এবং লোকদেখানো ইবাদত (الرياء) ও সুখ্যাতি অর্জনের (السمعة) আকাঙ্ক্ষা থেকে নিজেকে সতর্ক রাখা। কারণ শয়তান মানুষের আমল নষ্ট করার জন্য অত্যন্ত তৎপর থাকে। আর মানুষের মন্দপ্রবণ নফস তাকে আত্মপ্রকাশের মোহ, প্রসিদ্ধি বা এই নশ্বর দুনিয়ার অনুরূপ কোনো হীন উদ্দেশ্যের দিকে প্ররোচিত করতে পারে, যার ফলে সে নিষিদ্ধ বিষয়ে লিপ্ত হয়ে পড়ে—আল্লাহর নিকট এ থেকে আশ্রয় চাই।
--------------------------------------------