(খণ্ড: ১)
আল-কাউলুল ফাসলু ফিল আমালি বিল হাদীসিল মুরসাল
(পৃষ্ঠা: -)
القول الفصل في العمل بالحديث المرسل القسم: علوم الحديث
الكتاب: القول الفصل في العمل بالحديث المرسل
المؤلف: حسن مظفر رزق
الناشر: الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة
الطبعة: السنة السادسة عشرة، العدد الثاني والستون، ربيع الآخر - جمادى الآخرة 1404هـ/1984م
عدد الصفحات: 42
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
বিচ্ছিন্ন (مرسل) হাদিসের ওপর আমল করার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র
বই: বিচ্ছিন্ন (مرسل) হাদিসের ওপর আমল করার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
লেখক: হাসান মোজাফফর রিজক
প্রকাশক: মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়
সংস্করণ: ১৬তম বর্ষ, ৬২তম সংখ্যা, রবিউস সানি - জমাদিউল আখিরা ১৪০৪ হি./১৯৮৪ খ্রি.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪২
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১ হিজরি
(খণ্ড: ১)
আল-কাউলুল ফাসলু ফিল আমালি বিল হাদীসিল মুরসাল
(পৃষ্ঠা: ২৯)
مقدمة…القول الفصل في العمل بالحديث المرسل
للشيخ مظفّر رزق الموصل ـ العراق.
1- توطئة:
الحمد لله الذي أنزل أحسن الحديث، وأودع درر بيانه في محكم الحديث، فكرّم هذه الأمة - زادها الله شرفا - بالاعتناء بتدوين ما جاء به رسول الله صلى الله عليه وسلم حفظاً له على تكرر العصور والآباد. ونصب جهابذة من الحفاظ والنقاد، وجعلهم دائبين في إيضاح ذلك في جميع الأزمان والبلاد، باذلين وسعهم مستفرغين جهدهم في ذلك جماعات وآحادا.
والصلاة والسلام على من أوتي جوامع الكلم، وخُصّ ببدائع الحكم، سيدنا محمد المصطفى بتعميم دعوته ورسالته، المفضل على الأولين والآخرين من بريته، المشرّف على العالمين قاطبة بشمول شفاعته، المخصوص بتأييد ملّته وسماحة شريعته، المكرم بتوفيق أمته للمبالغة في إيضاح منهاجه وطريقته.
أما بعد
… فإن الله سبحانه وتعالى فضل هذه الأمة بشرف الإسناد، وخصها باتصاله دون من سلف من العباد، وأقام لذلك في كل عصر من الأئمة الأَفراد، والجهابذة النقاد، من بذل جهده في ضبطه وأحسن الاجتهاد، فظفر بنيل المراد وذلك من معجزات نبينا صلى الله عليه وسلم التي أخبر بوقوعها فقال صلى الله عليه وسلم: "تسمعون ويسمع منكم ويسمع ممن يسمع منكم". (رواه أبو داود بإسناده في سننه) .
فباتصال الإسناد عرف الصحيح من السقيم، وصان الله هذه الشريعة عن قول كل أفّاك أثيم، فلذا كانَ الإرسال في الحديث علة يترك بها، ويتوقف عن الاحتجاج به بسببها، لما في إبهام المروى عنه من الغرر، والاحتجاج المبني على الخطر، وقد اختلف العلماء قديماً وحديثاً فيه وكثرت أقوالهم، وتباينت آراؤهم، وتعارضت أفعالهم.
فعمدت في عملي هذا إلى إيضاح ما هو إلى الصواب أقوم المسالك، جامعاً فيه بين طريقة أهل الحديث وأئمة الأصول، والفقهاء الذين في الرجوع إليهم أنفس حصول، ذاكراً من المنقول ما أمكن الوصول إليه، ومن المباحث النظرية ما يعول عند التحقيق عليه، مميزاً في ذلك الغث من السمين، مبيِّناً ما هو الضعيف من المتين.
ভূমিকা…বিচ্ছিন্ন (مرسل) হাদিসের ওপর আমল করার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
শেখ মুজাফফর রিজক আল-মাওসিলী - ইরাক-এর পক্ষ থেকে।
১- উপক্রমণিকা:
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সর্বোত্তম বাণী অবতীর্ণ করেছেন এবং এর অলঙ্কারপূর্ণ মুক্তাসমূহকে সুদৃঢ় হাদিসের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তিনি এই উম্মতকে—আল্লাহ তাদের মর্যাদা আরও বৃদ্ধি করুন—রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আনীত দ্বীনকে লিপিবদ্ধ করার প্রতি বিশেষ যত্নবান হওয়ার মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন, যাতে যুগ-যুগান্তরের বিবর্তনে তা সংরক্ষিত থাকে। তিনি একদল বিদগ্ধ হাফেজ (حفاظ) ও সমালোচক (نقাদ) পণ্ডিতদের নিয়োজিত করেছেন এবং তাঁদেরকে সকল যুগে ও জনপদে এই ইলমকে সুস্পষ্ট করার কাজে নিরন্তর নিয়োজিত রেখেছেন; তাঁরা দলগতভাবে এবং ব্যক্তিগতভাবে এতে নিজেদের পূর্ণ সামর্থ্য ও প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন।
আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর, যাঁকে সংক্ষিপ্ত অথচ অর্থবহ বাণী (جوامع الكلم) প্রদান করা হয়েছে এবং অনন্য প্রজ্ঞাপূর্ণ বাক্যে বিশিষ্ট করা হয়েছে; আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর, যাঁকে তাঁর দাওয়াত ও রিসালাতের সার্বজনীনতার মাধ্যমে মনোনীত করা হয়েছে, যিনি সমস্ত সৃষ্টির মধ্যে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের চেয়ে শ্রেষ্ঠ, যাঁর শাফায়াতের ব্যাপকতা সমগ্র বিশ্বকে পরিবেষ্টন করে আছে, যাঁর ধর্মাদর্শের জোরালো সমর্থন এবং শরীয়তের সহজসাধ্যতার মাধ্যমে তাঁকে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করা হয়েছে এবং যাঁর উম্মতকে তাঁর প্রদর্শিত পথ ও তরিকাকে বিস্তারিত বর্ণনার তাওফিক দিয়ে সম্মানিত করা হয়েছে।
অতঃপর
… নিশ্চয়ই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এই উম্মতকে ইসনাদ (إسناد)-এর মর্যাদা দিয়ে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন এবং পূর্ববর্তী উম্মতদের বাদ দিয়ে একে নিরবচ্ছিন্নতা (اتصال) দ্বারা বিশিষ্ট করেছেন। তিনি প্রত্যেক যুগে এমন কিছু অপ্রতিদ্বন্দ্বী ইমাম ও বিদগ্ধ সমালোচক (نقاد) পণ্ডিতদের তৈরি করেছেন, যাঁরা এই ইলমকে যথাযথভাবে সংরক্ষণে নিজেদের সর্বোচ্চ চেষ্টা ও ইজতিহাদ (اجتهاد) ব্যয় করেছেন। ফলে তাঁরা তাঁদের অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন। আর এটি আমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অন্যতম মুজিজা, যার ঘটার সংবাদ তিনি নিজেই দিয়ে বলেছিলেন: "তোমরা শুনছো, তোমাদের থেকে শোনা হবে এবং যারা তোমাদের থেকে শুনছে তাদের থেকেও শোনা হবে।" (আবু দাউদ তাঁর সুনান গ্রন্থে এটি ইসনাদ (إسناد) সহ বর্ণনা করেছেন)।
ইসনাদ (إسنাদ)-এর নিরবচ্ছিন্নতা (اتصال)-এর মাধ্যমেই সহিহ (صحيح) ও রুগ্ন (سقيم) বর্ণনা পৃথকভাবে চেনা সম্ভব হয়েছে। আল্লাহ এই শরীয়তকে প্রত্যেক পাপিষ্ঠ মিথ্যাবাদীর কথা থেকে হেফজ করেছেন। এজন্যই হাদিসে বিচ্ছিন্নতা (إرسال) থাকা একটি ত্রুটি (علة), যার কারণে হাদিস বর্জন করা হয় এবং এর কারণে দলিল হিসেবে গ্রহণের ক্ষেত্রে বিরত থাকা হয়। কারণ যার থেকে বর্ণনা করা হয়েছে তার পরিচয় অস্পষ্ট থাকায় এতে ঝুঁকি বিদ্যমান এবং এমন বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে দলিল প্রদান বিপদমুক্ত নয়। এ বিষয়ে প্রাচীন ও বর্তমান যুগের আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে এবং তাঁদের বক্তব্য ও মতামত ভিন্ন ভিন্ন এবং তাঁদের কর্মপন্থাও পরস্পর বিরোধী।
তাই আমি আমার এই কর্মে সত্যের সবচেয়ে নিকটবর্তী পথটি সুস্পষ্ট করার সংকল্প করেছি। এতে আমি হাদিস বিশারদ, উসুল (أصول) শাস্ত্রের ইমাম এবং ফকিহদের পদ্ধতির সমন্বয় ঘটিয়েছি, যাঁদের শরণাপন্ন হওয়া অত্যন্ত ফলপ্রসূ। আমি বর্ণিত বিষয়গুলোর মধ্য থেকে সে পর্যন্তই উল্লেখ করেছি যা অর্জন করা সম্ভব হয়েছে এবং তাত্ত্বিক আলোচনার মধ্য থেকে সেগুলোর ওপরই নির্ভর করেছি যা তাহকিকের (تحقيق) সময় নির্ভরযোগ্য। এর মাধ্যমে আমি অসার বিষয় থেকে সারবস্তুকে পৃথক করেছি এবং দুর্বল (ضعيف) থেকে শক্তিশালী (متين) বিষয়গুলো সুস্পষ্ট করে তুলে ধরেছি।
(খণ্ড: ১)
আল-কাউলুল ফাসলু ফিল আমালি বিল হাদীসিল মুরসাল
(পৃষ্ঠা: ৩০)
2 - المقدمة:
يعرف علم الحديث الخاص بالرواية بأنه: علمٌ يعرف به أقوال رسول الله صلى الله عليه وسلم وأفعاله وأحواله، وروايتها وضبطها وتحرير ألفاظها. وعلم الحديث الخاص بالدراية: علم يعرف منه حقيقة الرواية، وشروطها وأنواعها وأحكامها، وحال الرواة وشروطهم، وأصناف المرويات وما يتعلق بها1.
والمتن: هو ألفاظ الحديث التي تتقن بها المعاني، والسند: هو الطريق الموصلة إلى المتن (أي أسماء رواته مرتبة) . أما الإسناد: فهو حكاية طريق المتن.
إن متن الحديث نفسه لا يدخل في البحث عند أرباب الحديث إلا نادراً، بل يكتب صفته من القوة والضعف، بحسب أوصاف الرواة من العدالة والضبط والحفظ وخلافها، أو بحسب الإسناد من الاتصال والانقطاع والإرسال والاضطراب ونحوها.
وأول من صنف في الاصطلاح القاضي أبو محمد الرامهرمزي بكتابه (المحدث الفاصل) وتلاه الحاكم أَبو عبد الله النيسابوري، لكنه لم يهذب ولم يرتب، وتلاه أبو نعيم الأصفهاني، ثم جاء بعدهم الخطيب البغدادي فوضع قوانين الرواية في كتابه (الكفاية) إلى أن جاء الحافظ الإمام ابن الصلاح فوضع كتابه الشهير، فهذب فنونه وجمع به علوم سابقيه فكان من أئمة هذا الشأن.
لا تخرج أنواع الحديث عن ثلاثة: حسن صحيح، وحسن، وضعيف؛ لأنه إن اشتمل من أوصاف القبول على أعلاها فالصحيح، أو على أدناها فالحسن، أو لم يشتمل على شيء منها الضعيف.
وقد صنف العلماء كالحاكم وابن الصلاح والنووي، الحديث المرسل ضمن الأحاديث الضعيفة لما فيه من انقطاع في السند، واختلفوا فيه بين قبول ورد وتفصيل. وقد عرف المرسل بأنه: ما سقط منه الصحابي، كقول نافع قال رسول الله صلى الله عليه وسلم كذا، وهو المشهور عند المحدثين. وقد يطلق المرسل على الحديث الذي قد سقط راو من رواته فيدخل فيه المعضل والمنقطع، وهو رأي الفقهاء والأصوليين، ومما يشهد للتعميم قول ابن القطان: "إن الإرسال رواية الرجل عمن لم يسمع منه".
--------------------------------------------
2 - ভূমিকা:
বর্ণনা সংক্রান্ত হাদিস বিজ্ঞান (علم الحديث الخاص بالرواية) হিসেবে যা পরিচিত তা হলো: এমন এক বিজ্ঞান যার মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী, কর্ম ও অবস্থাসমূহ জানা যায় এবং তার বর্ণনা (رواية), নির্ভুলতা (ضبط) ও শব্দবিন্যাস বিশ্লেষণ (تحرير الألفاظ) করা হয়। আর সূত্র ও পাঠ পর্যালোচনা সংক্রান্ত হাদিস বিজ্ঞান (علم الحديث الخاص بالدراية) হলো: এমন এক বিজ্ঞান যার মাধ্যমে বর্ণনার স্বরূপ (حقيقة الرواية), এর শর্তাবলি (شروط), প্রকারভেদ (أنواع) ও বিধানসমূহ (أحكام), এবং বর্ণনাকারীদের অবস্থা (حال الرواة) ও তাদের শর্তাবলি এবং বর্ণিত বিষয়াদির শ্রেণিবিভাগ (أصناف المرويات) ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়াদি সম্পর্কে জানা যায়১।
মূল পাঠ (متন): হলো হাদিসের সেই শব্দসমষ্টি যার মাধ্যমে অর্থ সুসংহত হয়, আর সনদ (سند): হলো মূল পাঠ পর্যন্ত পৌঁছানোর পথ (অর্থাৎ বর্ণনাকারীদের নামসমূহ পর্যায়ক্রমে সাজানো)। অন্যদিকে ইসনাদ (إسناد): হলো মূল পাঠের সূত্রটি বর্ণনা করা।
হাদিস বিশারদদের নিকট হাদিসের মূল পাঠ (متن) নিজে খুব কমই গবেষণার বিষয় হয়, বরং বর্ণনাকারীদের ন্যায়নিষ্ঠা (عدالة), নির্ভুলতা (ضبط), মুখস্থ শক্তি (حفظ) ও অন্যান্য গুণের ভিত্তিতে অথবা সূত্রের নিরবচ্ছিন্নতা (اتصال), বিচ্ছিন্নতা (انقطاع), ইরসাল (إرسال) ও অসংলগ্নতা (اضطراب) ইত্যাদির নিরিখে এর সবলতা ও দুর্বলতার বৈশিষ্ট্য নিরূপিত হয়।
হাদিস পরিভাষা (اصطلاح) বিষয়ে প্রথম গ্রন্থ রচনা করেন কাজী আবু মুহাম্মদ আর-রামাহুরমুজি তাঁর আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল গ্রন্থের মাধ্যমে। এরপর আসেন আল-হাকিম আবু আব্দুল্লাহ আন-নাইসাবুরি, তবে তাঁর সংকলনটি সুবিন্যস্ত ও পরিপাটি ছিল না। তাঁর পরে আসেন আবু নুআয়ম আল-আসফাহানি। অতঃপর আল-খতিব আল-বাগদাদি তাঁর আল-কিফায়া গ্রন্থে বর্ণনার নিয়মাবলি লিপিবদ্ধ করেন। পরিশেষে হাফেজ ইমাম ইবনুস সালাহ তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থটি রচনা করেন; তিনি এই শিল্পের শাখাগুলোকে সুবিন্যস্ত করেন এবং পূর্বসূরিদের জ্ঞানকে একত্রিত করেন, ফলে তিনি এই শাস্ত্রের ইমামদের অন্তর্ভুক্ত হন।
হাদিসের প্রকারভেদ মূলত তিনটির বাইরে নয়: হাসান সহিহ (حسن صحيح), হাসান (حسن) এবং দুর্বল (ضعيف); কারণ এটি যদি গ্রহণযোগ্যতার গুণাবলির সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকে তবে তা সহিহ (صحيح), আর যদি সর্বনিম্ন পর্যায়ে থাকে তবে তা হাসান (حسن), আর যদি এর কোনটিই না থাকে তবে তা দুর্বল (ضعيف)।
হাকিম, ইবনুস সালাহ এবং নববীর মতো আলেমগণ মুরসাল (مرسل) হাদিসকে দুর্বল (ضعيف) হাদিসের অন্তর্ভুক্ত করেছেন, কারণ এতে সনদের বিচ্ছিন্নতা (انقطاع) বিদ্যমান। তবে এর গ্রহণ বা বর্জনের ক্ষেত্রে তাঁরা বিস্তারিত মতভেদ করেছেন। মুরসাল (مرسل)-এর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে যে: যার সনদ থেকে সাহাবীর নাম বাদ পড়েছে, যেমন নাফে'র উক্তি "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমনটি বলেছেন", আর এটিই মুহাদ্দিসদের নিকট প্রসিদ্ধ। কখনো কখনো মুরসাল (مرسل) শব্দটি এমন হাদিসের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয় যার বর্ণনাকারীদের মধ্য থেকে কোনো একজন বাদ পড়েছে, ফলে এর মধ্যে মু'দাল (معضل) এবং বিচ্ছিন্ন (منقطع) হাদিসও অন্তর্ভুক্ত হয়; এটি ফকিহ ও উসুলবিদগণের অভিমত। এই ব্যাপকতার স্বপক্ষে ইবনুল কাত্তানের উক্তিটি উল্লেখযোগ্য: "ইরসাল (إرسال) হলো কোনো ব্যক্তির এমন কারো থেকে বর্ণনা করা যার নিকট থেকে সে সরাসরি শোনেনি"।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাউলুল ফাসলু ফিল আমালি বিল হাদীসিল মুরসাল
(পৃষ্ঠা: ৩১)
والمرسل على مراتب:
- أعلاها: ما أرسله صحابي ثبت سماعه.
- ثم صحابي له رؤية فقط ولم يثبت سماعه.
- ثم المخضرم.
- ثم المتقن كسعيد بن المسيب.
- ويليها من كان يتحرى في شيوخه، كالشعبي ومجاهد.
- ودونها مراسيل من كان يأخذ عن كل أحد كالحسن.
- أما مراسيل صغار التابعين كقتادة، والزهري، وحميد الطويل، فإن غالب رواية هؤلاء عن التابعين.
قال أبو داود في رسالته: "وأما المراسيل فقد كان أكثر العلماء يحتجون بها فيما مضى مثل سفيان الثوري، ومالك، والأوزاعي. حتى جاء الشافعي- رحمه الله فتكلم في ذلك وتابعه عليه أحمد وغيره". وقد وضعت قواعد معينة من قبل الفقهاء والأصوليين لتمييز المرسل المقبول والمردود لحفظ شطر السنة من الإهمال وإثراء الأحكام الشرعية بما تحويه هذه الأحاديث من أحكام ورقائق.
يتلخص في الاحتجاج بالمرسل عدة أقوال:
1- حجة مطلقا.
2- لا يحتج به مطلقاً.
3- يحتج به إن أرسله أهل القرون الثلاثة.
4- يحتج به إنْ لم يرو إلا عن عدل.
5- يحتج به إن أرسله صحابي.
صنف في المراسيل أبو داود، ثم أبو حاتم، ثم البرديجي، ثم الخطيب البغدادي، ثم النووي، ثم الحافظ العراقي. ومن المتأخرين الحافظ أبو سعيد العلائي، والعجمي، وابن الهادي.
বিচ্ছিন্ন (مرسل) হাদিসের কয়েকটি স্তর রয়েছে:
- সর্বোচ্চ স্তর: যে হাদিসটি এমন একজন সাহাবী (صحابي) বর্ণনা করেছেন যার সরাসরি শ্রবণ করা সাব্যস্ত হয়েছে।
- এরপর এমন সাহাবী (صحাবী) যার শুধুমাত্র নবীজীকে দেখার সৌভাগ্য হয়েছে কিন্তু সরাসরি শ্রবণ করা সাব্যস্ত হয়নি।
- এরপর মুখাদরাম (مخضرم) ব্যক্তির বর্ণনা।
- এরপর সুনিপুণ (متقن) বর্ণনাকারী, যেমন সাঈদ ইবনে আল-মুসাইয়িব।
- পরবর্তী স্তরে তারা যারা তাদের উস্তাদদের ব্যাপারে খুবই সতর্ক থাকতেন, যেমন আশ-শা’বী এবং মুজাহিদ।
- এর নিচের স্তরে রয়েছে ওই সমস্ত ব্যক্তিদের বিচ্ছিন্ন (مرسل) বর্ণনা যারা সবার কাছ থেকেই হাদিস গ্রহণ করতেন, যেমন আল-হাসান।
- আর কনিষ্ঠ তাবিঈ (تابعي) যেমন কাতাদাহ, আয-যুহরী এবং হুমাইদ আত-তবীলের বিচ্ছিন্ন (مرسل) বর্ণনাসমূহ, কারণ তাদের অধিকাংশ বর্ণনা অন্য তাবিঈ (تابعي)-দের থেকে হয়ে থাকে।
আবু দাউদ তার রিসালাহ-তে বলেছেন: "আর বিচ্ছিন্ন (مرسل) হাদিসগুলোর ব্যাপারে কথা হলো, অতীতে অধিকাংশ আলেম একে দলিল (حجة) হিসেবে গ্রহণ করতেন, যেমন সুফিয়ান আল-সাওরী, মালিক এবং আল-আওযাঈ। এমনকি ইমাম শাফেয়ী -রাহিমাহুল্লাহ- এর আগমন ঘটে এবং তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন, যা পরবর্তীতে আহমাদ এবং অন্যান্যরা অনুসরণ করেন।" ফকিহ এবং উসুলবিদগণ গ্রহণযোগ্য (مقبول) এবং প্রত্যাখ্যাত (مردود) বিচ্ছিন্ন (مرسل) হাদিসের পার্থক্য করার জন্য কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়ম প্রণয়ন করেছেন, যাতে সুন্নাহর একটি অংশ অবহেলা থেকে রক্ষা পায় এবং এই হাদিসগুলোতে থাকা বিধান ও আধ্যাত্মিক বিষয়গুলোর মাধ্যমে শরীয়তের হুকুমগুলো সমৃদ্ধ হয়।
বিচ্ছিন্ন (مرسل) হাদিসকে দলিল (حجة) হিসেবে গ্রহণের ক্ষেত্রে কয়েকটি মত সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
1- এটি নিরঙ্কুশভাবে দলিল (حجة)।
2- এটি কোনোভাবেই দলিল (حجة) হিসেবে গ্রহণ করা হবে না।
3- যদি প্রথম তিন প্রজন্মের কেউ এটি বিচ্ছিন্নভাবে (مرسل) বর্ণনা করেন তবে তা দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য হবে।
4- যদি বর্ণনাকারী কেবল ন্যায়পরায়ণ (عدل) ব্যক্তির মাধ্যমেই বর্ণনা করেন তবে তা দলিল (حجة) হবে।
5- যদি কোনো সাহাবী (صحابي) তা বিচ্ছিন্নভাবে (مرسل) বর্ণনা করেন তবে তা দলিল (حجة) হবে।
মরাসিল বিষয়ক গ্রন্থ রচনা করেছেন আবু দাউদ, এরপর আবু হাতিম, এরপর আল-বারদিজী, এরপর খতিব আল-বাগদাদী, এরপর ইমাম নববী, তারপর হাফিজ আল-ইরাকী। আর পরবর্তী যুগের আলেমদের মধ্যে রয়েছেন হাফিজ আবু সাঈদ আল-আলাঈ, আল-আজমী এবং ইবনুল হাদী।
(খণ্ড: ১)
আল-কাউলুল ফাসলু ফিল আমালি বিল হাদীসিল মুরসাল
(পৃষ্ঠা: ৩১)
(3)
الإرسال بين اللغة والاصطلاح:المرسل وجمعه مراسيل بإثبات الياء وحذفها أيضاً، وأصله من (رسل) التي تحمل عدة معاني حسب إشتقاقاتها اللغوية.
ا- تقول: (أرسل) : (أطلق وأهمل) 1 فكأن المرسل أطلق الإسناد ولم يقيده براو معروف2، أو أهمل ذكر راوٍ من رواة الإسناد.
2- (استرسل) : الطمأنينة إلى الإنسان والثقة فيما يحدثه3. وكأنَّ التابعي الذي قد ذكر الحديث اطمأن ووثق بصحة ما يرويه عن النبي صلى الله عليه وسلم ووثق بمن أخذ الحديث عنه، فلم
--------------------------------------------
(৩)
অভিধান ও পরিভাষার আলোকে ইরসাল (الإرسال):বিচ্ছিন্ন (المرسل) এবং এর বহুবচন হলো মারাসিল (مراسيل) — 'ইয়া' বর্ণটি রাখা এবং বাদ দেওয়া উভয় পদ্ধতিতেই; এর মূল ধাতু হলো (رسل), যা এর ভাষাগত ব্যুৎপত্তি অনুযায়ী একাধিক অর্থ বহন করে।
১- বলা হয়: 'আরসালা' (أرسل): 'মুক্ত করে দেওয়া বা ছেড়ে দেওয়া'। যেন বিচ্ছিন্ন (المرسل) বর্ণনাকারী সনদকে (الإسناد) মুক্ত করে দিয়েছেন এবং একে কোনো পরিচিত বর্ণনাকারীর (راو) সাথে নির্দিষ্ট করেননি, অথবা সনদের (الإسناد) বর্ণনাকারীদের মধ্য থেকে কোনো একজনের উল্লেখ বাদ দিয়েছেন।
২- 'ইসতারসালা' (استرسل): কোনো মানুষের প্রতি আশ্বস্ত হওয়া এবং তার বর্ণিত সংবাদের ওপর আস্থা (الثقة) রাখা। যেন সেই তাবেয়ি (التابعي) যিনি হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে যা বর্ণনা করছেন তার বিশুদ্ধতা (صحة) সম্পর্কে আশ্বস্ত ও আস্থাশীল ছিলেন এবং যার থেকে হাদিসটি গ্রহণ করেছেন তার ওপরও আস্থা পোষণ করেছেন, তাই তিনি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাউলুল ফাসলু ফিল আমালি বিল হাদীসিল মুরসাল
(পৃষ্ঠা: ৩২)
يذكره. قال القرافي في (شرح التنقيح) : "إنه ما سكت عنه (الراوي) إلا وقد جزم بعدالته، فسكوته كإخباره بعدالته"1.
3- أرسل الحديث: لم يقيده2 وكأن الراوي لم يقيد روايته باتصال الإسناد فأسقط ذكر الصحابي الذي تحمله عن رسول الله صلى الله عليه وسلم.
4- مرسال: يقال: ناقة مرسال أي سريعة السير3؛ فكأن المرسل أسرع فيه عَجِلاً فحذف بعض إسناده.
5- أرسالاً: جاء القوم أرسالا أي قطعاً متفرقين4، قال ابن سيده: الرَّسَل بفتح الراء والسين: القطيع من كل شئ والجمع أرسال، وجاءوا رسلة أي جماعة، فكأنه تصور من هذا اللفظ الاقتطاع، فقيل للحديث الذي قطع إسناده وبقي غير متصل: مرسل، أي كل طائفة منهم لم تلق الأخرى ولا لحقتها5.
هذا ما يتعلق بهذا اللفظ من حيث اللغة، وأما من ناحية الاصطلاح فلتعريف الحديث المرسل ومعرفة حده ينبغي علينا التمييز بينه وبين المنقطع والمعضل. أما المنقطع فقد ذهب الفقهاء والخطيب وابن عبد البر وغيرهم من المحدثين أن المنقطع ما لم يتصل إسناده على أي وجه كان انقطاعه، وأكثر ما يستعمل في رواية منْ دون التابعي عن الصحابي. وقيل: هو ما اختل منه رجل قبل التابعي محذوفاً كان أو مبهماً6. والمعضل- وهو بفتح الضاد- يقولون: (أعضله معضل) وهو ما سقط من إسناده اثنان فأكثر7.
لقد عَرَّف الحاكم الحديث المرسل فقال: "إنّ مشايخ الحديث لم يختلفوا في أنَّ الحديث المرسل: هو الذي يرويه المحدث بأسانيد متصلة إلى التابعي، فيقول التابعي: "قال رسول الله صلى الله عليه وسلم-8. وهكذا عبر ابن الصلاح تبعاً للحاكم.
--------------------------------------------
তিনি তা উল্লেখ করেন। আল-কারাফি শারহুত তানকিহ গ্রন্থে বলেন: "নিশ্চয়ই তিনি (বর্ণনাকারী) যার সম্পর্কে নীরব থেকেছেন, কেবল তার বিশ্বস্ততা (عدالة) সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েই তা করেছেন। সুতরাং তার নীরবতা তার বিশ্বস্ততা (عدالة) সম্পর্কে সংবাদ দেওয়ার মতোই।"১
৩- হাদিসটি মুরসাল (أرسل) করা: তিনি একে কোনো বন্ধনে সীমাবদ্ধ করেননি২। যেন বর্ণনাকারী তার বর্ণনাকে সনদের অবিচ্ছিন্নতা (اتصال الإسناد) দ্বারা সীমাবদ্ধ করেননি, ফলে তিনি সেই সাহাবীর (صحابي) উল্লেখ বাদ দিয়েছেন যিনি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এটি গ্রহণ করেছিলেন।
৪- মিরসাল (مرسال): বলা হয় 'দ্রুতগামী উষ্ট্রী' (ناقة مرسال), অর্থাৎ যে দ্রুত চলে৩। যেন মুরসাল (مرسل) বর্ণনাকারী এতে তাড়াহুড়া করেছেন, ফলে তার সনদের (إسناد) কিছু অংশ বাদ দিয়ে দিয়েছেন।
৫- আরসালান (أرسالاً): লোকেরা দলে দলে (أرسالاً) এসেছে, অর্থাৎ বিচ্ছিন্নভাবে ভিন্ন ভিন্ন দলে৪। ইবনে সিদাহ বলেন: 'রা-সাল' (الرَّسَل) 'রা' এবং 'সিন' বর্ণের ফাতহা যোগে অর্থ হলো প্রতিটি জিনিসের ছোট দল, এর বহুবচন হলো আরসাল (أرسال)। তারা 'রুসলাহ' (رسلة) অর্থাৎ দলবদ্ধ হয়ে এসেছে। যেন এই শব্দ থেকে বিচ্ছিন্নকরণের বিষয়টি কল্পনা করা হয়েছে। তাই যে হাদিসের সনদ (إسناد) বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং যা অবিচ্ছিন্ন (متصل) থাকেনি তাকে মুরসাল (مرسل) বলা হয়; অর্থাৎ তাদের প্রতিটি দল একে অপরের সাথে সাক্ষাৎ করেনি বা পরস্পর মিলিত হয়নি৫।
আভিধানিক দিক থেকে এই শব্দের সংশ্লিষ্টতা এটুকু পর্যন্তই। আর পারিভাষিক দৃষ্টিকোণ থেকে মুরসাল (مرسل) হাদিসের সংজ্ঞা ও এর সীমা জানার জন্য আমাদের উচিত মুরসাল (مرسل), মুনকাতি (منقطع) এবং মুদাল (معضل)-এর মধ্যে পার্থক্য করা। মুনকাতি (منقطع)-এর ব্যাপারে ফকিহগণ, আল-খাতিব, ইবনে আব্দুল বার এবং অন্যান্য মুহাদ্দিসগণের অভিমত হলো, মুনকাতি (منقطع) হলো যার সনদ (إسناد) যে কোনোভাবেই বিচ্ছিন্ন (انقطاع) হোক না কেন তা অবিচ্ছিন্ন নয়। এটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাবিঈর (تابعي) পরবর্তী স্তরের কেউ সরাসরি সাহাবীর (صحابي) থেকে বর্ণনা করলে ব্যবহৃত হয়। আবার বলা হয়েছে: এটি এমন হাদিস যার তাবিঈর (تابعي) পূর্ববর্তী স্তর থেকে কোনো একজন বর্ণনাকারী বাদ পড়া বা অস্পষ্ট (مبهم) থাকার কারণে ত্রুটিযুক্ত হয়েছে৬। আর মুদাল (معضل) — যা 'দোয়াদ' বর্ণে ফাতহা দিয়ে পড়তে হয় — তারা বলেন: (এটি কঠিন করে দেওয়া বা সমস্যাযুক্ত হওয়া থেকে এসেছে), এটি হলো যার সনদ (إسناد) থেকে দুই বা ততোধিক বর্ণনাকারী পড়ে গেছে৭।
ইমাম আল-হাকিম মুরসাল (مرسل) হাদিসের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন: "নিশ্চয়ই হাদিসের শায়খগণ এ বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেননি যে, মুরসাল (مرسل) হাদিস হলো: যা মুহাদ্দিসগণ তাবিঈ (تابعي) পর্যন্ত অবিচ্ছিন্ন সনদে (أسانيد متصلة) বর্ণনা করেন, এরপর তাবিঈ (تابعي) বলেন: 'আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন'।"৮। ইমাম ইবনে আস-সালাহও আল-হাকিমের অনুকরণে এভাবেই ব্যক্ত করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাউলুল ফাসলু ফিল আমালি বিল হাদীসিল মুরসাল
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
يقتضي كلام الحاكم أن إرسال صغار التابعين ومتأخريهم يلحق بالمرسل، وإن كان ما يروون عمن أدركوه من الصحابة يسيراً، وجل رواياتهم إنما هي عن التابعين.
إنّ خلاصة أقوال المحدثين في الحديث المرسل بأنه: ما رواه التابعي عن رسول الله صلى الله عليه وسلم باتفاق على التابعي الكبير، واختلافهم في التابعي الصغير هل هو مرسل أو منقطع. وقد وافق المحدثين جماعة من الأئمة كابن فورك، أبي نصر بن الصباغ، أبى المظفر بن السمعاني، وكذلك القرافي.
أما مشايخ أهل الكوفة فيقول الحاكم عنهم: "بأن كل من أرسل الحديث من التابعين وأتباع التابعين ومن بعدهم من العلماء فإنه عندهم مرسل محتج به"1. وهذا قول معظم الحنفية إلا من أطلق الإرسال على قول الراوي من الأعصار الثلاثة الأولى: قال النبي صلى الله عليه وسلم.
وقال الحافظ أبو بكر الخطيب في كتابه "الكفاية": "لا خلاف بين أهل العلم أن إرسال الحديث الذي ليس بمدلس، هو راوية الراوي عمن لم يعاصره أو لم يلقه، نحو رواية سعيد بن المسيب وأبي سلمة بن عبد الرحمن وعروة بن الزبير ومحمد بن المنكدر والحسن البصري ومحمد بن سيرين وقتادة وغيرهم من التابعين عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، بمثابته في غير التابعين نحو رواية ابن جريج عن عبيد الله بن عبد الله بن عتبة ورواية مالك بن أنس عن القاسم بن محمد بن أبي بكر الصديق، ورواية حماد بن أبي سليمان عن علقمة، وكذلك رواية الراوي عمن عاصره ولم يلقه كرواية سفيان الثوري، وشعبة عن الزهري، وكان نحو ذلك ما لم نذكره، فالحكم في الجميع عندنا واحد2.
والمشهور في الفقه والأصول أن (المرسل قول الإمام) لما من أئمة النقل وهو من له أهلية الجرح والتعديل (الثقة قال: عليه الصلاة والسلام كَذا مقول القول (مع حذف من السند وتقييده) أي القائل أو الإمام القائل (بالتابعي أو الكبير منهم) أي كعبد الله بن عدي وقيس بن أبى حازم (إصطلاح) من المحدثين فدخل في التعريف (المنقطع) بالاصطلاح المشهور للمحدثين (والمعضل) المشهور عندهم3. وهو كقول الخطيب وبه قال الشيخ موفق الدين الحنبلي في الروضة4 والآمدي في الأحكام5 والغزالي في المستصفى6.
--------------------------------------------
আল-হাকিমের বক্তব্য অনুযায়ী, কনিষ্ঠ তাবিঈ (صغار التابعين) এবং তাদের পরবর্তী স্তরের বর্ণনাকারীদের অপ্রেরিত বর্ণনা মুরসাল (مرسل) এর অন্তর্ভুক্ত হবে, যদিও তারা যেসব সাহাবীদের সাক্ষাৎ পেয়েছেন তাদের থেকে বর্ণিত বর্ণনার সংখ্যা অত্যন্ত কম এবং তাদের অধিকাংশ বর্ণনাই মূলত অন্যান্য তাবিঈদের থেকে।
মুরসাল (مرسل) হাদিস সম্পর্কে মুহাদ্দিসগণের বক্তব্যের সারসংক্ষেপ হলো: জ্যেষ্ঠ তাবিঈ (التابعي الكبير) এর ক্ষেত্রে যা তিনি সরাসরি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন তাতে সকলে একমত; তবে কনিষ্ঠ তাবিঈ (التابعي الصغير) এর ক্ষেত্রে তাদের মাঝে মতভেদ রয়েছে যে, সেটি মুরসাল (مرسل) নাকি মুনকাতি (منقطع)। একদল ইমাম যেমন ইবনে ফুরাক, আবু নাসর ইবনুল সাব্বাগ, আবু মুজাফফর ইবনুস সামআনি এবং আল-কারাফি মুহাদ্দিসগণের এই মতের সাথে একমত পোষণ করেছেন।
কুফার মাশায়েখদের সম্পর্কে আল-হাকিম বলেন: "তাবিঈ, তাবি-তাবিঈ এবং তাদের পরবর্তী আলেমদের মধ্যে যারা হাদিস অপ্রেরিতভাবে বর্ণনা করেছেন, তা তাদের নিকট দলিলযোগ্য মুরসাল (مرسل محتج به) হিসেবে গণ্য।"১ এটি অধিকাংশ হানাফীগণের অভিমত, তবে তারা ব্যতীত যারা প্রথম তিন যুগের বর্ণনাকারীদের "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন" জাতীয় বক্তব্যকে সাধারণ অর্থে ইরসাল (إرسال) বলে অভিহিত করেন।
হাফেজ আবু বকর আল-খতিব তার "আল-কিফায়াহ" গ্রন্থে বলেছেন: "আলেমদের মধ্যে এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই যে, যে হাদিসটি মুদাল্লাস (مدلس) নয় তার ইরসাল (إرسال) হলো—বর্ণনাকারী এমন কারো থেকে বর্ণনা করা যার সমসাময়িক তিনি ছিলেন না অথবা যার সাথে তার সাক্ষাৎ ঘটেনি। যেমন সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব, আবু সালামাহ ইবনে আবদুর রহমান, উরওয়াহ ইবনুল জুবায়ের, মুহাম্মদ ইবনুল মুনকাদির, হাসান বসরী, মুহাম্মদ ইবনে সিরিন, কাতাদাহ এবং অন্যান্য তাবিঈগণের সরাসরি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করা। তাবিঈগণ ব্যতীত অন্যদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি একই রকম, যেমন ইবনে জুরাইজের উবাইদুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উতবাহ থেকে বর্ণনা, মালেক ইবনে আনাসের কাসিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর সিদ্দিক থেকে বর্ণনা এবং হাম্মাদ ইবনে আবু সুলাইমানের আলকামা থেকে বর্ণনা। একইভাবে কোনো বর্ণনাকারী তার সমসাময়িক হওয়া সত্ত্বেও যার সাথে সাক্ষাৎ হয়নি তার থেকে বর্ণনা করা—যেমন সুফিয়ান সওরী ও শু'বাহর জুহরী থেকে বর্ণনা এবং এই জাতীয় অন্যান্য যা আমরা উল্লেখ করিনি—সবগুলোর বিধান আমাদের নিকট অভিন্ন।"২
ফিকহ এবং উসুলের প্রসিদ্ধ মত হলো: মুরসাল (مرسل) হলো বর্ণনার ইমামদের মধ্যে জারহ ও তা'দিল (الجرح والتعدিল) করার যোগ্যতাসম্পন্ন কোনো নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারীর বক্তব্য; যখন তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমনটি বলেছেন..." (সনদ থেকে কাউকে বাদ দিয়ে), অর্থাৎ বর্ণনাকারী বা বর্ণনাকারী ইমাম যখন তাবিঈ বা তাদের জ্যেষ্ঠদের অন্তর্ভুক্ত হন। এটি মুহাদ্দিসগণের একটি পরিভাষা (إصطلاح), ফলে এই সংজ্ঞার অধীনে মুহাদ্দিসগণের প্রসিদ্ধ পরিভাষা অনুযায়ী মুনকাতি (منقطع) এবং মু'দাল (معضل) বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়।৩ এটি খতিবের মতের অনুরূপ এবং শেখ মুয়াফফাকুদ্দিন আল-হাম্বলি "আর-রাওদাহ"৪ গ্রন্থে, আল-আমিদি "আল-ইহকাম"৫ গ্রন্থে এবং আল-গাজালি "আল-মুস্তাসফা"৬ গ্রন্থে একই মত পোষণ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাউলুল ফাসলু ফিল আমালি বিল হাদীসিল মুরসাল
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
من استقراء ما ذكرناه يبدو بأن اصطلاح المرسل لما ذكر من حيث اللغة ممكناً، وعلى هذا هو والمنقطع سيان لغة واصطلاحاً، ويبدو بأن المنقطع أكثر عموماً- وبه قال ابن عبد البر- عن المرسل إذ أن الأول يتحدد بكل ما لم يتصل سنده سواء كان يعزى إلى النبي صلى الله عليه وسلم أو إلى غيره، أمّا الثاني فهو ما أرسله التابعي عن النبي صلى الله عليه وسلم. والمحدثون كما ذكرنا سابقاً يفصلون بين المرسل والمنقطع ويجعلون بينهم اختلافاً واضحاً.
وقد جعل الحنفية وإمام الحرمين المعضل والمرسل سواء، وعند الجمهور يعتبر المعضل أخص، وعندنا المعضل والمرسل متباينان.
আমাদের বর্ণিত আলোচনার পর্যালোচনায় এটি প্রতীয়মান হয় যে, আভিধানিক প্রেক্ষাপটে মুরসাল (المرسل) পরিভাষাটির যে অর্থের উল্লেখ করা হয়েছে তা সম্ভবপর। এই ভিত্তিতে আভিধানিক ও পারিভাষিক উভয় অর্থেই এটি এবং মুনকাতি (المنقطع) সমার্থক। তবে এটি স্পষ্ট যে, মুনকাতি (المنقطع) পরিভাষাটি মুরসাল (المرسل) অপেক্ষা অধিক ব্যাপক—এবং ইবনে আব্দুল বাররও এই মত পোষণ করেছেন—কেননা প্রথমটি (মুনকাতি) এমন প্রতিটি হাদিসকে নির্দেশ করে যার সনদ (سند) অবিচ্ছিন্ন নয়, চাই তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে সম্বন্ধযুক্ত হোক বা অন্য কারো দিকে। পক্ষান্তরে, দ্বিতীয়টি (মুরসাল) হলো এমন হাদিস যা একজন তাবেয়ী (تابعي) সরাসরি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। আর আমরা ইতিপূর্বে যেমনটি উল্লেখ করেছি, হাদিসবিশারদগণ (محدثون) মুরসাল (المرسل) এবং মুনকাতি (المنقطع)-এর মধ্যে পার্থক্য করেন এবং তাদের মাঝে সুস্পষ্ট বৈসাদৃশ্য নিরূপণ করেন।
হানাফী আলেমগণ এবং ইমামুল হারামাইন মুদাল (المعضل) এবং মুরসাল (المرسل)-কে অভিন্ন গণ্য করেছেন। জমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠ ওলামায়ে কেরামের (جمهور) নিকট মুদাল (المعضل) পরিভাষাটি অধিকতর সুনির্দিষ্ট (أخص) হিসেবে বিবেচিত, আর আমাদের মতে মুদাল (المعضل) এবং মুরসাল (المرسل) পরস্পর ভিন্ন ও স্বতন্ত্র (متباينان)।
(খণ্ড: ১)
আল-কাউলুল ফাসলু ফিল আমালি বিল হাদীসিল মুরসাল
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
(4)
مذاهب العلماء في قبول الحديث المرسل والعمل به أو رده:وقد اختلف العلماء في قبول الحديث المرسل بين القبول مطلقاً والرد مطلقاً أو التفصيل فيه.
ويرجع الخلاف في هذه المسألة إلى القواعد المتبناة من أئمة الأصول والفقهاء في أصول الرواية.
أولها: قبول رواية المجهول العدالة والاحتجاج به.
وثانيها: هل أن مجرد رواية العدل عن غيره تعديل له أم لا؟.
وثالثها: قول الراوي: حدثني منِ لا أتهم أو نحو ذلك هل يحتج به إذا لم يسمعه أم لا؟.
ورابعها: هل يقبل التعديل مطلقاً أم لابد من ذكر سببه، وهل يشترط عدد معين في التعديل؟.
إن استقراء هذه القواعد ومناقشتها لتبيين ما هو الحق منها، فتخرج في قبول المرسل أورده إطلاقاً أو التفصيل في ذلك.
أ- المذهب الأول: قبول المرسل:
ممن قال بقبول الحديث المرسل والعمل به: مالك بن أنس، وأبو حنيفة، وجمهور أصحابهما، وأكثر المعتزلة كأبي هاشم، وأحمد بن حنبل في إحدى الروايتين عنه وابن القيم وابن كثير وغيرهم، ولهم في قبوله أقوال:
* أولها: قبول كل مرسل سواء بعد عهده وتأخر زمنه عن عصر التابعين حتى مرسل العصور المتأخرة، وهذا توسع غير مقبول، ومردود بالإجماع في كل عصر، ولو عمل به لزالت فائدة الإسناد وبطلت خصِّيصة هذه الأمة.
ثانيها: قبول مراسيل التابعين وأتباعهم مطلقاً، قال ابن الحنبلي في "قفو الأثر: "والمختار في التفصيل قبول مرسل الصحابي إجماعاً، ومرسل أهل القرن الثاني والثالث عندنا
(4)
বিচ্ছিন্ন (مرسل) হাদিস গ্রহণ এবং এর ওপর আমল করা বা বর্জন করা সম্পর্কে আলেমদের মতবাদসমূহ:বিচ্ছিন্ন (مرسل) হাদিস গ্রহণের ক্ষেত্রে আলেমগণ মতভেদ করেছেন; কেউ একে সাধারণভাবে গ্রহণ করেছেন, কেউ সাধারণভাবে বর্জন করেছেন, আবার কেউ এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান (تفصيل) করেছেন।
এই মাসআলার মতভেদ সেই সকল মূলনীতির দিকে ফিরে যায়, যা উসুলবিদ ইমাম ও ফকিহগণ বর্ণনার মূলনীতি (أصول الرواية) হিসেবে গ্রহণ করেছেন।
প্রথমত: যার চারিত্রিক ন্যায়পরায়ণতা অজ্ঞাত (مجهول العدالة), তার বর্ণনা গ্রহণ করা এবং তা দলিল হিসেবে পেশ করা (احتجاج)।
দ্বিতীয়ত: একজন ন্যায়পরায়ণ (عدل) রাবী যখন অন্য কারো থেকে বর্ণনা করেন, তখন কি তা উক্ত ব্যক্তির জন্য নির্ভরযোগ্যতার স্বীকৃতি (تعديل) বলে গণ্য হবে কি না?
তৃতীয়ত: বর্ণনাকারীর এই কথা: "আমি যার প্রতি সন্দিহান নই এমন একজন আমাকে বর্ণনা করেছেন" বা এই জাতীয় বক্তব্য কি দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য (احتجاج) হবে যখন তিনি তার নাম উল্লেখ করেননি?
চতুর্থত: নির্ভরযোগ্যতার স্বীকৃতি প্রদান (تعديل) কি সাধারণভাবে গ্রহণযোগ্য হবে, নাকি তার কারণ উল্লেখ করা আবশ্যক? এবং নির্ভরযোগ্যতার স্বীকৃতি প্রদানের (تعديل) ক্ষেত্রে কি নির্দিষ্ট সংখ্যক ব্যক্তির উপস্থিতি শর্ত?
এই নিয়মাবলির অনুসন্ধান ও পর্যালোচনা সত্য উদঘাটনে সাহায্য করে, যার মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন (مرسل) হাদিস গ্রহণ, বর্জন বা এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যার বিষয়টি স্পষ্ট হয়।
ক- প্রথম মতবাদ: বিচ্ছিন্ন (مرسل) হাদিস গ্রহণ করা:
যারা বিচ্ছিন্ন (مرسل) হাদিস গ্রহণ ও এর ওপর আমল করার সপক্ষে মত দিয়েছেন তারা হলেন: মালিক ইবনে আনাস, আবু হানিফা, তাদের অনুসারীদের অধিকাংশ, আবু হাশেমের মতো অধিকাংশ মুতাজিলা, এক বর্ণনা অনুযায়ী আহমদ ইবনে হাম্বল, ইবনুল কাইয়্যিম, ইবনে কাসীর ও অন্যান্যরা। এটি গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের বিভিন্ন অভিমত রয়েছে:
* প্রথমত: সকল প্রকার বিচ্ছিন্ন (مرسل) হাদিস গ্রহণ করা, চাই তা তাবিঈদের (تابعين) যুগ থেকে অনেক পরের সময়ের হোক না কেন। এই শিথিলতা অগ্রহণযোগ্য এবং সকল যুগে সর্বসম্মতভাবে (إجماع) প্রত্যাখ্যাত। এর ওপর আমল করা হলে সনদ (إسناد)-এর কার্যকারিতা বিলুপ্ত হতো এবং এই উম্মতের বিশেষ বৈশিষ্ট্যটি বাতিল হয়ে যেত।
দ্বিতীয়ত: তাবিঈ (تابعين) এবং তাদের অনুসারীদের বিচ্ছিন্ন (مرسل) রেওয়ায়াতসমূহ সাধারণভাবে গ্রহণ করা। ইবনুল হাম্বলী 'কাফউল আসার' গ্রন্থে বলেছেন: "বিস্তারিত ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে পছন্দনীয় মত হলো সাহাবীর (صحابي) বিচ্ছিন্ন (مرسل) রেওয়ায়াত সর্বসম্মতিক্রমে (إجماع) গ্রহণযোগ্য, আর আমাদের মতে দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রজন্মের ব্যক্তিদের বিচ্ছিন্ন (مرسل) রেওয়ায়াত..."
(খণ্ড: ১)
আল-কাউলুল ফাসলু ফিল আমালি বিল হাদীসিল মুরসাল
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
(الحنفية) وعند مالك مطلقاً1. ومن الحجج لهذا القول: أن احتمال الضعف في التابعين لاسيما بالكذب بعيد جداً، فإنه صلى الله عليه وسلم أثنى على عصر التابعين، ثم للقرنين الذين يلونه، فإرسال التابعي وبقية القرون الثلاثة بالجزم من غير وثوق بمن قاله، مناف لها.
واوسع من هذا قول عمر- رضي الله عنه "المسلمون عدول، بعضهم على بعض، إلا مجلودا في حد، أو مجرباً عليه شهادة زور، أو ظنياً في ولاء أو قرابة".
إلا إن كان المرسل معروفاً بالإرسال عن غير الثقات، فإنه لا يقبل مرسله. وأما بعد العصر الثالث، فإن كان المرسل من أئمة النقل قبل مرسله2، وهو قول عيسى بن إبان، أبو بكر الرازي والبز دوى وأكثر المتأخرين من الحنفية، وقال القاضي عبد الوهاب المالكي: "هذا هو الظاهرمن المذهب عندي"3.
* وثالثها: قبول إرسال التابعين على اختلاف طبقاتهم، وهو قول مالك وجمهور أصحابه، وأحمد بن حنبل، وكل من يقبل المرسل من أهل الحديث.
* ورابعها: قبول مراسيل كبار التابعين دون صغارهم لقلة روايتهم عن الصحابة كما حكاه ابن عبد البر في التمهيد.
واختلف القائلون بقبول المرسل في طبقته هل هو أعلى من المسند، أو دونه، أو مثله؟. والقائلون بأنه أرجح وأعلى من المسند، وجّهوه بأن من أسند فقد أحالك على إسناده، والنظر في أحوال رواته والبحث عنهم، ومن أرسل مع علمه ودينه وإمامته وثقته فقد قطع لك بصحته وكفاك النظر فيه. قال القرافي في شرح التنقيح: "إن المرسل أقوى من المسند بهذا الطريق؛ لأن المرِسل- بكسر السن- قد تذمم الراوي وأخذه في ذمته عند الله تعالى، وذلك يقتضي وثوقاً بعدالته، وأما إذا أسند فقد فوّض أمره للسامع، ينظر فيه، ولم يتذممه، فهذه الحالة أضعف من الإرسال"4.
وساوى بين المرسل والمسند في وجوب الحجة والقبول محمد بن جرير الطبري، وأبو فرج المالكي، وأبو بكر الأبهري، وعندهم متى تعارض مدلول حديث مرسل وآخر مسند فلا ترجيح إلا بأمر آخر خارجي. وقد قدم أكثر محققي المالكية والحنفية كأبي جعفر الطحاوي،
--------------------------------------------
(হানাফীগণ) এবং ইমাম মালিকের নিকট শর্তহীনভাবে১। এই মতের পক্ষে একটি যুক্তি হলো: তাবেঈনদের (تابعين) ক্ষেত্রে দুর্বলতার (ضعف) সম্ভাবনা, বিশেষ করে মিথ্যার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। কেননা, রাসূলুল্লাহ (সা.) তাবেঈনদের (تابعين) যুগ এবং পরবর্তী দুই যুগের প্রশংসা করেছেন। সুতরাং কোনো তাবেঈ (تابعي) বা পরবর্তী তিন যুগের বর্ণনাকারীর পক্ষ থেকে সেই ব্যক্তির প্রতি আস্থা রাখা ব্যতিরেকেই দৃঢ়তার সাথে কোনো বর্ণনা বিচ্ছিন্নভাবে প্রেরণ করা (إرسال), যার থেকে তিনি বর্ণনা করছেন, তা উক্ত প্রশংসার পরিপন্থী।
এর চেয়েও প্রশস্ত হলো উমর (রা.)-এর উক্তি: "মুসলমানগণ পরস্পর ন্যায়পরায়ণ (عدول), তবে যদি কেউ হদ (حد) জারির কারণে বেত্রাঘাতপ্রাপ্ত হয়, অথবা যার মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদানের পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকে, কিংবা যার আনুগত্য বা আত্মীয়তার বিষয়ে সন্দেহ থাকে তারা ব্যতীত।"
তবে যদি মুরসাল বর্ণনাকারী (مرسل) অনির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের থেকে বিচ্ছিন্নভাবে বর্ণনা করার (إرسال) জন্য পরিচিত হন, তবে তার মুরসাল (مرسل) গ্রহণ করা হবে না। আর তৃতীয় যুগের পর যদি মুরসাল বর্ণনাকারী (مرسل) হাদিস বর্ণনার ইমামদের অন্তর্ভুক্ত হন, তবে তার মুরসাল (مرسل) গ্রহণ করা হবে২। এটি ঈসা ইবনে আবান, আবু বকর আল-রাজি, আল-বাজদাবি এবং হানাফীগণের অধিকাংশ পরবর্তী আলেমদের অভিমত। কাজী আব্দুল ওয়াহাব আল-মালিকী বলেন: "আমার নিকট এটিই মাযহাবের প্রকাশ্য অভিমত"৩।
* তৃতীয়ত: তাবেঈনদের (تابعين) বিভিন্ন স্তর (طبقات) নির্বিশেষে তাদের বিচ্ছিন্ন বর্ণনা (إرسال) গ্রহণ করা। এটি ইমাম মালিক, তাঁর অধিকাংশ অনুসারী, আহমদ ইবনে হাম্বল এবং আহলুল হাদিসদের মধ্যে যারা মুরসাল (مرسل) গ্রহণ করেন, তাদের সকলের অভিমত।
* চতুর্থত: সাহাবীগণের (صحابة) থেকে কম বর্ণনার কারণে বড় তাবেঈনদের (تابعين) মরাসিল (مراسيل) গ্রহণ করা এবং ছোট তাবেঈনদের বর্ণনা বর্জন করা, যেমনটি ইবনে আব্দুল বার আল-তামহীদ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।
যারা মুরসাল (مرسل) গ্রহণ করার পক্ষে, তারা এর স্তরের ব্যাপারে মতভেদ করেছেন যে, এটি কি মুসনাদ (مسند) অপেক্ষা উচ্চতর, নাকি নিম্নতর, নাকি সমান? যারা একে মুসনাদ (مسند) অপেক্ষা অগ্রগণ্য ও উচ্চতর মনে করেন, তাদের যুক্তি হলো: যে ব্যক্তি সনদ বা সূত্র উল্লেখ করেছেন (মুসনাদ), তিনি আপনাকে সেই সনদের উপর সোপর্দ করেছেন এবং বর্ণনাকারীদের (رواة) অবস্থা পর্যবেক্ষণ ও তাদের নিয়ে অনুসন্ধানের ভার আপনার ওপর ছেড়ে দিয়েছেন। পক্ষান্তরে, যে ব্যক্তি তার জ্ঞান, দ্বীনদারিতা, ইমামত ও নির্ভরযোগ্যতা (ثقة) থাকা সত্ত্বেও হাদিসের সূত্র উল্লেখ না করে বর্ণনা (مرسل) করেছেন, তিনি আপনার নিকট এর বিশুদ্ধতা (صحة) নিশ্চিত করেছেন এবং এ বিষয়ে আপনাকে অনুসন্ধানের কষ্ট থেকে মুক্তি দিয়েছেন। আল-কারাফি শারহুত তানকীহ গ্রন্থে বলেন: "এই পদ্ধতিতে মুরসাল (مرسل) বর্ণনা মুসনাদ (مسند) অপেক্ষা শক্তিশালী। কারণ মুরসিল (مرسل) - 'সিন' বর্ণে যের যোগে - বর্ণনাকারীর (راوي) দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং আল্লাহ তাআলার নিকট সেই জিম্মাদারী নিয়েছেন। আর এটি তার ন্যায়পরায়ণতার (عدالة) প্রতি আস্থার দাবি রাখে। পক্ষান্তরে, যখন তিনি সনদসহ বর্ণনা করেন, তখন তিনি বিষয়টি শ্রবণকারীর উপর ছেড়ে দেন যেন সে নিজেই তা যাচাই করে নেয় এবং তিনি এর জিম্মাদারি নেন না। সুতরাং এই অবস্থাটি বিচ্ছিন্ন বর্ণনার (إرسال) চেয়ে দুর্বল"৪।
মুহাম্মদ ইবনে জারির আল-তাবারী, আবু ফারাজ আল-মালিকী এবং আবু বকর আল-আভহারী দলিল (حجة) হিসেবে গ্রহণযোগ্যতার ক্ষেত্রে মুরসাল (مرسل) ও মুসনাদকে (مسند) সমান গণ্য করেছেন। তাদের মতে, যখন একটি মুরসাল (مرسل) হাদিস এবং অপর একটি মুসনাদ (مسند) হাদিসের মর্মার্থের মধ্যে বৈপরীত্য দেখা দেয়, তখন অন্য কোনো বাহ্যিক বিষয় ছাড়া কোনোটিকে প্রাধান্য দেওয়া যাবে না। মালেকী ও হানাফী মাযহাবের অধিকাংশ গবেষক আলেম, যেমন আবু জাফর আল-তহাবী...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাউলুল ফাসলু ফিল আমালি বিল হাদীসিল মুরসাল
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
وأبي بكر الرازي بتقديم المسند على المرسل عند التعارض، وأن المرسل دون المسند بالرغم من قبوله والعمل به.
- ب - المذهب الثاني: رد المرسل:
قال الإمام مسلم- رحمه الله في مقدمة صحيحه: "والمرسل من الروايات في أصل قولنا وقول أهل العلم بالأخبار ليس بحجة"1.
وهو قول عبد الرحمن بن مهدي ويحي بن سعيد القطان وابن المديني وأبي خيثمة زهير بن حرب ويحي بن معين وابن أبى شيبة والبخاري ومسلم وأبي داود والترمذي والنسائي وابن ماجة وغيرهم من أئمة الحديث2.
قال ابن أبى حاتم: "سمعت أبي وأبا زرعة يقولان: لا يحتج بالمراسيل ولا لقوم الحجة إلا بالأسانيد الصحاح المتصلة"3. وهو قول جمهور الشافعية واختيار إسماعيل القاضي وابن عبد البر وغيرهما من المالكية والقاضي أبي بكر الباقلاني وجماعة كثيرون من أئمة الأصول.
والحجة في رد المرسل هو أنا إذا قبلنا خبر من لا نعلم حاله في الصدق والعدالة ممن حاله على خلاف ذلك، فنقول على الدين والشرع ما لم نتحقق من صحته، قال تعالى: {وَلا تَقْفُ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ} ، وقال عز وجل: {وَأَنْ تَقُولُوا عَلَى اللَّهِ مَا لا تَعْلَمُونَ} .
وروى الحاكم في كتابه (علوم الحديث) عن يزيد بن هارون قال: "قلت لحماد بن زيد: يا أبا إسماعيل هل ذكر الله عز وجل أصحاب الحديث في القرآن؟ " قال: "نعم، ألم تسمع إلى قوله عز وجل: {لِيَتَفَقَّهُوا فِي الدِّينِ وَلِيُنْذِرُوا قَوْمَهُمْ إِذَا رَجَعُوا إِلَيْهِمْ} ، فهذا فيمن رحل في طلب العلم ثم رجع به إلى من وراءه ليعلمهم إياه"، وقال الحاكم: "في هذه الآية دليل على أن العلم المحتج به هو المسموع دون المرسل"4.
ومن الأدلة على رد المرسل ما رواه أبو داود في سننه في حديث عن ابن عباس- رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "تسمعون ويسمع منكم ويسمع ممن يسمع منكم". وما رواه الشافعي- رحمه الله قال: قال عبد الله بن مسعود رضي الله عنه قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "نضّر الله امرأ سمع مقالتي فوعاها ثم أداها
--------------------------------------------
এবং আবু বকর আল-রাজি বিরোধ দেখা দেওয়ার সময় বিচ্ছিন্ন (مرسل) এর ওপর মুত্তাসিল (مسند) কে প্রাধান্য দেওয়ার এবং বিচ্ছিন্ন (مرسل) হাদিস গ্রহণযোগ্য ও আমলযোগ্য হওয়া সত্ত্বেও তা মুত্তাসিল (مسند) এর তুলনায় নিম্নমানের হওয়ার অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
- খ - দ্বিতীয় মত: বিচ্ছিন্ন (مرسل) হাদিস প্রত্যাখ্যান করা:
ইমাম মুসলিম (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর সহিহ-এর ভূমিকায় বলেছেন: "আমাদের এবং হাদিস বিশারদদের মূল বক্তব্য অনুযায়ী বর্ণনাসম্মত সংবাদসমূহের মধ্যে বিচ্ছিন্ন (مرسل) হাদিস দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য নয়" ১।
এটি আব্দুর রহমান বিন মাহদি, ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল-কাত্তান, ইবনে আল-মাদিনি, আবু খাইসামা জুহাইর বিন হারব, ইয়াহইয়া বিন মায়িন, ইবনে আবি শাইবা, বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসায়ি, ইবনে মাজাহ এবং অন্যান্য হাদিস ইমামদের অভিমত ২।
ইবনে আবি হাতিম বলেন: "আমি আমার পিতা এবং আবু জুরআহ-কে বলতে শুনেছি: বিচ্ছিন্ন (مرسل) হাদিসসমূহ দলিল হিসেবে গৃহীত হবে না; আর কোনো দলের জন্যই দলিল (حجة) প্রতিষ্ঠিত হবে না কেবল সহিহ (صحاح) নিরবচ্ছিন্ন (متصلة) সনদের মাধ্যম ছাড়া" ৩। এটি শাফেয়ি মাজহাবের অধিকাংশ অনুসারীদের বক্তব্য এবং ইসমাঈল আল-কাজি ও ইবনে আব্দুল বারসহ মালিকি মাজহাবের অন্যান্যদের পছন্দ। এছাড়াও এটি কাজি আবু বকর আল-বাকিলানি এবং উসুল শাস্ত্রের বহু ইমামদের অভিমত।
বিচ্ছিন্ন (مرسل) হাদিস প্রত্যাখ্যান করার পক্ষে যুক্তি হলো, আমরা যদি এমন কোনো ব্যক্তির সংবাদ গ্রহণ করি যার সত্যবাদিতা (صدق) এবং ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) সম্পর্কে আমাদের অবগত নই অথচ তার অবস্থা এর বিপরীতও হতে পারে, তবে আমরা দ্বীন ও শরয়ি বিষয়ে এমন কথা বলব যার বিশুদ্ধতা (صحة) সম্পর্কে আমরা নিশ্চিত নই। মহান আল্লাহ বলেন: "যে বিষয়ে তোমার জ্ঞান নেই, তার অনুসরণ করো না।" এবং মহান আল্লাহ আরও বলেন: "এবং আল্লাহ সম্পর্কে এমন কথা বলা যা তোমরা জানো না।"
আল-হাকিম তাঁর কিতাব (উলুম আল-হাদিস)-এ ইয়াজিদ বিন হারুন থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "আমি হাম্মাদ বিন যায়েদকে বললাম: হে আবু ইসমাঈল, মহান আল্লাহ কি কুরআনে হাদিস বিশারদদের কথা উল্লেখ করেছেন?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ, তুমি কি মহান আল্লাহর এই বাণী শোননি: 'যাতে তারা দ্বীন সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে পারে এবং তাদের সম্প্রদায়ের নিকট ফিরে আসলে তাদের সতর্ক করতে পারে'। এটি তাদের সম্পর্কে যারা ইলম অন্বেষণে সফর করে এবং তারপর ফিরে এসে অন্যদের তা শিক্ষা দেয়।" আল-হাকিম বলেন: "এই আয়াতের মধ্যে দলিল রয়েছে যে, যে ইলম দ্বারা দলিল (حجة) পেশ করা যায় তা হলো শ্রবণকৃত (مسموع), বিচ্ছিন্ন (مرسل) নয়" ৪।
বিচ্ছিন্ন (مرسل) হাদিস প্রত্যাখ্যানের অন্যতম দলিল হলো যা আবু দাউদ তাঁর সুনান-এ ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে উল্লেখ করেছেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা (আমার থেকে) শুনছো, তোমাদের থেকে শোনা হবে এবং যারা তোমাদের থেকে শুনেছে তাদের থেকেও শোনা হবে।" এবং ইমাম শাফেয়ি (রহিমাহুল্লাহ) বর্ণনা করেছেন যে, আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সজীব ও প্রফুল্ল রাখুন, যে আমার কথা শুনলো, তা অন্তরে গেঁথে রাখলো এবং তারপর তা অন্যের কাছে পৌঁছে দিল।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাউলুল ফাসলু ফিল আমালি বিল হাদীসিল মুরসাল
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
إلى من لم يسمعها". والحديثان دلا على أن شأن الرواية اتصال الإسناد، فمتى جوزنا للفرع قبول الحديث من شيخه من غير وقوف على اتصال السند الذي تلقاه شيخه أدى ذلك إلى اختلال السند لجواز أن يكون هذا الساقط غير مقبول الرواية، فلا يجوز الاحتجاج بخبره.
قال الإمام ابن عبد البر: "الحجة في رد الإرسال ما أجمع عليه العلماء من الحاجة إلى عدالة المخبر عنه، وأنه لابد من معرفة ذلك، فإذَا حكى التابعي عمن لم يلقه لم يكن بد من معرفة الواسطة، إذ قد صح أن التابعين أو كثيرا منهم رووا عن الضعيف"1.
وقال الحافظ أبو بكر الخطيب: "إرسال الحديث يؤدي إلى الجهل بعين راويه ويستحيل العلم بعدالته مع الجهل بعينه"2.
هذا وقد وجد بعد الصحابة من القرنين، من وُجدت فيه الصفات المذمومة، لكن بقلة، بخلاف من بعد القرون الثلاثة، إذ كثر آنذاك وانتشر، وقد روى الشافعي- رحمه الله عن عمه: حدثنا هشام بن عروة عن أبيه، قال: "إِني لأسمع الحديث أستحسنه، فما يمنعني من ذكره إلا كراهية أي يسمعه سامع فيقتدي به، وذلك أني أسمعه من الرجل لا أثق به وقد حدث به عمن أثق به، أو أسمعه من الرجل أثق به، قد حدث عمن لا أثق به". وهذا كما قال ابن عبد البر: "يدل على أن ذلك الزمان، أي زمان الصحابة والتابعين كان يحدث فيه الثقة وغيره".
ج - المذهب الثالث: التفصيل في المرسل:
للاحتجاج بالحديث المرسل عمد الفقهاء والأصوليون إلى اعتماد معيار لنقد الحديث المرسل وتمحيصه للتأكد من صلاحيته في استنباط الأحكام الشرعية.
قال الإمام الشافعي- رحمه الله: "وأحتجُّ بمرسل كبار التابعين، إذا أسند سن جهة أخرى، أو أرسله من أخذ من غير رجال الأول، أو وافق قول الصحابي، أو أفتى أكثر العلماء بمقتضاه"3. أما أئمة الجرح والتعديل كيحي بن سعيد القطان وعلى بن المديني وغيرهما فوضعا قاعدة للتفصيل في قبول وردّ الحديث المرسل وذلك في التفريق بين من كان لا
--------------------------------------------
"...সে পর্যন্ত যে এটি শোনেনি।" আর এই দুটি হাদিস প্রমাণ করে যে, বর্ণনার বিষয়টি হলো সনদের অবিচ্ছিন্নতা (اتصال الإسناد)। সুতরাং যখন আমরা কোনো উত্তরসূরির জন্য তার শিক্ষকের নিকট হতে সেই সনদের অবিচ্ছিন্নতা (اتصال السند) সম্পর্কে না জেনেই হাদিস গ্রহণ করা বৈধ করে দেব যা তার শিক্ষক লাভ করেছেন, তখন তা সনদে ত্রুটি সৃষ্টি করবে। কারণ এমন সম্ভাবনা থেকে যায় যে, এই বিচ্যুত বা বাদ পড়া (الساقط) ব্যক্তিটি বর্ণনার ক্ষেত্রে অগ্রহণযোগ্য (غير مقبول الرواية) হতে পারে, ফলে তার বর্ণিত সংবাদ দ্বারা দলিল পেশ করা (الاحتجاج) বৈধ হবে না。
ইমাম ইবনে আবদিল বার বলেন: "ইরসাল (إرسال) বা বিচ্ছিন্নতা প্রত্যাখ্যান করার স্বপক্ষে দলিল হলো সেই বিষয় যার ওপর উলামাগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন, আর তা হলো সংবাদদাতার ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা এবং এ সম্পর্কে অবশ্যই জ্ঞান থাকা। সুতরাং যখন কোনো তাবেয়ি এমন কারো থেকে বর্ণনা করেন যার সাথে তার সাক্ষাৎ হয়নি, তখন মধ্যবর্তী সূত্র (الواسطة) সম্পর্কে জানা অপরিহার্য হয়ে পড়ে। কেননা এটি প্রমাণিত যে, তাবেয়িগণ বা তাদের অনেকে দুর্বল (الضعيف) বর্ণনাকারীদের থেকে বর্ণনা করেছেন।"১。
হাফেজ আবু বকর আল-খাতিব বলেন: "হাদিসের ইরসাল (إرسال) বর্ণনাকারীর সত্তা সম্পর্কে অজ্ঞতার দিকে ধাবিত করে, আর বর্ণনাকারীর সত্তা সম্পর্কে অজ্ঞ থেকে তার ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) সম্পর্কে জানা অসম্ভব।"২。
সাহাবীদের পরবর্তী দুই প্রজন্মে এমন কিছু ব্যক্তি পাওয়া গেছে যাদের মধ্যে নিন্দনীয় গুণাবলি ছিল, তবে তা সংখ্যায় ছিল সামান্য। কিন্তু প্রথম তিন প্রজন্মের পরের অবস্থা ছিল এর ভিন্ন, কারণ তখন তা ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করেছিল। ইমাম শাফেয়ি (রাহিমাহুল্লাহ) তার চাচার সূত্রে বর্ণনা করেছেন: হিশাম ইবনে উরওয়াহ তার পিতার সূত্রে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি (উরওয়াহ) বলেন: "আমি কোনো হাদিস শুনি এবং তা আমার পছন্দ হয়, কিন্তু তা উল্লেখ করা থেকে আমাকে কেবল এই অপছন্দই বাধা দেয় যে, কোনো শ্রবণকারী তা শুনবে এবং তা অনুসরণ করবে। কারণ আমি এমন ব্যক্তির নিকট থেকে হাদিসটি শুনি যার ওপর আমি আস্থা রাখি না, অথচ সে তা এমন একজনের সূত্রে বর্ণনা করেছে যার ওপর আমি আস্থা রাখি। অথবা আমি এমন ব্যক্তির নিকট থেকে শুনি যার ওপর আমি আস্থা রাখি, কিন্তু সে এমন কারো সূত্রে বর্ণনা করেছে যার ওপর আমি আস্থা রাখি না।" এটি ইবনে আবদিল বার-এর সেই উক্তির মতোই: "এটি প্রমাণ করে যে সেই জামানায়, অর্থাৎ সাহাবী ও তাবেয়িদের যুগে নির্ভরযোগ্য (الثقة) এবং অন্যরাও হাদিস বর্ণনা করতেন।"
গ - তৃতীয় মতবাদ: মুরসাল (المرسل) হাদিসের ক্ষেত্রে বিস্তারিত বিশ্লেষণ:
মুরসাল (المرسل) হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করার (الاحتجاج) জন্য ফকিহ ও উসুলবিদগণ মুরসাল (المرسل) হাদিস সমালোচনা এবং তা যাচাই-বাছাইয়ের একটি মানদণ্ড অবলম্বনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যাতে শারয়ি বিধান আহরণের ক্ষেত্রে এর যোগ্যতা নিশ্চিত করা যায়।
ইমাম শাফেয়ি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: "আমি প্রবীণ তাবেয়িদের মুরসাল (مرسل) হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করি (أحتجُّ), যদি তা অন্য কোনো দিক থেকে মুসনাদ (أسند) হিসেবে বর্ণিত হয়, অথবা এমন কেউ তা মুরসাল (أرسله) হিসেবে বর্ণনা করেন যিনি প্রথম ব্যক্তির বর্ণনাকারীদের থেকে ভিন্ন কারো থেকে গ্রহণ করেছেন, অথবা এটি সাহাবীর উক্তির সাথে মিলে যায়, কিংবা অধিকাংশ আলেম এর দাবি অনুযায়ী ফতোয়া প্রদান করেন।"৩। পক্ষান্তরে জারহ ও তাদিল (الجرح والتعديل)-এর ইমামগণ যেমন ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান, আলী ইবনুল মাদিনি এবং অন্যান্যরা মুরসাল (المرسل) হাদিস গ্রহণ (قبول) ও প্রত্যাখ্যান (ردّ) করার বিষয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণের জন্য একটি মূলনীতি নির্ধারণ করেছেন, আর তা হলো তাদের মধ্যে পার্থক্য করা যারা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাউলুল ফাসলু ফিল আমালি বিল হাদীসিল মুরসাল
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
يرسل إلا عن ثقة، وبين من يعرف بإرساله عن كل أحد سواء كان ثقة أم ضعيفاً، فيقبل مرسل الأول ويرد مرسل الثاني. قال ابن أبى حاتم في بداية كتابه (المراسيل) : "كان يحي بن سعيد القطان لا يرى إرسال الزهري وقتادة شيئاً، ويقول هو بمنزلة الريح"1.
إن عدالة كبار التابعين كسعيد بن المسيب وعطاء بن أبي رباح ومكحول وأمانتهم تحول دون روايتهم عن غير الثقة، فلا يستجيز هؤلاء الجزم بحديث إلا بعد التأكد من ثبوته وعدم وجود ما يقتضي القدح في المرسل، والدليل على ذلك ما جاء عن ابن عمر- رضي الله عنهما أنه كان يرسل إلى سعيد بن المسيب يسأله عن قضايا أبيه عمر- رضي الله عنه وأحكامه مع علمه بأنه لم يدركه ولم يختلف عليه اثنان في قبولها منه مرسلة، وقد قال الإمام أحمد بن حنبل- رحمه الله: "إذا لم يقبل سعيد بن المسيب عن عمر فمن يقبل"2.
وإذا جاء المرسل من وجهين، وكل من الراويين أخذ العلم عن شيوخ الآخر، فهذا يدل على صدقه، فإن مثل ذلك لا يتصور في العادة تماثل الخطأ فيه وتعمد الكذب، والعادة تمنع تماثلهما في الكذب عمداً وخطأ.
قال إمام الحرمين: "إذا قال أحد أئمة الجرح والتعديل حدثني الثقة أو حدثني من لا أتهم ونحو ذلك وكان ممن يقبل تعديله ويرجع إليه فهو مقبول محتج به بالرغم من إرساله؛ وذلك لأنه لا يقول ذلك إلا عند تحققه من ثقة ذاك الراوي وصدقه. وقد روى عروة بن الزبير لعمر بن عبد العزيز عن النبي صلى الله عليه وسلم قوله: " من أحيا أرضاً ميتة فهي له" فأرسله ولم يسنده، فقال له عمر بن عبد العزيز: "أتشهد على رسول الله صلى الله عليه وسلم بذلك؟ " فقال: "نعم أخبرني بذلك العدل الرضي"، فلم يسم مَنْ أخبره، فاكتفى منه عمر بن عبد العزيز بذلك.
فالقول المختار في التفصيل هو أن من عرف من عادته أنه لا يرسل إلا عن ثقة عدل مشهور بذلك فمرسله مقبول ومن لم تكن عادته ذلك فلا يقبل مرسله، وبهذا القول يحصل الجمع بين الأدلة المتقدمة. فلا يمكننا إنكار قبول المرسل في الصدر الأول، وقد رد جماعة منهم الكثير من المراسيل، فيعزى قبولهم إلى الثقة بمن يرسل الحديث، وإلى هذا أشار ابن عباس- رضي الله عنهما قال: "كنا إذا سمعنا أحدنا يقول: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ابتدرته أبصارنا وأصغينا إليه بآذاننا، فلما ركب الناس الصعب والذلول لم نأخذ من الناس إلا ما نعرف".
--------------------------------------------
(তিনি) কেবল নির্ভরযোগ্য (ثقة) ব্যক্তি ছাড়া কারো থেকে বিচ্ছিন্নভাবে বর্ণনা (يرسل) করেন না, এবং যার সম্পর্কে জানা যায় যে সে সবার কাছ থেকেই বিচ্ছিন্নভাবে বর্ণনা (إرساله) করে, চাই সে নির্ভরযোগ্য (ثقة) হোক বা দুর্বল (ضعيف) হোক—এমতাবস্থায় প্রথমজনের বিচ্ছিন্ন (مرسل) বর্ণনা গ্রহণ করা হয় এবং দ্বিতীয়জনের বিচ্ছিন্ন (مرسل) বর্ণনা প্রত্যাখ্যান করা হয়। ইবনে আবি হাতিম তাঁর আল-মারাসিল কিতাবের শুরুতে বলেছেন: "ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান যুহরি ও কাতাদাহ-এর বিচ্ছিন্নভাবে বর্ণনা করাকে (إرسال) কিছুই মনে করতেন না এবং বলতেন, তা বাতাসের মতো।"1.
সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব, আতা ইবনে আবি রাবাহ এবং মাকহুল-এর মতো বড় বড় তাবেয়ীদের ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) এবং আমানতদারী তাঁদেরকে অনির্ভরযোগ্য কারো থেকে বর্ণনা করা থেকে বিরত রাখে। তাই তাঁরা কোনো হাদিসের প্রামাণিকতা নিশ্চিত না হয়ে এবং বিচ্ছিন্নভাবে বর্ণনাকারীর (المرسل) মধ্যে কোনো ত্রুটি নেই—তা যাচাই না করে কোনো হাদিসকে নিশ্চিতভাবে বর্ণনা করা বৈধ মনে করতেন না। এর প্রমাণ হলো যা ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিবের কাছে লোক পাঠিয়ে তাঁর পিতা উমর (রা.)-এর বিচারিক সিদ্ধান্ত ও হুকুম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন; অথচ তিনি জানতেন যে সাঈদ তাঁকে (উমরকে) পাননি। তাঁর থেকে এই বিচ্ছিন্ন (مرسلة) বর্ণনা গ্রহণের ব্যাপারে কোনো দুইজন দ্বিমত করেননি। ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রহ.) বলেছেন: "সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব যদি উমর (রা.) থেকে (বিচ্ছিন্নভাবে) বর্ণনা করে তা গ্রহণযোগ্য না হয়, তবে কার বর্ণনা গ্রহণযোগ্য হবে?"2.
যদি কোনো বিচ্ছিন্ন বর্ণনা (المرسل) দুটি ভিন্ন সূত্র থেকে আসে এবং উভয় বর্ণনাকারী একে অপরের শিক্ষকদের কাছ থেকে ইলম অর্জন করে থাকেন, তবে এটি তার সত্যতার প্রমাণ দেয়। কেননা সাধারণত এই ধরনের ক্ষেত্রে ভুল হওয়া বা ইচ্ছাকৃত মিথ্যার সাদৃশ্য কল্পনা করা যায় না। আর সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী ইচ্ছাকৃত মিথ্যা বা ভুলের ক্ষেত্রে তাঁদের উভয়ের এক হওয়া অসম্ভব।
ইমামুল হারামাইন বলেছেন: "যাচাই-বাছাই ও মূল্যায়নের (الجرح والتعديل) ইমামদের মধ্য থেকে কেউ যখন বলেন 'আমার কাছে নির্ভরযোগ্য (الثقة) ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন' অথবা 'এমন ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন যাকে আমি অভিযুক্ত করি না' বা এই জাতীয় কিছু, এবং তিনি যদি এমন ব্যক্তি হন যার মূল্যায়ন (تعديله) গ্রহণ করা হয় এবং যাঁর দিকে প্রত্যাবর্তন করা হয়, তবে তাঁর বর্ণনা বিচ্ছিন্ন (إرساله) হওয়া সত্ত্বেও তা গ্রহণযোগ্য ও দলীল হিসেবে গণ্য হবে। কারণ তিনি ঐ বর্ণনাকারীর নির্ভরযোগ্যতা (ثقة) ও সত্যতা নিশ্চিত না হয়ে এমন কথা বলেন না। উরওয়াহ ইবনুয যুবাইর উমর ইবনে আব্দুল আজিজের নিকট নবী (সা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে: 'যে ব্যক্তি কোনো মৃত (অনাবাদী) জমি আবাদ করবে, তা তারই হবে।' তিনি এটি বিচ্ছিন্নভাবে বর্ণনা (أرسله) করেছেন এবং এর সনদ উল্লেখ করেননি। তখন উমর ইবনে আব্দুল আজিজ তাঁকে বললেন: 'আপনি কি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পক্ষ থেকে এর সাক্ষ্য দিচ্ছেন?' তিনি বললেন: 'হ্যাঁ, আমাকে একজন ন্যায়পরায়ণ ও পছন্দনীয় (العدل الرضي) ব্যক্তি এটি জানিয়েছেন।' তিনি তাঁর নাম উল্লেখ করেননি যিনি তাঁকে সংবাদটি দিয়েছিলেন, আর উমর ইবনে আব্দুল আজিজ তাঁর ঐ কথাতেই সন্তুষ্ট হলেন।"
বিস্তারিত পর্যালোচনায় মনোনীত মতটি হলো, যাঁর অভ্যাস সম্পর্কে জানা আছে যে তিনি নির্ভরযোগ্য ও ন্যায়পরায়ণ (ثقة عدল) ব্যক্তি ছাড়া কারো থেকে বিচ্ছিন্নভাবে বর্ণনা (يرسل) করেন না এবং তিনি এই গুণে প্রসিদ্ধ, তবে তাঁর বিচ্ছিন্ন বর্ণনা (مرسله) গ্রহণযোগ্য। আর যাঁর অভ্যাস তেমন নয়, তাঁর বিচ্ছিন্ন বর্ণনা (مرسله) গ্রহণযোগ্য নয়। এই মতের মাধ্যমেই পূর্বোক্ত দলিলসমূহের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা সম্ভব হয়। প্রথম যুগে বিচ্ছিন্ন বর্ণনার (المرسل) গ্রহণযোগ্যতাকে আমরা অস্বীকার করতে পারি না, যদিও তাঁদের একটি বড় দল অনেক বিচ্ছিন্ন বর্ণনা (المراسيل) প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁদের এই গ্রহণ করাকে হাদিস বিচ্ছিন্নভাবে বর্ণনাকারীর (يرسل) নির্ভরযোগ্যতার ওপর ন্যস্ত করা হয়। এ দিকেই ইবনে আব্বাস (রা.) ইঙ্গিত করে বলেছেন: "আমরা যখন আমাদের কাউকে বলতে শুনতাম যে 'রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন', তখন আমাদের চোখ সেদিকে নিবদ্ধ হতো এবং কান দিয়ে আমরা মনোযোগ দিতাম। কিন্তু যখন মানুষ সত্য-মিথ্যা ও ভালো-মন্দের বাছবিচার ছেড়ে দিল, তখন আমরা মানুষের থেকে কেবল তাই গ্রহণ করতাম যা আমাদের পরিচিত।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাউলুল ফাসলু ফিল আমালি বিল হাদীসিল মুরসাল
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
وأما من يرسل عن غير المشهورين، وإن كانوا عنده ثقات فاحتمال جواز كونه ضعيفاً يبقى قائماً، ويندفع هذا الاحتمال ببعض الوجوه التي قالها الإمام الشافعي- رحمه الله وبدونه لا يمكن اعتماد هذا المرسل.
পক্ষান্তরে, যিনি অপ্রসিদ্ধ বর্ণনাকারীদের থেকে বিচ্ছিন্ন (مرسل) বর্ণনা করেন, যদিও তাঁরা তাঁর নিকট নির্ভরযোগ্য (ثقات) হন, তবুও সেটি দুর্বল (ضعيف) হওয়ার সম্ভাবনা থেকেই যায়। ইমাম শাফিঈ (রহিমাহুল্লাহ) বর্ণিত কতিপয় পন্থার মাধ্যমে এই সম্ভাবনাটি নিরসন করা সম্ভব; অন্যথায়, সেগুলো ব্যতীত এহেন বিচ্ছিন্ন (مرسل) বর্ণনার ওপর নির্ভর করা সম্ভব নয়।
(খণ্ড: ১)
আল-কাউলুল ফাসলু ফিল আমালি বিল হাদীসিল মুরসাল
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
(5)
رواة المراسيل والموارنة بينهم:قال الحاكم: "وأكثر ما تروى المراسيل من أهل المدينة عن ابن المسيب، ومن أهل مكة عن عطاء بن أبي رباح، ومن أهل البصرة عن الحسن البصري، ومن أهل الكوفة عن إبراهيم النخعي، ومن أهل مصر عن سعيد بن أبي هلال، ومن أهل الشام عن مكحول"1.
وقد صحح المحدثون مراسيل بعض الأئمة من التابعين، فمراسيل ابن المسيب في مقدمة المراسيل، قال الحاكم: "وأصحها مراسيل ابن المسيب لأنه من أولاد الصحابة، وأدرك العشرة، وفقيه الحجاز ومفتيهم، وأول الفقهاء السبعة الذين يعتد مالك بإجماعهم كإجماع كافة الناس"2. أما مراسيل الشعبي، فقال أحمد العجلي: "مرسل الشعبي صحيح، لا يكاد يرسل إلا صحيحا"3. ومراسيل إبراهيم النخعي صحيحة إلا حديث "تاجر البحرين" و "حديث القهقهة"4.
وينبغي أن يكون مرسل شريح القاضي أيضاً صحيحاً كمراسيل ابن المسيب والنخعي، فإنه مخضرم ثقة من أجل التابعين الكبار. أما مرسلات الحسن فقال ابن المديني: "مرسلات الحسن التي رواها عنه الثقات صحاح، ما أقل ما يسقط منها"5، وكذا مراسيل ابن سيرين صحاح أيضا.
وممن أرسل الحديث من ثقات التابعين: سعيد بن جبير، مجاهد، طاووس، عمرو بن دينار، ومرسلات مالك بن أنس أصحهم. واختلف في مراسيل الزهري لكن الأكثر على تضعيفها، قال يحي بن معين: "مراسيل الزهري ليست بشيء، وهو قول الشافعي أيضاً"6.
--------------------------------------------
(5)
বিচ্ছিন্ন (مراسيل) হাদিস বর্ণনাকারীগণ এবং তাঁদের মধ্যে পারস্পরিক তুলনা:আল-হাকিম বলেছেন: "অধিকাংশ বিচ্ছিন্ন (مراسيل) বর্ণনা মদিনাবাসীদের মধ্য থেকে ইবনে আল-মুসাইয়্যিব থেকে, মক্কাবাসীদের মধ্য থেকে আতা ইবনে আবি রাবাহ থেকে, বসরার অধিবাসীদের মধ্য থেকে হাসান বসরী থেকে, কুফার অধিবাসীদের মধ্য থেকে ইবরাহিম আন-নাখায়ি থেকে, মিসরীয়দের মধ্য থেকে সাঈদ ইবনে আবি হিলাল থেকে এবং শামের অধিবাসীদের মধ্য থেকে মাকহুল থেকে বর্ণিত হয়েছে।"1.
মুহাদ্দিসগণ তাবেয়িগণের মধ্য থেকে কিছু ইমামের বিচ্ছিন্ন (مراسيل) বর্ণনাগুলোকে সহিহ সাব্যস্ত করেছেন (صحح)। ইবনে আল-মুসাইয়্যিবের বিচ্ছিন্ন (مراسيل) বর্ণনাগুলো এই পর্যায়ের অগ্রভাগে রয়েছে। আল-হাকিম বলেছেন: "এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বিশুদ্ধ (أصحها) হলো ইবনে আল-মুসাইয়্যিবের বিচ্ছিন্ন (مراسيل) বর্ণনাগুলো, কারণ তিনি সাহাবিগণের বংশধর ছিলেন এবং দশজন জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত সাহাবির সাক্ষাৎ পেয়েছেন। তিনি ছিলেন হিজাজের ফকিহ ও মুফতি এবং সেই সাতজন ফকিহর মধ্যে প্রধান, যাঁদের ঐক্যমতকে (ইজমা) ইমাম মালিক সাধারণ মানুষের ঐক্যমতের ন্যায় গণ্য করতেন।"2. আর ইমাম আশ-শাবির বিচ্ছিন্ন (مراسيل) বর্ণনা সম্পর্কে আহমদ আল-ইজলি বলেছেন: "শাবির বিচ্ছিন্ন (مرسل) বর্ণনা সহিহ (صحيح); তিনি সহিহ (صحيح) ব্যতীত প্রায় কোনো বর্ণনাকেই বিচ্ছিন্ন (يرسل) করেন না।"3. ইবরাহিম আন-নাখায়ির বিচ্ছিন্ন (مراسيل) বর্ণনাগুলো সহিহ (صحيحة), তবে 'বাহরাইনের ব্যবসায়ী' এবং 'অট্টহাসি' সংক্রান্ত হাদিস দুটি ব্যতীত।4.
শুরাইহ আল-কাদীর বিচ্ছিন্ন (مرسل) বর্ণনাগুলোও ইবনে আল-মুসাইয়্যিব ও আন-নাখায়ির বিচ্ছিন্ন বর্ণনার ন্যায় সহিহ (صحيح) হওয়া উচিত; কেননা তিনি একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) এবং জ্যেষ্ঠ তাবেয়িগণের অন্তর্ভুক্ত উভয় যুগ প্রাপ্ত (مخضرم) ব্যক্তি। হাসান বসরীর বিচ্ছিন্ন বর্ণনা (مرسلات) সম্পর্কে ইবনে আল-মাদিনি বলেছেন: "হাসান বসরীর সেই সব বিচ্ছিন্ন বর্ণনা (مرسلات) যা নির্ভরযোগ্য (الثقات) রাবিগণ তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন, সেগুলো বিশুদ্ধ (صحاح); এগুলোর মধ্য থেকে খুব অল্পই ত্রুটিযুক্ত হয়।"5. অনুরূপভাবে ইবনে সিরিনের বিচ্ছিন্ন (مراسيل) বর্ণনাগুলোও বিশুদ্ধ (صحاح)।
নির্ভরযোগ্য (ثقات) তাবেয়িগণের মধ্যে যাঁরা হাদিস বিচ্ছিন্নভাবে (أرسل) বর্ণনা করেছেন তাঁরা হলেন: সাঈদ ইবনে জুবায়ের, মুজাহিদ, তাউস, আমর ইবনে দিনার। আর মালিক ইবনে আনাসের বিচ্ছিন্ন বর্ণনাগুলো (مرسلات) এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বিশুদ্ধ (أصحهم)। ইমাম যুহরীর বিচ্ছিন্ন (مراسيل) বর্ণনার ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে, তবে অধিকাংশ মুহাদ্দিস সেগুলোকে দুর্বল (تضعيفها) বলে গণ্য করেছেন। ইয়াহইয়া ইবনে মাইন বলেছেন: "যুহরীর বিচ্ছিন্ন (مراسيل) বর্ণনাগুলো ধর্তব্য নয়; এটি ইমাম শাফিঈরও অভিমত।"6.
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাউলুল ফাসলু ফিল আমালি বিল হাদীসিল মুরসাল
(পৃষ্ঠা: ৪০)
خاتمة:لقد تنازع الناس في قبول المراسيل وردها، فغالى البعض بالقبول بها مطلقاً وهذا غير مقبول؛ لأن هذا يؤدي إلى إزالة فائدة الإسناد، وغالى الآخرون برد المرسل مطلقاً، فرد بذلك شطراً من السنة ومصدراً من مصادر الأحكام الشرعية.
وأصح الأقوال أنّ منها المقبول، ومنها المردود، ومنها الموقوف، فمن علم أنه حاله أنه لا يرسل إلا عن ثقة: قُبل مرسله، ومن عرف أنه يرِسل عن الثقة وغير الثقة، فإن إرساله عمن لا يعرف فهو موقوف، وما كان ومن المراسيل مخالفاً لما رواه الثقات كان مردودا.
إنّ معيار نقد الحديث المرسل الذي تبنّاه كبار الفقهاء والأصوليين، كأبي حنيفة، ومالك، والشافعي، وأحمد بن حنبل، والغزالي، والآمدي، وغيرهم- رحمهم الله يؤكد على:
1- اعتضاد المرسل بمسند بآخر.
2- اعتضاد المرسل بمرسل آخر بمعناه عن آخر، فيدل على تعدد المخرج.
3- موافقة قول بعض الصحابة للمرسل.
4- أن يكون قول أكثر أهل العلم به.
فإذا اعتضد المرسل المروى عمن يرون عن الثقات بأحد هذه الأربعة دل على حجة صحته وإمكانية اعتماده في استنباط الأحكام الشرعية.
উপসংহার:বিচ্ছিন্ন (مرسل) হাদিসসমূহ গ্রহণ এবং বর্জনের ব্যাপারে আলিমগণ মতভেদ করেছেন। কেউ কেউ এগুলোকে নিঃশর্তভাবে গ্রহণ করার ক্ষেত্রে চরমপন্থা অবলম্বন করেছেন, যা গ্রহণযোগ্য নয়; কারণ এটি সনদ (إسناد)-এর উপযোগিতাকে বিলীন করে দেয়। আবার অন্য পক্ষ নিঃশর্তভাবে বিচ্ছিন্ন (مرسل) হাদিস প্রত্যাখ্যান করার ক্ষেত্রে চরমপন্থা অবলম্বন করেছেন, যার ফলে তারা সুন্নাহর একটি বৃহৎ অংশ এবং শরয়ি বিধানের অন্যতম উৎসকে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
সবচেয়ে সঠিক মত হলো, এগুলোর মধ্যে কিছু গ্রহণযোগ্য (مقبول), কিছু বর্জনীয় (مردود) এবং কিছু স্থগিত (موقوف) রাখা হয়। যার অবস্থা সম্পর্কে জানা যায় যে, তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারী ছাড়া বিচ্ছিন্ন (مرسل) হিসেবে বর্ণনা করেন না, তার বর্ণিত বিচ্ছিন্ন (مرسل) হাদিস গ্রহণ করা হবে। আর যার সম্পর্কে জানা যায় যে, তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة) এবং অনির্ভরযোগ্য—উভয় ধরণের বর্ণনাকারী থেকেই বিচ্ছিন্ন (مرسل) হিসেবে বর্ণনা করেন, তবে যার থেকে তিনি বর্ণনা করছেন তার পরিচয় না জানা গেলে তা স্থগিত (موقوف) রাখা হবে। আর যে সকল বিচ্ছিন্ন (مرسل) হাদিস নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের (ثقات) বর্ণিত হাদিসের পরিপন্থী হবে, তা বর্জনীয় (مردود) বলে গণ্য হবে।
ইমাম আবু হানিফা, মালিক, শাফিঈ, আহমাদ ইবনে হাম্বল, গাজালি এবং আমেদি প্রমুখ (রহিমাহুমুল্লাহ) প্রথিতযশা ফকিহ ও উসুলবিদগণ বিচ্ছিন্ন (مرسل) হাদিস পর্যালোচনার যে মানদণ্ড গ্রহণ করেছেন, তা নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর ওপর গুরুত্বারোপ করে:
১- বিচ্ছিন্ন (مرسل) হাদিসটি অন্য কোনো নিরবচ্ছিন্ন (مسند) হাদিস দ্বারা সমর্থিত হওয়া।
২- বিচ্ছিন্ন (مرسل) হাদিসটি অন্য কোনো সূত্র থেকে একই অর্থের অন্য একটি বিচ্ছিন্ন (مرسل) হাদিস দ্বারা সমর্থিত হওয়া, যা এর উৎসের বহুত্ব নির্দেশ করে।
৩- কোনো সাহাবীর বক্তব্য উক্ত বিচ্ছিন্ন (مرسل) হাদিসের অনুকূলে হওয়া।
৪- অধিকাংশ আলিম উক্ত হাদিস অনুযায়ী আমল বা অভিমত ব্যক্ত করা।
যদি নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারীদের পক্ষ থেকে বর্ণিত বিচ্ছিন্ন (مرسل) হাদিস এই চারটি বিষয়ের কোনো একটির মাধ্যমে সমর্থিত হয়, তবে তা তার প্রামাণিক বিশুদ্ধতা (صحة) এবং শরয়ি বিধান আহরণের ক্ষেত্রে তার ওপর নির্ভর করার সম্ভাব্যতা নির্দেশ করে।
(খণ্ড: ১)
আল-কাউলুল ফাসলু ফিল আমালি বিল হাদীসিল মুরসাল
(পৃষ্ঠা: ৪১)
مصادر ومراجع…المرا جع
(1) ابن منظور: لسان العرب، الجزء الحادي عشر، 1375 هـ، الطبعة الأولى، دار صادر- بيروت.
(2) ابن همام الدين، كمال الدين محمد بن عبد الواحد. التحرير. الطبعة الأولى. 1351 هـ. مطبعة بابي الحلبي- القاهرة.
(3) الشيخ أحمد رضا: معجم متن اللغة. الجزء الأول، الطبعة الأولى. 1377هـ. دار مكتبة الحياة- بيروت.
(4) أحمد بن فارس بن زكريا: معجم مقاييس اللغة. الجزء الأول. الطبعة الأولى. 1366 هـ. دار إحياء الكتب العربية- القاهرة.
(5) الآمدي، سيف الدين أبي الحسن على بن أبى على بن محمد: الإحكام في أصول الأحكام. الجزء الثاني. 1387 هـ. مؤسسة الحلبي وشركاؤه- القاهرة.
(6) البغدادي، الخطيب: الكفاية في علم الرواية. الطبعة الأولى. 1347 هـ- حيدر آباد الدكن.
(7) الزييدى: تاج العروس. الجزء السابع. الطبعة الأولى. 1306 هـ. دار ليبيا للنشر والتوزيع - ليبيا.
(8) الزيلعي: نصب الراية في تخريج أحاديث الهداية. الجزء الأول. 1357 هـ. دار المأمون.
(9) السخاوي، شمس الدين محمد بن عبد الرحمن: فتح المغيث شرح ألفية الحديث للعراقي. الطبعة الأولى، 1388 هـ، المكتبة السلفية - المدينة المنورة.
(10) العلائي، الحافظ صلاح الدين أبى سعيد خليل بن كيكلدى، جامع التحصيل في أحكام المراسيل. الطبعة الأولى. 1398 هـ. الدار العربية للطباعة - بغداد.
(11) السيوطي، الحافظ جلال الدين عبد الرحمن بن أبى بكر: تدريب الراوي شرح تقريب النووي. الطبعة الثانية. 1385 هـ. دار الكتب الحديثة – القاهرة.
(12) النووي. الحافظ محي الدين أبو زكريا يحي بن شرف. التقريب والتيسير لمعرفة سنن البشير النذير. الطبعة الثانية، 1385هـ. دار الكتب الحديثة - القاهرة.
(13) المؤلف نفسه: المجموع شرح المهذب، الجزء الأول. الطبعة الأولى. بدون تاريخ. مطبعة العاصمة - القاهرة.
উৎস ও তথ্যসূত্র…তথ্যসূত্রসমূহ
(1) ইবনে মনজুর: লিসানুল আরব, একাদশ খণ্ড, ১৩৭৫ হিজরি, প্রথম সংস্করণ, দার সাদির- বৈরুত।
(2) ইবনে হুমামুদ্দিন, কামালুদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে আবদুল ওয়াহিদ: আত-তাহরির। প্রথম সংস্করণ। ১৩৫১ হিজরি। মাতবাআতে বাবি আল-হালাবি- কায়রো।
(3) শায়খ আহমদ রেজা: মু'জামু মাতনিল লুগাহ। প্রথম খণ্ড, প্রথম সংস্করণ। ১৩৭৭ হিজরি। দার মাকতাবাত আল-হায়াত- বৈরুত।
(4) আহমদ ইবনে ফারিস ইবনে জাকারিয়া: মু'জামু মাকায়িসিল লুগাহ। প্রথম খণ্ড। প্রথম সংস্করণ। ১৩৬৬ হিজরি। দার ইহয়াইল কুতুবিল আরাবিয়্যাহ- কায়রো।
(5) আল-আমিদি, সাইফুদ্দীন আবুল হাসান আলি ইবনে আবি আলি ইবনে মুহাম্মদ: আল-ইহকাম ফি উসুলিল আহকাম। দ্বিতীয় খণ্ড। ১৩৮৭ হিজরি। মুয়াসসাসাতুল হালাবি ওয়া শুরাকাউহু- কায়রো।
(6) আল-বাগদাদি, আল-খাতিব: আল-কিফায়াহ ফি ইলমির রিওয়ায়াহ। প্রথম সংস্করণ। ১৩৪৭ হিজরি- হায়দ্রাবাদ দাক্ষিণাত্য।
(7) আজ-জাবিদি: তাজুল আরুস। সপ্তম খণ্ড। প্রথম সংস্করণ। ১৩০৬ হিজরি। দার লিবিয়া লিন-নাশর ওয়াত তাউজি - লিবিয়া।
(8) আজ-জাইলায়ি: নাসবুর রায়াহ ফি তাখরিজি আহাদিসিল হিদায়াহ। প্রথম খণ্ড। ১৩৫৭ হিজরি। দারুল মামুন।
(9) আস-সাখাভি, শামসুদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান: ফাতহুল মুগিস শারহু আলফিয়্যাতিল হাদিস লিল-ইরাকি। প্রথম সংস্করণ, ১৩৮৮ হিজরি, আল-মাকতাবাতুস সালাফিয়্যাহ - মদিনা মুনাওয়ারা।
(10) আল-আলাই, আল-হাফিজ সালাহুদ্দিন আবি সাইদ খলিল ইবনে কায়কালদি: জামি' আত-তাহসিল ফি আহকামিল মারাসিল। প্রথম সংস্করণ। ১৩৯৮ হিজরি। আদ-দারুল আরাবিয়্যাহ লিত-তিবাআহ - বাগদাদ।
(11) আস-সুয়ুতি, আল-হাফিজ জালালুদ্দিন আবদুর রহমান ইবনে আবি বকর: তাদরিবুর রাবি শারহু তাকরিবিন নাবাবি। দ্বিতীয় সংস্করণ। ১৩৮৫ হিজরি। দারুল কুতুবিল হাদিসাহ – কায়রো।
(12) আন-নাবাবি, আল-হাফিজ মহিউদ্দিন আবু জাকারিয়া ইয়াহিয়া ইবনে শরাফ: আত-তাকরিব ওয়াত তাইসির লি মা'রিফাতি সুনানিল বাশিরিন নাজির। দ্বিতীয় সংস্করণ, ১৩৮৫ হিজরি। দারুল কুতুবিল হাদিসাহ - কায়রো।
(13) লেখক স্বয়ং: আল-মাজমু শারহুল মুহাজ্জাব, প্রথম খণ্ড। প্রথম সংস্করণ। প্রকাশকাল বিহীন। মাতবাআতুল আসিমাহ - কায়রো।
(খণ্ড: ১)
আল-কাউলুল ফাসলু ফিল আমালি বিল হাদীসিল মুরসাল
(পৃষ্ঠা: ৪২)
(14) النيسابوري، الإمام الحاكم أبو عبد الله بن محمد بن عبد الله، معرفة علوم الحديث. المكتبة العلمية - المدينة المنورة.
(15) الحنبلي، رضي الدين، قفو الأثر. 1326 هـ. مطبعة السعادة.
(16) القرافي، شرح التنقيح. الطبعة الأولى، 1306 هـ. المطبعة الخيرية القاهرة.
(17) ابن أبى حاتم، المراسيل، بدون تاريخ.
(18) القرطبي، ابن عبد البر النمري، التمهيد، الجزء الأول. 1387 هـ. الرباط.
(19) الدكتور صبحي الصالح: علوم الحديث ومصطلحه. الطبعة العاشرة. 1978. دار العلم للملايين- بيروت.
(20) القاسمي، محمد جمال الدين: قواعد التحديث في فنون مصطلح الحديث. الطبعة الثانية. 1380 هـ. دار إحياء الكتب العربية - دمشق.
(21) التهانوي، ظفرأحمد العثماني: قواعد في علوم الحديث. الطبعة الثالثة. 1392 هـ. دار القلم - بيروت.
(14) আন-নিশাপুরী, ইমাম আল-হাকিম আবু আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ, মা'রিফাতু উলুমিল হাদিস। আল-মাকতাবাতুল ইলমিয়্যাহ - মদিনা মুনাওয়ারা।
(15) আল-হাম্বলি, রাযীউদ্দীন, কাফউল আসার। ১৩২৬ হিজরি। মাতবাতুস সা'আদাহ।
(16) আল-কারাফি, শারহুত তানকীহ। প্রথম সংস্করণ, ১৩০৬ হিজরি। আল-মাতবাতুল খাইরিয়্যাহ, কায়রো।
(17) ইবনে আবি হাতিম, আল-মারাসিল, প্রকাশকাল বিহীন।
(18) আল-কুরতুবি, ইবনে আবদিল বার আন-নামারি, আত-তামহিদ, প্রথম খণ্ড। ১৩৮৭ হিজরি। রাবাত।
(19) ডক্টর সুবহি আস-সালেহ: উলুমুল হাদিস ওয়া মুসতালাহুহু। দশম সংস্করণ। ১৯৭৮। দারুল ইলম লিল-মালাঈন- বৈরুত।
(20) আল-কাসিমি, মুহাম্মদ জামালুদ্দীন: কাওয়ায়েদুত তাহদিস ফি ফুনুনি মুসতালাহিল হাদিস। দ্বিতীয় সংস্করণ। ১৩৮০ হিজরি। দারু ইহয়ায়িল কুতুবিল আরাবিয়্যাহ - দামেস্ক।
(21) আল-থানভি, যফর আহমদ উসমানি: কাওয়ায়েদ ফি উলুমিল হাদিস। তৃতীয় সংস্করণ। ১৩৯২ হিজরি। দারুল কলাম - বৈরুত।