(খণ্ড: ১) আত-তারীখ ইনদা ইবনু আবী শায়বাহ (পৃষ্ঠা: -)
التاريخ عند ابن أبي شيبة   (سليمان بن سليم الله الرحيلي)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: التاريخ عند ابن أبي شيبة

المؤلف: سليمان بن سليم الله الرحيلي

الناشر: الجامعة الاسلامية بالمدينة المنورة

الطبعة: السنة السابعة والعشرون، العددان - مائة وثلاثة - مائة وأربعة - 1416/1417هـ

عدد الصفحات: 595

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইবনু আবি শায়বাহর নিকট ইতিহাস   (সুলাইমান বিন সুলিমুল্লাহ আর-রুহাইলি)

বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث)


বই: ইবনু আবি শায়বাহর নিকট ইতিহাস

লেখক: সুলাইমান বিন সুলিমুল্লাহ আর-রুহাইলি

প্রকাশক: মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়

সংস্করণ: সাতাশতম বর্ষ, সংখ্যা - একশত তিন - একশত চার - ১৪১৬/১৪১৭ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৯৫

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আত-তারীখ ইনদা ইবনু আবী শায়বাহ (পৃষ্ঠা: ৫৬০)
‌‌مقدمة

…

ملخص البحث

عني علماء الحديث خلال القرون الثلاثة الأولى بتدوين التاريخ وذكر مروياته، وعلى رأسهم أبو بكر عبد الله بن محمد بن أبي شيبة (ت 235 هـ) صاحب المصنف، سواء من خلال أبوابه كالمغازي والجهاد والفضائل أم من خلال كتبه الأخرى كالتاريخ والجمل وصفين والفتوح التي وصلتنا مضمومة للمصنف عدا الفتوح فهو مفقود.

ويتناول هذا البحث التعريف – باختصار - بأهمية المصادر الحديثية في دراسة التاريخ ثم التعريف بالمصنف وملامح عصره وذكر مؤلفاته، ثم يفصّل في دراسة التاريخ ومعرفة منهجه وموارده فيه، وفروعه عنده، مثل المعارك والفتوح وتواريخ المدن والأقاليم وتراجم الأعلام وآداب الحرب ومعاملة أهل الذمة، مع مقارنة بالمصادر التاريخية المبكرة ما أمكن، والإشارة إلى بعض ما انفرد به أو حفظه من الروايات التاريخية التي فقدت مصادرها أو انخرمت من الموجود منها.

والله ولي التوفيق.
ভূমিকা

…

গবেষণার সারসংক্ষেপ

প্রথম তিন শতাব্দীর হাদিস বিশারদগণ ইতিহাস লিপিবদ্ধকরণ এবং এর বর্ণনাগুলো (مرويات) উল্লেখ করার ব্যাপারে বিশেষ যত্নবান ছিলেন। তাঁদের অগ্রভাগে ছিলেন আল-মুসান্নাফ গ্রন্থের রচয়িতা আবু বকর আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবি শায়বা (মৃত্যু: ২৩৫ হিজরি)। তিনি এটি করেছেন তাঁর গ্রন্থের মাগাজি, জিহাদ ও ফজিলত সংক্রান্ত অধ্যায়গুলোর মাধ্যমে অথবা ইতিহাস, জামাল, সিফফিন ও ফুতুহ সংক্রান্ত তাঁর অন্যান্য কিতাবসমূহের মাধ্যমে, যা আল-মুসান্নাফ-এর সাথে সংযুক্ত অবস্থায় আমাদের নিকট পৌঁছেছে; তবে ফুতুহ গ্রন্থটি বর্তমানে বিলুপ্ত।

এই গবেষণাটি সংক্ষেপে ইতিহাস অধ্যয়নে হাদিস বিষয়ক উৎসসমূহের গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা করে। এরপর আল-মুসান্নাফ, তৎকালীন যুগের বৈশিষ্ট্য এবং লেখকের রচনাবলি সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা প্রদান করে। পরবর্তীতে ইতিহাসে তাঁর অধ্যয়ন পদ্ধতি, তথ্যসূত্র এবং তাঁর আলোচিত ইতিহাসের বিভিন্ন শাখা যেমন: যুদ্ধ ও বিজয়সমূহ, শহর ও জনপদের ইতিহাস, বরেণ্য ব্যক্তিদের জীবনী (تراجم), যুদ্ধের শিষ্টাচার এবং জিম্মি (أهل الذمة) সম্প্রদায়ের সাথে আচরণ ইত্যাদি বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। সেই সাথে সম্ভবপর ক্ষেত্রে প্রাথমিক যুগের ঐতিহাসিক উৎসগুলোর সাথে একটি তুলনামূলক আলোচনা করা হয়েছে এবং তাঁর এককভাবে বর্ণিত (انفرد به) কিছু ঐতিহাসিক বর্ণনা (روايات) বা এমন কিছু বর্ণনা যা তিনি সংরক্ষণ করেছেন অথচ সেগুলোর মূল উৎস বিলুপ্ত হয়ে গেছে কিংবা বিদ্যমান উৎসগুলোতে অসম্পূর্ণভাবে রয়েছে, সেগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।

আল্লাহই তাওফিক দানকারী।
(খণ্ড: ১) আত-তারীখ ইনদা ইবনু আবী শায়বাহ (পৃষ্ঠা: ৫৬১)
مقدمة

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله وحده والصلاة والسلام على من لا نبي بعده محمد بن عبد الله وعلى آله وصحبه وسلم.

تمثل كتب المصنفات والصحاح والسنن مصدراً مهماً من مصادر التاريخ الإسلامي المبكر، فهي لا تخلو من ذكر فتح أو غزوة أو سرية أو وصف متوقف أو حادثة أو مكان أو قول خليفة أو قائد أو والٍ ترجمت له، فتزيد من التفصيل المذكور عنه في المصادر التاريخية أو تذكر صوره أخرى له موافقة فتدعمه أو فيها زيادة فتجليه أو مغايرة فتعيد النظر في دراسته والموقف منه، ولذلك فإن عدم الرجوع إليها في الموضوعات التاريخية المشتملة عليها يعد قصوراً منهجيا في عدم استيفاء مادتها، ويبقى نتائج دراستها ناقصة. وإذا كانت كتب الصحاح عنيت أخيراً باهتمام المؤرخين والرجوع إليها، ودراسة منهجها في إيراد الحوادث التاريخية، فإن كثيراً من المصادر الحديثية الأخرى مازالت تحتاج إلى الاهتمام نفسه من قبل المؤرخين المحدَثين، فهي مظان كبيرة لجوانب عديدة من الأحداث التاريخية المختلفة.

إن غياب المصدر الحديثي في الدراسات التاريخية الحديثة يعد قصوراً منهجياً لا مبرر له، وقد آن الأوان لردم ما اتسع من الفجوة وإعادة التلازم والتراحم الذي كان قائماً بين هذين العلمين في صدر الدولة الإسلامية.

وقد ورد أصل الحادثة وذكرها بإجمال عند أصحاب المصنفات وجاء ذكرها بالتفصيل عند المؤرخين وقد يعود ذلك إلى أن الأولين يشترطون علواً ودقة في الإِسناد أكثر من المؤرخين، وهو ما ظل يراعيه أصحاب الصحاح وتساهل فيه المؤرخون.
ভূমিকা

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য এবং শান্তি ও আশীর্বাদ বর্ষিত হোক তাঁর ওপর যাঁর পরে আর কোনো নবী নেই—মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ এবং তাঁর পরিবার ও সহচরদের ওপর।

মুসান্নাফাত, সহিহ এবং সুনান গ্রন্থসমূহ প্রাথমিক ইসলামি ইতিহাসের উৎসগুলোর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়। এগুলোতে কোনো না কোনো বিজয় (فتح), যুদ্ধ (غزوة), সেনাদল প্রেরণ (سرية) অথবা কোনো পরিস্থিতির বর্ণনা, ঘটনা, স্থান কিংবা কোনো খলিফা, সেনাপতি বা গভর্নরের বক্তব্য অবশ্যই উল্লেখ থাকে—যাঁদের জীবনচরিত এতে বর্ণিত হয়েছে। ফলে এগুলো ঐতিহাসিক উৎসগুলোতে উল্লিখিত বর্ণনার বিস্তারিত বিবরণ বাড়িয়ে দেয় অথবা এর সপক্ষে অন্য কোনো সামঞ্জস্যপূর্ণ চিত্র তুলে ধরে সেটিকে শক্তিশালী করে। কখনও এতে অতিরিক্ত তথ্য থাকে যা বিষয়টিকে আরও স্পষ্ট করে, আবার কখনও ভিন্ন তথ্য থাকে যা সেই বিষয়ের অধ্যয়ন ও অবস্থানের ওপর পুনঃপর্যালোচনার সুযোগ তৈরি করে। তাই এসব গ্রন্থে বিদ্যমান ঐতিহাসিক বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে এগুলোর শরণাপন্ন না হওয়া একটি পদ্ধতিগত ত্রুটি হিসেবে গণ্য হয়, যা উপাত্তের পূর্ণতালাভে অন্তরায় এবং এর ফলে গবেষণার ফলাফল অপূর্ণ থেকে যায়। যদিও বর্তমানে সহিহ গ্রন্থসমূহ ঐতিহাসিকদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে এবং ঐতিহাসিক ঘটনাবলি বর্ণনার ক্ষেত্রে এগুলোর কর্মপদ্ধতি নিয়ে গবেষণাও শুরু হয়েছে, তবুও অন্যান্য অনেক হাদিস গ্রন্থ এখনও আধুনিক ঐতিহাসিকদের কাছ থেকে একই ধরনের গুরুত্ব পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। কেননা এগুলো বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনার বহুবিধ দিক জানার এক বিশাল ক্ষেত্র।

আধুনিক ঐতিহাসিক গবেষণায় হাদিস ভিত্তিক উৎসের অনুপস্থিতি একটি অমার্জনীয় পদ্ধতিগত সীমাবদ্ধতা। এখন সময় এসেছে সেই বিস্তৃত ব্যবধান ঘুচিয়ে দেওয়ার এবং ইসলামি রাষ্ট্রের সূচনালগ্নে এই দুই শাস্ত্রের মধ্যে বিদ্যমান পারস্পরিক আন্তঃসম্পর্ক ও সমন্বয়কে পুনরুজ্জীবিত করার।

ঘটনার মূল সূত্র ও এর সংক্ষিপ্ত বিবরণ মুসান্নাফাত সংকলকদের কাছে বর্ণিত হয়েছে এবং ঐতিহাসিকদের বর্ণনায় তা বিস্তারিতভাবে এসেছে। এর কারণ হতে পারে যে, হাদিস শাস্ত্রের পূর্বসূরিগণ সনদের (إسناد) উচ্চমান (علو) এবং সূক্ষ্মতার ব্যাপারে ঐতিহাসিকদের তুলনায় অনেক বেশি কঠোর শর্তারোপ করতেন; যা সহিহ গ্রন্থপ্রণেতারা সর্বদা রক্ষা করেছেন কিন্তু ঐতিহাসিকগণ এ ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শন করেছেন।
(খণ্ড: ১) আত-তারীখ ইনদা ইবনু আবী শায়বাহ (পৃষ্ঠা: ৫৬২)
تم إن طبيعة الاختصاص اقتضت التفصيل عند المؤرخين واقتضت الإيجاز عند الآخرين.

وكان أبو بكر بن أبي شيبة (ت 235 هـ) علماً من أعلام المصنفين في الحديث، وشيخاً لِلإمامين البخاري ومسلم، وأحد رواة الصحيحين الثقاة سواء في المرويات التي أشير لها في البحث أو غيرها. وقد روىَ عنه البخاري في عدة مواضع ولا سيما في كتاب المغازي.

ولكن قليلاً من أهل الاختصاص في التاريخ بل كثير من القراء يعرفونه مؤرخاً ومن ثم كانت مؤلفاته التاريخية المبكرة والثقة في مؤلفها وقيمة المنهج الذي اتبعه منها مصدراً مهماً لبعض المصادر التاريخية المشهورة كالبلاذري والطبري والخطيب البغدادي.

وإذا كان بعضهم سبق ابن أبي شيبة بذكر روايات تلك الحوادث أو أنها جاءت في مصادر أخرى فإن سبقه بها الكثيرين أيضاً، والثقة فيه تحتم الإفادة الكبيرة من مروياته فيها.

ولذا فإن عرض كثير من المرويات والأخبار الواردة في المصادر الأخرى على ما أورد ابن أبي شيبة، كل في موضوعه ومقارنتها سيثري الدراسة التاريخية في مجالاتها لا من حيث القيمة المصدرية لمادتها فحسب وإنما من حيث المضمون والنتائج لها.

وعند مقارنة أهميتها التاريخية نجد أن حجم مادة الغزوات عنده يوازي تقريباً ما ورد عنها عند ابن سعد على الرغم من أن هناك غزوات لم يرو فيها ابن أبي شيبة شيئاً.

فإذا أدركنا اختلافه في طرق الإِسناد والمتن في كثير من المواضيع التاريخية عنِ الآخرين ولا سيما المؤرخين فإن ذلك يثرى البحث فيها، ويتيح مجالا واسعاً للمقارنة بينهما.
বস্তুত বিশেষায়িত শাস্ত্রের প্রকৃতি ঐতিহাসিকদের ক্ষেত্রে বিস্তারিত বর্ণনা এবং অন্যদের ক্ষেত্রে সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দাবি করে।

আবু বকর ইবনে আবি শায়বা (মৃত্যু ২৩৫ হি.) ছিলেন হাদিস সংকলকদের মধ্যে অন্যতম এক উজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব এবং ইমাম বুখারি ও ইমাম মুসলিমের উস্তাদ। তিনি বুখারি ও মুসলিম—উভয় গ্রন্থের অন্যতম নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারীদের (رواة) একজন, চাই তা এই গবেষণায় উল্লিখিত বর্ণনাগুলোর ক্ষেত্রে হোক বা অন্যগুলোর ক্ষেত্রে। ইমাম বুখারি তাঁর থেকে বিভিন্ন স্থানে বর্ণনা করেছেন, বিশেষ করে কিতাবুল মাগাজি-তে।

তবে ইতিহাসের খুব কম বিশেষজ্ঞ এবং এমনকি অনেক সাধারণ পাঠকই তাঁকে ঐতিহাসিক হিসেবে চেনেন। সে কারণে তাঁর প্রাথমিক যুগের ঐতিহাসিক গ্রন্থসমূহ, লেখকের নির্ভরযোগ্যতা (ثقة) এবং তাঁর অনুসৃত পদ্ধতির গুরুত্ব—বালাজুরি, তাবারি এবং খতিব বাগদাদির মতো কিছু বিখ্যাত ঐতিহাসিক উৎসের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

যদি কেউ কেউ উক্ত ঘটনাসমূহের বর্ণনা (روايات) প্রদানের ক্ষেত্রে ইবনে আবি শায়বার পূর্বেই লিখে থাকেন অথবা সেগুলো অন্য কোনো উৎসে এসে থাকে, তবুও তিনিও অনেকের চেয়ে অগ্রগামী ছিলেন। আর তাঁর নির্ভরযোগ্যতা (ثقة) তাঁর এসকল বর্ণনা (مرويات) থেকে ব্যাপক উপকৃত হওয়াকে অপরিহার্য করে তোলে।

অতএব, অন্যান্য উৎসে বর্ণিত অনেক বর্ণনা (مرويات) এবং সংবাদকে ইবনে আবি শায়বার বর্ণিত তথ্যের সাথে উপস্থাপন করা—যার যার বিষয়বস্তু অনুযায়ী—এবং সেগুলোর মধ্যে তুলনা করা ঐতিহাসিক গবেষণার ক্ষেত্রকে সমৃদ্ধ করবে; কেবল তথ্যের উৎসগত মূল্যের দিক থেকেই নয়, বরং এর বিষয়বস্তু এবং ফলাফলের দিক থেকেও।

যখন এর ঐতিহাসিক গুরুত্বের তুলনা করা হয়, তখন আমরা দেখি যে তাঁর নিকট 'গাজওয়াত' বা যুদ্ধ সংক্রান্ত তথ্যের পরিমাণ প্রায় ইবনে সা'দ-এর বর্ণিত তথ্যের সমান, যদিও এমন কিছু যুদ্ধ রয়েছে যে সম্পর্কে ইবনে আবি শায়বা কিছুই বর্ণনা করেননি।

আমরা যদি অনেক ঐতিহাসিক বিষয়ে অন্যদের, বিশেষ করে ঐতিহাসিকদের তুলনায় তাঁর সনদ (إسناد) ও মতন (متن)-এর ভিন্নতা উপলব্ধি করতে পারি, তবে তা এ সংক্রান্ত গবেষণাকে সমৃদ্ধ করবে এবং উভয়ের মধ্যে তুলনার একটি বিস্তৃত ক্ষেত্র তৈরি করবে।
(খণ্ড: ১) আত-তারীখ ইনদা ইবনু আবী শায়বাহ (পৃষ্ঠা: ৫৬৩)
ورغم شهرته عند المؤرخين الأوائل واعتمادهم عليه فإنه لم يحظ بالاهتمام المرجعي في الدراسات التاريخية الحديثة.

ولهذا جاءت هذه الدر اسه في محاولة للفت أنظار الباحثين المحدثين في التاريخ إلى أهمية مؤلفات ابن أبي شيبة التاريخية وضرورة تأسيهم بأسلافهم الذين أدركوا تلك الأهمية والمنزلة السامية لمؤلفها في الاعتماد عليها في كثير من فروع التاريخ وأبواب التأليف فيه.
আদি ইতিহাসবেত্তাদের নিকট তাঁর সুখ্যাতি এবং তাঁদের তাঁর ওপর নির্ভরতা থাকা সত্ত্বেও আধুনিক ঐতিহাসিক গবেষণায় তিনি তথ্যসূত্র হিসেবে যথাযোগ্য গুরুত্ব পাননি।

এ কারণেই বর্তমান গবেষণাটি ইতিহাসের আধুনিক গবেষকদের দৃষ্টি ইবনে আবি শায়বার ঐতিহাসিক রচনাবলির গুরুত্বের প্রতি নিবদ্ধ করার একটি প্রয়াস। সেই সাথে তাঁদের পূর্বসূরিদের পদাঙ্ক অনুসরণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে, যাঁরা ইতিহাসের বহু শাখা এবং গ্রন্থ রচনার ক্ষেত্রে এই রচয়িতার উচ্চ মর্যাদা ও তাঁর রচনাবলির ওপর নির্ভর করার গুরুত্ব অনুধাবন করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) আত-তারীখ ইনদা ইবনু আবী শায়বাহ (পৃষ্ঠা: ৫৬৩)
‌‌باب: ابن أبي شيبة

…

ابن أبي شيبة:

هو أبو بكر عبد الله بن محمد بن أبي شيبة العبسي، ولد بالكوفة سنه 159 هـ 1 ونشأ وتعلم بها، ثم رحل إلى البصرة وبغداد ومكة والمدينة2. وكان من بيت علم اشتهر منه أخواه عثمان والقاسم وابنه إبراهيم بن أبي بكر وابن أخيه محمد بن عثمان بن أبي شيبة3.

ومن أشهر من تلقى العلم وروى الحديث عنهم شريح بن عبد الله القاضي وعبد لله ابن المبارك ووكيع ابن الجراح وأخوه عثمان ابن أبي شيبة، وآخرون غيرهم4 أكثر من رواية التاريخ عنهم مثل عبد الله بن إدريس وأبي أسامة.

أما أشهر من تلقى عنه فهم الشيخان الإمام البخاري ومسلم، وأبو داود وابن ماجه، والإِمام أحمد وابنه عبد الله والإِمام إبراهيم الحربي وآخرون كثيرون5.

ووصفه الإِمام البخاري بأنه من أقران أحمد بن حنبل وإسحاق بن راهويه

--------------------------------------------

1 الخطيب البغدادي: تاريخ بغداد ج10 ص66.

2 نفسه.

3 الذهبي: سير أعلامء النبلاء ج11 ص122-123.

4 الخطيب البغدادي: تاريخ بغداد ج10 ص66.

5 البخاري: كتاب التاريخ الصغير ج2 ص333.
‌অনুচ্ছেদ: ইবনে আবি শাইবাহ

…

ইবনে আবি শাইবাহ:

তিনি হলেন আবু বকর আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবি শাইবাহ আল-আবসি। তিনি ১৫৯ হিজরিতে ১ কুফায় জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই বেড়ে ওঠেন ও শিক্ষা লাভ করেন। অতঃপর তিনি বসরা, বাগদাদ, মক্কা ও মদিনায় সফর করেন ২। তিনি এমন একটি ইলমি (বিদ্বান) পরিবারের সদস্য ছিলেন যেখান থেকে তার দুই ভাই উসমান ও কাসিম, তার পুত্র ইব্রাহিম ইবনে আবি বকর এবং তার ভ্রাতুষ্পুত্র মুহাম্মদ ইবনে উসমান ইবনে আবি শাইবাহ প্রসিদ্ধি লাভ করেছিলেন ৩।

যাদের নিকট থেকে তিনি ইলম অর্জন করেছেন এবং হাদিস বর্ণনা (رواية) করেছেন তাদের মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ হলেন শুরাইহ ইবনে আবদুল্লাহ আল-কাদি, আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক, ওয়াকি ইবনুল জাররাহ এবং তার ভাই উসমান ইবনে আবি শাইবাহ। এ ছাড়া আরও অনেকে রয়েছেন ৪ যাদের নিকট থেকে তিনি ইতিহাসের বর্ণনা (رواية) অধিক মাত্রায় গ্রহণ করেছেন, যেমন আবদুল্লাহ ইবনে ইদ্রিস ও আবু উসামাহ।

আর যারা তার নিকট থেকে ইলম অর্জন করেছেন তাদের মধ্যে প্রসিদ্ধ হলেন শায়খাইন (দুই ইমাম) ইমাম বুখারি ও মুসলিম, আবু দাউদ ও ইবনে মাজাহ, ইমাম আহমদ ও তার পুত্র আবদুল্লাহ, ইমাম ইব্রাহিম আল-হারবি এবং আরও অনেকে ৫।

ইমাম বুখারি তাকে আহমদ ইবনে হাম্বল ও ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ-এর সমসাময়িক (أقران) হিসেবে অভিহিত করেছেন।

--------------------------------------------

১ আল-খাতিব আল-বাগদাদি: তারিখ বাগদাদ, ১০ম খণ্ড, ৬৬ পৃষ্ঠা।

২ প্রাগুক্ত।

৩ আয-যাহাবি: সিয়ারু আলামিন নুবালা, ১১শ খণ্ড, ১২২-১২৩ পৃষ্ঠা।

৪ আল-খাতিব আল-বাগদাদি: তারিখ বাগদাদ, ১০ম খণ্ড, ৬৬ পৃষ্ঠা।

৫ বুখারি: কিতাবুত তারিখুস সাগির, ২য় খণ্ড, ৩৩৩ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) আত-তারীখ ইনদা ইবনু আবী শায়বাহ (পৃষ্ঠা: ৫৬৪)
ويحيى بن معين وعلي بن المديني1، وقال الذهبي في السن والمولد والحفظ 2.

وقال يحي بن معين والإمام أحمد: إنه صدوق3. ووصفه الذهبي بالحافظ الكبير الحجة، وأن إليه المنتهى في الثقة4. نظراً لما عرف عنه من قوة الحفظ حتى كان فيه مضرب المثل.

عصره:

عاش ابن أبي شيبة ما بين منتصف القرن الثاني والثالث أي في العصر العباسي الأول، وأدرك من خلفائه الرشيد والأمين والمأمون والمعتصم والواثق وبداية عهد المتوكل. وكان المتوكل يقربه ضمن من قرب من علماء الدولة، وفي سنه 234 هـ ندبه في الرد على المعتزلة في قولهم بخلق القرآن، فجلس ابن أبي شيبة يفند آراءهم في مسجد الرصافة ببغداد فاجتمع عليه نحو من ثلاثين ألفاً5. ويدل ذلك على غزارة علمه ومكانته بين الناس حتى يحضر دروسه مثل هذا العدد.

وتوفي رحمه الله ببغداد سنة 235 هـ6.

كما عاش ابن أبي شيبة في هذا العصر، وهو عصر نضج التدوين والتأليف في مختلف العلوم الإسلامية، عاش فيه الأئمة الأربعة والإمام البخاري ومسلم وعبد الله بن المبارك.. وغيرهم كثير. وهو أيضاً عصر التأليف التاريخي وآخر مراحل اتصاله بعلم الحديث بعد أن كانا صنوي نشأة ومنهج وقتاً طويلاً.

--------------------------------------------

1 البخاري. كتاب التاريخ الصغير ج2 ص332-333.

2 سير أعلام النبلاء ج11 ص- 122.

3 المصدر السابق: ج11 ص123-124.

4 الذهبي: ميزان الاعتدال ج2 ص490.

5 الخطيب البغدادي: تاريخ بغداد ج10 ص67.

6 البخاري: كتاب التاريخ الصغير ج2 ص335.
এবং ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন ও আলী ইবনুল মাদিনি ১, এবং ইমাম যাহাবি তার বয়স, জন্ম ও স্মৃতিশক্তি (الحفظ) সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন ২।

এবং ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন ও ইমাম আহমদ বলেছেন: নিশ্চয়ই তিনি সত্যবাদী (صدوق) ৩। যাহাবি তাকে ‘মহান হাফেজ’ (الحافظ الكبير) ও ‘দলিল বা প্রমাণস্বরূপ’ (الحجة) হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন যে, নির্ভরযোগ্যতার (الثقة) ক্ষেত্রে তিনি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছেন ৪। এটি তার প্রখর স্মৃতিশক্তির (الحفظ) কারণে, যার জন্য তিনি প্রবাদতুল্য হয়ে উঠেছিলেন।

তার যুগ:

ইবনে আবি শায়বাহ দ্বিতীয় হিজরি শতাব্দীর মাঝামাঝি থেকে তৃতীয় শতাব্দীর মাঝামাঝি পর্যন্ত অর্থাৎ প্রথম আব্বাসীয় যুগে বসবাস করেছেন। তিনি খলিফাদের মধ্যে হারুনুর রশিদ, আমিন, মামুন, মুতাসিম, ওয়াসিক এবং মুতাওয়াক্কিলের শাসনের শুরুটা পেয়েছিলেন। মুতাওয়াক্কিল তাকে রাষ্ট্রের সেই আলেমদের মধ্যে স্থান দিয়েছিলেন যাদের তিনি ঘনিষ্ঠ মনে করতেন। ২৩৪ হিজরিতে খলিফা তাকে মুতাজিলাদের ‘কুরআন সৃষ্টির’ মতবাদের প্রতিবাদ করার জন্য নিয়োগ করেন। ফলে ইবনে আবি শায়বাহ বাগদাদের রুসাফা মসজিদে তাদের মতবাদ খণ্ডন করতে বসেন এবং তার কাছে প্রায় ত্রিশ হাজার মানুষ সমবেত হন ৫। এটি তার অগাধ পাণ্ডিত্য এবং মানুষের মধ্যে তার সুউচ্চ মর্যাদার প্রমাণ দেয়, যার ফলে তার দরসে এত বিশাল জনসমাগম হতো।

তিনি ২৩৫ হিজরিতে বাগদাদে ইন্তেকাল করেন (আল্লাহ তার ওপর রহম করুন) ৬।

ইবনে আবি শায়বাহ এমন এক যুগে বসবাস করেছেন যা ছিল বিভিন্ন ইসলামি শাস্ত্র সংকলন ও গ্রন্থনার পরিপক্কতার যুগ। এই যুগে চার ইমাম, ইমাম বুখারি, মুসলিম, আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক এবং আরও অনেকে জীবিত ছিলেন। এটি ইতিহাস রচনারও যুগ ছিল এবং দীর্ঘকাল উৎপত্তি ও পদ্ধতির দিক থেকে অভিন্ন থাকার পর এটি ছিল হাদিস শাস্ত্রের সাথে ইতিহাসের সম্পৃক্ততার শেষ পর্যায়।

--------------------------------------------

১ বুখারি। কিতাবুত তারিখুস সাগির, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৩৩২-৩৩৩।

২ সিয়ারু আলামিন নুবালা, খণ্ড ১১, পৃষ্ঠা ১২২।

৩ প্রাগুক্ত উৎস: খণ্ড ১১, পৃষ্ঠা ১২৩-১২৪।

৪ যাহাবি: মিযানুল ইতিদাল, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৪৯০।

৫ খাতিব বাগদাদি: তারিখু বাগদাদ, খণ্ড ১০, পৃষ্ঠা ৬৭।

৬ বুখারি: কিতাবুত তারিখুস সাগির, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৩৩৫।
(খণ্ড: ১) আত-তারীখ ইনদা ইবনু আবী শায়বাহ (পৃষ্ঠা: ৫৬৫)
ولهذا عاصر ابن أبي شيبة عدداً من المؤرخين الذين كانوا أعلاماً وقتذاك ولكنهم اشتهروا في التاريخ أكثر من غيره إلى جانب تبريز بعضهم في علوم أخرى مثل ابن إسحاق وابن هشام وابن سعد وخليفة بن خياط وعمر بن شبة ومصعب الزبيري.

وإذا كان عصره لا يزال يمثل اتصال التاريخ بعلم الحديث ولما كان ابن أبي شيبة من علماء الحديث، فإن كتابته للتاريخ كانت متأثرة بذلك منهجاًَ وغاية، فقد ضمن عدد من معاصريه من المحدثين كتبهم أبواباً في التاريخ حيث كانت المغازي باباً ثابتاً في مؤلفاتهم فجاءت مثلاً عند الصنعاني في مصنفه والبخاري ومسلم في صحيحيهما في الوقت الذي كثر فيه التأليف التاريخي المستقل، وظهر فيه الخروج على قواعد منهج المحدثين فيما يتعلق بالدقة والتحري، وبقي فيه بعض ضوابطه كالسند وهو منحى مهم يزيد في قيمة الكتابة التاريخية عندما تكون في هذا الوقت من مثل هذا العلم، وحسب التاريخ أن يكتب فيه مثله.

إن الإغراض في التأليف التاريخي والتساهل في السند كان حافزاً مهماً للمحدثين، ولبعض المؤرخين، لكتابة التاريخ على منهج تدوين الحديث والإبقاء عليه، مثلما فعل الطبري في تاريخه فيما بعد.

وعلى الرغم من استقرار منهج المحدثين رواية ودراية في علمهم وقتذاك، إلا أنه في تدوين التاريخ لم يكن بنفس القوة والتطبيق، فقد شاح عنه المؤرخون منذ ذلك الوقت وتحففوا منه ثم تركوه في العصور التالية.

ولكن بقي بعض المحدثين خلال القرن الثالث يعقلون به تدوين التاريخ وعلى رأسهم ابن أبي شيبة.
এই কারণে ইবনে আবি শায়বাহ এমন একদল ঐতিহাসিকের সমসাময়িক ছিলেন যারা তৎকালীন সময়ে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তবে তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ অন্যান্য শাস্ত্রে পারদর্শিতা অর্জন করলেও তাঁরা ইতিহাসের মাধ্যমেই অধিক প্রসিদ্ধি লাভ করেছিলেন; যেমন: ইবনে ইসহাক, ইবনে হিশাম, ইবনে সাদ, খলিফা বিন খাইয়াত, উমর বিন শাব্বাহ এবং মুসআব আল-জুবায়রি।

যেহেতু তাঁর যুগটি তখনও হাদিস বিজ্ঞানের সাথে ইতিহাসের সংযোগের প্রতিনিধিত্ব করছিল এবং ইবনে আবি শায়বাহ যেহেতু হাদিস শাস্ত্রের অন্যতম পণ্ডিত ছিলেন, তাই তাঁর ইতিহাস লিখন পদ্ধতি ও লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের ওপর সেই শাস্ত্রের প্রভাব ছিল। তাঁর সমসাময়িক অনেক মুহাদ্দিস তাঁদের কিতাবসমূহে ইতিহাসের জন্য বিভিন্ন পরিচ্ছেদ অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন, যেখানে 'আল-মাগাজি' (যুদ্ধাভিযান) ছিল তাঁদের রচনার একটি স্থায়ী অধ্যায়। উদাহরণস্বরূপ, আস-সানআনির মুসান্নাফ এবং বুখারি ও মুসলিমের সহিহদ্বয়ে এটি পরিলক্ষিত হয়। এমন এক সময়ে এটি ঘটেছিল যখন স্বতন্ত্র ইতিহাস রচনার ব্যাপকতা বৃদ্ধি পাচ্ছিল এবং সূক্ষ্মতা ও অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে মুহাদ্দিসগণের অনুসৃত মূলনীতি থেকে বিচ্যুতি দেখা দিচ্ছিল। তবে সেখানে কিছু নিয়ম-নীতি তখনও বিদ্যমান ছিল যেমন: সনদ (السند), যা একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। যখন এই পর্যায়ের কোনো বিদগ্ধ পণ্ডিতের পক্ষ থেকে ইতিহাস চর্চা করা হয়, তখন তা ঐতিহাসিক রচনার মান বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। আর ইতিহাসের জন্য এটিই যথেষ্ট যে তাঁর মতো ব্যক্তিত্ব ইতিহাস রচনা করছেন।

ঐতিহাসিক রচনার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য নিহিত থাকা এবং সনদ (السند) এর ক্ষেত্রে শিথিলতা (التساهل) প্রদর্শন করা মুহাদ্দিসগণের জন্য এবং কিছু ঐতিহাসিকের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দীপক ছিল, যাতে তাঁরা হাদিস সংকলনের পদ্ধতিতে ইতিহাস রচনা করেন এবং তা টিকিয়ে রাখেন; যেমনটি পরবর্তীতে তবারি তাঁর ইতিহাসে করেছেন।

তৎকালীন সময়ে হাদিসশাস্ত্রে মুহাদ্দিসগণের রেওয়ায়েত (رواية) ও দিরায়াহ (دراية) সংক্রান্ত পদ্ধতি সুপ্রতিষ্ঠিত থাকলেও ইতিহাস সংকলনের ক্ষেত্রে তা একই শক্তিতে প্রয়োগ করা হয়নি। সেই সময় থেকেই ঐতিহাসিকগণ তা থেকে বিমুখ হতে শুরু করেন এবং একে হালকাভাবে গ্রহণ করে পরবর্তী যুগে তা বর্জন করেন।

কিন্তু তৃতীয় শতাব্দীতে কিছু মুহাদ্দিস ইতিহাস সংকলনের ক্ষেত্রে সেই পদ্ধতিটি আঁকড়ে ধরেছিলেন, যাদের মধ্যে ইবনে আবি শায়বাহ ছিলেন অগ্রগণ্য।
(খণ্ড: ১) আত-তারীখ ইনদা ইবনু আবী শায়বাহ (পৃষ্ঠা: ৫৬৬)
مؤلفاته:

ألف ابن أبي شيبة عدداً من الكتب، هي كتاب السنن في الفقه، وكتاب التفسير، وكتاب المسند في الحديث1.

ولم يذكر المتقدمون مثل النديم صاحب الفهرست والخطيب البغدادي أن له كتاباً اسمه المصنف في الحديث بينما ذكره المؤرخون كابن كثير 2 وحاجي خليفة3 وإسماعيل البغدادي4.

حتى أن النديم لم يذكر كتاباً لأي مؤلف بهذا الاسم، وأكثر من ذكر أسماء الكتب المتفقة مع مؤلفاته هذه في الاسم بما فيها المسند سواء لعلماء سبقوه أو عاصروه، ومناقشة ذلك خارج هذا الموضوع.

أما مؤلفاته التاريخية، فيذكر النديم إنها كتاب التاريخ، وكتاب الفتن، وكتاب صفين، وكتاب الجمل، وكتاب الفتوح. ولم يذكر الخطيب البغدادي شيئاً منها.

وكانت موضوعاته من أغراض التأليف المهمة في التاريخ، وقد ألف فيها الكثير مثل أبي مخنف (ت 157هـ) 5 والواقدي (ت 207 هـ) 6 ونصر بن مزاحم المنقري (ت 212 هـ) 7 وعلي بن محمد المدائني (ت 225 هـ) 8 وعمر بن شبة (ت 262 هـ) 9.

--------------------------------------------

1 النديم: الفهرست 285؛ الخطيب البغدادي: تاريخ بغداد ج10 ص66.

2 البداية النهاية: ج10 ص315. وزاد ابن كثير: "ولم يصنف أحد مثله قط لا قبله ولا بعده". ج10 ص356.

3 كشف الظنون ج2 ص1311.

4 هدية العارفين ج1 ص440.

5 النديم ص105.

6 المصدر السابق ص111.

7 ياقوت: معجم الأدباء ج7 ص210.

8 النديم ص114.

9 المصدر السابق ص125.
তাঁর রচনাবলি:

ইবনে আবি শায়বাহ বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করেছেন, সেগুলো হলো ফিকহ শাস্ত্রে কিতাবুস সুনান, কিতাবুত তাফসির এবং হাদিস শাস্ত্রে কিতাবুল মুসনাদ১।

আল-ফিহরিস্ত গ্রন্থের রচয়িতা নাদিম এবং খতিব আল-বাগদাদির মতো পূর্বসূরি (متقدمون) পণ্ডিতগণ উল্লেখ করেননি যে, হাদিস শাস্ত্রে তাঁর মুসান্নাফ নামে কোনো গ্রন্থ রয়েছে; অথচ ইবনে কাসির২, হাজি খলিফা৩ এবং ইসমাইল বাগদাদির৪ মতো ঐতিহাসিকগণ এটি উল্লেখ করেছেন।

এমনকি নাদিম এই নামে কোনো লেখকের কোনো গ্রন্থের কথা উল্লেখ করেননি, অথচ তিনি তাঁর সমসাময়িক বা পূর্বসূরি আলেমদের একই নামের গ্রন্থসমূহ, এমনকি মুসনাদ সম্পর্কেও বিস্তারিত আলোচনা করেছেন; তবে এ বিষয়ে আলোচনা বর্তমান প্রসঙ্গের বাইরে।

তাঁর ইতিহাস বিষয়ক রচনাবলির ক্ষেত্রে নাদিম উল্লেখ করেছেন যে, সেগুলো হলো কিতাবুত তারিখ, কিতাবুল ফিতান, কিতাবুত সিফফিন, কিতাবুল জামাল এবং কিতাবুল ফুতুহ। তবে খতিব আল-বাগদাদি এগুলোর কোনোটিই উল্লেখ করেননি।

তাঁর আলোচিত বিষয়গুলো ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ সংকলন (تصنيف) পদ্ধতির অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই বিষয়ে আবু মিখনাফ (মৃত ১৫৭ হি.)৫, ওয়াকিদি (মৃত ২০৭ হি.)৬, নাসর বিন মুজাহিম আল-মিনকারি (মৃত ২১২ হি.)৭, আলি বিন মুহাম্মদ আল-মাদায়িনি (মৃত ২২৫ হি.)৮ এবং উমর বিন শাব্বাহর (মৃত ২৬২ হি.)৯ মতো অনেকেই গ্রন্থ রচনা করেছেন।

--------------------------------------------

১ নাদিম: আল-ফিহরিস্ত ২৮৫; খতিব আল-বাগদাদি: তারিখ বাগদাদ, ১০ম খণ্ড, ৬৬ পৃষ্ঠা।

২ আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া: ১০ম খণ্ড, ৩১৫ পৃষ্ঠা। ইবনে কাসির আরও সংযোজন করেছেন: "এবং তাঁর আগে বা পরে কেউই কখনো এর মতো সংকলন (تصنيف) করেনি।" ১০ম খণ্ড, ৩৫৬ পৃষ্ঠা।

৩ কাশফুয যুনুন, ২য় খণ্ড, ১৩১১ পৃষ্ঠা।

৪ হাদিয়াতুল আরিফিন, ১ম খণ্ড, ৪৪০ পৃষ্ঠা।

৫ নাদিম, পৃষ্ঠা ১০৫।

৬ পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ১১১।

৭ ইয়াকুত: মু'জামুল উদাবা, ৭ম খণ্ড, ২১০ পৃষ্ঠা।

৮ নাদিম, পৃষ্ঠা ১১৪।

৯ পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ১২৫।
(খণ্ড: ১) আত-তারীখ ইনদা ইবনু আবী শায়বাহ (পৃষ্ঠা: ৫৬৭)
أما من المحدثين فقد ضمن كل من الصنعاني والبخاري ومسلم مؤلفاتهم أبواباً في التاريخ كالمغازي والسيرة النبوية ولكنها تقل عدداً عما ورد عند ابن أبي شيبه.

وقد اشتمل كتابه المصنف في الحديث على كتبه التاريخية السابقة1 أو هكذا وصلتنا والسؤال هل كان كل واحد منها كتاباً مستقلاً، ثم ضمت إلى المصنف وأصبح الرجوع إليها يتم من خلاله.

ولما كان عددها يبلغ خمسة كتب بعضها في حجم مجلد صغير وآخر متوسط فإنه يصعب قبول أن تكون أبواباً في المصنف لاسيما وأن النص واضح من قبل أن ابن أبي شيبة نفسه على تسميتها بالكتب وأن بعضها يتألف من عدة أبواب.

وإذا كان كتابا الفتن والمغازي هي ما تشتمل عليه كتب الحديث في الغالب على غرار مصنف الصنعاني والصحيحين مثلا، فإن كتب صفين والجمل والتاريخ والفتوح هي مما لم يألفه التأليف الحديثي ومن ثم عدم اشتماله على هذه المؤلفات كتباً أو أبواباً.

كذلك جاء في ترتيب كتاب التاريخ عند ابن أبي شيبة قبل كتاب المغازي، وهذا خلاف التسلسل الزمني والسياق الموضوعي للأحداث ولا أخال إلا أنه مقتحم بين كتاب الجهاد وكتاب المغازي. واتصال الكتابين يتطلب تتابعهما بدون فصل على غرار ورودهما كذلك عند الصنعاني في مصنفه، ولكن قد يكون ذلك ومن خطأ أحد النساخ، لكنه يدعم أن كتاب التاريخ كان مستقلاً عن المصنف ثم وضع إليه في أحد العصور.

كما أن إشارة النديم بأن له كتاباً اسمه الفتوح، وهو ما تؤكده دلالة كثرة

1 جاء كتاب التاريخ في ج12 ص547 وج13 ص5، وجاء كتاب المغازي في ج14 ص283، وجاء كتاب الفتن ج15 ص5، وجاء كتاب الجمل في ج15 ص248، أما كتاب صفين وسماه ما ذكر في صفين فجاء في ج15 ص288.
হাদিস বিশারদগণের (المحدثين) মধ্যে সানআনি, বুখারি এবং মুসলিম প্রত্যেকেই তাঁদের সংকলনগুলোতে ইতিহাসের কিছু অধ্যায় (أبواباً), যেমন—যুদ্ধাভিযান এবং নববী সীরাত অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তবে ইবনে আবি শায়বার গ্রন্থে বর্ণিত বিষয়গুলোর তুলনায় এগুলোর সংখ্যা কম।

তাঁর হাদিসের মুসান্নাফ গ্রন্থটি তাঁর পূর্বোক্ত ঐতিহাসিক কিতাবগুলো ধারণ করেছে অথবা আমাদের কাছে এভাবেই পৌঁছেছে। এখন প্রশ্ন হলো, এগুলোর প্রতিটি কি স্বতন্ত্র কিতাব ছিল যা পরবর্তীতে মুসান্নাফ-এর সাথে যুক্ত করা হয়েছে এবং বর্তমানে সেগুলোর উদ্ধৃতি বা রেফারেন্স এই মুসান্নাফ-এর মাধ্যমেই প্রদান করা হয়?

যেহেতু এগুলোর সংখ্যা পাঁচটি কিতাব পর্যন্ত পৌঁছায়—যার কোনটি ছোট খণ্ডের আকারের এবং কোনটি মাঝারি আকারের—তাই এগুলোকে মুসান্নাফ-এর নিছক কিছু অধ্যায় (أبواباً) হিসেবে গ্রহণ করা কঠিন। বিশেষ করে ইবনে আবি শায়বা স্বয়ং এগুলোকে ‘কিতাব’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং এগুলোর কোনটি আবার একাধিক অধ্যায়ের (أبواباً) সমন্বয়ে গঠিত।

যদি ‘কিতাবুল ফিতান’ এবং ‘কিতাবুল মাগাজি’ এমন বিষয় হয় যা সাধারণত সানআনির মুসান্নাফ এবং সহীহাইন-এর মতো হাদিস গ্রন্থগুলোতে অন্তর্ভুক্ত থাকে, তবে সিফফীন, জামাল, তারিখ এবং ফুতুহ সংক্রান্ত কিতাবগুলো হাদিস সংকলনের (التأليف الحديثي) প্রচলিত ধারার অন্তর্ভুক্ত নয়। তাই হাদিস গ্রন্থে কিতাব বা অধ্যায় (أبواباً) হিসেবে এগুলোর উপস্থিতি সচরাচর দেখা যায় না।

একইভাবে, ইবনে আবি শায়বার নিকট ‘কিতাবুত তারিখ’-এর বিন্যাস ‘কিতাবুল মাগাজি’-এর পূর্বে এসেছে, যা ঘটনাবলির কালানুক্রম এবং বিষয়ভিত্তিক ধারাবাহিকতার পরিপন্থী। আমার মনে হয় এটি ‘কিতাবুল জিহাদ’ এবং ‘কিতাবুল মাগাজি’-এর মাঝে কোনোভাবে অনুপ্রবিষ্ট হয়েছে। সানআনির মুসান্নাফ-এর বিন্যাসের ন্যায় এই দুটি কিতাবের পারম্পর্য কোনো বিচ্ছেদ ছাড়াই বজায় থাকা প্রয়োজন ছিল। তবে এটি কোনো অনুলিপিকারের ভুল হতে পারে, যা এই মতকে শক্তিশালী করে যে, ‘কিতাবুত তারিখ’ আসলে মুসান্নাফ থেকে আলাদা একটি স্বতন্ত্র কিতাব ছিল যা পরবর্তী কোনো যুগে এর সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে।

ইবনে নাদীমও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে তাঁর ‘আল-ফুতুহ’ নামে একটি কিতাব রয়েছে, যা প্রচুর বর্ণনার উপস্থিতির মাধ্যমে প্রমাণিত হয়...

১. কিতাবুত তারিখ এসেছে ১২তম খণ্ডের ৫৪৭ পৃষ্ঠায় এবং ১৩তম খণ্ডের ৫ পৃষ্ঠায়; কিতাবুল মাগাজি এসেছে ১৪তম খণ্ডের ২৮৩ পৃষ্ঠায়; কিতাবুল ফিতান এসেছে ১৫তম খণ্ডের ৫ পৃষ্ঠায়; কিতাবুল জামাল এসেছে ১৫তম খণ্ডের ২৪৮ পৃষ্ঠায়; আর কিতাবুত সিফফীন—যাকে তিনি ‘সিফফীন প্রসঙ্গে যা বর্ণিত হয়েছে’ নামে অভিহিত করেছেন—তা এসেছে ১৫তম খণ্ডের ২৮৮ পৃষ্ঠায়।
(খণ্ড: ১) আত-তারীখ ইনদা ইবনু আবী শায়বাহ (পৃষ্ঠা: ৫৬৮)
التأليف فيه خلال القرن الثالث ولم يصلنا باباً أو كتاباً مضموماً إلى المصنف مما يدعم أن كتبه التاريخية كانت مستقلة على الأرجح.

ويظهر أن كتاب الفتوح ليس الكتاب التاريخي الوحيد المفقود للمؤلف وإنما له مرويات من كتب أخرى مفقودة، فقد أورد البلاذري روايتين منقولة عن ابن أبي شيبة تتعلقان بوفاة فاطمة وسعد بن أبي وقاص- رضي الله عنهما-1 وسياقهما ما بين كتابين الفضائل والتاريخ له، إلا أنهما غير موجودتين في نسخة المصنف الحالية مما يشير إلى أن بعض رواياته التاريخية ضائعة.

ثم إن النديم عندما يذكر غير كتابي السنن والمسند لأحد المؤلفين اللذين شاع التأليف باسميهما كثيراً خلال القرن الثالث فمعنى ذلك أن بقية كتبه التي يذكرها ليست من أبواب أحدهما وإنما هي كتب مستقلة. فقد أورد لعبد الله بن المبارك كتاب السنن وكتاب التفسير وكتاب التاريخ2.

وذكر لإِسحاق بن راهويه (ت 238 هـ) كتاب السنن وكتاب المسند وكتاب التفسير3.

وذكر للإمام البخاري كتاب الصحيح وكتاب التاريخ الصغير والكبير.. الخ4. ولعلي المديني (ت 258 هـ) كتاب المسند وكتاب الضعفاء5.

وهذا ما يرجح عند الباحث أنها كتب أخرى له صمت لكتابه الكَبير المصنف في عصر من العصور حتى غدت كأنها أبواب منه، وسواء كانت كذلك أم مؤلفات مستقلة عنه فإنه ولله الحمد وصلتنا محتوياتها.

--------------------------------------------

1 البلاذري: أنساب الأشراف ج1 ص404-405.

2 النديم ص284.

3 المصدر السابق.

4 نفسه.

5 نفسه.
তৃতীয় শতাব্দীতে এই বিষয়ে (ইতিহাস) রচনা সম্পর্কিত কোনো পরিচ্ছেদ বা গ্রন্থ 'মুসান্নাফ'-এর অন্তর্ভুক্ত হিসেবে আমাদের কাছে পৌঁছেনি, যা এই মতকেই সমর্থন করে যে তার ঐতিহাসিক গ্রন্থগুলো সম্ভবত স্বতন্ত্র ছিল।

এটা প্রতীয়মান হয় যে 'কিতাবুল ফুতুহ' লেখকের একমাত্র বিলুপ্ত ঐতিহাসিক গ্রন্থ নয়, বরং তার অন্যান্য বিলুপ্ত গ্রন্থ থেকেও বিভিন্ন বর্ণনা (رواية) রয়েছে। আল-বালাজুরি ইবনে আবি শায়বা থেকে উদ্ধৃত দুটি বর্ণনা (رواية) উল্লেখ করেছেন যা ফাতিমা এবং সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর মৃত্যু সংক্রান্ত—এবং এগুলোর প্রেক্ষাপট তার 'ফাদায়িল' এবং 'তারিখ' গ্রন্থদ্বয়ের মাঝামাঝি। তবে 'মুসান্নাফ'-এর বর্তমান পাণ্ডুলিপিতে সেগুলো বিদ্যমান নেই, যা ইঙ্গিত দেয় যে তার কিছু ঐতিহাসিক বর্ণনা (رواية) হারিয়ে গেছে।

তাছাড়া আন-নাদিম যখন কোনো লেখকের ক্ষেত্রে 'সুনান' এবং 'মুসনাদ' ব্যতীত অন্য কোনো গ্রন্থের উল্লেখ করেন—যে দুটি শিরোনামে তৃতীয় শতাব্দীতে গ্রন্থ রচনার ব্যাপক প্রচলন ছিল—তখন এর অর্থ দাঁড়ায় যে, তার উল্লিখিত অবশিষ্ট গ্রন্থগুলো উক্ত দুটির কোনো পরিচ্ছেদ নয় বরং সেগুলো স্বতন্ত্র গ্রন্থ। যেমন তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মুবারকের 'সুনান', 'তাফসির' এবং 'তারিখ' গ্রন্থের কথা উল্লেখ করেছেন।

তিনি ইসহাক ইবনে রাহওয়ায়হ (মৃত্যু ২৩৮ হি.)-এর 'সুনান', 'মুসনাদ' এবং 'তাফসির' গ্রন্থের কথা উল্লেখ করেছেন।

তিনি ইমাম বুখারীর 'সহিহ', 'তারিখ আস-সাগির' ও 'তারিখ আল-কবির' ইত্যাদি এবং আলী আল-মাদিনী (মৃত্যু ২৫৮ হি.)-এর 'মুসনাদ' ও 'দুর্বল বর্ণনাকারী (الضعفاء)' বিষয়ক গ্রন্থের কথা উল্লেখ করেছেন।

গবেষকের নিকট এটাই অধিক গ্রহণযোগ্য মনে হয় যে, এগুলো তার অন্যান্য গ্রন্থ ছিল যা কোনো এক যুগে তার বৃহৎ গ্রন্থ 'মুসান্নাফ'-এর সাথে যুক্ত হয়ে গিয়েছিল, ফলে সেগুলো উক্ত গ্রন্থের পরিচ্ছেদ হিসেবে প্রতীয়মান হতে থাকে। তবে সেগুলো পরিচ্ছেদ হোক বা স্বতন্ত্র গ্রন্থ—আল্লাহর শুকরিয়া যে সেগুলোর বিষয়বস্তু আমাদের কাছে পৌঁছেছে।

--------------------------------------------

১. আল-বালাজুরি: আনসাবুল আশরাফ, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৪০৪-৪০৫।

২. আন-নাদিম, পৃষ্ঠা ২৮৪।

৩. পূর্বোক্ত উৎস।

৪. প্রাগুক্ত।

৫. প্রাগুক্ত।
(খণ্ড: ১) আত-তারীখ ইনদা ইবনু আবী শায়বাহ (পৃষ্ঠা: ৫৬৯)
‌‌باب: منهجه في كتاب التاريخ

…

منهجه في كتابة التاريخ:

فرَّق ابن أبي شيبة رحمه الله في كتابة التاريخ بين التاريخ بمعنى الأخبار والحوادث والأحوال، وبين التاريخ بمعنى التوقيت والتقويم، وأورد في كل منهما ما يناسبه، وقدم الأول وابتدأه بالحديث عن معركة اليمامة1 ثم ذكر بعده كثيراً من أخبار المعارك الإسلامية التالية مثل القادسية وتستر واليرموك.

وقد فَصَل ابن أبي شيبة بين أحداث المغازي، وبين أحداث التاريخ وعقد الحديث في الأولى عن الغزوات الإسلامية في عهد الرسول عليه السلام، بينما أورد أحداث المعارك في العهود التالية في كتاب التاريخ.

وقد يعود ذلك إلى أن مفهوم الفصل بين التاريخ والمغازي ظل قائماً حتى عصره.

ثم إنه لما كان مُحدثاً واتَّبع منهج أهل الحديث في كتابة التاريخ، فإن ترتيب موضوعات مصنفه اقتضى أن يقسم التاريخ إلى غزوات وأحداث عامة، وأن يجعل الغزوات تلي باب الجهاد مباشرة ثم يذكر بعدها حوادث تاريخ المسلمين ذات العلاقة كالمعارك والفتوح2.

كما أن هناك تشابهاً كبيراً في باب المغازي بين ابن أبي شيبة والإمام الصنعاني (ت 211 هـ) من أصحاب المصنفات، فهما يتحدثان فيه عن سيرة الرسول المبكرة مثل زواجه ونزول الوحي عليه، ثم يتحدثون فيه عن أوائل من أسلم من الصحابة، وقد توسع في ذلك ابن أبي شيبة أكثر من الصنعاني3.

وتبع هذا توسعه في المادة العلمية عن كل غزوة، بينما كان الإمام البخاري أكثر تحديداً وقصراً له على المغازي من الاثنين.

--------------------------------------------

1 ابن أبي شيبة ج12 ص547.

2 ابن أبي شيبة ج13 ص5-30.

3 ابن أبي شيبة ج14 ص310-539.
পরিচ্ছেদ: ইতিহাস গ্রন্থে তাঁর পদ্ধতি

…

ইতিহাস রচনায় তাঁর পদ্ধতি:

ইবনে আবি শাইবাহ (রহিমাহুল্লাহ) ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে সংবাদ, ঘটনা ও অবস্থার বর্ণনারূপে ইতিহাস এবং সময় নিরূপণ ও পঞ্জিকারূপে ইতিহাসের মধ্যে পার্থক্য করেছেন। তিনি উভয় ক্ষেত্রের জন্য যা প্রযোজ্য তা-ই উল্লেখ করেছেন। তিনি প্রথম বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন এবং ইয়ামামার যুদ্ধ১ সম্পর্কে আলোচনার মাধ্যমে এটি শুরু করেছেন। এরপর তিনি পরবর্তী ইসলামি যুদ্ধসমূহের অনেক বিবরণ উল্লেখ করেছেন, যেমন- আল-কাদিসিয়াহ, তুসতার এবং ইয়ারমুক।

ইবনে আবি শাইবাহ যুদ্ধাভিযান (المغازي)-এর ঘটনাবলি এবং ইতিহাসের ঘটনাবলির মধ্যে পার্থক্য করেছেন। প্রথম অংশে তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগের ইসলামি যুদ্ধাভিযানগুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন, অন্যদিকে ‘কিতাবুত তারিখ’-এ পরবর্তী যুগসমূহের যুদ্ধগুলোর বর্ণনা প্রদান করেছেন।

এর কারণ সম্ভবত এই যে, ইতিহাস এবং যুদ্ধাভিযান (المغازي)-এর মধ্যে পার্থক্যের এই ধারণাটি তাঁর যুগ পর্যন্ত প্রচলিত ছিল।

তাছাড়া, যেহেতু তিনি একজন হাদিস বিশারদ (محدث) ছিলেন এবং ইতিহাস রচনায় আহলে হাদিস (أهل الحديث)-দের পদ্ধতি অনুসরণ করেছিলেন, তাই তাঁর মুসান্নাফ-এর বিষয়বস্তুর বিন্যাস দাবি করে যে, তিনি ইতিহাসকে যুদ্ধাভিযান এবং সাধারণ ঘটনাবলিতে বিভক্ত করবেন এবং জিহাদ (الجهاد) অধ্যায়ের অব্যবহিত পরেই যুদ্ধাভিযানগুলোকে স্থান দেবেন, অতঃপর মুসলিম ইতিহাসের সংশ্লিষ্ট ঘটনাবলি যেমন যুদ্ধ ও বিজয়সমূহ২ উল্লেখ করবেন।

মুসান্নাফ গ্রন্থকারদের মধ্যে যুদ্ধাভিযান (المغازي) পরিচ্ছেদে ইবনে আবি শাইবাহ এবং ইমাম সানআনি (মৃত্যু ২১১ হিজরি)-এর মধ্যে ব্যাপক সাদৃশ্য রয়েছে। তাঁরা উভয়েই এতে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রাথমিক জীবন যেমন তাঁর বিবাহ এবং ওহি (وحي) অবতীর্ণ হওয়ার বিষয়গুলো আলোচনা করেছেন। এরপর তাঁরা ইসলাম গ্রহণকারী প্রথম দিকের সাহাবি (صحابة) সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। তবে ইবনে আবি শাইবাহ এ বিষয়ে সানআনির চেয়ে অধিক বিস্তারিত আলোচনা করেছেন৩।

এর ফলে প্রতিটি যুদ্ধাভিযান সম্পর্কে তাঁর সংগৃহীত তথ্যাদি বিস্তারিত হয়েছে, যেখানে ইমাম বুখারি এই দুইজনের তুলনায় যুদ্ধাভিযান (المغازي)-এর বিষয়টিকে অধিক নির্দিষ্ট ও সংক্ষিপ্ত করেছেন।

--------------------------------------------

১ ইবনে আবি শাইবাহ, খণ্ড ১২, পৃষ্ঠা ৫৪৭।

২ ইবনে আবি শাইবাহ, খণ্ড ১৩, পৃষ্ঠা ৫-৩০।

৩ ইবনে আবি শাইবাহ, খণ্ড ১৪, পৃষ্ঠা ৩১০-৫৩৯।
(খণ্ড: ১) আত-তারীখ ইনদা ইবনু আবী শায়বাহ (পৃষ্ঠা: ৫৭০)
وقد راعى ابن أبي شيبة التسلسل الموضوعي في ذكر الأحداث وأوضح أمثلته ما أورده منها في كتاب التاريخ، فقد شمل معركة اليمامة، وقدوم خالد بن الوليد الحيرة، ومعركة القادسية وجلولاء، ثم تحدث عن فتح بعض أقاليم فارس مثل الجبل ومعركة تستر، ثم أتبع ذلك بذكر مرويات معركة اليرموك وتوجه عمر- رضي الله عنه إلى بيت المقدس1.

أما ما ورد عنده بشأن تأخير بيعة العقبة في كتاب المغازي بعد أخبار خلافة علي بن أبي طالب2. فهو غير مألوف في منهجه زمنياً أو موضوعياً، ويظهر أنه من أخطاء أحد النساخ، وله نظائر عند الصنعاني، فقد جاءت غزوة الحديبية مقدمة في ذكر أخبارها مقدمة على غيرها من الغزوات بما فيها بدر3. للسبب نفسه فيما يبدو.

والملاحظ أن ابن أبي شيبة قصر تاريخه على ذكر أخبار المعارك والفتوح الإسلامية وما يتعلق بها ولم يعن بذكر أخبار الحكام والبلدان والحواضر التي تمثل طوراً مهماً من أطوار مفهوم التاريخ عند المسلمين ومراحل كتابته المبكرة.

أما كتبه التاريخية الأخرى مثل الجمل وصفين، فهي موضوعية تدور رواياتها حول موضوع كل كتاب، ويظهر أن المصنف لم يراع ترتيباً معيناً لها سوى سياق الموضوع وتسلسل أحداثه في بعض الأحيان، أما كتابه الفتوح، فهو مفقود ولم نظفر بوصف له.

ومن مظاهر الثقة في منهج ابن أبي شيبة في تدوين مروياته ومنها ما يخص الحوادث التاريخية في كتبه وأبوابها عنده، إن كثيراً من رواياته جاءت بنصها أو

--------------------------------------------

1 يبلغ مجموع صفحات كتاب التاريخ 122 صفحة، وتقع في جزء 12 من ص547-805، وفي جزء 13 من ص5-94، ويعمل الباحث على تحقيق نصوصه.

2 ابن أبي شيبة ج14 ص597.

3 الصنعاني: المصنف ج5 ص330.
وقد راعى ابن أبي شيبة التسلسل الموضوعي في ذكر الأحداث وأوضح أمثلته ما أورده منها في كتاب التاريخ، فقد شمل معركة اليمامة، وقدوم خالد بن الوليد الحيرة، ومعركة القادسية وجلولاء، ثم تحدث عن فتح بعض أقاليم فارس مثل الجبل ومعركة تستر، ثم أتبع ذلك بذكر مرويات معركة اليرموك وتوجه عمر- رضي الله عنه إلى بيت المقدس1.

أما ما ورد عنده بشأن تأخير بيعة العقبة في كتاب المغازي بعد أخبار خلافة علي بن أبي طالب2. فهو غير مألوف في منهجه زمنياً أو موضوعياً، ويظهر أنه من أخطاء أحد النساخ، وله نظائر عند الصنعاني، فقد جاءت غزوة الحديبية مقدمة في ذكر أخبارها مقدمة على غيرها من الغزوات بما فيها بدر3. للسبب نفسه فيما يبدو.

والملاحظ أن ابن أبي شيبة قصر تاريخه على ذكر أخبار المعارك والفتوح الإسلامية وما يتعلق بها ولم يعن بذكر أخبار الحكام والبلدان والحواضر التي تمثل طوراً مهماً من أطوار مفهوم التاريخ عند المسلمين ومراحل كتابته المبكرة.

أما كتبه التاريخية الأخرى مثل الجمل وصفين، فهي موضوعية تدور رواياتها حول موضوع كل كتاب، ويظهر أن المصنف لم يراع ترتيباً معيناً لها سوى سياق الموضوع وتسلسل أحداثه في بعض الأحيان، أما كتابه الفتوح، فهو مفقود ولم نظفر بوصف له.

ومن مظاهر الثقة في منهج ابن أبي شيبة في تدوين مروياته ومنها ما يخص الحوادث التاريخية في كتبه وأبوابها عنده، إن كثيراً من رواياته جاءت بنصها أو

--------------------------------------------

1 কিতাবুত তারিখ-এর মোট পৃষ্ঠা সংখ্যা ১২২, যা ১২তম খণ্ডের ৫৪৭-৮০৫ পৃষ্ঠা এবং ১৩তম খণ্ডের ৫-৯৪ পৃষ্ঠায় বিন্যস্ত। গবেষক বর্তমানে এর পাণ্ডুলিপি সম্পাদনার (تحقيق) কাজ করছেন।

2 ইবনে আবি শাইবাহ, ১৪তম খণ্ড, ৫৯৭ পৃষ্ঠা।

3 সানআনি: মুসান্নাফ, ৫তম খণ্ড, ৩৩০ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) আত-তারীখ ইনদা ইবনু আবী শায়বাহ (পৃষ্ঠা: ৫৭১)
بمعناها في الصحيحين بعد ذلك، وهذا يدل على مدى الثقة والتحري الذي راعاه المصنف حتى أخذ الشيخان ببعض ما ذكره على الرغم من دقة تحريهما وشروطهما الدقيقة في صحة ما يثبتانه في الصحيحين.

كما أن ابن أبي شيبة يذكر روايات مباشرة عن الأحداث التاريخية، ولذا ورد كثيراً منها بلفظ (شهدت) و (رأيت) 1. ومرويات شهود العيان بعد نقدها من أهم مقومات الدراسة التاريخية.

وكثيراً ما يذكر أن ما قام به هو من حفظه ومن ثم دَوَّنهُ في مصنفه حوله إحدى الغزوات وينص على ذلك بقوله (ما حفظت) في غزوة كذا 2.

ولكن من الملاحظ كثرة الروايات القصيرة في الأحداث التاريخية عند ابن أبي شيبة مقارنة بابن إسحاق قبله ومعاصره ابن سعد. وقد يعود هذا إلى اعتماده على الحفظ الذي أشار إليه كثيراً وهو مما لا يساعد في العادة إلى إيراد المطولات من الأحاديث والأخبار وتحتاج إلى الرجوع إلى المدون فيها، وعلى الرغم من ذلك لم تخل مدوناته التاريخية منها.

وقد اتبع ابن أبي شيبة أسلوب تكرار الرواية في الحدث التاريخي الواحد أحياناً وفقاً لتعدد طرقه أو مصادره، فهو المنهج الذي سار عليه بعض المؤرخين، كابن إسحاق والطبري.

وهو أسلوب يتيح للقارئ المقارنة والنقد إلا أن أبي شيبة لم يكثر منه، وربما يعود ذلك أنه استبعد منذ البداية بعض الروايات التي لم تثبت عنده.

ودرج على ذكر الروايات المختلفة حول الموضوع الواحد وأمثلته كثيرة منها ذكره لاختلاف الروايات حول مدة بقاء الرسول عليه السلام في مكة والمدينة 3.

--------------------------------------------

1 ابن أبي شيبة ج13 ص34-35.

2 المصدر السابق ج14 ص424، 427، 512.

3 ابن أبي شيبة: المصنف ج14 ص291.
এরপর সহিহাইন-এ এর অর্থ অনুসারে (উদ্ধৃত হয়েছে), যা গ্রন্থকারের নির্ভরযোগ্যতা (ثقة) এবং সতর্ক অনুসন্ধানের মাত্রাকে নির্দেশ করে। এমনকি শাইখাইন (বুখারি ও মুসলিম) তাঁদের সহিহাইন-এ কোনো কিছু সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সূক্ষ্ম যাচাই-বাছাই ও কঠোর শর্তাবলি থাকা সত্ত্বেও তাঁর বর্ণিত কিছু অংশ গ্রহণ করেছেন।

তদুপরি, ইবনে আবি শাইবাহ ঐতিহাসিক ঘটনাবলি সম্পর্কে সরাসরি বর্ণনা (روايات) উল্লেখ করেন, যার ফলে সেগুলোর অনেকগুলোই 'আমি উপস্থিত ছিলাম' এবং 'আমি দেখেছি' শব্দে বর্ণিত হয়েছে। আর প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনাগুলো সমালোচনার (نقد) পর ঐতিহাসিক পর্যালোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।

তিনি প্রায়শই উল্লেখ করেছেন যে, তিনি যা সম্পাদন করেছেন তা তাঁর মুখস্থ (حفظ) থেকে, যা পরবর্তীতে তিনি কোনো একটি যুদ্ধ (غزوة) সম্পর্কে তাঁর মুসান্নাফ-এ লিপিবদ্ধ করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, "অমুক যুদ্ধে আমি যা মুখস্থ (حفظ) রেখেছি"।

তবে লক্ষণীয় যে, ইবনে আবি শাইবাহর নিকট তাঁর পূর্ববর্তী ইবনে ইসহাক ও সমসাময়িক ইবনে সা’দের তুলনায় ঐতিহাসিক ঘটনাবলির ক্ষেত্রে সংক্ষিপ্ত বর্ণনা (روايات)-এর আধিক্য দেখা যায়। সম্ভবত এর কারণ হলো তাঁর মুখস্থের (حفظ) ওপর নির্ভরতা, যার দিকে তিনি বারবার ইঙ্গিত করেছেন। সাধারণত এটি দীর্ঘ হাদিস বা সংবাদ (أخبار) উপস্থাপনে সহায়ক হয় না এবং এর জন্য লিখিত পাণ্ডুলিপির শরণাপন্ন হওয়ার প্রয়োজন পড়ে। তা সত্ত্বেও, তাঁর ঐতিহাসিক সংকলনগুলো দীর্ঘ বর্ণনা থেকে একেবারে মুক্ত নয়।

ইবনে আবি শাইবাহ কখনও কখনও একক ঐতিহাসিক ঘটনার ক্ষেত্রে বর্ণনার পুনরাবৃত্তি পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন, যা বর্ণনার বিভিন্ন সূত্র (طرق) বা উৎসের আধিক্যের ওপর ভিত্তি করে হয়ে থাকে। এটি এমন এক পদ্ধতি যা ইবনে ইসহাক ও তাবারির মতো কিছু ঐতিহাসিক অনুসরণ করেছেন।

এটি এমন একটি পদ্ধতি যা পাঠককে তুলনা ও সমালোচনার (نقد) সুযোগ দেয়, তবে ইবনে আবি শাইবাহ এটি খুব বেশি করেননি। সম্ভবত এর কারণ হলো, তিনি শুরু থেকেই এমন কিছু বর্ণনা (روايات) বাদ দিয়েছেন যা তাঁর নিকট প্রমাণিত (ثبت) হয়নি।

তিনি একক বিষয়ের ওপর বিভিন্ন বর্ণনা (روايات) উল্লেখ করার রীতি অনুসরণ করেছেন। এর অনেক উদাহরণ রয়েছে, যার মধ্যে একটি হলো মক্কা ও মদিনায় রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অবস্থানের সময়কাল নিয়ে বিভিন্ন বর্ণনার (روايات) উল্লেখ।

--------------------------------------------

১. ইবনে আবি শাইবাহ, খণ্ড ১৩, পৃষ্ঠা ৩৪-৩৫।

২. পূর্বোক্ত উৎস, খণ্ড ১৪, পৃষ্ঠা ৪২৪, ৪২৭, ৫১২।

৩. ইবনে আবি শাইবাহ: মুসান্নাফ, খণ্ড ১৪, পৃষ্ঠা ২৯১।
(খণ্ড: ১) আত-তারীখ ইনদা ইবনু আবী শায়বাহ (পৃষ্ঠা: ৫৭২)
كما يأتي أحياناً بالروايات المتعارضة في الموضوع الواحد بين الإجازة والتحريم مثل روايات الاستعانة بالمشركين من عدمها.1

ومن ملامح منهجه أنه يأتي بالرواية الواحدة في أكثر من موضع حسب مناسبته له فقد جاء بأحاديث في كتاب الأمراء، وجاء بها في كتاب الفتن، إلا أنه لم يكثر من ذلك على غرار ما وضح عند الإِمام2مسلم عندما جاء بأحاديث غزوة تبوك في عشرة مواضع في صحيحه تبعاً لمناسبتها لها 3.

كما يبدو أنه تأثر بطريقة عروة بن الزبير في الجمع بين أسانيد عدة روايات في سبيل تأليف حادثة متكاملة وهو المنهج الذي اتبعه أيضاً ابن شهاب الزهري وابن إسحاق في بعض الحوادث4. ويظهر ذلك واضحاً في المقارنة بين مروياته وبعض مرويات عمر به شبة في مقتل عثمان رضي الله عنه.

أما الاقتصار على ذكر سند الرواية والتنويه بمشابهة سابقتها في المتن فكثير عنده5.

وقد اتسم أسلوبه بالرصانة ونصاعة العبارة في سرد الحوادث التاريخية، فهو أحد العلماء بخلاف أصحاب المرويات التاريخية من الإخباريين وغيرهم.

وأخيراً فإن تأليف ابن أبي شيبة في هذه الموضوعات كالجمل، قد يكون أحد أساليب النقد والرد على مؤلفات آخرين سبقوه، وبالذات المؤرخين الشيعة الذين غالوا وشوهوا حقائق تلك الأحداث من أمثال أبي مخنف صاحب

--------------------------------------------

1 المصدر السابق ج12 ص394- 395.

2 المصدر السابق ج11 ص139.

3 سليمان العودة: السيرة النبوية في الصحيحين وعند ابن إسحاق ص108.

4 محمد الأعظمي: مقدمة كتاب مغازي رسول الله صلى الله عليه وسلم لعروة بن الزبير ص68.

5 ابن أبي شيبة: المصنف ج12 ص136.
তিনি কখনও কখনও একই বিষয়ে পরস্পরবিরোধী বর্ণনা (روايات متعارضة) নিয়ে আসেন, যা বৈধতা (إجازة) এবং নিষিদ্ধতা (تحريم)-এর মধ্যে দোদুল্যমান; যেমন মুশরিকদের থেকে সাহায্য গ্রহণ করা বা না করা সংক্রান্ত বর্ণনাগুলো।1

তাঁর কর্মপদ্ধতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, তিনি একটি একক বর্ণনা (رواية) তাঁর প্রাসঙ্গিকতা অনুযায়ী একাধিক স্থানে উল্লেখ করেন। তিনি কিতাবুল উমারা এবং কিতাবুল ফিতান-এ কিছু হাদিস উল্লেখ করেছেন, তবে তিনি ইমাম2মুসলিমের মতো এটি খুব বেশি করেননি। ইমাম মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে তাবুক যুদ্ধের হাদিসসমূহ সেগুলোর প্রাসঙ্গিকতা অনুযায়ী দশটি ভিন্ন স্থানে নিয়ে এসেছেন3।

আরও প্রতীয়মান হয় যে, তিনি একটি পূর্ণাঙ্গ ঐতিহাসিক ঘটনা সংকলনের লক্ষ্যে একাধিক বর্ণনার সনদসমূহ (أسانيد) একত্রিত করার ক্ষেত্রে উরওয়াহ ইবনুল যুবায়েরের পদ্ধতি দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন। এটি এমন একটি পদ্ধতি যা ইবনে শিহাব আল-জুহরি এবং ইবনে ইসহাকও কিছু ঘটনার ক্ষেত্রে অনুসরণ করেছেন4। উসমান (রা.)-এর শাহাদাত সম্পর্কে তাঁর বর্ণনা এবং উমর ইবনে শাব্বাহর কিছু বর্ণনার মধ্যে তুলনা করলে বিষয়টি স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।

তবে বর্ণনার কেবল সনদ (سند) উল্লেখ করা এবং মূল পাঠে (متن) পূর্ববর্তী বর্ণনার সাথে সাদৃশ্যের প্রতি ইঙ্গিত করার বিষয়টি তাঁর নিকট অধিক পরিমাণে দেখা যায়5।

ঐতিহাসিক ঘটনাবলি বর্ণনায় তাঁর শৈলীটি ছিল অত্যন্ত গাম্ভীর্যপূর্ণ এবং শব্দচয়ন ছিল অত্যন্ত স্বচ্ছ। ঐতিহাসিক বর্ণনার প্রবক্তা (আখবারি) এবং অন্যদের তুলনায় তিনি একজন প্রকৃত আলেম হিসেবে গণ্য হন।

পরিশেষে, জঙ্গে জামাল (উটের যুদ্ধ)-এর মতো বিষয়গুলোতে ইবনে আবি শায়বাহর সংকলন সম্ভবত তাঁর পূর্বসূরিদের রচনার সমালোচনা ও খণ্ডনের একটি পদ্ধতি হতে পারে। বিশেষ করে সেইসব শিয়া ঐতিহাসিকদের ক্ষেত্রে, যারা এই ঘটনাগুলোর সত্যতাকে অতিরঞ্জিত এবং বিকৃত করেছিল, যেমন আবু মিখনাফের মতো লেখকরা।

--------------------------------------------

1 পূর্বোক্ত উৎস, খণ্ড ১২, পৃষ্ঠা ৩৯৪-৩৯৫।

2 পূর্বোক্ত উৎস, খণ্ড ১১, পৃষ্ঠা ১৩৯।

3 সুলায়মান আল-আওদাহ: আস-সিরাহ আন-নাবাউইয়্যাহ ফিস সহিহাইন ওয়া ইনদা ইবনে ইসহাক, পৃষ্ঠা ১০৮।

4 মুহাম্মদ আল-আজমি: উরওয়াহ ইবনুল যুবায়ের রচিত মাগাজি রাসুলুল্লাহ (সা.) গ্রন্থের ভূমিকা, পৃষ্ঠা ৬৮।

5 ইবনে আবি শায়বাহ: আল-মুসান্নাফ, খণ্ড ১২, পৃষ্ঠা ১৩৬।
(খণ্ড: ১) আত-তারীখ ইনদা ইবনু আবী শায়বাহ (পৃষ্ঠা: ৫৭৩)
كتب الجمل وصفين ومقتل الحسين1. ونصر بن مزاحم صاحب كتاب صفين.

إلا أن روايات الجميع في التاريخ ينبغي أن تخضع لمنهج الجرح والتعديل سنداً ومتناً لتحديد ما يثبت منها وما يمكن التساهل في قبوله ورد ما عدا ذلك.

موارده:

لم يذكر ابن أبي شيبة في بداية مصنفه أسماء مصادره التي اعتمد عليه، لاسيما أنه لم يضمن مصنفه مقدمة يمكن أن يشير فيها إلى ذلك وابتدأ مباشرة بأحد الموضوعات الفقهية أو هكذا وصلنا مصنفه. ولكن من خلال تتبع رواياته التاريخية يمكن حصر عدد كبير من الرواة الذين نقل أو سمع منهم، فهو ينص عليهم في بداية كل رواية بقوله: حدثنا، أو قال فلان، ويذكر اسمه.

وعلى العموم فقد غلب على موارده الاعتماد على ثقاة الرواة وأهل الاختصاص في الوقت نفسه مثل ابن عباس2 وابن شهاب الزهري3 وعروة بن الزبير4. فقد كانوا من حيث الثقة من رواة الصحيحين، وكانوا ذوي اهتمام وتأليف في أحداث السيرة بالذات، فإن ابن عباس روى الكثير منها وقد يكون له كتاب فيها5، وعروة أبن الزبير هو أول من صنف كتاباً في المغازي6، وابن شهاب الزهري معروف كتابه القيم في السيرة، وإذا عرفنا أن الزهريَ وعروة كانا

--------------------------------------------

1 النديم: الفهرست ص105.

وأبو مخنف لوط بن يحيى إخباري تالف وشيعي محترق، أما نصر ابن مزاحم المنقري فهو رافضي جلد متروك. انظر على الترتيب الذهبي: ميزان الاعتدال ج4 ص253؛ ج3 ص417-418.

2 ابن أبي شيبة: المصنف ج14 ص376.

3 المصدر السابق ج14 ص391، 405، 440، 455، 470.

4 المصدر السابق ج14 ص312، 377، 404، 416، 417، 424، 428، 429.

5 محمد الأعظمي: مقدمة كتاب مغازي رسول الله صلى الله عليه وسلم لعروة بن الزبير ص23.

6 ابن كثير: البداية والنهاية ج، ص101.
জঙ্গ-ই-জামাল, সিফফিন এবং হুসাইন-এর শাহাদাত বিষয়ক গ্রন্থসমূহ ১। এবং সিফফিন গ্রন্থের লেখক নাসর ইবনে মুজাহিম।

তবে ইতিহাসের ক্ষেত্রে এই সকলের বর্ণনা (رواية) গুলো সনদ (سند) ও মতন (متন) উভয় দিক থেকে জারহ ও তা'দিল (الجرح والتعديل) পদ্ধতির অধীন হওয়া উচিত, যাতে তার মধ্য থেকে যা প্রমাণিত হয় এবং যা গ্রহণের ক্ষেত্রে শিথিলতা (تساهل) প্রদর্শন করা যায় তা নির্ধারণ করা সম্ভব হয় এবং এছাড়া বাকিগুলো প্রত্যাখ্যান করা যায়।

তাঁর উৎসসমূহ:

ইবনে আবি শাইবাহ তাঁর মুসান্নাফ-এর শুরুতে তাঁর নির্ভর করা উৎসগুলোর নাম উল্লেখ করেননি, বিশেষ করে যেহেতু তিনি তাঁর মুসান্নাফে কোনো ভূমিকা অন্তর্ভুক্ত করেননি যেখানে তিনি এই বিষয়ে ইঙ্গিত করতে পারতেন। তিনি সরাসরি কোনো একটি ফিকহি বিষয় দিয়ে শুরু করেছেন অথবা এভাবেই তাঁর মুসান্নাফটি আমাদের কাছে পৌঁছেছে। তবে তাঁর ঐতিহাসিক বর্ণনা (رواية) গুলো অনুসরণের মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক বর্ণনাকারীকে (راوي) চিহ্নিত করা সম্ভব যাদের থেকে তিনি বর্ণনা করেছেন বা শুনেছেন। তিনি প্রতিটি বর্ণনার শুরুতে 'আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন' (حدثنا) অথবা 'অমুক ব্যক্তি বলেছেন' বলে তাদের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।

সাধারণভাবে তাঁর উৎসগুলোর ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারী (راوي) এবং একই সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিবর্গের ওপর নির্ভরতা প্রবল ছিল, যেমন ইবনে আব্বাস ২, ইবনে শিহাব আল-জুহরি ৩ এবং উরওয়াহ ইবনে আল-জুবায়ের ৪। নির্ভরযোগ্যতার (ثقة) দিক থেকে তাঁরা ছিলেন সহীহাইন-এর বর্ণনাকারী (راوي), এবং তাঁরা বিশেষত সীরাতের ঘটনাবলি সংকলন ও এ বিষয়ে বিশেষ অনুরাগী ছিলেন। ইবনে আব্বাস সীরাত বিষয়ে অনেক বর্ণনা (رواية) করেছেন এবং এ বিষয়ে তাঁর একটি কিতাবও থাকতে পারে ৫। উরওয়াহ ইবনে আল-জুবায়ের হলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি মাগাজি (যুদ্ধাভিযান) বিষয়ে কিতাব রচনা করেছেন ৬। ইবনে শিহাব আল-জুহরি সীরাত বিষয়ে তাঁর মূল্যবান কিতাবের জন্য সুপরিচিত। আর আমরা যদি জানি যে জুহরি এবং উরওয়াহ ছিলেন...

--------------------------------------------

১ আন-নাদিম: আল-ফিহরিস্ত, পৃ. ১০৫।

আর আবু মুখনাফ লুত ইবনে ইয়াহইয়া হলেন একজন অকেজো (تالف) সংবাদ সংগ্রাহক (إخباري) এবং কট্টর শিয়া। অন্যদিকে নাসর ইবনে মুজাহিম আল-মিনকারি হলেন একজন কট্টর রাফেজি এবং পরিত্যক্ত (متروك)। দেখুন ক্রমানুসারে আয-যাহাবি: মিযানুল ইতিদাল, ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ২৫৩; ৩য় খণ্ড, পৃ. ৪১৭-৪১৮।

২ ইবনে আবি শাইবাহ: আল-মুসান্নাফ, ১৪তম খণ্ড, পৃ. ৩৭৬।

৩ প্রাগুক্ত উৎস, ১৪তম খণ্ড, পৃ. ৩৯১, ৪০৫, ৪৪০, ৪৫৫, ৪৭০।

৪ প্রাগুক্ত উৎস, ১৪তম খণ্ড, পৃ. ৩১২, ৩৭৭, ৪০৪, ৪১৬, ৪১৭, ৪২৪, ৪২৮, ৪২৯।

৫ মুহাম্মদ আল-আ'জামি: উরওয়াহ ইবনে আল-জুবায়ের রচিত মাগাজি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিতাবের ভূমিকা, পৃ. ২৩।

৬ ইবনে কাসির: আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, খণ্ড..., পৃ. ১০১।
(খণ্ড: ১) আত-তারীখ ইনদা ইবনু আবী শায়বাহ (পৃষ্ঠা: ৫৭৪)
من أكثر رواة الأحداث التاريخية عند البخاري، أدركنا القيمة الكبيرة لمرويات ابن أبي شيبة عنهما.

كما تلقى كثيراً من الروايات عن عدد كبير من الثقاة في عصره وبعضها كان عن شيوخه. فقد أكثر من الأخذ عن حماد بن سلمة (ت 167هـ) أحد أئمة الحديث والثقاة الأعلام في عصره. وقد أخذ عنه في المغازي.1.

كما أخذ عن عبد الله بن إدريس (ت 197هـ) وهو أحد العلماء الذين رشحهم الرشيد للقضاء فلم يقبل، ووصفه الإمام أحمد بن حنبل بأنه نسيج وحده، تتلمذ عليه ابن أبي شيبة وكان جاراً له2، فأكثر من الرواية عنه في أحداث المغازي والجمل وكتاب التاريخ.

وممن أخذ عنه يحيى بن آدم (ت 202 هـ) وهو أحد الثقاة فقد وثقه يحي بن معين3، ووصفه ابن حبان بالإتقان 4.

وله كتاب في الخراج مشهور وقد حدث عنه ابن أبي شيبة في أخبار الجمل وصفين، ونقل عنه عدة مرويات فيهما لا توجد في كتابه الخراج وهي إما مأخوذة عنه بالسماع أو منقولة من أحد كتبه الأخرى التي لم تصل إلينا. كما أكثر من الرواية في التاريخ والمغازي عن أبي أسامة واسمه حماد بن أسامة5 وعلي بن مسهر6 وعفان بن مسلم الصفار7 وكلهم ثقاة. وإذا كان ابن أبي شيبة أكثر عن هؤلاء فإنه أخذ عن كثير غيرهم.

--------------------------------------------

1 الذهبي: ميزان الاعتدال ج1 ص590-593.

2 الخطيب البغدادي: تاريخ بغداد ج9 ص417 –418- 420.

3 عثمان بن سعيد الدارمي تاريخه ص227.

4 ابن حجر: تهذيب التهذيب ج11 ص517.

5 عثمان به سعيد الدارمي: تاريخه ص92، المقدمي: كتاب التاريخ ص131.

6 عثمان بن سعيد الدارمي: تاريخه ص70.

7 الذهبي: ميزان الاعتدال ج3 ص81-82.
ইমাম বুখারীর নিকট ঐতিহাসিক ঘটনাবলির অন্যতম প্রধান বর্ণনাকারী হিসেবে, আমরা তাঁদের উভয়ের নিকট থেকে বর্ণিত ইবনে আবি শায়বার বর্ণনাগুলোর সুমহান গুরুত্ব উপলব্ধি করি।

এছাড়াও তিনি তাঁর সমসাময়িক বিপুল সংখ্যক নির্ভরযোগ্য (الثقات) ব্যক্তিদের নিকট থেকে অনেক বর্ণনা গ্রহণ করেছেন এবং এগুলোর কিছু ছিল তাঁর শিক্ষকদের নিকট থেকে। তিনি তাঁর সময়ের হাদিস শাস্ত্রের অন্যতম ইমাম এবং প্রথিতযশা নির্ভরযোগ্য (الثقات) ব্যক্তিত্ব হাম্মাদ বিন সালামাহ (মৃত্যু ১৬৭ হিজরি) থেকে প্রচুর বর্ণনা গ্রহণ করেছেন। তিনি তাঁর থেকে মাগাজি (যুদ্ধাভিযান) বিষয়ক বর্ণনা গ্রহণ করেছেন। ১।

একইভাবে তিনি আব্দুল্লাহ বিন ইদরিস (মৃত্যু ১৯৭ হিজরি) থেকে বর্ণনা গ্রহণ করেছেন, যিনি এমন একজন আলেম ছিলেন যাঁকে হারুনুর রশিদ বিচারপতির (কাজী) পদের জন্য মনোনীত করেছিলেন কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করেননি। ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল তাঁকে অনন্য সাধারণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ইবনে আবি শায়বা তাঁর নিকট ছাত্রত্ব গ্রহণ করেন এবং তিনি তাঁর প্রতিবেশী ছিলেন। ২। তিনি তাঁর থেকে মাগাজি, জঙ্গে জামাল এবং ইতিহাস বিষয়ক কিতাবের বর্ণনাগুলো প্রচুর পরিমাণে গ্রহণ করেছেন।

যাঁদের নিকট থেকে তিনি বর্ণনা গ্রহণ করেছেন তাঁদের অন্যতম হলেন ইয়াহইয়া বিন আদম (মৃত্যু ২০২ হিজরি), যিনি অন্যতম নির্ভরযোগ্য (الثقات) ব্যক্তিত্ব ছিলেন; ইয়াহইয়া বিন মাঈন তাঁকে নির্ভরযোগ্য হিসেবে সত্যায়ন (وثقه) করেছেন ৩ এবং ইবনে হিব্বান তাঁকে নিপুণতা ও নির্ভুলতার (الإتقان) অধিকারী হিসেবে বর্ণনা করেছেন ৪।

তাঁর 'কিতাবুল খারাজ' নামক একটি প্রসিদ্ধ গ্রন্থ রয়েছে এবং ইবনে আবি শায়বা জামাল ও সিফফিনের সংবাদ সম্পর্কে তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি এই দুই যুদ্ধ সম্পর্কে এমন কিছু বর্ণনা তাঁর থেকে উদ্ধৃত করেছেন যা তাঁর কিতাবুল খারাজে পাওয়া যায় না; এগুলো হয় তাঁর থেকে সরাসরি শ্রবণের (السماع) মাধ্যমে প্রাপ্ত অথবা তাঁর অন্য কোনো গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত যা আমাদের পর্যন্ত পৌঁছেনি। তিনি ইতিহাস ও মাগাজি শাস্ত্রের বর্ণনার ক্ষেত্রে আবু উসামাহ—যাঁর নাম হাম্মাদ বিন উসামাহ ৫, আলি বিন মুশহির ৬ এবং আফফান বিন মুসলিম আস-সাফফার ৭ থেকে প্রচুর বর্ণনা গ্রহণ করেছেন এবং তাঁরা সকলেই নির্ভরযোগ্য (ثقات) ছিলেন। ইবনে আবি শায়বা যদিও এই ব্যক্তিদের থেকে অধিক বর্ণনা গ্রহণ করেছেন, তবুও তিনি এঁদের ছাড়াও আরও অনেকের নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন।

--------------------------------------------

১. আদ-দাহাবি: মিজানুল ইতিদাল, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৫৯০-৫৯৩।

২. আল-খাতিব আল-বাগদাদি: তারিখু বাগদাদ, খণ্ড ৯, পৃষ্ঠা ৪১৭–৪১৮- ৪২০।

৩. উসমান বিন সাইদ আদ-দারিমি: তারিখুহু, পৃষ্ঠা ২২৭।

৪. ইবনে হাজার: তাহজিবুত তাহজিব, খণ্ড ১১, পৃষ্ঠা ৫১৭।

৫. উসমান বিন সাইদ আদ-দারিমি: তারিখুহু, পৃষ্ঠা ৯২, আল-মুকাদ্দামি: কিতাবুত তারিখ, পৃষ্ঠা ১৩১।

৬. উসমান বিন সাইদ আদ-দারিমি: তারিখুহু, পৃষ্ঠা ৭০।

৭. আদ-দাহাবি: মিজানুল ইতিদাল, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৮১-৮২।
(খণ্ড: ১) আত-তারীখ ইনদা ইবনু আবী শায়বাহ (পৃষ্ঠা: ৫৭৫)
وقد روى ابن أبي شيبة التاريخ عن عدد من المحدثين من أمثال حماد بن سلمة، وعبد الله بن إدريس، مما يعد أحد علامات الثقة في موارده التي اعتمد عليها، أما ترتيب مادتها وفق فروع التاريخ فهو من جهده ومن سمات منهج كتابة التاريخ عنده.

وبتتبع تواريخ وفيات من روى عنهم مثل عبد الله بن إدريس سنة 192 هـ وعفان الصغار سنة 220 هـ نجد أنه استغرق وقتاً طويلاً في جميع مروياته ومنها التاريخية امتد أكثر من ثلاثين عاماً، وهو مؤشر واضح على أن ابن أبي شيبة ظل يتعهد مؤلفاته بالجمع والإضافة سواد عمره.
ইবনে আবি শাইবা হাম্মাদ বিন সালামাহ এবং আবদুল্লাহ বিন ইদ্রিসের মতো বেশ কয়েকজন হাদিস বিশারদ (المحدثين)-এর নিকট থেকে ইতিহাস বর্ণনা (روى) করেছেন, যা তাঁর ব্যবহৃত উৎসসমূহের নির্ভরযোগ্যতার (الثقة) অন্যতম একটি নিদর্শন হিসেবে গণ্য হয়। তবে ইতিহাসের বিভিন্ন শাখা অনুযায়ী এর বিষয়বস্তুর বিন্যাস তাঁর নিজস্ব প্রচেষ্টার ফসল এবং তাঁর ইতিহাস রচনার পদ্ধতির (منهج) অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

আবদুল্লাহ বিন ইদ্রিস (১৯২ হি.) এবং আফফান আস-সাগার (২২০ হি.)-এর মতো যাঁদের নিকট থেকে তিনি বর্ণনা (روى) করেছেন, তাঁদের মৃত্যুর তারিখ পর্যালোচনার মাধ্যমে আমরা দেখতে পাই যে, তিনি তাঁর ঐতিহাসিক বর্ণনাসহ (مروياته) সকল বর্ণনা সংগ্রহে দীর্ঘ সময় ব্যয় করেছেন যা ত্রিশ বছরেরও বেশি সময়ব্যাপী বিস্তৃত ছিল। এটি একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত যে, ইবনে আবি শাইবা তাঁর জীবনের দীর্ঘ সময় তাঁর সংকলনসমূহ সংগ্রহ ও সংযোজনের কাজে নিয়োজিত ছিলেন।
(খণ্ড: ১) আত-তারীখ ইনদা ইবনু আবী শায়বাহ (পৃষ্ঠা: ৫৭৬)
ويعد ابن أبي شيبة من أوائل أصحاب المصنفات الذين عنوا بالسيرة وتدوين مرويات أحداثها في مصنفه فيما يزيد على سبع وستين صفحة، ضمنها عدة روايات حول عمر النبي عليه السلام حين بُعِثَ ونزل عليه الوحي، وكيفية بدايات نزول الوحي عليه، وشق صدره واستبشار خديجة وأبي بكر الصديق رضي الله عنهما، وبشرى ورقة بن نوفل له بالنبوة، ووعده بالانضمام له عندما يؤمر بالقتال في سبيل نشر دعوته فيما بعد، ووصف الرسول عليه السلام له بالقس1.

وكذلك ذكر ما لاقاه من أذى قريش له، وما جاء به من حديث الإِسراء والمعراج، وهو من المصادر المبكرة التي أوردت هذه الأحداث واعتمد عليها الكثير من أصحاب الدلائل والأسانيد والتاريخ. بيد أنه ينبغي معرفة قوة السند الذي تروىَ به تلك الأخبار عند نقدها وكذلك الخلاف في التفاصيل بينه وبين غيره كابن إسحاق مثالا في حادثة شق الصدر2.

ثم عقد المصنف عنواناً عن حديث الإسراء والمعراج بالرسول عليه السلام، ذكر فيه عشر روايات مطولة منها إخباره عليه السلام عن وصف البراق ثم مجيئه بيت المقدس، ثم العروج به إلى السماء ورؤيته لعدد من الأنبياء مثل إبراهيم وموسى عليهما السلام ثم مشاهدته سدرة المنتهى وفرض الصلاة على أمته3. ثم عد خبره على أهل مكة.

تاريخ الغزوات:

ذكر ابن أبي شيبة كثيراً من أحداث المعارك والغزوات الإسلامية ابتداء من غزوة بدر الأولى ثم الكبرى حتى معركتي الجمل وصفين في خلافة علي بن أبي طالب.

--------------------------------------------

1 ابن أبي شيبة ج14 ص292-294.

2 ابن هشام: سيرة النبي ج1 ص136.

3 ابن أبي شيبة ج14 ص302-303.
ইবনে আবি শায়বাহ সেই সকল প্রাথমিক মুসান্নাফ রচয়িতাদের অন্তর্ভুক্ত যারা সিরাত এবং এর ঘটনাবলির বর্ণনাগুলো (مرويات) সংকলনে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি তাঁর মুসান্নাফ গ্রন্থে সাতষট্টি পৃষ্ঠারও অধিক স্থান জুড়ে সিরাত আলোচনা করেছেন। এর মধ্যে ওহি অবতরণ ও নবুওয়াত প্রাপ্তির সময় নবি করিম (সা.)-এর বয়স সংক্রান্ত বেশ কিছু বর্ণনা (روايات), ওহি শুরুর প্রক্রিয়া, তাঁর বক্ষ বিদারণ (শাক্কুস সদর), খাদিজা ও আবু বকর সিদ্দীক (রা.)-এর আনন্দিত হওয়া, ওরাকা ইবনে নওফলের পক্ষ থেকে তাঁকে নবুওয়াতের সুসংবাদ দান এবং ভবিষ্যতে দ্বীন প্রচারের লক্ষ্যে যুদ্ধের নির্দেশ আসলে তাঁর সাথে যোগ দেওয়ার অঙ্গীকার, এবং রাসুল (সা.)-এর পক্ষ থেকে তাঁকে 'কুস' হিসেবে বর্ণনা করার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।1

অনুরূপভাবে তিনি কুরাইশদের পক্ষ থেকে রাসুল (সা.)-এর ওপর আসা নির্যাতনের বিবরণ এবং ইসরা ও মিরাজ সংক্রান্ত হাদিসগুলো উল্লেখ করেছেন। তিনি সেই সকল প্রাথমিক উৎসের অন্যতম যারা এই ঘটনাবলি বর্ণনা করেছেন এবং পরবর্তীকালের দালাইল, আসানিদ (أسانيد) ও ইতিহাস গ্রন্থ প্রণেতারা তাঁর ওপর নির্ভর করেছেন। তবে এই সংবাদগুলো পর্যালোচনার সময় যে সনদ (سند)-এর মাধ্যমে এগুলো বর্ণিত হয়েছে তার নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করা প্রয়োজন, সেই সাথে বক্ষ বিদারণের ঘটনার মতো বিভিন্ন খুঁটিনাটি বিষয়ে ইবনে ইসহাক ও অন্যান্যদের সাথে তাঁর যে মতপার্থক্য রয়েছে তাও বিবেচনায় রাখা উচিত।2

অতঃপর লেখক রাসুল (সা.)-এর ইসরা ও মিরাজ সংক্রান্ত হাদিস নিয়ে একটি পরিচ্ছেদ রচনা করেছেন, যেখানে তিনি দশটি দীর্ঘ বর্ণনা (روايات) উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে বুরাকের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে রাসুল (সা.)-এর সংবাদ দান, অতঃপর বায়তুল মুকাদ্দাসে তাঁর আগমন, এরপর আকাশে আরোহণ এবং ইব্রাহিম ও মুসা (আ.)-এর ন্যায় বেশ কয়েকজন নবীর সাথে তাঁর সাক্ষাৎ, অতঃপর সিদরাতুল মুনতাহা পর্যবেক্ষণ এবং তাঁর উম্মতের ওপর নামাজ ফরজ হওয়ার বিষয়সমূহ।3 এরপর তিনি মক্কাবাসীদের কাছে তাঁর এই সংবাদ প্রদানের বিষয়টি উল্লেখ করেন।

যুদ্ধের ইতিহাস (তারিখুল গাজাওয়াত):

ইবনে আবি শায়বাহ ইসলামি ইতিহাসের অনেক যুদ্ধ ও অভিযানের ঘটনা উল্লেখ করেছেন, যা প্রথম বদর যুদ্ধ এবং পরবর্তীতে বদরে কুবরা থেকে শুরু করে আলি ইবনে আবি তালিবের খেলাফতকালে সংঘটিত জামাল ও সিফফিনের যুদ্ধ পর্যন্ত বিস্তৃত।

--------------------------------------------

1 ইবনে আবি শায়বাহ, খণ্ড ১৪, পৃষ্ঠা ২৯২-২৯৪।

2 ইবনে হিশাম: সيرة النبي (সিরাতুন্নবি), খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৩৬।

3 ইবনে আবি শায়বাহ, খণ্ড ১৪, পৃষ্ঠা ৩০২-৩০৩।
(খণ্ড: ১) আত-তারীখ ইনদা ইবনু আবী শায়বাহ (পৃষ্ঠা: ৫৭৭)
وقد توسع ابن أبي شيبه في المادة العلمية عن كل غزوه، فقد كتب عن غزوة بدر 36 صفحة، وكتب عن غزوة الخندق 25 صفحة، وعن غزوة مؤتة تسع صفحات، في حين كتب الإمام الصنعاني قبله في مصنفه عن الغزوات كلها خمسين صفحة، وكتب الإمام البخاري في صحيحه عنها من بعده مثله أو أقل بيسير.

وفي غزوة بدر يبدأ الحديث عنها بالروايات حول تاريخ حدوثها، ثم ذكر بعض الآيات التي نزلت فيها وربطها بأحداثها كآية {سَيُهْزَمُ الْجَمْعُ وَيُوَلُّونَ الدُّبُرَ} 1 وآية {وَيُنَزِّلُ عَلَيْكُمْ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً لِيُطَهِّرَكُمْ بِهِ} 2 ثم ذكر رواية عن اتخاذ المسلمين لهم سيما وعلامات تميزهم أثناء القتال عن المشركين وكانت من الصوف الأبيض3. وهي إشارة لطيفة وما زالت الجيوش في العصر الحديث تتخذ لها علامات للغرض نفسه.

ثم جاء بعدد من الروايات حول عيون الرسول عليه السلام واستخباره عن قوة جيش قريش وعدده وأين نزل، والشورى بين المسلمين في القتال، واختياره ميدانه، وبناء مركز قيادة لهم4. وما دار بين المشركين، من جدل حول الرجوع واختلافهم وتنابزهم بالألقاب، ثم بداية المعركة بالمبارزة، والتحام الفريقين وسقوط القتلى، وكان عددهم كبيراً من المشركين ثم وضعهم بالقليب، ووقوع عدد منهم في الأسر، وما ناله المسلمون من نصر وأنفال بالإضافة إلى عدد من الروايات الأخرى حول مواقف عديدة حدثت في بداية المسير للمعركة أو أثناءها أو في طريق العودة منها- لا تخلو من دروس وعبر عظيمة.5

--------------------------------------------

1 سورة القمر آية 45.

2 سورة الأنفال آية 11.

3 ابن أبي شيبة ج14 ص358.

4 المصدر السابق ج14 ص353 – 387.

5 ابن أبي شيبة ج14 ص353-381.
ইবনে আবি শায়বাহ প্রতিটি যুদ্ধ সম্পর্কে তাত্ত্বিক উপাদানের ব্যাপক বিস্তৃতি ঘটিয়েছেন; তিনি বদর যুদ্ধ সম্পর্কে ৩৬ পৃষ্ঠা, খন্দক যুদ্ধ সম্পর্কে ২৫ পৃষ্ঠা এবং মুতা যুদ্ধ সম্পর্কে ৯ পৃষ্ঠা লিখেছেন। পক্ষান্তরে ইমাম সানয়ানি তাঁর পূর্বে তাঁর মুসান্নাফ গ্রন্থে সকল যুদ্ধ সম্পর্কে মোট ৫০ পৃষ্ঠা লিখেছিলেন এবং পরবর্তীতে ইমাম বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে তাঁর সমপরিমাণ বা সামান্য কম লিখেছিলেন।

বদর যুদ্ধের ক্ষেত্রে তিনি এর সংঘটিত হওয়ার তারিখ সম্পর্কিত বর্ণনাগুলো (روايات) দিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন। এরপর সেখানে অবতীর্ণ কিছু আয়াতের উল্লেখ করেছেন এবং সেগুলোকে যুদ্ধের ঘটনাবলীর সাথে সম্পৃক্ত করেছেন; যেমন: {শীঘ্রই এই দল পরাজিত হবে এবং তারা পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে পলায়ন করবে} ১ এবং {আর তিনি আসমান থেকে তোমাদের ওপর পানি বর্ষণ করেন যাতে এর মাধ্যমে তিনি তোমাদের পবিত্র করেন} ২। এরপর তিনি যুদ্ধের সময় মুশরিকদের থেকে নিজেদের আলাদা করার জন্য মুসলমানদের একটি বিশেষ চিহ্ন বা নিদর্শন গ্রহণ করার একটি বর্ণনা (رواية) উল্লেখ করেছেন এবং এটি ছিল সাদা পশম নির্মিত ৩। এটি একটি সূক্ষ্ম ইঙ্গিত এবং বর্তমান যুগের সেনাবাহিনীগুলোও একই উদ্দেশ্যে বিশেষ চিহ্ন ব্যবহার করে থাকে।

এরপর তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর গোয়েন্দা, কুরাইশ বাহিনীর শক্তি, সংখ্যা ও তাদের অবস্থানের স্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ, যুদ্ধের ব্যাপারে মুসলমানদের মধ্যকার পরামর্শ, রণক্ষেত্র নির্বাচন এবং তাদের জন্য একটি কমান্ড সেন্টার নির্মাণ সংক্রান্ত বেশ কিছু বর্ণনা (روايات) উপস্থাপন করেছেন ৪। এছাড়া মুশরিকদের মধ্যে ফিরে যাওয়া নিয়ে বিতর্ক, তাদের মতভেদ ও একে অপরকে মন্দ উপনামে ডাকা, অতঃপর দ্বন্দ্বযুদ্ধের মাধ্যমে যুদ্ধের সূচনা, উভয় বাহিনীর সংঘর্ষ ও নিহতের ঘটনা—মুশরিকদের মধ্য থেকে নিহতের সংখ্যা ছিল অনেক, এরপর তাদের কূপে নিক্ষেপ করা, তাদের একটি বড় অংশের বন্দী হওয়া এবং মুসলমানরা যে বিজয় ও গনিমতের মাল লাভ করেছিল সে সম্পর্কেও আলোচনা করেছেন। এর পাশাপাশি যুদ্ধের উদ্দেশ্যে যাত্রার শুরুতে, যুদ্ধ চলাকালীন কিংবা ফিরে আসার পথে সংঘটিত বহু ঘটনা সম্পর্কে আরও অনেক বর্ণনা (روايات) রয়েছে—যা মহান শিক্ষা ও উপদেশে ভরপুর ৫।

--------------------------------------------

১ সূরা আল-কামার, আয়াত ৪৫।

২ সূরা আল-আনফাল, আয়াত ১১।

৩ ইবনে আবি শায়বাহ, খণ্ড ১৪, পৃষ্ঠা ৩৫৮।

৪ প্রাগুক্ত উৎস, খণ্ড ১৪, পৃষ্ঠা ৩৫৩ – ৩৮৭।

৫ ইবনে আবি শায়বাহ, খণ্ড ১৪, পৃষ্ঠা ৩৫৩-৩৮১।
(খণ্ড: ১) আত-তারীখ ইনদা ইবনু আবী শায়বাহ (পৃষ্ঠা: ৫৭৮)
ثم أتبعها بالحديث عن غزوة أحد وبدأه بروايات بما يشبه التوطئة كمكر الرسول عليه السلام بالمشركين، ثم ذكر بعض مواقف الصحابة أثناء القتال كحذيفة بن اليمان وسعد بن أبي وقاص، ودعم الرسول عليه السلام ومساعدته له أثناء الرمي بالسهام حتى ذكر أنه فداه بأبيه وأمه حتى قال علي بن أبي طالب ما سمعته فدى أحداً بأبويه إلا سعداً. وكان سعد يذكر ذلك1.

كما ذكر عدداً من الروايات حول كيفية استشهاد حمزة بن عبد المطلب وغدر العبد الحبشي به. والموقف من كثرة القتلى والمعيار في تقديمهم داخل اللحود 2.

وكذلك كيف قابل الرسول عليه السلام انكشاف المسلمين يوم أحد وكيف كان عليه السلام يعتذر منه لربه3. وهي روايات تشبه إلى حد كبير ما أورده ابن سعد في غزوة أحد مع اختلاف سند ابن أبي شيبة عنه إلا فيما قل 4.

ثم يورد المصنف رحمه الله تعالى عدداً آخر من الروايات حول مواقف مختلفة في تاريخ الغزوات منها ما يتعلق بالتخطيط الحربي، ومنها ما يتعلق بمقارعة العدو بالحجج والحقائق، مثل مقارعته بآلات الحرب فكل له تأثيره في الجانبين، وقد كان الرسول عليه السلام يرد على هتافات المشركين، ويخبر عن مصائر قتلى الطرفين ونحو ذلك5. فضلاً عن عدد من الروايات عن آلات الحرب وقتذاك.

وبعد ذلك تحدث عن غزوة الخندق وجاء بعدد من الروايات حولها دار

--------------------------------------------

1 المصدر السابق ج14 ص389- 390.

2 المصدر السابق ج14 ص392.

3 المصدر السابق ج14 ص395.

4 ابن سعد: الطبقات الكبرى ج2 ص42- 48.

5 ابن أبي شيبة ج14 ص401-403.
এরপর তিনি উহুদ যুদ্ধ সম্পর্কে আলোচনার অবতারণা করেন এবং এর সূচনা করেন এক প্রকার ভূমিকা স্বরূপ কিছু বর্ণনা (روايات) প্রদানের মাধ্যমে, যেমন মুশরিকদের বিরুদ্ধে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সমরকৌশল। এরপর তিনি যুদ্ধের সময় হুজাইফা ইবনুল ইয়ামান ও সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস-এর মতো সাহাবায়ে কিরামের কিছু অবস্থান উল্লেখ করেন এবং তীর নিক্ষেপের সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর তাঁকে সমর্থন ও সহায়তা প্রদানের কথা বর্ণনা করেন; এমনকি তিনি তাঁকে নিজ পিতা-মাতা দিয়ে উৎসর্গ করার কথা বলেন। এই প্রেক্ষিতে আলী ইবনে আবি তালিব বলেন, "আমি তাঁকে সাদ ব্যতীত অন্য কারো জন্য নিজ পিতা-মাতাকে উৎসর্গ করতে শুনিনি।" আর সাদ এটি স্মরণ করতেন।1.

একইভাবে তিনি হামজাহ ইবনে আব্দুল মুত্তালিব-এর শাহাদাত বরণ এবং হাবশী ক্রীতদাসের তাঁর প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা সম্পর্কে বেশ কিছু বর্ণনা (روايات) উল্লেখ করেছেন। এছাড়া বিপুল সংখ্যক নিহতের বিষয়ে গৃহীত পদক্ষেপ এবং কবরের (اللحود) ভেতর তাদের দাফনে অগ্রাধিকার দেওয়ার মানদণ্ডও আলোচনা করেছেন। 2.

তদপুরি উহুদ যুদ্ধে মুসলিমদের বিপর্যয় বা উন্মোচিত হয়ে পড়ার পরিস্থিতি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কীভাবে মোকাবিলা করেছিলেন এবং কীভাবে তিনি তাঁর রবের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলেন তাও বর্ণিত হয়েছে।3. এই বর্ণনাগুলো (روايات) ইবনে সাদ উহুদ যুদ্ধ সম্পর্কে যা উল্লেখ করেছেন তার সাথে বহুলাংশে সাদৃশ্যপূর্ণ, তবে ইবনে আবি শাইবার সনদ (سند) এর ক্ষেত্রে সামান্য কিছু বৈচিত্র্য ব্যতীত ভিন্নতা রয়েছে। 4.

অতঃপর গ্রন্থকার (রহিমাহুল্লাহ) যুদ্ধের ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায় সম্পর্কে আরও বেশ কিছু বর্ণনা (روايات) উপস্থাপন করেন। এর মধ্যে কিছু যুদ্ধকৌশল সংক্রান্ত, আবার কিছু যুক্তি ও বাস্তব তথ্যের মাধ্যমে শত্রুর মোকাবিলা করা সম্পর্কিত—যেমন সমরাস্ত্রের দ্বারা শত্রুর প্রতিরোধ করা, যার প্রভাব উভয় পক্ষের ওপরই বিদ্যমান ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুশরিকদের স্লোগানের উত্তর দিতেন এবং উভয় পক্ষের নিহতদের পরিণাম সম্পর্কে সংবাদ দিতেন ইত্যাদি। 5. এর পাশাপাশি তৎকালীন যুদ্ধাস্ত্র সম্পর্কেও বেশ কিছু বর্ণনা (روايات) সংকলিত হয়েছে।

এরপর তিনি খন্দকের যুদ্ধ সম্পর্কে আলোচনা করেন এবং এ সম্পর্কিত বেশ কিছু বর্ণনা (روايات) নিয়ে আসেন যা আবর্তিত হয়েছে...

--------------------------------------------

1. পূর্বোক্ত উৎস, খণ্ড ১৪, পৃষ্ঠা ৩৮৯-৩৯০।

2. পূর্বোক্ত উৎস, খণ্ড ১৪, পৃষ্ঠা ৩৯২।

3. পূর্বোক্ত উৎস, খণ্ড ১৪, পৃষ্ঠা ৩৯৫।

4. ইবনে সাদ: আত-তবাকাতুল কুবরা, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৪২-৪৮।

5. ইবনে আবি শাইবা, খণ্ড ১৪, পৃষ্ঠা ৪০১-৪০৩।
(খণ্ড: ১) আত-তারীখ ইনদা ইবনু আবী শায়বাহ (পৃষ্ঠা: ৫৭৯)
معظمها حول استشهاد الصحابي الجليل سعد بن معاذ 1. مما قد يضيف جديداً لمن يدرس أحداثها أو سيرته بعناية.

ثم ذكر عددا كبيراً من الغزوات مثل غزوة الخندق وبني قريظة والفتح وحنين وذي قرد وتبوك ومؤتة في تفصيل مناسب من الروايات المتعددة عن كل غزوة إلا أن بعضها مثل الفتح وحنين وتبوك كانت رواياتها أكثر.

وفي الغالب لا تختلف مروياتها عما ذكر من قبل وربما ندرك من خلالها أن المصنف يميل إلى الوضوح في ذكر الأحداث، والبعد عن التداخل ففي غزوة مؤتة مثلاً بدأت روايتها عنده بتحديد ترتيب قوادها الثلاثة ثم ذكر ما حدث فيها، ثم إعلان نتيجتها، ووصف مواساة الرسول عليه السلام لأهل الشهداء وذكرهم بالخير والدعاء لهم، وبروايات مختلفة سنداً ومتناً عما أورد ابن سعد عنها 2.

ولم يذكر شيئاً عن غزوة يهود بني النضير بالمدينة على الرغم من أن الإمام الصنعاني قبله توسع في أخبارها3 فذكر أصلهم، وموطن سكنهم، والمفاوضة معهم، والعلاقة بينهم وبين مشركي قريش، وتحريض الأخيرين لهم ثم إجلاءهم إلى بلاد الشام، وكذلك ذكرها الإِمام البخاري فيما بعد4.

وقد يعود ذلك إلى أن المصنف لم يحفظ فيها شيئاً فهو في الغالب يعتمد على حفظ ذاكرته في الأحداث وقد نص على ذلك كثيراً، أو يعود إلى ضياع أو خرم في النسخة التي وصلتنا ويستبعد أن يعود ذلك إلى أنه لم يثبت فيها شيء عنده بعد ما ثبت عند غيره من قبل ومن بعد كما أشير إليه آنفاً.

--------------------------------------------

1 المصدر السابق ج14 ص408- 416.

2 ابن سعد: الطبقات الكبرى ج2 ص128-130.

3 الصنعاني ج5 ص357 - 360.

4 صحيح البخاري ج5 ص22.
এর অধিকাংশ বিষয় মহান সাহাবী সাদ বিন মুআয-এর শাহাদাত ১ সম্পর্কিত। এটি সম্ভবত সেই ব্যক্তির জন্য নতুন কিছু যোগ করবে যে এর ঘটনাবলী বা তাঁর জীবনী সতর্কতার সাথে অধ্যয়ন করছে।

এরপর তিনি খন্দক, বনি কুরাইজা, ফাতহ, হুনাইন, যি-কারাদ, তাবুক এবং মুতার যুদ্ধের মতো অনেকগুলো যুদ্ধের কথা উল্লেখ করেছেন। প্রতিটি যুদ্ধ সম্পর্কে তিনি বিভিন্ন বর্ণনা (روايات) থেকে উপযুক্ত বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন; তবে ফাতহ, হুনাইন এবং তাবুকের যুদ্ধের বর্ণনা (روايات) অধিকতর ছিল।

অধিকাংশ ক্ষেত্রে এর বর্ণনাগুলো (مرويات) পূর্বে যা উল্লেখ করা হয়েছে তা থেকে ভিন্ন নয়। সম্ভবত এর মাধ্যমে আমরা উপলব্ধি করতে পারি যে, লেখক ঘটনাবলী বর্ণনায় স্পষ্টতা এবং তথ্যের জটিলতা বা সংমিশ্রণ এড়িয়ে চলার প্রতি ঝুঁকেছেন। উদাহরণস্বরূপ, মুতার যুদ্ধের বর্ণনার ক্ষেত্রে তিনি প্রথমে তিনজন সেনাপতির ক্রম নির্ধারণ দিয়ে শুরু করেছেন, তারপর সেখানে যা ঘটেছিল তা উল্লেখ করেছেন, এরপর যুদ্ধের ফলাফল ঘোষণা করেছেন। শেষে শহিদদের পরিবারের প্রতি রাসূল (সা.)-এর সমবেদনা জানানো, তাদের জন্য কল্যাণ কামনা ও দোয়ার বর্ণনা দিয়েছেন। এই বর্ণনাগুলো (روايات) সনদ (سند) ও মতন (متن) এর দিক থেকে ইবনে সাদ কর্তৃক বর্ণিত তথ্যের চেয়ে ভিন্ন ২।

তিনি মদিনার ইহুদি গোত্র বনি নাজিরের যুদ্ধ সম্পর্কে কিছুই উল্লেখ করেননি, যদিও তাঁর পূর্ববর্তী ইমাম সানআনী এর সংবাদগুলো ৩ বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছেন। তিনি তাদের উৎস, বাসস্থান, তাদের সাথে আলোচনা, কুরাইশ মুশরিকদের সাথে তাদের সম্পর্ক এবং মুসলমানদের বিরুদ্ধে কুরাইশদের উসকানি, অতঃপর শামে তাদের নির্বাসনের কথা উল্লেখ করেছেন। পরবর্তীতে ইমাম বুখারিও একইভাবে এটি উল্লেখ করেছেন ৪।

এর কারণ হতে পারে যে লেখক এই বিষয়ে কিছু মুখস্থ রাখতেন না; কারণ তিনি সাধারণত ঘটনাবলির ক্ষেত্রে তাঁর মুখস্থ স্মৃতির ওপর নির্ভর করেন এবং তিনি বহুবার তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। অথবা আমাদের কাছে পৌঁছানো পাণ্ডুলিপির কোনো অংশ হারিয়ে যাওয়া বা ত্রুটির কারণে এমনটি হতে পারে। এটি হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ যে তাঁর কাছে এটি প্রমাণিত (ثبت) হয়নি, যেখানে তাঁর পূর্বের এবং পরের অন্যদের কাছে এটি প্রমাণিত (ثبت) হয়েছিল, যেমনটি উপরে নির্দেশ করা হয়েছে।

--------------------------------------------

১ পূর্বোক্ত উৎস, খণ্ড ১৪, পৃষ্ঠা ৪০৮-৪১৬।

২ ইবনে সাদ: আত-তাবাকাতুল কুবরা, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ১২৮-১৩০।

৩ আস-সানআনী, খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ৩৫৭-৩৬০।

৪ সহিহ বুখারি, খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ২২।
(খণ্ড: ১) আত-তারীখ ইনদা ইবনু আবী শায়বাহ (পৃষ্ঠা: ৫৮০)
كما لم يذكر شيئاً عن السرايا في عهد الرسول عليه السلام على الرغم من وثوق صلتها بالمغازي، فهل تابع في ذلك شيخه الصنعاني الذي لم يذكرها أيضاً، بينما أسهب فيها كل من ابن إسحاق وابن سعد من قبل والبخاري من بعد.

الخلفاء الراشدون:

في عهود الخلفاء الراشدين ذكر حدث وفاة كل منهم، وذكر بعض الأخبار في ذلك بطرق مختلفة، ثم يأتي أحياناً بشي من سيرته، إلا أبا بكر الصديق فقد بدأ الحديث عنه بذكر كيفية مبايعته، وقد ضمن مروياته عن سيرة عمر أموراً في غاية الأهمية عند ذكر دراسة سياسته مثل قول عائشة فيه بأنه "كان غناء للإِسلام، كان والله أحوذياً نسيج وحده قد أعد للأمور أقرانها "1. وقوله: "إني قد تركت فيكم اثنين لن تبرحوا بخير ما لزمتموهما: العدل في الحكم، والعدل في القسم"2.

وعلى الرغم من أن ابن أبي شيبة عَنْوَن ذلك بقوله ما جاء في خلافة كل منهم إلا أن ما ذكره هو ما يتعلق بوفاة أو مقتل كل منهم مع اختلاف في التفصيل والسند، فهو لا يشمل أخبار وحوادث عهودهم التاريخية لكن المؤرخ لا يعدم ذلك مما جاء متفرقاً في أبواب أخرى ومن المصنَّف مثل إسلام كل واحد منهم أو في كتاب فضائل الأعلام عنده.

حروب الردة والفتوح الإسلامية:

أما في حروب الردة قد جاء بأخبار متفرقة عن معركة اليمامة بين خالد بن الوليد ومسيلمة الكذاب، وذكر ما عاناه المسلمون في البداية من الهزائم وكثرة قتلاهم وجرحاهم وأن بعضهم كان صائماً 3. ثم ذكر رواية أحد شهود العيان

--------------------------------------------

1 ابن أبي شيبة ج14 ص572.

2 المصدر السابق ج14 ص582.

3 ابن أبي شيبة ج12 ص548.
একইভাবে তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগের যুদ্ধাভিযানসমূহ সম্পর্কে কিছু উল্লেখ করেননি, যদিও যুদ্ধ-ইতিহাসের সাথে এগুলোর গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তবে কি তিনি এক্ষেত্রে তাঁর উস্তাদ সানআনির অনুসরণ করেছেন, যিনি এগুলোও উল্লেখ করেননি? অথচ তাঁর পূর্বে ইবনে ইসহাক ও ইবনে সাদ এবং পরবর্তীতে বুখারি এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।

খোলাফায়ে রাশেদিন:

খোলাফায়ে রাশেদিনের যুগে তিনি তাঁদের প্রত্যেকের মৃত্যুর ঘটনা এবং এ সংক্রান্ত কিছু সংবাদ বিভিন্ন সূত্রের (طرق) মাধ্যমে উল্লেখ করেছেন। এরপর কখনো কখনো তাঁদের জীবনী থেকে কিছু অংশ নিয়ে এসেছেন। তবে আবু বকর সিদ্দিক (রা.)-এর ক্ষেত্রে তাঁর বায়আত গ্রহণের পদ্ধতি বর্ণনার মাধ্যমে আলোচনা শুরু করেছেন। ওমরের (রা.) জীবনী সম্পর্কে তাঁর বর্ণিত বর্ণনাসমূহে (مرويات) তাঁর শাসননীতি পর্যালোচনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যেমন আয়েশা (রা.) তাঁর সম্পর্কে বলেছেন, "তিনি ইসলামের জন্য এক অনন্য সম্পদ ছিলেন। আল্লাহর কসম, তিনি ছিলেন অত্যন্ত বিচক্ষণ ও অপ্রতিদ্বন্দ্বী, যিনি প্রতিটি পরিস্থিতির জন্য তার উপযুক্ত সমাধান প্রস্তুত রাখতেন।"১ এবং ওমরের উক্তি: "আমি তোমাদের মাঝে দুটি জিনিস রেখে যাচ্ছি, যে পর্যন্ত তোমরা তা আঁকড়ে থাকবে সে পর্যন্ত তোমরা কল্যাণের ওপর থাকবে: বিচারে ইনসাফ এবং বণ্টনে ইনসাফ।"২

যদিও ইবনে আবি শাইবা বিষয়টির শিরোনাম দিয়েছেন "তাঁদের প্রত্যেকের খিলাফত প্রসঙ্গে যা বর্ণিত হয়েছে", কিন্তু তিনি যা উল্লেখ করেছেন তা মূলত তাঁদের প্রত্যেকের মৃত্যু বা শাহাদাত সংশ্লিষ্ট বিষয়, যার বিস্তারিত বিবরণ ও সূত্রে (سند) ভিন্নতা রয়েছে। এটি তাঁদের শাসনকালের ঐতিহাসিক সংবাদ ও ঘটনাবলিকে অন্তর্ভুক্ত করে না; তবে ইতিহাসবিদগণ মুসান্নাফ-এর অন্যান্য অধ্যায়ে বিক্ষিপ্তভাবে আসা বর্ণনাগুলো থেকে তা পেতে পারেন, যেমন তাঁদের প্রত্যেকের ইসলাম গ্রহণের ঘটনা অথবা তাঁর কিতাবে বিদ্যমান বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মর্যাদা (فضائل الأعلام) অধ্যায় থেকে।

রিদ্দার যুদ্ধ এবং ইসলামি বিজয়সমূহ:

রিদ্দার যুদ্ধের ক্ষেত্রে তিনি খালিদ বিন ওয়ালিদ এবং মুসাইলামাতুল কাজ্জাব (الكذاب)-এর মধ্যে সংঘটিত ইয়ামামার যুদ্ধ সম্পর্কে বিক্ষিপ্ত সংবাদ প্রদান করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন শুরুতে মুসলিমরা পরাজয়, বিপুল সংখ্যক শহীদ ও আহত হওয়ার মাধ্যমে যে চরম বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছিলেন এবং তাঁদের কেউ কেউ রোজাদার ছিলেন।৩ অতঃপর তিনি একজন প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা উল্লেখ করেছেন।

--------------------------------------------

১ ইবনে আবি শাইবা, খণ্ড ১৪, পৃষ্ঠা ৫৭২।

২ প্রাগুক্ত উৎস, খণ্ড ১৪, পৃষ্ঠা ৫৮২।

৩ ইবনে আবি শাইবা, খণ্ড ১২, পৃষ্ঠা ৫৪৮।
(খণ্ড: ১) আত-তারীখ ইনদা ইবনু আবী শায়বাহ (পৃষ্ঠা: ৫৮১)
وهو الصحابي الجليل أنس بن مالك كيف كان موقف خالد عصيباً ثم كيف كر على أهل اليمامة حتى بلغ حصنهم وتمكن البراء من قتل صاحبهم وفُرجت الشدة 1.

وعلى الرغم من إسهاب الطبري في ذكر أخبار معركة اليمامة، وتعدد رواياتها عنده2، إلا أن ابن أبي شيبة ذكر روايات أخرى منها أن شعار المسلمين فيها كان (يا أصحاب سورة البقرة) .

ثم انتقل بعد ذلك إلى تاريخ الفتح في العراق على يد خالد بن الوليد، وذكر عدة روايات في مكاتبته مرازبة فارس، وبعض أحداث المعارك هناك مثل معركة الجسر ومقتل قائدها أبي عبيد الثقفي، وحديث عمر بن الحطاب عنه بأنه سيكون فئة له لو انحاز إليه3.

وأسهب في وصف أحداث معركة القادسية بالنسبة للمعارك الأخرى، وتعدُّدُ الروايات والتفصيل في وصف الحدث عند أبي شيبة يتبع في كثير من الأحيان حجم الحدث نفسه. وهذا رواياته الكثيرة عن أحداث هذه المعركة لابد من الاعتماد والرجوع إليها لمن يدرسها.

وفي معركة تُستر جاء بمعلومات لا تختلف كثيراً عما جاء به أهل الاختصاص في تاريخ الفتوح مثل البلاذري بل إن نسق ترتيب الأحداث في تلك المنطقة وقتذاك هو النسق الذي سار عليه البلاذري فيما بعد4.

كما اعتمد كل منهما على مرويات من شهدوا المعركة أو نقلوا عنهم، وهو منهج متقدم في الكتابة التاريخية.

ولما انتهى من كتاب التاريخ ومرويات أحداث الفتح الإِسلامي في العراق

--------------------------------------------

1 المصدر السابق ج12 ص549.

2 الطبري: تاريخ الأمم والملوك ج3 ص281- 300.

3 ابن أبي شيبة ج12 ص556-557.

4 فتوح البلدان ص534-538.
তিনি হলেন মহান সাহাবী (الصحابي) আনাস ইবন মালিক; (যিনি বর্ণনা করেছেন) খালিদের অবস্থান কতটা সংকটপূর্ণ ছিল এবং এরপর কীভাবে তিনি ইয়ামামাবাসীদের ওপর আক্রমণ চালিয়েছিলেন যতক্ষণ না তিনি তাদের দুর্গে পৌঁছান এবং আল-বারা তাদের নেতাকে হত্যা করতে সক্ষম হন এবং চরম সংকটের অবসান ঘটে ১।

তাবারী ইয়ামামা যুদ্ধের সংবাদ বর্ণনায় বিস্তারিত আলোচনা করা এবং তাঁর নিকট এর বর্ণনার (روايات) আধিক্য থাকা সত্ত্বেও ২, ইবন আবী শায়বাহ অন্যান্য কিছু বর্ণনা (روايات) উল্লেখ করেছেন, যার মধ্যে একটি হলো যে, সেখানে মুসলমানদের রণধ্বনি ছিল (হে সূরা বাকারার সাথীরা)।

এরপর তিনি খালিদ ইবনুল ওয়ালিদের হাতে ইরাক বিজয়ের ইতিহাসের দিকে অগ্রসর হন এবং পারস্যের আঞ্চলিক শাসকদের সাথে তাঁর পত্রবিনিময় সংক্রান্ত বেশ কিছু বর্ণনা (روايات) এবং সেখানকার যুদ্ধের কিছু ঘটনা উল্লেখ করেন, যেমন জিসর-এর যুদ্ধ এবং এর সেনাপতি আবু উবাইদ আল-ছাকাফীর শাহাদাত, এবং তাঁর সম্পর্কে উমর ইবনুল খাত্তাবের হাদিস যে, তিনি যদি তাঁর নিকট ফিরে আসতেন তবে তিনি তাঁর জন্য একটি আশ্রয়স্থল হতেন ৩।

তিনি অন্যান্য যুদ্ধের তুলনায় কাদেসিয়া যুদ্ধের ঘটনাবলি বর্ণনায় বেশ বিস্তারিত আলোচনা করেছেন; আর ইবন আবী শায়বাহর নিকট বর্ণনার (روايات) আধিক্য ও ঘটনার বিবরণে বিশদ হওয়া প্রায়শই ঘটনার গুরুত্ব ও পরিধির ওপর নির্ভর করে। এই যুদ্ধের ঘটনাবলি সম্পর্কে তাঁর এই বিপুল বর্ণনার (روايات) ওপর যারা এটি নিয়ে গবেষণা করবেন তাদের জন্য নির্ভর করা এবং এর দিকে প্রত্যাবর্তন করা আবশ্যক।

আর তুস্তার-এর যুদ্ধে তিনি এমন কিছু তথ্য প্রদান করেছেন যা বিজয় ইতিহাসের বিশেষজ্ঞগণ—যেমন বালাগুরী—প্রদত্ত তথ্যের চেয়ে খুব বেশি ভিন্ন নয়; বরং সেই সময়ে ওই অঞ্চলের ঘটনাবলির বিন্যাসপদ্ধতি ছিল এমন একটি ধারা যা পরবর্তীকালে বালাগুরী অনুসরণ করেছিলেন ৪।

এছাড়া তাঁদের উভয়েই যুদ্ধে উপস্থিত ছিলেন এমন ব্যক্তিদের বর্ণনা (مرويات) অথবা যারা তাদের থেকে বর্ণনা করেছেন তাদের ওপর নির্ভর করেছেন, যা ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে একটি অগ্রসর পদ্ধতি।

যখন তিনি ইতিহাস গ্রন্থ এবং ইরাকে ইসলামি বিজয়ের ঘটনাবলির বর্ণনা (مرويات) সমাপ্ত করলেন—

--------------------------------------------

১ পূর্বোক্ত উৎস, খণ্ড ১২, পৃষ্ঠা ৫৪৯।

২ তাবারী: তারিখুল উমাম ওয়াল মুলুক, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ২৮১- ৩০০।

৩ ইবন আবী শায়বাহ, খণ্ড ১২, পৃষ্ঠা ৫৫৬-৫৫৭।

৪ ফুতুহুল বুলদান, পৃষ্ঠা ৫৩৪-৫৩৮।
(খণ্ড: ১) আত-তারীখ ইনদা ইবনু আবী শায়বাহ (পৃষ্ঠা: ৫৮২)
وبلاد فارس، انتقل إلى الحديث عن الفتوح في بلاد الشام وابتدأه بذكر ما حفظه ووصلته أخباره في غزوة اليرموك وأنه كان للمسلمين فيها خمسة ألوية، ثم ما آل إليه أمر المسلمين من قوة وحسن حال حتى حسنت معيشتهم ولبسوا الديباج والحرير حتى نهاهم عمر عن ذلك 1.

ثم ذكر طرفاً من أخبار زيارة الخليفة عمر إلى بلاد الشام وهيئة مركبه واستقبال الناس له، وإقراره لبعض مظاهر الخير وسعة الرزق التي ظهر بها بعض قواد المسلمين هناك، في الوقت الذي أبقى فيه هو على تواضع هيئته ومركبه على الرغم من نصح بعض الجند له بإظهار حال أحسن منها عند استقبال القواد وبطارقة الشام له، فأجابهم عمر بأن العزة ليست بالمظاهر وإنما بالإسلام "إنا قوم أعزّنا الله بالإسلام"2 وهي الحقيقة التي ما فتئ عمر يؤكدها في كل موقف.

كما ذكر اعتذار عمر عن دعوة أحد الدهاقين النصارى لحضور وليمة أعدها له3.

أما في كتاب التاريخ بمعنى التوقيت فقد خصه المؤلف بالحديث عن أعمار بعض الأنبياء كآدم ونوح ويوسف ومحمد عليهم السلام وبعض مشاهير الصحابة كابن عباس والخلفاء الأربعة، ثم سنوات وفيات بعض الأعلام، حتى سنة 177 هـ 4. ثم أورد مدد عهود الخلفاء الراشدين وخلفاء الدولة الأموية حتى الخليفة المأمون على طريقة ذكر اسم كل خليفة ومدة حكمه5. وكان دقيقاً في ذكر عدد السنوات وكسورها التي مكثها كل منهم ووافقه في ذلك عدد من المؤرخين ممن جاء بعده وعلى رأسهم الإمام الطبري.

--------------------------------------------

1 ابن أبي شيبة ج13 ص34-37.

2 المصدر السابق ج13 ص40- 41.

3 ابن أبي شيبة ج13 ص69، 70، 73.

4 نفسه.

5 المصدر السابق ج13 ص70-72.
পারস্য অঞ্চলের বর্ণনার পর, তিনি সিরিয়া (শাম) অঞ্চলের বিজয় সম্পর্কিত আলোচনার দিকে অগ্রসর হন এবং ইয়ারমুক যুদ্ধে যা তিনি সংরক্ষণ করেছেন এবং তাঁর কাছে যেসব সংবাদ পৌঁছেছে তা উল্লেখ করার মাধ্যমে এই আলোচনা শুরু করেন। সেখানে মুসলমানদের পাঁচটি সেনাদল ছিল। অতঃপর মুসলমানদের শক্তি ও সুাবস্থার কথা উল্লেখ করেন, এমনকি তাদের জীবনযাত্রার মানও উন্নত হয় এবং তারা মিহি রেশম ও রেশমি পোশাক পরিধান করতে শুরু করেন, যতক্ষণ না উমর (রা.) তাদের তা থেকে নিষেধ করেন ১।

এরপর তিনি খলিফা উমরের সিরিয়া সফরের কিছু সংবাদ এবং তাঁর বাহনের ধরণ ও জনগণের পক্ষ থেকে তাঁকে অভ্যর্থনা জানানোর বিবরণ উল্লেখ করেন। তিনি মুসলমানদের কিছু সেনাপতির মাঝে বিদ্যমান সচ্ছলতা ও রিযিকের প্রাচুর্যের বিষয়টিকে অনুমোদন করেন, অথচ তিনি নিজে তাঁর বিনয়ী বেশভুষা এবং বাহনের ওপর অটল থাকেন; যদিও কিছু সৈন্য তাঁকে পরামর্শ দিয়েছিলেন যে, সেনাপতি ও সিরিয়ার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে সাক্ষাতের সময় যেন তিনি আরও ভালো বেশভুষা গ্রহণ করেন। উমর তাদের উত্তরে বলেন যে, সম্মান বাহ্যিক চাকচিক্যের মধ্যে নয় বরং ইসলামের মধ্যে নিহিত: "নিশ্চয়ই আমরা এমন এক জাতি যাদেরকে আল্লাহ ইসলামের মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন" ২। এটি এমন এক সত্য যা উমর প্রতিটি ক্ষেত্রে বারবার জোর দিয়ে বলতেন।

এছাড়া তিনি একজন খ্রিস্টান ভূস্বামীর পক্ষ থেকে তাঁর জন্য প্রস্তুতকৃত একটি ভোজসভায় উপস্থিত হওয়ার আমন্ত্রণে উমরের অপারগতা প্রকাশের বিষয়টিও উল্লেখ করেছেন ৩।

আর সময় নির্ধারণের অর্থে ইতিহাস (তারিখ) অধ্যায়ের ক্ষেত্রে লেখক এটিকে আদম, নূহ, ইউসুফ এবং মুহাম্মদ (আলাইহিমুস সালাম)-এর মতো কিছু নবীর জীবনকাল এবং ইবনে আব্বাস ও চার খলিফার মতো প্রখ্যাত সাহাবীদের জীবনী আলোচনার জন্য নির্দিষ্ট করেছেন। অতঃপর ১৭৭ হিজরি সাল পর্যন্ত কিছু বিশিষ্ট ব্যক্তির মৃত্যুর বছরগুলো উল্লেখ করেছেন ৪। এরপর তিনি খলিফা আল-মামুন পর্যন্ত খুলাফায়ে রাশেদীন এবং উমাইয়া খিলাফতের স্থায়িত্বকাল প্রত্যেক খলিফার নাম ও তাঁদের শাসনের সময়কাল বর্ণনার পদ্ধতিতে উল্লেখ করেছেন ৫। তিনি তাঁদের প্রত্যেকের খিলাফতের বছর ও মাসের হিসাব উল্লেখ করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সূক্ষ্ম ছিলেন এবং তাঁর পরবর্তীকালের বহু ইতিহাসবিদ তাঁর এই তথ্যের সাথে একমত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ইমাম তাবারী প্রধান।

--------------------------------------------

১ ইবনে আবি শায়বাহ, খণ্ড ১৩, পৃষ্ঠা ৩৪-৩৭।

২ প্রাগুক্ত উৎস, খণ্ড ১৩, পৃষ্ঠা ৪০-৪১।

৩ ইবনে আবি শায়বাহ, খণ্ড ১৩, পৃষ্ঠা ৬৯, ৭০, ৭৩।

৪ প্রাগুক্ত।

৫ প্রাগুক্ত উৎস, খণ্ড ১৩, পৃষ্ঠা ৭০-৭২।
(খণ্ড: ১) আত-তারীখ ইনদা ইবনু আবী শায়বাহ (পৃষ্ঠা: ৫৮৩)
ثم ألحقه بباب نفيس عن أسماء من اشتهروا بكنيتهم، أو ذكر كنى من اشتهروا بأسمائهم، لعدد كبير من الصحابة والخلفاء والقواد والأعلام المشهورين ذكر فيه سرداً للكنى المشهورة واسم صاحبها أو اسم الخليفة أو العلم، وكان ابن أبي شيبة مصدراً لعدد ممن ألفوا في هذا الباب من القدامى، وقد ألف في هذا الباب فيما بعد كل من الإمام مسلم (ت 261 هـ) والدولابي (ت 310 هـ) ، كتباً منفردة.

الفتن:

عقد ابن أبي شيبة باباً للفتن وسماه كتاب الفتن جاء فيه في البداية بعدة مرويات في مفهوم الفتنة العام، وكيف تكون وعلاماتها والموقف منها1، وذكر عدة روايات تجعل بعض الأحداث التاريخية منها مثل قتل عثمان ومقتل الحسين وحركة عبد الله بن الزبير.

وعلى أية حال فإن هذا الباب عند المحدثين لا يخلو من مادة تاريخية تفيد في موضوعاتها، ومنها مرويات ابن أبي شيبة حول مقتل الحسين وابن الزبير فهي مهمة عند دراسة تلك الأحداث وتعين في معرفة مواقف بعض الصحابة والتابعين منها، وتوضح جوانب من موقف الدولة الأموية إزاءها إلا أنه ينبغي عدم التسليم ببعضها لما يظهر عليه من الوضع والصنعة مثل سرد بعض الروايات في صفات تنطبق على أحد الرجلين والموقف منه، والنص في بعضها على أن الذي يخرب البيت العتيق هو رجل من آل الزبير2 ونحو ذلك مما يوحي بأنها وضعت بعد أحداث الحركتين بأسلوب يوهم بأنها روايات سابقة جاءت الأحداث تؤكدها، وهو أمر لم تخل منه المصادر التاريخية أيضاً، وكان المصنفون الأوائل قد دونوا كل رواية وصلتهم، وتركوا نقدها وتمحيصها،

--------------------------------------------

1 ابن أبي شيبة ج15 ص5-15، 70-87 وغيرها.

2 المصدر السابق ج15 ص84.
এরপর তিনি একে একটি মূল্যবান পরিচ্ছেদ দিয়ে সংযুক্ত করেছেন, যা সেইসব ব্যক্তিদের নাম সম্পর্কিত যারা তাদের ডাকনাম (كنية) দ্বারা প্রসিদ্ধ ছিলেন, অথবা সেইসব ব্যক্তিদের ডাকনাম (كنية) উল্লেখ করেছেন যারা তাদের নামে পরিচিত ছিলেন। এতে বিপুল সংখ্যক সাহাবি, খলিফা, সেনাপতি এবং প্রখ্যাত মণীষীদের নাম রয়েছে। তিনি এতে প্রসিদ্ধ ডাকনাম (كنية) এবং এর অধিকারী বা খলিফা বা মণীষীদের নামের একটি তালিকা প্রদান করেছেন। প্রাচীনকালে যারা এই বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন, তাদের অনেকের জন্য ইবনে আবি শায়বাহ ছিলেন অন্যতম উৎস। পরবর্তীতে ইমাম মুসলিম (মৃত্যু ২৬১ হি.) এবং আদ-দুলাবি (মৃত্যু ৩১০ হি.) এই বিষয়ে স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন।

ফিতনা:

ইবনে আবি শায়বাহ ফিতনা সম্পর্কিত একটি পরিচ্ছেদ রচনা করেছেন এবং এর নামকরণ করেছেন 'কিতাবুল ফিতান'। এর শুরুতে ফিতনার সাধারণ ধারণা, এর প্রকৃতি, আলামত এবং এর ক্ষেত্রে করণীয় সম্পর্কে বেশ কিছু বর্ণনা (مرويات) নিয়ে এসেছেন। এছাড়া তিনি এমন কিছু বর্ণনা (روايات) উল্লেখ করেছেন যাতে উসমান (রা.)-এর হত্যাকাণ্ড, হুসাইন (রা.)-এর শাহাদাত এবং আবদুল্লাহ ইবনুল জুবাইর (রা.)-এর আন্দোলনের মতো ঐতিহাসিক ঘটনাগুলোকে ফিতনার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

যা-ই হোক না কেন, মুহাদ্দিসগণের নিকট এই পরিচ্ছেদটি ঐতিহাসিক উপাদানে ভরপুর যা সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে অত্যন্ত উপকারী। এর মধ্যে হুসাইন (রা.) এবং ইবনুল জুবাইর (রা.)-এর শাহাদাত সম্পর্কে ইবনে আবি শায়বাহর বর্ণনাগুলো (مرويات) সেইসব ঘটনাবলি অধ্যয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো সাহাবা এবং তাবেয়িগণ এর প্রতি কী দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করতেন তা জানতে সাহায্য করে। এছাড়া এগুলো উমাইয়া রাষ্ট্রের অবস্থান সম্পর্কেও স্পষ্ট ধারণা দেয়। তবে এগুলোর মধ্যে কিছু বর্ণনাকে ধ্রুব সত্য হিসেবে গ্রহণ করা উচিত নয়, কারণ সেগুলোর মধ্যে জালকরণ (وضع) এবং কৃত্রিমতার (صنعة) ছাপ পরিলক্ষিত হয়। যেমন- এমন কিছু বর্ণনা (روايات) পেশ করা যা নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির বৈশিষ্ট্যের সাথে মিলে যায় এবং তার প্রতি কোনো বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করে। আবার কোনো কোনো পাঠে এমন বক্তব্য পাওয়া যায় যে, পবিত্র কাবা ঘর ধ্বংসকারী ব্যক্তি হবে জুবাইর বংশের একজন মানুষ। এই জাতীয় বর্ণনাগুলো ইঙ্গিত দেয় যে, এগুলো উক্ত দুই আন্দোলনের পরবর্তী সময়ে এমন এক শৈলীতে জাল (وضعت) করা হয়েছে যাতে মনে হয় যে এগুলো পূর্ববর্তী বর্ণনা ছিল যা পরবর্তী ঘটনাবলি দ্বারা সত্য প্রমাণিত হয়েছে। ঐতিহাসিক উৎসসমূহও এ ধরনের বিষয় থেকে মুক্ত নয়। পূর্ববর্তী সংকলকগণ তাদের নিকট পৌঁছানো প্রতিটি বর্ণনা (رواية) লিপিবদ্ধ করতেন এবং সেগুলোর সমালোচনা (نقد) ও যাচাই-বাছাইয়ের (تمحيص) বিষয়টি পরবর্তী সময়ের জন্য রেখে দিতেন।

--------------------------------------------

১ ইবনে আবি শায়বাহ, ১৫তম খণ্ড, পৃ. ৫-১৫, ৭০-৮৭ এবং অন্যান্য।

২ পূর্বোক্ত উৎস, ১৫তম খণ্ড, পৃ. ৮৪।
(খণ্ড: ১) আত-তারীখ ইনদা ইবনু আবী শায়বাহ (পৃষ্ঠা: ৫৮৪)
والأخذ بها أو ردّها لمن يأتي بعدهم، وقد وضح ذلك الطبري في مقدمته ولا يعني أنها مما صح عندهم.

وقد توسع ابن أبي شيبه في باب مقتل الخليفة عثمان بن عفان رضي الله عنه أكثر من الأبواب أو الموضوعات الأخرى في الفتنة، فقد جاء بأكثر من 120 رواية في أحداث مقتله1. وتبين في مجموعها تفاصيل ما دار بينه وبين الخارجين عليه ورجوعهم ثم عودتهم من الطريق ومطالبتهم له بخلع نفسه أو القصاص منه، وعزل بعض الولاة ورده ذلك ومحاجتهم فيه، وكيف اقتحموا عليه الدار، وأسماء من باشر أو أشار بقتله منهم، وروايات أخرى فيما يترتب على تلك الفتنة من هلاك العرب وعدم اجتماعهم يداً واحدة بعدها، وقد انفرد ابن أبي شيبة بها بين أصحاب المصنفات مثل الصنعاني، كما أنها تشبه تفاصيل ما أورده وزاد عليه كثيراً عمر بن شبة فيما بعد في الموضوع ذاته2. وهناك روايات متفقة في السند والمتن عند الاثنين مع تفصيل أو إيجاز فيه عند أحدهما أحياناً فهل أخذ عمر بن شبة عن ابن أبي شيبة ولم يشر إليه؟ 3 والمعروف أن الإمام الطبري رجع لابن شبة في موضوع مقتل عثمان رضي الله عنه إلا أن هناك روايات كثيرة عندهما لم ينقلها ولهذا فإن الرجوع إليهما مباشرة سوف يسهم في دراسة أحداثه ونقد مروياته من جديد.

وعلى الرغم من أن المصنف أخر مرويات مقتل عثمان عن الحديث عن فتنة مقتل الحسين وابن الزبير إلا أن حديثه في كتاب الجمل وترتيبه بعده ظهر كأنه نتيجة واقعة لتلك الأحداث كما هي حقيقة بالفعل ودلالة على افتراق الأمة بعد تلك الفتنة.

--------------------------------------------

1 ابن أبي شيبة ج15 ص218-221.

2 عمر ابن شبة: تاريخ المدينة ج4 ص1149.

3 ابن أبي شيبه المصنف ج15 ص215-219، عمر بن شبة: تاريخ المدينة ج4 ص1149، 1152.
এবং তাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য তা গ্রহণ করা বা বর্জন করা (ردّ), তাবারী তাঁর মুকাদ্দামায় (উপক্রমণিকা) বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন এবং এর অর্থ এই নয় যে, সেগুলো তাদের নিকট সহিহ (صح) হিসেবে গণ্য ছিল।

ইবনে আবি শায়বা খলিফা উসমান ইবনে আফফান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর শাহাদাত সংক্রান্ত অধ্যায়ে ফিতনা সম্পর্কিত অন্যান্য অধ্যায় বা বিষয়ের তুলনায় অধিক বিস্তারিত আলোচনা করেছেন; তিনি তাঁর শাহাদাতের ঘটনাবলী সম্পর্কে ১২০টিরও বেশি বর্ণনা (رواية) উল্লেখ করেছেন। এই বর্ণনাসমূহ সামগ্রিকভাবে তাঁর এবং তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহকারীদের মধ্যে যা ঘটেছিল তার বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশ করে; তাদের ফিরে যাওয়া, পুনরায় পথ থেকে প্রত্যাবর্তন এবং তাঁকে পদত্যাগ করার বা তাঁর নিকট থেকে কিসাস (قصاص) গ্রহণের দাবি, কিছু গভর্নরকে বরখাস্ত করার প্রস্তাব এবং তাঁর পক্ষ থেকে তা প্রত্যাখ্যান ও এ বিষয়ে তাদের সাথে বিতর্ক, তারা কীভাবে তাঁর গৃহে প্রবেশ করেছিল এবং তাদের মধ্যে যারা সরাসরি হত্যায় অংশ নিয়েছিল বা হত্যার ইঙ্গিত দিয়েছিল তাদের নামসমূহ। এছাড়া এই ফিতনার ফলে আরবদের ধ্বংস এবং পরবর্তীতে তাদের ঐক্যবদ্ধ না হতে পারার পরিণাম সম্পর্কে অন্যান্য বর্ণনা (روايات) রয়েছে। আস-সানআনির মতো অন্যান্য মুসান্নাফ রচয়িতাদের মধ্যে ইবনে আবি শায়বা এককভাবে (انفرد) এগুলো উল্লেখ করেছেন। একইভাবে, এই বিবরণগুলো উমর ইবনে শাব্বাহ কর্তৃক পরবর্তীতে একই বিষয়ে বর্ণিত এবং আরও বর্ধিত বিবরণের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। সেখানে এমন কিছু বর্ণনা (روايات) রয়েছে যা সনদ (السند) ও মতনের (المتن) দিক থেকে এই দুইজনের নিকট অভিন্ন, যদিও কখনো কখনো একজনের বর্ণনায় বিস্তারিত আলোচনা আবার অন্যজনের বর্ণনায় সংক্ষেপন (إيجاز) লক্ষ্য করা যায়। তাহলে উমর ইবনে শাব্বাহ কি ইবনে আবি শায়বা থেকে গ্রহণ করেছেন এবং তাঁর নাম উল্লেখ করেননি? এটি সুপরিচিত যে, ইমাম তাবারী উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর শাহাদাতের বিষয়ে ইবনে শাব্বাহর শরণাপন্ন হয়েছেন, তবে তাঁদের উভয়ের নিকট এমন অনেক বর্ণনা (روايات) রয়েছে যা তিনি উদ্ধৃত করেননি। তাই সরাসরি এই দুই উৎসের দিকে প্রত্যাবর্তন করা এই ঘটনার অধ্যয়ন এবং এর বর্ণিত বিষয়সমূহের (مرويات) নতুন করে পর্যালোচনায় (نقد) সহায়ক হবে।

যদিও মুসান্নাফ-এর লেখক উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর শাহাদাত সংক্রান্ত বর্ণনাগুলোকে (مرويات) হুসাইন ও ইবনে জুবায়েরের শাহাদাতের ফিতনা সংক্রান্ত আলোচনার পরে স্থান দিয়েছেন, তবুও কিতাবুল জামালের আলোচনা এবং এর পরবর্তী বিন্যাস দেখে মনে হয় যেন এটি ঐ ঘটনাবলির বাস্তব ফলাফল, যা প্রকৃতপক্ষে সত্য এবং সেই ফিতনার পর উম্মাহর বিভক্তির পরিচায়ক।

--------------------------------------------

১ ইবনে আবি শায়বা, খণ্ড ১৫, পৃষ্ঠা ২১৮-২২১।

২ উমর ইবনে শাব্বাহ: তারিখুল মদিনা, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ১১৪৯।

৩ ইবনে আবি শায়বা: মুসান্নাফ, খণ্ড ১৫, পৃষ্ঠা ২১৫-২১৯; উমর ইবনে শাব্বাহ: তারিখুল মদিনা, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ১১৪৯, ১১৫২।
(খণ্ড: ১) আত-তারীখ ইনদা ইবনু আবী শায়বাহ (পৃষ্ঠা: ৫৮৫)
حتى رد ابن سيرين في أحدها بقوله: "ما علمت أن علياً اتهم في قتل عثمان حتى بويع، اتهمه الناس". وقال علي نفسه فيما بعد في البصرة: "والله ما قتلته وما مالأت على قتله"1.

وكان عمار بن ياسر لا يجيز تكفير أهل الشام في صفين ويقول عنهم: بأنهم مفتونون جاروا عن الحق، ويصفهم في رواية أخرى بأنهم فسقوا ظلموا.

كما جاء ابن أبي شيبة بروايات في نشأة الخوارج المبكرة وصفتهم وموقفهم من الخلاف بين علي بن أبي طالب ومعاوية ثم قتال علي لهم عند النهروان، وأشهر فرقهم وهي الحرورية2.

معركة الجمل:

أفرد ابن أبي شيبة كتاباً لأحداث معركة الجمل، وبدأه بمسير عائشة وعلي وطلحة والزبير إلى الكوفة وبدأه برواية طويلة حول وفود بعض أهل البصرة على علي من بني راسب3، ثم كيف أنشب عُبدان الفريقين القتال وعقر جمل عائشة، وأن قلة قليلة من الصحابة شهدوا الجمل4.

ثم ذكر عدة صور من تقدير الفريقين بعضهما بعضاً وأن الأمر لا يصل إلى التكفير "لم يكفر أهل الجمل" وكل منهم يلهج بالثناء على صاحبه ويعطي جائزة لمن يبشره أنه حيّ،. ووصف الفريق الآخر بأن: "إخواننا بغوا علينا"5. وربما جلس علي وأصحابه يوماً يبكون على طلحة والزبير 6.

--------------------------------------------

1 ابن أبي شيبة ج15 ص210.

2 ابن أبي شيبة ج15 ص 303، 320، 326.

3 ابن أبي شيبة ج15 ص251.

4 المصدر السابق ج15 ص264.

5 المصدر السابق ج15ص257-258.

6 المصدر السابق ج15 ص261.
এমনকি ইবনে সিরিন এর একটির জবাবে বলেছেন: "আমি জানতাম না যে উসমানকে হত্যার বিষয়ে আলীকে অভিযুক্ত করা হয়েছিল যতক্ষণ না তাঁর হাতে বায়াত গ্রহণ করা হয়; মানুষ তাঁকে অভিযুক্ত করেছিল।" আর আলী নিজেই পরবর্তীতে বসরার মাটিতে বলেছিলেন: "আল্লাহর কসম, আমি তাকে হত্যা করিনি এবং তার হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতা (مالأت) করিনি।"1.

আর আম্মার ইবনে ইয়াসির সিফফিনে শামবাসীদের কাফির ঘোষণা করা (تكفير) বৈধ মনে করতেন না এবং তাদের সম্পর্কে বলতেন যে: তারা ফিতনায় পতিত হয়েছে এবং সত্য থেকে বিচ্যুত হয়েছে; অন্য একটি বর্ণনায় (رواية) তিনি তাদের পাপাচারী ও জালেম হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

একইভাবে ইবনে আবি শাইবা খারেজিদের প্রাথমিক উদ্ভব, তাদের বৈশিষ্ট্য এবং আলী ইবনে আবি তালিব ও মুয়াবিয়ার মধ্যকার বিরোধের ব্যাপারে তাদের অবস্থান সম্পর্কে কিছু বর্ণনা (روايات) নিয়ে এসেছেন; অতঃপর নাহরাওয়ানে আলীর সাথে তাদের যুদ্ধ এবং তাদের সবচেয়ে প্রসিদ্ধ উপদল 'হারুরিয়া' সম্পর্কে আলোচনা করেছেন।2.

জামালের যুদ্ধ:

ইবনে আবি শাইবা জামালের যুদ্ধের ঘটনাবলির জন্য একটি স্বতন্ত্র অধ্যায় (كتاب) নির্ধারণ করেছেন। তিনি এটি শুরু করেছেন আয়েশা, আলী, তালহা ও জুবায়েরের কুফার দিকে যাত্রা করার বর্ণনা দিয়ে এবং বনু রাসিব গোত্র থেকে বসরার কিছু লোকের আলীর কাছে প্রতিনিধি হিসেবে আসার বিষয়ে একটি দীর্ঘ বর্ণনা (رواية) প্রদানের মাধ্যমে।3 এরপর কীভাবে উভয় পক্ষের কিছু দুষ্কৃতকারী যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটাল এবং আয়েশার উটটিকে জখম করল, এবং সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে খুব অল্প সংখ্যকই জামালের যুদ্ধে উপস্থিত ছিলেন তা উল্লেখ করেছেন।4.

এরপর তিনি উভয় পক্ষের একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধের বেশ কিছু চিত্র উল্লেখ করেছেন এবং দেখিয়েছেন যে বিষয়টি কাফির সাব্যস্ত করা (تكفير) পর্যন্ত পৌঁছায়নি—"তিনি জামালের যুদ্ধকারীদের কাফির বলেননি"—বরং তাদের প্রত্যেকেই অপরপক্ষের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন এবং যে তাকে তার জীবিত থাকার সুসংবাদ দিত তাকে পুরস্কৃত করতেন। তিনি অপর পক্ষকে এই বলে বর্ণনা করেছেন যে: "আমাদের ভাইয়েরা আমাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ (بغوا) করেছে।"5. এবং কখনো কখনো আলী ও তাঁর সঙ্গীরা বসে তালহা ও জুবায়েরের জন্য কাঁদতেন। 6.

--------------------------------------------

1 ইবনে আবি শাইবা, ১৫তম খণ্ড, ২১০ পৃষ্ঠা।

2 ইবনে আবি শাইবা, ১৫তম খণ্ড, ৩০৩, ৩২০, ৩২৬ পৃষ্ঠা।

3 ইবনে আবি শাইবা, ১৫তম খণ্ড, ২৫১ পৃষ্ঠা।

4 প্রাগুক্ত, ১৫তম খণ্ড, ২৬৪ পৃষ্ঠা।

5 প্রাগুক্ত, ১৫তম খণ্ড, ২৫৭-২৫৮ পৃষ্ঠা।

6 প্রাগুক্ত, ১৫তম খণ্ড, ২৬১ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) আত-তারীখ ইনদা ইবনু আবী শায়বাহ (পৃষ্ঠা: ৫৮৬)
كما أورد عدداً من الروايات تشير أن طلحة والزبير بايعا علياً مكرهين فساغ لهما نقض بيعته، ومرة أخرى يريان أنه بدل 1.

وأخرى تذكر أن عائشة وعلياً كان يتمنيان أنهما لم يدركا معركة الجمل2. وبحكم موضوع هذا الكتاب فرواياته تدور حولها حتى جاء فيه بالروايات المتعارضة والمواقف المختلفة لمن شاركوا في أحداثه.

وبعد انتهاء المصنف من ذكر مرويات معركة الجمل عقد باباً لموقعة صفين بين علي ومعاوية- رضي الله عنهما جاء فيه بأربع وأربعين رواية فيها، دارت بوضوح أكثر حول مواقف عمار بن ياسر- رضي الله عنه وثباته مع علي وترديده القول: "لو ضربونا حتى يبلغونا سعفات هجر لعلمنا أنا علي الحق وأنهم على الباطل"؛ ومع هذا كان ينهى أصحابه عن تكفير أهل الشام، ويأمرهم بقول: "فسقوا وظلموا"3، فما أمر التكفير بهين. وقريب منه موقف علي رضي الله عنه عندما يروي المصنف أنه كان يحسن معاملة أسرى الشام ولم يقتل أحداً منهم ويكتفي بأخذ سلاحه ثم يخلي سبيله وربما أعطى الواحد منهم بعض الدراهم في سبيل الإحسان إليه4.

ثم جاء بعد ذلك بروايات كثيرة حول ظهور الخوارج وموقفهم من علي وموقفه الحازم منهم بصور مختلفة معقولة بالسند وكثير منها بعبارة شهدنا، وكنا مع، وخطبنا، وأمثالها من عبارات شهود العيان، والقرب من الأحداث5. فضلاً عن أن ابن أبي شيبة يذكر مروياته حول أحداث الجمل وصفين والخوارج بطرق إسناد مختلفة في الغالب عما ورد عند الآخرين كأبي مخنف ونصر بن مزاحم والطبري.

--------------------------------------------

1 المصدر السابق ج15 ص261، 272.

2 المصدر السابق ج15 ص282، 286.

3 ابن أبي شيبة ج15 ص293-294.

4 المصدر السابق ج15 ص295.

5 المصدر السابق ج15 ص303-319، 320، 326، 327، 332.
যেমন তিনি বেশ কিছু বর্ণনা (روايات) উল্লেখ করেছেন যা ইঙ্গিত করে যে, তালহা ও জুবায়ের অনিচ্ছাসত্ত্বেও আলীর নিকট বায়াত গ্রহণ করেছিলেন, ফলে তাঁদের জন্য সেই বায়াত ভঙ্গ করা বৈধ হয়ে গিয়েছিল; আবার অন্য এক স্থানে দেখা যায় তাঁরা মনে করতেন যে তিনি [আলী] নীতি পরিবর্তন করেছেন। ১.

অন্যান্য বর্ণনায় উল্লেখ আছে যে, আয়েশা ও আলী (রা.) উভয়েই কামনা করতেন যদি তাঁরা জঙ্গে জামালের যুদ্ধ প্রত্যক্ষ না করতেন। ২। এই গ্রন্থের বিষয়বস্তুর প্রেক্ষিতে এর বর্ণনাগুলো (رواياته) উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়েছে, এমনকি এতে পরস্পরবিরোধী বর্ণনা (الروايات المتعارضة) এবং যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন অবস্থানের কথাও বর্ণিত হয়েছে।

গ্রন্থকার জঙ্গে জামালের বর্ণিত বর্ণনাগুলো (مرويات) উল্লেখ শেষ করার পর আলী ও মুয়াবিয়া (রা.)-এর মধ্যকার সিফফিনের যুদ্ধ নিয়ে একটি অধ্যায় রচনা করেছেন, যেখানে তিনি ৪৪টি বর্ণনা (رواية) এনেছেন। এই বর্ণনাগুলো মূলত আম্মার ইবনে ইয়াসির (রা.)-এর অবস্থান, আলীর পক্ষে তাঁর অবিচলতা এবং তাঁর এই উক্তির পুনরুক্তির ওপর স্পষ্টভাবে আবর্তিত হয়েছে: "যদি তারা আমাদের আঘাত করতে করতে হিজরের খেজুর শাখা পর্যন্ত নিয়ে যায়, তবুও আমরা জানব যে আমরাই সত্যের ওপর আছি আর তারা মিথ্যার ওপর।" এতৎসত্ত্বেও তিনি তাঁর সঙ্গীদের শামবাসীদের কাফির ঘোষণা করতে (تكفير) নিষেধ করতেন এবং তাঁদের এই বলতে নির্দেশ দিতেন যে: "তারা পাপাচার করেছে এবং জুলুম করেছে।" ৩। বস্তুত কাফির সাব্যস্ত করার (التكفير) বিষয়টি কোনো সহজ ব্যাপার নয়। এর কাছাকাছি অবস্থান ছিল আলী (রা.)-এর; গ্রন্থকার বর্ণনা করেছেন যে, তিনি শামের যুদ্ধবন্দীদের সাথে সদ্ব্যবহার করতেন, তাঁদের কাউকে হত্যা করতেন না, বরং কেবল অস্ত্র কেড়ে নিয়ে তাঁদের মুক্ত করে দিতেন এবং অনেক সময় তাঁদের প্রতি অনুগ্রহ স্বরূপ কিছু দিরহামও প্রদান করতেন। ৪।

এরপর তিনি খারেজিদের উদ্ভব, আলীর প্রতি তাদের অবস্থান এবং তাদের বিরুদ্ধে আলীর কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে অনেকগুলো বর্ণনা (روايات) উল্লেখ করেছেন, যা সনদের (السند) মাধ্যমে বিভিন্ন যৌক্তিক রূপে বর্ণিত হয়েছে। এর অনেকগুলোতে "আমরা প্রত্যক্ষ করেছি", "আমরা সাথে ছিলাম", "আমাদের সামনে খুতবা দিয়েছেন"—এরকম চাক্ষুষ সাক্ষী ও ঘটনার নিকটবর্তী হওয়ার শব্দাবলি ব্যবহৃত হয়েছে। ৫। এছাড়া ইবনে আবি শায়বা জামাল, সিফফিন ও খারেজিদের ঘটনা সংক্রান্ত তাঁর বর্ণিত বর্ণনাগুলো (مرويات) এমন সব সনদ (إسناد) পদ্ধতিতে উল্লেখ করেছেন, যা অধিকাংশ ক্ষেত্রে আবু মিখনাফ, নাসর ইবনে মুজাহিম এবং তাবারির বর্ণিত সূত্রের চেয়ে ভিন্ন।

--------------------------------------------

১. পূর্বোক্ত উৎস, খণ্ড ১৫, পৃষ্ঠা ২৬১, ২৭২।

২. পূর্বোক্ত উৎস, খণ্ড ১৫, পৃষ্ঠা ২৮২, ২৮৬।

৩. ইবনে আবি শায়বা, খণ্ড ১৫, পৃষ্ঠা ২৯৩-২৯৪।

৪. পূর্বোক্ত উৎস, খণ্ড ১৫, পৃষ্ঠা ২৯৫।

৫. পূর্বোক্ত উৎস, খণ্ড ১৫, পৃষ্ঠা ৩০৩-৩১৯, ৩২০, ৩২৬, ৩২৭, ৩৩২।
(খণ্ড: ১) আত-তারীখ ইনদা ইবনু আবী শায়বাহ (পৃষ্ঠা: ৫৮৭)
تراجم الأعلام:

تضمنت أحداث السيرة النبوية معلومات قيمة حول عدد من الصحابة كإسلامهم وبعض صفاتهم وما تحلّوا به من فضائل، وأدوارهم في المعارك والغزوات ومواقفهم في الحياة الإسلامية وقتذاك. مثل مرويات إسلام الخلفاء الراشدين الأربعة وكيفية ذلك، وإسلام كبار الصحابة الآخرين كالزبير وأبي ذر الغفاري وزيد بن حارثة وسلمان الفارسي وعدي بن حاتم وجرير بن عبد الله البجلي رضي الله عنهم. والمصنف تحدث عن هؤلاء وغيرهم سواء عند مناسبة ذكر إسلامهم في كتاب المغازي1، أو عند مناسبة كلامهم في باب الزهد2، أو عند ذكر صفاتهم في باب طويل عقده للفضائل3، تحدث فيه بإسهاب عن أخبار كثير من الصحابة ومواقفهم وثناء الرسول صلى الله عليه وسلم على بعضهم وأقوال بعضهم أو الآخرين فيهم، فعلى سبيل المثال ذكر عن عثمان خمسة عشر صفحة وعن الزبير أربع وعن عبد الله بن مسعود ست صفحات وغيرهم كثيرا عدا ما جاء عنهم في مواضعه عند ذكر الأحداث التي شاركوا فيها أو ذكر فضائل قبائلهم أو أقاليمهم.

وذكر في إسلام سلمان الفارسي رواية مطولة 4 لم يذكرها ابن إسحاق وهي مما تفرد به عنه.

وبجمع الروايات الكلية عن كل علم عند ابن أبي شيبة يصبح لدينا حوله كمٌّ كبيرٌ من المادة العلمية في التراجم والسير لا غنى عنها لمن يبحث في هذا الباب، كما تساعد في دراسة بعض مواقف الصحابة مثل أبي ذر والزبير رضي الله عنهما من الأحداث التاريخية في أواخر عصر الخلفاء الراشدين وبداية الدولة الأموية.

--------------------------------------------

1 ابن أبي شيبة ج12 ص284.

2 ابن أبي شيبة ج13 ص192.

3 ابن أبي شيبة ج12 ص5.

4 ابن أبي شيبة ج14 ص321-324.
বিশিষ্ট ব্যক্তিদের জীবনী (تراجم الأعلام):

সীরাত-এ-নববীর ঘটনাবলীতে বেশ কিছু সংখ্যক সাহাবী (صحابة) সম্পর্কে মূল্যবান তথ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যেমন তাঁদের ইসলাম গ্রহণ, তাঁদের কিছু গুণাবলি ও যে সকল ফজিলত (فضائل) তাঁরা অর্জন করেছিলেন, যুদ্ধ (غزوات) ও অভিযানে তাঁদের ভূমিকা এবং তৎকালীন ইসলামী জীবনে তাঁদের অবস্থান। যেমন—চার খলিফার ইসলাম গ্রহণের বর্ণনা (روايات) ও তার পদ্ধতি এবং অন্যান্য বিশিষ্ট সাহাবীদের (صحابة) ইসলাম গ্রহণের বিবরণ, যেমন: জুবাইর, আবু যার আল-গিফারি, যায়েদ বিন হারিসা, সালমান আল-ফারসি, আদি বিন হাতিম এবং জারির বিন আবদুল্লাহ আল-বাজালি (আল্লাহ তাঁদের সবার প্রতি সন্তুষ্ট হন)। গ্রন্থকার (مصنف) এই সকল ব্যক্তি এবং অন্যদের সম্পর্কে আলোচনা করেছেন, তা 'কিতাবুল মাগাজি' ১-এ তাঁদের ইসলাম গ্রহণের প্রসঙ্গের আলোচনায় হোক, অথবা 'কিতাবুজ জুহদ' ২-এ তাঁদের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে হোক, কিংবা ফজিলত (فضائل) ৩ বিষয়ক একটি দীর্ঘ অধ্যায়ে তাঁদের গুণাবলি বর্ণনার সময় হোক। সেখানে তিনি বহু সাহাবীর (صحابة) সংবাদ ও তাঁদের অবস্থান এবং তাঁদের কয়েকজনের ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রশংসা এবং তাঁদের সম্পর্কে একে অপরের মন্তব্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। উদাহরণস্বরূপ, তিনি উসমান (রা.) সম্পর্কে পনেরো পৃষ্ঠা, জুবাইর (রা.) সম্পর্কে চার পৃষ্ঠা এবং আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) সম্পর্কে ছয় পৃষ্ঠা আলোচনা করেছেন। এছাড়া সংশ্লিষ্ট স্থানসমূহে তাঁদের অংশগ্রহণ করা ঘটনার বিবরণ অথবা তাঁদের গোত্র ও অঞ্চলের ফজিলত (فضائل) বর্ণনার সময়ও তাঁদের কথা এসেছে।

সালমান আল-ফারসির ইসলাম গ্রহণ সম্পর্কে তিনি একটি দীর্ঘ বর্ণনা (رواية) ৪ উল্লেখ করেছেন যা ইবনে ইসহাক উল্লেখ করেননি এবং এটি তাঁর একক বর্ণনাগুলোর (تفرد) অন্তর্ভুক্ত।

ইবনে আবি শায়বার কিতাবে প্রতিটি ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে বর্ণিত সামগ্রিক বর্ণনা (روايات) একত্রিত করলে জীবনী (تراجم) ও সীরাত (سير) বিষয়ে আমাদের কাছে বিশাল এক জ্ঞানভাণ্ডার তৈরি হয়, যা এই বিষয়ের গবেষকদের জন্য অপরিহার্য। এটি আবু যার এবং জুবাইর (রা.)-এর মতো সাহাবীদের (صحابة) কিছু ঐতিহাসিক অবস্থানের গবেষণায় সাহায্য করে, বিশেষ করে খোলাফায়ে রাশেদীনের শেষ সময় এবং উমাইয়া শাসনকালের শুরুর দিকের ঘটনাবলি পর্যালোচনায়।

--------------------------------------------

১ ইবনে আবি শায়বা, খণ্ড ১২, পৃষ্ঠা ২৮৪।

২ ইবনে আবি শায়বা, খণ্ড ১৩, পৃষ্ঠা ১৯২।

৩ ইবনে আবি শায়বা, খণ্ড ১২, পৃষ্ঠা ৫।

৪ ইবনে আবি শায়বা, খণ্ড ১৪, পৃষ্ঠা ৩২১-৩২৪।