(খণ্ড: ১)
আল-মানসুব আলা নাযইল খাফিদ ফিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: -)
المنصوب على نزع الخافض في القرآن القسم: النحو والصرف
الكتاب: المنصوب على نزع الخافض في القرآن
المؤلف: إبراهيم بن سليمان البعيمي
الناشر: الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة
الطبعة: العدد 116، السنة 34، 1422هـ/2002م
عدد الصفحات: 340
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
কুরআনে অব্যয় বিলুপ্তির কারণে নসবপ্রাপ্ত পদ বিভাগ: ব্যাকরণ ও রূপতত্ত্ব
বই: কুরআনে অব্যয় বিলুপ্তির কারণে নসবপ্রাপ্ত পদ
লেখক: ইব্রাহিম বিন সুলাইমান আল-বাইমি
প্রকাশক: মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়
সংস্করণ: সংখ্যা ১১৬, বর্ষ ৩৪, ১৪২২ হিজরি/২০০২ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৪০
[বইয়ের পৃষ্ঠা বিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-মানসুব আলা নাযইল খাফিদ ফিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৬১)
المنصوب على نزع الخافض في القرآن
إعداد
الدكتور إبراهيم بن سليمان البعيمي
ال
مقدمةالحمد لله رب العالمين، أنزل القرآن الكريم علىعبده الأمين، هدى وبشرى للمؤمنين، وجعله محفوظاً إلى يوم الدين، وصلّى الله وسلّم على رسوله المصطفى، أفصح من نطق بالضاد، وعلى آله وأصحابه الغرّ الميامين، الذين حملوا شعلة الدين، وبلّغوا الأمانة كما احتملوها رضي الله عنهم أجمعين، أشهد أن لا إله إلا الله وأشهد أنّ محمداً عبده ورسوله.
أمَّا بعد، فإن القرآن الكريم معين لا ينضب، والدرس فيه مبارك، ودارسه موفّق، كتبْتُ فيما مضي بحثين في النحو أولهما: المنصوب على التقريب، وثانيهما ما تمِّم من الأفعال الناسخة في القرآن، وكان مدار هذينك البحثين القرآن الكريم: دراسة وتطبيقاً، فأحببت أن ينتظم العقد بحثاً ثالثاً هو: (المنصوب على نزع الخافض في القرآن جمعاً ودراسة) ولعليّ - إن كان في العمر فسحة - أكمل العقد ببحوث نحوية وصرفية يكون مجالها التطبيقي القرآن الكريم كالتقاء الساكنين، والتنازع، وأثر المجاورة، والاستثناء المنقطع، وأحكام حتّى، وغيرها مما هو مدوّن لديّ في جذاذات تنتظر الإخراج.
في كثير من القراءات القرآنية أسرار دفينة، وأحكام نحوية وصرفية، إبرازها خير من اللهاث خلف شاهد شعريٍّ، تضطرب روايته عند التمحيص، فخير الأعمال ما كان في خدمة كتاب الله الكريم يبارك الله فيها ونسأله أن تكون شاهدة لنا لا علينا بمنه وكرمه، وأن يجعلها في موازين أعمالنا يوم الحساب.
هذا البحث لم يتأتَّ لي سهواً رهواً، وإنما أخذت أنقِّب عن مادته العلمية بحثاً عن شاهد في بطون كتب النحو، والتفسير، وإعراب القرآن،
কুরআন মাজিদে হরফে জার বিলুপ্তির কারণে নসবপ্রাপ্ত (المنصوب على نزع الخافض) পদ
উপস্থাপনায়
ড. ইব্রাহিম বিন সুলাইমান আল-বাইমি
ভূমিকাসকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর বিশ্বস্ত দাসের ওপর পবিত্র কুরআন অবতীর্ণ করেছেন, যা মুমিনদের জন্য হিদায়াত ও সুসংবাদ এবং একে কিয়ামত পর্যন্ত সংরক্ষিত করেছেন। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর মনোনীত রাসুলের ওপর, যিনি আরবি ভাষায় কথা বলা শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি, এবং তাঁর জ্যোতির্ময় পরিবার ও সৌভাগ্যবান সাথীদের ওপর, যারা দ্বীনের মশাল বহন করেছেন এবং অর্পিত আমানত যথাযথভাবে পৌঁছে দিয়েছেন, আল্লাহ তাঁদের সকলের ওপর সন্তুষ্ট হন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসুল।
অতঃপর, পবিত্র কুরআন একটি অফুরন্ত ঝরনাধারা, এর পাঠ ও আলোচনা বরকতময় এবং এর শিক্ষার্থী সফলকাম। ইতিপূর্বে আমি নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্রে দুটি গবেষণা লিখেছি: প্রথমটি ‘আল-মানসুব আলাত তাকরিব’ এবং দ্বিতীয়টি ‘কুরআনে নাসিখ ক্রিয়াসমূহের পরিপূরক বিষয়াবলি’। এই গবেষণা দুটির কেন্দ্রবিন্দু ছিল পবিত্র কুরআন: বিশ্লেষণ ও প্রয়োগ। তাই আমি এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে একটি তৃতীয় গবেষণা করতে চেয়েছি, যার শিরোনাম: (কুরআনে হরফে জার বিলুপ্তির কারণে নসবপ্রাপ্ত পদসমূহ: সংকলন ও বিশ্লেষণ)। যদি জীবনে সময় পাওয়া যায়, তবে ইচ্ছা আছে এই গবেষণার ধারাবাহিকতা সম্পন্ন করার জন্য কুরআনের ওপর ভিত্তি করে আরও কিছু ব্যাকরণিক ও রূপতাত্ত্বিক গবেষণা করার। যেমন: দুই সুকুন বা সাকিনযুক্ত বর্ণের একত্র হওয়া (التقاء الساكنين), আমিলের বিবাদ (التنازع), পার্শ্ববর্তী শব্দের প্রভাব (أثر المجاورة), বিচ্ছিন্ন ব্যতিক্রম (الاستثناء المنقطع), হাত্তা (حتى)-এর বিধানসমূহ এবং অন্যান্য বিষয় যা আমার কাছে খসড়া আকারে জমা আছে এবং প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে।
কুরআনের বহু কিরাআতের মধ্যে নিহিত রয়েছে গভীর রহস্য এবং ব্যাকরণিক ও রূপতাত্ত্বিক বিধান। সেগুলোকে ফুটিয়ে তোলা এমন কাব্যিক উদাহরণের পেছনে ছোটার চেয়ে উত্তম, যার বর্ণনা যাঁচাই-বাছাইয়ের সময় অসংলগ্ন প্রমাণিত হয়। সর্বোত্তম কাজ হলো তা-ই, যা আল্লাহর পবিত্র কিতাবের খিদমতে উৎসর্গ করা হয়। আল্লাহ এতে বরকত দান করুন এবং তাঁর অনুগ্রহ ও করুণায় একে আমাদের বিপক্ষে নয় বরং আমাদের পক্ষে সাক্ষী হিসেবে কবুল করুন এবং বিচার দিবসে আমাদের নেক আমলের পাল্লায় যুক্ত করুন।
এই গবেষণাটি আমার কাছে হঠাৎ বা অনায়াসে আসেনি, বরং আমি ব্যাকরণ, তাফসির এবং কুরআনের ইরাব বা পদবিশ্লেষণ সংক্রান্ত গ্রন্থসমূহের গভীরে এর বৈজ্ঞানিক উপাদানসমূহ অনুসন্ধানের মাধ্যমে তথ্যগুলো সংগ্রহ করেছি।
(খণ্ড: ১)
আল-মানসুব আলা নাযইল খাফিদ ফিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৬২)
والقراءات، والمعاجم اللغوية، وغيرها كثير، ككتاب (دراسات لأسلوب القرآن الكريم) للشيخ محمد عبد الخالق عضيمة رحمه الله، إذ أفدت منه كثيراً في الشواهد، ومعجم الأدوات والضمائر في القرآن، والمعجم المفهرس لألفاظ القرآن، كما تتبّعت الأفعال اللازمة في القرآن، أدرس ما عُدّي منها، فإن كانت تعديته بنزع الخافض ادَّخرته، وإن كان معدَّى بغير ذلك من طرق التعدية المعروفة اطَّرحته، ولم أدرجه في بحثي، ومن خلال التنقيب والبحث رأيت أن المادة العلمية جديرة بإفرادها في بحث مستقل، استهللته بالحديث عن نزع الخافض: تعريفه، وأحكامه، وقياسيته، والفرق بين نزع الخافض والتضمين، فكان فصلاً، ثم درست نزع الخافض في القرآن في الفصل الثاني، فما كان منه قياسياً اكتفيت بأمثلة تجلّيه وتوضِّحه، دون استقصاء وحصر لجميع ما جاء منه في القرآن، لأن البحث ليس معجماً للقرآن، وما كان غير قياسي فإنني أحرص علىالاستقصاء والتحرّي، فإن فاتني منه شيء فالكمال لله.
ولا يخفى أن وجه الشاهد في بعض الآيات المستشهد بها يكون مرجوحاً، أو يكون القول به غير واضح الدلالة، أو ينازعه التضمين، فأورده، وأورد معه الوجه الأرجح، استيفاءً لما قيل في الآية، وخروجاً من لائمة التقصير، فإن قيل إن نزع الخافض في غير مواطنه القياسية موقوف على السماع، ولا تحمل الشواهد القرآنية إلا على المسائل القياسية، فأقول: إن الأئمة من النحاة والمفسرين والمعربين للقرآن أكثروا من القول بنزع الخفض في غير مواطن القياس، وارتضوه في آيات كثيرة، ومن الخير عدم الشذوذ عنهم، والتعسُّف في توجيه تلك الشواهد فراراً من القول بنزع الخافض، ولكن يقال هذه شواهد تحفظ ولا تتخذ قياساً.
কিরাতসমূহ, ভাষাগত অভিধান এবং আরও অনেক উৎস, যেমন শেখ মুহাম্মদ আবদুল খালিক আদাইমাহ (রহিমাহুল্লাহ)-এর ‘দিরাসাত লি-উসলুবিল কুরআনিল কারিম’ গ্রন্থটি থেকে আমি কাব্যিক উদ্ধৃতি ও নিদর্শনের ক্ষেত্রে অনেক উপকৃত হয়েছি। এছাড়া কুরআনের অব্যয় ও সর্বনামের অভিধান এবং কুরআনের শব্দাবলির নির্ঘণ্ট থেকেও সাহায্য নিয়েছি। একইভাবে আমি কুরআনের অকর্মক ক্রিয়াগুলো অনুসরণ করেছি এবং যেগুলোর কর্মপদ রূপান্তরিত হয়েছে সেগুলো নিয়ে অধ্যয়ন করেছি। যদি হরফ-এ-জার উহ্য করার (نزع الخافض) মাধ্যমে সেগুলোর রূপান্তর ঘটে থাকে, তবে আমি তা সংরক্ষণ করেছি; আর যদি অন্য কোনো পরিচিত উপায়ে তা রূপান্তরিত হয়ে থাকে, তবে আমি তা বর্জন করেছি এবং আমার গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত করিনি। অনুসন্ধান ও গবেষণার মাধ্যমে আমি দেখলাম যে, এই জ্ঞানগত বিষয়টি একটি স্বতন্ত্র গবেষণার দাবি রাখে। তাই আমি হরফ-এ-জার উহ্য করা (نزع الخافض): এর সংজ্ঞা, বিধান, নিয়মসিদ্ধতা (قياسية) এবং হরফ-এ-জার উহ্য করা (نزع الخافض) ও অর্থ-অন্তর্ভুক্তি (تضمين)-এর মধ্যে পার্থক্যের আলোচনার মাধ্যমে এটি শুরু করেছি, যা একটি স্বতন্ত্র অধ্যায়ে পরিণত হয়েছে। এরপর দ্বিতীয় অধ্যায়ে আমি কুরআনে হরফ-এ-জার উহ্য করা (نزع الخافض) নিয়ে আলোচনা করেছি। এর মধ্যে যা নিয়মসিদ্ধ (قياسي), সেগুলোর ক্ষেত্রে আমি কেবল বিষয়টি স্পষ্ট ও ব্যাখ্যা করার মতো উদাহরণ দিয়ে ক্ষান্ত হয়েছি; কুরআনে আসা এর সকল দৃষ্টান্ত পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অনুসন্ধান বা সীমাবদ্ধ করার চেষ্টা করিনি, কারণ এই গবেষণাটি কুরআনের কোনো অভিধান নয়। তবে যা নিয়মসিদ্ধ নয়, সেগুলোর ক্ষেত্রে আমি বিস্তারিত অনুসন্ধান ও তদন্তে সচেষ্ট হয়েছি। এরপরও যদি কোনো কিছু বাদ পড়ে থাকে, তবে পূর্ণতা কেবল আল্লাহর জন্যই।
এটি অস্পষ্ট নয় যে, প্রমাণ হিসেবে পেশ করা কিছু আয়াতের ক্ষেত্রে প্রমাণের দিকটি কম অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত (مرجوح) হতে পারে, অথবা সেই মতের উপস্থাপনাটি অস্পষ্ট হতে পারে, কিংবা সেখানে অর্থ-অন্তর্ভুক্তি (تضمين)-এর সাথে বৈপরীত্য তৈরি হতে পারে। এমতাবস্থায় আমি সেই মতটি উল্লেখ করেছি এবং সেই সাথে অধিক অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত (أرجح) মতটিও উল্লেখ করেছি, যাতে আয়াতে বর্ণিত বক্তব্যের পূর্ণতা বজায় থাকে এবং কোনো ত্রুটির দায় থেকে মুক্ত থাকা যায়। যদি বলা হয় যে, নিয়মবহির্ভূত ক্ষেত্রে হরফ-এ-জার উহ্য করা (نزع الخافض) বিষয়টি কেবল শ্রুতির (سماع) ওপর নির্ভরশীল এবং কুরআনের প্রমাণসমূহকে (شواهد) কেবল নিয়মসিদ্ধ (قياسية) বিষয়ের ওপরই প্রয়োগ করা উচিত, তবে উত্তরে আমি বলব: ব্যাকরণবিদ, মুফাসসির এবং কুরআনের বিশ্লেষক ইমামগণ নিয়মসিদ্ধ বহির্ভূত ক্ষেত্রগুলোতেও হরফ-এ-জার উহ্য করার (نزع الخفض) মতটি প্রচুর পরিমাণে ব্যক্ত করেছেন এবং অনেক আয়াতের ক্ষেত্রে তা গ্রহণ করেছেন। সুতরাং তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন না হওয়া এবং হরফ-এ-জার উহ্য করার (نزع الخافض) মতটি এড়িয়ে যাওয়ার জন্য সেই প্রমাণগুলোর (شواهد) ব্যাখ্যায় অযথা কঠোরতা অবলম্বন না করাই উত্তম। তবে বলা যেতে পারে যে, এগুলো এমন কিছু প্রমাণ যা কেবল স্মরণ রাখা হবে কিন্তু সেগুলোকে মূল নিয়ম (قياس) হিসেবে গ্রহণ করা যাবে না।
(খণ্ড: ১)
আল-মানসুব আলা নাযইল খাফিদ ফিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৬৩)
والناظر في كتب التفسير، وكتب إعراب القرآن، يلحظ كثرة اختلاف النحويين في إعراب الآيات القرآنية، ومردّ ذلك - والله أعلم - إلى أسلوب القرآن المعجز، فالبشر لا يستطيعون الإحاطة بكلِّ مراميه ومقاصده، فاحتمل كثيراً من المعاني، والوجوه التي نشأ عنها كمٌّ من التوجيهات النحوية.
هذا وقد اقتضت الدراسة المنهجية الحديثة أن يكون البحث في فصلين انتظما مباحث ومطالب بحسب الحاجة.
তাফসির শাস্ত্রের কিতাবসমূহ এবং কুরআনের ই’রাব (إعراب) সংক্রান্ত কিতাবসমূহ পর্যালোচনাকারী ব্যক্তি কুরআনের আয়াতসমূহের ব্যাকরণিক বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে ব্যাকরণবিদদের মতভেদের প্রাচুর্য লক্ষ্য করেন। এর কারণ—আল্লাহই সর্বজ্ঞ—কুরআনের মুজিজাপূর্ণ (معجز) শৈলী; কেননা মানবজাতির পক্ষে এর সমস্ত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পরিবেষ্টন করা সম্ভব নয়। ফলে এটি এমন বহুবিধ অর্থ ও আঙ্গিক ধারণ করে, যা থেকে অসংখ্য ব্যাকরণিক বিশ্লেষণের (توجيهات) উৎপত্তি হয়েছে।
আধুনিক নিয়মতান্ত্রিক গবেষণার প্রয়োজনে এই প্রবন্ধটিকে দুটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত করা হয়েছে, যা প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন পরিচ্ছেদ (مباحث) ও অনুচ্ছেদে (مطالب) বিভক্ত।
(খণ্ড: ১)
আল-মানসুব আলা নাযইল খাফিদ ফিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৬৪)
المنصوب على نزع الخافض في القرآن (جمعاً ودراسة)
وفيه تمهيد وفصلان:
التمهيد يشتمل على ثلاث مسائل:
المسألة الأولى: تعدِّي الفعل ولزومه.
المسألة الثانية: علامات تعدِّي الفعل ولزومه.
المسألة الثالثة: تعلّق الجار والمجرور.
الفصل الأول: دراسة نزع الخافض.
وانتظم مباحث:
المبحث الأول: تعريف المصطلح.
المبحث الثاني: أحوال نزع الخافض في العربية.
المبحث الثالث: حكم منزوع الخافض.
المبحث الرابع: المنصوب بعد (ما) الحجازية.
المبحث الخامس: نزع الخافض والتضمين.
الفصل الثاني: المنصوب على نزع الخافض في القرآن.
وتحته مباحث:
المبحث الأول: نزع الخافض قياساً في القرآن وتحته مطالب:
المطلب الأول: دراسة أنَّ وأنْ بعد نزع الخافض.
المطلب الثاني: نزع الخافض من أنَّ وأنْ في القرآن.
المطلب الثالث: دراسة كي في اللغة.
المطلب الرابع: كي في القرآن.
কুরআনে হারফে জার বিলুপ্তির কারণে নসবপ্রাপ্ত পদ (সংকলন ও গবেষণা)
এতে রয়েছে একটি ভূমিকা এবং দুইটি পরিচ্ছেদ:
ভূমিকাটি তিনটি মাসআলা নিয়ে গঠিত:
প্রথম মাসআলা: ক্রিয়ার সকর্মকতা ও অকর্মকতা।
দ্বিতীয় মাসআলা: ক্রিয়ার সকর্মকতা ও অকর্মকতার চিহ্নসমূহ।
তৃতীয় মাসআলা: জার ও মাজরুরের সংশ্লিষ্টতা।
প্রথম পরিচ্ছেদ: হারফে জার বিলুপ্তি সংক্রান্ত পর্যালোচনা।
এটি নিম্নোক্ত অনুচ্ছেদসমূহে বিন্যস্ত:
প্রথম অনুচ্ছেদ: পারিভাষিক সংজ্ঞা।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: আরবি ভাষায় হারফে জার বিলুপ্তির অবস্থাসমূহ।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: হারফে জার বিলুপ্ত পদের বিধান।
চতুর্থ অনুচ্ছেদ: হিজাজি ‘মা’-এর পরবর্তী নসবপ্রাপ্ত পদ।
পঞ্চম অনুচ্ছেদ: হারফে জার বিলুপ্তি ও তজমিন।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কুরআনে হারফে জার বিলুপ্তির কারণে নসবপ্রাপ্ত পদ।
এর অধীনে রয়েছে কয়েকটি অনুচ্ছেদ:
প্রথম অনুচ্ছেদ: কুরআনে নিয়মতান্ত্রিকভাবে হারফে জার বিলুপ্তি এবং এর অধীনে কয়েকটি উপ-অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম উপ-অনুচ্ছেদ: হারফে জার বিলুপ্তির পর ‘আন্না’ ও ‘আন’ সংক্রান্ত পর্যালোচনা।
দ্বিতীয় উপ-অনুচ্ছেদ: কুরআনে ‘আন্না’ ও ‘আন’ থেকে হারফে জার বিলুপ্তি।
তৃতীয় উপ-অনুচ্ছেদ: ভাষায় ‘কায়ি’ সংক্রান্ত পর্যালোচনা।
চতুর্থ উপ-অনুচ্ছেদ: কুরআনে ‘কায়ি’।
(খণ্ড: ১)
আল-মানসুব আলা নাযইল খাফিদ ফিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৬৫)
المبحث الثاني: نزع الخافض سماعاً في القرآن.
وفيه مطالب:
المطلب الأول: نزع الخافض من المفرد.
المطلب الثاني: دراسة التعليق والجُمل التي بعده.
المطلب الثالث: نزع الخافض من الجملة المعلّقة في القرآن.
الطلب الرابع: المفعول الثاني منصوب على نزع الخافض.
أسأل الله سبحانه وتعالى أن يلهمنا رشدنا، ويسدد خطانا، ويبارك لنا في أعمالنا إنه سميع مجيب.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কুরআনে শ্রবণনির্ভর (سماعاً) অব্যয় বিলোপ (نزع الخافض)।
এতে কয়েকটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: একক শব্দ (المفرد) থেকে অব্যয় বিলোপ (نزع الخافض)।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: স্থগিতকরণ (التعليق) এবং এর পরবর্তী বাক্যসমূহের পর্যালোচনা।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: কুরআনে স্থগিত বাক্য (الجملة المعلقة) থেকে অব্যয় বিলোপ (نزع الخافض)।
চতুর্থ অনুচ্ছেদ: অব্যয় বিলোপের (نزع الخافض) কারণে দ্বিতীয় কর্মপদ (المفعول الثاني) নসব বা জবরযুক্ত হওয়া।
আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের সঠিক পথের দিশা দেন, আমাদের পদক্ষেপসমূহকে সঠিক পথে পরিচালিত করেন এবং আমাদের কাজে বরকত দান করেন; নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও কবুলকারী।
(খণ্ড: ১)
আল-মানসুব আলা নাযইল খাফিদ ফিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৬৬)
مدخل
تعدي الفعل ولزومه…تمهيد
من أراد أن يقرأ بحثاً في نزع الخافض فلا بدَّ له بادئ ذي بدء أن يقف على معنى التعدي واللزوم ويلمَّ بأحكامهما، ويعرف علاماتهما، ومعنى تعلقهما بالفعل أو ما فيه رائحة الفعل، ليدرك بنفسه الأفعال المتعدية أصالة، والأفعال التي تعدت بسبب نزع الخافض منها، وذلك لتكون أحكامه بعدئذٍ دقيقة موافقة للقواعد التي وضعها علماء العربية في هذا الشأن، ولهذا رأيت أن أتحدث عن هذه المعاني تمهيداً للبحث، فجاءت في ثلاث مسائل:
المسألة الأولى: تعدّي الفعل ولزومه
للفعل في العربية تقسيمات كثيرة: من حيث الصحة والاعتلال، ومن حيث التمام والنقصان، ومن حيث التجرد والزيادة، ومن حيث التعدي واللزوم ومن حيث الزمن الماضي والحاضر والمستقبل، ومن حيث الأبنية، وغير ذلك مما هو مبسوط في علم التصريف1.
ويخصنا هنا تقسيمه من حيث التعدي واللزوم فنقول: الفعل ضربان: متعدٍّ، ولازم.
--------------------------------------------
ভূমিকাক্রিয়ার সকর্মকতা (تعدي) ও অকর্মকতা (لزوم)…প্রস্তাবনা
যে ব্যক্তি 'অব্যয় লোপ' (نزع الخافض) বিষয়ক কোনো গবেষণা পাঠ করতে চান, তার জন্য সর্বপ্রথম সকর্মকতা (تعدي) ও অকর্মকতা (لزوم)-এর অর্থ সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করা, এ সংক্রান্ত বিধিবিধানসমূহ অনুধাবন করা এবং তাদের আলামতসমূহ সম্পর্কে অবগত হওয়া অপরিহার্য। সেই সাথে ক্রিয়া বা ক্রিয়ার অর্থবোধক শব্দের সাথে এদের সম্পর্কের স্বরূপ জানাও জরুরি, যাতে তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রকৃত সকর্মক (متعدي) ক্রিয়া এবং অব্যয় লোপের কারণে সকর্মক হওয়া ক্রিয়াসমূহের মধ্যে পার্থক্য করতে পারেন। এর ফলে তার প্রদত্ত সিদ্ধান্তসমূহ এই বিষয়ে আরবি ভাষাবিদদের প্রণীত নিয়মাবলির সাথে সংগতিপূর্ণ ও নির্ভুল হবে। এই উদ্দেশ্যেই আমি গবেষণার উপক্রমণিকা হিসেবে এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যা তিনটি পরিচ্ছেদে বিন্যস্ত করা হয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: ক্রিয়ার সকর্মকতা (تعدي) ও অকর্মকতা (لزوم)
আরবি ভাষায় ক্রিয়ার অনেক প্রকারভেদ রয়েছে: সহিহ (الصحة) ও ত্রুটিযুক্ত (الاعتلال) হওয়ার দিক থেকে, পূর্ণ (التمام) ও অপূর্ণ (النقصান) হওয়ার দিক থেকে, মূল (التجرد) ও অতিরিক্ত (الزيادة) হওয়ার দিক থেকে, সকর্মকতা (تعدي) ও অকর্মকতা (لزوم)-এর দিক থেকে এবং অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ কালের দিক থেকে। এছাড়াও ক্রিয়ার গঠনকাঠামোসহ আরও অনেক বিভাজন রয়েছে যা ইলমুত তাসরিফ বা শব্দতত্ত্বের কিতাবসমূহে বিস্তারিত আলোচিত হয়েছে।১
এখানে আমাদের আলোচ্য বিষয় হলো সকর্মকতা ও অকর্মকতার দিক থেকে ক্রিয়ার বিভাজন। আমরা বলতে পারি: ক্রিয়া দুই প্রকার: সকর্মক (متعدٍّ) ও অকর্মক (لازم)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মানসুব আলা নাযইল খাফিদ ফিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৬৭)
فالمتعدّي: هو المتجاوز يقال عدا فلان طورَه أي: جاوزه، وعند النحاة هو: تجاوز الفعلِ الفاعلَ إلى مفعول به أو أكثر.
وهو يصل إلى المفعول به بدون واسطة حرف جرّ، ويسمّى متعدياً بنفسه، وواقعاً، ومتجاوزاً، وإنما سمّي بهذه الأسماء، لأنه تعدّى الفاعلَ إلى المفعول به، وتجاوزه إليه، ووقع عليه فعل الفاعل.
ولازم: وهو الذي لا يصل إلى المفعول به إلا بواسطة حرف جرّ ويسمّي أيضاً قاصراً، أومتعدياً بحرف جرِّ، وسمّي بهذه الأسماء للزومه فاعلَه فلم يتعدَّه إلى سواه، ولم يتجاوزه إلى غيره، واللازم ينصب ما سوى المفعول به من المفاعيل وأشباهها نحو: جلست آمناً جلوساً أمامَ المسجد يومَ الخميس وزيداً.
وفي العربية أفعال كثيرة استعملت متعدية ولازمة منها: غاض الماءُ، وغضته، وفَغَرَ الرجلُ فاه، وفَغَرَ فوه، وكسفتِ الشمسُ، وكسف اللهُ الشمسَ، ودَلَعَ لسانُه، ودَلَعَ الرجلُ لسانَه، وهي كثيرة1 جاء منها في القرآن قوله تعالى: {ما يَأْتيهِم مِّن ذِكْرٍ مِّن رّبِّهم مُّحْدَثٍ إلَاّ اسْتَمَعوهُ وَهُمْ يَلْعَبونَ} 2 وقال تعالى: {وَإذا قُرِئَ القُرْآنُ فَاسْتَمِعوا لَهُ وَأَنْصِتوا لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ} 3.
--------------------------------------------
সকর্মক (متعدّي): এটি হলো অতিক্রমকারী; বলা হয় যে অমুক তার সীমা অতিক্রম করেছে অর্থাৎ তা ছাড়িয়ে গেছে। ব্যাকরণবিদদের মতে এটি হলো: ক্রিয়া কর্তৃক কর্তাকে অতিক্রম করে এক বা একাধিক কর্ম (مفعول به) পর্যন্ত পৌঁছানো।
এটি কোনো অব্যয় (حرف جرّ) এর মাধ্যম ছাড়াই সরাসরি কর্ম (مفعول به) পর্যন্ত পৌঁছায় এবং একে স্বয়ং-সকর্মক (متعدياً بنفسه), আপতিত (واقعاً) ও অতিক্রমকারী (متجاوزاً) বলা হয়। মূলত একে এই নামগুলো দেওয়ার কারণ হলো এটি কর্তাকে অতিক্রম করে কর্ম (مفعول به) পর্যন্ত পৌঁছায়, তাকে ছাড়িয়ে যায় এবং তার ওপর কর্তার কাজ আপতিত হয়।
অকর্মক (لازم): এটি এমন যা অব্যয় (حرف جرّ) ব্যতীত কর্ম (مفعول به) পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে না। একে অসম্পূর্ণ (قاصراً) বা অব্যয়ের মাধ্যমে সকর্মক (متعدياً بحرف جرِّ) বলা হয়। এই নামগুলো দেওয়ার কারণ হলো এটি এর কর্তার সাথেই লেগে থাকে, ফলে তা তাকে ছেড়ে অন্য কিছুর দিকে যায় না এবং তাকে অতিক্রম করে না। অকর্মক (لازم) ক্রিয়া কর্ম (مفعول به) ব্যতীত অন্যান্য কর্মপদ ও তদ্রূপ পদসমূহকে নসব (نصب) প্রদান করে। যেমন: "আমি বৃহস্পতিবার মসজিদের সামনে জায়েদের সাথে নিরাপদ অবস্থায় উপবেশন করলাম।"
আরবি ভাষায় এমন অনেক ক্রিয়া রয়েছে যা সকর্মক (متعدّي) এবং অকর্মক (لازم) উভয়ভাবেই ব্যবহৃত হয়। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: পানি শুকিয়ে গেল এবং আমি তা শুকিয়ে দিলাম, লোকটি তার মুখ খুলল এবং তার মুখ খুলে গেল, সূর্য গ্রহণ লাগল এবং আল্লাহ সূর্য গ্রহণ লাগালেন, তার জিহ্বা বের হয়ে এল এবং লোকটি তার জিহ্বা বের করল। এমন উদাহরণ অনেক রয়েছে। এর মধ্য থেকে পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহর বাণী হলো: {তাদের নিকট তাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে যখনই কোনো নতুন উপদেশ আসে, তারা তা কৌতুকচ্ছলে শ্রবণ করে}। মহান আল্লাহ আরও বলেন: {আর যখন কুরআন পাঠ করা হয়, তখন তোমরা তা মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ করো এবং নিশ্চুপ থাকো, যাতে তোমাদের প্রতি দয়া করা হয়}।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মানসুব আলা নাযইল খাফিদ ফিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৬৮)
المسألة الثانية:
علامات تعدّي الفعل ولزومه.
وضع النحاة علامات يُستدلُّ بها على معرفة اللازم من المتعدّي، وهي: صحة اتصال ضمير المفعول به بالفعل، ومجيء اسم مفعول تامٍّ منه، نحو القطار ركبته وهو مركوب، واللازم لا يجيء منه ذلك إلا بواسطة حرف الجرّ نحو الكرسي جلست عليه وهو مجلوس عليه.
وجعلوا للازم علامات يُستدلّ عليه بها، من هذه العلامات: كونه من أفعال السجايا، أو العوارض، أو يدلّ على نظافة، أو ضدها، ومطاوع المتعدي لواحد، وذكر ابن عصفور أنَّ من علامات اللازم ألَاّ يصحَّ السؤال عنه بأيِّ شيء وقع، نحو: (قام) و (جلس) ، إذ لا يقال: بأيِّ شيء وقع قيام زيد؟، ولا بأيِّ شيء وقع جلوس بكر؟ 1، وغير ذلك مما هو مبسوط في كتب النحو2 قال ابن مالك في علامة المتعدّي:
علامة الفعل المعدّى أن تصل
… ها غير مصدر به نحو عمل
وزاد في شرح التسهيل: "أن يصاغ منه اسم مفعول تام باطراد"3.
واعترض عليه الشاطبيّ4 والدماميني5 باعتراضات منها:
أوّلاً: أن من الأفعال العربية ما يتعدّى بنفسه تارة، وبحرف الجرّ تارة أخرى، نحو شكرته وشكرت له، ونصحته ونصحت له، ومثل هذه الأفعال
--------------------------------------------
দ্বিতীয় বিষয়:
ক্রিয়ার সকর্মক (تعدّي) ও অকর্মক (لزوم) হওয়ার চিহ্নসমূহ।
ব্যাকরণবিদগণ (النحاة) অকর্মক (لازم) ক্রিয়া থেকে সকর্মক (متعدّي) ক্রিয়া চেনার জন্য কিছু আলামত বা চিহ্ন নির্ধারণ করেছেন। সেগুলো হলো: ক্রিয়ার সাথে কর্মবাচক সর্বনাম (ضمير المفعول به) যুক্ত হওয়া সঠিক হওয়া এবং তা থেকে একটি পূর্ণাঙ্গ কর্মবাচক বিশেষ্য (اسم مفعول تام) গঠিত হওয়া। যেমন: "القطار ركبته وهو مركوب" (রেলগাড়িটি, আমি তাতে চড়েছি এবং সেটি আরোহনকৃত)। অন্যদিকে অকর্মক (لازم) ক্রিয়ার ক্ষেত্রে অব্যয় (حرف الجرّ)-এর সাহায্য ব্যতীত এটি সম্ভব নয়। যেমন: "الكرسي جلست عليه وهو مجلوس عليه" (চেয়ারটি, আমি তার ওপর বসেছি এবং সেটি উপবিষ্ট)।
তাঁরা অকর্মক (لازم) ক্রিয়া চেনার জন্যও কিছু চিহ্ন নির্ধারণ করেছেন। এই চিহ্নগুলোর অন্তর্ভুক্ত হলো: ক্রিয়াটি সহজাত স্বভাব (السجايا) বা আপতিক অবস্থা (العوارض) বুঝানো, অথবা পরিচ্ছন্নতা বা তার বিপরীত অর্থ প্রকাশ করা, কিংবা এক কর্মবিশিষ্ট সকর্মক ক্রিয়ার অনুগামী (مطاوع) হওয়া। ইবনে উসফুর উল্লেখ করেছেন যে, অকর্মক (لازم) ক্রিয়ার অন্যতম চিহ্ন হলো—তা কীসের ওপর আপতিত হয়েছে বা কীসের দ্বারা ঘটেছে, সে সম্পর্কে প্রশ্ন করা শুদ্ধ না হওয়া। যেমন: (قام) এবং (جلس)। কারণ এভাবে বলা যায় না যে: "জায়েদের দাঁড়িয়ে থাকা কীসের ওপর আপতিত হয়েছে?" অথবা "বকরের বসে থাকা কীসের ওপর আপতিত হয়েছে?"। এ ছাড়াও আরও অনেক চিহ্ন রয়েছে যা ব্যাকরণশাস্ত্রের গ্রন্থসমূহে বিস্তারিত আলোচিত হয়েছে। সকর্মক (المتعدّي) ক্রিয়ার চিহ্ন সম্পর্কে ইবনে মালিক বলেন:
সকর্মক (المعدّى) ক্রিয়ার চিহ্ন হলো—তার সাথে এমন 'হা' (সর্বনাম) যুক্ত হওয়া যা ক্রিয়ামূল (مصدر) বুঝায় না; যেমন عمل (সে এটি করেছে)।
তিনি শারহুত তাসহিল গ্রন্থে আরও যোগ করেছেন: "তা থেকে নিয়মিতভাবে একটি পূর্ণাঙ্গ কর্মবাচক বিশেষ্য (اسم مفعول تام) গঠিত হওয়া।"
ইমাম শাতিবি এবং দামামিনি এর ওপর কিছু আপত্তি উত্থাপন করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে:
প্রথমত: আরবি ক্রিয়াসম্মূহের মধ্যে এমন কিছু ক্রিয়া রয়েছে যা কখনো সরাসরি সকর্মক (يتعدّى بنفسه) হয়, আবার কখনো অব্যয় (حرف الجرّ)-এর মাধ্যমে সকর্মক হয়। যেমন: ‘شكرته’ (আমি তাকে ধন্যবাদ জানালাম) এবং ‘شكرت له’ (আমি তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলাম), এবং ‘نصحته’ (আমি তাকে উপদেশ দিলাম) ও ‘نصحت له’ (আমি তার কল্যাণ কামনা করলাম)। এই ধরনের ক্রিয়াগুলো
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মানসুব আলা নাযইল খাফিদ ফিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৬৯)
تكون داخلة تحت قاعدته وخارجة عنها في آنٍ واحد بحسب الاستعمال، ومثل هذه الأفعال تكون مشكلة، والقواعد يستلزم فيها أن تكون حاصرة.
وأجيب عن هذا الاعتراض بأن باب شكرت له وشكرته موقوف علىالسماع، والحديث عمَّا ينقاس.
ثانياً: أن العرب تتوسع في المتصرف من ظروف الزمان والمكان، فتلحق الفعل ضميراً يعود على أحدهما، كقوله تعالى: {فَمَنْ شَهِدَ مِنْكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ َ} 1، وكذلك يقال: يوم الجمعة سرته، ومكانكم قمته، وكلّ هذا على إجراء الظرف مجرى المفعول به مجازاً، ولا يقال: إن الضمير هنا ضمير مفعول به، ولكن يصح أن يقال: إن هذه الضمائر ليست ضمائر مصدر.
وأجيب عن هذا الاعتراض: بأن التوسع في الظروف مجاز على خلاف الأصل، والأصل ألاّ يصل الفعل إلى ضمير الظرف إلا بواسطة حرف الجر، والضوابط تكون بحسب الأصل، لا بحسب التوسع المجازي.
ثالثاً: أن الأفعال المتعدية في العربية ثلاثة أقسام: قسم يتعدى بنفسه، وقسم يتعدى بواسطة حرف الجرّ وهوما يطلب المجرور على جهة اللزوم كممرت به ورغبت فيه وعجبت منه، وقسم يتعدى مرة بنفسه ومرة بحرف الجرّ كما سبق في شكرته، وشكرت له.
والضابط الذي ذكره ابن مالك قد أخرج من أقسام المتعدى القسم الثاني، وهو ما يطلب المجرور على جهة اللزوم، وساوى بينه وبين ما لايطلب
--------------------------------------------
ব্যবহারের প্রেক্ষাপটে এগুলো একই সাথে তার নিয়মের (قاعدة) অধীনে আবার নিয়মের বহির্ভূত হতে পারে, আর এ ধরণের ক্রিয়াগুলো অস্পষ্ট হতে পারে। অথচ নিয়মনীতির (القواعد) আবশ্যকতা হলো তা যেন সুনির্দিষ্ট ও ব্যাপক (حاصرة) হয়।
এই আপত্তির জবাবে বলা হয়েছে যে, 'আমি তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছি' (شكرت له) এবং 'আমি তাকে ধন্যবাদ দিয়েছি' (شكرته) এর পরিচ্ছেদটি শ্রুতির (السماع) ওপর নির্ভরশীল, আর আলোচনাটি কেবল সেই সব বিষয় নিয়ে যা নিয়মসংগত (ينقاس)।
দ্বিতীয়ত: আরবরা সময় ও স্থানের পরিবর্তনশীল অব্যয়গুলোর (ظروف الزمان والمكان) ক্ষেত্রে প্রশস্ততা অবলম্বন করে; ফলে তারা ক্রিয়ার সাথে এমন সর্বনাম (ضمير) যুক্ত করে যা এ দুটির কোনো একটির দিকে ফিরে যায়। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "অতঃপর তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এই মাসটি পাবে, সে যেন তাতে রোজা রাখে" ১। একইভাবে বলা হয়: "জুমার দিনে আমি ভ্রমণ করেছি" এবং "তোমাদের জায়গায় আমি দাঁড়িয়েছি"। এই সব কিছুই রূপকভাবে (مجازاً) অব্যয়কে (الظرف) কর্মের (المفعول به) স্থলাভিষিক্ত করার অন্তর্ভুক্ত। এখানে বলা যাবে না যে সর্বনামটি কর্মের সর্বনাম (ضمير مفعول به), বরং এটা বলা সঠিক হবে যে, এই সর্বনামগুলো মূল ধাতুর (مصدر) সর্বনাম নয়।
এই আপত্তির উত্তর হলো: অব্যয়গুলোর (الظروف) ক্ষেত্রে এই প্রশস্ততা অবলম্বন করা মূলত মূলনীতির (الأصل) পরিপন্থী একটি রূপক (مجاز) বিষয়। আর মূলনীতি (الأصل) হলো, অব্যয়বাচক সর্বনামের (ضمير الظرف) সাথে ক্রিয়া সরাসরি যুক্ত হয় না যতক্ষণ না কোনো অব্যয়ের (حرف الجر) মাধ্যম গ্রহণ করা হয়। আর নিয়মাবলী মূলনীতির (الأصل) আলোকেই নির্ধারিত হয়, রূপক প্রশস্ততার (التوسع المجازي) ভিত্তিতে নয়।
তৃতীয়ত: আরবি ভাষায় সকর্মক ক্রিয়া (الأفعال المتعدية) তিন প্রকার: এক প্রকার যা সরাসরি সকর্মক হয়; দ্বিতীয় প্রকার যা অব্যয়ের (حرف الجر) মাধ্যমে সকর্মক হয়—যা মূলত আবশ্যিকভাবে অব্যয়যুক্ত পদ (المجرور) দাবি করে, যেমন: "আমি তার পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম", "আমি তাতে আগ্রহী হলাম" এবং "আমি এতে আশ্চর্য হলাম"। আর তৃতীয় প্রকার যা কখনো সরাসরি আবার কখনো অব্যয়ের (حرف الجر) মাধ্যমে সকর্মক হয়, যেমনটি পূর্বে 'আমি তাকে ধন্যবাদ দিয়েছি' (شكرته) এবং 'আমি তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছি' (شكرت له) এর ক্ষেত্রে অতিক্রান্ত হয়েছে।
ইবনে মালিক যে নিয়মটি (الضابط) উল্লেখ করেছেন, তা সকর্মক (المتعدي) ক্রিয়ার প্রকারভেদ থেকে দ্বিতীয় প্রকারটিকে বাদ দিয়েছে; আর তা হলো যা আবশ্যিকভাবে অব্যয়যুক্ত পদ (المجرور) দাবি করে, এবং তিনি এটিকে এমন ক্রিয়ার সমপর্যায়ভুক্ত করেছেন যা তা দাবি করে না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মানসুব আলা নাযইল খাফিদ ফিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৭০)
المجرور على جهة اللزوم، كقام وقعد، فطلب هذه للمجرور- إن وُجد - لا يسمّى تعدياً وإنما يسمّى تعلُّقاً.
وأجيب بأن من سمّى المجرور متعدَّى إليه فهذا اصطلاح خاص به ولا مشاحة في الاصطلاح.
رابعاً: أن هذا الضابط دوريٌّ، إذ تتوقف فيه معرفة اسم المفعول التام على معرفة الفعل المتعدّي، وبالعكس، وكذلك تتوقف معرفة المتعدي على صحة اتصال ضمير المفعول به بالفعل، ويتوقف تمييز ضمير المفعول به عن غيره من الضمائر، على معرفة كون الفعل متعدياً، فجاء الدور0
وأجيب عن هذا الاعتراض بأن المقصود التمييز وليس الحدُّ.
خامساً: أن العرب تنصب الاسم على نزع الخافض، كـ (تمرون الديار) والمنزوع الخافض مفعول به، والفعل في مثل هذا لايصح أن يتصل به ضمير المفعول به.
وأجيب بأن منزوع الخافض بابه ضرورة الشعر، أو الشذوذ، ولاتحمل القواعد على الضرائر والشذوذ.
অপরিহার্যতা (لزوم) হিসেবে যখন কোনো শব্দ মাজরুর হয়, যেমন ‘قام’ (সে দাঁড়ালো) এবং ‘قعد’ (সে বসলো); তখন সেই মাজরুর শব্দকে অন্বেষণ করা—যদি তা পাওয়া যায়—তবে তাকে সকর্মকতা (تعدياً) বলা হয় না, বরং তাকে সংশ্লিষ্টতা (تعلُّقاً) বলা হয়।
এবং এর উত্তর এভাবে দেওয়া হয়েছে যে, যারা মাজরুর শব্দকে ‘যার দিকে সকর্মকতা ধাবিত হয়েছে’ (متعدَّى إليه) হিসেবে নামকরণ করেছেন, এটি তাদের নিজস্ব পরিভাষা (اصطلاح) মাত্র; আর পরিভাষার (اصطلاح) ক্ষেত্রে কোনো বিবাদ নেই।
চতুর্থত: এই মানদণ্ডটি চক্রাকার (دوري); কারণ এতে পূর্ণাঙ্গ কর্মবাচক বিশেষ্য (اسم المفعول التام) সম্পর্কে জানা সকর্মক ক্রিয়া (الفعل المتعدي) জানার ওপর নির্ভরশীল, এবং এর বিপরীতটিও প্রযোজ্য। একইভাবে, সকর্মক ক্রিয়া সম্পর্কে জানা ক্রিয়ার সাথে কর্মবাচক সর্বনাম যুক্ত হওয়ার সঠিকতার ওপর নির্ভরশীল। আবার কর্মবাচক সর্বনামকে অন্যান্য সর্বনাম থেকে পৃথক করা ক্রিয়াটি সকর্মক হওয়ার জ্ঞানের ওপর নির্ভরশীল। ফলে এখানে একটি চক্রাকার আবর্তন (دور) তৈরি হয়।
এই আপত্তির (اعتراض) উত্তরে বলা হয়েছে যে, এখানে উদ্দেশ্য হলো পার্থক্য নিরূপণ (التمييز), সংজ্ঞা প্রদান (الحدُّ) নয়।
পঞ্চমত: আরবরা অব্যয় বিলুপ্ত করার মাধ্যমে বিশেষ্যকে নসব বা জবর প্রদান করে (نزع الخافض), যেমন: (تمرون الديار - তোমরা জনপদগুলো অতিক্রম করছ)। এখানে অব্যয় বিলুপ্ত হওয়া শব্দটি কর্ম (مفعول به); অথচ এমন ক্ষেত্রে ক্রিয়ার সাথে কর্মবাচক সর্বনাম যুক্ত হওয়া সঠিক নয়।
এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, অব্যয় বিলুপ্ত করার (منزوع الخافض) বিষয়টি কাব্যের অপরিহার্যতা (ضرورة الشعر) অথবা বিরল (الشذوذ) ব্যবহারের অন্তর্ভুক্ত। আর ব্যাকরণিক নিয়মাবলি অপরিহার্যতা কিংবা বিরল (الشذوذ) বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত হয় না।
(খণ্ড: ১)
আল-মানসুব আলা নাযইল খাফিদ ফিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৭০)
تعليق الجار والمجرور…المسألة الثالثة: تعلق الجار والمجرور:
معنى التعلق: هو الارتباط المعنوي بين الحدث وشبه، الجملة بحيث لا يكتمل معنى أحدهما إلا بالآخر، ولا يتعلّق من حروف الجر إلا ما كان أصلياً فقط، وتكتفي أشباه الجمل في التعلّق بما فيه رائحة الفعل، وفي تعلّق الظرف والمجرور بالناقص، والجامد، وأحرف المعاني خلاف1
--------------------------------------------
জার ও মাজরুর-এর সংশ্লিষ্টতা…তৃতীয় মাসআলা: জার ও মাজরুর-এর সংশ্লিষ্টতা:
সংশ্লিষ্টতার অর্থ: এটি হলো ক্রিয়া এবং বাক্যাংশের মধ্যকার এমন এক অর্থগত সম্পর্ক, যার ফলে একটির অর্থ অন্যটি ব্যতীত পূর্ণতা পায় না। অব্যয়গুলোর মধ্য থেকে কেবল মৌলিকগুলোই সংশ্লিষ্ট হতে পারে। বাক্যাংশগুলো সংশ্লিষ্ট হওয়ার ক্ষেত্রে ওই সকল শব্দের ওপর নির্ভর করে যার মধ্যে ক্রিয়ার প্রভাব বিদ্যমান থাকে। তবে অসম্পূর্ণ, স্থবির এবং অর্থবোধক অব্যয়গুলোর সাথে ক্রিয়া বিশেষণ ও মাজরুর-এর সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে মতভেদ১ রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মানসুব আলা নাযইল খাফিদ ফিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৭১)
فإذا وصل اللازم إلى المفعول به بواسطة حرف الجر تعلّق به الجار والمجرور.
ويفرّق الشاطبي بين التعلّق، والتعدّي بالحرف فيقول: "إن التعدّي يطلق حيث يكون الفعل طالباً لحرف الجر على اللزوم كمررت بزيدٍ وعجبت من فعله ورغبت في الخير، فإن مثل هذه الأفعال في طلبها للمجرور كالمتعدّي بالنسبة إلى المفعول، والتعلّق حيث يكون لا يطلبه على اللزوم بل بالنسبة إلى القصد في الكلام كذهبت معك وقعدت في منزلك وانطلقت إليك، فإن هذه الأفعال إنما تطلبه بحسب ما طلبته مقاصد الكلام، فتقول مرّة: انطلقت من عندك، وتارة: انطلقت معك، وتارة انطلقت إليك، وتارة: انطلقت بسببك، ولأجلك، ومن جرَّائك، وتقول مرّة: انطلقت لاغير فلا تُعَدِّيه، ولا يطلب شيئاً، وفرق بين فعل يطلب الحرف الجار من جهة وضعه، وفعل يطلبه من حيث هو مقصود في الكلام"1.
--------------------------------------------
যখন অকর্মক (لازم) ক্রিয়া অব্যয়ের (حرف الجر) মাধ্যমে কর্মের (مفعول به) নিকট পৌঁছায়, তখন অব্যয় ও অব্যয়-পরবর্তী বিশেষ্য (الجار والمجرور) তার সাথে সংশ্লিষ্ট হয় (تعلّق)।
ইমাম আল-শাতিবি সংশ্লিষ্ট হওয়া (التعلّق) এবং অব্যয়ের মাধ্যমে সকর্মক হওয়া (التعدّي بالحرف)-এর মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করেছেন। তিনি বলেন: "নিশ্চয়ই সকর্মকতা (التعدّي) সেখানে ব্যবহৃত হয় যেখানে ক্রিয়াটি অপরিহার্যভাবে (على اللزوم) অব্যয় দাবি করে; যেমন: 'আমি জায়েদের পাশ দিয়ে গেলাম', 'আমি তার কাজে বিস্ময় প্রকাশ করলাম' এবং 'আমি কল্যাণে আগ্রহী হলাম'। কেননা এই ধরনের ক্রিয়াগুলো অব্যয়-পরবর্তী বিশেষ্য (المجرور) তলব করার ক্ষেত্রে কর্মের (المفعول) প্রতি সকর্মক (المتعدّي)-এর ন্যায়। আর সংশ্লিষ্ট হওয়া (التعلّق) সেখানে হয় যেখানে ক্রিয়াটি তা অপরিহার্যভাবে (على اللزوم) দাবি করে না, বরং বাক্যের উদ্দেশ্যের নিরিখে আসে; যেমন: 'আমি তোমার সাথে গেলাম', 'আমি তোমার বাড়িতে বসলাম' এবং 'আমি তোমার দিকে রওনা হলাম'। কারণ এই ক্রিয়াগুলো কেবল বাক্যের উদ্দেশ্য অনুযায়ী তা দাবি করে। তাই আপনি কখনো বলেন: 'আমি তোমার নিকট থেকে রওনা হয়েছি', কখনো বলেন: 'আমি তোমার সাথে রওনা হয়েছি', কখনো বলেন: 'আমি তোমার দিকে রওনা হয়েছি', আবার কখনো বলেন: 'আমি তোমার কারণে', 'তোমার জন্য' বা 'তোমার নিমিত্তে রওনা হয়েছি'। কখনো আবার আপনি কেবল বলেন: 'আমি রওনা হয়েছি', অর্থাৎ আপনি তাকে সকর্মক করবেন না (لا تُعَدِّيه) এবং এটি কোনো কিছু দাবিও করবে না। সুতরাং যে ক্রিয়া তার ভাষাগত কাঠামোর দিক থেকে অব্যয় দাবি করে এবং যে ক্রিয়া বাক্যের উদ্দেশ্য অনুযায়ী অব্যয় দাবি করে—এই দুইয়ের মাঝে পার্থক্য রয়েছে।" ১।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মানসুব আলা নাযইল খাফিদ ফিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৭২)
دراسة نزع الخافض
تعريف المصطلح…الفصل الأول: دراسة نزع الخافض:
وفيه مباحث:
المبحث الأول: تعريف المصطلح:
مادة: (نزع) تدلّ على القلع والإزالة يقال: نزع النجارُ المسمارَ فهو منزوع بمعنى اقتلعه، ونزع الأميرُ العاملَ عن عمله أزاله قال ابن منظور:"نزع الشيءَ يَنْزِعُه نزْعاً فهو منزوع، ونزيع، وانتزعه فانتزع اقتلعه فاقتلع. ونزع الأميرُ العاملَ عن عمله أزاله وهو على المِثْل، لأنه إذا أزاله فقد اقتلعه وأزاله"1، وفرّق سيبويه بين (نزع) و (انتزع) فقال:"وأما انتزع فإنما هي خطفةٌ كقولك استلب، وأما نزع فإنه تحويلك إياه وإن كان على نحو الاستلاب"2.
--------------------------------------------
নাযউল খাফিদ (نزع الخافض) সংক্রান্ত পর্যালোচনাপরিভাষার সংজ্ঞা…প্রথম অধ্যায়: নাযউল খাফিদ (نزع الخافض) সংক্রান্ত পর্যালোচনা:
এতে কয়েকটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: পরিভাষার সংজ্ঞা:
মূল ধাতু: (নায' - نزع) দ্বারা কোনো কিছু উপড়ে ফেলা এবং অপসারণ করা বোঝায়। বলা হয়ে থাকে: কাঠমিস্ত্রি পেরেকটি উপড়ে ফেলেছে, সুতরাং সেটি উৎপাটনকৃত (منزوع) অর্থাৎ সেটিকে সে উপড়ে ফেলেছে। আর শাসক কর্মীকে তার পদ থেকে অপসারণ (نزع) করেছেন অর্থাৎ তাকে সরিয়ে দিয়েছেন। ইবনে মানযুর বলেছেন: "কোনো কিছুকে উপড়ে ফেলা (نزع)، সেটিকে সে উপড়ে ফেলে (ينزعه) উপড়ে ফেলার মতো (نزعاً), ফলে সেটি উৎপাটনকৃত (منزوع) এবং (نزيع)। সে তা ছিনিয়ে নিয়েছে (انتزعه) ফলে তা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে (فانتزع), অর্থাৎ সে তা উপড়ে ফেলেছে এবং তা উপড়ে গেছে। আর শাসক কর্মীকে তার পদ থেকে অপসারণ (نزع) করেছেন অর্থাৎ তাকে সরিয়ে দিয়েছেন, আর এটি রূপক অর্থে ব্যবহৃত; কেননা তিনি যখন তাকে অপসারণ করলেন, তখন মূলত তাকে উপড়ে ফেললেন ও সরিয়ে দিলেন।"১। সিবওয়াইহি (نزع) এবং (انتزع)-এর মধ্যে পার্থক্য বর্ণনা করে বলেছেন: "আর 'ইনতিযা' (انتزع) হলো ক্ষিপ্রতার সাথে ছিনিয়ে নেওয়া (خطفة), যেমন তোমার বলা: 'ছিনতাই করা' (استلب)। আর 'নায' (نزع) হলো তোমার পক্ষ থেকে সেটিকে স্থানান্তর করা, যদিও তা ছিনিয়ে নেওয়ার সদৃশ হয়ে থাকে।"২।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মানসুব আলা নাযইল খাফিদ ফিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৭৩)
وللصبَّان تعليل آخر إذ يقول:"وإنما سمّيت حروف الجر، إما لأنها تجرُّ معاني الأفعال إلى الأسماء، أي: توصلها إليها، فيكون المراد من الجرّ المعنى المصدري، ومن ثَمّ سمّاها الكوفيون حروف الإضافة، لأنها تضيف معاني الأفعال أي: توصلها إلى الأسماء، وإما لأنها تعمل الجرَّ فيكون المراد بالجرّ الإعراب المخصوص"1.
--------------------------------------------
আস-সাব্বানের নিকট অন্য একটি ব্যাখ্যা রয়েছে, তিনি বলেন: “এগুলোকে অব্যয়সূচক বর্ণ (حروف الجر) হিসেবে নামকরণ করা হয়েছে; হয় এজন্য যে এগুলো ক্রিয়ার অর্থসমূহকে বিশেষ্যের দিকে টেনে নিয়ে যায় (تجرُّ), অর্থাৎ সেগুলোকে সেখানে পৌঁছে দেয়। এমতাবস্থায় ‘জার’ দ্বারা উদ্দেশ্য হবে শব্দমূলীয় অর্থ (المعنى المصدري)। আর এই কারণেই কুফাবাসীগণ এগুলোকে সম্বন্ধবাচক বর্ণ (حروف الإضافة) হিসেবে অভিহিত করেছেন; কেননা এগুলো ক্রিয়ার অর্থসমূহকে সংযুক্ত করে (تضيف), অর্থাৎ সেগুলোকে বিশেষ্যের নিকট পৌঁছে দেয়। অথবা এগুলো নামকরণের কারণ হলো এগুলো ‘জার’ প্রদান (الجرَّ) করে, সেক্ষেত্রে ‘জার’ দ্বারা নির্দিষ্ট ব্যাকরণিক অবস্থা (الإعرাব المخصوص) উদ্দেশ্য হবে।”১
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মানসুব আলা নাযইল খাফিদ ফিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৭৩)
المبحث الثاني:
أحوال نزع الخافض في العربية:لحذف حرف الجرّ في العربية ثلاث حالات2:
الأولى: أن يحذف قياساً مطّرداً - فيصير الفعل متعدّياً - وذلك مع الأحرف المصدرية (أنّ وأن) - وزاد ابن هشام3: (كي) -، لطول الصلة،
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ:
আরবি ভাষায় হারফে জার বিলুপ্তির (نزع الخافض) অবস্থাসমূহ:আরবি ভাষায় হারফে জার (حرف الجر) বিলুপ্তির তিনটি অবস্থা২ রয়েছে:
প্রথমত: নিয়মিত নিয়ম অনুযায়ী (قياسا مطردا) বিলুপ্ত হওয়া - যার ফলে ক্রিয়াটি সকর্মক (متعدي) হয়ে যায় - এবং এটি মাসদারি হরফসমূহের (الأحرف المصدرية) (আন্না এবং আন) ক্ষেত্রে হয়ে থাকে - এবং ইবনে হিশাম৩ আরও যুক্ত করেছেন: (কায়) - যা সিলাহ (الصلة)-এর দীর্ঘতার কারণে হয়ে থাকে,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মানসুব আলা নাযইল খাফিদ ফিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৭৪)
ولأن حرف الجر لم يظهر له تأثير في العمل، والحذف هنا مشروط بأن يتعيّن الحرف عند حذفه نحو: عجبت أن يفوز مهمل، أي من أن يفوز مهمل، أمّا إن لم يتعيّن الحرف فابن مالك1 وكثير من النحاة يمنعون الحذف، لأنه يؤدّي إلى لبس نحو: رغبت أن تذهب، إذ لا يعلم المراد بالرغبة (فيها أم عنها) ، ويشكل على هذا قوله تعالى: {وَتَرْغَبونَ أَنْ تَنْكِحوهُنَّ} 2 إذ يصحّ أن تكون الرغبة في نكاحهنّ لجمالهنّ، ويصح أن تكون الرغبة عن نكاحهنَّ لدمامتهنّ، وأجيب عن هذا الإشكال بجوابين:
أحدهما: أن يكون حذف الحرف اعتماداً على القرينة الرافعة للبس وبه قال المرادي3 نقلاً عن أبي حيّان في منهج السالك، والذي في منهج السالك: "ويطّرد حذف حرف الجرّ من أنّ وأن إذا أمن اللبس فلا يجوز رغبت أن تقعد، لأنه ملبس، إذ يحتمل أن يكون المعنى رغبت في أن تقعد، ويحتمل أن يكون رغبت عن أن تقعد، فإن زال اللبس وتعيّن حرف الجر جاز ذلك نحو قول: {وَتَرْغَبونَ أَنْ تَنْكِحوهُنَّ} " 4.
--------------------------------------------
যেহেতু অব্যয় (حرف الجر)-এর কোনো কার্যগত প্রভাব পরিলক্ষিত হয়নি এবং এখানে উহ্য রাখা (الحذف) এই শর্তে বিদ্ধ যে, অব্যয়টি বিলুপ্ত হওয়ার সময় তা সুনির্দিষ্ট হতে হবে। যেমন: "আমি বিস্মিত হয়েছি যে অলস ব্যক্তি সফল হয়েছে" অর্থাৎ "من" (হতে) অব্যয়টি থেকে। কিন্তু যদি অব্যয়টি সুনির্দিষ্ট না হয়, তবে ইবনে মালিক এবং অনেক ব্যাকরণবিদ (النحاة) একে উহ্য রাখা নিষিদ্ধ করেছেন; কারণ এটি অস্পষ্টতা (اللبس) সৃষ্টি করে। যেমন: "আমি তোমার যাওয়ার ইচ্ছা করেছি", যেহেতু এখানে ইচ্ছা দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে তা জানা যায় না (তাতে আগ্রহ নাকি অনীহা)। আর মহান আল্লাহর এই বাণী এর উপর প্রশ্ন সৃষ্টি করে: {এবং তোমরা তাদেরকে বিবাহ করতে আগ্রহী হও} ২। কারণ তাদের সৌন্দর্যের কারণে তাদের বিবাহ করার আগ্রহ হওয়া যেমন সঠিক হতে পারে, তেমনি তাদের কদর্যতার কারণে তাদের বিবাহে অনীহা প্রকাশ করাও সঠিক হতে পারে। এই সংশয়ের দুটি উত্তর দেওয়া হয়েছে:
প্রথমটি: অস্পষ্টতা দূরকারী প্রাসঙ্গিক প্রমাণের (القرينة) ওপর নির্ভর করে অব্যয়টি উহ্য রাখা হয়েছে। আল-মুরাদী, মানহাজুস সালিক গ্রন্থে আবু হাইয়ানের বরাতে এমনটিই বলেছেন। মানহাজুস সালিক গ্রন্থে যা আছে তা হলো: "যদি অস্পষ্টতা থেকে নিরাপদ থাকা যায় তবে أنّ এবং أن থেকে অব্যয় (حرف الجر) উহ্য রাখা একটি নিয়মিত ব্যাকরণগত নিয়ম। সুতরাং 'আমি তোমার বসে থাকার ইচ্ছা করেছি' বলা বৈধ হবে না, কারণ এটি অস্পষ্টতা (اللبس) তৈরি করে। কেননা এর অর্থ হতে পারে 'আমি তোমার বসে থাকাতে আগ্রহী' অথবা হতে পারে 'আমি তোমার বসে থাকাতে অনীহ'। আর যদি অস্পষ্টতা দূর হয় এবং অব্যয়টি সুনির্দিষ্ট হয়ে যায়, তবে তা বৈধ; যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {এবং তোমরা তাদেরকে বিবাহ করতে আগ্রহী হও}" ৪।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মানসুব আলা নাযইল খাফিদ ফিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৭৫)
وثانيهما: أن يكون حذف الحرف لمعنى بلاغي وهو قصد الإبهام ليرتدع بذلك الطامع والمعرض1.
واختلف في محل (أنَّ) و (أن) عند حذف حرف الجر المطّرد حذفه معهما فقيل: محلّهما نصبٌ، قياساً على الاسم الصريح، ونُسب للخليل وإليه ذهب الفراء2 والمبرّد3 وعزاه ابن مالك - متابعاً ضياء الدين بن العلج - إلى سيبويه، وصححه4، وقيل محلّهما جرٌّ ونُسب للكسائي، ومال إليه السيرافي5، واستدلوا بقول الشاعر:
وَما زُرْتُ لَيْلى أَنْ تَكونَ حَبيبَةً
… إليَّ وَلا دَيْنٍ بِها أَنا طالِبُهْ6
بجر (دينٍ) عطفاً على محل: (أن تكون) إذ أصله (لأن تكون) .
--------------------------------------------
এবং দ্বিতীয়টি হলো: কোনো অলঙ্কারশাস্ত্রীয় অর্থের কারণে বর্ণ বিলুপ্ত হওয়া, আর তা হলো অস্পষ্ট রাখার উদ্দেশ্য যাতে এর মাধ্যমে লালসা পোষণকারী ও বিমুখ ব্যক্তি নিবৃত্ত হয়।১।
‘আন্না’ এবং ‘আন’-এর ব্যাকরণিক অবস্থানের ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে যখন সেগুলোর সাথে নিয়মিতভাবে হরফে জার বিলুপ্ত হয়। বলা হয়েছে: স্পষ্ট বিশেষ্যের (ইসম সারিহ) সাথে তুলনা করে এ দুটির ব্যাকরণিক অবস্থান হলো নসব; এই অভিমতটি খলীলের প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে এবং আল-ফাররা২ ও আল-মুবাররাদ৩ এই মত গ্রহণ করেছেন। ইবনু মালিক—জিয়াউদ্দীন ইবনুল ইলাজকে অনুসরণ করে—এটি সিবওয়াইহ-এর দিকে নিসবত করেছেন এবং একে সঠিক (صحيح)৪ বলে গণ্য করেছেন। আবার বলা হয়েছে: এ দুটির ব্যাকরণিক অবস্থান হলো জর; এটি কিসায়ীর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে এবং আস-সিরাফী৫ এর প্রতি ঝুঁকেছেন। তারা কবির এই পঙক্তি দ্বারা দলিল পেশ করেছেন:
আমি লায়লার নিকট আসিনি এজন্য যে সে আমার প্রিয়তমা
… আমার কাছে, আর না কোনো ঋণের জন্য যা আমি তার কাছে প্রার্থী।৬
এখানে ‘দাইনিন’ শব্দটিতে জর প্রদান করা হয়েছে ‘আন তাকুনা’-এর ব্যাকরণিক অবস্থানের ওপর আতফ (সংযোজন) করার কারণে; যেহেতু এর মূল রূপ ছিল ‘লি-আন তাকুনা’।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মানসুব আলা নাযইল খাফিদ ফিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৭৬)
وأجاز الزجاج الوجهين1، وهو ظاهر مذهب سيبويه قال: "وسألت الخليل عن قوله جلّ ذكره: {وَأنَّ هَذِهِ أُمَّتُكُمْ أُمَّةً وَّاحِدَةً وَّأَنا رَبُّكُمْ فَاتَّقونِ} 2 فقال إنما هو على خذف اللام كأنه قال: ولأنَّ هذه أمتكم أمة واحدة، وأنا ربكم فاتقون، وقال: ونظيرها: {لإيْلافِ قُرَيْشٍ} ،لأنه إنما هو: لذلك {فَلْيَعْبُدُوا} ، فإنْ حذفْتَ اللامَ من (أنَّ) فهو نصب، كما أنك لو حذفت اللام من لإيلاف كان نصباً هذا قول الخليل. ولو قال إنسان: إنَّ (أنّ) في موضع جرٍّ في هذه الأشياء، ولكنه حرف كثر استعماله في كلامهم فجاز فيه حذف الجار كما حذفوا ربَّ في قولهم:
وَبَلَدٍ تَحْسَبُهُ مَكْسوحا3
لكان قولاً قويّاً وله نظائر نحو قوله: لاهِ أبوك. والأوَّل قول الخليل"4.
الحالة الثانية: حذف جائز في سعة الكلام: المنثور والمنظوم، فيما سمع من أفعال استعملها العرب مرة متعدية بنفسها، وتارة بحرف الجرّ، مع الاتحاد في اللفظ والمعنى5 وهي:"شكر، ونصح، ووزن، وكال يكيل، يقال: شكرت له وشكرته، ونصحت له ونصحته، ووزنت له ماله ووزنته ماله، وكلت لزيد طعامه وكلته طعامه، وكذلك: اختار وأمر يقال اخترت زيداً قومَه واخترت زيداً من قومه، وأمرتك الخيرَ، وأمرتك بالخير" قال الشاعر:
--------------------------------------------
আজ-যাজ্জাজ উভয় পদ্ধতিই বৈধ রেখেছেন১, এবং এটিই সিবওয়াইহ-এর মাযহাবের প্রকাশ্য অভিমত। তিনি বলেন: "আমি আল-খালীলকে মহান আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম: {আর নিশ্চয়ই তোমাদের এই উম্মত তো একই উম্মত এবং আমিই তোমাদের প্রতিপালক, অতএব তোমরা আমাকেই ভয় করো}২। তখন তিনি বললেন, এটি মূলত 'লাম' অক্ষরটি বিলোপ (حذف) করার ভিত্তিতে হয়েছে, যেন তিনি বলেছেন: 'আর যেহেতু (ولأن) তোমাদের এই উম্মত একই উম্মত, আর আমিই তোমাদের প্রতিপালক, অতএব তোমরা আমাকেই ভয় করো'। তিনি আরও বলেন: এর সদৃশ উদাহরণ হলো: {কুরাইশদের আসক্তির কারণে}, কারণ এটি মূলত সেই লক্ষ্যেই {অতএব তারা যেন ইবাদত করে}-এর সাথে সংশ্লিষ্ট। সুতরাং আপনি যদি 'আন্না' (أنَّ) থেকে 'লাম' বিলুপ্ত করেন তবে তা নসব (نصب) অবস্থায় থাকবে, যেমনটি আপনি যদি 'লি-ঈলাফ' থেকে 'লাম' বিলুপ্ত করতেন তবে তা নসব (نصب) হতো—এটিই আল-খালীলের বক্তব্য। আর যদি কেউ বলে যে, 'আন্না' (أنّ) এই বিষয়গুলোতে জর (جرّ) এর অবস্থানে রয়েছে, কিন্তু এটি এমন একটি হরফ যার ব্যবহার অধিক হওয়ার কারণে সেখানে অব্যয় (حرف الجار) বিলোপ করা বৈধ হয়েছে—যেমনটি তারা তাদের বক্তব্যে 'রুব্বা' (ربَّ) বিলোপ করে থাকে:
এবং এমন এক ভূখণ্ড যা তুমি মনে করো মার্জিত৩
—তবে এটিও একটি শক্তিশালী অভিমত হতো এবং এর সদৃশ নজিরও রয়েছে যেমন তাদের উক্তি: 'লাহি আবূকা'। তবে প্রথমটিই হলো আল-খালীলের অভিমত।"৪।
দ্বিতীয় অবস্থা: সাবলীল ভাষায়—গদ্য ও পদ্য উভয় ক্ষেত্রে—বিলোপ (حذف) করা বৈধ হওয়া: এটি সেই সকল ক্রিয়াপদ (أفعال) সম্পর্কে শোনা গেছে যা আরবরা কখনো সরাসরি সকর্মক (متعدي) হিসেবে ব্যবহার করেছে, আবার কখনো শব্দ ও অর্থ অপরিবর্তিত রেখে অব্যয়ের (حرف الجار) মাধ্যমে ব্যবহার করেছে৫। সেগুলো হলো: "শুকর, নুসহ, ওয়াযন এবং কাল-ইয়াকীল। বলা হয়ে থাকে: 'শাকারতু লাহু' এবং 'শাকারতুহু' (আমি তার কৃতজ্ঞতা আদায় করলাম), 'নাসাহতু লাহু' এবং 'নাসাহতুহু' (আমি তাকে উপদেশ দিলাম), 'ওয়াযান্তু লাহু মালাহু' এবং 'ওয়াযান্তুহু মালাহু' (আমি তার সম্পদ ওজন করে দিলাম), 'কালতু লি-যাইদিন ত্বা'আমাহু' এবং 'কালতুহু ত্বা'আমাহু' (আমি যায়দকে তার খাদ্য মেপে দিলাম)। একইভাবে: 'ইখতিয়ার' এবং 'আমর'; বলা হয়: 'ইখতারতু যাইদান ক্বাওমাহু' (আমি যায়দকে তার কওমের মধ্য থেকে মনোনীত করলাম) এবং 'ইখতারতু যাইদান মিন ক্বাওমিহি', এবং 'আমারতুকা আল-খাইরা' ও 'আমারতুকা বিল-খাইরি' (আমি তোমাকে কল্যাণের আদেশ দিলাম)।" জনৈক কবি বলেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মানসুব আলা নাযইল খাফিদ ফিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৭৭)
أَمَرْتُكَ الخَيْرَ فَافْعَلْ ما أُمِرْتَ بِهِ
… فَقَدْ تَرَكْتُكَ ذا مالٍ وذا نَشَبِ1
وهذه الأفعال موقوفة على السماع، قال ابن مالك:"ومأخذ هذا النوع السماع"2 وسمّاها المتعدية بوجهين.
واختلف النحاة في أصالة هذه الأفعال التي تتعدّى مرة بنفسها ومرة بحرف الجرّ فذهب فريق: منهم ابن عصفور3 وأبو حيّان4 إلى أنَّ كلّ واحد منهما أصل برأسه، وليس أحدهما متفرعاً من الآخر، وذهب فريق ثانٍ منهم الشَّلَوْبين الصغير5 إلى أن الأصل في هذه الأفعال التعدي بنفسها، فإن دخل على المفعول حرف جرّ فهو زائد، وذهب ابن درستويه6 إلى أن الفعل (نصح) يتعدّى إلىمفعولين أحدهما بنفسه والآخر بحرف الجر، وأنكر الكسائي7 أن
--------------------------------------------
আমি তোমাকে কল্যাণের আদেশ দিয়েছি, সুতরাং তোমাকে যা আদেশ করা হয়েছে তা পালন করো
… আমি তোমাকে সম্পদ ও প্রতিপত্তি (নাসাব) সম্পন্ন অবস্থায় রেখে গেছি।১
এবং এই ক্রিয়াগুলো শ্রুতিনির্ভর (سماع) হওয়ার ওপর নির্ভরশীল। ইবনে মালিক বলেছেন: "এই প্রকারের উৎস হলো শ্রুতি (سماع)"২ এবং তিনি এগুলোকে দুইভাবে সকর্মক (متعدي) হওয়ার নাম দিয়েছেন।
ব্যাকরণবিদগণ সেই সকল ক্রিয়ার মৌলিকত্ব নিয়ে মতভেদ করেছেন যেগুলো কখনো সরাসরি এবং কখনো অব্যয় (حرف الجر)-এর মাধ্যমে সকর্মক (متعدي) হয়। একদল—যাদের মধ্যে ইবনে উসফুর৩ এবং আবু হাইয়ান৪ রয়েছেন—এই মত পোষণ করেছেন যে, এগুলোর প্রত্যেকটিই স্বতন্ত্রভাবে মৌলিক এবং একটি অন্যটি থেকে উদ্ভূত নয়। দ্বিতীয় একদল—যাদের মধ্যে আশ-শালওবীন আস-সাগীর৫ রয়েছেন—মনে করেন যে, এই ক্রিয়াগুলোর ক্ষেত্রে সরাসরি সকর্মক (متعدي) হওয়াই মূল বিষয়; সুতরাং যদি কর্ম (مفعول)-এর ওপর কোনো অব্যয় (حرف الجر) যুক্ত হয়, তবে তা অতিরিক্ত (زائد) হিসেবে গণ্য হবে। ইবনে দুরুস্তাওয়াইহ৬ মনে করেন যে, (নাসাহা) ক্রিয়াটি দুটি কর্ম (مفعول)-এর দিকে ধাবিত হয়, যার একটি সরাসরি এবং অন্যটি অব্যয় (حرف الجر)-এর মাধ্যমে। আল-কিসাঈ৭ অস্বীকার করেছেন যে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মানসুব আলা নাযইল খাফিদ ফিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৭৮)
يقال: شكرتك ونصحتك ويرى أنَّ الصواب أن يقال: "شكرت لك ونصحت لك" وقال: هذا كلام العرب وقال الفراء: "العرب لا تكاد تقول شكرتك، إنما تقول شكرت لك، ونصحت لك، ولايقولون نصحتك، وربّما قيلتا"1
وأجاز الأخفش الصغير2: أن يُحكم باطراد حذف حرف الجر، والنصب فيما لا لَبْسَ فيه إذا كان الفعل يتعدّى إلى اثنين أحدهما بنفسه والآخر بواسطة حرف الجرّ، إنْ تعيّن الحرف، وتعين موضعه، كقول الشاعر:
تَحِنُّ فَتُبْدي ما بِها مِنْ صَبابَةٍ
… وَأُخْفي الَّذي لَوْلا الأُسى لَقَضانِي3
قال ابن مالك: "والصحيح أن يتوقف فيه على السماع"4.
الحالة الثالثة: حذف سماعي مخصوص بالضرورة كقول الشاعر:
يُشَبَّهونَ سُيوفاً في مَضائِهِمُ
… وَطولِ أَنْضِيَةِ الأعْناقِ والأَمَمِ5
أي: يشبّهون بسيوف، وقول الآخر:
--------------------------------------------
বলা হয়: "আমি তোমার শুকরিয়া আদায় করলাম (شكرتك)" এবং "আমি তোমাকে নসিহত করলাম (نصحتك)"। তবে তিনি মনে করেন যে সঠিক (الصواب) হলো এটি বলা: "আমি তোমার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলাম (شكرت لك)" এবং "আমি তোমাকে উপদেশ দিলাম (نصحت لك)"। তিনি বলেন: এটিই আরবদের ভাষা। আল-ফাররা বলেন: "আরবরা সাধারণত 'শকরতুকা' বলে না, বরং তারা বলে 'শকরতু লাকা' এবং 'নসাহতু লাকা'। তারা 'নসাহতুকা' বলে না, তবে কখনও কখনও হয়তো উভয়টিই বলা হয়।"1
এবং আল-আখফাশ আস-সাগীর2 বৈধ (أجاز) করেছেন যে: যেখানে কোনো অস্পষ্টতা নেই, সেখানে অব্যয় (حرف الجر) বিলোপ করা এবং নসব (النصب) প্রদান করার নিয়মকে নিয়মিত বা ব্যাপক (اطراد) হিসেবে গণ্য করা। এটি তখন হয় যখন ক্রিয়াটি দুটি কর্মের (মাফউল) দিকে ধাবিত হয়, যার একটি সরাসরি এবং অন্যটি অব্যয়ের মাধ্যমে, যদি অব্যয়টি এবং তার স্থানটি সুনির্দিষ্ট থাকে। যেমন কবির উক্তি:
সে আকুল হয়ে পড়ে এবং তার মধ্যকার অনুরাগ প্রকাশ করে দেয়... আর আমি তা গোপন করি যা ধৈর্য (الأُسى) না থাকলে আমাকে শেষ করে দিত।3
ইবনে মালিক বলেন: "সঠিক (الصحيح) মত হলো যে, এক্ষেত্রে শ্রুতির (السماع) ওপর নির্ভর করতে হবে।"4
তৃতীয় অবস্থা: শ্রুতিগত (سماعي) বিলোপ যা কাব্যিক প্রয়োজনের (الضرورة) সাথে নির্দিষ্ট। যেমন কবির উক্তি:
তারা তাদের তীক্ষ্ণতায় তরবারির সদৃশ... এবং তাদের গ্রীবাদেশের দৈর্ঘ্যে ও শারীরিক গঠনে।5
অর্থাৎ: তারা তরবারির সাথে সদৃশ। এবং অন্য একজনের উক্তি:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মানসুব আলা নাযইল খাফিদ ফিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৭৯)
كَأَ نِّيَ إذْ أَسْعى لأظْفَرَ طائِراً
… مَعَ النَّجْمِ في جَوِّ السَّماءِ يُصَوِّبُ1
أي: لأظفر بطائرٍ، وقول الآخر:
لَدْنٌ بِهَزِّ الكَفِّ يَعْسِلُ مَتْنُهُ
… فيهِ كَما عَسَلَ الطَّريقَ الثَّعْلَبُ2
أي: كما عسل في الطريق، وقول الآخر:
تَمُرّونَ الدِّيارَ وَلَمْ تَعوجوا
… كَلامُكُمُ عَلَيَّ إذن حَرامُ3
أي: تمرون بالديار، وقال الآخر:
أَسْتَغْفِرُ اللهَ ذَنْباً لَسْتُ مُحْصِيَهُ
… رَبَّ العِبادِ إلَيْهِ الوَجْهُ والعَمَلُ4
--------------------------------------------
যেন আমি একটি পাখি শিকারের প্রচেষ্টায় লিপ্ত
… যা আকাশের দিগন্তে নক্ষত্রের সাথে নিচের দিকে ধাবিত হয়।1
অর্থাৎ: একটি পাখি শিকার করার জন্য। অন্য কবির উক্তি:
হাতের কম্পনে নমনীয়, যার পৃষ্ঠদেশ আন্দোলিত হয়
… যেভাবে শিয়াল রাস্তায় দ্রুত বিচরণ করে।2
অর্থাৎ: যেমনটি সে রাস্তায় দ্রুত বিচরণ করে। অন্য কবির উক্তি:
তোমরা ঘরগুলোর পাশ দিয়ে অতিক্রম করছ কিন্তু থামছ না
… তবে তোমাদের কথা আমার জন্য নিষিদ্ধ।3
অর্থাৎ: তোমরা ঘরগুলোর পার্শ্ব দিয়ে অতিক্রম করছ। অন্য এক কবি বলেছেন:
আমি আল্লাহর নিকট এমন পাপের জন্য ক্ষমা চাই যা আমি গণনা করতে পারছি না
… বান্দাদের রবের দিকেই মুখ এবং আমল নিবেদিত।4
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মানসুব আলা নাযইল খাফিদ ফিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৮০)
أي: أستغفر الله من ذنب، وقال الآخر:
آلَيْتُ حَبَّ العِراقِ الدَّهْرَ أَطْعَمُهُ
… وَالحَبُّ يَأْكُلُهُ في القَرْيَةِ السّوسُ1
أي: آليت على حبِّ العراق، وقال الآخر:
فَبِتُّ كَأَنَّ العائِداتِ فَرَشْنَنِي
… هَراساً بِهِ يُعْلى فِراشي وَيُقْشَبُ2
يريد: فرشن لي، وقول الآخر:
مِنَّا الّذي اخْتيرَ الرِّجالَ سَماحَةً
… وَخَيْراً إذا هَبَّ الرِّياحُ الزَّعازِعُ3
أي: اختير من الرجال.
هذا مع نصب الاسم بعد حذف الجار.
وقد يحذف الجار ويبقى عمله، ولا خلاف في شذوذ الإعمال حينئذٍ ومنه قول الآخر:
إذا قيلَ أيٌّ النّاسِ شَرٌّ قبيلةً
… أَشارَتْ كُلَيْبٍ بِالأكُفِّ الأصابِعُ4
--------------------------------------------
অর্থাৎ: আমি আল্লাহর নিকট গুনাহ থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। অন্য একজন (কবি) বলেছেন:
আমি শপথ করেছি ইরাকের শস্য চিরকাল আহার করব
… অথচ গ্রামের ঘুণপোকা সেই শস্য খেয়ে ফেলছে।১
অর্থাৎ: আমি ইরাকের শস্যের ওপর (আহার করার) শপথ নিয়েছি। অন্য একজন কবি বলেছেন:
আমি এমনভাবে রাত কাটালাম যেন পরিচর্যাকারীরা আমার শয্যা হিসেবে বিছিয়ে দিয়েছে
… কাঁটাযুক্ত ঝোপ, যার দ্বারা আমার বিছানা উঁচু করা হয়েছে এবং বিষাক্ত করা হয়েছে।২
এখানে উদ্দেশ্য হলো: তারা আমার জন্য বিছিয়ে দিয়েছে। অন্য একজনের উক্তি:
আমাদের মধ্য হতেই সেই ব্যক্তি যাকে মহানুভবতার কারণে পুরুষদের মধ্য হতে চয়ন করা হয়েছে
… এবং কল্যাণের জন্য, যখন প্রচণ্ড ঝোড়ো হাওয়া প্রবাহিত হয়।৩
অর্থাৎ: পুরুষদের মধ্য হতে চয়ন করা হয়েছে।
এটি অব্যয় বিলুপ্ত হওয়ার পর বিশেষ্যটির নসব (Nasb) হওয়ার উদাহরণ।
কখনো কখনো অব্যয়টি বিলুপ্ত হয় কিন্তু তার আমল (প্রভাব) অবশিষ্ট থাকে। এমতাবস্থায় সেই আমলটি যে বিরল (شاذ), সে ব্যাপারে কোনো মতভেদ নেই। অন্য একজনের উক্তিও এর অন্তর্ভুক্ত:
যখন জিজ্ঞাসা করা হয় কোন্ বংশের লোক সবচেয়ে নিকৃষ্ট
… তখন হাতের তালু ও আঙ্গুলগুলো কুলাইব গোত্রের দিকে ইঙ্গিত করে।৪
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মানসুব আলা নাযইল খাফিদ ফিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৮১)
بجرِّ (كليبٍ) أي: أشارت إلى كليب فحذف الجار، وأبقى عمله شذوذاً، وكقول الشاعر:
وَكَريمَةٍ مِنْ آلِ قَيْسَ أَلِفْتُهُ
… حَتَّى تَبَذّخَ فَارْتَقى الأعْلامِ1
بجر (الأعلام) أي: فارتقى في الأعلام.
قال ابن مالك2: "ومن بقاء الجرّ بالحرف المحذوف قوله عليه الصلاة والسلام:"صلاة الرجل في الجماعة تضعَّف علىصلاته في بيته وفي سوقه خمسٍ وعشرين ضعفاً"3 قال: أي بخمسٍ.
قال ومنه قوله عليه السلام:"فضل الصلاة بالسواك على الصلاة بغير سواك سبعين صلاة" قال: "أي بسبعين صلاة"4.
--------------------------------------------
'কুলাইব' (كليب) শব্দটিকে কাসরা প্রদানের (جر) মাধ্যমে, অর্থাৎ: তিনি কুল্যাইবের দিকে ইশারা করেছেন, ফলে হরফে জারটি বিলুপ্ত হয়েছে এবং বিরল (شذوذاً) হিসেবে এর আমল অবশিষ্ট রাখা হয়েছে। যেমন কবির উক্তি:
وَكَريمَةٍ مِنْ آلِ قَيْسَ أَلِفْتُهُ
… حَتَّى تَبَذّخَ فَارْتَقى الأعْلامِ1
'আল-আ'লাম' (الأعلام) শব্দটিকে কাসরা প্রদানের (جر) মাধ্যমে, অর্থাৎ: সে পাহাড়সমূহের উপরে আরোহণ করেছে।
ইবনে মালিক বলেন২: "বিলুপ্ত হরফের কারণে কাসরা (جر) অবশিষ্ট থাকার উদাহরণ হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই বাণী: 'জামাতে কোনো ব্যক্তির নামাজের সওয়াব তার ঘরে বা বাজারে পড়ার চেয়ে পঁচিশ গুণ বৃদ্ধি করা হয়'৩।" তিনি বলেন: অর্থাৎ পঁচিশ (خمسٍ) এর মাধ্যমে।
তিনি বলেন, এর অন্তর্ভুক্ত হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই বাণী: "মিসওয়াকসহ নামাজের ফজিলত মিসওয়াক ছাড়া নামাজের চেয়ে সত্তর নামাজ সমপরিমাণ।" তিনি বলেন: "অর্থাৎ সত্তর (سبعين) নামাজের বিনিময়ে"৪।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মানসুব আলা নাযইল খাফিদ ফিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৮২)
ومنه قوله صلى الله عليه وسلم: "مَنْ كانَ عِنْدَهُ طَعامُ اثْنَينِ فَلْيَذْهَبْ بِثالِثٍ، وَإنْ أَرْبَعَةٍ فَخامِسٍ أَوْ سادِسٍ" 1 وقدّر ابن مالك المحذوف هنا: "وَإنْ قامَ بِأَرْبَعَةٍ فَلْيَذْهَبْ بِخامِسٍ أَوْ سادِسٍ" 2.
--------------------------------------------
আর এর অন্তর্ভুক্ত হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "যার কাছে দুই জনের খাবার আছে সে যেন তৃতীয় একজনকে সাথে নিয়ে যায়, আর যদি চার জনের খাবার থাকে তবে পঞ্চম বা ষষ্ঠ একজনকে নিয়ে যায়" ১। আর ইবনে মালিক এখানে উহ্য (محذوف) অংশটিকে এভাবে প্রাক্কলন করেছেন: "আর যদি সে চার জনের ব্যবস্থা করে তবে সে যেন পঞ্চম বা ষষ্ঠ একজনকে নিয়ে যায়" ২।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মানসুব আলা নাযইল খাফিদ ফিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৮২)
المبحث الثالث:
حكم منزوع الخافض:منزوع الخافض يجب نصبه، نص على ذلك الأئمة من النحاة قال الشاطبي شارحاً قول الناظم:
وعدّ لازماً بحرف جرَّ
… وإن حُذِفْ فالنصب للمنجرّ
نقلا ً...............
…"يعني: أنَّ الحرف إن حذف فلا بدّ للمنجر به من النصب، فيصير الفعل متعدّياً بنفسه بالعَرَضِ كالمتعدّي بحق الأصل، وذلك لأنه إذا تعلّق به فقد صار موضعه نصباً، ولذلك تقول مررت بزيدٍ وعمراً فتعطف على موضعه نصباً"3.
واختلف في عامل النصب حينئذٍ، فذهب الكوفيون إلى أن العامل هو نزع الخافض، وقال البصريون العامل هو الفعل نفسه قاله الصبان4.
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদ:
মানজুউল খাফিয (অব্যয় বিলুপ্ত হওয়া পদের) বিধান:মানজুউল খাফিয-এর ক্ষেত্রে নসব (نصب) প্রদান করা আবশ্যক (واجب), ব্যাকরণবিদ ইমামগণ এ বিষয়ে সুস্পষ্ট বর্ণনা দিয়েছেন। আল-শাতিবি মূল কবির পঙক্তির ব্যাখ্যায় বলেন:
যাকে হারফে জার যোগে অকর্মক (لازم) গণ্য করা হয়... আর যদি তা বিলুপ্ত হয়, তবে মাজরুর (مجرور) পদটি নসবপ্রাপ্ত (نصب) হবে।
উদ্ধৃতি...............
"অর্থাৎ: অব্যয় (حرف) যদি বিলুপ্ত হয়, তবে সেই অব্যয় দ্বারা প্রভাবিত পদটির জন্য নসব (نصب) হওয়া অপরিহার্য। ফলে ক্রিয়াটি সাময়িকভাবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সকর্মক (متعدي) হয়ে যায়, যেমনটি মৌলিকভাবে সকর্মক ক্রিয়ার ক্ষেত্রে ঘটে। কারণ যখন এটি পদের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়, তখন এর স্থানটি নসবের স্থলে পরিণত হয়। এজন্যই আপনি বলেন: 'মারারতু বি-যাইদিন ওয়া আমরান', যেখানে আপনি নসবের স্থানের ওপর ভিত্তি করে সংযোজন বা আতফ (عطف) করেছেন।" ৩।
এমতাবস্থায় নসব প্রদানকারী কারক (عامل) নিয়ে মতভেদ রয়েছে। কুফাবাসীদের মতে আমিল বা কারক (عامل) হলো অব্যয়ের বিলুপ্তি (نزع الخافض), এবং বসরার ব্যাকরণবিদদের মতে আমিল বা কারক (عامل) হলো স্বয়ং ক্রিয়াটি; সাব্বান এটি উল্লেখ করেছেন ৪।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মানসুব আলা নাযইল খাফিদ ফিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৮৩)
المبحث الرابع:
المنصوب بعد (ما) الحجازية:(ما) : حرف نفي غير مختص، يدخل على الجمل الاسمية نحو: ما محمد قائماً، وعلى الجمل الفعلية نحو: ما قام محمد، ومن حق الحرف غير المختص الإهمال، ولكن الحجازيين أعملوا (ما) عمل ليس فيرتفع المبتدأ بعدها على أنه اسم لها، وينتصب الخبر على أنه خبر لها، وأهمل إعمالها التميميون.
واختلف البصريون والكوفيون1 في ناصب الخبر بعدها، فذهب البصريون إلى أن ناصب الخبر هو: (ما) نفسها حملاً لها على ليس، وذهب الكوفيون إلى أن الخبر منصوب على نزع الخافض، والأصل جرّه بالباء، قال الفراء في قوله تعالى: {مَا هَذَا بَشَراً} 2:"نصبت {بَشَراً} ، لأن الباء قد استعملت فيه، فلا يكاد أهل الحجاز ينطقون إلا بالباء، فلما حذفوها أحبّوا أن يكون لها أثر فيما خرجت منه فنصبوا على ذلك) 3، وقال ابن مالك:"وزعم الكوفيون أنّ (ما) لا عمل لها، وأنَّ نصب ما ينتصب بعدها بسقوط الباء. وما قالوه لا يصحّ، لأن الباء قد تدخل بعد هل، وبعد ما المكفوفة بـ (إنْ) ، وإذا سقطت الباء تعين الرفع بإجماع، فلو كان سقوط الباء ناصباً لنصبه في هذين الموضعين، ومثل تعين الرفع في هذين الموضعين عند سقوط الباء تعينه عند سقوطها في نحو
--------------------------------------------
চতুর্থ পরিচ্ছেদ:
হিজাজি (ما) এর পরবর্তী মানসুব (منصوب):(মা) : এটি একটি অনির্ধারিত (غير مختص) না-বাচক হরফ (حرف نفي), যা জুমলা ইসমিয়ার (جملة اسمية) ওপর প্রবেশ করে, যেমন: "মা মুহাম্মাদুন কায়িমান", এবং জুমলা ফিলিয়ার (جملة فعلية) ওপরও প্রবেশ করে, যেমন: "মা ক্বামা মুহাম্মাদুন"। নিয়ম অনুযায়ী অনির্ধারিত হরফের আমল বর্জন (إهمال) করাই সমীচীন, কিন্তু হিজাজবাসীগণ 'মা' (ما)-কে 'লাইসা' (ليس)-এর ন্যায় আমল প্রদান করেছেন। ফলে এর পরবর্তী মুবতাদাটি (مبتدأ) তার ইসম (اسم) হিসেবে রফা (رفع) প্রাপ্ত হয় এবং খবরটি (خبر) তার খবর হিসেবে নাসব (نصب) প্রাপ্ত হয়। তবে তামীম গোত্রীয়রা এর আমলকে বর্জন (إهمال) করেছেন।
এর পরবর্তী খবরের নাসব (نصب) প্রদানকারী কে, সে বিষয়ে বসরী এবং কুফী১ আলেমদের মাঝে মতভেদ রয়েছে। বসরীদের অভিমত হলো, খবরের নাসব প্রদানকারী হলো খোদ 'মা' (ما) নিজেই; যা 'লাইসা' (ليس)-এর সাথে সাদৃশ্যতার কারণে হয়েছে। আর কুফীদের অভিমত হলো, খবরটি 'হরফে জার' বিলুপ্তির কারণে (نزع الخافض) নাসব প্রাপ্ত হয়েছে, আর মূলত এটি 'বা' (ب) যোগে মাজরুর (مجرور) হওয়ার কথা ছিল। আল-ফাররা আল্লাহ তাআলার বাণী: {مَا هَذَا بَشَراً} ২ (এটি কোনো মানুষ নয়) প্রসঙ্গে বলেন: "এখানে {بَشَراً} শব্দটি নাসব হয়েছে কারণ এতে 'বা' (ب) হরফটি ব্যবহৃত হয়। হিজাজবাসীরা প্রায় সময় 'বা' (ب) যোগেই কথা বলেন। সুতরাং যখন তারা একে বিলুপ্ত করলেন, তখন তারা চাইলেন যেখান থেকে এটি বিলুপ্ত হয়েছে সেখানে যেন তার একটি প্রভাব অবশিষ্ট থাকে, তাই তারা সেই ভিত্তিতে নাসব প্রদান করেছেন।" ৩ ইবনে মালিক বলেন: "কুফীরা দাবি করেছেন যে 'মা' (ما)-এর কোনো আমল নেই এবং এর পরে যা নাসব হয় তা মূলত 'বা' (ب) বিলুপ্ত হওয়ার কারণেই হয়। তাদের এই দাবি সঠিক নয়; কারণ 'বা' (ب) তো 'হাল' (هل) এবং 'ইন' (إن) দ্বারা বাধাপ্রাপ্ত 'মা'-এর পরেও আসতে পারে। আর সেখানে 'বা' (ب) বিলুপ্ত হলে সর্বসম্মতিক্রমে (إجماع) রফা (رفع) হওয়া অবধারিত। যদি 'বা' (ب) বিলুপ্ত হওয়াই নাসব প্রদানকারী হতো, তবে এই দুই স্থানেও সেটি নাসব প্রদান করত। আর এই দুই স্থানে 'বা' বিলুপ্তির সময় রফা হওয়া যেমন অবধারিত, তেমনি রফা হওয়া অবধারিত যখন এটি বিলুপ্ত হয়..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মানসুব আলা নাযইল খাফিদ ফিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৮৪)
كفى بزيد رجلاً، وبحسب عمرو درهمٌ، وتعينه عند سقوط من في نحو: ما فيه من رجل"1.
--------------------------------------------
যায়েদ একজন ব্যক্তি হিসেবে যথেষ্ট, এবং আমরের জন্য এক দিরহামই যথেষ্ট; আর ‘মিন’ বিলুপ্ত হওয়ার সময় এটি বিষয়টিকে সুনির্দিষ্ট করে, যেমন: "সেখানে কোনো লোক নেই"১।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মানসুব আলা নাযইল খাফিদ ফিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৮৪)
المبحث الخامس:
نزع الخافض والتضمين:وفيه مطلبان:
المطلب الأول: دراسة التضمين:
البحث في التضمين يطول لمن أراد أن يستوفي البحث حقه، والكلام فيه تتنازعه الحقيقة والمجاز، والنحو والبلاغة، ولكني سأُلم به في هذه العجالة، مشيراً إلى أهم ما دون فيه من بحوث، لمن أراد الوقوف على التفاصيل فأقول:
التضمين: من مصطلحات النحو والبلاغة والعروض.
وهو عند أهل اللغة: مصدر ضمّن يضمِّن تضميناً، كعلّم يعلِّم تعليماً، ويريدون به2: إيداع شيء شيئاً، يقال: ضمّنت الميّت القبر، أودعته إياه، وكلُّ شيء أُحرز فيه شيء فقد ضُمِّنَهُ، وبمعنى غَرِمَ يقال: ضمَّنته الشيء فَضَمِنَهُ، غرَّمته إياه، وضَمِنَه عنّي، التزم الغرم ومنه الغريم، لأنه ضامن، فعيل بمعنى فاعل.
والتضمين عند البلاغيين هو: "استعارة الشاعر كلاماً من غيره، وإدخاله في شعره"3 ومثاله قول الشاعر:
--------------------------------------------
পঞ্চম পরিচ্ছেদ:
অব্যয় বিলোপ (نزع الخافض) এবং অন্তর্ভুক্তি (تضمين):এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: অন্তর্ভুক্তি (تضمين) বিষয়ক আলোচনা:
অন্তর্ভুক্তির (تضمين) ওপর গবেষণা দীর্ঘ হতে পারে যদি কেউ পূর্ণাঙ্গভাবে এর হক আদায় করতে চায়। এর আলোচনাটি প্রকৃত অর্থ (حقيقة) ও রূপক অর্থ (مجاز), এবং ব্যাকরণ (نحو) ও অলঙ্কারশাস্ত্রের (بلاغة) মধ্যে দোলায়মান। তবে আমি এখানে সংক্ষেপে এটি তুলে ধরব এবং যারা বিস্তারিত জানতে চান তাদের জন্য এই বিষয়ে সংকলিত গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাসমূহের প্রতি ইঙ্গিত করব। সুতরাং আমি বলছি:
অন্তর্ভুক্তি (تضمين): ব্যাকরণ (نحو), অলঙ্কারশাস্ত্র (بلاغة) এবং ছন্দশাস্ত্রের (عروض) অন্যতম পারিভাষিক শব্দ।
ভাষাবিদদের মতে এটি হলো: 'দম্মানা' (ضمّن), 'ইউদাম্মিনু' (يضمِّن), 'তাদমীনান' (تضميناً) ক্রিয়ামূল থেকে আগত, যেমন 'আল্লামা' (علّم), 'ইউআল্লিমু' (يعلِّم), 'তালীমান' (تعليماً)। এর দ্বারা তারা উদ্দেশ্য নেন: এক বস্তুর ভেতর অন্য কিছু গচ্ছিত রাখা। বলা হয়ে থাকে: "আমি মৃত ব্যক্তিকে কবরে সমাহিত করেছি" (ضمّنت الميّت القبر), অর্থাৎ আমি তাকে সেখানে গচ্ছিত রেখেছি। আর প্রত্যেক বস্তু যার ভেতর কিছু সংরক্ষিত থাকে, তাকেই 'অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে' (ضُمِّنَهُ) বলা হয়। এটি জরিমানা বা দায়বদ্ধ হওয়ার (غَرِمَ) অর্থও প্রদান করে। বলা হয়: "আমি তাকে কোনো কিছুর দায়িত্ব দিয়েছি এবং সে তা গ্রহণ করেছে" (ضمَّنته الشيء فَضَمِنَهُ), অর্থাৎ আমি তাকে এটি জরিমানা বা দায় হিসেবে দিয়েছি। "সে আমার পক্ষ থেকে এর দায় নিয়েছে" (ضَمِنَه عنّي), অর্থাৎ সে জরিমানা দিতে বাধ্য হয়েছে। এখান থেকেই 'ঋণদাতা বা পাওনাদার' (غريم) শব্দটি এসেছে, কারণ সে জামিনদার (ضامن); এখানে 'ফায়ীল' (فعيل) ছন্দটি 'ফাঈল' (فاعل) বা কর্তার অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
অলঙ্কারবিদদের নিকট অন্তর্ভুক্তি (تضمين) হলো: "কবির অন্য কারো কালাম বা বক্তব্য ধার হিসেবে গ্রহণ করা এবং তা নিজের কবিতার অন্তর্ভুক্ত করা"৩ এবং এর উদাহরণ হলো কবির এই উক্তি:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মানসুব আলা নাযইল খাফিদ ফিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৮৫)
لئنْ أَخْطَأْتُ في مَدْحيـ
… ـكَ ما أَخْطَأْتَ في مَنْعي
لَقَدْ أَنْزَلْتُ حاجاتي
… بِوادٍ غَيْرِ ذي زَرْعِ1
فضمَّن بيته قوله تعالى: {بِوادٍ غَيْرِذي زَرْعِ} من الآية 37 من سورة إبراهيم.
وعند العروضيين هو:"تعلُّق قافية البيت الأول بالبيت الثاني) 2 وهم يعدونه من عيوب الشعر.
قال الشاعر3:
يا ذا الَّذي في الحُبِّ يَلْحى أَما
… تَخْشى عِقابَ اللهِ فينا أَما
تَعْلَمُ أنَّ الحُبَّ داءٌ أَما
… وَاللهِ لَوْ حُمِّلتَ مِنْهُ كما
حُمِّلْتُ مِنْ حُبِّ رَخيمٍ لَما
… لُمْتَ عَلى الحُبِّ فَذَرْني وَما
أَطْلُبُ إنِّي لَسْتُ أَدْري بِما
… قُتِلتُ إلَاّ أّنَّني بَيْنما
أَنا بِبابِ القَصْرِ في بَعْضِ ما
… أَطْلُبُ مِنْ قَصْرِهِمْ إذْ رَمى
شِبْهُ غَزالٍ بِسِهامٍ فَما
… أَخْطَأَ سَهْماهُ وَلَكِنَّما
عَيْناهُ سَهْمانِ لَهُ كُلَّما
… أَرادَ قَتْلِي بِهِما سَلَّما
--------------------------------------------
যদি আমি আপনার প্রশংসায় ভুল করে থাকি
… তবে আপনি আমাকে বঞ্চিত করে কোনো ভুল করেননি।
আমি আমার প্রয়োজনসমূহ পেশ করেছি
… শস্যহীন এক উপত্যকায়।১
তিনি তাঁর চরণে মহান আল্লাহর বাণী: {শস্যহীন এক উপত্যকায়} অন্তর্ভুক্ত করেছেন, যা সূরা ইব্রাহিমের ৩৭ নম্বর আয়াতের অংশ।
ছন্দবিশারদদের নিকট এটি হলো: "প্রথম চরণের অন্ত্যমিল দ্বিতীয় চরণের সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়া" ২ এবং তাঁরা একে কাব্যের ত্রুটিসমূহের অন্তর্ভুক্ত গণ্য করেন।
কবি বলেছেন৩:
হে সেই ব্যক্তি, যে প্রেমে পড়ে তিরস্কার করছ, তুমি কি
… আমাদের ব্যাপারে আল্লাহর শাস্তিকে ভয় পাও না? তুমি কি
জানো না যে প্রেম একটি ব্যাধি? আল্লাহর শপথ! যদি তোমাকে আমার মতো
… ভার বহন করতে হতো
যেমনটি আমি বহন করেছি এক কোমলপ্রাণ ব্যক্তির প্রেমে, তবে তুমি
… প্রেমের জন্য তিরস্কার করতে না; সুতরাং আমাকে ও আমার অন্বেষাকে
ছেড়ে দাও; আমি জানি না কিসের মাধ্যমে
… আমি নিহত হয়েছি, তবে আমি যখন
প্রাসাদের দরজায় ছিলাম কিছু একটা
… তাদের প্রাসাদ থেকে অন্বেষণ করছিলাম, তখন নিক্ষেপ করল
হরিণ সদৃশ এক সুন্দরী বাণসমূহ; যা
… তার দুই বাণ লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়নি, কিন্তু
তার চোখ দুটিই হলো তার বাণ, যখনই সে
… আমাকে তা দিয়ে হত্যা করতে চায়, সে অব্যাহতি দেয়।
--------------------------------------------