(খণ্ড: ১)
আল-মুখাদ্দারাত আখতারু মাওয়াকিতিত তানমিয়াহ
(পৃষ্ঠা: -)
المخدرات أخطر معوقات التنمية القسم: كتب عامة
الكتاب: المخدرات أخطر معوقات التنمية
المؤلف: إبراهيم إمام
الناشر: الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة
الطبعة: (السنة الرابعة عشرة - العدد الرابع والخمسون) ، ربيع الثاني -جمادى الأولى -جمادى الآخرة 1402هـ.
عدد الصفحات: 70
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
মাদকদ্রব্য: উন্নয়নের সবচেয়ে বিপজ্জনক অন্তরায় বিভাগ: সাধারণ গ্রন্থসমূহ
গ্রন্থ: মাদকদ্রব্য: উন্নয়নের সবচেয়ে বিপজ্জনক অন্তরায়
লেখক: ইব্রাহিম ইমাম
প্রকাশক: মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়
সংস্করণ: (চতুর্দশ বর্ষ - ৫৪তম সংখ্যা) ، রবিউস সানি -জুমাদাল উলা -জুমাদাল আখিরা ১৪০২ হিজরি।
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭০
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-মুখাদ্দারাত আখতারু মাওয়াকিতিত তানমিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
مدخل…المخدَّرات أخطرُ مُعوَّقاتِ التَّنمِيةِ
للدكتور إبراهيم إمام رئيس قسم الإعلام بكلية الدعوة وأصول الدين
الحمد لله الذي خلق الإنسان، وفضله على غيره من الأكوان بما ركّب فيه من قوى أعلاها العقل وأغلاها الإدراك والفهم، والمعرفة من أهم خصائص الإنسان {وَعَلَّمَ آدَمَ الأَسْمَاءَ كُلَّهَا} يشير إلى ما أودع الله سبحانه في آدم من قوى الإدراك والاستنباط والقياس، وتداعي المعاني وتوالدها. ومن هنا كانت القدرة على إنماء قاموسه اللغوي، وإضافة جديد إليه كل يوم، إذ كلما جدَّ جديد في الحياة من المخترعات والمصنوعات التي تفتق عنها عقل الإنسان، وضع لهذا الجديد اسما يعرف به، ويستدل منه عليه، ففي عقل الإنسان تتولد المدركات، وتتشكل الصور، وتتداعى المعاني، ومن عقل الإنسان تخرج الأسماء لكل مدرك، ولكل متصور في عالم الواقع أو الخيال.
يقول الله تعالى {ثُمَّ عَرَضَهُمْ عَلَى الْمَلائِكَةِ فَقَالَ أَنْبِئُونِي بِأَسْمَاءِ هَؤُلاءِ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ قَالُوا سُبْحَانَكَ لا عِلْمَ لَنَا إِلا مَا عَلَّمْتَنَا إِنَّكَ أَنْتَ الْعَلِيمُ الْحَكِيمُ} . وفيه بيان لموقف الملائكة في هذا الامتحان، وعجزهم عن وضع أسماء لتلك المخلوقات التي عرضها الله تعالى عليهم، لأنهم ليس لهم على ذاتي، عن طريق الاستنباط والقياس، كما الشأن في الإنسان، وإنما علمهم محصور فيما يعلمهم الله فيه، لا يزيدون فيه أو ينقصون، فلا ابتكار ولا اختراع، على خلاف الإنسان الذي يبتكر ويخترع، ويجمع بين الأشياء ويفرقها، ويولد منها ويختصر.
وإذا كان الحيوان مخلوقاً ذا طبيعة واحدة. جسمه مصدر طاقته وغرائزه توجهه، يأكل ويشرب ويتناسل بدافع جسدي بحت لا إدراك فيه لهدف، ولا اختيار لوسيلة، وإذا
ভূমিকা…মাদকদ্রব্য উন্নয়নের সবচেয়ে বিপজ্জনক অন্তরায়
ড. ইবরাহীম ইমাম, চেয়ারম্যান, গণযোগাযোগ বিভাগ, দাওয়াহ ও উসুল আল-দিন অনুষদ।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন এবং অন্যান্য সৃষ্টিজগতের ওপর তাকে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন তাঁর মাঝে সঞ্চিত বিভিন্ন শক্তির মাধ্যমে, যার মধ্যে সর্বোচ্চ হলো আকল বা বুদ্ধিবৃত্তি এবং সবচেয়ে মূল্যবান হলো উপলব্ধি ও বোধশক্তি। জ্ঞানার্জন মানুষের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য, যেমন আল্লাহ বলেন: {এবং তিনি আদমকে সমস্ত নাম শিক্ষা দিলেন}। এটি ইঙ্গিত করে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আদমের মধ্যে উপলব্ধি, আহরণ বা উদ্ভাবন (استنباط) এবং তুলনা বা অনুমান (قياس) করার যে শক্তি নিহিত রেখেছেন তার দিকে, যার মাধ্যমে অর্থের বিন্যাস ও উৎপত্তি ঘটে। এর ফলেই ভাষাগত শব্দভাণ্ডার বৃদ্ধি করার এবং তাতে প্রতিদিন নতুন কিছু যোগ করার সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। কারণ, মানুষের মেধা থেকে উদ্ভূত উদ্ভাবন ও শিল্পকলার মাধ্যমে জীবনে যখনই নতুন কিছু আসে, তখনই সেটির জন্য একটি নাম রাখা হয় যা দিয়ে তা পরিচিত হয় এবং যার মাধ্যমে তা শনাক্ত করা যায়। মানুষের মস্তিষ্কেই উপলব্ধিজাত বিষয়গুলো জন্ম নেয়, প্রতিচ্ছবি গঠিত হয় এবং অর্থের বিন্যাস ঘটে। আর মানুষের মেধা থেকেই বাস্তব বা কাল্পনিক জগতের প্রতিটি অনুভূত ও কল্পিত বিষয়ের নাম উদ্ভূত হয়।
আল্লাহ তাআলা বলেন: {অতঃপর তিনি সেগুলোকে ফেরেশতাদের সামনে উপস্থাপন করলেন এবং বললেন, ‘তোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে আমাকে এগুলোর নাম বলে দাও’। তারা বলল, ‘আপনি পবিত্র! আপনি আমাদের যা শিখিয়েছেন তা ছাড়া আমাদের কোনো জ্ঞান নেই। নিশ্চয় আপনি সর্বজ্ঞ ও প্রজ্ঞাময়’}। এতে উক্ত পরীক্ষায় ফেরেশতাদের অবস্থান এবং আল্লাহ তাআলা তাদের সামনে উপস্থাপিত সৃষ্টিসমূহের নাম প্রদানে তাদের অক্ষমতা বর্ণিত হয়েছে। কারণ, মানুষের মতো আহরণ (استنباط) ও তুলনা (قياس) করার মাধ্যমে নিজস্ব জ্ঞান লাভের সক্ষমতা তাদের নেই। বরং তাদের জ্ঞান কেবল আল্লাহ তাদের যা শিক্ষা দেন তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ, তারা তাতে বৃদ্ধি বা হ্রাস করে না। ফলে তাদের মধ্যে নবসৃষ্টি বা উদ্ভাবনের সুযোগ নেই, যা মানুষের ক্ষেত্রে ভিন্ন; মানুষ নতুন কিছু উদ্ভাবন করে, বিষয়সমূহের মধ্যে সংযোগ বা বিচ্ছেদ ঘটায় এবং তা থেকে নতুন কিছু তৈরি করে অথবা সংক্ষেপ করে।
আর পশু যদি একটি একক প্রকৃতির সৃষ্টি হয়ে থাকে, যার শরীরই তার শক্তির উৎস এবং প্রবৃত্তি তাকে পরিচালিত করে; সে কেবল শারীরিক তাড়নায় আহার করে, পান করে এবং বংশবৃদ্ধি করে, যেখানে লক্ষ্যের কোনো উপলব্ধি নেই এবং উপায়ের কোনো নির্বাচন নেই, এবং যদি...
(খণ্ড: ১)
আল-মুখাদ্দারাত আখতারু মাওয়াকিতিত তানমিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৫০)
كان الملَكُ مخلوقا يعيش في نطاق روحه، ويطيع الله تعالى بفطرته، لأنه مفطور على الطاعة المطلقة {لا يَعْصُونَ اللَّهَ مَا أَمَرَهُمْ وَيَفْعَلُونَ مَا يُؤْمَرُونَ} .
فإن الإنسان له طبيعته الفريدة التي تتميز بكونه قبضة من طين الأرض ونفخة من روح الله، {إِذْ قَالَ رَبُّكَ لِلْمَلائِكَةِ إِنِّي خَالِقٌ بَشَراً مِنْ طِينٍ فَإِذَا سَوَّيْتُهُ وَنَفَخْتُ فِيهِ مِنْ رُوحِي فَقَعُوا لَهُ سَاجِدِينَ} فالشهوات كلها أو الدوافع الفطرية أو الغرائز الإنسانية أو القوة الحيوية هي نشاط جثماني، ولكنها فطرة قابلة للكبح والضبط بالعقل والإدراك، وقابلة للسمو الروحي بالإيمان بالله والمثل العليا والعمل على تحقيقها إيجابياً في واقع الحياة.
ফেরেশতা হলো এমন এক সৃষ্টি যে তার রূহের জগতের পরিসরে জীবন অতিবাহিত করে এবং নিজ স্বভাবজাত প্রকৃতিতেই মহান আল্লাহর আনুগত্য করে; কারণ সে নিরঙ্কুশ আনুগত্যের ওপরই সৃজিত {তারা আল্লাহ যা আদেশ করেন তা অমান্য করে না এবং তারা যা করতে আদিষ্ট হয় তা-ই করে}।
নিশ্চয়ই মানুষের রয়েছে এক অনন্য প্রকৃতি, যা ভূপৃষ্ঠের এক মুষ্ঠি মাটি এবং আল্লাহর রূহের ফুঁৎকারের সমন্বয়ে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। {যখন আপনার প্রতিপালক ফেরেশতাদের বললেন: আমি মাটি থেকে একজন মানুষ সৃষ্টি করছি; যখন আমি তাকে সুষম করব এবং তাতে আমার রূহ থেকে ফুঁৎকার দেব, তখন তোমরা তার প্রতি সেজদাবনত হয়ে যেও।} সুতরাং যাবতীয় কামনা-বাসনা অথবা সহজাত প্রবৃত্তি কিংবা মানবিক প্রবৃত্তি অথবা জীবনীশক্তি হলো মূলত দৈহিক তৎপরতা; তবে তা বুদ্ধি ও প্রজ্ঞার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ ও দমনের উপযোগী। তদুপরি আল্লাহর প্রতি ঈমান, সুউচ্চ আদর্শ এবং বাস্তব জীবনে তা ইতিবাচকভাবে বাস্তবায়নের প্রচেষ্টার মাধ্যমে তা আত্মিক উৎকর্ষ লাভের সক্ষমতা রাখে।
(খণ্ড: ১)
আল-মুখাদ্দারাত আখতারু মাওয়াকিতিত তানমিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৫০)
الإسلام والتنمية:وفي قوله تعالى: {قَالَ يَا آدَمُ أَنْبِئْهُمْ بِأَسْمَائِهِمْ فَلَمَّا أَنْبَأَهُمْ بِأَسْمَائِهِمْ قَالَ أَلَمْ أَقُلْ لَكُمْ إِنِّي أَعْلَمُ غَيْبَ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ وَأَعْلَمُ مَا تُبْدُونَ وَمَا كُنْتُمْ تَكْتُمُونَ} كشف عن فضل آدم في هذا الموقف وأنه قادر على مالا تقدر عليه الملائكة، من إحداث هذا التغيير في وجه الأرض، بما أدخله عليها من إضافات في صورها وأشكالها، وذلك ما لا تستطيعه الملائكة من ذات أنفسها، ولهذا أمر الله الملائكة بالسجود لآدم، سجود إجلال وتعظيم لقدرة الخالق سبحانه، الذي أخرج من تراب الأرض كائناً يعلم الملائكة ما لم يكونوا يعلمون.
وقد غير آدم الأرض فأخرج المخبوء من أسرارها، وسخرها لخدمته، فعمر جديبها، وأحيا مواتها، واستأنس متوحشها، وألان حديدها، حتى أقام تلك المدنيات وهذه الحضارات، فركب البحار وسبح في الفضاء، ووصل إلى الكواكب والأقمار، حتى أخيراً قدميه على القمر.
ثم إن الإنسان لا يقف عند هذا الذي أخرجه من معطيات مدركاته فإن أمام الإنسان مجالاً فسيحاً للبحث في أسرار هذا الكون الذي أودع به الخالق سبحانه مالا ينفذ من آيات علمه، وحكمته وقدرته، فإذا عجز جيل من أجيال الناس عن اكتشاف سر من أسرار الكون جاء الجيل الذي بعده، فحاول أن يكشف عن مكنون هذا السر، وهكذا تتوالى أجيال الإنسانية، كل جيل يبني على ما أقامه الجيل السابق حتى يعلو صرح البناء، وينمو نموا مطردا، ما دام للناس وجود على الكوكب الأرضي 1.
--------------------------------------------
ইসলাম ও উন্নয়ন:আল্লাহ তাআলার এই বাণীতে: {তিনি বললেন, হে আদম! আপনি তাদেরকে এগুলোর নাম বলে দিন। অতঃপর যখন তিনি তাদেরকে সেগুলোর নাম বলে দিলেন, তখন তিনি বললেন, আমি কি তোমাদেরকে বলিনি যে, নিশ্চয়ই আমি আসমান ও জমিনের অদৃশ্য বিষয় সম্পর্কে অবগত এবং তোমরা যা প্রকাশ করো ও যা গোপন করতে, তা আমি জানি?} — এখানে এই বিশেষ মুহূর্তে আদমের শ্রেষ্ঠত্ব উন্মোচিত হয়েছে এবং এটি প্রকাশ পেয়েছে যে, তিনি এমন সব বিষয়ে সক্ষম যা ফেরেশতারা করতে সমর্থ নয়; অর্থাৎ পৃথিবীর বুকে এই পরিবর্তন সাধন করা। তিনি পৃথিবীর রূপ ও বৈচিত্র্যে নানা সংযোজন ঘটিয়েছেন, যা ফেরেশতারা তাদের নিজ সত্তা থেকে করতে সক্ষম নয়। এই কারণেই আল্লাহ ফেরেশতাদেরকে আদমের প্রতি সিজদাহ করার নির্দেশ দিয়েছেন; যা ছিল মহান স্রষ্টা সুবহানাহু ওয়া তাআলার কুদরতের প্রতি শ্রদ্ধা ও মহিমা জ্ঞাপক সিজদাহ, যিনি পৃথিবীর মাটি থেকে এমন এক সত্তাকে বের করে এনেছেন যিনি ফেরেশতাদেরকে এমন সব বিষয় শিক্ষা দেন যা তারা জানত না।
আদম পৃথিবীকে পরিবর্তিত করেছেন এবং এর রহস্যের অন্তরালে লুকায়িত বিষয়সমূহ উন্মোচন করেছেন। তিনি একে নিজের সেবায় নিয়োজিত করেছেন; ফলে তিনি এর ঊষর ভূমিকে আবাদ করেছেন, মৃত ভূমিকে পুনরুজ্জীবিত করেছেন, বন্য প্রাণীকে পোষ মানিয়েছেন এবং লোহাকে নমনীয় করেছেন। এমনকি তিনি সেই তামাদ্দুনসমূহ ও এই সভ্যতাগুলো গড়ে তুলেছেন। তিনি সমুদ্রে বিচরণ করেছেন, মহাশূন্যে পাড়ি দিয়েছেন এবং গ্রহ-উপগ্রহে পৌঁছেছেন, এমনকি শেষ পর্যন্ত চাঁদের বুকে নিজের পদযুগল রেখেছেন।
অতঃপর মানুষ তার অর্জিত উপলব্ধি ও লব্ধ জ্ঞানের ওপরই থেমে থাকে না। বরং মানুষের সামনে এই মহাবিশ্বের রহস্য অনুসন্ধানের এক বিশাল ক্ষেত্র উন্মুক্ত রয়েছে, যেখানে মহান স্রষ্টা সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও ক্ষমতার অফুরন্ত নিদর্শনসমূহ নিহিত রেখেছেন। যদি মানবজাতির কোনো এক প্রজন্ম মহাবিশ্বের কোনো রহস্য উন্মোচনে অক্ষম হয়, তবে পরবর্তী প্রজন্ম এসে সেই নিগূঢ় রহস্য উন্মোচনের প্রয়াস চালায়। এভাবেই মানব প্রজন্ম পর্যায়ক্রমে এগিয়ে চলে; প্রতিটি প্রজন্ম পূর্ববর্তী প্রজন্মের নির্মিত ভিত্তির ওপর ইমারত গড়ে তোলে, যাতে সেই স্থাপত্য ক্রমশ সুউচ্চ হয় এবং এর প্রবৃদ্ধি নিরবচ্ছিন্নভাবে চলতে থাকে, যতদিন এই ধরণীতে মানুষের অস্তিত্ব বিদ্যমান। ১
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুখাদ্দারাত আখতারু মাওয়াকিতিত তানমিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৫১)
والمعرفة من أهم خصائص الإنسان، {وَعَلَّمَ آدَمَ الأَسْمَاءَ كُلَّهَا} والإنسان خليفة الله الخالق المبدع المسيطر على كل قوى الكون، وهو مخلوق تحتفل به السماوات والأرض، ويتولى الله سبحانه وتعالى إعلان مقدمه على الملأ الأعلى. فالخلافة عن الله فيها معاني الإنشاء والابتكار والتعمير والتغيير والتبديل، وكلها معاني دقيقة لاصطلاح التنمية.
জ্ঞান মানুষের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য, {আর তিনি আদমকে যাবতীয় সব নাম শিক্ষা দিয়েছেন}। মানুষ হলো মহান স্রষ্টা ও উদ্ভাবক আল্লাহর প্রতিনিধি (خليفة), যিনি মহাবিশ্বের সকল শক্তির ওপর আধিপত্যশীল। সে এমন এক সৃষ্টি যাকে আকাশ ও পৃথিবী উদযাপন করে এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা ঊর্ধ্বজগতে ফেরেশতাদের সমাবেশে তার আগমনের ঘোষণা দেন। আল্লাহর পক্ষ থেকে এই প্রতিনিধিত্বের (الخلافة) মধ্যে রয়েছে সৃষ্টি, উদ্ভাবন, আবাদকরণ, পরিবর্তন ও রূপান্তরের তাৎপর্য; আর এ সবই হলো উন্নয়ন (التنمية) পরিভাষার সূক্ষ্ম অর্থসমূহ।
(খণ্ড: ১)
আল-মুখাদ্দারাত আখতারু মাওয়াকিতিত তানমিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৫১)
التنمية تكليف إسلامي:وقد تحدث القرآن الكريم عن جسم الإنسان وحواسه وعقله وقواه الظاهرة والباطنة فقال تعالى: {أَلَمْ نَجْعَلْ لَهُ عَيْنَيْنِ وَلِسَاناً وَشَفَتَيْنِ وَهَدَيْنَاهُ النَّجْدَيْنِ} . وقال سبحانه: {وَلَقَدْ ذَرَأْنَا لِجَهَنَّمَ كَثِيراً مِنَ الْجِنِّ وَالأِنْسِ لَهُمْ قُلُوبٌ لا يَفْقَهُونَ بِهَا وَلَهُمْ أَعْيُنٌ لا يُبْصِرُونَ بِهَا وَلَهُمْ آذَانٌ لا يَسْمَعُونَ بِهَا أُولَئِكَ كَالْأَنْعَامِ بَلْ هُمْ أَضَلُّ أُولَئِكَ هُمُ الْغَافِلُونَ} وقال جل شأنه: {أَلَهُمْ أَرْجُلٌ يَمْشُونَ بِهَا أَمْ لَهُمْ أَيْدٍ يَبْطِشُونَ بِهَا أَمْ لَهُمْ أَعْيُنٌ يُبْصِرُونَ بِهَا أَمْ لَهُمْ آذَانٌ يَسْمَعُونَ} .
والحواس نعمة من الله أنعم بها على عباده، وهي التي تصل بين البيئة الخارجية وعقل الإنسان، فكل ما يراه الإنسان ويسمعه ويلاحظه ويشمه ويختبره ينتقل إلى العقل الذي يزنه ويميزه، فتنشأ عمليات التعقل والتذكر والتفكر والتدبر. يقول الله تعالى: {إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ وَاخْتِلافِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ وَالْفُلْكِ الَّتِي تَجْرِي فِي الْبَحْرِ بِمَا يَنْفَعُ النَّاسَ وَمَا أَنْزَلَ اللَّهُ مِنَ السَّمَاءِ مِنْ مَاءٍ فَأَحْيَا بِهِ الأَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا وَبَثَّ فِيهَا مِنْ كُلِّ دَابَّةٍ وَتَصْرِيفِ الرِّيَاحِ وَالسَّحَابِ الْمُسَخَّرِ بَيْنَ السَّمَاءِ وَالأَرْضِ لآياتٍ لِقَوْمٍ يَعْقِلُونَ} . ويقول سبحانه: {وَلَقَدْ ضَرَبْنَا لِلنَّاسِ فِي هَذَا الْقُرْآنِ مِنْ كُلِّ مَثَلٍ لَعَلَّهُمْ يَتَذَكَّرُونَ} . ويقول جل شأنه: {هُوَ الَّذِي أَنْزَلَ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً لَكُمْ مِنْهُ شَرَابٌ وَمِنْهُ شَجَرٌ فِيهِ تُسِيمُونَ. يُنْبِتُ لَكُمْ بِهِ الزَّرْعَ وَالزَّيْتُونَ وَالنَّخِيلَ وَالأَعْنَابَ وَمِنْ كُلِّ الثَّمَرَاتِ إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَةً لِقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ، وَسَخَّرَ لَكُمُ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ وَالنُّجُومُ مُسَخَّرَاتٌ بِأَمْرِهِ إِنَّ فِي ذَلِكَ لآياتٍ لِقَوْمٍ يَعْقِلُونَ وَمَا ذَرَأَ لَكُمْ فِي الأَرْضِ مُخْتَلِفاً أَلْوَانُهُ إِنَّ فِي ذَلِكَ لآيَةً لِقَوْمٍ يَذَّكَّرُونَ} .
وهكذا نجد أن الإسلام يوجه الإنسان إلى البحث والدراسة والملاحظة والتجريب، ويحثه على استخدام عقله وفكره ليتدبر الكون من حوله، وينال نتيجة جهده وكدحه بقدر ما ينفق من رصيد العلم والمعرفة، الذي جمعه من النظر والتدبر في ملكوت السماوات والأرض،
উন্নয়ন একটি ইসলামি দায়িত্ব:পবিত্র কুরআন মানুষের শরীর, তার ইন্দ্রিয়সমূহ, বিবেক এবং তার প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য শক্তি সম্পর্কে আলোচনা করেছে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আমি কি তার জন্য দুটি চোখ সৃষ্টি করিনি? এবং একটি জিহ্বা ও দুটি ঠোঁট? আর আমি তাকে স্পষ্ট দুটি পথ প্রদর্শন করেছি।}। মহান আল্লাহ আরও বলেছেন: {আর আমি তো বহু জিন ও মানুষকে জাহান্নামের জন্য সৃষ্টি করেছি; তাদের হৃদয় রয়েছে কিন্তু তা দিয়ে তারা উপলব্ধি করে না, তাদের চোখ রয়েছে কিন্তু তা দিয়ে তারা দেখে না এবং তাদের কান রয়েছে কিন্তু তা দিয়ে তারা শোনে না। তারা চতুষ্পদ জন্তুর ন্যায়, বরং তারা অধিক বিভ্রান্ত; তারাই হলো গাফেল।}। তিনি মহান সত্তা আরও বলেছেন: {তাদের কি এমন পা আছে যা দিয়ে তারা চলে? অথবা তাদের কি এমন হাত আছে যা দিয়ে তারা শক্তভাবে ধরে? অথবা তাদের কি এমন চোখ আছে যা দিয়ে তারা দেখে? অথবা তাদের কি এমন কান আছে যা দিয়ে তারা শোনে?}।
ইন্দ্রিয়সমূহ আল্লাহর পক্ষ থেকে এক নেয়ামত যা তিনি তাঁর বান্দাদের দান করেছেন, আর এগুলোই বাহ্যিক পরিবেশ এবং মানুষের বিবেকের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে। ফলে মানুষ যা কিছু দেখে, শোনে, পর্যবেক্ষণ করে, ঘ্রাণ নেয় এবং পরীক্ষা করে, তার সবকিছুই বিবেকের কাছে স্থানান্তরিত হয় যা সেগুলোকে পরিমাপ করে ও পৃথক করে। এর মাধ্যমেই বুদ্ধিবৃত্তি, স্মরণ, চিন্তাভাবনা এবং গবেষণার প্রক্রিয়াগুলো তৈরি হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন: {নিশ্চয়ই আসমান ও জমিনের সৃষ্টিতে, রাত ও দিনের আবর্তনে, সমুদ্রে বিচরণশীল সেই সব জাহাজে যা মানুষের উপকারে আসে, আকাশ থেকে আল্লাহর বর্ষিত পানিতে যার মাধ্যমে তিনি পৃথিবীকে তার মৃত্যুর পর পুনর্জীবিত করেন এবং তাতে সব ধরনের প্রাণী ছড়িয়ে দিয়েছেন, আর বায়ুর প্রবাহে এবং আকাশ ও পৃথিবীর মধ্যবর্তী নিয়ন্ত্রিত মেঘমালায় অবশ্যই জ্ঞানবান সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শনাবলি রয়েছে।}। মহান আল্লাহ আরও বলেন: {আমি মানুষের জন্য এই কুরআনে সব ধরনের দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেছি, যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে।}। তিনি মহান সত্তা আরও বলেছেন: {তিনিই সেই সত্তা যিনি আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছেন, যাতে তোমাদের জন্য রয়েছে পানীয় এবং তা থেকে উৎপন্ন হয় উদ্ভিদ যাতে তোমরা পশু চরাও। এর মাধ্যমে তিনি তোমাদের জন্য শস্য, যয়তুন, খেজুর, আঙুর এবং সব ধরনের ফল উৎপাদন করেন। নিশ্চয়ই এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শন রয়েছে। আর তিনি তোমাদের জন্য রাত, দিন, সূর্য ও চন্দ্রকে নিয়োজিত করেছেন এবং নক্ষত্ররাজিও তাঁরই নির্দেশে নিয়োজিত। নিশ্চয়ই এতে জ্ঞানবান সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শনাবলি রয়েছে। আর তিনি তোমাদের জন্য পৃথিবীতে যা কিছু সৃষ্টি করেছেন যার রঙ বিভিন্ন, নিশ্চয়ই তাতে উপদেশ গ্রহণকারী সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শন রয়েছে।}।
এভাবেই আমরা দেখতে পাই যে, ইসলাম মানুষকে অনুসন্ধান, অধ্যয়ন, পর্যবেক্ষণ এবং পরীক্ষণের দিকে পরিচালিত করে। আর মানুষকে তার বিবেক ও চিন্তা ব্যবহারের জন্য উৎসাহিত করে যেন সে তার চারপাশের মহাবিশ্ব নিয়ে গবেষণা করে এবং তার প্রচেষ্টা ও শ্রমের ফল লাভ করে সেই জ্ঞান ও প্রজ্ঞার ভাণ্ডার অনুযায়ী, যা সে আসমান ও জমিনের রাজত্বে পর্যবেক্ষণ ও গবেষণার মাধ্যমে সংগ্রহ করেছে।
(খণ্ড: ১)
আল-মুখাদ্দারাত আখতারু মাওয়াকিতিত তানমিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৫২)
وما أودع الخالق سبحانه في مستكنات الأسرار في هذا الوجود. وهكذا يتحقق إعمار الأرض وتنمية الحضارة.
فأهم ما يميز الإنسان قدراته العقلية وإمكانياته اللغوية والرمزية، وما جبل عليه من اختيار وإرادة، ومحاولته حل المشكلات والتعلم والتدرب، فضلا عن نشاطه الفكري وتحليقه في التصور الإيجابي والتخيل البناء، فهو يرسم في ذهنه صورة للواقع ويرسم صورة أخرى لواقع جديد يريد أن يحققه بفضل ما أفاءه الله عليه من نعمة العقل والإدراك، بحيث يكون تحركه من الواقع الملموس والصورة المأمولة تحرك إنجاز وفاعلية.
ولا حرج في الإسلام من بلوغ الإنسان شأواً بعيدا في مجال التنمية طالما يتقي الله ويعمل لمرضاته، وفي تلك الحدود الربانية لا قيود على حريته في البحث والعلم والتنمية، بل إنه مطالب بذلك، ومكلف بإعمار الأرض وتحسين أحوال معيشته، والحصول على طيبات الرزق، والعمل المتواصل من أجل رقيه وسعادته.
এবং মহান স্রষ্টা এই মহাবিশ্বের গোপন রহস্যের গভীরে যা কিছু গচ্ছিত রেখেছেন। এভাবেই পৃথিবী আবাদ হওয়া এবং সভ্যতার বিকাশ সাধিত হয়।
বস্তুত মানুষের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো তার মানসিক সক্ষমতা, ভাষাগত ও প্রতীকী যোগ্যতা এবং তার সহজাত পছন্দ ও ইচ্ছাশক্তি; সেই সঙ্গে সমস্যা সমাধান, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের প্রচেষ্টা। এর পাশাপাশি রয়েছে তার বুদ্ধিবৃত্তিক তৎপরতা এবং ইতিবাচক ধারণা ও গঠনমূলক কল্পনার উচ্চমার্গে বিচরণ। সে তার মনে বর্তমান বাস্তবতার একটি চিত্র আঁকে এবং আল্লাহ প্রদত্ত বুদ্ধি ও উপলব্ধির নেয়ামতের সাহায্যে এমন এক নতুন বাস্তবতার ছবিও আঁকে যা সে অর্জন করতে চায়; যাতে দৃশ্যমান বাস্তবতা থেকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের দিকে তার এই পথচলা সাফল্য ও কার্যকারিতার দিকে ধাবিত হয়।
ইসলামে উন্নয়নের ক্ষেত্রে মানুষের অনেক দূর এগিয়ে যাওয়ায় কোনো বাধা নেই, যতক্ষণ পর্যন্ত সে আল্লাহকে ভয় করে এবং তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কাজ করে। এই ঐশ্বরিক সীমানার ভেতরে গবেষণা, জ্ঞান এবং উন্নয়নের স্বাধীনতায় কোনো বিধিনিষেধ নেই; বরং তাকে এ কাজের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাকে পৃথিবী আবাদ করা, জীবনযাত্রার মান উন্নত করা, পবিত্র রিজিক অন্বেষণ করা এবং নিজের উন্নতি ও সৌভাগ্যের জন্য নিরন্তর কাজ করার দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-মুখাদ্দারাত আখতারু মাওয়াকিতিত তানমিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৫২)
موقف الإسلام من الخمر والمخدرات:والنشاط الفكري للأفراد والجماعات البشرية وكذلك قدراتها على التنظيم والبحث العلمي والعمل الاقتصادي والإنتاج الصناعي والزراعي وغيره، كله مرهون بسلامة العقل الإنساني من أي قصور أو فتور أو تخدير، فالإقبال على الحياة، والاحتكاك بالواقع لتغييره إلى الأفضل شيمة الإنسان المسلم السوي، فهو يعالج الواقع أو يتحاور معه بالعمل الجاد والخيال الإيجابي القائم على التصور الفعلي، أما الشخص السلبي فإنه يركن إلى الوهم والخيال، ويظن أن المخدر هو منقذه من مرارة الواقع مع أنه يسلمه إلى الخيال المريض.
والإسلام الذي يؤكد قيمة الإنسان الذي كرمه الله واستخلفه في الأرض، لا يتضمن مفهوماً غريباً كمفهوم التخليص المسيحي اليهودي، لأن الإسلام يعتبر حياة الإنسان على الأرض شيئاً إيجابياً، وينظر إلى الأمام من أجل تحقيق الإرادة الإلهية في المستقبل، والسعادة الحقيقية، وإن أقرب تعبير إسلامي عن العمل الناجح والتنمية السليمة هو الفلاح، فالإسلام يتحدث عن الأمة الإسلامية النشطة البناءة المسئولة الفعالة في التاريخ والتي هي بحق خير أمة أخرجت للناس في سعيها وأمرها بالمعروف ونهيها عن المنكر.
মদ ও মাদকের ব্যাপারে ইসলামের অবস্থান:ব্যক্তি ও মানবসমষ্টির বুদ্ধিবৃত্তিক তৎপরতা এবং সেইসাথে তাদের সাংগঠনিক ক্ষমতা, বৈজ্ঞানিক গবেষণা, অর্থনৈতিক কর্মতৎপরতা এবং শিল্প ও কৃষি উৎপাদনসহ অন্যান্য সকল বিষয় মানুষের মস্তিষ্কের সুস্থতার ওপর নির্ভরশীল, যা যেকোনো ধরনের সীমাবদ্ধতা, জড়তা বা অসাড়তা থেকে মুক্ত। জীবনের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রাখা এবং বাস্তবতাকে উন্নত করার লক্ষ্যে এর সাথে সম্পৃক্ত হওয়া একজন সুস্থ ও স্বাভাবিক মুসলিমের বৈশিষ্ট্য। তিনি কঠোর পরিশ্রম এবং বাস্তবসম্মত চিন্তাপ্রসূত ইতিবাচক কল্পনার মাধ্যমে বাস্তবতাকে মোকাবিলা করেন অথবা এর সাথে সমন্বয় করেন। পক্ষান্তরে, নেতিবাচক ব্যক্তি বিভ্রান্তি ও অলীক কল্পনার আশ্রয় নেয় এবং মনে করে যে মাদকই তাকে বাস্তবতার তিক্ততা থেকে মুক্তি দেবে, যদিও প্রকৃতপক্ষে তা তাকে এক রুগ্ন মানসিকতায় নিপতিত করে।
ইসলাম মানুষের মর্যাদাকে সুনিশ্চিত করে, যাকে আল্লাহ সম্মানিত করেছেন এবং পৃথিবীতে তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে নিযুক্ত করেছেন। ইসলামে খ্রিস্টীয় বা ইহুদি পরিত্রাণবাদের মতো কোনো বিজাতীয় ধারণা নেই। কারণ ইসলাম পৃথিবীতে মানুষের জীবনকে একটি ইতিবাচক বিষয় হিসেবে গণ্য করে এবং ভবিষ্যতে ঐশী ইচ্ছা ও প্রকৃত সুখ অর্জনের লক্ষ্যে সামনের দিকে দৃষ্টিপাত করে। সফল কর্ম ও সঠিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে ইসলামের সবচেয়ে নিকটবর্তী অভিব্যক্তি হলো 'ফلاح' (সাফল্য)। ইসলাম ইতিহাসে এক সক্রিয়, গঠনমূলক, দায়িত্বশীল ও কার্যকর উম্মাহ সম্পর্কে আলোচনা করে, যারা প্রকৃতপক্ষে মানুষের কল্যাণে আবির্ভূত হওয়া সর্বোত্তম জাতি হিসেবে তাদের প্রচেষ্টার মাধ্যমে সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের নিষেধ প্রদান করে।
(খণ্ড: ১)
আল-মুখাদ্দারাত আখতারু মাওয়াকিতিত তানমিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৫৩)
ولقد عد الإسلام إذهاب العقل والتحذير من الكبائر التي يعاقب عليها بالحد الشرعي وذلك حفاظاً على كيان المجتمع البشري ونشاطه الفعال في خدمة التنمية والأهداف السامية للإنسان، وقد قصد الشارع الإسلامي بتعاليمه وتكاليفه وأحكامه المحافظة على الأمور الضرورية الخمسة للناس وهي الدين والنفس والعقل والمال والنسل أو العرض، فكل ما يحفظ هذه الأمور الخمسة فهو مصلحة وكل ما يفوت هذه الأمور أو بعضها فهو مفسدة. لذا فقد جاءت الشريعة الإسلامية بتحريم المسكرات والمخدرات، لما فيها من الأضرار الفادحة والمفاسد الكثيرة التي تتولد منها وتنشأ عنها بالنسبة للفرد والمجتمع.
ويستوي في نظر الإسلام كل مسكر، لآن المسكر في اللغة الخمر وكل ما يسكر ويذهب بالعقل من الخمرة وما فيها معناها كالحشيش والأفيون والمواد النفسية من العقاقير التي قذفت بها الحضارة الغريبة. وفي الحديث عن رسول الله صلى الله عليه وسلم: " كل مسكر خمر وكل خمر حرام " رواه أحمد، وأبو داود، ومادة خمر - عند العرب - تدور في الأصل حول السّتر ومنه خمار المرأة لأنه يستر وجهها ورأسها، ومنه خمروا آنيتكم أي غطوها 1.
فكل مسكر خمر مهما تعددت أشكاله وألوانه، ومهما وضع له الناس من مسميات وألقاب، فيدخل في ذلك كل ما ثبت إسكاره من أي مادة حتى ولو كانت خبزا وماء، كما روى عن عائشة رضي الله عنها، أنها قالت " لا أحل مسكرا وإن كان خبزا وماء ". وسواء كان نيئاً أو مطبوخاً، مأكولاً أو مشروباً، جامداً أو مائعاً، موجوداً في زمن النبي صلى الله عليه وسلم أو لا. ويدخل في ذلك - بطبيعة الحال - الحشيش، والأفيون، والبيرة، والبوظة، والمواد المنومة barbiturates)) والمواد المنشطة (amphitamines) وكل ما يتعاطى لأغراض الكيف وتحقيق الشعور بالنشوة والراحة الموهوبة لأنها تضر الفرد والمجتمع على السواء، وذلك لأن تعاطيه يؤدي إلى أضرار مختلفة تتعلق بصحة الفرد البدنية والنفسية وقدراته وإمكاناته الإنتاجية، مما يؤثر على التنمية والرقي، ويعطل قوى الإعمار والإنشاء والبناء، ويتناقض مع كرامة الإنسان ومكانته السامية.
--------------------------------------------
ইসলাম বিবেক বিলুপ্ত করাকে কবিরা গুনাহ (الكبائر) হিসেবে গণ্য করেছে এবং এ ব্যাপারে কঠোর সতর্কতা প্রদান করেছে, যার জন্য শরয়ী দণ্ডবিধি (الحد الشرعي) অনুযায়ী শাস্তির বিধান রয়েছে। এটি মূলত মানবসমাজের অস্তিত্ব রক্ষা এবং উন্নয়ন ও মানুষের মহৎ লক্ষ্য অর্জনে তার কার্যকর সক্রিয়তাকে বজায় রাখার স্বার্থে করা হয়েছে। ইসলামি শরিয়ত তার শিক্ষা, দায়বদ্ধতা ও বিধানাবলির মাধ্যমে মানুষের জন্য পাঁচটি মৌলিক ও অপরিহার্য বিষয় সংরক্ষণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে; সেগুলো হলো: ধর্ম, জীবন, বিবেক, সম্পদ এবং বংশধারা বা সম্ভ্রম। সুতরাং যা কিছু এই পাঁচটি বিষয়কে সুরক্ষা দেয় তা-ই কল্যাণ (مصلحة) এবং যা কিছু এই বিষয়গুলো বা এর কোনো অংশকে বিনষ্ট করে তা-ই অনিষ্ট (مفسدة)। এ কারণেই ইসলামি শরিয়ত মাদকদ্রব্য ও নেশাজাতীয় দ্রব্যকে নিষিদ্ধ (حرام) ঘোষণা করেছে; কারণ এতে রয়েছে মারাত্মক ক্ষতি এবং বহুমুখী অনিষ্ট (مفسدة) যা ব্যক্তি ও সমাজের মাঝে পরিলক্ষিত হয়।
ইসলামের দৃষ্টিতে প্রতিটি মাদকদ্রব্যই সমান। কারণ আভিধানিক অর্থে ‘খামর’ (মদ) হলো প্রতিটি এমন বস্তু যা নেশাগ্রস্ত করে এবং বিবেককে আচ্ছন্ন করে ফেলে—চাই তা প্রচলিত মদ হোক কিংবা এর সমজাতীয় বস্তু যেমন গাঁজা, আফিম এবং আধুনিক পাশ্চাত্য সভ্যতার প্রবর্তিত বিভিন্ন মনস্তাত্ত্বিক ওষুধ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে: "প্রতিটি নেশাজাতীয় দ্রব্যই মদ এবং প্রতিটি মদই নিষিদ্ধ (حرام)।" এটি বর্ণনা করেছেন আহমদ ও আবু দাউদ। আরবদের নিকট ‘খামর’ শব্দের মূল ধাতু মূলত ‘আচ্ছাদন’ বা ‘ঢেকে ফেলা’ অর্থকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়। এ থেকেই নারীর ওড়নাকে ‘খিমার’ বলা হয়, কারণ তা তার মুখমণ্ডল ও মাথা ঢেকে রাখে। এ থেকেই বলা হয়েছে—তোমরা তোমাদের পাত্রগুলো ঢেকে রাখো। 1.
সুতরাং প্রতিটি মাদকই মদ, তার রূপ ও রঙ যাই হোক না কেন এবং মানুষ একে যে নামেই অভিহিত করুক না কেন। যে কোনো উপাদান থেকে তৈরি হওয়া এমন প্রতিটি বস্তুই এর অন্তর্ভুক্ত হবে যার মাদকতা প্রমাণিত, এমনকি তা যদি রুটি ও পানিও হয়। যেমনটি আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন: "আমি কোনো মাদককেই বৈধ করি না, এমনকি তা যদি রুটি ও পানিও হয়।" মাদকটি কাঁচা হোক বা রান্না করা, ভক্ষ্য হোক বা পানীয়, কঠিন হোক বা তরল, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে বিদ্যমান থাক বা না থাক—সবই এর অন্তর্ভুক্ত। স্বভাবতই এর মধ্যে গাঁজা, আফিম, বিয়ার, বুজা এবং বারবিচুরেটস (barbiturates), অ্যাম্পিটামিনস (amphitamines) এবং নেশা বা সাময়িক তৃপ্তি ও কৃত্রিম প্রশান্তি লাভের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত সব কিছুই অন্তর্ভুক্ত হবে। কারণ এগুলো ব্যক্তি ও সমাজ উভয়ের জন্যই সমান ক্ষতিকর। কেননা এসবের সেবন ব্যক্তির শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য এবং তার উৎপাদনশীল সক্ষমতার নানাবিধ ক্ষতিসাধন করে, যা উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে ব্যাহত করে এবং নির্মাণ ও সৃজনশীল শক্তিকে স্থবির করে দেয়। এটি মানুষের মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের অবস্থানের সাথে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুখাদ্দারাত আখতারু মাওয়াকিতিত তানমিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৫৪)
نظريات التنمية والتخلف:والتنمية لغوياً معناها الزيادة أو الكثرة أو الارتفاع. نما المال بمعنى زاد وكثر، وتنمية الشيء تعني ارتفاعه من موضعه إلى موضع آخر ونمى ينمي ونمياً ونماء وينميه المال وغيره، زاد وكثر، ونمى الخضاب في الشعر أو اليد: ازداد سوادا، وأنمى إنماء الشيء: زاده فأنمى أي زاد، وأنمى الحديث: أذاعه ونشره، وأنماها الكلأ للإبل بمعنى سمنها، وانتمى البازي: ارتفع موضعه إلى موضع آخر.
ولقد أصبح اصطلاح "التنمية" من أكثر المصطلحات شيوعاً في مجالات الاقتصاد والاجتماع والتربية والثقافة والإعلام. والمقصود به رفع مستوى المجتمعات المتخلفة، ومساعدتها للتخلص مما تعانيه من أمية ومرض وفقر. وكرست هيئة الأمم المتحدة ووكالاتها المتخصصة معظم جهودها للعناية بالتنمية، ودعم الجهود المحلية والدولية لتحسين الأحوال الاقتصادية والاجتماعية والحضارية في المجتمعات المتخلفة، والانتقال بها إلى مستويات أفضل وأرفع.
وقد قدمت عدة تفسيرات لأسباب التخلف، منها مثلاً التفسير الجغرافي الذي يؤكد أنصاره تفسيرهم للتخلف بأن عدداً كبيراً من الدول النامية يقع في المناطق المدارية والاستوائية في أفريقيا وآسيا وأمريكا اللاتينية، بينما تقع معظم الدول المتقدمة في المناطق المعتدلة، ويؤكد أصحاب هذا الرأي أن بيئة الأراضي الاستوائية والمدارية ودرجة خصوبتها، وانتشار الأوبئة فيها، وأمطارها الغزيرة، وحشائشها الضارة تعوق التنمية الزراعية، كما أن حيواناتها هزيلة بسبب انخفاض القيمة الغذائية للمراعي، إذا قورنت بالثروة الحيوانية في البلاد الأوروبية والأمريكية.
غير أن الظروف الطبيعية والعوامل الجغرافية لا يمكن أن تكون وحدها بسبب التخلف بدليل أن بعض الدول النامية تقع في المناطق المعتدلة كدول البحر المتوسط وغيرها، وتحتكر هذه المناطق بعض المحصولات الهامة، وكم من دولة استطاعت أن تتقدم رغم ظروفها الجغرافية الصعبة.
وثمة نظرية أخرى تؤكد أن التخلف له أسباب اجتماعية تتمثل في ضعف قوى الإنتاج وتدهور المستوى العلمي، واكتناز الذهب، والاهتمام بالمظاهر الكاذبة كارتفاع المهور وإقامة
উন্নয়ন ও অনগ্রসরতার তত্ত্বসমূহ:শাব্দিক অর্থে উন্নয়ন বলতে বৃদ্ধি, আধিক্য বা উচ্চতাকে বোঝায়। সম্পদ বৃদ্ধি পেয়েছে বলতে এর আধিক্য ও বৃদ্ধিকে বোঝায়। কোনো কিছুর ‘উন্নয়ন’ বলতে তাকে এক স্থান থেকে অন্য উচ্চতর স্থানে উন্নীত করাকে বোঝায়। কোনো কিছু বৃদ্ধি পাওয়া বা অধিক হওয়া—এসবই উন্নয়নের আভিধানিক অর্থের অন্তর্ভুক্ত। চুলে বা হাতে খেজাব (রঙ) লাগানো সম্পর্কে বলা হয় যে তা আরও উজ্জ্বল বা গাঢ় হয়েছে। কোনো কিছুর উন্নয়ন করা মানে তা বৃদ্ধি করা; অর্থাৎ যখন কেউ কোনো কিছু বাড়িয়ে দেয়। হাদিস প্রচার করার অর্থ হলো তা প্রচার ও প্রসার করা। উটের জন্য চারণভূমির ঘাস তাকে পুষ্ট ও স্থূলকায় করে। শিকারি পাখির ক্ষেত্রে এর অর্থ হলো এক স্থান থেকে অন্য উচ্চতর স্থানে আরোহণ করা।
বর্তমানে 'উন্নয়ন' পরিভাষাটি অর্থনীতি, সমাজবিজ্ঞান, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও গণমাধ্যমের ক্ষেত্রে অত্যন্ত জনপ্রিয় ও বহুল ব্যবহৃত একটি শব্দে পরিণত হয়েছে। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো অনগ্রসর সমাজগুলোর জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করা এবং তাদের নিরক্ষরতা, ব্যাধি ও দারিদ্র্য থেকে মুক্ত হতে সহায়তা করা। জাতিসংঘ ও এর বিশেষায়িত সংস্থাগুলো উন্নয়নের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে এবং অনগ্রসর সমাজগুলোর অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অবস্থার উন্নতির জন্য এবং তাদের আরও উন্নত ও উচ্চতর পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টাসমূহকে জোরদার করতে তাদের অধিকাংশ প্রচেষ্টা নিয়োজিত করেছে।
অনগ্রসরতার কারণ হিসেবে বেশ কিছু ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়েছে। যেমন ভৌগোলিক ব্যাখ্যা; যার সমর্থকরা দাবি করেন যে, অধিকাংশ উন্নয়নশীল দেশ আফ্রিকা, এশিয়া ও ল্যাটিন আমেরিকার ক্রান্তীয় ও বিষুবীয় অঞ্চলে অবস্থিত। অন্যদিকে অধিকাংশ উন্নত দেশ নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে অবস্থিত। এই মতের প্রবক্তারা জোর দিয়ে বলেন যে, বিষুবীয় ও ক্রান্তীয় অঞ্চলের ভূমির প্রকৃতি, উর্বরতার মাত্রা, মহামারীর প্রাদুর্ভাব, অতিবৃষ্টি এবং ক্ষতিকর আগাছা কৃষি উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করে। এছাড়া ইউরোপ ও আমেরিকার দেশগুলোর গবাদিপশুর তুলনায় এসব অঞ্চলের চারণভূমির পুষ্টিগুণ কম হওয়ায় এখানকার পশুগুলো রোগা ও দুর্বল হয়ে থাকে।
তবে প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং ভৌগোলিক কারণগুলোই অনগ্রসরতার একমাত্র কারণ হতে পারে না। এর প্রমাণ হলো, কিছু উন্নয়নশীল দেশ ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলসহ অন্যান্য নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে অবস্থিত এবং এই অঞ্চলগুলো কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফসলের একচেটিয়া অধিকারী। এছাড়া এমন অনেক দেশ আছে যারা কঠিন ভৌগোলিক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও উন্নতি করতে সক্ষম হয়েছে।
অন্য একটি তত্ত্ব নিশ্চিত করে যে, অনগ্রসরতার পেছনে সামাজিক কারণও রয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে উৎপাদন শক্তির দুর্বলতা, শিক্ষার মানের অবনতি, স্বর্ণ মজুত করে রাখা এবং উচ্চ মোহরানা ও জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মতো লৌকিকতার প্রতি গুরুত্ব প্রদান করা।
(খণ্ড: ১)
আল-মুখাদ্দারাত আখতারু মাওয়াকিতিত তানমিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৫৫)
الحفلات الباذخة حبا في المباهاة، وقد تتفتت الثقافة بفعل التعليم الأجنبي الذي يختلف عن التعليم الوطني في البلد الواحد، وتنقسم التربية إلى قسمين متنافرين أحدهما ديني والآخر علماني.
وهناك من يعزو التخلف إلى الجنس والعقيدة، ولكن ثبت مثلا أن اليابان وهي تضم سكانا من الجنس الأصفر قد حققت تقدماً هائلاً ذعرت له دول الجنس الأبيض، كما سجل التاريخ للصين والهند وغيرهما حضارات زاهرة. وكثيراً ما يتبجح المفترون بزعم أن الإسلام سبب تخلف الدول المؤمنة به، وهو تعصب أعمى يكشف عن الحقد الدفين منذ مئات السنين، فالإسلام هو الذي عالج قضايا الدنيا والدين، وهو الذي حدد العلاقات الاقتصادية والاجتماعية تحديداً ينهض دليلاً على الرقي والتقدم، ووضع للعمل والإنتاج قيمة كبرى. وإذا كان المسلمون متخلفين في بعض مجتمعاتهم، فإن ذلك لا يرجع إلى الإسلام، بل إنه على العكس من ذلك يرجع إلى إهمال الدين وعدم التمسك بتعاليمه السمحة البناءة.
وهناك نظرية حديثة ترجع أسباب التخلف إلى الاستعمار. فالدول الاستعمارية استطاعت خلال عشرات السنين أن تحدث تنميتها وتقدمها على حساب المواد الأولية من البلدان التي استعمرتها، وبسيطرتها على التجارة الخارجية للمستعمرات، وجعلها سوقا لمنتجاتها، وبحرمان شعوب المستعمرات من فرض التقدم.
يقول القائد الهولندي " كوين" الذي غزا جاكرتا: " ألا يستطيع أي رجل في أوربا أن يفعل بماشيته ما يشاء؟ هكذا يفعل السيد هنا برجاله الذين يعتبرون بكل ما يملكون ملكاً خاصاً للسيد شأنهم في ذلك شأن البهائم في الأراضي المنخفضة - أي هولندا!! ".
وقام الأسبان في أمريكا اللاتينية بما قام به الفرنسيون في شمال أفريقيا. لقد أهملت الطرق التي شيدها الوطنيون عن عمد لأن أسبانيا كانت تريد تقسيم المستعمرات وحكمها على أساس المبدأ الاستعماري المعروف: فرق تسد. ولهذا جعلت المواصلات والطرق تمتد من الداخل إلى الساحل، ومن الساحل إلى الوطن الأم، إنه نفس الأسلوب الفرنسي في شمال أفريقيا، والأسلوب الإنجليزي في الدول الإسلامية. لقد كان المسافر من القاهرة إلى الجزائر لابد أن يطير إلى باريس أولا، وكان قصد المستعمر دائما هو تفتيت الوحدة بين أصحاب العقيدة الواحدة، وخلق منازعات على الحدود عندما يرحل.
আভিজাত্য প্রদর্শনের নেশায় জাঁকজমকপূর্ণ উৎসব-অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বিদেশি শিক্ষার প্রভাবে সংস্কৃতি খণ্ডিত হয়ে যেতে পারে, যা একই দেশের জাতীয় শিক্ষার চেয়ে ভিন্ন। ফলে শিক্ষা ব্যবস্থা দুটি বিজাতীয় অংশে বিভক্ত হয়ে যায়—একটি ধর্মীয় এবং অন্যটি ধর্মনিরপেক্ষ।
এমন অনেকে আছেন যারা অনগ্রসরতাকে জাতি ও আকিদা (عقيدة)-র সাথে সম্পর্কিত করেন। কিন্তু উদাহরণস্বরূপ এটি প্রমাণিত হয়েছে যে, জাপান—যারা পীত বর্ণের জাতির অন্তর্ভুক্ত—এমন বিশাল উন্নতি অর্জন করেছে যা শ্বেত বর্ণের দেশগুলোকে আতঙ্কিত করে তুলেছে। একইভাবে ইতিহাস চীন, ভারত ও অন্যান্য দেশের গৌরবময় সভ্যতার কথা লিপিবদ্ধ করেছে। মিথ্যেবাদীরা প্রায়শই এই দাবি করে বড়াই করে যে, ইসলাম তার বিশ্বাসী দেশগুলোর অনগ্রসরতার কারণ। এটি মূলত একটি অন্ধ গোঁড়ামি, যা শত শত বছরের পুঞ্জীভূত বিদ্বেষকে প্রকাশ করে। প্রকৃতপক্ষে ইসলামই দুনিয়া ও দ্বীনের বিষয়াবলি সমাধান করেছে এবং এটিই অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পর্কগুলোকে এমনভাবে সুনির্দিষ্ট করেছে যা উন্নতি ও অগ্রগতির প্রমাণ হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। ইসলাম শ্রম ও উৎপাদনকে অত্যন্ত গুরুত্ব প্রদান করেছে। আর মুসলমানরা যদি তাদের কিছু সমাজে পিছিয়ে থাকে, তবে তার কারণ ইসলাম নয়; বরং এর বিপরীতে কারণটি হলো দ্বীনের প্রতি অবহেলা এবং এর উদার ও গঠনমূলক শিক্ষাগুলো আঁকড়ে না ধরা।
অনগ্রসরতার কারণ হিসেবে একটি আধুনিক মতবাদ একে উপনিবেশবাদের সাথে সম্পর্কিত করে। উপনিবেশবাদী রাষ্ট্রগুলো কয়েক দশক ধরে তাদের উপনিবেশভুক্ত দেশগুলোর কাঁচামাল ব্যবহার করে নিজেদের উন্নয়ন ও অগ্রগতি নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে। তারা উপনিবেশগুলোর বৈদেশিক বাণিজ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে এবং সেগুলোকে নিজেদের পণ্যের বাজারে পরিণত করে এবং উপনিবেশের জনগণকে অগ্রগতির সুযোগ থেকে বঞ্চিত করার মাধ্যমে এটি অর্জন করেছে।
জাকার্তা বিজয়ী ওলন্দাজ সেনাপতি 'কোয়েন' বলেন: "ইউরোপের যে কোনো মানুষ কি তার গবাদি পশুর সাথে যা ইচ্ছা তা করতে পারে না? একইভাবে এখানকার মনিব তার অধীনস্থ লোকদের সাথে আচরণ করেন, যাদেরকে তাদের যাবতীয় সহায়-সম্পদসহ মনিবের নিজস্ব মালিকানাধীন বলে গণ্য করা হয়; ঠিক যেমন নেদারল্যান্ডসে—অর্থাৎ হল্যান্ডে—গবাদি পশুদের বিবেচনা করা হয়!!"
ল্যাটিন আমেরিকায় স্প্যানিশরা তা-ই করেছিল যা ফরাসিরা উত্তর আফ্রিকায় করেছিল। স্থানীয় অধিবাসীদের নির্মিত রাস্তাগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে অবহেলা করা হয়েছিল, কারণ স্পেন উপনিবেশগুলোকে বিভক্ত করতে চেয়েছিল এবং সুপরিচিত ঔপনিবেশিক নীতি 'ভাগ করো এবং শাসন করো' ভিত্তিতে শাসন করতে চেয়েছিল। এই কারণে তারা যোগাযোগ ব্যবস্থা ও রাস্তাগুলোকে দেশের অভ্যন্তর থেকে উপকূল পর্যন্ত এবং উপকূল থেকে মূল ভূখণ্ড পর্যন্ত বিস্তৃত করেছিল। এটি উত্তর আফ্রিকায় ফরাসি পদ্ধতি এবং মুসলিম দেশগুলোতে ইংরেজদের অনুসৃত পদ্ধতিরই অনুরূপ। কায়রো থেকে আলজেরিয়াগামী যাত্রীকে আগে প্যারিসে উড়ে যেতে হতো। উপনিবেশবাদীদের উদ্দেশ্য সবসময় ছিল একই আকিদা (عقيدة)-র অনুসারীদের ঐক্য খণ্ডিত করা এবং চলে যাওয়ার সময় সীমানা নিয়ে বিবাদ সৃষ্টি করা।
(খণ্ড: ১)
আল-মুখাদ্দারাত আখতারু মাওয়াকিতিত তানমিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৫৬)
الاستعمار والمخدرات:وأخطر ما لجأ إليه الاستعمار هو استخدام المسكرات والمخدرات ليفت في عضد الشعوب، وقتل مواهبها، والقضاء على نشاطها، لقد أغرقت بريطانيا الصين بالأفيون، والأسبان هم الذين أدخلوا المخدرات في أمريكا اللاتينية في القرن السادس عشر. وكان الهولنديون سببا في دخول المخدرات إلى جنوب أفريقيا في القرن السابع عشر مع الخمور الرخيصة المهلكة لصحة الشعب الزنجي، وبذلك يكون الحشيش والأفيون والخمور قد انتقلت مع الغزو الاستعماري والهجرات البشرية المصاحبة للمستعمرين والغزاة الذين عملوا على نشره بين الأهالي الأصليين كوسيلة للقضاء عليهم، ولتعطيل التنمية في بلادهم، أو على الأقل لامتصاص قواهم الذهنية.
ولقد عرفت إسرائيل هذه الحقيقة، فأخذت تروج هذه السموم بين العرب، وخاصة إبان نكسة 1967 وما بعدها، وعلى سبيل المثال فقد ضبط في القضية رقم 29 جنايات غارب سنة 1968 ما مقداره 498 كيلوجراما من الحشيش و53 كيلوجراما من الأفيون، وضبط في القضية رقم 57 جنايات غارب سنة 1968 ما مقداره 484 كيلوجراما من الحشيش، وضبط في القضية رقم 92 جنايات غارب سنة 1969 ما مقداره 508 كيلوجراما من الحشيش و172 كيلوجراما من الأفيون، وضبط في القضية رقم 10 جنايات الغردقة سنة 1970 ما مقداره 971 كيلوجراما من الحشيش، وضبط في القضية رقم 69 جنايات الغردقة سنة 1970 ما مقداره 894 كيلوجراما من الحشيش و589 كيلوجراما من الأفيون، وضبط في القضية رقم 121 جنايات الغردقة سنة 1970 ما مقداره 798 كيلوجراما من الحشيش و294 كيلوجراما من الأفيون.
وثبت أن هذه الكميات كلها قد هربت عن طريق خليج السويس. أما عن طريق قناة السويس فإن الكميات المهربة لا تقل خطراً، ففي القضية رقم 258 جنايات عتاقة سنة 1967، كان المضبوط 986 كيلوجراما من الحشيش و326 كيلوجراما من الأفيون، وفي القضية رقم 153 جنايات عتاقة سنة 1968، كان المضبوط 812 كيلوجراما من الحشيش و414 كيلوجراما من الأفيون، وفي القضية رقم 441 جنايات السويس سنة 1967، كان المضبوط 245 كيلوجراما من الحشيش و93 كيلوجراما من الأفيون، وفي القضية رقم 19 جنايات عسكرية الإسماعيلية سنة 1968 كان المضبوط 220 كيلوجراما من الأفيون 1.
--------------------------------------------
উপনিবেশবাদ ও মাদকদ্রব্য:উপনিবেশবাদ সবচাইতে বিপজ্জনক যে পন্থার আশ্রয় নিয়েছে তা হলো মাদক ও নেশাজাতীয় দ্রব্যের ব্যবহার; যাতে জাতিগুলোর মনোবল ভেঙে দেওয়া যায়, তাদের প্রতিভা ধবংস করা যায় এবং তাদের কর্মতৎপরতা বিলীন করে দেওয়া যায়। ব্রিটেন চীনকে আফিম দিয়ে নিমজ্জিত করেছিল, আর স্প্যানিশরাই ষোড়শ শতাব্দীতে ল্যাটিন আমেরিকায় মাদকের অনুপ্রবেশ ঘটিয়েছিল। ওলন্দাজরা সপ্তদশ শতাব্দীতে দক্ষিণ আফ্রিকায় সস্তা এবং কৃষ্ণাঙ্গ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ধ্বংসাত্মক মদ্যপানের সাথে সাথে মাদকের অনুপ্রবেশের কারণ হয়েছিল। এভাবে হাশিশ, আফিম ও মদ ঔপনিবেশিক আগ্রাসন এবং উপনিবেশ স্থাপনকারী ও আক্রমণকারীদের সাথে আসা মানব অভিবাসনের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যারা আদিবাসীদের নির্মূল করতে, তাদের দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে অথবা অন্ততপক্ষে তাদের মানসিক শক্তি শোষণ করতে এগুলো আদিবাসীদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ করেছিল।
ইসরায়েল এই সত্যটি উপলব্ধি করেছিল, তাই তারা আরবদের মাঝে বিশেষ করে ১৯৬৭ সালের নাকসা (পরাজয়) ও তার পরবর্তী সময়ে এই বিষগুলো ছড়িয়ে দিতে শুরু করে। উদাহরণস্বরূপ, ১৯৬৮ সালের ঘারেব ফৌজদারি মামলার ২৯ নম্বর মামলায় ৪৯৮ কেজি হাশিশ এবং ৫৩ কেজি আফিম জব্দ করা হয়েছিল। ১৯৬৮ সালের ঘারেব ফৌজদারি মামলার ৫৭ নম্বর মামলায় ৪৮৪ কেজি হাশিশ জব্দ করা হয়েছিল। ১৯৬৯ সালের ঘারেব ফৌজদারি মামলার ৯২ নম্বর মামলায় ৫০৮ কেজি হাশিশ এবং ১৭২ কেজি আফিম জব্দ করা হয়েছিল। ১৯৭০ সালের হুরগাদা ফৌজদারি মামলার ১০ নম্বর মামলায় ৯৭১ কেজি হাশিশ জব্দ করা হয়েছিল। ১৯৭০ সালের হুরগাদা ফৌজদারি মামলার ৬৯ নম্বর মামলায় ৮৯৪ কেজি হাশিশ এবং ৫৮৯ কেজি আফিম জব্দ করা হয়েছিল। এবং ১৯৭০ সালের হুরগাদা ফৌজদারি মামলার ১২১ নম্বর মামলায় ৭৯৮ কেজি হাশিশ এবং ২৯৪ কেজি আফিম জব্দ করা হয়েছিল।
এটি প্রমাণিত হয়েছে যে, এই সমস্ত পরিমাণ সুয়েজ উপসাগরের মাধ্যমে পাচার করা হয়েছিল। আর সুয়েজ খালের মাধ্যমে পাচারকৃত পরিমাণের ভয়াবহতাও কোনো অংশে কম নয়। ১৯৬৭ সালের আতাখা ফৌজদারি মামলার ২৫৮ নম্বর মামলায় জব্দকৃত পরিমাণ ছিল ৯৮৬ কেজি হাশিশ এবং ৩২৬ কেজি আফিম। ১৯৬৮ সালের আতাখা ফৌজদারি মামলার ১৫৩ নম্বর মামলায় জব্দকৃত পরিমাণ ছিল ৮১২ কেজি হাশিশ এবং ৪১৪ কেজি আফিম। ১৯৬৭ সালের সুয়েজ ফৌজদারি মামলার ৪৪১ নম্বর মামলায় জব্দকৃত পরিমাণ ছিল ২৪৫ কেজি হাশিশ এবং ৯৩ কেজি আফিম। এবং ১৯৬৮ সালের ইসমাইলিয়া সামরিক ফৌজদারি মামলার ১৯ নম্বর মামলায় ২২০ কেজি আফিম জব্দ করা হয়েছিল ১।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুখাদ্দারাত আখতারু মাওয়াকিতিত তানমিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৫৭)
وقد كشفت التحقيقات أن بعض تلك المخدرات كانت مخلوطة بسموم قاتلة، وملوثة بجراثيم أوبئة فتاكة، فاجتاحت المناطق التي وزعت فيها أمراض خطيرة، فالمخدرات وسيلة مدمرة في يد العدو أكثر فتكا من الأسلحة، لأن سمومها تنتشر في أبدان الشعب ببطء، ودون صخب أو انفجار أو دوي، بل الأدهى من ذلك أن أبناء الشعب يحملونها إلى إخوانهم وأبنائهم، كما أن خطرها باق في الأجيال اللاحقة لأن تأثير المخدرات على الأجنة في بطون أمهاتهم أمر ثابت ومعروف نتيجة التعاطي.
তদন্তে উন্মোচিত হয়েছে যে, এসব মাদকদ্রব্যের কিছু অংশ প্রাণঘাতী বিষের সাথে মিশ্রিত ছিল এবং তা ধ্বংসাত্মক মহামারীর জীবাণু দ্বারা দূষিত ছিল। ফলে যেসব অঞ্চলে এগুলো বিতরণ করা হয়েছে, সেখানে ভয়াবহ রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়েছে। সুতরাং মাদকদ্রব্য শত্রুর হাতে থাকা অস্ত্রের চেয়েও অধিক ধ্বংসাত্মক একটি মাধ্যম; কারণ এর বিষ জনগণের দেহে অত্যন্ত ধীরগতিতে এবং কোনো প্রকার শোরগোল, বিস্ফোরণ বা গর্জন ছাড়াই ছড়িয়ে পড়ে। বরং এর চেয়েও ভয়াবহ বিষয় হলো, জাতির সন্তানরাই একে তাদের ভাই ও সন্তানদের কাছে বয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তদুপরি, এর বিপদ পরবর্তী প্রজন্মের মাঝেও বিদ্যমান থাকে; কেননা মাদক সেবনের ফলে মাতৃগর্ভে থাকা ভ্রূণের ওপর মাদকের প্রভাব একটি প্রমাণিত (ثابت) ও সুপরিচিত (معروف) বিষয়।
(খণ্ড: ১)
আল-মুখাদ্দারাত আখতারু মাওয়াকিতিত তানমিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৫৭)
أخطار المخدرات:إن الدول الاستعمارية وإسرائيل تعمل على تعويق التنمية، وتعطيل قوى العمال والفلاحين والطلاب والموظفين، فقد اتضح من الأبحاث التي أجراها العلماء وقام بها الأطباء أن الآثار المباشرة للتخدير تعمل على تخفيض الإنتاج كما ونوعا، سواء عقلياً أو آلياً، كما تبين أن نقص الإنتاج وانخفاض مستواه، يزدادان بزيادة كمية المخدر المتعاطاة، وهذه النتائج تؤيدها المظاهر النفسية التي لوحظت على الأشخاص موضع التجربة والتي تدل على التعويق الذي يمر به الفرد أثناء العمل وتحت تأثير المخدر.
وتدل نتائج البحوث التي أجريت على الأفيون ومشتقاته أن آثار هذه المخدرات الصحية والنفسية تصيب الوظيفة الإنتاجية للأفراد بضرر شديد. ومن أهم آثار الأفيون على الشخصية: العصبية والحساسية الشديدة والتوتر الانفعالي، وسوء الخلق وعدم الاكتراث والإهمال وانخفاض مستوى الإنتاج، وضعف القدرة على التكيف والتوافق الاجتماعي، والتدهور الخلقي، والتخلف الاقتصادي، وكل ذلك يفضي إلى التعطيل والبطالة والطفيلية، ويدفع المدمنين إلى الانزلاق في مهاوى الجريمة كالنصب والاحتيال وخيانة الأمانة والدعارة والسرقة، والانزلاق في تجارة المخدرات وترويجها.
ويكفي لكي تدرك خطورة المخدرات أنه في أوائل الخمسينات من هذا القرن قدرت الأمم المتحدة عدد المتعاطين للحشيش في العالم بحوالي 300 مليون نسمة، مع أن هذا التقرير تقريبي وغير دقيق لصعوبة الوصول إلى أعداد من يمارسون هذه العادة الذميمة، والتي تحرمها معظم المجتمعات، وعلى الرغم من أن هذا الرقم قديم مضى عليه أكثر من ثلاثين عاما، إلا أن له دلالته الخاصة على مدى شيوع المخدرات وانتشارها. وتشير الإحصاءات أن معظم المتعاطين
মাদকদ্রব্যের ভয়াবহতা:নিশ্চয়ই ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রসমূহ এবং ইসরায়েল উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে এবং শ্রমিক, কৃষক, ছাত্র ও চাকুরিজীবীদের শক্তিকে অকেজো করে দিতে সচেষ্ট। বিজ্ঞানী ও চিকিৎসকদের পরিচালিত গবেষণায় এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, মাদকাসক্তির প্রত্যক্ষ প্রভাব মানসিক বা যান্ত্রিক—উভয় ক্ষেত্রেই উৎপাদনের পরিমাণ ও গুণগত মান কমিয়ে দেয়। আরও প্রতীয়মান হয়েছে যে, উৎপাদনের ঘাটতি ও এর নিম্নগামী মান মাদক গ্রহণের পরিমাণের সাথে পাল্লা দিয়ে বৃদ্ধি পায়। এই ফলাফলগুলো সেই সব মনস্তাত্ত্বিক লক্ষণ দ্বারাও সমর্থিত, যা পরীক্ষাধীন ব্যক্তিদের মধ্যে পরিলক্ষিত হয়েছে; যা কর্মকালীন সময়ে এবং মাদকের প্রভাবাধীন থাকা অবস্থায় ব্যক্তির কর্মক্ষমতা হ্রাসের প্রমাণ দেয়।
আফিম ও এর উপজাত দ্রব্যগুলোর ওপর পরিচালিত গবেষণার ফলাফল নির্দেশ করে যে, এই মাদকগুলোর শারীরিক ও মানসিক প্রভাব ব্যক্তিদের উৎপাদনশীল ক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। ব্যক্তিত্বের ওপর আফিমের অন্যতম প্রধান প্রভাবগুলো হলো: স্নায়বিক দুর্বলতা, চরম সংবেদনশীলতা ও আবেগীয় উত্তেজনা, অসদাচরণ, উদাসীনতা, অবহেলা, উৎপাদনের মান হ্রাস, সামাজিক অভিযোজন ও সংহতি স্থাপনের অক্ষমতা, নৈতিক অবক্ষয় এবং অর্থনৈতিক পশ্চাৎপদতা। এ সবকিছুই শেষ পর্যন্ত কর্মহীনতা, বেকারত্ব ও পরনির্ভরশীলতার দিকে নিয়ে যায় এবং মাদকাসক্তদের জালিয়াতি, প্রতারণা, আমানতের খিয়ানত, অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও চুরির মতো অপরাধের গহ্বরে নিমজ্জিত হতে প্ররোচিত করে; সেই সাথে মাদক ব্যবসা ও এর প্রসারে জড়িয়ে পড়তে লিপ্ত করে।
মাদকদ্রব্যের ভয়াবহতা অনুধাবনের জন্য এটুকুই যথেষ্ট যে, এই শতাব্দীর পঞ্চাশের দশকের শুরুতে জাতিসংঘ বিশ্বে গাঁজা সেবনকারীর সংখ্যা প্রায় ৩০ কোটি বলে প্রাক্কলন করেছিল। যদিও এই প্রতিবেদনটি আনুমানিক এবং নিখুঁত নয়, কারণ এই নিন্দনীয় অভ্যাসে লিপ্ত ব্যক্তিদের প্রকৃত সংখ্যা নিরূপণ করা অত্যন্ত কঠিন, যা অধিকাংশ সমাজেই নিষিদ্ধ। এই পরিসংখ্যানটি ত্রিশ বছরেরও বেশি পুরনো হওয়া সত্ত্বেও, মাদকের ব্যাপকতা ও বিস্তারের ক্ষেত্রে এর বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেখা যায় যে, অধিকাংশ সেবনকারী...
(খণ্ড: ১)
আল-মুখাদ্দারাত আখতারু মাওয়াকিতিত তানমিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৫৮)
في العالم الإسلامي، كما أن الدول المنتجة أيضا تقع معظمها في العالم الإسلامي، مع أنها دول نامية في أمس الحاجة إلى يقظة أبنائها وجهودهم المخلصة من أجل التنمية والتقدم وتحسين الأحوال المعيشية.
মুসলিম বিশ্বে, একইভাবে উৎপাদনকারী দেশগুলোর অধিকাংশও মুসলিম বিশ্বে অবস্থিত, যদিও সেগুলো উন্নয়নশীল রাষ্ট্র এবং তাদের সন্তানদের সচেতনতা ও উন্নয়ন, অগ্রগতি এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে তাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টার অত্যন্ত প্রয়োজন।
(খণ্ড: ১)
আল-মুখাদ্দারাত আখতারু মাওয়াকিতিত তানমিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৫৮)
المخدرات في العالم الإسلامي:فقد كانت زراعة الأفيون بتركيا هي المصدر الرئيسي الذي تغذي حركة الاتجار غير المشروع في الشرق الأوسط، وكان بعض الإنتاج التركي يصنع إلى باز مورفين على الحدود السورية التركية داخل مصانع بدائية، توطئة لنقلها إلى أوروبا لتحويله إلى مورفين وهوريين.
إلا أن بعض الأفيون الناتج في إيران وأفغانستان وباكستان أخذ يتزايد تهريبه يوماً بعد يوم إلى منطقة الخليج العربي مع العمالة المتزايدة المتجهة إلى هذه البلاد للقيام بأعمال العمران والتنمية.
وقد صرحت إيران بأنها قررت منع زراعة خشخاش الأفيون سنة 1955 ثم عادت سنة 1969 وصرحت بزراعته، مما أثار قلق الدول الأخرى، وكان المجتمع الدولي يطالب دائماً بالحد من زراعة الحشيش والأفيون. ففي تركيا مثلا كان الأفيون يزرع في 42 ولاية قبل سنة 1967، تناقص إلى 11 ولاية سنة 1969، ثم تسع ولايات 1970، لتصل إلى سبع ولايات سنة 1971، وكان مقرراً أن تنخفض إلى خمس ولايات سنة 1972، مع إدخال نظام التراخيص إلى أن وصلنا إلى الدورة الرابعة والعشرين للجنة المخدرات الدولية التي عقدت بجنيف (من 27 /9- 21/ 10/ 1971) وإذا بممثل تركيا يعلن قرار حكومته التاريخي الصادر في 29 يونية 1971 الذي يقضي بمنع زراعة الخشخاش وإنتاج الأفيون نهائياً داخل حدود تركيا اعتباراً من محصول خريف 1972.
إلا أن الإلغاء التركي إذا حقق في الإقلال من الأفيون التركي أو انعدامه في الأسواق، إلا أنه يخشى من ارتفاع الأسعار واتساع الزراعات في الدول الثلاث المجاورة لسد الفراغ، مما دفعها إلى المطالبة بالمساعدات الفنية والمادية لمواجهة الموقف وإحلال زراعات بديلة وتدعيم أجهزة الشرطة مع عقد الاتفاقيات فيما بينها للتصدي لمحاولات التهريب عبر الحدود المشتركة.
أما بالنسبة لإيران فلم يتحسن الموقف بالنسبة للاتجار غير المشروع: فالأفيون يتدفق
মুসলিম বিশ্বে মাদকদ্রব্য:তুরস্কে আফিম চাষ ছিল মধ্যপ্রাচ্যে অবৈধ মাদক পাচারের প্রধান উৎস। তুর্কি উৎপাদনের একটি অংশ সিরিয়া-তুরস্ক সীমান্তে অবস্থিত আদিম কারখানাগুলোতে বেস মরফিনে প্রক্রিয়াজাত করা হতো, যা পরবর্তীতে ইউরোপে মরফিন ও হেরোইনে রূপান্তরের উদ্দেশ্যে স্থানান্তরের প্রস্তুতি হিসেবে করা হতো।
তবে ইরান, আফগানিস্তান এবং পাকিস্তানে উৎপাদিত আফিমের একটি অংশ দিন দিন আরব উপসাগরীয় অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান হারে পাচার হতে শুরু করে। বিশেষ করে উন্নয়ন ও নির্মাণ কাজে নিয়োজিত এই দেশগুলোর অভিমুখে ক্রমবর্ধমান শ্রমশক্তির সাথে সাথে এই পাচার বৃদ্ধি পায়।
ইরান ঘোষণা করেছিল যে তারা ১৯৫৫ সালে আফিম পপি চাষ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, কিন্তু পরবর্তীতে ১৯৬৯ সালে পুনরায় তা চাষের অনুমতি দেয়, যা অন্যান্য দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সর্বদা হাশিশ এবং আফিম চাষ সীমিত করার দাবি জানিয়ে আসছিল। উদাহরণস্বরূপ, তুরস্কে ১৯৬৭ সালের আগে ৪২টি প্রদেশে আফিম চাষ হতো, যা ১৯৬৯ সালে কমে ১১টি প্রদেশে দাঁড়ায়, এরপর ১৯৭০ সালে নয়টি প্রদেশে এবং ১৯৭১ সালে তা সাতটি প্রদেশে নেমে আসে। লাইসেন্সিং পদ্ধতি প্রবর্তনের মাধ্যমে ১৯৭২ সালে এটি পাঁচটি প্রদেশে কমিয়ে আনার পরিকল্পনা ছিল। শেষ পর্যন্ত জেনেভায় অনুষ্ঠিত (২৭/৯ - ২১/১০/১৯৭১) মাদকদ্রব্য সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক কমিটির চব্বিশতম অধিবেশনে তুরস্কের প্রতিনিধি তার সরকারের ২৯ জুন ১৯৭১-এ জারি করা ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন, যা ১৯৭২ সালের শরতের ফসল থেকে তুরস্কের সীমানার ভেতরে পপি চাষ এবং আফিম উৎপাদন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার নির্দেশ দেয়।
যদিও তুরস্কের এই নিষেধাজ্ঞা বাজারে তুর্কি আফিম হ্রাস বা বিলুপ্তিতে ভূমিকা রেখেছিল, তবে আশঙ্কা করা হচ্ছিল যে এর ফলে দাম বৃদ্ধি পাবে এবং শূন্যতা পূরণে প্রতিবেশী তিনটি দেশে চাষাবাদ আরও সম্প্রসারিত হবে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিকল্প চাষাবাদ চালু করা, পুলিশ বাহিনীকে শক্তিশালী করা এবং সাধারণ সীমান্ত দিয়ে পাচারের প্রচেষ্টা প্রতিহত করার জন্য দেশগুলোর মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সহায়তার দাবি জানানো হয়।
ইরানের ক্ষেত্রে অবৈধ পাচারের পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি: সেখানে আফিমের প্রবাহ অব্যাহত ছিল।
(খণ্ড: ১)
আল-মুখাদ্দারাত আখতারু মাওয়াকিতিত তানমিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৫৯)
من الحدود الشرقية والمورفين من الحدود الشمالية الغربية مع عصابات مسلحة مستخدمة كافة وسائل النقل، وشكلت الضبطيتان الرئيسيتان على الحدود الشرقية والتي بلغت إحداهما 12282 كيلوجراما والثانية 4224 كيلوجراما من الأفيون نسبة 80 % من مضبوطات عام 1973 كما ضبط ستة معامل لصنع الهيروين في أذربيجان وطهران، وتزداد هذه الكميات في السنوات الأخيرة 1.
পূর্ব সীমান্ত এবং উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত হতে সশস্ত্র দলসমূহ সকল প্রকার পরিবহণ মাধ্যম ব্যবহার করে মরফিন পাচার করছিল। পূর্ব সীমান্তে পরিচালিত প্রধান দুটি অভিযানে উদ্ধারকৃত আফিমের পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ১২,২৮২ কিলোগ্রাম এবং ৪,২২৪ কিলোগ্রাম, যা ১৯৭৩ সালের সর্বমোট জব্ধকৃত পরিমাণের ৮০ শতাংশ। এছাড়াও আজারবাইজান ও তেহরানে হেরোইন তৈরির ছয়টি কারখানা জব্দ করা হয়েছে এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই পরিমাণ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে ১।
(খণ্ড: ১)
আল-মুখাদ্দারাত আখতারু মাওয়াকিতিত তানমিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৫৯)
المخدرات والتنمية في لبنان:وتتضح مشكلة التنمية وعلاقتها بالمخدرات بأوضح صورة في لبنان: فهو المصدر الرئيسي لتغذية العالم العربي والإسلامي بالحشيش، الذي يزرع بقضائي بعلبك والهرمل من محافظة البقاع، وتأتي المغرب في المرتبة الثانية لتغذية شمال أفريقيا وأوروبا الغربية. وقد بلغت الزراعات بالمغرب سنة 1968 ثلاثة آلاف هكتار، كما ضبط خمسون طناً من الحشيش وتم إتلاف 38 مليون شجرة.
ويتسرب إنتاج إيران وأفغانستان وباكستان والهند من الحشيش إلى دول الخليج العربي بكميات متزايدة مع العمالة الوافدة إلى تلك البلاد، أما السودان فيكتفي ذاتيا بإنتاجه في الجنوب.
وقد قام المشروع الأخضر اللبناني سنة 1966 بهدف إحلال زراعات بديلة عن زراعات القنب الهندي وأوردت مذكرة رسمية لهذا المشروع بأن قضية إحلال الزراعات المفيدة محل الزراعات غير المشروعة باتت بالنسبة للبنان قضية حيوية لأنها مرتبطة برسالته التاريخية وسمعته الإقليمية والعالمية سياسياً واقتصادياً واجتماعياً.
ولكن اتضح أن المشروع يحتاج إلى رصف الطرق وتربية المواشي وإقامة مصانع الألبان وإنشاء المناحل وتربية الدواجن وزرع دوار الشمس والسمسم والفاكهة والذرة والبرسيم وفول الصويا والنباتات العطرية، وتوفير الميكنة الزراعية.
وقد استجابت جميع المنظمات الدولية لمد يد العون إلى لبنان، إلا أنه اتضح أن منطقتي الهرمل وبعلبك تعتبران الحشيش مصدراً رئيسياً للدخل، وأن توفير الماء ضروري
--------------------------------------------
লেবাননে মাদকদ্রব্য ও উন্নয়ন:লেবাননে উন্নয়ন সমস্যা এবং মাদকদ্রব্যের সাথে এর সম্পর্ক অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে: এটি আরব ও ইসলামি বিশ্বে হাশিশ সরবরাহের প্রধান উৎস, যা বেকা প্রদেশের বালবেক এবং হারমেল জেলায় চাষ করা হয়। উত্তর আফ্রিকা ও পশ্চিম ইউরোপে সরবরাহের ক্ষেত্রে মরক্কো দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। ১৯৬৮ সালে মরক্কোতে চাষাবাদের পরিমাণ ছিল তিন হাজার হেক্টর; সেখানে পঞ্চাশ টন হাশিশ জব্দ করা হয়েছিল এবং ৩৮ মিলিয়ন গাছ ধ্বংস করা হয়েছিল।
ইরান, আফগানিস্তান, পাকিস্তান এবং ভারতের হাশিশ উৎপাদন ওই দেশগুলো থেকে আসা অভিবাসী শ্রমিকদের মাধ্যমে ক্রমবর্ধমান হারে আরব উপসাগরীয় দেশগুলোতে পাচার হচ্ছে। আর সুদান দক্ষিণাঞ্চলে নিজস্ব উৎপাদনের মাধ্যমে স্বয়ংসম্পূর্ণ।
১৯৬৬ সালে লেবাননের 'সবুজ প্রকল্প' (Green Project) ভারতীয় গাঁজার পরিবর্তে বিকল্প ফসল চাষের উদ্দেশ্যে গৃহীত হয়েছিল। এই প্রকল্পের একটি সরকারি নোটে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অবৈধ চাষাবাদের পরিবর্তে দরকারী ফসল চাষের বিষয়টি লেবাননের জন্য একটি অত্যাবশ্যকীয় বিষয়ে পরিণত হয়েছে; কারণ এটি দেশটির রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক দিক থেকে তার ঐতিহাসিক মিশন এবং আঞ্চলিক ও বিশ্বব্যাপী সম্মানের সাথে জড়িত।
তবে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য রাস্তাঘাট পাকাকরণ, গবাদি পশু পালন, দুগ্ধজাত পণ্য তৈরির কারখানা স্থাপন, মৌমাছি পালন কেন্দ্র তৈরি, হাঁস-মুরগি পালন এবং সূর্যমুখী, তিল, ফলমূল, ভুট্টা, ক্লোভার, সয়াবিন ও সুগন্ধি উদ্ভিদ চাষ এবং কৃষি যান্ত্রিকীকরণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
সকল আন্তর্জাতিক সংস্থা লেবাননকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে সাড়া দিয়েছিল। তবে এটি প্রকাশ পেয়েছে যে, হারমেল এবং বালবেক অঞ্চলের মানুষ হাশিশকে আয়ের প্রধান উৎস হিসেবে বিবেচনা করে এবং সেখানে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা অপরিহার্য।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুখাদ্দারাত আখতারু মাওয়াকিতিত তানমিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৬০)
للإنتاج الزراعي، كما اتضح أن رقعة زراعة الحشيش في ازدياد مستمر، ولما كان مردود دوار الشمس لا يقارن بمردود الحشيش، كما أن للمهربين وسائلهم الشيطانية في إغراء المزارعين، فقد أصبحت هذه المشكلة تهدد التنمية في لبنان وفي الشرق الأوسط بوجه عام1.
ولذلك يجب على العالم العربي أن يتعاون بسرعة لإيقاف زراعة الحشيش في لبنان، ومساعدة البلاد على التنمية الزراعية، ودعم الزراعات المفيدة، وتطبيق قوانين إتلاف الزراعات المحظورة.
কৃষি উৎপাদনের ক্ষেত্রে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, গাঁজা চাষের আওতাধীন জমির পরিমাণ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। যেহেতু সূর্যমুখীর উৎপাদন থেকে প্রাপ্ত আয় গাঁজার আয়ের তুলনায় নগণ্য, এবং পাচারকারীরা কৃষকদের প্রলুব্ধ করতে নানাবিধ অশুভ পন্থা অবলম্বন করে থাকে, তাই এই সমস্যাটি লেবাননসহ সামগ্রিকভাবে মধ্যপ্রাচ্যের উন্নয়নের জন্য হুমকিস্বরূপ হয়ে দাঁড়িয়েছে ১।
একারণে আরব বিশ্বের উচিত লেবাননে গাঁজা চাষ বন্ধে দ্রুত সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ করা, দেশটিকে কৃষি উন্নয়নে সহায়তা করা, কল্যাণকর চাষাবাদে সমর্থন দান করা এবং নিষিদ্ধ ফসল ধ্বংসকরণ সংক্রান্ত আইনসমূহ বাস্তবায়ন করা।
(খণ্ড: ১)
আল-মুখাদ্দারাত আখতারু মাওয়াকিতিত তানমিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৬০)
مشاكل القات والتنمية:لقد حظيت مشكلة القات باهتمام اللجنة الاستشارية بعصبة الأمم سنة 1935 ونوقشت بدوراتها المختلفة ثم أحيلت إلى منطقة الصحة العالمية حيث أصدرت لجنة من خبرائها تقريرها الثالث عشر الذي نشر سنة 1964 وتضمن " أن القات يشبه المواد من فضيلة الأمفيتامينات وأن الأعراض التسممية الناجمة عن الإسراف في المضغ تشبه تلك التي يسببها سوء استعمال الأمفيتامينات ".
وقد خرج ممثل الأمم المتحدة من الدراسات الميدانية التي أجراها بكل من صنعاء وعدن وزيارته لبعض الأراضي المزروعة بالقات وتفقده للأسواق التي يباع فيها والتي يقبل عليها المواطنون إقبالاً منقطع النظير، أن زراعة القات قد عادت على اليمن الشمالية بأضرار صحية واقتصادية ينبغي أن تكون موضع الاعتبار عند النظر في معالجة المشكلة المتعمقة الجذور.
وتتمثل بعض الأضرار الصحية لنبات القات في فقدان الشهية وسوء التغذية والتعرض للأمراض المعدية كالسل وإضعاف القدرة الجنسية لدى الرجال والتفكك الأسري وغير ذلك.
غير أن ما يسترعى النظر ما أبلغت به جمهورية اليمن الديمقراطية الشعبية سكرتارية الأمم المتحدة من أنها لاحظت أن القات يستهلك مخلوطاً بمواد مخدرة أو منشطة أخرى - وأنها ضبطت ثلاث حالات كان القات فيها مخلوطاً بالمورفين، واثنتي عشرة حالة مخلوطا بالأفيون، وإحدى وعشرين حالة مخلوطاً بالموباريتال، وثلاث حالات بالمسكرات، وهذه ظاهرة جديدة لاستهلاك القات مخلوطاً بمواد مخدرة أكثر خطورة.
--------------------------------------------
কাত সমস্যা ও উন্নয়ন:১৯৩৫ সালে লিগ অব নেশনস-এর উপদেষ্টা কমিটির নিকট কাত সমস্যাটি গুরুত্ব পায় এবং এর বিভিন্ন অধিবেশনে এটি আলোচিত হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিকট স্থানান্তরিত হলে তাদের একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি একটি প্রতিবেদন প্রদান করে, যা ১৯৬৪ সালে প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, "কাত অ্যাম্পেটামিন জাতীয় পদার্থের সদৃশ এবং এর অতিরিক্ত চিবানোর ফলে যে বিষক্রিয়ার লক্ষণসমূহ প্রকাশ পায়, তা অ্যাম্পেটামিনের অপব্যবহারজনিত বিষক্রিয়ার অনুরূপ।"
জাতিসংঘের প্রতিনিধি সানা ও এডেনে পরিচালিত মাঠ পর্যায়ের গবেষণা এবং কাত চাষকৃত এলাকা পরিদর্শনের পাশাপাশি সে সকল বাজার পর্যবেক্ষণের পর—যেখানে এটি বিক্রি হয় এবং যেখানে নাগরিকদের অভূতপূর্ব ভিড় লক্ষ্য করা যায়—এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, কাতের চাষ উত্তর ইয়েমেনের স্বাস্থ্য ও অর্থনীতির ওপর এমন নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে যা এই সুগভীর সমস্যাটি সমাধানের ক্ষেত্রে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা আবশ্যক।
কাত উদ্ভিদের কতিপয় স্বাস্থ্যগত ক্ষতির মধ্যে রয়েছে ক্ষুধামন্দা, অপুষ্টি, যক্ষ্মার ন্যায় সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি, পুরুষদের যৌন সক্ষমতা হ্রাস পাওয়া এবং পারিবারিক বিশৃঙ্খলা প্রভৃতি।
তবে যে বিষয়টি বিশেষভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করে তা হলো, গণপ্রজাতন্ত্রী দক্ষিণ ইয়েমেন জাতিসংঘের সচিবালয়কে যা অবহিত করেছে। তারা লক্ষ্য করেছে যে, কাতের সাথে অন্যান্য মাদকদ্রব্য বা উদ্দীপক মিশ্রিত করে সেবন করা হচ্ছে। তারা এমন তিনটি ঘটনা শনাক্ত করেছে যেখানে কাতের সাথে মরফিন মিশ্রিত ছিল, বারোটি ক্ষেত্রে আফিম মিশ্রিত ছিল, একুশটি ক্ষেত্রে মোবারিটাল এবং তিনটি ক্ষেত্রে নেশাজাতীয় দ্রব্য মিশ্রিত ছিল। এটি কাত সেবনের ক্ষেত্রে একটি নতুন প্রবণতা যেখানে আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ মাদকদ্রব্যের মিশ্রণ ব্যবহার করা হচ্ছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুখাদ্দারাত আখতারু মাওয়াকিতিত তানমিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৬১)
وتتضح خطورة المخدرات على التنمية إذا ما عرفنا أن اليمن كانت من أشهر مصدري البن الممتاز في العالم، ولكن طغت شجرة القات على شجرة البن بسبب إقبال المواطنين على " تخزين " أوراق القات ومضغها.
وشجرة القات تعمر عشرين عاماً، ولا تحتاج إلى أرض خصبة، وتصمد للآفات وفضلاً عن ذلك فهي تدر ألف ريال في العام، وتصدر أوراقها من صنعاء إلى عدن بما قيمته ثمانون ألف جنيه إسترليني شهرياً. إنه إغراء الشيطان الذي يلعب بالعقول! فشجرة البن موسمية لا تدر على صاحبها سوى ستين ريالاً سنوياً، ولا تنبت إلا في أرض خصبة، ولا تقاوم الآفات، واستيلاء الحكومة على جزء من المحصول كضريبة، يقابله إعراض اليمنيين عن تعاطي البن واستهلاك قشرته، مما أدى إلى انخفاض صادرات اليمن من البن إلى ثلاثة آلاف طن بعد أن كانت تصدر ستة عشر ألف طن سنوياً.
والنتيجة أن الجمهورية العربية اليمنية تخسر سنوياً ما يزيد على ثلاثة آلاف وخمسمائة مليون ساعة هو الوقت الهائل الذي يضيع على أبناء اليمن بسبب مضغ أوراق القات وتخزينه وهو وقت تتبين قيمته في التنمية المطلوبة لهذا البلد الإسلامي، فيصيب اقتصادها بخسائر فادحة، فضلاً عن ألف مليون ريال ثمناً للقات الذي يستهلكه المواطنون 1.
والعجيب أن تأتي قوائم الاتفاقية الوحيدة للمخدرات لعام 1961، وقوائم اتفاقية المواد النفسية لعام 1971 خالية من إدراج القات الذي ثبتت أضراره الصحية والاقتصادية والاجتماعية على شعوب بأكملها. ولعل السبب في ذلك أن الهيئات الدولية تعتبر القات مشكلة إقليمية مقصورة على جنوب الجزيرة العربية وشرق أفريقيا، وأن القات تمضغ أوراقه طازجة ولا يتحمل التصدير إلى مناطق أخرى بعيدة عن مناطق إنتاجه خشية ذبوله وضياع تأثيره الفعال.
ولقد وافق المشتركون في ندوة القادة الإداريين التي عقدت بصنعاء من 15 - 21 مايو 1972 على قرار ينص: " على اعتبار القات كارثة وطنية وتحريم القات بين كافة العاملين في
--------------------------------------------
উন্নয়নের ওপর মাদকের ভয়াবহতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে যখন আমরা জানতে পারি যে ইয়েমেন বিশ্বের অন্যতম বিখ্যাত কফি রপ্তানিকারক দেশ ছিল, কিন্তু বর্তমানে সেখানে কফি গাছের ওপর কাতের আধিপত্য তৈরি হয়েছে; কারণ নাগরিকরা কাতের পাতা মজুদ করা ও তা চিবানোর দিকে ঝুঁকে পড়েছে।
কাত গাছ বিশ বছর পর্যন্ত জীবিত থাকে এবং এর জন্য উর্বর ভূমির প্রয়োজন হয় না; এটি বিভিন্ন রোগবালাইও প্রতিরোধ করতে পারে। এছাড়া এটি বছরে এক হাজার রিয়াল আয় দেয় এবং সানা থেকে এডেনে প্রতি মাসে আশি হাজার পাউন্ড স্টার্লিং মূল্যের কাতের পাতা পাঠানো হয়। এটি শয়তানের প্রলোভন যা বিবেক নিয়ে খেলা করে! অন্যদিকে কফি গাছ হলো একটি মৌসুমি উদ্ভিদ যা এর মালিককে বছরে মাত্র ষাট রিয়াল এনে দেয় এবং এটি উর্বর ভূমি ছাড়া জন্মায় না ও রোগবালাই প্রতিরোধ করতে পারে না। এছাড়া সরকারের পক্ষ থেকে কর হিসেবে ফসলের একটি অংশ গ্রহণ করার পাশাপাশি ইয়েমেনিদের কফি পানের বিমুখতা ও কফির খোসা ব্যবহারের প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় ইয়েমেনের কফি রপ্তানি বার্ষিক ১৬ হাজার টন থেকে কমে ৩ হাজার টনে দাঁড়িয়েছে।
এর ফলশ্রুতিতে ইয়েমেন আরব প্রজাতন্ত্র প্রতি বছর ৩,৫০০ মিলিয়নেরও বেশি ঘণ্টা সময় অপচয় করছে। কাতের পাতা চিবানো এবং তা মজুদ করার পেছনে ইয়েমেনের জনগণের এই বিপুল সময় নষ্ট হচ্ছে; অথচ এই মুসলিম দেশটির কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের ক্ষেত্রে এই সময়ের গুরুত্ব অপরিসীম। এটি দেশটির অর্থনীতির অপূরণীয় ক্ষতি করছে, তার ওপর নাগরিকরা কাতের পেছনে ১,০০০ মিলিয়ন রিয়াল ব্যয় করছে ১।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, ১৯৬১ সালের মাদকের একক কনভেনশন এবং ১৯৭১ সালের সাইকোট্রপিক পদার্থের তালিকার মধ্যে কাতের নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল না, অথচ সমগ্র জাতির ওপর এর স্বাস্থ্যগত, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষতি প্রমাণিত হয়েছে। সম্ভবত এর কারণ হলো, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো কাতকে একটি আঞ্চলিক সমস্যা মনে করে যা দক্ষিণ আরব উপদ্বীপ ও পূর্ব আফ্রিকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এছাড়া কাতের পাতা সতেজ অবস্থায় চিবানো হয় এবং উৎপাদন স্থল থেকে দূরবর্তী অঞ্চলে এটি রপ্তানি করা কঠিন, কারণ এটি শুকিয়ে যাওয়ার এবং এর কার্যকারিতা নষ্ট হওয়ার ভয় থাকে।
১৯৭২ সালের ১৫-২১ মে সানায় অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক নেতাদের সেমিনারে অংশগ্রহণকারীরা একটি সিদ্ধান্তে একমত হয়েছিলেন যা উল্লেখ করে: "কাতকে একটি জাতীয় বিপর্যয় হিসেবে গণ্য করা এবং সকল কর্মরত ব্যক্তিদের মধ্যে কাত নিষিদ্ধ করা..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুখাদ্দারাত আখতারু মাওয়াকিতিত তানমিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৬২)
الدولة واقتلاع أشجاره من أراضي الحكومة والأوقاف وامتناع وزارتي المواصلات والزراعة عن تقديم أي مساعدة لزراع القات ".
كما تقدم المكتب الدولي العربي لشئون المخدرات بمقترحات أهمها دراسة حجم المشكلة وأبعادها، وتشجيع وسائل الإعلام على معالجة المشكلة على كافة المستويات مستعينة بمنظمة اليونسكو وخبرتها في هذا المجال لبيان أضرار القات الصحية والاجتماعية.
كما اقترح دراسة إحلال زراعات بديلة يكون مردودها مجزياً وموازياً لمردود شجرة القات، وعلى رأسها شجرة البن التي اشتهرت بها اليمن منذ أقدم العصور، وإعفاء شجرة البن من الضريبة وتقديم دعم حكومي ودولي للزارعين، على أن تدخل اليمن منظمة البن الدولية لتستطيع الحصول على حصة تمكنها من تصدير محصولها للأسواق العالمية.
هذا بالإضافة لضرورة تنشيط البرامج الرياضية والثقافية وشغل أوقات الفراغ بالعمل الإيجابي البناء الذي يتناسب مع البيئة والظروف الاجتماعية، وأن يعني بخطة التنمية وتنفيذ برامجها بعزم لا يلين علاجاً لمشكلة القات، ودفعاً لخطرها الداهم على المواطنين الذين ينهضون بعبء التنمية.
রাষ্ট্র কর্তৃক সরকারি ও ওয়াকফ ভূমি থেকে এর বৃক্ষসমূহ উচ্ছেদ করা এবং যোগাযোগ ও কৃষি মন্ত্রণালয় কর্তৃক কাত চাষিদের কোনো প্রকার সহায়তা প্রদান হতে বিরত থাকা।"
অনুরূপভাবে, মাদকদ্রব্য বিষয়ক আন্তর্জাতিক আরব ব্যুরো কিছু প্রস্তাবনা পেশ করেছে, যার মধ্যে প্রধান হলো এই সমস্যার ব্যাপ্তি ও মাত্রা পর্যালোচনা করা এবং কাতের স্বাস্থ্যগত ও সামাজিক ক্ষতিসমূহ স্পষ্টীকরণের লক্ষ্যে ইউনেস্কো ও এই ক্ষেত্রে তাদের অভিজ্ঞতার সাহায্য গ্রহণ করে সকল স্তরে এই সমস্যা মোকাবিলায় গণমাধ্যমকে উৎসাহিত করা।
তদুপরি তিনি এমন বিকল্প চাষাবাদ পদ্ধতি প্রবর্তনের বিষয়ে গবেষণার প্রস্তাব দিয়েছেন যার মুনাফা সন্তোষজনক এবং কাত গাছের মুনাফার সমতুল্য হবে। আর এর শীর্ষে রয়েছে কফি গাছ, যার জন্য ইয়ামেন প্রাচীনকাল থেকেই সুপ্রসিদ্ধ। এছাড়া কফি চাষকে করমুক্ত করা এবং চাষিদের সরকারি ও আন্তর্জাতিক সহায়তা প্রদান করার প্রস্তাবও দেয়া হয়েছে, যাতে ইয়ামেন আন্তর্জাতিক কফি সংস্থায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে বিশ্ববাজারে নিজ উৎপাদিত ফসল রপ্তানির জন্য নির্দিষ্ট কোটা প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে পারে।
এর পাশাপাশি ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচিগুলোকে গতিশীল করা এবং পরিবেশ ও সামাজিক পরিস্থিতির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ ইতিবাচক ও গঠনমূলক কর্মতৎপরতার মাধ্যমে অবসর সময় অতিবাহিত করা আবশ্যক। অধিকন্তু, কাতের সমস্যার সমাধানকল্পে এবং উন্নয়নের গুরুভার বহনকারী নাগরিকদের ওপর এর আসন্ন বিপদ প্রতিহত করার লক্ষ্যে সুদৃঢ় সংকল্পের সাথে উন্নয়ন পরিকল্পনা ও তার কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রতি মনোনিবেশ করা প্রয়োজন।
(খণ্ড: ১)
আল-মুখাদ্দারাত আখতারু মাওয়াকিতিত তানমিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৬২)
الجهود الدينية والإعلامية:وقد تكون آمال التنمية عريضة ضخمة، وإيقاع سريعاً لدرجة لا تتمشى مع قدرة بعض الناس، وهنا ينبغي أن نحذر عند تطبيق خطة التنمية، حتى لا يكون لها ضحايا من الذين تسول لهم نفوسهم المريضة، ونزغات الشيطان، وبطانة السوء التردي في هوة المخدرات لعدم إمكانهم ملاحقة التنمية في سرعتها أو في اختلافها الشديد عما عهدوه من عادات وأساليب في الحياة.
لذلك تلعب وسائل الإعلام دوراً هاماً في التوعية، وتوفير مناخ عام مواتٍ للتغيير المنشود مع بيان أبعاده ونتائجه المرجوة. كما تعني التربية الدينية بخلق روح معنوية عالية في نفوس النشء لتحصينهم ضد التورط في الوقوع في التهلكة.
ধর্মীয় ও গণমাধ্যম বিষয়ক প্রচেষ্টা:উন্নয়নের আকাঙ্ক্ষা অত্যন্ত ব্যাপক ও বিশাল হতে পারে এবং এর গতি এতটাই দ্রুত হতে পারে যা কিছু মানুষের সক্ষমতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এমতাবস্থায় উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সময় আমাদের সতর্ক হওয়া উচিত, যাতে এমন কোনো ব্যক্তি এর শিকারে পরিণত না হয় যাদের অসুস্থ আত্মা, শয়তানের কুমন্ত্রণা এবং অসৎ সঙ্গ মাদকের গহ্বরে নিপতিত হতে প্ররোচিত করে; কারণ উন্নয়নের এই দ্রুত গতি অথবা তাদের অভ্যস্ত জীবনধারা ও পদ্ধতির সাথে এর চরম বৈসাদৃশ্যের সাথে তাল মিলিয়ে চলা তাদের পক্ষে সম্ভব হয় না।
তাই সচেতনতা বৃদ্ধি এবং কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের জন্য একটি অনুকূল সাধারণ পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি এর ব্যাপ্তি ও প্রত্যাশিত ফলাফল ব্যাখ্যা করতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তদ্রূপ ধর্মীয় শিক্ষা তরুণ প্রজন্মের মনে উচ্চতর মানসিক ও নৈতিক শক্তি সৃষ্টির বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে যাতে তাদের ধ্বংসের মুখে নিপতিত হওয়া থেকে সুরক্ষা প্রদান করা যায়।
(খণ্ড: ১)
আল-মুখাদ্দারাত আখতারু মাওয়াকিতিত তানমিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৬৩)
ولا شك أن تقوية الشعور الديني، وتربية الضمير الإسلامي، وتنشيط الضوابط الدينية والأخلاقية عن طريق تبيان موقف هذه من كل ما من شأنه التأثير الضار على العقل الذي هو عنوان قيمة الإنسان، خير سبيل لإعداد الشباب لمرحلة التنمية. والمخاطب دائما هو العقل الواعي الذي منحه الله تعالى للإنسان لاستئناس البيئة المادية والسيطرة عليها، كما سخرها الله له، ولكن هذه الطاقات الذهنية بحاجة دائمة إلى التوجيه والتدريب.
غير أن للإنسان خصيصة أخرى أساسية هي الاجتماع والتعاون مع الآخرين، وشخصية الإنسان تنمي عن طريق الأسرة والجماعة على أسس سليمة الشريعة الإسلامية الغراء، وبذلك تتحقق التنمية الإنسانية التي تكفل الاستقرار والطمأنينة والقدرة على التفكير الهادئ والارتقاء، وكسب الثقة بالناس بعد الثقة بالله سبحانه وتعالى، وكذلك الثقة بالنفس، لأن فقدان الثقة يؤدي إلى الانسحاب، والاستغراق في أنشطة سلبية وشاذة. لعلها أهمها وأخطرها تعاطي المخدرات.
ويقوم الإعلام بوسائله المتعددة من صحافة وإذاعة مسموعة وإذاعة مرئية بواجب تثبيت المثل والقيم والتشكيك في الأمور المنبوذة حتى تهتز وتنهار، وهو أسلوب فعال يمكن أن تكون له فعالية كبيرة مع انتشار وسائل الإعلام في العصر الحديث. ولابد من وضع برامج هادفة من أجل حماية المجتمع من شرور المخدرات، كهدف أصيل يتوجه إلى كافة المستويات الاجتماعية والفكرية.
ولما كان الفراغ يجر إلى الملل والسآمة، فلا بد من تمضية وقت فراغ الشباب بكل ما هو نافع لهم ومفيد لتربيتهم. وخاصة أثناء العطلات المدرسية، والإجازات الطويلة، مع العناية بالساحات الرياضية والأنشطة الثقافية.
নিঃসন্দেহে ধর্মীয় অনুভূতি শক্তিশালী করা, ইসলামী বিবেক লালন করা এবং ধর্মীয় ও নৈতিক নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিসমূহকে সক্রিয় করা—বুদ্ধিবৃত্তির ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে এমন সব বিষয়ের প্রতি শরীয়তের অবস্থান স্পষ্ট করার মাধ্যমে (যা মানুষের মর্যাদার পরিচায়ক)—তরুণদের উন্নয়নের পর্যায়ের জন্য প্রস্তুত করার সর্বোত্তম উপায়। আর সম্বোধন সর্বদা সেই সচেতন বিবেকের প্রতি, যা মহান আল্লাহ মানুষকে দান করেছেন বস্তুগত পরিবেশের সাথে পরিচিতি লাভ ও তা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য, যেভাবে আল্লাহ একে মানুষের জন্য অনুগত করেছেন। তবে এই মানসিক শক্তিগুলোর সর্বদা সঠিক দিকনির্দেশনা ও প্রশিক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে।
তবে মানুষের আরও একটি মৌলিক বৈশিষ্ট্য হলো সামাজিকতা এবং অন্যদের সাথে পারস্পরিক সহযোগিতা। পরিবার ও সমাজের মাধ্যমে এবং গৌরবময় ইসলামী শরীয়তের সঠিক ভিত্তির ওপর মানুষের ব্যক্তিত্ব বিকশিত হয়। এর মাধ্যমেই সেই মানবিক উন্নয়ন অর্জিত হয় যা স্থিতিশীলতা, প্রশান্তি, শান্তভাবে চিন্তা করার ক্ষমতা ও উৎকর্ষ নিশ্চিত করে। আর মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার ওপর আস্থা (ثقة) স্থাপনের পর মানুষের প্রতি আস্থা (ثقة) এবং নিজের ওপর আত্মবিশ্বাস (ثقة) অর্জিত হয়। কারণ আস্থার (ثقة) অভাব মানুষকে সমাজবিচ্ছিন্ন করে ফেলে এবং নেতিবাচক ও অস্বাভাবিক (شاذة) কর্মকাণ্ডে নিমজ্জিত করে। সম্ভবত এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও বিপজ্জনক হলো মাদকাসক্তি।
গণমাধ্যম তার বিভিন্ন শাখা যেমন—সংবাদপত্র, বেতার ও টেলিভিশনের মাধ্যমে আদর্শ ও মূল্যবোধকে সুদৃঢ় করার এবং বর্জনীয় বিষয়গুলোর প্রতি সংশয় তৈরির দায়িত্ব পালন করে, যাতে সেগুলো নড়বড়ে হয়ে বিলুপ্ত হয়ে যায়। এটি একটি কার্যকর পদ্ধতি যা আধুনিক যুগে গণমাধ্যমের ব্যাপক প্রসারের ফলে অত্যন্ত ফলপ্রসূ হতে পারে। সমাজের সকল সামাজিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক স্তরকে লক্ষ্য করে মাদকের অভিশাপ থেকে সমাজকে রক্ষা করার জন্য একটি মৌলিক লক্ষ্য হিসেবে উদ্দেশ্যমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা অপরিহার্য।
যেহেতু অবসর সময় একঘেয়েমি ও অবসাদ বয়ে আনে, তাই তরুণদের অবসর সময়কে তাদের জন্য কল্যাণকর এবং তাদের লালন-পালনে সহায়ক এমন কাজে ব্যয় করা আবশ্যক। বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটির দিনগুলোতে এবং দীর্ঘ অবকাশে; এর পাশাপাশি ক্রীড়াঙ্গন ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
(খণ্ড: ১)
আল-মুখাদ্দারাত আখতারু মাওয়াকিতিত তানমিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৬৩)
المخدرات والأسرة:ولا تنجح جهود التنمية في دولة ما دون أن ترتكز على دعم الأسرة، باعتبارها الخلية الرئيسية في البناء الاجتماعي ومن الثابت أن الشخصية الإنسانية تتكون جذورها في أحضان الأسرة، وتتأثر بالعلاقات الاجتماعية في نطاقها، وإن أي خلل فيها ينعكس بالضرورة على أفرادها، ويصيبهم بالأمراض النفسية والاجتماعية التي تعطل مسيرة التنمية.
মাদকদ্রব্য ও পরিবার:একটি রাষ্ট্রের উন্নয়ন প্রচেষ্টা ততক্ষণ সফল হতে পারে না যতক্ষণ না তা পরিবারের সমর্থনের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে, যেহেতু পরিবার হলো সামাজিক কাঠামোর মূল একক। এটি সুপ্রতিষ্ঠিত (ثابت) যে, মানব ব্যক্তিত্বের শেকড় পরিবারের সাহচর্যেই গঠিত হয় এবং এর পরিমণ্ডলে সামাজিক সম্পর্কের দ্বারা প্রভাবিত হয়। পরিবারের যেকোনো বিচ্যুতি বা ত্রুটি অনিবার্যভাবে এর সদস্যদের ওপর প্রতিফলিত হয় এবং তাদেরকে এমন মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক ব্যাধিতে আক্রান্ত করে যা উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করে।
(খণ্ড: ১)
আল-মুখাদ্দারাত আখতারু মাওয়াকিতিত তানমিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৬৪)
ولا شك أن تعاطي المخدرات يشكل عبئاً ثقيلاً على اقتصاديات الأسرة وميزانيتها. حيث ينفق الوالد جل دخله، بل قد يقترض أحياناً إذا ما سقط فريسة للإدمان وخاصة الأفيون، للحصول على المخدر ومستلزماته، مما يؤثر بالطبع تأثيراً خطراً على الحالة المعيشية العامة للأسرة من النواحي السكنية والغذائية والصحية والتعليمية والأخلاقية، فلا يستطيع أفراد الأسرة الحصول على احتياجاتهم الأساسية اللازمة للمعيشة الكريمة.
وقد تضطر الأم للعمل، بل إنها قد تتعرض للتشرد والانحراف، وقد تصاب بأمراض خبيثة جسمية ونفسية، وقد ينحرف الأبناء ويتورطون في ارتكاب الجرائم، أو يقومون بأعمال غير مشروعة أو غير أخلاقية، وهكذا تأكل المخدرات ميزانية الأسرة، وتهلك روحها المعنوية، وتقضي على أخلاقها، وتعطل إنتاجها، وتشل نشاطها، فتصبح الأسرة عبئاً على التنمية وبدلاً من كونها عاملاً من عوامل تنشيطها ودعمها.
وإذا عرفنا أن تعاطي المخدرات أكثر انتشاراً بين الطبقات العاملة من العمال والفلاحين والصناع والحرفيين، لأدركنا مدى حجم الخسارة على مشروعات التنمية في العالم الإسلامي، وهي خسارة فادحة تصيب الأفراد والأموال والمجتمعات، وتهدد بتوقف عمليات التنمية وشللها.
ولما كان الإنفاق الكبير على المخدرات يعطل توفير الحاجات الضرورية لأفراد الأسرة، فإنه فضلاً عن ضعف الأطفال وهزالهم، وتعريضهم لأمراض سوء التغذية، وغيرها من الأمراض الخطيرة، فإن إشاعة روح عدم الاكتراث، وعدم تقدير المسئولية من جانب المتعاطي، مع إهمال الواجب، يعطي نموذجاً سيئاً لأفراد الأسرة، ويقدم لهم قدوة شريرة وغير أخلاقية، فلا ينشأ لدى الأبناء إحساس بأداء الواجب، ولا شعور بالمسئولية، فيشبون عالة على غيرهم، وطفيليين على مجتمعاتهم.
নিঃসন্দেহে মাদক সেবন পরিবারের অর্থনীতি ও বাজেটের ওপর এক ভারী বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। যখন পরিবারের অভিভাবক মাদকাসক্তির শিকারে পরিণত হন—বিশেষ করে আফিমের ক্ষেত্রে—তখন তিনি তার আয়ের সিংহভাগ মাদক ও এর আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম সংগ্রহের পেছনে ব্যয় করেন, এমনকি অনেক সময় ঋণ গ্রহণ করেন। এটি স্বাভাবিকভাবেই আবাসন, খাদ্য, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং নৈতিকতার দিক থেকে পরিবারের সামগ্রিক জীবনযাত্রার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। ফলে পরিবারের সদস্যরা একটি মর্যাদাপূর্ণ জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় মৌলিক চাহিদাগুলো অর্জন করতে সক্ষম হয় না।
এমতাবস্থায় মা শ্রম দিতে বাধ্য হন, এমনকি তিনি গৃহহীনতা ও বিপথগামিতার সম্মুখীন হতে পারেন এবং নানাবিধ মারাত্মক শারীরিক ও মানসিক রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। সন্তানরা বিপথগামী হয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়তে পারে কিংবা অনৈতিক ও অবৈধ কাজে লিপ্ত হতে পারে। এভাবেই মাদক পরিবারের বাজেট নিঃশেষ করে দেয়, এর মনোবল ভেঙে দেয়, নৈতিকতা ধ্বংস করে, উৎপাদনশীলতা ব্যাহত করে এবং কর্মচাঞ্চল্য পঙ্গু করে দেয়। ফলে পরিবারটি উন্নয়নের সহায়ক ও শক্তিশালী উপাদান হওয়ার পরিবর্তে উন্নয়নের পথে একটি বোঝা হয়ে দাঁড়ায়।
আমরা যদি অনুধাবন করি যে শ্রমিক, কৃষক এবং কারিগরদের মতো শ্রমজীবী শ্রেণির মানুষের মধ্যেই মাদকাসক্তি বেশি বিস্তৃত, তবে আমরা মুসলিম বিশ্বের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে ক্ষতির ব্যাপকতা উপলব্ধি করতে পারব। এটি এমন এক অপূরণীয় ক্ষতি যা ব্যক্তি, অর্থ-সম্পদ ও সমাজকে আক্রান্ত করে এবং উন্নয়ন প্রক্রিয়া স্থবির ও পঙ্গু করে দেওয়ার হুমকি সৃষ্টি করে।
যেহেতু মাদকের পেছনে অত্যধিক ব্যয় পরিবারের সদস্যদের মৌলিক চাহিদা পূরণে বিঘ্ন ঘটায়, সেহেতু এটি শিশুদের দুর্বলতা ও শীর্ণতা এবং অপুষ্টিজনিত রোগসহ অন্যান্য বিপজ্জনক রোগের সম্মুখীন করার পাশাপাশি সেবনকারীর মাঝে উদাসীনতা ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতা তৈরি করে। কর্তব্যে অবহেলার মাধ্যমে এটি পরিবারের সদস্যদের সামনে একটি মন্দ আদর্শ এবং অশুভ ও অনৈতিক উদাহরণ পেশ করে। এর ফলে সন্তানদের মধ্যে কর্তব্য পালনের অনুভূতি বা দায়িত্ববোধ গড়ে ওঠে না, বরং তারা অন্যের গলগ্রহ এবং সমাজের পরজীবী হিসেবে বেড়ে ওঠে।
(খণ্ড: ১)
আল-মুখাদ্দারাত আখতারু মাওয়াকিতিত তানমিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৬৪)
المخدرات والجريمة:ويزيد الطين بلة تعاطي الأفيون، لأنه يؤدي إلى أمراض نفسية وخيمة، وعلل
মাদকদ্রব্য ও অপরাধ:আফিম সেবন বিষয়টিকে আরও শোচনীয় করে তোলে, কারণ এটি ভয়াবহ মানসিক ব্যাধি ও অসুস্থতার (علل) দিকে ধাবিত করে।
(খণ্ড: ১)
আল-মুখাদ্দারাত আখতারু মাওয়াকিতিত তানমিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৬৫)
جسمية فتاكة، وتشجر الخلافات بين أفراد الأسرة، ويزداد الصخب بين الزوج وزوجته وأولاده، وقد يلجأ إلى العنف والضرب والسب والمقاطعة والمطاردة، ويمتد تأثير هذه الحالة الشاذة إلى خارج نطاق الأسرة ثم الجيران، فضلا عن الفضائح في نطاق العمل، فيتعطل الإنتاج، ويعم الخراب داخل الأسرة وخارجها.
وبالإضافة إلى هذه الآثار الاقتصادية والاجتماعية الخطيرة، تصاب الأسرة بحالات مختلفة من القلق والتوتر وعدم الاستقرار لوجود المخدرات - وهي محظورة بحكم الأنظمة - كما يسهر المتعاطون سهرات حمراء في البيوت ويحولونها إلى مواخير للفساد، وبؤر للشرور.
وقد ذكرت الغالبية العظمى من متعاطي المخدرات أنهم ليسوا على وفاق مع زوجاتهم، وفي هذا الجو المفعم بالانحراف، لا ينشأ شباب يعول الوطن عليه، بل تصدر هذه الأسر أشقياء صغاراً، ومجرمين ينخرون في عظام المجتمع كالسوس المهلك، ولا يمكن الاعتماد عليهم في تنفيذ خطط التنمية، لأنهم أنفسهم مشكلات تنتظر الحل، وتزيد المشكلات المتراكمة تعقيداً.
وحتى إذا أودع الأطفال دور الإصلاح أو رعاية الأحداث، ودخل الكبار السجون بعد ضبطهم يتعاطون المخدرات، فإن مصيبتهم تصبح أدهى وأمر داخل جدران السجون، حيث يتأثرون بمخالطيهم من السجناء، ويصبح السجن مرتعاً خصباً لتبادل الخبرات الشريرة وحافزاً لارتكاب جرائم جديدة بأساليب ماكرة خبيثة.
وكثيراً ما تلجأ العصابات الإجرامية إلى تجنيد أعضاء جدد من بين السجناء، فإذا أضفنا إلى ذلك ما يلقاه متعاطي المخدرات من معاملة شاذة بعد خروجه من السجن، إذ أنه يفقد عمله، ويتعرض لاحتقار زملائه، وازدراء أصدقائه، وتحفظ أقاربه إزاءه، لأدركنا مدى استعداده للسقوط في السلوك الإجرامي، فقد يلجأ إلى السرقة، أو الاختلاس أو التورط في عصابات الدعارة من أجل الحصول على المخدر - وهذه كلها تعطل مسيرة التنمية، وتشل حركة التقدم.
وكثيراً ما تكون عصابات المخدرات التي تقوم بالتهريب والاتجار غير المشروع والتوزيع متورطة في أنواع أخرى من الأنشطة الإجرامية، مثل المافيا، وهي عصابات ذات شهرة دولية تمارس نشاطها الإجرامي في إيطاليا وأمريكا اللاتينية وغيرها من الدول، وهي
প্রাণঘাতী শারীরিক ক্ষতি, পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিবাদের সূত্রপাত, স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানদের মধ্যে অশান্তি বৃদ্ধি পায়। এটি সহিংসতা, মারধর, গালিগালাজ, সামাজিক বর্জন এবং পশ্চাদ্ধাবনের মতো পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। এই অস্বাভাবিক (شاذة) অবস্থার প্রভাব পরিবারের গণ্ডি ছাড়িয়ে প্রতিবেশী পর্যন্ত বিস্তৃত হয়, এমনকি কর্মক্ষেত্রেও কেলেঙ্কারি ছড়িয়ে পড়ে। ফলে উৎপাদন ব্যাহত হয় এবং পরিবারের ভেতরে ও বাইরে ধ্বংস নেমে আসে।
এই ভয়াবহ অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাবের পাশাপাশি, মাদকের উপস্থিতির কারণে পরিবারটি উদ্বেগ, উত্তেজনা এবং অস্থিরতার বিভিন্ন সমস্যায় আক্রান্ত হয়—যা রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ। মাদকসেবীরা ঘরে কুরুচিপূর্ণ আমোদ-প্রমোদে মেতে ওঠে এবং ঘরকে পাপাচার ও মন্দের আখড়ায় পরিণত করে।
মাদকসেবীদের বিশাল এক অংশ উল্লেখ করেছে যে, স্ত্রীদের সাথে তাদের সুসম্পর্ক নেই। বিচ্যুতিতে ভরা এই পরিবেশে এমন কোনো যুবসমাজ গড়ে ওঠে না যাদের ওপর দেশ নির্ভর করতে পারে। বরং এই পরিবারগুলো দুর্ভাগা শিশু ও অপরাধী তৈরি করে, যারা সমাজের অস্থিমজ্জায় ধ্বংসাত্মক উইপোকার ন্যায় ক্ষয় ধরিয়ে দেয়। উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তাদের ওপর নির্ভর করা অসম্ভব, কারণ তারা নিজেরাই একেকটি অমীমাংসিত সমস্যা এবং তারা বিদ্যমান পুঞ্জীভূত সমস্যাগুলোকে আরও জটিল করে তোলে।
এমনকি শিশুদের যদি সংশোধনাগারে কিংবা কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে রাখা হয় এবং বড়দের মাদক সেবনের দায়ে গ্রেফতারের পর কারাগারে পাঠানো হয়, তবে তাদের বিপদ কারাগারের দেয়ালের ভেতরে আরও ভয়াবহ ও তিক্ত হয়ে ওঠে। সেখানে তারা অন্য কয়েদিদের দ্বারা প্রভাবিত হয় এবং কারাগারটি অশুভ অভিজ্ঞতা বিনিময়ের উর্বর ক্ষেত্র ও ধূর্ত কৌশলে নতুন অপরাধ সংঘটনের প্রেষণা কেন্দ্রে পরিণত হয়।
অপরাধী চক্রগুলো প্রায়ই কয়েদিদের মধ্য থেকে নতুন সদস্য নিয়োগ করে। এর সাথে যদি আমরা মাদকসেবীর কারাগার থেকে বের হওয়ার পর অস্বাভাবিক (شاذة) আচরণের সম্মুখীন হওয়ার বিষয়টি যোগ করি—যেহেতু সে তার কর্মসংস্থান হারায়, সহকর্মীদের ঘৃণা ও বন্ধুদের অবজ্ঞার শিকার হয় এবং আত্মীয়-স্বজনরা তার প্রতি সতর্ক ও দূরত্ব বজায় রাখে—তবে আমরা বুঝতে পারব তার অপরাধমূলক আচরণের দিকে ধাবিত হওয়ার প্রবণতা কতটা প্রবল। সে মাদকের অর্থ জোগাড় করতে চুরি, আত্মসাৎ বা পতিতাবৃত্তি চক্রে জড়িয়ে পড়তে পারে। এসবই উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করে এবং প্রগতির গতিকে পঙ্গু করে দেয়।
মাদক পাচার, অবৈধ ব্যবসা ও বিতরণের সাথে জড়িত চক্রগুলো প্রায়ই অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকে, যেমন মাফিয়া। এগুলো আন্তর্জাতিকভাবে সুপরিচিত চক্র যারা ইতালি, লাতিন আমেরিকা এবং অন্যান্য দেশে তাদের অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে এবং তারা...
(খণ্ড: ১)
আল-মুখাদ্দারাত আখতারু মাওয়াকিতিত তানমিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৬৬)
تستغل عبودية المتعاطي للمخدر، وعدم قدرته على شرائه، لإجباره على المشاركة في أعمالها الإجرامية وتدريبه عليها، كأن تجبر النساء على ممارسة البغاء أو الرجال على التهريب أو السرقة أو الاختلاس أو إخفاء المسروقات أو التجسس على أسرار بلادهم.
মাদকাসক্ত ব্যক্তির নেশার দাসত্ব এবং মাদক ক্রয়ে তার অক্ষমতাকে শোষণ করা হয় তাকে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করতে এবং সে বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিতে বাধ্য করার জন্য; যেমন নারীদের দেহব্যবসা করতে অথবা পুরুষদের চোরাচালান, চুরি, আত্মসাৎ, অপহৃত মালামাল গোপন করা কিংবা নিজ দেশের রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্যের ওপর গোয়েন্দাগিরি করতে বাধ্য করা হয়।
(খণ্ড: ১)
আল-মুখাদ্দারাত আখতারু মাওয়াকিতিত তানমিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৬৬)
ضحايا التنمية:إن التنمية تقوم على أكتاف الرجال الذين يعملون بجد ونشاط لبناء الحضارة، وهي تقوم على أساس من التفكير العلمي السليم والتخطيط المحكم الدقيق، والتدريب المستمر لكشف القدرات، وكسب المهارات، لأن الإنسان بطبيعته في حالة تطور دائم، ونمو لا يتوقف.
غير أن التجديد في ممارسة الحياة، كالانتقال من الحياة الرعوية إلى الصناعة، أو من الزراعة إلى الحياة الحضرية، أو تطوير المدن من الحارات الضيقة إلى الأحياء الفسيحة بشوارعها العريضة، ومواصلاتها المتقدمة، والانتقال من عصر الدواب إلى عصر البخار ثم الكهرباء فالذرة والطاقة الشمسية، كل ذلك لا يتم بسهولة ويسر، وإنما يتطلب تعليماً وتدريباً وتوافقاً، فالتنمية الاقتصادية والاجتماعية تنطوي على أعباء ومسئوليات، وتتطلب واجبات واكتساب عادات جديدة ومهارات شتى.
وقد تقصر بعض الهمم دون بلوغ غاياتها المرموقة، فتؤثر السلبية والهروب إلى عالم الأحلام، أو التردي في الفكر الهدام، أو أخطر من ذلك تعاطي المخدرات.
ولا قيمة لتنمية يكون ثمنها ضياع الشباب وهلاك الإنسان، وأي تنمية لا تؤدي إلى خدمة الإنسان واستقراره ورقيه لا جدوى منها، لأن النهضة الناجحة تؤدي إلى سعادة الفرد والمجتمع. فإذا كان التصنيع يحمل في طياته خطر التحول من القيم المتكافلة المترابطة المتماسكة إلى حياة فردية متنافسة متدابرة، يحل فيها الصراع الطبقي محل التواد والتعاون والتآزر، فإن شره خطير ومستطير، ولا شك أن إهمال تعاليم الدين من أهم العوامل المؤدية إلى حالات الاكتئاب النفسي والضياع وفقدان الثقة، مما يؤدي إلى الارتماء في أحضان المخدرات.
ومن معوقات التنمية تلك الهوة السحيقة الفاصلة بين التطور التكنولوجي الصناعي الاقتصادي، والتطور الاجتماعي والنفسي، إذ أنه من السهل إقامة مصنع من المصانع المتطورة،
উন্নয়নের শিকার:নিশ্চয় উন্নয়ন সেইসব ব্যক্তিদের কাঁধে ভর করে দণ্ডায়মান যারা সভ্যতা বিনির্মাণে কঠোর পরিশ্রম ও উদ্দীপনার সাথে কাজ করেন। এটি সঠিক বৈজ্ঞানিক চিন্তা, সুসংহত ও সূক্ষ্ম পরিকল্পনা এবং সুপ্ত প্রতিভা অন্বেষণ ও দক্ষতা অর্জনের জন্য নিরন্তর প্রশিক্ষণের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে। কারণ মানুষ তার স্বভাবগতভাবেই স্থায়ী বিবর্তন এবং অবিরাম প্রবৃদ্ধির মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়।
তবে জীবনযাত্রার ধরনে পরিবর্তন আনা—যেমন যাযাবর জীবন থেকে শিল্পায়নে রূপান্তর, অথবা কৃষি থেকে নগর জীবনে উত্তরণ, কিংবা শহরগুলোকে সরু গলি থেকে প্রশস্ত রাস্তা ও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্বলিত বিস্তৃত জনপদে রূপান্তর করা এবং চতুষ্পদ জন্তুর যুগ থেকে বাষ্পীয় যুগ অতঃপর বিদ্যুৎ, পারমাণবিক ও সৌরশক্তির যুগে পদার্পণ—এসব কিছু সহজে ও অনায়াসে সম্পন্ন হয় না। বরং এর জন্য প্রয়োজন শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও অভিযোজন। অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন নানাবিধ ভার ও দায়িত্বের অবতারণা করে এবং এটি বিভিন্ন কর্তব্য পালনসহ নতুন অভ্যাস ও বহুমুখী দক্ষতা অর্জনের দাবি রাখে।
কখনো কখনো কিছু সংকল্প তার উচ্চতর লক্ষ্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হতে পারে, ফলে তা নেতিবাচকতা ও অলীক কল্পনার জগতে পলায়নপরতা, কিংবা ধ্বংসাত্মক চিন্তাধারায় নিমজ্জিত হওয়া, অথবা তার চেয়েও ভয়াবহ মাদকাসক্তির দিকে ধাবিত করে।
এমন উন্নয়নের কোনো মূল্য নেই যার বিনিময়ে যুবসমাজ পথভ্রষ্ট হয় এবং মানুষের ধ্বংস অনিবার্য হয়ে ওঠে। যে উন্নয়ন মানুষের সেবা, স্থিতিশীলতা ও উন্নতির পথে পরিচালিত করে না, তার কোনো সার্থকতা নেই। কারণ সফল জাগরণ ব্যক্তি ও সমাজের সুখ ও সমৃদ্ধি বয়ে আনে। যদি শিল্পায়ন তার গর্ভে পারস্পরিক সংহতি ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ মূল্যবোধ থেকে বিচ্যুত হয়ে ব্যক্তিগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও বিমুখতাপূর্ণ জীবনের ঝুঁকি বহন করে—যেখানে শ্রেণিগত সংঘাত সৌহার্দ্য, সহযোগিতা ও সহমর্মিতার স্থলাভিষিক্ত হয়—তবে তার অকল্যাণ হবে ভয়াবহ ও সুদূরপ্রসারী। নিঃসন্দেহে ধর্মীয় শিক্ষার অবহেলা হলো মানসিক বিষণ্ণতা, লক্ষ্যহীনতা এবং আত্মবিশ্বাসহীনতার অন্যতম প্রধান কারণ, যা পরিশেষে মাদকের নেশায় জড়িয়ে পড়ার দিকে ঠেলে দেয়।
উন্নয়নের অন্তরায়গুলোর মধ্যে একটি হলো প্রযুক্তিগত-শিল্প-অর্থনৈতিক বিবর্তন এবং সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিবর্তনের মধ্যে বিদ্যমান এক গভীর ফাটল। কেননা একটি উন্নত কলকারখানা স্থাপন করা অত্যন্ত সহজসাধ্য বিষয়,