(খণ্ড: ১)
আল-ইমদাদ বি-আহকামিল হিদাদ
(পৃষ্ঠা: -)
الإمداد بأحكام الحداد القسم: مسائل فقهية
الكتاب: الإمداد بأحكام الحداد
المؤلف: فيحان شالي المطيري
الناشر: الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة
الطبعة: السنة السادسة عشرة، العدد الثاني والستون ربيع الآخر- جمادى الآخرة 1404هـ/1984م
عدد الصفحات: 171
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-ইমদাদ বি-আহকামিল হিদাদ বিভাগ: ফিকহি মাসআলাসমূহ
বই: আল-ইমদাদ বি-আহকামিল হিদাদ
লেখক: ফাইহান শালি আল-মুতাইরি
প্রকাশক: মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়
সংস্করণ: ষোড়শ বর্ষ, ৬২তম সংখ্যা, রবিউস সানি- জুমাদাল আখিরা ১৪০৪ হিজরি/১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৭১
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-ইমদাদ বি-আহকামিল হিদাদ
(পৃষ্ঠা: ১৪৫)
مقدمة…الإمداد بأحكام الحداد
للدكتور فيحان شالي المطيري أستاذ مساعد بكلية الشريعة
ـ 1 ـ
الحمد لله الكريم المنّان المتفرد بصفات الكمال والجلال وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له القوي المتعال وأصلّي وأسلّم على خاتم الأنبياء والمرسلين محمد بن عبد الله أكرم من مشى على وجه الأرض وتحت أديم السماء.
أما بعد: فقد كرم الله ابن آدم وميز بينه وبين سائر الحيوانات بنعمة العقل التي يفرق بها بين الخير والشر، والضار والنافع، فالإنسان يفكر ويتفكر ويأخذ ويعطي على حسب ما يراه من المصلحة، ونتيجة لهذا العقل فهو يتفاعل مع المجتمع، ويقيم الروابط بينه وبين الآخرين، ومن أهم هذه الروابط وأجلها رابطة الزوجية التي قال عنها القرآن الكريم: {وَجَعَلَ بَيْنَكُمْ مَوَدَّةً وَرَحْمَة} (الروم:21) . فأيّ نعمة أعظم من هذه النعمة؟. التي تكون بين الزوجين بسبب الرابطة الزوجية ولهذا فإن الشارع الحكيم جعل لكل منهما حقوقا على صاحبه؛ فالزوجة لها حقوق على الزوج عظيمة لا يسمح له الشرع بالإخلال بشيء منها والانتقاص منها، وكذلك الزوج له حقوق عظيمة على زوجته لم يجعل الشارع سبيلا للزوجة كي تعبث بها، وهي لا تستحق الإكرام إلا إذا قامت بهذه الحقوق خير قيام، وهذا كله دليل على سماحة الشريعة الإسلامية وحرصها على جمع الكلمة وتقوية الروابط الفردية والاجتماعية وتأسيس الحياة الزوجية على أساس قوي يكتب له البقاء ردحاً من الزمن، وفي هذا سعادة المجتمع وسعادة الفرد، ولهذا وغيره من الأسباب أوجب الله الحداد على المرأة في حق زوجها المتوفى إظهاراً لحق الزوج ووفاءً بالعهد الذي كان بينهما على حد قوله تعالى: {وَلا تَنْسَوُا الْفَضْلَ بَيْنَكُمْ} . (البقرة: 237) .
نعم إنّ الفضل لا ينسى بين المسلمين وإنما يذكر أصحاب الفضل بالفضل، فالزوجة لا تنسى فضل زوجها وما كان بينهما من المحبة والمودة والعشرة الطيبة، فمن الوفاء كل الوفاء القيام بحقه حياً وميتاً.
ভূমিকা…আল-ইমদাদ বি-আহকামিল হিদাদ
ডক্টর ফাইহান শালি আল-মুতাইরি, শরীয়াহ অনুষদের সহকারী অধ্যাপক কর্তৃক প্রণীত
— ১ —
সমস্ত প্রশংসা দয়াময় ও দাতা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর পূর্ণতা ও মহিমার গুণাবলিতে একক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি অদ্বিতীয় এবং তাঁর কোনো শরিক নেই; তিনি পরাক্রমশালী ও সুউচ্চ। আমি দরুদ ও সালাম পেশ করছি সর্বশেষ নবী ও রাসুল মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহর প্রতি, যিনি এই জমিনের বুকে বিচরণকারী এবং আকাশের নিচে বসবাসকারী সকল মানুষের মধ্যে সর্বাধিক সম্মানিত।
অতঃপর: আল্লাহ তাআলা বনী আদমকে সম্মানিত করেছেন এবং আকল বা বিবেকবুদ্ধির নেয়ামত প্রদানের মাধ্যমে তাকে অন্যান্য সকল প্রাণী থেকে পৃথক করেছেন, যার দ্বারা সে ভালো-মন্দের এবং ক্ষতিকর ও উপকারীর মধ্যে পার্থক্য করতে পারে। মানুষ চিন্তা ও গবেষণা করে এবং নিজের কল্যাণ অনুযায়ী গ্রহণ বা বর্জন করে। এই বিবেকবুদ্ধিরই ফলস্বরূপ সে সমাজের সাথে মিথস্ক্রিয়া করে এবং অন্যদের সাথে সামাজিক বন্ধন গড়ে তোলে। এসকল বন্ধনের মধ্যে অন্যতম ও মহান হলো বৈবাহিক বন্ধন, যে সম্পর্কে পবিত্র কুরআন বলছে: “এবং তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন।” (রুম: ২১)। সুতরাং এই নেয়ামতের চেয়ে বড় আর কী হতে পারে? যা বৈবাহিক সম্পর্কের কারণে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সৃষ্টি হয়। এই কারণেই প্রজ্ঞাবান শরীয়ত প্রণেতা প্রত্যেকের জন্য অপরজনের ওপর অধিকার ন্যস্ত করেছেন। স্বামীর ওপর স্ত্রীর সুমহান অধিকার রয়েছে যা লঙ্ঘন করার বা তাতে কোনো কমতি করার অনুমতি শরীয়ত তাকে দেয়নি। তদ্রূপ স্ত্রীর ওপরও স্বামীর সুমহান অধিকার রয়েছে, যা নিয়ে অবহেলা করার কোনো পথ শরীয়ত স্ত্রীর জন্য রাখেনি। একজন স্ত্রী ততক্ষণ পর্যন্ত সম্মান লাভের যোগ্য হয় না যতক্ষণ না সে এই অধিকারসমূহ যথাযথভাবে পালন করে। এই সবকিছুই ইসলামী শরীয়তের উদারতা এবং ঐক্যবদ্ধ থাকা ও ব্যক্তিগত ও সামাজিক বন্ধন শক্তিশালী করার প্রতি তার ঐকান্তিক আগ্রহের প্রমাণ। এটি বৈবাহিক জীবনকে এক শক্তিশালী ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করে যা দীর্ঘকাল স্থায়ী হয়। এর মধ্যেই নিহিত রয়েছে ব্যক্তি ও সমাজের সুখ। এসকল ও অন্যান্য কারণে, আল্লাহ তাআলা মৃত স্বামীর হকের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং তাদের মধ্যকার পারস্পরিক অঙ্গীকার পূর্ণ করার নিমিত্তে নারীর ওপর শোকপালন (حداد) আবশ্যক (واجب) করেছেন; যেমনটি আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: “এবং তোমরা নিজেদের মধ্যে অনুগ্রহের কথা ভুলে যেও না।” (বাকারা: ২৩৭)।
হ্যাঁ, মুমিনদের মধ্যে পারস্পরিক অনুগ্রহের কথা বিস্মৃত হওয়া উচিত নয়, বরং অনুগ্রহকারীদের তাদের অনুগ্রহের মাধ্যমেই স্মরণ করা উচিত। স্ত্রী যেন তার স্বামীর অনুগ্রহ এবং তাদের মধ্যকার ভালোবাসা, মমতা ও উত্তম দাম্পত্য জীবনের কথা ভুলে না যায়। সুতরাং জীবিত ও মৃত উভয় অবস্থায় স্বামীর হক আদায় করাই হলো প্রকৃত বিশ্বস্ততা।
(খণ্ড: ১)
আল-ইমদাদ বি-আহকামিল হিদাদ
(পৃষ্ঠা: ১৪৬)
ومن هذا المنطلق فقد ساهمت بهذا الجهد المتواضع خدمة للشريعة الإسلَامية، فطالما كنت أفكِّر في الكتابة في هذا الموضوع لما له من الأهمية في حياة الفرد المسلم اليومية، والموت سنة إلهية لا ينكرها أحد حتى أولئك الذين لا يعترفون بالإسلام ديناً، نجد أنهم لا ينكرون هذه السنة الإلهية، فربّما فقدت المرأة زوجها قبل الدخول أو بعده فتكون محتاجة إلى معرفة الأحكام المتعلقة بالإحداد ولا تجد ما يحقق رغبتها اللهَّم إلا ما كان مبعثراً في المصادر القديمة مما يتعلق بالحداد. وقَد عزمت على الكتابة في هذا الموضوع تيسيراً وتسهيلاً على من يحتاج إلى ذلك مسترشداً بأفكار المتقدمين على ضوء الدليل والاستدلال والمناقشة، وقد زادني رغبة سؤال أتاني من فتاة تدرس في معهد التمريض للبنات مفاده أنّ زوجها توفي عنها في حادثة سيارة قبل الدخول، فهل يجب عليها الإحداد؟ ثم إذا كان يجب عليها فهل يجوز لها الخروج للدراسة وتأدية الامتحان. بالرغم من أنه لا يوجد لها عائل يعولها؟ فأجبتها حسب علمي وأحلتها على شيخنا سماحة الوالد عبد العزيز بن عبد الله بن باز ليطمئن قلبي وقلبها وبحمد الله أفتاها بمثل ما أفتيتها به، ومن هنا عقدت العزم على الكتابة وبدأت في جمع المادة من مصادرها وتقريبها في هذا البحث، راجيا الله عز وجل أن ينفع به كل من قرأه واطلع عليه، إنه على ذلك قدير، وبالإجابة جدير.
أما أسلوب البحث فهو يتلخص في ما يأتي:
1ـ أذكر مذاهب الفقهاء الأربعة ما وجدت إلى ذلك سبيلا معتمداً على المصادر المشهورة في كل مذهب ثم أعرّج على المذاهب السنية الأخرى تتميما للفائدة.
2 ـ أعرض المسألة وما فيها من الاختلاف فأذكر القول ودليله ومناقشة أدلة القول المرجوح ثم أخلص إلى الراجح حسبما يظهر لي، ولا أعتمد في القول الراجح على ترتيب معين.
3 ـ أعزو الآيات والأحاديث والآثار إلى مصادرها، فالآيات أعزوها إلى سورها في المصحف الشريف، والأحاديث أعزوها إلى كتب المحدثين، والآثار إلى كتب المحدثين، وقد أكتفي بعزوها إلى كتب الفقه أحياناً.
4 ـ أجعل الفصل على مباحث، والمبحث على مطالب، والمطلب إلى فروع ما وجدت إلى ذلك سبيلا حسبما يتطلبه ذلك الفصل.
5 ـ اقتبست أكثر أحكام الإحداد من الأدلة التي تفيد إيجاب العدة على المتوفى عنها واستفدت من أقوال الفقهاء في هذا الباب وإلا فالأحكام التي ذكرت عن الإحداد قديماً
এই প্রেক্ষাপট থেকেই ইসলামী শরীয়াহর খিদমতে আমি এই বিনম্র প্রচেষ্টা চালিয়েছি। আমি দীর্ঘকাল যাবৎ এই বিষয়ে লেখার কথা ভাবছিলাম, কারণ একজন মুসলিম ব্যক্তির প্রাত্যহিক জীবনে এর যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। মৃত্যু একটি ঐশী বিধান, যা কেউ অস্বীকার করতে পারে না; এমনকি যারা ইসলামকে দ্বীন হিসেবে স্বীকার করে না, তারাও এই ঐশী বিধানকে অস্বীকার করে না। অনেক সময় দেখা যায় যে, কোনো নারী বাসর যাপনের পূর্বে বা পরে তার স্বামীকে হারান এবং তখন শোক পালন সংক্রান্ত বিধিবিধানগুলো জানার প্রয়োজন বোধ করেন। কিন্তু শোক পালন সম্পর্কিত প্রাচীন উৎসগুলোতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা তথ্যাদি ছাড়া তিনি তার আকাঙ্ক্ষা পূরণকারী সুসংহত কোনো তথ্য পান না। তাই যারা এই বিষয়ে জানতে আগ্রহী, তাদের সুবিধার্থে এবং সহজীকরণের লক্ষ্যে আমি পূর্বসূরিদের চিন্তাধারার আলোকে দলিল (دليل), বুদ্ধিবৃত্তিক প্রমাণ (استدلال) ও পর্যালোচনার ভিত্তিতে এই বিষয়ে লেখার সংকল্প করেছি। আমার এই আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল নার্সিং ইনস্টিটিউটের জনৈক ছাত্রীর করা একটি প্রশ্ন। তার বক্তব্য ছিল এই যে, বাসর যাপনের পূর্বেই তার স্বামী সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন; এমতাবস্থায় তার ওপর কি শোক পালন ওয়াজিব হবে? যদি ওয়াজিব হয়, তবে তার দেখাশোনার মতো কেউ না থাকা সত্ত্বেও কি তার পড়াশোনা ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য বাইরে যাওয়া জায়েজ হবে? আমি আমার জ্ঞান অনুযায়ী তাকে উত্তর দিয়েছিলাম এবং আমার ও তার হৃদয়ের প্রশান্তির জন্য আমাদের শায়খ সামাহাতুল ওয়ালিদ আবদুল আজিজ বিন আবদুল্লাহ বিন বাজ-এর নিকট বিষয়টি উত্থাপন করেছিলাম। আল্লাহর প্রশংসা যে, তিনিও আমার দেওয়া ফতোয়ার অনুরূপ ফতোয়া প্রদান করেছেন। এরপর থেকেই আমি দৃঢ় সংকল্প করি এবং মূল উৎসসমূহ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে এই গবেষণায় তা সহজবোধ্যভাবে উপস্থাপন শুরু করি। মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন এর মাধ্যমে প্রত্যেক পাঠক ও গবেষককে উপকৃত করেন; নিশ্চয়ই তিনি এর ওপর ক্ষমতাবান এবং দোয়া কবুলের যোগ্য।
গবেষণার পদ্ধতি সংক্ষেপে নিম্নরূপ:
১ـ আমি সাধ্যমতো চার ফকিহর মাযহাবসমূহ প্রতিটি মাযহাবের প্রসিদ্ধ উৎসগুলোর ওপর ভিত্তি করে উল্লেখ করব এবং বিষয়টির পূর্ণতার লক্ষ্যে অন্যান্য সুন্নি মাযহাবগুলোও পর্যালোচনা করব।
২ ـ আমি মাসআলাটি এবং তাতে বিদ্যমান মতভেদগুলো তুলে ধরব। এক্ষেত্রে আমি সংশ্লিষ্ট অভিমত ও তার দলিল (دليل) উল্লেখ করব এবং অপ্রধান (مرجوح) মতের দলিল (دليل) গুলো পর্যালোচনা করে আমার নিকট যা অগ্রগণ্য (راجح) মনে হবে তার উপসংহার টানব। তবে অগ্রগণ্য (راجح) মতের ক্ষেত্রে আমি কোনো বিশেষ বিন্যাস অনুসরণ করব না।
৩ ـ আমি আয়াত, হাদিস ও বর্ণনা (آثار) সমূহকে তাদের মূল উৎসের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করব। আয়াতসমূহকে পবিত্র কুরআনের সূরা অনুযায়ী, হাদিসসমূহকে মুহাদ্দিসগণের কিতাবসমূহ থেকে এবং বর্ণনা (آثار) সমূহকেও মুহাদ্দিসগণের কিতাবসমূহ থেকে উদ্ধৃত করব। তবে ক্ষেত্রবিশেষে আমি শুধুমাত্র ফিকহ শাস্ত্রের কিতাবসমূহের উদ্ধৃতির ওপরই নির্ভর করতে পারি।
৪ ـ আমি সাধ্যমতো এই গবেষণার অধ্যায়সমূহকে পরিচ্ছেদ (مباحث), পরিচ্ছেদসমূহকে উপ-পরিচ্ছেদ (مطالب) এবং উপ-পরিচ্ছেদসমূহকে শাখা (فروع) হিসেবে বিন্যস্ত করব, যদি সংশ্লিষ্ট অধ্যায়ের জন্য তেমন বিন্যাসের প্রয়োজন হয়।
৫ ـ আমি শোক পালনের অধিকাংশ বিধান সেই সকল দলিল (دليل) থেকে গ্রহণ করেছি যা মৃত স্বামীর স্ত্রীর ওপর ইদ্দত পালন ওয়াজিব হওয়ার প্রমাণ দেয়। এছাড়া আমি এই বিষয়ে ফকিহগণের বক্তব্যসমূহ থেকেও উপকৃত হয়েছি, অন্যথায় শোক পালনের বিষয়ে অতীতে যে সকল বিধান বর্ণিত হয়েছে...
(খণ্ড: ১)
আল-ইমদাদ বি-আহকামিল হিদাদ
(পৃষ্ঠা: ১৪৭)
قليلة جداً لا تتجاوز عشر صفحات في المطوّلات، وإنما فعلت ذلك لكون الحداد وعدة المتوفى عنها- شقيقتين- فهو يجب حيث تجب وينعدم حيث تنعدم، ولم أجد من أفرده بالتأليف قبلي وأحسب أن هذا البحت باكورة ما كتب فيه.
أما الخطة فبنيتها على ستة فصول وخاتمة:
الفصل الأول: معنى الإحداد.
الفصل الثاني: حكم الإحداد.
الفصل الثالث: شروط الإحداد، وفي هذا الفصل المباحث آلاتية:
المبحث الأول: كون الحادة عاقلة.
المبحث الثاني: في اشتراط البلوغ.
المبحث الثالث: في شرط الإسلام.
المبحث الرابع: هل من شرط وجوبِ الحداد كونه من الوفاة؟
المبحث الخامس: هل من شرط وجوب الحداد كون النكاح صحيحاً؟
الفصل الرابع: في أقسام الحداد، والكلام فيه في مبحثين:
المبحث الأول: في الحداد الجائز.
المبحث الثاني: في الحداد الممتنع، وقسمت كل مبحث إلى قسمين.
الفصل الخامس: في زمن الحداد وفيه مبحثان:
المبحث الأول زمن الحداد على القريب الميت.
المبحث الثاني رمن الحداد على الزوج، وفيه مطالب:
المطلب الأول عدة غير ذات الحمل وفيه مسائل مبيّنة في موضعها.
المطلب الثاني في سبب وجوب الحداد.
المطلب الثالث: في شرط وجوب عَدة المتوفى عنها.
المطلب الرابع: في وجوب الحداد على المطلّقة إذا مات زوجها قبل انقضاء عدّتها
من الطلاق.
المطلب الخامس: في إحداد المتوفى عنها الحامل.
الفصل السادس: الآثار المترتبة على الحداد، وفيه مباحث:
المبحث الأول: في الطيب.
المبحث الثاني: عدم تزين المرأة في نفسها.
المبحث الثالث: في زينة الثياب.
المبحث الرابع: في منع الحادة من الحلي.
المبحث الخامس: في سكنى الحادة وفيه مطالب:
المطلب الأول: في مبيت الحادة في منزلها ليلا.
المطلب الثاني: خروج الحادة من منزلها نهاراً.
المطلب الثالث: في وجوب السكنى وعدمها سكن الحادة.
المطلب الرابع: في نفقة الحادة.
الخاتمة: فقد تكلمت فيها على النتائج التي ظهرت لي من خلال البحث.
وإليك تحرير المقام في ذلك كله.
এটি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত, যা বিস্তারিত গ্রন্থগুলোতে দশ পৃষ্ঠার বেশি নয়। বরং আমি এই কাজটি করেছি কারণ শোক পালন এবং বিধবার ইদ্দত—একে অপরের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত; ফলে যেখানে ইদ্দত আবশ্যক সেখানে শোক পালনও আবশ্যক হয়, আর যেখানে ইদ্দত নেই সেখানে শোক পালনও নেই। আমার পূর্বে কেউ এই বিষয়ে একক কোনো গ্রন্থ রচনা করেছেন বলে আমার জানা নেই এবং আমি মনে করি এই গবেষণাটি এই বিষয়ে লিখিত প্রথম দিককার কাজ।
কর্মপরিকল্পনার ক্ষেত্রে আমি একে ছয়টি অধ্যায় ও একটি উপসংহারের ওপর সাজিয়েছি:
প্রথম অধ্যায়: শোক পালনের অর্থ।
দ্বিতীয় অধ্যায়: শোক পালনের বিধান।
第三 অধ্যায়: শোক পালনের শর্তাবলি; এই অধ্যায়ে নিম্নলিখিত পরিচ্ছেদগুলো রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: শোক পালনকারিণী সুস্থ মস্তিস্কসম্পন্ন হওয়া।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সাবালিকা হওয়ার শর্ত প্রসঙ্গে।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ইসলাম গ্রহণের শর্ত প্রসঙ্গে।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: শোক পালন ওয়াজিব হওয়ার জন্য মৃত্যু হওয়া কি একটি শর্ত?
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: শোক পালন ওয়াজিব হওয়ার শর্ত কি বিবাহ সহীহ (صحيح) হওয়া?
চতুর্থ অধ্যায়: শোক পালনের প্রকারভেদ; এ বিষয়ে আলোচনা দুটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত:
প্রথম পরিচ্ছেদ: বৈধ শোক পালন প্রসঙ্গে।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: নিষিদ্ধ শোক পালন প্রসঙ্গে; আমি প্রতিটি পরিচ্ছেদকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছি।
পঞ্চম অধ্যায়: শোক পালনের সময়কাল এবং এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: মৃত আত্মীয়ের জন্য শোক পালনের সময়কাল।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: স্বামীর জন্য শোক পালনের সময়কাল; এতে কয়েকটি উপ-পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: গর্ভবতী নয় এমন নারীর ইদ্দত; এতে সংশ্লিষ্ট মাসআলাগুলো যথাস্থানে বর্ণনা করা হয়েছে।
দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: শোক পালন ওয়াজিব হওয়ার কারণ প্রসঙ্গে।
তৃতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: বিধবা নারীর ইদ্দত ওয়াজিব হওয়ার শর্ত প্রসঙ্গে।
চতুর্থ উপ-পরিচ্ছেদ: তালাকপ্রাপ্তা নারীর ওপর শোক পালন ওয়াজিব হওয়া প্রসঙ্গে, যদি তালাকের ইদ্দত শেষ হওয়ার পূর্বেই তার স্বামী মারা যান।
পঞ্চম উপ-পরিচ্ছেদ: গর্ভবতী বিধবা নারীর শোক পালন প্রসঙ্গে।
ষষ্ঠ অধ্যায়: শোক পালনের ফলে উদ্ভূত প্রভাবসমূহ; এতে কয়েকটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: সুগন্ধি ব্যবহার প্রসঙ্গে।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: নারীর নিজের সাজসজ্জা বর্জন করা প্রসঙ্গে।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: পোশাকের সাজসজ্জা প্রসঙ্গে।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: শোক পালনকারিণীকে অলঙ্কার পরিধান থেকে বিরত রাখা প্রসঙ্গে।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: শোক পালনকারিণীর আবাসন প্রসঙ্গে; এতে কয়েকটি উপ-পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: শোক পালনকারিণীর রাতে নিজ গৃহে অবস্থান করা প্রসঙ্গে।
দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: শোক পালনকারিণীর দিনে নিজ গৃহ থেকে বের হওয়া প্রসঙ্গে।
তৃতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: শোক পালনকারিণীর আবাসন ওয়াজিব হওয়া বা না হওয়া প্রসঙ্গে।
চতুর্থ উপ-পরিচ্ছেদ: শোক পালনকারিণীর ভরণপোষণ প্রসঙ্গে।
উপসংহার: এখানে আমি গবেষণার মাধ্যমে আমার কাছে সুস্পষ্ট হওয়া ফলাফলগুলো নিয়ে আলোচনা করেছি।
নিম্নে এ সবকিছুর বিস্তারিত বিশ্লেষণ পেশ করা হলো।
(খণ্ড: ১)
আল-ইমদাদ বি-আহকামিল হিদাদ
(পৃষ্ঠা: ১৪৭)
الفصل الأول: معنى الإحداد:الإحداد له معنى في اللغة ومعنى في الاصطلاح، أما معناه لغة: فهو المنع لأن الإحداد صفة تتعلَّق بالمرأة المحدة فهو يمنعها من كثير مما كان مباحاً لها قبله، قال في القاموس: "الحاد والمحدة تاركة الزينة للعدة تقول: حَدَّتْ تَحِدُّ وتَحُدُّ حَداً وحداداً وأحدّت"1، ومنه سمي البواب
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: শোক পালনের (إحداد) অর্থ:শোক পালনের (إحداد) আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থ রয়েছে। আভিধানিক অর্থের ক্ষেত্রে: এর অর্থ হলো বারণ করা (المنع); কেননা শোক পালন (إحداد) এমন একটি বৈশিষ্ট্য যা শোকপালনকারী নারীর সাথে সংশ্লিষ্ট, যা তাকে ইতিপূর্বে তার জন্য বৈধ থাকা অনেক বিষয় থেকে বিরত রাখে। আল-কামুস গ্রন্থে বলা হয়েছে: "শোকপালনকারী (الحاد) এবং শোকপালনকারিণী (المحدة) হলো সেই নারী যে ইদ্দত (عدة) পালনের নিমিত্তে সাজসজ্জা বর্জন করে। বলা হয়ে থাকে: 'সে শোক পালন করেছে' (حَدَّتْ), 'সে শোক পালন করছে' (تَحِدُّ وتَحُدُّ), 'শোক পালন করা' (حداً وحداداً وأحدّت)"১; আর এ কারণেই দ্বাররক্ষীকে এই মূল ধাতু থেকে নামকরণ করা হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমদাদ বি-আহকামিল হিদাদ
(পৃষ্ঠা: ১৪৮)
حداداً لمنعه الداخل، وسميت العقوبة حداً لأنها تمنع عن المعصية. وأما معناه في الاصطلاح: فهو أن تجتنب المرأة المعتدة المتوفى عنها زوجها كل ما يدعو إلى نكاحها ورغبة الآخرين فيها من طيب وكحل ولبس ومطيّب وخروج من منزل من غير حاجة.
قال ابن درستوية: "معنى الإحداد منع المعتدة نفسها الزينة وبدنها الطيب ومنع الخطّاب خطبتها والطمع فيها كما منعَ الحد المعصية"1.
وقال الزيلعي: "وهو -أي الإحداد-: ترك الزينة والطيب"2.
ونشير هنا إلى أن الإحداد فيه لغتان وهما أحدّت إحداداً فهي محدّة فهذا من باب إفعال، والثاني: تحدّ من باب ضرب يضرب، ونصر ينصر، حدّاً فهي حادّ3.
هذا ما يمكن أن يقال عن معنى الإحداد، ومنه يتبين ما بين المعنى اللغوي والمعنى الاصطلاحي من العلاقة، فالمعنى اللغوي أعم من المعنى الاصطلاحي لأنه يراد به المنع مطلقا، أما المعنى الاصطلاحي فيراد به منع المعتدة من أمور خاصة إلى غاية معينة محدودة وهي مدة العدة.
فالعلاقة بين المعنيين علاقة عموم وخصوص كما ترى وهذا هو الشأن في معظم الأحكام التي لها معنى في اللغة ومعنى في الاصطلاح إن لم نقل كلها
…--------------------------------------------
প্রবেশকারীকে বাধা দেওয়ার কারণে একে শোক পালন (إحداد) বলা হয়। আর শাস্তিকেও হদ্দ (حد) বলা হয় কারণ এটি পাপাচার থেকে বিরত রাখে। আর পারিভাষিক (اصطلاح) অর্থে এটি হলো: মৃত স্বামীর জন্য ইদ্দত পালনরতা (معتدة) নারীর সাজসজ্জা, সুরমা, পোশাক, সুগন্ধি এবং প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হওয়ার মতো যাবতীয় বিষয় বর্জন করা যা তার বিয়ের প্রতি আগ্রহ তৈরি করে এবং অন্যদের তার প্রতি আগ্রহী করে তোলে।
ইবনে দুরুস্তাওয়াইহ বলেন: "শোক পালন (إحداد) এর অর্থ হলো ইদ্দত পালনরতা (معتدة) নারীর নিজেকে সাজসজ্জা ও শরীরের সুগন্ধি থেকে বিরত রাখা এবং বিবাহপ্রার্থীদের প্রস্তাব প্রদান ও তার প্রতি লালসা থেকে বাধা দেওয়া, যেমনটি হদ্দ (حد) পাপাচারকে প্রতিহত করে।"১।
যাইলায়ী বলেন: "এটি—অর্থাৎ শোক পালন (إحداد)—হলো সাজসজ্জা ও সুগন্ধি ত্যাগ করা।"২।
আমরা এখানে উল্লেখ করছি যে, শোক পালন (إحداد) শব্দটির দুটি ভাষাতাত্ত্বিক রূপ রয়েছে: প্রথমটি 'আহদাতাত ইহদাদান' (أحدّت إحداداً), সেক্ষেত্রে তিনি শোক পালনকারী (محدّة); এটি ইফআল (إفعال) অনুচ্ছেদ (باب) থেকে। দ্বিতীয়টি: 'তাহুদ্দু' (تحدّ), যা 'দারাবা-ইয়াদরিবু' (ضرب يضرب) ও 'নাসারা-ইয়ানসুরু' (نصر ينصر) অনুচ্ছেদ থেকে, তখন ক্রিয়ামূল হলো 'হাদ্দান' (حدّاً) এবং তিনি শোক পালনকারী (حادّ)।৩।
শোক পালন (إحداد) এর অর্থ সম্পর্কে এগুলিই বলা যেতে পারে। এর থেকে আভিধানিক অর্থ ও পারিভাষিক (اصطلاح) অর্থের মধ্যকার সম্পর্ক স্পষ্ট হয়। আভিধানিক অর্থ পারিভাষিক (اصطلاح) অর্থের চেয়ে বেশি ব্যাপক (عام), কারণ এর দ্বারা সাধারণভাবে বাধা দেওয়া বোঝানো হয়। আর পারিভাষিক (اصطلاح) অর্থ দ্বারা ইদ্দত পালনরতা (معتدة) নারীকে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা পর্যন্ত বিশেষ কিছু বিষয় থেকে বিরত রাখা বোঝায়, আর তা হলো ইদ্দতের সময়কাল।
সুতরাং উভয় অর্থের মধ্যকার সম্পর্কটি হলো সাধারণ ও বিশেষের সম্পর্ক (عموم وخصوص), যেমনটি আপনি দেখতে পাচ্ছেন। আর অধিকাংশ বিধিবিধানের (أحكام) ক্ষেত্রে বিষয়টি এমনই যেগুলোর আভিধানিক ও পারিভাষিক (اصطلاح) উভয় অর্থ রয়েছে, যদি আমরা সবগুলোর কথা নাও বলি
…--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমদাদ বি-আহকামিল হিদাদ
(পৃষ্ঠা: ১৪৮)
الفصل الثاني: في حكم الإحداد:هذا وبعد عرض المعنى اللغوي والاصطلاحي للإحداد نرى أنه من المفيد أن نذكر حكمه لأن ذلك هو الهدف الأول من دراسة ما يتعلق به من أحكام بالنسبة للمرأة إذا توفرت شروطه فنقول: اتفق كل من يعتد بقوله من أئمة الفتوى على وجوب الإحداد على المرأة التي مات زوجها من غير فرق بين ما إذا كانت مدخولاً بها أو غير مدخول بها بل هو واجب على الكل فلو أرادت المتوفى عنها زوجها تركه لم يكن لها ذلك لأن الواجب هو ما يثاب فاعله ويعاقب تاركه في اصطلاح الأصوليين، فالمرأة التاركة للإحداد آثمة ولاشك لما ستعرف قريبا من المنقول والمعقول وإجماع الصحابة على وجوب الإحداد ولم أجد في هذا المعنى خلافا
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: শোকপালনের (الإحداد) বিধান প্রসঙ্গে:শোকপালনের (الإحداد) আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থ উপস্থাপনের পর আমরা এর বিধান উল্লেখ করাকে ফলপ্রসূ মনে করি; কারণ শর্তাবলি পূরণ হওয়া সাপেক্ষে একজন নারীর ক্ষেত্রে এ সংক্রান্ত বিধানগুলো পর্যালোচনার মূল লক্ষ্যই হলো এটি। আমরা বলছি: ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য সকল ইমাম এই মর্মে একমত হয়েছেন যে, যে নারীর স্বামী মারা গেছেন তার ওপর শোকপালন (الإحداد) করা আবশ্যক (واجب)। এক্ষেত্রে স্ত্রীর সাথে সহবাস হওয়া বা না হওয়ার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। বরং এটি সবার জন্যই আবশ্যক (واجب)। সুতরাং কোনো বিধবা নারী যদি এটি বর্জন করতে চান, তবে তার সেই অধিকার নেই। কেননা উসুলশাস্ত্রবিদদের (الأصوليون) পরিভাষায় আবশ্যক (واجب) হলো এমন বিষয়, যা পালনকারী সওয়াব লাভ করেন এবং বর্জনকারী শাস্তির সম্মুখীন হন। অতএব, যে নারী শোকপালন (الإحداد) বর্জন করবেন তিনি নিঃসন্দেহে গুনাহগার হবেন; যা আপনি অচিরেই বর্ণিত দলিল, যৌক্তিক প্রমাণ এবং শোকপালন (الإحداد) আবশ্যক (واجب) হওয়ার ব্যাপারে সাহাবীদের (الصحابة) ঐক্যমতের (إجماع) বর্ণনা থেকে জানতে পারবেন। আর আমি এ বিষয়ে কোনো দ্বিমত খুঁজে পাইনি।
(খণ্ড: ১)
আল-ইমদাদ বি-আহকামিল হিদাদ
(পৃষ্ঠা: ১৪৯)
اللهّم إلا خلافا شاذاً مرويا عن الحسن البصري والشعبي وسنذكر هذا الخلاف تتميما للفائدة وتبييناً للحق، إذن المنقول في ذلك من مذهبان: مذهب الجمهور وهو المعتمد والمشهور والمعمول به، ومذهب الحسن البصري والشعبي. ولنبدأ بمذهب الجمهور ونذكر أدلتهم ونثنِّي بالمذهب المخالف مع الإشارة إلى أدلة هذا المذهب وما أورد عليها من المناقشات.
فنقول وبالله التوفيق: ذهب جمهور الفقهاء قديما وحديثا من الصحابة والتابعين ومن بعدهم إلى وجوب الإحداد على المرأة المتوفى عنها زوجها على تفصيل في ذلك نذكره قريبا إن شاء الله تعالى1.
وإنما ذهب الفقهاء هذا المذهب للمنقول والمعقول وإجماع الصحابة.
أما المنقول فنورد منه ما يأتي:
أـ عن حميد بن نافع عن زينب بنت أم سلمة أنها قالت: دخلت على أم حبيبة حين توفي أبوها أبو سفيان فدعت أم حبيبة بطيب فيه صفرة خلوق أو غيره فدهنت منه جارية ثم مست بعارضيها ثم قالت: والله مالي بالطيب من حاجة غير أني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول على المنبر: "لا يحل لامرأة تؤمن بالله واليوم الآخر تحدّ على ميت فوق ثلاث إلا على زوج أربعة أشهر وعشراً"، قالت زينب: ثم دخلت على زينب بنت جحش حين توفي أخوها فدعت بطيب فمسّت منه ثم قالت: والله مالي بالطيب من حاجة غير أني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول على المنبر: "لا يحل لامرأة تؤمن بالله واليوم الآخر أن تحدّ على ميت فوق ثلاث إلا على زوج أربعة أشهر وعشراً"، قالت زينب: وسمعت أمي أم سلمة تقول: جاءت امرأة إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالت: يا رسول الله إن ابنتي توفي عنها زوجها وقد اشتكت عينها أفَنُكَحِّلُها؟ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "لا، مرتين أو ثلاثا، كل ذلك يقول: "لا "، ثم قال: "إنما هي أربعة أشهر وعشراً". متفق عليه مختصراً.
ب ـ عن أم سلمة أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "لا يحل لامرأة تؤمن بالله واليوم الآخر أن تحدّ فوق ثلاثة أيام إلا على زوجها أربعة أشهر وعشراً"2.
فقد دلّ هذان الحديثان وما في معناهما على وجوب الإحداد على المرأة المتوفى عنها زوجها وهما نص في الموضوع ووجه الاستدلال من ذلك هو قوله صلى الله عليه وسلم: "إلا على زوج أربعة
--------------------------------------------
হাসান বসরী ও শাশবি থেকে বর্ণিত (مروي) একটি বিচ্ছিন্ন (শاذ) মতপার্থক্য ব্যতীত; আমরা উপকারের পূর্ণতা এবং সত্য স্পষ্টীকরণের লক্ষ্যে এই মতপার্থক্যটি উল্লেখ করব। সুতরাং এ বিষয়ে বর্ণিত মত মূলত দুটি: জমহুর বা অধিকাংশ উলামার মাযহাব—যা নির্ভরযোগ্য, প্রসিদ্ধ এবং আমলযোগ্য; এবং হাসান বসরী ও শাশবির মাযহাব। আমরা জমহুরের মাযহাব দিয়ে শুরু করব এবং তাদের দলীলসমূহ উল্লেখ করব, এরপর ভিন্নমত পোষণকারী মাযহাবটি আলোচনা করব এবং সেই মাযহাবের দলীলসমূহ ও সেগুলোর ওপর করা পর্যালোচনার প্রতি ইঙ্গিত প্রদান করব।
আমরা আল্লাহর তাওফীক কামনায় বলছি: সাহাবী, তাবিঈ এবং তাঁদের পরবর্তী প্রাচীন ও আধুনিক যুগের জমহুর ফকিহগণ স্বামীর মৃত্যুতে স্ত্রীর জন্য শোক পালন (ইহদাদ) ওয়াজিব হওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছেন, যার বিস্তারিত বিবরণ আমরা শীঘ্রই ইনশাআল্লাহ উল্লেখ করব।১
ফকিহগণ মূলত বর্ণিত দলীল, যৌক্তিক প্রমাণ এবং সাহাবীদের ইজমার ভিত্তিতে এই মাযহাব গ্রহণ করেছেন।
বর্ণিত দলীলসমূহের মধ্য থেকে আমরা নিম্নোক্তগুলো পেশ করছি:
ক. হুমাইদ ইবনে নাফি' থেকে বর্ণিত যে, জয়নব বিনতে আবি সালামা বলেছেন: আমি উম্মে হাবীবার নিকট প্রবেশ করলাম যখন তাঁর পিতা আবু সুফিয়ান ইন্তেকাল করেন। উম্মে হাবীবা 'খালুক' নামক এক প্রকার সুগন্ধি মিশ্রিত বা অন্য কোনো পীত বর্ণের সুগন্ধি আনালেন এবং তা একজন দাসীকে মাখিয়ে দিলেন। এরপর তিনি নিজের দুই গালে তা স্পর্শ করলেন এবং বললেন: আল্লাহর কসম, আমার সুগন্ধির কোনো প্রয়োজন ছিল না, তবে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মিম্বারের ওপর বলতে শুনেছি: "আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাসী কোনো নারীর জন্য তার স্বামী ব্যতীত অন্য কোনো মৃতের ওপর তিন দিনের বেশি শোক পালন করা বৈধ নয়; তবে স্বামীর ক্ষেত্রে চার মাস দশ দিন।" জয়নব বলেন: এরপর আমি জয়নব বিনতে জাহাশের নিকট প্রবেশ করলাম যখন তাঁর ভাই ইন্তেকাল করেন। তিনি সুগন্ধি আনিয়ে তা ব্যবহার করলেন এবং বললেন: আল্লাহর কসম, আমার সুগন্ধির কোনো প্রয়োজন ছিল না, তবে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মিম্বারের ওপর বলতে শুনেছি: "আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাসী কোনো নারীর জন্য তার স্বামী ব্যতীত অন্য কোনো মৃতের ওপর তিন দিনের বেশি শোক পালন করা বৈধ নয়; তবে স্বামীর ক্ষেত্রে চার মাস দশ দিন।" জয়নব বলেন: আমি আমার মা উম্মে সালামাকে বলতে শুনেছি, এক মহিলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমার মেয়ের স্বামী মারা গেছে এবং তার চোখে সমস্যা দেখা দিয়েছে, আমরা কি তার চোখে সুরমা লাগাতে পারি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "না", দুই বা তিনবার। প্রতিবারই তিনি বললেন: "না"। এরপর তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই তা (ইদ্দত) হলো চার মাস দশ দিন।" সংক্ষেপে সর্বসম্মত (متفق عليه)।
খ. উম্মে সালামা থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাসী কোনো নারীর জন্য তার স্বামী ব্যতীত কোনো মৃতের ওপর তিন দিনের বেশি শোক পালন করা বৈধ নয়; তবে স্বামীর ক্ষেত্রে চার মাস দশ দিন।"২
এই হাদিস দুটি এবং সমজাতীয় হাদিসগুলো স্বামীর মৃত্যুতে স্ত্রীর ওপর শোক পালন (ইহদাদ) ওয়াজিব হওয়ার প্রমাণ বহন করে। এ বিষয়ে এই হাদিস দুটি অকাট্য প্রমাণ (نص)। এর থেকে দলীল গ্রহণের পদ্ধতি হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "স্বামী ব্যতীত... চার (মাস দশ দিন)।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমদাদ বি-আহকামিল হিদাদ
(পৃষ্ঠা: ১৫০)
أشهر وعشراً" وهذا على معنى الإيجاب لا على معنى الإباحة لأن ذلك مستثنى من التحريم وهو قوله صلى الله عليه وسلم: "لا يحل لامرأة تؤمن بالله واليوم الآخر أن تحدّ" وهذا يقتضي أن لفظة (افعل) وهو قوله: "أربعة " تكون بعد الحظر على بابها وهو الإيجاب فالحظر هنا التحريم فاستثنى منه الإيجاب كما نرى خلافاً لمن قال من الفقهاء إنها تقتضي الإباحة.
فإن قيل الاستثناء في الحديث وهو قوله صلى الله عليه وسلم: "إلا على زوج.." الخ قد وقع بعد النفي فيدل على الحل فوق الثلاث على الزوج لا على الوجوب قيل إن الوجوب استفيد من دليل آخر بالإضافة إلى ما قلنا وهذا الدليل هو الإجماع وهو ما سنبيِّنه فيما يأتي.
وأما الإجماع فإنه روي عن جماعة من الصحابة منهم عبد الله بن عمر وعائشة وأم سلمة وغيرهم رضي الله عنهم القول بوجوب الإحداد ولا يعرف لهم مخالف في عصرهم فكان إجماعا من الصحابة- رضي الله عنهم1
ومستند الإجماع هو ما ذكرناه من النصوص الدالة على وجوب الإحداد.
وأما المعقول فهو يفيد إيجاب الإحداد على المعتدة من الوفاة أيضاً لأن الحداد إنما وجب إظهاراً لحق الزوج على زوجته تأَسُّفاً على ما فاتها من حسن العشرة ودوام الصحبة إلى وقت الموت زد على هذا أنّ الحداد يكون واجبا لسبب آخر وهو فوات النكاح الذي هو نعمة في الدين خاصة في حقها لما فيه من قضاء لشهوتها وعفتها عن الحرام وصيانة نفسها عن الهلاك بدرور النفقة وقد انقطع ذلك كله بالموت فلزمها الإحداد إظهاراً للمصيبة والحزن2.
فهذا هو النص والإجماع والمعقول كلها قاضية بإيجاب الحداد إذا وجد سببه وهو بّين كما ترى والله أعلم.
ثانيا: ذهب الحسن البصري والشعبي إلى عدم وجوب الإحداد على المعتدة من الوفاة وهو قول شاذ مخالف لإجماع أئمة المسلمين ولهذا رده بعضهم فإنّ الخلال نقل بإسناده عن أحمد عن هشيم عن داود عن الشعبي أنه كان لا يعرف الإحداد قال أحمد: "ما كان بالعراق أشد تبحراً من هذين- يعني الحسن والشعبي- " قال أحمد: "وخفي ذلك عليهما". قال ابن حجر في الفتح: بعد إيراده ما ذكر "ومخالفتهما لا تقدح في الاحتجاج وإن كان فيها ردّ على من ادّعى الإجماع"3.
--------------------------------------------
"চার মাস দশ দিন" — এটি আবশ্যিকতা (وجوب) অর্থে, বৈধতা (إباحة) অর্থে নয়। কারণ এটি নিষিদ্ধতার বিধান থেকে ব্যতিক্রম করা হয়েছে, আর তা হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাসী কোনো নারীর জন্য (তিন দিনের অধিক) শোক পালন (إحداد) করা বৈধ নয়..."। এর দাবি হলো, (আদেশসূচক) "করো" (افعل) ক্রিয়াটি—যা তাঁর বাণী "চার (মাস)..."—নিষেধাজ্ঞার পরে আসার কারণে তার মূল অর্থ অর্থাৎ আবশ্যিকতা (وجوب) অর্থেই প্রযোজ্য হবে। এখানে নিষেধাজ্ঞা বলতে হারাম হওয়া বোঝানো হয়েছে, যা থেকে আবশ্যিকতাকে (وجوب) ব্যতিক্রম করা হয়েছে, যেমনটি আমরা দেখতে পাচ্ছি। এটি ঐ সকল ফকিহদের মতের পরিপন্থী যারা মনে করেন যে এটি কেবল বৈধতা (إباحة) নির্দেশ করে।
যদি বলা হয় যে, হাদিসে উল্লিখিত ব্যতিক্রম—অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "স্বামী ব্যতীত..." ইত্যাদি—না-বোধক বাক্যের পরে এসেছে, যা স্বামীর ক্ষেত্রে তিন দিনের অধিক শোক পালন বৈধ হওয়াকে নির্দেশ করে, আবশ্যিকতা (وجوب) নয়। এর উত্তরে বলা হবে যে, আমরা যা বলেছি তার পাশাপাশি এই আবশ্যিকতা (وجوب) অন্য একটি দলিল থেকে সংগৃহীত হয়েছে, আর সেই দলিলটি হলো ইজমা (إجماع), যা আমরা সামনে বর্ণনা করব।
আর ইজমা (إجماع) প্রসঙ্গে কথা হলো, সাহাবীগণের এক বিরাট জামাত থেকে শোক পালন (إحداد) ওয়াজিব হওয়ার বিষয়টি বর্ণিত হয়েছে। তাঁদের মধ্যে আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর, আয়েশা, উম্মে সালামাহ এবং অন্যান্যরা (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) রয়েছেন। তাঁদের যুগে তাঁদের কোনো বিরোধিতাকারী জানা যায়নি, ফলে এটি সাহাবীগণের ইজমা (إجماع) হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে।
আর এই ইজমার (إجماع) ভিত্তি হলো সেই সকল নস বা মূল পাঠ, যা শোক পালন (إحداد) ওয়াজিব হওয়ার প্রমাণ হিসেবে আমরা উল্লেখ করেছি।
আর যুক্তিনির্ভর (معقول) প্রমাণের ক্ষেত্রেও এটি স্বামীর মৃত্যুতে ইদ্দত পালনকারিণীর জন্য শোক পালন (إحداد) ওয়াজিব হওয়ার বিষয়টি নির্দেশ করে। কারণ, স্ত্রীর ওপর স্বামীর হকের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে এবং মৃত্যু পর্যন্ত যে সুন্দর দাম্পত্য জীবন ও দীর্ঘ সাহচর্য সে হারিয়েছে, তার প্রতি আক্ষেপ স্বরূপ শোক পালন ওয়াজিব হয়েছে। এর সাথে আরও যোগ করা যায় যে, শোক পালন (إحداد) অন্য একটি কারণেও ওয়াজিব হয়, আর তা হলো বিবাহের অবসান। বিবাহ দ্বীনের একটি নেয়ামত, বিশেষ করে নারীর ক্ষেত্রে; কারণ এর মাধ্যমে তার কামনার নিবৃত্তি ঘটে, হারাম থেকে সে পবিত্র থাকে এবং ভরণপোষণের মাধ্যমে নিজের জীবন রক্ষা পায়। মৃত্যুর মাধ্যমে এসব কিছুই বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তাই মুসিবত ও দুঃখ প্রকাশের জন্য শোক পালন (إحداد) তার ওপর আবশ্যক হয়ে পড়ে।
সুতরাং এই নস, ইজমা (إجماع) এবং যুক্তিনির্ভর (معقول) দলিল—সবই শোক পালন (إحداد) এর কারণ বিদ্যমান থাকলে তা ওয়াজিব হওয়ার ফয়সালা দেয়, যা আপনার নিকট সুস্পষ্ট। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
দ্বিতীয়ত: হাসান বসরী এবং শাবী স্বামীর মৃত্যুতে ইদ্দত পালনকারিণীর শোক পালন (إحداد) ওয়াজিব না হওয়ার মত পোষণ করেছেন। এটি একটি বিচ্ছিন্ন (شاذ) মত, যা মুসলিম ইমামগণের ইজমার (إجماع) পরিপন্থী। এই কারণেই কেউ কেউ তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। ইমাম খাল্লাল তাঁর সনদসহ আহমদ, হুশাইম, দাউদ এবং শাবী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি শোক পালন (إحداد) সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। ইমাম আহমদ বলেছেন: "ইরাকে এই দুজনের (অর্থাৎ হাসান ও শাবী) চেয়ে বেশি গভীর জ্ঞানের অধিকারী আর কেউ ছিল না।" আহমদ আরও বলেন: "কিন্তু বিষয়টি তাঁদের নিকট অস্পষ্ট থেকে গিয়েছিল।" ইবনে হাজার ফাতহুল বারী গ্রন্থে এই বর্ণনাটি উদ্ধৃত করার পর বলেন: "তাঁদের এই ভিন্নমত দলিলে কোনো ত্রুটি সৃষ্টি করে না, যদিও এতে সেই ব্যক্তির দাবি খণ্ডন করা হয়েছে যিনি ইজমা (إجماع) দাবি করেছেন।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমদাদ বি-আহকামিল হিদাদ
(পৃষ্ঠা: ১৫১)
وقال ابن قدامة في المغني بعد أن ذكر خلاف الحسن لأئمة الفتوى: "وهو قول شذ به عن أهل العلم وخالف به السنة فلا يُعرَّج عليه"1.
هذا ما أورده أهل العلم على هذا القول الشاذ وعلى فرض التسليم بثبوته فالاستدلال له بما يأتي:
1 ـ ما روي عن عبد الله بن شداد بن الهاد عن أسماء بنت عميس قالت: لما أصيب جعفر بن أبي طالب قال لي رسول الله صلى الله عليه وسلم: " تسلبي2 ثلاثا ثم اصنعي ما شئت" 3. أخرجه أحمد.
2 ـ عن أسماء بنت عميس أنها استأذنت النبي صلى الله عليه وسلم أن تحدّ على جعفر وهي امرأته فأذن لها ثلاثة أيام ثم بعث إليها بعد ثلاثة أيام أن تطهري واكتحلي4.
فهذا دليل على عدم وجوب الإحداد على المعتدة من الوفاة أكثر من ثلاثة أيام وهو نص في محل النزاع والجواب عن هذا الاستدلال من وجوه:
الوجه الأول: أنه شاذ لا يحتج به ولا يصلح عمدة لإثبات الأحكام، قال ابن المنذر مجيبا عن ذلك: "وقد دفع أهل العلم هذا الحديث بوجوه، وكان أحمد بن حنبل يقول: "هذا شاذ ولا يؤخذ به" وقاله إسحاق5.
الوجه الثاني: أنّ هذا الحديث مخالف للأحاديث الأخرى الصحيحة ولعلها لم تبلغ القائلين بهذا القول إذ إنها لو بلغتهم لم يسعهم إلا التسليم؛ لأنه لا يصح لمسلم كائنا من كان يبلغه حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم دالُّ على حكم من الأحكام إلا القبول والتسليم قال ابن المنذر: بعد عرض المسألة وما فيها من خلاف: "كان الحسن البصري من بين سائر أهل العلم لا يرى الإحداد، وقد رُدَّ قول الحسن بأن الأخبار قد ثبتت عن النبي صلى الله عليه وسلم بوجوب الحداد وليس لأحد بلغَته إلا التسليم، ولعل الحسن لم تبلغه أو بلغته فتأولها بحديث أسماء بنت عميس6 الآنف الذكر.
--------------------------------------------
ইবন কুদামা আল-মুগনি গ্রন্থে ফতোয়ার ইমামগণের সাথে হাসানের (হাসান বসরী) মতপার্থক্য উল্লেখ করার পর বলেছেন: "এটি এমন একটি মত যা পোষণ করার মাধ্যমে তিনি আলেমদের থেকে বিচ্ছিন্ন (شاذ) হয়ে গেছেন এবং সুন্নাহর বিরোধিতা করেছেন, সুতরাং এর প্রতি ভ্রুক্ষেপ করা যাবে না"১।
এই বিচ্ছিন্ন (شاذ) মতের বিপরীতে আলেমগণ যা উল্লেখ করেছেন তা হলো এটি। আর যদি তর্কের খাতিরে এর সাব্যস্ত হওয়া (ثبوته) মেনেও নেওয়া হয়, তবে এর স্বপক্ষে দলিলসমূহ নিম্নরূপ:
১- আবদুল্লাহ ইবনে শাদ্দাদ ইবনুল হাদ থেকে বর্ণিত, তিনি আসমা বিনতে উমাইস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: যখন জাফর ইবনে আবি তালিব শহীদ হলেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন: "তুমি তিন দিন শোকের পোশাক (تسلبي) পরিধান করো, তারপর তোমার যা ইচ্ছা করো"৩। এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।
২- আসমা বিনতে উমাইস থেকে বর্ণিত যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে জাফরের জন্য শোকপালন করার অনুমতি চাইলেন—অথচ তিনি ছিলেন তাঁর স্ত্রী—তখন তিনি তাঁকে তিন দিনের অনুমতি দিলেন। এরপর তিন দিন অতিক্রান্ত হলে তিনি তাঁর নিকট সংবাদ পাঠালেন যেন তিনি পবিত্রতা অর্জন করেন এবং সুরমা ব্যবহার করেন৪।
এটি মৃত স্বামীর ইদ্দত পালনকারিণীর জন্য তিন দিনের বেশি শোকপালন ওয়াজিব না হওয়ার দলিল এবং এটি বিবাদপূর্ণ বিষয়ে একটি সুস্পষ্ট পাঠ (نص)। এই দলিলের উত্তর কয়েকটি দিক থেকে দেওয়া যায়:
প্রথম দিক: এটি বিচ্ছিন্ন (شاذ), যা দলিল হিসেবে পেশ করার যোগ্য নয় (لا يحتج به) এবং শরয়ি বিধান প্রমাণের ভিত্তি হিসেবে উপযুক্ত নয়। ইবনুল মুনযির এর উত্তরে বলেছেন: "আলেমগণ এই হাদিসটিকে বিভিন্নভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। আহমাদ ইবনে হাম্বল বলতেন: 'এটি বিচ্ছিন্ন (شاذ) এবং এর ওপর আমল করা হবে না'। ইসহাকও অনুরূপ বলেছেন"৫।
দ্বিতীয় দিক: এই হাদিসটি অন্যান্য বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিসসমূহের পরিপন্থী। সম্ভবত এই মত পোষণকারীদের নিকট সেগুলো পৌঁছায়নি; কারণ সেগুলো তাদের নিকট পৌঁছালে তা মেনে নেওয়া ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় থাকতো না। কেননা কোনো মুসলিমের কাছে—তিনি যে স্তরেরই হোন না কেন—রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো হাদিস যখন কোনো বিধানের দলিল হিসেবে পৌঁছায়, তখন তা গ্রহণ ও শিরোধার্য করা ছাড়া আর কোনো পথ থাকে না। ইবনুল মুনযির বিষয়টি এবং এর মধ্যকার মতপার্থক্য আলোচনার পর বলেছেন: "অন্যান্য সকল আলেমদের বিপরীতে হাসান বসরী শোকপালন আবশ্যক মনে করতেন না। হাসানের এই মতটি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে এই কারণে যে, শোকপালন ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদিসসমূহ প্রমাণিত হয়েছে (ثبتت)। যার নিকট এগুলো পৌঁছেছে তার জন্য তা মেনে নেওয়া ব্যতিরেকে কোনো অবকাশ নেই। সম্ভবত হাসানের নিকট সেগুলো পৌঁছায়নি, অথবা পৌঁছে থাকলেও তিনি আসমা বিনতে উমাইসের বর্ণিত উল্লিখিত হাদিসের আলোকে সেগুলোর ভিন্ন ব্যাখ্যা করেছেন৬।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমদাদ বি-আহকামিল হিদাদ
(পৃষ্ঠা: ১৫২)
الوجه الثالث: لو سلّمنا بصحة هذا الحديث فالأحاديث الدالة على الوجوب مقدّمة عليه لكونها أصح منه ولا ريب في دلالتها على الوجوب فإنّ حديث التي شكت عينها والذي تم تثبته قريبا يفيد الإيجاب وإلا لم يمتنع التداوي المباح، وأيضا السياق يدل على الوجوب فإن كل ما منع منه ودل دليل على جوازه كان ذلك الدليل دالاً بعينه على الوجوب كالختان والزيادة على الركوع في الكسوف1.
هذا ما يمكن أن يستدل به لهذا القول وما يمكن أن يجاب به عن الاستدلال.
والذي يترجح عندي هو القول بوجوب الإحداد إذا وجد سببه وتوفرت شرائطه وذلك لدلالة السنة والمعقول وإجماع الصحابة على ما بيَّنا فهل يقول مسلم يؤمن بالله واليوم الآخر وبرسالة محمد صلى الله عليه وسلم بعدم وجوب الإحداد بعد معرفة النصوص النبوية الشريفة التي تفيد بمنطوقها ومفهومها إيجاب ما دلت عليه
… لا أعتقد أنّ أحداً يقول بخلاف ذلك ولهذا انعقد إجماع الصحابة رضي الله عنهم على هذا المعنى، وفي ظني أن الحسن البصري والإمام الشعبي لو بلغتهما هذه النصوص لما أحجما عن القول بوجوب الإحداد لما عرف عنهما من الفضل والتقوى وإرادة الحق وهذا شأن كل مسلم لأن المسلم إنما سمي مسلما لتنفيذه الأوامر الربانية واجتنابه النواهي السماوية وهو ما يفيده معنى الإسلام فإن الإسلام: هو الاستسلام لله بالتوحيد والانقياد له بالطاعة، فإذا كان المسلم قائماً بما أَمر به مجتنباً لما نهي عنه استحق أن يوصف بوصف الإسلام والإيمان، وإذا لم يكن كذلك فلا فرق بينه وبين سائر الناس الذين لا يؤمنون بالشرائع السماوية.
ونحن لا نقول إنّ المرأة المتوفى عنها زوجها إذا تركت الإحداد خرجت من الإسلام وإنما نقول إنها تركت واجباً من واجبات الإسلام يثاب فاعله ويعاقب تاركه فإن الإيجاب وعدمه لا يعرف إلا من قبل الشارع وهو الذي أوجب الإحداد على كل من توفي عنها زوجها من غير تفصيل.
তৃতীয় দিক: যদি আমরা এই হাদিসের বিশুদ্ধতা (صحة) মেনেও নেই, তবুও ওয়াজিব হওয়া (الوجوب) নির্দেশক হাদিসসমূহ এর ওপর প্রাধান্য পাবে; কারণ সেগুলো এই হাদিসের তুলনায় অধিকতর বিশুদ্ধ (أصح)। আর ওয়াজিব হওয়ার (الوجوب) ওপর সেগুলোর দালালাত বা প্রমাণের বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কেননা সেই নারীর হাদিস, যিনি তাঁর চোখের সমস্যার কথা জানিয়েছিলেন—যা ইতিপূর্বে প্রমাণিত হয়েছে—তা আবশ্যকতা (الإيجاب) প্রদান করে; অন্যথায় বৈধ (المباح) চিকিৎসা গ্রহণ করা নিষিদ্ধ হতো না। তদুপরি, প্রসঙ্গের ধারাটিও ওয়াজিব হওয়ার (الوجوب) ওপর দালালত করছে। কারণ যা কিছু থেকে পূর্বে নিষেধ করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে তার বৈধতার ওপর দলিল পাওয়া গেছে, তবে সেই দলিলটি মূলত সুনির্দিষ্টভাবে ওয়াজিব হওয়ার (الوجوب) ওপরই দালালত করে; যেমন খতনা করা এবং কুসুফ বা সূর্যগ্রহণের সালাতে রুকুর সংখ্যা বৃদ্ধি করা।
এই অভিমতের সপক্ষে যা কিছু দলিল হিসেবে পেশ করা সম্ভব এবং সেই দলিলগুলোর বিপরীতে যা উত্তর দেওয়া সম্ভব, তা এখানেই সমাপ্ত।
আমার নিকট যা অধিকতর গ্রহণযোগ্য (يترجح) মনে হয় তা হলো, শোকপালন (الإحداد) করা ওয়াজিব (وجوب), যদি এর কারণ বিদ্যমান থাকে এবং শর্তসমূহ (شرائطه) পূর্ণ হয়। আর তা সুন্নাহ (السنة), যুক্তি এবং আমরা যেভাবে বর্ণনা করেছি সেই অনুযায়ী সাহাবায়ে কেরামের ঐক্যমত্যের (إجماع الصحابة) দালালাতের কারণেই। সুতরাং আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাসী এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রিসালাতের ওপর ঈমান আনয়নকারী কোনো মুসলিম কি এই মহিমান্বিত নববী নসসমূহ (النصوص) জানার পর শোকপালনের (الإحداد) আবশ্যকতা অস্বীকার করতে পারে, যা তার সুস্পষ্ট পাঠ (منطوقها) এবং মর্মার্থ (مفهومها) উভয় দিক থেকেই নির্দেশিত বিষয়ের আবশ্যকতা (إيجاب) প্রদান করে
… আমি মনে করি না যে, কেউ এর বিপরীতে কিছু বলবেন। আর এ কারণেই এই অর্থের ওপর সাহাবায়ে কেরামের ঐক্যমত্য (إجماع الصحابة) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমার ধারণা যে, হাসান বসরী এবং ইমাম শাবি রহ.-এর নিকট যদি এই নসসমূহ (النصوص) পৌঁছাত, তবে তাঁরা তাঁদের ফজল-মর্যাদা, তাকওয়া এবং সত্য অন্বেষণের আকাঙ্ক্ষার কারণে শোকপালন (الإحداد) ওয়াজিব (وجوب) হওয়ার কথা বলতে দ্বিধা করতেন না। আর এটিই প্রত্যেক মুসলিমের বৈশিষ্ট্য; কারণ একজন মুসলিমকে তো মুসলিম এ জন্যই বলা হয় যে, সে রব্বানি আদেশসমূহ বাস্তবায়ন করে এবং আসমানি নিষেধসমূহ বর্জন করে। আর এটিই ইসলামের প্রকৃত অর্থ প্রকাশ করে। কেননা ইসলাম হলো: তাওহীদের (التوحيد) মাধ্যমে আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণ করা এবং আনুগত্যের (الطاعة) মাধ্যমে তাঁর অনুগত হওয়া। সুতরাং যদি কোনো মুসলিম তাঁর আদেশকৃত বিষয়গুলো পালনকারী এবং যা থেকে নিষেধ করা হয়েছে তা বর্জনকারী হয়, তবেই সে ইসলাম ও ঈমানের বিশেষণে বিশেষিত হওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হয়। আর যদি সে তেমনটি না হয়, তবে আসমানি শরিয়তের ওপর ঈমান নেই এমন অন্যান্য মানুষের সাথে তার কোনো পার্থক্য থাকে না।
আর আমরা এটি বলছি না যে, স্বামী মারা যাওয়া কোনো নারী যদি শোকপালন (الإحداد) বর্জন করে তবে সে ইসলাম থেকে বের হয়ে যাবে; বরং আমরা বলছি যে, সে ইসলামের ওয়াজিবসমূহের (واجبات) মধ্যে একটি ওয়াজিব (واجب) পরিত্যাগ করেছে, যার পালনকারী সওয়াবপ্রাপ্ত হয় এবং বর্জনকারী শাস্তির উপযুক্ত হয়। কেননা কোনো বিষয় ওয়াজিব হওয়া (الإيجاب) বা না হওয়া কেবল শারি’ (الشارع) থেকেই জানা যায়। আর তিনিই সেই সত্তা, যিনি কোনো প্রকার বিস্তারিত বর্ণনা ছাড়াই প্রত্যেক সেই নারীর ওপর শোকপালন (الإحداد) ওয়াজিব করেছেন যার স্বামী মারা গেছে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইমদাদ বি-আহকামিল হিদাদ
(পৃষ্ঠা: ১৫২)
الفصل الثالث: في شروط الإحداد
مدخل…الفصل الثالث: في شروط الإحداد:
عرفت في الفصل الآنف الذكر حكم الحداد وأنه واجب في الشريعة الإسلامية وقد دل على وجوبه صريح السنة وإجماع الصحابة والمعقول على ما تم ثبته قريباً وبما أن الحكم
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: শোক পালনের (إحداد) শর্তাবলিউপক্রমণিকা (مدخل)…তৃতীয় পরিচ্ছেদ: শোক পালনের (إحداد) শর্তাবলি:
আপনি পূর্ববর্তী পরিচ্ছেদে শোক পালনের (إحداد) বিধান সম্পর্কে অবগত হয়েছেন যে, এটি ইসলামি শরিয়তে আবশ্যিক (واجب)। আর এর আবশ্যিকতার (وجوب) ওপর সুস্পষ্ট সুন্নাহ (سنة), সাহাবায়ে কেরামের ঐক্যমত (إجماع) এবং যৌক্তিক প্রমাণাদি দালালত করেছে, যা ইতিপূর্বে সাব্যস্ত করা হয়েছে। আর যেহেতু এই বিধানটি...
(খণ্ড: ১)
আল-ইমদাদ বি-আহকামিল হিদাদ
(পৃষ্ঠা: ১৫৩)
الشرعي قد لا يوجد عادة إلا إذا توفرت له شروط خاصة ولكون الحداد من هذا القبيل كان من الضروري أن نشير إلى الشروط اللازمة لوجوب الإحداد والتي لابد من وجودها لإيجاب الإحداد على المرأة المحدة، وهذه الشروط ليست محل اتفاق وإنما هي موضع خلاف عند أئمة الفتوى فما يراه البعض قد لا يراه البعض الآخر، كذلك وبيان هذه الشروط على النحو الآتي وطبقاً لما يقتضيه فن التأليف وجودة التنظيم. ونظراً لتعدد هذه الشروط فقد رأيت أن أجعل هذا الفصل مبنياً على المباحث الآتية. وقبل أن ندخل في التفصيل نشير هنا إلى أن شروط الحداد على قسمين: قسم متفق عليه وقسم مختلف فيه.
فالقسم المتفق عليه: هو أن تكون المعتدة عاقلة بالغة مسلمة من نكاح صحيح. وأما القسم المختلف فيه: فهو سوالب هذه الشروط. وكذلك هل يشترط في الحداد كون المرأة معتدة من وفاة أولا؟ ونحن نشير إلى ذلك كله بالتفصيل.
শরয়ি (الشرعي) বিধান সাধারণত বিশেষ শর্তাবলি পূরণ ব্যতিরেকে পাওয়া যায় না। যেহেতু শোক পালন (الإحداد) এই পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত, তাই শোক পালন (الإحداد) ওয়াজিব হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় শর্তাবলি উল্লেখ করা জরুরি, যা শোক পালনকারী মহিলার ওপর শোক পালন (الإحداد) আবশ্যক করার জন্য বিদ্যমান থাকা অপরিহার্য। এই শর্তাবলি সর্বসম্মত নয়, বরং তা ফতোয়ার ইমামগণের নিকট মতভেদের বিষয়; ফলে কেউ যা মনে করেন, অন্য কেউ হয়তো তা মনে করেন না। একইভাবে, রচনাশৈলী এবং সুশৃঙ্খল বিন্যাসের চাহিদা অনুযায়ী এই শর্তাবলির বর্ণনা নিম্নরূপ। এই শর্তাবলির আধিক্যের কারণে আমি এই অধ্যায়টিকে নিম্নোক্ত পরিচ্ছেদসমূহের ওপর ভিত্তি করে সাজানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বিস্তারিত আলোচনায় প্রবেশের পূর্বে আমরা এখানে ইঙ্গিত দিচ্ছি যে, শোক পালনের (الإحداد) শর্তাবলি দুই প্রকার: এক প্রকার সর্বসম্মত (متفق عليه) এবং অন্য প্রকার মতভেদপূর্ণ (مختلف فيه)।
সর্বসম্মত (متفق عليه) অংশটি হলো: ইদ্দত পালনকারীকে জ্ঞানসম্পন্ন, প্রাপ্তবয়স্ক ও মুসলিম হতে হবে এবং তা সঠিক বিবাহ (نكاح صحيح) থেকে হতে হবে। আর মতভেদপূর্ণ (مختلف فيه) অংশটি হলো: এই শর্তাবলির অনুপস্থিতি বা বিপরীত অবস্থাগুলো। একইভাবে, শোক পালনের (الإحداد) ক্ষেত্রে মহিলার মৃত্যুর ইদ্দত পালনকারিণী হওয়া কি শর্ত? আমরা এই সব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
(খণ্ড: ১)
আল-ইমদাদ বি-আহকামিল হিদাদ
(পৃষ্ঠা: ১৫৩)
المبحث الأول: كوت المرأة المعتدة عاقلة…المبحث الأول: كون المرأة المعتدة عاقلة
. اتفق الفقهاء على وجوب الحداد على المرأة العاقلة إذا وُجِدَت الشروط الأخرى التي سنذكرها قريبا؛ وذلك لأن العقل نعمة أنعم الله بها على الإنسان وميزه بها عن سائر الحيوان فهو يميز بها بين الحلال والحرام، والضار والنافع، ولذلك جعل الشارع العقل مناطاُ للتكليف لعلمه أنّ فاقد العقل لا يفرّق بين الضار والنافع، وبالتالي لا يستطيع القيام بالأحكام التكليفية على الوجه الذي أمر الشارع أن تكون عليه، ومن هذا المنطلق قالت الحنفية بعدم وجوب الحداد على المجنونة1؛ لأن العقل هو مناط التكليف كما قلنا والمجنونة فاقدة لهذه الوسيلة فلا يتوجه إليها أمر ولا نهي لأن الشريعة الإسلامية لا تكلف أحداً إلا بما هو في مقدوره وتحت تصرفه على حد قوله تعالى: {لا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْساً إِلَاّ وُسْعَهَا} . (البقرة: 286) ، وقوله تعالى: {فَاتَّقُوا اللَّهَ مَا اسْتَطَعْتُمْ} . (التغابن: 16) . ولا يوجد شيء من ذلك بالنسبة للمجنونة التي ذهب عقلها وحُرمت تلك النعمة، ولهذا قالت العلماء إنها غير مخاطبة بالأحكام التكليفية، والحداد من الأحكام التكليفية فلا يجب عليها، يحقق ذلك كله قوله صلى الله عليه وسلم: "رفع القلم عن ثلاثة: عن النائم حتى يستيقظ، وعن الصغير حتى يبلغ وعن المجنون حتى يفيق "2. ورفع القلم هنا معناه عدم التكليف لأن من ذكر في الحديث لو كان مخاطباً بالأوامر والنواهي لكان خطابا بما لا يطاق، والشريعة الإسلامية لا تقر هذا، ولا يظلم ربك أحدا. هذا ما رآه الحنفية ولم ير
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: ইদ্দত পালনকারী নারীর সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন হওয়া…প্রথম পরিচ্ছেদ: ইদ্দত পালনকারী নারীর সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন হওয়া
. ফকিহগণ ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে, ইদ্দত পালনকারী নারী যদি সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন হয়, তবে তার ওপর শোক পালন (حداد) ওয়াজিব (واجب) হবে, যদি অন্যান্য শর্তাবলি পাওয়া যায় যা আমরা শীঘ্রই উল্লেখ করব। এর কারণ হলো, বিবেক-বুদ্ধি বা আকল একটি নেয়ামত যা আল্লাহ তাআলা মানুষকে দান করেছেন এবং এর মাধ্যমে তাকে অন্যান্য প্রাণী থেকে পৃথক করেছেন। এর মাধ্যমেই মানুষ হালাল ও হারাম এবং ক্ষতিকর ও উপকারীর মধ্যে পার্থক্য করতে পারে। এই কারণেই শরিয়ত প্রণেতা আকল বা বুদ্ধিকে বিধানারোপের (تكليف) ভিত্তি হিসেবে নির্ধারণ করেছেন; কারণ তিনি জানেন যে, বিচারবুদ্ধিহীন ব্যক্তি ক্ষতিকর ও উপকারীর মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না। ফলে সে শরিয়ত প্রণেতার নির্দেশিত পন্থায় শরয়ি বিধানসমূহ (أحكام تكليفية) পালন করতে সক্ষম হয় না। এই দৃষ্টিকোণ থেকেই হানাফিগণ পাগল নারীর ওপর শোক পালন (حداد) ওয়াজিব (واجب) নয় বলে মত প্রকাশ করেছেন; কারণ আমরা যেমনটি বলেছি, আকল বা বুদ্ধিই হলো বিধানারোপের (تكليف) ভিত্তি, আর পাগল নারী এই মাধ্যমটি হারিয়ে ফেলেছে। ফলে তার প্রতি কোনো আদেশ বা নিষেধ বর্তায় না। কারণ ইসলামি শরিয়ত কাউকে তার সাধ্যাতীত বা নিয়ন্ত্রণের বাইরের কোনো বিষয়ে দায়িত্ব অর্পণ (تكليف) করে না, যেমনটি আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {আল্লাহ কোনো সত্তার ওপর তার সাধ্যাতীত বোঝা চাপিয়ে দেন না} (সূরা আল-বাকারা: ২৮৬), এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: {অতএব তোমরা আল্লাহকে যথাসাধ্য ভয় করো} (সূরা আত-তাগাবুন: ১৬)। যে পাগল নারী তার হিতাহিত জ্ঞান হারিয়েছে এবং সেই নেয়ামত থেকে বঞ্চিত হয়েছে, তার ক্ষেত্রে এর কোনো কিছুই বিদ্যমান নেই। এই কারণেই উলামায়ে কেরাম বলেছেন যে, সে শরয়ি বিধানের (أحكام تكليفية) সম্বোধনের অন্তর্ভুক্ত নয়। আর শোক পালন (حداد) যেহেতু শরয়ি বিধানের (أحكام تكليفية) অন্তর্ভুক্ত, তাই এটি তার ওপর ওয়াজিব (واجب) হবে না। এ সবকিছুর সত্যায়ন করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণী: "তিন ব্যক্তির ওপর থেকে কলম তুলে নেওয়া হয়েছে: ঘুমন্ত ব্যক্তি যতক্ষণ না সে জাগ্রত হয়, শিশু যতক্ষণ না সে প্রাপ্তবয়স্ক (يبلغ) হয় এবং পাগল যতক্ষণ না সে সুস্থ (يفيق) হয়।" এখানে 'কলম তুলে নেওয়া'র অর্থ হলো বিধানারোপের (تكليف) অনুপস্থিতি। কারণ হাদিসে যাদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তারা যদি আদেশ ও নিষেধের সম্বোধনের অন্তর্ভুক্ত হতো, তবে তা হতো সাধ্যাতীত বিষয়ের দায়িত্ব অর্পণ, যা ইসলামি শরিয়ত সমর্থন করে না; আর আপনার প্রতিপালক কারও প্রতি জুলুম করেন না। এটিই হানাফিদের অভিমত, তবে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমদাদ বি-আহকামিল হিদাদ
(পৃষ্ঠা: ১৫৪)
الجمهور هذا الرأي بل قالوا بوجوب الحداد على المجنونة1 لأنها زوجة ف" لا يحل لامرأة تؤمن بالله واليوم الآخر أن تحدّ على ميّت فوق ثلاث إلا على زوج أربعة أشهر وعشرا" هي داخلة تحت عموم قوله صلى الله عليه وسلم:2 فهذا نص عام يفيد إيجاب الإحداد على كل زوجة من غير فرق بين ما إذا كانت عاقلة أو غير عاقلة، والقول بعدم وجوب الإحداد على المجنونة يحتاج إلى دليل مخصص لهذا العموم ولم يوجد فيبقى على عمومه دالاً على إيجاب الإحداد مطلقا، وستعرف في المبحث الآتي مزيداً من الأدلة للفريقين لما بين المبحثين من العلاقة وذلك لاشتراك الجنون والصغر في عدم التكليف.
--------------------------------------------
সংখ্যাধিক্য ওলামায়ে কেরাম (الجمهور) এই মতটিই গ্রহণ করেছেন, বরং তারা মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর ওপরও শোক পালন (إحداد) ওয়াজিব হওয়ার কথা বলেছেন। কারণ তিনি একজন স্ত্রী এবং তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীর সাধারণ ব্যাপকতার (عموم) অন্তর্ভুক্ত: "আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাসী কোনো নারীর জন্য তার স্বামী ব্যতীত অন্য কোনো মৃতের জন্য তিন দিনের অধিক শোক পালন করা বৈধ নয়; তবে স্বামীর ক্ষেত্রে তা চার মাস দশ দিন।" এটি একটি সাধারণ ভাষ্য (نص عام) যা প্রত্যেক স্ত্রীর ওপর শোক পালন আবশ্যক হওয়াকে বুঝায়, চাই তিনি জ্ঞানসম্পন্ন হোন বা ভারসাম্যহীন। আর মানসিক ভারসাম্যহীন স্ত্রীর ওপর শোক পালন ওয়াজিব না হওয়ার দাবির স্বপক্ষে এই সাধারণ বিধানকে (عموم) নির্দিষ্টকারী দলিলের (دليل مخصص) প্রয়োজন, কিন্তু এমন কোনো দলিল পাওয়া যায়নি। ফলে এটি তার সাধারণ অর্থেই বহাল থাকবে যা নিঃশর্তভাবে শোক পালন আবশ্যক হওয়ার প্রমাণ দেয়। পরবর্তী পরিচ্ছেদে আপনি উভয় পক্ষের আরও দলিল জানতে পারবেন, কারণ পরিচ্ছেদ দুটির মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে; আর তা হলো উম্মাদনা ও অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার ক্ষেত্রে শরয়ি বিধানের বাধ্যবাধকতা (تكليف) না থাকার বিষয়টি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমদাদ বি-আহকামিল হিদাদ
(পৃষ্ঠা: ১৫৪)
المبحث الثاني: كون المعتدة بالغة:البلوغ هو مظنة رشد المكلف فإذا بلغ الصغير فإنه قد يعرف مصالح نفسه ويكون رشيداً يحسن التصرف في تعامله مع نفسه ومع غيره يبيِّن ذلك قوله تعالى: {وَابْتَلُوا الْيَتَامَى حَتَّى إِذَا بَلَغُوا النِّكَاحَ فَإِنْ آنَسْتُمْ مِنْهُمْ رُشْداً فَادْفَعُوا إِلَيْهِمْ أَمْوَالَهُمْ} . (النساء: 6) .
والبلوغ ضد الصغر، والصغير هو من لم يبلغ النكاح، والصغر مظنة لعدم الرشد لكون الصغير فاقداً لآلة الفهم والتمييز وإدارك الأشياء على حقيقتها التي تمكنه من معرفة مصالحه وعلى هذا فهل يجب الحداد على المرأة الصغيرة التي لم تبلغ مع اتفاق الفقهاء على وجوبه على المرأة البالغة العاقلة؟.
أقول: اختلف الفقهاء في وجوب الحداد على الصغيرة على قولين:
القول الأول: ذهب الجمهور إلى وجوب الحداد على الصغيرة فلا فرق عند هؤلاء بين الصغيرة والكبيرة إلا في الإثم 3. وقول الجمهور هنا موافق لقولهم في إيجاب الحداد على فاقدة العقل بسبب الجنون - كما تم ثبته قريباً- فلا فرق عندهم في إيجاب الإحداد على الزوجة بين أن تكون عاقلة أو غير عاقلة مادام أنّ اسم الزوجية شامل لها.
الاستدلال لهذا القول: استدل أصحاب هذا القول بالمنقول والمعقول:
أما المنقول فهو العمومات التي تفيد إيجاب الإحداد على المرأة المتوفى عنها زوجها من غير فرق بين ما إذا كانت كبيرة أو صغيرة من مثل قوله صلى الله عليه وسلم: "لا يحل لامرأة تؤمن بالله واليوم الآخر أن تحدّ على ميّت فوق ثلاثٍ إلا على زوج أربعة أشهر وعشراً". وقد ذكرنا طرفا من هذه العمومات عند
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইদ্দত (العدة) পালনকারী নারীর সাবালিকা (بالغة) হওয়া:সাবালকত্ব (البلوغ) হলো শরিয়তের বিধান পালনে দায়বদ্ধ ব্যক্তির (المكلف) বিচক্ষণতা (رشد) অর্জনের সম্ভাব্য সময়। সুতরাং কোনো নাবালক যখন সাবালকত্ব (البلوغ) লাভ করে, তখন সে নিজের কল্যাণ সম্পর্কে অবগত হতে পারে এবং বিচক্ষণ (رشيد) হয়, যা তাকে নিজের এবং অন্যের সাথে আচার-আচরণে পারদর্শী করে তোলে। মহান আল্লাহর এই বাণী এটিই স্পষ্ট করে: "আর এতিমদের পরীক্ষা করো যতক্ষণ না তারা বিবাহের বয়সে পৌঁছে; অতঃপর যদি তাদের মধ্যে বিচক্ষণতার (رشد) পরিচয় পাও, তবে তাদের সম্পদ তাদের নিকট সোপর্দ করো।" (আন-নিসা: ৬)।
সাবালকত্ব (البلوغ) হলো শৈশবের বিপরীত, আর নাবালক (صغير) হলো সেই ব্যক্তি যে বিবাহের বয়সে পৌঁছায়নি। শৈশব হলো বিচক্ষণতা (رشد) না থাকার সম্ভাব্য অবস্থা, কারণ নাবালক ব্যক্তি অনুধাবন ও পার্থক্য করার এবং বস্তুর প্রকৃত অবস্থা অনুধাবনের ক্ষমতা রাখে না, যা তাকে নিজের কল্যাণ বুঝতে সক্ষম করে। এমতাবস্থায়, সাবালিকা (بالغة) ও বুদ্ধিমতী নারীর ওপর শোক পালন (حداد) আবশ্যিক (واجب) হওয়ার বিষয়ে ফকিহগণের (الفقهاء) ঐকমত্য থাকা সত্ত্বেও, যে নাবালিকা (صغيرة) মেয়ে সাবালকত্ব (البلوغ) লাভ করেনি, তার ওপর কি শোক পালন (حداد) আবশ্যিক (واجب) হবে?
আমি বলব: নাবালিকার ওপর শোক পালন (حداد) আবশ্যিক (واجب) হওয়ার বিষয়ে ফকিহগণ (الفقهاء) দুটি মতে বিভক্ত হয়েছেন:
প্রথম মত: জুমহুর (الجمهور) বা অধিকাংশ ফকিহ নাবালিকার ওপর শোক পালন (حداد) আবশ্যিক (واجب) হওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। তাদের নিকট শোক পালনের ক্ষেত্রে নাবালিকা ও সাবালিকার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই, কেবল গুনাহর বিষয়টি ছাড়া। এখানে জুমহুরের (الجمهور) এই অভিমতটি পাগলামির কারণে জ্ঞান হারানো নারীর ওপর শোক পালন (إحداد) আবশ্যিক (واجب) হওয়ার বিষয়ে তাদের মতের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ—যেমনটি অচিরেই প্রমাণিত হবে। সুতরাং তাদের নিকট স্ত্রীর ওপর শোক পালন (إحداد) আবশ্যিক (واجب) হওয়ার ক্ষেত্রে সে জ্ঞানসম্পন্ন হোক বা না হোক, তাতে কোনো পার্থক্য নেই, যতক্ষণ পর্যন্ত তার ওপর 'স্ত্রী' হওয়ার পরিচয়টি প্রযোজ্য হয়।
এই মতের স্বপক্ষে দলিল: এই মতের প্রবক্তাগণ বর্ণিত দলিল (المنقول) এবং যৌক্তিক দলিল (المعقول) দ্বারা প্রমাণ পেশ করেছেন:
বর্ণিত দলিল (المنقول) হলো সেই সাধারণ দলিলসমূহ (العمومات), যা স্বামীর মৃত্যুতে স্ত্রীর ওপর শোক পালন (إحداد) আবশ্যিক (واجب) হওয়াকে সাব্যস্ত করে, যেখানে নারী বড় বা ছোট হওয়ার মধ্যে কোনো পার্থক্য করা হয়নি। যেমন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "আল্লাহ এবং পরকালের প্রতি ঈমান পোষণকারী কোনো নারীর জন্য তার স্বামী ব্যতীত অন্য কোনো মৃতের ওপর তিন দিনের বেশি শোক পালন (تحدّ) করা বৈধ নয়; তবে স্বামীর ক্ষেত্রে চার মাস দশ দিন শোক পালন করবে।" আমরা এই সাধারণ দলিলসমূহের (العمومات) একটি অংশ উল্লেখ করেছি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমদাদ বি-আহকামিল হিদাদ
(পৃষ্ঠা: ১৫৫)
الكلام على الفصل الثاني وهي قاضية بوجوب الحداد، شاملة بعمومها لكل أحد وإخراج الصغيرة من هذا العموم يحتاج إلى دليل ولا دليل عليه.
وأما استدلالهم بالمعقول فمن وجوه:
أـ إنّ العدة تجب على الصغيرة اتفاقاً فإذا كان الأمر كذلك فإن الحداد يجب عليها لكونه حُكماً من أحكام النكاح فهو يشترك مع العدة في ذلك بالإضافة إلى ما فيه من إظهار التأسف على فراق الزوج، ونحن نعلم يقينا فراغ رحم الصغيرَة ومع ذلك وجبت العدة عليها. فالعدة إنما وجبت عليها لحق الشرع لأن فراغ رحمها من ماء الزوج أمر مقطوع به ومع هذا وجبت عليها العدة فكذلك الحداد يجب عليها.
ب ـ إن الصغيرة يحرم العقد عليها بل تحرم خطبتها مادامت في العدة وهذا المعنى يوجد في حق الكبيرة فظهر أنهما يشتركان في حكم الحداد أيضا1.
ج ـ إنّ غير المكلفة تساوي المكلفة في اجتناب المحرمات كالخمر والزنا، وإنما يفترقان في الإثم2 فإذا كان الأمر كذلك فإنّ ترك الحداد فعل محرم والصغيرة ممنوعة من ذلك ويكون المنع إلى وليّها بمعنى أنه لا يمكنها من ترك الحداد كما أنه لا يمكنها من ترك العدة فتحريم الطيب وسائر أنواع الزينة عليها إنما هو لحق الشرع، فالشرع هو الذي منعها من ذلك، والغرض من هذا هو إظهار حق الزوج وهذا المعنى يستوي فيه البالغة وغيرها.
وذهب أبو حنيفة وأصحابه إلى عدم وجوب الحداد على الصغيرة وجعلوا ذلك مخصوصا بالمرأة البالغة، وإنما قالوا بذلك لما يأتي3:
1 ـ أن الحداد حق من حقوق الشرع ولهذا لو أمرها الزوج بتركه لا يجوز لها تركه فلا تخاطب الصغيرة بذلك، وكذا شرط الإيمان فيه حيث قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "لا يحل لامرأة تؤمن بالله وباليوم الآخر" الحديث.
2 ـ إنّ منع الصغيرة المتوفى عنها زوجها من اللبس والطيب هو فعلها الحسّي محكوم بحرمته فلابد فيه من خطاب التكليف بخلاف العدة وإنها قد تقال على كف النفس عن الحرمات الخاصة وعلى نفس الحرمات وعلى مضي المدة وهي اللازمة لها على كل حال بمعنى أنه يثبت بعد الموت صحة نكاح الصغيرة إلى انقضاء مدة معينة وهي مدة العدة فإذا باشروا لها عقد النكاح قبل انقضاء عدتها لا يصح شرعا ولا خطاب للعباد فيه تكليفي بل هو من ربط المسببات بالأسباب وهذا كله لا يوجد في الحداد لأن
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদের আলোচনা: এটি শোক পালন (حداد) ওয়াজিব হওয়ার বিষয়টি নির্ধারণ করে, যা এর সাধারণ প্রয়োগের (عموم) কারণে প্রত্যেকের জন্য প্রযোজ্য। এই সাধারণ বিধান (عموم) থেকে নাবালিকাকে বহির্ভূত করার জন্য প্রমাণের প্রয়োজন, অথচ এর স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ নেই।
যৌক্তিক প্রমাণের (معقول) ক্ষেত্রে তাদের দলিলসমূহ কয়েক প্রকার হতে পারে:
ক— নাবালিকার ওপর ইদ্দত (عدة) পালন করা সর্বসম্মতিক্রমে (اتفاقا) ওয়াজিব। যদি বিষয়টি এমনই হয়, তবে তার ওপর শোক পালন (حداد) করাও ওয়াজিব হবে; কারণ এটি বিবাহের বিধানসমূহের (আহকাম) অন্তর্ভুক্ত একটি বিধান। সুতরাং এই ক্ষেত্রে এটি ইদ্দতের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ, তদুপরি এতে স্বামীর বিচ্ছেদে শোক প্রকাশের বিষয়টিও বিদ্যমান। আমরা নিশ্চিতভাবে জানি যে নাবালিকার গর্ভ খালি থাকে, তবুও তার ওপর ইদ্দত ওয়াজিব হয়েছে। সুতরাং তার ওপর ইদ্দত কেবলমাত্র শরীয়তের হকের কারণেই ওয়াজিব হয়েছে; কারণ স্বামীর বীর্য থেকে তার গর্ভ খালি থাকার বিষয়টি সুনিশ্চিত, তবুও যেহেতু তার ওপর ইদ্দত ওয়াজিব হয়েছে, তেমনিভাবে শোক পালন (حداد) করাও তার ওপর ওয়াজিব হবে।
খ— নাবালিকা অবস্থায় তার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া নিষিদ্ধ, এমনকি ইদ্দত (عدة) চলাকালীন তাকে বিবাহের প্রস্তাব দেওয়াও নিষিদ্ধ। এই বিষয়টি প্রাপ্তবয়স্ক নারীর ক্ষেত্রেও বিদ্যমান। সুতরাং স্পষ্ট হয় যে, তারা উভয়ে শোক পালনের (حداد) বিধানের ক্ষেত্রেও সমান অংশীদার।১
ج — শরয়ি দায়িত্বমুক্ত (غير مكلفة) ব্যক্তি হারাস বা নিষিদ্ধ (محرم) বিষয়সমূহ বর্জনের ক্ষেত্রে—যেমন মদ ও ব্যভিচার—শরয়ি দায়িত্বপ্রাপ্ত (مكلفة) ব্যক্তির সমান; তাদের মধ্যে পার্থক্য কেবল পাপের (إثم) ক্ষেত্রে।২ বিষয়টি যদি এমনই হয়, তবে শোক পালন (حداد) বর্জন করা একটি নিষিদ্ধ (محرم) কাজ এবং নাবালিকাকে তা থেকে বিরত রাখা হবে। এই বিরত রাখার দায়িত্ব তার অভিভাবকের ওপর বর্তাবে; অর্থাৎ অভিভাবক তাকে শোক পালন বর্জন করতে দেবে না, যেমনটা সে তাকে ইদ্দত (عدة) বর্জন করতে দেয় না। সুতরাং তার ওপর সুগন্ধি এবং অন্যান্য সকল প্রকার সাজসজ্জা নিষিদ্ধ হওয়া কেবলমাত্র শরীয়তের হকের খাতিরে। শরীয়তই তাকে তা থেকে নিষেধ করেছে এবং এর উদ্দেশ্য হলো স্বামীর হক প্রকাশ করা। এই অর্থের ক্ষেত্রে প্রাপ্তবয়স্ক এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক উভয়ই সমান।
আবু হানিফা এবং তাঁর অনুসারীগণ নাবালিকার ওপর শোক পালন (حداد) ওয়াজিব না হওয়ার মত পোষণ করেছেন এবং একে কেবল প্রাপ্তবয়স্ক নারীর জন্য নির্দিষ্ট করেছেন। তাঁরা নিম্নোক্ত কারণে এই মত ব্যক্ত করেছেন:৩
১ — শোক পালন (حداد) হলো শরীয়তের হকসমূহের অন্তর্ভুক্ত। এই কারণেই স্বামী যদি তাকে তা বর্জন করার নির্দেশ দেয়, তবে তার জন্য তা বর্জন করা বৈধ হবে না। সুতরাং নাবালিকা এই নির্দেশের সম্বোধিত (মুখাতাব) নয়। তদ্রূপ এতে ঈমানের শর্তারোপ করা হয়েছে, যেখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস স্থাপনকারী কোনো নারীর জন্য বৈধ নয়..." হাদিস।
২ — মৃত স্বামীর নাবালিকা স্ত্রীকে পোশাক ও সুগন্ধি ব্যবহার থেকে বিরত রাখা তার একটি ইন্দ্রিয়গত কাজ যা নিষিদ্ধ (محرم) হিসেবে গণ্য। তাই এতে শরয়ি বাধ্যবাধকতা (تكليف) সংক্রান্ত সম্বোধনের প্রয়োজন রয়েছে। এটি ইদ্দত (عدة) থেকে ভিন্ন; কারণ ইদ্দত কখনও বিশেষ নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ থেকে নিজেকে বিরত রাখাকে বোঝায়, কখনও খোদ নিষিদ্ধ বিষয়গুলোকে বোঝায়, আবার কখনও নির্দিষ্ট সময় অতিবাহিত হওয়াকে বোঝায়—যা সব অবস্থাতেই তার জন্য আবশ্যক। এর অর্থ হলো, মৃত্যুর পর একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত—যা ইদ্দতের সময়কাল—নাবালিকার বিবাহের বৈধতা বহাল থাকে। যদি এই ইদ্দত শেষ হওয়ার আগে তার পুনরায় বিবাহ দেওয়া হয়, তবে তা শরয়িভাবে শুদ্ধ হবে না। এতে বান্দার ওপর কোনো শরয়ি বাধ্যবাধকতা (تكليف) মূলক সম্বোধন নেই, বরং এটি কার্যকারণের সাথে ফলাফলের সম্পর্কের (আসবাব ও মুসাব্বাবাত) অন্তর্ভুক্ত। আর এসবের কিছুই শোক পালনের (حداد) ক্ষেত্রে বিদ্যমান নেই, কারণ
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমদাদ বি-আহকামিল হিদাদ
(পৃষ্ঠা: ১৫৬)
الخطاب به خطاب تكليفي فلو اكتحلن أو لبسن المزعفر واختضبن لا يأثمن لعدم التكليف به1.
هذا ما استدل به الفريقان بالنسبة لهذه المسألة وهي مشكلة كما نرى ووجه الإشكال هو أن الصغيرة لا تخاطب بفروع الشريعة من الصوم والصلاة والحج لأنها فاقدة للأهلية وهي التكليف فالخطاب إنما يتوجه إلى المكلفين، وعموم السنة التي استدل بها الفقهاء على وجوب الحداد قاضية بوجوب الحداد على كل امرأة من غير فرق بين الصغيرة والكبيرة، زد على هذا أن العدة واجبة من غير فرق أيضا، وقد قلبت النظر في هذه المسألة كثيراً لعلي أهتدي إلى الراجح منهما وبعد نظر طويل وتفكير عميق شرح الله صدري بترجيح القول الأول وهو وجوب الحداد عليها وذلك لما يأتي:
1 ـ أن الصغيرة المتوفى عنها زوجها لا يجوز لها أن تفعل شيئا من المحرمات كالزنا والخمر والسرقة وغيرها من المحرمات، والولي مطالب بمنعها فإذا لم يمنعها من الوقوع في الفعل المحرم فهو آثم، ومن ذلك ترك الحداد وفعل ما ينافيه كالطيب وسائر أنواع الزينة، فكما أنّ الولي لا يجوز له أن يمكِّنَها من ارتكاب سائر المحرمات فكذلك لا يجوز له أن يمكّنها من ترك الحداد وهو مخاطب بذلك كما يفيده عموم قوله صلى الله عليه وسلم: "مروا أبناءكم بالصلاة لسبع واضربوهم عليها لعشر وفرّقوا بينهم في المضاجع"2 ، فلو لم يفعل الولي ذلك فهو آثم ولاشك، وكذلك ما نحن فيه.
2 ـ أنّ وجوب العدة على الصغيرة لا خلاف فيه عند أئمة الفتوى فيما علمنا، يوضحه قوله تعالى: {وَالَّذِينَ يُتَوَفَّوْنَ مِنْكُمْ وَيَذَرُونَ أَزْوَاجاً يَتَرَبَّصْنَ بِأَنْفُسِهِنَّ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْراً} . (سورة البقرة: 234) . والصغيرة زوجة والتنكير يفيد العموم والعدة عبادة وهي لازمة للصغيرة فهل يقول قائل إنها تجب هنا ولا يجب الحداد هنالك، فإن كان كذلك فهو مطالب بالدليل على وجود الفرق.
3 ـ نعم الصغيرة لا تخاطب بفروع الشريعة وإنما الولي هو المطالب بمنعها من فعل المحرمات على ما بينا، ألا ترى أن الولي لوليّ بالحج عن الصغيرة أو الصغير؟. كانت أحكام الحج لازمة لوليها بمعنى أن الولي لا يمكنه من فعل محظورات الإحرام من الطيب واللبس ونحو ذلك فلو فعل ذلك كان آثما فأي فرق بين المسألتين إنني لا أجد فرقا.
--------------------------------------------
এ সম্পর্কিত বিধানটি একটি অর্পিত দায়িত্ব সংক্রান্ত বিধান (خطاب تكليفي); সুতরাং তারা যদি সুরমা ব্যবহার করে অথবা জাফরান রঙ মিশ্রিত পোশাক পরিধান করে কিংবা মেহেন্দি লাগায়, তবে তারা গুনাহগার হবে না, কারণ তাদের ওপর শরয়ি দায়িত্ব (تكليف) অর্পিত হয়নি।১
এই মাসআলার ক্ষেত্রে উভয় পক্ষ এই দলিলগুলোই উপস্থাপন করেছেন। বিষয়টি যেমন আমরা দেখতে পাচ্ছি, তা জটিল; আর জটিলতার কারণ হলো, অপ্রাপ্তবয়স্ক বালিকাকে শরয়ি বিধিবিধানের শাখা-প্রশাখার (فروع الشريعة) ক্ষেত্রে—যেমন রোজা, নামাজ এবং হজ—সম্বোধন করা হয় না; কারণ তার যোগ্যতা বা সক্ষমতা নেই, যা মূলত শরয়ি দায়িত্ব (تكليف) পালনের পূর্বশর্ত। মূলত শরয়ি সম্বোধন তো কেবল দায়িত্বজ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তিদের প্রতি হয়ে থাকে। অন্যদিকে, ফকিহগণ শোক পালনের (حداد) ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে যে সাধারণ সুন্নাহ (سنّة) দ্বারা দলিল পেশ করেছেন, তা অপ্রাপ্তবয়স্ক ও প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে কোনো পার্থক্য ছাড়াই সকল নারীর ওপর শোক পালন (حداد) ওয়াজিব হওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রদান করে। এর সাথে এটিও যুক্ত করা যায় যে, ইদ্দত পালন করাও কোনো পার্থক্য ছাড়াই ওয়াজিব। আমি এই মাসআলাটি নিয়ে অনেক গভীর চিন্তা-ভাবনা করেছি যাতে কোনো একটি মতকে প্রাধান্য দেওয়ার পথ খুঁজে পাই। দীর্ঘ পর্যবেক্ষণ এবং গভীর চিন্তার পর আল্লাহ তাআলা আমার অন্তরকে প্রথম মতটি অর্থাৎ অপ্রাপ্তবয়স্ক বালিকার ওপরও শোক পালন (حداد) ওয়াজিব হওয়ার মতটিকে প্রাধান্য দেওয়ার জন্য প্রশস্ত করে দিয়েছেন। আর তা নিম্নোক্ত কারণে:
১- স্বামী মৃত্যুবরণকারী অপ্রাপ্তবয়স্ক বালিকার জন্য ব্যভিচার, মদ্যপান, চুরি বা অন্যান্য হারামের মতো কোনো নিষিদ্ধ কাজে লিপ্ত হওয়া বৈধ নয়। আর অভিভাবকের দায়িত্ব হলো তাকে এসব থেকে বিরত রাখা। অভিভাবক যদি তাকে নিষিদ্ধ কাজে লিপ্ত হওয়া থেকে বিরত না রাখেন, তবে তিনি গুনাহগার হবেন। শোক পালন (حداد) বর্জন করা এবং এর পরিপন্থী সুগন্ধি ব্যবহার ও যাবতীয় সাজসজ্জা করাও এরই অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং, অভিভাবকের জন্য যেমন তাকে অন্যান্য হারাম কাজে লিপ্ত হতে দেওয়া বৈধ নয়, তেমনি শোক পালন (حداد) ত্যাগ করতে দেওয়াও বৈধ নয়। আর অভিভাবক এই বিষয়ে আদিষ্ট, যেমনটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীর ব্যাপকতা (عموم) থেকে প্রতীয়মান হয়: "তোমাদের সন্তানদের সাত বছর বয়সে নামাজের নির্দেশ দাও এবং দশ বছর বয়সে (নামাজ না পড়লে) তাদের প্রহার করো এবং তাদের বিছানা আলাদা করে দাও।"২ অভিভাবক যদি এমনটি না করেন তবে তিনি নিঃসন্দেহে গুনাহগার হবেন, আর আমাদের আলোচ্য মাসআলাটিও ঠিক তদ্রূপ।
২- আমাদের জানামতে ফতোয়া প্রদানকারী ইমামগণের নিকট অপ্রাপ্তবয়স্ক বালিকার ওপর ইদ্দত ওয়াজিব হওয়ার বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই। মহান আল্লাহর বাণী একে আরও স্পষ্ট করে: "তোমাদের মধ্যে যারা মৃত্যুবরণ করে এবং স্ত্রীদের রেখে যায়, তারা নিজেদের চার মাস দশ দিন অপেক্ষায় রাখবে।" (সূরা আল-বাকারা: ২৩৪)। এখানে অপ্রাপ্তবয়স্ক বালিকাও একজন স্ত্রী এবং অনির্দিষ্টবাচক শব্দের প্রয়োগ (نكير) এখানে ব্যাপকতা (عموم) প্রকাশ করে। আর ইদ্দত পালন একটি ইবাদত (عبادة), যা অপ্রাপ্তবয়স্কের জন্যও আবশ্যক। এমতাবস্থায় কেউ কি বলতে পারেন যে, এখানে ইদ্দত ওয়াজিব হবে কিন্তু সেখানে শোক পালন (حداد) ওয়াজিব হবে না? যদি কেউ এমনটি বলেন, তবে তিনি এই পার্থক্যের সপক্ষে দলিল দিতে বাধ্য।
৩- হ্যাঁ, অপ্রাপ্তবয়স্ক বালিকাকে শরয়ি বিধিবিধানের শাখা-প্রশাখার ক্ষেত্রে সরাসরি সম্বোধন করা হয় না, বরং অভিভাবকই তাকে হারাম কাজ থেকে বিরত রাখতে আদিষ্ট, যা আমরা ইতিপূর্বে বর্ণনা করেছি। আপনি কি লক্ষ্য করেননি যে, অভিভাবকই অপ্রাপ্তবয়স্ক বালক বা বালিকার পক্ষ থেকে হজের দায়িত্ব পালন করেন? এমতাবস্থায় হজের বিধানাবলি তার অভিভাবকের ওপর আবশ্যকীয় হয়ে পড়ে, যার অর্থ হলো অভিভাবক তাকে ইহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ কাজ যেমন—সুগন্ধি ব্যবহার, সেলাই করা পোশাক পরিধান এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো করতে দেবেন না। যদি তিনি তা করতে দেন তবে তিনি গুনাহগার হবেন। সুতরাং এই দুটি মাসআলার মধ্যে পার্থক্য কোথায়? আমি তো কোনো পার্থক্য খুঁজে পাচ্ছি না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমদাদ বি-আহকামিল হিদাদ
(পৃষ্ঠা: ১৫৭)
4 ـ العمومات التي استدل بها أصحاب القول الأول من مثل قوله صلى الله عليه وسلم: "لا يحل لامرأة تؤمن بالله واليوم الآخر أن تحدّ على ميّت فوق ثلاث إلا على زوج أربعة أشهر وعشر "، لم تفرق بين ما إذا كانت الزوجة كبيرة أو صغيرة بل هي شاملة بعمومها لكل أحد، فقوله: (لامرأة) نكرة تفيد العموم، وقد أكد هذا العموم بذكره النكرة بعد النفي وهذا زيادة في العموم كما تفيده قواعد الأصول، وسيأتي تحرير المقام في قوله صلى الله عليه ويلم (أن تؤمن) عند الكلام على حكم الحداد من الكتابية. ولا حجة في قوله صلى الله عليه وسلم (امرأة) للقائلين بعدم وجوب الحداد على الصغيرة وذلك لأمرين:
الأمر الأول: أن الصغيرة تسمى امرأة فلها من الحقوق كالكبيرة، وعليها ما عليها، صحيح أنها لا تبتغى لطلب الولد لصغرها لكونها لا يوطأ مثلها بيد أن اللفظ شامل لها.
الأمر الثاني: لو سلمنا أنها لا تسمى امرأة فلا دلالة فيه للمخالفين لأننا نقول إنه خرج مخرج الغالب فإن الغالب الكثير أن المرأة لا يفارقها زوجها إلا وهي كبيرة وليس معناه أن الحداد لا يجب على الصغيرة.
৪ ـ প্রথম মতের প্রবক্তাগণ যে সকল সাধারণ বক্তব্য (عمومات) দ্বারা দলিল পেশ করেছেন, যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "আল্লাহ এবং পরকালের প্রতি বিশ্বাসী কোনো নারীর জন্য তার স্বামী ব্যতীত অন্য কোনো মৃতের জন্য তিন দিনের অধিক সময় শোক পালন করা বৈধ নয়; তবে স্বামীর ক্ষেত্রে এই সময়সীমা চার মাস দশ দিন।" এটি স্ত্রী প্রাপ্তবয়স্ক কিংবা অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার মধ্যে কোনো পার্থক্য করেনি, বরং এটি তার সাধারণত্বের (عموم) কারণে প্রত্যেকের জন্য প্রযোজ্য। সুতরাং তাঁর বাণী: (কোনো নারী) শব্দটি একটি অনির্দিষ্ট বিশেষ্য (نكرة), যা সাধারণত্ব (عموم) বুঝায়। না-বাচক শব্দের (نفي) পর অনির্দিষ্ট বিশেষ্য (نكرة) ব্যবহারের মাধ্যমে এই সাধারণত্বকে (عموم) আরও সুনিশ্চিত করা হয়েছে এবং এটি উসুলের (أصول) নিয়ম অনুযায়ী ব্যাপকতাকে আরও বৃদ্ধি করে। আহলে কিতাব নারীর শোক পালনের বিধান আলোচনার সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী (যে ঈমান রাখে) সম্পর্কিত বিষয়টি বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হবে। যারা অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের ওপর শোক পালন ওয়াজিব নয় বলে মত দেন, তাদের জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ব্যবহৃত (নারী) শব্দটিতে কোনো দলিল (حجة) নেই; আর তা দুটি কারণে:
প্রথম কারণ: অপ্রাপ্তবয়স্ককেও 'নারী' হিসেবে অভিহিত করা হয়, তাই প্রাপ্তবয়স্ক নারীর মতো তারও অধিকার রয়েছে এবং তার ওপরও বিধান বর্তাবে। এটি সত্য যে, অল্প বয়সের কারণে সন্তান লাভের উদ্দেশ্যে তাকে কামনা করা হয় না কারণ তার ন্যায় অল্পবয়স্কের সাথে সহবাস করা হয় না, তবুও এই শব্দটি তাকেও অন্তর্ভুক্ত করে।
দ্বিতীয় কারণ: যদি আমরা মেনেও নিই যে তাকে 'নারী' বলা হয় না, তবুও এতে বিরোধীদের জন্য কোনো প্রমাণ নেই। কারণ আমরা বলি যে, এটি সচরাচর পরিস্থিতির (غالب) নিরিখে বর্ণিত হয়েছে। কেননা অধিকাংশ ক্ষেত্রে একজন নারী তার স্বামীকে তখনই হারায় যখন সে প্রাপ্তবয়স্ক থাকে। এর অর্থ এই নয় যে, অপ্রাপ্তবয়স্কের ওপর শোক পালন আবশ্যক নয়।
(খণ্ড: ১)
আল-ইমদাদ বি-আহকামিল হিদাদ
(পৃষ্ঠা: ১৫৭)
المبحث الثالث: كون الحادة مسلمة:اتفق الفقهاء فيما علمنا على أن الحداد يجب على المرأة الكبيرة العاقلة البالغة المسلمة على ما بيّنا، واختلف الفقهاء في سوالب ذلك، ومنه اختلافهم في وجوب الحداد على الكتابية، وتجدر الإشارة هنا إلى أن أئمة الفتوى لم يختلفوا في إباحة الحداد لكل من ذكرنا ومن سنذكر قريبا، وإنما الخلاف في الوجوب أو السنية.
وبيان اختلافهم في وجوب الحداد على الكتابية كالآتي:
1ـ ذهب الجمهور ومنهم الأئمة الثلاثة مالك والشافعي وأحمد إلى وجوب الحداد على الكتابية، وقد استدلوا لذلك بأدلة بيانها كالآتي: العمومات التي تفيد وجوب الحداد على الكتابية لأنها من جملة النساء، والأحاديث لم تفرق بين ما إذا كانت المرأة مسلمة أو كتابية، وإخراج الكتابية من هذا العموم يحتاج إلى دليل، ولا دليل عليه، ومن ادّعى خروج الكتابية فعليه الدليل، أضف إلى هذا أن الكتابية زوجة وقد أوجب الله تعالى العدّة على الزوجات من غير تخصيص. يوضحه قوِله تعالى: {وَالَّذِينَ يُتَوَفَّوْنَ مِنْكُمْ وَيَذَرُونَ أَزْوَاجاً يَتَرَبَّصْنَ بِأَنْفُسِهِنَّ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْراً} فهذا إيجاب من الله تعالى العدة على الزوجات من غير
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: শোকপালনকারিণী মুসলিম হওয়া প্রসঙ্গে:আমাদের জানামতে ফকিহগণ এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, ইতিপূর্বে আমরা যেভাবে বর্ণনা করেছি সেই অনুযায়ী বয়স্কা, বুদ্ধিমান, প্রাপ্তবয়স্কা এবং মুসলিম নারীর ওপর শোকপালন (الحداد) আবশ্যক (واجب)। তবে এর বিপরীত অবস্থার ক্ষেত্রে ফকিহগণের মাঝে মতভেদ রয়েছে। এর অন্তর্ভুক্ত হলো কিতাবি নারীর ওপর শোকপালন (الحداد) আবশ্যক (وجوب) হওয়ার ক্ষেত্রে তাদের মতভেদ। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, ফতোয়ার ইমামগণ আমরা যাদের কথা উল্লেখ করেছি এবং অচিরেই যাদের কথা উল্লেখ করব, তাদের সবার জন্য শোকপালন (الحداد) বৈধ হওয়ার বিষয়ে কোনো দ্বিমত করেননি; বরং মতভেদ কেবল তা আবশ্যক (وجوب) হওয়া বা সুন্নাত (السنية) হওয়ার বিষয়ে।
কিতাবি নারীর ওপর শোকপালন (الحداد) আবশ্যক (وجوب) হওয়া নিয়ে তাদের মতভেদের বিবরণ নিম্নরূপ:
১- তিন ইমাম—মালিক, শাফিঈ ও আহমদসহ জুমহুর (الجمهور) ওলামায়ে কেরাম কিতাবি নারীর ওপর শোকপালন (الحداد) আবশ্যক (وجوب) হওয়ার অভিমত ব্যক্ত করেছেন। তারা এর স্বপক্ষে কিছু দলিল পেশ করেছেন যার বিবরণ নিম্নরূপ: সাধারণ (العمومات) বর্ণনাগুলো কিতাবি নারীর ওপর শোকপালন (الحداد) আবশ্যক (وجوب) হওয়ার অর্থ প্রদান করে, কারণ সেও নারীদের অন্তর্ভুক্ত। আর হাদিসসমূহ নারী মুসলিম নাকি কিতাবি—তার মধ্যে কোনো পার্থক্য করেনি। এই সাধারণ (العموم) বিধান থেকে কিতাবি নারীকে বাদ দেওয়ার জন্য দলিলের প্রয়োজন, অথচ এর কোনো দলিল নেই। আর যে ব্যক্তি কিতাবি নারী এ বিধানের বহির্ভূত হওয়ার দাবি করবে, তাকেই দলিল পেশ করতে হবে। এর সাথে আরও যোগ করা যায় যে, কিতাবি নারীও একজন স্ত্রী এবং আল্লাহ তাআলা কোনো বিশেষায়ন (تخصيص) ছাড়াই স্ত্রীদের ওপর ইদ্দত (العدة) পালন আবশ্যক করেছেন। আল্লাহ তাআলার এই বাণী বিষয়টি স্পষ্ট করে: {তোমাদের মধ্যে যারা স্ত্রী রেখে মৃত্যুবরণ করবে, তাদের স্ত্রীগণ নিজেদের চার মাস দশ দিন অপেক্ষায় রাখবে}। এটি আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে কোনো বিশেষায়ন (تخصيص) ছাড়াই স্ত্রীদের ওপর ইদ্দত (العدة) পালনের একটি আবশ্যকতা (إيجاب)।
(খণ্ড: ১)
আল-ইমদাদ বি-আহকামিল হিদাদ
(পৃষ্ঠা: ১৫৮)
فرق ولا تجب عدة الوفاة إلا حيث يجب الحداد؛ لأن الحداد حق للزوج فهو يلتحق بالعدة في حفظ النسب فتدخل الكافرة في ذلك بالمعنى كما دخل الكافر في النهي عن السوم على سوم أخيه1.
فإن قيل كيف يكون الحداد واجباً على الكتابية وقد شرط رسول الله صلى الله عليه وسلم في وجوبه الإيمان بدليل قوله صلى الله عليه وسلم: "لا يحل لامرأة تؤمن بالله أن تحد..". فهذا دليل على عدم وجوبه على الكتابية؟ قيل الجواب عن ذلك من أوجه:
أـ أن شرط الإيمان إنما ذكر تأكيداً للمبالغة في الزجر فلا مفهوم له كما يقال هذا طريق المسلمين وقد يشاركهم غيرهم2.
قال النووي في شرحه على صحيح مسلم مجيبا عن هذا الاعتراض ومبيِّناً أنه لا دليل فيه "وأن المؤمن هو الذي يستثمر خطاب الشارع وينتفع به وينقاد له فلهذا قُيّد به"3. أضف إلى هذا أن السبكي نقل في فتاويه عن بعضهم أن الذمية داخلة في "تؤمن بالله واليوم الآخر"4.
ب ـ أنّ الحداد حق للزوجية على ما بيّنا فهو ملتحق بالنفقة والسكن فكما أن الزوج تجب عليه نفقة زوجته وسكنها فكذلك يجب على الزوجة الحداد على زوجها5.
ج ـ أن العدة لا تجب على الذمية إلا إذا كان زوجها مسلماً أما إذا كان زوجها ذميا فإن الحداد لا يجب عليها، وأهل الذمة مطالبون بتنفيذ عقودهم مع المسلمين وهذا منها. قال ابن القيم في الهدي مشيراً إلى ما قلنا: "ولكن عذر الذين أوجبوا الحداد على الذمية أنه يتعلق به حق الزوج المسلم وكان منه إلزامها به كأصل العدة ولهذا لا يلزمونها به في عدتها من الذمي ولا يتعرض لها فيها فصار هذا كعقودهم مع المسلمين فإنهم يلزمون فيها بأحكام الإسلام وإن لم يتعرض لعقودهم مع بعضهم بعضا"6. وذهب الحنفية وبعض المالكية وأبو ثور إلى عدم وجوب الحداد على الذمية سواء كان زوجها مسلماً أو ذمياً7.
--------------------------------------------
পার্থক্য হলো, শোকপালন (الحداد) যেখানে ওয়াজিব (واجب) সেখানেই মৃত্যুজনিত ইদ্দত (عدة الوفاة) ওয়াজিব (واجب) হয়; কারণ শোকপালন (الحداد) স্বামীর অধিকার। এটি বংশধারা সংরক্ষণের ক্ষেত্রে ইদ্দত (عدة)-এর সাথে যুক্ত, তাই অর্থগতভাবে অমুসলিম নারীও এর অন্তর্ভুক্ত হবে, যেভাবে অমুসলিম পুরুষ তার ভাইয়ের দরদামের ওপর দরদাম করার নিষেধাজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হয়।১
যদি প্রশ্ন করা হয়, কিতাবধারী (الكتابية) নারীর ওপর শোকপালন (الحداد) কীভাবে ওয়াজিব (واجب) হবে যেখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ওয়াজিব (وجوب) হওয়ার শর্ত হিসেবে ঈমান (الإيمان)-এর কথা উল্লেখ করেছেন? যার দলিল হলো তাঁর এই বাণী: "আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসী কোনো নারীর জন্য শোকপালন করা বৈধ নয়..."। এটি কি কিতাবধারী (الكتابية) নারীর ওপর এটি ওয়াজিব (واجب) না হওয়ার দলিল? উত্তরে কয়েকটি দিক থেকে বলা যায়:
ক— ঈমান (الإيمان)-এর শর্তটি মূলত ধমক (الزجر) প্রদানের ক্ষেত্রে আধিক্য বুঝানোর জন্য উল্লেখ করা হয়েছে, এর কোনো ভিন্ন অর্থ বা প্রাসঙ্গিকতা (مفهوم) নেই। যেমন বলা হয়: "এটি মুসলিমদের রাস্তা", অথচ অন্যরাও তাতে শরিক হতে পারে।২
ইমাম নববী সহীহ মুসলিম-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে এই আপত্তির উত্তর দিতে গিয়ে এবং এতে কোনো দলিল নেই তা স্পষ্ট করে বলেন: "মুমিন (المؤمن) ব্যক্তিই শরীয়তের সম্বোধন (خطাব الشارع) থেকে ফায়দা হাসিল করে, এর দ্বারা উপকৃত হয় এবং এর প্রতি অনুগত হয়, একারণেই এর সাথে শর্তযুক্ত করা হয়েছে"।৩ এর সাথে আরও যোগ করুন যে, ইমাম সুবকী তাঁর ফাতাওয়া গ্রন্থে কারো কারো পক্ষ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, জিম্মি (الذمية) নারীও "আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাসী" এই কথার অন্তর্ভুক্ত।৪
খ— শোকপালন (الحداد) হলো দাম্পত্য সম্পর্কের একটি অধিকার যা আমরা ব্যাখ্যা করেছি; এটি ভরণপোষণ ও আবাসন ব্যবস্থার সাথে সম্পৃক্ত। স্বামীর ওপর যেমন তার স্ত্রীর ভরণপোষণ ও আবাসন নিশ্চিত করা ওয়াজিব (واجب), তেমনি স্ত্রীর ওপরও স্বামীর জন্য শোকপালন (الحداد) করা ওয়াজিব (واجب)।৫
গ— জিম্মি (الذمية) নারীর ওপর ইদ্দত (عدة) ওয়াজিব (واجب) হয় না যদি না তার স্বামী মুসলিম হয়। কিন্তু যদি তার স্বামী জিম্মি (ذمياً) হয়, তবে তার ওপর শোকপালন (الحداد) ওয়াজিব (واجب) হয় না। জিম্মিরা (أهل الذمة) মুসলিমদের সাথে সম্পাদিত চুক্তিসমূহ বাস্তবায়ন করতে আদিষ্ট এবং এটি তার অন্তর্ভুক্ত। ইবনুল কাইয়্যিম যাদুল মাআদ গ্রন্থে আমরা যা বলেছি সেদিকে ইশারা করে বলেন: "তবে যারা জিম্মি (الذمية) নারীর ওপর শোকপালন (الحداد) ওয়াজিব (واجب) করেছেন তাদের যুক্তি হলো, এতে মুসলিম স্বামীর অধিকার জড়িত। তাই মূল ইদ্দত (عدة)-এর মতো তাকে এটি পালনে বাধ্য করা হয়েছে। একারণেই জিম্মি (الذمي) স্বামীর জন্য ইদ্দত (عدة) পালনের ক্ষেত্রে তারা তাকে বাধ্য করেন না এবং এ বিষয়ে তার ওপর হস্তক্ষেপ করা হয় না। সুতরাং বিষয়টি মুসলিমদের সাথে তাদের চুক্তির মতো হয়েছে; ফলে তাদের ক্ষেত্রে ইসলামের বিধানাবলি কার্যকর করা হয়, যদিও তারা পরস্পরের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তির ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করা হয় না"।৬ অন্যদিকে হানাফী মাযহাব, কিছু মালিকী এবং আবু সাওর এই মত পোষণ করেছেন যে, জিম্মি (الذمية) নারীর ওপর শোকপালন (الحداد) ওয়াজিব (واجب) নয়, তার স্বামী মুসলিম হোক বা জিম্মি হোক।৭
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমদাদ বি-আহকামিল হিদাদ
(পৃষ্ঠা: ১৫৯)
وقد استدل أصحاب هذا القول بما يأتي:
1 ـ إنَّ الكتابية غير مخاطبة بحقوق الشرع والحداد من حقوقه يوضحه قوله عليه الصلاة والسلام: "لا يحل لامرأة تؤمن بالله واليوم الآخر.." الخ.
فالإيمان شرط لوجوب الحداد وهو لا يوجد في الكتابية لكونه حقاً من حقوق الشرع، والذمية ليست أهلا لذلك يوضحه أن المسلمة لو أمرت بترك الحداد لم يكن لها ذلك فدل على أنه تكليفي، والأحكام التكليفية خاصة بالمسلمين قال ابن القيم في الهدي مستدلا لهذا القول بأن النّبي صلى الله عليه وسلم "جعل الإحداد من أحكام من يؤمن بالله واليوم الآخر فلا تدخل فيه الكافرة ولأنها غير مكلفة بأحكاَم الفروع فعدوله عن اللفظ العام المطلق إلى الخاص المقيد بالإيمان يقتضي أن هذا من أحكام الإيمان ولوازمه وواجباته فكأنه قال: من التزم الإيمان فهذا من شرائعه وواجباته"1.
هذا ما يمكن أن يستدل به بهذا القول، وقد عرفت الجواب عن اشتراط الإيمان في وجوب الحداد عند الكلام على أدلة الجمهور، ونضيف هنا ما ذكره ابن القيم عند عرضه للمسألة حيث قال: "والتحقيق أنّ نفي حل الفعل عن المؤمنين لا يقتضي نفي حكمه عن الكفار ولا إثبات الحكم لهم أيضا، وإنما يقتضي أنّ من التزم الإيمان وشرائعه فهذا لا يحل ويجب على كل حال أن يلزم الإيمان وشرائعه ولكن لا يلزم الشارع شرائع الإيمان إلا بعد دخوله فيه، وهذا كما لو قيل للمؤمن أن يترك الصلاة والحج والزكاة فهذا لا يدل على أن ذلك حل للكافر وهذا كما قال في لباس الذهب: "لا ينبغي للمتقين" فلا يدل إنه ينبغي لغيرهم وكذا قوله: "لا ينبغي للمؤمن أن يكون لعاناً" 2.
كما عرفت مزيداً من أدلة الفريقين عند الكلام على وجوب الحداد على الصغيرة، وسبب اختلاف الفقهاء في هذه المسألة راجع من حيث الجملة إلى أمرين:
الأمر الأول: الاختلاف في خطاب أهل الذمة بفروع الشرع هل يخاطبون بها أولا؟ فمن قال: إنهم يخاطبون بها قال: يجب الحداد على الذمية، ومن قال: إنهم لا يخاطبون بها قال: لا يجب الحداد عليها.
الأمر الثاني الاختلاف في العدة هل هي حق لله أم حق للزوج؟ فمن قال: إنها حق لله قال: لا تجب العدة على الذمية، ومن قال: إنها حق للزوج قال: تجب العدة عليها، والذي يترجح عندي هو أن الذمية لا يجب عليها الحداد إلا إذا رفع ذلك إلى الحاكم المسلم فإنه يلزمها حينئذ بالحداد.
--------------------------------------------
এই মতের প্রবক্তারা নিম্নোক্ত বিষয়গুলো দ্বারা দলিল পেশ করেছেন:
১- নিশ্চয়ই আহলে কিতাব নারী শরয়ি বিধানের (حقوق الشرع) আওতাভুক্ত নয় এবং শোক পালন (الحداد) শরীয়তের অন্যতম হক। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর এই বাণী বিষয়টি স্পষ্ট করে: "আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাসী কোনো নারীর জন্য বৈধ নয়..." ইত্যাদি।
সুতরাং শোক পালন (الحداد) ওয়াজিব হওয়ার জন্য ঈমান একটি শর্ত, যা আহলে কিতাব নারীর মাঝে অনুপস্থিত; কারণ এটি শরীয়তের অন্যতম বিধান। আর জিম্মি নারী এর যোগ্য নয়। এটি এভাবে স্পষ্ট হয় যে, যদি কোনো মুসলিম নারীকে শোক পালন (الحداد) বর্জন করতে বলা হতো, তবে তার জন্য তা করা বৈধ হতো না। এটি প্রমাণ করে যে এটি একটি আবশ্যিক (تكليفي) বিধান, আর আবশ্যিক (تكليفي) বিধানসমূহ কেবল মুসলিমদের জন্য নির্দিষ্ট। ইবনুল কায়্যিম 'আল-হাদি' গ্রন্থে এই মতের সপক্ষে দলিল পেশ করে বলেন যে, নবী (সা.) "শোক পালনকে (الإحداد) আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাসীদের জন্য একটি বিধান হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। সুতরাং এতে কাফির নারী অন্তর্ভুক্ত হবে না। তাছাড়া তারা শাখা-প্রশাখার (الفروع) বিধান পালনের জন্য আদিষ্ট নয়। তাই সাধারণ ও শর্তহীন (العام المطلق) শব্দ পরিহার করে ঈমানের সাথে সংশ্লিষ্ট বিশেষ (الخاص) শব্দের ব্যবহার ইঙ্গিত দেয় যে, এটি ঈমানের বিধান, এর অনুষঙ্গ এবং আবশ্যকতা। তিনি যেন বলতে চেয়েছেন: যে ঈমান গ্রহণ করেছে, এটি তার শরীয়ত ও ওয়াজিব কার্যাবলীর অন্তর্ভুক্ত।"১।
এই মতের সপক্ষে এভাবেই দলিল দেওয়া সম্ভব। জমহুর উলামাদের দলিল আলোচনার সময় শোক পালন (الحداد) ওয়াজিব হওয়ার ক্ষেত্রে ঈমানের শর্তারোপের উত্তর আমরা জেনেছি। এখানে আমরা ইবনুল কায়্যিম মাসআলাটি উপস্থাপনের সময় যা উল্লেখ করেছেন তা যোগ করছি: "সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ (التحقيق) হলো যে, মুমিনদের জন্য কোনো কাজ বৈধ না হওয়া যেমন কাফিরদের থেকে সেই বিধান (حكم) নাকচ হওয়াকে আবশ্যক করে না, তেমনি তাদের জন্য বিধানটি সাব্যস্ত হওয়াকেও আবশ্যক করে না। বরং এটি দাবি করে যে, যে ব্যক্তি ঈমান ও এর বিধানসমূহ গ্রহণ করেছে, তার জন্য এটি বৈধ নয় এবং সর্বাবস্থায় তার জন্য ঈমানের বিধানসমূহ মেনে চলা আবশ্যক। তবে শারিয়াহ প্রণেতা ঈমানের বিধানসমূহ কারো ওপর চাপিয়ে দেন না যতক্ষণ না সে তাতে প্রবেশ করে। এটি ঠিক তেমন, যেমন কোনো মুমিনকে সালাত, হজ বা জাকাত ত্যাগ করতে নিষেধ করা হলে তা এই প্রমাণ বহন করে না যে কাফিরের জন্য তা বৈধ। যেমন স্বর্ণের পোশাক সম্পর্কে বলা হয়েছে: 'মুত্তাকিদের জন্য এটি শোভনীয় নয়', এর অর্থ এই নয় যে এটি অন্যদের জন্য শোভনীয়। অনুরূপভাবে তাঁর বাণী: 'মুমিনের জন্য লানতকারী হওয়া শোভা পায় না'২।"
নাবালিকার ওপর শোক পালন (الحداد) ওয়াজিব হওয়ার আলোচনার সময় উভয় পক্ষের আরও দলিল সম্পর্কে আপনারা জানতে পেরেছেন। এই মাসআলায় ফকিহদের মতভেদের কারণ মূলত দুটি বিষয়ের দিকে ফিরে যায়:
প্রথম বিষয়: আহলে জিম্মাকে শরীয়তের শাখা-প্রশাখার (فروع الشرع) বিধানে সম্বোধন করা হবে কি না—এ বিষয়ে মতভেদ। যারা বলেন যে, তাদেরকে সম্বোধন করা হবে, তারা বলেন: জিম্মি নারীর ওপর শোক পালন (الحداد) ওয়াজিব। আর যারা বলেন যে, তাদেরকে সম্বোধন করা হবে না, তারা বলেন: তার ওপর শোক পালন (الحداد) ওয়াজিব নয়।
দ্বিতীয় বিষয়: ইদ্দত (العدة) কি আল্লাহর হক নাকি স্বামীর হক—এ বিষয়ে মতভেদ। যারা বলেন যে এটি আল্লাহর হক, তারা বলেন: জিম্মি নারীর ওপর ইদ্দত (العدة) পালন ওয়াজিব নয়। আর যারা বলেন যে এটি স্বামীর হক, তারা বলেন: তার ওপর ইদ্দত (العدة) পালন ওয়াজিব। আমার কাছে অধিকতর গ্রহণযোগ্য (الراجح) মত হলো যে, জিম্মি নারীর ওপর শোক পালন (الحداد) ওয়াজিব নয়, যদি না বিষয়টি মুসলিম বিচারকের কাছে উত্থাপন করা হয়; তখন বিচারক তাকে শোক পালনে বাধ্য করবেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমদাদ বি-আহকামিল হিদাদ
(পৃষ্ঠা: ১৬০)
وأما إذا لم يترافعوا إلينا فلا نتعرض لهم، ومن المعلوم أنهم لا ينزجرون عن ارتكاب الذنوب والآثام ولا يتورعون عن فعل المحرمات على اختلاف أنواعها من ترك الصلاة والصوم والحج والزكاة وغير ذلك من صنوف الذنوب والآثام، ولا ذنب أعظم من الكفر فكيف يرجى منهم فعل الحداد وهم لا يفعلون ما هو أعظم من الحداد، وإلى ما قلنا أشار ابن القيم في الهدي بقوله: "وسر المسألة أن شرائع الحلال والحرام والإيجاب إنما شرعت لمن التزم أصل الإيمان، ومن لم يلتزمه وخلى بينه وبين دينه فإنه يخلى بينه وبين شرائع الدين الذي التزمه كما خَلى بينه وبين أصله ما لم يُحاكم إلينا وهذه القاعدة متفق عليها بين العلماء"1.
فهذا ابن القيم يرى أن الحدود لا يجب على الذمية بإيجاب الشرع إلا أن يحصل الترافع منهم إلى المسلمين فحينئذ يلتزمون بأحكام الإسلام، وإلا فهم لا يتورعون عن ارتكاب المعاصي من الكبائر والصغائر والإسلام، لم يوجب على أتباعه إلزام أهل الذمة بشرائع الإسلام، وإنما يخلى بينهم وبين أحكَام الدين الذي يدينون به ما لم يترافعوا إلينا أو يتعرضوا للإسلام أو أحدٍ من أتباعه بالإهانة؛ لأنهم بعقدهم الذمة مع المسلمين وفرض الجزية عليهم وهم صاغرون إنما هو لحفظ دمائهم وأموالهم وعدم التعرض لهم إلا في الأمور التي فيها ضرر على الإسلام والمسلمين، وإيجاب الحداد على الذمية ليس فيه شيء من ذلك نعم الله عز وجل أرادَ منهم الإسلام، ولكن هم لم يمتثلوا فإذا دخلوا في الإسلام وجب عليهم ما يجب على المسلمين.
--------------------------------------------
আর যদি তারা আমাদের কাছে বিচার প্রার্থনা না করে, তবে আমরা তাদের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করব না। এটি সুবিদিত যে, তারা বিভিন্ন ধরণের পাপ ও গুনাহ করা থেকে বিরত থাকে না এবং নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত ত্যাগ করা সহ নানা ধরণের নিষিদ্ধ কাজ থেকে নিজেদের রক্ষা করে না। আর কুফরের চেয়ে বড় কোনো গুনাহ নেই, এমতাবস্থায় তাদের নিকট থেকে শোক পালনের (حداد) আশা কীভাবে করা যায়, অথচ তারা শোক পালনের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিধানসমূহ পালন করে না। আমাদের এই বক্তব্যের দিকেই ইবনুল কাইয়্যিম জাদুল মাআদ গ্রন্থে ইঙ্গিত করে বলেছেন: "এই মাসআলার রহস্য হলো—হালাল, হারাম এবং ওয়াজিব হওয়ার বিধানসমূহ কেবল তাদের জন্যই বিধিবদ্ধ করা হয়েছে যারা ঈমানের মূল ভিত্তি স্বীকার করে নিয়েছে। আর যারা তা গ্রহণ করেনি এবং যাদেরকে তাদের ধর্মের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, তাদেরকে তাদের ধর্মের বিধানের ওপরই ছেড়ে দেওয়া হবে যা তারা মেনে চলে, যেমনভাবে তাদেরকে তাদের মূল ধর্মের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে; যতক্ষণ না তারা আমাদের নিকট বিচার প্রার্থনা করে। আর এই নীতিটি ওলামায়ে কেরামের মধ্যে সর্বসম্মত (متفق عليه)।"1.
সুতরাং ইবনুল কাইয়্যিম মনে করেন যে, শরিয়তের বিধান অনুযায়ী জিম্মিদের ওপর হদ বা দণ্ডবিধি প্রয়োগ করা ওয়াজিব নয়, যতক্ষণ না তারা মুসলিমদের নিকট বিচার প্রার্থনা করে। তখন তারা ইসলামের বিধান মানতে বাধ্য হবে। অন্যথায়, তারা কবিরা গুনাহ (كبائر) ও সগিরা গুনাহ (صغائر) করা থেকে বিরত থাকে না। আর ইসলাম তার অনুসারীদের ওপর জিম্মিদেরকে ইসলামের বিধান পালনে বাধ্য করার দায়িত্ব অর্পণ করেনি; বরং তাদেরকে তাদের পালনকৃত ধর্মের বিধানের ওপরই ছেড়ে দেওয়া হবে, যতক্ষণ না তারা আমাদের কাছে বিচারপ্রার্থী হয় অথবা ইসলাম বা এর কোনো অনুসারীকে অপমানের মাধ্যমে উত্ত্যক্ত করে। কারণ, মুসলিমদের সাথে জিম্মা চুক্তি এবং হীনাবস্থায় তাদের ওপর জিজিয়া ধার্য করার মূল উদ্দেশ্য হলো তাদের জান-মাল রক্ষা করা এবং তাদের বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা, যদি না তারা ইসলাম ও মুসলিমদের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আর জিম্মি নারীর ওপর শোক পালন (حداد) ওয়াজিব করার বিষয়টি এর অন্তর্ভুক্ত নয়। হ্যাঁ, আল্লাহ তাআলা তাদের নিকট ইসলামই চেয়েছিলেন, কিন্তু তারা তা গ্রহণ করেনি। তবে তারা যদি ইসলাম গ্রহণ করে, তবে মুসলিমদের ওপর যা ওয়াজিব হয়, তাদের ওপরও তা ওয়াজিব হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমদাদ বি-আহকামিল হিদাদ
(পৃষ্ঠা: ১৬০)
المبحث الرابع: هل شرط وجوب الحداد كونه من الوفاة؟:
اتفق الفقهاء على أن الحداد يجب على المعتدة من الوفاة إذا توفرت الشروط الأخرى التي ذكرناها آنفاً والتي سنذكرها قريبا ولا نعلم في هذا خلافاً إلا خلافاً شاذاً ذكرناه في الفصل الثاني.
أما المعتدة من طلاق فهي على قسمين: رجعية وبائن. فالرجعية لا يجب عليها الحداد اتفاقاً لأنها في حكم الزوجات، لها أن تتزيّن لزوجها وتستشرف له ليرغب فيها2، فنعمة النكاح لم تفت بعد لأن الزوج له أن يراجعها، والتزين مما يبعثه على مراجعتها فتكون مندوبة إلى التزين لهذا المعنى3.
--------------------------------------------
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: শোকপালন (حداد) ওয়াজিব (واجب) হওয়ার শর্ত কি মৃত্যুজনিত হওয়া?:
ফকিহগণ এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, মৃত্যুজনিত ইদ্দত পালনকারিণী (معتدة من الوفاة) মহিলার ওপর শোকপালন (حداد) ওয়াজিব (واجب), যদি আমরা পূর্বে যেসকল শর্তাবলি আলোচনা করেছি এবং অচিরেই যা উল্লেখ করব সেগুলো বিদ্যমান থাকে। এ বিষয়ে আমরা কোনো মতভেদ সম্পর্কে অবগত নই, কেবল একটি ব্যতিক্রমধর্মী (شاذ) মতভেদ ছাড়া যা আমরা দ্বিতীয় অধ্যায়ে উল্লেখ করেছি।
পক্ষান্তরে তালাকজনিত ইদ্দত পালনকারিণী মহিলার ক্ষেত্রে দুটি প্রকার রয়েছে: রাজয়ি (رجعية) এবং বায়িন (بائن)। রাজয়ি (رجعية) তালাকপ্রাপ্তা মহিলার ওপর সর্বসম্মতভাবে (اتفاقاً) শোকপালন (حداد) ওয়াজিব (واجب) নয়। কারণ তিনি তখনো স্ত্রীর হুকুমের অন্তর্ভুক্ত; স্বামীর নিকট নিজেকে উপস্থাপন করা এবং সাজসজ্জা করার অধিকার তার রয়েছে যাতে স্বামী তার প্রতি পুনরায় আগ্রহী হয়। কেননা বিবাহের নেয়ামত এখনো নিঃশেষ হয়ে যায়নি যেহেতু স্বামী তাকে ফিরিয়ে নেওয়ার (رجعة) অধিকার রাখেন। আর সাজসজ্জা স্বামীকে রাজআত বা ফিরিয়ে নিতে উৎসাহিত করে, তাই এই উদ্দেশ্যে সাজসজ্জা করা তার জন্য মুস্তাহাব (مندوبة)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমদাদ বি-আহকামিল হিদাদ
(পৃষ্ঠা: ১৬১)
أما البائن فقد اختلف الفقهاء في وجوب الحداد عليها على قولين مع اتفاقهم على إباحة ذلك لها، ونحن نبيّن هذين القولين وأدلة كل قول وما قد يرد على الدليل المرجوح من المناقشة مسترشدين في ذلك بالمراجع المعتمدة في كل مذهب، فنقول:
1 ـ ذهب الجمهور ومنهم مالك والشافعي في الجديد وأحمد في أحد قوليه وبه قال عطاء وربيعة وابن المنذر إلى عدم وجوب الحداد على المبتوتة1.
الاستدلال لهذا الرأي:
وقد استدل أصحاب هذا الرأي بالمنقول والمعقول:
أما المنقول: فقد استدلوا منه بقوله صلى الله عليه وسلم: "لا يحل لامرأة تؤمن بالله واليوم الآخر أن تحد على ميت فوق ثلاث ليال إلا على زوج أربعة أشهر وعشر"2. وهذه عدة الوفاة فيدل على أن الإحداد إنما يجب في عدة الوفاة3.
وأما استدلالهم بالمعقول فمن وجوه:
أـ أنّ الحداد في عدة الوفاة إنما هو لإظهار الأسف على فراق زوجها وموته وهذا مالا يوجد في الطلاق فإنه فارقها باختيار نفسه وقطع نكاحها فلا معنى لتكليفها الحزن عليه.
ب ـ أنّ المتوفى عنها لو أتت بولد لحق الزوج الميت لكونه ليس له من ينفيه على فرض أنه ليس له فاحتيط عليها بالإحداد لئلا يلحق بالميت من ليس منه بخلاف المطلقة فإن زوجها باق فهو يحتاط عليها بنفسه وينفي ولدها إذا كان من غيره.
ج ـ إنّ المبتوتة معتدة من غير وفاة فلا يجب عليها الحداد قياسا على الرجعية والموطؤة بشبهة.
2 ـ وذهب أبو حنيفة وأصحابه وأحمد في إحدى الروايتين والشافعي في القديم وبعض المالكية وأبو ثور وأبو عبيد إلى وجوب الحداد على المبتوتة4.
الاستدلال لهذا الرأي:
استدل أصحاب هذا الرأي بالمنقول والنظر.
--------------------------------------------
তালাকপ্রাপ্তা (بائن) নারীর ক্ষেত্রে শোক পালন (حداد) ওয়াজিব হওয়া প্রসঙ্গে ফকিহগণ দুটি মতে বিভক্ত হয়েছেন, যদিও তারা একমত হয়েছেন যে এটি তার জন্য অনুমোদিত। আমরা এই দুটি মত এবং প্রত্যেক মতের দলীলসমূহ ব্যাখ্যা করছি, সেই সাথে অগ্রাধিকারহীন (مرجوح) দলীলের ওপর সম্ভাব্য পর্যালোচনা প্রতিটি মাযহাবের নির্ভরযোগ্য কিতাবসমূহের আলোকে উপস্থাপন করছি। আমরা বলি:
১. জমহুর বা সংখ্যাধিক্য আলেম—যাদের মধ্যে ইমাম মালিক, ইমাম শাফিঈ (কাওলে জাদিদ বা নতুন মতে), ইমাম আহমদ (একটি বর্ণনায়), আতা, রবীআ এবং ইবনুল মুনযির রয়েছেন—তাদের মতে চূড়ান্তভাবে তালাকপ্রাপ্তা (مبتوتة) নারীর ওপর শোক পালন (حداد) ওয়াজিব নয়।
এই মতের সপক্ষে দলীল গ্রহণ:
এই মতের প্রবক্তাগণ শ্রুতিনির্ভর (منقول) ও যুক্তিনির্ভর (معقول) দলীলের মাধ্যমে প্রমাণ পেশ করেছেন:
শ্রুতিনির্ভর (منقول) দলীল হিসেবে তারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এই বাণী পেশ করেছেন: "আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাসী কোনো নারীর জন্য তার স্বামী ব্যতীত অন্য কোনো মৃত ব্যক্তির ওপর তিন রাতের বেশি শোক পালন করা বৈধ নয়; তবে স্বামীর ক্ষেত্রে চার মাস দশ দিন।" এটি মূলত মৃত্যুর ইদ্দত, যা নির্দেশ করে যে শোক পালন (حداد) কেবল মৃত্যুর ইদ্দতের ক্ষেত্রেই ওয়াজিব।
আর যুক্তিনির্ভর (معقول) দলীলসমূহ কয়েকটি দিক থেকে উপস্থাপিত হয়েছে:
ক. শোক পালন (حداد) মূলত স্বামীর বিচ্ছেদ ও মৃত্যুতে দুঃখ প্রকাশের জন্য; তালাকের ক্ষেত্রে যা বিদ্যমান নয়। কারণ স্বামী নিজ ইচ্ছায় তাকে বিচ্ছিন্ন করেছে এবং বিবাহ বন্ধন ছিন্ন করেছে, তাই তার জন্য বিষণ্ণ হতে বাধ্য করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।
খ. স্বামী মারা গেলে তার স্ত্রী কোনো সন্তান প্রসব করলে তা মৃত স্বামীর বলে সাব্যস্ত হয়, কারণ তার অস্বীকার করার কেউ নেই। তাই শোক পালনের (حداد) মাধ্যমে সতর্কতা অবলম্বন করা হয় যেন অন্য কারও সন্তান মৃত ব্যক্তির সাথে যুক্ত না হয়। পক্ষান্তরে তালাকপ্রাপ্তার ক্ষেত্রে স্বামী জীবিত থাকে এবং সে নিজেই সতর্কতা অবলম্বন করে; ফলে অন্য কারও সন্তান হলে সে তা অস্বীকার করতে পারে।
গ. চূড়ান্তভাবে তালাকপ্রাপ্তা (مبتوتة) নারী মৃত্যু ব্যতীত অন্য কারণে ইদ্দত পালনকারিণী, তাই প্রত্যাবর্তনযোগ্য তালাকপ্রাপ্তা (رجعية) এবং সংশয়বশত সহবাসকৃত (موطؤة بشبهة) নারীর ওপর কিয়াস বা অনুমানের ভিত্তিতে তার ওপরও শোক পালন (حداد) ওয়াজিব নয়।
২. ইমাম আবু হানিফা ও তাঁর সহচরগণ, ইমাম আহমদ (অন্য একটি বর্ণনায়), ইমাম শাফিঈ (কাওলে কদিম বা পুরাতন মতে), কিছু মালেকী আলেম, আবু সাওর এবং আবু উবাইদ চূড়ান্তভাবে তালাকপ্রাপ্তা (مبتوتة) নারীর ওপর শোক পালন (حداد) ওয়াজিব হওয়ার মত পোষণ করেছেন।
এই মতের সপক্ষে দলীল গ্রহণ:
এই মতের প্রবক্তাগণ শ্রুতিনির্ভর (منقول) ও যুক্তি-বিশ্লেষণের (نظر) মাধ্যমে প্রমাণ পেশ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমদাদ বি-আহকামিল হিদাদ
(পৃষ্ঠা: ১৬২)
أما المنقول فقد استدلوا منه بما يأتي:
1ـ ما روي أنّ النبي صلى الله عليه وسلم: "نهى المعتدّة أن تختضب بالحنّاء، وقال: الحناء طيب"1.
فأنت ترى أنه لم يفرّق بين معتدة الوفاة وغيرها فدل هذا على وجوب الحداد على المعتدة مطلقا كما يفيده عموم الحديث.
ويجاب عن هذا الاستدلال بأمرين:
أـ أنه ضعيف لا تقوم به حجة؛ لأنه لم يذكر في كتب السنة المعتبرة ولو كان صحيحا لذكروه، والحديث الضعيف لا يحتج به في الأحكام.
ب ـ لو سلّمنا بصحته لم نسلّم بعمومه في كل المعتدات، فالرجعية لا يجب عليها الحداد اتفاقاً، فعلى هذا يكون محمولا على المعتدّة من الوفاة، وتخرج البائن من هذا العموم كما خرجت الرجعية2.
2ـ روى الطحاوي في شرح الآثار بإسناده إلى حماد عن إبراهيم قال: "المطلقة والمختلعة والمتوفى عنها زوجها والملاعنة لا يختضبن ولا يتطيبن ولا يلبسن ثوباً مصبوغاً ولا يخرجن من بيوتهن". وإبراهيم أدرك عصر الصحابة وزاحمهم في الفتوى فيجوز تقليده3.
ويجاب عن هذا الاستدلال: بأنه قول تابعي، وقول التابعي ليس بحجة، فإنه إذا وقع الاختلاف بين الفقهاء في الاحتجاج بقول الصحابي فعدم الاحتجاج بقول التابعي أولى، زد على هذا أنه معارض لقول من قدّمنا من الصحابة.
وأما استدلالهم من طريق النظر: فهو إلحاق المبتوتة بالمتوفى عنها زوجها بطريق الدلالة، وتقريره أن النص ورد في وجوب الإحداد على المتوفى عنها زوجها بلا خلاف، ومناط حكمه: إظهار التأسف على فوت نعمة النكاح الذي هو سبب لصونها وكفاية مؤنها، والإبانة اقطع لها من الموت حتى كان لها أن تغسله ميتا قبل الإبانة لا بعدها فكان إلحاق المبتوتة بالمتوفى عنها زوجها كإلحاق ضرب الوالدين بالتأفيف4.
والجواب عن هذا الاستدلال من وجهين:
1ـ أن القياس غير صحيح وذلك لوجودِ الفارق بين المقيس والمقيس عليه، فإن الحداد إنما وجب على المتوفي عنها زوجها إظهاراً للتأسف على فوت زوج وفي لها حتى الموت
--------------------------------------------
বর্ণিত প্রমাণের ক্ষেত্রে তারা নিম্নলিখিত বিষয়গুলো দ্বারা দলিল পেশ করেছেন:
১. যা বর্ণিত হয়েছে যে নবী (সা.) ইদ্দত পালনকারী নারীকে মেহেদী লাগাতে নিষেধ করেছেন এবং বলেছেন: "মেহেদী সুগন্ধি স্বরূপ।"১
আপনি লক্ষ্য করছেন যে, এখানে স্বামীর মৃত্যুজনিত ইদ্দত পালনকারী এবং অন্যদের মধ্যে কোনো পার্থক্য করা হয়নি। সুতরাং এটি সাধারণভাবে ইদ্দত পালনকারী নারীর ওপর শোক পালন (إحداد) এর আবশ্যকতা প্রমাণ করে, যা হাদিসের ব্যাপকতা (عموم) থেকে বোঝা যায়।
এই দলিলের উত্তর দুইভাবে দেওয়া যায়:
ক. এটি দুর্বল (ضعيف), যা দ্বারা কোনো প্রমাণ (حجة) প্রতিষ্ঠিত হয় না; কারণ এটি নির্ভরযোগ্য সুন্নাহর কিতাবসমূহে উল্লেখ করা হয়নি। যদি এটি সহিহ (صحيح) হতো, তবে তারা তা অবশ্যই উল্লেখ করতেন। আর বিধানের ক্ষেত্রে দুর্বল (ضعيف) হাদিস দ্বারা দলিল পেশ (احتجاج) করা যায় না।
খ. যদি আমরা এর বিশুদ্ধতা (صحة) মেনেও নেই, তবুও সকল ইদ্দত পালনকারীর ক্ষেত্রে এর ব্যাপকতা (عموم) স্বীকার করি না। কারণ সর্বসম্মতভাবে তালাক-ই-রাজয়ীপ্রাপ্ত মহিলার ওপর শোক পালন (إحداد) ওয়াজিব নয়। এমতাবস্থায় একে মৃত্যুজনিত ইদ্দত পালনকারী মহিলার ওপর প্রয়োগ করা হবে এবং তালাক-ই-বায়েনপ্রাপ্ত নারী এই ব্যাপকতা (عموم) থেকে বের হয়ে যাবে, যেমনটি রাজয়ীপ্রাপ্ত নারী বের হয়ে গেছে।২
২. ইমাম তহাবি শারহু মাআনিল আসার গ্রন্থে হাম্মাদের মাধ্যমে ইবরাহিম (নাখয়ী) থেকে তাঁর সনদ (إسناد) সহ বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: "তালাকপ্রাপ্তা নারী, খুলাকারী নারী, যার স্বামী মারা গেছে এবং লিয়ানকারিণী নারী—তারা মেহেদী ব্যবহার করবে না, সুগন্ধি মাখবে না, রঙিন কাপড় পরবে না এবং তাদের ঘর থেকে বের হবে না।" ইবরাহিম সাহাবীদের যুগ পেয়েছেন এবং ফতোয়া প্রদানে তাঁদের সমপর্যায়ভুক্ত ছিলেন, তাই তাঁর অনুসরণ (تقليد) করা বৈধ।৩
এই দলিলের উত্তর হলো: এটি একজন তাবেয়ীর (تابعي) বক্তব্য, আর তাবেয়ীর (تابعي) বক্তব্য কোনো অকাট্য প্রমাণ (حجة) নয়। কেননা যদি সাহাবীর বক্তব্য দিয়ে দলিল পেশ করার ক্ষেত্রে ফকিহদের মধ্যে মতভেদ থাকে, তবে তাবেয়ীর (تابعي) বক্তব্য দিয়ে দলিল পেশ না করাটা আরও বেশি যুক্তিযুক্ত। এর সাথে যোগ করা যায় যে, এটি আমরা পূর্বে যে সকল সাহাবীর কথা উল্লেখ করেছি তাদের বক্তব্যের পরিপন্থী।
আর যুক্তি বা কিয়াসের (نظر) মাধ্যমে তাদের দলিলের বিষয়টি হলো: দালালাত বা ইঙ্গিতের মাধ্যমে তালাক-ই-বায়েনপ্রাপ্ত নারীকে এমন নারীর সাথে তুলনা করা যার স্বামী মারা গেছে। এর ব্যাখ্যা হলো: কোনো দ্বিমত ছাড়াই স্বামীর মৃত্যুজনিত ইদ্দত পালনকারী নারীর ওপর শোক পালন (إحداد) এর আবশ্যকতা সংক্রান্ত নস (نص) বর্ণিত হয়েছে। আর এই হুকুমের কারণ বা মানাত (مناط): দাম্পত্য জীবনের নেয়ামত হারানোর জন্য দুঃখ প্রকাশ করা, যা তাকে রক্ষা ও ভরণপোষণ দেওয়ার মাধ্যম ছিল। আর তালাক-ই-বায়েন তো মৃত্যুর চেয়েও অধিক বিচ্ছেদ ঘটায়, এমনকি তালাক-ই-বায়েনের আগে স্বামী মারা গেলে স্ত্রী তাকে গোসল দিতে পারত, কিন্তু তালাকের পর তা পারে না। সুতরাং বায়েনপ্রাপ্ত নারীকে মৃত্যুজনিত ইদ্দত পালনকারী নারীর সাথে তুলনা করা হলো পিতা-মাতাকে প্রহার করাকে 'উফ' বলার সাথে তুলনা করার মতো।৪
এই দলিলের উত্তর দুইভাবে দেওয়া যায়:
১. এই কিয়াস (قياس) সঠিক (صحيح) নয়, কারণ যদ্দারা তুলনা করা হয়েছে (مقيس عليه) এবং যাকে তুলনা করা হয়েছে (مقيس) তাদের মধ্যে পার্থক্য বিদ্যমান। কেননা স্বামীর মৃত্যুজনিত ইদ্দত পালনকারীর ওপর শোক পালন (إحداد) মূলত মৃত্যু পর্যন্ত অনুগত থাকা স্বামীর বিদায়ে দুঃখ প্রকাশ করার জন্য ওয়াজিব হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমদাদ বি-আহকামিল হিদাদ
(পৃষ্ঠা: ১৬৩)
بخلاف المبتوتة فإن زوجها لم يكن وفياً لها بل على العكس من ذلك فإنه أوحشها بالإبانة فلا تتأسف بفوته.
ومن جهة أخرى فإنه لا مناسبة بين البينونة وبين الموت؛ إذ أن البينونة لا يمتنع معها عود النكاح بعقد جديد بخلاف الموت فإنه لا يتصور عود النكاح بعده، ثم لو سلمنا بهذا في المطلقة لم نسلم به في المختلعة؛ لأنها قد افتدت نفسها برضاها لطلب الخلاص منه فكيف تتأسف.
ب ـ لو سلمنا بأن الحداد يجب على المبتوتة لفوات نعمة النكاح لقلنا بوجوبه على الأزواج أيضا؛ لأن نعمة النكاح مشتركة بينهما.
وهكذا تتصور المسألة بين القول والدليل والاستدلال والمناقشة، والحق واحد ومصيبه واحد، وسبب اختلاف الفقهاء في هذه المسألة راجع إلى أمرين:
الأمر الأول: هل وجوب الحداد على المرأة لإظهار التأسف على الزوج أو لإظهار التأسف على فوات الزوجية؟ فمن قال: هو لإظهار التأسف على فوات الزوج قال: بعدم وجوب الحداد على المبتوتة، ومن قال: هو لإظهار التأسّف على فوات الزوجية وبيان ذلك هو أن الحداد لإظهار التأسف على فوت نعمة النكاح والوطء الحلال بسببه قال بوجوب الحداد على المبتوتة؛ لأن عين الزوج ما كان مقصوداً لها حتى يكون التحزّن بفواته بل كان مقصودها نعمة النكاح، وهذا يفوتنا في الطلاق والوفاة بصفة واحدة.
الأمر الثاني: هل الحداد حق لله أو حق للزوج؟
فمن قال هو حق لله قال بوجوب الحداد على البائن، ومن قال هو حق للزوج قال بعدم وجوب الحداد عليها.
والذي أراه راجحا في هذه المسألة هو عدم وجوب الحداد على البائن، وإنما رجحت هذا القول لما يأتي:
1ـ الأدلة التي استدل بها القائلون بهذا القول أقوى في نظري من أدلة المخالفين، فحديث الصحيحين الذي ذكرناه في الاستدلال يفيد أن الحداد لا يكون إلا على ميّت كما هو ظاهر اللفظ، ثم قيّد الجواز بما ذكر في الحديث واستثني من ذلك الحداد على الزوج الميت وبين المدة التي يكون بها الحداد، فالمستثنى هنا من جنس المستثنى منه، وكذلك الأدلة التي ذكرناها هنالك كلها تلتقي حول هذا المعنى، وقد عرفت الجواب عن أدلة المخالفين عند ذكرها وهي كلها محتملة، والدليل إذا تطرق إليه الاحتمال بطل به الاستدلال.
তিন তালাকপ্রাপ্তা (المبتوتة) নারী এর ব্যতিক্রম, কারণ তার স্বামী তার প্রতি বিশ্বস্ত ছিল না, বরং এর বিপরীতে বিচ্ছেদের মাধ্যমে সে তাকে একাকী ও বিমর্ষ করে দিয়েছে, তাই স্বামীর বিয়োগে সে অনুতপ্ত হবে না।
অন্যদিকে, চূড়ান্ত বিচ্ছেদ (البينونة) এবং মৃত্যুর মধ্যে কোনো সামঞ্জস্য নেই; কারণ চূড়ান্ত বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে নতুন চুক্তির মাধ্যমে পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া অসম্ভব নয়, যা মৃত্যুর ক্ষেত্রে ভিন্ন, কারণ মৃত্যুর পর পুনরায় বিবাহের বিষয়টি কল্পনাতীত। অতঃপর, যদি আমরা তালাকপ্রাপ্তা নারীর ক্ষেত্রে বিষয়টি মেনেও নিই, তবে খুলাকারীর (المختلعة) ক্ষেত্রে তা মেনে নেব না; কারণ সে নিজেই নিজের সম্পদ দিয়ে তার থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য সন্তুষ্টচিত্তে নিজেকে মুক্ত করে নিয়েছে, সুতরাং সে কেন আক্ষেপ করবে?
খ- যদি আমরা মেনে নিই যে, বিবাহের নেয়ামত হারানোর কারণে তিন তালাকপ্রাপ্তা নারীর ওপর শোক পালন (الحداد) ওয়াজিব, তবে আমরা স্বামীদের ওপরেও তা ওয়াজিব হওয়ার কথা বলতাম; কারণ বিবাহের নেয়ামত উভয়ের মধ্যে অংশীদারিত্বমূলক।
এভাবেই বক্তব্য, দলীল, যুক্তিপ্রদর্শন এবং আলোচনার মধ্য দিয়ে মাসআলাটি চিত্রায়িত হয়। সত্য একটিই এবং সত্যে উপনীত ব্যক্তিও একজন। এই মাসআলায় ফকীহগণের মতভেদের কারণ দুটি বিষয়ের দিকে ফিরে যায়:
প্রথম বিষয়: নারীর ওপর শোক পালন (الحداد) কি স্বামীর বিয়োগে দুঃখ প্রকাশ করার জন্য ওয়াজিব, নাকি বৈবাহিক সম্পর্ক শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে দুঃখ প্রকাশ করতে? সুতরাং যারা বলেন: এটি স্বামীর বিয়োগে দুঃখ প্রকাশের জন্য, তারা বলেন: তিন তালাকপ্রাপ্তা নারীর ওপর শোক পালন ওয়াজিব নয়। আর যারা বলেন: এটি বৈবাহিক সম্পর্ক শেষ হয়ে যাওয়ার জন্য দুঃখ প্রকাশের জন্য—আর এর ব্যাখ্যা হলো, শোক পালন হচ্ছে বিবাহের নেয়ামত এবং এর মাধ্যমে অর্জিত হালাল সহবাসের সুযোগ হারানোর আক্ষেপ স্বরূপ—তারা তিন তালাকপ্রাপ্তা নারীর ওপর শোক পালন (الحداد) ওয়াজিব হওয়ার কথা বলেন; কারণ স্বামীর সত্তা তার মূল উদ্দেশ্য ছিল না যে তার বিয়োগে সে বিমর্ষ হবে, বরং তার উদ্দেশ্য ছিল বিবাহের নেয়ামত। আর এটি তালাক এবং মৃত্যু উভয় ক্ষেত্রেই একইভাবে অপসৃত হয়।
দ্বিতীয় বিষয়: শোক পালন (الحداد) কি আল্লাহর হক নাকি স্বামীর হক?
যারা বলেন এটি আল্লাহর হক, তারা চূড়ান্ত তালাকপ্রাপ্তা (البائن) নারীর ওপর শোক পালন ওয়াজিব হওয়ার কথা বলেন। আর যারা বলেন এটি স্বামীর হক, তারা তার ওপর শোক পালন ওয়াজিব না হওয়ার কথা বলেন।
এই মাসআলায় আমি যা অগ্রাধিকারযোগ্য (الراجح) বলে মনে করি তা হলো, চূড়ান্ত তালাকপ্রাপ্তা (البائن) নারীর ওপর শোক পালন ওয়াজিব নয়। আমি এই মতটিকেই অগ্রাধিকার দিয়েছি নিচের কারণগুলোর জন্য:
১- যারা এই মত পোষণ করেন তাদের পেশকৃত দলীলসমূহ আমার দৃষ্টিতে বিরোধীদের দলীল অপেক্ষা শক্তিশালী। বুখারী ও মুসলিমের যে হাদিসটি আমরা যুক্তিপ্রদর্শনে উল্লেখ করেছি, তা থেকে বোঝা যায় যে শোক পালন (الحداد) কেবল মৃত ব্যক্তির ক্ষেত্রেই হবে, যেমনটি শব্দের বাহ্যিক (الظاهر) অর্থ থেকে স্পষ্ট হয়। এরপর বৈধতাকে হাদিসে যা উল্লেখ আছে তার মাধ্যমে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে এবং সেখান থেকে মৃত স্বামীর ওপর শোক পালনকে ব্যতিক্রম হিসেবে রাখা হয়েছে এবং শোক পালনের সময়সীমা বর্ণনা করা হয়েছে। এখানে যা ব্যতিক্রম করা হয়েছে তা মূল বিষয়েরই সমজাতীয়। অনুরূপভাবে আমরা সেখানে যে দলীলগুলো উল্লেখ করেছি সেগুলো সবই এই অর্থের দিকেই ধাবিত হয়। আপনি বিরোধীদের দলীলের জবাবগুলো ইতিপূর্বে জেনেছেন, সেগুলোর সবই ব্যাখ্যার অবকাশ রাখে। আর দলীলে যদি একাধিক ব্যাখ্যার সম্ভাবনা (الاحتمال) তৈরি হয়, তবে তা দিয়ে যুক্তিপ্রদর্শন (الاستدلال) অকার্যকর হয়ে যায়।
(খণ্ড: ১)
আল-ইমদাদ বি-আহকামিল হিদাদ
(পৃষ্ঠা: ১৬৪)
2 ـ إنّ الحداد حكم أوجبه الشارع على المرأة المتوفى عنها زوجها لأن تركه (أي الحداد) بفعل ما ينافيه من التطيب واللبس والتزيّن يدعو إلى الجماع، فمنعت المرأة منه زجراً لها عن ذلك فكان ذلك ظاهراً في حق الميت لأنه يمنعه الموت عن منع المعتدة منه عن التزويج ولا تراعيه هي ولا تخاف منه بخلاف المطلّق الحي في كل ذلك ومن ثم وجبت العدة على كل متوفى عنها وإن لم تكن مدخولا بها بخلاف المطلقة قبل الدخول فلا إحداد عليها اتفاقا 1.
3 ـ إنّ المطلّقة البائن يمكنها العود إلى الزوج بعينه بعقد جديد وليس الأمر كذلك في المتوفى عنها زوجها؛ فإن عودتها إلى الزوج الميت مستحيلة فليس ثمة ما يدعو إلى إيجاب الحداد على المبتوتة، فإن قيل: هذا لا يستقيم في الملاعنة فإن تحريمها على الملاعن تحريم أبدي ومع هذا فلا حداد عليها؟ قيل: الجواب عن ذلك من وجهين:
الوجه الأول: أن تحريم الملاعنة على الملاعن ليس محل اتفاق عند أئمة الفتوى، بل من الفقهاء من قال: إنها لا تحرم تحريما أبدياً، وإنما يكون الملاعن بعد الفرقة خاطبا من الخطاب، وقد قال بهذا فقهاء الحنفية.
الوجه الثاني: لو سلّمنا بأن الملاعنة تحرم على الملاعن على التأبيد لم نسلم بالاعتراض؛ لأننا نقول: إن وجوب الحداد إنما هو لفقد الزوج بعينه لا لفقدان الزوجية.
4 ـ إن الزوج الميت فارق زوجته وهو على نهاية الإشفاق عليها والرغبة فيها، ولم تكن المفارقة من قبله، فلزمها لذلك الإحداد وإظهار الحزن، والمطلقة فارقها مختارا لفراقها مقابحاً لها فلا يتعلق بها حكم الإحداد كالملاعنة 2.
5 ـ روت أم سلمة أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "المتوفى عنها زوجها لا تلبس المعصفر من الثياب ولا الممشق ولا الحلي ولا تختضب ولا تكتحل" رواه أبو داود والنسائي3. فهذا الحديث نص في وجوب الحداد على المعتدة من الوفاة وهو مخصص لعموم الحديث الذي استدل به المخالفون على فرض صحته. فإن قيل: هذا الحديث لا يدل على عدم وجوب الحداد على المبتوتة بدليل آخر؟ قلنا: بل هو يدل على عدم وجوب الحداد عليها إذ أنه لم يوجد دليل أقوى منه بل ولا مساوياً له يفيد هذا الوجوب، فلما لم يوجد ذلك دل على أن المصير إلى مدلوله واجب.
--------------------------------------------
২ — নিশ্চয়ই শোকপালন (إحداد) এমন একটি বিধান (حكم) যা বিধানদাতা (الشارع) সেই নারীর ওপর আবশ্যক (واجب) করেছেন যার স্বামী মৃত্যুবরণ করেছে। কারণ এটি বর্জন করা (অর্থাৎ শোকপালন বর্জন করা), যেমন সুগন্ধি ব্যবহার, পোশাক ও অলঙ্কার দ্বারা সজ্জিত হওয়ার মতো বিপরীত কাজগুলো যৌন মিলনের প্রতি উদ্বুদ্ধ করে। তাই নারীকে এ থেকে বিরত রাখা হয়েছে তাকে এই কাজ থেকে সতর্ক করার জন্য। আর এটি মৃত ব্যক্তির হকের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট, কারণ মৃত্যু তাকে ইদ্দত (عدة) পালনকারী নারীকে বিবাহ থেকে বাধা দিতে অক্ষম করে দেয়; আর সে (নারী) তাকে (মৃত স্বামীকে) মান্য করে না এবং তাকে ভয়ও পায় না। জীবিত তালাকদাতার ক্ষেত্রে বিষয়টি সবদিক থেকেই এর বিপরীত। এই কারণেই প্রত্যেক বিধবা নারীর ওপর ইদ্দত (عدة) পালন করা আবশ্যক (واجب), যদিও তার সাথে সহবাস বা নির্জনবাস না হয়ে থাকে। তবে সহবাসের পূর্বে তালাকপ্রাপ্তা নারীর বিষয়টি এর বিপরীত, কারণ সর্বসম্মতিক্রমে (اتفاق) তার ওপর শোকপালন (إحداد) নেই।১
৩ — নিশ্চয়ই অকাট্য তালাকপ্রাপ্তা (مبتوتة) নারী নতুন নিকাহর (عقد) মাধ্যমে পুনরায় নির্দিষ্ট সেই স্বামীর নিকট ফিরে যেতে সক্ষম, কিন্তু বিধবা নারীর ক্ষেত্রে বিষয়টি তেমন নয়। কেননা মৃত স্বামীর নিকট তার ফিরে যাওয়া অসম্ভব। সুতরাং অকাট্য তালাকপ্রাপ্তা (مبتوتة) নারীর ওপর শোকপালন (إحداد) আবশ্যক (واجب) করার মতো কোনো কারণ নেই। যদি বলা হয়: এটি মুলাআনাকারী (ملاعنة) নারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়, কারণ মুলাআনাকারী ব্যক্তির ওপর তার হারাম হওয়া চিরস্থায়ী, তা সত্ত্বেও কি তার ওপর শোকপালন (إحداد) নেই? উত্তর হিসেবে বলা হবে, বিষয়টি দুটি দিক থেকে ব্যাখ্যা করা যায়:
প্রথম দিক: মুলাআনাকারী (ملاعنة) নারীর তার স্বামীর ওপর হারাম হওয়া ফতোয়া প্রদানকারী ইমামদের (أئمة) নিকট ঐকমত্যের (اتفاق) বিষয় নয়। বরং ফকিহদের (فقهاء) মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন: সে চিরস্থায়ীভাবে হারাম হয় না, বরং বিচ্ছেদের পর মুলাআনাকারী ব্যক্তি অন্যান্য প্রস্তাবকারীদের মতোই একজন প্রস্তাবকারী (خاطب) হিসেবে গণ্য হবে। হানাফি ফকিহগণ (فقهاء) এই মতই ব্যক্ত করেছেন।
দ্বিতীয় দিক: যদি আমরা মেনেও নেই যে, মুলাআনাকারী (ملاعنة) নারী তার স্বামীর ওপর চিরস্থায়ীভাবে হারাম হয়, তবুও আমরা এই আপত্তি গ্রহণ করব না। কারণ আমরা বলি: শোকপালন (إحداد) আবশ্যক (واجب) হওয়ার মূল কারণ হলো নির্দিষ্ট স্বামীকে হারানো, কেবল দাম্পত্য সম্পর্ক বিলুপ্ত হওয়া নয়।
৪ — নিশ্চয়ই মৃত স্বামী তার স্ত্রীকে এমন অবস্থায় ছেড়ে গেছেন যখন তার প্রতি তার চরম মমতা ও আগ্রহ ছিল, আর এই বিচ্ছেদ তার পক্ষ থেকে (ইচ্ছাকৃত) ছিল না। তাই স্ত্রীর জন্য শোকপালন (إحداد) ও দুঃখ প্রকাশ করা আবশ্যক (لازم) হয়ে পড়েছে। কিন্তু তালাকপ্রাপ্তা নারীর ক্ষেত্রে স্বামী তাকে স্বেচ্ছায় এবং তার প্রতি বিদ্বেষবশত বিচ্ছেদ দিয়েছেন। ফলে তালাকপ্রাপ্তা নারীর সাথে শোকপালন (إحداد) সংক্রান্ত বিধান (حكم) সংশ্লিষ্ট হবে না, যেমনটি মুলাআনাকারী (ملاعنة) নারীর ক্ষেত্রে হয়ে থাকে।২
৫ — উম্মে সালামা রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যার স্বামী মৃত্যুবরণ করেছে সে যেন কুসুম ফুল দ্বারা রঞ্জিত বস্ত্র, গেরুয়া রঙের কাপড় ও অলঙ্কার পরিধান না করে এবং সে যেন খিজাব ব্যবহার না করে ও সুরমা না লাগায়।" এটি আবু দাউদ ও নাসায়ি বর্ণনা করেছেন।৩ সুতরাং এই হাদিসটি বিধবা নারীর শোকপালন (إحداد) আবশ্যক (واجب) হওয়ার ব্যাপারে একটি অকাট্য প্রমাণ (نص), এবং এটি সেই সাধারণ (عام) হাদিসটিকে সীমাবদ্ধকারী (مخصص) যার মাধ্যমে বিরোধীরা দলিল (استدلال) পেশ করেছেন—যদি সেই হাদিসটির বিশুদ্ধতা (صحة) ধরে নেওয়া হয়। যদি বলা হয়: এই হাদিসটি অন্য কোনো প্রমাণের মাধ্যমে অকাট্য তালাকপ্রাপ্তা (مبتوتة) নারীর ওপর শোকপালন (إحداد) আবশ্যক (واجب) না হওয়ার বিষয়টিকে প্রমাণ করে না? আমরা বলব: বরং এটি তার ওপর শোকপালন (إحداد) আবশ্যক (واجب) না হওয়ার ওপরই দلالত (دلالة) করে; যেহেতু এই আবশ্যকতা (وجوب) সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে এর চেয়ে শক্তিশালী কোনো দলিল (دليل), এমনকি এর সমপর্যায়ের কোনো দলিলও (دليل) পাওয়া যায়নি। সুতরাং যখন এমন কোনো দলিল পাওয়া যায়নি, তখন প্রমাণিত হয় যে, এই হাদিসের মর্মার্থ অনুযায়ী আমল করা আবশ্যক (واجب)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমদাদ বি-আহকামিল হিদাদ
(পৃষ্ঠা: ১৬৫)
والحاصل أن الاقتصار على مورد النص هو الذي تقتضيه قواعد الشرع عملا بالبراءة الأصلية فيما عداه، فمن ادّعى وجوب الحداد على غير المتوفى عنها زوجها فعليه الدليل.
إذا تبين هذا فاعلم أنهم لم يختلفوا في عدم وجوب الحداد على المعتدة الرجعية على ما بينا بيد أن فقهاء الشافعية اختلفوا فيما بينهم هل يسن لها الحداد أولا؟ على قولين: أحدهما: يسن، والثاني: لا يسن لها الحداد بل أولى لها أن تتزين بما يدعوا الزوج إلى رجعتها، وضعف هذا الاحتمال أن يظن أنها فعلت ذلك إظهارا للفرح بفراقه وعلى تقدير صحته فينبغي تخصيصه بمن ترجو عودته1. والمعمول به الأول.
كذلك لم يختلفوا فيما أحسب في إباحة الحداد على المبتوتة بل إن فقهاء الشافعية يرون أن أقل أحواله الاستحباب لئلا تدعو الزينة إلى الفساد.
وقد نقل صاحب المبدع الإجماع على جواز الحداد من المبتوتة وبين أنه لا يُسَنُّ لها2.
وبهذا تعلم أن اختلاف الفقهاء في هذه المسألة إنما هو في الوجوب فقط.
--------------------------------------------
সারকথা হলো, শরীয়তের নীতিমালা অনুযায়ী কেবল দলিলের প্রয়োগস্থলের ওপর সীমাবদ্ধ থাকাটাই আবশ্যক, যা অন্য সব ক্ষেত্রে মূলগতভাবে দায়মুক্ত থাকার নীতির ওপর ভিত্তি করে। সুতরাং, যে ব্যক্তি স্বামীহারা নারী ব্যতীত অন্যদের ওপর শোক পালন ওয়াজিব হওয়ার দাবি করবে, তাকেই এর প্রমাণ পেশ করতে হবে।
এই বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার পর জেনে রাখুন যে, আমরা যেভাবে বর্ণনা করেছি সেই অনুযায়ী তালাক রাজয়িপ্রাপ্ত নারীর ইদ্দতকালীন শোক পালন ওয়াজিব না হওয়ার ব্যাপারে তাঁরা (ফুকাহাগণ) কোনো দ্বিমত করেননি। তবে শাফেয়ি ফুকাহাগণ নিজেদের মধ্যে এই বিষয়ে মতভেদ করেছেন যে, তার জন্য শোক পালন সুন্নাত কি না? এ বিষয়ে দুটি অভিমত রয়েছে: প্রথমত, তা সুন্নাত। দ্বিতীয়ত, শোক পালন করা তার জন্য সুন্নাত নয়, বরং তার জন্য সাজগজ্জা করা অধিকতর উত্তম যা স্বামীকে (তালাক থেকে) ফিরে আসতে আগ্রহী করে। এই সম্ভাবনার দুর্বলতা (ضعف) হলো যে, এটি ধারণা করা হতে পারে যে সে বিচ্ছেদে আনন্দ প্রকাশের জন্য এমনটি করছে। আর যদি এর বিশুদ্ধতা (صحة) ধরে নেওয়া হয়, তবে তা কেবল সেই নারীর জন্য নির্দিষ্ট হওয়া উচিত যে স্বামীর প্রত্যাবর্তনের আশা রাখে। আর প্রথম মতটিই আমলযোগ্য।
অনুরূপভাবে, আমার জানামতে তাঁরা তালাকপ্রাপ্তা (মাবতুতাহ) নারীর শোক পালন বৈধ হওয়ার ব্যাপারেও দ্বিমত করেননি। বরং শাফেয়ি ফুকাহাগণ মনে করেন যে, এর সর্বনিম্ন পর্যায় হলো মুস্তাহাব, যাতে সাজসজ্জা কোনো ফিতনার উদ্রেক না করে।
'আল-মুবদি' গ্রন্থের লেখক তালাকপ্রাপ্তা নারীর শোক পালন বৈধ হওয়ার বিষয়ে ঐকমত্য বর্ণনা করেছেন এবং এটি যে তার জন্য সুন্নাত নয় তা স্পষ্ট করেছেন।
এর মাধ্যমে আপনি জানতে পারলেন যে, এই মাসআলায় ফুকাহায়ে কেরামের মতপার্থক্য মূলত কেবল ওয়াজিব হওয়ার বিষয়েই সীমাবদ্ধ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমদাদ বি-আহকামিল হিদাদ
(পৃষ্ঠা: ১৬৫)
المبحث الخامس: هل من شرط وجوب الحداد كون النكاح صحيحا؟
النكاح الصحيح هو المستكمل لأركانه وشروطه من الإيجاب والقبول والشاهدين والولي والمهر وخلو الزوجين من الموانع فإذا وجد النكاح على هذه الصورة وحصلت الفرقة بين الزوجين بالموت وذلك بأن توفي الزوج قبل الزوجة وجب الحداد على الزوجة العاقلة البالغة المسلمة من غير خلاف أعلمه عند أئمة الفتوى اللهم إلا ما نقل عن الحسن البصري والشعبي من القول بعدم وجوب الحداد كما تمّ ثبته قريبا.
ولهذا أجمع الفقهاء على عدم وجوب الحداد على المرأة المنكوحة بنكاح فاسد أو نكاح شبهة.
أما المنكوحة بنكاح فاسد فلأنها ليست زوجة حقيقية والنبي صلى الله عليه وسلم إنما أوجب الحداد على الزوجات وذلك بقوله صلى الله عليه وسلم: "لا يحل لامرأة تؤمن بالله واليوم الآخر أن تحد على ميت فوق ثلاث إلا على زوج أربعة أشهر وعشراً" فقوله صلى الله عليه وسلم "إلا على زوج" يفيد بمنطوقه وجوب الحداد على الزوجة كما يفيد بمفهومه عدم وجوب الحداد على غيرها، زد على هذا أن المنكوحة بنكاح فاسد لا تحزن على فقد الزوج لأنها لا يجب لها ما يجب للزوجة من الحقوق
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: শোক (حداد) পালন ওয়াজিব হওয়ার জন্য বিবাহ সঠিক (صحيح) হওয়া কি একটি শর্ত?সঠিক বিবাহ (النكاح الصحيح) বলতে এমন বিবাহকে বোঝায় যা তার রুকন (أركان) ও শর্তাবলি (شروط) পূর্ণ করে, যেমন- ইজাব ও কবুল, দুই জন সাক্ষী, অভিভাবক, মোহর এবং স্বামী-স্ত্রীর মাঝে কোনো প্রকার বাধার অনুপস্থিতি। সুতরাং যখন বিবাহ এই পদ্ধতিতে সম্পন্ন হয় এবং মৃত্যুর মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে বিচ্ছেদ ঘটে, অর্থাৎ স্ত্রীর আগে স্বামীর মৃত্যু হয়, তবে ফতোয়া প্রদানকারী ইমামগণের মাঝে আমার জানা মতে কোনো মতভেদ ছাড়াই সেই বিবেকবান, প্রাপ্তবয়স্ক এবং মুসলিম স্ত্রীর ওপর শোক (حداد) পালন ওয়াজিব (واجب) হয়ে যায়। তবে হাসান বসরি এবং শাবী থেকে শোক (حداد) ওয়াজিব না হওয়ার যে অভিমত বর্ণিত হয়েছে তা ব্যতীত, যা ইতিপূর্বে প্রমাণিত হয়েছে।
এ কারণেই ফকিহগণ (فقهاء) ঐ নারীর ওপর শোক (حداد) পালন ওয়াজিব না হওয়ার ব্যাপারে একমত (إجماع) হয়েছেন যার বিবাহ ফাসেদ (فاسد) বা সন্দেহযুক্ত (شبهة) বিবাহের মাধ্যমে হয়েছে।
ফাসেদ (فاسد) বিবাহের মাধ্যমে বিবাহিত নারীর ক্ষেত্রে কারণ হলো, সে প্রকৃতপক্ষে স্ত্রী নয়। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কেবল স্ত্রীদের ওপরই শোক (حداد) পালন ওয়াজিব করেছেন। আর তা তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই বাণীর মাধ্যমে: "আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাসী কোনো নারীর জন্য তার স্বামী ব্যতীত অন্য কোনো মৃত ব্যক্তির ওপর তিন দিনের বেশি শোক পালন করা বৈধ নয়; তবে স্বামীর ক্ষেত্রে সে চার মাস দশ দিন শোক পালন করবে।" সুতরাং তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাণী "স্বামী ব্যতীত" তার শাব্দিক অর্থ (منطوق) দ্বারা স্ত্রীর ওপর শোক (حداد) পালন ওয়াজিব হওয়ার প্রমাণ দেয়, তেমনি এর ভাবার্থ (مفهوم) দ্বারা স্ত্রী ব্যতীত অন্য কারো ওপর শোক পালন ওয়াজিব না হওয়াকেও বুঝায়। এর সাথে আরও যোগ করা যায় যে, ফাসেদ (فاسد) বিবাহের মাধ্যমে বিবাহিত নারী স্বামীর মৃত্যুতে শোকাতুর হবে না, কারণ স্ত্রীর জন্য যে সকল অধিকার ওয়াজিব (واجب) হয়, তার জন্য তা ওয়াজিব নয়।