(খণ্ড: ১) আল-মাসালিহুল মুরসালাহ - ত জামিয়াতুল ইসলামিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
المصالح المرسلة - ط الجامعة الإسلامية   (محمد الأمين الشنقيطي)

القسم: أصول الفقه


الكتاب: المصالح المرسلة

محاضرة أملاها: محمد الأمين الشنقيطي

الناشر: الجامعة الإسلامية، المدينة المنورة

الطبعة: الأولى، 1410 هـ

عدد الصفحات: 26

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

জনস্বার্থ (المصالح المرسلة) - ইসলামিক ইউনিভার্সিটি সংস্করণ   (মুহাম্মদ আল-আমিন আশ-শানকিতী)

বিভাগ: উসুল আল-ফিকহ


বই: জনস্বার্থ (المصالح المرسلة)

প্রদত্ত বক্তৃতা (ইমলা): মুহাম্মদ আল-আমিন আশ-শানকিতী

প্রকাশক: ইসলামিক ইউনিভার্সিটি، মদিনা মুনাওয়ারা

সংস্করণ: প্রথম، ১৪১০ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৬

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-মাসালিহুল মুরসালাহ - ত জামিয়াতুল ইসলামিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
المصالح المرسلة

محاضرة أملاها الشيخ: محمد الأمين الشنقيطي

‌‌مقدمة

بسم الله الرحمن الرحيم

بسم الله والحمد لله وبحمده تتم الصالحات، وأشهد أن لا إله إلا الله وأن محمداً رسول الله صلى الله عليه وسلم، شهادة أنجو بها من المهلكات. والصلاة والسلام على خاتم الأنبياء والمرسلين، المبعوث رحمة للعالمين.. وبعد:

لقد جاءت الشريعة الإسلامية ولله الحمد والمنة، الشاملة لجميع جوانب الإنسان في حياته وبعد مماته، في عباداته ومعاملاته، وفي جميع شئونه الفردية والجماعية، في ظل كتاب الله تعالى الجامع الشامل كما قال تعالى: {مَا فَرَّطْنَا فِي الْكِتَابِ مِنْ شَيْءٍ} . والذي أخرج الله به الناس من الظلمات إلى النور، وهداهم به إلى الصرط المستقيم.. كما قال تعالى {إِنَّ هَذَا الْقُرْآنَ يَهْدِي لِلَّتِي هِيَ أَقْوَمُ} .. وقد كمُل الدين وتمت النعمة كما قال تعالى: {الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْأِسْلامَ دِيناً} ..

وقد مضى الصدر الأول من الأمة في ظل نصوص القرآن وصريح عباراته.. وكانوا إذا أشكل عليهم نص أو استجد لهم جديد وجدوا من رسول الله صلى الله عليه وسلم بيان ما أجمل وتفصيل ما التبس..

ومضى عهد الصحابة في رعايته صلى الله عليه وسلم، تبليغاً وتشريعاً وعملاً واتباعاً، حتى أتم الله عليهم النعمة وختم الرسالة، وأدى الأمانة، وترك صلى الله عليه وسلم الناس على المحجة البيضاء ليلها كنهارها لا يزيغ عنها إلا هالك، وترك في الأمة ما إن تمسكوا به نجوا: كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم..

وجاء التابعون على أثر السابقين الأولين واتبعوهم بإحسان، وهكذا من بعدهم، إلى أن اتسعت رقعة العالم الإسلامي بانتشار الإسلام، فتجددت
অনির্দিষ্ট জনস্বার্থ (المصالح المرسلة)

শায়খ মুহাম্মাদ আল-আমিন আশ-শানকিতী কর্তৃক প্রদত্ত একটি বক্তৃতা

‌‌ভূমিকা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

আল্লাহর নামে শুরু করছি এবং সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যাঁর প্রশংসার মাধ্যমে সকল নেক কাজ সুসম্পন্ন হয়। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল—এমন এক সাক্ষ্য যার মাধ্যমে আমি ধ্বংসাত্মক বিষয়গুলো থেকে মুক্তি লাভ করব। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সর্বশেষ নবী ও রাসূলের ওপর, যাকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমত হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছে। অতঃপর:

আল্লাহর প্রশংসা ও অনুগ্রহে ইসলামী শরিয়ত মানুষের জীবনের সকল দিক—তার জীবদ্দশায় ও মৃত্যুর পরবর্তী অবস্থা, ইবাদত ও মুয়ামালাত (লেনদেন), এবং তার ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত সকল বিষয়ের জন্য পূর্ণাঙ্গতা নিয়ে অবতীর্ণ হয়েছে। এটি মহান আল্লাহর কিতাবের ছায়াতলে যা সকল বিষয়ের সংকলক ও ব্যাপ্তকারী, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {আমি কিতাবে কোনো কিছুই বাদ দেইনি}। যার মাধ্যমে আল্লাহ মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে এনেছেন এবং তাদেরকে সরল পথের দিশা দিয়েছেন। যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {নিশ্চয়ই এই কুরআন এমন পথ দেখায় যা অধিকতর সুদৃঢ়}। দ্বীন পূর্ণতা পেয়েছে এবং নিয়ামত সমাপ্ত হয়েছে যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম, তোমাদের প্রতি আমার নিয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম}।

উম্মতের প্রথম প্রজন্ম কুরআনের পাঠ এবং এর সুস্পষ্ট বক্তব্যের ছায়াতলে অতিবাহিত হয়েছে। যখনই কোনো বক্তব্য তাদের নিকট অস্পষ্ট হতো কিংবা নতুন কোনো সমস্যার উদ্ভব হতো, তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছ থেকে সংক্ষিপ্ত বিষয়ের ব্যাখ্যা এবং জটিল বিষয়ের বিস্তারিত বিবরণ পেয়ে যেতেন।

সাহাবীগণের যুগ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে দ্বীন প্রচার, বিধান প্রণয়ন, আমল ও অনুসরণের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়েছে; যতক্ষণ না আল্লাহ তাদের ওপর তাঁর নিয়ামত পূর্ণ করেছেন, রিসালাতের সমাপ্তি ঘটিয়েছেন এবং আমানত পৌঁছে দিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষকে এক উজ্জ্বল শুভ্র পথের ওপর রেখে গেছেন, যার রাতও দিনের মতো স্পষ্ট, ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছাড়া আর কেউ তা থেকে বিচ্যুত হয় না। তিনি উম্মতের মাঝে এমন কিছু রেখে গেছেন যা আঁকড়ে ধরলে তারা মুক্তি পাবে: আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ।

অগ্রবর্তী প্রথম প্রজন্মের পদাঙ্ক অনুসরণ করে তাবেয়ীগণ এসেছেন এবং নিষ্ঠার সাথে তাদের অনুসরণ করেছেন। এভাবেই তাদের পরবর্তীগণ এসেছেন, যতক্ষণ না ইসলামের প্রসারের সাথে সাথে ইসলামী বিশ্বের পরিধি বিস্তৃত হয়েছে এবং নতুন নতুন বিষয় উদ্ভূত হয়েছে...
(খণ্ড: ১) আল-মাসালিহুল মুরসালাহ - ত জামিয়াতুল ইসলামিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
مرافق الحياة وتعددت صورها، فرأى العلماء الأعلام وأئمة الهدى أن القرآن بحر زاخر، ومحيط متلاطم، وليس كل ذي حاجة يقدر على تحصيلها منه ولا كل ذي علم يحيط بما فيه.. وكذلك السنة المطهرة، والتي قال فيها صلى الله عليه وسلم: "ألا وإنني أوتيت القرآن ومثله معه" - أي السنة - وإنها الوحي الثاني: {وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى إِنْ هُوَ إِلَاّ وَحْيٌ يُوحَى} … وهما مصدر التشريع بوحي الله..

فوضعوا أصول الفقه التي عليها مبنى الاجتهاد في استنباط

الأحكام من أدلتها، فوضعوا مباحث القرآن من عام وخاص، ومطلق ومقيد، وناسخ ومنسوخ، وغير ذلك..

وكذلك السنة: بينوا طرق إثباتها ومراتب صحتها وحال رواتها والجمع بين مختلفها وغير ذلك أيضاً..

ثم الإجماع ووقوعه وطرقه وأقسامه ومنزلته عند التعارض والترجيح. ثم القياس بأقسامه، وبأركانه وشروطه ومواطنه، بأصوله وفروعه..

وهنالك أصول أربعة أخرى محل اجتهاد الأصوليين، وهي مما تمس الحاجة إليها وهي:

1ـ شرع من قبلنا.

2ـ قول الصحابي إذا لم يوجد له مخالف من الصحابة.

3ـ استصحاب الأصل، أو البراءة الأصلية.

4ـ المصالح المرسلة، أو الاستصلاح، وهو موضوع هذه المحاضرة التي نقدم لها. وهي في الحقيقة أخطر هذه الأصول من حيث دقة البحث وسعة الجوانب وشدة الحاجة المتجددة.

ومكمن الخطر في ادعاء المصلحة لأنه ادعاء عام، وكل يدعيه لبحثه فيما يذهب إليه … ولن يذهب مجتهد فقط إلى حكم في مسألة لا نص فيها إلا وادعى أنه ذهب لتحقيق المصلحة..

ولكن، أي المصالح يعنون..إن المصلحة الإنسانية الخاصة أمر نسبي، وكل يدعيها فيما يذهب إليه … ومن هنا كان الخطر..

ولكن حقيقة المصلحة هي المصلحة الشرعية التي تتمشى مع منهج الشرع
জীবনের অনুষঙ্গসমূহ এবং এর রূপ বৈচিত্র্যময়। তাই প্রখ্যাত আলেমগণ ও হেদায়াতের ইমামগণ অনুভব করেছেন যে, কুরআন হলো একটি উত্তাল সমুদ্র ও বিশাল মহাসাগর। কোনো অভাবগ্রস্ত ব্যক্তির পক্ষেই যেমন তার প্রয়োজনীয় সবকিছু সেখান থেকে আহরণ করা সম্ভব নয়, তেমনি কোনো জ্ঞানীর পক্ষেও এর ভেতরে যা আছে তা পুরোপুরি আয়ত্ত করা সম্ভব নয়। তদ্রূপ পবিত্র সুন্নাহর ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য, যার সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "জেনে রেখো, আমাকে কুরআন এবং তার সাথে তারই অনুরূপ কিছু প্রদান করা হয়েছে" - অর্থাৎ সুন্নাহ - আর এটি হলো দ্বিতীয় ওহী: {আর তিনি নিজ খেয়ালখুশি মতো কথা বলেন না। এতো কেবল ওহী, যা তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হয়} … আর এ দুটিই আল্লাহর ওহীর মাধ্যমে শরীয়ত প্রণয়নের উৎস।

ফলে তাঁরা উসূলে ফিকহ প্রণয়ন করেন, যার ওপর ভিত্তি করে দলীলসমূহ থেকে বিধান আহরণের ক্ষেত্রে গবেষণার (اجتهاد) ভিত্তি স্থাপিত হয়।

তাঁরা কুরআনের আলোচনার বিষয়বস্তু হিসেবে সাধারণ (عام) ও বিশেষ (خاص), অবারিত (مطلق) ও সীমিত (مقيد), রহিতকারী (ناسخ) ও রহিত (منسوخ) এবং আরও অনেক বিষয় নির্ধারণ করেছেন।

তেমনিভাবে সুন্নাহর ক্ষেত্রেও: তাঁরা তা সাব্যস্ত করার পদ্ধতিসমূহ, এর বিশুদ্ধতার স্তরসমূহ (مراتب صحة), বর্ণনাকারীদের অবস্থা (حال رواتها), পরস্পর বিরোধী বর্ণনার মধ্যে সমন্বয় সাধন এবং এ জাতীয় আরও অন্যান্য বিষয় স্পষ্ট করেছেন।

এরপর ঐকমত্য (إجماع), এর সংঘটন, পদ্ধতি, প্রকারভেদ এবং বিরোধ ও অগ্রাধিকার (ترجيح) নির্ধারণের ক্ষেত্রে এর অবস্থান নিয়ে আলোচনা করেছেন। তারপর সাদৃশ্য বিধান (قياس) এবং এর প্রকারভেদ, এর রুকনসমূহ (أركان), শর্তাবলী (شروط), প্রয়োগস্থল এবং এর মূল ও শাখা নিয়ে আলোচনা করেছেন।

এছাড়া আরও চারটি মূলনীতি রয়েছে যা উসূলবিদদের গবেষণার (اجتهاد) বিষয় এবং যার প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য, সেগুলো হলো:

১. আমাদের পূর্ববর্তীদের শরীয়ত।

২. সাহাবীর বক্তব্য, যখন অন্য কোনো সাহাবীর পক্ষ থেকে তার কোনো বিরোধী মত পাওয়া না যায়।

৩. পূর্বাবস্থা বহাল রাখা (استصحاب الأصل) বা মৌলিক দায়মুক্তি (براءة أصلية)।

৪. অবারিত জনস্বার্থ (مصالح مرسلة) বা কল্যাণ বিবেচনা (استصلاح), যা আমাদের এই আলোচনার মূল বিষয়। সূক্ষ্ম গবেষণা, ব্যাপক পরিধি এবং প্রতিনিয়ত প্রয়োজনীয়তার কারণে এই মূলনীতিটি আসলে অত্যন্ত সংবেদনশীল।

জনস্বার্থের দাবির মধ্যেই বিপত্তি লুকিয়ে থাকে, কারণ এটি একটি সাধারণ দাবি এবং প্রত্যেকেই তার নিজস্ব মতের পক্ষে জনস্বার্থের দোহাই দেয় … কোনো গবেষণাকারী (مجتهد) এমন কোনো বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছান না যেখানে কোনো সরাসরি স্পষ্ট বিধান (نص) নেই, বরং তিনি দাবি করেন যে তিনি জনস্বার্থ রক্ষার্থেই এমনটি করেছেন।

কিন্তু তাঁরা কোন ধরণের স্বার্থের কথা বলছেন? ব্যক্তিগত মানবীয় স্বার্থ একটি আপেক্ষিক বিষয় এবং প্রত্যেকেই নিজের মতের অনুকূলে এর দাবি করে থাকে … আর এখান থেকেই বিপত্তির সৃষ্টি।

তবে প্রকৃত স্বার্থ হলো শরীয়তসম্মত স্বার্থ (مصلحة شرعية), যা শরীয়তের পদ্ধতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
(খণ্ড: ১) আল-মাসালিহুল মুরসালাহ - ত জামিয়াতুল ইসলামিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
في عمومه وإطلاقه، لا خاصة ولا نسبية … فهي التي يشهد لها الشرع الذي جاء لتحقيق مصالح جميع العباد، ومراعاة جميع الوجوه، لأن الشرع لا يقر مصلحة تتضمن مفسدة مساوية لها أو راجحة عليها ظهر أمرها أو خفي على باحثها، لأن الشارع حكيم عليم …

كما أن المصلحة الشرعية تراعي أمر الدنيا والآخرة معاً، فلا تعتبر مصلحة دنيوية إذا كانت تستوجب عقوبة أخروية …

وفي هذا يكمن الفرق الأساسي بين المصلحة عند القانونيين الذين يقولون: حيثما وجدت المصلحة فثم شرع الله. وبين الأصوليين الشرعيين الذين يصدق على منهجهم أنه حيثما وجد الشرع فثم مصلحة العباد.

فإذا لم يوجد نص للشرع اجتهد العالم في النازلة ليرى هل هي محققة لمصلحة مما جاء الشرع لتحقيقها في العقيدة أو النفس أو المال أو العرض أو النسب … وأنها خالية من مفسدة تضر ببعض هذه الضرورات أم لا …

وقد وضعت في ذلك الكتب المستقلة.

وإنه ما من مؤلف في أصول الفقه إلا وفيه بحث مستقل للمصلحة.

والقارئ الكريم في حاجة إلى خلاصة موجزة، وفكرة ناضجة من عالم محقق وإمام مدقق، هضم الفن واستوعبه، يُطمئن إليه، ويُركن إلى قوله. وهذا ما منحه الله تعالى لمؤلف هذه الرسالة فضيلة والدنا وشيخنا الشيخ محمد الأمين الشنقيطي رحمه الله، وقد استقل بتدريس أصول الفقه منذ مجيئه إلى المملكة حوالي الثلاثين سنة تقريباً، وله فيه المؤلفات والمباحث والمذكرات الدراسية الجامعية، حتى كان إماما فذا، ومرجعاً معتمداً، وأستاذا لهذه النهضة العلمية كلها التي تشهدها المملكة في أصول الفقه …

ولكي يعرفه من لم يلقه، فإني أقدم موجزاً عن حياته رحمه الله إسعافاً للقارئ وتقديماً للرسالة:
এর ব্যাপকতা ও সাধারণত্বের (إطلاق) ক্ষেত্রে, এটি বিশেষ বা আপেক্ষিক (نسبية) নয় … বরং এটি এমন যা শরিয়ত দ্বারা স্বীকৃত, যা সকল বান্দার কল্যাণ (مصالح) সাধন এবং সকল দিক বিবেচনা করার জন্য এসেছে। কারণ শরিয়ত এমন কোনো জনকল্যাণকে (مصلحة) স্বীকৃতি দেয় না যা তার সমপরিমাণ বা তার চেয়ে প্রবল কোনো অনিষ্টের (مفسدة) অন্তর্ভুক্ত, চাই তার বিষয়টি প্রকাশ্য হোক বা গবেষকের কাছে গোপন থাকুক; কেননা বিধানদাতা (الشارع) প্রজ্ঞাবান ও সর্বজ্ঞ …

তেমনিভাবে শরয়ি (شرعية) জনকল্যাণ (المصلحة) দুনিয়া ও আখিরাত—উভয় বিষয়কে একত্রে বিবেচনা করে। সুতরাং কোনো পার্থিব ফায়দাকে জনকল্যাণ (مصلحة) হিসেবে গণ্য করা হবে না যদি তা পরকালীন শাস্তির কারণ হয় …

আর এখানেই আইনবিদদের জনকল্যাণ (المصلحة) সংক্রান্ত ধারণার সাথে মৌলিক পার্থক্য বিদ্যমান, যারা বলেন: "যেখানেই জনকল্যাণ (المصلحة) পাওয়া যায়, সেখানেই আল্লাহর শরিয়ত বিদ্যমান।" পক্ষান্তরে শরিয়তপন্থী উসুলবিদদের (الأصوليين) মানহাজ হলো: "যেখানেই শরিয়ত বিদ্যমান, সেখানেই বান্দার কল্যাণ (مصلحة) নিহিত।"

সুতরাং শরিয়তের কোনো সুস্পষ্ট নস (نص) পাওয়া না গেলে আলেম বা বিজ্ঞ ব্যক্তি নতুন উদ্ভূত সমস্যায় (النازلة) ইজতিহাদ (اجتهد) করবেন, যাতে দেখা যায় যে তা শরিয়ত কর্তৃক নির্ধারিত আকিদা, জীবন, সম্পদ, সম্মান বা বংশমর্যাদা রক্ষার কোনো জনকল্যাণ (مصلحة) সাধন করছে কি না … এবং তা এই মৌলিক প্রয়োজনীয় বিষয়গুলোর (الضرورات) কোনোটির ক্ষতি করে এমন অনিষ্ট (مفسدة) থেকে মুক্ত কি না …

এ বিষয়ে স্বতন্ত্র গ্রন্থাবলি রচিত হয়েছে।

বস্তুত উসুল আল-ফিকহ (أصول الفقه)-এর এমন কোনো লেখক নেই যার কিতাবে জনকল্যাণ (المصلحة) নিয়ে স্বতন্ত্র গবেষণা নেই।

সম্মানিত পাঠকের জন্য প্রয়োজন একজন গবেষক (محقق) আলেম ও সূক্ষ্মদর্শী ইমামের (إمام مدقق) পক্ষ থেকে একটি সংক্ষিপ্ত সারমর্ম ও পরিপক্ক ধারণা, যিনি এই শাস্ত্রকে গভীরভাবে আত্মস্থ ও আয়ত্ত করেছেন, যার ওপর পূর্ণ আস্থা রাখা যায় এবং যার বক্তব্যের ওপর নির্ভর করা যায়। আর এটিই আল্লাহ তাআলা এই রিসালার লেখক, আমাদের পরম শ্রদ্ধেয় পিতা ও শাইখ, শাইখ মুহাম্মদ আল-আমিন আশ-শানকীতি (রহিমাহুল্লাহ)-কে দান করেছেন। তিনি এই রাজ্যে আসার পর থেকে প্রায় ত্রিশ বছর যাবৎ উসুল আল-ফিকহ (أصول الفقه) পাঠদানে নিবেদিত ছিলেন। এই বিষয়ে তাঁর বহু গ্রন্থ, গবেষণা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্য নোট রয়েছে। এমনকি তিনি একজন অদ্বিতীয় ইমাম, নির্ভরযোগ্য (معتمد) মারজা বা আশ্রয়স্থল এবং এই রাজ্যে উসুল আল-ফিকহ (أصول الفقه)-এর বর্তমান জ্ঞানতাত্ত্বিক জাগরণের শিক্ষক হিসেবে গণ্য হন …

যারা তাঁর সাক্ষাত পাননি, তাদের পরিচয়ের সুবিধার্থে এবং এই রিসালার ভূমিকা হিসেবে আমি পাঠকদের জন্য তাঁর জীবনীর একটি সংক্ষিপ্ত সারমর্ম পেশ করছি:
(খণ্ড: ১) আল-মাসালিহুল মুরসালাহ - ত জামিয়াতুল ইসলামিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
بسم الله الرحمن الرحيم

‌‌المصالح المرسلة

محاضرة أملاها فضيلة الشيخ محمد الأمين الشنقيطي رحمه الله

وهي ضمن محاضرات الموسم الثقافي للجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة لعام 1390هـ

قال رحمه الله

اعلم أولا أن المصالح التي عليها مدار التشريع السماوي ثلاث:

الأولى منها: ردء المفاسد، وهي المعروف عند الأصوليين بالضروريات.

والثانية: جلب المصالح وهو المعروف عند الأصوليين بالحاجيات.

والثالثة: الجري على مكارم الأخلاق، وأحسن العادات، وهو المعروف عند الأصوليين بالتحسينيات، والتتميميات، وكل واحدة من هذه المصالح الثلاث قد تكون مرسلة وغير مرسلة.

وإذا علمت ذلك فاعلم أن الوصف من حيث هو وصف لا يخلو من واحدة من ثلاث حالات لا رابع لها:

الأولى: أن تكون إناطة الحكم بذلك الوصف تتضمن إحدى المصالح الثلاث المذكورة آنفاً.

الثانية: أن تكون إناطة بالحكم بذلك الوصف لا تتضمن مصلحة أصلاً لا بالذات ولا بالتتبع أعني الاستلزام.

الثالثة: أن تكون إناطة الحكم بذلك الوصف لا تتضمن مصلحة
বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম

‌‌জনকল্যাণ (المصالح المرسلة)

এটি শায়খ মুহাম্মদ আল-আমিন আশ-শানকিতী (রহিমাহুল্লাহ)-এর প্রদানকৃত একটি বক্তৃতা

এটি ১৩৯০ হিজরি সনে মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক মৌসুমের বক্তৃতামালার অন্তর্ভুক্ত

তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন

প্রথমেই জেনে রাখুন যে, আসমানি শারিয়াতের ভিত্তি হলো তিন প্রকারের জনকল্যাণ (المصالح):

প্রথমটি হলো: অপকারিতা দূর করা, যা উসুলবিদদের (الأصوليين) নিকট মৌলিক প্রয়োজন (الضروريات) হিসেবে পরিচিত।

দ্বিতীয়টি হলো: কল্যাণ বয়ে আনা, যা উসুলবিদদের (الأصوليين) নিকট সাধারণ প্রয়োজন (الحاجيات) হিসেবে পরিচিত।

তৃতীয়টি হলো: উন্নত চরিত্র ও সর্বোত্তম অভ্যাসের চর্চা করা, যা উসুলবিদদের (الأصوليين) নিকট সৌন্দর্যবর্ধক (التحسينيات) এবং পরিপূরক (التتميميات) বিষয় হিসেবে পরিচিত। এই তিন প্রকার কল্যাণের (المصالح) প্রত্যেকটি কখনো মুক্ত (مرسلة) হতে পারে আবার কখনো সীমাবদ্ধ (غير مرسلة) হতে পারে।

আপনি যখন এটি জানলেন, তখন জেনে রাখুন যে, কোনো বৈশিষ্ট্য (الوصف) যখন বৈশিষ্ট্য হিসেবে বিবেচিত হয়, তখন সেটি তিনটি অবস্থার একটি থেকে খালি থাকে না, যার চতুর্থ কোনো অবস্থা নেই:

প্রথম: সেই বৈশিষ্ট্যের (الوصف) সাথে বিধানের (الحكم) সংশ্লিষ্টতা উপরোক্ত তিন প্রকার কল্যাণের (المصالح) কোনো একটিকে অন্তর্ভুক্ত করে।

দ্বিতীয়: সেই বৈশিষ্ট্যের (الوصف) সাথে বিধানের (الحكم) সংশ্লিষ্টতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বা আনুষঙ্গিক কোনোভাবেই কোনো কল্যাণকে (مصلحة) অন্তর্ভুক্ত করে না।

তৃতীয়: সেই বৈশিষ্ট্যের (الوصف) সাথে বিধানের (الحكم) সংশ্লিষ্টতা কোনো কল্যাণকে (مصلحة) অন্তর্ভুক্ত করে না।
(খণ্ড: ১) আল-মাসালিহুল মুরসালাহ - ত জামিয়াতুল ইসলামিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
بالذات ولكنها تتضمنها بالتتبع، أي الاستلزام، فإن كانت إناطة الحكم به تتضمن إحدى المصالح الثلاثة المذكورة فهو المعروف عند الأصوليين بالوصف المناسب.

كإناطة تحريم الخمر بالإسكار فإنها تتضمن مصلحة حفظ العقل، ودرء المفسدة عن العقل من الضروريات كما هو معلوم.

وإن كانت إناطة الحكم به لا تتضمن مصلحة أصلا لا بالذات ولا بالتتبع فهو المعروف في الاصطلاح بالوصف الطردي، ولا يصح التعليل به إجماعاً.

واعلم أن الوصف الطردي الذي لا مناسبة فيه ولا تتضمن إناطة الحكم به مصلحة أصلاً ينقسم إلى قسمين:

1ـ أحدهما: أن يكون طردياً في جميع أحكام الشرع كالطول والقصر، فإنك لا تجد حكماً من أحكام الشرع معللا بالطول أو القصر، لأن إناطة الحكم بذلك خالية من المصلحة أصلاً.

2ـ الثاني منهما: أن يكون الوصف طردياً في بعض الأحكام دون بعض كالذكورة والأنوثة بالنسبة إلى العتق، فإن أحكام العتق لا ترى شيئاً منها يناط بخصوص الذكورة أو الأنوثة فهما طرديان بالنسبة إلى العتق، مع أن الذكورة والأنوثة غير طرديين في أحكام أخرى غير العتق كالميراث لقوله تعالى: {فَلِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الأُنْثَيَيْنِ} وكالشهادة لقوله تعالى: {فَإِنْ لَمْ يَكُونَا رَجُلَيْنِ فَرَجُلٌ وَامْرَأَتَانِ مِمَّنْ تَرْضَوْنَ مِنَ الشُّهَدَاءِ} إلى غير ذلك من الأحكام التي تعتبر فيها الذكورة والأنوثة غير العتق. وإن كانت إناطة الحكم به لا تتضمن مصلحة بالذات ولكنها تستلزمها بالتتبع فذلك الوصف هو الجامع بين الأصل والفرع في نوع
সরাসরি নয় বরং পরোক্ষভাবে, অর্থাৎ অপরিহার্যতার ভিত্তিতে তা অন্তর্ভুক্ত করে। সুতরাং যদি কোনো বিধানের সংশ্লিষ্টতা উল্লিখিত তিনটি কল্যাণের কোনো একটিকে অন্তর্ভুক্ত করে, তবে উসুলবিদগণের (الأصوليين) নিকট তা উপযুক্ত বৈশিষ্ট্য (الوصف المناسب) হিসেবে পরিচিত।

যেমন মদ্যপান নিষিদ্ধ হওয়ার বিধানকে মাতলামির সাথে সংশ্লিষ্ট করা; কারণ এটি বিবেক সংরক্ষণের কল্যাণকে অন্তর্ভুক্ত করে। আর বিবেক থেকে ক্ষতি দূর করা যে অপরিহার্য বিষয়সমূহের (الضروريات) অন্তর্ভুক্ত, তা সর্বজনবিদিত।

আর যদি কোনো বিধানের সংশ্লিষ্টতা সরাসরি বা পরোক্ষ কোনোভাবেই কোনো কল্যাণকে অন্তর্ভুক্ত না করে, তবে পারিভাষিক অর্থে তা আকস্মিক বৈশিষ্ট্য (الوصف الطردي) হিসেবে পরিচিত। সর্বসম্মতিক্রমে (إجماعاً) এর মাধ্যমে কারণ দর্শানো (التعليل) সঠিক নয়।

জেনে রাখুন যে, আকস্মিক বৈশিষ্ট্য (الوصف الطردي) যার মধ্যে কোনো উপযুক্ততা নেই এবং যার সাথে বিধানের সংশ্লিষ্টতা কোনো কল্যাণ বয়ে আনে না, তা দুই ভাগে বিভক্ত:

১. প্রথমটি হলো: যা শররিয়তের সকল বিধানের ক্ষেত্রেই আকস্মিক বা প্রাসঙ্গিকতাহীন, যেমন লম্বা হওয়া বা খাটো হওয়া। শররিয়তের বিধানসমূহের মধ্যে এমন কোনো বিধান আপনি পাবেন না যা লম্বা বা খাটো হওয়ার কারণে সাব্যস্ত (علل) হয়েছে। কারণ এর সাথে বিধানকে সংশ্লিষ্ট করার মধ্যে আদতেই কোনো কল্যাণ নেই।

২. দ্বিতীয়টি হলো: যা কিছু বিধানের ক্ষেত্রে আকস্মিক বা অপ্রাসঙ্গিক কিন্তু অন্য ক্ষেত্রে নয়। যেমন দাসমুক্তির ক্ষেত্রে পুরুষত্ব বা নারীত্ব। দাসমুক্তির বিধানসমূহের মধ্যে এমন কিছু দেখা যায় না যা বিশেষভাবে পুরুষ বা নারী হওয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট। সুতরাং দাসমুক্তির ক্ষেত্রে এই দুটি বৈশিষ্ট্য আকস্মিক (طردي)। অথচ দাসমুক্তি ব্যতীত অন্যান্য বিধানে যেমন উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ হওয়া আকস্মিক নয়; আল্লাহ তাআলার বাণীর কারণে: "একজন পুরুষের অংশ দুইজন নারীর অংশের সমান।" অনুরূপভাবে সাক্ষ্য প্রদানের ক্ষেত্রেও, আল্লাহ তাআলার বাণীর কারণে: "অতঃপর যদি দুইজন পুরুষ না থাকে, তবে একজন পুরুষ ও দুইজন নারী, যাদেরকে তোমরা সাক্ষী হিসেবে পছন্দ করো।" এছাড়া আরও অনেক বিধান রয়েছে যেখানে দাসমুক্তি ব্যতীত অন্য ক্ষেত্রে পুরুষত্ব ও নারীত্বের বিষয়টি বিবেচনা করা হয়। আর যদি বিধানের সংশ্লিষ্টতা সরাসরি কোনো কল্যাণ অন্তর্ভুক্ত না করে কিন্তু পরোক্ষভাবে তা আবশ্যক করে, তবে সেই বৈশিষ্ট্যটিই হলো মূল (الأصل) ও শাখার (الفرع) মধ্যে সমন্বয়কারী প্রকারের অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১) আল-মাসালিহুল মুরসালাহ - ত জামিয়াতুল ইসলামিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
القياس المسمى بقياس الشبه على ما حرره جماعة من الأصوليين منهم القاضي أبو بكر الباقلاني، والقرافي، وزادوا على ما ذكر كون الشرع قد شهد بتأثير جنس ذلك الوصف القريب في جنس ذلك الحكم القريب يعنون أنه لا يكتفي بالجنس البعيد في ذلك.

ومثاله قولهم: الخل مائع لا تبنى على جنسه القنطرة، ولا يصاد من جنسه السمك فلا تصح الطهارة به قياساً على الدهن. فقولهم لا تبنى القنطرة على جنسه ولا يصاد من جنسه السمك ليس مناسباً في ذاته، لأن عدم بناء القنطرة عليه وعدم صيد السمك منه بالنظر إلى ذات تلك الأوصاف فهي أوصاف طردية بالنسبة إلى الطهارة وعدمها ولكنها مستلزمة للمناسب. قال القرافي في شرح التنقيح: "فإن العادة أن القنطرة لا تبنى على الأشياء القليلة بل على الكثيرة كالأنهار، فالقلة مناسبة لعدم مشروعية المتصف بها من المائعات للطهارة العامة، فإن الشرع العام يقتضي أن تكون أسبابه عامة الوجود، أما تكليف الكل بما لا يجده إلا البعض فبعيد عن القواعد فصار قولهم لا تبنى القنطرة على جنسه ولا يصاد من جنسه السمك ليس بمناسب وهو مستلزم للمناسب، وقد شهد الشرع بتأثير جنس القلة والتعذر في عدم مشروعية الطهارة بدليل أن الماء إذا قل واشتدت إليه الحاجة فإنه يسقط الأمر به وينتقل إلى التيمم"، بواسطة نقل "نشر البنود".

وإذا علمت بما ذكرنا انقسام الوصف باعتبار تضمنه المصلحة وعدمها إلى مناسب وطردي، وشبهي، فاعلم أن الوصف المناسب الذي هو المقصود بالكلام ينقسم إلى ثلاثة أقسام: واحد منها صادق بصورتين فيصير مجموع الصور أربعاً وإيضاح ذلك: أن المصلحة التي تضمنها الوصف فصار مناسبا بسبب تضمنها لها تنقسم إلى ثلاث حالات لا
'সাদৃশ্যমূলক কিয়াস' (قياس الشبه) নামে পরিচিত কিয়াস হলো এমন একটি পদ্ধতি যা একদল মূলনীতিবিদের (الأصوليين) গবেষণায় উঠে এসেছে, যাদের মধ্যে রয়েছেন কাজী আবু বকর আল-বাকিল্লানি এবং আল-কারাফি। তারা উল্লেখিত বিষয়ের সাথে আরও যোগ করেছেন যে, শরিয়ত সাক্ষ্য দিয়েছে যে সেই নিকটবর্তী বৈশিষ্ট্যের (الوصف) সমগোত্রীয় প্রভাব সেই নিকটবর্তী বিধানের (الحكم) সমগোত্রীয় বিষয়ের ওপর কার্যকর হয়। এর মাধ্যমে তারা বোঝাতে চেয়েছেন যে, এক্ষেত্রে দূরবর্তী কোনো সমগোত্রীয়তা (الجنس البعيد) যথেষ্ট নয়।

এর উদাহরণ হলো তাদের এই বক্তব্য: 'সিরকা এমন এক তরল পদার্থ যার সমজাতীয় পদার্থের ওপর সেতু (القنطرة) নির্মাণ করা হয় না এবং তার সমজাতীয় পদার্থ থেকে মাছও শিকার করা হয় না; অতএব তেলের সাথে তুলনা (قياساً) করে এটি দ্বারা পবিত্রতা অর্জন (الطهارة) বৈধ হবে না।' তাদের এই কথা—'এর সমজাতীয় পদার্থের ওপর সেতু নির্মাণ করা হয় না এবং এর থেকে মাছ শিকার করা হয় না'—তা স্বীয় সত্তাগতভাবে উপযুক্ত (مناسباً) নয়। কারণ, সেতু নির্মাণ না করা এবং মাছ শিকার না করা—এই বৈশিষ্ট্যগুলোর (الأوصاف) সত্তার দিকে তাকালে এগুলো পবিত্রতা অর্জন বা বর্জনের ক্ষেত্রে নিছক অসংলগ্ন বৈশিষ্ট্য (أوصاف طردية); তবে এগুলো উপযুক্ত (للمناسب) বিষয়ের জন্য আবশ্যিক। আল-কারাফি 'শারহুত তানকিহ' গ্রন্থে বলেছেন: "স্বাভাবিক নিয়ম হলো, সেতু অল্প কোনো জিনিসের ওপর নয়, বরং নদীর মতো বিশাল জিনিসের ওপর নির্মাণ করা হয়। সুতরাং 'স্বল্পতা' বিষয়টি এমন তরল পদার্থের ক্ষেত্রে সাধারণ পবিত্রতা অর্জনের বিধান শরিয়তসম্মত না হওয়ার জন্য উপযুক্ত (مناسبة)। কেননা, সাধারণ শরিয়তের দাবি হলো এর উপকরণগুলো যেন সহজলভ্য বা সাধারণ অস্তিত্বসম্পন্ন হয়। কিন্তু সকলকে এমন কিছুর বিধান প্রদান করা যা কেবল অল্প কিছু লোক খুঁজে পায়, তা মূলনীতির পরিপন্থী। সুতরাং তাদের এই কথা—'সেতু নির্মাণ করা হয় না এবং মাছ শিকার করা হয় না'—নিজে উপযুক্ত (مناسب) নয়, তবে তা উপযুক্ত (للمناسب) বিষয়কে আবশ্যক করে। আর শরিয়ত স্বল্পতা (القلة) এবং অপারগতার (التعذر) সমজাতীয় প্রভাবকে পবিত্রতা অর্জনের বিধান না থাকার ক্ষেত্রে স্বীকৃতি দিয়েছে। এর প্রমাণ হলো, পানি যখন কমে যায় এবং এর প্রয়োজনীয়তা তীব্র হয়, তখন পানির বিধান রহিত হয়ে যায় এবং তা তায়াম্মুমে (التيمম) স্থানান্তরিত হয়।" এটি 'নাশরাল বুনুদ' গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃত।

আমরা যা উল্লেখ করেছি তা থেকে যখন আপনি জানলেন যে, কল্যাণ (المصلحة) থাকা বা না থাকার বিবেচনায় বৈশিষ্ট্যটি (الوصف) উপযুক্ত (مناسب), অসংলগ্ন (طردي) এবং সাদৃশ্যপূর্ণ (شبهي) এই তিন ভাগে বিভক্ত, তখন জেনে রাখুন যে, উপযুক্ত বৈশিষ্ট্য (الوصف المناسب) যা আলোচনার মূল উদ্দেশ্য, তা তিন ভাগে বিভক্ত। এর মধ্যে একটির দুটি রূপ রয়েছে, ফলে মোট রূপের সংখ্যা দাঁড়ায় চারটি। এর ব্যাখ্যা হলো: বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত যে কল্যাণের (المصلحة) কারণে তা উপযুক্ত (مناسبا) হয়েছে, তা তিন অবস্থায় বিভক্ত...
(খণ্ড: ১) আল-মাসালিহুল মুরসালাহ - ত জামিয়াতুল ইসলামিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
رابعة لها:

الأولى: أن يدل دليل خاص من الشرع على اعتبار تلك المصلحة وعدم إهدارها كالإسكار إلى تحريم الخمر، والصغر بالنسبة إلى الولاية على المال.

الثانية: أن يدل دليل خاص على إهدارها وعدم اعتبارها، كما لو ظاهر "الملك" من امرأته، فمصلحة الزجر والردع في تخصيص تكفيره بالصوم لأن الصوم هو الذي يردعه عن العود إلى مثل ذلك، أما الإعتاق والإطعام فهو أسهل شيء على الملوك لأنهم لا يبالون به لخفته عليهم، ولكن الشرع الكريم ألغى هذه المصلحة وأهدرها، كما قال تعالى: {ثُمَّ يَعُودُونَ لِمَا قَالُوا فَتَحْرِيرُ رَقَبَةٍِ} ..

واعلم أن الشرع الكريم لا يلغي اعتبار مصلحة ويحكم بإهدارها إلا لتحصيل مصلحة أخرى أهم في نظر الشرع منها، لأن عتق الرقبة وإخراجها من الرق أهم في نظر الشرع من التضييق على "الملك" بالصوم لينزجر بالتكفير بذلك.

الثالثة: هي أن لا يدل دليل (خاص) على اعتبار مناسبة ذلك الوصف ولا على إهدارها.

فإن دل الدليل الخاص على اعتبار تلك المصلحة فهو المعروف بـ:"المؤثر"، و"الملائم"، وإن دل الدليل الخاص على إهدار تلك المصلحة فهو المعروف عند أكثر أهل الأصول بالغريب، وإن لم يدل الدليل الخاص على اعتبارها ولا على إهدارها فهي المصلحة المرسلة، وإنما قيل لها مصلحة لأن المفروض تضمن الوصف المذكور لإحدى المصالح الثلاث
এর চতুর্থ প্রকার হলো:

প্রথমত: শরিয়তের কোনো বিশেষ দলিল যদি সেই জনস্বার্থের (المصلحة) গ্রহণযোগ্যতা নির্দেশ করে এবং তা বাতিল না করার প্রমাণ দেয়; যেমন—মদ হারাম হওয়ার কারণ হিসেবে মাদকতা এবং সম্পদের ওপর অভিভাবকত্ব লাভের কারণ হিসেবে অপ্রাপ্তবয়স্কতা।

দ্বিতীয়ত: কোনো বিশেষ দলিল যদি সেই স্বার্থটি বাতিল করা এবং অগ্রহণযোগ্য হওয়ার নির্দেশ দেয়। যেমন—কোনো 'বাদশাহ' যদি তার স্ত্রীর সাথে যিহার (ظاهر) করেন, তবে তাকে শাস্তিস্বরূপ এবং নিবৃত্ত করার জন্য জনস্বার্থের (مصلحة) দাবি হলো কাফফারা হিসেবে কেবল রোজা রাখাকে নির্দিষ্ট করা। কারণ, এই রোজাই তাকে এ ধরনের কাজের পুনরাবৃত্তি থেকে বিরত রাখবে। পক্ষান্তরে, দাস মুক্ত করা বা খাবার খাওয়ানো বাদশাহদের জন্য অত্যন্ত সহজ কাজ, কারণ তারা তাদের ধন-সম্পদের প্রাচুর্যের কারণে একে কোনো গুরুত্বই দেবে না। কিন্তু মহান শরিয়ত এই জনস্বার্থকে (المصلحة) বাতিল ও অগ্রাহ্য ঘোষণা করেছে, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "অতঃপর তারা যা বলেছে তার পুনরাবৃত্তি করলে একটি দাস মুক্ত করতে হবে..."

জেনে রাখুন যে, মহান শরিয়ত কোনো জনস্বার্থের (مصلحة) গ্রহণযোগ্যতাকে বাতিল করে না এবং তা অগ্রাহ্য করার ফয়সালা দেয় না, যদি না শরিয়তের দৃষ্টিতে এর চেয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ অন্য কোনো জনস্বার্থ (مصلحة) অর্জন করা উদ্দেশ্য হয়। কেননা দাসত্ব থেকে মুক্তি দেওয়া শরিয়তের দৃষ্টিতে বাদশাহকে রোজার মাধ্যমে সংকীর্ণতায় ফেলে তাকে কাফফারার মাধ্যমে নিবৃত্ত করার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

তৃতীয়ত: সেই গুণের উপযুক্ততার (مناسبة) গ্রহণযোগ্যতার ওপর অথবা তা বাতিলের ওপর কোনো বিশেষ দলিল না থাকা।

যদি বিশেষ দলিল সেই জনস্বার্থের (المصلحة) গ্রহণযোগ্যতার ওপর প্রমাণ বহন করে, তবে তা 'প্রভাবশালী' (المؤثر) এবং 'সামঞ্জস্যপূর্ণ' (الملائم) হিসেবে পরিচিত। আর যদি বিশেষ দলিল সেই জনস্বার্থকে (المصلحة) বাতিল করার ওপর প্রমাণ বহন করে, তবে অধিকাংশ উসুলবিদদের (أهل الأصول) নিকট তা 'অপরিচিত' (الغريب) হিসেবে পরিচিত। আর যদি কোনো বিশেষ দলিল এর গ্রহণযোগ্যতা বা বাতিলের ওপর কোনো প্রমাণ না দেয়, তবে সেটিই হলো অবারিত জনস্বার্থ (المصلحة المرسلة)। একে জনস্বার্থ (مصلحة) বলা হয়েছে কারণ ধরে নেওয়া হয় যে, উল্লিখিত গুণটি বর্ণিত তিন ধরনের স্বার্থের কোনো একটিকে অন্তর্ভুক্ত করে।
(খণ্ড: ১) আল-মাসালিহুল মুরসালাহ - ত জামিয়াতুল ইসলামিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
وإنما قيل لها مرسلة لإرسالها أي إطلاقها عن دليل خاص يقيد ذلك الوصف بالاعتبار أو بالإهدار، وتسمى: "المرسل"، و"المصالح المرسلة"، و"الاستصلاح"، وسيأتي إن شاء الله كلام أهل العلم فيها.

اعلم أولا أن بعض العلماء شنع على مالك بن أنس رحمه الله في الأخذ بالمصالح المرسلة تشنيعاً شديداً، كأبي المعالي الجويني ومن وافقه فعابوا مالكاً بأنه يحكم بضرب المتهم ليقر بالسرقة مثلاً، وقالوا: لا شك أن ترك مذنب أهون من إهانة برئ، وزعموا أنه يجيز قتل ثلث الأمة لإصلاح الثلثين وأنه يبيح قطع الأعضاء في التعزيرات، وقال بعضهم العمل بالمصالح المرسلة تشريع جديد لعدم استناد المصالح المرسلة إلى نص خاص من كتاب أو سنة وسنذكر أولا حجة مالك المتضمنة الجواب عما قيل عنه، ثم نذكر بعد ذلك ما يحتاج إليه من الكلام على المصالح المرسلة وموقف أهل المذاهب وأصحابهم منها. أما دعواهم على مالك أنه يجيز قتل ثلث الأمة لإصلاح الثلثين وأنه يجيز قطع الأعضاء في التعزيرات فهي دعوى باطلة لم يقلها مالك ولم يروها عنه أحد من أصحابه، ولا توجد في شيء من كتب مذهبه كما حققه القرافي، ومحمد بن الحسن البناني وغيرهما، وقد درسنا مذهب مالك زمناً طويلاً وعرفنا أن تلك الدعوى باطلة.

أما حكمه بضرب المتهم ليقر بالسرقة فهو صحيح عن مالك كما عقده ابن عاصم في تحفته بقوله:

وإن تكن دعوى على من يتهم … فمالك بالسجن والضرب حكم

ومالك لا يجيز ضرب المتهم إلا إذا ثبتت عليه الخيانة قبل ذلك ثبوتاً لا مطعن فيه فثبوت كونه خائناً رجح عنده طرف الاحتياط للمال ليقر به، أما الذي لم يثبت عليه الخيانة سابقاً فلم يقل بضربه ليقر.

وثبوت الخيانة له أثره في الشرع، فمن قذف من ثبت عليها الزنا لا يُحد بدليل قوله تعالى: {وَالَّذِينَ يَرْمُونَ الْمُحْصَنَاتِ} .. فمفهوم
এগুলোকে বিমুক্ত (مرسلة) বলা হয়েছে কারণ এগুলো এমন কোনো নির্দিষ্ট দলিল হতে মুক্ত বা স্বাধীন যা এই বৈশিষ্ট্যকে গ্রহণযোগ্যতা বা বর্জনের মাধ্যমে সীমাবদ্ধ করে। একে 'বিমুক্ত' (المرسل), 'বিমুক্ত জনকল্যাণ' (المصالح المرسلة) এবং 'জনকল্যাণ অনুসন্ধান' (الاستصلاح) বলা হয়। ইনশাআল্লাহ, এ বিষয়ে আলেমগণের বক্তব্য সামনে আসবে।

প্রথমত জেনে রাখুন যে, কিছু আলেম 'বিমুক্ত জনকল্যাণ' (المصالح المرسلة) গ্রহণ করার কারণে মালিক ইবনে আনাস (রাহিমাহুল্লাহ)-এর কঠোর সমালোচনা করেছেন। যেমন আবুল মাআলি আল-জুওয়াইনি এবং যারা তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন। তাঁরা মালিকের সমালোচনা করে বলেন যে, তিনি চুরির স্বীকৃতি আদায়ের জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তিকে প্রহার করার বিধান দিয়েছেন। তাঁরা বলেন: এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, একজন নিরপরাধকে লাঞ্ছিত করার চেয়ে একজন অপরাধীকে ছেড়ে দেওয়া অধিকতর সহজ। তাঁরা আরও দাবি করেন যে, তিনি উম্মাহর দুই-তৃতীয়াংশের সংশোধনের জন্য এক-তৃতীয়াংশকে হত্যা করা বৈধ মনে করেন এবং তিনি বিবেচনামূলক শাস্তির (تعزيرات) ক্ষেত্রে অঙ্গহানি করা বৈধ করেছেন। তাঁদের কেউ কেউ বলেছেন, 'বিমুক্ত জনকল্যাণ' (المصالح المرسلة) অনুযায়ী আমল করা একটি নতুন শরিয়ত প্রণয়ন (تشريع), কারণ 'বিমুক্ত জনকল্যাণ' (المصالح المرسلة)-এর ভিত্তি কিতাব বা সুন্নাহর কোনো সুনিশ্চিত পাঠের (نص) ওপর নেই। আমরা প্রথমে ইমাম মালিকের সেই যুক্তিগুলো উল্লেখ করব যা তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের জবাব বহন করে, এরপর আমরা 'বিমুক্ত জনকল্যাণ' (المصالح المرسلة) নিয়ে প্রয়োজনীয় আলোচনা এবং এ বিষয়ে বিভিন্ন মাযহাবের ইমাম ও তাঁদের অনুসারীদের অবস্থান তুলে ধরব। মালিকের বিরুদ্ধে তাঁদের এই দাবি যে, তিনি উম্মাহর দুই-তৃতীয়াংশের সংশোধনের জন্য এক-তৃতীয়াংশকে হত্যা করা এবং বিবেচনামূলক শাস্তির (تعزيرات) ক্ষেত্রে অঙ্গহানি করা বৈধ করেছেন—তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন দাবি। ইমাম মালিক এমন কথা বলেননি এবং তাঁর কোনো অনুসারীও তাঁর পক্ষ থেকে এমন কিছু বর্ণনা করেননি। আল-কারাফি, মুহাম্মদ বিন হাসান আল-বান্নানি এবং অন্যান্যরা যেমনটি প্রমাণ করেছেন, তাঁর মাযহাবের কোনো কিতাবেও এর অস্তিত্ব নেই। আমরা দীর্ঘকাল মালিকি মাযহাব অধ্যয়ন করেছি এবং জেনেছি যে, সেই দাবিটি ভিত্তিহীন।

তবে চুরির স্বীকৃতির জন্য অভিযুক্তকে প্রহার করার বিষয়ে তাঁর হুকুমটি ইমাম মালিক থেকে সহিহ (صحيح) সূত্রে প্রমাণিত, যেমনটি ইবন আসিম তাঁর তুহফা গ্রন্থে পঙক্তির আকারে উল্লেখ করেছেন:

আর যদি অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে দাবি উত্থাপিত হয় … তবে মালিক তাকে কারাবাস ও প্রহারের বিধান দিয়েছেন।

মালিক অভিযুক্তকে প্রহার করা বৈধ মনে করেন না, যতক্ষণ না তার বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতা (خيانة) বা অপরাধ প্রবণতা এমনভাবে প্রমাণিত হয় যাতে কোনো সংশয় থাকে না। তার খিয়ানতকারী হওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হলে ইমাম মালিকের নিকট সম্পদের হেফাজতের স্বার্থে সতর্কতামূলক দিকটি প্রাধান্য পায় যাতে সে অপরাধ স্বীকার করে। তবে যার খিয়ানত বা অপরাধ প্রবণতা পূর্বে প্রমাণিত হয়নি, স্বীকৃতির জন্য তাকে প্রহার করার কথা তিনি বলেননি।

শরয়ি বিধানে অপরাধ প্রবণতা সাব্যস্ত হওয়ার প্রভাব রয়েছে। সুতরাং যার ব্যভিচার প্রমাণিত হয়েছে, তাকে কেউ অপবাদ দিলে তার ওপর নির্ধারিত দণ্ড (حد) কার্যকর হয় না, যার দলিল মহান আল্লাহর বাণী: {আর যারা সচ্চরিত্রা নারীদের প্রতি অপবাদ আরোপ করে} .. সুতরাং এর মর্মার্থ (مفهوم) হলো...
(খণ্ড: ১) আল-মাসালিহুল মুরসালাহ - ত জামিয়াতুল ইসলামিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
قوله تعالى: {الْمُحْصَنَاتِ} أن الذين يرمون المحصنات لا تثبت عليهم تلك الأحكام المذكورة في قوله تعالى: {فَاجْلِدُوهُمْ ثَمَانِينَ جَلْدَةً … } الآية. قالوا: وفي بعض الروايات لحديث الإفك أن علياً ضرب بريرة لتخبر بالحقيقة عن عائشة، وضربه لها مصلحة مرسلة، ولم ينكر عليه صلى الله عليه وسلم.

وذكر ابن حجر أن رواية الضرب المذكورة جاءت من رواية أبي أوس وابن إسحاق، قلت: وقد ثبت في صحيح مسلم ما لفظه: "فانتهرها بعض أصحابه فقال: اصدقي رسول صلى الله عليه وسلم" الحديث، وبريرة مسلمة، وانتهراها من غير ذنب أذى لها بلا موجب، وأذى المسلم حرام وكان مستند من انتهرها هو مطلق المصلحة المرسلة، ولم ينكر النبي صلى الله عليه وسلم ذلك فهو تقرير منه للعمل بالمصلحة المرسلة في الجملة1.

واحتج مالك للعمل بالمصالح المرسلة بأن الصحابة كانوا يعملون بها من غير أن يخالف أحد، قال علماء المالكية ومن أمثلة ذلك:

نقط المصحف، وشكله، وكتابته، لأجل حفظه في الأوليين من التصحيف، وفي الثالث من الذهاب والنسيان، قالوا: ومن أمثلة ذلك حرق عثمان رضي الله عنه للمصاحف وجمع الناس على مصحف واحد خوف الاختلاف. قالوا: ومن أمثلة تولية أبي بكر لعمر لأنه لا مستند له فيها إلا المصلحة المرسلة على التحقيق، وقول بعضهم إنه من القياس خلاف الظاهر، يعنون قياس العهد على العقد.

وقالوا: ومنه ترك عمر الخلافة شورى بين ستة لأن النبي صلى الله عليه وسلم توفي وهو عنهم راض، وقالوا ومن أمثلة ذلك هدم عثمان وغيره الدور المجاورة للمسجد عند ضيق المسجد لأجل مصلحة توسعته.

--------------------------------------------

(1) وفي غزوة خيبر لما سأل النبي صلى الله عليه وسلم كنانة بن الربيع عن المال الذي خرج به من المدينة وهو كثير فقال كنانة قد أكلته الأيام فقال النبي صلى الله عليه وسلم المال كثير والزمن قليل ووكل أمره إلى الزبير بن العوام رضي الله عنه فحبسه فأقره بالمال من خربة كان قد دفنه فيها.
মহান আল্লাহর বাণী: {الْمُحْصَنَاتِ} (সতী-সাধ্বী নারীগণ) - নিশ্চয়ই যারা সতী-সাধ্বী নারীদের প্রতি অপবাদ আরোপ করে, তাদের ওপর সেই বিধানসমূহ প্রয়োগ হবে না যা মহান আল্লাহর এই বাণীতে উল্লিখিত হয়েছে: {তাদেরকে আশিটি বেত্রাঘাত করো...} আয়াত। তারা বলেন: ইফকের (অপবাদের) ঘটনার হাদিসের কোনো কোনো বর্ণনা (رواية)-তে এসেছে যে, আলী (রা.) বারীরা (রা.)-কে প্রহার করেছিলেন যাতে তিনি আয়েশা (রা.) সম্পর্কে প্রকৃত সত্য প্রকাশ করেন; আর তাঁর এই প্রহার করা ছিল জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট (مصلحة مرسلة) একটি বিষয়, এবং রাসূলুল্লাহ (সা.) এটি অস্বীকার করেননি।

ইবনে হাজার উল্লেখ করেছেন যে, উল্লিখিত প্রহারের বর্ণনা (رواية) টি আবু আউস এবং ইবনে ইসহাকের বর্ণনা (رواية) থেকে এসেছে। আমি বলি: সহিহ মুসলিমে এই শব্দাবলি সাব্যস্ত হয়েছে: "তাঁর কোনো কোনো সাহাবী তাকে ধমক দিলেন এবং বললেন: রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে সত্য বলো" - হাদিস। আর বারীরা (রা.) একজন মুসলিম নারী ছিলেন; কোনো কারণ ছাড়াই তাকে ধমক দেওয়া এবং কোনো অপরাধ ব্যতিরেকে তাকে কষ্ট দেওয়া হয়েছে, অথচ একজন মুসলিমকে কষ্ট দেওয়া হারাম। আর যে ব্যক্তি তাকে ধমক দিয়েছিলেন, তার ভিত্তি ছিল নিরঙ্কুশ জনস্বার্থ (مصلحة مرسلة); নবী (সা.) সেটি অস্বীকার করেননি, সুতরাং এটি তাঁর পক্ষ থেকে সামগ্রিকভাবে জনস্বার্থ (مصلحة مرسلة)-এর ওপর আমল করার একটি মৌন সম্মতি (تقرير)।

ইমাম মালেক জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট (المصالح المرسلة) বিষয়সমূহের ওপর আমল করার সপক্ষে এই যুক্তি পেশ করেছেন যে, সাহাবায়ে কেরাম কোনো প্রকার বিরোধিতা ছাড়াই এর ওপর আমল করতেন। মালিকি উলামায়ে কেরাম বলেন, এর উদাহরণসমূহের মধ্যে রয়েছে:

কুরআনের পাণ্ডুলিপিতে (মুসহাফে) নুকতা বা বিন্দু প্রদান, হরকত বা চিহ্ন প্রদান এবং তা লিপিবদ্ধ করা; যাতে প্রথম দুই ক্ষেত্রে তা বিকৃতি থেকে এবং তৃতীয় ক্ষেত্রে তা হারিয়ে যাওয়া ও বিস্মৃতি থেকে রক্ষা পায়। তারা বলেন: এর উদাহরণসমূহের মধ্যে আরও রয়েছে উসমান (রা.) কর্তৃক বিভিন্ন মুসহাফসমূহ পুড়িয়ে ফেলা এবং মতভেদ সৃষ্টির আশঙ্কায় মানুষকে একটিমাত্র মুসহাফের ওপর একত্রিত করা। তারা বলেন: এর আরেকটি উদাহরণ হলো আবু বকর (রা.) কর্তৃক ওমর (রা.)-কে স্থলাভিষিক্ত করা; কেননা প্রকৃত বিচারে (تحقيق) দেখা যায় যে, জনস্বার্থ (المصلحة المرسلة) ছাড়া এর অন্য কোনো ভিত্তি ছিল না। আর তাদের কেউ কেউ যে এটিকে কিয়াস (قياس) বলেছেন, তা স্পষ্ট প্রতীয়মান বিষয়ের পরিপন্থী; তারা এর মাধ্যমে উত্তরাধিকারের অঙ্গীকারকে চুক্তির ওপর কিয়াস (قياس) করা বুঝিয়েছেন।

তারা বলেন: এর মধ্যে আরও অন্তর্ভুক্ত হলো ওমর (রা.) কর্তৃক খেলাফতকে ছয়জনের মধ্যে পরামর্শভিত্তিক (شورى) করে রেখে যাওয়া, কারণ নবী (সা.) ইন্তেকাল করার সময় তাদের প্রতি সন্তুষ্ট ছিলেন। তারা বলেন: এর অন্যতম উদাহরণ হলো মসজিদের সংকীর্ণতার সময় মসজিদ সম্প্রসারণের জনস্বার্থ (مصلحة)-এর প্রয়োজনে উসমান (রা.) ও অন্যান্যদের কর্তৃক মসজিদের পার্শ্ববর্তী ঘরবাড়ি ভেঙে ফেলা।

--------------------------------------------

(১) খায়বার যুদ্ধে নবী (সা.) যখন কিনানা ইবনুর রাবি'কে সেই সম্পদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন যা সে মদিনা থেকে নিয়ে বেরিয়েছিল এবং যা ছিল প্রচুর; তখন কিনানা বলল: দিন অতিবাহিত হওয়ার সাথে সাথে তা শেষ হয়ে গেছে। তখন নবী (সা.) বললেন: সম্পদের পরিমাণ অনেক বেশি কিন্তু সময় তো অল্প। অতঃপর তিনি তার বিষয়টি জুবায়ের ইবনুল আওয়াম (রা.)-এর ওপর ন্যস্ত করলেন। তিনি তাকে আটক করলেন এবং সে একটি ধ্বংসস্তূপ থেকে সেই সম্পদের কথা স্বীকার করল যেখানে সে তা পুঁতে রেখেছিল।
(খণ্ড: ১) আল-মাসালিহুল মুরসালাহ - ত জামিয়াতুল ইসলামিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
قالوا ومن أمثلة ذلك زيادة عثمان لأحد الأذانين في الجمعة لكثرة الناس، قالوا: ومنها اشتراء عمر رضي الله عنه دار صفوان بن أمية واتخاذها سجنا لمعاقبة أهل الجرائم، وقالوا: السجن من العقوبات الشديدة، ولذا قرن بالعذاب الأليم في قوله تعالى: {إِلَاّ أَنْ يُسْجَنَ أَوْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} ، وقالوا: لم يكن في زمن رسول الله صلى الله عليه وسلم وأبي بكر سجن، فلما انتشرت الرعية ابتاع بمكة داراً وجعلها سجناً يسجن فيها، قالوا: وفيه دليل على جواز اتخاذ السجن، وقد سجن عمر الحطيئة على الهجو كما يدل له قوله:

ماذا تقول لأفراخ بذي مرخ … زغب الحواصل لا ماء ولا شجر

ألقيت كاسبهم في قعر مظلمة … فامنن عليك سلام الله يا عمر

وقد سجن عمر رضي الله عنه صبيغاً على سؤاله عن المتشابه، وسجن عثمان رضي الله عنه ضابيء بن حارثة، وكان من لصوص بني تميم، ومات في السجن، وقد حاول قتل عثمان وهو في سجنه كما يدل له قوله:

هممت ولم أفعل وكدت وليتني … تركت على عثمان تبكي حلائل

قالوا: وسجن علي رضي الله عنه في الكوفة، وسجن ابن الزبير في مكة، قالوا: ومن أمثلة ذلك تدوين الدواوين، لأن أول من دونها في الإسلام عمر رضي الله عنه ولم يتقدم فيه ولا في شيء مما ذكر قبله، ولا في نظيره أمر من الشارع، فكتابة عمر أسماء الجند في ديوان يعرف به الجند وتميز به أهل كل ناحية ويعرف به من تخلف ممن لم يتخلف وموافقة جميع الصحابة على ذلك من غير نكير لمجرد المصلحة المرسلة مع أنه ثبت في الصحيح أن النبي صلى الله عليه
তারা বলেছেন যে, এর উদাহরণগুলোর মধ্যে একটি হলো মানুষের আধিক্যের কারণে উসমান (রা.) কর্তৃক জুমার দিনে দুটি আজানের একটির সংযোজন। তারা আরও বলেছেন: এগুলোর মধ্যে রয়েছে অপরাধীদের শাস্তি প্রদানের উদ্দেশ্যে ওমর (রা.) কর্তৃক সাফওয়ান ইবনে উমাইয়ার ঘর ক্রয় করা এবং সেটিকে কারাগার হিসেবে গ্রহণ করা। তারা বলেছেন: কারাবাস কঠোর শাস্তিগুলোর অন্তর্ভুক্ত, একারণেই মহান আল্লাহর বাণী: {কারারুদ্ধ করা অথবা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রদান ব্যতীত} -এর মধ্যে একে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সাথে যুক্ত করা হয়েছে। তারা বলেছেন: আল্লাহর রাসূল (সা.) এবং আবু বকর (রা.)-এর যুগে কোনো কারাগার ছিল না। অতঃপর যখন প্রজাসংখ্যা বৃদ্ধি পেল, তখন তিনি মক্কায় একটি ঘর ক্রয় করেন এবং সেটিকে কারাগারে রূপান্তরিত করেন যেখানে কয়েদিদের রাখা হতো। তারা বলেছেন: এতে কারাগার নির্মাণের বৈধতার দলিল রয়েছে। আর ওমর (রা.) ব্যঙ্গাত্মক কবিতা রচনার কারণে হুতাইয়াকে কারারুদ্ধ করেছিলেন, যেমনটি তার এই উক্তি দ্বারা প্রমাণিত হয়:

যি-মারখের সেই শাবকগুলোর ব্যাপারে আপনি কী বলবেন … যাদের এখনো পালক গজায়নি, নেই কোনো পানি কিংবা বৃক্ষরাজির ছায়া

আপনি তাদের অন্নদাতাকে এক অন্ধকার গহ্বরে নিক্ষেপ করেছেন … সুতরাং আপনি দয়া প্রদর্শন করুন, হে ওমর, আপনার ওপর আল্লাহর সালাম বর্ষিত হোক

আর ওমর (রা.) অস্পষ্ট বিষয় (المتشابه) সম্পর্কে প্রশ্ন করার কারণে সাবিগ-কে কারারুদ্ধ করেছিলেন। আর উসমান (রা.) জাবি ইবনে হারিসাহ-কে কারারুদ্ধ করেছিলেন, যে বনু তামীমের চোরদের অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং সে কারাগারেই মৃত্যুবরণ করে। কারাগারে থাকা অবস্থায় সে উসমান (রা.)-কে হত্যার চেষ্টাও করেছিল, যেমনটি তার এই উক্তি দ্বারা প্রমাণিত হয়:

আমি সংকল্প করেছিলাম কিন্তু তা করিনি, আর আমি প্রায় করে ফেলেছিলাম; হায়! … যদি আমি উসমানের বিলাপকারিনী স্ত্রীদের রেখে যেতে পারতাম

তারা বলেছেন: আলী (রা.) কুফায় এবং ইবনে যুবাইর (রা.) মক্কায় কারাগার স্থাপন করেছিলেন। তারা বলেছেন: এর উদাহরণগুলোর মধ্যে রয়েছে দাপ্তরিক রেজিস্টার (الدواوين) প্রণয়ন। কেননা ইসলামে সর্বপ্রথম ওমর (রা.) এটি প্রবর্তন করেন। এর আগে বা পূর্বে উল্লিখিত কোনো বিষয়ে, অথবা এর সদৃশ কোনো ক্ষেত্রে শরিয়ত প্রবর্তকের পক্ষ থেকে কোনো নির্দেশ ছিল না। সুতরাং ওমর (রা.) কর্তৃক একটি রেজিস্টারে সৈন্যদের নাম লিপিবদ্ধ করা যার মাধ্যমে সৈন্যদের পরিচয় জানা যায়, প্রতিটি অঞ্চলের অধিবাসীদের পৃথক করা যায় এবং কারা যুদ্ধে অনুপস্থিত আর কারা উপস্থিত তা শনাক্ত করা যায়—এই কাজে কেবল জনকল্যাণ (المصلحة المرسلة)-এর খাতিরে কোনো আপত্তি ছাড়াই সকল সাহাবীর ঐক্যমত পোষণ করা এর সপক্ষে প্রমাণ। অথচ সহিহ (الصحيح) গ্রন্থে সাব্যস্ত হয়েছে যে নবী (সা.)
(খণ্ড: ১) আল-মাসালিহুল মুরসালাহ - ত জামিয়াতুল ইসলামিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
وسلم لم يتفقد كعب بن مالك ولم يعلم بتخلفه حتى وصل تبوك ونحو ذلك من الوقائع التي ذكروا والتي لم يذكروها حجة ظاهرة لمالك فيما شابهها.

واعلم أن العلماء غير مالك اختلفوا في العمل بالمصلحة المرسلة، قال ابن السبكي في جمع الجوامع في مبحث تقسيم المناسب الذي ذكرنا إلى مؤثر وملائم وغريب ومرسل ما نصه: "فإن دل الدليل إلغائه فلا يعلل به، وإلا فهو المرسل قَبِله مالك مطلقاً، وكاد إمام الحرمين يوافقه مع مناداته عليه بالنكير، ورده الأكثر مطلقاً، وقوم في العبادات....الخ".

وقال شارحه صاحب الضياء اللامع: "وما لم يشهد له الشرع باعتبار ولا إهدار، ولكنه على سنن المصالح وتتلقاه العقول بالقبول فهو المرسل، واختلف في العمل به على مذاهب:

أحدهما: ردُّه وبه قال القاضي أبو بكر، والشافعي في أحد قوليه، وعزاه المصنف يعني ابن السبكي إلى الأكثر.

والثاني: اعتباره مطلقاً وبه قال مالك وحكاه القرافي في شرح المحصول عن معظم الحنفية، وهو أحد قولي الشافعي، وقد قال الأبياري: ما ذهب إليه الشافعي هو عين مذهب مالك، وقد رام الإمام يعني إمام الحرمين التفريق بين المذهبين ولا يجد إلى ذلك سبيلاً أبداً، ثم يقال له: ما ذكرته من التقييد لقول الشافعي من التقريب من قواعد الشريعة ما مأخذه وما المراد به، وفي أي جهة يشترط التقارب؟ أفي مجرد المصلحة أم في وجه آخر، أقرب من ذلك؟

فإن اكتفى بمجرد التقارب في المصلحة لزمه إعمال جميع المصالح،
...এবং তিনি (সা.) কাব বিন মালিকের খোঁজ নেননি এবং তাবুক পৌঁছানো পর্যন্ত তার অনুপস্থিতি সম্পর্কে জানতে পারেননি; এই ধরণের ঘটনা যা তারা উল্লেখ করেছেন এবং যা উল্লেখ করেননি, তা ইমাম মালিকের জন্য অনুরূপ ক্ষেত্রে একটি সুস্পষ্ট দলিল।

জেনে রাখুন যে, ইমাম মালিক ব্যতীত অন্য আলেমগণ জনকল্যাণমূলক অনির্দেশিত মাসলাহাত (المصلحة المرسلة) অনুযায়ী আমল করার বিষয়ে মতভেদ করেছেন। ইবনে সুবকি তাঁর জামউল জাওয়ামে গ্রন্থে 'মুনাসিব' বা উপযোগিতার যে বিভাজন আমরা উল্লেখ করেছি অর্থাৎ—মুআষষির (প্রভাবশালী), মুলায়িম (সামঞ্জস্যপূর্ণ), গারিব (অপরিচিত) এবং অনির্দেশিত (مرسل) এর আলোচনায় যা বলেছেন তার সারসংক্ষেপ হলো: "যদি কোনো দলিল একে বাতিল করার প্রমাণ দেয় তবে এর ভিত্তিতে কারণ দর্শানো যাবে না। অন্যথায় তা হলো অনির্দেশিত (المرسل), যা ইমাম মালিক নিঃশর্তভাবে গ্রহণ করেছেন। আর ইমামুল হারামাইন একে তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করার ঘোষণা দেওয়া সত্ত্বেও প্রায় এর সাথে একমত হতে চলেছিলেন। তবে অধিকাংশ আলেম একে নিঃশর্তভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং একদল ইবাদতের ক্ষেত্রে... ইত্যাদি।"

এর ব্যাখ্যাকার আদ-দিয়া আল-লামি গ্রন্থের লেখক বলেন: "শরীয়ত যার গ্রহণযোগ্যতা বা বর্জনের ব্যাপারে কোনো সাক্ষ্য প্রদান করেনি, কিন্তু তা জনস্বার্থের অনুকূল এবং বিবেক তা গ্রহণ করে নেয়, তবে তা-ই হলো অনির্দেশিত (المرسل)। এটি অনুযায়ী আমল করার ক্ষেত্রে কয়েকটি মাজহাব রয়েছে:

প্রথমটি: একে প্রত্যাখ্যান করা। এটি কাজী আবু বকর এবং ইমাম শাফিয়ী তাঁর একটি মতে ব্যক্ত করেছেন এবং গ্রন্থকার অর্থাৎ ইবনে সুবকি একে অধিকাংশের অভিমত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

দ্বিতীয়টি: একে নিঃশর্তভাবে বিবেচনা করা। এটি ইমাম মালিকের অভিমত এবং আল-কারাফি শরহুল মাহসুল গ্রন্থে অধিকাংশ হানাফি ফকিহদের থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। এটি ইমাম শাফিয়ীরও একটি অভিমত। আল-আবিয়ারি বলেছেন: ইমাম শাফিয়ী যা গ্রহণ করেছেন তা হুবহু ইমাম মালিকেরই মাজহাব। আর ইমাম অর্থাৎ ইমামুল হারামাইন দুই মাজহাবের মধ্যে পার্থক্য করার প্রয়াস চালিয়েছেন কিন্তু তিনি এর কোনো পথ পাননি। অতঃপর তাঁকে বলা হয়: ইমাম শাফিয়ীর মতকে শরীয়তের মূলনীতির নিকটবর্তী হওয়ার যে সীমাবদ্ধতা আপনি উল্লেখ করেছেন, তার উৎস কী এবং এর দ্বারা কী উদ্দেশ্য? আর কোন দিক থেকে এই নৈকট্য শর্তযুক্ত? এটি কি কেবল জনস্বার্থের ক্ষেত্রে নাকি এর চেয়ে নিকটবর্তী অন্য কোনো দিক থেকে?

যদি কেবল জনস্বার্থের নৈকট্যকেই যথেষ্ট মনে করা হয়, তবে সকল জনকল্যাণমূলক বিষয়কেই কার্যকর করা তাঁর জন্য আবশ্যক হয়ে পড়বে।
(খণ্ড: ১) আল-মাসালিহুল মুরসালাহ - ত জামিয়াতুল ইসলামিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
وإن اشترط الاشتراك في الوجه الأخص فهو المؤثر بعينه، وبين الدرجتين رتب في القرب والبعد لا تنضبط بحال"، وقد أطال الكلام في المسألة ورد على القاضي والإمام فيما قالاه وقال: "إذا نظر المنصف في أقضية الصحابة رضي الله عنهم يتبين له أنهم كانوا يتعلقون بالمصالح في وجوه الرأي ما لم يدل الدليل على إلغاء تلك المصلحة، قال: وهو أمر مقطوع به عن الصحابة" ونحوه للقرافي، وقد عدد كثيراً من وقائع الصحابة التي اعتمدوا فيها على مطلق المصلحة من غير أصل تبنى عليه، وقال: "إن مجموع ذلك يفيد القطع".. انتهى محل الغرض منه.

وقال في نفس البحث المذكور: "وقال القرافي في شرح المحصول: يحكى أن المصالح المرسلة من خصائص مذهب مالك، وليس كذلك بل اشترك فيها جميع المذاهب فإنهم يعللون ويفرقون في صور النقوض وغيرها، ولا يطالبون أنفسهم بأصل يشهد لذلك الفارق بالاعتبار بل يعتمدون على مجرد المصلحة، ثم إن الشافعية يدعون أنهم أبعد الناس عنها وهم قد أخذوا منها بأوفر نصيب حتى تجاوزوا فيها.

هذا إمام الحرمين قيم مذهبهم ضمن بعض كتبه أمورا من المصالح لم يوجد لها في الشرع أصل يشهد لخصوصها، وكذا فعل الماوردي في كتاب الأحكام السلطانية فإنه توسع في ذلك توسعاً كثيراً لم يوجد للمالكية منه إلا اليسير … "، وذكر بعض أمثلة مما ذكروه ثم قال: "فلو قيل أن الشافعية هم أهل المصالح المرسلة دون غيرهم لكان ذلك هو الصواب" وقال الغزالي في المستصفى: "وقد اختلف العلماء في جواز اتباع المصلحة المرسلة، ولابد من كشف معنى المصلحة وأقسامها فنقول: المصلحة بالإضافة إلى شهادة الشرع ثلاثة أقسام:
"আর যদি অধিকতর সুনির্দিষ্ট দিক দিয়ে অংশীদারিত্বকে শর্ত করা হয়, তবে সেটিই মূলত প্রভাবশালী (المؤثر) বিষয় হিসেবে গণ্য হবে; আর এই দুই স্তরের মাঝে নৈকট্য ও দূরত্বের বিচারে এমন কিছু পর্যায় রয়েছে যা কোনো অবস্থাতেই সুসংজ্ঞায়িত করা সম্ভব নয়।" তিনি এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন এবং কাজী ও ইমাম যা বলেছেন তার প্রত্যুত্তর দিয়েছেন। তিনি বলেন: "যদি কোনো ন্যায়নিষ্ঠ ব্যক্তি সাহাবীগণ (الصحابة) (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর বিচারিক সিদ্ধান্তসমূহ পর্যালোচনা করেন, তবে তার নিকট স্পষ্ট হয়ে যাবে যে, কোনো বিষয়ে সেই জনকল্যাণ (المصلحة) বাতিল হওয়ার কোনো দলিল না পাওয়া পর্যন্ত তাঁরা মতামতের ক্ষেত্রে জনকল্যাণ (المصالح)-এর ওপরই নির্ভর করতেন। তিনি আরও বলেন: এটি সাহাবীগণ (الصحابة)-এর পক্ষ থেকে একটি অকাট্যভাবে প্রমাণিত (مقطوع به) বিষয়।" ইমাম কারাফিও তদ্রূপ উল্লেখ করেছেন। তিনি সাহাবীগণ (الصحابة)-এর এমন অনেক ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন যেখানে তাঁরা কোনো সুনির্দিষ্ট মূলনীতি (أصل)-এর ওপর ভিত্তি না করেই কেবল সাধারণ জনকল্যাণের ওপর নির্ভর করেছিলেন এবং তিনি বলেছেন: "এই সবকিছুর সমষ্টি অকাট্য (القطع) জ্ঞান দান করে।" ...এখানেই উদ্দিষ্ট অংশের সমাপ্তি।

তিনি উক্ত একই গবেষণায় আরও বলেন: "কারাফি শরহুল মাহসুল গ্রন্থে বলেছেন: এমনটি বলা হয়ে থাকে যে, অনির্দিষ্ট জনকল্যাণ (المصالح المرسلة) হলো মালিকী মাযহাবের অনন্য বৈশিষ্ট্য; অথচ বিষয়টি এমন নয়, বরং সকল মাযহাবই এতে শরিক। কেননা তাঁরা বিভিন্ন মাসআলার ক্ষেত্রে কারণ (العلة) বর্ণনা করেন এবং বৈসাদৃশ্য দেখান, অথচ তাঁরা নিজেদের কাছে এমন কোনো মূলনীতি (أصل) দাবি করেন না যা সেই পার্থক্যকারী বিষয়টিকে প্রামাণিক হিসেবে সাক্ষ্য দেয়, বরং তাঁরা কেবল জনকল্যাণের (المصلحة) ওপরই নির্ভর করেন। তদুপরি শাফেয়ী মাযহাবের অনুসারীগণ (الشافعية) দাবি করেন যে, তাঁরা এই বিষয়টি থেকে সর্বাধিক দূরে, অথচ তাঁরাই এর থেকে বড় একটি অংশ গ্রহণ করেছেন এমনকি তারা এতে সীমালঙ্ঘনও করেছেন।

ইনি হলেন ইমামুল হারামাইন, যিনি তাদের মাযহাবের রক্ষক, তিনি তার কিছু কিতাবে জনকল্যাণের (المصالح) এমন কিছু বিষয় অন্তর্ভুক্ত করেছেন শরিয়তে (الشرع) যার কোনো সুনির্দিষ্ট সাক্ষ্য প্রদানকারী মূলনীতি পাওয়া যায় না। অনুরূপভাবে মাওয়ার্দি তার আল-আহকামুস সুলতানিয়্যাহ কিতাবে করেছেন, তিনি এই বিষয়ে এতটাই বিস্তৃতি ঘটিয়েছেন যা মালিকী মাযহাবের অনুসারীগণ (المالكية)-এর মধ্যেও সামান্যই পাওয়া যায় … "। তিনি তাদের বর্ণিত কিছু উদাহরণ উল্লেখ করে বলেন: "যদি বলা হয় যে, শাফেয়ী মাযহাবের অনুসারীগণই (الشافعية) মূলত অনির্দিষ্ট জনকল্যাণ (المصالح المرسلة)-এর প্রকৃত প্রবক্তা, অন্য কেউ নয়, তবে সেটিই হতো সঠিক।" ইমাম গাজালি আল-মুসতাসফা গ্রন্থে বলেছেন: "অনির্দিষ্ট জনকল্যাণ (المصلحة المرسلة) অনুসরণের বৈধতা নিয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তাই জনকল্যাণের অর্থ ও এর প্রকারভেদ উন্মোচন করা আবশ্যক। আমরা বলি: শরিয়তের (الشرع) সাক্ষ্যের নিরিখে জনকল্যাণ তিন প্রকার:"
(খণ্ড: ১) আল-মাসালিহুল মুরসালাহ - ত জামিয়াতুল ইসলামিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
1ـ قسم شهد الشرع باعتبارها.

2ـ وقسم شهد لبطلانها.

3ـ وقسم لم يشهد الشرع لا لبطلانها ولا لاعتبارها إلى أن قال:

القسم الثالث: ما لم يشهد له من الشرع بالبطلان ولا بالاعتبار نص معين، وهذا في محل النظر إلى آخر كلامه الطويل وفيه تقسيم المصالح إلى ضروريات وحاجيات وتحسينيات كما أوضحنا، ومعلوم أن الضروريات يراد بها درء المفسدة عن الدين والنفس، والعقل والنسب والعرض والمال".

وإن كان الغزالي عدها خمساً فحذف العرض، ثم قال بعد ذلك: "فإذا عرفت هذه الأقسام فنقول: الواقع في الرتبتين الأخيرتين يعني الحاجيات والتحسينيات لا يجوز الحكم بمجرده إن لم يعتضد بشهادة أصل.. إلى أن قال: أما الواقع في رتبة الضروريات فلا بعد في أن يؤدي إليه اجتهاد مجتهد وإن لم يشهد له أصل معين. ومثاله: أن الكفار لو تترسوا بجماعة من أسارى المسلمين فلو كففنا عنهم لصدمونا وغلبوا على دار الإسلام وقتلوا كافة المسلمين، ولو رمينا الترس لقتلنا مسلماً معصوما لم يذنب ذنباً، وهذا لا عهد به في الشرع.

ولو كففنا لسلطنا الكفار على جميع المسلمين فيقتلونهم ثم يقتلون الأسارى أيضاً، فيجوز أن يقول قائل: هذا الأسير مقتول بكل حال فحفظ جميع المسلمين أقرب إلى مقصود الشرع لأنا نعلم قطعاً أن مقصود الشرع تقليل القتل كما يقصد حسم سبيله عند الإمكان فإن لم نقدر على الحسم قدرنا على التقليل، وكان هذا التفاتا إلى مصلحة علم بالضرورة كونها مقصود الشرع لا بدليل واحد وأصل معين بل
1ـ এমন এক প্রকার যার বৈধতা সম্পর্কে শরিয়াহ সাক্ষ্য প্রদান করেছে।

2ـ এমন এক প্রকার যার অসারতা সম্পর্কে শরিয়াহ সাক্ষ্য দিয়েছে।

3ـ এমন এক প্রকার যার অসারতা বা বৈধতা কোনোটি সম্পর্কেই শরিয়াহ সাক্ষ্য প্রদান করেনি। তিনি আরও বলেছেন:

তৃতীয় প্রকার: যার অসারতা বা বৈধতা সম্পর্কে শরিয়াহর কোনো নির্দিষ্ট নস বা শাস্ত্রীয় পাঠ (نص) বিদ্যমান নেই। এটি পর্যালোচনার ক্ষেত্র—তার দীর্ঘ আলোচনার শেষ পর্যন্ত, যাতে জনকল্যাণকে (مصالح) মৌলিক প্রয়োজনীয়তা (ضروريات), সাধারণ প্রয়োজনীয়তা (حاجيات) এবং পরিপূরক সৌন্দর্য (تحسينيات) হিসেবে ভাগ করা হয়েছে যেমন আমরা স্পষ্ট করেছি। আর এটি জানা কথা যে, মৌলিক প্রয়োজনীয়তা (ضروريات) বলতে দ্বীন, জীবন, বুদ্ধি, বংশমর্যাদা, সম্মান এবং সম্পদের অনিষ্ট (مفسدة) দূর করা বোঝায়।

যদিও গাজ্জালি এগুলোকে পাঁচটি গণ্য করেছেন এবং সম্মানকে বাদ দিয়েছেন। অতঃপর তিনি এরপর বলেন: "যখন আপনি এই প্রকারগুলো জানতে পারলেন, তখন আমরা বলব: শেষের দুই স্তরে যা অবস্থিত অর্থাৎ সাধারণ প্রয়োজনীয়তা (حاجيات) এবং পরিপূরক সৌন্দর্য (تحسينيات), সেগুলোর ক্ষেত্রে কেবল তার ভিত্তিতেই কোনো ফয়সালা দেওয়া বৈধ হবে না যদি না তা কোনো মূলনীতির (أصل) সাক্ষ্য দ্বারা সমর্থিত হয়... তিনি আরও বলেন: তবে যা মৌলিক প্রয়োজনীয়তার (ضروريات) স্তরে অবস্থিত, সেখানে একজন মুজতাহিদের (مجتهد) ইজতিহাদ (اجتهاد) সেদিকে ধাবিত হওয়া অসম্ভব নয়, যদিও তার স্বপক্ষে কোনো নির্দিষ্ট মূলনীতি (أصل) না থাকে। এর উদাহরণ হলো: কাফিররা যদি একদল মুসলিম বন্দীকে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করে, এমতাবস্থায় আমরা যদি তাদের থেকে হাত গুটিয়ে নিই, তবে তারা আমাদের আঘাত করবে, দারুল ইসলামের ওপর বিজয়ী হবে এবং সমস্ত মুসলিমকে হত্যা করবে। আর যদি আমরা সেই ঢাল লক্ষ্য করে আক্রমণ করি, তবে আমরা এমন এক নিষ্পাপ মুসলিমকে হত্যা করব যে কোনো অপরাধ করেনি, যার কোনো নজির শরিয়াহতে নেই।

আর আমরা যদি বিরত থাকি, তবে আমরা কাফিরদের সমস্ত মুসলিমের ওপর আধিপত্য অর্জনের সুযোগ করে দেব, ফলে তারা তাদের হত্যা করবে এবং বন্দীদেরও হত্যা করবে। এমতাবস্থায় কোনো প্রবক্তা বলতে পারেন: এই বন্দী তো সর্বাবস্থায় নিহত হবে, তাই সমস্ত মুসলিমকে রক্ষা করা শরিয়াহর উদ্দেশ্যের (مقصود) অধিকতর নিকটবর্তী। কারণ আমরা নিশ্চিতভাবে জানি যে শরিয়াহর উদ্দেশ্য (مقصود) হলো হত্যা কমিয়ে আনা, যেমনটি সম্ভব হলে হত্যার পথ রুদ্ধ করা এর লক্ষ্য হয়ে থাকে। অতএব যদি আমরা পথ রুদ্ধ করতে সক্ষম না হই, তবে তা কমিয়ে আনার চেষ্টা করি। এটি এমন এক জনকল্যাণের (مصلحة) প্রতি ভ্রুক্ষেপ করা যা অকাট্যভাবে শরিয়াহর উদ্দেশ্য (مقصود) হিসেবে পরিচিত, কোনো একটি দলিল বা নির্দিষ্ট মূলনীতির (أصل) কারণে নয়, বরং...
(খণ্ড: ১) আল-মাসালিহুল মুরসালাহ - ত জামিয়াতুল ইসলামিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
بأدلة خارجة عن الحصر، لكن توصيل هذا المقصود بهذا الطريق وهو قتل من لم يذنب غريب لم يشهد له أصل معين، فهذا مثال مصلحة غير مأخوذة بطريق القياس على أصل معين، وانقدح اعتبارها باعتبار ثلاثة أوصاف أنها ضرورة قطعية كلية، وليس في معناها ما لو تترس الكفار في قلعة بمسلم إذ لم يحل رمي الترس إذ لا ضرورة. فينا غنية عن القلعة فنعدل عنها إذ لا نقطع بظفرنا بها لأنها ليست قطعية بل ظنية، وليس في معناها جماعة في سفينة لو طرحوا واحدا منهم لنجوا وإلا غرقوا بجملتهم لأنها ليست كلية إذ يحصل بها هلاك عدد محصور. وليس ذلك كاستئصال كافة المسلمين، ولأنه ليس يتعين واحد للإغراق إلا أن يتعين بالقرعة ولا أصل لها، وكذلك جماعة في مخمصة لو أكلوا واحدا بالقرعة لنجوا فلا رخصة فيه لأن المصلحة ليست كلية، وليس في معناها قطع اليد للأكلة حفظاً للروح فإنه تنقدح الرخصة فيه لأنه إضرار به لمصلحته، وقد شهد الشرع للإضرار بشخص في قصد صلاحه، كالفصد والحجامة وغيرها … "إلى آخر كلامه.

فتراه في هذا الكلام صرح بجواز العمل بالمصلحة المرسلة بالقيود المذكورة في مسألة تترس الكفار بالمسلمين وذكر أن العمل بها لا يجوز في مرتبة الحاجيات والتحسينيات.

فهنا في المستصفى ذكر جواز العمل بها في خصوص الضروريات دون الحاجيات والتحسينيات ولكنه ذكر في شفاء الغليل جواز العمل بها في الحاجيات أيضاً.

واعلم أن مسألة التترس المذكورة اعترضت على الغزالي من وجهين: اعترضها السبكي في جمع الجوامع بأنها ليست من المصالح المرسلة
অগণিত প্রমাণের মাধ্যমে এটি প্রমাণিত, কিন্তু এই উদ্দেশ্যটি এই পন্থায় অর্জন করা—অর্থাৎ নিরপরাধ ব্যক্তিকে হত্যা করা—একটি বিরল (غريب) বিষয়, যার সমর্থনে কোনো সুনির্দিষ্ট মূলনীতি (أصل) নেই। এটি এমন এক জনকল্যাণের (مصلحة) উদাহরণ যা কোনো নির্দিষ্ট মূলনীতির ওপর কিয়াসের (القياس) মাধ্যমে গ্রহণ করা হয়নি। বরং তিনটি বৈশিষ্ট্যের বিবেচনায় এর গ্রহণযোগ্যতা স্পষ্ট হয়েছে: এটি একটি সুনিশ্চিত (قطعية), সামষ্টিক (كلية) এবং অপরিহার্যতা (ضرورة)। এটি সেই বিষয়ের সমার্থক নয় যেখানে কাফেররা দুর্গের মধ্যে কোনো মুসলিমকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে; সেক্ষেত্রে ঢালকে লক্ষ্য করে তীর নিক্ষেপ করা বৈধ নয়, যেহেতু সেখানে কোনো অপরিহার্যতা (ضرورة) নেই। কারণ সেই দুর্গ ছাড়াও আমাদের বিকল্প রয়েছে, তাই আমরা তা পরিহার করব; যেহেতু আমরা সেটি জয়ের ব্যাপারে নিশ্চিত নই, কারণ এটি সুনিশ্চিত (قطعية) নয় বরং ধারণাপ্রসূত (ظنية)। এটি নৌকায় থাকা একদল মানুষের পরিস্থিতির মতোও নয়, যারা তাদের একজনকে ফেলে দিলে বেঁচে যাবে নতুবা সবাই একত্রে ডুবে মরবে; কারণ এটি কোনো সামষ্টিক (كلية) বিষয় নয়, যেহেতু এর ফলে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক মানুষের ধ্বংস অনিবার্য হয়। এটি সমস্ত মুসলিমকে সমূলে বিনাশ করার মতো বিষয় নয়। তদুপরি, লটারি ব্যতীত কাউকে ডুবিয়ে মারার জন্য নির্দিষ্ট করা যায় না, আর লটারির কোনো শরয়ী ভিত্তি বা মূলনীতি (أصل) নেই। একইভাবে দুর্ভিক্ষের কবলে পড়া একদল মানুষ যদি লটারির মাধ্যমে একজনকে আহার হিসেবে গ্রহণ করে তবে তারা বেঁচে যাবে—এক্ষেত্রে কোনো শরয়ী অনুমতি (رخصة) নেই, কারণ এখানে জনকল্যাণটি (المصلحة) সামষ্টিক (كلية) নয়। এটি প্রাণ রক্ষার জন্য পচন ধরা হাত কেটে ফেলার মতোও নয়, কারণ এক্ষেত্রে অনুমতির (الرخصة) বিষয়টি স্পষ্ট; যেহেতু এটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কল্যাণের জন্যই তার ক্ষতিসাধন করা। আর শরিয়ত কোনো ব্যক্তির সংশোধনের উদ্দেশ্যে তাকে কষ্ট দেওয়ার বিষয়টি অনুমোদন করেছে, যেমন রক্তমোক্ষণ (الفصد), হিজামা (الحجامة) ইত্যাদি … "তার বক্তব্যের শেষ পর্যন্ত।

সুতরাং আপনি লক্ষ্য করবেন যে, তিনি এই বক্তব্যে কাফেরদের মুসলিমদের ঢাল হিসেবে ব্যবহারের মাসআলায় উল্লেখিত শর্তাবলি সাপেক্ষে মাসলাহা মুরসালাহ (المصلحة المرسلة) অনুযায়ী আমল করা বৈধ বলে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। এবং তিনি উল্লেখ করেছেন যে, হাজিয়াত (الحاجيات) এবং তাহসিনিয়াত (التحسينيات) স্তরে এর ওপর আমল করা বৈধ নয়।

এখানে আল-মুসতাসফা গ্রন্থে তিনি বিশেষ করে জরুরি বিষয়সমূহের (الضروريات) ক্ষেত্রে এর ওপর আমল করা বৈধ বলেছেন, হাজিয়াত (الحاجيات) ও তাহসিনিয়াত (التحسينيات) এর ক্ষেত্রে নয়। তবে তিনি শিফাউল গালিল গ্রন্থে হাজিয়াত (الحاجيات) এর ক্ষেত্রেও এর ওপর আমল করা বৈধ বলে উল্লেখ করেছেন।

জেনে রাখুন যে, উল্লেখিত ঢাল ব্যবহারের মাসআলাটিতে ইমাম গাজালির ওপর দুটি দিক থেকে আপত্তি উত্থাপন করা হয়েছে: আল-সুবকি জামউল জাওয়ামি গ্রন্থে আপত্তি করেছেন যে, এটি মাসলাহা মুরসালাহ (المصالح المرسلة)-এর অন্তর্ভুক্ত নয়।
(খণ্ড: ১) আল-মাসালিহুল মুরসালাহ - ত জামিয়াতুল ইসলামিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
لدلالة النصوص على العمل بها فقال: "وليس منه مصلحة ضرورية كلية قطعية لأنها مما دل الدليل على اعتباره فهي حق قطعاً، واشترطها الغزالي للقطع بالقول به لا لأصل القول به، قال: والظن القريب من القطع كالقطع.." اهـ من جمع الجوامع.

وتراه زعم أن مسألة الترس ليست من المرسل لشهادة الشرع لها واعترضها أيضاً عليه الأبياري من المالكية وهو من شيوخ ابن الحاجب بأن قال: "ما قاله يعني الغزالي في المسألة المذكورة غير صحيح ولم يبد دليلا على ما ادعاه بل اقتصر على مجرد الدعوى، واعتباره القيود الثلاثة وهي كونها ضرورية قطعية كلية أمر لا يتصور ولا وقوع له في الشريعة أصلا.." اهـ منه بواسطة نقل ابن حلولو في الضياء اللامع.

ثم قال الغزالي في المستصفى: "فإن قيل فتوظيف الخراج من المصالح فهل إليه سبيل أو لا، قلنا لا سبيل إليه مع كثرة الأموال في أيدي الجنود، أما إذا دخلت الأيدي من الأموال ولم يكن من مال المصالح ما يفي بخراجات العسكر، ولو تفرق العسكر واشتغلوا بالكسب لخيف دخول الكفار بلاد الإسلام، أو خيف ثوران الفتنة من أهل الفرقة في بلاد الإسلام فيجوز للإمام أن يوظف على الأغنياء مقدار كفاية الجند، ثم إن رأى في طريق التوزيع التخصيص بالأراضي فلا حرج، لأنا نعلم أنه إذا تعارض شرّان أو ضرران قصد الشرع دفع أشد الضررين وأعظم الشرّين، وما يؤديه كل واحد منهم قليل بالإضافة إلى ما يخاطر به من نفسه وماله لو خلت خطة الإسلام عن ذي شوكة يحفظ نظام الأمور، ويقطع مادة الشرور وكان هذا لا يخلو عن شهادة أصول معينة، فإن لولي الطفل، عمارة القنوات وإخراج أجرة الفصاد وثمن الأدوية، وكل ذلك تنجيز خسران لتوقع ما هو أكثر منه، وهذا أيضاً يؤيد مسلك الترجيح في مسألة الترس، لكن هذا تصرف في
শরয়ি পাঠসমূহ (নসুস) অনুযায়ী আমল করার নির্দেশনার প্রেক্ষিতে তিনি বলেন: "এটি কোনো অত্যাবশ্যকীয় (ضرورية), সামষ্টিক (كلية) ও অকাট্য (قطعية) জনস্বার্থ (مصلحة) নয়; কারণ এটি এমন বিষয় যার গ্রহণযোগ্যতার ওপর দলীল নির্দেশিত হয়েছে, সুতরাং এটি অকাট্যভাবেই সত্য। ইমাম গাজালি এটিকে অকাট্যতার (قطع) সাথে ফতোয়া প্রদানের শর্ত হিসেবে গণ্য করেছেন, মূল ফতোয়া প্রদানের জন্য নয়। তিনি বলেন: অকাট্যতার (قطع) নিকটবর্তী প্রবল ধারণা (ظن) অকাট্যতার (قطع) মতোই..."। জামউল জাওয়ামি' হতে সমাপ্ত।

আপনি দেখতে পাচ্ছেন যে, তিনি দাবি করেছেন 'ঢাল' (তুতরাহ) সংক্রান্ত মাসআলাটি বিচ্ছিন্ন (مرسل) বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত নয়, কারণ শরীয়ত এর অনুকূলে সাক্ষ্য দেয়। মালিকি মাযহাবের আল-আবিয়ারি—যিনি ইবনে আল-হাজিবের উস্তাদদের একজন—তিনিও এর ওপর আপত্তি জানিয়ে বলেছেন: "তিনি অর্থাৎ ইমাম গাজালি উক্ত মাসআলায় যা বলেছেন তা সঠিক নয় এবং তিনি তার দাবির পক্ষে কোনো দলীল উপস্থাপন করেননি, বরং কেবল একটি দাবির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছেন। আর তার তিনটি শর্ত বিবেচনা করা—অর্থাৎ এটি অত্যাবশ্যকীয় (ضرورية), অকাট্য (قطعية) এবং সামষ্টিক (كلية) হওয়া—এমন এক বিষয় যা কল্পনা করা যায় না এবং শরীয়তের মধ্যে এর কোনো বাস্তব প্রয়োগ নেই..."। ইবনে হুলুলু কর্তৃক আদ-দিয়া আল-লামি গ্রন্থে উদ্ধৃতির মাধ্যমে তাঁর থেকে সমাপ্ত।

অতঃপর আল-মুস্তাসফা গ্রন্থে ইমাম গাজালি বলেন: "যদি বলা হয় যে, খারাজ ধার্য করা জনস্বার্থের (المصالح) অন্তর্ভুক্ত, তবে এর কোনো পথ আছে কি না? আমরা বলব, সৈন্যদের হাতে প্রচুর ধন-সম্পদ থাকা অবস্থায় এর কোনো সুযোগ নেই। তবে যখন ধন-সম্পদ ফুরিয়ে যায় এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট (المصالح) সম্পদ থেকে সেনাবাহিনীর ব্যয়নির্বাহের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ না থাকে, এমতাবস্থায় যদি সেনাবাহিনী ছত্রভঙ্গ হয়ে উপার্জনে লিপ্ত হয় তবে ইসলামি ভূখণ্ডে কাফেরদের প্রবেশের আশঙ্কা থাকে, অথবা ইসলামি ভূখণ্ডের বিবাদমান গোষ্ঠীগুলোর পক্ষ থেকে বিদ্রোহের ভয় থাকে, তবে ইমামের জন্য ধনীদের ওপর সৈন্যদের পর্যাপ্ত খরচের সমপরিমাণ কর ধার্য করা বৈধ। এরপর বণ্টনের ক্ষেত্রে তিনি যদি ভূমির ওপর সুনির্দিষ্ট করার নীতি গ্রহণ করেন তবে কোনো বাধা নেই। কারণ আমরা জানি যে, যখন দুটি মন্দ বা দুটি ক্ষতির মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে, তখন শরীয়তের উদ্দেশ্য থাকে অধিকতর ক্ষতি ও বৃহত্তর মন্দকে প্রতিহত করা। তাদের প্রত্যেকের পক্ষ থেকে প্রদেয় এই সামান্য অর্থ সেই জান ও মালের ঝুঁকির তুলনায় অতি নগণ্য, যা ইসলামি ভূখণ্ড কোনো শক্তিশালী অভিভাবক (যিনি শৃঙ্খলা রক্ষা করবেন এবং মন্দের মূল উৎপাটন করবেন) বিহীন হয়ে পড়লে তৈরি হতো। আর এটি নির্দিষ্ট মূলনীতির সমর্থন বহির্ভূত নয়। যেমন শিশুর অভিভাবকের জন্য পানির নালা সংস্কার করা, রক্তমোক্ষণকারীর পারিশ্রমিক এবং ওষুধের মূল্য পরিশোধ করা আবশ্যক হয়। এসবই হলো বৃহত্তর কোনো ক্ষতির আশঙ্কায় তাৎক্ষণিক লোকসান মেনে নেওয়া। এটি 'ঢাল' সংক্রান্ত মাসআলাতেও অগ্রাধিকার প্রদানের (الترجيح) পদ্ধতিকে সমর্থন করে। তবে এটি এমন এক হস্তক্ষেপ যা...
(খণ্ড: ১) আল-মাসালিহুল মুরসালাহ - ত জামিয়াতুল ইসলামিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
الأموال، والأمول مبتذلة يجوز ابتذالها في الأغراض التي هي أهم منها.

وإنما المحظور سفك دم معصوم من غير ذنب سافك" اهـ محل الغرض منه، وهو يدل على العمل بالمصلحة المرسلة في أخذ الإمام الأموال من الناس ليهيئ بها الجند لحفظ بلاد المسلمين من الكفار والظلمة ولا شك أن حفظ بلاد المسلمين يجب على ولاة المسلمين وإن لم يكن لذلك طريق ممكنة إلا أخذ بعض الأموال من الأغنياء. ولا خلاف في ارتكاب أخف الضررين وجواز العمل به وإن كانت مصلحة مرسلة.

واعلم أن ما فعله عمر رضي الله عنه من عدم قسمه للأرض المغنومة من الكفار مع أن ظاهر القرآن يدل على أن أربعة أخماسها للغانمين لعموم قوله تعالى: {وَاعْلَمُوا أَنَّمَا غَنِمْتُمْ مِنْ شَيْءٍ فَأَنَّ لِلَّهِ خُمُسَهُ} الآية. أي والأخماس الأربعة الباقية للغانمين.

ولم يفعل عمر بل لم يقسم الأرض المغنومة على الغانمين وإنما تركها لينتفع بها جميع المسلمين في المستقبل لأنها لو قسمت لم يبق خراج يكفي الجيوش لحماية بلاد المسلمين. ولذا صح عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه أنه قال: "لولا آخر المسلمين ما فتحت قرية إلا قسمتها بين أهلها كما قسم النبي صلى الله عليه وسلم خيبر"، وفي لفظ في الصحيح عن عمر رضي الله عنه: "والذي نفسي بيده لولا أن أترك آخر المسلمين ليس لهم شيء ما فتحت عليَّ قرية إلا قسمتها كما قسم النبي صلى الله عليه وسلم خيبر ولكن أتركها خزانة لهم يقتسمونها" ليس معناه أن عمر رضي الله عنه خصص عموم {وَاعْلَمُوا أَنَّمَا غَنِمْتُمْ مِنْ شَيْءٍ فَأَنَّ لِلَّهِ خُمُسَهُ} الآية..

بمصلحة مرسلة كما يظنه بعض المتعلمين الذين لم يمارسوا الكتاب والسنة، لأن كلام عمر رضي الله عنه صريح في أنه يرى أن الإمام مخير بين قسم الأرض المغنومة على الغانمين، وبين استبقائها لانتفاع
সম্পদসমূহ; আর সম্পদ হলো সাধারণ বিনিময়যোগ্য বস্তু যা তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্যে ব্যয় করা বৈধ। মূলত নিষিদ্ধ বিষয় হলো কোনো অপরাধ ছাড়াই কোনো নিরপরাধ ব্যক্তির রক্তপাত করা—এ পর্যন্তই উদ্ধৃতির মূল উদ্দেশ্য; যা জনস্বার্থের (المصلحة المرسلة) ওপর ভিত্তি করে আমল করার প্রমাণ বহন করে। এর উদ্দেশ্য হলো—মুসলিম ভূখণ্ডকে কাফির ও জালিমদের হাত থেকে রক্ষার জন্য সৈন্যবাহিনী প্রস্তুত করতে ইমাম বা শাসক জনগণের নিকট থেকে সম্পদ গ্রহণ করবেন। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, মুসলিম ভূখণ্ড রক্ষা করা মুসলিম শাসকদের জন্য ওয়াজিব, যদিও ধনীদের থেকে কিছু সম্পদ গ্রহণ করা ছাড়া অন্য কোনো উপায় সম্ভব না হয়। দুটি ক্ষতির মধ্যে অপেক্ষাকৃত হালকাটি গ্রহণ করার এবং তার ওপর আমল করার বৈধতার বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই, যদিও তা জনস্বার্থের (المصلحة المرسلة) অন্তর্ভুক্ত হয়।

জেনে রাখুন যে, উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু কাফিরদের কাছ থেকে গনিমত হিসেবে প্রাপ্ত জমি বণ্টন না করার যে পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, অথচ কুরআনের প্রকাশ্য অর্থ (ظاهر) দ্বারা প্রমাণিত হয় যে এর চার-পঞ্চমাংশ যোদ্ধাদের প্রাপ্য; কারণ মহান আল্লাহর বাণীর ব্যাপকতা (عموم): "জেনে রেখো, তোমরা যা কিছু গনিমত লাভ করেছ তার এক-পঞ্চমাংশ আল্লাহর জন্য..."। অর্থাৎ অবশিষ্ট চার-পঞ্চমাংশ যোদ্ধাদের জন্য।

উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু তা করেননি, বরং তিনি যোদ্ধাদের মধ্যে গনিমতের জমি বণ্টন করেননি; বরং তিনি তা রেখে দিয়েছিলেন যেন ভবিষ্যতে সকল মুসলিম তা দ্বারা উপকৃত হতে পারে। কারণ যদি তা বণ্টন করে দেওয়া হতো, তবে মুসলিম ভূখণ্ড রক্ষার দায়িত্বে থাকা সেনাবাহিনীর জন্য পর্যাপ্ত কোনো খরাজ (ভূমি-কর) অবশিষ্ট থাকত না। এজন্য উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বিশুদ্ধ (صح) সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "যদি পরবর্তী প্রজন্মের মুসলিমদের কথা চিন্তা না থাকত, তবে আমি যে জনপদই জয় করতাম তা এর অধিবাসীদের মাঝে বণ্টন করে দিতাম, যেভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বার বণ্টন করেছিলেন।" সহিহ গ্রন্থের এক বর্ণনায় উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে এসেছে: "যার হাতে আমার প্রাণ তাঁর কসম! যদি পরবর্তী যুগের মুসলিমদের নিঃস্ব অবস্থায় ছেড়ে যাওয়ার ভয় না থাকত—যাদের কাছে কিছুই থাকবে না—তবে আমি যে জনপদই জয় করতাম তা বণ্টন করে দিতাম যেভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বার বণ্টন করেছিলেন। কিন্তু আমি তা তাদের জন্য ভাণ্ডার হিসেবে রেখে যাচ্ছি যা তারা পরস্পর বণ্টন করে নেবে।" এর অর্থ এই নয় যে, উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু "জেনে রাখ, তোমরা যা কিছু গনিমত লাভ করেছ..." আয়াতের ব্যাপকতাকে (عموم)...

জনস্বার্থের (المصلحة المرسلة) মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট (تخصيص) করেছেন, যেমনটি সেই সব শিক্ষার্থীরা মনে করে থাকে যাদের কিতাব ও সুন্নাহর গবেষণায় অভিজ্ঞতা নেই। কারণ উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর বক্তব্য এ বিষয়ে স্পষ্ট (صريح) যে, তিনি মনে করতেন ইমাম বিজিত জমি যোদ্ধাদের মাঝে বণ্টন করা অথবা তা ভবিষ্যতে উপকারের জন্য রেখে দেওয়ার বিষয়ে ইখতিয়ার রাখেন।
(খণ্ড: ১) আল-মাসালিহুল মুরসালাহ - ত জামিয়াতুল ইসলামিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
جميع المسلمين لأن ذلك مفهوم من فعله صلى الله عليه وسلم، وقد حضره عمر رضي الله عنه لأن النبي صلى الله عليه وسلم قسم الأرض المغنومة تارة وترك قسمتها أخرى، فدل ذلك جواز كلا الأمرين، فقد قسم بعض أرض خيبر وترك بعضها، وقسم أرض قريظة ولم يقسم مكة، فإن قيل أرض خيبر أخذ بعضها عنوة وهو الذي قسم، وبعضها أخذ ولم يوجف عليه بخيل ولا ركاب وهو الذي لم يقسم.

قلنا: قسم أرض خيبر وترك قسم أرض مكة كلاهما لا نزاع فيه، وهو يكفي لمحل الشاهد.

فإن قيل: مكة فتحت صلحاً لقوله صلى الله عليه وسلم: "من دخل دار أبي سفيان فهو آمن، ومن ألقى السلاح فهو آمن، ومن أغلق بابه فهو آمن" كما ثبت في صحيح مسلم.

قلنا: إن التحقيق أن مكة فتحت عنوة لا صلحاً ولذلك أدلة واضحة منها أنه لم ينقل أحد أن النبي صلى الله عليه وسلم صالح أهلها زمن الفتح وإنما جاءه أبو سفيان فأعطاه الأمان، ولو كانت قد فتحت صلحاً لم يقل من دخل داره أو أغلق بابه، أو دخل المسجد فهو آمن فإن الصلح يقتضي الأمان العام.

ومنها حديث: " إن الله حبس عن مكة الفيل وسلط عليها رسوله والمؤمنين وأنه أذن لي فيها ساعة من نهار"، وفي لفظ: "إنها لم تحل لأحد قبلي ولا تحل لأحد بعدي، وإنما أحلت لي ساعة من نهار"، وفي لفظ: "فإن أحد ترخص بقتال رسول الله صلى الله عليه وسلم فقولوا: إن الله أذن لرسوله ولم يأذن لكم وإنما أذن لي ساعة من نهار، وقد عادت حرمتها اليوم كحرمتها بالأمس".

ومنها أنه ثبت في الصحيح أنه يوم فتح مكة جعل خالد بن الوليد على
সকল মুসলিমের জন্য, কারণ এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কর্ম থেকে অনুধাবন করা যায়। উমর (রা.) সেখানে উপস্থিত ছিলেন; কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কখনও যুদ্ধলব্ধ (المغنومة) ভূমি বণ্টন করেছেন আবার কখনও তা বণ্টন করা থেকে বিরত থেকেছেন। এটি উভয় বিষয়ের বৈধতা নির্দেশ করে। তিনি খায়বারের কিছু ভূমি বণ্টন করেছিলেন এবং কিছু বণ্টন করেননি; আবার তিনি বনু কুরাইযার ভূমি বণ্টন করেছিলেন কিন্তু মক্কা বণ্টন করেননি। যদি বলা হয় যে, খায়বারের যে অংশটি বণ্টন করা হয়েছিল তা শক্তিপ্রয়োগের মাধ্যমে (عنوة) বিজিত হয়েছিল, আর যে অংশটি বণ্টন করা হয়নি তা কোনো যুদ্ধাভিযান ছাড়াই হস্তগত হয়েছিল।

আমরা বলব: খায়বারের জমি বণ্টন করা এবং মক্কার জমি বণ্টন না করা—এ দুটির কোনোটিতেই কোনো দ্বিমত নেই, আর এটিই প্রমাণের মূল বিষয়ের (محل الشاهد) জন্য যথেষ্ট।

যদি বলা হয়: মক্কা সন্ধির মাধ্যমে (صلحاً) বিজিত হয়েছিল, কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে আবু সুফিয়ানের ঘরে প্রবেশ করবে সে নিরাপদ (آمن), যে অস্ত্র ত্যাগ করবে সে নিরাপদ (آمن), আর যে নিজ ঘরের দরজা বন্ধ রাখবে সে নিরাপদ (آمن)"—যেমনটি সহীহ মুসলিমে সাব্যস্ত হয়েছে।

আমরা বলব: প্রকৃত সত্য বিশ্লেষণ (التحقيق) হলো মক্কা শক্তিপ্রয়োগের মাধ্যমে (عنوة) বিজিত হয়েছিল, সন্ধির মাধ্যমে (صلحاً) নয়। এর স্বপক্ষে স্পষ্ট প্রমাণাদি রয়েছে; যেমন—কেউ এটি বর্ণনা করেননি যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মক্কা বিজয়ের সময় সেখানকার অধিবাসীদের সাথে কোনো সন্ধি করেছিলেন। বরং আবু সুফিয়ান তাঁর নিকট এলে তিনি তাকে কেবল নিরাপত্তা (الأمان) দিয়েছিলেন। যদি মক্কা সন্ধির মাধ্যমে (صلحاً) বিজিত হতো, তবে তিনি ঘরে প্রবেশকারী বা দরজা বন্ধকারী কিংবা মসজিদে প্রবেশকারীর জন্য আলাদা করে নিরাপত্তার কথা বলতেন না; কারণ সন্ধি মূলত সাধারণ নিরাপত্তার (الأمان العام) দাবি রাখে।

অন্যতম প্রমাণ হলো এই হাদিস: "নিশ্চয়ই আল্লাহ মক্কা থেকে হস্তিবাহিনীর আক্রমণ প্রতিহত করেছেন এবং তাঁর রাসূল ও মুমিনদের সেখানে কর্তৃত্ব দান করেছেন। আর দিনের সামান্য সময়ের জন্য তিনি আমাকে সেখানে অনুমতি দিয়েছিলেন।" অন্য বর্ণনায় (لفظ) এসেছে: "নিশ্চয়ই এটি আমার পূর্বে কারও জন্য বৈধ ছিল না এবং আমার পরেও কারও জন্য বৈধ হবে না। কেবল দিনের একটি মুহূর্তের জন্য আমার জন্য তা বৈধ (أحلت) করা হয়েছিল।" অন্য এক বর্ণনায় (لفظ) আছে: "যদি কেউ আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যুদ্ধের দোহাই দিয়ে সেখানে লড়াইয়ের সুযোগ নিতে চায়, তবে তোমরা তাকে বলে দিও: আল্লাহ কেবল তাঁর রাসূলকে অনুমতি দিয়েছেন, তোমাদের দেননি। তিনি আমাকে কেবল দিনের একটি মুহূর্তের জন্য অনুমতি দিয়েছিলেন। আর আজ এর পবিত্রতা (حرمتها) গতকালের ন্যায় পুনরায় ফিরে এসেছে।"

এর আরেকটি প্রমাণ হলো—সহীহ বর্ণনায় সাব্যস্ত হয়েছে যে, মক্কা বিজয়ের দিন তিনি খালিদ বিন ওয়ালিদকে...
(খণ্ড: ১) আল-মাসালিহুল মুরসালাহ - ত জামিয়াতুল ইসলামিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
المجنبة اليمنى وجعل الزبير على المجنبة اليسرى، وجعل أبا عبيدة على الحسر فأخذوا بطن الوادي ثم قال: "يا أبا هريرة اهتف لي بالأنصار" فجاؤوا يهرولون، فقال: "يا معشر الأنصار هل ترون إلى أوباش قريش؟ " قالوا: نعم. قال: "انظروا إذا لقيتموهم غدا أن تحصدوهم حصداً".

وهو صريح في أن مكة فتحت عنوة، وقتل فيها من الطرفين كما هو معروف ورجزُ حماس بن قيس يخاطب امرأته مشهور في ذلك وهو قوله:

إنك لو شهدت يوم الخندمة … إذ فر صفوان وفر عكرمة

واستقبلتنا بالسيوف المسلمة … لهم نهيتٌ خلفنا وهمهمة

يقطعن كل ساعد وجمجمة … ضربا فلا تسمع إلا غمغمة

لم تنطقي باللوم أدنى كلمة

ومنها أيضاً أن أم هانئ بنت أبي طالب رضي الله عنها أجارت رجلاً فأراد علي رضي الله عنه قتله فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "قد أجرنا من أجرت يا أم هانئ" وذلك يوم الفتح، ومنها أنه صلى الله عليه وسلم أمر بقتل مقيس بن صبابة وابن خطل وجاريتين، ولو كانت فتحت صلحاً لم يأمر بقتل أحد من أهلها، ولكان ذكر هؤلاء مستثنى من عقد الصلح، إلى غير ذلك من الأدلة الدالة على أن مكة فتحت عنوة1 فتركه صلى الله عليه وسلم قسم أرضها وبعض أرض خيبر وقسم بعض أرض خيبر وأرض قريظة يدل على جواز الأمرين وأن ذلك هو الذي لاحظه عمر لكن عمر رضي الله عنه فضل أحد الأمرين

--------------------------------------------

1 وهل يصلح لذلك أيضا حديث أنتم الطلقاء بعد دخول مكة حيث لو كان هناك صلح من قبل لكانوا بمقتضاه طلقاء، ولما احتيج إلى السؤال: "ماذا تروني فاعل بكم " إذا كان هناك صلح؟..
ডান পার্শ্বদেশ (المجنبة اليمنى) এবং জুবায়েরকে বাম পার্শ্বদেশে (المجنبة اليسرى) নিযুক্ত করলেন, আর আবু উবাইদাহকে বর্মহীন পদাতিক বাহিনীর (الحسر) ওপর নিযুক্ত করলেন। অতঃপর তারা উপত্যকার মধ্যভাগ দিয়ে অগ্রসর হলেন। তারপর তিনি বললেন: "হে আবু হুরায়রা, আনসারদের ডাকো।" তারা দ্রুতবেগে এগিয়ে এলেন। তিনি বললেন: "হে আনসার সম্প্রদায়, তোমরা কি কুরাইশদের এই জনতাকে দেখতে পাচ্ছ?" তারা বললেন: "হ্যাঁ।" তিনি বললেন: "লক্ষ্য করো, আগামীকাল যখন তোমরা তাদের সম্মুখীন হবে, তখন তাদের সমূলে উচ্ছেদ (تحصدوهم حصداً) করবে।"

এটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে মক্কা বলপ্রয়োগের মাধ্যমে (عنوة) বিজিত হয়েছিল এবং সেখানে উভয় পক্ষের লোক নিহত হয়েছিল, যেমনটি সুবিদিত। হামাস বিন কাইস তার স্ত্রীকে সম্বোধন করে যে ছন্দোবদ্ধ কবিতা (رجز) আবৃত্তি করেছিলেন তা এ বিষয়ে প্রসিদ্ধ, আর তা হলো:

তুমি যদি খানদামার সেই দিনটি দেখতে … যখন সাফওয়ান পালিয়ে গেল এবং ইকরিমাও পালিয়ে গেল

আর তারা আমাদের উন্মুক্ত তরবারি নিয়ে মোকাবিলা করল … আমাদের পেছন থেকে শোনা যাচ্ছিল তাদের গর্জন ও অস্ফুট শব্দ

সেই আঘাতগুলো বিচ্ছিন্ন করছিল প্রতিটি বাহু ও করোটি … এমন প্রহার যার মাঝে কেবল অস্ফুট আর্তনাদই শোনা যাচ্ছিল

তাহলে তুমি ভর্ৎসনার একটি শব্দও উচ্চারণ করতে না

এর মধ্যে আরও রয়েছে যে, আবু তালিবের কন্যা উম্মে হানি (রা.) জনৈক ব্যক্তিকে আশ্রয় দিয়েছিলেন, কিন্তু আলী (রা.) তাকে হত্যা করতে চেয়েছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন: "হে উম্মে হানি, তুমি যাকে আশ্রয় দিয়েছ, আমরাও তাকে আশ্রয় দিলাম।" আর এটি ছিল মক্কা বিজয়ের দিনের ঘটনা। এগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে যে, তিনি (সা.) মিকয়াস বিন সাবাবাহ, ইবনে খাতাল এবং দুইজন দাসীকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন। যদি মক্কা সন্ধির (صلحاً) মাধ্যমে বিজিত হতো, তবে তিনি এর অধিবাসীদের কাউকেই হত্যার নির্দেশ দিতেন না, এবং সেক্ষেত্রে এদের নামগুলো সন্ধিচুক্তি (عقد الصلح) থেকে ব্যতিক্রম হিসেবে উল্লিখিত হতো। এ ছাড়াও অন্যান্য দলিল প্রমাণ করে যে মক্কা বলপ্রয়োগের মাধ্যমে (عنوة) বিজিত হয়েছিল। সুতরাং মক্কার ভূমি ও খায়বারের কিছু ভূমি বণ্টন না করা, আবার খায়বারের কিছু ভূমি ও কুরাইজার ভূমি বণ্টন করা—এই দুই ব্যবস্থারই বৈধতা (جواز) নির্দেশ করে। আর এটিই ছিল উমর (রা.)-এর পর্যবেক্ষণ, তবে উমর (রা.) এই দুই বিষয়ের একটিকে অগ্রাধিকার (فضل) দিয়েছিলেন।

--------------------------------------------

১. আর এর স্বপক্ষে কি এই হাদিসটিও উপযোগী হবে যে, "তোমরা মুক্ত (الطلقاء)", যা মক্কায় প্রবেশের পর বলা হয়েছিল? কেননা যদি পূর্বেই কোনো সন্ধি (صلح) হয়ে থাকত, তবে তারা তো সেই চুক্তি অনুসারেই মুক্ত বলে গণ্য হতো। আর যদি সেখানে সন্ধি থাকতই, তবে কি এই প্রশ্ন করার প্রয়োজন হতো: "তোমরা আমার কাছ থেকে কী রূপ আচরণের প্রত্যাশা করো?"
(খণ্ড: ১) আল-মাসালিহুল মুরসালাহ - ত জামিয়াতুল ইসলামিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
الجائزين استنادا إلى المصلحة المرسلة.

فالحاصل أن الصحابة رضي الله عنهم كانوا يتعلقون بالمصالح المرسلة التي لم يدل دليل على إلغائها، ولم تعارضها مفسدة راجحة أو مساوية، وأن جميع المذاهب يتعلق أهلها بالمصالح المرسلة، وإن زعموا التباعد منها، ومن تتبع وقائع الصحابة وفروع المذاهب علم صحة ذلك، ولكن التحقيق أن العمل بالمصلحة المرسلة أمر يجب فيه التحفظ وغاية الحذر حتى يتحقق صحة المصلحة وعدم معارضتها لمصلحة أرجح منها أو مفسدة أرجح منها أو مساوية لها، وعدم تأديتها إلى مفسدة في ثاني حال.

واعلم أن العمل بالمصالح المرسلة المذكور ليس تشريعاً جديداً خالياً عن دليل أصلاً بل من يعمل بها من العلماء كمالك وغيره يستند في ذلك إلى أمور.

منها: عمل الصحابة رضي الله عنهم بها من غير أن ينكر منهم أحد وهم خير أسوة.

ومنها: أنه قد علم من استقراء الشرع الكريم محافظته على المصالح وعدم إهدارها ولا سيما إن كانت المصلحة متمحضة لم تستلزم مفسدة ولم تعارض مصلحة راجحة. ولم تصادم نصا من الوحي.

ومنها: أن بعض النصوص قد يدل لذلك كما ذكرنا آنفاً في صحيح مسلم من أن بعض الصحابة انتهر بريرة لتصدُق النبي صلى الله عليه وسلم فيما تعلم عن عائشة وبريرة مسلمة وإيذاء المسلم بالانتهار من غير ذنب حرام، وقد استباحه بعض الصحابة للمصلحة المرسلة وهي تخويف الجارية حتى تقول الحق، ولم ينكر النبي صلى الله عليه وسلم عليهم.
যারা জনকল্যাণমূলক বিষয়ের (المصلحة المرسلة) ভিত্তিতে বৈধতা প্রদান করেন।

সারকথা হলো, সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) এমন জনকল্যাণমূলক বিষয়গুলোর (المصالح المرسلة) ওপর নির্ভর করতেন যেগুলোর অসারতার পক্ষে কোনো প্রমাণ নেই এবং যেগুলোর বিপরীতে কোনো প্রবল বা সমপর্যায়ের অনিষ্ট (مفسدة) বিদ্যমান নেই। সমস্ত মাজহাবের অনুসারীগণই জনকল্যাণমূলক বিষয়ের (المصالح المرسلة) ওপর নির্ভর করেন, যদিও তারা এ থেকে দূরত্ব বজায় রাখার দাবি করেন। কেউ যদি সাহাবীগণের কার্যক্রম এবং মাজহাবগুলোর শাখা-প্রশাখা পর্যবেক্ষণ করেন, তবে তিনি এর যথার্থতা জানতে পারবেন। কিন্তু প্রকৃত বিষয় হলো, জনকল্যাণমূলক বিষয়ের (المصلحة المرسلة) ওপর আমল করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্কতা ও চরম সাবধানতা অবলম্বন করা আবশ্যক, যাতে সেই কল্যাণের সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায় এবং তা যেন তার চেয়েও শক্তিশালী কোনো কল্যাণ বা শক্তিশালী কিংবা সমান কোনো অনিষ্টের (مفسدة) বিরোধী না হয়, আর তা যেন পরবর্তীতে কোনো ক্ষতির দিকে ধাবিত না করে।

জেনে রাখুন যে, উল্লিখিত জনকল্যাণমূলক বিষয় (المصالح المرسلة) অনুযায়ী আমল করা মূলত দলিলবিহীন কোনো নতুন বিধান প্রণয়ন (تشريع) নয়; বরং ইমাম মালিক ও অন্যদের মতো যে সকল আলেম এর ওপর আমল করেন, তারা এক্ষেত্রে কিছু বিষয়ের ওপর ভিত্তি করেন।

তার মধ্যে একটি হলো: সাহাবীগণের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) আমল, যা তাদের মধ্য থেকে কেউ অস্বীকার করেননি এবং তারা হলেন সর্বোত্তম আদর্শ।

আরেকটি হলো: শরীয়তের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ (استقراء) থেকে এটি জানা গেছে যে, শরীয়ত জনকল্যাণসমূহকে সংরক্ষণ করে এবং সেগুলোকে নষ্ট করে না; বিশেষ করে যদি সেই কল্যাণটি নিরঙ্কুশ হয় এবং কোনো অনিষ্টের (مفسدة) কারণ না হয়, কিংবা কোনো প্রবল জনকল্যাণের বিরোধী না হয় এবং ওহীর কোনো অকাট্য নসের (نص) সাথে সাংঘর্ষিক না হয়।

অন্যতম একটি কারণ হলো: কিছু পাঠ্য বা বর্ণনা (النصوص) এর প্রমাণ দেয়, যেমনটি আমরা ইতিপূর্বে সহীহ মুসলিম-এর সূত্রে উল্লেখ করেছি যে, কোনো কোনো সাহাবী বারীরাকে ধমক দিয়েছিলেন যাতে তিনি আয়েশা (রা.) সম্পর্কে যা জানেন তা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে সত্য সত্য প্রকাশ করেন। অথচ বারীরা ছিলেন একজন মুসলিম নারী, আর কোনো অপরাধ ছাড়াই একজন মুসলিমকে ধমক দিয়ে কষ্ট দেওয়া হারাম। তবে কিছু সাহাবী জনকল্যাণমূলক বিষয়ের (المصلحة المرسلة) ভিত্তিতে একে বৈধ মনে করেছিলেন, আর তা হলো দাসীকে ভয় দেখানো যাতে সে সত্য কথা বলে। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের এই কাজে কোনো আপত্তি জানাননি।
(খণ্ড: ১) আল-মাসালিহুল মুরসালাহ - ত জামিয়াতুল ইসলামিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
هكذا قيل ولكن استناد المصلحة المرسلة إلى دليل خاص يخرجها عن كونها مرسلة كما ترى … والعلم عند الله تعالى. فمثال معارضتها لمصلحة أرجح منها: غرس شجر العنب فإن منع وجوده في الدنيا يستلزم مصلحة هي السلامة من عصر الخمر منه، ولكن مصلحة السلامة من عصر الخمر من العنب بإعدامه من الأرض معارضة بمصلحة أرجح منها وهي انتفاع الناس بالعنب والزبيب فهذه المصلحة الراجحة تقدم على تلك المصلحة المرجوحة:

وانظر تدلي دوالي العنب … في كل مشرق وكل مغرب

ومن أمثلة هذا أيضاً إجماع المسلمين قديماً وحديثاً على جواز مساكنة الرجال والنساء في البلد الواحد، ولم ينقل عن أحد أنه قال يجب عزل النساء عن الرجال وإسكانهن منفردات عليهن في حصون قوية وأبواب من حديد مفاتيحها بيد من عرف بالتقوى والعفاف وكبر السن والغني بالزوجات، مع أن عزل النساء فيه مصلحة السلامة من الزنا لأن كون الجميع في بلد واحد قد يكون ذريعة إلى التوصل إلى الفاشحة بالإشارات ورمي الأوراق التي فيها مواعيد، والاتصال من فوق السطوح كما قال نصر بن حجاج بن علاط السلمي:

ليتني في المؤذنين نهارا … وأنهم ينظرون من في السطوح

فيشيرون أو يشار إليهم … حبذا كل ذات دل مليح

لأن مصلحة تعاون الذكور والإناث على الدين والدنيا في البلد الواحد بأن يكون الرجل ونساؤه في دارهم يتعاونون بأن يقوم كل بما يليق به من الخدمة أرجح من مصلحة قطع الذريعة إلى الزنا باجتماع الجنسين في البلد الواحد.

ومثال استلزام المصلحة مفسدة راجحة أو مساوية ما إذا طلب
এভাবে বলা হয়েছে, তবে উন্মুক্ত জনকল্যাণ (المصلحة المرسلة)-কে কোনো বিশেষ দলিলের ওপর ভিত্তি করে সাব্যস্ত করা তাকে 'উন্মুক্ত (مرسلة)' হওয়ার গণ্ডি থেকে বের করে দেয়, যেমনটি আপনি দেখছেন … আর প্রকৃত জ্ঞান মহান আল্লাহর কাছেই। অপেক্ষাকৃত অগ্রগণ্য কোনো জনকল্যাণের সাথে এর বিরোধ সৃষ্টির উদাহরণ হলো: আঙুর গাছ রোপণ করা। কেননা, পৃথিবীতে এর অস্তিত্ব নিষিদ্ধ করার মাঝে একটি কল্যাণ নিহিত রয়েছে, তা হলো একে নিংড়ে মদ তৈরি করা থেকে নিরাপদ থাকা। কিন্তু জমিন থেকে আঙুর গাছ নির্মূল করার মাধ্যমে মদ তৈরি থেকে নিরাপদ থাকার যে জনকল্যাণ, তা একটি অধিকতর অগ্রগণ্য জনকল্যাণের সাথে সাংঘর্ষিক; আর তা হলো মানুষ কর্তৃক আঙুর ও কিশমিশ থেকে উপকৃত হওয়া। ফলে এই অগ্রগণ্য কল্যাণটি সেই অপেক্ষাকৃত অনুচ্চ কল্যাণের ওপর প্রাধান্য পাবে:

আর দেখ আঙুর লতার ঝুলে থাকা … প্রতিটি পূর্ব ও পশ্চিমে

এর আরও একটি উদাহরণ হলো—একই শহরে নারী ও পুরুষের বসবাসের বৈধতার ওপর প্রাচীন ও বর্তমান সময়ের মুসলিমদের সর্বসম্মত ঐক্য (إجماع)। কারো পক্ষ থেকে এমন কোনো বর্ণনা পাওয়া যায় না যে, তিনি নারীদের পুরুষদের থেকে আলাদা করা এবং তাদের সুদৃঢ় দুর্গ ও লোহার কপাটবিশিষ্ট ঘরে একাকী বসবাস করানো আবশ্যক বলেছেন, যার চাবিকাঠি থাকবে এমন ব্যক্তির হাতে যিনি তাকওয়া, পবিত্রতা, বার্ধক্য এবং পর্যাপ্ত সংখ্যক স্ত্রীর মাধ্যমে সচ্ছলতার জন্য পরিচিত। যদিও নারী-পুরুষকে পৃথক রাখার মধ্যে ব্যভিচার থেকে নিরাপদ থাকার একটি কল্যাণ রয়েছে, কারণ সবার একই শহরে বসবাস করা ইশারা-ইঙ্গিত, সাক্ষাতের সময় সংবলিত চিরকুট নিক্ষেপ এবং ছাদের ওপর দিয়ে যোগাযোগের মাধ্যমে অশ্লীলতায় লিপ্ত হওয়ার পথ বা মাধ্যম (ذريعة) হতে পারে, যেমনটি নাসর বিন হাজ্জাজ বিন আলাত আল-সুলামি বলেছেন:

আহা, আমি যদি দিনে মুয়াজ্জিনদের অন্তর্ভুক্ত হতাম … এবং তারা দেখত ছাদের ওপর কারা আছে

তারা ইশারা করত অথবা তাদের ইশারা করা হতো … কতই না চমৎকার সেই লাবণ্যময়ী রূপসীগণ

কেননা একই শহরে দ্বীন ও দুনিয়ার কাজে নারী ও পুরুষের পারস্পরিক সহযোগিতার কল্যাণ—যেখানে পুরুষ ও তার পরিবারের নারীরা নিজ নিজ ঘরে অবস্থান করে প্রত্যেকের জন্য উপযুক্ত কাজ ও সেবার মাধ্যমে পরস্পরকে সহযোগিতা করবে—তা একই শহরে উভয় লিঙ্গের একত্র হওয়ার মাধ্যমে ব্যভিচারের পথ রুদ্ধ করার (قطع الذريعة) কল্যাণের চেয়ে অধিক অগ্রগণ্য।

আর কোনো জনকল্যাণের ক্ষেত্রে যদি কোনো অগ্রগণ্য বা সমপর্যায়ের অনিষ্ট (مفسدة) আবশ্যিক হয়ে পড়ে, তবে তার উদাহরণ হলো যখন চাওয়া হয়
(খণ্ড: ১) আল-মাসালিহুল মুরসালাহ - ত জামিয়াতুল ইসলামিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
المسلمون فداء أساراهم من الكفار فامتنع الكفار أن يقبلوا الفداء إلا بسلاح يعلم به أن ذلك السلاح ييسر لهم قتل عدد الأسارى أو أكثر من المسلمين، فإن كان ييسر لهم قتل قدر الأسارى فالمفسدة مساوية وإن كان ييسر لهم قتل أكثر منهم فالمفسدة راجحة.

ومثال تأدية المصلحة إلى مفسدة في ثاني حال: أعني متجددة في المستقبل ما وقع من مؤمني قوم نوح عليه السلام فإن تصويرهم لرجالهم الصالحين يغوث ويعوق، ونسر، وود، وسواع، في حالته الأولى مصلحة وهي التي قصدوها بتصويرهم لأنهم إذا رأوا صورهم تذكروا صلاحهم وعبادتهم فبكوا وعبدوا الله وأطاعوه، ولكنهم لم يعلموا أن هذه المصلحة مستلزمة في المستقبل لمفسدة هي أعظم المفاسد وهي: أن ذلك التصوير وسيلة للكفر البواح والشرك بالله، لأنهم لما مات أهل العلم منهم وبقي أهل الجهل زين لهم الشيطان عبادة تلك الصور فعبدوها وذلك أول شرك وقع في الأرض، وهو أعظم مفسدة قد استلزمتها مصلحة مرسلة، ولم يتفطن لها عند استعمال المصلحة، وذلك يستوجب الحذر التام من العمل بالمصالح المرسلة خوف استلزامها بعض المفاسد التي تتجدد في المستقبل كما ذكرنا آنفاً.
কাফেরদের কাছ থেকে মুসলিমদের যুদ্ধবন্দীদের মুক্তিপণ দেওয়ার বিষয়টি যখন এমন হয় যে, কাফেররা অস্ত্র ছাড়া মুক্তিপণ গ্রহণ করতে অস্বীকার করে, আর এটি নিশ্চিতভাবে জানা থাকে যে, সেই অস্ত্র তাদের জন্য বন্দী মুসলিমদের সমপরিমাণ বা তার চেয়েও বেশি সংখ্যক মুসলিমকে হত্যা করা সহজ করে দেবে; এমতাবস্থায় যদি তা বন্দীদের সমপরিমাণ মুসলিমকে হত্যা করা সহজ করে দেয় তবে অনিষ্ট (مفسدة) সমান হবে, আর যদি তা তাদের চেয়েও বেশিসংখ্যক মুসলিমকে হত্যা করা সহজ করে দেয় তবে অনিষ্ট (مفسدة) প্রবল (راجحة) বলে গণ্য হবে।

জনকল্যাণ (مصلحة) ভবিষ্যতে কোনো নতুন অনিষ্টের (مفسدة) দিকে ধাবিত হওয়ার একটি উদাহরণ হলো নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর সম্প্রদায়ের মুমিনদের ক্ষেত্রে যা ঘটেছিল। তাদের নেককার ব্যক্তি—ইয়াগুস, ইয়াউক, নাসর, ওয়াদ্দ এবং সুওয়া—এর প্রতিকৃতি তৈরি করা প্রাথমিক অবস্থায় একটি জনকল্যাণ (مصلحة) ছিল। প্রতিকৃতি তৈরির মাধ্যমে তারা এটিই উদ্দেশ্য করেছিলেন যে, যখনই তারা এই ছবিগুলো দেখবে, তাদের নেক আমল ও ইবাদতের কথা স্মরণ করবে, ফলে তারা ক্রন্দন করবে এবং আল্লাহর ইবাদত ও আনুগত্য করবে। কিন্তু তারা জানত না যে, এই জনকল্যাণ (مصلحة) ভবিষ্যতে এমন এক অনিষ্ট (مفسدة) ডেকে আনবে যা সব অনিষ্টের চেয়ে গুরুতর; আর তা হলো: সেই প্রতিকৃতিগুলো প্রকাশ্য কুফর (كفر) এবং আল্লাহর সাথে শিরকের (شرك) মাধ্যম হয়ে দাঁড়াবে। কেননা যখন তাদের মধ্যকার ইলমওয়ালা ব্যক্তিরা মৃত্যুবরণ করলেন এবং মূর্খরা অবশিষ্ট রইল, তখন শয়তান তাদের সামনে এই প্রতিকৃতিগুলোর ইবাদত করাকে সুশোভিত করল এবং তারা সেগুলোর পূজা শুরু করল। আর এটিই ছিল পৃথিবীতে সংঘটিত প্রথম শিরক (شرك)। এটি ছিল এক মহা অনিষ্ট (مفسدة), যা একটি অবারিত জনকল্যাণ (مصلحة مرسلة)-এর আবশ্যিক ফল হিসেবে সৃষ্টি হয়েছিল এবং উক্ত জনকল্যাণটি প্রয়োগের সময় বিষয়টি উপলব্ধিতে আসেনি। আর এটিই অবারিত জনকল্যাণ (مصلحة مرسلة) অনুযায়ী আমল করার ক্ষেত্রে পূর্ণ সতর্কতা অবলম্বন করাকে আবশ্যক করে, পাছে ভবিষ্যতে কোনো নতুন অনিষ্ট (مفسدة) সৃষ্টি হয়, যেমনটি আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি।
(খণ্ড: ১) আল-মাসালিহুল মুরসালাহ - ত জামিয়াতুল ইসলামিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
موجز ترجمة صاحب الفضيلة المؤلف رحمه الله.

هو فضيلة الشيخ محمد الأمين الشنقيطي، ومحمد الأمين اسم مركب علم عليه ابن محمد المختار، جده عبد القادر بن محمد بن أحمد نوح، ينتهي نسبه إلى جد قبيلة (تجكانت) من أشهر قبائل موريتانيا علماً وفضلاً.

ويرجع نسب تلك القبيلة إلى حمير، نزحت إلى تلك البلاد وحافظت على نسبها وعروبتها.

مولده ومسقط رأسه:

ولد رحمه الله سنة 1325هـ

وكان مسقط رأسه بمديرية كيفا من بلاد موريتانيا من أبوين أبناء عمومة وفي بيت علم رجالاً ونساء.

طلبه للعلم:

كان بدء طلبه في بيت أهله، وتوفي والده وهو في طفولته، فتلقى على أخواله وخالاته … بدأ يحفظ القرآن وتجويده ورسمه، ثم التاريخ والسيرة والأدب وعلوم العربية ومبادئ الفقه …

ثم رحل إلى طلب العلم على كبار مشايخ بلاده على المتبع في بلاده.

المنهج الدراسي:

وكان المنهج الدراسي إفراد العلم بالدرس، فلا يجمع بين فنين في وقت واحد خشية التخليط أو التشويش، فيستقل بالفقه مثلا حتى ينتهي منه ثم يبدأ بالنحو كذلك وهكذا التوحيد فالأصول فالتفسير.. الخ..

وقد برز رحمه الله على أقرانه في جميع الفنون، وكان منقطعاً للعلم كلية.

قدومه إلى المملكة:

وكان قدومه رحمه الله إلى المملكة عام 1367هـ لأداء فريضة الحج. ثم اعتزم الإقامة وبدأ التدريس في المسجد النبوي ختم فيه التفسير
মান্যবর লেখক (আল্লাহ তাঁকে রহমত করুন)-এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি।

তিনি হলেন মান্যবর শায়খ মুহাম্মাদ আল-আমিন আশ-শানকিতী। ‘মুহাম্মাদ আল-আমিন’ একটি যৌগিক নাম যা তাঁর পরিচিতি, তিনি মুহাম্মাদ আল-মুখতারের পুত্র। তাঁর দাদা আব্দুল কাদির বিন মুহাম্মاد বিন আহমাদ নূহ। তাঁর বংশপরম্পরা মৌরিতানিয়ার জ্ঞান ও মর্যাদার দিক থেকে অন্যতম প্রসিদ্ধ গোত্র ‘তাজাকানত’ (تجكانت)-এর আদিপিতার সাথে গিয়ে মিলিত হয়েছে।

এই গোত্রের বংশধারা ‘হিমইয়ার’ পর্যন্ত পৌঁছেছে, যারা এই ভূখণ্ডে হিজরত করে এসেছিল এবং নিজেদের বংশমর্যাদা ও আরব পরিচয় অক্ষুণ্ণ রেখেছে।

জন্ম ও জন্মস্থান:

তিনি (আল্লাহ তাঁকে রহমত করুন) ১৩২৫ হিজরি সালে জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর জন্মস্থান ছিল মৌরিতানিয়ার কিফা জেলায়। তাঁর পিতামাতা ছিলেন পরস্পর চাচাতো ভাই-বোন এবং তাঁর লালন-পালন হয়েছে এমন এক পরিবারে যেখানে নারী ও পুরুষ উভয়ই ইলম বা জ্ঞানের চর্চা করতেন।

জ্ঞান অন্বেষণ:

তাঁর ইলম অর্জনের সূচনা হয়েছিল নিজ পরিবারে। শৈশবেই তাঁর পিতা ইন্তেকাল করলে তিনি তাঁর মামা ও খালাদের নিকট শিক্ষা লাভ করেন … তিনি কুরআন হিফজ এবং এর তাজবিদ (تجويد) ও রসম (رسم) বা লিখনপদ্ধতি শিক্ষা শুরু করেন। অতঃপর ইতিহাস, সিরাত, সাহিত্য, আরবি ভাষাতত্ত্ব এবং ফিকহের (فقه) প্রাথমিক বিষয়সমূহ অধ্যায়ন করেন …

অতঃপর তিনি নিজ দেশের প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী বড় বড় শায়খদের নিকট জ্ঞান অর্জনের জন্য সফর করেন।

পাঠ্যক্রম:

তাঁদের পাঠ্যক্রমের পদ্ধতি ছিল এককভাবে একটি বিষয় বা শাস্ত্র অধ্যায়ন করা। সংমিশ্রণ বা বিভ্রান্তির আশঙ্কায় একই সময়ে দুটি বিষয়কে একত্র করা হতো না। উদাহরণস্বরূপ, তিনি কেবল ফিকহ (فقه) নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন যতক্ষণ না তা শেষ হতো, এরপর একইভাবে নাহু (نحو) শুরু করতেন। এভাবেই তাওহিদ (توحيد), অতঃপর উসুল (أصول), এরপর তাফসির (تفسير) ইত্যাদি বিষয়গুলো সম্পন্ন করতেন।

তিনি (আল্লাহ তাঁকে রহমত করুন) সকল শাস্ত্রে তাঁর সমসাময়িকদের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন এবং নিজেকে সম্পূর্ণরূপে ইলমের জন্য নিবেদিত করেছিলেন।

সৌদি আরবে আগমন:

তিনি (আল্লাহ তাঁকে রহমত করুন) ১৩৬৭ হিজরি সালে হজ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে আগমন করেন। অতঃপর তিনি সেখানে বসবাসের সংকল্প করেন এবং মসজিদে নববীতে দরস দান শুরু করেন, যেখানে তিনি পূর্ণ তাফসির (تفسير) সমাপ্ত করেন।
(খণ্ড: ১) আল-মাসালিহুল মুরসালাহ - ত জামিয়াতুল ইসলামিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
القرآن الكريم مرتين. وفي عام 1371هـ افتتحت المعاهد والكليات في الرياض ودرس بها إلى عام 1381هـ، إذ افتتحت الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة فانتقل إليها..

وقد نفع الله به في كلتا المؤسستين، وتخرج على يديه الآلاف من الطلاب خاصة في التفسير والعقائد والأصول..

وكان رحمه الله بجانب تدريسه بالجامعة، عضوا لمجلس الجامعة وعضو هيئة كبار العلماء، وعضو المجلس التأسيسي للرابطة.. وقد ترأس وفد الجامعة إلى إفريقيا، وكان له رحمه الله في جميع ذلك الأثر المحمود.

وتوفي رحمه الله بعد أن خلف مؤلفات عديدة متنوعة، هي: 1ـ منع جواز المجاز في المنزل للتعبد والإعجاز.

2ـ دفع إيهام الاضطراب عن آي الكتاب بين وجوه أوجه الجمع فيما ظاهر التعارض في كتاب الله.

3ـ مذكرة في أصول الفقه على روضة الناظر المقررة في الجامعة الإسلامية.

4ـ آداب البحث والمناظرة -مقرر في الجامعة الإسلامية-.

5ـ أضواء البيان في تفسير القرآن بالقرآن -وصل فيه إلى نهاية سورة المجادلة في سبعة مجلدات كبار-.

وله رحمه الله مؤلفات أخرى مخطوطة في بلاده في التاريخ والفقه والمنطق..

كما له العديد من المذكرات الدراسية في التفسير وأصوله وأصول الفقه والمنطق والنحو والصرف.. وله محاضرات طبعت على حساب الجامعة منها:

1ـ آيات الصفات.

2ـ حكمة التشريع.

3ـ المثل العليا في الإسلام.
পবিত্র কুরআন দুইবার (খতম করেন)। এবং ১৩৭১ হিজরি সনে রিয়াদে বিভিন্ন ইনস্টিটিউট ও কলেজসমূহ উদ্বোধন করা হয় এবং তিনি সেখানে ১৩৮১ হিজরি পর্যন্ত অধ্যাপনা করেন। অতঃপর যখন মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন তিনি সেখানে স্থানান্তরিত হন।

আল্লাহ তাআলা উভয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই তাঁর দ্বারা প্রভূত কল্যাণ সাধন করেছেন এবং তাঁর নিকট থেকে বিশেষ করে তাফসির, আকিদাহ ও মূলনীতি (أصول) শাস্ত্রসমূহে হাজার হাজার শিক্ষার্থী শিক্ষা সমাপ্ত করেছেন।

আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় কাউন্সিলের সদস্য, উচ্চতর উলামা পরিষদের সদস্য এবং রাবিতার (মুসলিম ওয়ার্ল্ড লীগ) প্রতিষ্ঠাতা পরিষদের সদস্য ছিলেন। তিনি আফ্রিকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এবং এই সবক্ষেত্রেই তাঁর প্রশংসনীয় অবদান ছিল।

তিনি বেশ কিছু বৈচিত্র্যময় রচনা রেখে ইন্তেকাল করেন, সেগুলো হলো: ১- মানউ জাওয়াযিল মাজায ফিল মুনযাল লিত-তাআববুদি ওয়াল ইজায।

২- দাফউ ইহামিল ইদতিরাব আন আয়িল কিতাব (আল্লাহর কিতাবের আপাত বিরোধপূর্ণ আয়াতসমূহের মধ্যে সমন্বয়ের পদ্ধতি)।

৩- মুযাক্কিরাহ ফি উসুলিল ফিকহ (মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্ধারিত রওদাতুন নাযির কিতাবের ওপর ফিকহ শাস্ত্রের মূলনীতি (أصول الفقه) বিষয়ক নোট)।

৪- আদাবুল বাহাস ওয়াল মুনাজারা -মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্য-।

৫- আদওয়াউল বায়ান ফি তাফসিরিল কুরআন বিল কুরআন -এই গ্রন্থে তিনি সাতটি বিশাল খণ্ডে সূরা আল-মুজাদালাহর শেষ পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন-।

আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন, তাঁর নিজ দেশে ইতিহাস, ফিকহ এবং যুক্তিবিদ্যা বিষয়ে আরও কিছু পাণ্ডুলিপি রয়েছে।

এছাড়াও তাফসির ও এর মূলনীতি (أصول), ফিকহ শাস্ত্রের মূলনীতি (أصول الفقه), যুক্তিবিদ্যা, ব্যাকরণ ও রূপতত্ত্ব বিষয়ে তাঁর অসংখ্য শিক্ষা নোট রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তাঁর কিছু বক্তৃতা মুদ্রিত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:

১- আয়াতুস সিফাত।

২- হিকমাতুত তাশরি।

৩- আল-মাসালুল উলা ফিল ইসলাম।
(খণ্ড: ১) আল-মাসালিহুল মুরসালাহ - ত জামিয়াতুল ইসলামিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
4ـ كمال الشريعة وشمولها.

5ـ المصالح المرسلة. وهي هذه التي نقدم لها.

وقد أملاها فضيلته رحمه الله وألقيتها نيابة عنه في الموسم الثقافي لمحاضرات الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة عام 1390هـ.

ومن مؤلفاته العديدة ومحاضراته المتنوعة تظهر مكانته العلمية، وبالتالي قيمة هذه المحاضرة الخطيرة والتي تمس إليها الحاجة في هذا الوقت الذي تعددت فيه مرافق الحياة وتنوعت أشكال المعاملات.

وفاته:

وكانت وفاته رحمه الله ضحى يوم الخميس السابع عشر من ذي الحجة عام 1393هـ، ودفن بمقبرة المعلى بمكة المكرمة، وصلى عليه سماحة رئيس الجامعة فضيلة الشيخ عبد العزيز بن عبد الله بن باز وصلى عليه بالمسجد النبوي ليلة الأحد فضيلة إمام المسجد النبوي الشريف الشيخ عبد العزيز بن صالح ثم صُلي عليه في أماكن أخرى..رحمة الله تعالى عليه.. وإني لأرجو الله تعالى أن يجعلها مما ورثه من علم ينتفع به وأن يجزل الثواب عليها لكل ساع في نشرها.. وأن يتغمده تعالى بواسع رحمته ويسكنه فسيح جناته وصلى الله وسلم وبارك على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه..

كتبها تلميذه: عطية محمد سالم -قاض بمحكمة المدينة المنورة-.
৪. শরীয়তের পূর্ণতা ও এর ব্যাপকতা।

৫. জনকল্যাণ (المصالح المرسلة)। এটিই সেই বিষয় যা আমরা এখানে উপস্থাপন করছি।

সম্মানিত শাইখ (রাহিমাহুল্লাহ) এটি শ্রুতিলিপি হিসেবে লিখিয়েছিলেন এবং আমি তাঁর পক্ষ থেকে ১৩৯০ হিজরি সনে মদিনা মুনাওয়ারার ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক বক্তৃতা মৌসুমে এটি পাঠ করেছিলাম।

তাঁর অসংখ্য রচনা ও বিচিত্র বক্তৃতার মাধ্যমে তাঁর পাণ্ডিত্যপূর্ণ অবস্থান প্রকাশ পায়। ফলস্বরূপ, এই গুরুত্বপূর্ণ বক্তৃতার গুরুত্বও ফুটে ওঠে, যার প্রয়োজনীয়তা বর্তমান সময়ে অত্যন্ত বেশি; যখন জীবনযাত্রার উপকরণ বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং লেনদেনের পদ্ধতিতে বৈচিত্র্য এসেছে।

তাঁর ইন্তেকাল:

তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) ১৩৯৩ হিজরি সনের ১৭ই জিলহজ, বৃহস্পতিবার পূর্বাহ্নে ইন্তেকাল করেন এবং মক্কা মুকাররমার আল-মুআল্লা কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় চ্যান্সেলর শাইখ আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বাজ তাঁর জানাজার নামাজ পড়ান। পরবর্তীতে রবিবার রাতে মসজিদে নববীতে মসজিদে নববী শরীফের ইমাম শাইখ আব্দুল আজিজ বিন সালেহ তাঁর জানাজার নামাজ পড়ান এবং এরপর অন্যান্য স্থানেও তাঁর জানাজা পড়া হয়। আল্লাহ তায়ালা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন। আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি একে তাঁর রেখে যাওয়া সেই উপকারী ইলম হিসেবে কবুল করেন যার দ্বারা মানুষ উপকৃত হয় এবং এর প্রকাশ ও প্রচারের জন্য যারা সচেষ্ট তাদের প্রত্যেককে উত্তম প্রতিদান দান করেন। আল্লাহ তায়ালা তাঁকে তাঁর প্রশস্ত রহমতে আবৃত করুন এবং তাঁকে জান্নাতুল ফিরদাউসে স্থান দান করুন। আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীদের ওপর আল্লাহর রহমত, শান্তি ও বরকত বর্ষিত হোক।

এটি লিখেছেন তাঁর ছাত্র: আতিয়াহ মুহাম্মদ সালিম - বিচারক, মদিনা মুনাওয়ারা আদালত।