(খণ্ড: ১)
আল-ইলমানিয়্যাহ ওয়া মাওকিফুল ইসলামু মিনহা
(পৃষ্ঠা: -)
العلمانية وموقف الإسلام منها القسم: كتب عامة
الكتاب: العلمانية وموقف الإسلام منها
المؤلف: حمود بن أحمد بن فرج الرحيلي
الناشر: الجامعة الاسلامية بالمدينة المنورة
الطبعة: العدد 115 - السنة 34 -1422 هـ
عدد الصفحات: 425
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ এবং এর প্রতি ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি বিভাগ: সাধারণ গ্রন্থসমূহ
গ্রন্থ: ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ এবং এর প্রতি ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি
লেখক: হামুদ বিন আহমদ বিন ফারাজ আল-রুহাইলি
প্রকাশক: মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
সংস্করণ: সংখ্যা ১১৫ - বর্ষ ৩৪ - ১৪২২ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪২৫
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমানিয়্যাহ ওয়া মাওকিফুল ইসলামু মিনহা
(পৃষ্ঠা: ৩২৯)
العلمانية وموقف الإسلام منها
إعداد: د. حمود بن أحمد الرحيلي الستاذ المشارك في كلية الدعوة في الجامعة
ال
مقدّمةالحمد لله الأول والآخر والظاهر والباطن وهو بكل شيء عليم، وصلى الله وسلم على عبده ورسوله محمد بن عبد الله الذي تركنا على المحجة البيضاء ليلها كنهارها لا يزيغ عنها إلا هالك، وعلى آله وأصحابه، ومن نهج نهجهم وسلك سبيلهم إلي يوم الدين.
أما بعد:
فإنه لما كان المسلمون يجمعهم كتاب ربهم الذي لا يأتيه الباطل من بين يديه ولا من خلفه، وتجمعهم سنة رسوله صلى الله عليه وسلم كانوا أمة واحدة قوية وعزيزة ورائدة.
ولكن لما اتصلت هذه الأمة بالأمم الأخرى ذات الأنماط الحضارية المختلفة، فإن هذه الأمة قد تأثرت بكيد أعدائها من اليهود والنصارى وعبدة الأوثان والملاحدة حتى أصبح المتأثرون بفكر أولئك الأعداء أمة داخل الأمة الإسلامية.
وما لذلك من سبب سوى البعد عن منهج الله الذي أنزله على عبده ورسوله محمد صلى الله عليه وسلم هداية ونوراً وإخراجاً للناس من الظلمات إلى النور.
وهذا البحث المتواضع يتناول جانباً مهما وخطيراً من جوانب هذاالتيار الفكري الذي وفد على الأمة الإسلامية واستهدف إبعادها عن عقيدتها وربطها بالفكر المهيمن في هذا العصر البعيد عن هدي الله ومنهج رسوله صلى الله عليه وسلم.
وهذا التيار الذي نحن بصدد الحديث عنه، هو تيار "العلمانية" ذلك المصطلح الغربي الذي يوحي ظاهره أن طريقة الحياة التي يدعو إليها تعتمد على
ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ এবং এর প্রতি ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি
প্রস্তুতিতে: ড. হামুদ বিন আহমদ আল-রুহাইলি, বিশ্ববিদ্যালয়ের দা’ওয়াহ অনুষদের সহযোগী অধ্যাপক
ভূমিকাসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আদি ও অন্ত, প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য এবং তিনি সর্ববিষয়ে সম্যক জ্ঞাত। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর বান্দা ও রাসূল মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহর প্রতি, যিনি আমাদের এক শুভ্রোজ্জ্বল পথের ওপর রেখে গেছেন যার রাতগুলোও দিনের মতো দীপ্তিময়; ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ এ পথ থেকে বিচ্যুত হয় না। আরও রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সাহাবীগণ এবং যারা কিয়ামত পর্যন্ত তাঁদের প্রদর্শিত পন্থায় অটল থাকবে এবং তাঁদের পথ অনুসরণ করবে তাঁদের ওপর।
অতঃপর:
নিশ্চয়ই যতক্ষণ পর্যন্ত মুসলমানরা তাদের রবের কিতাবের ওপর ঐক্যবদ্ধ ছিল—যার সামনে বা পেছন থেকে কোনো মিথ্যা আসতে পারে না—এবং তারা তাঁর রাসূলের (সা.) সুন্নাহর ওপর সংবদ্ধ ছিল, ততক্ষণ তারা ছিল একটি শক্তিশালী, সম্মানিত ও অগ্রগামী জাতি।
কিন্তু যখন এই উম্মত বিভিন্ন সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী অন্যান্য জাতির সংস্পর্শে এল, তখন এই উম্মত তাদের শত্রু ইয়াহুদি, নাসারা, মূর্তিপূজারী ও নাস্তিকদের ষড়যন্ত্র দ্বারা প্রভাবিত হলো। এমনকি সেই শত্রুদের চিন্তাচেতনা দ্বারা প্রভাবিত ব্যক্তিরা মুসলিম উম্মাহর অভ্যন্তরেই এক ভিন্ন গোষ্ঠীতে পরিণত হলো।
এর কারণ হলো আল্লাহর সেই জীবনবিধান থেকে দূরে সরে যাওয়া যা তিনি তাঁর বান্দা ও রাসূল মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর হিদায়াত ও নূর হিসেবে অবতীর্ণ করেছেন, যাতে মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনা যায়।
এই বিনম্র গবেষণাটি সেই বুদ্ধিবৃত্তিক ধারার একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বিপজ্জনক দিক নিয়ে আলোচনা করে যা মুসলিম উম্মাহর মাঝে অনুপ্রবেশ করেছে এবং যার লক্ষ্য হলো উম্মাহকে তার আকিদা থেকে বিচ্যুত করা এবং বর্তমান যুগের সেই আধিপত্যবাদী চিন্তার সাথে সম্পৃক্ত করা যা আল্লাহর হিদায়াত ও তাঁর রাসূলের (সা.) আদর্শ থেকে অনেক দূরে।
আমরা যে ধারাটি নিয়ে আলোচনার অবতারণা করছি, তা হলো "ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ"; এটি এমন একটি পাশ্চাত্য পরিভাষা যার বাহ্যিক রূপ এমন ইঙ্গিত দেয় যে, এটি যে জীবনপদ্ধতির আহ্বান জানায় তা নির্ভর করে...
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমানিয়্যাহ ওয়া মাওকিফুল ইসলামু মিনহা
(পৃষ্ঠা: ৩৩০)
العلم وتتخذه سنداً لها ليخدع الناس بصواب الفكرة واستقامتها. حتى انطلى الأمر على بعض السذج وأدعياء العلم فقبلوا المذهب منبهرين بشعاره، وقد أوصلهم ذلك إلى البعد عن الدين بعداً واضحاً.
وإن من أقوى الأدلة المشاهدة في الرد على العلمانيين هو ما تحقق من تطبيق الشريعة الإسلامية في المملكة العربية السعودية في العصر الحديث من نجاح عظيم في شتى المجالات.
وقد حاولت في هذا البحث إلقاء بعض الضوء على هذا الموضوع وسميته: " العلمانية وموقف الإسلام منها".
خطة البحث
وقد جعلت البحث في مقدمة وخمسة فصول وخاتمة:
وقد اشتملت المقدمة على أهمية الموضوع والخطة ومنهجي في البحث.
والفصل الأول: في تعريف العلمانية ومفهومها، وفيه ثلاثة مباحث:
المبحث الأول: تعريف العلمانية في اللغة والاصطلاح.
والمبحث الثاني: التضليل والخداع في تسميتها.
والمبحث الثالث: مراحل العلمانية أو صورها.
والفصل الثاني: في أسباب ظهورها ونشأتها وآثارها في الغرب، وفيه مبحثان:
المبحث الأول: أسباب ظهور العلمانية وظروف نشأتها في الغرب، ويشتمل على ما يلي:
أولاً: طغيان رجال الكنيسة.
ثانياً: الصراع بين الكنيسة والعلم.
ثالثاً: الثورة الفرنسية.
বিজ্ঞানকে তারা নিজেদের জন্য একটি সনদ (سند) হিসেবে গ্রহণ করে যাতে ধারণার সঠিকতা ও সরলতা দিয়ে মানুষকে প্রতারিত করা যায়। এমনকি বিষয়টি কিছু নির্বোধ ও ইলমের দাবিদারদের নিকট এমনভাবে প্রতিভাত হয়েছে যে, তারা এর শ্লোগানে বিমোহিত হয়ে এই মতবাদকে গ্রহণ করে নিয়েছে; যা তাদেরকে দ্বীন থেকে এক সুস্পষ্ট দূরত্বে নিয়ে গেছে।
ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীদের খণ্ডন করার ক্ষেত্রে অন্যতম শক্তিশালী চাক্ষুষ প্রমাণ হলো আধুনিক যুগে সৌদি আরব রাজ্যে ইসলামি শরিয়ত প্রয়োগের মাধ্যমে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অর্জিত মহান সাফল্য।
আমি এই গবেষণায় এই বিষয়ের ওপর কিছুটা আলোকপাত করার চেষ্টা করেছি এবং এর নামকরণ করেছি: "ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ এবং এর প্রতি ইসলামের অবস্থান"।
গবেষণা পরিকল্পনা
আমি গবেষণাপত্রটিকে একটি ভূমিকা, পাঁচটি অধ্যায় এবং একটি উপসংহারে বিন্যস্ত করেছি:
ভূমিকাটিতে বিষয়ের গুরুত্ব, পরিকল্পনা এবং গবেষণার পদ্ধতি (منهج) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রথম অধ্যায়: ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের সংজ্ঞা ও ধারণা প্রসঙ্গে, এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: আভিধানিক ও পারিভাষিক (اصطلاح) অর্থে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের সংজ্ঞা।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এর নামকরণের ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি ও প্রতারণা।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের বিভিন্ন পর্যায় বা স্বরূপ।
দ্বিতীয় অধ্যায়: পশ্চিমে এর উদ্ভব, বিকাশ এবং প্রভাব প্রসঙ্গে, এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: পশ্চিমে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের উদ্ভবের কারণ এবং এর বিকাশের প্রেক্ষাপট, যা নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে:
প্রথমত: গির্জার যাজকদের স্বৈরাচার।
দ্বিতীয়ত: গির্জা এবং বিজ্ঞানের মধ্যে দ্বন্দ্ব।
তৃতীয়ত: ফরাসি বিপ্লব।
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমানিয়্যাহ ওয়া মাওকিফুল ইসলামু মিনহা
(পৃষ্ঠা: ৩৩১)
رابعاً: نظرية التطور.
خامساً: طبيعة التعاليم النصرانية.
سادساً: دور اليهود.
المبحث الثاني: آثار العلمانية في الغرب.
والفصل الثالث: الإسلام يتنافى مع العلمانية.
والفصل الرابع: في عوامل انتقالها إلى العالم الإسلامي وآثارها السيئة عليه، وفيه مبحثان:
المبحث الأول: عوامل انتقالها إلى العالم الإسلامي، ويشتمل على ما يلي:
أولاً: انحراف كثير من المسلمين عن العقيدة الصحيحة.
ثانياً: الاستعمار الغربي والشرقي.
ثالثاً: الغزو الفكري.
رابعاً: المستشرقون.
خامساً: المنصّرون.
سادساً: الأقليات غير المسلمة داخل المجتمعات الإسلامية.
سابعاً: تقدم الغرب الهائل في مضمار العلم المادي.
ثامناً: البعثات إلى الخارج.
المبحث الثاني: في آثارها السيئة على العالم الإسلامي.
والفصل الخامس: في موقف الإسلام من العلمانية، وفيه ثلاثة مباحث:
المبحث الأول: حكم الإسلام من العلمانية.
المبحث الثاني: عمد وقواعد العلمانية وتفنيدها.
المبحث الثالث: التطبيق العملي للإسلام.
وأما الخاتمة فقد أوجزت فيها أهم النتائج التي توصلت إليها في البحث.
চতুর্থ: বিবর্তনবাদ।
পঞ্চম: খ্রিস্টীয় শিক্ষার স্বরূপ।
ষষ্ঠ: ইহুদিদের ভূমিকা।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: পাশ্চাত্যে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের প্রভাব।
তৃতীয় অধ্যায়: ইসলাম ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের সাথে সাংঘর্ষিক।
চতুর্থ অধ্যায়: মুসলিম বিশ্বে এর সংক্রমণের কারণসমূহ এবং এর ক্ষতিকর প্রভাব প্রসঙ্গে; এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: মুসলিম বিশ্বে এর সংক্রমণের কারণসমূহ, যা নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে:
প্রথমত: সঠিক আকিদা থেকে অনেক মুসলমানের বিচ্যুতি।
দ্বিতীয়ত: পাশ্চাত্য ও প্রাচ্য উপনিবেশবাদ।
তৃতীয়ত: বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসন।
চতুর্থত: প্রাচ্যবিদগণ।
পঞ্চমত: খ্রিস্টান মিশনারিগণ।
ষষ্ঠত: মুসলিম সমাজের অভ্যন্তরে অমুসলিম সংখ্যালঘুগণ।
সপ্তমত: বস্তুগত বিজ্ঞানের ময়দানে পাশ্চাত্যের বিশাল অগ্রগতি।
অষ্টমত: বিদেশে প্রেরিত প্রতিনিধি দলসমূহ।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মুসলিম বিশ্বের ওপর এর ক্ষতিকর প্রভাব প্রসঙ্গে।
পঞ্চম অধ্যায়: ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ সম্পর্কে ইসলামের অবস্থান প্রসঙ্গে; এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ সম্পর্কে ইসলামের বিধান।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের স্তম্ভ ও মূলনীতিসমূহ এবং সেগুলোর খণ্ডন।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ইসলামের প্রায়োগিক বাস্তবায়ন।
আর উপসংহারে আমি গবেষণায় প্রাপ্ত গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলসমূহ সংক্ষেপে তুলে ধরেছি।
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমানিয়্যাহ ওয়া মাওকিফুল ইসলামু মিনহা
(পৃষ্ঠা: ৩৩২)
هذا وقد عزوت الآيات الكريمة إلى السور مع ترقيمها، كما خرجت الأحاديث النبوية الواردة في البحث، وشرحت معاني الكلمات الغريبة، كما عزوت ما تناولته في البحث إلى المصادر والمراجع التي رجعت إليها في هذاالشأن.
هذا. وأحبُّ أن أنبه بأن ما نقلته عن كتب في هذه السلسلة لا يعني موافقتي لأصحابها في المنهج، وإنما كان ذلك لحاجة هذه الأبحاث لمثل تلك المراجع، والحكمة ضالة المؤمن أنى وجدها أخذها.
وقد ألحقت بهذا فهرساً للآيات الكريمة، وفهرساً للأحاديث والآثار، وقائمة بأسماء المصادر والمراجع مرتبة حسب حروف الهجاء مبيناً اسم المؤلف والطبعة وتاريخ النشر ما أمكن، وقائمة أخرى للموضوعات.
وإنه على الرغم من كثرة الكتابات عن العلمانية إلا أني قد بذلت جهداً في إضافة فوائد مهمة كعمد العلمانية وتفنيدها، وتوضيح آثارها، وبيان موقف الإسلام منها على التفصيل، مبتعداً عن الاستطرادات المملة والاختصارات المخلة.
وأسأل الله جلت قدرته أن أكون قد وفقت فيما كتبت، وأن يتجاوز عن التقصير إنه ولي ذلك والقادر عليه.
والحمد لله رب العالمين وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.
আমি পবিত্র আয়াতসমূহকে তাদের সূরার নাম ও নম্বরসহ উল্লেখ করেছি, গবেষণায় বর্ণিত রাসুলুল্লাহর হাদিসসমূহের তাখরিজ (تخريج) করেছি, কঠিন শব্দসমূহের অর্থ ব্যাখ্যা করেছি এবং গবেষণায় আলোচিত বিষয়গুলোকে সংশ্লিষ্ট উৎস ও তথ্যসূত্রের সাথে সম্পর্কিত করেছি যা থেকে আমি সাহায্য নিয়েছি।
উল্লেখ্য, এই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন কিতাব থেকে আমি যা উদ্ধৃত করেছি, তার অর্থ এই নয় যে আমি সেই লেখকদের মানহাজের (منهج) সাথে একমত; বরং গবেষণার প্রয়োজনে ঐ সকল তথ্যসূত্রের আবশ্যকতা ছিল। আর প্রজ্ঞা হচ্ছে মুমিনের হারানো সম্পদ, সে যেখানেই তা পায়, গ্রহণ করে নেয়।
আমি এর সাথে পবিত্র আয়াতসমূহের একটি নির্ঘণ্ট, হাদিস ও আছারসমূহের (آثار) একটি নির্ঘণ্ট এবং বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজানো উৎস ও তথ্যসূত্রের একটি তালিকা যুক্ত করেছি, যেখানে লেখকের নাম, সংস্করণ এবং প্রকাশকাল যথা সম্ভব উল্লেখ করা হয়েছে। সেই সাথে বিষয়বস্তুর একটি সূচিপত্রও দেওয়া হয়েছে।
ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ সম্পর্কে প্রচুর লেখালেখি থাকা সত্ত্বেও আমি এতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যোগ করার চেষ্টা করেছি, যেমন ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের স্তম্ভসমূহ ও সেগুলোর খণ্ডন (تفنيد), এর প্রভাব ব্যাখ্যা করা এবং ইসলামের অবস্থান বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা। এক্ষেত্রে আমি ক্লান্তিকর দীর্ঘসূত্রিতা এবং অর্থহানিকর সংক্ষিপ্তকরণ এড়িয়ে চলেছি।
আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমার এই লেখায় আমাকে তাওফিক দান করেন এবং আমার ত্রুটিসমূহ ক্ষমা করেন। নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর ওপর ক্ষমতাবান।
সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং তাঁর সকল সাহাবীর ওপর।
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমানিয়্যাহ ওয়া মাওকিফুল ইসলামু মিনহা
(পৃষ্ঠা: ৩৩৩)
الفصل الأول: في تعريف العلمانية ومفهومها
المبحث الأول: تعريف العلمانية في اللغة والاصطلاح…الفصل الأول
تعريف العلمانية ومفهومها
المبحث الأول
تعريف العلمانية في اللغة والاصطلاح
العلمانية لغة: لم توجد لفظ العلمانية في معاجم اللغة العربية القديمة، وقد وردت في بعض المعاجم الحديثة ومن ذلك:
أ– ما ورد في معجم المعلم البستاني: "العلماني: العامي الذي ليس بإكليريكي"1.
ب- وفي المعجم العربي الحديث: "علماني: ما ليس كنسياً ولا دينياً"2.
ج- وفي المعجم الوسيط3 "العلماني نسبة إلى العَلم بمعنى العالم، وهو خلاف الديني أو الكهنوتي"4.
--------------------------------------------
প্রথম অধ্যায়: সেকুলারিজমের সংজ্ঞা ও এর ধারণা প্রসঙ্গে
প্রথম পরিচ্ছেদ: আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে সেকুলারিজমের সংজ্ঞা…প্রথম অধ্যায়
সেকুলারিজমের সংজ্ঞা ও এর ধারণা
প্রথম পরিচ্ছেদ
আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে সেকুলারিজমের সংজ্ঞা
আভিধানিক অর্থে সেকুলারিজম: প্রাচীন আরবি অভিধানসমূহে সেকুলারিজম শব্দটি পাওয়া যায় না। তবে কিছু আধুনিক অভিধানে এটি উল্লেখ করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:
ক– মু'জামুল মু'আল্লিম আল-বুস্তানি-তে যা বর্ণিত হয়েছে: "সেকুলার: এমন সাধারণ ব্যক্তি যে যাজকীয় পদের অন্তর্ভুক্ত নয়"১।
খ- আল-মু'জাম আল-আরাবি আল-হাদিস-এ এসেছে: "সেকুলার: যা গির্জা-সংক্রান্ত বা ধর্মীয় নয়"২।
গ- আল-মু'জাম আল-ওয়াসিত-এ ৩ (রয়েছে): "সেকুলার শব্দটি 'আল-আলাম' তথা জগত এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত, যা ধর্মীয় বা পুরোহিততন্ত্রের বিপরীত"৪।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমানিয়্যাহ ওয়া মাওকিফুল ইসলামু মিনহা
(পৃষ্ঠা: ৩৩৪)
ولعل المعنى الصحيح لترجمةكلمة "العلمانية"هى "اللادينية" أو "الدنيوية"1وليس المعنى ما يقابل الأخروية فحسب، بل بمعنى ما لا صلة له بالدين، يتضح ذلك مما تورده دوائر المعارف الأجنبية للكلمة:
تقول دائرة المعارف البريطانية: "هي حركة اجتماعية تهدف إلى صرف الناس عن الاهتمام بالآخرة إلى الاهتمام بالحياة الدنيا وحدها"2.
وتقول دائرة المعارف الأمريكية: "الدنيوية هى: نظام أخلاقي أسس على مبادئ الأخلاق الطبيعية ومستقل عن الديانات السماوية أو القوى الخارقة للطبيعة.."3.
والتعبير الشائع في الكتب الإسلامية المعاصرة هو فصل الدين عن الدولة.
وهو في الحقيقة لا يعطي المدلول الكامل للعلمانية الذي ينطبق على الأفراد وعلى السلوك الذي قد لا يكون له صلة بالدولة4.
والعلمانية في الاصطلاح:
هي دعوة إلى إقامة الحياة على غير الدين، وتعنى في جانبها السياسي بالذات اللادينية في الحكم، وهى اصطلاح لا صلة له بكلمة العلم والمذهب العلمي5.
--------------------------------------------
সম্ভবত 'ধর্মনিরপেক্ষতা' শব্দটির অনুবাদের ক্ষেত্রে সঠিক অর্থ হলো 'ধর্মহীনতা' অথবা 'ইহজাগতিকতা'। আর এর অর্থ কেবল পরকালীন বিষয়ের বিপরীত বিষয়ই নয়, বরং এমন অর্থ যার সাথে ধর্মের কোনো সম্পর্ক নেই। বিদেশি বিশ্বকোষগুলোতে শব্দটির যে সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে তা থেকে বিষয়টি স্পষ্ট হয়:
এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা বলছে: "এটি এমন একটি সামাজিক আন্দোলন যার লক্ষ্য হলো মানুষের মনোযোগ পরকাল থেকে সরিয়ে কেবল পার্থিব জীবনের দিকে নিবদ্ধ করা।"
এনসাইক্লোপিডিয়া আমেরিকানা বলছে: "ইহজাগতিকতা হলো: এমন এক নৈতিক ব্যবস্থা যা প্রাকৃতিক নৈতিকতার মূলনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং যা আসমানী ধর্মসমূহ বা অতিপ্রাকৃত শক্তির প্রভাব থেকে স্বতন্ত্র...।"
সমকালীন ইসলামি বইগুলোতে প্রচলিত অভিব্যক্তি হলো রাষ্ট্র থেকে ধর্মকে পৃথক করা।
প্রকৃতপক্ষে এটি ধর্মনিরপেক্ষতার পূর্ণাঙ্গ অর্থ প্রকাশ করে না, যা ব্যক্তি এবং তার আচরণের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে, যার সাথে রাষ্ট্রের কোনো সম্পর্ক নাও থাকতে পারে।
পরিভাষাগত অর্থে ধর্মনিরপেক্ষতা:
এটি ধর্ম ব্যতিরেকে জীবন পরিচালনার এক আহ্বান। রাজনৈতিক দিক থেকে এটি বিশেষভাবে শাসনের ক্ষেত্রে ধর্মহীনতাকে বোঝায়। এটি এমন একটি পরিভাষা যার সাথে 'বিজ্ঞান' শব্দ বা বৈজ্ঞানিক মতবাদের কোনো সম্পর্ক নেই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমানিয়্যাহ ওয়া মাওকিফুল ইসলামু মিনহা
(পৃষ্ঠা: ৩৩৫)
ولاشك أن كلمة العلمانية اصطلاح جاهلي غربي يشير إلى انتصار العلم على الكنيسة النصرانية التي حاربت التطور باسم الدين1.
ومن هذا يتضح لنا أنه لا علاقة لكلمة العلمانية بالعلم، وإنما علاقتها قائمة بالدين على أساس سلبي وهو نفي الدين عن مجالات الحياة: السياسية، والاقتصادية، والاجتماعية، والفكرية
… الخ.
--------------------------------------------
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ শব্দটি একটি পশ্চিমা জাহেলি পরিভাষা, যা খ্রিস্টীয় গির্জার ওপর বিজ্ঞানের বিজয়ের প্রতি ইঙ্গিত করে; যে গির্জা ধর্মের নামে অগ্রগতির বিরোধিতা করেছিল১।
এ থেকে আমাদের নিকট এটি স্পষ্ট হয় যে, ধর্মনিরপেক্ষতা শব্দের সাথে বিজ্ঞানের কোনো সম্পর্ক নেই, বরং ধর্মের সাথে এর সম্পর্ক একটি নেতিবাচক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত; আর তা হলো জীবনের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষেত্রসমূহ থেকে ধর্মকে নির্বাসিত করা
… ইত্যাদি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমানিয়্যাহ ওয়া মাওকিফুল ইসলামু মিনহা
(পৃষ্ঠা: ৩৩৫)
المبحث الثانيالتضليل والخداع في تسميتهاوقد أدرك أعداء الإسلام أن القرآن الكريم والسنة النبوية المطهرة بما قرراه من تشريع هما مصدر قوة المسلمين، وأنه لا أمل في القضاء على الإسلام والمسلمين مادام المسلمون يطبقون إسلامهم تطبيقاً عملياً في كل حياتهم.
ومن هنا وضعوا أسلوبا جديداً لمقاومة الإسلام وهو: محاولة إبعاده عن مجال الحياة وإحلال القوانين الوضعية الغربية مكانه، ليصلوا بذلك إلى ما يريدون من هدم العقيدة الإسلامية، وإخراج المسلمين من التوحيد إلى الشرك.
وهذا ما قصده أعداء الإسلام حين نادوا في المجتمعات الإسلامية بفكرة إبعاد الإسلام عن مجال التطبيق، والاستعاضة عنه بنظام الغرب وقوانينه. وهو ما عرف في التاريخ "بالفصل بين الدين والدولة"1.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদএর নামকরণে বিভ্রান্তি ও প্রতারণাইসলামের শত্রুরা উপলব্ধি করতে পেরেছে যে, পবিত্র কুরআন ও পবিত্র সুন্নাহ শরিয়ত হিসেবে যে বিধানগুলো নির্ধারণ করেছে, তা-ই মুসলমানদের শক্তির উৎস। আর যতদিন মুসলমানরা তাদের জীবনযাত্রার প্রতিটি ক্ষেত্রে ইসলামের বাস্তব প্রয়োগ বজায় রাখবে, ততদিন ইসলাম ও মুসলমানদের নিশ্চিহ্ন করার কোনো আশা নেই।
তাই তারা ইসলাম প্রতিরোধের এক নতুন কৌশল অবলম্বন করেছে, যা হলো: ইসলামকে জীবনব্যবস্থা থেকে দূরে সরিয়ে রাখা এবং এর স্থলে পশ্চিমা মানবরচিত আইন স্থলাভিষিক্ত করার চেষ্টা করা; যাতে তারা ইসলামি আকিদা ধ্বংস করা এবং মুসলমানদের তাওহিদ থেকে শিরকের দিকে ধাবিত করার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে।
ইসলামের শত্রুরা যখন মুসলিম সমাজে ইসলামকে প্রয়োগের ক্ষেত্র থেকে সরিয়ে রাখা এবং তার পরিবর্তে পশ্চিমা ব্যবস্থা ও আইন প্রবর্তনের আহ্বান জানিয়েছিল, তখন তাদের উদ্দেশ্য এটাই ছিল। ইতিহাসে এটিই "ধর্ম ও রাষ্ট্র পৃথকীকরণ"১ হিসেবে পরিচিত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমানিয়্যাহ ওয়া মাওকিফুল ইসলামু মিনহা
(পৃষ্ঠা: ৩৩৬)
وإمعاناً في التضليل والخداع سماها الفكر الغربي "بالعلمانية" وهو اصطلاح يوحي بأن لها صلة بالعلم حتى ينخدع الآخرون بصواب الفكرة واستقامتها، فمن الذي يقف في وجه دعوة تقول للناس إن العلم أساسها وعمادها.
ومن هنا انطلى الأمرُ على بعض السذج وأدعياء العلم، فقبلوا المذهب منبهرين بشعاره دون أن ينتبهوا إلى حقيقته وأبعاده.
والحق أن الإسلام لا يصدُّ عن العلم والانتفاع به، ولكن أي علم هذا الذي يدعيه دعاة العلمانية، ويزعمون أنه سندها وأساسها؟. إنه العلم الذي يكون بعيداً عن الدين أو الفصل الكامل بين الدين والحياة.
والعلمانية بهذا المفهوم تعتبر في ميزان الإسلام مفهوماً جاهلياً؛ إذ تعني عزل الدين عن شئون الحياة، وذلك أن الإسلام دين متكامل جاء لينظم الحياة بأوجه نشاطها ويوجه الناس إلى ما فيه سعادتهم في الدنيا والآخرة، وإبعاد الدين عن الحياة وعن شئون الدنيا، وعزله عن العقيدة والشريعة والاقتصاد والسياسة والتعليم والأسرة والمجتمع وغيرها، إنما يعني في الإسلام الكفر وحكم الجاهلية والصد عن سبيل الله، وتعطيل حدوده.
كما أن اسم "العلمانية" يوحي بأن العلم والدين ضدان وإن الصراع قائم بينهما، كما يوحي بأن الدين لا علاقة له بالدنيا، وأن التمسك به يعني التأخر والرجعية والجهل، وهذا خطأ فاحش لأن الدين - الذي هو الإسلام - هو دين العلم والسعادة والتقدم، وهذا لا يخفى على الغربيين أنفسهم - فضلاً عن المسلمين - إن الإسلام هو الذي فتح لهم آفاق العلم والاختراع والتقدم والحضارة.
বিভ্রান্তি ও প্রতারণাকে আরও সুদূরপ্রসারী করতে পশ্চিমা চিন্তাধারা একে "ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ" (العلمانية) নাম দিয়েছে। এটি এমন একটি পরিভাষা যা ইঙ্গিত দেয় যে, বিজ্ঞানের সাথে এর সম্পর্ক রয়েছে, যাতে অন্যরা এই চিন্তাধারার সঠিকতা ও নির্ভুলতা দেখে প্রতারিত হয়। বস্তুত এমন একটি দাওয়াতের সামনে কে দাঁড়াবে যা মানুষকে বলে যে, বিজ্ঞানই এর ভিত্তি ও প্রধান স্তম্ভ।
এখান থেকেই বিষয়টি কিছু সরলমনা এবং জ্ঞানপাপীদের ওপর চেপে বসেছে; ফলে তারা এর স্বরূপ ও গভীরতা অনুধাবন না করেই এর চাকচিক্যময় শ্লোগানে মুগ্ধ হয়ে এই মতবাদকে গ্রহণ করে নিয়েছে।
প্রকৃত সত্য এই যে, ইসলাম বিজ্ঞান এবং এর সুফল ভোগ করতে বাধা দেয় না। কিন্তু এটি কোন বিজ্ঞান যার দাবি ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের প্রবক্তারা করে এবং একে তাদের ভিত্তি (سندها) ও মূল ভিত্তি বলে দাবি করে? এটি মূলত এমন এক বিজ্ঞান যা ধর্ম থেকে দূরে অথবা ধর্ম ও জীবনের মাঝে এক পূর্ণ বিচ্ছিন্নতা।
আর এই প্রেক্ষাপটে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ ইসলামের মানদণ্ডে একটি জাহেলি (جاهلي) ধারণা হিসেবে বিবেচিত; কেননা এর অর্থ হলো জীবন ব্যবস্থা থেকে ধর্মকে পৃথক করা। অথচ ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ ধর্ম যা জীবনের সকল কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে এবং মানুষকে ইহকাল ও পরকালে তাদের কল্যাণের পথে পরিচালিত করতে এসেছে। জীবন ও জগতের বিষয়াবলি থেকে ধর্মকে দূরে রাখা এবং একে আকিদা (عقيدة), শরিয়াহ (شريعة), অর্থনীতি, রাজনীতি, শিক্ষা, পরিবার ও সমাজ ইত্যাদি থেকে বিচ্ছিন্ন করার অর্থ ইসলামে কুফর (الكفر), জাহেলিয়াতের শাসন ও আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করা এবং তাঁর নির্ধারিত বিধানসমূহ (حدوده) অকার্যকর করা।
তদুপরি "ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ" (العلمانية) নামটি এমন ব্যঞ্জনা দেয় যে, বিজ্ঞান ও ধর্ম পরস্পর বিরোধী এবং এদের মধ্যে এক চিরস্থায়ী দ্বন্দ্ব বিদ্যমান। এটি আরও ইঙ্গিত দেয় যে, পার্থিব জগতের সাথে ধর্মের কোনো সম্পর্ক নেই এবং ধর্মকে আঁকড়ে ধরার অর্থ হলো পশ্চাৎপদতা, প্রতিক্রিয়াশীলতা ও মূর্খতা। এটি একটি জঘন্য ভুল; কারণ ধর্ম—যা হলো ইসলাম—তা বিজ্ঞান, সুখ ও উন্নতির ধর্ম। এটি স্বয়ং পশ্চিমাদের কাছেও অস্পষ্ট নয়—মুসলিমদের কথা তো বলাই বাহুল্য—যে ইসলামই তাদের জন্য বিজ্ঞান, আবিষ্কার, উন্নতি ও সভ্যতার দিগন্ত উন্মোচন করে দিয়েছিল।
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমানিয়্যাহ ওয়া মাওকিফুল ইসলামু মিনহা
(পৃষ্ঠা: ৩৩৭)
والسبب الأول في تسمية هذا المذهب بالعلمانية، هو ما فعله رجال الكنيسة النصرانية الذين وقفوا ضد التحضر والتقدم في الغرب زاعمين أن الدين يحرم العلم التجريبي والاختراعات والاكتشافات الناتجة عنه1.
--------------------------------------------
এই মতবাদকে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ হিসেবে নামকরণের প্রথম কারণ হলো খ্রিস্টীয় গির্জার পাদ্রিদের কর্মকাণ্ড, যারা পাশ্চাত্যের আধুনিকায়ন ও অগ্রগতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন এই দাবি করে যে, ধর্ম পরীক্ষামূলক বিজ্ঞান এবং এর ফলে উদ্ভূত উদ্ভাবন ও আবিষ্কারসমূহকে নিষিদ্ধ করে।১
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমানিয়্যাহ ওয়া মাওকিফুল ইসলামু মিনহা
(পৃষ্ঠা: ৩৩৭)
المبحث الثالثمراحل العلمانية أو (صورها)ذهب البعض إلى أن الفكر العلماني الأوروبي مرَّ بمرحلتين:
المرحلة أو (الصورة) الأولى:
مرحلة العلمانية المعتدلة، وهي مرحلة القرنين السابع عشر والثامن عشر - وهى وإن اعتبر الدين فيها أمراً شخصياً - لا شأن للدولة به إلا أن على الدولة - مع ذلك - أن تحمي الكنيسة، وبالأخص في جباية ضرائبها. والتفكير العلماني في هذه المرحلة وإن طالب بتأكيد الفصل بين الدولة والكنيسة إلا أنه لم يسلب المسيحية كدين من كل قيمة لها. وإن كان ينكر فيها بعض تعاليمها، ويطالب بإخضاع تعاليم المسيحية إلى العقل، وإلى مبادئ الطبيعة مما نشأ عنه المذهب المعروف باسم مذهب الربوبيين، وهو مذهب يعترف بوجود الله كأصل للعالم، ولكنه ينكر الإعجاز والوحي وتدخل الله في العالم.
ومن دعاة هذه المرحلة: فولتير (1694-1713م) في فرنسا، وشفتسيري (1671-1713م) في إنجلترا، وليسنج (1729-1781م) في
তৃতীয় পরিচ্ছেদধর্মনিরপেক্ষতাবাদের পর্যায়সমূহ বা (এর স্বরূপসমূহ)কেউ কেউ এই মত পোষণ করেছেন যে, ইউরোপীয় ধর্মনিরপেক্ষ চিন্তাচেতনা দুটি পর্যায়ের মধ্য দিয়ে অতিক্রান্ত হয়েছে:
প্রথম পর্যায় বা (স্বরূপ):
উদার ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের পর্যায়; এটি ছিল সপ্তদশ ও অষ্টাদশ শতাব্দীর পর্যায়। এই পর্যায়ে ধর্মকে ব্যক্তিগত বিষয় হিসেবে গণ্য করা হতো—যার সাথে রাষ্ট্রের কোনো সম্পর্ক থাকবে না—তা সত্ত্বেও রাষ্ট্রকে গির্জা সুরক্ষা প্রদান করতে হতো, বিশেষ করে তার কর আদায়ের ক্ষেত্রে। এই পর্যায়ের ধর্মনিরপেক্ষ চিন্তাধারা যদিও রাষ্ট্র ও গির্জার পৃথকীকরণের ওপর জোর দিয়েছিল, তবে তা ধর্ম হিসেবে খ্রিস্টধর্মের যাবতীয় মূল্যবোধকে নিঃশেষ করে দেয়নি। যদিও এটি খ্রিস্টধর্মের কিছু শিক্ষাকে অস্বীকার করত এবং খ্রিস্টীয় শিক্ষাকে বুদ্ধি ও প্রকৃতির মূলনীতির অধীন করার দাবি জানাত, যার ফলে ‘প্রাকৃতিক ঈশ্বরবাদ’ (الربوبيين) নামক পরিচিত মতবাদের উদ্ভব হয়। এটি এমন এক মতবাদ যা জগতের আদি উৎস হিসেবে আল্লাহর অস্তিত্ব স্বীকার করে, কিন্তু অলৌকিকতা (إعجاز), ওহি (وحي) এবং জগতে আল্লাহর হস্তক্ষেপকে অস্বীকার করে।
এই পর্যায়ের প্রবক্তাদের মধ্যে রয়েছেন: ফ্রান্সে ভলতেয়ার (১৬৯৪-১৭১৩ খ্রি.), ইংল্যান্ডে শ্যাফটসবারি (১৬৭১-১৭১৩ খ্রি.) এবং লেসিং (১৭২৯-১৭৮১ খ্রি.) এ...
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমানিয়্যাহ ওয়া মাওকিফুল ইসলামু মিনহা
(পৃষ্ঠা: ৩৩৮)
ألمانيا، والفيلسوف الإنجليزي جون لوك (1632-1714م) ، وهوبز (1588-1679م) ، وديكارت، وبيكون، وسبينوزا، وجان جاك روسو، وأضرابهم1.
المرحلة أو (الصورة) الثانية:
وهي مرحلة العهد المادي أو ما يسمى بالثورة العلمانية، وهى مرحلة القرن التاسع عشر ومابعده، وعلمانية هذه المرحلة هى مرحلة إلغاء الدين - أي دين إلغاءً كلياً وعدم الإيمان بالأمور الغيبية - وليس فصلاً بينه وبينه الدولة كما هو المفهوم في المرحلة الأولى، واعتبار أن الموجود الحقيقي هو المحسوس فقط، والدافع عليها هو الاستئثار بالسلطة، ولذلك كانت العلمانية غير مساوية لمفهوم الفصل بين الكنيسة والدولة، بل كانت إلغاء للدين كمقدمة ضرورية إلى السلطة المنفردة التي هى سلطة جماعة العمل أو المجتمع أو الدولة أو الحزب حسب تحديد بعض هؤلاء الشيوعيين اليساريين.
ومن دعاة هذه المرحلة: هيجيل وفيرباخ وكارل ماركس وأضرابهم.2
--------------------------------------------
জার্মানি এবং ইংরেজ দার্শনিক জন লক (১৬৩২-১৭১৪ খ্রি.), হবস (১৫৮৮-১৬৭৯ খ্রি.), ডেসকার্টস, বেকন, স্পিনোজা, জিন-জ্যাক রুসো এবং তাদের সমমনা ব্যক্তিবর্গ।১
দ্বিতীয় পর্যায় বা (স্বরূপ):
এটি হলো বস্তুগত যুগের পর্যায় বা যাকে ধর্মনিরপেক্ষ বিপ্লব বলা হয়। এটি মূলত উনবিংশ শতাব্দী এবং তার পরবর্তী সময়ের পর্যায়। এই পর্যায়ের ধর্মনিরপেক্ষতা হলো ধর্মকে—যেকোনো ধর্মকেই—সম্পূর্ণরূপে বিলোপ করা এবং অদৃশ্যের বিষয়াবলীতে বিশ্বাস স্থাপন না করা। এটি রাষ্ট্র থেকে ধর্মের নিছক পৃথকীকরণ নয়, যেমনটি প্রথম পর্যায়ে বোঝা যেত। বরং এখানে বিবেচনা করা হয় যে, কেবল ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়ই হলো প্রকৃত অস্তিত্বশীল। এর মূল চালিকাশক্তি হলো ক্ষমতা কুক্ষিগত করা। তাই ধর্মনিরপেক্ষতা কেবল গির্জা ও রাষ্ট্রের পৃথকীকরণের ধারণার সমার্থক ছিল না, বরং এটি ছিল নিরঙ্কুশ ক্ষমতার প্রয়োজনীয় ভূমিকা হিসেবে ধর্মের বিলোপ সাধন; যা এই বামপন্থী কমিউনিস্টদের কারো কারো সংজ্ঞানুসারে শ্রমজীবী গোষ্ঠী, সমাজ, রাষ্ট্র বা দলের ক্ষমতা।
এই পর্যায়ের প্রবক্তাদের মধ্যে রয়েছেন: হেগেল, ফয়ারবাখ, কার্ল মার্কস এবং তাদের সমমনা ব্যক্তিবর্গ।২
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমানিয়্যাহ ওয়া মাওকিফুল ইসলামু মিনহা
(পৃষ্ঠা: ৩৩৯)
الفصل الثاني: أسباب ظهور العلمانية وآثارها في الغرب
المبحث الأول: أسباب ظهور العلمانية وظروف نشأتها في الغرب
المطلب الأول: طغيان رجال الكنيسة…الفصل الثاني
أسباب ظهور العلمانية وآثارها في الغرب
المبحث الأول
أسباب ظهور العلمانية وظروف نشأتها في الغرب
ويشتمل على ما يلي:
أولاً: طغيان رجال الكنيسة:
لقد عاشت أوروبا في القرون الوسطى فترة قاسية، تحت طغيان رجال الكنيسة وهيمنتهم، وفساد أحوالهم، واستغلال السلطة الدينية لتحقيق أهوائهم، وإرضاء شهواتهم، تحت قناع القداسة التي يضفونها على أنفسهم، ويهيمنون بها على الأمة الساذجة، ثم اضطهادهم الشنيع لكل من يخالف أوامر أو تعليمات الكنيسة المبتدعة في الدين، والتي ما أنزل الله بها من سلطان، حتى لو كانت أموراً تتصل بحقائق كونية تثبتها التجارب والمشاهد العلمية.
وقد شمل هيمنة الكنيسة النواحي الدينية، والاقتصادية، والسياسية، والعلمية، وفرضت على عقول الناس وأموالهم وتصرفاتهم وصاية لا نظير لها على الإطلاق وسنعرض إلى شيء من ذلك بإيجاز:
أ - الطغيان الديني:
1- إنَّ الإيمان بالله الواحد الأحد، الذي لا إله غيره ولا معبود بحق سواه، وإن عيسى عبد الله ورسوله، قد تحول في عقيدة النصارى إلى إيمان باله مثلث يتجسد، أويحلُّ بالإنسان ذي ثلاثة أقانيم (الأب والابن ورح القدس) .
দ্বিতীয় অধ্যায়: পাশ্চাত্যে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের উদ্ভবের কারণ ও এর প্রভাবসমূহপ্রথম পরিচ্ছেদ: পাশ্চাত্যে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের উদ্ভবের কারণসমূহ এবং এর বিকাশের প্রেক্ষাপটপ্রথম অনুচ্ছেদ: গির্জার যাজকদের স্বৈরাচার…দ্বিতীয় অধ্যায়
পাশ্চাত্যে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের উদ্ভবের কারণ ও এর প্রভাবসমূহ
প্রথম পরিচ্ছেদ
পাশ্চাত্যে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের উদ্ভবের কারণসমূহ এবং এর বিকাশের প্রেক্ষাপট
এটি নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে:
প্রথমত: গির্জার যাজকদের স্বৈরাচার:
মধ্যযুগে ইউরোপ গির্জার যাজকদের স্বৈরাচার ও আধিপত্য, তাদের কলুষিত অবস্থা এবং নিজেদের প্রবৃত্তি পূরণ ও কামনা চরিতার্থ করার জন্য ধর্মীয় ক্ষমতার অপব্যবহারের অধীনে এক কঠোর সময় অতিবাহিত করেছে। তারা নিজেদের ওপর পবিত্রতার যে ছদ্মবেশ ধারণ করত তার আড়ালেই তারা এসব করত এবং এর মাধ্যমে তারা সরলমনা জাতির ওপর আধিপত্য বিস্তার করত। এরপর তারা ধর্মের নামে গির্জার উদ্ভাবিত (مبتدعة) নির্দেশাবলি বা শিক্ষার বিরোধিতাকারী প্রত্যেকের ওপর জঘন্য নির্যাতন চালাত, যার স্বপক্ষে আল্লাহ কোনো প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি; এমনকি যদি সেই বিষয়গুলো এমন মহাজাগতিক সত্যের সাথে সংশ্লিষ্ট হতো যা বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে প্রমাণিত।
গির্জার আধিপত্য ধর্মীয়, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও বৈজ্ঞানিক দিকগুলোকে পরিবেষ্টন করেছিল এবং তারা মানুষের বিবেক, সম্পদ ও আচরণের ওপর এমন এক অভিভাবকত্ব আরোপ করেছিল যার কোনো নজির নেই। আমরা সংক্ষেপে এর কিছু অংশ তুলে ধরব:
ক - ধর্মীয় স্বৈরাচার:
১- নিশ্চয়ই একক অদ্বিতীয় আল্লাহর প্রতি ঈমান, যিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই এবং তিনি ব্যতীত সত্য কোনো উপাস্য নেই, এবং ঈসা আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল—খ্রিস্টানদের আকিদায় তা এমন এক ত্রিত্ববাদী ঈশ্বরে বিশ্বাসের রূপ নিয়েছে যা দেহ ধারণ করে অথবা তিনটি সত্তায় (পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মা) বিদ্যমান থাকে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমানিয়্যাহ ওয়া মাওকিফুল ইসলামু মিনহা
(পৃষ্ঠা: ৩৪০)
وذلك أنه منذ مجمع نيقية سنة 325م والكنيسة تمارس الطغيان الديني والإرهاب في أبشع صوره، ففرضت بطغيانها هذا عقيدة التثليث قهراً، وحرّمت ولعنت مخالفيها، بل سفكت دماء من ظفرت به من الموحدين، وأذاقتهم صنوف التعذيب وألوان النكال.
وتتفق المصادر على أن اليد الطولى في تحريف العقيدة النصرانية تعود إلى بولس "شاؤل" اليهودي، وهو الذي أثار موضوع ألوهية المسيح لأول مرة مدعياً أنه ابن الله1 تعالى الله عن ذلك علواً كبيراً.
2- والعبادات قد دخلت فيها أوضاع بشرية كنسية مبتدعة، وهذه المبتدعات حمّلها النصارى مفاهيم غيبية، وفسّروها بأن لها أسراراً مقدسة، وجعلوا لها طقوساً تُمارس في مناسباتها، ويجب احترامها والتقيد بها.
3- والأحكام التشريعية معظمها أوامر وقرارات كنسية بابوية، ما أنزل الله بها من سلطان، وهى تُحلّلُ وتُحرِّم من غير أن يكون لها مستند من كتاب الله، أو من سنة رسوله عليه الصلاة والسلام2.
ونصّبت الكنيسة نفسها عن طريق المجامع المقدسة "إلهاً" يُحلُّ ويُحرِّمُ، ينسخُ ويضيف، وليس لأحد حق الاعتراض، أو على الأقل حق إبداء الرأي كائناً من كان، وإلا فالحرمان مصيره، واللعنة عقوبته؛ لأنه كافر ((مهرطق)) 3.
--------------------------------------------
৩২৫ খ্রিস্টাব্দে অনুষ্ঠিত নিসিয়া কাউন্সিল থেকে শুরু করে গির্জা ধর্মীয় স্বৈরাচার এবং ভয়াবহতম পন্থায় সন্ত্রাস পরিচালনা করে আসছিল। তারা তাদের এই স্বৈরাচারের মাধ্যমে জোরপূর্বক ত্রিত্ববাদের আকিদা চাপিয়ে দেয় এবং এর বিরোধীদের নিষিদ্ধ ও অভিশপ্ত করে। এমনকি তারা হাতের কাছে পাওয়া একেশ্বরবাদীদের রক্ত প্রবাহিত করে এবং তাদের ওপর নানা প্রকারের নির্যাতন ও চরম শাস্তির আস্বাদ গ্রহণ করায়।
বিভিন্ন উৎস এই বিষয়ে একমত যে, খ্রিস্টীয় আকিদা বিকৃতির পেছনে প্রধান ভূমিকা ছিল ইয়াহুদি বংশোদ্ভূত পল বা 'শাউল'-এর। সেই প্রথমবার মসিহের ঈশ্বরত্বের বিষয়টি উত্থাপন করে এবং দাবি করে যে তিনি আল্লাহর পুত্র—আল্লাহ তাআলা তাদের এই দাবি থেকে বহু ঊর্ধ্বে এবং সুমহান।
2- ইবাদত-বন্দেগির ক্ষেত্রে গির্জা কর্তৃক প্রবর্তিত ও উদ্ভাবিত (مبتدعة) মানবিক রীতিনীতি প্রবেশ করেছে। খ্রিস্টানরা এই উদ্ভাবিত (مبتدعة) বিষয়গুলোর ওপর আধ্যাত্মিক বা গায়বি ধারণা আরোপ করেছে এবং সেগুলোকে পবিত্র রহস্য হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে। তারা এসবের জন্য কিছু নির্দিষ্ট আচার-অনুষ্ঠান নির্ধারণ করেছে যা বিশেষ বিশেষ সময়ে পালন করা হয় এবং এগুলোকে সম্মান করা ও মেনে চলা আবশ্যক করা হয়েছে।
3- অধিকাংশ আইনি বিধান হলো গির্জা বা পোপের পক্ষ থেকে আসা আদেশ ও সিদ্ধান্ত, যেগুলোর স্বপক্ষে আল্লাহ কোনো দলিল অবতীর্ণ করেননি। আল্লাহর কিতাব বা তাঁর রাসূলের সুন্নাহ (سنة)-এর কোনো প্রমাণ ছাড়াই তারা এসবের মাধ্যমে বৈধ ও অবৈধ সাব্যস্ত করে।
গির্জা পবিত্র কাউন্সিলগুলোর মাধ্যমে নিজেকে এমন এক 'ইলাহ' হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল যে বৈধ ও অবৈধ ঘোষণা করে, রহিত (نسخ) করে কিংবা সংযোজন করে। এখানে কারো প্রতিবাদ করার অধিকার ছিল না, এমনকি কারো মতামত দেওয়ারও কোনো সুযোগ ছিল না—তিনি যে-ই হোন না কেন। অন্যথায় তার পরিণতি ছিল বর্জন এবং শাস্তি ছিল অভিশাপ; কারণ সে হলো একজন 'ধর্মদ্রোহী' (مهرطق)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমানিয়্যাহ ওয়া মাওকিফুল ইসলামু মিনহা
(পৃষ্ঠা: ৩৪১)
وقد كان الختان واجباً فأصبح حراماً، وكانت الميتة محرمة فأصبحت مباحة، وكانت التماثيل شركاً ووثنية فأصبحت تعبيراً عن التقوى، وكان زواج رجال الدين حلالاً فأصبح محظوراً، وكان أخذ الأموال من الأتباع منكراً فأصبحت الضرائب الكنسية فرضاً لازماً، وأمورٌ كثيرة نقلتها المجامع من الحل إلى الحرمة أو العكس دون أن يكون لديها من الله سلطان، أو ترى في ذلك حرجاً.
وأضافت الكنيسة إلى عقيدة التثليث عقائد وآراء أخرى تحكم البديهة باستحالتها ولكن لا مناص من الإيمان بها والإقرار بشرعيتها على الصورة التي توافق هوى الكنيسة1.
بعض شعائر المسيحية:
ومن شعائر المسيحية الحالية والتي هى خليط من وثنيات العالم القديم ما يلي:
1- التعميد: وطريقته هى: رش الماء على الجبهة أو غمس أي جزء من الجسم في الماء، ويكثر أن يغمس الشخص كله في الماء، ولابد أن يقوم بهذه العملية كاهن يعمد الإنسان باسم الأب والابن وروح القدس، ولا يقوم غير الكهنة بالتعميد إلا للضرورة، وحينئذ يسمى التعميد: "تعميد الضرورة"2.
2- العشاء الرباني: ويرمز به إلى عشاء عيسى الأخير مع تلاميذه إذ اقتسم معهم الخبز والنبيذ، والخبز يرمز إلى جسد المسيح الذي كُسِّرَ لنجاة
--------------------------------------------
এক সময় খতনা করা ওয়াজিব (واجب) ছিল, পরবর্তীতে তা হারাম (حرام) হয়ে যায়; মৃত প্রাণীর মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ (حرام) ছিল, যা পরে মুবাহ (مباح) হয়ে যায়; মূর্তি বা প্রতিমা নির্মাণ ছিল শিরক (شرك) ও পৌত্তলিকতা, যা পরবর্তীতে তাকওয়া বা খোদাভীতির বহিঃপ্রকাশে পরিণত হয়; ধর্মযাজকদের বিবাহ হালাল (حلال) ছিল, যা পরে নিষিদ্ধ করা হয়; এবং অনুসারীদের নিকট থেকে অর্থ গ্রহণ ছিল মুনকার (منكر) বা গর্হিত কাজ, যা পরবর্তীতে গির্জার আবশ্যিক কর বা ফরজ (فرض) হিসেবে নির্ধারিত হয়। বিভিন্ন ধর্মীয় পরিষদ বা সিনোডসমূহ আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো অকাট্য প্রমাণ (سلطان) ছাড়াই অথবা কোনো প্রকার দ্বিধাবোধ না করেই অনেক বিষয়কে হালাল (حلال) থেকে হারাম (حرام) অথবা এর বিপরীতে পরিবর্তন করে দিয়েছে।
গির্জা ত্রিত্ববাদের আকিদার সাথে এমন আরও কিছু বিশ্বাস ও মতবাদ যুক্ত করেছে যা সহজাত বিচারবুদ্ধি অনুযায়ী অসম্ভব, কিন্তু গির্জার খেয়াল-খুশির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় সেগুলোর ওপর বিশ্বাস স্থাপন এবং সেগুলোর বৈধতা স্বীকার করা ছাড়া কোনো উপায় নেই।১
খ্রিস্টধর্মের কতিপয় ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান:
বর্তমান খ্রিস্টধর্মের আচার-অনুষ্ঠানসমূহ, যা প্রাচীন বিশ্বের পৌত্তলিকতার একটি সংমিশ্রণ, তার কিছু নিচে দেওয়া হলো:
১- ব্যাপ্টিজম: এর পদ্ধতি হলো—কপালে পানি ছিটানো অথবা শরীরের কোনো অংশ পানিতে ডুবানো; আবার অনেক ক্ষেত্রে পুরো শরীরই পানিতে ডুবানো হয়। এই প্রক্রিয়াটি অবশ্যই একজন যাজককে সম্পন্ন করতে হয়, যিনি পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে ব্যক্তিকে ব্যাপ্টিজ করেন। যাজক ছাড়া অন্য কেউ ব্যাপ্টিজম সম্পন্ন করতে পারে না, তবে বিশেষ প্রয়োজনে করা যায়; আর তখন একে "জরুরি ব্যাপ্টিজম" বলা হয়।২
২- প্রভুর ভোজ (Lord's Supper): এটি মূলত ঈসা (আ.)-এর তাঁর শিষ্যদের সাথে করা শেষ নৈশভোজকে নির্দেশ করে, যেখানে তিনি তাঁদের সাথে রুটি ও আঙ্গুর রস ভাগ করে নিয়েছিলেন। এখানে রুটি বলতে খ্রিস্টের দেহকে বোঝানো হয় যা পরিত্রাণের জন্য উৎসর্গ করা হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমানিয়্যাহ ওয়া মাওকিফুল ইসলামু মিনহা
(পৃষ্ঠা: ৩৪২)
البشرية، أما الخمر فيرمز إلى دمه الذي سفك لهذا الغرض، ويُستعمل في العشاء الرباني قليل من الخبز وقليل من الخمر لذكرى ما فُعل بالمسيح ليلة موته وكذلك ليكون هذا طعاماً روحياً للمسيحيين، فمن أكل هذا الخبز وشرب هذا الخمر استحال الخبز إلى لحم المسيح والخمر إلى دمه فيحصل امتزاج بين الآكل وبين المسيح وتعاليمه1 إلى غير ذلك من المزاعم الباطلة.
3- تقديس الصليب وحمله: إن تقديس الصليب عند المسيحيين سبق صلب المسيح نفسه، فقد ورد عن المسيح قوله: "إن أراد أحدٌ أن يأتي ورائي فلينكر نفسه ويحمل صليبه ويتبعني"2.
ومعنى حمل الصليب عندهم هو الاستهانة بالحياة والاستعداد للموت في أبشع صورة، أي صلبا على خشبة كما يفعل بالمجرمين والآثمين، وقويت فكرة تقديس الصليب بعد صلب عيسى -على زعمهم- فأصبح أداة تذكر المسيحيين بالتضحية الضخمة التي قام بها المسيح من أجل البشر. 3وقولهم هذا باطل، قال تعالى: {وَقَوْلِهِمْ إِنَّا قَتَلْنَا الْمَسِيحَ عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ رَسُولَ اللَّهِ وَمَا قَتَلُوهُ وَمَا صَلَبُوهُ وَلَكِنْ شُبِّهَ لَهُمْ وَإِنَّ الَّذِينَ اخْتَلَفُوا فِيهِ لَفِي شَكٍّ مِنْهُ مَا لَهُمْ بِهِ مِنْ عِلْمٍ إِلا اتِّبَاعَ الظَّنِّ وَمَا قَتَلُوهُ يَقِيناً بَلْ رَفَعَهُ اللَّهُ إِلَيْهِ وَكَانَ اللَّهُ عَزِيزاً حَكِيماً} 4.
4- عقيدة الخطيئة الموروثة: وأساس هذا الموضوع عند المسيحيين أن من صفات الله العدل والرحمة، وبمقتضى صفة العدل كان على الله أن يعاقب ذرية آدم بسبب الخطيئة التي ارتكبها أبوهم، وطُرد بها من الجنة، واستحق هو وأبناؤه البعد
--------------------------------------------
মানবজাতিকে রক্ষার জন্য; আর মদ তাঁর রক্তের প্রতীক যা এই উদ্দেশ্যে প্রবাহিত হয়েছিল। প্রভুভোজের (Lord's Supper) অনুষ্ঠানে সামান্য রুটি এবং সামান্য মদ ব্যবহার করা হয় তাঁর মৃত্যুর রাতে মাসীহ-এর সাথে যা করা হয়েছিল তার স্মরণে এবং এটি যেন খ্রিস্টানদের জন্য একটি আধ্যাত্মিক খাদ্য হয়। সুতরাং, যে এই রুটি খেল এবং এই মদ পান করল, সেই রুটি মাসীহ-এর মাংসে এবং মদ তাঁর রক্তে রূপান্তরিত হয়ে যায়। এর ফলে ভক্ষণকারী এবং মাসীহ ও তাঁর শিক্ষার মধ্যে এক সংমিশ্রণ ঘটে—এরূপ আরও অনেক ভিত্তিহীন (باطلة) দাবিসমূহ।
৩- ক্রুশকে পবিত্র জ্ঞান করা এবং তা বহন করা: খ্রিস্টানদের নিকট ক্রুশকে পবিত্র জ্ঞান করার বিষয়টি স্বয়ং মাসীহ-এর ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার পূর্বেই বিদ্যমান ছিল। মাসীহ থেকে এই বাণী বর্ণিত হয়েছে: "যদি কেউ আমার পিছে আসতে চায়, তবে সে যেন নিজেকে অস্বীকার করে, নিজের ক্রুশ বহন করে এবং আমার অনুসরণ করে।"২
তাদের নিকট ক্রুশ বহনের অর্থ হলো জীবনকে তুচ্ছ জ্ঞান করা এবং জঘন্যতম পন্থায় মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত থাকা, অর্থাৎ অপরাধী ও পাপীদের সাথে যেমনটি করা হয়—তেমনি কাঠের ক্রুশে বিদ্ধ হওয়া। তাদের দাবি অনুযায়ী ঈসার ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার পর ক্রুশকে পবিত্র জ্ঞান করার ধারণাটি আরও সুদৃঢ় হয়। ফলে এটি খ্রিস্টানদের নিকট সেই বিশাল আত্মত্যাগের স্মারক হয়ে ওঠে যা মাসীহ মানবজাতির জন্য উৎসর্গ করেছিলেন।৩ তাদের এই কথাটি ভিত্তিহীন (باطل), মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: "আর তাদের একথার কারণে যে, আমরা আল্লাহর রাসূল মারইয়াম পুত্র ঈসা মাসীহকে হত্যা করেছি। অথচ তারা তাঁকে হত্যা করেনি এবং ক্রুশবিদ্ধও করেনি, বরং তাদের জন্য (এক ব্যক্তিকে) তাঁর সদৃশ করা হয়েছিল। আর নিশ্চয় যারা এ বিষয়ে মতভেদ করেছে, তারা অবশ্যই এ ব্যাপারে সন্দেহের মধ্যে রয়েছে; ধারণা করা ছাড়া এ বিষয়ে তাদের কোনো জ্ঞান নেই। আর তারা নিশ্চিতভাবে তাঁকে হত্যা করেনি। বরং আল্লাহ তাঁকে নিজের দিকে তুলে নিয়েছেন; আর আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, মহাপ্রজ্ঞাময়।"৪
৪- জন্মগত পাপের আকিদা: খ্রিস্টানদের নিকট এই বিষয়ের মূলভিত্তি হলো—আল্লাহর গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত হলো ন্যায়বিচার ও দয়া। আর ন্যায়বিচারের দাবি অনুযায়ী আল্লাহর পক্ষ থেকে আদমের বংশধরদের শাস্তি প্রদান অনিবার্য ছিল সেই পাপের কারণে যা তাদের পিতা সংঘটিত করেছিলেন এবং যার ফলে তাঁকে জান্নাত থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল, আর তিনি ও তাঁর সন্তানগণ আল্লাহর রহমত থেকে বিচ্যুত হওয়ার যোগ্য হয়েছিলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমানিয়্যাহ ওয়া মাওকিফুল ইসলামু মিনহা
(পৃষ্ঠা: ৩৪৩)
عن الله بسببها، وبمقتضى صفة الرحمة كان على الله أن يغفر سيئات البشر، ولم يكن هناك من طريق للجمع بين العدل والرحمة إلا بتوسط ابن الله ووحيده وقبوله في أن يظهر في شكل إنسان، وأن يعيش كما يعيش الإنسان، ثم يصلب ظلماً ليكفّر عن خطيئة البشر1.
وقد ورد في العهد الجديد ما نصه: "وإن ابن الإنسان قد جاء ليخلص ما قد هلك، فبمحبته ورحمته قد صنع طريقاً للخلاص، لهذا كان المسيح هو الذي يكفّر عن خطايا العالم، وهو الوسيط الذي وفق بين محبة الله تعالى وبين عدله ورحمته، إذ إن مقتضى العدل أن الناس كانوا يستمرون في الابتعاد عن الله بسبب ما اقترف أبوهم، ولكن باقتراف العدل والرحمة وبتوسط الابن الوحيد، وقبوله للتكفير عن خطايا الخلق، قرب الناس من الرب بعد الابتعاد"2.
فهذه الأناجيل تذكر أن أهم الأغراض التي ظهر من أجلها المسيح ابن مريم أو المسيح ابن الله - على زعمهم - هو أن يكفر بدمه الخطيئة التي ارتكبها آدم عليه السلام والتي انتقلت بطريق الوراثة إلى جميع نسله، وأنه صلب بالفعل، فحقق بذلك أهم غرض ظهر من أجله.
والقرآن يرد على هذه الفرية، ويبين أن آدم عليه السلام قد أناب إلى الله تعالى واستغفر من خطيئته التي ارتكبها إذ أكل من الشجر فغفرها الله له، وأن الخطيئة لا يحمل وزرَها غير مقترفها، قال تعالى: {وَلا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى} 3.
--------------------------------------------
আল্লাহর নিকট হতে দূরত্বের কারণে এবং দয়া (رحمة) গুণের অনিবার্য দাবি অনুযায়ী আল্লাহর জন্য আবশ্যক ছিল যে তিনি মানুষের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। ন্যায়বিচার (عدل) ও দয়া (رحمة) গুণের মাঝে সমন্বয় ঘটানোর আর কোনো পথ ছিল না আল্লাহর একমাত্র পুত্রের মধ্যস্থতা এবং তাঁর মানুষ হিসেবে আত্মপ্রকাশ, মানুষের ন্যায় জীবনযাপন এবং পরিশেষে মানুষের পাপের প্রায়শ্চিত্ত স্বরূপ অন্যায়ভাবে ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি গ্রহণ করা ব্যতীত।১
নিউ টেস্টামেন্টে পাঠ্যগতভাবে বর্ণিত হয়েছে: "নিশ্চয়ই মনুষ্যপুত্র এসেছেন হারানোদের উদ্ধার করতে; তিনি তাঁর ভালোবাসা ও দয়া দ্বারা পরিত্রাণের পথ তৈরি করেছেন। এ কারণেই মসিহ হলেন সেই সত্তা যিনি জগতের পাপের প্রায়শ্চিত্ত করেন এবং তিনিই সেই মধ্যস্থতাকারী যিনি মহান আল্লাহর মহব্বত এবং তাঁর ন্যায়বিচার ও দয়ার মাঝে সমন্বয় ঘটিয়েছেন। কেননা ন্যায়বিচারের দাবি ছিল এই যে, আদি পিতার কৃত অপরাধের কারণে মানুষ আল্লাহ থেকে দূরেই অবস্থান করবে। কিন্তু ন্যায়বিচার ও দয়ার প্রয়োগ এবং একমাত্র পুত্রের মধ্যস্থতা ও সৃষ্টির পাপের প্রায়শ্চিত্তের বিষয়টি মেনে নেওয়ার মাধ্যমে মানুষ বিমুখতার পর পুনরায় রবের নিকটবর্তী হয়েছে।"২
সুতরাং এই ইঞ্জিলগুলো উল্লেখ করে যে, মসিহ ইবনে মরিয়ম বা -তাদের দাবি অনুযায়ী- মসিহ ইবনুল্লাহর আবির্ভাবের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো নিজের রক্তের বিনিময়ে সেই পাপের প্রায়শ্চিত্ত করা যা আদম (আলাইহিস সালাম) করেছিলেন এবং যা উত্তরাধিকার সূত্রে তাঁর সমস্ত বংশধরের মাঝে স্থানান্তরিত হয়েছে; এবং তিনি প্রকৃতপক্ষে ক্রুশবিদ্ধ হয়েছেন এবং এর মাধ্যমে সেই মহান উদ্দেশ্যটিই সফল হয়েছে যার জন্য তাঁর আবির্ভাব ঘটেছিল।
কুরআন এই অপবাদের প্রতিবাদ করে এবং স্পষ্ট করে দেয় যে, আদম (আলাইহিস সালাম) আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করেছিলেন এবং যে বৃক্ষ থেকে ভক্ষণ করার মাধ্যমে তিনি পাপে লিপ্ত হয়েছিলেন তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলেন, ফলে আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। আর কোনো ব্যক্তিই অন্য কারও পাপের বোঝা বহন করবে না। মহান আল্লাহ বলেন: {আর কোনো বোঝা বহনকারী অন্য কারও বোঝার ভার বহন করবে না।} ৩
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমানিয়্যাহ ওয়া মাওকিফুল ইসলামু মিনহা
(পৃষ্ঠা: ৩৪৪)
وقال تعالى: {فَتَلَقَّى آدَمُ مِنْ رَبِّهِ كَلِمَاتٍ فَتَابَ عَلَيْهِ إِنَّهُ هُوَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ} 1.
وقال عز وجل: {وَعَصَى آدَمُ رَبَّهُ فَغَوَى ثُمَّ اجْتَبَاهُ رَبُّهُ فَتَابَ عَلَيْهِ وَهَدَى} 2.
كما أن الوزر لا يحمل تبعته إلا من اقترفه قال تعالى: {
… أَلا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى وَأَنْ لَيْسَ لِلإِنْسَانِ إِلا مَا سَعَى} 3.
وعززت الكنيسة سلطتها الدينية الطاغية بادعاء حقوق لا يملكها إلا الله؛ مثل: حق الغفران، وحق الحرمان، وحق التحلة، ولم تتردد في استعمال هذه الحقوق واستغلالها.
صكوك الغفران والحرمان:
فأما غفران الذنوب فقد أصبح بدعة عجيبة، وذلك أنه إذا أراد البابا أن يبني كنيسة أو يجمع مالاً لشيءٍ ما؛ طبع صكوك الغفران ووزعها على أتباعه ليبيعوها للناس؛ كالذين يبيعون أسهم الشركات. وبالصك فراغٌ تُرِكَ ليُكتب به اسم الذي سيغفر ذنبه، والعجيب أن هذا الصك يَغفر لمشتريه ما تقدم من الذنوب وما تأخر، فهو بعبارة أخرى إذن بارتكاب كل الجرائم بعد أن ضُمنت الجنة لهذا المحظوظ.
الاعتراف:
ولم تقف قضية غفران الذنوب عند هذه الصكوك، بل سرعان ما دخلها عنصر جديد فاضح ذلك ما يسمى "الاعتراف" فكان على المذنب أن يعترف
--------------------------------------------
আল্লাহ তাআলা বলেন: {অতঃপর আদম তার রবের নিকট থেকে কিছু বাণী প্রাপ্ত হলেন, ফলে আল্লাহ তার তাওবা কবুল করলেন। নিশ্চয় তিনি তাওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।} 1.
মহান আল্লাহ বলেন: {আর আদম তার রবের অবাধ্য হলেন, ফলে তিনি পথভ্রষ্ট হলেন। অতঃপর তার রব তাকে মনোনীত করলেন, তার তাওবা কবুল করলেন এবং তাকে হেদায়েত দান করলেন।} 2.
তেমনিভাবে পাপের বোঝা যে ব্যক্তি তা করেছে সে ছাড়া অন্য কেউ বহন করবে না; আল্লাহ তাআলা বলেন: {
… কোনো বহনকারী অন্য কারো বোঝা বহন করবে না। আর মানুষের জন্য তা-ই থাকে যা সে নিজে করে।} 3.
গির্জা এমন কিছু অধিকার দাবি করার মাধ্যমে তাদের স্বৈরাচারী ধর্মীয় কর্তৃত্বকে শক্তিশালী করেছিল যা একমাত্র আল্লাহ ব্যতীত আর কারো নেই; যেমন: ক্ষমা করার অধিকার, বহিষ্কারের অধিকার এবং পাপমুক্তির অধিকার। তারা এই অধিকারগুলো প্রয়োগ এবং অপপ্রয়োগ করতে বিন্দুমাত্র কুণ্ঠাবোধ করেনি।
ক্ষমা ও বহিষ্কারের সনদপত্রসমূহ:
পাপ মার্জনার বিষয়টি একটি অদ্ভুত উদ্ভাবন (بدعة)-এ পরিণত হয়েছিল। অবস্থা এমন ছিল যে, পোপ যখনই কোনো গির্জা নির্মাণ করতে চাইতেন কিংবা কোনো উদ্দেশ্যে অর্থ সংগ্রহ করতে চাইতেন, তখন তিনি ক্ষমার সনদপত্র ছাপাতেন এবং তা তার অনুসারীদের মাঝে বিতরণ করতেন যাতে তারা মানুষের নিকট সেগুলো বিক্রি করতে পারে; ঠিক যেমন কোম্পানির শেয়ার বিক্রি করা হয়। সেই সনদে একটি খালি জায়গা রাখা হতো যাতে যার পাপ মার্জনা করা হবে তার নাম লেখা যায়। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই সনদ ক্রেতার পূর্বাপর সমস্ত পাপ ক্ষমা করে দিত। অন্য কথায়, এই ভাগ্যবান ব্যক্তির জন্য জান্নাত নিশ্চিত হওয়ার পর এটি ছিল সমস্ত অপরাধ করার এক প্রকার অনুমতিপত্র।
স্বীকারোক্তি:
পাপ মার্জনার বিষয়টি কেবল এই সনদগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং দ্রুতই এতে একটি নতুন ও কলঙ্কজনক উপাদানের অনুপ্রবেশ ঘটে যা "স্বীকারোক্তি" নামে পরিচিত। ফলে অপরাধীকে স্বীকারোক্তি দিতে হতো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমানিয়্যাহ ওয়া মাওকিফুল ইসলামু মিনহা
(পৃষ্ঠা: ৩৪৫)
بذنبه، في خلوة مع قسيسه؛ ليستطيع هذا القسيس أن يغفر له ذنبه، وفي خلوات الاعتراف حدثت أشياء يقشعر له الوجدان1.
وأما حق التحلة فهو حق خاص يبيح للكنيسة أن تخرج عن تعاليم الدين وتتخلى عن الالتزام بها متى اقتضت المصلحة - مصلحتها هى -ذلك2.
حياة الرهبنة:
قال تعالى: {وَرَهْبَانِيَّةً ابْتَدَعُوهَا مَا كَتَبْنَاهَا عَلَيْهِمْ إِلا ابْتِغَاءَ رِضْوَانِ اللَّهِ فَمَا رَعَوْهَا حَقَّ رِعَايَتِهَا} 3.
قال ابن كثير - رحمه الله تعالى - عند قوله تعالى: {فَمَا رَعَوْهَا حَقَّ رِعَايَتِهَا} "أي فما قاموا بما التزموه حق القيام، وهذا ذم لهم من وجهين:
أحدهما: الابتداع في دين الله مالم يأمر به الله.
والثاني: في عدم قيامهم بما التزموه مما زعموا أنه قربة يقربهم إلى الله عز وجل"4.
وتمارس حياة الرهبنة داخل الأديرة بالانقطاع عن الحياة العامة، وبالامتناع عن الزواج وتضم الراهبين والراهبات، وكأي حياة تنافي الفطرة وتلغيها، شهدت الأديرة أحط ألوان الفسوق بما نمسك عنه.
إلى غير ذلك من العقائد والمبتدعات النصرانية التي فرضتها الكنيسة على أتباعها، وكل هذه العقائد واضح بطلانها بحمد الله في العقيدة الإسلامية، وإنَّ ديناً من هذا القبيل هو مقطوع الصلة بما أنزل الله تعالى من الحق، وغير
--------------------------------------------
তার পাপ নিয়ে তার পাদ্রীর সাথে নির্জনে; যাতে এই পাদ্রী তার পাপ ক্ষমা করতে পারে। আর স্বীকারোক্তির এই নির্জন কক্ষে এমন সব ঘটনা ঘটেছে যা বিবেককে শিউরে দেয়।১
আর দায়মুক্তি বা শিথিলকরণের অধিকার (حق التحلة) হলো এমন এক বিশেষ অধিকার যা গির্জাকে ধর্মীয় শিক্ষা থেকে বিচ্যুত হওয়ার এবং যখনই তাদের স্বার্থের প্রয়োজন হয়, তখন তা পালনের বাধ্যবাধকতা ত্যাগ করার অনুমতি দেয়।২
বৈরাগ্য জীবন:
মহান আল্লাহ বলেন: "আর তারা বৈরাগ্যবাদ (رهبانية) উদ্ভাবন (ابتداع) করেছিল, যা আমি তাদের ওপর আবশ্যক করিনি; তারা কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্যই তা করেছিল, কিন্তু তারা তা যথাযথভাবে পালন করেনি।" ৩
ইবনে কাসীর (রহিমাহুল্লাহ) মহান আল্লাহর বাণী— "কিন্তু তারা তা যথাযথভাবে পালন করেনি"—এর ব্যাখ্যায় বলেন: "অর্থাৎ তারা যে বিষয়টি নিজেদের ওপর আবশ্যক করে নিয়েছিল, তা তারা যথাযথভাবে পালন করেনি। আর এটি তাদের জন্য দুটি দিক থেকে নিন্দনীয়:
প্রথমত: আল্লাহর দ্বীনের মধ্যে এমন বিষয়ের উদ্ভাবন (الابتداع) করা যার আদেশ আল্লাহ প্রদান করেননি।
দ্বিতীয়ত: তারা যা নিজেদের ওপর আবশ্যক বলে দাবি করেছিল এবং যেটিকে তারা মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের উপায় মনে করত, তা পালনে তাদের ব্যর্থতা।" ৪
মঠের অভ্যন্তরে সন্ন্যাসী ও সন্ন্যাসিনীদের সমাবেশের মাধ্যমে এবং সাধারণ জীবন ও বিবাহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বৈরাগ্য জীবন (رهبانية) চর্চা করা হয়। আর স্বভাবজাত প্রকৃতির (فطرة) পরিপন্থী এবং তাকে অস্বীকারকারী যে কোনো জীবনের মতোই, এই মঠগুলোও জঘন্যতম পাপাচারের সাক্ষী হয়েছে যা বর্ণনা করা থেকে আমরা বিরত থাকছি।
এগুলো ছাড়াও আরও অনেক খ্রিস্টীয় আকিদা (عقائد) এবং নব-উদ্ভাবিত বিষয় (مبتدعات) রয়েছে যা গির্জা তার অনুসারীদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে। আল্লাহর শুকরিয়া যে, ইসলামি আকিদায় (العقيدة) এই সকল আকিদার অসারতা অত্যন্ত স্পষ্ট। আর এই প্রকৃতির কোনো ধর্ম মহান আল্লাহর নাজিলকৃত সত্যের সাথে অবশ্যই সম্পর্কহীন এবং...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমানিয়্যাহ ওয়া মাওকিফুল ইসলামু মিনহা
(পৃষ্ঠা: ৩৪৬)
صالح لأن يكون له سلطان على العقول البشرية في عصور التنور الفكري، والتقدم الحضاري، وانتشار العلوم والمعارف.
ب- الطغيان المالي:
إن المتأمل في الأناجيل - على الرغم من تحريفها - يجد أنها لم تنه عن شيء كنهيها عن اقتناء الثروة والمال.
جاء في إنجيل متى: "لا تقتنوا ذهباً ولا فضةً ولا نحاساً في مناطقكم ولا مزوداً للطريق ولا ثوبين ولا أحذية ولا عصا "1.
وجاء في إنجيل مرقص: "مرور جملٍ من ثقب إبرةٍ أيسر من أن يدخل غنيٌ إلى ملكوت الله"2.
وجاء في إنجيل لوقا: "لا تهتموا لحياتكم بما تأكلون، ولا للجسد بما تلبسون، الحياة أفضل من الطعام والجسد أفضل من اللباس، تأملوا الغربان، إنها لا تزرع ولا تحصد، وليس لها مخدع ولا مخزن، والله يقيتها، كم أنتم بالحرى أفضل من الطيور"3.
إلا أن القرون التالية قد شهدت مفارقة عجيبة بين مفهوم الكنيسة عن الدنيا وبين واقعها العملي، حتى صار جمع المال والاستكثار من الثروات غاية لديهم، فتهالك رجال الدين على جمع المال والإسراف والبذخ والانغماس في الشهوات والملذات.
ويمكن إيجاز مظاهر الطغيان الكَنَسِيّ في هذا المجال فيمايلي:
--------------------------------------------
এটি বুদ্ধিবৃত্তিক জাগরণ, সভ্যতার অগ্রগতি এবং জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রসারের যুগে মানব মস্তিষ্কের ওপর কর্তৃত্ব করার উপযোগী।
খ- আর্থিক স্বৈরাচার:
ইঞ্জিলসমূহ—সেগুলোর বিকৃতি সত্ত্বেও—পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, সম্পদ ও অর্থ সংগ্রহের ব্যাপারে এতে যতটা কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে, অন্য কোনো বিষয়ে তেমনটি করা হয়নি।
মথি লিখিত ইঞ্জিলে বর্ণিত হয়েছে: "তোমরা তোমাদের কোমরবন্ধে সোনা, রুপা বা তামা সঞ্চয় করো না, পথের জন্য ঝুলি, কিংবা দুই সেট পোশাক, জুতো বা লাঠিও সাথে নিয়ো না।"১
মার্ক লিখিত ইঞ্জিলে এসেছে: "সুঁইয়ের ছিদ্র দিয়ে উটের প্রবেশ করা একজন ধনীর আল্লাহর রাজ্যে প্রবেশ করার চেয়ে সহজ।"২
লুক লিখিত ইঞ্জিলে এসেছে: "তোমরা তোমাদের জীবনের জন্য কী খাবে, কিংবা শরীরের জন্য কী পরবে—তা নিয়ে চিন্তা করো না; কারণ খাদ্যের চেয়ে জীবন এবং পোশাকের চেয়ে শরীর অধিক মূল্যবান। তোমরা দাঁড়কাকদের লক্ষ্য করো, তারা বীজ বপন করে না, ফসলও কাটে না; তাদের কোনো ভাণ্ডার বা গোলাঘর নেই, তবুও আল্লাহ তাদের আহার জোগান। তোমরা পাখিদের চেয়ে কতই না শ্রেষ্ঠ!"৩
কিন্তু পরবর্তী শতাব্দীগুলোতে গির্জার পার্থিব ধারণা এবং তাদের বাস্তব কর্মপদ্ধতির মধ্যে এক অদ্ভুত বৈপরীত্য লক্ষ্য করা যায়। এমনকি অর্থ লালসা ও ধন-সম্পদ বৃদ্ধি করাই তাদের মূল লক্ষ্যে পরিণত হয়। ফলে যাজক সম্প্রদায় অর্থ সংগ্রহ, অপচয়, বিলাসিতা এবং লালসা ও ভোগ-বিলাসে মত্ত হয়ে পড়ে।
এই ক্ষেত্রে গির্জার স্বৈরাচারের রূপগুলো সংক্ষেপে নিচে আলোচনা করা হলো:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমানিয়্যাহ ওয়া মাওকিফুল ইসলামু মিনহা
(পৃষ্ঠা: ৩৪৭)
1-الأملاك الإقطاعية:
يقول ديورانت1: "أصبحت الكنيسة أكبر ملاك الأراضي وأكبر السادة الإقطاعيين في أوروبا، فقد كان دير "فلدا" مثلاً يمتلك (15000) قصر صغير، وكان دير "سانت جول" يملك (2000) من رقيق الأرض، كان "الكوين فيتور" أحد رجال الدين سيداً لعشرين ألفاً من أرقاء الأرض، وكان الملك هو الذي يعين رؤساء الأساقفة والأديرة
… وكانوا يقسمون يمين الولاء لغيرهم من الملاك الإقطاعيين ويلقبون بالدوق والكونت وغيرها من الألقاب الإقطاعية
… وهكذا أصبحت الكنيسة جزءاً من النظام الإقطاعي.
وكانت أملاكها الزمنية: أي المادية، وحقوقها والتزاماتها الإقطاعية مما يجلل بالعار كل مسيحي متمسك بدينه، وسخرية تلوكها ألسنة الخارجين على الدين ومصدراً للجدل والعنف بين الأباطرة والبابوات"2.
2-الأوقاف:
كانت الكنيسة تملك المساحات الشاسعة من الأراضي الزراعية باعتبارها أوقافاً للكنيسة، بدعوى أنها تصرف عائداتها على سكان الأديرة، وبناء الكنائس، وتجهيز الحروب الصليبية، إلا أنها أسرفت في تملك الأوقاف حتى وصلت نسبة أراضي الكنيسة في بعض الدول إلى درجة لا تكاد تصدق، وقد قال المصلح الكنسي "ويكلف" - وهو من أوائل المصلحين -: "إن الكنيسة
--------------------------------------------
১-সামন্ততান্ত্রিক ভূ-সম্পত্তি:
ডিউরান্ট১ বলেন: "গির্জা ইউরোপের বৃহত্তম ভূমিমালিক এবং বৃহত্তম সামন্ত প্রভুতে পরিণত হয়েছিল; উদাহরণস্বরূপ, 'ফুলডা' মঠের (১৫০০০)টি ছোট প্রাসাদ ছিল, 'সেন্ট গল' মঠের (২০০০) জন ভূমিদাস ছিল, ধর্মীয় ব্যক্তিবর্গের একজন 'অ্যালকুইন ফিটর' বিশ হাজার ভূমিদাসের প্রভু ছিলেন, এবং রাজাই আর্চবিশপ ও মঠাধ্যক্ষদের নিযুক্ত করতেন
… এবং তাঁরা অন্যান্য সামন্ত মালিকদের কাছে আনুগত্যের শপথ গ্রহণ করতেন এবং ডিউক, কাউন্ট ও অন্যান্য সামন্ততান্ত্রিক উপাধিতে ভূষিত হতেন
… এভাবে গির্জা সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থার একটি অংশে পরিণত হয়েছিল।
আর এর জাগতিক অর্থাৎ বৈষয়িক সম্পদ এবং এর সামন্ততান্ত্রিক অধিকার ও বাধ্যবাধকতাগুলো এমন ছিল যা প্রত্যেক ধর্মপ্রাণ খ্রিস্টানকে লজ্জায় নিমজ্জিত করত; এটি ধর্মবিদ্বেষীদের বিদ্রূপের খোরাক এবং সম্রাট ও পোপদের মধ্যে বিতর্ক ও সহিংসতার একটি উৎস ছিল"২।
২-ওয়াকফ (أوقاف):
গির্জা গির্জার ওয়াকফ (أوقاف) হিসেবে বিশাল আয়তনের কৃষি জমির মালিকানা লাভ করেছিল, এই অজুহাতে যে এর লভ্যাংশ মঠের অধিবাসী, গির্জা নির্মাণ এবং ক্রুসেড যুদ্ধের প্রস্তুতিতে ব্যয় করা হবে। তবে তারা ওয়াকফ (أوقاف) অধিকারে এতটাই সীমালঙ্ঘন করেছিল যে, কিছু দেশে গির্জার ভূমির অনুপাত অকল্পনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছিল। গির্জা সংস্কারক 'উইক্লিফ'—যিনি প্রথম সারির সংস্কারকদের অন্তর্ভুক্ত—বলেছেন: "নিশ্চয়ই গির্জা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমানিয়্যাহ ওয়া মাওকিফুল ইসলামু মিনহা
(পৃষ্ঠা: ৩৪৮)
تملك أراضي إنجلترا وتأخذ الضرائب الباهظة من الباقي، وطالب بإلغاء هذه الأوقاف واتهم رجال الدين بأنهم "أتباع قياصرة لا أتباع الله"1.
3-العشور:
فرضت الكنيسة على كل أتباعها ضريبة (العشور) وبفضلها كانت الكنيسة تضمن حصولها على عشر ما تغله الأراضي الزراعية والإقطاعيات، وعشر ما يحصل عليه المهنيون وأرباب الحرف غير الفلاحين ولم يكن في وسع أحد أن يرفض شيئاً من ذلك فالشعب خاضع تلقائياً لسطوتها 2.
4-ضريبة السنة الأولى:
لم تشبع الأوقاف والعشور نهم الكنيسة الجائع، وجشعها البالغ، بل فرضت الرسوم والضرائب الأخرى، لاسيما في الحالات الاستثنائية؛ كالحروب الصليبية والمواسم المقدسة، وظلت ترهق بها كاهل رعاياها، فلما تولى البابا حنا الثاني والعشرون جاء ببدعة جديدة هى "ضريبة السنة الأولى" وهى مجموعة الدخل السنوي الأول لوظيفة من الوظائف الدينية أو الإقطاعية تدفع للكنيسة بصفة إجبارية، وبذلك ضمنت الكنيسة مورداً مالياً جديداً 3.
5-الهبات والعطايا:
وكانت الكنيسة تحظى بالكثير من الهبات التي يقدمها الأثرياء الإقطاعيون للتملق والرياء، أو يهبها البعض بدافع الإحسان والصدقة. وقد
--------------------------------------------
তারা ইংল্যান্ডের ভূমির মালিকানা ভোগ করত এবং অবশিষ্টদের কাছ থেকে উচ্চমাত্রায় কর আদায় করত। তিনি এই ওয়াকফ (أوقاف) প্রথা বাতিলের দাবি জানান এবং ধর্মযাজকদের এই বলে অভিযুক্ত করেন যে, তারা "আল্লাহর অনুসারী নয়, বরং সিজারদের অনুসারী"।
১৩-দশমাংশ কর (العشور):
গির্জা তার সকল অনুসারীর ওপর দশমাংশ কর (العشور) আরোপ করেছিল। এর বদৌলতে গির্জা কৃষিভূমি ও জায়গির থেকে উৎপাদিত ফসলের এক-দশমাংশ এবং কৃষক ব্যতীত অন্যান্য পেশাজীবী ও কারিগরদের উপার্জনের এক-দশমাংশ প্রাপ্তি নিশ্চিত করত। কারও পক্ষেই এর কোনো কিছু প্রত্যাখ্যান করার সাধ্য ছিল না, কারণ জনগণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে গির্জার দাপটের কাছে অনুগত ছিল।
২৪-প্রথম বছরের কর (ضريبة السنة الأولى):
ওয়াকফ (أوقاف) এবং দশমাংশ কর (العشور) গির্জার ক্ষুধার্ত লালসা ও সীমাহীন লোভ মেটাতে সক্ষম হয়নি, বরং তারা অন্যান্য মাশুল ও কর আরোপ করেছিল, বিশেষ করে ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে; যেমন ক্রুসেড যুদ্ধ ও পবিত্র ঋতুগুলোতে। গির্জা ক্রমাগতভাবে প্রজাদের ওপর এসবের বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছিল। যখন পোপ জন দ্বাবিংশতি দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তখন তিনি "প্রথম বছরের কর (ضريبة السنة الأولى)" নামক একটি নতুন উদ্ভাবন (بدعة) নিয়ে আসেন। এটি ছিল কোনো ধর্মীয় বা সামন্ততান্ত্রিক পদের প্রথম বছরের মোট বার্ষিক আয়ের সমষ্টি যা গির্জাকে বাধ্যতামূলকভাবে প্রদান করতে হতো। এর মাধ্যমে গির্জা একটি নতুন আর্থিক উৎস নিশ্চিত করে।
৩৫-অনুদান ও উপহার (الهبات والعطايا):
গির্জা এমন অনেক অনুদান লাভ করত যা ধনাঢ্য সামন্তবাদীরা তোষামোদ ও লোকদেখানোর জন্য প্রদান করত, অথবা কেউ কেউ ইহসান (إحسان) ও দান-সদকা (صدقة) স্বরূপ প্রদান করত। যা
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমানিয়্যাহ ওয়া মাওকিফুল ইসলামু মিনহা
(পৃষ্ঠা: ৩৪৯)
قويت هذه الدوافع بعد مهزلة صكوك الغفران، إذ انهالت التبرعات على الكنيسة، وتضخمت ثروات رجال الدين تضخماً كبيراً.
هذا. ولا ننسى المواسم المقدسة والمهرجانات الكنيسية التي كانت تدرُّ الأموال الطائلة على رجال الكنيسة؛ فمثلاً في سنة 1300م عقد مهرجان لليوبيل1 واجتمع له جمهور حاشد من الحجاج في روما بلغ من انهيال المال إلى خزائن البابوية أن ظل موظفان يجمعان بالمجاريف الهبات التي وضعت عند قبر القديس بطرس2.
6- العمل المجاني "السخرة":
لم تقنع الكنيسة بامتلاك الإقطاعيات برقيقها وما يملكه بعض رجال الدين من آلاف الأرقاء، بل أرغمت أتباعها على العمل المجاني في حقولها وفي مشروعاتها، ولاسيما بناء الكنائس والأضرحة وكان على الناس أن يرضخوا لأوامرها ويعملوا بالمجان لمصلحتها مدة محدودة، هى في الغالب يَوْمٌ واحِدٌ في الأسبوع، ولا ينالون مقابل ذلك جزاءً ولا شكورا3.
وبهذا يتبين لنا أن الانحراف والفساد الديني والاجتماعي قد وصل على يد الكنيسة النصرانية ورجالها وتعاليمها المزيفة إلى حد لم يعد يتحمله الناس ولا تطيقه فطرة البشر، حيث شقيت أوروبا برجال الدين الدجالين، وبتسلطهم ونفوذهم باسم الدين، وباسم الرب.
--------------------------------------------
পাপমোচন পত্রের প্রহসনের পর এই প্রেষণাগুলো আরও শক্তিশালী হয়, যখন গির্জায় অনুদানের জোয়ার বইতে শুরু করে এবং ধর্মযাজকদের সম্পদ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়।
তদুপরি, আমরা পবিত্র ঋতু এবং গির্জার উৎসবগুলোর কথা ভুলতে পারি না, যা গির্জার যাজকদের জন্য প্রচুর অর্থ নিয়ে আসত। উদাহরণস্বরূপ, ১৩০০ খ্রিস্টাব্দে একটি জুবিলি ১ উৎসব পালিত হয়েছিল এবং রোমে তীর্থযাত্রীদের বিশাল এক জনসমাবেশ ঘটেছিল। পোপের রাজকোষে অর্থের প্রবাহ এতটাই ছিল যে, সেন্ট পিটার ২ এর কবরের কাছে রাখা দানগুলো সংগ্রহ করতে দুইজন কর্মচারী কোদাল ব্যবহার করত।
৬- বিনা পারিশ্রমিকে শ্রম বা "বেগার খাটানো":
গির্জা কেবল ভূমিদাসের মালিকানাধীন জায়গির বা কিছু ধর্মযাজকের হাজার হাজার ক্রীতদাসের মালিকানায় সন্তুষ্ট ছিল না; বরং তারা তাদের অনুসারীদের তাদের ক্ষেতে এবং প্রকল্পে, বিশেষ করে গির্জা ও সমাধি নির্মাণে বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করতে বাধ্য করত। মানুষকে তাদের আদেশ মেনে চলতে হতো এবং তাদের স্বার্থে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিনামূল্যে কাজ করতে হতো, যা সাধারণত সপ্তাহে একদিন ছিল, যার বিনিময়ে তারা কোনো প্রতিদান বা কৃতজ্ঞতা লাভ করত না ৩।
এর মাধ্যমে আমাদের কাছে স্পষ্ট হয় যে, খ্রিস্টীয় গির্জা, এর যাজক এবং তাদের বিকৃত (مزيفة) শিক্ষার মাধ্যমে ধর্মীয় ও সামাজিক বিচ্যুতি এবং দুর্নীতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছিল যা মানুষ আর সহ্য করতে পারছিল না এবং মানুষের স্বভাবজাত প্রবৃত্তি (فطرة) তা মেনে নিতে পারছিল না। সেখানে ইউরোপ প্রতারক (دجالين) ধর্মযাজকদের কারণে এবং ধর্মের নামে ও প্রভুর নামে তাদের আধিপত্য ও প্রভাবের কারণে দুর্ভাগ্যের শিকার হয়েছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমানিয়্যাহ ওয়া মাওকিফুল ইসলামু মিনহা
(পৃষ্ঠা: ৩৫০)
ج-الطغيان السياسي:
أما الطغيان السياسي فقد بلغت سلطة البابا الدينية المهيمنة على ذوي السلطة الإدارية والسياسية أوجها، حتى كان باستطاعة البابا أن يتوج الملوك والأباطرة، وأن يخلع تيجانهم إذا نازعوه ورفضوا أوامره، وأن يحرمهم من الدين، وأن يحرم شعوبهم الذين يوالونهم، ولايستجيبون لأوامر الخلع البابوية.
حتى إن البابا "جريجوري" السابع خلع الإمبراطور الألماني "هنري" الرابع وحرمه، وأحلَّ أتباعه والأمراء من ولائهم له، وألبهم عليه، فعقد الأمراء اجتماعاً قرروا فيه أنه إذا لم يحصل الإمبراطور على مغفرة البابا فإنه سيفقد عرشه إلى الأبد، فاضطر هذا الإمبراطور حفاظاً على عرشه أن يسعى لاسترضاء البابا سنة (1077م) فاجتاز جبال الألب في شتاء بارد مسافراً إلى البابا الذي كان في قلعته بمرتفعات "كانوسا" في "تسكانيا" وظل واقفاً في الثلح في فناء القلعة ثلاثة أيام، وهو في لباس الرهبان، متدثراً بالخيش، حافي القدمين، عاري الرأس، يحمل عكازه مظهراً ندمه وتوبته، حتى ظفر بعفو البابا، وحصل على رضاه1.
--------------------------------------------
গ- রাজনৈতিক স্বৈরাচার:
রাজনৈতিক স্বৈরাচারের ক্ষেত্রে, প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতার অধিকারীদের ওপর পোপের আধিপত্য বিস্তারকারী ধর্মীয় কর্তৃত্ব চরম শিখরে পৌঁছেছিল। এমনকি পোপের এই ক্ষমতা ছিল যে, তিনি রাজা ও সম্রাটদের মুকুট পরিয়ে অভিষেক করতেন এবং তারা যদি তার সাথে বিরোধে লিপ্ত হতো কিংবা তার আদেশ অমান্য করত, তবে তিনি তাদের সিংহাসনচ্যুত করতে পারতেন। এছাড়া তিনি তাদের ধর্ম থেকে বহিষ্কার করতে পারতেন এবং তাদের অনুসারী যে সকল জনগণ পোপের পদচ্যুতির আদেশ মান্য করত না, তাদের ওপরও ধর্মীয় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারতেন।
এমনকি পোপ সপ্তম "গ্রেগরি" জার্মানির সম্রাট চতুর্থ "হেনরি"-কে পদচ্যুত ও ধর্ম থেকে বহিষ্কার করেছিলেন। তিনি সম্রাটের অনুসারী ও রাজপুত্রদের আনুগত্যের বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্ত করে দেন এবং তাদের সম্রাটের বিরুদ্ধে প্ররোচিত করেন। ফলে রাজপুত্ররা একটি সভায় মিলিত হয়ে সিদ্ধান্ত নেন যে, সম্রাট যদি পোপের ক্ষমালাভে ব্যর্থ হন, তবে তিনি চিরতরে তার সিংহাসন হারাবেন। এমতাবস্থায় সম্রাট নিজের সিংহাসন রক্ষার্থে ১০৭৭ খ্রিস্টাব্দে পোপকে সন্তুষ্ট করার উদ্যোগ নিতে বাধ্য হন। তিনি তীব্র শীতের মধ্যে আল্পস পর্বতমালা অতিক্রম করে পোপের নিকট পৌঁছান, যিনি তখন "তাসকানি"র "ক্যানোসা" উচ্চভূমির এক দুর্গে অবস্থান করছিলেন। সম্রাট সন্ন্যাসীর পোশাক পরিহিত অবস্থায়, গায়ে চট জড়িয়ে, খালি পায়ে ও খোলা মাথায় লাঠি হাতে নিয়ে নিজের অনুশোচনা ও অনুতাপ প্রকাশ করে টানা তিন দিন দুর্গের প্রাঙ্গণে বরফের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকেন। অবশেষে তিনি পোপের ক্ষমা ও সন্তুষ্টি অর্জনে সক্ষম হন।১
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমানিয়্যাহ ওয়া মাওকিফুল ইসলামু মিনহা
(পৃষ্ঠা: ৩৫০)
المطلب الثاني: الصراع بين الكنيسة والعلم…ثانياً: الصراع بين الكنيسة والعلم:
الصراع بين الدين والعلم مشكلة من أعمق وأعقد المشكلات في التاريخ الفكري الأوروبي إن لم تكن أعمقها على الإطلاق.
وذلك أن الكنيسة كانت هي صاحبة السلطة طوال القرون الوسطى في أوروبا حتى قامت النهضة العلمية هناك.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: গির্জা ও বিজ্ঞানের মধ্যে সংঘাত…দ্বিতীয়ত: গির্জা ও বিজ্ঞানের মধ্যবর্তী সংঘাত:
ধর্ম ও বিজ্ঞানের মধ্যকার সংঘাত ইউরোপীয় বুদ্ধিবৃত্তিক ইতিহাসের অন্যতম গভীর ও জটিল সমস্যা, যদি না এটি সর্বাপেক্ষা গভীর সমস্যা হয়ে থাকে।
কারণ সমগ্র মধ্যযুগ জুড়ে ইউরোপে গির্জাই ছিল ক্ষমতার অধিকারী, যতক্ষণ না সেখানে বৈজ্ঞানিক রেনেসাঁ বা জাগরণ সংঘটিত হয়েছিল।
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমানিয়্যাহ ওয়া মাওকিফুল ইসলামু মিনহা
(পৃষ্ঠা: ৩৫১)
وفي هذه الأثناء وقعت الحروب الصليبية بين المسلمين والأوروبيين، واستمرت طوال القرنين الحادي عشر، والثاني عشر الميلادي، واحتك الصليبيون خلالها بالمسلمين ووقفوا عن كثب على صفات الإسلام وروعته في جميع مجالات العلوم والفنون، في الأندلس والشمال الإفريقي وصقلية وغيرها، حيث كانت المدارس والجامعات المتعددة في كل مكان في بلاد المسلمين، يؤمها طلاب العلم، ومنهم الأوروبيون الذين وفدوا يتعلمون من الأساتذة المسلمين، وترجمت بعض الكتب إلى اللغة الإنجليزية.
فلما عاد أولئك الأوروبيين الذين تأثروا بنور الإسلام وعرفوا أن الكنيسة ورجالها عملة مزيفة، ووسيلة للدجل والتحكم الظالم في عباد الله، أخذ هؤلاء يقاومون الكنيسة ودينها المزيف وأعلنوا كشوفاتهم العلمية والجغرافية، والعلوم الطبيعية التي تحرمها الكنيسة، وعند ذلك قامت قيامة من يُسمون لدى النصارى برجال الدين، واحتدم الصراع، ومكث قروناً بين رجال العلم ورجال الكنيسة، فأخذوا يُكفّرون ويقتلون ويحرقون ويشردون المكتشفين، وأنشأت الكنيسة محاكم للتفتيش لملاحقة حملة الأفكار المخالفة لآرائها وأفكارها1.
ومكث هذا الصراع عدة قرون، وانتهى بإبعاد الكنيسة ورجالها عن التدخل في نظم الحياة وشئون الدولة، فالدين - بمعنىً أوضح - مهمته داخل جدران الكنيسة فقط ولا داعي لوجوده خارجها، ويكون لرجال الدولة والعلم إدارة شئون الحياة بالأسلوب الذي يناسبهم سواء أكان متفقاً مع مبادئ الدين أم لا؟!!
--------------------------------------------
এরই মধ্যে মুসলিম ও ইউরোপীয়দের মাঝে ক্রুসেড যুদ্ধসমূহ সংঘটিত হয় এবং তা একাদশ ও দ্বাদশ খ্রিস্টীয় শতাব্দী জুড়ে চলতে থাকে। এই সময়ে ক্রুসেডাররা মুসলিমদের সংস্পর্শে আসে এবং আন্দালুসিয়া, উত্তর আফ্রিকা, সিসিলি ও অন্যান্য স্থানে বিজ্ঞান ও কলার সকল ক্ষেত্রে ইসলামের বৈশিষ্ট্য ও এর চমৎকার রূপ খুব কাছ থেকে প্রত্যক্ষ করে। যেখানে মুসলিম ভূখণ্ডের প্রতিটি স্থানে অসংখ্য মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয় ছিল এবং ইলম অন্বেষণকারীরা সেখানে সমবেত হতেন। তাদের মধ্যে ছিলেন সেই সব ইউরোপীয়রা, যারা মুসলিম শিক্ষকদের নিকট থেকে শিক্ষা লাভ করতে আসতেন এবং তখন কিছু গ্রন্থ ইংরেজি ভাষায় অনূদিত হয়েছিল।
অতঃপর যখন সেই ইউরোপীয়রা ফিরে গেল—যারা ইসলামের আলোতে প্রভাবিত হয়েছিল এবং বুঝতে পেরেছিল যে গির্জা ও এর পাদ্রিরা একটি অসার মুদ্রা এবং আল্লাহর বান্দাদের ওপর প্রতারণা ও অন্যায় আধিপত্য বিস্তারের হাতিয়ার মাত্র—তখন তারা গির্জা ও এর কৃত্রিম ধর্মের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে শুরু করল। তারা তাদের বৈজ্ঞানিক ও ভৌগোলিক আবিষ্কারসমূহ এবং প্রাকৃতিক বিজ্ঞান যা গির্জা নিষিদ্ধ করেছিল, তা প্রকাশ করতে লাগল। আর তখনই খ্রিস্টানদের তথাকথিত ধর্মযাজকদের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হলো এবং এক প্রচণ্ড সংঘাত শুরু হলো। বিজ্ঞানীদের ও গির্জার কর্তাব্যক্তিদের মধ্যে এই দ্বন্দ্ব কয়েক শতাব্দী ধরে চলতে থাকে। তারা বিজ্ঞানীদের কাফির সাব্যস্ত করতে লাগল, তাদের হত্যা করল, পুড়িয়ে মারল এবং বাস্তুচ্যুত করল। গির্জা তাদের নিজস্ব মতাদর্শ ও চিন্তাধারার বিরোধী মতাবলম্বীদের দমনের জন্য বিচার বিভাগীয় আদালত বা ‘ইনকুইজিশন’ প্রতিষ্ঠা করল।১
এই সংঘাত কয়েক শতাব্দী ধরে স্থায়ী হয় এবং এর সমাপ্তি ঘটে জীবন ব্যবস্থা ও রাষ্ট্রীয় বিষয়ে গির্জা ও ধর্মযাজকদের হস্তক্ষেপ থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে। ফলে ধর্ম—আরও স্পষ্ট অর্থে—কেবল গির্জার দেয়ালের অভ্যন্তরেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে এবং এর বাইরে ধর্মের উপস্থিতির কোনো আবশ্যকতা অবশিষ্ট থাকে না। এমতাবস্থায় রাষ্ট্রনায়ক ও বিজ্ঞানীরা জীবনের যাবতীয় বিষয় এমন পদ্ধতিতে পরিচালনা করবেন যা তাদের নিকট সমীচীন মনে হয়, চাই তা ধর্মের মূলনীতির সাথে সংগতিপূর্ণ হোক বা না হোক?!!
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমানিয়্যাহ ওয়া মাওকিফুল ইসলামু মিনহা
(পৃষ্ঠা: ৩৫২)
وبما أن الدين بصبغته الإلهية النقية لم يدخل المعركة، فإن الأولى أن نسمي ما حدث في أوروبا صراعاً بين الكنيسة والعلم، وليس بين الدين والعلم أو بين رجال الدين والعلماء.1
ونظراً لأن الصراع الدامي الطويل قد انتهى بأول انتصار حاسم لأعداء الكنيسة اثناء الثورة الفرنسية فإننا سنتناول ذلك بإيجاز.
--------------------------------------------
যেহেতু ধর্ম তার বিশুদ্ধ ঐশী রূপ নিয়ে এই লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়নি, তাই ইউরোপে যা ঘটেছিল তাকে ধর্ম ও বিজ্ঞানের লড়াই কিংবা ধর্মবিদ ও বিজ্ঞানীদের মধ্যকার দ্বন্দ্ব না বলে বরং গির্জা ও বিজ্ঞানের মধ্যকার সংঘাত বলাই অধিকতর যুক্তিযুক্ত।১
যেহেতু দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সেই সংঘাত ফরাসি বিপ্লবের সময় গির্জার শত্রুদের প্রথম চূড়ান্ত বিজয়ের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়েছিল, তাই আমরা সেই বিষয়টি সংক্ষেপে আলোচনা করব।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমানিয়্যাহ ওয়া মাওকিফুল ইসলামু মিনহা
(পৃষ্ঠা: ৩৫২)
المطلب الثالث: الثورة الفرنسية…ثالثاً: الثورة الفرنسية:
ونتيجة لوضع الكنيسة ودينها المحرف، ووقوفها ضد مطالب الناس، دبّر اليهود مكايدهم لاستغلال الثورة النفسية التي وصلت إليها الشعوب الأوروبية، لاسيما الشعب الفرنسي.. فأعدوا الخطط اللازمة؛ لإقامة الثورة الفرنسية الرامية إلى تغيير الأوضاع السائدة، وفي مقدمتها عزل الدين النصراني المحرف الذي حارب العلم عن الحياة، وحصره في داخل الكنيسة وإبعاد رجالها عن التحكم الظالم.
وفعلاً قامت الثورة الكبرى عام (1789م) واستطاع اليهود أن يجنوا ثمرات عملهم على حساب آلام الشعوب، والدماء التي أهرقت من جرائها، واستطاعوا أن يظلوا في الخفاء بعيداً عن الأضواء، وأن يزوروا كثيراً من الحقائق التاريخية؛ لستر مكايدهم وغاياتهم، واستطاعوا أن يصوروا هذه الثورة وما جرّت وراءها بالصورة الجميلة المحببة، وأن يجعلوها إحدى الأعمال التاريخية المجيدة، وذلك عن طريق الدعايات والإشاعات المزخرفة المقرونة بالشعارات البراقة التي انخدع بها الناس، وأخذت ترددها دون أن تفهم الهدف الذي ترمي إليه.
ووضع اليهود شعاراً مثلثاً لهذه الثورة هو "الحرية، والمساواة، والإخاء".
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ফরাসি বিপ্লব…তৃতীয়ত: ফরাসি বিপ্লব:
গির্জা এবং তার বিকৃত (المحرف) ধর্মের শোচনীয় অবস্থা এবং জনগণের দাবির বিরুদ্ধে গির্জার অবস্থানের ফলে ইউরোপীয় জাতিগুলো, বিশেষ করে ফরাসি জনগণ যে মানসিক বিপ্লবের পর্যায়ে পৌঁছেছিল, ইহুদিরা তাকে কাজে লাগানোর জন্য তাদের চক্রান্তের জাল বিস্তার করে। তারা প্রচলিত পরিস্থিতি পরিবর্তনের লক্ষ্যে ফরাসি বিপ্লব সংঘটিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা গ্রহণ করে। তাদের এই পরিকল্পনার অগ্রভাগে ছিল বিজ্ঞানের সাথে বিরোধপূর্ণ বিকৃত (المحرف) খ্রিস্টধর্মকে জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন করা, একে গির্জার অভ্যন্তরে সীমাবদ্ধ রাখা এবং ধর্মীয় যাজকদের অন্যায় কর্তৃত্ব থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া।
অবশেষে ১৭৮৯ সালে সেই মহাবিপ্লব সংঘটিত হয় এবং ইহুদিরা সাধারণ মানুষের দুঃখ-বেদনা ও এই বিপ্লবে ঝরা রক্তের বিনিময়ে তাদের কর্মের ফসল সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়। তারা পর্দার আড়ালে লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকতে এবং তাদের চক্রান্ত ও হীন উদ্দেশ্য গোপন করার জন্য অনেক ঐতিহাসিক সত্যকে বিকৃত (المحرف) করতে সক্ষম হয়। তারা এই বিপ্লব এবং এর আনুষঙ্গিক ফলাফলগুলোকে অত্যন্ত সুন্দর ও আকর্ষণীয় রূপে চিত্রিত করতে সমর্থ হয় এবং চোখধাঁধানো স্লোগান সংবলিত সুসজ্জিত প্রচারণা ও গুজবের মাধ্যমে একে অন্যতম এক গৌরবময় ঐতিহাসিক কাজ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। সাধারণ মানুষ এর দ্বারা প্রতারিত হয় এবং এর প্রকৃত লক্ষ্য না বুঝেই তা বারবার আওড়াতে শুরু করে।
ইহুদিরা এই বিপ্লবের জন্য একটি ত্রিমাত্রিক স্লোগান নির্ধারণ করেছিল, যা হলো: "স্বাধীনতা, সাম্য ও ভ্রাতৃত্ব"।
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমানিয়্যাহ ওয়া মাওকিফুল ইসলামু মিনহা
(পৃষ্ঠা: ৩৫৩)
أما أصل مخططات هذه الثورة فقد وضعها جماعة النورانيين من الحاخامين اليهود، واستخدموا للبدء بالدعوة إليها بين سادة المال اليهود العالميين، الثري المرابي الكبير "روتشيلد الأول" ثم ابنه "ناتان روتشيلد"1.
ومما يدل على أن الثورة الفرنسية هي من صنع اليهود وتدبيرهم ماتتبجح به بروتوكولاتهم فتقول: "تذكروا الثورة الفرنسية التي نسميها "الكبرى"إن أسرار تنظيمها التمهيدي معروفة لنا جيداً لأنها من صنع أيدينا"2.
وتقول: "كذلك كنا قديماً أول من صاح في الناس "الحرية، والمساواة والإخاء" كلمات ما انفكت ترددها منذ ذلك الحين ببغاوات جاهلة متجمهرة من كل مكان حول هذه الشعائر3.
وتمخضت الثورة عن نتائج بالغة الخطورة، فقد ولدت لأول مرة في تاريخ أوروبا المسيحية دولة جمهورية، لادينية، تقوم فلسفتها على الحكم باسم
1 روتشيلد وابنه ناتان من أسرة يهودية من رجال المال، اتصلت سيرة بعض أفرادها بالاحتلال البريطاني لمصر ثم بالحركة الصهيونية لإقامة وطن قومي لليهود بفلسطين.
رأس هذا البيت ماير أنسلم روتشيلد (1743-1812م) الذي أنشأ بيتاً للتسليف بمدينة فرانكفورت الألمانية ومن بعده أبناؤه العشرة الذين انتشروا بين لندن وباريس ونابولي وفينا وفرانكفورت ثم الولايات المتحدة، ويعتبر رأس الفرع الإنجليزي زعيم الطائفة اليهودية في بريطانيا منذ أن منح ناتان ماير روتشيلد رتبة اللوردية عام 1885م، توفى 1915م.
--------------------------------------------
এই বিপ্লবের মূল নীল নকশা প্রণয়ন করেছিল ইহুদি রিব্বিদের অন্তর্ভুক্ত ‘নুরানিয়িন’ নামক একটি গোষ্ঠী। তারা আন্তর্জাতিক ইহুদি বিত্তশালীদের মাঝে এই বিপ্লবের দাওয়াত ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য শীর্ষ ধনী সুদখোর ‘প্রথম রথসচাইল্ড’ এবং পরবর্তীতে তার পুত্র ‘নাথান রথসচাইল্ড’-কে ব্যবহার করেছিল।১
ফরাসি বিপ্লব যে ইহুদিদেরই সৃষ্টি এবং তাদেরই পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র, তার প্রমাণ মেলে তাদের প্রোটোকলসমূহের দম্ভোক্তিতে; যেখানে বলা হয়েছে: “তোমরা ফরাসি বিপ্লবের কথা স্মরণ করো, যাকে আমরা ‘মহা বিপ্লব’ বলে অভিহিত করি। এর প্রাথমিক প্রস্তুতির গোপন রহস্যগুলো আমাদের কাছে সুপরিচিত; কারণ তা আমাদের নিজেদেরই হাতের কাজ।”২
তাতে আরও বলা হয়েছে: “অনুরূপভাবে প্রাচীনকালে আমরাই প্রথম মানুষের মাঝে ‘স্বাধীনতা, সাম্য ও ভ্রাতৃত্ব’ স্লোগান তুলেছিলাম; যা সেই সময় থেকে আজ পর্যন্ত অজ্ঞ তোতাপাখির দল সবখান থেকে এসে এই শ্লোগানগুলোর চারপাশে ভিড় জমিয়ে আওড়ে যাচ্ছে।”৩
এই বিপ্লবের ফলে অত্যন্ত ভয়াবহ পরিণতি দেখা দেয়। এর মাধ্যমেই খ্রিস্টীয় ইউরোপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এক ধর্মহীন প্রজাতন্ত্রের জন্ম হয়, যার দর্শন ছিল শাসনের নামে...
১. রথসচাইল্ড ও তার পুত্র নাথান এক বিত্তশালী ইহুদি পরিবারের সদস্য। এই পরিবারের কিছু সদস্যের জীবনী মিশরে ব্রিটিশ দখলদারিত্ব এবং পরবর্তীতে ফিলিস্তিনে ইহুদিদের জন্য জাতীয় আবাসভূমি প্রতিষ্ঠার জায়নবাদী আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত।
এই বংশের প্রধান ছিলেন মায়ার আনসেলম রথসচাইল্ড (১৭৪৩-১৮১২ খ্রি.), যিনি জার্মানির ফ্রাঙ্কফুট শহরে একটি ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। তার মৃত্যুর পর তার দশ পুত্র লন্ডন, প্যারিস, নেপলস, ভিয়েনা, ফ্রাঙ্কফুট এবং পরবর্তীকালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ছড়িয়ে পড়ে। ১৮৮৫ সালে নাথান মায়ার রথসচাইল্ডকে ‘লর্ড’ উপাধি দেওয়ার পর থেকে এই বংশের ব্রিটিশ শাখার প্রধান ব্যক্তিটি ব্রিটেনের ইহুদি সম্প্রদায়ের নেতা হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছেন। তিনি ১৯১৫ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
--------------------------------------------