(খণ্ড: ১) আল-ইমাম আবু আব্বাস ইবনে সুরাইজ আল-মুতাওয়াফফা সানাতা ৩০৬ হিজরি ওয়া আরাউহুল উসুলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
الإمام أبو العباس ابن سريج المتوفي سنة 306 هـ وآراؤه الأصولية   (حسين بن خلف الجبورى)

القسم: أصول الفقه


الكتاب: الإمام أبو العباس ابن سريج المتوفي سنة 306 هـ وآراؤه الأصولية

المؤلف: حسين بن خلف الجبوري

الناشر: الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة

الطبعة: السنة الحادية والعشرون - العددان الواحد والثمانون والثانى والثمانون - المحرم - جمادى الآخرة 1409 هـ

عدد الصفحات: 196

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইমাম আবু আল-আব্বাস ইবনে সুরায়জ (মৃত্যু ৩০৬ হিজরি) এবং তাঁর উসুলী (الأصولية) মতবাদসমূহ   (হুসাইন বিন খালাফ আল-জাব্বুরি)

বিভাগ: ফিকহশাস্ত্রের মূলনীতি (أصول الفقه)


গ্রন্থ: ইমাম আবু আল-আব্বাস ইবনে সুরায়জ (মৃত্যু ৩০৬ হিজরি) এবং তাঁর উসুলী (الأصولية) মতবাদসমূহ

লেখক: হুসাইন বিন খালাফ আল-জাব্বুরি

প্রকাশক: মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়

সংস্করণ: একুশতম বর্ষ - সংখ্যা ৮১ ও ৮২ - মুহাররম - জুমাদাল আখিরাহ ১৪০৯ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৯৬

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ৩০৬) আল-ইমাম আবু আব্বাস ইবনে সুরাইজ আল-মুতাওয়াফফা সানাতা ৩০৬ হিজরি ওয়া আরাউহুল উসুলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪৩)
الإمام أبو العباس ابن سريج المتوفي سنة 306 ص وآراؤه الأصولية

تأليف د/ حسين بن خلف الجبوري كلية الشريعة والدراسات الإسلامية جامعة أم القرى- مكة المَكرمة

‌‌مقدمة

الحمد لله وحده، عالم الغيب والشهادة الكبير المتعال مدبر الكائنات في أزل الآزال، ومقدر الأرزاق والآجال نحمده على فضله الدائم المتكرر، ونشكره على أفضاله التي عمنا بها.

وأصلي وأسلم على البشير النذير سيدنا محمد الهادي إلى نور الإيمان من ظلمات الكفر والضلال، وعلى آله وصحبه ومن سار على نهجه إلى يوم الدين.

وبعدْ: إنهَ لمن فضول القول ونافلة الكلمة أن أشير هنا وأبين ما للأصول من مكانة بين العلوم الشرعية، ثم أن أشيد بمكانة علماء الأصول، لأن مكَانتهم من مكانة أصوله الفقه بين العلوم ولما كانت مكانة الأصول معروفة جلية بين العلوم فكذلك تكون مكَانة علماء الأصول جلية ظاهرة بين العلماء.

وانطلاقا من هذه الأهمية ومن هذه المكانة العلمية لأصول الفقه وعلمائه فقد أقدمت على دراسة الآراء الأصولية لعالم جليل من علماء أصول الفقه وهو الإمام أبو العباس أحمد بن عمر بن سريج الشافعي البغدادي المتوفي سنة 306 هـ.

ودراسة آراء ابن سريج الأصولية لها أهمية كبيرة وفائدة جليلة وذلك لمكانة ابن سريج العلمية بين علماء الشافعية خصوصا وبين علماء عصره عموما.

وهذا ما أثبته في دراسة حياته ومكانته العلمية ومن خلال مصنفاته ومكانة تلاميذه من بعده.
ইমাম আবুল আব্বাস ইবনে সুরাইজ (মৃত্যু ৩০৬ হিজরি) এবং তাঁর মূলনীতি সংক্রান্ত (الأصولية) মতামতসমূহ

রচনায়: ড. হুসাইন বিন খালাফ আল-জুবুরী, শরীয়াহ ও ইসলামি শিক্ষা অনুষদ, উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়—মক্কা আল-মুকাররামা

‌‌উপস্থাপনা

সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য, যিনি দৃশ্য ও অদৃশ্যের পরিজ্ঞাত, সুমহান ও সুউচ্চ; অনাদিকাল থেকে যিনি সৃষ্টিজগতের পরিচালক এবং জীবনোপকরণ ও আয়ুষ্কালের মহান নির্ধারক। আমরা তাঁর চিরন্তন ও অবিরত অনুগ্রহের জন্য তাঁর প্রশংসা করছি এবং তাঁর সেই দানসমূহের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি যা আমাদের পরিবেষ্টন করে আছে।

এবং আমি দরুদ ও সালাম পেশ করছি সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (সা.)-এর প্রতি, যিনি কুফর ও গোমরাহীর অন্ধকার থেকে ঈমানের আলোর দিকে পথপ্রদর্শক; এবং তাঁর পরিবারবর্গ, সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা তাঁর পথ অনুসরণ করবেন তাদের প্রতি।

অতঃপর: শরয়ি জ্ঞানসমূহের মধ্যে মূলনীতিশাস্ত্রের (الأصول) অবস্থান কতখানি সেটি এখানে উল্লেখ করা কিংবা মূলনীতিবিদ (الأصول) আলেমদের মর্যাদার গুণগান করা অনেকটা বাহুল্য মাত্র। কারণ, অন্যান্য জ্ঞানসমূহের মাঝে ফিকহশাস্ত্রের মূলনীতির (أصول الفقه) যে মর্যাদা, সেই মর্যাদা থেকেই তাঁদের এই উচ্চাসন। যেহেতু অন্যান্য জ্ঞানের তুলনায় মূলনীতিশাস্ত্রের (الأصول) অবস্থান অত্যন্ত সুষ্পষ্ট ও সুপ্রসিদ্ধ, তাই আলেমদের মাঝেও মূলনীতিবিদ (الأصول) আলেমদের মর্যাদা অত্যন্ত উজ্জ্বল ও সুষ্পষ্ট।

ফিকহশাস্ত্রের মূলনীতির (أصول الفقه) এবং এর বিজ্ঞ আলেমদের এই গুরুত্ব ও জ্ঞানতাত্ত্বিক মর্যাদার কথা বিবেচনা করেই আমি ফিকহশাস্ত্রের মূলনীতির (أصول الفقه) একজন মহান আলেম ইমাম আবুল আব্বাস আহমদ বিন উমর বিন সুরাইজ শাফেয়ী বাগদাদী (মৃত্যু ৩০৬ হিজরি)-এর মূলনীতি সংক্রান্ত (الأصولية) মতামতসমূহ অধ্যয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।

ইবনে সুরাইজের মূলনীতি সংক্রান্ত (الأصولية) মতামতসমূহ অধ্যয়নের বিশেষ গুরুত্ব ও সুমহান কল্যাণ রয়েছে। এর কারণ হলো বিশেষত শাফেয়ী আলেমদের মধ্যে এবং সাধারণভাবে তাঁর সমসাময়িক আলেমদের মাঝে ইবনে সুরাইজের উচ্চতর জ্ঞানতাত্ত্বিক মর্যাদা।

আর এটিই আমি তাঁর জীবন ও জ্ঞানতাত্ত্বিক মর্যাদা এবং তাঁর রচনাবলি ও তাঁর পরবর্তী ছাত্রদের মর্যাদামূলক আলোচনার মাধ্যমে প্রমাণ করেছি।
(খণ্ড: ৩০৬) আল-ইমাম আবু আব্বাস ইবনে সুরাইজ আল-মুতাওয়াফফা সানাতা ৩০৬ হিজরি ওয়া আরাউহুল উসুলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪৪)
وهناك أسباب كثيرة دفعتني لأن أقوم بجمع ودراسة آراء ابن سريج الأصولية وإظهارها في مؤلف مستقل جمعتها من بطون كتب أصول الفقه التي حوت في ثناياها الأقوال الأصولية لابن سريج ومن هذه الأسباب ما يلي:

أولاً: المكانة العلمية التي يتمتع بها ابن سريج بين علماء الشافعية خصوصا وعلماء عصره عموما حتى قيل عنه بأنه الشافعي الصغير.

ثانياً: لقد اعتبر ابن سريج من المجتهدين وقد انتهت إليه رئاسة المذهب الشافعي بل اعتبر مجدد المائة الثالثة من الهجرة.

ثالثاً: كثرة ما ورد له من أقوال أصولية ولما لهذه الأقوال من أهمية من الناحية العلمية الاستدلالية.

رابعاً: لم يظهر كتاب في أصول الفقه للشافعية يتناول الأقوال الأصولية عند الشافعية في الفترة الزمنية التي عاش فيها ابن سريج. بل الذي ظهر هو كتاب الرسالة للإمام الشافعي ومعلوم أن الرسالة لم تتناول في ثنايا ما ورد فيها جميع أبواب الأصول وقواعده هذا مما يحتم جمع أقوال ابن سريج لأنه عاصر هذه الفترة الزمنية التي لا يوجد فيها للشافعية أصول مدونة غير الرسالة.

خامساً: كثرة تلاميذ ابن سريج ومكانتهم العلمية بعد وفاته حيث إنهم قد أثروا وأثروا في المذهب الشافعي في الفترة التي عاشوا فيها. ويظهر ذلك من خلال ما أقدمه من دراسة عنهم.

لعل هذه أهم الأسباب التي دفعتني وشجعتني على الكتابة عن هذا العالم الجليل في تلك الفترة الزمنية لما لها من أهمية في تاريخ الأمة الإسلامية. وقبل أن أبين عملي في هذا البحث أقول قد يقول قائل لماذا لم تقارن هذه الأقوال بآراء الآخرين من الأصوليين وتناظر بين أقوال ابن سريج وأدلته؟ أقول لو عمدت إلى أن يكون البحث بهذه الصورة لأدى إلى عدم تحقيق الهدف وهو إبراز الآراء الأصولية لابن سريج لأن ذكر بقية الأقوال سواء كانت للجمهور أم أقوال منفردة لبعض علماء الأصول سيؤدي إلى عدم إظهار آراء ابن سريج.

كما أن هيئة المقارنة هذه موجودة في كتب الأصول عند كل مسألة من المسائل ولو ذكرت هنا لأدى إلى فوات الهدف من بيان آراء ابن سريج. لذا اخترت أن أذكرها منفردة وهذا ما أدى إلى عدم الرد على أقواله ومناقشتها لأن الرد والمناقشة يقتضي ذكر أقوال الآخرين وأدلتهم ومناقشتها ثم الترجيح بينها.

ويمكن أن أبين عملي في إظهار هذه الأقوال والآراء بما هي عليه في هذا المؤلف فأقول:
এমন অনেক কারণ রয়েছে যা আমাকে ইবনে সুরাইজের উসূল সংক্রান্ত মতামতগুলো সংগ্রহ ও অধ্যয়ন করতে এবং সেগুলোকে একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থে প্রকাশ করতে উদ্বুদ্ধ করেছে। আমি এগুলো উসূলুল ফিকহের মূল কিতাবসমূহ থেকে সংগ্রহ করেছি যেগুলোর পাতায় পাতায় ইবনে সুরাইজের উসূল সংক্রান্ত বক্তব্যগুলো নিহিত ছিল। এই কারণগুলোর মধ্যে কয়েকটি নিম্নরূপ:

প্রথমত: শাফিঈ আলেমদের মধ্যে বিশেষভাবে এবং সাধারণভাবে তাঁর সমসাময়িক আলেমদের মাঝে ইবনে সুরাইজ যে উচ্চ ইলমি মর্যাদার অধিকারী ছিলেন, এমনকি তাঁর সম্পর্কে বলা হতো যে, তিনি হলেন ‘ছোট শাফিঈ’।

দ্বিতীয়ত: ইবনে সুরাইজকে মুজতাহিদদের (المجتهدين) অন্তর্ভুক্ত গণ্য করা হয় এবং তাঁর মাধ্যমেই শাফিঈ মাযহাবের নেতৃত্বের পূর্ণতা আসে। বরং তাঁকে হিজরি তৃতীয় শতাব্দীর মুজাদ্দিদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

তৃতীয়ত: তাঁর থেকে বর্ণিত উসূল সংক্রান্ত বক্তব্যের প্রাচুর্য এবং জ্ঞানতাত্ত্বিক ও দলিলভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গিতে এসব বক্তব্যের গুরুত্ব।

চতুর্থত: ইবনে সুরাইজ যে সময়কালে বসবাস করতেন, তখন শাফিঈদের মাঝে এমন কোনো উসূলুল ফিকহের কিতাব প্রকাশিত হয়নি যা শাফিঈদের উসূল সংক্রান্ত বক্তব্যসমূহ নিয়ে আলোচনা করে। বরং তখন ইমাম শাফিঈর আর-রিসালাহ কিতাবটিই বিদ্যমান ছিল। এটি সর্বজনবিদিত যে, আর-রিসালাহ কিতাবটি এর ভেতরে উসূলের সমস্ত অধ্যায় ও নীতিমালাকে অন্তর্ভুক্ত করেনি। তাই ইবনে সুরাইজের বক্তব্যগুলো সংগ্রহ করা অপরিহার্য হয়ে পড়ে, কারণ তিনি এমন এক যুগে ছিলেন যখন শাফিঈদের মাঝে আর-রিসালাহ ছাড়া আর কোনো সংকলিত উসূলের কিতাব ছিল না।

পঞ্চমত: ইবনে সুরাইজের অসংখ্য ছাত্র এবং তাঁর ইন্তেকালের পর তাঁদের উচ্চ ইলমি মর্যাদা; কারণ তাঁরা তাঁদের সময়কালে শাফিঈ মাযহাবের প্রসারে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার ও অবদান রেখেছিলেন। তাঁদের সম্পর্কে আমার উপস্থাপিত অধ্যয়নের মাধ্যমে বিষয়টি স্পষ্ট হবে।

সম্ভবত এগুলোই প্রধান কারণ যা আমাকে ইসলামী উম্মাহর ইতিহাসে ওই গুরুত্বপূর্ণ সময়কালের এই মহান আলেম সম্পর্কে লিখতে উদ্বুদ্ধ ও উৎসাহিত করেছে। এই গবেষণায় আমার কর্মপদ্ধতি বর্ণনা করার আগে আমি বলতে চাই যে, কেউ প্রশ্ন করতে পারেন—কেন আমি এই বক্তব্যগুলোকে অন্যান্য উসূলবিদদের মতামতের সাথে তুলনা করিনি এবং ইবনে সুরাইজের বক্তব্য ও তাঁর দলিলগুলোর মধ্যে তুলনামূলক আলোচনা বা বিতর্ক উপস্থাপন করিনি? এর উত্তরে আমি বলব, আমি যদি গবেষণার রূপরেখা এমন করতাম, তবে মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হতো। আর সে উদ্দেশ্য হলো—ইবনে সুরাইজের উসূল সংক্রান্ত মতামতগুলোকে ফুটিয়ে তোলা। কারণ অন্যান্য মতামত উল্লেখ করলে, তা জমহুর (جمهور) আলেমদের হোক কিংবা কোনো উসূলবিদের ব্যক্তিগত অভিমত, তাতে ইবনে সুরাইজের নিজস্ব মতামতগুলো স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হতো না।

তাছাড়া এই তুলনামূলক পদ্ধতি উসূলের কিতাবসমূহের প্রতিটি মাসআলাতেই বিদ্যমান। আমি যদি এখানে তা উল্লেখ করতাম, তবে ইবনে সুরাইজের মতামতগুলো সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করার লক্ষ্যটি অর্জিত হতো না। তাই আমি তাঁর মতামতগুলো স্বতন্ত্রভাবে উল্লেখ করাকেই বেছে নিয়েছি। আর এই কারণেই তাঁর বক্তব্যগুলোর খণ্ডন বা সেগুলো নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়নি; কারণ খণ্ডন ও পর্যালোচনার দাবি হলো অন্যদের বক্তব্য ও তাঁদের দলিলসমূহ উল্লেখ করা, সেগুলোর ব্যবচ্ছেদ করা এবং তারপর মতামতসমূহের মধ্যে অগ্রাধিকার (الترجيح) প্রদান করা।

এই গ্রন্থে উক্ত বক্তব্য ও মতামতসমূহকে যেভাবে আছে সেভাবে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে আমার কর্মপদ্ধতি আমি নিম্নোক্তভাবে বর্ণনা করতে পারি:
(খণ্ড: ৩০৬) আল-ইমাম আবু আব্বাস ইবনে সুরাইজ আল-মুতাওয়াফফা সানাতা ৩০৬ হিজরি ওয়া আরাউহুল উসুলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪৫)
أولاً: عملت دراسة أظنها كافية وافية عن ابن سريج أظهرت من خلالها مكانته العلمية بين علماء عصره.

ثانياً: قمت بجمع وإخراج للآراء الأصولية لابن سريج من بطون الكتب الأصولية سواء كانت للشافعية أم لغيرهم واقتصرت على ذكر هذه الكتب ولم أذكر أي مرجع لم يتعرض بالذكر لآراء ابن سريج الأصولية.

ثالثاً: رتبت هذه الأقوال على حسب ترتيب أبواب أصول الفقه التي جرف ترتيبها عند علماء أصول الشافعية.

رابعاً: أثبت هذه الأقوال على شكل مسائل منفردة كل منها عن الأخرىَ حسب ورودها في كتب الأصول.

خامساً: قمت بترتيب الأدلة وترقيمها تسلسليا حيث إنها في كثير من المسائل التي لم تكن مرتبة ولا متسلسلة، كما أني أظهرت وأبرزت أوجه الاستدلال من كل دليل من أدلته.

سادساً: ذكرت أرقام الآيات والسور التي استدار بها ابن سريج.

سابعاً: خرجت الأحاديث والآثار التي استدل بها ابن سريج في أقواله الأصولية.

هذا وأدعو الله عز وجل مخلصا صادقا في أن يجعل عملي هذا في ميزان حسناتي يوم تنقطع الأعمال والأقوال ولا يبقى إلا ما قدم الإنسان من الإحسان وما خلف من علم نافع ينتفع به من بعده.

اللهم حقق لي هذا يا رب ونجني بهذا العمل وغيره من عذابك الذي لا نقوى عليه ولا على ما هو دونه.

وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه ومن سار على نهجه إلى يوم الصراط والحساب.

د. حسن بن خلف الجبوري
প্রথমত: আমি ইবনে সুরাইজ সম্পর্কে একটি পর্যাপ্ত ও পূর্ণাঙ্গ গবেষণা সম্পন্ন করেছি, যার মাধ্যমে তাঁর সমসাময়িক আলেমদের মাঝে তাঁর জ্ঞানতাত্ত্বিক মর্যাদা ফুটিয়ে তুলেছি।

দ্বিতীয়ত: আমি শাফেয়ি বা অন্যান্য মাযহাবের উসুল সংক্রান্ত মূল গ্রন্থসমূহ থেকে ইবনে সুরাইজের উসুলি মতামত (الآراء الأصولية) সংকলন ও চয়ন করেছি। আমি কেবল সেই কিতাবগুলো উল্লেখ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছি এবং এমন কোনো রেফারেন্স উল্লেখ করিনি যেখানে ইবনে সুরাইজের উসুলি মতামতের (الآراء الأصولية) কোনো বর্ণনা নেই।

তৃতীয়ত: আমি এই বক্তব্যগুলোকে ফিকহ শাস্ত্রের মূলনীতি (أصول الفقه)-এর অধ্যায়গুলোর বিন্যাস অনুযায়ী সাজিয়েছি, যা শাফেয়ি উসুলি আলেমদের মাঝে প্রচলিত বিন্যাস অনুসরণ করে করা হয়েছে।

চতুর্থত: উসুলের কিতাবসমূহে বর্ণিত হওয়া অনুযায়ী আমি এই বক্তব্যগুলোকে একে অপরের থেকে পৃথক স্বতন্ত্র মাসআলা (مسائل) হিসেবে উপস্থাপন করেছি।

পঞ্চমত: আমি দলিলসমূহকে (الأدلة) ক্রমানুসারে বিন্যস্ত ও নম্বর প্রদান করেছি, কারণ অনেক মাসআলার ক্ষেত্রেই সেগুলো সুবিন্যস্ত বা ধারাবাহিক ছিল না। পাশাপাশি আমি প্রতিটি দলিলের যুক্তিপ্রদর্শনের পদ্ধতিসমূহ (أوجه الاستدلال) সুস্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলেছি।

ষষ্ঠত: ইবনে সুরাইজ যেসব সূরা ও আয়াতের উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন আমি সেগুলোর নম্বর উল্লেখ করেছি।

সপ্তমত: ইবনে সুরাইজ তাঁর উসুলি বক্তব্যসমূহে যেসব হাদিস ও আছার (الآثار) দ্বারা দলিল পেশ করেছেন, আমি সেগুলোর উৎসসূত্র যাচাই (تخريج) করেছি।

পরিশেষে, আমি মহান আল্লাহর নিকট একনিষ্ঠ ও নিবেদিতভাবে এই প্রার্থনা করি যেন তিনি আমার এই কাজকে আমার নেক আমলের পাল্লায় যুক্ত করেন; সেদিন, যেদিন সমস্ত আমল ও কথা বন্ধ হয়ে যাবে এবং কেবল মানুষের কৃত উত্তম কাজ এবং তার রেখে যাওয়া এমন উপকারী জ্ঞান অবশিষ্ট থাকবে যার মাধ্যমে পরবর্তী প্রজন্ম উপকৃত হয়।

হে আল্লাহ, আমার এই আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ করুন এবং এই আমল ও অন্যান্য আমলের উসিলায় আমাকে আপনার সেই আজাব থেকে মুক্তি দিন যা সহ্য করার ক্ষমতা আমাদের নেই, এমনকি তার চেয়ে সামান্য কষ্টও আমরা সহ্য করতে সক্ষম নই।

আমাদের শেষ কথা হলো—সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (সা.), তাঁর পরিবারবর্গ, সাহাবীগণ এবং বিচার দিবস পর্যন্ত যারা তাঁর পথ অনুসরণ করবেন তাদের ওপর।

ড. হাসান বিন খালাফ আল-জুবুরি
(খণ্ড: ৩০৬) আল-ইমাম আবু আব্বাস ইবনে সুরাইজ আল-মুতাওয়াফফা সানাতা ৩০৬ হিজরি ওয়া আরাউহুল উসুলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪৫)
‌‌الدراسة عن الإمام أبي العباس ابن سريج

‌‌مدخل

…

الدراسة عن الإمام أبي العباس ابن سريج المتوفي سنة 306 هـ

الدراسة عن الإمام أبي العباس ابن سريج الشافعي البغدادي تتناول جوانب متعددة ونواح متفرعة من حياته الشخصية والعلمية لذا أرى بيانها في المباحث الآتية:
ইমাম আবুল আব্বাস ইবনে সুরাইজ সংক্রান্ত গবেষণা

ভূমিকা

…

৩০৬ হিজরি সনে ইন্তেকালকারী ইমাম আবুল আব্বাস ইবনে সুরাইজ সংক্রান্ত গবেষণা

ইমাম আবুল আব্বাস ইবনে সুরাইজ শাফিঈ বাগদাদী সংক্রান্ত গবেষণায় তাঁর ব্যক্তিগত ও ইলমি জীবনের নানাবিধ দিক এবং বিবিধ পর্যায়সমূহ আলোচিত হয়েছে, তাই আমি সেগুলো নিম্নোক্ত পরিচ্ছেদসমূহে বর্ণনা করা সমীচীন মনে করছি:
(খণ্ড: ৩০৬) আল-ইমাম আবু আব্বাস ইবনে সুরাইজ আল-মুতাওয়াফফা সানাতা ৩০৬ হিজরি ওয়া আরাউহুল উসুলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪৬)
‌‌المبحث الأول في اسمه ونسبه ووفاته

هو أحمد بن عمر بن سريج، أبو العباس، الشافعي البغدادي. وسريج بضم السين وفتح الراء وسكون الياء بعدها الجيم.

وسريج جده كان تقياً ورعا، ومشهور بالصلاح الوافر1. ولد ابن سريج سنة 248هـ ببغداد وتوفي فيها في جماد الأولى سنة 306هـ عن سبع وخمسين سنة وستة أشهر، ودفن بحجرة سويقة غالب2. وقيل يوم الاثنين الخامس والعشرين من شهر ربيع الأول3.

--------------------------------------------

1 انظر: طبقات الشافعية 41، والفتح المبين في طبقات الأصوليين 1/165، ووفيات الأعيان 1/66.

2 انظر: المنتظم 6/149، وشذرات الذهب 2/247، وطبقات الشافعية لابن قاضي شهبة 1/50، وتهذيب الأسماء واللغات 2/251، وتذكرة الحفاظ 3/811، والعبر 1/450، وطبقات الشافعية 41.

3 انظر: وفيات الأعيان 1/66.
‌‌প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর নাম, বংশপরিচয় ও মৃত্যু প্রসঙ্গে

তিনি হলেন আহমদ বিন উমর বিন সুরাইজ, আবু আব্বাস, শাফিঈ বাগদাদি। আর 'সুরাইজ' শব্দটি সীন-এর পেশ (ضمة), রা-এর যবর (فتحة), ইয়া-এর সাকিন (سكون) এবং এরপর জীম যোগে গঠিত।

তাঁর দাদা সুরাইজ অত্যন্ত মুত্তাকি (تقياً), পরহেজগার (ورعاً) এবং ব্যাপক সততার (بالصلاح الوافر) জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন ১। ইবনে সুরাইজ ২৪৮ হিজরি সনে বাগদাদে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৩০৬ হিজরি সনের জুমাদাল উলা মাসে সেখানে সাতান্ন বছর ছয় মাস বয়সে ইন্তেকাল করেন। তাঁকে সুওয়াইকাহ গালিবের প্রকোষ্ঠে দাফন করা হয় ২। কেউ কেউ বলেছেন যে, তিনি রবিউল আউয়াল মাসের পঁচিশ তারিখ সোমবার ইন্তেকাল করেন ৩।

--------------------------------------------

১ দেখুন: তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ ৪১, আল-ফাতহুল মুবিন ফি তাবাকাতিল উসুলিয়্যিন ১/১৬৫ এবং ওফায়াতুল আইয়ান ১/৬৬।

২ দেখুন: আল-মুনতাজাম ৬/১৪৯, শাযারাতুয যাহাব ২/২৪৭, তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ লি-ইবনু কাদি শুহবাহ ১/৫০, তাহযিবুল আসমা ওয়াল লুগাত ২/২৫১, তাযকিরাতুল হুফফাজ ৩/৮১১, আল-ইবার ১/৪৫০ এবং তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ ৪১।

৩ দেখুন: ওফায়াতুল আইয়ান ১/৬৬।
(খণ্ড: ৩০৬) আল-ইমাম আবু আব্বাস ইবনে সুরাইজ আল-মুতাওয়াফফা সানাতা ৩০৬ হিজরি ওয়া আরাউহুল উসুলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪৬)
‌‌المبحث الثاني: في مكانته العلمية

‌‌مدخل

…

المبحث الثاني في مكانته العلمية4

لابن سريج مكانته العلمية الكبيرة المشهورة إذ أنه إمام الشافعية في عصره.

لذا أرى من أجل إعطاء هذه المكانة حقها في البحث، ولإنصاف الرجل كما ينبغي في مكانته العلمية التي كان يتمتع بها بين علماء زمانه. أرى أن يكون الكلام متناولاً لجميع النواحي التي تبرز هذه المكانة، ويظهر بها المقام الائق بابن سريج. ويمكن تحقيق ذلك بالجوانب الآتية:

--------------------------------------------

4 انظر: تاريخ بغداد 4/287، وطبقات الفقهاء 108، وتذكرة الحفاظ 3/811، والعبر 1/450، وطبقات الفقهاء الشافعية 62، وطبقات الشافعية 41، وشذرات الذهب 2/247، وسير أعلام النبلاء 14/202، والمنتظم 6/149.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর ইলমি মর্যাদা প্রসঙ্গে

ভূমিকা

…

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর ইলমি মর্যাদা প্রসঙ্গে ৪

ইবনে সুরাইজ-এর বিশাল ও সুপ্রসিদ্ধ ইলমি মর্যাদা রয়েছে, যেহেতু তিনি তাঁর সমসাময়িক যুগে শাফেয়িদের ইমাম (إمام) ছিলেন।

তাই আমি মনে করি, গবেষণায় এই মর্যাদাকে যথাযথভাবে তুলে ধরার জন্য এবং তাঁর সমকালীন আলেমদের মাঝে তিনি যে ইলমি মর্যাদা ভোগ করতেন, সেই অনুযায়ী তাঁর প্রতি যথার্থ ইনসাফ করার জন্য আলোচনাটি এমন হওয়া উচিত যা তাঁর এই মর্যাদার সকল দিককে ফুটিয়ে তোলে এবং ইবনে সুরাইজের উপযুক্ত মর্যাদা প্রকাশ করে। আর নিম্নোক্ত দিকগুলোর মাধ্যমে তা অর্জন করা সম্ভব হতে পারে:

--------------------------------------------

৪ দেখুন: তারিখ বাগদাদ ৪/২৮৭, তাবাকাতুল ফুকাহা ১০৮, তাজকিরাতুল হুফফাজ ৩/৮১১, আল-ইবার ১/৪৫০, তাবাকাতু ফুকাহায়িশ শাফেয়িয়্যাহ ৬২, তাবাকাতুশ শাফেয়িয়্যাহ ৪১, শাজারাতুজ জাহাব ২/২৪৭, সিয়ারু আলামিন নুবালা ১৪/২০২, আল-মুন্তাজাম ৬/১৪৯।
(খণ্ড: ৩০৬) আল-ইমাম আবু আব্বাস ইবনে সুরাইজ আল-মুতাওয়াফফা সানাতা ৩০৬ হিজরি ওয়া আরাউহুল উসুলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪৬)
أولاً: ما قاله العلماء في حقه:

كان أبو العباس ابن سريج يلقب بالباز الأشهب، وهو من الطبقة الثالثة من طبقات الفقهاء الشافعية. كان إماماً مشهوراً وقاضياً عادلاً، وهو الذي نشر المذهب الشافعي وبسطه.
প্রথমত: তাঁর সম্পর্কে আলেমদের (علماء) বক্তব্য:

আবু আল-আব্বাস ইবনে সুরাইজ 'আল-বাজ আল-আশহাব' উপাধিতে ভূষিত ছিলেন এবং তিনি শাফেয়ী ফকিহদের (فقهاء) স্তরের (طبقة) মধ্যে তৃতীয় স্তরের (طبقة) অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন প্রখ্যাত ইমাম (إمام) এবং ন্যায়পরায়ণ বিচারক (قاضي); তিনিই শাফেয়ী মাজহাবের প্রচার ও প্রসার ঘটিয়েছিলেন।
(খণ্ড: ৩০৬) আল-ইমাম আবু আব্বাস ইবনে সুরাইজ আল-মুতাওয়াফফা সানাতা ৩০৬ হিজরি ওয়া আরাউহুল উসুলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪৭)
قال عنه البعض: "بأنه يفضل على جميع الأصحاب حتى على المزني، وقد أخذ عنه خلق كثير".

وقال البعض في حقه: "بأنه شيخ الأصحاب وسالك سبيل الإنصاف، وصاحب الأصول والفروع، والحساب، وناقض قوانين المعترضين على الشافعي، ومعارض جوا بات الخصوم".

وقال عنه الشيخ أبو حامد الاسفراييني: "نحن نجري مع ابن سيرين في ظواهر الفقه دون دقائقه".

وقال أبو علي بن خيران. سمعت أبا العباس بن سريج يقول: "رأيت كأنما مطرنا كبريتا أحمر فملأت اكماجي وحجري فعبرت لي أن أرزق علما عزيزاً كعزة الكبريت الأحمر".

وقال الحاكم وغيره1: سمعت حسان بن محمد يقول: "كنا في مجلس ابن سريج سنة ثلاث وثلاثمائة فقام إليه شيخ من أهل العلم فقال: أبشر أيها القاضي فإن الله يبعث على رأس كل مائة سنة من يجدد- يعنى للأمة- أمر دينها2 وأن الله بعث على رأس المائة عمر بن عبد العزيز رضي الله عنه فأظهر كل سنّة وأمات كل بدعة. وبعث على رأس المائتين محمد بن إدريس الشافعي رضي الله عنه حتى أظهر السنّة وأخفى البدعة. وبعثك على رأس الثلاثمائة حتى قويت كل سنة وضعفت كل بدعة ثم أنشأ يقول:

اثنان قد مضيا فبورك فيهما … عمر الخليفة ثم خلف السودد

الشافعي الألمعي محمد … خير البرية وابن عم محمد

أرجو أبا العباس أنك ثالث … من بعدهم سقيا لتربة أحمد

قال: "فصاح أبو العباس بن سريج: وبكى فقال: لقد نعى إليّ نفسي". قال حسان: "فمات القاضي أبو العباس في تلك السنة".

وجاء في تذكرة الحفاظ3. كذا في النسخة سنة ثلاث وكأنها سنة ست تصحفت.

كان أبو العباس: صاحب سنة واتباع، إذ أنه سئل عن صفات الله تعالى فقال: "حرام على العقول أن تمثل الله، وعلى الأوهام أن تجده، وعلى الألباب أن تصف إلا ما وصف به نفسه في كتابه، أو على لسان رسوله صلى الله عليه وسلم.

--------------------------------------------

1 انظر: المستدرك 4/522، وشذرت الذهب 2/248، وتاريخ بغداد 6/289.

2 انظر: مختصر سنن أبي داود_ كتاب الملاحم 6/163.

3 انظر: تذكرة الحفاظ 3/811.
কেউ কেউ তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "তিনি আল-মুজানি সহ সকল সহচরের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব রাখেন এবং অসংখ্য লোক তাঁর নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন।"

আবার কেউ কেউ তাঁর প্রশংসায় বলেছেন: "তিনি ছিলেন সহচরদের শাইখ (প্রধান) এবং ইনসাফের পথের পথিক। তিনি উসুল (মূলনীতি) ও ফুরু (শাখা-প্রশাখা) এবং গণিতশাস্ত্রে পারদর্শী ছিলেন। তিনি ইমাম শাফিয়ীর বিরোধিতাকারীদের নীতিসমূহ খণ্ডনকারী এবং প্রতিপক্ষের আপত্তির যোগ্য জবাবদানকারী ছিলেন।"

শাইখ আবু হামিদ আল-ইসফরাইনি তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "আমরা ইবনে সিরিনের সাথে ফিকহের প্রকাশ্য বিষয়গুলো নিয়ে চলি, এর সূক্ষ্ম ও জটিল বিষয়গুলো নিয়ে নয়।"

আবু আলি বিন খাইরান বলেন, আমি আবুল আব্বাস বিন সুরিজকে বলতে শুনেছি: "আমি স্বপ্নে দেখলাম যেন আমাদের ওপর লাল গন্ধক বর্ষিত হচ্ছে। আমি আমার আস্তিন ও কোল তা দিয়ে পূর্ণ করলাম। আমার কাছে এর ব্যাখ্যা করা হলো যে, আমাকে এমন বিরল জ্ঞান দান করা হবে যা লাল গন্ধকের মতোই দুষ্প্রাপ্য।"

আল-হাকিম ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন: আমি হাসসান বিন মুহাম্মদকে বলতে শুনেছি: "আমরা ৩০৩ হিজরিতে ইবনে সুরিজের মজলিসে ছিলাম। তখন এক আলিম দাঁড়িয়ে বললেন: হে কাজি! আপনি সুসংবাদ গ্রহণ করুন। কেননা আল্লাহ তাআলা প্রতি একশ বছরের মাথায় এমন একজনকে প্রেরণ করেন যিনি—অর্থাৎ এই উম্মতের জন্য—দ্বীনের সংস্কার সাধন করেন। আল্লাহ তাআলা প্রথম শতকের মাথায় উমর বিন আব্দুল আজিজ (রা.)-কে পাঠিয়েছেন, ফলে তিনি প্রতিটি সুন্নাহ (سنة) প্রকাশ করেছেন এবং প্রতিটি বিদআত (بدعة) মিটিয়ে দিয়েছেন। দ্বিতীয় শতকের মাথায় মুহাম্মদ ইবনে ইদ্রিস আশ-শাফিয়ী (রা.)-কে পাঠিয়েছেন, যার মাধ্যমে তিনি সুন্নাহকে (سنة) জয়ী করেছেন এবং বিদআতকে (بدعة) অবদমিত করেছেন। আর ৩০০ হিজরির মাথায় আল্লাহ আপনাকে পাঠিয়েছেন, যার ফলে প্রতিটি সুন্নাহ (سنة) শক্তিশালী হয়েছে এবং প্রতিটি বিদআত (بدعة) দুর্বল হয়েছে। অতঃপর তিনি আবৃত্তি করলেন:

দুইজন অতিক্রান্ত হয়েছেন যাদের মধ্যে বরকত নিহিত ছিল … খলিফা উমর এবং যার উত্তরসূরি ছিল শ্রেষ্ঠত্ব

মেধাবী মুহাম্মদ ইবনে ইদ্রিস আশ-শাফিয়ী … সৃষ্টির সেরা এবং মুহাম্মদের (সা.) বংশধর

হে আবুল আব্বাস! আমি আশা করি আপনিই তৃতীয় ব্যক্তি … তাঁদের পরে, আহমদের (সা.) পবিত্র মাটির ওপর শান্তি বর্ষিত হোক

বর্ণনাকারী বলেন: "তখন আবুল আব্বাস বিন সুরিজ চিৎকার করে উঠলেন এবং কাঁদতে কাঁদতে বললেন: এর মাধ্যমে আমার মৃত্যু সংবাদই দেওয়া হলো।" হাসসান বলেন: "কাজি আবুল আব্বাস সেই বছরই মৃত্যুবরণ করেন।"

তাযকিরাতুল হুফফাজ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে: পাণ্ডুলিপিতে ৩০৩ হিজরি এভাবেই রয়েছে, তবে সম্ভবত এটি ৩০৬ হিজরি ছিল যা লিখনশৈলীর কারণে বিকৃত (تصحفت) হয়েছে।

আবুল আব্বাস ছিলেন সুন্নাহ (سنة) ও সুন্নাহর অনুসরণের (اتباع) অনুসারী। তাঁকে আল্লাহ তাআলার গুণাবলি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: "বিবেকের জন্য আল্লাহকে কোনো কিছুর সাথে তুলনা করা হারাম, কল্পনার জন্য তাঁকে খুঁজে পাওয়া অসম্ভব এবং বুদ্ধিবৃত্তির জন্য তাঁর গুণ বর্ণনা করা অসম্ভব—কেবল সেই গুণ ছাড়া যা তিনি স্বয়ং তাঁর কিতাবে বর্ণনা করেছেন অথবা তাঁর রাসুলের (সা.) পবিত্র জবানে বর্ণিত হয়েছে।

--------------------------------------------

১ দেখুন: আল-মুস্তাদরাক ৪/৫২২, শাযারাতুয যাহাব ২/২৪৮ এবং তারিখু বাগদাদ ৬/২৮৯।

২ দেখুন: মুখতাসার সুনান আবু দাউদ—কিতাবুল মালাহিম ৬/১৬৩।

৩ দেখুন: তাযকিরাতুল হুফফাজ ৩/৮১১।
(খণ্ড: ৩০৬) আল-ইমাম আবু আব্বাস ইবনে সুরাইজ আল-মুতাওয়াফফা সানাতা ৩০৬ হিজরি ওয়া আরাউহুল উসুলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪৮)
واشتهر النقل عن ابن سريج أنه قال: "ما رأيت من المتفقهة من اشتغل بالكلام فأفلح، يفوته الفقه، ولا يصل إلى معرفة الكلام".

ইবনে সুরাইজ থেকে এটি প্রসিদ্ধ যে তিনি বলেছেন: "আমি ফিকহ অন্বেষণকারীদের (المتفقهة) মধ্যে এমন কাউকে দেখিনি যে ইলমুল কালামে (الكلام) লিপ্ত হয়ে সফল হয়েছে; সে ফিকহ (الفقه) হারিয়ে ফেলে এবং ইলমুল কালামের (الكلام) প্রকৃত জ্ঞান পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে না।"

(খণ্ড: ৩০৬) আল-ইমাম আবু আব্বাস ইবনে সুরাইজ আল-মুতাওয়াফফা সানাতা ৩০৬ হিজরি ওয়া আরাউহুল উসুলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪৮)
‌‌ثانيا: تقديم العلماء له عليهم تقديرا لمكانته العلمية:

ذكر الخطيب البغدادي في تاريخه1 أن العلماء باتفاق يحترمون مكانة ابن سريج العلمية ويقدمونه عليهم نظرا لهذه المكانة لذا ذكر هذه الرواية مشيرا لهذا المعنى إذ قال: أخبرني أحمد بن محمد بن أحمد الهروي في كتابه، حدثنا الحسن بن إبراهيم بن الحسين الليثي بمصر، حدثني الحسين بن الفتح. قال: "كان ببغداد جمع للقضاة والمعدلين والفقهاء وقاموا ليمضوا إلى موضع فاتفقوا على أن يتقدمهم أبو العباس بن سريج، ومنهم من هو في سن أبيه".

--------------------------------------------

1 انظر: تاريخ بغداد 4/289.
‌‌দ্বিতীয়ত: তাঁর ইলমি মর্যাদার স্বীকৃতিরূপে আলেমগণের তাঁকে অগ্রগণ্য বিবেচনা করা:

আল-খতিব আল-বাগদাদি তাঁর 'তারিখ' গ্রন্থে ১ উল্লেখ করেছেন যে, আলেমগণ ঐকমত্যের ভিত্তিতে ইবনে সুরাইজ-এর ইলমি মর্যাদাকে সম্মান করতেন এবং সেই মর্যাদার প্রতি লক্ষ্য রেখে তাঁকে নিজেদের ওপর অগ্রাধিকার দিতেন। তাই তিনি এই ভাবার্থের প্রতি নির্দেশ করে এই বর্ণনাটি উল্লেখ করে বলেন: আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-হারাউয়ি তাঁর কিতাবে আমাকে সংবাদ দিয়েছেন (أخبرني), হাসান ইবনে ইব্রাহিম ইবনে আল-হুসাইন আল-লায়ছি মিশরে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), হুসাইন ইবনে আল-ফাতহ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني)। তিনি বলেন: "বাগদাদে বিচারক, বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্যতা নিরূপণকারী (المعدلين) এবং ফকিহগণের একটি সমাবেশ ছিল। তাঁরা কোনো এক স্থানে যাওয়ার উদ্দেশ্যে উঠে দাঁড়ালেন এবং সবাই এ বিষয়ে একমত হলেন যে, আবুল আব্বাস ইবনে সুরাইজ তাঁদের সামনে থাকবেন (নেতৃত্ব দেবেন), অথচ তাঁদের মধ্যে এমন ব্যক্তিও ছিলেন যিনি তাঁর পিতার সমবয়সী।"

--------------------------------------------

১ দেখুন: তারিখ বাগদাদ ৪/২৮৯।
(খণ্ড: ৩০৬) আল-ইমাম আবু আব্বাস ইবনে সুরাইজ আল-মুতাওয়াফফা সানাতা ৩০৬ হিজরি ওয়া আরাউহুল উসুলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪৮)
‌‌ثالثاً: مناظرته العلمية للعلماء وانتصاره فيها عليهم

…

ثالثا: مناظراته العلمية للعلماء وانتصاره فيها عليهم:

ويمكن التمثيل لهذه المناظرات بالصور الآتية2:

(1) اجتمع أبو العباس بن سريج وأبو بكر محمد بن داود الظاهري فاحتج أبو بكر على أن أم الولد تباع إذ قال: "أجمعنا إنها كانت أمة تباع، فمن ادعى أن هذا الحكم يزول بولادتها فعليه الدليل". فقال له أبو العباس بن سريج: "وأجمعنا على أنها لما كانت حاملا لا تباع فمن ادعى أنها تباع إذا انفصل الحمل فعليه الدليل". فبهت أبو بكر الظاهري.

(2) كان العباس بن سريج وأبو بكر محمد بن داود الظاهري إذا حضرا مجلس القاضي أبي عمر محمد بن يوسف لم يجر بين اثنين فيما يتفاوضانه أحسن مما يجرى بينهما. وكان ابن سريج كثيرا ما يتقدم أبا بكر في الحضور في المجلس. فتقدمه أبو بكر فسأله: "حدث من الشافعيين عن العَود الموجب في الظهار ما هو؟ ".

فقال: "إنه إعادة القول ثانيا": وهو مذهبه، ومذهب داود فطالبه بالدليل: فشرع فيه، ودخل ابن سريج، فاستشرحهم ما جرى فشرحوه فقال ابن سريج لابن داود: "يا أبا بكر أعزك الله هذا قول مَن مِن المسلمين تقدمكم فيه". فاستشاط أبو بكر من ذلك. وقال: "أتقدر أن من اعتقدت أن قولهم إجماع في هذه المسألة. إجماع عندي. أحسن أحوالهم أن أعدهم خلافا وهيهات أن يكونوا كذلك". فغضب ابن سريج وقال: "إئت يا أبا بكر بكتاب "الزهرة " أمهر منك في هذه الطريقة". فقال أبو بكر: "وبكتاب "الزهرة تعيرني؟ والله ما

--------------------------------------------

2 انظر: طبقات الشافعية الكبرى 3/26.
তৃতীয়ত: আলেমদের সাথে তাঁর জ্ঞানতাত্ত্বিক বিতর্ক এবং তাতে তাঁদের ওপর তাঁর বিজয়

…

তৃতীয়ত: আলেমদের সাথে তাঁর জ্ঞানতাত্ত্বিক বিতর্ক এবং তাতে তাঁদের ওপর তাঁর বিজয়:

এই বিতর্কগুলোকে নিচের উদাহরণগুলোর মাধ্যমে উপস্থাপন করা যেতে পারে:

(১) আবুল আব্বাস ইবনে সুরাইজ এবং আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে দাউদ আল-জাহিরি একত্রিত হলেন। আবু বকর এই মর্মে যুক্তি পেশ করলেন যে, 'উম্মুল ওয়ালাদ' (সন্তানের জননী দাসী) বিক্রি করা বৈধ। তিনি বললেন: "আমরা এ বিষয়ে একমত হয়েছি যে, সে একজন দাসী ছিল যাকে বিক্রি করা যেত। সুতরাং কেউ যদি দাবি করে যে, সন্তান প্রসবের কারণে এই বিধান রহিত হয়ে যাবে, তবে তাকে প্রমাণ (دليل) পেশ করতে হবে।" তখন আবুল আব্বাস ইবনে সুরাইজ তাকে বললেন: "আমরা এ বিষয়েও একমত হয়েছি যে, সে যখন গর্ভবতী ছিল তখন তাকে বিক্রি করা যেত না। এখন গর্ভ খালাস হওয়ার পর তাকে বিক্রি করা যাবে বলে যে দাবি করবে, তাকেই প্রমাণ (دليل) দিতে হবে।" এতে আবু বকর আল-জাহিরি হতভম্ব হয়ে গেলেন।

(২) আবুল আব্বাস ইবনে সুরাইজ এবং আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে দাউদ আল-জাহিরি যখনই বিচারক আবু উমর মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফের মজলিসে উপস্থিত হতেন, তাঁদের আলোচনার চেয়ে সুন্দর আলোচনা আর কারোর মধ্যে হতো না। ইবনে সুরাইজ প্রায়শই আবু বকরের আগেই মজলিসে উপস্থিত হতেন। একদিন আবু বকর তাঁর আগেই উপস্থিত হলেন এবং (সেখানে উপস্থিত এক শাফেয়ি আলেমকে) জিজ্ঞাসা করলেন: "যিহারের (الظهار) ক্ষেত্রে কাফফারা ওয়াজিব হওয়ার কারণ হিসেবে শাফেয়ি মাজহাবের (مذهب) অনুসারীদের নিকট 'প্রত্যাবর্তন' (আল-আওদ) বলতে কী বোঝানো হয়েছে?"

তিনি উত্তর দিলেন: "তা হলো দ্বিতীয়বার সেই কথার পুনরাবৃত্তি করা।" এটি ছিল তাঁর নিজের এবং দাউদ আল-জাহিরির মাজহাব (مذهب)। তখন তিনি তাঁর নিকট প্রমাণ (دليل) চাইলেন এবং তিনি তা বর্ণনা করতে শুরু করলেন। এমন সময় ইবনে সুরাইজ প্রবেশ করলেন এবং সেখানে কী আলোচনা হচ্ছিল তা জানতে চাইলেন। তারা বিষয়টি ব্যাখ্যা করলে ইবনে সুরাইজ ইবনে দাউদকে বললেন: "হে আবু বকর, আল্লাহ আপনাকে সম্মানিত করুন, মুসলিমদের মধ্যে এমন কে আছেন যিনি আপনাদের আগে এই কথা বলেছেন?" আবু বকর এতে অত্যন্ত উত্তেজিত হলেন এবং বললেন: "আপনি কি মনে করেন যাদের বক্তব্যকে আপনি এই মাসআলায় সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত (إجماع) মনে করেন, তা আমার কাছেও সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত (إجماع)? তাদের বড়জোর আমি ভিন্নমত পোষণকারী হিসেবে গণ্য করতে পারি, কিন্তু তারা তেমন হওয়ার যোগ্যও নয়।" ইবনে সুরাইজ রাগান্বিত হয়ে বললেন: "হে আবু বকর, আপনি বরং আপনার 'কিতাবুজ জাহরা' নিয়ে আসুন; আপনি ওই পথেই (কাব্য ও প্রেমচর্চায়) এদের চেয়ে বেশি দক্ষ।" আবু বকর বললেন: "আপনি কি আমাকে 'কিতাবুজ জাহরা' দিয়ে খোটা দিচ্ছেন? আল্লাহর কসম..."

--------------------------------------------

২ দেখুন: তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ আল-কুবরা ৩/২৬।
(খণ্ড: ৩০৬) আল-ইমাম আবু আব্বাস ইবনে সুরাইজ আল-মুতাওয়াফফা সানাতা ৩০৬ হিজরি ওয়া আরাউহুল উসুলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪৯)
تحسن تستتم قراءته قراءة من يفهم، وإنه لمن أحد المناقب إلا كنت أقول فيه:

أكرر في روض المحاسن مقلتي … وأمنع نفسي أن تنال محرما

وينطق سرى عن مترجم خاطري … فلولا اختلاس رده لتكلما

رأيت الهوى دعوى من الناس كلهم … فما أن أرى حبا صحيحا مسلما"

فقال له ابن سريج: "أو علي تفخر بهذا أم القول وأنا الذي أقول:

وماهر بالفتح من لحظاته … قد بت أمنعه لذيذ سنائه

ضنا بحسن حديثه وعتابه … وأكرر اللحظات في وجناته

حتى إذا ما الصبح لاح عموده … ولى بخاتم ربه وبداته"

فقال أبو بكر لأبي عمر: "أن الله القاضي قد أقر بالميت على الحال التي ذكرها وأدعى البراءة بما يوجبه، فعليه إقامة البينة".

فقال ابن سريج: "من مذهبي أن المقر إذا أقر قرارا وناطه بصفة كان إقراره موكولا إلى صفته".

فقال ابن داود: "للشافعي في هذه المسئلة قولان". فقال ابن سريج: "فهذا القول الذي قلته اختياري الساعة".

(3) كان علي بن عيسى الوزير منحرفا عن أبي العباس بن سريج لفضل ترفعه، وتقاعده عن زيارته منصبا بالميل إلى أبي عمر المالكي القاضي لمواظبته على خدمته، ولذلك كان ما قلده من القضاء. وكانت في أبي عمر نخوة على أكفائه من فقهاء بغداد لعلو مرتبته، فحمل ذلك جماعة من الفقهاء على تتبع فتاويه حتى ظفروا له بفتوى خالف فيها الجماعة وخرق الإجماع. وأنهى ذلك إلى الخليفة والوزير فعقدوا مجلسا لذلك. وكان فيمن حضر أبو العباس بن سريج. فلم يرد على السكوت. فقال له الوزير: "ما تقول في ذلك". فقال: "ما أكاد أقول فيهم، وقد ادعوا عليه خرق الإجماع، وأعياه الانفصال عما اعترضوا به عليه، تم أن ما أفتى به قول عدة من العلماء وأعجب ما في الباب أنه قول صاحبه مالك رضي الله عنه، وهو مسطور في كتابه الفلاني" فأمر الوزير بإحضار ذلك الكتاب. فكان الأمر على ما قاله. فأعجب به غاية الإعجاب، وتعجب من حفظه لخلاف مذهبه، وغفلة أبي عمر عن مذهب صاحبه، وصار هذا من أوكد أسباب الصداقة بينه وبين الوزير. ومازالت عَناية الوزير به حتى رشحه للقضاء فامتنع أشد الامتناع. فقال: "إن امتثلت ما مثلته لك وإلا أجبرتك عليه". قال: "افعل ما بدا لك". فأمر الوزير حتى سمر عليه بابه، وعاتبه الناس على
সমঝদার ব্যক্তির ন্যায় এর পাঠ সম্পন্ন করা বাঞ্ছনীয়। আর এটি সেইসব শ্রেষ্ঠত্বের অন্যতম যার প্রেক্ষাপটে আমি বলতাম:

সৌন্দর্যের উদ্যানে আমি বারবার দৃষ্টিপাত করি … এবং নিষিদ্ধ কিছু অর্জন থেকে নিজেকে বিরত রাখি।

আমার অন্তরের অনুবাদকের মাধ্যমে আমার গোপন রহস্য প্রকাশিত হয় … যদি তার গতিরোধ না করা হতো, তবে সে অবশ্যই কথা বলত।

আমি দেখেছি ভালোবাসা সব মানুষের এক দাবি … কিন্তু আমি কোনো বিশুদ্ধ (صحيح) ও নিখুঁত প্রেম দেখি না।

ইবনে সুরাইজ তাকে বললেন: "তুমি কি আমার ওপর এটি নিয়ে গর্ব করছ, নাকি এটি সেই কথা যা আমি বলি:

দৃষ্টির জাদুতে যে নিপুণ … আমি সারারাত তাকে তার রূপের ঔজ্জ্বল্য থেকে বঞ্চিত রেখেছি।

তার চমৎকার কথোপকথন ও অনুযোগের প্রতি মমতা হেতু … আর আমি তার গণ্ডদেশে বারবার দৃষ্টি বুলিয়েছি।

অবশেষে যখন ভোরের আলো উদ্ভাসিত হলো … সে তার রবের মোহর ও শুরুর সাথে প্রস্থান করল।"

আবু বকর আবু ওমরকে বললেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহর কসম, বিচারক মৃত ব্যক্তির ক্ষেত্রে তার বর্ণিত অবস্থার স্বীকৃতি দিয়েছেন এবং সে অনুযায়ী দায়মুক্তির দাবি করেছেন, সুতরাং তাকে প্রমাণ পেশ করতে হবে।"

ইবনে সুরাইজ বললেন: "আমার মাযহাব অনুযায়ী, যদি কোনো স্বীকৃতিকারী কোনো বিষয়ে স্বীকারোক্তি দেয় এবং তাকে কোনো বিশেষণের সাথে যুক্ত করে, তবে তার স্বীকৃতি সেই বিশেষণের ওপরই নির্ভর করবে।"

ইবনে দাউদ বললেন: "এই মাসআলায় শাফেয়ীর দুটি অভিমত রয়েছে।" ইবনে সুরাইজ বললেন: "এই মুহূর্তে আমার মনোনীত অভিমত হলো এটিই যা আমি বললাম।"

(৩) উজির আলী ইবনে ঈসা, আবু আব্বাস ইবনে সুরাইজের উচ্চমর্যাদাবোধ এবং তার সাথে সাক্ষাতে অনাগ্রহের কারণে তার প্রতি বিমুখ ছিলেন। বিপরীতে তিনি কাজী আবু ওমর মালিকীর প্রতি অনুরাগী ছিলেন কারণ তিনি নিয়মিত উজিরের সেবা করতেন এবং একারণেই উজির তাকে বিচারকের পদে নিযুক্ত করেছিলেন। আবু ওমর বাগদাদের সমপর্যায়ের ফকিহদের ওপর আভিজাত্যের গর্ব করতেন তার উচ্চ পদের কারণে। এটি একদল ফকিহকে তার ফতোয়াগুলো নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করতে উৎসাহিত করে, শেষ পর্যন্ত তারা এমন একটি ফতোয়া খুঁজে পান যাতে তিনি জমহুরের বিরুদ্ধাচরণ করেছেন এবং সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত লঙ্ঘন করেছেন। তারা বিষয়টি খলিফা ও উজিরকে অবহিত করলে এ বিষয়ে একটি মজলিস ডাকা হয়। সেখানে আবু আব্বাস ইবনে সুরাইজও উপস্থিত ছিলেন। তিনি মৌন থাকলেন। উজির তাকে বললেন: "এই বিষয়ে আপনার বক্তব্য কী?" তিনি বললেন: "আমি তাদের ব্যাপারে কী বলব, যখন তারা তার বিরুদ্ধে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে এবং তিনি সেই আপত্তির খণ্ডন করতে অপারগ হয়েছেন। প্রকৃতপক্ষে, তিনি যে ফতোয়া দিয়েছেন তা একদল আলেমের অভিমত। আর সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এটি স্বয়ং তার ইমাম মালিকের (রা.) অভিমত এবং এটি তার অমুক কিতাবে বর্ণিত আছে।" উজির তখন কিতাবটি আনার নির্দেশ দিলেন এবং বিষয়টি ইবনে সুরাইজের বর্ণনা অনুসারেই পাওয়া গেল। উজির এতে অত্যন্ত মুগ্ধ হলেন এবং ইবনে সুরাইজ নিজ মাযহাবের বাইরের মতভেদ সম্পর্কে কতটা জ্ঞানী এবং আবু ওমর তার আপন মাযহাব সম্পর্কে কতটা অসচেতন, তা দেখে বিস্মিত হলেন। এটি উজির ও ইবনে সুরাইজের মধ্যে সুদৃঢ় বন্ধুত্বের অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়াল। ইবনে সুরাইজের প্রতি উজিরের অনুগ্রহ অব্যাহত থাকল, এমনকি তিনি তাকে কাজি পদের জন্য মনোনীত করলেন, কিন্তু তিনি তা অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে তা প্রত্যাখ্যান করলেন। উজির বললেন: "আমি যা নির্দেশ দিয়েছি তা যদি পালন না করেন, তবে আমি আপনাকে তা করতে বাধ্য করব।" তিনি বললেন: "আপনার যা ইচ্ছা তা-ই করুন।" তখন উজিরের আদেশে তার ঘরের দরজায় খিল এঁটে দেওয়া হলো এবং লোকজন তাকে এর জন্য ভর্ৎসনা করতে লাগল...
(খণ্ড: ৩০৬) আল-ইমাম আবু আব্বাস ইবনে সুরাইজ আল-মুতাওয়াফফা সানাতা ৩০৬ হিজরি ওয়া আরাউহুল উসুলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫০)
ذلك. فقال: "أردت أن يتسامع الناس أن رجلا من أصحاب الشافعي عومل على تقلد القضاء بهذه المعاملة وهو مصر على إبائه زاهد في الدنيا".

وهذا الأمر يمكن أن يكون في أخر حياته إذ أنه ذكرت كثير من المصادر أنه تولى القضاء بشيراز.

(4) ناظر أبو العباس بن سريج أبا بكر محمد بن داود يوما فقال له1: "أنت تقول بالظاهر، فمن يعمل مثقال ذرة خيرا يره، ومن يعمل مثقل درة شرا يره. فمن يعمل نصف مثقال؟ " فسكت ابن داود طويلا. فقال له ابن سريج: "لم لا تجيب؟ " فقال: "أبلعني ريقي". فقال له أبو العباس: "أبلعتك دجلة". وقال أبو بكر بن سريج يوما: "أمهلني ساعة". فقال له: "أمهلتك من الساعة إلى قيام الساعة".

وقال أبو بكر لابن سريج يوما: "أكلمك من الرجل فتجيبني من الرأس". فقال له: "هكذا البقر إذا جفت أظلافها دهنت قرونها".

--------------------------------------------

1 انظر: شذرات الذهب 2/247، وتهذيب الأسماء واللغات 2/251، وطبقات الفقهاء 2/108، ووفيات الأعيان 1/66.
তদুপরি তিনি বললেন: "আমি চেয়েছিলাম মানুষ এটি জানতে পারুক যে, ইমাম শাফিঈর অনুসারীদের মধ্য থেকে জনৈক ব্যক্তিকে বিচারকের দায়িত্ব (القضاء) গ্রহণের জন্য এই ধরনের আচরণের সম্মুখীন হতে হয়েছে, অথচ তিনি তাঁর অস্বীকৃতিতে অটল এবং দুনিয়াবিমুখ (زاهد) ছিলেন।"

আর এই বিষয়টি তাঁর জীবনের শেষ ভাগে হয়ে থাকতে পারে, কারণ অনেক উৎস উল্লেখ করেছে যে তিনি শিরাজ-এ বিচারকের দায়িত্ব (القضاء) পালন করেছিলেন।

(4) একদিন আবুল আব্বাস ইবনে সুরাইজ, আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে দাউদের সাথে বিতর্কে লিপ্ত হলেন এবং তাকে বললেন১: "আপনি তো বাহ্যিক (الظاهر) অর্থের প্রবক্তা; (কুরআনের আয়াত অনুযায়ী) 'অতঃপর কেউ অণু পরিমাণ সৎকর্ম করলে তা দেখতে পাবে এবং কেউ অণু পরিমাণ অসৎকর্ম করলে তাও দেখতে পাবে।' তবে কেউ যদি অর্ধেক অণু পরিমাণ কাজ করে?" ইবনে দাউদ দীর্ঘক্ষণ নীরব রইলেন। ইবনে সুরাইজ তাকে বললেন: "আপনি উত্তর দিচ্ছেন না কেন?" তিনি বললেন: "আমাকে ঢোক গিলতে দিন (অর্থাৎ সময় দিন)।" আবুল আব্বাস তাকে বললেন: "আমি আপনাকে দজলা নদী গিলিয়ে দিয়েছি।" আবু বকর ইবনে সুরাইজ একদিন বললেন: "আমাকে এক মুহূর্ত সময় দিন।" তিনি তাকে বললেন: "আমি আপনাকে এই মুহূর্ত থেকে কিয়ামত পর্যন্ত সময় দিলাম।"

আবু বকর একদিন ইবনে সুরাইজকে বললেন: "আমি আপনার সাথে পা নিয়ে কথা বলছি আর আপনি আমাকে উত্তর দিচ্ছেন মাথা নিয়ে।" তিনি তাকে বললেন: "গরু যখন তার খুর শুকিয়ে যায়, তখন তার শিংয়ে তেল মাখানো হয় (অর্থাৎ আপনার প্রশ্ন ও উত্তরের কোনো সামঞ্জস্য নেই)।"

--------------------------------------------

১. দ্রষ্টব্য: শাযারাতুয যাহাব ২/২৪৭, তাহযিবুল আসমা ওয়াল লুগাত ২/২৫১, তাবাকাতুল ফুকাহা ২/১০৮ এবং ওফায়াতুল আইয়ান ১/৬৬।
(খণ্ড: ৩০৬) আল-ইমাম আবু আব্বাস ইবনে সুরাইজ আল-মুতাওয়াফফা সানাতা ৩০৬ হিজরি ওয়া আরাউহুল উসুলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫০)
‌‌رابعا. استدراكه على بعض العلماء فيما صدر عنهم من أحكام:

لقد استدرك أبو العباس ابن سريج على الإمام محمد به الحسن الشيباني مسألة في الحساب وهي2.

إذا خلف ابنين وأوصى لرجل بمثل نصيب أحد ابنيه إلا ثلث جميع المال فإن محمد بن الحسن قال: "المسئلة محال، لأنه أستثنى ثلث المال فقط".

وقال أبو العباس ابن سريج: "المسئلة من تسعة لأحد ابنيه أربعة، والثاني مثله، وواحد للموصى له وهو نصيب أحد ابنيه إلا ثلث جميع المال وإذا ضم إلى نصيب الموصي له، صار أربعة". ووجه جواب ابن سريج أنه يجعل إلا ثلث جميع المال قيدا في مثل النصيب، يعني مثل النصيب خارجا منه ثلث الأصل3.

--------------------------------------------

2 انظر: طبقات الشافعية الكبرى 3/21، وطبقات الفقهاء الشافعية 62.

3 انظر: طبقات الشافعية الكبرى 2/93.
‌‌চতুর্থত: কিছু আলিমের প্রদত্ত বিধান (أحكام) সমূহের ওপর তাঁর পর্যবেক্ষণ (استدراكه):

আবু আব্বাস ইবনে সুরাইজ গণিতশাস্ত্রের একটি মাসআলায় ইমাম মুহাম্মদ ইবনে হাসান আশ-শায়বানী-র ওপর পর্যবেক্ষণ (استدراك) প্রদান করেছেন এবং তা হলো ২।

যদি কেউ দুজন পুত্র রেখে যান এবং কোনো ব্যক্তির জন্য তার একজন পুত্রের অংশের সমান অসিয়ত করেন এই শর্তে যে, তা থেকে মোট সম্পদের এক-তৃতীয়াংশ বাদ যাবে; তবে মুহাম্মদ ইবনে হাসান বলেছেন: "মাসআলাটি অসম্ভব (محال), কারণ তিনি কেবল মালের এক-তৃতীয়াংশকে ব্যতিক্রম হিসেবে গণ্য করেছেন।"

আবু আব্বাস ইবনে সুরাইজ বলেন: "মাসআলাটি নয় (৯) ভাগের ভিত্তিতে সমাধানযোগ্য; তার এক পুত্র পাবে চার ভাগ, দ্বিতীয় পুত্রও তদ্রূপ পাবে এবং অসিয়তপ্রাপ্ত ব্যক্তি (الموصى له) পাবে এক ভাগ। আর এটিই হলো তার এক পুত্রের অংশ থেকে মোট মালের এক-তৃতীয়াংশ বাদ দিলে যা অবশিষ্ট থাকে। আর যদি এটি অসিয়তপ্রাপ্ত ব্যক্তির অংশের সাথে যোগ করা হয়, তবে তা চার হবে।" ইবনে সুরাইজের উত্তরের যৌক্তিক ভিত্তি হলো এই যে, তিনি 'মোট মালের এক-তৃতীয়াংশ ব্যতীত' অংশটুকুকে 'পুত্রের অংশের সমান' কথাটির জন্য একটি শর্ত হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন; অর্থাৎ পুত্রের অংশের অনুরূপ অংশ থেকে আসলের (মূল সম্পদের) এক-তৃতীয়াংশ বাদ দিয়ে যা অবশিষ্ট থাকে ৩।

--------------------------------------------

২ দেখুন: তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাতিল কুবরা ৩/২১ এবং তাবাকাতুল ফুকাহাইশ শাফিইয়্যাহ ৬২।

৩ দেখুন: তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাতিল কুবরা ২/৯৩।
(খণ্ড: ৩০৬) আল-ইমাম আবু আব্বাস ইবনে সুরাইজ আল-মুতাওয়াফফা সানাতা ৩০৬ হিজরি ওয়া আরাউহুল উসুলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫০)
‌‌خامسا: بعض المسائل التي اهتم العلماء بنقل أحكامها عنه:

لقد نقل كثير من العلماء آراءه الفقهية والأصولية في كتبهم ومجالسهم العلمية حتى شاعت في الآفاق ومنها ما يلي:

(1) قال الشيخ أبو حامد الاسفراييني كما نقل عنه ذلك الإمام النووي رحمه الله4.

--------------------------------------------

4 تهذيب الأسماء واللغات 2/251.
‌পঞ্চম: কিছু মাসআলা (مسائل) যেগুলোর বিধানসমূহ (أحكام) আলেমগণ তাঁর নিকট থেকে বর্ণনা করার ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেছেন:

অনেক আলেম তাদের গ্রন্থাবলীতে এবং ইলমি মজলিসগুলোতে তাঁর ফিকহী (فقهية) ও উসূলী (أصولية) অভিমতসমূহ বর্ণনা করেছেন, যার ফলে সেগুলো দিগ দিগন্তে ছড়িয়ে পড়েছে। সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

(১) শায়খ আবু হামিদ আল-ইসফারায়িনী বলেছেন, যেমনটি ইমাম নববী (রহ.) তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন ৪।

--------------------------------------------

৪. তাহযীবুল আসমা ওয়াল লুগাত ২/২৫১।
(খণ্ড: ৩০৬) আল-ইমাম আবু আব্বাস ইবনে সুরাইজ আল-মুতাওয়াফফা সানাতা ৩০৬ হিজরি ওয়া আরাউহুল উসুলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫১)
في تعليقه في مسئلة صفة الجلوس في التشهد الأول، قال ابن سريج: "متى عرف من أصول الشافعي شيء ذكره في كتبه عمل به. فمتى وجد في كتبه غير ذلك يؤول، ولم ينزل على ظاهره لئلا يعد قولا آخر له".

(2) نقل عنه أنه قال1: "قل ما رأيت أن المتفقهة من اشتغل بالكلام فأفلح، يفوته الفقه ولا يصل إلى معرفة الكلام".

(3) جاء عن السبكي في طبقاته2: أن ابن سريج قال: "يؤتى يوم القيامة بالشافعي وقد تعلق المزني يقول: رب هذا قد أفسد علومي. فأقول أنا: مهلا، بأبي إبراهيم فإني لم أزل في إصلاح ما أفسد".

(4) جاء في الطبقات الكبرى3 فيما قاله الحاكم: أنه سمع الأستاذ أبا الوليد النيسابوري يقول: "سألت ابن سريج. ما معنى قول الرسول صلى الله عليه وسلم: "قل هو الله أحد تعدل ثلث القرآن" فقال: "إن القرآن أنزل ثلثا منه أحكام، وثلثا منه وعد ووعيد، وثلثا أسماء وصفات. وقد جمع في (قل هو الله أحد) الأسماء وصفات".

(5) وجاء عن العبادي في طبقاته4: أن ابن سريج أفتى في قول من قال: "يا زانية أنت طالق إن شاء الله" "بأنها لم تطلق، وهو قاذف، لأن قوله يا زانية اسم لها، وخبر عن محتمل، والاستثناء لا يرجع للاسم"، وإذا قال: "يا زانية إن شاء الله". "لا يصح الاستثناء، لأنه خبر عن فعل ماض، وهو واقع، ويستحيل تعلق وقوعه بمشيئته من بعد". وإذا قال: "أنت زانية إن شاء الله" "اختلفوا فيه، وقيل لا يصح الاستثناء". قال أبو حامد المروزي: "وقطع به أنه يصح رجوعه، لأنه يجري مجرى التشبيك في الخبر. كما لو قال أنت زانية إن شاء الله".

(6) جاء في طبقات السبكي5: أن قال: "كان ابن سريج يذهب كما حكاه الماوردي في الحاوي في باب "ما على القاضي في الخصوم والشهود" إلى رأَي أهل الكوفة: أن الأولى للحاكم إذا ثبت الحق ألا يسمى في سجله الشهود"، باب يقول: "ثبت عندي بشهادة من رأيت قبول قولهما احتياطا للمحكَوم له. فإنه متى سماهما فتح باب الطعن والقدح عليه". والمعروف عن الشافعية قاطبة عكسه احتياطا للمحكوم عليه. وإنه يقول ثبت عنده لشهادة فلان وفلان.

--------------------------------------------

1 انظر: طبقات الشافعية 1/49، وأيضا سير أعلام النبلاء 14/202، ووفيات الأعيان 1/66، وتذكرة الحفاظ 3/811.

2 انظر: طبقات الشافعية الكبرى 3/21، وتاريخ بغداد 4/287.

3 انظر: طبقات الشافعية الكبرى 3/21.

4 انظر: طبقات الفقهاء الشافعية 62.

5 انظر: طبقات الشافعية الكبرى 3/21.
প্রথম তাশাহহুদে বসার পদ্ধতি সংক্রান্ত মাসআলার ওপর তাঁর মন্তব্যে ইবনে সুরাইজ বলেন: "যখন শাফেয়ীর মূলনীতিসমূহ (أصول) থেকে এমন কিছু জানা যায় যা তিনি তাঁর গ্রন্থাবলীতে উল্লেখ করেছেন, তখন সে অনুযায়ী আমল করা হবে। আর যখন তাঁর গ্রন্থাবলীতে এর বিপরীত কিছু পাওয়া যাবে, তখন তার ব্যাখ্যা করা হবে এবং সেটিকে বাহ্যিক অর্থের ওপর ছেড়ে দেওয়া হবে না, যাতে সেটিকে তাঁর ভিন্ন কোনো বক্তব্য হিসেবে গণ্য না করা হয়।"

(2) তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন১: "আমি খুব কমই দেখেছি যে ফিকহ অন্বেষণকারীদের মধ্যে যারা ইলমুল কালামে লিপ্ত হয়েছে তারা সফল হয়েছে; তাদের ফিকহ ছুটে যায় এবং তারা ইলমুল কালামের প্রকৃত জ্ঞানেও পৌঁছাতে পারে না।"

(3) সুবকি তাঁর তাবাকাত-এ উল্লেখ করেছেন২: ইবনে সুরাইজ বলেন: "কিয়ামতের দিন শাফেয়ীকে উপস্থিত করা হবে এমতাবস্থায় যে মুজানি তাঁকে জড়িয়ে ধরে বলতে থাকবেন: হে রব, এই ব্যক্তি আমার ইলমসমূহ নষ্ট করে দিয়েছেন। তখন আমি বলব: থামুন, আবু ইব্রাহিমের শপথ! কেননা তিনি যা নষ্ট করেছিলেন আমি তা সংশোধনেই রত ছিলাম।"

(4) তাবাকাতুল কুবরা-তে৩ হাকিম যা বলেছেন সে সূত্রে বর্ণিত হয়েছে: তিনি উস্তাদ আবু ওয়ালিদ আন-নাইসাবুরিকে বলতে শুনেছেন: "আমি ইবনে সুরাইজকে জিজ্ঞাসা করলাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: 'কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ কুরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমতুল্য'—এর অর্থ কী? তিনি বললেন: 'কুরআন তিনভাগে অবতীর্ণ হয়েছে: এক-তৃতীয়াংশ বিধিবিধান, এক-তৃতীয়াংশ প্রতিশ্রুতি ও ধমক, এবং এক-তৃতীয়াংশ নাম ও গুণাবলী। আর (কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ) সূরাটিতে নাম ও গুণাবলীসমূহকে একত্রিত করা হয়েছে'।"

(5) আব্বাদি তাঁর তাবাকাত-এ৪ উল্লেখ করেছেন: যে ব্যক্তি বলে: "হে ব্যভিচারিণী, আল্লাহ চাহেন তো তুমি তালাকপ্রাপ্তা"—সে বিষয়ে ইবনে সুরাইজ ফতোয়া দিয়েছেন যে: "সে তালাকপ্রাপ্তা হবে না এবং ওই ব্যক্তি অপবাদদাতা হিসেবে গণ্য হবে। কারণ 'হে ব্যভিচারিণী' সম্বোধনটি তার জন্য একটি নাম এবং এটি একটি সম্ভাব্য বিষয়ের সংবাদ, আর ইস্তিসনা (ব্যতিক্রম প্রকাশ) নামের দিকে ফিরে যায় না।" আর যখন কেউ বলে: "হে ব্যভিচারিণী, আল্লাহ চাহেন তো", তখন "ব্যতিক্রম প্রকাশ সহীহ হবে না, কারণ এটি একটি অতীত কাজের সংবাদ এবং তা বাস্তবে ঘটে গেছে, আর পরবর্তীতে আল্লাহর ইচ্ছার সাথে এর ঘটা সম্পৃক্ত হওয়া অসম্ভব।" আর যদি কেউ বলে: "তুমি ব্যভিচারিণী, আল্লাহ চাহেন তো", তবে এ বিষয়ে "উলামাগণ মতভেদ করেছেন এবং বলা হয়েছে যে ইস্তিসনা সহীহ হবে না।" আবু হামিদ আল-মারওয়াজি বলেন: "এটি নিশ্চিত যে এক্ষেত্রে ইস্তিসনা সহীহ হবে, কারণ এটি সংবাদের ক্ষেত্রে সংশয় তৈরির পর্যায়ে পড়ে। যেমনটি হয় যদি সে বলত: তুমি ব্যভিচারিণী, আল্লাহ চাহেন তো"।"

(6) সুবকির তাবাকাত-এ৫ এসেছে যে: "ইবনে সুরাইজ সেই মতটি গ্রহণ করতেন—যেমনটি মাওয়ারদি আল-হাভি গ্রন্থের 'বাদী-বিবাদী ও সাক্ষীদের বিষয়ে বিচারকের করণীয়' অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন—যা কুফাবাসীদের অভিমত: বিচারকের জন্য উত্তম হলো যখন অধিকার সাব্যস্ত হয়ে যায়, তখন তার নথিপত্রে সাক্ষীদের নাম উল্লেখ না করা।" তিনি বলতেন: "যাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা আমি সমীচীন মনে করেছি তাদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে আমার নিকট বিষয়টি সাব্যস্ত হয়েছে—এটি করা হয় যার পক্ষে রায় দেওয়া হয়েছে তার সতর্কতার জন্য। কেননা যখনই তিনি তাদের নাম উল্লেখ করবেন, তখন তাদের ওপর সমালোচনা (طعن) ও দোষারোপ (قدح) এর পথ খুলে যাবে।" তবে শাফেয়ীগণের সকলের নিকট পরিচিত মতটি এর বিপরীত, যা দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির সতর্কতার স্বার্থে। সেখানে বলা হয় যে, অমুক অমুকের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে বিষয়টি বিচারকের নিকট সাব্যস্ত হয়েছে।

--------------------------------------------

১ দেখুন: তাবাকাতুশ শাফেয়্যাহ ১/৪৯, আরও দেখুন: সিয়ারু আলামিন নুবালা ১৪/২০২, ওয়াফায়াতুল আইয়ান ১/৬৬ এবং তাযকিরাতুল হুফফায ৩/৮১১।

২ দেখুন: তাবাকাতুশ শাফেয়্যাহ আল-কুবরা ৩/২১ এবং তারিখু বাগদাদ ৪/২৮৭।

৩ দেখুন: তাবাকাতুশ শাফেয়্যাহ আল-কুবরা ৩/২১।

৪ দেখুন: তাবাকাতুল ফুকাহা আশ-শাফেয়্যাহ ৬২।

৫ দেখুন: তাবাকাতুশ শাফেয়্যাহ আল-কুবরা ৩/২১।
(খণ্ড: ৩০৬) আল-ইমাম আবু আব্বাস ইবনে সুরাইজ আল-মুতাওয়াফফা সানাতা ৩০৬ হিজরি ওয়া আরাউহুল উসুলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫২)
(7) ما ذكره تلميذه ابن القاص في كتابه أدب القاضي1 إذ أنه قال: "سمعت أحمد ابن عمر بن سريج ينزع الحكم بشاهد ويمين من كتاب الله عز وجل من قوله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا شَهَادَةُ بَيْنِكُمْ إِذَا حَضَرَ أَحَدَكُمُ الْمَوْتُ حِينَ الْوَصِيَّةِ اثْنَانِ ذَوَا عَدْلٍ مِنْكُمْ أَوْ آخَرَانِ مِنْ غَيْرِكُمْ} إلى قوله تعالى: {فَإِنْ عُثِرَ عَلَى أَنَّهُمَا اسْتَحَقَّا إِثْماً فَآخَرَانِ يَقُومَانِ مَقَامَهُمَا مِنَ الَّذِينَ اسْتَحَقَّ عَلَيْهِمُ الأََوْلَيَانِ فَيُقْسِمَانِ بِاللَّه} "2.

وسأحكي معاني ما انتزع به وإن لم أجد ألفاظه: قال رحمه الله تعالى لما قال تعالى: {فَإِنْ عُثِرَ} يعني تبين {عَلَى أَنَّهُمَا اسْتَحَقَّا إِثْماً} يعنى بذلك الوصيين {فَآخَرَانِ يَقُومَانِ مَقَامَهُمَا مِنَ الَّذِينَ اسْتَحَقَّ عَلَيْهِمُ الأََوْلَيَانِ فَيُقْسِمَانِ} فيحلفان بالله، يعني وارثي الميت اللذين كان الوصيان حلفا إن ما في أيديهما من الوصية غير ما زاد عليهما.

قال ابن سريج قال: "فالبيان الذي عثر على أنهما استحقا إثما به لا يخلو من أحد أربعة معان:

أما أن يكون إقرارا منهما بعد إنكارهما، أو أن يكون شاهدي عدل، أو شاهداً وامرأتين أو شاهداً واحدا، وقد أجمعنا على أن الإقرار بعد الإنكار لا يوجب يمينا على الطالبين، وكذلك لو قام شاهدان أو شاهد وامرأتان، فلم يبقى إلا شاهد واحد، وكذلك استحلاف الطالبين".

(8) المسألة السريجية:

ينسب إلى ابن سريج ما يسمى بالمسألة السريجية أو مسألة الدور في الطلاق ومفادها3 أن يقول: الزوج لزوجته: "كلما أو إن وقع عليك طلاقي فأنت طالق قبله ثلاث". ثم يقول: "أنه طالق". قال ابن سريج: "لا يقع شيء للدور".

وجاء عن ابن العماد الحنبلي في الشذرات: أن البلقيني قال: "يجوز تقليد مصحح الدور في السريجية، ومقلده لا يأثم وأنا لا أفتي بصحته، لأن الفروع الاجتهادية لا يعاقب عليها وإن ذلك ينفع عند الله تعالى".

وجاء في هامش النجوم الزاهرة نقلا عن أبي شجاع أن ابن الصباغ قال: "وددت لو محيت هذه وابن سريج برئ مما ينسب إليه فيها".

--------------------------------------------

1 انظر: أدب القاض لابن القاص 1/297 تحقيق الدكتور حسين الجبوري.

2 سورة المائدة الآية: 106- 107.

3 انظر: النجوم الزاهرة 3/194، وطبقات الشافعية الكبرى 3/39، وتذكرة الحفاظ 3/811، وشذرات الذهب 2/247.
(7) তাঁর ছাত্র ইবনুল কাস তাঁর ‘আদাবুল কাদি’ (১) গ্রন্থে যা উল্লেখ করেছেন, সেখানে তিনি বলেছেন: “আমি আহমদ ইবনে উমর ইবনে সুরাইজকে কুরআনুল কারীমের এই আয়াত থেকে একজন সাক্ষী ও শপথের মাধ্যমে বিধান গ্রহণের সপক্ষে দলিল পেশ করতে শুনেছি: ‘হে মুমিনগণ, তোমাদের কারো যখন মৃত্যু উপস্থিত হয়, তখন অসিয়ত করার সময় তোমাদের মধ্য হতে দুইজন ন্যায়পরায়ণ (عدل) ব্যক্তি সাক্ষী হবে, অথবা তোমাদের ছাড়া অন্যদের মধ্য হতে দুইজন...’ মহান আল্লাহর এই বাণী পর্যন্ত: ‘অতঃপর যদি জানা যায় যে তারা উভয়ে পাপে লিপ্ত হয়েছে, তবে যাদের বিরুদ্ধে পাপে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে তাদের মধ্য হতে (মৃতের) নিকটতর দুইজন ব্যক্তি তাদের স্থলাভিষিক্ত হবে এবং তারা আল্লাহর নামে শপথ করবে’ (২)।”

আমি তাঁর গৃহীত দলিলের মর্মার্থ বর্ণনা করব যদিও হুবহু তাঁর শব্দগুলো হয়তো পাব না: তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বলেন, মহান আল্লাহ যখন বলেছেন: “যদি জানা যায়” অর্থাৎ প্রকাশ পায় “যে তারা উভয়ে পাপে লিপ্ত হয়েছে” অর্থাৎ এর মাধ্যমে অসিয়তকারী দুজনকে বোঝানো হয়েছে, “তবে যাদের বিরুদ্ধে পাপে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে তাদের মধ্য হতে (মৃতের) নিকটতর দুইজন ব্যক্তি তাদের স্থলাভিষিক্ত হবে এবং তারা শপথ করবে” অর্থাৎ তারা আল্লাহর নামে শপথ করবে। এর উদ্দেশ্য হলো মৃতের সেই দুইজন উত্তরাধিকারী, যাদের বিপরীতে অসিয়তকারী দুজন ইতিপূর্বে শপথ করেছিল যে তাদের নিকট অসিয়তকৃত যা আছে তার বাইরে আর কিছু নেই।

ইবনে সুরাইজ বলেন: “পাপের যে বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে যার কারণে তারা পাপে লিপ্ত বলে সাব্যস্ত হয়েছে, তা চারটি বিষয়ের বাইরে হতে পারে না:

হয় তা হবে অস্বীকার করার পর তাদের পক্ষ থেকে স্বীকৃতি প্রদান, অথবা দুইজন ন্যায়পরায়ণ (عدل) সাক্ষী, অথবা একজন পুরুষ সাক্ষী ও দুইজন নারী, অথবা কেবল একজন সাক্ষী। আমরা এ বিষয়ে একমত হয়েছি যে, অস্বীকারের পর স্বীকৃতি প্রদান দাবিদারদের ওপর কোনো শপথ বাধ্যতামূলক করে না; একইভাবে যদি দুইজন সাক্ষী অথবা একজন পুরুষ ও দুইজন নারী সাক্ষী থাকে (তাও শপথ লাগে না)। অতএব কেবল একজন সাক্ষীর বিষয়টিই অবশিষ্ট থাকে এবং সেই সাথে দাবিদারদের শপথ গ্রহণ।”

(8) আল-মাসআলা আস-সুরাইজিয়্যাহ:

ইবনে সুরাইজের দিকে এমন একটি মাসআলা সম্বন্ধ করা হয় যাকে ‘আল-মাসআলা আস-সুরাইজিয়্যাহ’ বা তালাকের ক্ষেত্রে ‘আদ-দাওর’ (আবর্তন) সংক্রান্ত মাসআলা বলা হয়। এর সারকথা হলো (৩) স্বামী তার স্ত্রীকে বলবে: “যখনই বা যদি তোমার ওপর আমার তালাক পতিত হয়, তবে তার আগে তোমার ওপর তিন তালাক পতিত হবে।” এরপর স্বামী বলে: “সে তালাকপ্রাপ্তা”। ইবনে সুরাইজ বলেন: “আবর্তনের কারণে কিছুই পতিত হবে না।”

ইবনুল ইমাদ আল-হাম্বলি ‘শাযারাতুজ যাহাব’ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন যে, আল-বুলকিনি বলেছেন: “সুরাইজিয়্যাহ মাসআলায় আবর্তনের বিশুদ্ধতা প্রবক্তাদের অনুসরণ করা জায়েজ এবং তার অনুসারী কোনো পাপী হবে না। তবে আমি এর সঠিকতার ফতোয়া দেই না; কারণ ইজতিহাদমূলক শাখাগত বিষয়গুলোতে কোনো শাস্তি দেওয়া হয় না এবং এটি আল্লাহর নিকট উপকারে আসবে।”

‘আন-নুজুমুজ যাহিরাহ’ গ্রন্থের টিকায় আবু শুজা থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, ইবনুস সাব্বাগ বলেছেন: “আমার আকাঙ্ক্ষা ছিল যদি এই মাসআলাটি মুছে দেওয়া হতো, আর ইবনে সুরাইজ তাঁর প্রতি আরোপিত এই মাসআলাটি থেকে নির্দোষ।”

--------------------------------------------

১. দেখুন: ইবনুল কাসের ‘আদাবুল কাদি’ ১/২৯৭, ড. হুসাইন আল-জুবুরির সম্পাদনায়।

২. সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত: ১০৬-১০৭।

৩. দেখুন: আন-নুজুমুজ যাহিরাহ ৩/১৯৪, তাবাকাতুশ শাফিয়্যাহ আল-কুবরা ৩/৩৯, তাযকিরাতুল হুফফাজ ৩/৮১১, শাযারাতুজ যাহাব ২/২৪৭।
(খণ্ড: ৩০৬) আল-ইমাম আবু আব্বাস ইবনে সুরাইজ আল-মুতাওয়াফফা সানাতা ৩০৬ হিজরি ওয়া আরাউহুল উসুলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫৩)
‌‌المبحث الثالث في مصنفاته العلمية

لأبي العباس بن سريج مصنفات علمية كثيرة حتى قيل أنها بلغت أربعمائة مصنف. إلا أن المشهور من هذه المصنفات ومما ذكرته المصادر بالاسم ما يلي1:

(1) الرد على ابن داود في إبطال القياس.

(2) التقريب بين المزني والشافعي.

(3) الرد على محمد بن الحسن الشيباني.

(4) مختصر في الفقه.

(5) الرد على عيسى بن أبان.

(6) جواب القاشاني.

(7) الانتصار.

(8) الغنية في فروع الشافعية.

(9) البيان عن أصول الأحكام.

(10) الفروق في الفروع.

(11) الودائع لمنصوص الشرائع.

(12) كتاب العين والدين في الوصايا.

--------------------------------------------

1 انظر: تاريخ بغداد 4/ 290، وسير أعلام النبلاء 14/ 201، وطبقات الشافعية لابن قاضي شهبة 1/48، وتهذيب الأسماء واللغات 2/ 251، وتذكرة الحافظ 3/ 811، والعبر1/450، وشذرات الذهب2/ 247، ووفيات الأعيان 1/66، وطبقات الشافعية الكبرى 3/22، وهدية العارفين 1/57، وتاريخ التراث العربي3/ 183، والفهرست/ 266.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর জ্ঞানগর্ভ রচনাবলি প্রসঙ্গে

আবু আব্বাস ইবনে সুরাইজ-এর অসংখ্য জ্ঞানগর্ভ রচনাবলি (مصنفات) রয়েছে, এমনকি বলা হয়ে থাকে যে তার সংখ্যা চারশত গ্রন্থ (مصنف) পর্যন্ত পৌঁছেছে। তবে এই রচনাবলিগুলোর (مصنفات) মধ্যে যেগুলো প্রসিদ্ধ এবং উৎসগ্রন্থগুলোতে যেগুলোর নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, তা হলো নিম্নরূপ১:

(১) আর-রদ্দু আলা ইবনু দাউদ ফি ইবতালিল কিয়াস (সাদৃশ্য বিধান (القياس) বাতিলকরণ প্রসঙ্গে ইবনে দাউদের খণ্ডন)।

(২) আত-তাক্বরিব বাইনাল মুযানী ওয়াশ শাফেয়ী (মুযানী ও শাফেয়ীর মধ্যে সমন্বয়)।

(৩) আর-রদ্দু আলা মুহাম্মদ বিন আল-হাসান আশ-শায়বানি (মুহাম্মদ বিন আল-হাসান আশ-শায়বানির খণ্ডন)।

(৪) মুখতাসার ফিল ফিকহ (ফিকহ শাস্ত্রের একটি সংক্ষিপ্তসার (مختصر))।

(৫) আর-রদ্দু আলা ঈসা বিন আবান (ঈসা বিন আবানের খণ্ডন)।

(৬) জওয়াবুল ক্বাশানি (কাশানির উত্তর)।

(৭) আল-ইন্তিসার।

(৮) আল-গুনইয়াহ ফি ফুরুয়িশ শাফেয়িয়্যাহ (শাফেয়ী মাযহাবের শাখা মাসআলা বিষয়ক গ্রন্থ)।

(৯) আল-বায়ান আন উসুলিল আহকাম (বিধানের মূলনীতি (أصول) সংক্রান্ত বর্ণনা)।

(১০) আল-ফুরুক্ব ফিল ফুরু (শাখা মাসআলাসমূহের মধ্যকার পার্থক্যসমূহ)।

(১১) আল-ওয়াদা'ই লি-মানসুসিশ শারায়ে (শরীয়তের সুনির্ধারিত ভাষ্যসমূহের আমানত)।

(১২) কিতাবুল আইন ওয়াদ দাইন ফিল ওয়াসায়া (অসিয়তের ক্ষেত্রে সম্পদ ও ঋণ বিষয়ক গ্রন্থ)।

--------------------------------------------

১ দেখুন: তারিখ বাগদাদ ৪/২৯০, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা ১৪/২০১, ইবনু ক্বাযি শুহবার তাবাক্বাতুশ শাফেয়িয়্যাহ ১/৪৮, তাহযীবুল আসমা ওয়াল লুগাত ২/২৫১, তাযকিরাতুল হুফফাজ ৩/৮১১, আল-ইবার ১/৪৫০, শাযারাতুয যাহাব ২/২৪৭, ওয়াফায়াতুল আইয়ান ১/৬৬, তাবাক্বাতুশ শাফেয়িয়্যাহ আল-কুবরা ৩/২২, হাদিয়াতুল আরিফিন ১/৫৭, তারিখুত তুরাসিল আরবি ৩/১৮৩ এবং আল-ফিহরিস্ত/২৬৬।
(খণ্ড: ৩০৬) আল-ইমাম আবু আব্বাস ইবনে সুরাইজ আল-মুতাওয়াফফা সানাতা ৩০৬ হিজরি ওয়া আরাউহুল উসুলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫৩)
‌‌المبحث الرابع: في روايته للحديث

‌‌مدخل

…

المبحث الرابع في روايته للحديث

لقد ذكرت كثير من المصادر بأن لابن سريج سماعا في الحديث ورواية له لذا سأذكر أسماء من سمع عنهم الحديث وأسماء من روى عنه الحديث2.

--------------------------------------------

2 انظر: تذكرة الحافظ 3/ 811، وشذرات الذهب2/ 247، وتهذيب الأسماء واللغات 2/ 251، المنتظم 6/ 149، وسير أعلام النبلاء 14/ 201، وتاريخ بغداد4/ 287، وطبقات الشافعية الكبرى 3/ 21.
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: তাঁর হাদিস বর্ণনা প্রসঙ্গে

ভূমিকা

…

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: তাঁর হাদিস বর্ণনা প্রসঙ্গে

অনেক উৎসগ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে যে, হাদিস শাস্ত্রে ইবনে সুরাইজের শ্রবণ (سماع) ও বর্ণনা (رواية) রয়েছে। তাই আমি যাদের নিকট থেকে তিনি হাদিস শ্রবণ (سماع) করেছেন এবং যারা তাঁর নিকট থেকে হাদিস বর্ণনা (رواية) করেছেন তাঁদের নাম উল্লেখ করব।

--------------------------------------------

২. দেখুন: তাযকিরাতুল হুফফায ৩/ ৮১১, শাযারাতুয যাহাব ২/ ২৪৭, তাহযীবুল আসমা ওয়াল লুগাত ২/ ২৫১, আল-মুনতাযাম ৬/ ১৪৯, সিয়ারু আলামিন নুবালা ১৪/ ২০১, তারিখ বাগদাদ ৪/ ২৮৭, তাবাকাতুশ শাফিঈয়্যাহ আল-কুবরা ৩/ ২১।
(খণ্ড: ৩০৬) আল-ইমাম আবু আব্বাস ইবনে সুরাইজ আল-মুতাওয়াফফা সানাতা ৩০৬ হিজরি ওয়া আরাউহুল উসুলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫৩)
‌‌أولا: أسماء من سمع ابن سريج عنهم الحديث وهم كل من:

(1) الحسن بن محمد الزعفراني.

(2) علي بن اشكاب.
প্রথমত: যাদের নিকট থেকে ইবন সুরাইজ হাদিস শ্রবণ করেছেন, তাঁদের নামসমূহ হলো:

(1) আল-হাসান ইবন মুহাম্মদ আল-জাফরানি।

(2) আলি ইবন আশকাব।
(খণ্ড: ৩০৬) আল-ইমাম আবু আব্বাস ইবনে সুরাইজ আল-মুতাওয়াফফা সানাতা ৩০৬ হিজরি ওয়া আরাউহুল উসুলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫৪)
(3) عباس محمد الدوري.

(4) أحمد بن منصور الرمادي.

(5) أبو داود السجستاني.

(6) محمد بن سعيد العطار.

(7) عباس بن عبد الله الترقفي.

(8) عباس بن عبد الملك الدقيقي.

(9) الحسن بن مكرم.

(10) حمدان بن علي الوراق.

(11) محمد بن عمران الصائع.

(12) عبيد الله بن شريك البزار.
(3) আব্বাস মুহাম্মদ আদ-দুরী।

(4) আহমাদ বিন মানসুর আর-রামাদি।

(5) আবু দাউদ আস-সিজিস্তানি।

(6) মুহাম্মদ বিন সাঈদ আল-আত্তার।

(7) আব্বাস বিন আব্দুল্লাহ আত-তারকুফি।

(8) আব্বাস বিন আব্দুল মালিক আদ-দাকিকি।

(9) আল-হাসান বিন মুকরাম।

(10) হামদান বিন আলী আল-ওয়াররাক।

(11) মুহাম্মদ বিন ইমরান আস-সায়িগ।

(12) উবাইদুল্লাহ বিন শারীক আল-বাজার।
(খণ্ড: ৩০৬) আল-ইমাম আবু আব্বাস ইবনে সুরাইজ আল-মুতাওয়াফফা সানাতা ৩০৬ হিজরি ওয়া আরাউহুল উসুলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫৪)
‌‌ثانيا: أسماء من حدث وروى عن ابن سريج وهم:

(1) أبو القاسم سليمان بن أحمد الطبراني.

(2) أبو أحمد الغطريفي محمد بن أحمد بن الغطريف.

(3) أبو الوليد حسان بن محمد.

كما روى عنه غيرهم.

وللتدليل على روايته للحديث يمكن أن نذكر بعض الروايات التي وردت عنه وهي1:

أولا: أخبرنا أبو الفرج محمد بن عبد الله بن أحمد بن شهريار الأصبهاني، أخبرنا سليمان بن أحمد بن أيوب الطبراني، حدثنا أحمد بن عمر بن سريج القاضي- أبو العباس- حدثنا العباس بن محمد بن حاتم، حدثنا سورة بن الحكم القاضي قال: حدثنا عبد الله بن حبيب بن أبي ثابت عن الشعبي عن أبي بردة بن أبي موسى عن ابنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "ثلاثة يؤتون أجرهم مرتين، رجل من أهل الكتاب آمن بنبيه ثم أدرك النبي صلى الله عليه وسلم فآمن به، ورجل كانت له أمة فاعتقها فتزوجها، وعبد اتقى الله، وأطاعَ مواليه" 2.

ثانيا: أخبرنا القاضي أبو الطيب طاهر بن عبد الله الطبري، حدثنا محمد بن الغطريف- بجرحان- حدثنا الأمير أبو العباس أحمد بن عمر بن سريج، حدثنا أبو يحي الضرير محمد ابن سعيد العطار، حدثنا عبيدة بن حميد، حدثنا الأعمش عن حبيب بن أبي

--------------------------------------------

1 انظر: سير أعلام النبلاء 14/201، وتاريخ بغداد 4/287، وطبقات الشافعية الكبرى 3/21.

2 انظر: جامع الأصول في أحاديث الرسول 8/60.
দ্বিতীয়ত: যারা ইবনে সুরাইজ থেকে হাদিস বর্ণনা (حدث) ও রিওয়ায়াত (روى) করেছেন তাদের নামসমূহ হলো:

(১) আবু আল-কাসিম সুলায়মান ইবনে আহমদ আত-তাবারানি।

(২) আবু আহমদ আল-গতরিফি মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনুল গতরিফ।

(৩) আবু আল-ওয়ালিদ হাসান ইবনে মুহাম্মদ।

তেমনিভাবে তারা ছাড়াও অন্যান্যরা তাঁর থেকে রিওয়ায়াত (روى) করেছেন।

তাঁর হাদিস বর্ণনার (رواية) প্রমাণের জন্য তাঁর থেকে বর্ণিত কিছু বর্ণনা (روايات) আমরা উল্লেখ করতে পারি, যা হলো ১:

প্রথমত: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আবু আল-ফারাজ মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে শাহরিয়ার আল-আসবাহানি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) সুলায়মান ইবনে আহমদ ইবনে আইয়ুব আত-তাবারানি, আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আহমদ ইবনে উমর ইবনে সুরাইজ আল-কাদি—আবু আল-আব্বাস—আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আব্বাস ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাতিম, আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثنا) সুরাহ ইবনে হাকাম আল-কাদি, তিনি বলেন: আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আবদুল্লাহ ইবনে হাবিব ইবনে আবি সাবিত, আশ-শা'বি থেকে, তিনি আবু বুরদাহ ইবনে আবি মুসা থেকে, তিনি তাঁর পুত্র থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তিন ব্যক্তি যাদেরকে তাদের প্রতিদান দুইবার প্রদান করা হবে: আহলে কিতাবের এমন ব্যক্তি যে তার নবীর প্রতি ঈমান এনেছে অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পেয়েছে এবং তাঁর প্রতিও ঈমান এনেছে; এবং এমন ব্যক্তি যার একজন দাসী ছিল, অতঃপর সে তাকে মুক্ত করে বিবাহ করেছে; এবং এমন দাস যে আল্লাহকে ভয় করে এবং তার মালিকদের আনুগত্য করে।" ২।

দ্বিতীয়ত: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আল-কাদি আবু আত-তৈয়ব তাহের ইবনে আবদুল্লাহ আত-তবারি, আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثنا) মুহাম্মদ ইবনুল গতরিফ—জুরজানে—আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আমির আবু আল-আব্বাস আহমদ ইবনে উমর ইবনে সুরাইজ, আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আবু ইয়াহইয়া আদ-দারির মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ আল-আত্তার, আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثنا) উবাইদাহ ইবনে হুমাইদ, আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আল-আমাশ, হাবিব ইবনে আবি থেকে...

--------------------------------------------

১ দেখুন: সিয়ারু আলামিন নুবালা ১৪/২০১, তারিখু বাগদাদ ৪/২৮৭ এবং তাবাকাতুশ শাফিয়্যাহ আল-কুবরা ৩/২১।

২ দেখুন: জামিউল উসুল ফি আহাদিসির রাসূল ৮/৬০।
(খণ্ড: ৩০৬) আল-ইমাম আবু আব্বাস ইবনে সুরাইজ আল-মুতাওয়াফফা সানাতা ৩০৬ হিজরি ওয়া আরাউহুল উসুলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫৫)
ثابت عَن سعيد بن جبير عن ابن

عباس رضي الله عنه عن علي بن أبي طالب قال: كنت رجلاً مذاء، وكنت أكثر من الاغتسال، فسألت النبي صلى الله عليه وسلم فقال: "يكفيك منه الوضوء"1.

ثالثا: أخبرنا أبو محمد بن أبي عمر، أخبرنا عمر بن محمد، أخبرنا أحمد بن محرر ومحمد ابن عبد الباقي قالا: أخبرنا طاهر بن عبد الله، أخبرنا أبو أحمد محمد بن أحمد، حدثنا أبو العباس ابن سريج، حدثنا علي بن اشكاب، حدثنا أبو بدر، حدثنا عمر بن ذر، حدثنا أبو الرصافة الباهلي من أهل الشام أن أبا أمامة حدث عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه قال: "ما من امرىء تحضره صلاة مكتوبة فيتوضأ عندها فيحسن الوضوء ثم يصلي فيحسن الصلاة إلا غفر الله له بها ما كان بينها وبين الصلاة التي كانت قبلها من ذنوبه"2.

رابعا: حدثنا ابن سريج، حدثنا الزعفراني، حدثنا وكيع، حدثنا الثوري عن ربيعة الرأي عن يزيد مولى المنبعث عن زيد بن خالد قال: سئل رسول الله صلى الله عليه وسلم عن اللقطة؟ فقال: "عرفها سنة، فإن جاء صاحبها، وإلا فاستنفقها"3.

خامسا: جاء في تذكرة الحفاظ4: أن حديثه في جزء الغطريفي يقع عالياً إذ قال: فأنبأنا عبد الرحمن بن أبي عمر الفقيه، أنبأنا عمر بن محمد، أنبأنا أحمد بن ملوك ومحمد بن عبد الباقي قالا: أنبأنا طاهر بن عبد الله القاضي، أنبأنا محمد بن أحمد – بجرجان - أنبأنا أبو العباس بن سريج، أنبأنا الرمادي، أنبأنا عبد الرزاق، أنبأنا معمر عن هشام بن عروة عن أبيه عن أبي أيوب الأنصاري عن أبي بن كعب رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "الماء من الماء" 5 هذا إسناد صحيح لكن نسخ بعد ذلك6.

--------------------------------------------

1 انظر: جامع الأصول في أحاديث الرسول 7/199 وصحيح مسلم بشرح النووي باب المذي 3/212.

2 انظر: صحيح البخاري – كتاب الوضوء - 1/128، وصحيح مسلم بشرح النووي – كتاب الطهارة - 3/112.

3 انظر صحيح البخاري – كتاب اللقطة – 5/61، وصحيح مسلم بشرح النووي – كتاب اللقطة – 12/21 والموطأ – كتاب القضاء باللقطة – 2/126.

4 انظر: تذكرة الحفاظ 3/811.

5 انظر صحيح مسلم بشرح النووي – باب بيان أن الغسل يجب بالجماع – 4/38 وسنده في مسلم إلى أبي سعيد الخدري بسند غير ما ذكره صاحب الطبقات.

6 نسخ بحديث "إذا جلس بين شعبها الأربع ومس الختان الختان فقد وجب الغسل". انظر: صحيح مسلم بشرح النووي – باب ما يوجب الغسل – 4/41 أو هو محمول على حالة الاحتلام.
সাঈদ ইবনে জুবায়ের হতে সাব্যস্ত (ثابت), তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি আলী ইবনে আবু তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি এমন একজন ব্যক্তি ছিলাম যার প্রচুর মজি (مذي) নির্গত হতো, তাই আমি বারবার গোসল করতাম। অতঃপর আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: "এজন্য তোমার জন্য অজুই যথেষ্ট।"১।

তৃতীয়ত: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ বিন আবু উমর, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন উমর বিন মুহাম্মদ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ বিন মুহাররর এবং মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল বাকি, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন তাহের বিন আব্দুল্লাহ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আহমদ মুহাম্মদ বিন আহমদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল আব্বাস ইবনে সুরাইজ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী বিন ইশকাব, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বদর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উমর বিন যারর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শামের অধিবাসী আবু রাসাফা আল-বাহিলি যে, আবু উমামা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "যে কোনো ব্যক্তি যার নিকট ফরয নামাযের সময় উপস্থিত হয়, অতঃপর সে সুন্দরভাবে অজু করে এবং সুন্দরভাবে নামায আদায় করে, তবে আল্লাহ এর মাধ্যমে তার উক্ত নামায এবং পূর্ববর্তী নামাযের মধ্যবর্তী সময়ে সংঘটিত গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেন।"২।

চতুর্থত: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনে সুরাইজ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যাফরানি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ওয়াকি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাওরি, তিনি রাবিআতুর রায় হতে, তিনি মুনবাইসের মুক্তদাস ইয়াযিদ হতে, তিনি যায়েদ ইবনে খালিদ হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে কুড়িয়ে পাওয়া বস্তু (لقطة) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন: "এক বছর পর্যন্ত এটি ঘোষণা করো, যদি এর মালিক আসে তবে ভালো, অন্যথায় তা ব্যয় করো।"৩।

পঞ্চমত: তাজকিরাতুল হুফফায-এ বর্ণিত হয়েছে৪: আল-গাতরিফি-র জুয (অংশ)-এ তাঁর হাদিসটি উচ্চ পর্যায়ের (عالي) হিসেবে গণ্য, যেখানে বলা হয়েছে: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুর রহমান বিন আবু উমর আল-ফকিহ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন উমর বিন মুহাম্মদ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ বিন মুলুক ও মুহাম্মদ বিন আব্দুল বাকি, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন তাহের বিন আব্দুল্লাহ আল-কাদি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন আহমদ—জুরজানে—আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল আব্বাস বিন সুরাইজ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন রামাদি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুর রাজ্জাক, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মা'মার, তিনি হিশাম বিন উরওয়াহ হতে, তিনি তাঁর পিতা হতে, তিনি আবু আইয়ুব আল-আনসারি হতে, তিনি উবাই ইবনে কাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "পানি (গোসল) হবে পানির (বীর্যপাতের) কারণে।"৫ এটি একটি সঠিক (صحيح) সনদ (إسناد), তবে পরবর্তীতে এটি রহিত (منسوخ) হয়ে গেছে।৬।

--------------------------------------------

১ দেখুন: জামেউল উসুল ফি আহাদিসির রাসূল ৭/১৯৯ এবং সহিহ মুসলিম বি শারহিন নববী, বাবু মাজই ৩/২১২।

২ দেখুন: সহিহ বুখারী – কিতাবুল অজু - ১/১২৮, এবং সহিহ মুসলিম বি শারহিন নববী – কিতাবুত তাহারাহ - ৩/১১২।

৩ দেখুন: সহিহ বুখারী – কিতাবুল লুক্তাহ – ৫/৬১, এবং সহিহ মুসলিম বি শারহিন নববী – কিতাবুল লুক্তাহ – ১২/২১ এবং মুয়াত্তা – কিতাবুল কাজা বিল লুক্তাহ – ২/১২৬।

৪ দেখুন: তাজকিরাতুল হুফফায ৩/৮১১।

৫ দেখুন: সহিহ মুসলিম বি শারহিন নববী – বীর্যপাতের কারণে গোসল ওয়াজিব হওয়া সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ – ৪/৩৮; সহিহ মুসলিমে এই সনদটি (إسناد) আবু সাঈদ খুদরী পর্যন্ত পৌঁছেছে যা তবাকাত গ্রন্থকার বর্ণিত সনদ থেকে ভিন্ন।

৬ এটি "যখন কেউ নারীর চার শাখার (হাত-পা) মাঝে বসবে এবং খতনা খতনাকে স্পর্শ করবে তখন গোসল ওয়াজিব হয়ে যাবে" এই হাদিস দ্বারা রহিত (منسوخ) হয়েছে। দেখুন: সহিহ মুসলিম বি শারহিন নববী – যা গোসল ওয়াজিব করে – ৪/৪১ অথবা এটি স্বপ্নদোষের অবস্থার সাথে সংশ্লিষ্ট।
(খণ্ড: ৩০৬) আল-ইমাম আবু আব্বাস ইবনে সুরাইজ আল-মুতাওয়াফফা সানাতা ৩০৬ হিজরি ওয়া আরাউহুল উসুলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫৫)
‌‌المبحث الخامس في نظمه الشعر

نقلت بعض المصادر7 أن أبا العباس ابن سريج ينظم الشعر بل سريع البديهة في

--------------------------------------------

7 انظر: طبقات الشافعية الكبرى 3/21 وتاريخ بغداد 4/287.
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: তাঁর কাব্য রচনার প্রসঙ্গে

কিছু উৎস হতে উদ্ধৃত হয়েছে যে, আবুল আব্বাস ইবনে সুরাইজ কাব্য রচনা করতেন, বরং তিনি তাৎক্ষণিক কবিতা রচনায় অত্যন্ত দক্ষ ছিলেন...

--------------------------------------------

৭. দেখুন: তাবাকাতুশ শাফিঈয়্যাহ আল-কুবরা ৩/২১ এবং তারিখু বাগদাদ ৪/২৮৭।
(খণ্ড: ৩০৬) আল-ইমাম আবু আব্বাস ইবনে সুরাইজ আল-মুতাওয়াফফা সানাতা ৩০৬ হিজরি ওয়া আরাউহুল উসুলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫৬)
ذلك كما هو الحال في موقفه مع أبي بكر محمد بن داود كما سنرى قريباً.

وهذا بيان لبعض ما ذكر من شعره:

أولا: شعره في الرد على أبي بكر محمد بن داود الظاهري:

إذ أنشد قائلا:

وساهر بالغنج من لحظاته … فذبت أمنعه لذيذ سنانه

مننا بحسن حديثه وعتابه … وأكرر اللحظات في وجناته

حتى إذا ما الصبح لاح عموده … ولى بخاتم ربه وبراته

ثانيا: ما روي عنه أنه ركب شعرا في دخول "لو": تركيبا غير عربي فقال:

ولو كلما كلب عوى ملت نحوه … أجاوبه أن الكلاب كثير

ولكن مبالانى بمن صاح أو عوى … قليل فإني بالكلاب بصير

والذي عاب على أبي العباس ابن سريج هذا التركيب هو الشيخ أبو حيان رحمه الله وقد أجاب السبكي في طبقاته على أبي حيان بقوله:

"لم يبين الشيخ أبو حيان وجه خروج أبي العباس عن اللسان في هذا التركيب الشعري. فإن أراد تسليطه حرف "ولو" على الجملة الاسمية فهو مذهب كثير من النحاة منهم الشيخ جمال الدين بن مالك. جوزوا أن يليها اسم ويكون معمول فعل مضمر ففسر بظاهر بعد الاسم".

ثم أضاف قائلا: وقال في التسهيل: "وإن وليها اسم فهو معمول فعل مضمر مفسر بظاهر بعد الاسم، وربما وليها اسمان مرفوعان".

ومثال ما إذا وليها اسم: ما روي في المثل من قولهم "لو ذات سوار لطمئني" وقول عمر ابن الخطاب رضي الله عنه "لو غيرك قالها يا أبا عبيدة".

وقال الشاعر:

أخلان لو غير الحمام أصابكم … عتبت ولكن ما على الدهر معتب

وقال شاعر آخر:

لو غيركم علق الزبير بحبله … أدنى الجواز إلى بنى العوام

وقال آخر:

فلو غير أخوالي أرادوا نقيصتي … جعلت لهم فوق العرانين ميسما

فالأسماء التي وليت "لو" في هذا كله معمولة لفعل مضمر يفسره ما بعده، كأنه قال:
এটি ঠিক যেমনটি আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে দাউদের সাথে তাঁর অবস্থানের ক্ষেত্রে ঘটেছে, যা আমরা শীঘ্রই দেখতে পাব।

আর এটি তাঁর কবিতার উদ্ধৃত কিছু অংশের বর্ণনা:

প্রথমত: আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে দাউদ আল-জাহিরির জবাবে তাঁর কবিতা:

যেখানে তিনি আবৃত্তি করে বলেন:

আকর্ষণীয় চোখের ইশারায় রাত জাগা সেই ব্যক্তি … আমি বিগলিত হয়ে তাকে তার তন্দ্রার মিষ্টতা থেকে বিরত রাখি

তার চমৎকার কথোপকথন ও অনুযোগের মাধ্যমে আমাদের ধন্য করে … আর আমি তার গাল দুটিতে বারংবার দৃষ্টিপাত করি

অবশেষে যখন সুবহে সাদিকের আলোর স্তম্ভ প্রতিভাত হয় … তখন সে তার রবের মোহর এবং দায়মুক্তি নিয়ে প্রস্থান করে

দ্বিতীয়ত: তাঁর সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি 'লাও' অব্যয়টির প্রয়োগে এমন একটি কাব্যিক গঠন তৈরি করেছেন যা আরবী ব্যাকরণসম্মত নয়, তিনি বলেছেন:

যদি প্রতিবারই কোনো কুকুরের ঘেউঘেউ শব্দে আমি তার দিকে ফিরে তাকাতাম … তবে আমি উত্তর দিতাম যে কুকুর তো অনেক

কিন্তু কে চিৎকার করল বা কে ঘেউঘেউ করল তা নিয়ে আমার ভ্রুক্ষেপ নেই … সামান্যই, কেননা আমি কুকুর সম্পর্কে সম্যক অবগত

আবু আল-আব্বাস ইবনে সুরাইজের এই কাব্যিক গঠনের সমালোচনা করেছেন শেখ আবু হাইয়ান (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)। আস-সুবকি তাঁর তাবাকাত গ্রন্থে আবু হাইয়ানের প্রত্যুত্তরে বলেছেন:

"শেখ আবু হাইয়ান এই কাব্যিক গঠনে আবু আল-আব্বাসের আরবী ভাষা থেকে বিচ্যুত হওয়ার কারণটি স্পষ্ট করেননি। যদি তিনি ইসমিয়া বাক্যের ওপর 'লাও' অব্যয়টির প্রভাব বোঝাতে চান, তবে এটি শেখ জামালুদ্দিন ইবনে মালিকসহ অনেক ব্যাকরণবিদেরই মত। তাঁরা 'লাও' এর অব্যবহিত পরে ইসম (বিশেষ্য) আসাকে বৈধ বলেছেন এবং তা একটি উহ্য ক্রিয়ার কর্ম হিসেবে গণ্য হবে, যা ইসমের পরবর্তী প্রকাশ্য অংশ দ্বারা ব্যাখ্যাত হবে।"

অতঃপর তিনি আরও যোগ করেন: এবং আত-তাসহিল গ্রন্থে বলা হয়েছে: "যদি 'লাও' এর পরে কোনো ইসম আসে, তবে তা একটি উহ্য ক্রিয়ার কর্ম হবে যা ইসমের পরবর্তী প্রকাশ্য অংশ দ্বারা ব্যাখ্যাত হয়। কখনও কখনও এর পরে দুটি মারফু ইসম-ও আসতে পারে।"

'লাও' এর পরে ইসম আসার উদাহরণ: প্রবাদে যেমনটি বর্ণিত হয়েছে— "যদি অলঙ্কার পরিহিতা নারী আমাকে চড় মারত" এবং উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর উক্তি— "হে আবু উবায়দাহ! যদি তুমি ছাড়া অন্য কেউ এটি বলত।"

কবি বলেন:

হে বন্ধুগণ! যদি মৃত্যু ছাড়া অন্য কিছু তোমাদের পেয়ে বসত … তবে আমি অনুযোগ করতাম, কিন্তু মহাকালের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই

অন্য এক কবি বলেন:

যদি তোমাদের ছাড়া অন্য কেউ যুবাইরের রশি আঁকড়ে ধরত … তবে তা বনু আওয়ামদের জন্য নিকটবর্তী আশ্রয় হতো

অন্য একজন বলেন:

যদি আমার মামারা ব্যতীত অন্য কেউ আমার অমর্যাদা করতে চাইত … তবে আমি তাদের নাসিকাগ্রে অপমানচিহ্ন এঁকে দিতাম

সুতরাং এই সব ক্ষেত্রে 'লাও' এর পরে আসা ইসমগুলো একটি উহ্য ক্রিয়ার কর্ম, যা পরবর্তী অংশ দ্বারা ব্যাখ্যা করা হয়। যেন তিনি বলছেন:
(খণ্ড: ৩০৬) আল-ইমাম আবু আব্বাস ইবনে সুরাইজ আল-মুতাওয়াফফা সানাতা ৩০৬ হিজরি ওয়া আরাউহুল উসুলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫৭)
ولو لطمتني ذات سوار لطمتني. وكذا نقول في قول ابن سريج: "ولو كلما كلب" المعنى ولو كان كلما كلبا عوى.

ويدل على ذلك قول الله عز وجل: {قُلْ لَوْ أَنْتُمْ تَمْلِكُونَ خَزَائِنَ رَحْمَةِ رَبِّي إِذاً لأََمْسَكْتُمْ خَشْيَةَ الإِنْفَاقِ} 1.

ويلزم من رد أبي حيان لهذا المذهب ودعواه أنه غير مذهب البصريين أن يكون مردودا في نفسه.

وإن أراد حذف الجواب إذ التقدير: ولو كان كلما عوى كلب ملت نحوه، كي أجاوبه لسئمت أو تعبت، أو نحو ذلك لأن الكلاب كثير. فقد نص هو وغيره على جواز حذف جواب "لو" لدلالة المعنى عليه، وعليه قوله تعالى: {وَلَوْ تَرَى إِذْ وُقِفُوا عَلَى النَّارِ} 2. وشواهده كثيرة.

ثالثا: من شعر أبي العباس ابن سريج في مختصر المزني:

لصيق فؤادي منذ عشرين حجة

…

وصقيل ذهني والمفرج عن همي

عزيز على مثلي إعارة مثله

…

لما فيه من علم لطيف ومن نظم

جموع لأصناف العلوم بأسرها

…

فأخلق به أن لا يفارقه كمي

--------------------------------------------

1 سورة الإسراء آية:100.

2 سورة الأَنعام آية: 27.
এবং যদি কোনো কঙ্কণ পরিহিতা নারী আমাকে চপেটাঘাত করত, তবে আমিও তাকে চপেটাঘাত করতাম। ইবনে সুরাইজ-এর উক্তি: "এবং যদি প্রতিবার একটি কুকুর"—এর ক্ষেত্রেও আমরা অনুরূপ বলি; অর্থাৎ এর অর্থ হলো: "এবং যদি এমন হতো যে প্রতিবার কোনো কুকুর ডাকত" (عوى)।

আর মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর বাণী এর সপক্ষে প্রমাণ প্রদান করে: {বলুন, যদি তোমরা আমার রবের রহমতের ভাণ্ডারের অধিকারী হতে, তবে ব্যয় হয়ে যাওয়ার ভয়ে অবশ্যই তোমরা তা ধরে রাখতে} ১।

আবু হাইয়ান কর্তৃক এই মতবাদ (مذهب) প্রত্যাখ্যান এবং এটি বসরীয়দের মতবাদ (مذهب) নয় বলে তার দাবির অনিবার্য পরিণতি হলো এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রত্যাখ্যাত হওয়া।

আর যদি তিনি উত্তর (جواب) বিলুপ্ত করার ইচ্ছা করে থাকেন—যেহেতু এর প্রাক্কলিত অর্থ হলো: "যদি এমন হতো যে প্রতিবার কুকুর ডাকার সময় আমি সেদিকে ফিরে তাকাতাম তাকে উত্তর দেওয়ার জন্য, তবে আমি ক্লান্ত বা পরিশ্রান্ত হয়ে পড়তাম", অথবা এই জাতীয় কিছু; কারণ কুকুরের সংখ্যা অনেক। তবে তিনি এবং অন্যান্যরা 'লাও' (لو)-এর উত্তর (جواب) বিলুপ্ত করার বৈধতা (جواز)-এর ওপর সুস্পষ্ট বর্ণনা (نص) প্রদান করেছেন, যেহেতু অর্থই তার দিকে ইঙ্গিত করে। আর এর ওপর ভিত্তি করেই মহান আল্লাহর বাণী: {আর আপনি যদি দেখতেন যখন তাদের আগুনের সামনে দাঁড়ানো হবে} ২। আর এর সপক্ষে অনেক নিদর্শন বা সাক্ষ্য-প্রমাণ (شواهد) রয়েছে।

তৃতীয়ত: মুখতাসার আল-মুযানী সম্পর্কে আবু আব্বাস ইবনে সুরাইজ-এর কবিতা থেকে:

বিশ বছর যাবত এটি আমার হৃদয়ের সাথে মিশে আছে

...

এটি আমার মেধার প্রখরকারী এবং আমার দুশ্চিন্তা মোচনকারী

আমার মতো ব্যক্তির জন্য এর সদৃশ কিছু ধার দেওয়া অত্যন্ত কঠিন

...

কেননা এতে রয়েছে সূক্ষ্ম জ্ঞান এবং সুন্দর বিন্যাস

এটি সকল প্রকার শাস্ত্রের এক অনন্য সমাহার

...

তাই এটিই সমীচীন যে আমার আস্তিন যেন একে ছেড়ে না যায়

--------------------------------------------

১ সূরা আল-ইসরা, আয়াত: ১০০।

২ সূরা আল-আনআম, আয়াত: ২৭।
(খণ্ড: ৩০৬) আল-ইমাম আবু আব্বাস ইবনে সুরাইজ আল-মুতাওয়াফফা সানাতা ৩০৬ হিজরি ওয়া আরাউহুল উসুলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫৭)
‌‌المبحث السادس: في شيوخه

‌‌مدخل

…

المبحث السادس في شيوخه

درس أبو العباس ابن سريج الفقه على أبي القاسم الأنماطي وهو الذي أثر فيه أكثر من غيره. كما درس على أبي الحسن المنذري.

وقد ذكرت بعض المصادر3 أنه تتلمذ على المزني. إلا أن هذا وهم وغير صحيح حيث أن الذي تتلمذ على المزني هو شيخه الأنماطي.

ويمكن أن نترجم لشيخه الأنماطي والمنذري بما يلي:

--------------------------------------------

3 انظر: الفتح المبين في طبقات الأصوليين1/ 165.
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: তাঁর উস্তাদগণের বর্ণনায়

ভূমিকা

…

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: তাঁর উস্তাদগণের বর্ণনায়

আবু আল-আব্বাস ইবনে সুরায়জ আবু আল-কাসিম আল-আনমাতির নিকট ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন এবং তিনিই তাঁর ওপর অন্যের তুলনায় অধিক প্রভাব বিস্তার করেছিলেন। এছাড়াও তিনি আবু আল-হাসান আল-মুনজিরির নিকট শিক্ষা লাভ করেন।

কিছু উৎস গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি আল-মুজানির নিকট শিষ্যত্ব গ্রহণ করেছিলেন। তবে এটি একটি ভ্রান্তি (وهم) এবং তা সঠিক (صحيح) নয়; কেননা মূলত আল-মুজানির নিকট যিনি শিষ্যত্ব গ্রহণ করেছিলেন তিনি হলেন তাঁর উস্তাদ আল-আনমাতি।

তাঁর উস্তাদ আল-আনমাতি এবং আল-মুনজিরির জীবনী নিম্নরূপ আলোচনা করা যেতে পারে:

--------------------------------------------

৩. দেখুন: আল-ফাতহুল মুবিন ফি তাবাকাতিল উসুলিয়্যিন ১/ ১৬৫।
(খণ্ড: ৩০৬) আল-ইমাম আবু আব্বাস ইবনে সুরাইজ আল-মুতাওয়াফফা সানাতা ৩০৬ হিজরি ওয়া আরাউহুল উসুলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫৭)
‌‌أولا: الأنماطي:

هو أبو القاسم عثمان بن سعيد بن بشار الأنماطي4 - منسوبا إلى الأنماط وهي البسط

--------------------------------------------

4 انظر: طبقات الشافعيِة الكبَرى 2/ 301، وشذرات الذهب2 /198، وطبقات الفقهاء 104، وطبقات الشافعية 32، وطبقات الفقهاء الشافعية 51.
প্রথমত: আল-আনমাতি:

তিনি হলেন আবুল কাসিম উসমান বিন সাঈদ বিন বাশার আল-আনমাতি ৪ - তিনি আনমাত-এর সাথে সম্বন্ধযুক্ত (منسوبا), আর তা হলো গালিচাসমূহ।

--------------------------------------------

৪ দেখুন: তাবাকাতুশ শাফিয়্যাহ আল-কুবরা ২/৩০১, শাযারাতুয যাহাব ২/১৯৮, তাবাকাতুল ফুকাাহা ১০৪, তাবাকাতুশ শাফিয়্যাহ ৩২, তাবাকাতুল ফুকাাহা আশ-শাফিয়্যাহ ৫১।
(খণ্ড: ৩০৬) আল-ইমাম আবু আব্বাস ইবনে সুরাইজ আল-মুতাওয়াফফা সানাতা ৩০৬ হিজরি ওয়া আরাউহুল উসুলিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫৮)
التي تفرش _ كان فقيها ورعا أخذ العلم عن المزني والربيع وهو الذي نشر مذهب الشافعي ببغداد، وعليه تفقه ابن سريج، وأبو سعيد الأصطخري، وأبو علي بن خيران، ومنصور التميمي، وأبو حفص بن الوكيل البابشامي.

والأنماطي بالنسبة لأهل بغداد كأبي بكر بن إسحاق بالنسبة لأهل نيسابور، فإنه أول من حمل إليهم علم المزني. توفي سنة 289هـ.
(যা বিছানো হয়) — তিনি একজন আইনশাস্ত্রবিদ (فقيه) ও ধর্মভীরু (ورع) ব্যক্তি ছিলেন। তিনি আল-মুজানি ও আল-রাবি‘র নিকট থেকে ইলম অর্জন করেন এবং তিনিই বাগদাদে শাফেয়ী মাজহাব প্রচার করেছিলেন। তাঁর নিকট ইবনে সুরায়জ, আবু সাঈদ আল-ইস্তখরি, আবু আলী বিন খায়রান, মনসুর আল-তামিমি এবং আবু হাফস বিন আল-ওয়াকিল আল-বাবশামি ফিকহ শাস্ত্রের ব্যুৎপত্তি লাভ করেন।

বাগদাদবাসীদের নিকট আল-আনমাতি ঠিক তেমনই ছিলেন যেমন নিশাপুরবাসীদের নিকট ছিলেন আবু বকর বিন ইসহাক; কেননা তিনিই প্রথম তাঁদের নিকট আল-মুজানির ইলম বহন করে নিয়ে এসেছিলেন। তিনি ২৮৯ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।