(খণ্ড: ১)
ইকমালু তাহযিবিল কামাল - ত আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
إكمال تهذيب الكمال - ط العلمية (علاء الدين مغلطاي)
القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: إكمال تهذيب الكمال في أسماء الرجال
المؤلف: علاء الدين مغلطاي بن قليج الحنفي (ت 762 هـ)
المحقق: محمد عثمان
الناشر: دار الكتب العلمية، بيروت - لبنان
الطبعة: الأولى، 2011 م
عدد الأجزاء: 6
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 13 ربيع الأول 1442
ইকমাল তাহযীবুল কামাল - ইলমিয়্যাহ সংস্করণ (আলাউদ্দিন মোগলতাঈ)
বিভাগ: জীবনী এবং স্তরসমূহ
গ্রন্থ: আসমাউর রিজাল বিষয়ক ইকমাল তাহযীবুল কামাল
লেখক: আলাউদ্দিন মোগলতাঈ বিন কুলীজ আল-হানাফী (মৃ. ৭৬২ হি.)
তাহকীক: মুহাম্মদ উসমান
প্রকাশক: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত - লেবানন
সংস্করণ: প্রথম, ২০১১ খ্রি.
খণ্ড সংখ্যা: ৬
[বইটির নম্বরবিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২
(খণ্ড: ١)
ইকমালু তাহযিবিল কামাল - ত আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
إكمال تهذيب الكمال في أسماء الرجال تأليفالحافظ علاء الدين مغلطاي بن قليج الحنفيالمتوفى سنة 762 هـ تحقيقمحمد عثمان الجزء الأول[المحتوى: أ - ب]
আসমায়ুর রিজাল বিষয়ক গ্রন্থ: ইকমালু তাহযীবিল কামাল রচনায়আল-হাফিয আলাউদ্দীন মুগলাতাই ইবনে ক্বলীজ আল-হানাফীমৃত্যু: ৭৬২ হিজরী তাহকীক ও সম্পাদনায়মুহাম্মাদ উসমান প্রথম খণ্ড[বিষয়বস্তু: আলিফ - বা]
(খণ্ড: ١)
ইকমালু তাহযিবিল কামাল - ত আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٢)
الكتاب: إكمال تهذيب الكمال في أسماء الرجالالتصنيف: علم رجال الحديثالمؤلف: الحافظ علاء الدين مغلطايالمحقق: محمد عثمانالناشر: دار الكتب العلمية - بيروتعدد الصفحات: 3616 (6 أجزاء)قياس الصفحات: 24 × 17سنة الطباعة: 2011 مبلد الطباعة: لبنانالطبعة: الأولى جميع حقوق الملكية الأدبية والفنية محفوظة لدار الكتب العلمية، بيروت - لبنان ويحظر طبع أو تصوير أو ترجمة أو إعادة تنضيد الكتاب كاملًا أو مجزأ أو تسجيله على أشرطة كاسيت أو إدخاله على الكمبيوتر أو برمجته على اسطوانات ضوئية إلا بموافقة الناشر خطيًا.
গ্রন্থ: ইকমালু তাহযিবিল কামাল ফি আসমায়ির রিজালশ্রেণীবিভাগ: ইলমুর রিজাল (হাদিস বর্ণনাকারী বিষয়ক বিজ্ঞান)লেখক: আল-হাফিজ আলাউদ্দিন মুগলতাইগবেষক ও সম্পাদক: মুহাম্মদ উসমানপ্রকাশক: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ - বৈরুতপৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৬১৬ (৬ খণ্ড)পৃষ্ঠার মাপ: ২৪ × ১৭প্রকাশকাল: ২০১১ খ্রিস্টাব্দমুদ্রণ দেশ: লেবাননসংস্করণ: প্রথম সকল সাহিত্যিক ও শৈল্পিক স্বত্ব দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত - লেবানন কর্তৃক সংরক্ষিত। প্রকাশকের লিখিত অনুমতি ব্যতিরেকে এই গ্রন্থের সম্পূর্ণ বা আংশিক মুদ্রণ, অনুলিপি, অনুবাদ, পুনরায় বিন্যাস, ক্যাসেটে ধারণ, কম্পিউটারে সংরক্ষণ বা অপটিক্যাল ডিস্কে প্রোগ্রামিং করা নিষিদ্ধ।
(খণ্ড: ١)
ইকমালু তাহযিবিল কামাল - ত আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٣)
بِسمِ اللَّهِ الرَّحمَنِ الرّحِيَمِ مقدمةإن الحمد للَّه، نحمده ونستعينه ونستغفره ونتوب إليه، ونثني عليه الخير كله، اللهم لك الحمد كما هديتنا للإسلام، ومننت علينا ببعثة خير الأنام، وأشهد أن لا إله إلا اللَّه وحده لا شريك له، نصب على ربوبيته أعظم الدلائل، وأقام على ألوهيته الآيات الجلائل، وأشهد أن نبينا محمدًا عبد اللَّه ورسوله سيد الأواخر والأوائل، المبعوث بأكرم السجايا وأشرف الشمائل، صلى اللَّه عليه وعلى آله أولي المكرمات والفضائل، وصحبه الذين أحبوه محبة تفوق محبة النفس والمال والولد والحلائل، والتابعين ومن تبعهم بإحسان وفي نصرة الحق يُجاهد ويناضل، وسلم تسليمًا كثيرًا.أما بعد:فدراسة الأسانيد علمٌ مهمٌّ من علوم السُّنَّة المُشرَّفة، وهو في الحقيقة الثمرة التي من أتقن مقدماتها وما قبلها، فقد وصل إليها وحقق ما يريده من دراسة علوم السُّنَّة، وهو تمييز المقبول من المردود ممَّا ينسب ويُضاف إلى النبي صلى الله عليه وسلم، وإلى صحابته، والتابعين كذلك.وقد لقيت الكُتب السِّتة من العلماء عناية في أطرافها ورجالها، وأحسن ما أُلِّف في أطرافها كتاب أبي الحجاج المزي "تحفة الأشراف بمعرفة الأطراف"، وقد رتَّبه على أسماء الصحابة رضي الله عنهم، وعند كل صحابي يذكر الأسانيد من الأئمة أصحاب الكتب الستة إلى التابعين، وهذا الكتاب العظيم يعتبر بالنسبة للأسانيد بمثابة نُسخ أُخرى لتلك الكتب الستة.وأحسن ما ألف في رجالها، بل في رجال مؤلفات أصحابها، كتاب "تهذيب الكمال في أسماء الرجال" لأبي الحجاج المزي، فإنه مشتمل على أسماء رجال الكتب الستة، ورجال مؤلفات أخرى لأصحاب الكتب الستة، مثل "رجال الأدب المفرد"،
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। ভূমিকাসমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি, তাঁর নিকট ক্ষমা চাই এবং তাঁরই নিকট তওবা করি। আমরা তাঁর যাবতীয় কল্যাণের প্রশংসা করি। হে আল্লাহ, আপনার জন্যই সকল প্রশংসা, যেহেতু আপনি আমাদের ইসলামের দিশা দিয়েছেন এবং সর্বশ্রেষ্ঠ মানবের প্রেরণের মাধ্যমে আমাদের ওপর অনুগ্রহ করেছেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক এবং তাঁর কোনো শরিক নেই; তিনি তাঁর রুবুবিয়্যাতের (প্রভুত্ব) সপক্ষে সুমহান প্রমাণসমূহ স্থাপন করেছেন এবং তাঁর উলুহিয়্যাতের (উপাস্য হওয়ার) সপক্ষে সমুজ্জ্বল নিদর্শনাবলী প্রতিষ্ঠিত করেছেন। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নবী মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, যিনি পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের সরদার; তিনি মহোত্তম চরিত্র ও শ্রেষ্ঠতম গুণাবলীসহ প্রেরিত হয়েছেন। আল্লাহর দরুদ ও অফুরন্ত সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর যারা সম্মান ও ফযিলতের অধিকারী এবং তাঁর সেই সকল সাহাবীদের ওপর যারা নিজেদের জান-মাল, সন্তান-সন্ততি ও জীবনসঙ্গিনীদের চেয়েও তাঁকে বেশি ভালোবাসতেন। আরও সালাম বর্ষিত হোক তাবেয়ীন এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করেছেন এবং সত্যের সাহায্যে সংগ্রাম ও লড়াই চালিয়ে গেছেন তাদের ওপর।অতঃপর:সনদ বা বর্ণনাপরম্পরা পর্যালোচনা করা সুন্নাহ শাস্ত্রের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যা। প্রকৃতপক্ষে এটি এমন এক ফল যা সেই ব্যক্তি লাভ করতে পারে, যে এর ভূমিকা ও তৎপূর্ববর্তী বিষয়গুলোতে দক্ষতা অর্জন করেছে; এর মাধ্যমেই সে সুন্নাহ শাস্ত্রের মূল লক্ষ্যে পৌঁছাতে এবং তা বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়। আর সেই লক্ষ্য হলো—আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তাঁর সাহাবী এবং তাবেয়ীনদের দিকে যা কিছু সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে, তার মধ্য থেকে গ্রহণযোগ্য ও বর্জনীয় বর্ণনাগুলোকে পৃথক করা।উলামায়ে কেরাম কুতুবে সিত্তাহ বা ছয়টি প্রসিদ্ধ হাদিস গ্রন্থের 'আতরাফ' (সূত্র-সংক্ষেপ) ও 'রিজাল' (বর্ণনাকারীদের জীবনী) বিষয়ে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। আতরাফ বিষয়ে রচিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো আবুল হাজ্জাজ আল-মিযযীর 'তুহফাতুল আশরাফ বি-মা'রিফাতিল আতরাফ'। তিনি কিতাবটিকে সাহাবী রাদিয়াল্লাহু আনহুমদের নামের ক্রমানুসারে বিন্যস্ত করেছেন। প্রত্যেক সাহাবীর নামের অধীনে তিনি কুতুবে সিত্তাহর ইমামদের থেকে শুরু করে তাবেয়ীন পর্যন্ত সনদগুলো উল্লেখ করেছেন। সনদের বিচারে এই মহান গ্রন্থটি কুতুবে সিত্তাহর কিতাবগুলোর বিকল্প পাণ্ডুলিপি সদৃশ গণ্য করা হয়।আর এই কিতাবগুলোর বর্ণনাকারীদের জীবনী—বরং এই কিতাবগুলোর লেখকদের অন্যান্য রচনার বর্ণনাকারীদের জীবনী—সংক্রান্ত গ্রন্থগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো আবুল হাজ্জাজ আল-মিযযীর 'তাহযীবুল কামাল ফী আসমা ইর-রিজাল'। এটি কুতুবে সিত্তাহর বর্ণনাকারীদের নামের পাশাপাশি উক্ত ইমামগণের অন্যান্য রচনার বর্ণনাকারীদেরও অন্তর্ভুক্ত করেছে, যেমন 'আল-আদাবুল মুফরাদ'-এর বর্ণনাকারীগণ,
(খণ্ড: ١)
ইকমালু তাহযিবিল কামাল - ত আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٤)
و"جزء القراءة خلف الإمام"، و"خلق أفعال العباد" للبخاري، وغيرها.وقد اعتنى الحافظ أبو الحجاج المزي عند ترجمة كل راوٍ بذكر شيوخه وتلاميذه، مرتبين على ترتيب حروف الهجاء، ثم يذكر ما قيل في صاحب الترجمة من جرح وتعديل، ويختم الترجمة بذكر أسماء الذين خرَّجوا أحاديثه من الأئمة الستة في كتبهم، وفي أول الترجمة يثبت الرموز لهم، فيُبيِّن لك من أخرج لهذا الشيخ، ممَّا يحصر لك الاحتمال في تحديد الراوي، وقد حاول المزي في "تهذيب الكمال" الاستقصاء في ذكر الشيوخ والتلاميذ، لكن الاستقصاء التام ليس من قدرة البشر، لكنَّه غالبًا استقصى الكتب الستة؛ أي: الموجود فيها، مضيفًا إضافات كثيرة جدًّا من خارج الكتب الستة، فهو أوسع كتاب مفيد في هذه الناحية.ولأهمية هذا الكتاب فقد اعتنى به كثير من العلماء، فهناك من قام بتهذيبه كالإمام الذهبي في كتابه "تذهيب تهذيب الكمال" والحافظ ابن حجر في كتابه "تهذيب التهذيب"، وهناك من لخَّصه كالإمام الخزرجي في "خلاصة تذهيب تهذيب الكمال".وهناك من جاء وتمَّم هذا العمل الضخم، وأضاف إضافات في الشيوخ والتلاميذ، وهو الحافظ مغلطاي بن قليج الحنفي الذي أَلَّفَ الكتاب الذي بين أيدينا "إكمال تهذيب الكمال"، فاعتنى بتعقُّب المزي، وبالزيادة في هذا الكتاب في نواحٍ متعددة، في رواةٍ على شرطه لم يذكرهم، وفي زيادة تلاميذ وشيوخ لم يُوردهم، وفي إضافة ألفاظ جرح وتعديل فاتَت المزي أن يذكرها في الرواة الذين ذَكَرهم.ومن يطلع على كتاب "إكمال تهذيب الكمال" يتأكد أنه لا تتم الفائدة من "تهذيب الكمال" إلا بهذا الكتاب، فهو بحق تكملة له من عالم جليل استدرك الكثير والكثير على علم من أعلام الجرح والتعديل الإمام المزي.وقد وفقنا اللَّه لهذا الكتاب القيم والهام لطلبة العلم، وقد بذلنا كل الجهد والطاقة لإخراجه بالشكل الذي يرضي اللَّه عنا، ونحمد اللَّه تعالى أن وفقنا لإتمامه(1).وفي الختام أسأل اللَّه عز وجل أن يُوفِّقنا جميعًا لما فيه رضاه، وأن يوفقنا لتحصيل العلم النافع والعمل به، إنه سبحانه وتعالى جوَّاد كريم، وصلى اللَّه وسلَّم وبارك على عبده ورسوله محمد، صلى الله عليه وسلم، وعلى آله وصحبه أجمعين.
--------------------------------------------
(1) نشير إلى أن الأحرف (غ، ف، ق، ك، ل) وما يتبع "يحيى" من حرف الياء، مفقودة من جميع المخطوطات التي استطعنا الحصول عليها.
এবং বুখারীর "জুযউল কিরাআতি খালাফাল ইমাম", "খালকু আফআলিল ইবাদ" এবং অন্যান্য।হাফেজ আবু হাজ্জাজ আল-মিযযি প্রত্যেক বর্ণনাকারীর জীবনী আলোচনার সময় তাঁর শিক্ষক ও ছাত্রদের নাম বর্ণমালার ক্রমানুসারে উল্লেখ করার প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। অতঃপর তিনি উক্ত বর্ণনাকারীর ব্যাপারে জারহ (সমালোচনা) ও তা'দিল (প্রশংসা) সংক্রান্ত মতামতগুলো উল্লেখ করেন এবং সবশেষে সেই সকল ইমামদের নাম উল্লেখ করে জীবনীটি শেষ করেন যারা তাঁদের কিতাবসমূহে (ছয় ইমাম) তাঁর হাদিস সংকলন করেছেন। জীবনীর শুরুতেই তিনি তাঁদের জন্য নির্দিষ্ট সংকেত চিহ্ন ব্যবহার করেছেন, যা আপনাকে স্পষ্ট করে দেয় যে উক্ত শিক্ষকের হাদিস কে কে বর্ণনা করেছেন, যা বর্ণনাকারীকে নির্দিষ্ট করার ক্ষেত্রে আপনার সংশয় দূর করে দেয়। আল-মিযযি "তাহযিবুল কামাল" গ্রন্থে শিক্ষক ও ছাত্রদের বর্ণনায় পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধানের চেষ্টা করেছেন, তবে পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধান করা মানুষের সাধ্যাতীত। তবুও তিনি অধিকাংশ ক্ষেত্রে কুতুবে সিত্তা বা ছয়টি কিতাবে যা বিদ্যমান তা সবিস্তারে আলোচনা করেছেন এবং কুতুবে সিত্তার বাইরে থেকেও প্রচুর তথ্য সংযোজন করেছেন। ফলে এই বিষয়টি বর্ণনার ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত ব্যাপক ও উপকারী একটি কিতাব।এই কিতাবটির গুরুত্বের কারণে অনেক আলেম এটির প্রতি বিশেষ যত্ন নিয়েছেন। কেউ কেউ এর পরিমার্জন বা তাহযিব করেছেন, যেমন ইমাম যাহাবি তাঁর "তাযহিবু তাহযিবিল কামাল" কিতাবে এবং হাফেজ ইবনে হাজার তাঁর "তাহযিবুত তাহযিব" কিতাবে। আবার কেউ কেউ এর সারসংক্ষেপ করেছেন, যেমন ইমাম খাজরাজি তাঁর "খুলাসাতু তাযহিবি তাহযিবিল কামাল" গ্রন্থে।আবার এমন কেউ এসেছেন যিনি এই বিশাল কাজটিকে পূর্ণতা দান করেছেন এবং শিক্ষক ও ছাত্রদের ক্ষেত্রে প্রচুর তথ্য সংযোজন করেছেন। তিনি হলেন হাফেজ মুগলতাই বিন কালিজ আল-হানাফি, যিনি আমাদের সামনে বিদ্যমান এই "ইকমালু তাহযিবিল কামাল" কিতাবটি রচনা করেছেন। তিনি মিযযির অনুসরণ করার পাশাপাশি বিভিন্ন দিক থেকে এই কিতাবে তথ্য বৃদ্ধির প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন। যেমন: এমন সব বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত করা যারা মিযযির শর্তানুযায়ী ছিলেন কিন্তু তিনি তাঁদের উল্লেখ করেননি, এমন সব ছাত্র ও শিক্ষকদের তথ্য সংযোজন করা যাদের তিনি উল্লেখ করেননি এবং জারহ ও তা'দিলের এমন সব পরিভাষা যুক্ত করা যা মিযযি তাঁর বর্ণিত বর্ণনাকারীদের ক্ষেত্রে উল্লেখ করতে ছেড়ে গিয়েছিলেন।যে ব্যক্তি "ইকমালু তাহযিবিল কামাল" কিতাবটি অধ্যয়ন করবেন তিনি নিশ্চিত হবেন যে, এই কিতাবটি ব্যতীত "তাহযিবুল কামাল" থেকে পূর্ণ সুফল লাভ করা সম্ভব নয়। এটি প্রকৃতপক্ষে একজন মহান আলেমের পক্ষ থেকে এর একটি যথাযোগ্য পরিপূরক, যিনি জারহ ও তা'দিলের অন্যতম ইমাম আল-মিযযির অনেক অনেক বিষয় সংশোধন ও সংযোজন করেছেন।আল্লাহ তাআলা আমাদের জ্ঞানান্বেষী ছাত্রদের জন্য এই মূল্যবান ও গুরুত্বপূর্ণ কিতাবটির কাজ করার তাওফিক দান করেছেন। আমরা এটিকে আল্লাহর সন্তুষ্টির উপযোগী করে প্রকাশের জন্য আমাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ও শক্তি ব্যয় করেছি। আমরা মহান আল্লাহর প্রশংসা করছি যে তিনি আমাদের এটি সম্পন্ন করার তাওফিক দান করেছেন(১)।পরিশেষে আমি আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের সকলকে তাঁর সন্তুষ্টির পথে পরিচালিত করেন এবং আমাদের উপকারী ইলম অর্জন ও সেই অনুযায়ী আমল করার তাওফিক দান করেন। নিশ্চয়ই তিনি পরম দাতা ও দয়ালু। আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমত, শান্তি ও বরকত বর্ষিত হোক তাঁর বান্দা ও রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীর ওপর।
--------------------------------------------
(১) আমরা উল্লেখ করছি যে, (গাইন, ফা, কাফ, কাফ, লাম) বর্ণগুলো এবং "ইয়াহইয়া" নামের পরবর্তী 'ইয়া' বর্ণ সংশ্লিষ্ট অংশগুলো আমাদের সংগৃহীত সকল পাণ্ডুলিপি থেকে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে।
(খণ্ড: ١)
ইকমালু তাহযিবিল কামাল - ত আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٥)
مقدمة في علم الجرح والتعديلالمبحث الاول التعريف بعلم الجرح والتعديل وأهميتهأولا: تعريف الجرح والتعديل:تعريفُ الجرح:الجرح في اللغة: مُشتق من جَرَحه يجْرحه جرحًا، بمعنى: أثر فيه بالسلاح، والجراحة: اسم الضربة أو الطعنة، ويقال: جرح الحاكم الشاهد: إذا عثر منه على ما تسقط به عدالته، من كذبٍ وغيره.وهو في اصطلاح المحدثين: الطعن في رواة الحديث بما يسلب عدالتهم أو ضبطهم. وقيل: هو وصف متى التحق بالراوي، والشاهد سقط الاعتبار بقوله وبطل العمل به. تعريف التعديل:التعديل: مصدر عدل، فهو عدل، قال في اللسان: العدالة: ما قام في النفوس أنه مستقيم، وهو ضد الجور، والعدل من الناس: المرضي.والعدالة في اصطلاح المحدثين: وصف متى التحق بالراوي، والشاهد اعتبر قولهما وأخذ به.وهي عبارة عن خمسة أمور، واعتبرها البعض شروطًا، متى تحققت في الرجل كان عدلا، أو يقال: لا بدّ من تحققها في العدل، وهي:1 - الإسلام.2 - البلوغ.3 - العقل.4 - التقوى: وهي اجتناب الكبائر، وترك الإصرار على الصغائر.5 - الاتِّصاف بالمروءة.قال الحاكم: أصل عدالة المُحدِّث أن يكون مسلمًا، لا يدعو إلى بدعة، ولا يعلن من أنواع المعاصي ما تسقط عدالته، فإن كان مع ذلك حافظًا لحديثه، فهي أرفع درجات المحدِّثين.وقال الغزالي: العدالة في الرواية والشهادة، عبارة عن استقامة السيرة في الدِّين، ويرجع حاصلها إلى هيئة راسخة في النفس، على ملازمة التقوى والمروءة جميعًا، حتى تحصل ثقة النفوس بصدقه.أما علم الجرح والتعديل: فهو علم يبحث فيه عن جرح الرواة وتعديلهم بألفاظ
জারহ ও তাদিল শাস্ত্রের ভূমিকাপ্রথম পরিচ্ছেদ: জারহ ও তাদিল শাস্ত্রের পরিচয় ও এর গুরুত্বপ্রথমত: জারহ ও তাদিলের সংজ্ঞা:জারহ-এর সংজ্ঞা:জারহ আভিধানিক অর্থে: এটি ‘জরাহা’ শব্দ থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ: অস্ত্রের মাধ্যমে কোনো কিছুর ওপর প্রভাব ফেলা। আর ‘জিরাহাহ’ হলো আঘাত বা জখমের নাম। বলা হয়ে থাকে: বিচারক সাক্ষীকে ‘জারহ’ করেছেন—যখন তিনি তার মাঝে এমন কোনো বিষয় দেখতে পান যার দ্বারা তার আদালত (সাক্ষ্যদানের যোগ্যতা) ক্ষুণ্ণ হয়, যেমন মিথ্যা বলা বা অন্য কিছু।মুহাদ্দিসগণের পরিভাষায় এটি হলো: হাদিস বর্ণনাকারীদের এমনভাবে সমালোচনা করা যা তাদের আদালত (ন্যায়নিষ্ঠা) বা জাবত (স্মৃতিশক্তি ও নির্ভুলতা) নষ্ট করে দেয়। কেউ কেউ বলেছেন: এটি এমন এক গুণ যা যখন কোনো বর্ণনাকারী বা সাক্ষীর সাথে যুক্ত হয়, তখন তার কথা অগ্রহণযোগ্য হয়ে পড়ে এবং তার বর্ণনা অনুযায়ী আমল করা বাতিল হয়ে যায়। তাদিল-এর সংজ্ঞা:তাদিল: এটি ‘আদল’ শব্দের মাসদার বা ক্রিয়ামূল। লিসানুল আরব গ্রন্থে বলা হয়েছে: ‘আদালাত’ হলো এমন এক বিষয় যা অন্তরে সুপ্রতিষ্ঠিত যে এটি সঠিক ও ঋজু, যা অবিচারের বিপরীত। আর মানুষের মধ্যে ‘আদল’ (ন্যায়পরায়ণ) ব্যক্তি হলেন তিনি, যার চারিত্রিক অবস্থা সন্তোষজনক।মুহাদ্দিসগণের পরিভাষায় ‘আদালাত’ বা ন্যায়নিষ্ঠতা হলো: এমন এক গুণ যা যখন কোনো বর্ণনাকারী বা সাক্ষীর মধ্যে বিদ্যমান থাকে, তখন তাদের কথা গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হয় এবং তা গ্রহণ করা হয়।এটি পাঁচটি বিষয়ের সমষ্টি, যেগুলোকে কেউ কেউ শর্ত হিসেবে গণ্য করেছেন। যখন কোনো ব্যক্তির মাঝে এগুলো পাওয়া যাবে তখন সে ‘আদিল’ (ন্যায়পরায়ণ) বলে গণ্য হবে। অথবা বলা যায়: একজন আদিল ব্যক্তির মাঝে এগুলোর উপস্থিতি থাকা আবশ্যক, সেগুলো হলো:১ - ইসলাম (মুসলিম হওয়া)।২ - বুলুগ (প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া)।৩ - আকল (সুস্থ মস্তিস্কসম্পন্ন হওয়া)।৪ - তাকওয়া: আর তা হলো কবিরা গুনাহসমূহ থেকে বেঁচে থাকা এবং সগিরা গুনাহের ওপর অবিচল না থাকা।৫ - মুরূআত বা সদাচারী হওয়া।ইমাম হাকিম বলেন: একজন মুহাদ্দিসের ন্যায়নিষ্ঠতার মূল ভিত্তি হলো তিনি মুসলিম হবেন, বিদআতের দিকে আহ্বানকারী হবেন না এবং প্রকাশ্যভাবে এমন কোনো পাপাচার করবেন না যা তার আদালতকে নষ্ট করে দেয়। যদি এর পাশাপাশি তিনি স্বীয় হাদিসের হাফিজ (সংরক্ষণকারী) হন, তবে তা মুহাদ্দিসগণের সর্বোচ্চ স্তর।ইমাম গাজালি বলেন: হাদিস বর্ণনা ও সাক্ষ্য প্রদানের ক্ষেত্রে আদালত হলো দ্বীনের পথে জীবন পরিচালনার ক্ষেত্রে অটল থাকা। এর নির্যাস হলো অন্তরে প্রোথিত এমন এক দৃঢ় অবস্থা যা তাকওয়া ও মুরূআত—উভয়ের ওপর সর্বদা অবিচল থাকে, যতক্ষণ না তার সত্যবাদিতার ব্যাপারে মানুষের মনে পূর্ণ আস্থা অর্জিত হয়।আর জারহ ও তাদিল শাস্ত্র হলো: এমন এক শাস্ত্র যেখানে সুনির্দিষ্ট পরিভাষার মাধ্যমে বর্ণনাকারীদের ত্রুটি ও ন্যায়নিষ্ঠতা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়।
(খণ্ড: ١)
ইকমালু তাহযিবিল কামাল - ত আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٦)
مخصوصة، وعن مراتب تلك الألفاظ. ثانيًا: أهمية علم الجرح والتعديلعلم الجرح والتعديل هو أحد أنواع العلوم المتعلقة بالرواة، وهذا العلم يُعدُّ من الأهمية بمكان؛ ذلك أن الغرض من معرفته حفظُ سُنَّة الرسول صلى الله عليه وسلم.فمن أهميته: إجماع أهل العلم على أنه لا يُقبل إلا خبر العدل، كما أنه لا تُقبل إلا شهادة العدل؛ لذلك كان السؤال عن المخبِر من أهل العلم والمعرفة واجبًا محتمًا.وإذا كان معرفة أحوال الرواة من أوجب الواجبات لحفظ سُنَّة النبي صلى الله عليه وسلم، فإن بيان حال من عُرف بالضعف أو الكذب، وكذا من عُرف الضبط والعدالة من ذلك الواجب أيضًا؛ ليُعرّف الناس حقيقة أمر من نقل حديث النبي صلى الله عليه وسلم إلى الأمَّة.وهذا الاهتمام بالرواة، وهو ما يعرف بالاهتمام بالإسناد، وهو ما يتردَّد على أَلْسِنَة كثير من المحدِّثين بقولهم: الإسناد، وفضائل الإسناد، وأهمية الإسناد، والإسناد من خصائص الأمَّة المحمَّدية، ونحو ذلك.والإسناد من خصائص هذه الأمة، ليست لغيرها من الأمم. قال ابن حزم: نَقْلُ الثقة عن الثقة، يبلغ به النبي صلى الله عليه وسلم مع الاتصال، خصَّ اللَّه به المسلمين دون سائر المِلَل. وأما مع الإرسال والإعضال، فيُوجد في كثير من اليهود، ولكن لا يقربون فيه من موسى قُرْبنا من محمد صلى الله عليه وسلم، بل يقفون بحيث يكون بينهم وبين موسى أكثر من ثلاثين عصرًا، وإنما يبلغون إلى شمعون ونحوه.قال: وأما النصارى فليس عندهم من صفة هذا النقل إلا تحريم الطلاق فقط، وأما النقل بالطريق المشتملة على كذاب، أو مجهول العين، فكثير في نقل اليهود والنصارى.قال: وأما أقوال الصحابة والتابعين، فلا يمكن لليهود أن يبلغوا إلى صاحب نبي أصلا، ولا إلى تابع له، ولا يمكن للنصارى أن يَصِلُوا إلى أعلى من شمعون وبولص.من دلائل اهتمام هذه الأمة بالإسناد، ورجال الإسناد، ما يلي:قال عبد اللَّه بن المبارك: الإسْنَادُ مِنَ الدِّينِ، وَلَوْلا الإسْنَادُ لَقَالَ مَنْ شَاءَ مَا شَاءَ.وقال عبدان، قَالَ: سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّه بن المُبَارَك يَقُولُ: الإسْنَادُ مِنَ الدِّينِ، وَلَوْلا الإسْنَادُ لَقَالَ مَنْ شَاءَ مَا شَاءَ. قَالَ أَبُو عَبْد اللَّه: فَلَوْلا الإسْنَادُ، وَطَلَبُ هَذِهِ الطَّائِفَة لَهُ، وَكَثْرَةُ مُوَاظَبَتِهِمْ عَلَى حِفْظِهِ، لَدَرَسَ مَنَارُ الإسْلامِ، وَلَتَمَكَّنَ أَهْلُ الإلْحَاد وَالْبِدَع فِيهِ بِوَضْعِ الأحَادِيثِ وَقَلْبِ الأسَانِيدِ، فَإِنَّ الأخْبَارَ إِذَا تَعَرَّتْ عَنْ وُجُودِ الأسَانِيد فِيهَا، كَانَت بُترًا.وقال عبدان، قَالَ: سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّه، يَعْنِي: ابن المُبَارَك، يَقُولُ: الإسْنَادُ عِنْدِي مِنَ الدِّينِ، وَلَوْلا الإسْنَادُ لَقَالَ مَنْ شَاءَ مَا شَاءَ.وقَالَ ابن المُبَارَك: مَثَلُ الَّذِي يَطْلُبُ أَمْرَ دِينه بِلا إِسْنَادٍ، كَمَثَلِ الَّذِي يَرْتَقي السَّطْحَ
সুনির্দিষ্ট (পরিভাষা), এবং সেই শব্দাবলির স্তরসমূহ সম্পর্কে। দ্বিতীয়ত: ইলমে জারহ ও তা'দীলের গুরুত্বইলমে জারহ ও তা'দীল হলো বর্ণনাকারীদের সাথে সংশ্লিষ্ট জ্ঞানসমূহের অন্যতম একটি প্রকার। এই ইলমটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; কারণ এটি জানার উদ্দেশ্য হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহকে হেফাজত করা।এর গুরুত্বের অন্যতম দিক হলো: আলেমগণের ঐকমত্য যে, ন্যায়পরায়ণ (আদিল) ব্যক্তির সংবাদ ব্যতীত অন্য কারো সংবাদ গ্রহণযোগ্য নয়, ঠিক যেমন ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তির সাক্ষ্য ব্যতীত অন্য কারো সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয়। এই কারণে সংবাদদাতার অবস্থা সম্পর্কে জ্ঞান ও প্রজ্ঞাসম্পন্ন ব্যক্তিদের কাছে জিজ্ঞাসা করা একটি অবধারিত কর্তব্য।আর যদি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ সংরক্ষণের জন্য বর্ণনাকারীদের অবস্থা জানা অন্যতম আবশ্যকীয় কর্তব্য হয়ে থাকে, তবে যাদের দুর্বলতা বা মিথ্যাচারিতা পরিচিতি পেয়েছে তাদের অবস্থা বর্ণনা করা, এবং একইভাবে যাদের স্মৃতিশক্তি ও ন্যায়পরায়ণতা প্রসিদ্ধ হয়েছে তাদের কথা বর্ণনা করাও সেই কর্তব্যের অন্তর্ভুক্ত; যাতে উম্মতের কাছে যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস বর্ণনা করেছেন তাদের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে মানুষ জানতে পারে।বর্ণনাকারীদের প্রতি এই গুরুত্ব প্রদানই মূলত 'সনদ' বা ইসনাদের প্রতি গুরুত্ব প্রদান হিসেবে পরিচিত। মুহাদ্দিসগণের মুখে এটিই বারবার উচ্চারিত হয় যে: সনদ, সনদের ফজিলত, সনদের গুরুত্ব এবং সনদ হলো উম্মতে মুহাম্মদীর অন্যতম বৈশিষ্ট্য, ইত্যাদি।সনদ হলো এই উম্মতের অন্যতম বৈশিষ্ট্য, যা অন্য কোনো উম্মতের নেই। ইবনে হাজম বলেন: নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী কর্তৃক নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী থেকে বর্ণনা করা, যার মাধ্যমে অবিচ্ছিন্নভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছানো যায়—আল্লাহ তা'আলা অন্য সকল ধর্মাবলম্বীদের বাদ দিয়ে কেবল মুসলিমদেরই এটি দান করেছেন। পক্ষান্তরে মুরসাল এবং ই’দাল (বিচ্ছিন্ন সনদ) সমৃদ্ধ বর্ণনা ইহুদিদের কাছে অনেক পাওয়া যায়, কিন্তু তারা মূসা আলাইহিস সালামের কাছে সেভাবে পৌঁছাতে পারে না যেভাবে আমরা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট পৌঁছাতে পারি। বরং তাদের ও মূসা আলাইহিস সালামের মাঝে ত্রিশটিরও বেশি প্রজন্মের ব্যবধান থেকে যায়, তারা বড়জোর শামউন বা এই জাতীয় ব্যক্তিদের পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।তিনি বলেন: আর খ্রিষ্টানদের নিকট বর্ণনার এই পদ্ধতির মধ্যে কেবল তালাক হারাম হওয়ার বিষয়টি ছাড়া আর কিছুই নেই। তবে মিথ্যাবাদী বা পরিচয়হীন ব্যক্তিদের মাধ্যমে বর্ণনা ইহুদি ও খ্রিষ্টানদের বর্ণনার ক্ষেত্রে প্রচুর পরিমাণে বিদ্যমান।তিনি বলেন: সাহাবী ও তাবেয়ীদের বাণীর ক্ষেত্রে তো ইহুদিদের পক্ষে কোনো নবীর সাথী বা তাঁর কোনো অনুসারী পর্যন্ত পৌঁছানো একেবারেই অসম্ভব। আর খ্রিষ্টানদের পক্ষে শামউন ও পৌলের উপরে পৌঁছানো সম্ভব নয়।সনদের প্রতি এবং সনদের বর্ণনাকারীদের প্রতি এই উম্মতের গুরুত্ব প্রদানের কিছু প্রমাণ নিচে দেওয়া হলো:আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক বলেন: সনদ হলো দ্বীনের অংশ, যদি সনদ না থাকতো তবে যে যা ইচ্ছা তা-ই বলতো।আবদান বলেন: আমি আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারককে বলতে শুনেছি যে: সনদ হলো দ্বীনের অংশ, যদি সনদ না থাকতো তবে যে যা ইচ্ছা তা-ই বলতো। আবু আবদুল্লাহ বলেন: যদি সনদ না থাকতো এবং একদল লোক যদি এই সনদের অনুসন্ধান না করতো এবং তা সংরক্ষণে সার্বক্ষণিক নিয়োজিত না থাকতো, তবে ইসলামের নিদর্শনসমূহ বিলুপ্ত হয়ে যেত। আর নাস্তিক ও বিদআতিরা মিথ্যা হাদিস তৈরি করে এবং সনদের ওলটপালট ঘটিয়ে দ্বীনের মধ্যে অনুপ্রবেশ করার সুযোগ পেয়ে যেত। কারণ সংবাদ যখন সনদবিহীন হয়, তখন তা হয়ে পড়ে ভিত্তিহীন।আবদান বলেন: আমি আবদুল্লাহ অর্থাৎ ইবনুল মুবারককে বলতে শুনেছি যে: আমার নিকট সনদ হলো দ্বীনের অংশ, যদি সনদ না থাকতো তবে যে যা ইচ্ছা তা-ই বলতো।ইবনুল মুবারক বলেন: যে ব্যক্তি সনদ ব্যতীত নিজের দ্বীনের বিষয় অনুসন্ধান করে, তার উদাহরণ সেই ব্যক্তির মতো যে ছাদে আরোহণ করে...
(খণ্ড: ١)
ইকমালু তাহযিবিল কামাল - ত আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٧)
بِلا سُلَّمٍ.وقال مُحَمَّد بن شَاذَان الجَوْهَري: سَأَلْتُ عَلِي بن المَدِيِني عَن إِسْنَادِ حَدِيثٍ سَقَطَ عَلَيَّ. فَقَالَ: تَدْرِي مَا قَالَ أَبُو سَعِيد الحَدَّادُ؟ قَالَ: الإسْنَادُ مِثْلُ الدَّرَجِ وَمِثْلُ المَرَاقِي، فَإِذَا زَلَّتْ رِجْلُكَ عَن المَرْقَاةِ سَقَطَتْ، وَالرَّأْيُ مِثْلُ المَرْجِ.روى مسلم أيضًا عَنْ مُحَمَّد بن سِيرين، قَالَ: إِنَّ هَذَا العِلْمَ دِينٌ، فَانْظُرُوا عَمَّنْ تَأْخُذُونَ دِينَكُمْ.وعَن ابن سِيرين، قَالَ: لَمْ يَكُونُوا يَسْأَلُونَ عَن الإسْنَادِ، فَلَمَّا وَقَعَت الفِتْنَةُ قَالُوا: سَمُّوا لَنَا رِجَالكُمْ، فَيُنْظَرُ إِلَى أَهْلِ السُّنَّةِ فَيُؤْخَذُ حَدِيثهُمْ، وَيُنْظَرُ إِلَى أَهْلِ البِدَعِ فَلا يُؤْخَذُ حَدِيثهُمْ.وعَن ابن أبِي الزِّنَاد، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: أَدْرَكْتُ بِالمَدِينَةِ مِائَةً، كُلُّهُمْ مَأْمُونٌ، مَا يُؤْخَذُ عَنْهُم الحَدِيث يُقَالُ: لَيْسَ مِنْ أَهْلِهِ.وعن عبد اللَّه بن المبارك، قالَ: بَيْنَنَا وَبَيْنَ القَوْم القَوَائِم. يَعْنِي: الإسْنَاد.وقَالَ عَبْد الصَّمَد بن حسان: سَمِعْتُ سفيان الثَّوْرِيّ يَقُولُ: الإسْنَادُ سِلاحُ المُؤْمِن، فَإِذَا لَمْ يَكُنْ مَعَهُ سِلاحٌ، فَبِأَيِّ شَيْءٍ يُقَاتِلُ.وقال القَاسِم بن بندار: سَمِعْتُ أَبَا حَاتِم الرَّازِيّ يَقُولُ: لَمْ يَكُنْ فِي أُمَّةٍ مِنَ الأمَمِ مُنْذُ خَلَقَ اللَّه آدَم، أُمَنَاء يَحْفَظُونَ آثَارَ الرُّسُل إِلا فِي هَذِهِ الأمَّةِ. فَقَالَ لَهُ رَجُل: يَا أَبَا حَاتِم، رُبَّمَا رَوَوْا حَدِيثًا لا أَصْلَ لَهُ وَلا يَصِحُّ؟ فَقَالَ: عُلَمَاؤُهُمْ يَعْرِفُونَ الصَّحِيحَ مِنَ السَّقِيمِ، فَرِوَايتُهُمْ ذَلِكَ لِلمَعْرِفَةِ، لِيَتَبَيَّنَ لِمَنْ بَعْدِهِنم أنَّهُمْ مَيَّزُوا الآثَارَ وَحَفظُوهَا. ثُمَّ قَالَ: رَحِمَ اللَّه أَبَا زرْعَة، كَانَ وَاللَّه مُجْتَهِدًا فِي حِفْظِ آثَارِ رَسُول اللَّه صلى الله عليه وسلم.وقال صَالِح بن أَحْمَد الحَافِظ: سَمِعْتُ أَبَا بَكْر مُحَمَّد بن أَحْمَد يَقُولُ: بَلَغَنِي أَنَّ اللَّه، خَصَّ هَذِهِ الأمَّة بِثَلاثَةِ أَشْيَاء، لَمْ يُعْطِهَا مَنْ قَبْلَهَا: الإسْنَاد، وَالأنْسَاب، وَالإعْرَاب. وعن شعبة بن الحجاج، قال: كل حديث ليس فيه (حَدَّثَنَا)، أو (أَخْبَرَنَا)، فهو مثل الرجل بفلاة، معه البعير ليس لها خطام. ثالثًا: الجرح والتعديل من الدِّينقال الترمذي: فصل في الجرح والتعديل، والتفتيش عن الأسانيد، وأن ذلك من الدِّين.ثم قال: وَقَدْ عَابَ بَعْضُ مَنْ لا يَفْهَمُ عَلَى أَهْلِ الحَدِيثِ الكَلامَ فِي الرِّجَالِ، وَقَدْ وَجَدْنَا غَيْرَ وَاحِدٍ مِنَ الأئِمَّةِ مِنَ التَّابِعِينَ قَدْ تَكَلَّمُوا فِي الرِّجَالِ، مِنْهُم: الحَسَن البَصْرِيّ وَطَاوس، تَكَلَّمَا فِي معْبَد الجُهَنِيّ، وَتَكَلَّمَ سَعِيد بن جُبَير فِي طَلق بن حَبِيب، وَتَكَلَّم إِبْرَاهِيم النّخَعِي وَعَامِر الشَّعْبِيّ فِي الحَارِث الأعْوَر.وَهَكَذَا رُوِيَ عَنْ أَيُّوب السّخْتِيَانِيّ، وَعَبْد اللَّه بن عَوْن، وَسُلَيْمَان التَّيْمِيّ، وَشُعْبَة بن الحَجَّاج، وَسُفْيَان الثَّوْرِيّ، وَمَالِك بن أَنَس، والأوْزَاعِيّ، وَعَبْد اللَّه بن المُبَارَك، وَيَحْيَى بن
মই ছাড়া।মুহাম্মদ ইবনে শাযান আল-জাওহারী বলেন: আমি আলী ইবনুল মাদীনীকে একটি হাদীসের সনদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম যা আমার নিকট বাদ পড়ে গিয়েছিল। তখন তিনি বললেন: তুমি কি জানো আবু সাঈদ আল-হাদ্দাদ কী বলেছেন? তিনি বলেছেন: সনদ হলো সিঁড়ি বা ধাপের মতো; সুতরাং যখন তোমার পা ধাপ থেকে পিছলে যাবে, তুমি পড়ে যাবে। আর ব্যক্তিগত রায় হলো তৃণাচ্ছাদিত মাঠের মতো।ইমাম মুসলিম আরও বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনে সীরীন থেকে, তিনি বলেছেন: নিশ্চয় এই ইলম হলো দ্বীন; সুতরাং তোমরা কার নিকট থেকে তোমাদের দ্বীন গ্রহণ করছ তা লক্ষ্য করো।ইবনে সীরীন থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: তারা (আগে) সনদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন না, কিন্তু যখন ফিতনা সংঘটিত হলো, তখন তারা বলতে লাগলেন: আমাদের সামনে তোমাদের বর্ণনাকারীদের নাম উল্লেখ করো। তখন আহলুস সুন্নাহর দিকে লক্ষ্য করা হতো এবং তাদের হাদীস গ্রহণ করা হতো; আর বিদআতিদের দিকে লক্ষ্য করা হতো এবং তাদের হাদীস গ্রহণ করা হতো না।ইবনে আবিয যিনাদ তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি মদীনায় একশজন এমন ব্যক্তিকে পেয়েছি যারা প্রত্যেকেই আমানতদার ছিলেন, কিন্তু তাদের থেকে হাদীস গ্রহণ করা হতো না; বলা হতো: তারা এর (হাদীস শাস্ত্রের) উপযুক্ত লোক নন।আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: আমাদের এবং সেই সম্প্রদায়ের মাঝে পার্থক্যকারী হলো পায়া বা ভিত্তিগুলো। অর্থাৎ: সনদ।আবদুস সামাদ ইবনে হাসান বলেন: আমি সুফিয়ান সাওরীকে বলতে শুনেছি: সনদ হলো মুমিনের হাতিয়ার; সুতরাং যদি তার কাছে হাতিয়ার না থাকে, তবে সে কী দিয়ে লড়াই করবে?আল-কাসিম ইবনে বুন্দার বলেন: আমি আবু হাতিম আর-রাযীকে বলতে শুনেছি: আল্লাহ আদমকে সৃষ্টির পর থেকে এমন কোনো জাতি অতিবাহিত হয়নি যাদের মধ্যে এমন আমানতদার একদল লোক ছিল যারা রাসূলগণের আসার (হাদীস ও নিদর্শনাবলী) সংরক্ষণ করেছেন—একমাত্র এই উম্মত ছাড়া। তখন এক ব্যক্তি তাকে বলল: হে আবু হাতিম, তারা তো মাঝেমধ্যে এমন হাদীসও বর্ণনা করেন যার কোনো ভিত্তি নেই এবং যা সহীহ নয়? তখন তিনি বললেন: তাদের উলামায়ে কেরাম সহীহ থেকে রুগ্ন বা ত্রুটিযুক্ত হাদীসগুলো চিনে নেন। তাদের সেই বর্ণনা করার উদ্দেশ্য হলো পরিচিতি দান করা, যাতে তাদের পরবর্তী প্রজন্মের কাছে এটি স্পষ্ট হয় যে, তারা আসার বা হাদীসসমূহকে যাচাই-বাছাই করেছেন এবং সেগুলো মুখস্থ রেখেছেন। এরপর তিনি বললেন: আল্লাহ আবু যুরআহ-র ওপর রহম করুন; আল্লাহর কসম, তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আসার সংরক্ষণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত কঠোর পরিশ্রমী ছিলেন।সালেহ ইবনে আহমাদ আল-হাফিয বলেন: আমি আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আহমাদকে বলতে শুনেছি: আমার কাছে খবর পৌঁছেছে যে, আল্লাহ এই উম্মতকে এমন তিনটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য দান করেছেন যা পূর্ববর্তী কোনো উম্মতকে দেননি: সনদ, বংশতত্ত্ব এবং ব্যাকরণ (ইরাব)। আর শু'বাহ ইবনুল হাজ্জাজ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যে হাদীসে 'হাদ্দাসানা' (আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন) অথবা 'আখবারানা' (আমাদের সংবাদ দিয়েছেন) কথাটি নেই, তা মরুভূমিতে থাকা এমন এক ব্যক্তির মতো যার সাথে উট তো আছে কিন্তু তার কোনো লাগাম নেই। তৃতীয়ত: জারহ ও তাদীল দ্বীনের অংশইমাম তিরমিযী বলেন: জারহ ও তাদীল (বর্ণনাকারীদের সমালোচনা ও প্রশংসা), সনদসমূহের অনুসন্ধান এবং এটি যে দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত—সে সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ।এরপর তিনি বললেন: যাদের বুঝশক্তি নেই, তাদের কেউ কেউ হাদীস বিশারদদের ওপর বর্ণনাকারীদের সমালোচনা করার কারণে দোষারোপ করেছেন। অথচ আমরা তাবেঈদের মধ্য থেকে একাধিক ইমামকে পেয়েছি যারা বর্ণনাকারীদের সমালোচনা করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন: হাসান বসরী ও তাউস; তারা মা'বাদ আল-জুহানী সম্পর্কে সমালোচনা করেছেন। সাঈদ ইবনে জুবায়ের তালক ইবনে হাবীব সম্পর্কে সমালোচনা করেছেন। আর ইব্রাহীম নাখায়ী ও আমের আশ-শা'বী হারিস আল-আওয়ার সম্পর্কে সমালোচনা করেছেন।আর এভাবেই আইয়ুব আস-সাখতিয়ানী, আবদুল্লাহ ইবনে আওন, সুলাইমান আত-তাইমী, শু'বাহ ইবনুল হাজ্জাজ, সুফিয়ান সাওরী, মালিক ইবনে আনাস, আওযায়ী, আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক এবং ইয়াহইয়া ইবনে... থেকে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ١)
ইকমালু তাহযিবিল কামাল - ত আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٨)
سَعِيد القَطَّان، وَوَكِيع بن الجَرَّاح، وَعَبْد الرَّحْمَن بن مَهْدِي، وَغَيْرهم مِنْ أَهْلِ العِلْمِ، أَنَّهُم تَكَلَّمُوا فِي الرِّجَالِ وَضَعَّفُوا.وِإنَّمَا حَمَلَهُمْ عَلَى ذَلِكَ عِنْدَنَا، واللَّه أَعْلَمِ، النَّصيحَة لِلمُسْلِمِينَ، لا يُظَنُّ بِهِمْ أَنَّهُم أَرَادُوا الطَّعْنَ عَلَى النَّاسِ أو الغيبَة، إِنَّمَا أَرَادُوا عِنْدَنَا أنْ يُبَيِّنُوا ضَعْفَ هَؤُلاءِ، لِكَي يُعْرَفُوا؛ لأنَّ بَعْضَ الَّذِينَ ضُعِّفُوا كَانَ صَاحِب بِدْعَة، وَبَعْضهُم كَانَ مُتَّهمًا فِي الحَدِيثِ، وَبَعْضهُمْ كَانُوا أَصْحَابَ غَفْلَة وَكَثْرَة خَطَأ، فَأَرَادَ هَؤُلاءِ الأئِمَّة أَنْ يُبَيِّنُوا أَحْوَالَهُم، شَفَقَة عَلَى الدِّينِ وَتَثَبُّتًا؛ لأنَّ الشَّهَادَة فِي الدِّينِ أَحَقُّ أَنْ يُتَثَبَّتَ فِيهَا مِنَ الشَّهَادَةِ فِي الحُقُوقِ وَالأمْوَالِ.قال ابن رجب في شرحه على كلام الترمذي هذا: مقصود الترمذي، رحمه الله، أن يُبيِّن أن الكلام في الجرح والتعديل جائز، قد أَجْمَعَ عليه سلف الأمَّة وأئمَّتها، لما فيه من تمييز ما يجب قبوله من السُّنن، ممَّا لا يجوز قبوله.وفي "الموطأ": وَحَدَّثَنِي مَالِك، عَنْ رَبِيعَة بن أَبِي عَبْد الرَّحْمَن، عَنْ غَيْرِ وَاحِدٍ مِنْ عُلَمَائِهِمْ: أَنَّ أَبَا مُوسَى الأشْعَرِيّ جَاءَ يَسْتَأْذِنُ عَلَى عُمَر بن الخَطَّاب، فَاسْتَأذَنَ ثَلاثًا ثُمَّ رَجعَ، فَأَرْسَلَ عُمَر بن الخَطَّاب فِي أَثَرِهِ، فَقَالَ: مَا لَكَ لَمْ تَدْخُلْ؟ فَقَالَ أَبُو مُوسَى: سَمِعْتُ رَسُول اللَّه صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: "الاسْتِئْذَانُ ثَلاثٌ، فَإِنْ أُذِنَ لَكَ فَادْخُلْ، وِإلا فَارْجِعْ"، فَقَالَ عُمَر: وَمَنْ يَعْلَمُ هَذَا، لَئِنْ لَمْ تَأْتِنِي بِمَنْ يَعْلَمُ ذَلِكَ لأفْعَلَنَّ بِكَ كَذَا وَكَذَا. فَخَرَجَ أَبُو مُوسَى حَتَّى جَاءَ مَجْلِسًا فِي المَسْجِدِ، يُقَالُ لَهُ: مَجْلِسُ الأنْصَارِ، فَقَالَ: إِنِّي أَخْبَرْتُ عُمَر بن الخَطَّاب أَنِّي سَمِعْتُ رَسُول اللَّه صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: "الاسْتِئْذَانُ ثَلاثٌ، فَإِنْ أُذِنَ لَكَ فَادْخُلْ، وَإلا فَارْجِعْ"، فَقَالَ: لَئِنْ لَمْ تَأْتِنِي بِمَنْ يَعْلَمُ هَذَا لأفْعَلَنَّ بِكَ كَذَا وَكَذَا، فَإِنْ كَانَ سَمِعَ ذَلِكَ أَحَدٌ مِنْكُمْ، فَلْيَقُمْ مَعِي. فَقَالُوا لأبِي سَعِيد الخُدرِيّ: قُمْ مَعَهُ. وَكَانَ أَبُو سَعِيد أَصْغَرَهُمْ، فَقَامَ مَعَهُ، فَأَخْبَرَ بِذَلِكَ عُمَر بن الخَطَّاب، فَقَالَ عُمَر بن الخَطَّاب لأبِي مُوسَى: أَمَا إِنِّي لَمْ أَتَّهِمْكَ، وَلَكِنْ خَشِيتُ أَنْ يَتَقَوَّلَ النَّاسُ عَلَى رَسُولِ اللَّه صلى الله عليه وسلم.وعَنْ طَاوس، قَالَ: جَاءَ هَذَا إِلَى ابن عَبَّاس -يَعْنِي: بُشَيْر بن كَعْب- فَجَعَلَ يُحَدِّثُهُ، فَقَالَ لَهُ ابن عَبَّاس: عُدْ لِحَدِيثِ كَذَا وَكَذَا. فَعَادَ لَهُ، ثُمَّ حَدَّثَهُ، فَقَالَ لَهُ: عُدْ لِحَدِيثِ كَذَا وَكَذَا. فَعَادَ لَهُ، فَقَالَ لَهُ: مَا أَدْرِي أَعَرفْتَ حَدِيثِي كُلّهُ، وَأَنْكَرْتَ هَذَا؟ أَمْ أَنْكَرْتَ حَدِيثِي كُلّهُ، وَعَرفْتَ هَذَا؟ فَقَالَ لَهُ ابن عَبَّاس: إِنَّا كُنَّا نُحَدِّثُ عَنْ رَسُول اللَّه صلى الله عليه وسلم، إِذْ لَمْ يَكُنْ يُكْذَبُ عَلَيْهِ، فَلَمَّا رَكِبَ الناس الصَّعْب والذلول، تَرَكْنَا الحَدِيث عَنْهُ.فهذا الاهتمام البالغ من هؤلاء الصحابة، لم يكن ذلك منهم طعنًا في الصحابيَيْن الكريميْن، المغيرة بن شعبة، وأبي موسى الأشعري، ولم يكن موقف ابن عباس من بشير بن كعب طعنًا فيه واتهامًا له، وإنما كان الغرض تعليم الناس الاحتياط، لحديث رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم؛ لذلك جاءت رواية أُخرى صحيحة عن عمر بن الخطاب لأبي موسى:
সাঈদ আল-কাত্তান, ওয়াকি ইবনে আল-জাররাহ, আবদুর রহমান ইবনে মাহদী এবং অন্যান্য আলেমগণ বর্ণনাকারীদের সমালোচনা করেছেন এবং তাদেরকে দুর্বল আখ্যায়িত করেছেন।আমাদের মতে—আল্লাহই ভালো জানেন—তাদের এই কাজের একমাত্র কারণ ছিল মুসলিমদের প্রতি কল্যাণকামনা; তাদের ব্যাপারে এমন ধারণা করা যাবে না যে তারা মানুষের দোষ চর্চা বা গিবত করতে চেয়েছিলেন। বরং আমাদের মতে তারা চেয়েছিলেন এই বর্ণনাকারীদের দুর্বলতা স্পষ্ট করতে যাতে তাদের চেনা যায়; কারণ যাদের দুর্বল সাব্যস্ত করা হয়েছে, তাদের কেউ ছিলেন বিদআতি, কেউ হাদীসের ক্ষেত্রে অভিযুক্ত ছিলেন, আবার কেউ ছিলেন গাফেল ও অত্যধিক ভুলকারী। তাই এই ইমামগণ দ্বীনের প্রতি মমতা এবং অধিকতর যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে তাদের অবস্থা বর্ণনা করতে চেয়েছেন; কেননা ধন-সম্পদ ও মানুষের অধিকারের সাক্ষ্যের চেয়ে দ্বীনি বিষয়ে সাক্ষ্যের অধিকতর যাচাই-বাছাই হওয়া বেশি জরুরি।ইমাম তিরমিযীর এই বক্তব্যের ব্যাখ্যায় ইবনে রজব বলেন: ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ)-এর উদ্দেশ্য হলো এটি স্পষ্ট করা যে, বর্ণনাকারীদের মূল্যায়ন ও সমালোচনা করা জায়েজ। উম্মতের সালাফ এবং ইমামগণ এ বিষয়ে একমত হয়েছেন, কারণ এর মাধ্যমে কোন সুন্নাহ গ্রহণ করা আবশ্যক এবং কোনটি গ্রহণ করা জায়েজ নয়, তা পার্থক্য করা সম্ভব হয়।এবং 'মুয়াত্তা' গ্রন্থে রয়েছে: ইমাম মালিক আমার কাছে বর্ণনা করেছেন রাবিআ ইবনে আবি আবদুর রহমান থেকে, তিনি তাদের একাধিক আলেমের থেকে বর্ণনা করেছেন যে: আবু মুসা আল-আশআরী উমর ইবনুল খাত্তাবের কাছে প্রবেশের অনুমতি চাইতে আসলেন। তিনি তিনবার অনুমতি চাইলেন, এরপর ফিরে চললেন। তখন উমর ইবনুল খাত্তাব তাকে ডেকে পাঠালেন এবং বললেন: তোমার কী হলো যে তুমি প্রবেশ করলে না? আবু মুসা বললেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "অনুমতি প্রার্থনা তিনবার, যদি তোমাকে অনুমতি দেওয়া হয় তবে প্রবেশ করো, অন্যথায় ফিরে যাও।" উমর বললেন: এ কথা আর কে জানে? যদি তুমি এর স্বপক্ষে কোনো সাক্ষী নিয়ে আসতে না পার তবে আমি তোমার সাথে এমন এমন আচরণ করব। তখন আবু মুসা বেরিয়ে মসজিদের একটি মজলিসে আসলেন, যাকে আনসারদের মজলিস বলা হতো। তিনি বললেন: আমি উমর ইবনুল খাত্তাবকে সংবাদ দিয়েছি যে আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "অনুমতি প্রার্থনা তিনবার, যদি তোমাকে অনুমতি দেওয়া হয় তবে প্রবেশ করো, অন্যথায় ফিরে যাও।" তখন তিনি বললেন: যদি তুমি এর স্বপক্ষে কোনো সাক্ষী নিয়ে আসতে না পার তবে আমি তোমার সাথে এমন এমন আচরণ করব; তোমাদের মধ্যে যদি কেউ এটি শুনে থাকো তবে সে যেন আমার সাথে দাঁড়ায়। তারা আবু সাঈদ আল-খুদরীকে বললেন: তার সাথে দাঁড়াও। আবু সাঈদ ছিলেন তাদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ, তিনি তার সাথে দাঁড়ালেন এবং উমর ইবনুল খাত্তাবকে বিষয়টি অবহিত করলেন। তখন উমর ইবনুল খাত্তাব আবু মুসাকে বললেন: শোনো, আমি তোমাকে অভিযুক্ত করিনি, তবে আমি এই আশঙ্কা করেছি যে মানুষ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামে মনগড়া কথা বলতে শুরু করবে।এবং তাউস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: জনৈক ব্যক্তি—অর্থাৎ বুশাইর ইবনে কাব—ইবনে আব্বাসের কাছে আসলেন এবং হাদীস বর্ণনা করতে শুরু করলেন। ইবনে আব্বাস তাকে বললেন: অমুক অমুক হাদীসটি পুনরায় বলো। তিনি পুনরায় বললেন। এরপর আবার হাদীস বর্ণনা করলেন, ইবনে আব্বাস বললেন: অমুক অমুক হাদীসটি পুনরায় বলো। তিনি পুনরায় বললেন এবং বললেন: আমি জানি না আপনি কি আমার সব হাদীস চিনতে পেরেছেন আর এটি অস্বীকার করছেন? নাকি আমার সব হাদীস অস্বীকার করছেন আর এটি চিনতে পেরেছেন? ইবনে আব্বাস তাকে বললেন: আমরা আগে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উদ্ধৃতি দিয়ে হাদীস বর্ণনা করতাম যখন তাঁর নামে মিথ্যা বলা হতো না। কিন্তু যখন মানুষ লাগামহীন হয়ে সত্য-মিথ্যা সব ধরনের কথা বলতে শুরু করল, তখন আমরা তাঁর থেকে নির্বিচারে হাদীস গ্রহণ করা ছেড়ে দিলাম।সাহাবায়ে কিরামের এই চরম সতর্কতা মুগীরা ইবনে শুবা ও আবু মুসা আল-আশআরীর মতো মহান দুইজন সাহাবীর প্রতি কোনো কটাক্ষ ছিল না। বুশাইর ইবনে কাবের প্রতি ইবনে আব্বাসের এই অবস্থানও তাকে তুচ্ছ করা বা অভিযুক্ত করার জন্য ছিল না, বরং এর উদ্দেশ্য ছিল আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসের ব্যাপারে মানুষকে সতর্কতা শিক্ষা দেওয়া। এজন্যই উমর ইবনুল খাত্তাব থেকে আবু মুসার বিষয়ে অন্য একটি সহীহ বর্ণনা এসেছে:
(খণ্ড: ١)
ইকমালু তাহযিবিল কামাল - ত আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٩)
أما إني لم أتَّهمك.ثم جاء عصر أتباع التابعين فمَنْ بعدهم، فكثر الضعفاء، والمغفلون، والكذابون، والزنادقة، فكثر اهتمامهم، وأشد في تتبُّع الكذابين والضعفاء، وذلك بحسب الحاجة.فلما رأى أهل العلم ذلك، نهضوا لتبيين أحوال الرجال، والذَّب عن حديث رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم، فما من مصر من الأمصار إلا وفيه جماعة يمتحنون الرواة، ويعرفون أحوالهم، ويقارنون مرويَّاتهم، ويتحقَّقون من سماعاتهم.قال الخطيب: قَالَ مَحْمُد بن غَيْلان: سَمِعْتُ المُؤَمل، ذُكِرَ عِنْدَهُ الحَدِيث الَّذِي يُرْوَى عَنْ أُبَيّ، عَنِ النَّبِي صلى الله عليه وسلم فِي فَضْلِ القُرْآن، قَالَ: لَقَدْ حَدَّثَنِي رَجُلٌ ثِقَةٌ، سَمَّاهُ، قَالَ: حَدَّثَنِي رَجُلٌ ثِقَةٌ، سَمَّاهُ، قَالَ: أَتَيْتُ المَدَائِن فَلَقِيتُ الرَّجُلَ الَّذِي يَرْوِي هَذَا الحَدِيث، فَقُلْتُ لَهُ: حَدِّثْنِي فَإِنِّي أُرِيدُ أَنْ آتِي البَصْرَة، فَقَالَ: هَذَا الرَّجُلُ الَّذِي سَمِعْنَاهُ مِنْهُ، هُوَ بِوَاسِط فِي أَصْحَابِ القَصَب. قَالَ: فَأَتَيْتُ وَاسِطًا فَلَقِيتُ الشَّيْخَ، فَقُلْتُ: إِنِّي كُنْتُ بِالمَدَائِنِ فَدَلَّنِي عَلَيْكَ الشَّيْخ، وَإِنِّي أُرِيدُ أَنْ آتِيَ البَصْرَة. قَالَ: إِنَّ هَذَا الَّذِي سَمِعْتُ مِنْهُ هُوَ بِالكَلاء، فَأَتَيْتُ البَصْرَةَ، فَلَقِيتُ الشَّيْخ بِالكَلاء، فَقُلْتُ لَهُ: حَدِّثْنِي، فَإِنِي أُرِيدُ أَنْ آتِيَ عَبَّادَانَ. فَقَالَ: إِنَّ الشَّيْخ الَّذِي سَمِعْنَاهُ مِنْهُ هُوَ بِعَبَّادَانَ. فَأَتَيْتُ عَبَّادَانَ فَلَقِيتُ الشَّيْخَ، فَقُلْتُ لَهُ: اتَّقِ اللَّه، مَا حَالُ هَذَا الحَدِيث؟ أَتَيْتُ المَدَائِن فَقَصَصْتُ عَلَيْهِ، ثُمَّ وَاسِطًا، ثُمَّ البَصْرَة، فَدُلِلتُ عَلَيْكَ، وَمَا ظَنَنْتُ إِلا أَنَّ هَؤُلاءِ كُلَّهُمْ قَدْ مَاتُوا، فَأَخْبِرْنِي بِقِصَّةِ هَذَا الحَدِيثِ. ففَالَ: أَنَّا اجْتَمَعْنَا هُنَا، فَرَأَيْنَا النَّاسَ قَدْ رَغِبُوا عَن القُرْآنِ وَزَهدُوا فِيهِ، وَأَخَذوا فِي هَذِهِ الأحَادِيثِ، فَقَعَدْنَا فَوَضَعْنَا لَهُمْ هَذِهِ الفَضَائِلَ حَتَّى يَرْغَبُوا فِيهِ.وَاسْتَدَلَّ مَنْ أَوْجَبَ قبُول المَرَاسِيل وَالعَمَل بِهَا، بِأَنَّهُ لَوْ لَمْ يَجِبْ ذَلِكَ فِيهَا، لَمْ يَكُنْ لِرِوَايَتِهَا وَجْهٌ. وَهَذَا خَطَأٌ ظَاهِرٌ، لأنَّهُ قَدْ يُرْوَى مِن الأخْبَارِ، وَيُسْمَعُ مَا قَدْ لا يُعْمَلُ بِهِ عِنْدَ بَعْضِ العُلَمَاءِ، وَيُعْمَلُ بِهِ عِنْدَ غَيْرِهِ، ويُكتبُ أَيْضًا مَا العَمَلُ عِنْدَ الكُلِّ عَلَى خِلافِهِ لِلمَعْرِفَةِ بِهِ، وَقَدْ يُرْوَى عَنِ الضُّعَفَاءِ وَالمَتْرُوكِين الَّذِينَ لا يَصِحُّ الاحْتِجَاجُ بِأَحَادِيثِهِمْ، فَالتَّعَلُّقُ بِمَا ذَكَرَ المُخَالِفُ لا وَجْهَ لَهُ.وقد استعملوا عدة طُرق للتحقق من حفظ الراوي، وصدقه، وأهليَّته، ومن ذلك:- النظر في حال الراوي في المحافظة على الطاعة، واجتناب المعاصي، وسؤال أهل العلم به.قَالَ شَاذَان: سَمِعْتُ الحَسَن بن صَالِح يَقُولُ: كُنَّا إِذَا أَرَدْنَا أَنْ نكتُبَ عَن الرَّجُلِ، سَأَلْنَا عَنْهُ، حَتَّى يُقَالَ لَنَا: أَتُرِيدُونَ أَنْ تُزَوِّجُوه.وعَنْ يَحْيَى بن مَعِين، قَالَ: كَانَ مُحَمَّد بن عَبْد اللَّه الأنْصَارِيّ يَلِيقُ بِهِ القَضَاء، فَقِيلَ لَهُ: يَا أَبَا زَكَرِيَّا؛ فَالحَدِيثُ؟ فَقَالَ:لِلحَرْبِ أَقْوَامٌ لَهَا خُلِقُوا … وَلِلدَّوَاوِينِ كُتَّابٌ وَحُسَّابُ
বস্তুত আমি আপনাকে অভিযুক্ত করিনি।অতঃপর তাবে-তাবেয়ীদের যুগ এবং তাদের পরবর্তীকাল এলো, তখন দুর্বল বর্ণনাকারী, অসতর্ক ব্যক্তি, মিথ্যাবাদী এবং যিনদীকদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেল। ফলে তাদের (মুহাদ্দিসদের) মনোযোগও বৃদ্ধি পেল এবং মিথ্যাবাদী ও দুর্বলদের খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে তা আরও কঠোর হলো, আর এটি ছিল সময়ের প্রয়োজন অনুযায়ী।যখন ইলমের অধিকারীরা এটি দেখলেন, তখন তারা বর্ণনাকারীদের অবস্থা বর্ণনা করার জন্য এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসের সুরক্ষায় সচেষ্ট হলেন। প্রতিটি জনপদেই এমন একদল লোক ছিলেন যারা বর্ণনাকারীদের পরীক্ষা করতেন, তাদের অবস্থা জানতেন, তাদের বর্ণিত হাদিসসমূহের মধ্যে তুলনা করতেন এবং তাদের শ্রবণের সত্যতা যাচাই করতেন।খতীব বলেন: মাহমুদ বিন গাইলান বলেছেন: আমি মুআম্মালকে বলতে শুনেছি, তার সামনে উবাই (রা.)-এর সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত কুরআনের ফজিলত সংক্রান্ত হাদিসের কথা উল্লেখ করা হলে তিনি বলেন: এক নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি তার নামও নিয়েছেন, তিনি বলেছেন: অন্য এক নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনিও তার নাম নিয়েছেন, তিনি বলেছেন: আমি মাদায়েনে গেলাম এবং সেই ব্যক্তির সাথে সাক্ষাৎ করলাম যিনি এই হাদিসটি বর্ণনা করেন। আমি তাকে বললাম: আমাকে এটি বর্ণনা করুন, কারণ আমি বসরায় যেতে চাচ্ছি। তিনি বললেন: এই ব্যক্তি যার কাছ থেকে আমরা এটি শুনেছি, তিনি ওয়াসিতে নলখাগড়া ব্যবসায়ীদের মধ্যে আছেন। তিনি বলেন: আমি ওয়াসিতে গিয়ে সেই শায়খের সাক্ষাৎ পেলাম। আমি বললাম: আমি মাদায়েনে ছিলাম এবং শায়খ আমাকে আপনার কথা বলেছেন, আর আমি বসরায় যেতে চাই। তিনি বললেন: আমি যার কাছ থেকে এটি শুনেছি তিনি কালা-তে আছেন। আমি বসরায় গিয়ে কালা-তে সেই শায়খের দেখা পেলাম। আমি তাকে বললাম: আমাকে বর্ণনা করুন, কারণ আমি আব্বাদানে যেতে চাচ্ছি। তিনি বললেন: যে শায়খের নিকট থেকে আমরা এটি শুনেছি তিনি আব্বাদানে আছেন। আমি আব্বাদানে গিয়ে সেই শায়খের সাথে দেখা করলাম। আমি তাকে বললাম: আল্লাহকে ভয় করুন, এই হাদিসের স্বরূপ কী? আমি মাদায়েনে গিয়েছি এবং তাকে পুরো ঘটনা বললাম, তারপর ওয়াসিত, তারপর বসরা, এরপর আপনার কাছে আমাকে পাঠানো হয়েছে। আমি তো ভেবেছিলাম এরা সবাই বোধহয় মারা গেছেন। এখন আমাকে এই হাদিসের পেছনের কাহিনী বলুন। তিনি বললেন: আমরা এখানে একত্রিত হয়েছিলাম এবং দেখলাম যে মানুষ কুরআন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে এবং এতে অনাগ্রহী হয়ে পড়েছে, আর তারা এই সব হাদিসে মগ্ন হয়েছে। তাই আমরা বসে তাদের জন্য এই ফজিলতগুলো তৈরি করেছি যাতে তারা কুরআনের প্রতি আগ্রহী হয়।যারা মুরসাল হাদিস কবুল করা এবং সে অনুযায়ী আমল করা আবশ্যক বলে দলিল পেশ করেন তারা বলেন যে, যদি এটি আবশ্যক না হতো তবে তা বর্ণনা করার কোনো অর্থ থাকত না। আর এটি একটি স্পষ্ট ভুল, কারণ এমন অনেক সংবাদ বর্ণনা করা হয় এবং শোনা হয় যা কোনো কোনো আলেমের নিকট আমলযোগ্য নয়, আবার অন্যের নিকট আমলযোগ্য। আবার এমন কিছুও লিখে রাখা হয় যার বিপরীত আমল করাই সবার নিকট স্বীকৃত, শুধুমাত্র বিষয়টি সম্পর্কে সম্যক অবগত হওয়ার জন্য। আবার কখনও দুর্বল ও পরিত্যক্ত বর্ণনাকারীদের থেকেও বর্ণনা করা হয় যাদের হাদিস দলিল হিসেবে গ্রহণ করা সঠিক নয়। সুতরাং বিরোধীদের উল্লিখিত যুক্তির কোনো ভিত্তি নেই।বর্ণনাকারীর হিফজ (স্মরণশক্তি), সত্যবাদিতা এবং যোগ্যতার সত্যতা নিশ্চিত করতে তারা বেশ কিছু পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে:- ইবাদত পালনে বর্ণনাকারীর অবস্থা এবং গুনাহ বর্জনের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা এবং তার সম্পর্কে ইলমের অধিকারীদের নিকট জিজ্ঞাসা করা।শাযান বলেন: আমি হাসান বিন সালিহকে বলতে শুনেছি: আমরা যখন কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে হাদিস লিখে নিতে চাইতাম, তখন তার সম্পর্কে এমনভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করতাম যে শেষ পর্যন্ত আমাদের বলা হতো: তোমরা কি তার সাথে বিয়ে দিতে চাও?ইয়াহইয়া বিন মাঈন থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-আনসারী বিচারক পদের জন্য যোগ্য ছিলেন। তাকে বলা হলো: হে আবু জাকারিয়া, তাহলে হাদিসের কী হবে? তিনি বললেন:যুদ্ধের জন্য এমন কিছু মানুষ আছেন যারা তার জন্যই সৃজিত … আর নথিপত্রের জন্য রয়েছে লেখক ও হিসাবরক্ষক।
(খণ্ড: ١)
ইকমালু তাহযিবিল কামাল - ত আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٠)
قُلْتُ: مَا يُعْرَفُ بِهِ صِفَة المُحَدِّث العَدْل الَّذِي يَلْزَمُ قَبُولُ خَبَرِهِ عَلَى ضَرْبَيْنِ:فَضَرْبٌ مِنْهُ يَشْتَرِكُ فِي مَعْرِفَتِهِ الخَاصَّةُ والعَامَّةُ، وَهُوَ: الصِّحَّة فِي بَيْعِهِ وَشِرَائِهِ، وَأَمَانَتِهِ، وَرَدّ الوَدَائِعِ، وإِقَامَة الفَرَائِضِ، وَتَجَنُّب المَآثِمِ، فَهَذَا وَنَحْوُهُ يَشْتَرِكُ النَّاسُ فِي عِلْمِهِ.وَالضَّرْبُ الآخَر: هُوَ العِلْمُ بِمَا يَجِبُ كَوْنُهُ عَلَيْهِ مِنَ الضَّبْطِ وَالتَّيَقُّظِ، والمَعْرِفَة بِأَدَاءِ الحَدِيثِ وَشَرَائِطِهِ، وَالتَّحَرُّزِ مِنْ أنْ يُدْخِلَ عَلَيهِ مَا لَمْ يَسْمَعْهُ، وَوُجُوه التَّحَرُّزِ فِي الرِّوَايَةِ، وَنَحْو ذَلِكَ مِمَّا لا يَعْرِفُهُ إِلا أَهْلُ العِلْمِ بِهَذَا الشَّأْنِ، فَلا يَجُوزُ الرُّجُوعُ فِيهِ إِلَى قَوْلِ العَامَّةِ، بَلِ التَّعْوِيل فِيهِ عَلَى مَذَاهِبِ النُّقَّادِ لِلرِّجَالِ، فَمَنْ عَدَّلُوهُ وَذَكَرُوا أَنَّهُ يُعْتَمَدُ عَلَى مَا يَرْوِيهِ، جَازَ حَدِيثُهُ، وَمَنْ قَالُوا فِيهِ خافَ ذَلِكَ، وَجَبَ التَّوَقُّفُ عَنْهُ.- عرض حديث الراوي الذي حدَّث به عن شيخه على حديث الثقات الآخرين عن ذلك الشيخ.وبناء على ذلك يصدر أحكامًا حول هذا الراوي، فيقول مثلا: ينفرد عن الثقات، في حديثه نكارة، يُخطئ ويخالف، ونحو ذلك، وقد يقول: أثبت الناس في فلان، أو أكثر الناس عنه.اختبار حديث الراوي؛ عَنْ سَعِيد بن أَبِي الحَسَن، قَالَ: لَمْ يَكُنْ أَحَدٌ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم أَكْثَر حَدِيثًا عَنْهُ مِنْ أَبِي هُرَيْرَة رضي الله عنه، وَأَنَّ مَروَان بَعَثَهُ عَلَى المَدِينَة وَأَرَادَ حَدِيثهُ، فَقَالَ: ارْوِ كَمَا رَوينَا، فَلَمَّا أَبَى عَلَيْهِ تَغَفَّلَهُ، فَأَقْعَدَ لَهُ كَاتِبًا، فَجَعَلَ أَبُو هُرَيْرَةَ يُحَدِّثُ، وَيَكْتُبُ الكَاتِبُ حَتَّى اسْتَفْرَغَ حَدِيثَهُ أَجْمَع، فَقَالَ مَروَان: تَعْلَمُ أَنَّا قَدْ كَتَبْنَا حَدِيثَكَ أَجْمَع؟ قَالَ: أَوَقَدْ فَعَلْتُمْ، وَإِنْ تُطِيعنِي تَمْحُهُ؟ قَالَ: فَمَحَاهُ.وعَن ابن عُمَر رضي الله عنهما، أَنَّهُ مَرَّ بِأَبِي هُرَيْرَة رضي الله عنه، وَهُوَ يُحَدِّث عَن النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم: "مَنْ تَبعَ جِنَازَةً فَلَهُ قِيرَاطٌ، فَإِنْ شَهِدَ دَفْنهَا فَلَهُ قِيرَاطَانِ أَعْظَمُ مِنْ أُحُدٍ". فَقَالَ ابن عُمَر: يَا أَبَا هُرَيْرَة، انْظُرْ مَا تُحَدِّثُ عَنْ رَسُولِ اللَّه صلى الله عليه وسلم، فَقَامَ إِلَيْهِ أَبُو هُرَيْرَة حَتَّى انْطَلَقَ إِلَى عَائِشَة رضي الله عنها، فَقَالَ لَهَا: يَا أُمَّ المُؤْمِنِين؛ أَنْشُدُك اللَّه، أَسَمِعْت رَسُولَ اللَّه صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: "مَنْ تَبعَ جِنَازَةً فَصَلَّى عَلَيهَا فَلَهُ قِيرَاطٌ، وَإِنْ شَهِدَ دَفْنَهَا فَلَهُ قيرَاطَان"؟ فَقَالَت: اللَّهُمَّ نَعَمْ. فَقَالَ أَبُو هُرَيْرَة: إِنَّهُ لَمْ يَكُنْ يَشْغَلُنَا عَنْ رَسُولِ اللَّه صلى الله عليه وسلم عُرْسٌ، ولا صَفْقٌ بِالأسْوَاقِ، إِنَّمَا كنْتُ أَطْلُبُ مِنْ رَسُولِ اللَّه صلى الله عليه وسلم كَلِمَة يُعَلِّمُنِيهَا، أَوْ أَكْلَةً يُطْعِمُنِيهَا. فَقَالَ ابن عُمَر: يَا أَبَا هُرَيْرَة؛ كُنْتَ أَلْزَمَنَا لِرَسُولِ اللَّه صلى الله عليه وسلم وَأَعْلَمَنَا بِحَدِيثِهِ.وقد تصدَّى لهذا العلم جَمْع من أهل الحديث، وبرزوا في ذلك، حتى كأنهم خلقوا له، منهم:شعبة بن الحجاج، وسفيان الثوري، ومالك بن أنس، وعبد اللَّه بن المبارك، ويحيى بن
আমি বলি: একজন ন্যায়পরায়ণ হাদিস বিশারদের (মুহাদ্দিস) গুণাগুণ, যার সংবাদ গ্রহণ করা আবশ্যক, তা দুটি ভাগে পরিচিত:এক প্রকার হলো যাতে বিশেষজ্ঞ এবং সাধারণ মানুষ সবাই সমানভাবে অবগত থাকে; আর তা হলো: তার ক্রয়-বিক্রয়ের বিশুদ্ধতা, তার আমানতদারি, আমানত ফেরত দেওয়া, ফরজ বিধানসমূহ পালন করা এবং পাপ কাজ থেকে বিরত থাকা। এ বিষয়গুলো এবং এর অনুরূপ বিষয়গুলোর জ্ঞানে মানুষ অংশীদার।দ্বিতীয় প্রকারটি হলো: মুখস্থশক্তি (দাবত) ও সতর্কতা সম্পর্কে যে গুণাবলি তার মধ্যে থাকা আবশ্যক সেই জ্ঞান, হাদিস বর্ণনা ও এর শর্তাবলি সম্পর্কে জ্ঞান, নিজে যা শোনেননি তা বর্ণনায় অন্তর্ভুক্ত করা থেকে সতর্কতা অবলম্বন করা, বর্ণনা করার ক্ষেত্রে সতর্কতার বিভিন্ন পদ্ধতি এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়। এই বিষয়গুলো এই শাস্ত্রের পণ্ডিতগণ ছাড়া অন্য কেউ জানেন না। সুতরাং এসব বিষয়ে সাধারণ মানুষের মতামতের দিকে প্রত্যাবর্তন করা বৈধ নয়, বরং এ ক্ষেত্রে নির্ভরতা হলো রাবি বা বর্ণনাকারী যাচাই-বাছাইকারী সমালোচকদের (নুক্কাদ) নীতিমালার ওপর। অতএব, যাঁকে তাঁরা ন্যায়পরায়ণ (আদল) বলেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে তাঁর বর্ণিত হাদিসের ওপর নির্ভর করা যায়, তবে তাঁর হাদিস গ্রহণ করা বৈধ। আর যাঁদের সম্পর্কে তাঁরা এ বিষয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, তাঁদের থেকে বিরত থাকা (তাওয়াক্কুফ) আবশ্যক।- একজন বর্ণনাকারী তাঁর শায়খ থেকে যে হাদিস বর্ণনা করেছেন, সেই শায়খ থেকে অন্যান্য নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের বর্ণিত হাদিসের সাথে তা মিলিয়ে দেখা (উপস্থাপন করা)।এর ওপর ভিত্তি করেই বর্ণনাকারীর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত প্রদান করা হয়। উদাহরণস্বরূপ বলা হয়: তিনি নির্ভরযোগ্যদের বিপরীত এককভাবে বর্ণনা করেন, তাঁর হাদিসে নাকারাহ (অস্বাভাবিকতা) রয়েছে, তিনি ভুল করেন ও বিরোধিতা করেন—এবং এই জাতীয় মন্তব্য। আবার কখনও বলা হয়: অমুকের বর্ণনায় তিনি মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সুদৃঢ়, অথবা তাঁর থেকে সবচেয়ে বেশি হাদিস বর্ণনাকারী।বর্ণনাকারীর হাদিস পরীক্ষা করা; সাঈদ ইবনে আবিল হাসান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের মধ্যে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু অপেক্ষা অধিক হাদিস বর্ণনাকারী আর কেউ ছিলেন না। মারওয়ান তাকে মদিনার গভর্নর নিযুক্ত করেছিলেন এবং তার বর্ণিত হাদিসগুলো সংকলন করতে চেয়েছিলেন। তিনি বললেন: আমরা যেভাবে বর্ণনা করেছি সেভাবে আপনিও বর্ণনা করুন। যখন তিনি তা করতে অস্বীকার করলেন, মারওয়ান তাঁর অজান্তেই কৌশলে একজন লেখক বসিয়ে দিলেন। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু হাদিস বর্ণনা করতে শুরু করলেন এবং লেখক তা লিখতে লাগলেন যতক্ষণ না তিনি তাঁর সব হাদিস শেষ করলেন। এরপর মারওয়ান বললেন: আপনি কি জানেন যে আমরা আপনার সব হাদিস লিখে নিয়েছি? তিনি বললেন: আপনারা কি তা করেছেন? আপনারা যদি আমার কথা শোনেন তবে তা মুছে ফেলুন। তখন মারওয়ান তা মুছে ফেললেন।ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত যে, তিনি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যখন তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করছিলেন: "যে ব্যক্তি জানাজার অনুসরণ করবে সে এক কিরাত সওয়াব পাবে, আর যদি সে দাফনে উপস্থিত থাকে তবে সে উহুদ পাহাড়ের চেয়ে বড় দুই কিরাত সওয়াব পাবে।" ইবনে উমর বললেন: হে আবু হুরায়রা! আপনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কী বর্ণনা করছেন তা ভেবে দেখুন। তখন আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু উঠে দাঁড়িয়ে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার কাছে গেলেন। তিনি তাঁকে বললেন: হে মুমিন জননী! আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করছি, আপনি কি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: "যে ব্যক্তি জানাজার অনুসরণ করল এবং জানাজার সালাত আদায় করল সে এক কিরাত সওয়াব পাবে, আর যদি দাফনে উপস্থিত থাকে তবে দুই কিরাত পাবে"? তিনি বললেন: হে আল্লাহ, হ্যাঁ (শুনেছি)। তখন আবু হুরায়রা বললেন: কোনো বিয়েশাদি বা বাজারে ব্যবসা-বাণিজ্য আমাকে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বিমুখ করে রাখত না। আমি কেবল আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এমন কোনো কথা শিখতে চাইতাম যা তিনি আমাকে শিখিয়ে দেবেন অথবা এমন কোনো খাদ্য যা তিনি আমাকে খাওয়াবেন। ইবনে উমর তখন বললেন: হে আবু হুরায়রা! আপনি আমাদের মধ্যে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সর্বাধিক সঙ্গী ছিলেন এবং তাঁর হাদিস সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি অবগত।হাদিস বিশারদগণের একটি দল এই শাস্ত্রের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং এতে তাঁরা এতটা পারদর্শিতা অর্জন করেছেন যে মনে হয় তাঁরা যেন কেবল এই শাস্ত্রের জন্যই সৃষ্টি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: শু'বাহ ইবনুল হাজ্জাজ, সুফিয়ান সাওরী, মালিক ইবনে আনাস, আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক এবং ইয়াহইয়া ইবনে...
(খণ্ড: ١)
ইকমালু তাহযিবিল কামাল - ত আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١١)
سعيد القطان، وعبد الرحمن بن مهدي، ويحيى بن معين، وعلي بن المديني، وأحمد بن حنبل، ومحمد بن عبد اللَّه بن عمار الموصلي، وغيرهم، رحمهم الله.وقد تناول المحدِّثون هذا النوع من العلوم بالبيان والشرح والتأليف، واختلفت مقاصدهم في ذلك:فألَّف البعض في الثقات، وألف بعضهم في الضعاف، وألف بعضهم في الثقات والضعفاء معًا.كما أن بعضهم اهتمَّ بطبقات الرواة، وأنسابهم، وأوطانهم، ووفياتهم، واهتم البعض بنوع خاص من الثقات، واهتم البعض بنوع خاص من الضعفاء، واللَّه أعلم. رابعًا: مشروعية الجرح والتعديلالكلام في الرجال من أجل الاحتياط للدِّين مشروع بالكِتاب والسُّنَّة. قال اللَّه تعالى: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنْ جَاءَكُمْ فَاسِقٌ بِنَبَإٍ فَتَبَيَّنُوا أَنْ تُصِيبُوا قَوْمًا بِجَهَالَةٍ فَتُصْبِحُوا عَلَى مَا فَعَلْتُمْ نَادِمِينَ} [الحجرات: 6]، وقال تعالى: {وَاسْتَشْهِدُوا شَهِيدَيْنِ مِنْ رِجَالِكُمْ فَإِنْ لَمْ يَكُونَا رَجُلَيْنِ فَرَجُلٌ وَامْرَأَتَانِ مِمَّنْ تَرْضَوْنَ مِنَ الشُّهَدَاءِ أَنْ تَضِلَّ إِحْدَاهُمَا فَتُذَكِّرَ إِحْدَاهُمَا الْأُخْرَى} [البقرة: 282]. وقال تعالى: {وَأَشْهِدُوا ذَوَيْ عَدْلٍ مِنْكُمْ وَأَقِيمُوا الشَّهَادَةَ لِلَّهِ} [الطلاق: 2]، وقال تعالى: {يَحْكُمُ بِهِ ذَوَا عَدْلٍ مِنْكُمْ} [المائدة: 95].ففي الآية الأولى يأمر اللَّه تعالى بالتثبت في الأخبار، وفي الآيات الأخرى يطلب اللَّه تعالى العدل والرضى في الشهود.ومعلوم أن الأمر بالتثبت في الأخبار في الآية الأولى عام، فالأخبار التي تُنقل عن اللَّه ورسوله تدخل فيها دخولا أوليًّا.وطلب الرضى والعدل في حديث النبي صلى الله عليه وسلم، الذي هو دِين للأمَّة وتشريع لها، وهو المصدر الثاني في التشريع، أَوْلَى من أن يُطلب في الشهادة.وقيل: إن النبي صلى الله عليه وسلم هو أول من جرح وعدل. روى الخطيب البغدادي، عَن ابن المُنْكَدِر: سَمِعَ عُرْوَة بن الزُّبَير يَقُولُ: حَدَّثَتْنَا عَائِشَة رضي الله عنها: أَنَّ رَجُلا اسْتَأْذَنَ عَلَى النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: "ائْذَنُوا لَهُ، فَبِئْسَ رَجُلُ العَشِيرِ، أَوْ بِئْسَ رَجُلُ العَشِيرَةِ. فَلَمَّا دَخَلَ أَلانَ لَهُ القَوْلَ، قَالَتْ عَائِشَة: يَا رَسُولَ اللَّه؛ قُلْت لَهُ الَّذِي قُلْتَ، فَلَمَّا دَخَلَ أَلَنْتَ لَهُ القَوْلَ. قَالَ: يَا عَائِشَة؛ إِنَّ شَرَّ النَّاسِ مَنْزِلَةً يَوْمَ القِيَامَةِ مَنْ وَدَعَهُ، أَوْ تَرَكَهُ النَّاسُ اتِّقَاءَ فُحْشِهِ".فَفِي قَوْلِ النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم لِلرَّجُلِ: "بِئْسَ رَجُلُ العَشِيرَةِ"، دَلِيلٌ عَلَى أَنَّ إِخْبَارَ المُخْبِر بِمَا يَكُونُ فِي الرَّجُلِ مِنَ العَيْب، عَلَى مَا يُوجِبُهُ العِلْمُ وَالدِّينُ مِنَ النَّصِيحَةِ لِلسَّائِلِ، لَيْسَ بِغيبَةٍ، إِذْ لَوْ كَانَ ذَلِكَ غيبَة لَمَا أَطْلَقَهُ النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم، وَإنَّمَا أَرَادَ صلى الله عليه وسلم بِمَا ذَكَرَ فِيهِ، واللَّه أعلم.
সাঈদ আল-কাত্তান, আবদুর রহমান বিন মাহদী, ইয়াহইয়া বিন মাঈন, আলী বিন আল-মাদীনী, আহমাদ বিন হানবাল, মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আম্মার আল-মাওসিলী এবং অন্যান্যরা, আল্লাহ তাদের প্রতি দয়া করুন।মুহাদ্দিসগণ এই প্রকারের জ্ঞান নিয়ে বিস্তারিত বর্ণনা, ব্যাখ্যা এবং গ্রন্থ রচনার মাধ্যমে আলোচনা করেছেন এবং এ ক্ষেত্রে তাদের উদ্দেশ্যসমূহ ভিন্ন ভিন্ন ছিল:কেউ নির্ভরযোগ্য রাবীদের বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন, কেউ দুর্বল রাবীদের বিষয়ে লিখেছেন, আবার কেউ নির্ভরযোগ্য ও দুর্বল উভয় প্রকার রাবীদের নিয়ে একত্রে গ্রন্থ রচনা করেছেন।অনুরূপভাবে কেউ রাবীদের স্তর (তাবাকাত), বংশ পরিচয়, আবাসস্থল ও মৃত্যুসন নিয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন। আবার কেউ নির্ভরযোগ্যদের বিশেষ কোনো প্রকার নিয়ে এবং কেউ দুর্বলদের বিশেষ কোনো প্রকার নিয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন। আল্লাহই ভালো জানেন। চতুর্থত: জারহ ও তা'দীল-এর শরয়ী বিধানদ্বীনের বিষয়ে সতর্কতার উদ্দেশ্যে রাবীদের সম্পর্কে আলোচনা করা কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত ও বৈধ। আল্লাহ তাআলা বলেন: {হে মুমিনগণ, যদি কোনো পাপাচারী তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তোমরা তা যাচাই করে নাও, পাছে তোমরা অজ্ঞতাবশত কোনো সম্প্রদায়ের ক্ষতি করে বসো, ফলে তোমরা তোমাদের কৃতকর্মের জন্য লজ্জিত হও।} [সূরা আল-হুজুরাত: ৬], এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: {তোমাদের পুরুষদের মধ্য হতে দুইজন সাক্ষী রাখো। যদি দুইজন পুরুষ না পাওয়া যায়, তবে একজন পুরুষ ও দুইজন নারী যাদেরকে তোমরা সাক্ষী হিসেবে পছন্দ করো, যাতে তাদের একজন ভুলে গেলে অপরজন তাকে স্মরণ করিয়ে দেয়।} [সূরা আল-বাকারাহ: ২৮২]। এবং তিনি আরও বলেন: {আর তোমাদের মধ্য হতে দুইজন ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিকে সাক্ষী করো এবং আল্লাহর জন্য সাক্ষ্য কায়েম করো।} [সূরা আত-তালাক: ২], এবং তিনি আরও বলেন: {তোমাদের মধ্য হতে দুইজন ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি তার ফয়সালা করবে।} [সূরা আল-মায়িদাহ: ৯৫]।সুতরাং প্রথম আয়াতে আল্লাহ তাআলা সংবাদ যাচাই করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং অন্যান্য আয়াতসমূহে আল্লাহ তাআলা সাক্ষীদের ক্ষেত্রে ন্যায়পরায়ণতা ও নির্ভরযোগ্যতা দাবি করেছেন।এটা সুবিদিত যে, প্রথম আয়াতে সংবাদ যাচাইয়ের নির্দেশটি ব্যাপক; সুতরাং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে যে সংবাদগুলো বর্ণিত হয়, সেগুলো এর অন্তর্ভুক্ত হওয়া অধিকতর অগ্রগণ্য।আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদীসের ক্ষেত্রে—যা এই উম্মতের জন্য দ্বীন ও শরীয়ত এবং শরীয়তের দ্বিতীয় উৎস—নির্ভরযোগ্যতা ও ন্যায়পরায়ণতা অন্বেষণ করা সাধারণ সাক্ষ্যের ক্ষেত্রে তা অন্বেষণ করার চেয়ে বেশি অগ্রগণ্য।বলা হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামই সর্বপ্রথম ব্যক্তি যিনি জারহ এবং তা'দীল করেছেন। খতীব আল-বাগদাদী ইবনুল মুনকাদির থেকে বর্ণনা করেছেন: তিনি উরওয়াহ বিন যুবায়েরকে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেন: আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন যে, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে আসার অনুমতি চাইল। তখন তিনি বললেন: "তাকে অনুমতি দাও; সে তার গোত্রের কতই না নিকৃষ্ট ব্যক্তি (বা নিকৃষ্ট লোক)!" অতঃপর যখন সে প্রবেশ করল, তিনি তার সাথে নম্রভাবে কথা বললেন। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি তার সম্পর্কে যা বলার বলেছিলেন, অথচ সে প্রবেশ করার পর আপনি তার সাথে নরমভাবে কথা বললেন। তিনি বললেন: "হে আয়েশা! কিয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে মর্যাদার দিক থেকে সেই ব্যক্তি সবচেয়ে নিকৃষ্ট হবে, যার অশ্লীলতা বা কটু আচরণের ভয়ে মানুষ তাকে পরিত্যাগ করে।"সুতরাং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সেই লোকটির সম্পর্কে "সে গোত্রের কতই না নিকৃষ্ট ব্যক্তি" বলাটি এই বিষয়ের দলিল যে, কোনো ব্যক্তির দোষত্রুটি সম্পর্কে সংবাদদাতার তথ্য প্রদান করা গীবত নয়, যখন জ্ঞান ও দ্বীনের দাবি অনুযায়ী কোনো প্রশ্নকারীকে নসীহত করা আবশ্যক হয়। কেননা যদি এটি গীবত হতো, তবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তা উচ্চারণ করতেন না। তিনি যা উল্লেখ করেছেন তার মাধ্যমে তিনি মূলত উম্মতকে সতর্ক করার ইচ্ছা পোষণ করেছেন, আর আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ١)
ইকমালু তাহযিবিল কামাল - ত আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٢)
أن يُبَيِّنَ لِلنَّاسِ الحَالَة المَذمُومَة مِنْهُ، وَهِيَ الفُحْشُ فَيَجْتَنِبُوهَا، لا أَنَّهُ أَرَادَ الطَّعْنَ عَلَيْهِ والثَّلب لَهُ، وَكَذَلِكَ أَئِمَّتُنَا فِي العِلْمِ بِهَذِهِ الصِّنَاعَةِ، إِنَّمَا أَطْلَقُوا الجَرْحَ فِيمَن لَيْسَ بِعَدْلٍ؛ لِئَلا يَتَغَطَّى أَمْرُهُ عَلَى مَنْ لا يخبره، فَيَظُنُّهُ مِنْ أَهْلِ العَدَالَةِ فَيَحْتَجُّ بِخَبَرِهِ، وَالإخْبَارُ عَنْ حَقِيقَةِ الأمْرِ إِذَا كَانَ عَلَى الوَجْهِ الَّذِي ذَكَرْنَاهُ لا يَكُونُ غيبَة.وَمِمَّا يُؤَيِّدُ ذَلِكَ حَدِيثُ فَاطِمَة بِنْت قَيْس، الَّذِي أَخْبَرَنَاهُ عَبْد الرَّحْمَن بن عُبَيْد اللَّه الحربي، أنَّا مُحَمَّد بن عَبْد اللَّه الشَّافِعِيّ، قَالَ: حَدَّثَنِي إِسْحَاق بن الحَسَن الحربي، ثنا عَبْد اللَّه بن مَسْلَمَة القَعْنَبِيّ، عَن مَالِك. ح، وَأَخْبَرَنَاهُ الحَسَن بن أَبِي إِسْحَاق القَاضِي، حَدَّثَنَا أَبُو مُصْعَب، ثنا مَالِك بن أَنَس، عَنْ عَبْد اللَّه بن يَزِيد مَوْلَى الأسْوَد بن سفيان، عَن أَبِي سَلَمَة بن عَبْد الرَّحْمَن، عَنْ فَاطِمَة بِنْت قَيْس: أَنَّ أَبَا عَمْرو بن حَفْص طَلَّقَهَا ألبَتَّة وَهُوَ غَائِبٌ بِالشَّامِ، فَأَرْسَلَ إِلَيْهَا وَكِيلهُ بِشَعِيرٍ فَتَسَخَّطَتْهُ، فَقَالَ: وَاللَّه مَا لَكِ عَلَينَا مِنْ شَيْءٍ. فَجَاءَتْ رَسُول اللَّه صلى الله عليه وسلم، فَذَكَرَتْ ذَلِكَ لَهُ، فَقَالَ: "لَيْسَ لَكِ عَلَيْهِ نَفَقَةٌ. وَأَمَرَهَا أَنْ تَعْتَدَّ فِي بَيْتِ أُمِّ شَرِيك، ثُمَّ قَالَ: تلك امْرَأَةٌ يَغْشَاهَا أَصْحَابِي، اعْتَدِّي عِنْدَ ابن أُمِّ مَكْتُوم، فَإِنَّهُ رَجُلٌ أَعْمَى، تَضعِينَ ثِيَابَكِ، فَإِذَا حَلَلْتِ فَآذِنِينِي. قَالَتْ: فَلَمَّا حَلَلْتُ، ذَكَرْتُ لَهُ أَنَّ مُعَاوَية بن أَبِي سفيان وَأَبَا جَهْمِ خَطَبَانِي. فَقَالَ رَسُولُ اللَّه صلى الله عليه وسلم: أَمَّا أَبُو جَهْم فَلا يَضَعُ عَصَاهُ عَنْ عَاتِقِهِ، وَأمَّا مُعَاوِيَة فَصُعْلُوك لا مَالَ لَهُ، انْكِحِي أُسَامَة بن زَيْد. قَالَتْ: فَكَرِهْتُهُ. ثُمَّ قَالَ: انْكِحِي أُسَامَة بن زَيْد". فَنَكَحْتُهُ، فَجَعَلَ اللَّه فِيهِ خَيْرًا كَثِيرًا وَاغْتَبَطْتُ بِهِ.فِي هَذَا الخَبَر دِلالَةٌ عَلَى أَنَّ إِجَازَةَ الجَرْحِ لِلضُّعَفَاءِ مِنْ جِهَةِ النَّصِيحَةِ، لِتُجْتَنَبَ الرِّوَايَة عَنْهُمْ، وَلِيُعْدَلَ عَن الاحْتِجَاجِ بِأَخْبَارِهِمْ، لأنَّ رَسُولَ اللَّه صلى الله عليه وسلم لَمَّا ذَكَرَ فِي أَبِي جَهْم: "أَنَّهُ لا يَضَعُ عَصَاهُ عَنْ عَاتِقِهِ"، وَأَخْبَرَ عَنْ مُعَاوِيَةَ: "أَنَّهُ صُعْلُوك لا مَالَ لَهُ"؛ عِنْدَ مَشُورَةٍ اسْتُشِيرَ فِيهَا، لا تَتَعَدَّى المُسْتَشِيرَ.كَانَ ذِكْر العُيُوب الكَامِنَةِ فِي بَعْضِ نَقَلَةِ السُّنَنِ، الَّتِي يُؤَدِّي السُّكُوتُ عَنْ إِظْهَارِهَا عَنْهُمْ وَكَشْفِهَا عَلَيْهِمْ، إِلَى تَحْرِيمِ الحَلالِ وَتَحْلِيلِ الحَرَامِ، وَإِلَى الفَسَادِ فِي شَرِيعَةِ الإسْلامِ، أَوْلَى بِالْجَوَازِ وَأَحَقَّ بِالإظْهَارِ.وَأَمَّا الغيبَة الَّتِي نَهَى اللَّه تَعَالَى عَنْهَا بِقَوْلِهِ عز وجل: {وَلَا يَغْتَبْ بَعْضُكُمْ بَعْضًا} [الحجرات: 12]. وَزَجَرَ رَسُولُ اللَّه صلى الله عليه وسلم عَنْهَا بِقَوْلِهِ: "يَا مَعْشَرَ مَنْ آمَنَ بِلِسَانِهِ وَلَمْ يَدْخلِ الإيمَانُ قَلْبَهُ، لا تَغْتَابُوا المُسْلِمِينَ وَلا تَتَّبِعُوا عَوْرَاتِهِمْ". فَهِيَ ذِكْرُ الرَّجُل عُيُوبَ أَخِيهِ، يَقْصدُ بِهَا الوَضْعَ مِنْهُ وَالتَّنْقِيصَ لَهُ، وَالإزْرَاءَ بِهِ فِيمَا لا يَعُودُ إِلَى حُكْمِ النَّصِيحَةِ، وإِيجَاب الدِّيَانَة مِنَ التَّحْذِيرِ عَن ائْتِمَانِ الخَائِنِ، وَقَبُول خَبَر الفَاسِقِ، وَاسْتِمَاع شَهَادَة الكاذِبِ.قال ابن رجب: وكذلك يجوز ذكر العيب، إذا كان فيه مصلحة خاصة، كمن يستشير في نكاح أو معاملة.
যাতে মানুষের নিকট তার সেই নিন্দনীয় অবস্থাটি অর্থাৎ অশ্লীলতা স্পষ্ট করা যায় এবং তারা তা বর্জন করতে পারে। এতে তাকে হেয় প্রতিপন্ন করা বা তার মানহানি করা উদ্দেশ্য ছিল না। অনুরূপভাবে ইলমে হাদিসের বিশেষজ্ঞ আমাদের ইমামগণও কেবল তাদের ক্ষেত্রেই ত্রুটি বর্ণনা করেছেন যারা ন্যায়নিষ্ঠ ছিলেন না; যেন যারা তাদের সম্পর্কে অবহিত নন তাদের নিকট প্রকৃত অবস্থা গোপন না থাকে এবং তারা যেন তাদেরকে ন্যায়নিষ্ঠ মনে করে তাদের বর্ণিত হাদিস দিয়ে দলিল প্রদান না করেন। আর আমরা যেভাবে উল্লেখ করেছি সেই অনুযায়ী প্রকৃত বিষয় বর্ণনা করা গিবত বা পরনিন্দা হিসেবে গণ্য হবে না।একে সমর্থন করে ফাতিমা বিনতে কায়স বর্ণিত হাদিসটি, যা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুর রহমান বিন উবাইদুল্লাহ আল-হারবী, মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ আল-শাফিঈ থেকে, তিনি বলেন: ইসহাক বিন হাসান আল-হারবী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ বিন মাসলামাহ আল-কানাবি মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন। (হাদিসের অন্য সূত্র:) হাসান বিন আবি ইসহাক আল-কাজী আমাদের জানিয়েছেন, আবু মুসআব আমাদের জানিয়েছেন, মালিক বিন আনাস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন ইয়াযিদ থেকে, যিনি আসওয়াদ বিন সুফিয়ানের মুক্তদাস ছিলেন, তিনি আবু সালামাহ বিন আবদুর রহমান থেকে, তিনি ফাতিমা বিনতে কায়স থেকে বর্ণনা করেছেন: আবু আমর বিন হাফস তাকে চূড়ান্তভাবে তালাক প্রদান করেন যখন তিনি শামে অনুপস্থিত ছিলেন। অতঃপর তিনি তার প্রতিনিধির মাধ্যমে কিছু যব পাঠালেন, কিন্তু তিনি তাতে অসন্তুষ্ট হলেন। প্রতিনিধি বলল: 'আল্লাহর কসম, আমাদের কাছে আপনার পাওনা কিছু নেই।' এরপর তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট আসলেন এবং বিষয়টি তাঁকে জানালেন। তিনি বললেন: 'তোমার জন্য তার নিকট কোনো খোরপোশ নেই।' অতঃপর তিনি তাকে উম্মু শারীকের ঘরে ইদ্দত পালনের নির্দেশ দিলেন। এরপর বললেন: 'সেখানে আমার সাহাবীরা যাতায়াত করে। বরং তুমি ইবনে উম্মু মাকতূমের নিকট ইদ্দত পালন করো। কারণ সে একজন অন্ধ ব্যক্তি, সেখানে তুমি তোমার কাপড় রাখতে পারবে। অতঃপর তোমার ইদ্দত শেষ হলে আমাকে জানিও।' ফাতিমা বলেন: 'যখন আমার ইদ্দত শেষ হলো, তখন আমি তাঁর নিকট উল্লেখ করলাম যে, মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান এবং আবু জাহম আমাকে বিবাহের প্রস্তাব দিয়েছেন। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: 'আবু জাহম তো তার কাঁধ থেকে লাঠি নামায় না, আর মুয়াবিয়া হলো নিঃস্ব, তার কোনো সম্পদ নেই। তুমি উসামা বিন যায়িদকে বিবাহ করো।' তিনি বলেন: 'আমি তাকে অপছন্দ করলাম।' তিনি পুনরায় বললেন: 'উসামা বিন যায়িদকে বিবাহ করো।' অতঃপর আমি তাকে বিবাহ করলাম এবং আল্লাহ তাতে প্রভূত কল্যাণ দান করলেন এবং আমি অত্যন্ত সন্তুষ্ট হলাম।'এই বর্ণনায় প্রমাণ রয়েছে যে, দুর্বল বর্ণনাকারীদের ত্রুটি বর্ণনা করা নসিহত বা উপদেশের খাতিরে বৈধ, যেন তাদের বর্ণনা বর্জন করা যায় এবং তাদের সংবাদের মাধ্যমে দলিল পেশ করা থেকে বিরত থাকা যায়। কারণ আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন আবু জাহম সম্পর্কে বললেন যে 'সে তার কাঁধ থেকে লাঠি নামায় না' এবং মুয়াবিয়া সম্পর্কে বললেন যে 'সে নিঃস্ব, তার কোনো সম্পদ নেই', তখন তা ছিল একটি পরামর্শের প্রেক্ষাপটে যা কেবল পরামর্শপ্রার্থীর মাঝেই সীমাবদ্ধ ছিল।সুন্নাহর কিছু বর্ণনাকারীদের মধ্যে নিহিত এমন ত্রুটি উল্লেখ করা—যার প্রকাশ না করলে এবং গোপন রাখলে হালাল হারাম হয়ে যেত এবং হারাম হালাল হয়ে যেত এবং ইসলামের শরীয়তে বিশৃঙ্খলা দেখা দিত—তা বৈধ হওয়া এবং প্রকাশ করা অধিকতর অগ্রগণ্য এবং যুক্তিযুক্ত।আর আল্লাহ তাআলা যে গিবত বা পরনিন্দা থেকে নিষেধ করেছেন তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: {তোমাদের কেউ যেন একে অপরের গিবত না করে}। আর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যা হতে সতর্ক করেছেন তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: "হে সেই দল যারা মুখে ঈমান এনেছ কিন্তু অন্তরে ঈমান প্রবেশ করেনি, তোমরা মুসলিমদের গিবত করো না এবং তাদের ছিদ্রান্বেষণ করো না।" সেই নিষিদ্ধ গিবত হলো কোনো ব্যক্তি কর্তৃক তার ভাইয়ের এমন সব ত্রুটি উল্লেখ করা যার উদ্দেশ্য তাকে হেয় করা, তুচ্ছ করা এবং নিন্দা করা, যা নসিহত বা উপদেশের অন্তর্ভুক্ত নয়; কিংবা যা খিয়ানতকারীর ওপর আস্থা রাখা, ফাসিকের সংবাদ গ্রহণ করা এবং মিথ্যাবাদীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হতে সতর্ক করার মতো ধর্মীয় বাধ্যবাধকতার অংশ নয়।ইবনে রজব বলেন: অনুরূপভাবে ত্রুটি উল্লেখ করা জায়েয যখন তাতে কোনো বিশেষ কল্যাণ নিহিত থাকে, যেমন বিবাহ বা লেনদেনের ক্ষেত্রে কেউ পরামর্শ চাইলে।
(খণ্ড: ١)
ইকমালু তাহযিবিল কামাল - ত আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٣)
ووجه الدلالة من الحديث؛ أن رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم نصح لفاطمة، فأعلمها بعيب أبي جهم أنه لا يضع عصاه عن عاتقه، وعيب معاوية أنه صعلوك لا مال له، وذلك لِمَا فيه من المصلحة الخاصة، فمصلحة الدِّين أَوْلَى.وقد فهم أهل العلم من النصوص المتقدمة، أنه لا حرج عليهم أن يتكلَّموا في شخص، جارحين أو ناهين عن الرواية عنه، لما رأوا فيه من عدم الأهلية، وحثّ الناس على الرواية عن فلان، لما رأوا من الأهليَّة عنده ما يُوجب قبولهم لروايته.قَالَ يَعْقُوب بن سفيان: سَمِعْتُ الحَسَن بن الرَّبِيع، قَالَ: قَالَ ابن المُبَارَك: المُعَلى بن هِلال هُوَ، إِلا أَنَّهُ إِذَا جَاءَ الحَدِيث يَكْذِب. قَالَ: فَقَالَ لَهُ بَعْضُ الصُّوفِيَّة: يَا أَبَا عَبْد الرَّحْمَن؛ تَغْتَابُ. قَالَ: اسْكُتْ، إِذَا لَمْ نُبَيِّنْ، كَيْفَ يُعْرَفُ الحَقُّ مِنَ البَاطِلِ؟ أَوْ نَحْو هَذَا مِن الكَلامِ.عَنْ عَمْرو بن عَلِيّ، ثنا عَفَّان، قَالَ: كُنَّا عِنْدَ إِسْمَاعِيل ابن عُلَيَّة جُلُوسًا، فَحَدَّثَ رَجُلٌ عَنْ رَجُلٍ، فَقُلْتُ: إِنَّ هَذَا لَيْسَ بِثَبتٍ، فَقَالَ الرَّجُلُ: اغْتَبْتَهُ، قَالَ إِسْمَاعِيلُ: مَا اغْتَابَهُ، وَلَكِنَّهُ حَكَمَ أَنَّهُ لَيْسَ بِثَبتٍ.وقال مسلم في مقدمة "صحيحه"، (بَابُ الكَشْفِ عَنْ مَعَايِبِ رُوَاةِ الحَدِيثِ، وَنَقَلَةِ الأخْبَارِ، وَقَوْلُ الأئِمَّةِ فِي ذَلِكَ)، ثم نقل كلامًا كثيرًا، وختمه بقوله: وإِنَّمَا أَلْزَمُوا أَنْفُسَهُم الكَشْفَ عَنْ مَعَايِبِ رُوَاةِ الحَدِيثِ، وَنَاقِلِي الأَخْبَارِ، وَأَفْتَوْا بِذَلِكَ حِينَ سُئِلُوا، لِمَا فِيهِ مِنْ عَظِيمِ الخَطَرِ؛ إِذِ الأخْبَارُ فِي أَمْرِ الدِّينِ إِنَّمَا تَأْتِي بِتَحْلِيلٍ أَوْ تَحْرِيمٍ، أَوْ أَمْرٍ أَوْ نَهْيٍ، أَوْ تَرْغِيبٍ أَوْ تَرْهِيبٍ، فَإِذَا كَانَ الرَّاوِي لَهَا لَيْسَ بِمَعْدِنٍ لِلصِّدْقِ وَالأمَانَةِ، ثُمَّ أَقْدَمَ عَلَى الرِّوَايَةِ عَنْهُ مَنْ قَدْ عَرفَهُ، وَلَم يُبَيِّنْ مَا فِيهِ لِغَيْرِهِ مِمَّنْ جَهِلَ مَعْرِفَتهُ، كَانَ آثِمًا بِفِعْلِهِ ذَلِكَ، غَاشًّا لِعَوَامِّ المُسْلِمِينَ؛ إِذْ لا يُؤْمَنُ عَلَى بَعْضِ مَنْ سَمِعَ تِلْكَ الأخْبَار أَنْ يَسْتَعْمِلَهَا، أَوْ يَسْتَعْمِلَ بَعْضَهَا، وَلَعَلَّهَا أَوْ أَكْثَرَهَا أَكَاذِيبُ لا أَصْلَ لَهَا، مَعَ أَنَّ الأخْبَارَ الصِّحَاحَ مِنْ رِوَايَةِ الثِّقَاتِ وَأَهْلِ القَنَاعَةِ، أَكْثَرُ مِنْ أَنْ يُضْطَرَّ إِلَى نَقْلِ مَنْ لَيْسَ بثِقَةٍ وَلا مقنعٍ، وَلا أَحْسِبُ كَثِيرًا مِمَّنْ يُعَرِّجُ مِنَ النَّاسِ عَلَى مَا وَصَفْنَا مِنْ هَذِهِ الأحَادِيثِ الضِّعَافِ، وَالأسَانِيدِ المَجْهُولَةِ، وَيَعْتَدُّ بِرِوَايَتِهَا بَعْدَ مَعْرفَتِهِ بِمَا فِيهَا مِنَ التَّوَهُّنِ وَالضَّعْفِ، إِلا أَنَّ الَّذِي يَحْمِلُهُ عَلَى رِوَايَتِهَا وَالاعْتِدَادِ بِهَا، إِرَادَةُ التَّكَثُّرِ بِذَلِكَ عِنْدَ العَوَامِّ، وَلأنْ يُقَالَ: مَا أَكْثَرَ مَا جَمَعَ فُلانٌ مِنَ الحَدِيثِ، وَأَلَّفَ مِنَ العَدَدِ، وَمَنْ ذَهَبَ فِي العِلْمِ هَذَا المَذْهَبَ وَسَلَكَ هَذَا الطَّرِيقَ، فَلا نَصِيبَ لَهُ فِيهِ، وَكَانَ بِأَنْ يُسَمَّى جَاهِلا أَوْلَى مِنْ أَنْ يُنْسَبَ إِلَى عِلْمٍ.وقال أبو حاتم ابن حبان: فهؤلاء الأئمة المسلمون، وأهل الورع في الدِّين، أباحوا القدح في المحدِّثين، وبيَّنوا الضعفاء والمتروكين، وبينوا أن السكوت عنه ليس ممَّا يحل، وأن إبداءه أفضل من الإغضاء عنه، وقدَّمهم فيه أئمة قبلهم، ذكروا بعضه وحثُّوا على أخذ العلم من أهله. خامسًا: متى تُباح الغيبةالأصْل فِي الغيبَةِ التَّحْرِيمُ، لِلأدِلَّةِ الثَّابِتَةِ فِي ذَلِكَ، وَمَعَ هَذَا فَقَدْ ذَكَرَ النَّوَوِيّ وَغَيرُهُ مِنَ
এই হাদিস থেকে দলিলের দিকটি হলো: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফাতিমাকে উপদেশ দিয়েছিলেন এবং তাকে আবু জাহমের দোষ সম্পর্কে জানিয়েছিলেন যে, সে তার কাঁধ থেকে লাঠি নামায় না, এবং মুয়াবিয়ার দোষ এই যে, সে নিঃস্ব এবং তার কোনো সম্পদ নেই। এটি করা হয়েছিল বিশেষ কল্যাণের কারণে, আর দ্বীনের কল্যাণ তো অধিকতর অগ্রাধিকারযোগ্য।পূর্বোক্ত দলিলসমূহ থেকে বিজ্ঞ আলেমগণ অনুধাবন করেছেন যে, কারো ব্যাপারে সমালোচনা করা অথবা তার থেকে বর্ণনা গ্রহণ করতে নিষেধ করার ক্ষেত্রে তাদের কোনো দোষ নেই, যখন তারা তার মাঝে অযোগ্যতা দেখতে পান। আবার তারা অমুক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করার প্রতি মানুষকে উৎসাহিত করেছেন যখন তারা তার মধ্যে এমন যোগ্যতা দেখেছেন যা তার বর্ণনা গ্রহণ করাকে আবশ্যক করে।ইয়াকুব ইবনে সুফিয়ান বলেন: আমি হাসান ইবনুর রাবী’কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: ইবনুল মুবারক বলেছেন: মুয়াল্লা ইবনে হিলাল—সে তো এমনই, তবে সে যখন হাদিস বর্ণনা করে তখন মিথ্যা বলে। তিনি বলেন: তখন এক সুফি তাকে বললেন: হে আবু আবদুর রহমান! আপনি গীবত করছেন। তিনি বললেন: চুপ থাকো! আমরা যদি বর্ণনা না করি, তবে কীভাবে সত্য থেকে মিথ্যাকে আলাদা করা যাবে? অথবা এই জাতীয় কিছু বলেছিলেন।আমর ইবনে আলী থেকে বর্ণিত, আফফান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা ইসমাইল ইবনে উলাইয়্যাহর কাছে বসা ছিলাম। তখন এক ব্যক্তি অপর এক ব্যক্তি থেকে হাদিস বর্ণনা করল। আমি বললাম: নিশ্চয়ই সে নির্ভরযোগ্য নয়। তখন ওই ব্যক্তি বলল: আপনি তার গীবত করলেন। ইসমাইল বললেন: সে তার গীবত করেনি, বরং সে বিচার করেছে যে ওই ব্যক্তি নির্ভরযোগ্য নয়।ইমাম মুসলিম তার "সহীহ" এর মুকাদ্দিমায় বলেছেন: (অধ্যায়: হাদিসের বর্ণনাকারী এবং সংবাদ বহনকারীদের দোষ-ত্রুটি উদঘাটন এবং এ বিষয়ে ইমামগণের বক্তব্য), এরপর তিনি দীর্ঘ আলোচনা উদ্ধৃত করেছেন এবং তার কথা এই বলে শেষ করেছেন: নিশ্চয়ই তারা হাদিস বর্ণনাকারী এবং সংবাদ বহনকারীদের দোষ-ত্রুটি উদঘাটনকে নিজেদের ওপর আবশ্যক করে নিয়েছিলেন এবং যখন তাদের এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে তখন তারা ফতোয়া দিয়েছেন। কারণ এর মধ্যে মহান ঝুঁকি রয়েছে; যেহেতু দ্বীনের বিষয়ের সংবাদসমূহ কেবল হালাল বা হারাম, আদেশ বা নিষেধ, উৎসাহ প্রদান বা ভীতি প্রদর্শনের জন্যই আসে। অতএব, যখন কোনো বর্ণনাকারী সত্যবাদিতা ও আমানতদারিতার আধার হবে না, আর যে ব্যক্তি তাকে চেনে সে যদি তার অবস্থা অন্যের কাছে বর্ণনা না করে তার থেকে বর্ণনা করার দুঃসাহস দেখায়, তবে সে তার এই কাজের জন্য গুনাহগার হবে এবং সাধারণ মুসলিমদের সাথে প্রতারণাকারী বলে গণ্য হবে। কারণ, এমন অনেক লোক যারা সেই সংবাদগুলো শুনবে, তাদের ব্যাপারে এটি নিরাপদ নয় যে তারা সেগুলো বা সেগুলোর একাংশ আমল করবে; অথচ সম্ভবত সেগুলো বা সেগুলোর অধিকাংশই ভিত্তিহীন মিথ্যাচার। অথচ নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের বর্ণিত সহীহ সংবাদসমূহ এতো বেশি যে, অনির্ভরযোগ্য ও অগ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের বর্ণনা উদ্ধৃত করার কোনো প্রয়োজন পড়ে না। যারা বর্ণনা করছি এমন সব দুর্বল হাদিস এবং অজ্ঞাত সনদসমূহের ওপর নির্ভর করে এবং সেগুলোর দুর্বলতা ও হীনতা সম্পর্কে সম্যক অবগত হওয়ার পরও যারা সেগুলো বর্ণনার গুরুত্ব দেয়, তাদের অধিকাংশের সম্পর্কে আমি এটিই মনে করি যে, সাধারণ মানুষের কাছে অধিক হাদিসের অধিকারী সাজার লালসাই তাদের এগুলো বর্ণনা ও এর ওপর নির্ভর করতে উদ্বুদ্ধ করে। তারা চায় যেন বলা হয়: অমুক ব্যক্তি কত কত হাদিস সংগ্রহ করেছেন এবং কত অধিক সংখ্যায় সংকলন করেছেন! আর যে ব্যক্তি ইলমের ময়দানে এই পথ অবলম্বন করেছে এবং এই পথে চলেছে, ইলমে তার কোনো অংশ নেই; তাকে আলেম বলার চেয়ে বরং জাহিল বলাই অধিক যুক্তিসঙ্গত।আবু হাতিম ইবনে হিব্বান বলেছেন: এই মুসলিম ইমামগণ এবং দ্বীনের ব্যাপারে পরহেজগার ব্যক্তিবর্গ মুহাদ্দিসদের সমালোচনা করা বৈধ করেছেন এবং দুর্বল ও পরিত্যক্ত বর্ণনাকারীদের অবস্থা বর্ণনা করেছেন। তারা আরও স্পষ্ট করেছেন যে, এ বিষয়ে নীরব থাকা বৈধ নয় এবং বিষয়টি প্রকাশ করা তা এড়িয়ে যাওয়ার চেয়ে উত্তম। তাদের পূর্ববর্তী ইমামগণও এ বিষয়ে অগ্রণী ছিলেন, যারা এর কিয়দাংশ উল্লেখ করেছেন এবং যোগ্য ব্যক্তিদের থেকে ইলম গ্রহণের ব্যাপারে উৎসাহ প্রদান করেছেন। পঞ্চম: কখন গীবত বৈধগীবতের মূল বিধান হলো এটি হারাম, এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠিত দলিলসমূহের কারণে। তবে ইমাম নববী ও অন্যান্যরা উল্লেখ করেছেন যে...
(খণ্ড: ١)
ইকমালু তাহযিবিল কামাল - ত আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٤)
العُلَمَاءِ أُمُورًا سِتَّة، تُبَاحُ فِيهَا الغيبَة لِمَا فِيهَا مِن المَصْلَحَةِ؛ ولأنَّ المُجَوِّزَ فِي ذَلِكَ غَرَضٌ شَرْعِيٌّ، لا يُمْكِنُ الوُصُول إِلَيْهِ إِلا بِهَا، وَتِلْكَ الأمُورُ هِيَ:الأوَّل: التَّظَلُّمُ. يَجُوزُ لِلمَظْلُومِ أَنْ يَتَظَلَّمَ إِلَى السُّلْطَانِ، وَالْقَاضِي، وَغَيْرِهِمَا مِمَّنْ لَهُ وِلايَةٌ، أَوْ لَهُ قُدْرَةٌ عَلَى إِنْصَافِهِ مِنْ ظَالِمِهِ، فَيَذْكُرُ أَنَّ فُلانًا ظَلَمَنِي، وَفَعَل بِي كَذَا، وَأَخَذَ لِي كَذَا، وَنَحْو ذَلِكَ.الثَّانِي: الاسْتِعَانَة عَلَى تَغْيِيرِ المُنْكَرِ وَرَدِّ العَاصِي إِلَى الصَّوَابِ. وبيانهُ أَنْ يَقُول لِمَنْ يَرْجُو قُدْرَتَهُ عَلَى إِزَالَةِ المُنْكَرِ: فُلانٌ يَعْمَل كَذَا فَازْجُرْهُ عَنْهُ، وَنَحْوُ ذَلِكَ، وَيَكُونُ مَقْصُودُهُ إِزَالَة المُنْكَر، فَإِنْ لَمْ يَقْصِدْ ذَلِكَ كَانَ حَرَامًا.الثَّالِثُ: الاسْتِفْتَاءُ. وَبيانهُ أَنْ يَقُول لِلمُفْتِي: ظَلَمَنِي أَبِي، أَوْ أَخِي، أَوْ فُلانٌ بِكَذَا. فَهَل لَهُ ذَلِكَ أَمْ لا؟ وَمَا طَرِيقِي فِي الخَلاصِ مِنْهُ، وَتَحْصِيل حَقِّي، وَدَفْع الظُّلْمِ عَنِّي؟ وَنَحْو ذَلِكَ، فَهَذَا جَائِزٌ لِلحَاجَةِ. وَلَكِنَّ الأحْوَطَ أَنْ يَقُول: مَا تَقُول فِي رَجُلٍ كَانَ مِنْ أمْرِهِ كَذَا، أَوْ فِي زَوْجٍ، أَوْ زَوْجَةٍ تَفْعَل كَذَا، وَنَحْو ذَلِكَ، فَإِنَّهُ يَحْصل لَهُ الغَرَضُ مِنْ غَيْرِ تَعْيِينٍ، وَمَعَ ذَلِكَ فَالتَّعْيِينُ جَائِزٌ؛ لِحَدِيثِ عَائِشَة رضي الله عنها: قَالَتْ هِنْد أمُّ معَاوِية لِرَسُولِ اللَّه صلى الله عليه وسلم: إِنَّ أَبَا سفيان رَجُلٌ شَحِيحٌ، فَهَلْ عَلَيَّ جُنَاحٌ أَنْ آخُذَ مِنْ مَالِهِ سِرًّا؟ قَالَ: "خُذِي أَنْتِ وَبَنُوكِ مَا يَكْفِيكِ بِالمَعْرُوفِ"، وَلَمْ ينْههَا رَسُول اللَّه صلى الله عليه وسلم.الرَّابعُ: تَحْذِيرُ المُسْلِمِينَ مِنَ الشَّرِّ، وَذَلِكَ مِنْ وُجُوهٍ خَمْسَةٍ كَمَا ذَكَرَ النَّوَوِيّ:أَوَّلا: جَرْحُ المَجْرُوحِينَ مِنَ الرُّوَاةِ وَالشُّهُودِ، وَذَلِكَ جَائِزٌ بِالإجْمَاعِ، بَل وَاجِبٌ؛ صَوْنًا لِلشَّرِيعَةِ.ثَانِيًا: الإخْبَارُ بِغيبَةٍ عِنْدَ المُشَاوَرَةِ فِي مُصَاهَرَةٍ وَنَحْوِهَا.ثَالِثًا: إِذَا رَأَيْت مَنْ يَشْتَرِي شَيْئًا مَعِيبًا أَوْ نَحْوَ ذَلِكَ، تَذْكُرُ لِلْمُشْتَرِي إِذَا لَمْ يُعْلِمْهُ؛ نَصِيحَة لَهُ، لا لِقَصْدِ الإيذَاءِ والإفْسَادِ.رَابِعًا: إِذَا رَأَيْت مُتَفَقِّهًا يَتَرَدَّدُ إِلَى فَاسِقٍ، أَوْ مُبْتَدِعٍ يَأْخُذُ عَنْهُ عِلْمًا. وَخِفْت عَلَيْهِ ضَرَرَهُ، فَعَلَيْك نَصِيحَتُهُ بِبيان حَالِهِ قَاصدًا النَّصِيحَةَ.خَامِسًا: أَنْ يَكُونَ لَهُ وِلايَةٌ لا يَقُومُ لَهَا عَلَى وَجْهِهَا، لِعَدَمِ أَهْلِيَّتِهِ أَوْ لِفِسْقِهِ، فَيَذْكُرُهُ لِمَنْ لَهُ عَلَيْهِ وِلايَة؛ لِيَسْتَبْدِل بِهِ غَيْرَهُ أَوْ يَعْرف، فَلا يَغْتَرَّ بِهِ وَيُلْزِمُهُ الاسْتِقَامَةَ.الْخَامِسُ: أَنْ يَكُونَ مُجَاهِرًا بِفِسْقِهِ أَوْ بِدْعَتِهِ. فَيَجُوزُ ذِكْرُهُ بِمَا يُجَاهِرُ بِهِ، وَيَحْرُمُ ذِكْرُهُ بِغَيْرِهِ مِنَ العُيُوبِ، إِلا أَنْ يَكُونَ لِجَوَازِهِ سَبَبٌ آخَر.السَّادِسُ: التَّعْرِيفُ. فَإِذَا كَانَ مَعْرُوفًا بِلَقَبٍ؛ كَالأَعْمَش وَالأعْرَج، وَالأزْرَق وَالْقَصِير، وَالأعْمَى وَالأقْطَع، وَنَحْوهَا، جَازَ تَعْرِيفُهُ بِهِ، وَيَحْرُمُ ذِكْرُهُ بِهِ تَنَقُّصًا، وَلَوْ أَمْكَنَ التَّعْرِيفُ بِغَيْرِهِ كَانَ أَوْلَى.
আলেমগণ ছয়টি বিষয়ের কথা উল্লেখ করেছেন, যেগুলোতে মাসলাহাত বা কল্যাণের কারণে গিবত করা বৈধ। কারণ এক্ষেত্রে অনুমতি প্রদানের পেছনে এমন এক শরয়ি উদ্দেশ্য নিহিত থাকে, যা তা ব্যতীত অর্জন করা সম্ভব নয়। সেই বিষয়গুলো হলো:প্রথম: জুলুমের প্রতিকার চাওয়া। মজলুম ব্যক্তির জন্য শাসক, বিচারক এবং এমন ব্যক্তিবর্গের কাছে প্রতিকার চাওয়া বৈধ যাদের কর্তৃত্ব রয়েছে অথবা জালেমের হাত থেকে তাকে ইনসাফ পাইয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। এমতাবস্থায় সে বলতে পারে যে, অমুক ব্যক্তি আমার ওপর জুলুম করেছে, আমার সাথে এরূপ আচরণ করেছে এবং আমার অমুক সম্পদ নিয়ে নিয়েছে ইত্যাদি।দ্বিতীয়: কোনো অন্যায় কাজ পরিবর্তনে এবং পাপাচারীকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে সাহায্য প্রার্থনা করা। এর ব্যাখ্যা হলো, কোনো ব্যক্তি কোনো অন্যায় দূর করার সক্ষমতা রাখে বলে আশা করা গেলে তাকে বলবে যে, অমুক ব্যক্তি এই কাজ করছে, তাকে তা হতে বিরত রাখুন ইত্যাদি। এক্ষেত্রে তার উদ্দেশ্য হতে হবে কেবল অন্যায়টি দূর করা। যদি উদ্দেশ্য তা না হয়, তবে তা হারাম হবে।তৃতীয়: ফতোয়া প্রার্থনা করা। এর ব্যাখ্যা হলো, মুফতির কাছে গিয়ে বলা: আমার পিতা, বা আমার ভাই, অথবা অমুক ব্যক্তি আমার ওপর এরূপ জুলুম করেছে। তার জন্য কি এমনটা করা বৈধ কি না? তা হতে মুক্তি পাওয়ার, আমার হক আদায় করার এবং আমার ওপর হতে জুলুম প্রতিহত করার উপায় কী? ইত্যাদি। প্রয়োজনবশত এটি জায়েজ। তবে সতর্কতা হলো এভাবে বলা: এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে আপনার অভিমত কী যে এরূপ কাজ করেছে, অথবা এমন একজন স্বামী বা স্ত্রী সম্পর্কে যার আচরণ এই প্রকার ইত্যাদি। এতে নাম নির্দিষ্ট না করেই উদ্দেশ্য হাসিল হয়। তবুও নাম নির্দিষ্ট করা বৈধ; কারণ আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণিত হাদিসে এসেছে: মুয়াবিয়ার মা হিন্দ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলেছিলেন, ‘নিশ্চয় আবু সুফিয়ান একজন কৃপণ লোক, সুতরাং আমি কি গোপনে তার সম্পদ থেকে কিছু নিতে পারি?’ তিনি বললেন, ‘তুমি ও তোমার সন্তানরা ন্যায়সঙ্গতভাবে যতটুকু প্রয়োজন তা গ্রহণ করতে পার।’ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে এটি করতে নিষেধ করেননি।চতুর্থ: মুসলমানদেরকে অকল্যাণ থেকে সতর্ক করা। ইমাম নববী এর পাঁচটি দিকের কথা উল্লেখ করেছেন:প্রথমত: হাদিসের বর্ণনাকারী এবং সাক্ষীদের মাঝে যারা ত্রুটিযুক্ত তাদের সমালোচনা করা। ইজমা তথা সর্বসম্মতিক্রমে এটি জায়েজ, বরং শরিয়তকে রক্ষার তাগিদে এটি ওয়াজিব।দ্বিতীয়ত: বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন বা এ জাতীয় কোনো বিষয়ে পরামর্শ চাওয়ার সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির দোষত্রুটি বর্ণনা করা।তৃতীয়ত: আপনি যদি দেখেন কেউ ত্রুটিযুক্ত কোনো বস্তু ক্রয় করছে বা এ জাতীয় কিছু, তবে ক্রেতা যদি সে সম্পর্কে অবগত না থাকে তবে তাকে উপদেশের নিয়তে তা বলে দেওয়া; কষ্ট দেওয়া বা ঝগড়া বাঁধানোর উদ্দেশ্যে নয়।চতুর্থত: যদি দেখেন কোনো শিক্ষার্থী কোনো পাপাচারী বা বিদআতির কাছে জ্ঞান অর্জনের জন্য যাতায়াত করছে এবং আপনি তার ক্ষতির আশঙ্কা করেন, তবে কেবল উপদেশের নিয়তে তার অবস্থা বর্ণনা করে তাকে সতর্ক করা আপনার দায়িত্ব।পঞ্চমত: কোনো ব্যক্তির অধীনে এমন কোনো দায়িত্ব অর্পিত হওয়া যা সে অযোগ্যতা বা পাপাচারের কারণে যথাযথভাবে পালন করছে না; এমতাবস্থায় উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো যাতে তার পরিবর্তে অন্য কাউকে নিয়োগ দেওয়া যায় অথবা তার অবস্থা জেনে তার দ্বারা কেউ প্রতারিত না হয় এবং তাকে সঠিক পথে চলতে বাধ্য করা যায়।পঞ্চম: পাপাচার বা বিদআতে লিপ্ত কোনো ব্যক্তি যদি তা প্রকাশ্যে করে। তবে যে কাজগুলো সে প্রকাশ্যে করে সেগুলোর কথা উল্লেখ করা জায়েজ। কিন্তু তার অন্যান্য গোপন দোষত্রুটি উল্লেখ করা হারাম, যদি না তা জায়েজ হওয়ার অন্য কোনো শরয়ি কারণ থাকে।ষষ্ঠ: পরিচয় প্রদানের ক্ষেত্রে। যদি কোনো ব্যক্তি কোনো বিশেষ উপাধিতে পরিচিত হয়; যেমন ঝাপসা দৃষ্টিসম্পন্ন (আমাশ), খোঁড়া, নীলচক্ষু বিশিষ্ট, খাটো, অন্ধ বা হাতকাটা এবং এই জাতীয় কোনো উপাধি, তবে পরিচয়ের খাতিরে তা উল্লেখ করা জায়েজ। কিন্তু তাকে হেয় করার উদ্দেশ্যে তা উল্লেখ করা হারাম। তবে যদি অন্য কোনোভাবে (নাম বা অন্য কোনো গুণের মাধ্যমে) তার পরিচয় প্রদান করা সম্ভব হয়, তবে সেটিই উত্তম।
(খণ্ড: ١)
ইকমালু তাহযিবিল কামাল - ত আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٥)
سادسًا: نشأة علم الجرح والتعديلنشأ علم الجرح والتعديل مع نشأة الرواية، وبناءًا على الحديث السابق، فإن النبي صلى الله عليه وسلم هو أول من جرح وعدل، وعلى ذلك المنهج سار المحدثون، فطلبوا الإسناد، وقوَّموا الرواة، وعدَّلوا في ذلك كل العدل، فأعطوا كل راوٍ ما يستحقّه من أوصاف الضبط والعدالة دون محاباة، وضربوا في ذلك أروع الأمثلة في الاحتساب والتجرُّد.فقد أثنى بعض الصحابة على بعض التابعين، وورد آثار عنهم في ذمِّ بعضهم أيضًا، فقد يكون أبو بكر رضي اللَّه تعالى عنه، هو أول من تثبت في الأخبار، فقد ثبت عَنْ قَبِيصَة بن ذُؤَيْب، أَنَّهُ قَالَ: جَاءَتِ الجَدَّة إِلَى أَبِي بَكْر الصِّدِّيق تَسْأَلُهُ مِيرَاثَهَا؟ فَقَالَ: مَا لَكِ فِي كِتَابِ اللَّه تَعَالَى شَيْءٌ، وَمَا عَلِمْتُ لَكِ فِي سُنَّةِ نَبِيّ اللَّه صلى الله عليه وسلم شَيئًا، فَارْجِعِي حَتَّى أَسْأَلَ النَّاسَ. فَسَأَلَ النَّاسَ، فَقَالَ المُغِيرَة بن شُعْبَة: "حَضَرْتُ رَسُول اللَّه صلى الله عليه وسلم أَعْطَاهَا السُّدُسَ"، فَقَالَ أَبُو بَكْر: هَلْ مَعَكَ غَيرُكَ؟ فَقَامَ مُحَمَّد بن مَسْلَمَة، فَقَالَ مِثْلَمَا قَالَ المُغِيرَة بن شُعْبَة، فَأَنْفَذَهُ لَهَا أَبُو بَكْر، ثُمَّ جَاءَتِ الجَدَّةُ الأخْرَى إِلَى عُمَر بن الخَطَّاب رضي الله عنه، تَسْأَلُهُ مِيرَاثَهَا، فَقَالَ: مَا لَكِ فِي كِتَابِ اللَّه تَعَالَى شَيْءٌ، وَمَا كَانَ القَضَاءُ الَّذِي قُضِيَ بِهِ إِلا لِغَيْرِكِ، وَمَا أَنَا بِزَائِدٍ فِي الفَرَائِضِ، وَلَكِنْ هُوَ ذَلِكَ السُّدُس، فَإِنِ اجْتَمَعْتُمَا فِيهِ فَهُوَ بَيْنَكُمَا، وَأيَّتُكُمَا خَلَتْ بِهِ فَهُوَ لَهَا.والغرض من هذا الحديث، هو الدلالة على التثبت من قِبَل أبي بكر رضي الله عنه في الأخبار، ولم يكتفي براوٍ واحد.وكذلك فعل عمر رضي الله عنه، فقد أخرج البخاري عَنْ أَبِي سَعِيد الخُدرِيّ، قَالَ: كُنْتُ فِي مَجْلِسٍ مِنْ مَجَالِسِ الأنْصَارِ، إِذْ جَاءَ أَبُو مُوسَى كَأَنَّهُ مَذْعُورٌ، فَقَالَ: اسْتَأْذَنْتُ عَلَى عُمَر ثَلاثًا، فَلَمْ يُؤْذَنْ لِي، فَرَجَعْتُ، فَقَالَ: مَا مَنَعَكَ؟ قُلْتُ: اسْتَأْذَنْتُ ثَلاثًا، فَلَمْ يُؤْذَنْ لِي فَرَجَعْتُ، وَقَالَ رَسُولُ اللَّه صلى الله عليه وسلم: "إِذَا اسْتَأْذَنَ أَحَدُكُمْ ثَلاثًا فَلَئم يُؤْذَنْ لَهُ، فَلْيَرْجِعْ". فَقَالَ: وَاللَّه لَتُقِيمَنَّ عَلَيهِ بِبَيِّنَةٍ، أَمِنْكُمْ أَحَدٌ سَمِعَهُ مِنَ النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم؟ فَقَالَ أُبَيّ بن كَعْب: واللَّه لا يَقُومُ مَعَكَ إِلا أَصغَرُ القَوْمِ، فَكُنْتُ أَصْغَر القَوْمِ فَقُمْتُ مَعَهُ، فَأَخْبَرْتُ عُمَر أَنَّ النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ ذَلِكَ.قال ابن حبان: وتَبعَ عمر على ذلك التثبت علي رضي الله عنه، باستحلاف من يحدثه عن رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم، وإن كانوا ثقات مأمونين؛ ليعلمهم تَوَقِّي الكذب على رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم.ثم قال: وأخرج مسلم في مقدمة "صحيحه": عَنْ طَاوس، قَالَ: جَاءَ هَذَا إِلَى ابن عَبَّاس - يَعْنِي: بُشَيْر بن كَعْب- فَجَعَلَ يُحَدِّثهُ، فَقَالَ لَهُ ابن عَبَّاس: عُدْ لِحَدِيثِ كَذَا وَكَذَا. فَعَادَ لَهُ، ثُمَّ حَدَّثَهُ. فَقَالَ لَهُ: عُدْ لِحَدِيثِ كَذَا وَكَذَا. فَعَادَ لَهُ، فَقَالَ لَهُ: مَا أَدْرِي أَعَرَفْتَ حَدِيثِي كُلَّهُ،
ষষ্ঠ: জারহ ও তাদিল শাস্ত্রের উদ্ভববর্ণনা বা রেওয়ায়েতের উৎপত্তির সাথেই জারহ ও তাদিল (বর্ণনাকারীদের সমালোচনা ও গ্রহণ যোগ্যতা যাচাই) শাস্ত্রের উদ্ভব হয়েছে। পূর্বোক্ত হাদিসের ভিত্তিতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ই হলেন সর্বপ্রথম ব্যক্তি যিনি জারহ ও তাদিল করেছেন। সেই পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করেই মুহাদ্দিসগণ পথ চলেছেন; ফলে তারা সনদ দাবি করেছেন, বর্ণনাকারীদের মূল্যায়ন করেছেন এবং এক্ষেত্রে পূর্ণ ইনসাফ বজায় রেখেছেন। তারা প্রত্যেক বর্ণনাকারীকে কোনো প্রকার পক্ষপাতিত্ব ছাড়াই তার প্রাপ্য দবত (স্মৃতিশক্তি) ও আদালতের (সততা) গুণাবলীতে বিশেষিত করেছেন এবং এক্ষেত্রে তারা নিষ্ঠা ও নিরপেক্ষতার সর্বোত্তম দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।কিছু সাহাবী কোনো কোনো তাবেয়ীর প্রশংসা করেছেন এবং তাঁদের কারো কারো নিন্দা প্রসঙ্গেও আছার (বর্ণনা) বর্ণিত হয়েছে। সম্ভবত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু-ই সর্বপ্রথম সংবাদ যাচাই করার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করেছেন। কাবিছা ইবনে জুয়াইব থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন: এক দাদী আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে তাঁর মিরাসের অংশ চাইতে এলেন। তিনি বললেন: আল্লাহর কিতাবে তোমার জন্য কিছুই নেই এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহতেও আমি তোমার জন্য কিছু জানি না। তুমি ফিরে যাও, আমি লোকজনকে জিজ্ঞাসা করি। এরপর তিনি লোকজনকে জিজ্ঞাসা করলেন। মুগীরা ইবনে শু'বাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন: "আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট উপস্থিত ছিলাম, তিনি তাঁকে ষষ্ঠাংশ দিয়েছিলেন।" আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন: "তোমার সাথে কি অন্য কেউ আছে?" তখন মুহাম্মদ ইবনে মাসলামাহ দাঁড়িয়ে মুগীরা ইবনে শু'বাহ যা বলেছিলেন তার অনুরূপ কথা বললেন। তখন আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু তা কার্যকর করলেন। এরপর অন্য দাদী ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে তাঁর মিরাস চাইতে এলেন। তিনি বললেন: আল্লাহর কিতাবে তোমার জন্য কিছুই নেই। যে ফয়সালা করা হয়েছে তা তোমার পূর্বের জনের জন্যই ছিল। আমি ফরায়েজের (উত্তরাধিকারের অংশে) কোনো কিছু বৃদ্ধি করব না। তবে তা ওই ষষ্ঠাংশই। যদি তোমরা উভয় একত্রিত হও তবে তা তোমাদের মধ্যে বণ্টিত হবে, আর তোমাদের যে কেউ একা থাকবে তা তারই হবে।এই বর্ণনার উদ্দেশ্য হলো সংবাদ যাচাইয়ের ক্ষেত্রে আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর সতর্কতা প্রদর্শন করা, কেননা তিনি কেবল একজন বর্ণনাকারীর ওপর সন্তুষ্ট হননি।অনুরূপভাবে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু-ও করেছেন। ইমাম বুখারী আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আনসারদের একটি মজলিসে ছিলাম, এমন সময় আবু মুসা রাদিয়াল্লাহু আনহু অত্যন্ত আতঙ্কিত অবস্থায় আসলেন এবং বললেন: আমি ওমরের নিকট তিনবার প্রবেশের অনুমতি চেয়েছি, কিন্তু আমাকে অনুমতি দেওয়া হয়নি, তাই আমি ফিরে এসেছি। ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন: "তোমাকে কিসে বাধা দিল?" আমি বললাম: আমি তিনবার অনুমতি চেয়েছিলাম, কিন্তু আমাকে অনুমতি দেওয়া হয়নি, তাই আমি ফিরে এসেছি। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমাদের কেউ যদি তিনবার অনুমতি চায় এবং তাকে অনুমতি না দেওয়া হয়, তবে সে যেন ফিরে যায়।" তিনি (ওমর) বললেন: "আল্লাহর কসম! তোমাকে অবশ্যই এর ওপর প্রমাণ পেশ করতে হবে। তোমাদের মধ্যে কি এমন কেউ আছে যে এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছে?" উবাই ইবনে কাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন: "আল্লাহর কসম! আপনার সাথে কওমের সবচেয়ে ছোট ব্যক্তিটি ছাড়া আর কেউ (সাক্ষ্য দিতে) যাবে না।" আমি কওমের সবচেয়ে ছোট ছিলাম, তাই আমি তাঁর সাথে দাঁড়ালাম এবং ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে জানালাম যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সত্যিই তা বলেছেন।ইবনে হিব্বান বলেন: সংবাদ যাচাই-বাছাইয়ের এই কাজে আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর অনুসরণ করেছেন। যারা তাঁর কাছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদিস বর্ণনা করত, তিনি তাদের থেকে শপথ নিতেন; যদিও তারা নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত ছিলেন। এর উদ্দেশ্য ছিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামে মিথ্যা বলার ক্ষেত্রে তাদের সতর্কতা শিক্ষা দেওয়া।এরপর তিনি বলেন: ইমাম মুসলিম তাঁর 'সহীহ'-এর মুকাদ্দিমায় বর্ণনা করেছেন: তাউস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: এই ব্যক্তি—অর্থাৎ বুশাইর ইবনে কাব—ইবনে আব্বাসের নিকট আসলেন এবং হাদিস বর্ণনা করতে শুরু করলেন। ইবনে আব্বাস তাঁকে বললেন: অমুক অমুক হাদিসটি পুনরায় বলো। তিনি তা পুনরায় বললেন। এরপর তিনি আবার হাদিস বর্ণনা করলেন। ইবনে আব্বাস পুনরায় বললেন: অমুক অমুক হাদিসটি পুনরায় বলো। তিনি তা পুনরায় বললেন। এরপর তিনি তাঁকে বললেন: আমি জানি না তুমি কি আমার সমস্ত হাদিস চিনতে পেরেছ,
(খণ্ড: ١)
ইকমালু তাহযিবিল কামাল - ত আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٦)
وَأَنْكَرْتَ هَذَا؟ أَمْ أَنْكَرْتَ حَدِيثِي كُلَّهُ، وَعَرَفْتَ هَذَا؟ فَقَالَ لَهُ ابن عَبَّاس: إِنَّا كُنَّا نُحَدِّثُ عَنْ رَسُول اللَّه صلى الله عليه وسلم، إِذْ لَمْ يَكُنْ يُكْذَبُ عَلَيْهِ، فَلَمَّا رَكِبَ النَّاسُ الصَّعْبَ وَالذَّلُولَ، تَرَكْنَا الحَدِيثَ عَنْهُ.وعَنْ مُجَاهِد، قَالَ: جَاءَ بُشَيْر العَدَوِيّ إِلَى ابن عَبَّاس، فَجَعَلَ يُحَدِّثُ وَيَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّه صلى الله عليه وسلم، قَالَ رَسُولُ اللَّه صلى الله عليه وسلم، فَجَعَلَ ابن عَبَّاس لا يَأْذَنُ لِحَدِيثِهِ، وَلا يَنْظُرُ إِلَيْهِ، فَقَالَ: يَا ابن عَبَّاس؛ مَا لِي لا أَرَاكَ تَسْمَعُ لِحَدِيثِي، أُحَدِّثُكَ عَنْ رَسُولِ اللَّه صلى الله عليه وسلم، وَلا تَسْمَعُ، فَقَالَ ابن عَبَّاس: إِنَّا كُنَّا مَرَّةً، إِذَا سَمِعْنَا رَجُلا يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّه صلى الله عليه وسلم؛ ابْتَدَرَتْهُ أَبْصَارُنَا، وَأصْغَيْنَا إِلَيْهِ بِآذَانِنَا، فَلَمَّا رَكِبَ النَّاسُ الصَّعْبَ وَالذَّلُول، لَمْ نَأْخُذْ مِنَ النَّاسِ إِلا مَا نَعْرِفُ.وهذا الذي ذكر من احتياط بعض الصحابة في حديث رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم، وتثبتهم من الرواة، لم يكن كثيرًا، ولا صريحًا بالاتهام؛ لعدم كثرة دواعيه، ولما سبق من قول عمر لأبي موسى: أما إني لم أتَّهمك.ثم تكلَّم التابعون في الجرح، وكان كلامهم في ذلك قليلا أيضًا؛ لقرب العهد بمنبع الوحي، رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم، وعامة من تكلم فيه آنذاك إنما كان للمذهب، كالخوارج، أو لسوء الحفظ، أو الجهالة؛ فإنهم لم يكونوا يعرفوا الكذب.قال علي بن المديني: محمد بن سيرين أوَّل من فتَّش عن الإسناد، لا نعلم أحدًا أوَّل منه.وروى الأعمش، عن إبراهيم النخعي، قال: إنما سُئل عن الإسناد أيام المختار.أخرج مسلم بسنده عَن ابن سِيرِين، قَالَ: لَمْ يَكُونُوا يَسْأَلُونَ عَنِ الإسْنَادِ، فَلَمَّا وَقَعَتِ الفِتْنَةُ قَالُوا: سَمُّوا لَنَا رِجَالَكُمْ، فَيُنْظَرُ إِلَى أَهْلِ السُّنَّةِ فَيُؤْخَذُ حَدِيثُهُمْ، وَيُنْظَرُ إِلَى أَهْلِ البِدَعِ فَلا يُؤْخَذُ حَدِيثُهُمْ.وروى ابن أبي حاتم بسنده إلى خالد بن نزار، قال: سمعت مالكًا يقول: أول من أسند الحديث ابن شهاب الزهري.وقال يحيى بن سعيد القطان: الشعبي أول من فتش عن الإسناد.وقال يعقوب بن شيبة: سمعت علي بن المديني يقول: كان ابن سيرين ممَّن ينظر في الحديث ويفتش عن الإسناد، لا نعلم أحدًا أول منه، ثم كان أيوب، وابن عون، ثم كان شعبة، ثم كان يحيى بن سعيد القطان، وعبد الرحمن بن مهدي.قال يعقوب: قلت لعلي: فمالك بن أنس؟ فقال: أخبرني سفيان بن عيينة، قال: ما كان أشد انتقاء مالك للرجال.قال الذهبي: فأول من زكى وجرح عند انقضاء عصر الصحابة: الشعبي، وابن سيرين، ونحوهما، وحفظ عنهم توثيق أناس وتضعيف آخرين. . . .، فلما كان عند انقراض عامة
এবং তুমি এটি অস্বীকার করলে? নাকি আমার পুরো হাদীসটিই অস্বীকার করলে এবং এটি জানলে? তখন ইবনে আব্বাস তাকে বললেন: আমরা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে হাদীস বর্ণনা করতাম যখন তাঁর ওপর মিথ্যা আরোপ করা হতো না। কিন্তু যখন মানুষ অবাধ্যতা ও সহজলভ্যতার পথে (চরম ও নরম সব পথে) পা বাড়াল, তখন আমরা তাঁর থেকে হাদীস বর্ণনা করা ছেড়ে দিলাম।মুজাহিদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: বুশাইর আল-আদাউয়ী ইবনে আব্বাসের নিকট এলেন এবং হাদীস বর্ণনা করতে শুরু করে বলতে লাগলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন। ইবনে আব্বাস তার হাদীসের প্রতি কর্ণপাত করছিলেন না এবং তার দিকে তাকাচ্ছিলেনও না। তখন তিনি বললেন: হে ইবনে আব্বাস! কী হলো, আমি আপনাকে আমার হাদীস শুনতে দেখছি না? আমি আপনার কাছে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে হাদীস বর্ণনা করছি, আর আপনি শুনছেন না! তখন ইবনে আব্বাস বললেন: আমরা এক সময় এমন ছিলাম যে, যখন কোনো ব্যক্তিকে বলতে শুনতাম 'আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন', অমনি আমাদের চোখ তার দিকে নিবদ্ধ হতো এবং আমরা আমাদের কান দিয়ে তা অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে শুনতাম। কিন্তু যখন মানুষ অবাধ্যতা ও সহজলভ্যতার পথে পা বাড়াল, তখন আমরা মানুষের কাছ থেকে কেবল তা-ই গ্রহণ করতে শুরু করলাম যা আমরা আগে থেকেই চিনতাম।আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদীসের ব্যাপারে কিছু সাহাবীর এই যে সাবধানতা এবং বর্ণনাকারীদের ব্যাপারে তাঁদের এই যে সতর্কতা উল্লেখ করা হলো, তা খুব বেশি ব্যাপক ছিল না এবং সরাসরি কাউকে অভিযুক্ত করার মতোও ছিল না; কারণ তখন এর প্রয়োজনীয়তা বেশি ছিল না। আর যেমনটি আবু মুসার প্রতি উমরের বক্তব্যে ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে: "জেনে রেখো, আমি তোমাকে অভিযুক্ত করিনি।"এরপর তাবিঈগণ 'জারহ' (সমালোচনা) নিয়ে কথা বলেছেন, এবং এক্ষেত্রে তাঁদের বক্তব্যও ছিল নগণ্য; কারণ তা ছিল ওহীর উৎস আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগের নিকটবর্তী সময়। সে সময় বর্ণনাকারীদের নিয়ে যে সমালোচনা হতো তা সাধারণত নির্দিষ্ট মাযহাব বা মতাদর্শের কারণে হতো, যেমন খারিজি সম্প্রদায়; অথবা মুখস্থ রাখার দুর্বলতা কিংবা পরিচয়হীনতার (জাহালাত) কারণে। কেননা তাঁরা তখনো মিথ্যার সাথে পরিচিত ছিলেন না।আলী ইবনুল মাদীনী বলেন: মুহাম্মদ ইবনে সীরীনই সর্বপ্রথম ইসনাদ (সূত্র) নিয়ে অনুসন্ধান চালিয়েছেন, আমাদের জানামতে তাঁর আগে অন্য কেউ এটি করেননি।আমাশ ইব্রাহীম নাখায়ী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: কেবল মুখতারের (মুখতার আস-সাকাফী) সময়কালেই ইসনাদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা শুরু হয়েছিল।ইমাম মুসলিম তাঁর সনদে ইবনে সীরীন থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: তারা ইতিপূর্বে ইসনাদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন না, কিন্তু যখন ফিতনা (বিপর্যয়) দেখা দিল, তখন তারা বলতে লাগলেন: আমাদের কাছে তোমাদের বর্ণনাকারীদের নাম প্রকাশ করো। তখন আহলুস সুন্নাহর দিকে লক্ষ করা হতো এবং তাঁদের হাদীস গ্রহণ করা হতো, আর বিদআতীদের দিকে লক্ষ করা হতো এবং তাঁদের হাদীস গ্রহণ করা হতো না।ইবনে আবি হাতিম তাঁর সনদে খালিদ ইবনে নিযার থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি মালিককে বলতে শুনেছি: ইবনে শিহাব আয-যুহরীই সর্বপ্রথম হাদীসের সূত্র উল্লেখ করেছেন।ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান বলেন: আশ-শা'বী সর্বপ্রথম ইসনাদ নিয়ে অনুসন্ধান চালিয়েছেন।ইয়াকুব ইবনে শায়বাহ বলেন: আমি আলী ইবনুল মাদীনীকে বলতে শুনেছি: ইবনে সীরীন তাঁদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যাঁরা হাদীস পর্যবেক্ষণ করতেন এবং ইসনাদ নিয়ে অনুসন্ধান চালাতেন, আমাদের জানামতে তাঁর আগে অন্য কেউ এটি করেননি। এরপর ছিলেন আইয়ুব এবং ইবনে আউন, এরপর শু'বাহ, এরপর ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান এবং আবদুর রহমান ইবনে মাহদী।ইয়াকুব বলেন: আমি আলীকে বললাম: তাহলে মালিক ইবনে আনাসের অবস্থান কী? তিনি বললেন: সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ আমাকে জানিয়েছেন যে, বর্ণনাকারী নির্বাচনে মালিকের কঠোরতা ছিল অতুলনীয়।আয-যাহাবী বলেন: সাহাবীগণের যুগের সমাপ্তি লগ্নে সর্বপ্রথম যাঁরা বর্ণনাকারীদের 'তাযকিয়াহ' (প্রশংসা) এবং 'জারহ' (সমালোচনা) করেছেন তাঁরা হলেন: আশ-শা'বী, ইবনে সীরীন এবং তাঁদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিগণ। তাঁদের কাছ থেকে একদল মানুষের নির্ভরযোগ্যতা এবং অন্যদের দুর্বলতা সম্পর্কে বক্তব্য সংরক্ষিত আছে... যখন সাধারণ তাবিঈগণের যুগের অবসান ঘটল...
(খণ্ড: ١)
ইকমালু তাহযিবিল কামাল - ত আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٧)
التابعين في حدود الخمسين ومائة، تكلَّم طائفة من الجهابذة في التوثيق والتضعيف، كالأعمش، وشعبة بن الحجاج، ومالك بن أنس. سابعًا: أنواع المصنفات في الجرح والتعديلبما أن الحُكم على الحديث صحَّة وضعفًا مبنيٌّ على أمور، منها: عدالة الرواة وضبطهم، أو الطعن في عدالتهم وضبطهم؛ لذلك قام العلماء بتصنيف الكُتب التي فيها بيان عدالة الرواة وضبطهم، منقولة عن الأئمة المُعَدِّلين الموثوقين، وهذا ما يُسمى بـ (التعديل)، كما أن في تلك الكُتب بيان الطعون المُوجَّهة إلى عدالة بعض الرواة، أو إلى ضبطهم وحفظهم كذلك، منقولة عن الأئمة غير المتعصبين، وهذا ما يُسمُّى بـ (الجَرْح)، ومن هنا أُطلق على تلك الكتب: كتب الجرح والتعديل.وهذه الكُتب كثيرة ومتنوعة، فمنها المُفْرَدَة لبجان الرواة الثقات، ومنها المفردة لبيان الضعفاء والمجروحين، ومنها كتب لبيان الرواة الثقات والضعفاء. ومن جهة أخرى فإن بعض هذه الكتب عامّ لذكر رواة الحديث، بغض النظر عن رجال كِتاب أو كُتب خاصة من كتب الحديث، ومنها ما هو خاص بتراجم رواة كتاب خاص أو كتب معينة من كتب الحديث.هذا ويعتبر عمل علماء الجرح والتعديل في تصنيف هذه الكتب، عملا رائعًا مُهمًّا جبارًا، إذ قاموا بمسح دقيق لتراجم جميع رواة الحديث، وبيان الجرح أو التعديل الموجَّه إليهم أولا، ثم بيان من أخذوا عنه ومن أخذ عنهم، وأين رحلوا، ومتى الْتَقُوا ببعض الشيوخ، وما إلى ذلك من تحديد زمنهم الذي عاشوا فيه، بشكل لم يُسْبَقوا إليه، بل ولم تصل الأمم المتحضرة في هذا العصر إلى القريب ممَّا صنَّفه علماء الحديث، من وَضْع هذه الموسوعات الضخمة في تراجم الرجال ورواة الحديث، فحفظوا على مدى الأيام التعريف الكامل برواة الحديث ونقلته، فجزاهم اللَّه عنَّا خيرًا، وحتى لا تتشتَّت الأذهان في معرفة هذا النوع من علم الحديث الشريف، قسَّمْته إلى خمسة فصول:الفصل الأول: مصنفات خاصة بالرواة الثقات.الفصل الثاني: مصنفات خاصة بالرواة الضعفاء.الفصل الثالث: مصنفات خاصة بكل من الثقات والضعفاء.الفصل الرابع: مصنفات خاصة برواة كتب معينة، كالكتب الستة، وما شابهها.الفصل الخامس: مصنفات خاصة بمعاجم الشيوخ. الفصل الأول: في ذكر أسماء المصنفات الخاصة بالرواة الثقات:1 - كتاب "تاريخ الثقات"، للإمام أحمد بن عبد اللَّه بن صالح العجلي، المتوفى عام (261 هـ)، مطبوع في مجلد.2 - كتاب "الثقات" للإمام محمد بن حبان البستي، المتوفى عام (354 هـ)، مطبوع في
আনুমানিক ১৫০ হিজরির দিকে তাবেঈদের যুগে একদল বিশেষজ্ঞ মনীষী বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্যতা এবং দুর্বলতা নিয়ে আলোচনা করেছেন, যেমন আ'মাশ, শু'বাহ বিন হাজ্জাজ এবং মালিক বিন আনাস। সপ্তম: জারহ ও তা’দীল বিষয়ক গ্রন্থাবলির প্রকারভেদযেহেতু হাদিসের সহিহ বা যয়িফ হওয়ার বিধান কয়েকটি বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল, যার মধ্যে রয়েছে: বর্ণনাকারীদের ন্যায়পরায়ণতা ও হেফজশক্তি, অথবা তাদের ন্যায়পরায়ণতা ও হেফজশক্তির সমালোচনা; তাই উলামায়ে কেরাম এমন সব গ্রন্থ রচনা করেছেন যাতে নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত ইমামদের থেকে বর্ণিত বর্ণনাকারীদের ন্যায়পরায়ণতা ও হেফজশক্তির বিবরণ রয়েছে, আর একেই বলা হয় (তা’দীল)। ঠিক যেমন ঐসব গ্রন্থে বর্ণনাকারীদের ন্যায়পরায়ণতা বা হেফজ ও মুখস্থশক্তির ওপর আরোপিত আপত্তিসমূহও পক্ষপাতহীন ইমামদের থেকে বর্ণিত হয়েছে, আর একেই বলা হয় (জারহ)। এখান থেকেই এই কিতাবগুলোকে 'জারহ ও তা’দীল'-এর কিতাব বলা হয়।এই গ্রন্থগুলো সংখ্যায় অনেক এবং বৈচিত্র্যপূর্ণ। তার মধ্যে কিছু গ্রন্থ কেবল নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের বিবরণের জন্য নিবেদিত, কিছু গ্রন্থ কেবল দুর্বল ও সমালোচিত বর্ণনাকারীদের বিবরণের জন্য নিবেদিত, আবার কিছু গ্রন্থ নির্ভরযোগ্য ও দুর্বল উভয় প্রকার বর্ণনাকারীদের বিবরণের জন্য নিবেদিত। অন্যদিকে, এই কিতাবগুলোর মধ্যে কিছু সাধারণভাবে হাদিসের বর্ণনাকারীদের আলোচনার জন্য রচিত, কোনো বিশেষ হাদিসগ্রন্থ বা গ্রন্থসমূহের বর্ণনাকারীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আবার কিছু গ্রন্থ নির্দিষ্ট কোনো হাদিসগ্রন্থ বা কতিপয় বিশেষ হাদিসগ্রন্থের বর্ণনাকারীদের জীবনী আলোচনার জন্য নির্দিষ্ট।জারহ ও তা’দীল শাস্ত্রের পণ্ডিতদের এই গ্রন্থসমূহ সংকলনের কাজ একটি চমৎকার, গুরুত্বপূর্ণ ও বিশাল কর্ম হিসেবে বিবেচিত। কেননা তারা সকল হাদিস বর্ণনাকারীর জীবনীর নিখুঁত বিশ্লেষণ করেছেন এবং প্রথমত তাদের সম্পর্কে জারহ বা তা’দীল বর্ণনা করেছেন, এরপর তারা কার নিকট থেকে হাদিস গ্রহণ করেছেন এবং তাদের নিকট থেকে কে হাদিস গ্রহণ করেছেন, তারা কোথায় সফর করেছেন, কখন তারা বিভিন্ন শায়খদের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন—এসব বিষয় এবং তাদের জীবনকাল নির্ধারণের মতো বিষয়গুলো এমন নিপুণভাবে করেছেন যা আগে কখনো সম্ভব হয়নি। এমনকি বর্তমান যুগের আধুনিক জাতিগুলোও বর্ণনাকারীদের জীবনী ও হাদিস বর্ণনাকারীদের ওপর এই বিশাল বিশ্বকোষসমূহ রচনার ক্ষেত্রে মুহাদ্দিসগণের কাজের ধারের কাছেও পৌঁছাতে পারেনি। এভাবে তারা যুগ যুগ ধরে হাদিস বর্ণনাকারী ও বাহকদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় সংরক্ষণ করেছেন। আল্লাহ আমাদের পক্ষ থেকে তাদের উত্তম প্রতিদান দান করুন। ইলমে হাদিসের এই শাখাটি সম্পর্কে জ্ঞান লাভে যেন কোনো বিভ্রান্তি সৃষ্টি না হয়, তাই আমি একে পাঁচটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত করেছি:প্রথম পরিচ্ছেদ: নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের জন্য নির্দিষ্ট গ্রন্থাবলি।দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: দুর্বল বর্ণনাকারীদের জন্য নির্দিষ্ট গ্রন্থাবলি।তৃতীয় পরিচ্ছেদ: নির্ভরযোগ্য ও দুর্বল উভয় প্রকার বর্ণনাকারীদের জন্য নির্দিষ্ট গ্রন্থাবলি।চতুর্থ পরিচ্ছেদ: নির্দিষ্ট হাদিসগ্রন্থের (যেমন কুতুবে সিত্তা বা এই জাতীয়) বর্ণনাকারীদের জন্য নির্দিষ্ট গ্রন্থাবলি।পঞ্চম পরিচ্ছেদ: শায়খদের অভিধান (মু’জাম) বিষয়ক গ্রন্থাবলি। প্রথম পরিচ্ছেদ: নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের জন্য নির্দিষ্ট গ্রন্থাবলির বিবরণ:১ - ইমাম আহমদ বিন আবদুল্লাহ বিন সালেহ আল-ইজলি (মৃত্যু ২৬১ হিজরি) রচিত কিতাব "তারিখুস সিকাত", এটি এক খণ্ডে মুদ্রিত।২ - ইমাম মুহাম্মদ বিন হিব্বান আল-বুস্তি (মৃত্যু ৩৫৪ হিজরি) রচিত কিতাব "আস-সিকাত", এটি মুদ্রিত।
(খণ্ড: ١)
ইকমালু তাহযিবিল কামাল - ত আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٨)
تسعة مجلدات، وهو متساهل جدًّا في توثيق الرواة، على ما سنُبيِّن ذلك فى دروسنا الخاصة بمناهج الأئمة في مصنفاتهم الحديثية، إن شاء اللَّه تعالى.3 - كتاب "مشاهير علماء الأمصار" لابن حبان أيضًا، مطبوع في مجلد، وهو خاص بمشاهير الرواة الثقات، فبدأ بذكر الصحابة رضي الله عنهم أجمعين، ثم تلاهم بمشاهير الرواة من التابعين، ثم أتباع التابعين فقط، وقسَّم كل طبقة على البلدان، مرتبًا إياهم على حروف الهجاء.4 - كتاب "تاريخ أسماء الثقات ممَّن نُقل عنهم العلم" للإمام أبي حفص عمر بن أحمد، المعروف بـ (ابن شاهين)، المتوفى عام (385 هـ)، وهو في كتابه هذا يكثر نقل أقوال الأئمة في توثيقهم للرواة، ولا سيما عن الإمام ابن معين، رحمه اللَّه تعالى.5 - كتاب "رجال صحيح مسلم" للإمام أحمد بن علي المشهور بـ (ابن منجويه)، المتوفى عام (428 هـ)، وسأعيد ذكر هذا الكتاب في النوع الرابع، إن شاء اللَّه تعالى، حيث إنه خاص به، ولكنِّي ذكرته هاهنا، من أجل احتوائه رجال مسلم الغالب عليهم التوثيق، وكذلك الحال في الكتاب الآتي ذكره.6 - كتاب "أسامي من روى عنهم محمد بن إسماعيل البخاري من مشايخه الذين ذكرهم في جامعه الصحيح" للإمام أبي أحمد عبد اللَّه بن عدي الجرجاني، المتوفى عام (365 هـ). الفصل الثاني: في ذكر أسماء المصنفات الخاصة بالرواة الضعفاء:1 - كتاب "الضعفاء والمتروكين" للإمام أبي عبد الرحمن أحمد بن شعيب النسائي، صاحب "السنن"، المتوفى عام (303 هـ)، وهو مطبوع في مجلد.2 - "الضعفاء" للحافظ أبي زرعة الرازي، رواية البوذعي عنه.3 - "الكامل في ضعفاء الرجال" للإمام أبي أحمد عبد اللَّه بن عدي الجرجاني، المتوفى عام (365 هـ)، وهو من أفضل المصنفات في هذا الشأن، وهو مطبوع في ثمان مجلدات.4 - "الضعفاء والمتروكون" للإمام أبي الحسن علي بن عمر الدارقطني، المتوفى عام (385 هـ)، وهو مطبوع في مجلد.5 - "الضعفاء الكبير" للإمام أبي جعفر عمرو بن موسى بن حماد العقيلي، المتوفى عام (322 هـ)، وهو مطبوع في أربع مجلدات.6 - "المجروحين" للإمام ابن حبان البستي، وهو مطبوع في ثلاث مجلدات.7 - "تعليقات الدارقطني على المجروحين لابن حبان البستي"، وهو عبارة عن استدراكات للإمام الدارقطني على شيخه ابن حبان، وهو مطبوع في مجلد.8 - "الضعفاء والمنسوبون إلى البدعة من المحدثين والعلل" للإمام أبي يحيى زكريا بن
এটি নয় খণ্ডবিশিষ্ট, আর বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্যতা প্রমাণের (তওসিক) ক্ষেত্রে তিনি অত্যন্ত শিথিল, যেমনটি ইনশাআল্লাহ তাআলা ইমামগণের হাদীস বিষয়ক গ্রন্থসমূহের মানহাজ (পদ্ধতি) সংক্রান্ত আমাদের বিশেষ পাঠগুলোতে বর্ণনা করব।৩ - ইবন হিব্বানের ‘মাশাহীরু উলামাউল আমসার’ গ্রন্থটিও এই শ্রেণির, যা এক খণ্ডে মুদ্রিত। এটি বিশেষভাবে প্রসিদ্ধ নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের জন্য নিবেদিত। তিনি সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম আজমাঈন)-দের বর্ণনার মাধ্যমে গ্রন্থটি শুরু করেছেন, এরপর তাবিঈনদের মধ্য থেকে যারা প্রসিদ্ধ বর্ণনাকারী এবং এরপর শুধুমাত্র তাবে-তাবিঈনদের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি প্রতিটি স্তরকে (তবাকা) জনপদ বা শহরের ভিত্তিতে ভাগ করেছেন এবং সেগুলো বর্ণানুক্রমে সাজিয়েছেন।৪ - ইমাম আবূ হাফস উমর ইবন আহমদ, যিনি (ইবন শাহীন) নামে পরিচিত (মৃত্যু ৩৮৫ হিজরী), তাঁর রচিত ‘তারীখু আসমাইস সিকাত মিম্মান নুকিলা আনহুমুল ইলম’ গ্রন্থটি। তিনি এই গ্রন্থে বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্যতা বিষয়ে ইমামগণের বক্তব্য, বিশেষ করে ইমাম ইবন মাঈন (রাহিমাহুল্লাহু তাআলা) থেকে প্রচুর পরিমাণে উদ্ধৃত করেছেন।৫ - ইমাম আহমদ ইবন আলী, যিনি (ইবন মানজুওয়াইহ) নামে পরিচিত (মৃত্যু ৪২৮ হিজরী), তাঁর রচিত ‘রিজালু সহীহ মুসলিম’ গ্রন্থটি। ইনশাআল্লাহ তাআলা চতুর্থ প্রকারে আমি পুনরায় এই কিতাবটির কথা উল্লেখ করব, যেহেতু এটি সেই বিষয়ের সাথে বিশেষভাবে সংশ্লিষ্ট। তবে আমি এখানে এর উল্লেখ করেছি কারণ এতে সহীহ মুসলিমের বর্ণনাকারীদের জীবনী স্থান পেয়েছে যাদের অধিকাংশকেই নির্ভরযোগ্য হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। পরবর্তী কিতাবটির ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।৬ - ইমাম আবূ আহমদ আব্দুল্লাহ ইবন আদী আল-জুরজানী (মৃত্যু ৩৬৫ হিজরী) রচিত ‘আসামী মান রাওয়া আনহুম মুহাম্মাদ ইবন ইসমাইল আল-বুখারী মিন মাশায়েখিহিল্লাযীনা যাকারাহুম ফী জামিইহিস সহীহ’ গ্রন্থটি। দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: দুর্বল বর্ণনাকারীদের জন্য নিবেদিত গ্রন্থসমূহের আলোচনা:১ - ‘সুনান’ গ্রন্থের রচয়িতা ইমাম আবূ আব্দুর রহমান আহমদ ইবন শুআইব আন-নাসায়ী (মৃত্যু ৩০৩ হিজরী) রচিত ‘আয-যুয়াফা ওয়াল মাত্রূকীন’ গ্রন্থটি, যা এক খণ্ডে মুদ্রিত।২ - হাফেয আবূ যুরআ আর-রাযী রচিত ‘আয-যুয়াফা’, যা তাঁর থেকে আল-বূযাঈ বর্ণনা করেছেন।৩ - ইমাম আবূ আহমদ আব্দুল্লাহ ইবন আদী আল-জুরজানী (মৃত্যু ৩৬৫ হিজরী) রচিত ‘আল-কামিল ফী যুয়াফাইর রিজাল’ গ্রন্থটি। এটি এই বিষয়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ এবং এটি আট খণ্ডে মুদ্রিত।৪ - ইমাম আবূল হাসান আলী ইবন উমর আদ-দারাকুতনী (মৃত্যু ৩৮৫ হিজরী) রচিত ‘আয-যুয়াফা ওয়াল মাত্রূকীন’, যা এক খণ্ডে মুদ্রিত।৫ - ইমাম আবূ জাফর আমরু ইবন মূসা ইবন হাম্মাদ আল-উকাইলী (মৃত্যু ৩২২ হিজরী) রচিত ‘আয-যুয়াফাউল কাবীর’, যা চার খণ্ডে মুদ্রিত।৬ - ইমাম ইবন হিব্বান আল-বুস্তী রচিত ‘আল-মাজরূহীন’, যা তিন খণ্ডে মুদ্রিত।৭ - ‘তালীকাতুদ দারাকুতনী আলাল মাজরূহীন লি-ইবন হিব্বান আল-বুস্তী’। এটি মূলত ইমাম দারাকুতনী কর্তৃক তাঁর উস্তাদ ইবন হিব্বানের গ্রন্থের ওপর কিছু সংশোধনী ও সংযোজন (ইসতিদরাকাত), যা এক খণ্ডে মুদ্রিত।৮ - ইমাম আবূ ইয়াহইয়া যাকারিয়া ইবন... রচিত ‘আয-যুয়াফা ওয়াল মানসুবূনা ইলাল বিদাতি মিনাল মুহাদ্দিসীনা ওয়াল ইলাল’।
(খণ্ড: ١)
ইকমালু তাহযিবিল কামাল - ত আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٩)
يحيى بن عبد الرحمن الساجي، المتوفى عام (307 هـ)، إلا أن هذا الكتاب مفقود، ولكن توجد منه بعض النقولات الهامة، وهي ملحقة بكتاب "تعليقات الدارقطني" المذكور آنفًا.9 - "الضعفاء" للإمام أبي الفرج ابن الجوزي، المتوفى عام (597 هـ).10 - "ميزان الاعتدال" للإمام شمس الدين الذهبي، المتوفى عام (748 هـ).11 - "المُغني في الضعفاء" للذهبي، وهو مطبوع في مجلديْن.12 - "ديوان الضعفاء" للذهبي، وهو مطبوع في مجلد، وهو يُعد اختصارًا لـ "المغني".13 - "ذيل ديوان الضعفاء" للذهبي.14 - "ذيل على ميزان الاعتدال" للحافظ العراقي، المتوفى عام (804 هـ).15 - "لسان الميزان" للحافظ ابن حجر العسقلاني، المتوفى عام (852 هـ)، وهو كتاب استدرك فيه الحافظ ابن حجر ما فات الحافظان: الذهبي والعراقي في كتابيهما، إلا أن الحافظ ابن حجر اقتصر فيه على الرواة الضعفاء غير المذكورين في "التهذيب"، يعني: الذين ليس لهم رواية في الكتب الستة، فلا يليق بالباحث أن يبحث عن راوٍ ما من رواة الكتب الستة في كتاب "لسان الميزان". الفصل الثالث: المصنفات الخاصة بالرواة الثقات والضعفاء:1 - " التاريخ الكبير" للإمام البخاري رحمه اللَّه تعالى، وهو أصل كتب الجرح والتعديل التي صُنفت بعده، حيث أن كل من صنف بعده في هذا الفن، أو غيره من الفنون كالكُنَى وما شابه ذلك، فإن كتاب التاريخ الكبير هو الأصل المُعتمد عليه، ومن أمثلة ذلك: كتاب "الجرح والتعديل" لابن أبي حاتم، و"الكنى" لكل من الإمام مسلم، وأبي أحمد الحاكم، والدولابي، وغيرهم. ويمتاز كتاب "التاريخ الكبير" بكثير من الإشارات الحديثية الغامضة، والتي لا يستطيع الاستفادة منها إلا المتمرس لهذا العلم الشريف.2 - "التاريخ الأوسط" للإمام البخاري، وهو يُعد بمثابة اختصار لـ "تاريخه الكبير".3 - "الجرح والتعديل" للإمام أبي محمد عبد الرحمن ابن أبي حاتم محمد بن إديس بن المنذر الحنظلي الرازي، المتوفى عام (327 هـ)، وهو من أشمل الكتب وأنفعها في هذا الفن الشريف، من حيث كثرة عدد الرواة المترجمين فيه، وأغلبهم متكلَّم فيهم بما يليق بحالهم من الجرح والتعديل، وأَكْثَر ابن أبي حاتم رحمه اللَّه تعالى، نقل أقوال كبار أئمة هذا الشأن، كأمثال: والده أبي حاتم، وخاله أبي زرعة، الرازييْن، حيث كان يسألهما عن كل راوٍ راوٍ مشافهة، وما رواه بإسناده عن الكبار، مثل: الإمام أحمد، وابن المديني، وابن معين، وغيرهم الكثير.4 - "التاريخ وأسماء المحدثين وكناهم" لأبي عبد اللَّه محمد بن أحمد بن محمد بن أبي بكر المقدمي، المتوفى عام (301 هـ).
ইয়াহইয়া ইবনে আবদুর রহমান আস-সাজি, যিনি ৩০৭ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন; তবে এই বইটি বর্তমানে বিলুপ্ত, কিন্তু এখান থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি পাওয়া যায়, যা ইতিপূর্বে উল্লিখিত "তালিকাত আদ-দারা কুতনি" বইটির সাথে সংযুক্ত রয়েছে।৯ - ইমাম আবুল ফারাজ ইবনুল জাওযী (মৃত্যু ৫৯৭ হিজরি) রচিত "আদ-দুয়াফা"।১০ - ইমাম শামসুদ্দিন আজ-জাহাবি (মৃত্যু ৭৪৮ হিজরি) রচিত "মিযানুল ইতিদাল"।১১ - আজ-জাহাবি রচিত "আল-মুগনি ফিজ দুয়াফা", এটি দুই খণ্ডে মুদ্রিত।১২ - আজ-জাহাবি রচিত "দিওয়ানু দুয়াফা", এটি এক খণ্ডে মুদ্রিত এবং এটি "আল-মুগনি"র সংক্ষিপ্তসার হিসেবে বিবেচিত।১৩ - আজ-জাহাবি রচিত "যাইল দিওয়ানিদ দুয়াফা"।১৪ - হাফেজ আল-ইরাকি (মৃত্যু ৮০৪ হিজরি) রচিত "যাইল আলা মিযানিল ইতিদাল"।১৫ - হাফেজ ইবনে হাজার আল-আসকালানি (মৃত্যু ৮৫২ হিজরি) রচিত "লিসানুল মিযান"। এটি এমন একটি বই যেখানে হাফেজ ইবনে হাজার সেই সমস্ত রাবিদের (বর্ণনাকারীদের) সংযোজন করেছেন যা দুই হাফেজ: আজ-জাহাবি এবং আল-ইরাকি তাদের কিতাবদ্বয়ে বাদ দিয়েছিলেন। তবে হাফেজ ইবনে হাজার এখানে শুধুমাত্র সেই দুর্বল বর্ণনাকারীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছেন যাদের নাম "আত-তাহযিব" কিতাবে উল্লিখিত হয়নি; অর্থাৎ যাদের বর্ণনা "কুতুবে সিত্তা" বা প্রসিদ্ধ ছয়টি হাদিস গ্রন্থে নেই। সুতরাং গবেষকদের জন্য লিসানুল মিযান কিতাবে কুতুবে সিত্তার কোনো বর্ণনাকারীকে খোঁজা সমীচীন নয়। তৃতীয় পরিচ্ছেদ: নির্ভরযোগ্য এবং দুর্বল বর্ণনাকারী সংক্রান্ত বিশেষ রচনাবলি:১ - ইমাম বুখারি (রহিমাহুল্লাহু তাআলা) রচিত "আত-তারিখুল কাবির"। এটি 'জারহ ও তাদিল' (বর্ণনাকারীদের সমালোচনা ও মূল্যায়ন) শাস্ত্রের কিতাবসমূহের মূল ভিত্তি যা তাঁর পরে রচিত হয়েছে। কেননা, তাঁর পরে এই শিল্পে বা অন্য কোনো শিল্পে (যেমন: কুনিয়া বা সমজাতীয় বিষয়) যারা কিতাব রচনা করেছেন, তাদের জন্য "আত-তারিখুল কাবির" কিতাবটিই নির্ভরযোগ্য মূল ভিত্তি ছিল। এর উদাহরণ হলো: ইবনে আবি হাতিম রচিত "আল-জারহ ওয়াত তাদিল", ইমাম মুসলিম, আবু আহমদ আল-হাকিম ও আদ-দুলাবি প্রমুখের রচিত "আল-কুনা" গ্রন্থসমূহ। "আত-তারিখুল কাবির" গ্রন্থটি হাদিস শাস্ত্রের অনেক সূক্ষ্ম ইশারার কারণে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত, যেখান থেকে এই মহৎ ইলমে পারদর্শী ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কেউ উপকৃত হতে পারে না।২ - ইমাম বুখারি রচিত "আত-তারিখুল আওসাত", যা মূলত তাঁর "তারিখুল কাবির"-এর সংক্ষিপ্তসার হিসেবে গণ্য।৩ - ইমাম আবু মুহাম্মদ আবদুর রহমান ইবনে আবি হাতিম মুহাম্মদ ইবনে ইদ্রিস ইবনুল মুনযির আল-হানজালি আর-রাজি (মৃত্যু ৩২৭ হিজরি) রচিত "আল-জারহ ওয়াত তাদিল"। বর্ণনাকারীদের জীবনী বর্ণনার আধিক্যের দিক থেকে এটি এই মহৎ শিল্পের অন্যতম পূর্ণাঙ্গ ও উপকারী কিতাব। এর অধিকাংশ বর্ণনাকারীদের জারহ ও তাদিল (ত্রুটি ও গুণাবলি) সম্পর্কে তাদের অবস্থা অনুযায়ী আলোচনা করা হয়েছে। ইবনে আবি হাতিম (রহিমাহুল্লাহু তাআলা) এই শাস্ত্রের বড় বড় ইমামদের উক্তি অধিক পরিমাণে নকল করেছেন, যেমন: তাঁর পিতা আবু হাতিম এবং তাঁর মামা আবু যুরআ আর-রাজি। তিনি তাদের নিকট থেকে প্রতিটি বর্ণনাকারী সম্পর্কে মৌখিকভাবে জিজ্ঞাসা করতেন। এছাড়াও তিনি ইমাম আহমদ, ইবনুল মাদিনি, ইবনে মাঈন এবং আরও অনেকের নিকট থেকে সনদসহ যা বর্ণনা করেছেন তা এখানে উল্লেখ করেছেন।৪ - আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবি বকর আল-মুকাদ্দামি (মৃত্যু ৩০১ হিজরি) রচিত "আত-তারিখ ওয়া আসমাউল মুহাদ্দিসিনা ওয়া কুনা হুম"।
(খণ্ড: ١)
ইকমালু তাহযিবিল কামাল - ত আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
5 - "الإرشاد في معرفة علماء الحديث" للحافظ أبي يعلى الخليل بن عبد اللَّه الخليلي القزويني، المتوفى عام (446 هـ).6 - "السؤالات الواردة عن الإمام أحمد بن حنبل" رحمه اللَّه تعالى، من رواية كل من: ابنه عبد اللَّه، المسماه بـ "العلل ومعرفة الرجال"، وكذلك من رواية المروذي المسماه بـ "العلل ومعرفة الرجال" أيضًا، وكذلك "سؤالات أبى داود" عنه.7 - "السؤالات الواردة عن الإمام يحيى بن معين" رحمه اللَّه تعالى، وذلك برواية كل من: عباس الدوري، وابن الجنيد، وعثمان بن سعيد الدارمي، وأبي خالد الدقاق يزيد بن الهيثم، وابن محرز، وغيرها الكثير.8 - "سؤالات محمد ابن أبي شيبة عن علي بن المديني".9 - "السؤالات الواردة عن الإمام الدارقطني" رحمه اللَّه تعالى، ومنها: سؤالات الحاكم أبي عبد اللَّه صاحب "المستدرك"، وحمزة بن يوسف السهمي، وعبد الرحمن السلمي الصوفي المتكلم، وأبي بكر البرقاني، وأبي عبد اللَّه بن بكير، وغيرهم.10 - "سؤالات مسعود بن علي السجزي" عن الحافظ أبي عبد اللَّه بن البيع النيسابوري صاحب "المستدرك". الفصل الرابع: مصنفات خاصة برواة كُتب مُعيّنة:اعتنى كثير من الأئمة بتأليف مصنفات خاصة تهتم برواة مشاهير دواوين الإسلام، كالكتب الستة، و"موطأ الإمام مالك"، و"مسند الإمام أحمد"، و"مسند الإمام الشافعي"، والمسند الذي خرَّجه الحسين بن محمد بن خسرو، المتوفى عام (522 هـ) من حديث الإمام أبي حنيفة النعمان، وغير ذلك الكثير.ونُبيِّن في هذا الفصل -إن شاء اللَّه تعالى- أهم هذه المصنفات، وقد قسَّمته إلى مبحثيْن:المبحث الأول: في ذكر المصنفات التي اهتمت بكتب الأئمة الستة: البخاري، ومسلم، وأبي داود، والترمذي، والنسائي، وابن ماجه.المبحث الثاني: في ذكر المصنفات التي اهتمت بكتب الأئمة الأربعة، رضي الله عنهم أجمعين. المبحث الأول: في ذكر المصنفات التي اهتمت برواة الأئمة الستة:ولما كانت الكتب الستة هي أشهر هذه الدواوين على الإطلاق، كان من نتيجته أن حازت على أكبر قدر من المصنفات المهتمة بتراجم رواتها.فبدأت العناية تتَّجه -أولا- إلى "الصحيحيْن"، حيث جمع أبو عبد اللَّه النيسابوري، ومن بعده أبو الفضل ابن طاهر، رجال "الصحيحين". ثم جمع أبو نصر الكلاباذي، وأبو
৫ - হাফেজ আবু ইয়ালা আল-খালিল ইবনে আব্দুল্লাহ আল-খালিলি আল-কাযউইনি (মৃত্যু: ৪৪৬ হিজরি) রচিত "আল-ইরশাদ ফি মা'রিফাতি উলামাউিল হাদিস"।৬ - ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (রহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত "আস-সুয়ালাত" (প্রশ্নাবলি), যার বর্ণনাকারীগণ হলেন: তাঁর পুত্র আব্দুল্লাহ (যাঁর সংকলনটি "আল-ইলাল ওয়া মা'রিফাতুর রিজাল" নামে পরিচিত), আল-মারুযি (যাঁর সংকলনটিও "আল-ইলাল ওয়া মা'রিফাতুর রিজাল" নামে পরিচিত) এবং ইমাম আবু দাউদ কর্তৃক বর্ণিত তাঁর প্রশ্নাবলি।৭ - ইমাম ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন (রহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত "আস-সুয়ালাত", যা বর্ণনা করেছেন: আব্বাস আদ-দুরি, ইবনুল জুনায়েদ, উসমান ইবনে সাইদ আদ-দারিমি, আবু খালিদ আদ-দাক্কাক ইয়াযিদ ইবনুল হায়সাম, ইবনে মুহরিয এবং আরও অনেকে।৮ - আলি ইবনুল মাদিনি সম্পর্কে মুহাম্মদ ইবনে আবি শায়বার প্রশ্নাবলি।৯ - ইমাম আদ-দারাকুতনি (রহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত "আস-সুয়ালাত", যার অন্তর্ভুক্ত হলো: "আল-মুস্তাদরাক" এর লেখক আল-হাকিম আবু আব্দুল্লাহর প্রশ্নাবলি, হামজা ইবনে ইউসুফ আস-সাহমি, আব্দুর রহমান আস-সুলামি আস-সুফি আল-মুতাকাল্লিম, আবু বকর আল-বারকানি, আবু আব্দুল্লাহ ইবনে বুকাইর এবং অন্যান্যদের প্রশ্নাবলি।১০ - "আল-মুস্তাদরাক" এর লেখক হাফেজ আবু আব্দুল্লাহ ইবনে আল-বায়্যি আন-নিসাবুরি সম্পর্কে মাসউদ ইবনে আলি আস-সিজযির প্রশ্নাবলি। চতুর্থ অধ্যায়: নির্দিষ্ট কিতাবসমূহের বর্ণনাকারীদের ওপর রচিত গ্রন্থাবলি:অনেক ইমাম ইসলামের প্রসিদ্ধ হাদীস সংকলনসমূহের বর্ণনাকারীদের বিষয়ে বিশেষ কিতাব রচনার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন, যেমন: কুতুবে সিত্তা (ছয়টি কিতাব), "মুয়াত্তা ইমাম মালিক", "মুসনাদে ইমাম আহমাদ", "মুসনাদে ইমাম শাফেয়ী", এবং ৫২২ হিজরিতে ইন্তেকালকারী হুসাইন বিন মুহাম্মদ বিন খুসরু কর্তৃক সংকলিত ইমাম আবু হানিফা আন-নু'মানের হাদীসের মুসনাদসহ আরও অনেক কিতাব।ইনশাআল্লাহ তাআলা, আমরা এই অধ্যায়ে এই জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থগুলো সম্পর্কে বর্ণনা করব। আমি একে দুটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত করেছি:প্রথম পরিচ্ছেদ: ছয় ইমামের কিতাবসমূহের (বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযি, নাসাঈ এবং ইবনে মাজাহ) প্রতি গুরুত্বারোপকারী গ্রন্থাবলির আলোচনা।দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: চার ইমামের (আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) কিতাবসমূহের প্রতি গুরুত্বারোপকারী গ্রন্থাবলির আলোচনা। প্রথম পরিচ্ছেদ: ছয় ইমামের বর্ণনাকারীদের প্রতি গুরুত্বারোপকারী গ্রন্থাবলির আলোচনা:যেহেতু কুতুবে সিত্তা বা ছয়টি কিতাব সর্বাপেক্ষা প্রসিদ্ধ হাদীস সংকলন, এর ফলে এগুলোর বর্ণনাকারীদের জীবনী সংক্রান্ত কিতাবের সংখ্যাও সর্বাধিক।তাই প্রথমে "সহীহাইন" (বুখারি ও মুসলিম) এর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদান শুরু হয়, যেখানে আবু আব্দুল্লাহ আন-নিসাবুরি এবং তাঁর পরে আবু ফজল ইবনে তাহের "সহীহাইন" এর বর্ণনাকারীদের (রিজাল) একত্র করেন। এরপর আবু নাসর আল-কালাবাদি এবং আবু...
(খণ্ড: ١)
ইকমালু তাহযিবিল কামাল - ত আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٢١)
الوليد الباجي، رجال البخاري. وأما أبو بكر ابن منجويه فقد أفرد رجال مسلم في تصنيف خاص، ثم تلاهم بعض المغاربة بجمع رجال "الصحيحين"، وأبي داود، والترمذي، في مُصنَّف مستقلّ سماه "الزهرة"، ولم أر من ذكر اسم هذا المؤلف، ولا سيما الأئمة الذين يكثرون النقل عنه، كالعلامة مغلطاي في كتابه "الإكمال"، والحافظ ابن حجر في "التهذيب"، وغيره. ثم أخذت التصانيف تتوالى حول هذه الكتب الستة، ويمكن لنا أن نلخصها بالترتيب فيما يأتي:1 - كتاب "المعجم المشتمل على ذكر أسماء شيوخ الأئمة النبل"، تأليف الحافظ أبي القاسم علي بن الحسن بن هبة اللَّه الشافعي، المعروف بـ (ابن عساكر)، المتوفى عام (571 هـ)، وهو جزأ واحد مطبوع، وكان من منهج الحافظ ابن عساكر في كتابه هذا ما يلي:أ - اقتصر فيه مؤلفه على شيوخ أصحاب الستة دون الرواة الآخرين.ب - رتب كتابه على الحروف المشرقية، وابتدأ كتابه بمن اسمه أحمد.ت- أورد التراجم على سبيل الاختصار، حيث ذكر اسم المترجم ونسبته، ثم من روى عنه من أصحاب الكتب الستة، ثم يتكلم على كثير منهم بما يليق بحالهم من العدالة، وأتبع ذلك بتاريخ وفاته إن وقع له. وأشار في نهاية الترجمة فيما إذا وقع له من حديثه ما كان موافقة، أو ما شابه ذلك من رتب العلو في الرواية.ث- ثم استعمل لأصحاب الستة علامات تدل عليهم، وهي: (خ): للبخاري، (م): لمسلم، (د): لأبي داود، (ت): للترمذي، (ن): للنسائي، (ق): لابن ماجه.2 - كتاب "الكمال في أسماء الرجال" للحافظ أبي محمد عبد الغني بن عبد الواحد المقدسي الجماعيلي الحنبلي، المتوفى عام (600 هـ)، وتناول فيه جُلّ رواة الكتب الستة.وإذا كان الحافظ ابن عساكر هو من أَلَّف في شيوخ أصحاب الكتب الستة، فإن الحافظ عبد الغني هو أول من ألف في رواة الكتب الستة، حيث لم يقتصر على شيوخهم، بل تناول جميع الرواة المذكورين في هذه الكتب، من الصحابة، والتابعين، وأتباعهم، إلى أصحاب الكتب الستة نفسها. ولما كان كتابه هذا هو النواة الأولى لِمَا تلاه من كتب اهتمت بهذا الشأن، حيث لم يسبقه غيره في هذا المضمار، وقعت فيه بعض الأوهام والاستدراكات، ويمكن لنا أن نلخصها فيما يأتي:أ - عدم استقصائه لجميع رواة الكتب الستة.ب - عدم استيفائه لأقوال أئمة الجرح والتعديل في الراوي المترجم له.ت- أوهامه في إيراده لتراجم من ليس على شرط الكتب الستة، فيترجم لهم على أنهم من رواه الكتب الستة.3 - كتاب "تهذيب الكمال في أسماء الرجال" للإمام الحافظ جمال الدين أبي الحجاج
আল-ওয়ালিদ আল-বাজি, রিজালুল বুখারি। আর আবু বকর ইবন মানজুওয়াইহ মুসলিমের রাবিদের (রিজাল) জন্য পৃথক একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন। এরপর কিছু মাগরিবি আলেম 'সহীহাইন', আবু দাউদ ও তিরমিজির রাবিদের একত্রিত করে একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ সংকলন করেন যার নাম দেন 'আয-যাহরাহ'। আমি এমন কাউকে দেখিনি যিনি এই লেখকের নাম উল্লেখ করেছেন, বিশেষ করে সেই ইমামগণ যারা তাঁর থেকে প্রচুর উদ্ধৃতি দেন, যেমন আল্লামা মুগলতাই তাঁর 'আল-ইকমাল' গ্রন্থে এবং হাফেজ ইবন হাজার 'আত-তাহজিব' ও অন্যান্য গ্রন্থে। এরপর এই ছয়টি কিতাবকে কেন্দ্র করে একের পর এক গ্রন্থ রচিত হতে থাকে। আমরা ক্রমানুসারে সেগুলোর সারসংক্ষেপ নিচে তুলে ধরতে পারি:১ - 'আল-মুজামুল মুশতামিল আলা যিকর আসমাই শুয়ুখিল আইম্মাতিন নুবল' কিতাব, এটি হাফেজ আবুল কাসিম আলি ইবনুল হাসান ইবনে হিবাতিল্লাহ আশ-শাফিয়ি-এর রচনা, যিনি (ইবনে আসাকির) নামে পরিচিত, মৃত্যু (৫৭১ হিজরি)। এটি এক খণ্ডে মুদ্রিত। হাফেজ ইবনে আসাকিরের এই কিতাবের পদ্ধতি ছিল নিম্নরূপ:অ - এতে লেখক কেবল ছয়জন ইমামের শিক্ষকদের (শুয়ুখ) আলোচনা সীমাবদ্ধ রেখেছেন, অন্য রাবিদের আলোচনা করেননি।আ - তিনি তাঁর কিতাবকে মাশরিকি (পূর্বাঞ্চলীয়) বর্ণমালার ক্রমে বিন্যস্ত করেছেন এবং যার নাম আহমদ তাকে দিয়ে কিতাব শুরু করেছেন।ই- তিনি জীবনীগুলো সংক্ষিপ্তভাবে উল্লেখ করেছেন, যেখানে জীবনচরিতের ব্যক্তির নাম ও বংশ পরিচয় উল্লেখ করেছেন, এরপর তাঁর থেকে কুতুবে সিত্তাহর লেখকদের মধ্যে যারা বর্ণনা করেছেন তাদের উল্লেখ করেছেন। এরপর তাদের অনেকের অবস্থা অনুযায়ী উপযুক্ত জারহ-তাদিলের আলোচনা করেছেন এবং তথ্য পেলে তাঁর মৃত্যুর তারিখও উল্লেখ করেছেন। জীবনীর শেষে তিনি এও ইঙ্গিত করেছেন যদি তাঁর বর্ণিত হাদিস থেকে এমন কিছু পাওয়া যায় যা মুওয়াফাকাত বা বর্ণনার ক্ষেত্রে উচ্চ পর্যায়ের সনদের (উলুউ) স্তরের অন্তর্ভুক্ত হয়।ঈ- এরপর তিনি কুতুবে সিত্তাহর লেখকদের জন্য কিছু সংকেত ব্যবহার করেছেন, সেগুলো হলো: (খ): বুখারির জন্য, (ম): মুসলিমের জন্য, (দ): আবু দাউদের জন্য, (ত): তিরমিজির জন্য, (ন): নাসাঈর জন্য, (ক): ইবনে মাজাহর জন্য।২ - হাফেজ আবু মুহাম্মদ আব্দুল গনি ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাকদিসি আল-জামাঈলি আল-হাম্বলি-এর কিতাব 'আল-কামাল ফি আসমাইর রিজাল', মৃত্যু (৬০০ হিজরি)। এতে তিনি কুতুবে সিত্তাহর প্রায় সকল রাবিকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন।হাফেজ ইবনে আসাকির যদি কুতুবে সিত্তাহর লেখকদের শিক্ষকদের নিয়ে গ্রন্থ রচনা করে থাকেন, তবে হাফেজ আব্দুল গনি হলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি কুতুবে সিত্তাহর রাবিদের নিয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন। কারণ তিনি কেবল তাদের শিক্ষকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং সাহাবি, তাবেয়ি, তবে-তাবেয়ি থেকে শুরু করে কুতুবে সিত্তাহর লেখক পর্যন্ত এই কিতাবগুলোতে বর্ণিত সকল রাবিকে এতে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। যেহেতু তাঁর এই কিতাবটি ছিল এই বিষয়ে পরবর্তী রচিত কিতাবগুলোর মূল ভিত্তি, কারণ এই ময়দানে তাঁর আগে কেউ অগ্রসর হননি, তাই এতে কিছু ভুল-ভ্রান্তি ও সংশোধনযোগ্য বিষয় রয়ে গেছে। আমরা সেগুলো নিচে সংক্ষেপে তুলে ধরতে পারি: অ - কুতুবে সিত্তাহর সকল রাবিকে সম্পূর্ণরূপে অনুসন্ধান না করা।আ - যে রাবির জীবনী উল্লেখ করা হয়েছে, তাঁর সম্পর্কে জারহ ও তাদিলের ইমামগণের বক্তব্য পরিপূর্ণভাবে উল্লেখ না করা।ই- এমন ব্যক্তিদের জীবনী উল্লেখ করার ক্ষেত্রে তাঁর ভ্রম বা ভুল হয়েছে যারা কুতুবে সিত্তাহর শর্তানুযায়ী রাবি নন, অথচ তিনি তাদের কুতুবে সিত্তাহর রাবি হিসেবে উল্লেখ করে জীবনী লিখেছেন।৩ - ইমাম হাফেজ জামালুদ্দিন আবুল হাজ্জাজ-এর 'তাহজিবুল কামাল ফি আসমাইর রিজাল' কিতাব।
(খণ্ড: ١)
ইকমালু তাহযিবিল কামাল - ত আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
يوسف المزي، المتوفى عام (742 هـ). ولما جاء الحافظ المزي رحمه اللَّه تعالى، ودرس كتاب "الكمال"، فوجد فيه هذا النقص والإخلال، وإغفال لكثير من الأسماء التي هي من شرطه، بلغت مئات عديدة، قرَّر تأليف كتاب جديد يستند في أُسسه على كتاب "الكمال" وسماه: "تهذيب الكمال"، وبلغت مُدة تصنيفه لهذا الكتاب ثلاثين عامًا تقريبًا.وقد يظن البعض أن كتاب "تهذيب الكمال" هو اختصار لكتاب "الكمال"، وكأنهم ربطوا بين كلمتي الاختصار والتهذيب، مع أن الأخيرة تدل في الأغلب على التنقية والإصلاح.والحق أن الإمام المزي قد تجاوز كتاب "الكمال" في كتابه هذا تجاوزًا، أصبح معه التناسب بينهما أمرًا بعيدًا، سواء أكان ذلك في المحتوى، أم التنظيم، أم الحجم، وإليك بيان ذلك على وجه الاختصار:تفضيل كتاب "تهذيب الكمال" للمزي على كتاب "الكمال" لعبد الغني، وقد استفدت في معظم المادة العلمية حول كتاب "التهذيب" وما تفرع عنه من مصنفات، من الدكتور/ بشار عواد في مقدمته لكتاب "تهذيب الكمال":ومن خلال هذا التفضيل سيَتبيَّن لك منهج الإمام المزي في كتابه "تهذيب الكمال":أولا: اقتصر كتاب "الكمال" على رواة الكتب الستة، فاستدرك المزي ما فات المؤلف من رواة هذه الكتب أولا، وهم كثرة، ودقَّق في الذين ذكرهم، فحذف بعض من هو ليس من شرطه، وهم قلة، ثم أضاف إلى كتابه الرواة الواردين في بعض ما اختاره من مؤلفات أصحاب الكتب الستة، وهي:للبخاريّ:1 - (كتاب القراءة خلف الإمام).2 - (كتاب رفع اليدين في الصلاة).3 - كتاب "الأدب المفرد".4 - كتاب "خلق أفعال العباد".5 - ما استشهد به في "الصحيح" تعليقًا.ولمسلم:6 - مقدمة كتابه "الصحيح".ولأبي داود:7 - كتاب "المراسيل".8 - كتاب "الرد على أهل القدر".9 - كتاب "الناسخ والمنسوخ".
ইউসুফ আল-মিযযী, যিনি ৭৪২ হিজরি সালে মৃত্যুবরণ করেন। যখন হাফিজ আল-মিযযী (রাহিমাহুল্লাহ তায়ালা) আগমন করলেন এবং 'আল-কামাল' গ্রন্থটি অধ্যয়ন করলেন, তখন তিনি এতে কিছু অপূর্ণতা ও ত্রুটি দেখতে পেলেন। এছাড়া অনেক নামের ব্যাপারে বিচ্যুতি লক্ষ্য করলেন যা এই গ্রন্থের শর্তানুযায়ী অন্তর্ভুক্ত হওয়া আবশ্যক ছিল এবং যার সংখ্যা ছিল কয়েক শত। তখন তিনি 'আল-কামাল' গ্রন্থের মূল ভিত্তির ওপর নির্ভর করে একটি নতুন গ্রন্থ রচনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন এবং এর নাম দেন: 'তাজীবুল কামাল'। এই গ্রন্থটি সংকলন করতে তাঁর সময় লেগেছিল প্রায় ত্রিশ বছর।কেউ কেউ হয়তো ধারণা করতে পারেন যে 'তাজীবুল কামাল' গ্রন্থটি 'আল-কামাল' গ্রন্থের একটি সংক্ষিপ্ত সার, যেন তারা 'সংক্ষিপ্তকরণ' এবং 'পরিমার্জন' (তাজীব) শব্দ দুটির মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করতে চেয়েছেন; যদিও শেষোক্ত শব্দটি সাধারণত পরিশোধন ও সংশোধনের অর্থ নির্দেশ করে।প্রকৃতপক্ষে ইমাম মিযযী তাঁর এই গ্রন্থে 'আল-কামাল'কে এতটাই অতিক্রম করে গেছেন যে, বিষয়বস্তু, বিন্যাস কিংবা কলেবর—কোনো দিক থেকেই এখন এই দুই গ্রন্থের মধ্যে তুলনা চলে না। নিচে সংক্ষেপে এর বিবরণ দেওয়া হলো:আবদুল গণীর 'আল-কামাল' গ্রন্থের ওপর মিযযীর 'তাজীবুল কামাল' গ্রন্থের শ্রেষ্ঠত্ব; 'তাজীব' গ্রন্থ এবং এর থেকে উদ্ভূত অন্যান্য গ্রন্থসমূহ সম্পর্কে অধিকাংশ বৈজ্ঞানিক তথ্য আমি ডক্টর বাশার আওয়াদ কর্তৃক 'তাজীবুল কামাল' গ্রন্থের জন্য লিখিত ভূমিকা থেকে গ্রহণ করেছি:এই শ্রেষ্ঠত্বের আলোচনার মাধ্যমেই আপনার কাছে ইমাম মিযযীর 'তাজীবুল কামাল' গ্রন্থের কর্মপদ্ধতি স্পষ্ট হয়ে উঠবে:প্রথমত: 'আল-কামাল' গ্রন্থটি কেবল কুতুবে সিত্তাহর বর্ণনাকারীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। ফলে মিযযী সর্বপ্রথম এই গ্রন্থগুলোর সেই সমস্ত বর্ণনাকারীদের বিচ্যুতি সংশোধন করেন যা মূল লেখক থেকে বাদ পড়ে গিয়েছিল, যাদের সংখ্যা ছিল অনেক। তিনি উল্লিখিত বর্ণনাকারীদের ব্যাপারে সূক্ষ্ম বিচার-বিশ্লেষণ করেন এবং যারা তাঁর শর্তের আওতাভুক্ত নয় তাদের বাদ দেন, যাদের সংখ্যা ছিল সামান্য। এরপর তিনি কুতুবে সিত্তাহর সংকলকদের আরও কিছু নির্বাচিত গ্রন্থের বর্ণনাকারীদেরও এতে যুক্ত করেন, সেগুলো হলো:বুখারীর জন্য:১ - (নামাজে ইমামের পেছনে কিরাআত পাঠের কিতাব)।২ - (নামাজে হাত তোলার কিতাব)।৩ - 'আল-আদাবুল মুফরাদ' কিতাব।৪ - 'খালকু আফ'আলিল ইবাদ' কিতাব (বান্দাদের কর্মের সৃষ্টি)।৫ - তাঁর 'সহীহ' গ্রন্থে যা তালীক বা ঝুলন্ত সূত্র হিসেবে দলীল হিসেবে পেশ করা হয়েছে।মুসলিমের জন্য:৬ - তাঁর 'সহীহ' গ্রন্থের ভূমিকা।আবু দাউদের জন্য:৭ - 'আল-মারাসীল' কিতাব।৮ - 'তকদিরপন্থীদের খণ্ডন' কিতাব।৯ - 'নাসিখ ও মানসুখ' কিতাব (রহিতকারী ও রহিতকৃত)।
(খণ্ড: ١)
ইকমালু তাহযিবিল কামাল - ত আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
10 - كتاب "التفرد"، وهو ما تفرد به أهل الأمصار من السُّنن.11 - كتاب "فضائل الأنصار".12 - كتاب "مسائل الإمام أحمد".13 - "كتاب "مسند حديث مالك بن أنس".وللترمذي:14 - كتاب "الشمائل".وللنسائي:15 - كتاب "عمل يوم وليلة".16 - كتاب "خصائص أمير المؤمنين علي بن أبي طالب رضي الله عنه".17 - كتاب "مسند علي رضي الله عنه".18 - كتاب "مسند حديث مالك بن أنس".ولابن ماجه:19 - كتاب "التفسير".وبذلك زاد في تراجم الأصل أكثر من ألف وسبع مائة ترجمة.ثانيًا: وذكر جملة من التراجم للتمييز، وهي تراجم تتَّفق مع تراجم الكتاب في الاسم والطبقة، لكن أصحابها لم يكونوا من رواة الكتب الستة أو غيرها، ممَّا أضافه الإمام المزي من المصنفات سالفة الذكر.ثالثًا: أضاف المزي إلى معظم تراجم الأصل مادة تاريخية جديدة، في شيوخ صاحب الترجمة والرواة عنهم، ورتبهم على حروف الهجاء، وما قيل في صاحب الترجمة من جرح أو تعديل أو توثيق، وتاريخ مولده أو وفاته، ونحو ذلك، ممَّا أغفله صاحب "الكمال"، فتوسَّعت معظم التراجم توسعًا كبيرًا.رابعًا: وأضاف المزي بعد كل هذا، أربعة فصول مهمة في آخر كتابه، لم يذكر صاحب "الكمال" منها شيئًا، وهي:1 - فصل فيمن اشتهر بالنسبة إلى أبيه، أو جده، أو أمه، أو عمه، أو نحو ذلك.2 - فصل فيمن اشتهر بالنسبة إلى قبيلة، أو بلدة، أو صناعة، أو نحو ذلك.3 - فصل فيمن اشتهر بلقب أو نحوه.4 - فصل في المُبْهَمات.وهذه الفصول تيسَّر الانتفاع بالكتاب تيسيرًا كبيرًا في تسهيل الكشف على التراجم الأصلية، فضلا عن إيراد بعضهم مفردًا في هذه الفصول.خامسًا: رجع المزي إلى كثير من الموارد الأصلية التي لم يرجع إليها صاحب "الكمال"،
১০ - কিতাবুত "তাফাররুদ", যা বিভিন্ন অঞ্চলের অধিবাসীদের এককভাবে বর্ণিত সুন্নাহসমূহের সংকলন।১১ - কিতাবু "ফাদাইলিল আনসার" (আনসারদের মর্যাদাবিষয়ক গ্রন্থ)।১২ - কিতাবু "মাসাইলিল ইমাম আহমাদ" (ইমাম আহমাদের মাসআলাসমূহ)।১৩ - কিতাবু "মুসনাদি হাদিসি মালিক বিন আনাস"।এবং তিরমিযীর জন্য:১৪ - কিতাবুশ "শামাইল"।এবং নাসাঈর জন্য:১৫ - কিতাবু "আমালিল ইয়াউমি ওয়াল লাইলাহ" (দিন ও রাতের আমল)।১৬ - কিতাবু "খাসাইসি আমিরিল মুমিনিন আলি বিন আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু"।১৭ - কিতাবু "মুসনাদি আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু"।১৮ - কিতাবু "মুসনাদি হাদিসি মালিক বিন আনাস"।এবং ইবনে মাজাহর জন্য:১৯ - কিতাবুত "তাফসির"।এর মাধ্যমে তিনি মূল গ্রন্থের জীবনীগুলোতে এক হাজার সাতশরও বেশি জীবনী বৃদ্ধি করেছেন।দ্বিতীয়ত: তিনি পার্থক্যের জন্য একদল বর্ণনাকারীর জীবনী উল্লেখ করেছেন, যাদের নাম এবং স্তর কিতাবের বর্ণনাকারীদের সাথে মিলে যায়, কিন্তু তারা কুতুবে সিত্তাহ (ছয়টি প্রসিদ্ধ কিতাব) বা ইমাম মিযযি কর্তৃক পূর্বোক্ত কিতাবসমূহ থেকে যা যুক্ত করা হয়েছে তার বর্ণনাকারী ছিলেন না।তৃতীয়ত: মিযযি মূল গ্রন্থের অধিকাংশ জীবনীতে নতুন ঐতিহাসিক তথ্য যুক্ত করেছেন, যেমন জীবনীপ্রদত্ত ব্যক্তির শিক্ষকবৃন্দ এবং তাদের থেকে বর্ণনাকারীদের বিবরণ, এবং তিনি তাদের বর্ণানুক্রমে সাজিয়েছেন। সেইসাথে জীবনীপ্রদত্ত ব্যক্তি সম্পর্কে 'জারাহ' (সমালোচনা), 'তাদিল' (প্রশংসা) বা 'তাউসিক' (নির্ভরযোগ্যতা) বিষয়ে কী বলা হয়েছে, তার জন্ম ও মৃত্যুর তারিখ এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো যুক্ত করেছেন যা 'আল-কামাল' গ্রন্থের লেখক বাদ দিয়েছিলেন। ফলে অধিকাংশ জীবনী ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হয়েছে।চতুর্থত: এই সবকিছুর পর মিযযি তার কিতাবের শেষে চারটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যুক্ত করেছেন, যা সম্পর্কে 'আল-কামাল' এর লেখক কিছুই উল্লেখ করেননি। সেগুলো হলো:১ - সেইসব ব্যক্তিদের পরিচ্ছেদ যারা তাদের পিতা, পিতামহ, মাতা, চাচা বা এ জাতীয় পরিচয়ে প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন।২ - সেইসব ব্যক্তিদের পরিচ্ছেদ যারা গোত্র, শহর, পেশা বা এ জাতীয় পরিচয়ে প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন।৩ - সেইসব ব্যক্তিদের পরিচ্ছেদ যারা কোনো উপাধি বা এ জাতীয় কিছুতে প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন।৪ - অস্পষ্ট বা নামহীন বর্ণনাকারীদের (মুবহামাত) পরিচ্ছেদ।এই অধ্যায়গুলো মূল জীবনীগুলো খুঁজে বের করার কাজ সহজ করার মাধ্যমে কিতাবটি থেকে উপকৃত হওয়াকে অত্যন্ত সহজতর করেছে, পাশাপাশি এদের মধ্য থেকে কিছু ব্যক্তিকে এই অধ্যায়গুলোতে স্বতন্ত্রভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।পঞ্চমত: মিযযি এমন অনেক মূল উৎসের দিকে প্রত্যাবর্তন করেছেন যা 'আল-কামাল' এর লেখক করেননি।
(খণ্ড: ١)
ইকমালু তাহযিবিল কামাল - ত আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
سواء كانت هذه الموارد التي استمدَّ منها المزي التراجم الأصلية للكتاب، أو ما نقل منها أقوال الجرح والتعديل وما شابه ذلك.سادسًا: زيادة التدقيق والتحقيق، وبيان الأوهام ومواطن الخلل، في كل المادة التاريخية التي ذكرها عبد الغني في "الكمال"، فوضَّح سقيمها، ووثق ما اطمأن إليه، فأورده في كتابه الجديد.سابعًا: جعل المزي لكل مصنف علامة مختصرة تدل عليه، وهي سبع وعشرون علامة، منها ست علامات للأصول الستة، وعلامة لما اتفق عليه الستة، وعلامة لما اتفق عليه أصحاب السنن الأربعة، وتسع عشرة علامة لمؤلفات أصحاب الستة الأخرى، ونوضِّحها كما يلي في الجدول الآتي:
| علامته | اسم الكتاب |
|---|---|
| (ف) | أبو داود في كتاب "التفرد". |
| (عخ) | البخاري في "أفعال العباد". |
| (ع) | الكتب الستة. |
| (صد) | أبو داود في "فضائل الأنصار". |
| (م) | مسلم في "صحيحه". |
| (4) | السنن الأربعة. |
| (ل) | أبو داود في "مسائل أحمد". |
| (مق) | مسلم في مقدمة "صحيحه". |
| (خ) | البخاري في "صحيحه". |
| (كد) | أبو داود في "مسند مالك بن أنس". |
| (د) | أبو داود في كتاب "السنن". |
| (خت) | ما استشهد به البخاري في "الصحيح" تعليقًا. |
| (ت) | الترمذي في "سننه". |
| (مد) | أبو داود في كتاب "المراسيل". |
| (ز) | البخاري في (جزء القراءة خلف الإمام). |
| (تم) | الترمذي في "الشمائل". |
| (قد) | أبو داود في كتاب "الرد على أهل القدر". |
| (ي) | البخاري في (كتاب رفع اليدين في الصلاة). |
| (س) | النسائي في "سننه". |
| (خد) | أبو داود في "الناسخ والمنسوخ". |
হোক সেই সব উৎস যা থেকে আল-মিযযী গ্রন্থের মূল জীবনীগুলো গ্রহণ করেছেন, অথবা সেখান থেকে উদ্ধৃত জারহ ও তা'দীল (সমালোচনা ও গুণাগুণ) সংক্রান্ত উক্তি এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো।ষষ্ঠত: 'আল-কামাল' গ্রন্থে আব্দুল গনি কর্তৃক উল্লিখিত সমস্ত ঐতিহাসিক উপাদানের অধিকতর যাচাই-বাছাই ও পর্যবেক্ষণ এবং এর কাল্পনিক ধারণা ও ত্রুটির জায়গাগুলো স্পষ্টকরণ। ফলে তিনি এর দুর্বল অংশগুলো ব্যাখ্যা করেছেন এবং যে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত হয়েছেন তা নির্ভরযোগ্য হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন, অতঃপর তা তাঁর নতুন গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।সপ্তমত: আল-মিযযী প্রতিটি গ্রন্থের জন্য একটি করে সংক্ষিপ্ত সংকেত নির্ধারণ করেছেন যা সেই গ্রন্থের পরিচয় দেয়। এই সংকেতগুলো মোট সাতাশটি, যার মধ্যে ছয়টি হলো কুতুবে সিত্তার (ছয়টি মূল গ্রন্থ) জন্য, একটি সংকেত হলো যা ছয়জন ইমাম ঐক্যবদ্ধভাবে বর্ণনা করেছেন তার জন্য, একটি সংকেত চার সুনান রচয়িতাদের ঐক্যবদ্ধ বর্ণনার জন্য, এবং উনিশটি সংকেত হলো কুতুবে সিত্তার রচয়িতাদের অন্যান্য সংকলনসমূহের জন্য। আমরা সেগুলো নিচের ছকে নিম্নোক্তভাবে স্পষ্ট করছি:
| সংকেত | গ্রন্থের নাম |
|---|---|
| (ফা) | 'আত-তাফাররুদ' গ্রন্থে আবু দাউদ। |
| (আইন খা) | 'আফ'আলুল ইবাদ' গ্রন্থে বুখারী। |
| (আইন) | কুতুবে সিত্তা (ছয়টি গ্রন্থ)। |
| (সাদ দাল) | 'ফাদাইলুল আনসার' গ্রন্থে আবু দাউদ। |
| (মিম) | তাঁর 'সহীহ' গ্রন্থে মুসলিম। |
| (৪) | চার সুনান গ্রন্থ। |
| (লাম) | 'মাসাইলে আহমদ' গ্রন্থে আবু দাউদ। |
| (মিম ক্বফ) | তাঁর 'সহীহ' গ্রন্থের ভূমিকায় মুসলিম। |
| (খা) | তাঁর 'সহীহ' গ্রন্থে বুখারী। |
| (কাফ দাল) | 'মুসনাদে মালিক ইবনে আনাস' গ্রন্থে আবু দাউদ। |
| (দাল) | 'আস-সুনান' গ্রন্থে আবু দাউদ। |
| (খা তা) | সহীহ গ্রন্থে ইমাম বুখারী যা তালীক হিসেবে পেশ করেছেন। |
| (তা) | তাঁর 'সুনান' গ্রন্থে তিরমিযী। |
| (মিম দাল) | 'আল-মারাসিল' গ্রন্থে আবু দাউদ। |
| (যা) | 'জুযউল কিরাআত খলফাল ইমাম' গ্রন্থে বুখারী। |
| (তা মিম) | 'আশ-শামাইল' গ্রন্থে তিরমিযী। |
| (ক্বফ দাল) | 'আর-রাদ্দু আলা আহলিল কাদার' গ্রন্থে আবু দাউদ। |
| (ইয়া) | 'সালাতে হাত উঠানো' (রফউল ইয়াদাইন) গ্রন্থে বুখারী। |
| (সীন) | তাঁর 'সুনান' গ্রন্থে নাসাঈ। |
| (খা দাল) | 'আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ' গ্রন্থে আবু দাউদ। |
(খণ্ড: ١)
ইকমালু তাহযিবিল কামাল - ত আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
| (بخ) | البخاري في "الأدب المفرد". |
| (عس) | النسائي في "مسند علي رضي الله عنه". |
| (ص) | النسائي في "خصائص علي رضي الله عنه". |
| (سي) | النسائي في "اليوم والليلة". |
| (فق) | ابن ماجه في "التفسير". |
| (ق) | ابن ماجه في "سننه". |
| (كن) | النسائي في "مسند مالك بن أنس". |
| (বুখ) | আল-বুখারি: "আল-আদাবুল মুফরাদ"-এ। |
| (আস) | আন-নাসাঈ: "মুসনাদে আলী রাযিয়াল্লাহু আনহু"-তে। |
| (স) | আন-নাসাঈ: "খাসাইসে আলী রাযিয়াল্লাহু আনহু"-তে। |
| (সী) | আন-নাসাঈ: "আল-ইয়াওমু ওয়াল লাইলাহ"-তে। |
| (ফাক) | ইবনে মাজাহ: "আত-তাফসীর"-এ। |
| (ক) | ইবনে মাজাহ: তাঁর "সুনান"-এ। |
| (কান) | আন-নাসাঈ: "মুসনাদে মালিক বিন আনাস"-এ। |
(খণ্ড: ١)
ইকমালু তাহযিবিল কামাল - ত আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
الكمال" المجمع على أنه لم يصنف مثله.3 - علاء الدين مغلطاي، قال: كتاب عظيم الفوائد، جم الفرائد، لم يصنف في نوعه مثله. . . .؛ لأن مؤلفه أبدع فيما وضع، ونهج للناس منهجًا لم يشرع. وقال أيضًا: وقد صار كتاب "التهذيب" حَكمًا بين طائفتي المحدِّثين والفقهاء، إذا اختلفوا قالوا: بيننا وبينكم كتاب المزي.ومن أجل هذه المنزلة العظيمة التي تبوأها كتاب "تهذيب الكمال"، عكف عليه أئمة الحديث ممَّن عاصره كالذهبي، أو ممن جاء بعده بالاختصار، أو التهذيب، أو الاستدراك، وهي كما يلي:1 - "الكنى المختصر من تهذيب الكمال في أسماء الرجال" للحافظ جمال الدين أبي محمد رافع بن هجرس السلامي، المتوفى عام (718 هـ)، وهو من تلامذة الإمام المزي، وممن قرأ عليه كتابه "تهذيب الكمال"، اختصر فيه مؤلفه القسم الأخير من "تهذيب الكمال" الخاص بالكنى، وتوجد منه نسخة مخطوطة مكتوبة بخطه، وهي من محفوظات مكتبة آيا صوفيا بتركيا.2 - "تذهيب التهذيب" للإمام شمس الدين الذهبي، اختصر فيه مؤلفه كتاب: "تهذيب الكمال"، وأضاف إليه ما رآه حريًّا بالإضافة، وعلق على كثير من تراجم الأصل من حيث الرواية، وضبط الأسماء والوفيات، وبعض أقوال العلماء في المترجمين. وهذا الكتاب هو الذي قام صفي الدين الخزرجي بتلخيصه في كتابه المعروف "خلاصة تذهيب الكمال".3 - "الكاشف في معرفة من له رواية في الكتب الستة" للإمام شمس الدين الذهبي أيضًا، اقتصر فيه الذهبي على رواة الكتب الستة فقط، حيث قال في مقدمته: هذا مختصر نافع في رجال الكتب الستة: "الصحيحين"، والسنن الأربعة. مقتضب من "تهذيب الكمال" لشيخنا الحافظ أبي الحجاج المزي، اقتصرت فيه على ذكر من له رواية في الكتب، دون باقي تلك التواليف التي في "التهذيب"، ودون من ذكر للتمييز أو كرر للتنبيه.4 - "التكميل في الجرح والتعديل ومعرفة الثقات والضعفاء والمجاهيل" للحافظ أبي الفداء إسماعيل بن عمر اليشهور بـ (ابن كثير)، المتوفى عام (774 هـ)، جمع فيه بين "تهذيب الكمال" للمزي، و"ميزان الاعتدال" لشيخه الذهبي، مع زيادات وتحرير عليهما في الجرح والتعديل، وهو مازال مخطوط، وقد وقفت على نسخة خطية منه.5 - "التذكرة في رجال العشرة" للحافظ شمس الدين الحسيني، المتوفى عام (675 هـ)، وقد اختصر فيه مؤلفه كتاب شيخه المزي، وحذف منه من ليس في الكتب الستة، وأضاف إليهم رجال أربعة كتب، هي: "الموطأ" للإمام مالك بن أنس، و"المسند" للإمام أحمد بن حنبل، و"مسند الإمام الشافعي"، و"مسند الإمام أبي حنيفة" الذي جمعه ابن خسرو
"আল-কামাল", যার সম্পর্কে ঐক্যমত পোষণ করা হয়েছে যে, এর মতো কোনো গ্রন্থ সংকলিত হয়নি।৩ - আলাউদ্দিন মুগলতাই বলেছেন: এটি অত্যন্ত কল্যাণকর ও অনন্য বৈশিষ্ট্যে ভরপুর একটি গ্রন্থ, যার শ্রেণিতে এর সমতুল্য কোনো গ্রন্থ সংকলিত হয়নি...; কেননা এর লেখক যা রচনা করেছেন তাতে সৃজনশীলতার পরিচয় দিয়েছেন এবং মানুষের জন্য এমন এক পদ্ধতির সূচনা করেছেন যা আগে ছিল না। তিনি আরও বলেন: "আত-তাহযীব" গ্রন্থটি মুহাদ্দিস ও ফকিহদের দুই দলের মাঝে ফয়সালাকারী হিসেবে গণ্য হয়েছে; যখনই তারা কোনো বিষয়ে মতপার্থক্য করেন, তারা বলেন: আমাদের ও আপনাদের মাঝে বিচারক হলো আল-মিযযীর গ্রন্থ।"তাহযীবুল কামাল" গ্রন্থটি যে উচ্চ মর্যাদা লাভ করেছে, তার কারণে ইমাম আয-যাহাবীর মতো সমসাময়িক হাদীস বিশারদগণ এবং পরবর্তী যুগের ইমামগণ এর ওপর মনোনিবেশ করেছেন। তারা একে সংক্ষিপ্ত করেছেন, পরিমার্জন করেছেন অথবা অতিরিক্ত তথ্য সংযোজন করেছেন। সেগুলো নিম্নরূপ:১ - হাফেজ জামালুদ্দিন আবু মুহাম্মদ রাফি ইবনে হাজরাস আস-সালামী (মৃত্যু ৭১৮ হিজরী) রচিত "আল-কুনা আল-মুখতাসার মিন তাহযীবিল কামাল ফি আসমাইর রিজাল"। তিনি ইমাম আল-মিযযীর অন্যতম ছাত্র এবং তার কাছে "তাহযীবুল কামাল" পাঠ করেছেন। লেখক এতে "তাহযীবুল কামাল"-এর কুনিয়াত সংক্রান্ত শেষ অংশটি সংক্ষিপ্ত করেছেন। তুরস্কে আয়া সোফিয়া লাইব্রেরিতে তার নিজের হাতে লেখা এর একটি পাণ্ডুলিপি সংরক্ষিত আছে।২ - ইমাম শামসুদ্দিন আয-যাহাবী রচিত "তাযহীবুত তাহযীব"। এতে লেখক "তাহযীবুল কামাল" গ্রন্থটিকে সংক্ষিপ্ত করেছেন এবং যা যোগ করা প্রয়োজন মনে করেছেন তা যুক্ত করেছেন। তিনি মূল গ্রন্থের অনেক বর্ণনাকারীর জীবনীতে বর্ণনাগত দিক থেকে, নামের সূক্ষ্মতা ও মৃত্যুর তারিখ নির্ধারণে এবং বর্ণনাকারীদের সম্পর্কে আলেমদের কিছু বক্তব্যের ওপর টীকা প্রদান করেছেন। এই গ্রন্থটিই সাফিউদ্দিন আল-খাজরাজি তার বিখ্যাত গ্রন্থ "খুলাসা তাযহীবিল কামাল"-এ সারসংক্ষেপ করেছেন।৩ - ইমাম শামসুদ্দিন আয-যাহাবী রচিত "আল-কাশিফ ফি মারিফাতি মান লাহু রিওয়ায়াতুন ফিল কুতুবিত সিত্তাহ"। এতে যাহাবী কেবল কুতুবে সিত্তার বর্ণনাকারীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকেছেন। তিনি এর ভূমিকায় বলেছেন: এটি কুতুবে সিত্তার (সহীহাইন ও চার সুনান) বর্ণনাকারীদের পরিচিতি বিষয়ে একটি উপকারী সংক্ষিপ্তসার। এটি আমাদের শায়খ হাফেজ আবুল হাজ্জাজ আল-মিযযীর "তাহযীবুল কামাল" থেকে সংক্ষেপিত। এতে আমি কেবল তাদের বর্ণনাই উল্লেখ করেছি যাদের বর্ণনা এই গ্রন্থগুলোতে রয়েছে; "তাহযীব"-এ উল্লেখিত অন্য গ্রন্থাবলি, কেবল পার্থক্য করার জন্য যাদের নাম আনা হয়েছে বা সতর্ক করার জন্য যাদের পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে, তাদের আমি বাদ দিয়েছি।৪ - হাফেজ আবুল ফিদা ইসমাইল ইবনে উমর, যিনি ইবনে কাসীর (মৃত্যু ৭৭৪ হিজরী) নামে পরিচিত, তার রচিত "আত-তাকমিল ফিল জারহি ওয়াত তাদীল ওয়া মারিফাতিস সিকাত ওয়াদ দুয়াফা ওয়াল মাজাহিল"। এতে তিনি আল-মিযযীর "তাহযীবুল কামাল" এবং তার শায়খ আয-যাহাবীর "মিযানুল ইতিদাল"-এর সমন্বয় করেছেন এবং জারহ ও তাদীলের ক্ষেত্রে এ দুটির ওপর বর্ধিত তথ্য ও পরিমার্জন যুক্ত করেছেন। এটি এখনও পাণ্ডুলিপি আকারে রয়েছে এবং আমি এর একটি হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপি দেখেছি।৫ - হাফেজ শামসুদ্দিন আল-হুসাইনী (মৃত্যু ৬৭৫ হিজরী) রচিত "আত-তাযকিরাহ ফি রিজালিল আশারাহ"। এতে লেখক তার শায়খ আল-মিযযীর গ্রন্থটি সংক্ষিপ্ত করেছেন এবং কুতুবে সিত্তার অন্তর্ভুক্ত নয় এমন ব্যক্তিদের বাদ দিয়েছেন। এছাড়া এতে তিনি আরও চারটি গ্রন্থের বর্ণনাকারীদের যুক্ত করেছেন, সেগুলো হলো: ইমাম মালিক ইবনে আনাসের "আল-মুয়াত্তা", ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বলের "আল-মুসনাদ", "মুসনাদে ইমাম শাফেয়ী" এবং "মুসনাদে ইমাম আবু হানিফা" যা ইবনে খুসরো সংকলন করেছেন।
(খণ্ড: ١)
ইকমালু তাহযিবিল কামাল - ত আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
الحارثي. ولنا وقفة أخرى مع كتاب "التذكرة" عند حديثنا على كتاب "تعجيل المنفعة" للحافظ ابن حجر رحمه اللَّه تعالى.6 - "إكمال تهذيب الكمال في أسماء الرجال" للحافظ علاء الدين مغلطاي، المتوفى عام (762 هـ)، وكتابه هذا يُعد من أفضل الكتب المصنفة على كتاب "تهذيب الكمال" للحافظ المزي، وقد اعتنى فيه مؤلفه في تدقيق معظم النصوص التي أوردها المزي في كتابه، وتكلم على أدنى اختلاف فيما نقله، مع الاستدراك على المزي فيما فاته من أقوال أئمة الجرح والتعديل، فيمن ترجم لهم في "تهذيب الكمال"، وغير ذلك الكثير ممَّا يعرفه المطَّلع على كتابه هذا، وهو الكتاب الذي بين أيدينا.7 - "تهذيب التهذيب" للحافظ ابن حجر العسقلاني، المتوفى عام (852 هـ)، اختصر في مؤلفه كتاب "تهذيب الكمال" إلى نحو الثلث، مع إدخال بعض التعديلات في صلب الكتاب، وأضاف إليه كثير ممَّا استدركه العلامة مغلطاي في كتابه "الأكمال" على كتاب "تهذيب الكمال"، وإن كان هذا الكتاب يُعد أشهر المصنفات الحديثية المعنية برواة الأئمة الستة؛ إلا أن عليه كثير من المؤاخذات الحديثية، ليس هذا محل ذكرها هاهنا، ولعلِّي أذكرها إن شاء اللَّه تعالى في كتابي "مناهج الأئمة في مصنفاتهم الحديثية" يسَّر اللَّه تعالى إتمامه وإخراجه إلى النور.8 - "تقريب التهذيب" للحافظ ابن حجر أيضًا، اختصر في مؤلفه كتابه سابق الذكر "تهذيب التهذيب"، اقتصر فيه إلى اسم المترجم على وجه الاختصار، مع ذكر درجته من الجرح والتعديل، وطبقته، والعلامة التي ذكرها له المزي.وبهذا نكون قد ذكرنا -في هذا المبحث- أكثر وأشهر المصنفات الحديثية المعنية برواة الأئمة الستة: البخاري، ومسلم، وأبي داود، والترمذي، والنسائي، وابن ماجه، رضي الله عنهم أجمعين. المبحث الثاني: في ذكر المصنفات التي اهتمت برواة مصنفات الأئمة الأربعة وغيرهم رضي الله عنهم:1 - " تعجيل المنفعة بزوائد الأئمة الأربعة" للحافظ ابن حجر العسقلاني رحمه اللَّه تعالى، اختصر في مؤلفه كتاب "التذكرة برجال العشرة" للحافظ الحسيني، والذي ذكرناه آنفًا في المبحث الأول، وبيَّن الحافظ ابن حجر موضوع كتابه هذا في المقدمة، حيث قال: فقد وقفت على مصنف للحافظ أبي عبد اللَّه محمد بن علي بن حمزة الحسيني الدمشقي سماه: "التذكرة برجال العشرة"، ضم إليه كما في "تهذيب الكمال" لشيخه المزي من في الكتب الأربعة، وهي: "الموطأ"، و"مسند الشافعي"، و"مسند أحمد"، والمسند الذي خرجه
আল-হারিসি। হাফেজ ইবনে হাজার (রাহিমাহুল্লাহ)-এর 'তাজিলুল মানফাআ' কিতাবটি সম্পর্কে আলোচনার সময় 'আত-তাজকিরা' কিতাবটি নিয়ে আমাদের আরেকটি আলোচনার সুযোগ রয়েছে।৬ - হাফেজ আলাউদ্দীন মুগলতাই (মৃত্যু: ৭৬২ হিজরী) রচিত "ইকমালু তাহজিবিল কামাল ফি আসমাঈর রিজাল"। তাঁর এই গ্রন্থটি হাফেজ মিযযী-র "তাহজিবুল কামাল" গ্রন্থের ওপর লিখিত শ্রেষ্ঠ গ্রন্থগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত। এতে লেখক মিযযী তাঁর গ্রন্থে বর্ণিত অধিকাংশ পাঠ্যের (নসুস) সূক্ষ্ম যাচাই-বাছাই করেছেন এবং যা কিছু তিনি উদ্ধৃত করেছেন তার সামান্যতম পার্থক্য নিয়েও আলোচনা করেছেন। সাথে সাথে মিযযী জরাহ ও তা'দীল-এর ইমামগণের যেসব উক্তি বাদ দিয়েছেন, সেগুলোর ব্যাপারে তিনি পরিমার্জন ও সংযোজন করেছেন। এছাড়াও এই কিতাবটির পাঠক যা কিছু জানতে পারেন এতে তার চেয়েও অনেক বেশি তথ্য রয়েছে। আর এটিই সেই কিতাব যা বর্তমানে আমাদের হাতে রয়েছে।৭ - হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী (মৃত্যু: ৮৫২ হিজরী) রচিত "তাহজিবুত তাহজিব"। তিনি তাঁর এই গ্রন্থে "তাহজিবুল কামাল" কিতাবটিকে সংক্ষেপ করে প্রায় এক-তৃতীয়াংশে নিয়ে এসেছেন এবং কিতাবের মূল কাঠামোতে কিছু পরিবর্তন এনেছেন। আল্লামা মুগলতাই তাঁর "আল-ইকমাল" গ্রন্থে "তাহজিবুল কামাল"-এর ওপর যে সমস্ত তথ্য সংযোজন করেছিলেন, হাফেজ ইবনে হাজার তার অনেক কিছুই এতে যুক্ত করেছেন। যদিও এই কিতাবটি ছয় ইমামের বর্ণনাকারীদের নিয়ে রচিত হাদিসশাস্ত্রের কিতাবগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ, তবুও এতে হাদিসশাস্ত্রীয় অনেক পর্যবেক্ষণ রয়েছে, যা এখানে উল্লেখ করার স্থান নয়। সম্ভবত আমি আল্লাহ চাহেন তো আমার "মানাহিজুল আইম্মাহ ফি মুসান্নাফাতিহিমুল হাদিসিয়্যাহ" গ্রন্থে তা উল্লেখ করব। আল্লাহ তায়ালা যেন গ্রন্থটি সমাপ্ত করার এবং আলোর মুখ দেখার তাওফিক দান করেন।৮ - হাফেজ ইবনে হাজারের "তাকরিবুত তাহজিব"। তিনি এতে তাঁর পূর্বোক্ত গ্রন্থ "তাহজিবুত তাহজিব"-কে অত্যন্ত সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন। এতে তিনি বর্ণনাকারীর নামের সাথে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত আকারে তাঁর জরাহ ও তা'দীলের মান, তাঁর স্তর (তাবাকাহ) এবং মিযযী তাঁর জন্য যে প্রতীক ব্যবহার করেছেন তা উল্লেখ করেছেন।এর মাধ্যমে আমরা এই পরিচ্ছেদে ছয় ইমাম অর্থাৎ বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসাঈ এবং ইবনে মাজাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম আজমাঈন)-এর বর্ণনাকারীদের নিয়ে রচিত হাদিসশাস্ত্রের অধিকাংশ এবং সবচেয়ে প্রসিদ্ধ গ্রন্থগুলো উল্লেখ করলাম। দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: চার ইমাম এবং অন্যান্যদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) রচিত কিতাবসমূহের বর্ণনাকারীদের নিয়ে রচিত গ্রন্থাবলির বিবরণ:১ - হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী (রাহিমাহুল্লাহ) রচিত "তাজিলুল মানফাআ বি যাওয়াইদিল আইম্মাতিল আরবাআ"। তিনি তাঁর এই গ্রন্থে হাফেজ হুসাইনী রচিত "আত-তাজকিরা বি রিজালিল আশারা" গ্রন্থটিকে সংক্ষেপ করেছেন, যা আমরা ইতিপূর্বে প্রথম পরিচ্ছেদে উল্লেখ করেছি। হাফেজ ইবনে হাজার তাঁর এই গ্রন্থের বিষয়বস্তু মুকাদ্দিমায় (ভূমিকা) স্পষ্ট করেছেন। তিনি বলেছেন: "আমি হাফেজ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে হামজা আল-হুসাইনী আদ-দিমাশকী-র একটি কিতাব পেয়েছি যার নাম তিনি রেখেছেন 'আত-তাজকিরা বি রিজালিল আশারা'। এতে তিনি তাঁর উস্তাদ মিযযী-র 'তাহজিবুল কামাল'-এর আদলে ঐ সকল রাবীদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন যারা এই চার কিতাবে রয়েছেন, সেগুলো হলো: 'মুয়াত্তা', 'মুসনাদে শাফিয়ী', 'মুসনাদে আহমদ' এবং সেই মুসনাদ যা সংকলন করেছেন..."
(খণ্ড: ١)
ইকমালু তাহযিবিল কামাল - ত আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
الحسين بن محمد بن خسرو من حديث الإمام أبي حنيفة. . . .فالتقطت الآن من كتاب الحسيني من لم يترجم له المزي في "التهذيب". . .، ثم عثرت في أثناء كلامه -يعني: الحسيني- على أوهام صعبة فتعقبتها، ثم وقفت على تصنيف له أفرد فيه رجال أحمد، سماه: "الأكمال بمن في مسند أحمد من الرجال ممن ليس في تهذيب الكمال"، فتتبعت ما فيه فائدة زائدة على التذكرة. . .، إلى نهاية خطبته، والتي بيَّن فيها رحمه الله، منهجه في كتابه هذا.2 - "الإكمال بمن في مسند أحمد من الرجال ممن ليس في تهذيب الكمال" للحافظ الحسيني، وقد تقدَّمت الإشارة عليه في كلامنا على كتاب "تعجيل المنفعة" للحافظ ابن حجر.3 - "الإيثار بمعرفة رواة الآثار" للحافظ ابن حجر، ذكر فيه رواة كتاب "الآثار" للإمام أبي عبد اللَّه محمد بن الحسن الشيباني، التي رواها عن الإمام أبي حنيفة، سواء كانوا مترجمين في "التهذيب" أم لا، إلا أنه لم يتكلم على رواة "التهذيب" بشيء، إلا بذكر أسمائهم فقط، وأما من كان من غير رواة "التهذيب"، فهو يسهب في الكلام عليهم.4 - "رجال مستدرك الحاكم ممن لم يترجم لهم في التهذيب" للعلامة محدث اليمن مقبل بن هادي الوادعي، رحمه اللَّه تعالى.5 - "رجال سنن الدارقطني ممَّن لم يترجم لهم في التهذيب ولا رجال مستدرك الحاكم" للعلامة مقبل بن هادي الوادعي أيضًا. الفصل الخامس: المصنفات الخاصة بمعاجم الشيوخ:والمراد بالمعجم: هو أن يأتي أحد الأئمة في ذكر تراجم شيوخه الذين الْتَقَاهم وأخذ عنهم العلم، في مصنف خاص به، ذاكرًا إيَّاهم على حروف المعجم، ومن أشهر هذه المعاجم:1 - "الغنية" للقاضي عياض، المتوفى عام (544 هـ).2 - "معجم شيوخ ابن الجوزي".3 - "التحبير في المعجم الكبير" للإمام أبي سعد عبد الكريم بن محمد السمعاني، المتوفى عام (562 هـ)، وهو مطبوع في مجلديْن كبيرين.4 - "معجم الشيوخ" للإمام شمس الدين الذهبي، وهو مطبوع في مجلدين.5 - "المعجم المختص" للإمام الذهبي أيضًا.6 - "المجمع المؤسس للمعجم المفهرس" للحافظ ابن حجر العسقلاني.7 - "المنجم في المعجم" للحافظ السيوطي.
আল-হুসাইন বিন মুহাম্মদ বিন খুসরাও-এর সংকলিত ইমাম আবু হানিফার হাদিসসমূহ থেকে...আমি এখন হুসাইনীর কিতাব থেকে এমন বর্ণনাকারীদের নির্বাচন করেছি যাদের জীবনী আল-মিযযী 'আত-তাহযীব' গ্রন্থে উল্লেখ করেননি... অতঃপর আমি তার (অর্থাৎ হুসাইনীর) বক্তব্যের মধ্যে কিছু কঠিন ভুল পেয়েছি এবং সেগুলোর সমালোচনা করেছি। এরপর আমি তার একটি রচনার সন্ধান পাই যেখানে তিনি ইমাম আহমাদের বর্ণনাকারীদের জন্য স্বতন্ত্রভাবে লিখেছেন। তিনি এর নাম দিয়েছেন: "আল-ইকমাল বি-মান ফী মুসনাদি আহমাদ মিন আর-রিজাল মিম্মান লায়সা ফী তাহযীবিল কামাল"। সুতরাং আমি তাতে 'আত-তাযকিরা'র অতিরিক্ত যা যা ফায়দা রয়েছে তা অনুসরণ করেছি... তার মুখবন্ধের শেষ পর্যন্ত, যেখানে তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) এই গ্রন্থে তাঁর অনুসৃত পদ্ধতি বর্ণনা করেছেন।২ - "আল-ইকমাল বি-মান ফী মুসনাদি আহমাদ মিন আর-রিজাল মিম্মান লায়সা ফী তাহযীবিল কামাল", লেখক: হাফিয আল-হুসাইনী। হাফিয ইবনে হাজারের "তা'জীলুল মানফায়া" গ্রন্থের আলোচনায় আমরা ইতিপূর্বে এর প্রতি ইঙ্গিত করেছি।৩ - "আল-ঈসার বি-মা'রিফাতি রুওয়াতিল আসার", লেখক: হাফিয ইবনে হাজার। এতে তিনি ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আল-হাসান আশ-শায়বানীর "আল-আসার" গ্রন্থের বর্ণনাকারীদের উল্লেখ করেছেন, যা তিনি ইমাম আবু হানিফা থেকে বর্ণনা করেছেন। চাই তাদের জীবনী "আত-তাহযীব"-এ বর্ণিত হোক বা না হোক। তবে তিনি "তাহযীব"-এর বর্ণনাকারীদের ব্যাপারে কেবল তাদের নাম উল্লেখ করা ছাড়া তেমন কিছু আলোচনা করেননি। আর যারা "তাহযীব"-এর বর্ণনাকারী নন, তাদের সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।৪ - "রিজালু মুস্তাদরাকিল হাকিম মিম্মান লাম ইয়ুতারজাম লাহুম ফীত তাহযীব", লেখক: ইয়ামানের প্রখ্যাত মুহাদ্দিস আল্লামা মুকবিল বিন হাদি আল-ওয়াদিঈ (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন)।৫ - "রিজালু সুনানিদ দারা কুতনী মিম্মান লাম ইয়ুতারজাম লাহুম ফীত তাহযীব ওয়া লা রিজালু মুস্তাদরাকিল হাকিম", লেখক: আল্লামা মুকবিল বিন হাদি আল-ওয়াদিঈ। পঞ্চম পরিচ্ছেদ: শায়খদের পরিচিতি বা 'মু'জাম' বিষয়ক গ্রন্থসমূহ:মু'জাম বলতে উদ্দেশ্য হলো: কোনো ইমাম কর্তৃক তাঁর সেই সকল শায়খ বা শিক্ষকদের জীবনীর বর্ণনা দেওয়া যাদের সাথে তিনি সাক্ষাৎ করেছেন এবং যাদের নিকট থেকে ইলম অর্জন করেছেন। তিনি এটি একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থে তাদের নাম বর্ণানুক্রমিকভাবে উল্লেখ করেন। এই মু'জামগুলোর মধ্যে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ হলো:১ - "আল-গুনইয়াহ", লেখক: কাজী আইয়ায (মৃত্যু ৫৪৪ হিজরী)।২ - "মু'জামু শুয়ুখি ইবনিল জাওযী"।৩ - "আত-তাহবীর ফিল মু'জামিল কাবীর", লেখক: ইমাম আবু সাদ আব্দুল কারীম বিন মুহাম্মদ আস-সামআনী (মৃত্যু ৫৬২ হিজরী), এটি দুই বিশাল খণ্ডে মুদ্রিত।৪ - "মু'জামুশ শুয়ুখ", লেখক: ইমাম শামসুদ্দিন আয-যাহাবী, এটি দুই খণ্ডে মুদ্রিত।৫ - "আল-মু'জামুল মুখতাস", লেখক: ইমাম আয-যাহাবী।৬ - "আল-মাজমাউল মুয়াসসিস লিল মু'জামিল মুفাহরাস", লেখক: হাফিয ইবনে হাজার আল-আসকালানী।৭ - "আল-মুনজাম ফিল মু'জাম", লেখক: হাফিয আস-সুয়ূতী।
(খণ্ড: ١)
ইকমালু তাহযিবিল কামাল - ত আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
ثامنًا: صفة من يُقبل منه الجرح والتعديل- أن يكون المتكلم عارفًا بمراتب الرجال، وأحوالهم في الانحراف والاعتدال، ومراتبهم من الأقوال والأفعال.- أن يكون من أهل الورع والتقوى:ذلك أن الورع والتقوى يمنعانه من القول في الرجال بغير علم، ويمنعه الورع والتقوى من الجور، والحيف في القول فيمن يتكلم فيه، فلا يقول فيه إلا الحق والصدق. كما أن الورع والتقوى يجعله لا يخاف في اللَّه لومة لائم، ويحمله على أن لا يحابي أحدًا في هذا المجال، بل يقدِّم الاحتياط لسُنَّة رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم على من يحبُّه أو يقرِّبه.- أن يكون مجانبًا للعصبية والهوى:إن صاحب الهوى يحمله هواه أن يجرح الثقة، أو يوثق الضعيف، وصاحب الهوى غالبًا ما يسوقه هواه إلى الضلال. قال اللَّه تعالى: {فَإِنْ لَمْ يَسْتَجِيبُوا لَكَ فَاعْلَمْ أَنَّمَا يَتَّبِعُونَ أَهْوَاءَهُمْ وَمَنْ أَضَلُّ مِمَّنِ اتَّبَعَ هَوَاهُ بِغَيْرِ هُدًى مِنَ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ} [القصص: 50]؛ أي: لا أحد أضلَّ ممَّن اتَّبع هواه لغير هدى.ومن الهوى الذي يمكن أن يسوق الإنسان إلى أن يقول في أخيه ما لا يقتضيه حاله، ما يقع بين الفِرَق من اتِّهام كل منها الفِرقة الأخرى.- أن يكون المعدِّلُ والمجرِّحُ خاليًا من التساهل والتشدُّدِ:ذلك أن تساهل المجرِّح يقتضي أن يوثق الضعيف، وقد يؤدِّي به تساهله إلى أن يحسن الظنّ بكل أحد، ومن ثَمَّ يوثقه، وهذا ينافي كمال الاحتياط لسُنَّة رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم.وكذلك فإن التشدد في جرح الرواة يؤدِّي إلى إهدار كثير من السُّنَّة النبوية، كما فعله الكثيرون اليوم، فردُّوا كثيرًا من الأحاديث المقبولة، لاتِّباعهم منهج المتشدِّدين في الجرح والتعديل.- أن يكون عاريًا عن غرض النفس بالتحامل:وهذا التحامل للغرض النفسي، يحصل غالبًا بين الأقران من العلماء، وليس كل العلماء بل بعضهم، ذلك أن العصمة للَّه ثم لرسله عليهم الصلاة والسلام.- أن يكون المجرِّح أو المعدِّل عدلا في نفسه:فإن المجروح في نفسه لا يقوِّم غيره، وقد يكون أوثق منه، وهذا عابه المحدثون على أبي الفتح الأزدي، لما كَثُر طعنه في الرواة، وعابوا على أُناس آخرين لكونهم ضعفاء، فضعَّفوا غيرهم أو وثَّقوهم، وفاقدُ الشيء لا يُعطيه كما قالوا.قال ابن حجر في ترجمة خثيم بن عراك بن مالك الغفاري: وَثَّقَهُ النسائي، وابن حبان،
অষ্টম: যার কাছ থেকে জারহ এবং তাদীল (সমালোচনা ও গুণকীর্তন) গ্রহণ করা হবে তার বৈশিষ্ট্য- আলোচক যেন রাবীগণের স্তরসমূহ, বিচ্যুতি ও ভারসাম্যের ক্ষেত্রে তাদের অবস্থা এবং তাদের কথা ও কাজের স্তর সম্পর্কে অবগত হন।- তাকে পরহেজগার ও মুত্তাকী হতে হবে:কেননা পরহেজগারী ও তাকওয়া তাকে জ্ঞান ব্যতিরেকে রাবীগণের ব্যাপারে মন্তব্য করা থেকে বিরত রাখে এবং কারো সমালোচনা করার ক্ষেত্রে অবিচার ও পক্ষপাতিত্ব থেকে রক্ষা করে। ফলে তিনি কেবল সত্য ও সঠিক কথা বলেন। তেমনিভাবে পরহেজগারী ও তাকওয়া তাকে আল্লাহর দ্বীনের ব্যাপারে কোনো তিরস্কারকারীর তিরস্কারে ভীত করে না এবং এই ক্ষেত্রে কাউকে তোষামোদ না করতে অনুপ্রাণিত করে। বরং তিনি যাকে ভালোবাসেন বা যে তার নিকটজন, তার তুলনায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নতের সংরক্ষণে সতর্কতা অবলম্বনকে অগ্রাধিকার দেন।- তাকে গোঁড়ামি এবং প্রবৃত্তির অনুসরণ থেকে দূরে থাকতে হবে:নিশ্চয়ই প্রবৃত্তি তাড়িত ব্যক্তি তার খেয়ালখুশির বশবর্তী হয়ে নির্ভরযোগ্য রাবীকে দুর্বল প্রতিপন্ন করে অথবা দুর্বল রাবীকে নির্ভরযোগ্য বলে সাব্যস্ত করে। আর প্রবৃত্তি তাড়িত ব্যক্তিকে তার প্রবৃত্তি অধিকাংশ সময় গোমরাহীর দিকে নিয়ে যায়। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {অতঃপর তারা যদি আপনার আহ্বানে সাড়া না দেয়, তবে জানবেন যে, তারা কেবল তাদের খেয়ালখুশিরই অনুসরণ করে। আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো পথনির্দেশ ছাড়া যে নিজের খেয়ালখুশির অনুসরণ করে, তার চেয়ে অধিক বিভ্রান্ত আর কে হতে পারে? নিশ্চয়ই আল্লাহ জালেম সম্প্রদায়কে হেদায়েত দান করেন না।} [কাসাস: ৫০]; অর্থাৎ: আল্লাহর হেদায়েত ছাড়া যে নিজ প্রবৃত্তির অনুসরণ করে, তার চেয়ে বড় পথভ্রষ্ট আর কেউ নেই।আর প্রবৃত্তির তাড়নার একটি দিক যা মানুষকে তার ভাইয়ের ব্যাপারে এমন কথা বলতে বাধ্য করতে পারে যা তার অবস্থার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়, তা হলো বিভিন্ন ফেরকা বা দলের মধ্যে একে অপরের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ।- তাদীল এবং জারহকারী ব্যক্তিকে শিথিলতা এবং কঠোরতা থেকে মুক্ত হতে হবে:কারণ জারহকারীর শিথিলতা দুর্বল রাবীকে নির্ভরযোগ্য সাব্যস্ত করার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তার এই শিথিলতা হয়তো তাকে প্রত্যেকের প্রতি সুধারণা পোষণ করতে উদ্বুদ্ধ করে এবং সে কারণে সে তাকে নির্ভরযোগ্য বলে দেয়, যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নতের সংরক্ষণের ক্ষেত্রে পূর্ণ সতর্কতার পরিপন্থী।অনুরূপভাবে রাবীগণের ত্রুটি বর্ণনায় অতি-কঠোরতা অনেক সুন্নতে নববীকে নষ্ট করার দিকে নিয়ে যায়, যা বর্তমানে অনেকে করে থাকেন। ফলে তারা জারহ এবং তাদীলের ক্ষেত্রে অতি-কঠোরদের মানহাজ অনুসরণের কারণে অনেক গ্রহণযোগ্য হাদিস প্রত্যাখ্যান করেছেন।- বিদ্বেষবশত ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য থেকে মুক্ত হতে হবে:ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যপ্রসূত এই বিদ্বেষ বা পক্ষপাতিত্ব সাধারণত সমসাময়িক আলেমদের মধ্যে ঘটে থাকে। তবে সব আলেমের ক্ষেত্রে নয়, বরং কারো কারো ক্ষেত্রে। কারণ নির্ভুলতা কেবল আল্লাহর জন্য এবং এরপর তাঁর রাসুলগণের (আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম) জন্য নির্ধারিত।- জারহ বা তাদীলকারী ব্যক্তিকে ব্যক্তিগতভাবে ন্যায়পরায়ণ হতে হবে:কেননা যে ব্যক্তি নিজেই ত্রুটিযুক্ত, সে অন্যের মূল্যায়ন করতে পারে না, অথচ যাকে সে মূল্যায়ন করছে সে হয়তো তার চেয়েও বেশি নির্ভরযোগ্য। মুহাদ্দিসগণ আবুল ফাতহ আল-আজদীর এই বিষয়টি সমালোচনা করেছেন যখন রাবীদের প্রতি তার কটাক্ষ বেড়ে গিয়েছিল। তারা আরও কিছু লোকের সমালোচনা করেছেন যারা নিজেরা দুর্বল হওয়া সত্ত্বেও অন্যদের দুর্বল বা নির্ভরযোগ্য বলে ঘোষণা করেছেন। যেমনটি বলা হয়ে থাকে: "যার নিজের কাছে কিছু নেই, সে অন্যকে কিছু দিতে পারে না।"ইবনে হাজার খুসাইম বিন ইরাক বিন মালিক আল-গিফারীর জীবনীতে বলেছেন: আন-নাসায়ী এবং ইবনে হিব্বান তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন।