(খণ্ড: ১) আল-ইমামুল আশআরী হায়াতুহু ওয়া আতওয়ারুহু আল-আকাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
الإمام الأشعري حياته وأطواره العقدية   (صالح بن مقبل العصيمي)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: الإمام الأشعري حياته وأطواره العقدية

المؤلف: صالح بن مقبل بن عبد الله العصيمي التيميمي

أصل الكتاب: قسم الدراسة من أطروحة دكتوراة، قسم العقيدة بكلية الدعوة وأصول الدين - جامعة أم القرى، بإشراف د عبد الله بن محمد الغنيمان 1428 هـ

الناشر: دار الفضيلة - الرياض

الطبعة: الأولى، 1432 هـ - 2011 م

عدد الصفحات: 404

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 22 ذو الحجة 1443

ইমাম আশআরী: তাঁর জীবন ও আকিদাগত পর্যায়সমূহ   (সালেহ বিন মুকবিল আল-উসাইমি)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ


গ্রন্থ: ইমাম আশআরী: তাঁর জীবন ও আকিদাগত পর্যায়সমূহ

লেখক: সালেহ বিন মুকবিল বিন আব্দুল্লাহ আল-উসাইমি আত-তামিমি

গ্রন্থের মূল উৎস: পিএইচডি থিসিসের গবেষণা অংশ, দাওয়াহ ও উসুলুদ দীন অনুষদের আকিদা বিভাগ - উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়, ডক্টর আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-গুনাইমানের তত্ত্বাবধানে ১৪২৮ হিজরি

প্রকাশক: দারুল ফজিলাহ - রিয়াদ

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩২ হিজরি - ২০১১ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪০৪

[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২২ জিলহজ ১৪৪৩

(খণ্ড: ১) আল-ইমামুল আশআরী হায়াতুহু ওয়া আতওয়ারুহু আল-আকাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٣)
‌‌المقدمة

إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم. {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ (102)} آل عمران (102) {يَاأَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا … وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ … عَلَيْكُمْ رَقِيبًا (1)} النساء (1) {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا (70) يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا (71)} [الأحزاب: 70 - 71].

أما بعد:

فقد ألف الإمام الأشعري رحمه الله مجموعة من الكتب والرسائل التي تعالج قضايا العقيدة، بعضها قد كتب في الفترة التي سبقت تحوله عن الاعتزال، وبعضها قد كتب في الفترة التي أعقبت انتقاله رحمه الله إلى منهج أهل السنة والجماعة. وقد كانت هذه الكتب - ولا زالت - موضع دراسة الباحثين المهتمين
ভূমিকা

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীবর্গের ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক। {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না (১০২)} আলে ইমরান (১০২)। {হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের রব্বকে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে একটি মাত্র সত্তা থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তা থেকে তাঁর জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁদের উভয়ের থেকে বহু পুরুষ ... ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো যার দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের নিকট অধিকার দাবি করো এবং রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়তা বজায় রাখো। নিশ্চয়ই আল্লাহ ... তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখেন (১)} আন-নিসা (১)। {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো (৭০) তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই এক মহাসাফল্য লাভ করল (৭১)} [আল-আহজাব: ৭০ - ৭১]।

অতঃপর:

ইমাম আশআরি (রহিমাহুল্লাহ) আকিদাহর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বেশ কিছু কিতাব ও রিসালাহ রচনা করেছেন। এর মধ্যে কিছু তিনি মুতাজিলা মতবাদ ত্যাগ করার পূর্ববর্তী সময়ে রচনা করেছিলেন, আর কিছু রচনা করেছিলেন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের মানহাজে তাঁর ফিরে আসার পরবর্তী সময়ে। এই কিতাবগুলো আগ্রহী গবেষকদের নিকট গবেষণার বিষয়বস্তু ছিল এবং এখনও রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইমামুল আশআরী হায়াতুহু ওয়া আতওয়ারুহু আল-আকাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٤)
بالأشعري ومذهب الأشاعرة، وقد أثارت - ولا تزال - تثير الجدل حول نسبتها إلى الأشعري وظهورها التاريخي عما استقر عليه حاله. ومنشأ ذلك الكذب عليه من جهة محبيه، ومن جهة مبغضيه، قال شيخ الإسلام ابن تيمية: (فالأشعري ابتلي بطائفتين: طائفة تبغضه، وطائفه تحبه، كل منهما يكذب عليه ويقول: إنما صنف هذه الكتب تقية، وإظهاراً لموافقة أهل الحديث والسنة، من الحنابلة وغيرهم. وهذا كذب على الرجل، فإنه لم يوجد له قول باطن يخالف الأقوال التي أظهرها، ولا نقل أحد من خواص أصحابه، ولا غيرهم عنه ما يناقض هذه الأقوال الموجودة في مصنفاته، فدعوى المدعي بأنه كان يبطن خلاف ما يظهر دعوى مردودة شرعًا وعقلاً. بل من تدبر كلامه في هذا الباب - في مواضع - تبين له قطعًا أنه كان ينصر ما أظهره، ولكن الذين يحبونه ويخالفون في إثبات الصفات الخبرية يقصدون نفي ذلك عنه، لئلا يقال: إنهم خالفوه مع كون ما ذهبوا إليه من السنة، قد اقتدوا بحجته التي على ذكرها يعولون، وعليها يعتمدون. والفريق الآخر: دافعوا عنه لكونهم رأوا المنتسبين إليه لا يظهرون إلا خلاف هذا القول ولكونهم اتهموه بالتقية(1). ولهذا اخترت بعد استخارة الله ـ جل وعلا ـ واستشارة عدد من العلماء

--------------------------------------------

(1) انظر مجموع الفتاوى 12/ 402.
আশআরি এবং আশআরি মাযহাবের সাথে সম্পৃক্ত, যা বিতর্ক সৃষ্টি করেছে—এবং এখনও করছে—তার প্রতি এর নিসবত (সম্পৃক্ততা) এবং তার যে অবস্থার ওপর বিষয়টি স্থির হয়েছে সেটির ঐতিহাসিক উদ্ভব নিয়ে। আর তার ওপর এই মিথ্যাচারের উৎস হলো তার অনুরাগী এবং তার বিদ্বেষী—উভয় পক্ষ। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন: (আশআরি মূলত দুই দলের মাধ্যমে পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছেন: একদল যারা তাকে অপছন্দ করে এবং একদল যারা তাকে ভালোবাসে। তাদের প্রত্যেকেই তার নামে মিথ্যাচার করে এবং বলে: তিনি মূলত এই কিতাবগুলো তাক্বিয়া স্বরূপ এবং হাম্বলি ও অন্যান্য আহলে হাদিস ও সুন্নাহর সাথে ঐকমত্য প্রকাশের উদ্দেশ্যে রচনা করেছেন। আর এটি এই ব্যক্তির ওপর একটি অপবাদ, কেননা তার এমন কোনো অভ্যন্তরীণ বক্তব্য পাওয়া যায়নি যা তার প্রকাশ্য বক্তব্যের পরিপন্থী। এমনকি তার বিশিষ্ট অনুসারীগণ বা অন্য কেউ তার থেকে এমন কিছু বর্ণনা করেনি যা তার রচনাবলীতে বিদ্যমান এই বক্তব্যের বিপরীত। সুতরাং তিনি যা প্রকাশ করতেন তার বিপরীতে কোনো কিছু মনে পোষণ করতেন বলে দাবিকারীর দাবি শরীয়ত ও বিবেক অনুযায়ী প্রত্যাখ্যাত। বরং এই বিষয়ে বিভিন্ন স্থানে তার বক্তব্য নিয়ে যে ব্যক্তি চিন্তা-গবেষণা করবে, তার কাছে নিশ্চিতভাবে স্পষ্ট হয়ে যাবে যে, তিনি যা প্রকাশ করেছেন তা-ই তিনি সমর্থন করতেন। কিন্তু যারা তাকে ভালোবাসে অথচ বর্ণনামূলক গুণাবলি (সিফাতে খাবারিয়া) সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে বিরোধিতা করে, তারা তার থেকে এই বিষয়গুলো অস্বীকার করতে চায়, যাতে এ কথা না বলা হয় যে তারা তার বিরোধিতা করেছে—অথচ তারা সুন্নাহর যে মতাদর্শ গ্রহণ করেছে সেক্ষেত্রে তারা তারই দলিলের অনুসরণ করেছে যার ওপর তারা নির্ভর ও ভরসা করে। আর অন্য দলটি: তারা তার পক্ষাবলম্বন করেছে কারণ তারা তার সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের এই বক্তব্যের বিপরীত বিষয় প্রকাশ করতে দেখেছে এবং তারা তাকে তাক্বিয়ার দায়ে অভিযুক্ত করেছে(১)। এ কারণেই আমি মহান আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করার পর এবং কতিপয় আলেমের সাথে পরামর্শ করার পর নির্বাচন করেছি।

--------------------------------------------

(১) দেখুন মাজমুউল ফাতাওয়া ১২/ ৪০২।
(খণ্ড: ১) আল-ইমামুল আশআরী হায়াতুহু ওয়া আতওয়ারুহু আল-আকাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٥)
وطلبة العلم الكتابة عن الإمام الأشعري رحمه الله من رجوعه إلى أهل السنة والجماعة وترك الاعتزال وعلم الكلام، حيث ظل الإمام الأشعري _ رحمه الله بعد رجوعه إلى الحق يدافع عن دين الله، ويؤلف في الرد على أهل الأهواء والبدع المخالفين لمذهب السلف إلى أن توفاه الله تعالى، فانتشرت كتبه في الآفاق، وتوزع تلامذته بين الأمصار ـ ولكن بعض متأخري الأشاعرة للأسف ـ خالفوا إمامهم في كثير من الأمور، وسلكوا طريقة ابن كلاب، والتي بين الأشعري في المقالات أنها ليست على طريقة أهل الحديث(1)، بل سار بعض أتباعه المتأخرين وهم قلة ولله الحمد، على منهج التجهم والاعتزال، والذي نسبوه ظلماً وجوراً لأهل السنة والجماعة، ولكن الحق يرفض ذلك، وكان الأحرى بهم والأولى أن يرجعوا إلى نصوص الوحيين وفهم السلف الصالح لهما، والذي تنبه له إمامهم رحمه الله في طوره الأخير، فكان الأحرى بهم إن كانوا حقاً منتسبين إليه أن يقفوا على منهجه، ويستفيدوا من كتبه وخاصة الإبانة، ورسالته إلى أهل الثغر، والمقالات وألا ينسبوا له زوراً وبهتاناً ما لم يقل به، ولتوضيح هذه الحقيقة اخترت الكتابة للإمام الأشعري ليكون موضوعاً لرسالتي وإني أسأل الله أن أكون قد وفقت فيما

--------------------------------------------

(1) انظر المقالات ص 138، 142، 144.
দ্বীনী ইলম অন্বেষণকারীদের জন্য ইমাম আশআরী (রহিমাহুল্লাহ)-এর আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের পথে প্রত্যাবর্তন এবং মুতাজিলা মতবাদ ও ইলমুল কালাম বর্জনের বিষয়টি নিয়ে লেখা আবশ্যক। কেননা ইমাম আশআরী (রহিমাহুল্লাহ) সত্যের পথে প্রত্যাবর্তনের পর আমৃত্যু আল্লাহর দ্বীনের প্রতিরক্ষা করে গেছেন এবং সালাফদের মাযহাবের বিরোধী প্রবৃত্তিপূজারী ও বিদআতিদের খণ্ডনে গ্রন্থ রচনা করেছেন। ফলে তাঁর গ্রন্থাবলি চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং তাঁর ছাত্ররা বিভিন্ন জনপদে ছড়িয়ে পড়েন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে পরবর্তী প্রজন্মের কিছু আশআরী অনেক বিষয়েই তাদের ইমামের বিরোধিতা করেছেন এবং ইবনে কুল্লাবের পথ অনুসরণ করেছেন, যা ইমাম আশআরী ‘আল-মাকালাত’ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন যে সেটি আহলুল হাদিসের মানহাজ নয়(১)। বরং তাঁর পরবর্তী অনুসারীদের কেউ কেউ—যাঁদের সংখ্যা আল্লাহর শুকরিয়া যে অতি সামান্য—জাহমিয়া ও মুতাজিলাদের মানহাজ অবলম্বন করেছেন, যা তাঁরা অন্যায় ও জুলুমভাবে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের দিকে নিসবত করেছেন; অথচ সত্য বিষয়টিকে প্রত্যাখ্যান করে। তাদের জন্য অধিক সমীচীন ও উত্তম ছিল ওহীর দুটি উৎসের (কুরআন ও সুন্নাহ) ভাষ্য এবং সেগুলোর ব্যাপারে সালাফে সালেহীনের উপলব্ধির দিকে ফিরে আসা, যে বিষয়টি তাদের ইমাম (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর জীবনের শেষ পর্যায়ে অনুধাবন করেছিলেন। তাই তারা যদি সত্যই তাঁর সাথে সম্পৃক্ত হয়ে থাকে, তবে তাদের জন্য অধিক যোগ্য ছিল তাঁর মানহাজের ওপর অটল থাকা এবং তাঁর গ্রন্থসমূহ থেকে উপকৃত হওয়া—বিশেষ করে ‘আল-ইবানাহ’, ‘রিসালাতু ইলা আহলিস সাঘর’ এবং ‘আল-মাকালাত’; এবং মিথ্যা ও অপবাদ দিয়ে তাঁর দিকে এমন কিছু নিসবত না করা যা তিনি বলেননি। এই সত্যটি স্পষ্ট করার লক্ষ্যেই আমি ইমাম আশআরী সম্পর্কে লেখাকে আমার অভিসন্দর্ভের বিষয়বস্তু হিসেবে বেছে নিয়েছি এবং আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন আমি এতে সফল হই...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-মাকালাত, পৃষ্ঠা ১৩৮, ১৪২, ১৪৪।
(খণ্ড: ১) আল-ইমামুল আশআরী হায়াতুহু ওয়া আতওয়ারুহু আল-আকাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٦)
كتبته، وأن يكتب لهذه الرسالة القبول وأن يجعلها ذخراً لي ولجميع من وقفوا معي، أو استفادوا منها في {يَوْمَ لَا يَنْفَعُ مَالٌ وَلَا بَنُونَ (88) إِلَّا مَنْ أَتَى اللَّهَ بِقَلْبٍ سَلِيمٍ (89)} [الشعراء].

 

‌‌أهمية البحث:

1 - انتشار المذهب الأشعري قديماً وحديثاً، حتى أصبحت تتبناه بعض الجامعات والمعاهد المنتشرة في العالم الإسلامي.

2 - إبراز أقوال أهل السنة والجماعة على لسان الإمام الأشعري رحمه الله أدعى لقبوله لدى المنتسبين إليه.

 

‌‌موضوع البحث:

موضوع البحث له علاقة وطيدة بالعقيدة؛ حيث إنّ الإمام الإشعري رحمه الله يتناول في مؤلفاته مسائل الصفات، والقدر، واليوم الآخر وما يتعلق فيه من رؤيا الرب ـ جلا وعلا ـ وإثبات الحوض، والصراط، والميزان، وعذاب القبر، والإمامة، وإثبات صحة خلافة الخلفاء الراشدين الأربعة رضي الله عنهم وغيرها من مسائل العقيدة، ويستدل لهذه المسائل بأدلة من الكتاب والسنة والعقل

 

‌‌أهداف الدراسة:

1 - بيان آراء أبي الحسن الأشعري التي توافق أهل السنة في هذا
আমি এটি লিখেছি, এবং তিনি যেন এই গবেষণাপত্রটিকে কবুল করেন এবং এটিকে আমার জন্য ও যারা আমার সাথে দাঁড়িয়েছেন বা এর দ্বারা উপকৃত হয়েছেন তাদের সবার জন্য সঞ্চয় হিসেবে রাখেন সেই দিনে {যেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনো উপকারে আসবে না (৮৮) তবে সেই ব্যক্তি ছাড়া যে আল্লাহর নিকট সুস্থ অন্তর নিয়ে উপস্থিত হবে (৮৯)} [আশ-শুআরা]।

 

‌‌গবেষণার গুরুত্ব:

১ - অতীতে ও বর্তমানে আশআরী মাযহাবের ব্যাপক প্রসার, এমনকি মুসলিম বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয় ও ইনস্টিটিউট বর্তমানে এটি গ্রহণ করেছে।

২ - ইমাম আশআরী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন)-এর ভাষায় আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের বক্তব্যসমূহ ফুটিয়ে তোলা, যা তাঁর অনুসারীদের নিকট এটি গ্রহণের ক্ষেত্রে অধিক কার্যকর।

 

‌‌গবেষণার বিষয়বস্তু:

গবেষণার বিষয়বস্তুর সাথে আকিদার সুদৃঢ় সম্পর্ক রয়েছে; যেহেতু ইমাম আশআরী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) তাঁর গ্রন্থসমূহে আল্লাহর গুণাবলি (সিফাত), তাকদির, পরকাল এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট মহান রবের দর্শন, হাওয, সিরাত, মীযান, কবরের আজাব, ইমামত এবং চার খিলাফায়ে রাশিদীনের (আল্লাহ তাঁদের ওপর সন্তুষ্ট হোন) খিলাফতের সত্যতা প্রমাণসহ আকিদার অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি এই বিষয়গুলোর স্বপক্ষে কুরআন, সুন্নাহ এবং বিবেকপ্রসূত দলিল উপস্থাপন করেছেন।

 

‌‌গবেষণার উদ্দেশ্যসমূহ:

১ - আবু الحسن আল-আশআরীর সেই সকল মতামতের বর্ণনা যা এক্ষেত্রে আহলুস সুন্নাহর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
(খণ্ড: ১) আল-ইমামুল আশআরী হায়াতুহু ওয়া আতওয়ারুহু আল-আকাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٧)
الكتاب، وتخالف ما عليه متأخرو الأشاعرة، وخاصة في مسائل الصفات الخبرية، والعلو، والاستواء.

2 - إبراز وجوه الارتباط في الاستدلال عند الأشعري بين النقل والعقل.

 

‌‌حدود الدراسة:

دراسة حياة الإمام الأشعري رحمه الله وما مر به من أطوار.

 

‌‌إجراءات الدراسة:

الإجراءات التي سوف أسير عليها بإذنه تعالى في هذه الدراسة تتلخص فيما يلي:

1 - ذكر مقدمة تبين أهمية الموضوع وخطة البحث ومنهجي فيه.

2 - الاعتناء بعزو الآيات القرآنية بذكر اسم السورة ورقم الآية.

3 - وأما الأحاديث والآثار فخرجتها من مصادرها الأصلية مضيفًا إلى ذلك الحكم عليهما حسب ما وقفت عليه من أقوال أهل العلم بشيء من الاختصار، وإن كان في ا لصحيحين أو أحدهما. اكتفيت بعزوه إليهما.

4 - نسبة الأقوال إلى قائليها، وذلك بأخذ الحكم والكلام من مصادره الأصلية المعتمدة تفاديًا لحصول الخطأ وتمسكًا بمنهج البحث
বইটি পরবর্তী আশআরিদের মতের পরিপন্থী, বিশেষ করে সিফাতে খাবারিয়া (সংবাদমূলক গুণাবলি), উচ্চতা এবং (আরশের উপর) ওঠার মাসআলাগুলোতে।

২ - আল-আশআরির নিকট দলিল উপস্থাপনের ক্ষেত্রে বর্ণনা (নকল) ও বুদ্ধির (আকল) মধ্যকার সম্পর্কের দিকগুলো ফুটিয়ে তোলা।

 

‌‌অধ্যয়নের পরিধি:

ইমাম আশআরি (রাহিমাহুল্লাহ)-এর জীবন এবং তিনি যেসব পর্যায়ের মধ্য দিয়ে গিয়েছেন তার অধ্যয়ন।

 

‌‌অধ্যয়নের পদ্ধতিসমূহ:

আল্লাহ তাআলার অনুমতিক্রমে এই গবেষণায় আমি যে পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করব তা সংক্ষেপে নিম্নরূপ:

১ - একটি ভূমিকা উল্লেখ করা যা বিষয়টির গুরুত্ব, গবেষণার পরিকল্পনা এবং এতে আমার অনুসৃত পদ্ধতি স্পষ্ট করে।

২ - সূরার নাম ও আয়াতের নম্বর উল্লেখ করে কুরআনের আয়াতগুলোর উৎস নির্দেশ করার প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়া।

৩ - আর হাদিস ও আছারসমূহের (সাহাবী ও তাবিঈদের বর্ণনা) ক্ষেত্রে আমি সেগুলো মূল উৎস থেকে উদ্ধৃত করেছি এবং আলেমদের বক্তব্যের আলোকে সংক্ষেপে সেগুলোর নির্ভরযোগ্যতার মান উল্লেখ করেছি। আর যদি তা সহীহাইন (বুখারি ও মুসলিম) বা এর কোনো একটিতে থাকে, তবে কেবল সেগুলোর দিকে সম্বন্ধ করাকেই যথেষ্ট মনে করেছি।

৪ - বক্তব্যসমূহকে তাদের মূল প্রবক্তাদের দিকে সম্বন্ধ করা; আর তা করা হয়েছে ভুল এড়াতে এবং গবেষণার পদ্ধতির ওপর অবিচল থাকতে মূল ও নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে বক্তব্য গ্রহণের মাধ্যমে।
(খণ্ড: ১) আল-ইমামুল আশআরী হায়াতুহু ওয়া আতওয়ারুহু আল-আকাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٨)
السليم فإذا كان الكلام المنقول بعينه وضع بين قوسين وكتب في الهامش المرجع مباشرة، وإذا كان المقصود الإحالة أو مع شيء من الاختصار كتب في الهامش انظر.

5 - إيضاح الألفاظ الغامضة بالرجوع إلى القواميس التي تعتني بذلك.

6 - التعريف بالأعلام وعرفت بالبلدان الواردة في أصل الدراسة.

 

‌‌تصور أجزاء الدراسة، ويشمل المقدمة والتمهيد وأربعة فصول.

المقدمة:

التمهيد ويشمل:

1 - أهمية البحث.

2 - موضوع البحث.

3 - مشكلة البحث.

4 - أهداف الدراسة.

5 - حدود الدراسة.

6 - الصعوبات التي واجهها الباحث.

7 - إجراءات الدراسة.
নির্ভুল; সুতরাং যদি উদ্ধৃত কথাটি হুবহু نقل করা হয় তবে তা বন্ধনীর মধ্যে রাখা হয়েছে এবং সরাসরি পাদটীকায় উৎস উল্লেখ করা হয়েছে, আর যদি উদ্দেশ্য হয় কেবল কোনো বিষয়ের দিকে নির্দেশ করা বা সংক্ষেপ করা তবে পাদটীকায় 'দেখুন' লেখা হয়েছে।

৫ - এই বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট অভিধানসমূহের সাহায্য নিয়ে অস্পষ্ট শব্দাবলি স্পষ্ট করা।

৬ - ব্যক্তিবর্গের পরিচয় প্রদান এবং মূল গবেষণায় উল্লিখিত দেশসমূহের পরিচয় প্রদান।

 

‌‌গবেষণার অংশসমূহের রূপরেখা, এতে ভূমিকা, মুখবন্ধ এবং চারটি অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ভূমিকা:

মুখবন্ধ এবং এতে রয়েছে:

১ - গবেষণার গুরুত্ব।

২ - গবেষণার বিষয়বস্তু।

৩ - গবেষণার সমস্যা।

৪ - গবেষণার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ।

৫ - গবেষণার পরিসীমা।

৬ - গবেষক যেসকল সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন।

৭ - গবেষণার কার্যপদ্ধতি।
(খণ্ড: ১) আল-ইমামুল আশআরী হায়াতুহু ওয়া আতওয়ারুহু আল-আকাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٩)
قسم الدراسة، ويحتوي على أربعة فصول:

الفصل الأول: حياة أبي الحسن الأشعري وفيه مباحث:

المبحث الأول: اسمه ونسبه.

المبحث الثاني: كنيته ولقبه.

المبحث الثالث: ولادته تاريخها ومكانها.

المبحث الرابع: ثناء العلماء عليه.

المبحث الخامس: مذهبه الفقهي.

المبحث السادس: شيوخه.

المبحث السابع: تلاميذه.

المبحث الثامن: وفاته.

الفصل الثاني: عصره، وفيه مباحث:

المبحث الأول: الحالة السياسية.

المبحث الثاني: الحالة الاجتماعية.

المبحث الثالث: الناحية العلمية.

الفصل الثالث: تطوّر حياته العقدية والفكرية، وفيه مباحث:

المبحث الأول: طور الاعتزال.
অধ্যয়ন বিভাগ, যা চারটি অধ্যায় নিয়ে গঠিত:

প্রথম অধ্যায়: আবুল হাসান আল-আশআরীর জীবন এবং এতে রয়েছে কয়েকটি পরিচ্ছেদ:

প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর নাম ও বংশপরিচয়।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর উপনাম ও উপাধি।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর জন্ম, এর তারিখ ও স্থান।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: তাঁর প্রতি আলেমগণের প্রশংসা।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: তাঁর ফিকহী মাযহাব।

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: তাঁর উস্তাদগণ।

সপ্তম পরিচ্ছেদ: তাঁর ছাত্রগণ।

অষ্টম পরিচ্ছেদ: তাঁর মৃত্যু।

দ্বিতীয় অধ্যায়: তাঁর যুগ এবং এতে রয়েছে কয়েকটি পরিচ্ছেদ:

প্রথম পরিচ্ছেদ: রাজনৈতিক অবস্থা।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সামাজিক অবস্থা।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: জ্ঞানতাত্ত্বিক দিক।

তৃতীয় অধ্যায়: তাঁর আকীদাগত ও বুদ্ধিবৃত্তিক জীবনের বিবর্তন এবং এতে রয়েছে কয়েকটি পরিচ্ছেদ:

প্রথম পরিচ্ছেদ: মুতাজিলা মতবাদের পর্যায়।
(খণ্ড: ১) আল-ইমামুল আশআরী হায়াতুহু ওয়া আতওয়ারুহু আল-আকাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ١٠)
المبحث الثاني: أسباب رجوعه عن الاعتزال.

المبحث الثالث: ما بعد مرحلة الاعتزال.

الفصل الرابع: مؤلفاته، وفيه مباحث:

المبحث الأول: المصنفات التي وصلت إلينا وبعضها مطبوع الآن.

المبحث الثاني: النسخ المخطوطة.

المبحث الثالث: المؤلفات التي لم تصل إلينا ونسبها بعض الباحثين للأشعري.

المبحث الرابع: الكتب التي ألفها من سنة 320 إلى وفاته سنة 324.

تم تذييل البحث بالفهارس التالية:

- فهرس الآيات القرآنية.

- فهرس الأحاديث النبوية.

- فهرس الآثار.

- فهرس الأعلام المترجم لهم في الحاشية.

- فهرس الفرق والطوائف والملل.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ই'তিযাল (মু'তাযিলা মতবাদ) থেকে তাঁর ফিরে আসার কারণসমূহ।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ই'তিযাল পরবর্তী পর্যায়।

চতুর্থ অধ্যায়: তাঁর রচনাবলী, এবং এতে রয়েছে কয়েকটি পরিচ্ছেদ:

প্রথম পরিচ্ছেদ: ঐ সকল গ্রন্থ যা আমাদের কাছে পৌঁছেছে এবং যার কিছু বর্তমানে মুদ্রিত।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: পাণ্ডুলিপিসমূহ।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ঐ সকল রচনাবলী যা আমাদের কাছে পৌঁছেনি এবং কোনো কোনো গবেষক সেগুলোকে আশ'আরীর দিকে নিসবত (আরোপ) করেছেন।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: ৩২০ হিজরি থেকে ৩২৪ হিজরিতে তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত রচিত গ্রন্থসমূহ।

গবেষণাটি নিম্নোক্ত সূচিপত্রসমূহ দ্বারা সমাপ্ত করা হয়েছে:

- কুরআনের আয়াতসমূহের সূচি।

- হাদীসসমূহের সূচি।

- আছারসমূহের (সাহাবী ও তাবিঈগণের বাণী) সূচি।

- পাদটীকায় জীবনী বর্ণিত ব্যক্তিবর্গের সূচি।

- বিভিন্ন দল, উপদল এবং ধর্ম ও মতাদর্শের সূচি।
(খণ্ড: ১) আল-ইমামুল আশআরী হায়াতুহু ওয়া আতওয়ারুহু আল-আকাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ١١)
- فهرس الكلمات الغريبة

- فهرس الأماكن والبلدان.

- فهرس المراجع.

- فهرس محتويات البحث.
- অপরিচিত শব্দাবলির নির্ঘণ্ট

- স্থান ও দেশসমূহের নির্ঘণ্ট।

- তথ্যসূত্রের নির্ঘণ্ট।

- বিষয়বস্তুর সূচিপত্র।
(খণ্ড: ১) আল-ইমামুল আশআরী হায়াতুহু ওয়া আতওয়ারুহু আল-আকাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ١٥)
الفصل الأول

حياة أبي الحسن الأشعري

وفيه ثمانية مباحث

المبحث الأول: اسمه ونسبه.

المبحث الثاني: كنيته ولقبه.

المبحث الثالث: ولادته تاريخها ومكانها.

المبحث الرابع: ثناء العلماء عليه.

المبحث الخامس: مذهبه الفقهي.

المبحث السادس: شيوخه.

المبحث السابع: تلاميذه.

المبحث الثامن: وفاته.
প্রথম অধ্যায়

আবুল হাসান আল-আশআরীর জীবন

এতে আটটি পরিচ্ছেদ রয়েছে

প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর নাম ও বংশপরিচয়।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর উপনাম ও উপাধি।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর জন্মের তারিখ ও স্থান।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: তাঁর সম্পর্কে আলেমগণের প্রশংসা।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: তাঁর ফিকহি মাযহাব।

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: তাঁর শিক্ষকবৃন্দ।

সপ্তম পরিচ্ছেদ: তাঁর ছাত্রবৃন্দ।

অষ্টম পরিচ্ছেদ: তাঁর মৃত্যু।
(খণ্ড: ১) আল-ইমামুল আশআরী হায়াতুহু ওয়া আতওয়ারুহু আল-আকাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ١٦)
الفصل الأول: حياة أبي الحسن الأشعري، وفيه مباحث:

 

‌‌المبحث الأول: اسمه ونسبه

هو أبو الحسن علي بن إسماعيل بن أبي بشر إسحاق بن سالم بن إسماعيل بن عبد الله بن موسى بن بلال بن أبي بردة بن صاحب رسول الله صلى الله عليه وسلم، أبو موسى عبد الله بن قيس بن حضار الأشعري اليماني الأصل البصري المولد. أما والده، فهو أبو إسماعيل بن إسحاق كان من أهل السنة والجماعة، كما كان محدثاً، ويدل على ذلك أن والده لما حضرته الوفاة، وكان ابنه علي صغيراً، أوصى به إلى أحد أئمة الحديث، وهو الإمام زكريا بن يحيى الساجي(1). ولاشك أن هذا يؤكد أن والده كان من أهل السنة والجماعة حيث قال ابن عساكر(2): ذكر الإمام أبو بكر بن فورك(3): أن أباه أبو بشر

--------------------------------------------

(1) هو أبو يحيى زكريا بن يحيى بن عبد الرحمن الساجي، الشافعي، كان من أئمة الحديث؛ له كتاب (اختلاف العلماء وكتاب علل الحديث) قال عنه الذهبي: الإمام الثبت الحافظ، محدث البصرة وشيخها ومفتيها، أخذ عنه أبو الحسن الأِشعري مقالة السلف في الصفات، توفي سنة (307) بالبصرة، انظر سير أعلام النبلاء (14/ 197) باختصار.

(2) أبو القاسم علي بن الحسن بن هبة الله بن عبد الله بن الحسين بن عساكر الشافعي. ولد سنة (499 هـ) وكان من أئمة أهل الحديث في زمانه. توفي سنة (570) هـ في دمشق. انظر مقدمة تهذيب تاريخ دمشق (1/ 7) وانظر شذرات الذهب 6/ 395 والسير 20/ 554.

(3) هو محمد بن الحسن بن فُوَركِ، أبو بكر الأنصاري، الأصبهاني. قال عنه الذهبي: الإمام العلامة الصالح، شيخ المتكلمين، حدث عنه أبو بكر البيهقي، وصنف التصانيف الكثيرة كان أشعرياً، رأساً في فن الكلام، روى عنه الحاكم حديثاً، وقال عنه ابن عساكر: قال عنه عبد الغفار بن إسماعيل: محمد بن الحسن بن فُوَرك أبو بكر، بلغت تصانيفه في أصول الدين، وأصول الفقه، ومعاني القرآن، قريباً من المئة، توفي سنة (406) هـ. انظر سير أعلام النبلاء (17/ 214). و تبيين كذب المفتري ص 232.
প্রথম অধ্যায়: আবুল হাসান আল-আশআরীর জীবন, এবং এতে রয়েছে কতিপয় পরিচ্ছেদ:

 

‌‌প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর নাম ও বংশপরিচয়

তিনি হলেন আবু الحسن আলী বিন ইসমাঈল বিন আবি বিশর ইসহাক বিন সালিম বিন ইসমাঈল বিন আব্দুল্লাহ বিন মুসা বিন বিলাল বিন আবি বুরদাহ বিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবী আবু মুসা আব্দুল্লাহ বিন কায়স বিন হাযার আল-আশআরী। তাঁর মূল বংশ ইয়ামেনি এবং জন্মসূত্রে তিনি বসরার নিবাসী। তাঁর পিতার ব্যাপারে বলা যায়, তিনি ছিলেন আবু ইসমাঈল বিন ইসহাক, যিনি আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি ছিলেন একজন মুহাদ্দিস। এর প্রমাণ হলো, তাঁর পিতার যখন মৃত্যু ঘনিয়ে আসে এবং তাঁর পুত্র আলী তখন শিশু ছিলেন, তখন তিনি তাঁর পুত্রকে হাদিসের অন্যতম ইমাম জাকারিয়া বিন ইয়াহইয়া আস-সাজি(১)-এর নিকট সমর্পণ করার অসিয়ত করে যান। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এটি নিশ্চিত করে তাঁর পিতা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের অনুসারী ছিলেন। যেমন ইবনে আসাকির(২) বলেছেন: ইমাম আবু বকর বিন ফুরাক(৩) উল্লেখ করেছেন যে: তাঁর পিতা আবু বিশর

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন আবু ইয়াহইয়া জাকারিয়া বিন ইয়াহইয়া বিন আব্দুর রহমান আস-সাজি, শাফেয়ী। তিনি হাদিসের ইমামদের একজন ছিলেন; তাঁর রচিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে (ইখতিলাফুল উলামা এবং কিতাবু ইলালিল হাদিস)। ইমাম যাহাবী তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য ইমাম ও হাফেজ, বসরার মুহাদ্দিস, সেখানকার প্রধান শায়খ ও মুফতি। আবুল হাসান আল-আশআরী তাঁর কাছ থেকেই সিফাত বা গুণাবলি সংক্রান্ত সালাফদের অভিমত গ্রহণ করেছিলেন। তিনি ৩০৭ হিজরিতে বসরায় মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১৪/১৯৭), সংক্ষেপে।

(২) আবু আল-কাসিম আলী বিন আল-হাসান বিন হিবাতুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহ বিন আল-হুসাইন বিন আসাকির আশ-শাফেয়ী। তিনি ৪৯৯ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং তাঁর সময়ের হাদিস শাস্ত্রের অন্যতম ইমাম ছিলেন। ৫৭০ হিজরিতে দামেস্কে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: মুকাদ্দিমাতু তাহযিবি তারিখি দিমাস্ক (১/৭), শাযারাতুয যাহাব ৬/৩৯৫ এবং সিয়ার ২০/৫৫৪।

(৩) তিনি হলেন মুহাম্মদ বিন আল-হাসান বিন ফুরাক, আবু বকর আল-আনসারী, আল-আসবাহানী। ইমাম যাহাবী তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: তিনি আল্লামা ও নেককার ইমাম, ইলমুল কালাম শাস্ত্রের পণ্ডিতদের শায়খ। আবু বকর আল-বায়হাকী তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি প্রচুর গ্রন্থ রচনা করেছেন। তিনি আশআরী মতাদর্শের অনুসারী ও ইলমুল কালামে শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন। ইমাম হাকীম তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। ইবনে আসাকির তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: আব্দুল গাফফার বিন ইসমাঈল তাঁর সম্পর্কে বলেন: মুহাম্মদ বিন আল-হাসান বিন ফুরাক আবু বকর—উসুলুদ্দীন, উসুলুল ফিকহ এবং কুরআনের মর্মার্থ বিষয়ে তাঁর রচিত গ্রন্থের সংখ্যা প্রায় একশর কাছাকাছি। তিনি ৪০৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১৭/২১৪) এবং তাবয়িনু কাযিবিল মুফতারি, পৃষ্ঠা ২৩২।
(খণ্ড: ১) আল-ইমামুল আশআরী হায়াতুহু ওয়া আতওয়ারুহু আল-আকাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ١٧)
إسماعيل بن إسحاق، كان سنيًا، جماعيًا، حديثياً حيث أوصى به أبو الحسن عند وفاته إلى زكريا بن يحيى الساجي رحمه الله وهو إمام في الفقه والحديث، وله كتب منها: كتاب اختلاف الفقهاء، وكان يذهب مذهب الشافعي، وقد روى عنه الشيخ أبو الحسن الأشعري في كتاب التفسير أحاديث كثيرة ـ يعني الساجي ـ(1) ونسبه ينتهي إلى الصحابي الجليل أبي موسى الأشعري

--------------------------------------------

(1) انظر تبيين كذب المفتري ص 35
ইসমাইল ইবনে ইসহাক; তিনি ছিলেন সুন্নাহর অনুসারী, জামাতের অনুসারী ও হাদিস বিশেষজ্ঞ। যেহেতু আবুল হাসান তাঁর ইন্তেকালের সময় জাকারিয়া ইবনে ইয়াহইয়া আস-সাজি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন)-এর নিকট অসিয়ত করেছিলেন, আর তিনি ছিলেন ফিকহ ও হাদিস শাস্ত্রের একজন ইমাম। তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে অন্যতম হলো: 'কিতাবু ইখতিলাফিল ফুকাহা'। তিনি শাফেয়ি মাজহাবের অনুসারী ছিলেন। শায়খ আবুল হাসান আল-আশআরি তাঁর তাফসির গ্রন্থে তাঁর থেকে—অর্থাৎ আস-সাজি থেকে—অনেক হাদিস বর্ণনা করেছেন(১) এবং তাঁর বংশধারা মহান সাহাবী আবু মুসা আল-আশআরি পর্যন্ত পৌঁছেছে।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তাবয়ীনু কাযিবিল মুফতারি, পৃষ্ঠা ৩৫।
(খণ্ড: ১) আল-ইমামুল আশআরী হায়াতুহু ওয়া আতওয়ারুহু আল-আকাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ١٨)
- رضي الله عنه(1). وقد طعن الحسن بن علي الأهوازي(2) في صحة نسبه إلى الصحابي الجليل أبي الحسن الأشعري رضي الله عنه حيث قال: (ومن أعجب الأشياء أنه ليس يعرف بالبصرة إلا بابن أبي بشر، وأصحابه ينفرون من هذا الاسم ولا يصفونه به، وسمعت شيوخاً من أهل البصرة يقولون: ما فرارهم من هذا الاسم إلا لسبب؛ وذلك أن جده أبا بشر كان يهودياً أسلم على يد رجل ينسب إلى الأشعريين، فانتسب إلى ذلك. والله أعلم)(3). وقد رد عليه ابن عساكر حيث قال: «إن في إطباق الناس على تسميته بالأشعري تكذيباً لما قاله هذا المفتري»(4)، ثم بين خطأ الطعن بالحديث الصحيح وهو قوله صلى الله عليه وسلم: «أربع في أمتي من أمر الجاهلية لن يدعوهن: التطاعن في الأنساب»(5). ثم بين أن مجرد الانتساب لا ينفع إذا

--------------------------------------------

(1) هو الصحابي الجليل عبد الله بن قيس أبو موسى الأشعري، التقى بجعفر بن أبي طالب في الحبشة ثم خرج معه إلى المدينة مسلماً. استعمله النبي صلى الله عليه وسلم على زبيد، وعدن، وساحل اليمن، واستعمله عمر على الكوفة والبصرة؛ وكان من أحسن أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم صوتاً، وروى له الجماعة ومناقبه وفضائله كثيرة جداً توفي رضي الله عنه سنة (42) وقيل: سنة (50) وقيل: (51) وقيل: (52) وقيل: (53) في مكة وهو ابن 63 سنة. انظر: تهذيب الكمال (15/ 446) وطبقات ابن سعد (2/ 344) وسير أعلام النبلاء (2/ 380).

(2) هو أبو علي الأهوازي، الحسن بن علي بن إبراهيم، المقرئ المحدث، مقرئ أهل الشام، وصاحب التصانيف، قال عنه الذهبي: هو الشيخ الإمام العلامة، ولد سنة 362 هـ، وألف كتاباً طويلاً في الصفات فيه كذب، توفي ـ سامحه الله ـ سنة 446 هـ قال الزركلي: كان يحط على الأشعري قلت: وقد استطال ابن عساكر في ذمه. غفر الله للجميع. انظر: سير أعلام النبلاء 18/ 13، وشذرات الذهب 5/ 199، وتبيين كذب المفتري ص 364، والأعلام للزركلي.

(3) انظر مثال ابن أبي بشر ص 185.

(4) انظر تبيين كذب المفتري ص 35.

(5) أخرجه أحمد في المسند برقم (9872) وبلفظ آخر برقم (7908) كما أخرجه الترمذي في كتاب الجنائز باب ما جاء في كراهية النوح حديث رقم (1001) كما أخرجه الطيالسي برقم (2395) قال عنه أبو عيسى: هذا حديث حسن، وحسنه الألباني في سلسلة الأحاديث برقم (735)، وقال عنه شعيب: حديث صحيح، وهذا إسناد حسن. انظر: الموسوعة الحديثية (15/ 539).
আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন(১)। হাসান বিন আলী আল-আহওয়াজি(২) মহান সাহাবী আবু হাসান আল-আশ’আরি (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন)-এর সাথে তাঁর বংশীয় সম্পর্কের বিশুদ্ধতা নিয়ে কটাক্ষ করেছেন এবং বলেছেন: (সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো যে, বসরায় তিনি কেবল ইবনে আবি বিশর নামেই পরিচিত ছিলেন। তাঁর অনুসারীরা এই নামটিকে অপছন্দ করেন এবং তাঁকে এই নামে অভিহিত করেন না। আমি বসরার প্রবীণ ব্যক্তিদের বলতে শুনেছি: তাদের এই নাম থেকে পালানোর একটি কারণ রয়েছে; আর তা হলো তাঁর দাদা আবু বিশর একজন ইহুদি ছিলেন, যিনি আশ’আরি গোত্রের এক ব্যক্তির হাতে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন এবং পরে সেই বংশের সাথে নিজেকে সম্পর্কিত করেছিলেন। আল্লাহই ভালো জানেন)(৩)। ইবনে আসাকির এর প্রতিবাদ করে বলেছেন: «মানুষের তাকে আশ’আরি হিসেবে ডাকার সর্বসম্মত ঐকমত্যই এই মিথ্যাবাদীর দাবিকে মিথ্যা প্রমাণ করে»(৪)। অতঃপর তিনি একটি সহীহ হাদিসের মাধ্যমে এই বংশীয় অপবাদের ভুল তুলে ধরেন, যা হলো রাসূলুল্লাহ (আল্লাহর শান্তি ও আশীর্বাদ তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-এর বাণী: «আমার উম্মতের মধ্যে জাহিলিয়াতের চারটি বিষয় রয়েছে যা তারা পরিহার করবে না: বংশমর্যাদা নিয়ে কটাক্ষ করা»(৫)। এরপর তিনি স্পষ্ট করেন যে, নিছক বংশীয় সম্পর্ক কোনো উপকারে আসে না যদি

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন মহান সাহাবী আব্দুল্লাহ বিন কায়স আবু মুসা আল-আশ’আরি। তিনি হাবাশায় জাফর বিন আবি তালিবের সাথে সাক্ষাৎ করেন, অতঃপর তাঁর সাথে মুসলিম হিসেবে মদিনায় আগমন করেন। নবী (আল্লাহর শান্তি ও আশীর্বাদ তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) তাঁকে জাবিদ, এডেন এবং ইয়েমেনের উপকূলীয় অঞ্চলের দায়িত্ব প্রদান করেন। ওমর (রা.) তাঁকে কুফা ও বসরার গভর্নর নিযুক্ত করেছিলেন। তিনি নবী (আল্লাহর শান্তি ও আশীর্বাদ তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-এর সাহাবীদের মধ্যে অত্যন্ত সুকণ্ঠের অধিকারী ছিলেন। তাঁর মাধ্যমে একদল মুহাদ্দিস হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর গুণাবলি ও মর্যাদা অপরিসীম। তিনি মক্কায় ৪২ হিজরি (মতান্তরে ৫০, ৫১, ৫২ বা ৫৩ হিজরি) সনে ৬৩ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: তাহজিব আল-কামাল (১৫/ ৪৪৬), তাবাকাত ইবনে সাদ (২/ ৩৪৪) এবং সিয়ারু আলামিন নুবালা (২/ ৩৮০)।

(২) তিনি হলেন আবু আলী আল-আহওয়াজি, হাসান বিন আলী বিন ইব্রাহিম, ক্বারী ও মুহাদ্দিস, শামবাসীদের ক্বারী এবং বহু গ্রন্থের প্রণেতা। আয-যাহাবি তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: তিনি শায়খ, ইমাম, মহাজ্ঞানী পণ্ডিত। তিনি ৩৬২ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি আল্লাহর গুণাবলি (সিফাত) সম্পর্কে একটি দীর্ঘ গ্রন্থ রচনা করেছেন যাতে মিথ্যাচার রয়েছে। আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন—তিনি ৪৪৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। আয-যারকালি বলেছেন: তিনি আল-আশ’আরিকে অবজ্ঞা করতেন। আমি (গ্রন্থকার) বলছি: ইবনে আসাকির তাঁর সমালোচনায় দীর্ঘ আলোচনা করেছেন। আল্লাহ সকলকে ক্ষমা করুন। দেখুন: সিয়ারু আলামিন নুবালা ১৮/ ১৩, শাযারাতুয যাহাব ৫/ ১৯৯, তাবয়িনু কাযিবিল মুফতারি পৃ. ৩৬৪ এবং আয-যারকালির আল-আলাম।

(৩) দেখুন: মেসাল ইবনে আবি বিশর, পৃ. ১৮৫।

(৪) দেখুন: তাবয়িনু কাযিবিল মুফতারি, পৃ. ৩৫।

(৫) এটি আহমাদ তাঁর মুসনাদে বর্ণনা করেছেন, নম্বর (৯৮৭২) এবং ভিন্ন শব্দে নম্বর (৭৯০৮)। তিবরানি এটি জানাযা অধ্যায়ে 'বিলাপ করা অপছন্দনীয়' পরিচ্ছেদে বর্ণনা করেছেন, হাদিস নম্বর (১০০১)। আত-তায়ালিসি এটি বর্ণনা করেছেন নম্বর (২৩৯৫)। আবু ঈসা (তিরমিজি) এটি সম্পর্কে বলেছেন: এই হাদিসটি হাসান। আলবানী ‘সিলসিলাতুল আহাদিস’ গ্রন্থে একে হাসান বলেছেন, নম্বর (৭৩৫)। শুআইব আরনাউত বলেছেন: হাদিসটি সহীহ এবং এর সনদ হাসান। দেখুন: আল-মাওসুআতুল হাদিসিয়্যাহ (১৫/ ৫৩৯)।
(খণ্ড: ১) আল-ইমামুল আশআরী হায়াতুহু ওয়া আতওয়ারুহু আল-আকাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ١٩)
عُري المنتسب عن فعل الخير والاكتساب وهذا مما لا يدفع، إلا أن الأصل إذا طاب وسما زكا الفرع المنسوب إليه ونما لاسيما إذا كان الفرع طيباً في نفسه مميزاً بالصفات الحميدة عن أبناء جنسه مشهوداً له بالزكاء في نبته وغرسه مشهوراً بحسن فهمه وصحة حسه، وقد استدل بحفظ الله تعالى للأبناء كثمرة لصلاح آبائهم بقوله تعالى: {وَأَمَّا الْجِدَارُ فَكَانَ لِغُلَامَيْنِ يَتِيمَيْنِ فِي الْمَدِينَةِ وَكَانَ تَحْتَهُ كَنْزٌ لَهُمَا وَكَانَ أَبُوهُمَا صَالِحًا فَأَرَادَ رَبُّكَ أَنْ يَبْلُغَا أَشُدَّهُمَا وَيَسْتَخْرِجَا كَنْزَهُمَا رَحْمَةً مِنْ رَبِّكَ وَمَا فَعَلْتُهُ عَنْ أَمْرِي ذَلِكَ تَأْوِيلُ مَا لَمْ تَسْطِعْ عَلَيْهِ صَبْرًا (82)}(1) كما أراد أن يبين فضل الأشعري بفضل نسبه بقوله صلى الله عليه وسلم: «الناس معادن، خيارهم في الجاهلية، خيارهم في الإسلام، إذا فقهوا»(2) ثم استطرد في ذكر الأدلة في تأكيد هذا المعنى(3).

قلت: والأمر لا يحتمل كل هذا فالأكرم عند الله هو الأتقى كما قال تعالى: {إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِنْدَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ}(4). فإن انضم إلى التقى نسب شريف فنورٌ على نور، وإلا فلا يضر من لا نسب له شيء إذا كان صالحاً

--------------------------------------------

(1) سورة الكهف الآية [82].

(2) أخرجه البخاري في كتاب أحاديث الأنبياء، باب: قوله تعالى: {لقد كان في يوسف وإخوته آيات للسائلين} حديث رقم [3383]. وأخرجه مسلم في كتاب الفضائل، باب من فضائل يوسف عليه السلام. برقم [2378].

(3) انظر تبيين كذب المفتري من صـ (364 - 376).

(4) سورة الحجرات، آية: 13.
বংশ পরম্পরায় সৎকর্ম ও উপার্জনের অভাব একটি অনস্বীকার্য বিষয়; তবে মূল যখন পবিত্র ও উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন হয়, তখন তার সাথে সম্পৃক্ত শাখাও পবিত্র হয় এবং প্রবৃদ্ধি লাভ করে। বিশেষ করে যখন শাখাটি নিজেও সত্তাগতভাবে পবিত্র হয় এবং নিজ শ্রেণীর অন্যদের থেকে প্রশংসনীয় গুণাবলির মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়, যার বেড়ে ওঠা ও বিকাশের মাঝে পবিত্রতা দৃশ্যমান এবং যে তার উত্তম বোধশক্তি ও সঠিক অনুভূতির জন্য সুপরিচিত। আর পিতামাতার নেক আমলের ফল হিসেবে সন্তানদের প্রতি মহান আল্লাহর পক্ষ হতে যে সুরক্ষা থাকে, তার প্রমাণ হিসেবে মহান আল্লাহর এই বাণী পেশ করা হয়েছে: "আর ঐ প্রাচীরটির কথা, সেটি ছিল শহরের দুই ইয়াতীম বালকের, তার নিচে ছিল তাদের জন্য রক্ষিত এক গুপ্তধন এবং তাদের পিতা ছিল একজন সৎকর্মশীল ব্যক্তি। সুতরাং তোমার প্রতিপালক চাইলেন যে, তারা তাদের যৌবনে পদার্পণ করুক এবং তোমার প্রতিপালকের পক্ষ হতে রহমতস্বরূপ তাদের সেই গুপ্তধনটি বের করে আনুক। আর আমি যা করেছি তা নিজ ইচ্ছায় করিনি; যে বিষয়ে তুমি ধৈর্য ধারণে সক্ষম হওনি, এটিই হলো তার তাৎপর্য (৮২)"(১)। যেমনটি তিনি আল-আশআরীর শ্রেষ্ঠত্ব তার বংশের শ্রেষ্ঠত্বের মাধ্যমে স্পষ্ট করতে চেয়েছেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীর মাধ্যমে: "মানুষ খনির ন্যায়; তাদের মধ্যে যারা জাহিলিয়াতের যুগে উত্তম ছিল, তারা ইসলামেও উত্তম, যদি তারা দ্বীনি প্রজ্ঞা লাভ করে"(২)। এরপর তিনি এই মর্মটিকে সুদৃঢ় করতে আরও দলিল বর্ণনা করেছেন(৩)।

আমি বলছি: বিষয়টি এতোটা ভারবাহী নয়; কেননা আল্লাহর নিকট সর্বাধিক মর্যাদাবান ব্যক্তি তিনিই, যিনি সবচেয়ে বেশি তাকওয়াবান। যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: "নিশ্চয় আল্লাহর নিকট তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই সর্বাধিক মর্যাদাসম্পন্ন, যে তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি তাকওয়াবান"(৪)। সুতরাং যদি তাকওয়ার সাথে উচ্চ বংশের সমন্বয় ঘটে, তবে তা আলোর ওপর আলো; অন্যথায় কোনো ব্যক্তি সৎকর্মশীল হলে বংশীয় আভিজাত্য না থাকা তার কোনো ক্ষতি করে না।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-কাহাফ, আয়াত [৮২]।

(২) এটি বুখারী আম্বিয়া আলাইহিমুস সালামের হাদীস অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন, পরিচ্ছেদ: মহান আল্লাহর বাণী: {অবশ্যই ইউসুফ ও তার ভাইদের মাঝে প্রশ্নকারীদের জন্য নিদর্শনাবলী রয়েছে} হাদীস নম্বর [৩৩৮৩]। এবং মুসলিম এটি ফাজায়েল অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন, ইউসুফ আলাইহিস সালামের ফাজায়েল পরিচ্ছেদে, নম্বর [২৩৭৮]।

(৩) দেখুন: তাবয়ীনু কাযিবিল মুফতারী, পৃষ্ঠা ৩৬৪ - ৩৭৬।

(৪) সূরা আল-হুজুরাত, আয়াত: ১৩।
(খণ্ড: ১) আল-ইমামুল আশআরী হায়াতুহু ওয়া আতওয়ারুহু আল-আকাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٢٠)
تقياً، وخير ما يؤكد ذلك بلال بن رباح الحبشي رضي الله عنه(1)، وسلمان الفارسي رضي الله عنه(2). فهؤلاء الأفذاذ لم يحظوا بنسب عريق لكنهم حظوا بصحبة النبي الكريم صلى الله عليه وسلم.

--------------------------------------------

(1) هو بلال بن رباح الحبشي مؤذن رسول الله صلى الله عليه وسلم ووالدته حمامه، اشتراه الصديق رضي الله عنه من أمية بن خلف عندما كان يعذبه، فأعتقه فلازم بلال بعد ذلك النبي صلى الله عليه وسلم، وأذن له وشهد معه جميع المشاهد، وكان خازن رسول الله صلى الله عليه وسلم، مات رضي الله عنه بالشام زمن عمر بن الخطاب رضي الله عنه في طاعون عمواس وقيل مات سنة [26]. انظر الإصابة في تمييز الصحابة (1/ 455) وأسد الغابة ترجمة (493).

(2) هو سلمان أبو عبد الله الفارسي ويقال له: سلمان ابن الإسلام وسلمان الخير، قيل أصله من أصبهان، قال ابن عبد البر: يقال إنه شهد بدراً، وكان عالماً زاهداً، ذكر البخاري أنه تداوله بضعة عشر سيداً. اختلف في عمره اختلافاً كثيراً، وقال الذهبي: ظهر لي أنه مازاد عن الثمانين، آخى النبي صلى الله عليه وسلم بينه وبين أبي الدرداء، قيل مات سنة [36] هـ وقيل [37]. انظر الإصابة في تمييز الصحابة (3/ 118). وسير أعلام النبلاء (1/ 505) وأسد الغابة (2/ 417) ترجمة (2149).
পরহেযগার হিসেবে; আর এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলেন বিলাল বিন রাবাহ আল-হাবাশি (রাদিয়াল্লাহু আনহু)(১) এবং সালমান আল-ফারিসি (রাদিয়াল্লাহু আনহু)(২)। এই অনন্য ব্যক্তিত্বগণ কোনো সুউচ্চ বংশমর্যাদা লাভ করেননি, কিন্তু তাঁরা সম্মানিত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহচর্য লাভে ধন্য হয়েছিলেন।

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন বিলাল বিন রাবাহ আল-হাবাশি, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মুয়াজ্জিন। তাঁর মাতার নাম হামামাহ। সিদ্দীক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাঁকে উমাইয়্যাহ বিন খালাফের কাছ থেকে ক্রয় করেন যখন সে তাঁকে নির্যাতন করছিল, অতঃপর তিনি তাঁকে মুক্ত করে দেন। এরপর বিলাল (রাদিয়াল্লাহু আনহু) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সান্নিধ্যে অবস্থান করেন, তাঁর জন্য আযান দিতেন এবং তাঁর সাথে সকল যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কোষাধ্যক্ষ ছিলেন। তিনি উমর বিন আল-খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর খেলাফতকালে সিরিয়ায় আমওয়াসের মহামারীতে মৃত্যুবরণ করেন। বলা হয় তিনি ২৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: আল-ইসাবাহ ফি তাময়িযিস সাহাবাহ (১/৪৫৫) এবং আসাদুল গাবাহ, অনুবাদ নং (৪৯৩)।

(২) তিনি হলেন সালমান আবু আব্দুল্লাহ আল-ফারিসি। তাঁকে 'সালমান ইবনুল ইসলাম' এবং 'সালমান আল-খায়ের' বলা হতো। বলা হয় তাঁর আদি নিবাস ছিল ইসফাহান। ইবনুল বার বলেন: বলা হয়ে থাকে তিনি বদরের যুদ্ধে উপস্থিত ছিলেন। তিনি একজন আলেম ও যাহিদ (সংসারবিরাগী) ছিলেন। ইমাম বুখারী উল্লেখ করেছেন যে, দশজনেরও বেশি মালিকের অধীনে তাঁর মালিকানা পরিবর্তিত হয়েছিল। তাঁর বয়স নিয়ে অনেক মতভেদ রয়েছে। আয-যাহাবি বলেন: আমার কাছে প্রতীয়মান হয় যে তাঁর বয়স আশির অধিক ছিল না। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর এবং আবু দারদা (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর মধ্যে ভ্রাতৃত্ব বন্ধন স্থাপন করে দিয়েছিলেন। বলা হয় তিনি ৩৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন, আবার কেউ বলেন ৩৭ হিজরিতে। দেখুন: আল-ইসাবাহ ফি তাময়িযিস সাহাবাহ (৩/১১৮), সিয়ারু আলামিন নুবালা (১/৫০৫) এবং আসাদুল গাবাহ (২/৪১৭), জীবনী নং (২১৪৯)।
(খণ্ড: ১) আল-ইমামুল আশআরী হায়াতুহু ওয়া আতওয়ারুহু আল-আকাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٢١)
‌‌المبحث الثاني

كنيته ولقبه

كان يكنى بأبي الحسن، ويلقب بالأشعري، واختلف في سبب تسميته بالأشعري إلى قولين:

القول الأول: لأن والدته ولدته والشعر على بدنه وقد أوردها ابن خلكان(1) حيث قال: «وإنما قيل له أشعر، لأن أمه ولدته، والشعر على بدنه. ثم قال: هذا ما قاله السمعاني(2) والله أعلم»(3) وقد أشار بعض الباحثين إلى استبعاد هذه الرواية لما يلي:

--------------------------------------------

(1) هو: أحمد بن محمد بن إبراهيم بن خلكان ولد سنة [608] هـ تولى قضاء الشام وسكن مصر له كتاب جليل القدر وهو وفيات الأعيان. قال عنه الذهبي: كان إماماً فاضلاً، متقناً، عارفاً بالمذاهب، توفي في رجب سنة [681]. انظر: شذرات الذهب (7/ 647)، ومقدمة وفيات الأعيان (1/ 5).

(2) هو: عبد الكريم بن محمد بن منصور بن محمد تاج الإسلام السمعاني المروزي، ولد بمرو سنة [506] هـ تتلمذ على عدد كبير من أهل العلم حتى أوصلهم ابن خلكان إلى أكثر من (4000) بل عدهم البعض إلى (7000) من مؤلفاته (معجم البلدان)، (ومعجم الشيوخ) و (الأنساب) من أبرز تلامذته الحافظ ابن عساكر وأبو المظفر السمعاني، توفي رحمه الله بمرو سنة (562) هـ. انظر سير أعلام النبلاء (20/ 456). ومقدمة كتابه الأنساب (1/ 3).

(3) وفيات الأعيان (3/ 285).
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

তাঁর কুনিয়া ও উপাধি

তাঁর কুনিয়া ছিল আবুল হাসান এবং উপাধি ছিল আশআরি। তাঁকে আশআরি নামকরণের কারণ সম্পর্কে দুটি অভিমত পাওয়া যায়:

প্রথম অভিমত: কারণ তাঁর মা যখন তাঁকে জন্ম দিয়েছিলেন তখন তাঁর শরীরে চুল ছিল। ইবনে খাল্লিকান(১) এটি উল্লেখ করেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন: «তাঁকে আশআরি বলা হতো কারণ তাঁর মা যখন তাঁকে জন্ম দেন তখন তাঁর শরীরে চুল ছিল। অতঃপর তিনি বলেন: এটিই সামআনি(২) বলেছেন এবং আল্লাহই ভালো জানেন»(৩)। কিছু গবেষক নিচের কারণগুলোর প্রেক্ষিতে এই বর্ণনাটিকে অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করেছেন:

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন: আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম বিন খাল্লিকান। হিজরি [৬০৮] সনে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি শামের বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন এবং মিসরে বসবাস করেন। তাঁর একটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ গ্রন্থ রয়েছে যা হলো ‘ওয়াফায়াতুল আ-ইয়ান’। আয-যাহাবি তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: তিনি একজন বিজ্ঞ ইমাম, অত্যন্ত নিখুঁত এবং মাযহাবসমূহ সম্পর্কে অভিজ্ঞ ছিলেন। হিজরি [৬৮১] সনের রজব মাসে তিনি ইন্তেকাল করেন। দেখুন: শাযারাতুয যাহাব (৭/৬৪৭) এবং ওয়াফায়াতুল আ-ইয়ান-এর ভূমিকা (১/৫)।

(২) তিনি হলেন: আব্দুল কারিম বিন মুহাম্মদ বিন মনসুর বিন মুহাম্মদ তাজুল ইসলাম আস-সামআনি আল-মারওয়াযি। হিজরি [৫০৬] সনে মার্ভে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বিপুল সংখ্যক আলেম থেকে ইলম অর্জন করেছেন, ইবনে খাল্লিকান যাদের সংখ্যা ৪০০০-এরও বেশি বলে উল্লেখ করেছেন, এমনকি কেউ কেউ তা ৭০০০ পর্যন্ত গণনা করেছেন। তাঁর সংকলিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে (মু‘জামুল বুলদান), (মু‘জামুশ শুয়ুখ) এবং (আল-আনসাব)। তাঁর অন্যতম প্রধান ছাত্রদের মধ্যে রয়েছেন হাফেজ ইবনে আসাকির এবং আবু মুযাফফর আস-সামআনি। তিনি হিজরি (৫৬২) সনে মার্ভে মৃত্যুবরণ করেন (রাহিমাহুল্লাহ)। দেখুন: সিয়ারু আ‘লামিন নুবালা (২০/৪৫৬) এবং তাঁর গ্রন্থ আল-আনসাব-এর ভূমিকা (১/৩)।

(৩) ওয়াফায়াতুল আ-ইয়ান (৩/২৮৫)।
(খণ্ড: ১) আল-ইমামুল আশআরী হায়াতুহু ওয়া আতওয়ারুহু আল-আকাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٢٢)
1 - أن العقل يستبعد أن يولد الطفل والشعر على بدنه.

2 - أن الرواية التي ذكرت الخبر وردت بصيغة التمريض.

3 - أن رواية السمعاني لم يقتنع بها ابن خلكان فهو يلقي تبعة القول على السمعاني ولحقه بعبارة «هذا ما قاله السمعاني والله أعلم» والعبارة ظنية(1). قلت: ولكني رجعت إلى قول الإمام السمعاني، فوجدته يتحدث عن أصل القبيلة وليس عن شخص أبي الحسن الأشعري رحمه الله -حيث قال: والأشعري هو نبت بن أدد. قال ابن الكلبي(2): «وإنما سمي الأشعر بن زيد بن يشجب بن عريب بن زيد بن كهلان بن سبأ: الأشعر، لأن أمه ولدته وهو: أشعر، والشعر على كل شيء منه، فسمي الأشعري(3). وهذا يدل على أن قول السمعاني ليس المقصود به أبا الحسن، كما أن هذا القول هو قول الكلبي، وليس قول السمعاني، كما أن العقل لا يستبعد أن يولد الطفل وعليه شعر.

--------------------------------------------

(1) انظر نشأة الأشعرية وتطورها صـ 168.

(2) محمد بن السائب أبو النظر الكلبي الكوخي، الإخباري، النسابة، صاحب كتاب الجمهرة في النسب، مصنفاته تزيد على مائة وخمسين. من مصنفاته: التاريخ، والأخبار. وكان حافظاً علامة إلا أنه متروك الحديث، روى عن أبيه وعمه مجالد. توفي عام 204 هـ انظر شذرات الذهب 3/ 27 والأعلام 8/ 54. ووالده محمد بن السائب الكلبي المفسر المتوفى سنة 146 هـ حيث كان من أصحابه: عبد الله بن سبأ ذكرت هذا من قبيل التبيين.

(3) انظر الأنساب 1/ 173.
১ - বুদ্ধি বা যুক্তি এটি অসম্ভব মনে করে যে, কোনো শিশু তার শরীরে চুল নিয়ে জন্মাবে।

২ - যে বর্ণনায় সংবাদটি উল্লেখ করা হয়েছে, তা দুর্বলতার সূচক শব্দে (সিগাতুত তামরিজ) বর্ণিত হয়েছে।

৩ - আস-সাম'আনীর বর্ণনায় ইবনে খাল্লিকান সন্তুষ্ট হতে পারেননি, তাই তিনি এই বক্তব্যের দায়ভার আস-সাম'আনীর ওপর অর্পণ করেছেন এবং এর সাথে এই বাক্য যুক্ত করেছেন যে, «এটিই আস-সাম'আনী যা বলেছেন, আর আল্লাহই ভালো জানেন» এবং এই বাক্যটি সংশয়পূর্ণ(১)। আমি বলি: কিন্তু আমি ইমাম আস-সাম'আনীর বক্তব্যের দিকে ফিরে গেলাম এবং দেখতে পেলাম যে তিনি গোত্রের মূল উৎপত্তির বিষয়ে কথা বলছেন, আবুল হাসান আল-আশ'আরী (রহিমাহুল্লাহ) ব্যক্তিটি সম্পর্কে নয় - যেখানে তিনি বলেছেন: আল-আশ'আরী হলেন নাবত ইবনে উদাদ। ইবনুল কালবী(২) বলেছেন: «আশ'আর ইবনে যায়েদ ইবনে ইয়াশজুব ইবনে আরীব ইবনে যায়েদ ইবনে কাহলান ইবনে সাবা-কে মূলত ‘আশ'আর’ নামকরণ করা হয়েছে কারণ তাঁর মা তাঁকে এমন অবস্থায় জন্ম দিয়েছিলেন যে তিনি ছিলেন ‘আশ'আর’ (লোমশ), এবং তাঁর শরীরের প্রতিটি অঙ্গে চুল ছিল, তাই তাঁর নাম রাখা হয়েছিল আল-আশ'আরী(৩)। আর এটি প্রমাণ করে যে, আস-সাম'আনীর বক্তব্য দ্বারা আবুল হাসানকে উদ্দেশ্য করা হয়নি, তদুপরি এই বক্তব্যটি আসলে আল-কালবীর বক্তব্য, আস-সাম'আনীর নয়। এছাড়া বুদ্ধি বা যুক্তি এটি অসম্ভব মনে করে না যে, কোনো শিশু শরীরভর্তি চুল নিয়ে জন্মগ্রহণ করতে পারে।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: নাশআতুল আশ'আরিয়্যাহ ওয়া তাতাওউরুহা, পৃষ্ঠা ১৬৮।

(২) মুহাম্মদ ইবনে আস-সাইব আবু আন-নাযর আল-কালবী আল-কুখী, ইতিহাসবেত্তা, বংশলতিকাবিদ, ‘কিতাবুল জামহারা ফিন নাসাব’ এর রচয়িতা, তাঁর গ্রন্থ সংখ্যা ১৫০ এর অধিক। তাঁর রচনাবলির মধ্যে রয়েছে: আত-তারীখ এবং আল-আখবার। তিনি একজন হাফেজ ও বিজ্ঞ আলেম ছিলেন, তবে তিনি হাদিস বর্ণনায় পরিত্যক্ত (মাতরুক), তিনি তাঁর পিতা এবং চাচা মুজালিদ থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি ২০৪ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: শাযারাতুয যাহাব ৩/২৭ এবং আল-আ'লাম ৮/৫৪। আর তাঁর পিতা মুহাম্মদ ইবনে আস-সাইব আল-কালবী ছিলেন মুফাসসির (ব্যাখ্যাকার), যিনি ১৪৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন; আব্দুল্লাহ বিন সাবা তাঁর সঙ্গীদের অন্তর্ভুক্ত ছিল - আমি এটি কেবল বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্য উল্লেখ করলাম।

(৩) দেখুন: আল-আনসাব ১/১৭৩।
(খণ্ড: ১) আল-ইমামুল আশআরী হায়াতুহু ওয়া আতওয়ারুহু আল-আকাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٢٣)
القول الثاني: أنه نسبه إلى جده المجاهر بن الأشعر، والأشعر من أهل اليمن وقد أطال ابن عساكر في الحديث عن نسبه(1).

الترجيح: أنه لقب بذلك بسبب انتسابه لقبيلة أشعر(2) لأن من قدح بذلك ليس معه دليل.

 

أما‌‌ ألقابه وكناه: فله عدة ألقاب أشهرها:

1 - أبو الحسن وهو الأشهر عند عامة أهل العلم.

2 - ناصر الدين: حيث قال ابن عساكر بأنه نودي على جنازته بناصر الدين(3).

3 - إمام المتكلمين: حيث قال الذهبي(4) في ترجمته: العلامة إمام

--------------------------------------------

(1) انظر تبيين كذب المفتري من صـ 34 وما بعدها.

(2) قبيلة مشهورة من اليمن تنتسب إلى الأشعر وهو: نبت بن أود، بن زيد بن يشخب بن غريب بن زيد بن كهلان بن سبا. انظر الأنساب للسمعاني 1/ 173.

(3) انظر تبيين كذب المفتري (صـ 147).

(4) هو الإمام شمس الدين محمد بن أحمد بن عثمان بن قايمان بن عبد الله الذهبي، ولد في عام 673 هـ كان من أسرة تركمانية الأصل، تتلمذ على يد شيخ الإسلام ابن تيمية وعلى جمال الدين المزي والبرزالي وغيرهم. وقد أحبه شيخ الإسلام - «وحق له ذلك»، ومن أهم كتبه ومؤلفاته: تاريخ الإسلام، وسير أعلام النبلاء، والمستدرك على مستدرك الحاكم، والموقظة على مصطلح الحديث والعلو للعلي الغفار، حتى أوصلها بعض الباحثين إلى مائتين وأربعة عشر مؤلفاً. توفي رحمه الله سنة 748 هـ. انظر الترجمة الوافية في مقدمة سير أعلام النبلاء 1/ 12 - 90.
দ্বিতীয় মত: তিনি তাঁকে তাঁর পিতামহ মুজাহির বিন আশআরের সাথে সম্বন্ধিত করেছেন, আর আশআর হচ্ছে ইয়ামেনবাসীদের অন্তর্ভুক্ত। ইবনে আসাকির তাঁর বংশের বর্ণনায় দীর্ঘ আলোচনা করেছেন(১)।

অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মত: আশআর গোত্রের প্রতি তাঁর সম্পৃক্ততার কারণেই তাঁকে এই উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছে(২); কারণ যারা এর সমালোচনা করেছেন, তাঁদের নিকট কোনো দলিল নেই।

 

পক্ষান্তরে তাঁর‌‌ উপাধি ও উপনামসমূহ: তাঁর বেশ কিছু উপাধি রয়েছে, যার মধ্যে প্রসিদ্ধতম হলো:

১ - আবুল হাসান: এটিই সাধারণ আলেমদের নিকট সর্বাধিক প্রসিদ্ধ।

২ - নাসিরুদ্দিন: যেহেতু ইবনে আসাকির বলেছেন যে, তাঁর জানাজায় তাঁকে 'নাসিরুদ্দিন' বলে সম্বোধন করা হয়েছিল(৩)।

৩ - ইমামুল মুতাকাল্লিমিন (ইলমে কালামের ইমাম): যেহেতু যাহাবি(৪) তাঁর জীবনীতে বলেছেন: আল্লামা ইমাম

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তাবয়ীনু কাযিবিল মুফতারি, পৃষ্ঠা ৩৪ ও পরবর্তী অংশ।

(২) ইয়ামেনের একটি প্রসিদ্ধ গোত্র যা আশআরের সাথে সম্বন্ধিত, আর তিনি হলেন: নাবত বিন আওদ বিন যায়েদ বিন ইয়াশখুব বিন গারিব বিন যায়েদ বিন কাহলান বিন সাবা। দেখুন: সামআনী রচিত আল-আনসাব, ১/ ১৭৩।

(৩) দেখুন: তাবয়ীনু কাযিবিল মুফতারি (পৃষ্ঠা ১৪৭)।

(৪) তিনি হলেন ইমাম শামসুদ্দিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন উসমান বিন কাইমান বিন আব্দুল্লাহ আল-যাহাবি। তিনি ৬৭৩ হিজরি সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি তুর্কি বংশোদ্ভূত একটি পরিবার থেকে এসেছিলেন। তিনি শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া, জামালুদ্দিন আল-মিযযি, আল-বারযালি এবং অন্যদের নিকট শিক্ষা লাভ করেন। শাইখুল ইসলাম তাঁকে ভালোবাসতেন - "এবং তা তাঁর প্রাপ্যই ছিল"। তাঁর গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ ও রচনাবলির মধ্যে রয়েছে: তারীখুল ইসলাম, সিয়ারু আলামিন নুবালা, আল-মুস্তাদরাক আলা মুস্তাদরাকিল হাকিম, আল-মুয়কিযাহ আলা মুসতালাহিল হাদিস এবং আল-উ্লুউ লিল আলিইয়িল গাফফার। এমনকি কিছু গবেষক তাঁর রচনার সংখ্যা দুইশত চৌদ্দটি পর্যন্ত গণনা করেছেন। তিনি রহমাতুল্লাহি আলাইহি ৭৪৮ হিজরি সালে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: সিয়ারু আলামিন নুবালা-এর মুখবন্ধে বিস্তারিত জীবনী, ১/ ১২-৯০।
(খণ্ড: ১) আল-ইমামুল আশআরী হায়াতুহু ওয়া আতওয়ারুহু আল-আকাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٢٤)
المتكلمين(1)، كما وصفه بذلك ابن خلدون(2) عندما قال: إمام المتكلمين(3).

4 - ناصر السنة(4). وله ألقاب أخرى منها: إمام أهل السنة، وقدوة أهل السنة. ولكن من النادر أن يعرف الأشعري باسمه الحقيقي (علي) حيث لا يوجد هذا الاسم إلا في كتب التراجم، أما ما عدا ذلك فلا يذكر إلا بلقبه أو كنيته.(5)

--------------------------------------------

(1) انظر سير أعلام النبلاء (15/ 85).

(2) هو: ولي الدين أبو زيد عبد الرحمن بن محمد بن محمد الحضري الأشبيلي ولد سنة 732 في تونس، برع في الأدب والكتابة، تولى قضاء المالكية في القاهرة، وقد سجن عدة مرات في عدد من البلدان. من أهم كتبه: التاريخ الكبير، والمقدمة. توفي في رمضان سنة 808 انظر: شذرات الذهب 9/ 114 والأعلام 3/ 330.

(3) انظر مقدمة ابن خلدون ص 435.

(4) إتحاف السادة المتقين 2/ 4.

(5) للمزيد في هذه المسألة. انظر كشف الظنون (1/ 440). وصبح الأعشى (1/ 454).
কালাম শাস্ত্রবিদদের(১), যেমনটি ইবনে খালদুন(২) তাকে বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন: কালাম শাস্ত্রবিদদের ইমাম(৩)।

৪ - সুন্নাহর সাহায্যকারী(৪)। তাঁর আরও কিছু উপাধি রয়েছে, যার মধ্যে আছে: আহলে সুন্নাহর ইমাম এবং আহলে সুন্নাহর আদর্শ। তবে আশআরীকে তাঁর প্রকৃত নাম (আলী) দ্বারা চেনা বিরল, কারণ জীবনী গ্রন্থসমূহ ছাড়া এই নাম সচরাচর পাওয়া যায় না। এছাড়া অন্য সব জায়গায় তিনি কেবল তাঁর উপাধি বা উপনাম (কুনিয়াত) দ্বারাই পরিচিত।(৫)

--------------------------------------------

(১) দেখুন: সিয়ারু আলামিন নুবালা (১৫/৮৫)।

(২) তিনি হলেন: ওয়ালীউদ্দিন আবু যাইদ আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আল-হাদরামি আল-ইশবেলি। তিনি ৭৩২ হিজরিতে তিউনিসিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি সাহিত্য ও লেখনীতে পারদর্শী ছিলেন। তিনি কায়রোতে মালিকি মাযহাবের বিচারপতির (কাযী) দায়িত্ব পালন করেন এবং বিভিন্ন দেশে বেশ কয়েকবার কারাবরণ করেন। তাঁর গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে: আত-তারীখুল কাবীর এবং আল-মুকাদ্দিমাহ। তিনি ৮০৮ হিজরির রমজান মাসে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: শাযারাতুয যাহাব ৯/১১৪ এবং আল-আলাম ৩/৩৩০।

(৩) দেখুন: মুকাদ্দিমাহ ইবনে খালদুন, পৃষ্ঠা ৪৩৫।

(৪) ইতহাফুস সাদাতিল মুত্তাকীন ২/৪।

(৫) এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে দেখুন: কাশফুয যুনুন (১/৪৪০) এবং সুবহুল আশা (১/৪৫৪)।
(খণ্ড: ১) আল-ইমামুল আশআরী হায়াতুহু ওয়া আতওয়ারুহু আল-আকাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٢٥)
‌‌المبحث الثالث

ولادته: تاريخها، ومكانها

اختلف المترجمون للأشعري في تحديد سنة ولادته، فقيل ولد سنة [260] هـ وقد انتصر لهذا القول ابن عساكر حتى قال: لا أعلم لقائل هذا القول في تاريخ مولده مخالفاً(1). في حين ذكر ابن خلكان بأن هناك قولاً بأن ولادته سنة [270] هـ(2). وأما المقريزي(3) فقد ذكر بأن ولادته سنة [266] هـ(4). ولعل الأقرب في تاريخ ولادته هو ما ذكره ابن عساكر، بل وعليه أغلب المصادر القديمة. وقال الزبيدي(5): (قيل: ولد

--------------------------------------------

(1) انظر تبيين كذب المفترى صـ (146)، والمنتظم لابن الجوزي 14/ 29.

(2) انظر وفيات الأعيان (3/ 284).

(3) وهو تقي الدين أبو العباس أحمد بن علي بن عبد القادر العبيدي المقريزي قال عنه ابن العباد: الإمام العالم البارع، عمدة المؤرخين وعين المحدثين. ولد سنة [761] هـ في القاهرة، وكان يميل إلى المذهب الظاهري. له العديد من المؤلفات ومن أبرزها (الخطط والآثار المعروف بالخطط المقريزية) (والسلوك في معرفة دول الملوك) توفي بالقاهرة عام [845] هـ انظر شذرات الذهب (9/ 370).

(4) الخطط 3/ 314.

(5) محمد بن محمد بن محمد بن عبد الرزاق الحسيني الزبيدي، أبو الفيض، الملقب والمعروف بمرتضى، علامة باللغة والحديث والرجال والأنساب، من كبار المصنفين. أصله من واسط في - العراق - ولد في بلجرام إحدى مدن الهند عام 1145 ونشأ في زبيد - إحدى مدن اليمن - رحل إلى الحجاز وأقام في مصر - من أهم كتبه - تاج العروس في شرح القاموس طبع في عشرة مجلدات، وكذلك كتاب إتحاف السادة المتقين في شرح إحياء علوم الدين، وأسانيد الكتب الستة، وله عدة مؤلفات قيمة. توفي في مصر عام 1205. انظر: الأعلام للزركلي 7/ 70.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ

তাঁর জন্ম: এর তারিখ ও স্থান

আল-আশআরীর জীবনীকারগণ তাঁর জন্মসাল নির্ধারণের ক্ষেত্রে মতভেদ করেছেন। বলা হয়েছে যে, তিনি ২৬০ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং ইবনে আসাকির এই মতটিকে সমর্থন করেছেন, এমনকি তিনি বলেছেন: "আমি তাঁর জন্ম তারিখ সম্পর্কে এই মতের কোনো বিরোধিতাকারীর কথা জানি না।"(১) যেখানে ইবনে খাল্লিকান উল্লেখ করেছেন যে, একটি বর্ণনামতে তাঁর জন্ম ২৭০ হিজরি সনে।(২) আর আল-মাকরিজি(৩) উল্লেখ করেছেন যে তাঁর জন্ম ২৬৬ হিজরি সনে।(৪) সম্ভবত তাঁর জন্ম তারিখের ক্ষেত্রে ইবনে আসাকির যা উল্লেখ করেছেন সেটিই সবচেয়ে নিকটবর্তী, বরং প্রাচীন অধিকাংশ উৎস এই মতের ওপর ভিত্তি করেই। আল-জাবিদি(৫) বলেছেন: (বলা হয়েছে: তিনি জন্মগ্রহণ করেন...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তাবয়িনু কাযিবিল মুফতারি, পৃষ্ঠা ১৪৬ এবং ইবনুল জাওযীর আল-মুনতাজাম, ১৪/২৯।

(২) দেখুন: ওয়াফায়াতুল আ’ইয়ান (৩/২৮৪)।

(৩) তিনি হলেন তাকিউদ্দীন আবুল আব্বাস আহমাদ বিন আলী বিন আব্দুল কাদির আল-উবাইদি আল-মাকরিজি। ইবনুল আব্বাদ তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: তিনি ইমাম, বিজ্ঞ আলিম, ঐতিহাসিকদের নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিত্ব এবং মুহাদ্দিসদের শ্রেষ্ঠ চক্ষু। তিনি ৭৬১ হিজরি সনে কায়রোতে জন্মগ্রহণ করেন এবং তিনি যাহিরি মাজহাবের প্রতি অনুরাগী ছিলেন। তাঁর অনেকগুলো রচনা রয়েছে যার মধ্যে অন্যতম হলো 'আল-খিতাত ওয়াল আসার' (যা খিতাতে মাকরিজি নামে পরিচিত) এবং 'আস-সুলুক ফি মা'রিফাতি দুওয়ালি ইল-মুলুক'। তিনি ৮৪৫ হিজরি সনে কায়রোতে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: শাযারাতুয যাহাব (৯/৩৭০)।

(৪) আল-খিতাত ৩/৩১৪।

(৫) মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল রাজ্জাক আল-হুসাইনি আল-জাবিদি, আবু আল-ফাইদ, যিনি মুরতাজা নামে উপাধিপ্রাপ্ত ও পরিচিত। তিনি ভাষা, হাদিস, রিজাল এবং বংশলতিকার ক্ষেত্রে একজন আল্লামা ছিলেন এবং শীর্ষস্থানীয় লেখকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তাঁর আদি নিবাস ইরাকের ওয়াসিতে। তিনি ১১৪৫ হিজরি সনে ভারতের অন্যতম শহর বেলগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং ইয়ামেনের অন্যতম শহর জাবিদে বেড়ে ওঠেন। তিনি হিজাজ সফর করেন এবং মিশরে বসবাস করেন। তাঁর গুরুত্বপূর্ণ বইগুলোর মধ্যে রয়েছে দশ খণ্ডে মুদ্রিত 'তাজুল আরুস ফি শারহিল কামুস', সেইসাথে 'ইতহাফুস সাদাতিল মুত্তাকিন ফি শারহি ইহয়াউ উলুমিদ দীন' এবং 'আসানিদুল কুতুবিস সিত্তাহ'। তাঁর আরও বেশ কিছু মূল্যবান রচনা রয়েছে। তিনি ১২০৫ হিজরি সনে মিশরে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: যিরিকলির আল-আ'লাম ৭/৭০।
(খণ্ড: ১) আল-ইমামুল আশআরী হায়াতুহু ওয়া আতওয়ারুহু আল-আকাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٢٦)
سنة ستين ومائتين. وقيل: سنة سبعين ومائتين، والأول أشهر)(1). أما مكان ولادته ففي مدينة البصرة ولم أجد في ذلك مخالفاً بأنها كانت في البصرة(2).

--------------------------------------------

(1) انظر إتحاف السادة المتقين 2/ 4.

(2) هي مدينة في العراق، أنشئت في أيام عمر رضي الله عنه سنة سبع للهجرة ـ وقد اشتق اسمها من الحجارة السوداء، وسرعان ما اتسعت هذه المدينة فإذا هي والكوفة تصبحان من عواصم العراق الجديدة، وقد اشتهرت في كل الأزمنة بأنهارها، وتشتهر الآن بصناعة الحديد والصلب واستخراج البترول وتكريره. انظر بلدان الخلافة الشرقية ص 64 ـ 67، وموسوعة المدن العربية ص 233.
২৬০ হিজরি। বলা হয়ে থাকে: ২৭০ হিজরি, তবে প্রথমটিই অধিক প্রসিদ্ধ)(১)। তার জন্মস্থান সম্পর্কে বলা যায় যে, তা ছিল বসরা নগরীতে এবং বসরায় তার জন্ম হওয়ার ব্যাপারে আমি কোনো দ্বিমত খুঁজে পাইনি(২)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইতহাফুস সাদাতিল মুত্তাকিন ২/ ৪।

(২) এটি ইরাকের একটি শহর, যা হিজরি সপ্তম সনে উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর আমলে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এর নাম কালো পাথর থেকে উৎপন্ন হয়েছে। খুব দ্রুত এই শহরটি সম্প্রসারিত হয় এবং এটি ও কুফা ইরাকের নতুন রাজধানীগুলোর অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়ে। এটি সর্বকালে তার নদীগুলোর জন্য প্রসিদ্ধ ছিল এবং বর্তমানে লোহা ও ইস্পাত শিল্প এবং পেট্রোলিয়াম উত্তোলন ও শোধনের জন্য বিখ্যাত। দেখুন: বুলদানুল খিলাফাতিল শারকিয়্যাহ, পৃ. ৬৪-৬৭ এবং মাওসুআতুল মুদুনিল আরাবিয়্যাহ, পৃ. ২৩৩।
(খণ্ড: ১) আল-ইমামুল আশআরী হায়াতুহু ওয়া আতওয়ারুহু আল-আকাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٢٧)
‌‌المبحث الرابع

ثناء العلماء عليه

1 - قال عنه الذهبي: «كان خارقاً في الذكاء وقوة الفهم. ولما برع في معرفة الاعتزال، كرهه وتبرأ منه، وصعد للناس، فتاب إلى الله تعالى منه، ثم أخذ يرد على المعتزلة، ويهتك عوراتهم»(1). وقال أيضاً: «ولأبي الحسن ذكاء مفرط، وتبحر في العلم، وله أشياء حسنة، وتصانيف جمة تقضي له بسعة العلم»(2).

2 - قال بكر الصيرفي(3): «كانت المعتزلة(4) قد رفعوا رؤوسهم حتى

--------------------------------------------

(1) انظر سير أعلام النبلاء 15/ 86، وانظر العلو 2/ 1255.

(2) سير أعلام النبلاء 15/ 87، وانظر: العلو 2/ 1255.

(3) هو المحدث الإمام أبو أحمد بكر بن محمد حمدان المروزي الصيرفي، سمع من عدد من المحدثين كعبد الصمد بن الفضل، وأبي حاتم الرازي، وروى عنه ابن عدي والحاكم وابن مندة، مات في بخارى سنة [345] هـ. انظر سير أعلام النبلاء (15/ 555).

(4) المعتزلة هي فرقة من الفرق الإسلامية، ويسمون بأصحاب العدل والتوحيد ويلقبون بالقدرية والعدلية وقد ظهرت هذه الفرقة في زمن الحسن البصري عندما حدث الخلاف بينه وبين واصل بن عطاء في قضية القدر والمنزلة بين المنزلتين، وقيل لهم معتزلة لاعتزالهم قول الأمة في دعواهم أن الفاسق من أمة الإسلام لا مؤمن ولا كافر. والمعتزلة هم أرباب الكلام وأصحاب الجدل، ويقولون إنهم سموا معتزلة لأن الحسن بن علي رضي الله عنهما عندما بايع معاوية بن أبي سفيان رضي الله عنهما سلم إليه الأمر، اعتزلوا الحسن ومعاوية - عليهما رضوان الله - وجميع الناس، وذلك أنهم كانوا من أصحاب علي، ولزموا منازلهم ومساجدهم، وقالوا: نشتغل بالعلم والعبادة، فسموا بذلك معتزلة؟! وهذا غير صحيح وإنما قيل لتحسين صورتهم، اوالأول أشهر وأصوب. والمعتزلة عشرون فرقة وقيل ثماني عشرة فرقة وهم: الجبائية، والضرارية، والجاحظية، والهذيلية، والنظامية، والعطائية، والبهنسية، والقوطية، والقصبية، والهابطية، والرعينية، والميسوية، والبعجورية، والعبادية، والمعمرية، والإسكافية، والمقبورة، والغفارية، وهذه الفرقة الضالة هي التي ابتدعت القول بخلق القرآن، وقد اتفقت جميع طوائف المعتزلة على نفي رؤية الله - تعالى - بالأبصار في دار القرار، وعلى أن العبد قادر وخالق لأفعاله خيرها وشرها، وعلى أن المؤمن إذا مات من غير توبة عن كبيرة فعلها استحق الخلود في النار، وكم من مصائب وبلايا. وأصولهم خمسة:

1/ العدل، 2/ التوحيد، 3/ الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، 4/ المنزلة بين المنزلتين،

5/ الوعد والوعيد.

انظر الملل والنحل صـ (39) والفرق بين الفرق صـ 15 والمعتزلة وأصولهم الخمسة صـ 14 وعقائد الثلاث والسبعين فرقة 1/ 325 - 441 والتبيين والرد ص 49.
‌‌চতুর্থ পরিচ্ছেদ

তাঁর প্রতি আলেমগণের প্রশংসা

১ - আয-যাহাবী তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: «তিনি মেধা ও বোধশক্তির প্রখরতায় ছিলেন অনন্যসাধারণ। যখন তিনি মুতাজিলা মতবাদে পারদর্শী হলেন, তখন তিনি তা অপছন্দ করলেন এবং তা থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করলেন। এরপর তিনি জনসমক্ষে উপস্থিত হয়ে মহান আল্লাহর কাছে তা থেকে তাওবাহ করলেন। অতঃপর তিনি মুতাজিলাদের রদ (খণ্ডন) করা এবং তাদের গোপন দোষত্রুটি উন্মোচন করা শুরু করলেন»(১)। তিনি আরও বলেছেন: «আবু আল-হাসানের ছিল প্রখর মেধা ও ইলমের গভীরতা। তাঁর বেশ কিছু চমৎকার বিষয় ও বহু গ্রন্থ রয়েছে যা তাঁর ইলমের প্রশস্ততার প্রমাণ দেয়»(২)।

২ - বকর আস-সায়রাফী(৩) বলেছেন: «মুতাজিলারা(৪) তাদের মাথা উঁচু করেছিল যতক্ষণ না

--------------------------------------------

(১) দেখুন: সিয়ারু আলামিন নুবালা ১৫/৮৬, এবং আল-উলুউ ২/১২৫৫।

(২) সিয়ারু আলামিন নুবালা ১৫/৮৭, এবং দেখুন: আল-উলুউ ২/১২৫৫।

(৩) তিনি হলেন মুহাদ্দিস ইমাম আবু আহমাদ বকর বিন মুহাম্মাদ হামদান আল-মারওয়াযী আস-সায়রাফী। তিনি একদল মুহাদ্দিসের নিকট থেকে শুনেছেন যেমন আবদুস সামাদ বিন আল-ফাদল এবং আবু হাতিম আর-রাযী। তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন ইবনুল আদী, আল-হাকিম এবং ইবনু মানদাহ। তিনি [৩৪৫] হিজরি সনে বুখারায় মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: সিয়ারু আলামিন নুবালা (১৫/৫৫৫)।

(৪) মুতাজিলা হলো ইসলামি ফিরকাগুলোর মধ্যে একটি ফিরকা। তারা নিজেদেরকে 'আদল ও তাওহীদপন্থী' (আসহাবুল আদলি ওয়াত তাওহীদ) বলে অভিহিত করে এবং তাদেরকে 'কাদারিয়া' ও 'আদলিয়া' উপাধিতে ডাকা হয়। এই ফিরকাটি হাসান বসরীর সময়ে আত্মপ্রকাশ করে যখন কদর (তাকদির) এবং 'দুই অবস্থানের মধ্যবর্তী অবস্থান' (আল-মানযিলাতু বাইনাল মানযিলাতাইন) বিষয়ে তাঁর এবং ওয়াসিল বিন আতার মধ্যে মতপার্থক্য সৃষ্টি হয়। তাদেরকে মুতাজিলা বলা হয় কারণ তারা উম্মতের সর্বসম্মত মত থেকে পৃথক হয়ে (اعتزال) দাবি করেছিল যে, মুসলিম উম্মাহর মধ্যকার ফাসেক ব্যক্তি মুমিনও নয় আবার কাফেরও নয়। মুতাজিলারা হলো কালাম শাস্ত্র ও বিতর্কবিদ্যার প্রবর্তক। তারা বলে যে, তাদেরকে মুতাজিলা বলা হয় কারণ হাসান বিন আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) যখন মুয়াবিয়া বিন আবু সুফিয়ান (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর নিকট বায়আত হলেন এবং শাসনভার অর্পণ করলেন, তখন তারা হাসান ও মুয়াবিয়া—তাদের উভয়ের প্রতি আল্লাহ সন্তুষ্ট হোন—এবং সকল মানুষ থেকে পৃথক হয়ে গিয়েছিল। তারা আলীর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) অনুসারী ছিল এবং নিজেদের ঘর ও মসজিদে অবস্থান নিয়ে বলেছিল: আমরা ইলম ও ইবাদতে মশগুল হব। ফলে সে কারণে কি তাদেরকে মুতাজিলা বলা হয়েছে?! আসলে এটি সঠিক নয়, বরং এটি তাদের ভাবমূর্তি সুন্দর করার জন্য বলা হয়। প্রথম কারণটিই অধিক প্রসিদ্ধ এবং সঠিক। মুতাজিলারা বিশটি ফিরকায় বিভক্ত, মতান্তরে আঠারোটি ফিরকা। সেগুলো হলো: জুব্বাঈয়াহ, দিরারিয়া, জাহ্যিযিয়া, হুযাইলিয়া, নাজ্জামিয়া, আতাইয়া, বাহনাসিয়া, কওতিয়া, কাসবিয়া, হাবিতিয়া, রাইনিয়া, মাইসুইয়া, বা’জুরিইয়া, আব্বাদীয়া, মুয়াম্মারিয়া, ইসকাফিয়া, মাকবুরিয়া এবং গাফারিয়া। এই পথভ্রষ্ট ফিরকাটিই সর্বপ্রথম 'কুরআন মাখলুক' (সৃষ্ট) হওয়ার কথাটি উদ্ভাবন করেছিল। মুতাজিলাদের সকল উপদল আখেরাতে চাক্ষুষভাবে আল্লাহ তাআলাকে দেখার বিষয়টি অস্বীকার করার ব্যাপারে একমত। তারা আরও বিশ্বাস করে যে, বান্দা তার নিজের ভালো-মন্দ কাজের স্রষ্টা ও ক্ষমতাধর। আর মুমিন যদি কোনো কবিরা গুনাহ থেকে তাওবাহ না করে মারা যায়, তবে সে চিরকাল জাহান্নামে থাকবে। এ ছাড়াও তাদের বহু বিপদ ও মুসিবত রয়েছে। তাদের মূলনীতি পাঁচটি:

১/ আল-আদল (ন্যায়বিচার), ২/ আত-তাওহীদ (আল্লাহর একত্ব), ৩/ সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ, ৪/ আল-মানযিলাতু বাইনাল মানযিলাতাইন (দুই অবস্থানের মধ্যবর্তী অবস্থান),

৫/ আল-ওয়াদ ওয়াল ওয়াইদ (প্রতিশ্রুতি ও ধমক)।

দেখুন: আল-মিলাল ওয়ান নিহাল, পৃষ্ঠা (৩৯); আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক, পৃষ্ঠা ১৫; আল-মুতাজিলা ওয়া উসুলুহুমুল খামসাহ, পৃষ্ঠা ১৪; আকাইদুত সালাসি ওয়া সাবঈনা ফিরকা ১/৩২৫-৪৪১ এবং আত-তাবয়ীন ওয়ার রাদ্দ, পৃষ্ঠা ৪৯।
(খণ্ড: ১) আল-ইমামুল আশআরী হায়াতুহু ওয়া আতওয়ারুহু আল-আকাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٢٨)
أظهر الله الأشعري فحجزهم في أقماع(1) السمسم»(2) قلت: ومعه في هذا الوجه حق فمن قرأ الإبانة علم مدى قوة حججه العقلية والنقلية.

3 - قال القاضي عياض رحمه الله(3): «وصنف لأهل السنة

--------------------------------------------

(1) القمع: هو ما التزق بأعلى العنب والتمر ونحوهما. انظر: لسان العرب 8/ 295 مادة قمع. وضربه على سبيل التشبيه لما فعله الأشعري بالمعتزلة فكأنه حشرهم في مكان ضيق كقمع السمسم. ولم أجد لهذا التشبيه مثالاً عند العرب، حيث رجعت إلى أمثلتها وسألت بعض أهل الاختصاص فلم أجد جواباً أكثر مما ذكرته، والله أعلم.

(2) انظر تاريخ مدينة السلام للبغدادي 13/ 261. انظر الأنساب (1/ 174) وسير أعلام النبلاء (15/ 86) وطبقات الشافعية 3/ 349.

(3) هو الإمام العلامة شيخ الإسلام، القاضي أبو الفضل عياض بن موسى بن عياض اليحصبي الأندلسي، ثم السبتي المالكي، ولد سنة 476 هـ اهـ. وتوفي سنة 544 هـ.

وقال عنه ابن العماد: كان عديم النفير، شديد التعصب للسنة والتمسك بها، حتى أمر بإحراق كتب الغزالي لأمر توهم منها ا. هـ. له مؤلفات منها: الشفاء، وترتيب المدارك والإكمال في شرح صحيح مسلم. انظر سير أعلام النبلاء 20/ 212 وما بعدها وشذرات الذهب 6/ 226.
আল্লাহ আশআরিকে প্রকাশ করলেন, অতঃপর তিনি তাদের তিল-দানার বোটায়(১) বন্দি করে ফেললেন»(২) আমি বলছি: এই দিক থেকে তিনি সত্যের ওপর আছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি 'আল-ইবানাহ' পাঠ করবে, সে তার যৌক্তিক ও উদ্ধৃতিমূলক প্রমাণের শক্তিমত্তা সম্পর্কে জানতে পারবে।

৩ - কাযী ইয়াদ (রাহিমাহুল্লাহ)(৩) বলেছেন: «তিনি আহলে সুন্নাতের জন্য রচনা করেছেন

--------------------------------------------

(১) কামাউ (বোঁটা): এটি হলো আঙ্গুর, খেজুর বা এই জাতীয় ফলের উপরিভাগে যা লেগে থাকে। দেখুন: লিসানুল আরব ৮/২৯৫, 'কামাউ' মূলশব্দ। আশআরি মুতাজিলাদের সাথে যা করেছিলেন তার উপমা হিসেবে এটি ব্যবহার করা হয়েছে; যেন তিনি তাদেরকে তিল-দানার বোঁটার মতো কোনো সংকীর্ণ স্থানে আটকে ফেলেছেন। আরবদের নিকট আমি এই উপমার কোনো উদাহরণ খুঁজে পাইনি; যদিও আমি তাদের প্রবাদগুলো ঘেঁটেছি এবং কিছু বিশেষজ্ঞকে জিজ্ঞাসা করেছি, কিন্তু যা উল্লেখ করেছি তার বেশি কোনো উত্তর পাইনি। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।

(২) দেখুন: বাগদাদীর তারিখু মদিনাতিস সালাম ১৩/২৬১। দেখুন: আল-আনসাব (১/১৭৪), সিয়ারু আলামিন নুবালা (১৫/৮৬) এবং তাবাকাতুশ শাফিয়্যাহ ৩/৩৪৯।

(৩) তিনি হলেন ইমাম, আল্লামা, শায়খুল ইসলাম, কাযী আবুল ফজল ইয়াদ বিন মুসা বিন ইয়াদ আল-ইয়াহসুবি আল-আন্দালুসি, অতঃপর আস-সাবতি আল-মালিকি। তিনি ৪৭৬ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৫৪৪ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

ইবনুল ইমাদ তার সম্পর্কে বলেছেন: তিনি ছিলেন অতুলনীয়, সুন্নাহর প্রতি অত্যন্ত অনুরাগী এবং তা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরতেন। এমনকি তিনি গাজালির বইসমূহ পুড়িয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিলেন এমন কিছু বিষয়ের কারণে যা সেখান থেকে প্রতীয়মান হয়েছিল। তার রচিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে রয়েছে: আশ-শিফা, তারতিবুল মাদারিক এবং আল-ইকমাল ফি শারহি সহিহি মুসলিম। দেখুন: সিয়ারু আলামিন নুবালা ২০/২১২ এবং পরবর্তী পৃষ্ঠাগুলো; শাযারাতুয যাহাব ৬/২২৬।
(খণ্ড: ১) আল-ইমামুল আশআরী হায়াতুহু ওয়া আতওয়ারুহু আল-আকাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٢٩)
التصانيف، وأقام الحجج على إثبات السنة وما نفاه أهل البدع من صفات الله تعالى ورؤيته وقدم كلامه وقدرته، وأمور السمع الواردة من الصراط، والميزان، والشفاعة، والحوض، وفتنة القبر التي نفتها المعتزلة، وغير ذلك من مذاهب أهل السنة والحديث، فأقام الحجج الواضحة عليها من الكتاب والسنة والدلائل الواضحة العقلية، ودفع شبه المبتدعين ومن بعدهم من الملحدة والرافضة، وصنف في ذلك التصانيف المبسوطة التي نفع الله بها الأمة»(1)

4 - والسبكي(2) رحمه الله حيث قال: «شيخنا وقدوتنا إلى الله

--------------------------------------------

(1) ترتيب المدارك 5/ 24.

(2) هو قاضي القضاة تاج الدين أبو نصر عبد الوهاب بن علي بن عبد الكافي بن علي بن تمام السبكي الشافعي، ولد بالقاهرة سنة [727] هـ قرأ على المزي ولازم الذهبي، وذكره الذهبي في المعجم الكبير وأثنى عليه، وقال ابن كثير: جرى عليه من المحن والشدائد مالم يجر على قاض قبله، وحصل له من المناصب مالم يحصل لأحد قبله، من كتبه: (شرح مختصر ابن الحاجب، وشرح منهاج البيضاوي). مات سنة 771 هـ ووالده تقي الدين السبكي الذي ألف كتاب (شفاء السقام في زيارة خير الأنام)، ورد عليه ابن عبد الهادي رحمه الله في (الصارم المنكي في الرد على السبكي) انظر في ترجمته شذرات الذهب (8/ 378). والدرر الكامنة (2/ 425) وطبقات الشافعية (4/ 256).
বিভিন্ন গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং সুন্নাহর সপক্ষে এবং বিদআতীরা মহান আল্লাহর যেসব গুণাবলী (সিফাত), তাঁর দর্শন (রুইয়াহ), তাঁর বাণীর অনাদিত্ব এবং তাঁর ক্ষমতাকে অস্বীকার করেছিল, তার বিপরীতে প্রমাণাদি উপস্থাপন করেছেন। এছাড়া তিনি পুলসিরাত, মিজান, শাফাআত, হাউজ এবং কবরের ফেতনা—যা মুতাজিলারা অস্বীকার করেছিল—সেইসব শ্রুত বিষয়সমূহ এবং আহলে সুন্নাহ ওয়াল হাদিসের অন্যান্য আকিদার সপক্ষে সুস্পষ্ট দলিল পেশ করেছেন। তিনি কিতাবুল্লাহ, সুন্নাহ এবং সুস্পষ্ট যৌক্তিক প্রমাণের মাধ্যমে এগুলোর সত্যতা সাব্যস্ত করেছেন। তিনি বিদআতী এবং তাদের পরবর্তী নাস্তিক ও রাফেজীদের সংশয়সমূহ খণ্ডন করেছেন এবং এই বিষয়ে বিস্তারিত গ্রন্থাবলি রচনা করেছেন, যার মাধ্যমে আল্লাহ উম্মতকে উপকৃত করেছেন।»(১)

৪ - এবং আস-সুবকী(২) (রহিমাহুল্লাহ), যখন তিনি বলেন: «আমাদের শায়খ এবং আল্লাহর পথে আমাদের আদর্শ...

--------------------------------------------

(১) তারতীবুল মাদারিক ৫/ ২৪।

(২) তিনি হলেন কাযিল কুযাত তাজউদ্দীন আবু নাসর আব্দুল ওয়াহহাব বিন আলী বিন আব্দুল কাফি বিন আলী বিন তাম্মাম আস-সুবকী আশ-শাফেয়ী। তিনি ৭২৭ হিজরি সনে কায়রোতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি আল-মিযযীর নিকট পাঠ গ্রহণ করেন এবং আয-যাহাবীর সান্নিধ্যে থাকেন। আয-যাহাবী 'আল-মু'জাম আল-কাবীর' গ্রন্থে তাঁর উল্লেখ করেছেন এবং তাঁর প্রশংসা করেছেন। ইবনে কাসীর বলেন: তাঁর ওপর এমন সব পরীক্ষা ও বিপদাপদ আপতিত হয়েছে যা তাঁর পূর্বের কোনো বিচারকের ওপর আসেনি, আবার তিনি এমন সব পদমর্যাদা লাভ করেছেন যা তাঁর পূর্বে কেউ পায়নি। তাঁর রচিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে: (শারহু মুখতাসার ইবনিল হাজিব এবং শারহু মিনহাজিল বায়যাবী)। তিনি ৭৭১ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর পিতা হলেন তাকিউদ্দীন আস-সুবকী, যিনি 'শিফাউস সিকাম ফি যিয়ারতি খায়রিল আনাম' বইটি রচনা করেছেন। ইবনে আব্দুল হাদী (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর প্রতিবাদে 'আস-সারিমুল মুনকি ফির রাদ্দি আলাস সুবকী' গ্রন্থটি রচনা করেন। তাঁর জীবনী দেখুন: শাযারাতুয যাহাব (৮/৩৭৮), আদ-দুরাকুল কামিনাহ (২/৪২৫) এবং তাবাকাতুশ শাফেয়িয়্যাহ (৪/২৫৬)।
(খণ্ড: ১) আল-ইমামুল আশআরী হায়াতুহু ওয়া আতওয়ারুহু আল-আকাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٣٠)
تعالى الشيخ أبو الحسن الأشعري البصري، شيخ طريقة أهل السنة والجماعة، وإمام المتكلمين وناصر سنة سيد المرسلين، والذاب عن الدين، والساعي في حفظ عقائد المسلمين، سعياً يبقى أثره إلى يوم يقوم الناس فيه لرب العالمين. إمام حبر، وتقي بر، حمى جناب الشرع من الحديث المفترى، وقام في نصرة ملة الإسلام فنصرها نصراً مؤزراً»(1).

5 - وقال تقي الدين ابن قاضي شهبة(2): «إمام المتكلمين، وناصر سنة سيد المرسلين، والذاب عن الدين والمصحح لعقائد المسلمين»(3).

6 - وقال الباقلاني(4): «أفضل أحوالي أن أفهم كلام الشيخ أبي الحسن،

--------------------------------------------

(1) طبقات الشافعية الكبرى (3/ 347).

(2) هو أبو بكر محمد بن عمر بن محمد بن عبد الوهاب الأسدي شمس الدين بن قاضي شهبة. ولد سنة 691 هـ، كان معروفاً بمعرفة الفقه والنحو. من أهم كتبه: (طبقات الشافعية، وشرح التبيين، وشرح المنهاج للنووي، والإعلام بتاريخ الإسلام، ومختصر تهذيب الكمال للمزي، والمنتقى من الأنساب للسمعاني). توفي سنة [851] هـ رحمه الله. انظر الدرر الكامنة (4/ 110) والنجوم الزاهرة (7/ 314) ومقدمة كتاب طبقات الشافعية (1/ 19).

(3) انظر طبقات الشافعية (1/ 114).

(4) هو القاضي أبو بكر محمد بن الطيب بن شعفر البصري البغدادي الباقلاني، تاريخ ولادته مجهول، ولد بالبصرة وكان من المتكلمة، تتلمذ على عدد من تلاميذ أبي الحسن الأشعري وهم: أبو الحسن الباهلي، ومحمد الشيرازي، ومحمد بن يعقوب الطائي، كما تتلمذ على أبي ذر الهروي، وابن اللبان، وأثنى عليه عدد من العلماء كالذهبي، حيث قال عنه: الإمام العلامة أوحد المتكلمين ومقدم الأصوليين، ثقة إمام بارع مؤلفاته تبلغ (55) مؤلفاً ومن أهمها: التمهيد ورسالة الحرة والإبانة عن إبطال مذهب أهل الكفر والضلالة، وشرح اللمع لأبي الحسن الأشعري. انظر سير أعلام النبلاء (17/ 190) ومعجم المؤلفين (10/ 109).
মহান শাইখ আবুল হাসান আল-আশআরী আল-বাসরী, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের পদ্ধতির শাইখ, ইলমুল কালাম শাস্ত্রবিদদের ইমাম, রাসূলদের সরদারের সুন্নাহর সাহায্যকারী, দ্বীনের প্রতিরক্ষা দানকারী এবং মুসলিমদের আকীদা সংরক্ষণে প্রচেষ্টাকারী; এমন এক প্রচেষ্টা যার প্রভাব অবশিষ্ট থাকবে সেই দিন পর্যন্ত যেদিন মানুষ বিশ্বজগতের রবের সামনে দণ্ডায়মান হবে। তিনি একজন বিজ্ঞ ইমাম এবং নেককার মুত্তাকী, যিনি শরীয়তের মর্যাদা রক্ষা করেছেন বানোয়াট হাদীস থেকে এবং ইসলামের মিল্লাতের সাহায্যে দণ্ডায়মান হয়েছেন, অতঃপর তাকে এক শক্তিশালী সাহায্য করেছেন।(১)

৫ - এবং তাকীউদ্দীন ইবনে কাযী শুহবাহ বলেছেন(২): «ইলমুল কালাম শাস্ত্রবিদদের ইমাম, রাসূলদের সরদারের সুন্নাহর সাহায্যকারী, দ্বীনের প্রতিরক্ষা দানকারী এবং মুসলিমদের আকীদার সংশোধনকারী»(৩)

৬ - এবং বাকিলানী বলেছেন(৪): «আমার সর্বোত্তম অবস্থা হলো শাইখ আবুল হাসানের কথা বুঝতে পারা,

--------------------------------------------

(১) তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ আল-কুবরা (৩/ ৩৪৭)।

(২) তিনি হলেন আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে উমর ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব আল-আসাদী শামসুদ্দীন ইবনে কাযী শুহবাহ। তিনি ৬৯১ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন, ফিকহ ও নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্রে জ্ঞানের জন্য তিনি সুপরিচিত ছিলেন। তাঁর গুরুত্বপূর্ণ কিতাবসমূহের মধ্যে রয়েছে: (তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ, শারহুত তিবইয়ীন, নববীর মিনহাজের ব্যাখ্যাগ্রন্থ, আল-ইলাম বি-তারিখিল ইসলাম, মিযযীর তাহযীবুল কামালের সংক্ষিপ্তসার এবং সামআনীর আল-আনসাবের সংকলন)। তিনি ৮৫১ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন, আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন। দেখুন: আদ-দুরারুল কামিনাহ (৪/ ১১০), আন-নুজুমুয যাহিরাহ (৭/ ৩১৪) এবং তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ গ্রন্থের ভূমিকা (১/ ১৯)।

(৩) দেখুন: তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ (১/ ১১৪)।

(৪) তিনি হলেন বিচারক আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে আত-তায়্যিব ইবনে শা'ফার আল-বাসরী আল-বাগদাদী আল-বাকিলানী। তাঁর জন্মের তারিখ অজ্ঞাত, তিনি বাসরায় জন্মগ্রহণ করেন এবং তিনি মুতাকাল্লিমদের (কালাম শাস্ত্রবিদ) অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি আবুল হাসান আল-আশআরীর বেশ কয়েকজন ছাত্রের কাছে শিক্ষা লাভ করেন, তাঁরা হলেন: আবুল হাসান আল-বাহিলী, মুহাম্মাদ আশ-শিরাযী, মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াকুব আত-তাঈ। এছাড়াও তিনি আবু যার আল-হারাবী এবং ইবনুল লাব্বানের কাছে শিক্ষা লাভ করেন। যাহাবীর মতো অনেক আলেম তাঁর প্রশংসা করেছেন, যেখানে তিনি তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: ইমাম, মহাজ্ঞানী, কালাম শাস্ত্রবিদদের মধ্যে অনন্য এবং উসুলবিদদের অগ্রগণ্য, নির্ভরযোগ্য ইমাম ও দক্ষ ব্যক্তিত্ব। তাঁর রচিত গ্রন্থের সংখ্যা ৫৫টি, যার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো: আত-তামহীদ, রিসালাতুল হুররাহ, আল-ইবানাহ আন ইবত্বালি মাযহাবি আহলিল কুফরি ওয়াদ দলালাহ এবং আবুল হাসান আল-আশআরীর আল-লুমাহর ব্যাখ্যাগ্রন্থ। দেখুন: সিয়ারু আলামিন নুবালা (১৭/ ১৯০) এবং মু'জামুল মুয়াল্লিফীন (১০/ ১০৯)।
(খণ্ড: ১) আল-ইমামুল আশআরী হায়াতুহু ওয়া আতওয়ারুহু আল-আকাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٣١)
وكان لا يتكلم في علم الكلام إلا حيث وجب عليه نصرة الحق»(1). وقال الخطيب البغدادي(2): «أبو الحسن الأشعري، المتكلم، صاحب الكتب والتصانيف في الرد على الملحدة(3)، والجهمية(4) وغيرهم من المعتزلة

--------------------------------------------

(1) انظر طبقات الشافعية (1/ 114/ 115).

(2) الإمام الأوحد، العلامة المفتي، الحافظ الناقد، محدث الوقت أبو بكر؛ أحمد بن علي بن ثابت البغدادي، صاحب التصانيف، وخاتمة الحفاظ، ولد سنة 392 هـ قال عنه أبو إسحاق الشيرازي: إن الخطيب يشبه بالدار قطني في معرفة الحديث وحفظه من أهم كتبه: تاريخ بغداد والجامع والكفاية والرواة عن مالك والفقيه والمتفقه. مات رحمه الله وعمره ثلاث وسبعون سنة. انظر سير أعلام النبلاء (18/ 270) والنجوم الزاهرة (5/ 87).

(3) الإلحاد: هو مذهب فلسفي يقوم على فكرة أساسها إنكار وجود الله عز وجل يدعي الملاحدة أن الكون وجد بلا خالق، وبأن المادة أزلية أبدية، وهي الخالق والمخلوق في نفس الوقت، وله في القديم مسميات كالزندقة، والدهرية والذي وصفهم الله عز وجل بقوله تعالى: {وَقَالُوا مَا هِيَ إِلَّا حَيَاتُنَا الدُّنْيَا نَمُوتُ وَنَحْيَا وَمَا يُهْلِكُنَا إِلَّا الدَّهْرُ} [الجاثية: 24]. وهم دهريون كما قال اليمني: وأما الدهرية، فإنهم ينفون الربوبية، ويحيلون الأمر والنهي وينكرون جواز الرسالة ويجعلون الطينية قديمة، ويجحدون العقاب ولا يعرفون الحلال ولا الحرام، [ولا يقرون] في جميع العالم [برهانا] يدل على صانع ولا مصنوع، وخالق ومخلوق، تعالى الله عن إفك الكل، وعصمنا عن الأباطيل برحمته. انظر عقائد الثلاث والسبعين فرقة لأبي محمد اليمني 2/ 767. انظر: الفصل 1/ 47 - 54 والملل والنحل 2/ 215 وعقائد الثلاث والسبعين فرقة 2/ 767 والموسوعة الميسرة 2/ 813 وكواشف زيوف 433.

(4) الجهمية: هم أصحاب جهم بن صفوان السمرقندي، أبو محرز من موالي بني راسب، رأس الجهمية الضال المبتدع، هلك في زمن صغار التابعين، وقد زرع شراً عظيماً، قتله مسلم بن أحوز المازني بمرو - مدينة تقع في تركستان على مصب نهر مرغاب - أحد قادة مضر بن سيار. والجهمية من الجبرية الخالصة وظهرت بدعتهم بسمرقند - إحدى مدن أوزبكستان على الحدود الأفغانية. وافق جهم وأتباعه المعتزلة في نفي الصفات الأزلية، وزاد عليهم بأشياء منها:

1 - لا يجوز أن يوصف الباري بصفة يوصف بها خلقه؛ لأن ذلك يقتضي تشبيهاً؛ فنفى كونه: حياً، عالماً، وأثبت كونه: قادراً، فاعلاً، خالقاً، لأنه لا يوصف شيء من خلقه: بالقدرة، والفعل، والخلق.

2 - إثبات علوم حادثة للباري - تعالى - لا في محل؛ قال: لا يجوز أنه يعلم الشيء قبل خلقه.

3 - ويقول في القدرة الحادثة: إن الإنسان لا يقدر على شيء، ولا يوصف بالاستطاعة؛ وإنما هو مجبور على أفعاله: لا قدرة له، ولا إرادة، ولا اختيار.

4 - ومنها قوله: إن حركات أهل الخلد لن تنقطع، والجنة والنار تفنيان بعد دخول أهلهما فيهما.

5 - ومنها قوله: من أتى بالمعرفة ثم جحد بلسانه لم يكفر بجحده؛ لأن العلم والمعرفة لا يزولان بالجحد.

وهو ينفي الرؤيا ويقول: بأن القرآن مخلوق. ولهذه الفرقة الضالة طوام أخر. انظر الملل والنحل للشهرستاني ص 67، 68، 69، وعقائد الثلاث وسبعين فرقة 1/ 273، و 1/ 296 والفرق بين الفرق 158 والتبيين والرد ص 110 ومقالات الإسلاميين ص 219.
«এবং তিনি ইলমুল কালাম বা ধর্মতত্ত্বে কথা বলতেন না কেবল সত্যের বিজয়ে যেখানে তা আবশ্যক হয়ে পড়ত»(১)। এবং খতিব আল-বাগদাদি(২) বলেছেন: «আবু হাসান আল-আশআরি ছিলেন একজন ধর্মতত্ত্ববিদ, নাস্তিক(৩), জাহমিয়্যা(৪) এবং মুতাজিলাদের অন্যান্য উপদলের খণ্ডনে রচিত বহু কিতাব ও সংকলনের রচয়িতা

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ (১/ ১১৪/ ১১৫)।

(২) অদ্বিতীয় ইমাম, আল্লামাহ মুফতি, হাফেজ ও সমালোচক, সমকালীন মুহাদ্দিস আবু বকর; আহমদ বিন আলী বিন সাবিত আল-বাগদাদি, বহু গ্রন্থের প্রণেতা এবং হাফেজদের ধারায় সর্বশেষ; ৩৯২ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। আবু ইসহাক আশ-শিরাজি তাঁর সম্পর্কে বলেন: হাদিসের জ্ঞান ও তা মুখস্থ রাখার ক্ষেত্রে খতিবকে দারাকুতনির সাথে তুলনা করা হয়। তাঁর গুরুত্বপূর্ণ কিতাবসমূহের মধ্যে রয়েছে: তারিখু বাগদাদ, আল-জামি, আল-কিফায়া, আর-রুওয়াত আন মালিক এবং আল-ফকিহ ওয়াল মুতাফাক্কিহ। তিনি তিয়াত্তর বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন, আল্লাহ তাঁর ওপর দয়া করুন। দেখুন: সিয়ারু আলামিন নুবালা (১৮/ ২৭০) এবং আন-নুজুমুজ জাহিরাহ (৫/ ৮৭)।

(৩) ইলহাদ (নাস্তিক্যবাদ): এটি একটি দার্শনিক মতবাদ যা মহান আল্লাহর অস্তিত্ব অস্বীকার করার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। নাস্তিকরা দাবি করে যে মহাবিশ্ব কোনো স্রষ্টা ছাড়াই অস্তিত্ব লাভ করেছে, এবং পদার্থ অনাদি ও অনন্ত; এটিই একইসাথে স্রষ্টা ও সৃষ্টি। প্রাচীনকালে এর জন্য জান্দাকা এবং দাহরিয়্যাহ-র মতো নাম ছিল, যাদের বর্ণনা আল্লাহ তাআলা তাঁর এই বাণীতে দিয়েছেন: {এবং তারা বলে: আমাদের এই পার্থিব জীবনই সব, আমরা মরি ও বাঁচি এবং কাল (সময়) ছাড়া অন্য কিছুই আমাদের ধ্বংস করে না} [সূরা আল-জাথিয়াহ: ২৪]। তারা হলো দাহরিয়্যাহ যেমন আল-ইয়ামানি বলেন: আর দাহরিয়্যাহদের ক্ষেত্রে কথা হলো, তারা রুবুবিয়্যাহ (প্রভুত্ব) অস্বীকার করে, আদেশ ও নিষেধকে বাতিল মনে করে, রিসালাতের সম্ভাব্যতা অস্বীকার করে এবং মাটিকে অনাদি মনে করে। তারা শাস্তিকে অস্বীকার করে এবং হালাল-হারাম চেনে না। তারা সমগ্র মহাবিশ্বে স্রষ্টা বা সৃষ্টি নির্দেশক কোনো দলিল স্বীকার করে না। আল্লাহ তাদের এই মিথ্যাচার থেকে অনেক ঊর্ধ্বে, এবং তিনি আমাদের তাঁর রহমতে এই সকল বাতিল থেকে রক্ষা করুন। দেখুন: আবু মুহাম্মদ আল-ইয়ামানি রচিত আকাইদুত সালাস ওয়াসাবইন ফিরকাহ ২/ ৭৬৭। আরও দেখুন: আল-ফাসল ১/ ৪৭-৫৪, আল-মিলল ওয়ান নিহাল ২/ ২১৫, আকাইদুত সালাস ওয়াসাবইন ফিরকাহ ২/ ৭৬৭, আল-মাওসুআতুল মুয়াসসারাহ ২/ ৮১৩ এবং কাওয়াশিফু জুয়ুফ ৪৩৩।

(৪) জাহমিয়্যা: তারা হলো বনু রাসিবের আযাদকৃত দাস আবু মুহরিজ জাহম বিন সাফওয়ান আস-সামারকান্দির অনুসারী। সে জাহমিয়্যাদের নেতা, বিভ্রান্ত এবং বিদআতি। সে কনিষ্ঠ তাবেয়িদের যুগে ধ্বংস হয়েছে এবং বিরাট মন্দ রোপণ করেছে। তাকে মার্ভে—যা তুর্কিস্তানের মুরগাব নদীর মোহনায় অবস্থিত একটি শহর—মুসলিদ বিন আহওয়াজ আল-মাযিনি হত্যা করেন, যিনি মুদার বিন সাইয়ারের অন্যতম সেনাপতি ছিলেন। জাহমিয়্যারা চরম জাবরিয়্যাদের অন্তর্ভুক্ত এবং তাদের বিদআত উজবেকিস্তানের আফগান সীমান্ত সংলগ্ন শহর সমরকন্দে প্রকাশ পায়। জাহম এবং তার অনুসারীরা মহান আল্লাহর অনাদি গুণাবলি অস্বীকার করার ক্ষেত্রে মুতাজিলাদের সাথে একমত হয় এবং কিছু বিষয়ে তাদের চেয়েও অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করে:

১ - স্রষ্টাকে এমন কোনো গুণে গুণান্বিত করা যাবে না যার দ্বারা তাঁর সৃষ্টিকে গুণান্বিত করা হয়; কারণ এতে সাদৃশ্য সৃষ্টি হয়। তাই সে স্রষ্টার জীবিত ও জ্ঞানী হওয়াকে অস্বীকার করেছে এবং সক্ষম, কর্তা ও স্রষ্টা হওয়াকে সাব্যস্ত করেছে; কারণ সৃষ্টির কাউকেই প্রকৃত সক্ষমতা, কর্ম বা সৃষ্টি দ্বারা গুণান্বিত করা যায় না।

২ - আল্লাহ তাআলার জন্য নতুন জ্ঞানের (ইলমে হাদিস) অস্তিত্ব সাব্যস্ত করা যা কোনো আধার ছাড়াই থাকে; সে বলেছে: কোনো কিছু সৃষ্টির পূর্বে আল্লাহ তা জানেন—এটা জায়েয নয়।

৩ - নতুন সক্ষমতা সম্পর্কে সে বলে: মানুষের কোনো কিছুর ওপর ক্ষমতা নেই, তাকে সক্ষমতা দ্বারা গুণান্বিত করা যাবে না; বরং সে তার কর্মে আদিষ্ট ও বাধ্য: তার কোনো ক্ষমতা, ইচ্ছা বা পছন্দ নেই।

৪ - তার আরেকটি কথা হলো: জান্নাতবাসীদের নড়াচড়া কখনো বন্ধ হবে না, এবং জান্নাত ও জাহান্নাম তাদের অধিবাসীরা প্রবেশের পর ধ্বংস হয়ে যাবে।

৫ - তার আরও কথা হলো: যে ব্যক্তি জ্ঞান অর্জন করেছে তারপর জবান দিয়ে তা অস্বীকার করেছে, সে তার অস্বীকারের কারণে কাফের হবে না; কারণ জ্ঞান বা পরিচয় অস্বীকারের মাধ্যমে বিলুপ্ত হয় না।

সে আল্লাহর দিদার বা দর্শন অস্বীকার করত এবং বলত কুরআন সৃষ্টি। এই ভ্রান্ত উপদলের আরও অনেক বড় বড় বিপর্যয় রয়েছে। দেখুন: আশ-শাহরাস্তানি রচিত আল-মিলল ওয়ান নিহাল পৃষ্ঠা ৬৭, ৬৮, ৬৯, আকাইদুত সালাস ওয়াসাবইন ফিরকাহ ১/ ২৭৩ এবং ১/ ২৯৬, আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক ১৫৮, আত-তাবয়িন ওয়ার রাদ্দ পৃষ্ঠা ১১০ এবং মাকালাতুল ইসলামিয়্যিন পৃষ্ঠা ২১৯।
(খণ্ড: ১) আল-ইমামুল আশআরী হায়াতুহু ওয়া আতওয়ারুহু আল-আকাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٣٢)
والرافضة(1)،

ــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــ

--------------------------------------------

(1) الرافضة: سموا بهذا الاسم لرفضهم إمامة أبي بكر وعمر رضي الله عنهما، وقيل: بل لرفضهم مقالة زيد بن علي رضي الله عنهما، حيث تولى أبو بكر وعمر، وذلك أن جماعة منهم أتوا إليه فقالوا: ما تقول في أبي بكر وعمر؟ فأثنى عليهما خيراً، فقالوا: فكيف وقد نازعوكم أمركم؟ قال: ما سمعت أحداً من أهل بيتي يذكرهما إلا بخير، فرفضوا مقالته وتفرقوا عنه، فلما أدبروا رفع يده إلى السماء فقال: اللهم اجعل لعنتي ولعنة آبائي عليهم فإنهم رفضوني، كما رفضت الخوارج علياً رضي الله عنه فسُموا بذلك رافضة، وهم شرار هذه الأمة. وظهرت فرقة السبيئة في زمن علي رضي الله عنه وقالوا لعلي: أنت الله ـ تعالى ربنا عما قالوا علواً كبيراً ـ فأحرق علي قوماً منهم ونفا ابن سبأ إلى المدائن، ثم افترقت بعد زمن علي رضي الله عنه إلى أصناف:

1 - الزيدية: ومن فرق الزيدية: الجارودية، السليمانية.

2 - الإمامية ومن فرقها: الكاملية، والمحمدية، والباقرية، والعمارته، والناووسية، والشميطية، والإسماعيلية، والمباركية، والموسوية، والقطعية، والاثنا عشرية، والهاشمية، والزرادية، والبوتسية، والسيطانية.

4 - الكيسانية.

ومن الرافضة ظهرت الفرق الباطنية. انظر للمزيد عقائد الثلاث والسبعين فرقة 1/ 446، 449 والملل والنحل 1/ 417، 159 والفرق بين الفرق ص 22 حتى 49 ومقالات الإسلاميين من صـ 25 إلى 82 والتنبيه والرد ص 29 - 48.
এবং রাফেযীগণ(১),

ــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــ

--------------------------------------------

(১) রাফেযী: আবু বকর ও ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর ইমামত বা নেতৃত্ব প্রত্যাখ্যান (রাফয) করার কারণে তাদের এই নামে নামকরণ করা হয়েছে। বলা হয়ে থাকে যে: বরং যায়েদ ইবনে আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করার কারণে তাদের এই নাম দেওয়া হয়েছে, যখন তিনি আবু বকর ও ওমরকে সমর্থন করেছিলেন। বিষয়টি এই যে, তাদের একটি দল তাঁর কাছে এসে জিজ্ঞেস করেছিল: আবু বকর ও ওমর সম্পর্কে আপনি কী বলেন? তিনি তাঁদের উভয়ের প্রশংসা ও গুণগান করলেন। তখন তারা বলল: তাহলে কীভাবে হলো যে তারা আপনাদের থেকে আপনাদের কর্তৃত্ব কেড়ে নিয়েছিল? তিনি বললেন: আমি আমার পরিবারের (আহলে বাইত) কাউকে তাঁদের সম্পর্কে কল্যাণ ব্যতীত অন্য কিছু বলতে শুনিনি। তখন তারা তাঁর বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করল এবং তাঁর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল। তারা যখন পিঠ ফিরিয়ে চলে গেল, তখন তিনি আসমানের দিকে হাত তুলে বললেন: হে আল্লাহ! আপনি আমার এবং আমার পিতৃপুরুষদের অভিশাপ তাদের ওপর বর্ষণ করুন, কেননা তারা আমাকে প্রত্যাখ্যান করেছে। যেমন খারেজীরা আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে প্রত্যাখ্যান করেছিল, আর এ কারণেই তাদের 'রাফেযী' (প্রত্যাখ্যানকারী) বলা হয় এবং তারা এই উম্মতের মধ্যে নিকৃষ্টতম। আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর যুগে 'সাবায়িয়া' দলের আবির্ভাব ঘটে এবং তারা আলীকে বলেছিল: আপনিই আল্লাহ—আমাদের রব তাদের কথা থেকে অনেক উর্ধ্বে ও মহান। ফলে আলী তাদের একদলকে আগুনে পুড়িয়ে দেন এবং ইবনে সাবাকে মাদায়েনে নির্বাসিত করেন। এরপর আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর পরবর্তী সময়ে তারা বিভিন্ন শ্রেণিতে বিভক্ত হয়ে পড়ে:

১ - যায়দিয়া: যায়দিয়াদের উপদলসমূহের মধ্যে রয়েছে: জারুদিয়া ও সুলাইমানিয়া।

২ - ইমামিয়া এবং এর উপদলসমূহের মধ্যে রয়েছে: কামিলিয়া, মুহাম্মাদিয়া, বাকিরিয়া, আমারাতিয়াহ, নাওউসিয়া, শুমাইতিয়া, ইসমাইলিয়া, মুবারকিয়া, মুসাউয়িয়া, কাতইয়া, ইছনা আশারিয়া (বারো ইমামপন্থী), হাশেমিয়া, যারাদিয়া, বুতসিয়া এবং সাইতানিয়া।

৪ - কাইসানিয়া।

রাফেযীদের মধ্য থেকেই বাতেনী দলগুলোর উদ্ভব ঘটেছে। আরও দেখুন: 'আকাইদুত সালাছি ওয়া সাবঈন ফিরকাহ' ১/ ৪৪৬, ৪৪৯; 'আল-মিলাল ওয়ান নিহাল' ১/ ৪১৭, ১৫৯; 'আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক' পৃষ্ঠা ২২ হতে ৪৯; 'মাকালাতুল ইসলামিয়্যিন' পৃষ্ঠা ২৫ হতে ৮২ এবং 'আত-তানবিহু ওয়ার রাদ্দ' পৃষ্ঠা ২৯ - ৪৮।
(খণ্ড: ১) আল-ইমামুল আশআরী হায়াতুহু ওয়া আতওয়ারুহু আল-আকাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٣٣)
والخوارج(1)، ـــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــ

--------------------------------------------

(1) هم الذين خرجوا على علي رضي الله عنه يوم الحكمين حيث كرهوا الحكم والتحكيم، وهم الذين قال عنهم النبي صلى الله عليه وسلم: «إنهم يمرقون من الدين كما يمرق السهم من الرمية» أخرجه البخاري في كتاب استتابة المرتدين حيث رقم (6934) ومسلم في كتاب الزكاة، باب التحريض على مثل الخوارج 7/ 169 ومعنى يمرقون من الدين: أي يجوزونه ويتعدونه، كما يخرق السهم الشيء والمرمي به ويخرج منه. انظر النهاية في غريب الحديث 4/ 320. وكل من خرج على الإمام الحق الذي اتفقت عليه الجماعة يسمى خارجياً؛ سواء كان الخروج في أيام الصحابة، أو كان بعدهم على التابعين؛ والأئمة في كل زمان والخوارج من أضل فرق الأمة وأجمعت ـ قطع الله دابرها ـ على تكفير علي رضي الله عنه واختلفوا هل كفره يزل أم لا؟ وأجمعوا على أن كل كبيرة كفر، إلا النجدات فإنها لا تقول بذلك. وأجمعوا على أن الله سبحانه وتعالى يعذب أصحاب الكبائر عذاباً دائمًا إلا النجدات. وقد افترقت الخوارج إلى طوائف وفرق منهم الأزارقة، والإباضية، والغونية، والمطبخية، والأخنسية، والشمراخية، والبكارية، والمعلومية، واليزيدية، والبكرية، والعبدلية، والمغالية، والصلتية، والميمونية، والحمزية، والخلفية، والأطرافية، والشعبية، والحازمية، والثعالبة، والمعيدية، والرشيدية، والسيانية، والمكرمية، والإباضية، والحفصية والحارنية. وكل فرقة من هذه الفرق منسوبة إلى شيخها ومصنف كتبها. وللخوارج ألقاب منها: الحرورية، السواة، المارقة، المحكمة، وهم يرضون الألقاب كلها،! إلا المارقة، فإنهم ينكرون أن يكونوا مارقة من الدين كما يمرق السهم من الرمية. وللخوارج من الطوام القول بخلق القرآن، ومن نظر إلى امرأة أجنبية أو قبلها فهو مشرك، بل تمادى نافع بن الأزرق وقال بإباحة قتل الأطفال والعميان والعرجان والعجائز والمرضى، واستحلوا الأمانات. للمزيد من الفائدة انظر مقالات الإسلاميين من 84 - 113 والملل والنحل من 91 - 109 وعقائد الثلاث والسبعين فرقة 1/ 18 - 42 والفرق بين الفرق 49 - 78 والتنبيه والرد ص 62 - 68. وهناك رسالة دكتوارة في الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة، قد طبعت ولله الحمد وهي بعنوان: الخوارج تاريخهم وآراؤهم الاعتقادية لعلي بن علي عواجي.
এবং খাওয়ারিজগণ(১)، ـــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــ

--------------------------------------------

(১) তারা হলো ঐ সকল লোক যারা আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর বিরুদ্ধে দুই সালিসের দিনে (তাহকিমের দিন) বিদ্রোহ করেছিল, যখন তারা বিচার ও সালিসি প্রক্রিয়াকে অপছন্দ করেছিল। তাদের সম্পর্কেই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তারা দ্বীন থেকে এমনভাবে বের হয়ে যাবে যেমনভাবে নিক্ষিপ্ত তীর শিকার ভেদ করে বেরিয়ে যায়»। ইমাম বুখারী এটি ‘মুরতাদদের তাওবা করানো’ অধ্যায়ে (হাদিস নং ৬৯৩৪) এবং ইমাম মুসলিম ‘যাকাত’ অধ্যায়ে, ‘খাওয়ারিজদের মতো লোকদের বিরুদ্ধে উস্কানি প্রদান’ অনুচ্ছেদে (৭/১৬৯) বর্ণনা করেছেন। ‘দ্বীন থেকে বের হয়ে যাওয়া’ (ইয়ামরুকুনা)-এর অর্থ হলো: তারা দ্বীনকে অতিক্রম করে ও তা ছাড়িয়ে চলে যায়, যেমনভাবে তীর লক্ষ্যবস্তুকে বিদ্ধ করে তা থেকে বেরিয়ে যায়। দেখুন: আন-নিহায়া ফী গারিবিল হাদিস ৪/৩২০। যে ব্যক্তিই জামাআত কর্তৃক ঐক্যমত্যপ্রাপ্ত সত্য ইমামের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করবে তাকেই ‘খারিজি’ বলা হয়; চাই সেই বিদ্রোহ সাহাবায়ে কিরামের যুগে হোক অথবা তাদের পরে তাবিঈগণ বা অন্য যেকোনো সময়ের ইমামদের বিরুদ্ধে হোক। খাওয়ারিজরা উম্মতের সবচেয়ে পথভ্রষ্ট দলগুলোর অন্তর্ভুক্ত। তারা—আল্লাহ তাদের মূলোৎপাটন করুন—আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে কাফির বলার ব্যাপারে ঐক্যমত পোষণ করেছে, তবে তাঁর এই কুফরি কি তাকে ইসলাম থেকে বের করে দিয়েছিল কি না, সে বিষয়ে তারা নিজেরা মতভেদ করেছে। তারা এ বিষয়েও একমত যে, প্রতিটি কবিরা গুনাহই কুফরি, তবে ‘নাজদাত’ উপদলটি এই মত পোষণ করে না। তারা আরও একমত যে, মহান আল্লাহ কবিরা গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তিদের চিরস্থায়ী আজাব দেবেন, এখানেও ‘নাজদাত’ দ্বিমত পোষণ করেছে। খাওয়ারিজরা অনেকগুলো দল ও উপদলে বিভক্ত হয়েছে, যাদের মধ্যে রয়েছে: আযারিফা, ইবাদিয়া, গুনিয়া, মুতবাখিয়া, আখনাশিয়া, শামরাখিয়া, বাকারিয়া, মালুমিয়া, ইয়াযিদিয়া, বাকরিয়া, আবদালিয়া, মুগালিয়া, সালতিয়া, মাইমুনিয়া, হামযিয়া, খালাফিয়া, আতরাফিয়া, শাবিয়া, হাযিমিয়া, সা'লাবা, মুয়াইদিয়া, রাশিদিয়া, সায়ানিয়া, মুকরামিয়া, ইবাদিয়া, হাফসিয়া এবং হারনিয়া। এই দলগুলোর প্রত্যেকটি তাদের শাইখ বা কিতাব রচয়িতার দিকে সম্বন্ধযুক্ত। খাওয়ারিজদের কিছু উপাধি রয়েছে, যথা: হারুরিয়া, সুয়াত, মারিকা এবং মুহাক্কিমা। তারা ‘মারিকা’ ব্যতীত সকল উপাধিতেই সন্তুষ্ট; কারণ তারা দ্বীন থেকে তীরের মতো বেরিয়ে যাওয়ার (মারিকা হওয়ার) বিষয়টি অস্বীকার করে। খাওয়ারিজদের চরম বিভ্রান্তিগুলোর মধ্যে একটি হলো কুরআন সৃষ্টি হওয়ার দাবি করা। তাদের মতে, কেউ যদি কোনো পরনারীর দিকে তাকায় বা তাকে চুম্বন করে তবে সে মুশরিক। এমনকি নাফে ইবনুল আযরাক চরম সীমালঙ্ঘন করে শিশু, অন্ধ, খোঁড়া, বৃদ্ধা এবং অসুস্থদের হত্যা করা বৈধ বলেছে এবং মানুষের গচ্ছিত আমানতকে (লুট করা) হালাল গণ্য করেছে। বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন: মাকালাতুল ইসলামিয়্যীন (৮৪-১১৩), আল-মিলাল ওয়ান নিহাল (৯১-১০৯), আকাইদুত সালাসাতা ওয়া সাবঈন ফিরকাহ (১/১৮-৪২), আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক (৪৯-৭৮) এবং আত-তানবীহ ওয়ার রাদ্দ (পৃষ্ঠা ৬২-৬৮)। মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি ডক্টরেট থিসিসও রয়েছে যা আলহামদুলিল্লাহ মুদ্রিত হয়েছে, যার শিরোনাম হলো: ‘আল-খাওয়ারিজ: তারিখুহুম ওয়া আরাউহুমুল ইতিদাদিয়া’, লেখক: আলী বিন আলী আওয়াজি।
(খণ্ড: ১) আল-ইমামুল আশআরী হায়াতুহু ওয়া আতওয়ারুহু আল-আকাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٣٤)
وسائر أصناف المبتدعة»(1). وقال ابن تغري بردي(2): «أبو الحسن،

--------------------------------------------

(1) انظر تاريخ مدينة الإسلام 13/ 260.

(2) هو: جمال الدين أبو المحاسن يوسف بن تغري بردي الأتابكي الرومي الحنفي، ولد سنة 812 في مصر وتوفي فيها سنة 874، تتلمذ على يد المقريزي والعيني، ويعد من كبار المؤرخين. ومن أهم كتبه: المنهل الصافي، والمستوفي بعد الوافي، والنجوم الزاهرة في ملوك مصر والقاهرة، وحوادث الدهور في مدى الأيام والشهور، والبشارة في تكملة الإشارة، وحلية الصفات في الأسماء والصناعات، وأجازه الإمام ابن حجر رحمه الله. انظر شذرات الذهب 9 - 472 والبدر الطالع 2/ 351 ومقدمة النجوم الزاهرة 1/ 3.
এবং অন্যান্য সকল প্রকার বিদআতিরা»(১)। ইবনে তাগরি বারদি(২) বলেছেন: «আবুল হাসান,

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তারিখ মদিনাতিল ইসলাম ১৩/ ২৬০।

(২) তিনি হলেন: জামালুদ্দিন আবুল মাহাসিন ইউসুফ বিন তাগরি বারদি আল-আতাবেকি আর-রুমি আল-হানাফি। তিনি ৮১২ হিজরি সনে মিশরে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৮৭৪ হিজরি সনে সেখানে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি আল-মাকরিজি এবং আল-আইনির নিকট শিক্ষা লাভ করেন এবং তিনি অন্যতম শ্রেষ্ঠ ঐতিহাসিক হিসেবে গণ্য হন। তাঁর গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে: আল-মানহালুস সাফি, আল-মুসতাওফি বাদাল ওয়াফি, আন-নুজুমুজ জাহিরা ফি মুলুকি মিসর ওয়াল কাহেরা, হাওয়াদিসুদ দুহুর ফি মাদান আইয়্যাম ওয়াশ শুহুর, আল-বিশারা ফি তাকমিলাতিল ইশারা এবং হিলিয়াতুস সিফাত ফিল আসমা ওয়াস সিনাআাত। ইমাম ইবনে হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) তাকে ইজাজত প্রদান করেছেন। দেখুন: শাজারাতুয যাহাব ৯/ ৪৭২, আল-বদরুত তালি ২/ ৩৫১ এবং আন-নুজুমুজ জাহিরার ভূমিকা ১/ ৩।