(খণ্ড: ১) রাসুস হুসাইন (পৃষ্ঠা: -)
رأس الحسين   (ابن تيمية)

القسم: العقيدة


الكتاب: رأس الحسين

المؤلف: تقي الدين أبو العباس أحمد بن عبد الحليم بن تيمية الحراني (ت 728 هـ)

تحقيق ودراسة: الدكتور السيد الجميلي

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

عدد الصفحات: 215

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

রাস আল-হুসাইন   (ইবনে তাইমিয়্যাহ)

বিভাগ: আকীদাহ


গ্রন্থ: রাস আল-হুসাইন

লেখক: তাকিউদ্দীন আবুল আব্বাস আহমাদ বিন আব্দুল হালীম বিন তাইমিয়্যাহ আল-হাররানী (মৃত ৭২৮ হিজরী)

তাহকীক ও পর্যালোচনা: ডক্টর আস-সাইয়্যিদ আল-জুমাইলী

[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২১৫

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) রাসুস হুসাইন (পৃষ্ঠা: ১৭৫)
‌‌الإمام تقي الدين أبي العباس أحمد بن عبد الحليم ابن تميمة الحراني الدمشقي المتوفى 728 هـ

 

ولد الإمام العلامة ابن تميمة (1) سنة 661 هـ في أيام الملك الظاهر بيبرس والذي كان حاكما على مصر والشام آنذاك، وقد كان من أقوى الملوك المسلمين بعد صلاح الدين الأيوبي.

وقد ولد ابن تيمية بعد تدمير بغداد بخمس سنوات، ودخل التتار حلب ودمشق قبل مولده بثلاث سنوات فلما شب وكبر وحكى له معاصر وهذه الحملات الضارية الوحشية من التتار، حتى أن مسقط رأسه (حران) لم تسلم من أذى هؤلاء القوم المجرمين الذين لم يراعوا الله ولا الإنسانية في هذه البلاد الآمنة.

وسمع ابن تيمية ورأى وهو صبي أنهار الدماء المسفوك المسفوح تجري حوله من كل مكان وهو ابن سبع سنين تقريبا في بلدته حران التي نشأت فيها أسرته وبيته.

وفي هذا الجو المشحون بالكمد والإحن نهض لفيف من العلماء والأئمة الكبار والفقهاء أمثال ابن الصلاح والنووي والعز بن عبد السلام والمزي والذهبي، كما نبغ في عصر ابن تيمية أيضا قاضي القضاة كمال الدين

--------------------------------------------

(1) راجع ترجمة شيخ الأسلام ابن تيمية في فوات الوفيات (1 / 35 - 45) والدرر الكامنة (1 / 144) والبداية والنهاية (14 / 135) وابن الوردي (2 / 284) وآداب اللغة (3 / 234) والنجوم الزاهرة (9 / 271) وتهذيب ابن عساكر (2 / 28) ودائرة المعارف الإسلامية (1 / 109) (*)
ইমাম তাকিউদ্দীন আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে আব্দুল হালিম ইবনে তাইমিয়্যাহ আল-হাররানি আদ-দিমাশকি, মৃত্যু ৭২৮ হিজরি

 

ইমাম আল্লামা ইবনে তাইমিয়্যাহ (১) ৬৬১ হিজরিতে সুলতান আল-মালিকুজ জাহির বাইবার্সের শাসনামলে জন্মগ্রহণ করেন, যিনি তৎকালীন সময়ে মিসর ও শামের শাসক ছিলেন এবং সালাহউদ্দীন আইয়ুবীর পরে শক্তিশালী মুসলিম রাজাদের অন্যতম ছিলেন।

ইবনে তাইমিয়্যাহ বাগদাদ ধ্বংসের পাঁচ বছর পরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর জন্মের তিন বছর আগে তাতারীরা হালব ও দামেস্কে প্রবেশ করেছিল। তিনি যখন বড় হলেন এবং সমসাময়িক ব্যক্তিগণ তাঁর কাছে তাতারীদের এই হিংস্র ও বর্বরোচিত হামলার কথা বর্ণনা করলেন, এমনকি তাঁর জন্মস্থান (হাররান) পর্যন্ত এই অপরাধী জাতির অনিষ্ট থেকে রক্ষা পায়নি, যারা এই নিরাপদ জনপদগুলোতে আল্লাহ কিংবা মানবতা—কিছুরই পরোয়া করেনি।

ইবনে তাইমিয়্যাহ শৈশবে—যখন তাঁর বয়স প্রায় সাত বছর—নিজ শহর হাররানে, যেখানে তাঁর পরিবার ও বংশের উৎপত্তি, সেখানে চারদিকে প্রবাহিত রক্তের নদী সম্পর্কে শুনেছেন এবং দেখেছেন।

দুঃখ-বেদনা ও বিদ্বেষপূর্ণ এই পরিবেশে ইবনে আস-সালাহ, আন-নববী, ইজ্জ বিন আব্দুস সালাম, আল-মিযযি এবং আয-যাহাবির মতো একদল বরেণ্য আলেম, মহান ইমাম ও ফকিহগণের উত্থান ঘটেছিল। তেমনি ইবনে তাইমিয়্যাহর যুগে প্রধান বিচারপতি কামালুদ্দীনও বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।

--------------------------------------------

(১) শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর জীবনীর জন্য দেখুন: ফাওয়াতুল ওয়াফায়াত (১ / ৩৫ - ৪৫), আদ-দুরারুল কামিনাহ (১ / ১৪৪), আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১৪ / ১৩৫), ইবনুল ওয়ারদি (২ / ২৮৪), আদাবুল লুগাহ (৩ / ২৩৪), আন-নুজুমুজ জাহিরাহ (৯ / ২৭১), তাহযিবু ইবনে আসাকির (২ / ২৮) এবং দায়রাতুল মা’আরিফ আল-ইসলামিয়া (১ / ১০৯)। (*)
(খণ্ড: ১) রাসুস হুসাইন (পৃষ্ঠা: ১৭৬)
الزملكاني، والقزويني والسبكي وابن حيان التوحيدي.

ورغم وجود هؤلاء العلماء الأفذاذ إلا أن العلماء كان مقسما بالبساطة والسطحية وقلة التعمق في المسائل الفقهية والشرعية.

واتسم الفقه آنئذ بالجمود والتحجر وليس ثمة أضر على الإسلام والمسلمين من تحجر الفكر وجمود القرائح وهذا ما حدث إبان الحروب التترية والصليبية في عصر ابن تيمية.

وإذا احتدمت الحروب لجأ الناس إلى الدين، وما أضر الناس ولا أضر المسلمين مثل القضايا الجدلية والمسائل الكلامية والفلسفة السفسطائيه التي تظهر فصاحة وبيانا وتضمر جهلا مشينا بحقائق الدين وفطرته الجميلة.

وقد كانت أسرة العلامة الفقيه الحافظ ابن تيمية أسرة علم وفضل على مذهب الإمام أحمد بن حنبل بل كانت زعيمة للمذهب الحنبلي في تلك الديار إذ كان جده إماما للمذهب الحنبلي في عصره قال الذهبي: - (قال لي شيخ الإسلام ابن تيمية بنفسه أن الشيخ ابن مالك كان يقول: لقد ألان الله الفقه لممجد الدين بن تيمية كما ألان الحديد لداود عليه السلام ا.

هـ.

وقد درس ابن تيمية العلوم المعروفة في عصره وعني عناية خاصة باللغة العربية والنحو والصرف كما اهتم بدراسة الحساب والرياضية والحظ وأبدي اهتماما خاصا بالفقه وعلم الأصول والحديث والتفسير وعلم الفرائض، ولعل علم التفسير كان من أحب العلوم وآثرها عند ابن تيمية حتى قيل إنه كان يقرأ

في الآية الواحدة نحو مائة تفسير، تأمل قوله في ذلك: - (ربما طالعت على الآية الواحدة نحو مائة تفسير، ثم أسأل الله الفهم وأقول يا معلم آدم وابراهيم علمني، وكنت أذهب إلى المساجد المهجورة ونحوها، وأمرغ وجهي في التراب وأسأل الله وأقول: يا معلم إبراهيم فهمني) ا.

هـ.
যামলকানী, কাযভিনী, সুবকী এবং ইবনু হাইয়ান আত-তাওহীদী।

এই সকল অসাধারণ আলেমদের উপস্থিতি সত্ত্বেও, আলেম সমাজ সাধারণ ও ভাসাভাসা জ্ঞান এবং ফিকহী ও শরয়ী মাসআলাসমূহে গভীরতাহীনতায় বিভক্ত ছিল।

তৎকালীন ফিকহ শাস্ত্র স্থবিরতা ও অনমনীয়তা দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ছিল। ইসলাম ও মুসলিমদের জন্য চিন্তার অনমনীয়তা এবং মেধার স্থবিরতার চেয়ে ক্ষতিকর আর কিছুই নেই; আর ইবনে তাইমিয়ার যুগে তাতার ও ক্রুসেডার যুদ্ধের সময় এটিই ঘটেছিল।

যুদ্ধ যখন চরম আকার ধারণ করে, মানুষ তখন ধর্মের দিকে ফিরে আসে। তবে বিতর্কিত বিষয়সমূহ, ইলমুল কালামের মাসআলা এবং বিভ্রান্তিকর দর্শন—যা বাগ্মিতা ও বাকপটুতা প্রকাশ করে কিন্তু ধর্মের হাকীকত ও এর সুন্দর স্বভাবজাত রূপ (ফিতরাত) সম্পর্কে লজ্জাজনক অজ্ঞতা গোপন রাখে—এসবের চেয়ে ক্ষতিকর মানুষ ও মুসলিমদের জন্য আর কিছু ছিল না।

আল্লামা ফকীহ হাফিয ইবনে তাইমিয়ার পরিবার ছিল ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বলের মাযহাব অনুযায়ী ইলম ও শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী এক পরিবার। বরং সেই অঞ্চলে তারা হাম্বলী মাযহাবের নেতৃত্বে ছিল, কারণ তাঁর দাদা ছিলেন তাঁর যুগের হাম্বলী মাযহাবের ইমাম। যাহাবী বলেন: (শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া নিজে আমাকে বলেছেন যে, শাইখ ইবনে মালিক বলতেন: আল্লাহ তাআলা মাজদুদ্দীন ইবনে তাইমিয়ার জন্য ফিকহকে তেমন সহজ ও নরম করে দিয়েছিলেন যেমন তিনি দাউদ আলাইহিস সালামের জন্য লোহাকে নরম করে দিয়েছিলেন।)

সমাপ্ত।

ইবনে তাইমিয়া তাঁর সময়ের প্রচলিত সকল জ্ঞান-বিজ্ঞান অধ্যয়ন করেছিলেন এবং আরবি ভাষা, নাহু (ব্যাকরণ) ও সরফ (রূপতত্ত্ব)-এর প্রতি বিশেষ যত্ন নিয়েছিলেন। পাশাপাশি তিনি হিসাববিজ্ঞান, গণিত ও লিপিকলা অধ্যয়নে গুরুত্ব প্রদান করেন এবং ফিকহ, উসূলে ফিকহ, হাদীস, তাফসীর ও ইলমুল ফারায়েযের (উত্তরাধিকার আইন) প্রতি বিশেষ মনোযোগ নিবদ্ধ করেন। সম্ভবত তাফসীর শাস্ত্র ইবনে তাইমিয়ার কাছে সবচেয়ে প্রিয় ও অগ্রগণ্য ছিল, এমনকি বলা হয় যে তিনি একটি আয়াতের বিপরীতে প্রায় একশটি তাফসীর পড়তেন। এই বিষয়ে তাঁর উক্তিটি লক্ষ্য করুন: (কখনও কখনও আমি একটি আয়াতের প্রায় একশটি তাফসীর অধ্যায়ন করতাম, এরপর আল্লাহর কাছে সঠিক বুঝের প্রার্থনা করতাম এবং বলতাম: হে আদম ও ইবরাহীমের শিক্ষক, আমাকে শিক্ষা দান করুন। আমি পরিত্যক্ত মসজিদ ও অনুরূপ জায়গায় যেতাম এবং মাটিতে নিজের চেহারা ঘষতাম ও আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে বলতাম: হে ইবরাহীমের শিক্ষক, আমাকে সঠিক বুঝ দান করুন।)

সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) রাসুস হুসাইন (পৃষ্ঠা: ১৭৭)
وقد كان ابن تيمية رحمه الله متوقد الذكاء كثير الزكانة والفطنة سريع الفهم والاستيعاب فقد كان يفتي في أمور الدين وهو ابن الثانية والعشرين من عمره.

ومصنفاف ابن تيمية ومؤلفاته تدل على سعة اطلاعه وعمق ثقافته وقوة شخصية فهو عند ما يعرض لمسائلة من المسائل أو قضية من القضايا يحشد لك كل البراهين والأدلة العقلية والعلمية ليقوى بها حجته ويؤكد بها رأيه وهو لا ينفك يستشهد بآيات القران الكريم في كل ما يتعرض له من أدلة وأثباتات فقهية أو شرعية وهو بذلك لا يترك القارئ حتى يقنعه تماما بوجهة نظره وصلابة رأيه.

ولا يخفى على أحد أن ابن تيمية حمل لواء بعث الفكر الأسلامي وتجديد العلوم الشرعية ورفع لواء التوحيد ومحاربة البدع والأهواء والردود العنيفة القوية على الفرق الهالكة التي كادت للإسلام ونقده العنيف المر للفلسفة والميتا فيزيقا وعلم الكلام وترجيح منهج الكتاب والسنة وأسلوبهما على كل أسلوب ومنهج.

لقد كان ابن تيمية حربا حامية الوطيس لم يخمد لظاها وما أخبى سعيرها على رعونة المبتدعين في عصرة إنما كان سيفا مصلتا على رقاب الخارجين والمارقين المرجفين.

وقد أورد الحافظ ابن كثير في كتابه التاريخي المشهور (البداية والنهاية)

كثيرا من مناظرات ابن تيمية مع فقهاء عصره.

وقد كانت ثمة صراعات شتى بين ابن تيمية وتلميذه ابن القيم الجوزية من ناحية وبين الصوفية من ناحية أخرى وقد شدد على أقطابهم ولا سيما الذين قالوا بالحلول وبالوحدة أمثال محيى الدين بن عربي والحلاج ورماهم بالزندقة والكفر والإلحاد.

ولقاء إخلاصه في دعوته كابد ابن تيمية رحمه الله وعانى من البطش والتعذيب فقد كادله خصومه وأعداؤه ودخل السجن مرات عديدة، وقد توفي وهو في السجن رحمه الله وجزاه عن الإسلام خيرا وألحقنا به في دار كرامته.

آمين.

السيد الجميلي
ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহিমাহুল্লাহ) ছিলেন প্রখর মেধা, অসাধারণ দূরদর্শিতা ও বিচক্ষণতার অধিকারী এবং অত্যন্ত দ্রুত অনুধাবন ও উপলব্ধি করার ক্ষমতাসম্পন্ন। তিনি মাত্র বাইশ বছর বয়সে দ্বীনি বিষয়ে ফতোয়া প্রদান করতেন।

ইবনে তাইমিয়ার রচনাবলি ও গ্রন্থসমূহ তাঁর পাঠের বিশালতা, সংস্কৃতির গভীরতা এবং ব্যক্তিত্বের দৃঢ়তার সাক্ষ্য দেয়। তিনি যখন কোনো মাসআলা বা সমস্যার অবতারণা করেন, তখন তিনি আপনার সামনে সমস্ত যৌক্তিক ও ইলমি প্রমাণাদি সমবেত করেন যাতে তাঁর দলিল শক্তিশালী হয় এবং তাঁর মতামত সুপ্রতিষ্ঠিত হয়। ফিকহী বা শরয়ি প্রমাণ ও দলিলের ক্ষেত্রে তিনি নিরন্তর পবিত্র কুরআনের আয়াতসমূহ থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করেন। এর মাধ্যমে তিনি পাঠককে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি ও মতের দৃঢ়তার প্রতি সম্পূর্ণ সন্তুষ্ট না করা পর্যন্ত ছাড়েন না।

এটি কারো কাছে গোপন নয় যে, ইবনে তাইমিয়া ইসলামি চিন্তাচেতনার পুনর্জাগরণ এবং শরয়ি জ্ঞানসমূহের সংস্কারের ঝাণ্ডা বহন করেছিলেন। তিনি তাওহীদের পতাকা সমুন্নত করেছিলেন এবং বিদআত ও কুপ্রবৃত্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন। ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারী ধ্বংসপ্রাপ্ত দলগুলোর বিরুদ্ধে তিনি কঠোর ও শক্তিশালী জবাব প্রদান করেছিলেন। দর্শন, মেটাফিজিক্স এবং ইলমুল কালামের প্রতি তাঁর সমালোচনা ছিল অত্যন্ত তীব্র ও তিক্ত। তিনি কিতাব ও সুন্নাহর মানহাজ এবং এই দুইয়ের পদ্ধতিকে অন্য সকল পদ্ধতি ও মানহাজের ওপর প্রাধান্য দিয়েছিলেন।

ইবনে তাইমিয়া ছিলেন এক প্রচণ্ড যুদ্ধের ন্যায়, যার লেলিহান শিখা স্তিমিত হয়নি এবং যার উত্তাপ তাঁর যুগের বিদআতীদের মূর্খতার ওপর কখনো কমেনি। বরং তিনি ছিলেন খারেজি, ধর্মত্যাগী এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের ঘাড়ের ওপর এক উন্মুক্ত তলোয়ার।

হাফেজ ইবনে কাসীর তাঁর বিখ্যাত ইতিহাস গ্রন্থ (আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া)-তে বর্ণনা করেছেন

সমকালীন ফকিহদের সাথে ইবনে তাইমিয়ার বহু বিতর্কের বিবরণ।

একদিকে ইবনে তাইমিয়া ও তাঁর ছাত্র ইবনুল কায়্যিম আল-জাওযিয়্যাহ এবং অন্যদিকে সুফিদের মধ্যে বিভিন্ন সংঘাত বিদ্যমান ছিল। তিনি সুফিদের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিদের ব্যাপারে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন, বিশেষ করে যারা ‘হুলুল’ (সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টিতে প্রবেশ) ও ‘ওয়াহদাতুল উজুদ’ (স্রষ্টা ও সৃষ্টি এক হওয়া)-এর কথা বলত, যেমন মহিউদ্দিন ইবনুল আরাবি ও হাল্লাজ। তিনি তাদেরকে যিন্দিক, কুফর ও নাস্তিকতার দায়ে অভিযুক্ত করেছিলেন।

নিজের দাওয়াতের প্রতি একনিষ্ঠতার কারণে ইবনে তাইমিয়া (রহিমাহুল্লাহ) অনেক জুলুম ও নির্যাতন সহ্য করেছেন। তাঁর প্রতিপক্ষ ও শত্রুরা তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছিল এবং তিনি বহুবার কারাবরণ করেছিলেন। তিনি জেলখানায় থাকা অবস্থাতেই মৃত্যুবরণ করেন। আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন এবং ইসলামের পক্ষ থেকে তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন এবং আমাদেরকেও তাঁর মর্যাদাপূর্ণ আবাসে তাঁর সাথে মিলিত করুন।

আমীন।

আস-সাইয়্যিদ আল-জুমায়লি
(খণ্ড: ১) রাসুস হুসাইন (পৃষ্ঠা: ১৭৯)
‌‌عملنا في هذا الكتاب

 

* قمنا بتحقيق النصوص من مجموع الفتاوي لابن تيمية وقد تضمنها المجلد السابع والعشرون من ص 450 إلى ص 490.

* ناقشنا آراء ابن تيمية وفي حالة عدوله عن الحقيقة - بحسن نية طبعا - رددنا عليه بآراء العلماء والمؤرخين الكبار الذين أخذ عنهم مثل الطبري والمسعودي وابن عبد ربه والقاضي ابن العربي والأمام القرطبي.

* قمنا بتصويب الأخطاء الإملائية والتصحيفات والتحريفات وشرحنا معاني الألفاظ الغامضة.

* خرجنا الآيات والأحاديث التي أوردها ابن تيمية رحمه الله حتى تكتمل الفائدة ويتيسر النقع.

* أبدينا رأينا الشخصي في بعض المواضع التي تقتضي ذلك.

* رحم الله ابن تيمية ومن نهج نهجه وحمل لواءه في نصر السنة وقمع البدعة.
এই গ্রন্থে আমাদের কর্মপদ্ধতি

 

* আমরা ইবনে তাইমিয়্যার ‘মাজমুউল ফাতাওয়া’ থেকে মূল পাঠ্যসমূহ তাহকীক বা সম্পদনা করেছি, যা ২৭তম খণ্ডের ৪৫০ থেকে ৪৯০ পৃষ্ঠা পর্যন্ত অন্তর্ভুক্ত ছিল।

* আমরা ইবনে তাইমিয়্যার মতামত নিয়ে আলোচনা করেছি এবং যেখানে তিনি সত্য থেকে বিচ্যুত হয়েছেন—অবশ্যই তা সরল বিশ্বাসে—সেখানে আমরা বড় বড় আলেম ও ঐতিহাসিকদের মতামতের মাধ্যমে তার প্রত্যুত্তর দিয়েছি যাদের নিকট থেকে তিনি জ্ঞান গ্রহণ করেছেন; যেমন তাবারী, মাসউদী, ইবনে আবদে রাব্বিহি, কাযী ইবনুল আরাবী এবং ইমাম কুরতুবী।

* আমরা বানান ভুল, অনুলিখনের ত্রুটি ও বিকৃতিসমূহ সংশোধন করেছি এবং অস্পষ্ট শব্দাবলির অর্থ ব্যাখ্যা করেছি।

* আমরা ইবনে তাইমিয়্যাহ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) কর্তৃক উদ্ধৃত আয়াত ও হাদীসসমূহের উৎস নির্দেশ বা তাখরীজ করেছি যাতে পাঠকরা পূর্ণ উপকৃত হতে পারেন এবং তা থেকে সুফল গ্রহণ সহজতর হয়।

* যেখানে প্রয়োজন মনে হয়েছে, সেখানে আমরা আমাদের ব্যক্তিগত অভিমত ব্যক্ত করেছি।

* আল্লাহ তাআলা ইবনে তাইমিয়্যাহ এবং যারা তাঁর পথ অনুসরণ করেছেন ও সুন্নাহর বিজয় এবং বিদআত দমনে তাঁর ঝাণ্ডা বহন করেছেন, তাদের সবার প্রতি দয়া করুন।
(খণ্ড: ১) রাসুস হুসাইন (পৃষ্ঠা: ১৮১)
بسم الله الرحمن الرحيم *

‌‌ما تقول السادة العلماء أئمة الدين، وهداة المسلمين، رضي الله عنهم أجمعين، وأعانهم على تحقيق الحق المبين، وإخماد شغب المبطلين: في المشهد المنسوب إلى الحسين رضي الله عنه بمدينة القاهرة: هل هو صحيح أم لا؟ وهل حمل رأس الحسين إلى دمشق، ثم إلى مصر، أم حمل إلى المدينة من جهة العراق؟.

وهل لما يذكره بعض الناس من جهة المشهد الذي كان بعسقلان من صحة أم لا؟.

ومن ذكر أمر رأس الحسين، ونقله إلى المدينة النبوية دون الشام ومصر؟.

ومن جزم من العلماء المتقدمين والمتأخرين بأن مشهد عسقلان ومشهد القاهرة مكذوب، وليس بصحيح؟ وليبسطوا القول في ذلك، لأجل مسيس الضرورة والحاجة إليه، مثابين مأجورين إن شاء الله تعالى.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। *

দীনের ইমাম ও মুসলিমদের পথপ্রদর্শক উলামায়ে কিরাম—আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং সুস্পষ্ট সত্য প্রতিষ্ঠা ও বাতিলপন্থীদের বিশৃঙ্খলা দমনে তাঁদের সাহায্য করুন—তাঁরা কী বলেন: কায়রো শহরে হুসাইন (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর প্রতি নিসবতকৃত মাজার সম্পর্কে: তা কি সঠিক নাকি নয়? হুসাইনের মস্তক কি দামেস্কে, অতঃপর মিসরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, নাকি ইরাক হয়ে মদিনায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল?

আশকালানে যে মাজারটি ছিল, সে সম্পর্কে কিছু লোক যা উল্লেখ করে তার কি কোনো সত্যতা আছে নাকি নেই?

শাম ও মিসরের পরিবর্তে হুসাইন (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর মস্তক মোবারক মদিনা নববীতে স্থানান্তরের বিষয়টি কারা উল্লেখ করেছেন?

পূর্ববর্তী ও পরবর্তী আলেমদের মধ্যে কারা এ বিষয়ে সুনিশ্চিত মত দিয়েছেন যে, আশকালান ও কায়রোর মাজারটি বানোয়াট এবং তা সঠিক নয়? এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করুন, কারণ বর্তমানে এর বিশেষ প্রয়োজন ও আবশ্যকতা রয়েছে। মহান আল্লাহ চাহেন তো আপনারা সওয়াব ও প্রতিদান লাভ করবেন।
(খণ্ড: ১) রাসুস হুসাইন (পৃষ্ঠা: ১৮৩)
‌‌الجواب

 

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله * بل المشهد المنسوب إلى الحسين بن علي رضي الله عنهما الذي بالقاهرة كذب مختلق، بلا نزاع بين العلماء المعروفين عند أهل العلم، الذين

يرجع إليهم المسلمون في مثل ذلك، لعلمهم وصدقهم.

ولا يعرف عن عالم مسمى معروف بعلم وصدق أنه قال: إن هذا المشهد صحيح.

وإنما يذكره بعض الناس قولا عمن لا يعرف، على عادة من يحكي من مقالات الرافضة (1) وأمثالهم من أهل الكذب.

* فإنهم ينقلون أحاديث وحكايات، ويذكرون مذاهب ومقالات.

وإذا

--------------------------------------------

(1) ومن الروافض السبئية الذين أظهروا بدعتهم في زمان علي رضى الله عنه، فقال بعضهم لعل أنت الإله، فأحرق على قوما منهم، ونفى زعيمهم عبد الله بن سبأ إلى ساباط المدائن، وهذه ليست فرقة إسلامية لأنهم قالوا أن عليا إله.

ثم افترقت الرافضة - بعد زمان علي رضي الله عنه أربعة أصناف: زيدية وإمامية، وكيسانية وغلاة، وافترقت الزيدية فرقا والإمامية فرقا، والغلاة فرقا، وكل فرقة تكفر سائرها، وجميع فرق الغلاة خارجون عن فرق الاسلام، وقد جعل البغدادي فرقة الزيدية من الرافضة، مع أن الزيدية أتباع زيدين على الباقين على أتباع والرافضة هم الذين كانوا معه ثم تركوه.

راجع الفرق بين الفرق للبغدادي بتحقيق الشيخ محمد محيي الدين عبد الحميد ص 21 بتصرف ط.

دار المعرفة بلبنان، ومقالات الاسلاميين (1 / 129) ومروج الذهب للمسعودي (3 / 220) ط.

دار المعرفة أيضا.

وعن الكيسانية أرجو مراجعة مروج الذهب (3 / 87) وعن الإمامة تحدث المسعودي أيضا (3 / 236) فراجعه.

(*)
উত্তর

 

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য * বরং কায়রোতে অবস্থিত হুসাইন ইবনে আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর প্রতি নিসবতকৃত মাশহাদ বা মাজারটি একটি বানোয়াট মিথ্যা, যে বিষয়ে ওই সকল আলেমদের মাঝে কোনো দ্বিমত নেই যারা ইলম ও সত্যনিষ্ঠার জন্য সুপরিচিত এবং এই জাতীয় বিষয়ে মুসলিমগণ যাদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করেন।

এমন কোনো নির্দিষ্ট আলেম, যিনি ইলম ও সত্যবাদিতার জন্য প্রসিদ্ধ, তার সম্পর্কে জানা নেই যে তিনি বলেছেন: এই মাজারটি সঠিক।

বরং কিছু মানুষ অজ্ঞাত ব্যক্তিদের উদ্ধৃতি হিসেবে এটি উল্লেখ করে থাকে, যেমনটি রাফেজি (১) এবং তাদের মতো মিথ্যাবাদীদের উক্তি বর্ণনাকারীদের অভ্যাস।

* কেননা তারা বিভিন্ন হাদিস ও কেচ্ছা বর্ণনা করে এবং বিভিন্ন মাজহাব ও মতবাদ উল্লেখ করে।

আর যখন

--------------------------------------------

(১) রাফেজিদের অন্তর্ভুক্ত হলো সাবায়িয়া সম্প্রদায়, যারা আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর যুগে তাদের বিদআত প্রকাশ করেছিল। তাদের কেউ কেউ বলেছিল, 'হয়তো আপনিই উপাস্য', ফলে আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাদের একটি দলকে আগুনে পুড়িয়ে মারেন এবং তাদের নেতা আবদুল্লাহ ইবনে সাবাকে মাদায়েনের সাবাত নামক স্থানে নির্বাসিত করেন। এটি কোনো ইসলামী ফিরকা নয়, কারণ তারা আলীকে ইলাহ বা উপাস্য বলেছিল।

অতঃপর আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সময়ের পর রাফেজিরা চার শ্রেণিতে বিভক্ত হয়: জাইদিয়া, ইমামিয়া, কাইসানিয়া এবং গুলাত (চরমপন্থী)। আবার জাইদিয়া বিভিন্ন উপদলে, ইমামিয়া বিভিন্ন উপদলে এবং গুলাত বিভিন্ন উপদলে বিভক্ত হয়। প্রতিটি দল অন্য দলকে কাফের মনে করে। আর গুলাত বা চরমপন্থীদের সকল দলই ইসলামের গণ্ডি থেকে বহির্ভূত। বাগদাদী জাইদিয়া ফিরকাকেও রাফেজিদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন, যদিও জাইদিয়ারা হলো জায়েদ ইবনে আলীর অনুসারী যারা তার অনুসরণে অটল ছিল এবং রাফেজি হলো তারা যারা তার সাথে ছিল এবং পরে তাকে বর্জন করেছিল।

দেখুন: বাগদাদী রচিত 'আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক', শায়খ মুহাম্মদ মুহিউদ্দিন আবদুল হামিদের তাহকিকসহ, পৃষ্ঠা ২১, লেবাননের দারুল মা'রিফাহ সংস্করণ থেকে পরিমার্জিত।

মাকালাতুল ইসলামিয়্যিন (১/১২৯) এবং মাসউদী রচিত মুরুজুয যাহাব (৩/২২০), দারুল মা'রিফাহ সংস্করণ।

কাইসানিয়া সম্পর্কে অনুগ্রহ করে মুরুজুয যাহাব (৩/৮৭) দেখুন এবং ইমামত সম্পর্কেও মাসউদী আলোচনা করেছেন (৩/২৩৬), সেটিও দেখুন।

(*)
(খণ্ড: ১) রাসুস হুসাইন (পৃষ্ঠা: ১৮৪)
طالبتهم بمن قال ذلك ونقله؟ لم يكن لهم عصمة يرجعون إليها.

ولم يسموا أحدا معروفا بالصدق في نقله، ولا بالعلم في قوله.

بل غاية ما يعتمدون عليه.

أن يقولوا: أجمعت طائفة الحقة.

وهم عند أنفسهم الطائفة الحقة، الذين هم عند أنفسهم المؤمنون، وسائر الأمة كفار.

* ويقولون: إنما كانوا على الحق لأن فيهم الإمام المعصوم، والمعصوم عند الرافضة الإمامية الاثنى عشرية (1) : هو الذي يزعمون أنه دخل سرداب

سامرا بعد موت أبيه الحسن بن علي العسكري، سنة ستين ومائتين.

وهو إلى الآن لم يعرف له خبر، ولا وقع له أحد على عين ولا أثر.

* وأهل العلم بأنساب أهل البيت (2) يقولون: إن الحسن بن علي العسكري لم يكن له نسل ولا عقب.

ولا ريب أن العقلاء كلهم لا يعدون مثل هذا القول.

واعتقاد الإمامة والعصمة في مثل هذا: مما لا يرصاه لنفسه إلا من هو أسفه الناس، وأضلهم وأجهلهم.

وبسط الرد عليهم له موضع غير هذا (3) .

* والمقصود هنا: بيان جنس المقولات والمنقولات عند أهل الجهل والضلالات.

فإن هذا المنتظر عند الجهال الضلال: يزعمون أنه عند موت أبيه.

كان عمره إما سنتين، أو ثلاثا، أو خمسا، على اختلاف بينهم في ذلك.

* وقد علم بنص القرآن والسنة المتواترة، وجماع (4) الأمة: أن مثل هذا يجب أن يكون تحت ولاية غيره في نفسه وماله.

فتكون نفسه محضونة مكفولة لمن

--------------------------------------------

(1) والامامية خمس عشرة فرقة منها الاثنا عشرية.

راجع الفرق بين الفرق للبغدادي ص 23 بتصرف.

(2) مثل الزبير بن بكار نسابة قريش.

(3) راجع كتابة (منهاج السنة النبوية في نقض كلام الشيعة والقدرية) .

(4) كذا ورد بالاصل ولعل الأصوب (إجماع) (*)
আপনি যদি তাদের কাছে জানতে চান যে কে এ কথা বলেছে এবং কে তা বর্ণনা করেছে? তবে তাদের নিকট এমন কোনো অভ্রান্ত ভিত্তি নেই যার দিকে তারা প্রত্যাবর্তন করতে পারে।

তারা বর্ণনার ক্ষেত্রে সত্যবাদিতার জন্য পরিচিত বা মত প্রকাশের ক্ষেত্রে ইলমের (জ্ঞানের) জন্য পরিচিত এমন কোনো ব্যক্তির নাম উল্লেখ করতে পারেনি।

বরং তারা সর্বোচ্চ যার ওপর নির্ভর করে—

তা হলো তাদের এই উক্তি: "সত্যপন্থী দল ঐকমত্য পোষণ করেছে।"

অথচ তারা নিজেরাই নিজেদের দৃষ্টিতে সত্যপন্থী দল, যারা নিজেদের দৃষ্টিতে মুমিন, আর অবশিষ্ট উম্মত তাদের নিকট কাফের।

* এবং তারা বলে: তারা সত্যের ওপর রয়েছে কারণ তাদের মাঝে অভ্রান্ত ইমাম বিদ্যমান; আর রাফেজি ইমামী ইথনা আশারিয়াদের (১) নিকট অভ্রান্ত হলেন তিনি, যার সম্পর্কে তারা দাবি করে যে তিনি সুড়ঙ্গে প্রবেশ করেছেন—

সামাররায় তাঁর পিতা হাসান ইবনে আলী আল-আসকারির মৃত্যুর পর, দুইশ ষাট হিজরি সনে।

অথচ আজ পর্যন্ত তাঁর কোনো খবর জানা যায়নি এবং কোনো ব্যক্তি তাঁর কোনো অস্তিত্ব বা চিহ্নের সন্ধান পায়নি।

* আর আহলে বাইতের বংশপরম্পরা বিশেষজ্ঞগণ (২) বলেন: হাসান ইবনে আলী আল-আসকারির কোনো সন্তান বা বংশধর ছিল না।

আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, বুদ্ধিমান ব্যক্তিদের কেউই এই ধরনের কথাকে গুরুত্ব দেন না।

এবং এই জাতীয় বিষয়ে ইমামত ও অভ্রান্ততায় বিশ্বাস করা এমন একটি বিষয় যা মানুষের মধ্যে সবচেয়ে নির্বোধ, সবচেয়ে পথভ্রষ্ট এবং সবচেয়ে মূর্খ ছাড়া অন্য কেউ নিজের জন্য পছন্দ করবে না।

আর তাদের খণ্ডনের বিস্তারিত বিবরণ এই স্থান ব্যতীত অন্য কোথাও রয়েছে (৩)।

* আর এখানে উদ্দেশ্য হলো: মূর্খ ও পথভ্রষ্টদের বক্তব্য ও বর্ণনার ধরন বর্ণনা করা।

কেননা এই পথভ্রষ্ট মূর্খদের নিকট প্রতীক্ষিত ব্যক্তি সম্পর্কে তারা দাবি করে যে, তাঁর পিতার মৃত্যুর সময়—

তাঁর বয়স ছিল হয় দুই বছর, অথবা তিন বছর, অথবা পাঁচ বছর; এ বিষয়ে তাদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।

* অথচ কুরআন ও মুতাওয়াতির সুন্নাহর দলিল এবং উম্মতের ঐকমত্য (৪) দ্বারা এটি জানা যে, এই বয়সের শিশুর জন্য তার নিজের এবং তার সম্পদের ক্ষেত্রে অন্যের অভিভাবকত্বের অধীনে থাকা আবশ্যক।

ফলে তাকে লালন-পালন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য এমন একজনের তত্ত্বাবধানে থাকতে হবে যে...

--------------------------------------------

(১) ইমামীরা পনেরটি উপদলে বিভক্ত, যার মধ্যে একটি হলো ইথনা আশারিয়া। দেখুন আল-বাগদাদীর 'আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক', পৃষ্ঠা ২৩ (সম্পাদিত)।

(২) যেমন কুরাইশদের বংশপরিচয় বিশেষজ্ঞ জুবায়ের ইবনে বাক্কার।

(৩) দেখুন তাঁর গ্রন্থ 'মিনহাজুস সুন্নাহ আন-নাবাবিয়্যাহ ফি নাকদি কালামিশ শিয়া ওয়াল কাদারিয়া'।

(৪) মূলে এভাবেই এসেছে, তবে সম্ভবত সঠিক হলো 'ইজমা' (ঐকমত্য)। (*)
(খণ্ড: ১) রাসুস হুসাইন (পৃষ্ঠা: ১৮৫)
يستحق كفالته الشرعية، تحت من يستحق النظر في ماله من وصى أو غيره.

وهو قبل السبع لا يؤمر بالصلاة.

فإذا بلغ السبع أمر بها، فإذا بلغ العشر ولم يصل أدب على فعلها.

فكيف يكون مثل هذا إماما معصوما، يعلم جميع

الدين، ولا يدخل الجنة إلا من يؤمن به؟ ! * ثم بتقدير وجوده، وإمامته وعصمته، إنما يجب على الخلق أن يطيعوا من يأمرهم بما أمرهم الله به ورسوله، وينهاهم عما نهاهم عنه الله ورسوله، فإذا لم يروه ولم يسمعوا كلامه، لم يكن لهم طريق إلى العلم بما يأمر به وما ينهي عنه، فلا يجوز تكليفهم طاعته، إذ لم يأمر هم بشئ، وطاعته من لا يأمر، ممتنعة لذاتها.

وإن قدر أنه يأمر، ولم يصل إليهم أمره، ولا يتمكنون من العلم بذلك، كانوا عاجزين غير مطيقين لمعرفة ما أمروا به، والتمكن من العلم شرط في الأمر، لا سيما عند الشيعة المتأخرين، فإنهم من أشد الناس منعا لتكليف ما لا يطاق، لموافقتهم المعتزلة في القدر والصفات أيضا.

* وإن قيل: إن ذلك بسبب ذنوبهم، لأنهم أخافوه أن يظهر.

قيل: هب أن أعداءه أخافو، فأي ذنب لأوليائه ومحبيه، وأي منفعة لهم من الإيمان به، وهو لا يعلمهم شيئا ولا يأمرهم بشئ؟ ثم كيف جاز له - مع وجوب الدعوة عليه - أن يغيب هذه الغيبة التي لها الآن (1) أكثر من أربعمائة وخمسين سنة.

* وما الذي يسوغ له هذه الغيبة، دون آبائهم الموجودين قبل موتهم: كعلي، والحسن، والحسين، وعلي بن الحسين، ومحمد بن علي، وجعفر بن محمد، وموسى بن جعفر، وعلي بن موسى، ومحمد بن علي، وعلي بن محمد، والحسين بن علي العسكري؟ ! * فإن هؤلاء كانوا موجودين يجتمعون بالناس وقد أخذ عن علي والحسن

--------------------------------------------

(1) الآن أي عصر ابن تيمية رحمه الله المتوفي سنة 728 هـ ومن هذه الغيبة إلى عصرنا هذا 1137 سنة هـ.

(*)
তিনি তার শরয়ি অভিভাবকত্বের উপযুক্ত হন, এমন ব্যক্তির অধীনে যিনি তার সম্পদের দেখাশোনা করার যোগ্য, চাই তিনি ওসী (অসিয়তপ্রাপ্ত ব্যক্তি) হোন বা অন্য কেউ।

আর সাত বছর হওয়ার আগে তাকে সালাতের নির্দেশ দেওয়া হয় না।

যখন সে সাত বছরে পৌঁছায়, তখন তাকে সালাতের নির্দেশ দেওয়া হয়; আর যখন সে দশ বছরে পৌঁছায় এবং সালাত আদায় না করে, তখন তাকে তা করার জন্য শাসন করা হয়।

এমতাবস্থায় এমন ব্যক্তি কীভাবে একজন নিষ্পাপ ইমাম হতে পারেন, যিনি দ্বীনের সকল বিষয় জানেন এবং যার ওপর ঈমান আনা ব্যতীত কেউ জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না?! * অতঃপর তার অস্তিত্ব, ইমামত এবং নিষ্পাপ হওয়ার বিষয়টি ধরে নিলেও সৃষ্টির ওপর কেবল তারই আনুগত্য করা ওয়াজিব হয়, যিনি তাদের সেই নির্দেশ দেন যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তাদের দিয়েছেন এবং তাদের সেই কাজ থেকে নিষেধ করেন যা থেকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল নিষেধ করেছেন। এমতাবস্থায় যখন তারা তাকে দেখেনি এবং তার কথা শোনেনি, তখন তিনি কী নির্দেশ দিচ্ছেন আর কী বিষয়ে নিষেধ করছেন তা জানার কোনো পথ তাদের ছিল না। অতএব, তার আনুগত্য করার দায়ভার তাদের ওপর চাপানো বৈধ নয়, কারণ তিনি তাদের কোনো কিছুর নির্দেশই দেননি। আর যে ব্যক্তি কোনো নির্দেশই দেয় না, তার আনুগত্য করা সত্তাগতভাবেই অসম্ভব।

যদি ধরেও নেওয়া হয় যে তিনি নির্দেশ দেন, কিন্তু সেই নির্দেশ তাদের নিকট পৌঁছায় না এবং তারা তা জানার সক্ষমতাও রাখে না, তবে তারা যা আদিষ্ট হয়েছে তা জানতে অক্ষম ও অসমর্থ হিসেবে গণ্য হবে। অথচ কোনো নির্দেশ প্রদানের ক্ষেত্রে সক্ষমতা বা জ্ঞান লাভের সুযোগ থাকা একটি শর্ত, বিশেষ করে পরবর্তী যুগের শিয়াদের নিকট; কেননা তারা অসাধ্য সাধনের দায়িত্ব অর্পণ (তাকলিফ মা লা ইউতাক) নিষিদ্ধ করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত কঠোর, যেহেতু তারা তাকদির ও সিফাতের (গুণাবলির) ক্ষেত্রে মুতাজিলাদের সাথে একমত।

* আর যদি বলা হয়: এটি তাদেরই পাপের কারণে হয়েছে, কারণ তারা তাকে আত্মপ্রকাশ করতে ভয় দেখিয়েছে।

জবাবে বলা হবে: ধরে নিলাম যে তার শত্রুরা তাকে ভয় দেখিয়েছে, কিন্তু তার অনুসারী ও ভক্তদের অপরাধ কী? আর তার ওপর ঈমান এনে তাদের লাভই বা কী, যখন তিনি তাদের কোনো কিছু শিক্ষাই দিচ্ছেন না এবং কোনো কিছুর নির্দেশও দিচ্ছেন না? অতঃপর দাওয়াত দেওয়া তার ওপর ওয়াজিব হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে তার জন্য এই দীর্ঘকাল আত্মগোপনে থাকা বৈধ হলো, যার মেয়াদ এখন (১) চারশ পঞ্চাশ বছরেরও বেশি সময় অতিক্রান্ত হয়েছে।

* আর কোন বিষয়টি তার জন্য এই দীর্ঘ অন্তর্ধানকে বৈধ করল, যা তার পূর্বপুরুষদের ক্ষেত্রে ছিল না যারা তাদের মৃত্যুর আগে বর্তমান ছিলেন; যেমন: আলি, হাসান, হুসাইন, আলি ইবনুল হুসাইন, মুহাম্মদ ইবনে আলি, জাফর ইবনে মুহাম্মদ, মুসা ইবনে জাফর, আলি ইবনে মুসা, মুহাম্মদ ইবনে আলি, আলি ইবনে মুহাম্মদ এবং হাসান ইবনে আলি আল-আসকারি?! * কেননা তারা বর্তমান ছিলেন এবং মানুষের সাথে মেলামেশা করতেন। আর আলি ও হাসানের নিকট থেকে ইলম গ্রহণ করা হয়েছে...

--------------------------------------------

(১) 'এখন' বলতে ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ.)-এর যুগ বোঝানো হয়েছে, যিনি ৭২৮ হিজরিতে ইন্তেকাল করেছেন। আর এই অন্তর্ধানের শুরু থেকে আমাদের বর্তমান সময় পর্যন্ত ১১৩৭ হিজরি বছর অতিক্রান্ত হয়েছে।

(*)
(খণ্ড: ১) রাসুস হুসাইন (পৃষ্ঠা: ১৮৬)
والحسين، وعلي بن الحسين، ومحمد بن علي، وجعفر بن محمد - من العلم ما هو معروف عند أهله، والباقون لهم سبر معروفة، وأخبار مشكوفة.

* فما باله استحل هذا الاختفاء هذه المدة الطويلة أكثر من أربعمائة سنة، وهو إمام الأمة، بل هو على زعمهم، هاديها وداعيها ومعصومها، الذي يجب عليها الأيمان به.

ومن لم يؤمن به فليس بمؤمن عندهم؟ فإن قالوا: الخوف.

قيل: الخوف على آبائه كان أشد، بلا نزاع بين العلماء، وقد حبس بعضهم.

ثم الخوف إنما يكن إذا حارب.

فأما إذا فعل كما كان يفعل سلفه من الجلوس مع المسلمين وتعليمهم لم يكن عليه خوف.

* وبيان ضلال هؤلاء طويل.

وإنما المقصود بيانه هنا: أنهم يجعلون هذا أصل دينهم.

ثم يقولون: إذا اختلفت الطائفة الحقة على قولين، وأحدهما يعرف قائله، والآخر، لا يعرف قائله، كان القول الذي لا يعرف قائله الحق، وهكذا وجدته في كتب شيوخهم، وعللوا ذلك، بأن القول لا يعرف هو قائله يكون من قائليه الإمام المعصوم، وهذا نهاية الجهل والضلال.

* وهكذا ما ينقلونه من هذا الباب، ينقلون سيرا وحكايات وأحاديث، إذا ما طالبتهم بإسنادها، لم يحلوك على رجل معروف بالصدق، بل حسب أحدهم أن يكون سمع ذلك من آخر مثله، أو قرأه في كتاب ليس فيه إسناد معروف، وإن سموا أحدا: كان من المشهورين بالكذب والبهتان.

لا يتصور قط أن ينقلوا شيئا مما لا يعرفه علماء السنة إلا عن مجهول لا يعرف، أو عن معروف بالكذب.

* ومن هذا الباب نقل الناقل: أن هذا مشهد الحسين رضي الله عنه، بل وكذلك مشاهير غير هذا مضافة إلى الحسين، بل ومشاهد مضافة إلى قبر
হুসাইন, আলী বিন আল-হুসাইন, মুহাম্মদ বিন আলী এবং জাফর বিন মুহাম্মদ—তাদের যে ইলম (জ্ঞান) রয়েছে তা এর যোগ্য ব্যক্তিদের কাছে সুপরিচিত। আর অবশিষ্টদের জীবনচরিত সুপরিচিত এবং তাদের সংবাদসমূহ উন্মোচিত।

* তাহলে তার কী হয়েছে যে, তিনি চারশ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই দীর্ঘ আত্মগোপন করাকে বৈধ করে নিলেন? অথচ তিনি উম্মতের ইমাম; বরং তাদের দাবি অনুযায়ী তিনি উম্মতের পথপ্রদর্শক, আহ্বানকারী এবং মাসুম (নিষ্পাপ), যার ওপর ঈমান আনা উম্মতের জন্য ওয়াজিব।

আর তাদের মতে যে ব্যক্তি তার ওপর ঈমান আনবে না সে মুমিন নয়। তারা যদি বলে: ভয়ের কারণে (তিনি আত্মগোপন করেছেন)।

বলা হবে: আলেমদের মধ্যে কোনো মতবিরোধ ছাড়াই তার পূর্বপুরুষদের জীবনের ওপর ভীতি আরও বেশি ছিল, এমনকি তাদের কয়েকজনকে কারারুদ্ধও করা হয়েছিল।

তাছাড়া ভয় তো কেবল তখনই হয় যখন কেউ যুদ্ধে লিপ্ত হয়।

কিন্তু তিনি যদি তার পূর্বসূরীদের ন্যায় মুসলমানদের সাথে বসা এবং তাদের শিক্ষা দেওয়ার কাজ করতেন, তবে তার ওপর কোনো ভয় থাকত না।

* এদের পথভ্রষ্টতার বর্ণনা দীর্ঘ।

এখানে মূল উদ্দেশ্য হলো এটা স্পষ্ট করা যে, তারা এটাকে তাদের দীনের মূল ভিত্তি বানিয়ে নিয়েছে।

অতঃপর তারা বলে: যখন সত্যপন্থী দলটি দুটি মতে বিভক্ত হয় এবং একটি মতের প্রবক্তা জানা থাকে কিন্তু অন্য মতের প্রবক্তা জানা থাকে না, তবে যে মতের প্রবক্তা অজ্ঞাত সেটিই সত্য। আমি তাদের শায়খদের কিতাবসমূহে এভাবেই পেয়েছি। তারা এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে যে, যার প্রবক্তা জানা যায় না তার প্রবক্তাদের মধ্যে মাসুম ইমাম রয়েছেন। আর এটিই হচ্ছে মূর্খতা ও পথভ্রষ্টতার চূড়ান্ত সীমা।

* এভাবে তারা এই বিষয়গুলো থেকে যা কিছু বর্ণনা করে, তারা এমন সব জীবনী, কিচ্ছা-কাহিনী এবং হাদীস বর্ণনা করে যে, যখন আপনি তাদের কাছে এগুলোর সনদ (সূত্র) দাবি করবেন, তারা আপনাকে সত্যবাদী হিসেবে পরিচিত কোনো ব্যক্তির সন্ধান দিতে পারবে না। বরং তাদের একজনের জন্য এটুকুই যথেষ্ট যে, সে তার মতো অন্য কারো কাছ থেকে তা শুনেছে অথবা এমন কোনো কিতাবে পড়েছে যাতে কোনো পরিচিত সনদ নেই। আর যদি তারা কারো নাম উল্লেখও করে, তবে সে মিথ্যাচার ও অপবাদের জন্য প্রসিদ্ধ ব্যক্তিদের একজন হয়।

আহলুস সুন্নাহর আলেমগণ জানেন না এমন কোনো কিছু তারা বর্ণনা করবে—এটি কখনো কল্পনাও করা যায় না, যদি না তা কোনো অজ্ঞাত ব্যক্তি থেকে বর্ণিত হয় অথবা মিথ্যাচারের জন্য সুপরিচিত কোনো ব্যক্তির পক্ষ থেকে হয়।

* আর এ সূত্রেই কোনো বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছে যে: এটি হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুর মাশহাদ (স্মৃতিস্থল)। বরং হুসাইনের সাথে সম্পৃক্ত করা হয়েছে এমন আরও অনেক প্রসিদ্ধ জায়গা রয়েছে, এমনকি কবরের সাথে সম্পর্কিত আরও অনেক মাশহাদও রয়েছে।
(খণ্ড: ১) রাসুস হুসাইন (পৃষ্ঠা: ১৮৭)
الحسين رضي الله عنه، فإنه باتفاق الناس: أن هذا المشهد بني عام بضع وأربعين وخمسمائة وأنه نقل من مشهد بعسقلان! وأن ذلك المشهد - بعسقلان - كان قد أحدث بعد التسعين وأربعمائة.

* فأصل هذا المشهد القاهري هو ذلك المشهد العسقلاني.

وذلك العسقلاني محدث بعد مقتل الحسين بأكثر من أربعمائة وثلاثين سنة، وهذا بعد مقتله بقريب من خمسمائه سنة، وهذا مما لم يتنازع فيه اثنان ممن تكلم في هذا الباب من أهل العلم، على اختلاف أصنافهم - كأهل الحديث، ومصنفي أخبار القاهره، ومصنفي التواريخ، وما نقله أهل العلم طبقة عن طبقة (1) .

وهذا بينهم مشهور متواتر، سواء قيل: إن إضافته إلى الحسين صدق أو كذب - لم يتنازعوا أنه نقل من عسقلان في أواخر الدولة العبيدية.

* وإذا كان أصل هذا المشهد القاهري هو ما نقل عن ذلك المشهد العسقلاني باتفاق الناس وبالنقل المتواتر، فمن المعلوم أن قول القائل: إن ذلك الذي بعسقلان هو مبنى على رأس الحسين رضي الله عنه: قول بلا حجة أصلا.

فإن هذا لم ينقله أحد من أهل العلم الذين من شأنهم نقل هذا لا من أهل الحديث.

ولا من علماء الأخبار والتواريخ، ولا من العلماء المصنفين في النسب: نسب قريش أو نسب بني هاشم ونحوه.

* وذلك المشهد العسقلاني: أحدث في آخر المائة الخامسة، لم يكن قديما، ولا كان هناك مكان قبله، أو نحوه مضاف إلى الحسين، ولا حجر منقوش ولا نحوه مما يقال، إنه علامة على ذلك.

* فتبين بذلك: أن إضافة المضيف مثل هذا إلى الحسين قول بلا علم أصلا.

وليس مع قائل ذلك ما يصلح أن يكون معتمدا، لا نقل صحيح ولا

ضعيف، بل لا فرق بين ذلك وبين أن يجئ الرجل إلى بعض القبور التي

--------------------------------------------

(1) يقول القرطبي في التذكرة (2 / 668) : (والإمامية تقول إن الرأس أعيد إلى الجثة بكربلاء بعد أربعين يوما من القتل، وهو يوم معروف عندهم يسمون الزيادة فيه زيادة الأربعين، وما ذكر أنه في عسقلان في مشهد هناك أو بالقاهرة فشئ باطل لا يصح ولا يثبت) م هـ.

(*)
হুসাইন (রাযিয়াল্লাহু আনহু) প্রসঙ্গে মানুষের ঐকমত্য হলো যে, এই মাশহাদটি (স্মৃতিস্থল) পাঁচশত চল্লিশের কিছু পরে নির্মিত হয়েছে এবং এটি আসকালানের একটি মাশহাদ থেকে স্থানান্তরিত করা হয়েছে! আর আসকালানের সেই মাশহাদটি চারশত নব্বই সালের পরে তৈরি করা হয়েছিল।

* সুতরাং কায়রোর এই মাশহাদটির মূল উৎস হলো আসকালানের সেই মাশহাদটি।

আর আসকালানের সেই স্থানটি হুসাইনের শাহাদাতের চারশত ত্রিশ বছরেরও বেশি সময় পর উদ্ভূত হয়েছে, আর এটি (কায়রোরটি) তাঁর শাহাদাতের প্রায় পাঁচশত বছর পর। এ বিষয়ে জ্ঞানীদের মধ্যে যারা কথা বলেছেন তাদের কোনো দুজন দ্বিমত পোষণ করেননি, তাদের শ্রেণি ভিন্ন হওয়া সত্ত্বেও—যেমন মুহাদ্দিসগণ, কায়রোর সংবাদ সংকলকগণ, ইতিহাস লেখকগণ এবং যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম আলেমগণ বর্ণনা করেছেন (১)।

এটি তাদের মাঝে প্রসিদ্ধ ও মুতাওয়াতির, চাই হুসাইনের প্রতি এর সম্বন্ধ সত্য বলা হোক বা মিথ্যা—তারা এ বিষয়ে বিতর্ক করেননি যে এটি উবাইদী সাম্রাজ্যের শেষ দিকে আসকালান থেকে স্থানান্তরিত হয়েছে।

* যেহেতু মানুষের ঐকমত্য ও মুতাওয়াতির বর্ণনার ভিত্তিতে কায়রোর এই মাশহাদটির মূল উৎস আসকালানের সেই স্থানটি, তাই এটি সুস্পষ্ট যে, যে ব্যক্তি বলে যে আসকালানের সেই স্থানটি হুসাইন (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর মাথার ওপর নির্মিত, তার এই উক্তিটি মূলত কোনো দলিল ছাড়াই।

কারণ এটি এমন কোনো আলেম বর্ণনা করেননি যাদের কাজ হলো এ জাতীয় বিষয় বর্ণনা করা, না মুহাদ্দিসদের মধ্য থেকে কেউ এটি বর্ণনা করেছেন।

আর না সংবাদ ও ইতিহাসের আলেমগণ, আর না বংশবিদ্যা নিয়ে কাজ করা আলেমগণ—যেমন কুরাইশদের বংশতালিকা বা বনী হাশেমের বংশতালিকা বা এই জাতীয় বিষয়ে যারা গ্রন্থ রচনা করেছেন।

* আর আসকালানের সেই মাশহাদটি পঞ্চম শতাব্দীর শেষভাগে উদ্ভূত হয়েছে, এটি প্রাচীন ছিল না, এবং এর আগে সেখানে এমন কোনো স্থান বা এর মতো কিছু ছিল না যা হুসাইনের সাথে সম্পর্কিত ছিল, না কোনো খোদাই করা পাথর বা এই জাতীয় কিছু ছিল যাকে এ বিষয়ের চিহ্ন বলা যেতে পারে।

* এর মাধ্যমে স্পষ্ট হলো যে: যারা এ জাতীয় বিষয়কে হুসাইনের সাথে সম্পর্কিত করে, তা মূলত কোনো জ্ঞান ছাড়াই একটি উক্তি।

আর এ কথার প্রবক্তার কাছে এমন কিছু নেই যা নির্ভরযোগ্য হতে পারে, না কোনো সহীহ বর্ণনা, না কোনো যয়ীফ বর্ণনা। বরং এর মাঝে এবং কোনো ব্যক্তির এমন কোনো কবরের কাছে আসার মাঝে কোনো পার্থক্য নেই যা...

--------------------------------------------

(১) কুরতুবী 'আত-তাযকিরা' গ্রন্থে (২ / ৬৬৮) বলেন: (ইমামিয়া শিয়ারা বলে যে, শাহাদাতের চল্লিশ দিন পর মাথা কারবালায় মূল দেহের কাছে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল, যা তাদের কাছে একটি পরিচিত দিন এবং তারা সেখানে যিয়ারতকে 'আরবাঈনের যিয়ারত' বলে অভিহিত করে। আর আসকালানের কোনো মাশহাদে বা কায়রোতে এটি থাকার যে কথা উল্লেখ করা হয়, তা একটি বাতিল বিষয়, যা শুদ্ধ নয় এবং প্রমাণিতও নয়)। সমাপ্ত।

(*)
(খণ্ড: ১) রাসুস হুসাইন (পৃষ্ঠা: ১৮৮)
بأمصار المسلمين، فيدعى أن في واحد منها رأس الحسين أو يدعى أنه قبر نبي من الأنبياء، أو نحو ذلك مما يدعيه كثير من أهل الكذب والضلال.

* ومن المعلوم أن مثل هذا القول غير مقبول باتفاق المسلمين.

* وغالب ما يستند إليه الواحد من هؤلاء: أن يدعى أنه رأى مناما، أو أنه وجد بذلك القبر علامة تدل على صلاح ساكنه: إما رائحة طيبة، وإما خرق عادة ونحو ذلك، وإما حكاية عن بعض الناس: أنه كان يعظم ذلك القبر.

* فأما المنامات فكثير منها، بل أكثرها كذب وقد عرفنا في زماننا بمصر والشام والعراق من يدعي أنه رأي منامات تتعلق ببعض البقاع إنه قبر نبي، أو أن فيه أثر نبي، ونحو ذلك، ويكون كاذبا.

وهذا الشئ منتشر.

* فرائي المنام قد يكون كاذبا، وبتقدير صدقه: فقد يكون الذي أخبره بذلك الشيطان.

* ورؤيا المحضة التي لا دليل يدل على صحتها لا يجوز أن يثبت بها شئ بالاتفاق، فإنه قد ثبت في الصحيح عن النبي (ص) أنه قال: (الرؤيا ثلاثة: رؤيا من الله، ورؤيا مما يحدث به المرء نفسه، ورؤيا من الشيطان) (1) .

--------------------------------------------

(1) قال تعالى: (لهم البشرى في الحياة الدنيا وفي الآخرة) قالوا إنها الرؤيا الصادقة يراها المؤمن أو ترى له.

أما الرؤيا التي تنجم عن الحديث المرء نفسه فهذه ترجع إلى اضطرابات نفسية ينطلق فيها اللاشعور بالرغبات المكبوتة فيرى الحالم أمنياته الشاقة التي لم تتحقق في اليقظة يراها تتحقق في المنام.

أما رؤيا الشياطين وهي الأحلام فقد ورد فيها قوله تعالى: (قالوا أضفاث أحلام، وما نحن بتأويل الأحلام بعالمين) يوسف (12 / 44) وفي الحديث الصحيح أن النبي (ص) أتاه رجل فقال يا رسول الله رأيت كأن رأسي قطع وأنا أتبعه، فقال لا تتحدث بتلاعب الشيطان بك في المنام.

راجع تعطير الأنام في تعبير المنام للنابلسي طبعة الحلبي (1 / 4) (*)
মুসলমানদের বিভিন্ন নগরীতে দাবি করা হয় যে, এগুলোর কোনো একটিতে হুসাইনের মাথা রয়েছে অথবা দাবি করা হয় যে এটি কোনো নবীর কবর, অথবা অনুরূপ কিছু যা অনেক মিথ্যাচারী ও পথভ্রষ্ট লোক দাবি করে থাকে।

* এটা সবারই জানা যে, এ ধরনের কথা মুসলমানদের ঐক্যমতে গ্রহণযোগ্য নয়।

* এদের মধ্যে কেউ কেউ যা কিছুর ওপর ভিত্তি করে এমন দাবি করে তা হলো: সে স্বপ্নে দেখেছে বলে দাবি করে, অথবা সেই কবরে এমন কোনো চিহ্ন পেয়েছে যা সেখানে সমাহিত ব্যক্তির নেককার হওয়ার প্রমাণ দেয়: যেমন সুগন্ধি পাওয়া, কিংবা কোনো অলৌকিক ঘটনা (খারকে আদত) ঘটা বা এই জাতীয় কিছু, অথবা কিছু মানুষের থেকে বর্ণিত গল্প: যে তারা এই কবরকে সম্মান করত।

* স্বপ্নের ব্যাপারে কথা হলো—এগুলোর অনেকগুলোই, বরং অধিকাংশ স্বপ্নই মিথ্যা। আমরা আমাদের সময়ে মিসর, সিরিয়া এবং ইরাকে এমন অনেককে চিনেছি যারা দাবি করে যে সে নির্দিষ্ট কিছু স্থান সম্পর্কে স্বপ্নে দেখেছে যে এটি নবীর কবর, অথবা সেখানে নবীর স্মৃতিচিহ্ন আছে বা এই জাতীয় কিছু, অথচ সে মিথ্যাবাদী।

আর এই বিষয়টি খুবই ব্যাপক।

* সুতরাং স্বপ্নদ্রষ্টা ব্যক্তি মিথ্যাবাদী হতে পারে, আর যদি সে সত্যবাদীও হয় তবুও হতে পারে যে শয়তান তাকে এই সংবাদ দিয়েছে।

* কেবল নিছক স্বপ্ন যার সত্যতার ওপর অন্য কোনো দলিল নেই, তা দ্বারা ঐক্যমতে কোনো কিছু সাব্যস্ত করা বৈধ নয়। কেননা সহীহ হাদিসে নবী (সা.) থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: (স্বপ্ন তিন প্রকার: আল্লাহর পক্ষ থেকে স্বপ্ন, মানুষের নিজের মনের কল্পনাপ্রসূত স্বপ্ন এবং শয়তানের পক্ষ থেকে স্বপ্ন) (১)।

--------------------------------------------

(১) আল্লাহ তাআলা বলেন: (তাদের জন্য রয়েছে সুসংবাদ পার্থিব জীবনে ও পরকালে)। তাঁরা বলেন, এটি হলো সত্য স্বপ্ন যা মুমিন ব্যক্তি নিজে দেখে অথবা তার জন্য অন্য কেউ দেখে।

আর মানুষের নিজের মনের কল্পনাপ্রসূত স্বপ্ন মূলত মানসিক অস্থিরতা থেকে তৈরি হয় যেখানে অবদমিত আকাঙ্ক্ষাগুলো অবচেতন মনে কাজ করে; ফলে স্বপ্নদ্রষ্টা তার সেই সব কঠিন আকাঙ্ক্ষা যা জাগ্রত অবস্থায় পূর্ণ হয়নি, তা স্বপ্নে পূর্ণ হতে দেখে।

আর শয়তানের পক্ষ থেকে স্বপ্ন তথা কুস্বপ্ন, সে সম্পর্কে আল্লাহ তাআলার বাণী এসেছে: (তারা বলল: এগুলো হলো এলোমেলো স্বপ্ন, আর আমরা এ ধরনের স্বপ্নের ব্যাখ্যা জানি না) [ইউসুফ ১২/৪৪]। আর সহীহ হাদিসে এসেছে যে, নবী (সা.) এর কাছে এক লোক এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি স্বপ্নে দেখলাম যেন আমার মাথা কেটে ফেলা হয়েছে আর আমি তার পেছনে ছুটছি। তখন তিনি বললেন: স্বপ্নে শয়তান তোমার সাথে যে খেলা করে তা মানুষের কাছে বর্ণনা করো না।

দেখুন: নাবুলসি রচিত 'তাতীরুল আনাম ফি তাবীরিল মানাম', হালাবি প্রকাশনী (১/৪)। (*)
(খণ্ড: ১) রাসুস হুসাইন (পৃষ্ঠা: ১৮৯)
* فإذا كان جنس الرؤيا تحته أنواع ثلاثة، فلا بد من تمييز نوع منها من نوع.

* ومن الناس - حتى من الشيوخ الذين لهم علم وزهد - من يجعل مستنده في مثل ذلك: حكاية يحكيها عن مجهول.

حتى يقول: حدثنى أخي الخضر أن قبر الحسين بمكان كذا وكذا - ومن المعلوم الذي بيناه في غير هذا الموضع أن الخضر قد مات (1) - أو رأى شخصا يقول: إني الخضر، أو ظن الرائي أنه الخضر، إن كل ذلك لا يجوز.

* وأما ما يذكر من وجود رائحة طيبة، أو خرق عادة أو نحو ذلك بتعلق بالقبر: فهذا لا يدل على تعينه، وأنه فلان أو فلان، بل غاية ما يدل عليه - إذا ثبت - أن ذلك دليلا على صلاحه، وأنه قبر رجل صالح أو نبي (2) .

* وقد تكون تلك الرائحة مما صنعه بعض المكتسبين من القبر، فإن هذا مما يفعله من هؤلاء، كما حدثني بعض أصحابنا: أنه ظهر بشاطئ الفرات رجلان، كان عند أحد هما قبر تجبي عليه أموال ممن يزوره وينذر له من

الضلال، فعمد الآخر إلى قبر - زعم أنه رأى في المنام أنه قبر عبد الرحمن بن عوف - وجعل فيه من أنواع الطيب ما ظهرت له رائحة عظيمة.

* وقد حدثني جيران القبر الذي بجبل لبنان بالبقاع - الذي يقال إنه قبر نوح - وكان قد ظهر قريبا في أثناء المائة السابعة، وأصله: أنهم شموا من قبر

--------------------------------------------

(1) والخضر عليه السلام قد مات بنص القرآن القطعي لقوله تعالى: وما جعلنا لبشر من قبلك الخلد) الأنبياء (21 / 34) وأرجو أن تراجع تفسير هذه الآية في الجامع لأحكام القرآن (11 / 283) ط.

دار الكتب، زاد المسير (5 / 348) ومختصر ابن كثير (2 / 507) .

وتقول بعض الفرق الهالكة إن الخضر لم يمت وأنهم يرونه عيانا ويتحدثون إليه ويتحدث إليهم ويستمدون منه أصول التشريع ويطمئنهم على معتقداتهم، تلك كلها ضلالات شيطانية يا عزيزي القارئ فلا تتوقف عندها، لأن الخضر مات كأي بشر، وهو ليس أفضل من رسول الله (ص) وهو صاحب كل فضل وفضيلة وكان أولى بالخلود من الخضر وغيره.

(2) وقبر سيدنا رسول الله (ص) هو القبر النبوي الوحيد الذي اتفق عليه بالإجماع وما سواه من قبور الأنبياء لم يحصل عليه الإجماع مثله.

(*)
* যখন স্বপ্নের সাধারণ শ্রেণি তিন প্রকারের অন্তর্ভুক্ত, তখন এক প্রকারকে অন্য প্রকার থেকে পৃথক করা আবশ্যক।

* মানুষের মধ্যে—এমনকি এমন শায়খদের মধ্যেও যাদের জ্ঞান ও যুহদ রয়েছে—এমন লোক আছে যারা এই জাতীয় বিষয়ে এমন একটি গল্পের ওপর ভিত্তি করে, যা সে কোনো এক অজ্ঞাত ব্যক্তির কাছ থেকে বর্ণনা করে।

এমনকি সে বলে: আমার ভাই খিজির আমাকে বলেছেন যে, হুসাইনের কবর অমুক অমুক জায়গায়—অথচ এটি জানা কথা এবং আমরা অন্য স্থানে বর্ণনা করেছি যে খিজির মারা গেছেন (১)—অথবা সে এমন কোনো ব্যক্তিকে দেখেছে যে বলছে: আমিই খিজির, অথবা স্বপ্নদ্রষ্টা মনে করেছে যে সে-ই খিজির; এ সবের কোনোটিই বৈধ নয়।

* আর কবরের সাথে সংশ্লিষ্ট সুগন্ধি পাওয়া যাওয়া অথবা অলৌকিক কিছু ঘটা বা এই জাতীয় যা কিছু উল্লেখ করা হয়: তা কবরে শায়িত ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করে না যে এটি অমুক বা তমুক ব্যক্তি। বরং এর সর্বোচ্চ প্রমাণ—যদি তা সাব্যস্ত হয়—এই যে এটি সেই ব্যক্তির সৎকর্মশীলতার দলীল এবং এটি একজন সৎ লোক বা কোনো নবীর কবর (২)।

* আর সম্ভবত সেই সুগন্ধি কবরের মাধ্যমে উপার্জনকামী কিছু মানুষের কারসাজি হতে পারে; কারণ এটি তাদেরই কাজ। যেমন আমার জনৈক সাথী আমাকে বলেছেন: ফোরাত নদীর তীরে দুই ব্যক্তির আবির্ভাব ঘটেছিল, যাদের একজনের কাছে একটি কবর ছিল যেখানে পথভ্রষ্ট জিয়ারতকারী এবং মানতকারীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হতো।

ফলে অন্যজন আরেকটি কবরের দিকে মনোনিবেশ করল—সে দাবি করল যে সে স্বপ্নে দেখেছে যে এটি আব্দুর রহমান ইবনে আউফের কবর—এবং সেখানে এমন সব সুগন্ধি মাখিয়ে দিল যার ফলে প্রবল সুঘ্রাণ প্রকাশ পেতে লাগল।

* লেবানন পাহাড়ের বেকা অঞ্চলে অবস্থিত যে কবরটিকে নূহের কবর বলা হয়—যা সপ্তম শতাব্দীতে প্রকাশিত হয়েছে—তার প্রতিবেশীরা আমাকে বলেছে যে, এর মূল বিষয় হলো তারা কবর থেকে ঘ্রাণ পেয়েছিল...

--------------------------------------------

(১) খিজির (আলাইহিস সালাম) কুরআনের অকাট্য দলীলের ভিত্তিতে মৃত্যুবরণ করেছেন, মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: (আমি তোমার পূর্বেও কোনো মানুষকে অমরত্ব দান করিনি) সূরা আল-আম্বিয়া (২১/৩৪)। আমি আশা করি আপনি এই আয়াতের তাফসীর 'আল-জামে লি আহকামিল কুরআন' (১১/২৮৩) দারুল কুতুব সংস্করণ, 'যাদুল মাসীর' (৫/৩৪৮) এবং 'মুখতাসারু ইবনে কাসীর' (২/৫০৭)-এ দেখে নেবেন।

কিছু ধ্বংসপ্রাপ্ত দল দাবি করে যে খিজির মারা যাননি এবং তারা তাকে সচক্ষে দেখে, তার সাথে কথা বলে এবং সে তাদের সাথে কথা বলে, আর তারা তার কাছ থেকে শরীয়তের মূলনীতি গ্রহণ করে এবং সে তাদের আকিদার ব্যাপারে আশ্বস্ত করে; হে প্রিয় পাঠক, এই সবই শয়তানি বিভ্রান্তি, তাই এসবের ওপর নির্ভর করবেন না। কারণ খিজির অন্য যেকোনো মানুষের মতোই মৃত্যুবরণ করেছেন। আর তিনি আল্লাহর রাসূল (সা.) এর চেয়ে শ্রেষ্ঠ নন, যিনি সকল মর্যাদা ও ফযীলতের অধিকারী এবং খিজির বা অন্য কারও চেয়ে অমরত্বের অধিক যোগ্য ছিলেন।

(২) আমাদের নেতা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কবরই একমাত্র নবীর কবর যার ব্যাপারে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া নবীদের কবরের মধ্যে আর কোনো কবরের ব্যাপারে এমন ঐকমত্য অর্জিত হয়নি।

(*)
(খণ্ড: ১) রাসুস হুসাইন (পৃষ্ঠা: ১৯০)
رائحة طيبة ووجدوا عظاما كبيرة، فقالوا: هذه تدل على كبر خلق الجنة فقالوا - بطريق الظن - هذا قبر نوح، وكان بالبقعة موتى كثيرون من جنس ذلك الميت (1) .

* وكذلك هذا المشهد العسقلاني قد ذكر طائفة: أنه قبر بعض الحواريين أو غيرهم من أتباع عيسى بن مريم.

* وقد يوجد عند قبور الوثنيين أشياء من جنس ما يوجد عند قبور المؤمنين من أمتنا، بل يزعم الزاعم أنه قبر الحسين ظنا وتخرصا.

* وكان من الشيوخ المشهورين بالعلم والدين بالقاهرة من ذكرو عنه أنه

قال: هو قبر نصراني.

* وكذلك بدمشق بالجانب الشرقي مشهد يقال: إنه قبر أبي كعب.

وقد اتفق أهل العلم على أن أبيا لم يقدم دمشق، وإنما مات بالمدينة، فكان بعض الناس يقولون: إنه قبر نصراني، وهذا غير مستبعد.

فإن اليهود والنصارى هم ائمة في (2) تعظيم القبور والمشاهد، ولهذا قال النبي (ص) في الحديث المتفق عليه: (لعن الله اليهود والنصارى: اتخذوا قبور أنبيائهم مساجد، يحذر ما فعلوا) (3) .

--------------------------------------------

(1) ومنذ فترة يسيرة طالعتنا الصحف والمجلات بخبر عن اكتشاف علمي صارخ وهو العثور على مومياء يوسف الصديق عليه الصلاة والسلام وأخذت وسائل الاعلام تروج لهذه الأساطير التي تفتقد الدليل العلمي والديني القوي الذي يوثقها بل وتفتقر الى المنطق السوي المستقيم، قلت: لا حول ولا قوة إلا بالله، في القرآن العشرين ولا زلنا موضع سخرية من الواقع الأليم، خرافات وأساتير تفرخ وتطير في كل ناحية من غير دليل أو برهان أو سند من علم أو فقه أو كتاب أو سنة.

(2) تأمل شيخ الاسلام ابن تيمية وهو يسخر منهم بقوله (هم الأئمة في تعظيم القبور والمشاهد) رحمه الله وجمعنا به في دار كرامته.

(3) فقد روى عن عائشة وابن عباس رضي الله عنهما انه صلى الله عليه وسلم كشفها عن وجهه وهو يقول: - (لعنة الله على اليهود والنصارى اتخذوا قبور أنبيائهم مساجد، تقول عائشة: يحذر مثل الذي صنعوا) والحديث رواه البخاري (1 / 422) ، (6 / 386) و (8 / 116) ومسلم (2 / 67) والنسائي (1 / 115) والدارمى (1 / 326) وأحمد (1 / 218) و (6 / 34) .

(*)
সুগন্ধি পাওয়া গেল এবং তারা বড় বড় হাড় খুঁজে পেল, তখন তারা বলল: এগুলো জান্নাতবাসীদের বিশাল দেহের প্রমাণ দেয়। তারা ধারণাবশত বলল— এটি নূহের কবর। আর সেই স্থানে ওই মৃত ব্যক্তির মতোই আরও অনেক মৃত ব্যক্তি ছিল (১)।

* একইভাবে এই আসকালানি মাশহাদ (সমাধি) সম্পর্কে একদল উল্লেখ করেছেন যে, এটি ঈসা ইবনে মারিয়ামের কোনো এক হাওয়ারি (শিষ্য) বা তাঁর অনুসারীদের মধ্যে অন্য কারও কবর।

* এমনকি মূর্তিপূজকদের কবরের কাছেও আমাদের উম্মতের মুমিনদের কবরের কাছে যা পাওয়া যায় সেরূপ বস্তু পাওয়া যেতে পারে। বরং কোনো কোনো দাবিদার ধারণা ও অনুমানের বশবর্তী হয়ে দাবি করে যে, এটি হুসাইনের কবর।

* কায়রোর ইলম ও দ্বীনদারিতে প্রসিদ্ধ শাইখদের মধ্যে এমন একজন ছিলেন যার সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়েছে যে তিনি

বলেছিলেন: এটি একজন খ্রিস্টানের কবর।

* একইভাবে দামেস্কের পূর্ব দিকে একটি মাশহাদ বা মাজার রয়েছে যেটিকে বলা হয়: এটি উবাই ইবনে কাবের কবর।

অথচ আলেমগণ এই বিষয়ে একমত যে উবাই কখনো দামেস্কে আসেননি, বরং তিনি মদিনায় মৃত্যুবরণ করেছেন। তাই কিছু লোক বলতেন: এটি একজন খ্রিস্টানের কবর, আর এটি অসম্ভব কিছু নয়।

কেননা ইহুদি ও খ্রিস্টানরাই হলো কবর এবং মাজারের প্রতি অতিভক্তি প্রদর্শনের ইমাম (পথপ্রদর্শক) (২)। এই কারণেই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মুত্তাফাকুন আলাইহি (সর্বসম্মত) হাদিসে বলেছেন: (ইহুদি ও খ্রিস্টানদের ওপর আল্লাহর অভিশাপ বর্ষিত হোক: তারা তাদের নবীদের কবরগুলোকে মসজিদে পরিণত করেছে, তিনি তাদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সতর্ক করছিলেন) (৩)।

--------------------------------------------

(১) অল্প সময় আগে সংবাদপত্র ও সাময়িকীগুলোতে একটি চাঞ্চল্যকর বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের খবর আমাদের সামনে আসে, তা হলো ইউসুফ সিদ্দিক আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের মমি পাওয়া গেছে। গণমাধ্যমগুলো এই সব উপকথার প্রচার শুরু করে যাতে কোনো শক্তিশালী বৈজ্ঞানিক বা ধর্মীয় প্রমাণের অভাব রয়েছে যা একে নির্ভরযোগ্য করে তুলবে, বরং এতে সঠিক ও সহজ যুক্তিরও অভাব রয়েছে। আমি বলি: লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ, বিংশ শতাব্দীতে এসেও আমরা এই বেদনাদায়ক বাস্তবতার কারণে উপহাসের পাত্র হয়ে আছি। কোনো দলিল, প্রমাণ, ইলম, ফিকহ, কিতাব বা সুন্নাহর ভিত্তি ছাড়াই চারদিকে নানা কুসংস্কার ও উপকথা জন্ম নিচ্ছে এবং ছড়িয়ে পড়ছে।

(২) শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর প্রতি লক্ষ করুন যখন তিনি তাদের বিদ্রূপ করে বলছেন (তারা কবর ও মাজারের প্রতি অতিভক্তি প্রদর্শনের ইমাম), আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন এবং আমাদের তাঁর মর্যাদাপূর্ণ আবাসে তাঁর সাথে একত্রিত করুন।

(৩) আয়েশা ও ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর চেহারা থেকে কাপড় সরিয়ে দিচ্ছিলেন এবং বলছিলেন: (ইহুদি ও খ্রিস্টানদের ওপর আল্লাহর অভিশাপ, তারা তাদের নবীদের কবরগুলোকে মসজিদে পরিণত করেছে। আয়েশা বলেন: তারা যা করেছে তা থেকে তিনি সতর্ক করছিলেন)। হাদিসটি বর্ণনা করেছেন বুখারি (১/৪২২), (৬/৩৮৬) ও (৮/১১৬), মুসলিম (২/৬৭), নাসাঈ (১/১১৫), দারেমি (১/৩২৬) এবং আহমাদ (১/২১৮) ও (৬/৩৪)।

(*)
(খণ্ড: ১) রাসুস হুসাইন (পৃষ্ঠা: ১৯১)
* والنصارى أشد غلوا في ذلك من اليهود كما في الصحيحين: (أن النبي (ص) ذكرت له أم حبيبة وأم سلمة رضي الله عنهما كنيسة رأرض الحبشة، وذكرنا من حسنها وتصاوير فيها.

فقال: إن أولئك إذا كان فيهم الرجل الصالح،

فمات بنوا على قبره مسجدا، وصوروا فيه تلك التصاوير، أولئك شرار الخلق عند الله يوم القيامة) .

* والنصارى كثيرا ما يعظمون آثار القديسين منهم.

فلا يستعبد أنهم ألقوا إلى بعض جهال المسلمين أن هذا قبر بعض من يعظمه المسلمون، ليوافقوهم على تعظيمه.

* كيف لا؟ وهم قد أضلوا كثيرا من جهال المسلمين حتى صاروا يعمدون أولادهم، ويزعمون أن ذلك يوجب طول العمر للولد (1) ، وحتى جعلوهم يزورون ما يعظمونه من الكنائس والبيع، حتى صار كثير من جهال المسلمين ينذرون للمواضع التي يعضمها النصارى كما قد صار كثير من جهالهم يزورون كنائس النصارى، ويلتمسون البركة من قسيسيهم ورها بينهم ونحوهم.

* والذين يعظمون القبور والمشاهد: لهم شبه شديد بالنصارى، حتى إنه لما قدمت القاهرة اجتمع بي بعض فضلاء الرهبان، وناظرني في المسيح ودين النصارى، حتى بينت له فساد ذلك، وأجبته عما يدعيه من الحجة وبلغني بعد ذلك أنه صنف كتابا في الرد على المسلمين، وإبطال نبوة محمد (ص) ، وأحضره بعض المسلمين، وجعل يقرؤه علي لأجيب عن حجج النصارى وأبين فسادها (2) .

* وكان من أواخر ما خاطبت به النصراني: أن قلت له: أنتم مشركون

--------------------------------------------

(1) ومن دواعي الأسف الشديد أن جهال المسلمين يأخذون بهذه الضلالات والوثنيات فيدخلوا في نطاق الشرك وهو لا يشعرون، حتى أصبحوا يقلدون اليهود والنصارى في طقوسهم الوثنية.

(2) راجع كتاب (الجواب الصحيح لمن بدل دين المسيح) لشيخ الإسلام أحمد بن تيمية رحمه الله في الرد على أوهام وأغلاط النصارى وكشف ما هم فيه من زيف وضلال.

(*)
* এবং খ্রিস্টানরা এ বিষয়ে ইহুদিদের চেয়েও অধিক বাড়াবাড়ি করে, যেমনটি সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ বর্ণিত হয়েছে: (উম্মে হাবীবা এবং উম্মে সালামাহ - আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হন - নবী - আল্লাহ তাঁর উপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন - এর নিকট হাবশা (আবিসিনিয়া) দেশের একটি গির্জার কথা উল্লেখ করলেন এবং সেটির সৌন্দর্য ও তাতে থাকা চিত্রসমূহের কথা বর্ণনা করলেন।

তখন তিনি বললেন: নিশ্চয়ই তারা এমন লোক যে, যখন তাদের মধ্যে কোনো নেককার লোক থাকত এবং সে মারা যেত, তখন তারা তার কবরের উপর ইবাদতখানা (মসজিদ) নির্মাণ করত এবং সেখানে সেই চিত্রগুলো অঙ্কন করত; কিয়ামতের দিন আল্লাহর নিকট তারাই সৃষ্টির নিকৃষ্টতম জীব)।

* এবং খ্রিস্টানরা প্রায়শই তাদের মধ্যকার পাদ্রী বা সাধু-সন্তদের নিদর্শনাবলিকে অতিশয় শ্রদ্ধা করে থাকে।

সুতরাং এটি অসম্ভব নয় যে, তারা কিছু মূর্খ মুসলমানদের মনে এই বিশ্বাস গেঁথে দিয়েছে যে, এটি এমন কোনো ব্যক্তির কবর যাকে মুসলমানরা শ্রদ্ধা করে, যাতে মুসলমানরা তাকে সম্মান জানানোর বিষয়ে তাদের সাথে একমত হয়।

* এটি কেনই বা হবে না? যখন তারা অনেক অজ্ঞ মুসলমানকে পথভ্রষ্ট করেছে, এমনকি তারা তাদের সন্তানদের খ্রিষ্টীয় প্রথা অনুযায়ী নামকরণ (বাপ্তিস্ম সদৃশ কর্ম) করতে শুরু করেছে এবং দাবি করে যে, এটি সন্তানের দীর্ঘায়ু নিশ্চিত করে (১)। এমনকি তারা তাদের দিয়ে সেসব গির্জা ও উপাসনালয় পরিদর্শন করায় যেগুলোকে তারা সম্মান করে। ফলে অনেক মূর্খ মুসলমান খ্রিস্টানদের সম্মানিত স্থানগুলোতে মানত করতে শুরু করেছে, যেমনটি তাদের অনেকে খ্রিস্টানদের গির্জাগুলোতে যাতায়াত করছে এবং তাদের যাজক ও সন্ন্যাসীদের নিকট বরকত প্রার্থনা করছে।

* যারা কবর ও মাজারসমূহকে অতিশয় সম্মান করে, তাদের সাথে খ্রিস্টানদের প্রবল সাদৃশ্য রয়েছে। এমনকি আমি যখন কায়রোতে আগমন করি, তখন জনৈক বিশিষ্ট সন্ন্যাসী আমার সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং মাসীহ ও খ্রিস্টধর্ম নিয়ে আমার সাথে তর্কে লিপ্ত হন। পরিশেষে আমি তার কাছে সেই ধর্মের অসারতা প্রমাণ করি এবং তার উপস্থাপিত যুক্তিসমূহ খণ্ডন করি। পরবর্তীতে আমার নিকট সংবাদ পৌঁছে যে, সে মুসলমানদের খণ্ডন করে এবং মুহাম্মদ - আল্লাহ তাঁর উপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন - এর নবুওয়াত বাতিলের উদ্দেশ্যে একটি গ্রন্থ রচনা করেছে। তখন কিছু মুসলমান সেটি আমার নিকট নিয়ে আসে এবং সেটি আমাকে পড়ে শোনায় যাতে আমি খ্রিস্টানদের যুক্তিসমূহের জবাব দিই এবং সেগুলোর অসারতা স্পষ্ট করি (২)।

* সেই খ্রিস্টান ব্যক্তির সাথে আমার শেষ কথোপকথনের অংশ ছিল এই যে, আমি তাকে বলেছিলাম: তোমরা শিরককারী বা মুশরিক।

--------------------------------------------

(১) অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, অজ্ঞ মুসলমানরা এই ভ্রান্ত ও পৌত্তলিক ধারণাগুলো গ্রহণ করছে, ফলে তারা অজান্তেই শিরকের গণ্ডিতে প্রবেশ করছে। এমনকি তারা তাদের পৌত্তলিক আচার-অনুষ্ঠানে ইহুদি ও খ্রিস্টানদের অন্ধ অনুকরণ করতে শুরু করেছে।

(২) খ্রিস্টানদের কাল্পনিক ধারণা ও ভুলত্রুটির খণ্ডনে এবং তাদের অসারতা ও পথভ্রষ্টতা উন্মোচনে শাইখুল ইসলাম আহমাদ ইবনে তাইমিয়্যাহর - আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন - 'আল-জাওয়াব আস-সহীহ লিমান বাদ্দালা দ্বীন আল-মাসীহ' গ্রন্থটি দেখুন।

(*)
(খণ্ড: ১) রাসুস হুসাইন (পৃষ্ঠা: ১৯২)
وبينت من شركهم ما عليه من العكوف على التماثيل والقبور وعبادتها، والاستغاثة بها.

فقال لي: نحن ما نشرك بهم ونعبدهم: وإنما نتوسل بهم، كما يفعل المسلمون إذا جاءوا إلى قبر الرجل الصالح، فيتعلقون بالشباك الذي عليه ونحو ذلك.

* فقلت له: وهذا أيضا من الشرك، وليس هذا من المسلمين، وإن فعله الجهال؟ فأقر أنه شرك، حتى إن قسيسا كان حاضرا في هذا المسألة، فلما قرأها قال: نعم، على هذا التقدير: نحن مشركون.

* وكان بعض النصارى يقول لبعض المسلمين: لنا سيد وسيدة، ولكن سيد وسيدة، لنا السيد المسيح والسيدة المريم، ولكم السيد حسين والسيدة نفيسة.

* فالنصارى يفرحون بما يفعله أهل البدع والجهل من المسلمين مما يوافق دينهم ويشابهونهم فيه، ويحبون أن يقوى ذلك ويكثر، ويحبون أن يجعلوا رهبانهم مثل عباد المسلمين وقسيسيهم مثل قضاة المسلمين، ويضاهؤون المسلمين، فإن عقلاءهم لا ينكرون صحة دين الإسلام، بل يقولون: هذا طريق إلى الله، وهذا طريق إلى الله.

* ولهذا يسهل إظهار الإسلام على كثير من المنافقين الذين أسلموا منهم، فإن عنده: أن المسلمين والنصارى كأهل المذاهب من المسلمين، بل يسمون الملل مذاهب، ومعلوم أن أهل المذاهب - كالحنفية والمالكية والشافعية والحنبلية - دينهم واحد.

وكل من عطاء الله ورسوله منهم بحسب وسعه كان مؤمنا سعيدا باتفاق المسلمين.

* فإذا اعتقد النصارى مثل هذا من الملل يبقي انتقال أحدهم عن ملته كانتقال الإنسان من مذهب إلى مذهب.

وهذا كثيرا ما يفعله الناس لرغبة أو
আর আমি তাদের শিরকের বিষয়টি স্পষ্ট করেছি, যা প্রতিমা ও কবরের সামনে তাদের অবস্থান করা, সেগুলোর ইবাদত করা এবং সেগুলোর কাছে সাহায্য চাওয়ার সাথে জড়িত।

তখন সে আমাকে বলল: আমরা তাদের সাথে শিরক করি না এবং তাদের ইবাদতও করি না; বরং আমরা কেবল তাদের মাধ্যমে উসিলা গ্রহণ করি, যেমনটি মুসলমানরা করে থাকে যখন তারা কোনো নেককার ব্যক্তির কবরে আসে, অতঃপর তারা কবরের ওপর স্থাপিত জালের সাথে ঝুলে থাকে এবং অনুরূপ অন্যান্য কাজ করে।

* তখন আমি তাকে বললাম: এটাও শিরকের অন্তর্ভুক্ত, আর এটি মুসলমানদের কাজ নয়, যদিও মূর্খরা তা করে থাকে। তখন সে স্বীকার করল যে এটি শিরক, এমনকি একজন পাদ্রীও এই আলোচনার সময় উপস্থিত ছিলেন; যখন তিনি এটি পড়লেন, তখন বললেন: হ্যাঁ, এই বিচার অনুযায়ী আমরা মুশরিক।

* আর কোনো কোনো খ্রিস্টান কোনো কোনো মুসলমানকে বলত: আমাদেরও নেতা ও নেত্রী আছেন, আবার আপনাদেরও নেতা ও নেত্রী আছেন; আমাদের আছেন নেতা মসীহ এবং নেত্রী মারইয়াম, আর আপনাদের আছেন নেতা হুসাইন এবং নেত্রী নাফিসা।

* সুতরাং খ্রিস্টানরা মুসলমানদের মধ্যে বিদআতপন্থী ও মূর্খরা যা করে তাতে আনন্দিত হয়, যা তাদের ধর্মের সাথে মিলে যায় এবং যাতে তারা তাদের সদৃশ হয়। তারা চায় যে এ বিষয়গুলো আরও শক্তিশালী ও বৃদ্ধি পাক। তারা তাদের সন্ন্যাসীদের মুসলমানদের ইবাদতকারীদের মতো এবং তাদের পাদ্রীদের মুসলমানদের বিচারকদের মতো বানাতে পছন্দ করে এবং তারা মুসলমানদের সাথে সাদৃশ্য বজায় রাখে। কারণ তাদের বুদ্ধিমানরা ইসলাম ধর্মের সত্যতাকে অস্বীকার করে না, বরং তারা বলে: এটিও আল্লাহর দিকে যাওয়ার একটি পথ, আর ওটিও আল্লাহর দিকে যাওয়ার একটি পথ।

* এই কারণেই তাদের মধ্য থেকে যারা ইসলাম গ্রহণ করেছে এমন অনেক মুনাফিকের জন্য ইসলাম প্রকাশ করা সহজ হয়ে যায়; কারণ তার নিকট মুসলমান ও খ্রিস্টানরা হচ্ছে মুসলমানদের বিভিন্ন মাযহাবের অনুসারীদের মতো। বরং তারা বিভিন্ন ধর্মকে মাযহাব বলে অভিহিত করে। আর এটি জানা কথা যে, বিভিন্ন মাযহাবের অনুসারীরা—যেমন হানাফী, মালিকী, শাফিঈ এবং হাম্বলী—তাদের সবার ধর্ম এক।

আর তাদের মধ্য থেকে যারা নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করেছে, মুসলমানদের ঐক্যমতে সে ছিল একজন সৌভাগ্যবান মুমিন।

* সুতরাং খ্রিস্টানরা যখন ধর্মগুলোর ব্যাপারে এমন বিশ্বাস পোষণ করে, তখন তাদের একজনের নিজ ধর্ম ত্যাগ করা একজন মানুষের এক মাযহাব থেকে অন্য মাযহাবে যাওয়ার মতোই রয়ে যায়।

আর মানুষ প্রায়শই এটি কোনো আকাঙ্ক্ষা বা অন্য কোনো কারণে করে থাকে।
(খণ্ড: ১) রাসুস হুসাইন (পৃষ্ঠা: ১৯৩)
رهبة.

فإذا بقي عقاربه وأصدقاؤه على المذهب الأول لم ينكر ذلك، بل يحبهم ويودهم في الباطن.

لأن المذهب كالوطن، والنفس تحن إلى الوطن، إذا لم تعتقد أن المقام به محرم.

* فلهذا يوجد كثير ممن أظهر الإسلام من أهل الكتاب لا يفرق بين المسلمين وأهل الكتاب.

* ثم منهم من يميل إلى المسلمين أكثر، ومنهم من يميل إلى ما كان عليه أكثر.

ومنهم من يميل إلى أولئك من جهة الطبع والعادة، أو من جهة الجنس والقرابة والبلد، والمعاونة على المقاصد.

ونحو ذلك.

* وهذا كما أن الفلاسفة ومن سلك سبيلهم من القرامطة (1) والاتحادية (2) ونحوهم، يجوز عندهم أن يتدين الرجل بدين المسلمين واليهود والنصارى.

ومعلوم أن هذا كله كفر باتفاق المسلمين.

* فمن لم يقر باطنا وظاهرا بأن الله لا يقبل دين سوى الإسلام (3) ،

--------------------------------------------

(1) والقرامطة إسم شهرة للإسماعيلية وسموا بالباطنية، لأنهم قالوا أن لكل ظاهر باطنا ولكل تنزيل تأويلا، ولهم أتعاب كثيرة سوى هذه على لسان قوم قوم: فبالعراق يسمون الباطنية والقرامطة والمزدكية، وبخراسان يسمون التعليمية والملحدة، وهم يقولون نحن الإسماعيلية لأنا تميزنا عن فرق الشيعة بهذا الإسم.

راجع الملل والنحل للشهرستاني (1 / 192) ط.

الحلبي والباطنية درجات في دعوتهم.

راجع الفرق بين الفرق للبغدادي ص 301.

(2) الإتحادية: وهي فرقة هالكة خرجت على السنة والجماعة فحوى دعوتها الزندقية أن المخلوق اتحد بالخالق فأصبح الإثنان ذاتاواحدة فالخالق عندهم والمخلوق سواء، كذلك القائلين بالحلول مثل محيى الدين بن عربي صاحب الفتوحات المكية الذي قال أن الله روحه حلت في كل الموجودات وكلا الحلوليين والاتحاديين زنادقة كفرة لتأويلاتهم وشطحاتهم وقد كفرهم ابن تيمية وابن القيم وابن الجوزي وعلماء السلف الغيورين على عقيدة التوحيد.

راجع في الحلولية التبصير (ص 77) والفرق بين الفرق (ص 259) (3) لقوله تعالى في صريح النص القرآني: - (إن الدين عند الله الإسلام) آل عمران (3 / 19) كذلك لقوله: - (ومن يبتغ غير الإسلام دينا فلن يقبل منه) آل عمران (3 / 85) راجع تفسير الطبري.

(6 / 575) (*)
ভীতি।

এমতাবস্থায় যদি তার আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধব পূর্ববর্তী মতাদর্শের ওপর অটল থাকে, তবে সে তা অস্বীকার করে না; বরং মনে মনে তাদের ভালোবাসে ও পছন্দ করে।

কারণ মতাদর্শ স্বদেশের মতো, আর আত্মা স্বদেশের প্রতি ব্যাকুল হয়, যদি সে মনে না করে যে সেখানে অবস্থান করা হারাম।

* এ কারণেই আহলে কিতাবদের মধ্যে যারা ইসলাম প্রকাশ করেছে, তাদের অনেকের মাঝে এমনটি দেখা যায় যে, তারা মুসলিম এবং আহলে কিতাবদের মধ্যে কোনো পার্থক্য করে না।

* অতঃপর তাদের মধ্যে কেউ মুসলিমদের দিকে বেশি ঝুঁকে থাকে, আবার কেউ তার পূর্ববর্তী অবস্থার দিকেই বেশি ঝুঁকে থাকে।

আবার কেউ তাদের দিকে ঝোঁকে স্বভাব ও অভ্যাসের কারণে, অথবা জাতিগত সম্পর্ক, আত্মীয়তা, দেশ এবং লক্ষ্য অর্জনে পারস্পরিক সহযোগিতার কারণে।

এবং এজাতীয় অন্যান্য কারণে।

* আর এটি তেমন, যেমন দার্শনিকগণ এবং তাদের পথ অনুসরণকারী কারামিতা (১) ও ইত্তিহাদিয়্যাহ (২) এবং তাদের ন্যায় অন্যদের নিকট একজন ব্যক্তির জন্য মুসলিম, ইহুদি ও খ্রিস্টানদের ধর্ম পালন করা বৈধ।

আর এটি জানা কথা যে, মুসলিমদের ঐক্যমত্য অনুযায়ী এসবই কুফর।

* সুতরাং যে ব্যক্তি গোপনে ও প্রকাশ্যে এটি স্বীকার করে না যে, আল্লাহ ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো ধর্ম কবুল করবেন না (৩) ,

--------------------------------------------

(১) কারামিতা হলো ইসমাইলিয়াদের একটি সুপরিচিত নাম এবং তাদের বাতিনিয়্যাহও বলা হয়; কারণ তারা দাবি করে যে প্রতিটি প্রকাশের একটি গোপন দিক রয়েছে এবং প্রতিটি অবতীর্ণ বাণীর একটি রূপক ব্যাখ্যা রয়েছে। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ভাষায় তাদের অনেক নাম রয়েছে: ইরাকে তাদের বাতিনিয়্যাহ, কারামিতা ও মাজদাকিয়্যাহ বলা হয় এবং খোরাসানে তাদের তালীমিয়্যাহ ও মুলহিদা বলা হয়। তারা নিজেদের ইসমাইলি বলে পরিচয় দেয় কারণ তারা এই নামে শিয়াদের অন্যান্য দল থেকে আলাদা হয়েছে।

শাহরাস্তানির আল-মিলাল ওয়ান-নিহাল (১/১৯২) হালাবি সংস্করণ দ্রষ্টব্য।

বাতিনিয়্যাহদের দাওয়াতের বিভিন্ন স্তর রয়েছে।

বাগদাদির আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক পৃষ্ঠা ৩০১ দ্রষ্টব্য।

(২) ইত্তিহাদিয়্যাহ: এটি একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত দল যারা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত থেকে বিচ্যুত হয়েছে। তাদের দাওয়াতের সারকথা হলো জিন্দিকি বা ধর্মদ্রোহিতা যে, সৃষ্টি স্রষ্টার সাথে বিলীন হয়ে এক হয়ে গেছে এবং উভয় মিলে এক সত্তায় পরিণত হয়েছে। তাদের নিকট স্রষ্টা ও সৃষ্টি সমান। অনুরূপভাবে যারা হুলুল বা ইনকারনেশনে বিশ্বাসী, যেমন আল-ফুতুহাত আল-মাক্কিয়াহ-এর লেখক মহিউদ্দিন ইবনুল আরাবি, যিনি বলেছেন যে আল্লাহর রুহ সমস্ত অস্তিত্বের মধ্যে অনুপ্রবিষ্ট হয়েছে। হুলুলি ও ইত্তিহাদি উভয়ই তাদের অপব্যাখ্যা ও বিভ্রান্তিকর কথাবার্তার কারণে জিন্দিক ও কাফের। ইবনে তাইমিয়া, ইবনুল কাইয়্যিম, ইবনুল জাওজি এবং তাওহিদের আকিদার বিষয়ে সচেতন সালাফ আলেমগণ তাদের কাফের ফতোয়া দিয়েছেন।

হুলুলিয়া সম্পর্কে আত-তাবসির (পৃষ্ঠা ৭৭) এবং আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক (পৃষ্ঠা ২৫৯) দ্রষ্টব্য। (৩) যেহেতু কুরআনের স্পষ্ট ভাষ্যে আল্লাহ তাআলা বলেছেন: - (নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট একমাত্র মনোনীত ধর্ম হলো ইসলাম) আলে ইমরান (৩/১৯)। অনুরূপভাবে তিনি আরও বলেছেন: - (আর যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো ধর্ম তালাশ করবে, তার থেকে তা কখনোই কবুল করা হবে না) আলে ইমরান (৩/৮৫)। তাবারির তাফসির দ্রষ্টব্য।

(৬/৫৭৫) (*)
(খণ্ড: ১) রাসুস হুসাইন (পৃষ্ঠা: ১৯৪)
فليس بمسلم.

* ومن لم يقر بأن بعد مبعث محمد (ص) ليس مسلم إلا من آمن به واتبعه باطنا وظاهرا (1) ، فليس بمسلم.

ومن لم يحرم التدين - بعد مبعثه (ص) - بدين اليهود والنصارى، بل من لم يكفرهم ويبغضهم فليس بمسلم باتفاق المسلمين.

والمقصود هنا: أن النصارى يحبون أن يكون المسلمين ما يشابهونهم به ليقوي بذلك دينهم، ولئلا ينفر المسلمون من دينهم.

* ولهذا جاءت الشريعة الإسلامية بمخالفة اليهود والنصارى، كما قد بسطناه في كتاب: (اقتضاء الصراط المستقيم لمخالفة أصحاب الجحيم) .

وقد حصل للنصارى من الجهال كثير من مطلوبهم، لا سيما من الغلاة من الشيعة، وجهال النساك والغلاة في المشايخ، فإن فيهم شبها قويا بالنصارى في الغو، والبدع في العبادات ونحو ذلك، فلهذا يلبسون على المسلمين في مقابر تكون من قبورهم، حتى يتوهم الجهال أنها من قبور صالحي المسلمين.

وإذا كان ذلك المشهد العسقلاني قد قال طائفة: إنه قبر بعض النصارى أو بعض الحواريين - وليس معنا ما بدل أنه قبر مسلم - فضلا عن أن يكون قبرا لرأس الحسين - كان قول من قال: إنه قبرا مسلم - الحسين أو غيره - قولا مردودا على قائله.

فهذا كاف في المنع من أن يقال: هذا مشهد الحسين.

--------------------------------------------

(1) والبعض الصوفيون هم الذين جعلوا للقرآن ظاهرا وباطنا وقالوا أن العلماء والفقهاء هم أهل الظاهر أما الصوفية فهم أهل الأسرار وأهل الباطن (*)
সে মুসলিম নয়।

* এবং যে ব্যক্তি এটি স্বীকার করে না যে মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রেরণের পর কেবল সেই ব্যক্তিই মুসলিম যে তাঁর প্রতি ঈমান এনেছে এবং অন্তরে ও প্রকাশ্যে তাঁর অনুসরণ করেছে (১), সে মুসলিম নয়।

এবং যে ব্যক্তি মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রেরণের পর ইহুদি ও নাসারাদের ধর্ম অনুসরণ করাকে হারাম মনে করে না, বরং যে তাদের কাফির মনে করে না এবং তাদের প্রতি ঘৃণা পোষণ করে না, সে মুসলিমদের ঐকমত্যে মুসলিম নয়।

এখানে উদ্দেশ্য হলো: নাসারারা চায় মুসলিমদের মধ্যে তাদের সাথে এমন কিছু সাদৃশ্য থাকুক যার মাধ্যমে তাদের ধর্ম শক্তিশালী হয় এবং যাতে মুসলিমরা তাদের ধর্মের প্রতি বিতৃষ্ণ না হয়।

* এই কারণেই ইসলামি শরিয়ত ইহুদি ও নাসারাদের বিরোধিতা করার নির্দেশ নিয়ে এসেছে, যেমনটি আমরা 'ইকতিদাউস সিরাতিল মুস্তাকিম লি-মুখালাফাতি আসহাবিল জাহিম' গ্রন্থে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।

আর জাহিলদের মাধ্যমে নাসারারা তাদের অনেক উদ্দেশ্য হাসিল করতে পেরেছে, বিশেষ করে চরমপন্থী শিয়া, জাহিল ইবাদতকারী এবং পীর-মাশায়েখদের ব্যাপারে যারা অতিরঞ্জন করে তাদের মাধ্যমে। কেননা এদের মধ্যে অতিরঞ্জন, ইবাদতে বিদআত এবং এ জাতীয় বিষয়ে নাসারাদের সাথে প্রবল সাদৃশ্য রয়েছে। এই কারণেই তারা তাদের নিজেদের কিছু কবরকে মুসলিমদের কাছে এমনভাবে অস্পষ্ট করে তুলে ধরে যাতে জাহিলরা মনে করে যে সেগুলো মুসলিমদের কোনো নেককার বান্দার কবর।

আর আসকালানের সেই স্মৃতিস্তম্ভের (মাশহাদ) ব্যাপারে একদল লোক যেহেতু বলেছে যে, এটি কোনো নাসারা বা তাদের কোনো হাওয়ারির কবর—এবং আমাদের কাছে এমন কোনো প্রমাণ নেই যা নির্দেশ করে যে এটি কোনো মুসলিমের কবর—তা হুসাইনের মস্তকের কবর হওয়া তো অনেক দূরের কথা; তাই যে ব্যক্তি বলে যে এটি কোনো মুসলিমের কবর—চাই তা হুসাইনের হোক বা অন্য কারো—তার এই কথাটি প্রবক্তার নিকটই প্রত্যাখ্যানযোগ্য।

একে 'হুসাইনের স্মৃতিস্তম্ভ' বলা থেকে বিরত রাখার জন্য এটিই যথেষ্ট।

--------------------------------------------

(১) আর কতিপয় সুফিরাই কুরআনের জন্য প্রকাশ্য ও গোপন (জাহির ও বাতিন) অর্থ সাব্যস্ত করেছে এবং তারা বলেছে যে আলেম ও ফকিহগণ হলেন কেবল প্রকাশ্য বিষয়ের অধিকারী, আর সুফিরা হলো রহস্যের অধিকারী ও গোপন বিষয়ের অধিকারী (*)
(খণ্ড: ১) রাসুস হুসাইন (পৃষ্ঠা: ১৯৫)
فصل * ثم نقول: بل نحن نعلم ونجزم بأنه ليس رأس الحسين، ولا كان ذلك المشهد العسقلاني مشهدا للحسين، من وجوه متعددة.

* منها: أنه لو كان رأس الحسين هناك لم يتأخر كشفه وإظهاره إلى ما بعد مقتل الحسين بأكثر من أربعمائة سنة، ودولة بني أمية انقرضت قبل ظهور ذلك بأكثر من ثلاثمائة وبضع وخمسين سنة.

وقد جائت خلافة بني العباس وظهر في أثنائها من المشاهد بالعراق وغير العراق ما كان كثير منها كذبا.

وكانوا عند مقتل الحسين بكربلاء قد بنوا هنالك مشهدا.

وكان ينتابه أمراء عظماء.

حتى أنكر ذلك عليهم الأئمة، وحتى أن المتوكل تقدم فيه بأشياء، يقال: إنه بالغ في إنكار ذلك، وزاد على الواجب.

* دع خلافة بني العباس في أوائلها، وفي حال استقامتها، فإنهم حينئذ لم يكونوا يعظمون أبدا المشاهد، سواء كانت صدقا أو كذبا، كما حدث فيما بعد.

لأن الإسلام كان حينئذ يغد في قوته وعنفوانه.

ولم يكن على عهد الصحابة والتابعين وتابعيهم في شئ في بلاد الإسلام - لا الحجاز، ولا اليمن

ولا شام، ولا العراق، ولا مصر، ولا خراسان، ولا المغرب - مشهد، لا على قبر نبي، ولا صاحب، ولا أحد من أهل البيت، ولاصالح أصلا.

بل عامة المشاهد محدثة بعد ذلك.
পরিচ্ছেদ * অতঃপর আমরা বলব: বরং আমরা জানি এবং নিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করি যে, এটি হোসাইনের মস্তক নয় এবং আসকালানের ঐ মাজারটি হোসাইনের মাজার ছিল না, এর পেছনে বহুবিধ কারণ রয়েছে।

* তার মধ্যে একটি হলো: যদি হোসাইনের মস্তক সেখানে থাকত, তবে তা হোসাইনের শাহাদাতের চারশত বছরেরও বেশি সময় পর পর্যন্ত প্রকাশ ও উম্মোচন হওয়া বিলম্বিত হতো না; অথচ উমাইয়া রাজবংশ এটি প্রকাশ পাওয়ার সাড়ে তিনশ বছরেরও বেশি সময় আগে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল।

আব্বাসীয় খিলাফত প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং এর মধ্যবর্তী সময়ে ইরাক ও ইরাকের বাইরে বহু মাজারের আবির্ভাব ঘটেছিল, যার অধিকাংশই ছিল মিথ্যা।

কারবালায় হোসাইনের শাহাদাতস্থলে তারা একটি মাজার নির্মাণ করেছিল।

এবং সেখানে বড় বড় আমিররা যাতায়াত করতেন।

এমনকি ইমামগণ তাদের এই কাজের প্রতিবাদ করেছিলেন, এমনকি মুতাওয়াক্কিল এ বিষয়ে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছিলেন; বলা হয়ে থাকে যে, তিনি এর প্রতিবাদে চরমপন্থা অবলম্বন করেছিলেন এবং যা আবশ্যক ছিল তার চেয়েও বেশি করেছিলেন।

* আব্বাসীয় খিলাফতের শুরুর দিকের এবং তাদের স্থিতিশীল অবস্থার কথা ছেড়ে দিন, কারণ সে সময় তারা কখনও মাজারসমূহকে সম্মান করত না—তা সত্য হোক বা মিথ্যা—যেমনটি পরবর্তীকালে ঘটেছিল।

কারণ ইসলাম তখন তার শক্তি ও পূর্ণ যৌবনে ছিল।

আর সাহাবী, তাবিঈ এবং তাবে-তাবিঈদের যুগে ইসলামী ভূখণ্ডের কোথাও কোনো মাজার ছিল না—না হিজাজে, না ইয়ামেনে,

না সিরিয়ায়, না ইরাকে, না মিসরে, না খোরাসানে, আর না মাগরিবে—কোনো নবীর কবরের ওপর, কোনো সাহাবীর ওপর, আহলে বায়তের কারো ওপর কিংবা কোনো নেককার ব্যক্তির ওপর আদৌ কোনো মাজার ছিল না।

বরং সাধারণ মাজারগুলো এর পরে উদ্ভাবিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) রাসুস হুসাইন (পৃষ্ঠা: ১৯৬)
* وكان ظهورها وانتشارها حين ضعفت خلافة بني العباس وتفرقت الأمة وكثرت فيهم الزنادقة المنتسبون إلى الإسلام.

وعلت فيهم كلمة أهل البدع.

وذلك في دولة المقتدر في أواخر المائة الثالثة، فإنه إذ ذاك ظهرت القرامطة العبيدية القداحية (1) بأرض الغرب.

ثم جاءوا بعد ذلك إلى أرض مصر.

* وقريبا من ذلك: يقال إنه حدثت المكوس (2) في الإسلام.

* وقريبا من ذلك: ظهر بنو بويه الأعاجم: وكان في كثير منهم زندقة وبدع قوية وفي دولتهم قوى بنوا عبيد القداح بأرض مصر، وفي دولتهم أظهر المشهد المنسوب إلى علي رضي الله عنه بناحية النجف، وإلا فقيل ذلك لم يكن أحد يقول: إن قبر علي هناك، وإنما دفن علي رضي الله عنه بقصر الإمارة بالكوفة، وإنما ذكروا أنه حكى عن الرشيد.

أنه جاء إلى بقعة هناك، وجعل يعتذر إلى المدفون فيها، فقالوا: إنه علي، وإنه اعتذر إليه مما فعل بولده، فقالوا: هذا هو قبر علي، وقد قال قوم: إنه قبر المغيرة بن شعبة، والكلام عليه مبسوط في غير هذا الموضع.

* فإذا كان بنو بويه وبنو عبيد - مع ما كان في الطائفين من الغلو في التشيع.

حتى إنهم كانوا يظهرون في دولتهم ببغداد يوم عاشوراء من شعار الرافضة ما لم يظهر مثله، مثل تعليق المسوح على الأبواب، وأخراج النوائح بالأسواق، وكان الأمر يفضي إلى قتال تعجز الملوك عن دفعه.

وبسبب ذلك

خرج الخرقي صاحب المختصر في الفقه من بغداد، لما ظهر بها سب السلف.

وبلغ من أمر القرامطة الذين كانوا بالمشرق في تلك الأوقات: أنهم أخذوا الحجر الأسود، وبقي معهم مدة، وأنهم قتلوا الحجاج وألقوهم ببئر زمزم.

--------------------------------------------

(1) والذين جاءوا إلى مصر ولقبوا أنفسهم بالفاطميين نسبة الى فاطمة الزهراء، وهي بريئة منهم، لأنهم كذابون فجار وثنيون أدخلوا الطقوس والرقص والطرب في دولة الإسلام وأحالوا شعائر الدين وعباداته إلى حانات لمعاقرة المنكرات، وأكثر من عالم مخلص كشف ما هم فيه من زيف وبهتان.

(2) وفي الحديث الشريف (لا يدخل صاحب مكس الجنة) .

(3) أي بشرق الجزيرة العربية على شاطئ الخليج الفارسي.

(*)
* আর এগুলোর প্রকাশ ও বিস্তার ঘটেছিল তখন, যখন বনু আব্বাসের খিলাফত দুর্বল হয়ে পড়েছিল এবং উম্মাহ বিভক্ত হয়ে গিয়েছিল, আর তাদের মধ্যে ইসলাম দাবিদার যিনদীক বা ধর্মদ্রোহীদের আধিক্য দেখা দিয়েছিল।

এবং তাদের মাঝে বিদআতপন্থীদের প্রভাব বৃদ্ধি পেয়েছিল।

আর তা ছিল তৃতীয় শতাব্দীর শেষের দিকে আল-মুক্তাদিরের শাসনামলে; কারণ সে সময় পশ্চিম অঞ্চলে উবাইদি কাদাশিয়্যাহ কারামিতাদের (১) আবির্ভাব ঘটেছিল।

এরপর তারা মিসর ভূখণ্ডে আসে।

* এবং এর কাছাকাছি সময়েই: বলা হয় যে, ইসলামে মাকুস বা অবৈধ করপ্রথার (২) উদ্ভব ঘটেছিল।

* এবং এর কাছাকাছি সময়ে: অনারব বনু বুওয়াইহদের আবির্ভাব ঘটে: তাদের অনেকের মধ্যে ধর্মদ্রোহিতা এবং শক্তিশালী বিদআত বিদ্যমান ছিল। তাদের শাসনামলেই মিসর ভূখণ্ডে বনু উবাইদ আল-কাদাহ শক্তি সঞ্চয় করে। তাদের রাজত্বকালেই নাজাফ অঞ্চলে আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত মাশহাদ (সমাধি সৌধ) প্রকাশ করা হয়; অথচ আগে কেউ বলত না যে আলীর কবর সেখানে। বরং আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুকে কুফার কাসরুল ইমারাহ বা প্রশাসনিক প্রাসাদে দাফন করা হয়েছিল। তারা কেবল এটুকু উল্লেখ করে যে, এটি হারুনুর রশীদের পক্ষ থেকে বর্ণিত।

তিনি সেখানকার একটি স্থানে আসেন এবং সেখানে দাফনকৃত ব্যক্তির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে শুরু করেন। তখন তারা বলল: ইনিই আলী, এবং তিনি তাঁর সন্তানের সাথে যা করা হয়েছে সে বিষয়ে তাঁর কাছে ক্ষমা চাচ্ছেন। ফলে তারা বলল: এটাই আলীর কবর। আবার একদল লোক বলেছেন: এটি মুগীরা ইবনে শু'বার কবর। এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা অন্য স্থানে করা হয়েছে।

* সুতরাং যখন বনু বুওয়াইহ এবং বনু উবাইদ—আর সেই সাথে শিয়া মতবাদের অনুসারীদের মধ্যে চরম বাড়াবাড়ি বিদ্যমান ছিল।

এমনকি তারা তাদের শাসনামলে বাগদাদে আশুরার দিনে রাফেযীদের এমন সব নিদর্শন প্রকাশ করত যার নজির আগে দেখা যায়নি; যেমন দরজায় চট বা কালো কাপড় ঝুলানো এবং বাজারে বিলাপকারী নারীদের বের করা। পরিস্থিতি এমন এক যুদ্ধের দিকে গড়াত যা প্রতিহত করতে শাসকরাও অক্ষম হয়ে পড়তেন।

আর এ কারণেই

ফিকহ শাস্ত্রের 'মুখতাসার' গ্রন্থের লেখক আল-খিরাকি বাগদাদ ত্যাগ করেন, যখন সেখানে সালাফ বা পূর্বসূরীদের গালি দেওয়ার প্রথা প্রকাশ পায়।

আর সেই সময় প্রাচ্যে অবস্থানরত কারামিতাদের অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে: তারা হাজরে আসওয়াদ ছিনিয়ে নিয়ে যায় এবং তা দীর্ঘ সময় তাদের কাছে রেখে দেয়। তারা হাজীদের হত্যা করে তাদের মরদেহ যমযম কূপে নিক্ষেপ করেছিল।

--------------------------------------------

(১) যারা মিসরে এসেছিল এবং ফাতিমা আয-যাহরার দিকে সম্বন্ধ করে নিজেদের 'ফাতেমি' উপাধিতে ভূষিত করেছিল; অথচ তিনি তাদের থেকে পবিত্র। কারণ তারা ছিল চরম মিথ্যাবাদী, পাপাচারী ও মূর্তিপূজারী। তারা ইসলামি রাষ্ট্রে বিভিন্ন কুসংস্কারাচ্ছন্ন আচার-অনুষ্ঠান, নাচ ও বাদ্যযন্ত্রের প্রচলন করেছিল এবং দ্বীনের নিদর্শন ও ইবাদতগুলোকে পাপাচারের আড্ডায় পরিণত করেছিল। অনেক একনিষ্ঠ আলেম তাদের এই জালিয়াতি ও অপবাদ উন্মোচন করেছেন।

(২) এবং হাদীস শরীফে এসেছে: (অবৈধ কর গ্রহণকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না)।

(৩) অর্থাৎ পারস্য উপসাগরের তীরে আরব উপদ্বীপের পূর্বাঞ্চলে।

(*)
(খণ্ড: ১) রাসুস হুসাইন (পৃষ্ঠা: ১৯৭)
* فإذا كان مع هذا لم يظهر حتى مشهد للحسين بعسقلان، مع العلم بأنه لو كان رأسه بعسقلان لكان المتقدمون أعلم بذلك من المتأخرين، فإذا كان مع توفر الهمم والدواعي والتمكين والقدرة لم يظهر ذلك، علم أنه باطل مكذوب مثل من يدعي أنه شريف علوي: وقد علم أنه لم يدع هذا أحد من أجداده، مع حرصهم على ذلك لو كان صحيحا، فإنه بهذا يعلم كذب هذا المعي، وبمثل ذلك علمنا كذب من يدعي النص على علي، أو غير ذلك من الأمور التي تتوفر الهمم والدواعي على نقلها ولم ينقل.

* الوجه الثاني أن الذين جمعوا أخبار الحسين ومقتله - مثل أبي بكر بن أبي الدنيا، وأبي القاسم البغوي وغيرهما - لم يذكر أحد منهم أن الرأس حمل إلى عسقلان، ولا إلى القاهرة.

* وقد ذكر نحو ذلك أبو الخطاب بن دحية في كتابه الملقب بالعلم المشهور في فضائل الأيام والشهور،! ذكر أن الذين صنفوا في مقتل الحسين أجمعوا على

أن الرأس لم يغترب (1) ، وذكر هذا بعد أن ذكر أن المشهد الذي بالقاهرة كذب مختلق: وأنه لا أصل له، وبسط القول في ذلك، كما ذكر في يوم عاشوراء ما يتعلق بذلك.

* الوجه الثالث أن الذي ذكره من يعتمد عليه من العلماء والمؤرخين أن الرأس حمل إلى المدينة (2) ودفن عند أخيه.

--------------------------------------------

(1) أي لم يذهب به إلى أمصار غريبة عنه.

(2) يقول القرطبي: - (لما ذهب بالرأس إلى يزيد بعث به إلى المدينة فأقدم إليه عدة من موالي بني هاشم وضم إليهم عدة من موالي أبى سفيان ثم بعث بثقل الحسين وجهزهم بكل شئ ولم يدع لهم حاجة بالمدينة إلا أمر لهم بها، وبعث برأس الحسين عليه السلام إلى عمرو بن سعيد بن العاص وهو إذ ذاك عامله على المدينة فقال عمرو وددت أنه لم يبعث به إلى، ثم أمر عمرو بن سعيد بن العاص برأس الحسين عليه السلام فكفن ودفن با لبقيع عند قبر أمه فاطمة عليها الصلاة والسلام) التذكرة (2 / 668) وقد نقل القرطبي هذا الرأي عن العلامة الحافظ أبو العلا الهمداني وهذا ما نطمئن إليه ونثق فيه.

المحقق.

وإن كانت الإمامية تقول إن الرأس أعيد إلى الجثة بكربلاء بعد أربعين يوما أو إلى عسقلان في مشهد هناك أو في المشهد القاهري المعروف فهذا شئ باطل لا يصح وقد أنكره القرطبي أيضا =
এর সাথে যদি আসকালানে হুসাইনের কোনো সমাধিস্থল প্রকাশ না পেয়ে থাকে, তবে এ কথা জানা উচিত যে যদি সেখানে তাঁর মাথা থাকত, তবে পরবর্তীদের চেয়ে পূর্ববর্তীরা এ সম্পর্কে অধিক অবগত থাকতেন। সুতরাং যদি প্রবল আগ্রহ, প্রেরণা, সামর্থ্য ও শক্তি থাকা সত্ত্বেও তা প্রকাশ না পায়, তবে এটি প্রমাণিত হয় যে এটি একটি বানোয়াট মিথ্যা; যেমনটি কেউ নিজেকে শরীফ বা আলভী বলে দাবি করে অথচ জানা যায় যে তার কোনো পূর্বপুরুষই এমন দাবি করেনি, যদিও এটি সত্য হলে তারা তা প্রচারে আগ্রহী থাকত। এর দ্বারাই এই দাবিদারের মিথ্যাচার প্রমাণিত হয়। অনুরূপভাবে আমরা সেই ব্যক্তির মিথ্যাচারও বুঝতে পারি যে আলীর ব্যাপারে খেলাফতের অসিয়ত হওয়ার দাবি করে, অথবা এমন কোনো বিষয় যা প্রচারের প্রবল আগ্রহ ও কারণ থাকা সত্ত্বেও যা প্রচারিত হয়নি।

* দ্বিতীয় দিক হলো, যারা হুসাইনের সংবাদ ও তাঁর শাহাদাতের ঘটনা সংগ্রহ করেছেন—যেমন আবু বকর ইবন আবিদ দুনিয়া, আবুল কাসিম আল-বাগাভী এবং অন্যরা—তাদের কেউই উল্লেখ করেননি যে মাথাটি আসকালান বা কায়রোতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

* আবু আল-খাত্তাব ইবন দিহয়া তাঁর ‘আল-আলামুল মাশহুর ফি ফাদায়িলিল আইয়্যামি ওয়াশ শুহুর’ নামক গ্রন্থে অনুরূপ উল্লেখ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, যারা হুসাইনের শাহাদাত নিয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন তারা এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে

মাথাটি প্রবাসে (১) নিয়ে যাওয়া হয়নি। তিনি এটি উল্লেখ করেছেন কায়রোর সমাধিস্থলটি বানোয়াট ও কৃত্রিম প্রতিপন্ন করার পর এবং বলেছেন যে এর কোনো ভিত্তি নেই। তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন, যেমনটি তিনি আশুরার দিন সম্পর্কিত আলোচনায় করেছেন।

* তৃতীয় দিক হলো, নির্ভরযোগ্য ওলামা এবং ঐতিহাসিকগণ যা উল্লেখ করেছেন তা হলো, মাথাটি মদিনায় (২) নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং তাঁর ভাইয়ের কবরের পাশে দাফন করা হয়েছিল।

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ তা তাঁর নিজের অঞ্চলের বাইরের কোনো অপরিচিত শহরে নিয়ে যাওয়া হয়নি।

(২) কুরতুবী বলেন: - (যখন মাথাটি ইয়াজিদের কাছে নিয়ে যাওয়া হলো, তখন তিনি সেটি মদিনায় পাঠিয়ে দিলেন। তিনি তাঁর সাথে বনু হাশিমের কয়েকজন মুক্ত দাস এবং আবু সুফিয়ানের বংশের কয়েকজন মুক্ত দাসকে পাঠিয়ে দিলেন। এরপর তিনি হুসাইনের পরিবারের সদস্যদের মদিনায় পাঠানোর সরঞ্জাম প্রস্তুত করলেন এবং তাদের যাবতীয় প্রয়োজন পূরণ করলেন। তিনি হুসাইন (আলাইহিস সালাম)-এর মাথা আমর ইবন সাঈদ ইবনুল আসের কাছে পাঠালেন, যিনি তখন মদিনার গভর্নর ছিলেন। আমর বললেন, আমি আকাঙ্ক্ষা করতাম যদি তিনি এটি আমার কাছে না পাঠাতেন। এরপর আমর ইবন সাঈদ ইবনুল আস হুসাইন (আলাইহিস সালাম)-এর মাথা দাফন করার নির্দেশ দিলেন। তখন সেটিকে কাফন পরিয়ে জান্নাতুল বাকিতে তাঁর মা ফাতিমা (আলাইহাস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর কবরের পাশে দাফন করা হলো) - আত-তাযকিরাহ (২/৬৬৮)। কুরতুবী এই মতটি আল্লামা হাফেজ আবুল উলা আল-হামাদানি থেকে বর্ণনা করেছেন এবং এটিই সেই মত যার ওপর আমরা আশ্বস্ত ও বিশ্বস্ত বোধ করি।

সম্পাদক।

যদিও ইমামিয়া সম্প্রদায় বলে যে, চল্লিশ দিন পর মাথাটি কারবালায় মরদেহের কাছে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল অথবা আসকালানের সমাধিস্থলে কিংবা কায়রোর প্রসিদ্ধ সমাধিস্থলে রাখা হয়েছিল, কিন্তু এটি একটি বাতিল কথা যা সঠিক নয়। কুরতুবীও এটি অস্বীকার করেছেন।
(খণ্ড: ১) রাসুস হুসাইন (পৃষ্ঠা: ১৯৮)
* ومن المعلوم: أن الزبير بن بكار، صاحب كتاب الأنساب، ومحمد ابن سعد كاتب الواقدي، صاحب الطبقات ونحوهما من المعروف بالعلم والثقة والاطلاع: أعلم بهذا الباب، وأصدق فيما ينقلو به (1) من المجاهليل والكذابين، وبعض أهل التواريخ الذين لا يوثق بعلمهم ولا أصدقهم، بل قد يكون الرجل صادقا، ولكن لا خبرة له بالأسانيد.

حتى يميز بين المقبول

والمردود، أو يكون سئ الحفظ أو متهما بالكذب، أو بالتزيد في الرواية، كحال كثير من الإخبارين والمؤرخين، ولا سيما إذا كان مثل أبي مخنف لوط بن يحيى (2) وأمثاله * ومعلوم أن الواقدي نفسه خير عند الناس من مثل هشام بن الكلبي وأبيه محمد بن السائب وأمثالها، وقد علم كلام الناس في الواقدي، فإن ما يذكره هو وأمثاله يعتضد به، ويستأنس به.

وأما الاعتماد عليه بمجرده في العلم: فهذا لا يصلح.

* فإذا كان المعتمد عليهم يذكرون أنه دفن بالمدينة، وقد ذكر غيرهم: أنه إما أنه عاد إلى البدن، وإما أنه بحلب، أو بدمشق، أو نحو ذلك من الأقوال التي لا أصل لها، ولم يذكر من يعتمد عليه أنها بعسقلان - علم أن ذلك باطل، إذ يمتنع أن يكون أهل العلم والصدق: على الباطل.

وأهل الجهل والكذب: على الحق في الأمور النقلية، التي تؤخذ عن أهل العلم والصدق،

--------------------------------------------

= ودفع ببطلانه ونحن نؤيده في رأيه.

وابن كثير يؤيد رأى القرطبي فيقول: - (روى محمد بن سعد أن يزيد بعث برأس الحسين إلى عمرو بن سعيد نائب المدينة، فدفنه عند أمه بالبقيع) ا.

هـ.

البداية والنهاية (8 / 221) .

وقد ذكر ابن جرير الطبري أن موضع قتل الحسين بن علي رحمه الله بكربلاء قد عفى أثره حتى لم يطلع أحد على تعيينه بخبر.

البداية والنهاية.

(8 / 221) بتصرف وقد كان أبو نعيم - الفضل بن دكين - ينكر على من يزعم أنه يعرف قبر الحسين.

(السابق) .

(1) كذا وردت بالأصل والأصح (ينقلونه) .

(2) ذكره ابن عدى وقال: - (شيعي منحرف) وقال عنه الحافظ الذهبي في ميزان الاعتدال أنه لوط بن يحيى بن أبو مخنف وقال فيه: (أنه لا

يوثق به) .

(*)
* এবং এটা সুবিদিত যে: 'কিতাবুল আনসাব'-এর রচয়িতা জুবায়ের বিন বাক্কার, আল-ওয়াকিদীর লেখক এবং 'আত-তাবাকাত'-এর রচয়িতা মুহাম্মাদ ইবনে সাদ এবং তাঁদের মতো অন্যান্যরা যারা ইলম, নির্ভরযোগ্যতা ও পাণ্ডিত্যের জন্য সুপরিচিত: তাঁরা এই বিষয়ে অধিকতর জ্ঞানী এবং তাঁরা যা বর্ণনা করেন (১) সে বিষয়ে তাঁরা অজ্ঞাত ব্যক্তি ও মিথ্যাবাদীদের চেয়ে অধিক সত্যবাদী, এবং এমন কিছু ইতিহাসবিদের চেয়েও যাদের ইলমের ওপর আস্থা রাখা যায় না এবং যারা সত্যবাদীও নয়; বরং কোনো ব্যক্তি সত্যবাদী হতে পারে, কিন্তু সনদ বা বর্ণনাসূত্র সম্পর্কে তার কোনো অভিজ্ঞতা নেই।

ফলে সে গ্রহণযোগ্য

ও বর্জনীয়ের মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না, অথবা সে দুর্বল মুখস্থশক্তিসম্পন্ন কিংবা মিথ্যার দায়ে অভিযুক্ত অথবা বর্ণনায় অতিরঞ্জনের দায়ে অভিযুক্ত হতে পারে; যেমনটা অনেক সংবাদ সরবরাহকারী ও ইতিহাসবিদের অবস্থা, বিশেষ করে যদি সে আবু মিখনাফ লুত বিন ইয়াহইয়া (২) এবং তার মতো ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত হয়। * আর এটা জানা কথা যে, ওয়াকিদী স্বয়ং মানুষের কাছে হিশাম বিন আল-কালবী ও তার পিতা মুহাম্মাদ বিন আস-সাইব এবং তাদের মতো ব্যক্তিদের চেয়ে উত্তম। তবে ওয়াকিদী সম্পর্কে মানুষের (আলেমদের) সমালোচনা সবার জানা; তিনি এবং তাঁর মতো ব্যক্তিরা যা উল্লেখ করেন তা দ্বারা সমর্থন লাভ করা যায় এবং তা থেকে সূত্র নেওয়া যায়।

কিন্তু কেবল তাঁর ওপর ভিত্তি করে ইলমের ক্ষেত্রে নির্ভর করা সঠিক নয়।

* সুতরাং নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিরা যখন উল্লেখ করেন যে তাঁকে মদিনায় দাফন করা হয়েছে, অথচ অন্যরা উল্লেখ করেছে যে: হয় তাঁকে বদনে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে, অথবা তিনি হালাবে বা দামেস্কে আছেন কিংবা এই জাতীয় ভিত্তিহীন কথা বলেছে, এবং নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের কেউ যদি উল্লেখ না করেন যে তা আসকালানে—তবে বুঝা যায় যে তা বাতিল। কেননা এটা অসম্ভব যে ইলম ও সত্যনিষ্ঠার অধিকারীরা বাতিলের ওপর থাকবেন।

আর মূর্খ ও মিথ্যাবাদীরা বর্ণনামূলক বিষয়ে হকের ওপর থাকবেন, যা মূলত ইলম ও সত্যনিষ্ঠার অধিকারীদের থেকেই গ্রহণ করা হয়।

--------------------------------------------

= এবং তিনি এর অসারতা প্রমাণ করেছেন এবং আমরা তাঁর মতকে সমর্থন করি।

আর ইবনে কাসীর আল-কুরতুবীর মতকে সমর্থন করে বলেন: — (মুহাম্মাদ ইবনে সাদ বর্ণনা করেছেন যে, ইয়াজিদ হুসাইনের মাথা মদিনার প্রতিনিধি আমর বিন সাঈদের কাছে পাঠিয়েছিলেন, অতঃপর তিনি তা বাকী’ কবরস্থানে তাঁর মায়ের পাশে দাফন করেন।)

সমাপ্ত।

আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (৮/২২১)।

আর ইবনে জারীর আত-তাবারী উল্লেখ করেছেন যে, কারবালায় হুসাইন বিন আলী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর শাহাদাত বরণের স্থানটির চিহ্ন মুছে গেছে, এমনকি কোনো বর্ণনার মাধ্যমে কেউ তা নির্দিষ্টভাবে জানতে পারেনি।

আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া।

(৮/২২১), পরিমার্জিত। আর আবু নুআইম — ফদল বিন দুকাইন — ঐসব ব্যক্তিদের কথা প্রত্যাখ্যান করতেন যারা দাবি করত যে তারা হুসাইনের কবরের স্থান জানে।

(প্রাগুক্ত)।

(১) মূলে এভাবেই এসেছে, তবে সঠিক হবে (তারা তা বর্ণনা করে)।

(২) ইবনে আদি তাকে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: — (পথভ্রষ্ট শিয়া)। আর হাফিজ আয-যাহাবী 'মিযানুল ইতিদাল'-এ তার সম্পর্কে বলেছেন যে, সে হলো লুত বিন ইয়াহইয়া বিন আবু মিখনাফ এবং তার ব্যাপারে বলেছেন: (তার ওপর নির্ভর করা যায় না)।

(*)
(খণ্ড: ১) রাসুস হুসাইন (পৃষ্ঠা: ১৯৯)
لا عن أهل الجهل والكذب.

* الوجه الرابع الذي ثبت في صحيح البخاري (أن الرأس حمل إلى قدام عبيد الله بن زياد، وجعل ينكت بالقضيب على ثناياه بحضرة أنس بن مالك) (1) وفي المسند (أن ذلك كان بحضرة أبي برزة الأسلمي) (2) ولكن بعض الناس روى بإسناد منقطع (أن هذا النكت كان بحضرة يزيد بن معاوية) وهذا باطل.

فإن أبا برزة، وأنس بن مالك، كانا با لعراق لم يكونا بالشام، ويزيد بن معاوية كان بالشام، لم يكن بالعراق حين مقتل الحسين، فمن نقل أنه نكث بالقضيب بحضرة هذين قدامه فهو كاذب قطعا، كذبا معلوما بالنقل المتواتر.

* ومعلوم بالنقل المتواتر: أن عبيد الله بن زياد كان هو أمير العراق حين مقتل الحسين، وقد ثبت بالنقل الصحيح: أنه هو الذي أرسل عمر بن سعد مقدما على الطائفة التي قاتلت الحسين، وامتنع عمر من ذلك، فأرغبه وأرهبه حتى فعل ما فعل (3) .

* وقد ذكر المصنفون من أهل العلم بالأسانيد المقبولة: أنه لما كتب أهل العراق إلى الحسين، وهو بالحجاز: أنه يقدم عليهم، وقالوا: إنه قد أميتت السنة، وأحييت البدعة.

وأنه، وأنه، حتى يقال: إنهم أرسلوا إليه كتبا ملء صندوق وأكثر، وأنه أشار عليه الأحباء الأنباء.

فإنه كما قيل: وما كل ذي لب بمؤتيك نصحه * وما كل مؤت نصحه بلبيب * فقد أشار عليه مثل عبد الله بن عباس، وعبد الله بن عمر، وغيرهما

--------------------------------------------

(1) راجع التفاصيل في التذكرة للقرطبي (2 / 666، 667) نقلا عن صحيح البخاري.

(2) ولكن الأمام الطبري يقول أن يزيد بن معاوية هو الذي نكث بالقضيب في وجود أبي برزة الأسلامي.

راجع تاريخ الطبري (4 / 356) ونفس القول يؤيد المسعودي في مروج الذهب ومعادن الجوهر (3 / 70، 71) (3) راجع البداية والنهاية (8 / 170) والأصابة (2 / 17) (*)
মূর্খ এবং মিথ্যাবাদীদের পক্ষ থেকে নয়।

* চতুর্থ দিক: যা সহীহ বুখারীতে প্রমাণিত হয়েছে যে, (মস্তকটি উবাইদুল্লাহ ইবনে যিয়াদের সামনে আনা হয়েছিল এবং সে আনাস ইবনে মালিকের উপস্থিতিতে ছড়ি দিয়ে তাঁর সামনের দাঁতগুলোতে আঘাত করতে শুরু করেছিল) (১)। এবং মুসনাদে (বর্ণিত হয়েছে যে, তা আবু বারযাহ আল-আসলামীর উপস্থিতিতে ছিল) (২) কিন্তু কিছু লোক বিচ্ছিন্ন সনদে বর্ণনা করেছে যে, (এই আঘাত করা ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়ার উপস্থিতিতে হয়েছিল) এবং এটি বাতিল।

কারণ আবু বারযাহ এবং আনাস ইবনে মালিক ইরাকে ছিলেন, তাঁরা শামে ছিলেন না। আর ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়া শামে ছিলেন, হুসাইনের শাহাদাতের সময় তিনি ইরাকে ছিলেন না। সুতরাং যারা বর্ণনা করে যে, এই দুইজনের উপস্থিতিতে তার সামনে ছড়ি দিয়ে আঘাত করা হয়েছিল, তারা নিশ্চিতভাবেই মিথ্যাবাদী; যা মুতাওয়াতির বর্ণনার মাধ্যমে প্রমাণিত মিথ্যা।

* এবং মুতাওয়াতির বর্ণনার মাধ্যমে এটি জানা যায় যে: হুসাইনের শাহাদাতের সময় উবাইদুল্লাহ ইবনে যিয়াদ ইরাকের আমির ছিল। আর সহীহ বর্ণনার মাধ্যমে এটি প্রমাণিত যে: সেই ওমর ইবনে সাদকে সেই দলের প্রধান হিসেবে পাঠিয়েছিল যারা হুসাইনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল। ওমর এতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন, কিন্তু সে তাকে প্রলুব্ধ ও ভীত করেছিল যতক্ষণ না সে তা করল যা সে করেছিল (৩)।

* আহলে ইলম গ্রন্থকারগণ গ্রহণযোগ্য সনদের সাথে উল্লেখ করেছেন যে: যখন ইরাকবাসীরা হুসাইনের নিকট চিঠি লিখেছিল—তখন তিনি হিজাজে ছিলেন—যাতে তিনি তাদের নিকট আসেন; এবং তারা বলেছিল: সুন্নাহকে মৃত করে দেওয়া হয়েছে এবং বিদআতকে জীবিত করা হয়েছে।

এবং আরও অনেক কিছু, এমনকি বলা হয় যে: তারা তাঁর কাছে এক সিন্দুক পূর্ণ বা তারও বেশি চিঠি পাঠিয়েছিল, আর তাঁর হিতাকাঙ্ক্ষী ও বিচক্ষণ ব্যক্তিগণ তাঁকে পরামর্শ দিয়েছিলেন।

যেমনটি বলা হয়েছে: "প্রত্যেক বুদ্ধিমান ব্যক্তিই তোমাকে সদুপদেশ দেয় না, আর প্রত্যেক সদুপদেশ দানকারীই বুদ্ধিমান নয়।" আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস, আব্দুল্লাহ ইবনে উমর এবং অন্যান্যের মতো ব্যক্তিবর্গ তাঁকে পরামর্শ দিয়েছিলেন।

--------------------------------------------

(১) সহীহ বুখারীর বরাতে বিস্তারিত দেখুন কুরতুবী রচিত আত-তাযকিরাহ (২/৬৬৬, ৬৬৭)।

(২) কিন্তু ইমাম তাবারী বলেন যে, আবু বারযাহ আল-আসলামীর উপস্থিতিতে ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়াই ছড়ি দিয়ে আঘাত করেছিল।

দেখুন তারীখে তাবারী (৪/৩৫৬) এবং মাসউদী ‘মুরুজুয যাহাব ওয়া মাআদিনুল জাওহার’ গ্রন্থে (৩/৭০, ৭১) একই মত সমর্থন করেন। (৩) দেখুন আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (৮/১৭০) এবং আল-ইসাবাহ (২/১৭) (*)
(খণ্ড: ১) রাসুস হুসাইন (পৃষ্ঠা: ২০০)
بأن لا يذهب إليهم.

وبذلك كان قد وصاه أخوه الحسين (1) : واتفقت كلمتهم على أن هذا لا مصلحة فيه، وأن هؤلاء يكذبونه ويخذلونه، إذ هم أسرع الناس إلى فتنة، وأعجزهم فيها، وأن أباه كان أفضل منه وأطوع في الناس، وجمهور الناس معه.

ومع هذا فكان فيهم من الخلاف عليه والخذلان له ما الله به عليم.

حتى صار يطلب السلم بعد أن كان يدعو إلى الحرب.

وما مات إلا وقد كرهم كراهة الله بها عظيم.

وقد دعا عليهم وتبرم بهم.

* فلما ذهب الحسين رضي الله عنه، وأرسل ابن عمه عقيل (2) إليهم، وتابعه طائفة.

ثم لما قدم عبيد الله بن زياد الكوفة، قاموا مع ابن زياد، وقتل عقيل وغير هما.

فبلغ الحسين ذلك، فأراد الرجوع، فوافه سرية عمر بن سعد، وطلبوا منه أن يستأسر لهم، فأبى، وطلب أن يردوه إلى يزيد بن عمه، حتى يضع يده في يده، أو يرجع من حيث جاء، أو يلحق ببعض الثغور، فامتنعوا من إجابته إلى ذلك، بغيا وظلما وعدوانا.

وكان من أشدهم تحريضا عليه: شمر بن الجوشن (3) .

ولحق بالحسين طائفة منهم، ووقع القتل حتى أكرم الله الحسين ومن أكرمه من أهل بيته بالشهادة، رضي الله عنهم وأرضاهم.

وأهان بالبغي والظلم والعدوان من أهانه بما انتهكه من حرمتهم، واستحله من دمائهم * (ومن يهن الله فما له من مكرم، إن الله يفعل ما يشاء) * (4) وكان ذلك من نعمة الله على الحسين، وكرامته له، لينال منازل

الشهداء، حيث لم يحصل له من أول الأسلام من الابتلاء والامتحان ما حصل لسائر أهل بيته، كجده (ص) ، وأبيه وعمه، وعم أبيه رضي الله عنهم.

فإن بني هاشم أفضل القريش، وقريشا أفضل العرب والعرب أفضل بني آدم، كما صح ذلك عن النبي (ص) ، قوله في الحديث الصحيح: (إن الله اصطفى

--------------------------------------------

(1) كذا بالأصل والأصل (الحسن) (2) مسلم بن عقيل: وهو رسول الحسين إلى عبيد الله بن زياد وقتله ابن زياد وكان أول رسول مبعوث يقتل في الإسلام.

(3) وشمر بن ذي الجوشن كان أبرص قبحه الله ولعنه، وكان معروفا بشدة عدائه وسخيمته على أهل البيت.

(4) الحج (22 / 18) (*)
যেন তিনি তাদের কাছে না যান।

এ বিষয়ে তাঁর ভাই হুসাইন (১) তাঁকে অসিয়ত করেছিলেন। তাঁদের সকলের ঐকমত্য ছিল যে, এতে কোনো কল্যাণ নেই এবং এই লোকেরা তাঁর সাথে মিথ্যা বলবে ও তাঁকে পরিত্যাগ করবে। কারণ তারা ফিতনার দিকে সবচেয়ে দ্রুত ধাবমান এবং ফিতনার সময় সবচেয়ে অক্ষম। আর তাঁর পিতা তাঁর চেয়েও শ্রেষ্ঠ ছিলেন এবং মানুষের কাছে অধিক আনুগত্যশীল ছিলেন এবং অধিকাংশ মানুষ তাঁর সাথেই ছিল।

এমতাবস্থায় তাদের মধ্যে তাঁর প্রতি যে মতবিরোধ ও অসহযোগিতা ছিল তা আল্লাহই ভালো জানেন।

এমনকি তিনি যুদ্ধের আহ্বান জানানোর পর শেষ পর্যন্ত সন্ধি কামনা করতে বাধ্য হলেন।

আর তিনি যখন মৃত্যুবরণ করলেন, তখন তাদের প্রতি এমন চরম ঘৃণা পোষণ করছিলেন যা আল্লাহই ভালো জানেন।

তিনি তাদের বিরুদ্ধে বদদোয়া করেছিলেন এবং তাদের প্রতি বিরক্ত হয়ে পড়েছিলেন।

* অতঃপর যখন হুসাইন (রাদিয়াল্লাহু আনহু) রওনা হলেন এবং তাঁর চাচাতো ভাই আকিলকে (২) তাদের কাছে পাঠালেন, তখন একদল লোক তাঁর অনুসরণ করল।

তারপর উবায়দুল্লাহ ইবনে যিয়াদ যখন কুফায় আসলেন, তখন তারা ইবনে যিয়াদের পক্ষ নিল এবং আকিল ও অন্যান্যদের হত্যা করা হলো।

হুসাইন যখন এ খবর পেলেন, তখন তিনি ফিরে যেতে চাইলেন। কিন্তু উমর ইবনে সা’দ-এর বাহিনী তাঁর মুখোমুখি হলো এবং তারা দাবি করল যেন তিনি তাদের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। তিনি তা অস্বীকার করলেন এবং দাবি জানালেন যেন তাকে তাঁর চাচাতো ভাই ইয়াযিদের কাছে যেতে দেওয়া হয়, যাতে তিনি তাঁর হাতে হাত রাখতে পারেন, অথবা যেখান থেকে এসেছেন সেখানে ফিরে যেতে পারেন, কিংবা কোনো সীমান্ত পাহারায় নিযুক্ত হতে পারেন। কিন্তু তারা বিদ্রোহ, জুলুম ও সীমালঙ্ঘনবশত তাঁর এ দাবিগুলো মানতে অস্বীকার করল।

তাঁর বিরুদ্ধে প্ররোচনাকারীদের মধ্যে সবচেয়ে কঠোর ছিল শিমার ইবনে যিল জাওশান (৩)।

তাদের একটি দল হুসাইনের সাথে যোগ দিল এবং যুদ্ধ শুরু হলো। পরিশেষে আল্লাহ হুসাইনকে এবং তাঁর আহলে বায়তের মধ্য থেকে যাদের মর্যাদা দিতে চাইলেন, তাঁদের শাহাদাতের মাধ্যমে সম্মানিত করলেন; আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁদেরকে সন্তুষ্ট করুন।

আর যারা তাঁর অবমাননা করেছে, তাঁদের পবিত্রতা নষ্ট করেছে এবং তাঁদের রক্তকে হালাল মনে করেছে, আল্লাহ তাদের বিদ্রোহ, জুলুম ও সীমালঙ্ঘনের কারণে লাঞ্ছিত করেছেন। * (আর আল্লাহ যাকে লাঞ্ছিত করেন তাকে সম্মান দেওয়ার কেউ নেই; নিশ্চয়ই আল্লাহ যা চান তা-ই করেন) * (৪)। এটি ছিল হুসাইনের প্রতি আল্লাহর একটি নেয়ামত ও সম্মান স্বরূপ, যাতে তিনি শহীদদের উচ্চ মর্যাদা লাভ করতে পারেন। কারণ ইসলামের সূচনালগ্ন থেকে তাঁর আহলে বায়তের অন্যান্য সদস্য—যেমন তাঁর দাদা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), তাঁর পিতা, তাঁর চাচা এবং তাঁর পিতার চাচা (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)—যে ধরনের বালা-মুসিবত ও পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছিলেন, তিনি সেভাবে হননি।

নিশ্চয়ই বনু হাশিম কুরাইশদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ, আর কুরাইশরা আরবদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং আরবরা আদম সন্তানদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। যেমনটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে সহীহ হাদীসে প্রমাণিত হয়েছে। সহীহ হাদীসে তাঁর বাণী হলো: (নিশ্চয়ই আল্লাহ মনোনীত করেছেন...

--------------------------------------------

(১) মূল পাঠে এভাবেই আছে, তবে মূলত হবে (হাসান)। (২) মুসলিম ইবনে আকিল: তিনি উবায়দুল্লাহ ইবনে যিয়াদের কাছে হুসাইনের প্রেরিত দূত ছিলেন এবং ইবনে যিয়াদ তাকে হত্যা করে। তিনিই প্রথম প্রেরিত দূত যাকে ইসলামে হত্যা করা হয়।

(৩) শিমার ইবনে যি আল-জাওশান ছিল শ্বেতী রোগী, আল্লাহ তাকে কদর্য করুন এবং অভিশাপ দিন। সে আহলে বায়তের প্রতি কঠোর শত্রুতা ও বিদ্বেষের জন্য পরিচিত ছিল।

(৪) আল-হজ (২২ / ১৮) (*)
(খণ্ড: ১) রাসুস হুসাইন (পৃষ্ঠা: ২০১)
بني إسماعيل، واصطفى كنانة من بني إسماعيل، واصطفى قريشا من كنانة، واصطفى بني هاشم من قريش) .

* وفي صحيح مسلم عنه أنه قال يوم غدير خم: (أذكركم الله في أهل بيتي، أذكركم الله في أهل بيتي) .

* وفي السنن: (أنه شكا إليه العباس: أن بعض قريش يحقرونهم، فقال: والذي نفسي بيده لا يدخلون الجنة حتى يحبوكم لله ولقرابتي) .

* وإذا كانوا أفضل الخلائق فلاريب أن أعمالهم أفضل الأعمال (1) .

* وكان أفضلهم رسول الله (ص) ، الذي لا عدل (2) له من البشر، ففاضلهم أفضل من كل فاضل من سائر قبائل قريش والعرب، بل وبني إسرائيل وغيرهم.

* ثم علي وحمزة وجعفر وعبيدة بن الحارث: هم من السابقين الأولين من المهاجرين.

فهم أفضل من الطبقة الثانية من سائر القبائل.

ولهذا لما كان يوم

بدر أمرهم النبي (ص) بالمبارزة لما برز عتبة بن ربيعة وشيبة بن ربيعة والوليد بن عتبة.

فقال النبي (ص) : (قم يا حمزة.

قم يا عبيدة.

قم يا علي) فبرز إلى الثلاثة ثلاثة من هاشم.

* وقد ثبت في الصحيح: أن فيهم نزل قوله: * (هذان خصمان اختصموا في ربهم - الآية) * (3) .

وإن كان في الآية عموم.

* ولما كان الحسن والحسين سيدا شباب أهل الجنة، وكانا قد ولدا بعد الهجرة في عز الإسلام، ولم ينلهما من الأذي والبلاء ما نال سلفهما الطيب،

--------------------------------------------

(1) قال تعالى: - (رحمة الله وبركاته عليكم أهل البيت إنه حميد مجيد) هود (11 / 73) ومعني الآية: أي رحمكم الله وبارك فيكم يا أهل بيت إبراهيم.

الصابوني (12 / 620) (*)

_________

(2) العدل: الند والنظير.

(3) الحج (22 / 19) راجع تفسير القرطبي (12 / 26) لهذه الآية، والفخر الرازي الكبير (23 / 22) وصفوة التفاسير (17 / 882) (*)
(বনী ইসমাঈল থেকে, আর তিনি বনী ইসমাঈল থেকে কিনানাহকে মনোনীত করেছেন, কিনানাহ থেকে কুরাইশকে মনোনীত করেছেন এবং কুরাইশ থেকে বনী হাশিমকে মনোনীত করেছেন।) .

* এবং সহীহ মুসলিমে তাঁর থেকে বর্ণিত যে, তিনি গাদীরে খুমের দিনে বলেছেন: (আমি তোমাদেরকে আমার আহলে বাইতের ব্যাপারে আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি, আমি তোমাদেরকে আমার আহলে বাইতের ব্যাপারে আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি।) .

* এবং সুনান গ্রন্থসমূহে বর্ণিত হয়েছে: (আব্বাস তাঁর নিকট অভিযোগ করলেন যে, কুরাইশদের কিছু লোক তাদেরকে তুচ্ছজ্ঞান করে। তখন তিনি বললেন: সেই সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না যতক্ষণ না তারা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এবং আমার সাথে তোমাদের আত্মীয়তার সম্পর্কের কারণে তোমাদেরকে ভালোবাসবে।) .

* আর যখন তাঁরা সৃষ্টির মধ্যে সর্বোত্তম, তখন এতে কোনো সন্দেহ নেই যে তাঁদের আমলসমূহও সর্বোত্তম আমল (১) .

* আর তাঁদের মধ্যে সর্বোত্তম ছিলেন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), মানুষের মধ্যে যাঁর কোনো সমকক্ষ (২) নেই। অতএব তাঁদের মধ্যকার শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিরা কুরাইশ ও আরবদের অন্যান্য গোত্রের সকল শ্রেষ্ঠ ব্যক্তির চেয়ে উত্তম, বরং বনী ইসরাঈল ও অন্যদের চেয়েও শ্রেষ্ঠ।

* অতঃপর আলী, হামযাহ, জাফর এবং উবাইদাহ ইবনুল হারিস: তাঁরা মুহাজিরদের মধ্যে প্রথম অগ্রগামীদের অন্তর্ভুক্ত।

সুতরাং তাঁরা অন্যান্য গোত্রের দ্বিতীয় স্তরের লোকদের চেয়ে উত্তম।

এই কারণেই বদরের

দিনে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদেরকে মল্লযুদ্ধের আদেশ দিয়েছিলেন যখন উতবাহ বিন রাবিয়াহ, শায়বাহ বিন রাবিয়াহ এবং ওয়ালীদ বিন উতবাহ মল্লযুদ্ধের আহ্বান জানিয়ে সামনে এসেছিল।

তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: (হে হামযাহ, ওঠো।

হে উবাইদাহ, ওঠো।

হে আলী, ওঠো।) অতঃপর ঐ তিনজনের বিপরীতে হাশিম বংশের তিনজন বীর মল্লযুদ্ধে অবতীর্ণ হলেন।

* এবং সহীহ গ্রন্থে সাব্যস্ত হয়েছে যে, তাঁদের ব্যাপারেই আল্লাহর এই বাণী অবতীর্ণ হয়েছে: * (এরা দুই প্রতিপক্ষ যারা তাদের প্রতিপালক সম্পর্কে বিতর্ক করে - আয়াতটি) * (৩) .

যদিও আয়াতটির অর্থ ব্যাপক।

* আর যেহেতু হাসান ও হুসাইন জান্নাতী যুবকদের সরদার, এবং তাঁরা হিজরতের পরে ইসলামের গৌরবের যুগে জন্মগ্রহণ করেছিলেন, আর তাঁদেরকে তেমন কোনো কষ্ট ও পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হয়নি যা তাঁদের পবিত্র পূর্বসূরিদের হতে হয়েছিল,

--------------------------------------------

(১) মহান আল্লাহ বলেন: - (হে আহলে বাইত, তোমাদের উপর আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক, নিশ্চয় তিনি প্রশংসিত ও মহিমান্বিত) হূদ (১১ / ৭৩) এবং আয়াতের অর্থ হলো: অর্থাৎ হে ইবরাহীমের পরিবারবর্গ, আল্লাহ তোমাদের প্রতি রহম করুন এবং তোমাদের বরকত দান করুন।

আস-সাবুনী (১২ / ৬২০) (*)

_________

(২) আল-আদল: সমকক্ষ এবং সদৃশ।

(৩) আল-হজ্জ (২২ / ১৯) এই আয়াতের জন্য দেখুন তাফসীরে কুরতুবী (১২ / ২৬), আল-ফখরুর রাযী আল-কাবীর (২৩ / ২২) এবং সাফওয়াতুত তাফাসীর (১৭ / ৮৮২) (*)
(খণ্ড: ১) রাসুস হুসাইন (পৃষ্ঠা: ২০২)
فأكرمهما الله بما أكرمهما به من الإبتلاء، ليرفع درجاتهما.

وذلك من كرامتهما عليه لا من هوانهما عنده، كما أكرم حمزة عليا وجعفرا وعمر وعثمان وغيرهم بالشهادة.

* وفي المسند وغيره: عن فاطمة بنت الحسين عن أبيها الحسين عن النبي (ص) أنه قال: (ما من مسلم يصاب بمصيبة فيذكر مصيبة، وإن قدمت، فيحدث لها استرجاعا (1) ، إلا أعطاء الله من الأجر مثل أجره يوم أصيب بها) .

فهذا الحديث رواه الحسين، وعنه بنته فاطمة التي شهدت مصرعه.

وقد علم الله أن مصيبة تذكر على طول زمان.

* فالمشروع إذا ذكرت المصيبة وأمثالها أن يقال: * (إنا لله وإنا إليه

راجعون) * (اللهم آجرنا في مصيبتنا واخلف لنا خيرا منها) .

قال تعالى: * (وبشر الصابرين.

الذين إذا أصابتهم مصيبة قالوا: إنا لله وإنا إليه راجعون) * قال تعالى: * (أولئك عليهم صلوات من ربهم ورحمة وألئك هم المهتدون) *.

* والكلام في أحوال الملوك على سبيل التفصيل: متعسر أو متعذر، لكن يعلم من حيث الجملة، وهم أنهم هم وغير هم من الناس ممن له حسنات وسيئات يدخلون بها في نصوص الوعد (2) ، أو نصوص الوعيد (3) .

* وتناول نصوص الوعد للشخص مشروط بأن يكون عمله خالصا لوجه

--------------------------------------------

(1) الإستراجاع: أن يقول عند نزول المصيبة (إنا لله وإنا إليه راجعون) وقد قال (ص) : - (ليسترجع أحدكم في كل شئ حتى في شسع نعله فإنها من المصائب) رواه ابن السني في عمل (اليوم (والليلة) رقم 354 وفي سند يحيى بن عبد الله التيمي لم يوثقه غير ابن حبان وباقي رجاله ثقات.

وقال تعالى: - (وبشر الصابرين، الذين إذا أصابتهم مصيبة قالوا إنا لله وإنا إليه راجعون) البقرة (2 / 155) و (2 / 156) (2) ، (3) وعد: وأوعد تقال في الخير والشر أما الوعيد والإيعاد ففي الشر.

راجع المختار ص 728 بتصرف.

(*)
আল্লাহ তাঁদের দুজনকে এই পরীক্ষার মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন যা দিয়ে তিনি তাঁদের সম্মানিত করেছেন, যাতে তাঁদের মর্যাদা উন্নত করা যায়।

আর এটি তাঁর কাছে তাঁদের মর্যাদারই নিদর্শন, তাঁর নিকট তাঁদের তুচ্ছ হওয়ার কারণে নয়; যেমনভাবে তিনি হামযা, আলী, জাফর, উমর, উসমান এবং অন্যদের শাহাদাতের মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন।

* মুসনাদ ও অন্যান্য গ্রন্থে ফাতিমা বিনতে হুসাইন থেকে তাঁর পিতা হুসাইনের সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সা.) বলেছেন: (কোনো মুসলিম যখন কোনো বিপদে আক্রান্ত হয় এবং পরবর্তীতে সেই বিপদের কথা স্মরণ করে—যদিও তা অনেক পুরনো হয়—অতঃপর সে জন্য ইস্তিরজা (১) পাঠ করে, তবে আল্লাহ তাকে সেই সওয়াবই দান করেন যা তিনি তাকে বিপদাক্রান্ত হওয়ার দিনে দিয়েছিলেন)।

এই হাদিসটি হুসাইন বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর থেকে তাঁর কন্যা ফাতিমা বর্ণনা করেছেন যিনি তাঁর শাহাদাতের সময় উপস্থিত ছিলেন।

আল্লাহ জানতেন যে, দীর্ঘ সময় ধরে এই বিপদের কথা স্মরণ করা হবে।

* সুতরাং শরীয়তসম্মত কাজ হলো যখন কোনো বিপদ বা অনুরূপ কিছুর কথা স্মরণ হবে তখন বলা: * (নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর এবং নিশ্চয়ই আমরা তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তনকারী) * (হে আল্লাহ! আমাদের এই বিপদে প্রতিদান দিন এবং এর বিনিময়ে আমাদের এর চেয়ে উত্তম কিছু দান করুন)।

আল্লাহ তাআলা বলেন: * (এবং ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দিন। যারা কোনো বিপদে আক্রান্ত হলে বলে: নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর এবং নিশ্চয়ই আমরা তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তনকারী) * আল্লাহ তাআলা বলেন: * (এরাই তারা যাদের ওপর তাদের রবের পক্ষ থেকে আশীর্বাদ ও দয়া বর্ষিত হয় এবং এরাই সঠিক পথপ্রাপ্ত)।

* বাদশাহদের অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা কঠিন বা অসম্ভব, তবে সাধারণভাবে এটা জানা যায় যে, তাঁরা এবং তাঁদের ছাড়া অন্যান্য মানুষ যাদের পুণ্য ও পাপ রয়েছে, তাঁরা সেগুলোর কারণে পুরস্কারের অঙ্গীকার সংবলিত বর্ণনা (২) অথবা শাস্তির সতর্কবার্তা সংবলিত বর্ণনা (৩)-এর অন্তর্ভুক্ত হবেন।

* আর কোনো ব্যক্তির জন্য পুরস্কারের অঙ্গীকার কার্যকর হওয়া এই শর্তে যুক্ত যে, তার আমলটি যেন একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির (চেহারার) উদ্দেশ্যে একনিষ্ঠ হয়...

--------------------------------------------

(১) ইস্তিরজা: বিপদাপদ আসার সময় এ কথা বলা (নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর এবং নিশ্চয়ই আমরা তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তনকারী)। নবী (সা.) বলেছেন: (তোমাদের প্রত্যেকেই যেন প্রতিটি বিষয়ে ইস্তিরজা পাঠ করে, এমনকি তার জুতার ফিতা ছিঁড়ে গেলেও, কারণ সেটিও বিপদের অন্তর্ভুক্ত)। এটি ইবনে সুন্নি 'আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলা' (নং ৩৫৪) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং এর সূত্রে ইয়াহইয়া ইবনে আবদুল্লাহ আত-তাইমি রয়েছেন যাঁকে ইবনে হিব্বান ছাড়া আর কেউ নির্ভরযোগ্য বলেননি, তবে অন্য সকল বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য।

আল্লাহ তাআলা বলেন: (এবং ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দিন, যারা কোনো বিপদে আক্রান্ত হলে বলে: নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর এবং নিশ্চয়ই আমরা তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তনকারী) আল-বাকারাহ (২/১৫৫) এবং (২/১৫৬)। (২), (৩) ওয়াদ (ওয়াদা): ওয়াদা শব্দটি ভালো ও মন্দ উভয় ক্ষেত্রেই বলা হয়। তবে ওয়াইদ ও ই’আদ কেবল মন্দের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।

দেখুন আল-মুখতার পৃষ্ঠা ৭২৮ (সংক্ষেপিত)।

(*)
(খণ্ড: ১) রাসুস হুসাইন (পৃষ্ঠা: ২০৩)
الله، موافقا للسنة (1) .

فإن النبي (ص) قيل له: (الرجل يقاتل شجاعة، ويقاتل حمية، وقاتل رياء، فأي ذلك في سبيل لله؟ فقال: من قاتل لتكون كلمة الله هي العليا، فهو في سبيل لله) .

* وكذلك شمول نصوص الوعيد له مشروط بأن لا يكون متأولا تأويلا مخطئا.

فإن الله عفا لهذه الأمة عن الخطأ والنسيان.

* وكثير من تأويلات المتقدمين ومن يعرض لها فيها من الشبهات معروفة بما يحصل بها من الهوى والشهوات، فيأتون ما يأتونه بشبهة وشهوة.

* والسيئات التي يرتكبها أهل الذنوب تزول بالتوبة، وقد تزول بحسنات ماحية، ومصائب مكفرة.

وقد تزول بصلاة المسلمين عليه، وبشفاعة النبي (ص) يوم القيامة في أهل الكبائر (2) .

فلهذا كان أهل العلم يختارون فيمن عرف بالظلم ونحوه مع أنه مسلم له أعمال صالحة في الظاهر - كالحجاج وأمثاله - لأنهم لا يلعنون أحدا بعينة، بل يقولون كما قال الله تعالى: * (ألا لعنة الله على الظالمين) * (3) فيلعنون من لعنه الله ورسوله عاما، كقوله (ص) : (لعن الله الخمر وعاصرها ومعتصرها، وبائعها، ومشتريها، وساقيها وشاربها، وحاملها والمحمولة إليه وآكل ثمنها) ولا يلعنون المعين.

كما ثبت في صحيح البخاري وغير: (أن رجلا - كان يدعى حمارا - وكان يشرب الخمر، وكان النبي (ص) يجلده، فأتى به مرة، فلعنه رجل، فقال النبي (ص) : (لا تلعنه.

فإنه يحب الله ورسوله) .

* وذلك لأن اللعنة من باب الوعيد، والوعيد العام قد ينتفي في حق

--------------------------------------------

(1) وقد كرر شيخ الأسلام ابن تيمية في أكثر من موضع في مصنفاته القيمة الكثيرة أن الله لا يقبل عملا ما لم يتوفر فيه شيئان: الأول: أن يكون خالصا لوجه الله تعالى الثاني: أن يكون صوابا أي على السنة خاليا من البدع والضلالات.

رحمه الله ابن تيمية.

(2) وفي الحديث الصحيح يقول النبي (ص) : - (شفاعتي لأهل الكبائر من أمتي) .

(3) هود (11 / 18) (*)
আল্লাহর জন্য, সুন্নাহর অনুসারী হয়ে (১)।

কেননা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: (এক ব্যক্তি বীরত্ব প্রদর্শনের জন্য যুদ্ধ করে, কেউ গোত্রীয় মর্যাদার জন্য যুদ্ধ করে, আবার কেউ লোকদেখানোর জন্য যুদ্ধ করে; এদের মধ্যে কোনটি আল্লাহর পথে? তিনি বললেন: যে ব্যক্তি আল্লাহর বাণীকে সমুন্নত করার জন্য যুদ্ধ করে, সে-ই আল্লাহর পথে)।

* একইভাবে, শাস্তির ধমক সম্বলিত বাণীসমূহ তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হওয়া এই শর্তের ওপর নির্ভরশীল যে, সে যেন ভুল ব্যাখ্যাদানকারী না হয়।

কেননা আল্লাহ এই উম্মতের ভুল এবং বিস্মৃতি ক্ষমা করে দিয়েছেন।

* আর পূর্ববর্তীদের অনেক ব্যাখ্যা এবং যারা এর সম্মুখীন হয় তাদের মধ্যে এমন অনেক সংশয় বিদ্যমান যা প্রবৃত্তি এবং লালসা দ্বারা প্রভাবিত। ফলে তারা সংশয় এবং প্রবৃত্তির বশবর্তী হয়েই যা করার তা করে।

* আর পাপাচারীরা যেসব মন্দ কাজ করে, তা তাওবার মাধ্যমে দূরীভূত হয়। কখনো তা পাপমোচনকারী নেক আমল এবং গুনাহ মোচনকারী বিপদের মাধ্যমেও দূরীভূত হয়।

আবার কখনো তার জন্য মুসলিমদের (জানাযার) সালাত এবং কিয়ামতের দিন কবীরা গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তিদের জন্য নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুপারিশের মাধ্যমেও তা দূর হয়ে যায় (২)।

এই কারণে উলামায়ে কেরাম এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে—যারা যুলুম ও অনুরূপ কাজের জন্য পরিচিত হওয়া সত্ত্বেও বাহ্যত মুসলিম এবং যাদের কিছু নেক আমল রয়েছে, যেমন হাজ্জাজ ও তার মতো ব্যক্তিরা—সতর্কতা অবলম্বন করতেন। কেননা তাঁরা নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তিকে লানত করেন না, বরং আল্লাহ তাআলা যেভাবে বলেছেন সেভাবেই বলেন: * (সাবধান! যালিমদের ওপর আল্লাহর লানত) * (৩)। সুতরাং তাঁরা সাধারণভাবে তাদের লানত করেন যাদেরকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল লানত করেছেন। যেমন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: (আল্লাহ লানত করেছেন মদকে, তার প্রস্তুতকারীকে, প্রস্তুত করতে সাহায্যকারীকে, তার বিক্রেতাকে, তার ক্রেতাকে, পরিবেশনকারীকে, পানকারীকে, বহনকারীকে, যার কাছে বহন করে নেওয়া হয় তাকে এবং তার মূল্য ভক্ষণকারীকে)। কিন্তু তাঁরা নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে লানত করেন না।

যেমন সহীহ বুখারী ও অন্যান্য গ্রন্থে প্রমাণিত হয়েছে: (এক ব্যক্তি—যাকে 'হিমার' ডাকা হতো—সে মদ পান করত। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে চাবুক মারতেন। একবার তাকে আনা হলে এক ব্যক্তি তাকে লানত করল। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: (তাকে লানত করো না।

কেননা সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালোবাসে)।

* আর এটি এই কারণে যে, লানত হলো শাস্তির হুমকির অন্তর্ভুক্ত। আর সাধারণ শাস্তির হুমকি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির ক্ষেত্রে রহিত হয়ে যেতে পারে

--------------------------------------------

(১) শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ তাঁর বহু মূল্যবান রচনায় একাধিক স্থানে এ কথাটি বারবার উল্লেখ করেছেন যে, আল্লাহ কোনো আমল কবুল করেন না যতক্ষণ না তাতে দুটি বিষয় পাওয়া যায়: প্রথমটি হলো, তা কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে হতে হবে। দ্বিতীয়টি হলো, তা সঠিক হতে হবে, অর্থাৎ সুন্নাহ অনুযায়ী এবং বিদআত ও ভ্রষ্টতা থেকে মুক্ত হতে হবে। আল্লাহ ইবনে তাইমিয়্যাহর ওপর রহম করুন।

(২) সহীহ হাদীসে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন: - (আমার উম্মতের কবীরা গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তিদের জন্য আমার সুপারিশ থাকবে)।

(৩) সূরা হুদ (১১ / ১৮) (*)
(খণ্ড: ১) রাসুস হুসাইন (পৃষ্ঠা: ২০৪)
المعين لأحد الأسباب المذكورة، من توبة، أو حسنات ماحية، أو مصائب مكفرة، أو شفاعة مقبولة.

وغير ذلك.

* وطائفة من العلماء يلعنون المعين، وطائفة بإزاء هؤلاء يقولون: بل نحبه، لما فيه من الإيمان يوالي عليه، إذ ليس كافرا.

* والمختار عند الأئمة: أنا لا نلعن معينا، ولا نحب معينا، فإن العبد قد يكون فيه سبب هذا وسبب هذا إذا إجتمع فيه من حب الأمرين.

* إذ كان من أصول أهل السنة، التي فارقوا بها الخوارج (1) والمعتزلة (2) والمرجئة (3) : أن الشخص الواحد تجتمع فيه حسنات وسيئات، فيثاب على حسناته، ويعاقب على سيئاته.

ويحمد على حسناته، ويذم على سيئاته.

وأنه من وجه: مرضى محبوب، ومن وجه: بغيض مسخوط، فلذا كان لأهل الأحداث: هذا الحكم.

* وأما أهل التأويل المحض، الذي يسوخ تأويلها: فأولئك مجتهدون مخطئون خطؤهم مغفور لهم.

وهم مثابون على ما أحسنوا فيه من حسن قصدهم واجتهادهم في طلب الحق وأتباعه.

كما قال النبي (ص) : (إذا اجتهد الحاكم فأصاب فله أجران.

وإذا اجتهد الحاكم فأخطأ فله أجر) .

* ولهذا كان الكلام في السابقين الأولين ومن شهد له بالجنة، كعثمان وعلي وطلحة والزبير ونحوهم: له حكم آخر، بل ومن هو دون هؤلاء، مثل أكابر أهل الحديبية الذين بايعوا تحت الشجرة.

وكانوا أكثر من ألف وأربعمائة..* وقد ثبت في الصحيح عن النبي (ص) أنه قال: (لا يدخل النار أحد بايع تحت الشجرة) .

--------------------------------------------

(1) راجع الفرق بين الفرق للبغدادي ص 24 (2) المرجع السابق ص 24.

(3) السابق ص 25.

(*)
উল্লেখিত কোনো একটি কারণ তথা তওবা, গুনাহ মিটিয়ে দেওয়া নেক আমল, কাফফারা স্বরূপ বিপদ-আপদ অথবা কবুলযোগ্য সুপারিশের কারণে নির্দিষ্ট ব্যক্তির জন্য (ক্ষমা ও সওয়াব প্রযোজ্য)।

এবং এ জাতীয় অন্যান্য বিষয়াদিও এর অন্তর্ভুক্ত।

* আলেমদের একটি দল নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে লানত প্রদান করেন, আবার তাদের বিপরীতে অন্য একদল বলেন: বরং আমরা তাকে ভালোবাসি, যেহেতু তার মাঝে ঈমান রয়েছে যার কারণে তার প্রতি ভালোবাসা রাখা বাঞ্ছনীয়, কেননা সে কাফির নয়।

* ইমামগণের নিকট মনোনীত মত হলো: আমরা নির্দিষ্ট কাউকে লানত দেব না এবং নির্দিষ্ট কাউকে (একান্তভাবে) ভালোবাসব না। কারণ একজন বান্দার মাঝে এই উভয় বিষয়ের কারণ থাকতে পারে যখন তার মাঝে উভয় বিষয়ের প্রতি অনুরাগের কারণসমূহ একত্রিত হয়।

* যেহেতু আহলে সুন্নাতের অন্যতম একটি মূলনীতি—যার মাধ্যমে তারা খারিজি (১), মুতাজিলা (২) এবং মুরজিয়াদের (৩) থেকে পৃথক হয়েছে—তাহলো: একই ব্যক্তির মাঝে নেক আমল ও গুনাহ একত্রিত হতে পারে। ফলে সে তার নেক আমলের জন্য সওয়াব পাবে এবং তার গুনাহের জন্য শাস্তি পাবে।

তার নেক আমলের জন্য তার প্রশংসা করা হবে এবং তার মন্দ কাজের জন্য তার নিন্দা করা হবে।

এবং সে একদিক থেকে সন্তুষ্টি ও ভালোবাসার পাত্র, আবার অন্য দিক থেকে ঘৃণা ও ক্রোধের পাত্র। এই কারণেই বিদআত বা পাপাচারে লিপ্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই বিধান প্রযোজ্য।

* আর যারা নিছক ব্যাখ্যার (তাবিল) অনুসারী, যাদের ব্যাখ্যাগুলো গ্রহণযোগ্যতার অবকাশ রাখে: তারা হলো ভুলকারী মুজতাহিদ, তাদের ভুল ক্ষমাযোগ্য।

তারা সত্য অনুসন্ধান ও সত্যের অনুসরণে তাদের সৎ উদ্দেশ্য এবং ইজতিহাদের মাধ্যমে যতটুকু ভালো করেছেন, তার জন্য তারা সওয়াবপ্রাপ্ত হবেন।

যেমন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: (যখন কোনো বিচারক ইজতিহাদ করে এবং সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হয়, তখন তার জন্য রয়েছে দুটি সওয়াব।

আর যখন সে ইজতিহাদ করে এবং ভুল করে, তখন তার জন্য একটি সওয়াব রয়েছে)।

* এই কারণেই অগ্রবর্তী প্রথম সারির মুসলিম এবং যাদের জন্য জান্নাতের সাক্ষ্য দেওয়া হয়েছে—যেমন উসমান, আলী, তালহা, জুবাইর এবং তাদের সদৃশ ব্যক্তিবর্গ—তাদের ব্যাপারে আলোচনার হুকুম ভিন্ন। বরং যারা মর্যাদায় তাদের নিচে রয়েছে, যেমন হুদাইবিয়ার সেই মহান ব্যক্তিবর্গ যারা গাছের নিচে বাইয়াত গ্রহণ করেছিলেন, তাদের হুকুমও তদ্রূপ।

তাদের সংখ্যা ছিল চৌদ্দশ’রও অধিক। সহীহ হাদিসে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: (গাছের নিচে বাইয়াত গ্রহণকারীদের কেউ জাহান্নামে প্রবেশ করবে না)।

--------------------------------------------

(১) আল-বাগদাদী রচিত আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক, পৃষ্ঠা ২৪ দেখুন। (২) পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ২৪।

(৩) পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ২৫।

(*)
(খণ্ড: ১) রাসুস হুসাইন (পৃষ্ঠা: ২০৫)
* فهؤلاء ونحوهم فيما شجر بينهم: إما أن يكون عمل أحدهم سعيا مشكورا أو ذنبا مغفورا، أو اجتهادا قد عفي لصاحبه عن الخطأ فيه، فلهذا كان من أصول أهل العلم: أنه لا يمكن أحد من الكلام في هؤلاء بكلام يقدح في عدالتهم وديانتهم، بل يعلم أنهم عدول مرضيون، رضي الله عنهم وأرضاهم - لا سيما والمنقول عنهم من العظائم كذب مفتري، مثلما كان طائفة من شيعة عثمان يتهمون عليا بأنه أمر بقتل عثمان، أو أعان عليه، وكان بعض من يقاتله يظن ذلك فيه، وكان ذلك من شبههم التي قاتلوه بها وهي شبهة باطلة.

وكان علي يحلف - وهو الصادق البار -: (إني ما قتلت عثمان، ولا أعنت على قتله) ويقول (اللهم شئت قتلة عثمان في البر والبحر والسهل والجبل) وكانوا يجعلون امتناعه من تسليم قتله عثمان من شبههم في قتاله.

وعلي لم يكن متمكنا من أن يعمل.

كل ما يريده من إقامة الحدود، ونحو ذلك، لكون الناس مختلفين ملتاث أمرهم، وعسكره وأمراء عسكره غير مطيعين له في كل ما كان يأمرهم به.

فإن التفرق والاختلاف يقوم فيه من الشر والفساد وتعطيل الأحكام ما يعلمه من يكون من العلم العارفين بما جاء من النصوص في فضل الجماعة والإسلام.

* ويزيد بن معاوية: قد أتى أمورا منكرة منها: وقعة الحرة، وقد جاء في الصحيح عن علي رضي الله عنه عن النبي (ص) قال: (المدينة حرم ما بين عاثر إلى كذا.

من أحدث فيها حدثا، أو آوى محدثا فعليه لعنة الله والملائكة والناس أجمعين، لا يقبل الله منه صرفا ولا عدلا) وقال (من أراد أهل المدينة بسوء أماعه الله كما ينماع الملح في الماء) .

* ولهذا قيل للإمام أحمد: أتكتب الحديث عن يزيد؟ فقال: لا، ولا

كرامة أو ليس هو الذي فعل بأهل الحرة ما فعل؟.

وقيل له: إن قوما يقولون: إنا نحب يزيد: فقال: وهل يحب يزيد أحد يؤمن بالله واليوم الآخر؟ فقيل: فلماذا لا تلعنه؟ فقال: ومتى رأيت أباك يلعن أحدا.

انتهى.
অতএব তাঁরা এবং তাঁদের মতো অন্যদের মাঝে যে মতবিরোধ তৈরি হয়েছিল, সে ক্ষেত্রে তাঁদের কারো আমল হয় প্রশংসিত প্রচেষ্টা, অথবা ক্ষমাযোগ্য পাপ, অথবা এমন ইজতিহাদ যার ভুলের জন্য ইজতিহাদকারীকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে। এই কারণেই আহলে ইলমদের অন্যতম মূলনীতি হলো: এই মহান ব্যক্তিদের ন্যায়পরায়ণতা ও দ্বীনদারিতে আঘাত হানে এমন কোনো কথা বলার সুযোগ কাউকে দেওয়া যাবে না। বরং এটা বিশ্বাস করতে হবে যে, তাঁরা ন্যায়পরায়ণ ও সন্তোষভাজন; আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তাঁদেরকেও সন্তুষ্ট করেছেন। বিশেষ করে তাঁদের সম্পর্কে বর্ণিত গুরুতর বিষয়গুলো ডাহা মিথ্যা ও অপবাদ, যেমনটি উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুর একদল সমর্থক আলি রাদিয়াল্লাহু আনহুর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলতেন যে, তিনি উসমানকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন অথবা তাতে সহযোগিতা করেছেন। তাঁর সাথে যুদ্ধে লিপ্ত ব্যক্তিদের মধ্যে কেউ কেউ তাঁর সম্পর্কে এমনটিই ধারণা করত। এটি ছিল তাঁদের সেই সব সংশয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত যার ভিত্তিতে তাঁরা তাঁর বিরুদ্ধে লড়াই করেছিল, অথচ এটি ছিল একটি বাতিল সংশয়।

আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু—যিনি সত্যবাদী ও নেককার—শপথ করে বলতেন: "নিশ্চয়ই আমি উসমানকে হত্যা করিনি এবং তাঁর হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতাও করিনি।" তিনি বলতেন: "হে আল্লাহ! স্থলে, জলে, সমতলে ও পাহাড়ে যারা উসমানকে হত্যা করেছে তাদের প্রতিবিধান করুন।" আর উসমানের হত্যাকারীদের হস্তান্তর করতে তাঁর অস্বীকৃতি জানানোকে তাঁরা তাঁর বিরুদ্ধে লড়াই করার একটি সংশয় হিসেবে গণ্য করেছিল।

আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু সক্ষম ছিলেন না কাজ করতে।

হদ কায়েম করা এবং এই জাতীয় যা কিছু তিনি করতে চেয়েছিলেন, তার সবটুকু করার সক্ষমতা তাঁর ছিল না; কারণ তখন মানুষ বিভক্ত ছিল এবং তাদের বিষয়াবলি বিশৃঙ্খল হয়ে পড়েছিল। এমনকি তাঁর সেনাবাহিনী এবং সেনাপতিরা সব বিষয়ে তাঁর আনুগত্য করত না।

কেননা অনৈক্য ও মতভেদের ফলে এমন অনিষ্ট, ফাসাদ এবং বিধিবিধানের কার্যকারিতা লোপ পায়, যা জামায়াত ও ইসলামের ফযিলত সম্পর্কে বর্ণিত দলিলসমূহ সম্পর্কে সম্যক অবগত আলেমগণ ভালোভাবেই জানেন।

* আর ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়া কিছু গর্হিত কাজ সংঘটিত করেছিল, যার মধ্যে একটি হলো 'হাররার ঘটনা'। সহিহ বর্ণনায় আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "মদিনা আইর থেকে অমুক স্থান পর্যন্ত পবিত্র ও নিরাপদ এলাকা।

যে ব্যক্তি সেখানে কোনো অঘটন ঘটাবে কিংবা কোনো অপরাধীকে আশ্রয় দেবে, তার ওপর আল্লাহ, ফেরেশতাকুল এবং সকল মানুষের লানত বর্ষিত হোক। আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার কোনো ফরজ বা নফল ইবাদত কবুল করবেন না।" তিনি আরও বলেছেন: "যে ব্যক্তি মদিনাবাসীর সাথে মন্দের ইচ্ছা করবে, আল্লাহ তাকে সেভাবেই গলিয়ে দেবেন যেভাবে পানিতে লবণ গলে যায়।"

* এই কারণেই ইমাম আহমাদকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল: "আপনি কি ইয়াজিদ থেকে হাদিস লিপিবদ্ধ করবেন?" তিনি উত্তর দিলেন: "না, এবং কোনো

সম্মান নেই; সে কি সেই ব্যক্তি নয়, যে হাররাবাসীদের সাথে যা করার তা করেছিল?"

তাঁকে বলা হলো: "একদল লোক বলে যে, আমরা ইয়াজিদকে ভালোবাসি।" তিনি বললেন: "আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখে এমন কেউ কি ইয়াজিদকে ভালোবাসতে পারে?" তখন বলা হলো: "তবে আপনি তাকে লানত করেন না কেন?" তিনি বললেন: "তুমি কি তোমার পিতাকে কখনো কাউকে লানত করতে দেখেছ?"

সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) রাসুস হুসাইন (পৃষ্ঠা: ২০৬)
ومذهب أهل السنة والجماعة: أنهم لا يكفرون أهل القبلة بمجرد الذنوب، ولا بمجرد التأويل، بل الشخص الواحد إذا كانت له حسنات وسيئات: فأمره إلى الله تعالى.

* وهذا الذي ذكرناه: هو المتفق عليه بين الناس في مقتله رضي الله عنه.

* وقد رويت زيادات: بعضها صحيح، وبعضها ضعيف، وبعضها كذب موضوع.

* والمصنفون من أهل الحديث في ذلك - كالبغوي، وابن ابي الدنيا، ونحوهما: كالمصنفين من أهل الحديث في سائر المنقولات - هم ذلك أعلم وأصدق بلا نزاع بين أهل العلم.

لأنهم يسندون ما ينقلونه عن الثقات، أو يرسلونه عمن يكون مرسله مقارب الصحة، بخلاف الإخباريين، فإن كثيرا مما يسندونه: يسندونه عن كذاب أو مجهول.

أما ما يرسلونه: فظلمات بعضها فوق بعض، وهؤلاء لعمري ممن ينقل عن غيره مسندا أو مرسلا.

* وإما أهل الأهواء ونحوهم: فيعتمدون على نقل لا يعرف له قائل أصلا، لا ثقة ولا ضعيف، وأهون شئ عندهم الكذب المختلق، وأعلم من فيهم لا يرجع فيما ينقله إلى عمدة، بل إلى سماعات عن المجاهيل والكذابين، وروايات عن أهل الإفك المبين.

* فقد تمن أن القصة التي يذكرون فيها حمل الرأس إلى يزيد، ونكته بالقضيب: كذبوا فيها: وإن كان الحمل إلى ابن زياد - وهو الناكت بالقضيب - ولم ينقل بإسناد معروف عن الرأس حمل إلى قدام يزيد.

* ولم أر في ذلك إلا إسنادا منقطعا، قد عارضه من الروايات ما هو أثبت منها وأظهر - نقلوا فيها: أن يزيد لما بلغه مقتل الحسين أطهر التألم (1) من ذلك.

--------------------------------------------

(1) وقال في ذلك الإمام محمد بن حرير الطبري: - ( … فدمعت عين يزيد وقال: قد كنت أرضي من طاعتكم بدون مقتل الحسين، لعن الله =
আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের মাযহাব হলো: তারা কেবল পাপের কারণে বা কেবল অপব্যাখ্যার কারণে কিবলাধারীদের কাফির ঘোষণা করেন না; বরং কোনো ব্যক্তির যদি পুণ্য ও পাপ উভয়ই থাকে, তবে তার বিষয়টি মহান আল্লাহর কাছে ন্যস্ত।

* আর আমরা যা উল্লেখ করেছি, তা-ই তাঁর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) শাহাদাতের ব্যাপারে মানুষের মধ্যে সর্বসম্মত।

* এ বিষয়ে আরও কিছু বিবরণ বর্ণিত হয়েছে, যার কিছু সহিহ, কিছু জয়িফ এবং কিছু ডাহা মিথ্যা ও বানোয়াট।

* এ ক্ষেত্রে হাদিস বিশারদদের মধ্য থেকে যারা সংকলন করেছেন—যেমন আল-বাগাবি, ইবন আবিদ দুনিয়া এবং তাঁদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ—তাঁরা অন্যান্য বর্ণিত বিষয়ের ক্ষেত্রে সংকলনকারী হাদিস বিশারদদের মতোই এ ব্যাপারে অধিক জ্ঞাত এবং সত্যবাদী হওয়ার বিষয়ে আলেমদের মাঝে কোনো বিরোধ নেই।

কারণ তাঁরা যা বর্ণনা করেন তা নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে সনদসহ বর্ণনা করেন, অথবা এমন ব্যক্তিদের থেকে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেন যাদের মুরসাল বর্ণনা বিশুদ্ধতার কাছাকাছি। পক্ষান্তরে ইতিহাসবিদদের অবস্থা ভিন্ন, কেননা তাঁরা যা সনদসহ বর্ণনা করেন তার অনেক কিছুই কোনো মিথ্যাবাদী বা অপরিচিত ব্যক্তির সূত্রে বর্ণিত।

আর তাঁরা যা সনদহীনভাবে বর্ণনা করেন, তা যেন একের পর এক অন্ধকারের স্তর। আমার জীবনের শপথ, এরা হলো তারা যারা অন্যের পক্ষ থেকে সনদসহ বা সনদহীনভাবে বর্ণনা করে।

* আর প্রবৃত্তি পূজারী ও তাদের সমমনাদের কথা হলো, তারা এমন সব বর্ণনার ওপর নির্ভর করে যার কোনো বক্তারই হদিস নেই—তা সে নির্ভরযোগ্য হোক বা দুর্বল। তাদের কাছে সবচেয়ে তুচ্ছ বিষয় হলো বানোয়াট মিথ্যা। তাদের মধ্যে যিনি সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী, তিনিও বর্ণনার ক্ষেত্রে কোনো নির্ভরযোগ্য উৎসের দিকে প্রত্যাবর্তন করেন না, বরং অপরিচিত ও মিথ্যাবাদীদের থেকে শোনা কথা এবং প্রকাশ্য মিথ্যাবাদীদের বর্ণনার ওপর নির্ভর করেন।

* সুতরাং এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, তারা যে কাহিনীর কথা উল্লেখ করে যেখানে মাথা ইয়াজিদের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং সে লাঠি দিয়ে তাতে আঘাত করেছিল, সে বিষয়ে তারা মিথ্যা বলেছে। যদিও মাথা ইবন জিয়াদের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং সেই লাঠি দিয়ে আঘাত করেছিল—কিন্তু ইয়াজিদের সামনে মাথা নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে কোনো পরিচিত সনদে বর্ণিত হয়নি।

* এ বিষয়ে আমি কেবল বিচ্ছিন্ন সনদই দেখেছি, যার বিপরীতে এমন সব বর্ণনা রয়েছে যা এর চেয়ে অধিক সুদৃঢ় ও সুস্পষ্ট। সেগুলোতে বর্ণিত হয়েছে যে, যখন ইয়াজিদের কাছে হুসাইনের শাহাদাতের সংবাদ পৌঁছাল, সে তার জন্য দুঃখ প্রকাশ করল (১)।

--------------------------------------------

(১) এ বিষয়ে ইমাম মুহাম্মদ বিন জারির আত-তবারি বলেন: - ( … ইয়াজিদের চোখ অশ্রুসিক্ত হলো এবং সে বলল: হুসাইনের শাহাদাত ছাড়াই আমি তোমাদের আনুগত্যে সন্তুষ্ট থাকতাম, আল্লাহ লানত করুন =