(খণ্ড: ১)
উসুলুদ দাওয়াহ ওয়া তুরুকুহা ২ - জামিয়াতুল মদীনা
(পৃষ্ঠা: -)
أصول الدعوة وطرقها 2 - جامعة المدينة القسم: كتب عامة
الكتاب: أصول الدعوة وطرقها 2
كود المادة: IDWH3023
المرحلة: بكالوريوس
المؤلف: مناهج جامعة المدينة العالمية
الناشر: جامعة المدينة العالمية
عدد الصفحات: 321
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 26 جُمادَى الآخرة 1433
দাওয়াতের মূলনীতি ও এর পদ্ধতি ২ - মদিনা বিশ্ববিদ্যালয় বিভাগ: সাধারণ গ্রন্থসমূহ
গ্রন্থ: দাওয়াতের মূলনীতি ও এর পদ্ধতি ২
বিষয় কোড: IDWH3023
স্তর: স্নাতক
লেখক: মদিনা আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রম
প্রকাশক: মদিনা আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩২১
[গ্রন্থের নম্বরকরণ মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ২৬ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৩৩
(খণ্ড: ২)
উসুলুদ দাওয়াহ ওয়া তুরুকুহা ২ - জামিয়াতুল মদীনা
(পৃষ্ঠা: -)
-[أصول الدعوة وطرقها 2]-
كود المادة: IDWH3023
المرحلة: بكالوريوس
المؤلف: مناهج جامعة المدينة العالمية
الناشر: جامعة المدينة العالمية
عدد الأجزاء: 1
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
-[দাওয়াতের মূলনীতি ও কর্মপন্থা ২]-
বিষয় কোড: IDWH3023
স্তর: স্নাতক
লেখক: আল-মদিনা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির পাঠ্যক্রম
প্রকাশক: আল-মদিনা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি
খণ্ড সংখ্যা: ১
[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
(খণ্ড: ২)
উসুলুদ দাওয়াহ ওয়া তুরুকুহা ২ - জামিয়াতুল মদীনা
(পৃষ্ঠা: ৯)
الدرس: 1 من أخلاق الدعاة إلى الله.
بسم الله الرحمن الرحيم
الدرس الأول
(من أخلاق الدعاة إلى الله)
1 - مِن صفاتِ الدّعاة
التعريف ببعض الكلمات التي لها صِلة بالدّعوة إلى الله على بصيرةالحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على خاتم الأنبياء والمرسلين، وعلى آله وأصحابه، ومَن دعا بدعوته إلى يوم الدِّين. أما بعد:
الدّعوة إلى الله على بصيرة.
ومِن الصّفات التي ينبغي أن يتحلّى بها الدّعاة إلى الله، وأن تكون مِن مُقوِّمات شخصيّتهم هي: الدّعوة إلى الله على بصيرة.
فإنّ من خصائص دعوة الإسلام: أنّ عقائده وتشريعاته جليّة واضحة وضوح الشمس في الأفق، نقيّة بيضاء كنقاء اللّبن، صافية كصفاء السماء، ليس في عقائده لَبس يُحيِّر العقول، ولا طلاسم وألغاز تتيه بين ضبابها النفوس، ولا أمور غامضة يقِف القلب حيالها تائهاً حيراناً، كما هو الحال في الأديان والنِّحل والفلسفات الأخرى التي تُجبر أصحابَها على اعتناقها دون تبصّر وتدبّر. وحينما فشلوا في فهْمها، وعجزوا عن تعقُّل نصوصها، ركلوها جميعاً، وحصروها في الكنائس والبِيَع والأدْيرة، ومعابد الكهّان والرّهبان، وتركوها تلفظ أنفاسها في نسيان وصمت.
أمّا الإسلام العظيم، فآياته بيِّنات ودلائلُه واضحات، تدركه العقول لأوّل لحظة، وتطمئنّ له القلوب، وتنشرح له الصدور، بمجرّد سماع آياته أو التّعرّف على أحكامه؛ قال تعالى: {قَدْ جَاءَكُمْ مِنَ اللَّهِ نُورٌ وَكِتَابٌ مُبِينٌ * يَهْدِي بِهِ اللَّهُ مَنِ اتَّبَعَ رِضْوَانَهُ سُبُلَ السَّلامِ وَيُخْرِجُهُمْ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ بِإِذْنِهِ وَيَهْدِيهِمْ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ}.
ولم ينتقل الرسول صلى الله عليه وسلم إلى الرّفيق الأعلى إلاّ بعد أن بلّغ الإسلام وأبان الحجّة، ووضّح العقيدة وضوحاً جلياً، وطبّق الشريعة، وأقام الحدود، ودخل الناس في
পাঠ: ১ - আল্লাহর দিকে আহ্বানকারীদের (দাঈদের) নৈতিক গুণাবলি থেকে.
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম
প্রথম পাঠ
(আল্লাহর দিকে আহ্বানকারীদের চারিত্রিক গুণাবলি থেকে)
১ - দাঈ বা আহ্বানকারীদের বৈশিষ্ট্যসমূহ
সুনিশ্চিত জ্ঞান বা অন্তর্দৃষ্টির (بصيرة) ভিত্তিতে আল্লাহর পথে দাওয়াতের সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু শব্দের পরিচিতিসকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সর্বশেষ নবী ও রাসূলের প্রতি, তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং যারা কেয়ামত পর্যন্ত তাঁর দাওয়াতের পথে আহ্বান জানাবেন তাদের প্রতি। অতঃপর:
সুনিশ্চিত জ্ঞান বা অন্তর্দৃষ্টির (بصيرة) ভিত্তিতে আল্লাহর দিকে দাওয়াত।
আল্লাহর পথের দাঈ বা আহ্বানকারীদের যেসব গুণাবলীতে ভূষিত হওয়া উচিত এবং যা তাদের ব্যক্তিত্বের মৌলিক উপাদানের অন্তর্ভুক্ত হওয়া আবশ্যক, তা হলো: সুনিশ্চিত জ্ঞান বা অন্তর্দৃষ্টির (بصيرة) ভিত্তিতে আল্লাহর পথে দাওয়াত প্রদান।
কেননা ইসলামের দাওয়াতের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর আকিদা ও বিধিবিধানসমূহ দিগন্তের সূর্যের মতো সুস্পষ্ট, যা দুধের মতো শুভ্র ও নির্মল এবং আকাশের মতো স্বচ্ছ। এর আকিদাতে এমন কোনো অস্পষ্টতা নেই যা বুদ্ধিকে বিভ্রান্ত করে, কিংবা এমন কোনো রহস্য বা গোলকধাঁধা নেই যার কুয়াশায় আত্মা পথ হারিয়ে ফেলে। এতে এমন কোনো রহস্যময় বিষয় নেই যার সামনে হৃদয় কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ে; যেমনটি অন্যান্য ধর্ম, মতবাদ ও দর্শনের ক্ষেত্রে পরিলক্ষিত হয়, যা তাদের অনুসারীদের কোনো প্রকার বিচার-বিশ্লেষণ ও চিন্তা-ভাবনা ছাড়াই তা গ্রহণ করতে বাধ্য করে। আর যখন তারা সেগুলো অনুধাবন করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং এর ধর্মীয় পাঠ্যসমূহের মর্মোদ্ধারে অক্ষম হয়েছে, তখন তারা সেগুলোকে বর্জন করেছে এবং গির্জা, উপাসনালয়, মঠ ও পুরোহিত-সন্ন্যাসীদের উপাসনালয়ে সীমাবদ্ধ করে রেখেছে; সেগুলোকে বিস্মৃতি ও নীরবতার মাঝে নিঃশেষ হওয়ার জন্য ছেড়ে দিয়েছে।
পক্ষান্তরে মহান ইসলাম এমন, যার আয়াতসমূহ সুস্পষ্ট এবং প্রমাণাদি উজ্জ্বল। প্রথম মুহূর্তেই বুদ্ধি তা অনুধাবন করতে পারে, অন্তরসমূহ এতে প্রশান্তি লাভ করে এবং বক্ষসমূহ উন্মুক্ত হয়ে যায়—কেবল এর আয়াতসমূহ শ্রবণ করা বা এর বিধানাবলি জানার মাধ্যমেই। মহান আল্লাহ বলেন: {তোমাদের নিকট আল্লাহর পক্ষ থেকে এক জ্যোতি ও সুস্পষ্ট কিতাব এসেছে। এর মাধ্যমে আল্লাহ যারা তাঁর সন্তুষ্টির অনুসরণ করে তাদের শান্তির পথে পরিচালিত করেন এবং নিজ অনুমতিক্রমে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন এবং তাদের সরল পথের (صراط مستقيم) দিকে পরিচালিত করেন।}
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ততক্ষণ পর্যন্ত মহান বন্ধুর সান্নিধ্যে গমন করেননি, যতক্ষণ না তিনি ইসলাম প্রচার করেছেন এবং অকাট্য প্রমাণ (حجة) সুস্পষ্ট করেছেন। তিনি আকিদাকে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেছেন, শরিয়ত প্রয়োগ করেছেন, দণ্ডবিধি (حدود) কায়েম করেছেন এবং মানুষ দলে দলে আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করেছে।
(খণ্ড: ২)
উসুলুদ দাওয়াহ ওয়া তুরুকুহা ২ - জামিয়াতুল মদীনা
(পৃষ্ঠা: ১০)
دين الله أفواجاً، وترك صلى الله عليه وسلم أمّته على الحنيفيّة السمحاء والمحجّة البيضاء، ليْلُها كنهارها لا يَزيغ عنها إلاّ هالك.
ونزل قول الله تعالى: {الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الإِسْلامَ دِيناً}. وتُوِّج القرآن الكريم بآخر سورة نزلت، وهي سورة (النصر)، قال تعالى: {إِذَا جَاءَ نَصْرُ اللَّهِ وَالْفَتْحُ * وَرَأَيْتَ النَّاسَ يَدْخُلُونَ فِي دِينِ اللَّهِ أَفْوَاجاً * فَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ وَاسْتَغْفِرْهُ إِنَّهُ كَانَ تَوَّاباً}.
وما تمّ ذلك النّصر والفتح إلاّ لِكوْن الدّعوة إلى الله تُلامِس الفِطَر النّقيّة والعقول السليمة، من خلال الدلائل الواضحة التي لا يَسَع البشَرُ إزاء جلائها وظهورها سوى الدّخول في الإسلام مُختارِين طائعين؛ قال تعالى: {لَا إِكْرَاهَ فِي الدِّينِ قَدْ تَبَيَّنَ الرُّشْدُ مِنَ الْغَيِّ فَمَنْ يَكْفُرْ بِالطَّاغُوتِ وَيُؤْمِنْ بِاللَّهِ فَقَدِ اسْتَمْسَكَ بِالْعُرْوَةِ الْوُثْقَى لَا انْفِصَامَ لَهَا وَاللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ * اللَّهُ وَلِيُّ الَّذِينَ آمَنُوا يُخْرِجُهُمْ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ وَالَّذِينَ كَفَرُوا أَوْلِيَاؤُهُمُ الطَّاغُوتُ يُخْرِجُونَهُمْ مِنَ النُّورِ إِلَى الظُّلُمَاتِ أُولَئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ}.
وفي هذه المحاضرة، سوف نوضّح الأساس والمنهج الذي مِن خلالِه انتشر الإسلام، وارتفع لواؤه في العالَمين، ونضع هذا المنهج أمام الدّارسين والدّعاة، والذي جاء في قوله تعالى: {قُلْ هَذِهِ سَبِيلِي أَدْعُو إِلَى اللَّهِ عَلَى بَصِيرَةٍ أَنَا وَمَنِ اتَّبَعَنِي وَسُبْحَانَ اللَّهِ وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ}.
وسوف تتضمّن هذه المحاضرة العناصر التالية:
العنصر الأول: التّعريف ببعض الكلمات التي لها صلة بالدعوة إلى الله على بصيرة، لكي نتعرف على أسس ومقوّمات الدّعوة على بصيرة واضحة وأدلّة ناصعة، كما جاءت في القرآن الكريم. ينبغي علينا أن نرجع لمصادر اللغة العربية نسترشد بها في تفهّم معاني الكلمات الآتية:
আল্লাহর দ্বীনে দলে দলে মানুষ প্রবেশ করেছে, এবং তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উম্মতকে এক সহজ-সরল ও উজ্জ্বল পথের ওপর রেখে গেছেন, যার রাত দিনের মতোই স্পষ্ট; যেখান থেকে একমাত্র ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যক্তিরাই বিচ্যুত হয়।
মহান আল্লাহর এই বাণী নাযিল হয়েছে: {আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম, তোমাদের প্রতি আমার নেয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম}। আর পবিত্র কুরআনকে এর সর্বশেষ অবতীর্ণ সূরা—সূরা আন-নাসর দ্বারা অলঙ্কৃত করা হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন: {যখন আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় আসবে, এবং আপনি মানুষকে দলে দলে আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করতে দেখবেন, তখন আপনি আপনার রবের প্রশংসাসহ পবিত্রতা ঘোষণা করুন এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করুন। নিশ্চয়ই তিনি পরম তওবা কবুলকারী}।
এই বিজয় ও বিজয়োল্লাস কেবল তখনই সম্ভব হয়েছে যখন আল্লাহর পথে দাওয়াত মানুষের বিশুদ্ধ স্বভাবজাত প্রবৃত্তি এবং সুস্থ বিবেককে স্পর্শ করেছে। এটি এমন সব সুস্পষ্ট প্রমাণের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে যা প্রকাশিত ও উদ্ভাসিত হওয়ার পর মানুষের সামনে স্বেচ্ছায় ও আনুগত্যের সাথে ইসলাম গ্রহণ করা ব্যতীত আর কোনো পথ খোলা থাকে না। মহান আল্লাহ বলেন: {দ্বীনের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই; নিশ্চয়ই সঠিক পথ ভ্রষ্টতা থেকে সুস্পষ্ট হয়ে গেছে। সুতরাং যে তাগুতকে অস্বীকার করবে এবং আল্লাহর ওপর ঈমান আনবে, সে এক মজবুত হাতল ধারণ করল, যা কখনো ভাঙবার নয়। আর আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। যারা ঈমান এনেছে আল্লাহ তাদের অভিভাবক, তিনি তাদের অন্ধকার থেকে আলোর দিকে নিয়ে যান। আর যারা কুফরি করে তাদের অভিভাবক হলো তাগুত, তারা তাদেরকে আলো থেকে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যায়। এরাই জাহান্নামের অধিবাসী, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে}।
এই আলোচনায় আমরা সেই মূলভিত্তি ও কর্মপন্থা ব্যাখ্যা করব যার মাধ্যমে ইসলাম প্রসারিত হয়েছে এবং বিশ্বজুড়ে এর ঝাণ্ডা উড্ডীন হয়েছে। আমরা এই কর্মপন্থাকে শিক্ষার্থী ও দাঈদের সামনে উপস্থাপন করব, যা মহান আল্লাহর এই বাণীতে বিধৃত হয়েছে: {বলুন, এটিই আমার পথ। আমি ও আমার অনুসারীগণ আল্লাহর দিকে ডাকি পূর্ণ অন্তর্দৃষ্টির সাথে। আর আল্লাহ পবিত্র এবং আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই}।
এই আলোচনাটি নিম্নোক্ত বিষয়সমূহ অন্তর্ভুক্ত করবে:
প্রথম বিষয়: আল্লাহর পথে অন্তর্দৃষ্টির সাথে দাওয়াত প্রদানের সংশ্লিষ্ট কিছু শব্দের পরিচিতি, যাতে আমরা পবিত্র কুরআনে বর্ণিত সুস্পষ্ট অন্তর্দৃষ্টি ও উজ্জ্বল প্রমাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত দাওয়াতের মূলভিত্তি ও উপাদানসমূহ জানতে পারি। নিম্নোক্ত শব্দগুলোর অর্থ অনুধাবনের জন্য আমাদের আরবি ভাষার মূল উৎসসমূহের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন:
(খণ্ড: ২)
উসুলুদ দাওয়াহ ওয়া তুরুকুহা ২ - জামিয়াতুল মদীনা
(পৃষ্ঠা: ১১)
1 - البصر والبصيرة.
"البصر": حسّ العيْن وحركتها للرؤية، وتُجمع على: أبصار؛ قال تعالى: {وَاللَّهُ أَخْرَجَكُمْ مِنْ بُطُونِ أُمَّهَاتِكُمْ لَا تَعْلَمُونَ شَيْئاً وَجَعَلَ لَكُمُ السَّمْعَ وَالْأَبْصَارَ وَالْأَفْئِدَةَ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ}.
والبَصر من القلب: نظَره وخاطِره؛ قال تعالى: {أَفَلَمْ يَسِيرُوا فِي الْأَرْضِ فَتَكُونَ لَهُمْ قُلُوبٌ يَعْقِلُونَ بِهَا أَوْ آذَانٌ يَسْمَعُونَ بِهَا فَإِنَّهَا لَا تَعْمَى الْأَبْصَارُ وَلَكِنْ تَعْمَى الْقُلُوبُ الَّتِي فِي الصُّدُورِ}، وقال تعالى: {وَفِي أَنْفُسِكُمْ أَفَلَا تُبْصِرُونَ}.
و"البصيرة": عقيدة القلب، والفِطنة، والحجّة، وتُجمع على: بصائر؛ قال تعالى: {قَدْ جَاءَكُمْ بَصَائِرُ مِنْ رَبِّكُمْ فَمَنْ أَبْصَرَ فَلِنَفْسِهِ وَمَنْ عَمِيَ فَعَلَيْهَا وَمَا أَنَا عَلَيْكُمْ بِحَفِيظٍ}.
يقول ابن كثير رحمه الله: "البصائر: هي البيِّنات والحُجج التي اشتمل عليها القرآن الكريم وما جاء به الرسول صلى الله عليه وسلم".
هذه البصائر التي تتجلّى في الأنْفُس والآفاق، أو من خلال آيات القرآن الكريم وهدْي الرسول صلى الله عليه وسلم، تُحقِّق الهداية والرحمة لأولئك النّفر من البشَر الذين وصَفَهم الله تبارك وتعالى في قوله: {هَذَا بَصَائِرُ مِنْ رَبِّكُمْ وَهُدىً وَرَحْمَةٌ لِقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ}. وقال تعالى: {وَلَقَدْ آتَيْنَا مُوسَى الْكِتَابَ مِنْ بَعْدِ مَا أَهْلَكْنَا الْقُرُونَ الْأُولَى بَصَائِرَ لِلنَّاسِ وَهُدىً وَرَحْمَةً لَعَلَّهُمْ يَتَذَكَّرُونَ}، أي: عبرةً وعظةً. وقال تعالى: {هَذَا بَصَائِرُ لِلنَّاسِ وَهُدىً وَرَحْمَةٌ لِقَوْمٍ يُوقِنُونَ}. وقال تعالى: {تَبْصِرَةً وَذِكْرَى لِكُلِّ عَبْدٍ مُنِيبٍ}.
والمنيب: هو العبد الخاضع، الخائف الوَجِل، الرّجّاع إلى الله عز وجل.
১ - দৃষ্টি (আল-বাসার) ও অন্তর্দৃষ্টি (আল-বাসিরাহ)।
"আল-বাসার": এটি চক্ষুেন্দ্রিয়ের অনুভূতি এবং দেখার জন্য এর সঞ্চালন, এর বহুবচন হলো: আবসার; আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন: {আর আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের মায়েদের উদর থেকে বের করেছেন এমন অবস্থায় যে তোমরা কিছুই জানতে না, এবং তিনি তোমাদের জন্য শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি ও হৃদয়সমূহ সৃষ্টি করেছেন যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো}।
আর অন্তরের দৃষ্টি (আল-বাসার) বলতে এর পর্যবেক্ষণ ও চিন্তাশক্তিকে বোঝায়; আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন: {তবে কি তারা জমিনে পরিভ্রমণ করেনি? ফলে তাদের এমন হৃদয় হতো যা দিয়ে তারা অনুধাবন করতে পারতো অথবা এমন কান হতো যা দিয়ে তারা শুনতে পারতো। বস্তুত চোখ তো অন্ধ হয় না, বরং বক্ষস্থিত হৃদয়গুলোই অন্ধ হয়}। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {এবং তোমাদের নিজেদের মধ্যেও, তবে কি তোমরা লক্ষ্য করবে না?}।
আর "আল-বাসিরাহ" (অন্তর্দৃষ্টি): এটি হলো অন্তরের বিশ্বাস, প্রখর মেধা ও অকাট্য প্রমাণ (حجة), এর বহুবচন হলো: বাসাইর; আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন: {তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে চাক্ষুষ প্রমাণসমূহ (বাসাইর) এসে পৌঁছেছে। সুতরাং যে ব্যক্তি প্রত্যক্ষ করবে সে নিজের লাভের জন্যই করবে, আর যে অন্ধ সাজবে তার দায়ভার তার ওপরই বর্তাবে। আর আমি তোমাদের ওপর কোনো সংরক্ষক নই}।
ইবনে কাসির (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: "বাসাইর হলো সেই সকল সুস্পষ্ট নিদর্শন ও অকাট্য প্রমাণ (حجج) যা কুরআনুল কারিম এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা নিয়ে এসেছেন তার অন্তর্ভুক্ত।"
এই সকল চাক্ষুষ প্রমাণ (বাসাইর) যা মানুষের নফস ও দিগন্ত জুড়ে বিকশিত হয়, অথবা কুরআনুল কারিমের আয়াত ও রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হেদায়েতের মাধ্যমে অর্জিত হয়, তা মানুষের সেই দলের জন্য হেদায়েত ও রহমত নিশ্চিত করে যাদের সম্পর্কে আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা ইরশাদ করেছেন: {এটি তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে আসা চাক্ষুষ প্রমাণসমূহ, আর মুমিন সম্প্রদায়ের জন্য হেদায়াত ও রহমত}। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {আমি অবশ্যই মুসাকে কিতাব দান করেছি পূর্ববর্তী প্রজন্মসমূহকে ধ্বংস করার পর—মানুষের জন্য চাক্ষুষ প্রমাণস্বরূপ, হেদায়াত ও রহমত হিসেবে, যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে}, অর্থাৎ: শিক্ষা ও নসিহত হিসেবে। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {এটি মানুষের জন্য চাক্ষুষ প্রমাণসমূহ এবং সুনিশ্চিত বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য হেদায়াত ও রহমত}। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {প্রত্যেক অনুরাগী বান্দার জন্য চাক্ষুষ জ্ঞান ও উপদেশস্বরূপ}।
আর মুনীব (অনুরাগী) হলো: সেই অনুগত বান্দা, যে আল্লাহকে ভয় পায় ও প্রকম্পিত থাকে এবং মহান আল্লাহর দিকে বারবার প্রত্যাবর্তনকারী।
(খণ্ড: ২)
উসুলুদ দাওয়াহ ওয়া তুরুকুহা ২ - জামিয়াতুল মদীনা
(পৃষ্ঠা: ১২)
فقد بيّنتْ هذه الآيات مَن هُم الذين يُدركون تلك البصائر التي تَنطق بالأدلّة على دلائل القدرة، وآيات العظمة التي تستوجب الإيمان بوجود الله، وتفرّده بالوحدانية، واستحقاقه للعبوديّة الخالصة. إنها صفات: الإيمان، والتّذكّر، واليقين، والرجوع إلى الله.
مَن اتّصف بتلك الصفات، تتجلّى له الحقيقة بيضاء ناصعة، ولامس الإسلام شِغاف قلبه، وتعمّق في وجدانه ومشاعره.
2 - البرهان: هو الدليل القاطع للعُذر، والحُجّة المزيلة للشُّبْهة، قال تعالى: {يَا أَيُّهَا النَّاسُ قَدْ جَاءَكُمْ بُرْهَانٌ مِنْ رَبِّكُمْ وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكُمْ نُوراً مُبِيناً فَأَمَّا الَّذِينَ آمَنُوا بِاللَّهِ وَاعْتَصَمُوا بِهِ فَسَيُدْخِلُهُمْ فِي رَحْمَةٍ مِنْهُ وَفَضْلٍ وَيَهْدِيهِمْ إِلَيْهِ صِرَاطاً مُسْتَقِيماً}.
ولقد طلب القرآن الكريم من المستكبِرين والمعانِدين أن يُقدِّموا البراهين والأدلّة على صدْق مَزاعِمهم الفاسدة وعلى صحّة معتقداتهم الباطلة، فما استطاعوا إلى ذلك سبيلاً. ومن ذلك: ما اعتقده اليهود والنصارى من اقتصار الجنّة عليهم، وزعْمهم الباطل ألّنْ يدخُلَها غيرُهم، فطالَبهم الله بالبرهان والدليل؛ قال تعالى: {وَقَالُوا لَنْ يَدْخُلَ الْجَنَّةَ إِلَاّ مَنْ كَانَ هُوداً أَوْ نَصَارَى تِلْكَ أَمَانِيُّهُمْ قُلْ هَاتُوا بُرْهَانَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ}.
وقال تعالى عن عُبّاد الأصنام والمُتّخِذين من دون الله آلهة، بدون برهان أو دليل: {أَمِ اتَّخَذُوا مِنْ دُونِهِ آلِهَةً قُلْ هَاتُوا بُرْهَانَكُمْ هَذَا ذِكْرُ مَنْ مَعِيَ وَذِكْرُ مَنْ قَبْلِي بَلْ أَكْثَرُهُمْ لَا يَعْلَمُونَ الْحَقَّ فَهُمْ مُعْرِضُونَ}.
3 - الحُجّة -بالضّم-: البرهان، والمِحْجاج: الجَدِل، والتّحاجّ: التّخاصم. وتُجمع على: حُجَج، وهي: أن يَطلب كلّ واحد أنْ يرُدّ الآخَر عن حُجّته ومحجّته.
এই আয়াতসমূহ স্পষ্ট করেছে যে, কারা সেই সব ব্যক্তি যারা সেই সব অন্তর্দৃষ্টি উপলব্ধি করে যা কুদরতের নিদর্শনাদির ওপর প্রমাণের মাধ্যমে কথা বলে এবং মহত্ত্বের সেই সব নিদর্শনসমূহ প্রকাশ করে যা আল্লাহর অস্তিত্বের প্রতি ঈমান আনয়ন, তাঁর এককত্ব এবং তাঁর একনিষ্ঠ ইবাদতের যোগ্য হওয়াকে অনিবার্য করে তোলে। এগুলো হলো: ঈমান, উপদেশ গ্রহণ, দৃঢ় বিশ্বাস এবং আল্লাহর দিকে ফিরে আসার গুণাবলি।
যারা এই গুণাবলিতে ভূষিত হয়, তাদের নিকট সত্য অত্যন্ত শুভ্র ও স্বচ্ছ হয়ে ধরা দেয়, ইসলাম তাদের হৃদয়ের অন্তঃস্থল স্পর্শ করে এবং তাদের চেতনা ও অনুভূতিতে গভীরভাবে প্রোথিত হয়।
২ - বুরহান (برهان): এটি হলো অজুহাত খণ্ডনকারী অকাট্য দলিল (دليل قاطع) এবং সংশয় দূরকারী অকাট্য যুক্তি (حجة)। আল্লাহ তাআলা বলেন: "হে মানবকুল! তোমাদের নিকট তোমাদের রবের পক্ষ থেকে একটি সুস্পষ্ট প্রমাণ (برهان) এসেছে এবং আমি তোমাদের প্রতি এক উজ্জ্বল আলো অবতীর্ণ করেছি। অতঃপর যারা আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছে এবং তাঁকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরেছে, অচিরেই তিনি তাদের স্বীয় রহমত ও অনুগ্রহের অন্তর্ভুক্ত করবেন এবং তাদেরকে নিজের দিকে সরল সঠিক পথে পরিচালিত করবেন।"
কুরআনুল কারিম অহংকারী ও হঠকারীদের প্রতি তাদের ভ্রান্ত দাবি এবং বাতিল বিশ্বাসের সত্যতার সপক্ষে সুস্পষ্ট প্রমাণ (برهان) ও দলিল (دليل) পেশ করার দাবি জানিয়েছে, কিন্তু তারা তা করার কোনো পথ খুঁজে পায়নি। এরই অন্তর্ভুক্ত হলো: ইয়াহুদি ও নাসারাদের সেই বিশ্বাস যে জান্নাত কেবল তাদের জন্যই সীমাবদ্ধ এবং তাদের এই বাতিল দাবি যে তারা ব্যতীত অন্য কেউ জান্নাতে প্রবেশ করবে না। তাই আল্লাহ তাদের নিকট সুস্পষ্ট প্রমাণ (برهان) ও দলিল (دليل) দাবি করেছেন; আল্লাহ তাআলা বলেন: "তারা বলে, ইয়াহুদি অথবা নাসারা ব্যতীত অন্য কেউ জান্নাতে প্রবেশ করবে না। এটি তাদের অলীক আকাঙ্ক্ষা মাত্র। আপনি বলুন: তোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে তোমাদের সুস্পষ্ট প্রমাণ (برهان) পেশ করো।"
এবং মূর্তিপূজারী ও যারা আল্লাহকে ছেড়ে অন্যকে ইলাহ হিসেবে গ্রহণ করেছে অথচ তাদের নিকট কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ (برهان) বা দলিল (دليل) নেই, তাদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "তারা কি আল্লাহ ব্যতীত অন্য ইলাহ গ্রহণ করেছে? বলুন: তোমরা তোমাদের সুস্পষ্ট প্রমাণ (برهان) পেশ করো। এটি আমার সাথীদের উপদেশ এবং আমার পূর্ববর্তীদের উপদেশ। বরং তাদের অধিকাংশই সত্য জানে না, তাই তারা বিমুখ হয়ে থাকে।"
৩ - হুজ্জাহ (حجة) -পেশ যোগে-: এর অর্থ হলো সুস্পষ্ট প্রমাণ (برهان)। আর মিহজাজ (مِحْجاج) হলো অধিক তর্ককারী এবং তাহাজ্জু (تحاجّ) হলো পরস্পর বিবাদে লিপ্ত হওয়া। এর বহুবচন হলো হুজাজ (حجج); আর এটি হলো এমন অবস্থা যেখানে প্রত্যেকে চায় অপরকে তার অকাট্য যুক্তি (حجة) ও প্রমাণ থেকে বিচ্যুত করতে।
(খণ্ড: ২)
উসুলুদ দাওয়াহ ওয়া তুরুকুহা ২ - জামিয়াতুল মদীনা
(পৃষ্ঠা: ১৩)
قال تعالى: {قُلْ فَلِلَّهِ الْحُجَّةُ الْبَالِغَةُ فَلَوْ شَاءَ لَهَدَاكُمْ أَجْمَعِينَ}.
يقول الله لنبيّه صلى الله عليه وسلم: قل لهم يا محمد: فلله الحُجة البالغة، أي: الحِكمة التّامّة، والحجة البالغة في هداية من هَدى، وإضلال من ضلّ.
ومن ذلك: قوله تعالى للرسول صلى الله عليه وسلم، حينما جادله وفْد نصارى نجران في حقيقة سيدنا عيسى عليه السلام: {فَمَنْ حَاجَّكَ فِيهِ مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَكَ مِنَ الْعِلْمِ فَقُلْ تَعَالَوْا نَدْعُ أَبْنَاءَنَا وَأَبْنَاءَكُمْ وَنِسَاءَنَا وَنِسَاءَكُمْ وَأَنْفُسَنَا وَأَنْفُسَكُمْ ثُمَّ نَبْتَهِلْ فَنَجْعَلْ لَعْنَتَ اللَّهِ عَلَى الْكَاذِبِينَ}.
وقد بيّن القرآن الكريم: أنّ كثيراً من الناس حُججُهم داحضة وأدلّتُهم كاذبة؛ وهذه ظاهرة متواجدة في كل زمان ومكان، كما يشاهِده العالَم الإسلامي من حُجج الغرب الباطلة وأدلّته الكاذبة، على العدوان على العالَم الإسلامي، واختلاق الأسباب للهيمنة بأعذار ودوافع واهية، قال تعالى: {وَالَّذِينَ يُحَاجُّونَ فِي اللَّهِ مِنْ بَعْدِ مَا اسْتُجِيبَ لَهُ حُجَّتُهُمْ دَاحِضَةٌ عِنْدَ رَبِّهِمْ وَعَلَيْهِمْ غَضَبٌ وَلَهُمْ عَذَابٌ شَدِيدٌ}.
4 - البيِّنة:
"البيان": بان بياناً: اتّضح فهو: بَيِّن. وبِنْتُه -بالكسر-، وتبيّنْتُه، وأبَنْتُه، واستبَنْتُه: أوضحْتُه وعرَفْته.
فالبيان: الإفصاح عن ذكاء، والبيِّن: الفصيح؛ ولذلك كانت نِعمة البيان من أعظم النِّعم التي أنعم الله بها على الإنسان؛ قال تعالى: {الرَّحْمَنُ * عَلَّمَ الْقُرْآنَ * خَلَقَ الْإِنْسَانَ * عَلَّمَهُ الْبَيَانَ}.
وهو وسيلة الرّسل لتبليغ دعوة الله، قال تعالى: {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ رَسُولٍ إِلَّا بِلِسَانِ قَوْمِهِ لِيُبَيِّنَ لَهُمْ فَيُضِلُّ اللَّهُ مَنْ يَشَاءُ وَيَهْدِي مَنْ يَشَاءُ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ}.
মহান আল্লাহ বলেন: {বলুন, ‘চূড়ান্ত প্রমাণ তো আল্লাহরই। তিনি ইচ্ছা করলে তোমাদের সকলকেই হিদায়াত দিতেন’}।
আল্লাহ তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলছেন: হে মুহাম্মদ, আপনি তাদের বলুন: আল্লাহর জন্যই চূড়ান্ত প্রমাণ (الحجة البالغة), অর্থাৎ: পূর্ণাঙ্গ প্রজ্ঞা। আর যাকে তিনি হিদায়াত দিয়েছেন এবং যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেছেন, উভয়ের ক্ষেত্রেই রয়েছে তাঁর চূড়ান্ত প্রমাণ।
এর অন্তর্ভুক্ত হলো রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি মহান আল্লাহর বাণী, যখন নাজরানের খ্রিস্টান প্রতিনিধি দল আমাদের নেতা ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর প্রকৃত পরিচয় নিয়ে তাঁর সাথে বিতর্কে লিপ্ত হয়েছিল: {তোমার কাছে জ্ঞান আসার পর যে কেউ এ বিষয়ে তোমার সাথে বিতর্ক করে, তাকে বল, ‘এসো, আমরা আহ্বান করি আমাদের পুত্রদের ও তোমাদের পুত্রদের, আমাদের নারীদের ও তোমাদের নারীদের এবং আমাদের নিজেদের ও তোমাদের নিজেদের; তারপর আমরা বিনীত প্রার্থনা করি এবং মিথ্যাবাদী (الكاذبين) ব্যক্তিদের ওপর আল্লাহর লানত বর্ষণ করি’}।
কুরআনুল কারিম স্পষ্ট করেছে যে: অনেক মানুষেরই প্রমাণ অসার এবং তাদের দলিলসমূহ মিথ্যা; এটি এমন এক প্রবণতা যা সর্বকালে ও সর্বস্থানে বিদ্যমান, যেমনটি মুসলিম উম্মাহ বর্তমানে দেখছে মুসলিম বিশ্বের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের ক্ষেত্রে পশ্চিমা বিশ্বের বাতিল যুক্তি ও মিথ্যা দলিলাদি, এবং আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে দুর্বল অজুহাত ও উদ্দেশ্য নিয়ে কারণ উদ্ভাবন। মহান আল্লাহ বলেন: {আল্লাহর আহ্বানে সাড়া দেওয়ার পর যারা তাঁর সম্পর্কে বিতর্কে লিপ্ত হয়, তাদের যুক্তি তাদের রবের নিকট অসার; তাদের ওপর রয়েছে ক্রোধ এবং তাদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি}।
৪ - আল-বাইয়্যিনাহ (স্পষ্ট প্রমাণ):
"আল-বায়ান" (স্পষ্ট বর্ণনা): এটি 'বানা বায়ানান' থেকে এসেছে, যার অর্থ: তা স্পষ্ট হয়েছে, সুতরাং তা সুস্পষ্ট। আর আমি তাকে স্পষ্ট করেছি এবং চিনেছি।
সুতরাং 'বায়ান' হলো মেধার বহিঃপ্রকাশ, আর 'বাইয়্যিন' হলো সুবক্তা; এই কারণেই বর্ণনার ক্ষমতা হলো মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে মানুষের জন্য শ্রেষ্ঠ নেয়ামতসমূহের অন্যতম; মহান আল্লাহ বলেন: {পরম করুণাময়, তিনি শিক্ষা দিয়েছেন কুরআন, সৃষ্টি করেছেন মানুষ, তাকে শিখিয়েছেন স্পষ্ট বর্ণনা}।
আর এটিই হলো আল্লাহর দাওয়াত পৌঁছে দেওয়ার জন্য রাসুলগণের মাধ্যম, মহান আল্লাহ বলেন: {আমি প্রত্যেক রাসুলকে তাঁর স্বজাতির ভাষাভাষী করে পাঠিয়েছি যেন তিনি তাদের কাছে পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেন; অতঃপর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দেন, আর তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়}।
(খণ্ড: ২)
উসুলুদ দাওয়াহ ওয়া তুরুকুহা ২ - জামিয়াতুল মদীনা
(পৃষ্ঠা: ১৪)
والقرآن الكريم تنزّل على رسول الله صلى الله عليه وسلم بلسان عربيٍّ فصيح مُبين، أي: ظاهر واضح مُحكَم قال تعالى: {وَإِنَّهُ لَتَنْزِيلُ رَبِّ الْعَالَمِينَ * نَزَلَ بِهِ الرُّوحُ الْأَمِينُ * عَلَى قَلْبِكَ لِتَكُونَ مِنَ الْمُنْذِرِينَ * بِلِسَانٍ عَرَبِيٍّ مُبِينٍ}.
ولقد أخذ الله العهد والميثاق على أهل الكتاب على تبيين الناس الحق، غير أنهم خانوا العهد، وامتنعوا عن البيان، وحرّفوا أديانهم، ونبذوا كتبهم؛ قال تعالى: {وَإِذْ أَخَذَ اللَّهُ مِيثَاقَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ لَتُبَيِّنُنَّهُ لِلنَّاسِ وَلَا تَكْتُمُونَهُ فَنَبَذُوهُ وَرَاءَ ظُهُورِهِمْ وَاشْتَرَوْا بِهِ ثَمَناً قَلِيلاً فَبِئْسَ مَا يَشْتَرُونَ}.
والبيان في الدعوة الإسلامية مرتبط بالحِكمة ارتباطاً وثيقاً، وكذلك في دعوات الأنبياء جميعاً؛ وقد تحدث القرآن عن عيسى عليه السلام قال تعالى: {وَلَمَّا جَاءَ عِيسَى بِالْبَيِّنَاتِ قَالَ قَدْ جِئْتُكُمْ بِالْحِكْمَةِ وَلِأُبَيِّنَ لَكُمْ بَعْضَ الَّذِي تَخْتَلِفُونَ فِيهِ فَاتَّقُوا اللَّهَ وَأَطِيعُونِ}.
والقرآن الكريم يضُمّ بين سُوَره سورةً قصيرة، عددُ آياتها ثماني آيات، تتحدّث عن البيِّنة والأدلّة والبراهين التي جاء بها القرآن الكريم، وتلاها عليهم رسول الله صلى الله عليه وسلم في صُحفٍ مطهّرة.
وبيّنتِ السّورة موقفَ كلّ من المسلمين والكافرين مِن البيِّنات التي جلَاّها وأظهرها القرآن الكريم، وأعلنها الرسول صلى الله عليه وسلم. ولقد طال الحديث عن البيِّنات باعتبارها أحد معالم الدّعوة إلى الله، والمنهج الحقيقيّ الذي ينبغي أن يَسلكه الدّعاة في دعْوتهم.
5 - الدليل:
هو الذي يدلّ الناس على الشيء، خيراً كان أو شراً، ويتتبّعون خُطاه، ويَقتفون أثَرَه، ويثِقون فيه، لِخبْرته ومهارته؛ فهو: المُرشد الأمين. ومن ذلك: ما حكى القرآن عن أخت موسى، حينما دلّت فرعونَ وزوجَه على مُرضعة لموسى، ولم تكن سوى أمّه، قال تعالى: {فَقَالَتْ هَلْ أَدُلُّكُمْ عَلَى أَهْلِ بَيْتٍ يَكْفُلُونَهُ لَكُمْ وَهُمْ لَهُ نَاصِحُونَ}.
পবিত্র কুরআন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর এক প্রাঞ্জল ও সুস্পষ্ট আরবি ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে; অর্থাৎ যা প্রকাশ্য, স্পষ্ট ও সুদৃঢ় (محكم)। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর নিশ্চয়ই এটি বিশ্বজাহানের রবের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। তা নিয়ে অবতরণ করেছেন বিশ্বস্ত আত্মা (জিবরাঈল)। আপনার হৃদয়ে, যাতে আপনি সতর্ককারীদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন। সুস্পষ্ট আরবি ভাষায়।}
আর আল্লাহ আহলে কিতাবদের নিকট থেকে মানুষের সামনে সত্য স্পষ্টভাবে বর্ণনা করার অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলেন; কিন্তু তারা সেই অঙ্গীকারের খেয়ানত করেছে, সত্য প্রকাশে বিরত থেকেছে, তাদের দ্বীনকে বিকৃত করেছে এবং তাদের কিতাবসমূহকে ছুড়ে ফেলে দিয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর যখন আল্লাহ কিতাবধারীদের থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করলেন যে, তোমরা তা মানুষের কাছে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করবে এবং তা গোপন করবে না; তখন তারা তা নিজেদের পেছনে ফেলে দিল এবং তার বিনিময়ে সামান্য মূল্য গ্রহণ করল; সুতরাং তারা যা ক্রয় করছে তা কতই না নিকৃষ্ট!}
ইসলামি দাওয়াতের ক্ষেত্রে ‘বায়ান’ বা বর্ণনা হিকমতের (প্রজ্ঞা) সাথে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত; অনুরূপভাবে তা সকল নবীদের দাওয়াতের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। পবিত্র কুরআন ঈসা আলাইহিস সালাম সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেছে, আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর যখন ঈসা সুস্পষ্ট প্রমাণাদিসহ আগমন করল, সে বলল, আমি তোমাদের কাছে হিকমত নিয়ে এসেছি এবং তোমরা যে বিষয়ে মতভেদ করছ তার কতক অংশ স্পষ্ট করার জন্য। সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।}
পবিত্র কুরআনের সূরাসমূহের মধ্যে একটি সংক্ষিপ্ত সূরা রয়েছে যার আয়াত সংখ্যা আটটি। এটি সেই সুস্পষ্ট প্রমাণ (البينة), দলিলসমূহ ও প্রমাণাদি সম্পর্কে আলোচনা করে যা পবিত্র কুরআন নিয়ে এসেছে এবং যা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের সামনে পবিত্র সহীফাসমূহ থেকে পাঠ করেছেন।
এই সূরাটি পবিত্র কুরআন কর্তৃক আলোকপাতকৃত ও প্রকাশিত এবং রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কর্তৃক ঘোষিত সুস্পষ্ট প্রমাণসমূহের (البينات) বিপরীতে মুসলিম ও কাফির উভয়ের অবস্থান বর্ণনা করেছে। ইলাল্লাহর দাওয়াতের অন্যতম নিদর্শন এবং দাঈদের দাওয়াতের ক্ষেত্রে যে প্রকৃত কর্মপন্থা অবলম্বন করা উচিত, সেই বিবেচনায় এই সুস্পষ্ট প্রমাণাদি (البينات) সম্পর্কে দীর্ঘ আলোচনা করা হয়েছে।
৫ - দলিল (الدليل):
দলিল হলো তা-ই, যা মানুষকে কোনো বিষয়ের দিকে পথপ্রদর্শন করে, তা কল্যাণকর হোক বা অকল্যাণকর; মানুষ তার পদাঙ্ক অনুসরণ করে, তার চিহ্ন অনুসরণ করে এবং তার অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার কারণে তার ওপর আস্থা রাখে। সুতরাং সে হলো: বিশ্বস্ত পথপ্রদর্শক। এরই উদাহরণস্বরূপ: পবিত্র কুরআন মূসা আলাইহিস সালামের বোন সম্পর্কে যা বর্ণনা করেছে, যখন তিনি ফেরাউন ও তার স্ত্রীকে মূসার জন্য একজন দুগ্ধদাত্রীর সন্ধান দিয়েছিলেন, যিনি প্রকৃতপক্ষে তাঁর মা ব্যতীত আর কেউ ছিলেন না। আল্লাহ তাআলা বলেন: {অতঃপর সে বলল, আমি কি তোমাদেরকে এমন এক পরিবারের সন্ধান দেব, যারা তোমাদের হয়ে একে লালন-পালন করবে এবং তারা হবে তার শুভাকাঙ্ক্ষী?}
(খণ্ড: ২)
উসুলুদ দাওয়াহ ওয়া তুরুকুহা ২ - জামিয়াতুল মদীনা
(পৃষ্ঠা: ১৫)
قال تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا هَلْ أَدُلُّكُمْ عَلَى تِجَارَةٍ تُنْجِيكُمْ مِنْ عَذَابٍ أَلِيمٍ * تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَتُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ بِأَمْوَالِكُمْ وَأَنْفُسِكُمْ ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ}.
وقد يكون الدّليل ماكِراً خبيثاً يورِد مَن اتّبعوه موارد التّهلكة، كما دلّ الشيطان آدمَ وزوْجَه على الأكل من الشجرة، قال تعالى: {فَدَلاّهُمَا بِغُرُورٍ} وقال: {هَلْ أَدُلُّكَ عَلَى شَجَرَةِ الْخُلْدِ وَمُلْكٍ لَا يَبْلَى}.
فممّا سبق، يتّضح من قوله تعالى: {قُلْ هَذِهِ سَبِيلِي أَدْعُو إِلَى اللَّهِ عَلَى بَصِيرَةٍ أَنَا وَمَنِ اتَّبَعَنِي}: أنّ طريق الدّعوة إلى الله والسبيل الذي يوصل إلى سعادة الداريْن، يقوم على البصيرة التي تعتمد على البراهين النّقليّة من الكتاب والسّنّة، والعقلية التي تعتمد على العقل والفكر، وعلى الحُجج الواضحة، والبيان البليغ، والدليل الواضح، وأنّه لا نجاح للدّعاة إن لم يتمرّسوا على تلك الأساليب التي تَقطع الحُجج، وتُفنِّد المزاعم، وتُظهر الحقائق؛ قال تعالى: {بَلْ هُوَ آيَاتٌ بَيِّنَاتٌ فِي صُدُورِ الَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ وَمَا يَجْحَدُ بِآياتِنَا إِلَاّ الظَّالِمُونَ}.
وقال تعالى: {وَلَقَدْ أَنْزَلْنَا إِلَيْكُمْ آيَاتٍ مُبَيِّنَاتٍ وَمَثَلاً مِنَ الَّذِينَ خَلَوْا مِنْ قَبْلِكُمْ وَمَوْعِظَةً لِلْمُتَّقِينَ}.
أما عن كيفية وصول الدّعاة إلى هذا المستوى الرفيع، فهذا ما سنتاوله في العنصر الثاني.
بيان السُّبل والوسائل التي تُعين الدّعاة على الدّعوة إلى الله على علْم وبصيرةكما سبق أنْ أوضحنا: إنّ الدّعوة إلى الله ليس عملاً مرتجَلاً، أو انفعالاً عاطفياً يفيض بالحماس، ويشتعل وميضُه لحظات ثم ينطفئ ويخمد، وإنّ ساحة الدّعوة في معظم أقطار العالَم الإسلامي تقوم على الارتجال، وردّ الفعل العاطفي الغير مدروس. كما يفتقد ميدان الدعوة إلى الترابط بين مؤسّساته، والتنسيق بين هيئاته؛ فكلّ يعمل في وادٍ بعيد عن الآخر، فضلاً عن ضعف مستوى الأداء. هذا مع ملاحظة تفوّق الأجهزة الإعلامية الأخرى تفوّقاً ظاهراً وملموساً، ونجحت في انتزاع الناس من أحضان المساجد والدّعاة، وألْقت بهم في مستنقَعات الفنّ الهابط والأدب الرخيص.
মহান আল্লাহ বলেন: {হে মুমিনগণ, আমি কি তোমাদের এমন এক ব্যবসার সন্ধান দেব যা তোমাদের যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি থেকে রক্ষা করবে? তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবে এবং তোমাদের ধন-সম্পদ ও জীবন দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করবে। এটিই তোমাদের জন্য কল্যাণকর, যদি তোমরা জানতে।}
আবার পথপ্রদর্শক কখনো ধূর্ত ও নিকৃষ্ট হতে পারে, যে তার অনুসারীদের ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়; যেমন শয়তান আদম ও তাঁর স্ত্রীকে নিষিদ্ধ বৃক্ষ থেকে ভক্ষণ করার পথ দেখিয়েছিল। মহান আল্লাহ বলেন: {অতঃপর সে তাদের প্রবঞ্চনার দ্বারা অধঃপতিত করল।} এবং তিনি বলেন: {আমি কি তোমাকে অনন্তকাল জীবিত থাকার বৃক্ষ ও অক্ষয় রাজত্বের সন্ধান দেব?}
উপরোক্ত আলোচনা থেকে মহান আল্লাহর এই বাণী দ্বারা স্পষ্ট হয় যে: {বলুন, এটিই আমার পথ; আমি ও আমার অনুসারীরা জাগ্রত প্রজ্ঞার ভিত্তিতে আল্লাহর দিকে আহ্বান করি।}: আল্লাহর দিকে দাওয়াতের পথ এবং উভয় জগতের সৌভাগ্য অর্জনের মাধ্যমটি এমন প্রজ্ঞার ওপর প্রতিষ্ঠিত যা কুরআন ও সুন্নাহর বর্ণিত প্রমাণাদি এবং বুদ্ধিবৃত্তিক ও চিন্তাপ্রসূত প্রমাণের ওপর নির্ভরশীল। এছাড়া এটি সুস্পষ্ট যুক্তি, সাবলীল বর্ণনা এবং প্রাঞ্জল প্রমাণের ওপর আধারিত। দায়ীদের সফলতা তখনই সম্ভব, যখন তারা এমন সব পদ্ধতিতে পারদর্শী হবে যা প্রতিপক্ষের যুক্তি খণ্ডন করে, অসার দাবিগুলোকে নাকচ করে এবং সত্যকে উন্মোচিত করে। মহান আল্লাহ বলেন: {বরং যাদের জ্ঞান দান করা হয়েছে, তাদের অন্তরে এটি এক সুস্পষ্ট নিদর্শন। কেবল জালিমরাই আমার নিদর্শনসমূহ অস্বীকার করে।}
মহান আল্লাহ আরও বলেন: {আমি তোমাদের প্রতি অবতীর্ণ করেছি সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী, তোমাদের পূর্ববর্তীদের মধ্য থেকে অতিক্রান্ত লোকদের দৃষ্টান্ত এবং মুত্তাকীদের জন্য উপদেশ।}
দায়ীরা কীভাবে এই সুউচ্চ স্তরে পৌঁছাতে পারেন, সে বিষয়ে আমরা দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে আলোচনা করব।
জ্ঞান ও প্রজ্ঞার ভিত্তিতে আল্লাহর পথে দাওয়াত প্রদানে দায়ীদের সহায়তাকারী পন্থা ও মাধ্যমসমূহের বর্ণনাআমরা যেমনটি পূর্বে স্পষ্ট করেছি: আল্লাহর পথে দাওয়াত কোনো পূর্বপ্রস্তুতিহীন কাজ নয়, কিংবা এটি নিছক আবেগের বহিঃপ্রকাশ নয় যা প্রবল উৎসাহে উদ্বেলিত হয় এবং যার শিখা মুহূর্তের জন্য জ্বলে উঠে আবার নিভে যায়। অথচ মুসলিম বিশ্বের অধিকাংশ অঞ্চলে দাওয়াতের ময়দান মূলত পূর্বপ্রস্তুতিহীনতা এবং অবিবেচনাপ্রসূত আবেগীয় প্রতিক্রিয়ার ওপর দাঁড়িয়ে আছে। তদুপরি, দাওয়াতের ময়দানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পারস্পরিক বন্ধন ও সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব পরিলক্ষিত হয়; ফলে প্রত্যেকেই একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে কাজ করছে। এর সাথে পারফরম্যান্সের দুর্বল মান তো রয়েছেই। এর পাশাপাশি অন্যান্য প্রচারমাধ্যমগুলোর দৃশ্যমান ও লক্ষণীয় শ্রেষ্ঠত্ব পরিলক্ষিত হয়, যা মানুষকে মসজিদ ও দায়ীদের সান্নিধ্য থেকে ছিনিয়ে নিতে সফল হয়েছে এবং তাদের নিম্নমানের শিল্প ও সস্তা সাহিত্যের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করেছে।
(খণ্ড: ২)
উসুলুদ দাওয়াহ ওয়া তুরুকুহা ২ - জামিয়াতুল মদীনা
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وإنّ الدعوة التي على علْم وبصيرة تستوجب الأمور التالية:
أولاً: تحديد الأهداف.
إنّ كل شيء في الكون يسير وفْق غاية مقصودة وهدف منشود، خلَقه الله لذلك.
وإن النظام البديع في الكون هو مرآة تدلّ على أنّ كل شيء فيه له هدف.
والدّاعي إلى الله يجب عليه: أن يُحدِّد الهدف من دعْوته، وتحديد الهدف يدفعه إلى أن يكون مرتّباً في كلامه، منطقياً في حديثه.
وإنّ ما يَحدُث في مضمار الدّعوة الآن، مِن عدم تحديد الأهداف ووضوحها، حيث يَتَشتّت ذهن المستمع في موضوعات شتَّى وفي أمور متنوِّعة، تجْعله ينصرف عن الدّعاة، لأنه لم يجد لديْهم هدفاً مُحدّداً.
ولقد حدّد الله سبحانه وتعالى الهدَف من خلْق الإنسان والجانّ في آية واحدة، قال تعالى: {وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ * مَا أُرِيدُ مِنْهُمْ مِنْ رِزْقٍ وَمَا أُرِيدُ أَنْ يُطْعِمُونِ}.
وحدّد القرآن هدفَ الإنسان في هذا الكون، وأرشد إلى رسالته في الحياة، قال تعالى: {قُلْ إِنَّ صَلاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ * لَا شَرِيكَ لَهُ وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا أَوَّلُ الْمُسْلِمِينَ}.
ولقد حدّد صلى الله عليه وسلم مضمونَ رسالته، والغايةَ منها، منذ أول يوم، حينما وقف على جبل الصفا ينادي أهله وعشيرته قائلا: ((إنّ الرائد لا يَكذب أهلَه. والله الذي لا إله إلاّ هو! إنِّي رسولُ الله إليكم خاصّة، وإلى الناس عامّة. والله لتموتُنّ كما تنامون، ولتُبعثُنّ كما تستيقظون، ولتحاسَبُنّ بما تعملون. وإنها لجنّة أبداً أو النار أبداً)).
নিশ্চয়ই জ্ঞান ও প্রজ্ঞার ভিত্তিতে যে দাওয়াত, তা নিম্নোক্ত বিষয়সমূহকে আবশ্যক করে তোলে:
প্রথমত: লক্ষ্য নির্ধারণ।
মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তু একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য ও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অনুযায়ী পরিচালিত হয়, যার জন্য আল্লাহ তাআলা তা সৃষ্টি করেছেন।
মহাবিশ্বের এই চমৎকার শৃঙ্খলা একটি দর্পণস্বরূপ, যা নির্দেশ করে যে এখানকার প্রতিটি জিনিসেরই একটি লক্ষ্য রয়েছে।
আল্লাহর পথে আহ্বানকারীর জন্য আবশ্যক হলো: তার দাওয়াতের লক্ষ্য নির্ধারণ করা; আর লক্ষ্য নির্ধারণ তাকে তার বক্তব্যে সুশৃঙ্খল এবং কথায় যৌক্তিক হতে উদ্বুদ্ধ করে।
বর্তমানে দাওয়াতের ময়দানে লক্ষ্য নির্ধারণের অভাব ও অস্পষ্টতার কারণে যা ঘটছে—যেখানে শ্রোতার মন বিভিন্ন বিষয় ও বিচিত্র ঘটনায় বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়ে—তা তাকে দাওয়াতদানকারীদের থেকে বিমুখ করে দেয়, কারণ সে তাদের কাছে কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য খুঁজে পায় না।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা মানুষ ও জিন সৃষ্টির লক্ষ্য একটি আয়াতেই নির্ধারণ করে দিয়েছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {আর আমি জিন ও মানুষকে কেবল আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি। আমি তাদের কাছে কোনো জীবিকা চাই না এবং তারা আমাকে আহার করাবে—এমনটাও চাই না।}
কুরআন এই মহাবিশ্বে মানুষের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে এবং জীবনে তার মিশনের প্রতি দিকনির্দেশনা প্রদান করেছে। মহান আল্লাহ বলেন: {বলুন, নিশ্চয়ই আমার সালাত, আমার কুরবানি, আমার জীবন ও আমার মরণ জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহরই জন্য। তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমি এরই জন্য আদিষ্ট হয়েছি, আর আমিই প্রথম মুসলিম।}
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথম দিন থেকেই তাঁর রিসালাতের বিষয়বস্তু ও উদ্দেশ্য নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন, যখন তিনি সাফা পাহাড়ের ওপর দাঁড়িয়ে তাঁর পরিবার ও গোত্রকে ডেকে বলেছিলেন: "নিশ্চয়ই পথপ্রদর্শক তার স্বজনদের সাথে মিথ্যা বলে না। আল্লাহর কসম, যিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই! আমি বিশেষভাবে তোমাদের প্রতি এবং সাধারণভাবে সমস্ত মানুষের প্রতি আল্লাহর রাসুল। আল্লাহর কসম, তোমরা অবশ্যই মৃত্যুবরণ করবে যেমন তোমরা ঘুমাও, আর অবশ্যই পুনরুত্থিত হবে যেমন তোমরা জাগ্রত হও, এবং অবশ্যই তোমাদের কর্মের হিসাব নেওয়া হবে। আর তা হবে চিরস্থায়ী জান্নাত অথবা চিরস্থায়ী জাহান্নাম।"
(খণ্ড: ২)
উসুলুদ দাওয়াহ ওয়া তুরুকুহা ২ - জামিয়াতুল মদীনা
(পৃষ্ঠা: ১৭)
ثانيا: تنظيم الأهداف.
لكي تكون الدّعوة إلى الله على هدىً وبصيرة، فينبغي تنظيم العمل الإسلامي وتحديد أولويّاته، وأن ينظر الدّعاة فيمن حولهم ويتساءلون: ما الذي يجب أن يَبدؤوا به معهم؟ وما هي الجُرعات المناسبة في الوعظ والإرشاد التي ينبغي أن تُقدَّم؟ وأن يعقب ذلك دراسة واعية للظروف الاجتماعية، والاتّجاهات المضادّة للأمر بالمعروف والنّهي عن المنكر، ومدى مواجهتها؟ وبأيّ درجة من درجات التغيير التي حدّدها -صلى الله لعيه وسلم- يبدأ بها؟
إن استباق بعض المراحل، وتقديم البعض على البعض دون ترتيب وتنظيم، يُخلّ بالعمل الإسلامي.
وحينما ينظر الدّعاة والدارسون لتطوّر مراحل الدّعوة، نجد أنها مرّت بالمراحل التالية:
المرحلة الأولى: من بدْء الوحْي في غار حراء حتى قوله تعالى: {وَأَنْذِرْ عَشِيرَتَكَ الْأَقْرَبِينَ وَاخْفِضْ جَنَاحَكَ لِمَنِ اتَّبَعَكَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ فَإِنْ عَصَوْكَ فَقُلْ إِنِّي بَرِيءٌ مِمَّا تَعْمَلُون}.
وفي هذه المرحلة كانت الدعوة إلى الإسلام تنتشر بهدوء، لا تلتفت لها الأنظار، واقتصرت على مُحيط الزوجة السيدة خديجة رضي الله عنها، وبعض أبناء عمومته كعليّ رضي الله عنه، وعدد من أصدقائه المقرَّبين وفي مقدّمتهم أبو بكر الصديق رضي الله عنه. كما انتشر نور الإسلام إلى قلوب بعض المستضعَفين في مكة، كبلال، وعمّار بن ياسر، ووالده، ووالدته، وعبد الله بن مسعود. وانتحى الرسول صلى الله عليه وسلم ناحية بعيدة عن أنظار القوم من دار الأرقم بن أبي الأرقم، يُعلِّم أتباعه. واستمرّت هذه الفترة زهاء ثلاث سنوات.
المرحلة الثانية: تبدأ من لحظة وقوفه صلى الله عليه وسلم على الصفا، يُعلنها صريحة بعدما أمَره الله بذلك، قال تعالى: {فَاصْدَعْ بِمَا تُؤْمَرُ وَأَعْرِضْ عَنِ الْمُشْرِكِينَ}.
দ্বিতীয়ত: লক্ষ্যসমূহ বিন্যস্ত করা।
আল্লাহর পথে দাওয়াহ যেন হিদায়াত ও প্রজ্ঞার ভিত্তিতে হয়, সেজন্য ইসলামি কর্মকাণ্ড সুসংগঠিত করা এবং এর অগ্রাধিকারসমূহ নির্ধারণ করা আবশ্যক। দাঈদের উচিত তাদের চারপাশের মানুষের প্রতি লক্ষ রাখা এবং নিজেদের জিজ্ঞেস করা: তাদের সাথে কোন বিষয়টি দিয়ে শুরু করা উচিত? নসিহত ও নির্দেশনার কোন উপযুক্ত মাত্রাগুলো প্রদান করা প্রয়োজন? এর পাশাপাশি সামাজিক পরিস্থিতি এবং সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের পরিপন্থী প্রবণতাসমূহ এবং সেগুলো মোকাবিলার সক্ষমতা সম্পর্কে সচেতনভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। এছাড়া পরিবর্তনের যে স্তরগুলো রাসূলুল্লাহ (সা.) নির্ধারণ করে দিয়েছেন, তার কোন স্তর দিয়ে শুরু করতে হবে?
কোনো পর্যায়কে সময়ের আগে নিয়ে আসা এবং বিন্যাস ও সুশৃঙ্খলতা ছাড়া কোনোটিকে অন্যটির ওপর অগ্রাধিকার দেওয়া ইসলামি কাজের শৃঙ্খলা বিনষ্ট করে।
দাঈ ও গবেষকগণ যখন দাওয়াহর পর্যায়ক্রমিক বিবর্তনের দিকে দৃষ্টিপাত করেন, তখন দেখা যায় যে এটি নিম্নোক্ত পর্যায়গুলো অতিক্রম করেছে:
প্রথম পর্যায়: হেরা গুহায় ওহি শুরুর সময় থেকে মহান আল্লাহর এই বাণী অবতীর্ণ হওয়া পর্যন্ত: "আপনি আপনার নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করুন। আর যারা আপনার অনুসরণকারী মুমিন, তাদের প্রতি বিনয়ী হোন। যদি তারা আপনার অবাধ্যতা করে, তবে বলে দিন, তোমরা যা করছ তা থেকে আমি মুক্ত।"
এই পর্যায়ে ইসলামের দাওয়াহ অত্যন্ত নিরবে ও সংগোপনে প্রচারিত হচ্ছিল, যা মানুষের দৃষ্টিগোচর হয়নি। এটি মূলত তাঁর স্ত্রী খাদিজাহ (রা.)-এর পরিমণ্ডল, তাঁর চাচাতো ভাইদের মধ্যে আলী (রা.) এবং তাঁর কতিপয় ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের মাঝে সীমাবদ্ধ ছিল, যাদের অগ্রভাগে ছিলেন আবু বকর সিদ্দিক (রা.)। একইভাবে ইসলামের নূর মক্কার কতিপয় দুর্বল ও অসহায় ব্যক্তিবর্গের হৃদয়েও পৌঁছে গিয়েছিল, যেমন বেলাল, আম্মার ইবনে ইয়াসির, তাঁর পিতা ও মাতা এবং আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ। রাসূলুল্লাহ (সা.) লোকচক্ষুর অন্তরালে দারুল আরকাম ইবনে আবিল আরকামে একটি নির্জন স্থানে অবস্থান নিয়ে অনুসারীদের শিক্ষা দিতেন। এই সময়কাল প্রায় তিন বছর স্থায়ী ছিল।
দ্বিতীয় পর্যায়: এটি শুরু হয় সাফা পাহাড়ে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর দাঁড়ানোর মুহূর্ত থেকে, যখন তিনি আল্লাহর নির্দেশে প্রকাশ্যে দাওয়াহর ঘোষণা দেন। মহান আল্লাহ বলেন: "অতএব আপনি যে বিষয়ে আদিষ্ট হয়েছেন তা প্রকাশ্যে প্রচার করুন এবং মুশরিকদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিন।"
(খণ্ড: ২)
উসুলুদ দাওয়াহ ওয়া তুরুকুহা ২ - জামিয়াতুল মদীনা
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وهذه المرحلة من أخطر مراحل الدّعوة إذ تمّت المواجهة بين الدِّين الجديد ومعتقَدات الآباء والأجداد.
وتجلّت في هذه الفترة شجاعة الرسول صلى الله عليه وسلم، وصبر أصحابه على الأذى، ورفْض المساومة على الدّعوة، وتحمّل المقاطعة الاقتصادية والاجتماعية في شِعب أبي طالب، حتى أكلوا أوراق الشجر. وتخلّل هذه المرحلة هجرة بعض المسلمين إلى الحبشة، وخروج الرسول صلى الله عليه وسلم إلى الطائف.
المرحلة الثالثة: تبدأ من الإسراء والمعراج، حتى الإعداد للهجرة والخروج من مكة المكّرمة إلى المدينة المنورة.
ولقد اتّسمت تلك المرحلة بانتشار الإسلام بين أهل يثرب -الأوس والخزرج-، وبَيْعتَي العقبة الأولى والثانية، وما تمّ فيهما من عهود ومواثيق بين الرسول صلى الله عليه وسلم وأصحابه.
ولقد كانت أحداث الهجرة ووقائعها صورةً رائعة للإعداد الجيِّد، والتنظيم الدقيق المتقن الذي يأخذ بكلّ الأسباب، ثم يترك الأمور لله يُصرِّفها كيف يشاء.
المرحلة الرابعة: تبدأ من الهجرة وتأسيس المجتمع المسلم على ثلاث قواعد، وهي:
1 - علاقة المسلم بخالِقه، وذلك من خلال بناء مسجد قباء، ومسجد الرسول صلى الله عليه وسلم في المدينة.
2 - توثيق العلاقة بين المهاجرين والأنصار بالمؤاخاة بينهم.
3 - تأسيس العلاقة بين المسلمين وأهل الكتاب، من خلال عقد معاهدة بين المسلمين واليهود ونصارى نجران.
দাওয়াতের এই পর্যায়টি ছিল অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ ধাপ, কারণ এই সময়ে নতুন দ্বীন এবং পিতৃ-পুরুষদের বিশ্বাসের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়।
এই সময়কালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহসিকতা এবং তাঁর সাহাবী (أصحابه)-দের ওপর আসা নির্যাতনের মুখে তাঁদের ধৈর্য পরিস্ফুট হয়েছিল। তাঁরা দাওয়াতের প্রশ্নে কোনো প্রকার আপস করতে অস্বীকার করেন এবং শি‘আবে আবু তালিবে অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবরোধ সহ্য করেন, এমনকি তাঁরা গাছের পাতাও খেয়েছিলেন। এই পর্যায়ের মাঝখানে কিছু মুসলমানের আবিসিনিয়ায় হিজরত এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর তায়েফ যাত্রা সংঘটিত হয়।
তৃতীয় পর্যায়: ইসরা ও মিরাজ থেকে শুরু হয়ে হিজরতের প্রস্তুতি এবং মক্কা মুকাররমা থেকে মদিনা মুনাওয়ারায় যাত্রা পর্যন্ত।
এই পর্যায়টি ইয়াসরিববাসী—আউস ও খাযরাজ গোত্রের—মাঝে ইসলামের প্রচার এবং প্রথম ও দ্বিতীয় বায়আতে আকাবা ও তাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবী (أصحابه)-দের মাঝে সম্পাদিত অঙ্গীকার ও চুক্তিসমূহ দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ছিল।
হিজরতের ঘটনাবলি ছিল উত্তম প্রস্তুতি এবং নিখুঁত ও সুনিপুণ পরিকল্পনার এক চমৎকার দৃষ্টান্ত, যেখানে দৃশ্যমান সকল জাগতিক উপায়-উপকরণ গ্রহণ করা হয়েছিল এবং অতঃপর সকল বিষয় আল্লাহর ওপর ন্যস্ত করা হয়েছিল যেন তিনি যেভাবে ইচ্ছা তা পরিচালনা করেন।
চতুর্থ পর্যায়: হিজরত এবং তিনটি মূল ভিত্তির ওপর মুসলিম সমাজ প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু হয়, যা হলো:
১ - স্রষ্টার সাথে মুসলমানের সম্পর্ক, যা কুবা মসজিদ এবং মদিনায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মসজিদ নির্মাণের মাধ্যমে গড়ে ওঠে।
২ - মুহাজির ও আনসারদের মাঝে ভ্রাতৃত্ব স্থাপনের মাধ্যমে পারস্পরিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করা।
৩ - মুসলমান এবং আহলে কিতাবদের মাঝে সম্পর্ক স্থাপন করা, যা মুসলমান ও ইহুদি এবং নাজরানের খ্রিষ্টানদের মধ্যে চুক্তি সম্পাদনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।
(খণ্ড: ২)
উসুলুদ দাওয়াহ ওয়া তুরুকুহা ২ - জামিয়াতুল মদীনা
(পৃষ্ঠা: ১৯)
المرحلة الخامسة: وتبدأ من لحظة إعداد المسلمين للدّفاع عن الدّعوة، والانتقال بهم من مرحلة الصبر والصفح والعفو حتى عن المسيء، إلى مرحلة الاستعداد للدِّفاع عن الإسلام وردع العدوان وكسْر شوكة الكافرين.
واتّسمت تلك المرحلة -والتي استمرت ثماني سنوات- بالعديد من المعارك، كان من أهمِّها: بدر، وأحُد، والخندق.
وكانت سرايا الاستطلاع تجوب الجزيرة العربية، وترقب تحرّكات المشركين. واستمرت هذه المرحلة حتى فتح مكة في العام الثامن من الهجرة.
المرحلة السادسة: تبدأ من بعد فتح مكة وحتى انتقال الرسول صلى الله عليه وسلم إلى الرفيق الأعلى.
وفي هذه المرحلة، توالت التشريعات لبناء الدّولة الإسلامية من خلال ما جاء في القرآن الكريم وسُنّة الرسول صلى الله عليه وسلم القوليّة والفعليّة. وغدا الإسلام قوّة دانت له الجزيرة العربية، وصالحَتْه أطرافُها. وأرسل الرسول صلى الله عليه وسلم الرّسُل إلى الملوك والأمراء، وعلى رأسهم كسرى ملِك الفُرس، وهرقْل إمبراطور الروم، والمقوقس عظيم القبط في مصر.
وبدأ الإسلام يمدّ أذرعته خارج الجزيرة العربية.
هذه المراحل تُنبئ عن تنظيم الأهداف وترتيبها، في إعداد مرتبط بوحي السماء، وحِكمة خير الأنبياء.
وحينما نضع هذه المراحل بين أيْدي الدّارسين والدّعاة، إنما نهدف من ذلك: أن نُلفت الأذهان والعقول إلى أنّ الدعوة إلى الله على بصيرة توجِب الإعداد الجيِّد، والعمل المنظّم، كما تعمل الأمّة بكلّ مؤسّساتها التربوية والثقافية والتعليمية والإعلامية على إعداد رعيل من الدّعاة يفقهون دين الله، وعلى علم وبصيرة
পঞ্চম পর্যায়: এটি শুরু হয় দাওয়াত রক্ষার জন্য মুসলমানদের প্রস্তুত করার মুহূর্ত থেকে, এবং তাদের ধৈর্য, ক্ষমা ও মার্জনা (এমনকি অপকারীর প্রতিও) প্রদর্শনের পর্যায় থেকে ইসলামের প্রতিরক্ষায় প্রস্তুতি গ্রহণ, আগ্রাসন প্রতিরোধ এবং কাফেরদের শক্তি চূর্ণ করার পর্যায়ে রূপান্তরের মাধ্যমে।
এই পর্যায়টি—যা আট বছর স্থায়ী ছিল—বহু যুদ্ধের মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ছিল, যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল: বদর, ওহুদ এবং খন্দক।
অনুসন্ধানকারী দলগুলো আরব উপদ্বীপজুড়ে টহল দিত এবং মুশরিকদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করত। এই পর্যায়টি অষ্টম হিজরি সালে মক্কা বিজয় পর্যন্ত অব্যাহত ছিল।
ষষ্ঠ পর্যায়: এটি মক্কা বিজয়ের পর থেকে শুরু করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মহান বন্ধুর (الرفيق الأعلى) সান্নিধ্যে প্রস্থান পর্যন্ত বিস্তৃত।
এই পর্যায়ে, পবিত্র কুরআন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মৌখিক (قولية) ও কর্মগত (فعليّة) সুন্নাহর মাধ্যমে ইসলামি রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে একের পর এক বিধান আসতে থাকে। ইসলাম এমন এক শক্তিতে পরিণত হয় যার কাছে সমগ্র আরব উপদ্বীপ নতিস্বীকার করে এবং এর প্রান্তিক অঞ্চলগুলো তার সাথে সন্ধি স্থাপন করে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিভিন্ন রাজা ও আমীরদের কাছে দূত প্রেরণ করেন, যাদের শীর্ষে ছিলেন পারস্য সম্রাট কিসরা, রোমান সম্রাট হিরাক্লিয়াস এবং মিশরের কিবতি প্রধান মুকাওকিস।
ইসলাম আরব উপদ্বীপের বাইরেও তার প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করে।
এই পর্যায়গুলো লক্ষ্যসমূহের বিন্যাস ও সুশৃঙ্খল বিন্যাসের ইঙ্গিত দেয়, যা আসমানি ওহী এবং সর্বশ্রেষ্ঠ নবীর প্রজ্ঞার সাথে সংশ্লিষ্ট এক প্রস্তুতির প্রতিফলন।
যখন আমরা এই পর্যায়গুলো গবেষক ও দাঈদের সামনে উপস্থাপন করি, তখন আমাদের উদ্দেশ্য হলো: এটি স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেওয়া যে, দূরদর্শিতার সাথে আল্লাহর পথে দাওয়াতের জন্য উত্তম প্রস্তুতি ও সুশৃঙ্খল কর্মপদ্ধতি অপরিহার্য। একইভাবে উম্মাহর সকল শিক্ষামূলক, সাংস্কৃতিক, তালীমি ও প্রচারমূলক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব হলো এমন একদল দাঈ গড়ে তোলা যারা আল্লাহর দ্বীন গভীরভাবে বুঝেন এবং ইলম ও দূরদৃষ্টির অধিকারী।
(খণ্ড: ২)
উসুলুদ দাওয়াহ ওয়া তুরুকুহা ২ - জামিয়াতুল মদীনা
(পৃষ্ঠা: ২০)
بأمور الدّعوة إلى الله، وأن تكون لديهم الكفاءة العلمية والخبرة بأحوال الناس وبقضاياهم؛ قال تعالى: {قَدْ جَاءَكُمْ بَصَائِرُ مِنْ رَبِّكُمْ فَمَنْ أَبْصَرَ فَلِنَفْسِهِ وَمَنْ عَمِيَ فَعَلَيْهَا وَمَا أَنَا عَلَيْكُمْ بِحَفِيظٍ}.
وقال تعالى: {هَذَا بَصَائِرُ لِلنَّاسِ وَهُدىً وَرَحْمَةٌ لِقَوْمٍ يُوقِنُونَ}.
هذا، وبالله التوفيق.
والسلام عليكم ورحمة الله وبركاته.
2 - من أخلاق الدّعاة إلى الله
تعريف "الصّبر" في اللغة والاصطلاحالحمد لله رب العالمين، بَشّر الصابرين بالفوز والنجاة يوم الدِّين، والصلاة والسلام على خاتم المرسلين وإمام الدّاعين والمرسلين، ورحمة الله للناس أجمعين. أما بعد:
الصّبر:
1 - "الصّبْر" في اللغة: حَبْس النفْس عن الجزَع.
والتصبّر: تكلّف الصّبر.
وقيل: أصل الكلمة: من الشّدّة والقوّة. وقيل: مأخوذ من: الجمْع والضّمّ؛ فالصابر يجمع نفسه ويضمّها عن الهلع والجزع.
قال ابن القيم رحمه الله:
والتحقيق: أنّ في الصبر المعاني الثلاثة: المَنْع، والشّدة، والضّم.
2 - و"الصّبر" بالمعنى الاصطلاحي هو: قوّة خُلُقية من قوى الإرادة الإنسانية، تُمكِّن الإنسان من ضبط نفسه لتَحمّل المتاعب والمشاقّ والآلام، وضبْطها عن الاندفاع بعوامل الضّجر والجزع، والسّأم والمَلل، والعجلة والرّعونة، والغضب والطيش، والخوف والطمع، والأهواء والشهوات والغرائز".
وقال الإمام أبو حامد الغزالي: "الصّبر: عبارة عن ثبات باعث الدِّين في مقاومة باعث الهوى".
আল্লাহর পথে দাওয়াতের বিষয়সমূহ এবং তাদের যেন ইলমি যোগ্যতা ও মানুষের অবস্থা ও সমস্যাবলি সম্পর্কে অভিজ্ঞতা থাকে; মহান আল্লাহ বলেন: {তোমাদের রবের পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে চাক্ষুষ প্রমাণাদি এসেছে। অতএব যে দেখবে সে নিজেরই কল্যাণ করবে, আর যে অন্ধ থাকবে তার দায়ভার তার ওপরই বর্তাবে। আর আমি তোমাদের ওপর কোনো রক্ষণাবেক্ষণকারী নই}।
মহান আল্লাহ আরও বলেন: {এটি মানুষের জন্য চাক্ষুষ প্রমাণ এবং নিশ্চিত বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য পথনির্দেশ ও রহমত}।
এতটুকুই, আর আল্লাহর তাওফিকের মাধ্যমেই সুসম্পন্ন হয়।
আপনাদের ওপর শান্তি, আল্লাহর রহমত ও তাঁর বরকত বর্ষিত হোক।
২ - আল্লাহর দিকে আহ্বানকারীদের চরিত্রসমূহ
অভিধান ও পারিভাষিক (اصطلاح) সংজ্ঞায় "ধৈর্য"-এর পরিচয়সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, যিনি ধৈর্যশীলদের বিচার দিবসে বিজয় ও মুক্তির সুসংবাদ দিয়েছেন। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক সর্বশেষ রাসূল, দাঈ ও রাসূলদের ইমাম এবং সমগ্র সৃষ্টিজগতের জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরিত (মুহাম্মাদ সা.)-এর ওপর। অতঃপর:
ধৈর্য:
১ - অভিধানে "ধৈর্য" (الصبر) এর অর্থ হলো: অস্থিরতা থেকে নফসকে বা নিজেকে বিরত রাখা।
তাসাব্বুর (التصبر): ধৈর্য ধারণের চেষ্টা করা।
বলা হয়েছে: শব্দটির মূল উৎস হচ্ছে কঠোরতা ও শক্তি থেকে। আরও বলা হয়েছে: এটি সংকলন ও একত্রীকরণ থেকে গৃহীত; কেননা ধৈর্যশীল ব্যক্তি নিজেকে ব্যাকুলতা ও অস্থিরতা থেকে সংহত ও সংবরণ করে রাখে।
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:
প্রকৃত বিশ্লেষণ হলো: ধৈর্যের মধ্যে তিনটি অর্থই বিদ্যমান: বিরত রাখা, কঠোরতা এবং সংহত করা।
২ - আর পারিভাষিক (اصطلاحي) অর্থে "ধৈর্য" হলো: মানুষের ইচ্ছাশক্তির এমন এক নৈতিক শক্তি, যা মানুষকে বিভিন্ন কষ্ট, শ্রম ও বেদনা সহ্য করতে আত্মনিয়ন্ত্রণে সক্ষম করে এবং বিরক্তি, অস্থিরতা, অবসাদ, একঘেয়েমি, তাড়াহুড়ো, অবিবেচনা, রাগ, চপলতা, ভয়, লোভ এবং কুপ্রবৃত্তি ও লালসার তাড়না থেকে নিজেকে বিরত রাখতে সাহায্য করে।
ইমাম আবু হামিদ আল-গাজালি বলেন: "ধৈর্য হলো প্রবৃত্তির তাড়নাকে প্রতিহত করার ক্ষেত্রে দ্বীনি প্রেরণার ওপর অটল থাকা।"
(খণ্ড: ২)
উসুলুদ দাওয়াহ ওয়া তুরুকুহা ২ - জামিয়াতুল মদীনা
(পৃষ্ঠা: ২১)
3 - فائدة الصّبْر:
الصّبر يخلق في الإنسان تريّث العقل، فلا يندفع ويتسرّع في الحُكم على الأشياء. ويُؤدِّي إلى اطمئنان القلب، فلا يتزلزل في مواطن الشّدّة، ولا يجزع عند البلاء. ويُضفي على النفْس الصفاء والهدوء والثبات، فلا يُعكِّر صفْوَها كدرُ الحياة ومتاعب الدنيا. ويولِّد الأمل والرّجاء والتفاؤل وانشراح الصدر وثبات الجأش. الصبر يدفع الإنسان لوضع الأمور في مواضعها بعقل واتّزان، يأخذها بحكمة وثاقب نظَر، وسداد رأي، وتبصرة بالعواقب، وتحسب للنتائج.
4 - نتائج فقدان خُلُق الصبر:
الإنسان الذي تخلو أخلاقه من فضيلة الصبر يتّسم بالتّسرّع والاندفاع، ممّا يُؤدِّي به إلى التهلكة، بسبب اتخاذه لقرارات رعناء، ومواقف متعجِّلة غير مدروسة، ممّا يُؤدِّي لليأس والقنوط، والتحيّر، والعجز عند مواجهة الشدائد. كما أنّ الشخص الذي يفتقد خُلُق الصبر يعيش في توتّر عصبي وقلق نفسي، حينما يواجه خبراً أو موقفاً طارئاً؛ فهو سريع الانفعال، شديد الغضب، يتّسم بالتضجّر وعدم التّحمّل، ممّا يحمل بين ثناياه آثاراً ونتائج غير محمودة العواقب.
مجالات الصّبر وميادينهللصبر مجالات كثيرة في ميادين الحياة التي تتطلّبه؛ ومن ذلك:
أولاً: ضبط النفْس وحبْسها عن الضيق والحزن عند حلول المصائب، كموت عزيز، وفقدان مال، أو ضياع متاع، أو مرض عضال، أو تعطل حاسّة من الحواسّ.
قال تعالى: {وَلَنَبْلُوَنَّكُمْ بِشَيْءٍ مِنَ الْخَوْفِ وَالْجُوعِ وَنَقْصٍ مِنَ الأَمْوَالِ وَالْأَنْفُسِ وَالثَّمَرَاتِ وَبَشِّرِ الصَّابِرِينَ الَّذِينَ إِذَا أَصَابَتْهُمْ مُصِيبَةٌ قَالُوا إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ
৩ - ধৈর্যের উপকারিতা:
ধৈর্য মানুষের মধ্যে বুদ্ধিবৃত্তিক ধীরস্থিরতা সৃষ্টি করে, ফলে সে কোনো বিষয়ে বিচার করার ক্ষেত্রে হঠকারিতা বা তাড়াহুড়ো করে না। এটি হৃদয়ের প্রশান্তি বয়ে আনে, ফলে কঠিন সময়ে মানুষ বিচলিত হয় না এবং বিপদে ধৈর্যহারা হয় না। এটি আত্মাকে নির্মলতা, প্রশান্তি ও দৃঢ়তা দান করে, ফলে জীবনের পঙ্কিলতা ও দুনিয়ার কষ্টসমূহ এর স্বচ্ছতাকে কলুষিত করতে পারে না। এটি আশা, আকাঙ্ক্ষা, ইতিবাচকতা, মনের প্রশস্ততা ও অটল সাহস তৈরি করে। ধৈর্য মানুষকে ভারসাম্য ও বুদ্ধিমত্তার সাথে বিষয়গুলোকে সঠিক স্থানে বিন্যস্ত করতে উদ্বুদ্ধ করে; সে প্রজ্ঞা, তীক্ষ্ণ দৃষ্টি, সঠিক সিদ্ধান্ত, পরিণামদর্শিতা এবং ফলাফলের হিসাব-নিকাশের মাধ্যমে বিষয়গুলো গ্রহণ করে।
৪ - ধৈর্য গুণটি হারানোর ফলাফল:
যে ব্যক্তির চরিত্রে ধৈর্যের মহৎ গুণটি নেই, সে তাড়াহুড়ো ও হঠকারিতার বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়, যা তাকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়। এর কারণ হলো হঠকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং অপরিকল্পিত ও দ্রুত অবস্থান গ্রহণ, যা বিপদের সময় হতাশা, নিরাশা, কিংকর্তব্যবিমূঢ়তা ও অক্ষমতার দিকে ধাবিত করে। তদ্রূপ ধৈর্যহীন ব্যক্তি কোনো সংবাদ বা আকস্মিক পরিস্থিতির সম্মুখীন হলে স্নায়বিক উত্তেজনা ও মানসিক উদ্বেগের মধ্যে থাকে; সে দ্রুত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ে, প্রচণ্ড রাগান্বিত হয় এবং তার মধ্যে বিরক্তি ও অসহিষ্ণুতা প্রকাশ পায়, যার ফলে অশুভ পরিণাম ও মন্দ ফলাফল বয়ে আনে।
ধৈর্যের ক্ষেত্র ও পরিধিজীবনের এমন অনেক ক্ষেত্র রয়েছে যেখানে ধৈর্যের প্রয়োজন হয়; তার মধ্যে রয়েছে:
প্রথমত: বিপদের সময় নিজের নফসকে নিয়ন্ত্রণ করা এবং সংকীর্ণতা ও দুঃখ থেকে বিরত রাখা। যেমন: প্রিয়জনের মৃত্যু, ধন-সম্পদ হারানো, আসবাবপত্র নষ্ট হওয়া, দুরারোগ্য ব্যাধি বা কোনো ইন্দ্রিয় অকেজো হয়ে যাওয়া।
আল্লাহ তাআলা বলেন: {আমি অবশ্যই তোমাদেরকে ভয়, ক্ষুধা এবং ধন-সম্পদ, জীবন ও ফসলের ক্ষয়ক্ষতি দ্বারা পরীক্ষা করব; আর আপনি সুসংবাদ দিন ধৈর্যশীলদের, যারা তাদের ওপর কোনো বিপদ আপতিত হলে বলে, নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর এবং আমরা তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তনকারী...}
(খণ্ড: ২)
উসুলুদ দাওয়াহ ওয়া তুরুকুহা ২ - জামিয়াতুল মদীনা
(পৃষ্ঠা: ২২)
رَاجِعُونَ أُولَئِكَ عَلَيْهِمْ صَلَوَاتٌ مِنْ رَبِّهِمْ وَرَحْمَةٌ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُهْتَدُونَ}.
ومن وصايا لقمان لابنه: ما جاء في قوله تعالى: {وَاصْبِرْ عَلَى مَا أَصَابَكَ إِنَّ ذَلِكَ مِنْ عَزْمِ الْأُمُورِ}.
وعن أبي هريرة -رضي الله تعالى عنه-، أنّ رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((يقول الله تعالى: ما لِعبدي المؤمن عندي إذا قبضتُ صَفيَّه من أهل الدنيا، ثم احتسَبه، فهو من أهل الجنة))، رواه البخاري.
وعن أنس رضي الله تعالى عنه، قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: ((إنّ الله عز وجل قال: إذا ابتلَيْتُ عبدي بحبيبَتيْه فصبر، عوّضْتُه منهما الجنّة))، يريد: عيْنيْه. رواه البخاري.
ومن نتائج الصبر على المصائب أمران:
الأول: تكفير الخطايا والسّيِّئات.
وهذا رحمة من الله بتعجيل العقوبة على الذنوب في الدنيا.
فعن أبي سعيد وأبي هريرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((ما يُصيب المسلمَ من نَصَبٍ، ولا وصَبٍ، ولا همٍّ، ولا حزنٍ، ولا أذىً، ولا غمّ، حتى الشوكة يُشاكُها، إلاّ كفّر الله بها من خطاياه))، رواه الشيخان.
وعن أبي هريرة رضي الله عنه، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((ما يزال البلاءُ بالمؤمن والمؤمنة، في نفْسِه وولدِه ومالِه، حتى يَلقى الله تعالى وما عليه خطيئة))، رواه الترمذي وقال: "حديث حسن صحيح".
الأمر الثاني: منْح الأجْر على الصّبر.
وهذا الأجر يتضاعف ويتكاثر كلّما كان الصبر أجمل وأشمل، والجزع أقلّ وأضعف. فمن الثواب، ولا سيما إذا ارتبط الصبر بحُسن العبادة والطاعة: سلام
প্রত্যাবর্তনকারী। তাদের প্রতিই তাদের রবের পক্ষ থেকে বিশেষ অনুগ্রহ ও রহমত বর্ষিত হয় এবং তারাই হেদায়াতপ্রাপ্ত।}
আর লোকমান কর্তৃক তার পুত্রকে প্রদত্ত উপদেশসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো মহান আল্লাহর এই বাণী: {তোমার ওপর যে বিপদ আপতিত হয় তাতে ধৈর্য ধারণ করো; নিশ্চয়ই এটি দৃঢ় সংকল্পের কাজ}।
আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ((মহান আল্লাহ বলেন: আমি যখন আমার দুনিয়াবাসী মুমিন বান্দার কোনো প্রিয়জনকে কবজ করি, আর সে সওয়াবের আশায় ধৈর্য ধারণ করে, তবে আমার নিকট তার বিনিময় হলো জান্নাত)), বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন।
আনাস (রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: ((নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ বলেছেন: আমি যখন আমার বান্দাকে তার দুটি প্রিয় বস্তুর দ্বারা পরীক্ষায় ফেলি এবং সে ধৈর্য ধারণ করে, তবে তার বিনিময়ে আমি তাকে জান্নাত দান করি)), এখানে উদ্দেশ্য হলো: তার দুই চোখ। বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন।
বিপদে ধৈর্য ধারণের দুটি ফলাফল রয়েছে:
প্রথমটি: গুনাহ ও পাপরাশি মোচন হওয়া।
আর এটি দুনিয়াতেই গুনাহের শাস্তি দ্রুত প্রদানের মাধ্যমে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বিশেষ রহমত।
আবু সাঈদ ও আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ((মুসলিম ব্যক্তির ওপর যে কোনো ক্লান্তি, রোগ, দুশ্চিন্তা, শোক, কষ্ট কিংবা মনস্তাপ আসুক না কেন, এমনকি তার শরীরে কোনো কাঁটা ফুটলেও আল্লাহ তার বিনিময়ে তার পাপরাশি মোচন করে দেন)), শায়খান (বুখারি ও মুসলিম) এটি বর্ণনা করেছেন।
আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ((মুমিন নর-নারীর ওপর তাদের জান, মাল ও সন্তানের ক্ষেত্রে বিপদ-আপদ আসতেই থাকে, যতক্ষণ না তারা মহান আল্লাহর সাথে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ করে যে তাদের ওপর কোনো গুনাহ থাকে না)), তিরমিজি এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: "হাদিসটি হাসান (حسن) সহিহ (صحيح)"।
দ্বিতীয় বিষয়টি: ধৈর্যের জন্য প্রতিদান দান।
আর এই প্রতিদান বহুগুণে বৃদ্ধি পায় যখন ধৈর্য হয় সুন্দর ও পূর্ণাঙ্গ এবং অস্থিরতা হয় যৎসামান্য ও দুর্বল। সুতরাং সওয়াবের অন্তর্ভুক্ত হলো—বিশেষ করে যখন ধৈর্য উত্তম ইবাদত ও আনুগত্যের সাথে সম্পৃক্ত হয়—শান্তি
(খণ্ড: ২)
উসুলুদ দাওয়াহ ওয়া তুরুকুহা ২ - জামিয়াতুল মদীনা
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الملائكة في الجنّة على الصابرين.
قال تعالى: {وَالَّذِينَ صَبَرُوا ابْتِغَاءَ وَجْهِ رَبِّهِمْ وَأَقَامُوا الصَّلاةَ وَأَنْفَقُوا مِمَّا رَزَقْنَاهُمْ سِرّاً وَعَلانِيَةً وَيَدْرَأُونَ بِالْحَسَنَةِ السَّيِّئَةَ أُولَئِكَ لَهُمْ عُقْبَى الدَّارِ * جَنَّاتُ عَدْنٍ يَدْخُلُونَهَا وَمَنْ صَلَحَ مِنْ آبَائِهِمْ وَأَزْوَاجِهِمْ وَذُرِّيَّاتِهِمْ وَالْمَلائِكَةُ يَدْخُلُونَ عَلَيْهِمْ مِنْ كُلِّ بَابٍ * سَلامٌ عَلَيْكُمْ بِمَا صَبَرْتُمْ فَنِعْمَ عُقْبَى الدَّارِ}.
وقال تعالى: {وَلَنَجْزِيَنَّ الَّذِينَ صَبَرُوا أَجْرَهُمْ بِأَحْسَنِ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ}.
وقال تعالى: {إِنِّي جَزَيْتُهُمُ الْيَوْمَ بِمَا صَبَرُوا أَنَّهُمْ هُمُ الْفَائِزُونَ}.
وقال تعالى: {أُولَئِكَ يُجْزَوْنَ الْغُرْفَةَ بِمَا صَبَرُوا وَيُلَقَّوْنَ فِيهَا تَحِيَّةً وَسَلاماً}.
وقال تعالى: {إِنَّمَا يُوَفَّى الصَّابِرُونَ أَجْرَهُمْ بِغَيْرِ حِسَابٍ}.
ثانياً: الصّبر في ميادين القتال عند لقاء الأعداء.
إنّ من مجالات الصّبر وميادينه: الصّبر عند اللقاء؛ فهو أهمّ مقوّمات النصر على الأعداء. فإن الظفر مع الصبر، ومغالبة العسر والشدّة يعقبهما فرح ويُسر. فالمرابطة في سبيل الله، والسهر على حراسة الحدود والثغور، في برد الشتاء وزمهريره، وحرارة الصيف وقيظه، بين وهج المعارك وأزيز الطائرات وأصوات المدافع: مواطن ومواقف لا يثبت فيها إلاّ المؤمن المتسلِّح بالإيمان، المتخلِّق بالصبر.
قال تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اصْبِرُوا وَصَابِرُوا وَرَابِطُوا وَاتَّقُوا اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ}.
ومن توجيهات القرآن الكريم للمجاهدين في سبيل الله: أمور هي مفتاح النصر، ومنها: الصبر في ميادين القتال عند لقاء الأعداء، قال تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا
জান্নাতে ধৈর্যশীলদের ওপর ফেরেশতাদের আগমন।
আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর যারা তাদের রবের সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে ধৈর্য ধারণ করে, সালাত কায়েম করে, আমি তাদেরকে যে রিযিক দিয়েছি তা থেকে গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে এবং যারা ভালো কাজ দ্বারা মন্দকে প্রতিহত করে—তাদের জন্যই রয়েছে পরকালের শুভ পরিণাম। তা হলো চিরস্থায়ী জান্নাত, যেখানে তারা প্রবেশ করবে এবং তাদের পিতৃপুরুষ, পত্নী ও সন্তানদের মধ্যে যারা সৎকর্মশীল তারাও। আর ফেরেশতারা প্রতিটি দরজা দিয়ে তাদের নিকট প্রবেশ করবে। (তারা বলবে,) ‘তোমরা ধৈর্য ধারণ করেছ বলে তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক।’ কতই না চমৎকার এই পরকালের পরিণাম!}।
আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর যারা ধৈর্য ধারণ করেছে, আমি অবশ্যই তাদেরকে তাদের কৃতকর্মের শ্রেষ্ঠতম প্রতিদান প্রদান করব}।
আল্লাহ তাআলা বলেন: {আজ আমি তাদেরকে তাদের ধৈর্যের কারণে এমন প্রতিদান দিলাম যে, তারাই হলো সফলকাম}।
আল্লাহ তাআala বলেন: {তাদের ধৈর্যের কারণে তাদেরকে জান্নাতের সুউচ্চ কক্ষ প্রতিদান হিসেবে দেওয়া হবে এবং সেখানে তাদেরকে সম্ভাষণ ও সালাম সহকারে গ্রহণ করা হবে}।
আল্লাহ তাআলা বলেন: {ধৈর্যশীলদেরকেই কেবল তাদের প্রতিদান অগণিতভাবে পরিপূর্ণরূপে প্রদান করা হবে}।
দ্বিতীয়ত: শত্রুর মুখোমুখি হওয়ার সময় রণক্ষেত্রে ধৈর্য ধারণ করা।
ধৈর্যের বিভিন্ন ক্ষেত্র ও ময়দানের মধ্যে একটি হলো: রণক্ষেত্রে শত্রুর মুখোমুখি হওয়ার সময় ধৈর্য ধারণ করা; কারণ এটি শত্রুর বিরুদ্ধে বিজয় লাভের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। নিশ্চয়ই ধৈর্যের সাথেই বিজয় আসে এবং কষ্ট ও প্রতিকূলতা মোকাবিলার পরেই আসে আনন্দ ও স্বাচ্ছন্দ্য। আল্লাহর পথে সীমান্ত পাহারা দেওয়া, শীতের প্রচণ্ড শৈত্যে এবং গ্রীষ্মের তীব্র তাপদাহে, যুদ্ধের ভয়াবহতা, বিমানের গর্জন ও কামানের গোলার শব্দের মাঝে অতন্দ্র প্রহরীর দায়িত্ব পালন করা—এমন সব স্থান ও পরিস্থিতি যেখানে কেবল সেই মুমিনই অটল থাকতে পারে যে ঈমানের অস্ত্রে সজ্জিত এবং ধৈর্যের গুণে গুণান্বিত।
আল্লাহ তাআলা বলেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা ধৈর্য ধারণ করো, ধৈর্যের প্রতিযোগিতায় জয়ী হও, সীমান্ত পাহারায় অটল থাকো এবং আল্লাহকে ভয় করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো}।
আল্লাহর পথে জিহাদকারীদের প্রতি পবিত্র কুরআনের নির্দেশনাবলির মধ্যে এমন কিছু বিষয় রয়েছে যা বিজয়ের চাবিকাঠি; আর তার মধ্যে অন্যতম হলো: শত্রুর মুখোমুখি হওয়ার সময় যুদ্ধক্ষেত্রে ধৈর্য ধারণ করা। আল্লাহ তাআলা বলেন: {হে মুমিনগণ! যখন তোমরা...}
(খণ্ড: ২)
উসুলুদ দাওয়াহ ওয়া তুরুকুহা ২ - জামিয়াতুল মদীনা
(পৃষ্ঠা: ২৪)
لَقِيتُمْ فِئَةً فَاثْبُتُوا وَاذْكُرُوا اللَّهَ كَثِيراً لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ * وَأَطِيعُوا اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَلا تَنَازَعُوا فَتَفْشَلُوا وَتَذْهَبَ رِيحُكُمْ وَاصْبِرُوا إِنَّ اللَّهَ مَعَ الصَّابِرِينَ}.
والعدد القليل المتسلِّح بفضيلة الصّبر يُحقِّق النصر على الكثرة المذعورة التي لا تصبر في ميادين الوغى ولهيب المعارك وقعقعة السلاح، قال تعالى: {يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ حَرِّضِ الْمُؤْمِنِينَ عَلَى الْقِتَالِ إِنْ يَكُنْ مِنْكُمْ عِشْرُونَ صَابِرُونَ يَغْلِبُوا مِائَتَيْنِ وَإِنْ يَكُنْ مِنْكُمْ مِائَةٌ يَغْلِبُوا أَلْفاً مِنَ الَّذِينَ كَفَرُوا بِأَنَّهُمْ قَوْمٌ لَا يَفْقَهُونَ * الآنَ خَفَّفَ اللَّهُ عَنْكُمْ وَعَلِمَ أَنَّ فِيكُمْ ضَعْفاً فَإِنْ يَكُنْ مِنْكُمْ مِائَةٌ صَابِرَةٌ يَغْلِبُوا مِائَتَيْنِ وَإِنْ يَكُنْ مِنْكُمْ أَلْفٌ يَغْلِبُوا أَلْفَيْنِ بِإِذْنِ اللَّهِ وَاللَّهُ مَعَ الصَّابِرِينَ}.
ولذلك كان دعاء الجيوش المؤمنة عبر التاريخ أثناء لقاء الأعداء، هو ما جاء في القرآن الكريم على لسان طالوت وجنوده، قال تعالى: {وَلَمَّا بَرَزُوا لِجَالُوتَ وَجُنُودِهِ قَالُوا رَبَّنَا أَفْرِغْ عَلَيْنَا صَبْراً وَثَبِّتْ أَقْدَامَنَا وَانْصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ فَهَزَمُوهُمْ بِإِذْنِ اللَّهِ}.
ثالثا: الصّبر في ميادين الدّعوة إلى الله.
لقد خلَق الله الخلْق متفاوتين في العقول، مختلفين في التفكير، متمايزين في المشاعر والعواطف، تتصادم مصالحُهم وتتنازع رغباتهم، وتختلف نظرتهم للأمور وحُكمُهم على الأشياء بدرجات كبيرة، واستجابتهم للنصح والإرشاد والتوجيه يختلف اختلافاً شاسعاً. وهذا الاختلاف في المشارب والأهواء سُنّة من سُنن الله في الخلْق والتكوين، قال تعالى: {وَلَوْ شَاءَ رَبُّكَ لَجَعَلَ النَّاسَ أُمَّةً وَاحِدَةً وَلا يَزَالُونَ مُخْتَلِفِينَ * إِلَّا مَنْ رَحِمَ رَبُّكَ وَلِذَلِكَ خَلَقَهُمْ}.
وقال تعالى: {وَلَوْ شَاءَ اللَّهُ لَجَعَلَكُمْ أُمَّةً وَاحِدَةً وَلَكِنْ يُضِلُّ مَنْ يَشَاءُ وَيَهْدِي مَنْ يَشَاءُ وَلَتُسْأَلُنَّ عَمَّا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ}.
{হে মুমিনগণ! যখন তোমরা কোনো বাহিনীর মোকাবিলা করো, তখন অবিচল থাকো এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করো যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো। আর আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করো এবং বিবাদে লিপ্ত হয়ো না, অন্যথায় তোমরা সাহস হারিয়ে ফেলবে এবং তোমাদের প্রভাব ক্ষুণ্ণ হবে। আর তোমরা ধৈর্য ধারণ করো; নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে রয়েছেন।}
ধৈর্যের গুণে বলীয়ান অল্প সংখ্যক মানুষ সেই আতঙ্কিত বিশাল বাহিনীর ওপর বিজয় অর্জন করে যারা রণক্ষেত্রে, যুদ্ধের লেলিহান শিখায় এবং অস্ত্রের ঝনঝনানিতে ধৈর্য ধারণ করতে পারে না। মহান আল্লাহ বলেন: {হে নবী! মুমিনদের যুদ্ধের জন্য উদ্বুদ্ধ করুন; যদি তোমাদের মধ্যে বিশ জন ধৈর্যশীল থাকে তবে তারা দুইশত জনের ওপর বিজয় লাভ করবে। আর যদি তোমাদের মধ্যে একশত জন থাকে তবে তারা কাফিরদের এক হাজার জনের ওপর বিজয়ী হবে, কারণ তারা এমন এক কওম যারা সঠিক উপলব্ধি রাখে না। এখন আল্লাহ তোমাদের ভার লাঘব করেছেন এবং তিনি জানেন যে তোমাদের মধ্যে দুর্বলতা (ضعف) রয়েছে। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যদি একশত জন ধৈর্যশীল থাকে তবে তারা দুইশত জনের ওপর বিজয়ী হবে, আর যদি তোমাদের মধ্যে এক হাজার জন থাকে তবে তারা আল্লাহর হুকুমে দুই হাজার জনের ওপর বিজয়ী হবে। আর আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে রয়েছেন।}
তাই ইতিহাসের পরিক্রমায় শত্রু বাহিনীর সম্মুখীন হওয়ার সময় মুমিন বাহিনীর প্রার্থনা ছিল তা-ই যা পবিত্র কুরআনে তালুত ও তাঁর সৈন্যদের ভাষায় বর্ণিত হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন: {আর যখন তারা জালুত ও তার সৈন্যবাহিনীর মোকাবিলা করতে অবতীর্ণ হলো, তখন তারা বলল: হে আমাদের রব! আমাদের ওপর ধৈর্য ঢেলে দিন, আমাদের পা সুদৃঢ় রাখুন এবং কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদের সাহায্য করুন। অতঃপর তারা আল্লাহর হুকুমে তাদের পরাজিত করল।}
তৃতীয়ত: আল্লাহর পথে দাওয়াতের ময়দানে ধৈর্য ধারণ।
আল্লাহ তাআলা মানবজাতিকে বুদ্ধিবৃত্তিক স্তর, চিন্তাধারা এবং আবেগ-অনুভূতির ক্ষেত্রে বৈচিত্র্যময় করে সৃষ্টি করেছেন। ফলে তাদের পারস্পরিক স্বার্থের সংঘাত ঘটে এবং তাদের আকাঙ্ক্ষাগুলোর মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন বিষয়ের প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ও বিচার-বিশ্লেষণে ব্যাপক তারতম্য ঘটে এবং উপদেশ ও দিকনির্দেশনা গ্রহণে তাদের মধ্যে বিশাল পার্থক্য দেখা যায়। মেজাজ ও রুচির এই ভিন্নতা সৃষ্টি এবং জগতের স্বাভাবিক নিয়মের ক্ষেত্রে আল্লাহর এক শাশ্বত বিধান। মহান আল্লাহ বলেন: {যদি তোমার প্রতিপালক ইচ্ছা করতেন তবে তিনি অবশ্যই মানবজাতিকে এক উম্মতভুক্ত করতে পারতেন, কিন্তু তারা সর্বদা মতভেদ করতেই থাকবে। তবে তারা নয় যাদের প্রতি তোমার প্রতিপালক দয়া করেছেন এবং এজন্যই তিনি তাদের সৃষ্টি করেছেন।}
মহান আল্লাহ আরও বলেন: {যদি আল্লাহ ইচ্ছা করতেন তবে তোমাদের এক উম্মত করতে পারতেন, কিন্তু তিনি যাকে ইচ্ছা বিভ্রান্ত করেন এবং যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দান করেন। আর তোমরা যা আমল করতে সে সম্পর্কে অবশ্যই তোমাদের প্রশ্ন করা হবে।}
(খণ্ড: ২)
উসুলুদ দাওয়াহ ওয়া তুরুকুহা ২ - জামিয়াতুল মদীনা
(পৃষ্ঠা: ২৫)
فالتمايز في العقول وفي السلوك، والتّباين الشديد في المعتقَدات والمذاهب والآراء، يوجب على مَن يَنزل ساحة الدّعوة إلى الله، ويتشرّف بحمْل لوائها، أن يتّصف بالصبر والحِلم وسعة الصدر؛ فلا يضيق صدراً بمَن خالَفه، ولا يحزن لِمن هاجمه بالقول. ولْيحبِسْ آلامَه حينما يعتدي عليه أحد. وينبغي ألاّ يتسرّب اليأس إلى نفسه حينما يجد صدوداً أو إعراضاً. وينبغي أن لا يعرف العجزُ والقنوط والفشل طريقاً إلى قلبه، حينما يُضيَّق الخناق عليه، وتُصادَر كلمتُه ويُقطَع رزقُه.
فالابتلاء والاختبار والامتحان كان وسيظل هو طريق الدّعاة إلى الله، قال تعالى: {الم * أَحَسِبَ النَّاسُ أَنْ يُتْرَكُوا أَنْ يَقُولُوا آمَنَّا وَهُمْ لَا يُفْتَنُونَ * وَلَقَدْ فَتَنَّا الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ فَلَيَعْلَمَنَّ اللَّهُ الَّذِينَ صَدَقُوا وَلَيَعْلَمَنَّ الْكَاذِبِينَ}.
ورسُل الله هم النموذج الفريد والقدوة الحسنة والأسوة الطّيِّبة، في التحمّل والتّحلّي بالصبر، والتّحمّل لأعباء الرسالة ومشاقّ الدّعوة، ومواجهة الموانع، والإعراض بالحِلم وسعة الصدر، ولين الجانب وخفْض الجناح. وسوف نتابع رحلة الأنبياء والمرسلين في رياض الصبر والمصابرة، ونرقُب خطَى سيْرهم في تحمّلهم لكل أنواع العنت، وجميع ضروب المتاعب والآلام، بنفْس سمحة، وقلب رؤوف رحيم، لنضعها أمام أعين الدّعاة ليقتدوا بهم ويسيروا على دربهم في التّخلّق بفضيلة الصبر الذي وصفه صلى الله عليه وسلم بـ"الضياء"، ووصفه مرة أخرى بأنه: "نصف الإيمان". وهو السّمة المشتركة لجميع الأنبياء والمرسلين، والصفة الغالبة لمن يسلك طريق الدّعوة إلى الله.
فعن أبي عُبيد الله خباب بن الأرت رضي الله عنه قال: ((شكونا إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو متوسِّد بُردة له في ظلّ الكعبة، فقلنا: ألا تستنصر لنا؟ فقال: قد كان ممّن قبلكم يُؤخذ الرّجُل، فيُحفر له في الأرض، فيُجعل فيها. ثم يُؤتى بالمنشار، فيوضع
বুদ্ধিবৃত্তি ও আচরণের বৈচিত্র্য এবং বিশ্বাস, মতাদর্শ ও মতামতের চরম পার্থক্য আল্লাহর পথে দাওয়াতের ময়দানে অবতীর্ণ ও এর ঝাণ্ডা বহন করার গৌরব অর্জনকারীদের জন্য ধৈর্য, সহনশীলতা এবং প্রশস্ত হৃদয়ের অধিকারী হওয়াকে অপরিহার্য করে তোলে। সুতরাং যিনি তাঁর বিরোধিতা করেন, তাঁর প্রতি যেন তিনি সংকীর্ণমনা না হন এবং যারা তাঁকে কথা দিয়ে আক্রমণ করে, তাদের কারণে যেন তিনি ব্যথিত না হন। কেউ যখন তাঁর ওপর আক্রমণ চালায়, তখন যেন তিনি তাঁর যাতনা সংবরণ করেন। যখন তিনি প্রত্যাখ্যান বা বিমুখতা দেখেন, তখন যেন তাঁর মনে হতাশা প্রবেশ না করে। তাঁর ওপর যখন কঠোরতা আরোপ করা হয়, তাঁর কথা বলার অধিকার কেড়ে নেওয়া হয় এবং তাঁর জীবিকা বন্ধ করে দেওয়া হয়, তখন যেন অক্ষমতা, নিরাশা ও ব্যর্থতা তাঁর হৃদয়ে প্রবেশের পথ খুঁজে না পায়।
বস্তুত বিপদ-আপদ, যাচাই ও পরীক্ষা ছিল এবং থাকবে আল্লাহর পথে আহ্বানকারীদের চিরন্তন পথ। আল্লাহ তাআলা বলেন: "আলিফ-লাম-মীম। মানুষ কি মনে করে যে, তারা 'আমরা ঈমান এনেছি' এ কথা বললেই তাদেরকে পরীক্ষা না করে ছেড়ে দেওয়া হবে? অথচ আমি তাদের পূর্ববর্তীদেরও পরীক্ষা করেছি; আল্লাহ অবশ্যই জেনে নেবেন কারা সত্যবাদী এবং তিনি অবশ্যই জেনে নেবেন কারা মিথ্যাবাদী (كاذبين)।"
আল্লাহর রাসূলগণ ধৈর্য ধারণ, ধৈর্যের গুণে গুণান্বিত হওয়া, রিসালাতের দায়িত্ব ও দাওয়াতের কষ্টসমূহ বহন করা, প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করা এবং সহনশীলতা, উদারতা ও নম্রতার মাধ্যমে বিমুখতাকে মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে এক অনন্য দৃষ্টান্ত এবং সর্বোত্তম আদর্শ। আমরা ধৈর্য ও সহিষ্ণুতার উদ্যানে নবী ও রাসূলদের যাত্রা অনুসরণ করব এবং উদার মন ও দয়ালু হৃদয়ে তাঁদের প্রতিটি কষ্ট ও যাতনা সহ্য করার পদচিহ্নগুলো পর্যবেক্ষণ করব, যেন আমরা তা আহ্বানকারীদের সামনে তুলে ধরতে পারি। যাতে তাঁরা নবীগণের অনুসরণ করতে পারেন এবং ধৈর্যের মহান গুণে গুণান্বিত হয়ে তাঁদের পথে চলতে পারেন; যে ধৈর্যকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম "আলো" এবং অন্য এক স্থানে "ঈমানের অর্ধেক" বলে অভিহিত করেছেন। এটি সমস্ত নবী ও রাসূলের সাধারণ বৈশিষ্ট্য এবং আল্লাহর পথে দাওয়াতের পথে যারা চলেন, তাদের প্রধান গুণ।
আবু উবাইদুল্লাহ খাব্বাব ইবনুল আরাত (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে অভিযোগ করলাম, এমতাবস্থায় যে তিনি কাবার ছায়ায় তাঁর একটি চাদরে হেলান দিয়ে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। আমরা বললাম: আপনি কি আমাদের জন্য আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইবেন না? তিনি বললেন: তোমাদের পূর্ববর্তীদের মধ্যে এমন লোক ছিল যাদের ধরে আনা হতো এবং তাদের জন্য মাটিতে গর্ত খুঁড়ে তাতে বসিয়ে দেওয়া হতো। এরপর করাত আনা হতো এবং তা রাখা হতো..."
(খণ্ড: ২)
উসুলুদ দাওয়াহ ওয়া তুরুকুহা ২ - জামিয়াতুল মদীনা
(পৃষ্ঠা: ২৬)
على رأسه فيُجعل نصفيْن، ويُمشط بأمشاط الحديد ما دون لحمه وعظمه، ما يصدّه ذلك عن دينه. والله! لَيُتِمَّنَّ الله هذا الأمر، حتى يسير الراكب من صنعاء إلى حضرموت، لا يخاف إلاّ الله، والذئبَ على غنَمه؛ ولكنكم تستعجلون))، رواه البخاري.
هذا الحديث يتطابق ويتوافق مع قوله تعالى: {وَلَنَبْلُوَنَّكُمْ حَتَّى نَعْلَمَ الْمُجَاهِدِينَ مِنْكُمْ وَالصَّابِرِينَ وَنَبْلُوَ أَخْبَارَكُمْ}.
وفي شأن صبْر المرسلين وتحمّلهم المشاق والأذى، قال تعالى لرسوله صلى الله عليه وسلم: {وَلَقَدْ كُذِّبَتْ رُسُلٌ مِنْ قَبْلِكَ فَصَبَرُوا عَلَى مَا كُذِّبُوا وَأُوذُوا حَتَّى أَتَاهُمْ نَصْرُنَا وَلا مُبَدِّلَ لِكَلِمَاتِ اللَّهِ وَلَقَدْ جَاءَكَ مِنْ نَبَأِ الْمُرْسَلِينَ}.
ولقد تحدّث القرآن الكريم عن نبإ المرسلين في الصّبر والحِلم واللِّين والرِّفق، وأخبر عن أحوالهم في مواجهة المعاندين والمعارضين، ولا سيما أولو العزم من الرسل الذين أمر الله رسوله صلى الله عليه وسلم بالتأسي بهم، فقال تعالى: {فَاصْبِرْ كَمَا صَبَرَ أُولُوا الْعَزْمِ مِنَ الرُّسُلِ}.
وهم خمسة: نوح، وإبراهيم، وموسى، وعيسى، وخاتم الأنبياء محمد صلى الله عليه وسلم. وقد نص الله على أسمائهم من بين الأنبياء في سورتَي: (الأحزاب) و (الشورى).
قال تعالى في سورة (الأحزاب): {وَإِذْ أَخَذْنَا مِنَ النَّبِيِّينَ مِيثَاقَهُمْ وَمِنْكَ وَمِنْ نُوحٍ وَإِبْرَاهِيمَ وَمُوسَى وَعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ وَأَخَذْنَا مِنْهُمْ مِيثَاقاً غَلِيظاً}.
وفي سورة الشورى، ذكَرهم الله بقوله تعالى: {شَرَعَ لَكُمْ مِنَ الدِّينِ مَا وَصَّى بِهِ نُوحاً وَالَّذِي أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ وَمَا وَصَّيْنَا بِهِ إِبْرَاهِيمَ وَمُوسَى وَعِيسَى أَنْ أَقِيمُوا الدِّينَ وَلَا تَتَفَرَّقُوا فِيهِ كَبُرَ عَلَى الْمُشْرِكِينَ مَا تَدْعُوهُمْ إِلَيْهِ اللَّهُ يَجْتَبِي إِلَيْهِ مَنْ يَشَاءُ وَيَهْدِي إِلَيْهِ مَنْ يُنِيبُ}.
...তার মাথার ওপর (করাত) রেখে তাকে দুই খণ্ড করে ফেলা হতো এবং লোহার চিরুনি দিয়ে তার গোশত ও হাড়ের নিচ পর্যন্ত আঁচড়ানো হতো, তবুও তা তাকে তার দ্বীন থেকে বিচ্যুত করতে পারত না। আল্লাহর কসম! আল্লাহ অবশ্যই এই দ্বীনকে পূর্ণতা দান করবেন, এমনকি একজন আরোহী সানা থেকে হাজরামাউত পর্যন্ত ভ্রমণ করবে অথচ সে আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে ভয় পাবে না এবং তার মেষপালের ওপর নেকড়ের আক্রমণের ভয়ও করবে না; কিন্তু তোমরা তাড়াহুড়ো করছ। এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন।
এই হাদিসটি মহান আল্লাহর এই বাণীর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ও সংগতিপূর্ণ: "আর আমি অবশ্যই তোমাদের পরীক্ষা করব, যতক্ষণ না আমি তোমাদের মধ্যে জিহাদকারীদের ও ধৈর্যশীলদের চিনে নিই এবং আমি তোমাদের অবস্থা যাচাই করি।"
রাসুলদের ধৈর্য এবং কষ্ট ও নির্যাতন সহ্য করার বিষয়ে মহান আল্লাহ তাঁর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে উদ্দেশ্য করে বলেছেন: "তোমার পূর্বেও অনেক রাসুলকে অস্বীকার করা হয়েছিল, কিন্তু তাঁদের অস্বীকার করা ও কষ্ট দেওয়ার বিপরীতে তাঁরা ধৈর্য ধারণ করেছিলেন, যতক্ষণ না তাঁদের কাছে আমার সাহায্য পৌঁছেছিল। আল্লাহর বাণী পরিবর্তনের কেউ নেই এবং তোমার কাছে তো রাসুলদের সংবাদ পৌঁছেছেই।"
পবিত্র কুরআন রাসুলদের ধৈর্য, সহিষ্ণুতা, নম্রতা ও কোমলতার সংবাদ আলোচনা করেছে এবং একগুঁয়ে ও বিরোধীদের মোকাবিলায় তাঁদের অবস্থার কথা জানিয়েছে। বিশেষ করে দৃঢ়সংকল্প রাসুলগণ (أولو العزم من الرسل), যাঁদের অনুসরণ করার জন্য আল্লাহ তাঁর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে নির্দেশ দিয়েছেন। মহান আল্লাহ বলেছেন: "অতএব তুমি ধৈর্য ধারণ করো, যেমন ধৈর্য ধারণ করেছিলেন দৃঢ়সংকল্প রাসুলগণ (أولو العزم من الرسل)।"
তাঁরা হলেন পাঁচজন: নূহ, ইব্রাহিম, মুসা, ঈসা এবং শেষ নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। আল্লাহ নবীদের মধ্য থেকে বিশেষভাবে তাঁদের নাম সূরা আল-আহজাব ও সূরা আশ-শুরা-তে উল্লেখ করেছেন।
মহান আল্লাহ সূরা আল-আহজাবে বলেছেন: "স্মরণ করো, যখন আমি নবীদের কাছ থেকে তাঁদের অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলাম এবং তোমার কাছ থেকেও, আর নূহ, ইব্রাহিম, মুসা ও মারইয়াম তনয় ঈসার কাছ থেকেও; আমি তাঁদের কাছ থেকে গ্রহণ করেছিলাম এক সুদৃঢ় অঙ্গীকার।"
আর সূরা আশ-শুরায় আল্লাহ তাঁদের কথা উল্লেখ করে বলেছেন: "তিনি তোমাদের জন্য দ্বীনের সেই বিধানই নির্ধারিত করেছেন, যার নির্দেশ তিনি দিয়েছিলেন নূহকে এবং যা আমি ওহি করেছি তোমার প্রতি, আর যার নির্দেশ দিয়েছিলাম ইব্রাহিম, মুসা ও ঈসাকে—এই মর্মে যে, তোমরা দ্বীনকে প্রতিষ্ঠিত করো এবং তাতে অনৈক্য সৃষ্টি করো না। তুমি মুশরিকদের যেদিকে আহ্বান করছ তা তাদের কাছে দুঃসাধ্য মনে হয়। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা আপন করে নেন এবং যে তাঁর অভিমুখী হয় তাকে তিনি তাঁর পথে পরিচালিত করেন।"
(খণ্ড: ২)
উসুলুদ দাওয়াহ ওয়া তুরুকুহা ২ - জামিয়াতুল মদীনা
(পৃষ্ঠা: ২৭)
فتكرار ذكْرهم في القرآن الكريم يوجب على الدّارسين والدّعاة: أن يقفوا على سُبل تحمّلهم وأساليب صبرهم. وسوف نعرض لمواقفهم -صلوات الله وسلامه عليهم- في الصبر والمصابرة، والمغالبة، والتّحمّل، في العنصر التالي.
الصّبر الذي تحلّى به أولو العزْم من الرّسُل في ميدان الدّعوة إلى اللهالتعريف اللّغوي لكلمة "عزْم":
عَزَمَ على الأمْر: أراد فعْله، وقطع عليه، أوْ جدَّ في الأمْر.
وأولو العزْم من الرّسُل: الذين عزموا على أمْر الله فيما عُهد إليهم. وقال الزمخشري: هم أولو الجِدّ والثّبات والصبر.
والأنبياء والمرسلون -صلوات الله عليهم أجمعين- من لدن آدم عليه السلام أولو عزم وثبات وصبر في الدعوة إلى الله. ولقد جاء في تفسير قوله تعالى: {فَاصْبِرْ كَمَا صَبَرَ أُولُوا الْعَزْمِ مِنَ الرُّسُلِ}: أنّ {مِنْ} بيانيّة تشمل جميع الأنبياء والمرسلين. ويرى جمهور المفسرين: أنّ {مِنْ} تبعيضية تختص ببعض الأنبياء الذين أشار إليهم القرآن الكريم في سورتَيِ (الأحزاب) و (الشورى)، وهم: نوح، وإبراهيم، وموسى، وعيسى بن مريم، ومحمد -صلى الله عليهم وسلم أجمعين-. وسوف نقصر الحديث في هذه المحاضرة على جانب الصّبر في رسالات هؤلاء الخمسة -صلوات الله وسلامه عليهم-، أمّا عن مناهجهم وأساليبهم في الدعوة إلى الله، فسنُفرد لها محاضرة خاصة في المستوى الثاني -إن شاء الله-.
أولاً: نوح عليه السلام.
هو: أبو البشر الثاني، وأوّل الرسل بعد آدم عليه السلام، اصطفاه الله للنّبوّة، واختاره للرسالة، بعد أن انتشرت في قومه عبادة الأصنام، وانحرفت أخلاقُهم إلى الرذائل، واستشرى الظلم والاستبداد والقهر من الأغنياء على الضعفاء.
পবিত্র কুরআনে তাঁদের কথা বারবার উল্লেখ করার বিষয়টি গবেষক এবং দায়ীদের জন্য এটি আবশ্যক করে দেয় যে, তাঁরা যেন তাঁদের কষ্ট সহ্য করার পথ এবং ধৈর্যের পদ্ধতিগুলো সম্পর্কে অবগত হন। আমরা পরবর্তী অংশে ধৈর্য (সবর), সহিষ্ণুতা, প্রতিকূলতা মোকাবিলা এবং সহনশীলতার ক্ষেত্রে তাঁদের—তাঁদের ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক—অবস্থানসমূহ আলোচনা করব।
আল্লাহর পথে দাওয়াতের ময়দানে উলুল আজম (দৃঢ়চেতা) রাসুলগণের ধৈর্য"আজম" (عزم) শব্দের ভাষাগত সংজ্ঞা:
কোনো বিষয়ের সংকল্প (عزم) করা: তা করার ইচ্ছা করা, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া অথবা কাজে ব্রতী হওয়া।
আর রাসুলগণের মধ্যে উলুল আজম হলেন তাঁরা, যাঁরা আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁদের প্রতি অর্পিত নির্দেশের ব্যাপারে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ হয়েছেন। আল-জামাখশারি বলেছেন: তাঁরা হলেন কর্মতৎপরতা, অবিচলতা ও ধৈর্যের অধিকারী।
আদম (আলাইহিস সালাম) থেকে শুরু করে সকল নবী ও রাসুল—তাঁদের সবার ওপর আল্লাহর সালাত বর্ষিত হোক—আল্লাহর পথে দাওয়াতের ক্ষেত্রে সংকল্প, অবিচলতা ও ধৈর্যের অধিকারী ছিলেন। মহান আল্লাহর এই বাণীর তাফসিরে বর্ণিত হয়েছে: {অতএব আপনি ধৈর্য ধারণ করুন যেমন ধৈর্য ধারণ করেছিলেন উলুল আজম রাসুলগণ}; এখানে {মিন} (من) শব্দটি বর্ণনামূলক (بيانية) যা সকল নবী ও রাসুলকে অন্তর্ভুক্ত করে। তবে অধিকাংশ মুফাসসির মনে করেন যে, এখানে {মিন} (من) শব্দটি আংশিক অর্থবোধক (تبعيضية), যা নির্দিষ্ট কয়েকজন নবীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যাঁদের দিকে পবিত্র কুরআনের দুটি সুরায় (আল-আহজাব ও আশ-শুরা) ইঙ্গিত করা হয়েছে। তাঁরা হলেন: নূহ, ইবরাহিম, মুসা, ঈসা ইবনে মারইয়াম এবং মুহাম্মদ—তাঁদের সবার ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক। আমরা এই আলোচনায় এই পাঁচজন রাসুলের—তাঁদের ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক—রিসালাতের ধৈর্যের দিকের ওপর আলোচনা সীমাবদ্ধ রাখব। আর আল্লাহর পথে দাওয়াতের ক্ষেত্রে তাঁদের কর্মপন্থা ও পদ্ধতি সম্পর্কে আমরা ইনশাআল্লাহ দ্বিতীয় স্তরে একটি স্বতন্ত্র আলোচনা পেশ করব।
প্রথমত: নূহ (আলাইহিস সালাম)।
তিনি হলেন: দ্বিতীয় মানবপিতা এবং আদম (আলাইহিস সালাম)-এর পর প্রথম রাসুল। আল্লাহ তাঁকে নবুওয়াতের জন্য মনোনীত করেছেন এবং রিসালাতের জন্য নির্বাচিত করেছেন এমন এক সময়ে যখন তাঁর কওমের মধ্যে মূর্তিপূজা ছড়িয়ে পড়েছিল, তাদের নৈতিকতা অবক্ষয়ের চরম সীমায় পৌঁছেছিল এবং ধনীদের পক্ষ থেকে দুর্বলদের ওপর জুলুম, স্বৈরাচার ও নিপীড়ন ব্যাপক আকার ধারণ করেছিল।
(খণ্ড: ২)
উসুলুদ দাওয়াহ ওয়া তুরুকুহা ২ - জামিয়াতুল মদীনা
(পৃষ্ঠা: ২৮)
ونوح عليه السلام نموذج فريد من بين الأنبياء والمرسلين الذين تحدّث عنهم القرآن الكريم؛ فقد لبث يَدعو قومه ألْف سنة إلاّ خمسين عاماً، قال تعالى: {وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا نُوحاً إِلَى قَوْمِهِ فَلَبِثَ فِيهِمْ أَلْفَ سَنَةٍ إِلَاّ خَمْسِينَ عَاماً فَأَخَذَهُمُ الطُّوفَانُ وَهُمْ ظَالِمُونَ}.
هذه القرون العشرة زاخرة بالدروس، مليئة بالعِبر، واتّسمت بالصبر والمصابرة، والمجاهدة والمجالدة، والثبات وقوة العزيمة، وأبرزت للدّعاة أدبَ المجادلة وأساليب المحاورة، ونماذج التضحية حتى بالأبناء والأهل في سبيل الدّعوة إلى الله.
وقد أشار القرآن الكريم إلى مواقف نوح عليه السلام مع قومه في ثمانية وعشرين سُورة، وانفردت سورة كاملة تَحمل اسمه، وهي: سورة (نوح).
وسوف نستنبط معالم صبْره عليه السلام في مجالات الدّعوة التالية:
1 - الصبر على مواصلة الدّعوة بقوّة نافذة، وعزيمة شديدة لا تعرف اليأس ولا السّأم، في طول مرحلة الدّعوة مدّة تكاد تبلغ الألْف عام. قال تعالى حكاية عنه عليه السلام: {قَالَ رَبِّ إِنِّي دَعَوْتُ قَوْمِي لَيْلاً وَنَهَاراً * فلَمْ يَزِدْهُمْ دُعَائِي إِلَاّ فِرَاراً * وَإِنِّي كُلَّمَا دَعَوْتُهُمْ لِتَغْفِرَ لَهُمْ جَعَلُوا أَصَابِعَهُمْ فِي آذَانِهِمْ وَاسْتَغْشَوْا ثِيَابَهُمْ وَأَصَرُّوا وَاسْتَكْبَرُوا اسْتِكْبَاراً * ثُمَّ إِنِّي دَعَوْتُهُمْ جِهَاراً * ثُمَّ إِنِّي أَعْلَنْتُ لَهُمْ وَأَسْرَرْتُ لَهُمْ إِسْرَاراً}.
2 - الصّبر على إيذاء قومه، والذي اتّخذ صُوَراً متعدِّدة، منها:
أ- تهديده بالقتْل والرّجْم، قال تعالى: {قَالُوا لَئِنْ لَمْ تَنْتَهِ يَا نُوحُ لَتَكُونَنَّ مِنَ الْمَرْجُومِينَ}.
ب- وصْفه بالجنون، قال تعالى: {كَذَّبَتْ قَبْلَهُمْ قَوْمُ نُوحٍ فَكَذَّبُوا عَبْدَنَا وَقَالُوا مَجْنُونٌ وَازْدُجِرَ * فَدَعَا رَبَّهُ أَنِّي مَغْلُوبٌ فَانْتَصِرْ}.
নুহ আলাইহিস সালাম হলেন সেই সকল নবি ও রাসুলদের (المرسلين) মধ্যে এক অনন্য দৃষ্টান্ত যাদের সম্পর্কে পবিত্র কুরআন আলোচনা করেছে; তিনি তাঁর কওমকে পঞ্চাশ বছর কম এক বছর হাজার দাওয়াত প্রদান করেন। মহান আল্লাহ বলেন: "আমি অবশ্যই নুহকে তাঁর কওমের নিকট পাঠিয়েছিলাম, অতঃপর সে তাদের মধ্যে অবস্থান করেছিল পঞ্চাশ বছর কম এক হাজার বছর। এরপর প্লাবন তাদেরকে গ্রাস করল যখন তারা ছিল জালিম (ظالمون)।"
এই দশটি শতাব্দী শিক্ষণীয় পাঠে ভরপুর এবং উপদেশে (العبر) পরিব্যাপ্ত। এটি ধৈর্য (الصبر) ও সহিষ্ণুতা, সাধনা ও সংগ্রাম এবং অবিচলতা ও দৃঢ় সংকল্পের বৈশিষ্ট্যে মণ্ডিত ছিল। এটি দাঈদের (الدعاة) জন্য বিতর্কের আদব, আলোচনার পদ্ধতি এবং আল্লাহর পথে দাওয়াতের ক্ষেত্রে এমনকি সন্তান ও পরিবার-পরিজনকে উৎসর্গ করার ত্যাগের দৃষ্টান্ত ফুটিয়ে তুলেছে।
পবিত্র কুরআন আটাশটি সূরায় তাঁর কওমের সাথে নুহ আলাইহিস সালামের অবস্থানের কথা উল্লেখ করেছে এবং একটি পূর্ণাঙ্গ সূরা কেবল তাঁর নামেই অবতীর্ণ হয়েছে, তা হলো: সূরা নুহ।
আমরা দাওয়াতের নিম্নোক্ত ক্ষেত্রসমূহে তাঁর ধৈর্যের (الصبر) বৈশিষ্ট্যসমূহ উদ্ঘাটন করব:
১ - দাওয়াতের দীর্ঘ পর্যায়—যা প্রায় এক হাজার বছর পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল—তাতে গভীর প্রভাব বিস্তারকারী শক্তি এবং তীব্র সংকল্পের (العزيمة) সাথে দাওয়াত অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে ধৈর্য (الصبر) ধারণ করা, যেখানে কোনো হতাশা বা ক্লান্তি ছিল না। তাঁর পক্ষ থেকে বর্ণনা করে মহান আল্লাহ বলেন: "সে বলল, হে আমার প্রতিপালক! আমি তো আমার কওমকে রাত-দিন দাওয়াত দিয়েছি; কিন্তু আমার দাওয়াত তাদের পলায়নকেই কেবল বৃদ্ধি করেছে। আর আমি যখনই তাদের দাওয়াত দিয়েছি যেন আপনি তাদের ক্ষমা করেন, তারা তাদের কানে আঙুল দিয়েছে, নিজেদের পোশাক দ্বারা নিজেদের আবৃত করেছে এবং তারা জেদ করেছে ও চরম অহংকার (استكباراً) প্রদর্শন করেছে। তারপর আমি তাদের উচ্চৈঃস্বরে (جهاراً) দাওয়াত দিয়েছি। তারপর আমি তাদের প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছি এবং অতি গোপনেও (إسراراً) ব্যক্ত করেছি।"
২ - তাঁর কওমের পক্ষ থেকে আসা কষ্টের ওপর ধৈর্য (الصبر) ধারণ করা, যা বিভিন্ন রূপ পরিগ্রহ করেছিল, যেমন:
ক- তাঁকে হত্যা ও পাথর নিক্ষেপে (الرجم) মেরে ফেলার হুমকি প্রদান; মহান আল্লাহ বলেন: "তারা বলল, হে নুহ! তুমি যদি নিবৃত্ত না হও, তবে তুমি অবশ্যই প্রস্তরাঘাতে নিহতদের (المرجومين) অন্তর্ভুক্ত হবে।"
খ- তাঁকে পাগল (مجنون) হিসেবে অভিহিত করা; মহান আল্লাহ বলেন: "তাদের পূর্বে নুহ-এর কওম সত্য প্রত্যাখ্যান করেছিল, তারা আমার বান্দাকে মিথ্যাবাদী বলেছিল এবং বলেছিল, সে এক পাগল (مجنون); এবং তাকে ভয় দেখানো হয়েছিল। অতঃপর সে তার প্রতিপালককে আহ্বান করল যে, আমি তো অসহায়, অতএব আপনি সাহায্য করুন।"
(খণ্ড: ২)
উসুলুদ দাওয়াহ ওয়া তুরুকুহা ২ - জামিয়াতুল মদীনা
(পৃষ্ঠা: ২৯)
ج- الصّبر على المجادلة والمحاورة، قال تعالى: {قَالُوا يَا نُوحُ قَدْ جَادَلْتَنَا فَأَكْثَرْتَ جِدَالَنَا فَأْتِنَا بِمَا تَعِدُنَا إِنْ كُنْتَ مِنَ الصَّادِقِينَ}.
د- الصّبر على سخرية قومه واستهزائهم به، قال تعالى: {وَيَصْنَعُ الْفُلْكَ وَكُلَّمَا مَرَّ عَلَيْهِ مَلَأٌ مِنْ قَوْمِهِ سَخِرُوا مِنْهُ قَالَ إِنْ تَسْخَرُوا مِنَّا فَإِنَّا نَسْخَرُ مِنْكُمْ كَمَا تَسْخَرُونَ}.
هـ- الصّبر على فجيعته في زوْجه وولده؛ فالزوجة تابعت قومَها في كفْرهم وعنادهم، قال تعالى: {ضَرَبَ اللَّهُ مَثَلاً لِلَّذِينَ كَفَرُوا امْرَأَتَ نُوحٍ وَامْرَأَتَ لُوطٍ كَانَتَا تَحْتَ عَبْدَيْنِ مِنْ عِبَادِنَا صَالِحَيْنِ فَخَانَتَاهُمَا فَلَمْ يُغْنِيَا عَنْهُمَا مِنَ اللَّهِ شَيْئاً وَقِيلَ ادْخُلا النَّارَ مَعَ الدَّاخِلِينَ}.
أمّا الابن، فقد عصى أمْر والده نوح عليه السلام، وركب رأسه واتّبع هواه، واعتصم بالجبال من الماء، فكان من المغرقين. وتحركت فيه عاطفة الأبوّة الرحيمة فدعا ربه، كما قال تعالى: {وَنَادَى نُوحٌ رَبَّهُ فَقَالَ رَبِّ إِنَّ ابْنِي مِنْ أَهْلِي وَإِنَّ وَعْدَكَ الْحَقُّ وَأَنْتَ أَحْكَمُ الْحَاكِمِينَ * قَالَ يَا نُوحُ إِنَّهُ لَيْسَ مِنْ أَهْلِكَ إِنَّهُ عَمَلٌ غَيْرُ صَالِحٍ فَلَا تَسْأَلْنِ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ إِنِّي أَعِظُكَ أَنْ تَكُونَ مِنَ الْجَاهِلِينَ}؛ فامتثل عليه السلام لأمر الله، وصبر على قضائه.
ثانيا: إبراهيم الخليل عليه الصلاة والسلام.
حياته ودعوته خير مثال لصبر الأنبياء، وعزيمة المؤمنين، وقوّة الصابرين؛ فقد جمَع صلوات الله وسلامه عليه بين الصبر والحِلم وسعة الصدر، قال تعالى: {إِنَّ إِبْرَاهِيمَ لَأَوَّاهٌ حَلِيمٌ}.
هذا الحِلم والصّبر كان سِمة من سماته ومَعلماً من معالِم شخصيّته، ظهر ذلك واضحاً جلياً لمحاوراته لعُبّاد الأصنام، ومجادلاته لعُبّاد الكواكب، وتصدِّيه بقوّة
গ- বিতর্ক ও বাদানুবাদে ধৈর্য ধারণ। আল্লাহ তাআলা বলেন: {তারা বলল, হে নূহ! তুমি আমাদের সাথে বিতর্কে লিপ্ত হয়েছ এবং আমাদের সাথে অনেক বাদানুবাদ করেছ। অতএব, তুমি যদি সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত হও, তবে যার ভয় তুমি আমাদের দেখাচ্ছ তা আমাদের কাছে নিয়ে আস।}
ঘ- তাঁর কওমের বিদ্রূপ ও উপহাসে ধৈর্য ধারণ। আল্লাহ তাআলা বলেন: {সে নৌকা নির্মাণ করতে লাগল, আর যখনই তার কওমের নেতৃস্থানীয় একদল লোক তার পাশ দিয়ে যেত, তারা তাকে নিয়ে বিদ্রূপ করত। সে বলল, যদি তোমরা আমাদের নিয়ে বিদ্রূপ কর, তবে আমরাও তোমাদের নিয়ে বিদ্রূপ করব যেমনটি তোমরা বিদ্রূপ করছ।}
ঙ- স্ত্রী ও সন্তানের বিয়োগান্তক ঘটনায় ধৈর্য ধারণ; কেননা স্ত্রী তার কওমের কুফরি ও হঠকারিতায় তাদের অনুসারী হয়েছিল। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আল্লাহ তাআলা কাফিরদের জন্য নূহের স্ত্রী ও লূতের স্ত্রীর উদাহরণ পেশ করেছেন। তারা আমার বান্দাদের মধ্যে দুই নেককার বান্দার অধীনে ছিল, কিন্তু তারা তাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করল। ফলে তারা (নূহ ও লূত) আল্লাহর শাস্তির মোকাবিলায় তাদের কোনো উপকারে আসেনি এবং বলা হলো, তোমরা প্রবেশকারীদের সাথে জাহান্নামে প্রবেশ কর।}
পুত্রের ব্যাপারে বলা যায়, সে তার পিতা নূহ আলাইহিস সালামের অবাধ্য হয়েছিল, হঠকারিতা প্রদর্শন করেছিল এবং নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করেছিল। সে প্লাবনের পানি থেকে বাঁচতে পাহাড়ের চূড়ায় আশ্রয় নিয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত নিমজ্জিতদের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। তখন নূহের মধ্যে পিতৃসুলভ দয়ার্দ্র আবেগ জেগে ওঠে এবং তিনি তাঁর প্রতিপালককে ডাকেন, যেমনটি আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {আর নূহ তাঁর প্রতিপালককে ডেকে বললেন, হে আমার প্রতিপালক! নিশ্চয়ই আমার পুত্র আমার পরিবারভুক্ত এবং আপনার প্রতিশ্রুতি অবশ্যই সত্য আর আপনিই সর্বশ্রেষ্ঠ বিচারক। আল্লাহ বললেন, হে নূহ! সে তোমার পরিবারভুক্ত নয়, নিশ্চয়ই সে অসৎকর্মশীল। অতএব, যে বিষয়ে তোমার জ্ঞান নেই সে বিষয়ে আমাকে অনুরোধ করো না। আমি তোমাকে উপদেশ দিচ্ছি যাতে তুমি অজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত না হও।} অতঃপর তিনি (আলাইহিস সালাম) আল্লাহর নির্দেশের আনুগত্য করলেন এবং তাঁর ফয়সালার ওপর ধৈর্য ধারণ করলেন।
দ্বিতীয়ত: ইব্রাহিম খলিল আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম।
তাঁর জীবন ও দাওয়াত নবীদের ধৈর্য, মুমিনদের দৃঢ় সংকল্প এবং ধৈর্যশীলদের শক্তির এক সর্বোত্তম দৃষ্টান্ত। কেননা তিনি (তাঁর ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক) ধৈর্য, সহিষ্ণুতা ও প্রশস্ত হৃদয়ের সমন্বয় ঘটিয়েছিলেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: {নিশ্চয়ই ইব্রাহিম পরম দয়ালু ও সহিষ্ণু।}
এই সহিষ্ণুতা ও ধৈর্য ছিল তাঁর অন্যতম বৈশিষ্ট্য এবং তাঁর ব্যক্তিত্বের একটি উজ্জ্বল দিক। মূর্তিপূজারীদের সাথে তাঁর কথোপকথন, নক্ষত্রপূজারীদের সাথে তাঁর বিতর্ক এবং দৃঢ়ভাবে তাদের মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে তা অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
(খণ্ড: ২)
উসুলুদ দাওয়াহ ওয়া তুরুকুহা ২ - জামিয়াতুল মদীনা
(পৃষ্ঠা: ৩০)
للحاكم الظالم الذي ادّعى الألوهية. ويتجلّى الصّبر والحِلم مع أبيه. ويتجلّى في أعظم صُوَره وأسمى معانيه في تنقّله بين فلسطين ومصر ومكّة المكرمة.
غير أنّ ما انفرد به وتميّز به في ميدان الصبر وقوة التحمّل، والثّبات ورباطة الجأش، والاستسلام لأمر الله والرضى بقضائه وقَدَره، كان في المواطن التالية:
1 - الصبر وعدم اليأس من الإنجاب والذُّرِّية، وقد جُوزِي وكوفِئ على صبره بإسماعيل من زوجته هاجر، وبإسحاق من زوجته سارة.
2 - الصبر على الإلقاء في النار، بصبر واطمئنان، وثقة مطلقة بالله، فأنجاه الله منها وخرج سليما معافىً، قال تعالى: {قُلْنَا يَا نَارُ كُونِي بَرْداً وَسَلاماً عَلَى إِبْرَاهِيمَ * وَأَرَادُوا بِهِ كَيْداً فَجَعَلْنَاهُمُ الأَخْسَرِينَ}.
3 - الصبر على فراق هاجر وإسماعيل، وترْكهما في مكة المكرمة، حيث لا ماء ولا زرع ولا بشَر، ولجأ في هذا الموقف لله، قال تعالى عن لسانه عليه السلام: {رَبَّنَا إِنِّي أَسْكَنْتُ مِنْ ذُرِّيَّتِي بِوَادٍ غَيْرِ ذِي زَرْعٍ عِنْدَ بَيْتِكَ الْمُحَرَّمِ رَبَّنَا لِيُقِيمُوا الصَّلاةَ فَاجْعَلْ أَفْئِدَةً مِنَ النَّاسِ تَهْوِي إِلَيْهِمْ وَارْزُقْهُمْ مِنَ الثَّمَرَاتِ لَعَلَّهُمْ يَشْكُرُونَ}.
4 - الصبر الجميل والاستسلام المُطلَق لأمْر الله بذبْح إسماعيل بعد رؤية صادقة، فصبر صبراً ليس في طاقة بشَر أن يتحمّله؛ فمن يطيق أن يُمسك بالسِّكِّين ويذبح وحيدَه وفلذة كبِده، والذي رزقه الله بعد صبر وتلهّف وطول انتظار. ولكنّه أمْر الله الذي لا يُردّ، وطبيعة الأنبياء في المبادرة بالإذعان والإسراع في تنفيذ الأمْر بلا تردّد أو مناقشة. وقد اشترك الابن والأب والأمّ في فضيلة الصبر ومُطلق الطاعة لله؛ فالابن قال: {يَا أَبَتِ افْعَلْ مَا تُؤْمَرُ سَتَجِدُنِي إِنْ شَاءَ اللَّهُ مِنَ الصَّابِرِينَ}. والأب امتثل. والأم استسلمت لأمر الله في وحيدها وقرّة عيْنها.
সেই জালেম শাসকের প্রতি যে খোদায়িত্ব দাবি করেছিল। তার পিতার সাথে তার ধৈর্য ও সহনশীলতা প্রকাশ পায়। আর তা অত্যন্ত মহিমান্বিত রূপে ও উচ্চতর অর্থে প্রকাশ পায় ফিলিস্তিন, মিশর ও মক্কা মুকাররমার মাঝে তার ভ্রমণের সময়।
তবে ধৈর্য, সহনশক্তি, অবিচলতা, মানসিক দৃঢ়তা, আল্লাহর আদেশের কাছে আত্মসমর্পণ এবং তাঁর ফয়সালা ও তাকদীরের (قدر) প্রতি সন্তুষ্টির ক্ষেত্রে তিনি যা দিয়ে অনন্য ও বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়েছিলেন, তা নিম্নোক্ত ক্ষেত্রগুলোতে পরিলক্ষিত হয়:
1 - সন্তান ও বংশধরের ব্যাপারে ধৈর্য ধারণ করা এবং নিরাশ না হওয়া; আর তার এই ধৈর্যের প্রতিদান হিসেবে তার স্ত্রী হাজেরার গর্ভে ইসমাইল এবং স্ত্রী সারার গর্ভে ইসহাককে দান করা হয়েছিল।
2 - ধৈর্য ও প্রশান্তি এবং আল্লাহর ওপর অগাধ বিশ্বাসের সাথে অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষিপ্ত হওয়ার ওপর ধৈর্য ধারণ করা। ফলে আল্লাহ তাকে তা থেকে মুক্তি দেন এবং তিনি সুস্থ ও নিরাপদ অবস্থায় বের হয়ে আসেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আমি বললাম, হে আগুন! তুমি ইব্রাহিমের জন্য শীতল ও নিরাপদ হয়ে যাও। তারা তার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করতে চেয়েছিল, কিন্তু আমি তাদেরকেই সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত করে দিলাম।}
3 - হাজেরা ও ইসমাইলের বিচ্ছেদে ধৈর্য ধারণ করা এবং তাদের মক্কা মুকাররমার এমন এক স্থানে রেখে আসা যেখানে পানি নেই, শস্য নেই এবং কোনো মানুষও নেই। এই অবস্থায় তিনি আল্লাহর কাছেই আশ্রয় চেয়েছিলেন। তার পক্ষ থেকে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন: {হে আমাদের রব! আমি আমার বংশধরদের একাংশকে আপনার পবিত্র ঘরের কাছে এক অনুর্বর উপত্যকায় বসতি স্থাপন করালাম; হে আমাদের রব! যাতে তারা সালাত কায়েম করে। অতএব আপনি মানুষের অন্তরগুলোকে তাদের প্রতি অনুরাগী করে দিন এবং তাদেরকে ফলমূল দিয়ে রিজিক দান করুন, যাতে তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।}
4 - একটি সত্য স্বপ্ন (رؤية صادقة) দেখার পর ইসমাইলকে জবাই করার আল্লাহর নির্দেশের সামনে উত্তম ধৈর্য (صبر جميل) ও নিরঙ্কুশ আত্মসমর্পণ। তিনি এমন ধৈর্য ধারণ করেছিলেন যা কোনো মানুষের পক্ষে সহ্য করার সাধ্য নেই। কে পারে ছুরি হাতে নিজের একমাত্র কলিজার টুকরা সন্তানকে জবাই করতে, যাকে আল্লাহ দীর্ঘ প্রতীক্ষা, আকুলতা ও ধৈর্যের পর দান করেছিলেন? কিন্তু এটি ছিল আল্লাহর অলঙ্ঘনীয় নির্দেশ, আর নবীদের স্বভাবই হলো দ্বিধা বা বিতর্ক ছাড়াই আদেশ পালনে দ্রুত অগ্রসর হওয়া ও আনুগত্য করা। এই ধৈর্যের মহিমা ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আনুগত্যে পিতা, পুত্র ও মাতা—সকলেই শরিক ছিলেন। পুত্র বলেছিলেন: {হে আমার পিতা! আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে তা পালন করুন। ইনশাআল্লাহ, আপনি আমাকে ধৈর্যশীলদের (الصابرين) অন্তর্ভুক্ত পাবেন।} পিতা তা পালন করেছিলেন এবং মাতা তার একমাত্র নয়নমণির ব্যাপারে আল্লাহর নির্দেশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিলেন।
(খণ্ড: ২)
উসুলুদ দাওয়াহ ওয়া তুরুকুহা ২ - জামিয়াতুল মদীনা
(পৃষ্ঠা: ৩১)
إنها فعْلاً أسرة صابرة بالفطرة، لا تتصنّع الصبر ولا تتجمّل بالفداء. لقد نجحوا جميعاً في امتحان الصبر والرضى بالقضاء، فكانت المكافأة: {وَفَدَيْنَاهُ بِذِبْحٍ عَظِيمٍ * وَتَرَكْنَا عَلَيْهِ فِي الْآخِرِينَ * سَلامٌ عَلَى إِبْرَاهِيمَ * كَذَلِكَ نَجْزِي الْمُحْسِنِينَ * إِنَّهُ مِنْ عِبَادِنَا الْمُؤْمِنِينَ}.
ثالثاً: موسى عليه السلام.
وهو من أنبياء بني إسرائيل، ومِن أولي العزم من الرّسل الذين خصّهم الله بالعزم القويّ، والصبر الجميل، والتّحمّل الشديد. وحياته عليه السلام فيها من العِبَر والفوائد ممّا يضيق المقام عن حصرها، غير أنّ جانب الصّبر في دعوته ظاهر بارز، كشأن إخوانه من الأنبياء والمرسلين. ولقد تعدّدت مراحل حياته منذ ولادته والتقاط آل فرعون له.
وفي هذه المرحلة تبرز صورة أمّه والتي أوحى الله إليها أن تُلقي به في البحر. ويربط سبحانه وتعالى على قلبها، فتصبر على قضاء ربّها، وتطمئنّ إلى حسْن تدبيره وحفظه تعالى لموسى، قال تعالى: {وَأَوْحَيْنَا إِلَى أُمِّ مُوسَى أَنْ أَرْضِعِيهِ فَإِذَا خِفْتِ عَلَيْهِ فَأَلْقِيهِ فِي الْيَمِّ وَلا تَخَافِي وَلا تَحْزَنِي إِنَّا رَادُّوهُ إِلَيْكِ وَجَاعِلُوهُ مِنَ الْمُرْسَلِينَ}.
إنها الأمومة الصابرة التي جمعَت بين هاجر، وأمّ موسى، ومريم أمّ عيسى. ثم تتتابع رحلة حياته حينما خرج من مصر، وصبر على آلام الغرية.
وتتجلى المواقف الإيمانية التي تتّسم بالصبر في دعوته لفرعون، وصبره على ما لقيه من بني إسرائيل أثناء رحلة الخروج من مصر. ولقد أمَرهم بالاستعانة بالله والصبر والتقوى، قال تعالى: {قَالَ مُوسَى لِقَوْمِهِ اسْتَعِينُوا بِاللَّهِ وَاصْبِرُوا إِنَّ الْأَرْضَ لِلَّهِ يُورِثُهَا مَنْ يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ وَالْعَاقِبَةُ لِلْمُتَّقِينَ}.
এটি প্রকৃতপক্ষে জন্মগতভাবেই এক ধৈর্যশীল পরিবার, যারা ধৈর্যের ভান করে না এবং আত্মত্যাগের মাধ্যমে কৃত্রিম সৌন্দর্য প্রকাশ করে না। তারা সকলেই ধৈর্য এবং তাকদীরের ফয়সালার ওপর সন্তুষ্টির পরীক্ষায় সফল হয়েছিলেন, যার পুরস্কার ছিল: "আর আমি তাকে মুক্ত করলাম এক মহান কোরবানির বিনিময়ে। আমি এটি পরবর্তীদের মাঝে তার স্মরণে রেখে দিয়েছি। ইব্রাহিমের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। এভাবেই আমি সৎকর্মশীলদের পুরস্কৃত করি। নিশ্চয়ই তিনি আমার মুমিন বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত।"
তৃতীয়ত: মুসা আলাইহিস সালাম।
তিনি বনী ইসরাঈলের নবীদের অন্তর্ভুক্ত এবং দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ রসূলগণের একজন, যাদেরকে আল্লাহ সুদৃঢ় সংকল্প, সুন্দর ধৈর্য এবং কঠোর সহনশীলতা দিয়ে বিশেষিত করেছেন। তার (আলাইহিস সালাম) জীবনে এমন অনেক শিক্ষা ও উপকারিতা রয়েছে যা এখানে সীমাবদ্ধ পরিসরে বর্ণনা করা অসম্ভব, তবে তার দাওয়াতের ক্ষেত্রে ধৈর্যের দিকটি অত্যন্ত উজ্জ্বল ও সুস্পষ্ট, যেমনটি ছিল তার অন্যান্য নবী ও রসূল ভাইদের ক্ষেত্রে। তার জন্ম এবং ফেরাউনের পরিবারের তাকে কুড়িয়ে নেওয়া থেকে শুরু করে তার জীবনের বিভিন্ন পর্যায় অতিবাহিত হয়েছে।
এই পর্যায়ে তার মায়ের ধৈর্যশীল প্রতিচ্ছবি ফুটে ওঠে, যাকে আল্লাহ প্রত্যাদেশ করেছিলেন যেন তিনি তাকে সাগরে নিক্ষেপ করেন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তার অন্তরকে সুদৃঢ় করেছিলেন, ফলে তিনি তার প্রতিপালকের ফয়সালার ওপর ধৈর্য ধারণ করেন এবং মুসার প্রতি আল্লাহর উত্তম ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণের বিষয়ে আশ্বস্ত হন। আল্লাহ তাআলা বলেন: "আমি মুসার মায়ের প্রতি ওহি প্রেরণ করলাম যে, তাকে দুধ পান করাও; যখন তুমি তার ব্যাপারে আশঙ্কা করবে তখন তাকে দরিয়ায় নিক্ষেপ করবে, ভয় পেয়ো না এবং দুশ্চিন্তাও করো না, নিশ্চয়ই আমি তাকে তোমার কাছে ফিরিয়ে দেব এবং তাকে রসূলদের অন্তর্ভুক্ত করব।"
এটি ছিল সেই ধৈর্যশীল মাতৃত্ব যা হাজেরা, মুসার মা এবং ঈসার মা মারিয়ামের মাঝে মেলবন্ধন তৈরি করেছিল। এরপর যখন তিনি মিশর থেকে বের হয়ে যান এবং প্রবাস জীবনের কষ্টের ওপর ধৈর্য ধারণ করেন, তখন তার জীবনের সফর চলতে থাকে।
ফেরাউনের কাছে দাওয়াতের ক্ষেত্রে এবং মিশর ত্যাগের সময় বনী ইসরাঈলের পক্ষ থেকে প্রাপ্ত কষ্টের মোকাবিলায় ধৈর্য ধারণের মধ্য দিয়ে তার ঈমানি অবস্থানগুলো প্রস্ফুটিত হয়। তিনি তাদের আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করার এবং ধৈর্য ও তাকওয়া অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছিলেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: "মুসা তার সম্প্রদায়কে বলল, আল্লাহর কাছে সাহায্য চাও এবং ধৈর্য ধরো, নিশ্চয়ই এই জমিন আল্লাহর, তিনি তার বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা এর উত্তরাধিকারী বানান এবং শুভ পরিণাম মুত্তাকিদের জন্যই।"
(খণ্ড: ২)
উসুলুদ দাওয়াহ ওয়া তুরুকুহা ২ - জামিয়াতুল মদীনা
(পৃষ্ঠা: ৩২)
غير أن بني إسرائيل لم يعملوا بنصيحته ولم يلتزموا بما شرعه الله لهم، وصبر موسى وهارون عليهما السلام على تعنّتهم وتجرّئهم على الله، وتطاولهم عليهما. وقد استفاض القرآن الكريم في ذكْر مواقف بني إسرائيل من موسى كثيراً، للتنبيه على خطرهم، وتحذير الإنسانية من شرورهم التي أظهرت الأحداث في هذا العصر إعجاز وصدْق ما أخبر به القرآن الكريم عنهم.
رابعا: عيسى بن مريم عليه السلام.
من أولي العزم من الرّسل، ورسالته هي خاتمة رسالات بني إسرائيل. وهو عليه السلام كإخوانه الأنبياء والمرسلين قد تحلّى بالصبر والرحمة. وقد اتضحت معالم دعْوته ومنهج رسالته منذ ميلاده حين أنطقه الله وهو ما زال في المهد صبياً. وقد تحدّث القرآن الكريم عن هذا المنهج في قوله تعالى: {قَالَ إِنِّي عَبْدُ اللَّهِ آتَانِيَ الْكِتَابَ وَجَعَلَنِي نَبِيّاً * وَجَعَلَنِي مُبَارَكاً أَيْنَ مَا كُنْتُ وَأَوْصَانِي بِالصَّلَاةِ وَالزَّكَاةِ مَا دُمْتُ حَيّاً * وَبَرّاً بِوَالِدَتِي وَلَمْ يَجْعَلْنِي جَبَّاراً شَقِيّاً * وَالسَّلامُ عَلَيَّ يَوْمَ وُلِدْتُ وَيَوْمَ أَمُوتُ وَيَوْمَ أُبْعَثُ حَيّاً}.
وقد صبرت أمه مريم عليها السلام على تلك الألسنة التي تطاولت عليها، وعلى تلك النظرة المريبة التي لاحقتْها أثناء الحمل والولادة. وكان ثمار هذا الصبر الجميل، والتحمل الذي لا يطيقه بشَر: أن تولّى الله عنايتها، وأظهر لها من المعجزات ما ثبّت قلبها وهدّأ من روعها؛ وهذا جزاء الصابرين. قال تعالى: {إِنَّمَا يُوَفَّى الصَّابِرُونَ أَجْرَهُمْ بِغَيْرِ حِسَابٍ}.
خامسا: إمام الصابرين، أشرف الخلْق وخاتم الرسُل محمد صلى الله عليه وسلم.
لقد كانت حياته صلى الله عليه وسلم وسيرته بعد انتقاله للرفيق الأعلى تجسيداً حياً ونموذجاً فريداً للصبر والحلْم وتحمّل كلّ صنوف الإيذاء والعنت، بنفْس صافية لا تحمل
তবে বনী ইসরাঈল তাঁর উপদেশ অনুযায়ী আমল করেনি এবং আল্লাহ তাদের জন্য যে বিধান প্রবর্তন করেছেন তা মেনে চলেনি। মূসা ও হারুন (আলাইহিমাস সালাম) তাদের একগুঁয়েমি, আল্লাহর প্রতি ঔদ্ধত্য এবং তাঁদের প্রতি দুর্ব্যবহারের ওপর ধৈর্য ধারণ করেছিলেন। পবিত্র কুরআন তাদের বিপদ সম্পর্কে সচেতন করতে এবং মানবজাতিকে তাদের অনিষ্ট থেকে সতর্ক করতে মূসার সাথে বনী ইসরাঈলের আচরণের বিষয়টি ব্যাপকভাবে (استفاض) বর্ণনা করেছে; বর্তমান সময়ের ঘটনাবলী কুরআনে তাদের সম্পর্কে বর্ণিত সংবাদের অলৌকিকত্ব ও সত্যতা প্রমাণ করেছে।
চতুর্থ: ঈসা ইবনে মারইয়াম (আলাইহিস সালাম)।
তিনি ছিলেন উলুল আযম রাসুলগণের অন্তর্ভুক্ত এবং তাঁর রিসালাত ছিল বনী ইসরাঈলের জন্য প্রেরিত সর্বশেষ রিসালাত। তিনি (আলাইহিস সালাম) তাঁর ভ্রাতৃপ্রতিম নবী ও রাসুলগণের মতো ধৈর্য ও দয়ার গুণে গুণান্বিত ছিলেন। তাঁর দাওয়াতের বৈশিষ্ট্য ও রিসালাতের পদ্ধতি তাঁর জন্মকাল থেকেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল, যখন মহান আল্লাহ তাঁকে দোলনায় থাকা অবস্থায় শিশুকালেই বাকশক্তি দান করেছিলেন। পবিত্র কুরআন এই পদ্ধতি সম্পর্কে মহান আল্লাহর এই বাণীতে বর্ণনা করেছে: {তিনি বললেন, 'আমি আল্লাহর বান্দা, তিনি আমাকে কিতাব দান করেছেন এবং আমাকে নবী করেছেন। যেখানেই আমি থাকি না কেন তিনি আমাকে বরকতময় করেছেন এবং আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন যতদিন আমি জীবিত থাকি সালাত ও যাকাত আদায় করতে। আর আমাকে আমার মায়ের প্রতি অনুগত করেছেন এবং তিনি আমাকে উদ্ধত ও হতভাগ্য করেননি। আর আমার ওপর শান্তি, যেদিন আমি জন্মগ্রহণ করেছি, যেদিন আমার মৃত্যু হবে এবং যেদিন আমাকে জীবিত অবস্থায় পুনরুত্থিত করা হবে।'}
তাঁর মাতা মারইয়াম (আলাইহাস সালাম) সেই সব রসনার বিরুদ্ধে ধৈর্য ধারণ করেছিলেন যা তাঁর সম্মানহানি করতে চেয়েছিল এবং গর্ভাবস্থায় ও প্রসবকালে তাঁকে তাড়া করে ফেরা সেই সন্দেহজনক দৃষ্টির ওপর সবর করেছিলেন। এই সুন্দর ধৈর্য এবং মানুষের সাধ্যাতীত সহনশীলতার ফসল ছিল এই যে, আল্লাহ নিজেই তাঁর তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব নিলেন এবং তাঁর জন্য এমন সব মুজিজা প্রকাশ করলেন যা তাঁর হৃদয়কে সুদৃঢ় করেছিল এবং তাঁর আতঙ্ক দূর করেছিল; আর এটাই ধৈর্যশীলদের পুরস্কার। মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয়ই ধৈর্যশীলদের তাদের পুরস্কার অগণিতভাবে পূর্ণ করে দেওয়া হবে।}
পঞ্চম: ধৈর্যশীলদের ইমাম, সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ এবং সর্বশেষ রাসুল মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)।
তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জীবন এবং 'রফীকে আলা'র (মহান বন্ধুর) সান্নিধ্যে চলে যাওয়ার পর তাঁর রেখে যাওয়া সীরাত ছিল ধৈর্য, সহনশীলতা এবং সকল প্রকার কষ্ট ও যাতনা এক প্রশান্ত হৃদয়ে সহ্য করার এক জীবন্ত রূপায়ন ও অনন্য দৃষ্টান্ত, যা কোনো প্রকার কলুষতা বহন করে না...
(খণ্ড: ২)
উসুলুদ দাওয়াহ ওয়া তুরুকুহা ২ - জামিয়াতুল মদীনা
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
ضغينة، وقلب مطمئن بالإيمان، مستوثق كلّ الثقة بنصر الله وتأييده. لقد تجمّع صبر الأنبياء جميعاً في صبره، وأفرغ الله عليه من الثبات واليقين وقوّة العزم ورباطة الجأش الذي لا تُحرِّكه شدائد الدنيا بأسرها، وأودع الله بين حنايا نفْسه الرحيمة والحليمة من الحِلْم وسعة الصدر ما وسع أعداءه قبل أصحابه، قال تعالى: {وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا رَحْمَةً لِلْعَالَمِينَ}.
وسوف نقتطف من رياض صبره صلى الله عليه وسلم بعض الباقات التي ترسم صورة رائعة سامية للصبر والمصابرة، والمجاهدة والتحمّل، دون تبرّم أو ضيق أو غضب، الصبر الذي يحمل بين ثناياه أملاً يتجدّد، وتفاؤلاً يُرسل أشعّته على القلوب، فتشعر بالطمأنينة لجانب الله والرضى بقضائه وقَدَره.
هذا الخُلق الكريم، والفضيلة المتألّقة بين الفضائل، يُجهد الإنسان نفْسه ويعتصر عقله وفكْره إذا ما أراد حصْر بعضها عند رسول الله صلى الله عليه وسلم، أو استيعاب جزء منها في محاضرة أو عدة محاضرات؛ حيث إنّ مجالات الصبر وميادينه في حياته صلى الله عليه وسلم أكثر من أن تحصى، لذلك سأرصد للدارسين والدّعاة بعضاً منها على النحو التالي:
1 - اليُتْم المُبكِّر للرسول صلى الله عليه وسلم ربّى فيه ملَكة الصّبر منذ طفولته، ومجابهة الحياة وتحمّل مسؤولية الرِّجال، وهو صلى الله عليه وسلم فتىً صغير يرعى الغنم، ليكفل نفْسه ويُعين عمّه أبا طالب.
2 - ما أمره به الحقّ -تبارك وتعلى- في مرحلة التربية والإعداد للدعوة بالصبر، قال تعالى: {يَا أَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ * قُمْ فَأَنْذِرْ * وَرَبَّكَ فَكَبِّرْ * وَثِيَابَكَ فَطَهِّرْ * وَالرُّجْزَ فَاهْجُرْ * وَلا تَمْنُنْ تَسْتَكْثِرُ * وَلِرَبِّكَ فَاصْبِرْ}.
وقال تعالى في سورة (المزمل)، وهي من أوائل ما نزل من القرآن الكريم: {وَاصْبِرْ عَلَى مَا يَقُولُونَ وَاهْجُرْهُمْ هَجْراً جَمِيلاً}.
বিদ্বেষমুক্ত এবং ঈমানের ওপর প্রশান্ত এক হৃদয়, যা আল্লাহর সাহায্য ও সমর্থনের ব্যাপারে পূর্ণ আস্থা (الثقة) পোষণকারী। তাঁর ধৈর্যের মাঝে সকল নবীদের ধৈর্য পুঞ্জীভূত হয়েছিল এবং আল্লাহ তাঁর ওপর এমন অটলতা, দৃঢ় বিশ্বাস, সংকল্পের দৃঢ়তা ও চিত্তের স্থিরতা বর্ষণ করেছিলেন যা সমগ্র দুনিয়ার কোনো বিপদ-আপদ টলাতে পারত না। আল্লাহ তাঁর দয়ালু ও সহনশীল অন্তরের গভীরে এমন সহিষ্ণুতা ও প্রশস্ততা গচ্ছিত রেখেছিলেন যা তাঁর সঙ্গীদের আগে তাঁর শত্রুদেরও শামিল করেছিল। মহান আল্লাহ বলেন: {আমি আপনাকে বিশ্বজগতের জন্য কেবল রহমত হিসেবেই প্রেরণ করেছি}।
আমরা তাঁর ধৈর্যের উদ্যান থেকে এমন কিছু পুষ্পগুচ্ছ চয়ন করব যা ধৈর্য, সহিষ্ণুতা, সাধনা এবং সহ্যশক্তির এক চমৎকার ও মহিমান্বিত চিত্র অঙ্কন করে; যেখানে নেই কোনো বিরক্তি, সংকীর্ণতা বা ক্রোধ। এমন এক ধৈর্য যা নিজের ভেতরে এক নবায়িত আশা এবং হৃদয়ে আলো বিচ্ছুরণকারী এক আশাবাদ ধারণ করে, যার ফলে আল্লাহর সান্নিধ্যে প্রশান্তি এবং তাঁর ফয়সালা ও তকদিরের ওপর সন্তুষ্টি অনুভূত হয়।
এই মহান চরিত্র এবং গুণাবলির মাঝে সমুজ্জ্বল এই শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে কোনো মানুষ যদি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জীবনের কিছু অংশ সীমাবদ্ধ করতে চায় কিংবা একটি বা একাধিক আলোচনায় তার কিয়দাংশ আয়ত্ত করতে চায়, তবে তাকে নিজের ওপর অনেক ধকল পোহাতে হবে এবং নিজের বুদ্ধি ও চিন্তাকে নিংড়ে দিতে হবে। যেহেতু তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জীবনে ধৈর্যের ক্ষেত্র ও ময়দানসমূহ গণনার অতীত, তাই আমি শিক্ষার্থী ও দাঈদের জন্য তার কিছু অংশ নিম্নরূপভাবে তুলে ধরছি:
1 - রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর শৈশবের পিতৃহীনতা তাঁর মাঝে বাল্যকাল থেকেই ধৈর্যের গুণ তৈরি করেছিল এবং জীবনসংগ্রাম ও পুরুষোচিত দায়িত্ববোধের মোকাবিলা করতে শিখিয়েছিল। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তখন এক অল্পবয়সী কিশোর হিসেবে ছাগল চরাতেন, যাতে নিজের ভরণপোষণ করতে পারেন এবং তাঁর চাচা আবু তালিবকে সাহায্য করতে পারেন।
2 - দাওয়াতের প্রস্তুতি ও প্রশিক্ষণের পর্যায়ে মহান সত্য ইলাহ তাঁকে ধৈর্যের যে নির্দেশ দিয়েছিলেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: {হে চাদরাবৃত! উঠুন এবং সতর্ক করুন। আপনার প্রতিপালকের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করুন। আপনার পোশাক পবিত্র রাখুন। অপবিত্রতা বর্জন করুন। অধিক পাওয়ার আশায় অনুগ্রহ করবেন না। আর আপনার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে ধৈর্য ধারণ করুন}।
এবং সূরা আল-মুযযাম্মিল-এ (যা আল-কুরআনের শুরুর দিকে অবতীর্ণ সূরাসমূহের একটি) আল্লাহ তাআলা বলেন: {লোকেরা যা বলে তাতে আপনি ধৈর্য ধারণ করুন এবং সুন্দরভাবে তাদের পরিহার করে চলুন}।
(খণ্ড: ২)
উসুলুদ দাওয়াহ ওয়া তুরুকুহা ২ - জামিয়াতুল মদীনা
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
3 - مع اشتداد الإيذاء الذي صبّتْه قريش بكلّ صنوفه عليه صلى الله عليه وسلم وعلى أصحابه، كانت آيات الصبر تتتابع، إمّا في صورة أمْر، كقوله تعالى: {وَاصْبِرْ وَمَا صَبْرُكَ إِلَّا بِاللَّهِ وَلَا تَحْزَنْ عَلَيْهِمْ وَلَا تَكُ فِي ضَيْقٍ مِمَّا يَمْكُرُونَ إِنَّ اللَّهَ مَعَ الَّذِينَ اتَّقَوْا وَالَّذِينَ هُمْ مُحْسِنُونَ}.
أو في عرض قصص الأنبياء والمرسلين مع أقوامهم، تسلية للرسول صلى الله عليه وسلم وتثبيتاً لقليه، واطمئناناً لنفسه؛ فلا تُضعف مواقفُ قومه ولا يوهن عنتُهم وحقدُهم مِن عزيمته، قال تعالى: {وَلَقَدْ كُذِّبَتْ رُسُلٌ مِنْ قَبْلِكَ فَصَبَرُوا عَلَى مَا كُذِّبُوا وَأُوذُوا حَتَّى أَتَاهُمْ نَصْرُنَا وَلَا مُبَدِّلَ لِكَلِمَاتِ اللَّهِ وَلَقَدْ جَاءَكَ مِنْ نَبَأِ الْمُرْسَلِينَ}.
أو تتوالى الآيات في بيان حُسن ثواب الصابرين، ومن ذلك قوله تعالى: {وَلَنَجْزِيَنَّ الَّذِينَ صَبَرُوا أَجْرَهُمْ بِأَحْسَنِ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ}.
كما ربط القرآن الكريم بين الصبر والجهاد في سبيل الله في أكثر من آية، قال تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اصْبِرُوا وَصَابِرُوا وَرَابِطُوا وَاتَّقُوا اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ}.
وقال تعال: {وَإِنْ تَصْبِرُوا وَتَتَّقُوا لَا يَضُرُّكُمْ كَيْدُهُمْ شَيْئاً}.
والربط بين الصبر والصلاة: دلالة على أهمية كلّ منهما للآخَر، قال تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اسْتَعِينُوا بِالصَّبْرِ وَالصَّلاةِ إِنَّ اللَّهَ مَعَ الصَّابِرِينَ}.
وقال تعالى: {وَأْمُرْ أَهْلَكَ بِالصَّلاةِ وَاصْطَبِرْ عَلَيْهَا}.
وقال تعالى: {فَاعْبُدْهُ وَاصْطَبِرْ لِعِبَادَتِهِ}.
أعلن الله محبّته للصابرين، قال تعالى: {وَكَأَيِّنْ مِنْ نَبِيٍّ قَاتَلَ مَعَهُ رِبِّيُّونَ كَثِيرٌ فَمَا وَهَنُوا لِمَا أَصَابَهُمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَمَا ضَعُفُوا وَمَا اسْتَكَانُوا وَاللَّهُ يُحِبُّ الصَّابِرِينَ}.
من خلال عرض خبر أولي العزم من الرّسُل، وعَبْر حديث القرآن الكريم عن الصّبر، يتبيّن: أنه من الواجب تربية الدّعاة إلى الله على فضيلة خُلُق الصبر في مختلف المواقف التي يتعرّضون لها.
৩ - কুরাইশরা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর সাহাবীদের ওপর সব ধরনের যে নির্যাতন চালিয়েছিল তার তীব্রতা বৃদ্ধির সাথে সাথে ধৈর্যের আয়াতগুলো একের পর এক অবতীর্ণ হতে থাকে। এগুলো কখনো নির্দেশের আকারে এসেছে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আর আপনি ধৈর্য ধারণ করুন; আপনার ধৈর্য তো কেবল আল্লাহরই সাহায্যে। তাদের জন্য আপনি দুঃখ করবেন না এবং তাদের ষড়যন্ত্রের কারণে আপনি মনঃকষ্টে থাকবেন না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের সঙ্গে আছেন যারা তাকওয়া অবলম্বন করে এবং যারা সৎকর্মশীল}।
অথবা নবি ও রাসুলদের সাথে তাঁদের কওমের ঘটনাবলি বর্ণনার মাধ্যমে, যা ছিল রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জন্য সান্ত্বনাদায়ক, তাঁর হৃদয়ের দৃঢ়তাস্বরূপ এবং মনের প্রশান্তির কারণ; যাতে তাঁর কওমের আচরণ তাঁকে দুর্বল করতে না পারে এবং তাদের নিষ্ঠুরতা ও বিদ্বেষ তাঁর সংকল্পকে শিথিল করতে না পারে। মহান আল্লাহ বলেন: {আপনার পূর্ববর্তী অনেক রাসুলকেই তো মিথ্যাবাদী বলা হয়েছিল, কিন্তু তাদেরকে মিথ্যাবাদী বলা ও কষ্ট দেওয়া সত্ত্বেও তারা ধৈর্য ধারণ করেছিলেন, যতক্ষণ না আমার সাহায্য তাদের কাছে পৌঁছেছে। আল্লাহর বাণীসমূহ পরিবর্তন করার কেউ নেই। আপনার কাছে তো রাসুলদের কিছু সংবাদ এসেছেই}।
অথবা একের পর এক আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে ধৈর্যশীলদের উত্তম প্রতিদান বর্ণনার ক্ষেত্রে। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আর যারা ধৈর্য ধারণ করেছে, আমি অবশ্যই তাদেরকে তারা যা করত তার চেয়েও উত্তম প্রতিদান দেব}।
একইভাবে পবিত্র কুরআন একাধিক আয়াতে ধৈর্য ও আল্লাহর পথে জিহাদের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন করেছে। মহান আল্লাহ বলেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা ধৈর্য ধরো, ধৈর্যের প্রতিযোগিতায় জয়ী হও, সীমান্ত রক্ষায় তৎপর থাকো এবং আল্লাহকে ভয় করো যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো}।
মহান আল্লাহ আরও বলেন: {আর যদি তোমরা ধৈর্য ধরো এবং তাকওয়া অবলম্বন করো, তবে তাদের ষড়যন্ত্র তোমাদের কোনোই ক্ষতি করতে পারবে না}।
ধৈর্য ও সালাতের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন: এটি একে অপরের জন্য উভয়ের গুরুত্বের নির্দেশক। মহান আল্লাহ বলেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন}।
মহান আল্লাহ আরও বলেন: {আর আপনি আপনার পরিবারবর্গকে সালাতের আদেশ দিন এবং তাতে ধৈর্য সহকারে লেগে থাকুন}।
মহান আল্লাহ আরও বলেন: {অতএব আপনি তাঁর ইবাদত করুন এবং তাঁর ইবাদতে ধৈর্য সহকারে অবিচল থাকুন}।
আল্লাহ ধৈর্যশীলদের প্রতি তাঁর ভালোবাসার ঘোষণা দিয়েছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {আর কত নবি যুদ্ধ করেছেন, তাঁদের সাথে অনেক রব্বানি (আল্লাহওয়ালা) লোকও ছিলেন; আল্লাহর পথে তাদের যে বিপদ হয়েছিল তাতে তারা হীনবল হননি, দুর্বল হননি এবং নতি স্বীকার করেননি। আর আল্লাহ ধৈর্যশীলদের ভালোবাসেন}।
দৃঢ়সংকল্পসম্পন্ন রাসুলদের সংবাদ এবং ধৈর্যের ব্যাপারে পবিত্র কুরআনের আলোচনার মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয় যে: আল্লাহর পথে আহ্বানকারী দাঈদের বিভিন্ন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়, তাই তাদেরকে ধৈর্যের মহান চারিত্রিক গুণের ওপর গড়ে তোলা আবশ্যক।
(খণ্ড: ২)
উসুলুদ দাওয়াহ ওয়া তুরুকুহা ২ - জামিয়াতুল মদীনা
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
فالأمر بالمعروف والنّهي عن المنكر من لوازمه: الصّبر والتّحمّل.
وقد ذكَر القرآن الكريم من وصايا لقمان ما ذكَر الحقّ سبحانه وتعالى: {وَأْمُرْ بِالْمَعْرُوفِ وَانْهَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَاصْبِرْ عَلَى مَا أَصَابَكَ}.
فالربط بين قضية الأمر بالمعروف والنّهي عن المنكر بالصبر على ما يصيب الدّعاة: إشارة لما يمكن أن ينزل بهم من إيذاء وفِتن وابتلاءات. وآيات الصبر في القرآن الكريم والتي جاءت في أكثر من مائة آية تخلق في الدّعاة ملَكات كثيرة منها:
1 - عدم اليأس والقنوط من إصلاح البشَر، فالفطرة الإنسانية مجبولة على الخير، كما قال صلى الله عليه وسلم: ((كلّ مولود يولَد على الفِطرة)).
وقد يتأثّر الشخص بعوامل كثيرة؛ فالواجب على الدّعاة ألاّ يفقدوا الأمل في إصلاح النفوس وهداية القلوب.
2 - أن يصبر على ممارسة الدّعوة، ولا يتوقف في مرحلة من مراحل حياته لسبب من الأسباب؛ بل يظلّ عطاؤه متجدِّداً ومُستمِراً.
3 - على الدّاعي أن لا يضيق ذرعاً بالناس، ولا يحنق عليهم، بل يتودّد إليهم ويترفّق بهم، ويحلُم عليهم.
4 - أن يصبر على المعاندين والمعارضين، لعل الله يهديَهم على يديه، فينال بذلك الثواب العظيم؛ يقول صلى الله عليه وسلم: ((لأنْ يهديَ الله بك رجُلاً أحَبّ إليك من حُمر النَّعَم)).
وهكذا يتبيّن بوضوح وجلاء ما ينبغي أن يتحلّى به الدعاة إلى الله من خُلُق الصبر والحِلم وسعة الصدر.
هذا، وبالله التوفيق.
والسلام عليكم ورحمة الله وبركاته.
সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের (منكر) অন্যতম অপরিহার্য অনুষঙ্গ হলো: ধৈর্য ও সহনশীলতা।
পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা লোকমান (আ.)-এর উপদেশাবলি থেকে যা বর্ণনা করেছেন তা হলো: {সৎকাজের আদেশ দাও, অসৎকাজে নিষেধ (منكر) করো এবং তোমার ওপর যে বিপদ আসে তাতে ধৈর্য ধারণ করো}।
সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের (منكر) বিষয়ের সাথে দাঈদের ওপর আপতিত বিপদে ধৈর্য ধারণের এই যোগসূত্রটি মূলত তাঁদের ওপর নেমে আসা সম্ভাব্য কষ্ট, ফিতনা ও পরীক্ষার প্রতি একটি ইঙ্গিত। পবিত্র কুরআনে ধৈর্যের আয়াতসমূহ—যা একশোরও বেশি আয়াতে বর্ণিত হয়েছে—তা দাঈদের মাঝে অনেক চারিত্রিক গুণাবলি সৃষ্টি করে, যার মধ্যে রয়েছে:
১ - মানুষের সংশোধনের ব্যাপারে আশাহীন ও হতাশ না হওয়া; কেননা মানুষের স্বভাবজাত প্রবৃত্তি বা ফিতরাত কল্যাণের ওপর ভিত্তি করে সৃজিত, যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “প্রত্যেক নবজাতক ফিতরাতের ওপর জন্মগ্রহণ করে।”
একজন ব্যক্তি বিভিন্ন পারিপার্শ্বিকতার দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে; তাই দাঈদের কর্তব্য হলো নফস বা আত্মার সংশোধন এবং হৃদয়ের হিদায়াতের ব্যাপারে আশা না হারানো।
২ - দাওয়াতের কাজে ধৈর্য ধারণ করা এবং জীবনের কোনো পর্যায়ে কোনো কারণেই থেমে না যাওয়া; বরং তাঁর এই অবদান যেন সর্বদা নবায়িত ও নিরবচ্ছিন্ন থাকে।
৩ - দাঈর উচিত মানুষের ওপর বিরক্ত না হওয়া কিংবা তাঁদের প্রতি ক্ষুব্ধ না হওয়া, বরং তাঁদের প্রতি হৃদ্যতা ও নম্রতা প্রদর্শন করা এবং তাঁদের সাথে সহনশীল আচরণ করা।
৪ - একগুঁয়ে ও বিরোধীদের ব্যাপারে ধৈর্য ধারণ করা, যাতে আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে তাঁদের হিদায়াত দান করেন এবং এর ফলে তিনি মহান সওয়াব লাভ করেন; নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আল্লাহ যদি তোমার মাধ্যমে একজন ব্যক্তিকেও হিদায়াত দান করেন, তবে তা তোমার জন্য মূল্যবান লাল উটের চেয়েও উত্তম।”
এভাবে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, আল্লাহর পথে আহ্বানকারী দাঈদের ধৈর্য, সহনশীলতা ও প্রশস্ত হৃদয়ের ন্যায় চারিত্রিক গুণাবলিতে ভূষিত হওয়া কতটা প্রয়োজন।
পরিশেষে, আল্লাহর কাছেই তৌফিক কাম্য।
আপনাদের ওপর শান্তি এবং আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ২)
উসুলুদ দাওয়াহ ওয়া তুরুকুহা ২ - জামিয়াতুল মদীনা
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
الدرس: 2 تابع من أخلاق الدعاة إلى الله، والثقافة الإسلامية وأثرها على العالم.
পাঠ: ২ আল্লাহর পথে আহ্বানকারীদের উন্নত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যসমূহের ধারাবাহিকতা এবং ইসলামি সংস্কৃতি ও বিশ্বে এর প্রভাব