(খণ্ড: ১)
আল-কাউলুল মুবীন ফী আখতাইল মুসাল্লীন
(পৃষ্ঠা: -)
القول المبين في أخطاء المصلين القسم: مسائل فقهية
الكتاب: القول المبين في أخطاء المصلين
المؤلف: أبو عبيدة مشهور بن حسن بن محمود آل سلمان
الناشر: دار ابن القيم، المملكة العربية السعودية، دار ابن حزم، لبنان
الطبعة: الرابعة، 1416 هـ - 1996 م
عدد الصفحات: 455
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-কওলুল মুবিন ফি আখতাউল মুসাল্লিন বিভাগ: ফিকহি মাসআলাসমূহ
গ্রন্থ: আল-কওলুল মুবিন ফি আখতাউল মুসাল্লিন
লেখক: আবু উবাইদাহ মাশহুর বিন হাসান বিন মাহমুদ আল সালমান
প্রকাশক: দার ইবনুল কাইয়্যিম, সৌদি আরব রাজতন্ত্র, দার ইবনে হাজম, লেবানন
সংস্করণ: চতুর্থ, ১৪১৬ হিজরি - ১৯৯৬ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৫৫
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-কাউলুল মুবীন ফী আখতাইল মুসাল্লীন
(পৃষ্ঠা: -)
القول المبين
في أخطاء المصلين
تأليف
الفقير إلى عفو رّبه
أبو عبيدة مشهور بن حسن بن محمود بن سلمان
সুস্পষ্ট বক্তব্য
মুসল্লিদের ভুল-ত্রুটি প্রসঙ্গে
রচনা
স্বীয় প্রতিপালকের ক্ষমার মুখাপেক্ষী
আবু উবাইদাহ মাশহুর বিন হাসান বিন মাহমুদ বিন সালমান
(খণ্ড: ১)
আল-কাউলুল মুবীন ফী আখতাইল মুসাল্লীন
(পৃষ্ঠা: ৫)
المقدمة إن الحمد لله نحمده ونستعينه، ونستهديه ونستغفره ونسترشده، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له ، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله، وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبدُهُ ورسولُهُ.
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ اتَّقُواْ اللهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَاّ وَأَنتُم مُّسْلِمُونَ} (1) {يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُواْ رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُم مِّن نَّفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيرًا وَنِسَاء وَاتَّقُواْ اللهَ الَّذِي تَسَاءلُونَ بِهِ وَالأَرْحَامَ إِنَّ اللهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} (2)
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا * يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَن يُطِعْ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} (3)
--------------------------------------------
ভূমিকা নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি, তাঁরই নিকট হিদায়াত ও ক্ষমা ভিক্ষা করি এবং তাঁরই নিকট সঠিক পথের দিশা চাই। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল।
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম হওয়া ব্যতীত মৃত্যুবরণ করো না।} (১) {হে মানবকুল! তোমরা তোমাদের সেই প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো যাঁর নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাচ্ঞা করো এবং রক্ত-সম্পর্কিত আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখেন।} (২)
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করল।} (৩)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাউলুল মুবীন ফী আখতাইল মুসাল্লীন
(পৃষ্ঠা: ৬)
أما بعد:
فإن أحسن الكلام كلام الله سبحانه وتعالى، وخير الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم، وشرّ الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعةٍ ضلالة، وكل ضلالة في النار (1) .
فهذا كتاب ((القول المبين في أخطاء المصلّين)) يتضمّن بيان أخطاء المصلين التي درجوا عليها، من إحداث أقوال وأفعال مخترعة، وفعْلِ بعض الأركان والسنن في غير مكانها، أو على غير وجهها، ولا يخفى أن محو اعتقاد غير الصواب من صدور العامّة، بتمحيص الحقّ، باب عظيم من أبواب الدّعوة إلى الخير.
وضمّنتُ كتابي هذا: التّنبيه على ترك كثير من المصلّين لكثير من السنن أحياناً، والواجبات والأركان أحياناً أُخرى، التي تفوّت عليهم الأجر العظيم، والثّواب الجسيم، بل توقعهم في الوزر والإثم، إن كانت من القسم الآخر.
ولا يخفى عليك - عزيزي القارئ - أن الصّلاة هي اَّحد أركان الإسلام الخمسة - كما قال الرسول صلى الله عليه وسلم وأنها أولى الواجبات الإسلامية بعد التّوحيد، وأنها إذا صلحت صلح عمل المسلم كله، وإذا فسدت، فسد عمله كله.
ولذا فهي جديرة بالاهتمام والاعتناء، وخصوصاً أن كثيراً من البدع والمخالفات فيها فشت في النّاس، وخصوصاً العامّة منهم، وانطلاقاً من وجوب العناية بأمر العامة، بالهدي والإرشاد، والأمر بالمعروف والنّهي عن المنكر، كتبتُ مبحثي هذا.
وقد جعلت مبحثي هذا في سبعة فصول:
--------------------------------------------
অতঃপর:
নিশ্চয়ই সর্বোত্তম কথা হলো আল্লাহর কিতাব, আর সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো মুহাম্মাদ (সা.)-এর পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নবউদ্ভাবিত বিষয় (محدثة), আর প্রতিটি নবউদ্ভাবিত বিষয়ই হলো বিদআত (بدعة), আর প্রতিটি বিদআত (بدعة) হলো ভ্রষ্টতা (ضلالة), এবং প্রতিটি ভ্রষ্টতা (ضلالة) জাহান্নামী। (১)
এটি ‘আল-কাওলুল মুবিন ফি আখতায়িল মুসাল্লিন’ (সালাত আদায়কারীদের ভুলত্রুটি বিষয়ে সুস্পষ্ট বক্তব্য) নামক গ্রন্থ। এতে সালাত আদায়কারীদের মাঝে প্রচলিত ভুলত্রুটিগুলোর বর্ণনা রয়েছে, যার অন্তর্ভুক্ত হলো বানোয়াট কথা ও কাজের উদ্ভাবন করা এবং কিছু রুকন (أركان) ও সুন্নাহ (سنن) ভুল স্থানে অথবা ভুল পদ্ধতিতে সম্পাদন করা। এটি অস্পষ্ট নয় যে, সত্য উদঘাটনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের অন্তর থেকে ভ্রান্ত বিশ্বাস দূর করা কল্যাণের পথে দাওয়াতের একটি মহান অধ্যায়।
আমি আমার এই গ্রন্থে আরও অন্তর্ভুক্ত করেছি: অনেক সালাত আদায়কারীর পক্ষ থেকে মাঝেমধ্যে অনেক সুন্নাহ (سنন) এবং কখনো কখনো ওয়াজিব (واجبات) ও রুকন (أركان) পরিত্যাগ করার বিষয়ে সতর্কীকরণ। যা তাদের মহান সওয়াব ও বিপুল প্রতিদান থেকে বঞ্চিত করে, বরং যদি তা শেষোক্ত প্রকারের (রুকন বা ওয়াজিব ত্যাগ) হয়, তবে তা তাদের গুনাহ ও পাপে নিমজ্জিত করে।
হে প্রিয় পাঠক, আপনার নিকট এটি অস্পষ্ট নয় যে, সালাত হলো ইসলামের পাঁচটি রুকন (أركان)-এর মধ্যে একটি—যেমনটি রাসূল (সা.) বলেছেন। আর এটি তাওহীদের পর ইসলামের সর্বপ্রথম আবশ্যিক বিধান। নিশ্চয়ই সালাত যদি সঠিক হয়, তবে মুসলিমের সকল আমল সঠিক হয়, আর যদি তা নষ্ট হয়, তবে তার সকল আমলই নষ্ট হয়ে যায়।
এজন্যই এটি অত্যন্ত মনোযোগ ও যত্নের দাবিদার। বিশেষত যখন সালাতের ক্ষেত্রে অনেক বিদআত (بدعة) ও শরয়ি নিয়ম পরিপন্থী বিষয় মানুষের মধ্যে, বিশেষ করে সাধারণ মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষের বিষয়াদির প্রতি সঠিক নির্দেশনা ও উপদেশের মাধ্যমে যত্নশীল হওয়া এবং সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ করার আবশ্যকতা থেকেই আমি আমার এই গবেষণাটি লিখেছি।
আমি আমার এই গবেষণাটিকে সাতটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত করেছি:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাউলুল মুবীন ফী আখতাইল মুসাল্লীন
(পৃষ্ঠা: ৭)
الفصل الأوّل:
جماع أخطاء المصلّين في ثيابهم وستر عوراتهم في الصّلاة، وبيّنتُ فبه مخالفات المصلّين في ثيابهم، وحصرتُها في النقاط التالية:
الصّلاة في الثّياب الحازقة التي تصف العورة.
الصّلاة في الثّياب الرقيقة الشّفافة.
الصّلاة والعورة مكشوفة، وذكرتُ فيه ثلاث صور من دارجة من واقع النّاس المشاهد خلال صلاتهم.
صلاة مسبل الإزار.
سدل الثّوب والتلثّم في الصّلاة.
كف الثّوب في الصّلاة ((تشميره)) .
صلاة مكشوف العاتقين.
الصّلاة في الثّوب الذي عليه صورة، واستطردتُ فتكلّمت تحت هذا العنوان عن حكم صلاة حامل الصّورة، الصلاة في الثّوب المعصفر، صلاة مكشوف الرأس.
أما الفصل الثاني:
فيدور حول جماع أخطاء المصلّين في أماكن صلاتهم، واشتمل على التنبيه على ستة أخطاء، يقع في الأولى منها: الرافضة المبتدعة، وذكرتُه خوفاً من موافقة العوام لهم في هذا الخطأ، الذي هو من البدع، وحرصاً على رفع المسلم الملتزم التهمة عن نفسه، وهذا الخطأ هو:
السجود على تربة كربلاء، واتّخاذ قرص منها للسجود عليه عند الصلاة، واعتقاد الأجر والفضل في ذلك.
ومن ثم نبهتُ على الأخطاء التالية:
الصلاة إلى أماكن عليها صور أو على سجادة فيها صور ونقوش، أو في مكان فيه صور.
প্রথম পরিচ্ছেদ:
সালাত আদায়কারীদের পোশাক-পরিচ্ছদ এবং সালাতে সতর (عورة) আবৃত করার ক্ষেত্রে সংঘটিত ভুলত্রুটিসমূহের সমষ্টি। এখানে আমি পোশাকের ক্ষেত্রে মুসল্লিদের নিয়মবিরুদ্ধ কাজগুলো বর্ণনা করেছি এবং সেগুলোকে নিম্নোক্ত পয়েন্টগুলোতে সীমাবদ্ধ করেছি:
এমন আটোসাটো পোশাকে সালাত আদায় করা যা সতর (عورة)-এর গঠন ফুটিয়ে তোলে।
অত্যন্ত পাতলা ও স্বচ্ছ পোশাকে সালাত আদায় করা।
সতর (عورة) উন্মুক্ত থাকা অবস্থায় সালাত আদায় করা; এতে আমি মানুষের বর্তমান বাস্তবতায় সালাত চলাকালীন সচরাচর দেখা যায় এমন তিনটি চিত্র উল্লেখ করেছি।
পরিধেয় কাপড় টাখনুর নিচে ঝুলিয়ে (إسبال) সালাত আদায় করা।
সালাতে কাপড় ঝুলিয়ে রাখা (سدل) এবং মুখমণ্ডল আবৃত করা (تلثم)।
সালাতে কাপড় ভাঁজ করা বা গুটিয়ে রাখা (كف الثوب) (তথা কাপড় গুটিয়ে তোলা)।
উভয় কাঁধ খোলা রেখে সালাত আদায় করা।
এমন পোশাকে সালাত আদায় করা যাতে ছবি রয়েছে; এই শিরোনামের অধীনে আমি প্রাসঙ্গিকভাবে ছবি বহনকারীর সালাতের বিধান, কুসুম ফুল দ্বারা রাঙানো (معصفر) পোশাকে সালাত আদায় এবং মাথা খোলা রেখে সালাত আদায়ের বিষয়ে আলোচনা করেছি।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ:
এটি সালাত আদায়ের স্থানসমূহে মুসল্লিদের ভুলত্রুটি সংক্রান্ত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। এটি ছয়টি ভুল সম্পর্কে সতর্কবার্তাকে অন্তর্ভুক্ত করেছে, যার প্রথমটিতে লিপ্ত হয় বিদআতি (مبتدعة) রাফেজিরা। সাধারণ মানুষ যেন এই ভুলের ক্ষেত্রে তাদের অনুকরণ না করে—যা মূলত একটি বিদআত (بدعة)—সেই আশঙ্কা থেকে এবং একজন নিষ্ঠাবান মুসলিম যাতে নিজের ওপর থেকে অপবাদ দূর করতে পারে, সেই লক্ষ্যে আমি এটি উল্লেখ করেছি। আর সেই ভুলটি হলো:
কারবালার মাটির ওপর সিজদা করা এবং সালাতের সময় সিজদা করার জন্য সেখান থেকে তৈরি মাটির চাকতি গ্রহণ করা এবং এতে সওয়াব ও ফজিলত রয়েছে বলে বিশ্বাস করা।
অতঃপর আমি নিম্নোক্ত ভুলগুলোর ব্যাপারে সতর্ক করেছি:
এমন স্থানের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করা যেখানে ছবি রয়েছে, অথবা এমন জায়নামাজে সালাত আদায় করা যাতে ছবি ও কারুকাজ রয়েছে, অথবা এমন স্থানে সালাত আদায় করা যেখানে ছবি বিদ্যমান।
(খণ্ড: ১)
আল-কাউলুল মুবীন ফী আখতাইল মুসাল্লীন
(পৃষ্ঠা: ৮)
الصلاة على القبور وإليها.
تخصيص مكان للصّلاة في المسجد.
أخطاء المصلين في السترة.
الانحراف عن القبلة.
أما الفصل الثالث:
فيدور حول أخطاء المصلّين في صفة صلاتهم، واعتنيت فيه بأخطاء المصلين من قيامهم للصلاة إلى التّسلم، وقسمتُه إلى ست نقاط، كانت على النحو التالي:
? الجهر بالنيّة، والقول بوجوب مقارنتها مع تكبيرة الإحرام.
? عدم تحريك اللسان في التكبير وقراءة القرآن وسائر الأذكار.
? جملة من أخطاء المصلّين في القيام، وبحثت تحته: ترك رفع اليدين عند التحريمة والركوع وعند الرفع منه، إسبال اليدين وعدم وضعهما على الصدر أو تحته وفوق السرّة، ترك دعاء الاستفتاح والاستعاذة قبل قراءة الفاتحة، تكرير الفاتحة، رفع البصر إلى السماء أو النّظر إلى غير مكان السّجود، تغميض العينين في الصّلاة ، كثرة الحركة والعبث في الصلاة.
? جملة من أخطاء المصلّين في الركوع والقيام منه ، وبحثت تحته:
عدم تعمير الأركان ، عدم الطمأنينة في الركوع والاعتدال منه، القنوت الراتب وتركه عند النّوازل.
? جملة من أخطاء المصلّين في السجود، وبحثت تحته:
عدم تمكين أعضاء السجود من الأرض، عدم الطمأنينة في السجود، أخطاء في كيفية السجود، القول بوجوب كشف بعض أعضاء السجود أو بوجوب السجود على الأرض أو على نوعٍ منها ، رفع شيء للمريض ليسجد عليه، قول ((سبحان من لا يسهو ولا ينام)) في سجود السهو.
? جملة من أخطاء المصلّين في الجلوس والتشهد والتّسليم ، وبحثت تحته الأخطاء
কবরের ওপর এবং কবরের অভিমুখে সালাত আদায়।
মসজিদে সালাতের জন্য নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ।
সুতরাহ গ্রহণের ক্ষেত্রে মুসল্লিদের ভুলসমূহ।
কিবলা থেকে বিচ্যুত হওয়া।
আর তৃতীয় অধ্যায় প্রসঙ্গে:
এটি সালাতের পদ্ধতির ক্ষেত্রে মুসল্লিদের ভুলভ্রান্তি নিয়ে আবর্তিত হয়েছে। এতে আমি সালাতের জন্য দণ্ডায়মান হওয়া থেকে শুরু করে সালাম ফেরানো পর্যন্ত মুসল্লিদের ত্রুটিসমূহ গুরুত্বের সাথে আলোচনা করেছি এবং একে ছয়টি পয়েন্টে বিভক্ত করেছি, যা নিম্নরূপ:
? সশব্দে নিয়ত করা এবং তাকবিরে তাহরিমার সাথে তা করাকে ওয়াজিব মনে করা।
? তাকবির, কুরআন তিলাওয়াত এবং অন্যান্য জিকির পাঠের সময় জিহ্বা নাড়াচাড়া না করা।
? দণ্ডায়মান অবস্থায় মুসল্লিদের কতিপয় ভুলভ্রান্তি; এর অধীনে আমি আলোচনা করেছি: তাকবিরে তাহরিমা, রুকু এবং রুকু থেকে ওঠার সময় রফে ইয়াদাইন (হাত তোলা) বর্জন করা; হাত ছেড়ে রাখা এবং তা বুকের ওপর কিংবা এর নিচে ও নাভির ওপরে না রাখা; সূরা ফাতিহা পাঠের পূর্বে দুআয়ে ইস্তিফতাহ এবং তায়াউজ (আউযুবিল্লাহ) পাঠ না করা; সূরা ফাতিহা পুনরাবৃত্তি করা; আকাশের দিকে দৃষ্টি উত্তোলন করা কিংবা সিজদাহর স্থান ব্যতীত অন্য দিকে তাকানো; সালাতে চোখ বন্ধ রাখা; সালাতের মধ্যে অতিরিক্ত নড়াচড়া ও অনর্থক কাজ করা।
? রুকু এবং রুকু পরবর্তী দাঁড়ানো অবস্থায় মুসল্লিদের কতিপয় ভুলভ্রান্তি; এর অধীনে আমি আলোচনা করেছি:
রুকনসমূহ যথাযথভাবে পালন না করা; রুকু এবং রুকু থেকে সোজা হয়ে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে স্থিরতা বজায় না রাখা; নিয়মিত কুনুত পাঠ করা এবং বিপদ-আপদের সময় তা বর্জন করা।
? সিজদাহ অবস্থায় মুসল্লিদের কতিপয় ভুলভ্রান্তি; এর অধীনে আমি আলোচনা করেছি:
সিজদার অঙ্গসমূহ জমিনে স্থিরভাবে স্থাপন না করা; সিজদাহর মধ্যে স্থিরতা বজায় না রাখা; সিজদাহ করার পদ্ধতিতে ভুলসমূহ; সিজদার কিছু অঙ্গ অনাবৃত রাখা ওয়াজিব মনে করা অথবা সরাসরি মাটি বা বিশেষ কোনো মাটির ওপর সিজদাহ করা আবশ্যক মনে করা; অসুস্থ ব্যক্তির সিজদাহ করার জন্য কোনো কিছু ওপরে তুলে ধরা; এবং সাহু সিজদাহয় "পবিত্র সেই সত্তা যিনি বিস্মৃত হন না এবং নিদ্রা যান না" বলা।
? বৈঠক, তাশাহহুদ এবং সালাম ফেরানোর ক্ষেত্রে মুসল্লিদের কতিপয় ভুলভ্রান্তি; এর অধীনে আমি সেই ভুলগুলো আলোচনা করেছি
(খণ্ড: ১)
আল-কাউলুল মুবীন ফী আখতাইল মুসাল্লীন
(পৃষ্ঠা: ৯)
والأغلاط التالية:
غلط قول ((السلام عليك أيها النبي)) في التشهد، زيادة لفظ ((سيدنا)) في التشهد أو في الصّلاة على رسول صلى الله عليه وسلم في الصلاة، تنبيهات، الإنكار على من يحرك سبابته في الصّلاة، ثلاثة أخطاء في التسليم.
أما الفصل الرابع:
فيدور حول جماع أخطاء المصلّين في المسجد وصلاة الجماعة، وقسمتُهُ إلى أربعة أقسام:
الأول: أخطاؤهم حتى إقامة الصّلاة، وبحثتُ تحته:
جملة من أخطاء المؤذنين ومستمعي الأذان، الإسراع في المشي إلى المسجد وتشبيك الأصابع فيه، الخروج من المسجد عند الأذان، دُخُول الرَّجُلَيْنِ المسجد وتقام الصلاة ويحرم الإمام وهما في مؤخره يتحدّثان، ترك تحية المسجد والسّترة لها وللسّنة القبليّة، قراءة سورة الإخلاص قبل إقامة الصّلاة، صلاة النّافلة إذا أُقيمت الصّلاة، التنفّل بعد طلوع الفجر بصلاةٍ لا سبب لها؛ سوى ركعتي الفجر، أكل الثّوم والبصل وما يؤذي المصلّين قبل الحضور للجماعة.
والثاني: أخطاؤهم من إقامة الصّلاة حتى تكبيرة الإحرام، وبحثتُ تحته:
أخطاء مقيمي الصّلاة ومستمعيها، عدم إتمام الصفوف وترك التراص وسد الفرج فيها، ترك الصّلاة في الصف الأول ووقوف غير أولي النهى خلف الإمام فيه، الصّلاة في الصّفوف المقطّعة، الوقوف الطويل والدّعاء قبل تكبيرة الإحرام والهمهمة بكلماتٍ لا أصل لها.
والثالث: أخطاؤهم من تكبيرة الإحرام حتّى التّسليم، وبحثتُ تحته:
غلط في النُّطق بـ (الله أكبر) في تكبيرة الإحرام وتكبيرات الانتقال ، غلط الأئمة في الجهر والإسرار بالبسملة، غلط في كيفية قراءة الفاتحة، دعاء المأمومين أثناء قراءة الإمام الفاتحة وعند الانتهاء منها، والتنبيه على أغلاط في التأمين وأثناء قراءة الإمام وفيها، مسابقة الإمام ومساواته في أفعال الصّلاة، تكبير المسبوق للإحرام
এবং নিম্নোক্ত ভুলসমূহ:
তাশাহহুদে ((আসসালামু আলাইকা আইয়্যুহান নাবীয়ু)) বলায় ভুল, তাশাহহুদে অথবা সালাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর দরুদ পাঠের সময় ((সায়্যিদুনা)) শব্দ বৃদ্ধি করা, সতর্কতাসমূহ, সালাতে তর্জনী আঙ্গুল নাড়াচাড়া করেন এমন ব্যক্তির ওপর অস্বীকৃতি জ্ঞাপন, সালাম ফেরানোর (تسليم) ক্ষেত্রে তিনটি ভুল।
পক্ষান্তরে চতুর্থ অধ্যায়:
এটি মসজিদে মুসল্লিদের এবং জামাতে সালাত আদায়ের ভুলসমূহের সমষ্টি নিয়ে আবর্তিত হয়েছে, আর আমি একে চারটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত করেছি:
প্রথম: সালাতের ইকামাহ (إقامة) পর্যন্ত তাদের ভুলসমূহ, যার অধীনে আমি আলোচনা করেছি:
মুয়াজ্জিন এবং আজান শ্রবণকারীদের বেশ কিছু ভুল, মসজিদের দিকে দ্রুত হেঁটে যাওয়া এবং সেখানে আঙ্গুলের ভেতর আঙ্গুল প্রবেশ করানো (تشبيك الأصابع), আজানের সময় মসজিদ থেকে বের হওয়া, দুই ব্যক্তির মসজিদে প্রবেশ করা অথচ তখন সালাত শুরু হয়ে গেছে এবং ইমাম তাকবীরে তাহরীমা বেঁধে ফেলেছেন কিন্তু তারা মসজিদের পেছনের দিকে দাঁড়িয়ে কথা বলছে, তাহিয়্যাতুল মাসজিদ এবং এর সুতরাহ (سترة) ও সুন্নাতে ক্ববলিয়্যাহ (السنة القبلية) বর্জন করা, সালাতের ইকামাহর (إقامة) পূর্বে সূরা আল-ইখলাস পাঠ করা, সালাত শুরু হয়ে যাওয়ার পর নফল (نافلة) সালাত আদায় করা, ফজরের উদয়ের পর ফজরের দুই রাকাত ব্যতীত অন্য কোনো কারণহীন নফল (نافلة) সালাত পড়া, জামাতে উপস্থিত হওয়ার পূর্বে রসুন, পেঁয়াজ এবং যা মুসল্লিদের কষ্ট দেয় এমন কিছু ভক্ষণ করা।
দ্বিতীয়: সালাতের ইকামাহ (إقامة) থেকে তাকবীরাতুল ইহরাম (تكبيرة الإحرام) পর্যন্ত তাদের ভুলসমূহ, যার অধীনে আমি আলোচনা করেছি:
সালাতের ইকামাহ (إقامة) প্রদানকারী এবং শ্রবণকারীদের ভুলসমূহ, কাতারসমূহ পূর্ণ না করা এবং সোজা হয়ে মিলেমিশে না দাঁড়ানো ও এর মধ্যকার ফাঁকা জায়গা বন্ধ না করা, প্রথম কাতারে সালাত আদায় বর্জন করা এবং ইমামের পেছনে প্রাজ্ঞ ব্যক্তি (أولي النهى) ব্যতীত অন্যদের দাঁড়ানো, বিচ্ছিন্ন কাতারে সালাত আদায় করা, তাকবীরাতুল ইহরামের (تكبيرة الإحرام) পূর্বে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকা ও দোয়া করা এবং ভিত্তিহীন (لا أصل لها) বাক্য বিড়বিড় করা।
তৃতীয়: তাকবীরাতুল ইহরাম (تكبيرة الإحরাম) থেকে সালাম ফেরানো (تسليم) পর্যন্ত তাদের ভুলসমূহ, যার অধীনে আমি আলোচনা করেছি:
তাকবীরাতুল ইহরাম (تكبيرة الإحرام) এবং স্থানান্তরের তাকবীরগুলোতে (تكبيرات الانتقال) ‘আল্লাহু আকবার’ উচ্চারণে ভুল, বিসমিল্লাহ উচ্চস্বরে বা নিম্নস্বরে পড়ার ক্ষেত্রে ইমামদের ভুল, সূরা ফাতিহা পাঠের পদ্ধতিতে ভুল, ইমামের ফাতিহা পাঠ চলাকালীন এবং তা শেষ করার পর মুক্তাদিদের (مأمومين) দোয়া করা, এবং আমীন (تأمين) বলার ক্ষেত্রে ও ইমামের কিরাত পাঠের সময় বিভিন্ন ভুলের ব্যাপারে সতর্কতা, সালাতের কার্যাবলীতে ইমামের অগ্রবর্তী হওয়া বা তাঁর সাথে সমানভাবে করা, মাসবূক (مسبوق) ব্যক্তির ইহরামের জন্য তাকবীর (تكبير) প্রদান।
(খণ্ড: ১)
আল-কাউলুল মুবীন ফী আখতাইল মুসাল্লীন
(পৃষ্ঠা: ১০)
وهو نازل إلى الرّكوع، انشغال المسبوق بدعاء الاستفتاح وتأخّره عن اللحوق بصلاة الجماعة.
والرابع: أخطاؤهم في ثواب صلاة الجماعة، وبعض أخطاء المتخلّفين عنها، والتّشديد في حقّ مَنْ تركها، وبحثت تحته:
ثواب الصلاة في بيت المقدس، صلاة الجماعة في غير المساجد، صلاة الجماعة الثانية وتعدد الجماعات في المسجد الواحد، والأنفة عن الصّلاة خلف المخالف في المذهب التّشديد في التخلّف عن الجماعة.
أما الفصل الخامس:
فيدور حول جماع أخطاء المصلّين بعد الصّلاة، جماعة كانت أم منفردة، وبحثت فيه ستة أخطاء للمصلّين، كانت كما يلي:
أخطاء المصلّين في السلام والمصافحة.
أخطاء المصلّين في التسبيح، وفيه:
ترك التسبيح دبر الصلوات والاشتغال بالدّعاء.
خروج المأموم وانصرافه قبل انتقال الإمام عن القبلة.
الوصل بين الفريضة والنفل.
التسبيح بالشّمال والسبحة.
ومن ثم ذكرت فيه:
السجود للدعاء بعد الفراغ من الصلاّة.
السمر بعد صلاة العشاء.
التسبيح الجماعي والتّشويش على المصلّين.
المرور بين يدي المصلّين.
أما الفصل السادس:
فيدور حول جماع أخطاء المصلّين. في صلاة الجمعة والتّشديد في حقّ مَنْ
রুকুতে (الركوع) যাওয়ার সময় মাসবুকের (المسبوق) সানা পাঠে মগ্ন থাকা এবং জামাআতে শরিক হতে বিলম্ব করা।
এবং চতুর্থ বিষয়: জামাআতে নামাযের সওয়াব সংক্রান্ত ভুলসমূহ, জামাআত থেকে পিছিয়ে থাকা ব্যক্তিদের কিছু ভুল এবং যারা এটি বর্জন করে তাদের ক্ষেত্রে কঠোরতা; আমি এর অধীনে আলোচনা করেছি:
বাইতুল মুকাদ্দাসে নামাযের সওয়াব, মসজিদ ব্যতীত অন্য স্থানে জামাআতে নামায, দ্বিতীয় জামাআত এবং একই মসজিদে একাধিক জামাআতের পুনরাবৃত্তি, এবং ভিন্ন মাযহাবের অনুসারীর পেছনে নামায পড়তে অনীহা প্রদর্শন ও জামাআতে অনুপস্থিত থাকার বিষয়ে কঠোরতা।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ প্রসঙ্গে:
এটি নামাযের পরবর্তী মুসল্লিদের ভুলসমূহের সমষ্টি নিয়ে আবর্তিত হয়েছে, চাই তা জামাআতে হোক কিংবা একাকী (منفردة); এতে আমি মুসল্লিদের ছয়টি ভুল সম্পর্কে আলোচনা করেছি, যা নিম্নরূপ:
সালাম (السلام) এবং মুসাফাহা করার ক্ষেত্রে মুসল্লিদের ভুলসমূহ।
তাসবিহ (التسبيح) পাঠে মুসল্লিদের ভুলসমূহ, এবং এতে রয়েছে:
নামাযের পর তাসবিহ বর্জন করা এবং দুআয় লিপ্ত হওয়া।
ইমাম কিবলা থেকে ফিরে বসার পূর্বেই মুক্তাদীর (المأموم) বেরিয়ে যাওয়া বা প্রস্থান করা।
ফরয (الفريضة) ও নফল (النفل) নামাযের মাঝে সংযোগ স্থাপন করা।
বাম হাতে এবং তসবীহ মালার সাহায্যে তাসবিহ পাঠ করা।
অতঃপর আমি এতে উল্লেখ করেছি:
নামায শেষ করার পর দুআর জন্য সিজদাহ (السجود) করা।
এশার নামাযের পর গল্পগুজব করা।
সম্মিলিত তাসবিহ পাঠ এবং মুসল্লিদের ইবাদতে বিঘ্ন সৃষ্টি করা।
মুসল্লিদের সামনে দিয়ে যাতায়াত করা।
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ প্রসঙ্গে:
এটি জুমুআর (الجمعة) নামাযে মুসল্লিদের ভুলসমূহের সমষ্টি এবং যারা তা বর্জন করে তাদের প্রতি কঠোরতা প্রসঙ্গে আবর্তিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-কাউলুল মুবীন ফী আখতাইল মুসাল্লীন
(পৃষ্ঠা: ১১)
تركها، وبحثتُ فيه الأخطاء التالية:
تخلف آلاف من مشاهدي كرة القدم عن صلاة الجمعة.
تخلّف حرس الملوك والسّلاطين عن صلاة الجمعة ووقوفهم على أبواب المسجد، حاملي السّلاح، حراسة عليهم.
تخلف العروس عن صلاة الجمعة والجماعة، جملة من أخطاء تفوّت على أصحابها ثواب الجمعة أو بعضه، وذكرت تحته:
ترك التبكير لصلاة الجمعة، ترك الاغتسال والتطيّب والتسوّك لصلاة الجمعة،
الكلام وعدم الاستماع لخطيب الجمعة، وفيه: الدوران على الناس بالماء وبصندوق لجمع التبرعات والإِمام يخطب، تحدّث الرجلين مع بعضهما والإمام يخطب، التسبيح وقراءة القرآن وردّ السّلام وتشميت العاطس والإمام يحطب، النوم والإمام يخطب، استدبار الإِمام والقبلة والإمام يخطب، العبث بالحصى والسبحة ونحوهما والإمام يخطب ومن ثم ذكرت خطأ تخطّي الرّقاب وإيذاء المصلّين، ومن ثم تعرّضتُ إلى:
سنة الجمعة القبليّة، واعتنيتُ بشُبَهِ المثبتين لها، وعملت على دحضها، ومن ثم تكلمت عن أخطاء المصلّين في صلاة تحية المسجد يوم الجمعة. وحصرتُها بالنّقاط التالية:
تركها عند الدخول والإمام يخطب، حثّ الخطيب للدّاخل على تركها، الجلوس وصلاتها عند قعود الخطيب بين الخطبتين، تأخيرها لإجابة المؤذّن والشروع فيها عند بدء الخطيب للخطبة.
ومن ثم تعرضت لأخطاء الخطباء، وقسمتها إلى: أخطاء قولية، وأخطاء فعليّة، ومن ثم ذكرت أخطاءهم في صلاة الجمعة.
وختمت هذا الفصل بأخطاء المصلّين في سنّة الجمعة البعديّة.
أما الفصل السابع والأخير:
فعالجتُ فيه أخطاءً تتعلّق بصلاة أهل الأعذار والصلوات الخاصة وغيرها من
এটি বর্জন করা। আর আমি এতে নিম্নোক্ত ভুলসমূহ নিয়ে আলোচনা করেছি:
হাজার হাজার ফুটবল দর্শক জুমার নামাজে অনুপস্থিত থাকা।
রাজা ও সুলতানদের দেহরক্ষীদের জুমার নামাজে অনুপস্থিত থাকা এবং তাদের পাহারার নিমিত্তে মসজিদের দরজায় অস্ত্রধারী অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকা।
বরের জুমার নামাজ ও জামাতে অনুপস্থিত থাকা; এগুলো এমন কতগুলো ভুল যা সম্পাদনকারীর জুমার সওয়াব বা এর অংশবিশেষ বিনষ্ট করে দেয়। আর আমি এর অধীনে উল্লেখ করেছি:
জুমার নামাজের জন্য আগেভাগে আসাতে অবহেলা করা, জুমার নামাজের জন্য গোসল করা, সুগন্ধি ব্যবহার করা এবং মেসওয়াক করা ছেড়ে দেওয়া।
ইমাম খুতবা প্রদানকালে কথা বলা এবং খুতবা শ্রবণ না করা। এর অন্তর্ভুক্ত হলো: ইমামের খুতবা চলাকালীন মানুষের মাঝে পানি ও দানপাত্র নিয়ে ঘুরে বেড়ানো, দুই ব্যক্তির একে অপরের সাথে কথা বলা, তাসবিহ পাঠ করা, কুরআন তিলাওয়াত করা, সালামের উত্তর দেওয়া এবং হাঁচিদাতার উত্তর দেওয়া। এছাড়া ইমামের খুতবা চলাকালে ঘুমানো, ইমাম ও কিবলার দিকে পিঠ দিয়ে বসা, কঙ্কর বা তসবিহ নিয়ে নাড়াচাড়া করা ইত্যাদি। অতঃপর আমি ঘাড় টপকিয়ে সামনে যাওয়া ও মুসল্লিদের কষ্ট দেওয়ার ভুলটি উল্লেখ করেছি। এরপর আমি আলোচনা করেছি:
জুমার পূর্ববর্তী সুন্নাত সম্পর্কে এবং যারা এটিকে সাব্যস্ত করেন তাদের সংশয়গুলো খণ্ডন করার ব্যাপারে যত্নশীল হয়েছি। এরপর আমি জুমার দিন মসজিদে প্রবেশের অভিবাদনমূলক (تحية المسجد) নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে মুসল্লিদের ভুলসমূহ নিয়ে আলোচনা করেছি। আমি সেগুলোকে নিম্নোক্ত পয়েন্টে সীমাবদ্ধ করেছি:
ইমাম খুতবা প্রদানকালে মসজিদে প্রবেশ করে এই নামাজ ছেড়ে দেওয়া, খতিবের পক্ষ থেকে প্রবেশকারীকে তা বর্জন করতে উৎসাহিত করা, ইমাম দুই খুতবার মাঝে বসার সময় এটি আদায়ের জন্য বসা, মুয়াজ্জিনের আজানের জবাব দেওয়ার জন্য এটি বিলম্বিত করা এবং ইমাম খুতবা শুরু করার সময় এটি শুরু করা।
এরপর আমি খতিবদের ভুলসমূহ নিয়ে আলোচনা করেছি এবং সেগুলোকে মৌখিক ভুল ও ব্যবহারিক ভুলে বিভক্ত করেছি। অতঃপর জুমার নামাজে তাদের ভুলসমূহ উল্লেখ করেছি।
আমি এই অধ্যায়টি জুমার পরবর্তী সুন্নাত নামাজে মুসল্লিদের ভুলসমূহ আলোচনার মাধ্যমে সমাপ্ত করেছি।
আর সপ্তম ও সর্বশেষ অধ্যায়:
এতে আমি ওজরগ্রস্ত ব্যক্তিদের নামাজ, বিশেষ নামাজসমূহ এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক ভুলগুলো নিয়ে আলোচনা করেছি।
(খণ্ড: ১)
আল-কাউলুল মুবীন ফী আখতাইল মুসাল্লীন
(পৃষ্ঠা: ১২)
الإِفاضات والإِضافات، وكان هذا الفصل بمثابة شذرات متفرّقات، ومن ثم ختمتُ الكتاب بأحاديث موضوعات وواهيات دارجة على ألسنة الناس في الصلاة.
وقد رَعَيْتُ في كتابي هذا مجموعة أُمور:
أولاً: تعرّضتُ إلى الأخطاء الشّائعة الدّارجة، وبيّنتُ الصّواب عقب ذكر الخطأ، واخترتُ منها ما تكون الحاجة إلى معالجته ماسة، والضّرورة إلى معرفته ملحة.
ثانياً: عرضت الأخطاء ومعالجتها عرضاً يناسب أهل العصر، على اختلاف درجاتهم في الثّقافة والفهم.
ثالثاً: ليس كلُّ خطأ مبحوثٍ في هذا الكتاب، يترتّبُ عليه بطلان الصّلاة أو الإثم، وإنما فيه قسمٌ من المختلَف فيه بين العلماء، وأشرتُ إلى الخلاف في الأعم الأغلب، واعتبرتُ المختلَفَ فيه خطأ، إن كان الدليلُ الصّحيحُ على خلافه، أو لم يقم عليه دليل، إذ الأصل في العبادات المنع، حتى يأتي دليل الصحيح على مشروعيتها، أو كان دليلُه غير صحيح، أو غير ظاهر، وهنالك أظهر منه، أو كان الإجماع (1)
على أن الأفضل خلافُهُ، فعلاً كان أم تركاً، ولكن الخلافَ في البطلان أو الحرمة ونحوهما، إذ ليس مقصودُنا إلا ذكر ما يخالف هديه صلى الله عليه وسلم الشائع بين المصلّين، وتبيين الصواب فيه، الذي كان يفعله صلى الله عليه وسلم هو، فإنه قِبلَةُ القصد، إليه التوجُّهُ في هذا الكتاب، وعليه مدارُ التّفتيش والطّلب، وهذا شيء، والجائز الذي لا ينكر فعلُه وتركُه شيء، فنحن لم نتعرض في هذا الكتاب لما يجوز، ولما يحرم (2)
، وإنما مقصودُنا فيه هديُ النبي صلى الله عليه وسلم الذي كان يختاره لنفسه، فإنّه أكملُ الهدي وأفضلُه.
فبيّنتُ في هذا الكتاب كلّ فعل يفعله المصلّون مخالف لهدي النبي صلى الله عليه وسلم وما أرشد إليه، وأرجو إنْ تجنّب المصلى الأخطاء التي عالجتُها فيه، أن يلمس أثر
--------------------------------------------
আধিক্য ও সংযোজনসমূহ; এই পরিচ্ছেদটি ছিল মূলত বিচ্ছিন্ন কিছু মুক্তদানার মতো। অতঃপর আমি কিতাবটি সালাত বিষয়ে মানুষের মুখে প্রচলিত বানোয়াট (موضوعات) এবং অত্যন্ত দুর্বল (واهيات) হাদিসসমূহ দিয়ে সমাপ্ত করেছি।
আমি আমার এই কিতাবে কতগুলো বিষয় লক্ষ্য রেখেছি:
প্রথমত: আমি প্রচলিত ও সাধারণ ভুলত্রুটিগুলো নিয়ে আলোচনা করেছি এবং ভুলটি উল্লেখ করার পরপরই সঠিক বিষয়টি বর্ণনা করেছি। আমি সেগুলোকে বেছে নিয়েছি যেগুলোর প্রতিকার করা অত্যন্ত জরুরি এবং যা জানা একান্ত আবশ্যক।
দ্বিতীয়ত: আমি ভুলগুলো এবং সেগুলোর প্রতিকার বর্তমান যুগের মানুষের সংস্কৃতি ও বোধগম্যতার বিভিন্ন স্তর অনুযায়ী মানানসইভাবে উপস্থাপন করেছি।
তৃতিয়ত: এই কিতাবে আলোচিত প্রতিটি ভুলের কারণেই সালাত বাতিল (بطلان) হওয়া বা পাপ (إثم) হওয়া আবশ্যক নয়। বরং এতে এমন কিছু অংশ রয়েছে যা আলেমদের মধ্যে মতভেদপূর্ণ (مختلف فيه)। আমি অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই মতভেদের দিকে ইঙ্গিত করেছি এবং সেই মতভেদপূর্ণ বিষয়টিকেই ভুল হিসেবে গণ্য করেছি যদি সহিহ (صحيح) দলিল তার বিপরীতে থাকে অথবা তার স্বপক্ষে কোনো দলিল না থাকে। কারণ ইবাদতের ক্ষেত্রে মূলনীতি হলো তা নিষিদ্ধ থাকা, যতক্ষণ না তার বৈধতার পক্ষে সহিহ (صحيح) দলিল পাওয়া যায়। অথবা যদি তার দলিলটি সহিহ (صحيح) না হয়, কিংবা অস্পষ্ট হয় এবং তার চেয়ে অধিক স্পষ্ট দলিল বিদ্যমান থাকে। অথবা যদি ইজমা (إجماع) (১)
বিদ্যমান থাকে যে, কাজটির বিপরীতটিই উত্তম, তা সম্পাদন করার ক্ষেত্রে হোক বা বর্জনের ক্ষেত্রে। তবে বাতিল হওয়া বা হারাম হওয়া ইত্যাদি বিষয়ে মতপার্থক্য তো ভিন্ন কথা; আমাদের উদ্দেশ্য কেবল মুসল্লিদের মধ্যে প্রচলিত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদর্শের পরিপন্থী বিষয়গুলো উল্লেখ করা এবং সে ক্ষেত্রে সঠিক পদ্ধতিটি বর্ণনা করা যা তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বয়ং করতেন। কারণ তিনিই হলেন উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যস্থল, এই কিতাবে তাঁর দিকেই মনোনিবেশ করা হয়েছে এবং তাঁর সুন্নাহর উপরেই সমস্ত অনুসন্ধান ও অন্বেষণ আবর্তিত। এটি এক বিষয়, আর যা জায়েজ (جائز) এবং যার করা বা না করা নিয়ে আপত্তি করা যায় না তা অন্য বিষয়। আমরা এই কিতাবে যা জায়েজ (جائز) এবং যা হারাম (حرام) (২)
তা নিয়ে আলোচনা করিনি। বরং আমাদের উদ্দেশ্য হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সেই আদর্শ যা তিনি নিজের জন্য পছন্দ করতেন; নিশ্চয়ই তা সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ ও শ্রেষ্ঠ আদর্শ।
তাই আমি এই কিতাবে মুসল্লিদের করা এমন প্রত্যেকটি কাজ বর্ণনা করেছি যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদর্শ এবং তাঁর নির্দেশনার পরিপন্থী। আমি আশা করি, কোনো মুসল্লি যদি আমার আলোচিত ভুলগুলো বর্জন করেন, তবে তিনি এর প্রভাব অনুভব করতে পারবেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাউলুল মুবীন ফী আখতাইল মুসাল্লীন
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الصّلاة، من طمأنينة قلب، وراحة فؤاد في الدّنيا، وأن تنقذ من مصائب الدّنيا، وأهول القيامة، وان تعمل على ذهاب سيّئاته، وترتقي به إلى أعلى مقاماته. ولا بُدّ ـ أخي المُصلّي ـ من الوقوف على الخطأ لتجنّبه، على حدّ قول الشاعر:
عرفتُ الشر لا للشـ ـر لكن لتوقيه
ومن لا يعرف الشًّرًّ من الخير يقع فيه
وهذا المعنى مستقى من السنّة، فقد قال حذيفة بن اليمان رضي الله عنه: كان النّاس يسألون رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الخير، وكنت أسأله عن الشر مخافة أن يدركني.
ولهذا كان من الضّروري جدّاً تنبيهُ المسلمين إلى أخطائهم في الأقوال والأفعال التي دخلت في الدّين، خوفاً من خفائها على بعضهم فيقعوا فيها، متقرّبين بها إلى الله سبحانه وتعالى!! ومن أهم ما ينبغي تبيينُه لهم: أخطاؤهم في الصّلاة، وتكاسلهم عن هدي النبي صلى الله عليه وسلم فيها، لأن الصّلاة بمنزلة الهدية التي يتقرّب بها النّاسُ إلى ملوكهم وكبرائهم، فليس مَنْ عمد إلى أفضل ما يقدر عليه، فيزينه ويحسّنه ما استطاع، ثم يتقرّب به إلى مَنْ يرجوه ويخافه، كمن يعمد إلى أسقط ما عنده وأهونه عليه
، فيستريح منه، ويبعثه إلى مَنْ لا يقع عنده بموقعٍ، وليس مَنْ كانت الصَّلاةُ ربيعاً لقلبه وحياةً له، وراحةً وقرةً لعينه، وجلاءً لحزنه، وذهاباً لهمّه وغمّه، ومفزعاً إليه في نوائبه ونوازله، كمن هي سُحْتٌ لقلبه، وقيْدٌ لجوارحه، وتكليف له، وثقل عليه، فهي كبيرة على هذا، وقرة عين وراحة لذلك.
قال تعالى: {َاسْتَعِينُواْ بِالصَّبْرِ وَالصَّلَاةِ وَإِنَّهَا لَكَبِيرَةٌ إِلَاّ عَلَى الْخَاشِعِينَ* الَّذِينَ يَظُنُّونَ أَنَّهُم مُّلَاقُو رَبِّهِمْ وَأَنَّهُمْ إِلَيْهِ رَاجِعُونَ} (1) .
--------------------------------------------
সালাত হলো অন্তরের প্রশান্তি, দুনিয়াতে হৃদয়ের স্বস্তি, দুনিয়ার বিপদ-আপদ ও কিয়ামতের ভয়াবহতা থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায়, যা পাপরাশি দূর করতে কাজ করে এবং ব্যক্তিকে উচ্চ মর্যাদায় আসীন করে। হে সালাত আদায়কারী ভাই—ভুল পরিহার করার জন্য তা চিহ্নিত করা অপরিহার্য, যেমনটি কবি বলেছেন:
আমি মন্দকে চিনেছি মন্দের জন্য নয়, বরং তা থেকে বেঁচে থাকার জন্য
আর যে মন্দের বিপরীতে ভালোকে চিনতে পারে না, সে তাতেই নিপতিত হয়
এই বিষয়টি সুন্নাহ (سنة) থেকে গৃহীত। কেননা হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান (রা.) বলেন: মানুষ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কল্যাণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করত, আর আমি তাঁকে অকল্যাণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতাম যাতে তা আমাকে গ্রাস না করে।
এ কারণেই মুসলমানদের কথা ও কাজের সেই সব ভুলত্রুটি সম্পর্কে সতর্ক করা অত্যন্ত জরুরি যা দ্বীনের মধ্যে প্রবিষ্ট হয়েছে; পাছে সেগুলো কারো কাছে অস্পষ্ট থেকে যায় এবং তারা সেগুলোতে লিপ্ত হয়, অথচ তার মাধ্যমেই তারা মহান আল্লাহর নৈকট্য অন্বেষণ করছে!! তাদের নিকট যে বিষয়গুলো স্পষ্ট করা সর্বাপেক্ষা প্রয়োজন তন্মধ্যে অন্যতম হলো: সালাতে তাদের ভুলত্রুটিসমূহ এবং সালাতের ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশিত পদ্ধতির প্রতি তাদের অলসতা। কেননা সালাত হলো সেই উপহারের ন্যায় যার মাধ্যমে মানুষ তাদের রাজা ও মহান ব্যক্তিদের নৈকট্য লাভ করতে চায়। সুতরাং যে ব্যক্তি নিজের সাধ্যমতো সর্বোত্তম বস্তুটির সংকল্প করে, এরপর তা যথাসম্ভব সুশোভিত ও সুন্দর করে, অতঃপর তা এমন এক সত্তার সমীপে পেশ করে যার নিকট সে আশা রাখে এবং যাকে ভয় পায়; সে আর ঐ ব্যক্তি সমান হতে পারে না যে নিজের কাছে থাকা নিকৃষ্টতম ও তুচ্ছ বস্তুটির সংকল্প করে
, যাতে সে তা থেকে নিষ্কৃতি পায় এবং এমন কারো নিকট তা পাঠায় যার কাছে তার কোনো মর্যাদা নেই। আর যার নিকট সালাত হলো হৃদয়ের বসন্ত, জীবনের প্রাণশক্তি, চোখের প্রশান্তি ও স্বস্তি, দুঃখ দূরকারী, দুশ্চিন্তা ও উৎকণ্ঠা বিদায়কারী এবং বিপদ-আপদে আশ্রয়স্থল; সে আর ঐ ব্যক্তি সমান নয় যার হৃদয়ের নিকট সালাত একটি বিষাদময় বোঝা, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের জন্য শৃঙ্খল, একটি নিছক বাধ্যবাধকতা এবং গুরুভার। ফলে এটি দ্বিতীয় ব্যক্তির নিকট অত্যন্ত কঠিন, আর প্রথম ব্যক্তির নিকট নয়নভিরাম প্রশান্তি।
মহান আল্লাহ বলেন: {তোমরা ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো। আর নিশ্চয়ই তা বিনীতগণ ব্যতীত অন্যদের জন্য কঠিন। যারা বিশ্বাস রাখে যে তারা তাদের রবের সাথে মিলিত হবে এবং তারা তাঁরই অভিমুখী হবে।} (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাউলুল মুবীন ফী আখতাইল মুসাল্লীন
(পৃষ্ঠা: ১৪)
فإنما كبرت لخلوّ قلوبهم من محبّة الله تعالى وتكبير وتعظيمه والخشوع له وقلّة رغبتهم فيه، فإن حضور العبد في الصّلاة وخشوعه فيها، وتكميله لها، واستفراغ وسعه في إقامتها وإتمامها على قدر رغبته في الله.
قال الأمام أحمد: إنما حظُّهُم من الإسلام على قدر حظّهم من الصّلاة، ورغبتهم في الإسلام على قدر رغبتهم في الصّلاة، فاعرف نفسك يا عبد الله، احذر أن تلقى الله عز وجل ولا قدر للأسلام عندك، فإن قدر الإسلام في قلبك كقدر الصّلاة في قلبك (1) .
وقال أيضاً: واعلموا أنه لو أن رجلاً أحسن الصّلاة، فأتمّها وأحكمها، ثم نظر إلى مَنْ أساء في صلاته وضيَّعها، وسبق الإمامَ فيها، فسكت عنه، ولم يعلّمه إساءته في صلاته ومسابقته الإمام فيها، ولم ينهه عن ذلك، ولم ينصحه، شاركه في وزرها وعارها. فالمحسن في صلاته، شريك المسيء في أساءته، إذا لم ينهه ولم ينصحه (2) .
فأنعم النّظر _ أخي المصلّي _ فيما سطرتُه في هذه الورقات، فإن اقتنعتَ بها، وخالطتْ بشاشة الإِيمانِ في قلبك، فاعملْ على نشرها، واحرص على تعليمها، لا سيّما لمن لك سلطة عليه، كأهل بيتك، أو تلاميذك، أو جمهور المصلّين، إنْ كنت إماماً أو واعظاً، فإن سكتّ، شاركتَ المسيئي صلاتهم في إثمهم _ والعياذ بالله تعالى _، كما قال إمامُ أهل السنّة أحمد بن حنبل.
وأخيراً
… ((لاينبغي لأحدٍ من المسلمين أن يتّخذ من الخلاف في المسائل المبحوثة وأشباهها، وسيلة إلى النّزاع والتّهاجر والفرقة، فإن ذلك لا يجوز
--------------------------------------------
মূলত তাদের অন্তর মহান আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা, তাঁর মহিমা ও বড়ত্ব ঘোষণা এবং তাঁর প্রতি বিনয় (خشوع) শূন্য হয়ে যাওয়া এবং তাঁর প্রতি অনাগ্রহের কারণেই (অহংকার) বৃদ্ধি পেয়েছে। কেননা সালাতে বান্দার উপস্থিতি, একাগ্রতা (خشوع), তা পূর্ণাঙ্গকরণ এবং তা যথাযথভাবে সম্পন্ন ও আদায়ে সামর্থ্যের সর্বোচ্চ নিয়োগ নির্ভর করে আল্লাহর প্রতি তার অনুরাগের পরিমাণের ওপর।
ইমাম আহমদ বলেন: ইসলামে তাদের অংশ ততটুকুই যতটুকু সালাতে তাদের অংশ রয়েছে, আর ইসলামের প্রতি তাদের অনুরাগ ততটুকুই যতটুকু সালাতের প্রতি তাদের অনুরাগ রয়েছে। হে আল্লাহর বান্দা! নিজেকে চিনে নাও। মহান আল্লাহর সাথে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ করা থেকে সতর্ক থাকো যখন তোমার নিকট ইসলামের কোনো মর্যাদা নেই। কেননা তোমার অন্তরে ইসলামের মর্যাদা ততটুকুই, যতটুকু তোমার অন্তরে সালাতের মর্যাদা রয়েছে (১)।
তিনি আরও বলেন: জেনে রাখো, যদি কোনো ব্যক্তি সুন্দরভাবে সালাত আদায় করে, তা পূর্ণাঙ্গ ও সুচারুরূপে সম্পন্ন করে, অতঃপর এমন কাউকে দেখে যে নিজের সালাত মন্দভাবে আদায় করছে এবং তা নষ্ট করছে, আর ইমামের আগে চলে যাচ্ছে, কিন্তু সে ব্যক্তি চুপ থাকে, তাকে তার সালাতের ভুল ও ইমামের অগ্রবর্তী হওয়ার বিষয়টি শেখায় না, তাকে তা থেকে বারণ করে না এবং নসিহত করে না—তবে সে তার পাপ ও লাঞ্ছনার অংশীদার হবে। সুতরাং সালাত সুন্দরভাবে আদায়কারী ব্যক্তিও ভুলকারীর ভুলের অংশীদার হবে, যদি সে তাকে বারণ না করে এবং নসিহত না করে (২)।
অতএব হে সালাত আদায়কারী ভাই! আমি এই পাতাগুলোতে যা লিখেছি তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করুন। যদি আপনি এতে আশ্বস্ত হন এবং ঈমানের মাধুর্য আপনার অন্তরে মিশে যায়, তবে এটি প্রচারে সচেষ্ট হোন এবং এটি শেখানোর ব্যাপারে যত্নবান হোন। বিশেষ করে যাদের ওপর আপনার কর্তৃত্ব রয়েছে, যেমন আপনার পরিবার-পরিজন, আপনার ছাত্র সমাজ অথবা সাধারণ মুসল্লিবৃন্দ—যদি আপনি ইমাম বা উপদেশ দাতা হয়ে থাকেন। কেননা আপনি যদি চুপ থাকেন, তবে যারা সালাতে ত্রুটি করছে তাদের পাপের অংশীদার হবেন—আমরা আল্লাহর কাছে এ থেকে আশ্রয় চাই—যেমনটি আহলুস সুন্নাহর ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল বলেছেন।
পরিশেষে
… ((কোনো মুসলিমের জন্যই উচিত নয় যে, আলোচিত বিষয়াবলি এবং এই জাতীয় মাসআলার মতভেদকে বিবাদ, পরস্পর সম্পর্কচ্ছেদ ও দলাদলির মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করা; কেননা তা বৈধ নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাউলুল মুবীন ফী আখতাইল মুসাল্লীন
(পৃষ্ঠা: ১৫)
للمسلمين (1)
، بل الواجب على الجميع بذل الجهود في التّعاون على البرّ والتّقوى، وإيضاح الحق بدليله، والحرص على صفاء القلوب وسلامتها من الغلّ والحقد من بعضهم على بعض، كما أن الواجب الحذر من أسباب الفرقة والتهاجر، لأن الله سبحانه، أوجب على المسلمين ان يعتصموا بحبله جميعاً، وأن لا يتفرقوا، كما قال تعالى: {وَاعْتَصِمُواْ بِحَبْلِ اللهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُواْ} (2) .
وقال النبي صلى الله عليه وسلم: ((إن الله يرضى لكم ثلاثاً: أن تعبدوه ولا تشركوا به شيئاً، وأن تعتصموا
بحبل الله جميعاً ولا تفرّقوا، وأن تناصحوا من ولاه الله أمركم)) (3)
فعلينا جميعاً ـ معشر المسلمين ـ أن نتقي الله ـ سبحانه ـ وأن نسير على طريقة السَّلف الصّالح قبلنا في التّمسك بالحق والدّعوة إليه، والتّناصح فيما بيننا، والحرص على معرفة الحق بدليله، مع بقاء المحبّة والأخوّة الإيمانية، وعدم التقاطع والتّهاجر من أجل مسألة فرعيّة، قد يخفى فيها الدّليل على بعضنا، فيحمله اجتهادُه على مخالفة أخيه في الحكم.
فنسأل الله بأسمائه الحسنى، وصفاته العلى، أن يزيدنا ـ وسائر المسلمين ـ هدايةً وتوفيقاً، وأن يمنحنا جميعاً الفقه في دينه، والثّبات عليه، ونصرته، والدّعوة إليه، إنه وليّ ذلك، والقادر عليه.
وصلى الله على نبيّنا محمد وآله وصحبه، ومن اهتدى بهداه، وعظّم سنّته إلى يوم الدّين)) (4)
--------------------------------------------
মুসলমানদের জন্য (১)
। বরং সকলের কর্তব্য হলো সৎকাজ ও তাকওয়ার ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতায় আপ্রাণ চেষ্টা করা, দলিলসহ সত্যকে স্পষ্ট করা এবং অন্তরসমূহকে স্বচ্ছ রাখা ও একে অপরের প্রতি বিদ্বেষ ও হিংসা থেকে মুক্ত থাকার ব্যাপারে সচেষ্ট হওয়া। পাশাপাশি বিভেদ ও বিচ্ছিন্নতার কারণসমূহ থেকে সতর্ক থাকা ওয়াজিব; কারণ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা সমস্ত মুসলমানদের জন্য তাঁর রজ্জুকে একত্রে দৃঢ়ভাবে ধারণ করা এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন না হওয়া ওয়াজিব করেছেন। যেমনটি আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন: {তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরো এবং বিচ্ছিন্ন হয়ো না} (২)।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের জন্য তিনটি বিষয়ে সন্তুষ্ট হন: তোমরা কেবল তাঁরই ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কাউকে শরিক করবে না, তোমরা সকলে মিলে আল্লাহর রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরবে এবং বিচ্ছিন্ন হবে না, আর আল্লাহ যাদেরকে তোমাদের দায়িত্বশীল করেছেন তাদের প্রতি কল্যাণকামিতা প্রদর্শন করবে)) (৩)।
অতএব আমাদের সকলের—হে মুসলিম সম্প্রদায়—কর্তব্য হলো আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালাকে ভয় করা এবং আমাদের পূর্ববর্তী সালাফে সালেহীনের পথে চলা, যা হলো সত্যকে আঁকড়ে ধরা ও তার দিকে দাওয়াত দেওয়া, নিজেদের মধ্যে পরস্পরকে নসিহত করা এবং দলিলসহ সত্যকে জানার ব্যাপারে আগ্রহী হওয়া। সেই সাথে পারস্পরিক মহব্বত ও ঈমানি ভ্রাতৃত্ব বজায় রাখা এবং কোনো আনুষঙ্গিক (ফুরুয়ি) বিষয়ের কারণে একে অপরের সাথে সম্পর্কচ্ছেদ বা কথাবার্তা বন্ধ না করা; কারণ এমন বিষয়ে আমাদের কারো কাছে দলিল অস্পষ্ট থাকতে পারে, যার ফলে নিজস্ব ইজতিহাদ তাকে কোনো হুকুমের ক্ষেত্রে তার ভাইয়ের বিরোধিতা করতে উদ্বুদ্ধ করতে পারে।
আমরা আল্লাহর নিকট তাঁর সুন্দর নামসমূহ এবং সুউচ্চ গুণাবলির মাধ্যমে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের এবং সকল মুসলমানকে হেদায়েত ও তাওফিক বাড়িয়ে দেন, এবং আমাদের সকলকে তাঁর দ্বীনের সঠিক জ্ঞান ও গভীর বুঝ (ফিকহ) দান করেন, তার ওপর অবিচল রাখেন এবং দ্বীনকে সাহায্য করার ও তার দিকে দাওয়াত দেওয়ার তাওফিক দান করেন। নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এতে পূর্ণ সক্ষম।
আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীদের ওপর এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা তাঁর হেদায়েতের অনুসারী হবে ও তাঁর সুন্নাহকে যথাযথ সম্মান করবে, তাদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। (৪)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাউলুল মুবীন ফী আখতাইল মুসাল্লীন
(পৃষ্ঠা: ১৬)
الفصل الأول جماع أخطاء المصلّين في ثيابهم وستر عوراتهم في الصلاة* تمهيد.
* الصّلاة في الثّياب الحازقة التي تصف العورة.
* الصّلاة في الثّياب الرّقيقة الشّفافة.
* الصّلاة والعورة مكشوفة.
* صلاة مُسْبلِ الإزار.
* سدل الثّوب والتلثّم في الصّلاة.
* كفّ الثّوب في الصَّلاة ((تشميره)) .
* صلاة مكشوف العاتقين.
* الصَّلاة في الثَّوب في الذي عليه صورة (1) .
* الصَّلاة في الثَّوب المعصفر.
* صلاة مكشوف الرأس.
--------------------------------------------
প্রথম অধ্যায় সালাতে মুসল্লিদের পোশাক-পরিচ্ছদ এবং সতর ঢাকা সংক্রান্ত ভুলত্রুটির সঙ্কলন* উপক্রমনিকা।
* এমন আঁটসাঁট পোশাকে সালাত আদায় করা যা সতর বা শরীরের গঠন ফুটিয়ে তোলে।
* পাতলা ও স্বচ্ছ পোশাকে সালাত আদায় করা।
* সতর উন্মুক্ত অবস্থায় সালাত আদায় করা।
* টাখনুর নিচে কাপড় ঝুলিয়ে পরিধানকারীর সালাত।
* সালাতে কাপড় লটকিয়ে রাখা এবং মুখমণ্ডল আবৃত করা।
* সালাতে কাপড় গুটিয়ে রাখা (ভাঁজ করা)।
* উভয় কাঁধ উন্মুক্ত রেখে সালাত আদায় করা।
* ছবিযুক্ত (১) পোশাকে সালাত আদায় করা।
* কুসুম রঙে রঞ্জিত পোশাকে সালাত আদায় করা।
* মাথা উন্মুক্ত রেখে সালাত আদায় করা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাউলুল মুবীন ফী আখতাইল মুসাল্লীন
(পৃষ্ঠা: ১৭)
*
تمهيد:أخرج مسلم في ((صحيحه)) بسند إلى أبي عثمان النَّهدي قال: كتب إلينا عمر، ونحن بأَذْرَبِيجَان: يا عُتْبةُ بن فرْقَد!! إنه ليس مِن كَدِّك ولا مِنْ كَدّ أبيك، ولا مِنْ كَدّ أُمّك، فأشبع المسلمين في رحالهم، مما تشبع منه في رحلك (1)
، وإيّاكم والتنعُّم، وَزِيٍّ أهل الشّرك، وَلَبُوس الحرير (2) .
--------------------------------------------
ভূমিকা:ইমাম মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে একটি সনদ (سند) সহকারে আবু উসমান আন-নাহদী থেকে বর্ণনা করেছেন (أخرج), তিনি বলেন: উমর (রা.) আমাদের নিকট লিখে পাঠালেন যখন আমরা আজারবাইজানে ছিলাম: হে উতবা বিন ফারকাদ!! নিশ্চয়ই এটি তোমার পরিশ্রমের ফল নয়, তোমার পিতার পরিশ্রমের ফল নয় এবং তোমার মাতার পরিশ্রমের ফলও নয়; সুতরাং মুসলিমদেরকে তাদের আবাসে তৃপ্ত করো তা দিয়ে যা দিয়ে তুমি নিজের আবাসে তৃপ্ত হও (১)
। আর তোমরা বিলাসিতা, শিরক (شرك) পন্থীদের পোশাক এবং রেশমি বস্ত্র পরিধান করা থেকে বেঁচে থাকো (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাউলুল মুবীন ফী আখতাইল মুসাল্লীন
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وجاء في ((مسند علي بن الجعد)) : ((
… فائتزروا وارتدوا وانتعلوا وألقوا الخفاف وألقوا السراويلات،
… وعليكم بلباس أبيكم إسماعيل، وإيّاكم والتنعيم وزيّ العجم
… )) (1) .
وأخرج وكيع وهناد في ((الزهد)) عن ابن مسعود قال: ((لا يشبه الزي الزي، حتى تشبه القلوب القلوب)) (2) .
وكلام عبد الله بن مسعود مأخوذ من قوله صلى الله عليه وسلم: ((من تشبّه بقوم فهو منهم)) (3) .
ولهذا: أمر عمر بن الخطاب رضي الله عنه رعيته أن يلقوا الخفاف والسراويلات، كما أمرهم بغير ذلك من لبوس العرب وعاداتهم، ليحافظوا على مشخصاتهم، فلا يندفعوا في الأعاجم.
وإن في تشبه أفراد أمتنا بأعدائهم في اللباس وغيره، دليلاً على ضعف
--------------------------------------------
'মুসনাদ আলী বিন আল-জাদ'-এ বর্ণিত হয়েছে: ((
… তোমরা লুঙ্গি পরিধান করো, চাদর ব্যবহার করো, জুতো পরো এবং মোজা ও প্যান্ট বর্জন করো,
… তোমাদের পিতা ইসমাইলের পোশাক গ্রহণ করো এবং বিলাসিতা ও অনারবদের বেশভূষা থেকে বেঁচে থাকো
… )) (১) ।
ওয়াকি এবং হান্নাদ 'আজ-জুহদ' গ্রন্থে ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ((বেশভূষার সাদৃশ্য ততক্ষণ ঘটে না, যতক্ষণ না অন্তরগুলোর মধ্যে সাদৃশ্য সৃষ্টি হয়)) (২) ।
আব্দুল্লাহ বিন মাসউদের এই কথাটি নবী করীম (সা.)-এর এই বাণী থেকে গৃহীত: ((যে ব্যক্তি যে জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত)) (৩) ।
এই কারণে: উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) তাঁর প্রজাসাধারণকে মোজা এবং প্যান্ট বর্জন করার নির্দেশ দিয়েছিলেন, যেমন তিনি তাদের আরবীয় পোশাক ও রীতিনীতি মেনে চলার অন্যান্য নির্দেশ দিয়েছিলেন, যাতে তারা তাদের স্বকীয়তা রক্ষা করতে পারে এবং অনারবদের মাঝে বিলীন না হয়ে যায়।
আমাদের উম্মতের ব্যক্তিদের পোশাক এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে শত্রুদের অনুকরণ করা তাদের দুর্বলতার প্রমাণ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাউলুল মুবীন ফী আখতাইল মুসাল্লীন
(পৃষ্ঠা: ১৯)
التزامهم وسلوكهم، وأنهم مصابون بداء التلوّن والتمرّغ، وأن سيرتهم متخلخلة لا قرار لها، وأنها كمادة سائلةٍ، مستعدّة للانصهار في كل قالب في كل حين، وفوق هذا: فإن هذا النوع من التشبّه، فعلة شنيعة، مثلها كمثل رجلٍ ينسب نفسه إلى غير أبيه!!
والذين يسلكون هذا المسلك وهذا السبيل: لا هم من الأمّة التي ولدوا فيها، ولا من الأمة التي يحبّون أن يعدّوا منها: {لَا إِلَى هَؤُلاء وَلَا إِلَى هَؤُلاء} (1) .
وقد يقال: لِمَ لَمْ يقاوم العلماء المسلمون هذه العادات، قبل استفحال أمرها؟
والجواب: أنهم قاوموها كأشدّ ما تكون المقاومة (2)
، بيد أن سنّة تأثر المغلوب بالغالب، لم تنجح معها مقاومة العلماء، فتورط في عادات المشركين ولباسهم كثيرٌ من المسلمين، بل كثير ممن ينتسبون إلى العلم، فكانوا مثالاً سيّئاً للمسلمين، والعياذ بالله تعالى (3) .
ويزيد الطّين بِلّة: أن منهم مَنْ يعتذرون عن الصّلاة، بأنها تحدث في السراويل ((البنطلون)) تجعّداً يشوّه مَنظره!! سمعنا هذا بآذاننا من كثيرين.
ويزيد الطّين بِلّة أيضاً:
--------------------------------------------
তাদের প্রতিশ্রুতি ও আচরণ এবং তারা রঙ পরিবর্তন ও সুবিধাবাদের রোগে আক্রান্ত। তাদের জীবনযাত্রা অস্থির ও অস্থিতিশীল, যার কোনো স্থিরতা নেই, যেন এক তরল পদার্থ যা যেকোনো সময় যেকোনো ছাঁচে মিশে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত। এর ঊর্ধ্বে, এই ধরনের অনুকরণ একটি জঘন্য কাজ; এর উদাহরণ ঠিক সেই ব্যক্তির মতো যে নিজেকে নিজের পিতা ছাড়া অন্য কারো সাথে সম্পর্কিত করে!!
আর যারা এই পথ ও পন্থা অবলম্বন করে: তারা না সেই উম্মতের অন্তর্ভুক্ত যাতে তারা জন্মগ্রহণ করেছে, আর না সেই উম্মতের অন্তর্ভুক্ত যার মধ্যে তারা গণ্য হতে পছন্দ করে: {না এদের দিকে, না তাদের দিকে} (১)।
বলা হতে পারে: মুসলিম আলেমগণ এই অভ্যাসগুলো প্রকট হওয়ার আগেই কেন প্রতিরোধ করেননি?
উত্তর হলো: তারা এগুলোকে কঠোরতম উপায়ে প্রতিরোধ করেছেন (২)
কিন্তু বিজয়ীর দ্বারা বিজিতের প্রভাবিত হওয়ার চিরন্তন রীতির কারণে আলেমদের প্রতিরোধ সফল হয়নি। ফলে অনেক মুসলিম, এমনকি ইলমের সাথে সম্পৃক্ত অনেক ব্যক্তিও মুশরিকদের রীতিনীতি ও পোশাকে জড়িয়ে পড়েছেন; তারা মুসলিমদের জন্য এক মন্দ দৃষ্টান্তে পরিণত হয়েছেন, আল্লাহর কাছে এ থেকে আশ্রয় চাই (৩)।
বিষয়টিকে আরও শোচনীয় করে তোলে যে: তাদের মধ্যে কেউ কেউ নামাজ না পড়ার ওজর পেশ করে এই বলে যে, এর ফলে পাজামা বা ট্রাউজারে ((প্যান্ট)) ভাঁজ পড়ে যা এর সৌন্দর্য নষ্ট করে দেয়!! আমরা অনেকের কাছ থেকে স্বকর্ণে এটি শুনেছি।
বিষয়টিকে আরও শোচনীয় করে তোলে আরও যে:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাউলুল মুবীন ফী আখতাইল মুসাল্লীন
(পৃষ্ঠা: ২০)
[1] * الصّلاة في الثّياب الحازقة التي تصف العورة:لبس الثياب الحازقة الضّاغطة مكروه شرعاً وطبّاً، لضررها بالبدن، حتى إن بعضها يتعذّر السجود على لابسه، فإذا أدّى لبسها إلى ترك الصّلاة حرم قطعاً، ولو لبعض الصّلوات.
وقد ثبت بالتجارب أن أكثر مَنْ يلبسونها لا يصلّون، أو إلا قليلاً كالمنافقين!! وكثير من
المصلّين هذه الأيام، يصلّون بثيابٍ تصف السّوأَتيْن: إحداهما أو كلتيهما!!
وحكى الحافظ ابن حجر عن أشهب، فيمن اقتصر على الصّلاة في السّراويل مع القدرة:
يعيد في الوقت، إلا إن كان صفيقاً، وعن بعض الحنفيّة يكره (1) .
هذا عن سراويلهم الواسعة جداً، فما بالك في ((البنطلون)) الضّيق جدّاً!!
قال العلاّمة الألباني: ((و ((البنطلون)) فيه مصيبتان:
المصيبة الأولى: هي أن لابسه يتشبّه بالكفّار، والمسلمون كانوا يلبسون السراويل الواسعة الفضفاضة، التي ما زال البعض يلبسها في سوريا ولبنان.
فما عرف المسلمون ((البنطلون)) إلا حينما استعمروا، ثم لما انسحب المستعمرون، تركوا آثارهم السيئة، وتبنّاها المسلمون، بغباوتهم وجهالتهم.
المصيبة الثّانية: هي أن ((البنطلون)) يحجّم العورة، وعورة الرجل من الرّكبة إلى السرّة. والمصلي يفترض عليه: أن يكون أبعد ما يكون عن أن يعصي الله، وهو له ساجد، فترى إِِليتيه مجسمتين، بل وترى ما بينهما مجسماً!!
--------------------------------------------
[১] * সতর (العورة) প্রকাশকারী আঁটসাঁট পোশাকে সালাত আদায়:আঁটসাঁট ও চেপে থাকা পোশাক পরিধান করা শরয়ী ও চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে অপছন্দীয় (مكروه), কারণ এটি শরীরের জন্য ক্ষতিকর। এমনকি এগুলোর কোনো কোনোটি পরিধানকারীর জন্য সিজদা করাও অসম্ভব করে তোলে। সুতরাং যদি এই পোশাক পরিধানের ফলে সালাত ত্যাগ করার উপক্রম হয়, তবে তা নিশ্চিতভাবে নিষিদ্ধ (حرام), এমনকি তা যদি কিছু ওয়াক্ত সালাতের জন্যও হয়।
অভিজ্ঞতায় প্রমাণিত হয়েছে যে, যারা এই ধরনের পোশাক পরে তাদের অধিকাংশ লোকই সালাত আদায় করে না, অথবা মুনাফিকদের (المنافقين) মতো খুব সামান্যই আদায় করে!! বর্তমান যুগে অনেক মুসল্লি এমন পোশাকে সালাত আদায় করেন যা লজ্জাস্থানদ্বয়ের কোনো একটি বা উভয়টিকেই ফুটিয়ে তোলে!!
হাফিজ ইবনে হাজার আশহাব থেকে বর্ণনা করেছেন—যিনি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কেবল পায়জামা পরে সালাত আদায়ে সীমাবদ্ধ থাকেন—তিনি ওয়াক্তের ভেতরেই সালাত পুনরায় আদায় করবেন, যদি না তা মোটা কাপড়ের হয়। আর কোনো কোনো হানাফী আলেম থেকে এটি অপছন্দনীয় (يكره) হওয়ার বর্ণনা রয়েছে (১)।
এটি ছিল তাদের সেই সময়ের অত্যন্ত প্রশস্ত পায়জামা সম্পর্কে, তাহলে বর্তমানের অত্যন্ত আঁটসাঁট 'প্যান্ট' সম্পর্কে আপনার ধারণা কী হতে পারে!!
আল্লামা আলবানী বলেছেন: "আর 'প্যান্ট' পরিধানের মধ্যে দুটি বিপদ রয়েছে:
প্রথম বিপদ: এটি পরিধানকারী কাফিরদের সাথে সাদৃশ্য রাখে, অথচ মুসলমানরা ঢিলেঢালা প্রশস্ত পায়জামা পরিধান করত, যা সিরিয়া ও লেবাননে এখনও কেউ কেউ পরিধান করে। মুসলমানরা 'প্যান্ট' সম্পর্কে জানত না যতক্ষণ না তারা উপনিবেশবাদের শিকার হয়েছে। এরপর যখন উপনিবেশবাদীরা চলে গেল, তারা তাদের মন্দ প্রভাবগুলো রেখে গেল, যা মুসলমানরা তাদের নির্বুদ্ধিতা ও মূর্খতার কারণে গ্রহণ করে নিয়েছে।
দ্বিতীয় বিপদ: 'প্যান্ট' সতরকে (العورة) আকারবদ্ধ করে বা ফুটিয়ে তোলে। আর পুরুষের সতর (العورة) হলো হাঁটু থেকে নাভি পর্যন্ত। একজন মুসল্লির জন্য অপরিহার্য হলো আল্লাহর অবাধ্যতা থেকে যোজন যোজন দূরে থাকা যখন সে তাঁর সামনে সিজদাবনত থাকে। কিন্তু এমতাবস্থায় আপনি তার নিতম্বদ্বয়কে আকারবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পান, এমনকি তার মধ্যবর্তী স্থানটিও স্পষ্ট ফুটে ওঠে!!
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাউলুল মুবীন ফী আখতাইল মুসাল্লীন
(পৃষ্ঠা: ২১)
فكيف يصلي هذا الإنسان، ويقف بين يدي ربّ العالمين؟
ومن العجب: أن كثيراً من الشباب المسلم، ينكر على النساء لباسهن الضيّق، لأنه يصف جسدهن، وهذا الشباب ينسى نفسه، فإنه وقع فيما ينكر، ولا فرق بين المرأة التي تلبس اللباس الضيّق، الذي يصف جسمها، وبين الشباب الذي يلبس ((البنطلون)) ، وهو أيضاً يصف إِليتيه، فإلية الرجل وإلية المرأة من حيث إنهما عورة، كلاهما سواء، فيجب على الشباب أن ينتبهوا لهذه المصيبة التي عمّتهم إلا مَنْ شاء الله، وقليل ما هم)) (1) .
أما إذا كان ((البنطلون)) واسعاً غير ضيق، صحت فيه الصلاة، والأفضل أن يكون فوقه قميص يستر ما بين السرة والركبة، وينزل عن ذلك إلى نصف الساق، أو إلى الكعب، لأن ذلك أكمل في الستر (2)
--------------------------------------------
তবে এই মানুষটি কীভাবে সালাত আদায় করবে এবং রাব্বুল আলামীনের সামনে দাঁড়াবে?
আশ্চর্যের বিষয় হলো: অনেক মুসলিম যুবক নারীদের আঁটসাঁট পোশাকের নিন্দা করে, কারণ তা তাদের দেহের গঠন প্রকাশ করে দেয়; অথচ এই যুবকেরা নিজেদের কথা ভুলে যায়। তারা নিজেরাই সেই কাজে লিপ্ত হয় যার তারা নিন্দা করে। যে নারী আঁটসাঁট পোশাক পরিধান করে যা তার শরীরের গঠন ফুটিয়ে তোলে, আর যে যুবক প্যান্ট পরিধান করে যা তার নিতম্বের গঠন প্রকাশ করে দেয়—এদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। কেননা পুরুষের নিতম্ব এবং নারীর নিতম্ব সতর হওয়ার দিক থেকে উভয়ই সমান। তাই যুবকদের উচিত এই বিপদের ব্যাপারে সতর্ক হওয়া যা আল্লাহ যাদের ইচ্ছা করেছেন তারা ছাড়া প্রায় সকলকেই গ্রাস করেছে, আর তাদের সংখ্যা খুবই নগণ্য। (১)।
তবে যদি প্যান্ট প্রশস্ত হয় এবং আঁটসাঁট না হয়, তবে তাতে সালাত শুদ্ধ হবে। তবে উত্তম হলো এর উপরে এমন একটি জামা থাকা যা নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত ঢেকে রাখে এবং তা আরও নিচে নেমে পায়ের নলার অর্ধেক পর্যন্ত বা টাখনু পর্যন্ত পৌঁছে, কারণ তা আবরণের ক্ষেত্রে অধিকতর পূর্ণাঙ্গ। (২)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাউলুল মুবীন ফী আখতাইল মুসাল্লীন
(পৃষ্ঠা: ২২)
[2] * الصلاة في الثيّاب الرقيقة الشّفافة:كما تكره الصلاة في الملابس الحازقة، التي بضيقها تحكي العورة وتصف شكلها وحجمها، فإنه لا تجوز الصلاة في الثياب الرقيقة التي تشفّ عما وراءها من البدن، كملابس بعض المفتونين اليوم بهذه الطُرز من الثياب، يقصدون هذه العيوب الشرعيّة قصداً، لأنهم أسرى الشهوات، وعبيد العادات، ولهم مِنْ دعاة الإِباحة مَنْ يرغّبهم فيها، ويفضّلها لهم على غيرها، بأنها من الجديد اللائق، بمجددي الفسق والفجور، وليست من العتيق البالي المذموم، لأنه قديم (1)
!!
ومن هذا الباب:
[1/2] الصّلاة في ملابس النّوم ((البيجامات)) .
أخرج البخاريّ في ((صحيحه)) بسنده إلى أبي هريرة رضي الله عنه قال: قام رجل إلى النبي صلى الله عليه وسلم فسأله عن الصّلاة في الثّوب الواحد، فقال: ((أوَ كلّكم يجد ثوبين)) ؟! ثم سأل رجل عمر، فقال: إذا وسّع اللهُ فأوسعوا: صلّى رجل في إزارٍ ورداء، في إزار وقميص، في إزار وقباء، في سراويل ورداء، في سراويل وقميص، في سراويل وقباء، في تُبّان وقباء، في تُبّان وقميص (2)
--------------------------------------------
[২] * পাতলা ও স্বচ্ছ পোশাকে নামাজ আদায় করা:যেমন আঁটসাঁট পোশাকে নামাজ আদায় করা মাকরুহ (مكروه), যা তার সংকীর্ণতার কারণে সতর প্রকাশ করে দেয় এবং এর আকার ও আকৃতি ফুটিয়ে তোলে, তেমনি এমন পাতলা কাপড়ে নামাজ আদায় করা বৈধ নয় যা শরীরের ত্বক প্রকাশ করে দেয়। যেমনটি বর্তমানে আধুনিকতার মোহে আচ্ছন্ন কিছু মানুষের পোশাকের ক্ষেত্রে দেখা যায়, যারা উদ্দেশ্যমূলকভাবে এই শরয়ী ত্রুটিগুলো বেছে নেয়; কারণ তারা কুপ্রবৃত্তির বন্দী এবং কুঅভ্যাসের দাস। আর তাদের জন্য অবাধ স্বাধীনতার কিছু আহ্বানকারী রয়েছে যারা তাদের এই পোশাকের প্রতি প্রলুব্ধ করে এবং অন্যান্য পোশাকের তুলনায় একেই শ্রেষ্ঠত্ব দেয়—এই বলে যে, এটি আধুনিক পাপাচার ও পঙ্কিলতার অনুসারীদের জন্য উপযুক্ত নতুন ফ্যাশন, এবং এটি প্রাচীন জীর্ণ ও নিন্দনীয় বিষয় নয় কেবল পুরাতন হওয়ার কারণে (১)
!!
এবং এই পরিচ্ছেদের অন্তর্ভুক্ত হলো:
[১/২] ঘুমের পোশাকে (পায়জামা) নামাজ আদায় করা।
ইমাম বুখারি তাঁর ‘সহীহ’ গ্রন্থে তাঁর সনদ (سند) সহকারে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট দাঁড়িয়ে এক কাপড়ে নামাজ আদায় করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি বললেন: ‘‘তোমাদের সবার কি দুটি করে কাপড় আছে?!’’ এরপর এক ব্যক্তি উমর (রা.)-কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: আল্লাহ যখন স্বচ্ছলতা দান করেছেন, তখন তোমরাও স্বচ্ছলতা অবলম্বন করো। কোনো ব্যক্তি লুঙ্গি ও চাদরে, লুঙ্গি ও কামিজে, লুঙ্গি ও কাবায় (এক ধরণের লম্বা বিশেষ পোশাক), প্যান্ট ও চাদরে, প্যান্ট ও কামিজে, প্যান্ট ও কাবায়, জাঙ্গিয়া (তুব্বান) ও কাবায় অথবা জাঙ্গিয়া ও কামিজে নামাজ আদায় করতে পারে (২)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাউলুল মুবীন ফী আখতাইল মুসাল্লীন
(পৃষ্ঠা: ২৩)
ورأى عبد الله بن عمر نافعاً يصلي في خلوته، في ثوبٍ واحدٍ، فقال له: ألم أكسك ثوبين؟
قال: بلى. قال: أفكنت تخرج إلى السوق في ثوبٍ واحد؟ . قال: لا. قال: فالله أحق أن يتجمّل له (1) .
وهكذا مَنْ يصلّي في ملابس النوم، فإنه يستحيي أن يخرج إلى السوق بها، لرقّتها وشفافيتها.
قال ابن عبد البر في ((التمهيد)) : (6/369) : ((إن أهل العلم يستحبّون للواحد المطق على الثياب، أن يتجمّل في صلاته ما استطاع بثيابه، وطيبه، وسواكه)) .
قال الفقهاء في مبحث شروط صحة الصّلاة: مبحث ستر العورة: ((ويشترط في الساتر أن يكون كثيفاً، فلا يجزىء الساتر الرقيق، الذي يصف لون البشرة)) (2) .
وهذا في حق الذّكر والأنثى، سواء صلّى منفرداً أم جماعةً، فكلّ مَنْ كشف عورته مع القدرة على سترها، لا تصح صلاته، ولو كان منفرداً في مكانٍ مظلم للإجماع على أنه فرض في الصلاة، ولقوله تعالى: {يَا بَنِي آدَمَ خُذُواْ زِينَتَكُمْ عِندَ كُلِّ مَسْجِدٍ} (3)
--------------------------------------------
আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) নাফে‘-কে নির্জনে এক পোশাকে সালাত আদায় করতে দেখলেন। তিনি তাকে বললেন: আমি কি তোমাকে দুটি পোশাক পরিধান করাইনি?
তিনি বললেন: অবশ্যই। ইবনে উমর বললেন: তুমি কি বাজারে এক পোশাকে বের হতে? তিনি বললেন: না। তখন ইবনে উমর বললেন: আল্লাহর সামনে সৌন্দর্য অবলম্বন করাই অধিক যুক্তিযুক্ত (১)।
একইভাবে যারা ঘুমের পোশাকে সালাত আদায় করে, তারা এই পোশাকের পাতলা ও স্বচ্ছ হওয়ার কারণে এটি পরে বাজারে বের হতে লজ্জা পায়।
ইবনে আব্দুল বার আল-তামহিদ গ্রন্থে (৬/৩৬৯) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আলেমগণ সামর্থ্যবান ব্যক্তির জন্য তার সাধ্যমতো পোশাক, সুগন্ধি এবং মিসওয়াক ব্যবহারের মাধ্যমে সালাতে সৌন্দর্য অবলম্বন করাকে পছন্দনীয় মনে করেন।"
সালাত সহীহ (صحيح) হওয়ার শর্তাবলি পরিচ্ছেদে সতর (عورة) ঢাকার আলোচনায় ফকিহগণ বলেছেন: "আবরণকারী পোশাকের জন্য শর্ত হলো তা ঘন হওয়া; সুতরাং পাতলা পোশাক যা চামড়ার রঙ ফুটিয়ে তোলে তা যথেষ্ট হবে না" (২)।
এটি নারী ও পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, চাই সে একাকী সালাত আদায় করুক কিংবা জামাতে। সুতরাং সতর (عورة) ঢাকার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি তা উন্মুক্ত রাখে, তার সালাত সহীহ (صحيح) হবে না; যদিও সে অন্ধকার স্থানে একাকী থাকে। কারণ সালাতে সতর ঢাকা ফরজ (فرض) হওয়ার বিষয়ে ইজমা (إجماع) রয়েছে এবং মহান আল্লাহর বাণী: {হে বনী আদম! তোমরা প্রত্যেক সালাতের সময় তোমাদের সাজসজ্জা গ্রহণ করো} (৩)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাউলুল মুবীন ফী আখতাইল মুসাল্লীন
(পৃষ্ঠা: ২৪)
المراد بالزّينة: محلها وهو الثّوب، وبالمسجد الصّلاة، أي: البسوا ما يواري عورتكم عند كلّ صلاة (1) .
ومن هذا الباب:
[2/2] صلاة بعضهم في الثوب الساتر للجسد ((دشداش)) رقيق، يصف لون البشرة، دون سروالٍ تحته (2) . وفي مقولة عمر السّابقة، التي قدم فيها أكثر الملابس ستراً، أو أكثرها استعمالاً، وضمّ إلى كلّ واحدٍ واحداً، ولم يقصد الحصر في ذلك، بل يلحق بذلك ما يقوم مقامه، دليلٌ على وجوب الصّلاة في الثياب الساترة، وأن الاقتصار على الثّوب الواحد، كان لضيق الحال، وفيه: أن الصّلاة في الثوبين، أفضل من الثّوب الواحد،
وصرّح القاضي عياض بنفي الخلاف في ذلك (3) .
قال الإمام الشافعي: ((وإن صلى في قميص (4) يشف عنه، لم تجزه الصّلاة)) (5) .
وقال: [3/2] ((والمرأة في ذلك أشدّ حالاً من الرجل، إذا صلّت في درع وخمار، يصفها الدّرع، وأحب إليّ أن لا تصلي في جلباب فوق ذلك، وتجافيه عنها لئلا يصفها الدّرع)) (6) .
--------------------------------------------
সৌন্দর্য (যীনাত) বলতে এর স্থান অর্থাৎ পোশাককে বোঝানো হয়েছে, আর মসজিদ বলতে সালাতকে বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ: প্রত্যেক সালাতের সময় তোমরা তোমাদের সতর বা লজ্জাস্থান আবৃতকারী পোশাক পরিধান করো (১)।
আর এই পরিচ্ছেদের অন্তর্ভুক্ত হলো:
[২/২] শরীরের জন্য আবরণকারী পাতলা জামা (দিশদাশ) পরিধান করে কারো কারো সালাত আদায় করা, যা শরীরের চামড়ার রং ফুটিয়ে তোলে এবং যার নিচে কোনো পায়জামা থাকে না (২)। উমর (রা.)-এর পূর্বোক্ত বক্তব্যে—যেখানে তিনি সর্বাধিক আবরণকারী অথবা সর্বাধিক ব্যবহৃত পোশাকগুলোকে প্রাধান্য দিয়েছেন এবং প্রত্যেকটির সাথে অন্য একটিকে যুক্ত করেছেন, আর এর মাধ্যমে তিনি কেবল এগুলোতেই সীমাবদ্ধ রাখতে চাননি, বরং যা এর স্থলাভিষিক্ত হয় তাকেও এর অন্তর্ভুক্ত করেছেন—তাতে আবরণকারী পোশাকে সালাত আদায়ের আবশ্যকতা (وجوب)-এর প্রমাণ রয়েছে। আর একটি মাত্র কাপড়ে সীমাবদ্ধ থাকা ছিল অভাবগ্রস্ত বা সংকীর্ণ অবস্থার কারণে। এতে আরও প্রমাণিত হয় যে, এক কাপড়ের চেয়ে দুই কাপড়ে সালাত আদায় করা উত্তম (أفضل),
কাজী আয়াজ এ বিষয়ে মতপার্থক্য না থাকার বিষয়টি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন (৩)।
ইমাম শাফিঈ বলেছেন: “যদি কেউ এমন কামিজ (৪) পরিধান করে সালাত আদায় করে যা শরীরকে দৃশ্যমান করে তোলে, তবে তার সালাত যথেষ্ট হবে না” (৫)।
তিনি আরও বলেছেন: [৩/২] “এক্ষেত্রে নারীদের অবস্থা পুরুষের চেয়েও কঠিন; যখন সে এমন কামিজ ও ওড়না পরিধান করে সালাত আদায় করে যা তার দেহের অবয়ব ফুটিয়ে তোলে। আমার নিকট এটি অধিক পছন্দনীয় যে, সে এর ওপর একটি জিলবাব পরিধান করবে এবং তা দেহ থেকে পৃথক রাখবে যাতে কামিজটি তার শরীরের গঠন ফুটিয়ে তুলতে না পারে” (৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাউলুল মুবীন ফী আখতাইল মুসাল্লীন
(পৃষ্ঠা: ২৫)
فعلى المرأة أن لا تصلي في الملابس الشفافة من ((النّايلون)) و ((الشيفون)) ، فإنها لا تزال كاسية سافرة، ولو غطى الثوب بدنها كله، حتى لو كان فضفاضاً. ودليل ذلك:
قوله صلى الله عليه وسلم: ((سيكون في آخر أمتي نساء كاسيات عاريات
… )) (1) .
قال ابن عبد البر: ((أراد صلى الله عليه وسلم: النساء اللواتي يلبسن من الثياب، الشيء الخفيف، الذي يصف ولا يستر، فهن كاسيات بالاسم، عاريات في الحقيقة)) (2) .
وعن هشام بن عروة: أن المنذر بن الزّبير قدم من العراق، فأرسل إلى أسماء بنت أبي بكر بكسوة من ثياب مرويّة وقوهية – من نسيج ((قوهستان)) ناحية بخراسان – رقاق عتاق، بعدما كفّ بصرها، قال: فلمستها بيدها، ثم قالت: أف، ردّوا عليه كسوته. قال: فشقّ ذلك عليه، وقال: يا أمّة، إنه لايشف. قالت: إنها إن لم تشف، فإنها تصف (3) .
قال السفاريني في ((غذاء الألباب)) : ((إذا كان اللباس خفيفاً، يبدي – لرقّته وعدم ستره – عورة لابسه، من ذكر أو أنثى فذلك ممنوع، محرّم على لابسه، لعدم سترة العورة المأمور بسترها شرعاً، بلا خلاف)) (4)
وقال الشوكاني في ((نيل الأوطار)) : (2/115) : ((يجب على المرأة أن تستر بدنها بثوب لا يصفه، وهذا شرط ساتر العورة)) .
--------------------------------------------
নারীদের জন্য 'নাইলন' ও 'শিফন'-এর মতো স্বচ্ছ পোশাকে সালাত আদায় করা উচিত নয়; কারণ এর ফলে তারা পোশাক পরিহিতা হওয়া সত্ত্বেও অনাবৃতই থেকে যায়, যদিও সেই পোশাক পুরো শরীর ঢেকে রাখে এবং তা ঢিলেঢালাও হয়। এর প্রমাণ হলো:
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: ((আমার উম্মতের শেষ যুগে এমন কিছু নারী হবে যারা পোশাক পরিহিতা কিন্তু উলঙ্গ
… )) (১)।
ইবনে আব্দুল বার বলেন: ((রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দ্বারা সেই নারীদের বুঝিয়েছেন যারা এমন পাতলা পোশাক পরিধান করে যা শরীরের গঠন ফুটিয়ে তোলে এবং শরীর আবৃত করে না; ফলে তারা নামে মাত্র পরিহিতা হলেও বাস্তবে উলঙ্গ)) (২)।
হিশাম ইবনে উরওয়াহ থেকে বর্ণিত: আল-মুনযির ইবনে যুবাইর ইরাক থেকে ফিরে আসমা বিনতে আবি বকর (রা.)-এর নিকট 'মারওয়াহ' ও 'কুহিয়্যাহ'—যা খোরাসানের 'কুহিস্তান' অঞ্চলের বুনন—জাতীয় কিছু পাতলা ও উন্নত মানের কাপড় উপহার পাঠান। তখন তিনি দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছিলেন। বর্ণনাকারী বলেন: তিনি হাত দিয়ে কাপড়গুলো স্পর্শ করলেন এবং বললেন: "উফ! তার কাপড় তাকে ফিরিয়ে দাও।" এতে মুনযির কষ্ট পেলেন এবং বললেন: "হে আম্মা, এগুলো তো স্বচ্ছ নয়।" তিনি বললেন: "যদি তা স্বচ্ছ না-ও হয়, তবে তা অবশ্যই শরীরের গঠন ফুটিয়ে তোলে" (৩)।
সাফফারিনী 'গিজাউল আলবাব' গ্রন্থে বলেন: ((যদি পোশাক পাতলা হওয়ার কারণে পরিধানকারীর—চাই সে পুরুষ হোক বা নারী—সতর প্রকাশ করে দেয়, তবে তা পরিধান করা নিষিদ্ধ এবং হারাম; কারণ এর মাধ্যমে শরীয়ত নির্দেশিত সতর ঢাকা হয় না, এ বিষয়ে কোনো দ্বিমত নেই)) (৪)
শাওকানী 'নাইলুল আওতার' (২/১১৫) গ্রন্থে বলেন: ((নারীর ওপর ওয়াজিব হলো এমন কাপড় দ্বারা শরীর আবৃত করা যা শরীরের গঠন ফুটিয়ে তোলে না, আর এটিই সতর আবৃত করার শর্ত))।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাউলুল মুবীন ফী আখতাইল মুসাল্লীন
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وذكر بعضُ الفقهاء أن الثياب التي تشف في بادىء النظر، وجودها كعدمها (1) ، وعليه فلا صلاة للابسها.
وصرّح بعضهم أن زيّ السلف لم يكن محدّداً للعورة بذاته لرقّته، أو بغيره، أو لضيقة وإحَاطته (2)
[3] * الصّلاة والعورة مكشوفة: يقع في الخطأ، الأصناف التّالية من النّاس:[1/3] أولاً: مَنْ يلبس ((البنطلون)) الذي يحجم العورة أو يصفها ويشفها، ويلبس قميصاً قصيراً، وعند الركوع والسجود ينحسر القميص عن ((البنطلون)) ، ويظهر ظهر المصلي وجزء من سوأته - في بعض الأحايين إن لم يكن في معظمها - وبهذا تكون قد ظهرت عورته المغلّظة، وهو راكع أو ساجد لله سبحانه، ونعوذ بالله من الجهل والجهلاء، لأن كشف العورة في هذه الحالة، تؤدي إلى بطلان الصّلاة، والسبب في ذلك ((البنطلون)) المستورد من دول الكفر (3) .
قال الشيخ عبد الله بن عبد الرحمن الجيرين منبّهاً على بعض الأخطاء التي يفعلها بعض المصلين في صلاتهم: ((كثير من الناس الذين لا يلبسون الثياب السابغة، وإنما يلبس أحدهم السراويل وفوقه جبّة (قميص) على الصّدر والظهر، فإذا ركع تقلصت الجبّة، وانحسرت السّراويل، فخرج بعضُ الظهر، وبعضُ العجز، مما هو عورة، بحيث يراه مَنْ خلفه، وخروج بعض العورة، يبطل الصّلاة (4) .
[2/3] ثانياً: مَنْ لم تتعاهد ملابسها ولم تكن حريصةً على ستر جميع بدنها، وهي بين
--------------------------------------------
কিছু ফকিহ (فقهاء) উল্লেখ করেছেন যে, যে সকল পোশাক প্রথম দর্শনেই শরীরকে দৃশ্যমান করে তোলে, সেগুলোর অস্তিত্ব না থাকার মতোই গণ্য (১); ফলে এ ধরনের পোশাক পরিধানকারীর সালাত শুদ্ধ হবে না।
তাঁদের কেউ কেউ স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন যে, সালাফদের (سلف) পোশাক অত্যন্ত পাতলা হওয়ার কারণে সতর (عورة) ফুটিয়ে তোলার মতো ছিল না, কিংবা অন্য কোনো কারণে বা সংকীর্ণ ও শরীর লেপ্টে থাকার কারণেও তা সতরকে সংজ্ঞায়িত করত না (২)।
[৩] * সতর (عورة) উন্মুক্ত অবস্থায় সালাত: নিম্নোক্ত শ্রেণির মানুষ এই ভুলের মধ্যে নিপতিত হয়:[১/৩] প্রথমত: যারা এমন 'প্যান্ট' পরিধান করে যা সতরকে (عورة) ফুটিয়ে তোলে অথবা তার অবয়ব প্রকাশ করে দেয় এবং তা পাতলা হয়, আর সাথে এমন ছোট কামিজ পরিধান করে যে, রুকু ও সিজদাহ করার সময় কামিজটি প্যান্টের ওপর থেকে সরে যায় এবং মুসল্লির পিঠ ও লজ্জাস্থানের (سوأة) কিছু অংশ প্রকাশ হয়ে পড়ে—অধিকাংশ সময় না হলেও মাঝেমধ্যে এমনটি ঘটে থাকে। এর ফলে রুকু বা সিজদাহ করা অবস্থায় তার আওরাতে মুগাল্লাজাহ (عورة مغلظة) তথা প্রধান সতর প্রকাশ হয়ে পড়ে। আমরা অজ্ঞতা ও অজ্ঞ ব্যক্তিদের থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। কারণ এই অবস্থায় সতর (عورة) প্রকাশ হয়ে যাওয়া সালাত বাতিল (بطلان) হওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আর এর মূলে রয়েছে কুফরি রাষ্ট্রসমূহ থেকে আমদানিকৃত এই 'প্যান্ট' (৩)।
শায়খ আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান আল-জিবরীন সালাতে কিছু মুসল্লির কৃত কিছু ভুল সম্পর্কে সতর্ক করে বলেন: "অনেক মানুষ এমন আছে যারা প্রশস্ত পোশাক পরিধান করে না, বরং তাদের কেউ পায়জামা এবং তার ওপর বুক ও পিঠ ঢেকে রাখে এমন কামিজ পরিধান করে। যখন সে রুকু করে, তখন কামিজটি সংকুচিত হয়ে যায় এবং পায়জামাটি সরে যায়, ফলে পিঠের কিছু অংশ এবং নিতম্বের (عجز) কিছু অংশ বের হয়ে পড়ে যা সতরের (عورة) অন্তর্ভুক্ত; এমনকি পিছনের ব্যক্তিও তা দেখতে পায়। আর সতরের (عورة) কিছু অংশ প্রকাশ হয়ে পড়া সালাতকে বাতিল (باطل) করে দেয় (৪)।
[২/৩] দ্বিতীয়ত: যে নারী তার পোশাকের রক্ষণাবেক্ষণ করে না এবং তার পুরো শরীর আবৃত (ستر) করার বিষয়ে যত্নশীল নয়, এমতাবস্থায় সে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাউলুল মুবীন ফী আখতাইল মুসাল্লীন
(পৃষ্ঠা: ২৭)
يدي ربّها عز وجل، إما جهلاً أو كسلاً أو عدم مبالاة.
واتَّفق الجمهور على أن اللباس المجزىء للمرأة في الصّلاة، هو درع وخمار (1) .
فقد تدخل إحداهُنّ في الصّلاة وشعرها أو جزءٌ منه أو مِنْ ساعدها أو ساقها، وهو
مكشوف، وحينئذ فعليها ـ عند جمهور أهل العلم ـ أن تعيد في الوقت وبعده.
ودليل ذلك ما روته السيدة عائشة رضي الله عنها أن النّبيّ صلى الله عليه وسلم قال: ((لا يقبل الله صلاة حائضٍ إلاّ بِخِمارٍ)) (2) .
والمراد بالحائض: الموصوفة بكونها من أهل الحيض، لا مَنْ يجري دمها، فالحائض وصف عام، يقال على مَن لها ذلك وصفاً، إن لم يكن قائماً بها (3) .
وسئلت أم سلمة رضي الله عنها: ماذا تصلّي فيه المرأة من الثّياب؟ فقالت:
--------------------------------------------
...তাঁর মহান ও পরাক্রমশালী প্রতিপালকের সামনে, অজ্ঞতা, অলসতা অথবা উদাসীনতার কারণে।
জমহুর (الجمهور) ওলামায়ে কেরাম একমত হয়েছেন যে, সালাতে নারীর জন্য পর্যাপ্ত পোশাক হলো একটি কামিজ ও ওড়না (১)।
কখনও তাদের কেউ সালাতে প্রবেশ করেন এমতাবস্থায় যে, তার চুল অথবা এর কিছু অংশ অথবা তার হাত বা পায়ের নলা অনাবৃত থাকে; এমতাবস্থায় জমহুর (جمهور) আহলে ইলমের মতে—তাকে ওয়াক্তের মধ্যে এবং ওয়াক্ত চলে যাওয়ার পরেও তা পুনরায় আদায় করতে হবে।
এর দলিল হলো সাইয়িদা আয়েশা (রা.) হতে বর্ণিত একটি হাদিস, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: "আল্লাহ তাআলা কোনো ঋতুবতী (حائض) নারীর সালাত ওড়না ছাড়া কবুল করেন না" (২)।
এখানে ঋতুবতী (حائض) বলতে উদ্দেশ্য হলো: যারা ঋতুস্রাব হওয়ার বয়সে উপনীত হয়েছে এমন নারী, বর্তমানে ঋতুস্রাব প্রবাহিত হওয়া নারী নয়। সুতরাং ঋতুবতী (حائض) একটি সাধারণ গুণবাচক শব্দ, যা এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে বলা হয় যার এই গুণের যোগ্যতা রয়েছে, যদিও বর্তমানে তা বিদ্যমান না থাকে (৩)।
উম্মে সালামাহ (রা.)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: নারী কোন ধরনের পোশাকে সালাত আদায় করবে? তিনি উত্তরে বললেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাউলুল মুবীন ফী আখতাইল মুসাল্লীন
(পৃষ্ঠা: ২৮)
في الخمار والدّرع السّابغ، الذي يغيب ظهور قدميها (1) .
وسئل الإمام أحمد: المرأة في كم ثوبٍ تصلّي؟ قال: أقلّه: درع وخمار، وتغطّي رجليها، ويكون درعاً سابغاً، يغطي رجليها (2) .
وقال الإمام الشافعي: ((وعلى المرأة أن تغطي في الصلاة كل شيء، ما عدا كفيها ووجهها)) .
وقال أيضاً: ((وكل المرأة عورة إلا كفيها ووجهها، وظهر قدميها عورة، فإذا انكشف الرجل في صلاته شيء مما بين سرّته وركبته، ومن المرأة في صلاتها شيء من شعرها، قلَّ أو كثر، ومن جسدها سوى وجهها وكفيها ومما يلي الكف من موضع مفصلها ولا يعدوه ـ علما أو لم يعلما ـ أعادا الصلاة معاً، إلا أن يكون تنكشف بريح أو سقطة، ثم يعاد مكانه، لا لبث في ذلك، فإن لبث بعدها قدر ما يمكنه إذا عالجه إعادته مكانه: أعاد، وكذلك هي)) (3)
--------------------------------------------
ওড়না এবং এমন ঝুলন্ত বড় জামা পরিধান করে, যা তার পায়ের উপরিভাগকে ঢেকে রাখে (১)।
ইমাম আহমাদকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: নারী কয়টি কাপড়ে সালাত আদায় করবে? তিনি বললেন: সর্বনিম্ন: একটি বড় জামা ও একটি ওড়না, এবং সে তার দুই পা ঢেকে রাখবে; আর জামাটি হতে হবে ঝুলন্ত ও প্রশস্ত, যা তার দুই পা ঢেকে ফেলে (২)।
ইমাম শাফেঈ বলেছেন: "নারীর জন্য সালাতে তার উভয় হাতের কবজি এবং মুখমণ্ডল ব্যতীত সবকিছু ঢেকে রাখা আবশ্যক।"
তিনি আরও বলেছেন: "নারীর সম্পূর্ণ শরীরই সতর বা আবরণযোগ্য, কেবল তার দুই হাতের কবজি এবং মুখমণ্ডল ব্যতীত। তার পায়ের উপরিভাগও সতরের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং সালাতরত অবস্থায় পুরুষের নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত অংশের কোনো কিছু এবং নারীর চুলের কোনো অংশ—তা অল্প হোক বা বেশি—কিংবা তার মুখমণ্ডল, দুই হাতের কবজি এবং কবজি সংলগ্ন সন্ধিস্থল ব্যতীত শরীরের অন্য কোনো অংশ যদি অনাবৃত হয়ে পড়ে—তারা তা জানুক বা না জানুক—তবে তারা উভয়েই পুনরায় সালাত আদায় করবে। তবে যদি বাতাসের কারণে বা পড়ে যাওয়ার ফলে হঠাৎ অনাবৃত হয় এবং সাথে সাথেই তা ঢেকে ফেলা হয় ও কোনো বিলম্ব না করা হয়, তবে ভিন্ন কথা। কিন্তু যদি তা পুনরায় ঢেকে দিতে সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও ঢেকে ফেলতে যতটুকু সময়ের প্রয়োজন তার চেয়ে বেশি বিলম্ব করে, তবে তাকে পুনরায় সালাত আদায় করতে হবে; নারীর ক্ষেত্রেও একই হুকুম।" (৩)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাউলুল মুবীন ফী আখতাইল মুসাল্লীন
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وعليه: فعلى المسلمات أن يعتنين بملابسهن في الصّلاة ـ فضلاً عن خارجها ـ وكثير منهن ((يبالغن في ستر أعلى البدن، أعني الرأس، فيسترن الشّعر والنحر، ثم لا يبالين بما دون ذلك، فيلبسن الألبسة الضيقة والقصيرة، التي لا تتجاوز نصف السّاق!! أو يسترن النصف الآخر بالجوارب اللحمية، التي تزيده جمالاً.
وقد تصلي بعضُهنّ بهذه الهيئة، فهذا لايجوز، ويجب عليهن، أن يبادرن إلى إتمام الستر، كما أمر الله تعالى، أسوة بنساء المهاجرين الأولين، حين نزل الأمر بضرب الخمر، شققن مروطهن، فاختمرن بها، ولكننا لا نطالبهن بشقّ شيء من ثيابهن، وإنما بإطالته وتوسيعه، حتى يكون ثوباً ساتراً! )) (1) .
ولما اشتهر لبسُ الجلباب القصير في بعض البلاد الإسلاميّة بين كثير من الفتيات المؤمنات، والصّلاة به، رأيتُ أن أُبيّن ـ بإيجازٍ ـ أن قدم المرأة وساقها عورة، فأقول وبالله التّوفيق: قال تعالى: {وَلَا يَضْرِبْنَ بِأَرْجُلِهِنَّ لِيُعْلَمَ مَا يُخْفِينَ مِن زِينَتِهِنَّ} (2) .
ووجه الدلالة من الآية: أن النّساء يجب عليهن أن يسترن أرجلهنّ أيضاً. وإلا لاستطاعت
إحداهُنّ أن تبدي ما تخفي من الزينة ـ وهي الخلاخيل ـ ولاستغنت بذلك عن الضّرب بالرّجل،
ولكنها كانت لا تستطيع ذلك، لأنه مخالفة للشّرع مكشوفة، ومثل هذه المخالفة، لم تكن معهودة
في عصر الرسالة، ولذلك كانت إحداهن تحتال بالضّرب بالرّجل، لتعلم الرّجال ما تخفي من الزّينة، فنهاهن الله تعالى عن ذلك.
وبناءً على ما أوضحنا، قال ابن حزم: ((هذا نص على أن الرّجلين والساقين، مما يخفي، ولا يحلّ إبداؤه)) (3) .
--------------------------------------------
এর প্রেক্ষিতে: মুসলিম নারীদের উচিত সালাতের মধ্যে তাদের পোশাকের প্রতি যত্নবান হওয়া—সালাতের বাইরের কথা তো বলাই বাহুল্য—তাদের মধ্যে অনেকেই ((শরীরের উপরিভাগ অর্থাৎ মাথা ঢেকে রাখার ব্যাপারে খুব কড়াকড়ি করেন; তারা চুল ও গলা ঢেকে রাখেন, কিন্তু এরপর নিচের অংশের ব্যাপারে কোনো পরোয়া করেন না। ফলে তারা এমন আঁটসাঁট ও খাটো পোশাক পরিধান করেন যা নলার অর্ধাংশও অতিক্রম করে না!! অথবা তারা নলার বাকি অর্ধেক অংশ চামড়ার রঙের মোজা দিয়ে ঢেকে রাখেন, যা মূলত এর সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দেয়।
কখনো কখনো তাদের কেউ কেউ এই অবস্থায় সালাত আদায় করেন, অথচ এটি বৈধ (جائز) নয়। তাদের ওপর আবশ্যক (واجب) হলো মহান আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী দ্রুত পরিপূর্ণভাবে সতর করার দিকে মনোনিবেশ করা, যেমনটি প্রথম যুগের মুহাজির নারীগণ করেছিলেন; যখন খিমার ব্যবহারের নির্দেশ অবতীর্ণ হলো, তখন তারা তাদের চাদর ছিঁড়ে তা দিয়ে খিমার তৈরি করে নিয়েছিলেন। তবে আমরা তাদের কাপড় ছিঁড়তে বলছি না, বরং তা দীর্ঘ ও প্রশস্ত করার আহ্বান জানাচ্ছি, যাতে তা একটি আবরণকারী পোশাকে পরিণত হয়! )) (১) ।
যেহেতু কিছু ইসলামি দেশে অনেক মুমিন তরুণীর মাঝে খাটো জিলবাব পরিধান করা এবং তা পরে সালাত আদায়ের বিষয়টি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, তাই আমি সংক্ষেপে এটি স্পষ্ট করা প্রয়োজন মনে করছি যে, নারীর পা ও নলা সতর (عورة)। আমি আল্লাহর তাওফিকে বলছি: মহান আল্লাহ বলেন: {আর তারা যেন তাদের পা সজোরে নিক্ষেপ না করে যাতে তাদের গোপন করা সৌন্দর্য প্রকাশ পায়} (২) ।
আয়াতটি থেকে দলিলের পদ্ধতি হলো: নারীদের ওপর তাদের পা-ও ঢেকে রাখা আবশ্যক (واجب)। অন্যথায় তাদের কেউ তার লুকায়িত সৌন্দর্য—অর্থাৎ নূপুর—প্রকাশ করে দিতে পারত এবং সেক্ষেত্রে সজোরে পা ফেলার আর প্রয়োজন হতো না।
কিন্তু তারা তা করতে পারত না, কারণ তা ছিল শরিয়তের সুস্পষ্ট পরিপন্থী কাজ। আর এ জাতীয় অবাধ্যতা নবুয়তের যুগে পরিচিত ছিল না। এই কারণেই তাদের কেউ কেউ সজোরে পা ফেলে কৌশল অবলম্বন করত যেন পুরুষেরা তাদের লুকায়িত সৌন্দর্য জানতে পারে। ফলে মহান আল্লাহ তাদের তা থেকে নিষেধ করেছেন।
আমরা যা স্পষ্ট করেছি তার ভিত্তিতে ইবনে হাজম বলেন: ((এটি একটি সুস্পষ্ট পাঠ (نص) যে, দুই পা ও নলা সেই সব অঙ্গের অন্তর্ভুক্ত যা আবৃত রাখা হয় এবং তা প্রকাশ করা বৈধ (حلال) নয়)) (৩) ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাউলুল মুবীন ফী আখতাইল মুসাল্লীন
(পৃষ্ঠা: ৩০)
ويشهد لهذا من السنّة:
حديث ابن عمر رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((مَنْ جرّ ثوْبه خيلاء، لم ينظر الله إليه يوم القيامة)) .
فقالت أم سلمة: فكيف يصنع النّساءُ بذيولهنّ؟ قال: يرخين شبراً (1) . فقالت: إذن تنكشف أقدامهن! قال: فيرخينه ذراعاً، لا يزدن عليه.
وفي رواية: ((رخص رسول الله صلى الله عليه وسلم لأمهات المؤمنين شبراً، ثم استزدنه، فزادهنّ شبراً، فكن يرسلن إلينا، فنذرع لهن ذراعاً)) (2) .
وأفادت هذه الرواية: قدر الذّراع المأذون فيه، وأنه شبران بشبر اليد
--------------------------------------------
সুন্নাহ থেকে এর সপক্ষে প্রমাণ পাওয়া যায়:
ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি অহংকারবশত নিজের কাপড় (মাটির উপর দিয়ে) টেনে নিয়ে চলে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার দিকে (রহমতের দৃষ্টিতে) তাকাবেন না।"
তখন উম্মে সালামাহ (রা.) প্রশ্ন করলেন: তাহলে মহিলারা তাদের কাপড়ের ঝুল নিয়ে কী করবে? তিনি বললেন: তারা এক বিঘত পরিমাণ ঝুলিয়ে রাখবে (১)। উম্মে সালামাহ (রা.) বললেন: তবে তো তাদের পা অনাবৃত হয়ে পড়বে! তিনি (সা.) বললেন: তবে তারা এক হাত পরিমাণ ঝুলাবে, এর বেশি আর বৃদ্ধি করবে না।
অন্য এক বর্ণনা (رواية)-এ এসেছে: "রাসূলুল্লাহ (সা.) উম্মুল মুমিনীনদের জন্য এক বিঘত পরিমাণ ঝুলাবার অনুমতি দিয়েছিলেন, পরবর্তীতে তাঁরা আরো বৃদ্ধির আবেদন জানালে তিনি তাঁদেরকে আরও এক বিঘত বাড়িয়ে দেন; ফলে তাঁরা আমাদের নিকট লোক পাঠাতেন এবং আমরা তাঁদের জন্য এক হাত পরিমাণ মেপে দিতাম" (২)।
এই বর্ণনা (رواية) থেকে অনুমোদিত এক হাতের মাপের পরিমাণ জানা যায়, আর তা হলো (সাধারণ) হাতের দুই বিঘত পরিমাণ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাউলুল মুবীন ফী আখতাইল মুসাল্লীন
(পৃষ্ঠা: ৩১)
المعتدلة، قال البيهقي: ((وفي هذا دليل على وجوب ستر قدميها)) (1)
ويستفاد من كلمة ((رخّص)) ومن سؤال أم سلمة السّابق: ((فكيف يصنع النساء
بذيولهن)) بعد سماعها وعيد جرِ الثّوب: التعقّب على مَنْ قال: إن الأحاديث المطلقة في الزّجر عن الإسبال مقيّدة بالأحاديث الأخرى المصرّحة بمن فعله خيلاء.
ووجه التعقّب: أنّه لو كان كذلك لما كان في استفسار أم سلمة عن حكم النّساء في جرّ ذيولهنّ معنى، بل فهمت الزّجر عن الإسبال مطلقاً، سواء كان عن مخيلة أم لا، فسألت عن حكم النساء في ذلك لاحتياجهنّ إلى الإسبال من أجل ستر العورة، لأن جميع قدمها عورة، فبيّن لها: أن حكمهنّ في ذلك خارج عن حكم الرّجال في هذا المعنى فقط.
وقد نقل عياض الإجماع على أن المنع في حقِّ الرّجال دون النّساء، ومراده منع الإسبال، لتقريره صلى الله عليه وسلم أم سلمة على فهمها.
والحاصل: أن للرجل حالين:
حال استحباب: وهو أن يقتصر بالإزار على نصف السّاق.
حال جواز: وهو إلى الكعبين.
وكذلك للنّساء حالان:
حال استحباب: وهو ما يزيد على ما هو جائز للرّجال، بقدر الشبر.
حال جواز: بقدر الذّراع (2) .
--------------------------------------------
ভারসাম্যপূর্ণ (অবস্থান), ইমাম বায়হাকী বলেন: "এর মধ্যে নারীর দুই পা আবৃত রাখার আবশ্যকতা (وجوب) হওয়ার দলিল রয়েছে।" (১)
"অনুমতি দিয়েছেন (رخص)" শব্দ এবং উম্মে সালামার পূর্ববর্তী প্রশ্ন: "তাহলে মহিলারা তাদের কাপড়ের আঁচল বা ঝুলের ক্ষেত্রে কী করবে?"—যা তিনি কাপড় টেনে চলার ব্যাপারে কঠোর হুঁশিয়ারি (وعيد) শোনার পর করেছিলেন—তা থেকে ঐ ব্যক্তির প্রতিবাদ বা খণ্ডন (التعقّب) প্রতীয়মান হয়, যে বলে: কাপড় ঝুলিয়ে পড়ার (الإسبال) ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞার (الزجر) সাধারণ (المطلقة) হাদিসসমূহ ঐ সকল হাদিস দ্বারা শর্তযুক্ত (مقيدة), যা কেবল অহংকারবশত (خيلاء) কাপড় ঝুলিয়ে পড়ার ক্ষেত্রে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে।
খণ্ডনের দিকটি হলো: যদি বিষয়টি তেমনই হতো, তবে উম্মে সালামার পক্ষ থেকে মহিলাদের কাপড় ঝুলিয়ে চলার বিধান (حكم) সম্পর্কে জিজ্ঞাসার কোনো অর্থ থাকত না; বরং তিনি কাপড় ঝুলিয়ে পড়ার (الإسبال) নিষেধাজ্ঞাকে (الزجر) নিরঙ্কুশ বা সাধারণ (مطلقاً) অর্থেই বুঝেছিলেন, তা অহংকারবশত (مخيلة) হোক বা না হোক। তাই তিনি এ বিষয়ে মহিলাদের বিধান (حكم) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, কারণ সতর বা আউরাত (عورة) আবৃত করার প্রয়োজনে তাদের কাপড় ঝুলিয়ে পড়ার প্রয়োজনীয়তা ছিল; কেননা নারীর পুরো পা-ই সতর বা আউরাত (عورة)। ফলে নবী (সা.) তাঁর কাছে স্পষ্ট করলেন যে, এ বিষয়ের বিধানের (حكم) ক্ষেত্রে তারা কেবল এই অর্থের খাতিরে পুরুষদের বিধানের (حكم) বহির্ভূত।
কাজী ইয়াদ এ বিষয়ে ঐকমত্য (الإجماع) বর্ণনা করেছেন যে, এই নিষেধাজ্ঞা পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, মহিলাদের ক্ষেত্রে নয়; এবং তাঁর উদ্দেশ্য হলো কাপড় ঝুলিয়ে পড়ার (الإسبال) নিষেধাজ্ঞা, যেহেতু রাসূলুল্লাহ (সা.) উম্মে সালামার বুঝকে বহাল রেখেছেন।
সারকথা হলো, পুরুষের জন্য দুইটি অবস্থা রয়েছে:
পছন্দনীয় (استحباب) অবস্থা: আর তা হলো পরিধেয় বস্ত্র পায়ের নলার অর্ধেক পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রাখা।
বৈধ (جواز) অবস্থা: আর তা হলো টাখনু পর্যন্ত রাখা।
অনুরূপভাবে মহিলাদের জন্যও দুইটি অবস্থা রয়েছে:
পছন্দনীয় (استحباب) অবস্থা: আর তা হলো পুরুষদের জন্য যা বৈধ (جواز), তার চেয়ে এক বিঘত পরিমাণ অতিরিক্ত ঝুলিয়ে রাখা।
বৈধ (جواز) অবস্থা: এক হাত পর্যন্ত পরিমাণ (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাউলুল মুবীন ফী আখতাইল মুসাল্লীন
(পৃষ্ঠা: ৩২)
وعلى هذا جرى العمل من في عهد صلى الله عليه وسلم وما بعده.
ومن أجل ذلك كان من شروط المسلمين الأوّلين على أهل الذمة: أن تكشف نساؤهم عن سوقهن وأرجلهن، لكي لا يتشبهن بالمسلمات، كما جاء في ((اقتضاء الصّراط المستقيم)) (1) .
ويقع في خطأ: الدخول في الصّلاة والعورة مكشوفة:
[3/3] ثالثاً: الآباء الذين يلبسون أبناءهم السّراويل القصيرة ((الشورطات)) ويحضرونهم المساجد، وهم على هذه الحالة، لقوله صلى الله عليه وسلم: ((مروهم بالصّلاة، وهم أبناء سبع)) (2) .
ولا شك: أن هذا الأمر، يشمل أمرهم بشروطها وأركانها أيضاً (3) ، فتنبه، ولا تكن من الغافلين.
--------------------------------------------
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগ এবং তাঁর পরবর্তী সময়েও এই নিয়মে আমল চলে আসছিল।
আর একারণেই জিম্মিদের ওপর প্রাথমিক যুগের মুসলিমদের একটি শর্ত ছিল: তাদের মহিলারা যেন তাদের পায়ের নলা এবং পা উন্মুক্ত রাখে, যাতে তারা মুসলিম নারীদের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ না হয়, যেমনটি 'ইক্তিদাউস সিরাতিল মুস্তাকিম' (১)-এ বর্ণিত হয়েছে।
একটি ভুল যা সচরাচর ঘটে: সতর উন্মুক্ত থাকা অবস্থায় সালাতে প্রবেশ করা:
[৩/৩] তৃতীয়ত: সেই সকল পিতা যারা তাদের সন্তানদের হাফ প্যান্ট (শর্টস) পরিধান করিয়ে মসজিদে নিয়ে আসেন, অথচ তারা এই অবস্থায় থাকে। কেননা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা তোমাদের সন্তানদের সাত বছর বয়সে সালাতের নির্দেশ দাও" (২)।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই নির্দেশের মধ্যে সালাতের শর্ত এবং রুকনসমূহ পালনের নির্দেশও অন্তর্ভুক্ত (৩); সুতরাং সচেতন হোন এবং উদাসীনদের অন্তর্ভুক্ত হবেন না।
--------------------------------------------