(খণ্ড: ১)
আল-মুদাব্বাজ ওয়া রিওয়ায়াতুল আক রান
(পৃষ্ঠা: -)
المدبج ورواية الأقران القسم: علوم الحديث
الكتاب: المدبج ورواية الأقران
المؤلف: د موفق بن عبد الله بن عبد القادر
الناشر: الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة
الطبعة: العدد 116 _السنة 34 _1422هـ
عدد الصفحات: 69
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-মুদাব্বাজ ও সমসাময়িকদের বর্ণনা বিভাগ: হাদিস বিজ্ঞান (علوم الحديث)
গ্রন্থ: আল-মুদাব্বাজ ও সমসাময়িকদের বর্ণনা
লেখক: ড. মুয়াফফাক বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল কাদির
প্রকাশক: মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
সংস্করণ: সংখ্যা ১১৬, বর্ষ ৩৪, ১৪২২ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৯
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-মুদাব্বাজ ওয়া রিওয়ায়াতুল আক রান
(পৃষ্ঠা: ১১)
المدبج ورواية الأقران
إعداد
د. موفق بن عبد الله بن عبد القادر
الأستاذ المشارك في كلية الدعوة في جامعة أم القرى
مقدمةالحمدُ للَّهِ ربِّ العالمين، والعاقبةُ للمتَّقين، والصَّلاةُ والسَّلامُ على خاتمِ المُرسلينَ سيِّدِنا مُحَمَّدٍ، وعلى آلهِ وصحبهِ أجمعين.
أما بعد، فإنَّ مناهج رواية الحديث النَّبويّ الشَّريف قد لقيت عنايةً فائقةً مِنَ المُحَدِّثينَ قَلَّ أن نَجِدَ لها مثيلاً في بقيَّةِ العلومِ، ولَمَّا كان الإسنادُ هو الطَّريق إلى الحديثِ، فقد اهتمَّ به المُحدِّثون.
قال الحاكم النَّيسابوريُّ: لولا الإسنادُ، وطلب هذهِ الطَّائفة لهُ، وكثرة مواظبتهم على حفظهِ، لدرسَ منار الإسلامِ، ولتمكنَ أهلُ الإلحادِ والبِدَعِ فيهِ، بوضعِ الأحاديث، وقلب الأسانيدِ، فإنَّ الأخبارَ إذا تَعَرَّت عن وجودِ الأسانيدِ فيها كانت بتراء1.
قال عبدُاللَّهِ بنُ المُبارك: الإسنادُ مِنَ الدِّينِ، ولولا الإسناد لَقَالَ مَن شاءَ ما شَاء2.
هذا وقد ظهرت القاعدة المشهورة: إنَّ هذا العلم دينٌ، فانظروا عَمَّن تأخذونَ دينكم3.
إنَّ العنايَةَ الفائقة بالأسانيد في الرِّوايةِ أضحت خَصيصة مِن خصائص هذهِ الأمَّة، حتَّى قال محمدُ بنُ حاتِم بنِ المُظَفَّرِ: إنَّ اللَّهَ أكرمَ الأمَّة وشَرَّفها وفَضَّلها
--------------------------------------------
আল-মুদাব্বাজ (المدبج) এবং সমসাময়িকদের বর্ণনা (رواية الأقران)
প্রস্তুতকরণে
ড. মুওয়াফফাক বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল কাদির
সহযোগী অধ্যাপক, দাওয়াহ অনুষদ, উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়
ভূমিকাসমস্ত প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আর শুভ পরিণাম মুত্তাকীদের জন্য। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক সর্বশেষ রাসুল আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (সা.)-এর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীদের ওপর।
অতঃপর, পবিত্র হাদিস বর্ণনার পদ্ধতিসমূহ হাদিস বিশারদদের নিকট থেকে এমন সূক্ষ্ম মনোযোগ লাভ করেছে যার নজির অন্যান্য বিজ্ঞানে খুব কমই পাওয়া যায়। আর যেহেতু সনদ (الإسناد) হলো হাদিসে পৌঁছানোর পথ, তাই হাদিস বিশারদগণ এর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেছেন।
আল-হাকিম আন-নাইসাবুরি বলেন: যদি সনদ (الإسناد) না থাকত এবং একদল লোক এর অন্বেষণে নিয়োজিত না থাকত এবং এটি মুখস্থকরণে তাদের গভীর একাগ্রতা না থাকত, তবে ইসলামের আলোকবর্তিকা বিলীন হয়ে যেত। আর নাস্তিক ও বিদআতিরা হাদিস জাল (الوضع) করার মাধ্যমে এবং সনদ পরিবর্তন (قلب الأسانيد) করার মাধ্যমে এতে প্রভাব বিস্তারে সক্ষম হতো। কেননা সংবাদসমূহ যখন সনদসমূহ (الأسانيد) থেকে বিচ্ছিন্ন হয়, তখন সেগুলো লেজকাটা বা ভিত্তিহীন হয়ে যায়।১
আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক বলেন: সনদ (الإسناد) দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত। যদি সনদ (الإسناد) না থাকত, তবে যে যা ইচ্ছা তা-ই বলত।২
ইতিমধ্যেই সেই প্রসিদ্ধ মূলনীতি প্রকাশিত হয়েছে: নিশ্চয়ই এই ইলম হলো দ্বীন, সুতরাং লক্ষ্য করো তোমরা কার নিকট থেকে তোমাদের দ্বীন গ্রহণ করছ।৩
বর্ণনার ক্ষেত্রে সনদসমূহের (الأسانيد) প্রতি এই গভীর যত্ন এই উম্মতের একটি অনন্য বৈশিষ্ট্যে পরিণত হয়েছে। এমনকি মুহাম্মদ বিন হাতিম বিন আল-মুজাফফর বলেছেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ এই উম্মতকে সম্মানিত, মহিমান্বিত ও শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুদাব্বাজ ওয়া রিওয়ায়াতুল আক রান
(পৃষ্ঠা: ১২)
بالإسنادِ، وليسَ لأحدٍ مِنَ الأُممِ كُلِّها قديمهم وحديثهم إسنادٌ، وإنَّما هي صُحفٌ في أيديهم1.
وقال ابنُ أبي حاتمٍ الرَّازيُّ: لم يكن في أُمَّةٍ مِنَ الأُممِ منذ خلقَ اللَّهُ آدمَ أمناء يحفظونَ أثار الرُّسل إلَاّ في هذهِ الأُمَّةِ2.
وقال ابنُ حزمٍ: نقلُ الثِّقَة، عن الثِّقةِ يبلغ به النَّبيّ صلى الله عليه وسلم مع الاتصالِ، خصَّ به اللَّهُ المُسلمينَ دون سائر الملل، وأمَّا مع الإرسالِ والاتصال، والإعضال، فيوجد في كثيرٍ من اليهود، لكن لا يقربونَ فيه من موسى قريباً من محمدٍ صلى الله عليه وسلم، بل يقفونَ بحيثُ يكون بينهم وبينَ موسى أكثر مِن ثلاثينَ عصراً، وإنَّما يبلغون إلى شمعونَ، ونحوه.
وأمَّا النَّصارى فليس عندهم مِن صفة هذا النَّقل إلَاّ تحريم الطَّلاق فقط، وأمَّا النَّقل بالطُّرقِ المشتملة على كذَّاب، أو مجهول العين فكثير في نقل اليهود والنَّصارى.
وأمَّا أقوال الصَّحابة والتَّابعينَ، فلا يمكن اليهود أن يبلغوا إلى صاحب نبيٍّ أصلاً، ولا إلى تابعٍ لهُ، ولا يمكن النَّصارى أن يصلوا إلى أعلى مِن شمعون وبولص3.
إنَّ رواية المُحَدِّثين للأخبار لم تكن روايةً عشوائية، وإنَّما كانت تندرج تحت ضوابط وقوانينَ تتسم بالموضوعية، فقد وضعوا شروطاً لمعرفة مَن تُقبل
--------------------------------------------
সনদ (الإسناد)-এর মাধ্যমে; আর প্রাচীন ও আধুনিক কোনো উম্মতের নিকটই সনদ (إسناد) নেই, বরং তাদের হাতে যা রয়েছে তা কেবল কিছু পাণ্ডুলিপি মাত্র।১
ইবনে আবি হাতেম আর-রাজি বলেন: আল্লাহ তাআলা আদম (আ.)-কে সৃষ্টির পর থেকে এই উম্মত ছাড়া অন্য কোনো উম্মতের মধ্যে এমন বিশ্বস্ত লোক ছিল না যারা রাসূলগণের বাণীসমূহ (أثار) সংরক্ষণ করেন।২
ইবনে হাজম বলেন: নিরবচ্ছিন্নতা (الاتصال) বজায় রেখে একজন নির্ভরযোগ্য (الثقة) বর্ণনাকারী থেকে অপর নির্ভরযোগ্য (الثقة) বর্ণনাকারীর বর্ণনা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছানোকে আল্লাহ তাআলা অন্যান্য ধর্মের পরিবর্তে কেবল মুসলিমদের জন্য নির্দিষ্ট করেছেন। তবে বিচ্ছিন্নতা (الإرسال), সংযোগ (الاتصال) এবং গুরুতর বিচ্ছিন্নতা (الإعضال)-সহ বর্ণনা অনেক ইহুদির মধ্যেও পাওয়া যায়, কিন্তু তারা মুসা (আ.)-এর বর্ণনার ক্ষেত্রে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বর্ণনার মতো নৈকট্য লাভ করতে পারে না। বরং তাদের এবং মুসা (আ.)-এর মাঝে ত্রিশটিরও বেশি প্রজন্মের ব্যবধান রয়ে গেছে এবং তারা বড়জোর শামউন বা এই জাতীয় ব্যক্তি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
আর খ্রিস্টানদের নিকট এ ধরনের বর্ণনার কোনো বৈশিষ্ট্য নেই কেবল বিবাহবিচ্ছেদ নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি ছাড়া। আর যেসব সূত্রে চরম মিথ্যাবাদী (كذَّاب) অথবা পরিচয়হীন ব্যক্তি (مجهول العين) রয়েছে, তেমন বর্ণনা ইহুদি ও খ্রিস্টানদের মাঝে প্রচুর।
আর সাহাবী (صحابة) ও তাবেঈগণের (تابعين) বাণীর ক্ষেত্রে ইহুদিদের পক্ষে কোনো নবীর সঙ্গী পর্যন্ত পৌঁছানো মোটেও সম্ভব নয় এবং কোনো তাবেঈ (تابع) পর্যন্তও নয়। তেমনি খ্রিস্টানদের পক্ষেও শামউন ও পল-এর ঊর্ধ্বে পৌঁছানো সম্ভব নয়।৩
নিশ্চয় মুহাদ্দিসগণের সংবাদ বর্ণনা করার বিষয়টি কোনো লক্ষ্যহীন বর্ণনা ছিল না, বরং তা বস্তুনিষ্ঠ নীতিমালা ও নিয়মের অধীনে ছিল। কেননা তাঁরা কার বর্ণনা গ্রহণ করা হবে তা নির্ধারণে নির্দিষ্ট শর্তাবলি আরোপ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুদাব্বাজ ওয়া রিওয়ায়াতুল আক রান
(পৃষ্ঠা: ১৩)
روايتُهُ، وما يتعلَّق بهِ مِن جرحٍ وتعديل1، كما سَنُّوا قواعدَ في معرفة كيفية سَماع الحديث وتحمُّلِهِ وصفةِ ضبطهِ2.
ومن الوسائل التي اتَّبعها المُحَدِّثون في أنواع الرِّوايةِ، والتي تُعَدُّ من وسائل توثيقِ النُّصوصِ وضبطها، ابتكارهم لأنماطٍ مختلفة من أنماط الرِّواية، والتي تدلُّ على الدِّقَّةِ في التَّصنيف في بعض أنواعِ التَّحمُّلِ مثل: رواية الأكابرعن الأصاغِر، ورواية التَّابعين عن بعضهم، ومَن روى عن أبيهِ عن جدِّهِ، والرواة من الإخوة والأخوات، والمُدَبَّج، ورواية الأقرانِ، والأسانيد القائمةعلى أساس المدن، كالأسانيد الحِجازيَّة، أو المكيَّة، أو المَدنيَّة، أو البصريَّة، أو الكوفيَّة، أو الشَّاميَّة، واختلاف الروايات للكتاب الواحد، وفنّ المستخرجات، وعلم الأثبات ومعاجم الشُّيوخ والمشيخات.. وغير ذلك من التَّصنيفات المختلفة، والتي يستشفُ منها الباحث المُدقق أنَّ المُحَدِّثينَ قد قطعوا شوطاً بعيداً في علم الرواية، وأنَّ بحوثهم قد أعطت الباحث الواعي، والدَّارس المتمكنَ والموضوعيّ القدرة على التَّحركِ، ووضعت بينَ يديهِ الوسائل التي تعينهُ على التَّثبتِ مِن صحَّةِ الأسانيدِ، وتدقيق الرِّواياتِ، وتميزت بحوثهم المختلفة بالابتكار والإبداع والتي استطاعوا بها أن ينشروا السُّنَّة ويحافظوا عليها بنجاحٍ منقطع النَّظير، وأنَّ السَّواد الأعظم من المُحدِّثين كان يُدركُ أنَّ علم الرِّواية لم يكن طحناً في الماءِ، وإنَّما هو عِلْمٌ مُنَسَّقٌ، قائمٌ على قواعدَ مفصَّلةٍ وعميقةٍ.
--------------------------------------------
তাঁর বর্ণনা (رواية), এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট জারহ ও তাদিল (جرح وتعديل)১, ঠিক যেমন তাঁরা হাদিস শ্রবণ (سماع) করার পদ্ধতি, এটি গ্রহণ (تحمل) করার প্রক্রিয়া এবং এর সংরক্ষণের নির্ভুলতা (ضبط)২ যাচাই করার নিয়মাবলী প্রবর্তন করেছেন।
মুহাদ্দিসগণ বর্ণনার বিভিন্ন প্রকারভেদের ক্ষেত্রে যেসব পন্থা অবলম্বন করেছেন, যা মূলত মূলপাঠের প্রমাণীকরণ এবং তার নির্ভুলতা (ضبط) নিশ্চিত করার মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয়, তা হলো বর্ণনার নানাবিধ শৈলী উদ্ভাবন। এটি বর্ণনার কিছু গ্রহণ পদ্ধতির (تحمل) ক্ষেত্রে শ্রেণীকরণের সূক্ষ্মতা নির্দেশ করে, যেমন: কনিষ্ঠদের থেকে জ্যেষ্ঠদের বর্ণনা (رواية الأكابر عن الأصاغر), একে অপরের থেকে তাবেয়ীদের বর্ণনা (رواية التابعين عن بعضهم), পিতার মাধ্যমে দাদার থেকে বর্ণনা, ভাই ও বোনদের মধ্যকার বর্ণনাকারীগণ, মুদাব্বাজ (المدبج), সমসাময়িকদের বর্ণনা (رواية الأقران), এবং বিভিন্ন অঞ্চলের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা সনদসমূহ (أسانيد); যেমন: হিজাজি, মক্কি, মাদানি, বসরি, কুফি কিংবা শামি সনদসমূহ। এছাড়া একই গ্রন্থের বিভিন্ন বর্ণনাভঙ্গি, মুস্তাখরাজাত শিল্প, ইলমুল আসবাত, মাআজিমুশ শুয়ুখ এবং মাশয়াখাতসহ বিভিন্ন ধরনের শ্রেণীবিন্যাস—যা থেকে একজন সূক্ষ্মদর্শী গবেষক অনুধাবন করতে পারেন যে, মুহাদ্দিসগণ বর্ণনাশাস্ত্রে (رواية) এক দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছেন। তাঁদের এই গবেষণা সচেতন গবেষক এবং যোগ্য ও বস্তুনিষ্ঠ শিক্ষার্থীকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা দান করেছে এবং তাঁদের হাতে এমন সব মাধ্যম তুলে দিয়েছে যা সনদের বিশুদ্ধতা (صحة) নিশ্চিত করতে এবং বর্ণনাসমূহ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করতে সহায়তা করে। তাঁদের এই বিভিন্ন গবেষণাকর্ম উদ্ভাবন ও সৃজনশীলতায় অনন্য, যার মাধ্যমে তাঁরা সুন্নাহর প্রচার এবং এর সংরক্ষণে নজিরবিহীন সাফল্য অর্জন করেছেন। অধিকাংশ মুহাদ্দিসই অনুধাবন করতেন যে, বর্ণনাশাস্ত্র (رواية) কেবল পণ্ডশ্রম ছিল না, বরং এটি ছিল একটি সুসংগঠিত বিজ্ঞান, যা বিস্তারিত ও গভীর নিয়মাবলীর ওপর প্রতিষ্ঠিত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুদাব্বাজ ওয়া রিওয়ায়াতুল আক রান
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وبحثنا هذا هو حلقةٌ مِن سلسلةِ بحوث مماثلة كتبتها وتناولت علم الرِّواية وأثرهُ في توثيق النُّصوصِ وضبطها1، وقد تناول جانباً من جوانبَ علم الرِّوايةِ والذي قد صَنَّفَ فيه العُلماءُ الكبارُ مُصَنَّفات لم نقف عليها في وقتنا الحاضر، وبقيت منهُ أبحاثٌ توزعتها كتب علم أصول الحديثِ المُختلفة، أو بعض الشُّروح الحديثية، وهذا النَّوع هو المُدَبَّجُ، ورواية الأقران.
إنَّ الدِّراسة الموضوعيَّة لهذا النَّوع من أنواعِ علوم الحديثِ، تظهر لنا أنَّ هذا النَّوعَ مِنَ المُصَنَّفاتِ هدفهُ إزالة النِّقاب عن الخطأ والوهم الذي قد يتطرَّقُ إلى الإسناد.
وإذا كان ابنُ عباسٍ رضي الله عنه قد حذَّرَ من قَبولِ جرح الأقران بعضهم لبعضٍ، وقال: استمعوا علم العُلماء ولا تصدقوا بعضهم على بعضٍ، فوالذي نفسي بيدهِ لهم أشدّ تغايراً من التّيوسِ في زروبتها2.
وقال الذَّهبيُّ: وكلامُ الأقرانِ بعضهم في بعضٍ لا يُعبأ به لا سيما إذا لاحَ أنَّهُ لعداوةٍ، أو لحسدٍ، ما ينجو منه إلَاّ مَن عصم اللَّهُ، وما علمتُ أنَّ عصراً مِنَ الأعصارِ سلمَ أهلهُ من ذلكَ سوى الأنبياء والصِّدِّيقينَ3.
--------------------------------------------
আমাদের এই গবেষণাটি একই ধরণের গবেষণাসমষ্টির একটি অংশ যা আমি লিখেছি এবং যেখানে বর্ণনা বিজ্ঞান (علم الرِّواية) এবং মূল পাঠের প্রামাণ্যতা নিশ্চিতকরণ ও সংরক্ষণে (ضبط) এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেছি। এটি বর্ণনা বিজ্ঞানের (علم الرِّواية) এমন একটি দিক নিয়ে আলোচনা করেছে যে বিষয়ে বড় বড় আলেমগণ এমন সব গ্রন্থ রচনা করেছেন যা বর্তমানে আমাদের হস্তগত হয়নি। তবে এর কিছু আলোচনা হাদিস শাস্ত্রের মূলনীতি (أصول الحديث) সংক্রান্ত বিভিন্ন কিতাবে অথবা হাদিসের কিছু ব্যাখ্যাগ্রন্থে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। আর এই প্রকারটি হলো মুদাব্বাজ (المُدَبَّج) এবং সমসাময়িকদের বর্ণনা (رواية الأقران)।
হাদিস শাস্ত্রের (علوم الحديث) এই প্রকারটি নিয়ে বস্তুনিষ্ঠ অধ্যয়ন আমাদের সামনে স্পষ্ট করে যে, এ ধরণের রচনার উদ্দেশ্য হলো সেই ভুল ও সংশয় দূর করা যা বর্ণনাসূত্রে (الإسناد) প্রবেশ করতে পারে।
ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) যখন একে অপরের বিরুদ্ধে সমসাময়িকদের সমালোচনার (جرح الأقران) গ্রহণের ব্যাপারে সতর্ক করেছেন এবং বলেছেন: "তোমরা আলেমদের ইলম শ্রবণ করো কিন্তু একে অপরের বিরুদ্ধে তাদের বক্তব্যকে সত্য বলে ধরে নিও না; সেই সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ, তাদের মধ্যকার পারস্পরিক বৈরিতা খোঁয়াড়ের পাঠাগুলোর চেয়েও তীব্র।"
ইমাম যাহাবী বলেছেন: "সমসাময়িকদের একে অপরের সমালোচনা (كلام الأقرান) গ্রহণযোগ্য নয়, বিশেষ করে যখন স্পষ্ট হয় যে তা শত্রুতা বা হিংসার বশবর্তী হয়ে করা হয়েছে। আল্লাহ যাদের রক্ষা করেছেন তারা ছাড়া কেউ এ থেকে রেহাই পায় না। আমার জানামতে নবী ও সিদ্দীকগণ ছাড়া কোনো যুগের মানুষই এ থেকে মুক্ত ছিল না।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুদাব্বাজ ওয়া রিওয়ায়াতুল আক রান
(পৃষ্ঠা: ১৫)
فإنَّ روايةَ الأقران بعضهم عن بعضٍ فيه شهادة بعضهم لبعضٍ على صِحَّةِ المرويات، وإشارةٌ صادقةٌ على تجاوز الكثير منهم للعوامل النَّفسيَّةِ التي تختلجُ في صدور الأقرانِ، والتي حَذَّرَ منها العُلماء.
ونظراً لأهميَّةِ رواية الأقران بعضهم عن بعضٍ في توثيق النُّصوصِ وضبطها، فقد حرص الإمامُ الجِهبذُ أبو عبدِاللَّهِ محمدُ بنُ إسماعيلَ البُخاريُّ على هذا النَّمط مِن الأسانيدِ في كتابه (الجامع الصَّحيح) ، وكذا اشتملت كتب السُّنَّةِ الأخرى على ذِكرِ هذا النَّوع من المروياتِ، وأدرجتها ضمن مروياتها المُختلفةِ.
إنَّ دراسة مرويات الأقران بعضهم عن بعضٍ ستقودنا إلى معرفةِ تواريخ ولادةِ ووفيات الرُّواة، كما أنَّها ستقدِّمُ لنا نتائج جليلة عن علم طبقات الرُّواة، وتجمع لنا دلائل عن البلدان ورواتها، سيما إذا اجتمعَ في الرِّواية الواحدةِ أهل بلدٍ في نَسقٍ كما سيأتي بيان ذلكَ مِن خلالِ بحثنا هذا.
إنَّ الكتابة عن بعضِ الجُزئياتِ في علم مصطلح الحديثِ، والتي لم نقف فيها على مُصَنَّفٍ مستقلٍّ لإمامٍ ناقدٍ، تعني ميلاد عهدٍ جديدٍ لهذا العلمِ، الذي ينتمي إلى طرازٍ مُعيَّنٍ في التَّأليفِ يتَّصِفُ بالإيجازِ والبُعدِ عن الإسهابِ في موضوعاتهِ.
وبحثنا هذا حاولَ أن يُقدِّمَ تحليلاً عميقاً لهذا النَّوع مِنَ أنواعِ مصطلحِ الحديث، وذلكَ مِن خلالِ ما ذكرته كتب مصطلح الحديث مِنَ الأمثلة، مع بيان مارواهُ الإمامُ البُخاريّ رحمهُ اللَّهُ تعالى في (صحيحه) مِن رواية الأقرانِ، والتي قام الحافظ ابن حجرٍ رحمه اللَّهُ تعالى بذِكْرِها، وبيان بعض لطائفها، وبالتالي الخروج بنتائج جديدةٍ عن رواية الأقران، وأهميتهِ، ومحاولة تنظيم هذهِ المادة في
সমসাময়িকদের একে অপরের থেকে বর্ণনা করার (رواية الأقران) মধ্যে তাদের বর্ণিত তথ্যের শুদ্ধতার (صحة) ব্যাপারে একে অপরের জন্য সাক্ষ্য নিহিত রয়েছে। এটি একটি সত্য নির্দেশক যে, তাদের অনেকেই সেই মনস্তাত্ত্বিক বিষয়গুলোকে কাটিয়ে উঠতে পেরেছেন যা সমসাময়িকদের অন্তরে জাগ্রত হয় এবং যে বিষয়ে আলেমগণ সতর্ক করেছেন।
মূল পাঠ্যসমূহের নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিতকরণ (توثيق) এবং তা নিখুঁতভাবে সংরক্ষণের (ضبط) ক্ষেত্রে সমসাময়িকদের বর্ণনার (رواية الأقرান) গুরুত্বের প্রেক্ষিতে, বিজ্ঞ ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারী তার আল-জামি আল-সহিহ গ্রন্থে এ ধরনের সনদসমূহের (أسانيد) ব্যাপারে সবিশেষ যত্নবান ছিলেন। অনুরূপভাবে, সুন্নাহর অন্যান্য গ্রন্থসমূহও এই প্রকারের বর্ণনাগুলো অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং তাদের বিভিন্ন বর্ণনার মাঝে এগুলোকে স্থান দিয়েছে।
সমসাময়িকদের বর্ণনাসমূহ (رواية الأقران) অধ্যয়ন করলে তা আমাদের বর্ণনাকারীদের (رواة) জন্ম ও মৃত্যুর তারিখ জানতে সাহায্য করবে। পাশাপাশি এটি আমাদের বর্ণনাকারীদের স্তর বিন্যাস (طبقات الرواة) সম্পর্কিত জ্ঞান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল প্রদান করবে এবং বিভিন্ন দেশ ও সেখানকার বর্ণনাকারীদের (رواة) সম্পর্কে প্রমাণাদি সংগ্রহ করবে। বিশেষ করে যখন একটি বর্ণনায় একই অঞ্চলের বর্ণনাকারীরা পর্যায়ক্রমে একত্রিত হয়, যা আমাদের এই গবেষণায় বিস্তারিতভাবে সামনে আসবে।
হাদিস পরিভাষা বিজ্ঞানের (علم مصطلح الحديث) এমন কিছু সূক্ষ্ম শাখা সম্পর্কে লেখা, যে বিষয়ে আমরা কোনো বিশেষজ্ঞ ইমামের স্বতন্ত্র কোনো গ্রন্থ পাইনি, তা এই বিজ্ঞানের জন্য এক নতুন যুগের সূচনা নির্দেশ করে। এটি রচনার এমন একটি স্বতন্ত্র শৈলীর অন্তর্ভুক্ত যা সংক্ষিপ্ততা এবং অপ্রাসঙ্গিক বিস্তার বর্জনের বৈশিষ্ট্যমন্ডিত।
আমাদের এই গবেষণা হাদিস পরিভাষার (مصطلح الحديث) এই প্রকারটি সম্পর্কে একটি গভীর বিশ্লেষণ প্রদানের চেষ্টা করেছে। এটি করা হয়েছে হাদিস পরিভাষা গ্রন্থসমূহে বর্ণিত উদাহরণগুলোর মাধ্যমে। সাথে সাথে ইমাম বুখারী (রহ.) তার সহিহ গ্রন্থে সমসাময়িকদের থেকে যেসব বর্ণনা (رواية الأقران) করেছেন তার বিবরণ দেওয়া হয়েছে, যা হাফেজ ইবনে হাজার (রহ.) উল্লেখ করেছেন এবং এর কিছু সূক্ষ্ম রহস্য বর্ণনা করেছেন। এর মাধ্যমে সমসাময়িকদের বর্ণনা (رواية الأقرান) ও এর গুরুত্ব সম্পর্কে নতুন কিছু ফলাফল বেরিয়ে আসবে এবং এই বিষয়বস্তুকে সুশৃঙ্খল করার প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে...
(খণ্ড: ১)
আল-মুদাব্বাজ ওয়া রিওয়ায়াতুল আক রান
(পৃষ্ঠা: ১৬)
صورةٍ تُلقي الضَّوء على جانبٍ من جوانبِ علم الرِّواية عندَ المُحَدِّثينَ، وأثره في توثيق النٌّصوصِ وضبطها.
ولقد حرصتُ في عرضي للمادة أن لا أقسِّم البحث إلى أبوابٍ وفصولٍ، وذلكَ خشية أن يطولَ البحث، وتتشعب جوانبه، كما أنَّي لم أتوسع في تخريج النُّصوصِ، والآثار، نظراً لأنَّ شروط نشر البحوث مرهونة برقمٍ محدد من الصَّفحات.
واللَّهَ الكريم أسأل التَّوفيقَ والسَّداد، ومنهُ استمدُ العونَ، وعليه التُّكلان، وهو حسبي ونعمَ الوكيل، وصلَّى اللَّهُ على سيدِنا مُحَمَّدٍ، وعلى آلهِ وصحبهِ أجمعين.
এটি এমন একটি চিত্র যা মুহাদ্দিসগণের (محدثين) নিকট বিদ্যমান রেওয়ায়াত শাস্ত্রের (علم الرواية) একটি দিকের ওপর আলোকপাত করে এবং মূলপাঠের প্রামাণ্যকরণ ও এর নির্ভুলতা নিশ্চিতকরণের (ضبط) ক্ষেত্রে উক্ত শাস্ত্রের প্রভাব তুলে ধরে।
আমি এই বিষয়বস্তু উপস্থাপনের ক্ষেত্রে গবেষণাপত্রটিকে বিভিন্ন অধ্যায় ও পরিচ্ছেদে বিভক্ত না করার ব্যাপারে সচেষ্ট ছিলাম, পাছে গবেষণাটি দীর্ঘায়িত হয় এবং এর বিভিন্ন দিক ডালপালা বিস্তার করে। এছাড়া আমি মূলপাঠ ও আছার (آثار) সমূহের বিস্তারিত তাকরীজ (تخريج) বা উৎসনির্দেশ করিনি, কারণ গবেষণাপত্র প্রকাশের শর্তাবলী একটি নির্দিষ্ট পৃষ্ঠা সংখ্যার ওপর নির্ভরশীল ছিল।
আমি মহান আল্লাহর নিকট তাওফিক ও সঠিক পথের প্রার্থনা করছি, তাঁর কাছেই সাহায্য চাই এবং তাঁর ওপরই আমার ভরসা। তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট এবং কতই না চমৎকার কর্মবিধায়ক। আল্লাহ তাআলা আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার ও সকল সঙ্গীর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।
(খণ্ড: ১)
আল-মুদাব্বাজ ওয়া রিওয়ায়াতুল আক রান
(পৃষ্ঠা: ১৭)
المدبج
تعريفة…أولاً: تعريف المُدبَّج:
أ- المدبَّج لُغَةً: اسم مفعول من التَّدْبِيْج، بمعنى التَّزيين.
والمُدَبَّجُ: المُزَيَّن، ودِيبَاجَةُ الوجهِ وَدِيباجُهُ: حُسن بشرتهِ، وكأنَّ المُدَبَّج سُمِّيَ بذلكَ لتساوي الرَّاوي والمَرْوِي عنهُ، كما يتساوى الخدَّانِ.
ورجلٌ مُدَبَّجٌ: قبيحُ الوجهِ والهامة والخِلقةِ1.
ب- المُدبَّجُ اصطلاحاً: أنْ يَرْوي القَرينان كُلُّ واحدٍ منهما عن صاحبه2.
شرحُ التَّعريفِ:
قال الإمامُ العراقيُّ: ما المناسبة المُقتضية لتسمية هذا النَّوع بالمُدَبَّجِ وَمن أيٍّ شيءٍ اشتقاقه،؟
لم أرَ مَن تَعَرَّضَ لذلكَ، إلَاّ أنَّ الظَّاهرَ أنَّهُ سُمِّيّ بهِ لِحُسنهِ، لأنَّهُ لُغةً: المُزَيَّنُ، قال صاحبُ (المُحكم) : الدَّبْجُ: النَّقشُ والتَّزيينُ، فارسيٌّ مُعرَّبٌ.
قال: ودِيباجةُ الوجهِ حُسنُ بشرتهِ، ومنهُ تسمية ابنُ مسعودٍ رضي الله عنه الحَواميم ديباج القرءان.
والرِّواية كذلكَ إنَّما تقعُ لنُكتةٍ يعدلُ فيها عن العُلوِّ إلى المُساواة، أو النُّزول لأجل ذلك فحصل للإسنادِ بذلكَ تحسينٌ وتزيين.
--------------------------------------------
আল-মুদাব্বাজ (المدبج)
এর সংজ্ঞা…প্রথমত: মুদাব্বাজ (المُدَبَّج)-এর সংজ্ঞা:
ক- আভিধানিক অর্থ: মুদাব্বাজ শব্দটি 'তাদবীজ' (التدبيج) থেকে উদ্ভূত কর্মবাচক বিশেষ্য, যার অর্থ সুশোভিত করা।
আর 'মুদাব্বাজ' (المُدَبَّج) অর্থ হলো সুশোভিত। চেহারার 'দীবাজাহ' বা 'দীবাজ' বলতে এর চামড়ার সৌন্দর্যকে বোঝায়। সম্ভবত এই প্রকারের হাদিসকে এই নামে নামকরণ করা হয়েছে রাবী এবং যার থেকে বর্ণনা করা হচ্ছে—এই উভয়ের সমপর্যায়ের হওয়ার কারণে, যেমনভাবে চেহারার দুই গাল সমান হয়ে থাকে।
আবার 'মুদাব্বাজ' ব্যক্তি বলতে এমন ব্যক্তিকে বোঝায় যার চেহারা, মাথা ও শারীরিক গঠন কদর্য।১
খ- পারিভাষিক অর্থ: মুদাব্বাজ (المُدَبَّج) হলো যখন দুই সমসাময়িক বা সমপর্যায়ের বর্ণনাকারী (القرينان) একে অপরের থেকে বর্ণনা করেন।২
সংজ্ঞার ব্যাখ্যা:
ইমাম ইরাকি বলেন: এই প্রকারের হাদিসকে মুদাব্বাজ (المُدَبَّج) হিসেবে নামকরণ করার যৌক্তিকতা কী এবং এটি কিসের থেকে উদ্ভূত?
আমি কাউকে এই বিষয়ে আলোচনা করতে দেখিনি, তবে বাহ্যত মনে হয় এর সৌন্দর্যের কারণেই এই নামকরণ করা হয়েছে। কেননা আভিধানিকভাবে এর অর্থ হলো সুশোভিত। 'আল-মুহকাম' গ্রন্থের লেখক বলেন: 'আদ-দাবজ' (الدبج) অর্থ হলো নকশা ও অলংকরণ; এটি একটি আরবীকরণকৃত ফারসি শব্দ।
তিনি আরও বলেন: চেহারার 'দীবাজাহ' বলতে এর চামড়ার সৌন্দর্য বোঝায়। এই অর্থ থেকেই ইবনে মাসউদ (রা.) 'হা-মীম' যুক্ত সূরাগুলোকে 'কুরআনের দীবাজ' বা অলংকার বলে অভিহিত করেছেন।
অনুরূপভাবে, এই জাতীয় বর্ণনা মূলত এমন কোনো সূক্ষ্ম কারণে ঘটে থাকে যার জন্য বর্ণনাকারী উচ্চ সনদ (العلو) থেকে সরে এসে সমপর্যায়ের সনদ (المساواة) বা নিম্ন সনদ (النزول) গ্রহণ করেন। ফলে এর মাধ্যমে সনদের (الإسناد) ক্ষেত্রে একটি বিশেষ সৌন্দর্য ও অলংকরণ অর্জিত হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুদাব্বাজ ওয়া রিওয়ায়াতুল আক রান
(পৃষ্ঠা: ১৮)
قال: ويحتملُ أنهُ سمُّيَ بذلكَ لنزولِ الإسنادِ، فإنَّهما إن كانا قرينينِ نزل كل منهما درجة، وإن كان من رواية الأكابر عن الأصاغر نزل درجتين، وقد روينا عن يحيى بن مَعينٍ قال: الإسنادُ النَّازلُ قُرحة في الوجهِ.
وروينا عن عليِّ ابن المَدينيِّ، وأبي عَمْروٍ المُسْتَمْليِّ قالا: النُّزولُ شؤم. فعلى هذا لا يكونُ المُدَبَّجُ مدحاً لهُ ويكونُ ذلكَ من قولِهِم: رجلٌ مُدَبَّجٌ، قبيحُ الوجهِ والهامةِ، حكاهُ صاحبُ (المُحكم) .
قال العراقيُّ: وفيهِ بُعدٌ، والظَّاهرُ إنَّما هو مدحٌ لهذا النَّوع.
قال: ويحتمل أن يُقالَ: إنَّ القرينين الواقعينِ في المُدَبَّجِ في طبقةٍ واحدةٍ بمنزلةٍ واحدةٍ، فشبها بالخدَّينِ، فإنَّ الخدَّينِ يقالُ لهما: الدِّيباجتان، كما قاله صاحبُ (المحكم) و (الصّحاح) .
قال: وهذا المعنى يتَّجهُ على ما قاله الحاكم، وابنُ الصَّلاحِ: أنَّ المُدَبَّجَ مُختصٌ بالقرينينِ.
قال السَّخاويُّ: وبذلك سَمَّاهُ الدَّارَقُطْنِيُّ أخذاً مِن دِيباجَتي الوجه، وهما متحدان لتساويهما وتقابلهما1.
قال الحاكم النَّيْسَابوريُّ: رواية الأقران مِنَ التَّابعينَ وأتباع التَّابعينَ وَمَن بعدهم مِن علماء المسلمينَ، ورواية بعضهم عن بعضٍ، وهذا النَّوع منه غير
--------------------------------------------
তিনি বলেন: এটি সম্ভব যে, সনদের নিম্নমুখিতার (نزول الإسناد) কারণে এর নামকরণ এমন করা হয়েছে। কারণ, তারা দুজন যদি সমসাময়িক (قرينين) হন, তবে তাদের প্রত্যেকের বর্ণনা এক স্তর নিচে নেমে যায়। আর যদি তা ছোটদের থেকে বড়দের বর্ণনা (رواية الأكابر عن الأصاغر) হয়, তবে তা দুই স্তর নিচে নেমে যায়। আমাদের নিকট ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন: নিম্নমুখী সনদ (الإسناد النازل) হলো মুখমণ্ডলের ক্ষতচিহ্ন।
আমাদের নিকট আলি ইবনুল মাদিনি এবং আবু আমর আল-মুস্তামলি থেকে বর্ণিত হয়েছে, তাঁরা বলেন: সনদের নিম্নমুখিতা (النزول) দুর্ভাগ্যের বিষয়। এই মতানুসারে, মুদাব্বাজ (المُدَبَّج) দ্বারা প্রশংসা করা উদ্দেশ্য নয়। বরং এটি তাদের সেই কথা থেকে এসেছে: "রজুলুন মুদাব্বাজ" অর্থাৎ কুৎসিত মুখ ও মস্তক বিশিষ্ট ব্যক্তি। আল-মুহকাম গ্রন্থের লেখক এটি বর্ণনা করেছেন।
আল-ইরাকি বলেন: এতে দূরবর্তী সম্ভাবনা রয়েছে। বরং প্রকাশ্যত (الظاهر) এটি এই প্রকারের প্রশংসা স্বরূপ।
তিনি বলেন: এমনটিও বলা সম্ভব যে, মুদাব্বাজ (المُدَبَّج) বর্ণনায় বিদ্যমান দুইজন সমসাময়িক (القرينين) ব্যক্তি একই স্তরে ও একই মর্যাদায় হওয়ার কারণে তাদেরকে গালের দুই পার্শ্বের সাথে তুলনা করা হয়েছে। কেননা গালের দুই পাশকে "দিবাজাতান" (الديباجتان) বলা হয়, যেমনটি আল-মুহকাম এবং আস-সিহাহ গ্রন্থের লেখক বলেছেন।
তিনি বলেন: এই অর্থটি আল-হাকিম এবং ইবনুস সালাহ-এর মতানুসারে সংগতিপূর্ণ যে, মুদাব্বাজ (المُدَبَّج) কেবল দুইজন সমসাময়িক (القرينين) ব্যক্তির বর্ণনার সাথেই সংশ্লিষ্ট।
আস-সাখাভি বলেন: আদ-দারা কুতনিও মুখমণ্ডলের দুই পার্শ্বের (দিবাজাহ) সাথে তুলনা করে এর নামকরণ মুদাব্বাজ করেছেন। কেননা সেই অংশ দুটি সমান ও সমান্তরাল হওয়ার কারণে পরস্পর সদৃশ।
আল-হাকিম আন-নিশাপুরি বলেন: তাবিঈন (التابعين), তাবি-তাবিঈন (أتباع التابعين) এবং পরবর্তী যুগের মুসলিম আলেমদের মধ্য থেকে সমসাময়িকদের বর্ণনা (رواية الأقران) এবং একে অপরের থেকে বর্ণনা করা; আর এই প্রকারটি ভিন্ন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুদাব্বাজ ওয়া রিওয়ায়াতুল আক রান
(পৃষ্ঠা: ১৯)
رواية الأكابر عن الأصاغر. وإنَّما القرينان إذا تقاربَ سِنُّهما وإسنادهما وهو على ثلاثة أجناسٍ:
فالجنس الأول منه الذي سَمَّاهُ بعض مشايخنا المُدَبَّج، وهو أن يروي قرينٌ عن قرينهِ، ثُمَّ يروي ذلك القَرين عنه، فهو المُدَبَّج.
বড়দের ছোটদের নিকট থেকে বর্ণনা (رواية الأكابر عن الأصاغر)। আর সমসাময়িক (القرينان) কেবল তখনই হয় যখন তাদের বয়স ও সনদ (إسناد) কাছাকাছি হয়; আর এটি তিন প্রকার:
প্রথম প্রকারটি হলো যাকে আমাদের কোনো কোনো শায়খ মুদাব্বাজ (المُدَبَّج) নামে অভিহিত করেছেন। আর তা হলো একজন সমসাময়িক ব্যক্তি (قرين) তার সমসাময়িক (قرينه) অপর ব্যক্তির নিকট থেকে বর্ণনা করা, অতঃপর সেই সমসাময়িক ব্যক্তি (القَرين) পুনরায় তার থেকে বর্ণনা করা; আর এটিই হলো মুদাব্বাজ (المُدَبَّج)।
(খণ্ড: ১)
আল-মুদাব্বাজ ওয়া রিওয়ায়াতুল আক রান
(পৃষ্ঠা: ১৯)
امثلة المدبج…مثاله في الصَّحابة:
أخرج الحاكم بسندهِ: عن أبي هُريرة، عن عائشةَ رضي الله عنها قال: فقدتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم ذات ليلةٍ مِنَ الفِراشِ، فجعلتُ أطلبهُ بيدي فوقَعت يدي على باطن قدميه وهما مَنصوبتان، فسمعتهُ يقولُ: "اللَّهُمَّ إنِّي أعوذُ برحمتكَ مِن سَخَطِكَ، وأعوذُ بِمُعافَاتِكَ مِن عقوبَتِكَ، وأعوذُ بِكَ مِنْك لا أُحْصي ثناءً عليك أنت كما أَثْنَيْتَ على نَفْسِكَ".
قال أبو عبْدِ اللَّهِ: وقد روت عائشةُ عن أبي هُريرةَ وسألتهُ عن حديثهِ.
وأخرج الحاكم بسنده: عن علقمةَ أنَّ عائشَةَ قالت لأبي هُريرةَ: أنت حَدَّثت عن رسولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: أنَّ امرأةً عُذِّبت في هِرَّةٍ؟ فقال: سمعتُ رسولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يقولُ ذلك الحديث1.
مثال آخر: قال الحاكم: عن جابر عن ابنِ عَبَّاسٍ أنَّ النَّبيَّ صلى الله عليه وسلم قال: "يدخُلُ الجَنَّةَ مَن بايعَ تحتَ الشَّجَرَة إلَاّ صاحِب الجمل الأحمر".
قال أبو عبدِ اللَّهِ: وقد رويَ عن عبدِ اللَّهِ بنِ عبَّاسٍ، عن جابرٍ.
--------------------------------------------
মুদাব্বাজ (المدبج)-এর উদাহরণসমূহ…সাহাবীদের (الصحابة) মধ্যে এর উদাহরণ:
ইমাম হাকিম স্বীয় সনদ (سند)-এর মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন: আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "এক রাতে আমি বিছানায় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে হারিয়ে ফেললাম (খুঁজে পাচ্ছিলাম না)। তখন আমি হাত দিয়ে তাঁকে খুঁজতে লাগলাম, হঠাৎ আমার হাত তাঁর দুই পায়ের পাতার ওপর পড়ল, যা তখন খাড়া অবস্থায় ছিল। আমি তাঁকে বলতে শুনলাম: 'হে আল্লাহ! আমি আপনার সন্তুষ্টির মাধ্যমে আপনার অসন্তুষ্টি হতে আশ্রয় চাচ্ছি, আপনার ক্ষমার মাধ্যমে আপনার শাস্তি হতে আশ্রয় চাচ্ছি এবং আপনার নিকট আপনারই আশ্রয় চাচ্ছি। আমি আপনার প্রশংসা গণনা করে শেষ করতে পারব না; আপনি তেমন, যেমন আপনি নিজের প্রশংসা করেছেন'।"
আবু আব্দুল্লাহ বলেন: আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা (روى) করেছেন এবং তিনি তাকে তাঁর হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছেন।
ইমাম হাকিম স্বীয় সনদ (سند)-এর মাধ্যমে আলকামা থেকে বর্ণনা করেন যে, আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) আবু হুরায়রাকে বলেছিলেন: "আপনি কি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে: এক নারীকে একটি বিড়ালের কারণে শাস্তি দেওয়া হয়েছিল?" তিনি বললেন: "আমি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সেই হাদিসটি বলতে শুনেছি।"
অন্য একটি উদাহরণ: ইমাম হাকিম বর্ণনা করেছেন: জাবির (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "লাল উটের মালিক ব্যতীত গাছের নিচে বাইআত গ্রহণকারী সকলেই জান্নাতে প্রবেশ করবে।"
আবু আব্দুল্লাহ বলেন: এটি আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস থেকেও জাবির (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সূত্রে বর্ণিত (روي) হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুদাব্বাজ ওয়া রিওয়ায়াতুল আক রান
(পৃষ্ঠা: ২০)
وأخرج الحاكم بسنده: عن ابنِ عبَّاسٍ، قال: حَدَّثني جابرُ بنُ عبدِاللَّهِ أنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قرأَ: {وإذَا سَأَلَكَ عِبادي عَنِّي فإنِّي قريبٌ أُجيبُ دَعوةَ الدَّاعِ إذا دَعان} الآية. قال صلى الله عليه وسلم: "اللَّهُم أمرتَ بالدُّعاءِ وتكفَّلتَ بالإجابةِ، لبيكَ لبيكَ لا شريكَ لكَ لبيكَ إنَّ الحَمْدَ والنِّعْمَةَ لكَ والمُلْكْ، لا شَريكَ لَكْ" 1.
قال أبو عبدِا للَّهِ: ومثالُ ذلكَ في التَّابعين.
وأخرج بسنده عن: الزُّهريِّ، قال: أخبرني عُمَرُ بنُ عبدِ العزيزِ بن مروان أنَّ إبراهيمَ بنَ عَبْدِ اللَّه بن قَارظ الزُّهريَّ أخبرهُ أنَّهُ وجدَ أبا هُريرَةَ يتوضَّاُ على ظهرِ المسجِدِ، فقال أبو هريرةَ: إنَّما أتوضأ مِن أثوار أَقِط أكلتها لأنَّ النَّبيَّ صلى الله عليه وسلم قال: "توضؤا مِمَّ مَسَّت النَّارُ".
قال أبو عبدِاللَّهِ: وقد روى عمرُ بنُ عبدِالعزيز، عن الزُّهريِّ.
وأخرج بسنده عن: عمرَ بنِ عبدِالعزيز، عن الزُّهريِّ، عن سالم، عن أبيهِ قال: دعا رسولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يوَمَ النَّاس للبيعَةِ فجاءَ أبو سِنان بن مُحصِنٍ فقال: يارسول اللَّهِ، أبايعكَ على ما في نَفْسِكَ؟ قال:"وما في نَفْسِي؟ " قال: أضربُ بسيفي بينَ يَديكَ حتَّى يُظْهِرَكَ اللَّهُ، أو أُقتل. قال: فبايعهُ وبايع النَّاس على بيعَةِ أبي سِنان2.
قال أبو عبدِاللَّهِ: ومثالهُ في أتباع التَّابعين.
--------------------------------------------
ইমাম হাকেম তাঁর সনদে (بسنده) বর্ণনা (أخرج) করেছেন: ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) আমার নিকট বর্ণনা (حَدَّثني) করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পাঠ করলেন: {আর যখন আমার বান্দারা আমার সম্পর্কে আপনাকে জিজ্ঞাসা করে, তখন নিশ্চয়ই আমি নিকটবর্তী। আমি আহ্বানকারীর আহ্বানে সাড়া দেই যখন সে আমাকে আহ্বান করে}—এই আয়াত। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "হে আল্লাহ! আপনি দোয়ার নির্দেশ দিয়েছেন এবং কবুল করার দায়িত্ব নিয়েছেন। আমি হাজির (লাব্বাইক), আমি হাজির, আপনার কোনো শরিক নেই, আমি হাজির। নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা, নেয়ামত এবং রাজত্ব আপনারই; আপনার কোনো শরিক নেই।" ১।
আবু আব্দুল্লাহ বলেন: আর এর উদাহরণ তাবেয়ীদের (التابعين) ক্ষেত্রেও বিদ্যমান।
তিনি তাঁর সনদে (بسنده) বর্ণনা (أخرج) করেছেন: যুহরী থেকে, তিনি বলেন: ওমর ইবনে আব্দুল আজিজ ইবনে মারওয়ান আমাকে সংবাদ (أخبرني) দিয়েছেন যে, ইবরাহিম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে কারিজ আল-যুহরী তাঁকে সংবাদ (أخبره) দিয়েছেন যে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.)-কে মসজিদের ছাদে ওযু করতে দেখেছেন। তখন আবু হুরায়রা (রা.) বললেন: আমি কেবল পনিরের টুকরো খাওয়ার কারণে ওযু করছি, কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আগুন স্পর্শ করেছে এমন খাবার গ্রহণের ফলে ওযু করো।"
আবু আব্দুল্লাহ বলেন: ওমর ইবনে আব্দুল আজিজ যুহরী থেকে বর্ণনা (روى) করেছেন।
তিনি তাঁর সনদে (بسنده) বর্ণনা (أخرج) করেছেন: ওমর ইবনে আব্দুল আজিজ থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি সালেম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একদিন বায়আতের জন্য লোকজনকে আহ্বান করলেন। তখন আবু সিনান ইবনে মিহসান আসলেন এবং বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনার অন্তরে যা আছে তার ওপর কি আমি আপনার কাছে বায়আত হতে পারি? তিনি বললেন: "আমার অন্তরে কী আছে?" তিনি বললেন: আমি আপনার সামনে তলোয়ার চালিয়ে যুদ্ধ করব যতক্ষণ না আল্লাহ আপনাকে বিজয় দান করেন অথবা আমি শহীদ হই। বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর তিনি তাঁর বায়আত গ্রহণ করলেন এবং অন্যান্য লোকেরাও আবু সিনানের বায়আতের অনুরূপ বায়আত গ্রহণ করল। ২।
আবু আব্দুল্লাহ বলেন: আর এর উদাহরণ তبع-তাবেয়ীদের (أتباع التابعين) ক্ষেত্রেও বিদ্যমান।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুদাব্বাজ ওয়া রিওয়ায়াতুল আক রান
(পৃষ্ঠা: ২১)
وأخرج بسندهِ، عن: الأوزاعيّ عن مالك بنِ أنسٍ، عن أبي نُعيمٍ وهب ابن كيسان، عن عمرَ بنِ أبي سَلَمَةَ، قال: قال لي رسولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "ادن بُنيّ، فسمِّ اللَّهَ وكُل بيمينكَ، وكُل مِمَّا يلكَ".
قال أبو عبدِاللَّهِ: وقد روى مالكُ بنُ أنسٍ، عن الأوزاعِيِّ.
وأخرج بسندهِ عن: مالك بن أنسٍ قال: حدَّثني الأَوْزَاعِيُّ، عن الزُّهريُّ، عن عُرْوَةَ، عن عائشَةَ أنَّ رسولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قال: "إنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الرِّفقَ في الأمْرِ كُلِّهِ" 1.
قال أبو عبدِاللَّهِ: ومثالهُ في أتباع الأتباع.
وأخرج بسنده، عن: الإمام أحمد بنِ حَنْبَل قال: حدَّثني عبدُالرَّزاقِ، قال: ثنا عمرُ بنُ حَوْشَبٍ، قال: حدَّثني إسماعيلُ بنُ أُمَيَّةَ، عن أبيهِ، عن جَدِّهِ، قال: كان لهم غُلامٌ يُقال لهُ طَهمان، أو ذَكوان، قال: فأعتق جدُّهُ نصفهُ، قال: فجاء العبدُ إلى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فأخبرهُ، فقال النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: "يُعتق في عُنقك، ويُرقّ في رِقِّكَ"، فكان يخدم سيدهُ حتَّى مات.
قال أبو عبدِاللَّهِ: وقد حَدَّثَ عبدُالرَّزاق، عن أحمدَ بنِ حَنْبَل.
وأخرج بسنده عن: عبدُالرَّزاق، قال: حدَّثني أحمدُ بنُ حَنْبَل، عن الوليدِ ابنِ مُسلِمٍ، عن زيد بنِ واقدٍ، قال: سمِعْتُ نافِعاً مولى ابن عمر يقولُ: كان ابنُ عمرَ إذا رأى مُصَلِّياً لا يرفعُ يديهِ في الصَّلاةِ حصبهُ وأمرهُ أن يرفع يديه2.
--------------------------------------------
এবং তিনি তাঁর সনদ (سند) সহকারে আওযাঈ থেকে, তিনি মালিক ইবনে আনাস থেকে, তিনি আবু নুয়াইম ওয়াহাব ইবনে কায়সান থেকে, তিনি উমর ইবনে আবি সালামাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছেন: "হে বৎস, কাছে এসো, আল্লাহর নাম নাও, তোমার ডান হাত দিয়ে খাও এবং তোমার সামনের অংশ থেকে খাও।"
আবু আব্দুল্লাহ বলেন: মালিক ইবনে আনাসও আওযাঈ থেকে বর্ণনা করেছেন।
এবং তিনি তাঁর সনদ (سند) সহকারে মালিক ইবনে আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাকে আওযাঈ হাদিস শুনিয়েছেন (حدثني), তিনি যুহরি থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ সব কাজে কোমলতা পছন্দ করেন" ১।
আবু আব্দুল্লাহ বলেন: আর এর উদাহরণ হলো তাবি-তাবেঈদের (أتباع الأتباع) স্তরে।
এবং তিনি তাঁর সনদ (سند) সহকারে ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাকে আব্দুর রাজ্জাক হাদিস শুনিয়েছেন (حدثني), তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا) উমর ইবনে হাওশাব, তিনি বলেন: আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন (حدثني) ইসমাইল ইবনে উমাইয়াহ, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: তাদের একটি গোলাম ছিল যাকে তাহমান অথবা যাকওয়ান বলা হতো। বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর তার দাদা তার অর্ধেক অংশ মুক্ত করে দিলেন। তিনি বলেন: তখন গোলামটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে তাঁকে বিষয়টি জানাল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "সে তোমার জিম্মায় মুক্ত হবে এবং তোমার অধীনে দাসত্বে (رق) বহাল থাকবে।" ফলে সে তার মুনিবের খিদমত করত যতক্ষণ না তিনি মারা যান।
আবু আব্দুল্লাহ বলেন: আর আব্দুর রাজ্জাকও আহমাদ ইবনে হাম্বল থেকে হাদিস শুনিয়েছেন (حدث)।
এবং তিনি তাঁর সনদ (سند) সহকারে আব্দুর রাজ্জাক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাকে আহমাদ ইবনে হাম্বল হাদিস শুনিয়েছেন (حدثني), তিনি ওয়ালীদ ইবনে মুসলিম থেকে, তিনি যায়েদ ইবনে ওয়াকিদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইবনে উমরের মুক্ত দাস (مولى) নাফি'কে বলতে শুনেছি: ইবনে উমর যখন কোনো নামাজিকে দেখতেন যে সে সালাতে হাত তুলছে না, তখন তাকে ছোট পাথর ছুড়ে মারতেন এবং তাকে হাত তোলার নির্দেশ দিতেন ২।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুদাব্বাজ ওয়া রিওয়ায়াতুল আক রান
(পৃষ্ঠা: ২২)
قال أبو عبدِاللَّهِ: ومِثال ذلكَ في الطَّبقةِ الخامسة: حدَّثنا أبو عبدِاللَّهِ محمدُ بنُ يعقوبَ، قال: حدَّثنا يحيى بنُ محمدِ بن يحيى، قال: حدَّثنا أبي، قال: ثنا سعيدُ بنُ واصلٍ، قال ثنا شُعبةُ، عن عبدِاللَّهِ بنِ صُبيحٍ، عن محمدِ ابنِ سيرينَ، أنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، قال: "هذا خالي فمن شَاء منكم فليُخرج خالهُ" يعني أبا طلحةَ زوج أمّ سُلَيمٍ في الكرمِ قال هذا.
قال أبو عبدِاللَّهِ: وقد حدَّثَ محمدُ بنُ يحيى، عن ابنه يحيى بن محمدٍ بأحاديثَ.
حدَّثنا أبو عبدِاللَّه محمدُ بنُ يعقوبَ، قال: ثنا أبو عمرو المُسْتَمليُّ، قال: حدَّثنا محمدُ بنُ يحيى، قال: حدَّثني ابني أبو زكريا، قالَ: ثنا عبدُالرَّحمن بنُ المبارك العَيشيُّ، قال: حدَّثنا قريشُ بنُ حَيَّانَ، عن بكر بنِ وائلٍ، عن الزُّهريِّ، عن أبي عبدِاللَّهِ الأغَر، عن أبي هريرةَ، قال: لا تُكلموهم إذا أقبلوا، ولا تسبُّوهم إذا أدبروا، يعني السُّعاة1.
قال أبو عبدِاللَّهِ: ومثال ذلك في الطَّبقة السَّادسة: أخبرنا أبو بكرٍ محمدُ ابنُ داودَ بنِ سُليمانَ الزَّاهدُ، قال: حدَّثنا أحمدُ بنُ محمدِ بنِ سعيدٍ الكوفِيُّ، قال: حدَّثنا يعقوبُ بنُ يوسُفَ الضَّبِيُّ، قال: ثنا أبو جُنادةَ، عن عُبيدِاللَّهِ بنِ الحَسَنِ، عن ابنِ سيرينَ، عن أبي هريرةَ، قال: قال صلى الله عليه وسلم: "إحدى صَلاتي العِشَاء"، فذكَرَ الحديث.
قال أبو عبدِاللَّهِ: وقد روى أبو العَبَّاسِ بنُ عُقْدَةَ، عن شَيخِنا أبي بكرِ بن داودَ.
--------------------------------------------
আবু আব্দুল্লাহ বলেন: এবং পঞ্চম স্তরের (الطبقة) একটি উদাহরণ হলো: আমাদের নিকট বর্ণনা (حدثنا) করেছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা (حدثنا) করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা (حدثنا) করেছেন আমার পিতা, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা (حدثنا) করেছেন সাঈদ ইবনে ওয়াসিল, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা (حدثنا) করেছেন শু'বাহ, আব্দুল্লাহ ইবনে সাবিহ থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে সিরিন থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "ইনি আমার মামা; তোমাদের মধ্যে যার ইচ্ছা সে যেন তার মামাকে (সম্মান ও মর্যাদায়) উপস্থাপন করে।" অর্থাৎ উম্মে সুলাইমের স্বামী আবু তালহা সম্পর্কে তাঁর মহানুভবতার কারণে তিনি এ কথা বলেছিলেন।
আবু আব্দুল্লাহ বলেন: আর মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া তাঁর পুত্র ইয়াহইয়া ইবনে মুহাম্মদ থেকে বেশ কিছু হাদিস বর্ণনা (حدث) করেছেন।
আমাদের নিকট বর্ণনা (حدثنا) করেছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা (حدثنا) করেছেন আবু আমর আল-মুস্তামলি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা (حدثنا) করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা (حدثني) করেছেন আমার পুত্র আবু জাকারিয়া, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা (حدثنا) করেছেন আব্দুর রহমান ইবনুল মুবারক আল-আইশি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা (حدثنا) করেছেন কুরাইশ ইবনে হাইয়ান, বকর ইবনে ওয়ায়িল থেকে, তিনি যুহরি থেকে, তিনি আবু আব্দুল্লাহ আল-আগার থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "তারা যখন আসবে তখন তাদের সাথে মন্দ কথা বলো না এবং তারা যখন ফিরে যাবে তখন তাদের গালি দিও না।" অর্থাৎ জাকাত আদায়কারী (السعاة) কর্মচারীগণ।
আবু আব্দুল্লাহ বলেন: এবং ষষ্ঠ স্তরের (الطبقة) উদাহরণ হলো: আমাদের সংবাদ (أخبرنا) দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে দাউদ ইবনে সুলাইমান আজ-জাহিদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা (حدثنا) করেছেন আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ আল-কুফি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা (حدثنا) করেছেন ইয়াকুব ইবনে ইউসুফ আদ-দব্বি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা (حدثنا) করেছেন আবু জুনাহদাহ, উবাইদুল্লাহ ইবনুল হাসান থেকে, তিনি ইবনে সিরিন থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "এশার দুই সালাতের একটিতে...", এরপর তিনি বাকি হাদিস উল্লেখ করেন।
আবু আব্দুল্লাহ বলেন: আবু আব্বাস ইবনে উকদাহ আমাদের শায়খ আবু বকর ইবনে দাউদ থেকে বর্ণনা (روى) করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুদাব্বাজ ওয়া রিওয়ায়াতুল আক রান
(পৃষ্ঠা: ২৩)
حَدَّثني أبو ذَرّ بن المنذِرِ المُفيدُ بالكوفةِ، قال: حدَّثنا أبو العبَّاسِ بنُ سعيدٍ، قال: حدَّثنا أبو بكرٍ محمدُ بنُ داودَ النَّيْسَابُوريُّ، قال: حدَّثنا يحيى بنُ أحمدَ بنِ زيادٍ، قال: حدَّثنا خالدُ بنُ الهَيَّاجِ، عن أبيهِ، عن مِسْعَرٍ، عن وَبرةَ، عن ابنِ عمرَ: أنَّ النَّبيَّ صلى الله عليه وسلم صلَّى في البيتِ.
قال أبو عبدِاللَّهِ: هذا الذي ذكرتُهُ الجنس الأوَّلُ، مِنَ الأقرانِ، وهو الذي سمَّاهُ بعض مشايخنا المُدَبَّج1.
ومن أمثلة المُدَبَّجِ: في الصَّحابةِ: أبو هريرة، وعائشة، روى كلٌ منهما عن الآخر.
وفي التَّابعين: الزُّهريّ، عن أبي الزُّبير، وأبو الزُّبيرعن الزُّهرِيِّ، والزُّهريّ عن عمر بن عبد العزيز، وعمر بن عبد العزيز عن الزُّهريِّ.
وفي أتباعهم: مالك، عن الأوزاعيّ، والأوزاعيُّ عن مالكٍ.
وفي أتباع التَّابعينَ: أحمد، عن ابن المدينيّ، وابن المدينيّ عن أحمد، مع نزاع في كونهما قرينينِ.
قال السَّخاويّ: وفي المُتأخرينَ: المِزِّيّ2، والبِرْزاليّ3، وشيخنا4، والتَّقيّ
--------------------------------------------
কুফায় অবস্থানরত আবু যার ইবনে আল-মুনজির আল-মুফিদ আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবুল আব্বাস ইবনে সাঈদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে দাউদ আল-নিসাবুরি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে আহমদ ইবনে জিয়াদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: খালিদ ইবনে আল-হাইয়াজ তাঁর পিতা থেকে, তিনি মিসআর থেকে, তিনি ওয়াবরাহ থেকে, তিনি ইবনে ওমর থেকে বর্ণনা করেছেন যে: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরের ভেতর সালাত আদায় করেছেন।
আবু আব্দুল্লাহ বলেন: এটি যা আমি উল্লেখ করেছি তা সমসাময়িকদের (الأقران) প্রথম প্রকারের অন্তর্ভুক্ত, আর এটিকেই আমাদের কোনো কোনো শায়খ মুদাব্বাজ (المُدَبَّج) ১ হিসেবে নামকরণ করেছেন।
আর মুদাব্বাজ (المُدَبَّج)-এর উদাহরণসমূহের মধ্যে রয়েছে: সাহাবীগণের মধ্যে: আবু হুরায়রা এবং আয়িশা, তাঁদের প্রত্যেকেই একে অপরের থেকে বর্ণনা করেছেন।
এবং তাবিঈগণের (التَّابعين) মধ্যে: জুহরি আবু জুবায়ের থেকে, আর আবু জুবায়ের জুহরি থেকে; এবং জুহরি ওমর ইবনে আব্দুল আজিজ থেকে, আর ওমর ইবনে আব্দুল আজিজ জুহরি থেকে।
এবং তাঁদের অনুসারীদের (أتباعهم) মধ্যে: মালিক আওজায়ি থেকে, আর আওজায়ি মালিক থেকে।
এবং তাবে-তাবিঈগণের অনুসারীদের (أتباع التَّابعينَ) মধ্যে: আহমাদ ইবনে মাদিনি থেকে এবং ইবনে মাদিনি আহমাদ থেকে বর্ণনা করেছেন, যদিও তাঁদের দুজনকে সমসাময়িক (قرينينِ) গণ্য করার ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে।
সাখাভি বলেন: আর পরবর্তী যুগের আলেমদের (المُتأخرينَ) মধ্যে: মিজ্জি ২, বিরজালি ৩, আমাদের শায়খ ৪ এবং তাকি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুদাব্বাজ ওয়া রিওয়ায়াতুল আক রান
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الفَاسيّ1 كذلك2.
--------------------------------------------
আল-ফাসি1 তদ্রূপ2।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুদাব্বাজ ওয়া রিওয়ায়াতুল আক রান
(পৃষ্ঠা: ২৪)
رواية الأقران
تعريفة…ثانياً: روايةُ الأقران:
تعريفُ الأَقران:
أ- لغة: الأقْرَانُ جمعُ قَرِين، بمعنى المُصَاحِب3.
والاقْتِرَانُ: كالازْدِواج في كونهِ اجتماعَ شَيْئَيْنِ أو أشياءَ في مَعْنًى مِنَ المَعاني4.
والقَرْنُ: أهلُ كلّ زمان، وهو مِقْدار التَّوسُّط في أعمار أهل كلّ زمانٍ، مأخوذٌ مِنَ الاقترانِ، وكأنَّهُ المِقْدَار الذي يَقْتَرِنُ فيهِ أهل ذلكَ الزَّمان في أعمارهم وأحوالهم5.
ب- اصطلاحاً: هم المُتقاربونَ في السِّنِّ، والإسنادِ6.
--------------------------------------------
সমসাময়িকদের বর্ণনা (رواية الأقران)
সংজ্ঞা…দ্বিতীয়ত: সমসাময়িকদের বর্ণনা (رواية الأقرান):
সমসাময়িক (أقران)-এর সংজ্ঞা:
ক- আভিধানিক দৃষ্টিকোণ (لغة): 'আল-আকরান' (الأقران) শব্দটি 'কারিন' (قرين)-এর বহুবচন, যার অর্থ সহচর (مصاحب) ৩।
আর 'আল-ইকতিরান' (الاقتران): এটি মিলন বা জোড় বাঁধার মতো, যা কোনো বিশেষ অর্থে দুই বা ততোধিক বিষয়ের একত্রে সমবেত হওয়াকে বোঝায় ৪।
আর 'আল-কারন' (القرن): প্রত্যেক যুগের অধিবাসী। এটি প্রত্যেক যুগের মানুষের গড় আয়ুর একটি পরিমাপ, যা 'আল-ইকতিরান' (الاقتران) শব্দ থেকে গৃহীত। যেন এটি এমন এক সময়কাল যাতে ওই যুগের মানুষেরা তাদের বয়স ও অবস্থার দিক থেকে পরস্পরের সংশ্লিষ্ট (يقترن) থাকে ৫।
খ- পারিভাষিক দৃষ্টিকোণ (اصطلاحاً): তাঁরা হলেন ওই সকল ব্যক্তি যাঁরা বয়সে এবং সনদে (إسناد) পরস্পরের নিকটবর্তী ৬।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুদাব্বাজ ওয়া রিওয়ায়াতুল আক রান
(পৃষ্ঠা: ২৫)
شَرْحُ التَّعريف:
إذَا تماثلَ، أو تقاربَ الرُّواة في الأعمارِ والإسنادِ، أي في الأخذِ عن الشُّيوخِ، حصلت المُقارنة، وإن تفاوتوا في الأعمارِ1.
وقال الحافظُ ابنُ حجرٍ: فإن تشاركَ الرَّاوي وَمَن روى عنهُ في أمرٍ مِنَ الأمورِ المُتعلِّقةِ بالرِّوايةِ مثل: السِّن، واللّقي، وهو الأخذُ عن المشايخِ، فهو النَّوع الذي يُقالُ لهُ: رواية الأقرانِ، لأنَّهُ حينئذٍ يكونُ راوياً عن قرينه2.
--------------------------------------------
সংজ্ঞার ব্যাখ্যা:
যখন বর্ণনাকারীগণ (الرواة) বয়স এবং সনদ (الإسناد)-এর ক্ষেত্রে অর্থাৎ শায়খদের (الشيوخ) নিকট থেকে হাদিস গ্রহণের ক্ষেত্রে সমপর্যায়ভুক্ত বা কাছাকাছি হন, তখন তাদের মধ্যে পারস্পরিক সংশ্লিষ্টতা তৈরি হয়, যদিও তাদের বয়সে কিছুটা পার্থক্য থাকে।১
হাফিজ ইবনে হাজার বলেন: যদি বর্ণনাকারী এবং যার থেকে তিনি বর্ণনা করছেন, তারা বর্ণনাসংশ্লিষ্ট কোনো বিষয়ে পরস্পর অংশীদার হন, যেমন: বয়স এবং সাক্ষাৎ (اللقي)—যা মূলত শায়খদের (الشيوخ) নিকট থেকে গ্রহণ—তবে এটি সেই প্রকার যাকে বলা হয়: সমসাময়িকদের বর্ণনা (رواية الأقران), কারণ সেক্ষেত্রে তিনি তার সমসাময়িক (قرينه) থেকে বর্ণনা করছেন।২
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুদাব্বাজ ওয়া রিওয়ায়াতুল আক রান
(পৃষ্ঠা: ২৫)
من
أمثلة رواية الأقران:ومثالهُ: ما أخرجه الحاكم بسنده من طريق: المُعْتَمِر بن سُليمانَ، عن أبيه، عن مِسْعَر، عن أبي بكر بنِ حفص، عن عبدِاللَّهِ بنِ الحَسَنِ، عن عبدِاللَّهِ بنِ جَعفرٍ، قال في شأن هؤلاءِ الكلمات: "لا إلهَ إلَاّ اللَّه الحَليمُ الكريمُ، سبحان اللَّه ربّ العرش العظيم، الحمدُ للَّهِ رَبِّ العالمين، اللَّهم اغفر لي، اللَّهم ارحمني، اللَّهم تجاوز عنِّي، اللَّهم اعف عنِّي فإنَّكَ عفوٌّ غفور"، قال عبدُاللَّهِ بنُ جعفرٍ: أخبرني عمِّي أنَّ رسولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم علَّمهُ هؤلاء الكلمات.
قال أبو عبدِاللَّه: مِسْعَرُ وسُليمان التَّيْمِيّ قرينان إلَاّ أنِّي لا أحفظ لِمِسْعَر عنهُ رواية3.
--------------------------------------------
সমসাময়িকদের বর্ণনার (رواية الأقران)
উদাহরণসমূহের অন্তর্ভুক্ত:আর এর উদাহরণ হলো: যা আল-হাকিম তাঁর সনদ (سند) সহ মুতামির বিন সুলাইমান, তাঁর পিতা থেকে, তিনি মিসআর থেকে, তিনি আবু বকর বিন হাফস থেকে, তিনি আবদুল্লাহ বিন আল-হাসান থেকে এবং তিনি আবদুল্লাহ বিন জাফর থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি এই বাক্যগুলোর ব্যাপারে বলেন: "সহিষ্ণু ও দয়ালু আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, মহা আরশের অধিপতি আল্লাহ অতি পবিত্র, সকল প্রশংসা সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহর জন্য। হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন, হে আল্লাহ! আমার প্রতি দয়া করুন, হে আল্লাহ! আমার অপরাধগুলো মার্জনা করুন, হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন, নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।" আবদুল্লাহ বিন জাফর বলেন: "আমার চাচা আমাকে অবহিত করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে এই বাক্যগুলো শিখিয়েছেন।"
আবু আবদুল্লাহ বলেন: মিসআর এবং সুলাইমান আত-তাইমি হলেন সমসাময়িক (قرينان), তবে সুলাইমান থেকে মিসআরের কোনো বর্ণনা (رواية) আমার জানা নেই।৩
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুদাব্বাজ ওয়া রিওয়ায়াতুল আক রান
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وأخرج الحاكمُ بسندهِ، عن: زائدة، عن زهير، عن أبي إسحاقَ، عن عمرو بنِ ميمون، عن عبدِاللَّهِ: أنَّ النَّبيَّ صلى الله عليه وسلم كانَ إذَا دَعا دَعا ثلاثاً.
قال أبو عبدِاللَّهِ: زائدة بن قُدامةَ، وزهير بن مُعاويةَ قرينان، إلَاّ أنِّي لا أحفظ لزهير عنهُ رواية1.
وأخرج الحاكم بسندهِ، عن: ابنِ الهاد، عن إبراهيمَ بن سَعْدٍ، عن أبيهِ، عن أبي أُسامةَ، عن عائشةَ، عن النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قال: "قد كانَ يكونُ في الأُممِ مُحَدَّثونَ، فإنْ يَكُنْ في أُمَّتي أحدٌ فعمر بن الخَطَّابِ".
قال أبو عبد اللَّهِ: يزيد بن عبدِاللَّه بن أُسامةَ بن الهاد، وإن كانَ أسند وأقدم مِن إبراهيمَ بن سعدٍ فإنَّهما في أكثر الأسانيد قرينان، ولا أحفظ لإبراهيمَ ابنِ سَعْدٍ عنهُ رواية2.
وأخرجِ الحاكمُ بسنده عن: سُليمان بن طَرْخَانَ، عن رَقَبَةَ بنِ مَصْقَلَةَ، عن أبي إسحاقَ، عن سعيدِ بنِ جُبيرٍ، عن ابنِ عَبَّاسٍ، قال: ذَكر رسولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الغُلام الذي قتلهُ الخُضر، فقال: "طُبعَ كافراً".
قال أبو عَبْدِاللَّهِ: سليمان بن طَرْخانَ، ورقبة بن مَصْقَلَةَ قرينان، ولا أحفظُ لرقبةَ عنهُ رواية، فقد جعلتُ هذهِ الأحاديثَ مثالاً لمعرفة الأقرانِ، وأنَّه غير رواية الأكابر عن الأصاغر3.
--------------------------------------------
ইমাম আল-হাকিম তাঁর সনদ (سند)-এর মাধ্যমে যাঈদা থেকে, তিনি যুহাইর থেকে, তিনি আবু ইসহাক থেকে, তিনি আমর ইবনে মাইমুন থেকে এবং তিনি আবদুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন দোয়া করতেন, তখন তিনবার দোয়া করতেন।
আবু আবদুল্লাহ (আল-হাকিম) বলেন: যাঈদা ইবনে কুদামা এবং যুহাইর ইবনে মুয়াবিয়া হলেন সমসাময়িক (قرينان), তবে যুহাইরের পক্ষ থেকে তাঁর থেকে কোনো বর্ণনা (رواية) আমার স্মরণে নেই।
ইমাম আল-হাকিম তাঁর সনদ (سند)-এর মাধ্যমে ইবনুল হাদ থেকে, তিনি ইব্রাহিম ইবনে সাদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু উসামা থেকে এবং তিনি আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই পূর্ববর্তী উম্মতগণের মাঝে ইলহামপ্রাপ্ত ব্যক্তিগণ (محدثون) ছিলেন; যদি আমার উম্মতে এমন কেউ থাকেন, তবে তিনি হলেন উমর ইবনুল খাত্তাব।"
আবু আবদুল্লাহ বলেন: ইয়াজিদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উসামা ইবনুল হাদ, যদিও তিনি ইব্রাহিম ইবনে সাদের চেয়ে অধিক সনদসমৃদ্ধ (أسند) এবং অগ্রজ, তবুও অধিকাংশ সনদে (أسانيد) তাঁরা সমসাময়িক (قرينان)। আর ইব্রাহিম ইবনে সাদের পক্ষ থেকে তাঁর থেকে কোনো বর্ণনা (رواية) আমার স্মরণে নেই।
ইমাম আল-হাকিম তাঁর সনদ (سند)-এর মাধ্যমে সুলাইমান ইবনে তারখান থেকে, তিনি রাকাবা ইবনে মাসকালা থেকে, তিনি আবু ইসহাক থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে জুবাইর থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খিজির কর্তৃক নিহত বালকটির কথা উল্লেখ করে বললেন: "তাকে কাফির হিসেবেই সৃষ্টি করা হয়েছিল।"
আবু আবদুল্লাহ বলেন: সুলাইমান ইবনে তারখান এবং রাকাবা ইবনে মাসকালা হলেন সমসাময়িক (قرينان), রাকাবার পক্ষ থেকে তাঁর থেকে কোনো বর্ণনা (رواية) আমার স্মরণে নেই। আমি সমসাময়িকদের পরিচিতি (معرفة الأقرান) সংক্রান্ত বিষয়ের উদাহরণের জন্য এই হাদিসগুলো উপস্থাপন করেছি, আর এটি বড়দের পক্ষ থেকে ছোটদের থেকে বর্ণনা করার (رواية الأكابر عن الأصاغر) বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুদাব্বাজ ওয়া রিওয়ায়াতুল আক রান
(পৃষ্ঠা: ২৭)
قال السَّخاويُّ: روى كلّ من الثَّوريِّ، ومالك بن مِغْوَلٍ، عن مِسْعَرٍ، وهم أقران، والأعمشِ، عن التَّيْمِيِّ، وهما قَرينان، والزَّين رضوان، عن الرَّشيديِّ، وهما قرينان من شيوخنا.
وقد يجتمعُ جماعةٌ مِنَ الأقرانِ في سلسلةٍ كروايةِ أحمد، عن أبي خيثمة زهير ابن حربٍ، عن ابن مَعينٍ، عن عليِّ بن المَدينيِّ، عن عُبيدِاللَّهِ بنِ مُعاذٍ، لحديثِ أبي بكر بن حفصٍ، عن أبي سلمةَ، عن عائشةَ: "كانَ أزواجُ النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم يأخُذْنَ مِن شُعُورِهِنَّ حَتَّى تكونَ كالوفرة"1، فالخمسة كما قال الخطيبُ: أقرانٌ.
ورواية ابن المُسيّبِ، عن ابنِ عُمرَ، عن عُمَرَ، عن عُثمانَ، عن أبي بكرٍ الحديثِ "ما نجاة هذا الأمر"، ففيه أربعةٌ مِنَ الصَّحابة في نسقٍ2.
وكذا اجتمعَ أربعةٌ مِنَ الصَّحابةِ في عدَّة أحاديثَ بعضها في (الصَّحيحين) ، وغيرهِما، وأفردَ فيهِ كلٌّ مِن عبدِالغني بن سعيدٍ المِصْرِيِّ، وأبي الحجَّاجِ يوسُفَ ابنِ خليلٍ الدِّمشقيِّ، فيما سمعناهُ (جزءاً) ، بل اجتمعَ منهم خمسةٌ في حديثِ "الموتُ كَفَّارةٌ لِكُلِّ مُسْلِمٍ"، وذلكَ مِن روايةِ: عَمرو بن العاص، عن عُثمان،
--------------------------------------------
আস-সাখাভী বলেছেন: আস-সাওরি এবং মালিক ইবনে মিগওয়াল প্রত্যেকেই মিস'আর থেকে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা পরস্পর সমসাময়িক (أقران)। আবার আল-আমাশ বর্ণনা করেছেন আত-তাইমি থেকে, তাঁরা দু'জন সমসাময়িক (قرينان)। এবং যাইন রিদওয়ান বর্ণনা করেছেন আর-রাশিদি থেকে, তাঁরা দু'জন আমাদের শাইখদের মধ্যে সমসাময়িক (قرينان)।
কখনও একদল সমসাময়িক (أقران) ব্যক্তি একটি বর্ণনাসূত্রে (سلسلة) একত্রিত হতে পারেন। যেমন আহমাদ বর্ণনা করেছেন আবু খাইসামা যুহাইর ইবনে হারব থেকে, তিনি ইবনে মাঈন থেকে, তিনি আলী ইবনুল মাদিনী থেকে, তিনি উবায়দুল্লাহ ইবনে মুয়ায থেকে, আবু বকর ইবনে হাফসের হাদিসের ক্ষেত্রে, তিনি আবু সালামা থেকে, আর তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীগণ তাঁদের চুল এমনভাবে ছোট করতেন যা কানের লতি পর্যন্ত পৌঁছে যেত।"১ আল-খাতিব যেমনটি বলেছেন, এই পাঁচজনই পরস্পর সমসাময়িক (أقران)।
অনুরূপভাবে ইবনে আল-মুসাইয়্যাব বর্ণনা করেছেন ইবনে উমর থেকে, তিনি উমর থেকে, তিনি উসমান থেকে এবং তিনি আবু বকর থেকে; "এই বিষয়ের মুক্তি কিসে" শীর্ষক হাদিসটি। এতে চারজন সাহাবী (صحابة) ধারাবাহিকভাবে (نسق) রয়েছেন।২
এমনিভাবে বেশ কিছু হাদিসে চারজন সাহাবী (صحابة) একত্রিত হয়েছেন, যার কিছু সাহিহাইন এবং অন্যান্য গ্রন্থে রয়েছে। এ বিষয়ে আব্দুল গানি ইবনে সাঈদ আল-মিসরি এবং আবু আল-হাজ্জাজ ইউসুফ ইবনে খলিল আদ-দিমাশকি—যা আমরা শুনেছি—পৃথক পুস্তিকা (جزء) রচনা করেছেন। এমনকি "মৃত্যু প্রত্যেক মুসলিমের জন্য কাফফারা" হাদিসটিতে তাঁদের মধ্য থেকে পাঁচজন সাহাবী (صحابة) একত্রিত হয়েছেন। আর সেটি হলো আমর ইবনুল আসের বর্ণনা, উসমান থেকে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুদাব্বাজ ওয়া রিওয়ায়াতুল আক রান
(পৃষ্ঠা: ২৮)
عن عُمر بن الخَطَّابِ، عن أبي بكرٍ الصِّديقِ، عن بلالٍ1، وهو غريبٌ لاجتماع الخلفاء الثلاثة فيه، ويدخلُ في النَّوع قبلهُ ودون هذين العددينِ مِمَّا أكثر فيه اجتمع فيه ثلاثةٌ مِن الصَّحابة، كمُعاوية بنِ أبي سُفيانَ، عن مالكِ بنِ يخامر، على القولِ بصُحبتهِ، عن مُعاذٍ، وكمُعاوية بنِ خَديجٍ، عن مُعاويةَ بنِ أبي سُفيانَ، عن أختِهِ أمِّ حبيبةَ.
ثُمَّ مِمَّا أكثرَ مِمَّا يدخلُ في هذا النَّوعِ، ومِمَّا لا يدخلُ كابنِ عُمَرَ، عن كُلٍّ مِن أبيهِ، وأختِهِ حفصةَ.
وأمَّا رواية الليث، عن يحيى بنِ سعيدٍ، عن سعدِ بنِ إبراهيمَ، عن نافعِ ابنِ جُبيرِ بنِ مُطْعِمٍ، عن عُرْوَةَ بنِ المُغيرَة بنِ شُعبةَ، عن أبيهِ لحديثِ "اتَّبعتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم بإداوة"2، ورواية محمد بن عَجْلانَ، عن محمد بن يحيى بن حبانَ، عن عبدِاللَّهِ ابن مُحَيْريزٍ، عن الصُّنابِحِيِّ، عن عُبادةَ بن الصَّامتِ ففيهِما أربعةٌ مِنَ التَّابعينَ في نسقٍ، ودونَ هذا العدد مِمَّا أمثلتهُ أكثر ما اجتمعَ فيه ثلاثةٌ منهم: كالزُّهْرِيِّ، وعبدِالمَلكِ بنِ أبي بكرِ بنِ الحارثِ بنِ هشامٍ، عن خارجةَ بنِ زيدِ بنِ ثابتٍ الأنصاريِّ، عن أبيهِ رضي الله عنه.
وكذا الزُّهريّ، عن عُمَرَ بنِ عبدِ العزيزِ، عن عبدِ اللَّهِ بنِ إبراهيمَ بنِ قَارِظٍ، عن أبي هُريرَةَ، رضي الله عنه، ثُمَّ ما اشتملَ على اثنين فأكثر، ماوجد منهم
--------------------------------------------
উমর ইবনুল খাত্তাব হতে, তিনি আবু বকর সিদ্দিক হতে, তিনি বিলাল হতে বর্ণনা করেছেন১, আর এটি তিন খলিফার একত্রে সমাবেশের কারণে একটি বিরল (غريب) বর্ণনা। এটি পূর্ববর্তী প্রকারের অন্তর্ভুক্ত এবং এই দুই সংখ্যার কম যা অধিক রয়েছে যাতে তিনজন সাহাবী (صحابة) একত্রিত হয়েছেন; যেমন মুয়াবিয়া বিন আবি সুফিয়ান, মালিক বিন ইখামির হতে—তার সাহাবী (صحابة) হওয়ার মতানুসারে—তিনি মুয়াজ হতে। এবং মুয়াবিয়া বিন খাদিজ, মুয়াবিয়া বিন আবি সুফিয়ান হতে, তিনি তার বোন উম্মে হাবিবা হতে বর্ণনা করেছেন।
অতঃপর এই প্রকারের অন্তর্ভুক্ত এবং যা এর অন্তর্ভুক্ত নয় এমন বর্ণনাসমূহের মধ্যে অধিকতর উদাহরণ হলো যেমন ইবনে উমর, যিনি তার পিতা এবং তার বোন হাফসা উভয়ের নিকট হতে বর্ণনা করেছেন।
আর লাইসের বর্ণনা, যা ইয়াহইয়া বিন সাইদ হতে, তিনি সাদ বিন ইব্রাহিম হতে, তিনি নাফি ইবনে জুবায়ের বিন মুতঈম হতে, তিনি উরওয়াহ বিন মুগিরা বিন শুবা হতে, তিনি তার পিতা হতে এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন: "আমি একটি পানির পাত্র নিয়ে নবী (সা.)-এর অনুসরণ করলাম"২। এবং মুহাম্মদ বিন আজলানের বর্ণনা, যা মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া বিন হাব্বান হতে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাইরিজ হতে, তিনি আস-সুনাবিহি হতে, তিনি উবাদাহ বিন সামিত হতে বর্ণনা করেছেন; এই উভয় বর্ণনায় ক্রমানুসারে চারজন তাবেয়ি (تابعين) রয়েছেন। আর এই সংখ্যার নিচে যার উদাহরণ অধিক রয়েছে তাতে তাদের মধ্য হতে তিনজন একত্রিত হয়েছেন: যেমন যুহরি এবং আব্দুল মালিক বিন আবি বকর বিন হারিস বিন হিশাম, খারি জাহ বিন যায়িদ বিন সাবিত আনসারি হতে, তিনি তার পিতা (রা.) হতে বর্ণনা করেছেন।
অনুরূপভাবে যুহরি, উমর বিন আব্দুল আজিজ হতে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন ইব্রাহিম বিন কারিজ হতে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণনা করেছেন। অতঃপর যা দুই বা ততোধিক ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করে, যা তাদের মধ্যে পাওয়া যায়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুদাব্বাজ ওয়া রিওয়ায়াতুল আক রান
(পৃষ্ঠা: ২৯)
حسبما أشرتُ إليهِ في المُرْسَلِ في نَسَقٍ، إمَّا ستة، أو سبعة، وفي أشباه ماذكرتُهُ طول، وللخطيبِ (رواية التَّابعينَ بعضهم عن بعضٍ) ، وهو معَ رواية الصَّحابة بعضهم عن بعضٍ الَّذي علمت إفراد نوعٍ منهُ بالتَّأليفِ أيضاً مِمَّا لم يذكرهُ ابنُ الصَّلاحِ وأتباعه، ولكن قد استدركهما بعضُ المُتأخرينَ عليهِ1
--------------------------------------------
যেমনটি আমি ধারাবাহিকভাবে বিচ্ছিন্ন (المرسل) বর্ণনার ক্ষেত্রে ইঙ্গিত করেছি, সেখানে হয় ছয়জন অথবা সাতজন বর্ণনাকারী রয়েছেন। আমি যা বর্ণনা করেছি তার সদৃশ বিষয়গুলোতে দীর্ঘতা রয়েছে। খতিব আল-বাগদাদির একটি স্বতন্ত্র রচনা রয়েছে ‘একে অপরের থেকে তাবেয়ী (التابعين)-দের বর্ণনা’ বিষয়ে; সাহাবী (الصحابة)-গণ একে অপরের থেকে বর্ণনা করেছেন এমন বিষয়ের পাশাপাশি এটিও এমন এক প্রকারের বিষয় যা সম্পর্কে জানা গেছে যে এ নিয়ে পৃথক গ্রন্থ রচিত হয়েছে, অথচ ইবনুস সালাহ এবং তাঁর অনুসারীরা এটি উল্লেখ করেননি। তবে পরবর্তী আলেমদের (المتأخرين) মধ্যে কেউ কেউ তাঁর এই বিষয়ের ঘাটতি পূরণ করেছেন।1
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুদাব্বাজ ওয়া রিওয়ায়াতুল আক রান
(পৃষ্ঠা: ২৯)
الصلة بين رواية الأقران والمدبج
مدخل…الصِّلة بين رواية الأقران، والمُدَبَّج، ورواية الأكابر عن الأصاغِر، وبعض أنواع مصطلح الحديث:
قال الحافظُ ابنُ حجرٍ: فإن تشارك الرَّاوي وَمَن معهُ في أمر مِنَ الأمورِ المُتعلقةِ بالرِّواية، مثل: السِّن، واللَّقي، وهو الأخذُ عن المشايخ فهو النَّوع الذي يُقال لهُ: رواية الأقران، لأنَّهُ حينئذٍ يكونُ راوياً عن قرينه، وإذا روى كلّ منهما، أي القرينينِ عن الآخرِ، فهو المُدَبَّج، وهو أخصّ مِنَ الأوَّل، فكُلّ مُدَبَّج أقرانٌ، وليس كُلّ أقران مُدَبَّجاً
… وإذا روى الشَّيخُ عن تلميذهِ صدق أنَّ كلاً منهما يروي عن الآخرِ، فهل يُسَمَّى مُدَبَّجاً؟ فيه بحثٌ، والظَّاهرُ: لا، لأنَّهُ مِن روايةِ الأكابرِ عن الأصاغِرِ، والتَّدْبيج مأخوذٌ مِن ديباجَتي الوجه، فيقتضي أن يكونَ ذلكَ مُستوياً من الجانبين فلا يجيء فيه هذا.
وإن روى الرَّاوي عَمَّن هو دونهُ، في السِّنِّ، أو في اللُّقيِّ، أو في المقدارِ، فهذا النَّوعُ هو رواية الأكابر عن الأصاغر2.
--------------------------------------------
সমসাময়িকদের বর্ণনা (رواية الأقرান) ও মুদাব্বাজ (المدبج)-এর মধ্যকার সম্পর্ক
ভূমিকা…সমসাময়িকদের বর্ণনা (رواية الأقران), মুদাব্বাজ (المدبج), ছোটদের থেকে বড়দের বর্ণনা (رواية الأكابر عن الأصاغر) এবং হাদিস পরিভাষার (مصطلح الحديث) কিছু প্রকারের মধ্যকার সম্পর্ক:
হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: বর্ণনাকারী এবং তার সাথে থাকা ব্যক্তি যদি বর্ণনার সাথে সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয়ে যেমন— বয়স এবং সাক্ষাৎ (اللقي) (অর্থাৎ শায়খদের থেকে হাদিস গ্রহণ করা)-এর ক্ষেত্রে একে অপরের অংশীদার বা সমান হন, তবে এটি এমন এক প্রকার যাকে সমসাময়িকদের বর্ণনা (رواية الأقران) বলা হয়। কারণ এমতাবস্থায় তিনি তার সমসাময়িক (قرين) থেকে বর্ণনা করছেন। আর যখন সমসাময়িকদের দুইজনই একে অপরের থেকে বর্ণনা করেন, তখন তাকে মুদাব্বাজ (المدبج) বলা হয়। এটি প্রথম প্রকারের তুলনায় অধিকতর সুনির্দিষ্ট। সুতরাং প্রত্যেক মুদাব্বাজই (مدبج) সমসাময়িকদের বর্ণনা (رواية الأقرান) হিসেবে গণ্য, কিন্তু প্রত্যেক সমসাময়িকদের বর্ণনা (رواية الأقران) মুদাব্বাজ (مدبج) নয়
… আর যদি শিক্ষক তার ছাত্রের নিকট থেকে বর্ণনা করেন, তবে এটি সত্য যে তাদের প্রত্যেকেই একে অপরের থেকে বর্ণনা করছেন; সেক্ষেত্রে একে কি মুদাব্বাজ (مدبج) বলা হবে? এ বিষয়ে তাত্ত্বিক আলোচনা রয়েছে, তবে বাহ্যত উত্তর হলো: ‘না’। কারণ, এটি ছোটদের থেকে বড়দের বর্ণনার (رواية الأكابر عن الأصاغر) অন্তর্ভুক্ত। আর ‘তাদবিজ’ (التدبيج) শব্দটি চেহারার দুই পাশ (দিবাজাতাল ওয়াজহ) থেকে গৃহীত, যা উভয় দিক থেকে সমতা দাবি করে; তাই এই ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য হবে না।
আর বর্ণনাকারী যদি তার চেয়ে বয়সে, সাক্ষাতে (اللقي) কিংবা মর্যাদায় ছোট কারো থেকে বর্ণনা করেন, তবে এই প্রকারটি হলো ছোটদের থেকে বড়দের বর্ণনা (رواية الأكابر عن الأصاغر)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুদাব্বাজ ওয়া রিওয়ায়াতুল আক রান
(পৃষ্ঠা: ৩০)
مِن العلوم التي لها صلة بالمُدَبَّج ورواية الأقران:
إنَّ معرفة المُدَبَّج ورواية الأقران تتطلَّب مِنَ المُحَدِّثِ أن يكون على اطِّلاعٍ واسعٍ بعدد مِن أنواع علوم الحديث، والتي تعتبر معرفتها مِن وسائل معرفة المُدَبَّج ورواية الأقران، وَمِن هذهِ الأنواع:
মুদাব্বাজ (المُدَبَّج) এবং সমসাময়িকদের বর্ণনা (رواية الأقرান)-এর সাথে সংশ্লিষ্ট জ্ঞানসমূহের মধ্য থেকে:
নিশ্চয়ই মুদাব্বাজ (المُدَبَّج) এবং সমসাময়িকদের বর্ণনা (رواية الأقرান) সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের জন্য একজন মুহাদ্দিস (المُحَدِّث)-এর হাদিস বিজ্ঞানের বেশ কিছু প্রকারভেদ (أنواع)-এর ওপর ব্যাপক পাণ্ডিত্য থাকা প্রয়োজন, যেগুলোর জ্ঞান মুদাব্বাজ (المُدَبَّج) এবং সমসাময়িকদের বর্ণনা (رواية الأقرান) শনাক্ত করার মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয়। আর এই প্রকারগুলোর মধ্যে রয়েছে:
(খণ্ড: ১)
আল-মুদাব্বাজ ওয়া রিওয়ায়াতুল আক রান
(পৃষ্ঠা: ৩০)
1-
معرفة طبقات العلماء:والطَّبَقَةُ في اللُّغة: هم القومُ المُتَشَابِهونَ1.
والطبقة في الاصطلاح: الطَّبقةُ قومٌ تقاربوا في السِّنِّ والإسنادِ، أو في الإسنادِ فقط بأن يكون شيوخ هذا هم شيوخ الآخر، أو يُقاربوا شيوخه2.
قال ابنُ الصَّلاح: والباحث النَّاظرُ في هذا الفنّ يحتاجُ إلى معرفة المواليد، والوفيات، وَمَن أخذوا عنهُ، وَمَن أخذ عنهم، ونحو ذلك3.
ومن فوائده:
1- الأمنُ مِن تداخل المتشابهينَ في اسم، أو كنية، او نحو ذلك.
--------------------------------------------
1-
বিদ্বানদের (علماء) স্তর (طبقات) সম্পর্কে জ্ঞান:শাব্দিক অর্থে স্তর (طبقة) হলো: এমন একদল লোক যারা পরস্পর সদৃশ।
পারিভাষিক অর্থে স্তর (طبقة): এমন একদল লোক যারা বয়স এবং সনদ (إسناد)-এর ক্ষেত্রে একে অপরের কাছাকাছি, অথবা কেবল সনদের (إسنাদ) ক্ষেত্রে কাছাকাছি; যেমন একজনের শায়খ (شيوخ) অন্যজনেরও শায়খ হন, অথবা তাঁর শায়খদের সমপর্যায়ভুক্ত হন।
ইবনে আস-সালাহ বলেছেন: এই শাস্ত্রের গবেষক ও পর্যালোচনাকারীর জন্য জন্মকাল, মৃত্যুসন, তাঁরা কাদের নিকট থেকে হাদিস গ্রহণ করেছেন এবং কারা তাঁদের নিকট থেকে হাদিস গ্রহণ করেছেন—এই জাতীয় বিষয়গুলো জানা আবশ্যক।
এর উপকারিতা সমূহের মধ্যে রয়েছে:
1- নাম, কুনিয়াত (كنية) বা এই জাতীয় বিষয়ের সাদৃশ্যের কারণে একজনের সাথে অন্যজনের সংমিশ্রণ ঘটার আশঙ্কা থেকে নিরাপদ থাকা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুদাব্বাজ ওয়া রিওয়ায়াতুল আক রান
(পৃষ্ঠা: ৩১)
2- الاطلاع على التَّدليس، والوقوف على حقيقة المراد مِنَ العنعنة1.
قال السَّخاويُّ: بين الطَّبقة والتَّاريخ عموم وخصوص وجهي فتجمعان في التَّعريف بالرُّواة، وينفردُ التَّاريخُ بالحوادثِ والطَّبقات بما إذا كان في البدريين مثلاً مَن تأخرت وفاته عَمّن لم يشهدها لاستلزامه تقديم المتأخر الوفاة.
وقد فرق بينهما المتأخرونَ بأنَّ التَّاريخ ينظر فيه بالذَّات إلى المواليد والوفيات، وبالعرض إلى الأحوال، والطَّبقات ينظر فيها بالذَّات إلى الأحوال وبالعرض إلى المواليد والوفيات، ولكن الأوَّل أشبه2.
--------------------------------------------
2- প্রতারণা বা দোষ গোপনকরণ (تدليس) সম্পর্কে অবগত হওয়া এবং 'আন'আনা' (عنعنة)-এর প্রকৃত উদ্দেশ্য অনুধাবন করা।১
আস-সাখাভী বলেন: স্তর (طبقة) এবং ইতিহাসের (تاريخ) মধ্যে এক প্রকার সাধারণ ও বিশেষ সম্পর্ক (عموم وخصوص وجهي) বিদ্যমান। বর্ণনাকারীদের (رواة) পরিচয় প্রদানের ক্ষেত্রে উভয়টি একত্রিত হয়। তবে ইতিহাস কেবল ঘটনাবলির বর্ণনায় স্বতন্ত্র, আর স্তর (طبقات) বিন্যাস তখন স্বতন্ত্র হয় যখন—উদাহরণস্বরূপ—বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের (بدريين) মধ্যে এমন কেউ থাকেন যার মৃত্যু ওই ব্যক্তির পরে হয়েছে যিনি বদরে অংশ নেননি; কারণ এর মাধ্যমে মৃত্যুতে বিলম্বিত ব্যক্তিকে (মর্যাদার কারণে) আগে উল্লেখ করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।
পরবর্তী যুগের আলিমগণ (متأخرون) এ দুটির মধ্যে এই পার্থক্য করেছেন যে, ইতিহাসে মূলত জন্ম ও মৃত্যুর প্রতি দৃষ্টি দেওয়া হয় এবং আনুষঙ্গিকভাবে অবস্থার (أحوال) প্রতি লক্ষ্য রাখা হয়। অন্যদিকে, স্তর (طبقات) বিন্যাসে মূলত অবস্থার (أحوال) প্রতি দৃষ্টি দেওয়া হয় এবং আনুষঙ্গিকভাবে জন্ম ও মৃত্যুর প্রতি লক্ষ্য রাখা হয়। তবে প্রথম অভিমতটিই অধিকতর সঠিক।২
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুদাব্বাজ ওয়া রিওয়ায়াতুল আক রান
(পৃষ্ঠা: ৩১)
2- معرفة تواريخ3الرُّواة والوفيات: وهو التَّعريف بالوقت الذي تضبط به الأحوال في مولد الرُّواة والأئمةِ، من وفاةٍ، وصحَّةٍ، وعَقلٍ، وَبَدَنٍ، ورِحلَةٍ، وحَجٍ، وحِفظٍ، وَضبطٍ.. ويلتحق به ما يتَّفق من الحوادث والوقائع الجليلة
… 4.
--------------------------------------------
২- বর্ণনাকারীদের (الرواة) ইতিহাস এবং তাদের মৃত্যু সম্পর্কে জ্ঞান: এটি হলো সেই সময়কাল সম্পর্কে পরিচিতি, যার মাধ্যমে বর্ণনাকারী (الرواة) ও ইমামগণের জন্মকালীন অবস্থার বিবরণ যেমন মৃত্যু, সুস্থতা, বুদ্ধিবৃত্তি, শারীরিক অবস্থা, ইলম অর্জনের সফর, হজ, মুখস্থ শক্তি (حفظ) এবং নির্ভুলতা (ضبط) নিরূপণ করা হয়। আর এর সাথে সমসাময়িক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলি ও পরিস্থিতি যা কিছু ঘটে তাও যুক্ত করা হয়
… ৪।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুদাব্বাজ ওয়া রিওয়ায়াতুল আক রান
(পৃষ্ঠা: ৩২)
إن معرفة سني الوفيات لايستفاد منه معرفة كذب الرُّواة من صدقهم فقط بل له فوائد حديثية أخرى إذ: يتبين به ما في السند من انقطاعٍ، أو عَضلٍ، أو تدليسٍ، أو إرسال ظاهر أو خفيٍّ للوقوف به على أن الرَّاوي مثلاً لم يعاصر من روى عنه، أو عاصره ولكن لم يلقه لكونه في غير بلده وهو لم يرحل إليها مع كونه ليست له منه إجازة أو نحوها، وكون الراوي عن بعض المختلط سمع منه قبل اختلاطه، ونحو ذلك، ورُبَّما يتبين به التَّصحيف في الأنساب، وهو أيضاً أحد الطُّرق الَّتي يتميز بها النَّاسخ والمنسوخ
… ورُبما يستدل به لضبط الرَّاوي حيث يقول في المَروي وهو أوَّل شئ سمعته منه، أو رأيته في يوم الخميس يفعل كذا، أو كان فلان آخر من روى عن فلان، أو سمعت من فلان قبل أن يحدّث ما حدَّث، أو قبل أن يختلط..1.
--------------------------------------------
বর্ণনাকারীদের মৃত্যুসন সম্পর্কে জ্ঞান কেবল তাদের সত্যবাদিতা ও মিথ্যাচার নিরূপণের জন্যই ব্যবহৃত হয় না, বরং এর আরও অন্যান্য হাদিস-সংক্রান্ত উপকারিতা রয়েছে। কারণ: এর মাধ্যমে সনদের বিচ্ছিন্নতা (انقطاع), জটিল বিচ্ছিন্নতা (عضل), গোপনীয়তা (تدليس) অথবা প্রকাশ্য বা গোপন মুরসাল (إرسال ظاهر أو خفي) স্পষ্ট হয়। এর ফলে উদাহরণস্বরূপ এটি নিশ্চিত হওয়া যায় যে, বর্ণনাকারী যার থেকে বর্ণনা করেছেন তিনি তার সমসাময়িক ছিলেন না; অথবা সমসাময়িক হলেও তাদের সাক্ষাৎ ঘটেনি, কারণ তিনি ভিন্ন কোনো জনপদে অবস্থান করছিলেন এবং সেখানে সফরও করেননি, আর তার নিকট হতে কোনো ইজাজাহ (إجازة) বা অনুরূপ কোনো অনুমতিও ছিল না। এছাড়া কোনো স্মৃতিভ্রম হওয়া বর্ণনাকারীর (مختلط) নিকট থেকে বর্ণনাকারী তার স্মৃতিভ্রম ঘটার আগে শুনেছেন কি না, তা-ও এর মাধ্যমে জানা যায়। অনেক সময় এর মাধ্যমে বংশপরিচয়ে ভুল লিখন বা বিকৃতি (تصحيف) স্পষ্ট হয় এবং এটি নাসিখ ও মানসুখ (ناسخ ومنسوخ) তথা রহিতকারী ও রহিত বিষয়ের পার্থক্য নিরূপণের অন্যতম একটি পদ্ধতিও
… কখনও কখনও এর মাধ্যমে বর্ণনাকারীর নির্ভুলতা বা স্মৃতিশক্তি (ضبط) সম্পর্কে প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়; যেমনটি বর্ণিত বিষয়ের ক্ষেত্রে বলা হয়— "এটিই প্রথম বিষয় যা আমি তার নিকট থেকে শুনেছি", অথবা "আমি তাকে বৃহস্পতিবার এমনটি করতে দেখেছি", অথবা "অমুক ব্যক্তি ছিলেন অমুক বর্ণনাকারীর সর্বশেষ ছাত্র", অথবা "আমি অমুকের নিকট থেকে তার সেই বক্তব্য প্রদানের আগে বা স্মৃতিভ্রম হওয়ার আগে শুনেছিলাম"।১।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুদাব্বাজ ওয়া রিওয়ায়াতুল আক রান
(পৃষ্ঠা: ৩২)
3-
معرفة روايةِ الأَكَابرِ عن الأَصَاغِرِ:يُعتبرُ بيان رواية الرَّاوي عَمَّن دونَهُ في اللُّقي، أو السِّنِّ أو في المقدار، أحد فنون عِلمِ الرِّجال الَّتي عني بها العُلماءُ، ووَضعوا فيها المؤلَّفات2.
وهو نَوعٌ مُهمٌ تدعو إليه الهممُ العليَّةُ، والأنْفُسُ الزَّكيَّةُ، ولذا قيلَ: لايكون الرَّجُلُ مُحدِّثاً حتَّى يأْخُذَ عَمَّن فَوقهُ، ومثلهُ، ودونه، وفائدةُ ضبطه الخوف مِن ظنِّ الانقلاب في السَّنَدِ مَعَ مافيه مِنَ العَمَل بقولهِ صلّى الله عليه
--------------------------------------------
3-
বড়দের (الأكابر) ছোটদের (الأصাغر) থেকে বর্ণনা (رواية) সংক্রান্ত জ্ঞান:সাক্ষাৎ (لقي), বয়স কিংবা মর্যাদার দিক থেকে নিজের চেয়ে নিম্নস্তরের কারো থেকে বর্ণনাকারীর (راوي) বর্ণনা (رواية) করার বিষয়টি ইলমুর রিজালের (رجال) অন্যতম একটি শিল্প হিসেবে বিবেচিত, যার প্রতি আলেমগণ বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন এবং এ বিষয়ে বিভিন্ন গ্রন্থ রচনা করেছেন২।
এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকার (نوع) যার প্রতি উচ্চাকাঙ্ক্ষী ও পবিত্র আত্মা ধাবিত হয়। একারণেই বলা হয়েছে: কোনো ব্যক্তি ততক্ষণ পর্যন্ত মুহাদ্দিস (محدث) হতে পারেন না, যতক্ষণ না তিনি তাঁর ঊর্ধ্বতন, সমমনা এবং তাঁর অধস্তনদের কাছ থেকে ইলম গ্রহণ করেন। এটি নিবিড়ভাবে সংরক্ষণের উপকারিতা হলো সনদে (سند) ওলটপালট (انقلاب) হওয়ার সংশয় থেকে মুক্ত থাকা, পাশাপাশি এতে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাণীর ওপর আমল করার বিষয়টিও নিহিত রয়েছে
--------------------------------------------