(খণ্ড: ১)
আল-মুসকিরাতু ওয়াল মুখাদ্দারাত
(পৃষ্ঠা: -)
المسكرات والمخدرات القسم: مسائل فقهية
الكتاب: المسكرات والمخدرات
المؤلف: أحمد حاج علي الأزرق
الناشر: الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة
الطبعة: السنة الرابعة عشر - العدد الرابع والخمسون
عدد الصفحات: 40
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
মাদকদ্রব্য ও নেশাজাতীয় দ্রব্য বিভাগ: ফেকহি মাসায়েল
গ্রন্থ: মাদকদ্রব্য ও নেশাজাতীয় দ্রব্য
লেখক: আহমদ হাজ আলি আল-আজরাক
প্রকাশক: মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়
সংস্করণ: চতুর্দশ বর্ষ - ৫৪তম সংখ্যা
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪০
[গ্রন্থের পৃষ্ঠাসংখ্যা মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-মুসকিরাতু ওয়াল মুখাদ্দারাত
(পৃষ্ঠা: ২৯)
مدخل…المسكرات والمخدرات وموقف الشريعة الإسلامية منها:
للدكتور أحمد علي الأزرق رئيس قسم الفقه بكلية الشريعة بالجامعة
نحمد الله سبحانه الذي أحل لعباده الطيبات، وحرم عليهم الخبائث.
ونصلي ونسلم على خير خلقه محمد بن عبد الله صلوات الله وسلامه عليه وعلى آله وصحبه ومن دعا بدعوته وسار على نهجه إلى يوم الدين، وبعد.
فإن من مقاصد الشريعة الإسلامية جلب النفع ودفع الضرر.
فمن جلب المنافع إباحة جميع ما في الأرض، وتسخير كل القوى لخدمة الإنسان قال تعالى: {هُوَ الَّذِي خَلَقَ لَكُمْ مَا فِي الأَرْضِ جَمِيعاً} .
والقاعدة في ذلك عند فقهاء الإسلام أن الأصل في الأشياء الإباحة حتى يأتي الخطر.
أما دفع المضار فإن الإسلام قد شرع من الأحكام ما يهدف به إلى الحماية والمحافظة على ما يعرف بالضروريات لكل مجتمع من المجتمعات. وهذه الضروريات جاءت جميع الشرائع السماوية بحمايتها والمحافظة عليها، لأنه لا حياة للناس بدونها. ولا استقرار ولا أمن ولا طمأنينة إلا بصونها عن عبث العابثين والضروريات هي: (1) الأديان (2) الأنفس (3) العقول (4) الأنساب (5) الأعراض (6) الأموال.
প্রারম্ভিকা…মাদকদ্রব্য ও নেশাজাতীয় বস্তু এবং এ সম্পর্কে ইসলামি শরিয়াহর অবস্থান:
ডক্টর আহমদ আলী আল-আজরাক, প্রধান, ফিকহ বিভাগ, শরিয়াহ অনুষদ, বিশ্ববিদ্যালয়
আমরা মহান আল্লাহর প্রশংসা করছি যিনি তাঁর বান্দাদের জন্য পবিত্র বস্তুসমূহ হালাল করেছেন এবং তাদের জন্য অপবিত্র বস্তুসমূহ হারাম করেছেন।
আমরা দরুদ ও সালাম পেশ করছি সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ সত্তা মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহর ওপর—আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক তাঁর ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সাহাবিগণ এবং যারা তাঁর দাওয়াতের দিকে আহ্বান করেন ও কিয়ামত পর্যন্ত তাঁর পদ্ধতির ওপর অটল থাকেন তাদের ওপর। অতঃপর—
নিশ্চয়ই ইসলামি শরিয়াহর অন্যতম উদ্দেশ্য হলো কল্যাণ আনয়ন ও ক্ষতি নিবারণ করা।
কল্যাণ আনয়নের একটি দিক হলো জমিনে যা কিছু আছে তার সবকিছুকে বৈধ ঘোষণা করা এবং মানুষের সেবায় সকল শক্তিকে নিয়োজিত করা। মহান আল্লাহ বলেন: "তিনিই সেই সত্তা যিনি তোমাদের জন্য জমিনে যা আছে তার সবকিছু সৃষ্টি করেছেন।"
এ ক্ষেত্রে ইসলামি ফকিহগণের নিকট স্বীকৃত মূলনীতি হলো: "বস্তুর ক্ষেত্রে মূল বিধান হলো বৈধতা, যতক্ষণ না নিষেধাজ্ঞার কোনো দলিল আসে।"
আর ক্ষতি নিবারণের ক্ষেত্রে ইসলাম এমন সব বিধান প্রণয়ন করেছে যার লক্ষ্য হলো প্রতিটি সমাজের জন্য 'অপরিহার্য বিষয়সমূহ' হিসেবে পরিচিত বিষয়গুলোকে সুরক্ষা ও সংরক্ষণ করা। এই অপরিহার্য বিষয়গুলো সুরক্ষার জন্যই সমস্ত আসমানি শরিয়াহ অবতীর্ণ হয়েছে, কারণ এগুলো ব্যতীত মানুষের জীবন রক্ষা পাওয়া সম্ভব নয়। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের অনিষ্ট থেকে এগুলোকে রক্ষা করা ব্যতীত কোনো স্থিতি, নিরাপত্তা বা প্রশান্তি নেই। আর এই অপরিহার্য বিষয়গুলো হলো: (১) ধর্ম (২) জীবন (৩) বুদ্ধি (৪) বংশধারা (৫) সম্মান (৬) সম্পদ।
(খণ্ড: ১)
আল-মুসকিরাতু ওয়াল মুখাদ্দারাত
(পৃষ্ঠা: ৩০)
حفظ العقل:العقل نعمة من نعم الله الجليلة فهو الذي يميز به المرء بين الهدى والضلال. والخير والشر. والطيب والخبيث.
والعقل هو مناط التكليف وبه فضل الله الإنسان على بقية أنواع الحيوان لذا حرصت الشريعة الإسلامية على تحريم كل ما يضر بالعقل. فحرمت الخمر وكل مسكر. ولم تكتف بجعل الجزاء أخرويا فحسب. لأنه جزاء آجل وبعض النفوس لا يثنيها عن غيها ولا يردعها
বুদ্ধি সংরক্ষণ:বুদ্ধি বা বিবেক হলো আল্লাহর মহান অনুগ্রহসমূহের অন্যতম; যার মাধ্যমে মানুষ হিদায়াত ও পথভ্রষ্টতা, কল্যাণ ও অকল্যাণ এবং পবিত্র ও অপবিত্রের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করে।
আর বুদ্ধিই হলো শারয়ী বিধান অর্পিত হওয়ার মূল ভিত্তি এবং এর মাধ্যমেই আল্লাহ তাআলা মানুষকে অন্যান্য সকল প্রাণীর ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। একারণেই ইসলামি শরিয়ত বুদ্ধির ক্ষতিসাধনকারী প্রতিটি বিষয়কে নিষিদ্ধ করার ব্যাপারে সচেষ্ট হয়েছে। ফলে ইসলাম মদ ও সকল প্রকার নেশাজাতীয় দ্রব্যকে হারাম ঘোষণা করেছে। এক্ষেত্রে ইসলাম কেবল পরকালীন শাস্তির বিধান রাখাকেই যথেষ্ট মনে করেনি; কারণ তা হলো বিলম্বিত শাস্তি, যা অনেক কুপ্রবৃত্তিকে তার ভ্রষ্টতা থেকে নিবৃত্ত করে না এবং তাকে বিরত রাখে না।
(খণ্ড: ১)
আল-মুসকিরাতু ওয়াল মুখাদ্দারাত
(পৃষ্ঠা: ৩১)
عن طغيانها آجل الجزاء بل يردعها التأديب الجسماني العاجل فشرعت لذلك عقوبة على من يتناول المسكرات أو يسعى في إزالة عقل شخص بالضرب ونحوه.
এর সীমালঙ্ঘন দমনে কেবল পরকালীন প্রতিদানই যথেষ্ট নয়, বরং তাৎক্ষণিক শারীরিক শাসনই একে নিবৃত্ত করে। সে কারণেই যারা মাদকদ্রব্য সেবন করে কিংবা প্রহার বা অনুরূপ কোনো উপায়ে কোনো ব্যক্তির বোধশক্তি বিলুপ্ত করার চেষ্টা করে, তাদের জন্য শাস্তির বিধান করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-মুসকিরাতু ওয়াল মুখাদ্দারাত
(পৃষ্ঠা: ৩১)
تحريم الخمر:الخمر يقال لكل مسكر خامر العقل أي غطاه. وقيل هو: اسم للمتخذ من ماء العنب أو للمتخذ من ماء العنب والتمر. ورجح غير واحد من أئمة اللغة كالجوهري والدينوري أنه لكل شيء ستر العقل1.
وقد حرمت الشريعة الإسلامية الخمر وعاقبت على شربها منذ أربعة عشر قرنا وانفردت بتحريمها والعقاب عليها طيلة هذه المدة حتى جاء العالم في القرن العشرين يشهد للإسلام بأنه كان على الحق في موقفه من الخمر. وذلك بعد أن أثبت العلم أن فيها من الأضرار ما لا يحصى فهي تفسد العقل. والصحة وتؤدي إلى ضياع المال والكرامة 2.
--------------------------------------------
মদ বা নেশাজাতীয় দ্রব্য নিষিদ্ধকরণ:বিবেক-বুদ্ধিকে আচ্ছন্ন বা আবৃত করে ফেলে এমন প্রত্যেকটি নেশাজাতীয় দ্রব্যকেই 'খামর' (মদ) বলা হয়। কারো কারো মতে, এটি আঙ্গুরের রস থেকে প্রস্তুতকৃত পানীয় অথবা আঙ্গুর ও খেজুরের রস থেকে প্রস্তুতকৃত পানীয়ের নাম। তবে আল-জওহারী ও আদ-দিনাওয়ারীর মতো একাধিক ভাষাবিদ ইমাম এই মতটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন যে, মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিকে যা কিছু আবৃত করে ফেলে, তা-ই এর অন্তর্ভুক্ত।১
ইসলামি শরিয়ত চৌদ্দশ বছর পূর্বেই মদ পানকে হারাম ঘোষণা করেছে এবং এর জন্য শাস্তির বিধান প্রদান করেছে। দীর্ঘ এই সময়কাল ধরে মদ নিষিদ্ধকরণ ও এর শাস্তির বিধানে ইসলাম একক অবস্থানে ছিল, এমনকি বিংশ শতাব্দীতে এসে আধুনিক বিশ্ব ইসলামের এই অবস্থানের যথার্থতার সাক্ষ্য দিচ্ছে। আর এটি সম্ভব হয়েছে বিজ্ঞানের মাধ্যমে যখন এটি প্রমাণিত হয়েছে যে, এতে অগণিত ক্ষতিকর দিক রয়েছে; এটি মানুষের মেধা ও স্বাস্থ্য বিনষ্ট করে এবং সম্পদ ও সম্মানহানির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।২
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুসকিরাতু ওয়াল মুখাদ্দারাত
(পৃষ্ঠা: ৩১)
التدرج التشريعي في تحريم الخمر:جاء الإسلام والعرب كانوا في إباحة واسعة يكرهون كل ما يقيد حريتهم أو يحد من شهواتهم. وقد تمكنت من نفوسهم عادات كثيرة لا يستطيعون التحول عنها دفعة فاقتضت الحكمة الإلهية ألا يفاجئوا بالأحكام جملة فتثقل بها كواهلهم وتنفر منها نفوسهم. ولذلك وردت الأحكام التكليفية شيئا فشيئا ليكون السابق من الأحكام معداً للنفوس ومهيئاً لها لقبول اللاحق. وبذلك تكون أوقع في النفس وأقرب للانقياد.
من ذلك تحريم الخمر فإنها كانت متمكنة من نفوس العرب تمكنا اقتضت معه الحكمة الإلهية أن يتدرج القرآن في تشريع أحكامها. فلم يصرح لهم بتحريمها من أول الأمر بل قال في جواب عنها وعن الميسر {قُلْ فِيهِمَا إِثْمٌ كَبِيرٌ وَمَنَافِعُ لِلنَّاسِ وَإِثْمُهُمَا أَكْبَرُ مِنْ نَفْعِهِمَا} 3.
ولا يفهم طلب الكف عنهما من هذه الآية إلا من عرف سرَّ التشريع لأن ما كثر إثمه ينبغي تركه إذ لا يوجد في الأفعال شر محض فالعبرة في الحل والحرمة بغلبة جهة المصلحة أو المفسدة.
--------------------------------------------
মদ্যপান হারামের ক্ষেত্রে বিধান প্রণয়নের পর্যায়ক্রম:ইসলাম যখন আবির্ভূত হয়, তখন আরবরা এমন ব্যাপক স্বাধীনতার মধ্যে নিমজ্জিত ছিল যে, তারা তাদের স্বাধীনতায় বাধা প্রদানকারী কিংবা তাদের প্রবৃত্তিকে সীমিতকারী সব কিছুকেই অপছন্দ করত। তাদের হৃদয়ে বহু অভ্যাস এমনভাবে গেঁথে গিয়েছিল যে, সেগুলো থেকে হঠাৎ করে ফিরে আসা তাদের পক্ষে সম্ভব ছিল না। ফলে ঐশী প্রজ্ঞার দাবি ছিল যে, তাদের ওপর একযোগে সব বিধান চাপিয়ে দিয়ে চমকে দেওয়া হবে না, পাছে তা তাদের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়ায় এবং তাদের মন তা থেকে বিমুখ হয়ে পড়ে। এ কারণেই পালনীয় বিধানসমূহ ধীরে ধীরে অবতীর্ণ হয়েছে, যাতে পূর্ববর্তী বিধানগুলো পরবর্তী বিধানসমূহ গ্রহণের জন্য মনকে প্রস্তুত ও অনুকূল করে তোলে। এর ফলে তা অন্তরে অধিক প্রভাব বিস্তারকারী এবং আনুগত্যের জন্য অধিকতর সহজ হয়।
এর অন্যতম উদাহরণ হলো মদ্যপান নিষিদ্ধকরণ। আরবদের হৃদয়ে এটি এমনভাবে গেঁথে ছিল যে, ঐশী প্রজ্ঞার দাবি অনুযায়ী মদের বিধান প্রণয়নের ক্ষেত্রে কুরআন ক্রমধারা অবলম্বন করেছিল। তাই শুরুতেই তাদের কাছে এটি নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করা হয়নি; বরং মদ ও জুয়া সম্পর্কে প্রশ্নের উত্তরে বলা হয়েছে: {আপনি বলুন, এ দু’টির মধ্যে রয়েছে মহাপাপ এবং মানুষের জন্য কিছু উপকার; আর এ দু’টির পাপ এদের উপকার অপেক্ষা অনেক বড়} ৩।
বিধান প্রণয়নের রহস্য সম্পর্কে যারা অবগত, তারা ব্যতীত এই আয়াত থেকে তা বর্জনের নির্দেশ কেউ বুঝতে পারবে না। কারণ যার পাপ বা ক্ষতি অধিক, তা বর্জন করা আবশ্যক। মানুষের কোনো কাজের মধ্যেই নিরেট মন্দ বিদ্যমান নেই; তাই কোনো বিষয় বৈধ বা নিষিদ্ধ হওয়ার মূল ভিত্তি হলো তাতে কল্যাণ অথবা অকল্যাণের প্রাধান্য থাকা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুসকিরাতু ওয়াল মুখাদ্দারাত
(পৃষ্ঠা: ৩২)
وبعد أن أشار القرآن الكريم إلى أنه ينبغي تركها لغلبة إثمها نهى الناس عن الصلاة في حالة السكر قال تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تَقْرَبُوا الصَّلاةَ وَأَنْتُمْ سُكَارَى حَتَّى تَعْلَمُوا مَا تَقُولُونَ} 1.
ثم صرح بالنهي عنها نهيا عاماً مؤكداً فقال سبحانه: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالأَنْصَابُ وَالأَزْلامُ رِجْسٌ مِنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ فَاجْتَنِبُوهُ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ إِنَّمَا يُرِيدُ الشَّيْطَانُ أَنْ يُوقِعَ بَيْنَكُمُ الْعَدَاوَةَ وَالْبَغْضَاءَ فِي الْخَمْرِ وَالْمَيْسِرِ وَيَصُدَّكُمْ عَنْ ذِكْرِ اللَّهِ وَعَنِ الصَّلاةِ فَهَلْ أَنْتُمْ مُنْتَهُونَ} 2.
والمتأمل في الآيات الكريمة التي نزلت في تحريم الخمر يرى أنه أشارت في إيجاز محكم إلى المفاسد الرئيسية للخمر. فآية النساء التي منعت من اقتراب الصلاة في حالة السكر بينت علة المنع وهي ألا يعلم المصلي ما يقول وفي هذا إشارة إلى أن الخمر تخرج الإنسان عن وعيه. وتفقده إدراكه. حتى يبلغ مرتبة الهذيان. وفي ذلك امتهان للعقل الذي كرم الله به الإنسان وفضله على سائر المخلوقات فالخمر مفسدة للفرد في عقله وآدميته.
كما أوضحت آية المائدة التي جاء فيها التحريم النهائي للخمر. سبب هذا التحريم وهو أن الخمر والميسر رجس من عمل الشيطان توقع العداوة والبغضاء بين المسلمين وتصرفهم عن ذكر الله وعن الصلاة. أي أنها مفسدة خلقية واجتماعية. ودينية. وأقل ما تحدثه الخمر بالإنسان هو أنها تشيع في نفسه روح الاستهتار وعدم المبالاة بالقيم. وأنها تبعد شاربها عن دينه وإيمانه.
روى البخاري بسنده عن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "لا يزني الزاني حين يزني وهو مؤمن. ولا يشرب الخمر حين يشرب وهو مؤمن" 3.
هذا وقد أثبتت الأبحاث الطبية الحديثة مخاطر إدمان شرب الخمر على أجهزة الجسم المختلفة. وأثبتت أيضا أن شرب الخمر قد يفضي إلى الوفاة بالتسمم الكحولي وأن الإدمان يفضي إلى الجنون. ولهذا نرى الأطباء يوصون المريض بعدم تناول المشروبات الكحولية وإلا عرض نفسه للخطر. وكل هذه الأضرار التي في الخمر أصبحت الآن حقائق علمية مؤكدة تدرس لطلبة الطب في أنحاء العالم 4.
--------------------------------------------
পবিত্র কুরআন মজিদে মদের অপকারিতা তার উপকারের তুলনায় প্রবল হওয়ায় তা বর্জন করা উচিত বলে ইঙ্গিত দেওয়ার পর আল্লাহ তাআলা মানুষকে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় সালাত আদায়ে নিষেধ করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {হে মুমিনগণ, তোমরা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় সালাতের কাছে যেও না, যতক্ষণ না তোমরা যা বলো তা বুঝতে পারো} ১।
অতঃপর তিনি একে সাধারণভাবে ও অত্যন্ত জোরালোভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে বলেন: {হে মুমিনগণ, নিশ্চয়ই মদ, জুয়া, প্রতিমা ও ভাগ্য নির্ণায়ক তীরসমূহ শয়তানের অপবিত্র কাজ ছাড়া আর কিছুই নয়; সুতরাং তোমরা এগুলো বর্জন করো যেন তোমরা সফলকাম হতে পারো। শয়তান তো মদ ও জুয়ার মাধ্যমে তোমাদের মাঝে শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করতে চায় এবং তোমাদের আল্লাহর স্মরণ ও সালাত থেকে বিমুখ করতে চায়; তবে কি তোমরা বিরত হবে না?} ২।
মদ হারাম হওয়া সংক্রান্ত অবতীর্ণ আয়াতগুলো নিয়ে চিন্তা করলে দেখা যায় যে, এগুলো অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ও সুদৃঢ়ভাবে মদের প্রধান ক্ষতিকর দিকগুলোর দিকে ইঙ্গিত দিয়েছে। সূরা আন-নিসার আয়াতটি, যা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় সালাতের কাছে যেতে নিষেধ করেছে, তা এই নিষেধাজ্ঞার কারণ (علة) বর্ণনা করেছে যে, মুসল্লি তখন কী বলছে তা বুঝতে পারে না। এতে ইঙ্গিত রয়েছে যে, মদ মানুষকে বিবেকহীন করে দেয় এবং তার বোধশক্তি লোপ করে দেয়, এমনকি সে প্রলাপ বকার স্তরে পৌঁছে যায়। এর মাধ্যমে মানুষের সেই বুদ্ধিবৃত্তিক সত্তার অবমাননা করা হয় যার দ্বারা আল্লাহ মানুষকে সম্মানিত করেছেন এবং তাকে অন্যান্য সৃষ্টির ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। সুতরাং মদ ব্যক্তির বিবেক ও মনুষ্যত্বের জন্য ধ্বংসাত্মক।
একইভাবে সূরা আল-মায়িদাহ-এর আয়াতে মদের চূড়ান্ত নিষেধাজ্ঞা এসেছে। এতে এই নিষেধাজ্ঞার কারণ স্পষ্ট করা হয়েছে যে, মদ ও জুয়া শয়তানের অপবিত্র কাজ যা মুসলমানদের মধ্যে শত্রুতা ও ঘৃণা তৈরি করে এবং তাদের আল্লাহর স্মরণ ও সালাত থেকে বিমুখ করে। অর্থাৎ এটি একটি নৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় বিপর্যয়। মদ মানুষের মাঝে যে ন্যূনতম ক্ষতিটি করে তা হলো এটি তার অন্তরে বেপরোয়া মনোভাব এবং মূল্যবোধের প্রতি উদাসীনতা সৃষ্টি করে; আর এটি পানকারীকে তার দ্বীন ও ঈমান থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।
বুখারি তাঁর সনদ (سند) সহকারে আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "ব্যভিচারী যখন ব্যভিচার করে তখন সে মুমিন থাকে না এবং মদ পানকারী যখন মদ পান করে তখন সে মুমিন থাকে না" ৩।
আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের গবেষণায় শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ওপর মদ্যপানের ভয়াবহতা ও ঝুঁকি প্রমাণিত হয়েছে। এটিও প্রমাণিত হয়েছে যে, মদ্যপান অ্যালকোহল বিষক্রিয়ার মাধ্যমে মৃত্যুর দিকে নিয়ে যেতে পারে এবং এর আসক্তি উন্মাদনার সৃষ্টি করে। এ কারণেই আমরা দেখি চিকিৎসকরা রোগীদের মাদকদ্রব্য গ্রহণ না করার পরামর্শ দেন, অন্যথায় তারা নিজেদের বিপদের সম্মুখীন করবেন। মদের এই সমস্ত ক্ষতিকর দিকগুলো এখন বৈজ্ঞানিকভাবে সুনিশ্চিত সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত যা সারা বিশ্বের চিকিৎসা বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের পড়ানো হয় ৪।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুসকিরাতু ওয়াল মুখাদ্দারাত
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
السنة النبوية والخمر:جاءت الأحاديث النبوية الصحيحة مؤكدة لتحريم الخمر. وجاء فيها بيان الأنواع التي تصنع منها الخمر على ما كان معروفاً في بلاد العرب وبيان عقوبة شارب الخمر. وبينت السنة أن الخمر ليست بدواء كما كان يظن بعض الناس وإنما هي داء.
فعن ابن عمر رضي الله عنهما أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: " كل مسكر خمر وكل مسكر حرام " 1.
وعن عمر رضي الله عنه قال: نزل تحريم الخمر وهي من خمسة: من العنب، والتمر والعسل، والحنطة والشعير، والخمر ما خامر العقل. متفق عليه 2.
وعن جابر رضي الله عنه أن رجلا من جيشان. وجيشان من اليمن سأل النبي صلى الله عليه وسلم عن شراب يشربونه بأرضهم من الذرة يقال له: المِزْرُ. فقال: "أمسكر هو؟ قال: نعم فقال: " كل مسكر حرام".
إن الله عهد عهداً لمن يشرب المسكر أن يسقيه من طينة الخبال. قالوا: يا رسول الله وما طينة الخبال؟ قال: عرق أهل النار أو عصارة أهل النار" رواه أحمد ومسلم والنسائي3.
--------------------------------------------
সুন্নাহ ও মদ:মদ হারাম (حرام) হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য সহিহ (صحيح) হাদিসসমূহ বর্ণিত হয়েছে। এতে আরবে প্রচলিত মদের প্রকারভেদ এবং মদ্যপায়ীর শাস্তির বর্ণনা এসেছে। সুন্নাহ আরও স্পষ্ট করেছে যে, মদ কোনো ঔষধ নয় যেমনটি কিছু মানুষ মনে করত, বরং এটি একটি রোগ।
ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সা.) বলেছেন: "প্রত্যেক নেশাজাতীয় দ্রব্যই মদ এবং প্রত্যেক নেশাজাতীয় দ্রব্যই হারাম (حرام)।" ১।
উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: মদ হারাম (حرام) হওয়ার বিধান যখন অবতীর্ণ হয়, তখন তা পাঁচটি বস্তু থেকে তৈরি হতো: আঙুর, খেজুর, মধু, গম ও যব। আর যা বুদ্ধিকে আচ্ছন্ন করে দেয় তা-ই মদ। মুত্তাফাকুন আলাইহি (متفق عليه) ২।
জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত যে, জাইশান (জাইশান ইয়ামানের একটি অঞ্চল) এর এক ব্যক্তি নবী (সা.)-কে তাদের এলাকায় ভুট্টা থেকে তৈরি এক প্রকার পানীয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন, যাকে ‘মিজর’ বলা হতো। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: "তা কি নেশা উদ্রেককারী?" সে বলল: "হ্যাঁ"। তখন তিনি বললেন: "প্রত্যেক নেশাজাতীয় দ্রব্যই হারাম (حرام)।"
নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, যে ব্যক্তি নেশাজাতীয় দ্রব্য পান করবে তাকে 'ত্বিনাতুল খাবাল' পান করানো হবে। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন: হে আল্লাহর রাসুল! 'ত্বিনাতুল খাবাল' কী? তিনি বললেন: "জাহান্নামিদের ঘাম অথবা জাহান্নামিদের শরীর থেকে নিঃসৃত নির্যাস।" এটি আহমদ, মুসলিম ও নাসায়ি বর্ণনা করেছেন ৩।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুসকিরাতু ওয়াল মুখাদ্দারাত
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
حد الشرب…حد الشارب:
عن أنس بن مالك رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم أتى برجل شرب الخمر فجلده بجريدتين نحو أربعين قال - أنس - وفعله أبو بكر فلما كان عمر استشار الناس فقال عبد الرحمن بن عوف: أخف الحدود ثمانون فأمر به عمر. متفق عليه4.
ولمسلم في قصة الوليد بن عقبة. جلد رسول الله صلى الله عليه وسلم أربعين وجلد أبو بكر أربعين. وجلد عمر ثمانين وكل سنة5.
--------------------------------------------
মদ্যপানের দণ্ড…মদ্যপায়ীর দণ্ড:
আনাস ইবনে মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এমন এক ব্যক্তিকে আনা হলো যে মদ পান করেছিল, অতঃপর তিনি তাকে খেজুরের দুটি ডাল দিয়ে প্রায় চল্লিশটি বেত্রাঘাত করলেন। আনাস (রা.) বলেন— আবু বকর (রা.)-ও এরূপ করেছিলেন। অতঃপর উমর (রা.)-এর শাসনামলে তিনি এ বিষয়ে লোকজনের সাথে পরামর্শ করলেন। তখন আব্দুর রহমান বিন আউফ (রা.) বললেন: ‘নির্ধারিত দণ্ডসমূহের মধ্যে সর্বনিম্ন হলো আশি’। তখন উমর (রা.) তা কার্যকর করার নির্দেশ দিলেন। সর্বসম্মত (متفق عليه) ৪।
এবং মুসলিম-এ ওয়ালিদ ইবনে উকবাহর কাহিনীতে বর্ণিত হয়েছে: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) চল্লিশটি বেত্রাঘাত করেছেন এবং আবু বকর (রা.) চল্লিশটি বেত্রাঘাত করেছেন। আর উমর (রা.) আশিটি বেত্রাঘাত করেছেন; আর এর প্রতিটিই সুন্নাত (سنة) ৫।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুসকিরাতু ওয়াল মুখাদ্দারাত
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
الخمر داء:عن وائل بن حجر الحضرمي أن طارق بن سويد سأل النبي صلى الله عليه وسلم عن
মদ একটি ব্যাধি:ওয়াইল ইবনে হুজর আল-হাদরামি হতে বর্ণিত যে, তারিক ইবনে সুওয়াইদ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ... সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন
(খণ্ড: ১)
আল-মুসকিরাতু ওয়াল মুখাদ্দারাত
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
الخمر يصنعها للدواء. فقال: إنها ليست بدواء ولكنها داء. أخرجه مسلم وأبو داود وغيرهما.
وعن أم سلمة رضي الله عنها عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: " إن الله لم يجعل شفاءكم فيما حرم عليكم ". أخرجه البيهقي وصححه ابن حبان1.
فهذان الحديثان يدلان على أنه يحرم التداوي بالخمر وأنها داء.
يقول العلامة ابن القيم في الطب النبوي: المعالجة بالمحرمات قبيحة عقلا وشرعا أما الشرع فما ورد في الأحاديث النبوية.
وأما العقل فهو أن الله سبحانه وتعالى حرمه لخبثه فإنه لم يحرم على هذه الأمة طيبا عقوبة لها كما حرمه على بني إسرائيل بقوله: {فَبِظُلْمٍ مِنَ الَّذِينَ هَادُوا حَرَّمْنَا عَلَيْهِمْ طَيِّبَاتٍ أُحِلَّتْ لَهُمْ} 2.
وإنما حرم الله على هذه الأمة ما حرم حمية لهم. وصيانة عن تناوله. فلا يتناسب أن يطلب به الشفاء من الأسقام والعلل. فإنه وإن أثر في إزالتها لكنه يعقب سقماً أعظم منه في القلب بقوة الخبث الذي فيه. فيكون المداوي به قد سعى في إزالة سقم البدن بسقم القلب. وأيضا فإن تحريمه يقتضي تجنبه والبعد عنه بكل طريق. وباتخاذه دواء حض على الترغيب فيه وملابسته. وهذا ضد مقصود الشارع. وأيضا فإن الخمر داء كما نص عليه صاحب الشريعة فلا يجوز أن يتخذ دواء3.
--------------------------------------------
মদ, যা তিনি ঔষধ হিসেবে প্রস্তুত করেন। তখন তিনি (রাসূলুল্লাহ সা.) বললেন: "নিশ্চয়ই এটি কোনো ঔষধ নয়, বরং এটি একটি ব্যাধি।" এটি বর্ণনা করেছেন মুসলিম, আবু দাউদ এবং অন্যান্যরা।
উম্মে সালামাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের জন্য যা হারাম করেছেন তাতে তোমাদের আরোগ্য রাখেননি।" এটি বর্ণনা করেছেন বায়হাকী এবং ইবনে হিব্বান একে সহিহ (صححه) সাব্যস্ত করেছেন।
এই হাদিস দুটি প্রমাণ করে যে, মদ দ্বারা চিকিৎসা করা হারাম এবং তা একটি ব্যাধি।
আল্লামা ইবনুল কায়্যিম 'তিব্বে নববী'-তে বলেন: হারাম বস্তু দ্বারা চিকিৎসা করা বুদ্ধি এবং শরিয়ত উভয় দিক থেকেই নিন্দনীয়। শরিয়তগত দিকটি হলো যা নবীজির হাদিসসমূহে বর্ণিত হয়েছে।
আর বুদ্ধির দিকটি হলো, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা একে এর অপবিত্রতার কারণেই হারাম করেছেন। নিশ্চয়ই তিনি এই উম্মতের ওপর কোনো পবিত্র বস্তুকে শাস্তি হিসেবে হারাম করেননি, যেমনটি তিনি বনী ইসরাইলের ওপর হারাম করেছিলেন তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: {সুতরাং ইহুদিদের জুলুমের কারণে আমি তাদের জন্য এমন অনেক পবিত্র বস্তু হারাম করে দিয়েছিলাম যা তাদের জন্য হালাল ছিল}।
বরং আল্লাহ এই উম্মতের ওপর যা হারাম করেছেন তা তাদের হিফাজত এবং তা গ্রহণ থেকে বিরত রাখার জন্যই করেছেন। সুতরাং তা দিয়ে রোগ-ব্যাধি থেকে মুক্তি কামনা করা সংগত নয়। কারণ এটি রোগ দূরীকরণে প্রভাব ফেললেও এর মধ্যকার অপবিত্রতার শক্তির কারণে তা হৃদয়ে তার চেয়েও বড় ব্যাধি সৃষ্টি করে। ফলে এর দ্বারা চিকিৎসাকারী দেহের রোগ সারাতে গিয়ে হৃদয়ের রোগাক্রান্ত হওয়ার পথে ধাবিত হয়। অধিকন্তু এটি হারাম করার দাবি হলো সর্বাবস্থায় একে বর্জন করা ও তা থেকে দূরে থাকা। আর একে ঔষধ হিসেবে গ্রহণ করলে এর প্রতি অনুরাগ ও এর সংস্পর্শে যাওয়ার প্রেরণা জোগায়, যা শরিয়ত প্রণেতার উদ্দেশ্যের পরিপন্থী। এছাড়া মদ একটি ব্যাধি যেমনটি শরিয়ত প্রণেতা (সা.) স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, তাই একে ঔষধ হিসেবে গ্রহণ করা বৈধ নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুসকিরাতু ওয়াল মুখাদ্দারাত
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
التداوي بالنجس والخمر:
أجاز بعض الفقهاء استعمال النجس في حال الضرورة والاضطرار. ومنع ذلك جماعة من الفقهاء.
استدل المجوزون بما روى الترمذي بسنده عن أنس رضي الله عنه أن ناسا من عُرينة قدموا المدينة فاجتووها فبعثهم رسول الله صلى الله عليه وسلم في إبل الصدقة وقال: "اشربوا من ألبانها وأبوالها". الحديث4.
واستدل المانعون بقوله صلى الله عليه وسلم: " إن الله لم يجعل شفاءكم فيما حرم عليكم " 5. والنجس حرام فلا يتداوى به لأنه غير شفاء.
--------------------------------------------
নাপাক (نجس) ও মদ দ্বারা চিকিৎসা:
কিছু ফকিহ বিশেষ প্রয়োজন (ضرورة) এবং নিরুপায় অবস্থায় (اضطرار) নাপাক (نجس) বস্তু ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন। তবে একদল ফকিহ তা নিষিদ্ধ করেছেন।
অনুমতি প্রদানকারীরা ইমাম তিরমিজি কর্তৃক তাঁর সনদ (سند) সহ আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন যে, উরাইনাহ গোত্রের কিছু লোক মদিনায় আসার পর অসুস্থ হয়ে পড়লে রাসূলুল্লাহ (সা.) তাদের সদকার উটের পালের কাছে পাঠান এবং বলেন: "তোমরা এগুলোর দুধ ও মূত্র পান করো।" হাদিস ৪।
পক্ষান্তরে যারা নিষিদ্ধ করেছেন তারা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর এই বাণী দ্বারা দলিল পেশ করেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের জন্য যা হারাম করেছেন তাতে তোমাদের আরোগ্য রাখেননি।" ৫। আর নাপাক (نجس) বস্তু হারাম, তাই এর মাধ্যমে চিকিৎসা করা যাবে না; কারণ এতে কোনো আরোগ্য নেই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুসকিরাতু ওয়াল মুখাদ্দারাত
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
قال الحافظ ابن حجر: "إن قوله صلى الله عليه وسلم: إن الله لم يجعل شفاءكم فيما حرم عليكم. محمول على حالة الاختيار. وأما في حال الضرورة فلا يكون حراماً كالميتة للضرورة. ولا يرد قوله صلى الله عليه وسلم في الخمر " إنها ليست بدواء إنها داء " في جواب من سأله عن التداوي بها. فإن ذلك خاص بالخمر ويلحق بها غيرها من المسكر والفرق بين المسكر وغيره من النجاسات أن الحد يثبت باستعمال المسكر في حال الاختيار دون غيره ولأن استعمال المسكر يجر إلى مفاسد كثيرة. ولأنهم في الجاهلية كانوا يعتقدون أن في الخمر شفاء فجاء الشرع بخلاف معتقدهم.
وأما أبوال الإبل فقد روى ابن المنذر عن ابن عباس مرفوعا أن في أبوال الإبل شفاء لذربة بطونهم - والذرب فساد المعدة - فلا يقاس ما ثبت أن فيه دواء على ما ثبت نفي الدواء عنه قال: وبهذا الطريق يحصل الجمع بين الأدلة والعمل بمقتضاها1.
ويقول ابن رشد في بداية المجتهد: استعمال المحرمات في حالة الاضطرار الأصل فيه قوله تعالى: {وَقَدْ فَصَّلَ لَكُمْ مَا حَرَّمَ عَلَيْكُمْ إِلا مَا اضْطُرِرْتُمْ} 2.
ثم بين أن استعمال المحرم إن كان لطلب البرء فهو محل خلاف بين الفقهاء. فمن أجازه منهم احتج بإباحة النبي صلى الله عليه وسلم الحرير لعبد الرحمن بن عوف لمكان حكة كانت به. ومن منع ذلك احتج بقوله عليه الصلاة والسلام: " إن الله لم يجعل شفاءكم فيما حرم عليكم "3.
--------------------------------------------
হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: 'নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের জন্য যা হারাম করেছেন তাতে তোমাদের আরোগ্য রাখেননি।' এটি স্বাভাবিক অবস্থার (حالة الاختيار) ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তবে জরুরত বা নিরুপায় অবস্থার (حالة الضرورة) ক্ষেত্রে তা হারাম হিসেবে গণ্য হবে না, যেমন নিরুপায় অবস্থায় মৃত প্রাণীর (الميتة) বিধান। আর মদ্যপানের মাধ্যমে চিকিৎসা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাকারীর উত্তরে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: 'এটি কোনো ঔষধ নয়, বরং এটি একটি রোগ' - এই বক্তব্যটি পূর্বোক্ত বক্তব্যের পরিপন্থী হবে না। কারণ এটি মদের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট এবং অন্যান্য মাদকদ্রব্যকেও (المسكر) এর অন্তর্ভুক্ত করা হবে। মাদকদ্রব্য এবং অন্যান্য অপবিত্র (النجاسات) বস্তুর মধ্যে পার্থক্য হলো, স্বাভাবিক অবস্থায় মাদকদ্রব্য ব্যবহারের ফলে দণ্ডবিধি (الحد) সাব্যস্ত হয়, যা অন্যান্য অপবিত্র বস্তুর ক্ষেত্রে হয় না। তাছাড়া মাদকদ্রব্যের ব্যবহার বহু অনিষ্টের (مفاسد) দিকে ধাবিত করে। আর জাহেলি যুগে মানুষের বিশ্বাস ছিল যে মদের মধ্যে আরোগ্য রয়েছে, তাই শরিয়ত তাদের সেই বিশ্বাসের বিপরীতে বিধান প্রদান করেছে।
আর উটের মূত্রের ব্যাপারে ইবনুল মুনজির ইবনে আব্বাস থেকে মারফু (مرفوعا) সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, উটের মূত্রে তাদের পেটের পীড়া বা 'যরব'-এর আরোগ্য রয়েছে - আর 'যরব' হলো পাকস্থলীর গোলযোগ। সুতরাং যে বিষয়ে ঔষধ থাকা প্রমাণিত, তাকে সেই বিষয়ের ওপর কিয়াস করা যাবে না যাতে ঔষধ না থাকা প্রমাণিত হয়েছে। তিনি বলেন: এই পদ্ধতিতেই দলিলসমূহের (الأدلة) মধ্যে সমন্বয় (الجمع) সাধন এবং সে অনুযায়ী আমল করা সম্ভব।
ইবনে রুশদ বিদায়াতুল মুজতাহিদ গ্রন্থে বলেন: নিরুপায় অবস্থায় (حالة الاضطرار) হারাম বস্তুর ব্যবহারের ক্ষেত্রে শরয়ি মূলনীতি হলো মহান আল্লাহর বাণী: {অথচ তিনি তোমাদের জন্য যা হারাম করেছেন তা বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন, তবে তোমরা যার প্রতি নিরুপায় (ما اضطررتم) হও তা ব্যতীত}।
অতঃপর তিনি বর্ণনা করেন যে, আরোগ্য লাভের জন্য হারাম বস্তুর ব্যবহার ফকিহগণের (الفقهاء) মধ্যে মতভেদের (خلاف) বিষয়। তাঁদের মধ্যে যারা এটি বৈধ বলেছেন, তারা দলিল হিসেবে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কর্তৃক আব্দুর রহমান ইবনে আউফকে চুলকানির কারণে রেশম ব্যবহারের অনুমতি প্রদানের ঘটনাটি পেশ করেন। আর যারা এটি নিষেধ করেছেন, তারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এই বাণী দ্বারা দলিল পেশ করেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের জন্য যা হারাম করেছেন তাতে তোমাদের আরোগ্য রাখেননি।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুসকিরাতু ওয়াল মুখাদ্দারাত
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
المنافع التي في الخمر:وإذا قال قائل: إذا ثبت أن الخمر فيها من المضار ما ذكرتم. فكيف وصفها القرآن بأن فيها منافع للناس.
والجواب عن ذلك أن المقصود بالمنافع في الآية المنافع المادية التي كانوا يستفيدونها من تجارة الخمر يربحون منها الربح الفاحش كما يربحون من وراء الميسر. ومما يدل على أن النفع مادي أن الله تعالى قرنها بالميسر. ولا شك أن النفع في الميسر مادي بحيث يكون الربح لبعض المقامرين فكذلك الخمر.
قال القرطبي: "فأما المنافع في الخمر فربح التجارة. فإنهم كانوا يجلبونها من الشام"
--------------------------------------------
মদের মধ্যে থাকা উপকারিতা (منافع):যদি কোনো প্রশ্নকারী বলেন: মদের মধ্যে যখন আপনারা যা উল্লেখ করেছেন সে সব অপকারিতা (مضار) থাকা প্রমাণিত, তবে কুরআন কেন একে মানুষের জন্য উপকারী (منافع) হিসেবে বর্ণনা করেছে?
এর উত্তর হলো, আয়াতে উপকারিতা (منافع) বলতে সেই পার্থিব বা বৈষয়িক উপযোগিতাকে বোঝানো হয়েছে যা তারা মদের ব্যবসা থেকে লাভ করত। জুয়া (ميسر) থেকে তারা যেভাবে অস্বাভাবিক মুনাফা অর্জন করত, মদের ব্যবসা থেকেও তেমনি মুনাফা লাভ করত। এই উপকারিতা যে বৈষয়িক, তার প্রমাণ হলো আল্লাহ তাআলা একে জুয়ার (ميسر) সাথে যুক্ত করেছেন। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে জুয়ার (ميسر) উপকারিতা হলো বৈষয়িক, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু জুয়াড়ি লাভবান হয়; মদের বিষয়টিও ঠিক তেমনি।
ইমাম কুরতুবি বলেন: "মদ থেকে প্রাপ্ত উপকারিতা (منافع) হলো এর ব্যবসার মুনাফা। কেননা তারা সিরিয়া থেকে এটি নিয়ে আসত।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুসকিরাতু ওয়াল মুখাদ্দারাত
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
برخص فيبيعونها في الحجاز بربح وكانوا لا يرون المماكسة فيها فيشتري طالب الخمر، الخمر بالثمن الغالي. هذا أصح ما قيل في منافعها1.
ومن لطيف ما ذكره القرطبي في ذم الخمر. قال: إن شارب الخمر يصير ضُحكة للعقلاء فيلعب ببوله وعذرته وربما يمسح بها وجهه. حتى رؤي بعضهم يمسح وجهه ببوله ويقول: اللهم اجعلني من التوابين واجعلني من المتطهرين2.
هذا وفي عصرنا الحاضر وبعد أن ظهر للناس أضرار الخمر من الناحية الطبية. والاجتماعية سارعت بعض الدول إلى سن التشريعات التي تحرم الخمر. " فأمريكا " كانت أصدرت قانونا يحرم الخمر تحريما تاماً وكذلك الهند أصدرت قانونا مماثلاً. وبعض الدول حرمت تقديم الخمر أو تناولها في المحلات العامة كما حرمت بيعها لمن لم يبلغوا سنا معينة. ولكن هذه التشريعات لم تنجح في محاربة الخمر لأن العقوبات التي فرضت لم تكن رادعة. وخير علاج يقي الناس شر هذا الوباء هو علاج الإسلام.
--------------------------------------------
তারা সস্তায় মদ ক্রয় করত এবং হিজাজে মুনাফার বিনিময়ে তা বিক্রয় করত। তারা এর কেনাবেচায় দর কষাকষি করা সমীচীন মনে করত না, ফলে মদ্যপায়ী চড়া দামে মদ ক্রয় করত। এর উপকারিতা সম্পর্কে যা বলা হয়েছে তার মধ্যে এটিই সবচেয়ে বিশুদ্ধ (أصح)।
মদ্যপানের নিন্দায় ইমাম কুরতুবী যা উল্লেখ করেছেন তার মধ্যে একটি চমৎকার বিষয় হলো—তিনি বলেছেন: মদ্যপায়ী ব্যক্তি বুদ্ধিমানদের নিকট উপহাসের পাত্রে পরিণত হয়। সে নিজের মূত্র ও বিষ্ঠা নিয়ে খেলা করে এবং সম্ভবত তা দিয়ে নিজের মুখমণ্ডল মর্দন করে। এমনকি তাদের কাউকে নিজের মূত্র দিয়ে মুখমণ্ডল মুছতে দেখা গেছে এবং সে বলছিল: হে আল্লাহ! আমাকে তওবাকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন এবং আমাকে পবিত্রদের অন্তর্ভুক্ত করুন।
বর্তমান যুগে চিকিৎসা ও সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে মদের ক্ষতিকারক দিকগুলো মানুষের সামনে স্পষ্ট হওয়ার পর কিছু রাষ্ট্র মদ নিষিদ্ধ করে আইন প্রণয়নে তৎপর হয়েছে। 'আমেরিকা' মদকে সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করে একটি আইন জারি করেছিল এবং ভারতও অনুরূপ আইন প্রণয়ন করেছিল। কিছু রাষ্ট্র জনসমক্ষে মদ পরিবেশন বা গ্রহণ নিষিদ্ধ করেছে, সেই সাথে একটি নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত না পৌঁছানো ব্যক্তিদের নিকট এটি বিক্রয় করাও নিষিদ্ধ করেছে। কিন্তু মদের বিরুদ্ধে এই আইনগুলো সফল হয়নি, কারণ নির্ধারিত দণ্ডসমূহ কার্যকর প্রতিরোধক ছিল না। মানুষকে এই মহামারীর অনিষ্ট থেকে রক্ষা করার সর্বোত্তম চিকিৎসা হলো ইসলামের সমাধান।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুসকিরাতু ওয়াল মুখাদ্দারাত
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
المخدرات:حرمت الشريعة الإسلامية المخدرات والمفترات لما فيهما من الأضرار والمفاسد، وورد النهي في السنة عن كل مسكر ومفتر.
أخرج أبو داود أن النبي صلى الله عليه وسلم نهى عن كل مسكر ومفتر3.
قال الإمام الخطابي: المفتر كل شراب يورث الفتور والخور في الأعضاء4.
وبالنظر في كتب اللغة نجد أن التفتير والتخدير معناهما متقارب، ففي لسان العرب: الفتر الضعف وفتر فتورا لانت مفاصله وضعف. وفي المصباح المنير ومعجم متن اللغة: خدر العضو استرخى فلا يطيق الحركة وخدرت عينه ثقلت من قذى أو غيره، والخدرة: الضعف والفتور يصيب الأعضاء والبدن5.
الفرق بين المسكر وغيره:
ذكر الإمام القرافي في كتاب " الفروق " التفرقة بين المسكر، والمرقد، والمفسد.
--------------------------------------------
মাদকদ্রব্য:ইসলামি শরিয়ত মাদকদ্রব্য এবং অবসাদ সৃষ্টিকারী দ্রব্য (المفترات) হারাম ঘোষণা করেছে কারণ এগুলোর মধ্যে রয়েছে ক্ষতি ও অনিষ্ট। আর সুন্নাহয় প্রত্যেক নেশাজাতীয় (مسكر) এবং অবসাদ সৃষ্টিকারী (مفتر) দ্রব্য সম্পর্কে নিষেধ করা হয়েছে।
আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রত্যেক নেশাজাতীয় (مسكر) এবং অবসাদ সৃষ্টিকারী (مفتر) দ্রব্য থেকে নিষেধ করেছেন।
ইমাম খাত্তাবি বলেন: অবসাদ সৃষ্টিকারী (المفتر) হলো এমন পানীয় যা শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে শিথিলতা ও দুর্বলতা তৈরি করে।
অভিধান গ্রন্থগুলোর দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই যে, অবসন্নতা (التفتير) এবং অসাড়তা (التخدير) এর অর্থ কাছাকাছি। 'লিসানুল আরব' গ্রন্থে বলা হয়েছে: 'ফাতর' (الفتر) মানে দুর্বলতা, আর 'ফাতারা ফুতুরান' (فتر فتورا) অর্থ হলো শরীরের জোড়াগুলো নরম ও দুর্বল হয়ে যাওয়া। 'আল-মিসবাহুল মুনির' এবং 'মু'জামু মাতনিল লুগাহ' গ্রন্থে বলা হয়েছে: অঙ্গ অবশ হওয়া (خدر العضو) মানে সেটি শিথিল হয়ে যাওয়া যাতে তা নড়াচড়ার শক্তি হারায়, আর চোখ অবশ হওয়া (خدرت عينه) মানে ময়লা বা অন্য কিছুর কারণে তা ভারি হয়ে যাওয়া। আর 'খুদরা' (الخدرة) হলো সেই দুর্বলতা ও অবসাদ (الفتور) যা শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও দেহকে আক্রান্ত করে।
নেশাজাতীয় (المسكر) এবং অন্যান্য দ্রব্যের মধ্যে পার্থক্য:
ইমাম কারাফি তার 'আল-ফুরুক' গ্রন্থে নেশাজাতীয় (المسكر), চেতনা নাশক (المرقد) এবং বুদ্ধিনাশক (المفسد) দ্রব্যের মধ্যে পার্থক্য উল্লেখ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুসকিরাতু ওয়াল মুখাদ্দারাত
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
فالمسكر هو: الذي يغطي العقل ولا تغيب معه الحواس، ويتخيل صاحبه كأنه نشوان مسرور قوي النفس شجاع كريم، ولذلك قال الشاعر:
ونشربها فتتركنا ملوكا
… وأسداً ما ينهنبهها اللقاء
والمرقد هو: الذي يغيب الحواس كالسمع، والبصر، والشم، والذوق، واللمس كالبنج.
أما المفسد فهو: المشوش للعقل كالحشيش والأفيون وسائر المخدرات والمفترات التي تثير الخلط الكامن في الجسد، ولذلك تختلف أوصاف مستعمليها فتحدث حدة لمن كان مزاجه صفراويا، وتحدث سباتا وصمتا لمن كان مزاجه بلغميا، وتحدث بكاء وجزعاً لمن كان مزاجه سوداويا، وتحدث سرورا لمن كان مزاجه دمويا فتجد من متناوليها من يشتد بكاؤه، ومنهم من يشتد صمته ومنهم من يعظم سروره وانبساطه.
فشرّاب الخمر تكثر عربدتهم ووثوب بعضهم على بعض بالسلاح. ويهجمون على بعض الأعمال التي لا يطيقونها في حال الصحو كما أشار الشاعر، أما أهل الحشيش والأفيون فيصيرون همدة ساكتين انتزعت منهم قوة البطش بل هم أشبه شيء بالبهائم ولذلك تكثر حوادث القتل مع شراب الخمر ولا تكاد توجد مع أصحاب المخدرات إذ هذه المخدرات تحدث خنوثة الطبع وفساده، وقد تجر صاحبها إلى الدياثة على زوجته وأهله فضلا عن الأجانب.
والمسكرات محرمة إجماعا وفيها الحد، والمخدرات محرمة كذلك، وفيها الحد أو التعزير الزاجر عنها.
والمرقدات يجوز استعمالها للعمليات الجراحية. قال ابن فرحون المالكي: والظاهر جواز ما يسقى من المرقد لقطع عضو ونحوه، لأن ضرر المرقد مأمون، وضرر العضو غير مأمون. وبهذا تنفرد المرقدات عن المخدرات1.
وقال صاحب القواعد السنية في الأسرار الفقهية: اعلم أن النبات المعروف بالحشيشة لم يتكلم عليه الأئمة المجتهدون ولا غيرهم من علماء السلف، لأنه لم يكن في زمنهم وإنما ظهر في أواخر المائة السادسة وانتشر في دولة التتار.
قال العلقمي في شرح الجامع: حكى أن رجلا من العجم قدم القاهرة وطلب دليلا على تحريم الحشيشة وعقد لذلك مجلساً حضره علماء العصر، فاستدل الحافظ زين الدين العراقي بحديث أم سلمة: نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن كل مسكر ومفتر. فأعجب
--------------------------------------------
নেশাজাতীয় (مسكر) দ্রব্য হলো: যা বিচারবুদ্ধিকে আচ্ছন্ন করে ফেলে কিন্তু পঞ্চইন্দ্রিয়কে বিলুপ্ত করে না; এর ফলে ব্যবহারকারীর মনে এমন ভ্রম তৈরি হয় যেন সে অত্যন্ত উদ্বেলিত, আনন্দিত, মানসিকভাবে শক্তিশালী, সাহসী ও দয়ালু। একারণেই কবি বলেছেন:
আমরা তা পান করি এবং তা আমাদের রাজকীয় মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করে... আর এমন সিংহে পরিণত করে যাদের মোকাবিলা করতে কেউ সাহসী হয় না।
আর অবেদনিক দ্রব্য হলো: যা শ্রবণ, দৃষ্টি, ঘ্রাণ, স্বাদ ও স্পর্শের মতো পঞ্চইন্দ্রিয়কে বিলুপ্ত করে দেয়, যেমন অ্যানেস্থেশিয়া বা সংজ্ঞালোপকারী দ্রব্য।
পক্ষান্তরে বুদ্ধিনাশক দ্রব্য হলো: যা বিচারবুদ্ধিকে বিভ্রান্ত করে, যেমন হাশিশ, আফিম এবং অন্যান্য মাদক ও শিথিলকারী (مفتر) দ্রব্যসমূহ যা দেহের সুপ্ত রসগুলোকে উত্তেজিত করে। একারণে এর ব্যবহারকারীদের মধ্যে বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য দেখা যায়; যাদের প্রকৃতি পিত্তপ্রধান তাদের মধ্যে উগ্রতা সৃষ্টি হয়, যাদের প্রকৃতি শ্লেষ্মাপ্রধান তাদের মধ্যে তন্দ্রা ও নীরবতা দেখা দেয়, যাদের প্রকৃতি কৃষ্ণপিত্তপ্রধান তাদের মধ্যে কান্না ও অস্থিরতা দেখা দেয় এবং যাদের প্রকৃতি রক্তপ্রধান তাদের মধ্যে আনন্দের সঞ্চার হয়। ফলে মাদকসেবীদের কাউকে দেখবেন প্রচণ্ড বিলাপ করছে, কেউ একদম নিশ্চুপ হয়ে গেছে এবং কেউ অতিমাত্রায় আনন্দ ও উল্লাসে মেতেছে।
মদপানকারীদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ এবং একে অপরের ওপর অস্ত্র নিয়ে চড়াও হওয়ার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। তারা এমন সব দুঃসাহসিক কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ে যা স্বাভাবিক অবস্থায় করার সামর্থ্য তাদের থাকে না, যেমনটি কবি ইঙ্গিত দিয়েছেন। পক্ষান্তরে হাশিশ ও আফিম সেবনকারীরা স্থবির ও নীরব হয়ে পড়ে, তাদের থেকে পরাক্রমী শক্তি অপসৃত হয়; বরং তারা পশুর মতো হয়ে যায়। এই কারণে মদপানকারীদের মধ্যে খুনের ঘটনা বেশি ঘটে, যা মাদকসেবীদের মধ্যে সচরাচর দেখা যায় না। কারণ এই মাদকগুলো স্বভাবের মধ্যে পৌরুষহীনতা ও বিকৃতি ঘটায় এবং এমনকি তা ব্যক্তিকে তার স্ত্রী ও পরিবারের প্রতি ‘দাইয়ুসী’ (অশ্লীলতায় পরোক্ষ প্রশ্রয়দান) পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারে, পরনারীদের কথা তো বলাই বাহুল্য।
নেশাজাতীয় (مسكر) দ্রব্যসমূহ ঐকমত্যের ভিত্তিতে হারাম এবং এতে নির্ধারিত শাস্তি প্রযোজ্য। মাদকদ্রব্যগুলোও একইভাবে হারাম এবং এতে নির্ধারিত শাস্তি অথবা কঠোর সংশোধনমূলক শাস্তি রয়েছে।
অবেদনিক দ্রব্যসমূহ অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনে ব্যবহার করা বৈধ। মালিকি মাজহাবের ফকিহ ইবন ফারহুন বলেন: কোনো অঙ্গ বিচ্ছিন্ন করা বা অনুরূপ প্রয়োজনে অবেদনিক দ্রব্য পান করানো দৃশ্যত বৈধ; কারণ অবেদনিক দ্রব্যের ক্ষতি আশঙ্কামুক্ত, কিন্তু পচে যাওয়া অঙ্গ রেখে দেওয়ার ক্ষতি সুনিশ্চিত। এদিক থেকেই অবেদনিক দ্রব্যসমূহ মাদকদ্রব্য থেকে স্বতন্ত্র।১
আল-কায়দা আল-সুন্নিয়্যাহ ফি আল-আসরার আল-ফিকহিয়্যাহ গ্রন্থের লেখক বলেন: জেনে রাখুন যে, হাশিশ নামক উদ্ভিদটি নিয়ে মুজতাহিদ ইমামগণ বা পূর্বসূরি উলামায়ে কেরাম কোনো আলোচনা করেননি। কারণ এটি তাঁদের যুগে বিদ্যমান ছিল না, বরং এটি ষষ্ঠ হিজরি শতাব্দীর শেষের দিকে আবির্ভূত হয় এবং তাতারীদের শাসনামলে ছড়িয়ে পড়ে।
আল-আলকামি শারহুল জামি‘ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন: জনশ্রুতি আছে যে, জনৈক অনারব ব্যক্তি কায়রোতে এসে হাশিশ হারাম হওয়ার দলিল তলব করেন। এর জন্য একটি মজলিস আহ্বান করা হয় যেখানে সমকালীন উলামায়ে কেরাম উপস্থিত ছিলেন। তখন হাফিজ (حافظ) জয়নুদ্দীন আল-ইরাকি উম্মে সালামাহ থেকে বর্ণিত হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেন যে: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক নেশাজাতীয় (مسكر) এবং শিথিলকারী (مفتر) দ্রব্য থেকে নিষেধ করেছেন।" এতে সকলে অভিভূত হলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুসকিরাতু ওয়াল মুখাদ্দারাত
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
الحاضرين قال: ونبه السيوطي على صحته، واحتج به ابن حجر على حرمة المفتر ولو لم يكن شرابا ولا مسكرا ذكره في باب الخمر والعسل من شرح البخاري.
وكون الحشيشة من المفتر مما أطبق عليه مستعملوها ممن يعتد بهم. وبخبرهم يعتد في مثل هذا الأمر. والقاعدة عند الأصوليين والمحدثين أنه إذا ورد النهي عن شيئين مقترنين ثم نص على حكم النهي عن أحدهما من حرمة أو غيرها أعطي الآخر ذلك الحكم بدليل اقترانهما في الذكر والنهي. وفي الحديث المذكور ذكر المفتر مقرونا بالمسكر. وتقرر عندنا تحريم المسكر بالكتاب والسنة والإجماع فيجب أن يعطى المفتر حكمه بقرينة النهي عنها مقترنين. وفسر غير واحد التفتير باسترخاء الأطراف وتخدرها وصيرورتها إلى وهن وانكسار1.
وقال ابن حجر الهيتمي: واعلم أن الحشيشة المعروفة حرام كالخمر. يحد آكلها على قول قال به جماعة من أهل العلم كما يحد شارب الخمر. وهي أخبث من الخمر من جهة أنها تفسد العقل والمزاج. إفساداً عجيباً حتى يصير في متعاطيها تخنث قبيح ودياثة عجيبة وغير ذلك من المفاسد. فلا يصير له من المروءة شيء البتة، ويشاهد من أحواله خنوثة الطبع وفساده وانقلابه إلى أشر من طبع النساء.. وكذا متعاطي نحو البنج والأفيون. قال:
والخمر أخبث من جهة أنها تفضي إلى الصيال على الغير وإلى المخاصمة والمقاتلة والبطش. ثم قال: وسبب اختلاف العلماء في الحد فيها وفي نجاستها كونها جامدة مطعومة ليست شرابا. فقيل هي نجسة كالخمر وهو الصحيح عند الشافعية. وقيل: المائعة نجسة. والجامدة طاهرة. قال: وعلى كل حال فهي داخلة فيما حرم الله ورسوله من الخمر لفظا ومعنى2.
قال ابن البيطار: إن الحشيشة وتسمى القنب توجد في مصر مسكرة جداً إذا تناول الإنسان منها قدر درهم أو درهمين، وقبائح خصالها كثيرة. وعد منها بعض العلماء مائة وعشرين مضرة دينية ودنيوية3.
وقد تحدث شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله في مجموع الفتاوى عن الحشيشة وعن تاريخ ظهورها ورأى أهل العلم فيها حديثا قيما مفصلاً.
من ذلك قوله: وكذا الحشيشة المسكرة يجب فيها الحد وهي نجسة في أصح الوجوه وقد قيل: إنها طاهرة. وقيل: يفرق بين مائعها ويابسها والأول الصحيح، لأنها تسكر
--------------------------------------------
উপস্থিতদের মধ্যে একজন বললেন: আস-সুয়ূতী এর বিশুদ্ধতা (صحة)-এর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন, এবং ইবনে হাজার একে 'মুফাত্তির' (শরীরে অবসাদ সৃষ্টিকারী) বস্তু হারাম হওয়ার দলিল হিসেবে পেশ করেছেন, যদিও তা পানীয় না হয় এবং নেশাজাতীয় (مسكر) না হয়। তিনি এটি সাহিহ বুখারীর ব্যাখ্যাগ্রন্থের 'মদ ও মধু' অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন।
আর হাশিশ (গাঁজা) যে একটি 'মুফাত্তির' (অবসাদ সৃষ্টিকারী) বস্তু, তা এর নির্ভরযোগ্য ব্যবহারকারীদের মাঝে একটি সর্বসম্মত বিষয়। এ ধরনের বিষয়ে তাদের তথ্যই গ্রহণযোগ্য। উসূল শাস্ত্রবিদ (الأصوليين) এবং হাদিস শাস্ত্রবিদদের (المحدثين) নিকট নিয়ম হলো, যখন দুটি বিষয় একত্রে আসার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা বর্ণিত হয়, অতঃপর এর যেকোনো একটির ব্যাপারে হারামের (حرمة) হুকুম বা অন্য কোনো নিষেধাজ্ঞা স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়, তখন অন্যটিকেও সেই একই হুকুম প্রদান করা হয়; কারণ উল্লেখ এবং নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রে তারা উভয়েই যুগপৎভাবে এসেছে। আর উল্লেখিত হাদিসে অবসাদ সৃষ্টিকারী (المفتر) বস্তুকে নেশাজাতীয় (المسكر) বস্তুর সাথে একত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। আমাদের নিকট কুরআন, সুন্নাহ এবং ইজমা (إجماع)-এর মাধ্যমে নেশাজাতীয় দ্রব্যের অবৈধতা (تحريم) সুপ্রতিষ্ঠিত; সুতরাং একত্রে নিষেধাজ্ঞার দলিলের ভিত্তিতে অবসাদ সৃষ্টিকারী বস্তুটিকেও সেই একই হুকুম প্রদান করা আবশ্যক। একাধিক আলেম 'তাফতীর' (অবসাদ সৃষ্টি করা)-এর ব্যাখ্যায় বলেছেন যে, এটি হলো অঙ্গপ্রত্যঙ্গে শিথিলতা আসা, অসার হওয়া এবং দুর্বল ও ভেঙে পড়ার অবস্থায় পৌঁছানো।১
ইবনে হাজার আল-হাইতামী বলেন: জেনে রাখুন যে, প্রচলিত হাশিশ মদের মতোই হারাম (حرام)। একদল আলেমদের মতে এর সেবনকারীকে নির্ধারিত শাস্তি (حد) প্রদান করা হবে, যেমন মদপানকারীকে হদ বা শাস্তি প্রদান করা হয়। এটি মদের চেয়েও অধিক নিকৃষ্ট, কারণ এটি মস্তিষ্ক ও মেজাজকে চরমভাবে কলুষিত করে দেয়; এমনকি এর ব্যবহারকারীর মধ্যে কুৎসিত নপুংসকতা, অদ্ভুত দাইয়ূসগিরি এবং আরও নানাবিধ ফাসাদ সৃষ্টি হয়। এর ফলে তার মাঝে কোনো পৌরুষত্বই অবশিষ্ট থাকে না এবং তার স্বভাবের মধ্যে নারীসুলভ কোমলতা, বিকৃতি এবং নারীদের স্বভাবের চেয়েও মন্দ অবস্থার বহিঃপ্রকাশ ঘটে। ভাঙ (বেনজ) এবং আফিমের ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। তিনি আরও বলেন:
আর মদ অধিক নিকৃষ্ট এই দিক থেকে যে, তা অন্যের ওপর আক্রমণাত্মক হওয়া, বিবাদ, লড়াই এবং হিংস্রতার দিকে ধাবিত করে। অতঃপর তিনি বলেন: এর শাস্তির (الحد) ধরণ এবং এর অপবিত্রতা (نجاسة) নিয়ে আলেমদের মতভেদের কারণ হলো, এটি একটি কঠিন ভক্ষণযোগ্য বস্তু, পানীয় নয়। কেউ কেউ বলেছেন, এটি মদের মতো অপবিত্র (نجسة), যা শাফেয়ী মাযহাবের নিকট সঠিক (صحيح) মত। আবার কেউ বলেছেন: এর তরল অংশ অপবিত্র এবং কঠিন অংশ পবিত্র (طاهرة)। তিনি বলেন: তবে যে কোনো অবস্থাতেই এটি শাব্দিক ও ভাবগত অর্থে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কর্তৃক হারামীকৃত মদের অন্তর্ভুক্ত।২
ইবনুল বাইতার বলেন: হাশিশ, যাকে 'কান্নাব' বলা হয়, মিসরে পাওয়া যায় এবং তা অত্যন্ত নেশাজাতীয় (مسكرة)। যদি কোনো ব্যক্তি এর থেকে এক বা দুই দিরহাম পরিমাণ গ্রহণ করে, তবে তার মন্দ প্রভাব অনেক। কোনো কোনো আলেম এর ১২০টি দ্বীনী ও দুনিয়াবী ক্ষতির কথা উল্লেখ করেছেন।৩
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রহিমাহুল্লাহ) মাজমুউল ফাতাওয়া-তে হাশিশ, এর উদ্ভবের ইতিহাস এবং এ বিষয়ে আলেমদের মতামত সম্পর্কে মূল্যবান ও বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
তাঁর আলোচনার অংশবিশেষ হলো: নেশাজাতীয় (مسكرة) হাশিশের ক্ষেত্রেও শাস্তি (الحد) প্রয়োগ করা ওয়াজিব এবং সবচেয়ে সঠিক মতানুসারে (أصح الوجوه) এটি অপবিত্র (نجسة)। কেউ কেউ বলেছেন এটি পবিত্র (طاهرة)। আবার কেউ কেউ এর তরল ও কঠিন অংশের মাঝে পার্থক্য করেছেন, তবে প্রথম মতটিই সঠিক (صحيح), কারণ এটি নেশা সৃষ্টি করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুসকিরাতু ওয়াল মুখাদ্দারাত
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
بالاستحالة كالخمر النئ، بخلاف ما لا يسكر بل يغيب العقل كالبنج أو يسكر بعد الاستحالة كجوزة الطيب فإن ذلك ليس بنجس. ومن ظن أن الحشيشة لا تسكر وإنما تغيب العقل بلا لذة فلم يعرف حقيقة أمرها1.
قال: الحمد لله هذه الحشيشة الصلبة حرام سواء سكر منها أو لم يسكر. والسكر منها حرام باتفاق المسلمين. ومن استحل ذلك وزعم أنه حلال فإنه يستتاب. فإن تاب وإلا قتل مرتداً لا يصلى عليه ولا يدفن في مقابر المسلمين2.
قال شيخ الإسلام ابن تيمية: أما المحققون من الفقهاء فعلموا أنها مسكرة وإنما يتناولها الفجار لما فيها من النشوة والطرب فهي تجامع الشراب المسكر في ذلك والخمر توجب الحركة والخصومة. وهذه توجب الفتور والذلة، وفيها مع ذلك من فساد المزاج والعقل وفتح باب الشهوة وما توجبه من الدياثة مما هي من شر الشراب المسكر وإنما حدثت في الناس بحدوث التتار 3.
রূপান্তরের (استحالة) মাধ্যমে যেমন কাঁচা মদ্য (خمر), পক্ষান্তরে যা নেশা সৃষ্টি করে না বরং কেবল জ্ঞান আচ্ছন্ন করে যেমন ভাঙ (بنج), অথবা রূপান্তরের (استحالة) পর নেশা সৃষ্টি করে যেমন জায়ফল (جوزة الطيب); নিশ্চয়ই তা অপবিত্র (نجس) নয়। আর যে ব্যক্তি ধারণা করে যে হাশিশ (গাঁজা) নেশা সৃষ্টি করে না বরং কেবল আনন্দহীনভাবে জ্ঞান আচ্ছন্ন করে, সে এর প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে অবগত নয় ১।
তিনি বললেন: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এই কঠিন হাশিশ (গাঁজা) নিষিদ্ধ (حرام), চাই তা থেকে নেশা তৈরি হোক বা না হোক। এর মাধ্যমে নেশাগ্রস্ত হওয়া মুসলমানদের ঐকমত্যে (اتفاق) নিষিদ্ধ (حرام)। যে ব্যক্তি এটাকে বৈধ মনে করে এবং দাবি করে যে এটি বৈধ (حلال), তবে তাকে তওবা করতে বলা হবে (يستتاب)। যদি সে তওবা করে (তবে ভালো), অন্যথায় তাকে ধর্মত্যাগী (مرتد) হিসেবে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হবে; তার জানাজা পড়া হবে না এবং তাকে মুসলমানদের কবরস্থানে দাফন করা হবে না ২।
শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন: ফকিহদের (فقهاء) মধ্যে যারা গবেষক (محققون), তারা জানেন যে এটি নেশাজাতীয় (مسكرة)। পাপাচারীরা (فجار) কেবল এতে বিদ্যমান আমেজ ও মত্ততার কারণে এটি গ্রহণ করে থাকে। এই দিক থেকে এটি নেশাজাতীয় পানীয়ের (شراب مسكر) পর্যায়ভুক্ত। মদ্য (خمر) উত্তেজনা ও বিবাদের জন্ম দেয়, আর এটি (হাশিশ) অবসাদ ও হীনতা তৈরি করে। তদুপরি এতে মেজাজ ও বিবেকের বিকৃতি ঘটে, লালসার দ্বার উন্মোচিত হয় এবং এটি দাইয়ুসি বা বেহায়াপনা (دياثة) সৃষ্টি করে, যা একে নিকৃষ্টতম নেশাজাতীয় পানীয়ের (شراب مسكر) অন্তর্ভুক্ত করে। এটি মানুষের মধ্যে তাতারীদের (تتار) আগমনের সাথে সাথেই উদ্ভূত হয়েছে ৩।
(খণ্ড: ১)
আল-মুসকিরাতু ওয়াল মুখাদ্দারাত
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
ويقول الدكتور نجيب الكلاني عن المخدرات…ويقول الدكتور نجيب الكيلاني عن المخدرات:
تطلق كلمة المخدرات على كثير من المواد الطبيعية والكيماوية التي تؤدي إلى خدر الجسم والعقل والمواد المخدرة تختلف في آثارها ومضاعفاتها واستجابة الجسم والعقل لها وكثير من هذه المواد قد يؤدي إلى الإدمان بحيث لا يستطيع متعاطيه أن يستغنى عنها وإلا أصيب بأضرار مختلفة قد تصل إلى الموت.
وبعض هذه المواد قد يؤدي إلى السكر أو غياب العقل أو يؤدي إلى لون من التخيل وتصور أمور لا وجود لها. فإذا انتهى أثر المخدر شعر المدمن بحالة من الاضطراب وعدم الاستقرار والكآبة والتوتر ويظل في تدهور وتوتر. بل إن أجهزة الجسم تتأثر على اختلاف أنواعها.
قال: ولقد انتشرت الأدوية المخدرة في كل أنحاء العالم انتشاراً رهيباً وتفشت المخدرات بين الشباب وخاصة في أوروبا وأمريكا. وتسببت هذه المخدرات في كثير من الانحرافات والكوارث الاجتماعية. والاقتصادية. والأخلاقية4.
وأكتفي بهذا القدر ولولا ضيق الزمن لتوسعت في بعض موضوعات هذا البحث المتشعب النواحي. وحسبنا أن نعلم أن الشريعة الإسلامية سبقت كل النظم والقوانين في
--------------------------------------------
মাদকদ্রব্য সম্পর্কে ড. নাজীব আল-কিলানী যা বলেন…ড. নাজীব আল-কিলানী মাদকদ্রব্য সম্পর্কে বলেন:
মাদকদ্রব্য শব্দটি এমন অনেক প্রাকৃতিক ও রাসায়নিক পদার্থের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় যা শরীর ও মস্তিষ্ককে নিস্তেজ বা অবশ করে দেয়। মাদকদ্রব্যের প্রভাব, এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং এর প্রতি শরীর ও মস্তিষ্কের প্রতিক্রিয়ার ধরণ ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। এই জাতীয় অনেক পদার্থ আসক্তির সৃষ্টি করতে পারে, যার ফলে সেবনকারী এটি ছাড়া চলতে পারে না; অন্যথায় সে বিভিন্ন প্রকার ক্ষতির সম্মুখীন হয় যা এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত গড়াতে পারে।
এসব পদার্থের কিছু কিছু মত্ততা অথবা হিতাহিত জ্ঞানশূন্যতা তৈরি করে, কিংবা এমন এক ধরণের কল্পনা ও অবাস্তব জিনিসের উপলব্ধির দিকে নিয়ে যায় যার কোনো অস্তিত্ব নেই। যখন মাদকের প্রভাব শেষ হয়ে যায়, তখন আসক্ত ব্যক্তি এক ধরণের অস্থিরতা, ভারসাম্যহীনতা, বিষণ্নতা ও উত্তেজনার শিকার হয় এবং সে ক্রমাগত অবক্ষয় ও উত্তেজনার মধ্যে থাকে। এমনকি শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গও এর দ্বারা নানাভাবে প্রভাবিত হয়।
তিনি বলেন: সারা বিশ্বে মাদকজাতীয় ঔষধের এক ভয়াবহ বিস্তার ঘটেছে এবং বিশেষ করে ইউরোপ ও আমেরিকায় যুবসমাজের মধ্যে মাদকাসক্তি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। এই মাদকদ্রব্য অনেক বিচ্যুতি এবং সামাজিক, অর্থনৈতিক ও নৈতিক বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আমি এইটুকুই যথেষ্ট মনে করছি; সময়ের স্বল্পতা না থাকলে আমি এই বহুমুখী গবেষণার কিছু বিষয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা করতাম। আমাদের জন্য এতটুকু জানাই যথেষ্ট যে, ইসলামী শরীয়ত সকল ব্যবস্থা ও আইনের পূর্বেই...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুসকিরাতু ওয়াল মুখাদ্দারাত
(পৃষ্ঠা: ৪০)
محاربة المسكرات والمخدرات وبيان ما فيها من أضرار ومفاسد. وكلما تقدم العلم أثبت صدق الشريعة وأنه لا خلاص للناس من مخاطر الشقاء والهلاك والدمار إلا في الأخذ والعمل بما جاءت به هذه الشريعة الغراء.
وفق الله المسلمين للتمسك بتعاليم دينهم والعمل بما في شريعتهم حتى يعزهم الله ويكتب لهم الخلاص مما فيهم.
والله ولي التوفيق وهو الهادي إلى أقوم طريق..
وصلى الله وسلم على سيدنا محمد خير خلقه وعلى آله وصحبه..
মাদকদ্রব্য ও নেশাজাতীয় দ্রব্যের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং এগুলোর ক্ষয়ক্ষতি ও অপকারিতা বর্ণনা করা। বিজ্ঞান যতই অগ্রসর হচ্ছে, ততই তা শরিয়তের সত্যতা প্রমাণ করছে এবং এটিও প্রতীয়মান হচ্ছে যে, এই উজ্জ্বল শরিয়ত যা নিয়ে এসেছে তা গ্রহণ ও তদনুযায়ী আমল করা ব্যতীত মানুষের জন্য দুঃখ-দুর্দশা, ধ্বংস ও বিনাশের ঝুঁকি থেকে মুক্তির আর কোনো পথ নেই।
আল্লাহ তাআলা মুসলিমদের তাঁদের দ্বীনের শিক্ষা আঁকড়ে ধরার এবং শরিয়তের বিধান অনুযায়ী আমল করার তাওফিক দান করুন, যাতে আল্লাহ তাঁদের সম্মানিত করেন এবং তাঁদের বর্তমান সংকট থেকে মুক্তি দান করেন।
আল্লাহই তাওফিকদাতা এবং তিনিই সঠিক পথের দিশারি।
আল্লাহর সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ আমাদের নেতা মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সঙ্গীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১)
আল-মুসকিরাতু ওয়াল মুখাদ্দারাত
(পৃষ্ঠা: ৪০)
مصادر ومراجع…مراجع البحث:
1 - روائع البيان تفسير آيات الأحكام ج1 للشيخ محمد علي الصابوني ط مكتبة الغزالي.
2 - صحيح الإمام البخاري مع شرحه فتح الباري لابن حجر ج12 المطبعة السلفية (كتاب الحدود) .
3 - نيل الأوطار مع شرحه منتقى الأخبار للإمام محمد بن علي الشوكاني ج 8 ط مكتبة الدعوة الإسلامية القاهرة (كتاب الأشربة) .
4 - بلوغ المرام لابن حجر مع شرحه سبل السلام للصنعاني ج4 باب حد الشارب وبيان المسكر ط الحلبي.
5 - بداية المجتهد لابن رشد ج 8 كتاب (الأطعمة والأشربة) ط مطبعة حسان بالقاهرة تقديم " سيد سابق" وتصحيح عبد الحليم محمد. وعبد الرحمن حسن.
6 - كتاب الفروق للإمام القرافي ج1 ط دار إحياء الكتب العربية عيسى الحلبي / مصر.
7 - القواعد السنية في الأسرار الفقهية هامش ج 1 من الفروق / للشيخ محمد علي حسين مفتي المالكية.
8 - الزواجر عن اقتراف الكبائر لابن حجر الهيتمي ج 2 ط دار إحياء الكتب العربية.
9 - كتاب: مجموع الفتاوى لشيخ الإسلام ابن تيمية ج 34 ط الأولى.
10 - التشريع الجنائي الإسلامي المقارن بالقانون للأستاذ عبد القادر عودة ج 1 ط ثانية مطبعة دار العروبة.
11 - لسان العرب: لابن منظور.
12 - المصباح المنير لأحمد بن علي المقري الفيومي.
13 - في رحاب الطب النبوي للدكتور نجيب الكيلاني ط الأولى: مؤسسة الرسالة.
উৎস ও তথ্যসূত্র…গবেষণার তথ্যসূত্র সমূহ:
১ - শায়খ মুহাম্মদ আলী আস-সাবুনী রচিত রাওয়ায়িউল বয়ান তাফসিরু আয়াতিল আহকাম, ১ম খণ্ড, মাকতাবাতুল গাযালী সংস্করণ।
২ - সহীহ ইমাম বুখারী সাথে ইবনে হাজার আসকালানী রচিত এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ফাতহুল বারী, ১২শ খণ্ড, আল-মাতবাআহ আস-সালাফিয়্যাহ (কিতাবুল হুদুদ)।
৩ - ইমাম মুহাম্মদ বিন আলী আশ-শাওকানী রচিত নায়লুল আওতার সাথে মুনতাকুল আখবার-এর ব্যাখ্যা, ৮ম খণ্ড, মাকতাবাতুদ দাওয়াহ আল-ইসলামিয়্যাহ কায়রো সংস্করণ (কিতাবুল আশরিবা)।
৪ - ইবনে হাজার আসকালানী রচিত বুলুগুল মারাম সাথে আস-সানআনী রচিত এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ সুবুলুস সালাম, ৪র্থ খণ্ড, পানকারীর শাস্তি এবং মাদকদ্রব্যের বর্ণনা পরিচ্ছেদ, আল-হালাবী সংস্করণ।
৫ - ইবনে রুশদ রচিত বিদায়াতুল মুজতাহিদ, ৮ম খণ্ড, (খাদ্য ও পানীয় অধ্যায়), কায়রোস্থ মাতবাআতে হাসান সংস্করণ, "সাইয়্যেদ সাবিক"-এর উপস্থাপনা এবং আব্দুল হালীম মুহাম্মদ ও আব্দুর রহমান হাসান কর্তৃক সম্পাদিত।
৬ - ইমাম কারাফী রচিত কিতাবুল ফুরুক, ১ম খণ্ড, দারু ইহইয়াইল কুতুবিল আরাবিয়্যাহ ঈসা আল-হালাবী / মিশর সংস্করণ।
৭ - মালেকী মাযহাবের মুফতী শায়খ মুহাম্মদ আলী হুসাইন রচিত আল-কাওয়াইদুস সুন্নিয়্যাহ ফিল আসরারিল ফিকহিয়্যাহ, আল-ফুরুক-এর ১ম খণ্ডের টীকা।
৮ - ইবনে হাজার আল-হাইতামী রচিত আয-যাওয়াজির আন ইকতীরাফিল কাবাইর, ২য় খণ্ড, দারু ইহইয়াইল কুতুবিল আরাবিয়্যাহ সংস্করণ।
৯ - কিতাব: শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ রচিত মাজমুউল ফাতাওয়া, ৩৪তম খণ্ড, ১ম সংস্করণ।
১০ - উস্তাদ আব্দুল কাদির আওদাহ রচিত আত-তাশরিউল জিনায়ী আল-ইসলামী আল-মুকারান বিল কানুন, ১ম খণ্ড, ২য় সংস্করণ, মাতবাআতে দারুল উরুবাহ।
১১ - ইবনে মানযুর রচিত লিসানুল আরব।
১২ - আহমদ বিন আলী আল-মুকরী আল-ফাইয়ুমী রচিত আল-মিসবাহুল মুনীর।
১৩ - ডক্টর নাজীব আল-কিলানী রচিত ফী রিহাবিত তিব্বিন নববী, ১ম সংস্করণ: মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ।