(খণ্ড: ১) মিরআতুল মাফাতীহ শারহু মিশকাতিল মাসাবীহ (পৃষ্ঠা: -)
مرعاة المفاتيح شرح مشكاة المصابيح   (عبيد الله الرحماني المباركفوري)

القسم: شروح الحديث


الكتاب: مرعاة المفاتيح شرح مشكاة المصابيح

المؤلف: أبو الحسن عبيد الله بن محمد عبد السلام بن خان محمد بن أمان الله بن حسام الدين الرحماني المباركفوري (ت 1414هـ)

الناشر: إدارة البحوث العلمية والدعوة والإفتاء - الجامعة السلفية - بنارس الهند

الطبعة: الثالثة - 1404 هـ، 1984 م

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মিরআতুল মাফাতীহ শরহ মিশকাতুল মাসাবীহ   (উবায়দুল্লাহ রহমানী মুবারকপুরী)

বিভাগ: হাদীসের ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ


গ্রন্থ: মিরআতুল মাফাতীহ শরহ মিশকাতুল মাসাবীহ

গ্রন্থকার: আবুল হাসান উবায়দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আব্দুস সালাম বিন খান মুহাম্মাদ বিন আমানুল্লাহ বিন হুসামুদ্দিন রহমানী মুবারকপুরী (মৃত্যু ১৪১৪ হি.)

প্রকাশক: বৈজ্ঞানিক গবেষণা, দাওয়াহ ও ইফতা বিভাগ - জামিয়া সালাফিয়্যাহ - বেনারস, ভারত

সংস্করণ: তৃতীয় - ১৪০৪ হি., ১৯৮৪ খ্রি.

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ١) মিরআতুল মাফাতীহ শারহু মিশকাতিল মাসাবীহ (পৃষ্ঠা: -)
ـ[مرعاة المفاتيح شرح مشكاة المصابيح]ـ

المؤلف: أبو الحسن عبيد الله بن محمد عبد السلام بن خان محمد بن أمان الله بن حسام الدين الرحماني المباركفوري (المتوفى: 1414هـ)

الناشر: إدارة البحوث العلمية والدعوة والإفتاء - الجامعة السلفية - بنارس الهند

الطبعة: الثالثة - 1404 هـ، 1984 م

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
—[মিরআতুল মাফাতিহ শারহু মিশকাতিল মাসাবিহ]—

লেখক: আবুল হাসান উবায়দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আবদুস সালাম বিন খান মুহাম্মাদ বিন আমানুল্লাহ বিন হুসামুদ্দিন রহমানি মুবারকপুরী (মৃত্যু: ১৪১৪ হিজরি)

প্রকাশক: বৈজ্ঞানিক গবেষণা, দাওয়াত ও ইফতা বিভাগ - জামিয়া সালাফিয়া - বেনারস, ভারত

সংস্করণ: তৃতীয় - ১৪০৪ হিজরি, ১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দ

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
(খণ্ড: ١) মিরআতুল মাফাতীহ শারহু মিশকাতিল মাসাবীহ (পৃষ্ঠা: -)
مشكاة المصابيح

للعلامة الشيخ ولي الدين أبي عبد الله محمد بن عبد الله الخطيب العمري التبريزي

 

مع شرحه

 

مرعاة المفاتيح

للشيخ أبي الحسن عبيد الله بن العلامة محمد عبد السلام المباركفوري حفظه الله

 

(الجزء الأول)
মিশকাতুল মাসাবিহ

আল্লামা শায়খ ওয়ালীউদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-খতিব আল-উমরি আত-তিবরিজি বিরচিত

 

এর ব্যাখ্যাগ্রন্থসহ

 

মিরআতুল মাফাতিহ

শায়খ আবুল হাসান ওবায়দুল্লাহ ইবনে আল্লামা মুহাম্মদ আব্দুস সালাম আল-মুবারকপুরী (হাফিযাহুল্লাহ) বিরচিত

 

(প্রথম খণ্ড)
(খণ্ড: ١) মিরআতুল মাফাতীহ শারহু মিশকাতিল মাসাবীহ (পৃষ্ঠা: ১)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله

ــ

بسم الله الرحمن الرحيم. الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على أشرف المرسلين، محمد خاتم النبيين وإمام المتقين، وعلى آله وصحبه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين. أما بعد: فإن بعض الإخوان سألني أن أعلق له شرحاً لطيفاً على مشكاة المصابيح للشيخ ولي الدين أبي عبد الله محمد بن عبد الله الخطيب العمري التبريزي، فأجبته إلى سؤاله رجاء المنفعة به. وأسأل الله تعالى أن ينفعنا به ومن كتبه أو سمعه أو قرأه أو نظر فيه، وأن يجعله خالصاً لوجهه، موجباً للفوز لديه، وبالإخلاص إنما يتقبل العمل، ((إنما الأعمال بالنيات وإنما لكل امرئ ما نوى)) . فأقول مستعيناً بالله مهتدياً به متوكلاً عليه، وما توفيقي إلا بالله، وهو حسبي ونعم الوكيل: قال: (بسم الله الرحمن الرحيم. الحمد لله) الخ، افتتح الكتاب بالبسملة ثم أتى بالحمدلة، موافقة لكتاب الله العظيم، فإن الصحابة افتتحوا كتابة الإمام الكبير بالتسمية والحمدلة، وتلوها، وتبعهم جميع من كتب المصحف بعدهم في جميع الأعصار، من يقول بأن البسملة آية من أول الفاتحة، ومن لا يقول ذلك. وعملاً بحديث نبيه الكريم في بداءة كل أمر ذي بال ببسم الله الرحمن الرحيم، أخرجه الرهاوي في أربعينه من حديث أبي هريرة مرفوعاً، وأخرج أبوداود والنسائي وابن ماجه وأبوعوانة والدارقطني وابن حبان والبيهقي عن أبي هريرة مرفوعاً: ((كل كلام لا يبدأ فيه بالحمد لله فهو أجذم)) ، وفي رواية: ((كل أمر ذي بال لا يبدأ فيه بحمد الله فهو أقطع)) حسنه ابن الصلاح وغيره، ولا منافاة بين روايتي التسمية والتحميد؛ لأن المقصود منهما فيما نرى - والله أعلم بمراد كلام نبيه - إنما هو الابتداء بذكر الله والثناء عليه، سواء يكون في ضمن البسملة أو الحمدلة، لا أن لفظ الحمد أو البسملة متعين، فالقدر الذي يجمع الأمرين هو ذكر الله، وقد حصل بالبسملة، وحينئذٍ فالحمدلة والبسملة والذكر سواء، ويدل على ذلك ما ورد في بعض طرق الحديث لفظ ((ذكر الله)) مصرحاً، ففي مسند أحمد عن أبي هريرة مرفوعاً ((كل أمر ذي بال لا يفتتح بذكر الله فهو أبتر أو أقطع)) ، قال التاج السبكي في أول الطبقات الشافعية في الجمع بين الروايتين ما لفظه: وأما الحمد والبسملة فجائزان، يعني بهما ما هو الأعم منهما، وهو ذكر الله والثناء عليه على الجملة، إما بصيغة الحمد أو غيرها، ويدل على ذلك رواية ذكر الله، وحينئذٍ فالحمد والبسملة والذكر سواء، وجائزان يعني خصوص الحمد وخصوص البسملة، وحينئذٍ فرواية الذكر أعم، فيقضى لها على الروايتين الأخيرتين؛ لأن المطلق إذا قيد بقيدين متنافيين لم يحمل على واحد منهما ويرجع إلى أصل الإطلاق، وإنما قلنا أن خصوص الحمدلة والبسملة متنافيان لأن البداءة إنما تكون بواحد، ولو وقع الابتداء بالحمد لما وقع بالبسملة وعكسه، ويدل على أن المراد الذكر، فتكون روايته هي
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য।

—

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ রাসুল, নবীদের মোহর এবং মুত্তাকীদের ইমাম মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন তাঁদের ওপর। এরপর: কিছু দ্বীনি ভাই আমার কাছে অনুরোধ করেছিলেন যেন আমি শেখ ওয়ালীউদ্দীন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-খতিব আল-উমারি আত-তিবরিজি সংকলিত 'মিশকাতুল মাসাবীহ'-এর ওপর একটি সংক্ষিপ্ত ও প্রাঞ্জল ব্যাখ্যা লিখে দিই। আমি তাঁদের অনুরোধ রক্ষা করেছি এই আশায় যে, এর মাধ্যমে কল্যাণ সাধিত হবে। আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাকে এর মাধ্যমে উপকৃত করেন এবং যারা এটি লিখবে, শুনবে, পড়বে বা দেখবে তাদের সকলকে উপকৃত করেন। তিনি যেন এটিকে কেবল তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন এবং তাঁর সান্নিধ্যে সফলতার মাধ্যম বানিয়ে দেন। নিশ্চয়ই কেবল নিষ্ঠা বা এখলাসের মাধ্যমেই আমল কবুল হয়, যেমনটি বর্ণিত হয়েছে: "নিশ্চয়ই সকল আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল এবং প্রত্যেক ব্যক্তি তা-ই পায় যার সে নিয়ত করে।" তাই আমি আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করে, তাঁর দেখানো পথে চলে এবং তাঁর ওপর ভরসা করে বলতে শুরু করছি। আমার সফলতা কেবল আল্লাহর সাহায্যেই সম্ভব, তিনি আমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক। গ্রন্থকার বলেছেন: (পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য) ইত্যাদি। তিনি মহান আল্লাহর কিতাবের অনুসরণে বিসমিল্লাহ দিয়ে কিতাবটি শুরু করেছেন এবং এরপর হামদ বা প্রশংসা পেশ করেছেন। কেননা সাহাবীগণ মহান ইমামের (কুরআনের) সংকলন বিসমিল্লাহ ও হামদ দিয়ে শুরু করেছিলেন এবং এর তিলাওয়াতও সেভাবেই করেছিলেন। তাঁদের পরবর্তী সকল যুগের মুসহাফ লেখকরাও তাঁদের অনুসরণ করেছেন—চাই তাঁরা বিসমিল্লাহকে সুরা ফাতিহার শুরু থেকে একটি আয়াত মনে করুন বা না করুন। এছাড়া প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম দিয়ে শুরু করার ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদিসের ওপর আমল করার উদ্দেশ্যেও এটি করা হয়েছে। আল-রাহাভী তাঁর 'আরবাঈন'-এ আবু হুরায়রা (রা.) থেকে মারফু সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। এছাড়া আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, আবু আওয়ানা, দারা কুতনী, ইবনে হিব্বান ও বায়হাকী আবু হুরায়রা (রা.) থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন: "প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ কথা যা আল্লাহর প্রশংসা (আলহামদুলিল্লাহ) দিয়ে শুরু করা হয় না, তা কল্যাণহীন।" অন্য এক বর্ণনায় আছে: "প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ যা আল্লাহর প্রশংসা দিয়ে শুরু করা হয় না, তা অপূর্ণ।" ইবনুস সালাহ এবং অন্যান্যরা একে 'হাসান' বা গ্রহণযোগ্য বলেছেন। বিসমিল্লাহ এবং আলহামদুলিল্লাহ—এই দুই বর্ণনার মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই। কারণ আমাদের দৃষ্টিতে এই দুই বর্ণনার উদ্দেশ্য হলো—আল্লাহই ভালো জানেন তাঁর নবীর বাণীর মর্ম—আল্লাহর স্মরণ ও প্রশংসার মাধ্যমে শুরু করা, চাই তা বিসমিল্লাহর মাধ্যমে হোক বা হামদালার মাধ্যমে। নির্দিষ্ট করে 'আল-হামদু' বা 'বিসমিল্লাহ' শব্দ উচ্চারণ করাই কেবল উদ্দেশ্য নয়। বরং উভয় বর্ণনার সাধারণ নির্যাস হলো 'আল্লাহর স্মরণ' (জিকরুল্লাহ), যা বিসমিল্লাহর মাধ্যমেও অর্জিত হয়। এমতাবস্থায় হামদানা, বিসমিল্লাহ এবং আল্লাহর জিকির সবই সমান। হাদিসের কিছু বর্ণনায় সরাসরি 'আল্লাহর স্মরণ' (জিকরুল্লাহ) শব্দটি আসার মাধ্যমেও এটি প্রমাণিত হয়। মুসনাদে আহমদে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে মারফু সূত্রে বর্ণিত হয়েছে: "প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ যা আল্লাহর স্মরণ দিয়ে শুরু করা হয় না, তা লেজকাটা বা অপূর্ণ।" তাজ সুবকী 'তবকাতে শাফেঈয়াহ'-এর শুরুতে দুই বর্ণনার মধ্যে সমন্বয় করতে গিয়ে বলেছেন: "হামদ ও বিসমিল্লাহ উভয়ই জায়েজ; অর্থাৎ এদের দ্বারা উদ্দেশ্য হলো এদের চেয়েও ব্যাপক অর্থ, যা হলো সাধারণভাবে আল্লাহর স্মরণ ও তাঁর প্রশংসা করা—চাই তা হামদের শব্দে হোক বা অন্য কোনো শব্দে। 'জিকরুল্লাহ' বা আল্লাহর স্মরণের বর্ণনাটি এর প্রমাণ দেয়। সুতরাং হামদ, বিসমিল্লাহ এবং জিকির একই পর্যায়ের। আর (বর্ণনায়) 'জায়েজ' বলার অর্থ হলো নির্দিষ্টভাবে হামদ বা বিসমিল্লাহ পাঠ করা। এমতাবস্থায় 'জিকির' সংক্রান্ত বর্ণনাটি অধিকতর ব্যাপক, যা শেষোক্ত দুই বর্ণনার ওপর ফয়সালাকারী হিসেবে বিবেচিত হবে। কারণ যখন কোনো সাধারণ বিষয়কে দুটি পরস্পরবিরোধী শর্ত বা সীমা দিয়ে আবদ্ধ করা হয়, তখন কোনো একটির ওপর নির্ভর না করে মূল সাধারণ অর্থের দিকেই ফিরে যেতে হয়। আমরা এই কারণেই বলেছি যে নির্দিষ্ট করে হামদানা বা বিসমিল্লাহ শুরু হিসেবে পরস্পরবিরোধী, কারণ শুরু কেবল একটি দিয়েই হতে পারে। যদি হামদ দিয়ে শুরু হয় তবে বিসমিল্লাহ দিয়ে শুরু হলো না, আবার এর বিপরীতটিও সত্য। এটি প্রমাণ করে যে মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর স্মরণ (জিকির), সুতরাং সেই বর্ণনাটিই হলো...
(খণ্ড: ١) মিরআতুল মাফাতীহ শারহু মিশকাতিল মাসাবীহ (পৃষ্ঠা: ২)
نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله شهادة تكون للنجاة وسيلة

ــ

المعتبرة أن غالب الأعمال الشرعية غير مفتتحة بالحمد كالصلاة، فإنها مفتتحة بالتكبير والحج وغير ذلك، فإن قلت: لكن رواية بحمد الله أثبت من رواية بذكر الله، قلت: صحيح، ولكن لِمَ قلت: إن المقصود بحمد الله خصوص لفظ الحمد، ولِمَ لا يكون المراد ما هو أعم من لفظ الحمد والبسملة؟ ويدل على ذلك ما ذكرت لك من الأعمال الشرعية التي لم يشرع الشارع افتتاحها بالحمد بخصوصه - انتهى كلام السبكي.

قوله (الحمد لله) الحمد هو الثناء على الجميل الاختياري من نعمة أو غيرها، أتى بالجملة الاسمية واسم الذات للدلالة على الدوام والثبات. وقوله (الحمد لله) مطلق يتناول حمد الله تعالى نفسه، وأرفع حمد ما كان من أرفع حامد وأعرفهم بالمحمود وأقدرهم على إيفاء حقه، قال صلى الله عليه وسلم: ((لا أحصي ثناءً عليك أنت كما أثنيت على نفسك)) ، ويتناول حمد الحامدين له تعالى من ابتداء الخلق إلى انتهاء قولهم ((وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين)) ، (نحمده) استئناف، فأولاً أثبت الحمد له بالجملة الاسمية الدالة على الثبوت والدوام، سواء حمد أو لم يحمد، فهو إخبار متضمن للإنشاء، ثانياً أخبر عن حمده وحمد غيره معه بالجملة الفعلية التي للتجديد والحدوث بحسب تجدد النعماء وتعدد الآلاء وحدوثها في الآناء، وإظهار لتخصيص حمده لكن باستعانته، ونفى الحول والقوة ودفع الرياء والسمعة من نفسه، ومن ثم أتبعه بقوله: ((ونعوذ بالله من شرور أنفسنا)) وحاصل وجه التخصيص أنه تعالى لما كان مستحقاً للحمد بإسباغ أنوع النعم علينا فلا بد أن نحمده، وأورد صيغة الجمع ليشمل جميع الخلق الجسماني والروحاني في الدارين، وقال الطيبي: الضمير المستكن في نحمده ونستعينه ونستغفره للمتكلم ومن معه من أصحابه الحاضرين والتابعين لهم بإحسان إلى يوم الدين. (ونستعينه) أي في أداء الحمد وغيره من الأمور الدنيوية والأخروية، وفيه إشارة إلى أن حمده تعالى أمر لا يتيسر من الخلائق أجمعين إلا بإعانته تعالى، فيكون تبرياً عن الحول والقوة. (ونستغفره) أي من سيئاتنا وتقصيراتنا ولو في أداء ذلك احمد، كما هو حقه من الصدق والإخلاص. (ونعوذ بالله من شرور أنفسنا) أي من ظهور السيئات الباطنية التي جبلت الأنفس عليها، ومنها التقصير في الصدق والإخلاص، أي الحمد مع الرياء والسمعة، وكذا مع إثبات الحول والقوة. (ومن سيئات أعمالنا) أي من مباشرة الأعمال السيئة الظاهرة التي تنشأ عنها، والمراد منها هو التصدي للتصنيف في علم الحديث مع قصور في تصحيح الطية وإخلاص الطوية، أو التقصير في الشكر على توفيقه تعالى لهذه النعمة العظيمة والمنحة الجليلة، أو التكلم بما لا يعنيه والغفلة عن ذكر الله تعالى، أو التهاون في الطاعات والعبادات وارتكاب المكروهات والمحرمات مطلقاً، والأول أظهر. فتعوذ رحمه الله من ذلك لحصول الإخلاص. (من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له) لما أضيف الشرور والأعمال إلى الأنفس أوهم أن لها الاختيار والاستقلال بالأعمال، أتبعه بقوله (من يهده الله … ) الخ ليؤذن بأن كل ذلك منه تعالى، وليس للعبد إلا الكسب، وبعد الكسب الشقي والسعيد على حسب علمه الأزلي سبحانه
আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা যাঞ্চা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের আমলের মন্দ দিকগুলো থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তার কোনো পথভ্রষ্টকারী নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তার কোনো পথপ্রদর্শক নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই—এমন সাক্ষ্য যা মুক্তির মাধ্যম হবে।

—

বিচার্য বিষয় হলো, অধিকাংশ শরয়ি আমলই ‘হামদ’ বা প্রশংসার মাধ্যমে শুরু হয় না, যেমন সালাত; কেননা তা ‘তাকবির’ দ্বারা শুরু হয়, আবার হজ এবং অন্যান্য ইবাদতও তাই। যদি আপনি বলেন: কিন্তু ‘আল্লাহর প্রশংসার মাধ্যমে’ বর্ণনাটি ‘আল্লাহর স্মরণের মাধ্যমে’ বর্ণনা অপেক্ষা অধিক সুপ্রমাণিত; তবে আমি বলব: এটি সত্য, কিন্তু আপনি কেন বললেন যে, ‘আল্লাহর প্রশংসার মাধ্যমে’ বলতে কেবল ‘হামদ’ শব্দটিই উদ্দেশ্য? কেন এর দ্বারা হামদ ও বাসমালাহ-এর চেয়েও ব্যাপকতর অর্থ উদ্দেশ্য হবে না? আমি আপনার কাছে যেসব শরয়ি আমলের কথা উল্লেখ করেছি, যেগুলোর শুরুতে শারিয়াত প্রণেতা বিশেষভাবে ‘হামদ’ দ্বারা শুরু করা নির্ধারণ করেননি, তা-ই এর প্রমাণ বহন করে। —সুবকির বক্তব্য সমাপ্ত।

তাঁর উক্তি (সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য): হামদ হলো কোনো নিআমত বা অন্য কিছুর প্রেক্ষিতে ঐচ্ছিক সুন্দরের প্রশংসা করা। লেখক এখানে স্থায়িত্ব ও শাশ্বত হওয়ার অর্থ প্রদানের জন্য জুমলা ইসমিয়া (विशेष্যমূলক বাক্য) এবং সত্তাবাচক নাম (ইসমে জাত) ব্যবহার করেছেন। তাঁর বক্তব্য (সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য) নিঃশর্ত, যা আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে স্বীয় সত্তার প্রশংসাকেও শামিল করে। আর সর্বোত্তম প্রশংসা হলো তা-ই যা সর্বোচ্চ প্রশংসাকারীর পক্ষ থেকে আসে, যিনি প্রশংসিত সত্তা সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি অবগত এবং তাঁর হক আদায়ে সবচেয়ে বেশি সক্ষম। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আমি আপনার প্রশংসা গণনা করে শেষ করতে পারব না; আপনি তেমনই যেমন আপনি নিজের প্রশংসা করেছেন।” এছাড়া এটি সৃষ্টির সূচনা থেকে শুরু করে জান্নাতিদের শেষ কথা “আমাদের শেষ আহ্বান হলো সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য”—পর্যন্ত সকল প্রশংসাকারীর প্রশংসাকেও অন্তর্ভুক্ত করে। (আমরা তাঁর প্রশংসা করি) এটি একটি নতুন বাক্য। প্রথমত, তিনি জুমলা ইসমিয়ার মাধ্যমে আল্লাহর জন্য প্রশংসা সাব্যস্ত করেছেন যা স্থায়িত্ব ও ধারাবাহিকতা বুঝায়; কেউ তাঁর প্রশংসা করুক বা না করুক (তিনি প্রশংসিত)। সুতরাং এটি এমন একটি সংবাদ যা প্রশংসা সৃষ্টির অর্থ বহন করে। দ্বিতীয়ত, তিনি জুমলা ফেলিয়ার (ক্রিয়ামূলক বাক্য) মাধ্যমে নিজের এবং অন্যদের পক্ষ থেকে প্রশংসা করার সংবাদ দিয়েছেন, যা নিআমতের নবায়ন, অনুগ্রহের আধিক্য এবং সময়ের আবর্তনে তা প্রকাশ পাওয়া অনুযায়ী নতুনভাবে সংঘটিত হওয়া বুঝায়। এর মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত তাঁর প্রশংসা করার নির্দিষ্টকরণ এবং নিজের শক্তি ও সামর্থ্যকে অস্বীকার করা হয়েছে এবং লোকদেখানো ও সুখ্যাতি অর্জনের ইচ্ছাকে মন থেকে দূর করা হয়েছে। আর এ কারণেই তিনি এর পরপরই বলেছেন: (আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই)। এই বিশেষীকরণের সারকথা হলো: আল্লাহ তাআলা যখন আমাদের ওপর বিবিধ নিআমত বর্ষণ করার কারণে প্রশংসার হকদার, তখন আমাদের অবশ্যই তাঁর প্রশংসা করতে হবে। তিনি এখানে বহুবচন ব্যবহার করেছেন যাতে উভয় জগতের সমস্ত দৈহিক ও আত্মিক সৃষ্টি এর অন্তর্ভুক্ত হয়। আল-তিবি বলেন: ‘আমরা প্রশংসা করি’, ‘আমরা সাহায্য চাই’ এবং ‘আমরা ক্ষমা চাই’ ক্রিয়াগুলোতে লুকায়িত সর্বনামটি বক্তা এবং তাঁর উপস্থিত সঙ্গীগণ ও কিয়ামত পর্যন্ত ইহসানের সাথে তাঁদের অনুসারীদের দিকে প্রত্যাবর্তন করে। (এবং আমরা তাঁর নিকট সাহায্য চাই) অর্থাৎ প্রশংসা আদায় করতে এবং দুনিয়া ও আখিরাতের অন্যান্য বিষয়ে সাহায্য চাই। এতে ইঙ্গিত রয়েছে যে, আল্লাহ তাআলার প্রশংসা করা এমন এক কাজ যা তাঁর সাহায্য ব্যতীত কোনো সৃষ্টির পক্ষেই সম্ভব নয়। সুতরাং এটি নিজের শক্তি ও সামর্থ্য থেকে দায়মুক্ত হওয়ার নামান্তর। (এবং আমরা তাঁর নিকট ক্ষমা চাই) অর্থাৎ আমাদের পাপরাশি এবং ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকে, এমনকি এই প্রশংসা আদায়ের ক্ষেত্রে সত্যবাদিতা ও ইখলাসের যে হক রয়েছে তাতে কোনো কমতি হলেও (তা থেকে ক্ষমা চাই)। (এবং আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই) অর্থাৎ অন্তরের সেই মন্দ বিষয়গুলো প্রকাশ পাওয়া থেকে যা নফসের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য, যার মধ্যে রয়েছে সত্যবাদিতা ও ইখলাসের ত্রুটি, অর্থাৎ লোকদেখানো বা সুখ্যাতি অর্জনের মানসিকতা নিয়ে এবং নিজের শক্তি ও সামর্থ্যের বড়াই করে প্রশংসা করা। (এবং আমাদের আমলের মন্দ দিকগুলো থেকে) অর্থাৎ প্রকাশ্য মন্দ কাজগুলো সম্পাদন করা থেকে যা নফসের কুমন্ত্রণা থেকে সৃষ্টি হয়। এখানে উদ্দেশ্য হলো—নিয়ত সংশোধন এবং অন্তরের ইখলাসের অভাব থাকা সত্ত্বেও হাদিস শাস্ত্রের কিতাব রচনায় লিপ্ত হওয়া, অথবা এই মহান নিআমত ও শ্রেষ্ঠ উপহার প্রদানের জন্য আল্লাহর তৌফিকের শুকরিয়া আদায়ে অবহেলা করা, অথবা অনর্থক কথা বলা ও আল্লাহর জিকির থেকে গাফেল থাকা, অথবা ইবাদত-বন্দেগিতে শিথিলতা করা এবং সাধারণভাবে মাকরুহ ও হারাম কাজে লিপ্ত হওয়া। তবে প্রথম অর্থটিই অধিক স্পষ্ট। তাই লেখক রহমতুল্লাহি আলাইহি ইখলাস অর্জনের নিমিত্তে তা থেকে আশ্রয় চেয়েছেন। (আল্লাহ যাকে হিদায়াত দেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে হিদায়াত দেওয়ার কেউ নেই) অনিষ্টতা ও আমলসমূহকে যখন নফসের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হলো, তখন এমন ভ্রান্ত ধারণার উদ্রেক হতে পারে যে, মানুষ আমলের ক্ষেত্রে স্বাধীন ও স্বয়ংসম্পূর্ণ। তাই তিনি এর পরপরই বলেছেন (আল্লাহ যাকে হিদায়াত দেন … ) ইত্যাদি, যাতে এটি বুঝিয়ে দেওয়া যায় যে, সব কিছুই আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে; বান্দার কাজ শুধু অর্জন করা (কাসব), আর কাসব বা অর্জনের পর বান্দা দুর্ভাগা না কি সৌভাগ্যবান হবে তা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার অনাদি ও চিরন্তন জ্ঞান অনুযায়ী নির্ধারিত হয়।
(খণ্ড: ١) মিরআতুল মাফাতীহ শারহু মিশকাতিল মাসাবীহ (পৃষ্ঠা: ৩)
ولرفع الدرجات كفيلة. وأشهد أن محمداً عبده ورسوله الذي بعثه وطرق الإيمان قد عفت

ــ

وتعالى. والضمير البارز ثابت في يهده، وأما في يضلله فغير موجود في أكثر نسخ المشكاة، وهو عمل بالجائزين، والأول أصل وفيه وصل والثاني فرع وفيه فصل، قاله القاري. وهذا الكلام وإن كان خبراً وبياناً للواقع وإثباتاً لتفرد الله تعالى بالهداية والإضلال، لكنه في الحقيقة طلب وسؤال من الله للهداية والحفظ من الضلالة. والمعنى: لا هادي ولا مضل غيرك، فوفقني للهداية واحفظني من الضلالة، واعصمني من الغواية، فإنك على كل شيء قدير. (وأشهد أن لا إله إلا الله) الخ، أتبع الحمد بالشهادتين في الخطبة عملاً بما روي عن أبي هريرة مرفوعاً: ((كل خطبة ليس فيها شهادة كاليد الجذماء)) أخرجه أحمد وأبوداود في الأدب والترمذي في النكاح وحسنه. وأورد صيغة الجمع في الحمد والاستعانة والاستغفار والتعوذ نظراً إلى كثرة الآلاء والتقصيرات والذنوب وكشف الصفات. وأفرد الضمير في مقام التوحيد لأنه إثبات القدم وإسقاط الحدوث ومحل مشاهدة وحدة الذات وسقوط ما سوى الله، فأشار أولاً إلى التفرقة، وثانياً إلى الجمع، قال القاري: وقد يقال: إن الأفعال المتقدمة أمور ظاهرية يحكم بوجودها على الغير أيضاً بخلاف الشهادة فإنه أمر قلبي غيبي لا يعلم بحقيقته إلا هو - انتهى. يعني أن الشهادة خبر قاطع مطابق للواقع، فلم يكن للمصنف أن يحكم به بالجزم إلا على نفسه بخلاف الحمد وأخواته، والله أعلم. (شهادة) مفعول مطلق موصوف بقوله (تكون) الخ، والشهادة التي تكون سبباً للخلاص من العذاب وكفيلة لرفع الدرجات في الجنان إنما هي التي تكون بالصدق والإخلاص ومواطأة القلب وموافقة الظاهر والباطن مع الاستقامة عليها؛ لقوله عز وجل: {إن الذين قالوا ربنا الله ثم استقاموا … } الآية [41: 30] ، وقال القاري: والمعنى: أن الشهادة إذا تكررت وأنتجت ارتكاب الأعمال الصالحة واجتناب الأفعال الطالحة صارت سبباً لعلو الدرجات، وكانت مانعة عن الوقوع في الدركات، وبما قررناه اندفع ما يرد على المصنف من أن دخول الجنة بالإيمان ورفع الدرجات بالأعمال، ولكون التوفيق على هذا السبب من فضله لا ينافي قوله عليه الصلاة والسلام: ((لن ينجو أحد منكم بعمله)) . (عبده) إضافة تشريف وتخصيص، إشارة إلى كمال مرتبته في العبودية، وقدمه لأنه أشرف أوصافه وأعلاها وأفضلها وأغلاها، ولذا ذكره الله تعالى بهذا الوصف في كثير من المواضع فقال: {سبحان الذي أسرى بعبده} [17: 1] ، {تبارك الذي نزل الفرقان على عبده} [25: 1] ، {فأوحى إلى عبده ما أوحى} [53: 9] ، وفي الجمع بين الوصفين العبودية والرسالة تعريض للنصارى حيث غلوا في دينهم وأطروا في مدح نبيهم. (وطرق الإيمان) مبتدأ وقوله (قد عفت آثارها) خبر، أو الجملة حالية، والمعنى: أن الله أرسله في حال كمال احتياج الناس إليه صلى الله عليه وسلم، فإنهم كانوا في غاية من الضلالة والجهالة، إذ لم يكن حي على وجه الأرض من يعرفها إلا أفراد من أتباع عيسى عليه السلام، استوطنوا زوايا الخمول ورؤوس الجبال وآثروا الوحدة والاعتزال (قد عفت آثارها) أي اندرس ما بقي من رسومها، من عفا الشيء عَفوا وعفا وعُفُو إذا نقص ودرس وامّحى، ومنه قولهم (عليه العفاء) ، قال زهير:

… تحمل أهلها منها فبانوا … على آثار ما ذهب العفاء
এবং উচ্চ মর্যাদা লাভের নিশ্চয়তা দানকারী। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মদ (সা.) তাঁর বান্দা ও রাসূল, যাঁকে তিনি এমন এক সময়ে প্রেরণ করেছেন যখন ঈমানের পথসমূহ মুছে গিয়েছিল

ــ

এবং উচ্চমর্যাদাবান। ‘ইয়াহদিহি’ (যাকে তিনি হেদায়েত দেন) শব্দে প্রকাশ্য সর্বনামটি বিদ্যমান, কিন্তু ‘ইউদিলিলহু’ (যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন) শব্দে এটি মিশকাতের অধিকাংশ পাণ্ডুলিপিতে নেই। এটি উভয় প্রকার বৈধ ব্যাকরণিক পদ্ধতি অনুযায়ী আমল করার দৃষ্টান্ত। মোল্লা আলী কারী বলেন, প্রথমটি মূল এবং এতে ‘ওয়াসল’ (সংযোগ) আছে, আর দ্বিতীয়টি শাখা এবং তাতে ‘ফাসল’ (বিচ্ছেদ) রয়েছে। যদিও এই বক্তব্যটি সংবাদ প্রদান এবং বাস্তবতার বর্ণনা এবং হেদায়েত ও পথভ্রষ্টতার ক্ষেত্রে আল্লাহর এককত্ব সাব্যস্ত করার উদ্দেশ্যে, তবে প্রকৃত অর্থে এটি আল্লাহর কাছে হেদায়েত প্রাপ্তি এবং গোমরাহি থেকে রক্ষা পাওয়ার একটি প্রার্থনা ও আবেদন। এর অর্থ হলো: আপনি ছাড়া আর কোনো হেদায়েতকারী বা পথভ্রষ্টকারী নেই; সুতরাং আমাকে হেদায়েতের তাওফিক দিন, গোমরাহি থেকে রক্ষা করুন এবং ভ্রষ্টতা থেকে বাঁচিয়ে রাখুন; কারণ আপনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান। (আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই) ইত্যাদি। তিনি খুতবায় হামদ-এর পর শাহাদাতদ্বয় উল্লেখ করেছেন আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত মারফু হাদিসের ওপর আমল করার উদ্দেশ্যে: “যে খুতবায় শাহাদাত নেই তা কুষ্ঠরোগাক্রান্ত হাতের ন্যায়।” এটি আহমদ, আদব অধ্যায়ে আবু দাউদ এবং নিকাহ অধ্যায়ে তিরমিজি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি (তিরমিজি) একে হাসান বলেছেন। হামদ, ইসতিআনা (সাহায্য প্রার্থনা), ইসতিগফার এবং তাআউউয (আশ্রয় প্রার্থনা)-এর ক্ষেত্রে বহুবচন ব্যবহার করা হয়েছে নিয়ামতের আধিক্য, ত্রুটি-বিচ্যুতি, পাপরাশি এবং গুণাবলির প্রকাশের দিকে লক্ষ্য রেখে। কিন্তু তাওহীদের মকামে সর্বনামটিকে একবচন আনা হয়েছে; কারণ এটি অনাদিত্ব সাব্যস্ত করার এবং নশ্বরতাকে বিলুপ্ত করার স্থান, আর এটি সত্তার একত্ব প্রত্যক্ষ করার এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য সবকিছুর বিলোপ ঘটার ক্ষেত্র। তাই তিনি প্রথমে পার্থক্যের দিকে এবং পরে মিলনের (জামা‘) দিকে ইশারা করেছেন। মোল্লা কারী বলেন: বলা হয়ে থাকে যে, পূর্ববর্তী কাজগুলো বাহ্যিক বিষয় যা অন্যের ক্ষেত্রেও বিদ্যমান বলে বিচার করা যায়, কিন্তু শাহাদাত বা সাক্ষ্যদান একটি গোপন আধ্যাত্মিক বিষয় যার প্রকৃত স্বরূপ আল্লাহ ছাড়া কেউ জানেন না—সমাপ্ত। অর্থাৎ শাহাদাত হলো একটি চূড়ান্ত সংবাদ যা বাস্তবতার সাথে হুবহু মিলে যায়। তাই গ্রন্থকারের পক্ষে নিজের সত্তা ব্যতীত অন্য কারো ক্ষেত্রে দৃঢ়তার সাথে এটি সাব্যস্ত করা সম্ভব ছিল না, যা হামদ ও অন্যান্য বিষয়ের ক্ষেত্রে ভিন্ন ছিল। আল্লাহই ভালো জানেন। (শাহাদাতান) শব্দটি এখানে মাফঊলে মুতলাক, যা পরবর্তী বাক্য (তাকুনু...) দ্বারা বিশেষিত। যে সাক্ষ্যদান আযাব থেকে মুক্তির কারণ এবং জান্নাতে মর্যাদা বৃদ্ধির নিশ্চয়তা দানকারী, তা কেবল তখনই কার্যকর হয় যখন তা সত্যবাদিতা, ইখলাস, অন্তরের ঐকান্তিকতা এবং জাহির ও বাতিনের সামঞ্জস্যের সাথে দৃঢ়তার ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকে। কারণ মহান আল্লাহ বলেছেন: {নিশ্চয় যারা বলে আমাদের রব আল্লাহ, অতঃপর অবিচল থাকে … } আয়াত [৪১: ৩০]। মোল্লা কারী বলেন: এর অর্থ হলো, যখন সাক্ষ্যদান বারবার উচ্চারিত হয় এবং তা নেক আমল গ্রহণ ও মন্দ কাজ বর্জনের ফল দান করে, তখন তা উচ্চ মর্যাদা লাভের কারণ হয় এবং তা জাহান্নামের নিম্নস্তরে পতিত হওয়া থেকে রক্ষা করে। আমরা যা বর্ণনা করলাম তার মাধ্যমে লেখক সম্পর্কে উত্থাপিত এই আপত্তির নিরসন হয় যে—জান্নাতে প্রবেশ ঈমানের মাধ্যমে আর মর্যাদা বৃদ্ধি আমলের মাধ্যমে। আর এই কারণটির তাওফিক তাঁর অনুগ্রহ থেকে হওয়ার কারণে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর এই বাণীর সাথে কোনো বৈপরীত্য তৈরি হয় না: “তোমাদের কেউ কেবল নিজের আমল দ্বারা মুক্তি পাবে না।” (আবুদুহু - তাঁর বান্দা) এখানে সম্বন্ধটি সম্মান ও বিশিষ্টতা বুঝানোর জন্য, যা তাঁর দাসত্বের পূর্ণাঙ্গ মর্যাদার দিকে ইঙ্গিত করে। তিনি একে প্রথমে উল্লেখ করেছেন কারণ এটি তাঁর গুণাবলির মধ্যে সবচেয়ে সম্মানিত, উচ্চতর, শ্রেষ্ঠ এবং মূল্যবান। একারণেই আল্লাহ তাআলা অনেক স্থানে তাঁকে এই গুণেই উল্লেখ করেছেন। যেমন তিনি বলেছেন: {পবিত্র সেই সত্তা যিনি তাঁর বান্দাকে নৈশভ্রমণ করিয়েছেন} [১৭: ১], {বরকতময় সেই সত্তা যিনি তাঁর বান্দার ওপর ফুরকান নাযিল করেছেন} [২৫: ১], {অতঃপর তিনি তাঁর বান্দার প্রতি যা ওহী করার তা ওহী করলেন} [৫৩: ৯]। দাসত্ব ও রিসালাত—এই দুটি গুণের একত্রীকরণের মধ্যে নাসারাদের (খ্রিস্টানদের) প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে, যারা তাদের ধর্মে বাড়াবাড়ি করেছে এবং তাদের নবীর প্রশংসায় অতিরঞ্জিত করেছে। (ঈমানের পথসমূহ) এটি মুবতাদা এবং তাঁর পরবর্তী বাক্য (তার চিহ্নসমূহ মুছে গিয়েছিল) খবর, অথবা বাক্যটি হাল (অবস্থা) হিসেবে ব্যবহৃত। এর অর্থ হলো: আল্লাহ তাআলা তাঁকে এমন সময় প্রেরণ করেছেন যখন মানুষ তাঁর (সা.) প্রতি চরম মুখাপেক্ষী ছিল। কেননা তারা চরম গোমরাহি ও মূর্খতার মধ্যে নিমজ্জিত ছিল। তখন ভূপৃষ্ঠে এমন কোনো জীবিত ব্যক্তি ছিল না যে ঈমান সম্পর্কে জানত, কেবল ঈসা (আ.)-এর অনুসারীদের মধ্যে গুটি কয়েক ব্যক্তি ছাড়া, যারা লোকচক্ষুর অন্তরালে নির্জন কোণে এবং পাহাড়ের চূড়ায় বসতি স্থাপন করেছিল এবং একাকীত্ব ও বৈরাগ্যকে প্রাধান্য দিয়েছিল। (তার চিহ্নসমূহ মুছে গিয়েছিল) অর্থাৎ তার অবশিষ্ট নিদর্শনসমূহ বিলীন হয়ে গিয়েছিল। ‘আফা’ শব্দ থেকে এর উৎপত্তি, যার অর্থ কমে যাওয়া, বিলীন হওয়া বা মুছে যাওয়া। এখান থেকেই প্রবাদ রয়েছে ‘তার ওপর বিনাশ নেমে আসুক’। কবি যুহাইর বলেছেন:

… এর অধিবাসীরা এখান থেকে প্রস্থান করেছে এবং বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে … যা বিলীন হয়ে গেছে তার চিহ্নের ওপর।
(খণ্ড: ١) মিরআতুল মাফাতীহ শারহু মিশকাতিল মাসাবীহ (পৃষ্ঠা: ৪)
آثارها، وخبت أنوارها، ووهنت أركانها، وجهل مكانها، فشيد صلوات الله عليه وسلامه من معالمها ما عفا، وشفى من العليل في تأييد كلمة التوحيد من كان على شفا، وأوضح سبيل الهداية لمن أراد أن يسلكها، وأظهر كنوز السعادة لمن قصد أن يملكها.

ــ

(وخبت أنوارها) من خبا يخبو خبواً وخُبوا، يقال: "خبت النار أو الحدة" إذا خمدت وسكنت وطفئت، والمعنى: خفيت أنوارها وانطفأت بحيث لا يمكن اقتباس العلم المشبه بالنور في كمال الظهور (ووهنت) أي ضعفت حتى انعدمت (أركانها) من أساس التوحيد والنبوة والإيمان بالبعث والقيامة، وقيل: المراد الصلاة والزكاة وسائر العبادات (وجهل) بصيغة المجهول (مكانها) مبالغة في ظهور الجهل وغلبة الفسق وكثرة الظلم وقلة العدل، وقيل: المراد من طرق الإيمان الأنبياء والرسل والكتب المنَزلة عليهم وأتباعهم من العلماء والأولياء. ومن عفو آثارها وخبو أنوارها ووهن أركانها ترك العمل بما جاءوا به من الشرائع، وأمروا به من الأعمال والأخلاق والآداب، وأظهروا من العلوم والمعارف وترك التعلم والتخلق والتأدب بها. ومن جهل مكانها عدم معرفة مراتبهم ومنازلهم وتناسى حقوقهم، ويحتمل أن يكون المراد بطرق الإيمان العلوم والمعارف والأعمال الصالحة والآداب المرضية والمجاهدات النفسية والرياضات البدنية والصفات الجميلة والأخلاق الحميدة التي يبلغ المتصف بها مرتبة كمال الإيمان، وبعفاء الآثار وخبو الأنوار ووهن الأركان وجهل المكان عدم سلوك هذه الطرق وعدم المبالاة بها والاهتمام بتحصيلها وتكميلها، والله أعلم. (فشيد) أي رفع وأعلى وأظهر وقوي بما أعطيه من العلوم والمعارف التي لم يؤت أحد مثله فيما مضى (صلوات الله) أي أنواع رحمته (عليه وسلامه) وفي بعض النسخ: صلوات الله وسلامه عليه، وهي جملة معترضة دعائية. (من معالمها) جمع المعلم وهو العلامة (ما عفا) ما موصولة أو موضوعة مفعول شيد، ومن بيانية متقدمة، والمعنى: أظهر وبيّن ما اندرس وخفي من آثار طرق الإيمان وعلامات أسباب العرفان والإيقان، وإن لم يبصرها الذين ختم الله على قلوبهم وأعمى أبصارهم وأصم آذانهم مع كمال وضوحها وغاية ظهورها. (وشفى) عطف على شيد (من العليل) بيان مقدم لـ"من" رعاية للسجع (في تأييد كلمة التوحيد) متعلق بشفى ومفعوله قوله (من كان على شفا) أي وخلص من علة الجهل والشرك في تقوية كلمة الإيمان من كان مشرفاً على الموت والهلاك، أو كان على حرف من الصراط السوي ومنحرفاً عن الطريق المستقيم، أو أنقذ من كان قريباً من الوقوع في حفرة الجحيم، إشارة إلى قوله تعالى {وكنتم على شفا حفرة من النار فأنقذكم منها} [3: 103] ، والشفا حرف كل شيء وطرفه وحده (لمن أراد أن يسلكها) أنث الضمير لأن السبيل يذكر ويؤنث، أي بيّن وعيّن طريق الاهتداء إلى المطلوب لمن طلب وشاء من نفسه أن يدخل فيها (وأظهر كنوز السعادة) أي المعنوية وهي المعارف والعلوم والأعمال والأخلاق والشمائل والأحوال البهية المؤدية إلى الكنوز الأبدية والخزائن السرمدية من نعيم الجنة ورضوان الله ولقائه ورؤيته. (لمن قصد أن يملكها) وجه التخصيص أنهم هم المنتفعون بالإيضاح والإظهار، وإن كان بيان شرائع الإسلام وتعليم أمور الدين عاماً لجميع الناس
এর চিহ্নসমূহ বিলীন হয়ে গিয়েছিল, এর নূরসমূহ নিভে গিয়েছিল, এর স্তম্ভসমূহ দুর্বল হয়ে পড়েছিল এবং এর অবস্থান অজ্ঞাত হয়ে গিয়েছিল। অতঃপর আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন—তিনি এর নিদর্শনাবলির মধ্যে যা কিছু মিটে গিয়েছিল তা পুনরায় সুদৃঢ়ভাবে বিনির্মাণ করলেন, এবং তাওহীদের বাণীকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে সেই রুগ্ন ব্যক্তিকে আরোগ্য দান করলেন যে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে ছিল। তিনি হিদায়াতের পথকে সেই ব্যক্তির জন্য স্পষ্ট করলেন যে তাতে চলতে চায়, এবং সৌভাগ্যের ধনভাণ্ডারসমূহ তার নিকট প্রকাশ করলেন যে তার মালিক হতে ইচ্ছুক।

ــ

(এবং তার নূরসমূহ নিভে গিয়েছিল) এটি 'খাবা-ইয়াখবু' থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ নিভে যাওয়া বা প্রশমিত হওয়া। বলা হয়: "আগুন বা তেজ নিভে গেছে" যখন তা স্তিমিত ও শান্ত হয়ে যায়। এর মর্মার্থ হলো: তার নূর বা জ্যোতিসমূহ এমনভাবে অদৃশ্য ও নির্বাপিত হয়ে গিয়েছিল যে, পূর্ণ বিকাশের ক্ষেত্রে নূরের সাথে তুলনীয় ইলম বা জ্ঞান আহরণ করা আর সম্ভব ছিল না। (এবং দুর্বল হয়ে গিয়েছিল) অর্থাৎ এতই শক্তিহীন হয়ে পড়েছিল যে প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল (তার স্তম্ভসমূহ), যা তাওহীদ, নবুওয়াত এবং পুনরুত্থান ও কিয়ামতের বিশ্বাসের মূল ভিত্তিস্বরূপ। আবার কেউ কেউ বলেন: এর দ্বারা সালাত, যাকাত ও অন্যান্য ইবাদতসমূহ উদ্দেশ্য। (এবং অজ্ঞাত হয়ে গিয়েছিল) কর্মবাচ্যে ব্যবহৃত—(তার অবস্থান); এটি মূর্খতার প্রকাশ, পাপাচারের প্রাবল্য, যুলুমের আধিক্য এবং ন্যায়ের স্বল্পতার ক্ষেত্রে অতিশয়োক্তি হিসেবে ব্যবহৃত। অন্যমতে বলা হয়েছে: এর দ্বারা ঈমানের পথসমূহ অর্থাৎ আম্বিয়া, রাসূলগণ, তাঁদের ওপর অবতীর্ণ কিতাবসমূহ এবং তাঁদের অনুসারী উলামা ও আউলিয়াগণ উদ্দেশ্য। আর তার চিহ্নসমূহ বিলীন হওয়া, নূরসমূহ নিভে যাওয়া এবং স্তম্ভসমূহ দুর্বল হওয়ার অর্থ হলো—তাঁরা যে শরীয়ত নিয়ে এসেছিলেন তার ওপর আমল করা বর্জন করা, এবং তাঁরা যেসব কর্ম, চরিত্র ও আদব-কায়দার আদেশ দিয়েছিলেন এবং যেসব জ্ঞান ও মা'রিফাত প্রকাশ করেছিলেন, তা বর্জন করা এবং সেগুলো শেখা ও তা দিয়ে নিজেকে অলঙ্কৃত করা ছেড়ে দেওয়া। আর এর অবস্থান অজ্ঞাত হওয়ার অর্থ হলো তাদের মর্যাদা ও অবস্থান সম্পর্কে জ্ঞান না থাকা এবং তাদের প্রাপ্য অধিকারসমূহ ভুলে যাওয়া। এটাও সম্ভাবনা আছে যে, ঈমানের পথসমূহ বলতে জ্ঞান ও মা'রিফাত, নেক আমল, পছন্দনীয় আদব-কায়দা, নফসের মুজাহাদা, শারীরিক রিয়াযত এবং সুন্দর গুণাবলি ও প্রশংসনীয় চরিত্র উদ্দেশ্য, যা অর্জনকারী ঈমানের পূর্ণাঙ্গ স্তরে পৌঁছাতে পারে। আর চিহ্নসমূহ বিলীন হওয়া, নূরসমূহ নিভে যাওয়া, স্তম্ভসমূহ দুর্বল হওয়া এবং অবস্থান অজ্ঞাত হওয়ার অর্থ হলো এই পথসমূহে না চলা এবং এগুলোর প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করা এবং এগুলো অর্জন ও পূর্ণতা দানের বিষয়ে গুরুত্ব না দেওয়া; আর আল্লাহই ভালো জানেন। (অতঃপর তিনি সুদৃঢ় করলেন) অর্থাৎ তিনি সমুন্নত, উচ্চকিত, প্রকাশিত এবং শক্তিশালী করলেন সেই ইলম ও মা’রিফাতের মাধ্যমে যা তাঁকে দান করা হয়েছিল, যা ইতিপূর্বে আর কাউকেও প্রদান করা হয়নি। (আল্লাহর সালাত) অর্থাৎ তাঁর রহমতের প্রকারভেদসমূহ (তাঁর ওপর এবং তাঁর সালাম বর্ষিত হোক)। কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে আছে: 'সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক', যা একটি দুআসূচক মধ্যবর্তী বাক্য। (তার নিদর্শনাবলির মধ্য থেকে) এটি 'মা’লাম'-এর বহুবচন, যার অর্থ চিহ্ন বা নিদর্শন। (যা বিলীন হয়ে গিয়েছিল) এখানে 'যা' শব্দটি কর্ম হিসেবে ব্যবহৃত। এর অর্থ হলো: তিনি ঈমানের পথসমূহের চিহ্ন এবং মা’রিফাত ও ইয়াকিনের মাধ্যমসমূহের নিদর্শনাবলির মধ্য থেকে যা কিছু মিটে গিয়েছিল ও অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিল, তা প্রকাশ ও সুস্পষ্ট করলেন; যদিও যাদের অন্তরে আল্লাহ মোহর মেরে দিয়েছেন এবং যাদের চোখ অন্ধ ও কান বধির করে দিয়েছেন, তারা এর পূর্ণ স্পষ্টতা ও চূড়ান্ত প্রকাশ সত্ত্বেও তা দেখতে পায় না। (এবং তিনি আরোগ্য দান করলেন) এটি 'সুদৃঢ় করলেন' ক্রিয়ার সাথে সংযুক্ত। (রুগ্ন ব্যক্তিকে) এটি একটি ব্যাখ্যামূলক অংশ যা ছন্দের মিল রক্ষার্থে আগে আনা হয়েছে। (তাওহীদের বাণীকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে) এটি আরোগ্য দানের সাথে সংশ্লিষ্ট, আর এর কর্মপদ হলো (যে ধ্বংসের কিনারায় ছিল)। অর্থাৎ তিনি ঈমানের কালিমাকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে সেই ব্যক্তিকে জাহালত বা মূর্খতা ও শিরকের ব্যাধি থেকে মুক্তি দিয়েছেন, যে মৃত্যু ও ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছিল, অথবা যে সরল পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে বক্র পথে ছিল, অথবা তিনি তাকে রক্ষা করেছেন যে জাহান্নামের গর্তে পড়ে যাওয়ার সন্নিকটে ছিল। এটি মহান আল্লাহর এই বাণীর দিকে ইঙ্গিত: "এবং তোমরা অগ্নিকুণ্ডের কিনারায় ছিলে, অতঃপর তিনি তোমাদের তা থেকে রক্ষা করেছেন" [৩: ১০৩]। 'শাফা' মানে কোনো কিছুর কিনারা বা প্রান্ত। (যে তাতে চলতে চায় তার জন্য) এখানে সর্বনামটি স্ত্রীলিঙ্গ হয়েছে কারণ 'সাবীল' (পথ) শব্দটি আরবী ভাষায় পুংলিঙ্গ ও স্ত্রীলিঙ্গ উভয় ভাবেই ব্যবহৃত হয়। অর্থাৎ যে ব্যক্তি হিদায়াতের পথ অন্বেষণ করে এবং তাতে প্রবেশ করতে চায়, তার জন্য তিনি অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানোর পথ স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট করে দিয়েছেন। (এবং তিনি সৌভাগ্যের ধনভাণ্ডারসমূহ প্রকাশ করে দিয়েছেন) অর্থাৎ আধ্যাত্মিক সম্পদসমূহ, যা হলো মা’রিফাত, ইলম, আমল, আখলাক, উত্তম গুণাবলি এবং চমৎকার আধ্যাত্মিক অবস্থা; যা জান্নাতের নেয়ামত, আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং তাঁর দিদার ও দর্শনের মতো চিরস্থায়ী ও শাশ্বত ধনভাণ্ডারের দিকে নিয়ে যায়। (যে তা লাভ করার সংকল্প করে তার জন্য) এখানে বিশেষায়িত করার কারণ হলো, এই স্পষ্টীকরণ ও প্রকাশের মাধ্যমে তারাই প্রকৃত উপকৃত হয়, যদিও ইসলামের বিধিবিধানের বর্ণনা এবং দ্বীনের বিষয়াবলির শিক্ষা সকল মানুষের জন্যই সাধারণ।
(খণ্ড: ١) মিরআতুল মাফাতীহ শারহু মিশকাতিল মাসাবীহ (পৃষ্ঠা: ৫)
أما بعد: فإن التمسك بهديه لا يستتب إلا بالاقتفاء لما صدر من مشكاته، والاعتصام بحبل الله لا يتم إلا ببيان كشفه، وكان كتاب المصابيح

ــ

لمن أراد سلوكها وقصد تملكها، ولمن أعرض عنها، كقوله تعالى: {هدى للمتقين} . (أما بعد أتى به اقتداء به صلى الله عليه وسلم وبأصحابه، فإنهم كانوا يأتون به في خطبهم للانتقال من أسلوب إلى أسلوب آخر، ويسمى فصل الخطاب، واختلف في أول من قالها، فقيل: داود عليه السلام، رواه الطبراني مرفوعاً من حديث أبي موسى الأشعري، وفي إسناده ضعف، وفيه أقوال أخرى ذكرها الحافظ في الفتح، و (أما) لتفصيل المجمل، وهو كلمة شرط محذوف فعله وجوباً، و (بعد) من الظروف الزمانية متعلق بالشرط المحذوف، وهو مبني على الضم لقطعه عن الإضافة والمضاف إليه منوي، والتقدير: مهما يذكر شيء من الأشياء بعد ما ذكر من البسملة والحمدلة والصلاة والثناء (فإن التمسك بهديه) بفتح الهاء وسكون الدال أي طريقه وسيرته، يقال ما أحسن هديه أي طريقه وهدى هديه أي سيرته (لا يستتب) بتشديد الباء أي لا يستقيم ولا يستمر، أو لا يتأتى ولا يتهيأ (إلا بالاقتفاء) أي بالاتباع (لما صدر) أي ظهر (من مشكاته) أي صدره، والمشكاة هي الكوة في الجدار غير النافذة، يوضع فيها المصباح أي السراج، استعيرت لصدره صلى الله عليه وسلم، شبه صدره الذي يفيض النور المقتبس من القلب على الخلق بالمشكاة التي فيها المصباح، وشبه قلبه المنور بنور الله تعالى بالمصباح المضيء (والاعتصام) بالنصب، ويجوز الرفع، أي التمسك والتشبث (بحبل الله) أي القرآن لما ورد في حديث الحارث الأعور عن علي مرفوعاً في صفة القرآن ((هو حبل الله المتين وصراطه المستقيم)) أخرجه الترمذي، وروى الحافظ أبوجعفر الطبري بسنده عن أبي سعيد مرفوعاً ((كتاب الله هو حبل الله الممدود من السماء إلى الأرض)) ، وروي من حديث عبد الله بن مسعود وزيد بن أرقم وحذيفة نحو ذلك. استعار الحبل للقرآن من حيث أن العمل بالقرآن سبب لحصول العلوم والمعارف التي هي وسيلة إلى الحياة الأبدية، كما أن الحبل وسيلة إلى الوصول إلى الماء الذي هو سبب للحياة الدنيوية، أو من حيث أن التمسك بالقرآن سبب للنجاة عن التردي والخلاص من الوقوع في دركات جهنم، كما أن التمسك بالحبل سبب للسلامة عن التردي في البئر عند الاحتياج إلى الماء (إلا ببيان كشفه) أي السنة النبوية، والإضافة بيانية، قال الله تعالى: {وأنزلنا إليك الذكر لتبين للناس ما نزل إليهم} [16: 44] ، ولا شك أنه لا يمكن الوصول إلى حقيقة معاني القرآن ولا يتيسر فهم مقاصده إلا بتبيينه صلى الله عليه وسلم وإيضاحه، فكان هو مبيناً لمجملات القرآن ومفسراً لمشكلاته، وليس بيانه وتفسيره إلا في أحاديثه، فكل حديث ورد في الصلاة فهو بيان وتفسير لقوله تعالى: {وأقيموا الصلاة} فإن الصلاة مجملة لم يبين أوقاتها وأعدادها وأركانها وشرائطها وواجباتها وسننها ومفسداتها إلى السنة، وكذا الزكاة والصوم والحج (وكان كتاب المصابيح) قيل: إن البغوي لم يسم هذا الكتاب بالمصابيح نصاً منه، وإنما صار هذا الاسم علماً له بالغلبة من حيث أنه ذكر بعد قوله (أما بعد) فهذه ألفاظ صدرت عن صدر النبوة، وسنن سارت عن معدن الرسالة، وأحاديث جاءت عن سيد المرسلين وخاتم النبيين هن مصابيح الدجى … الخ، وهو من أجمع الكتب في باب الحديث فإنه جمع فيه أحاديث الأحكام على ترتيب الأبواب
অতঃপর: নিশ্চয়ই তাঁর প্রদর্শিত পথের অনুসরণ সুদৃঢ় হয় না তাঁর নবুওয়াতের প্রদীপাধার থেকে যা বিচ্ছুরিত হয়েছে তার অনুসৃতি ব্যতিরেকে, এবং আল্লাহর রজ্জুকে আঁকড়ে ধরা পূর্ণতা পায় না তাঁর ব্যাখ্যা ও উন্মোচন ব্যতীত। আর ‘মাসাবীহ’ গ্রন্থটি ছিল—

—

যারা সেই পথে চলতে চায় এবং এর ওপর অধিকার অর্জনে সচেষ্ট হয় তাদের জন্য; আর যারা এ থেকে বিমুখ হয়েছে, তাদের জন্য এটি মহান আল্লাহর বাণীর মতো: {পরহেজগারদের জন্য পথপ্রদর্শক}। (অতঃপর—শব্দটি তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণের অনুসরণে ব্যবহার করেছেন। কেননা তারা তাঁদের ভাষণে এক বিষয় থেকে অন্য বিষয়ে গমনের জন্য এটি ব্যবহার করতেন, যাকে ‘ফাসলুল খিতাব’ বা চূড়ান্ত ভাষণ বলা হয়। এটি সর্বপ্রথম কে বলেছেন তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে; বলা হয়: তিনি ছিলেন দাউদ আলাইহিস সালাম—তাবারানি আবু মুসা আশআরী রাদিয়াল্লাহু আনহুর সূত্রে এটি মারফু হাদিস হিসেবে বর্ণনা করেছেন, তবে এর সনদে দুর্বলতা রয়েছে। এ বিষয়ে হাফেজ ইবনে হাজার ‘আল-ফাতহ’ গ্রন্থে আরও কিছু মত উল্লেখ করেছেন। আর ‘আম্মা’ শব্দটি সংক্ষেপিত বিষয়ের বিস্তারিত বর্ণনার জন্য ব্যবহৃত হয়, যা একটি উহ্য শর্তের শব্দ যার ক্রিয়া উহ্য রাখা আবশ্যক। আর ‘বাদু’ একটি কালবাচক শব্দ যা উক্ত উহ্য শর্তের সাথে সংশ্লিষ্ট। এটি যম্মাহ (পেশ) যুক্ত হয়েছে কারণ এর পরবর্তী সম্বন্ধপদ (ইজাফাত) উহ্য রাখা হয়েছে এবং সম্বন্ধিত পদের অর্থ মনে মনে সংকল্পবদ্ধ। এর মূল ভাবার্থ হলো: বিসমিল্লাহ, হামদ, দরুদ ও প্রশংসার পর যা কিছু আলোচনা করা হবে (নিশ্চয়ই তাঁর হেদায়েতের ওপর অবিচল থাকা)—এখানে ‘হে’ বর্ণে ফাতহ এবং ‘দাল’ বর্ণে সুকুনসহ, যার অর্থ তাঁর পথ ও জীবন পদ্ধতি। বলা হয়, তাঁর পথ কতই না উত্তম এবং তাঁর হেদায়েত বা জীবন চরিত কতই না শ্রেষ্ঠ! (সুদৃঢ় হয় না)—‘বা’ বর্ণে তাশদীদসহ, অর্থাৎ সঠিক ও স্থায়ী হয় না, অথবা অর্জিত ও প্রস্তুত হয় না (অনুসরণ করা ব্যতীত) অর্থাৎ অনুগামী হওয়া ব্যতীত (যা নির্গত হয়েছে) অর্থাৎ যা প্রকাশিত হয়েছে (তাঁর প্রদীপাধার থেকে) অর্থাৎ তাঁর বক্ষ থেকে। প্রদীপাধার হলো দেয়ালের সেই কুলঙ্গি বা তাক যা ছিদ্রহীন, যেখানে চেরাগ বা প্রদীপ রাখা হয়। এটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বক্ষদেশের জন্য রূপক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। তাঁর বক্ষকে, যা অন্তরের জ্যোতি দ্বারা সৃষ্টির ওপর আলোকবর্তিকা বিলিয়ে দেয়, সেই প্রদীপাধারের সাথে তুলনা করা হয়েছে যার মধ্যে প্রদীপ থাকে। আর আল্লাহর নূরে আলোকিত তাঁর অন্তরকে উজ্জ্বল প্রদীপের সাথে তুলনা করা হয়েছে। (এবং আঁকড়ে ধরা)—এটি নসব (যবর) যোগে এবং রফা (পেশ) যোগেও পড়া বৈধ, যার অর্থ দৃঢ়ভাবে ধারণ ও অবলম্বন করা (আল্লাহর রজ্জুকে) অর্থাৎ কুরআনকে। যেমনটি হারেস আল-আওয়ার কর্তৃক বর্ণিত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর মারফু হাদিসে কুরআনের বর্ণনায় এসেছে: “এটি আল্লাহর সুদৃঢ় রজ্জু এবং তাঁর সরল পথ” (তিরমিজি)। হাফেজ আবু জাফর তাবারানি তাঁর সনদে আবু সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন: “আল্লাহর কিতাব হলো আসমান থেকে জমিন পর্যন্ত বিস্তৃত আল্লাহর রজ্জু।” আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ, যায়েদ ইবনে আরকাম এবং হুজাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। কুরআনকে রজ্জুর সাথে রূপকভাবে তুলনা করা হয়েছে এ কারণে যে, কুরআনের ওপর আমল করা জ্ঞান ও প্রজ্ঞা অর্জনের মাধ্যম যা অনন্ত জীবনের উপায়—যেমন রজ্জু হলো পানি সংগ্রহের মাধ্যম যা পার্থিব জীবনের কারণ। অথবা এ কারণে যে, কুরআনকে আঁকড়ে ধরা ধ্বংস থেকে মুক্তি এবং জাহান্নামের অতল গহ্বর থেকে বাঁচার উপায়—যেমন পানির প্রয়োজনে কূপে পড়ে যাওয়া থেকে বাঁচার জন্য রজ্জু অবলম্বন করা হয়। (তাঁর ব্যাখ্যা ও উন্মোচন ব্যতীত) অর্থাৎ সুন্নাতে নববী। এই সংযুক্তিটি ব্যাখ্যামূলক। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আমি আপনার প্রতি কুরআন অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি মানুষের জন্য তা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেন যা তাদের প্রতি অবতীর্ণ করা হয়েছে} [১৬: ৪৪]। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ব্যাখ্যা ও স্পষ্টীকরণ ব্যতীত কুরআনের প্রকৃত অর্থ উপলব্ধি করা এবং এর গূঢ় উদ্দেশ্যাবলি বোঝা সম্ভব নয়। সুতরাং তিনিই কুরআনের সংক্ষেপিত বিষয়গুলোর ব্যাখ্যাকারী এবং জটিল বিষয়গুলোর উন্মোচনকারী। আর তাঁর এই ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ কেবল তাঁর হাদিসসমূহের মধ্যেই নিহিত। সুতরাং সালাত সম্পর্কে বর্ণিত প্রতিটি হাদিসই মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা সালাত কায়েম করো}-এর ব্যাখ্যা ও বিশদ বর্ণনা। কেননা সুন্নাহ ব্যতীত সালাতের সময়সূচি, রাকাত সংখ্যা, রুকনসমূহ, শর্তাবলি, ওয়াজিব, সুন্নাত এবং সালাত ভঙ্গের কারণসমূহ স্পষ্ট হতো না। জাকাত, রোজা এবং হজের ক্ষেত্রেও বিষয়টি অনুরূপ। (আর ‘মাসাবীহ’ গ্রন্থটি ছিল)—বলা হয় যে, ইমাম বাগাভী স্বয়ং এই কিতাবটির নাম স্পষ্টভাবে ‘মাসাবীহ’ রাখেননি, বরং ‘অতঃপর’ শব্দের পর তাঁর বক্তব্যের কারণে এটি এই নামে পরিচিতি লাভ করেছে। তাঁর বক্তব্য ছিল: “এই শব্দগুলো নবুওয়াতের বক্ষ থেকে নির্গত এবং এই সুন্নাতগুলো রিসালাতের খনি থেকে উৎসারিত, আর এই হাদিসগুলো রাসুলগণের সর্দার ও নবীকুল শিরোমণির পক্ষ থেকে আগত—এগুলো অন্ধকারের প্রদীপসমূহ...” ইত্যাদি। এটি হাদিস শাস্ত্রের একটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ সংকলন, যেখানে তিনি অধ্যায়ভিত্তিক বিধান সংক্রান্ত হাদিসসমূহ একত্রিত করেছেন।
(খণ্ড: ١) মিরআতুল মাফাতীহ শারহু মিশকাতিল মাসাবীহ (পৃষ্ঠা: ৬)
ــ

الفقهية بحيث يستحسنه الفقيه، ووضع الترغيب والترهيب على ما يقتضيه العلم ويرتضيه، ولو فكر أحد في تغيير باب عن موضعه لم يجد له موضعاً أنسب مما اقتضى رأيه، ولذلك عكف عليه المتعبدون، واعتنى بشأنه العلماء بالقراءة والتعليق، فله شروح كثيرة، ذكرها جلبي في كشف الظنون، لكنه لطلب الاختصار ترك ذكر الأسانيد اعتماداً على نقل الأئمة، ولم يذكر كثيراً من الصحابة رواة الآثار، ولا تعرض لتخريج تلك الأخبار، بل قسم أحاديث كل باب إلى صحاح وحسان، واصطلح على أن جعل الصحاح ما هو في الصحيحين أو أحدهما، والحسان ما ليس في واحد منهما، والتزم أن ما كان فيها من ضعيف أو غريب أشار إليه ونبّه عليه، وإن ما كان موضوعاً أو منكراً لم يذكره ولا يشير إليه، هذا هو المشروط في الخطبة، لكن ذكر في أواخر باب مناقب قريش حديثاً وقال في آخره: منكر، وقيل: قد ألحقه بعض المحدثين، قال النووي في التقريب تبعاً لابن الصلاح: أما تقسيم البغوي أحاديث المصابيح إلى حسان وصحاح مريداً بالصحاح ما في الصحيحين وبالحسان ما في السنن فليس بصواب؛ لأن في السنن الصحيح والحسن والضعيف والمنكر - انتهى. قال السيوطي في التدريب (ص54) : ومن أطلق عليها الصحيح كقول السلفي في الكتب الخمسة اتفق على صحتها علماء المشرق والمغرب، وكإطلاق الحاكم على الترمذي الجامع الصحيح، فقد تساهل. قال العراقي: وأجيب عن البغوي بأنه يبين عقب كل حديث الصحيح والحسن والغريب، قال: وليس كذلك، فإنه لا يبين الصحيح من الحسن فيما أورده من السنن، بل يسكت ويبين الغريب والضعيف غالباً، فالإيراد باقٍ في مزجه صحيح ما في السنن بما فيه من الحسن، وقال شيخ الإسلام: أراد ابن الصلاح أن يعرف أن البغوي اصطلح لنفسه أن يسمي السنن الأربعة الحسان، ليغتني بذلك عن أن يقول عقب كل حديث أخرجه أصحاب السنن، فإن هذا اصطلاح حادث ليس جارياً على المصطلح العرفي - انتهى. قلت: وقد وقع له بعد ذلك الاصطلاح أن ذكر أحاديث من الصحاح ليست في أحد من الصحيحين وأحاديث من الحسان هي في أحد الصحيحين، وأدخل في الحسان أحاديث ولم ينبه عليها، وهي ضعيفة واهية في غاية الضعف كما ستقف عليه إن شاء الله تعالى. ثم إن الشيخ ولي الدين محمد بن عبد الله الخطيب كمل المصابيح وذيل أبوابه، فذكر الصحابي الذي روى الحديث عنه، وذكر الكتاب الذي أخرجه منه، وزاد على كل باب من صحاحه وحسانه إلا نادراً فصلاً ثالثاً، وسماه "مشكاة المصابيح"، فصار كتاباً حافلاً كما ترى، وله تصرفات أخرى أيضاً في المصابيح، كما سيجيء ذكره في كلامه، نعم، لم يتعرض هو كالبغوي للكلام على الأحاديث التي أوردها من السنن والمسانيد التي لم يلتزم مصنفوها الصحة في الغالب طلباً للاختصار، ولا يخفى أنه يسوغ العمل بأحاديثها التي لم يقع التصريح بتحسينها أو تصحيحها منهم أو من غيرهم ممن يعتمد عليه إلا بعد البحث عنها، فما كان منها صحيحاً أو حسناً أو ضعيفاً يحتمل ضعفه يقبل، وما لم يكن كذلك يرد. قال في كشف الظنون: قيل عدد أحاديث المصابيح أربعة آلاف وسبعمائة وتسعة عشر حديثاً، منها المختص بالبخاري ثلاثمائة وخمسة وعشرون حديثاً، وبمسلم ثمانمائة وخمسة وسبعون حديثاً، ومنها المتفق عليها ألف وإحدى وخمسون حديثاً، والباقي من كتب أخرى، وقال ابن الملك: إن عدد الأحاديث المذكورة فيه أربعة آلاف وأربعمائة وأربعة وثمانون حديثاً، منها ما هو من الصحاح ألفان وأربعمائة وأربعة وثلاثون حديثاً.

ফিকহী ক্রমবিন্যাস এমনভাবে করা হয়েছে যা ফকিহগণের নিকট প্রশংসনীয় এবং তাতে উৎসাহদান ও ভীতিপ্রদর্শনমূলক বিষয়গুলো ইলমী চাহিদা ও গ্রহণযোগ্যতা অনুযায়ী উপস্থাপন করা হয়েছে। যদি কেউ কোনো অধ্যায়কে তার নির্ধারিত স্থান থেকে পরিবর্তন করার চিন্তা করে, তবে তিনি লেখকের নির্ধারিত স্থানের চেয়ে অধিক উপযুক্ত কোনো স্থান পাবেন না। একারণেই ইবাদতগুজার ব্যক্তিগণ এতে আত্মনিয়োগ করেছেন এবং আলিমগণ পাঠ ও টীকা লিখনের মাধ্যমে এর প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন। এর অনেক ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছে, যা চালবি 'কাশফুয যুনুন' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। তবে তিনি সংক্ষেপণের তাগিদে ইমামগণের বর্ণনার ওপর নির্ভর করে সনদ বা বর্ণনাসূত্র উল্লেখ বর্জন করেছেন। তিনি হাদীস বর্ণনাকারী অধিকাংশ সাহাবীর নাম উল্লেখ করেননি এবং হাদীসগুলোর তাখরীজ বা উৎস নির্ণয় করেননি। বরং তিনি প্রতিটি অধ্যায়ের হাদীসগুলোকে 'সহীহ' ও 'হাসান'—এই দুই ভাগে বিভক্ত করেছেন। তিনি এই পরিভাষা নির্ধারণ করেছেন যে, যা বুখারী ও মুসলিম বা এই দুটির কোনো একটিতে রয়েছে তাকে 'সহীহ' এবং যা এই দুটির কোনোটিতে নেই তাকে 'হাসান' হিসেবে গণ্য করবেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, এতে কোনো যয়ীফ বা দুর্বল কিংবা গরীব হাদীস থাকলে তিনি সেদিকে ইঙ্গিত করবেন এবং সতর্ক করে দেবেন। আর যা মাউযূ বা জাল কিংবা মুনকার, তা তিনি উল্লেখ করবেন না এবং তার প্রতি কোনো ইঙ্গিতও দেবেন না। এটিই ছিল তাঁর ভূমিকার শর্ত। তবে তিনি 'মানাকিবে কুরাইশ' অধ্যায়ের শেষে একটি হাদীস উল্লেখ করেছেন এবং তার শেষে বলেছেন: এটি 'মুনকার'। বলা হয় যে, কোনো কোনো মুহাদ্দিস এটি পরবর্তীকালে যুক্ত করেছেন। ইমাম নববী 'আত-তাকরীব' গ্রন্থে ইবনে সালাহকে অনুসরণ করে বলেছেন: ইমাম বাগভী কর্তৃক 'মাসাবীহ' এর হাদীসগুলোকে 'হাসান' ও 'সহীহ' ভাগে বিভক্ত করা—যেখানে তিনি সহীহ দ্বারা বুখারী ও মুসলিমের হাদীস এবং হাসান দ্বারা সুনান গ্রন্থগুলোর হাদীস বুঝিয়েছেন—তা সঠিক নয়। কারণ সুনান গ্রন্থসমূহে সহীহ, হাসান, যয়ীফ এবং মুনকার—সব ধরণের হাদীসই বিদ্যমান। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত) ইমাম সুয়ূতী 'আত-তাদরীব' (পৃষ্ঠা ৫৪) গ্রন্থে বলেন: যারা এগুলোর ওপর সহীহ শব্দ প্রয়োগ করেছেন—যেমন হাফেজ সালাফী 'কুতুবে খামসা' সম্পর্কে বলেছেন যে, পূর্ব ও পশ্চিমের আলিমগণ এগুলোর সহীহ হওয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছেন, এবং যেমন ইমাম হাকেম তিরমিযী শরীফকে 'আল-জামি আস-সহীহ' বলে অভিহিত করেছেন—তারা এক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শন করেছেন। ইমাম ইরাকী বলেন: বাগভীর পক্ষ থেকে উত্তর দেওয়া হয়েছে যে, তিনি প্রতিটি হাদীসের পরেই তার সহীহ, হাসান বা গরীব হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করেন। ইরাকী বলেন: বিষয়টি এমন নয়। কেননা তিনি সুনান গ্রন্থসমূহ থেকে উদ্ধৃত হাদীসগুলোর ক্ষেত্রে সহীহ ও হাসানের পার্থক্য স্পষ্ট করেন না, বরং চুপ থাকেন এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে কেবল গরীব ও যয়ীফ হাদীসগুলো স্পষ্ট করেন। ফলে সুনান গ্রন্থসমূহের সহীহ হাদীসগুলোকে হাসান হাদীসের সাথে মিশ্রিত করার আপত্তিটি বহাল থেকে যায়। শাইখুল ইসলাম বলেন: ইবনে সালাহ মূলত এটি বুঝাতে চেয়েছেন যে, ইমাম বাগভী নিজের জন্য একটি নিজস্ব পরিভাষা ঠিক করে নিয়েছেন যে তিনি সুনান চতুষ্টয়ের হাদীসগুলোকে 'হাসান' নামে অভিহিত করবেন, যাতে প্রতিটি হাদীসের শেষে 'এটি সুনান সংকলকগণ বর্ণনা করেছেন' বলার প্রয়োজন না হয়। তবে এটি একটি নতুন পরিভাষা যা প্রচলিত সাধারণ পরিভাষার সাথে সংগতিপূর্ণ নয়। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত) আমি (গ্রন্থকার) বলছি: উক্ত পরিভাষা নির্ধারণের পর তাঁর ক্ষেত্রে এমনটি ঘটেছে যে, তিনি 'সহীহ' অনুচ্ছেদে এমন হাদীস উল্লেখ করেছেন যা বুখারী-মুসলিমের কোনোটিতেই নেই, আবার 'হাসান' অনুচ্ছেদে এমন হাদীস এনেছেন যা বুখারী বা মুসলিমের অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া তিনি 'হাসান' বিভাগে এমন কিছু হাদীস অন্তর্ভুক্ত করেছেন যেগুলোর ব্যাপারে তিনি সতর্ক করেননি, অথচ সেগুলো অত্যন্ত দুর্বল ও ভিত্তিহীন, যা আপনি ইনশাআল্লাহ পরবর্তীতে জানতে পারবেন। এরপর শাইখ ওয়ালীউদ্দীন মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-খাতীব 'মাসাবীহ' গ্রন্থটিকে পূর্ণতা দান করেন এবং এর অধ্যায়গুলোতে সংযোজন ঘটান। তিনি হাদীস বর্ণনাকারী সাহাবীর নাম উল্লেখ করেন এবং যে কিতাব থেকে হাদীসটি গৃহীত হয়েছে তাও উল্লেখ করেন। তিনি প্রতিটি অধ্যায়ের 'সহীহ' ও 'হাসান' অংশের সাথে—খুব অল্প ব্যতিক্রম বাদে—একটি তৃতীয় পরিচ্ছেদ যুক্ত করেন এবং গ্রন্থটির নাম দেন 'মিশকাতুল মাসাবীহ'। ফলে এটি একটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ গ্রন্থে পরিণত হয়েছে যেমনটি আপনি দেখছেন। 'মাসাবীহ' গ্রন্থের ওপর তাঁর আরও কিছু বিন্যাসগত কাজ রয়েছে যা তাঁর আলোচনার প্রেক্ষিতে সামনে আসবে। হ্যাঁ, সংক্ষেপণের তাগিদে তিনি ইমাম বাগভীর মতোই সুনান ও মাসানীদ গ্রন্থসমূহ থেকে উদ্ধৃত হাদীসগুলোর ওপর কোনো মন্তব্য করেননি, যেগুলোর সংকলকগণ সাধারণত সহীহ হওয়ার শর্তারোপ করেননি। এটি অস্পষ্ট নয় যে, ওইসব হাদীস—যাদের ব্যাপারে মূল সংকলক বা নির্ভরযোগ্য অন্য কেউ সহীহ বা হাসান হওয়ার স্পষ্ট ঘোষণা দেননি—সেগুলোর ওপর আমল করা কেবল অনুসন্ধানের পরেই বৈধ হতে পারে। সুতরাং সেগুলোর মধ্যে যা সহীহ, হাসান অথবা সহনীয় পর্যায়ের যয়ীফ, তা গ্রহণযোগ্য হবে। আর যা এমন নয়, তা প্রত্যাখ্যাত হবে। 'কাশফুয যুনুন' গ্রন্থে বলা হয়েছে: 'মাসাবীহ' এর হাদীস সংখ্যা চার হাজার সাতশ ঊনিশটি। এর মধ্যে কেবল বুখারীর হাদীস ৩২৫টি, কেবল মুসলিমের ৮৭৫টি, এবং ১০৫১টি হাদীস মুত্তাফাকুন আলাইহি। অবশিষ্ট হাদীসগুলো অন্যান্য কিতাব থেকে নেওয়া। ইবনুল মালিক বলেন: এতে বর্ণিত মোট হাদীস সংখ্যা চার হাজার চারশ চুরাশিটি, যার মধ্যে দুই হাজার চারশ চৌত্রিশটি হাদীস 'সহীহ' পর্যায়ের।

(খণ্ড: ١) মিরআতুল মাফাতীহ শারহু মিশকাতিল মাসাবীহ (পৃষ্ঠা: ৭)
الذي صنفه الإمام محي السنة قامع البدعة أبومحمد الحسين بن مسعود الفراء البغوي - رفع الله

ــ

ومنها ما هو من الحسان، وهو ألفان وخمسون حديثاً. (محي السنة) روي أنه لما جمع كتابه المسمى بشرح السنة رأى النبي صلى الله عليه وسلم في المنام فقال له "أحياك الله كما أحييت سنتي"، فصار هذا اللقب علماً له بطريق الغلبة (قامع البدعة) أي قاطعها ودافع أهلها أو مبطلها ومميتها (أبومحمد الحسين بن مسعود) هو الإمام الحافظ المجتهد المحدث المفسر أبومحمد الحسين بن مسعود بن محمد الشافعي صاحب معالم التنْزيل في التفسير، وشرح السنة، والمصابيح، والجمع بين الصحيحين في الحديث والتهذيب في الفقه، وغير ذلك من التصانيف الحسان، كان بحراً في العلوم، إماماً في الفقه والحديث والتفسير، أخذ الفقه عن القاضي حسين بن محمد صاحب التعليقة في الفقه، وحدث عنه، وعن أبي الحسن عبد الرحمن بن محمد الداودي، ويعقوب بن أحمد الصيرفي وغيرهم، وروى عنه أهل مرو وغيرهم، وبورك له في تصانيفه لقصده الصالح، فإنه كان من العلماء الربانيين، كان ذا تعبد ونسك وقناعة باليسير، وكان يأكل كسرة وحدها فعذلوه، فصار يأكلها بزيت، قال القاري: كان مفسراً محدثاً فقيهاً. قال بعض مشايخنا: ليس له قول ساقط، وكان عابداً زاهداً جامعاً بين العلم والعمل على طريقة السلف الصالحين. توفي بمروالروذ في شوال سنة 516هـ ست عشرة وخمسمائة، ودفن عند شيخه القاضي حسين بمقبرة الطالقاني، ولعله بلغ ثمانين سنة، وارجع إلى تذكرة الحفاظ (ج4: ص54-55) ، ووفيات الأعيان (ج1: ص145-146) ، وإتحاف النبلاء (244) ، وأشعة اللمعات (ج1: ص28-29) .

(الفراء) بالرفع على أنه صفة لأبي محمد الحسين كما يظهر من كلام ابن خلكان حيث قال: أبومحمد الحسين بن مسعود بن محمد المعروف بالفراء البغوي الفقيه، وقيل بالجر نعت لأبيه نسبة إلى عمل الفراء وصنعها وبيعها، قال الذهبي في ترجمة البغوي: هو أبومحمد الحسين بن مسعود بن محمد بن الفراء الشافعي، قال: وكان أبوه يعمل الفراء ويبيعها، قال في الإتحاف: يقال له الفراء وابن الفراء أيضاً، قال القاري: وهو غير الفراء النحوي المشهور (البغوي) بالرفع صفة للحسين؛ لأن المقصود ببيان النسبة البلدية وكذا الولادية والصناعية عند المحدثين هو العلم الأول إلا نادراً، والبغوي بفتح الباء الموحدة والغين المعجمة وبعدها واو، هذه النسبة إلى بلدة بخراسان بين مرو وهرات يقال له بغ وبغشور بفتح الباء الموحدة وسكون الغين المعجمة وضم الشين وبعدها واو ساكنة ثم راء معرب "باغ كور"، وهذه النسبة شاذة على خلاف القياس، قاله السمعاني في كتاب الأنساب، وقيل العلم المركب تركيباً مزجياً يحذف عجزه وينسب إلى صدره أو ينسب إليه برمته من دون حذف، فتقول: بَعلِيٌّ ومعدَوِيٌّ وبعلبكي ومعدي كربي في النسبة إلى بعلبك ومعدي كرب، والبغوي من هذا القبيل، وإنما جاءت الواو في النسبة إجراء للفظه بغ مجرى محذوف العجز كالدموي، فإنه يرد المحذوف إلى الاسم المحذوف منه إذا بقي على حرفين من أصوله فتقول في أب وأخ: أبوي وأخوي، ويجوز في مثل يد ودم أن يرد المحذوف، وهو الأفصح، وحينئذٍ إذا كان ياء قلبت واواً فيقال: يدوي ودموي، ويجوز النسبة
যা ইমাম মুহিউস সুন্নাহ (সুন্নাতকে উজ্জীবিতকারী), বিদআতকে দমনকারী, আবু মুহাম্মদ আল-হুসাইন ইবনে মাসউদ আল-ফাররা আল-বাগাউই রচনা করেছেন - আল্লাহ তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি করুন।

--

আর এর মধ্যে কিছু রয়েছে 'হাসান' পর্যায়ের হাদিস, যার সংখ্যা দুই হাজার পঞ্চাশটি। (মুহিউস সুন্নাহ) বর্ণিত আছে যে, তিনি যখন 'শারহুস সুন্নাহ' নামক তাঁর কিতাবটি সংকলন করলেন, তখন স্বপ্নে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন, "আল্লাহ আপনাকে দীর্ঘজীবী করুন যেমনটি আপনি আমার সুন্নাতকে উজ্জীবিত করেছেন"। অতঃপর এই উপাধিটিই তাঁর প্রধান পরিচিতিতে পরিণত হয়। (বিদআত দমনকারী) অর্থাৎ বিদআত উচ্ছেদকারী, বিদআতীদের প্রতিরোধকারী অথবা বিদআতকে বাতিল ও বিলুপ্তকারী। (আবু মুহাম্মদ আল-হুসাইন ইবনে মাসউদ) তিনি হলেন ইমাম, হাফিজ, মুজতাহিদ, মুহাদ্দিস ও মুফাসসির আবু মুহাম্মদ আল-হুসাইন ইবনে মাসউদ ইবনে মুহাম্মদ আশ-শাফিয়ি। তিনি তাফসীর শাস্ত্রের 'মাআলিমুত তানজিল', হাদিস শাস্ত্রের 'শারহুস সুন্নাহ', 'আল-মাসাবিহ', 'আল-জামউ বাইনাস সাহিহাইন' এবং ফিকহ শাস্ত্রের 'আত-তাহজিব'সহ আরও অনেক উত্তম গ্রন্থের রচয়িতা। তিনি ছিলেন ইলমের সমুদ্র এবং ফিকহ, হাদিস ও তাফসীর শাস্ত্রে ইমাম। তিনি 'আত-তালিকাহ' গ্রন্থের রচয়িতা কাজী হুসাইন ইবনে মুহাম্মদের নিকট ফিকহ শিক্ষা করেন এবং তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করেন। এছাড়াও তিনি আবু আল-হাসান আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ আদ-দাউদি, ইয়াকুব ইবনে আহমদ আস-সাইরাফি এবং অন্যান্যদের থেকে হাদিস গ্রহণ করেছেন। তাঁর নিকট মারউ-র অধিবাসী ও অন্যান্যরা হাদিস বর্ণনা করেছেন। তাঁর সৎ উদ্দেশ্যের কারণে তাঁর রচনাগুলোতে বরকত দান করা হয়েছে, কেননা তিনি ছিলেন রব্বানি আলেমদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি অত্যন্ত ইবাদতগুজার, ত্যাগী এবং অল্পে তুষ্ট ছিলেন। তিনি কেবল শুকনো রুটি খেতেন, তাই অন্যেরা তাঁকে এ ব্যাপারে অনুযোগ করলে তিনি রুটির সাথে জয়তুনের তেল দিয়ে খেতে শুরু করেন। মোল্লা আলী আল-ক্বারী বলেন: তিনি ছিলেন একজন মুফাসসির, মুহাদ্দিস ও ফকিহ। আমাদের কোনো কোনো শাইখ বলেছেন: তাঁর এমন কোনো উক্তি নেই যা গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি ছিলেন একজন আবিদ, দুনিয়াবিমুখ এবং সালাফে সালেহীনের পদ্ধতিতে ইলম ও আমলের সমন্বয়কারী। তিনি ৫১৬ হিজরি সনের শাওয়াল মাসে মারউ আর-রুজ নামক স্থানে ইন্তেকাল করেন এবং তাঁর উস্তাদ কাজী হুসাইনের পাশে তালিকানি কবরস্থানে দাফন করা হয়। সম্ভবত তিনি আশি বছর বয়স পেয়েছিলেন। বিস্তারিত দেখুন: তাযকিরাতুল হুফফাজ (খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ৫৪-৫৫), ওফায়াতুল আইয়ান (খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৪৫-১৪৬), ইত্তিহাফুন নুবালা (২৪৪), এবং আশআতুল লুমআত (খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৮-২৯)।

(আল-ফাররা) শব্দটি পেশযুক্ত (রফা) অবস্থায় আবু মুহাম্মদ আল-হুসাইনের বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, যেমনটি ইবনে খাল্লিকানের বর্ণনায় পাওয়া যায়। তিনি বলেন: আবু মুহাম্মদ আল-হুসাইন ইবনে মাসউদ ইবনে মুহাম্মদ, যিনি আল-ফাররা আল-বাগাউই আল-ফকিহ হিসেবে পরিচিত। আবার কারো মতে, এটি জেরযুক্ত (জর) অবস্থায় তাঁর পিতার বিশেষণ, যা পশমি পোশাক তৈরি ও বিক্রির পেশার সাথে সম্পৃক্ত। ইমাম যাহাবি বাগাউইয়ের জীবনীতে বলেন: তিনি হলেন আবু মুহাম্মদ আল-হুসাইন ইবনে মাসউদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল ফাররা আশ-শাফিয়ি। তিনি আরও বলেন: তাঁর পিতা পশমি পোশাক তৈরি ও বিক্রি করতেন। 'ইত্তিহাফ' গ্রন্থে বলা হয়েছে: তাঁকে আল-ফাররা এবং ইবনুল ফাররাও বলা হয়। মোল্লা আলী ক্বারী বলেন: তিনি প্রখ্যাত ব্যাকরণবিদ আল-ফাররা নন। (আল-বাগাউই) শব্দটি পেশযুক্ত অবস্থায় আল-হুসাইনের বিশেষণ; কারণ মুহাদ্দিসগণের নিকট ভৌগোলিক, বংশীয় বা পেশাগত নিসবতের ক্ষেত্রে মূল ব্যক্তিকেই উদ্দেশ্য করা হয়, ব্যতিক্রম খুব কমই ঘটে। বাগাউই শব্দটি 'বা' বর্ণে জবর এবং 'গাইন' বর্ণে জবর ও এরপর 'ওয়াও' সহযোগে গঠিত। এটি খোরাসানের একটি শহরের দিকে সম্বন্ধিত যা মারউ ও হেরাতের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। শহরটিকে 'বাগ' বা 'বাগশুর' (বা বর্ণে জবর, গাইন বর্ণে সাকিন এবং শিন বর্ণে পেশের পর ওয়াও সাকিন ও রা) বলা হয়, যা 'বাগ কুর' শব্দের আরবি রূপ। এই নিসবতটি ভাষাতাত্ত্বিক নিয়মের ব্যতিক্রম বা শায, যা ইমাম সামআনী তাঁর 'আনসাব' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। আবার বলা হয় যে, মিশ্র যৌগিক শব্দের ক্ষেত্রে শেষের অংশ ফেলে দিয়ে প্রথম অংশের সাথে নিসবত করা হয় অথবা পুরো শব্দের সাথেই নিসবত করা হয়। যেমন: বালব্যাক্কি থেকে বালিই বা বালব্যাক্কি। বাগাউই শব্দটিও এই পর্যায়ের। এখানে 'বাগ' শব্দের সাথে 'ওয়াও' যুক্ত হয়েছে শব্দের বিলুপ্ত অংশকে ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে, যেমনটি 'দামাওয়া' (রক্ত সম্পর্কিত) শব্দে দেখা যায়। কেননা কোনো শব্দ থেকে যদি কোনো বর্ণ বিলুপ্ত হয়ে সেটি দুই বর্ণের মূলে ফিরে যায়, তবে নিসবতের সময় বিলুপ্ত বর্ণটি ফিরিয়ে আনা হয়। যেমন: আবু থেকে আবায়ি এবং আখু থেকে আখাওয়ি। ইয়াদুন এবং দামুন এর ক্ষেত্রেও বিলুপ্ত বর্ণ ফিরিয়ে আনা অধিকতর বিশুদ্ধ; সেক্ষেত্রে 'ইয়া' বর্ণটি 'ওয়াও'-তে রূপান্তরিত হয়ে ইয়াদাওয়া ও দামাওয়া হয়। এবং এভাবেই নিসবত করা বৈধ।
(খণ্ড: ١) মিরআতুল মাফাতীহ শারহু মিশকাতিল মাসাবীহ (পৃষ্ঠা: ৮)
درجته - أجمع كتاب صنف في بابه، وأضبط لشوارد الأحاديث وأوابدها، ولما سلك رضي الله عنه طريق الاختصار وحذف الأسانيد تكلم فيه بعض النقاد وإن كان نقله - وإنه من الثقات -

ــ

على اللفظ فيقال: يدي ودمي، ولئلا يلتبس بالبغي بمعنى الزاني (أجمع كتاب) خبر كان (صنف في بابه) أي في باب الحديث فإنه جمع فيه الأحاديث المهمة على ترتيب الأبواب الفقهية، والمراد أنه من أجمع الكتب في باب الحديث، أو قاله مبالغة في مدحه، ويجوز مثل هذه المبالغة في مدح كتاب ترغيباً للطالبين وتشويقاً لهم إليه (وأضبط) عطف على أجمع؛ لأنه لما جرد عن الأسانيد وعن اختلاف الألفاظ وتكرارها في المسانيد صار أقرب إلى الحفظ والضبط، وأبعد من الغلط والخبط (لشوارد الأحاديث) جمع شاردة وهي النافرة والذاهبة عن الدرك، من إضافة الصفة إلى الموصوف، والأحاديث قيل جمع أحدوثة في الأصل كأساطيرة جمع أسطورة ثم جعل جمع حديث (وأوابدها) عطف تفسير، أي وحشياتها، جمع آبدة وهي الوحش والشيء الغريب، وأوابد الكلام غرائبه، شبهت الأحاديث بالوحوش لسرعة تنفرها وتبعدها عن الضبط والحفظ، ولذا قيل: "العلم صيد والكتابة قيد" قاله القاري، وقال السيد جمال الدين: المراد بالشوارد الأحاديث المخرجة في الأصول قد خفيت على الطالبين مواضع إيرادها، فكأنها نفرت منهم، وبالأوابد الأحاديث التي دلالتها على معانيها كانت خفية، فكأنها توحشت من الطلاب بالنظر إلى معانيها المقصودة، فبإيراد محي السنة إياها في الأبواب المناسبة ولمواضع اللائقة من كتاب المصابيح ظهرت معانيها واتضحت، فارتفع الشرود وانتفى التوحش منها، وصارت مأنوسة، ذكره في اللمعات (طريق الاختصار) أي بالاكتفاء على متون الأحاديث (وحذف الأسانيد) عطف تفسير على ذلك، والمراد بحذف الإسناد إما حذف الصحابي وترك المخرج في كل حديث، وهو مجاز من باب إطلاق الكل على البعض أي طرفي الإسناد، وهو مراد المصنف ظاهراً من قوله "لكن ليس ما فيه أعلام كالأغفال" فالشيء الذي ذكره المصنف في المشكاة زيادة على المصابيح هو ذكر الصحابي وبيان المخرج، وهو الذي أهمله صاحب المصابيح، وأما معناه الحقيقي على مصطلح أهل الحديث، وهو حكاية طريق المتن بحيث يعلم جميع رواته، لكن المصنف اكتفى بذكر المخرج كما يقول: وإني إذا نسبت الحديث إليهم … الخ، وعلى هذا يكون ذكر المخرج أي الصحابي للتبرك والتأكيد فقط (تكلم) جواب لما، أي طعن في بعض أحاديث كتابه حتى أن بعض الطاعنين أفردوا أحاديث من المصابيح ونسبوها إلى الوضع، ثم إنه لما نسبت إلى الأئمة المخرجين لها علم أن بعضها صحيح وبعضها حسن، كحديث أبي هريرة ((المرء على دين خليله)) فإنه أحد الأحاديث التي انتقدها الحافظ سراج الدين القزويني على المصابيح، وقال: إنه موضوع، وكذا أورده ابن الجوزي في الموضوعات، وقد حسنه الترمذي، وصححه الحاكم، وقال النووي: إسناده صحيح (بعض النقاد) بضم النون وتشديد القاف، وقال السيد جمال الدين: أي تكلم في حقه واعترض عليه بعض المبصرين بأن صحة الحديث وسقمه متوقفة على معرفة الإسناد، فإذا لم يذكر لم يعرف الصحيح من الضعيف فيكون نقصاً (وإن كان نقله) أي نقل البغوي بلا إسناد، والواو وصلية (وإنه من الثقات) أي المعتمدين في نقل الأحاديث وبيان صحتها وحسنها وضعفها، روي بكسر الهمزة في "إنه" على أنه حال
এর মর্যাদা - এটি তার বিষয়ের ওপর রচিত সবচেয়ে সুসংহত গ্রন্থ, এবং বিরল ও দুর্লভ হাদিসসমূহ সংরক্ষণে সর্বাধিক নিখুঁত। এবং যেহেতু তিনি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) সংক্ষেপণের পথ অবলম্বন করেছেন এবং সনদসমূহ বিলুপ্ত করেছেন, তাই কিছু সমালোচক এ নিয়ে কথা বলেছেন, যদিও তাঁর উদ্ধৃতি—এবং তিনি নির্ভরযোগ্যদের অন্তর্ভুক্ত—

—

আক্ষরিক অর্থের ভিত্তিতে; যেমন বলা হয়: 'আমার হাত ও আমার রক্ত'। আর যাতে এটি ব্যভিচারী অর্থে ব্যবহৃত 'বাগি' শব্দের সাথে গুলিয়ে না যায়। (সবচেয়ে সুসংহত কিতাব) এটি 'কানা' এর খবর। (তার বিষয়ের ওপর রচিত) অর্থাৎ হাদিস শাস্ত্রে। কেননা তিনি এতে ফিকহি অধ্যায় বিন্যাস অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ হাদিসসমূহ সংকলন করেছেন। এর অর্থ হলো এটি হাদিস শাস্ত্রের সর্বাধিক পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থসমূহের অন্তর্ভুক্ত, অথবা এটি কিতাবটির প্রশংসায় অত্যুক্তি হিসেবে বলা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত ও আগ্রহী করার লক্ষ্যে কোনো কিতাবের প্রশংসায় এমন অত্যুক্তি করা জায়েজ। (এবং সর্বাধিক নিখুঁত) শব্দটি 'সবচেয়ে সুসংহত' পদের ওপর সমাসযুক্ত; কেননা এটি যখন সনদ এবং মুসনাদ গ্রন্থসমূহের শব্দগত ভিন্নতা ও পুনরাবৃত্তি থেকে মুক্ত করা হয়েছে, তখন এটি মুখস্থ ও আয়ত্ত করার জন্য অধিক সহজ এবং ভুল-ভ্রান্তি থেকে অধিক নিরাপদ হয়েছে। (বিরল হাদিসসমূহের জন্য) 'শাওয়ারিদ' হলো 'শারিদাহ' এর বহুবচন, যা আয়ত্তের বাইরে চলে যাওয়া বা পলায়নপর বস্তুকে বোঝায়। এটি গুণবাচক শব্দকে বিশেষ্যের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করার উদাহরণ। বলা হয়ে থাকে যে, 'আহাদিস' শব্দটি মূলত 'উহদুসাহ' এর বহুবচন, যেমন 'আসাত্বির' শব্দটি 'উসতুরাহ' এর বহুবচন, অতঃপর একে হাদিসের বহুবচন হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। (এবং এর দুর্লভ বিষয়গুলো) এটি পূর্ববর্তী শব্দের ব্যাখ্যামূলক সমাস, অর্থাৎ এর অপরিচিত বা বিরল অংশগুলো; 'আওয়াবিদ' হলো 'আবিদা' এর বহুবচন, যার অর্থ বন্য প্রাণী বা অদ্ভুত বস্তু। আর কথার 'আওয়াবিদ' বলতে এর বিরল ও চমৎকার অংশকে বোঝায়। হাদিসসমূহকে বন্য পশুর সাথে তুলনা করা হয়েছে কারণ তা দ্রুত আয়ত্তের বাইরে চলে যায় এবং হিফজ ও সংরক্ষণের ক্ষেত্রে দূরে সরে থাকে। একারণেই বলা হয়েছে: "জ্ঞান হলো শিকার এবং লিখন হলো তার বন্ধন।" এটি মোল্লা আলী কারী বলেছেন। সৈয়দ জামালউদ্দিন বলেন: 'শাওয়ারিদ' দ্বারা সেই সকল হাদিস উদ্দেশ্য যা মূল উৎস গ্রন্থসমূহে বর্ণিত হয়েছে কিন্তু শিক্ষার্থীদের কাছে তার উদ্ধৃতির স্থানসমূহ গোপন রয়ে গেছে, ফলে সেগুলো যেন তাদের থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল। আর 'আওয়াবিদ' দ্বারা সেই হাদিসগুলো উদ্দেশ্য যেগুলোর অর্থের ওপর শব্দগত নির্দেশ অস্পষ্ট ছিল, ফলে অর্থগত বিচারে সেগুলো যেন শিক্ষার্থীদের কাছে বন্য হয়ে উঠেছিল। অতঃপর মহিউস সুন্নাহ (ইমাম বগভী) সেগুলোকে 'মাসাাবিহ' কিতাবের উপযুক্ত অধ্যায় ও যথাযথ স্থানে উল্লেখ করার ফলে সেগুলোর অর্থ প্রস্ফুটিত ও স্পষ্ট হয়েছে, ফলে সেগুলোর অস্পষ্টতা দূর হয়েছে এবং দুর্লভ ভাবধারা দূরীভূত হয়ে সেগুলো সহজবোধ্য হয়ে উঠেছে; এটি 'আল-লুমআত' গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে। (সংক্ষেপণের পথ) অর্থাৎ হাদিসের মূল পাঠের ওপর সীমাবদ্ধ থাকা। (এবং সনদসমূহ বিলুপ্ত করা) এটি পূর্বোক্ত বিষয়ের ওপর ব্যাখ্যামূলক সমাস। আর সনদ বিলুপ্ত করার উদ্দেশ্য হলো—হয় সাহাবীর নাম বাদ দেওয়া এবং প্রতিটি হাদিসের বর্ণনাকারীর (মূল সংকলকের) উল্লেখ ত্যাগ করা; এটি রূপক অর্থে 'পুরোকে বলে আংশিক বোঝানো'র ব্যাকরণগত নিয়ম অনুযায়ী বলা হয়েছে, অর্থাৎ সনদের দুই প্রান্ত বাদ দেওয়া। লেখকের বাহ্যিক উদ্দেশ্য এটিই, যা তাঁর এই উক্তি থেকে বোঝা যায়: "কিন্তু যাতে চিহ্ন আছে তা সেই কিতাবের মতো নয় যা চিহ্নহীন।" সুতরাং মিশকাতের লেখক 'মাসাাবিহ' এর ওপর অতিরিক্ত হিসেবে যা উল্লেখ করেছেন তা হলো সাহাবীর নাম উল্লেখ করা এবং হাদিসের মূল উৎসের বর্ণনা দেওয়া, যা মাসাাবিহ রচয়িতা বর্জন করেছিলেন। আর সনদের হাকিকি বা প্রকৃত অর্থ হলো হাদিস বিশারদদের পরিভাষায়—মূল পাঠের বর্ণনা পরম্পরা বর্ণনা করা যাতে সকল বর্ণনাকারীর পরিচয় জানা যায়। কিন্তু লেখক কেবল মূল সংকলকের নাম উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হয়েছেন, যেমন তিনি বলেন: "আমি যদি হাদিসকে তাদের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করি..." ইত্যাদি। এই ভিত্তিতে মূল সংকলকের নাম বা সাহাবীর উল্লেখ কেবল বরকত ও তাকিদের জন্যই করা হয়েছে। (কথা বলেছেন) এটি 'লাম্মা' এর উত্তর। অর্থাৎ তাঁর কিতাবের কিছু হাদিসের সমালোচনা করা হয়েছে, এমনকি কোনো কোনো সমালোচক মাসাাবিহ থেকে কিছু হাদিস আলাদা করে সেগুলোকে 'মাওজু' বা জাল হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। অতঃপর যখন সেগুলো মূল সংকলক ইমামগণের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হলো, তখন জানা গেল যে সেগুলোর কোনোটি সহিহ এবং কোনোটি হাসান; যেমন আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস: "মানুষ তার বন্ধুর আদর্শ অনুসরণ করে।" এটি সেই সকল হাদিসের একটি যা হাফেজ সিরাজুদ্দিন কাযভিনি 'মাসাাবিহ' এর ওপর সমালোচনা করতে গিয়ে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন যে এটি জাল। তেমনিভাবে ইবনুল জাওজি এটি 'মাওজুআত' গ্রন্থে এনেছেন, অথচ ইমাম তিরমিজি একে হাসান বলেছেন, হাকেম একে সহিহ বলেছেন এবং ইমাম নববী বলেছেন এর সনদ সহিহ। (কিছু সমালোচক) 'নুন' বর্ণে পেশ ও 'কাফ' বর্ণে তাশদিদ যোগে। সৈয়দ জামালউদ্দিন বলেন: অর্থাৎ কিছু অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তি তাঁর সমালোচনা করেছেন এবং আপত্তি তুলেছেন এই যুক্তিতে যে, হাদিসের বিশুদ্ধতা বা দুর্বলতা সনদের জ্ঞানের ওপর নির্ভরশীল; সুতরাং সনদ উল্লেখ করা না হলে সহিহ ও যয়িফ হাদিসের মধ্যে পার্থক্য করা সম্ভব নয়, যা একটি ত্রুটি হিসেবে গণ্য হবে। (যদ্যপি তাঁর উদ্ধৃতি) অর্থাৎ সনদ ব্যতিরেকে ইমাম বগভীর উদ্ধৃতি; এখানে 'ওয়াও' বর্ণটি وصلية বা সংযোগমূলক। (এবং তিনি নির্ভরযোগ্যদের অন্তর্ভুক্ত) অর্থাৎ হাদিস বর্ণনা এবং সেগুলোর বিশুদ্ধতা, সৌন্দর্য বা দুর্বলতা নিরূপণের ক্ষেত্রে তিনি নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিগণের অন্তর্ভুক্ত। 'ইন্নাহু' শব্দে হামযাহ'র কাসরাসহ বর্ণিত হয়েছে একে 'হাল' বা অবস্থা হিসেবে বিবেচনা করে।
(খণ্ড: ١) মিরআতুল মাফাতীহ শারহু মিশকাতিল মাসাবীহ (পৃষ্ঠা: ৯)
كالإسناد، لكن ليس ما فيه أعلام كالأغفال، فاستخرت الله واستوفقت منه، فأعلمت ما أغفله فأودعت كل حديث منه في مقره كما رواه الأئمة المتقنون والثقات الراسخون، مثل أبي عبد الله محمد بن إسماعيل

ــ

من المضاف إليه في نقله، وروي بفتحها للعطف على اسم كان، يعني نقله بتأويل المصدر أي وإن كان نقله وكونه من الثقات كالإسناد (كالإسناد) أي كذكره (لكن ليس ما فيه أعلام) أعلام الشيء بفتح الهمزة آثاره التي يستدل بها، وهو جمع علم بفتحتين (كالأغفال) بالفتح وهي الأراضي المجهولة التي لا عمارة فيها ولا أثر تعرف به، جمع غفل بضم الغين المعجمة وسكون الفاء، وفي بعض النسخ بكسرة الهمزة فيهما، فهما مصدران لفظاً وضدان معنى، وأراد بالأول كتابه المشكاة، وبالثاني المصابيح، وكان حقه أن يقول: لكن ليس ما فيه أغفال كالأعلام، ولعله قلب الكلام تواضعاً مع البغوي وهضماً لنفسه، والحاصل أنه ادعى أن في صنيع البغوي قصوراً في الجملة، وهو عدم ذكر الصحابة أولاً وعدم ذكر المخرج في كل حديث آخراً، فإن ذكرهما مشتمل على فوائد، قال القاري: أما ذكر الصحابي ففائدته أن الحديث تتعدد رواته وطرقه، وبعضها صحيح وبعضها ضعيف، فيذكر الصحابي ليعلم ضعف المروي من صحيحه، ومنها رجحان الخبر بحال الراوي من زيادة فقهه وورعه، ومعرفة ناسخه من منسوخه بتقدم إسلام الراوي وتأخره، وأما ذكر المخرج ففائدته تعيين لفظ الحديث، وتبيين رجال إسناده في الجملة، ومعرفة كثرة المخرجين وقلتهم في ذلك الحديث لإفادة الترجيح وزيادة التصحيح، ومنها الرجوع إلى الأصول عند الاختلاف في الفصول وغيرها من المنافع. (فاستخرت الله) لقوله تعالى: {وربك يخلق ما يشاء ويختار ما كان لهم الخيرة} ، ولما روى الطبراني في الصغير والأوسط من حديث أنس مرفوعاً: ((ما خاب من استخار، ولا ندم من استشار، ولا عال من اقتصد)) ، (واستوفقت منه) بتقديم الفاء على القاف، أي طلبت من الله التوفيق (فأعلمت ما أغفله) أي فبينت ما أهمله البغوي عمداً فإنه ترك ذكر الصحابة في كثير من الأحاديث، فالتزمت ذكر الصحابي في كل حديث، وأيضاً لم يتعرض هو لذكر المخرج بحيث يعلم مخرج كل حديث بخصوصه وإن علم مجملاً من اصطلاحه في الصحاح والحسان أنه ذكر في القسم الأول أي الصحاح أحاديث الصحيحين أو أحدهما، وفي القسم الثاني أي الحسان أحاديث غيرهما، فذكرت المخرج في كل حديث بخصوصه، قال القاري: أي فبينت ما تركه بلا إسناد عمداً من ذكر الصحابي أولاً وبيان المخرج آخراً بخصوص كل حديث التزاماً (فأودعت كل حديث منه) أي من المصابيح (في مقره) أي وضعت كل حديث من الكتاب في محله الموضوع في أصله من كل كتاب وباب من غير تقديم وتأخير وزيادة ونقصان وتغيير (كما رواه الأئمة) أي أئمة الحديث الذين يقتدى بهم (المتقنون) أي الضابطون الحافظون الحاذقون لمروياتهم من أتقن الأمر إذا أحكمه، ومنه قوله تعالى: {صنع الله الذي أتقن كل شيء} (الثقات) بكسر المثلثة جمع ثقة، وهم العدول والأثبات (الراسخون) أي الثابتون بمحافظة هذا العلم، المتمكنون فيه، من رسخ أي ثبت في موضعه، يقال رسخ الخبر في الصحيفة، والعلم في القلب، وفلان راسخ في العلم أي متمكن فيه (مثل أبي عبد الله محمد بن إسماعيل) هو أمير المؤمنين في حديث سيد المرسلين، إمام الأئمة المجتهدين، سلطان المحدثين، أبوعبد الله محمد بن
সনদ বা সূত্রের ন্যায়, তবে যাতে নিদর্শনচিহ্ন রয়েছে তা সেই স্থলের মতো নয় যা চিহ্নহীন ও জনমানবশূন্য। তাই আমি আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করেছি এবং তাঁর নিকট তাওফিক প্রার্থনা করেছি। অতঃপর তিনি (ইমাম বাগভী) যা উহ্য রেখেছিলেন তা আমি সুস্পষ্ট করেছি এবং প্রতিটি হাদিসকে তার যথাস্থানে সন্নিবেশিত করেছি, যেভাবে তা বর্ণনা করেছেন পারদর্শী ইমামগণ এবং সুদৃঢ় নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিত্বগণ, যেমন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইসমাইল

—

বর্ণনার ক্ষেত্রে ইজাফতকৃত শব্দ থেকে; বর্ণনার ওপর আতফ করার কারণে ফাতহা যোগেও বর্ণিত হয়েছে। অর্থাৎ তার বর্ণনা এবং বিশ্বস্তদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া সনদের মর্যাদার ন্যায়। (সনদ বা সূত্রের ন্যায়) অর্থাৎ তা উল্লেখ করার মতো। (তবে যাতে নিদর্শনচিহ্ন রয়েছে তা এমন নয়) 'আলাম' (নিদর্শন) শব্দের অর্থ হলো কোনো বস্তুর সেই চিহ্নসমূহ যার দ্বারা প্রমাণ গ্রহণ করা হয়। এটি 'আলাম' শব্দের বহুবচন। (চিহ্নহীন স্থলের মতো) এটি এমন অপরিচিত ভূমি যাতে কোনো আবাদ নেই এবং চেনার মতো কোনো চিহ্নও নেই। এটি 'গুফল' শব্দের বহুবচন। কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে উভয় শব্দে কাসরা (ই-কার) সহ বর্ণিত হয়েছে, সেক্ষেত্রে শব্দ দুটি শাব্দিক দিক থেকে মাসদার বা ক্রিয়ামূল হলেও অর্থের দিক থেকে বিপরীত। প্রথমটি দ্বারা তিনি তার কিতাব 'মিশকাত' এবং দ্বিতীয়টি দ্বারা 'মাসাবীহ' বুঝিয়েছেন। মূলত তার বলা উচিত ছিল: "তবে যাতে চিহ্ন নেই তা নিদর্শনযুক্ত স্থলের মতো নয়"। সম্ভবত তিনি ইমাম বাগভীর প্রতি বিনয় প্রদর্শন ও নিজেকে তুচ্ছ জ্ঞান করে কথাটি উল্টোভাবে বলেছেন। সারকথা হলো, তিনি দাবি করেছেন যে ইমাম বাগভীর কর্মপদ্ধতিতে সামগ্রিকভাবে কিছু অপূর্ণতা ছিল; আর তা হলো শুরুতে সাহাবীর নাম উল্লেখ না করা এবং শেষে প্রতিটি হাদিসের সংকলকের নাম উল্লেখ না করা। কারণ এ দুটি বিষয় উল্লেখ করার মধ্যে নানাবিধ উপকারিতা নিহিত রয়েছে। মোল্লা আলী ক্বারী (রহ.) বলেন: সাহাবীর নাম উল্লেখ করার উপকারিতা হলো—একটি হাদিসের অনেক বর্ণনাকারী ও সূত্র থাকে, যার কিছু সহিহ আর কিছু যয়িফ। তাই সাহাবীর নাম উল্লেখ করা হয় যাতে বর্ণিত হাদিসের বিশুদ্ধতা ও দুর্বলতা সম্পর্কে জানা যায়। এর আরেকটি উপকারিতা হলো, বর্ণনাকারীর ফিকহ ও তাকওয়ার আধিক্যের কারণে বর্ণনাটির অগ্রাধিকার নির্ণয় করা এবং বর্ণনাকারীর ইসলাম গ্রহণের অগ্র-পশ্চাৎ বিবেচনায় নাসিখ-মানসুখ (রহিতকারী ও রহিত) সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা। আর হাদিস সংকলকের নাম উল্লেখ করার উপকারিতা হলো—হাদিসের শব্দ সুনির্দিষ্ট করা, সামগ্রিকভাবে সনদের রাবীদের পরিচয় স্পষ্ট করা এবং সেই হাদিসটির সংকলকের আধিক্য বা স্বল্পতা সম্পর্কে জেনে অগ্রাধিকার প্রদান ও বিশুদ্ধতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করা। এর আরও উপকারিতা হলো—শাখাগত বিষয়ে মতভেদের সময় মূল উৎসগ্রন্থের দিকে প্রত্যাবর্তন করা এবং আরও নানাবিধ সুবিধা। (অতঃপর আমি আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করেছি) কারণ আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: "আর আপনার পালনকর্তা যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন এবং মনোনীত করেন; তাদের কোনো এখতিয়ার নেই।" এবং তাবারানি তার আস-সাগীর ও আল-আওসাত গ্রন্থে আনাস (রা.) থেকে মারফূ সূত্রে বর্ণনা করেছেন: "যে ইস্তিখারা করে সে ব্যর্থ হয় না, যে পরামর্শ করে সে লজ্জিত হয় না এবং যে মিতব্যয়ী হয় সে অভাবগ্রস্ত হয় না।" (এবং তাঁর নিকট তাওফিক প্রার্থনা করেছি) অর্থাৎ আমি আল্লাহর কাছে সফলতার তাওফিক চেয়েছি। (অতঃপর তিনি যা উহ্য রেখেছিলেন তা আমি সুস্পষ্ট করেছি) অর্থাৎ ইমাম বাগভী উদ্দেশ্যমূলকভাবে যা ছেড়ে দিয়েছিলেন তা আমি স্পষ্ট করেছি। কেননা তিনি অনেক হাদিসেই সাহাবীদের নাম উল্লেখ করা ত্যাগ করেছিলেন। তাই আমি প্রতিটি হাদিসে সাহাবীর নাম উল্লেখ করার আবশ্যকতা গ্রহণ করেছি। তদুপরি, তিনি হাদিস সংকলকের নাম উল্লেখ করার বিষয়টিও স্পর্শ করেননি, যার মাধ্যমে প্রতিটি হাদিসের সুনির্দিষ্ট সংকলক সম্পর্কে জানা যায়; যদিও তার পরিভাষা থেকে সামগ্রিকভাবে এটি জানা যেত। 'সিহাহ' ও 'হিসান' পরিভাষার ক্ষেত্রে—তিনি প্রথম অংশে অর্থাৎ সিহাহ-তে বুখারি ও মুসলিম বা উভয়ের কোনো একটির হাদিস উল্লেখ করতেন এবং দ্বিতীয় অংশে অর্থাৎ হিসান-এ অন্যদের বর্ণিত হাদিস উল্লেখ করতেন। এমতাবস্থায় আমি প্রতিটি হাদিসের সুনির্দিষ্ট সংকলকের নাম উল্লেখ করেছি। মোল্লা আলী ক্বারী বলেন: অর্থাৎ তিনি প্রতিটি হাদিসে সাহাবীর উল্লেখ এবং শেষে সংকলকের বর্ণনা ব্যতিরেকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে যা সনদবিহীন রেখেছিলেন, তা আমি আবশ্যিকভাবে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছি। (অতঃপর আমি এর প্রতিটি হাদিসকে গচ্ছিত করেছি) অর্থাৎ মাসাবীহ-এর প্রতিটি হাদিসকে (তার যথাস্থানে) অর্থাৎ কিতাবটির মূল পাণ্ডুলিপির অধ্যায় ও অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আমি স্বস্থানে রেখেছি; কোনো প্রকার অগ্র-পশ্চাৎ, হ্রাস-বৃদ্ধি কিংবা পরিবর্তন ছাড়াই। (যেভাবে বর্ণনা করেছেন ইমামগণ) অর্থাৎ হাদিসের সেই সকল ইমাম যাদের অনুসরণ করা হয়। (পারদর্শীগণ) অর্থাৎ স্বীয় বর্ণিত হাদিসসমূহের ক্ষেত্রে যারা অত্যন্ত সুশৃঙ্খল, স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন ও দক্ষ; 'ইতকান' শব্দ থেকে এটি এসেছে যার অর্থ কোনো বিষয়কে সুদৃঢ় করা। আল্লাহ তাআলার বাণী এ থেকেই নির্গত: "এটি আল্লাহরই কারিগরি, যিনি সবকিছুকে সুসংহত করেছেন।" (নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিগণ) এটি 'সিকাহ' শব্দের বহুবচন, তারা হলেন ন্যায়পরায়ণ ও দৃঢ় বর্ণনাকারী। (সুদৃঢ় ব্যক্তিবর্গ) অর্থাৎ যারা এই ইলম সংরক্ষণে অবিচল এবং এতে পারদর্শী। 'রাসাখা' থেকে এটি উৎপন্ন যার অর্থ স্বস্থানে দৃঢ় থাকা। বলা হয়ে থাকে—সংবাদটি পাতায় দৃঢ় হয়েছে, ইলম অন্তরে গেঁথেছে, আর অমুক ব্যক্তি ইলমে সুদৃঢ় অর্থাৎ সে তাতে গভীর পাণ্ডিত্যের অধিকারী। (যেমন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইসমাইল) তিনি হলেন সাইয়্যিদুল মুরসালিনের হাদিসের ক্ষেত্রে আমিরুল মুমিনীন, মুজতাহিদ ইমামদের ইমাম, মুহাদ্দিসগণের সুলতান, আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন...
(খণ্ড: ١) মিরআতুল মাফাতীহ শারহু মিশকাতিল মাসাবীহ (পৃষ্ঠা: ১০)
البخاري، وأبي الحسين مسلم بن الحجاج

ــ

إسماعيل بن إبراهيم بن المغيرة بن الأحنف بردزبه الجعفي مولاهم ولاء إسلام البخاري، صاحب الجامع الصحيح والتصانيف، جبل الحفظ وإمام الدنيا في ثقة الحديث، ومعجزة للرسول البشير النذير حيث وجد في أمته مثل هذا الفرد العديم النظير، فلم ير مثله من جهة الحديث وإتقانه، وفهم معاني كتاب الله وسنة رسوله، ومن حيثية حدة ذهنه، وذقة نظره، ووفور فقهه، وكمال زهده، وغاية ورعه، وقوة اجتهاده واستنباطه، وكثرة اطلاعه على طرق الحديث وعلله، ولد يوم الجمعة بعد الصلاة لثلاث عشرة ليلة خلت من شوال سنة 194هـ، وتوفي وقت العشاء ليلة السبت ليلة الفطر سنة 256هـ، ودفن يوم العيد بعد صلاة الظهر بخرتنك على فرسخين من سمرقند، وعمره اثنتان وستون سنة إلا ثلاثة عشر يوماً، ولم يخلف ولداً، كانت أمه مستجابة الدعوات، توفي أبوه وهو صغير فنشأ في حجر والدته، ثم عمي، وقد عجز الأطباء عن معالجته، فرأت في المنام إبراهيم الخليل عليه السلام قائلاً لها قد رد الله على ابنك بصره بكثرة دعائك له، فأصبح وقد رد الله عليه بصره، فنشأ متربياً في حجر العلم، مرتضعاً من ثدي الفضل، ثم ألهم طلب الحديث وله عشر سنين، ورد على بعض مشايخه غلطاً وهو في إحدى عشرة سنة، فأصلح كتابه من حفظ البخاري، سمع الحديث ببلده بخارى، ثم رحل في طلب هذا الشأن إلى جميع محدثي الأمصار، وسمع الكثير، وأخذ عنه الحديث خلق كثير في كل بلدة حدث بها، روى عنه الترمذي في جامعه كثيراً ومسلم في غير صحيحه، قال الفربري: سمع كتاب البخاري منه تسعون ألف رجل، قال البخاري: خرجت كتابي الصحيح من زهاء ستمائة ألف حديث، وما وضعت فيه إلا صحيحاً، وارجع لترجمته إلى كتاب "سيرة البخاري" جزء كبير وتأليف مفرد مبسوط في ترجمة الإمام البخاري وذكر تصانيفه وبيان محاسن جامعه الصحيح وفضائله باللغة الأردية لوالدنا العلامة محمد عبد السلام المباركفوري رحمه الله، وقد ذكر شيئاً من ترجمته الشيخ الدهلوي في أشعة اللعمات (ص9-13) ، والعلامة القنوجي في إتحاف النبلاء (349-355) ، وعلي القاري في المرقاة (13-16) ، والحافظ في أواخر مقدمة الفتح (563-583) ، وفي تهذيب التهذيب (ج9: ص47-55) ، والقسطلاني في مقدمة إرشاد الساري (ج1: ص31-46) ، والنووي في تهذيب الأسماء واللغات (ج1: ص67-76) ، والسبكي في طبقات الشافعية (ج2: ص2-19) ، والسمعاني في الأنساب (ورقة 68، 131) ، والخطيب في تاريخ بغداد (ج2: ص4-34) ، وابن خلكان في تاريخه، والذهبي في تذكرته، والمصنف في الإكمال وغيرهم، وأفرد بعضهم ترجمته في تأليفات مبسوطة كالذهبي وابن الملقن والأمير اليماني والعجلوني وغيرهم. (البخاري) نسبة إلى "بخارى" بلدة عظيمة من بلاد وراء النهر؛ لتولده فيها وصار بمنْزلة العلم له ولكتابه. (وأبي الحسين مسلم بن الحجاج) هو الإمام الحافظ الحجة أبوالحسين مسلم بن الحجاج بن مسلم القشيري النيسابوري، أحد الأئمة الحفاظ وأعلام المحدثين صاحب التصانيف، طلب علم الحديث صغيراً، ورحل إلى العراق والحجاز والشام ومصر، سمع من مشايخ البخاري وغيرهم كأحمد بن حنبل وإسحاق بن راهويه والقعنبي وغيرهم. وروى عنه أئمة من كبار عصره وحفاظ دهره، كأبي حاتم الرازي وابن خزيمة وغيرهما، وروى عنه الترمذي
আল-বুখারী এবং আবুল হুসাইন মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ

—

ইসমাইল ইবনে ইব্রাহিম ইবনে আল-মুগীরাহ ইবনে আল-আহনাফ বারদিযবাহ আল-জু’ফী, তাদের আযাদকৃত দাস, ইমাম বুখারীর ইসলাম গ্রহণের মাধ্যমে এই নিসবত বা পারিবারিক উপাধি যুক্ত হয়েছে। তিনি ‘আল-জামি আস-সহীহ’ ও অসংখ্য গ্রন্থের প্রণেতা, হাদিস মুখস্থের সুউচ্চ পাহাড় এবং হাদিসের নির্ভরযোগ্যতার ক্ষেত্রে বিশ্বের ইমাম। তিনি সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী রাসুলের এক জীবন্ত মুজিজাস্বরূপ, কেননা তাঁর উম্মতের মধ্যেই এমন অনন্য ও অতুলনীয় ব্যক্তিত্বের আবির্ভাব ঘটেছে। হাদিস শাস্ত্র ও এর সুক্ষ্মতায়, আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসুলের সুন্নাহর মর্মার্থ অনুধাবনে, তাঁর তীক্ষ্ণ মেধা, গভীর অন্তর্দৃষ্টি, অগাধ ফিকহী জ্ঞান, পূর্ণাঙ্গ দুনিয়াবিমুখতা, চরম খোদাভীতি, কঠোর পরিশ্রম ও মাসআলা উদ্ভাবনী ক্ষমতা এবং হাদিসের বিভিন্ন সূত্র ও সুক্ষ্ম ত্রুটি সম্পর্কে তাঁর ব্যাপক জানাশোনার ক্ষেত্রে তাঁর সমকক্ষ আর কাউকে দেখা যায়নি। তিনি ১৯৪ হিজরি সনের ১৩ই শাওয়াল জুমুআর নামাজের পর জন্মগ্রহণ করেন এবং ২৫৬ হিজরি সনের ঈদুল ফিতরের রাতে (শনিবার রাত) এশার ওয়াক্তে ইন্তেকাল করেন। ঈদের দিন জোহরের নামাজের পর সমরকন্দ থেকে দুই ফারসাখ দূরে খারতাঙ্ক নামক স্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল তেরো দিন কম বাষট্টি বছর। তিনি কোনো সন্তান রেখে যাননি। তাঁর মাতা ছিলেন মুস্তাজাবুদ দাওয়াত অর্থাৎ যাঁর দোয়া কবুল হয়। শৈশবেই তাঁর পিতা ইন্তেকাল করেন এবং তিনি মায়ের তত্ত্বাবধানে লালিত-পালিত হন। একসময় তিনি অন্ধ হয়ে যান এবং চিকিৎসকরা তাঁর চিকিৎসা করতে অপরাগতা প্রকাশ করেন। অতঃপর তাঁর মাতা স্বপ্নে ইব্রাহিম আলাইহিস সালামকে দেখতে পান, যিনি তাঁকে বলছিলেন যে, তোমার অত্যধিক দোয়ার কারণে আল্লাহ তোমার ছেলের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিয়েছেন। সকালে দেখা গেল আল্লাহ পুনরায় তাঁর দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিয়েছেন। তিনি ইলমের কোলে লালিত-পালিত হন এবং শ্রেষ্ঠত্বের সুধা পান করে বড় হন। দশ বছর বয়সেই তিনি হাদিস চর্চায় অনুপ্রাণিত হন। এগারো বছর বয়সে তিনি তাঁর জনৈক শিক্ষকের ভুল সংশোধন করে দেন এবং তাঁর হিফয বা স্মৃতিশক্তি থেকে কিতাবটি সঠিক করে দেন। তিনি নিজ শহর বুখারায় হাদিস শ্রবণ করেন, এরপর এই শাস্ত্রের অন্বেষণে তৎকালীন সকল মুসলিম জনপদের মুহাদ্দিসদের নিকট সফর করেন। তিনি প্রচুর হাদিস সংগ্রহ করেন এবং প্রতিটি জনপদেই অসংখ্য মানুষ তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। ইমাম তিরমিযী তাঁর ‘জামি’ গ্রন্থে প্রচুর পরিমাণে এবং ইমাম মুসলিম তাঁর ‘সহীহ’ ব্যতীত অন্যান্য গ্রন্থে তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। আল-ফিরাবরী বলেন: নব্বই হাজার ব্যক্তি ইমাম বুখারীর নিকট থেকে তাঁর কিতাবটি শুনেছেন। ইমাম বুখারী বলেন: আমি প্রায় ছয় লক্ষ হাদিস থেকে যাচাই-বাছাই করে আমার ‘সহীহ’ কিতাবটি সংকলন করেছি এবং এতে কেবল সহীহ হাদিসই সন্নিবেশিত করেছি। তাঁর জীবনী সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আমাদের পরম শ্রদ্ধেয় পিতা আল্লামা মুহাম্মদ আবদুস সালাম মুবারকপুরী (রহ.)-এর উর্দু ভাষায় রচিত ‘সীরাতে বুখারী’ নামক বৃহৎ গ্রন্থটি দেখা যেতে পারে, যা ইমাম বুখারীর জীবনী, তাঁর রচনাবলী এবং ‘সহীহ বুখারী’র বৈশিষ্ট্য ও শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনায় একটি স্বতন্ত্র ও বিস্তারিত কাজ। এছাড়া শেখ দেহলভী ‘আশআতুল্লামআত’ (পৃ. ৯-১৩), আল্লামা কান্নুজী ‘ইতহাফুল নুবালা’ (৩৪৯-৩৫৫), আলী আল-কারী ‘আল-মিরকাত’ (১৩-১৬), হাফেয ইবনে হাজার ‘মুকাদ্দিমা ফাতহুল বারী’-র শেষে (৫৬৩-৫৮৩) এবং ‘তাহযীবুত তাহযীব’ (৯ম খণ্ড, পৃ. ৪৭-৫৫), কাসতাল্লানী ‘ইরশাদুস সারী’-র ভূমিকা (১ম খণ্ড, পৃ. ৩১-৪৬), নববী ‘তাহযীবুল আসমা ওয়াল লুগাত’ (১ম খণ্ড, পৃ. ৬৭-৭৬), সুবকী ‘তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ’ (২য় খণ্ড, পৃ. ২-১৯), সামআনী ‘আল-আনসাব’ (পৃষ্ঠা ৬৮, ১৩১), খতীব বাগদাদী ‘তারিখে বাগদাদ’ (২য় খণ্ড, পৃ. ৪-৩৪), ইবনে খাল্লিকান তাঁর ইতিহাস গ্রন্থে, যাহাবী তাঁর ‘তাযকিরা’য় এবং গ্রন্থকার ‘আল-ইকমাল’ ও অন্যান্য গ্রন্থে তাঁর জীবনী উল্লেখ করেছেন। কেউ কেউ তাঁর জীবনীর ওপর স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন যেমন যাহাবী, ইবনুল মুলাক্কিন, আল-আমীর আল-ইয়ামানী, আল-আজলূনী প্রমুখ। ‘আল-বুখারী’ নিসবতটি মাওরাউন্নাহার অঞ্চলের বিখ্যাত শহর ‘বুখারা’র সাথে সম্পর্কিত; যেহেতু তিনি সেখানে জন্মগ্রহণ করেছেন এবং এটি তাঁর ও তাঁর কিতাবের বিশেষ পরিচায়ক নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। (এবং আবুল হুসাইন মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ) তিনি হলেন ইমাম, হাফেয, হুজ্জাহ আবুল হুসাইন মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ ইবনে মুসলিম আল-কুশাইরী আন-নিশাপুরী। তিনি অন্যতম প্রধান হাফেযে হাদিস ও প্রখ্যাত মুহাদ্দিস এবং বহু গ্রন্থের প্রণেতা। শৈশবেই তিনি হাদিস শিক্ষা শুরু করেন এবং ইরাক, হিজায, সিরিয়া ও মিশরে সফর করেন। তিনি ইমাম বুখারীর শিক্ষকগণ এবং অন্যদের নিকট হাদিস শ্রবণ করেছেন, যেমন আহমদ ইবনে হাম্বল, ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ, আল-কা’নবী প্রমুখ। তাঁর নিকট থেকে তাঁর সমসাময়িক বড় বড় ইমাম ও হাফেযগণ হাদিস বর্ণনা করেছেন, যেমন আবু হাতিম আর-রাযী, ইবনে খুযাইমাহ প্রমুখ। ইমাম তিরমিযীও তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ١) মিরআতুল মাফাতীহ শারহু মিশকাতিল মাসাবীহ (পৃষ্ঠা: ১১)
القشيري، وأبي عبد الله مالك بن أنس الأصبحي

ــ

حديثاً واحداً ((أحصوا هلال شعبان لرمضان)) ما له في جامع الترمذي غيره، ألف المؤلفات النافعة، وأنفعها صحيحه الذي فاق بحسن ترتيبه وحسن سياقه وبديع طريقته، قال مسلم: صنفت المسند الصحيح من ثلاثمائة ألف حديث مسموعة، قال الحافظ: حصل لمسلم في كتابه حظ عظيم مفرط لم يحصل لأحد مثله، بحيث أن بعض الناس كان يفضله على صحيح محمد بن إسماعيل، وذلك لما اختص به من جمع الطرق وجودة السياق والمحافظة على أداء الألفاظ، كما هي من غير تقطيع ولا رواية بمعنى، وقد نسج على منواله خلق من النيسابوريين فلم يبلغوا شأوه، وحفظت منهم أكثر من عشرين إماماً ممن صنف المستخرج على مسلم، وقال الخطيب: إنما قفا مسلم طريق البخاري ونظر في علمه وحذا حذوه، ولما ورد البخاري النيسابور في آخر مرة لازمه مسلم وداوم الاختلاف إليه، وقال الدارقطني: لولا البخاري لما ذهب مسلم وجاء، ولد سنة 204هـ، وقيل سنة 206هـ، وتوفي عشية يوم الأحد لأربع أو لخمس أو لست بقين من رجب سنة 261هـ، وعمره خمس وخمسون سنة، ودفن بنصر آباد ظاهر نيسابور يوم الاثنين، ملتقط من التذكرة للذهبي (ج2: 165-167) ، ووفيات الأعيان (ج2: ص91) ، وتهذيب التهذيب (ج10: 126-128) ، والمرقاة (ج1: 16-17) ، وإتحاف النبلاء (430-431) ، وأشعة اللمعات (ج1: 13-14) ، والإكمال للمصنف، وبستان المحدثين (116-117) . (القشيري) بضم القاف وفتح الشين المعجمة وسكون المثناة من تحتها وبعدها راء، نسبة إلى قشير بن كعب، قبيلة كبيرة من العرب، (وأبي عبد الله مالك بن أنس) هو الإمام الحافظ فقيه الأمة، أحد أعلام الإسلام، إمام دار الهجرة، رأس المتقنين، كبير المتثبتين، صاحب المذهب، أبوعبد الله مالك بن أنس بن مالك بن أبي عامر بن عمرو بن الحارث بن غيمان ويقال: عثمان بن جثيل، وقيل: خثيل بن عمرو بن ذي أصبح الحارث المدني (الأصبحي) بفتح الهمزة وسكون الصاد المهملة وفتح الباء الموحدة بعدها حاء مهملة، نسبة إلى ذي أصبح جده التاسع، واسمه الحارث بن عوف، وهي قبيلة كبيرة من أكرم قبائل اليمن جاهلية وإسلاماً، من يعرب بن يشجب بن قحطان، كان جده الأعلى الحارث بن عوف بن الأصبح، وهو بطن من الحمير، ولذا لقب بذي أصبح، واختلف في ولادته، فقيل: ولد سنة 90هـ، وقيل: سنة 94هـ، وقيل: سنة 95هـ، قال الذهبي في التذكرة: أما يحيى بن بكير فقال: سمعته يقول: ولدت سنة 93هـ ثلاث وتسعين، فهذا أصح الأقوال، انتهى. واختاره السمعاني في الأنساب، وقال: هذا متصل بالسند إلى يحيى بن بكير تلميذ الإمام، واختاره ابن فرحون، وقال: هو الأشهر، وحمل في بطن أمه ثلاث سنين، واختلف في تاريخ وفاته أيضاً، قال ابن فرحون: والصحيح أنها كانت يوم الأحد لتمام اثنين وعشرين يوماً من مرضه في ربيع الأول سنة 179هـ، فقيل: لعشر مضت، وقيل: لأربع عشرة، ولثلاث عشرة، ولإحدى عشرة، وقيل: لاثنتي عشرة من رجب، ودفن بالبقيع، قال المصنف في الإكمال: هو - أي مالك - إمام الحجاز، بل الناس في الفقه والحديث، وكفاه فخراً أن الشافعي من أصحابه، أخذ العلم عن الزهري ويحيى بن سعيد ونافع مولى ابن عمر وهشام بن عروة وربيعة بن عبد الرحمن وخلق كثير، قال الزرقاني: أخذ عن تسعمائة شيخ فأكثر، قال: والرواة عنه فيهم كثرة جداً، بحيث لا يعرف لأحد من الأئمة رواة
আল-কুশাইরি এবং আবু আবদিল্লাহ মালিক বিন আনাস আল-আসবাহি

--

জামি আত-তিরমিজিতে তাঁর কেবল একটিই হাদিস রয়েছে: "তোমরা রমজানের উদ্দেশ্যে শাবানের চাঁদের হিসাব রাখো।" তিনি অনেক কল্যাণকর গ্রন্থ রচনা করেছেন, যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি উপকারী হলো তাঁর ‘সহিহ’ যা চমৎকার বিন্যাস, উত্তম বর্ণনাশৈলী এবং অনন্য পদ্ধতির কারণে শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছে। ইমাম মুসলিম বলেন: আমি তিন লক্ষ শ্রুত হাদিস থেকে ‘আল-মুসনাদ আস-সহিহ’ সংকলন করেছি। হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: মুসলিম তাঁর কিতাবের মাধ্যমে এমন বিপুল ও অত্যধিক মর্যাদা লাভ করেছেন যা তাঁর মতো আর কেউ পায়নি। এমনকি কিছু লোক একে মুহাম্মদ বিন ইসমাইলের (বুখারি) সহিহ-এর ওপরও প্রধান্য দিয়ে থাকেন। এর কারণ হলো বিভিন্ন সূত্রের সংকলন, উত্তম বর্ণনাভঙ্গি এবং মূল শব্দাবলি যেভাবে আছে ঠিক সেভাবেই কোনো প্রকার রূপান্তর বা কর্তন ছাড়া বর্ণনার ক্ষেত্রে তাঁর বিশেষ সতর্কতা। নিসাবুরের অনেক আলিম তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন কিন্তু তাঁর সমকক্ষ হতে পারেননি। আমি তাঁদের মধ্যে বিশজনেরও বেশি ইমামের কথা জানি যারা ‘সহিহ মুসলিম’-এর ওপর ‘মুস্তাখরাজ’ রচনা করেছেন। আল-খতিব বলেন: ইমাম মুসলিম মূলত ইমাম বুখারির পথ অনুসরণ করেছেন, তাঁর ইলম থেকে শিক্ষা নিয়েছেন এবং তাঁরই পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন। যখন বুখারি শেষবারের মতো নিসাবুরে আসেন, মুসলিম তাঁর সাহচর্য গ্রহণ করেন এবং নিয়মিত তাঁর দরবারে যাতায়াত করতেন। আদ-দারাকুতনি বলেন: বুখারি না থাকলে মুসলিমের কোনো পরিচিতিই থাকতো না। তিনি ২০৪ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন, মতান্তরে ২০৬ হিজরিতে। তিনি ২৬১ হিজরির রজব মাসের অবশিষ্ট চার, পাঁচ বা ছয় রাত থাকতে (অর্থাৎ ২৪, ২৫ বা ২৬ তারিখ) রবিবার সন্ধ্যায় ইন্তেকাল করেন। সে সময় তাঁর বয়স ছিল ৫৫ বছর। সোমবার দিন নিসাবুরের নাসরাবাদে তাঁকে দাফন করা হয়। এই তথ্যগুলো আয-যাহাবির ‘তাজকিরাহ’ (খণ্ড ২: ১৬৫-১৬৭), ‘ওফায়াতুল আইয়ান’ (খণ্ড ২: পৃ. ৯১), ‘তাহজিবুত তাহজিব’ (খণ্ড ১০: ১২৬-১২৮), ‘আল-মিরকাত’ (খণ্ড ১: ১৬-১৭), ‘ইতহাফুন নুবালা’ (৪৩০-৪৩১), ‘আশিয়াতুল লুমআত’ (খণ্ড ১: ১৩-১৪), গ্রন্থকারের ‘আল-ইকমাল’ এবং ‘বুস্তানুল মুহাদ্দিসিন’ (১১৬-১১৭) থেকে সংগৃহীত। (আল-কুশাইরি) শব্দটি ক্বাফ-এ পেশ, শিন-এ জবর, ইয়া-তে জজম এবং এরপর রা যোগে উচ্চারিত। এটি আরবের এক বিশাল গোত্র ‘কুশাইর বিন কাব’-এর সাথে সম্পৃক্ত। (আর আবু আবদিল্লাহ মালিক বিন আনাস) হলেন উম্মাহর ফকিহ, হাফেজুল হাদিস ও ইমাম। ইসলামের অন্যতম দিকপাল, দারুল হিজরতের ইমাম, মুত্তাকিদের শিরোমণি, অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য আলিম এবং মাযহাবের প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর পুরো নাম আবু আবদিল্লাহ মালিক বিন আনাস বিন মালিক বিন আবি আমির বিন আমর বিন আল-হারিস বিন গাইমান (মতান্তরে উসমান বিন জাসিল, বা খুসাইল বিন আমর বিন যি আসবাহ আল-হারিস আল-মাদানি)। (আল-আসবাহি) শব্দটি আলিফে জবর, সাদ-এ জজম, বা-তে জবর এবং এরপর হা যোগে উচ্চারিত। এটি তাঁর নবম পূর্বপুরুষ ‘যি আসবাহ’-এর সাথে সম্পর্কিত, যাঁর নাম হারিস বিন আওফ। এটি জাহিলিয়াত ও ইসলামি যুগে ইয়েমেনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও প্রাচীন গোত্র, যা ইয়ারুব বিন ইয়াশজুব বিন কাহতানের বংশধর। তাঁর ঊর্ধ্বতন পূর্বপুরুষ হারিস বিন আওফ বিন আল-আসবাহ ‘হিময়ার’ গোত্রের একটি শাখা ছিলেন, তাই তাঁকে ‘যি আসবাহ’ উপাধি দেওয়া হয়। তাঁর জন্মসাল নিয়ে মতভেদ আছে; কেউ বলেন ৯০ হিজরি, কেউ ৯৪ হিজরি, আবার কেউ ৯৫ হিজরি। আয-যাহাবি ‘তাজকিরাহ’ গ্রন্থে বলেন: ইয়াহইয়া বিন বুকাইর বলেছেন যে, তিনি ইমাম মালিককে বলতে শুনেছেন: "আমি ৯৩ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেছি।" এটাই সর্বাধিক বিশুদ্ধ মত। আস-সামআনি ‘আল-আনসাব’ গ্রন্থে এটিই গ্রহণ করেছেন এবং বলেছেন: এই বর্ণনাটির সনদ ইমাম মালিকের ছাত্র ইয়াহইয়া বিন বুকাইর পর্যন্ত সুসংযুক্ত। ইবনে ফারহুনও এটি গ্রহণ করেছেন এবং বলেছেন: এটিই সর্বাধিক প্রসিদ্ধ। তিনি তাঁর মায়ের গর্ভে তিন বছর ছিলেন। তাঁর ইন্তেকালের তারিখ নিয়েও মতভেদ রয়েছে। ইবনে ফারহুন বলেন: সঠিক হলো ১৭৯ হিজরির রবিউল আউয়াল মাসে বাইশ দিন অসুস্থ থাকার পর রবিবার তিনি ইন্তেকাল করেন। কেউ বলেন ১০ তারিখ, কেউ ১৪, কেউ ১৩, কেউ ১১, আবার কেউ রজবের ১২ তারিখের কথা বলেন। তাঁকে জান্নাতুল বাকিতে দাফন করা হয়। গ্রন্থকার ‘আল-ইকমাল’ গ্রন্থে বলেন: তিনি (অর্থাৎ মালিক) হিজাজ তথা সমগ্র মানবজাতির জন্য ফিকহ ও হাদিসের ইমাম। তাঁর গৌরবের জন্য এটাই যথেষ্ট যে, ইমাম শাফেয়ি তাঁর অন্যতম ছাত্র ছিলেন। তিনি আয-যুহরি, ইয়াহইয়া বিন সাঈদ, ইবনে ওমরের মুক্তদাস নাফি, হিশাম বিন উরওয়া, রাবিয়া বিন আবদুর রহমানসহ অসংখ্য আলিমের কাছ থেকে ইলম অর্জন করেছেন। আয-যারকানি বলেন: তিনি নয়শ বা তারও বেশি শায়খের কাছ থেকে শিক্ষা নিয়েছেন। তিনি আরও বলেন: তাঁর কাছ থেকে হাদিস বর্ণনাকারীর সংখ্যা এত বেশি যে অন্য কোনো ইমামের ক্ষেত্রে তা দেখা যায় না।
(খণ্ড: ١) মিরআতুল মাফাতীহ শারহু মিশকাতিল মাসাবীহ (পৃষ্ঠা: ১২)
وأبي عبد الله محمد بن إدريس الشافعي

ــ

كرواته، وقال الذهبي: حدث عنه أمم لا يكادون يحصون، وروى سعيد بن أبي مريم عن أشهب بن عبد العزيز قال: رأيت أباحنيفة بين يدي مالك كالصبي بين يدي أبيه. وقال الشافعي: قال لي محمد بن الحسن: أيهما أعلم صاحبنا أم صاحبكم؟ يعني أباحنيفة ومالكاً رضي الله عنهما، قال: قلت على الإنصاف؟ قال: نعم، قال: قلت: ناشدتك الله، من أعلم بالقرآن صاحبنا أم صاحبكم؟ قال: اللهم صاحبكم، قال: قلت: ناشدتك الله، من أعلم بالسنة صاحبنا أم صاحبكم؟ قال: اللهم صاحبكم، قال: ناشدتك الله، من أعلم بأقاويل أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم المتقدمين صاحبنا أم صاحبكم؟ قال: اللهم صاحبكم، قال الشافعي: فلم يبق إلا القياس، والقياس لا يكون إلى على هذه الأشياء، فعلى أي شيء نقيس؟ ذكره ابن خلكان، ساد مذهبه في الأندلس قضاء وفتيا ولا يزال هو السائد إلى اليوم في المغرب، وقد أطنب الناس من السلف والخلف في ذكر ترجمته في كتبهم، وصنف جمع منهم تأليفات مفردة بذكر أحواله، منهم الذهبي، وأبوبكر بن أحمد بن مروان المالكي المتوفى سنة 310هـ، وأبوالروح عيسى بن مسعود الشافعي المتوفى سنة 774هـ، وأبوعبد الله محمد بن أحمد التستري المالكي المتوفى سنة 345هـ، ومحمد أبوإسحاق بن القاسم بن شعبان المتوفى سنة 355هـ، ومحمد أبوبكر بن اللباد بن محمد المتوفى سنة 333هـ، والحافظ ابن حجر، والسيوطي وغيرهم، وقد ذكر شطراً صالحاً من ترجمته، وكشف حال كتابه الموطأ الشاه عبد العزيز في "بستان المحدثين"، والشيخ عبد الحي اللكنوي في مقدمة التعليق الممجد، والعلامة القنوجي في إتحاف النبلاء (ص338-339) ، والحافظ في تهذيب التهذيب (ج10: ص3-9) ، والمصنف في الإكمال، والقاري في المرقاة (ج1: 17-18) ، وصاحب الأوجز في مقدمة شرحه للموطأ (ص11-35) ، فعليك أن تراجع هذه الكتب، قال الذهبي في التذكرة (ج1: ص191) : قد كنت أفردت ترجمة مالك في جزء وطولتها في تاريخي الكبير، قد اتفق لمالك مناقب ما علمتها اجتمعت لغيره، أحدها: طول العمر، وعلو الرواية. وثانيها: الذهن الثاقب، والفهم، وسعة العلم، وثالثها: اتفاق الأئمة على أنه حجة، صحيح الرواية، ورابعتها: تجمعهم على دينه، وعدالته، واتباعه السنن، وخامستها: تقدمه في الفقه والفتوى، وصحة قواعده، عاش ستاً وثمانين سنة - انتهى. وقدم المصنف عليه البخاري ومسلماً مع كونه أولى وأحرى بالتقديم للشرط الذي لكتابيهما. وقال القاري: أخر عن البخاري ومسلم ذكراً وإن كان مقدماً عليهما وجوداً ورتبة وإسناداً لتقدم كتابيهما على كتابه ترجيحاً لعدم التزامه تصحيحاً - انتهى. (وأبي عبد الله محمد بن إدريس) هو الإمام العلم حبر الأمة صاحب المذهب ناصر الحديث المجدد لأمر الدين على رأس المائتين محمد بن إدريس بن العباس بن عثمان بن شافع بن السائب بن عبيد بن عبد يزيد بن هاشم بن المطلب بن عبد مناف القرشي المطلبي المكي، نزيل مصر أبوعبد الله (الشافعي) بكسر الفاء بعدها عين مهملة، نسبة إلى شافع، قيل: لقي شافع النبي صلى الله عليه وسلم وهو مترعرع، وهذا وجه تخصيص النسبة إليه، ثم نسبه أهل مذهبه أيضاً شافعي لأن الاسم إذا كان مختوماً بياء مشددة، فإن كان قبلها أكثر من حرفين وجب حذفها، فتقول في النسبة إلى إسكندرية إسكندري، والشافعي من هذا القبيل، فقول العامة
এবং আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইদ্রিস আশ-শাফিঈ

ــ

তাঁর বর্ণনাকারীগণ। ইমাম যাহাবী বলেন: তাঁর থেকে অসংখ্য মানুষ বর্ণনা করেছেন যাদের গণনা করা প্রায় অসম্ভব। সাঈদ ইবনে আবি মারইয়াম আশহাব ইবনে আবদিল আজিজ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আবু হানিফাকে ইমাম মালিকের সামনে এমনভাবে বসে থাকতে দেখেছি, যেমন একজন শিশু তার পিতার সামনে বসে থাকে। ইমাম শাফিঈ বলেন: মুহাম্মদ ইবনে হাসান আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, আমাদের সাথী (আবু হানিফা) নাকি আপনাদের সাথী (মালিক)—কে অধিক জ্ঞানী? (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)। আমি বললাম: আপনি কি ইনসাফের সাথে উত্তর চান? তিনি বললেন: হ্যাঁ। আমি বললাম: আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করছি, কুরআনের জ্ঞানে আমাদের সাথী অগ্রগামী নাকি আপনাদের সাথী? তিনি বললেন: আল্লাহর কসম, অবশ্যই আপনাদের সাথী। আমি বললাম: আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করছি, সুন্নাহর জ্ঞানে আমাদের সাথী অগ্রগামী নাকি আপনাদের সাথী? তিনি বললেন: আল্লাহর কসম, অবশ্যই আপনাদের সাথী। আমি বললাম: আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পূর্ববর্তী সাহাবীদের বক্তব্যের জ্ঞানে আমাদের সাথী অগ্রগামী নাকি আপনাদের সাথী? তিনি বললেন: আল্লাহর কসম, অবশ্যই আপনাদের সাথী। ইমাম শাফিঈ বলেন: তখন কেবল কিয়াস (যৌক্তিক অনুমান) অবশিষ্ট রইল; আর কিয়াস তো এই মৌলিক বিষয়গুলোর ওপর ভিত্তি করেই হয়ে থাকে। সুতরাং আমরা কোন বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে কিয়াস করব? এটি ইবনে খাল্লিকান উল্লেখ করেছেন। আন্দালুসে বিচার ও ফতোয়ার ক্ষেত্রে তাঁর মাযহাব প্রাধান্য লাভ করে এবং আজ অবধি মরক্কোতে এটিই প্রধান মাযহাব হিসেবে টিকে আছে। পূর্ববর্তী ও পরবর্তী আলেমগণ তাঁদের কিতাবসমূহে তাঁর জীবনী অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে আলোচনা করেছেন। তাঁদের একটি দল তাঁর জীবনবৃত্তান্ত নিয়ে স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন ইমাম যাহাবী, আবু বকর ইবনে আহমদ ইবনে মারওয়ান আল-মালিকী (মৃত্যু ৩১০ হি.), আবুল রূহ ঈসা ইবনে মাসউদ আশ-শাফিঈ (মৃত্যু ৭৭৪ হি.), আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-তুস্তারি আল-মালিকী (মৃত্যু ৩৪৫ হি.), মুহাম্মদ আবু ইসহাক ইবনে কাসিম ইবনে শাবান (মৃত্যু ৩৫৫ হি.), মুহাম্মদ আবু বকর ইবনে আল-লাব্বাদ ইবনে মুহাম্মদ (মৃত্যু ৩৩৩ হি.), হাফিজ ইবনে হাজার, সুয়ূতী ও অন্যান্যগণ। শাহ আবদুল আজিজ 'বুস্তানুল মুহাদ্দিসীন' গ্রন্থে, শেখ আবদুল হাই লখনভী 'আত-তালিকুল মুমাজ্জাদ'-এর ভূমিকায়, আল্লামা কান্নুজী 'ইতহাফুন নুবালা' (পৃ. ৩৩৮-৩৩৯), হাফিজ ইবনে হাজার 'তাহযীবুত তাহযীব' (খণ্ড ১০, পৃ. ৩-৯), গ্রন্থকার 'আল-ইকমাল' গ্রন্থে, আল-কারী 'আল-মিরকাত' (খণ্ড ১, পৃ. ১৭-১৮) এবং 'আওজাযুল মাসালিক'-এর লেখক তাঁর মুয়াত্তার শারহ-এর ভূমিকায় (পৃ. ১১-৩৫) তাঁর জীবনীর একটি বড় অংশ এবং তাঁর গ্রন্থ 'মুয়াত্তা' সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। সুতরাং আপনার উচিত এই কিতাবগুলো দেখা। ইমাম যাহাবী 'আত-তাযকিরা' (খণ্ড ১, পৃ. ১৯১) গ্রন্থে বলেন: আমি ইমাম মালিকের জীবনী একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থে এবং আমার বৃহৎ ইতিহাস গ্রন্থে (তারিখুল ইসলাম) বিস্তারিত আলোচনা করেছি। ইমাম মালিকের এমন কিছু বৈশিষ্ট্য ও ফজিলত একত্রিত হয়েছে যা অন্য কারও ক্ষেত্রে হয়েছে বলে আমার জানা নেই। প্রথমত: দীর্ঘ জীবন এবং বর্ণনার উচ্চ সনদ। দ্বিতীয়ত: তীক্ষ্ণ মেধা, প্রখর বুঝ এবং ইলমের প্রশস্ততা। তৃতীয়ত: ইমামগণের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত যে তিনি একজন হুজ্জাত (প্রমাণ) এবং তাঁর বর্ণনা অত্যন্ত বিশুদ্ধ। চতুর্থত: তাঁর দ্বীনদারী, ন্যায়পরায়ণতা এবং সুন্নাহর অনুসরণের ওপর সকলের ঐক্যমত্য। পঞ্চমত: ফিকহ ও ফতোয়ায় তাঁর অগ্রগণ্যতা এবং তাঁর মূলনীতিসমূহের বিশুদ্ধতা। তিনি ছিয়াশি বছর জীবিত ছিলেন। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। গ্রন্থকার (মুসান্নিফ) বুখারী ও মুসলিমকে তাঁর আগে উল্লেখ করেছেন, যদিও তাঁর কিতাবের গুরুত্ব এবং পূর্ববর্তিতার কারণে তাঁকে অগ্রগণ্য করার যৌক্তিকতা ছিল, কিন্তু বুখারী ও মুসলিমের কিতাবদ্বয়ের বিশেষ শর্তের কারণে তাঁদের আগে রাখা হয়েছে। আল-কারী বলেন: বুখারী ও মুসলিমের পরে তাঁর উল্লেখ করা হয়েছে যদিও তিনি কালানুক্রমিকভাবে, মর্যদায় এবং সনদে তাঁদের আগে ছিলেন; এর কারণ হলো তাঁদের কিতাবদ্বয় ইমাম মালিকের কিতাবের ওপর প্রাধান্য পেয়েছে যেহেতু ইমাম মালিক তাঁর কিতাবে কেবল সহীহ হাদীস সংকলনের পূর্ণ দায়বদ্ধতা গ্রহণ করেননি। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। (এবং আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইদ্রিস) তিনি হলেন প্রখ্যাত ইমাম, উম্মাহর মহান পণ্ডিত, মাযহাবের ইমাম, হাদীসের সাহায্যকারী, হিজরী দ্বিতীয় শতাব্দীর প্রারম্ভে দ্বীনের মুজাদ্দিদ; মুহাম্মদ ইবনে ইদ্রিস ইবনে আব্বাস ইবনে উসমান ইবনে শাফি ইবনে সায়েব ইবনে উবায়েদ ইবনে আবদ ইয়াযীদ ইবনে হাশিম ইবনে মুত্তালিব ইবনে আবদ মানাফ আল-কুরাশী আল-মুত্তালিবি আল-মাক্কী। তিনি মিশরে বসবাস করতেন, তাঁর উপনাম আবু আবদুল্লাহ। (আশ-শাফিঈ) শব্দটি ফা-বর্ণে কাসরা এবং এরপর আইন-বর্ণ যুক্ত, যা শাফি-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত। বলা হয়: শাফি শৈশবকালে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাক্ষাৎ পেয়েছিলেন, আর এটিই তাঁর বংশকে বিশেষভাবে শাফিঈ হিসেবে পরিচিত করার কারণ। অতঃপর তাঁর মাযহাবের অনুসারীদেরও শাফিঈ বলা হয়; কারণ কোনো নাম যদি ইয়া-মুশাদ্দাদ (দ্বিত্ব ইয়া) দিয়ে শেষ হয় এবং এর আগে যদি দুইয়ের অধিক বর্ণ থাকে, তবে সেই ইয়া বিলুপ্ত করা আবশ্যক হয়। যেমন আপনি 'ইস্কান্দারিয়া'র সাথে সম্বন্ধ করতে গিয়ে বলেন 'ইস্কান্দারি'; শাফিঈ শব্দটিও এই পর্যায়ের। তাই সাধারণ মানুষের বক্তব্য—
(খণ্ড: ١) মিরআতুল মাফাতীহ শারহু মিশকাতিল মাসাবীহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
وأبي عبد الله أحمد بن محمد بن حنبل الشيباني،

ــ

"شافعوي" خطأ، ولد بغزة سنة 150هـ، على الأصح، وهي سنة وفاة أبي حنيفة، وحمل إلى مكة وهو ابن سنتين، وتوفي عند العشاء الآخر ليلة الجمعة آخر يوم من رجب سنة 204، ودفن بعد العصر يوم الجمعة بقرافة مصر، عاش أربعاً وخمسين سنة، قال المصنف بعد ذكر شيء من مناقبه: وفضائله أكثر من أن تحصى، كان إمام الدنيا وعالم الناس شرقاً وغرباً، جمع الله له من العلوم والمفاخر ما لم يجمع لإمام قبله ولا بعده، وانتشر له من الذكر ما لم ينتشر لأحد سواه، سمع مالك بن أنس، وسفيان بن عيينة، ومسلم بن خالد، وخلقاً سواهم كثيراً، حدث عنه أحمد بن حنبل، وأبوثور، وأبوإبراهيم المزني، والربيع بن سليم المرادي، وخلق كثير غيرهم، قدم بغداد سنة خمس وتسعين ومائة فأقام بها أشهراً، ثم خرج إلى مصر ومات بها، قال القاري: وصنف في العراق كتابه القديم المسمى بالحجة، ثم رحل إلى مصر سنة تسع وتسعين ومائة، وصنف كتبه الجديدة بها، ورجع عن تلك ومجموعها يبلغ مائة وثلاثة عشر مصنفاً، وسار ذكرها في البلدان، وقصده الناس من الأقطار للأخذ عنه، وكذا أصحابه من بعده لسماع كتبه حتى اجتمع في يوم على باب الربيع تسعمائة راحلة، وابتكر أصول الفقه، وكتاب القسامة، وكتاب الجزية، وقتال أهل البغي، وكان حجة في اللغة والنحو. وقال ابن خلكان: كان الشافعي كثير المناقب، جم المفاخر، منقطع القرين، اجتمعت فيه من العلوم بكتاب الله وسنة الرسول صلى الله عليه وسلم وكلام الصحابة وآثارهم واختلاف أقاويل العلماء وغير ذلك من معرفة كلام العرب واللغة العربية والشعر، حتى أن الأصمعي مع جلالة قدره في هذا الشأن قرأ عليه أشعار الهذليين ما لم يجتمع في غيره، حتى قال أحمد بن حنبل: ما عرفت ناسخ الحديث من منسوخه حتى جالست الشافعي. وقال أبوعبيد القاسم بن سلام: ما رأيت رجلاً قط أكمل من الشافعي، قال ابن خلكان: والشافعي أول من تكلم في أصول الفقه، وهو الذي استنبطه، وقد اتفق العلماء قاطبة من أهل الحديث والفقه والأصول واللغة والنحو وغير ذلك على ثقته وأمانته وعدالته وزهده وورعه ونزاهة عرضه وعفة نفسه وحسن سيرته وعلو قدره وسخائه. وأخبرني أحد المشايخ أنه عمل في مناقب الشافعي ثلاثة عشر تصنيفاً - انتهى. قلت: بل زيادة على ذلك فقد ذكر في كشف الظنون أحداً وعشرين تصنيفاً مع العزو إلى من صنف هذه التصانيف. وقال ابن الملقن في العقد المذهب: بلغ التصانيف في مناقب الشافعي إلى نحو أربعين مؤلفاً بل زيادة على ذلك، وقال الحافظ في توالي التأسيس بمعالي ابن إدريس: قد سبق إلى التأليف في ذلك من يتعسر استيعابهم بالذكر، أو يطمع في اللحاق بهم المتأخر ولو وسع المجال أو ضيق الفكر، ثم ذكر أسماء بعض من صنف في ذلك، وعليك أن تراجع توالي التأسيس، فقد ذكر فيه الحافظ شطراً صالحاً من مناقبه. (وأبي عبد الله أحمد بن محمد بن حنبل) بن هلال بن أسد الإمام الحافظ الحجة صاحب المذهب (الشيباني) نسبة إلى شيبان بن ذهل بن ثعلبة أحد أجداده، وهو مروزي الأصل، خرجت أمه من مرو وهي حامل فولدته ببغداد في ربيع الأول سنة 164هـ، وتوفي ضحوة نهار الجمعة لاثنتي عشرة خلت من ربيع الأول سنة 241هـ ببغداد، كان رحمه الله إماماً في الفقه والحديث والزهد والورع والعبادة، وبه عرف الصحيح والسقيم والمجروح من المعدل، ونشأ ببغداد وطلب
এবং আবু আব্দুল্লাহ আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন হাম্বল আশ-শায়বানী।

—

"শাফিআভি" শব্দটি ভুল; সঠিক মতানুসারে তিনি ১৫০ হিজরি সনে গাজায় জন্মগ্রহণ করেন, যা ইমাম আবু হানিফার ইন্তেকালের বছর। দুই বছর বয়সে তাকে মক্কায় নিয়ে আসা হয়। তিনি ২০৪ হিজরি সনের রজব মাসের শেষ দিন জুমার রাতে এশার নামাজের সময় ইন্তেকাল করেন এবং জুমার দিন আসরের পর মিশরের কারাফায় তাকে দাফন করা হয়। তিনি চুয়ান্ন বছর জীবিত ছিলেন। গ্রন্থকার তার কিছু শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনার পর বলেন: তার গুণাবলি ও মর্যাদা গণনার অতীত। তিনি ছিলেন বিশ্ববরেণ্য ইমাম এবং পূর্ব ও পশ্চিমের মানুষের জন্য এক মহান আলিম। আল্লাহ তাআলা তার মাঝে এমন জ্ঞান ও গৌরবগাথা একত্রিত করেছিলেন যা তার পূর্ববর্তী বা পরবর্তী অন্য কোনো ইমামের মাঝে পরিলক্ষিত হয়নি। তার সুখ্যাতি এমনভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল যা অন্য কারো ক্ষেত্রে ঘটেনি। তিনি মালিক বিন আনাস, সুফিয়ান বিন উয়ায়না, মুসলিম বিন খালিদ এবং আরও অসংখ্য মনিষীর নিকট ইলম অর্জন করেছেন। তার নিকট থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন আহমদ বিন হাম্বল, আবু সাওর, আবু ইবরাহিম আল-মুযানী, রাবী বিন সুলাইমান আল-মুরাদী এবং আরও অনেকে। তিনি ১৯৫ হিজরি সনে বাগদাদে আগমন করেন এবং সেখানে কয়েক মাস অবস্থান করেন। অতঃপর মিশরে গমন করেন এবং সেখানেই ইন্তেকাল করেন। আল-ক্বারী বলেন: তিনি ইরাকে থাকাকালীন তার 'আল-হুজ্জাহ' নামক প্রাচীন কিতাবটি রচনা করেন। অতঃপর ১৯৯ হিজরি সনে মিশরে হিজরত করেন এবং সেখানে তার নতুন কিতাবসমূহ সংকলন করেন এবং পূর্বের অনেক মত থেকে ফিরে আসেন। তার সর্বমোট রচনার সংখ্যা একশত তেরোটি এবং দেশ-বিদেশে সেগুলোর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। দেশ-দেশান্তর থেকে মানুষ তার নিকট ইলম অর্জনের উদ্দেশ্যে আসত। একইভাবে তার পরবর্তী সময়েও তার অনুসারীদের নিকট কিতাবসমূহ শোনার জন্য মানুষের সমাগম হতে থাকে, এমনকি একদিন রাবী-র দরজায় নয়শত সওয়ারীর বাহন একত্রিত হয়েছিল। তিনি উসূলে ফিকহ, কিতাবুল কাসামাহ, কিতাবুল জিজিয়া এবং বিদ্রোহী দমন সংক্রান্ত মাসআলাসমূহের উদ্ভাবক। তিনি ভাষা ও ব্যাকরণ শাস্ত্রেও প্রামাণ্য ব্যক্তিত্ব ছিলেন। ইবনে খাল্লিকান বলেন: শাফেয়ী ছিলেন অসংখ্য গুণাবলি ও অগণিত মফখরাতের অধিকারী, যার কোনো সমকক্ষ ছিল না। তার মাঝে আল্লাহর কিতাব, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ, সাহাবায়ে কেরামের বক্তব্য ও আসার, উলামায়ে কেরামের মতভেদ এবং এর বাইরেও আরবদের কথা, আরবি ভাষা ও কবিতার এমন গভীর জ্ঞান একত্রিত হয়েছিল যা অন্য কারো মধ্যে মেলেনি; এমনকি আসমায়ী—এই শাস্ত্রে তার সুউচ্চ মর্যাদা থাকা সত্ত্বেও—শাফেয়ীর নিকট হুযাইল গোত্রের কবিতা পাঠ করতেন। এমনকি ইমাম আহমদ বিন হাম্বল বলেন: আমি হাদিসের নাসিখ ও মানসুখ সম্পর্কে জানতাম না যতক্ষণ না আমি শাফেয়ীর মজলিসে বসেছি। আবু উবায়েদ কাসিম বিন সালাম বলেন: আমি শাফেয়ীর চেয়ে অধিকতর পূর্ণাঙ্গ কোনো মানুষ দেখিনি। ইবনে খাল্লিকান বলেন: শাফেয়ীই প্রথম ব্যক্তি যিনি উসূলে ফিকহ নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং তিনিই এই শাস্ত্রের উদ্ভাবক। হাদিস বিশারদ, ফকিহ, উসূলবিদ, ভাষাবিদ ও ব্যাকরণবিদসহ সকল আলেম তার বিশ্বস্ততা, আমানতদারি, ন্যায়পরায়ণতা, দুনিয়াবিমুখতা, তাকওয়া, সচ্চরিত্রতা, আত্মমর্যাদা, সুন্দর জীবনবোধ, সুউচ্চ মর্যাদা ও বদান্যতার বিষয়ে একমত পোষণ করেছেন। জনৈক শায়খ আমাকে জানিয়েছেন যে, তিনি শাফেয়ীর গুণাবলি নিয়ে তেরোটি গ্রন্থ রচনা করেছেন। আমি বলব: বরং তার চেয়েও বেশি; 'কাশফুয যুনুন' গ্রন্থে লেখকগণের নামসহ একুশটি গ্রন্থের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ইবনে মুলাক্কিন 'আল-আকদ আল-মুযহাব' গ্রন্থে বলেন: শাফেয়ীর মানাকিব বা গুণাবলি নিয়ে রচিত গ্রন্থের সংখ্যা প্রায় চল্লিশটি, বরং তার চেয়েও বেশি। হাফিজ ইবনে হাজার 'তাওয়ালি আল-তাসিস বি-মাআলি ইবনে ইদরিস' গ্রন্থে বলেন: এ বিষয়ে গ্রন্থ রচনায় অনেকেই অগ্রগামী হয়েছেন যাদের নাম উল্লেখ করাও দুঃসাধ্য, আর পরবর্তী যুগের কারোর পক্ষে তাদের সমপর্যায়ে পৌঁছানো কঠিন। অতঃপর তিনি এই বিষয়ে যারা গ্রন্থ লিখেছেন তাদের নাম উল্লেখ করেন। আপনার উচিত 'তাওয়ালি আল-তাসিস' গ্রন্থটি দেখে নেওয়া, কারণ হাফিজ সেখানে তার গুণাবলির একটি বড় অংশ উল্লেখ করেছেন। (এবং আবু আব্দুল্লাহ আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন হাম্বল) বিন হিলাল বিন আসাদ; যিনি ইমাম, হাফিজ, হুজ্জাহ এবং মাযহাবের প্রবর্তক (আশ-শায়বানি), যা তার অন্যতম পূর্বপুরুষ শায়বান বিন যুহাল বিন সা’লাবার দিকে সম্বন্ধযুক্ত। তিনি মূলত মার্ভের অধিবাসী। তার মা গর্ভবতী অবস্থায় মার্ভ থেকে বের হন এবং ১৬৪ হিজরির রবিউল আউয়াল মাসে বাগদাদে তাকে জন্ম দেন। তিনি ২৪১ হিজরির রবিউল আউয়াল মাসের বারো তারিখ শুক্রবার দ্বিপ্রহরের সময় বাগদাদে ইন্তেকাল করেন। তিনি (রহিমাহুল্লাহ) ফিকহ, হাদিস, যুহদ (দুনিয়াবিমুখতা), তাকওয়া ও ইবাদতে ছিলেন এক মহান ইমাম। তার মাধ্যমেই বিশুদ্ধ ও দুর্বল এবং ত্রুটিযুক্ত ও নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের পার্থক্য নির্ণিত হয়েছে। তিনি বাগদাদেই বেড়ে ওঠেন এবং ইলম অনুসন্ধান শুরু করেন।
(খণ্ড: ١) মিরআতুল মাফাতীহ শারহু মিশকাতিল মাসাবীহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
وأبي عيسى محمد بن عيسى الترمذي،

ــ

العلم وسمع الحديث من شيوخها، ثم رحل إلى مكة والكوفة والبصرة والمدينة واليمن والشام والجزيرة، فسمع من يحيى بن سعيد القطان، وابن عيينة، والشافعي، وعبد الرزاق بن الهمام، وخلق كثير، وروى عنه ابناه صالح وعبد الله، وابن عمه حنبل بن إسحاق، والبخاري، ومسلم، وأبوداود، وأبوزرعة، وأبوالقاسم البغوي، وخلق كثير سواهم، قال أبوزرعة: كانت كتبه اثني عشر جملاً، وكان يحفظها على ظهر قلبه، وكان يحفظ ألف ألف حديث، قال الشافعي: خرجت من بغداد وما خلفت بها أحداً أتقى وأورع ولا أفقه ولا أعلم من أحمد بن حنبل، ودعي إلى القول بخلق القرآن فلم يجب، فضرب وحبس وهو مصر على الامتناع، وكان ضربه في العشر الأخير من شهر رمضان سنة عشرين ومائتين، وكان حبسه أيام المعتصم ثمانية وعشرين شهراً، ثم عرف المتوكل قدره وأكرمه وقدره، وألف المسند الكبير، أعظم المسانيد وأحسنها وضعاً وانتقاداً، انتقاه من أكثر من سبعمائة ألف حديث وخمسين ألف حديث، ومناقبه كثيرة، وفضائله جمة، وله كرامات جليلة، وقد طول المؤرخون ترجمته، وترجمه الذهبي في النبلاء في مقدار خمسين ورقة، وأفردت ترجمته بمصنفات مستقلة بسيطة، قال الذهبي في التذكرة: سيرة أبي عبد الله - يعني الإمام أحمد - قد أفردها البيهقي في مجلد، وأفردها ابن الجوزي في مجلد، وأفردها شيخ الإسلام الأنصاري في مجلد لطيف - انتهى. وقال الحافظ في تهذيب التهذيب (ج1: ص75) : لم يسق المؤلف - يعني مصنف التهذيب - قصة المحنة، وقد استوفاها ابن الجوزي في مناقبه في مجلد، وقبله شيخ الإسلام الهروي، وترجمته في تاريخ بغداد للخطيب (ج4: 412-423) مستوفاة - انتهى. قال ابن خلكان: وحرز من حضر جنازته من الرجال فكانوا ثمانمائة ألف، ومن النساء ستين ألفاً، وقال أبوالحسن بن الزاغوني: كشف قبر أحمد حين دفن الشريف أبوجعفر بن أبي موسى إلى جانبه فوجد كفنه صحيحاً لم يبل، وجنبه لم يتغير، وذلك بعد موته بمائتين وثلاثين سنة. (وأبي عيسى محمد بن عيسى) بن سورة بن الضحاك السلمي الضرير البوغي (الترمذي) نسبة إلى ترمذ، واختلف في ضبطها كثيراً، والمعروف المشهور على الألسنة كسر التاء والميم وبينهما راء ساكنة بوزن "إثمد" كما ضبطها صاحب القاموس، قال السمعاني في الأنساب (ورقة 105) : والناس مختلفون في كيفية هذه النسبة، بعضهم يقول بفتح التاء المنقوطة بنقطتين من فوق، وبعضهم يقول بكسرها، والمتداول على لسان تلك البلدة - وكنت أقمت بها اثني عشر يوماً - فتح التاء وكسر الميم، والذي كنا نعرفه قديماً كسر التاء والميم جميعاً، والذي يقوله المتنوقون وأهل المعرفة بضم التاء والميم، وكل واحد يقول معنى لما يدعيه - انتهى. وقال الذهبي في التذكرة (ج1: ص188) : قال شيخنا ابن دقيق العيد: وترمذ بالكسر هو المستفيض على الألسنة حتى يكون كالمتواتر، وهذه البلدة ترمذ قال السمعاني: مدينة قديمة على طرف نهر بلغ الذي يقال له جيحون، ولد سنة 209هـ، كتبه نصاً العلامة الشيخ محمد عابد السندي المتوفى سنة 1257هـ بخطه على نسخة من كتاب الترمذي المكتوبة سنة 1221هـ المصححة المقابلة على أصل صحيح معتمد، ذكره العلامة الشيخ أحمد محمد شاكر في مقدمة تعليقه على الترمذي (77) قال: ولعله نقل ذلك استنباطاً من كلام غيره من المتقدمين، وقد
এবং আবু ঈসা মুহাম্মদ ইবনে ঈসা আত-তিরমিজি,

ــ

তিনি ইলম অর্জন করেন এবং তাঁর সমসাময়িক শায়খদের কাছ থেকে হাদিস শ্রবণ করেন। অতঃপর তিনি মক্কা, কুফা, বসরা, মদিনা, ইয়েমেন, সিরিয়া এবং জাজিরায় সফর করেন। তিনি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান, ইবনে উয়াইনা, আশ-শাফিয়ি, আব্দুর রাজ্জাক ইবনুল হুম্মাম এবং আরও বহু জগতবিখ্যাত আলেম থেকে হাদিস গ্রহণ করেছেন। তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন তাঁর দুই পুত্র সালেহ ও আব্দুল্লাহ, তাঁর চাচাতো ভাই হাম্বল ইবনে ইসহাক, বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ, আবু জুরআহ, আবুল কাসিম আল-বাগাওয়ি এবং আরও অনেক প্রখ্যাত মনীষী। আবু জুরআহ বলেন: তাঁর কিতাবসমূহ ছিল বারোটি উটের বোঝার সমান, যা তিনি মুখস্থ রাখতেন এবং তিনি দশ লক্ষ হাদিস মুখস্থ জানতেন। ইমাম শাফিয়ি বলেন: আমি যখন বাগদাদ ত্যাগ করি, তখন সেখানে আহমদ ইবনে হাম্বলের চেয়ে অধিক মুত্তাকি, পরহেজগার, ফকিহ এবং জ্ঞানী আর কাউকে রেখে আসিনি। তাঁকে ‘কুরআন সৃষ্টি’ সংক্রান্ত ভ্রান্ত মতবাদ গ্রহণ করার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছিল, কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। ফলে তাঁকে প্রহার করা হয় এবং বন্দি করে রাখা হয়, কিন্তু তিনি তাঁর অস্বীকৃতিতে অটল থাকেন। তাঁর এই প্রহারের ঘটনা ঘটেছিল ২২০ হিজরি সনের রমজান মাসের শেষ দশকে। মুতাসিমের শাসনামলে তিনি আটাশ মাস কারারুদ্ধ ছিলেন। পরবর্তীকালে খলিফা মুতাওয়াক্কিল তাঁর মর্যাদা অনুধাবন করেন এবং তাঁকে সম্মানিত ও সমাদৃত করেন। তিনি ‘আল-মুসনাদ আল-কাবির’ সংকলন করেছেন, যা মুসনাদ গ্রন্থসমূহের মধ্যে সর্ববৃহৎ, সুবিন্যস্ত এবং সুসংহত। তিনি এটি সাত লক্ষ পঞ্চাশ হাজার হাদিস থেকে নির্বাচন করে সংকলন করেছেন। তাঁর গুণাবলি ও মর্যাদা অপরিসীম এবং তাঁর বহু অলৌকিক ঘটনা (কারামত) বর্ণিত আছে। ঐতিহাসিকগণ তাঁর জীবনী বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন। ইমাম যাহাবি ‘সিয়ারু আলামিন নুবালা’ গ্রন্থে প্রায় পঞ্চাশ পৃষ্ঠা ব্যাপী তাঁর জীবনী লিখেছেন এবং তাঁর জীবনীর উপর স্বতন্ত্র ও বিস্তারিত গ্রন্থও রচিত হয়েছে। ইমাম যাহাবি ‘আত-তাজকিরা’ গ্রন্থে বলেন: আবু আব্দুল্লাহ—অর্থাৎ ইমাম আহমদ—এর জীবনী ইমাম বায়হাকি এক খণ্ডে, ইবনুল জাওজি এক খণ্ডে এবং শায়খুল ইসলাম আনসারি এক সংক্ষিপ্ত খণ্ডে স্বতন্ত্রভাবে রচনা করেছেন—সমাপ্ত। হাফেজ ইবনে হাজার ‘তাহজিবুত তাহজিব’ (১ম খণ্ড: ৭৫ পৃষ্ঠা) গ্রন্থে বলেন: মূল লেখক—অর্থাৎ তাহজিবের সংকলক—পরীক্ষার (মিহনা) ঘটনাটি উল্লেখ করেননি; অথচ ইবনুল জাওজি তাঁর ‘মানাকিব’ গ্রন্থে এক পূর্ণ খণ্ডে এটি বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন, এবং তাঁর পূর্বে শায়খুল ইসলাম আল-হারাউই এটি বর্ণনা করেছেন। খতিব বাগদাদির ‘তারিখে বাগদাদ’ (৪র্থ খণ্ড: ৪১২-৪২৩ পৃষ্ঠা) গ্রন্থেও তাঁর জীবনী বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে—সমাপ্ত। ইবনে খাল্লিকান বলেন: তাঁর জানাজায় উপস্থিত পুরুষদের সংখ্যা গণনা করে আট লক্ষ পাওয়া গিয়েছিল এবং নারীদের সংখ্যা ছিল ষাট হাজার। আবুল হাসান ইবনুল যাগুনি বলেন: যখন শরিফ আবু জাফর ইবনে আবু মুসাকে ইমাম আহমদের কবরের পাশে দাফন করার জন্য কবর খনন করা হয়েছিল, তখন ইমাম আহমদের কাফন অক্ষত অবস্থায় পাওয়া যায়, তা জীর্ণ হয়নি এবং তাঁর শরীরের কোনো পরিবর্তন হয়নি; অথচ এটি ছিল তাঁর ইন্তেকালের দুইশ ত্রিশ বছর পরের ঘটনা। (এবং আবু ঈসা মুহাম্মদ ইবনে ঈসা) ইবনে সাওরাহ ইবনে আদ-দাহহাক আস-সুলামি আদ-দরির আল-বুগি (আত-তিরমিজি)। তিনি তিরমিজ শহরের অধিবাসী ছিলেন। এই শব্দের উচ্চারণ নিয়ে মতভেদ রয়েছে। তবে মানুষের মুখে সর্বাধিক প্রচলিত ও প্রসিদ্ধ হলো ‘তা’ এবং ‘মিম’ বর্ণে কাসরা (জের) এবং মাঝখানের ‘রা’ বর্ণে সুকুন দিয়ে উচ্চারণ করা, যেমনটি ‘আল-কামুস’ প্রণেতা উল্লেখ করেছেন। সামআনি ‘আল-আনসাব’ (১০৫ পৃষ্ঠা) গ্রন্থে বলেন: এই সম্বন্ধসূচক নামের উচ্চারণে মানুষের মধ্যে ভিন্নতা রয়েছে; কেউ ‘তা’ বর্ণে ফাতহা (জবর) দিয়ে উচ্চারণ করেন, আবার কেউ কাসরা (জের) দিয়ে। তবে ওই অঞ্চলের অধিবাসীদের মুখে প্রচলিত উচ্চারণ হলো—যেখানে আমি বারো দিন অবস্থান করেছিলাম—‘তা’ বর্ণে ফাতহা (জবর) এবং ‘মিম’ বর্ণে কাসরা (জের)। আমরা প্রাচীনকাল থেকেই যা জানতাম তা হলো ‘তা’ এবং ‘মিম’ উভয় বর্ণে কাসরা (জের) হবে। আর ভাষাবিদ ও পণ্ডিতদের মতে ‘তা’ ও ‘মিম’ উভয় বর্ণে দম্মা (পেশ) হবে। প্রত্যেকেই নিজ নিজ দাবির সপক্ষে যুক্তি প্রদান করেছেন—সমাপ্ত। যাহাবি ‘আত-তাজকিরা’ (১ম খণ্ড: ১৮৮ পৃষ্ঠা) গ্রন্থে বলেন: আমাদের শায়খ ইবনে দাকিকুল ঈদ বলেছেন যে, ‘তা’ বর্ণে কাসরা (জের) দিয়ে তিরমিজ শব্দটিই মানুষের মুখে বহুল প্রচলিত, এমনকি তা মুতাওয়াতির বা সর্বজনস্বীকৃত স্তরে পৌঁছেছে। সামআনি বলেন: এই তিরমিজ শহরটি বালখ নদীর তীরে অবস্থিত একটি প্রাচীন শহর, যাকে জাইহুন বলা হয়। তিনি ২০৯ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। আল্লামা শায়খ মুহাম্মদ আবিদ আস-সিন্দি (মৃত্যু ১২৫৭ হিজরি) তিরমিজির একটি পাণ্ডুলিপিতে (যা ১২২১ হিজরিতে লিখিত এবং একটি নির্ভরযোগ্য মূল কপির সাথে মিলিয়ে সংশোধিত ছিল) নিজ হাতে এই জন্মসনটি লিপিবদ্ধ করেছেন। আল্লামা শায়খ আহমদ মুহাম্মদ শাকির তিরমিজির উপর তাঁর টীকা গ্রন্থের (৭৭ পৃষ্ঠা) ভূমিকায় এটি উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: সম্ভবত তিনি এটি পূর্ববর্তী আলেমদের বক্তব্য থেকে অনুমান করে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ١) মিরআতুল মাফাতীহ শারহু মিশকাতিল মাসাবীহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
ــ

صرح بذلك أيضاً جسوس والبيجوري في شرحهما على الشمائل، وقد ذكره الذهبي في ميزان الاعتدال أنه مات في رجب سنة 279هـ، وقال: وكان من أبناء السبعين، وقال القاري في شرح الشمائل بعد أن ذكر وفاته سنة 279هـ: وله سبعون سنة، وقال الصلاح الصفدي في نكت الهميان: ولد سنة بضع ومائتين، وقال ابن الأثير في جامع الأصول: ولد في ذي الحجة سنة مائتين (1) ، فالله أعلم بصحة ذلك، والأكثر على أنه توفي ليلة الاثنين الثالث عشر من رجب سنة 279هـ، وقيل سنة 275هـ، وقيل سنة 277هـ، والصواب الأول، وهو رحمه الله أحد الأئمة الحفاظ الأعلام المبرزين الذين يقتدى بهم في علم الحديث، صنف الجامع والتواريخ والعلل تصنيف رجل عالم متقن، كان يضرب به المثل في الحفظ، قد امتحنه بعض المحدثين بأن قرأ له أربعين حديثاً من غرائب حديثه، فأعادها من صدره فقال: ما رأيت مثلك. ونقل الحاكم أبوأحمد عن عمر بن علك أنه قال: مات البخاري فلم يخلف بخراسان مثل أبي عيسى في العلم والحفظ والورع والزهد، بكى حتى عمي وبقي ضريراً سنين، وذكره ابن حبان في الثقات وقال: كان ممن جمع وصنف وحفظ وذاكر، وقال أبوالفضل البيلماني: سمعت نصر بن محمد الشيركوهي يقول: سمعت محمد بن عيسى الترمذي يقول: قال لي محمد بن إسماعيل - يعني البخاري-: ما انتفعت بك أكثر مما انتفعت بي، وقال ابن خلكان: وهو تلميذ أبي عبد الله محمد بن إسماعيل البخاري، وشاركه في بعض شيوخه، مثل قتيبة بن سعيد، وعلي بن حجر، وابن بشار وغيرهم، وقال الشيخ أحمد المصري في مقدمة تعليقه: الترمذي تلميذ البخاري وخريجه، وعنه أخذ علم الحديث، وتفقه فيه، ومرن بين يديه، وسأله، واستفاد منه، وناظره فوافقه وخالفه كعادة هؤلاء العلماء في اتباع الحق حيث كان، وفي إنكار التقليد والإعراض عنه، وقد طاف البلاد وسمع خلقاً من الخراسانيين والعراقيين والحجازيين كما في التهذيب، والرواة عنه كثيرون، ذكر بعضهم في تذكرة الحفاظ وفي التهذيب، وأهمهم عندنا ذكراً المحبوبي راوي كتاب الجامع عنه، ترجم له ابن العماد في شذرات الذهب (ج2: ص373) فقال: أبوالعباس المحبوبي محمد بن أحمد بن محبوب المروزي، محدث مرو وشيخها ورئيسها، توفي في رمضان سنة 346هـ، وله سبع وسبعون سنة، روى جامع الترمذي عن مؤلفه، وروى عن سعيد بن مسعود صاحب النضر بن شميل وأمثاله. ووصفه السمعاني في الأنساب (ورقة 511) : شيخ أهل الثروة من التجار بخراسان وإليه كانت الرحلة، وقد أراد البخاري أن يشهد لتلميذه الترمذي شهادة قيمة فسمع منه حديثاً واحداً كعادة كبار الشيوخ في سماعهم ممن هو أصغر منهم - انتهى كلام الشيخ أحمد مختصراً. قلت: بل سمع البخاري من الترمذي حديثين، ذكر أحدهما في تفسير سورة الحشر، والثاني في مناقب علي، وقال المصنف: وللترمذي تصانيف كثيرة في علم الحديث، وهذا كتابه الصحيح أحسن الكتب وأكثرها فائدة وأحسنها ترتيبها وأقلها تكراراً، وفيه ما ليس في غيره من ذكر المذاهب ووجوه الاستدلال وتبيين أنواع الحديث من الصحيح والحسن والغريب، وفيه جرح وتعديل، وفي آخر كتاب العلل، وقد جمع فيه فوائد حسنة لا يخفى قدرها على من وقف عليها (2) . وارجع للبسط والتفصيل إلى مقدمة تحفة الأحوذي شرح

-----------------------------------

(1) كذا نقله شيخنا في مقدمة شرح الترمذي (ص167) ، والذي في جامع الأصول طبعة مصر (ج1: ص114) : ولد سنة تسع ومائتين.

(2) وكتاب العلل هذا الملحق بكتاب الجامع (سنن الترمذي) معروف بالعلل الصغير، وقد شرحه ابن رجب الحنبلي المتوفى سنة 795، وطبع هذا الشرح في بغداد سنة 1396هـ بتحقيق السيد صحبي جاسم الحميدي البدري السامرائي، وللترمذي أيضاً كتاب العلل الكبير، ذكره ابن النديم في الفهرست ص (339) قال السيد صبحي: لم أقف عليه ولعله فقد.

জাসুস এবং আল-বাই জুরিও তাঁদের 'আশ-শামায়েল'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে এ কথাটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। ইমাম আয-যাহাবি 'মিজানুল ইতিদাল' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি ২৭৯ হিজরির রজব মাসে ইন্তেকাল করেন এবং তিনি সত্তরের কোঠায় ছিলেন। আল-কারি 'আশ-শামায়েল'-এর ব্যাখ্যায় তাঁর মৃত্যুর বছর ২৭৯ হিজরি উল্লেখ করার পর বলেছেন: তাঁর বয়স ছিল সত্তর বছর। আস-সালাহ আস-সাফাদি 'নুকাতুল হিমইয়ান' গ্রন্থে বলেছেন: তিনি দুইশত কিছু বছর (২০১-২০৯ হিজরির মধ্যে) জন্মগ্রহণ করেন। ইবনুল আসির 'জামি আল-উসুল' গ্রন্থে বলেছেন: তিনি ২০০ হিজরির জিলহজ মাসে জন্মগ্রহণ করেন (১)। এ বিষয়ে সঠিক জ্ঞান একমাত্র আল্লাহরই রয়েছে। তবে অধিকাংশের মতে, তিনি ২৭৯ হিজরির ১৩ই রজব সোমবার রাতে ইন্তেকাল করেন। কেউ কেউ ২৭৫ হিজরি বা ২৭৭ হিজরিও বলেছেন, তবে প্রথমোক্ত মতটিই সঠিক। তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) ছিলেন হাদিস শাস্ত্রের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ইমাম ও হাফেজ, যাঁদেরকে এই শাস্ত্রে আদর্শ হিসেবে অনুসরণ করা হয়। তিনি 'আল-জামি', 'আত-তাওয়ারিখ' ও 'আল-ইলাল' গ্রন্থগুলো একজন প্রাজ্ঞ ও সুনিপুণ আলেমের ন্যায় সংকলন করেছেন। মুখস্থ শক্তির ক্ষেত্রে তাঁকে উদাহরণ হিসেবে পেশ করা হতো। কোনো কোনো মুহাদ্দিস তাঁর স্মৃতিশক্তি পরীক্ষা করার জন্য তাঁর সংগৃহীত চল্লিশটি বিরল (গারিব) হাদিস পড়ে শোনান, তখন তিনি সেগুলো হুবহু নিজের স্মৃতি থেকে শুনিয়ে দেন। তারা বললেন: "আমি আপনার মতো কাউকে দেখিনি।" আল-হাকিম আবু আহমদ, উমর ইবনে আলাক থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "ইমাম বুখারি ইন্তেকাল করেছেন এবং তিনি খোরাসানে ইলম, স্মৃতিশক্তি, তাকওয়া ও যুহদ (পরহেজগারি) এর ক্ষেত্রে আবু ঈসার মতো আর কাউকে স্থলাভিষিক্ত হিসেবে রেখে যাননি। তিনি রোদন করতে করতে অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন এবং জীবনের শেষ কয়েক বছর দৃষ্টিহীন অবস্থায় অতিবাহিত করেন।" ইবনে হিব্বান 'আস-সিকাত' গ্রন্থে তাঁর কথা উল্লেখ করে বলেছেন: "তিনি তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যারা হাদিস সংগ্রহ করেছেন, গ্রন্থনা করেছেন, মুখস্থ করেছেন এবং হাদিস নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা করেছেন।" আবুল ফজল আল-বাইলামানি বলেন: আমি নাসর ইবনে মুহাম্মদ আশ-শিরকুহি-কে বলতে শুনেছি, তিনি মুহাম্মদ ইবনে ঈসা আত-তিরমিজি-কে বলতে শুনেছেন যে, মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল (ইমাম বুখারি) আমাকে বলেছেন: "তুমি আমার কাছ থেকে যতটুকু উপকৃত হয়েছ, তার চেয়ে বেশি আমি তোমার দ্বারা উপকৃত হয়েছি।" ইবনে খাল্লিকান বলেছেন: তিনি ছিলেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারির ছাত্র এবং কুতাইবা ইবনে সাঈদ, আলী ইবনে হুজর ও ইবনে বাশশারের মতো কিছু উস্তাদের ক্ষেত্রে তিনি বুখারির সহপাঠী ছিলেন। শেখ আহমদ আল-মিসরি তাঁর টীকাগ্রন্থের ভূমিকায় বলেছেন: তিরমিজি ইমাম বুখারির ছাত্র এবং তাঁরই কাছে বিশেষভাবে শিক্ষিত। তিনি তাঁর কাছ থেকেই হাদিস শাস্ত্রের জ্ঞান অর্জন করেছেন, ফিকহ শিখেছেন এবং তাঁর তত্ত্বাবধানেই প্রশিক্ষণ লাভ করেছেন। তিনি তাঁকে প্রশ্ন করতেন, তাঁর থেকে উপকৃত হতেন এবং তাঁর সাথে তর্কে লিপ্ত হতেন (একাডেমিক আলোচনা); কখনো একমত হতেন আবার কখনো ভিন্নমত পোষণ করতেন—যেমনটি সত্য অনুসরণের ক্ষেত্রে এবং অন্ধ অনুকরণ বর্জনের ক্ষেত্রে এই ওলামায়ে কেরামগণের স্বভাব ছিল। তিনি বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেছেন এবং খোরাসানি, ইরাকি ও হিজাজি মুহাদ্দিসদের এক বিশাল জামাতের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন, যেমনটি 'আত-তাহযিব' গ্রন্থে উল্লেখ আছে। তাঁর থেকে বর্ণনা কারীর সংখ্যা অনেক। 'তাজকিরাতুল হুফফাজ' ও 'আত-তাহযিব' গ্রন্থে তাঁদের কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। আমাদের কাছে তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলেন আল-মাহবুবি, যিনি তাঁর থেকে 'আল-জামি' গ্রন্থটি বর্ণনা করেছেন। ইবনুল ইমাদ 'শাযারাতুয যাহাব' গ্রন্থে (২য় খণ্ড, ৩৭৩ পৃষ্ঠা) তাঁর জীবনীতে বলেছেন: আবুল আব্বাস আল-মাহবুবি মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে মাহবুব আল-মারওয়াযি, তিনি মার্ভের মুহাদ্দিস, শায়খ এবং প্রধান ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি ৩৪৬ হিজরির রমজান মাসে সাতাত্তর বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। তিনি ইমাম তিরমিজির নিকট থেকে তাঁর 'জামি' গ্রন্থটি বর্ণনা করেছেন এবং নাজর ইবনে শুমাইল-এর সাথী সাঈদ ইবনে মাসউদ ও তাঁর সমসাময়িকদের থেকেও বর্ণনা করেছেন। আস-সামআনি 'আল-আনসাব' গ্রন্থে (৫১১ পৃষ্ঠা) তাঁর বর্ণনায় বলেছেন: তিনি ছিলেন খোরাসানের ধনাঢ্য ব্যবসায়ী ও শায়খ এবং জ্ঞানান্বেষীদের গন্তব্যস্থল। ইমাম বুখারি তাঁর ছাত্র তিরমিজিকে একটি মূল্যবান স্বীকৃতি দিতে চেয়েছিলেন, তাই তিনি তাঁর থেকে একটি হাদিস শ্রবণ করেন—যেমনটি বড় উস্তাদগণ তাঁদের ছোটদের থেকে শোনার মাধ্যমে মর্যাদা দিয়ে থাকেন। শায়খ আহমদের বক্তব্য সংক্ষেপে এখানেই সমাপ্ত। আমি (গ্রন্থকার) বলছি: বরং ইমাম বুখারি ইমাম তিরমিজির নিকট থেকে দু’টি হাদিস শুনেছেন। একটি সূরা আল-হাশরের তাফসিরের বর্ণনায় এবং দ্বিতীয়টি আলীর (রা.) ফজিলত সংক্রান্ত বর্ণনায়। লেখক বলেন: হাদিস শাস্ত্রে তিরমিজির অনেকগুলো সংকলন রয়েছে। আর তাঁর এই 'সহিহ' (সুনান তিরমিজি) গ্রন্থটি সর্বোৎকৃষ্ট, অত্যন্ত উপকারী, চমৎকার সুবিন্যস্ত এবং এতে পুনরাবৃত্তি খুব কম। এতে এমন কিছু বৈশিষ্ট্য আছে যা অন্য গ্রন্থে নেই, যেমন বিভিন্ন মাজহাব ও ইস্তিদলালের (দলিল গ্রহণের) পদ্ধতি বর্ণনা করা এবং হাদিসের প্রকারভেদ—সহিহ, হাসান ও গরিব—স্পষ্ট করা। এছাড়াও এতে রাবিদের সমালোচনা ও নির্ভরযোগ্যতা (জারহ ও তাদিল) আলোচিত হয়েছে। গ্রন্থের শেষে রয়েছে 'কিতাবুল ইলাল', যাতে তিনি অনেক মূল্যবান তথ্য একত্রিত করেছেন যার গুরুত্ব গবেষকদের কাছে স্পষ্ট (২)। বিস্তারিত জানতে 'তুহফাতুল আহওয়াযি' শারহ-এর ভূমিকার দিকে নজর দিন।

-----------------------------------

(১) আমাদের শায়খ তিরমিজির ব্যাখ্যাগ্রন্থের ভূমিকায় (পৃষ্ঠা ১৬৭) অনুরূপ উদ্ধৃত করেছেন। তবে 'জামি আল-উসূল'-এর মিশরীয় সংস্করণে (১ম খণ্ড, ১১৪ পৃষ্ঠা) রয়েছে: তিনি ২০৯ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন।

(২) 'আল-জামি' (সুনানে তিরমিজি) গ্রন্থের সাথে সংযুক্ত এই 'কিতাবুল ইলাল' গ্রন্থটি 'ইলালুস সগির' নামে পরিচিত। ইবনে রজব আল-হাম্বলি (মৃত্যু ৭৯৫ হিজরি) এর ব্যাখ্যা লিখেছেন এবং এই ব্যাখ্যাটি ১৩৯৬ হিজরিতে বাগদাদ থেকে সাইয়্যেদ সুবহি জাসিম আল-হুমাইদি আল-বাদরি আস-সামাররায়ি-এর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছে। ইমাম তিরমিজির 'ইলালুল কাবির' নামেও একটি গ্রন্থ রয়েছে, যা ইবনে নাদিম 'আল-ফিহরিস্ত' (পৃষ্ঠা ৩৩৯) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। সাইয়্যেদ সুবহি বলেন: আমি এর সন্ধান পাইনি, সম্ভবত এটি হারিয়ে গেছে।
(খণ্ড: ١) মিরআতুল মাফাতীহ শারহু মিশকাতিল মাসাবীহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
وأبي داود سليمان بن الأشعث السجستاني، وأبي عبد الرحمن أحمد بن شعيب النسائي،

ــ

جامع الترمذي، وإلى مقدمة تعليق الترمذي للشيخ أحمد محمد شاكر المصري (وأبي داود سليمان بن الأشعث) بن إسحاق بن بشير بن شداد بن عمرو بن عمران الأزدي (السجستاني) بكسر السين المهملة وتفتح وبكسر الجيم وسكون السين الثانية بعدها تاء مثناة من فوقها وبعد الألف نون، نسبة إلى سجستان معرب سيستان الأقليم المشهور بين خراسان وكرمان، ويقال في النسبة إلى سجستان: "سجزي" أيضاً، وقد نسب أبوداود وغيره كذلك، وهو عجيب التغير في النسب، ولد سنة 202هـ، وتوفي بالبصرة يوم الجمعة منتصف شوال سنة 275هـ عن ثلاث وسبعين سنة. وهو الإمام الثبت أحد حفاظ الحديث وعلله، وفي الدرجة العليا من النسك والصلاح وعلم الفقه والورع والإتقان، أحد من رحل وطوف البلاد وجمع وصنف وسمع بخراسان والعراق والجزيرة والشام والحجاز ومصر، وقدم بغداد مراراً، ثم نزل البصرة وسكنها، وأخذ عن أحمد بن حنبل ويحيى بن معين وقتيبة بن سعيد وعبد الله بن مسلمة ومسدد بن مسرهد ومحمد بن بشار وغير هؤلاء أئمة الحديث ممن لا يحصى كثرة. وحدث عنه ابنه أبوبكر عبد الله بن أبي داود، وكان من أكابر الحفاظ ببغداد عالماً متفقاً عليه إمام بن إمام، وحدث عنه أيضاً أبوعيسى الترمذي صاحب الجامع، وأبوعبد الرحمن النسائي صاحب السنن المشهورة، وأحمد بن محمد الخلال، وروى عنه شيخه أحمد بن حنبل فرد حديث أي حديث العتيرة، كان أبوداود يفتخر بذلك، وروى عنه خلق سوى هؤلاء، قال أبوبكر الخلال: أبوداود هو الإمام المقدم في زمانه، رجل لم يسبقه إلى معرفته بتخريج العلوم وبصره بمواضعه أحد في زمانه، وقال ابن حبان: أبوداود أحد أئمة الدنيا فقهاً وعلماً وحفظاً ونسكاً وورعاً وإتقاناً، وقال الحافظ موسى بن هارون: خلق أبوداود في الدنيا للحديث وفي الآخر للجنة، وما رأيت أفضل منه، قال أبوداود: كتبت عن رسول الله صلى الله عليه وسلم خمسمائة ألف حديث، انتخبت منها ما ضمنته هذا الكتاب، جمعت فيه أربعة آلاف حديث وثمان مائة حديث، ذكرت الصحيح وما يشبهه وما يقاربه، وقال: ما ذكرت فيه حديثاً أجمع الناس على تركه، وعرض كتابه هذا على شيخه أحمد بن حنبل فاستجاده واستحسنه، وارجع للبسط إلى تاريخ بغداد (ج9: ص55-59) ، والتهذيب (ج4: 169-173) ، والتذكرة (ج2: 168-170) ، وبستان المحدثين، وإتحاف النبلاء (256-257) ، وغير ذلك من كتب التواريخ والتراجم. (وأبي عبد الرحمن أحمد بن شعيب) بن علي بن سنان بن بحر بن دينار الحافظ الإمام القاضي صاحب السنن المشهورة (النسائي) نسبة إلى نسأ - بفتح النون والسين المهملة وبعدها همزة يعني بالقصر -، وهي مدينة بخراسان، وقال صاحب مجمع البحار في المغني: النسائي بنون مفتوحة وخفة سين مهملة ومد وهمزة نسبة إلى نسأ، مدينة بخراسان، وكذا ضبطه طاش كبرى زاده، قال شيخنا في مقدمة شرحه الجامع الترمذي (ص65) : النسائي بالمد والنسائي بالقصر كلاهما صحيح، فإن الظاهر أن مدينة نساء التي هي بخراسان يقال لها نساء ونسأ بالوجهين انتهى. ولد سنة 214هـ أو سنة 215هـ أو سنة 221هـ على اختلاف الأقوال، والراجح هو القول الثاني، وتوفي برملة من أرض فلسطين، وقيل: بمكة يوم الاثنين لثلاث عشرة خلت من صفر، وقيل: من شعبان سنة 303. قال الذهبي في مختصره:
এবং আবু দাউদ সুলায়মান ইবনুল আশআস আস-সিজিস্তানি এবং আবু আবদির রহমান আহমাদ ইবনে শুআইব আন-নাসায়ি।

—

জামি আত-তিরমিজি এবং শেখ আহমাদ মুহাম্মাদ শাকির আল-মিসরি রচিত তিরমিজির টীকাগ্রন্থের ভূমিকার দিকে (এবং আবু দাউদ সুলায়মান ইবনুল আশআস) ইবনে ইসহাক ইবনে বাশির ইবনে শাদ্দাদ ইবনে আমর ইবনে ইমরান আল-আজদি (আস-সিজিস্তানি)। 'সিন' বর্ণে কাসরা (জের) দিয়ে, তবে ফাতহা (জবর) দিয়েও পড়া হয়, এবং 'জিম' বর্ণে কাসরা এবং দ্বিতীয় 'সিন' বর্ণে সুকুন, এরপর 'তা' এবং আলিফের পর 'নুন'। এটি সিজিস্তানের সাথে সম্পৃক্ত, যা সিস্তানের আরবীকৃত রূপ। এটি খোরাসান ও কিরমানের মধ্যবর্তী একটি প্রসিদ্ধ অঞ্চল। সিজিস্তানের অধিবাসীকে 'সিজজি'ও বলা হয়। ইমাম আবু দাউদ ও অন্যান্যরা এভাবেই নিজেদের পরিচয় দিয়েছেন, যা ব্যাকরণগত পরিবর্তনের বিচারে বিস্ময়কর। তিনি ২০২ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২৭৫ হিজরি সনের শাওয়াল মাসের মাঝামাঝি জুমার দিনে ৭৩ বছর বয়সে বসরায় ইন্তেকাল করেন। তিনি ছিলেন একজন নির্ভরযোগ্য ইমাম, হাদিস ও হাদিসের ত্রুটি (ইল্লাল) বিষয়ক হাফেজদের অন্যতম। ইবাদত-বন্দেগি, সততা, ফিকহ শাস্ত্র, পরহেজগারি এবং নিখুঁত কর্মদক্ষতার ক্ষেত্রে তিনি সর্বোচ্চ স্তরের অধিকারী ছিলেন। তিনি সেই সকল ব্যক্তিদের একজন যারা হাদিস সংগ্রহের উদ্দেশ্যে দেশ-বিদেশে ভ্রমণ করেছেন, কিতাব সংকলন করেছেন এবং খোরাসান, ইরাক, জাজিরা, শাম, হিজাজ ও মিসরে হাদিস শ্রবণ করেছেন। তিনি বারবার বাগদাদে এসেছেন, অতঃপর বসরায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। তিনি আহমাদ ইবনে হাম্বল, ইয়াহইয়া ইবনে মাইন, কুতাইবা ইবনে সাঈদ, আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা, মুসাদ্দাদ ইবনে মুসারহাদ, মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার এবং তাঁদের মতো অগণিত হাদিসের ইমামদের নিকট থেকে হাদিস গ্রহণ করেছেন। তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন তাঁর পুত্র আবু বকর আবদুল্লাহ ইবনে আবু দাউদ, যিনি বাগদাদের বড় হাফেজদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং সর্বসম্মতভাবে একজন বিজ্ঞ আলেম ও ইমামের যোগ্য পুত্র ইমাম ছিলেন। তাঁর থেকে আরও বর্ণনা করেছেন 'জামি' সংকলক আবু ঈসা আত-তিরমিজি, প্রসিদ্ধ 'সুনান' সংকলক আবু আবদির রহমান আন-নাসায়ি এবং আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ আল-খাল্লাল। এমনকি তাঁর উস্তাদ আহমাদ ইবনে হাম্বলও তাঁর থেকে একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন, আর সেটি হলো 'আতীরা' বিষয়ক হাদিস। আবু দাউদ এতে গর্ববোধ করতেন। এছাড়াও অসংখ্য মানুষ তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। আবু বকর আল-খাল্লাল বলেন: আবু দাউদ তাঁর সময়ের অগ্রগণ্য ইমাম ছিলেন; ইলম উদ্ধার এবং এর উৎস সন্ধানের ক্ষেত্রে তাঁর সমকালে তাঁর চেয়ে পারদর্শী আর কেউ ছিল না। ইবনে হিব্বান বলেন: আবু দাউদ ফিকহ, ইলম, হেফজ, ইবাদত, তাকওয়া এবং নিখুঁত কর্মতৎপরতায় বিশ্বের অন্যতম ইমাম ছিলেন। হাফেজ মুসা ইবনে হারুন বলেন: আবু দাউদ দুনিয়াতে হাদিসের জন্য এবং আখিরাতে জান্নাতের জন্য সৃষ্টি হয়েছেন; আমি তাঁর চেয়ে শ্রেষ্ঠ কাউকে দেখিনি। আবু দাউদ বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পাঁচ লক্ষ হাদিস লিখেছি, যেখান থেকে বাছাই করে আমি এই কিতাবটি সংকলন করেছি। এতে আমি চার হাজার আটশ হাদিস একত্রিত করেছি। আমি সহিহ এবং এর সদৃশ ও কাছাকাছি পর্যায়ের হাদিসসমূহ উল্লেখ করেছি। তিনি আরও বলেন: আমি এতে এমন কোনো হাদিস উল্লেখ করিনি যেটির পরিত্যাগের ব্যাপারে সকলে একমত হয়েছেন। তিনি তাঁর এই কিতাবটি উস্তাদ আহমাদ ইবনে হাম্বলের নিকট পেশ করলে তিনি এটি পছন্দ করেন এবং এর প্রশংসা করেন। বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন: তারিখু বাগদাদ (৯ম খণ্ড, পৃ. ৫৫-৫৯), আত-তাহজিব (৪র্থ খণ্ড, পৃ. ১৬৯-১৭৩), আত-তাযকিরা (২য় খণ্ড, পৃ. ১৬৮-১৭০), বুস্তানুল মুহাদ্দিসিন, ইতহাফুন নুবালা (২৫৬-২৫৭) এবং অন্যান্য ইতিহাস ও জীবনীগ্রন্থ। (এবং আবু আবদির রহমান আহমাদ ইবনে শুআইব) ইবনে আলি ইবনে সিনান ইবনে বাহর ইবনে দিনার আল-হাফিজ আল-ইমাম আল-কাদি, যিনি প্রসিদ্ধ সুনান গ্রন্থের প্রণেতা (আন-নাসায়ি)। 'নুন' এবং 'সিন' বর্ণে ফাতহা (জবর) দিয়ে এবং এরপর হামজা যোগে অর্থাৎ সংক্ষেপে 'নাসআ' শব্দের সাথে সম্পৃক্ত। এটি খোরাসানের একটি শহর। মাজমাউল বিহার গ্রন্থের লেখক 'আল-মুগনি'তে বলেন: নাসায়ি শব্দটি নুনের ওপর জবর এবং সিনের ওপর কোনো তাসদিদ ছাড়া এবং হামজাসহ দীর্ঘ স্বরে উচ্চারিত হয়, যা খোরাসানের 'নাসআ' শহরের সাথে সম্পর্কিত। তাশ কুবরা জাদাহ এভাবেই এটি নির্দিষ্ট করেছেন। আমাদের শায়খ তাঁর 'জামি আত-তিরমিজি'র ব্যাখ্যাগ্রন্থের ভূমিকায় (পৃ. ৬৫) বলেন: দীর্ঘ স্বর (মাদ্দ) এবং সংক্ষিপ্ত স্বর (কাসর) উভয়ভাবেই 'নাসায়ি' শব্দটি পড়া সঠিক। কারণ স্পষ্টত খোরাসানের শহরটিকে 'নাসআ' (দীর্ঘ স্বরে) এবং 'নাসআ' (সংক্ষিপ্ত স্বরে) উভয়ভাবেই বলা হয় (উদ্ধৃতি শেষ)। মতভেদে তিনি ২১৪ হিজরি অথবা ২১৫ হিজরি অথবা ২২১ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। তবে দ্বিতীয় মতটিই অধিক বিশুদ্ধ। তিনি ফিলিস্তিনের রামলায় ইন্তেকাল করেন। কেউ কেউ বলেছেন, মক্কায় সোমবার দিন ১৩ই সফর, আবার কেউ বলেছেন ৩০৩ হিজরির শাবান মাসে তিনি ইন্তেকাল করেন। আয-যাহাবি তাঁর 'মুখতাসার' গ্রন্থে বলেন:
(খণ্ড: ١) মিরআতুল মাফাতীহ শারহু মিশকাতিল মাসাবীহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
عاش ثمان وثمانين سنة. قال الحافظ: وكأنه بناه على ما تقدم من مولده فهو تقريب - انتهى. وهو رحمه الله أحد الأئمة الحفاظ العلماء الفقهاء، لقي المشايخ الكبار، وأخذ الحديث عن قتيبة بن سعيد وهناد بن السري ومحمد بن بشار وعلي بن حجر ومحمود بن غيلان وأبي داود سليمان بن الأشعث وغير هؤلاء من المشايخ الحفاظ، وأخذ عنه الحديث خلق كثير، ومنهم الطبراني والطحاوي وأبوبكر بن السني الحافظ، وله كتب كثيرة في الحديث والعلل وغير ذلك، قال أبوالحسين بن المظفر: سمعت مشايخنا بمصر يعترفون لأبي عبد الرحمن النسائي بالتقدم والإمامة، ويصفون من اجتهاده في العبادة بالليل والنهار ومواظبته على الحج والجهاد وإقامته السنن المأثورة واحترازه عن مجالس السلطان، وإن ذلك لم يزل دأبه إلى أن استشهد، وقال الحاكم: سمعت عمرو بن علي الحافظ غير مرة يقول: أبوعبد الرحمن مقدم على كل من يذكر بهذا العلم من أهل عصره، وقال مرة: سمعت عمرو بن علي يقول: النسائي أفقه مشايخ مصر في عصره، وأعرفهم بالصحيح والسقيم، وأعلمهم بالرجال، فلما بلغ هذا المبلغ حسدوه، فخرج إلى الرملة، فسئل عن فضائل معاوية فأمسك عنه، فضربوه في الجامع، فقال: أخرجوني إلى مكة، فأخرجوه وهو عليل، وتوفي مقتولاً شهيداً، وقال: أما كلام أبي عبد الرحمن على فقه الحديث فأكثر من أن يذكر، ومن نظر في كتابه السنن تحير، قال السيد جمال الدين المحدث: صنف النسائي في أول الأمر كتاباً يقال له السنن الكبير للنسائي، وهو كتاب جليل لم يكتب مثله في جمع طرق الحديث وبيان مخرجه، وبعده اختصره وسماه بالمجتنى - بالنون -، وسبب اختصاره أن أحداً من أمراء زمانه سأله أن جميع أحاديث كتابك صحيح؟ فقال في جوابه: لا، فأمره الأمير بتجريد الصحاح وكتابة صحيح مجرد، فانتخب منه المجتنى، وكل حديث تكلم في إسناده أسقطه منه، فإذا أطلق المحدثون بقولهم "رواه النسائي" فمرادهم هذا المختصر المسمى بالمجتنى، لا الكتاب الكبير، كذا في المرقاة، وقال ابن الأثير (ج1: ص116) : وسأله بعض الأمراء عن كتابه السنن أكله صحيح؟ فقال: لا، قال: فاكتب لنا الصحيح منه مجرداً، فصنع المجتبى، فهو المجتبى من السنن، ترك كل حديث أورده في السنن (الكبيرة) مما تكلم في إسناده بالتعليل، رواه ابن عساكر، وسماه المجتنى بالنون أو الباء والمعنى قريب، والأشهر هو الأخير، وإذا أطلق أهل الحديث على أن النسائي روى حديثاً فإنما يريدون المجتبى لا السنن الكبرى، وهي إحدى الكتب الستة، قال الحافظ أبوعلي: للنسائي شرط في الرجال أشد من شرط مسلم، وكذلك الحاكم والخطيب كانا يقولان: إنه صحيح، وإن له شرطاً في الرجال أشد من شرط مسلم، لكن قولهم غير مسلّم، قال البقاعي في شرح الألفية عن ابن كثير: إن في النسائي رجالاً مجهولين إما عيناً أو حالاً، وفيهم المجروح، وفيه أحاديث ضعيفة ومعللة ومنكرة، وقال الشوكاني: وله مصنفات كثيرة في الحديث والعلل، منها السنن، وهي أقل السنن الأربع بعد الصحيح حديثاً ضعيفاً، قال الذهبي والتاج السبكي: إن النسائي أحفظ من مسلم صاحب الصحيح، هذا ملتقط من مقدمة تحفة الأحوذي (64-65) ، والتذكرة (ج2: 266-269) ، والتهذيب (ج1: 37-39) ، وإتحاف النبلاء (189-190) ، وبستان المحدثين، هذا وقد ادعى الشيخ تقي النقي العلامة عبد الصمد شرف الدين في مقدمته القيمة للسنن الكبرى (17-19) أن حكاية ابن

তিনি আটাশি বছর জীবিত ছিলেন। হাফিজ (ইবনে হাজার) বলেন: মনে হয় তিনি তাঁর জন্মের পূর্বোক্ত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এটি বলেছেন, সুতরাং এটি একটি অনুমানমাত্র—সমাপ্ত। তিনি (রহিমাহুল্লাহ) ছিলেন ইমামগণের অন্তর্ভুক্ত অন্যতম হাফিজ, আলিম ও ফকীহ। তিনি মহান শাইখদের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন এবং কুতাইবাহ বিন সাঈদ, হান্নাদ বিন সাররি, মুহাম্মাদ বিন বাশশার, আলী বিন হুজর, মাহমুদ বিন গাইলান, আবু দাউদ সুলাইমান বিন আশআস এবং এই শ্রেণির অন্যান্য হাফিজ শাইখদের নিকট থেকে হাদীস গ্রহণ করেছেন। তাঁর নিকট থেকে অসংখ্য মানুষ হাদীস গ্রহণ করেছেন, যাদের মধ্যে তাবারানি, তাহাবি এবং হাফিজ আবু বকর ইবনুস সুন্নি অন্যতম। হাদীস শাস্ত্র, ‘ইলাল’ (হাদীসের সূক্ষ্ম ত্রুটি) ও অন্যান্য বিষয়ে তাঁর বহু গ্রন্থ রয়েছে। আবুল হুসাইন বিন আল-মুজাফফর বলেন: আমি মিশরে আমাদের শাইখদেরকে আবু আব্দুর রহমান আন-নাসায়ীর শ্রেষ্ঠত্ব ও ইমামতের কথা স্বীকার করতে শুনেছি। তাঁরা দিনরাত ইবাদতে তাঁর পরিশ্রম, নিয়মিত হজ ও জিহাদ সম্পাদন, মাছুর (বর্ণিত) সুন্নাহসমূহের অনুসরণ এবং সুলতান বা শাসকদের মজলিস থেকে তাঁর দূরে থাকার বর্ণনা দিতেন। শাহাদাত বরণ করা পর্যন্ত এটাই ছিল তাঁর চিরন্তন স্বভাব। ইমাম হাকিম বলেন: আমি হাফিজ আমর বিন আলী থেকে একাধিকবার বলতে শুনেছি যে, তাঁর যুগের এই ইলমের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলের উপরে আবু আব্দুর রহমান অগ্রগণ্য। তিনি আরও একবার বলেন: আমি আমর বিন আলীকে বলতে শুনেছি যে, নাসায়ী তাঁর যুগের মিশরের শাইখদের মধ্যে সবচেয়ে বড় ফকীহ ছিলেন এবং সহীহ ও সাকিম (ত্রুটিযুক্ত) হাদীস সম্পর্কে অধিক পরিজ্ঞাত ও রিজাল শাস্ত্র সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী ছিলেন। যখন তিনি এই সুউচ্চ মাকামে পৌঁছালেন, তখন লোকেরা তাঁর প্রতি ঈর্ষান্বিত হলো। ফলে তিনি রামলার উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়লেন। সেখানে তাঁকে মুআবিয়ার ফযীলত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি তা থেকে বিরত থাকলেন। ফলে তারা তাঁকে জামে মসজিদে প্রহার করল। তখন তিনি বললেন: আমাকে মক্কায় নিয়ে চলো। অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে মক্কায় নিয়ে যাওয়া হলো এবং তিনি সেখানে শহীদ হিসেবে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি আরও বলেন: হাদীসের ফিকহের ওপর আবু আব্দুর রহমানের আলোচনা এত বেশি যে তা উল্লেখ করে শেষ করা সম্ভব নয়। যে ব্যক্তি তাঁর 'সুনান' গ্রন্থটি দেখবে সে বিস্ময়াভিভূত হবে। সাইয়্যিদ জামালুদ্দীন আল-মুহাদ্দিস বলেন: নাসায়ী প্রথম দিকে 'আস-সুনান আল-কাবীর' নামে একটি গ্রন্থ রচনা করেন। এটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ একটি গ্রন্থ; হাদীসের বিভিন্ন সূত্র একত্রীকরণ এবং এর উৎস বর্ণনায় এর সমতুল্য কোনো গ্রন্থ লেখা হয়নি। পরবর্তীতে তিনি একে সংক্ষিপ্ত করেন এবং এর নাম দেন 'আল-মুজতানা' (নূন যোগে)। এটি সংক্ষিপ্ত করার কারণ হলো—তৎকালীন জনৈক আমির তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে, আপনার এই গ্রন্থের সকল হাদীস কি সহীহ? উত্তরে তিনি বললেন: না। তখন আমির তাঁকে কেবল সহীহ হাদীসগুলো পৃথক করে একটি বিশুদ্ধ হাদীস গ্রন্থ লিখতে নির্দেশ দেন। ফলে তিনি সেখান থেকে 'আল-মুজতানা' নির্বাচন করেন এবং যে সকল হাদীসের সনদে আপত্তি ছিল তা বর্জন করেন। মুহাদ্দিসগণ যখন বলেন "নাসায়ী বর্ণনা করেছেন", তখন তাঁদের উদ্দেশ্য থাকে 'আল-মুজতানা' নামক এই সংক্ষিপ্ত গ্রন্থটি, 'সুনানুল কুবরা' নয়। মিরকাত গ্রন্থে এমনই উল্লেখ করা হয়েছে। ইবনুল আসীর (১ম খণ্ড, ১১৬ পৃষ্ঠা) বলেন: জনৈক আমির তাঁকে তাঁর 'সুনান' গ্রন্থ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে, এর সবটুকুই কি সহীহ? তিনি বললেন: না। আমির বললেন: তবে আমাদের জন্য এর মধ্য থেকে কেবল সহীহ হাদীসগুলো পৃথক করে লিখে দিন। তখন তিনি 'আল-মুজতবা' তৈরি করেন। এটি হলো সুনান থেকে নির্বাচিত সংকলন। এতে তিনি 'সুনান আল-কাবীর'-এ বর্ণিত ঐ সকল হাদীস ত্যাগ করেছেন যেগুলোর সনদে ত্রুটি (তালীলে) নিয়ে আলোচনা রয়েছে। ইবনে আসাকির এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি এর নাম 'আল-মুজতানা' (নূন যোগে) অথবা 'আল-মুজতবা' (বা যোগে) রেখেছেন; উভয় শব্দের অর্থ কাছাকাছি, তবে পরবর্তীটিই অধিক প্রসিদ্ধ। যখন হাদীস বিশারদগণ উল্লেখ করেন যে নাসায়ী কোনো হাদীস বর্ণনা করেছেন, তখন তারা কেবল 'আল-মুজতবা' বুঝিয়ে থাকেন, 'সুনানুল কুবরা' নয়। আর এটি সিত্তায়ে সিত্তাহ বা প্রসিদ্ধ ছয়টি গ্রন্থের অন্যতম। হাফিজ আবু আলী বলেন: বর্ণনাকারীদের (রিজাল) ক্ষেত্রে নাসায়ীর শর্ত ইমাম মুসলিমের শর্তের চেয়েও কঠোর। অনুরূপভাবে হাকিম ও খতীব বাগদাদী বলতেন: এটি সহীহ এবং বর্ণনাকারীদের ক্ষেত্রে তাঁর শর্ত ইমাম মুসলিমের চেয়েও কঠিন। তবে তাঁদের এই বক্তব্য সর্বজনস্বীকৃত নয়। আল-বিকায়ী 'শরহুল আলফিয়্যাহ'-তে ইবনে কাসীর থেকে বর্ণনা করেন যে: নাসায়ীর বর্ণনাকারীদের মধ্যে এমন ব্যক্তিরা রয়েছেন যারা সত্তাগতভাবে অথবা অবস্থাগতভাবে অজ্ঞাত। তাঁদের মধ্যে সমালোচিত বর্ণনাকারীও রয়েছেন। এছাড়া এতে যঈফ (দুর্বল), মুআল্লাল (ত্রুটিপূর্ণ) ও মুনকার (অস্বীকৃত) হাদীসও রয়েছে। শাওকানী বলেন: হাদীস ও ইলাল শাস্ত্রে তাঁর বহু রচনা রয়েছে, যার মধ্যে 'সুনান' অন্যতম। 'সহীহাইন'-এর পর চার সুনান গ্রন্থের মধ্যে এতেই যঈফ হাদীসের সংখ্যা সবচেয়ে কম। ইমাম যাহাবী ও তাজ সুবকী বলেন: নাসায়ী 'সহীহ' গ্রন্থের রচয়িতা ইমাম মুসলিম অপেক্ষা বড় হাফিজ। এই তথ্যসমূহ 'তুহফাতুল আহওয়াযী'-র ভূমিকা (৬৪-৬৫), 'আত-তাযকিরাহ' (২য় খণ্ড: ২৬৬-২৬৯), 'আত-তাহযীব' (১ম খণ্ড: ৩৭-৩৯), 'ইতহাফুন নুবালা' (১৮৯-১৯০) এবং 'বুস্তানুল মুহাদ্দিসীন' থেকে সংগৃহীত। এদিকে শাইখ তাকি আন-নাকি আল্লামা আব্দুল সামাদ শরফুদ্দিন তাঁর 'সুনানুল কুবরা'-র মূল্যবান ভূমিকায় (১৭-১৯) দাবি করেছেন যে, ইবনে...

(খণ্ড: ١) মিরআতুল মাফাতীহ শারহু মিশকাতিল মাসাবীহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
وأبي عبد الله محمد بن يزيد ابن ماجه القزويني،

ــ

الأثير المذكورة كذب وزور، ولنا في كلامه نظر لا يخفى على الباحث المتأمل. (وأبي عبد الله محمد بن يزيد ابن ماجه) بفتح الميم وتخفيف الجيم وبينهما ألف وفي الآخر هاء ساكنه لا تاء مربوطة (القزويني) بفتح القاف وسكون الزاي وكسر الواو وسكون الياء المثناة من تحتها وبعدها نون، نسبة إلى قزوين وهي من أشهر مدن عراق العجم، كانت ولادته سنة 209هـ، وتوفي يوم الاثنين، ودفن يوم الثلاثاء لثمان بقين من شهر رمضان سنة273هـ، وله أربع وستون سنة، وهو الحافظ الكبير المشهور المفسر أبوعبد الله محمد بن يزيد ابن ماجه الربعي بالولاء (نسبة إلى ربيعة) القزويني، مصنف كتاب السنن في الحديث، كان إماماً في الحديث عارفاً بعلومه وجميع ما يتعلق به، ارتحل إلى العراق والبصرة والكوفة وبغداد ومكة والشام ومصر والري لكتب الحديث، وله تفسير القرآن الكريم، وتاريخ مليح، وكتابه في الحديث أحد الصحاح الستة. قال الخليلي: ثقة كبير متفق عليه محتج به، له معرفة بالحديث وحفظ، وله مصنفات في السنن والتفسير والتاريخ، قال: وكان عارفاً بهذا الشأن، سمع أصحاب مالك والليث. وعنه أبوالحسن القطان وخلق سواه، قال السندي في مقدمة تعليقه على سنن ابن ماجه: قد اشتمل هذا الكتاب من بين الكتب الست على شؤون كثيرة انفرد بها عن غيره. والمشهور أن ما انفرد به يكون ضعيفاً، وليس بكلي، لكن الغالب كذلك، ولقد ألف الحافظ الحجة العلامة أحمد بن أبي بكر البوصيري في زوائده تأليفاً نبه على غالبها. وقال السيوطي في حاشية الكتاب: قال الحافظ نقلاً عن الرافعي أنه قال: سمعت والدي يقول: عرض كتاب السنن لابن ماجه على أبي زرعة الرازي فاستحسنه، وقال: لم يخطئ إلا في ثلاثة أحاديث، وقال في حاشية النسائي نقلاً عن غيره: إن ابن ماجه قد انفرد بإخراج أحاديث عن رجال متهمين بالكذب ووضع الأحاديث، وبعض تلك الأحاديث لا تعرف إلا من جهتهم، مثل حبيب بن أبي حبيب كاتب مالك، والعلاء بن زيد، وداود بن المحبر، وعبد الوهاب بن الضحاك، وإسماعيل بن زياد السكوني وغيرهم، وأما ما حكاه ابن طاهر عن أبي زرعة الرازي أنه نظر فيه فقال: لعله لا يكون فيه تمام ثلاثين حديثاً مما فيه ضعف، فهي حكاية لا تصح لانقطاع سندها، وإن كانت محفوظة فلعله أراد ما فيه من الأحاديث الساقطة إلى الغاية، أو أراد من الكتاب بعضه، ووجد فيه هذا القدر، وقد حكم أبوزرعة على أحاديث كثيرة منه بكونها باطلة أو ساقطة أو منكرة، وذلك محكي في كتاب العلل لأبي حاتم - انتهى. قال السندي: وبالجملة فهو دون الكتب الخمسة في المرتبة، فلذلك أخرجه كثير من عده في جملة الصحاح الستة، لكن غالب المتأخرين على أنه سادس الستة - انتهى. وقال الذهبي: سنن أبي عبد الله كتاب حسن، لولا ما كدر من أحاديث واهية ليست بالكثيرة، قال أبوالحسن القطان صاحب ابن ماجه: في السنن ألف وخمس مائة باب، وجملة ما فيها أربعة آلاف حديث، وقال ابن الأثير: كتابه كتاب مفيد قوي النفع في الفقه لكن فيه أحاديث ضعيفة جداً بل منكرة، حتى نقل عن المزي أن الغالب فيما تفرد به - يعني بذلك ما انفرد به من الحديث عن الأئمة الخمسة - الضعف، ولذا لم يضفه غير واحد إلى الخمسة بل جعلوا السادس الموطأ، وفيه عدة أحاديث ثلاثيات من طريق جبارة بن المغلس، وفيه حديث في فضل قزوين منكر بل موضوع،
এবং আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইয়াযিদ ইবনে মাজাহ আল-কাযউইনি।

—

উল্লিখিত আল-আসিরের দাবিটি মিথ্যা ও বানোয়াট, এবং তাঁর বক্তব্যের বিষয়ে আমাদের এমন পর্যবেক্ষণ রয়েছে যা চিন্তাশীল গবেষকের কাছে গোপন নয়। (এবং আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইয়াযিদ ইবনে মাজাহ)—‘মীম’ বর্ণে ফাতহাহ (যবর) এবং ‘জীম’ বর্ণে তাশদীদহীন হালকা উচ্চারণ, আর এই দুইয়ের মাঝে একটি ‘আলিফ’ রয়েছে এবং শেষে একটি সাকিনযুক্ত ‘হা’ রয়েছে, কোনো গোল ‘তা’ নয়। (আল-কাযউইনি)—‘কাফ’ বর্ণে ফাতহাহ, ‘যা’ বর্ণে সুকুন, ‘ওয়াও’ বর্ণে কাসরাহ (যের) এবং তার পরে নিচে দুই নুক্তাযুক্ত ‘ইয়া’ বর্ণে সুকুন, এরপর ‘নুন’। এটি ‘কাযউইন’ অঞ্চলের দিকে সম্বন্ধযুক্ত, যা পারস্য-ইরাকের অন্যতম বিখ্যাত শহর। তাঁর জন্ম হয়েছিল ২০৯ হিজরি সনে, এবং তিনি সোমবার ইন্তেকাল করেন ও মঙ্গলবার দাফন করা হয় যখন ২৭৩ হিজরি সনের রমজান মাস শেষ হতে আট দিন বাকি ছিল। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল চৌষট্টি বছর। তিনি ছিলেন মহান হাফেজ, প্রসিদ্ধ মুফাসসির আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইয়াযিদ ইবনে মাজাহ আর-রাব‘ঈ (বিছানাসূত্রে রাবিয়া গোত্রের সাথে সম্বন্ধযুক্ত), আল-কাযউইনি। তিনি হাদিস শাস্ত্রের কিতাব ‘আস-সুনান’-এর সংকলক। তিনি হাদিস শাস্ত্রে ইমাম ছিলেন এবং এর উলুম (জ্ঞান) ও সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়ে অভিজ্ঞ ছিলেন। তিনি হাদিস সংগ্রহের উদ্দেশ্যে ইরাক, বসরা, কুফা, বাগদাদ, মক্কা, শাম (সিরিয়া), মিশর এবং রাই সফর করেছেন। তাঁর আল-কুরআনের একটি তাফসীর এবং একটি চমৎকার ইতিহাস গ্রন্থ রয়েছে এবং হাদিস বিষয়ে তাঁর কিতাবটি ‘সিহাহ সিত্তা’ বা ছয়টি বিশুদ্ধ গ্রন্থের অন্যতম। আল-খলিলি বলেন: তিনি একজন বড় নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) ইমাম, যাঁর বিষয়ে সকলে একমত এবং যাঁর বর্ণনা দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য। হাদিস শাস্ত্রে তাঁর গভীর জ্ঞান ও স্মৃতিশক্তি ছিল। তিনি সুনান, তাফসীর ও ইতিহাস বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন। তিনি আরও বলেন: তিনি এই শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞ ছিলেন, তিনি ইমাম মালিক ও লাইস-এর শাগরিদদের থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন। তাঁর থেকে আবুল হাসান আল-কাত্তান এবং আরও বহু লোক বর্ণনা করেছেন। আল-সিন্দি ‘সুনানে ইবনে মাজাহ’-এর টীকাগ্রন্থের ভূমিকায় বলেছেন: ছয়টি কিতাবের মধ্যে এই কিতাবটি এমন অনেক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী যা অন্যগুলোতে নেই। প্রসিদ্ধ মত হলো, তিনি এককভাবে যা বর্ণনা করেছেন তা দুর্বল হয়ে থাকে, তবে এটি সর্বজনীন নিয়ম নয়, যদিও অধিকাংশ ক্ষেত্রে এমনটিই ঘটে। হাফেজ আল-হুজ্জাহ আল-আল্লামা আহমাদ ইবনে আবু বকর আল-বুসিরি তাঁর ‘যাওয়াইদ’ গ্রন্থে এমন অধিকাংশ হাদিসের বিষয়ে সতর্ক করে গ্রন্থ রচনা করেছেন। আস-সুয়ূতী কিতাবের টীকায় বলেন: হাফেজ (ইবনে হাজার) আর-রাফেয়ীর বরাতে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি বলেছেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি, ইবনে মাজাহর ‘সুনান’ কিতাবটি আবু যুরআহ আর-রাযীর সামনে পেশ করা হলে তিনি এর প্রশংসা করেন এবং বলেন, ‘তিনি মাত্র তিনটি হাদিস ব্যতীত আর কোথাও ভুল করেননি।’ তিনি নাসায়ীর হাশিয়াতে (টীকায়) অন্যদের বরাতে বলেছেন: ইবনে মাজাহ এককভাবে এমন কিছু বর্ণনাকারীর হাদিস এনেছেন যারা মিথ্যাচার ও হাদিস জাল করার দায়ে অভিযুক্ত। ওইসব হাদিসের কিছু অংশ তাদের মাধ্যম ছাড়া আর কারো পক্ষ থেকে জানা যায় না। যেমন—হাবিব ইবনে আবু হাবিব (ইমাম মালিকের লেখক), আলা ইবনে যায়িদ, দাউদ ইবনে আল-মুহাব্বার, আব্দুল ওয়াহাব ইবনে আদ-দাহহাক, ইসমাইল ইবনে যিয়াদ আস-সাকুনি এবং আরও অনেকে। আর ইবনে তাহের আবু যুরআহ আর-রাযী থেকে যা বর্ণনা করেছেন যে, তিনি (আবু যুরআহ) কিতাবটি দেখে বলেছিলেন: ‘হয়তো এতে দুর্বল হাদিসের সংখ্যা পূর্ণ ৩০টিও হবে না’—এই বর্ণনাটি সহীহ নয় কারণ এর সনদ বিচ্ছিন্ন। আর যদি এটি সংরক্ষিত বর্ণনাও হয়ে থাকে, তবে হয়তো তিনি চরম পর্যায়ের পরিত্যক্ত হাদিসগুলোর কথা বুঝিয়েছেন অথবা কিতাবের কোনো একটি অংশ দেখে এই পরিমাণ পেয়েছিলেন। অথচ আবু যুরআহ নিজেই এই কিতাবের অনেক হাদিসকে বাতিল, পরিত্যক্ত বা মুনকার বলে হুকুম দিয়েছেন, যা আবু হাতেমের ‘কিতাবুল ইলাল’-এ বর্ণিত আছে—সমাপ্ত। আল-সিন্দি বলেন: মোদ্দা কথা হলো, মর্যাদার দিক থেকে এটি বাকি পাঁচটি কিতাবের নিচে। এই কারণেই যারা একে সিহাহ সিত্তার অন্তর্ভুক্ত করেন না, তারা একে বাদ দিয়েছেন। তবে পরবর্তী যুগের অধিকাংশ আলেম এটিকে ষষ্ঠ কিতাব হিসেবে গণ্য করার পক্ষপাতী—সমাপ্ত। আয-যাহাবী বলেন: আবু আব্দুল্লাহর সুনান একটি উত্তম কিতাব, যদি না এটি কিছু অত্যন্ত দুর্বল হাদিস দ্বারা ঘোলাটে হতো, যদিও তার সংখ্যা খুব বেশি নয়। ইবনে মাজাহর ছাত্র আবুল হাসান আল-কাত্তান বলেন: সুনানে এক হাজার পাঁচশত অধ্যায় রয়েছে এবং মোট হাদিস সংখ্যা চার হাজার। ইবনে আল-আসির বলেন: তাঁর কিতাবটি ফিকহ শাস্ত্রে অত্যন্ত উপকারী ও শক্তিশালী, কিন্তু এতে অত্যন্ত দুর্বল এমনকি মুনকার হাদিসও রয়েছে। এমনকি আল-মিযযী থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি (ইবনে মাজাহ) অন্য পাঁচজন ইমামের বিপরীতে এককভাবে যা বর্ণনা করেছেন—অর্থাৎ যে হাদিসগুলো কেবল তিনিই বর্ণনা করেছেন—তার অধিকাংশ বর্ণনাই দুর্বল। এ কারণে অনেকে একে পাঁচ কিতাবের সাথে যুক্ত করেননি, বরং ষষ্ঠ কিতাব হিসেবে ‘মুয়াত্তা’ ইমাম মালিককে গণ্য করেছেন। এতে জুব্বারাহ ইবনে আল-মুগাল্লিস-এর সূত্রে বেশ কিছু ‘সুলাসিয়াত’ (তিন রাবীর মধ্যস্থতায় বর্ণিত) হাদিস রয়েছে এবং এতে কাযউইন শহরের ফজিলত সম্পর্কে একটি মুনকার বরং জাল হাদিসও রয়েছে।
(খণ্ড: ١) মিরআতুল মাফাতীহ শারহু মিশকাতিল মাসাবীহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
وأبي محمد عبد الله بن عبد الرحمن الدارمي.

ــ

ولذا طعنوا فيه، وفي مصنفه، وواضعه رجل اسمه ميسرة، قال الحافظ في التهذيب (ج9: ص531) : كتابه في السنن جامع جيد كثير الأبواب والغرائب، وفيه أحاديث ضعيفة جداً حتى بلغني أن السري كان يقول: مهما انفرد بخبر فيه فهو ضعيف غالباً، وليس الأمر في ذلك على إطلاقه باستقرائي، وفي الجملة ففيه أحاديث كثيرة منكرة، ونقل القاري عن الحافظ أنه قال: وأول من أضاف ابن ماجه إلى الخمسة الفضل بن طاهر حيث أدرجه معها في أطرافه، وكذا في شروطه الأئمة الستة، ثم الحافظ عبد الغني في كتاب الإكمال في أسماء الرجال الذي هذبه الحافظ المزي، وقدموه على الموطأ لكثرة زوائده على الخمسة بخلاف الموطأ، انتهى. تنبيه: اختلف في ماجه فقيل: إنه لقب والد محمد بن يزيد، وقيل: إنه اسم أمه، قال القاري في المرقاة ما لفظه: بإثبات ألف يعني في ابن ماجه خطاً، فإنه بدل من ابن يزيد، ففي القاموس: ماجه لقب والد محمد بن يزيد صاحب السنن لا جده، وفي شرح الأربعين: أن ماجه اسم أمه - انتهى. وقال صاحب الحطة: والصحيح أن ماجه أمه، وعلى كلا القولين يكتب الألف على لفظ ابن في الرسم ليعلم أنه وصف لمحمد لا لما يليه، فهو مثل عبد الله بن مالك ابن بحينة، وإسماعيل بن إبراهيم ابن علية، وفي إنجاح الحاجة: "ماجه" على ما ذكر المجد في القاموس، والنووي في تهذيب الأسماء، لقب والده لا جده - انتهى. والصحيح هو الأول - انتهى ما في الحطة -. قال في تاج العروس شرح القاموس (ج2: ص102) ما لفظه: "ماجه" بسكون الهاء كما جزم به الشمس بن خلكان: لقب والد محمد بن يزيد القزويني صاحب السنن لا جده - أي لا لقب جده - كما زعمه بعض. قال شيخنا: وما ذهب إليه المصنف فقد جزم به أبوالحسن القطان، ووافقه على ذلك هبة الله بن زاذان وغيره، قالوا: وعليه فيكتب ابن ماجه بالألف لا غير. وهناك قول آخر ذكره جماعة وصححوه وهو أن ماجه اسم لأمه - انتهى. (وأبي محمد عبد الله بن عبد الرحمن) بن فضل بن بهرام بن عبد الصمد التميمي السمرقندي (الدارمي) بكسر الراء المهملة - نسبة إلى دارم بن مالك بطن كبير من تميم. ولد سنة 181هـ، وتوفي يوم التروية ودفن يوم عرفة، وقيل: مات يوم الخميس يوم عرفة ودفن يوم الجمعة للعاشر من ذي الحجة سنة 255هـ، وله من العمر أربع وسبعون سنة، وهو الإمام الحافظ شيخ الإسلام عالم سمرقند صاحب المسند المشهور، وهو على الأبواب لا على الصحابة على خلاف اصطلاح المحدثين. سمع النضر بن شميل ويزيد بن هارون وجعفر بن عون وطبقتهم بالحرمين وخراسان والشام والعراق ومصر. وحدث عنه مسلم وأبوداود والترمذي وعبد الله بن الإمام أحمد والنسائي خارج سننه وآخرون، وقال الخطيب: كان أحد الحفاظ والرحالين، موصوفاً بالثقة والصدق والورع والزهد، استقضى على سمرقند فأبى فألح عليه السلطان فقضى بقضيه واحدة ثم استعفى فأعفي - إلى أن قال: وكان على غاية العقل وفي نهاية الفضل، يضرب به المثل في الديانة والحلم والاجتهاد والعبادة والتقلل. صنف المسند والتفسير وكتاب الجامع. قال أحمد بن حنبل وذكر الدارمي: عرضت عليه الدنيا فلم يقبل. وقال أبوحاتم بن حبان: كان من الحفاظ المتقنين وأهل الورع في الدين ممن حفظ وجمع وتفقه وحدث، وأظهر
এবং আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমান আদ-দারিমি।

ــ

আর এই কারণেই তারা তার এবং তার সংকলিত গ্রন্থের সমালোচনা করেছেন। এর বর্ণনাকারী ছিলেন মাইসারা নামক এক ব্যক্তি। আল-হাফিয (ইবনে হাজার) 'তাহযিব' গ্রন্থের (৯ম খণ্ড, ৫৩১ পৃষ্ঠা) মধ্যে বলেন: সুনান বিষয়ে তার কিতাবটি একটি উত্তম সংকলন, যা অনেক অধ্যায় ও দুর্লভ হাদিস সম্বলিত। এতে অত্যন্ত দুর্বল হাদিসও রয়েছে, এমনকি আমার কাছে পৌঁছেছে যে, আস-সাররি বলতেন: তিনি যখনই কোনো বর্ণনায় একক হয়ে পড়েন, তখন তা সাধারণত দুর্বল বলে গণ্য হয়। তবে আমার অনুসন্ধান অনুযায়ী বিষয়টি ঢালাওভাবে এমন নয়। মোটের ওপর, এতে অনেক মুনকার (অগ্রহণযোগ্য) হাদিস রয়েছে। আল-কারি আল-হাফিয থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: সর্বপ্রথম আল-ফজল বিন তাহির ইবনে মাজাহকে অন্য পাঁচটি গ্রন্থের সাথে যুক্ত করেছেন, যেখানে তিনি তার 'আতরাফ' গ্রন্থে এটিকে অন্তর্ভুক্ত করেন। একইভাবে আল-আইম্মাতুস সিত্তা (ছয় ইমামের) শর্তাবলির ওপর রচিত তার গ্রন্থেও তিনি এটি করেছেন। এরপর হাফিয আবদুল গনি 'আল-ইকমাল ফি আসমাইর রিজাল' গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন, যা পরবর্তীতে হাফিয আল-মিযযি পরিমার্জন করেছেন। মুয়াত্তার তুলনায় ইবনে মাজাহ-তে অন্য পাঁচটি গ্রন্থের অতিরিক্ত হাদিস (যাওয়াইদ) বেশি থাকার কারণে তারা একে মুয়াত্তার ওপর প্রাধান্য দিয়েছেন। সমাপ্ত। একটি সতর্কবার্তা: 'মাজাহ' শব্দটি নিয়ে মতভেদ রয়েছে; কেউ বলেছেন এটি মুহাম্মদ বিন ইয়াযিদের পিতার উপাধি, আবার কেউ বলেছেন এটি তার মায়ের নাম। আল-কারি 'মিরকাত' গ্রন্থে বলেছেন: লেখার ক্ষেত্রে 'ইবনে মাজাহ' শব্দটিতে আলিফ বহাল থাকবে (অর্থাৎ 'বিন' না লিখে 'ইবনে' লিখতে হবে), কারণ এটি মুহাম্মদ বিন ইয়াযিদের নামের পরিবর্তে বসেছে। 'কামুস' গ্রন্থে আছে: মাজাহ হলো মুহাম্মদ বিন ইয়াযিদের (যিনি সুনান গ্রন্থের রচয়িতা) পিতার উপাধি, তার দাদার নয়। আর 'শরহুল আরবাঈন'-এ আছে যে, মাজাহ তার মায়ের নাম। সমাপ্ত। 'আল-হিত্তাহ' গ্রন্থের লেখক বলেন: সঠিক হলো মাজাহ তার মায়ের নাম। উভয় মতেই লেখার সময় 'ইবনে' শব্দটিতে আলিফ লিখতে হবে যাতে বোঝা যায় যে এটি মুহাম্মদের বিশেষণ, তার পরবর্তী শব্দের নয়। এটি অনেকটা আবদুল্লাহ বিন মালিক ইবনে বুহাইনা এবং ইসমাইল বিন ইব্রাহিম ইবনে উলাইয়্যাহ-এর মতো। 'ইনজাহুল হাজাহ' গ্রন্থে বলা হয়েছে: 'মাজাহ' সম্পর্কে মাজদুদ্দিন কামুস গ্রন্থে এবং নববী 'তাহযিবুল আসমা' গ্রন্থে যা উল্লেখ করেছেন তা হলো—এটি তার পিতার উপাধি, দাদার নয়। সমাপ্ত। আর প্রথম মতটিই সঠিক। 'আল-হিত্তাহ' এর বক্তব্য এখানেই শেষ। কামুসের ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'তাজুল আরুস'-এ (২য় খণ্ড, ১০২ পৃষ্ঠা) বলা হয়েছে: 'মাজাহ' শব্দটি 'হা' বর্ণের সুকুনসহ পড়তে হবে যেমনটি শামসুদ্দিন ইবনে খাল্লিকান নিশ্চিত করেছেন। এটি সুনান গ্রন্থের রচয়িতা মুহাম্মদ বিন ইয়াযিদ আল-কাযউইনির পিতার উপাধি, তার দাদার উপাধি নয়, যেমনটি কেউ কেউ দাবি করেছেন। আমাদের শায়খ বলেছেন: গ্রন্থকার যে মতটি গ্রহণ করেছেন তা আবুল হাসান আল-কাত্তান নিশ্চিতভাবে ব্যক্ত করেছেন এবং হিবাতুল্লাহ বিন যাযান ও অন্যান্যেরাও তার সাথে একমত হয়েছেন। তারা বলেছেন: এই মতে 'ইবনে মাজাহ' শব্দটি আলিফসহই লিখতে হবে। অন্য একটি মতও রয়েছে যা একদল আলেম উল্লেখ করেছেন এবং সঠিক বলে গণ্য করেছেন, তা হলো 'মাজাহ' তার মায়ের নাম। সমাপ্ত। (এবং আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমান) বিন ফজল বিন বাহরাম বিন আবদুস সামাদ আত-তামিমি আস-সামারকান্দি (আদ-দারিমি)। দারিমি শব্দটি 'রা' বর্ণে কাসরা (জের) সহ—তামিম বংশের একটি বড় শাখা দারিম বিন মালিকের দিকে সম্পৃক্ত। তিনি ১৮১ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং তারবিয়ার দিনে ইন্তেকাল করেন ও আরাফাতের দিনে তাকে দাফন করা হয়। বলা হয়ে থাকে, তিনি ২৫৫ হিজরির ১০ই জিলহজ বৃহস্পতিবার আরাফাতের দিনে মারা যান এবং শুক্রবার দাফন করা হয়। সে সময় তার বয়স ছিল চুয়াত্তর বছর। তিনি ছিলেন ইমাম, হাফিয, শায়খুল ইসলাম এবং সামারকান্দের আলেম। তিনি বিখ্যাত মুসনাদ গ্রন্থের প্রণেতা, যা হাদিস বিশারদদের পরিভাষার বিপরীতে সাহাবিদের পরিবর্তে ফিকহি অধ্যায় অনুযায়ী সাজানো। তিনি নজর বিন শুমাইল, ইয়াযিদ বিন হারুন, জাফর বিন আওন এবং তাদের সমপর্যায়ের মক্কা, মদিনা, খোরাসান, সিরিয়া, ইরাক ও মিশরের আলেমদের থেকে হাদিস শুনেছেন। তার থেকে মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযি, ইমাম আহমদের ছেলে আবদুল্লাহ, এবং নাসাঈ (তার সুনান গ্রন্থের বাইরে) ও অন্যান্যেরা হাদিস বর্ণনা করেছেন। আল-খাতিব বলেছেন: তিনি অন্যতম হাফিয ও পর্যটক ছিলেন এবং নির্ভরযোগ্যতা, সততা, পরহেজগারি ও দুনিয়াবিমুখতার জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন। তাকে সামারকান্দের বিচারক হওয়ার অনুরোধ করা হলে তিনি প্রত্যাখ্যান করেন। সুলতান তাকে বারবার চাপ দিলে তিনি মাত্র একটি ফয়সালা করেন এবং পরে অব্যাহতি চাইলে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তিনি আরও বলেন: তিনি অত্যন্ত বুদ্ধিমান ও মর্যাদার শিখরে ছিলেন। ধর্মীয় নিষ্ঠা, ধৈর্য, একাগ্রতা, ইবাদত এবং অল্পে তুষ্টির ক্ষেত্রে তিনি এক অনন্য দৃষ্টান্ত ছিলেন। তিনি মুসনাদ, তাফসির এবং আল-জামি গ্রন্থ রচনা করেছেন। ইমাম আহমদ বিন হাম্বল আদ-দারিমির কথা উল্লেখ করে বলেন: তার সামনে পার্থিব জগত তুলে ধরা হয়েছিল কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করেননি। আবু হাতিম বিন হিব্বান বলেন: তিনি অত্যন্ত দক্ষ হাফিয ও দ্বীনি পরহেজগার ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, যারা হাদিস মুখস্থ করেছেন, সংগ্রহ করেছেন, গবেষণা করেছেন এবং বর্ণনা করেছেন ও তা প্রকাশ করেছেন।
(খণ্ড: ١) মিরআতুল মাফাতীহ শারহু মিশকাতিল মাসাবীহ (পৃষ্ঠা: ২০)
وأبي الحسن علي بن عمر الدارقطني، وأبي بكر بن الحسين البيهقي،

ــ

السنة في بلده ودعا إليها وذب عن حريمها وقمع من خالفها، وقال الحاكم أبوعبد الله: كان من حفاظ الحديث المبرزين، وقال ابن أبي حاتم عن أبيه: إمام أهل زمانه، وارجع لكشف حال مسنده وبيان مرتبته إلى تدريب الراوي (57) ، ومقدمة المشكاة في مصطلح الحديث للشيخ الدهلوي، وثبت الشيخ محمد عابد السندي، وتوضيح الأفكار للأمير الصنعاني. (وأبي الحسن علي بن عمر) بن أحمد بن مهدي البغدادي الحافظ الشهير صاحب السنن (الدارقطني) بالدال المهملة بعدها ألف ثم راء مهملة مفتوحة وقاف مضمومة وطاء مهملة ساكنة وفي آخرها نون - منسوب إلى دار القطن محلة كبيرة كانت ببغداد قديماً. ولد سنة 305هـ أو سنة 306هـ، ومات يوم الأربعاء لثمان خلون من ذي القعدة سنة 385هـ، وله ثمانون سنة. قال الذهبي في التذكرة (ج3: ص199-202) : سمع البغوي وابن أبي داود وابن صاعد وابن دريد وخلائق ببغداد والبصرة والكوفة وواسط، وارتحل في كهولته إلى مصر وشام، وصنف التصانيف، حديث عنه الحاكم وأبوحامد الأسفرائني وتمام الرازي والحافظ عبد الغني الأزدي وأبوبكر البرقاني وأبوذر الهروي وأبونعيم الأصبهاني - صاحب حلية الأولياء - وأبومحمد الخلال والقاضي أبوالطيب الطبري وأبومحمد الجوهري وأمم سواهم. قال الحاكم: صار الدارقطني أوحد عصره في الحفظ والفهم والورع وإماماً في القراء والنحويين. وأقمت في سنة سبع وستين ببغداد أربعة أشهر، وكثر اجتماعنا فصادفته فوق ما وصف لي، وسألته عن العلل والشيوخ، وله مصنفات يطول ذكرها، فأشهد أنه لم يخلف على أديم الأرض مثله. وقال الخطيب: كان فريد عصره وإمام وقته، وانتهى إليه علم الأثر والمعرفة بالعلل وأسماء الرجال مع الصدق والثقة وصحة الاعتقاد والأخذ من علوم كالقراءات، فإن له فيها مصنفاً سبق فيه إلى عقد الأبواب قبل فهرس الحروف، وتأسى القراء به بعده، ومن ذلك المعرفة بمذاهب الفقهاء، بلغني أنه درس الفقة على أبي سعيد الأصطخري، ومنها المعرفة بالآداب والشعر فقيل: كان يحفظ دواوين جماعة، منها ديوان السيد الحميري، ولهذا نسب إلى التشيع، قال ابن الذهبي: ما أبعده من التشيع، قال القاضي أبوالطيب الطبري: الدارقطني أمير المؤمنين في الحديث، قال الذهبي: إذا شئت أن تبين براعة هذا الإمام فطالع العلل له فإنك تندهش ويطول تعجبك - انتهى ما في التذكرة مختصراً ملخصاً. وارجع للتفصيل إلى إتحاف النبلاء (316-317) ، وتاريخ ابن لخكان (ج1: ص331) ، وبستان المحدثين (48-49) . (وأبي بكر أحمد بن الحسين) بن علي بن عبد الله بن موسى الخسروجردي (البيهقي) نسبة لبيهق بموحدة مفتوحة ومثناة تحتية ساكنة وهاء مفتوحة فقاف، وهي قرية مجتمعة بنواحي نيسابور على عشرين فرسخاً منها، ولد بخسروجرد - قرية من قراها - في شعبان سنة 384هـ، وتوفي في العاشر من جمادى الأولى سنة 458هـ بنيسابور، وله من العمر أربع وسبعون سنة، ونقل إلى بيهق ودفن بخسروجرد، وقال أبوالحسن عبد الغافر في ذيل تاريخ نيسابور: أبوبكر البيهقي الفقيه الحافظ الأصولي الديّن الورع، واحد زمانه في الحفظ وفرد أقرانه في الإتقان والضبط، من كبار أصحاب الحاكم (أبي عبد الله بن البيع في
এবং আবুল হাসান আলী বিন উমর আদ-দারাকুতনী এবং আবু বকর বিন আল-হুসাইন আল-বাইহাকী,

—

তিনি তাঁর দেশে সুন্নাহর প্রতিষ্ঠা করেন, সেদিকে মানুষকে আহ্বান জানান, এর পবিত্রতা রক্ষা করেন এবং এর বিরোধিতাকারীদের দমন করেন। আল-হাকিম আবু আব্দুল্লাহ বলেন: তিনি হাদীস হিফযকারীদের মধ্যে অন্যতম অগ্রগণ্য ব্যক্তি ছিলেন। ইবনে আবি হাতিম তাঁর পিতার সূত্রে বলেন: তিনি ছিলেন তাঁর যুগের মানুষের ইমাম। তাঁর মুসনাদের অবস্থা এবং এর মর্যাদার বিবরণ জানতে হলে 'তাদরিবুর রাবী' (৫৭), শায়খ দেহলভীর ইলমে হাদীসের পরিভাষা সংক্রান্ত গ্রন্থ 'মুকাদ্দিমায়ে মিশকাত', শায়খ মুহাম্মদ আবিদ সিন্ধীর 'সাবাত' এবং আমীর সান'আনীর 'তাওদীহুল আফকার' দ্রষ্টব্য। (এবং আবুল হাসান আলী বিন উমর) বিন আহমাদ বিন মাহদী আল-বাগদাদী, যিনি সুপ্রসিদ্ধ হাফিয এবং 'আস-সুনান'-এর রচয়িতা (আদ-দারাকুতনী)। 'দারাকুতনী' শব্দটি নুক্তাবিহীন 'দাল', এরপর আলিফ, এরপর নুক্তাবিহীন যবরযুক্ত 'রা', পেশযুক্ত 'কাফ', নুক্তাবিহীন সাকিনযুক্ত 'তা' এবং শেষে 'নুন' সহযোগে গঠিত—এটি প্রাচীন বাগদাদের একটি বড় মহল্লা 'দারুল কুতন'-এর সাথে সম্পর্কিত। তিনি ৩০৫ হিজরী অথবা ৩০৬ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৩৮৫ হিজরীর যিলকদ মাসের আট দিন অতিবাহিত হওয়ার পর বুধবার ৮০ বছর বয়সে ইনতিকাল করেন। আয-যাহাবী তাঁর 'আত-তাযকিরা' গ্রন্থে (খণ্ড: ৩, পৃষ্ঠা: ১৯৯-২০২) বলেছেন: তিনি বাগদাদ, বসরা, কুফা ও ওয়াসিতে আল-বাগাওয়ী, ইবনে আবি দাউদ, ইবনে সা'ইদ, ইবনে দুরাইদ এবং আরও অসংখ্য আলিমের নিকট হাদীস শুনেছেন। প্রৌঢ় বয়সে তিনি মিসর ও সিরিয়া (শাম) সফর করেন এবং বহু গ্রন্থ রচনা করেন। তাঁর থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন আল-হাকিম, আবু হামিদ আল-ইসফারাঈনী, তাম্মাম আল-রাযী, হাফিয আব্দুল গণী আল-আযদী, আবু বকর আল-বারকানী, আবু যার আল-হারাবী, আবু নুআইম আল-আসফাহানী—যিনি 'হিলয়াতুল আউলিয়া'-র লেখক, আবু মুহাম্মদ আল-খাল্লাল, কাযী আবু তাইয়িব আত-তাবারী, আবু মুহাম্মদ আল-জাওহারী এবং আরও বহু মানুষ। আল-হাকিম বলেন: আদ-দারাকুতনী হাদীস মুখস্থ রাখা, গভীর বুঝ এবং তাকওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর যুগের অদ্বিতীয় ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছিলেন এবং তিনি কিরাত ও ব্যাকরণবিদদের ইমাম ছিলেন। আমি হিজরী ৩৬৭ সালে বাগদাদে চার মাস অবস্থান করেছি এবং আমাদের অসংখ্যবার সাক্ষাৎ হয়েছে। আমি তাকে তাঁর সম্পর্কে বর্ণিত গুণের চেয়েও উচ্চতর পেয়েছি। আমি তাকে হাদীসের ত্রুটি (ইলল) ও শায়খদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি। তাঁর অসংখ্য গ্রন্থ রয়েছে যার বর্ণনা দীর্ঘ হবে; আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, ভূপৃষ্ঠে তাঁর মতো দ্বিতীয় কেউ নেই। আল-খতিব আল-বাগদাদী বলেন: তিনি তাঁর সময়ের অদ্বিতীয় এবং তাঁর যুগের ইমাম ছিলেন। হাদীসের জ্ঞান, সনদের ত্রুটি ও রাবীদের নাম সম্পর্কিত জ্ঞান এবং সেই সাথে সত্যবাদিতা, বিশ্বস্ততা ও সঠিক আকিদার অধিকারিতার ক্ষেত্রে তাঁর মাধ্যমেই জ্ঞানের সমাপ্তি ঘটেছিল। এছাড়া তিনি কিরাত শাস্ত্রের মতো অন্যান্য ইলমও অর্জন করেছিলেন; এ বিষয়ে তাঁর একটি গ্রন্থ রয়েছে যেখানে তিনি বর্ণানুক্রমিক সূচির পূর্বে অধ্যায় বিন্যাসের প্রথা চালু করেছিলেন এবং পরবর্তী কিরাতবিদগণ তাঁর অনুসরণ করেছেন। এর মধ্যে ফকীহদের মাযহাব সংক্রান্ত জ্ঞানও অন্তর্ভুক্ত ছিল; আমার নিকট পৌঁছেছে যে তিনি আবু সাঈদ আল-ইসতাখরী-র নিকট ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেছিলেন। তদুপরি আদব ও কাব্যশাস্ত্রেও তাঁর গভীর জ্ঞান ছিল। বলা হয় যে, তিনি অনেকের কাব্যগ্রন্থ মুখস্থ রাখতেন, যার মধ্যে সাইয়্যিদ আল-হিমইয়ারীর কাব্যগ্রন্থও ছিল; এ কারণেই তাঁকে শিয়া মতাবলম্বী হওয়ার অপবাদ দেওয়া হয়েছিল। ইবনে যাহাবী বলেন: তিনি শিয়া মতবাদ থেকে অনেক দূরে ছিলেন। কাযী আবু তাইয়িব আত-তাবারী বলেন: আদ-দারাকুতনী হলেন হাদীস শাস্ত্রের আমীরুল মুমিনীন। আয-যাহাবী বলেন: আপনি যদি এই ইমামের দক্ষতা ও পাণ্ডিত্য বুঝতে চান, তবে তাঁর 'আল-ইলল' গ্রন্থটি পাঠ করুন; তবে আপনি বিস্মিত হবেন এবং আপনার বিস্ময় দীর্ঘস্থায়ী হবে—সংক্ষেপে 'তাযকিরা' থেকে উদ্ধৃতি সমাপ্ত। বিস্তারিত বিবরণের জন্য 'ইতহাফুন নুবালা' (৩১৬-৩১৭), 'তারিখু ইবনে খাল্লিকান' (খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ৩৩১) এবং 'বুস্তানুল মুহাদ্দিসীন' (৪৮-৪৯) দেখুন। (এবং আবু বকর আহমাদ বিন আল-হুসাইন) বিন আলী বিন আব্দুল্লাহ বিন মুসা আল-খুসরওজিরদী (আল-বাইহাকী)। 'বাইহাক' শব্দের সম্পর্কযুক্ত; যা যবরযুক্ত 'বা', এরপর সাকিনযুক্ত 'ইয়া', যবরযুক্ত 'হা' এবং 'কাফ' দিয়ে গঠিত। এটি নিশাপুরের পার্শ্ববর্তী অঞ্চলসমূহের অন্তর্ভুক্ত একটি জনপদ যা শহর থেকে বিশ ফারসাখ দূরে অবস্থিত। তিনি ৩৮৪ হিজরীর শাবান মাসে এর একটি গ্রাম খুসরওজিরদে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৪৫৮ হিজরীর ১০ই জুমাদাল উলা নিশাপুরে ইনতিকাল করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল চুয়াত্তর বছর। তাঁকে বাইহাক-এ নিয়ে যাওয়া হয় এবং খুসরওজিরদে দাফন করা হয়। আবু হাসান আব্দুল গাফির 'যাইলু তারিখি নিশাপুর' গ্রন্থে বলেন: আবু বকর আল-বাইহাকী ছিলেন একজন ফকীহ, হাফিয, উসুলবিদ এবং অত্যন্ত ধর্মপ্রাণ ও পরহেযগার ব্যক্তি। তিনি হাদীস মুখস্থ রাখার ক্ষেত্রে তাঁর যুগের অনন্য এবং নির্ভুলতা ও নিখুঁত বর্ণনার ক্ষেত্রে তাঁর সমসাময়িকদের মধ্যে অদ্বিতীয় ছিলেন। তিনি আল-হাকিম (আবু আব্দুল্লাহ ইবনুল বায়্যি')-এর বিশিষ্ট শায়খদের অন্যতম...
(খণ্ড: ١) মিরআতুল মাফাতীহ শারহু মিশকাতিল মাসাবীহ (পৃষ্ঠা: ২১)
وأبي الحسين رزين بن معاوية العبدري،

ــ

الحديث) ، ويزيد عليه بأنواع من العلوم، كتب الحديث وحفظه من صباه وتفقه وبرع وأخذ في الأصول وارتحل إلى العراق والجبال والحجاز ثم صنف، وتواليفه تقارب ألف جزء ما لم يسبقه إليه أحد، وجمع بين علم الحديث والفقه وبيان علل الحديث ووجه الجمع بين الأحاديث، طلب منه الأئمة الانتقال من الناحية إلى نيسابور لسماع الكتب، فأتى في سنة إحدى وأربعين وأعدوا له المجلس لسماع كتب المعرفة، وحضره الأئمة، وكان على سيرة العلماء قانعاً باليسير. قال الذهبي: ولم يكن عنده سنن النسائي ولا جامع الترمذي ولا سنن ابن ماجه، بلى كان عنده الحاكم فأكثر عنه، وعدنه عوالٍ، وبورك له في عمله لحسن مقصده وقوة فهمه وحفظه، وعمل كتباً لم يسبق إلى تحريرها، منها الأسماء والصفات مجلدان، والسنن الكبير عشر مجلدات، ومعرفة السنن والآثار أربع مجلدات، وشعب الإيمان مجلدان، ودلائل النبوة ثلاث مجلدات، والسنن الصغير مجلدان، والزهد مجلد، والبعث مجلد، والدعوات مجلد، ونصوص الشافعي ثلاث مجلدات، والمدخل مجلد، والترغيب والترهيب مجلد، ومناقب الشافعي، ومناقب أحمد، وكتب عديدة لا أذكرها، قال إمام الحرمين أبوالمعالي: ما من شافعي إلا وللشافعي عليه منة إلا أبابكر البيهقي فإن له منة على الشافعي لتصانيفه في نصرة مذهبه، سمع أباعبد الله الحاكم وأبابكر بن فورك وأباعلي الروذباري وخلقاً بخراسان وبغداد والكوفة، وحدث عنه شيخ الإسلام أبوإسماعيل الأنصاري بالإجازة وولده إسماعيل بن أحمد وأبوعبد الله الفزاري وخلق كثير - انتهى كلام الذهبي مختصراً، وقد بسط ترجمته في إتحاف النبلاء (190-191) ، وبستان المحدثين (54-55) . (وأبي الحسن رزين) بفتح الراء وكسر الزاي، ابن معاوية السرقسطي (العبدري) بفتح العين المهملة وسكون الموحدة وفتح الدال المهملة وبالراء المخففة - منسوب إلى عبد الدار بن قصي بطن من قريش، وهذه النسبة على خلاف قواعد النسبة، وهو الذي جمع الكتب الستة في كتابه تجريد الصحاح الستة، وهو أكبر الكتب الذي رآها ابن الأثير الجزري وأعمها، حيث حوى الكتب الستة التي هي أم كتب الحديث وأشهرها، لكن قد أودع فيه أحاديث في أبواب غير تلك الأبواب أولى بها، وكرر فيه أحاديث كثيرة وترك أكثر منها، وفيه أيضاً أحاديث كثيرة لا توجد في كتب أصول الستة، وقد اعتمد في ترتيب كتابه هذا على أبواب البخاري، وذكر فيه أيضاً أقوال التابعين والأئمة سيما فقه مالك، كما يظهر من كلام ابن الأثير في مقدمة كتابه جامع الأصول لأحاديث الرسول، قال الشوكاني في الفوائد المجموعة (19) : لقد أدخل رزين بن معاوية العبدري في كتابه الذي جمع بين دواوين الإسلام بلايا وموضوعات لا تعرف ولا يدرى من أين جاء بها، وذلك خيانة المسلمين، وقد أخطأ ابن الأثير خطأً بيناً بذكر ما زاده رزين في جامع الأصول، ولم ينبّه على عدم صحته في نفسه إلا نادراً كقوله بعد ذكر هذه الصلاة أي صلاة الرغائب المشهورة التي اتفق الحفاظ على أنها موضوعة ما لفظه: هذا الحديث مما وجدته في كتاب رزين ولم أجده في واحد من الكتب الستة، والحديث مطعون فيه - انتهى كلام الشوكاني، قال المؤلف في الإكمال، وطاش كبرى زاده في مفتاح السعادة (ج2: ص12) : مات رزين بعد العشرين
এবং আবি আল-হুসাইন রাজিন বিন মুয়াবিয়া আল-আবদারি,

--

হাদিস), তিনি এতে বিভিন্ন প্রকার জ্ঞান সংযোজন করেছেন। শৈশব থেকেই তিনি হাদিস লিখতেন ও মুখস্থ করতেন; ফিকহ শাস্ত্রে পাণ্ডিত্য অর্জন করেন এবং পারদর্শী হয়ে ওঠেন। তিনি উসুল (মূলনীতি) শাস্ত্রে জ্ঞানার্জন করেন এবং ইরাক, জাবাল ও হিজাজে সফর করেন। এরপর তিনি গ্রন্থ রচনা শুরু করেন। তাঁর রচনাবলি প্রায় এক হাজার জুজ (অংশ), যা তাঁর পূর্বে কেউ করতে পারেননি। তিনি হাদিস শাস্ত্র ও ফিকহ শাস্ত্রের সমন্বয় করেন এবং হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি ও হাদিসসমূহের মধ্যে সমন্বয়ের পদ্ধতি বর্ণনা করেন। শীর্ষস্থানীয় ইমামগণ তাঁকে তাঁর এলাকা থেকে কিতাব শ্রবণের উদ্দেশ্যে নিশাপুরে আসার অনুরোধ করেন। ফলে তিনি ৪৪১ হিজরিতে সেখানে আগমন করেন এবং তাঁর জন্য 'মারেফাত' বিষয়ক গ্রন্থাবলি শোনার মজলিস তৈরি করা হয়। সেখানে বড় বড় ইমামগণ উপস্থিত হন। তিনি ওলামায়ে কেরামের আদর্শ অনুযায়ী অল্পে তুষ্ট জীবন যাপন করতেন। যাহাবি বলেন: তাঁর নিকট সুনানে নাসায়ি, জামে তিরমিজি বা সুনানে ইবনে মাজাহ ছিল না; তবে তাঁর নিকট হাকেম (এর কিতাব) ছিল এবং তিনি তাঁর থেকে প্রচুর বর্ণনা করেছেন। তাঁর কাছে উচ্চ সনদধারী (আওয়ালি) হাদিস ছিল। তাঁর উত্তম উদ্দেশ্য এবং প্রবল বোধশক্তি ও মুখস্থ শক্তির কারণে তাঁর কাজে বরকত দান করা হয়েছে। তিনি এমন কিছু কিতাব রচনা করেছেন যা সম্পাদনায় তাঁর পূর্বে কেউ অগ্রগামী হতে পারেনি। এর মধ্যে রয়েছে: ‘আল-আসমা ওয়াস-সিফাত’ (২ খণ্ড), ‘আস-সুনান আল-কাবীর’ (১০ খণ্ড), ‘মারেফাতুস সুনান ওয়াল আসার’ (৪ খণ্ড), ‘শুআবুল ঈমান’ (২ খণ্ড), ‘দালাইলুন নুবুওয়াহ’ (৩ খণ্ড), ‘আস-সুনান আস-সাগীর’ (২ খণ্ড), ‘আজ-জুহদ’ (১ খণ্ড), ‘আল-বাআস’ (১ খণ্ড), ‘আদ-দাওয়াত’ (১ খণ্ড), ‘নুসুসুশ শাফিঈ’ (৩ খণ্ড), ‘আল-মাদখাল’ (১ খণ্ড), ‘আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব’ (১ খণ্ড), ‘মানাকিবুশ শাফিঈ’, ‘মানাকিবু আহমদ’ এবং আরও অসংখ্য কিতাব যা আমি উল্লেখ করছি না। ইমামুল হারামাইন আবুল মাআলি বলেন: এমন কোনো শাফিঈ (শাফিঈ মাজহাবের অনুসারী) নেই যার ওপর ইমাম শাফিঈর অনুগ্রহ নেই, কেবল আবু বকর আল-বায়হাকি ব্যতীত; কেননা তাঁর (বায়হাকির) মাজহাবের সমর্থনে তাঁর রচনার কারণে ইমাম শাফিঈর ওপর তাঁর (বায়হাকির) ঋণ রয়েছে। তিনি আবু আবদুল্লাহ আল-হাকেম, আবু বকর বিন ফুরাক, আবু আলী আর-রুজবারী এবং খোরাসান ও বাগদাদ ও কুফার অসংখ্য ব্যক্তির নিকট হাদিস শুনেছেন। শাইখুল ইসলাম আবু ইসমাইল আল-আনসারি ইজাজতের মাধ্যমে তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন, এবং তাঁর পুত্র ইসমাইল বিন আহমদ, আবু আবদুল্লাহ আল-ফাজারি এবং আরও অনেকে তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন - যাহাবির বক্তব্য সংক্ষেপে শেষ হলো। তাঁর জীবনী ‘ইতহাফুন নুবালা’ (১৯০-১৯১) এবং ‘বুস্তানুল মুহাদ্দিসিন’ (৫৪-৫৫)-এ বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে। (এবং আবি আল-হাসান রাজিন) 'রা' বর্ণে ফাতহা এবং 'যা' বর্ণে কাসরা সহকারে, ইবনে মুয়াবিয়া আস-সারাকুস্তি (আল-আবদারি) 'আইন' বর্ণে ফাতহা ও সুকুন যুক্ত 'বা' এবং 'দাল' বর্ণে ফাতহা ও তাশদিদহীন 'রা' সহকারে—যা কুরাইশের একটি শাখা 'আবদুদ দার বিন কুসাই'-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত। এই নিসবত বা সম্বন্ধটি নিসবতের সাধারণ নিয়মের পরিপন্থী। তিনি সেই ব্যক্তি যিনি তাঁর ‘তাজরিদুস সিহাহ আস-সিত্তাহ’ গ্রন্থে ছয়টি কিতাবকে একত্রিত করেছেন। এটি ইবনে আসির আল-জাজরি কর্তৃক দেখা গ্রন্থগুলোর মধ্যে বৃহত্তম এবং ব্যাপকতম, কারণ এতে ছয়টি কিতাব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যা হাদিসের মূল এবং সর্বাধিক প্রসিদ্ধ কিতাব। তবে তিনি এতে এমন কিছু হাদিস এমন সব অধ্যায়ে রেখেছেন যেগুলোর জন্য অন্য অধ্যায় বেশি উপযুক্ত ছিল। তিনি এতে অনেক হাদিসের পুনরাবৃত্তি করেছেন এবং তার চেয়েও বেশি বর্জন করেছেন। এতে এমন অনেক হাদিসও রয়েছে যা মূল ছয়টি কিতাবে পাওয়া যায় না। তিনি তাঁর এই কিতাব বিন্যাসে বুখারির অধ্যায়গুলোর ওপর নির্ভর করেছেন এবং এতে তাবেঈ ও ইমামদের উক্তি, বিশেষ করে ইমাম মালিকের ফিকহ উল্লেখ করেছেন, যা ইবনে আসিরের ‘জামেউল উসুল লি আহাদিসির রাসুল’ কিতাবের ভূমিকা থেকে স্পষ্ট হয়। শাওকানি ‘আল-ফাওয়ায়েদ আল-মাজমুআ’ (১৯) গ্রন্থে বলেন: রাজিন বিন মুয়াবিয়া আল-আবদারি ইসলামের মূল গ্রন্থসমূহ একত্রিত করার দাবিদার তাঁর এই কিতাবে এমন সব বিপদজনক ও জাল বিষয় ঢুকিয়েছেন যা পরিচিত নয় এবং এগুলো তিনি কোথা থেকে এনেছেন তাও জানা নেই; এটি মুসলমানদের সাথে এক প্রকার খিয়ানত। ইবনে আসির রাজিন কর্তৃক সংযোজিত বিষয়গুলো ‘জামেউল উসুল’-এ উল্লেখ করে এক স্পষ্ট ভুল করেছেন এবং তিনি কদাচিৎ ব্যতীত এগুলোর অসারতা সম্পর্কে সতর্ক করেননি। যেমন তিনি প্রসিদ্ধ ‘সালাতুর রাগায়েব’—যাকে হাফেজগণ (মুহাদ্দিসগণ) জাল হওয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছেন—উল্লেখ করার পর তাঁর শব্দগুলো হলো: এই হাদিসটি আমি রাজিনের কিতাবে পেয়েছি কিন্তু ছয়টি কিতাবের কোনোটিতেই পাইনি, এবং হাদিসটি ত্রুটিযুক্ত (মাত্তুন) - শাওকানির বক্তব্য শেষ হলো। লেখক ‘আল-ইকমাল’ গ্রন্থে এবং তাশ কুবরা জাদে ‘মিফতাহুস সাআদাহ’ (২য় খণ্ড: ১২ পৃষ্ঠা) গ্রন্থে বলেন: রাজিন পাঁচশ বিশ হিজরির পরে মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ١) মিরআতুল মাফাতীহ শারহু মিশকাতিল মাসাবীহ (পৃষ্ঠা: ২২)
وغيرهم، وقليل ما هو. وإني إذا نسبت الحديث إليهم كأني أسندت إلى النبي صلى الله عليه وسلم؛ لأنهم قد فرغوا منه، وأغنونا عنه، وسردت الكتب والأبواب كما سردها، واقتفيت أثره فيها، وقسمت كل باب غالباً على فصول ثلاثة: أولها ما أخرجه الشيخان أو أحدهما،

ــ

وخمس مائة، وقال العلامة القنوجي البوفالي في الإتحاف (35) : توفي سنة خمس وثلاثين وخمسمائة، فالله أعلم، (وغيرهم) بالجر عطفاً على أبي عبد الله، وقيل: بالرفع، عطفاً على "مثل"، (وقليل ما) ما زائدة إبهامية تزيد الشيوع والمبالغة في القلة (هو) أي غيرهم والإفراد للفظ (غيرهم) وهو مبتدأ، خبره "قليل" يعني غير الأئمة الثلاثة عشر المذكورين قليل، كالنووي وابن حبان وابن عبد البر وغيرهم، ولما قال فيما قدمه "فأعلمت ما أغفله" استشعر اعتراضاً بأن الإعلام الحقيقي إنما هو بإيراد الإسناد الكلي ليترتب عليه معرفة رجاله التي يتوقف عليها الحكم بصحة الحديث وحسنه وضعفه وسائر أحواله، وأيضاً كان طعن بعض النقاد على صاحب المصابيح من جهة ترك ذكر الإسناد وهو باقٍ على حاله؛ لأنه لم يتأت ذكر الإسناد بذكر أحد من المؤلفين، فاعتذر عن الإشكال، فقال: (وإني إذا نسبت) أي كل حديث (إليهم) أي إلى بعض الأئمة المذكورين المعروفة كتبهم بأسانيدهم (كأني أسندت) أي الحديث برجاله (إلى النبي صلى الله عليه وسلم) أي فيما إذا كان الحديث مرفوعاً وهو الغالب؛ (لأنهم قد فرغوا منه) أي من الإسناد الكامل بذكرهم على حد قوله: {اعدلوا هو أقرب للتقوى} [5: 8] ، (وأغنونا) بهمزة قطع، أي جعلونا في غنى وكفاية (عنه) أي عن ذكر الإسناد، وقال القاري: أي عن تحقيق الإسناد من وصله وقطعه ووقفه ورفعه وضعفه وحسنه وصحته ووضعه، ومن ثم لزم الأخذ بنص أحدهم على صحة السند أو الحديث أو على حسنه أو ضعفه أو وضعه، (وسردت الكتب والأبواب) أي أوردتها ووضعتها متتابعة ومتوالية (كما سردها) أي رتبها وعينها البغوي في المصابيح، (واقتفيت) أي اتبعت (أثره) بفتحتين، وقيل: بكسر الهمزة وسكون المثلثة، أي طريقة (فيها) أي في الكتب والأبواب من غير تقديم وتأخير وزيادة وتغيير، فإن ترتيبه على وجه الكمال وتبويبه في غاية من الحسن، (وقسمت) بالتخفيف (غالباً) أي في غالب الأحوال، وقيد الغالبية بمعنى الأكثرية؛ لأنه قد لا يوجد الفصل الأول أو الثاني أو الثالث أو الثاني والثالث كلاهما في بعض الأبواب كما يأتي (أولها) أي أول الفصول في هذا الكتاب بدل قول البغوي في المصابيح "من الصحاح" (ما أخرجه) أي رواه (الشيخان أو أحدهما) أي بزعم صاحب المصابيح لما سيأتي من قوله "وإن عثرت على اختلاف في الفصلين" أو المراد في الغالب، والنادر كالمعدوم، والمراد بالشيخين في اصطلاح المحدثين: البخاري ومسلم، والإخراج والتخريج هو إيراد المحدث الحديث بسنده في كتابه، ويقال له الرواية أيضاً، فلا يقال في حق أحد ممن جمع الأحاديث في مؤلفاتهم ونقلوها من كتب الأصول الصحاح الستة والمسانيد والمعاجم والسنن وأمثالها كالبغوي في المصابيح والخطيب في المشكاة والحميدي في الجمع بين الصحيحين وابن الأثير في جامع الأصول والسيوطي في جمع
এবং অন্যান্যরা, তবে তাদের সংখ্যা খুবই কম। আমি যখন কোনো হাদিসকে তাঁদের (ইমামদের) দিকে নিসবত করি, তখন তা যেন স্বয়ং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকেই সনদসহ বর্ণনা করার সমতুল্য; কারণ তাঁরা সনদ সংকলনের কাজ সম্পন্ন করেছেন এবং আমাদের এর আবশ্যকতা থেকে অমুখাপেক্ষী করেছেন। আমি কিতাব ও অধ্যায়সমূহকে সেভাবেই বিন্যস্ত করেছি যেভাবে তিনি সাজিয়েছেন এবং এ ক্ষেত্রে আমি তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করেছি। আমি সাধারণত প্রতিটি অধ্যায়কে তিনটি অনুচ্ছেদে ভাগ করেছি: প্রথমটি হলো সেই হাদিসসমূহ যা ইমামদ্বয় (বুখারি ও মুসলিম) অথবা তাঁদের কোনো একজন বর্ণনা করেছেন।

—

পাঁচশত। আল্লামা কান্নৌজি আল-ভোপালি 'আল-ইতিহাফ' গ্রন্থে (৩৫) বলেছেন: তিনি পাঁচশত পঁয়ত্রিশ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন, আল্লাহই সর্বজ্ঞ। '(وغيرهم)' শব্দটি 'আবি আব্দুল্লাহ' শব্দের ওপর আতফ হওয়ার কারণে যেরযুক্ত (জর), আবার কেউ কেউ বলেছেন পেশযুক্ত (রাফা), যা 'مثل' শব্দের ওপর আতফ হয়েছে। '(وقليل ما)' এখানে 'মা' শব্দটি অতিরিক্ত (যায়েদাহ) এবং অনির্দিষ্টতা (ইবহামিয়্যাহ) প্রকাশের জন্য যুক্ত হয়েছে যা স্বল্পতার ব্যাপকতা ও আধিক্য বুঝায়। '(هو)' অর্থাৎ 'অন্যান্যরা' এবং একবচন ব্যবহার করা হয়েছে 'غيرهم' শব্দটির রূপ বিবেচনায়। এটি মুবতাদা এবং 'قليل' তার খবর। অর্থাৎ উল্লিখিত তেরো জন ইমাম ব্যতীত অন্যরা সংখ্যায় নগণ্য, যেমন ইমাম নববী, ইবনে হিব্বান, ইবনে আব্দুল বার প্রমুখ। যখন লেখক পূর্বে বলেছিলেন "আমি সেসব বিষয় অবগত করেছি যা তিনি (মূল লেখক) উপেক্ষা করেছিলেন", তখন একটি সম্ভাব্য আপত্তি অনুভূত হতে পারে যে, প্রকৃত জ্ঞান দান তো হলো পূর্ণ সনদ উল্লেখ করার মাধ্যমে যাতে বর্ণনাকারীদের পরিচয় জানা যায়, যার ওপর ভিত্তি করে হাদিসের বিশুদ্ধতা, হাসান, জয়িফ বা অন্য সব অবস্থা নিরূপিত হয়। তদুপরি, 'মাসাবিহ' প্রণেতার ওপর কতিপয় সমালোচকের আপত্তি ছিল সনদ উল্লেখ না করার কারণে, যা এখানেও অপরিবর্তিত রয়েছে; কারণ কোনো সংকলকের নাম উল্লেখ করলেই তো সনদ উল্লেখ করা হয়ে যায় না। তাই তিনি এই জটিলতার ওজর পেশ করে বললেন: '(وإني إذا نسبت)' অর্থাৎ যখন আমি প্রতিটি হাদিসকে সম্বন্ধ করি '(إليهم)' অর্থাৎ উল্লিখিত ইমামগণের কোনো একজনের প্রতি যাঁদের কিতাবসমূহ স্বীয় সনদসহ সুপরিচিত, তখন '(كأني أسندت)' যেন আমি হাদিসটিকে তার বর্ণনাকারীদের পরম্পরাসহ সম্বন্ধ করলাম '(إلى النبي صلى الله عليه وسلم)' অর্থাৎ যখন হাদিসটি মারফু হবে, আর সাধারণত তেমনই হয়ে থাকে। '(لأنهم قد فرغوا منه)' অর্থাৎ তাঁরা পূর্ণ সনদ বর্ণনার কাজ সমাপ্ত করেছেন, যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে রয়েছে: {তোমরা ইনসাফ করো, এটি তাকওয়ার অধিক নিকটবর্তী} [৫:৮]। '(وأغنونا)' এটি হামজায়ে কাতয়ি যোগে, অর্থাৎ তাঁরা আমাদের সনদ বর্ণনার আবশ্যকতা থেকে অমুখাপেক্ষী ও অভাবমুক্ত করেছেন। মোল্লা আলী কারী বলেন: অর্থাৎ সনদের মুত্তাসিল, মুনকাতি, মাওকুফ, মারফু, জয়িফ, হাসান, সহিহ এবং মাওজু হওয়া যাচাই করার কষ্ট থেকে আমাদের মুক্ত করেছেন। ফলে তাঁদের কারো কোনো হাদিসের সনদ বা টেক্সটের বিশুদ্ধতা, হাসান, জয়িফ বা মাওজু হওয়ার ওপর দেওয়া সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করা আবশ্যক হয়ে পড়েছে। '(وسردت الكتب والأبواب)' অর্থাৎ আমি কিতাব ও অধ্যায়সমূহকে ধারাবাহিকভাবে উল্লেখ ও বিন্যস্ত করেছি '(كما سردها)' অর্থাৎ যেভাবে ইমাম বাগাভী 'মাসাবিহ' গ্রন্থে সেগুলোকে সাজিয়েছেন এবং নির্ধারণ করেছেন। '(واقتفيت)' অর্থাৎ আমি অনুসরণ করেছি '(أثره)' তাঁর পথ বা পদ্ধতিকে '(فيها)' অর্থাৎ সেই কিতাব ও অধ্যায়সমূহের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার আগে-পিছে, সংযোজন বা পরিবর্তন ছাড়াই; কেননা তাঁর বিন্যাস ছিল পূর্ণাঙ্গ এবং পরিচ্ছেদসমূহ অত্যন্ত চমৎকার। '(وقسمت)' আমি বিভক্ত করেছি '(غالباً)' অর্থাৎ অধিকাংশ ক্ষেত্রে। 'অধিকাংশ' বলা হয়েছে কারণ কোনো কোনো অধ্যায়ে প্রথম, দ্বিতীয় বা তৃতীয় অনুচ্ছেদ অথবা দ্বিতীয় ও তৃতীয় অনুচ্ছেদ উভয়টি নাও থাকতে পারে, যা সামনে বিস্তারিত আসবে। '(أولها)' অর্থাৎ এই কিতাবের প্রথম অনুচ্ছেদটি (যা মাসাবিহ গ্রন্থে বাগাভীর "মিনাস সিহাহ" পরিভাষার স্থলাভিষিক্ত) '(ما أخرجه)' যা বর্ণনা করেছেন '(الشيخان أو أحدهما)' অর্থাৎ বুখারি ও মুসলিম অথবা তাঁদের একজন, যা 'মাসাবিহ' প্রণেতার ধারণা অনুযায়ী; কারণ সামনে লেখকের উক্তি আসছে যে "যদি তুমি অনুচ্ছেদদ্বয়ের মধ্যে পার্থক্য পাও" অথবা এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো অধিকাংশ ক্ষেত্র, আর বিরল বিষয় অনুপস্থিতের ন্যায় গণ্য। মুহাদ্দিসগণের পরিভাষায় 'শাইখান' বলতে ইমাম বুখারি ও ইমাম মুসলিমকে বুঝায়। 'ইখরাজ' ও 'তাখরিজ' হলো মুহাদ্দিস কর্তৃক স্বীয় কিতাবে সনদসহ হাদিস উল্লেখ করা, একে রেওয়ায়ত বা বর্ণনাও বলা হয়। তাই যাঁরা বিভিন্ন হাদিস সংগ্রহ করে সংকলন করেছেন এবং মূল কিতাবসমূহ যেমন সিহাহ সিত্তাহ, মাসানিদ, মাআজিম ও সুনান থেকে উদ্ধৃত করেছেন, যেমন 'মাসাবিহ' গ্রন্থে ইমাম বাগাভী, 'মিশকাত' গ্রন্থে খতিব তাবরিজি, 'আল-জাম'ু বাইনাস সাহিহাইন' গ্রন্থে হুমাইদি, 'জামেউল উসুল' গ্রন্থে ইবনুল আসির এবং সুয়ূতির সংকলনসমূহ, তাদের ক্ষেত্রে (কারিগরি অর্থে) 'মুকরিজ' বলা হয় না।
(খণ্ড: ١) মিরআতুল মাফাতীহ শারহু মিশকাতিল মাসাবীহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
واكتفيت بهما وإن اشترك فيه الغير لعلو درجتهما في الرواية. وثانيها ما أورده غيرهما من الأئمة المذكورين. وثالثها ما اشتمل على معنى الباب من ملحقات مناسبة

ــ

الجوامع، والمناوي في الجامع الأزهر، والهيثمي في مجمع الزوائد، والروداني المغربي المالكي في جمع الفوائد وأمثالهم أنه أخرجه أو خرجه أو رواه في كتابه؛ لأنه لم يرو هؤلاء تلك الأحاديث في كتبهم بأسانيدهم، بل نقلوها من الكتب المروية فيها مع ذكر الصحابة وذكر من خرجها من المحدثين، والفرق بين المخرج اسم فاعل والمخرج في قولهم في بعض الأحاديث "عرف مخرجه" أو "لم يعرف مخرجه" أن المخرج - بالتشديد أو التخفيف على صيغة اسم الفاعل - هو ذاكر الحديث على سبيل الرواية كالبخاري مثلاً، وأما المخرج المذكور في القول المتقدم فهو - بفتح الميم والراء اسم مكان -، بمعنى محل خروجه، وهو الصحابي الراوي للحديث، أو رجاله الراوون له؛ لأنه خرج منهم، وقد يطلق لفظ الإخراج أو التخريج على ذكر الحديث وإيراده مطلقاً أي أعم من أن يذكره بسنده على سبيل الرواية، أو يذكره على سبيل النقل من الأصول مع ذكر المخرج أي الصحابي، والمخرج أي المحدث الذي رواه في كتابه، وعلى هذا يجوز أن يقال: خرجه أو أخرجه الخطيب في المشكاة، والهيثمي في مجمع الزوائد ونحو ذلك، فيكون الإخراج والتخريج أعم من الرواية، ثم رأيت الجزائري قال في توجيه النظر (142) : أما المخرج - بفتح الميم - هو في الأصل بمعنى مكان الخروج، فأطلق على الموضع الذي ظهر منه الحديث، وهم الرواة الذين جاء عنهم، وأما التخريج فيطلق على معنيين: أحدهما إيراد الحديث بإسناده في كتاب أو إملاء، وأكثر ما تقع هذه العبارة للمغاربة، والأولى أن يقولوا: الإخراج كما يقوله غيرهم، الثاني: عزو الأحاديث إلى من أخرجها من الأئمة، ومنه قيل: "خرج فلان أحاديث كتاب كذا"، و"فلان له كتاب في تخريج أحاديث الإحياء"، ونحو ذلك - انتهى. وقد أطلق بعضهم لفظ الرواية على ذكر الحديث معلقاً من غير سند، كما قال المجد بن تيمية في المنتقى وحفيده في فتاواه وابن قدامة في المغني والخطيب في المشكاة في حديث أبي هريرة الذي ذكره مسلم تعليقاً بلفظ: ((إذا قرئ فأنصتوا)) رواه مسلم. وهذا الإطلاق غير جيد عندي، بل غير صحيح، (واكتفيت بهما) أي بذكرهما في التخريج، (وإن اشترك) وصلية لا تطلب جزاء وجواباً (فيه لغير) أي في تخريج الحديث وروايته غيرهما من المحدثين كبقية الكتب الستة ونحوها (لعلو درجتهما) ورفعة شأنهما على سائر المخرجين مع الفرق بينهما (في الرواية) متعلق بالعلو أي في شرائط إسنادها والتزم صحتها ما لم يلتزمه غيرهما من المحدثين فلا يحتاج مع تخريجهما إلى ذكر رواية غيرهما الذين اشتركوا فيه في نفس صحة الحديث وإن كان لرواية الغير مدخل في تقوية الحديث وتأييده وتوكيده، لكن ما ذكرت الغير طلباً للاختصار، (وثانيها) أي الفصول، وهو المعبر عنه في المصابيح بقوله "الحسان" (على معنى الباب) أي على معنى عقد له الباب (من ملحقات) بفتح الحاء، ومن بيانية لما اشتمل (مناسبة) بكسر السين صفة لملحقات، والمراد بها زيادات ألحقها صاحب المشكاة على وجه
আমি তাঁদের দুজনকে (বুখারি ও মুসলিম) যথেষ্ট মনে করেছি, যদিও অন্যরাও তাতে অংশীদার রয়েছেন; কারণ বর্ণনার ক্ষেত্রে তাঁদের উভয়ের সুউচ্চ মর্যাদা বিদ্যমান। আর দ্বিতীয় প্রকার হলো যা উল্লিখিত অন্যান্য ইমামগণ বর্ণনা করেছেন। এবং তৃতীয় প্রকার হলো যা প্রাসঙ্গিক সংযুক্তি হিসেবে সংশ্লিষ্ট অধ্যায়ের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে।

—

‘জওয়ামে’ (ইমাম সুয়ূতী), জামে আল-আযহারে আল-মুনাভী, মাজমাউয যাওয়াইদে আল-হায়সামী, এবং জামউল ফাওয়ায়েদে রুদানী আল-মাগরিবী আল-মালিকী এবং তাঁদের ন্যায় অন্যান্যরা যখন বলেন যে, “তিনি তা তাখরীজ করেছেন” বা “এটি বর্ণনা করেছেন”, তখন এর অর্থ এই নয় যে তাঁরা এই হাদিসসমূহ তাঁদের নিজ নিজ কিতাবে স্বীয় সনদে বর্ণনা করেছেন। বরং তাঁরা এগুলো মূল হাদিস গ্রন্থসমূহ থেকে সাহাবীর নাম এবং সেই মুহাদ্দিসগণের নামসহ উদ্ধৃত করেছেন যারা সেগুলো বর্ণনা করেছেন। কর্তৃবাচক বিশেষ্য হিসেবে ‘মুখাররিজ’ এবং কোনো হাদিসের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত “তার মাখরাজ জানা গেছে” বা “তার মাখরাজ জানা যায়নি”—এই উক্তিতে ব্যবহৃত ‘মাখরাজ’ শব্দ দুটির মধ্যে পার্থক্য হলো এই যে: ‘মুখাররিজ’ (তশদীদসহ বা তশদীদ ছাড়া) বলতে সেই মুহাদ্দিসকে বোঝায় যিনি বর্ণনার মাধ্যমে স্বীয় কিতাবে হাদিস উল্লেখ করেন, যেমন ইমাম বুখারী। আর পূর্বে উল্লিখিত উক্তিতে ব্যবহৃত ‘মাখরাজ’ শব্দটি (মীম ও রা বর্ণের ফাতহাহসহ স্থানবাচক বিশেষ্য) হলো হাদিসটি প্রকাশিত হওয়ার স্থান; অর্থাৎ হাদিস বর্ণনাকারী সাহাবী অথবা এর রাবীগণ, যাঁদের সূত্র ধরে হাদিসটি প্রকাশিত হয়েছে। কখনো কখনো ‘ইখরাজ’ বা ‘তাখরীজ’ শব্দ দুটি সাধারণভাবে হাদিস উল্লেখ করার অর্থেও ব্যবহৃত হয়; অর্থাৎ তা স্বীয় সনদে বর্ণনা করার চেয়েও ব্যাপক অর্থ বহন করে, চাই তা মূল উৎস থেকে উদ্ধৃতির মাধ্যমে সাহাবীর নাম (মাখরাজ) উল্লেখ করে হোক অথবা সেই মুহাদ্দিসের নাম (মুখাররিজ) উল্লেখ করে হোক যিনি এটি তাঁর কিতাবে বর্ণনা করেছেন। এই হিসেবে এটা বলা বৈধ যে: খতীব (তবরীযী) ‘মিশকাত’ গ্রন্থে অথবা হায়সামী ‘মাজমাউয যাওয়াইদ’ গ্রন্থে এটি তাখরীজ করেছেন। এমতাবস্থায় ইখরাজ ও তাখরীজ শব্দ দুটি রেওয়ায়েত বা বর্ণনার চেয়েও ব্যাপক অর্থবোধক হবে। অতঃপর আমি দেখেছি যে, আল-জাযাইরী তাঁর ‘তাওজীহুন নজর’ (১৪২) গ্রন্থে বলেছেন: ‘মাখরাজ’ (মীমের ফাতহাহসহ) মূলত নির্গমনস্থল অর্থে ব্যবহৃত হয়, যা সেই সূত্রের ওপর প্রয়োগ করা হয় যেখান থেকে হাদিসটি প্রকাশিত হয়েছে, আর তাঁরা হলেন বর্ণনাকারী রাবীগণ। আর ‘তাখরীজ’ শব্দটি দুটি অর্থে ব্যবহৃত হয়: প্রথমত, কোনো কিতাবে বা শ্রুতিলিপি মজলিসে নিজস্ব সনদসহ হাদিস উল্লেখ করা; মরক্কোর আলেমদের নিকট এই পরিভাষার ব্যবহারই অধিক। তবে অন্যদের ন্যায় ‘ইখরাজ’ বলাটাই অধিক উত্তম। দ্বিতীয়ত, হাদিসকে তার মূল বর্ণনাকারী ইমামগণের দিকে সম্বন্ধ করা। একারণেই বলা হয়: “অমুক ব্যক্তি অমুক কিতাবের হাদিসসমূহ তাখরীজ করেছেন”, অথবা “অমুকের ‘এহয়াউ উলুমিদ্দীন’ এর হাদিসসমূহের তাখরীজের ওপর স্বতন্ত্র কিতাব রয়েছে”, ইত্যাদি—সমাপ্ত। কেউ কেউ সনদবিহীন ‘মুয়াল্লাক’ হিসেবে হাদিস উল্লেখ করাকেও ‘রেওয়ায়েত’ শব্দে অভিহিত করেছেন, যেমনটি করেছেন আল-মাজদ ইবনে তাইমিয়্যাহ ‘আল-মুনতাকা’ গ্রন্থে, তাঁর পৌত্র (ইবনে তাইমিয়্যাহ) তাঁর ফাতাওয়াতে, ইবনে কুদামা ‘আল-মুগনী’তে এবং খতীব ‘মিশকাত’ গ্রন্থে আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত সেই হাদিসের ক্ষেত্রে যা ইমাম মুসলিম সনদ ছাড়া মুয়াল্লাক হিসেবে উল্লেখ করেছেন: “যখন (কুরআন) পাঠ করা হয়, তখন তোমরা নীরব থাকো”—তারা বলেছেন “এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন”। আমার মতে এই পরিভাষার প্রয়োগটি সঠিক নয়। (আমি তাঁদের দুজনকে যথেষ্ট মনে করেছি) অর্থাৎ তাখরীজের ক্ষেত্রে কেবল তাঁদের উল্লেখ করাকেই যথেষ্ট গণ্য করেছি। (যদিও অন্যরাও তাতে অংশীদার থাকে) এখানে ‘ওয়াও’ শব্দটি সংযোগকারী, যা কোনো প্রতিদান বা জওয়াব দাবি করে না। (অন্যরা বলতে) কুতুবে সিত্তার অবশিষ্ট কিতাবসমূহ এবং এর অনুরূপ মুহাদ্দিসগণ যারা হাদিসটির তাখরীজ ও বর্ণনায় তাঁদের সাথে শরিক রয়েছেন। (তাদের উচ্চ মর্যাদার কারণে) এবং অন্যান্য সকল মুখাররিজগণের ওপর তাঁদের উচ্চ সম্মানের কারণে, যদিও তাঁদের উভয়ের মর্যাদার স্তরে পার্থক্য বিদ্যমান। (রেওয়ায়েতের ক্ষেত্রে) এটি ‘উচ্চ মর্যাদা’র সাথে সংশ্লিষ্ট; অর্থাৎ সনদের শর্তাবলি এবং বিশুদ্ধতার (সহীহ হওয়ার) প্রতিশ্রুতি পালনের ক্ষেত্রে, যা অন্য মুহাদ্দিসগণ সেভাবে পালন করেননি। সুতরাং তাঁদের দুজনের তাখরীজের পর অন্য যারা হাদিসটির বিশুদ্ধতার ক্ষেত্রে শরিক রয়েছেন তাঁদের বর্ণনার উল্লেখ করার প্রয়োজন পড়ে না, যদিও অন্যদের বর্ণনার মাধ্যমে হাদিসটি শক্তিশালী ও সমর্থিত হওয়ার অবকাশ থাকে, কিন্তু আমি সংক্ষিপ্তকরণের উদ্দেশ্যে অন্যদের উল্লেখ ত্যাগ করেছি। (এবং এর দ্বিতীয়টি) অর্থাৎ পরিচ্ছেদসমূহ, যাকে ‘মাসাাবীহ’ গ্রন্থে ‘হাসান’ হাদিস হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। (অধ্যায়ের মর্মার্থ অনুযায়ী) অর্থাৎ যে প্রতিপাদ্যের ওপর ভিত্তি করে অধ্যায়টি সাজানো হয়েছে। (সংযুক্তিগুলো থেকে) এখানে ‘হা’ বর্ণে ফাতহাহ হবে এবং এটি ‘যা অন্তর্ভুক্ত করে’ তার ব্যাখ্যা স্বরূপ। (প্রাসঙ্গিক) এটি ‘সংযুক্তি’র বিশেষণ। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সেই অতিরিক্ত অংশসমূহ যা মিশকাত সংকলক বিশেষ পদ্ধতিতে সংযোজন করেছেন।
(খণ্ড: ١) মিরআতুল মাফাতীহ শারহু মিশকাতিল মাসাবীহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
مع محافظة على الشريطة وإن كان مأثوراً عن السلف والخلف، ثم إنك إن فقدت حديثاً في باب فذلك عن تكرير أسقطه، وإن وجدت آخر بعضه متروكاً على اختصاره أو مضموماً إليه تمامه فعن داعي اهتمام أتركه وألحقه،

ــ

المناسبة بكل كتاب وباب غالباً لزيادة الفائدة (مع محافظة على الشريطة) أي من إضافة الحديث إلى راويه من الصحابة والتابعين ونسبته إلى مخرجه من الأئمة المذكورين. ولما كان صاحب المصابيح ملتزماً للأحادث المرفوعة في كتابه في الفصلين ولم يلتزم المصنف ذلك نبه عليه بقوله (وإن كان) أي المشتمل (مأثوراً) أي منقولاً ومروياً (عن السلف) المتقدمين وهم الصحابة (والخلف) أي المتأخرين وهم التابعون، يعني أنه لم يلتزم ذكر الأحاديث المرفوعة في ما زاد من الفصل الثالث، بل أورد فيه بعض ما روي من أقوال الصحابة والتابعين وأفعالهم المناسبة للباب أيضاً، ومن المعلوم أنه يطلق عليه أيضاً لفظ الحديث، واعلم أنه لم يذكر البغوي في المصابيح القسم الأول والثاني بعنوان الفصل، بل عبر الأول أي أحاديث الشيخين أو أحدهما بقوله "من الصحاح"، والثاني أي أحاديث غيرهما بقوله "من الحسان"، وهو اصطلاح حادث، ولا مشاحة فيه، وقد تقدم، وعبرهما صاحب المشكاة بالفصل الأول والثاني، وزاد الفصل الثالث من عند نفسه، وأورد الأحاديث فيه من الكتب المذكورة من الصحيحين وغيرهما، وذكر أيضاً الآثار الموقوفة، والتزم ذكر الراوي من الصحابة والتابعين وذكر المخرج من الأئمة المحدثين، (ثم إنك إن فقدت حديثاً) من ههنا شرع في بيان بعض تصرفاته في المصابيح، أي بعد ما ذكرت لك أيها الناظر في كتابي هذا أني التزمت متابعة صاحب المصابيح في كل باب إن فقدت من محله حديثاً من أصله الذي هو المصابيح (في باب) مثلاً أو في كتاب وما وجدته بالكلية (فذلك) الفقدان وعدم الوجد ليس صادراً عن سهو بل صدر (عن تكرير) أي عن تكرار وقع في المصابيح (أسقطه) أي لم أذكر الحديث في الباب الذي ذكره فيه في المصابيح؛ لكونه وقع مكرراً فحذفته لأجل التكرار، وذكرته في موضع آخر بعينه من غير تغيير، (وإن وجدت آخر) أي حديثاً آخر (بعضه) بالنصب بدل من آخر (متروكاً) حال (على اختصاره) الضمير فيه للحديث، ويؤيده قوله (أو مضموماً إليه تمامه) وقيل لمحي السنة، والأول أظهر فإنه حينئذٍ يكون الكلام على نسق واحد، وأما على الثاني فيحصل تفكيك الضمير ثم المعنى، أو وجدت حديثاً آخر مضموماً إليه تمامه الذي أسقطه البغوي أو أتى به في محل آخر (فعن داعي اهتمام) الفاء جزائية، أي فذلك الترك أو الضم لم يقع اتفاقاً، وإنما صدر عن موجب اهتمام، وقيل: عن بمعنى اللام أي لأجل باعث اهتمام اقتضى أني (أتركه) على اختصاره في الأول (وألحقه) الواو بمعنى أو أي وألحقه في الثاني؛ لفوات الداعي والباعث على اختصاره، فهو لف ونشر مرتب، والمعنى أنه قد يكون حديث اختصره الشيخ البغوي فأتركه أنا أيضاً على اختصاره، وقد أضم
শর্তাবলি রক্ষা করার পাশাপাশি, যদিও তা পূর্বসূরি ও উত্তরসূরিদের থেকে বর্ণিত হয়। অতঃপর যদি আপনি কোনো পরিচ্ছেদে কোনো হাদীস খুঁজে না পান, তবে তা আমি পুনরাবৃত্তির কারণে বাদ দিয়েছি। আর যদি অন্য কোনো হাদীস পান যার কিয়দাংশ সংক্ষিপ্ত করার কারণে বর্জন করা হয়েছে অথবা তার সাথে তার পূর্ণাংশ যুক্ত করা হয়েছে, তবে তা বিশেষ গুরুত্বের দাবির প্রেক্ষিতেই আমি বর্জন করেছি অথবা যুক্ত করেছি।

—

অতিরিক্ত উপকারের লক্ষ্যে সাধারণত প্রতিটি কিতাব ও পরিচ্ছেদের সাথে সামঞ্জস্য রক্ষা করে (শর্তাবলি রক্ষা করার পাশাপাশি) অর্থাৎ হাদীসকে তার বর্ণনাকারী সাহাবী ও তাবিঈদের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা এবং উল্লিখিত ইমামগণের মধ্য থেকে হাদীসটি সংকলনকারীর দিকে নিসবত করার শর্ত। যেহেতু 'মাসাবীহ' গ্রন্থকার তাঁর কিতাবের উভয় পরিচ্ছেদে কেবল মারফূ হাদীসসমূহ উল্লেখ করার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলেন, কিন্তু গ্রন্থকার (মিশকাত রচয়িতা) সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেননি, তাই তিনি তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে সতর্ক করেছেন যে, (যদিও তা হয়) অর্থাৎ যা অন্তর্ভুক্ত করে (বর্ণিত) অর্থাৎ যা উদ্ধৃত ও বর্ণিত হয়েছে (পূর্বসূরিদের থেকে) তথা সালাফ তথা সাহাবীগণ (এবং উত্তরসূরিদের থেকে) তথা খালাফ তথা তাবিঈগণ। এর অর্থ হলো, তিনি তৃতীয় পরিচ্ছেদে অতিরিক্ত যা যুক্ত করেছেন তাতে কেবল মারফূ হাদীস উল্লেখ করার বাধ্যবাধকতা রাখেননি, বরং এতে সাহাবী ও তাবিঈদের কিছু বাণী ও কর্মও উল্লেখ করেছেন যা সেই পরিচ্ছেদের জন্য উপযুক্ত। আর এটি সর্বজনবিদিত যে, এগুলোর ওপরও 'হাদীস' শব্দটির প্রয়োগ হয়। জেনে রাখুন যে, ইমাম বগভী 'মাসাবীহ' গ্রন্থে প্রথম ও দ্বিতীয় অংশকে 'ফসল' (পরিচ্ছেদ) শিরোনামে উল্লেখ করেননি, বরং প্রথম অংশকে অর্থাৎ বুখারী ও মুসলিমের হাদীস বা তাদের যেকোনো একজনের হাদীসকে 'সহীহ' শব্দে এবং দ্বিতীয় অংশকে অর্থাৎ অন্য ইমামদের হাদীসকে 'হাসান' শব্দে ব্যক্ত করেছেন। এটি একটি নতুন উদ্ভাবিত পরিভাষা, যাতে কোনো বিবাদ নেই এবং যা ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে। আর মিশকাত রচয়িতা সেগুলোকে প্রথম ও দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ হিসেবে ব্যক্ত করেছেন এবং নিজের পক্ষ থেকে তৃতীয় পরিচ্ছেদ বৃদ্ধি করেছেন। তিনি এতে উল্লিখিত কিতাবসমূহ থেকে সহীহাইন ও অন্যান্য গ্রন্থের হাদীসসমূহ অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এছাড়াও তিনি মাওকূফ আছারসমূহ উল্লেখ করেছেন এবং সাহাবী ও তাবিঈদের মধ্য থেকে বর্ণনাকারীর নাম এবং মুহাদ্দিস ইমামদের মধ্য থেকে সংকলনকারীর নাম উল্লেখ করার নিয়ম মেনে চলেছেন। (অতঃপর যদি আপনি কোনো হাদীস খুঁজে না পান) এখান থেকে তিনি 'মাসাবীহ' গ্রন্থে তাঁর কিছু কর্মপদ্ধতি বর্ণনা করতে শুরু করেছেন। অর্থাৎ হে পাঠক, আমি আপনাকে জানিয়ে দেওয়ার পর যে আমি 'মাসাবীহ' গ্রন্থকারের অনুসরণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, এরপরেও যদি আপনি কোনো পরিচ্ছেদে বা কোনো কিতাবে মূল 'মাসাবীহ' থেকে কোনো হাদীস অনুপস্থিত পান এবং তা মোটেও খুঁজে না পান, (তবে তা) তথা খুঁজে না পাওয়া বা অনুপস্থিতি কোনো ভুলের কারণে নয়, বরং তা (পুনরাবৃত্তির কারণে) হয়েছে। অর্থাৎ 'মাসাবীহ' গ্রন্থে যে পুনরাবৃত্তি ঘটেছে তা নিরসনে আমি হাদীসটি বাদ দিয়েছি। অর্থাৎ আমি হাদীসটি সেই পরিচ্ছেদে উল্লেখ করিনি যেখানে ইমাম বগভী উল্লেখ করেছিলেন, কারণ তা পুনরাবৃত্ত হয়েছে বিধায় আমি তা حذف বা বর্জন করেছি এবং অন্য একটি নির্দিষ্ট স্থানে কোনো পরিবর্তন ছাড়াই তা উল্লেখ করেছি। (আর যদি অন্যটি পান) অর্থাৎ অন্য কোনো হাদীস (যার কিয়দাংশ) এটি 'অন্যটি' শব্দের বদল হিসেবে নসব অবস্থায় আছে (বর্জন করা হয়েছে) এটি হাল বা অবস্থা বর্ণনা করছে (সংক্ষিপ্ত করার কারণে) এখানে সর্বনামটি হাদীসের দিকে ফিরেছে, যার সমর্থন পাওয়া যায় তাঁর পরবর্তী কথা (অথবা তার সাথে তার পূর্ণাংশ যুক্ত করা হয়েছে) দ্বারা। কেউ কেউ বলেছেন এটি মুহিউস সুন্নাহ (ইমাম বগভী)-র দিকে ফিরেছে, তবে প্রথমটিই অধিক স্পষ্ট, কারণ এতে বক্তব্যের ধারাবাহিকতা ঠিক থাকে। আর দ্বিতীয় মতানুসারে সর্বনাম ও অর্থের বিচ্ছেদ ঘটে। অর্থাৎ অথবা আপনি এমন কোনো হাদীস পেলেন যার সাথে তার পূর্ণ অংশ যুক্ত করা হয়েছে যা ইমাম বগভী বাদ দিয়েছিলেন অথবা অন্য স্থানে উল্লেখ করেছিলেন, (তবে তা গুরুত্বের দাবির প্রেক্ষিতেই) এখানে 'ফা' বর্ণটি প্রতিদানসূচক। অর্থাৎ সেই বর্জন বা সংযোজন আকস্মিকভাবে ঘটেনি, বরং তা বিশেষ গুরুত্বের কারণেই হয়েছে। বলা হয়েছে যে, এখানে 'আন' বর্ণটি 'লাম' এর অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, অর্থাৎ গুরুত্বের এমন একটি কারণ বিদ্যমান ছিল যা দাবি করেছে যে, (আমি তা বর্জন করি) প্রথম সুরতে সংক্ষিপ্ত অবস্থায়, (এবং আমি তা যুক্ত করি) এখানে 'ওয়াও' বর্ণটি 'অথবা' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, অর্থাৎ দ্বিতীয় সুরতে আমি তা পূর্ণাঙ্গভাবে যুক্ত করি; কারণ হাদীসটি সংক্ষিপ্ত রাখার কোনো কারণ বা যৌক্তিকতা তখন অবশিষ্ট থাকে না। এটি একটি সুশৃঙ্খল বর্ণনাভঙ্গি। এর মর্মার্থ হলো, কখনও কোনো হাদীস ইমাম বগভী সংক্ষিপ্ত করেছেন, তাই আমিও তা সংক্ষিপ্ত অবস্থায় রেখে দিয়েছি, আবার কখনও আমি তা পূর্ণাঙ্গরূপে যুক্ত করেছি।
(খণ্ড: ١) মিরআতুল মাফাতীহ শারহু মিশকাতিল মাসাবীহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
وإن عثرت على اختلاف في الفصلين من ذكر غير الشيخين في الأول وذكرهما في الثاني فاعلم أني بعد تتبعي كتابي الجمع بين الصحيحين للحميدي،

ــ

إليه بقية الحديث، وذلك لشيء يدعوني إلى تركه على اختصاره أو إلى ضم بقيته إليه، أما الداعي إلى تركه مختصراً فهو أن يكون جزء من حديث طويل مناسباً للباب دون باقي أجزائه، أو يكون حديث مشتملاً على معانٍ كثيرة يقتضي كل باب معنى من معانيه أي يكون جزء منه مناسباً لهذا الباب، وجزء آخر لباب آخر، وهكذا، وأورد الشيخ كلاً في بابه فأقتفي أثره في الإيراد أي أختصره وأقتصر على جزء منه في هذا الباب، وأذكر جزء آخر في ذلك الباب، وما لم يكن على هذين الوصفين ألحقت معه بقيته، وإن ذكره الشيخ مختصراً، وحاصل المعنى أن بعض الروايات كان مختصراً عن حديث طويل وكان جزء منه مناسباً للباب دون باقي أجزائه، فتركه في المشكاة أيضاً على الاختصار، وما كان يقتضي إتمام الحديث بجميع أجزائه أتمه في المشكاة، (وإن عثرت) اطلعت (على اختلاف) بيني وبين صاحب المصابيح (في الفصلين) الأول والثاني دون الثالث فإنه ليس محلاً للخلاف، وبيان الاختلاف قوله (من ذكر غير الشيخين في الأول) أي في الحديث المذكور في الفصل الأول (وذكرهما في الثاني) من الفصلين بأن يسند بعض الأحاديث فيه إليهما أو إلى أحدهما (كتابي الجمع) تثنية مضاف أي كتابين أحدهما (الجمع بين الصحيحين) أي بين كتابي البخاري ومسلم المسمين بالصحيحين (للحميدي) متعلق بالجمع، وهو بالتصغير نسبة لجده الأعلى حميد الحافظ أبي عبد الله محمد بن أبي نصر فتوح بن عبد الله بن حميد بن يصل (1) الأزدي الأندلسي (2) الميورقي القرطبي، سمع بالأندلس ومصر والشام والعراق وسكن بغداد، وكان من كبار تلامذة ابن حزم، حدث عنه فأكثر، وعن أبي عبد الله القضاعي وأبي عمر ابن عبد البر وأبي القاسم الجياني الدمشقي وأبي بكر الخطيب وغيرهم، ولم يزل يسمع ويكثر ويجد حتى كتب عن أصحاب الجوهري وابن المذهب، سمع بإفريقية كثيراً ولقي بمكة كريمة المروزية راوية البخاري أول رحلته وكان في سنة ثمان وأربعين وأربعمائة، قال يحيى بن البناء: كان الحميدي من اجتهاده ينسخ بالليل في الحر، فكان يجلس في إجانة ماء يتبرد به، وقال الحسين بن محمد بن خسرو: جاء أبوبكر بن ميمون فدق على الحميدي وظن أنه قد أذن له فدخل فوجده مكشوف الفخذ، فبكى الحميدي، فقال: والله لقد نظرت إلى موضع لم ينظره أحد منذ عقلت، وقال يحيى بن إبراهيم السلماسي: قال أبي: لم تر عيناي مثل الحميدي في فضله ونبله وغزارة علمه وحرصه على نشر العلم، قال: وكان ورعاً ثقة إماماً في الحديث وعلله ورواته، متحققاً في علم التحقيق والأصول على مذهب أصحاب الحديث بموافقة الكتاب والسنة، فصيح العبارة متبحراً في علم الأدب والعربية والترسل، وله كتاب الجمع بين الصحيحين وهو مشهور، وأخذه الناس عنه، وله أيضاً تاريخ علماء الأندلس سماه "جذوة المقتبس" في مجلد واحد، ذكر في خطبته أنه كتبه من حفظه، وذكره

-----------------------------------

(1) بفتح الياء المثناة من تحتها وكسر الصاد المهملة وبعدها لام.

(2) نسبة إلى ميورقة بفتح الميم وضم المثناة من تحتها وسكون الواو وفتح الراء والقاف وبعدها هاء ساكنة.
যদি আপনি প্রথম পরিচ্ছেদে শাইখাইন (বুখারী ও মুসলিম) ব্যতীত অন্যদের উল্লেখ এবং দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে তাঁদের উল্লেখের ক্ষেত্রে দুই পরিচ্ছেদের মধ্যে কোনো পার্থক্য খুঁজে পান, তবে জেনে রাখুন যে, আমি হুমাইদীর ‘আল-জাম বায়নাস সাহীহাঈন’ গ্রন্থটি পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধানের পর—

—

হাদিসের অবশিষ্টাংশ তার সাথে যুক্ত করেছি। এর কারণ হলো, কোনো কিছু আমাকে হাদিসটিকে তার সংক্ষিপ্ত রূপেই রাখতে অথবা তার বাকি অংশটুকু এর সাথে যুক্ত করতে উদ্বুদ্ধ করেছে। হাদিসটি সংক্ষিপ্ত রাখার কারণ হলো, কখনো দীর্ঘ হাদিসের একটি অংশ সংশ্লিষ্ট অধ্যায়ের জন্য উপযোগী হয়, কিন্তু তার বাকি অংশগুলো হয় না। অথবা হাদিসটি অনেক অর্থের ধারক হতে পারে, যেখানে প্রতিটি অধ্যায় তার কোনো একটি অর্থ দাবি করে—অর্থাৎ এর একটি অংশ এই অধ্যায়ের জন্য উপযুক্ত এবং অন্য অংশটি অন্য অধ্যায়ের জন্য, এভাবেই চলতে থাকে। শাইখ (মূল লেখক) প্রত্যেক অংশকে তার নিজ নিজ অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন, তাই উদ্ধৃতি প্রদানের ক্ষেত্রে আমি তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করেছি। অর্থাৎ আমি এই অধ্যায়ে হাদিসটিকে সংক্ষিপ্ত করে এর একটি অংশের ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছি এবং অন্য অংশটি অন্য অধ্যায়ে উল্লেখ করেছি। আর যা এই দুই বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত নয়, আমি তার সাথে তার অবশিষ্টাংশ যুক্ত করে দিয়েছি, যদিও শাইখ তা সংক্ষেপে উল্লেখ করেছিলেন। সারকথা হলো, কিছু বর্ণনা দীর্ঘ হাদিস থেকে সংক্ষেপিত ছিল এবং তার একটি অংশ সংশ্লিষ্ট অধ্যায়ের উপযোগী ছিল, তাই মিশকাতেও তা সংক্ষিপ্ত রাখা হয়েছে। আর যা সমস্ত অংশসহ পূর্ণাঙ্গ হাদিস দাবি করে, মিশকাতে তা পূর্ণাঙ্গভাবেই উল্লেখ করা হয়েছে। (যদি আপনি দেখতে পান) অর্থাৎ অবগত হন (পার্থক্যের বিষয়ে) আমার এবং মাসাবীহ প্রণেতার মাঝে (দুই পরিচ্ছেদে) অর্থাৎ প্রথম ও দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে, তৃতীয়টি নয়, কারণ সেটি মতভেদের স্থান নয়। আর পার্থক্যের বর্ণনা হলো তাঁর এই উক্তি: (প্রথম পরিচ্ছেদে শাইখাইন ব্যতীত অন্যদের উল্লেখ) অর্থাৎ প্রথম পরিচ্ছেদে বর্ণিত হাদিসে, (এবং দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে তাঁদের উল্লেখ) অর্থাৎ দুই পরিচ্ছেদের দ্বিতীয়টিতে, যেখানে তিনি কিছু হাদিস তাঁদের উভয়ের দিকে বা তাঁদের যেকোনো একজনের দিকে নিসবত করেছেন। (কিতাবাই আল-জাম) এখানে দ্বিবচন মুদাফ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, যার একটি হলো (আল-জাম বায়নাস সাহীহাঈন) অর্থাৎ বুখারী ও মুসলিমের গ্রন্থদ্বয়ের সমন্বয়। (হুমাইদীর) এটি আল-জাম শব্দের সাথে সম্পৃক্ত। হুমাইদী শব্দটি (তাসগীর বা ক্ষুদ্রতাবাচক শব্দরূপে) তাঁর ঊর্ধ্বতন দাদা হুমাইদের দিকে সম্পর্কিত, যিনি হলেন হাফেজ আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আবি নাসর ফুতুহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে হুমাইদ ইবনে ইয়াসাল (১) আল-আযদি আল-আন্দালুসি (২) আল-মায়ুরকি আল-কুরতুবি। তিনি আন্দালুস, মিসর, শাম ও ইরাকে জ্ঞানার্জন করেছেন এবং বাগদাদে বসবাস করেছেন। তিনি ইবনে হাজমের অন্যতম প্রধান ছাত্র ছিলেন এবং তাঁর থেকে প্রচুর হাদিস বর্ণনা করেছেন। এছাড়াও তিনি আবু আবদুল্লাহ আল-কুদায়ী, আবু উমর ইবনে আবদিল বার্র, আবু কাসিম আল-জাইয়ানী আদ-দিমাশকী, আবু বকর আল-খতিব এবং অন্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি অবিরাম শুনেছেন এবং প্রচুর লিখেছেন, এমনকি জাওহারী ও ইবনুল মাজহাবের সাথীদের থেকেও লিপিবদ্ধ করেছেন। তিনি আফ্রিকায় প্রচুর শ্রবণ করেছেন এবং মক্কায় তাঁর সফরের শুরুতে (৪৪৮ হিজরিতে) বুখারীর বর্ণনাকারী কারীমা আল-মারওয়াযিয়ার সাথে সাক্ষাৎ করেছেন। ইয়াহইয়া ইবনুল বান্না বলেন: হুমাইদী তাঁর কঠোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে গরমের রাতে অনুলিপি করতেন, তখন তিনি নিজেকে শীতল রাখার জন্য পানির গামলায় বসে থাকতেন। হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ ইবনে খুসরু বলেন: আবু বকর ইবনে মাইমুন এসে হুমাইদীর দরজায় করাঘাত করলেন এবং ভাবলেন তাঁকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তাই তিনি প্রবেশ করলেন এবং তাঁকে উরু উন্মুক্ত অবস্থায় পেলেন। তখন হুমাইদী কেঁদে ফেললেন এবং বললেন: আল্লাহর কসম, আপনি এমন এক স্থানের দিকে তাকিয়ে ফেলেছেন যা আমি প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর থেকে কেউ দেখেনি। ইয়াহইয়া ইবনে ইবরাহীম আস-সালমাসী বলেন, আমার পিতা বলেছেন: আমি হুমাইদীর মতো মর্যাদা, শ্রেষ্ঠত্ব, জ্ঞানের গভীরতা এবং ইলম প্রসারে আগ্রহী ব্যক্তি আর দেখিনি। তিনি ছিলেন মুত্তাকী, নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) এবং হাদিস, হাদিসের ত্রুটি (ইল্লাল) ও বর্ণনাকারীদের বিষয়ে ইমাম। তিনি কুরআন ও সুন্নাহর অনুসারী আহলে হাদিসদের মানহাজ অনুযায়ী তাহকীক ও উসূল শাস্ত্রে দক্ষ ছিলেন। তিনি প্রাঞ্জলভাষী এবং আদব, আরবি ভাষা ও পত্ররচনায় পারদর্শী ছিলেন। তাঁর ‘আল-জাম বায়নাস সাহীহাঈন’ গ্রন্থটি অত্যন্ত প্রসিদ্ধ এবং মানুষ তা গ্রহণ করেছে। আন্দালুসের ওলামাদের ইতিহাস নিয়ে তাঁর একটি গ্রন্থ রয়েছে যার নাম ‘জাযওয়াতুল মুকতাবিস’, যা এক খণ্ডে সমাপ্ত। তিনি এর ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন যে, তিনি এটি তাঁর স্মৃতিশক্তি থেকে লিখেছেন এবং তিনি উল্লেখ করেছেন

-----------------------------------

(১) নিচে দুই নুক্তাওয়ালা ইয়া-এর ওপর ফাতহা, সদ-এর নিচে কাসরা এবং এরপর লাম।

(২) মায়ুরকা-এর দিকে নিসবত; মীম-এর ওপর ফাতহা, নিচে দুই নুক্তাওয়ালা ইয়া-এর ওপর যম্মাহ, ওয়াও সাকিন, রা এবং কাফ-এর ওপর ফাতহা এবং শেষে সাকিন হা।
(খণ্ড: ١) মিরআতুল মাফাতীহ শারহু মিশকাতিল মাসাবীহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
وجامع الأصول اعتمدت على صحيحي الشيخين

ــ

الأمير أبونصر علي بن ماكولا صاحب كتاب الإكمال فقال: أخبرنا صديقنا أبوعبد الله الحميدي، وهو من أهل العلم والفضل والتيقظ، وقال: لم أر مثله في عفته ونزاهته وورعه وتشاغله بالعلم، وقال القاضي عياض: أبوعبد الله الحميدي سمع بميورقة عن أبي محمد بن حزم قديماً، وكان يتعصب له ويميل إلى قوله، وكان قد أصابته فيه فتنة علماء شددوا على ابن حزم، فخرج الحميدي إلى المشرق، قال الذهبي: روى عنه محمد بن علي الخلال وإسماعيل بن محمد الطلحي وشيخه أبوبكر الخطيب وآخرون، وكان صاحب حديث كما ينبغي علماً وعملاً، وكان ظاهرياً ويسر ذلك بعض الأسرار - انتهى مختصراً. قال ابن الصلاح في الفائدة الرابعة من مقدمته: ويكفي وجوده في كتاب من اشترط الصحيح، وكذلك ما يوجد في الكتب المخرجة من تتمة لمحذوف أو زيادة شرح وكثير من هذا موجود في الجمع للحميدي، فربما نقل من لا يميز بعض ما يجده فيه عن الصحيحين أو أحدهما وهو مخطئ لكونه من تلك الزيادات التي لا وجود لها في واحد من الصحيحين. قال العراقي: وهذا مما أنكر على الحميدي؛ لأنه جمع بين كتابين فمن أين تأتي الزيادة؟ قال: واقتضى كلام ابن الصلاح أن الزيادات التي تقع في كتاب الحميدي لها حكم الصحيح، وليس كذلك؛ لأنه ما رواه بسنده كالمستخرج ولا ذكر أنه يزيد ألفاظاً واشترط فيها الصحة حتى يقلد في ذلك، قال الحافظ: قد اشار الحميدي إجمالاً وتفصيلاً إلى ما يبطل ما اعترض به عليه، أما إجمالاً فقال في خطبة الجمع: وربما زدت زيادات من تتمات وشرح بعض ألفاظ الحديث ونحو ذلك، وقفت عليها في كتب من اعتنى بالصحيح كالإسماعيلي والبرقاني، وأما تفصيلاً فعلى قسمين: جلي، وخفي، أما الجلي فيسوق الحديث، ثم يقول في أثنائه: "إلى هنا انتهت رواية البخاري، ومن هنا رواه البرقاني"، وأما الخفي فإنه يسوق الحديث كاملاً أصلاً وزيادة، ثم يقول: أما من أوله إلى كذا فرواه فلان، وما عداه زاده فلان، أو يقول: لفظة كذا زادها فلان، ونحو ذلك، وإلى هذا أشار ابن الصلاح بقوله: "ربما نقل من لا يميز"، وحينئذٍ فلزيادته حكم الصحة لنقله لها عمن اعتنى بالصحيح، كذا في التدريب (33-34) ، مات ببغداد ليلة الثلاثاء السابع عشر من ذي الحجة سنة 488هـ، وكان مولده قبل العشرين وأربعمائة، (وجامع الأصول) بالجر عطفاً على الجمع أي والآخر جامع الأصول أي الكتب الستة للإمام مجد الدين أبي السعادات المبارك بن محمد المشهور بابن الأثير الجزري صاحب النهاية في غريب الحديث. كان عالماً محدثاً لغوياً، روى عن خلق من الأئمة الكبار، كان بالجزيرة، وانتقل منها إلى الموصل سنة خمس وستين وخمسمائة، ولم يزل بها إلى أن قدم بغداد حاجاً وعاد إلى الموصل، ومات بها يوم الخميس سلخ ذي الحجة سنة 606هـ، كذا في الإكمال، وقال ابن خلكان في تاريخه (ج1: ص441) : قال أبوالبركات بن المستوفي في تاريخه في حقه: أشهر العلماء ذكراً، وأكبر النبلاء قدراً، وأحد الأفاضل المشار إليهم، وفرد الأماثل المعتمد في الأمور عليهم، أخذ النحو عن شيخه أبي محمد سعيد بن المبارك الدهان، وسمع الحديث متأخراً، ولم تتقدم روايته، وله المصنفات البديعة، منها: جامع الأصول في أحاديث الرسول، جمع فيه بين الصحاح الستة، وهو على وضع كتاب
এবং জামিউল উসূল গ্রন্থটি শাইখাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এর সহীহদ্বয়ের ওপর নির্ভর করে রচিত।

—

‘আল-ইকমাল’ গ্রন্থের প্রণেতা আমীর আবু নাসর আলী বিন মাকুলা বলেন: আমাদের বন্ধু আবু আব্দুল্লাহ আল-হুমাইদী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি ছিলেন জ্ঞান, মর্যাদা ও সচেতনতায় অনন্য। তিনি আরও বলেন: আমি তাঁর মতো পবিত্রতা, সচ্চরিত্রতা, পরহেযগারিতা এবং জ্ঞানচর্চায় মগ্ন আর কাউকে দেখিনি। কাজী ইয়ায বলেন: আবু আব্দুল্লাহ আল-হুমাইদী মিয়ুরকাতে আবু মুহাম্মদ ইবনে হাজমের কাছে দীর্ঘকাল হাদীস শ্রবণ করেছেন। তিনি তাঁর (ইবনে হাজমের) প্রতি অনুরক্ত ছিলেন এবং তাঁর মতামতের দিকেই ঝোঁক রাখতেন। ইবনে হাজমের বিরোধিতাকারী আলেমদের পক্ষ থেকে তিনি চরম পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছিলেন, যার ফলে তিনি প্রাচ্যের উদ্দেশ্যে (মিয়ুরকা ছেড়ে) বেরিয়ে পড়েন। ইমাম যাহাবী বলেন: তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আলী আল-খাল্লাল, ইসমাঈল বিন মুহাম্মদ আত-তালহী এবং তাঁর উস্তাদ আবু বকর আল-খাতীবসহ আরও অনেকে। তিনি যথাযথ ইলম ও আমল সমৃদ্ধ একজন হাদীস বিশারদ ছিলেন। তিনি ‘যাহিরি’ মাযহাবের অনুসারী ছিলেন এবং বিষয়টি কিছুটা গোপনীয় রাখতেন—সংক্ষেপিত সমাপ্ত। ইবনুস সালাহ তাঁর মুকাদ্দিমার চতুর্থ ফায়দায় বলেন: যে লেখক তাঁর গ্রন্থে কেবল সহীহ হাদীস আনার শর্ত করেছেন, তাঁর গ্রন্থে হাদীসটির বিদ্যমান থাকাই (সহীহ হওয়ার জন্য) যথেষ্ট। অনুরূপভাবে, মূল হাদীসের বিলুপ্ত অংশের পূর্ণতা বা অতিরিক্ত ব্যাখ্যা হিসেবে যা কিছু অন্যান্য গ্রন্থে পাওয়া যায়, তার অনেক কিছুই হুমাইদীর ‘আল-জাম’ গ্রন্থে বিদ্যমান রয়েছে। অনেক সময় এমন ব্যক্তি হুমাইদীর কিতাব থেকে বর্ণনা করেন যিনি পার্থক্য করতে জানেন না, ফলে তিনি মনে করেন এটি বুখারী বা মুসলিমের হাদীস। অথচ এটি তাঁর ভুল, কারণ অনেক সময় এমন সব অতিরিক্ত বর্ণনা হুমাইদীর কিতাবে থাকে যা বুখারী ও মুসলিমের কোনোটিতেই নেই। আল-ইরাকী বলেন: এটি হুমাইদীর প্রতি করা একটি আপত্তি; কারণ তিনি তো দুটি কিতাবকে একত্রিত করেছেন মাত্র, তবে এই অতিরিক্ত অংশগুলো কোত্থেকে এল? তিনি আরও বলেন: ইবনুস সালাহ-এর কথা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, হুমাইদীর কিতাবে পাওয়া অতিরিক্ত বর্ণনাগুলোও ‘সহীহ’ হওয়ার মর্যাদা পাবে। কিন্তু বিষয়টি তেমন নয়; কারণ তিনি এগুলো মুস্তাখরাজ গ্রন্থের মতো নিজের সনদে বর্ণনা করেননি, আর তিনি এমন কোনো শর্তও দেননি যে তিনি এখানে অতিরিক্ত শব্দসমূহ উল্লেখ করবেন এবং তা সহীহ হতে হবে, যাতে করে এক্ষেত্রে তাঁর তাকলীদ বা অনুসরণ করা যায়। হাফেজ (ইবনে হাজার) বলেন: হুমাইদী সামগ্রিক ও বিস্তারিতভাবে এমন কিছু ইঙ্গিত দিয়েছেন যা তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত এই আপত্তিকে খণ্ডন করে। সামগ্রিক ইঙ্গিতের ক্ষেত্রে তিনি ‘আল-জাম’ গ্রন্থের ভূমিকায় বলেছেন: “আমি হয়তো অনেক সময় হাদীসের অসম্পূর্ণতা দূর করতে বা কোনো শব্দের ব্যাখ্যা করতে কিছু অতিরিক্ত অংশ যোগ করেছি, যা আমি ইসমাঈলী ও বারকানীর মতো সহীহ হাদীসের প্রতি যত্নশীল লেখকদের কিতাবে পেয়েছি।” আর বিস্তারিত ইঙ্গিতের ক্ষেত্রে এটি দুই প্রকার: স্পষ্ট ও অস্পষ্ট। স্পষ্ট প্রকারের ক্ষেত্রে তিনি হাদীস বর্ণনা করার সময় মাঝখানে বলেন: “ইমাম বুখারীর বর্ণনা এখান পর্যন্ত শেষ হয়েছে এবং এখান থেকে বারকানীর বর্ণনা শুরু হয়েছে।” আর অস্পষ্ট প্রকারের ক্ষেত্রে তিনি মূল হাদীস ও অতিরিক্ত অংশ পূর্ণাঙ্গভাবে বর্ণনা করেন, এরপর বলেন: “এর শুরু থেকে এই পর্যন্ত অমুক বর্ণনা করেছেন এবং অবশিষ্ট অতিরিক্ত অংশটুকু অমুক বৃদ্ধি করেছেন।” অথবা বলেন: “অমুক এই শব্দটি বৃদ্ধি করেছেন।” এই বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করেই ইবনুস সালাহ বলেছিলেন: “হয়তো এমন কেউ এটি নকল করে যে পার্থক্য করতে জানে না।” এমতাবস্থায় হুমাইদীর অতিরিক্ত বর্ণনাগুলো সহীহ হিসেবেই গণ্য হবে, যেহেতু তিনি সেগুলো এমন ব্যক্তিদের থেকে বর্ণনা করেছেন যারা সহীহ হাদীসের প্রতি যত্নশীল ছিলেন। অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে ‘আত-তাদরীব’ (৩৩-৩৪) গ্রন্থে। তিনি ৪৮৮ হিজরীর ১৭ই যিলহজ মঙ্গলবার রাতে বাগদাদে মৃত্যুবরণ করেন এবং তাঁর জন্ম ছিল ৪২০ হিজরীর আগে। ‘জামিউল উসূল’ শব্দটির জের (কাসরা) যুক্ত হওয়া ‘আল-জাম’ শব্দের ওপর আতফ (সমন্বয়) হওয়ার কারণে, অর্থাৎ অপর গ্রন্থটি হলো ‘জামিউল উসূল’। এটি হলো ইমাম মাজদুদ্দীন আবুস সাআদাত আল-মুবারক বিন মুহাম্মদ, যিনি ইবনুল আসীর আল-জাযারী নামে সমধিক পরিচিত এবং ‘আন-নিহায়া ফী গারীবিল হাদীস’ গ্রন্থের প্রণেতা, তাঁর সংকলিত ছয়টি হাদীস গ্রন্থের সমন্বয়। তিনি একজন প্রাজ্ঞ আলেম, মুহাদ্দিস ও ভাষাবিদ ছিলেন। তিনি তৎকালীন বড় বড় অনেক ইমামের নিকট থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি জাযীরায় বসবাস করতেন এবং ৫৬৫ হিজরীতে সেখান থেকে মোসেলে স্থানান্তরিত হন। হজ পালনের উদ্দেশ্যে বাগদাদে গমন এবং পুনরায় মোসেলে ফিরে আসা পর্যন্ত তিনি সেখানেই অবস্থান করেন। ৬০৬ হিজরীর যিলহজ মাসের শেষ দিনে বৃহস্পতিবার তিনি মোসেলে ইন্তেকাল করেন। অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে ‘আল-ইকমাল’ গ্রন্থে। ইবনে খাল্লিকান তাঁর ইতিহাস গ্রন্থে (১ম খণ্ড: ৪৪১ পৃষ্ঠা) বলেন: আবু আল-বারাকাত বিন আল-মুস্তাওফী তাঁর ইতিহাসে তাঁর (ইবনুল আসীরের) ব্যাপারে বলেছেন: তিনি খ্যাতির দিক থেকে আলেমদের মধ্যে শীর্ষস্থানীয়, মর্যাদায় মহৎ ব্যক্তিদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ, নির্দেশিত গুণীজনদের অন্যতম এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে অনন্য। তিনি তাঁর উস্তাদ আবু মুহাম্মদ সাঈদ বিন আল-মুবারক আদ-দাহহানের নিকট থেকে নাহু (ব্যাকরণ) শিক্ষা করেন এবং শেষ বয়সে হাদীস শ্রবণ করেন বিধায় তাঁর থেকে বর্ণিত পূর্ববর্তী রেওয়ায়েত নেই। তাঁর চমৎকার কিছু রচনা রয়েছে, যার মধ্যে একটি হলো ‘জামিউল উসূল ফী আহাদীসির রাসূল’। এখানে তিনি ছয়টি সহীহ গ্রন্থকে একত্রিত করেছেন এবং এটি কিতাবের বিন্যাস অনুযায়ী...
(খণ্ড: ١) মিরআতুল মাফাতীহ শারহু মিশকাতিল মাসাবীহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
ومتنيهما، وإن رأيت اختلافاً في نفس الحديث فذلك من تشعب طرق الأحاديث،

ــ

رزين إلا أن فيه زيادات كثيرة عليه، ومنها: كتاب النهاية في غريب الحديث، وكتاب الشافي في شرح مسند الإمام الشافعي، وغير ذلك من التصانيف، وكانت ودلاته بجزيرة ابن عمر في أحد الربيعين سنة 544هـ، ونشأ بها ثم انتقل إلى الموصل، ثم عرض له مرض كف يديه ورجليه فمنعه من الكتابة مطلقاً، وقام في داره يغشاه الأكابر والعلماء - انتهى مختصراً، وهو أخو عزالدين بن الأثير الجزري صاحب الكامل في التاريخ، وأسد الغابة في معرفة الصحابة. (ومتنيهما) عطف بيان، قال القاري: وإنما لم يكتف بهما لأنه ربما يحتمل أن يتوهم أن تتبعه واستقراءه غير تام، فإذا وافق الحميدي وصاحب جامع الأصول يصير الظن قوياً بصحة استقرائه للموافقة، ولو اكتفى بتتبع الجمع بين الصحيحين وجامع الأصول لاحتمل وقوع القصور في استقرائهما، فبعد اتفاق الأربعة يمكن الحكم بالجزم على سهو البغوي - انتهى. وتوضيح الكلام في هذا المقام أن المصنف يقول: قد تقرر أن ما أورده الشيخ محي السنة من الأحاديث في القسم الأول فهو من الشيخين منهما أو من أحدهما، وما أورده في القسم الثاني فهو من غيرهما من الأئمة المذكورين، وقد يذكر الشيخ حديثاً في الأول ونسبته أنا إلى غير الشيخين، وذلك مذكور في مواضع، كما في الفصل الأول من باب سنن الوضوء، ومن باب فضائل القرآن، ومن باب السلام من كتاب الآداب وغيرها، ونسبت بعض أحاديث القسم الثاني إلى الشيخين، كما في الفصل الثاني من باب ما يقرأ بعد التكبير، وباب الموقف وغيرهما، فاعلم أن عذري في ذلك ودليلي عليه أني تتبعت كتابين جمع فيهما أحاديث الشيخين، أحدهما كتاب الجمع بين الصحيحين للحميدي، والثاني: جامع الأصول لابن الأثير الجزري، ولم أقتصر في معرفة أحاديث الشيخين على تتبع هذين الكتابين، بل اعتمدت على صحيحي الشيخين ومتنيهما أي أصل كتابيهما ونفسيهما دون الجمع بين الصحيحين، وجامع الأصول المشتملين عليهما المغايرين لهما كالشرحين لهما، فما وجدت من الأحاديث للشيخين في الكتابين المذكورين وفي أصلي صحيحيهما نسبتها إليهما، وما لم أجد لم أنسب إليهما، وإن كان مخالفاً لما ذكره الشيخ محي السنة، وهذا ادعاء منه كمال التتبع والتصفح لأحاديث الشيخين، يعني لو اقتصرت على تتبع الكتابين وقلت: ليس هذا الحديث للشيخين لكان لقائل أن يقول: لعله يكون في متني صحيحيهما، ووقع القصور في استقراء الحميدي والجزري، ولو اقتصرت على متني صحيحيهما يقال: لعله يوجد في كتابي الجمع بين الصحيحين وجامع الأصول، ووقع القصور في استقراء المصنف وتتبعه، فتتبعت الكل ليحصل الوثوق والاعتماد في هذه النسبة على وجه الكمال، أي ويقع الجزم بسهو الشيخ في المصابيح بلفظ، وأنا أوردته في المشكاة بلفظ آخر مخالفاً للفظه في المصابيح (فذلك) أي الاختلاف ناشئ (من تشعب طرق الأحاديث) أي اختلاف أسانيدها وتعددها، إذ كثيراً ما يقع للشيخين وغيرهما سوق الحديث الواحد من عدة طرق بألفاظ مختلفة، فاللفظ الذي أورده الشيخ لعله جاء بطريق، واللفظ الذي أوردته جاء من طريق آخر، لما كان ههنا محل أن يقال:
এবং তাদের মূল পাঠদ্বয়। আর যদি আপনি হাদিসের মূল ভাষ্যের মধ্যে কোনো পার্থক্য দেখতে পান, তবে তা হাদিসের বিভিন্ন সূত্রের বৈচিত্র্যের কারণে ঘটেছে।

--

রযীন (এর গ্রন্থ), তবে এতে তাঁর ওপর অনেক অতিরিক্ত বর্ণনা রয়েছে। এবং এর মধ্যে রয়েছে: ‘কিতাবুন নিহায়াহ ফি গারিবিল হাদিস’, এবং ইমাম শাফিয়ীর মুসনাদের ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘কিতাবুশ শাফী’, এছাড়াও অন্যান্য সংকলন। তাঁর জন্ম হয়েছিল ৫৪৪ হিজরি সনের রবিউস সানি বা রবিউল আউয়াল মাসে জাযিরাতু ইবনে উমরে। সেখানেই তিনি বেড়ে ওঠেন, অতঃপর মূসেলে স্থানান্তরিত হন। এরপর তিনি পক্ষাঘাতগ্রস্ত (হাত ও পা অবশ হওয়া) রোগে আক্রান্ত হন, যা তাঁকে লেখালেখি থেকে সম্পূর্ণ বিরত রাখে। তিনি তাঁর বাড়িতেই অবস্থান করতেন এবং বড় বড় পণ্ডিত ও উলামায়ে কেরাম তাঁর কাছে আসতেন - সংক্ষেপে সমাপ্ত। তিনি হলেন ‘আল-কামিল ফিত তারিখ’ এবং ‘আসাদুল গাবাহ ফি মা’রিফাতিস সাহাবাহ’র রচয়িতা ইজ্জুদ্দীন ইবনুল আসির আল-জাযারীর ভাই। (এবং তাঁদের মূল পাঠদ্বয়) এটি একটি ব্যাখ্যামূলক অনুগামী শব্দ। আল-কারী বলেন: তিনি কেবল ওই দুই কিতাবের ওপর নির্ভর করেননি কারণ এতে সম্ভবত এমন ধারণা হতে পারত যে, তাঁর অনুসন্ধান ও পর্যবেক্ষণ পূর্ণাঙ্গ নয়। কিন্তু যখন তিনি হুমাইদী এবং ‘জামি’উল উসুল’ প্রণেতার সাথে একমত হন, তখন তাঁর অনুসন্ধানের সঠিকতা সম্পর্কে বিশ্বাস অত্যন্ত প্রবল হয়। যদি তিনি কেবল ‘আল-জামাউ বাইনাস সহীহাইন’ এবং ‘জামি’উল উসুল’ অনুসন্ধানের ওপরই সীমাবদ্ধ থাকতেন, তবে সম্ভবত সেই দুই সংকলকের অনুসন্ধানে কোনো ত্রুটি থেকে যাওয়ার অবকাশ থাকত। সুতরাং এই চারটির ঐক্যের পর আল-বাগাভী রহ.-এর ভ্রম হওয়ার ব্যাপারে অকাট্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সম্ভব হয় - সমাপ্ত। এই পর্যায়ের আলোচনার ব্যাখ্যা হলো, গ্রন্থকার বলছেন: এটি প্রতিষ্ঠিত যে, শাইখ মুহিউস সুন্নাহ তাঁর গ্রন্থের প্রথম পরিচ্ছেদে যে হাদিসগুলো এনেছেন তা শাইখাইন (বুখারী ও মুসলিম) উভয়ের অথবা তাঁদের একজনের। আর দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে যা এনেছেন তা তাঁদের ব্যতীত অন্য উল্লিখিত ইমামদের। কখনো শাইখ (বাগাভী) প্রথম পরিচ্ছেদে কোনো হাদিস উল্লেখ করেছেন যা আমি শাইখাইন ছাড়া অন্যের দিকে সম্বন্ধ করেছি। এটি বিভিন্ন স্থানে বর্ণিত হয়েছে, যেমন: ওযুর সুন্নত অধ্যায়ের প্রথম পরিচ্ছেদে, কুরআনের ফযিলত অধ্যায়ে, আদব গ্রন্থের সালাম অধ্যায়ে এবং আরও অন্যান্য জায়গায়। আবার দ্বিতীয় পরিচ্ছেদের কিছু হাদিসকে আমি শাইখাইনের দিকে সম্বন্ধ করেছি, যেমন: তাকবীরের পর যা পড়তে হয় সেই অধ্যায়ের দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে, মাওকিফ অধ্যায়ে এবং আরও অন্যান্য জায়গায়। অতএব জেনে রাখুন যে, এক্ষেত্রে আমার ওজর ও দলিল হলো এই যে, আমি এমন দুটি গ্রন্থ অনুসন্ধান করেছি যাতে শাইখাইনের হাদিসসমূহ সংগৃহীত হয়েছে। একটি হলো হুমাইদী রহ.-এর ‘আল-জামাউ বাইনাস সহীহাইন’ এবং দ্বিতীয়টি হলো ইবনুল আসির আল-জাযারী রহ.-এর ‘জামি’উল উসুল’। আমি শাইখাইনের হাদিস শনাক্ত করার ক্ষেত্রে কেবল এই দুটি কিতাব অনুসন্ধানের ওপরই সীমাবদ্ধ থাকিনি, বরং আমি শাইখাইনের ‘সহীহ’ গ্রন্থদ্বয় এবং তাঁদের ‘মাতন’ তথা মূল কিতাব দুটির ওপরও নির্ভর করেছি। অর্থাৎ আমি কেবল ‘আল-জামাউ বাইনাস সহীহাইন’ এবং ‘জামি’উল উসুল’ (যা এই দুই গ্রন্থের সংকলন এবং সেগুলোর থেকে ভিন্ন ও ব্যাখ্যার ন্যায়) এর ওপর নির্ভর করিনি। ফলে শাইখাইনের যে হাদিসগুলো আমি উল্লেখিত দুই কিতাবে এবং তাঁদের মূল ‘সহীহ’ গ্রন্থদ্বয়ে পেয়েছি, তা আমি তাঁদের দিকেই সম্বন্ধ করেছি। আর যা আমি পাইনি, তা তাঁদের দিকে সম্বন্ধ করিনি, যদিও তা শাইখ মুহিউস সুন্নাহ যা উল্লেখ করেছেন তার বিপরীত হয়। এটি শাইখাইনের হাদিসসমূহের পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধান ও পর্যালোচনার একটি দাবি। অর্থাৎ যদি আমি কেবল ওই দুই কিতাব অনুসন্ধানের ওপর সীমাবদ্ধ থাকতাম এবং বলতাম: ‘এই হাদিসটি শাইখাইনের নয়’, তবে কোনো প্রতিবাদকারী বলতে পারত: ‘হয়তো এটি তাঁদের মূল সহীহ গ্রন্থদ্বয়ে রয়েছে, আর হুমাইদী ও জাযারীর অনুসন্ধানে ত্রুটি ঘটেছে’। আবার যদি আমি কেবল তাঁদের মূল সহীহ গ্রন্থদ্বয়ের ওপর সীমাবদ্ধ থাকতাম, তবে বলা হতো: ‘হয়তো এটি আল-জামাউ বাইনাস সহীহাইন ও জামি’উল উসুল গ্রন্থে রয়েছে, আর গ্রন্থকারের অনুসন্ধানে ও পর্যালোচনায় ত্রুটি ঘটেছে’। তাই আমি সব কটিই অনুসন্ধান করেছি যাতে এই সম্বন্ধের ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ আস্থা ও নির্ভরতা অর্জিত হয়। অর্থাৎ এর ফলে ‘মাছাবীহ’ গ্রন্থে শাইখের ভ্রম হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়। শাইখ এক শব্দে বর্ণনা করেছেন, আর আমি ‘মিশকাত’ গ্রন্থে অন্য শব্দে তা উল্লেখ করেছি যা ‘মাছাবীহ’-এর শব্দের বিপরীত। (তবে তা) অর্থাৎ এই পার্থক্য (হাদিসের সূত্রের বৈচিত্র্যের কারণে) সৃষ্টি হয়েছে। অর্থাৎ এর সনদ বা সূত্রগুলোর ভিন্নতা ও আধিক্যের কারণে। কেননা প্রায়শই শাইখাইন ও অন্যান্যদের ক্ষেত্রে এমন ঘটে যে, তাঁরা একটি হাদিসই বিভিন্ন শব্দে একাধিক সূত্রে বর্ণনা করেন। সুতরাং শাইখ যে শব্দটি উল্লেখ করেছেন তা হয়তো কোনো এক সূত্রে এসেছে, আর আমি যে শব্দটি উল্লেখ করেছি তা অন্য কোনো সূত্রে এসেছে। যেহেতু এখানে এটি বলার অবকাশ ছিল যে: