(খণ্ড: ১) আল-ইমামুল বুখারী ওয়া কিতাবুহুল জামিউস সহীহ (পৃষ্ঠা: -)
الإمام البخاري وكتابه الجامع الصحيح   (عبد المحسن العباد)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: الإمام البخاري وكتابه الجامع الصحيح

المؤلف: عبد المحسن بن حمد بن عبد المحسن بن عبد الله بن حمد العباد البدر

الناشر: الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة

الطبعة: السنة الثانية - العدد الرابع ربيع الثاني 1390هـ

عدد الصفحات: 51

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইমাম বুখারী এবং তাঁর কিতাব আল-জামি আল-সহীহ   (আব্দুল মুহসিন আল-আব্বাদ)

বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث)


গ্রন্থ: ইমাম বুখারী এবং তাঁর কিতাব আল-জামি আল-সহীহ

লেখক: আব্দুল মুহসিন বিন হামাদ বিন আব্দুল মুহসিন বিন আব্দুল্লাহ বিন হামাদ আল-আব্বাদ আল-বদর

প্রকাশক: মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

সংস্করণ: দ্বিতীয় বর্ষ - চতুর্থ সংখ্যা, রবিউস সানি ১৩৯০ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫১

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-ইমামুল বুখারী ওয়া কিতাবুহুল জামিউস সহীহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌الامام البخاري

‌‌نسب الامام البخاري

…

الإمام البخاري وكتابه الجامع الصحيح

بقلم الشيخ عبد المحسن العباد

المدرس بكلية الشريعة بالجامعة

نسب الإمام البخاري:

هو أبو عبد الله محمد بن إسماعيل بن إبراهيم بن المغيرة بن بردزبه الجعفي. فجده بردزبه ضبط اسمه بفتح الباء الموحدة وسكون الراء المهملة وكسر الدال المهملة وسكون الزاي المعجمة وفتح الباء الموحدة بعدها هاء. قال الحافظ ابن حجر: "هذا هو المشهور في ضبطه، وبردزبه في الفارسية الزراع كذا يقول أهل بخارى، وكان بردزبة فارسيا على دين قومه" انتهى.

وجده المغيرة ابن بردزبه أسلم على يدي يمان البخاري والي بخارى ويمان جعفي فنسب إليه لأنه مولاه من فوق، عملا بمذهب من يرى أن من أسلم على يد شخص كان ولاؤه له.

وجده إبراهيم قال الحافظ ابن حجر إنه لم يقف على شيء من أخباره.

وأبوه إسماعيل ترجم له ابن حبان في الثقات وقال: "إسماعيل بن إبراهيم والد البخاري يروي عن حماد بن زيد ومالك وروى عنه العراقيون"، وترجم له الحافظ في تهذيب التهذيب.
ইমাম বুখারি

ইমাম বুখারির বংশপরিচয়

...

ইমাম বুখারি এবং তাঁর সংকলিত গ্রন্থ আল-জামি আল-সহিহ

শায়খ আব্দুল মুহসিন আল-আব্বাদ-এর লেখনী

বিশ্ববিদ্যালয়ের শরিয়াহ অনুষদের শিক্ষক

ইমাম বুখারির বংশপরিচয়:

তিনি হলেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বিন ইব্রাহিম বিন আল-মুগিরা বিন বারদিযবাহ আল-জুফি। তাঁর প্রপিতামহ বারদিযবাহ-এর নামের উচ্চারণ বিন্যাস হলো—এক নুকতা বিশিষ্ট ‘বা’ বর্ণের ওপর যবর, নুকতাহীন ‘রা’ বর্ণের ওপর জযম, নুকতাহীন ‘দাল’ বর্ণের নিচে যের, নুকতাযুক্ত ‘যা’ বর্ণের ওপর জযম এবং পুনরায় এক নুকতা বিশিষ্ট ‘বা’ বর্ণের ওপর যবর, যার পরে একটি ‘হা’ রয়েছে। হাফিজ (الحافظ) ইবনে হাজার বলেন: "তাঁর নামের উচ্চারণে এটিই প্রসিদ্ধ; আর বুখারার অধিবাসীদের মতে ফারসি ভাষায় বারদিযবাহ অর্থ হলো কৃষক। বারদিযবাহ পারস্যের অধিবাসী ছিলেন এবং তিনি তাঁর সম্প্রদায়ের ধর্মের অনুসারী ছিলেন।" (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।

তাঁর পিতামহ আল-মুগিরা বিন বারদিযবাহ বুখারার গভর্নর ইয়ামান আল-বুখারির হাতে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। ইয়ামান ছিলেন জুফি গোত্রের সদস্য, তাই তাঁর দিকেই আল-মুগিরাকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়। কারণ ইসলাম গ্রহণের ফলে তিনি তাঁর উচ্চস্তরের অনুসারী (مولاه من فوق) হিসেবে গণ্য হন; এটি মূলত ঐ মাযহাব বা মতাদর্শ অনুযায়ী যারা মনে করেন যে, কেউ যদি কারো হাতে ইসলাম গ্রহণ করেন তবে তার প্রতি আনুগত্যের সম্পর্ক (ولاؤه) সেই ব্যক্তির সাথেই সাব্যস্ত হবে।

তাঁর পিতামহ ইব্রাহিম সম্পর্কে হাফিজ (الحافظ) ইবনে হাজার বলেন যে, তিনি তাঁর জীবনী সংক্রান্ত কোনো তথ্যের সন্ধান পাননি।

তাঁর পিতা ইসমাইল সম্পর্কে ইবনে হিব্বান আল-সিকাত গ্রন্থে জীবনী আলোচনা করেছেন এবং বলেছেন: "ইসমাইল বিন ইব্রাহিম হলেন বুখারির পিতা; তিনি হাম্মাদ বিন যায়েদ ও মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন এবং ইরাকবাসীরা তাঁর থেকে বর্ণনা গ্রহণ করেছেন।" হাফিজ (الحافظ) তাঁর তাহজিব আল-তাহজিব গ্রন্থেও তাঁর জীবনী উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইমামুল বুখারী ওয়া কিতাবুহুল জামিউস সহীহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌متى وأين ولد:-

ولد رحمه الله في بخارى (وهي من أعظم مدن ما وراء النهر بينها وبين سمرقند مسافة ثمانية أيام) في يوم الجمعة بعد الصلاة لثلاث عشرة ليلة
কখন এবং কোথায় জন্মগ্রহণ করেছেন:-

তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বুখারায় (যা মা-ওয়ারা-উন-নহর অঞ্চলের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শহর; এর এবং সমরকন্দের মধ্যবর্তী দূরত্ব আট দিনের পথ) জুমার দিন নামাজের পর তেরো তারিখ রাতে জন্মগ্রহণ করেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইমামুল বুখারী ওয়া কিতাবুহুল জামিউস সহীহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
خلت من شهر شوال سنة أربع وتسعين ومائة.
১৯৪ হিজরি সালের শাওয়াল মাস অতিবাহিত হওয়ার পর।
(খণ্ড: ১) আল-ইমামুল বুখারী ওয়া কিতাবুহুল জামিউস সহীহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
‌‌نشأته وبدؤه طلب العلم: -

توفي والده وهو صغير فنشأ في حجر أمه وأقبل على طلب العلم منذ الصغر وقد تحدث عن نفسه فيما ذكره الفِرَبْري عن محمد بن أبي حاتم ورّاق البخاري قال: سمعت البخاري يقول: "ألهمت حفظ الحديث وأنا في الكتاب"، قلت: وكم أتى عليك إذ ذاك؟، قال: "عشر سنين أو أقل"، إلى أن قال: "فلما طعنت في ست عشرة سنة حفظت كتب ابن المبارك ووكيع وعرفت كلام هؤلاء - يعني أصحاب الرأي-"، قال: "ثم خرجت مع أمي وأخي إلى الحج، فلما طعنت في ثمان عشرة سنة صنفت كتاب قضايا الصحابة والتابعين ثم صنفت التاريخ بالمدينة عند قبر النبي صلى الله عليه وسلم وكنت أكتبه في الليالي المقمرة"، قال: "وقلَّ اسم في التاريخ إلا وله عندي قصة إلا أني كرهت أن يطول الكتاب".
তাঁর বেড়ে ওঠা এবং জ্ঞান অন্বেষণের সূচনা: -

তাঁর পিতা ইন্তেকাল করেন যখন তিনি ছোট ছিলেন, ফলে তিনি তাঁর মায়ের কোলে লালিত-পালিত হন এবং শৈশব থেকেই জ্ঞান অন্বেষণে মনোনিবেশ করেন। ফিরবরী কর্তৃক বর্ণিত মুহাম্মাদ ইবনে আবি হাতিম ওয়াররাক আল-বুখারি-এর বর্ণনায় তিনি নিজের সম্পর্কে যা বলেছেন তা হলো: আমি বুখারিকে বলতে শুনেছি: "আমি যখন মক্তবে ছিলাম, তখনই আমার অন্তরে হাদিস মুখস্থ করার অনুপ্রেরণা জাগ্রত হয়।" আমি জিজ্ঞাসা করলাম: তখন আপনার বয়স কত ছিল? তিনি বললেন: "দশ বছর বা তার কম।" এরপর তিনি বলেন: "যখন আমার বয়স ষোল বছর হলো, তখন আমি ইবনুল মুবারক ও ওয়াকি-এর কিতাবসমূহ মুখস্থ করি এবং তাদের অর্থাৎ রায়পন্থীদের (أصحاب الرأي) বক্তব্য সম্পর্কে অবগত হই।" তিনি বলেন: "এরপর আমি আমার মা ও ভাইয়ের সাথে হজের উদ্দেশ্যে বের হই। যখন আমার বয়স আঠারো বছর হলো, তখন আমি 'কাজায়া আস-সাহাবা ওয়াত-তাবিয়ীন' গ্রন্থটি রচনা করি। এরপর আমি মদিনায় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কবরের পাশে বসে 'আত-তারিখ' রচনা করি এবং আমি এটি জ্যোৎস্নালোকিত রাতে লিখতাম।" তিনি বলেন: "'আত-তারিখ' গ্রন্থে এমন খুব কম নামই রয়েছে যার সম্পর্কে আমার কাছে কোনো ঘটনা জানা নেই, তবে আমি গ্রন্থটি দীর্ঘ হওয়া অপছন্দ করেছি।"
(খণ্ড: ১) আল-ইমামুল বুখারী ওয়া কিতাবুহুল জামিউস সহীহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
‌‌رحلته في طلب العلم وسماعه الحديث: -

اشتغل وهو صغير في طلب العلم وسماع الحديث فسمع من أهل بلده من مثل محمد بن سلام ومحمد بن يوسف البيكنديين وعبد الله بن محمد المسندي وابن الأشعث وغيرهم ثم حج هو وأمه وأخوه أحمد وهو أسن منه سنة عشر ومائتين فرجع أخوه بأمه وبقي في طلب العلم فسمع بمكة من الحميدي وغيره وبالمدينة من عبد العزيز الأويسي ومطرف ابن عبد الله وغيرهم ثم رحل إلى أكثر محدثي الأمصار في خراسان والشام ومصر ومدن العراق وقدم بغداد مرارا واجتمع إليه أهلها واعترفوا بفضله وشهدوا بتفرده في علمي الرواية والدراية وسمع ببلخ من مكي بن إبراهيم وغيره وبمرو من علي بن الحسن وعبد الله بن عثمان وغيرهما وبنيسابور من يحيى بن يحيى وغيره وبالري من إبراهيم بن موسى وغيره وببغداد من شريح بن النعمان وأحمد بن حنبل وغيرهما وبالبصرة من أبي عاصم النبيل ومحمد بن عبد الله الأنصاري وغيرهما وبالكوفة من طلق بن غنام وخلاد بن يحيى وغيرهما وبمصر من سعيد بن كثير بن عفير وغيره وسمع من أناس كثيرين غير هؤلاء ونقل عنه أنه قال: "كتبت عن
জ্ঞান অন্বেষণ ও হাদিস শ্রবণে তাঁর সফর: -

তিনি শৈশবাবস্থায় জ্ঞান অন্বেষণ এবং হাদিস শ্রবণে আত্মনিয়োগ করেন। তিনি নিজ শহরের আলেমদের নিকট হাদিস শ্রবণ করেন, যেমন: মুহাম্মদ বিন সালাম ও মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আল-বাইকান্দিদ্বয়, আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-মুসনাদি, ইবনুল আশআস এবং অন্যান্যদের থেকে। অতঃপর তিনি, তাঁর মাতা এবং তাঁর বড় ভাই আহমদ—যিনি তাঁর চেয়ে বয়সে বড় ছিলেন—দুইশত দশ হিজরি সনে হজ পালন করেন। এরপর তাঁর ভাই তাঁর মাতাকে নিয়ে ফিরে যান এবং তিনি জ্ঞান অন্বেষণের উদ্দেশ্যে সেখানে অবস্থান করেন। তিনি মক্কায় আল-হুমাইদি ও অন্যান্যদের নিকট এবং মদিনায় আব্দুল আজিজ আল-উয়াইসি, মুতাররিফ ইবনে আব্দুল্লাহ ও অন্যান্যদের নিকট হাদিস শ্রবণ করেন। অতঃপর তিনি খোরাসান, শাম, মিশর এবং ইরাকের শহরসমূহের অধিকাংশ মুহাদ্দিস (محدث) এর নিকট সফর করেন। তিনি বহুবার বাগদাদে আগমন করেন এবং সেখানে বাগদাদবাসী তাঁর নিকট সমবেত হন। তাঁরা তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করেন এবং বর্ণনা শাস্ত্র (رواية) ও অনুধাবন শাস্ত্র (دراية) উভয় বিদ্যায় তাঁর অনন্যতার সাক্ষ্য দেন। তিনি বাল্খ শহরে মক্কী বিন ইবরাহিম ও অন্যান্যদের নিকট, মার্ভ শহরে আলী বিন হাসান ও আবদুল্লাহ বিন উসমান ও অন্যান্যদের নিকট, নিশাপুরে ইয়াহইয়া বিন ইয়াহইয়া ও অন্যান্যদের নিকট, রায় শহরে ইবরাহিম বিন মুসা ও অন্যান্যদের নিকট, বাগদাদে শুরাইহ বিন নুমান ও আহমদ বিন হাম্বল ও অন্যান্যদের নিকট, বসরায় আবু আসিম আন-নাবিল ও মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-আনসারী ও অন্যান্যদের নিকট, কুফায় তালক বিন গান্নাম ও খাল্লাদ বিন ইয়াহইয়া ও অন্যান্যদের নিকট এবং মিশরে সাঈদ বিন কাসির বিন উফাইর ও অন্যান্যদের নিকট হাদিস শ্রবণ করেন। তিনি এঁরা ছাড়াও আরও বহু ব্যক্তির নিকট হাদিস শ্রবণ করেছেন এবং তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "আমি ... থেকে লিখেছি"
(খণ্ড: ১) আল-ইমামুল বুখারী ওয়া কিতাবুহুল জামিউস সহীহ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
ألف وثمانين نفسا ليس فيهم إلا صاحب حديث"، وقال أيضا: "لم أكتب إلا عمن قال: الإيمان قول وعمل".
এক হাজার আশি জন ব্যক্তি যাদের প্রত্যেকেই ছিলেন হাদিস বিশেষজ্ঞ", এবং তিনি আরও বলেছেন: "আমি কেবল তাদের নিকট থেকেই লিপিবদ্ধ করেছি যারা বলেছেন: ঈমান হলো কথা ও কাজ।"
(খণ্ড: ১) আল-ইমামুল বুখারী ওয়া কিতাবুহুল জামিউস সহীহ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
‌‌ذكاؤه وقوة حفظه: -

وكان رحمه الله قوي الذاكرة سريع الحفظ ذكر عنه المطلعون على حاله ما يتعجب منه الأذكياء ذوو الحفظ والإتقان فضلا عمن سواهم فقد قال أبو بكر الكلذواني: "ما رأيت مثل محمد بن إسماعيل كان يأخذ الكتاب من العلم فيطلع عليه اطلاعة فيحفظ عامة أطراف الحديث من مرة واحدة".

وقال محمد بن أبي حاتم وراق البخاري: قلت لأبي عبد الله محمد بن إسماعيل: تحفظ جميع ما أدخلته في المصنف، قال: "لا يخفى علي جميع ما فيه"، وقال محمد بن حمدوية: سمعت البخاري يقول: "أحفظ مائة ألف حديث صحيح، ومائتي ألف حديث غير صحيح". وقال محمد بن الأزهر السجستاني: كنت في مجلس سليمان بن حرب والبخاري معنا يسمع ولا يكتب فقيل لبعضهم: ماله لا يكتب فقال: يرجع إلى بخارى ويكتب من حفظه، ولعل من أعجب ما نقل عنه في ذلك ما قاله الحافظ أبو أحمد ابن عدي كما في تاريخ بغداد ووفيات الأعيان وغيرهما سمعت عدة مشائخ يحكون أن محمد بن إسماعيل البخاري قدم بغداد فسمع به أصحاب الحديث فاجتمعوا وأرادوا امتحان حفظه فعمدوا إلى مائة حديث فقلبوا متونها وأسانيدها وجعلوا متن هذا الإسناد لإسناد آخر وإسناد هذا المتن لمتن آخر ودفعوا إلى عشرة أنفس إلى كل رجل عشرة أحاديث وأمروهم إذا حضروا المجلس أن يلقوا ذلك على البخاري وأخذوا الموعد للمجلس فحضر المجلس جماعة من أصحاب الحديث من الغرباء من أهل خراسان وغيرها ومن البغداديين فلما اطمأن المجلس بأهله انتدب إليه رجل من العشرة فسأله عن حديث من تلك الأحاديث فقال البخاري: "لا أعرفه"، فسأله عن آخر فقال: "لا أعرفه"، فما زال يلقي عليه واحدا بعد واحد حتى فرغ من عشرته والبخاري يقول: "لا أعرفه"، فكان الفهماء ممن حضر المجلس يلتفت بعضهم إلى بعض ويقولون الرجل فهم، ومن كان منهم غير ذلك يقضي على البخاري بالعجز والتقصير وقلة
তাঁর মেধা ও মুখস্থশক্তির প্রখরতা: -

তিনি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) অত্যন্ত প্রখর স্মৃতিশক্তি ও দ্রুত মুখস্থ করার ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন। তাঁর অবস্থা সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিরা এমন সব বিষয়ের অবতারণা করেছেন যা কেবল সাধারণ মানুষ নয়, বরং প্রখর মেধাবী ও প্রাজ্ঞ হাফেজগণকেও আশ্চর্যান্বিত করে। আবু বকর আল-কালওয়াযানি বলেন: "আমি মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইলের মতো আর কাউকে দেখিনি। তিনি কোনো ইলমি কিতাব হাতে নিয়ে একবার তার ওপর চোখ বুলাতেন এবং এক দেখাতেই হাদিসের অধিকাংশ অংশসমূহ (أطراف الحديث) মুখস্থ করে ফেলতেন।"

বুখারির লিপিকার মুহাম্মাদ ইবনে আবি হাতিম বলেন: আমি আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইলকে জিজ্ঞেস করলাম: আপনি আপনার সংকলিত গ্রন্থে যা কিছু অন্তর্ভুক্ত করেছেন, তার সবই কি আপনার মুখস্থ আছে? তিনি বললেন: "এর কোনো কিছুই আমার কাছে অস্পষ্ট নয়।" মুহাম্মাদ ইবনে হামদাওয়াইহ বলেন: আমি বুখারিকে বলতে শুনেছি: "আমার এক লক্ষ বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিস এবং দুই লক্ষ অশুদ্ধ (غير صحيح) হাদিস মুখস্থ আছে।" মুহাম্মাদ ইবনে আল-আযহার আল-সিজিস্তানি বলেন: আমি সুলাইমান ইবনে হারবের মজলিসে ছিলাম এবং বুখারি আমাদের সাথে হাদিস শুনছিলেন কিন্তু লিখছিলেন না। কাউকে জিজ্ঞেস করা হলো: তিনি কেন লিখছেন না? তখন বলা হলো: তিনি বুখারায় ফিরে গিয়ে তাঁর স্মৃতি থেকে তা লিখবেন। সম্ভবত এ বিষয়ে তাঁর থেকে বর্ণিত সবচেয়ে আশ্চর্যজনক ঘটনাটি হাফেজ (حافظ) আবু আহমাদ ইবনে আদি বর্ণনা করেছেন, যা তারিখু বাগদাদ ও ওয়াফায়াতুল আ’ইয়ানসহ অন্যান্য গ্রন্থে পাওয়া যায়। তিনি বলেন: আমি কয়েকজন শায়খকে বলতে শুনেছি যে, মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারি যখন বাগদাদে আসলেন, তখন হাদিস বিশারদগণ তাঁর আগমনের কথা শুনে একত্রিত হলেন এবং তাঁর স্মৃতিশক্তি পরীক্ষা করার ইচ্ছা পোষণ করলেন। তাঁরা একশত হাদিস সংগ্রহ করে সেগুলোর মূলপাঠ (متن) ও সূত্রসমূহ (إسناد) ওলটপালট করে দিলেন। তাঁরা এক সূত্রের মূলপাঠ অন্য সূত্রে এবং অন্য সূত্রের মূলপাঠ এই সূত্রে জুড়ে দিলেন। এরপর দশজন ব্যক্তির প্রত্যেকের হাতে দশটি করে হাদিস তুলে দিলেন এবং তাঁদের নির্দেশ দিলেন যেন তাঁরা মজলিসে উপস্থিত হয়ে বুখারির সামনে সেগুলো পেশ করেন। মজলিসের সময় নির্ধারিত হলো এবং খোরাসানসহ অন্যান্য অঞ্চল ও বাগদাদ থেকে হাদিস অনুরাগী এক বিশাল জামাত সেখানে উপস্থিত হলেন। যখন মজলিস পূর্ণ হলো, তখন সেই দশজনের একজন দাঁড়িয়ে সেই হাদিসগুলো থেকে একটি সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন। বুখারি বললেন: "আমি এটি জানি না।" এরপর তিনি অন্য একটি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন, বুখারি আবারো বললেন: "আমি এটি জানি না।" এভাবে তিনি একে একে তাঁর দশটি হাদিস শেষ করলেন এবং বুখারি প্রতিবারই বললেন: "আমি এটি জানি না।" মজলিসে উপস্থিত বিজ্ঞ ব্যক্তিরা একে অপরের দিকে তাকাচ্ছিলেন এবং বলছিলেন যে এই ব্যক্তি বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন, আর যারা তেমন সমঝদার ছিলেন না তারা বুখারিকে অক্ষম, অপ্রতুল ও স্বল্প জ্ঞানের অধিকারী মনে করছিলেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইমামুল বুখারী ওয়া কিতাবুহুল জামিউস সহীহ (পৃষ্ঠা: ৩৪)
الفهم، ثم انتدب رجل آخر من العشرة وسأله كما سأله الأول والبخاري رحمه الله يجيب بما أجاب به الأول ثم الثالث والرابع حتى فرغ العشرة مما هيأوه من الأحاديث فلما علم البخاري أنهم فرغوا التفت إلى الأول منهم فقال أما حديثك الأول فقلت كذا وصوابه كذا وحديثك الثاني قلت كذا وصوابه كذاوالثالث والرابع على الولاء حتى أتى على تمام العشرة فرد كل متن إلى إسناده وكل إسناد إلى متنه وفعل بالآخرين مثل ذلك ورد متون الأحاديث كلها إلى أسانيدها وأسانيدها إلى متونها فأقر له الناس بالحفظ وأذعنوا له بالفضل، وعند ذكر هذه القصة يقول الحافظ ابن حجر رحمه الله: "هنا يخضع للبخاري فما العجب من رده الخطأ إلى الصواب فإنه كان حافظا، بل العجب من حفظه للخطأ على ترتيب ما ألقوه عليه من مرة واحدة".
উপলব্ধি; অতঃপর সেই দশজনের মধ্য থেকে অন্য একজন ব্যক্তি অগ্রসর হলেন এবং প্রথম ব্যক্তির ন্যায় তিনিও তাকে প্রশ্ন করলেন। ইমাম বুখারি (রহিমাহুল্লাহ) প্রথম ব্যক্তির প্রশ্নের ন্যায় উত্তর দিতে থাকলেন; এরপর তৃতীয় ও চতুর্থ ব্যক্তি, এভাবে দশজনই তাদের প্রস্তুতকৃত হাদিসগুলো শেষ করলেন। যখন ইমাম বুখারি বুঝতে পারলেন যে তারা শেষ করেছেন, তখন তিনি তাদের প্রথম ব্যক্তির দিকে ফিরে বললেন: "আপনার প্রথম হাদিসটি আপনি এভাবে বলেছিলেন, অথচ এর সঠিক রূপ হলো এই; আপনার দ্বিতীয় হাদিসটি আপনি এভাবে বলেছিলেন, অথচ এর সঠিক রূপ হলো এই।" এভাবে ধারাবাহিকভাবে তৃতীয় ও চতুর্থ ব্যক্তির ভুল সংশোধন করে দশম ব্যক্তি পর্যন্ত পৌঁছে গেলেন। তিনি প্রতিটি মূলপাঠকে (متن) তার নির্দিষ্ট সনদের (إسناد) দিকে এবং প্রতিটি সনদকে (إسناد) তার নির্দিষ্ট মূলপাঠের (متن) দিকে ফিরিয়ে দিলেন। বাকিদের ক্ষেত্রেও তিনি অনুরূপ করলেন এবং হাদিসসমূহের সকল মূলপাঠকে (متون) তাদের নির্দিষ্ট সনদসমূহের (أسانيد) সাথে এবং সকল সনদকে (أسانيد) তাদের মূলপাঠসমূহের (متون) সাথে মিলিয়ে দিলেন। ফলে উপস্থিত জনতা তার প্রখর মুখস্থশক্তির (حفظ) স্বীকৃতি প্রদান করল এবং তার শ্রেষ্ঠত্বের নিকট মস্তক অবনত করল। এই ঘটনা উল্লেখ করে হাফিজ ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "এখানে বুখারির কাছে মস্তক অবনত করতে হয়। ভুলকে সঠিকের দিকে ফিরিয়ে আনার মাঝে কোনো বিস্ময় নেই, কারণ তিনি তো একজন হাফিজ (حافظ) ছিলেন; বরং বিস্ময় হলো মাত্র একবার শুনেই তারা যেভাবে ভুলগুলো উপস্থাপন করেছিল, ঠিক সেই বিন্যাস অনুযায়ী ভুলগুলোই মুখস্থ রাখা।"
(খণ্ড: ১) আল-ইমামুল বুখারী ওয়া কিতাবুহুল জামিউস সহীহ (পৃষ্ঠা: ৩৪)
‌‌نماذج من ثناء الناس عليه رحمه الله: -

وقد كان البخاري رحمه الله موضع التقدير من شيوخه وأقرانه تحدثوا عنه بما هو أهله وأنزلوه المنزلة التي تليق به وكذلك غيرهم ممن عاصره أو جاء بعده وقد جمع مناقبه الحافظان الكبيران الذهبي وابن حجر العسقلاني في مؤلفين خاصين كما ذكر ذلك الذهبي في تذكرة الحفاظ وابن حجر في تهذيب التهذيب. ولعل من المناسب هنا ذكر بعض النماذج من ذلك:

قال أبو عيسى الترمذي: "كان محمد بن إسماعيل عند عبد الله بن منير فقال له لما قام: يا أبا عبد الله جعلك الله زين هذه الأمة فاستجاب الله تعالى له فيه"..ويقول الإمام البخاري: "كنت إذا دخلت على سليمان بن حرب يقول: "بيّن لنا غلط شعبة"، وقال محمد بن أبي حاتم وراق البخاري: سمعت يحيى بن جعفر البيكندي يقول: "لو قدرت أن أزيد من عمري في عمر محمد بن إسماعيل لفعلت فإن موتي يكون موت رجل واحد وموت محمد بن إسماعيل فيه ذهاب العلم".. وقال أحمد بن حنبل: "ما أخرجت خراسان مثل محمد بن إسماعيل"، ولما بلغ علي بن المديني قول البخاري: "ما استصغرت نفسي عند أحد إلا عند علي بن المديني" قال لمن أخبره: "دع قوله؛
তাঁর (রহিমাহুল্লাহ) প্রতি মানুষের প্রশংসার কতিপয় দৃষ্টান্ত: -

ইমাম বুখারী (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর শিক্ষক ও সমসাময়িকদের নিকট অত্যন্ত শ্রদ্ধা ও মূল্যায়নের পাত্র ছিলেন। তাঁরা তাঁর সম্পর্কে তাঁর যোগ্যতানুযায়ী আলোচনা করেছেন এবং তাঁকে সেই মর্যাদায় আসীন করেছেন যা তাঁর জন্য উপযুক্ত ছিল। তেমনিভাবে তাঁর সমসাময়িক বা পরবর্তীকালের অন্যান্য আলিমগণও অনুরূপ করেছেন। দুই মহান হাফেজ (حافظ), আয-যাহাবী এবং ইবনে হাজার আল-আসকালানী তাঁর গুণাবলি নিয়ে স্বতন্ত্র দুটি গ্রন্থ সংকলন করেছেন, যেমনটি আয-যাহাবী ‘তাযকিরাতুল হুফফায’ গ্রন্থে এবং ইবনে হাজার ‘তাহযীবুত তাহযীব’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। সম্ভবত এখানে এর কিছু দৃষ্টান্ত উল্লেখ করা সমীচীন হবে:

আবু ঈসা আত-তিরমিযী বলেন: "মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইল যখন আব্দুল্লাহ ইবনে মুনীরের নিকট ছিলেন, তখন তিনি প্রস্থানের জন্য দাঁড়ালে আব্দুল্লাহ ইবনে মুনীর তাঁকে বললেন: 'হে আবু আব্দুল্লাহ, আল্লাহ আপনাকে এই উম্মাহর সৌন্দর্য স্বরূপ করুন।' অতঃপর মহান আল্লাহ তাঁর বিষয়ে সেই দোয়া কবুল করেছেন।".. ইমাম বুখারী বলেন: "আমি যখনই সুলায়মান ইবনে হারবের নিকট প্রবেশ করতাম, তিনি বলতেন: 'আমাদের কাছে শু'বাহর ভুলগুলো বর্ণনা করুন'।" বুখারীর পাণ্ডুলিপি লেখক (وراق) মুহাম্মাদ ইবনে আবি হাতিম বলেন: আমি ইয়াহইয়া ইবনে জাফর আল-বিকান্দীকে বলতে শুনেছি: "আমি যদি সক্ষম হতাম যে আমার আয়ু থেকে মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইলের আয়ু বৃদ্ধি করে দেব, তবে অবশ্যই আমি তা করতাম; কেননা আমার মৃত্যু হবে কেবল একজন ব্যক্তির মৃত্যু, কিন্তু মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইলের মৃত্যুতে ইলম বা জ্ঞানের বিলুপ্তি ঘটবে।".. আহমদ ইবনে হাম্বল বলেন: "খোরাসান মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইলের মতো কাউকে তৈরি করেনি।" আর যখন আলী ইবনুল মাদিনীর নিকট ইমাম বুখারীর এই উক্তি পৌঁছাল যে: "আলী ইবনুল মাদিনী ব্যতীত আর কারো সামনে আমি নিজেকে তুচ্ছ মনে করিনি," তখন তিনি সংবাদদাতাকে বললেন: "তাঁর এই কথা বর্জন করুন;...
(খণ্ড: ১) আল-ইমামুল বুখারী ওয়া কিতাবুহুল জামিউস সহীহ (পৃষ্ঠা: ৩৫)
ما رأى مثل نفسه".. وقال رجاء بن رجاء: "هو - يعني البخاري - آية من آيات الله تمشي على ظهر الأرض". وقال أبو عبد الله الحاكم في تاريخ نيسابور: "هو إمام أهل الحديث بلا خلاف بين أهل النقل".. وقال إمام الأئمة ابن خزيمة: "ما رأيت تحت أديم السماء أعلم بحديث رسول الله صلى الله عليه وسلم ولا أحفظ له من محمد بن إسماعيل البخاري".. ويقول الحافظ الذهبي في تذكرة الحفاظ: "وكان رأسا في الذكاء رأسا في العلم رأسا في الورع والعبادة"، ويقول في كتابه العبر: "وكان من أوعية العلم يتوقد ذكاء ولم يخلف بعده مثله رحمة الله عليه"، وقال الحافظ ابن حجر في كتابه تقريب التهذيب: "أبو عبد الله البخاري جبل الحفظ وإمام الدنيا ثقة الحديث".

وقال الحافظ ابن كثير في كتابه البداية والنهاية: "هو إمام أهل الحديث في زمانه والمقتدى به في أوانه والمقدم على سائر أضرابه وأقرانه"، وقال: "وقد كان البخاري رحمه الله في غاية الحياء والشجاعة والسخاء والورع والزهد في الدنيا دار الفناء والرغبة في الآخرة دار البقاء"، وقال ابن السبكي في طبقات الشافعية: "هو إمام المسلمين وقدوة الموحدين وشيخ المؤمنين والمعول عليه في أحاديث سيد المرسلين وحافظ نظام الدين"، وقال محمد بن يعقوب الأخرم سمعت أصحابنا يقولون: لما قدم البخاري نيسابور استقبله أربعة آلاف رجل على الخيل سوى من ركب بغلا أو حمارا وسوى الرجالة". هذا غيض من فيض مما قيل في الإمام أبي عبد الله البخاري رحمه الله تعالى برحمته الواسعة.
"তিনি নিজের মতো কাউকে দেখেননি".. এবং রাজা বিন রাজা বলেন: "তিনি—অর্থাৎ বুখারি—পৃথিবীর বুকে বিচরণকারী আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে একটি অন্যতম নিদর্শন।" আবু আবদুল্লাহ আল-হাকিম তাঁর ‘তারিখে নাইসাবুর’ গ্রন্থে বলেন: "হাদিস বর্ণনাকারীদের (أهل النقل) মধ্যে কোনো মতভেদ ছাড়াই তিনি হাদিস বিশারদদের ইমাম।".. ইমামুল আইম্মাহ ইবনে খুজাইমাহ বলেন: "আমি আসমানের নিচে মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারির চেয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস সম্পর্কে অধিক জ্ঞানী এবং অধিক সংরক্ষণকারী আর কাউকে দেখিনি।".. হাফেজ আয-যাহাবি তাঁর ‘তাজকিরাতুল হুফফাজ’ গ্রন্থে বলেন: "তিনি মেধা, জ্ঞান, খোদাভীতি এবং ইবাদতের ক্ষেত্রে ছিলেন অনন্য উচ্চতায়।" তিনি তাঁর ‘আল-ইবার’ গ্রন্থে বলেন: "তিনি ছিলেন ইলমের একটি বিশাল আধার যা মেধার প্রখরতায় প্রদীপ্ত ছিল এবং তাঁর পরে তিনি নিজের মতো কাউকে রেখে যাননি, তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।" হাফেজ ইবনে হাজার তাঁর ‘তাকরিবুত তাহজিব’ গ্রন্থে বলেন: "আবু আবদুল্লাহ আল-বুখারি হলেন হেফজের পাহাড় এবং বিশ্বের ইমাম; তিনি হাদিস বর্ণনায় নির্ভরযোগ্য (ثقة)।"

হাফেজ ইবনে কাসির তাঁর ‘আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া’ গ্রন্থে বলেন: "তিনি তাঁর সমসাময়িক যুগের হাদিস বিশারদদের ইমাম, তাঁর সময়ের অনুকরণীয় আদর্শ এবং তাঁর সমপর্যায়ের ও সমসাময়িক সকলের উর্ধ্বে অগ্রগণ্য।" তিনি আরও বলেন: "বুখারি (রহ.) অত্যন্ত লজ্জাশীলতা, সাহসিকতা, বদান্যতা, খোদাভীতি, নশ্বর এই দুনিয়ার প্রতি বিমুখতা এবং পরকালীন চিরস্থায়ী আবাসের প্রতি প্রবল অনুরাগের অধিকারী ছিলেন।" ইবনুস সুবকি ‘তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ’ গ্রন্থে বলেন: "তিনি মুসলিমদের ইমাম, একত্ববাদীদের আদর্শ, মুমিনদের শাইখ, রাসূলগণের সরদার সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসসমূহের ক্ষেত্রে প্রধান নির্ভরস্থল এবং দ্বীনের শৃঙ্খলার সংরক্ষণকারী।" মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াকুব আল-আখরাম বলেন, আমি আমাদের সঙ্গীদের বলতে শুনেছি: "যখন বুখারি নাইসাবুরে আগমন করেন, তখন চার হাজার ব্যক্তি ঘোড়ায় চড়ে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান; এছাড়া যারা খচ্চর বা গাধায় আরোহণকারী ছিলেন এবং যারা পদব্রজে ছিলেন তারা তো ছিলেনই।" ইমাম আবু আবদুল্লাহ আল-বুখারি (রহ.) সম্পর্কে যা বলা হয়েছে, এটি তাঁর মর্যাদা বর্ণনায় বিশাল সমুদ্রের সামান্য জলবিন্দু মাত্র; আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রশস্ত রহমত দিয়ে তাঁকে সিক্ত করুন।
(খণ্ড: ১) আল-ইমামুল বুখারী ওয়া কিতাবুহুল জামিউস সহীহ (পৃষ্ঠা: ৩৫)
‌‌مصنفاته: -

وقد أتحف الإمام البخاري رحمه الله المكتبة الإسلامية بمصنفات قيّمة نافعة أجلّها وعلى رأسها كتابه الجامع الصحيح الذي هو أصح الكتب المصنفة في الحديث النبوي.

ومن مؤلفاته: الأدب المفرد، ورفع اليدين في الصلاة، والقراءة خلف الإمام، وبر الوالدين، والتأريخ الكبير، والأوسط، والصغير، وخلق أفعال العباد، والضعفاء، والجامع الكبير، والمسند الكبير، والتفسير الكبير، وكتاب الأشربة، وكتاب الهبة، وأسامي الصحابة، إلى غير ذلك من
তাঁর রচনাবলি: -

ইমাম বুখারী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) ইসলামি পাঠাগারকে অনেক মূল্যবান ও উপকারী গ্রন্থ উপহার দিয়েছেন, যার মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং শীর্ষস্থানীয় হলো তাঁর গ্রন্থ আল-জামি আস-সহীহ, যা নববী হাদিস বিষয়ে সংকলিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে সর্বাধিক বিশুদ্ধ (أصح)।

তাঁর অন্যান্য রচনার মধ্যে রয়েছে: আল-আদাবুল মুফরাদ, রাফউল ইয়াদাইন ফিস সালাত, আল-কিরাআতু খালফাল ইমাম, বিররুল ওয়ালিদাইন, আত-তারিখুল কাবীর, আল-আওসাত, আস-সাগীর, খালকু আফআলিল ইবাদ, আদ-দুয়াফা, আল-জামিুল কাবীর, আল-মুসনাদুল কাবীর, আত-তাফসীরুল কাবীর, কিতাবুল আশরিবাহ, কিতাবুল হিবাহ, আসামী আস-সাহাবাহ এবং এ ছাড়াও আরও অনেক।
(খণ্ড: ১) আল-ইমামুল বুখারী ওয়া কিতাবুহুল জামিউস সহীহ (পৃষ্ঠা: ৩৬)
مؤلفاته الكثيرة التي أورد كثير منها الحافظ ابن حجر رحمه الله في مقدمة فتح الباري…
তাঁর বহুসংখ্যক রচনাবলি, যার অনেকগুলোই হাফিজ (الحافظ) ইবনু হাজার (রহিমাহুল্লাহ) ফাতহুল বারি-র মুকাদ্দিমায় (مقدمة) উল্লেখ করেছেন…
(খণ্ড: ১) আল-ইমামুল বুখারী ওয়া কিতাবুহুল জামিউস সহীহ (পৃষ্ঠা: ৩৬)
‌‌عناية العلماء بترجمته ونقل أخباره رحمه الله: -

لما قام الإمام البخاري رحمه الله بالعناية التامة في تدوين سنة النبي صلى الله عليه وسلم وتنقيتها من الشوائب وتجريد الأحاديث الصحيحة جعل الله له لسان صدق في الآخرين فما زال الناس منذ عصره ولا يزالون يثنون عليه ويترحمون عليه ويولون كتابه الجامع الصحيح العناية التامة وما من مؤلف في التاريخ وتراجم الرجال إلا ويزين مؤلفه بذكر ترجمته والتنويه بشأنه ونقل أخباره رحمه الله.

فهذا الحافظ الذهبي رحمه الله يترجم له في تذكرة الحفاظ ويقول بعد نقل شيء من مناقبه: "قلت: قد أفردت مناقب هذا الإمام في جزء ضخم فيه العجب".

وهذا الحافظ ابن حجر يترجم له في تهذيب التهذيب ويقول في ترجمته: "قلت: مناقبه كثيرة جدا قد جمعتها في كتاب مفرد ولخصت مقاصده في آخر الكتاب الذي تكلمت فيه على تعاليق الجامع الصحيح".

وقد ترجم له أيضا في آخر كتاب هدي الساري مقدمة فتح الباري ونقل شيئا من ثناء مشائخه وأقرانه عليه ثم قال: "ولو فتحت باب ثناء الأئمة عليه ممن تأخر عن عصره لفني القرطاس ونفدت الأنفاس فذاك بحر لا ساحل له".

وذكر الحافظ ابن كثير في تاريخه البداية والنهاية في أعيان سنة ست وخمسين ومائتين وقال: "وقد ذكرنا له ترجمة حافلة في أول شرحنا لصحيحه ولنذكر هنا نبذة يسيرة من ذلك"، فذكرها في ثلاث صفحات.

وترجم له ابن السبكي في طبقات الشافعية الكبرى وعّدد شيئا من مناقبه ثم قال: "واعلم أن مناقب أبي عبد الله كثيرة فلا مطمع في استيعاب غالبها والكتب مشحونة به وفيما وردناه مقنع وبلاغ".

ويجدر بهذه المناسبة أن أضع بين يدي القارئ جدولا يوضح بعض
ইমাম বুখারী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর জীবনী রচনা এবং তাঁর সংবাদসমূহ বর্ণনায় ওলামায়ে কেরামের বিশেষ গুরুত্বারোপ: -

যখন ইমাম বুখারী (রাহিমাহুল্লাহ) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহ সংকলন, একে আবিলতামুক্ত করা এবং সহিহ (صحيح) হাদিসসমূহ পৃথক করার ক্ষেত্রে পূর্ণ মনোযোগ নিবদ্ধ করলেন, তখন আল্লাহ তাআলা পরবর্তী প্রজন্মের মাঝে তাঁর সুউচ্চ সুখ্যাতি ছড়িয়ে দিলেন। তাঁর যুগ থেকে আজ অবধি মানুষ নিরন্তর তাঁর প্রশংসা করে আসছে, তাঁর ওপর রহমত বর্ষণের দোয়া করছে এবং তাঁর কিতাব 'আল-জামি আল-সহিহ'-এর প্রতি পূর্ণ গুরুত্ব প্রদান করছে। ইতিহাস ও রাবিদের জীবনী (تراجم الرجال) বিষয়ক এমন কোনো গ্রন্থকার নেই, যিনি তাঁর জীবনচরিত উল্লেখ করে, তাঁর সুউচ্চ মর্যাদার কথা স্মরণ করে এবং তাঁর সংবাদসমূহ উদ্ধৃত করে নিজ গ্রন্থকে অলঙ্কৃত করেননি।

এই যে হাফেজ যাহাবী (রাহিমাহুল্লাহ) 'তাযকিরাতুল হুফফায'-এ তাঁর জীবনী বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর কিছু গুণাবলি উল্লেখ করার পর বলেছেন: "আমি বলেছি: আমি এই ইমামের গুণাবলি সম্পর্কে একটি বিশাল খণ্ড পৃথকভাবে রচনা করেছি, যা বিস্ময়কর তথ্যে ভরপুর।"

এবং এই যে হাফেজ ইবনে হাজার 'তাহযীবুত তাহযীব'-এ তাঁর জীবনী আলোচনা করেছেন এবং তাঁর জীবনীতে বলেছেন: "আমি বলেছি: তাঁর অসংখ্য গুণাবলি রয়েছে যা আমি একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থে জমা করেছি এবং সেই গ্রন্থের মূল উদ্দেশ্যসমূহ আমি সেই কিতাবের শেষে সংক্ষেপে বর্ণনা করেছি যেখানে আমি 'আল-জামি আল-সহিহ'-এর মুয়াল্লাক (تعاليق) বর্ণনাসমূহ নিয়ে আলোচনা করেছি।"

তিনি 'ফাতহুল বারী'-এর ভূমিকা 'হাদয়ুস সারী' কিতাবের শেষেও তাঁর জীবনী আলোচনা করেছেন এবং তাঁর সম্পর্কে তাঁর শিক্ষক ও সমসাময়িকদের কিছু প্রশংসা বাক্য উদ্ধৃত করেছেন। অতঃপর তিনি বলেছেন: "আমি যদি তাঁর পরবর্তী যুগের ইমামদের প্রশংসার দ্বার উন্মোচন করি, তবে কাগজ ফুরিয়ে যাবে এবং নিশ্বাস শেষ হয়ে যাবে; কেননা সেটি এমন এক সমুদ্র যার কোনো তটরেখা নেই।"

হাফেজ ইবনে কাসীর তাঁর ইতিহাসের কিতাব 'আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া'-তে ২৫৬ হিজরির বিশিষ্ট ব্যক্তিদের আলোচনায় তাঁর উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: "আমরা তাঁর সহিহ-এর শারহ বা ব্যাখ্যাগ্রন্থের শুরুতে তাঁর একটি বিস্তারিত জীবনী উল্লেখ করেছি; আর এখানে আমরা তার কিঞ্চিৎ অংশ উল্লেখ করব।" অতঃপর তিনি তিন পৃষ্ঠা জুড়ে তাঁর জীবনী বর্ণনা করেছেন।

ইবনে সুবকী 'তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ আল-কুবরা'-তে তাঁর জীবনী আলোচনা করেছেন এবং তাঁর কিছু গুণাবলি গণনা করেছেন। অতঃপর তিনি বলেছেন: "জেনে রেখো, আবু আবদুল্লাহর গুণাবলি এতোই বেশি যে, এর অধিকাংশ আয়ত্ত করার আকাঙ্ক্ষাও করা যায় না; বইসমূহ এ দ্বারা পরিপূর্ণ রয়েছে। আমরা যা উল্লেখ করেছি, তা-ই সন্তোষজনক ও যথেষ্ট।"

এ প্রেক্ষিতে পাঠকের সামনে একটি তালিকা তুলে ধরা সমীচীন হবে যা স্পষ্ট করবে...
(খণ্ড: ১) আল-ইমামুল বুখারী ওয়া কিতাবুহুল জামিউস সহীহ (পৃষ্ঠা: ৩৭)
الكتب المطبوعة التي اشتملت على ترجمته وتسمية مؤلفيها مع ذكر تاريخ وفياتهم وعدد صفحات الترجمة وتعيينها من كل كتاب ليكون راغب الوقوف على أخباره رحمه الله على علم بمظنتها كما يدرك من ذلك أيضا المطوّل منها والمختصر وذلك فيما يلي:

-المؤلف وتاريخ وفاته-اسم الكتاب-عدد صفحات الترجمة -الصفحة الأولى-الجزء -تاريخ الطبع ومكانه

-الخطيب البغدادي 463هـ-تاريخ بغداد

-31-4-2-مصر 1349هـ

-القاضي محمد بن أبي يعلى 526هـ-طبقات الحنابلة-9-271-1-مصر مطبعة السنة المحمدية

-ابن خلكان 681هـ-وفيات الأعيان-3-309-3-1367 مصر

-الحافظ الذهبي 748هـ-تذكرة الحفاظ-2-134-2-في حيدرأباد بالهند

-ابن السبكي 771هـ-طبقات الشافعية الكبرى-18-2-2-1324 مصر

-الحافظ ابن كثير 774هـ-البداية والنهاية-3-24-11-مطبعة السعادة بمصر

-الحافظ ابن حجر العسقلاني 852هـ-هدي الساري -17-255-2-1383 مصر

-الحافظ ابن حجر العسقلاني 852هـ-تهذيب التهذيب-9-47-9-1326 حيدر أباد

-العليمي الحنبلي 928هـ-المنهج الأحمد-4-133-1-1383هـ بمصر

-ابن العماد الحنبلي 1089هـ-شذرات الذهب-2-134-2-1350هـ مصر

-صديق حسن خان 1307هـ-التاج المكلل-3-106-0-1382 الهند
মুদ্রিত গ্রন্থসমূহ যাতে তাঁর জীবনী (ترجمة) অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এবং লেখকদের নামসহ তাঁদের মৃত্যুসন, জীবনীর (ترجمة) পৃষ্ঠা সংখ্যা এবং প্রতিটি গ্রন্থ থেকে তার নির্দিষ্ট অবস্থান উল্লেখ করা হলো, যাতে তাঁর (রহিমাহুল্লাহ) ঘটনাবলি সম্পর্কে জানতে ইচ্ছুক ব্যক্তি এর উৎস সম্পর্কে অবগত হতে পারেন; এর মাধ্যমে জীবনীর (ترجمة) বিস্তারিত ও সংক্ষিপ্ত ধরণগুলোও অনুধাবন করা যাবে, যা নিম্নরূপ:

-লেখক ও তাঁর মৃত্যুসন-গ্রন্থের নাম-জীবনীর (ترجمة) পৃষ্ঠা সংখ্যা-প্রথম পৃষ্ঠা-খণ্ড-মুদ্রণের তারিখ ও স্থান

-খতিব আল-বাগদাদি ৪৬৩ হিজরি-তারিখ বাগদাদ

-৩১-৪-২-মিসর ১৩৪৯ হিজরি

-কাযী মুহাম্মদ ইবনে আবি ইয়ালা ৫২৬ হিজরি-তাবাকাতুল হানাবিলা-৯-২৭১-১-মিসর, মাতবাআতুস সুন্নাহ আল-মুহাম্মাদিয়্যাহ

-ইবনে খাল্লিকান ৬৮১ হিজরি-ওফায়াতুল আইয়ান-৩-৩০৯-৩-১৩৬৭ মিসর

-হাফিয আয-যাহাবি ৭৪৮ হিজরি-তাযকিরাতুল হুফফাজ-২-১৩৪-২-হায়দ্রাবাদ, ভারত

-ইবনে আস-সুবকি ৭৭১ হিজরি-তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ আল-কুবরা-১৮-২-২-১৩২৪ মিসর

-হাফিয ইবনে কাসীর ৭৭৪ হিজরি-আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া-৩-২৪-১১-মাতবাআতুস সাআদাহ, মিসর

-হাফিয ইবনে হাজার আল-আসকালানি ৮৫২ হিজরি-হাদইউস সারি-১৭-২৫৫-২-১৩৮৩ মিসর

-হাফিয ইবনে হাজার আল-আসকালানি ৮৫২ হিজরি-তাহযীবুত তাহযীব-৯-৪৭-৯-১৩২৬ হায়দ্রাবাদ

-আল-উলাইমি আল-হাম্বলি ৯২৮ হিজরি-আল-মানহাজুল আহমাদ-৪-১৩৩-১-১৩৮৩ হিজরি, মিসর

-ইবনে আল-ইমাদ আল-হাম্বলি ১০৮৯ হিজরি-শাযারাতুয যাহাব-২-১৩৪-২-১৩৫০ হিজরি, মিসর

-সিদ্দিক হাসান খান ১৩০৭ হিজরি-আত-তাজুল মুকাল্লাল-৩-১০৬-০-১৩৮২ ভারত
(খণ্ড: ১) আল-ইমামুল বুখারী ওয়া কিতাবুহুল জামিউস সহীহ (পৃষ্ঠা: ৩৮)
‌‌وفاته ومدة عمره: ـ

توفي رحمه الله في خرتنك قرية من قرى سمرقند ليلة السبت بعد صلاة العشاء، وكانت ليلة عيد الفطر، ودفن يوم الفطر بعد صلاة الظهر سنة ست وخمسين ومائتين. ومدة عمره اثنتان وستون سنة إلا ثلاثة عشر يوما رحمه الله تعالى، قال الحافظ ابن كثير رحمه الله في كتابه البداية والنهاية: "وقد ترك رحمه الله بعده علماً نافعاً لجميع المسلمين فعلمه لم ينقطع بل هو موصول بما أسداه من الصالحات في الحياة".

وقد قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إذا مات ابن آدم انقطع عمله إلا من ثلاث: علم ينتفع به" الحديث، رواه مسلم.
তাঁর মৃত্যু ও জীবনকাল: ـ

তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) সমরকন্দের গ্রামসমূহের অন্তর্ভুক্ত খরতঙ্ক নামক এক গ্রামে শনিবার দিবাগত রাতে এশার সালাতের পর ইন্তেকাল করেন, আর তা ছিল ঈদুল ফিতরের রাত। তাঁকে ঈদুল ফিতরের দিন জোহরের সালাতের পর ২৫৬ হিজরি সনে দার্ভন করা হয়। তাঁর জীবনকাল ছিল তেরো দিন কম বাষট্টি বছর (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন)। হাফিজ (الحافظ) ইবনে কাসির (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) তাঁর আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া গ্রন্থে বলেছেন: "তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) তাঁর পরবর্তী সকল মুসলিমের জন্য উপকারী জ্ঞান রেখে গেছেন। ফলে তাঁর ইলম বন্ধ হয়ে যায়নি, বরং জীবনে তিনি যে সকল সৎকর্ম সম্পাদন করে গেছেন তার সাথে তা নিরবচ্ছিন্নভাবে সম্পৃক্ত রয়েছে।"

আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: "যখন আদম সন্তান মৃত্যুবরণ করে, তখন তিনটি বিষয় ব্যতীত তার আমল বন্ধ হয়ে যায়: ... এমন ইলম যা দ্বারা উপকৃত হওয়া যায়," হাদিস, এটি মুসলিম-এ বর্ণিত (رواه)।
(খণ্ড: ১) আল-ইমামুল বুখারী ওয়া কিতাবুহুল জামিউস সহীহ (পৃষ্ঠা: ৩৮)
‌‌صحيح البخاري

‌‌اسمه: -

اشتهر بين الناس قديماً وحديثا تسمية الكتاب الذي ألفه الإمام البخاري رحمه الله في الحديث النبوي بصحيح البخاري…

أما اسمه عند البخاري رحمه الله فالجامع الصحيح كما ذكر ذلك في الباعث له على تأليفه وقد سماه الجامع الصحيح المسند من حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم وسننه وأيامه كما ذكر ذلك الحافظ ابن حجر في مقدمة كتابه فتح الباري وذكر ابن الصلاح في كتابه علوم الحديث أنه سماه: الجامع المسند الصحيح المختصر من أمور رسول الله صلى الله عليه وسلم وسننه وأيامه.
‌‌সহিহ বুখারী

‌‌এর নাম: -

প্রাচীন ও আধুনিককালে মানুষের নিকট ইমাম বুখারী (রাহিমাহুল্লাহ) কর্তৃক নববী হাদিস বিষয়ে সংকলিত কিতাবটি সহিহ বুখারী নামে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে…

তবে ইমাম বুখারী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর নিকট এর নাম ছিল আল-জামি আস-সহিহ, যেমনটি তিনি এই কিতাবটি সংকলনের কারণ বর্ণনা করতে গিয়ে উল্লেখ করেছেন। তিনি এর পূর্ণ নামকরণ করেছিলেন আল-জামি আস-সহিহ আল-মুসনাদ মিন হাদিসি রাসূলিল্লাহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়া সুনানিহি ওয়া আইয়ামিহি, যেমনটি হাফিজ ইবনে হাজার তাঁর ফাতহুল বারী গ্রন্থের ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন। ইবনুস সালাহ তাঁর উলুমুল হাদিস গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি এর নামকরণ করেছিলেন: আল-জামি আল-মুসনাদ আস-সহিহ আল-মুখতাসার মিন উমুরি রাসূলিল্লাহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়া সুনaniহি ওয়া আইয়ামিহি।
(খণ্ড: ১) আল-ইমামুল বুখারী ওয়া কিতাবুহুল জামিউস সহীহ (পৃষ্ঠা: ৩৮)
‌‌السبب الباعث للإمام البخاري على تأليفه: -

ذكر الحافظ ابن حجر في مقدمة كتابه فتح الباري أسبابا ثلاثة دعت الإمام البخاري رحمه إلى تأليف كتابه الجامع الصحيح:

أحدها: أنه وجد الكتب التي ألفت قبله بحسب الوضع جامعة بين ما يدخل تحت التصحيح والتحسين والكثير منها يشمله التضعيف فلا يقال لغثه سمين، قال فحرك همته لجمع الحديث الصحيح الذي لا يرتاب في صحته أمين.

الثاني: قال وقوّى عزمه على ذلك ما سمعه من أستاذه أمير المؤمنين في الحديث والفقه إسحاق بن إبراهيم الحنظلي المعروف بابن راهوية وساق بسنده إليه أنه قال: "كنا عند إسحاق بن راهوية فقال: "لو جمعتم كتاباً مختصرا لصحيح سنة رسول الله صلى
ইমাম বুখারীর গ্রন্থটি রচনার নেপথ্য কারণ: -

হাফেজ ইবনে হাজার তাঁর কিতাব ‘ফাতহুল বারী’র ভূমিকায় তিনটি কারণ উল্লেখ করেছেন যা ইমাম বুখারী (রহ.)-কে তাঁর ‘আল-জামিউস সহীহ’ গ্রন্থটি সংকলনে উদ্বুদ্ধ করেছিল:

প্রথমটি হলো: তিনি দেখতে পান যে, তাঁর পূর্বে যে গ্রন্থগুলো রচিত হয়েছে সেগুলোর বিন্যাস অনুযায়ী সহীহ সাব্যস্তকরণ (تصحيح) ও হাসান সাব্যস্তকরণ (تحسين)-এর অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলোর সাথে সাথে এমন অনেক বিষয়কেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যেগুলোর ওপর দুর্বল সাব্যস্তকরণ (تضعيف) প্রযোজ্য হয়। ফলে সেখানে অপকৃষ্ট ও উৎকৃষ্ট বিষয়গুলো পৃথক ছিল না। তিনি বলেন, এই বিষয়টিই তাঁকে এমন সহীহ (صحيح) হাদিস সংকলনে অনুপ্রাণিত করেছিল যার বিশুদ্ধতা (صحة) সম্পর্কে কোনো আমানতদার ব্যক্তি সংশয় পোষণ করবেন না।

দ্বিতীয়ত: তিনি বলেন, তাঁর এই সংকল্প আরও সুদৃঢ় হয় তাঁর উস্তাদ, হাদিস ও ফিকহ শাস্ত্রের আমীরুল মুমিনীন ইসহাক বিন ইব্রাহিম আল-হানজালী—যিনি ইবনে রাহওয়াইহ নামে পরিচিত—এর নিকট থেকে শোনা একটি কথার দ্বারা। তিনি স্বীয় সনদে বর্ণনা করেছেন যে, ইবনে রাহওয়াইহ বলেছিলেন: "আমরা যখন ইসহাক বিন রাহওয়াইহ-এর মজলিসে ছিলাম, তখন তিনি বললেন: 'তোমরা যদি আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর সুন্নাহর সহীহ (صحيح) বিষয়গুলো নিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত কিতাব সংকলন করতে!'"
(খণ্ড: ১) আল-ইমামুল বুখারী ওয়া কিতাবুহুল জামিউস সহীহ (পৃষ্ঠা: ৩৯)
الله عليه وسلم"، قال: "فوقع ذلك في قلبي فأخذت في جمع الصحيح".

الثالث: قال: وروينا بالإسناد الثابت عن محمد بن سليمان بن فارس قال سمعت البخاري يقول: "رأيت النبي صلى الله عليه وسلم وكأني واقف بين يديه وبيدي مروحة أذب بها عنه، فسألت بعض المعبرين فقال لي: "أنت تذب عنه الكذب فهو الذي حملني على إخراج الجامع الصحيح".
...আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন", তিনি বলেন: "এই বিষয়টি আমার অন্তরে রেখাপাত করল, ফলে আমি সহীহ (الصحيح) হাদীস সংকলনে মনোনিবেশ করলাম।"

তৃতীয়: তিনি বলেন, আমরা সুসাব্যস্ত (الثابت) সনদ (الإسناد) এর মাধ্যমে মুহাম্মাদ ইবনে সুলাইমান ইবনে ফারিস থেকে বর্ণনা করেছি, তিনি বলেন: আমি বুখারিকে বলতে শুনেছি, "আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে স্বপ্নে দেখলাম, যেন আমি তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে আছি এবং আমার হাতে একটি পাখা রয়েছে যা দিয়ে আমি তাঁকে (মাছি থেকে) রক্ষা করছি। আমি একজন স্বপ্নবিশারদকে এর ব্যাখ্যা জিজ্ঞেস করলে তিনি আমাকে বললেন: 'আপনি তাঁর থেকে মিথ্যা (الكذب) দূর করবেন'। আর এই বিষয়টিই আমাকে আল-জামি আস-সহীহ সংকলনে উদ্বুদ্ধ করেছে।"
(খণ্ড: ১) আল-ইমামুল বুখারী ওয়া কিতাবুহুল জামিউস সহীহ (পৃষ্ঠা: ৩৯)
‌‌مدى عنايته في تأليفه: -

ولم يأل البخاري رحمه الله جهدا في العناية في هذا المؤلف العظيم يتضح مدى هذه العناية مما نقله العلماء عنه فنقل الفربري عنه أنه قال: "ما وضعت في كتابي الصحيح حديثا إلا اغتسلت قبل ذلك وصليت ركعتين"، ونقل عمر بن محمد البحيري عنه أنه قال: "ما أدخلت فيه (يعني الجامع الصحيح) حديثا إلا بعد ما استخرت الله تعالى وصليت ركعتين وتيقنت صحته". ونقل عنه عبد الرحمن بن رساين البخاري أنه قال: "صنفت كتابي الصحيح لست عشرة سنة خرجته من ستمائة ألف حديث وجعلته حجة فيما بيني وبين الله تعالى".
গ্রন্থ সংকলনে তাঁর যত্নের মাত্রা: -

ইমাম বুখারি (রহিমাহুল্লাহ) এই মহান গ্রন্থটির সযত্ন সংকলনে কোনো প্রচেষ্টাই বাকি রাখেননি। উলামায়ে কেরাম তাঁর থেকে যা বর্ণনা করেছেন, তা থেকেই এই নিবিড় যত্নের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আল-ফিরাবরি তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: "আমি আমার সহিহ গ্রন্থে কোনো হাদিস স্থাপন করিনি, যার পূর্বে আমি গোসল করিনি এবং দুই রাকাত সালাত আদায় করিনি।" উমর ইবন মুহাম্মদ আল-বুহাইরি তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: "আমি এতে (অর্থাৎ আল-জামি আল-সহিহ-তে) কোনো হাদিস অন্তর্ভুক্ত করিনি, যতক্ষণ না আমি মহান আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করেছি এবং দুই রাকাত সালাত আদায় করেছি এবং তার বিশুদ্ধতা (صحة) সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছি।" আব্দুর রহমান ইবন রাসায়িন আল-বুখারি তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: "আমি দীর্ঘ ষোলো বছর ধরে আমার সহিহ গ্রন্থটি সংকলন করেছি। আমি এটি ছয় লক্ষ হাদিস থেকে চয়ন করেছি এবং একে আমার ও মহান আল্লাহর মাঝে প্রমাণ (حجة) হিসেবে নির্ধারণ করেছি।"
(খণ্ড: ১) আল-ইমামুল বুখারী ওয়া কিতাবুহুল জামিউস সহীহ (পৃষ্ঠা: ৩৯)
‌‌موضوع الجامع الصحيح: -

والأحاديث الصحيحة الثابتة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم هي موضوع كتابه الجامع الصحيح فهي التي وجه عنايته إليها وجعل كتابه مشتملا عليها ويدل لذلك أمور منها:

1ـ تسميته لكتابه الجامع الصحيح المسند من حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم وسننه وأيامه…

2ـ تصريحه بذلك في نصوص كثيرة نقلت عنه تقدم ذكر بعضها في السبب الباعث له على تأليفه وفي التنويه بمدى عنايته في تأليفه ومن ذلك غير ما تقدم ما نقله الإسماعيلي عنه أنه قال: "لم أخرج هذا الكتاب إلا صحيحا وما تركت من الصحيح أكثر". وروى إبراهيم بن معقل عنه أنه قال: "ما أدخلت في كتابي الجامع إلا ما صح وتركت من الصحيح حتى لا يطول"…
আল-জামি আল-সহিহ-এর বিষয়বস্তু: -

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত সুসাব্যস্ত সহিহ (صحيح) হাদিসসমূহ হলো তাঁর কিতাব 'আল-জামি আল-সহিহ'-এর মূল বিষয়বস্তু। মূলত তিনি এগুলোর প্রতিই তাঁর যাবতীয় মনোযোগ নিবদ্ধ করেছেন এবং তাঁর কিতাবটিকে এগুলোর মাধ্যমেই সংকলিত করেছেন। নিম্নোক্ত বিষয়গুলো এর প্রমাণ বহন করে:

১. তাঁর কিতাবটির নামকরণ: 'আল-জামি আল-সহিহ আল-মুসনাদ মিন হাদিসি রাসুলিল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়া সুনানিহি ওয়া আইয়্যামিহি' (রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস, তাঁর সুন্নত ও জীবনকাল সংশ্লিষ্ট সুসংবদ্ধ মুসনাদ (مسند) হাদিসের সংকলন)…

২. তাঁর থেকে বর্ণিত বহু ভাষ্যে তাঁর এই সুস্পষ্ট ঘোষণা, যার কিছু অংশ ইতিপূর্বে কিতাবটি রচনার প্রেক্ষাপট এবং এটি সংকলনে তাঁর বিশেষ যত্নের বর্ণনার প্রসঙ্গে আলোচিত হয়েছে। পূর্বে যা উল্লিখিত হয়েছে তা ছাড়াও ইমাম ইসমাইলি তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি (ইমাম বুখারি) বলেছেন: "আমি এই কিতাবে কেবল সহিহ (صحيح) হাদিসই সংকলন করেছি, আর যে পরিমাণ সহিহ (صحيح) হাদিস আমি বাদ দিয়েছি তার সংখ্যা অনেক বেশি।" ইব্রাহিম ইবনে মাকাল তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "আমি আমার এই 'জামি' কিতাবে কেবল যা সহিহ (صحيح) হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে তা-ই অন্তর্ভুক্ত করেছি। আর কিতাবটি যাতে দীর্ঘ না হয়ে যায়, সেজন্য অনেক সহিহ (صحيح) হাদিস আমি বর্জন করেছি।"…
(খণ্ড: ১) আল-ইমামুল বুখারী ওয়া কিতাবুহুল জামিউস সহীহ (পৃষ্ঠা: ৩৯)
‌‌محتوى الجامع الصحيح

…

محتويات الجامع الصحيح: -

وصحيح البخاري كما أنه يشتمل
আল-জামিউস সহিহ-এর বিষয়বস্তু

…

আল-জামিউস সহিহ-এর বিষয়বস্তুসমূহ: -

এবং সহিহ বুখারি যেমনটি অন্তর্ভুক্ত করে
(খণ্ড: ১) আল-ইমামুল বুখারী ওয়া কিতাবুহুল জামিউস সহীহ (পৃষ্ঠা: ৪০)
على الأحاديث الصحيحة التي هي موضوع الكتاب فهو يشتمل أيضا على ما في تراجم أبوابه من التعليقات والاستنباط وذكر أقوال السلف وغير ذلك مما ليس داخلا في موضوع كتابه، قال الحافظ ابن حجر في مقدمة فتح الباري بعد الإشارة إلى موضوع الكتاب: "ثم رأى أن لا يخليه من الفوائد الفقهية والنكت الحكمية فاستخرج بفهمه من المتون معاني كثيرة فرقها في أبواب الكتاب بحسب تناسبها واعتنى فيه بآيات الأحكام فانتزع منها الدلالات البديعة وسلك في الإشارة إلى تفسيرها السبل الوسيعة" انتهى…

وبذلك جمع الإمام البخاري رحمه الله في كتابه الجامع الصحيح بين الرواية والدراية بين حفظ سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم وفهمها…
সহিহ (صحيح) হাদিসসমূহ যা এই গ্রন্থের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হওয়ার পাশাপাশি এটি অধ্যায়ের শিরোনামসমূহের (تراجم الأبواب) অধীনে মুআল্লাক (التعليقات) বর্ণনা, মাসয়ালা উদ্ভাবন (الاستنباط), সালাফ বা পূর্বসূরীদের বাণী (أقوال السلف) এবং কিতাবের মূল বিষয়ের বহির্ভূত আরও অনেক বিষয়কেও অন্তর্ভুক্ত করে। হাফেজ ইবনে হাজার ফাতহুল বারীর মুকাদ্দিমায় গ্রন্থের বিষয়বস্তুর প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন: "অতঃপর তিনি (ইমাম বুখারি) এটিকে ফিকহি ফায়দা এবং হিকমতপূর্ণ সূক্ষ্ম বিষয়সমূহ থেকে খালি না রাখার সিদ্ধান্ত নেন। তাই তিনি তাঁর প্রজ্ঞার মাধ্যমে হাদিসের মূল পাঠ (المتون) থেকে অনেক অর্থ উদ্ধার করে সামঞ্জস্য অনুযায়ী কিতাবের বিভিন্ন অধ্যায়ে বিন্যস্ত করেন। তিনি এতে বিধান সংশ্লিষ্ট আয়াতসমূহের (آيات الأحكام) প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেন এবং সেগুলো থেকে চমৎকার সব দলিলাদি আহরণ করেন এবং সেগুলোর তাফসিরের ক্ষেত্রে প্রশস্ত পথ অবলম্বন করেন।" সমাপ্ত…

আর এভাবেই ইমাম বুখারি (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর আল-জামি আল-সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা (الرواية) ও পাঠ্য বিশ্লেষণ (الدراية)-এর মাঝে এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহর হিফজ ও ফাহম-এর মাঝে সমন্বয় সাধন করেছেন…
(খণ্ড: ১) আল-ইমামুল বুখারী ওয়া কিতাবুহুল জামিউস সহীহ (পৃষ্ঠা: ৪০)
‌‌التعليقات في صحيح البخاري: -

التعليق هو حذف راو أو أكثر من أول السند ولو إلى آخر الإسناد وهو كثير في صحيح البخاري بخلاف صحيح مسلم فإنه قليل جدا وقد ألف الحافظ ابن حجر في وصل تعليقات البخاري كتابا سماه (تعليق التعليق) واختصر هذا الكتاب في مقدمة الفتح في فصل طويل ذكر فيه تعاليقه المرفوعة والإشارة إلى من وصلها وكذا المتابعات لالتحاقها بها في الحكم في أوائل الفصل "وقد بسطت ذلك جميعه في تصنيف كبير سميته تعليق التعليق ذكرت فيه جميع أحاديثه المرفوعة وآثاره الموقوفة وذكرت من وصلها بأسانيدي إلى المكان المعلق فجاء كتابا حافلا وجامعا كاملا" - إلى أن قال -: "وما علمت أحدا تعرض لتصنيف في ذلك"، وقال في نهاية الفصل بعد ذكر آخر ما في الصحيح من الأحاديث المعلقة المرفوعة: "وقد بينت ما وصله منها في مكان آخر من كتابه ووصله في مكان من كتبه التي هي خارج الصحيح بينته أيضا وما لم نقف عليه من طريقه بينت من وصله إلى من علق عنه من الأئمة في تصانيفهم" إلى آخر كلامه رحمه الله، وحاصل الحكم على التعليقات أن ما كان منها بصيغة الجزم كقال
সহিহ বুখারীর তালীক (تعليق) বা ঝুলন্ত বর্ণনাসমূহ: -

তালীক (تعليق) হলো সনদের (سند) শুরু থেকে একজন অথবা একাধিক বর্ণনাকারীকে (راو) বাদ দেওয়া, এমনকি সনদের (إسناد) শেষ পর্যন্তও। এটি সহিহ বুখারীতে প্রচুর পরিমাণে রয়েছে, পক্ষান্তরে সহিহ মুসলিমের ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত বিরল। হাফিজ ইবনে হাজার বুখারীর তালীক (تعليق) বর্ণনাসমূহকে সংযুক্ত করার (وصل) জন্য একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন যার নাম দিয়েছেন 'তাগলিকুত তালীক'। তিনি এই কিতাবটিকে ফাতহুল বারীর মুকাদ্দামায় একটি দীর্ঘ পরিচ্ছেদে সংক্ষেপিত করেছেন, যেখানে তিনি মারফু (مرفوع) তালীকসমূহ উল্লেখ করেছেন এবং যারা এগুলোকে সংযুক্ত করেছেন তাদের প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন। সেই সাথে মুতাবা'আত (متابعة) বর্ণনাগুলোকেও হুকুমের (حكم) দিক থেকে এগুলোর অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণে পরিচ্ছেদের শুরুতেই উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: "আমি এই সবকিছুকে একটি বিশাল গ্রন্থে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছি, যার নাম দিয়েছি 'তাগলিকুত তালীক'। সেখানে আমি এর সকল মারফু (مرفوع) হাদিস এবং মাওকুফ (موقوف) আছার (آثار) উল্লেখ করেছি। সেই সাথে আমার নিজস্ব সনদের (أسانيد) মাধ্যমে মুআল্লাক (معلق) হওয়ার স্থান পর্যন্ত যারা এগুলোকে সংযুক্ত করেছেন তাদেরও উল্লেখ করেছি। ফলে এটি একটি তথ্যবহুল ও পূর্ণাঙ্গ সংকলন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।" - তিনি আরও বলেন -: "আমার জানামতে ইতিপূর্বে আর কেউ এই বিষয়ে কোনো গ্রন্থ রচনা করতে প্রয়াসী হননি।" পরিচ্ছেদের শেষে সহিহ বুখারীর সর্বশেষ মারফু (مرفوع) মুআল্লাক (معلق) হাদিসটি উল্লেখ করার পর তিনি বলেন: "ইমাম বুখারী এই বর্ণনাগুলোর মধ্যে যেগুলোকে তাঁর কিতাবের অন্য কোনো স্থানে সংযুক্ত (وصل) করেছেন তা আমি স্পষ্ট করেছি। আর যেগুলোকে তিনি তাঁর এমন সব কিতাবে সংযুক্ত করেছেন যা সহিহ বুখারীর বহির্ভূত, সেগুলোও আমি বর্ণনা করেছি। আর যেগুলোর সংযোগস্থল আমরা তাঁর সূত্রে পাইনি, অন্যান্য ইমামগণ তাঁদের কিতাবসমূহে যাদের থেকে তালীক (تعليق) করা হয়েছে তাদের পর্যন্ত যেভাবে সংযুক্ত করেছেন তা আমি স্পষ্ট করে দিয়েছি।" - তাঁর বক্তব্যের শেষ পর্যন্ত, আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন। তালীক (تعليق) সমূহের হুকুম (حكم) সংক্রান্ত সারকথা হলো, যে বর্ণনাগুলো দৃঢ়তাসূচক শব্দ (صيغة الجزم) যেমন 'তিনি বলেছেন' (قال) আকারে বর্ণিত...
(খণ্ড: ১) আল-ইমামুল বুখারী ওয়া কিতাবুহুল জামিউস সহীহ (পৃষ্ঠা: ৪১)
وروى وجاء ونحو ذلك مما بُني الفعل فيه للمعلوم فهو صحيح إلى من علقه عنه، ثم النظر فيما بعد ذلك، وما كان منها بصيغة التمريض كقِيل ورُوي ويُروى ويُذكر ونحو ذلك مما بُني الفعل فيه للمجهول فلا يستفاد منها صحة ولا ينافيها، ذكر معنى ذلك الحافظ ابن كثير في اختصاره لمقدمة ابن الصلاح، وقال: "لأنه قد وقع من ذلك كذلك وهو صحيح وربما رواه مسلم"، وقال الحافظ في مقدمة الفتح بعد ذكر الصيغة الأولى: "الصيغة الثانية وهي صيغة التمريض لا تستفاد منها الصحة إلى من علق عنه لكن فيه ما هو صحيح وفيه ما ليس بصحيح…".

এবং "তিনি বর্ণনা করেছেন" (روى), "এসেছে" (جاء) এবং এই জাতীয় শব্দ যা কর্তৃবাচ্য (المعلوم) হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, তা যার পক্ষ থেকে মুয়াল্লাক হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে তার পর্যন্ত সহিহ (صحيح); এরপর পরবর্তী অংশ নিয়ে পর্যালোচনা করতে হবে। আর সেগুলোর মধ্যে যেগুলো দুর্বলতার পরিচায়ক শব্দ (صيغة التمريض) হিসেবে এসেছে, যেমন: "বলা হয়েছে" (قيل), "বর্ণিত হয়েছে" (روي), "বর্ণনা করা হয়" (يروى), "উল্লেখ করা হয়" (يذكر) এবং এই জাতীয় শব্দ যা কর্মবাচ্য (المجهول) হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, তা থেকে বর্ণনার বিশুদ্ধতা (صحة) নিশ্চিত হওয়া যায় না, আবার তা বিশুদ্ধ হওয়ার পরিপন্থীও নয়। হাফেজ ইবনে কাসির ইবনে সালাহ-এর মুকাদ্দিমার সংক্ষেপে এই বিষয়টি উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: "কেননা এই ধরনের শব্দের মাধ্যমেও এমন বর্ণনা এসেছে যা সহিহ (صحيح) এবং সম্ভবত ইমাম মুসলিম তা বর্ণনা করেছেন।" হাফেজ (ইবনে হাজার) ফাতহুল বারীর মুকাদ্দিমায় প্রথম প্রকারের পরিভাষাটি উল্লেখ করার পর বলেছেন: "দ্বিতীয় প্রকারের শব্দ তথা দুর্বলতার পরিচায়ক শব্দ (صيغة التمريض) দ্বারা যার পক্ষ থেকে মুয়াল্লাক করা হয়েছে তার পর্যন্ত বিশুদ্ধতা (الصحة) প্রমাণিত হয় না; তবে এর মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা সহিহ (صحيح) এবং এমন কিছুও রয়েছে যা সহিহ নয়…"।

(খণ্ড: ১) আল-ইমামুল বুখারী ওয়া কিতাবুহুল জামিউস সহীহ (পৃষ্ঠা: ৪১)
‌‌عدد أحاديث صحيح البخاري: -

قد حرّر الحافظ ابن حجر عدد الأحاديث المرفوعة في صحيح البخاري والمعلقة وأوضح ذلك في مقدمة الفتح إجمالا وتفصيلا وإليك خلاصة ما انتهى إليه في ذلك على سبيل الإجمال: -

1 - عدد الأحاديث المرفوعة الموصولة بما فيها المكررة 7397 حديثا

2 - عدد الأحاديث المرفوعة المعلقة بما فيها المكررة 1341 حديثا

3 - عدد ما فيه من المتابعات والتنبيه على اختلاف الروايات 344 حديثا

4 - عدد ما فيه من الموصول والمعلق والمتابعات المرفوعة بالمكررة 9082 حديثا

5 - عدد الأحاديث المرفوعة الموصولة بدون تكرار 2602 حديثا

6 - عدد الأحاديث المعلقة بدون تكرار 159 حديثا

7 - عدد الأحاديث المرفوعة موصولة أو معلقة بدون تكرار 2761 حديثا

وهذه الأعداد إنما هي في المرفوع خاصة دون ما في الكتاب من الموقوفات على الصحابة والمقطوعات عن التابعين ومن بعدهم، وبعد ذكر الحافظ ابن حجر لجملة الأحاديث بدون تكرار قال: "وبين هذا العدد الذي حررته والعدد الذي ذكره ابن الصلاح وغيره تفاوت كثير"، ويعني بذلك ما جاء عن
সহিহ বুখারির হাদিস সংখ্যা: -

হাফিজ ইবনে হাজার সহিহ বুখারিতে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত (مرفوع) এবং বিচ্ছিন্ন সনদের (معلق) হাদিসসমূহের সংখ্যা নিরূপণ করেছেন এবং ফাতহুল বারির ভূমিকায় তা সংক্ষিপ্ত ও বিস্তারিতভাবে স্পষ্ট করেছেন। তিনি যে সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন তার সারসংক্ষেপ নিচে দেওয়া হলো: -

1 - পুনরাবৃত্তিসহ নিরবচ্ছিন্ন (موصول) ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত (مرفوع) হাদিসের সংখ্যা ৭৩৯৭টি।

2 - পুনরাবৃত্তিসহ বিচ্ছিন্ন সনদের (معلق) ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত (مرفوع) হাদিসের সংখ্যা ১৩৪১টি।

3 - এতে বিদ্যমান সমর্থনকারী বর্ণনা (متابعات) এবং বর্ণনার ভিন্নতা সম্পর্কিত সতর্কবার্তার সংখ্যা ৩৪৪টি।

4 - পুনরাবৃত্তিসহ নিরবচ্ছিন্ন (موصول), বিচ্ছিন্ন সনদের (معلق) এবং সমর্থনকারী বর্ণনা (متابعات) হিসেবে আসা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত (مرفوع) হাদিসের সর্বমোট সংখ্যা ৯০৮২টি।

5 - পুনরাবৃত্তি ছাড়া নিরবচ্ছিন্ন (موصول) ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত (مرفوع) হাদিসের সংখ্যা ২৬০২টি।

6 - পুনরাবৃত্তি ছাড়া বিচ্ছিন্ন সনদের (معلق) হাদিসের সংখ্যা ১৫৯টি।

7 - পুনরাবৃত্তি ছাড়া নিরবচ্ছিন্ন (موصول) অথবা বিচ্ছিন্ন (معلق) উভয় প্রকারের রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত (مرفوع) হাদিসের সংখ্যা ২৭৬১টি।

এই সংখ্যাগুলো কেবলমাত্র রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত (مرفوع) হাদিসগুলোর জন্য নির্দিষ্ট; এতে কিতাবে বিদ্যমান সাহাবিদের উক্তি বা কর্ম (موقوف) এবং তাবেয়ি ও তাদের পরবর্তী স্তরের ব্যক্তিদের উক্তি বা কর্ম (مقطوع) অন্তর্ভুক্ত নয়। হাফিজ ইবনে হাজার পুনরাবৃত্তি ছাড়া হাদিসসমূহের মোট সংখ্যা উল্লেখ করার পর বলেন: "আমি যে সংখ্যা নিরূপণ করেছি এবং ইবনে সালাহ ও অন্যান্যেরা যে সংখ্যা উল্লেখ করেছেন, তার মধ্যে অনেক ব্যবধান রয়েছে।" এর দ্বারা তিনি যা বুঝিয়েছেন...
(খণ্ড: ১) আল-ইমামুল বুখারী ওয়া কিতাবুহুল জামিউস সহীহ (পৃষ্ঠা: ৪২)
ابن الصلاح حيث قال في علوم الحديث: "وقد قيل إنها بإسقاط المكررة أربعة آلاف حديث" ثم إنه علل ذلك بقوله: "يحتمل أن يكون العدد الأول الذي قلدوه في ذلك كان إذا رأى الحديث مطولا في موضع آخر يظن أن المختصر غير المطول إما لبعد العهد به أو لقلة المعرفة بالصناعة ففي الكتاب من هذا النمط شيء كثير وحينئذ يتبين السبب في تفاوت ما بين العددين والله الموفق" انتهى كلامه رحمه الله وغفر له وجزاه عن خدمته التامة للسنة وبخاصة أصح الكتب الحديثية خير جزاء.
ইবনে সালাহ তার উলুমুল হাদিস গ্রন্থে বলেন: "বলা হয়ে থাকে যে, পুনরুক্ত (المكررة) হাদিসগুলো বাদ দিলে এর সংখ্যা চার হাজার হাদিস।" অতঃপর তিনি এর কারণ দর্শিয়ে বলেন: "সম্ভবত প্রথম যে সংখ্যাটি তারা এ ক্ষেত্রে অনুসরণ করেছেন, তা এই কারণে ছিল যে—যখন তিনি কোনো স্থানে একটি দীর্ঘায়িত (مطولا) হাদিস দেখতেন, তখন মনে করতেন যে সংক্ষিপ্ত (المختصر) রূপটি দীর্ঘায়িত রূপ থেকে ভিন্ন। এটি হয়তো দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার কারণে কিংবা হাদিস শাস্ত্র (بالصناعة) সম্পর্কে সম্যক জ্ঞানের অভাবের দরুন হতে পারে। এই গ্রন্থে এ ধরণের বিষয় প্রচুর রয়েছে এবং তখনই এই দুই সংখ্যার ব্যবধানের কারণটি স্পষ্ট হয়ে যায়। আর আল্লাহই তাওফিকদাতা।" তাঁর বক্তব্য এখানেই সমাপ্ত। আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন, তাঁকে ক্ষমা করুন এবং সুন্নাহর প্রতি—বিশেষ করে বিশুদ্ধতম হাদিস গ্রন্থসমূহের প্রতি—তাঁর এই ঐকান্তিক খিদমতের জন্য তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।
(খণ্ড: ১) আল-ইমামুল বুখারী ওয়া কিতাবুহুল জামিউস সহীহ (পৃষ্ঠা: ৪২)
‌‌السر في إعادة البخاري للحديث الواحد في موضع أو مواضع من صحيحه: -

معلوم أن البخاري رحمه الله لم يرد الاقتصار في صحيحه على سرد الأحاديث وإنما أراد مع جمع الحديث الصحيح استنباط ما اشتمل عليه من حكم وأحكام ولذلك يستنبط من الحديث الحكم ويجعله ترجمة ثم يورد الحديث تحتها للاستدلال به عليها ويستنبط منه حكما آخر يترجم به ويورد الحديث مرة أخرى للاستدلال به أيضا فيكون التكرار لغرض الاستدلال على أنه إذا أعاد الحديث مستدلا به لا يخلي المقام من فائدة جديدة وهي إيراده له عن شيخ سوى الشيخ الذي أخرجه عنه من قبل وذلك يفيد تعدد الطرق لذلك الحديث ولهذا قال الحافظ أبو الفضل ابن طاهر المقدسي فيما نقل عنه الحافظ ابن حجر في مقدمة الفتح: "وقلما يورد حديثا في موضعين بإسناد واحد ولفظ واحد"، وذكر الحافظ ابن حجر أن الذي وقع له من ذلك قليل جدا، وقال صاحب كشف الظنون: "والتي ذكرها سندا ومتنا معادا ثلاثة وعشرون حديثا"، وللبخاري أغراض أخرى في إعادة الحديث في موضع أو مواضع ذكر كثيرا منها الحافظ في مقدمة الفتح.
সহিহ বুখারির এক বা একাধিক স্থানে ইমাম বুখারি কর্তৃক একই হাদিস পুনরাবৃত্তি করার অন্তর্নিহিত রহস্য: -

এটি সুবিদিত যে, ইমাম বুখারি (রহ.) তাঁর সহিহ গ্রন্থে কেবল হাদিসসমূহের ধারাবাহিক বর্ণনাতেই সীমাবদ্ধ থাকতে চাননি; বরং তিনি সহিহ (صحيح) হাদিস সংকলনের পাশাপাশি তা থেকে নিহিত প্রজ্ঞা ও বিধিবিধান উদ্ঘাটন করতে চেয়েছিলেন। এই উদ্দেশ্যেই তিনি হাদিস থেকে কোনো বিধান আহরণ করেন এবং সেটিকে অধ্যায়ের শিরোনাম (ترجمة) হিসেবে নির্ধারণ করেন, অতঃপর সেই বিধানের সপক্ষে দালিলিক প্রমাণ হিসেবে হাদিসটি তার অধীনে উল্লেখ করেন। একইভাবে তিনি উক্ত হাদিস থেকে অন্য আরেকটি বিধান বের করে সেটিকেও শিরোনাম হিসেবে ব্যবহার করেন এবং পুনরায় দলিল হিসেবে হাদিসটি উপস্থাপন করেন। অতএব, এই পুনরাবৃত্তি মূলত দালিলিক প্রমাণের উদ্দেশ্যেই করা হয়েছে। তবে তিনি যখন দলিল হিসেবে কোনো হাদিস পুনরাবৃত্তি করেন, তখন সেখানে একটি নতুন জ্ঞানগত উপকারিতা বা ফায়দা যুক্ত থাকে। আর তা হলো, হাদিসটি তিনি এমন একজন শাইখের সূত্রে বর্ণনা করেন, যার মাধ্যমে তিনি ইতিপূর্বে সেটি বর্ণনা করেননি। এটি উক্ত হাদিসের বহুসূত্রতা (تعدد الطرق) নিশ্চিত করে। এ কারণেই হাফিজ আবু আল-ফজল ইবনে তাহির আল-মাকদিসি যা বলেছেন এবং হাফিজ ইবনে হাজার তাঁর ফাতহুল বারির ভূমিকায় তা উদ্ধৃত করেছেন: "তিনি খুব কমই একই সনদ (إسناد) ও একই শব্দে (لفظ) কোনো হাদিসকে দুটি ভিন্ন স্থানে উল্লেখ করেছেন।" হাফিজ ইবনে হাজার উল্লেখ করেছেন যে, এমন ঘটনা তাঁর গ্রন্থে অতি সামান্যই ঘটেছে। কাশফুয যুনুন গ্রন্থের লেখক বলেছেন: "সনদ (سند) ও মতন (متن) সহ হুবহু পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে এমন হাদিসের সংখ্যা মাত্র তেইশটি।" এক বা একাধিক স্থানে হাদিস পুনরাবৃত্তি করার পেছনে ইমাম বুখারির আরও অনেক উদ্দেশ্য ছিল, যার অধিকাংশ হাফিজ ইবনে হাজার ফাতহুল বারির ভূমিকায় বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইমামুল বুখারী ওয়া কিতাবুহুল জামিউস সহীহ (পৃষ্ঠা: ৪২)
‌‌تراجم صحيح البخاري:

وصف الحافظ ابن حجر تراجم صحيح البخاري بكونها حيّرت الأفكار وأدهشت العقول والأبصار،
সহিহ বুখারীর তারাজুম (تراجم):

হাফিজ ইবনে হাজার সহিহ বুখারীর তারাজুম (تراجم)-কে এমন বিশেষণে বিশেষিত করেছেন যা চিন্তাশক্তিকে কিংকর্তব্যবিমূঢ় করে দেয় এবং বুদ্ধি ও দৃষ্টিশক্তিকে বিস্ময়াভিভূত করে দেয়,
(খণ্ড: ১) আল-ইমামুল বুখারী ওয়া কিতাবুহুল জামিউস সহীহ (পৃষ্ঠা: ৪৩)
وبكونها بعيدة المنال منيعة المثال انفرد بتدقيقه فيها عن نظرائه واشتهر بتحقيقه لها عن قرنائه وقد فصّل القول فيها في مقدمة الفتح وذكر أن منها ما يكون دالا بالمطابقة لما يورده تحتها وقد تكون الترجمة بلفظ المترجم له أو بعضه أو معناه وكثيرا ما يترجم بلفظ الاستفهام حيث لا يجزم بأحد الاحتمالين وكثيرا ما يترجم بأمر لا يتضح المقصود منه إلا بالتأمل كقوله: "باب قول الرجل ما صلينا" فإن غرضه الرد على من كره ذلك، وكثيرا ما يترجم بلفظ يومئ إلى معنى حديث لم يصح على شرطه أو يأتي بلفظ الحديث الذي لم يصح على شرطه صريحا في الترجمة ويورد في الباب ما يؤدي معناه تارة بأمر ظاهر وتارة بأمر خفي وربما اكتفى أحيانا بلفظ الترجمة التي هي لفظ حديث لم يصح على شرطه وأورد معه أثرا أو آية فكأنه يقول لم يصح في الباب شيء على شرطه، لهذه الأمور وغيرها اشتهر عن جمع من الفضلاء قولهم: "فقه البخاري في تراجمه".

এবং এগুলো দুর্লভ ও অতুলনীয় হওয়ার কারণে তিনি এগুলোর সূক্ষ্ম বিন্যাসে তাঁর সমসাময়িকদের মাঝে অনন্য বৈশিষ্ট্যমন্ডিত ছিলেন এবং এগুলোর গবেষণালব্ধ বিশ্লেষণে নিজ সমকালীনদের মাঝে প্রসিদ্ধি লাভ করেছিলেন। তিনি ফাতহুল বারির ভূমিকায় এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে, এর মধ্যে কিছু শিরোনাম এমন হয় যা এর অধীনে বর্ণিত বিষয়ের সাথে সরাসরি সামঞ্জস্য (مطابقة) নির্দেশ করে। কখনো শিরোনামটি আলোচিত বিষয়ের শব্দে, বা তার আংশিক শব্দে, অথবা তার অর্থের মাধ্যমে হয়ে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে তিনি প্রশ্নবোধক (استفهام) শব্দে শিরোনাম প্রদান করেন যেখানে তিনি সম্ভাব্য দুটি বিষয়ের কোনো একটির ওপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত (جزم) প্রদান করেন না। আবার অনেক সময় তিনি এমন বিষয় দিয়ে শিরোনাম প্রদান করেন যার উদ্দেশ্য গভীর অভিনিবেশ ব্যতীত স্পষ্ট হয় না; যেমন তাঁর উক্তি: "অধ্যায়: কোনো ব্যক্তির এ কথা বলা যে আমরা সালাত পড়িনি", কারণ তাঁর উদ্দেশ্য হলো ঐ ব্যক্তিদের মত খন্ডন করা যারা এটি বলা অপছন্দ করতেন। অনেক সময় তিনি এমন শব্দ ব্যবহার করেন যা এমন একটি হাদিসের অর্থের দিকে ইঙ্গিত (إيماء) করে যা তাঁর শর্ত (شرط) অনুযায়ী বিশুদ্ধ (صحيح) নয়। অথবা তিনি শিরোনামে সরাসরি এমন হাদিসের শব্দ নিয়ে আসেন যা তাঁর শর্ত অনুযায়ী বিশুদ্ধ (صحيح) নয় এবং অধ্যায়ের অধীনে এমন কিছু বিষয় উল্লেখ করেন যা কখনো স্পষ্ট (ظاهر) আবার কখনো সূক্ষ্ম (خفي) পন্থায় সেই অর্থটিই প্রদান করে। কখনো কখনো তিনি কেবল সেই শিরোনামটির ওপরই নির্ভর করেন যা মূলত তাঁর শর্ত অনুযায়ী বিশুদ্ধ (صحيح) নয় এমন একটি হাদিসের শব্দ, এবং এর সাথে তিনি কোনো আসার (أثر) বা কুরআনের আয়াত উল্লেখ করেন; যেন তিনি বলতে চাইছেন যে এই অধ্যায়ে তাঁর শর্ত অনুযায়ী কোনো কিছুই বিশুদ্ধ (صحيح) নয়। এসব এবং অন্যান্য কারণে একদল গুণী পণ্ডিতের মাঝে এই কথাটি প্রসিদ্ধি লাভ করেছে যে: "ইমাম বুখারীর ফিকহ তাঁর শিরোনামসমূহের (ترجمة) মাঝে নিহিত।"