(খণ্ড: ১)
আল-মাউদুয়াত লি ইবনিল জাওযী
(পৃষ্ঠা: -)
الموضوعات لابن الجوزي القسم: العلل والسؤلات الحديثية
الكتاب: الموضوعات
المؤلف: جمال الدين عبد الرحمن بن علي بن محمد الجوزي (ت 597هـ)
ضبط وتقديم وتحقيق: عبد الرحمن محمد عثمان
الناشر: محمد عبد المحسن صاحب المكتبة السلفية بالمدينة المنورة
الطبعة: الأولى
جـ 1، 2: 1386 هـ - 1966 م
جـ 3: 1388 هـ - 1968 م
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইবনুল জাওযীর আল-মাওদুআত বিভাগ: হাদিসের ইল্লাত (ত্রুটি) ও প্রশ্নসমূহ
কিতাব: আল-মাওদুআত
লেখক: জামালুদ্দিন আব্দুর রহমান বিন আলী বিন মুহাম্মাদ আল-জাওযী (মৃত্যু ৫৯৭ হিজরি)
সম্পাদনা, ভূমিকা ও তাহকিক: আব্দুর রহমান মুহাম্মাদ উসমান
প্রকাশক: মুহাম্মাদ আব্দুল মুহসিন, মাকতাবাতুস সালাফিয়্যাহ-এর স্বত্বাধিকারী, মদিনা মুনাওয়ারাহ
সংস্করণ: প্রথম
খণ্ড ১، ২: ১৩৮৬ হিজরি - ১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড ৩: ১৩৮৮ হিজরি - ১৯৬৮ খ্রিস্টাব্দ
[কিতাবটির নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-মাউদুয়াত লি ইবনিল জাওযী
(পৃষ্ঠা: ৩)
تَقْدِيم [الْمُحَقق]بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم وَالصَّلَاة وَالسَّلَام على رَسُول الله.
وَبعد
… مَعْلُوم أَن الْإِسْلَام عقيدة وَعَملا قَامَ على دعامتين أساسيتين، هما كتاب الله تَعَالَى وَسنة نبيه الْكَرِيم، وَالسّنة فِي ذَاتهَا تبيان للْكتاب وتطبيق لَهُ.
وَكَانَ الرَّسُول الْكَرِيم عَلَيْهِ صلوَات الله تَعَالَى بِمَا أُوتى من جَوَامِع الْكَلم وبليغ القَوْل يُؤدى عَن ربه، تَفْصِيلًا لما أجمل من قُرْآن، أَو تَصْرِيحًا عَن أَمر ألمح إِلَيْهِ الْوَحْي، أَو إِجَابَة عَن تساؤل تحيرت فِيهِ أفكار النَّاس، أَو تَعْبِير عَن إحساس عميق بحقائق هَذِه الْحَيَاة الدُّنْيَا، وَمَا هُوَ كَائِن بعْدهَا من
أَحْدَاث..وَكَانَ لتعبيره صلى الله عليه وسلم نمط فريد، جمع بَين ملاحة الْعبارَة وتآلف كلماتها، وتجاذب أصواتها، وشمول مَعْنَاهَا، وعمقه ودقته..بِحَيْثُ تتْرك من آثارها فِي نفس السَّامع، حقائق مُسْتَقِرَّة، مريحة.
توقظ المشاعر، وتتمزج بالفطرة، وتتغلغل فِي أعماقها.
كَانَ لحديثه صلى الله عليه وسلم نمط فريد، اخْتصَّ بِهِ عليه السلام.
جمع بَين الإيجاز فِي اللَّفْظ، والوضوح المفعم بالإحساس، وَالْجمال فِي التَّعْبِير، والحلاوة فِي الْإِيقَاع.
وَلم يكن لأحد من فحول الشُّعَرَاء، ومصاقع الخطباء، ومشاهير البلغاء، من الْقُدْرَة، أَو الموهبة، مَا يُعينهُ على أَن ينسج على منواله فِي أَحَادِيثه عليه الصلاة والسلام وأكثرها على البديهة.
فَكيف بِالَّذِي قَالَه عليه السلام على الروية.
! وهيهات.
للذى تقدم من الشَّرْح يرغم عدم التدوين (1) إبان حَيَاته الْمُبَارَكَة - حفظ
--------------------------------------------
উপস্থাপনা [গবেষক]পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। আর আল্লাহর রাসূলের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
এরপর
... এটি সর্বজনবিদিত যে, বিশ্বাস ও কর্মের দিক থেকে ইসলাম দুটি মৌলিক স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে আছে; সেগুলো হলো মহান আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর মহিমান্বিত নবীর সুন্নাহ। আর সুন্নাহ নিজেই আল্লাহর কিতাবের ব্যাখ্যা ও এর প্রায়োগিক রূপ।
আল্লাহর রাসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) তাঁকে প্রদত্ত জাওয়ামিউল কালিম (সংক্ষিপ্ত অথচ ব্যাপক অর্থপূর্ণ বাণী) এবং সাবলীল বাগ্মিতার মাধ্যমে তাঁর রবের পক্ষ থেকে অর্পিত দায়িত্ব পালন করতেন। তিনি কুরআনের সংক্ষিপ্ত বিষয়াবলির বিস্তারিত বিবরণ দিতেন, অথবা ওহীর মাধ্যমে ইঙ্গিত করা কোনো বিষয় স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করতেন, কিংবা মানুষের চিন্তা ও বুদ্ধিকে বিভ্রান্তকারী কোনো জিজ্ঞাসার উত্তর দিতেন, অথবা এই পার্থিব জীবনের প্রকৃত সত্য এবং এর পরবর্তী ঘটনাবলি সম্পর্কে তাঁর গভীর উপলব্ধির বহিঃপ্রকাশ ঘটাতেন...
ঘটনাবলি.. তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বাচনভঙ্গি ছিল এক অনন্য শৈলীর অধিকারী, যা ছিল শব্দচয়নের মাধুর্য, শব্দের সুসমন্বয়, ধ্বনিমাধুর্য এবং অর্থের ব্যাপকতা, গভীরতা ও সূক্ষ্মতার এক অপূর্ব সংমিশ্রণ। ফলে তা শ্রোতার অন্তরে এক সুস্থিত ও প্রশান্ত প্রভাব রেখে যেত।
যা অনুভূতিগুলোকে জাগ্রত করে, মানব প্রকৃতির (ফিতরাত) সাথে মিশে যায় এবং এর গভীরে প্রবেশ করে।
তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বাণীর এক অনন্য বৈশিষ্ট্য ছিল, যা কেবল তাঁরই বিশেষত্ব ছিল।
তাতে শব্দের সংক্ষিপ্ততা, অনুভূতি সমৃদ্ধ স্পষ্টতা, প্রকাশভঙ্গির সৌন্দর্য এবং ছন্দের মাধুর্য একত্রিত হয়েছিল।
শ্রেষ্ঠ কবি, বাগ্মী বক্তা কিংবা প্রখ্যাত অলঙ্কারবিদদের কারোরই এমন সক্ষমতা বা প্রতিভা ছিল না, যা তাঁকে তাঁর (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) হাদিসসমূহের মতো অনুরূপ কিছু রচনা করতে সহায়তা করতে পারে; অথচ তাঁর অধিকাংশ বাণীই ছিল তাৎক্ষণিক ও উপস্থিত বুদ্ধিজাত।
তাহলে ভেবে দেখুন, তিনি (আলাইহিস সালাম) যা চিন্তা-ভাবনা করে ধীরস্থিরভাবে বলতেন, তা কেমন ছিল!
! তা অসম্ভব।
উপরে বর্ণিত ব্যাখ্যার কারণে তাঁর বরকতময় জীবনের সময় সুশৃঙ্খল সংকলন (১) না হওয়া সত্ত্বেও — সংরক্ষিত...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাউদুয়াত লি ইবনিল জাওযী
(পৃষ্ঠা: ৪)
النَّاس كل مَا قَالَ.
وَهَذِه - فِيمَا نعلم - ظَاهِرَة لم تحدث فِي تَارِيخ البشرية، على امتداد أحقابها..لم يحدث أبدا أَن حفظ جيل كَامِل معاصر لرجل..كل كلمة نطقت بهَا شفتاه..سَمِعت مِنْهُ.
أَو نقلت عَنهُ.
ثمَّ كَانَ الْحفاظ عَلَيْهَا صنو الْحفاظ على الْحَيَاة.
إيثارا وحبا وتأثرا وحنينا.
على أَن من حفظ.
إِنَّمَا كَانَ يشْبع حَاجَة النَّفس العطشى.
وينشد راحتها، غير قَاصد بِمَا يسمع، أَنه يسمع لينقل لغيره أَو للأجيال عبر التَّارِيخ.
وَلَا هُوَ عَامِد إِلَى ذَلِك.
إِنَّمَا كَانَ يسمع ليروي غلَّة صادية، وفطرة مشتاقة.
وَهُوَ فِي أعماقه عَاجز عَن التَّقْلِيد، عَاجز عَن الْإِعْرَاض، حَتَّى لَو أَرَادَ.
فَكيف بِحَالهِ وَهُوَ الْمقبل المتلهف على الْحِكْمَة الْبَالِغَة.
والعبارة الآسرة.
وَالْمعْنَى الْجَلِيل.
كَذَلِك كَانَ أَصْحَابه عليه السلام.
يحفظون عَنهُ فِيمَا يحفظون كَلَامه العادي.
على حِين أَنه مُجَرّد أَدَاء لمتطلبات حَيَاته الْمُبَارَكَة فِي حلّه وترحاله، فِي حربه وَسلمهُ، فِي مأكله ومشربه، فِي غَضَبه وَرضَاهُ، فِي سروره وحزنه.
وأفضى رَسُول الله صلى الله عليه وسلم إِلَى ربه الْكَرِيم.
رَاضِيا مرضيا.
وَكَلَامه مَحْفُوظ غير مَكْتُوب.
وَكَأَنَّهُ عليه السلام أبي أَن يتْرك بعد مَوته مَعَ كتاب الله كتابا.
اللَّهُمَّ إِلَّا شَيْئا لَا يدْخل فِي حكم التدوين.
وَهُوَ اتجاه صرح بِهِ أَمِير الْمُؤمنِينَ عمر بن الْخطاب رضي الله عنه أَيَّام خِلَافَته حِين اقترح بَعضهم كِتَابَة حَدِيثه رَسُول الله.
فأبي ذَلِك وَلم يرتضه.
وَمضى خير الْقُرُون - وَلم يدون الحَدِيث وَلَا وضع فِيهِ كتاب.
لَكِن كَانَت - خلال ذَلِك - أطلت الْفِتَن برؤوسها.
فطوت فِي أعاصيرها الهوجاء - حيوات غاليات، قتل عمر الْفَارُوق الملهم، وَعُثْمَان الْحَيِي الْكَرِيم، وعَلى الْقوي الْحَكِيم.
وَطَلْحَة الصَّالح المبشر، وَالزُّبَيْر الحوارى الشَّهِيد.
وسواهم وسواهم كثير.
ثمَّ قتل مِمَّن بعدهمْ الْحُسَيْن بن عَليّ وَمَعَهُ أمة من الصَّالِحين.
ووراء كل
মানুষ যা কিছু বলতেন তা সবই (সংরক্ষণ করেছে)।
আমাদের জানামতে এটি এমন এক অভূতপূর্ব বিষয়, যা মানব ইতিহাসের দীর্ঘ পরিক্রমায় ইতিপূর্বে কখনও ঘটেনি। কোনো একজন ব্যক্তির সমসাময়িক একটি পুরো প্রজন্ম তাঁর মুখ নিঃসৃত প্রতিটি শব্দ—যা তারা সরাসরি তাঁর থেকে শুনেছেন—হিফয বা মুখস্থ করে রেখেছে, এমন ঘটনা ইতিপূর্বে কখনও ঘটেনি।
অথবা তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে।
অতঃপর সেই বাণীসমূহকে সংরক্ষণ করা ছিল জীবন রক্ষারই নামান্তর।
নিঃস্বার্থ ত্যাগ, ভালোবাসা, গভীর প্রভাব এবং ব্যাকুলতার কারণে।
তবে যারা এটি হিফয করেছিলেন।
তারা মূলত তাদের তৃষ্ণার্ত আত্মার খোরাক মেটাচ্ছিলেন।
এবং তারা অন্তরের প্রশান্তি খুঁজছিলেন; যা শুনছিলেন তা কেবল এই উদ্দেশ্যে শুনছিলেন না যে, তা অন্যের নিকট অথবা মহাকালের পরবর্তী প্রজন্মের নিকট পৌঁছে দিতে হবে।
কিংবা সচেতনভাবেও তাঁরা সেই লক্ষ্য নির্ধারণ করেননি।
বরং তাঁরা তা শুনতেন তৃষ্ণার জ্বালা মেটাতে এবং এক ব্যাকুল স্বভাবজাত আকুলতা থেকে।
তিনি তাঁর সত্তার গভীর থেকে এটি অনুকরণ করতে কিংবা এর থেকে বিমুখ হতে অপরাগ ছিলেন, এমনকি তিনি চাইলেও তা পারতেন না।
তাহলে সেই ব্যক্তির অবস্থা কেমন হবে, যে চরম প্রজ্ঞা অর্জনে অধীর আগ্রহে উন্মুখ হয়ে আছে?
এবং সেই মনমুগ্ধকর প্রকাশভঙ্গির প্রতি?
এবং সেই মহিমান্বিত মর্মার্থের প্রতি?
তাঁর (আলাইহিস সালাম) সাহাবীগণ এমনই ছিলেন।
তাঁরা তাঁর থেকে যা কিছু হিফয করতেন, তার মধ্যে তাঁর সাধারণ কথাবার্তাও শামিল থাকত।
যদিও তা ছিল তাঁর অবস্থান ও সফর, যুদ্ধ ও শান্তি, আহার ও পানাহার, ক্রোধ ও সন্তুষ্টি এবং আনন্দ ও বেদনার মতো বরকতময় জীবনের নানাবিধ প্রয়োজন পূরণের সাধারণ বহিঃপ্রকাশ মাত্র।
অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর মহান রবের সান্নিধ্যে চলে গেলেন।
এমতাবস্থায় যে, তিনি ছিলেন সন্তুষ্ট এবং আল্লাহর নিকট মনোনীত।
আর তাঁর বাণীসমূহ ছিল মানুষের হৃদয়ে সংরক্ষিত, তবে গ্রন্থবদ্ধ নয়।
মনে হয় যেন তিনি (আলাইহিস সালাম) আল্লাহর কিতাবের সাথে অন্য কোনো কিতাব উত্তরসূরিদের জন্য রেখে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন।
হে আল্লাহ, কেবল সেই বিষয়গুলো ব্যতীত যা সাধারণ গ্রন্থায়নের নিয়মের অন্তর্ভুক্ত নয়।
এটি সেই দৃষ্টিভঙ্গি যা আমীরুল মুমিনীন উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর খিলাফতকালে স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছিলেন, যখন কেউ কেউ রাসূলুল্লাহর হাদীস লিখে রাখার প্রস্তাব পেশ করেছিলেন।
তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং তাতে সম্মতি দেননি।
এভাবেই শ্রেষ্ঠ যুগ অতিবাহিত হলো—হাদীস সংকলিত হলো না এবং এ বিষয়ে কোনো কিতাবও রচিত হলো না।
কিন্তু এরই মাঝে ফিতনা তার মস্তক উত্তোলন করল।
সেই বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড় অনেক মূল্যবান জীবন কেড়ে নিল—অনুপ্রাণিত উমর আল-ফারুক, লজ্জাশীল ও উদার উসমান এবং শক্তিশালী ও প্রজ্ঞাবান আলী শহীদ হলেন।
এবং পুণ্যবান ও সুসংবাদপ্রাপ্ত তালহা এবং রাসূলের হাওয়ারী ও শহীদ যুবাইরও (শহীদ হলেন)।
এবং এঁরা ছাড়াও আরও বহু মানুষ।
অতঃপর তাঁদের পরবর্তীকালের হুসাইন ইবনে আলী এবং তাঁর সাথে একদল নেককার লোক শাহাদাত বরণ করলেন।
আর প্রত্যেকটির নেপথ্যে...
(খণ্ড: ১)
আল-মাউদুয়াত লি ইবনিল জাওযী
(পৃষ্ঠা: ৫)
نصراء وَأَصْحَاب وشيعة وأحزاب.
وعَلى امتداد عصر الرَّاشِدين.
وخاصة عَليّ رضي الله عنه.
وعَلى امتداد حكم الأمويين.
وخاصة أَيَّام مُعَاوِيَة إِلَى عبد الملك.
وفى مطلع أَيَّام العباسيين وخاصة أَيَّام أَبى عبد الله السفاح وَأبي مُسلم الْخُرَاسَانِي.
فِي إبان تِلْكَ الْأَيَّام، طورا طورا.
وفى مُخْتَلف الأنحاء من معمور الأَرْض والبلاد.
بِلَاد الْمُسلمين.
على تبَاين الْأَجْنَاس، وتفرق الْأَهْوَاء والقوميات والعصبيات.
والسياسة فِي خدمَة المعركة.
والإثارة فِي خدمَة السياسة.
والهوى مستحكم.
وَالشَّر مستطار.
والفتن يقظى بعد هجوع.
وَالْحكم للسيف.
والغلب لمن كثر أعوانه..فِي هَذَا المضطرب عبر الْأَيَّام
سعى الْخُصُوم وَرَاء الْخُصُوم، كل يعزز رَأْيه وَحزبه.
الْعَرَب فِي الْأَغْلَب بالشعر والنثر والمأثور والخطابة.
والعجم فِي الْأَغْلَب بالكيد والوقيعة والسعاية والدعاية.
وَكَانَ من أفعل الكيد، وأخبث الدعاية، أَن يصنع حَدِيث على نمط مقارب لآخر صَحِيح، فِي لَفظه وجرسه، وشكله وسمته.
وينسب إِلَى الرَّسُول الْكَرِيم عليه السلام.
تمييزا لشخص على آخر، أَو إنباء بحادث لَهُ دلَالَة لم يكن وَقع آنذاك، ثمت وَقع مُؤَخرا.
أَو نصْرَة لرأي أَو مَذْهَب اخْتصم فِيهِ الأخصام، أَو إشادة بمنقبة، أَو افتعال لمثلبة.
وَجرى ذَلِك وشاع فِي ندرة وَقلة أَيَّام عمر وَعُثْمَان خَاصَّة من يهود.
وفى غَلَبَة وَكَثْرَة أَيَّام عَليّ وَمُعَاوِيَة - خَاصَّة من فرس.
وهاجت حمى وضع الْأَحَادِيث ونسبتها إِلَى رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فِيمَا تَلا ذَلِك من أَيَّام، وَجَاءَت تترى من كل صوب، تزاحم الصَّحِيح لتزيله وتستقر فِي الأذهان مَكَانَهُ.
সাহায্যকারী, সঙ্গী, অনুসারী ও দলসমূহ।
এবং খুলাফায়ে রাশিদীনের যুগব্যাপী।
বিশেষ করে আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর যুগে।
এবং উমাইয়াদের শাসনকালব্যাপী।
বিশেষ করে মুয়াবিয়া থেকে শুরু করে আবদুল মালিকের দিনগুলোতে।
এবং আব্বাসীয় যুগের শুরুতে, বিশেষ করে আবু আব্দুল্লাহ আস-সাফফাহ এবং আবু মুসলিম আল-খুরাসানীর দিনগুলোতে।
সেই দিনগুলোর সময়কালে, পর্যায়ক্রমে।
এবং পৃথিবীর জনবসতিপূর্ণ অঞ্চলের বিভিন্ন প্রান্তে ও দেশসমূহে।
মুসলিম দেশসমূহে।
জাতিসমূহের ভিন্নতা এবং প্রবৃত্তি, জাতীয়তাবাদ ও গোত্রীয় সংঘাতের বিভক্তির মাঝে।
রাজনীতি ছিল যুদ্ধের সেবায়।
এবং উস্কানি ছিল রাজনীতির সেবায়।
আর প্রবৃত্তি ছিল সুদৃঢ়।
আর অনিষ্ট ছিল পরিব্যাপ্ত।
আর ফিতনাগুলো ঘুমের পর জেগে উঠেছিল।
আর শাসন ছিল তলোয়ারের।
আর বিজয় ছিল তার জন্য যার সাহায্যকারী বেশি ছিল.. দিনের পর দিন এই অস্থিরতার মাঝে
বিরোধীরা বিরোধীদের পেছনে লেগেছিল, প্রত্যেকেই তার নিজস্ব মত ও দলকে শক্তিশালী করছিল।
আরবরা সাধারণত কবিতা, গদ্য, প্রবাদ এবং বাগ্মিতার মাধ্যমে তা করত।
আর অনারবরা সাধারণত ষড়যন্ত্র, কুৎসা রটনা, চোগলখুরি এবং অপপ্রচারের মাধ্যমে তা করত।
আর সবচেয়ে কার্যকর ষড়যন্ত্র এবং নিকৃষ্টতম অপপ্রচার ছিল এমন একটি হাদীস তৈরি করা যা শব্দ, ধ্বনি, গঠন এবং বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে অন্য একটি সহীহ হাদীসের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
এবং তা সম্মানিত রাসূল (আলাইহিস সালাম)-এর দিকে সম্বন্ধ করা।
এক ব্যক্তির ওপর অন্য ব্যক্তির শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের জন্য, অথবা এমন কোনো ঘটনার সংবাদ দেওয়ার জন্য যার একটি তাৎপর্য ছিল যা তখন ঘটেনি, বরং পরবর্তীতে ঘটেছিল।
অথবা কোনো মত বা মাযহাবের সমর্থনে যে বিষয়ে বিবাদীরা বিতর্কে লিপ্ত ছিল, অথবা কোনো গুণের প্রশংসায়, কিংবা কোনো দোষারোপ তৈরির জন্য।
উমর ও উসমানের দিনগুলোতে এটি স্বল্প পরিসরে ও খুব কমই ঘটেছিল, বিশেষ করে ইহুদীদের পক্ষ থেকে।
আর আলী ও মুয়াবিয়ার দিনগুলোতে এটি ব্যাপক ও প্রচুর পরিমাণে ঘটেছিল—বিশেষ করে পারস্যবাসীদের পক্ষ থেকে।
এরপরের দিনগুলোতে হাদীস জাল করা এবং তা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দিকে সম্বন্ধ করার উন্মাদনা তীব্র হয়ে ওঠে, এবং সব দিক থেকে তা ক্রমাগত আসতে থাকে, যাতে তা সহীহ হাদীসকে সরিয়ে দিয়ে মানুষের মনে তার স্থান দখল করে নিতে পারে।
(খণ্ড: ১)
আল-মাউদুয়াত লি ইবনিল জাওযী
(পৃষ্ঠা: ৬)
وَمن وَرَائِهَا الْغَرَض الْخَبيث، والكيد للاسلام، وإحلال القثور فِي مَوَاضِع اللّبَاب، والتفاهات فِي ثوب الْمُهِمَّات، والشرك فِي مَوَاضِع التَّوْحِيد، والخرافات والترهات بَدَلا من الْحَقَائِق والبديهيات (1) .
وتطور (فن وضع الحَدِيث) مَعَ الزَّمن وتدهور من أغراض الْحَرْب والسياسة تبعا لخور النُّفُوس وانحطاط الْأَغْرَاض إِلَى أغراض أخر دون مَا تحرج وَلَا تأثم، حَتَّى تجَاوز الْوَضع حُدُود الْخُصُومَات والخلافات السياسية والمذهبية إِلَى التكسب بِهِ، كاسترضاء الْخُلَفَاء والأمراء (2) رَغْبَة فِيمَا فِي أَيْديهم من المَال والضياع، أَو طلبا للرياسة والجاه وَبعد الصيت، والمباهاة عِنْد الْعَامَّة.
وانحطت الْأَغْرَاض فِي الْوَضع وَالْكذب، عَليّ رَسُول الله، أَكثر فَأكْثر حَتَّى وصلت إِلَى حد الخبل والبلاهة وَمَا يشبه كَلَام الصّبيان.
إِلَى حد أَنه لَا يستعظم على كَذَّاب أَن يضع حَدِيثا وَيُقِيم لَهُ سندا (3) يصل بِهِ إِلَى الرَّسُول عليه الصلاة والسلام، يمدح بِهِ قبيلته أَو بلدته أَو نوع ثَوْبه أَو طَعَاما يُحِبهُ أَو شرابًا يسيغه أَو فَاكِهَة يؤثرها على غَيرهَا..إِلَى مَا لَا نِهَايَة لَهُ من الْخَلْط والتهريج، بالعمد وَالنِّيَّة السَّيئَة وَالْقَصْد فِي الْأَغْلَب، وبالبلاهة والغباء والتعالم فِي الاقل.
وبشئ من الإيجاز يُمكن تصور الْموقف بِالنِّسْبَةِ لتناقل الحَدِيث وتفشى الْوَضع فِيهِ.
مَعَ تَلْخِيص الْأَسْبَاب الْمُبَاشرَة لنجاح الْكَذَّابين فِي وضع مَا وضعوه
--------------------------------------------
এর পেছনে ছিল মন্দ উদ্দেশ্য, ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, সারবত্তার স্থলে অসারতাকে স্থলাভিষিক্ত করা, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের আবরণে তুচ্ছ বিষয়সমূহকে উপস্থাপন করা, তাওহীদের স্থলে শিরকের অনুপ্রবেশ ঘটানো এবং সত্য ও স্বতঃসিদ্ধ বিষয়ের পরিবর্তে রূপকথা ও আবোল-তাবোল কথার প্রচলন করা (১)।
সময়ের সাথে সাথে 'হাদিস জালকরণের শিল্প' বিবর্তিত হয়েছে এবং মানুষের কুপ্রবৃত্তি ও হীন উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার কারণে তা যুদ্ধ ও রাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে অন্য সব হীন উদ্দেশ্যের দিকে ধাবিত হয়েছে। এমনকি কোনো প্রকার সংকোচ বা পাপবোধ ছাড়াই এই জালকরণের প্রক্রিয়া রাজনৈতিক ও মাযহাবী বিরোধের সীমা ছাড়িয়ে অর্থ উপার্জনের মাধ্যম হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। যেমন খলিফা ও আমিরদের সন্তুষ্ট করা (২), তাদের নিকট থাকা ধন-সম্পদ ও জমি-জমার প্রতি লোভ করা, অথবা নেতৃত্ব, প্রতিপত্তি ও সুখ্যাতি অর্জন এবং সাধারণ মানুষের নিকট দম্ভ প্রকাশ করা।
রাসূলুল্লাহর ওপর মিথ্যারোপ ও হাদিস জালকরণের উদ্দেশ্যসমূহ উত্তরোত্তর এতটাই নিম্নমুখী হতে থাকে যে, তা শেষ পর্যন্ত উন্মাদনা, মূর্খতা এবং শিশুদের বাচালতার পর্যায়ে পৌঁছে যায়।
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, একজন মিথ্যুক হাদিস জাল করে সেটির জন্য একটি সনদ (৩) তৈরি করাকেও বড় কিছু মনে করত না, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছে দেয়। এর মাধ্যমে সে হয়তো তার গোত্র, তার শহর, তার পোশাকের ধরন, অথবা তার প্রিয় কোনো খাবার, কোনো পানীয় কিংবা কোনো ফলের প্রশংসা করত যা সে অন্য সবকিছুর ওপর প্রাধান্য দেয়। এভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংমিশ্রণ ও প্রহসনের কোনো শেষ ছিল না। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এটি করা হতো মন্দ উদ্দেশ্যে ও ইচ্ছাকৃতভাবে, আর অল্প ক্ষেত্রে করা হতো মূর্খতা, নির্বুদ্ধিতা ও পাণ্ডিত্য জাহির করার মানসিকতা থেকে।
হাদিস বর্ণনা ও হাদিস জালকরণের বিস্তৃতির এই পরিস্থিতিটি সংক্ষেপে অনুমান করা সম্ভব।
সেই সাথে মিথ্যুকদের হাদিস জালকরণে সফল হওয়ার প্রত্যক্ষ কারণসমূহের সারসংক্ষেপও তুলে ধরা হলো।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাউদুয়াত লি ইবনিল জাওযী
(পৃষ্ঠা: ৭)
من الْأَحَادِيث وإشاعتها بَين الْمُسلمين بالصورة الوبائية الْمَعْلُومَة لَدَى أهل الحَدِيث على النَّحْو التَّالِي: أَولا: انحراف المزاج الفكري والعاطفي للشعوب الأعجمية الَّتِي دخلت الْإِسْلَام فِي أعقاب الْفتُوح أَو الَّتِي عاشت تَحت حكمه على دينهَا، والأفراد الَّذين تظاهروا بِالْإِسْلَامِ تقية كبعض الْيَهُود وَالْمَجُوس.
ثَانِيًا: مَاتَ الرَّسُول الْكَرِيم، وَكَانَ عدد من بَقِي بعد مَوته من أَصْحَابه الَّذين رَأَوْهُ وسمعوا مِنْهُ زهاء مائَة ألف أَو يزِيدُونَ سمع مِنْهُم من التَّابِعين وتابعي التَّابِعين من لَا يُحْصى كَثْرَة.
من مُخْتَلف الْأَجْنَاس وفى مُخْتَلف الْبِقَاع.
فِي غمرة هَذِه الْكَثْرَة، وافتقاد ضَابِط الصِّحَّة للرواية، فِي الزَّمَان وَالْمَكَان.
غافل الكذابون النَّاس وَوَضَعُوا مَا شَاءُوا.
وَتعذر، بل اسْتَحَالَ حصر مَا وضعوه (1) .
ثَالِثا: انتهز الكذابون فرْصَة كَثْرَة مَا رَوَاهُ أَمْثَال أبي هُرَيْرَة من الْأَحَادِيث الصَّحِيحَة عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم وهى كَثِيرَة جدا - فوضعوا من الْأَحَادِيث المكذوبة شَيْئا كثيرا نسبوه للنَّبِي عليه الصلاة والسلام زورا عَن طَرِيق أبي هُرَيْرَة، ليتوه كثيرهم المكذوب فِي كَثِيره الصَّحِيح، وليشق تَمْيِيز صَحِيحه من سقيمهم.
وَقد كَانَ.
وعاش إِلَى جوَار الوضاعين الشانئين، وضاعون آخَرُونَ من طراز مُخْتَلف، شَأْنهمْ أعجب، وسلو كهم أغرب.
وضاعون صَالِحُونَ غيورون على الْإِسْلَام.
يضعون الحَدِيث، ويزورون على الرَّسُول مَا لم يقل.
تقربا لله سُبْحَانَهُ وتزلفا إِلَيْهِ.
وَمَا كَأَنَّهُمْ أثموا.
وَلَا جَاءُوا ظلما من القَوْل وزورا.
--------------------------------------------
হাদিসসমূহ এবং হাদিস বিশারদদের নিকট পরিচিত সেই মহামারি সদৃশ আকারে মুসলিমদের মাঝে সেগুলোর প্রসারের বিষয়টি নিম্নরূপ: প্রথমত: বিজয়ের পরবর্তী সময়ে ইসলামে প্রবেশকারী অনারব জাতিগোষ্ঠী অথবা যারা তাদের নিজ ধর্মাবলম্বী হিসেবেই ইসলামের শাসনের অধীনে বসবাস করছিল, তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক ও আবেগীয় মেজাজের বিচ্যুতি; এবং সেইসব ব্যক্তিবর্গ যারা কিছু ইহুদি ও অগ্নিপূজকদের মতো তাকিয়্যাহ হিসেবে ইসলামের ছদ্মবেশ ধারণ করেছিল।
দ্বিতীয়ত: সম্মানিত রাসুল মৃত্যুবরণ করেন, আর তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর সেই সকল সাহাবীর সংখ্যা যাঁরা তাঁকে দেখেছিলেন ও তাঁর নিকট থেকে শুনেছিলেন—তা ছিল প্রায় এক লক্ষ বা তারও বেশি। তাঁদের কাছ থেকে অগণিত তাবেয়ী ও তাবে-তাবেয়ী হাদিস শ্রবণ করেছেন।
যাঁরা ছিলেন বিভিন্ন জাতিসত্তা এবং বিভিন্ন ভূখণ্ডের অধিবাসী।
এই বিপুল আধিক্যের ভিড়ে এবং কাল ও পাত্রভেদে বর্ণনার বিশুদ্ধতা নিরূপণের মানদণ্ডের অভাবে—
মিথ্যাবাদীরা মানুষের অসতর্কতার সুযোগ নিয়েছিল এবং তাদের যা ইচ্ছা তা-ই জাল করেছিল।
আর তারা যা জাল করেছে তা গণনা করা কঠিন, বরং অসম্ভব হয়ে পড়েছিল (১)।
তৃতীয়ত: আবু হুরায়রার মতো ব্যক্তিবর্গের বর্ণিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রাপ্ত সহিহ হাদিসগুলোর—যা সংখ্যায় অনেক বেশি—বিপুল প্রাচুর্যের সুযোগ মিথ্যাবাদীরা গ্রহণ করেছিল। তারা অনেক বানোয়াট হাদিস তৈরি করে আবু হুরায়রার মাধ্যমে নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের প্রতি মিথ্যাভাবে আরোপ করেছিল, যাতে তাদের অসংখ্য বানোয়াট হাদিস তাঁর সহিহ হাদিসগুলোর আধিক্যের মধ্যে হারিয়ে যায় এবং তাদের ত্রুটিপূর্ণ হাদিস থেকে সহিহ হাদিসকে পৃথক করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে।
আর তা-ই ঘটেছিল।
সেই বিদ্বেষপরায়ণ জালিয়াতদের পাশাপাশি অন্য এক শ্রেণির জালিয়াতদের উদ্ভব ঘটেছিল যাদের ধরন ছিল ভিন্ন; তাদের অবস্থা ছিল অধিক বিস্ময়কর এবং তাদের আচরণ ছিল অত্যন্ত অদ্ভুত।
তারা ছিল ইসলামের প্রতি অতি-উৎসাহী একদল "সৎ" জালিয়াত।
তারা হাদিস জাল করত এবং রাসুলের নামে এমন মিথ্যা রটনা করত যা তিনি বলেননি।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার নৈকট্য ও তাঁর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে।
যেন তারা কোনো পাপই করছে না।
আর যেন তারা কোনো অন্যায় কথা কিংবা মিথ্যা নিয়ে হাজির হয়নি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাউদুয়াত লি ইবনিল জাওযী
(পৃষ্ঠা: ৮)
فَهَذَا أَبُو عصمَة نوح بن أبي مَرْيَم يتعقب سور الْقُرْآن وَاحِدَة وَاحِدَة، فليصق بِكُل سُورَة فَضِيلَة، ويرتب لَهَا فَائِدَة، وَيَضَع فِيهَا حَدِيثا ينْسبهُ إِلَى الرَّسُول زورا بعد أَن يصنع لَهُ سندا يَنْتَهِي فِي غَالب مَا وضع إِلَى ابْن عَبَّاس، ثمَّ إِلَى النَّبِي عليه الصلاة والسلام عَن طَرِيق عِكْرِمَة بن أبي جهل.
كَمَا كَانَ أَحْيَانًا يرفع إِلَى أبي بن كَعْب أَو سواهُ.
وَالْعجب مِنْهُ وَمن أَمْثَاله.
لَا يرى أَنه وَقع فِي إِثْم بِمَا فعل! اسْمَع إِلَيْهِ يدْفع عَن نَفسه اللوم حِين عوتب فَيَقُول: لما رَأَيْت اشْتِغَال النَّاس النَّاس بِفقه أبي حنيفَة، وَمَغَازِي مُحَمَّد بن إِسْحَاق، وَأَنَّهُمْ أَعرضُوا عَن الْقُرْآن، وضعت هَذِه الْأَحَادِيث حسبَة لله تَعَالَى.
كَذَلِك وهب بن مُنَبّه.
أسلم يعد يَهُودِيَّة، وَكَانَ يضع الحَدِيث فِي فَضَائِل الْأَعْمَال.
وَفعل مثل فعله عبد الملك بن عبد الْعَزِيز الَّذِي أسلم بعد نَصْرَانِيَّة..ونشط وضاعون آخَرُونَ.
يضعون وينسبون مَا وضعُوا إِلَى رَسُول الله صلى الله عليه وسلم زورا.
فِي فَضَائِل من أَحبُّوا، ومثالب من أبغضوا، ثمَّ زبفوا لَهَا الْأَسَانِيد أَيْضا، كَيْلا يتَطَرَّق إِلَيْهَا الشَّك، أَو ينْكَشف الزيف.
وأسرف فِي ذَلِك جماعات، كأمثال النقاش والقطيعي والثعلبي والأهوازي وَأبي نعيم والخطيب.
وسواهم فِيمَا وضعُوا من مَنَاقِب وفضائل أبي بكر الصّديق وَعمر وَعُثْمَان وَمُعَاوِيَة رضي الله عنهم.
وعَلى الضِّدّ من هَؤُلَاءِ قَامَت جماعات أخر تكيل الْكَيْل كيلين، فَوضعت فِي مَنَاقِب على رضي الله عنه من الْأَحَادِيث المستغربة مَا لَا يدْخل تَحت حصر، من أَمْثَال: أَحْمد بن نصر الذِّرَاع، وحبة بن جُوَيْن، وَبشر بن إِبْرَاهِيم، وَعباد بن يَعْقُوب، وَعبد الله بن داهر.
وَمَا كَانَ أَبُو بكر وَلَا عمر وَلَا عُثْمَان وَلَا على فِي حَاجَة إِلَى مديح أَو إشادة من أَمْثَال هَؤُلَاءِ.
علم الله.
এই যে আবু ইসমাহ নূহ ইবনে আবি মারইয়াম, তিনি কুরআনের সূরাগুলোর একটির পর একটির পিছু নিতেন, আর প্রত্যেক সূরার সাথে একটি করে ফযীলত জুড়ে দিতেন এবং এর জন্য একটি উপকারিতা বিন্যস্ত করতেন। তিনি এর মধ্যে এমন সব হাদীস তৈরি করতেন যা তিনি মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে রাসূলের দিকে নিসবত করতেন, আর এজন্য তিনি এমন একটি সনদও তৈরি করতেন যার অধিকাংশ ইবনে আব্বাসের কাছে গিয়ে শেষ হতো, তারপর ইকরিমাহ ইবনে আবি জাহলের সূত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পর্যন্ত পৌঁছাত।
যেমন কখনো কখনো তিনি এগুলোকে উবাই ইবনে কাব অথবা অন্য কারো দিকে সম্পর্কিত করতেন।
আর তার এবং তার মতো ব্যক্তিদের ব্যাপারে বিস্ময়ের অন্ত নেই।
তিনি মনে করতেন না যে তিনি যা করেছেন তাতে কোনো পাপে লিপ্ত হয়েছেন! যখন তাকে তিরস্কার করা হলো, তখন তার আত্মপক্ষ সমর্থনের কথা শুনুন; তিনি বলেন: "যখন আমি দেখলাম মানুষ আবু হানিফার ফিকহ এবং মুহাম্মদ ইবনে ইসহাকের মাগাযী (যুদ্ধাভিযান) নিয়ে মগ্ন হয়ে পড়েছে এবং তারা কুরআন থেকে বিমুখ হয়ে গেছে, তখন আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে এই হাদীসগুলো তৈরি করেছি।"
তেমনি ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহ।
তিনি ইহুদি ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন এবং তিনি আমলের ফযীলত সম্পর্কে হাদীস তৈরি করতেন।
আব্দুল মালিক ইবনে আব্দুল আযীযও তার মতোই কাজ করেছেন, যিনি খ্রিস্টধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন... এবং আরও অনেক হাদীস জালকারী সক্রিয় হয়ে ওঠে।
তারা হাদীস জাল করত এবং তাদের জালকৃত বিষয়গুলোকে মিথ্যাভাবে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দিকে নিসবত করত।
যাদের তারা ভালোবাসত তাদের ফযীলত বর্ণনায় এবং যাদের তারা ঘৃণা করত তাদের দোষারোপ করার ক্ষেত্রে তারা এসব করত। এরপর তারা এগুলোর জন্য জাল সনদও তৈরি করত, যাতে এগুলোর ব্যাপারে কোনো সন্দেহ সৃষ্টি না হয় অথবা জালিয়াতি ধরা না পড়ে।
আর এই কাজে বহু গোষ্ঠী সীমালঙ্ঘন করেছে, যেমন আন-নাক্কাশ, আল-ক্বাতীই, আস-সালাবী, আল-আহওয়াযী, আবু নুয়াইম এবং আল-খাতীব।
এবং তারা ছাড়া আরও অনেকে আবু বকর সিদ্দিক, উমর, উসমান এবং মুয়াবিয়া (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-এর মর্যাদা ও ফযীলত সম্পর্কে যা কিছু জাল করেছে।
এদের বিপরীতে অন্য কিছু দল দাঁড়িয়ে যায় যারা দ্বিগুণ পরিমাণে এর প্রতিশোধ নিতে শুরু করে। তারা আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর মর্যাদা সম্পর্কে অসংখ্য বিস্ময়কর হাদীস জাল করে যা গণনার বাইরে; যেমন: আহমদ ইবনে নাসর আয-যিরা, হাব্বাহ ইবনে জুওয়াইন, বিশর ইবনে ইব্রাহীম, আব্বাদ ইবনে ইয়াকুব এবং আব্দুল্লাহ ইবনে দাহির।
অথচ আবু বকর, উমর, উসমান কিংবা আলী—কারো জন্যই এদের মতো লোকেদের প্রশংসা বা গুণকীর্তনের কোনো প্রয়োজন ছিল না।
আল্লাহ তা ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মাউদুয়াত লি ইবনিল জাওযী
(পৃষ্ঠা: ৯)
ونشط غير هَؤُلَاءِ وَهَؤُلَاء آخَرُونَ من الزَّنَادِقَة الَّذين لم يَكُونُوا برئوا بعد من أثر الْمَجُوسِيَّة والمانوية والزردشية والمزدكية.
كَانَ هَمهمْ وضع الحَدِيث لبلبلة الأفكار وإفساد عقائد الْمُسلمين.
لقد أحصى المحدثون لبَعض فرق الزَّنَادِقَة
وحدهم زهاء أَرْبَعَة عشر ألف حَدِيث مَكْذُوب على الرَّسُول الْكَرِيم عليه الصلاة والسلام.
وأفظع من ذَلِك وأشنع مَا صنعه ثَلَاثَة نفر فَحسب هم: أَحْمد بن عبد الله الجويباري، وَمُحَمّد بن عكاشة الْكرْمَانِي، وَمُحَمّد بن تَمِيم الْفرْيَابِيّ، الَّذين وضعُوا عشرَة آلَاف حَدِيث وحدهم ونسبوها زورا إِلَى النَّبِي الْكَرِيم، ليضلوا بهَا عَن سَبِيل الله.
وَلم يكن هَؤُلَاءِ الثَّلَاثَة، فرسَان حلبة خلت من أَقْرَان، بل كَانَ هُنَاكَ مِمَّن ساواهم، بل بزهم وضاعون آخَرُونَ من أَمْثَال: ابْن أبي يحيى بِالْمَدِينَةِ، والواقدي بِبَغْدَاد، وَمُحَمّد بن سعيد المصلوب بِالشَّام، وَمُقَاتِل بن سُلَيْمَان بخراسان.
لم تكن حَرَكَة الْوَضع وضع الْأَحَادِيث المكذوبة على الرَّسُول الْكَرِيم حَرَكَة ارتجالية عفوية فِي كل الأحيان، إِنَّمَا تطورت إِلَى حَرَكَة مدروسة هادفة، وخطة شَامِلَة لَهَا خطرها وآثارها.
كَانَ من نتائجها الْمُبَاشرَة على العديد من أجيال الْمُسلمين فِي العديد من أقطارهم، شيوع مَا لَا يُحْصى من الآراء الغريبة، وَالْقَوَاعِد الْفِقْهِيَّة الشاذة، والعقائد الزائفة، والافتراضات النظرية المضحكة الَّتِي أيدتها، وتعاملت بهَا، وروجت لَهَا، فرق وَطَوَائِف مُعينَة، لبست مسوح الدروشة والتصوف حينا، والفلسفة حينا، والعباد والزهاد أَحْيَانًا.
وجافت فِي غَالب أحوالها السلوك السوي والفكر وَالْعقل السَّلِيم، فضلا عَن مجافاتها الصارخة لكتاب الله سُبْحَانَهُ، وَهدى نبيه الْكَرِيم عَلَيْهِ والصلاه السَّلَام.
إزاء ذَلِك.
وفى بَوَادِر هَذَا الطوفان وَقد أوشك الْقرن الثَّانِي أَن ينتصف
এদের বাইরে আরও একদল যিন্দিক সক্রিয় হয়ে উঠেছিল, যারা তখনও অগ্নিপূজক (মজুসি), মানুয়্যাহ, জরথুস্ট্রীয় এবং মজদকিয়তের প্রভাব থেকে মুক্ত হতে পারেনি।
তাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল চিন্তা-চেতনাকে বিভ্রান্ত করতে এবং মুসলিমদের আকিদা বিনষ্ট করতে হাদিস জাল করা।
মুহাদ্দিসগণ যিন্দিকদের কিছু দলের ব্যাপারে গণনা করেছেন যে,
তারা একাই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নামে প্রায় চৌদ্দ হাজার মিথ্যা হাদিস বানিয়েছিল।
এর চেয়েও জঘন্য ও ভয়াবহ কাজ ছিল মাত্র তিন ব্যক্তির, তারা হলেন: আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-জুইবারি, মুহাম্মাদ ইবনে উকাশাহ আল-কিরমানি এবং মুহাম্মাদ ইবনে তামিাম আল-ফিরইয়াবি। তারা একাই দশ হাজার হাদিস জাল করেছিল এবং সেগুলোকে মিথ্যাভাবে নবী কারীমের দিকে সম্বন্ধ করেছিল, যাতে করে তারা মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারে।
এই তিনজন যে এমন এক ময়দানের সওয়ার ছিলেন যেখানে আর কেউ ছিল না তা নয়, বরং সেখানে তাদের সমপর্যায়ের কিংবা তাদের চেয়েও পারদর্শী আরও অনেক হাদিস জালকারী ছিল। যেমন: মদিনার ইবনে আবি ইয়াহইয়া, বাগদাদের ওয়াকিদি, শামের মুহাম্মাদ ইবনে সাঈদ আল-মাসলুব এবং খুরাসানের মুকাতিল ইবনে সুলাইমান।
রাসুলুল্লাহর নামে মিথ্যা হাদিস তৈরির এই জালিয়াতচক্র সবসময় কেবল তাৎক্ষণিক বা স্বতঃস্ফূর্ত ছিল না, বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যমূলক আন্দোলনে রূপ নিয়েছিল; এটি ছিল একটি সর্বব্যাপী পরিকল্পনা যার ভয়াবহতা ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব ছিল।
অনেক ভূখণ্ডের মুসলিমদের বহু প্রজন্মের ওপর এর প্রত্যক্ষ প্রভাব ছিল অগণিত আজগুবি মতবাদ, অগ্রহণযোগ্য ফিকহি মাসআলা, মিথ্যা আকিদা এবং হাস্যকর তাত্ত্বিক ধারণার প্রসার। নির্দিষ্ট কিছু দল ও গোষ্ঠী এগুলোকে সমর্থন দিত, এগুলো নিয়ে কাজ করত এবং প্রচার করত। তারা কখনো দরবেশ বা সুফিবাদের পোশাক ধারণ করত, কখনো দর্শন এবং কখনো আবিদ ও যাহিদদের ছদ্মবেশ নিত।
অধিকাংশ ক্ষেত্রে এগুলো স্বাভাবিক আচরণ, সুস্থ চিন্তা ও বিবেকের পরিপন্থী ছিল। এছাড়া মহান আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর সম্মানিত নবীর হিদায়াতের সাথে তো এগুলোর প্রকাশ্য বিরোধ ছিলই।
এর প্রেক্ষিতে।
এই মহাপ্লাবনের প্রারম্ভে, যখন দ্বিতীয় হিজরি শতাব্দীর মাঝামাঝি সময় ঘনিয়ে আসছিল।
(খণ্ড: ১)
আল-মাউদুয়াত লি ইবনিল জাওযী
(পৃষ্ঠা: ১০)
قَامَت أول محاولة جدية لتخليص الْأَحَادِيث الصَّحِيحَة من مئات الألوف المزيفة.
تشوفت نفس أبي جَعْفَر الْمَنْصُور وَكَانَ امْرَءًا تواقا إِلَى الْعلم، حفيا
بالعلماء إِلَى كتاب ينفض الزيف ويبقي على الصَّحِيح.
تخير لهَذِهِ المهمة مَالك ابْن أنس الأصبحي، خيرة أهل الأَرْض فِي زَمَانه علما وتقى، وَإِمَام دَار الْهِجْرَة، وفقيه الْمُسلمين، وصفوة صلحاء أهل الْيمن، وَبَقِيَّة مُلُوك حمير.
شمر لَهَا الإِمَام الْجَلِيل، وواصل اللَّيْل بِالنَّهَارِ.
يجمع ويمحص، ويحقق ويدقق.
حَتَّى اجْتمعت لَدَيْهِ مائَة ألف حَدِيث.
انتخب مِنْهَا عشرَة آلَاف ونبذ التسعين ألفا.
حَيْثُ وضح لَدَيْهِ زيفها، وَقَامَ عِنْده الدَّلِيل على وَضعهَا.
ثمَّ لم يزل خلال أَرْبَعِينَ سنة دأبا يعرض مَا انتخب على الْكتاب وَالسّنة، ويقيسها بالآثار وَالْأَخْبَار، حَتَّى رجعت إِلَى خَمْسمِائَة حَدِيث فَقَط، هِيَ كل مَا صَحَّ لَدَيْهِ من الْعشْرَة الآلاف المنتخبة، بل الْمِائَة ألف الأولى.
قَالَ الهراس فِي تَعْلِيقه على الاصول: إِن موطأه مَالك كَانَ اشْتَمَل على تِسْعَة آلَاف حَدِيث، ثمَّ لم يزل ينتقى حَتَّى رَجَعَ إِلَى سَبْعمِائة.
وَقَالَ عَتيق بن يَعْقُوب: وضع مَالك موطأه على نَحْو عشرَة آلَاف حَدِيث، فَلم يزل ينظر فِيهِ كل سنة، وَيسْقط مِنْهُ، حَتَّى بَقِي هَذَا.
فَهَذَا الَّذِي صنعه مَالك وَجمعه خلال قرَابَة نصف قرن، يعد من خير الْقُرُون، بلغ زهاء خَمْسمِائَة فَحسب، من مائَة ألف.
وَيَا لَهَا من نِسْبَة.
وَمَالك بن أنس هُوَ الْعلم ناهيك بِهِ فضل علم.
وَفضل تقى.
وَقرب عهد بعصر الرسَالَة، وزمن الصَّحَابَة، وموطن الدَّين، ومسرح الْإِسْلَام كَانَت هَذِه المحاولة.
أول محاولة ناضجة، مستكملة لعناصر الْبَقَاء، لتصنيف الحَدِيث النَّبَوِيّ وَجمعه، وتمييز صَحِيحه من سقيمه.
أما محاولات ابْن شهَاب الزُّهْرِيّ على رَأس الْمِائَة الأولى، ثمَّ ابْن الْمَاجشون
লক্ষ লক্ষ জাল হাদীস থেকে সহীহ হাদীসগুলোকে পৃথক করার প্রথম ঐকান্তিক প্রচেষ্টা শুরু হয়েছিল।
আবু জাফর আল-মনসুরের মন—যিনি ছিলেন জ্ঞানের প্রতি অত্যন্ত অনুরাগী এবং ওলামাদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল—এমন একটি কিতাবের আকাঙ্ক্ষা করেছিল যা মিথ্যাকে ঝেড়ে ফেলবে এবং কেবল সহীহকেই অবশিষ্ট রাখবে।
এই মহান কাজের জন্য তিনি মালিক ইবনে আনাস আল-আসবাহীকে নির্বাচিত করেন, যিনি ছিলেন নিজ যুগে ইলম ও তাকওয়ার দিক থেকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম ব্যক্তি, দারুল হিজরতের ইমাম, মুসলিমদের ফকীহ, ইয়ামেনের পুণ্যবানদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং হিমইয়ারী রাজবংশের উত্তরসূরি।
এই মহান ইমাম এর জন্য কোমর বেঁধে নেমে পড়েন এবং দিন-রাত এক করে নিরলস পরিশ্রম করেন।
তিনি সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই করছিলেন এবং অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে গবেষণা ও বিশ্লেষণ করছিলেন।
শেষ পর্যন্ত তাঁর কাছে এক লক্ষ হাদীস জমা হলো।
তিনি সেখান থেকে দশ হাজার নির্বাচন করলেন এবং নব্বই হাজার বর্জন করলেন।
কারণ এগুলোর অসারতা তাঁর কাছে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল এবং সেগুলো যে বানোয়াট হওয়ার প্রমাণ তাঁর নিকট প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
এরপর তিনি চল্লিশ বছর ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে তাঁর নির্বাচিত হাদীসগুলোকে কুরআন ও সুন্নাহর মানদণ্ডে পেশ করতে থাকেন এবং সেগুলোকে আছার ও আখবারের (সাহাবী-তাবেঈদের বর্ণনা) সাথে তুলনা করতে থাকেন; শেষ পর্যন্ত তা মাত্র পাঁচশত হাদীসে এসে দাঁড়ায়। এই দশ হাজার নির্বাচিত, বরং সেই প্রাথমিক এক লক্ষ হাদীসের মধ্যে এগুলোই ছিল তাঁর নিকট বিশুদ্ধ।
আল-হাররাস 'উসুল'-এর ওপর তাঁর টীকায় বলেছেন: ইমাম মালিকের মুয়াত্তা শুরুতে নয় হাজার হাদীস সমৃদ্ধ ছিল, তারপর তিনি যাচাই-বাছাই করতে থাকেন যতক্ষণ না তা সাতশতে এসে পৌঁছায়।
আতীক ইবনে ইয়াকুব বলেন: মালিক প্রায় দশ হাজার হাদীসের ওপর ভিত্তি করে তাঁর মুয়াত্তা সংকলন করেছিলেন, এরপর তিনি প্রতি বছর সেটি পর্যবেক্ষণ করতেন এবং তা থেকে হাদীস বাদ দিতেন, শেষ পর্যন্ত এই বর্তমান রূপটি অবশিষ্ট থাকে।
ইমাম মালিক দীর্ঘ প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে যা কিছু সংকলন ও সংগ্রহ করেছেন—যা সর্বশ্রেষ্ঠ যুগসমূহের অন্যতম ছিল—তা এক লক্ষ হাদীসের মধ্যে মাত্র প্রায় পাঁচশতে এসে পৌঁছেছে।
আর এটি কী এক বিস্ময়কর অনুপাত!
আর মালিক ইবনে আনাস হলেন এমন এক ব্যক্তিত্ব, তাঁর ইলমের শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনার অপেক্ষা রাখে না।
এবং তাঁর তাকওয়ার শ্রেষ্ঠত্বও অতুলনীয়।
আর এই প্রচেষ্টাটি ছিল রিসালাতের যুগ, সাহাবীগণের সময়, দ্বীনের আবাসভূমি এবং ইসলামের প্রাণকেন্দ্রের অতি নিকটবর্তী সময়ের।
এটিই ছিল নবীজীর হাদীস শ্রেণীবদ্ধকরণ ও সংগ্রহের ক্ষেত্রে প্রথম পরিপক্ব প্রচেষ্টা, যাতে টিকে থাকার সমস্ত উপকরণ বিদ্যমান ছিল এবং এর মাধ্যমেই সহীহ ও যঈফ হাদীসের মধ্যে পার্থক্য করা হয়।
আর প্রথম শতাব্দীর শুরুতে ইবনে শিহাব আয-যুহরীর প্রচেষ্টা, অতঃপর ইবনুল মাজিাশূন...
(খণ্ড: ১)
আল-মাউদুয়াত লি ইবনিল জাওযী
(পৃষ্ঠা: ১১)
عبد الْعَزِيز بن عبد الله، وَسَعِيد بن أبي عرُوبَة، أَو الرّبيع بن صبيح.
فقد
كَانَت مُجَرّد إرهاصات لهَذَا الْحَدث الْهَام الَّذِي يعد بِحَق نقطة التَّحَوُّل بَين عصر الرِّوَايَة وَالسَّمَاع ومطلع عصر التدوين.
فَهَذَا الإِمَام مُحَمَّد بن إِسْمَاعِيل البُخَارِيّ الْجعْفِيّ وَلَاء، جمع سِتّمائَة ألف حَدِيث أثْنَاء اشْتِغَاله بِجمع كِتَابه.
صَحَّ لَدَيْهِ مِنْهَا أَرْبَعَة آلَاف حَدِيث يُضَاف إِلَيْهَا ثَلَاثَة آلَاف أُخْرَى مكررة.
وَجمع الإِمَام مُسلم بن الْحجَّاج القشيرى ثَلَاثمِائَة ألف حَدِيث أثْنَاء اشْتِغَاله بِجمع كِتَابه.
صَحَّ لَدَيْهِ مِنْهَا قرَابَة السّنة آلَاف أَيْضا وَمثلهَا مكررا.
وَبلغ مَا اتّفق عَلَيْهِ الشَّيْخَانِ أَلفَانِ وثلاثمائة وَسِتَّة وَعِشْرُونَ حَدِيثا.
أما جملَة مَا جمعه إِمَام أهل السّنة أَحْمد بن حَنْبَل فَبلغ أَكثر من جملَة مَا جمعه الشَّيْخَانِ أثْنَاء حياتهما كِلَاهُمَا (1) .
أثبت مِنْهَا فِي مُسْنده ثَلَاثِينَ ألفا تزيد عشرَة آلَاف مكررة.
وَهَذَا أَبُو دَاوُد الْأَزْدِيّ السجسْتانِي يروي عَنهُ مُحَمَّد بن بكر بن داسة أَنه سَمعه يَقُول: كتبت عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم خَمْسمِائَة ألف حَدِيث انتخبت مِنْهَا مَا ضمنته هَذَا الْكتاب يعْنى كتاب السّنَن جمعت فِيهِ أَرْبَعَة آلَاف حَدِيث وَثَمَانمِائَة، ذكرت الصَّحِيح وَمَا يُشبههُ ويقاربه، ويكفى الْإِنْسَان لدينِهِ من ذَلِك أَرْبَعَة أَحَادِيث: أَحدهَا: إِنَّمَا الْأَعْمَال بِالنِّيَّاتِ..الخ.
وَالثَّانِي: من حسن إِسْلَام الْمَرْء تَركه مَا لَا يعنيه.
وَالثَّالِث: لَا يكون الْمُؤمن مُؤمنا حَتَّى يرضى لِأَخِيهِ مَا يرضى لنَفسِهِ.
وَالرَّابِع: الْحَلَال بَين وَالْحرَام بَين وببن ذَلِك مُشْتَبهَات.
إِلَخ.
--------------------------------------------
আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ, এবং সাঈদ বিন আবি আরুবাহ, অথবা আর-রাবি বিন সবিহ।
নিশ্চয়ই এগুলো
ছিল এই গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার নিছক পূর্বাভাস, যা বর্ণনানির্ভর ও শ্রুতি নির্ভর যুগ এবং সংকলন যুগের সূচনালগ্নের মাঝে সন্ধিক্ষণ বা পরিবর্তনের একটি যথার্থ বিন্দু হিসেবে গণ্য হয়।
এই হলেন ইমাম মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-বুখারি আল-জু’ফি (যিনি আনুগত্যের সূত্রে জু’ফি গোত্রভুক্ত), তিনি তাঁর কিতাব সংকলনে নিয়োজিত থাকাকালীন ছয় লক্ষ হাদিস সংগ্রহ করেছিলেন।
তাঁর নিকট সেগুলোর মধ্য হতে চার হাজার হাদিস সহিহ প্রমাণিত হয়েছে, যার সাথে আরও তিন হাজার পুনরাবৃত্ত হাদিস যুক্ত হয়।
এবং ইমাম মুসলিম বিন আল-হাজ্জাজ আল-কুশাইরি তাঁর কিতাব সংকলনে নিয়োজিত থাকাকালীন তিন লক্ষ হাদিস সংগ্রহ করেছিলেন।
তাঁর নিকটও সেগুলোর মধ্য হতে প্রায় ছয় হাজার হাদিস সহিহ প্রমাণিত হয়েছে এবং সমপরিমাণ পুনরাবৃত্ত হাদিসও রয়েছে।
শাইখাইন (বুখারি ও মুসলিম) যে হাদিসগুলোর ওপর ঐকমত্য পোষণ করেছেন তার সংখ্যা দুই হাজার তিনশ ছাব্বিশটিতে পৌঁছেছে।
আর আহলে সুন্নতের ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল যা সংগ্রহ করেছেন তার মোট সংখ্যা শাইখাইন তাঁদের জীবদ্দশায় যা সংগ্রহ করেছিলেন সেই উভয়ের সংগ্রহের চেয়েও বেশি (১)।
তিনি তাঁর 'মুসনাদ'-এ সেগুলো থেকে ত্রিশ হাজার হাদিস লিপিবদ্ধ করেছেন, যার সাথে অতিরিক্ত আরও দশ হাজার পুনরাবৃত্ত হাদিস রয়েছে।
আর এই হলেন আবু দাউদ আল-আজদি আস-সিজিস্তানি, যাঁর থেকে মুহাম্মদ বিন বকর বিন দাসা বর্ণনা করেন যে, তিনি তাঁকে বলতে শুনেছেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে পাঁচ লক্ষ হাদিস লিখেছি, যার মধ্য হতে আমি সেই হাদিসগুলো নির্বাচন করেছি যা এই কিতাবে অন্তর্ভুক্ত করেছি—অর্থাৎ সুনান কিতাব। এতে আমি চার হাজার আটশ হাদিস সংকলন করেছি, সেখানে আমি সহিহ এবং যা তার অনুরূপ বা কাছাকাছি তা উল্লেখ করেছি। মানুষের দ্বীনের জন্য এর মধ্য হতে মাত্র চারটি হাদিসই যথেষ্ট: একটি হলো: নিশ্চয়ই আমলসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল... ইত্যাদি।
দ্বিতীয়টি: কোনো ব্যক্তির ইসলামের সৌন্দর্য হলো তার অনর্থক বিষয় ত্যাগ করা।
তৃতীয়টি: কোনো মুমিন প্রকৃত মুমিন হতে পারে না যতক্ষণ না সে তার ভাইয়ের জন্য তা-ই পছন্দ করে যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে।
চতুর্থটি: হালাল স্পষ্ট এবং হারামও স্পষ্ট, আর এই উভয়ের মাঝে রয়েছে সন্দেহযুক্ত বিষয়সমূহ।
ইত্যাদি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাউদুয়াত লি ইবনিল জাওযী
(পৃষ্ঠা: ১২)
وَلَو ذَهَبْنَا نستقصي الصَّحِيح إِلَى الْمَوْضُوع لهالتا الْأَمر، فَهَذَا هُوَ الإِمَام
مَالك يثبت فِي موطإه مَا يبلغ قرَابَة النّصْف فِي الْمِائَة من جملَة مَا جمعه.
وَعند البُخَارِيّ لَا تكَاد تبلغ نِسْبَة مَا أثْبته فِي كِتَابه من الصَّحِيح إِلَى جملَة مَا جمعه، وَلم يَصح لَدَيْهِ فَلم يُثبتهُ وَاحِدًا فِي الْمِائَة.
فَكيف بالكثيرين سواهُمَا مِمَّن جمع وصنف..مَعَ قرب الإِمَام مَالك زَمَانا ومكانا لمهبط الْوَحْي، ودقة الْإِمَامَيْنِ البُخَارِيّ وَمُسلم وَصدق تحريهما للحق وَالصَّوَاب.
إزاء هَذَا الطوفان من الْأَحَادِيث الْمَوْضُوعَة، هبت كتائب الْحق من أهل الحَدِيث ونقاده، تتحرى حَال الروَاة من نقلة الحَدِيث، فتعدل وتجرح، وتوثق وتضعف، وتسلط الضَّوْء على الْأَسَانِيد، فتكشف من شَأْن رجال السَّنَد مَا كَانَ خافيا، وتسبر من غوره مَا كَانَ مَسْتُورا.
حَتَّى لم تعد هُنَاكَ صفة لراو إِلَّا عرفت، وَلَا خبيئة فِيهِ إِلَّا كشفت، وَلَا نادرة عَنهُ إِلَّا رويت، وَلَا حَادِثَة إِلَّا دونت.
مَا تعلق من ذَلِك بمذهبه وآرائه، وَمَا مس عقائده دَرَجَات حفظه، وأقرانه وشيوخه.
كَذَلِك مَا اعتوره فِي مُخْتَلف أطوار حَيَاته ومراحل عمره وشيخوخته من اجْتِمَاع الذاكرة أَو الْخَلْط وَالوهم.
وَمن الامانة فِي النَّقْل أَو التديس، حَتَّى يخلص من كل ذَلِك إِمَّا إِلَى الِاحْتِجَاج بِهِ، أَو إِلَى تَركه.
بعد تفنيد حَاله من رقة دينه أَو تقواه وخشيته.
وعَلى عاتق هَؤُلَاءِ عبر الْمِائَة الثَّانِيَة وَبَعض الثَّالِثَة، وضعت المسئولية كَامِلَة، فحملوا مَا حملُوا من هَذِه الْأَمَانَة، وَلم يهنوا، وَلم يضعفوا، وتجردوا للذود عَن الصَّحِيح من حَدِيث النَّبِي الْكَرِيم وتمييزه من السقيم الْمَصْنُوع.
وَكَانَ مِنْهُم قلَّة من الْفُقَهَاء، وَكَثْرَة من الْمُحدثين، مِنْهُم سوى من ذكرنَا: الشَّافِعِي وَاللَّيْث بن سعد وَالشعْبِيّ وَالزهْرِيّ وَالْأَوْزَاعِيّ وَعمر بن عبد الْعَزِيز.
وَمن أهل الْعلم بِالْحَدِيثِ وَعلله وَنقد رِجَاله: ابْن عدى، وَأَبُو حَاتِم ابْن
আমরা যদি সহীহ এবং জাল হাদিসের তুলনা করতে যাই, তবে বিষয়টি আমাদের আতঙ্কিত করবে। এই তো ইমাম
মালিক, তিনি তাঁর 'মুয়াত্তা'-তে তাঁর সংগৃহীত সামগ্রিক হাদিসের মাত্র প্রায় শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ সাব্যস্ত করেছেন।
আর ইমাম বুখারীর ক্ষেত্রে, তিনি তাঁর কিতাবে যে পরিমাণ সহীহ হাদিস সাব্যস্ত করেছেন, তা তাঁর সংগৃহীত মোট হাদিসের তুলনায় শতকরা এক ভাগও হবে না। যা তাঁর কাছে সহীহ প্রমাণিত হয়নি, তিনি তা একটিও অন্তর্ভুক্ত করেননি।
তাহলে এই দু'জন ছাড়া অন্য অনেকের অবস্থা কী হবে যারা হাদিস সংগ্রহ ও সংকলন করেছেন? অথচ ইমাম মালিক সময়ের দিক থেকে এবং ওহী অবতরণের স্থানের দিক থেকে অত্যন্ত নিকটবর্তী ছিলেন এবং ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিমের অত্যন্ত সূক্ষ্মতা ও সত্য অনুসন্ধানে গভীর সতর্কতা ছিল।
জাল হাদিসের এই প্লাবনের মুখে আহলে হাদিস এবং এর সমালোচকদের মধ্য থেকে সত্যের বাহিনী জেগে উঠেছিল। তারা হাদিস বর্ণনাকারীদের অবস্থা অনুসন্ধান করতে শুরু করে; ফলে তারা কাউকে ন্যায়পরায়ণ সাব্যস্ত করে আবার কাউকে দোষী সাব্যস্ত করে, কাউকে নির্ভরযোগ্য ঘোষণা করে আবার কাউকে দুর্বল বলে দেয়। তারা সনদগুলোর ওপর আলোকপাত করে, যার ফলে সনদ বা বর্ণনাসূত্রের ব্যক্তিদের এমন সব অবস্থা উন্মোচিত হয় যা আগে গোপন ছিল এবং তাদের গভীরে লুকানো বিষয়গুলো তারা নিংড়ে বের করে আনে।
এমনকি বর্ণনাকারীদের এমন কোনো বৈশিষ্ট্য অবশিষ্ট ছিল না যা জানা যায়নি, তাদের মধ্যে এমন কোনো লুকানো বিষয় ছিল না যা উন্মোচিত হয়নি, তাদের সম্পর্কে কোনো বিরল তথ্য ছিল না যা বর্ণিত হয়নি এবং কোনো ঘটনাই অলিপিবদ্ধ থাকেনি।
এর মধ্যে তাদের মাযহাব ও মতবাদ সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি, তাদের আকিদা-বিশ্বাস সম্পর্কিত বিষয়, তাদের হিফজ বা মুখস্থ শক্তির স্তর, তাদের সমসাময়িক ব্যক্তিবর্গ এবং তাদের উস্তাদদের বিবরণও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
একইভাবে জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে এবং বয়সের বিভিন্ন স্তরে ও বার্ধক্যে তাদের স্মৃতিশক্তির অটুট থাকা কিংবা সংমিশ্রণ ঘটে যাওয়া ও ভ্রান্তিতে পড়ার মতো বিষয়গুলোও তারা পর্যবেক্ষণ করেছেন।
বর্ণনার ক্ষেত্রে আমানতদারি বা তাদলীস (দোষ গোপন করা) সহ সবকিছু যাচাইয়ের মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত এই সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া হতো যে, তার হাদিস দলিল হিসেবে গ্রহণ করা হবে নাকি বর্জন করা হবে।
এটি করা হতো তাদের দ্বীনদারির শিথিলতা অথবা তাদের তাকওয়া ও আল্লাহভীতি পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণের পর।
দ্বিতীয় হিজরী শতাব্দী থেকে তৃতীয় হিজরী শতাব্দীর কিছুকাল পর্যন্ত এই ব্যক্তিদের কাঁধেই সম্পূর্ণ দায়িত্ব অর্পিত ছিল। তারা এই আমানতের বোঝা বহন করেছেন; তারা অলসতা করেননি, দুর্বলতা দেখাননি। তাঁরা অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে মহানবীর সহীহ হাদিসগুলোকে রক্ষা করতে এবং বানোয়াট ও ত্রুটিযুক্ত হাদিস থেকে সেগুলোকে আলাদা করতে আত্মনিয়োগ করেছিলেন।
তাদের মধ্যে অল্পসংখ্যক ফকীহ এবং বিপুল সংখ্যক মুহাদ্দিস ছিলেন। আমরা যাদের কথা উল্লেখ করেছি তারা ছাড়াও এই দলে ছিলেন: শাফেয়ী, লাইস ইবনে সাদ, শাবী, যুহরী, আওযাঈ এবং উমর ইবনে আব্দুল আজিজ।
হাদিস শাস্ত্র, হাদিসের ইল্লত (সূক্ষ্ম ত্রুটি) এবং রিজাল শাস্ত্রের পারদর্শী আলেমদের মধ্যে ছিলেন: ইবনে আদী, আবু হাতিম ইবনে...
(খণ্ড: ১)
আল-মাউদুয়াত লি ইবনিল জাওযী
(পৃষ্ঠা: ১৩)
حبَان، والسفيانان الثَّوْريّ وَابْن عُيَيْنَة، والحمادان ابْن سَلمَة وَابْن زيد، وَأَبُو زرْعَة، وَعبد الرَّزَّاق وَابْن أبي شيبَة ومسدد وهناد، وَالْفضل بن دُكَيْن، وَإِسْحَاق بن رَاهَوَيْه، وَيحيى بن سعيد الْقطَّان، وَأَبُو عَاصِم النَّبِيل وَابْن الْمُبَارك وَأَيوب السّخْتِيَانِيّ، وَشعْبَة بن الْحجَّاج والدارمي، والإمامان الجليلان يحيى بن معِين، وَعلي بن الْمَدِينِيّ.
وسواهم كثير من أولي الْفضل والسابقة فِي كشف مَسْتُور الوضاعين، غيرَة لله ولنبيه وَدينه.
وَكَانَ مِنْهُم الْحفاظ الَّذين كَانُوا أعجوبة الدَّهْر وفخر الزَّمَان.
وَمِنْهُم من غاص فِي الْعِلَل علل الحَدِيث ومستور أَحْوَال الرِّجَال، وَلم يكن مِنْهُم إِلَّا ذُو فطنة وذكاء وَمَعْرِفَة وإصابة وَأَمَانَة، وَمِنْهُم من برع فِي الْفِقْه، وأوتي الْحِكْمَة، وَمِنْهُم من امتحن فَثَبت للمحنة، حسبَة لله وإيثارا لما عِنْده..كنتيجة مُبَاشرَة لهَذِهِ النهضة وضعت للأحاديث والأسانيد قَوَاعِد وَأسسَ وموازين، وَأصْبح لكل سَنَد بِمَجْمُوع رِجَاله دَرَجَة من الصِّحَّة أَو قابلية لِلطَّعْنِ وَالتَّجْرِيح، وَأصْبح الشَّخْص الْوَاحِد فِي رجال السَّنَد، يُضعفهُ أَو يقويه، ويخل بِهِ أَو يقيمه.
وطبق ذَلِك على أَسَانِيد المكثرين والمقلين من الرِّوَايَة، من الصَّحَابَة وَالتَّابِعِينَ وتابعيهم إِلَى عَاشر طبقَة وَمَا جاوزها.
فمثلا أصح مَا أسْند لَدَى نقاد الحَدِيث وَأهل الْجرْح وَالتَّعْدِيل إِلَى أبي بكر الصّديق رضي الله عنه لغاية أَوَائِل الْمِائَة الثَّانِيَة مَا جَاءَ من الْأَحَادِيث عَن طَرِيق إِسْمَاعِيل بن أبي خَالِد عَن قيس بن أبي حَازِم عَن أبي بكر الصّديق عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم.
وَأَصَح مَا أسْند إِلَى عمر بن الْخطاب رضي الله عنه من أَحَادِيث، مَا كَانَت عَن طَرِيق الزُّهْرِيّ عَن سَالم بن عبد الله عَن أَبِيه عَن جده عمر عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم.
হিব্বান, দুই সুফিয়ান (আস-সাওরী ও ইবনে উয়াইনাহ), দুই হাম্মাদ (ইবনে সালামাহ ও ইবনে যায়েদ), আবু যুরআহ, আব্দুর রাজ্জাক, ইবনে আবি শাইবাহ, মুসাদ্দাদ, হান্নাদ, ফযল ইবনে দুকাইন, ইসহাক ইবনে রাহাওয়াইহ, ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান, আবু আসিম আন-নাবীল, ইবনুল মুবারক, আইয়ুব আস-সাখতিয়ানী, শু'বাহ ইবনুল হাজ্জাজ, আদ-দারেমী এবং দুই মহান ইমাম ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন ও আলী ইবনুল মাদীনী।
তাদের বাইরেও ফযীলত ও অগ্রগামী এমন আরও অনেকে রয়েছেন যারা জালিয়াতদের গোপন বিষয় উন্মোচনে সচেষ্ট ছিলেন, যা তারা করেছিলেন আল্লাহ, তাঁর নবী এবং তাঁর দ্বীনের প্রতি একনিষ্ঠ আত্মমর্যাদাবোধ থেকে।
তাঁদের মধ্যে এমন সব হাফেয ছিলেন যারা ছিলেন মহাকালের বিস্ময় এবং যুগের গৌরব।
তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ হাদীসের সূক্ষ্ম ত্রুটি (ইলল) এবং বর্ণনাকারীদের গোপন অবস্থার গভীরে প্রবেশ করতেন। তাঁদের প্রত্যেকেই ছিলেন তীক্ষ্ণ মেধা, বুদ্ধিমত্তা, গভীর জ্ঞান, সঠিকতা ও আমানতদারিতার অধিকারী। তাঁদের মধ্যে কেউ ফিকহ শাস্ত্রে পারদর্শী ছিলেন এবং প্রজ্ঞা (হিকমত) প্রাপ্ত হয়েছিলেন। আবার তাঁদের মধ্যে এমনও ছিলেন যারা পরীক্ষায় নিপতিত হয়েও অটল ছিলেন, আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় এবং তাঁর নিকট যা রয়েছে তাকে প্রাধান্য দিয়ে। এই জাগরণের সরাসরি ফলাফল হিসেবে হাদীস ও সনদসমূহের জন্য কতিপয় নিয়ম-কানুন, ভিত্তি ও মানদণ্ড নির্ধারিত হয়েছে। প্রতিটি সনদ এখন তার অন্তর্ভুক্ত বর্ণনাকারীদের সামগ্রিক অবস্থার প্রেক্ষিতে বিশুদ্ধতার স্তরে পৌঁছায় অথবা আপত্তিকর ও অগ্রহণযোগ্য হওয়ার উপযুক্ত হয়। সনদের বর্ণনাকারীদের মধ্যে একজন ব্যক্তিই তাকে দুর্বল বা শক্তিশালী করতে পারে, অথবা তাতে ত্রুটি তৈরি করতে পারে কিংবা তাকে সুদৃঢ় করতে পারে।
এই মানদণ্ড সাহাবী, তাবেয়ী এবং তাবে-তাবেয়ীন থেকে শুরু করে দশম স্তর এবং তার পরবর্তী স্তরের সেই সব বর্ণনাকারীদের সনদের ওপর প্রয়োগ করা হয়েছে যারা অধিক পরিমাণে হাদীস বর্ণনা করেছেন কিংবা অল্প পরিমাণে।
উদাহরণস্বরূপ, হাদীস বিশারদ এবং জারাহ ও তা'দীল বিশেষজ্ঞদের মতে দ্বিতীয় শতাব্দীর শুরু পর্যন্ত আবু বকর সিদ্দিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদীসসমূহের মধ্যে সবচেয়ে বিশুদ্ধ সনদ হলো সেটি, যা ইসমাঈল ইবনে আবি খালিদ সূত্রে কায়েস ইবনে আবি হাযেম থেকে, তিনি আবু বকর সিদ্দিক থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন।
আর উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদীসসমূহের মধ্যে সবচেয়ে বিশুদ্ধ সনদ হলো সেটি, যা যুহরী সূত্রে সালেম ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা উমর থেকে বর্ণনা করেছেন, যিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মাউদুয়াত লি ইবনিল জাওযী
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وَأَصَح مَا أسْند إِلَى عَائِشَة أم الْمُؤمنِينَ رضي الله عنها من أَحَادِيث، مَا كَانَ من طَرِيق عبد الله بن عمر عَن الْقَاسِم بن مُحَمَّد عَن عَائِشَة عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم.
وَأَصَح مَا أسْند إِلَى أبي هُرَيْرَة رضي الله عنه من أَحَادِيث، مَا كَانَ جَاءَ من طَرِيق الزُّهْرِيّ عَن سعيد بن الْمسيب عَن أبي هُرَيْرَة عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم.
من أَمْثَال مَا وضعوه فِي مَنَاقِب على رضى الله عَن من الْأَحَادِيث المكذوبة، الَّتِي هِيَ فِي مرتبَة، دون مَرَاتِب الغلو والإطراء الشركي، الَّتِي غلوا بهَا فِيهِ رضي الله عنه، قَول بَعضهم: * عَن أبي ذَر قَالَ: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم: لما أسرى بِي مَرَرْت على ملك جَالس على سَرِير من نور، وَإِحْدَى رجلَيْهِ فِي الْمشرق، وَالْأُخْرَى فِي الْمغرب، وَبَين يَدَيْهِ لوح ينظر فِيهِ، وَالدُّنْيَا كلهَا بَين عَيْنَيْهِ، والخلق بَين رُكْبَتَيْهِ، وَيَده تبلغ الْمشرق وَالْمغْرب، فَقلت: يَا جِبْرِيل من هَذَا؟ قَالَ: هَذَا عزرئيل تقدم فَسلم عَلَيْهِ، فتقدمت وسلمت عَلَيْهِ، فَقَالَ: وَعَلَيْك السَّلَام يَا أَحْمد، مَا فعل ابْن عمك عَليّ؟ فَقلت: وَهل تعرف ابْن عمي عَليّ؟ فَقَالَ: وَكَيف لَا أعرفهُ وَقد وكلني الله بِقَبض أَرْوَاح الْخَلَائق مَا خلا روحك وروح ابْن عمك عَليّ بن أَبى طَالب، فَإِن الله يتوفا كَمَا بمشيئته.
خرجه الملاء فِي سيرته.
* عَن سلمَان قَالَ: سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَقُول: كنت أَنا وعَلى نورا بَين يَدي الله قبل أَن يخلق آدم بأَرْبعَة عشر ألف عَام، فَلَمَّا خلق الله آدم قسم ذَلِك النُّور جز أَيْن، جُزْء أَنا وجزء على.
رُوِيَ فِي المناقب.
* وَخرج الملاء أَيْضا فِي سيرته عَن أبي الْحَمْرَاء قَالَ: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم: لَيْلَة أسرى بِي إِلَى السَّمَاء نظرت إِلَى سَاق الْعَرْش الْأَيْمن فَرَأَيْت
كتابا فهمته، مُحَمَّد رَسُول الله أيدته بعلى ونصرته بِهِ.
মুমিনদের জননী আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত হাদিসগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বিশুদ্ধ হলো সেই বর্ণনা যা আবদুল্লাহ ইবনে উমর, কাসিম ইবনে মুহাম্মদ থেকে, তিনি আয়েশা থেকে এবং তিনি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন।
আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বিশুদ্ধ হলো সেই বর্ণনা যা যুহরি, সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন।
আলি (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর ফজিলত সম্পর্কে তারা যে সকল মিথ্যা হাদিস তৈরি করেছে—যা চরম বাড়াবাড়ি এবং শিরকি স্তুতির পর্যায়ের নিচে অবস্থান করে, যেগুলো নিয়ে তারা তাঁর ব্যাপারে অতিরঞ্জন করেছে—তার একটি উদাহরণ হলো জনৈক ব্যক্তির এই বক্তব্য: * আবু যার (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: যখন আমাকে মিরাজে নিয়ে যাওয়া হলো, তখন আমি এমন একজন ফেরেশতার পাশ দিয়ে গেলাম যিনি নূরের একটি সিংহাসনে বসে আছেন। তাঁর এক পা পূর্বে এবং অন্য পা পশ্চিমে। তাঁর সামনে একটি ফলক রয়েছে যাতে তিনি তাকাচ্ছেন। সমগ্র দুনিয়া তাঁর দুই চোখের সামনে, সৃষ্টির সকল জীব তাঁর দুই হাঁটুর মাঝে এবং তাঁর হাত পূর্ব ও পশ্চিমে পৌঁছেছে। আমি বললাম: হে জিবরাঈল! ইনি কে? তিনি বললেন: ইনি আজরাঈল, সামনে এগিয়ে তাঁকে সালাম দিন। আমি সামনে এগিয়ে তাঁকে সালাম দিলাম। তিনি বললেন: আপনার ওপরও শান্তি বর্ষিত হোক হে আহমদ! আপনার চাচাতো ভাই আলির কী খবর? আমি বললাম: আপনি কি আমার চাচাতো ভাই আলিকে চেনেন? তিনি বললেন: আমি তাঁকে চিনব না কেন, অথচ আল্লাহ আমাকে আপনার এবং আপনার চাচাতো ভাই আলি ইবনে আবি তালিবের রুহ ছাড়া সৃষ্টির সকল জীবের রুহ কবজ করার দায়িত্ব দিয়েছেন; কারণ আল্লাহ নিজ ইচ্ছানুযায়ী আপনাদের দুজনের মৃত্যু দান করবেন।
মোল্লা তাঁর সিরাত গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন।
* সালমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: আমি এবং আলি আদমকে সৃষ্টির চৌদ্দ হাজার বছর আগে আল্লাহর দুই হাতের সামনে নূর হিসেবে বিদ্যমান ছিলাম। অতঃপর যখন আল্লাহ আদমকে সৃষ্টি করলেন, তখন সেই নূরকে দুই ভাগে বিভক্ত করলেন; এক ভাগ আমি এবং এক ভাগ আলি।
এটি 'মানাকিব' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।
* মোল্লা তাঁর সিরাত গ্রন্থে আবু হামরা থেকেও বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: যে রাতে আমাকে আসমানে নিয়ে যাওয়া হলো, আমি আরশের ডান পায়ার দিকে তাকালাম এবং একটি লেখা দেখতে পেলাম যা আমি বুঝতে পারলাম: মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল, আমি তাঁকে আলির মাধ্যমে শক্তিশালী করেছি এবং তাঁর মাধ্যমে তাঁকে সাহায্য করেছি।
(খণ্ড: ১)
আল-মাউদুয়াত লি ইবনিল জাওযী
(পৃষ্ঠা: ১৫)
* وَعَن ابْن عَبَّاس قَالَ: كُنَّا عِنْد النَّبِي صلى الله عليه وسلم فَإِذا طَائِر فِي فِيهِ لوزة خضراء، فألقاها فِي حجر النَّبِي صلى الله عليه وسلم، فَأَخذهَا النَّبِي صلى الله عليه وسلم فقبلها ثمَّ كسرهَا فَإِذا فِي جوفها دودة خضراء مَكْتُوب فِيهَا بالأصفر: لَا إِلَه إِلَّا الله مُحَمَّد رَسُول الله نصرته بعلي.
خرجه أَبُو الْخَيْر الْقزْوِينِي الحاكمي.
* عَن الْحسن بن عَليّ قَالَ: كَانَ رَأس رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فِي حجر عَليّ وَهُوَ يوصى إِلَيْهِ، فَلَمَّا سري عَنهُ قَالَ: يَا على صليت الْعَصْر؟ قَالَ: لَا.
قَالَ: اللَّهُمَّ إِنَّك تعلم أَن كَانَ فِي حَاجَتك وحاجة نبيك.
فَرد عَلَيْهِ الشَّمْس فَردهَا عَلَيْهِ، وَغَابَتْ الشَّمْس.
خرجه الدولابي.
* وَقد خرج الحاكمي عَن أَسمَاء بنت عُمَيْس مثله وَلَفظه قَالَت: كَانَ رَأس النَّبِي صلى الله عليه وسلم فِي حجر عَليّ، فكره أَن يَتَحَرَّك حَتَّى غَابَتْ الشَّمْس، فَلم يصل الْعَصْر، فَفَزعَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَذكر لَهُ عَليّ أَنه لم يصل الْعَصْر، فَدَعَا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم الله عزوجل أَن يرد الشَّمْس عَلَيْهِ، فَأَقْبَلت الشَّمْس لَهَا خوار حَتَّى ارْتَفَعت قدر مَا كَانَت فِي وَقت الْعَصْر فصلى ثمَّ رجعت.
* وَخرج أَيْضا عَنْهَا أَن عَليّ بن أبي طَالب دفع إِلَى النَّبِي صلى الله عليه وسلم، وَقد أوصى الله إِلَيْهِ أَن يجلله بِثَوْب فَلم يزل كَذَلِك إِلَى أَن أَدْبَرت الشَّمْس يَقُول: غَابَتْ أَو كَادَت تغيب، ثمَّ إِن النَّبِي صلى الله عليه وسلم سري عَنهُ، فَقَالَ: أصليت يَا عَليّ؟ قَالَ: لَا.
قَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم: اللَّهُمَّ رد الشَّمْس على عَليّ.
فَرَجَعت الشَّمْس حَتَّى بلغت نصف الْمَسْجِد.
* وَعَن أنس رضي الله عنه قَالَ: بَيْنَمَا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فِي الْمَسْجِد إِذْ قَالَ صلى الله عليه وسلم لعلى: هَذَا جِبْرِيل يُخْبِرنِي أَن الله عزوجل
زَوجك فَاطِمَة، وَأشْهد على تَزْوِيجهَا أَرْبَعِينَ ألف ملك وَأوحى إِلَى شَجَرَة طُوبَى أَن انثري عَلَيْهِم الدّرّ والياقوت، فَنثرَتْ عَلَيْهِم الدّرّ والياقوت، فابتدرت إِلَيْهِ
ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম, এমন সময় একটি পাখি এল যার মুখে একটি সবুজ কাঠবাদাম ছিল। পাখিটি সেটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কোলে ফেলে দিল। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেটি হাতে নিলেন এবং চুমু খেলেন। এরপর তিনি সেটি ভাঙলে তার ভেতরে একটি সবুজ পোকা দেখতে পেলেন, যার গায়ে হলুদ রঙে লেখা ছিল: 'আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল, আমি আলীর মাধ্যমে তাকে সাহায্য করেছি।'
আবু আল-খাইর আল-কাযউইনী আল-হাকিমী এটি বর্ণনা করেছেন।
* হাসান ইবনে আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মাথা আলীর কোলে ছিল এবং তিনি তাকে অসিয়ত করছিলেন। যখন তাঁর উপর থেকে ওহীর ভার লাঘব হলো, তিনি বললেন: হে আলী, তুমি কি আসরের সালাত আদায় করেছ? তিনি বললেন: না।
তিনি বললেন: হে আল্লাহ, আপনি জানেন যে সে আপনার এবং আপনার নবীর প্রয়োজনে নিয়োজিত ছিল।
অতঃপর তিনি তার জন্য সূর্য ফিরিয়ে দিলেন এবং সূর্য ফিরে এল, এরপর সূর্য ডুবে গেল।
আদ-দুলাবী এটি বর্ণনা করেছেন।
* আল-হাকিমী আসমা বিনতে উমাইস (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন, যার শব্দসমূহ হলো, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মাথা আলীর কোলে ছিল, তাই সূর্য ডুবে যাওয়া পর্যন্ত তিনি নড়াচড়া করা অপছন্দ করলেন, ফলে তিনি আসরের সালাত আদায় করতে পারেননি। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শংকিত হলেন এবং আলী তাঁকে জানালেন যে তিনি আসরের সালাত আদায় করেননি। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মহান আল্লাহর কাছে দুআ করলেন যেন তিনি তাঁর জন্য সূর্যকে ফিরিয়ে দেন। তখন সূর্য শব্দ করতে করতে এগিয়ে এল যতক্ষণ না তা আসরের সময়ের উচ্চতায় পৌঁছাল। তিনি সালাত আদায় করলেন, তারপর সূর্য ফিরে গেল।
* তাঁর থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে যে, আলী ইবনে আবি তালিব নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকটবর্তী হলেন, আর আল্লাহ তাঁর কাছে ওহী পাঠালেন যে তিনি যেন তাঁকে একটি চাদর দিয়ে ঢেকে দেন। সূর্য অদৃশ্য হওয়া পর্যন্ত অথবা অদৃশ্য হওয়ার উপক্রম হওয়া পর্যন্ত তিনি এভাবেই ছিলেন। এরপর যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওহীর ভার লাঘব হলো, তখন তিনি বললেন: হে আলী, তুমি কি সালাত আদায় করেছ? তিনি বললেন: না।
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: হে আল্লাহ, আলীর জন্য সূর্যকে ফিরিয়ে দিন।
তখন সূর্য ফিরে এল যতক্ষণ না তা মসজিদের অর্ধেক পর্যন্ত পৌঁছাল।
* আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: একদা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মসজিদে থাকাবস্থায় আলীকে বললেন: এই যে জিবরীল আমাকে সংবাদ দিচ্ছেন যে, মহান আল্লাহ আপনার সাথে ফাতিমার বিয়ে দিয়েছেন এবং এই বিয়েতে চল্লিশ হাজার ফেরেশতাকে সাক্ষী রেখেছেন। আর তিনি তূবা বৃক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন সে তাদের উপর মুক্তা ও ইয়াকুত পাথর বর্ষণ করে। ফলে সেটি তাদের উপর মুক্তা ও ইয়াকুত পাথর বর্ষণ করল এবং তারা সেদিকে দ্রুত অগ্রসর হলো।
(খণ্ড: ১)
আল-মাউদুয়াত লি ইবনিল জাওযী
(পৃষ্ঠা: ১৬)
الْحور الْعين يلتقطن من أطباق الدّرّ والياقوت فهم يتهادونه بَينهم إِلَى يَوْم الْقِيَامَة.
أخرجه الملاء فِي سيرته.
* عَن مخدوج بن زيد الذهلي أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ لعلى: أما علمت يَا على أَنه أول من يدعى بِهِ يَوْم الْقِيَامَة بِي فأقوم عَن يَمِين الْعَرْش فِي ظله فأكسى حلَّة خضراء من حلل الْجنَّة، ثمَّ يدعى بالنبيين بَعضهم على إِثْر بعض فَيقومُونَ سماطين عَن يَمِين الْعَرْش ويكسون حللا خضراء من حلل الْجنَّة أَلا وَإِنِّي أخْبرك يَا على أَن أمتِي أول الْأُمَم يحاسبون يَوْم الْقِيَامَة، ثمَّ أبشر، أول من يدعى بك لقرابتك مني فَيدْفَع إِلَيْك لِوَائِي وَهُوَ لِوَاء الْحَمد تسير بِهِ بَين السماطين، آدم وَجَمِيع خلق الله تَعَالَى يَسْتَظِلُّونَ بِظِل لِوَائِي يَوْم الْقِيَامَة وَطوله مسيرَة ألف سنة، سنانه ياقوتة حَمْرَاء، قَبضته فضَّة بَيْضَاء، زجه درة خضراء، لَهُ ثَلَاث ذوائب من نور ذؤابة فِي الْمشرق وذؤابة فِي الْمغرب، وَالثَّالِثَة فِي وسط الدُّنْيَا، مَكْتُوب عَلَيْهِ ثَلَاثَة، أسطر: الأول بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم.
الثَّانِي الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ.
الثَّالِث لَا إِلَه الله مُحَمَّد رَسُول الله، طول كل سطر ألف سنة وَعرضه مسيره ألف سنة.
فتسير باللواء، وَالْحسن عَن يَمِينك وَالْحُسَيْن عَن يسارك حَتَّى تقف بيني وَبَين إِبْرَاهِيم فِي ظلّ الْعَرْش، ثمَّ تُكْسَى حلَّة من الْجنَّة، ثمَّ يُنَادي الْمُنَادِي من تَحت الْعَرْش: نعم الْأَب أَبوك إِبْرَاهِيم وَنعم الْأَخ أَخُوك على.
أبشر يَا على.
إِنَّك تُكْسَى إِذا كُسِيت وتدعى إِذا دعيت، وتحيى إِذا حييت.
أخرجه أَحْمد فِي المناقب.
وفى رِوَايَة أخرجهَا الملاء فِي سيرته قيل: يَا رَسُول الله وَكَيف يَسْتَطِيع على أَن يحمل لِوَاء الْحَمد، فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم: وَكَيف لَا يَسْتَطِيع ذَلِك وَقد أعْطى خِصَالًا شَتَّى
صبرا كصبري، وحسنا كحسن يُوسُف، وَقُوَّة كقوة جِبْرِيل؟.
وَعَن جَابر بن سَمُرَة أَنهم قَالُوا: يَا رَسُول الله من يحمل رَايَتك يَوْم الْقِيَامَة؟ قَالَ: من عَسى أَن يحملهَا يَوْم الْقِيَامَة إِلَّا من كَانَ يحملهَا فِي الدُّنْيَا؟ عَليّ بن أبي طَالب.
أخرجه نظام الْملك فِي أَمَالِيهِ.
وَأخرج المخلص الذَّهَبِيّ عَن أبي سعيد إِن النَّبِي صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ
ডাগর নয়না হুরগণ মুক্তা ও ইয়াকুতের পাত্র থেকে কুড়িয়ে নেয়, তারা কিয়ামত দিবস পর্যন্ত নিজেদের মধ্যে তা উপহার হিসেবে বিনিময় করতে থাকবে।
মোল্লা তার সিরাত গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন।
* মাখদুজ ইবনে যায়েদ আদ-দুহালী থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলীকে বললেন: হে আলী, তুমি কি জান না যে, কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম যার ডাক পড়বে তিনি আমি; তখন আমি আরশের ডান দিকে তার ছায়ায় দাঁড়াবো এবং আমাকে জান্নাতের পোশাকসমূহের মধ্য থেকে একটি সবুজ পোশাক পরানো হবে। এরপর নবীদের একের পর এক ডাকা হবে। তারা আরশের ডান দিকে দুই সারিতে দাঁড়াবেন এবং তাদের জান্নাতের সবুজ পোশাক পরানো হবে। শোনো হে আলী, আমি তোমাকে সংবাদ দিচ্ছি যে, কিয়ামতের দিন আমার উম্মতের হিসাবই সর্বপ্রথম নেওয়া হবে। অতঃপর সুসংবাদ গ্রহণ করো, আমার সাথে তোমার আত্মীয়তার কারণে তোমাকেই সর্বপ্রথম ডাকা হবে। এরপর তোমার হাতে আমার পতাকা অর্থাৎ প্রশংসার পতাকা (লিওয়াউল হামদ) তুলে দেওয়া হবে। তুমি তা নিয়ে দুই সারির মাঝখান দিয়ে চলতে থাকবে। আদম এবং আল্লাহর সমস্ত সৃষ্টি কিয়ামতের দিন আমার পতাকার ছায়াতলে আশ্রয় নেবে। এর দৈর্ঘ্য হবে এক হাজার বছরের পথ। এর অগ্রভাগ হবে লাল ইয়াকুতের, এর হাতল হবে সাদা রূপার এবং এর নিচের অংশ হবে সবুজ মুক্তার। এর নূরের তিনটি শিখা থাকবে: একটি শিখা পূর্বে, একটি শিখা পশ্চিমে এবং তৃতীয়টি পৃথিবীর মাঝখানে। এতে তিনটি লাইন লেখা থাকবে: প্রথমটি—বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম।
দ্বিতীয়টি—আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন।
তৃতীয়টি—লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ। প্রতিটি লাইনের দৈর্ঘ্য হবে এক হাজার বছরের পথ এবং প্রস্থ হবে এক হাজার বছরের পথ।
তুমি পতাকা নিয়ে চলতে থাকবে, হাসান থাকবে তোমার ডানে এবং হুসাইন থাকবে তোমার বামে, যতক্ষণ না তুমি আমার এবং ইব্রাহিমের মাঝখানে আরশের ছায়াতলে গিয়ে দাঁড়াও। এরপর তোমাকে জান্নাতের পোশাক পরানো হবে। তখন আরশের নিচ থেকে এক ঘোষণাকারী ঘোষণা করবেন: তোমার পিতা ইব্রাহিম কতই না উত্তম পিতা এবং তোমার ভাই আলী কতই না উত্তম ভাই।
সুসংবাদ গ্রহণ করো হে আলী।
যখন আমাকে পোশাক পরানো হবে তোমাকেও পরানো হবে, যখন আমাকে ডাকা হবে তোমাকেও ডাকা হবে এবং যখন আমাকে অভিবাদন জানানো হবে তোমাকেও অভিবাদন জানানো হবে।
আহমদ তার মানাকিব গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন।
মোল্লা তার সিরাত গ্রন্থে বর্ণিত এক রেওয়ায়েতে আছে, জিজ্ঞেস করা হলো: হে আল্লাহর রাসুল, আলী কীভাবে প্রশংসার পতাকা বহন করতে সক্ষম হবে? তখন আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: সে কেন সক্ষম হবে না, অথচ তাকে বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য দান করা হয়েছে—
আমার ধৈর্যের ন্যায় ধৈর্য, ইউসুফের সৌন্দর্যের ন্যায় সৌন্দর্য এবং জিবরাঈলের শক্তির ন্যায় শক্তি?
জাবির ইবনে সামুরা থেকে বর্ণিত যে, সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন: হে আল্লাহর রাসুল, কিয়ামতের দিন আপনার ঝাণ্ডা কে বহন করবে? তিনি বললেন: কিয়ামতের দিন সেই ব্যক্তি ছাড়া আর কে-ই বা তা বহন করবে যে দুনিয়াতে তা বহন করত? সে হলো আলী ইবনে আবি তালিব।
নিজামুল মুলক তার আমালী গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন।
মুখলিস আয-যাহাবী আবু সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম...
(খণ্ড: ১)
আল-মাউদুয়াত লি ইবনিল জাওযী
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وَسلم كسانفرا من أَصْحَابه، وَلم يكس عليا، فَكَأَنَّهُ رأى فِي وَجه على، فَقَالَ: يَا على مَا ترْضى أَنَّك تُكْسَى إِذا كُسِيت وتعطى إِذا أَعْطَيْت؟.
* عَن أبي الْحَمْرَاء قَالَ: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم: من أَرَادَ أَن ينظر إِلَى آدم فِي علمه، وَإِلَى نوح فِي فهمه، وَإِلَى إِبْرَاهِيم فِي حلمه، وَإِلَى يحيى بن زَكَرِيَّا فِي زهده، وَإِلَى مُوسَى بن عمرَان فِي بطشه، فَلْينْظر إِلَى عَليّ بن أبي طَالب.
أخرجه الْقزْوِينِي الحاكمي.
وَعَن ابْن عَبَّاس رضي الله عنهما أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ: من أَرَادَ أَن ينظر إِلَى إِبْرَاهِيم فِي حلمه، وَإِلَى نوح فِي حكمه، وَإِلَى يُوسُف فِي جماله، فَلْينْظر إِلَى عَليّ بن أبي طَالب.
أخرجه الملاء فِي سيرته.
* * * لَئِن كُنَّا أسهبنا بعض الشئ فِي إِيرَاد نمط من مزاج الوضاعين وإسرافهم المقبوح فِي الإطراء والمديح، فإننا لم نعرج على مَا وضعوه من أَحَادِيث هِيَ الشّرك الصراح، وَالْكفْر البواح، والفتنة العمياء، بتأليه أَمِير الْمُؤمنِينَ عَليّ رضي الله عنه وأرضاه.
فِيمَا أوردنا عينة مِمَّا رموا بِهِ إِلَى إشرك عَليّ رضي الله عنه فِي النُّبُوَّة فَحسب، بِحَيْثُ لَا يقل نصِيبه مِنْهَا عَن الشّطْر كَامِلا.
بل لقد وشت بهم شياطينهم فوضعوا أَحَادِيث جعلُوا لعلى رضي الله عنه فِيهَا الشّطْر الْأَفْضَل.
وَالنَّبِيّ تَابع لَهُ.
وحاشاه قَالُوا: عَن الْبَراء، قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم: عَليّ مني بِمَنْزِلَة
رَأْسِي من جَسَدِي.
خرجه الملاء.
فَمَاذَا أَبقوا للنَّبِي صلى الله عليه وسلم من الْفضل مَعَ عَليّ رضي الله عنه؟ لقد جعلُوا النّظر إِلَى وَجه على عبَادَة.
قَالُوا: عَن عَائِشَة رضي الله عنها قَالَت: رَأَيْت أَبَا بكر يكثر النّظر إِلَى وَجه عَليّ، فَقلت: يَا أَبَت تكْثر النّظر إِلَى وَجه على، فَقَالَ: يَا بنية سَمِعت رَسُول الله (2 - الموضوعات 1)
...এবং তিনি তাঁর সাহাবীদের মধ্যে একটি দলকে পোশাক প্রদান করলেন, কিন্তু আলীকে দিলেন না। তিনি যেন আলীর চেহারায় (এর প্রভাব) লক্ষ্য করলেন। তখন তিনি বললেন: হে আলী, তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, যখন আমাকে পোশাক পরানো হয় তখন তোমাকেও পরানো হয় এবং যখন আমাকে দেওয়া হয় তখন তোমাকেও দেওয়া হয়?
* আবু আল-হামরা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: যে ব্যক্তি আদমের জ্ঞান, নূহের প্রজ্ঞা, ইব্রাহীমের সহনশীলতা, ইয়াহইয়া ইবনে যাকারিয়ার বিরাগ (যুহদ) এবং মূসা ইবনে ইমরানের বীরত্ব দেখতে চায়, সে যেন আলী ইবনে আবি তালিবের দিকে তাকায়।
এটি আল-কাযভিনী আল-হাকিমী বর্ণনা করেছেন।
ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: যে ব্যক্তি ইব্রাহীমের সহনশীলতা, নূহের প্রজ্ঞা এবং ইউসুফের সৌন্দর্য দেখতে চায়, সে যেন আলী ইবনে আবি তালিবের দিকে তাকায়।
আল-মুল্লা তাঁর সীরাত গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন।
* * * যদিও আমরা জালিয়াতদের মেজাজ এবং অতিপ্রশংসা ও স্তুতিতে তাদের নিন্দনীয় বাড়াবাড়ির কিছু ধরণ বর্ণনায় কিছুটা দীর্ঘসূত্রতা করেছি, তবুও আমরা তাদের সেইসব বানোয়াট হাদীস উল্লেখ করিনি যা সরাসরি শিরক, প্রকাশ্য কুফর এবং আমিরুল মুমিনীন আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে উপাস্য নির্ধারণ করার মতো অন্ধ ফিতনা স্বরূপ।
আমরা যা উল্লেখ করেছি তা কেবল আলীকে (রাদিয়াল্লাহু আনহু) নবুওয়াতের অংশীদার করার একটি নমুনা মাত্র, যেখানে তার অংশ নবুওয়াতের পূর্ণ অর্ধেকের কম নয়।
বরং তাদের শয়তানরা তাদের প্ররোচিত করেছে, ফলে তারা এমন হাদীস জাল করেছে যাতে তারা আলীর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) জন্য শ্রেষ্ঠতর অংশ সাব্যস্ত করেছে এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর অনুসারী।
আল্লাহ রক্ষা করুন! তারা বলেছে: বারা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: আলী আমার কাছে তেমনই, যেমন
আমার দেহের সাথে আমার মাথার সম্পর্ক।
এটি আল-মুল্লা বর্ণনা করেছেন।
আলীর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) উপস্থিতিতে তারা নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জন্য আর কী ফযীলত অবশিষ্ট রাখল? তারা এমনকি আলীর চেহারার দিকে তাকানোকেও ইবাদত বানিয়ে ফেলেছে।
তারা বলেছে: আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আবু বকরকে আলীর চেহারার দিকে বারবার তাকাতে দেখলাম। আমি বললাম: হে পিতা, আপনি আলীর চেহারার দিকে এতো বেশি তাকাচ্ছেন কেন? তিনি বললেন: হে বৎসা, আমি রাসূলুল্লাহকে বলতে শুনেছি— (২ - আল-মাওযুআত ১)
(খণ্ড: ১)
আল-মাউদুয়াত লি ইবনিল জাওযী
(পৃষ্ঠা: ১৮)
صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُول: النّظر إِلَى وَجه على عبَادَة.
أخرجه ابْن السمان فِي الْمُوَافقَة.
وَأخرج مثله الخجندي أَيْضا من طَرِيق أُخْرَى مطولا عَن أنس.
وَأخرج ابْن أبي الْفُرَات مثله أَيْضا مطولا عَن جَابر.
وَأخرج أَبُو الْخَيْر الحاكمي مثله عَن ابْن لعلى.
والملاحظ كثيرا أَنهم يضعون مَا وضعُوا وينسبون أَكْثَره إِلَى عَائِشَة وَأبي بكر رضي الله عنهما، أَو أَسمَاء بنت عُمَيْس، وَكَانَت تَحت أبي بكر رضي الله عنهما.
يعنون بزعمهم - وكذبوا - أَن الْفضل مَا شهِدت بِهِ الْأَعْدَاء.
ثمَّ قعدت الْقَوَاعِد فِي مسَائِل النَّقْد وَعلل الحَدِيث، وَالْجرْح وَالتَّعْدِيل، والتوثيق والتضعيف، وتقييم أَحْوَال الروَاة فِي الْأَسَانِيد، ضبطا وعدالة، واتصالا وانقطاعا، وقبولا أَو ردا.
حَتَّى انْكَشَفَ الصُّبْح لذِي عينين، وتميز صَحِيح الحَدِيث من سقيمه، وأصيله من منحوله، بِفضل الله سُبْحَانَهُ الَّذِي آلى على نَفسه حفظ دينه، ثمَّ بِفضل همة المخلصين من عُلَمَاء الْأمة وصلحاء الْبَريَّة.
إِذْ تصدى فريق من حفاظهم للتأليف والإبانة عَنِ " الثِّقَاتِ " من الروَاة، وَاقْتصر المؤلفون فِي كتبهمْ على الْعُدُول من أهل الثِّقَة وَالْأَمَانَة والتثبت وَالْحِفْظ والإتقان.
وَمن مُتَقَدِّمي هَذَا الْفَرِيق:
الإِمَام أَبُو حَاتِم بن حبَان البستي.
وَأَبُو الْحسن أَحْمد بن عبد الله الْعجلِيّ.
والخليل بن شاهين.
وسواهم.
وتصدى فريق ثَان للتأليف والإبانة عَن " الضُّعَفَاء " من الروَاة، تحذيرا للْأمة مِنْهُم، وتنبيها للباحثين من التعويل على نقلهم، وَاقْتصر المؤلفون فِي كتبهمْ على ذكر أَسمَاء وأحوال الْمَجْرُوحين من أهل الْغَفْلَة وَالوهم وَالْكذب وَوضع الْأَحَادِيث زورا على رَسُول الله عليه الصلاة والسلام.
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: আলীর চেহারার দিকে তাকানো ইবাদত।
ইবনে সাম্মান 'আল-মুওয়াফাকা' গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন।
খুজান্দিও আনাস থেকে অন্য সূত্রে অনুরূপ দীর্ঘ বর্ণনা করেছেন।
ইবনে আবিল ফুরাতও জাবির থেকে অনুরূপ দীর্ঘ বর্ণনা করেছেন।
আবু আল-খায়র আল-হাকিমিও ইবনে লা'লী থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
এটি ব্যাপকভাবে লক্ষ্যণীয় যে, তারা যা কিছু জাল করেছে তার অধিকাংশই আয়েশা এবং আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) কিংবা আসমা বিনতে উমাইসের প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করে, যিনি আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর স্ত্রী ছিলেন।
তাদের দাবি অনুযায়ী তারা বুঝাতে চায়—অথচ তারা মিথ্যা বলেছে—যে, শ্রেষ্ঠত্ব তো সেটিই যার সাক্ষ্য শত্রুরা প্রদান করে।
এরপর সমালোচনা (নাকদ), ইল্লালুল হাদিস (হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি), জারহ ওয়া তাদীল (বর্ণনাকারীদের দোষ-গুণ বিচার), নির্ভরযোগ্যতা ও দুর্বলতা নির্ধারণ এবং সনদে বর্ণনাকারীদের অবস্থা মূল্যায়নের মূলনীতিসমূহ প্রতিষ্ঠিত হয়; যা তাদের স্মৃতিশক্তির প্রখরতা, ন্যায়পরায়ণতা, সূত্রের নিরবচ্ছিন্নতা ও বিচ্ছিন্নতা এবং গ্রহণযোগ্যতা বা বর্জনীয়তার নিরিখে করা হয়েছে।
ফলে চক্ষুষ্মান ব্যক্তিদের কাছে সত্যের প্রভাত উদ্ভাসিত হয়েছে এবং সহিহ হাদিস রুগ্ন হাদিস থেকে এবং মৌলিক বর্ণনা জাল বর্ণনা থেকে পৃথক হয়েছে। এটি সম্ভব হয়েছে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার অনুগ্রহে, যিনি নিজের দ্বীনকে রক্ষা করার ওয়াদা করেছেন, এবং এরপর উম্মাহর একনিষ্ঠ আলেম ও সৃষ্টির নেককার ব্যক্তিবর্গের প্রচেষ্টার বদৌলতে।
কারণ তাদের হাফেজদের একটি দল বর্ণনাকারীদের মধ্যে "নির্ভরযোগ্যদের" সম্পর্কে গ্রন্থ রচনা ও বর্ণনা করার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এই লেখকরা তাদের গ্রন্থে শুধুমাত্র ন্যায়পরায়ণ, বিশ্বস্ত, আমানতদার, যাঁচাইকারী, প্রখর স্মৃতিশক্তি সম্পন্ন এবং সুনিপুণ বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত করার মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকেছেন।
এই দলের অগ্রবর্তীদের মধ্যে রয়েছেন:
ইমাম আবু হাতিম ইবনে হিব্বান আল-বুস্তি।
এবং আবুল হাসান আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-ইজলি।
এবং আল-খলিল ইবনে শাহিন।
এবং তারা ব্যতীত আরও অনেকে।
দ্বিতীয় একটি দল বর্ণনাকারীদের মধ্যে "দুর্বলদের" সম্পর্কে গ্রন্থ রচনা ও বর্ণনা করার দায়িত্ব গ্রহণ করেন, যাতে উম্মাহকে তাদের সম্পর্কে সতর্ক করা যায় এবং গবেষকদের তাদের বর্ণনার ওপর নির্ভর করার ব্যাপারে সচেতন করা যায়। লেখকরা তাদের গ্রন্থে শুধুমাত্র সেই সকল বিতর্কিত ব্যক্তিদের নাম ও অবস্থা বর্ণনায় সীমাবদ্ধ থেকেছেন যারা অসতর্কতা, বিভ্রম, মিথ্যাচার এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর মিথ্যা অপবাদ আরোপ করে হাদিস জাল করার সাথে জড়িত ছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মাউদুয়াত লি ইবনিল জাওযী
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وَمن هَذَا الْفَرِيق الْأَئِمَّة الْحفاظ من أَمْثَال: البُخَارِيّ وَالنَّسَائِيّ وَابْن عَمْرو الْعقيلِيّ وَالدَّارَقُطْنِيّ وَأَبُو عبد الله الضَّبِّيّ والذهبي فِي الْمُتَأَخِّرين فِي كِتَابه " ميزَان الِاعْتِدَال " الَّذِي عقب عَلَيْهِ الْحَافِظ ابْن حجر بكتابه " لِسَان الْمِيزَان " و " تَهْذِيب التَّهْذِيب ".
وتصدى فريق ثَالِث لوضع المعاجم فِي رُوَاة الحَدِيث عَامَّة، الثِّقَات مِنْهُم والضعفاء.
فأبان الْوَاحِد مِنْهُم عَن منزلَة كل، وتتبع حَال أَفْرَاد السَّنَد، طبقًا لقواعد أحكمها أهل الدِّرَايَة فِي أنفسهم.
حَتَّى وضحت مَرَاتِب الروَاة فِي الْعَدَالَة بعد تتبع الْقَرَائِن وتقصي الْأَخْبَار.
ووضحت أَحْوَال الْكَذَّابين والوضاعين.
وَمن هَذَا الْفَرِيق الْأَئِمَّة الْحفاظ من أَمْثَال: الشَّيْخ محب الدَّين بن النجار الْبَغْدَادِيّ، والمزي الَّذِي هذب كِتَابه " الْكَمَال فِي معرفَة الرِّجَال "، والذهبي الَّذِي جَاءَ فِي الْمُتَأَخِّرين فاختصر تَهْذِيب الْمزي، وَكَذَلِكَ فعل ابْن أبي الْمجد الْحَنْبَلِيّ، وَابْن الملقن الَّذِي ألف عَلَيْهِ " إِكْمَال التَّهْذِيب "، والحافظ ابْن حجر الَّذِي اخْتَصَرَهُ فِي " مُخْتَصر تَهْذِيب الْكَمَال ".
وفى الْمُتَقَدِّمين من عُلَمَاء هَذَا الْفَنّ وأئمته كَثْرَة لَا يَتَّسِع الْمقَام بنالذكرهم
جَمِيعهم فِي هَذِه العجالة، وَلَا إِلَى الْإِشَارَة إِلَى مؤلفاتهم.
وَمن الْمُتَأَخِّرين أهل الْفضل وَالْعلم والدراية كَثِيرُونَ.
لنا إِلَيْهِم رَجْعَة إِن شَاءَ الله بعد حِين.
بعد كل تِلْكَ المراحل الطَّوِيلَة، من كفاح الْعلمَاء فِي سَبِيل كشف الأكاذيب، وفضح وَسَائِل الوضاعين، وتسليط الضَّوْء على مَا وضعُوا.
كَانَ لابد من الْوُصُول إِلَى نتائج محددة تَمامًا، تتوج كل هَذِه الجهود وَتحقّق جدواها وتحدد غايتها.
كَانَت ثَمَرَة هَذِه الجهود كلهَا أَن تحدد بِالْفِعْلِ كَافَّة الْأَحَادِيث الْمَوْضُوعَة مقرونة بِدَلِيل الْوَضع شَاهدا عَلَيْهَا وقرينة الْكَذِب صارخة بهَا.
حَتَّى لَا يكون لمعتقد فِيهَا حجَّة بعد بَيَان، وَلَا عذر قبل إِنْسَان.
وَكَانَ قطافها على يَد فريق رَابِع أَمِين، ناقد بَصِير، تَابع نتائج الْبَحْث فِي
এই দলের অন্তর্ভুক্ত হলেন ইমাম ও হাফেজগণ, যেমন: আল-বুখারী, আন-নাসায়ী, ইবনে আমর আল-উকাইলি, আদ-দারাকুতনি, আবু আবদুল্লাহ আদ-দাব্বি এবং পরবর্তীদের মধ্যে আয-যাহাবি তাঁর 'মিজানুল ইতিদাল' কিতাবে, যার ওপর হাফেজ ইবনে হাজার তাঁর 'লিসানুল মিজান' এবং 'তাহযিবুত তাহযিব' কিতাবের মাধ্যমে টীকা প্রদান ও সংযোজন করেছেন।
আর একটি তৃতীয় দল সাধারণ হাদীস বর্ণনাকারীদের জীবনী অভিধান সংকলনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তাঁদের মধ্যে নির্ভরযোগ্য এবং দুর্বল উভয় প্রকার বর্ণনাকারীই রয়েছেন।
তাঁদের প্রত্যেকেই প্রত্যেকের মর্যাদা স্পষ্ট করেছেন এবং সনদের প্রতিটি ব্যক্তির অবস্থা অনুসন্ধান করেছেন, এমন সব নিয়মানুযায়ী যা ইলমে দিরায়ার বিশেষজ্ঞগণ সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন।
ফলে বিভিন্ন আলামত ও সংবাদের পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধানের পর নির্ভরযোগ্যতার বিচারে বর্ণনাকারীদের স্তরসমূহ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
এবং মিথ্যাবাদী ও জালিয়াতি কারীদের অবস্থাও পরিষ্কার হয়ে যায়।
এই দলের মধ্যে রয়েছেন হাফেজ ইমামগণ, যেমন: শেখ মুহিবুদ্দীন ইবনুন নাজ্জার আল-বাগদাদি, আল-মিযযি—যিনি তাঁর 'আল-কামাল ফি মা'রিফাতির রিজাল' গ্রন্থটি পরিমার্জন করেছেন, এবং আয-যাহাবি—যিনি পরবর্তী যুগে এসে মিযযির 'তাহযিব'কে সংক্ষিপ্ত করেছেন; একইভাবে ইবনে আবিল মাজদ আল-হাম্বলি এবং ইবনুল মুলাক্কিন—যিনি এর ওপর 'ইকমালুত তাহযিব' রচনা করেছেন, এবং হাফেজ ইবনে হাজার—যিনি একে 'মুখতাসারু তাহযিবিল কামাল' নামে সংক্ষিপ্ত করেছেন।
এই শাস্ত্রের পূর্ববর্তী আলেম ও ইমামদের মধ্যে এমন বহু সংখ্যক ব্যক্তি রয়েছেন যাঁদের সকলের কথা এই সংক্ষিপ্ত আলোচনায় উল্লেখ করার অবকাশ নেই,
এমনকি তাঁদের গ্রন্থাদির প্রতি ইঙ্গিত করারও সুযোগ নেই।
আর পরবর্তীদের মধ্যেও ফযীলত, ইলম ও প্রজ্ঞার অধিকারী অনেক ব্যক্তি রয়েছেন।
ইনশাআল্লাহ, কিছুকাল পর আমরা তাঁদের প্রসঙ্গে ফিরে আসব।
মিথ্যা উন্মোচন, জালিয়াতি কারীদের কৌশল ফাঁস এবং তাদের জালকৃত বিষয়গুলোর ওপর আলোকপাত করার পথে আলেমদের সংগ্রামের এই দীর্ঘ পথ পরিক্রমার পর,
এটি অনিবার্য ছিল যে সম্পূর্ণ সুনির্দিষ্ট কিছু ফলাফলে পৌঁছানো যাবে, যা এই সমস্ত প্রচেষ্টাকে সফল করবে, এর সার্থকতা নিশ্চিত করবে এবং এর লক্ষ্য নির্ধারণ করবে।
এই সমস্ত প্রচেষ্টার ফল ছিল এই যে, প্রকৃতপক্ষে সমস্ত জাল হাদীসগুলোকে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে, যেগুলোর সাথে জাল হওয়ার প্রমাণ সাক্ষী হিসেবে যুক্ত এবং মিথ্যার আলামত সেগুলোতে সুস্পষ্ট।
যাতে বর্ণনা সুস্পষ্ট হওয়ার পর এগুলোর ওপর বিশ্বাসকারীর কোনো দলিল না থাকে এবং কোনো মানুষের কাছে কোনো ওজর বা অজুহাত অবশিষ্ট না থাকে।
আর এর ফসল সংগৃহীত হয়েছে এক আমানতদার চতুর্থ দলের মাধ্যমে, যাঁরা বিচক্ষণ সমালোচক এবং যাঁরা গবেষণার ফলাফলগুলো অনুসরণ করেছেন...
(খণ্ড: ১)
আল-মাউদুয়াত লি ইবনিল জাওযী
(পৃষ্ঠা: ২০)
الْأَسَانِيد وَنقد الرِّجَال عبر السنين، وَبنى عَلَيْهَا الحكم لَا بِالنِّسْبَةِ للسند، فقد كَفاهُ كل فريق من الثَّلَاثَة مؤنتها وَلَكِن بِالنِّسْبَةِ للمتن فِي هَذِه الْمرة، إِذْ هُوَ بَيت القصيد، وَغَايَة الْمَقْصُود، الَّذِي بقبوله صَحِيحا وَالْعَمَل بِهِ تتمّ الْفَائِدَة وتنزل الْبركَة ويتحقق الْخَيْر.
وبقبوله مكذوبا وَالْعَمَل بِهِ.
يجنى الخسار وَيحل الْبَوَار.
تجرد لهَذِهِ المهمة أَئِمَّة أفذاد كبار، واصلوا اللَّيْل بِالنَّهَارِ، فَجمعُوا الْكثير مِمَّا لَا يَقع تَحت حصر، وفندوا عِلّة كل حَدِيث مِنْهَا ثَبت عِنْدهم وَضعه فَرَوَوْه بِسَنَدِهِ، وأبانوا عَن عواره وزيف نسبته إِلَى الرَّسُول الْكَرِيم صلى الله عليه وسلم.
وَهَذِه خُصُوصِيَّة أُخْرَى.
لم تحدث فِي دين من أَدْيَان السَّابِقين.
لم يحدث أَن تجردت طَائِفَة من عُلَمَاء أمة، تعقبت على امتداد العصور وَصَايَا نَبِي من أنبيائها، تنفض عَنْهَا الزيف، وتنفي عَنْهَا الْخبث.
وَتكشف انتحال المبطلين، وتزوير المزورين.
بل لم يحدث أَن هبت طَائِفَة من عُلَمَاء أمة تنفض التحريف والتبديل
عَن كتابها السماوي.
بِصُورَة أَو بِأُخْرَى، مِثْلَمَا حدث فِي أمتنَا من هبوب عُلَمَاء الاسلام فِي حماص وَغَضب وغيرة، إزاء أَحَادِيث غير سَمَاوِيَّة نسبت بَاطِلا للرسول عليه السلام، وهى خُصُوصِيَّة أُخْرَى لخير أمة أخرجت للنَّاس.
وَلَئِن كَانَ فِي الْكثير من بِلَاد الْمُسلمين بعض خرافة..وَبَعض انحراف وصنمية.
فلعمري.
لَيْسَ يرجع السَّبَب إِلَى تَقْصِير من عُلَمَاء الْأمة، عبر العصور وحاشاهم.
بل إِلَى قُصُور فِي مدارك الْعَوام والمتعالمين.
وانصراف عَن اللّبَاب إِلَى القشور، وحفول بالمظاهر دون الْحَقَائِق.
وَالله الْمُسْتَعَان.
من هَذَا الْفَرِيق الرَّابِع الإِمَام الشَّوْكَانِيّ رحمه الله فِي كِتَابه " الْفَوَائِد الْمَجْمُوعَة للأحاديث الْمَوْضُوعَة "، والجوزجاني، والقزويني، فِي كتبهمْ " الموضوعات " وَالربيع فِي " تَمْيِيز الطّيب من الْخَبيث "، وزين العابدين الْعِرَاقِيّ فِي كِتَابه " المغنى من حمل الْأَسْفَار " فِي تَخْرِيج الاحياء.
বছরের পর বছর ধরে সনদসমূহ এবং বর্ণনাকারীদের সমালোচনা করা হয়েছে, এবং বিধানের ভিত্তি এর ওপরেই স্থাপন করা হয়েছে; এটি সনদের নিরিখে নয়—কেননা পূর্বোক্ত তিন দলের প্রত্যেকেই তার দায়িত্বভার সম্পন্ন করেছেন—বরং এবার তা মতন বা মূল পাঠের নিরিখে। কারণ এটাই হলো মূল প্রতিপাদ্য এবং পরম লক্ষ্য, যা সহিহ হিসেবে গ্রহণ করার এবং সে অনুযায়ী আমল করার মাধ্যমেই প্রকৃত ফায়দা পূর্ণ হয়, বরকত নাযিল হয় এবং কল্যাণ বাস্তবায়িত হয়।
আর তা মিথ্যা হিসেবে গ্রহণ করা ও সে অনুযায়ী আমল করার ফলে—
ক্ষতি অর্জিত হয় এবং ধ্বংস নেমে আসে।
এই মহান কাজের জন্য কিছু অনন্য ও বরেণ্য ইমাম আত্মনিয়োগ করেছেন, যারা দিন-রাত এক করে পরিশ্রম করেছেন। ফলে তারা এমন বিপুল পরিমাণ বর্ণনা সংগ্রহ করেছেন যা গণনার বাইরে, এবং তারা সেগুলোর মধ্য থেকে প্রতিটি হাদিসের ত্রুটি খণ্ডন করেছেন যার জাল হওয়া তাদের নিকট প্রমাণিত হয়েছে। তারা সেগুলো সনদসহ বর্ণনা করেছেন এবং এগুলোর দোষ-ত্রুটি ও সম্মানিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি এগুলোর মিথ্যারোপের অসারতা স্পষ্ট করেছেন।
এটি অন্য একটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য।
যা পূর্ববর্তী কোনো ধর্মেই ঘটেনি।
এমনটি কখনো ঘটেনি যে, কোনো উম্মতের একদল আলেম যুগ যুগ ধরে তাদের কোনো নবীর উপদেশের অনুসন্ধান চালিয়েছে, তা থেকে মিথ্যাকে ঝেড়ে ফেলেছে এবং তা থেকে অপবিত্রতা দূর করেছে।
এবং বাতিলপন্থীদের জালিয়াতি ও মিথ্যুকদের প্রতারণা উন্মোচন করেছে।
বরং এমনটিও ঘটেনি যে, কোনো উম্মতের একদল আলেম তাদের আসমানি কিতাব থেকে বিকৃতি ও পরিবর্তন দূর করতে সচেষ্ট হয়েছেন।
কোনো না কোনোভাবে, যেভাবে আমাদের উম্মতের মধ্যে ইসলামের আলেমগণ গভীর আবেগ, ক্রোধ ও দ্বীনি আত্মমর্যাদাবোধ নিয়ে রুখে দাঁড়িয়েছেন সেই সব অ-আসমানি হাদিসের বিরুদ্ধে যা রাসূল আলাইহিস সালামের প্রতি মিথ্যাভাবে আরোপ করা হয়েছিল। এটি মানবজাতির কল্যাণে প্রেরিত সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মতের আরেকটি বৈশিষ্ট্য।
আর যদিও অনেক মুসলিম ভূখণ্ডে কিছু কুসংস্কার... এবং কিছু বিচ্যুতি ও মূর্তিপূজার সদৃশ বিষয় বিদ্যমান থাকে—
তবে আমার জীবনের কসম।
এর কারণ যুগ যুগ ধরে এই উম্মতের আলেমদের কোনো অবহেলা নয়—তাদের থেকে এমনটি হওয়া অসম্ভব।
বরং এটি সাধারণ মানুষ ও স্বল্পজ্ঞানীদের বোধশক্তির সীমাবদ্ধতার কারণে।
এবং সারবস্তু ছেড়ে খোসার দিকে মনোনিবেশ করা এবং প্রকৃত সত্যের পরিবর্তে বাহ্যিক রূপ নিয়ে মগ্ন হওয়ার কারণে।
আর আল্লাহই সাহায্যস্থল।
এই চতুর্থ দলের অন্তর্ভুক্ত হলেন ইমাম শাওকানি (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর কিতাব "আল-ফাওয়ায়েদুল মাজমুআহ লিল আহাদিসিল মাওদুআহ"-এ, এবং আল-জাওযাজানি ও আল-কাযভিনি তাঁদের "আল-মাওদুআত" নামক কিতাবসমূহে, এবং আর-রাবি "তাময়িযুত তয়্যিব মিনাল খাবিস" কিতাবে এবং যয়নুদ্দীন আল-ইরাকি "ইহইয়াউল উলুম"-এর তাখরিজ বিষয়ক তাঁর কিতাব "আল-মুগনি আন হামলিল আসফার"-এ।
(খণ্ড: ১)
আল-মাউদুয়াত লি ইবনিল জাওযী
(পৃষ্ঠা: ২১)
كَذَلِك مِنْهُم: الْعَلامَة مُحَمَّد طَاهِر بن الفتني فِي كِتَابه " تذكرة الموضوعات " والعلامة شمس الدَّين السخاوي فِي كِتَابه " الْمَقَاصِد الْحَسَنَة " والحافظ أَبُو الْفضل مُحَمَّد بن طَاهِر بن القيسراني فِي كِتَابه " تذكرة فِي الْأَحَادِيث الْمَوْضُوعَة ".
وَمِنْهُم: الإِمَام أَبُو الْفرج عبد الرحمن بن عَليّ بن مُحَمَّد الْجَوْزِيّ الْقرشِي فِي كِتَابه " الموضوعات " الَّذِي هُوَ بَين أَيْدِينَا الْآن.
ابْن الْجَوْزِيّ.
ولد الإِمَام الْجَلِيل أَبُو الْفرج عبد الرحمن بن عَليّ الْجَوْزِيّ الْقرشِي عَام 510 وَتوفى عَام 597، وَكَانَ رحمه الله أعجوبة دهره وَحجَّة زَمَانه علما وورعا وتقى، وَكَانَ عديم النظير حفظا وجلالة: وَكَانَ أَكثر أهل عصره تصنيفا.
يُؤدى مَا يُرِيد بالعبارة الرائعة، والكلمة الرشيقة، وَأَحْيَانا بالشعر الرَّقِيق،
وَكَانَت لَهُ مجَالِس للوعظ الَّذِي كَانَ غلب عَلَيْهِ تُؤثر وتروى، وَكَانَ أقرب فنونه قرَابَة إِلَى نَفسه، وأحبها إِلَيْهِ يتوسل بهَا عِنْد ربه للمثوبة وادخار الْأجر، وفيهَا أجوبة بارعة محيرة تدل على ذكاء نَادِر.
من أحسن مَا روى عَنهُ أَنه وَقع نزاع بَين أهل السّنة والشيعة بِبَغْدَاد فِي المفاضلة بَين أبي بكر وَعلي رضي الله عنهما وَرَضي المتنازعون بِمَا يُجيب بِهِ أَبُو الْفرج فأقاموا شخصا سَأَلَهُ عَن ذَلِك، وَهُوَ فِي مجْلِس الْوَعْظ على كرسيه.
فَقَالَ: أفضلهما من كَانَت ابْنَته تَحْتَهُ.
وَنزل فِي الْحَال حَتَّى لَا يُرَاجع فِي ذَلِك.
فَقَالَ أهل السّنة: هُوَ أَبُو بكر لِأَن ابْنَته عَائِشَة تَحت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم.
وَقَالَت الشِّيعَة: هُوَ عَليّ بن أبي طَالب لِأَن فَاطِمَة بنت رَسُول الله عَلَيْهِ وَسلم تَحْتَهُ.
وَلَيْسَ بعد هَذَا الْجَواب غَايَة، فِي التلطف وَحُضُور البديهة ورقة الخلوص
একইভাবে তাদের অন্তর্ভুক্ত হলেন: আল্লামা মুহাম্মাদ তাহির আল-ফাত্তানি তাঁর "তাযকিরাতুল মাওদুআত" কিতাবে, আল্লামা শামসুদ্দিন আস-সাখাভি তাঁর "আল-মাকাসিদুল হাসানাহ" কিতাবে এবং হাফেজ আবুল ফজল মুহাম্মাদ বিন তাহির বিন আল-কায়সারানি তাঁর "তাযকিরা ফিল আহাদিসিল মাওদুআহ" কিতাবে।
এবং তাদের অন্তর্ভুক্ত হলেন: ইমাম আবুল ফারাজ আবদুর রহমান বিন আলী বিন মুহাম্মাদ আল-জাওজি আল-কুরাশি তাঁর "আল-মাওদুআত" কিতাবে, যা বর্তমানে আমাদের সম্মুখে রয়েছে।
ইবনুল জাওজি।
মহান ইমাম আবুল ফারাজ আবদুর রহমান বিন আলী আল-জাওজি আল-কুরাশি ৫১০ হিজরি সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৫৯৭ হিজরি সালে ইন্তেকাল করেন। আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন, তিনি জ্ঞান, পরহেজগারি ও তাকওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর যুগের এক বিস্ময় এবং তাঁর সময়ের প্রামাণিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি মুখস্থ শক্তি ও গাম্ভীর্যের দিক থেকে অতুলনীয় ছিলেন এবং নিজ যুগের লোকদের মধ্যে গ্রন্থ রচনার দিক থেকে সর্বাধিক অগ্রগামী ছিলেন।
তিনি যা প্রকাশ করতে চাইতেন তা চমৎকার বর্ণনাভঙ্গি, মার্জিত শব্দ এবং কখনো কখনো সুকোমল কবিতার মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলতেন।
তাঁর উপদেশের মজলিসগুলো—যা তাঁর ওপর প্রাধান্য বিস্তার করেছিল—অত্যন্ত প্রভাবশালী ছিল এবং তা বর্ণনা করা হতো। এটি ছিল তাঁর আত্মার সবচেয়ে নিকটবর্তী এবং প্রিয়তম বিদ্যা, যার মাধ্যমে তিনি তাঁর রবের কাছে সওয়াব ও প্রতিদান সঞ্চয়ের অসিলা তালাশ করতেন। সেগুলোতে এমন সব চমৎকার ও বুদ্ধিদীপ্ত উত্তর ছিল যা তাঁর বিরল মেধার পরিচয় দেয়।
তাঁর সম্পর্কে বর্ণিত শ্রেষ্ঠ কাহিনীগুলোর মধ্যে একটি হলো— বাগদাদে আবু বকর ও আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর শ্রেষ্ঠত্বের অগ্রাধিকার নিয়ে আহলে সুন্নাত ও শিয়াদের মধ্যে বিবাদ সৃষ্টি হয়। বিবাদমান পক্ষগুলো আবুল ফারাজ যা উত্তর দেবেন তা মেনে নিতে সম্মত হলো। তাই তারা একজনকে দাঁড় করিয়ে দিল যে তাঁকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করল, তখন তিনি ওয়াজ মাহফিলে নিজ আসনে উপবিষ্ট ছিলেন।
তিনি বললেন: "তাদের দুজনের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলেন তিনি, যাঁর কন্যা তাঁর অধীনে ছিলেন।"
এবং তিনি তৎক্ষণাৎ নেমে গেলেন যেন তাঁকে এ বিষয়ে পুনরায় জেরা না করা হয়।
অতঃপর আহলে সুন্নাত বলল: "তিনি হলেন আবু বকর, কারণ তাঁর কন্যা আয়েশা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অধীনে ছিলেন।"
আর শিয়ারা বলল: "তিনি হলেন আলী বিন আবি তালিব, কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কন্যা ফাতিমা তাঁর অধীনে ছিলেন।"
সূক্ষ্মতা, উপস্থিত বুদ্ধি এবং নিপুণ বিনম্রতার ক্ষেত্রে এই উত্তরের ঊর্ধ্বে আর কোনো গন্তব্য নেই।
(খণ্ড: ১)
আল-মাউদুয়াত লি ইবনিল জাওযী
(পৃষ্ঠা: ২২)
من الْحَرج، وَلَو عمد إِلَيْهِ امْرُؤ بعد الروية والفكر الطَّوِيل، وإمعان النّظر لما حصل مثله.
أما صفاء نَفسه ونقاء قلبه وَنِيَّته وسلاسة فطرته.
فاسمع إِلَيْهِ يَقُول لِابْنِهِ من رِسَالَة طَوِيلَة (1) لَهُ يسْتَأْنف وعظه ونصحه: " وَإِيَّاك أَن تتشاغل بالتعبد من غير علم فَإِن خلقا كثيرا من المتزهدين والمتصوفة ضلوا طَرِيق الْهدى إِذْ عمِلُوا بِغَيْر علم.
واستر نَفسك بثوبين جميلين لَا يشهر انك بَين أهل الدُّنْيَا برفعتهما، وَلَا بَين المتزهدين بضعتهما.
وحاسب نَفسك عِنْد كل نظرة وَكلمَة وخطرة، فَإنَّك مسئول عَن ذَلِك.
وعَلى قدر انتفاعك بِالْعلمِ ينْتَفع السامعون، وَمَتى لم يعْمل الْوَاعِظ بِعِلْمِهِ زلت موعظته عَن الْقُلُوب كَمَا يزل المَاء عَن الْحجر.
فَلَا تعظن إِلَّا بَيِّنَة، وَلَا تمشين إِلَّا بنية، وَلَا تأكلن لقْمَة إِلَّا بنية، وَمَعَ مطالعة أَخْلَاق السّلف تنكشف لَك الْأُمُور..ثمَّ يَقُول: وَعَلَيْك بِكِتَاب (منهاج المريدين) ، فَإِنَّهُ يعلمك السلوك فاجعله جليسك ومعلمك، وتلمح كتاب (صيد الخاطر) فَإنَّك تقع مواقعات تصلح لَك أَمر دينك ودنياك، وَتحفظ كتاب (جنَّة النّظر) فَإِنَّهُ يكفى فِي تلقيح فهمك للفقه.
وَمَتى تشاغلت بِكِتَاب (الحدائق) أطلعك على جُمْهُور الحَدِيث، وَإِذا الْتفت إِلَى كتاب (الْكَشْف) أبان لَك مَسْتُور مَا فِي الصَّحِيحَيْنِ من الحَدِيث، وَلَا تتشاغلن بكتب التفاسير الَّتِي صنفتها الْأَعَاجِم، وَمَا ترك (المغنى) و (زَاد الْمسير) لَك حَاجَة فِي شئ من التَّفْسِير.
وَأما مَا جمعته لَك من كتاب الْوَعْظ، فَلَا حَاجَة لَك بعْدهَا إِلَى زِيَادَة أصلا.
".
--------------------------------------------
তা সঙ্কীর্ণতামুক্ত, এমনকি কোনো ব্যক্তি যদি গভীর চিন্তা-ভাবনা, দীর্ঘ পর্যবেক্ষণ এবং সূক্ষ্ম দৃষ্টির পর তার অনুরূপ অর্জনের ইচ্ছা করত, তবে তার পক্ষে তা অর্জন করা সম্ভব হতো না।
আর তার আত্মার স্বচ্ছতা, অন্তরের পবিত্রতা, নিয়ত এবং প্রকৃতির সাবলীলতার কথা যদি বলি—
তবে শুনুন, তিনি তার পুত্রকে একটি দীর্ঘ পত্রে (১) নসিহত ও উপদেশ দিয়ে বলছেন: "সাবধান! ইলম (জ্ঞান) অর্জন ছাড়া ইবাদতে মগ্ন হওয়া থেকে বিরত থেকো। কারণ অনেক তিতিক্ষু (যাহিদ) এবং সুফি হেদায়াতের পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে, যেহেতু তারা ইলম ছাড়া আমল করেছে।
আর নিজেকে এমন দুটি সুন্দর পোশাকে আবৃত করো যা তার উচ্চমূল্যের কারণে তোমাকে দুনিয়াদারদের মাঝে প্রসিদ্ধ করবে না, আবার তার হীনতার কারণে তিতিক্ষুদের মাঝেও তোমাকে পরিচিত করবে না।
প্রতিটি দৃষ্টি, শব্দ এবং চিন্তার সময় নিজের আত্মার হিসাব নিও, কারণ নিশ্চয়ই তুমি এ বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে।
তোমার ইলম দ্বারা তুমি যতটুকু উপকৃত হবে, শ্রোতারাও ঠিক ততটুকুই উপকৃত হবে। আর যখন কোনো উপদেশদাতা তার ইলম অনুযায়ী আমল করে না, তখন তার উপদেশ মানুষের অন্তর থেকে সেভাবে পিছলে যায় যেভাবে পাথর থেকে পানি পিছলে যায়।
সুস্পষ্ট প্রমাণ ছাড়া ওয়াজ করো না, সঠিক নিয়ত ছাড়া পথ চলো না এবং নিয়ত ছাড়া কোনো লোকমা আহার করো না। আর সালাফদের (পূর্বসূরিদের) চরিত্র পর্যালোচনার মাধ্যমে তোমার নিকট বিষয়গুলো উন্মোচিত হবে... এরপর তিনি বলেন: তোমার জন্য 'মিনহাজুল মুরিদিন' বইটি আবশ্যক, কারণ এটি তোমাকে সুলুক (আধ্যাত্মিক পথচলা) শেখাবে। একে তোমার সঙ্গী ও শিক্ষক হিসেবে গ্রহণ করো। আর 'সাইদুল খাতির' বইটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করো, কারণ সেখানে তুমি এমন সব বিষয়ের সম্মুখীন হবে যা তোমার দ্বীন ও দুনিয়ার বিষয়াদি সংশোধন করে দেবে। আর 'জান্নাতুন নাজর' বইটি মুখস্থ করো, কারণ এটি তোমার ফিকহী বোধশক্তিকে প্রখর করতে যথেষ্ট হবে।
যখন তুমি 'আল-হাদায়িক' কিতাব নিয়ে ব্যস্ত হবে, তখন এটি তোমাকে হাদিসের মূল ভাণ্ডার সম্পর্কে অবগত করবে। আর যদি 'আল-কাশফ' কিতাবের দিকে দৃষ্টিপাত করো, তবে তা তোমার কাছে সহিহাইন (বুখারি ও মুসলিম) এর হাদিসসমূহের অপ্রকাশিত রহস্যগুলো স্পষ্ট করে দেবে। আর অনারবদের সংকলিত তাফসির গ্রন্থসমূহ নিয়ে ব্যস্ত হয়ো না। 'আল-মুগনি' এবং 'যাদুল মাসির' তাফসিরের কোনো বিষয়ে তোমার জন্য কোনো অভাব অবশিষ্ট রাখবে না।
আর আমি তোমার জন্য ওয়াজের যে সংকলন তৈরি করেছি, এরপর তোমার আর কোনো অতিরিক্ত কিছুর একেবারেই প্রয়োজন হবে না।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাউদুয়াত লি ইবনিল জাওযী
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وفيهَا يَقُول بعد مطْلعهَا: وَقد علمت يَا بنى أَنى قد صنفت مائَة كتاب.
فَمِنْهَا التَّفْسِير الْكَبِير فِي 20 مجلدا، والتاريخ 20 مجلدا، وتهذيب الْمسند 20 مجلدا، وباقى الْكتب بَين كبار وصغار..يكون خمس مجلدات، ومحلدين وَثَلَاثَة وَأَرْبَعَة، وَأَقل وَأكْثر.
كفيتك بِهَذِهِ التصانيف عَن اسْتِعَارَة الْكتب وَجمع الْهم فِي التَّأْلِيف، فَعَلَيْك بِالْحِفْظِ، وَإِنَّمَا الْحِفْظ رَأس المَال، وَالتَّصَرُّف ربح، وأصدق فِي الْحَالين فِي الالتجاء إِلَى الْحق سُبْحَانَهُ، فراع حُدُوده.
إِلَخ.
وَقد صنف رحمه الله كتاب " الموضوعات " فَأفَاد بِهِ وأطاب وأوفى.
وَإنَّهُ إِن كَانَ عَابَ عَلَيْهِ بعض أهل الحَدِيث كَابْن الصّلاح تساهله فِي وصم بعض الْأَحَادِيث بِالْوَضْعِ، على حِين أَنَّهَا لَيست إِلَّا ضَعِيفَة، فَإِن لأبي الْفرج رأى فِي ذَلِك مُعْتَبر، وَدَلِيل حَاضر فِي وصمها بِالْوَضْعِ، ومبررات تَقْتَضِي صِحَة الِاعْتِقَاد بصواب رَأْيه.
برغم ذَلِك فَإِن كتاب " الموضوعات " يعد الْمرجع الأوفى فِي جملَة مراجع الْأَحَادِيث الْمَوْضُوعَة.
لذَلِك أثار الْكتاب دويا كَبِيرا وجدلا كثيرا خلال مئات السنين الَّتِي تلت عصر تأليفه.
من ذَلِك أَن الْحَافِظ جلال الدَّين السُّيُوطِيّ عقب عَلَيْهِ بِكِتَاب أسماه " النكت البديعات فِي الرَّد على الموضوعات ".
ثمَّ لخصه هُوَ نَفسه فِي كتاب آخر سَمَّاهُ " اللآلئ المصنوعة فِي الْأَخْبَار الْمَوْضُوعَة " أضَاف إِلَيْهِ بعض زيادات.
وعَلى الْكتاب الْأَخير عقب الإِمَام أَبُو الْحسن عَليّ بن مُحَمَّد بن عراق بِكِتَاب " تَنْزِيه الشَّرِيعَة المرفوعة عَن الْأَخْبَار الشنيعة الْمَوْضُوعَة ".
এতে তিনি তার প্রারম্ভিক বক্তব্যের পরে বলেন: হে আমার বৎস, তুমি জেনে রাখো যে আমি একশত কিতাব রচনা করেছি।
সেগুলোর মধ্যে ২০ খণ্ডে 'আত-তাফসীর আল-কাবীর', ২০ খণ্ডে 'আত-তারিখ' এবং ২০ খণ্ডে 'তাহজীব আল-মুসনাদ' অন্তর্ভুক্ত; আর বাকি কিতাবগুলো বড় ও ছোটর মধ্যে বিন্যস্ত... কোনটি পাঁচ খণ্ডের, কোনটি দুই, তিন বা চার খণ্ডের, আবার কোনটি এর চেয়ে কম বা বেশি।
এই সংকলনগুলোর মাধ্যমে আমি তোমাকে কিতাব ধার করা এবং কিতাব রচনার দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দিয়েছি। সুতরাং তোমার কর্তব্য হলো মুখস্থ করা; কারণ মুখস্থই হলো মূলধন এবং তার যথাযথ প্রয়োগ হলো মুনাফা। উভয় অবস্থায় সত্য ইলাহ সুবহানাহুর সমীপে আশ্রয় প্রার্থনায় সত্যনিষ্ঠ থেকো এবং তাঁর নির্ধারিত সীমারেখাগুলো মেনে চলো।
ইত্যাদি।
আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন, তিনি 'আল-মাওদুআত' কিতাবটি রচনা করেছেন এবং এতে তিনি প্রভূত উপকার সাধন করেছেন, চমৎকার আলোচনা করেছেন এবং বিষয়ের পূর্ণ হক আদায় করেছেন।
যদিও ইবনে আস-সালাহর মতো কিছু মুহাদ্দিস তাঁর সমালোচনা করেছেন যে, তিনি কিছু হাদীসকে জাল হিসেবে চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শন করেছেন—অথচ সেগুলো কেবল 'দুর্বল' ছিল—তবুও এই বিষয়ে আবু আল-ফারাজের একটি গ্রহণযোগ্য মত এবং সেগুলোকে জাল হিসেবে সাব্যস্ত করার স্বপক্ষে দলিল রয়েছে। সেই সাথে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গির সঠিকতা বিশ্বাসের যৌক্তিক কারণও বিদ্যমান।
তা সত্ত্বেও 'আল-মাওদুআত' কিতাবটি জাল হাদীস সংক্রান্ত কিতাবসমূহের মধ্যে সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়।
এ কারণে কিতাবটি রচনার পরবর্তী শত শত বছর ধরে এটি ব্যাপক আলোড়ন ও প্রচুর বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।
এরই অংশ হিসেবে হাফেজ জালালুদ্দিন আস-সুয়ূতী এর ওপর একটি টীকাগ্রন্থ লিখেছেন যার নাম 'আন-নুয়াকাত আল-বাদিআত ফি আর-রাদ্দ আলা আল-মাওদুআত'।
অতঃপর তিনি নিজেই এটিকে অন্য একটি কিতাবে সংক্ষিপ্ত করেন এবং নাম দেন 'আল-লাআলি আল-মাসনুআ ফিল আখবার আল-মাওদুআ', যেখানে তিনি আরও কিছু বিষয় সংযোজন করেছেন।
আর এই শেষোক্ত কিতাবটির ওপর ভিত্তি করে ইমাম আবুল হাসান আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইরাক 'তানজিহ আশ-শরীয়াহ আল-মারফুআ আন আল-আখবার আশ-শানিআ আল-মাওদুআ' কিতাবটি রচনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মাউদুয়াত লি ইবনিল জাওযী
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وَقد اشْتَمَل كتاب " الموضوعات " على أَبْوَاب أَرْبَعَة أساسية، عداما تضمنه من شرح مُخْتَلف القضايا الهامة، والإيماءات الذكية الْمُتَعَلّقَة بفنون الحَدِيث.
وَفِيمَا يَلِي مشتملات الْأَبْوَاب الْمَذْكُورَة: الأول: فِي ذمّ الْكَذِب والكذابين.
الثَّانِي: فِي حَدِيث " من كذب عَليّ..إِلَخ ".
الثَّالِث: فِي الْوَصِيَّة بالعناية بانتقاد الرِّجَال.
الرَّابِع: فِيمَا اشْتَمَل عَلَيْهِ كتاب " الموضوعات " من الْأَحَادِيث الْمَوْضُوعَة.
وَهَذَا الْبَاب يحتوي على نَحْو خمسين كتابا، مرتبَة على نسق تَرْتِيب كتب الْفِقْه.
وَهُوَ من الْكتب الهامة فِي مَجْمُوعَة مؤلفات الإِمَام أبي الْفرج، كَمَا يعد من أهم المراجع الإسلامية الَّتِي تنشر للمرة الأولى فِي تَارِيخ المكتبة الْعَرَبيَّة الإسلامية.
شَأْنه فِي ذَلِك شَأْن أَكثر كتب هَذَا الإِمَام الْجَلِيل الَّتِي لم تَرَ النُّور بعد وَمَا أَكْثَرهَا وَالَّتِي لم يعرف النَّاس عَنْهَا سوى الْأَقَل مِنْهَا، والقليل من أسمائها.
ويجهلون أَكْثَرهَا.
أما مؤلفاته رحمه الله فنزيد عَن 100 كتاب مِنْهَا: التَّفْسِير الْكَبِير 20 مجلدا المنتظم فِي تَارِيخ الْأُمَم 20 مجلدا تَهْذِيب السّنَن 20 مجلدا تلقيح فهوم الْآثَار (على المعارف لِابْنِ قُتَيْبَة) الوفا فِي فَضَائِل الْمُصْطَفى عجائب الْبَدَائِع الذَّهَب المسبوك فِي سير الْمُلُوك مُخْتَصر المنتظم فِي التَّارِيخ
"আল-মাউদু'আত" গ্রন্থটি চারটি মৌলিক অধ্যায় সম্বলিত, পাশাপাশি এতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ব্যাখ্যা এবং হাদীস শাস্ত্রের সাথে সংশ্লিষ্ট সূক্ষ্ম ইঙ্গিতসমূহ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
নিম্নে উল্লিখিত অধ্যায়সমূহের বিষয়বস্তু প্রদান করা হলো: প্রথম: মিথ্যা এবং মিথ্যাবাদীদের নিন্দায়।
দ্বিতীয়: "যে ব্যক্তি আমার নামে মিথ্যা রটনা করে... ইত্যাদি" হাদীস প্রসঙ্গে।
তৃতীয়: বর্ণনাকারীদের (রিজাল) সমালোচনার প্রতি যত্নশীল হওয়ার উপদেশ প্রসঙ্গে।
চতুর্থ: "আল-মাউদু'আত" গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত বানোয়াট হাদীসসমূহ প্রসঙ্গে।
এই অধ্যায়টি প্রায় পঞ্চাশটি কিতাব (উপ-বিভাগ) নিয়ে গঠিত, যা ফিকহ শাস্ত্রের কিতাবসমূহের বিন্যাস অনুযায়ী সাজানো হয়েছে।
এটি ইমাম আবুল ফারাজের রচনাসমগ্রের মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি গ্রন্থ; পাশাপাশি এটি আরবি ইসলামি গ্রন্থাগারের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রকাশিত অন্যতম প্রধান ইসলামি রেফারেন্স হিসেবে বিবেচিত।
এই মহান ইমামের অধিকাংশ গ্রন্থের ন্যায় এর অবস্থাও একই, যা এখনো আলোর মুখ দেখেনি। তাঁর এ জাতীয় গ্রন্থের সংখ্যা অনেক, যা সম্পর্কে মানুষ সামান্যই জানে এবং নামও জানে খুব কম।
আর সেগুলোর অধিকাংশ সম্পর্কেই তারা অনবগত।
আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন, তাঁর রচনাবলির সংখ্যা ১০০-এরও অধিক, যার মধ্যে রয়েছে: আত-তাফসীর আল-কাবীর ২০ খণ্ড, আল-মুনতাজাম ফি তারিখিল উমাম ২০ খণ্ড, তাহযীবুস সুনান ২০ খণ্ড, তালকীহ ফুহুমিল আসার (ইবনে কুতায়বার আল-মাআরিফ-এর আলোকে), আল-ওয়াফা ফি ফাযায়িলিল মুস্তফা, আজায়িবুল বাদায়ি, আয-যাহাবুল মাসবুক ফি সিয়ারিল মুলুক এবং মুখতাসারুল মুনতাজাম ফিত তারিখ।
(খণ্ড: ১)
আল-মাউদুয়াত লি ইবনিল জাওযী
(পৃষ্ঠা: ২৫)
فنون الأفنان فِي عجائب عُلُوم الْقُرْآن لقط الْمَنَافِع فِي الطِّبّ وفراسة الْعَرَب المغنى فِي الْفِقْه زَاد الْمسير صولة الْعقل على الْهوى أَخْبَار أهل الرسوخ فِي النَّاسِخ والمنسوخ
المدهش فِي التَّارِيخ وغرائب الْأَخْبَار شذور الْعُقُود فِي تَارِيخ العهود روح الْأَرْوَاح الْمُقِيم والمقعد صيد الخاطر الأذكياء وأخبارهم الْمُخْتَار من أَخْبَار الْمُخْتَار مثير عزم السَّاكِن إِلَى أشرف الْأَمَاكِن فَضَائِل الْقُدس تبصرة الْأَخْبَار تَقْوِيم اللِّسَان مَنَاقِب عمر بن الْخطاب مَنَاقِب عمر بن عبد الْعَزِيز مَنَاقِب أَحْمد بن حَنْبَل جَامع المسانيد والألقاب نتيجة الْإِحْيَاء (مُخْتَصر الاحياء)
কুরআন বিজ্ঞানের বিস্ময়কর দিকসমূহের বিচিত্র শিল্পকলা, চিকিৎসাশাস্ত্রে উপকারের আহরণ ও আরবদের অন্তর্দৃষ্টি, ফিকহ শাস্ত্রের সমৃদ্ধ কোষ, সফরের পাথেয়, প্রবৃত্তির ওপর বিবেকের প্রতাপ, নাসিখ ও মানসুখ বিষয়ে সুদৃঢ় পাণ্ডিত্যসম্পন্ন ব্যক্তিদের সংবাদ।
ইতিহাসে বিস্ময়কর ও অদ্ভুত সংবাদসমূহ, যুগের ইতিহাসে মুক্তার মালার হিরকচূর্ণ, আত্মাসমূহের প্রাণ, স্থবির ও সচল, চিন্তার শিকার, বুদ্ধিমানগণ ও তাঁদের সংবাদ, নির্বাচিতের সংবাদ হতে চয়নকৃত, শ্রেষ্ঠতম স্থানসমূহের পানে গমনেচ্ছুদের সংকল্প জাগ্রতকারী, বায়তুল মুকাদ্দাসের ফযিলতসমূহ, সংবাদের স্পষ্টীকরণ, ভাষার সংশোধন, উমর ইবনুল খাত্তাবের মর্যাদা, উমর ইবনে আবদুল আজিজের মর্যাদা, আহমাদ ইবনে হাম্বলের মর্যাদা, মুসনাদসমূহ ও উপাধিগুলোর সংকলন, পুনরুজ্জীবনের নির্যাস (পুনরুজ্জীবনের সংক্ষিপ্তসার)।
(খণ্ড: ১)
আল-মাউদুয়াত লি ইবনিল জাওযী
(পৃষ্ঠা: ২৬)
التَّحْقِيق فِي أَحَادِيث الْخلاف الحدائق شرح مُشكل الصَّحِيحَيْنِ دفع شُبْهَة التَّشْبِيه وَالرَّدّ على المجسمة تلبيس إِبْلِيس
الحمقى والمغفلين منهاج المريدين جنَّة النّظر الْكَشْف وَسوى ذَلِك كثير.
رحم الله الإِمَام الْجَلِيل وأجزل لَهُ المثوبة وَالْأَجْر، وأسبغ عَلَيْهِ فواضل بره وَرَحمته، بِمَا جَاهد فِي سَبِيل ربه الْكَرِيم، وَمَا لقى وعانى من مشقات..وجزى الله الْأَخ الْكَرِيم، الناشر الْهمام، الشَّيْخ مُحَمَّد بن عبد المحسن.
خير الْجَزَاء بِمَا بذل وَأنْفق فِي التنقيب عَن نفائس كتب السّلف وكنوز المخطوطات، إعلاء لكلمة الله، وَإِظْهَار للدّين الصَّحِيح.
وَصلى الله على رَسُوله الْكَرِيم وعَلى آله وَأَصْحَابه أَجْمَعِينَ.
وَالْحَمْد لله رب الْعَالمين.
غرَّة رَمَضَان 1386 نوفمبر 1966 عبد الرحمن مُحَمَّد عُثْمَان
মতভেদমূলক হাদিসসমূহের অনুসন্ধান, আল-হাদাইক: দুই সহিহ গ্রন্থের জটিল বিষয়সমূহের ব্যাখ্যা, সাদৃশ্যারোপের সংশয় নিরসন ও দেহবাদীদের খণ্ডন, ইবলিসের প্রবঞ্চনা।
নির্বোধ ও অসতর্ক ব্যক্তিগণ, মুরিদদের কর্মপন্থা, জান্নাতুন নাজর, আল-কাশফ এবং এ ছাড়া আরও অনেক।
আল্লাহ মহান ইমামের প্রতি রহমত বর্ষণ করুন এবং তাঁকে প্রচুর প্রতিদান ও সওয়াব দান করুন। তিনি তাঁর মহান রবের পথে যে জিহাদ করেছেন এবং যেসব কষ্ট ও প্রতিকূলতা মোকাবিলা করেছেন, তার বিনিময়ে আল্লাহ তাঁকে তাঁর অনুগ্রহ ও করুণায় সিক্ত করুন। আর আল্লাহ সম্মানিত ভাই, কর্মঠ প্রকাশক শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল মুহসিনকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।
আল্লাহর বাণীকে সুউচ্চ করতে এবং সঠিক দ্বীনকে প্রকাশ করার লক্ষ্যে সালাফদের মূল্যবান কিতাবসমূহ এবং পাণ্ডুলিপির ভাণ্ডার খুঁজে বের করতে তিনি যে ত্যাগ ও ব্যয় করেছেন, তার জন্য আল্লাহ তাঁকে সর্বোত্তম বিনিময় দান করুন।
আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক তাঁর সম্মানিত রাসূলের ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সকল সাহাবীর ওপর।
সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
১ রমজান ১৩৮৬ হিজরি, নভেম্বর ১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দ। আব্দুর রহমান মুহাম্মদ উসমান।
(খণ্ড: ১)
আল-মাউদুয়াত লি ইবনিল জাওযী
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الموضوعات يجرى نشر هَذِه الطبعة وهى الأولى نقلا عَن النُّسْخَة الخطية الوحيدة بالجمهورية، المحفوظة بالمكتبة الأزهريه.
بعد تصويرها بقسم التَّصْوِير بدار الْكتب المصرية.
كَذَلِك بعد تَحْقِيق غامض ألفاظها وعباراتها، واستقراء سقط النساخ.
فالخطأ والغامض من الْكَلِمَات والعبارات، بِالْأَصْلِ المخطوط، وضعناه بَين شرطتين ووضعنا صَوَابه بعده بَين أفواس معقوفة.
أما السقط فقد استدركناه استقراءا من مظانه فِي مراجعه الْمُخْتَلفَة، ووضعناه أَيْضا بَين أقواس معقوفة، دون الشرطتين بداهة
وَذَلِكَ تلافيا لِكَثْرَة التعليقات والافتراضات فِي الهوامش مَا أمكن.
حَتَّى تتمّ الْفَائِدَة ويتضح الْمَعْنى فِي ذهن الْقَارئ حَال الْقِرَاءَة.
وَقد جرينا على هَذِه الطَّرِيقَة لمزاياها اعْتِبَارا من الملزمة الرَّابِعَة.
أما مَا اهتدينا إِلَيْهِ من صَوَاب.
فَالله وفْق إِلَيْهِ، وتفضل بِهِ، وأثاب عَلَيْهِ إِن شَاءَ الله.
وَأما مَا كَانَ من خطإ فَمن أَنْفُسنَا.
والعذر فِيهِ أَنا من بنى آدم.
الْمُحَقق
আল-মাওদু‘আত। এই প্রথম সংস্করণটি প্রজাতন্ত্রে সংরক্ষিত একমাত্র পাণ্ডুলিপি থেকে অনুলিপি করে প্রকাশিত হচ্ছে, যা আল-আযহার লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত।
মিসরীয় দারুল কুতুব-এর চিত্রগ্রহণ বিভাগ থেকে এর অনুলিপি সংগ্রহের পর।
একইভাবে এর অস্পষ্ট শব্দ ও বাক্যসমূহের গবেষণা এবং লিপিকারদের অনবধানবশত বাদ পড়া অংশসমূহ অনুসন্ধানের পর।
সুতরাং মূল পাণ্ডুলিপির ভুল ও অস্পষ্ট শব্দ ও বাক্যসমূহকে আমরা দুটি ড্যাশের মধ্যে রেখেছি এবং তার সঠিক রূপটি এর পরে থার্ড ব্র্যাকেটের মধ্যে স্থাপন করেছি।
আর বাদ পড়া অংশগুলো আমরা বিভিন্ন সূত্র ও রেফারেন্স থেকে অনুসন্ধানের মাধ্যমে পুনরুদ্ধার করেছি এবং সেগুলোকেও থার্ড ব্র্যাকেটের মধ্যে রেখেছি, তবে স্বাভাবিকভাবেই ড্যাশ ছাড়াই।
এটি করা হয়েছে যাতে পাদটীকায় যতটা সম্ভব অতিরিক্ত টীকা ও অনুমানের আধিক্য এড়ানো যায়।
যাতে পাঠক পড়ার সময় পুরোপুরি উপকৃত হতে পারেন এবং অর্থ স্পষ্টভাবে অনুধাবন করতে পারেন।
আমরা এই পদ্ধতির শ্রেষ্ঠত্বের কারণে চতুর্থ ফর্মা থেকে এটি অনুসরণ করেছি।
আর আমরা সঠিক যা কিছুর দিশা পেয়েছি।
আল্লাহ তাতে তাওফীক দিয়েছেন, অনুগ্রহ করেছেন এবং ইনশাআল্লাহ তিনি এর প্রতিদান দেবেন।
আর যা কিছু ভুল হয়েছে, তা আমাদের নিজেদের ত্রুটি।
আর এর জন্য ওজর এই যে, আমরা আদম সন্তান।
মুহাক্কিক (সম্পাদক)
(খণ্ড: ১)
আল-মাউদুয়াত লি ইবনিল জাওযী
(পৃষ্ঠা: ২৯)
بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم أَنبأَنَا الشَّيْخ الإِمَام الْعَالم الْحَافِظ جمال الدَّين أَبُو الْفرج عبد الرحمن بن عَليّ بن مُحَمَّد الْجَوْزِيّ الْقرشِي فِيمَا كتب إِلَيّ من بَغْدَاد سنة خمس وَتِسْعين وَخمْس مائَة أَنه قَالَ: الْحَمد لله على التَّعْلِيم حمدا يُوجب الْمَزِيد من التَّقْوِيم، وَالصَّلَاة الْكَامِلَة وَالتَّسْلِيم على مُحَمَّد النَّبِي الْكَرِيم، الْمَبْعُوث بِالْهدى إِلَى الصِّرَاط القويم، الْمُقدم على الْخَلِيل وعَلى الكليم (عَزِيزٌ عَلَيْهِ مَا عَنِتُّمْ حَرِيصٌ عَلَيْكُمْ بِالْمُؤْمِنِينَ رؤوف رَحِيم) صلى الله عَلَيْهِ وعَلى آله وَأَصْحَابه وَأَتْبَاعه إِلَى يَوْم ظُهُور الهول الْعَظِيم: (يَوْمَ لَا يَنْفَعُ مَالٌ وَلا بَنُونَ إِلا مَنْ أَتَى الله بقلب سليم) أيقظنا الله وَإِيَّاكُم قبل ذَلِك الْحِين، لأخذ الْعدة، وَثَبت أقدامنا إِذا زعزعت الْأَقْدَام الشدَّة، ورزقنا قولا وفعلا قبل انْقِضَاء الْمدَّة، وَختم صحائفنا بِالْعَفو قبل جفوف قلم الْأَجَل وانتهاء الْمدَّة، وبيض وُجُوهنَا بِالصّدقِ يَوْم نرى الَّذين كذبُوا على الله وُجُوههم مسودة.
أما بعد: فَإِن بعض طلاب الحَدِيث ألح عَليّ أَن أجمع لَهُ الْأَحَادِيث الْمَوْضُوعَة وأعرفه من أَي طَرِيق تعلم أَنَّهَا مَوْضُوعَة، فَرَأَيْت أَن إسعاف الطَّالِب للْعلم بمطلوبه يتَعَيَّن خُصُوصا عِنْد قلَّة الطلاب، لَا سِيمَا لعلم النَّقْل فَإِنَّهُ قد أعرض عَنهُ بِالْكُلِّيَّةِ حَتَّى أَن جمَاعَة من الْفُقَهَاء يبنون على الْعُلُوم الْمَوْضُوعَة.
وَكَثِيرًا من
الْقصاص يُرِيدُونَ الموضوعات، وخلقا من الزهاد يتعبدون بهَا.
وَهَا أَنا أقدم قبل الشُّرُوع فِي الْمَطْلُوب فصولا تكون لذَلِك أصولا وَالله الْمُوفق.
فصل اعْلَم زَاد الله إرشادك وَتَوَلَّى إسعادك أَن الله عزوجل شرف هَذِه الْأمة وفضلها على غَيرهَا من الامم، فَقَالَ عزوجل: [كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ] وأنبأنا
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। শাইখ, ইমাম, বিদগ্ধ পণ্ডিত, হাফেজ জামালুদ্দিন আবুল ফারাজ আবদুর রহমান বিন আলী বিন মুহাম্মদ আল-জাওজি আল-কুরাশি ৫৯৫ হিজরি সনে বাগদাদ থেকে আমার কাছে যা লিখেছেন তাতে আমাদের জানিয়েছেন যে তিনি বলেছেন: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি শিক্ষা দান করেছেন, এমন প্রশংসা যা সঠিক পথে সুদৃঢ় থাকার পরিমাণ বৃদ্ধি করে। আর পরিপূর্ণ দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সম্মানিত নবী মুহাম্মাদের ওপর, যাকে সঠিক পথের হিদায়াতসহ সরল পথের দিকে প্রেরণ করা হয়েছে, এবং যাকে খলিল ও কালিমের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া হয়েছে। (তোমাদের যা কষ্টে ফেলে তা তাঁর জন্য অসহনীয়, তিনি তোমাদের মঙ্গলাকাঙ্ক্ষী এবং মুমিনদের প্রতি তিনি অতি দয়ালু ও পরম করুণাময়)। আল্লাহর দরুদ বর্ষিত হোক তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ, সাহাবীগণ ও অনুসারীদের ওপর সেই দিন পর্যন্ত যেদিন মহান বিভীষিকা প্রকাশ পাবে: (যেদিন কোনো সম্পদ ও সন্তান কাজে আসবে না, কেবল সে ব্যতীত যে আল্লাহর কাছে বিশুদ্ধ অন্তর নিয়ে আসবে)। আল্লাহ সেই সময় আসার পূর্বেই পাথেয় সংগ্রহের জন্য আমাদের ও আপনাদের জাগ্রত করুন, এবং কঠিন বিপদে যখন পদসমূহ টলে উঠবে তখন আমাদের কদম সুদৃঢ় রাখুন। আয়ু শেষ হওয়ার আগে আমাদের উত্তম কথা ও কাজের তাওফিক দিন এবং মৃত্যুর কলম শুকিয়ে যাওয়ার ও নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে ক্ষমার মাধ্যমে আমাদের আমলনামাগুলো সমাপ্ত করুন। আর যেদিন আমরা আল্লাহর ওপর মিথ্যারোপকারীদের চেহারা কালো দেখব, সেদিন সত্যনিষ্ঠার মাধ্যমে আমাদের চেহারাকে উজ্জ্বল করুন।
অতঃপর: হাদিসের কতিপয় ছাত্র আমার কাছে বারবার অনুরোধ করেছে যেন আমি তাদের জন্য জাল হাদিসসমূহ একত্র করি এবং তাদের জানিয়ে দিই যে কোন কোন পন্থায় জানা যায় যে সেগুলো জাল। আমি দেখলাম যে, জ্ঞানপিপাসু ছাত্রের উদ্দেশ্য পূরণে সহায়তা করা অপরিহার্য, বিশেষ করে যখন ছাত্রের সংখ্যা অতি সামান্য। বিশেষত বর্ণনাবিদ্যার ক্ষেত্রে, কারণ মানুষ এটি থেকে সম্পূর্ণরূপে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, এমনকি একদল ফকিহ জাল বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত প্রদান করেন।
আর অনেক
গল্পকার জাল হাদিস তালাশ করে এবং বহু সংখ্যক জাহিদ সেগুলোর মাধ্যমে ইবাদত করে।
এখন আমি কাঙ্ক্ষিত বিষয়ে প্রবেশের পূর্বে কিছু পরিচ্ছেদ উপস্থাপন করছি যা এই বিষয়ের মূলনীতি হিসেবে গণ্য হবে। আল্লাহই তাওফিকদাতা।
পরিচ্ছেদ: জেনে রাখুন—আল্লাহ আপনার হিদায়াত বাড়িয়ে দিন এবং আপনার সৌভাগ্যের দায়িত্ব নিন—নিশ্চয়ই আল্লাহ মহা প্রতাপশালী ও মহিমান্বিত এই উম্মতকে সম্মানিত করেছেন এবং অন্যান্য উম্মতের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। আল্লাহ মহা প্রতাপশালী ও মহিমান্বিত বলেছেন: [তোমরাই হলে শ্রেষ্ঠ উম্মত যাদের মানুষের কল্যাণে বের করা হয়েছে]। এবং তিনি আমাদের জানিয়েছেন
(খণ্ড: ১)
আল-মাউদুয়াত লি ইবনিল জাওযী
(পৃষ্ঠা: ৩০)
أَبُو الْقَاسِمِ هِبَةُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْوَاحِدِ بْنِ الْحُصَيْنِ الشَّيْبَانِيُّ، قَالَ.
أَنْبَأَنَا أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُذْهِبِ، قَالَ: أَنْبَأَنَا أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَر حَدثنَا عبد الله بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، قَالَ: أَنْبَأَنَا مَعْمَرٌ عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَة عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ: " نَحْنُ الآخِرُونَ السَّابِقُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، بَيْدَ أَنَّهُمْ أُوتُوا الْكِتَابَ مِنْ قَبْلِنَا وَأُوتِينَاهُ مِنْ بَعْدِهِمْ " قَالَ أَحْمَدُ: حَدَّثَنَا يَحْيَى، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ عَنْ عَمْرو بن مَيْمُون عَن عبد الله قَالَ: " كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي قُبَّةٍ نَحْوًا مِنْ أَرْبَعِينَ، فَقَالَ: أَتَرْضَوْنَ أَنْ تَكُونُوا رُبْعَ أَهْلِ الْجَنَّةِ؟ قُلْنَا: نَعَمْ، قَالَ: أَتَرْضَوْنَ أَنْ تَكُونُوا ثُلُثَ أَهْلِ الْجَنَّةِ؟ قُلْنَا: نعم، قَالَ: فو الذى نَفْسِي بِيَدِهِ إِنِّي لأَرْجُو أَنْ تَكُونُوا نِصْفَ أَهْلِ الْجَنَّةِ " هَذَانِ حديثان مُتَّفق على صحتهما.
أَنْبَأَنَا ابْنُ الْحُصَيْنِ، قَالَ: أَنْبَأَنَا ابْنُ الْمُذْهِبِ قَالَ: أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بن جَعْفَر، قَالَ: حَدثنَا عبد الله بْنُ أَحْمَدَ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي، قَالَ: حَدَّثَنَا يَزِيدُ قَالَ: حَدَّثَنَا بَهْزُ بْنُ حَكِيمٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: " أَلا إِنَّكُمْ تُوفُونَ سَبْعِينَ أُمَّةً أَنْتُمْ خَيْرُهَا وَأَكْرَمُهَا عَلَى اللَّهِ تَعَالَى ".
فصل ولتكريم هَذِه الْأمة أَسبَاب هيأها الله عزوجل لَهَا وَأَكْرمهَا بهَا، مِنْهَا وفور
الْعقل وَقُوَّة الْفَهم وجودة الذِّهْن، وبهذه الْأَشْيَاء تعرف وجود الصَّانِع، وَيظْهر دَلِيل التَّوْحِيد وَنفى الْمثل والشبه، وَبِذَلِك ينَال الْعلم ويخلص الْعَمَل.
وَلما عدمت هَذِه الْأُصُول عِنْد عَامَّة بنى إِسْرَائِيل قَالُوا: (اجْعَلْ لَنَا إِلَهًا كَمَا لَهُمْ آلِهَة) ولقوة أذهان أمتنَا قدرت على حفظ الْقُرْآن، وَقد كَانَ من قبلهم يقْرَأ كِتَابه من الصُّحُف.
وبقوة الْفَهم تلمحوا العواقب فصبروا على الْجِهَاد وذلوا النُّفُوس، وَقد عرضت لمن قبلنَا غزَاة فَقَالُوا: (اذْهَبْ أَنْت وَرَبك فَقَاتلا) وفضائل أمتنَا،
আবুল কাসিম হিবাতুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল ওয়াহিদ ইবনে আল-হুসাইন আল-শায়বানী বলেছেন।
আবু আলী আল-হাসান ইবনে আলী ইবনুল মুযহিব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আহমাদ ইবনে জাফর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে হাম্বল আমাদের বলেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাকে বলেছেন, তিনি বলেন: আবদুর রাজ্জাক আমাদের বলেছেন, তিনি বলেন: মা'মার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাম্মাম ইবনে মুনাব্বিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "আমরা কিয়ামতের দিন সর্বশেষ (আগত) কিন্তু (মর্যাদায়) অগ্রবর্তী, তবে পার্থক্য হলো তাদের আমাদের পূর্বে কিতাব দেওয়া হয়েছিল এবং আমাদের তা দেওয়া হয়েছে তাদের পরে।" আহমাদ বলেন: ইয়াহইয়া আমাদের বলেছেন, তিনি বলেন: শু'বা আমাদের বলেছেন, তিনি বলেন: আবু ইসহাক আমাদের বলেছেন আমর ইবনে মাইমুন থেকে, তিনি আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আমরা একটি তাঁবুতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে প্রায় চল্লিশ জন ছিলাম। তখন তিনি বললেন: তোমরা কি এতে সন্তুষ্ট যে তোমরা জান্নাতীদের এক-চতুর্থাংশ হবে? আমরা বললাম: হ্যাঁ। তিনি বললেন: তোমরা কি এতে সন্তুষ্ট যে তোমরা জান্নাতীদের এক-তৃতীয়াংশ হবে? আমরা বললাম: হ্যাঁ। তিনি বললেন: সেই সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ, আমি অবশ্যই আশা করি যে তোমরা জান্নাতীদের অর্ধেক হবে।" এই হাদিস দুটির বিশুদ্ধতার ওপর ঐকমত্য রয়েছে।
ইবনুল হুসাইন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইবনুল মুযহিব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আহমাদ ইবনে জাফর আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ আমাদের বলেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাকে বলেছেন, তিনি বলেন: ইয়াযীদ আমাদের বলেছেন, তিনি বলেন: বাহজ ইবনে হাকিম তার পিতা থেকে এবং তিনি তার দাদা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "জেনে রেখো, তোমরা সত্তরটি উম্মত পূর্ণ করবে, তোমরা তাদের মধ্যে সর্বোত্তম এবং মহান আল্লাহর নিকট সবচেয়ে সম্মানিত।"
পরিচ্ছেদ: এই উম্মতের সম্মানের পেছনে কিছু কারণ রয়েছে যা আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তাদের জন্য নির্ধারিত করেছেন এবং যার মাধ্যমে তাদের সম্মানিত করেছেন। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে বুদ্ধির প্রাচুর্য, প্রখর বোধশক্তি এবং মেধার উৎকর্ষ। আর এই বিষয়গুলোর মাধ্যমেই স্রষ্টার অস্তিত্ব জানা যায় এবং তাওহীদের প্রমাণ ও সাদৃশ্য ও উপমা অস্বীকার করা প্রকাশ পায়। এর মাধ্যমেই জ্ঞান অর্জিত হয় এবং আমল বিশুদ্ধ হয়।
আর যখন বনী ইসরাঈলের সাধারণ মানুষের মধ্যে এই মূলনীতিগুলোর অভাব দেখা দিল, তখন তারা বলেছিল: "তাদের যেমন উপাস্য রয়েছে আমাদের জন্যও তেমন উপাস্য বানিয়ে দিন।" অন্যদিকে আমাদের উম্মতের মেধার প্রখরতার কারণে তারা কুরআন হিফজ করতে সক্ষম হয়েছে, অথচ তাদের পূর্ববর্তীরা তাদের কিতাব তাদের সহীফা থেকে পাঠ করত।
বোধশক্তির দৃঢ়তার কারণে তারা পরিণতির দিকে দৃষ্টিপাত করেছে, ফলে তারা জিহাদে ধৈর্য ধারণ করেছে এবং নিজেদের প্রবৃত্তিকে বশীভূত করেছে। অথচ আমাদের পূর্ববর্তীদের কাছে যখন যুদ্ধের ডাক আসত, তখন তারা বলত: "আপনি এবং আপনার রব যান এবং যুদ্ধ করুন।" আমাদের উম্মতের ফযীলতসমূহ,
(খণ্ড: ১)
আল-মাউদুয়াত লি ইবনিল জাওযী
(পৃষ্ঠা: ৩১)
وَمَا ميزت بِهِ كثير إِلَّا أَن من أعجب ذَلِك حفظ الله عزوجل لكتابنا عَن تَبْدِيل قَالَ الله عزوجل: (إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لحافظون) فَمَا يُمكن تَبْدِيل كلمة مِنْهُ وَقد بدلت الْكتب قبله.
وَمن ذَلِك أَن سنة نَبينَا صلى الله عليه وسلم مأثورة بنقلها خلف عَن سلف، وَلم يكن هَذَا لأحد من الْأمة (1) قبلهَا، وَلما لم يُمكن أحد أَن يدْخل فِي الْقُرْآن شَيْئا لَيْسَ مِنْهُ أَخذ أَقوام يزِيدُونَ فِي حَدِيث رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وينقصون ويبدلون ويضعون عَلَيْهِ مَا لم يقل، فَأَنْشَأَ الله عزوجل عُلَمَاء يَذبُّونَ عَن النَّقْل، ويوضحون الصَّحِيح ويفضحون الْقَبِيح، وَمَا يخلى الله عزوجل مِنْهُم عصرا من العصور، غير أَن هَذَا النَّسْل قد قل فِي هَذَا الزَّمَان فَصَارَ أعز من عنقاء مغرب.
أَنبأَنَا عبد الملك بْنُ أَبِي الْقَاسِمِ الْكَرُوخِيُّ قَالَ: أَنبأَنَا عبد الله بْنُ مُحَمَّدٍ الأَنْصَارِيُّ قَالَ: أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ التَّمِيمِيُّ قَالَ أَنْبَأَنَا لاحِقُ بْنُ الْحُسَيْنِ قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ حَفْص الْقَزاز قَالَ: حَدثنَا عبد الملك بْنُ عَبْدِ رَبِّهِ الطَّائِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم " يَحْمِلُ هَذَا الْعِلْمَ مِنْ كُلِّ خَلَفٍ عُدُولُهُ، يَنْفُونَ عَنْهُ تَأْوِيلَ الْجَاهِلِينَ وَانْتِحَالَ الْمُبْطِلِينَ ".
فصل وَقد كَانَ قدماء الْعلمَاء يعْرفُونَ صَحِيح الْمَنْقُول من سقيمه، ومعلوله من سليمه، ثمَّ يستخرجون حكمه ويستنبطون علمه، ثمَّ طَالَتْ طَرِيق الْبَحْث من بعدهمْ فقلدوهم فِيمَا نقلوا، وَأخذُوا عَنْهُم مَا هذبوا، فَكَانَ الْأَمر متحاملا إِلَى أَن آلت الْحَال إِلَى خلف لَا يفرقون بَين صَحِيح وَسَقِيم، وَلَا يعْرفُونَ نسرا من ظليم، وَلَا
--------------------------------------------
এটি অনেক কিছুর দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়েছে, তবে এর মধ্যে সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো মহান আল্লাহ কর্তৃক আমাদের কিতাবকে বিকৃতি থেকে রক্ষা করা। আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেছেন: "নিশ্চয়ই আমিই যিকির (কুরআন) নাযিল করেছি এবং অবশ্যই আমিই এর সংরক্ষক।" সুতরাং এর একটি শব্দও পরিবর্তন করা সম্ভব নয়, অথচ এর পূর্ববর্তী কিতাবসমূহ বিকৃত হয়ে গিয়েছে।
এর অন্তর্ভুক্ত হলো আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ, যা উত্তরসূরিদের মাধ্যমে পূর্বসূরিদের থেকে বর্ণনাসূত্রে প্রাপ্ত হয়েছে। এই বৈশিষ্ট্য এই উম্মতের (১) পূর্বে আর কারো ছিল না। যখন কুরআনের মধ্যে কোনো কিছু প্রবিষ্ট করা কারো পক্ষে সম্ভব হলো না, তখন একদল লোক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীসের মধ্যে সংযোজন, বিয়োজন ও পরিবর্তন করতে শুরু করল এবং তাঁর নামে এমন কথা রচনা করল যা তিনি বলেননি। অতঃপর মহান আল্লাহ এমন আলেমদের সৃষ্টি করলেন যারা এই বর্ণনাগুলোকে রক্ষা করেন, বিশুদ্ধ বর্ণনাকে স্পষ্ট করেন এবং নিকৃষ্ট বর্ণনাকে উন্মোচিত করেন। আল্লাহ তাআলা কোনো যুগকেই তাঁদের থেকে শূন্য রাখেন না, তবে বর্তমান সময়ে এই উত্তরসূরিদের সংখ্যা কমে গিয়েছে এবং তা পশ্চিমের দুর্লভ পাখির (আঁনকা মুগরিব) চেয়েও দুষ্প্রাপ্য হয়ে পড়েছে।
আব্দুল মালিক বিন আবু কাসেম আল-কারুখি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-আনসারি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আহমদ বিন ইব্রাহিম আত-তামিমি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: লাহিক বিন আল-হুসাইন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন হাফস আল-কাযযায আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আব্দুল মালিক বিন আব্দু রাব্বিহি আত-তাঈ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: সাঈদ বিন সিমাক বিন হারব তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি জাবির বিন সামুরা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "প্রত্যেক উত্তরসূরি প্রজন্মের নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিরাই এই ইলম বা জ্ঞান বহন করবে। তারা মূর্খদের অপব্যাখ্যা এবং বাতিলপন্থীদের মিথ্যা আরোপ থেকে একে রক্ষা করবে।"
পরিচ্ছেদ: পূর্ববর্তী আলেমগণ বর্ণিত বিষয়ের বিশুদ্ধতা ও অশুদ্ধতা এবং ত্রুটিযুক্ত ও ত্রুটিমুক্ত বিষয়ের পার্থক্য চিনতেন। এরপর তাঁরা এর বিধানসমূহ বের করতেন এবং এর অন্তর্নিহিত জ্ঞান উদঘাটন করতেন। পরবর্তীতে গবেষণার পথ দীর্ঘ হয়ে গেলে উত্তরসূরিরা তাঁদের বর্ণিত ও পরিমার্জিত বিষয়ের অন্ধ অনুসরণ করতে থাকে। বিষয়টি চলতে চলতে এমন এক প্রজন্মের হাতে এসে পৌঁছেছে যারা বিশুদ্ধ ও অশুদ্ধের মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না এবং তারা ইগল ও উটপাখির মাঝেও প্রভেদ করতে জানে না, আর না...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাউদুয়াত লি ইবনিল জাওযী
(পৃষ্ঠা: ৩২)
يَأْخُذُونَ الشئ من معدنه، فالفقيه مِنْهُم يقلل التَّعْلِيق فِي خبر حَدثنَا خبر خَبره، والمتعبد ينصب لأجل حَدِيث لَا يدرى من سطره، والقاص يروي للعوام الْأَحَادِيث الْمُنكرَة وَيذكر لَهُم مَا لَو شم ربح الْعلم مَا ذكره، فَيخرج الْعَوام من عِنْده يتدارسون الْبَاطِل فَإِذا أنكر عَلَيْهِم عَالم قَالُوا.
قد سمعنَا هَذَا بأخبرنا وَحدثنَا فكم قد أفسد الْقصاص من الْخلق بالأحاديث الْمَوْضُوعَة، كم لون قد أصفر بِالْجُوعِ وَكم هائم على وَجهه بالسياحة، وَكم مَانع لنَفسِهِ مَا قد أُبِيح، وَكم تَارِك رِوَايَة الْعلم زعما مِنْهُ مُخَالفَة النَّفس فِي هَواهَا فِي ذَلِك، وَكم موتم أَوْلَاده بالتزهد وَهُوَ حَيّ، وَكم معرض عَن زَوجته لَا يوفيها حَقّهَا فَهِيَ لَا أيم وَلَا ذَات بعل.
فصل وَاعْلَم وفقك الله أَن الْأَحَادِيث على سِتَّة أَقسَام، الْقسم الأول مَا اتّفق على صِحَّته وَكَانَ أَبُو عبد الله البُخَارِيّ أول من (1) الصِّحَاح، ثمَّ تبعه مُسلم، وَكَانَ مرادهما الحَدِيث الَّذِي يرويهِ الصَّحَابِيّ الْمَشْهُور بالرواية عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم، وَلذَلِك الصَّحَابِيّ راويان ثقتان عَنهُ لذَلِك الحَدِيث، ثمَّ يرويهِ عَنهُ التَّابِعِيّ الْمَشْهُور بالرواية عَن الصَّحَابَة، وَله راويان ثقتان عَنهُ، ثمَّ يرويهِ عَنهُ من أَتبَاع التَّابِعين الْحَافِظ المتقن الْمَشْهُور وَله رُوَاة ثقاة، ثمَّ يكون شيخ البُخَارِيّ حَافِظًا متقنا فَهَذِهِ
الدرجَة الْعليا.
وَقد كَانَ مُسلم بن الْحجَّاج أَرَادَ أَن يخرج الصَّحِيح على ثَلَاثَة أَقسَام فِي الروَاة، فَلَمَّا فرغ من الْقسم الأول توفى.
قَالَ الْحَاكِم رحمه الله: وَقد تركا أَحَادِيث جَيِّدَة الطَّرِيق لنَوْع احْتِيَاط نظرا فِيهِ، مِنْهَا أَحَادِيث رَوَاهَا الثقاة إِلَى الصَّحَابِيّ غير أَن هَذَا الصَّحَابِيّ لم يكن لَهُ غير راو وَاحِد مثل حَدِيث مرداس الْأَسْلَمِيّ والمستورد وذكين لما لم يكن لَهُم راو غير قيس بن أبي حَازِم، وَكَذَلِكَ حَدِيث
--------------------------------------------
তারা বস্তু তার উৎস থেকে গ্রহণ করে। তাদের মধ্যকার ফকিহগণ "আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন" বা "আমাদের সংবাদ দিয়েছেন" এমন খবরের বর্ণনায় টীকাভাষ্য সংক্ষেপ করেন। অন্যদিকে ইবাদতকারী ব্যক্তি এমন এক হাদিসের জন্য নিজেকে পরিশ্রান্ত করে যার উৎস সম্পর্কে সে অবগত নয়। আর গল্পকার সাধারণ মানুষের কাছে প্রত্যাখ্যাত (মুনকার) হাদিসসমূহ বর্ণনা করে এবং তাদের সামনে এমন সব বিষয় উল্লেখ করে যা ইলমের সুবাস পেলে সে কখনও উল্লেখ করত না। ফলে সাধারণ মানুষ তার কাছ থেকে বেরিয়ে বাতিল বিষয়ের চর্চা করতে থাকে। অতঃপর যখন কোনো আলেম তাদের ওপর আপত্তি করেন, তখন তারা বলে।
আমরা তো এটি "আমাদের সংবাদ দিয়েছেন" ও "আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন" সূত্রের মাধ্যমে শুনেছি। গল্পকারগণ জাল হাদিসের মাধ্যমে কত সৃষ্টিকেই না ধ্বংস করেছেন! ক্ষুধার কারণে কত রঙ ফ্যাকাশে হয়ে গেছে, পর্যটনের নামে কতজন দিশেহারা হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে, কতজন নিজের জন্য বৈধ করা বিষয়কে নিষিদ্ধ করে নিয়েছে, কতজন নফসের প্রবৃত্তির বিরোধিতা করার দাবি করে ইলম বর্ণনা করা ছেড়ে দিয়েছে, কতজন জীবিত থাকা সত্ত্বেও দুনিয়াবিমুখতার নামে নিজের সন্তানদের এতিম করে রেখেছে এবং কতজন নিজ স্ত্রীর থেকে বিমুখ হয়ে তার প্রাপ্য অধিকার আদায় করছে না, ফলে সে নারী বিধবাও নয় আবার স্বামীওয়ালিও নয়।
পরিচ্ছেদ: জেনে রাখুন, আল্লাহ আপনাকে তাওফিক দান করুন, হাদিস ছয় প্রকার। প্রথম প্রকার হলো যার বিশুদ্ধতার ওপর ঐকমত্য হয়েছে। আবু আব্দুল্লাহ আল-বুখারি সর্বপ্রথম সহিহ হাদিসসমূহ (১) সংকলন করেন, অতঃপর মুসলিম তাকে অনুসরণ করেন। তাদের উদ্দেশ্য ছিল এমন হাদিস যা সেই সাহাবি বর্ণনা করেছেন যিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করার ক্ষেত্রে প্রসিদ্ধ, আর সেই সাহাবি থেকে উক্ত হাদিসটি বর্ণনাকারী দুইজন নির্ভরযোগ্য রাবি (বর্ণনাকারী) রয়েছেন। অতঃপর তাবেয়ি সেই সাহাবি থেকে বর্ণনা করবেন যিনি সাহাবিদের থেকে বর্ণনা করার ক্ষেত্রে প্রসিদ্ধ এবং তার থেকে বর্ণনাকারী দুইজন নির্ভরযোগ্য রাবি রয়েছেন। অতঃপর তাবে-তাবেয়িদের মধ্য থেকে প্রখ্যাত হাফেজ ও সুনিপুণ ব্যক্তি তা বর্ণনা করবেন এবং তারও নির্ভরযোগ্য রাবি থাকবে। অতঃপর বুখারির উস্তাদ হবেন একজন হাফেজ ও সুনিপুণ ব্যক্তি—এটিই হলো
সর্বোচ্চ স্তর।
মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ বর্ণনাকারীদের বিভাজন অনুযায়ী সহিহ হাদিসকে তিন ভাগে বের করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু প্রথম ভাগ শেষ করেই তিনি ইন্তেকাল করেন।
ইমাম হাকিম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: তারা উভয়ে এক প্রকার সাবধানতার খাতিরে উত্তম সূত্রের কিছু হাদিস ছেড়ে দিয়েছেন। তার মধ্যে এমন কিছু হাদিস রয়েছে যা সাহাবি পর্যন্ত নির্ভরযোগ্য রাবিগণ বর্ণনা করেছেন, কিন্তু সেই সাহাবির মাত্র একজন বর্ণনাকারী ছিল। যেমন মিরদাস আল-আসলামি, আল-মুস্তাওরিদ এবং জাকিন-এর হাদিস, যেহেতু কায়স ইবনে আবি হাযিম ছাড়া তাদের আর কোনো বর্ণনাকারী ছিল না। তেমনি হাদিস...
--------------------------------------------