(খণ্ড: ১)
আল-মাসলাহাতুল মুরসালাহ মুহাওয়ালাতুল লিবাসতিহা ওয়া নাযরাতুন ফীহা
(পৃষ্ঠা: -)
المصلحة المرسلة محاولة لبسطها ونظرة فيها القسم: أصول الفقه
الكتاب: المصلحة المرسلة محاولة لبسطها ونظرة فيها
المؤلف: علي محمد جريشة
الناشر: الجامعة الاسلامية بالمدينة المنورة
الطبعة: السنة العاشرة - العدد الثالث، ذو الحجة 1397هـ نوفمبر - تشرين ثاني 1977 م
عدد الصفحات: 50
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
অবারিত জনকল্যাণ (المصلحة المرسلة): এর বিস্তারিত ব্যাখ্যার একটি প্রয়াস ও এতে একটি পর্যালোচনা বিভাগ: উসুল আল-ফিকহ
বই: অবারিত জনকল্যাণ (المصلحة المرسلة): এর বিস্তারিত ব্যাখ্যার একটি প্রয়াস ও এতে একটি পর্যালোচনা
লেখক: আলী মুহাম্মদ জুরাইশাহ
প্রকাশক: মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়
সংস্করণ: দশম বর্ষ - তৃতীয় সংখ্যা، জিলহজ ১৩৯৭ হিজরি নভেম্বর - নভেম্বর ১৯৭৭ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫০
[বইয়ের নম্বরকরণ মুদ্রিত কপির সাথে সংগতিপূর্ণ]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-মাসলাহাতুল মুরসালাহ মুহাওয়ালাতুল লিবাসতিহা ওয়া নাযরাতুন ফীহা
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
تقديم وتعريفتقديم وتعريف
…المصلحة المرسلة1 محاولة لبسطها ونظرة فيها
لفضيلة الدكتور علي محمد جريشة كلية الشريعة
أولا: تقديم وتعريف:
1- إن الله بالناس لرؤف رحيم، لم يخلقهم عبثا بل جعل لهم غاية، ولم يتركهم سدا بل هداهم السبيل وحدد معالمه.. كل ذلك بما شرع لهم من أحكام في دينه، وكانت أحكامه محققة لمصالحهم في دينهم ودنياهم وآخرتهم.. وقد ثبت لدى العلماء من تتبع أحكام الشرع واستقرائها أنها تحقق مصالح خمسا وتحافظ عليها هي الدين والنفس والعقل والنسل والمال وهي في تحقيقها لهذه المصالح تتدرج بين مراتب ثلاثة:
هي الضرورات: وهو لابد منها لإقامة هذه الخمسة وحفظها، والحاجيات وهي وإن لم تلزم لقيام الخمسة فإنها تلزم لرفع الضيق والحرج عند الأخذ بها، والتحسينات وهي ليست بلازمة لقيام هذه المصالح ولا لدفع الضيق والحرج عند الأخذ بها ولكنها استكمال لحسن الأمر وتحقيق لصالح الخلق2.
وتقف كل مصلحة من المصالح الخمسة مكملة للتي تسبقها وخادمة لها، كذلك تقف كل مرتبة من المراتب الثلاثة مكملة للتي تسبقها وخادمة لها.
ففي المصلحة الأولى وهي الدين تقف في المرتبة الأولى الضرورات، وفي
--------------------------------------------
উপস্থাপনা ও পরিচিতিউপস্থাপনা ও পরিচিতি
…অনপেক্ষ জনকল্যাণ (المصلحة المرسلة)১: এর ব্যাপ্তি ও পর্যালোচনার একটি প্রয়াস
শ্রদ্ধেয় ডক্টর আলী মুহাম্মদ জুরাইশাহ, শরিয়াহ অনুষদ
প্রথমত: উপস্থাপনা ও পরিচিতি:
১- নিশ্চয়ই আল্লাহ মানুষের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু ও পরম করুণাময়। তিনি তাদেরকে অনর্থক সৃষ্টি করেননি, বরং তাদের জন্য একটি লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। তিনি তাদেরকে লক্ষ্যহীনভাবে ছেড়ে দেননি, বরং তাদেরকে পথপ্রদর্শন করেছেন এবং এর বৈশিষ্ট্যসমূহ নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন। এই সবকিছুই তিনি তাঁর দ্বীনের যে বিধিবিধান তাদের জন্য বিধিবদ্ধ করেছেন তার মাধ্যমেই করেছেন। তাঁর বিধানসমূহ মানুষের দ্বীন, দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ নিশ্চিতকারী। শরিয়তের বিধিবিধানের অনুসন্ধান ও পর্যালোচনার (استقراء) মাধ্যমে ওলামায়ে কেরামের নিকট এটি প্রমাণিত হয়েছে যে, এই বিধানগুলো পাঁচটি বিষয়কে নিশ্চিত ও সংরক্ষণ করে; সেগুলো হলো: দ্বীন, জীবন, বুদ্ধি, বংশধারা ও সম্পদ। এই বিষয়গুলো নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বিধানগুলো তিনটি স্তরে বিন্যস্ত:
সেগুলো হলো অপরিহার্য বিষয়সমূহ (الضرورات): যা এই পাঁচটি বিষয় প্রতিষ্ঠা ও সংরক্ষণের জন্য একান্ত আবশ্যক। প্রয়োজনীয় বিষয়সমূহ (الحاجيات): যদিও এই পাঁচটি বিষয় প্রতিষ্ঠার জন্য এগুলো অপরিহার্য নয়, তবে সংকীর্ণতা ও কাঠিন্য দূর করার জন্য এগুলোর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। আর সৌন্দর্যবর্ধক বিষয়সমূহ (التحسينات): এগুলো উক্ত কল্যাণসমূহ প্রতিষ্ঠার জন্য বা সংকীর্ণতা ও কাঠিন্য দূর করার জন্য অপরিহার্য নয়, বরং এগুলো বিষয়বস্তুর পূর্ণতা এবং সৃষ্টির কল্যাণ নিশ্চিত করার সম্পূরক মাত্র।২
এই পাঁচটি জনকল্যাণের (المصالح) প্রতিটি তার পূর্ববর্তীটির পরিপূরক ও সহায়ক হিসেবে কাজ করে। একইভাবে এই তিনটি স্তরের প্রতিটি তার পূর্ববর্তী স্তরের পরিপূরক ও সহায়ক।
প্রথম কল্যাণ তথা দ্বীনের ক্ষেত্রে প্রথম স্তরে রয়েছে অপরিহার্য বিষয়সমূহ (الضرورات), এবং...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাসলাহাতুল মুরসালাহ মুহাওয়ালাতুল লিবাসতিহা ওয়া নাযরাতুন ফীহা
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
مقدمتها شهادة أن لا إله إلا الله محمد رسول الله، فلابد من إقامتها لإقامة الدين، ولو أدى ذلك إلى التضحية بالمصلحة التي تليها وهي النفس، وذلك عن طريق الجهاد إعلاء لكلمة الله، وتمكينا لدينه..
ومن الحاجيات المكملة لإقامة الدين ما شرعه الله من تيسير في بعض أحكامه، رفعا للعنت والحرج1 ومنعا من الضيق والملل، كأداء الصلاة قعودا لمن كان ذا عذر، وقصرها للمسافر وما شرع الله من عقود وأحكام للمعاملات.
ومن التحسينات المكملة لإقامة الدين ما ينبغي أن يتحلى به المسلم من خلق العفو والصفح الجميل ودرء السيئة بالحسنة.
ووقوف المصلحة وراء كل حكم أنزله الله أمر يراه كل ذي بصيرة فإن خفيت فإيمان المسلم ويقينه بأن الله لا يريد به إلا اليسر، ولا يشرع له إلا الحق والخير.. كل ذلك كاف لأن ندرك ما قرره علماء الشريعة من أن وراء كل حكم شرعي مصلحة.
والقول بأن وراء كل مصلحة حكم شرعي2 ينبغي أن يتقيد بالشروط والقيود التي سنشير إليها، وإلا فليست كل مصلحة يتصورها إنسان يمكن أن يبنى عليها حكم شرعي.
2- والمصلحة التي يورد الشارع حكما يحققها تسمى مصلحة معتبرة3 وتلك التي يأتي النص بعدم اعتبارها تسمى مصلحة ملغاة4.
والتي لم يعتبرها الشارع ولم يلغها هي المصلحة المرسلة5- وهي موضوع هذا البحث.
--------------------------------------------
এর ভূমিকা হলো এ সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসুল। দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য এটি প্রতিষ্ঠিত করা অপরিহার্য, যদিও তা এর পরবর্তী পর্যায়ের স্বার্থ তথা জীবনের ত্যাগের বিনিময়ে হয়। আর তা হলো আল্লাহর বাণীকে সমুন্নত করার জন্য এবং তাঁর দ্বীনকে সুসংহত করার জন্য জিহাদের মাধ্যমে।
দ্বীন প্রতিষ্ঠার পরিপূরক প্রয়োজনীয় বিষয়সমূহের (حاجيات) অন্তর্ভুক্ত হলো আল্লাহ তাআলা তাঁর বিধানসমূহে যে সহজীকরণ বিধিবদ্ধ করেছেন তা, যাতে মানুষের কষ্ট ও সংকীর্ণতা দূর হয় এবং অস্থিরতা ও ক্লান্তি রোধ করা যায়। যেমন—যার ওজর আছে তার জন্য বসে নামাজ আদায় করা, মুসাফিরের জন্য নামাজ সংক্ষেপ করা এবং লেনদেনের ক্ষেত্রে আল্লাহ যেসব চুক্তি ও বিধান বিধিবদ্ধ করেছেন।
দ্বীন প্রতিষ্ঠার পরিপূরক সৌন্দর্যবর্ধক বিষয়সমূহের (تحسينات) অন্তর্ভুক্ত হলো সেই সব গুণাবলী যা একজন মুসলিমের অর্জন করা উচিত, যেমন—ক্ষমা, সুন্দর মার্জনা এবং মন্দের বিপরীতে ভালো আচরণ করা।
আল্লাহর অবতীর্ণ প্রতিটি বিধানের পেছনে জনকল্যাণ (مصلحة) বিদ্যমান থাকা এমন এক বিষয় যা প্রতিটি অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তি অনুধাবন করতে পারেন। যদি তা অস্পষ্টও হয়, তবুও মুমিনের ঈমান ও দৃঢ় বিশ্বাস এই যে, আল্লাহ তার জন্য কেবল সহজতাই চান এবং তার জন্য কেবল সত্য ও কল্যাণই বিধিবদ্ধ করেন। শরিয়ত বিশেষজ্ঞগণ যা সাব্যস্ত করেছেন যে, প্রতিটি শরিয়তি বিধানের পেছনে জনকল্যাণ (مصلحة) নিহিত রয়েছে, তা অনুধাবন করার জন্য এটুকু বিশ্বাসই যথেষ্ট।
আর এ কথা বলা যে, প্রতিটি জনকল্যাণের (مصلحة) পেছনেই একটি শরিয়তি বিধান (حكم شرعي) রয়েছে, তা অবশ্যই কিছু শর্ত ও সীমাবদ্ধতার সাথে সম্পৃক্ত হতে হবে যা আমরা পরবর্তীতে উল্লেখ করব। অন্যথায়, মানুষের কল্পনাপ্রসূত প্রতিটি জনকল্যাণই (مصلحة) এমন নয় যার ওপর ভিত্তি করে শরিয়তের বিধান (حكم شرعي) প্রণয়ন করা সম্ভব।
২- শরিয়ত প্রণেতা যে জনকল্যাণটি অর্জনের জন্য কোনো বিধান প্রদান করেছেন, তাকে স্বীকৃত জনকল্যাণ (مصلحة معتبرة) বলা হয়। আর যেটির অসারতা সম্পর্কে নস বা অকাট্য প্রমাণ (نص) এসেছে, তাকে বাতিলকৃত জনকল্যাণ (مصلحة ملغاة) বলা হয়।
আর যেটিকে শরিয়ত প্রণেতা স্বীকৃতিও দেননি আবার বাতিলও করেননি, সেটিই হলো অনির্ধারিত জনকল্যাণ (مصلحة مرسلة)—যা এই গবেষণার মূল বিষয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাসলাহাতুল মুরসালাহ মুহাওয়ালাতুল লিবাসতিহা ওয়া নাযরাতুন ফীহা
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
حجية المصلحة المرسلةحجية المصلحة المرسلة
…ثانيا: حجية المصلحة المرسلة:
3- الوحي –قرآنا وسنة- ليس فقط هو المصدر الأول للأحكام، بل هو المصدر الوحيد للأحكام..
فكيف يتفق ذلك مع ما يعدده الأصوليون من مصادر تقارب العشرة أو تجازوها؟ ووظيفة الإجماع أنه يقوي من هذا الدليل.. والقياس تعرية للحكم الشرعي –الوارد في الكتاب أو السنة- إلى واقعة أخرى لم يرد فيها نص، لاتحاد العلة في الواقعتين.
أما المصلحة.. فهي –كما سيبين بإذن الله- لون من القياس على النصوص في مقاصدها ومعناها، وليس في عبارتها ومبناها، أو هي بعبارة أخرى. حكم بروح النصوص ومقاصدها وليس حكم بعبارتها وألفاظها.
4- بيد أن الأمر ليس بهذه السهولة التي أشرنا إليها.. فإن دليلا من الأدلة لم يثر جدلا عنيفا ولا غموضا شديدا، ولا تطرفا ذات اليمين وذات اليسار.. كما أثارت المصلحة المرسلة..
فالبعض أفرط فقدمها على النصوص. والبعض فرط فرفضها رفضا مطلقا. وبين هذا الفرث والدم.. كان رأي الجمهور وسطا سائغا للفاقهين..
5- وقبل أن نشير إلى هذه الثلاثة نقول إن المصلحة لا عمل لها في دائرة العقيدة لأنها مبنية على اليقين، والمصلحة لا تفيد إلا الظن، كذلك لا عمل لها في ميدان العبادات.
(الشعائر والنسك) لأن نصوص القرآن والسنة جاءت مفصلة لها ومبنية، فضلا عن أن أغلب أحكامها ليس له ظاهرة أو مصلحة واضحة لأنها أساسا جاءت اختبارا لمدى طاعة العبد، ويأخذ حكم العبادات ما جرى مجراها من حدود ومقدرات وسائر ما استأثر الله بعلم تفصيلات المصلحة فيه1.
--------------------------------------------
জনকল্যাণ বা মাসলাহা মুরসালাহ্-র প্রামাণিকতা (حجية المصلحة المرسلة)জনকল্যাণ বা মাসলাহা মুরসালাহ্-র প্রামাণিকতা (حجية المصلحة المرسلة)
…দ্বিতীয়ত: জনকল্যাণ বা মাসলাহা মুরসালাহ্-র প্রামাণিকতা (حجية المصلحة المرسلة):
3- ওহি (الوحي) —কুরআন ও সুন্নাহ— কেবল বিধানের প্রথম উৎসই নয়, বরং এটিই বিধানের একমাত্র উৎস।
তাহলে উসুলশাস্ত্রবিদগণ (الأصوليون) যে প্রায় দশটি বা ততোধিক উৎসের কথা গণনা করেন, তার সাথে এই বক্তব্যের মিল কোথায়? ঐকমত্যের (الإجماع) কাজ হলো সেই দলিলকে শক্তিশালী করা। আর সাদৃশ্যমূলক অনুমান (القياس) হলো—কুরআন বা সুন্নাহ থেকে প্রাপ্ত—শরয়ি বিধানকে এমন এক নতুন ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা যার ব্যাপারে কোনো পাঠ (النص) বিদ্যমান নেই, কারণ উভয় ক্ষেত্রে কার্যকর কারণ (العلة) অভিন্ন।
পক্ষান্তরে মাসলাহা বা জনকল্যাণ (المصلحة)... এটি হলো—যেমনটি আল্লাহ চাহেন তো স্পষ্ট করা হবে—নাস বা পাঠের (النص) বাহ্যিক শব্দ বা কাঠামোর পরিবর্তে তার উদ্দেশ্য (مقاصد) ও অর্থের ওপর ভিত্তি করে এক প্রকারের সাদৃশ্যমূলক অনুমান (القياس)। অন্য কথায়, এটি পাঠের বাহ্যিক শব্দ বা বর্ণ দিয়ে বিচার করা নয়, বরং পাঠের মূল আবেদন ও উদ্দেশ্য (مقاصد) দ্বারা বিচার করা।
4- তবে বিষয়টি আমরা যে সহজভাবে ইঙ্গিত করেছি তা নয়। কারণ দলিলের কোনো উৎসই মাসলাহা মুরসালাহ্-র (المصلحة المرسلة) মতো এত তীব্র বিতর্ক, চরম অস্পষ্টতা কিংবা ডানে-বামে এতো বেশি প্রান্তিকতার জন্ম দেয়নি।
কেউ কেউ একে অতিরঞ্জিত করে পাঠের (النص) ওপর প্রাধান্য দিয়েছেন। আবার কেউ কেউ একে শিথিলভাবে দেখে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। এই চরমপন্থী ও শিথিলপন্থী অবস্থানের মাঝে জুমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠের (الجمهور) মতটি ছিল বিজ্ঞ ফকিহদের জন্য অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য।
5- এই তিনটি মতের দিকে ইঙ্গিত করার আগে আমরা বলতে চাই যে, আকিদাহ বা বিশ্বাসের (العقيدة) ক্ষেত্রে মাসলাহা বা জনকল্যাণের (المصلحة) কোনো কার্যকারিতা নেই; কারণ এটি নিশ্চিত জ্ঞানের (اليقين) ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত, আর মাসলাহা কেবল ধারণাপ্রসূত জ্ঞান (الظن) প্রদান করে। একইভাবে ইবাদাত বা উপাসনার (العبادات) ক্ষেত্রেও এর কোনো কার্যকারিতা নেই।
(ধর্মীয় নিদর্শনসমূহ (الشعائر) ও ইবাদতের রীতিনীতি (النسك)); কারণ কুরআন ও সুন্নাহর পাঠসমূহ (النصوص) এগুলোর বিস্তারিত বর্ণনা ও ব্যাখ্যা প্রদান করেছে। তদুপরি, ইবাদতের অধিকাংশ বিধানের পেছনে কোনো বাহ্যিক যৌক্তিকতা বা স্পষ্ট জনকল্যাণ (المصلحة) দৃশ্যমান নয়, কারণ মূলত এগুলো বান্দার আনুগত্যের পরীক্ষা হিসেবে এসেছে। ইবাদতের এই বিধানের ন্যায় হুদুদ বা নির্ধারিত দণ্ডবিধি (حدود), পরিমাপসমূহ এবং সেই সমস্ত বিষয়ও একই হুকুমের অন্তর্ভুক্ত হবে যার কল্যাণের (المصلحة) বিস্তারিত জ্ঞান আল্লাহ কেবল নিজের জন্যই সংরক্ষিত রেখেছেন।১।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাসলাহাতুল মুরসালাহ মুহাওয়ালাতুল লিবাসতিহা ওয়া নাযরাতুন ফীহা
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
أ-
المصلحة بين الإفراط والتفريط:6- تنازع التطرف المصلحة فالبعض قال بتقديمها على النصوص، والبعض قال برفضها.. ولكل وجهة هو موليها وتشير إلى الطرفين وحججها.
ক-
চরমপন্থা ও শিথিলতার মাঝে জনস্বার্থ (مصلحة):৬- চরমপন্থা জনস্বার্থ (مصلحة) নিয়ে বিবাদে লিপ্ত হয়েছে; ফলে কেউ কেউ একে মূল পাঠ বা দলিলের (نصوص) ওপর প্রাধান্য দেওয়ার কথা বলেছেন, আবার কেউ কেউ একে প্রত্যাখ্যান করেছেন। প্রত্যেকেরই একটি সুনির্দিষ্ট অভিমুখ রয়েছে এবং এটি উভয় পক্ষ ও তাদের যুক্তিসমূহকে নির্দেশ করে।
(খণ্ড: ১)
আল-মাসলাহাতুল মুরসালাহ মুহাওয়ালাতুল লিবাসতিহা ওয়া নাযরাতুন ফীহা
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
7- أما الإفراط فيحمل لواءه نجم الدين الطوفي –الذي قيل إنه حنبلي لكن التحقيق أنه يميل إلى التشيع1- وقد عرض لرأيه في معرض شرحه لما روى عن رسول الله صلى الله عليه وسلم "لا ضرر ولا ضرار"2، وقال إنه يرى الأدلة الشرعية تسعة عشر دليلا جعل في مقدمتها النص والإجماع واعتبرها أقواها، ولكنه عاد فقال إن المصلحة تتقدم النص والإجماع إذا تعارضت معه3.
ولم يشأ نجم الدين الطوفي خلال عرضه الطويل أن يقدم مثلا واحدا لتعارض النص مع مصلحة حقيقية!
وبغض النظر عما ثار حول عقيدته، فإن رأيه يناقض بعضه بعضا، ويتهاتر أوله مع آخره حتى يسقط عن مستوى الاستدلال.. فإنه بعد أن صرح بتقدم النص والإجماع عاد فصرح بتقدم المصلحة على النص والإجماع، وهو وإن أجعل التعارض شرطا.. فإنه لم يستطع أن يقدم مثلا واحدا للتعارض!
فضلا عن أنه إذا تعارضت المصلحة مع النص.. فإنه يسقط الاستدلال بها إذ تغدو مصلحة ملغاة.. لا مرسلة ولا معتبرة!
8- وقد نسب إلى الإمام مالك أنه قال إن المصلحة تخصص عام القرآن وتقيد مطلقه4، وليس في أصول الإمام مالك ولا فقهه ما يؤيد ذلك.
كذلك نقل عن الإمام مالك أنه قال بتعذيب المتهم لإجباره على الإقرار –استنادا للمصلحة المرسلة- وقد ثبت بالتحقيق أنه ليس رأيا للإمام مالك، وأن هناك رأيا لسحنون في هذا الموضوع لكنه حرف ونقل على هذا النحو، ثم حرف ونسب إلى الإمام مالك5.
هذا بعض عن جانب الإفراط.
9- أما جانب التفريط: فقد ذهب
--------------------------------------------
৭- আর বাড়াবাড়ির (الإفراط) দিকটি নজম উদ্দিন আত-তূফী নেতৃত্ব দিচ্ছেন—যাকে হাম্বলী বলা হয়ে থাকে, কিন্তু প্রকৃত গবেষণায় প্রমাণিত যে তিনি শিয়াবাদের (التشيع) দিকে ঝুঁকেছিলেন ১—তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত "ক্ষতি করা যাবে না এবং ক্ষতির বিনিময়ে ক্ষতিও করা যাবে না" ২ হাদিসটির ব্যাখ্যা প্রদানের সময় নিজের মতামত তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন যে, তাঁর মতে শরয়ি দলিলসমূহ উনিশটি, যার অগ্রভাগে তিনি মূল পাঠ (النص) এবং ঐক্যমতকে (الإجماع) রেখেছেন এবং এগুলোকে সবচেয়ে শক্তিশালী বিবেচনা করেছেন। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি আবার বলেছেন যে, জনকল্যাণ (المصلحة) যদি মূল পাঠ (النص) ও ঐক্যমতের (الإجماع) সাথে সাংঘর্ষিক হয়, তবে জনকল্যাণই (المصلحة) অগ্রগণ্য হবে ৩।
নজম উদ্দিন আত-তূফী তাঁর সুদীর্ঘ আলোচনার মধ্যে মূল পাঠের (النص) সাথে প্রকৃত জনকল্যাণের বিরোধের একটি উদাহরণও পেশ করতে চাননি!
তাঁর আকিদা নিয়ে যে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে তা বাদ দিলেও, তাঁর মতামত স্ববিরোধী এবং এর প্রথমাংশ শেষাংশের সাথে এমনভাবে সাংঘর্ষিক যে তা দলিল পেশ করার (الاستدلال) পর্যায় থেকে বিচ্যুত হয়ে যায়। কেননা, তিনি মূল পাঠ (النص) ও ঐক্যমতের (الإجماع) শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করার পর পুনরায় এগুলোর ওপর জনকল্যাণকে (المصلحة) প্রাধান্য দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। যদিও তিনি বিরোধ হওয়াকে একটি শর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন, তবুও তিনি এই বিরোধের একটি উদাহরণও দিতে সক্ষম হননি!
তাছাড়া, যদি জনকল্যাণ (المصلحة) মূল পাঠের (النص) সাথে সাংঘর্ষিক হয়, তবে এর মাধ্যমে দলিল পেশ করা বাতিল হয়ে যায়; কারণ তখন এটি একটি পরিত্যক্ত জনকল্যাণ (مصلحة ملغاة) হিসেবে গণ্য হয়—তা অনির্দেশিত (مرسلة) বা গ্রহণযোগ্য (معتبرة) কোনটিই থাকে না!
৮- ইমাম মালিকের প্রতি এই কথাটি নিসবত করা হয়েছে যে, তিনি বলেছেন জনকল্যাণ (المصلحة) কুরআনের সাধারণ (عام) বিধানকে বিশেষায়ন (تخصص) করে এবং এর নিঃশর্ত (مطلق) বিধানকে সীমাবদ্ধ (تقيد) করে ৪। অথচ ইমাম মালিকের মূলনীতি (أصول) বা ফিকহে (فقه) এমন কোনো ভিত্তি নেই যা একে সমর্থন করে।
একইভাবে ইমাম মালিকের বরাত দিয়ে বলা হয় যে, তিনি অনির্দেশিত জনকল্যাণের (المصلحة المرسلة) ওপর ভিত্তি করে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করার জন্য নির্যাতনের কথা বলেছেন। অথচ গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, এটি ইমাম মালিকের মত নয়; বরং এই বিষয়ে সহনুন-এর একটি মতামত রয়েছে যা বিকৃতভাবে এভাবে বর্ণনা করা হয়েছে, পরে তা আরও বিকৃত করে ইমাম মালিকের প্রতি নিসবত করা হয়েছে ৫।
এটি ছিল বাড়াবাড়ির (الإفراط) দিকটির কিয়দাংশ।
৯- আর ছাড়াছাড়ির (التفريط) দিকটি হলো:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাসলাহাতুল মুরসালাহ মুহাওয়ালাতুল লিবাসতিহা ওয়া নাযরাতুন ফীহা
(পৃষ্ঠা: ৪০)
إليه أولئك الذين رفضوا المصلحة نهائيا1 ولأهمية هذا الحكم، ولسقوط كثير من حكام المسلمين في هذا الإثم نذكر شيئا من التفصيل، فنقول بعون الله:
إن الرجوع إلى كتب المذهب تكشف خطأ نسبة هذا الرأي إلى مالك، بل تثبت عكس ذلك تماما فهو يقول ((لا أقيم الحد إلا أن يقر بذلك آمنا لا يخاف شيئا)) (المدونة –ج 6. ص 93 طبعة السعادة) .
والذي يبدوا أن الرأي حرف عن سحنون! إذ قال: ((إن إقرار المتهم في حبس سلطان عادل إقرار صحيح)) لكن تفحص العبارة يفيد عكس التحريف الذي فهمت به، فهو يقيد صحة الإقرار بعدالة السلطان إن كان المتهم محبوسا.. مما يفاد منه أنه إذا كان ثمة إقرار لسجين في سجن سلطان غير عادل فلا قيمة له.. لأن السجن في مثل هذه الحالة يمثل لونا من الإكراه يشوب الإقرار ومن ثم يغدو مرفوضا، وإذا كان السجن يشكل وحده لونا من الإكراه. أفلا يشكله التعذيب؟!
ويشير الإمام الشاطبي في الاعتصام (ج 2 ص 293، 294- مطبعة المنار بمصر) إلى نفس الرأي السابق وينسبه إلى الإمام مالك ويشير إلى أن العذاب المقصود هو السجن، ونحسب أن الشاطبي بذلك نقل رأي سحنون على أنه رأي مالك فهو الذي رأى أن إقرار المتهم في حبس سلطان عادل يعتد به، وهو ما أشرنا إلى أنه يفيد عكس ما يقررون، ومع ذلك فقد أضاف الشاطبي إلى أن أصحاب مالك مضوا على الضرب لإمكان استخلاص الأموال من أيدي السراق والغصاب وأشار نقلا عن الغزالي إلى أن الإمام الشافعي لا يقول بذلك. (ص 295 نفس المرجع) .
ولقد نعلم أن البعض قد يحاجج بما كان من رسول الله صلى الله عليه وسلم يوم خيبر إذ أمر الزبير أن يمس عم حيي بن أخطب بعذاب ليعترف على ما خبأه ابن أخيه، وبيان ذلك أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قاتل في غزوة خيبر فصالحوه على أن يجلوا منها ولهم ما حملت ركابهم، ولرسول الله صلى الله عليه وسلم الصفراء والبيضاء،
--------------------------------------------
তাদের প্রতি যারা মাসলাহাতকে চূড়ান্তভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন ১ এবং এই বিধানের গুরুত্বের কারণে ও অনেক মুসলিম শাসকের এই পাপে লিপ্ত হওয়ার ফলে আমরা কিছুটা বিস্তারিত বর্ণনা করছি। আল্লাহর সাহায্যে আমরা বলছি:
মাযহাবের গ্রন্থগুলোর দিকে ফিরে তাকালে ইমাম মালিকের প্রতি এই মতটি আরোপ করার ভ্রান্তি প্রকাশ পায়, বরং এটি সম্পূর্ণ বিপরীতটিই প্রমাণ করে। তিনি বলেন: ((আমি ততক্ষণ পর্যন্ত হদ্দ কার্যকর করি না, যতক্ষণ না সে নিরাপদ অবস্থায় কোনো কিছুর ভয় না করে তা স্বীকার করে)) (আল-মুদাওওয়ানা – খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ৯৩, আস-সাআদাহ সংস্করণ)।
প্রতীয়মান হয় যে, মতটি সুহনুন থেকে বিকৃত করা হয়েছে! তিনি বলেছিলেন: ((ন্যায়পরায়ণ সুলতানের কারাবাসে থাকা অভিযুক্ত ব্যক্তির স্বীকারোক্তি একটি সঠিক (صحيح) স্বীকারোক্তি))। কিন্তু এই বাক্যাংশটি বিশ্লেষণ করলে বিকৃতির মাধ্যমে যা বোঝা গিয়েছিল তার বিপরীত অর্থই পাওয়া যায়। তিনি স্বীকারোক্তির সঠিকতাকে সুলতানের ন্যায়পরায়ণতার সাথে শর্তযুক্ত করেছেন যদি অভিযুক্ত ব্যক্তি কারারুদ্ধ থাকে... যা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, যদি কোনো অন্যায়কারী সুলতানের কারাগারে বন্দীর পক্ষ থেকে কোনো স্বীকারোক্তি আসে তবে তার কোনো মূল্য নেই... কারণ এই পরিস্থিতিতে কারাবাস এক ধরণের জবরদস্তির রূপ হিসেবে গণ্য হয় যা স্বীকারোক্তিকে ত্রুটিযুক্ত করে, ফলে তা প্রত্যাখ্যানযোগ্য হয়ে যায়। আর যদি কারাবাস নিজেই জবরদস্তির একটি রূপ হয়, তবে নির্যাতন কি জবরদস্তি হবে না?
ইমাম শাতিবি 'আল-ইতিসাম' গ্রন্থে (খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ২৯৩, ২৯৪ - মিশরের আল-মানার ছাপাখানা) একই পূর্ববর্তী মতের দিকে ইঙ্গিত করেছেন এবং একে ইমাম মালিকের দিকে সম্বন্ধ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এখানে উদ্দেশ্যমূলক শাস্তি হলো কারাবাস। আমাদের ধারণা যে, শাতিবি এর মাধ্যমে সুহনুনের মতটিকে মালিকের মত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। কারণ তিনিই মনে করতেন যে, ন্যায়পরায়ণ সুলতানের কারাবাসে অভিযুক্ত ব্যক্তির স্বীকারোক্তি গ্রহণযোগ্য। এটিই আমরা নির্দেশ করেছি যে, তারা যা দাবি করে এটি তার বিপরীত অর্থ প্রদান করে। তা সত্ত্বেও শাতিবি আরও যোগ করেছেন যে, মালিকি মাযহাবের অনুসারীরা চোর ও ছিনতাইকারীদের হাত থেকে সম্পদ উদ্ধারের সম্ভাবনার ক্ষেত্রে প্রহারের রীতি বজায় রেখেছেন এবং তিনি আল-গাজালির উদ্ধৃতি দিয়ে উল্লেখ করেছেন যে, ইমাম শাফিঈ এমনটি মনে করেন না (একই উৎস, পৃষ্ঠা ২৯৫)।
আমরা জানি যে, কেউ কেউ খায়বারের দিনে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আমল দ্বারা দলিল পেশ করতে পারেন, যখন তিনি যুবাইর (রা.)-কে নির্দেশ দিয়েছিলেন হুয়াই ইবনে আখতাবের চাচাকে শাস্তি প্রদান করতে যাতে সে তার ভাতিজার লুকিয়ে রাখা সম্পদের কথা স্বীকার করে। এর ব্যাখ্যা হলো, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) খায়বারের যুদ্ধে লড়াই করেছিলেন, অতঃপর তারা এই শর্তে সন্ধি করেছিল যে তারা সেখান থেকে চলে যাবে এবং তাদের উট যা বহন করতে পারে তা তাদের থাকবে, আর রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্য থাকবে স্বর্ণ ও রৌপ্য।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাসলাহাতুল মুরসালাহ মুহাওয়ালাতুল লিবাসতিহা ওয়া নাযরাতুন ফীহা
(পৃষ্ঠা: ৪১)
واشترط عليهم أن لا يكتموا شيئا ولا يغيبوا شيئا فإن فعلوا فلا ذمة لهم ولا عهد: ومع ذلك فقد غيبوا مسكا فيه مال، وحلي لحيي بن أخطب كان قد حمله إلى خيبر حين أجليت النضير، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم لعم حيي بن أخطب: "ما فعل مسك حيي الذي جاء به من النضير"، فقال أذهبته النفقات والحروب، فقال: "العهد قريب والمال أكثر من ذلك"، فدفعه رسول الله صلى الله عليه وسلم إلىالزبير فمسه بعذاب، وقد كان قبل ذلك دخل قرية، فقال قد رأيت حييا يطوف في خربة ها هنا فطافوا فوجدوا المسك في الخربة، فقتل رسول الله صلى الله عليه وسلم ابني أخ الحقيق وأحدهما زوج صفية بنت حيي بن أبي أخطب، وسبى رسول الله صلى الله عليه وسلم نساءهم وذراريهم وقسم أموالهم بالنكث الذي نكثوا (عن زاد المعاد لابن القيم الطبعة الأولى 1353هـ ج 2) .
ونحن نلاحظ على هذه الرواية التي قد يحاجج بها البعض ليجعل للتعذيب شرعية:
1- أن الأمر كان في حالة حرب بين مسلمين وغير مسلمين.
2- أن العذاب لم يقع على أحد من المسلمين، وإنما وقع على يهودي محارب.
3- أن النصوص كثيرة متواترة على حفظ دم المسلم وعرضه وماله، بل إن بعضها يجعل حرمة المسلم أعظم عند الله من حرمة بيته المحرم.
4- أنه قد بدر من الفريق الآخر بعد الصلح نكث للعهد ولذا أمر الرسول صلى الله عليه وسلم بالقتل والسبي.
5- أنه ليس هناك ما يفيد في هذه الرواية أن ما وقع على عم حيي بن الأخطب كان لحملة على الاعتراف، بل الأرجح أنه كان عقابا على كذبه على رسول الله صلى الله عليه وسلم حين سأله، وعلى نكثه العهد حين اشترط عليهم الرسول ألا يكتموا وألا يغيبوا! وإذا كان الرسول صلى الله عليه وسلم قد أمر بالقتل والسبي جزاء على ذلك فإن الضرب جزاء دون ذلك الجزاء!
তিনি তাদের ওপর এই শর্তারোপ করেছিলেন যে, তারা কোনো কিছু গোপন করবে না এবং কোনো কিছু লুকাবে না; যদি তারা তা করে, তবে তাদের জন্য কোনো নিরাপত্তা (ذمة) বা অঙ্গীকার (عهد) থাকবে না। তা সত্ত্বেও তারা একটি চামড়ার থলি গোপন করেছিল যাতে সম্পদ ছিল এবং ছিল হুয়াই ইবনে আখতাবের অলঙ্কারাদি, যা সে বনু নাদীরের নির্বাসনের সময় খায়বারে নিয়ে এসেছিল। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) হুয়াই ইবনে আখতাবের চাচাকে জিজ্ঞেস করলেন: "হুয়াই বনু নাদীয় থেকে যে চামড়ার থলিটি এনেছিল, তার কী হলো?" সে বলল, "তা খরচ এবং যুদ্ধের কারণে শেষ হয়ে গেছে।" তিনি বললেন: "অঙ্গীকার (العهد) তো সাম্প্রতিক সময়ের এবং সম্পদের পরিমাণ এর চেয়েও বেশি।" অতঃপর রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে যুবাইরের (রা.) নিকট সোপর্দ করলেন এবং তিনি তাকে শাস্তি প্রদান করলেন। এর আগেই তিনি একটি জনপদে প্রবেশ করেছিলেন এবং বলেছিলেন, "আমি হুয়াইকে এখানে একটি ধ্বংসস্তূপের চারপাশে ঘুরতে দেখেছি।" অতঃপর তারা সেখানে তল্লাশি চালিয়ে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে চামড়ার থলিটি খুঁজে পেল। এরপর রাসুলুল্লাহ (সা.) হুকাইকের দুই ছেলেকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করলেন, যাদের একজন ছিলেন হুয়াই ইবনে আবি আখতাবের কন্যা সাফিয়া (রা.)-এর স্বামী। আর রাসুলুল্লাহ (সা.) তাদের নারী ও শিশুদের বন্দি করলেন এবং চুক্তিভঙ্গের (نكث) কারণে তাদের সম্পদ বণ্টন করে দিলেন। (ইবনে কাইয়্যিমের জাদ আল-মা’আদ, প্রথম সংস্করণ, ১৩৫৩ হিজরি, খণ্ড ২ থেকে সংগৃহীত)।
এই বর্ণনাটির বিষয়ে আমরা লক্ষ্য করি, যা কেউ কেউ নির্যাতনের বৈধতা প্রমাণের জন্য দলিল হিসেবে পেশ করতে পারেন:
1- বিষয়টি ছিল মুসলিম ও অমুসলিমদের মধ্যকার যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির।
2- এই শাস্তি কোনো মুসলিমের ওপর প্রয়োগ করা হয়নি, বরং একজন যোদ্ধা ইহুদির ওপর প্রয়োগ করা হয়েছিল।
3- মুসলিমের রক্ত, সম্মান ও সম্পদের পবিত্রতা রক্ষার বিষয়ে অসংখ্য নিরবচ্ছিন্ন (متواترة) বর্ণনা বিদ্যমান। এমনকি সেগুলোর কোনো কোনোটি একজন মুসলিমের মর্যাদাকে আল্লাহর নিকট তাঁর পবিত্র ঘরের (কাবা) মর্যাদার চেয়েও মহান বলে নির্ধারণ করেছে।
4- সন্ধির পর প্রতিপক্ষ দলের পক্ষ থেকে অঙ্গীকার ভঙ্গ (نكث العهد) করা হয়েছিল, যার ফলে রাসুলুল্লাহ (সা.) হত্যা ও বন্দি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
5- এই বর্ণনায় এমন কিছু নেই যা প্রমাণ করে যে, হুয়াই ইবনে আখতাবের চাচার ওপর যা ঘটেছিল তা তাকে স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করার জন্য ছিল; বরং অধিকতর যুক্তিযুক্ত হলো, এটি ছিল রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট মিথ্যা বলার এবং অঙ্গীকার ভঙ্গের একটি শাস্তি, যেহেতু রাসুলুল্লাহ (সা.) তাদের ওপর শর্ত দিয়েছিলেন যেন তারা কোনো কিছু গোপন বা লুকোচুরি না করে! আর রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন এর শাস্তিস্বরূপ মৃত্যুদণ্ড ও বন্দি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন, তখন প্রহার ছিল সেই শাস্তির তুলনায় লঘুতর দণ্ড মাত্র!
(খণ্ড: ১)
আল-মাসলাহাতুল মুরসালাহ মুহাওয়ালাতুল লিবাসতিহা ওয়া নাযরাতুন ফীহা
(পৃষ্ঠা: ৪২)
وقد يكون هذا التفريط رد فعل لذلك الإفراط، لكنهم يبررون ذلك بما يلي:
1- أن الله سبحانه إذا قرر {أَيَحْسَبُ الإنسان أَنْ يُتْرَكَ سُدىً} قد كفل له من الأحكام ما يكفل له تنظيم حياته دون حاجة إلى جديد {الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الإسلام دِيناً} .
2- أن المصالح الحقيقية هي التي وردت بها الأحكام، وما لم يرد به حكم فليس بمصلحة {وَاللَّهُ يَعْلَمُ وَأَنْتُمْ لا تَعْلَمُونَ} .
3- أنها مظنة الحكم بالهوى ما دامت ليست معتبرة من الشارع، بل هي مترددة بين الاعتبار والإلغاء وفي هذا يقولون إنها ما دامت مترددة بين الاعتبار والإلغاء فإن انحيازها إلى جانب الاعتبار ليس أولى من انحيازها إلى جانب الإلغاء1.
এই শৈথিল্য হয়তো সেই বাড়াবাড়িরই একটি প্রতিক্রিয়া হতে পারে, তবে তারা বিষয়টিকে নিম্নোক্তভাবে যুক্তিযুক্ত করেন:
১- মহান আল্লাহ যখন ঘোষণা করেছেন {মানুষ কি মনে করে যে তাকে নিরর্থক ছেড়ে দেওয়া হবে?}, তখন তিনি তার জন্য এমন সব বিধান নিশ্চিত করেছেন যা নতুন কিছুর প্রয়োজন ছাড়াই তার জীবন পরিচালনার নিশ্চয়তা দেয় {আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করলাম, তোমাদের ওপর আমার নেয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের জন্য ইসলামকে দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম}।
২- প্রকৃত জনস্বার্থ (مصلحة) হলো সেগুলোই যে বিষয়ে বিধান বর্ণিত হয়েছে, আর যে বিষয়ে কোনো বিধান বর্ণিত হয়নি তা জনস্বার্থ (مصلحة) নয় {আর আল্লাহ জানেন এবং তোমরা জানো না}।
৩- এটি প্রবৃত্তি অনুযায়ী ফয়সালা দেওয়ার একটি সম্ভাব্য ক্ষেত্র, যতক্ষণ পর্যন্ত তা শরয়ি বিধানদাতার (الشارع) পক্ষ থেকে স্বীকৃত (معتبرة) না হয়; বরং তা গ্রহণযোগ্যতা (اعتبار) ও বর্জন (إلغاء) এর মধ্যে দোদুল্যমান। এ বিষয়ে তারা বলেন যে, যতক্ষণ পর্যন্ত এটি গ্রহণযোগ্যতা (اعتبار) ও বর্জনের (إلغاء) মধ্যে দোদুল্যমান থাকবে, ততক্ষণ বর্জনের দিকের চেয়ে গ্রহণযোগ্যতার দিকটিকে গ্রহণ করা অধিকতর যুক্তিযুক্ত নয়১।
(খণ্ড: ১)
আল-মাসলাহাতুল মুরসালাহ মুহাওয়ালাতুল লিবাসতিহা ওয়া নাযরাতুন ফীহা
(পৃষ্ঠা: ৪২)
المصلحة المرسلة عند الجمهورر…ب. المصلحة المرسلة عند الجمهور:
10- شاع لدى البعض أن الإمام مالك وحده هو الآخذ بالمصالح المرسلة كدليل من أدلة الأحكام الشرعية2 وأضاف البعض إليه الإمام أحمد.
لكن النظر الدقيق يثبت أن الأئمة الأربعة أخذوا بها وإن كان ذلك تحت مسميات أخرى فالعبرة بالمعنى قبل المبنى.
فالإمام الشافعي عالجها تحت باب القياس وهذا في رأيي نظر ثاقب من الإمام الشافعي لأن المصلحة قياس معنى وإن لم تكن قياس لفظ كما سيبين إن شاء الله والإمام أبو حنيفة عالجها تحت باب الاستحسان والعرف3.. والمصلحة قريبة من الاستحسان..
وعلى ذلك يمكن أن نقول أن المصلحة كدليل شرعي مسلم بها من جمهور الفقهاء.
11- ودليلهم في ذلك:
(1) أن الشارع دلً عليها على سبيل الإشارة، حين بين لنا الأحكام وكشف
--------------------------------------------
জমহুর (الجمهور) ফকিহদের নিকট জনস্বার্থ (المصلحة المرسلة)…খ. জমহুর (الجمهور) ফকিহদের নিকট জনস্বার্থ (المصلحة المرسلة):
১০- অনেকের মধ্যে এই ধারণা প্রচলিত আছে যে, কেবল ইমাম মালিকই শরয়ি বিধানের (الأحكام الشرعية) অন্যতম দলিল (دليل) হিসেবে জনস্বার্থকে (المصلحة المرسلة) গ্রহণ করেছেন এবং কেউ কেউ এর সাথে ইমাম আহমদের নাম যুক্ত করেন।
কিন্তু নিবিড় পর্যবেক্ষণ প্রমাণ করে যে, চার ইমামই এটি গ্রহণ করেছেন, যদিও তা ভিন্ন ভিন্ন পরিভাষার অধীনে ছিল; কারণ কাঠামোর চেয়ে মর্মার্থই মূল বিবেচ্য বিষয়।
ইমাম শাফিঈ একে কিয়াসের (القياس) অধ্যায়ে আলোচনা করেছেন। আমার মতে এটি ইমাম শাফিঈর একটি গভীর অন্তর্দৃষ্টির পরিচয়, কারণ জনস্বার্থ (المصلحة) হলো অর্থের দিক থেকে এক প্রকার কিয়াস (القياس), যদিও তা শব্দের দিক থেকে কিয়াস (القياس) নয়, যা ইনশাআল্লাহ পরবর্তীতে স্পষ্ট করা হবে। আর ইমাম আবু হানিফা একে ইসতিহসান (الاستحسان) ও উরফের (العرف) অধীনে আলোচনা করেছেন। জনস্বার্থ (المصلحة) বিষয়টি ইসতিহসানের (الاستحسان) খুবই নিকটবর্তী।
সুতরাং আমরা বলতে পারি যে, শরয়ি দলিল (دليل شرعي) হিসেবে জনস্বার্থ (المصلحة) জমহুর (جمهور) ফকিহদের নিকট স্বীকৃত।
১১- এ বিষয়ে তাদের দলিল (دليل) হলো:
(১) শরীয়ত প্রণেতা ইশারা বা ইঙ্গিতের মাধ্যমে এর প্রতি দিকনির্দেশনা দিয়েছেন, যখন তিনি আমাদের সামনে বিধানসমূহ (الأحكام) বর্ণনা করেছেন এবং উন্মোচন করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাসলাহাতুল মুরসালাহ মুহাওয়ালাতুল লিবাসতিহা ওয়া নাযরাতুন ফীহা
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
في بعضها عن المصالح التي تتحقق من ورائها.. فكأنه سبحانه. بذلك يدل على أن وراء كل حكمة مصلحة، وكأنه بذلك سبحانه يدلنا على أن نقيس على المصالح، فبعد أحكام الصيام نجد قول الله {يُرِيدُ اللَّهُ بِكُمُ الْيُسْرَ وَلا يُرِيدُ بِكُمُ الْعُسْرَ} .
وبعد أحكام الوضوء نجد قول الله {مَا يُرِيدُ اللَّهُ لِيَجْعَلَ عَلَيْكُمْ مِنْ حَرَجٍ وَلَكِنْ يُرِيدُ لِيُطَهِّرَكُمْ وَلِيُتِمَّ نِعْمَتَهُ عَلَيْكُم} وعن الصلاة يقول سبحانه {إِنَّ الصَّلاةَ تَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكَرِ} .
وفي تحويل القبلة يقول سبحانه {لِئَلَّا يَكُونَ لِلنَّاسِ عَلَيْكُمْ حُجَّةٌ إِلَّا الَّذِينَ ظَلَمُوا مِنْهُمْ} . وفي القصاص قول الله سبحانه {وَلَكُمْ فِي الْقِصَاصِ حَيَاةٌ يَا أُولِي الْأَلْبَاب} .
فماذا على الناس بعد ذلك أن يرعوا المصالح التي أرشد إليها رب الناس؟
(2) إن المصالح تدور في فلك مقاصد الشارع التي استقرئت من أحكامه وهي:
الدين والنفس والعقل والنسل والمال.
وبالنظرة الفاحصة فإن الأخذ بالمصلحة على هذا النحو يمثل لونا من القياس على النصوص ليس في عبارتها ومبناها ولكن في مقاصدها ومعناها1..
فهي ليست كما ظن البعض انفلاتا من النصوص أو خروجا عليها أو حكما بالرغبة والهوى والتشهي وإنما هي حكم بالنصوص بروحها ومقاصدها إلى جوار ألفاظها وعبارتها.
وهي بذلك تحقق شمولا واتساعا ومرونة هي سر من أسرار خلود هذه الشريعة.
(3) سلك الصحابة سبيل الاجتهاد بناء على المصلحة، فجمع أبو بكر المصحف ودوًن عمر الدواوين وسك العملة، وعلى ضمن الصناع وقال ((لا يصلح الناس إلا ذاك)) .
والصحابة في ذلك لا يصدرون عن رأي مجرد أو هوى متبع، وإنما يصدرون عن القرآن الذي تلقوه، والنبي صلى الله عليه وسلم الذي تعلموا على يديه، ومسلكهم في هذا السبيل نقتدي به ونقتفي أثره عملا بأمر الرسول عليه الصلاة والسلام "عليكم بسنتي وسنة الخلفاء الراشدين المهديين من بعدي".
ولقد وقع البعض في خطأ كبير إذ ظنوا أن الصحابة كانوا يعملون المصلحة ولو صادمت النصوص.
--------------------------------------------
এগুলোর কোনো কোনোটিতে ওই সকল জনকল্যাণ (مصلحة) সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে যা এর মাধ্যমে অর্জিত হয়। যেন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা এর মাধ্যমে ইঙ্গিত দিচ্ছেন যে, প্রতিটি হিকমতের পেছনেই একটি জনকল্যাণ (مصلحة) নিহিত রয়েছে। আর তিনি যেন এর মাধ্যমে আমাদের এই শিক্ষা দিচ্ছেন যে, আমরা যেন জনকল্যাণের (مصلحة) ওপর ভিত্তি করে কিয়াস (قياس) করি। সিয়ামের বিধান বর্ণনার পর আমরা আল্লাহর বাণী পাই— {আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজতা চান এবং তোমাদের জন্য কঠোরতা চান না}।
ওযুর বিধান বর্ণনার পর আমরা আল্লাহর বাণী পাই— {আল্লাহ তোমাদের ওপর কোনো সংকীর্ণতা তৈরি করতে চান না; বরং তিনি তোমাদের পবিত্র করতে চান এবং তোমাদের ওপর তাঁর নেয়ামত পূর্ণ করতে চান}। আর সালাত সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন— {নিশ্চয়ই সালাত অশ্লীল ও মন্দ কাজ (منكر) থেকে বিরত রাখে}।
কি্বলা পরিবর্তনের বিষয়ে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেন— {যাতে মানুষের জন্য তোমাদের বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ (حجة) না থাকে, তবে তাদের মধ্যে যারা যালিম তারা ছাড়া}। আর কিসাসের ক্ষেত্রে আল্লাহর বাণী হলো— {হে বুদ্ধিমানগণ, কিসাসের মধ্যে তোমাদের জন্য জীবন নিহিত রয়েছে}।
এরপর মানুষের আর কী দায়বদ্ধতা থাকে যে তারা সেই জনকল্যাণসমূহকে (المصالح) রক্ষা করবে না, যার দিকে মানুষের পালনকর্তা তাদের দিশা দিয়েছেন?
(২) নিশ্চয়ই জনকল্যাণসমূহ (المصالح) শরীয়ত প্রণেতার উদ্দেশ্যসমূহের (مقاصد الشارع) পরিমণ্ডলে আবর্তিত হয়, যা তাঁর বিধানসমূহ থেকে পদ্ধতিগত গবেষণার (استقراء) মাধ্যমে সংগৃহীত হয়েছে। আর সেগুলো হলো:
দ্বীন, জীবন, মেধা, বংশধারা ও সম্পদ।
গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় যে, এই পদ্ধতিতে জনকল্যাণকে (مصلحة) গ্রহণ করা দলিলাদির (نصوص) ওপর ভিত্তি করে এক প্রকার কিয়াস (قياس) হিসেবে গণ্য হয়; যা দলিলাদির বাহ্যিক শব্দ বা কাঠামোর ওপর নয়, বরং এগুলোর মূল উদ্দেশ্য ও অর্থের ওপর ভিত্তি করে করা হয়।
এটি কেউ কেউ যেমন ধারণা করেছেন তেমন দলিলাদি (نصوص) থেকে বিচ্যুতি বা সেগুলোকে লঙ্ঘন করা কিংবা খেয়াল-খুশি ও প্রবৃত্তির অনুসরণ নয়; বরং এটি হলো দলিলাদির শব্দের পাশাপাশি এগুলোর অন্তর্নিহিত মূলভাব ও উদ্দেশ্যের মাধ্যমে ফয়সালা করা।
এর মাধ্যমেই শরীয়ত এমন ব্যাপকতা, প্রশস্ততা এবং নমনীয়তা অর্জন করে, যা এই শরীয়তের চিরন্তন হওয়ার অন্যতম রহস্য।
(৩) সাহাবীগণ জনকল্যাণের (مصلحة) ওপর ভিত্তি করে ইজতিহাদের (اجتهاد) পথ অনুসরণ করেছেন। তাই আবু বকর (রা.) মুসহাফ সংকলন করেছেন, উমর (রা.) রাষ্ট্রীয় দপ্তরসমূহ (الدواوين) প্রতিষ্ঠা করেছেন ও মুদ্রা প্রচলন করেছেন এবং কারিগরদের জিম্মাদার করার পক্ষে মত দিয়েছেন আর বলেছেন: "মানুষের অবস্থার সংশোধন এ ছাড়া সম্ভব নয়।"
সাহাবীগণ এক্ষেত্রে নিছক ব্যক্তিগত অভিমত বা প্রবৃত্তির বশবর্তী হয়ে কিছু করেননি; বরং তাঁরা এটি করেছেন তাঁদের প্রাপ্ত কুরআন এবং নবী (সা.)-এর থেকে সরাসরি প্রাপ্ত শিক্ষার আলোকে। এই পথে তাঁদের যে কর্মপন্থা, আমরা তারই অনুসরণ করি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর এই নির্দেশের ওপর আমল করে: "তোমরা আমার সুন্নাত এবং আমার পরবর্তী হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদীনের সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরো।"
কেউ কেউ একটি বড় ভুলের মধ্যে নিমজ্জিত হয়েছেন এই ভেবে যে, সাহাবীগণ জনকল্যাণের (مصلحة) ওপর আমল করতেন এমনকি তা দলিলাদির (نصوص) পরিপন্থী হলেও।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাসলাহাতুল মুরসালাহ মুহাওয়ালাতুল লিবাসতিহা ওয়া নাযরাতুন ফীহা
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
(4) أن النصوص كألفاظ وعبارات قد تتناهى، وحاجات الناس لا تتناهى والمصلحة كقياس –معنوي- إلى جوار القياس اللفظي تحقق الاتساع والشمول الذي يكفل مواجهة الحاجات المتجددة.
12- وهذه الحجج نفسها تتضمن الرد في نفس الوقت على حجج من رفضوا المصلحة، إذ قامت أغلب حججهم على افتراض خروج المصلحة عن دائرة النصوص والأحكام الشرعية، ومن ثم ظنوها حكما بالهوى، أو اعتبروها خروجا على الدين بعد إذ اكتمل، وهو ما رأيناه داحضا بعد أن بلغنا إلى اعتبار المصلحة لونا من القياس على روح النص ومبناه، فليس ثمة خروج فيها على النصوص..
أما قول الأولين إن انحياز المصلحة المرسلة إلى جانب الاعتبار ليس بأولى من انحيازها إلى جانب الإلغاء.. فمردود بأن هذا الانحياز راجع إلى أن ما تحققه المصلحة المرسلة يضاهي ما تحققه المصلحة المعتبرة، وأن المصلحة المرسلة تدور في فلك نفس المقاصد التي تدور فيها المصلحة المعتبرة.
(4) পাঠ্যসমূহ (النصوص) শব্দ (ألفاظ) ও অভিব্যক্তি (عبارات) হিসেবে সসীম হতে পারে, কিন্তু মানুষের প্রয়োজন অসীম। আর শব্দগত অনুমান (قياس لفظي)-এর পাশাপাশি অর্থগত অনুমান (قياس معنوي) হিসেবে জনকল্যাণ (المصلحة) এমন প্রশস্ততা ও ব্যাপকতা নিশ্চিত করে যা নিত্যনতুন প্রয়োজন মেটানোর নিশ্চয়তা প্রদান করে।
12- এই যুক্তিগুলোর মধ্যেই একই সাথে সেইসব ব্যক্তিদের যুক্তির খণ্ডন রয়েছে যারা জনকল্যাণ (المصلحة)-কে প্রত্যাখ্যান করেছেন। কেননা তাদের অধিকাংশ যুক্তিই ছিল এই ধারণার ওপর ভিত্তি করে যে, জনকল্যাণ (المصلحة) পাঠ্যসমূহ (النصوص) ও শারঈ বিধানসমূহ (الأحكام الشرعية)-এর পরিধির বহির্ভূত বিষয়। ফলে তারা একে খেয়ালখুশি (الهوى) প্রসূত ফয়সালা বলে মনে করেছেন অথবা দ্বীন পূর্ণাঙ্গ হওয়ার পর একে দ্বীন থেকে বিচ্যুতি হিসেবে গণ্য করেছেন। অথচ আমরা বিষয়টিকে পাঠ্যের মূলভাব ও কাঠামোর ওপর এক প্রকারের অনুমান (قياس) হিসেবে গণ্য করার পর এই দাবি অসার প্রমাণিত হয়েছে; সুতরাং এতে পাঠ্যসমূহ (النصوص)-এর কোনো লঙ্ঘন নেই।
আর পূর্ববর্তীদের এই বক্তব্য যে—অনিবন্ধিত জনকল্যাণ (المصلحة المرسلة)-কে গ্রহণের পক্ষে প্রাধান্য দেওয়া একে বাতিলের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেয়ে অধিক অগ্রাধিকারযোগ্য নয়—তা প্রত্যাখ্যাত। কারণ এই প্রবণতাটি এই কারণে যে, অনিবন্ধিত জনকল্যাণ (المصلحة المرسلة) যা অর্জন করে তা স্বীকৃত জনকল্যাণ (المصلحة المعتبرة)-এর অর্জিত বিষয়েরই অনুরূপ এবং অনিবন্ধিত জনকল্যাণ (المصلحة المرسلة) সেই একই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ (المقاصد)-কে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয় যেগুলোকে কেন্দ্র করে স্বীকৃত জনকল্যাণ (المصلحة المعتبرة) আবর্তিত হয়।
(খণ্ড: ১)
আল-মাসলাহাতুল মুরসালাহ মুহাওয়ালাতুল লিবাসতিহা ওয়া নাযরাতুন ফীহা
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
ج-
شروط المصلحة:13- المصلحة عند الجمهور قائمة على أسس يصح أن تعد شرطا فهي:
(1) لا تصادم نصوصا ولا إجماعا.
وإلا كانت مصلحة ملغاة، لأن معنى إرسالها أن الشارع لم يلغها ولم يعتبرها.
(2) أن تحقق أحد المصالح الخمس: الدين والنفس والعقل والنسل والمال، أي أن تكون المصلحة من جنس هذه المصالح.
(3) أن تكون حقيقية وعامة.
لأنها إن لم تكن حقيقية كانت وهما، والوهم لا ينبني عليه حكم شرعي.
وإن لم تكن عامة كانت خاصة، والأحكام في الشريعة لا توضع لفرد ولا لبعض وإنما هي للناس كافة بغير تفرقة.
وهذه الشروط في حقيقتها مستمدة من طبيعة المصلحة، ومن كونها دليلا شرعيا.
14- ولقد أضاف البعض إلى ذلك شروطا أخرى:
فقد نقل عن الشافعي أنه يشترط فيها أن تكون ((شبيهة بالمعتبرة)) .
ونقل عن الغزالي اشتراطه كونها ((ضرورية)) .
أما شرط الشافعي فهو في حقيقته الشرط الثاني الذي أشرنا إليه أن تكون
গ-
জনস্বার্থের (المصلحة) শর্তাবলি:১৩- জমহুর বা অধিকাংশ আলেমের (الجمهور) নিকট জনস্বার্থ (المصلحة) এমন কিছু ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত যা শর্ত হিসেবে গণ্য করা সঠিক। সেগুলো হলো:
(১) এটি কোনো নস বা অকাট্য পাঠ (نصوص) এবং ঐক্যমতের (إجماع) সাথে সাংঘর্ষিক হবে না।
অন্যথায় এটি একটি বাতিলকৃত জনস্বার্থ (مصلحة ملغاة) হিসেবে গণ্য হবে; কারণ একে মুক্ত বা অনির্ধারিত (إرسال) রাখার অর্থ হলো শরীয়তপ্রণেতা (الشارع) একে বাতিলও করেননি আবার গ্রহণও করেননি।
(২) এটি যেন পাঁচটি মৌলিক লক্ষ্যের (المصالح الخمس) যেকোনো একটি অর্জন করে: ধর্ম, জীবন, বুদ্ধি, বংশধারা এবং সম্পদ। অর্থাৎ জনস্বার্থকে (المصلحة) অবশ্যই এই জাতীয় স্বার্থের অন্তর্ভুক্ত হতে হবে।
(৩) এটি বাস্তব এবং সার্বজনীন হতে হবে।
কারণ এটি যদি বাস্তব না হয় তবে তা নিছক ধারণা বা কল্পনা বলে গণ্য হবে, আর নিছক ধারণার ওপর কোনো শরয়ী বিধান (حكم شرعي) প্রণীত হয় না।
আর যদি এটি সার্বজনীন না হয়ে বিশেষ কোনো ক্ষেত্রে হয়, তবে তা ব্যক্তিগত বা নির্দিষ্ট স্বার্থ হিসেবে গণ্য হবে। অথচ শরীয়তের বিধানসমূহ কোনো ব্যক্তি বা বিশেষ গোষ্ঠীর জন্য প্রণীত হয় না, বরং তা বৈষম্যহীনভাবে সকল মানুষের জন্য।
প্রকৃতপক্ষে এই শর্তগুলো জনস্বার্থের (المصلحة) প্রকৃতি এবং এটি একটি শরয়ী দলিল (دليل شرعي) হওয়ার বিষয়টি থেকেই সংগৃহীত।
১৪- কেউ কেউ এর সাথে আরও কিছু শর্ত যুক্ত করেছেন:
ইমাম শাফিঈ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি শর্তারোপ করেছেন যে এটি যেন "স্বীকৃত বিষয়ের সদৃশ (شبيهة بالمعتبرة)" হয়।
ইমাম গাযালী থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি এটি "অপরিহার্য (ضرورية)" হওয়ার শর্তারোপ করেছেন।
ইমাম শাফিঈর শর্তটি মূলত আমাদের উল্লিখিত দ্বিতীয় শর্তটিরই অনুরূপ, যা হলো...
(খণ্ড: ১)
আল-মাসলাহাতুল মুরসালাহ মুহাওয়ালাতুল লিবাসতিহা ওয়া নাযরাতুন ফীহা
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
من جنس المصالح التي جاء بها الشارع.. وبهذا تكون شبيهة بالمعتبرة.
وأما شرط الغزالي أن تكون المصلحة ضرورية1 فإنه قد يشعر بحصر نطاق العمل بالمصلحة المرسلة على مرتبة الضروريات دون سائر المراتب الأخرى (الحاجيات والتحسينات) وذلك قد يصح إذا اقتصرنا على أحد مؤلفاته ((المستصفى)) لكن هذا الظن قد يتبدد إذا رجعنا إلى سائر مؤلفاته2.
ولعل ما جاء بالمستصفى كان بيانا لما هو موضع اتفاق بين الجميع، إذ يعمل بالمصلحة الضرورية عند جميع الفقهاء بلا استثناء، وذلك في ظننا راجع إلى القاعدة الأصلية ((الضرورات تبيح المحظورات)) 3.
كذلك قد يكون الغزالي في معرض بيان الترجيح بين مصلحة ضرورية وأخرى أوفى منها فهو يخص الضرورية بالعمل والتقديم..
ولقد يكون ما ضربه الغزالي مثلا دليلا على ذلك، فهو يضرب مثلا بحالة تترس الكفار ببعض المسلمين، فنحن إزاء مصلحتين: الحفاظ على حياة المسلمين الذين تترس بهم الكفار، ثم الحفاظ على الدين بهزيمة هؤلاء الكفار وفي مراتب المصالح تتقدم المصلحة الأخيرة على المصلحة الأولى لأنها ضرورية وقطعية (أي حقيقية) وكلية (أي عامة) 4.
--------------------------------------------
এটি শরীয়ত প্রবর্তক (الشارع) কর্তৃক আনীত জনকল্যাণের (المصالح) প্রকারভুক্ত... আর এভাবেই এটি স্বীকৃত (المعتبرة) জনকল্যাণের সদৃশ হয়ে থাকে।
আর ইমাম গাজালির শর্ত—জনকল্যাণটি অবশ্যই অপরিহার্য (ضرورية) হতে হবে—এটি সম্ভবত অবারিত জনকল্যাণের (المصلحة المرسلة) ওপর আমলের পরিধিকে কেবলমাত্র 'অপরিহার্যতা' (الضروريات) স্তরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ করার ইঙ্গিত দেয়, অন্য স্তরসমূহ (প্রয়োজনীয়তা (الحاجيات) এবং সৌন্দর্যবর্ধন (التحسينات)) বাদ দিয়ে। এটি তখনই সঠিক হতে পারে যদি আমরা কেবল তাঁর রচিত গ্রন্থ আল-মুস্তাসফা-এর ওপর ভিত্তি করি, কিন্তু আমরা যদি তাঁর অন্যান্য গ্রন্থের দিকে লক্ষ্য করি তবে এই ধারণা দূরীভূত হতে পারে।
সম্ভবত আল-মুস্তাসফা-তে যা এসেছে তা ছিল সকলের নিকট সর্বসম্মত বিষয়ের বর্ণনা; কেননা সকল ফকিহ কোনো ব্যতিক্রম ছাড়াই অপরিহার্য জনকল্যাণের (المصلحة الضرورية) ক্ষেত্রে আমল করেন। আমাদের ধারণামতে এটি মূলনীতি (القاعدة الأصلية): "অপরিহার্যতা নিষিদ্ধ বিষয়কে বৈধ করে" (الضرورات تبيح المحظورات)-এর দিকেই প্রত্যাবর্তন করে।
তেমনিভাবে গাজালি হয়তো একটি অপরিহার্য জনকল্যাণ (مصلحة ضرورية) এবং তার চেয়ে অধিকতর পূর্ণাঙ্গ অন্য একটির মধ্যে অগ্রাধিকার (الترجيح) প্রদানের প্রেক্ষিত বর্ণনা করছিলেন, তাই তিনি অপরিহার্যটির ওপর আমল করা এবং সেটিকে অগ্রাধিকার প্রদানের বিষয়টি নির্দিষ্ট করেছেন।
গাজালি যে উদাহরণটি দিয়েছেন তা সম্ভবত এরই প্রমাণ। তিনি কাফিরদের দ্বারা কিছু মুসলিমকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার (تترس) অবস্থার উদাহরণ দিয়েছেন। এখানে আমরা দুটি জনকল্যাণের মুখোমুখি: প্রথমটি হলো সেই মুসলিমদের জীবন রক্ষা করা যাদের কাফিররা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে, দ্বিতীয়টি হলো এই কাফিরদের পরাজিত করার মাধ্যমে দ্বীন রক্ষা করা। জনকল্যাণের স্তরবিন্যাসে দ্বিতীয় কল্যাণটি প্রথমটির ওপর অগ্রগণ্য হবে; কারণ এটি অপরিহার্য (ضرورية), সুনিশ্চিত (قطعية অর্থাৎ প্রকৃত) এবং সামগ্রিক (كلية অর্থাৎ সাধারণ)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাসলাহাতুল মুরসালাহ মুহাওয়ালাতুল লিবাসতিহা ওয়া নাযরাতুন ফীহা
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
مانسب الى الصحابة خطأ حول المصلحة
مدخل…ثالثا: ما نسب إلى الصحابة خطأ حول المصلحة:
15- تولى نجم الدين الطوفي كبر تقديم المصلحة على النصوص.
وقد قدمنا أن لا مصلحة خارج النصوص وأن المصلحة الحقيقية لا تكون إلا داخل دائرة النصوص في فحواها ومبتناها وأنها إن خرجت.. كانت مصلحة ملغاة لا يعتد بها في مجال الأحكام الشرعية.
لكن الذين اقتفوا أثر نجم الدين الطوفي وساروا في دربه استدلوا على صحة القضية بعمل الصحابة، وعلى وجه التغليب استدلوا بعمل عمر بن الخطاب
মাসলাহা (জনস্বার্থ) সম্পর্কে সাহাবায়ে কেরামের প্রতি যা ভুলভাবে সম্পর্কিত করা হয়েছেভূমিকা…তৃতীয়ত: মাসলাহা (জনস্বার্থ) সম্পর্কে সাহাবায়ে কেরামের প্রতি যা ভুলভাবে সম্পর্কিত করা হয়েছে:
১৫- নাজমুদ্দিন আত-তুফি নস (نصوص)-এর ওপর জনস্বার্থ (مصلحة)-কে প্রাধান্য দেওয়ার মূল প্রবক্তা হিসেবে আবির্ভূত হন।
আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি যে, নস (نصوص)-এর বাইরে কোনো জনস্বার্থ (مصلحة) নেই এবং প্রকৃত জনস্বার্থ (مصلحة) কেবল নস (نصوص)-এর পরিমণ্ডলের ভেতরে এর মর্মার্থ ও কাঠামোর মধ্যেই বিদ্যমান থাকে। আর যদি তা এর বাইরে চলে যায়... তবে তা বাতিলকৃত (ملغاة) জনস্বার্থ হিসেবে গণ্য হবে যা শরয়ি বিধান (أحكام شرعية)-এর ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য নয়।
কিন্তু যারা নাজমুদ্দিন আত-তুফির পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন এবং তাঁর পথে চলেছেন, তাঁরা এই বিষয়টির সত্যতা প্রমাণের জন্য সাহাবায়ে কেরামের আমলকে দলিল হিসেবে পেশ করেছেন, এবং প্রধানত তাঁরা উমর ইবনুল খাত্তাবের আমল দ্বারা দলিল পেশ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মাসলাহাতুল মুরসালাহ মুহাওয়ালাতুল লিবাসতিহা ওয়া নাযরাতুন ফীহা
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
رضي الله عنه، وقالوا عنه أنه كان يقدم المصلحة على النصوص1.
وجاوزوا في ذلك الحق والحقيقة.. فما كان لصحابة رسول الله صلى الله عليه وسلم الذين تربوا في مدرسة الوحي وقدروه حق قدره أن يخرجوا على الوحي عملا بما يسمى المصلحة!!
ولسان حال هؤلاء الصحابة ما قاله أبو بكر الصديق أي أرض تقلني وأي سماء تظلني إذا أنا قلت في كتاب الله برأيي.. فمجرد التأويل بالرأي في كتاب الله وليس خارجه يعده أبو بكر كبيرة لا يتصور معها أن تقله أرض الله أو تظله سماؤه أما عمر فهو وإن اجتهد فقد كان يجتهد داخل دائرة النصوص بحثا عن حكم الله أما أن يخرج على النصوص تفضيلا للمصلحة عليها.. فهذا لا يتصور من عمر.. لأن معنى ذلك أن يتقدم برأيه على الوحي وهو الذي يتلوا قول الله {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تُقَدِّمُوا بَيْنَ يَدَيِ اللَّهِ وَرَسُولِهِ} ، وهو الذي ضرب رأس منافق راح يحتكم إليه بعد أن احتكم إلى رسول الله، فقال له عمر بعد أن خرج بسيفه وهوى عليه: هذا حكم عمر فيمن لا يرضى حكم الله ورسوله.
ولو دقق أولئك الباحثون فيما احتجوا به من أمثلة لوجدوا لها تفسيرا آخر غير أن يقولوا إن الصحابة قدموا المصلحة على النصوص.
ونورد فيما يلي الأمثلة لنناقشها ونتبين قصد عمر منها:
--------------------------------------------
আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন, এবং তারা তাঁর সম্পর্কে বলেছে যে তিনি পাঠ্যের (نصوص) ওপর জনকল্যাণকে (مصلحة) প্রাধান্য দিতেন।
তারা এক্ষেত্রে সত্য ও বাস্তবতাকে অতিক্রম করে গেছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণ, যারা ওহীর মাদরাসায় লালিত-পালিত হয়েছেন এবং ওহীর যথোচিত মর্যাদা উপলব্ধি করেছেন, তথাকথিত জনকল্যাণের (مصلحة) দোহাই দিয়ে ওহীর গণ্ডি বহির্ভূত কাজ করবেন—তা অসম্ভব ছিল!!
এই সাহাবীদের অবস্থা ছিল আবু বকর সিদ্দিক (রা.)-এর সেই বাণীর মতো: "কোন যমীন আমাকে ধারণ করবে আর কোন আকাশ আমাকে ছায়া দেবে, যদি আমি আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে নিজের রায় (رأي) অনুযায়ী কথা বলি?" আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে—এর বাইরে নয়—নিছক রায় (رأي) ভিত্তিক ব্যাখ্যা প্রদানকে (تأويل) আবু বকর এমন এক কবিরা গুনাহ মনে করতেন যে, আল্লাহর যমীন তাঁকে ধারণ করবে বা তাঁর আসমান তাঁকে ছায়া দেবে—তা কল্পনাও করা যায় না। আর উমর (রা.)-এর কথা বলতে গেলে, তিনি যদিও গবেষণা (اجتهاد) করতেন, তবে আল্লাহর হুকুম অনুসন্ধানের জন্য তিনি তা পাঠ্যের (نصوص) গণ্ডির ভেতরে থেকেই করতেন। কিন্তু পাঠ্যের (نصوص) ওপর জনকল্যাণকে (مصلحة) প্রাধান্য দিয়ে পাঠ্যের (نصوص) গণ্ডি থেকে বের হয়ে যাওয়া—উমর (রা.)-এর ক্ষেত্রে তা অকল্পনীয়। কারণ এর অর্থ হলো ওহীর ওপর নিজের রায়কে (رأي) অগ্রাধিকার দেওয়া, অথচ তিনি আল্লাহর এই বাণী তিলাওয়াত করতেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সমক্ষে অগ্রগামী হয়ো না}। তিনিই তো সেই ব্যক্তি, যিনি এক মুনাফিকের মস্তক দ্বিখণ্ডিত করেছিলেন, যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে বিচার পাওয়ার পর উমরের কাছে বিচার চাইতে এসেছিল। উমর তরবারি বের করে তাকে আঘাত করার পর বলেছিলেন: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিচারে যে সন্তুষ্ট নয়, তার জন্য এটাই উমরের বিচার।
সেই সব গবেষক যদি তাঁদের উপস্থাপিত উদাহরণগুলো সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করতেন, তবে তাঁরা সাহাবীগণ পাঠ্যের (نصوص) ওপর জনকল্যাণকে (مصلحة) প্রাধান্য দিয়েছেন—একথা বলার পরিবর্তে ভিন্ন ব্যাখ্যা খুঁজে পেতেন।
আমরা নিচে উদাহরণগুলো পেশ করছি যাতে সেগুলো আলোচনা করা যায় এবং উমর (রা.)-এর উদ্দেশ্য স্পষ্ট করা যায়:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাসলাহাতুল মুরসালাহ মুহাওয়ালাতুল লিবাসতিহা ওয়া নাযরাতুন ফীহা
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
ابطال سهم الؤلفة قلوبهم…1- إبطال سهم المؤلفة قلوبهم:
16- قيل إن عمر رضي الله عنه أبطل سهم المؤلفة قلوبهم الوارد في مصارف الزكاة في الآية الكريمة {إِنَّمَا الصَّدَقَاتُ لِلْفُقَرَاءِ وَالْمَسَاكِينِ وَالْعَامِلِينَ عَلَيْهَا وَالْمُؤَلَّفَةِ قُلُوبُهُمْ} ..
وذلك إعمالا للمصلحة في مواجهة النص.
17- لكن النظرة الفاحصة تكشف غير ذلك.
إن لكل حكم مناطا للتطبيق، ومنط تطبيق هذا النص هو تأليف القلب،
'মুআল্লাফাতু কুলুব' (যাদের মন জয় করা কাম্য)-এর অংশ বিলোপ…১- 'মুআল্লাফাতু কুলুব' (যাদের মন জয় করা কাম্য)-এর অংশ বিলোপ:
১৬- বলা হয়ে থাকে যে, ওমর (রা.) পবিত্র আয়াতের {নিশ্চয়ই সদকা কেবল অভাবী, নিঃস্ব, যাকাত আদায়ে নিযুক্ত কর্মচারী এবং যাদের মন জয় করা কাম্য (المؤلفة قلوبهم) তাদের জন্য...} মধ্যে বর্ণিত যাকাত ব্যয়ের খাতসমূহ থেকে 'মুআল্লাফাতু কুলুব'-এর অংশটি বিলুপ্ত করেছিলেন।
আর এটি করা হয়েছিল স্পষ্ট বিধানের (النص) বিপরীতে জনকল্যাণকে (المصلحة) কার্যকর করার নিমিত্তে।
১৭- কিন্তু সূক্ষ্ম পর্যালোচনায় এর ভিন্ন রূপ প্রকাশিত হয়।
নিশ্চয়ই প্রতিটি বিধানের (حكم) প্রয়োগের একটি কার্যকারণ ভিত্তি (مناط) থাকে, আর এই স্পষ্ট বিধানের (النص) প্রয়োগের ভিত্তি হলো অন্তর জয় করা (تأليف القلب)،
(খণ্ড: ১)
আল-মাসলাহাতুল মুরসালাহ মুহাওয়ালাতুল লিবাসতিহা ওয়া নাযরাতুন ফীহা
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
وقد نظر عمر فإذا الإسلام قد عز، ودانت له أكبر إمبراطوريتين في العالم. ولم يعد الإسلام بحاجة إلى تأليف القلب أو إلى المؤلفة قلوبهم، وإذا كان النص يدور حول علته وجودا وعدما، فإن إعمال النص نفسه يقتضي الكف عن إعطاء هذا الفريق من الناس بعد أن عز الإسلام وعزت دولته!
أفليس هذا اجتهاد داخل النص..؟! أم يفتات على عمر ويقال إنه قدم المصلحة على النص؟!
উমর (রা.) পর্যবেক্ষণ করলেন যে, ইসলাম তখন শক্তিশালী ও সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং বিশ্বের সর্ববৃহৎ দুটি সাম্রাজ্য তার বশ্যতা স্বীকার করেছে। তখন ইসলামের আর চিত্তাকর্ষণ (تأليف القلب) কিংবা যাদের চিত্তাকর্ষণ করা হয় (المؤلفة قلوبهم) তাদের কোনো প্রয়োজন অবশিষ্ট ছিল না। আর যদি কোনো মূল পাঠ বা বিধান (النص) তার কার্যকর কারণ (علة)-এর উপস্থিতি বা অনুপস্থিতির ওপর আবর্তিত হয়, তবে ইসলাম ও তার রাষ্ট্র শক্তিশালী হওয়ার পর এই শ্রেণির লোকদের দান করা থেকে বিরত থাকাই স্বয়ং সেই মূল পাঠ বা বিধানের (النص) যথার্থ প্রয়োগ দাবি করে!
তবে কি এটি মূল পাঠ বা বিধানের (النص) কাঠামোর অভ্যন্তরীণ একটি গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত (اجتهاد) নয়? নাকি উমর (রা.)-এর ওপর অপবাদ আরোপ করা হবে যে, তিনি মূল পাঠ বা বিধানের (النص) ওপর জনকল্যাণকে (المصلحة) প্রাধান্য দিয়েছেন?
(খণ্ড: ১)
আল-মাসলাহাতুল মুরসালাহ মুহাওয়ালাতুল লিবাসতিহা ওয়া নাযরাতুন ফীহা
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
2-
في قتل الجماعة بالواحد:18- قيل إن عمر إذ قرر قتل الجماعة بالواحد قد فعل ذلك بناء على المصلحة مصادمة للنص الكريم {كُتِبَ عَلَيْكُمُ الْقِصَاصُ فِي الْقَتْلَى الْحُرُّ بِالْحُرِّ وَالْعَبْدُ بِالْعَبْدِ} وقوله {وَكَتَبْنَا عَلَيْهِمْ فِيهَا أَنَّ النَّفْسَ بِالنَّفْسِ..} .
19- ولم يكن عمل عمر تشريعا كما تصور البعض.
إنما كان تطبيقا للنص بفهم عميق:
إن التعريف في النفس يعني ((الجنس)) ولا يعني ((المفرد)) والباء في النفس التالية هي باء السببية.. وعلى ذلك فإن النص يعني أن كل نفس شاركت في القتل تقتل بالنفس التي قتلت أي بسبب هذه النفس المقتولة.
وقد فهم ذلك الوضعيون أخيرا حين جعلوا جزاء القتل لكل من ساهم فيه وجعلوا مجرد الوقوف في الطريق العام لملاحظته دون اشتراك مادي في الجريمة تجعل صاحبها فاعلا أصليا يستحق نفس العقوبة.. وما دون ذلك جعلوه شريكا له نفس عقوبة الفاعل الأصلي ولئن تنكب الوضعيون السبيل فلم يجعلوا العقوبة هي القتل إلا في ظروف معينة قلما تثبت، ومن ثم فلم يعد الناس يجدون شفاء لصدورهم في تلك العقوبات الهزيلة.
ولئن تنكبوا السبيل كذلك فلم يجعلوا لولي الدم العفو أو القصاص أو الدية بما يكفل شفاء الصدر لهم.
فإن عقوبة الإسلام لا تحتاج إلى سبق إصرار ولا ترصد ولا اقتران بجريمة أخرى.
كما أن ولي الدم له الحق بين القصاص أو الدية أو العفو.
كذلك فإن اجتهاد عمر بقتل الجماعة بالواحد يجعل في تطبيق النص على هذا النحو شفاء للصدر أيما شفاء.. أمر عجزت عنه كل الأنظمة الوضعية!
أفنلوم عمر بعد ذلك أن اجتهد في فهم النص وتطبيقه؟!
২-
একজনের বিনিময়ে একদল ব্যক্তিকে হত্যার প্রসঙ্গে:১৮- বলা হয়ে থাকে যে, ওমর (রা.) যখন একজনের বিনিময়ে একদল ব্যক্তিকে হত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তখন তিনি তা জনকল্যাণের (مصلحة) ভিত্তিতে করেছিলেন যা পবিত্র নসের (نص) পরিপন্থী। মহান আল্লাহর বাণী: {তোমাদের ওপর হত্যার বিনিময়ে কিসাস (قصاص) বিধিবদ্ধ করা হয়েছে; স্বাধীনের বিনিময়ে স্বাধীন এবং দাসের বিনিময়ে দাস} এবং তাঁর বাণী: {আর আমি তাদের জন্য তাতে লিখে দিয়েছি যে, প্রাণের বিনিময়ে প্রাণ...}।
১৯- ওমরের এই পদক্ষেপ কোনো নতুন শরয়ি আইন প্রণয়ন ছিল না, যেমনটি কেউ কেউ কল্পনা করেছেন।
বরং এটি ছিল গভীর প্রজ্ঞার সাথে নসের (نص) একটি প্রয়োগ:
'নাফস' (النفس) শব্দের নির্দিষ্টতা জ্ঞাপক রূপটি (تعريف) মূলত 'শ্রেণি' (جنس) বোঝায়, 'একবচন' (مفرد) নয়। আর পরবর্তী 'নাফস' শব্দের সাথে যুক্ত 'বা' (باء) হরফটি হলো কারণবাচক (سببية)। সেই অনুযায়ী নসের (نص) অর্থ দাঁড়ায় এই যে, হত্যাকাণ্ডে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি প্রাণ সেই প্রাণের বিনিময়ে নিহত হবে যাকে হত্যা করা হয়েছে; অর্থাৎ সেই নিহত প্রাণের কারণে।
আধুনিক মানব রচিত আইনের প্রণেতারা অবশেষে বিষয়টি অনুধাবন করতে পেরেছেন যখন তারা হত্যাকাণ্ডে সহায়তাকারী প্রত্যেকের জন্য শাস্তির বিধান করেছেন। এমনকি অপরাধে সরাসরি অংশগ্রহণ না করে কেবল নজরদারির জন্য রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকাকেও মূল অপরাধী (فاعل أصلي) হিসেবে গণ্য করা হয়েছে যা তাকে একই শাস্তির যোগ্য করে তোলে। এর বাইরে অন্যদের তারা সহযোগী (شريك) হিসেবে গণ্য করেছেন যাদের শাস্তি মূল অপরাধীর সমান। যদিও মানব রচিত আইনের প্রণেতারা সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে বিশেষ কিছু পরিস্থিতি ছাড়া—যা খুব কমই প্রমাণিত হয়—হত্যার শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড রাখেনি। ফলে মানুষ এই তুচ্ছ শাস্তিতে তাদের হৃদয়ের প্রশান্তি খুঁজে পায় না।
একইভাবে তারা সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে কারণ তারা নিহতের অভিভাবকের (ولي الدم) জন্য ক্ষমা, কিসাস (قصاص) বা রক্তপণের (دية) অধিকার রাখেনি, যা তাদের হৃদয়ের প্রশান্তি নিশ্চিত করতে পারত।
কেননা ইসলামের শাস্তির বিধানে পূর্বপরিকল্পনা, ওত পেতে থাকা বা অন্য কোনো অপরাধের সংশ্লিষ্টতার প্রয়োজন হয় না।
তদুপরি, নিহতের অভিভাবকের (ولي الدم) কিসাস (قصاص), রক্তপণ (دية) অথবা ক্ষমার মধ্যে যেকোনোটি বেছে নেওয়ার অধিকার রয়েছে।
একইভাবে, একজনের বিনিময়ে একদল ব্যক্তিকে হত্যার ব্যাপারে ওমরের ইজতিহাদ (اجتهاد) এভাবে নসের (نص) প্রয়োগের মাধ্যমে হৃদয়ে পূর্ণ প্রশান্তি বয়ে আনে—যা করতে সমস্ত মানব রচিত ব্যবস্থা ব্যর্থ হয়েছে!
এরপরও কি আমরা ওমরকে দোষারোপ করব যে তিনি নসের (نص) মর্ম অনুধাবন ও তা প্রয়োগে ইজতিহাদ (اجتهاد) করেছিলেন?!
(খণ্ড: ১)
আল-মাসলাহাতুল মুরসালাহ মুহাওয়ালাতুল লিবাসতিহা ওয়া নাযরাতুন ফীহা
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
3-
تعطيل حد السرقة عام المجاعة:20- نسب إلى عمر أنه عطل حد السرقة عام الرمادة بناء على المصلحة وأنه بذلك يقدم المصلحة على النص.
21- والحق أن الأمر ليس تقديما للمصلحة على النص ولا تعطيلا لحد من حدود الله.. ولكنه بولايته العامة وجد أن شروط النص غير منطبقة إذ يوجد شبهة قوية تحول دون تطبيق الحد أو تدرؤه، وهو الذي سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول:"ادرءوا الحدود بالشبهات ما استطعتم" وسمعه كذلك يقول: "لئن يخطئ الإمام في العفو خير من أن يخطئ في العقوبة" وهو الذي ترجمه القانونيون المحدثون بقولهم ((إن العدالة تتأذى من إدانة برئ واحد لكنها لا تتأذى من تبرئة مائة متهم)) .
وهو الذي جاءه صاحب بستان يشكو سرقة خادمه لثمار البستان فلما حقق القضية وجد أن صاحب البستان لا يعطي خادمه ما يكفيه.. فقال له عمر لو سرقت بعد ذلك لقطعت يدك أنت..
هذا الفقه السليم لإقامة الحدود الإسلامية هو الذي فقهه عمر فوجد أن الرمادة شبهة كبيرة تدرأ الحد.. فوجد أن شروط النص لا تنطبق..
وليس معنى ذلك تقديم المصلحة على النص.. إنما هو اجتهاد داخل النص نفسه للبحث في توافر شروط الجريمة وشروط العقوبة..
وهكذا لم يفهم البعض عمر.. ولا فقه عمر..!
3-
দুর্ভিক্ষের বছর চুরির দণ্ড স্থগিতকরণ:20- উমর (রা.)-এর দিকে নিসবত করা হয় যে, তিনি 'রামাদের' (তীব্র দুর্ভিক্ষের) বছর জনকল্যাণের (المصلحة) ওপর ভিত্তি করে চুরির দণ্ড (حد) স্থগিত করেছিলেন এবং এর মাধ্যমে তিনি জনকল্যাণকে অকাট্য দলিলের (النص) ওপর প্রাধান্য দিয়েছেন।
21- প্রকৃত সত্য হলো, বিষয়টি অকাট্য দলিলের (النص) ওপর জনকল্যাণকে (المصلحة) প্রাধান্য দেওয়া কিংবা আল্লাহর নির্ধারিত কোনো দণ্ডকে (حد) স্থগিত করা ছিল না। বরং তিনি তাঁর সাধারণ কর্তৃত্বের (الولاية العامة) মাধ্যমে দেখতে পান যে, অকাট্য দলিলের (النص) শর্তাবলি (شروط) এক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়; কারণ সেখানে একটি শক্তিশালী সংশয় (شبهة) বিদ্যমান ছিল যা দণ্ড (حد) প্রয়োগে বাধা দিচ্ছিল বা তা রহিত করছিল। তিনি স্বয়ং রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছেন: "তোমরা সাধ্যমতো সংশয়ের (الشبهات) মাধ্যমে দণ্ডসমূহকে (الحدود) প্রতিহত করো।" তিনি তাঁকে আরও বলতে শুনেছেন: "ইমামের জন্য দণ্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে ভুল করার চেয়ে ক্ষমা করার ক্ষেত্রে ভুল করা উত্তম।" আধুনিক আইনবিদরা এই মূলনীতিটিকেই তাঁদের ভাষায় অনুবাদ করেছেন এই বলে যে, "একজন নির্দোষ ব্যক্তির সাজা হওয়ায় ন্যায়বিচার যতটুকু ব্যাহত হয়, একশ জন অভিযুক্ত ব্যক্তির খালাস পাওয়ায় ততটুকু ব্যাহত হয় না।"
তাঁর কাছে একজন বাগানের মালিক এসে তাঁর দাসের বিরুদ্ধে বাগানের ফল চুরির অভিযোগ করেছিলেন। যখন তিনি বিষয়টি তদন্ত করলেন, তখন দেখলেন যে বাগানের মালিক তাঁর দাসকে পর্যাপ্ত খাবার দেন না। তখন উমর (রা.) তাকে বললেন, "এর পর যদি চুরি হয়, তবে আমি তোমার হাতই কাটব।"
ইসলামি দণ্ডবিধি (الحدود) বাস্তবায়নের এই সঠিক ফিকহটিই উমর (রা.) অনুধাবন করেছিলেন। তিনি দেখেছিলেন যে, 'রামাদের' দুর্ভিক্ষ ছিল একটি বড় সংশয় (شبهة), যা দণ্ডকে (الحد) রহিত করে। তিনি দেখতে পান যে, অকাট্য দলিলের (النص) শর্তাবলি (شروط) এক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
এর অর্থ অকাট্য দলিলের (النص) ওপর জনকল্যাণকে (المصلحة) প্রাধান্য দেওয়া নয়; বরং এটি অপরাধের শর্তাবলি (شروط) এবং দণ্ডের শর্তাবলি (شروط) বিদ্যমান থাকার বিষয়ে খোদ অকাট্য দলিলের (النص) সীমানার ভেতরেই একটি গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত (اجتهاد)।
এভাবেই কিছু মানুষ উমর (রা.)-কে বুঝতে পারেনি, এবং উমর (রা.)-এর ফিকহকেও অনুধাবন করতে পারেনি!
(খণ্ড: ১)
আল-মাসলাহাতুল মুরসালাহ মুহাওয়ালাতুল লিবাসতিহা ওয়া নাযরাতুন ফীহা
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
4-
إيقاع طلاق الثلاث بلفظ واحد طلاقا بائنا:22- قالوا إن عمر خالف صريح القرآن في قوله تعالى: {الطَّلاقُ مَرَّتَان} أي دفعتان، وخالف سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم العملية إذ كان يوقع طلاق الثلاث طلقة واحدة، فقد روى ابن عباس رضي الله عنه ((كان الطلاق على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم وأبي بكر وسنتين من خلافة عمر طلاق ثلاث واحدة فقال عمر ابن الخطاب إن الناس قد استعجلوا في أمر كانت لهم فيه أناة فلو أمضيناه عليهم فأمضاه عليهم)) 1.
23- ويرد على ذلك بالآتي:
أ- أن هذا الحديث ضعفه كثير
--------------------------------------------
৪-
এক শব্দে তিন তালাক প্রদানকে চূড়ান্ত বিচ্ছিন্নকারী (بائن) তালাক হিসেবে কার্যকর করা:২২- তারা বলেন যে, উমর (রা.) আল্লাহর বাণী: {তালাক দুই বার} অর্থাৎ দুই দফায়—এর মাধ্যমে কুরআনের সুস্পষ্ট বিধানের বিরোধিতা করেছেন। এছাড়া তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আমলী সুন্নাহরও বিরোধিতা করেছেন, যেহেতু রাসূলুল্লাহ (সা.) তিন তালাককে এক তালাক হিসেবে গণ্য করতেন। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত: ((রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে, আবু বকর (রা.)-এর যুগে এবং উমর (রা.)-এর খেলাফতের প্রথম দুই বছর তিন তালাক এক হিসেবে গণ্য হতো। তখন উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বললেন: মানুষের জন্য যে বিষয়ে ধীরস্থিরতার অবকাশ ছিল, তারা সেই বিষয়ে তড়িঘড়ি করতে শুরু করেছে। আমরা যদি এটি তাদের ওপর কার্যকর করে দেই (তবে ভালো হতো)! অতঃপর তিনি তা তাদের ওপর কার্যকর করে দেন)) ১।
২৩- এর উত্তর নিম্নরূপ:
ক- অনেক বিশেষজ্ঞ এই হাদিসটিকে দুর্বল (ضعيف) বলে অভিহিত করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাসলাহাতুল মুরসালাহ মুহাওয়ালাতুল লিবাসতিহা ওয়া নাযরাতুন ফীহা
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
من من رجال الحديث1.
ب- أنه وردت أحاديث أخرى تفيد العكس أن عمل عمر كان هو عمل الرسول عليه الصلاة والسلام.
جـ- أنه على فرض التسليم بصحة الحديث فإنه يعني أن الناس كانوا على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم يوقعون طلقة واحدة، لكنهم في عهد عمر صاروا يوقعون الثلاث دفعة واحدة، يدل على ذلك ما جاء في آخر الحديث ((إن الناس استعجلوا أمرا كانت لهم فيه أناة)) ، أي أن الحديث يحكي الحال الذي كانوا عليه والحال الذي صاروا إليه، فهو حديث عن تغير عادة الناس وليس عن تغير الحكم في المسألة2.
د- الآية الكريمة {الطَّلاقُ مَرَّتَانِ} لا تعني ((دفعتان)) فقد ورد كذلك قول الله {نُؤْتِهَا أَجْرَهَا مَرَّتَيْن} وقوله {يُضَاعَفْ لَهَا الْعَذَابُ ضِعْفَيْنِ} ولم يقل أحد إنها تعني أن الأجر والعذاب يكون على دفعات3.
--------------------------------------------
হাদিস শাস্ত্রের ব্যক্তিবর্গের মধ্যে ১।
খ- এই মর্মে আরও অনেক হাদিস বর্ণিত হয়েছে যা বিপরীত বিষয়টি প্রমাণ করে যে, ওমরের (রা.) আমল রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর আমলের অনুরূপ ছিল।
গ- যদি হাদিসের বিশুদ্ধতা (صحة الحديث) মেনেও নেওয়া হয়, তবুও এর অর্থ দাঁড়ায় যে, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে মানুষ এক তালাক প্রদান করত, কিন্তু ওমরের (রা.) যুগে তারা একসাথে তিন তালাক দেওয়া শুরু করে। হাদিসের শেষাংশ এর প্রমাণ দেয় যে— “মানুষ এমন একটি বিষয়ে তাড়াহুড়া করছে যাতে তাদের জন্য অবকাশ ছিল।” অর্থাৎ, হাদিসটি মানুষের তৎকালীন অবস্থা এবং পরবর্তী অবস্থার বর্ণনা দিচ্ছে; এটি মানুষের অভ্যাসের পরিবর্তন সম্পর্কে একটি হাদিস, এই বিষয়ের বিধান পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নয়।২।
ঘ- পবিত্র আয়াত {তালাক হচ্ছে দু’বার} এর অর্থ ‘দুই দফায়’ নয়। কারণ মহান আল্লাহর বাণী— {আমি তাকে তার প্রতিদান দু’বার প্রদান করব} এবং {তার জন্য আজাব দ্বিগুণ করা হবে} এখানেও এমনটি এসেছে; অথচ কেউ এ কথা বলেনি যে, এর অর্থ প্রতিদান ও আজাব কিস্তিতে বা কয়েক দফায় হবে।৩।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাসলাহাতুল মুরসালাহ মুহাওয়ালাতুল লিবাসতিহা ওয়া নাযরাতুন ফীহা
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
نظرة في المصلحة المرسلةنظرة في المصلحة المرسلة
…رابعا: نظرة في المصلحة المرسلة:
24- لعل وجه المصلحة بعد هذا العرض الطويل قد بان بغير غيش ولا تشويه، بعد أن قضت في كتب الأصول وقتا طويلا غير واضحة المعالم. ولعلها بانت تطبيقا لروح الشريعة ومقاصدها، وليس خروجا عليها أو انفلاتا منها، ولعل الشروط التي تقدمت من عدم مصادمتها للنصوص، ومن دورانها في فلك المقاصد الخمسة التي تدور حولها أحكام الشرع كلها، ومن كونها حقيقية وعامة، لعل هذه الشروط ضوابط تحرسها أن تكون مظنة الحكم بالهوى أو التشهي!
ثم لعلها بذلك تحقق المرونة داخل إطار الإسلام فنواجه بروح النصوص كل جديد لم يرد به نص ولم يمكن قياسه على نص، وتؤكد بذلك صلاحية هذه الشريعة وخلودها على مر الأيام وتجدد الحاجات والرغبات.
وهي تحقق المرونة في المجال الذي يحتاجها وهو مجال المعاملات.
أما مجال العقيدة والعبادات وما يجري
জনস্বার্থের (المصلحة المرسلة) ওপর একটি পর্যালোচনাজনস্বার্থের (المصلحة المرسلة) ওপর একটি পর্যালোচনা
…চতুর্থ: জনস্বার্থের (المصلحة المرسلة) ওপর একটি পর্যালোচনা:
২৪- সম্ভবত এই দীর্ঘ আলোচনার পর জনস্বার্থের (المصلحة) স্বরূপ কোনো প্রকার অস্পষ্টতা বা বিকৃতি ছাড়াই স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে, যা উসুলের (الأصول) কিতাবসমূহে দীর্ঘকাল ধরে অস্পষ্ট অবস্থায় ছিল। সম্ভবত এটি শরীয়তের চেতনা ও এর লক্ষ্যসমূহের (المقاصد) প্রয়োগ হিসেবেই প্রকাশিত হয়েছে, শরীয়ত থেকে বিচ্যুতি বা এর গণ্ডি বহির্ভূত কিছু হিসেবে নয়। সম্ভবত পূর্বে বর্ণিত শর্তাবলি—যেমন এটি নসের (النصوص) সাথে সাংঘর্ষিক না হওয়া, শরীয়তের যাবতীয় বিধান যে পাঁচটি মূল উদ্দেশ্যের (المقاصد) চারদিকে আবর্তিত হয় তার অধীনে থাকা এবং এটি বাস্তব ও ব্যাপক হওয়া—এই শর্তাবলিই এমন নিয়ন্ত্রণকারী নীতিমালা যা একে খেয়ালখুশি বা প্রবৃত্তির বশবর্তী হয়ে বিচার করার আশঙ্কা থেকে রক্ষা করে।
অতঃপর সম্ভবত এটি ইসলামের কাঠামোর ভেতরে নমনীয়তা নিশ্চিত করে, যার ফলে আমরা নসের (النصوص) মূল চেতনার আলোকে এমন প্রতিটি নতুন বিষয়ের মোকাবিলা করতে পারি যার ব্যাপারে কোনো সুনির্দিষ্ট নস (نص) বর্ণিত হয়নি এবং কোনো নসের (نص) ওপর ভিত্তি করে তার কিয়াস (قياسه) করাও সম্ভব হয়নি। এর মাধ্যমে সময়ের বিবর্তন এবং প্রয়োজন ও চাহিদার পরিবর্তনের সাথে সাথে এই শরীয়তের উপযোগিতা ও শাশ্বত রূপটিই সুনিশ্চিত হয়।
এবং এটি সেই ক্ষেত্রেই নমনীয়তা নিশ্চিত করে যেখানে তার প্রয়োজন রয়েছে, আর সেটি হলো লেনদেনের (المعاملات) ক্ষেত্র।
পক্ষান্তরে আকিদা (العقيدة), ইবাদত (العبادات) এবং এ সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়সমূহের ক্ষেত্রে...
(খণ্ড: ১)
আল-মাসলাহাতুল মুরসালাহ মুহাওয়ালাতুল লিবাসতিহা ওয়া নাযরাতুন ফীহা
(পৃষ্ঠা: ৫০)
مجراها فهو بعيد عن عمل المصلحة قائم على التطبيق المباشر للنصوص.
وهي بعد ذلك ليست مصدرا مستقلا للأحكام لكنها وسيلة أو أداة للاجتهاد أو الاستنباط ترد الأمر أخيرا إلى الله ورسوله.. فما تكشف عنه المصلحة هو حكم الله في الموضوع.. لأنه رد إلى نصوص الكتاب والسنة في معناها دون مبناها وفي غاياتها ومقاصدها دون عباراتها وألفاظها.
وإن أمثلة المصلحة الكثيرة1 يمكن ردها بيسر إلى نصوص الكتاب والسنة، بدليل أن الأمثلة التي ضربوها على أنها مصادمة للنصوص وتقديم للمصلحة عليها تبين أنها تطبيق للنصوص ذاتها وليس ثمة خروج عنها!
وبعد
فهل آن للمخلصين من الفاقهين أن يعيدوا كتابة فقهنا الإسلامي وأصوله بعد أم طال عليه الأمد حتى أصاب وجهه المضيء الكثير من التشويه أو الغبار..؟
وهل آن لهم بعد ذلك أن يدخلوا مجال الاجتهاد ليقدموا للأمة الإسلامية الحلول الشرعية لمشاكلها بدلا من أن تستورد الحلول وتستورد معها الانحلال من الغرب ومن الشرق؟!
هل آن لهم أن يقفوا وقفة ((مضرية)) في وجه الراغبين عن شريعة الله، المنفذين أو الراضين بما لم يأذن به الله..؟!
والله لو فعلوا لتغير وجه الأرض، ولتغير وجه التاريخ {وَلَقَدْ سَبَقَتْ كَلِمَتُنَا لِعِبَادِنَا الْمُرْسَلِينَ إِنَّهُمْ لَهُمُ الْمَنْصُورُونَ وَإِنَّ جُنْدَنَا لَهُمُ الْغَالِبُونَ} وصل اللهم على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه وسلم.. والحمد لله رب العالمين.
--------------------------------------------
এর গতিপথ জনকল্যাণমূলক (المصلحة) কর্মকাণ্ড থেকে দূরে, বরং তা সরাসরি মূল পাঠ্যসমূহের (النصوص) প্রয়োগের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
তদুপরি, এটি বিধানের (الأحكام) কোনো স্বাধীন উৎস নয়, বরং এটি গবেষণা (الاجتهاد) বা বিধান উদ্ভাবনের (الاستنباط) একটি মাধ্যম বা হাতিয়ার, যা চূড়ান্তভাবে বিষয়টিকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দেয়। সুতরাং জনকল্যাণের (المصلحة) মাধ্যমে যা উন্মোচিত হয়, তা-ই ওই বিষয়ের ক্ষেত্রে আল্লাহর বিধান (حكم الله); কারণ এটি কিতাব ও সুন্নাহর মূল পাঠ্যসমূহকে (نصوص) তাদের বাহ্যিক কাঠামোর পরিবর্তে অর্থ এবং শব্দ ও বাক্যের পরিবর্তে তাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহের (مقاصد) দিকে প্রত্যাবর্তন মাত্র।
জনকল্যাণের (المصلحة) অসংখ্য উদাহরণকে ১ সহজেই কিতাব ও সুন্নাহর মূল পাঠ্যসমূহের (نصوص) দিকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। এর প্রমাণ হলো, তারা যেসব উদাহরণকে মূল পাঠ্যের (النصوص) সাথে সাংঘর্ষিক এবং মূল পাঠ্যের ওপর জনকল্যাণকে (المصلحة) অগ্রাধিকার হিসেবে পেশ করেছেন, সেগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, তা প্রকৃতপক্ষে ওই পাঠ্যসমূহেরই প্রয়োগ এবং সেখানে তা থেকে কোনো বিচ্যুতি ঘটেনি!
অতঃপর
প্রজ্ঞাবান নিষ্ঠাবানদের জন্য কি এখন সময় হয়নি যে তারা আমাদের ইসলামি ফিকহ (فقه) এবং এর উসুল (أصول) বা মূলনীতিসমূহ নতুন করে লিখবেন? দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার ফলে যার উজ্জ্বল চেহারা বিকৃতি বা ধূলিকণায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে...?
আর তাদের জন্য কি এখন সময় হয়নি ইজতিহাদের (الاجتهاد) ময়দানে প্রবেশ করার, যাতে তারা মুসলিম উম্মাহর সমস্যাবলির শরয়ি সমাধান পেশ করতে পারেন? যেন উম্মাহকে সমাধানের সাথে সাথে পূর্ব বা পশ্চিম থেকে নৈতিক অবক্ষয়ও আমদানি করতে না হয়!
তাদের জন্য কি সময় হয়নি আল্লাহর শরিয়তের প্রতি বিমুখ এবং আল্লাহর অনুমতি নেই এমন বিধান বাস্তবায়নকারী বা তাতে সন্তুষ্ট ব্যক্তিদের সামনে আপসহীনভাবে দাঁড়ানোর...?!
আল্লাহর কসম, যদি তারা তা করতেন তবে জমিনের চেহারা পাল্টে যেত এবং ইতিহাসের গতিপথ পরিবর্তিত হতো। "আমার প্রেরিত বান্দাদের সম্পর্কে আমার এই কথাটি পূর্বেই স্থির হয়েছে যে, অবশ্যই তারা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে এবং আমার বাহিনীই হবে বিজয়ী।" হে আল্লাহ, আমাদের নেতা মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীদের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন। সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
--------------------------------------------