(খণ্ড: ১) আল-ইলহাদ ওয়াজ জুলমু ফিল মাসজিদিল হারাম বাইনাল ইরাদাতি ওয়াত তানফীজ (পৃষ্ঠা: -)
الإلحاد والظلم في المسجد الحرام بين الإرادة والتنفيذ   (محمد بن سعد آل سعود)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: الإلحاد والظلم في المسجد الحرام بين الإرادة والتنفيذ

المؤلف: د محمد بن سعد بن عبد الرحمن آل سعود

الناشر: الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة

الطبعة: السنة التاسعة والعشرون. العدد السابع بعد المائة. (1418/1419هـ) / (1998-1999م)

عدد الصفحات: 174

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মসজিদুল হারামে ধর্মবিচ্যুতি ও জুলুম: সংকল্প ও বাস্তবায়নের প্রেক্ষাপটে   (মুহাম্মদ বিন সাদ আল সৌদ)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ


কিতাব: মসজিদুল হারামে ধর্মবিচ্যুতি ও জুলুম: সংকল্প ও বাস্তবায়নের প্রেক্ষাপটে

লেখক: ড. মুহাম্মদ বিন সাদ বিন আব্দুল রহমান আল সৌদ

প্রকাশক: মদিনা মুনাওয়ারার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

সংস্করণ: ২৯তম বর্ষ. ১০৭তম সংখ্যা. (১৪১৮/১৪১৯ হিজরি) / (১৯৯৮-১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দ)

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৭৪

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-ইলহাদ ওয়াজ জুলমু ফিল মাসজিদিল হারাম বাইনাল ইরাদাতি ওয়াত তানফীজ (পৃষ্ঠা: ১২৪)
الإلحاد والظلم في المسجد الحرام بين الإرادة والتنفيذ

تأليف الدكتور: محمد بن سعد بن عبد الرحمن آل سعود

عضو هيئة التدريس في قسم الكتاب والسنة

بكلية الدعوة وأصول الدين

جامعة أم القرى

ال‌‌مقدمة

الحمد لله فعّال لما يريد، بيده الخير، وهو على كل شيء شهيد. والصلاة والسلام على القائل: "من يُرِد اللهُ بهِ خَيراً، يُفقِهه في الدين"1.

أما بعد: فقد كنت في زيارة أحد أقاربي، المقربين إلى نفسي في مدينة الرياض، وتناول الحديث معه تعلقه الشديد بأرض الحرم، ورغبته الصادقة في سكناها، والعيش فيها.

وكأني أسخر منه، حين سألته: ولمَ لمْ تفعل؟ فالسبيل ميسر، والوسيلة سائرة، وقد منَّ الله عليك بالتبعية لهذا الكيان الكبير، فلا حدود ولا قيود، وأنت اليوم أصبحت خِلْواً من التزاماتك نحو عملك في الجامعة.!!!

فتبسم ضاحكاً من قولي، وصوّب نحوي نظرة شفقةٍ، وحنان، وقال: هو كما قُلْتَ، ولولا آية في كتاب الله لفعلت.

ووجمت مندهشاً وقد أخذ مني الفضول مأخذاً، نظرت إليه بلهفة، وفي عيني سؤال: وما تلك الآية، يرحمك الله؟!

فتلا قوله تعالى: {وَمَنْ يُرِدْ فِيهِ بِإِلْحَادٍ بِظُلْمٍ نُذِقْهُ مِنْ عَذَابٍ أَلِيمٍ} [الحج /25] . فكأنه أيقظني من سبات عميق في وادٍ سحيق، فأخذت أردد تلاوة الآية الكريمة في نفسي، ورفعت إليه بصري، وسألته متغابياً: وما الذي في الآية من معنى يحول بينك وبين تحقيق حلمك الجميل؟ فردَّ قائلاً:

الإنسان منَّا عرضة للخطأ، والنسيان، فيما يقول، ويفعل، ولا يزال تحيط

--------------------------------------------

1 رواه البخاري في صحيحه من كتاب العلم، باب من يرد الله به خيراً يفقهه في الدين.
মসজিদুল হারামে ধর্মবিচ্যুতি (إلحاد) ও জুলুম (ظلم): সংকল্প ও বাস্তবায়নের প্রেক্ষাপটে

রচনায় ডক্টর: মুহাম্মদ বিন সাদ বিন আব্দুল রহমান আল সাউদ

কিতাব ও সুন্নাহ (سنة) বিভাগের শিক্ষক মন্ডলীর সদস্য

দাওয়াহ ও উসুলুদ দ্বীন (أصول الدين) অনুষদ

উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়

ভূমিকা

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি যা ইচ্ছা তা-ই করেন; তাঁর হাতেই সকল কল্যাণ এবং তিনি সর্ববিষয়ে সাক্ষী। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর প্রতি যিনি বলেছেন: "আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের গভীর প্রজ্ঞা দান করেন।" ১.

অতঃপর: আমি রিয়াদ শহরে আমার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এক আত্মীয়ের সাথে সাক্ষাৎ করতে গিয়েছিলাম। আলাপচারিতার একপর্যায়ে হারামের পবিত্র ভূমির প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ এবং সেখানে বসবাস ও জীবন যাপনের ঐকান্তিক আকাঙ্ক্ষার বিষয়টি উঠে আসে।

আমি যেন কিছুটা কৌতুকের সুরেই তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম: "তবে আপনি কেন তা করছেন না? পথ তো সুগম, উপায়ও হাতের নাগালে। আল্লাহ আপনাকে এই বিশাল ভূখণ্ডের নাগরিকত্বের নেয়ামত দিয়েছেন, কোনো সীমানা বা বিধিনিষেধ নেই। তদুপরি, আপনি এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের পেশাগত দায়িত্ব থেকেও অবসর লাভ করেছেন!"

আমার কথা শুনে তিনি মুচকি হাসলেন এবং মমতা ও স্নেহের দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে বললেন: "তুমি যেমনটি বললে বিষয়টি তেমনই; যদি আল্লাহর কিতাবের একটি আয়াত না থাকত, তবে আমি অবশ্যই সেখানে চলে যেতাম।"

আমি বিস্ময়ে বিমূঢ় হয়ে গেলাম এবং কৌতূহল আমায় প্রবলভাবে আঁকড়ে ধরল। আমি উৎসুক দৃষ্টিতে তাঁর দিকে তাকালাম, চোখে তখন প্রশ্ন: "সেই আয়াতটি কী, আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করুন?"

তখন তিনি মহান আল্লাহর এই বাণী তিলাওয়াত করলেন: {আর যে ব্যক্তি সেখানে ধর্মবিচ্যুতি (إلحاد) বা জুলুমের (ظلم) সংকল্প করে, আমি তাকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির স্বাদ আস্বাদন করাব।} [সূরা হজ: ২৫]। মনে হলো তিনি যেন আমাকে এক গভীর গহ্বরের সুপ্ত দশা থেকে জাগিয়ে তুললেন। আমি মনে মনে এই বরকতময় আয়াতের তিলাওয়াত পুনরাবৃত্তি করতে লাগলাম। এরপর তাঁর দিকে দৃষ্টি তুলে অনেকটা না বোঝার ভান করেই জিজ্ঞেস করলাম: "এই আয়াতের মাঝে এমন কী অর্থ নিহিত আছে যা আপনার এই সুন্দর স্বপ্ন বাস্তবায়নে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াচ্ছে?" উত্তরে তিনি বললেন:

"আমাদের মতো মানুষেরা কথা ও কাজে ভুল এবং বিস্মৃতির শিকার হওয়া খুবই স্বাভাবিক। আর নিরন্তর..."

--------------------------------------------

১. ইমাম বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থের 'কিতাবুল ইলম'-এ এটি বর্ণনা (رواه) করেছেন; অনুচ্ছেদ: "আল্লাহ যার কল্যাণ চান তাকে দ্বীনের প্রজ্ঞা দান করেন।"
(খণ্ড: ১) আল-ইলহাদ ওয়াজ জুলমু ফিল মাসজিদিল হারাম বাইনাল ইরাদাতি ওয়াত তানফীজ (পৃষ্ঠা: ১২৫)
به الملذَّات، والشهوات، والرغبات في نيلها، فيريد أن يحقق لنفسه شيئاً منها، إرواءً لغرائزه، فيَهُمُّ بفعلِ معصية، فلا يقع منه في الواقع فعلها، فيصبح موعوداً من الله بعذاب أليم، لمجرد أنه همّ بفعلها في المسجد الحرام. بينما الأمر بخلافه في أي مكان آخر من المعمورة. فالسلامة أن نقتصر على زيارتها - شرَّفها الله - بين الحين والآخر للحج أو العُمرة، فلا يطول بنا المقام إلاّ بقدر تأديتهما والإنتهاء منهما، فنسلم إن شاء الله تعالى من التعرُّض لسخط الله وغضبه.

هذه المحادثة الصغيرة شدَّتْنّي إلى طلب العلم حول هذه القضية، التي كثر الغافلون عنها ممن سكن مكة المكرمة، وجاور المسجد الحرام.
এতে রয়েছে আনন্দ-উপভোগ, প্রবৃত্তির তাড়না এবং তা অর্জনের আকাঙ্ক্ষা। সে নিজের প্রবৃত্তি মেটানোর জন্য তার কিছু অংশ হাসিল করতে চায়। ফলে সে কোনো পাপাচার করার সংকল্প করে, যদিও বাস্তবে তার দ্বারা সেই কাজটি সংঘটিত হয় না। এরপরও কেবল মসজিদুল হারামে সেই পাপের সংকল্প করার কারণেই সে আল্লাহর পক্ষ থেকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির প্রতিশ্রুতির সম্মুখীন হয়। অথচ পৃথিবীর অন্য যেকোনো স্থানে বিষয়টি এর বিপরীত। সুতরাং নিরাপত্তা এতেই নিহিত যে, আমরা মাঝেমধ্যে হজ বা উমরার উদ্দেশ্যে সেটি যিয়ারত করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকব—আল্লাহ তাকে সম্মানিত করুন—এবং সেখানে আমাদের অবস্থান কেবল এই ইবাদত দুটি পালন ও সমাপ্ত করা পর্যন্তই দীর্ঘ করব। এর মাধ্যমে ইনশাআল্লাহ আমরা আল্লাহর অসন্তুষ্টি ও ক্রোধের সম্মুখীন হওয়া থেকে নিরাপদ থাকব।

এই সংক্ষিপ্ত কথোপকথনটি আমাকে এই বিষয়টি সম্পর্কে জ্ঞান অন্বেষণে অনুপ্রাণিত করেছে, যে বিষয়ে মক্কা মুকাররামায় বসবাসকারী এবং মসজিদুল হারামের প্রতিবেশীদের মধ্যে অনেকেই গাফেল বা উদাসীন রয়েছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইলহাদ ওয়াজ জুলমু ফিল মাসজিদিল হারাম বাইনাল ইরাদাতি ওয়াত তানফীজ (পৃষ্ঠা: ১২৫)
ال‌‌تمهيد

إنَّ موضوعاً يبحث في معنى الإلحاد، والظلم، وإرادتهما بأرض الحرم، وجوار المسجد الحرام، له خصائص تختلف في أهميتها، وماهيتها عن غيرها، مما يتعلق بمواضيع شرعية أخرى، وذلك لحرمة المكان بما يؤكده المولى جلّ وعلا في القرآن الكريم بأكثر من آية.

والقاطنون بمكة المكرمة من أهلها والوافدون إليها، يهمهم أكثر من غيرهم الوقوف على دقائق هذا الموضوع، وتفاصيله المختلفة، لمن شاء منهم أن ينجو من عذاب الله الأليم، بمعرفة أسبابه، ودوافعه.

فما معنى الإرادة؟ وما المراد بالإلحاد، والظلم في الحرم؟ وما المقصود بالحرم، وبالبيت الحرام، والمسجد الحرام؟.

فشرعت في سبيل ذلك أجمع الآيات من القرآن، والأحاديث النبوية، وأقوال المفسرين حولها، وأقوال أهل اللغة والتاريخ، والسِّيَر. وكان من الطبيعي أن أحدد المراد بالحرم. أهو المسجد الذي تقام فيه الصلاة بجوار الكعبة، البيت
ভূমিকা

যে বিষয়টি হারাম (পবিত্র এলাকা) শরীফের ভূখণ্ডে এবং মসজিদুল হারামের সান্নিধ্যে বিচ্যুতি ও জুলুম এবং সেগুলোর সংকল্প করার অর্থ নিয়ে আলোচনা করে, তার এমন কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা গুরুত্ব ও প্রকৃতির দিক থেকে অন্যান্য শরয়ি বিষয়ের তুলনায় স্বতন্ত্র। কেননা মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা পবিত্র কুরআনের একাধিক আয়াতে এ স্থানের পবিত্রতার বিষয়ে তাগিদ দিয়েছেন।

মক্কা মুকাররমায় বসবাসকারী স্থানীয় অধিবাসী এবং সেখানে আগমনকারী মেহমানদের জন্য এই বিষয়ের সূক্ষ্ম দিক ও এর বিভিন্ন বিস্তারিত বিবরণ সম্পর্কে অবগত হওয়া অন্যদের চেয়ে বেশি জরুরি; যাতে তাদের মধ্যে যারা আল্লাহর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি থেকে মুক্তি পেতে চায়, তারা এর কারণ ও প্রেষণাগুলো জানার মাধ্যমে তা লাভ করতে পারে।

সুতরাং সংকল্পের অর্থ কী? হারামে বিচ্যুতি ও জুলুম বলতে কী বোঝানো হয়েছে? আর হারাম, বাইতুল হারাম ও মসজিদুল হারাম বলতে কী বোঝায়?

সেই লক্ষ্যে আমি কুরআনের আয়াতসমূহ, নববী হাদিসসমূহ এবং এ সংক্রান্ত মুফাসসিরগণের বক্তব্য এবং ভাষাবিদ, ইতিহাসবিদ ও সীরাত বিশেষজ্ঞদের মতামত সংগ্রহ করতে শুরু করি। এটিই স্বাভাবিক ছিল যে, আমি 'হারাম' দ্বারা কী উদ্দেশ্য তা সুনির্দিষ্ট করব—এটি কি সেই মসজিদ যেখানে কাবার পাশে সালাত কায়েম করা হয়, নাকি বাইতুল্লাহ (আল্লাহর ঘর)?
(খণ্ড: ১) আল-ইলহাদ ওয়াজ জুলমু ফিল মাসজিদিল হারাম বাইনাল ইরাদাতি ওয়াত তানফীজ (পৃষ্ঠা: ১২৬)
الحرام، وما يحيط به من جهاته الأربع من ساحات، وأروقة، ومرافق؟ أم هو كل ما دخل في حدود مدينة مكة المكرمة، البلد الحرام؟.

ومن ثم يتبين المكان الذي يؤاخذ فيه الإنسان بإرادته المجرَّدة، ومضاعفة أجر الصلاة فيه إلى مائة ألف صلاة.

والحِلُّ يُطلق على خارج حدود الحرم، حيث المواقيت للحج والعمرة لمن أَمَّ البيت الحرام، فمن تجاوزها وقد تلبَّس بهما أو بأحدهما منها أو من بلده، فقد وجب عليه إتمامهما، والعمل بأحكامهما.

وتختلف المواقيت التي هي أبواب أرض الحرم قرباً وبعداً عنه، ليستعدَّ القادم إلى البيت الحرام من لتهيئةِ نفسه وحاله، بعد أن تجرَّد من المخيط، لتتجرد نفسه من أغراض الدنيا وشهواتها، وتُقْبِل على ربها مطمئنَّة راضية، تؤدي نسكها {بَلْدَةٌ طَيِّبَةٌ وَرَبٌّ غَفُورٌ} [سبأ/15] ، {ثُمَّ لْيَقْضُوا تَفَثَهُمْ وَلْيُوفُوا نُذُورَهُمْ وَلْيَطَّوَّفُوا بِالْبَيْتِ الْعَتِيقِ} [الحج / 29] .

ومكة المكرمة القرية الآمنة، كان نواتُها بعض أهل إبراهيم عليه السلام، أسكنهم بوادٍ غير ذي زرع عند بيت الله الحرام، ودعا الله عز وجل أن يجعل أفئدة من الناس تهوي إليهم، ويرزقهم من الثمار - كل الثمار - فالسكنى كانت (عند) المسجد الحرام، وليست (فيه) مما يدل على أن موضع زمزم حيث ترك إبراهيم ابنه لم يكن من المسجد الحرام حينذاك بل بجواره، والله أعلم، واستجاب الله عز وجل لدعوة نبيه وخليله، فاستقر في ذلك المكان من العرب مَنْ بدد وحشة (هاجَر) ، وقوَّم لسان إسماعيل عليه السلام، حتى إذا شبَّ عن الطوق، أنكحوه منهم. ثم عاد الخليل عليه السلام يتفقد تركته، ويعلم من شأنهم ما جدّ عليه.
(মসজিদুল) হারাম এবং এর চারপাশ ঘিরে থাকা চারদিকের চত্বর, বারান্দা ও সুযোগ-সুবিধাগুলো? নাকি পবিত্র মক্কা মুকাররমা তথা সম্মানিত শহর (البلد الحرام)-এর সীমানার অন্তর্ভুক্ত সবকিছু?

এর মাধ্যমেই সেই স্থানটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে যেখানে মানুষকে তার নিছক সংকল্পের (إرادة) কারণেও জবাবদিহি করতে হয় এবং যেখানে নামাযের সওয়াব এক লক্ষ গুণ বৃদ্ধি পায়।

আর 'হিল' (الحل) বলা হয় হারামের সীমানার বাইরের অংশকে, যেখানে বায়তুল্লাহ অভিমুখী ব্যক্তিদের জন্য হজ ও ওমরার মীকাতসমূহ (المواقيت) অবস্থিত। সুতরাং যে ব্যক্তি নিজ দেশ থেকে বা মীকাত থেকে এ দুটির কোনো একটির বা উভয়ের ইহরাম গ্রহণ করে তা অতিক্রম করে, তার ওপর তা সম্পন্ন করা এবং এর বিধিবিধান অনুযায়ী আমল করা ওয়াজিব (واجب) হয়ে যায়।

মীকাতসমূহ—যা হারাম এলাকার প্রবেশদ্বারস্বরূপ—হারাম থেকে সেগুলোর দূরত্ব ও নৈকট্য ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে; যাতে বায়তুল্লাহর আগন্তুক ব্যক্তি সেলাই করা পোশাক (المخيط) বর্জনের পর নিজেকে ও নিজের অবস্থাকে প্রস্তুত করে নিতে পারে; ফলে তার অন্তর জাগতিক উদ্দেশ্য ও কামনা-বাসনা থেকে মুক্ত হয়ে প্রশান্ত ও সন্তুষ্ট চিত্তে তার রবের দিকে ধাবিত হয় এবং তার ইবাদতসমূহ (نسك) পালন করে। {পবিত্র নগরী ও ক্ষমাশীল প্রতিপালক} [সাবা/১৫], {অতঃপর তারা যেন তাদের অপরিচ্ছন্নতা দূর করে, তাদের মানত পূর্ণ করে এবং প্রাচীন গৃহের তাওয়াফ করে} [হজ/২৯]।

মক্কা মুকাররমা হলো সেই নিরাপদ জনপদ, যার কেন্দ্রবিন্দু ছিল ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম-এর পরিবারের কতিপয় সদস্য; তিনি তাঁদের বায়তুল্লাহ হারামের নিকটে এক শস্যহীন উপত্যকায় আবাস দান করেছিলেন। তিনি আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা-র কাছে প্রার্থনা করেছিলেন যেন মানুষের অন্তর তাঁদের প্রতি আকৃষ্ট হয় এবং তিনি যেন তাঁদের সব রকমের ফলমূল দিয়ে রিযিক দান করেন। সুতরাং তাঁদের বসবাস ছিল মসজিদুল হারামের 'নিকটে' (عند), তার 'অভ্যন্তরে' (فيه) নয়; যা নির্দেশ করে যে, জমজমের সেই স্থানটি যেখানে ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম তাঁর সন্তানকে রেখে গিয়েছিলেন, তা তৎকালীন সময়ে মসজিদুল হারামের অন্তর্ভুক্ত ছিল না বরং তার পার্শ্ববর্তী ছিল, আল্লাহই সর্বজ্ঞ। আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তাঁর নবী ও খলীল (الخليل)-এর দোয়া কবুল করলেন। ফলে আরবের এমন কিছু লোক সেখানে বসতি স্থাপন করল যারা (হাজেরা)-র একাকীত্ব দূর করেছিল এবং ইসমাইল আলাইহিস সালাম-এর ভাষা ও বাচনভঙ্গি পরিমার্জিত করে দিয়েছিল; এমনকি তিনি যখন বয়ঃপ্রাপ্ত হলেন, তখন তারা নিজেদের মধ্য থেকে তাঁর বিবাহের ব্যবস্থা করল। অতঃপর খলীল (الخليل) আলাইহিস সালাম তাঁর রেখে যাওয়া পরিজনের তত্ত্ববধানে ফিরে আসতেন এবং তাঁদের জীবনে ঘটে যাওয়া নতুন ঘটনাবলী সম্পর্কে অবগত হতেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইলহাদ ওয়াজ জুলমু ফিল মাসজিদিল হারাম বাইনাল ইরাদাতি ওয়াত তানফীজ (পৃষ্ঠা: ১২৭)
وكرر ذلك مراراً، حتى جاء أمر الله جلَّ وعلا، يأمرهما بإعادة بناء بيته الحرام بعد أن طمرته الرياح بالرمال، والسيول بالوحل والحجارة، على اعتبار أن الملائكة أول من شيده1، قال تعالى: {وَإِذْ يَرْفَعُ إِبْرَاهِيمُ الْقَوَاعِدَ مِنَ الْبَيْتِ وَإِسْمَاعِيلُ رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا إِنَّكَ أَنْتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ} [البقرة / 127] .

حتى إذا شيداه، وأتماّ بناءه توجها إلى ربهما بالدعاء: {رَبَّنَا وَاجْعَلْنَا مُسْلِمَيْنِ لَكَ وَمِنْ ذُرِّيَّتِنَا أُمَّةً مُسْلِمَةً لَكَ وَأَرِنَا مَنَاسِكَنَا وَتُبْ عَلَيْنَا إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ رَبَّنَا وَابْعَثْ فِيهِمْ رَسُولاً مِنْهُمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِكَ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَيُزَكِّيهِمْ إِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ} [البقرة /128-129] .

ثم يمتنّ الله تعالى على عباده أن صيَّر بيته الآمن مثابة لهم يعودون إليه حيناً بعد حين، قال عز وجل: {وَإِذْ جَعَلْنَا الْبَيْتَ مَثَابَةً لِلنَّاسِ وَأَمْناً وَاتَّخِذُوا مِنْ مَقَامِ إِبْرَاهِيمَ مُصَلّىً وَعَهِدْنَا إِلَى إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ أَنْ طَهِّرَا بَيْتِيَ لِلطَّائِفِينَ وَالْعَاكِفِينَ وَالرُّكَّعِ السُّجُودِ} [البقرة/125] .

وكلمة (الحرم) تشمل قرية مكة المكرمة، بمبانيها، وطرقها، ومرافقها العامة، تحيط بالمسجد الحرام، إحاطة السوار بالمعصم، وليست منه. قال عمر بن الخطاب لمن أبى أن يأخذ ثمن داره التي هدمها قرب المسجد الحرام لتوسعته، وتمنَّع من البيع، "إنما نزلتم على الكعبة فهو فناؤها، ولم تنزل عليكم" فوضع أثمان دورهم في خزانة الكعبة حتى أخذوها بعد2 غير أن لها ما يميزها عن سائر مدن

--------------------------------------------

1 قال ابن كثير في تفسيره (1/302) : "وقد اختلف الناس في أول من بنى الكعبة، فقيل: الملائكة، وقيل آدم".أ. هـ. وانظر البداية والنهاية (1/16 (3) 166) . وانظر تفسير القرطبي للآية (127) من سورة البقرة (2/12) ، وتفسير البغوي عند تفسير الآية نفسها (1/149) وانظر: تاريخ الكعبة المعظمة لحسين عبد الله باسلامه (ص4) ط2 سنة 1384هـ.

2 انظر " شفاء الغرام " للفاسي (1/224) ، رواه عن الأزرقي عن جدِّه قال: أخبرني مسلم بن خالد الزنجي عن ابن جريج، وانظر "تاريخ الأمم والملوك" لابن جرير الطبري (4/206) .
এবং তিনি বারবার তা পুনরাবৃত্তি করলেন, যতক্ষণ না মহান আল্লাহর নির্দেশ এল, যা তাঁদেরকে তাঁর পবিত্র গৃহ (বাইতুল হারাম) পুনরায় নির্মাণের আদেশ দিচ্ছিল। প্রবল বাতাস বালি দিয়ে এবং ঢল কাদা ও পাথর দিয়ে গৃহটি ঢেকে দেওয়ার পর এই নির্দেশ আসে; এই ভিত্তিপ্রস্তরের ওপর যে, ফেরেশতারা সর্বপ্রথম এটি নির্মাণ করেছিলেন১। মহান আল্লাহ বলেন: {আর স্মরণ করো, যখন ইবরাহিম ও ইসমাইল এই গৃহের ভিত্তি স্থাপন করছিল (এবং বলছিল,) হে আমাদের রব! আমাদের পক্ষ থেকে কবুল করুন। নিশ্চয় আপনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ} [আল-বাকারাহ: ১২৭] ।

যখন তাঁরা গৃহটি নির্মাণ করলেন এবং এর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করলেন, তখন তাঁরা তাঁদের রবের নিকট এই বলে প্রার্থনা করলেন: {হে আমাদের রব! আমাদের উভয়কে আপনার একান্ত অনুগত করুন এবং আমাদের বংশধর থেকেও আপনার এক অনুগত উম্মত সৃষ্টি করুন। আমাদের ইবাদতের নিয়মাবলি আমাদের দেখিয়ে দিন এবং আমাদের ক্ষমা করুন। নিশ্চয় আপনি তওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু। হে আমাদের রব! তাদের মধ্য থেকে তাদের কাছে একজন রাসূল প্রেরণ করুন, যিনি আপনার আয়াতসমূহ তাদের কাছে পাঠ করবেন, তাদের কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেবেন এবং তাদের পবিত্র করবেন। নিশ্চয় আপনি মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়} [আল-বাকারাহ: ১২৮-১২৯] ।

অতঃপর আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের প্রতি অনুগ্রহ প্রকাশ করেন যে, তিনি তাঁর নিরাপদ গৃহকে মানুষের জন্য প্রত্যাবর্তনস্থল বানিয়েছেন, যেখানে তারা বারবার ফিরে আসে। মহান আল্লাহ বলেন: {আর স্মরণ করো, যখন আমি এই গৃহকে মানুষের জন্য প্রত্যাবর্তনস্থল ও নিরাপত্তার স্থান বানালাম এবং (নির্দেশ দিলাম যে,) মাকামে ইবরাহিমকে সালাতের স্থান হিসেবে গ্রহণ করো। আর আমি ইবরাহিম ও ইসমাইলকে আদেশ দিয়েছিলাম যে, তোমরা আমার গৃহকে তাওয়াফকারী, ইতিকাফকারী এবং রুকু ও সিজদাকারীদের জন্য পবিত্র রাখো} [আল-বাকারাহ: ১২৫] ।

'হারাম' শব্দটি মক্কা মুকাররমা নগরী, এর ভবনসমূহ, রাস্তাঘাট এবং জনকল্যাণমূলক সুবিধাসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে, যা মসজিদুল হারামকে কবজির চারপাশের চুড়ির মতো ঘিরে রেখেছে, তবে তা মসজিদের অংশ নয়। ওমর ইবনুল খাত্তাব সেই ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন যে মসজিদুল হারামের সম্প্রসারণের জন্য এর নিকটবর্তী তার ঘরটি ভেঙে ফেলার বিনিময়ে মূল্য নিতে অস্বীকার করেছিল এবং বিক্রয় করতে আপত্তি জানিয়েছিল, "তোমরা কাবার আঙ্গিনায় এসে অবস্থান নিয়েছ, কাবা তোমাদের নিকট অবতীর্ণ হয়নি।" অতঃপর তিনি তাদের ঘরের মূল্য কাবার ভাণ্ডারে রেখে দিলেন এবং পরে তারা তা গ্রহণ করেছিল২। তবে অন্যান্য শহরের তুলনায় এর কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে

--------------------------------------------

১ ইবনে কাসির তাঁর তাফসিরে (১/৩০২) বলেন: "কাবা সর্বপ্রথম কে নির্মাণ করেছেন তা নিয়ে আলিমদের মাঝে মতভেদ রয়েছে; কেউ বলেছেন: ফেরেশতারা, আবার কেউ বলেছেন: আদম।" সমাপ্ত। আরও দেখুন আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া (১/১৬৬)। আরও দেখুন সূরা আল-বাকারাহ-এর ১২৭ নম্বর আয়াতের তাফসির আল-কুরতুবী (২/১২), এবং একই আয়াতের তাফসির আল-বাগাবী (১/১৪৯)। আরও দেখুন: হুসাইন আবদুল্লাহ বা সালামাহ রচিত তারীখুল কাবাতিল মুয়াযযামাহ (পৃ. ৪), ২য় সংস্করণ, ১৩৮৪ হিজরী।

২ দেখুন আল-ফাসীর "শিফাউল গারাম" (১/২২৪); তিনি এটি আল-আযরাকী থেকে তাঁর দাদার সূত্রে বর্ণনা করেছেন (رواه): তিনি বলেন: মুসলিম বিন খালিদ আল-যানজী ইবনে জুরাইজ থেকে আমাকে সংবাদ দিয়েছেন। আরও দেখুন ইবনে জারীর আত-তবারীর "তারীখুল উমাম ওয়াল মুলুক" (৪/২০৬)।
(খণ্ড: ১) আল-ইলহাদ ওয়াজ জুলমু ফিল মাসজিদিল হারাম বাইনাল ইরাদাতি ওয়াত তানফীজ (পৃষ্ঠা: ১২৮)
الأرض وقراها على الإطلاق، ففيها يُنهى عن عضد الشجر بكل أنواعه إلا ما استثناه الشارع، وأن لا يُنفَّر صيدها مهما كان حجمه أو نوعه، وتقع الفدية على من فعل شيئاً من ذلك، ولا تحل لُقَطَتُها لواجدها مهما تطاول عليها الزمن1 وأن يكون لها منشداً أبداً.

و (البيت الحرام) أو (المسجد الحرام) و (الكعبة البيت الحرام) و (البيت) و (البيت العتيق) ، لا تأتي إلاّ مُعَرَّفَة، والمراد الكعبةُ نَفْسُها، وما يحيط بها من جهاتها الأربع إلى آخر ما يصل إليه موضع السجود للمؤتمَّ في صلاته بصلاة الإمام فيه، لا يفصل بينهما شيء من المرافق العامة أو الخاصة، وتكون الصفوف متصلة بحيث لو رآها الناس قالوا: الصفوف متصلة، وذلك عُرْفاً - حتى ولو امتدّت إلى أن تشمل قرية مكة كلِّها، فتكون أرض الحرم كلها مسجداً.

ولا يجوز للحائض، والنفساء، والجنب المكث فيه إلا عابري سبيل كشأن سائر المساجد الأخرى، ولا يطلب ذلك في غير المساجد.

وإذا أراد الله تعالى الإشارة إلى بيته المطهَّر بمكة وصفه بـ"الحرام"، وإذا أشار - جلّ وعلا - إلى غيره من المساجد لم يَصِفْهُ بتلك الصفة، كما قال تعالى عن مسجد بيت المقدس: {وَلِيَدْخُلُوا الْمَسْجِدَ كَمَا دَخَلُوهُ أَوَّلَ مَرَّةٍ} [الإسراء/7] .

وعن مسجد المدينة قال تعالى: {لَمَسْجِدٌ أُسِّسَ عَلَى التَّقْوَى} [التوبة/108] .

ولا فرق بين جملة (المسجد الحرام) و (البيت الحرام) فالمساجد بيوت الله، وبيوت الله هي المساجد، وأمكن أن يُضاف البيت إلى اسم الجلالة فيقال: بيت

--------------------------------------------

1 انظر صحيح البخاري كتاب العلم، باب كتابة العلم، حديث رقم (112) وأطرافه (2434) و (6880) . وكتاب البيوع باب ما قيل في الصوَّاغ حديث رقم (209) وكتاب اللقطة، باب رقم (7) ، وانظر صحيح مسلم كتاب الحج، باب تحريم مكة وصيدها، حديث رقم (1355) .
পৃথিবীর ভূখণ্ড ও এর সকল জনপদ সমূহের মধ্যে নিরঙ্কুশভাবে, এতে সকল প্রকার গাছ কাটা নিষিদ্ধ করা হয়েছে, তবে শরীয়ত প্রণেতা যা ব্যতিক্রম করেছেন তা ব্যতীত। আর এখানকার শিকারকে ভীত-সন্ত্রস্ত করা যাবে না, তা যে কোনো আকার বা প্রকারেরই হোক না কেন। আর যে ব্যক্তি এর কোনোটি করবে, তার ওপর ফিদিয়া (فدية) ওয়াজিব হবে। এর কুড়িয়ে পাওয়া বস্তু (لقطة) কোনো প্রাপকের জন্য হালাল নয়, চাই দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হোক না কেন১ এবং সর্বদা এর ঘোষণা প্রদানকারী থাকতে হবে।

এবং (আল-বাইতুল হারাম) বা (আল-মাসজিদুল হারাম) এবং (আল-কাবা আল-বাইতুল হারাম) এবং (আল-বাইত) ও (আল-বাইতুল আতীক), এই শব্দগুলো কেবল নির্দিষ্ট (معرفة) রূপেই ব্যবহৃত হয়। আর এর দ্বারা উদ্দেশ্য স্বয়ং কাবা এবং এর চারপাশ ঘিরে সেই সীমানা পর্যন্ত যেখানে ইমামের পেছনে সালাত আদায়কারীর সিজদাহ করার স্থান পৌঁছে, যা সেখানে ইমামের সালাতের সাথে তার সালাতকে সংশ্লিষ্ট করে। তাদের উভয়ের মাঝে সাধারণ বা বিশেষ কোনো স্থাপনা বিচ্ছেদ ঘটায় না। এবং কাতারসমূহ এমনভাবে সংযুক্ত হবে যে, যদি মানুষ তা দেখে তবে বলবে: কাতারগুলো সংযুক্ত; আর এটি প্রচলিত রীতি (عرف) অনুযায়ী বিবেচিত—এমনকি যদি তা মক্কার পুরো জনপদ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়, তবে হারামের সম্পূর্ণ ভূমিই মসজিদে পরিণত হবে।

আর ঋতুবতী (حائض), নিফাসগ্রস্ত (نفساء) এবং অপবিত্র/জানাবাত (جنব) অবস্থায় থাকা ব্যক্তির জন্য সেখানে অবস্থান করা জায়েজ নয়, তবে অন্য সকল মসজিদের ন্যায় পথ অতিক্রমকারী হিসেবে যাতায়াত করতে পারবে। আর মসজিদ ব্যতীত অন্য কোথাও এমন বিধান চাওয়া হয় না।

আর আল্লাহ তাআলা যখন মক্কায় অবস্থিত তাঁর পবিত্র ঘরের দিকে ইঙ্গিত করতে চেয়েছেন, তখন তাকে ‘হারাম’ বলে গুণান্বিত করেছেন। আর তিনি যখন অন্য কোনো মসজিদের কথা উল্লেখ করেছেন, তখন তাকে সেই গুণে গুণান্বিত করেননি; যেমনটি তিনি বাইতুল মুকাদ্দাসের মসজিদ সম্পর্কে বলেছেন: {যাতে তারা মসজিদে প্রবেশ করে যেমন তারা প্রথমবার তাতে প্রবেশ করেছিল} [আল-ইসরা/৭]।

আর মদিনার মসজিদ সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন: {অবশ্যই যে মসজিদ তাকওয়ার ওপর প্রতিষ্ঠিত} [আত-তাওবাহ/১০৮]।

‘আল-মাসজিদুল হারাম’ এবং ‘আল-বাইতুল হারাম’ বাক্য দুটির মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই; কেননা মসজিদসমূহ আল্লাহর ঘর, আর আল্লাহর ঘরগুলোই হলো মসজিদ। এবং ‘বাইত’ (ঘর) শব্দটিকে ইসমে জালালাতের সাথে সম্বন্ধ করা সম্ভব, ফলে বলা হয়: বাইত (ঘর)

--------------------------------------------

১ দেখুন: সহীহ বুখারী, কিতাবুল ইলম, পরিচ্ছেদ: ইলম লিপিবদ্ধ করা, হাদিস নং (১১২) এবং এর সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সূত্র (২৪৩৪) ও (৬৮৮০)। এবং কিতাবুল বুয়ু, পরিচ্ছেদ: স্বর্ণকারদের সম্পর্কে যা বলা হয়েছে, হাদিস নং (২০৯) এবং কিতাবুল লুক্তাহ, পরিচ্ছেদ নং (৭)। আরও দেখুন: সহীহ মুসলিম, কিতাবুল হজ, পরিচ্ছেদ: মক্কা ও এখানকার শিকার হারাম হওয়া প্রসঙ্গে, হাদিস নং (১৩৫৫)।
(খণ্ড: ১) আল-ইলহাদ ওয়াজ জুলমু ফিল মাসজিদিল হারাম বাইনাল ইরাদাতি ওয়াত তানফীজ (পৃষ্ঠা: ১২৯)
الله الحرام، ولا يقال: مسجد الله الحرام، لأن المساجد لا تكون إلَاّ لعبادة الله وحده، ولا يُقبل عمل فيها إلاّ لله، وهي بمعنى السجود: {وَأَنَّ الْمَسَاجِدَ لِلَّهِ فَلا تَدْعُو مَعَ اللَّهِ أَحَداً} [الجن/18] ، بينما البيوت تطلق على أماكن العبادة وغيرها.

وسمِّيت أرض مكة حرماً من أجل ما حُرِّم فيها من عضد الشجر وتنفير الصيد، وغيرهما مما اختصت به دون غيرها من بقاع الأرض، والحُرْمَةُ ما لا يَحِلُّ انتهاكُه، ويقال: هُوَ ذو مَحْرَمٍ منها، إذا لم يَحِلّ له نِكاحُها. وحَريم البِئْر وغَيْرِها: ما حولها من مرافقها، وحقوقها1.

فقرية مكة: هي حريم المسجد الحرام، وهي له كسياج تحيط به، تحول بين هوانه ممن لا يعظمه في نفسه، ويعمل على إهانته، والنيل منه، بعبادة ربه بما لم يُشَرِّعه لعباده للتقرب إليه وطاعته، كالمشركين يعبدون الأوثان، ويستغيثون بغير الله فيما لا يقدر عليه إلا الله: {وَأَنَّ الْمَسَاجِدَ لِلَّهِ فَلا تَدْعُو مَعَ اللَّهِ أَحَداً} فأولئك لو تمكنوا من دخول مكة - الحرم الآمن - لتمكنوا من دخول المسجد الحرام بطريقة أو بأخرى "كالراعي يرعى حول الحمى"، فقطعاً لدابر مثل هذا الاحتمال حُظِر عليهم دخول أرض مكة كلِّها، وبالتالي دخول بيت الله الحرام، قال تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّمَا الْمُشْرِكُونَ نَجَسٌ فَلا يَقْرَبُوا الْمَسْجِدَ الْحَرَامَ بَعْدَ عَامِهِمْ هَذَا وَإِنْ خِفْتُمْ عَيْلَةً فَسَوْفَ يُغْنِيكُمُ اللَّهُ مِنْ فَضْلِهِ إِنْ شَاءَ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ حَكِيمٌ} [التوبة/28] .

وقد كان من المشركين أربابُ تجارة، يعتادون مكة بأصنافٍ منها، ينتفع بها المسلمون، الذين منهم من اغتمَّ عند نزول صدر الآية الكريمة، خشية الفقر عند انقطاع موارد الرزق، حتى إذا نزل عجزها اطمأنت نفوس المسلمين.

قال ابن حجر: والآية صريحة في منعهم دخول المسجد الحرام، ولو لم

--------------------------------------------

1 مختار الصحاح، مادة (حرم) .
আল্লাহর হারাম (সম্মানিত), আর 'মসজিদ আল্লাহ হারাম' বলা হয় না, কারণ মসজিদসমূহ একমাত্র আল্লাহর ইবাদতের জন্যই হয়ে থাকে এবং সেখানে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিবেদিত আমল ব্যতীত অন্য কিছু কবুল করা হয় না। এটি সিজদার (সাজদাহ) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে: {আর নিশ্চয়ই মসজিদসমূহ আল্লাহরই জন্য, সুতরাং তোমরা আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে ডেকো না} [আল-জিন: ১৮]। পক্ষান্তরে, 'ঘর' শব্দটি ইবাদতখানা এবং অন্যান্য স্থানের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হয়।

মক্কার ভূমিকে হারাম (حرم) নামকরণ করা হয়েছে কারণ সেখানে গাছ কাটা এবং শিকার করা জন্তুকে তাড়ানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যা পৃথিবীর অন্য কোনো ভূখণ্ডের বিপরীতে এর বিশেষ বৈশিষ্ট্য। হুরমত (حرمة) হলো এমন বিষয় যা লঙ্ঘন করা বৈধ নয়। বলা হয়ে থাকে: সে তার মাহরাম (محرم), যখন তার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া বৈধ নয়। আর কূয়া বা অন্য কিছুর হারিম (حريم) হলো তার চারপাশের আনুষঙ্গিক সুবিধাদি ও স্বত্বসমূহ।১

মক্কা জনপদ হলো মসজিদুল হারামের হারিম (حريم), যা এর জন্য একটি বেষ্টনীর মতো একে ঘিরে আছে। এটি তাকে সেই সব ব্যক্তিদের অবজ্ঞা থেকে রক্ষা করে যারা অন্তরে এর প্রতি সম্মান পোষণ করে না এবং একে অপমান করার চেষ্টা করে। তারা আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য এবং তাঁর আনুগত্যের উদ্দেশ্যে এমন পদ্ধতিতে ইবাদত করে যা তিনি তাঁর বান্দাদের জন্য বিধিবদ্ধ করেননি; যেমন মুশরিকরা মূর্তিপূজা করে এবং আল্লাহ ব্যতীত অন্যের কাছে এমন বিষয়ে সাহায্য প্রার্থনা করে যা আল্লাহ ছাড়া আর কেউ করার ক্ষমতা রাখে না: {আর নিশ্চয়ই মসজিদসমূহ আল্লাহরই জন্য, সুতরাং তোমরা আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে ডেকো না}। সুতরাং তারা যদি মক্কায়—নিরাপদ হারাম (حرم)—প্রবেশ করার সুযোগ পেত, তবে তারা কোনো না কোনোভাবে মসজিদুল হারামেও প্রবেশ করে ফেলত, "যেমন রাখাল সংরক্ষিত চারণভূমির আশেপাশে পশু চরায়"। এই ধরনের আশঙ্কার মূলোৎপাটন করার জন্যই তাদের ওপর সমগ্র মক্কা ভূমিতে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে, এবং ফলশ্রুতিতে বাইতুল্লাহ আল-হারামে প্রবেশও নিষিদ্ধ হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {হে মুমিনগণ! মুশরিকরা তো অপবিত্র, সুতরাং এ বছরের পর তারা যেন মসজিদুল হারামের নিকটবর্তী না হয়। আর যদি তোমরা দারিদ্র্যের ভয় করো, তবে আল্লাহ চাইলে নিজ করুণায় তোমাদের অভাবমুক্ত করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়} [আত-তাওবাহ: ২৮]।

মুশরিকদের মধ্যে অনেক ব্যবসায়ী ছিল, যারা বিভিন্ন প্রকার পণ্য নিয়ে মক্কায় আসত এবং এর দ্বারা মুসলমানরা উপকৃত হতো। তাই যখন এই মহান আয়াতে প্রথমাংশ নাজিল হলো, তখন তাদের মধ্যে কেউ কেউ রিজিকের উৎস বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় দারিদ্র্যের ভয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছিল। অতঃপর যখন আয়াতের শেষাংশ নাজিল হলো, তখন মুসলমানদের মন শান্ত হলো।

ইবনে হাজার বলেন: আয়াতটি তাদের মসজিদুল হারামে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে সুস্পষ্ট, যদিও...

--------------------------------------------

১ মুখতারুস সিহাহ, মূলশব্দ (حرم)।
(খণ্ড: ১) আল-ইলহাদ ওয়াজ জুলমু ফিল মাসজিদিল হারাম বাইনাল ইরাদাতি ওয়াত তানফীজ (পৃষ্ঠা: ১৩০)
يقصدوا الحج، ولكن لما كان الحج هو المقصود الأعظم صرح لهم بالمنع منه، فيكون ما وراءه أولى بالمنع. والمراد بالمسجد الحرام هنا الحرم كله1.

وقرية مكة المكرمة لها طابع بيئي متميز، الجبال الشاهقة تحيط بها من جميع جوانبها، والأودية تتخلل تلك الجبال، وحتى موضع البيت الحرام في وادي غير ذي زرع تغمره مياه الأمطار، وقد أدَّت السيول إلى هدمه أكثر من مرة من تاريخ إنشائه. غلب على مناخِها طابع الحرارة الشديدة، ولا تكاد تُميَّز فروق الفصول الأربعة فيها.

وأَقْدِر لمكة المكرمة بلداً يَسكُن حبها نفوسَ المسلمين، ولكن لا يسكنها إلاّ من سكنت إليها نفسه، واطمأنت بالإيمان غالباً. ومزاجها من السكان خليط، ومن العادات مختلف وجديد. يكاد لا يجمع بينهم من الروابط والعادات الاجتماعية إلاّ رابط التعلق ببيت الله الحرام، والتقرب إلى الله فيه.

تحسبهم جميعاً وفق ما ينبغي من تقوى لله، وورع، والتزام يليق بالجوار والجار، عظمة، وحُرمة، غير أنَّها بلد لم تُحصَّن – كغيرها - ضد الشيطان وجنده، فهم يجوبون طرقها، وأنديتها، ويستحوذون على بعض أفئدة سكانها بما يُزَيِّنونه من مسائل، ووسائل تغوي السفهاء، فتكاد المعاصي فيها من مرتكبيها تتشابه بالمعاصي في غيرها من المدن الأخرى.

ولكن يبقى للمسجد الحرام في مكة المكرمة ما يُميزه عن أي بقعة من بقاع الأرض، ذلك هو مؤاخذة من أراد فيه الإلحاد والظلم، - مجرد الإرادة -، بعذاب أليم، وفي غيره يستوجب الفاعل لهما العقوبة بمباشرته الحدث ووقوعه منه فعلاً وقصداً، لا بمجرد أن يهمَّ بذلك هماً دون الإلمام به، ولا تخلو نفس

--------------------------------------------

1 فتح الباري شرح صحيح البخاري (8/32) .
তারা হজের সংকল্প করে, কিন্তু হজ যেহেতু মহান উদ্দেশ্য ছিল, তাই তিনি তাদের তা থেকে স্পষ্টভাবে বারণ করেছেন; এমতাবস্থায় হজের অতিরিক্ত বিষয়গুলো নিষিদ্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে আরও বেশি দাবিদার। আর এখানে মসজিদুল হারাম বলতে সমগ্র হারাম এলাকাকেই বোঝানো হয়েছে।১.

মক্কা মুকাররমা নগরীটির একটি স্বতন্ত্র প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে; সুউচ্চ পাহাড়সমূহ একে সব দিক থেকে বেষ্টন করে আছে এবং পাহাড়গুলোর মাঝ দিয়ে বিভিন্ন উপত্যকা প্রবাহিত হয়েছে। এমনকি বাইতুল হারামের অবস্থান এমন এক শস্যহীন উপত্যকায় যা বৃষ্টির পানিতে প্লাবিত হয়; আর এর ইতিহাসের সূচনা থেকে প্রবল বন্যা একে একাধিকবার ধ্বংসের সম্মুখীন করেছে। এর জলবায়ুর ওপর প্রচণ্ড তাপদাহের প্রভাব প্রবল এবং এখানে চারটি ঋতুর পার্থক্য খুব একটা নিরূপণ করা যায় না।

আমি মক্কা মুকাররমাকে এমন এক জনপদ হিসেবে গণ্য করি যার মহব্বত মুসলিমদের অন্তরে মিশে আছে, তবে সেখানে কেবল তারাই বসবাস করে যাদের আত্মা সেখানে প্রশান্তি পায় এবং সাধারণত ঈমানের মাধ্যমে আশ্বস্ত হয়। এখানকার বাসিন্দাদের মেজাজ বা প্রকৃতি নানামুখী সংমিশ্রণ, আর তাদের রীতিনীতি বৈচিত্র্যময় ও নতুন। আল্লাহর ঘরের প্রতি গভীর অনুরাগ এবং সেখানে আল্লাহর নৈকট্য লাভের বন্ধন ছাড়া অন্য কোনো সামাজিক যোগসূত্র বা প্রথা তাদের খুব একটা একত্রিত করে না।

আল্লাহভীতি, পরহেজগারি এবং এই সান্নিধ্য ও প্রতিবেশিত্বের সাথে মানানসই যে নিষ্ঠা কাম্য—তার মহিমা ও পবিত্রতা বিচারে আপনি তাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ মনে করবেন। তবুও এটি এমন এক শহর যা শয়তান ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে—অন্যান্য শহরের মতো—সুরক্ষিত নয়। তারা এর পথঘাট ও আড্ডাখানায় বিচরণ করে এবং নির্বোধদের প্রলুব্ধকারী নানা বিষয় ও কৌশলের মাধ্যমে কিছু বাসিন্দার হৃদয় বশীভূত করে নেয়। ফলে সেখানকার পাপাচারীদের দ্বারা সংঘটিত গুনাহগুলো অন্যান্য শহরের গুনাহের মতোই হয়ে থাকে।

তবে মক্কা মুকাররমার মসজিদুল হারামের এমন একটি স্বাতন্ত্র্য রয়েছে যা একে পৃথিবীর অন্য যেকোনো স্থান থেকে পৃথক করে; আর তা হলো, সেখানে কেউ ধর্মবিচ্যুতি বা অন্যায়ের ইচ্ছা করলে—কেবল ইচ্ছার কারণেই—তাকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়। অথচ অন্য কোনো স্থানে এই দুই কর্মের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে কেবল তখনই শাস্তি দেওয়া হয় যখন সে সরাসরি তা সম্পাদন করে এবং বাস্তবে ও সঙ্কল্পবদ্ধভাবে তা সংঘটিত করে; স্রেফ সংকল্প করার কারণে এবং বাস্তবে লিপ্ত হওয়ার আগে শাস্তি দেওয়া হয় না। আর কোনো আত্মাই তো ত্রুটিমুক্ত নয়...

--------------------------------------------

১ ফাতহুল বারী শারহু সহীহ বুখারী (৮/৩২)।
(খণ্ড: ১) আল-ইলহাদ ওয়াজ জুলমু ফিল মাসজিদিল হারাম বাইনাল ইরাদাতি ওয়াত তানফীজ (পৃষ্ঠা: ১৩১)
بشرية - إلاّ من رحم - من الهمِّ بفعل يعتبره الشارع معصية يستحق فاعلها عقوبة في الدنيا أو في الآخرة إذا تحقق فعلها منه، وفي الحديث عن ابن عباس يرفعه: "ما مِنْ أَحدٍ مِنْ وَلَدِ آدم ألاّ قد أَخْطأ أو همَّ بخطيئة، ليس يحيى بن زكريا" 1.

وخواطر الإنسان، وأفكاره، وهواجسه لا تقف عند قَدْرٍ، ولا تحدها حدود، فلا يشعر الإنسان إلاّ وقد حلَّقت به أفكاره بعيداً عن مكان وجود بدنه، ويتصور، ويتخيل شتى الصور والخيالات، المألوفة، وغير المألوفة، المباحة، وغير المباحة.

وقد تُحَرِّك في نفسه بعض تلك الصور المُتَخَيَّلَة نوعاً من الرغبة في نيلها، والاستمتاع بها، فيتدرج مع خياله في سبل تحقيقها حتى يكتمل في ذهنه مُحققاً، وواقعاً ملموساً، قد ذلل بقدرته على التصور كل العقبات المحتملة دونه، فينزع إلى التنفيذ ويهم بالمباشرة، وتبرز عندئذٍ (الإرادة) فيْصَلاً بين التنفيذ أو الإحجام.

فإن هو سعى في طلب ما نزعت إليه نفسه بنيَّة تحقيقه، في قوة مركَّبة من شهوة، وخاطر، وأمل، واتخذ حيال ذلك الوسائل، والوسائط، والسبل، وأجرى في نفسه مشهداً تجريبياً، تجري فصوله مثال الواقع، فاستهواه واستساغه، وشجعه بجعله واقعاً ملموساً، فهو قد أراد إرادة أكيدة في تحقيق ونيل ما سعى إليه، وتسمى تلك الإرادة المؤكدة (عزيمة) ، فإن تم له ما أراد تقرر في حقه الثواب أو العقاب، وإذا حال دون تحقيق إرادته مانعٌ لا يقوى على تذليله، وبقيت معه تلك الإرادة المؤكدة تراوده إلى فعل ما أراد حال تمكُّنه، يسمى فعله

--------------------------------------------

1 رواه الإمام أحمد في مسنده (1/254،292،295،32) عن ابن عباس، وإسناده ضعيف لوجود علي بن زيد بن جدعان التيمي، قال أحمد وأبو زرعة: ليس بالقوي.
মানবীয় প্রকৃতি—যাকে আল্লাহ দয়া করেছেন সে ব্যতীত—এমন কোনো কাজের ইচ্ছা পোষণ করা থেকে মুক্ত নয় যা শরিয়ত প্রণেতা পাপাচার হিসেবে গণ্য করেন এবং যার সম্পাদনকারী দুনিয়া বা আখেরাতে শাস্তির যোগ্য হয় যদি তার মাধ্যমে সেই কাজটি সংঘটিত হয়। ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে যা তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পর্যন্ত উন্নীত (مرفوع) করেছেন: "আদমের সন্তানদের মধ্যে এমন কেউ নেই যে ভুল করেনি বা কোনো পাপের ইচ্ছা পোষণ করেনি, ইয়াহইয়া ইবনে জাকারিয়া ব্যতীত।" 1.

মানুষের খেয়াল-খুশি, চিন্তা ও মনের প্ররোচনা কোনো নির্দিষ্ট গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকে না এবং এর কোনো সীমা নেই। ফলে মানুষ টেরও পায় না যখন তার চিন্তা তাকে তার শরীরের উপস্থিতির স্থান থেকে অনেক দূরে উড়িয়ে নিয়ে যায়; তখন সে বিভিন্ন প্রকার দৃশ্য ও কল্পনার চিত্রায়ন ও কল্পনা করে—তা পরিচিত হোক বা অপরিচিত, বৈধ হোক কিংবা অবৈধ।

এই কাল্পনিক চিত্রগুলোর কোনো কোনোটি তার মনে সেগুলো অর্জনের বা উপভোগ করার এক প্রকার আকাঙ্ক্ষা জাগ্রত করতে পারে। অতঃপর সে তার কল্পনার সাথে সেগুলো বাস্তবায়নের পথে এমনভাবে অগ্রসর হতে থাকে যে, শেষ পর্যন্ত তা তার মস্তিষ্কে একটি পূর্ণাঙ্গ ও দৃশ্যমান বাস্তবতা হিসেবে ধরা দেয়। সে তার কল্পনা শক্তির মাধ্যমে এর পথে থাকা সম্ভাব্য সকল বাধা দূর করে ফেলে, ফলে সে তা বাস্তবায়নের দিকে ঝুঁকে পড়ে এবং সরাসরি কাজে প্রবৃত্ত হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করে। তখন 'ইচ্ছা' বিষয়টি বাস্তবায়ন অথবা বিরত থাকার মাঝে চূড়ান্ত ফয়সালাকারী হিসেবে আবির্ভূত হয়।

সুতরাং সে যদি তার প্রবৃত্তি যা আকাঙ্ক্ষা করেছে তা বাস্তবায়নের নিয়তে অন্বেষণ শুরু করে—এমন এক শক্তির মাধ্যমে যা প্রবৃত্তি, চিন্তা ও আশার সমন্বয়ে গঠিত—এবং সেই উদ্দেশ্যে বিভিন্ন উপায়, মাধ্যম ও পথ গ্রহণ করে এবং নিজের মনে একটি পরীক্ষামূলক দৃশ্যপট পরিচালনা করে যার প্রতিটি ধাপ বাস্তবতার ন্যায় চলমান থাকে; ফলে তা তাকে আকৃষ্ট ও তৃপ্ত করে এবং একে একটি দৃশ্যমান বাস্তবে রূপ দিতে উৎসাহিত করে, তবে সে যা অর্জনের চেষ্টা করেছে তা অর্জনে সে সুদৃঢ় ইচ্ছা পোষণ করেছে। আর এই সুদৃঢ় ইচ্ছাকে সংকল্প (عزيمة) বলা হয়। যদি সে যা চেয়েছে তা সম্পন্ন হয়, তবে তার ক্ষেত্রে সওয়াব বা শাস্তি নির্ধারিত হয়। আর যদি তার ইচ্ছা বাস্তবায়নের পথে এমন কোনো বাধা উপস্থিত হয় যা সে অতিক্রম করতে সক্ষম নয়, অথচ সক্ষম হওয়ার সাথে সাথেই তার সেই কাজটি করার সুদৃঢ় ইচ্ছা অবশিষ্ট থাকে, তবে তার এই কাজকে বলা হয়...

--------------------------------------------

1 ইমাম আহমাদ তার মুসনাদ (১/২৫৪, ২৯২, ২৯৫, ৩২) গ্রন্থে ইবনে আব্বাস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। এর সনদ (إسناد) দুর্বল (ضعيف); কারণ এতে আলী বিন যাইদ বিন জুদআন আত-তৈমী রয়েছেন। আহমাদ ও আবু জুরআহ বলেন: তিনি শক্তিশালী নন (ليس بالقوي)।
(খণ্ড: ১) আল-ইলহাদ ওয়াজ জুলমু ফিল মাসজিদিল হারাম বাইনাল ইরাদাতি ওয়াত তানফীজ (পৃষ্ঠা: ১৩২)
ذلك إصراراً يؤاخذ عليه في الحرم، والإصرار هو: "الإقامة على الذنب، والعزم على فعل مثله"1.

وإذا منعه من تحقيق ما أراد مانع من نفسه، كخوفه من الله، وخشيته من العاقبة، وكان قادراً على الاسترسال في طلب مراده، وتحقيق ما أراد، فاستغفر ربه وأناب، فكأنَّه في هذه الحالة لم يصدر عنه شيء البتَّة، بل يثاب على تركه المعصية - وقد كان قادراً على فعلها - خوفاً من الباري جلّ وعلا.

روى النبي صلى الله عليه وسلم حديثاً عن ربه جلّ وعلا أنه قال: "إذا أراد عبدي أن يعْمل سيئة فلا تكتبوها عليه حتى يعملها، فإن عملها فاكتبوها له بمثِلها، وإن تركها من أجلي فاكتبوها له حسنة، وإذا أراد أن يعمل حسنة فلم يعملها فاكتبوها له حسنة، فإن عملها فاكتبوها له بعشر أمثالها إلى سبع مائة" 2.

والحديث - والله أعلم - لم يفرق بين من أراد السيئة في المسجد الحرام، ومن أرادها خارجه، ولكن إن ترك فعل السيئة أو المعصية بعد تمكنه من فعلها، خوفاً من الله فإنَّه يثاب، ولا يؤاخذ بما همَّ به في غير المسجد الحرام.

قال المحاسبي: "أما الهمّ الموضوع فهو التَروية إذا خطرت المعصية أيفعلها أم لا؟ فهو يميل بين الفعل والترك، فلا يُكْتَب عليه شيء حتى يصير إلى أحدهما، فإن صار إلى العَقْد زال عنه الهمّ.

وإن هو صار من الهمِّ إلى الترك صار إلى الطاعة، وكتبت له حسنة، وإذا همّ بفعل حسنة من النفل كتبت له حسنة، فإذا عقد عليها كُتبت له عشراً، فإذا همَّ بحسنة من الفرض أيفعل أو لا يفعل؟ فليس ذلك من حسنة إنما الهمُّ بالحسنة

--------------------------------------------

1 التعريفات للجرجاني (ص 37) .

2 أخرجه البخاري في صحيحه كتاب التوحيد، باب قول الله تعالى: {يريدون أن يبدِّلوا كلام الله} ، حديث رقم (7501) .
এটি এমন একটি অনড় অবস্থান (إصرار), যার জন্য হারামে জবাবদিহি করতে হবে। আর অনড় অবস্থান (إصرار) হলো: "পাপের ওপর অটল থাকা এবং অনুরূপ কাজ করার সংকল্প করা।"১

আর যদি তার কাম্য বিষয় অর্জনে নিজের ভেতর থেকে কোনো বাধা তাকে নিবৃত্ত করে, যেমন আল্লাহর ভয় এবং পরিণতির আশঙ্কা, অথচ সে তার উদ্দেশ্য হাসিলের চেষ্টায় অবিচল থাকতে এবং যা চেয়েছিল তা বাস্তবায়ন করতে সক্ষম ছিল, অতঃপর সে তার রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করল এবং ফিরে এল, তবে এই অবস্থায় যেন তার পক্ষ থেকে কিছুই ঘটেনি। বরং সে গুনাহ বর্জন করার কারণে সওয়াবপ্রাপ্ত হবে—যদিও সে তা করতে সক্ষম ছিল—কেবল মহান স্রষ্টার ভয়ে।

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর মহান রব থেকে বর্ণিত একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "যখন আমার বান্দা কোনো মন্দ কাজ করার ইচ্ছা করে, তখন সে তা না করা পর্যন্ত তার আমলনামায় তা লিখো না। অতঃপর যদি সে তা করে ফেলে, তবে তার জন্য অনুরূপ একটি গুনাহ লেখো। আর যদি সে আমার খাতিরে তা বর্জন করে, তবে তার জন্য একটি নেকি (حسنة) লেখো। আর যখন সে কোনো নেক কাজ করার ইচ্ছা করে কিন্তু তা করতে পারেনি, তবে তার জন্য একটি নেকি (حসنة) লেখো। অতঃপর যদি সে তা সম্পাদন করে, তবে তার জন্য দশ গুণ থেকে সাতশত গুণ পর্যন্ত সওয়াব লেখো।" ২

আর এই হাদিসটি—আল্লাহই ভালো জানেন—মসজিদুল হারামে মন্দ কাজের সংকল্পকারী এবং তার বাইরে সংকল্পকারীর মধ্যে কোনো পার্থক্য করেনি। তবে যদি কেউ কোনো মন্দ কাজ বা নাফরমানি করার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও আল্লাহর ভয়ে তা বর্জন করে, তবে সে সওয়াব পাবে। আর মসজিদুল হারামের বাইরে কেবল সংকল্প (همّ) করার কারণে তাকে পাকড়াও করা হবে না।

ইমাম মুহাসিবি বলেন: "আর যে সংকল্প (همّ) ক্ষমাযোগ্য, তা হলো এমন দোদুল্যমান চিন্তা যখন কোনো গুনাহের কল্পনা মাথায় আসে যে, সে তা করবে কি করবে না? সে কাজ করা বা না করার মাঝামাঝি অবস্থায় থাকে। সুতরাং তার বিরুদ্ধে কিছুই লেখা হবে না যতক্ষণ না সে যেকোনো একটির দিকে চূড়ান্ত ধাবিত হয়। আর যদি সে দৃঢ় সংকল্প (عقد) করে ফেলে, তবে তার সাধারণ সংকল্পের (همّ) পর্যায়টি বিলীন হয়ে যায়।

আর যদি সে সংকল্প (همّ) থেকে বর্জনের দিকে ফিরে আসে, তবে সে আনুগত্যের দিকে ফিরে এল এবং তার জন্য একটি নেকি (حসنة) লেখা হয়। যখন সে কোনো নফল নেক কাজ করার সংকল্প (همّ) করে, তখন তার জন্য একটি নেকি (حسنة) লেখা হয়। অতঃপর যখন সে তার ওপর দৃঢ় সংকল্প (عقد) করে, তখন তার জন্য দশটি নেকি লেখা হয়। আর যখন সে কোনো ফরজ নেক কাজের ব্যাপারে সংকল্প (همّ) করে যে, সে তা করবে কি করবে না? তবে সেটি নেকি হিসেবে গণ্য হবে না, বরং নেক কাজের জন্য সংকল্প (همّ) করাই মূল বিষয়।

--------------------------------------------

১. জুরজানি রচিত আত-তারিফাত (পৃ. ৩৭)।

২. ইমাম বুখারি এটি তাঁর সহিহ বুখারি-তে কিতাবুত তাওহিদ, অনুচ্ছেদ: আল্লাহ তাআলার বাণী: {তারা আল্লাহর কালাম পরিবর্তন করতে চায়}, হাদিস নম্বর (৭৫০১) এর অধীনে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইলহাদ ওয়াজ জুলমু ফিল মাসজিদিল হারাম বাইনাল ইরাদাতি ওয়াত তানফীজ (পৃষ্ঠা: ১৩৩)
هو الهمّ بالنفل"1.

وقال الخطابي: "محل كتابة الحسنة على الترك أن يكون التارك قد قدر على الفعل ثم تركه، لأن الإنسان لا يُسمى تاركاً إلاّ مع القدرة، ويدخل فيه من حال بينه وبين حرصه على الفعل مانع، كأن يمشى إلى امرأة ليزني بها - مثلاً - فيجد الباب مغلقاً، ويتعسر فتحه، ومثله من تمكن من الزنا - مثلاً - فلم ينتشِر، أو طَرَقَه ما يخاف من أذاه عاجلاً2. والله أعلم.

--------------------------------------------

1 انظر كتابه: المسائل في أعمال القلوب والجوارح، (79) ، (والمحاسبي) معروف حاله!.

2 انظر كتابه: أعلام الحديث (3/2252) ، وانظر فتح الباري لابن حجر، (11/326) .
এটি হলো নফল (نفل) ইবাদতের সংকল্প।"১

এবং ইমাম খাত্তাবি বলেছেন: "মন্দ কাজ বর্জনের কারণে নেকি লিপিবদ্ধ হওয়ার ক্ষেত্র হলো বর্জনকারী উক্ত কাজটি করতে সক্ষম ছিল এবং অতঃপর সে তা বর্জন করেছে। কেননা সক্ষমতা ব্যতীত কাউকে 'বর্জনকারী' হিসেবে অভিহিত করা যায় না। আর এর অন্তর্ভুক্ত সেই ব্যক্তিও হবে যার আকাঙ্ক্ষা ও কর্মের মাঝে কোনো প্রতিবন্ধকতা দেখা দিয়েছে। যেমন—উদাহরণস্বরূপ—কেউ কোনো নারীর কাছে ব্যভিচারের উদ্দেশ্যে গেল, অতঃপর সে দরজা বন্ধ পেল এবং তা খোলা তার জন্য দুঃসাধ্য হয়ে পড়ল। অনুরূপ সেই ব্যক্তিও এর অন্তর্ভুক্ত, যে ব্যভিচারের সুযোগ পাওয়া সত্ত্বেও শারীরিক সক্ষমতা হারাল, অথবা এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হলো যাতে সে তাৎক্ষণিক ক্ষতির ভয় পেল।" আল্লাহ-ই সর্বজ্ঞ।

--------------------------------------------

১. দেখুন তাঁর গ্রন্থ: আল-মাসাইল ফি আমালিল কুলুব ওয়াল জাওয়ারিহ, (৭৯); আর (আল-মুহাসিবি)-র অবস্থা সুপরিচিত (معروف حاله)!।

২. দেখুন তাঁর গ্রন্থ: আ'লামুল হাদিস (৩/২২৫২), এবং দেখুন ইবনে হাজারের ফাতহুল বারি (১১/৩২৬)।
(খণ্ড: ১) আল-ইলহাদ ওয়াজ জুলমু ফিল মাসজিদিল হারাম বাইনাল ইরাদাতি ওয়াত তানফীজ (পৃষ্ঠা: ১৩৩)
‌‌الفصل الأول

الحدود والفروق بين الحرم والمسجد الحرام

‌‌المبحث الأول: حدود مكة المكرمة، ومواقيت حرمها الأربعة

من الشمال من طريق المدينة المنورة دون التنعيم1، عند بيوت نِفَار ثلاثة أميال. ومن الجنوب من طريق اليمن، طرف أضاة لَبَن على ستة أميال. وأضاة لبن، سميت كذلك لأن الجبل2 المطل عليها يقال له: (لَبَن) بالتحريك، وقيل:

--------------------------------------------

1 روى مسلم في صحيحه عن أنس بن مالك: أن ثمانين رجلاً من أهل مكة هبطوا على رسول الله صلى الله عليه وسلم من جبل التنعيم مُتسلِّحين، يريدون غِرَّة النبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه، فأخذهم سَلماً فاستحياهم، فأنزل الله عز وجل: {وَهُوَ الَّذِي كَفَّ أَيْدِيَهُمْ عَنْكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ عَنْهُمْ بِبَطْنِ مَكَّةَ مِنْ بَعْدِ أَنْ أَظْفَرَكُمْ عَلَيْهِمْ} الفتح / 28. (انظر صحيح مسلم كتاب الجهاد والسير، باب قول الله تعالى: {وَهُوَ الَّذِي كَفَّ أَيْدِيَهُمْ عَنْكُمْ} (133ـ 1808) ، وأبو داود في الجهاد، باب في المنِّ على الأسير بغير فداء. أقول: وبطن الوادي أسفله، فيكون معنى قوله تعالى: {بِبَطْنِ مَكَّةَ} أي: أن جبل التنعيم من مكة، ويقع في أسفلها من ناحية الشمال، والله أعلم، انظر أسباب النزول للواحدي بتحقيق سيد صقر (ص405) .

2 قيل: جبل (لبن) يقال له اليوم (لُبين) عنده حد الحرم الجنوبي و (إضاة) لبن يقال لها اليوم (العُقَيْشِيَّة) نسبة إلى رجل يقال له (عُقيش) كان يملكها، (انظر أخبار مكة للفاكهي، ج4/195) والقِري (582) .
প্রথম পরিচ্ছেদ

হারাম এবং মাসজিদুল হারামের সীমানা ও পার্থক্যসমূহ

প্রথম অনুচ্ছেদ: মক্কা মুকাররমার সীমানা এবং এর হারামের চারটি মিউকাত

উত্তর দিক থেকে মদিনা মুনাওয়ারার রাস্তায় তানয়ীমের আগে, নিফার গোত্রের ঘরবাড়ির নিকট তিন মাইল পর্যন্ত। আর দক্ষিণ দিক থেকে ইয়ামেনের রাস্তায় আযাতে লাবানের এক প্রান্ত পর্যন্ত যা ছয় মাইল দূরে অবস্থিত। আযাতে লাবানকে এই নামে নামকরণ করা হয়েছে কারণ এর ওপর ঝুলে থাকা পাহাড়টিকে বলা হয়: (লাবান) হরকত বা স্বরচিহ্নসহ, এবং বলা হয়েছে:

--------------------------------------------

১ মুসলিম তার সহীহ গ্রন্থে আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন: মক্কার আশি জন লোক তানয়ীম পাহাড় থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর সশস্ত্র অবস্থায় অতর্কিত আক্রমণ করার উদ্দেশ্যে নেমে এসেছিল। তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীদের অপ্রস্তুত অবস্থায় পেয়ে আক্রমণ করতে চেয়েছিল, কিন্তু তিনি তাদের কোনো যুদ্ধ ছাড়াই বন্দী করেন এবং পরে তাদের জীবন ভিক্ষা দেন (ছেড়ে দেন)। তখন আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা নাযিল করেন: {আর তিনিই সেই সত্তা যিনি মক্কার উপত্যকায় তাদের হাত তোমাদের থেকে এবং তোমাদের হাত তাদের থেকে বিরত রেখেছেন তাদের ওপর তোমাদের বিজয় দান করার পর} আল-ফাতহ / ২৪ (মূল টেক্সটে ২৮ উল্লেখ থাকলেও এটি ২৪ নম্বর আয়াত)। (দেখুন সহীহ মুসলিম, কিতাবুল জিহাদ ওয়াস সিয়ার, আল্লাহ তাআলার বাণী সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ: {আর তিনিই সেই সত্তা যিনি তাদের হাত তোমাদের থেকে বিরত রেখেছেন} (১৩৩-১৮০৮), এবং আবু দাউদ, কিতাবুল জিহাদ, মুক্তিপণ ছাড়া বন্দীদের ওপর অনুগ্রহ করা সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ। আমি বলছি: উপত্যকার নিম্নভাগই এর তলদেশ, সুতরাং আল্লাহ তাআলার বাণী: {মক্কার উপত্যকায়} এর অর্থ হলো: তানয়ীম পাহাড় মক্কার অংশ এবং এটি মক্কার উত্তর দিকের নিম্নভাগে অবস্থিত, আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন। দেখুন ওয়াহিদি রচিত আসবাবুন নুযুল, সাইয়্যেদ সাকর এর সম্পাদনা (تحقيق) সহ (পৃষ্ঠা ৪০৫)।

২ বলা হয়েছে: (লাবান) পাহাড়কে বর্তমানে (লুবাইন) বলা হয়, যেখানে হারামের দক্ষিণ সীমানা অবস্থিত এবং লাবানের (আযাত) কে বর্তমানে (আল-উকাইশিয়াহ) বলা হয়, যা (উকাইশ) নামক এক ব্যক্তির সাথে সম্পর্কিত যিনি এর মালিক ছিলেন (দেখুন ফাকিহী রচিত আখবারে মক্কা, খণ্ড ৪/১৯৫) এবং আল-কিরি (৫৮২)।
(খণ্ড: ১) আল-ইলহাদ ওয়াজ জুলমু ফিল মাসজিদিল হারাম বাইনাল ইরাদাতি ওয়াত তানফীজ (পৃষ্ঠা: ১৩৪)
بكسر اللام وإسكان الباء، (والأَضَاة) خَبْتٌ يجتمع سيل وادي مكة فيه، على وزن فتاة. ومن الغرب طريق جدة منقطع الأعشاش على عشرة أميال. و (الأعْشَاش) منطقة رملية تقع بين الحديبية وبين سلسلة جبال (المُرَيْر) و (الجوف) ، ويخترقها طريق جدة القديم. وأنصاب الحرم قبل الحديبية1 بكيل ونصف، ومن الجنوب الشرقي من طريق الطائف على طريق عرفة من بطن نمرة على أحد عشر ميلاً. ومن الشمال من طريق العراق على ثَنيَّة خَلٍّ بالمُقَطَّع2، على سبعة أميال.

و (ثنيَّة خل) يقال لها أيضاً: (خلِّ الصِفَاح) نسبة إلى أرض الصِفاح، وهي أرض بيضاء واسعة تقع ضمن (المغْمس الأفيح) 3. أقول: تُسمى اليوم: الشرائع السُفلى، أو قرية المجاهدين.

ومن الشرق من طريق الجِعْرانة في شعب عبد الله بن خالد بن أُسيد4، على تسعة أميال.

وعن الزهري عن عبيد الله بن عبد الله بن عتبة، قال: نصب إبراهيم

--------------------------------------------

1 قال الإمام مالك في العُتْبيَّة: والحديبية في الحرم، (انظر فتح الباري لابن حجر: 5/334) ، وشفاء الغرام ـ للفاسي (1/58) .

2 سمي مقطَّعاً لأنهم قطعوا منه أحجار الكبعة في زمن ابن الزبير، "انظر شفاء الغرام للفاسي (1/56) ".

3 انظر أخبار مكة للفاكهي (4/195) .

4 قال الفاسي: هو فيما أحسب ابن أخي عتّاب بن أُسيد بن أبي العاص الأموي القرشي أمير مكة، لأنه كان لعبد الله المذكور بمكة شهرة لولايته لأمر مكة. وقيل: هو عبد الله بن خالد بن أُسيد الخزاعي، وقيل: آل عبد الله القسري، وقال: وحدُّ الحرام من هذه الجهة لا يُعرف موضعه الآن، إلاّ أن بعض أعراب مكة زعم أنه في مقدار نصف طريق الجِعْرانة، وسئل عن سبب معرفته لذلك فقال: إن الموضع المشهور الذي أشار إليه في محاذاة أعلام الحرم من جهة نخلة، وهي جهة العراق، (شفاء الغرام ـ ج1 ص57) .
লাম বর্ণে কাসরা (জের) এবং বা বর্ণে সুকুন (জযম) যোগে, (আল-আদাহ) হলো একটি নিচু সমতল ভূমি যেখানে মক্কার উপত্যকার প্লাবন বা স্রোতধারা একত্রিত হয়; এটি 'ফাতাহ' শব্দের ওজনে। পশ্চিম দিক থেকে জিদ্দাহ অভিমুখে আল-আ'শাশের শেষ প্রান্তে মক্কা থেকে দশ মাইল দূরে অবস্থিত। আর (আল-আ'শাশ) হলো একটি বালুকাময় এলাকা যা হুদায়বিয়াহ এবং (আল-মুরাইর) ও (আল-জাওফ) পর্বতশ্রেণীর মাঝখানে অবস্থিত এবং এর মধ্য দিয়ে পুরাতন জিদ্দাহ সড়কটি অতিক্রম করেছে। হুদায়বিয়াহ১-এর দেড় কিলোমিটার আগে হারামের সীমানা-চিহ্নসমূহ অবস্থিত। দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে তায়েফগামী রাস্তায় তথা আরাফাহর পথে বাতনে নামিরাহ থেকে এগারো মাইল দূরে। আর উত্তর দিক থেকে ইরাকগামী রাস্তায় আল-মুকাত্তায়২ অবস্থিত সানিয়্যাহ খল-এ সাত মাইল দূরে।

আর (সানিয়্যাহ খল)-কে (খল্লুস সিফাহ)-ও বলা হয়, যা সিফাহ অঞ্চলের দিকে সম্বন্ধিত; এটি একটি প্রশস্ত শ্বেতভূমি যা (আল-মুগমাস আল-আফইয়াহ)৩-এর অন্তর্ভুক্ত। আমি বলি: বর্তমানে একে আশ-শারাই আস-সুফলা অথবা কারিয়াতুল মুজাহিদীন বলা হয়।

পূর্ব দিক থেকে জি'রানা অভিমুখে আবদুল্লাহ ইবনে খালিদ ইবনে উসাইদ৪-এর গিরিপথে নয় মাইল দূরে।

এবং যুহরি থেকে বর্ণিত, তিনি উবায়দুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উতবাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম) স্থাপন করেছেন...

--------------------------------------------

১. ইমাম মালিক আল-উতবিয়্যাহ গ্রন্থে বলেছেন: হুদায়বিয়াহ হারামের অন্তর্ভুক্ত, (দেখুন ইবনে হাজারের ফাতহুল বারী: ৫/৩৩৪) এবং আল-ফাসীর শিফাউল গ্রাম (১/৫৮)।

২. একে মুকাত্তা' (কর্তিত) নামকরণ করা হয়েছে কারণ ইবনে যুবাইরের যুগে তারা এখান থেকে কাবার পাথর কেটে সংগ্রহ করেছিলেন, "দেখুন আল-ফাসীর শিফাউল গ্রাম (১/৫৬)"।

৩. দেখুন আল-ফাকিহীর আখবারু মক্কা (৪/১৯৫)।

৪. আল-ফাসি বলেন: আমার ধারণা মতে তিনি হলেন মক্কার আমির আত্তাব ইবনে উসাইদ ইবনে আবিল আস আল-উমাবী আল-কুরাশীর ভ্রাতুষ্পুত্র। কারণ মক্কার শাসনভার পরিচালনার কারণে উক্ত আবদুল্লাহর সেখানে বিশেষ খ্যাতি ছিল। কেউ বলেছেন: তিনি হলেন আবদুল্লাহ ইবনে খালিদ ইবনে উসাইদ আল-খুজায়ী। আবার কেউ বলেছেন: তিনি আবদুল্লাহ আল-কাসরীর বংশধর। তিনি আরও বলেন: এই দিক থেকে হারামের সীমানা বর্তমানে সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায় না, তবে মক্কার কিছু বেদুইন দাবি করে যে এটি জি'রানা রাস্তার প্রায় অর্ধেক দূরত্বে অবস্থিত। তাকে এর কারণ জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: যে প্রসিদ্ধ স্থানটির দিকে তিনি ইশারা করেছেন তা নাখলা অর্থাৎ ইরাকের দিকের হারামের সীমানা-চিহ্নগুলোর সমান্তরালে অবস্থিত, (শিফাউল গ্রাম - ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৫৭)।
(খণ্ড: ১) আল-ইলহাদ ওয়াজ জুলমু ফিল মাসজিদিল হারাম বাইনাল ইরাদাতি ওয়াত তানফীজ (পৃষ্ঠা: ১৩৫)
أنصاب الحرم، يُريه جبريل عليه السلام، ثم لم تُحرَّك حتى كان قُصَي فجددها، ثم لم تُحرَّك حتى كان النبي صلى الله عليه وسلم، فبعث عام الفتح تميم بن أسيد الخزاعي فجدّدها1، ثم لم تحرك حتى كان عمر بن الخطاب فبعث أربعة من قريش فجددوها: مخرمة بن نوفل، وسعيد بن يربوع، وحُويطب بن عبد العُزى، وأزهر بن عبد عوف، ثم جدَّدها معاوية، ثم أمر عبد الملك بتجديدها. وقيل: أن آدم عليه السلام لما أهبط إلى الأرض خاف على نفسه من الشياطين، فاستعاذ بالله، فأرسل الله تعالى ملائكة حَفَّوا بمكة من كل جانب، ووقفوا حواليها، فحرّم الله تعالى الحرم حيث وقفت الملائكة2.

وأما عن المواقيت المكانية ففي الصحيحين عن ابن عباس أن النبي صلى الله عليه وسلم وقّت لأهل المدينة ذا الحليفة3، ولأهل الشام الجُحْفَة4، ولأهل نجد قَرْنَ المنازل5، ولأهل اليمن يَلَمْلَمْ6، وقال: "هنَّ لهن ولكل آتٍ عليهن من غير أهلهن ممن أراد الحج والعمرة، ومن كان دون ذلك فمن حيث أنشأ، حتى أهل

--------------------------------------------

1 انظر مصنف عبد الرزاق (5/25) رقم (8864) وفيه: تميم بن أسد، بدل أُسيد، وكذا ابن سعد في الطبقات الكبرى (4/295) ، وقال ابن حجر في الإصابة (1/3.4) رقم (83) : وأخرجه أبو نعيم، وزاد: " وكان إبراهيم وضعها يُريه إيَّاها جبريل" إسناده حسن، وانظر تعجيل المنفعة للبزار (ص39) .

2 انظر القِرى لقاصد أم القرى، لمحب الدين الطبري (ص 652 ـ 653) .

(ذو الحليفة) بالمهملة والفاء مُصغراً، مكان معروف بينه وبين مكة مائتا ميل غير ميلين، وقيل: عشر مراحل، وبينها وبين المدينة ستة أميال، بها مسجد الشجرة، وبئر يقال لها بئر علي، (انظر فتح الباري: (3/385) .

(الجحفة) قرية بين مكة والمدينة على أربع مراحل من مكة، وهي ميقات أهل الشام، ومصر، والمغرب، ويحرم المصريون الآن من رابغ بوزن فاعل، قريب من الجحفة.

(قرن المنازل) و (قرن الثعالب) واحد، وهو تلقاء ذات عِرْق على مرحلتين من مكة، وهو ميقات أهل النجدين، نجد الحجاز، ونجد تهامة واليمن.

(يلملم) جبل من جبال تهامة على مرحلتين من مكة، وقيل: وادياً.
হারামের সীমানাপ্রাচীরসমূহ; জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) তাঁকে (ইব্রাহিম আ.-কে) তা দেখিয়েছিলেন, অতঃপর কুসাইয়ের সময় পর্যন্ত এগুলো সরানো হয়নি, পরে তিনি তা সংস্কার করেন। এরপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সময় পর্যন্ত তা অপরিবর্তিত ছিল। অতঃপর মক্কা বিজয়ের বছর তিনি তামীম বিন উসায়েদ আল-খুজায়ীকে প্রেরণ করেন এবং তিনি তা সংস্কার করেন। অতঃপর উমর ইবনুল খাত্তাবের সময় পর্যন্ত তা আর সরানো হয়নি, পরে তিনি কুরাইশ বংশের চারজনকে প্রেরণ করেন এবং তাঁরা তা সংস্কার করেন: মাখরামাহ বিন নাওফাল, সাঈদ বিন ইয়ারবু, হুওয়াইতিব বিন আবদিল উযযা এবং আযহার বিন আবদিল আউফ। এরপর মুয়াবিয়া তা সংস্কার করেন এবং পরবর্তীতে আব্দুল মালিক সংস্কারের নির্দেশ দেন। বর্ণিত আছে যে, আদম (আলাইহিস সালাম) যখন পৃথিবীতে অবতরণ করলেন, তখন তিনি শয়তানদের থেকে নিজের জীবনের আশঙ্কা করলেন এবং আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করলেন। তখন মহান আল্লাহ ফিরিশতাদের প্রেরণ করলেন যারা মক্কার চারপাশ ঘিরে রাখলেন এবং এর চারপাশে অবস্থান নিলেন। অতঃপর যেখানে ফিরিশতারা অবস্থান নিয়েছিলেন, আল্লাহ তাআলা সেই পর্যন্ত হারাম ঘোষণা করলেন।

আর ভৌগোলিক মিকাতসমূহ সম্পর্কে সহীহাইন-এ ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মদিনাবাসীদের জন্য যুল-হুলাইফা, সিরিয়াবাসীদের জন্য আল-জুহফাহ, নজদবাসীদের জন্য কারনুল মানাযিল এবং ইয়ামেনবাসীদের জন্য ইয়ালামলাম-কে মিকাত হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। তিনি বলেছেন: "এসব মিকাত ওইসব অঞ্চলের অধিবাসীদের জন্য এবং যারা হজ ও উমরার নিয়তে ওই পথ দিয়ে অন্য অঞ্চল থেকে আসবে তাদের জন্যও। আর যারা এই সীমানার ভেতরে বসবাস করে, তারা যেখান থেকে ইহরামের সংকল্প করবে সেখান থেকেই ইহরাম বাঁধবে, এমনকি অধিবাসীরা..."

--------------------------------------------

১. দেখুন: মুসান্নাফ আবদুর রাজ্জাক (৫/২৫), নং (৮৮৬৪), সেখানে উসায়েদ-এর পরিবর্তে তামীম বিন আসাদ রয়েছে। তদ্রূপ ইবনে সা'দ তাঁর আত-তবাকাত আল-কুবরা (৪/২৯৫) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। ইবনে হাজার আল-ইসাবাহ (১/৩.৪), নং (৮৩) গ্রন্থে বলেন: আবু নুআয়ম এটি বর্ণনা করেছেন এবং বর্ধিতভাবে বলেছেন: "ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম) এগুলো স্থাপন করেছিলেন এবং জিবরাঈল তাঁকে তা দেখিয়ে দিয়েছিলেন।" এর সনদ (إسناد) টি হাসান (حسن)। আরও দেখুন: আল-বাযযারের তা'জীলুল মানফায়াহ (পৃ. ৩৯)।

২. দেখুন: মুহিব্বুদ্দীন আত-তবারী রচিত আল-কিরা লি কাসিদ উম্মিল কুরা (পৃ. ৬৫২-৬৫৩)।

(যুল হুলাইফা) শব্দটি নুকতাহীন হা এবং ফা সহযোগে তাসগীর বা ক্ষুদ্রার্থবোধক রূপে গঠিত; এটি একটি সুপরিচিত স্থান, মক্কা ও এর মধ্যবর্তী দূরত্ব দুই মাইল কম দুইশত মাইল। বলা হয়ে থাকে যে, এটি দশ মঞ্জিল বা দশ দিনের পথ। মদিনা থেকে এর দূরত্ব ছয় মাইল। সেখানে মাসজিদ আশ-শাজারাহ অবস্থিত এবং একটি কূয়া রয়েছে যাকে বীরে আলী বলা হয় (দেখুন: ফাতহুল বারী: ৩/৩৮৫)।

(আল-জুহফাহ) মক্কা ও মদিনার মধ্যবর্তী একটি গ্রাম, যা মক্কা থেকে চার মঞ্জিল দূরে। এটি সিরিয়া, মিশর ও মাগরিববাসীর জন্য মিকাত। বর্তমানে মিশরীয়রা রাবেগ থেকে ইহরাম বাঁধেন যা ‘ফায়িল’-এর ওজনে, এটি আল-জুহফাহর নিকটবর্তী।

(কারনুল মানাযিল) এবং (কারনুত সা'আলিব) একই স্থান। এটি যাতু ইরক্ব-এর বিপরীতে মক্কা থেকে দুই মঞ্জিল দূরে অবস্থিত। এটি নজদাইন অর্থাৎ নজদে হিজায এবং নজদে তিহামাহ ও ইয়ামেনবাসীদের জন্য মিকাত।

(ইয়ালামলাম) এটি তিহামাহ অঞ্চলের পাহাড়সমূহের একটি পাহাড়, যা মক্কা থেকে দুই মঞ্জিল দূরে অবস্থিত। কেউ কেউ একে একটি উপত্যকাও বলেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইলহাদ ওয়াজ জুলমু ফিল মাসজিদিল হারাম বাইনাল ইরাদাতি ওয়াত তানফীজ (পৃষ্ঠা: ১৩৬)
مكة يُهِلون من مكة" 1.

قوله: "حتى أهل مكة يهلون من مكة"، قال المحب الطبري: هذا في الحج بالإجماع.

أما العمرة فلا أعلم أحداً جعل مكة ميقاتاً للعمرة في حق المكيِّ، بل عليه أن يخرج من الحرم إلى أدنى الحِلِّ، لأمره صلى الله عليه وسلم عائشة أن تخرج إلى التنعيم2 عندما أرادت العمرة بعد الحج.

وعن ابن عمر قال: لما فُتح هذان المصران (البصرة والكوفة) ، أتوا عمر فقالوا: يا أمير المؤمنين إن رسول الله صلى الله عليه وسلم حدّ لأهل نجدٍ قَرْناً، وهو جَوْر عن طريقنا، وإنا إن أردنا قرْناً شق علينا، قال: "فانظروا حْذوها من طريقكم" فحدّ لهم ذات عِرْق3.

وعن ابن عباس أن النبي صلى الله عليه وسلم وقّت لأهل المشرق العقيق4، و (العقيق) قريب من ذات عرق، قبلها بمرحلة أو مرحلتين، وكل موضع شقَّه ماء السيل فوسَّعه فهو عقيق5.

--------------------------------------------

1 انظر صحيح البخاري كتاب الحج باب مُهل أهل مكة للحج والعمرة، (فتح الباري: 3/384) ، وصحيح مسلم كتاب الحج باب مواقيت الحج والعمرة (11/1181) .

2 انظر كتابه القِري لقاصد أم القرى (ص99) .

3 أخرجه البخاري في صحيحه من كتاب الحج باب ذات عرق لأهل العراق، (وذات عرق) بكسر العين وسكون الراء بعدها قاف، بينها وبين مكة مرحلتان، والمسافة إثنان وأربعون ميلاً، وهو الحد الفاصل بين نجد وتهامة، (انظر فتح الباري 3/389) .

4 أخرجه أبو داود في سننه، من كتاب المناسك، باب في المواقيت، حديث رقم (174) ، والترمذي في الحج، باب في المواقيت حديث رقم (832) ، وقال: حديث حسن، قال الخطابي: الحديث في العقيق أثبت منه في ذات عِرق، (معالم السنن) ، وانظر صحيح مسلم كتاب "الحج" باب مواقيت الحج والعمرة، وفيه من حديث جابر أن النبي صلى الله عليه وسلم وقَّت لأهل المشرق ذات عرق.

5 انظر القِري لقاصد أم القرى (ص101) .

তাঁর উক্তি: "এমনকি মক্কাবাসীরাও মক্কা থেকে ইহরাম বাঁধবে", মুহিব্ব আত-তবারি বলেন: এটি হজের ক্ষেত্রে ঐকমত্যের (إجماع) ভিত্তিতে সাব্যস্ত।

তবে উমরার ব্যাপারে আমি এমন কাউকে জানি না যিনি মক্কাবাসীর জন্য মক্কাকে উমরার নির্ধারিত স্থান (ميقات) হিসেবে গণ্য করেছেন; বরং তার জন্য হারামের সীমানা থেকে নিকটবর্তী হিল (الحِل) এলাকার দিকে বের হওয়া আবশ্যক। কারণ, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আয়েশা (রা.)-কে হজের পর উমরা করার ইচ্ছা পোষণ করলে তানঈমের দিকে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যখন এই দুই শহর (বসরা ও কুফা) বিজিত হলো, তখন তারা উমর (রা.)-এর নিকট এসে বললেন: হে আমিরুল মুমিনীন! রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নজদবাসীদের জন্য 'কারন' নামক স্থানকে নির্ধারিত স্থান (ميقات) হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, কিন্তু এটি আমাদের পথ থেকে বিচ্যুত। আমরা যদি 'কারন'-এর দিকে যেতে চাই, তবে তা আমাদের জন্য কষ্টসাধ্য হবে। তিনি বললেন: "তাহলে তোমাদের পথে এর সমান্তরাল স্থানটি দেখে নাও।" অতঃপর তিনি তাদের জন্য 'জাতু ইরাক' নির্ধারণ করে দিলেন।

ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রাচ্যবাসীদের জন্য 'আকিক' নির্ধারণ করেছেন। আর (আকিক) হলো জাতু ইরাকের নিকটবর্তী একটি স্থান, যা এর এক বা দুই মঞ্জিল (مرحلة) আগে অবস্থিত। প্রবাহিত পানি যে স্থানকে বিদীর্ণ করে প্রশস্ত করেছে, তাকেই আকিক বলা হয়।

--------------------------------------------

১. দেখুন: সহীহ বুখারী, কিতাবুল হাজ্জ, অধ্যায়: হজ ও উমরার জন্য মক্কাবাসীদের ইহরাম বাঁধার স্থান, (ফাতহুল বারী: ৩/৩৮৪), এবং সহীহ মুসলিম, কিতাবুল হাজ্জ, অধ্যায়: হজ ও উমরার নির্ধারিত স্থান (ميقات) সমূহ (১১/১১৮১)।

২. দেখুন: তাঁর গ্রন্থ আল-কিরি লি কাশিদি উম্মিল কুরা (পৃ. ৯৯)।

৩. বুখারী তাঁর সহীহ-তে কিতাবুল হাজ্জ-এর 'ইরাকবাসীদের জন্য জাতু ইরাক' অধ্যায়ে এটি বর্ণনা করেছেন। (জাতু ইরাক) শব্দের আইন বর্ণটি কাসরা এবং রা বর্ণটি সুকুন যোগে, এরপর কফ রয়েছে। এটি ও মক্কার মাঝে দুই মঞ্জিল (مرحلة) দূরত্ব এবং ব্যবধান বিয়াল্লিশ মাইল। এটি নজদ ও তিহামার মধ্যবর্তী বিভাজক রেখা (দেখুন: ফাতহুল বারী ৩/৩৮৯)।

৪. আবু দাউদ তাঁর সুনান-এর কিতাবুল মানাসিক, নির্ধারিত স্থান (ميقات) সংক্রান্ত অধ্যায়ে এটি বর্ণনা করেছেন, হাদিস নং ১৭৪; এবং তিরমিযী হজের নির্ধারিত স্থান (ميقات) সংক্রান্ত অধ্যায়ে এটি বর্ণনা করেছেন, হাদিস নং ৮৩২। তিনি বলেছেন: এটি হাসান (حسن) হাদিস। খাত্তাবী বলেন: আকিক সংক্রান্ত হাদিসটি জাতু ইরাক সংক্রান্ত হাদিসের চেয়ে অধিক সুপ্রমাণিত (أثبت)। (মাআলিমুস সুনান)। আরও দেখুন: সহীহ মুসলিম, কিতাবুল হাজ্জ, অধ্যায়: হজ ও উমরার নির্ধারিত স্থান (ميقات) সমূহ; এতে জাবির (রা.)-এর হাদিসে উল্লেখ আছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রাচ্যবাসীদের জন্য জাতু ইরাক নির্ধারণ করেছেন।

৫. দেখুন: আল-কিরি লি কাশিদি উম্মিল কুরা (পৃ. ১০১)।
(খণ্ড: ১) আল-ইলহাদ ওয়াজ জুলমু ফিল মাসজিদিল হারাম বাইনাল ইরাদাতি ওয়াত তানফীজ (পৃষ্ঠা: ১৩৭)
‌‌المبحث الثاني: حدود المسجد الحرام

قال صلى الله عليه وسلم لقريش: "قفوا على مشاعركم، فإنكم على إرث من إرث أبيكم إبراهيم" 1.

وعن أبي ذرٍ قال: قلت يا رسول الله أي مسجد وضع في الأرض أول؟، قال: "المسجد الحرام".

قلت: ثم أَيّ؟.

قال: "المسجد الأقصى".

قلت: كم بينهما؟.

قال: "أربعون سنة، ثم أين أدركتك الصلاة بَعْدُ فصلَّ فإن الفضل فيه" 2.

قال المحب الطبري:

"إعلم أن المسجد الحرام كان صغيراً، ولم يكن عليه جدار، وإنما كانت الدور محدقة به، وبين الدور أبواب يدخل الناس من كل ناحية، فضاق على الناس المسجد فاشترى عمر بن الخطاب دوراً فهدمها، وأدخلها فيه، ثم أحاط

--------------------------------------------

1 أخرجه أبو داود في سننه من كتاب المناسك باب موضع الوقوف بعرفة، والترمذي في الحج باب في الوقوف بعرفات والدعاء بها، وقال: حديث حسن، وابن ماجه في الحج باب الموقف بعرفات، ومسند الإمام أحمد (4 /137) وجامع الأصول حديث (1522) قال الإمام الخطابي في معالم السنن (2/47) ، المشاعر: المعالم، وأصله من قولك: شعرت بالشيء "أي" علمته، وليت شعري ما فعل فلان، أي: ليت علمي بلغه، وأحاط به، وقال الأزهري (5/43) في تهذيب اللغة: "الحرم قد ضُرب على حدوده بالمنار القديمة التي بيَّن خليل الله عليه السلام مشاعِرها، وكانت قريش تعرفها في الجاهلية والإسلام لأنهم كانوا سكان الحرم، ويعلمون أن ما دون المنار إلى مكة من الحرم، وما وراءها ليس من الحرم".

2 أخرجه مسلم في صحيحه من كتاب المساجد الباب الأول، والإمام أحمد في مسنده (5/15.،156،157،16) .
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মসজিদুল হারামের সীমানা

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরাইশদের উদ্দেশ্য করে বলেন: "তোমরা তোমাদের হজের নিদর্শনাদির (مشاعر) ওপর অটল থাকো, কেননা তোমরা তোমাদের পিতা ইবরাহিমের উত্তরাধিকারের ওপর প্রতিষ্ঠিত আছো" ১।

আবু যার (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! পৃথিবীতে সর্বপ্রথম কোন মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছে? তিনি বললেন: "মসজিদুল হারাম"।

আমি বললাম: তারপর কোনটি?

তিনি বললেন: "মসজিদুল আকসা"।

আমি বললাম: এই দুই মসজিদের মধ্যবর্তী সময়ের ব্যবধান কতটুকু?

তিনি বললেন: "চল্লিশ বছর। এরপর যেখানেই তোমার সালাতের সময় হবে, সেখানেই সালাত আদায় করে নিও, কারণ এর মধ্যেই ফজিলত নিহিত রয়েছে" ২।

মুহিব্ব তাবারী বলেন:

"জেনে রাখুন যে, মসজিদুল হারাম আয়তনে ছোট ছিল এবং এর কোনো প্রাচীর ছিল না। বরং ঘরবাড়ি একে পরিবেষ্টন করে ছিল এবং ঘরগুলোর মধ্যবর্তী স্থানগুলোতে প্রবেশের পথ ছিল যেখান দিয়ে মানুষ সব দিক থেকে প্রবেশ করত। পরবর্তীতে মানুষের ভিড় বেড়ে যাওয়ায় ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) কিছু ঘরবাড়ি ক্রয় করেন এবং সেগুলো ভেঙে মসজিদের অন্তর্ভুক্ত করেন। এরপর তিনি এর চারপাশে প্রাচীর নির্মাণ করেন..."

--------------------------------------------

১ এটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ তাঁর সুনান গ্রন্থের 'মানাসিক' অধ্যায়ের 'আরাফায় অবস্থানের স্থান' পরিচ্ছেদে এবং তিরমিজি হজের 'আরাফায় অবস্থান ও তথাকার দুআ' পরিচ্ছেদে। তিনি বলেছেন: এটি একটি হাসান (حسن) হাদিস। এছাড়াও এটি ইবনে মাজাহ হজের 'আরাফায় অবস্থানের স্থান' পরিচ্ছেদে এবং মুসনাদে ইমাম আহমাদে (৪/১৩৭) ও জামিউল উসুলের (১৫২২) নম্বর হাদিস হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। ইমাম খাত্তাবি 'মাআলিমুস সুনান' (২/৪৭) গ্রন্থে বলেন: মাশায়ির (المشاعر) অর্থ হলো নিদর্শনাদি (المعالم)। এর মূল হলো ‘মাশাইর’ শব্দ থেকে যার অর্থ ‘আমি কোনো কিছু জেনেছি বা অবগত হয়েছি’। যেমন বলা হয় ‘লাইতা শিয়ারি’, অর্থাৎ যদি আমার জ্ঞান তাকে বেষ্টন করতে পারত। আল-আজহারী (৫/৪৩) 'তাহজিবুল লুগাহ' গ্রন্থে বলেন: "হারাম (حرم) এলাকার সীমানাগুলো সেই প্রাচীন স্তম্ভের মাধ্যমে নির্ধারিত যা আল্লাহর খলিল (আ.) তাঁর হজের নিদর্শনাদি (مشاعر) হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন। কুরাইশরা জাহেলি যুগ ও ইসলামি উভয় যুগেই এই সীমানা সম্পর্কে অবগত ছিল, কারণ তারা হারাম (حرم) এলাকার বাসিন্দা ছিল। তারা জানত যে, এই স্তম্ভগুলোর ভেতর থেকে মক্কা পর্যন্ত পুরোটা হারাম (حرم) এলাকার অন্তর্ভুক্ত এবং স্তম্ভের বাইরের অংশ হারাম (حرم) এলাকার অন্তর্ভুক্ত নয়।"

২ এটি মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থের 'মসজিদসমূহ' অধ্যায়ের প্রথম পরিচ্ছেদে এবং ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদে (৫/১৫., ১৫৬, ১৫৭, ১৬) বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইলহাদ ওয়াজ জুলমু ফিল মাসজিদিল হারাম বাইনাল ইরাদাতি ওয়াত তানফীজ (পৃষ্ঠা: ১৩৮)
عليه جداراً قصيراً، ثم وسع المسجد عثمان بن عفان فاشترى من قوم، ثم زاد ابن الزبير فيه، واشترى دوراً، وأدخلها فيه"1.

لعل من الملاحظ أن حدود المسجد الحرام على مرِّ العصور لم تتسم مساحتها بالثبات، مما يحيط بالكعبة المشرفة من أروقة، وساحات، ومرافق، بل بالإتساع، والزيادة، والتضعيف خلال أزمنة مختلفة متفاوتة، وذلك لكثرة الوافدين إلى البيت، والآمّين له عاماً بعد عام من شتى صقاع الأرض، خاصة بعد بعثة النبي صلى الله عليه وسلم، وما أعقب ذلك من فتوحات للبلدان المجاورة والبعيدة عن جزيرة العرب واتساع رقعة الإسلام، وكثرة من اعتنقه من الأمم الأخرى.

وكان للكوارث التي حلت بالبيت الحرام، من اجتياح السيول وما نتج عنه من هدم، وغرق، وما أصابه من حريق عند إصابته بالمنجنيق، وتصدع لبعض أركانه، وجوانبه لتطاول العهد عليها، الدافع القوي لدى ولاة الأمر لإصلاحه، وترميمه، وحماية جوانبه من تكرار ما حلّ به من كوارث، وكان يواكب تلك الإصلاحات في الغالب إضافة مساحات جديدة إلى مساحته القديمة.

وكان يتسابق الملوك، والخلفاء، والولاة على العناية بالمسجد الحرام لينالوا بذلك شرف خدمته، تقرباً إلى مولاهم جلّ وعلا.

ويقول المؤرخون2: إن أولّ من قام بتوسعة المسجد الحرام هو:

الخليفة الراشد الفاروق عمر بن الخطاب: سنة سبع عشرة من الهجرة، فقد كانت مساحته في زمن قريش: ألفين ومائة وستة وعشرين متراً مربعاً، فبلغت بعد زيادة عمر رضي الله عنه: ثلاثة آلاف وسِتُّ مائة وثلاثة عشر متراً مربعاً.

--------------------------------------------

1 انظر كتابه القِرى لقاصد أم القرى (ص 657) .

2 انظر تاريخ ابن جرير (4/206) ، وإتحاف الورى (2/8) ، وأخبار مكة للفاكهي (تحقيق ابن دهيش) (2/175-176) .
...এর উপর একটি নিচু প্রাচীর ছিল, অতঃপর উসমান ইবনে আফফান মসজিদটি সম্প্রসারিত করেন এবং একদল লোকের নিকট থেকে জমি ক্রয় করেন, এরপর ইবনুল জুবাইর এতে আরও বৃদ্ধি করেন, কিছু ঘরবাড়ি ক্রয় করে সেগুলোকে এর অন্তর্ভুক্ত করেন।"১

সম্ভবত এটি লক্ষণীয় যে, যুগ যুগ ধরে মসজিদুল হারামের সীমানা এবং কাবা শরিফকে ঘিরে থাকা বারান্দা, চত্বর ও সুযোগ-সুবিধাগুলোর আয়তন অপরিবর্তিত থাকেনি; বরং বিভিন্ন সময়ে তা সম্প্রসারণ, বৃদ্ধি ও কয়েক গুণ (تضعيف) করার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়েছে। এর কারণ হলো পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাইতুল্লাহর উদ্দেশে আগত ও জিয়ারতকারীদের আধিক্য, বিশেষ করে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুয়ত প্রাপ্তির পর এবং পরবর্তীতে আরব উপদ্বীপের নিকটবর্তী ও দূরবর্তী দেশসমূহ বিজিত হওয়া, ইসলামের সীমানা বৃদ্ধি পাওয়া এবং অন্যান্য জাতির মধ্য থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষের ইসলাম গ্রহণের ফলে।

মসজিদুল হারামের ওপর আপতিত বিভিন্ন দুর্যোগ, যেমন—প্রবল বন্যা এবং এর ফলে সৃষ্ট ধ্বংসযজ্ঞ ও প্লাবন, মিনজানিকের আঘাতে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ড এবং দীর্ঘকাল অতিবাহিত হওয়ার ফলে এর বিভিন্ন কোণ ও পার্শ্বে সৃষ্টি হওয়া ফাটলসমূহ তৎকালীন শাসকদের জন্য একে সংস্কার, পুনর্নির্মাণ এবং পুনরায় দুর্যোগ থেকে সুরক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণে শক্তিশালী অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। আর এই সংস্কার কাজের সাথে অধিকাংশ সময়ই পুরনো আয়তনের সাথে নতুন স্থান সংযোজিত হয়েছে।

রাজা-বাদশাহ, খলিফা এবং গভর্নরগণ মসজিদুল হারামের রক্ষণাবেক্ষণের ব্যাপারে একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করতেন, যাতে তারা তাদের মহান রবের নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে এর খেদমতের সম্মান অর্জন করতে পারেন।

ইতিহাসবিদগণ২ বলেন: মসজিদুল হারামের সর্বপ্রথম সম্প্রসারণকারী হলেন:

খলিফায়ে রাশেদ আল-ফারুক উমর ইবনুল খাত্তাব: হিজরি সতেরো সনে। কুরাইশদের যুগে এর আয়তন ছিল দুই হাজার একশ ছাব্বিশ বর্গমিটার, যা উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর সম্প্রসারণের পর দাঁড়িয়েছিল তিন হাজার ছয়শ তেরো বর্গমিটারে।

--------------------------------------------

১ দেখুন তার কিতাব আল-কিরা লি কাসিদি উম্মিল কুরা (পৃ. ৬৫৭)।

২ দেখুন তারিখ ইবনে জারির (৪/২০৬), ইতিহাফুল ওয়ারা (২/৮) এবং আখবারু মক্কা লিল ফাকিহি (ইবনে দাহিশ সম্পাদিত) (২/১৭৫-১৭৬)।
(খণ্ড: ১) আল-ইলহাদ ওয়াজ জুলমু ফিল মাসজিদিল হারাম বাইনাল ইরাদাতি ওয়াত তানফীজ (পৃষ্ঠা: ১৩৯)
ثم تلاه خليفته ذو النورين عثمان بن عفان رضي الله عنه: سنة ستة وعشرين من الهجرة، وأحدث زيادة في مساحة المسجد الحرام، قدرها: ثمان مائة وتسع وستون متراً.

وتلاه عبد الله بن الزبير: سنة خمس وستين من الهجرة فأضاف إلى المساحة القديمة: ألفين وتسع مائة وثلاثة وثمانين متراً مربعاً.

ثم أضاف الخليفة الأموي الوليد بن عبد الملك: سنة إحدى وتسعين من الهجرة إلى مساحة المسجد الحرام: ألفين وثمان مائة متراً مربعاً.

وأما في العهد العباسي فقد أضاف الخليفة أبو جعفر المنصور: سنة سبع وثلاثين بعد المائة الأولى من الهجرة: خمسة آلاف ومئتين وواحداً وعشرين متراً مربعاً.

وفي عهد الخليفة محمد المهدي: سنة إحدى وستين ومائة بلغت الزيادة: إثنى عشر ألفاً وخمس مائة واثني عشر متراً مربعاً.

ثم أضاف المعتضد: سنة أربع وثمانين ومئتين من الهجرة: ألفاً وثلاث مائة وتسعاً وثلاثين متراً مربعاً.

وأخيراً أضاف الخليفة المقتدر: سنة ست وثلاث مائة من الهجرة: سبع مائة وأربعة عشر متراً مربعاً.

فبلغ ما أضيف إلى المسجد الحرام من زيادات منذ عهد عمر بن الخطاب إلى عهد الخليفة المقتدر، بالإضافة إلى ما كانت عليه مساحته أيام قريش قبل البعثة، أكثر من ثلاثين ألف متراً مربعاً.

وبقيت مساحة المسجد الحرام ثابتة منذ عهد الخليفة العباسي المقتدر إلى عهد الحكم السعودي في دولته الثالثة، فقد شرع الملك عبد العزيز بن عبد الرحمن الفيصل يرحمه الله في مشروع كبير لتوسعة المسجد الحرام، وذلك
এরপর তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন যুন-নুরাইন উসমান বিন আফফান (রাযিয়াল্লাহু আনহু): হিজরি ছাব্বিশ সনে তিনি মসজিদে হারামের আয়তনে একটি পরিবর্ধন সাধন করেন, যার পরিমাণ ছিল: আটশত উনসত্তর মিটার।

এরপর হিজরি পঁষট্টি সনে আবদুল্লাহ বিন আয-যুবাইর তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন এবং প্রাচীন আয়তনের সাথে দুই হাজার নয়শত তিরাশি বর্গমিটার যোগ করেন।

অতঃপর উমাইয়া খলিফা ওয়ালিদ বিন আব্দুল মালিক হিজরি একানব্বই সনে মসজিদে হারামের আয়তনে দুই হাজার আটশত বর্গমিটার বৃদ্ধি করেন।

আর আব্বাসীয় আমলে খলিফা আবু জাফর আল-মানসুর হিজরি একশত সাইত্রিশ সনে পাঁচ হাজার দুইশত একুশ বর্গমিটার সংযোজন করেন।

খলিফা মুহাম্মদ আল-মাহদীর শাসনামলে হিজরি একশত একষট্টি সনে এই পরিবর্ধনের পরিমাণ দাঁড়ায়: বারো হাজার পাঁচশত বারো বর্গমিটার।

অতঃপর আল-মুতাদিদ হিজরি দুইশত চুরাশি সনে এক হাজার তিনশত উনচল্লিশ বর্গমিটার যোগ করেন।

পরিশেষে খলিফা আল-মুক্তাদির হিজরি তিনশত ছয় সনে সাতশত চৌদ্দ বর্গমিটার বৃদ্ধি করেন।

ফলে ওমর ইবনুল খাত্তাবের আমল থেকে খলিফা আল-মুক্তাদিরের আমল পর্যন্ত মসজিদে হারামে যে সকল পরিবর্ধন করা হয়েছে এবং নবুওয়াত পূর্ব কুরাইশদের যুগে এর যে আয়তন ছিল, সব মিলিয়ে তার মোট পরিমাণ ত্রিশ হাজার বর্গমিটারের অধিক হয়।

আব্বাসীয় খলিফা আল-মুক্তাদিরের আমল থেকে সৌদি আরবের তৃতীয় রাষ্ট্রীয় শাসনকাল পর্যন্ত মসজিদে হারামের আয়তন অপরিবর্তিত ছিল। অতঃপর বাদশাহ আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল রহমান আল ফয়সাল (রাহিমাহুল্লাহ) মসজিদে হারামের সম্প্রসারণে এক বৃহৎ প্রকল্প শুরু করেন, আর তা হলো
(খণ্ড: ১) আল-ইলহাদ ওয়াজ জুলমু ফিল মাসজিদিল হারাম বাইনাল ইরাদাতি ওয়াত তানফীজ (পৃষ্ঠা: ১৪০)
سنة ثلاث وسبعين وثلاث مائة وألف من الهجرة، ووافاه الأجل في السنة نفسها - يرحمه الله - وتولى الأمر بعده ابنه الملك سعود يرحمه الله ومضى في تنفيذ وإتمام ما بدأه والده.

ولما انتقلت الولاية للملك فيصل بعد أخيه - يرحمهما الله - واصل تنفيذ وإتمام توسعة المسجد الحرام على أكمل وجه، وأحسنه، وتم ذلك سنة ست وتسعين وثلاث مائة وألف، واستغرق تنفيذ المشروع عشرين عاماً.

فبلغت مساحة المسجد الحرام بعد إتمام التوسعة في عهد الملك فيصل بن عبد العزيز - يرحمه الله -: إحدى وخمسين ومائة ألف مترٍ مربعٍ، وتعرف هذه التوسعة بالتوسعة السعودية الأولى.

وفي العام التاسع بعد الأربع مائة والألف من الهجرة بدأت التوسعة السعودية الثانية، التي تعرف اليوم بتوسعة خادم الحرمين الشريفين الملك فهد بن عبد العزيز، وتمت في العام الثاني عشر بعد الأربع مائة والألف من الهجرة، فأصبحت مساحة المسجد الحرام، مع ما يحيط به من ساحات تزيد على ثمان وعشرين وثلاث مائة ألف متر مربع1.

وحول مسألة الإسراء بالنبي صلى الله عليه وسلم من المسجد الحرام إلى المسجد الأقصى كما نص عليه قوله تعالى: {سُبْحَانَ الَّذِي أَسْرَى بِعَبْدِهِ لَيْلاً مِنَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ إِلَى الْمَسْجِدِ الأَقْصَى الَّذِي بَارَكْنَا حَوْلَهُ لِنُرِيَهُ مِنْ آيَاتِنَا إِنَّهُ هُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ} [الإسراء/1] ، وقع ما يمكن أن نسميه إلتباساً في الفهم، حول المكان الذي أسري برسول الله صلى الله عليه وسلم منه، وذلك لورود نوعين من الأحاديث: أكثرها تنص على أن الإسراء تم من

--------------------------------------------

1 انظر: توسعة وعمارة الحرمين الشريفين، رؤية حضارية (ص2) .
হিজরি তেরোশ তেহাত্তর সাল এবং এই বছরেই তাঁর জীবনাবসান ঘটে—আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন—এবং তাঁর পরে তাঁর পুত্র বাদশাহ সৌদ শাসনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন—আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন—এবং তাঁর পিতার শুরু করা কাজ বাস্তবায়ন ও সমাপ্ত করার পথে অগ্রসর হন।

যখন তাঁর ভাইয়ের পর বাদশাহ ফয়সালের নিকট শাসন ক্ষমতা হস্তান্তরিত হলো—আল্লাহ তাঁদের উভয়ের ওপর রহম করুন—তিনি মসজিদুল হারামের সম্প্রসারণ কাজ অত্যন্ত নিপুণ ও সর্বোত্তমভাবে বাস্তবায়ন ও সম্পন্ন করা অব্যাহত রাখেন। এটি তেরোশ ছিয়ানব্বই হিজরি সালে সম্পন্ন হয় এবং এই প্রকল্প বাস্তবায়নে বিশ বছর সময় লাগে।

বাদশাহ ফয়সাল বিন আব্দুল আজিজ—আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন—তাঁর আমলে সম্প্রসারণ কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর মসজিদুল হারামের আয়তন দাঁড়ায়: এক লক্ষ একান্ন হাজার বর্গমিটার। আর এই সম্প্রসারণ 'প্রথম সৌদি সম্প্রসারণ' হিসেবে পরিচিত।

হিজরি চৌদ্দশ নয় সালে দ্বিতীয় সৌদি সম্প্রসারণ শুরু হয়, যা বর্তমানে খাদেমুল হারামাইন শরীফাইন বাদশাহ ফাহাদ বিন আব্দুল আজিজ সম্প্রসারণ নামে পরিচিত। এটি চৌদ্দশ বারো হিজরি সালে সম্পন্ন হয়। এর ফলে পার্শ্ববর্তী চত্বরসমূহসহ মসজিদুল হারামের আয়তন তিন লক্ষ আটাশ হাজার বর্গমিটারের১ অধিক হয়।

মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসা পর্যন্ত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইসরা (নৈশভ্রমণ) সংক্রান্ত মাসআলা সম্পর্কে যেমনটি আল্লাহ তাআলার এই বাণীতে বর্ণিত হয়েছে: {পবিত্র সেই সত্তা, যিনি তাঁর বান্দাকে রাতে ভ্রমণ করিয়েছিলেন মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসা পর্যন্ত, যার চারপাশকে আমি বরকতময় করেছি, যেন আমি তাঁকে আমার নিদর্শনসমূহ দেখাতে পারি। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা} [আল-ইসরা/১]। যে স্থান থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ইসরা করানো হয়েছিল, সে সম্পর্কে অনুধাবনের ক্ষেত্রে যাকে আমরা এক প্রকার অস্পষ্টতা বলতে পারি তার সৃষ্টি হয়েছে। এর কারণ হলো এ বিষয়ে দুই প্রকারের হাদিস বর্ণিত হয়েছে: যার অধিকাংশের সুস্পষ্ট বক্তব্য (نص) হলো যে, ইসরা সম্পন্ন হয়েছিল...

--------------------------------------------

১. দেখুন: তাওসিয়াহ ওয়া ইমারাতুল হারামাইন আশ-শারিফাইন, রুয়াহ হাদ্বারিয়াহ (পৃ. ২)।
(খণ্ড: ১) আল-ইলহাদ ওয়াজ জুলমু ফিল মাসজিদিল হারাম বাইনাল ইরাদাতি ওয়াত তানফীজ (পৃষ্ঠা: ১৪১)
المسجد الحرام1، والأخرى تنص على أنه صلى الله عليه وسلم كان في بيت أم هانئ2 عندما آتاه الملائكة، وشقّ جبريل عليه السلام عن صدره، وبيت أم هانئ حينذاك كان خارج المسجد الحرام.

وفي حديث لأنس بن مالك عن أبي ذر أن رسول الله صلى الله عليه وسلم، قال: "فُرٍج عن سقف بيتي وأنا بمكة3…" وساق الحديث… وبيته كان في الشعب فأخذ الذين يقولون بأن مكة غير المسجد الحرام في مضاعفة المثوبة أو العقاب والأخذ بالإرادة قبل التنفيذ بالأحاديث الدّالة على أن الإسراء إنما كان من المسجد الحرام.

وأخذ الذين قالوا: بأن لا فرق بين أرض مكة والمسجد الحرام في مضاعفة الثواب أو العقاب، والأخذ بالإرادة من الإنسان على فعل المعصية، قبل فعلها منه، إلى حديث أم هانئ عند الحاكم وغيره، وإلى حديث البخاري في كتاب الصلاة.

قال ابن حجر: "وإن كان مختلفاً في (الحطيم) هل هو الحِجْرُ، أم لا؟ لكن المراد بيان البقعة التي وقع ذلك فيها، ومعلوم أنها لم تتعدد، لأن القصة متحدة لاتحاد مخرجها.

وقد تقدم في أول بدء الخلق4 بلفظ: "بينا أنا عند البيت" وهو أعم، ووقع

--------------------------------------------

1 انظر صحيح البخاري كتاب التوحيد باب: (وكلّم الله موسى تكليماً) حديث رقم (5717) وصحيح مسلم، كتاب الإيمان، باب الإسراء برسول الله صلى الله عليه وسلم، حديث رقم (162،164) ، وانظر جامع الأصول لابن الأثير (11/305-310) .

2 انظر الطبراني في الكبير (24/432) حديث رقم (1059) عن أم هانيء (بات رسول الله ليلة أسرى به في بيتي … ) ، وانظر تفسير أول سورة الإسراء عند ابن كثير.

3 أخرجه البخاري في صحيحه في كتاب الصلاة الباب الأول، كيف فرضت الصلوات في الإسراء؟.

4 كتاب بدء الخلق، باب ذكر الملائكة من صحيح البخاري، حديث رقم (3207) .
মসজিদুল হারাম১, এবং অন্যটি (বর্ণনা) নির্দেশ করে যে, যখন ফেরেশতাগণ তাঁর নিকট এসেছিলেন এবং জিবরাঈল (আ.) তাঁর বক্ষ বিদীর্ণ করেছিলেন, তখন তিনি (সা.) উম্মে হানির ঘরে ছিলেন২। আর উম্মে হানির ঘর সেই সময় মসজিদুল হারামের বাইরে অবস্থিত ছিল।

এবং আনাস ইবনে মালিক থেকে আবু যার (রা.) এর সূত্রে বর্ণিত একটি হাদিসে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "আমি মক্কায় থাকাকালীন আমার ঘরের ছাদ উন্মুক্ত করা হলো৩…" এবং তিনি পূর্ণ হাদিসটি বর্ণনা করেছেন…। আর তাঁর ঘরটি ছিল গিরিপথে (শিতে)। ফলে যারা মনে করেন যে, সওয়াব বা আজাব বহুগুণ হওয়া এবং কার্যে রূপান্তরের পূর্বে কেবল সংকল্পের কারণে পাকড়াও হওয়ার বিষয়টি কেবল মসজিদুল হারামের সাথে নির্দিষ্ট (মক্কার অন্য এলাকা নয়), তারা সেই সকল হাদিস গ্রহণ করেছেন যা প্রমাণ করে যে ইসরা কেবল মসজিদুল হারাম থেকেই হয়েছিল।

পক্ষান্তরে যারা বলেন যে, সওয়াব বা আজাব বহুগুণ হওয়া এবং পাপে লিপ্ত হওয়ার আগে সংকল্পের কারণে মানুষের পাকড়াও হওয়ার ক্ষেত্রে মক্কার ভূমি ও মসজিদুল হারামের মাঝে কোনো পার্থক্য নেই, তারা হাকেম ও অন্যান্যদের নিকট বর্ণিত উম্মে হানির হাদিস এবং বুখারির কিতাবুস সালাত-এ বর্ণিত হাদিসের দিকে গিয়েছেন (অর্থাৎ এগুলোকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করেছেন)।

ইবনে হাজার বলেন: "যদিও 'হাতীম' সেটি কি 'হিজর' কি না, সে বিষয়ে মতভেদ রয়েছে; তবে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সেই স্থানটি বর্ণনা করা যেখানে ঘটনাটি ঘটেছিল। আর এটি স্পষ্ট যে, ঘটনাটি একাধিকবার ঘটেনি; কারণ এর উৎস (مخرج) এক হওয়ার কারণে ঘটনাটিও অভিন্ন।

এবং এটি ইতিপূর্বে কিতাবু বাদইল খালক৪-এর শুরুতে "আমি যখন বাইতুল্লাহর নিকট ছিলাম" শব্দে বর্ণিত হয়েছে, যা অধিক ব্যাপক; এবং তা ঘটেছে

--------------------------------------------

১ দেখুন: সহিহ বুখারি, কিতাবুত তাওহিদ, অনুচ্ছেদ: (আল্লাহ তাআলা মুসা আ.-এর সাথে কথা বলেছেন), হাদিস নম্বর: ৫৭১৭; এবং সহিহ মুসলিম, কিতাবুল ইমান, অনুচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ (সা.) এর ইসরা, হাদিস নম্বর: ১৬২, ১৬৪; এবং দেখুন ইবনুল আসিরের জামিউল উসুল (১১/৩০৫-৩১০)।

২ দেখুন: তাবারানি ফিল কাবির (২৪/৪৩২), হাদিস নম্বর: ১০৫৯, উম্মে হানি থেকে বর্ণিত (রাসূলুল্লাহ সা. ইসরার রাতে আমার ঘরে রাত যাপন করেছিলেন … ); এবং ইবনে কাসিরের তাফসিরে সুরা ইসরার শুরুর অংশ দেখুন।

৩ বুখারি এটি তাঁর সহিহ গ্রন্থের কিতাবুস সালাত-এর প্রথম অনুচ্ছেদে বর্ণনা করেছেন: 'ইসরার রাতে কীভাবে সালাত ফরজ করা হয়েছিল?'।

৪ সহিহ বুখারির কিতাবু বাদইল খালক, ফেরেশতাদের আলোচনা সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ, হাদিস নম্বর: ৩২০৭।
(খণ্ড: ১) আল-ইলহাদ ওয়াজ জুলমু ফিল মাসজিদিল হারাম বাইনাল ইরাদাতি ওয়াত তানফীজ (পৃষ্ঠা: ১৪২)
في رواية الزهري عن أنس عن أبي ذر1: "فُرج سقف بيتي وأنا بمكة"، وفي رواية الواقدي2 بأسانيده أنه صلى الله عليه وسلم أُسري به من شعب أبي طالب، وفي حديث أم هانئ عند الطبراني: أنه صلى الله عليه وسلم بات في بيتها، قالت: "ففقدته من الليل، فقال: لها "إن جبريل أتاني".

والجمع بين هذه الأقوال أنه صلى الله عليه وسلم نام في بيت أم هانئ، وبيتها عند شعب أبي طالب، ففرج سقف بيته صلى الله عليه وسلم، - وأضاف البيت إليه لكونه كان يسكنه - فنزل منه الملك، فأخرجه من البيت إلى المسجد، فكان مضطجعاً، وبه أثر النعاس، ثم أخرجه الملك إلى باب المسجد فأركبه البراق.

وقد وقع في مراسيل الحسن عند ابن اسحاق: أن جبريل أتاه فأخرجه إلى المسجد، فأركبه البراق، وهو يؤيد هذا الجمع3.

--------------------------------------------

1 هي في صحيح البخاري كتاب الصلاة، باب كيف فُرضت الصلوات في الإسراء؟ وصحيح مسلم في كتاب الإيمان باب الإسراء برسول الله صلى الله عليه وسلم.

2 أنظر: طبقات ابن سعد (1/213) ، وسيرة ابن هشام (2/36) والروض الأُنف (3/399) .

3 انظر فتح الباري شرح صحيح البخاري، لأحمد بن علي بن حجر (7/204) .
আনাস (রা.) এর সূত্রে যুহরির বর্ণনায় এবং আবু যার (রা.) থেকে বর্ণিত (১): "আমি মক্কায় থাকাকালীন আমার ঘরের ছাদ উন্মুক্ত করা হলো", এবং ওয়াকিদির বর্ণনায় (২) তার সনদসমূহের (أسانيد) মাধ্যমে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) এর ইসরা (নৈশভ্রমণ) সংঘটিত হয়েছিল শি'আবে আবু তালিব থেকে। তাবারানিতে বর্ণিত উম্মে হানির হাদিসে এসেছে: রাসুলুল্লাহ (সা.) তার ঘরে রাত যাপন করেছিলেন; তিনি (উম্মে হানি) বলেন: "আমি রাতে তাঁকে খুঁজে পাচ্ছিলাম না, তখন তিনি তাকে বললেন: 'জিবরাঈল আমার নিকট এসেছিলেন'।"

এই বর্ণনাগুলোর মধ্যে সমন্বয় (الجمع) হলো এই যে, নবী (সা.) উম্মে হানির ঘরে ঘুমিয়েছিলেন এবং তাঁর ঘরটি ছিল শি'আবে আবু তালিবের নিকটে। অতঃপর রাসুলুল্লাহ (সা.) যে ঘরে অবস্থান করছিলেন তার ছাদ উন্মুক্ত করা হলো—আর ঘরটিকে তাঁর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে কারণ তিনি সেখানে বসবাস করছিলেন—অতঃপর ফেরেশতা সেখান থেকে অবতরণ করলেন এবং তাঁকে ঘর থেকে বের করে মসজিদের দিকে নিয়ে গেলেন। তিনি তখন শায়িত অবস্থায় ছিলেন এবং তাঁর মাঝে তন্দ্রার ভাব ছিল। এরপর ফেরেশতা তাঁকে মসজিদের দরজার নিকট নিয়ে গেলেন এবং বোরাকে আরোহণ করালেন।

ইবনে ইসহাকের সংকলিত হাসানের বিচ্ছিন্ন (مراسيل) বর্ণনায় এসেছে যে: জিবরাঈল (আ.) তাঁর নিকট আসলেন এবং তাঁকে মসজিদের দিকে বের করে নিয়ে গেলেন, অতঃপর তাঁকে বোরাকে সওয়ার করালেন; আর এটি উক্ত সমন্বয়কে (الجمع) সমর্থন করে (৩)।

--------------------------------------------

১. এটি সহিহ বুখারি, সালাত অধ্যায়, 'ইসরা’র রাতে কীভাবে সালাত ফরজ করা হয়েছিল?' অনুচ্ছেদ; এবং সহিহ মুসলিম, ইমান অধ্যায়, 'রাসুলুল্লাহ (সা.) এর ইসরা' অনুচ্ছেদে রয়েছে।

২. দেখুন: তাবাকাত ইবনে সাদ (১/২১৩), সিরাত ইবনে হিশাম (২/৩৬) এবং আল-রওদুল উনুফ (৩/৩৯৯)।

৩. দেখুন: আহমাদ ইবনে আলী ইবনে হাজার রচিত ফাতহুল বারি শারহু সহিহ বুখারি (৭/২০৪)।
(খণ্ড: ১) আল-ইলহাদ ওয়াজ জুলমু ফিল মাসজিদিল হারাম বাইনাল ইরাদাতি ওয়াত তানফীজ (পৃষ্ঠা: ১৪২)
‌‌المبحث الثالث: الفرق في الاسم والوصف بين أرض مكة المكرمة، وأرض المسجد الحرام مما ذكر في القرآن الكريم

أولاً - مكة المكرمة:

تقع في الجهة الغربية من شبه الجزيرة العربية، غربي مدينة الطائف، وشرقي مدينة جدة، وجنوبي المدينة المنورة، وهضبة نجد. وبطن مكة ليس فيه ماء، ولم يكن لأحد فيه قرار. بدأت أهميتها للمسلمين بلداً مقدساً منذ أن أسكن فيها
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: পবিত্র কুরআনে বর্ণিত মক্কা মুকাররমা এবং মসজিদে হারামের ভূমির নাম ও গুণগত বৈশিষ্ট্যের মধ্যকার পার্থক্য

প্রথমত - মক্কা মুকাররমা:

এটি আরব উপদ্বীপের পশ্চিমাঞ্চলে, তায়েফ শহরের পশ্চিমে, জেদ্দা শহরের পূর্বে এবং মদিনা মুনাওয়ারা ও নজদ মালভূমির দক্ষিণে অবস্থিত। মক্কার অভ্যন্তরীণ অংশে কোনো পানি নেই এবং সেখানে কারও স্থায়ী বসবাসের ব্যবস্থা ছিল না। মুসলমানদের নিকট একটি পবিত্র জনপদ হিসেবে এর গুরুত্ব তখন থেকে শুরু হয়েছে, যখন থেকে সেখানে বসতি স্থাপন শুরু হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইলহাদ ওয়াজ জুলমু ফিল মাসজিদিল হারাম বাইনাল ইরাদাতি ওয়াত তানফীজ (পৃষ্ঠা: ১৪৩)
إبراهيم إبنه إسماعيل عليهما السلام مع أمه (هاجر) بأمر من الله. وقول الله تبارك وتعالى على لسان إبراهيم - بعد أن ترك أهله وأراد العودة إلى الشام: {رَبَّنَا إِنِّي أَسْكَنْتُ مِنْ ذُرِّيَّتِي بِوَادٍ غَيْرِ ذِي زَرْعٍ عِنْدَ بَيْتِكَ الْمُحَرَّمِ رَبَّنَا لِيُقِيمُوا الصَّلاةَ فَاجْعَلْ أَفْئِدَةً مِنَ النَّاسِ تَهْوِي إِلَيْهِمْ وَارْزُقْهُمْ مِنَ الثَّمَرَاتِ لَعَلَّهُمْ يَشْكُرُونَ} [إبراهيم 37] .

فقوله تعالى: {بِوَادٍ غَيْرِ ذِي زَرْعٍ} وصف مميز لطبيعة أرض مكة المكرمة الجغرافية، فالوادي ممر تجري فيه سيول الأمطار، وكونه (غير ذي زرع) دليل على عدم صلاح تربة جانبيه للزرع، ولوجود الصخور والأحجار المتناثرة فوقه، ولعدم ملائمة جوه الحار الجاف لانبات كثير من أنواع الشجر، والزروع التي تحتاج إلى رطوبة الجو، وغزارة المياه لكي تنمو وتعطي ثمارها. فالموقع الذي اختاره الخليل عليه السلام لأهله لا يختاره إنسان بإرادته ومعرفته البشرية، لخلوه في الظاهر من أكثر عناصر الحياة أهمية للإنسان وهما: الماء والغذاء. مما يدل على أن الله جل وعلا بعلمه وحكمته، اختار له ذلك المكان ليترك أهله، ويعود من حيث أتى وهو مطمئن على مصيرهم لثقته برعاية الله لهم، وله معاً.

لذلك عندما أوقفته (هاجر) وسألته: إن كان الله هو الذي أمره بتركهم في هذا المكان المقفر، أجاب: نعم. قالت: إن الله لن يضيعنا1.

وأنبط الله ماء زمزم، حيث وضع الفتى عليه السلام جرى ماءً غَدَقاً، فرحت به الأم المتعبة، فأخذت تحوطه بيديها كي لا يضيع في التراب، شفقة منها، ولهفة عليه. فسقت، وأسقت واطمأنت، وخلتْ.

ومر بهما نفر من جرهم، اعتادوا اجتياز هذا الوادي المقفر، ولم يعهدوا فيه ماء، ولا طيراً تحوم حوله. وقد شدهم رؤية طير فوقهم صافات ويقبضن، فبعثوا

--------------------------------------------

1 انظر: صحيح البخاري كتاب الأنبياء، باب يزفون: النسلان المشي رقم (9) وفتح الباري لابن حجر (6/396) رقم الحديث (3364) .
ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম) আল্লাহর নির্দেশে তাঁর পুত্র ইসমাইল (আলাইহিস সালাম) ও তাঁর মাতা (হাজেরা)-কে নিয়ে সেখানে আসেন। ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম) তাঁর পরিবারকে রেখে সিরিয়ায় ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করার পর তাঁর যবানিতে বর্ণিত মহান আল্লাহর বাণী: {হে আমাদের প্রতিপালক! আমি আমার বংশধরদের একাংশকে আপনার পবিত্র গৃহের নিকটে এক শস্যহীন উপত্যকায় বসবাস করালাম; হে আমাদের প্রতিপালক! যেন তারা সালাত কায়েম করে। অতএব আপনি মানুষের অন্তরকে তাদের প্রতি অনুরাগী করে দিন এবং তাদেরকে ফলমূলের রিযিক দান করুন, যাতে তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।} [ইবরাহিম: ৩৭]।

আল্লাহ তাআলার বাণী: {চাষাবাদহীন এক উপত্যকায়} এটি মক্কা মুকাররমার ভূমির ভৌগোলিক প্রকৃতির এক স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যপূর্ণ বর্ণনা। উপত্যকা হলো এমন এক পথ যেখান দিয়ে বৃষ্টির স্রোত প্রবাহিত হয়; আর এর ‘চাষাবাদহীন’ হওয়া এই বিষয়ের প্রমাণ দেয় যে, এর দুই পাশের মাটি চাষের অযোগ্য। এর উপরিভাগে পাথর ও শিলাখণ্ড ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা এবং এর শুষ্ক ও উষ্ণ আবহাওয়া অনেক প্রকার গাছ ও শস্য উৎপাদনের উপযোগী না হওয়াও এর কারণ, যেগুলোর বৃদ্ধি ও ফলন দেওয়ার জন্য আর্দ্র জলবায়ু ও প্রচুর পানির প্রয়োজন হয়। সুতরাং খলিল (আলাইহিস সালাম) তাঁর পরিবারের জন্য যে স্থানটি নির্বাচন করেছিলেন, কোনো মানুষ তার নিজস্ব ইচ্ছা ও মানবিক জ্ঞান দিয়ে তা নির্বাচন করত না; কারণ বাহ্যিকভাবে এটি মানুষের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি উপাদান—পানি ও খাদ্য—শূন্য ছিল। এটি নির্দেশ করে যে, আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা তাঁর জ্ঞান ও প্রজ্ঞা দ্বারা তাঁর জন্য সেই স্থানটি নির্বাচন করেছিলেন যাতে তিনি তাঁর পরিবারকে সেখানে রেখে যেতে পারেন এবং যেখান থেকে এসেছিলেন সেখানে নিশ্চিন্ত মনে ফিরে যেতে পারেন; কারণ আল্লাহর হেফাজত ও যত্নের প্রতি তাঁর এবং তাঁর পরিবারের পূর্ণ আস্থা ছিল।

এজন্যই যখন (হাজেরা) তাঁকে থামালেন এবং জিজ্ঞাসা করলেন: আল্লাহ কি আপনাকে এই জনহীন স্থানে আমাদের রেখে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন? তিনি উত্তর দিলেন: হ্যাঁ। তখন তিনি (হাজেরা) বললেন: তবে আল্লাহ আমাদের ধ্বংস হতে দেবেন না১।

অতঃপর আল্লাহ যমযমের পানি নির্গত করলেন। যেখানে শিশু (আলাইহিস সালাম)-কে রাখা হয়েছিল, সেখান থেকে প্রচুর পরিমাণে পানি প্রবাহিত হতে শুরু করল। পরিশ্রান্ত মাতা এতে আনন্দিত হলেন এবং মমতা ও ব্যাকুলতা থেকে পানির চারদিকে নিজের হাত দিয়ে বাঁধ দিতে শুরু করলেন যাতে তা মাটিতে মিশে না যায়। তিনি নিজে পান করলেন, শিশুকে পান করালেন, আশ্বস্ত হলেন এবং সেখানে অবস্থান করতে লাগলেন।

পরবর্তীতে জুরহুম গোত্রের একদল লোক সেখান দিয়ে অতিক্রম করছিল। তারা এই জনহীন উপত্যকা পাড়ি দিতে অভ্যস্ত ছিল এবং তারা এখানে কখনো পানি দেখেনি, এমনকি এর চারপাশে কোনো পাখি উড়তেও দেখেনি। তাদের মাথার উপরে ডানা বিস্তারকারী ও গুটিয়ে নেওয়া পাখির ওড়া দেখে তারা বিস্মিত হলো, ফলে তারা পাঠাল...

--------------------------------------------

১ দেখুন: সহিহ বুখারি, কিতাবুল আম্বিয়া, অধ্যায়: ‘ইয়াযিফুন: আন-নাসলান আল-মাশি’ নং (৯) এবং ইবনে হাজারের ফাতহুল বারি (৬/৩৯৬), হাদিস নম্বর (৩৩৬৪)।
(খণ্ড: ১) আল-ইলহাদ ওয়াজ জুলমু ফিল মাসজিদিল হারাম বাইনাল ইরাদাতি ওয়াত তানফীজ (পৃষ্ঠা: ১৪৪)
بأحدهم يستجلي الأمر، حتى إذا وقف على هاجر، ورأى الماء عندها، سألها المشاركة فيه، فأبت عليهم ذلك إلا أن يكون أمر الماء إليها، فوافق ذلك هوى في نفوسهم، وهوت أفئدتهم إليها فحطوا عن رحالهم، وأقاموا مشكِّلين بذلك النواة الأولى لمجتمع مكة المكرمة، مما مكن إسماعيل عليه السلام عند نشأته، وفي نشأته من تعلم لغتهم، وفنونهم في الفروسية، حتى إذا شب عن الطوق زوجوه منهم.

وأخذ الخليل عليه السلام يعاود زيارة تركته في ذلك المكان، مرة بعد مرة: {وَإِذْ قَالَ إِبْرَاهِيمُ رَبِّ اجْعَلْ هَذَا بَلَداً آمِناً وَارْزُقْ أَهْلَهُ مِنَ الثَّمَرَاتِ مَنْ آمَنَ مِنْهُمْ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ} [البقرة 26] .

ولم تزل أرض مكة حرماً آمناً منذ خلق الله السموات والأرض. وإنما سأل الخليل عليه السلام ربه تبارك وتعالى أن يجعلها آمنة من الجدب والقحط، وأن يرزق أهلها من الثمرات1.

ثم يمضي الله - جل وعلا - في مشيئته، تحقيقاً، وتثبيتاً، فيأمر خليله وابنه إسماعيل، عليهما السلام برفع قواعد بيته المندثرة، وبنائِه للمرة الثالثة بعد بناء الملائكة، وآدم عليه السلام. قال تعالى يصف فعلهما: {وَإِذْ يَرْفَعُ إِبْرَاهِيمُ الْقَوَاعِدَ مِنَ الْبَيْتِ وَإِسْمَاعِيلُ رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا إِنَّكَ أَنْتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ} [البقرة 127] .

وكان ذلك كما بينه الله تعالى في كتابه: {إِنَّ أَوَّلَ بَيْتٍ وُضِعَ لِلنَّاسِ لَلَّذِي بِبَكَّةَ مُبَارَكاً وَهُدىً لِلْعَالَمِينَ فِيهِ آيَاتٌ بَيِّنَاتٌ مَقَامُ إِبْرَاهِيمَ وَمَنْ دَخَلَهُ كَانَ آمِناً وَلِلَّهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلاً وَمَنْ كَفَرَ فَإِنَّ اللَّهَ غَنِيٌّ عَنِ الْعَالَمِينَ} [آل عمران 97] .

فالأمن لمن دخله، عرض مغر لأولئك الذين يعيشون الخوف في مجتمعاتهم لا يأمنون على شيء مما يملكون. فإذا اجتاز حدود الحرم إليه استشعر الأمن لنفسه

--------------------------------------------

1 انظر شفاء الغرام - للفاسي - (1/72) .
তাদের মধ্য থেকে একজনের মাধ্যমে তারা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করল; অবশেষে যখন সে হাজেরার সান্নিধ্যে উপস্থিত হলো এবং তাঁর নিকট পানি দেখতে পেল, তখন সে তাঁর নিকট তাতে অংশীদার হওয়ার আবেদন জানাল। কিন্তু তিনি এই শর্ত ব্যতিরেকে তাতে অসম্মতি জানালেন যে, পানির নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ব তাঁর নিকটেই থাকবে। বিষয়টি তাদের মনোবাঞ্ছার অনুকূল হলো এবং তাদের হৃদয় সেখানে থিতু হতে চাইল; ফলে তারা তাদের মালপত্র নামাল এবং সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে মক্কা মুকাররমার সমাজের প্রথম ভিত্তি স্থাপন করল। এটি ইসমাইল আলাইহিস সালামকে তাঁর শৈশব ও বেড়ে ওঠার সময়ে তাদের ভাষা এবং অশ্বারোহণ বিদ্যা রপ্ত করার সুযোগ করে দিল; এমনকি যখন তিনি বয়ঃপ্রাপ্ত হলেন, তখন তারা তাদের নিজেদের মধ্য থেকেই তাঁর বিবাহের ব্যবস্থা করল।

এবং খলিল আলাইহিস সালাম বারবার সেই স্থানে তাঁর রেখে আসা পরিজনদের দেখতে আসতে লাগলেন: "আর স্মরণ করুন, যখন ইব্রাহিম বলেছিলেন: হে আমার রব! একে একটি নিরাপদ শহর বানিয়ে দিন এবং এর অধিবাসীদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান এনেছে, তাদের ফলমূল থেকে রিজিক দান করুন।" [আল-বাকারাহ: ২৬] ।

আর আল্লাহ আসমান ও জমিন সৃষ্টি করার পর থেকেই মক্কার এই ভূখণ্ড সর্বদা নিরাপদ পবিত্র ভূমি হিসেবে বিদ্যমান। বস্তুত খলিল আলাইহিস সালাম তাঁর প্রতিপালক তাবারাকা ওয়া তাআলার নিকট প্রার্থনা করেছিলেন যেন তিনি একে দুর্ভিক্ষ ও অনাহার থেকে নিরাপদ রাখেন এবং এর অধিবাসীদের ফলমূল দিয়ে রিজিক দান করেন।১

অতঃপর আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা তাঁর ইচ্ছা বাস্তবায়ন ও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে তাঁর খলিল ও তাঁর পুত্র ইসমাইল আলাইহিস সালামকে তাঁর ঘরের বিলুপ্ত ভিত্তিগুলো পুনরায় উত্তোলন করার এবং ফেরেশতা ও আদম আলাইহিস সালামের নির্মাণের পর তৃতীয়বারের মতো তা নির্মাণের নির্দেশ দেন। মহান আল্লাহ তাঁদের কাজের বর্ণনা দিয়ে বলেন: "আর স্মরণ করুন যখন ইব্রাহিম ও ইসমাইল ঘরের ভিত্তিগুলো উত্তোলন করছিলেন (এবং বলছিলেন): হে আমাদের রব! আমাদের পক্ষ থেকে কবুল করুন; নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।" [আল-বাকারাহ: ১২৭] ।

এবং এটি তেমনই ছিল যেমনটি আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে বর্ণনা করেছেন: "নিশ্চয়ই মানবজাতির জন্য সর্বপ্রথম যে ঘরটি নির্মাণ করা হয়েছে তা হলো সেটি যা বাক্কায় অবস্থিত; তা বরকতময় এবং বিশ্ববাসীর জন্য হিদায়াতস্বরূপ। তাতে সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ রয়েছে, মাকামে ইব্রাহিম; আর যে সেখানে প্রবেশ করবে সে নিরাপদ হবে। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য মানুষের ওপর এই ঘরের হজ করা আবশ্যক, যার সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য আছে। আর যে কুফরি করবে, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ বিশ্ববাসীর মুখাপেক্ষী নন।" [আল-ইমরান: ৯৭] ।

সুতরাং যারা নিজ সমাজে ভয়ের মধ্যে বসবাস করে এবং নিজেদের সহায়-সম্পদ নিয়ে নিরাপত্তা বোধ করে না, তাদের জন্য সেখানে প্রবেশকারীর এই নিরাপত্তা এক বিশেষ আকর্ষণ। ফলে যখনই কেউ হারামের সীমানা অতিক্রম করে সেখানে প্রবেশ করে, তখনই সে নিজের জন্য নিরাপত্তা অনুভব করে।

--------------------------------------------

১. দেখুন: শিফাউল গারাম - আল-ফাসি - (১/৭২)।
(খণ্ড: ১) আল-ইলহাদ ওয়াজ জুলমু ফিল মাসজিদিল হারাম বাইনাল ইরাদাতি ওয়াত তানফীজ (পৃষ্ঠা: ১৪৫)
من نفسه، فإن وجد من يعكر صفو ذلك الأمن في المسجد الحرام فذلك من الإلحاد والظلم فيه، عندها يذقه الله من عذاب أليم.

ويأمر الله جل وعلا خليله عليه السلام، بدعوة الناس إلى حج بيته الحرام طلباً لمغفرته {وَأَذِّنْ فِي النَّاسِ بِالْحَجِّ يَأْتُوكَ رِجَالاً وَعَلَى كُلِّ ضَامِرٍ يَأْتِينَ مِنْ كُلِّ فَجٍّ لِيَشْهَدُوا مَنَافِعَ لَهُمْ وَيَذْكُرُوا اسْمَ اللَّهِ فِي أَيَّامٍ مَعْلُومَاتٍ عَلَى مَا رَزَقَهُمْ مِنْ بَهِيمَةِ الأَنْعَامِ فَكُلُوا مِنْهَا وَأَطْعِمُوا الْبَائِسَ الْفَقِيرَ ثُمَّ لْيَقْضُوا تَفَثَهُمْ وَلْيُوفُوا نُذُورَهُمْ وَلْيَطَّوَّفُوا بِالْبَيْتِ الْعَتِيقِ} [الحج /29] .

ومنذ ذلك النداء الخالد أصبح لمكة المكرمة - قرية المسجد الحرام - مكانة قدسية راسخة في عقول العباد، ونفوسهم على مدى العصور والأزمان، يؤمون كعبتها بقدر كبير من الخشوع، والتعظيم، حتى إذا أشرق نور الإسلام، وبعث الله محمداً بالفرقان، أكد - تعالى - وجوب قصد البيت الحرام على كل مسلم مرة في العمر، عند استطاعته ذلك: {وَلِلَّهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلاً وَمَنْ كَفَرَ فَإِنَّ اللَّهَ غَنِيٌّ عَنِ الْعَالَمِينَ} [آل عمران/97] .

وأقسم تعالى في كتابه العزيز بالبلد الأمين: {لا أُقْسِمُ بِهَذَا الْبَلَدِ وَأَنْتَ حِلٌّ بِهَذَا الْبَلَدِ} [البلد/1-2] . وقال تعالى: {وَالتِّينِ وَالزَّيْتُونِ وَطُورِ سِينِينَ وَهَذَا الْبَلَدِ الأَمِينِ} [التين/1-3] .

وورد في القرآن الكريم ذكرها في أكثر من آية، وبأكثر من اسم، فهي (البلد) ، قال تعالى: {وَإِذْ قَالَ إِبْرَاهِيمُ رَبِّ اجْعَلْ هَذَا الْبَلَدَ آمِنا} [إبراهيم/35] .

وقال تعالى: {وَإِذْ قَالَ إِبْرَاهِيمُ رَبِّ اجْعَلْ هَذَا الْبَلَدَ آمِنا} [البقرة/126] .

والبلد في اللغة: صدر القُرى.

وهي (البلدة) في قوله تعالى: {إِنَّمَا أُمِرْتُ أَنْ أَعْبُدَ رَبَّ هَذِهِ الْبَلْدَةِ الَّذِي حَرَّمَهَا} [النمل/91] .
নিজের পক্ষ থেকে; সুতরাং মসজিদে হারামে এই শান্তির নির্মলতাকে বিঘ্নিত করার মতো কাউকে যদি পাওয়া যায়, তবে তা সেখানে ধর্মদ্রোহিতা ও জুলুমের অন্তর্ভুক্ত হবে, তখন আল্লাহ তাকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির স্বাদ আস্বাদন করাবেন।

আর মহান আল্লাহ তাঁর খলিল আলাইহিস সালামকে তাঁর ক্ষমা কামনার উদ্দেশ্যে তাঁর পবিত্র ঘর হজের জন্য মানুষকে আহ্বান করার নির্দেশ দেন: {এবং মানুষের মধ্যে হজের ঘোষণা দাও; তারা তোমার কাছে আসবে পায়ে হেঁটে এবং সর্বপ্রকার কৃশকায় উটের পিঠে চড়ে, তারা আসবে দূর-দূরান্তের পথ অতিক্রম করে, যাতে তারা তাদের কল্যাণের স্থানসমূহে উপস্থিত হতে পারে এবং নির্দিষ্ট দিনগুলোতে আল্লাহর নাম স্মরণ করতে পারে সেই সব গবাদি পশুর ওপর যা তিনি তাদেরকে রিজিক হিসেবে দান করেছেন। অতঃপর তোমরা তা থেকে আহার করো এবং দুস্থ-দরিদ্রদের আহার করাও। এরপর তারা যেন তাদের অপরিচ্ছন্নতা দূর করে, তাদের মানতসমূহ পূর্ণ করে এবং প্রাচীন ঘরের (কাবা) তাওয়াফ করে} [হজ/২৯]।

সেই শাশ্বত আহ্বানের পর থেকে মক্কা মুকাররমা—মসজিদে হারামের জনপদ—যুগ-যুগান্তর ধরে বান্দাদের বিবেক ও হৃদয়ে এক সুদৃঢ় পবিত্র স্থান দখল করে নিয়েছে। তারা অত্যন্ত বিনয় ও সম্মানের সাথে এর কাবার দিকে অগ্রসর হয়। পরিশেষে যখন ইসলামের নূর উদ্ভাসিত হলো এবং আল্লাহ মুহাম্মাদকে ফুরকানসহ প্রেরণ করলেন, তখন মহান আল্লাহ সামর্থ্যবান প্রত্যেক মুসলিমের ওপর জীবনে একবার বাইতুল্লাহর উদ্দেশ্যে গমন করা আবশ্যক করে দিলেন: {আর মানুষের মধ্যে যার সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য আছে, আল্লাহর উদ্দেশ্যে ঐ ঘরের হজ করা তার ওপর অবশ্যকর্তব্য। আর যে কুফরি করবে, তবে আল্লাহ তো জগতসমূহের মুখাপেক্ষী নন} [আল ইমরান/৯৭]।

মহান আল্লাহ তাঁর সম্মানিত কিতাবে এই নিরাপদ নগরীর শপথ করেছেন: {আমি এই নগরীর শপথ করছি, আর আপনি এই নগরীর অধিবাসী} [আল-বালাদ/১-২]। মহান আল্লাহ আরও বলেন: {ডুমুর ও জয়তুনের শপথ, আর সিনাই পর্বতের শপথ, এবং এই নিরাপদ নগরীর শপথ} [আত-তীন/১-৩]।

কুরআন করিমে এর উল্লেখ একাধিক আয়াতে এবং একাধিক নামে এসেছে, আর তা হলো নগরী (البلد), মহান আল্লাহ বলেন: {স্মরণ করো, যখন ইবরাহিম বলেছিল—হে আমার রব! এই নগরীকে নিরাপদ করুন} [ইবরাহিম/৩৫]।

মহান আল্লাহ আরও বলেন: {আর যখন ইবরাহিম বলেছিল—হে আমার রব! একে একটি নিরাপদ নগরী বানান} [আল-বাকারাহ/১২৬]।

আর অভিধানে নগরী (البلد) অর্থ হলো: জনপদসমূহের কেন্দ্রবিন্দু।

আর এটিই হলো জনপদ (البلدة) মহান আল্লাহর এই বাণীতে: {আমি তো কেবল এই নগরীর রবের ইবাদত করতে আদিষ্ট হয়েছি, যিনি একে সম্মানিত করেছেন} [আন-নামল/৯১]।
(খণ্ড: ১) আল-ইলহাদ ওয়াজ জুলমু ফিল মাসজিদিল হারাম বাইনাল ইরাদাতি ওয়াত তানফীজ (পৃষ্ঠা: ১৪৬)
وهي (أم القرى) في قوله تعالى: {وَكَذَلِكَ أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ قُرْآناً عَرَبِيّاً لِتُنْذِرَ أُمَّ الْقُرَى وَمَنْ حَوْلَهَا} [الشورى/7] .

وهي (بكة) في قوله تعالى: {إِنَّ أَوَّلَ بَيْتٍ وُضِعَ لِلنَّاسِ لَلَّذِي بِبَكَّةَ مُبَارَكاً وَهُدىً لِلْعَالَمِينَ} [آل عمران/96] .

وقال عكرمة، ومقاتل بن حيَّان:

البيت وما حوله (بكَّة) وما وراء ذلك (مكة) 1.

وهي (القرية) في قوله تعالى: {وَكَأَيِّنْ مِنْ قَرْيَةٍ هِيَ أَشَدُّ قُوَّةً مِنْ قَرْيَتِكَ الَّتِي أَخْرَجَتْكَ أَهْلَكْنَاهُمْ فَلا نَاصِرَ لَهُمْ} [محمد/13] .

والقرية: اسم لما يجمع جماعة من الناس، من قولهم: قريت الماء في الحوض إذا جمعته فيه. وهي خير وأحب الأرضين إلى الله قال صلى الله عليه وسلم: "والله إنك لخير أرض الله، وأحبُّ أرض الله إلى الله، ولولا أني أخرجت منك ما خرجت" 2.

وروى ابن عباس رضي الله عنهما أن النبي صلى الله عليه وسلم لما خرج من مكة إلى الغار وأتاه التَفَتَ إلى مكة، وقال: "أنت أحب بلاد الله إلى الله، وأنت أحب بلاد الله إليَّ، ولولا أن المشركين أخرجوني لم أخرج منك" 3.

وهي (مكة) كما في قوله تعالى: {وَهُوَ الَّذِي كَفَّ أَيْدِيَهُمْ عَنْكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ عَنْهُمْ بِبَطْنِ مَكَّةَ} [الفتح/24] .

--------------------------------------------

1 انظر تفسير ابن كثير عند تفسير آية آل عمران رقم (96) .

2 أخرجه الترمذي (3925) ، وابن ماجه (3108) ، وأحمد (4/305) ، والدارمي (2513) كلهم من طرق عن أبي سلمة بن عبد الرحمن، أن عبد الله بن عدي بن الحمراء الزهري أخبره. قال الترمذي: هذا حديث حسن غريب صحيح.

3 أخرجه الترمذي في سننه تحت رقم (3926) من طريق عبد الله بن عثمان بن خُثَيم حدثنا سعيد بن جبير وأبو الطفيل عن ابن عباس، وقال: هذا حديث حسن غريب من هذا الوجه، وانظر تحفة الأشراف (5539) ، والدر المنثور للسيوطي (7/463) .
এটি হলো 'উম্মুল কুরা' (জনপদসমূহের মূল), মহান আল্লাহর এই বাণীতে: "এভাবে আমি আপনার প্রতি আরবী ভাষায় কুরআন ওহী করেছি যাতে আপনি জনপদসমূহের মূল (মক্কা) ও তার চারপাশের অধিবাসীদের সতর্ক করতে পারেন।" [আশ-শূরা: ৭]।

এটি হলো 'বাক্কাহ', মহান আল্লাহর এই বাণীতে: "নিশ্চয়ই মানবজাতির জন্য সর্বপ্রথম যে ঘরটি নির্মিত হয়েছে, তা তো বাক্কায় অবস্থিত; যা বরকতময় এবং বিশ্বজগতের জন্য দিশারী।" [আলে ইমরান: ৯৬]।

ইকরিমাহ এবং মুকাতিল ইবন হাইয়ান বলেন:

বাইতুল্লাহ এবং তার আশপাশের এলাকা হলো 'বাক্কাহ' এবং এর বাইরের অংশ হলো 'মক্কা'। ১।

এটি হলো 'আল-কারইয়াহ' (জনপদ), মহান আল্লাহর এই বাণীতে: "আপনার যে জনপদ আপনাকে বের করে দিয়েছে, তার চেয়েও অধিক শক্তিশালী কত জনপদকে আমি ধ্বংস করেছি; তখন তাদের কোনো সাহায্যকারী ছিল না।" [মুহাম্মাদ: ১৩]।

'আল-কারইয়াহ' হলো এমন এক নাম যা মানুষের কোনো সমষ্টিকে একত্রিত করে; এটি তাদের এই কথা থেকে গৃহীত: "আমি হাউজে পানি জমা করেছি" যখন আপনি সেখানে পানি একত্রিত করেন। এটি আল্লাহর নিকট ভূমণ্ডলসমূহের মধ্যে সর্বোত্তম এবং সবচেয়ে প্রিয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহর শপথ! নিশ্চয়ই তুমি আল্লাহর সর্বোত্তম ভূমি এবং আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় ভূমি। আমাকে যদি তোমার থেকে বের করে দেওয়া না হতো, তবে আমি বের হতাম না।" ২।

ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মক্কা থেকে গুহার দিকে বের হলেন এবং সেখানে পৌঁছালেন, তখন তিনি মক্কার দিকে ফিরে তাকালেন এবং বললেন: "তুমি আল্লাহর শহরগুলোর মধ্যে আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয়, আর তুমি আমার নিকটও আল্লাহর শহরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রিয়। মুশরিকরা যদি আমাকে বের করে না দিত, তবে আমি তোমাকে ছেড়ে যেতাম না।" ৩।

এটি হলো 'মক্কা', যেমন মহান আল্লাহর বাণীতে রয়েছে: "আর তিনিই মক্কা উপত্যকায় তাদের হাত তোমাদের থেকে এবং তোমাদের হাত তাদের থেকে নিবৃত্ত রেখেছেন।" [আল-ফাতহ: ২৪]।

--------------------------------------------

১. আলে ইমরান সূরার ৯৬ নম্বর আয়াতের তাফসীরের অধীনে তাফসীর ইবন কাসীর দেখুন।

২. এটি তিরমিজি (৩৯২৫), ইবন মাজাহ (৩িল০৮), আহমাদ (৪/৩০৫) এবং দারিমি (২৫১৩) সংকলন করেছেন; তারা সকলেই আবু সালামাহ ইবন আবদুর রহমান-এর বিভিন্ন সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, আবদুল্লাহ ইবন আদি ইবনুল হামরা আজ-জুহরি তাকে সংবাদ দিয়েছেন। ইমাম তিরমিজি বলেন: এই হাদিসটি হাসান (حسن) বিরল (غريب) বিশুদ্ধ (صحيح)।

৩. এটি তিরমিজি তাঁর সুনান গ্রন্থে ৩৯২৬ নম্বরের অধীনে আবদুল্লাহ ইবন উসমান ইবন খুসাইম-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন আমাদের নিকট সাঈদ ইবন জুবায়ের ও আবু তুফাইল ইবন আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি (তিরমিজি) বলেন: এই হাদিসটি এই সূত্রানুসারে হাসান (حسن) বিরল (غريب)। আরও দেখুন: তুহফাতুল আশরাফ (৫৫৩৯) এবং সুয়ুতির আদ-দুররুল মানসুর (৭/৪৬৩)।
(খণ্ড: ১) আল-ইলহাদ ওয়াজ জুলমু ফিল মাসজিদিল হারাম বাইনাল ইরাদাতি ওয়াত তানফীজ (পৃষ্ঠা: ১৪৭)
وهي (الحرم) في قوله تعالى: {أَوَلَمْ نُمَكِّنْ لَهُمْ حَرَماً آمِناً يُجْبَى إِلَيْهِ ثَمَرَاتُ كُلِّ شَيْءٍ رِزْقاً مِنْ لَدُنَّا وَلَكِنَّ أَكْثَرَهُمْ لا يَعْلَمُونَ} [القصص/57] .

وفي قوله تعالى: {أَوَلَمْ يَرَوْا أَنَّا جَعَلْنَا حَرَماً آمِناً وَيُتَخَطَّفُ النَّاسُ مِنْ حَوْلِهِمْ} [العنكبوت/67] .

قال ابن كثير: "أخبر الله عن اعتذار بعض الكفار في عدم اتباع الهدى، حيث قالوا لرسوله: {إِنْ نَتَّبِعِ الْهُدَى مَعَكَ نُتَخَطَّفْ مِنْ أَرْضِنَا} أي: نخشى إن اتبعنا ما جئت به من الهدى، وخالفنا من حولنا مِن أحياء العرب المشركين أن يقصدونا بالأذى والمحاربة، ويتخطفونا أينما كنا، قال الله تعالى مجيباً لهم: {أَوَلَمْ نُمَكِّنْ لَهُمْ حَرَماً آمِناً} يعني هذا الذي اعتذروا به كذب وباطل، لأن الله تعالى جعلهم في بلد آمن، وحَرَمٍ معظَّم، آمِن منذ وضع، فكيف يكون هذا الحرم آمِناً لهم في حال كفرهم، وشركهم، ولا يكون آمناً لهم وقد أسلموا، وتابعوا الحق1؟

قال الأزهري: "فإن قيل: كيف يكون حرماً آمناً وقد أخيفوا، وقُتِلوا في الحرم؟، فالجواب بأن الله عز وجل جعله حَرَماً آمناً أمراً، وتعَبُّداً لهم بذلك لاإجباراً فمن آمن بذلك كفّ عما نُهي عنه اتباعاً، وانتهاءً إلى ما أمر به، ومن ألحد وأنكر أَمْرَ الحرمِ وحُرمَتَهُ فهو كافر مباح الدم، ومن أقرَّ وركب النهي فهو فاسق2.

ثانياً: المسجد الحرام

نصت أكثر آيات الكتاب الكريم على تسميته بالمسجد الحرام، كما في سورة:

--------------------------------------------

1 انظر: تفسير ابن كثير عند تفسير الآية (57) من سورة القصص.

2 انظر تهذيب اللغة (5/43) .
আর তা (হারাম) হলো মহান আল্লাহর এই বাণীতে: {আমি কি তাদের জন্য একটি নিরাপদ হারাম (حرم) প্রতিষ্ঠিত করিনি, যেখানে আমার পক্ষ থেকে রিজিক হিসেবে সব ধরণের ফলমূল আনা হয়? কিন্তু তাদের অধিকাংশ লোকই তা জানে না} [কাসাস/৫৭]।

এবং মহান আল্লাহর এই বাণীতে: {তারা কি লক্ষ্য করে না যে, আমি একটি নিরাপদ হারাম (حرم) তৈরি করেছি, অথচ তাদের চারপাশ থেকে মানুষকে ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে?} [আনকাবুত/৬৭]।

ইবনে কাসির বলেন: "আল্লাহ তাআলা কতিপয় কাফেরের হেদায়েত অনুসরণ না করার ওজর সম্পর্কে অবহিত করেছেন, যখন তারা তাঁর রাসূলকে বলেছিল: {আমরা যদি আপনার সাথে হেদায়েত অনুসরণ করি, তবে আমাদের ভূমি থেকে আমাদের উচ্ছেদ করা হবে} অর্থাৎ: আমরা যদি আপনার আনীত হেদায়েত অনুসরণ করি এবং আমাদের চারপাশের আরবের মুশরিক গোত্রগুলোর বিরোধিতা করি, তবে আমরা আশঙ্কা করি যে তারা আমাদের ক্ষতি ও যুদ্ধের লক্ষ্যবস্তু বানাবে এবং আমরা যেখানেই থাকি না কেন আমাদের ছিনিয়ে নিয়ে যাবে। আল্লাহ তাআলা তাদের উত্তরে বলেন: {আমি কি তাদের জন্য একটি নিরাপদ হারাম (حرم) প্রতিষ্ঠিত করিনি?} অর্থাৎ তারা যে অজুহাত পেশ করেছে তা মিথ্যা ও বাতিল (باطل); কারণ আল্লাহ তাআলা তাদের একটি নিরাপদ শহর এবং একটি সম্মানিত হারামে (حرم) স্থাপন করেছেন, যা তার সূচনালগ্ন থেকেই নিরাপদ। সুতরাং, এই হারাম (حرم) তাদের কুফর ও শিরকের অবস্থায় যদি নিরাপদ হতে পারে, তবে তারা ইসলাম গ্রহণ করার ও সত্য অনুসরণ করার পর কেন তা নিরাপদ হবে না?১

আজহারী বলেন: "যদি প্রশ্ন করা হয়: এটি কীভাবে নিরাপদ হারাম (حرم) হয় যেখানে মানুষ ভীত হয়েছে এবং হারামের (حرم) অভ্যন্তরেই নিহত হয়েছে? এর উত্তর হলো—আল্লাহ তাআলা একে একটি আদিষ্ট বিধান এবং ইবাদত হিসেবে নিরাপদ হারাম (حرم) বানিয়েছেন, বাধ্যবাধকতা হিসেবে নয়। সুতরাং যারা এতে ঈমান এনেছে, তারা আনুগত্যের মাধ্যমে এবং নিষিদ্ধ বিষয় থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে নির্দেশিত সীমার মধ্যে থেকেছে। আর যারা হারামের (حرم) বিধান ও পবিত্রতা অস্বীকার করে বিচ্যুত হয়েছে, সে কাফের (كافر) এবং তার রক্ত বৈধ; আর যে ব্যক্তি এটি স্বীকার করে কিন্তু নিষিদ্ধ কাজে লিপ্ত হয়, সে ফাসেক (فاسق)।২

দ্বিতীয়ত: মসজিদুল হারাম

পবিত্র কুরআনের অধিকাংশ আয়াতে এর নাম 'মসজিদুল হারাম' হিসেবে বর্ণিত হয়েছে, যেমন সূরা:

--------------------------------------------

১ দেখুন: সূরা কাসাস-এর ৫৭ নম্বর আয়াতের তাফসির প্রসঙ্গে তাফসির ইবনে কাসির।

২ দেখুন: তাহজিবুল লুগাহ (৫/৪৩)।
(খণ্ড: ১) আল-ইলহাদ ওয়াজ জুলমু ফিল মাসজিদিল হারাম বাইনাল ইরাদাতি ওয়াত তানফীজ (পৃষ্ঠা: ১৪৮)
البقرة الآيات: (144، 149، 150، 191، 196، 217)

والتوبة الآيات: (2، 7، 19، 27)

والأنفال الآية: (34)

والإسراء الآية: (1)

والحج الآية: (25)

والفتح الآيتان: (25، 27)

و (الحرام) ضد (الحلال) ، و (أحرم) الرجل بالحج والعمرة لأَنَّه يَحْرُمُ عليه ما كان حلالاً من قبل كالصيد، والنساء.

و (المسجد الحرام) عَلَمٌ على المسجد الذي بداخله الكعبة المشرفة، بيت الله. وكذلك (البيت الحرام) 1، و (بيتك المحرم) 2، و (البيت العتيق) 3، و (البيت) 4، و (البيت المعمور) 5 و (بيتي) 6.

عند تتبع الآيات الواردة في الكتاب الكريم التي تصف مكة المكرمة، والأخرى التي تصف بيت الله المسجد الحرام، يظهر بجلاء الفرق بين الموضعين، فمكة المكرمة قرية تضم الدور، والشوارع، والميادين، والشجر، والحجر، وكل ما يحتاجه الإنسان من مرافق كالأسواق، والمساجد، والسجون، والشُرَط، وأصحاب الحرف، كالحدادين، والنجارين، والبُناة، والخبَّازين، والتُجار، إلى غير

--------------------------------------------

1 سورة المائدة (79) .

2 سورة إبراهيم (37) .

3 سورة الحج (29،33) .

4 سورة البقرة (125،127،158) وآل عمران (96،97) ، والأنفال (35) .

5 سورة الطور (4) .

6 سورة البقرة (125) .
আল-বাকারা আয়াতসমূহ: (১৪৪, ১৪৯, ১৫০, ১৯১, ১৯৬, ২১৭)

আত-তাওবাহ আয়াতসমূহ: (২, ৭, ১৯, ২৭)

আল-আনফাল আয়াত: (৩৪)

আল-ইসরা আয়াত: (১)

আল-হজ্জ আয়াত: (২৫)

আল-ফাতহ আয়াতদ্বয়: (২৫, ২৭)

এবং (হারাম) হলো (হালাল)-এর বিপরীত। আর ব্যক্তি হজ্জ ও উমরার জন্য (ইহরাম) গ্রহণ করেন, কারণ এর মাধ্যমে ইতিপূর্বে তার জন্য যা বৈধ ছিল তা নিষিদ্ধ হয়ে যায়; যেমন—শিকার এবং স্ত্রী-সহবাস।

এবং (মসজিদুল হারাম) হলো সেই মসজিদের নির্ধারিত নাম যার অভ্যন্তরে সম্মানিত কাবা তথা আল্লাহর ঘর অবস্থিত। একইভাবে (আল-বাইতুল হারাম) ১, (বাইতুকাল মুহাররাম) ২, (আল-বাইতুল আতিক) ৩, (আল-বাইত) ৪, (আল-বাইতুল মামুর) ৫ এবং (বাইতি) ৬।

পবিত্র কুরআনে বর্ণিত মক্কা মুকাররমার বর্ণনাসূচক আয়াতসমূহ এবং আল্লাহর ঘর মসজিদুল হারামের বর্ণনাসূচক আয়াতসমূহ পর্যালোচনার সময় উভয় স্থানের মধ্যকার পার্থক্য স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। মক্কা মুকাররমা হলো একটি জনপদ যা ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, চত্বর, গাছপালা, পাথর এবং মানুষের প্রয়োজনীয় যাবতীয় নাগরিক সুবিধা যেমন—বাজার, মসজিদ, কারাগার, পুলিশ এবং বিভিন্ন পেশাজীবী যেমন—কামার, ছুতার, রাজমিস্ত্রি, রুটি বিক্রেতা ও ব্যবসায়ীসহ আরও অনেক কিছুর সমন্বয়ে গঠিত...

--------------------------------------------

১ সূরা আল-মায়িদাহ (৭৯)।

২ সূরা ইব্রাহিম (৩৭)।

৩ সূরা আল-হজ্জ (২৯, ৩৩)।

৪ সূরা আল-বাকারা (১২৫, ১২৭, ১৫৮), আলে ইমরান (৯৬, ৯৭) এবং আল-আনফাল (৩৫)।

৫ সূরা আত-তুর (৪)।

৬ সূরা আল-বাকারা (১২৫)।
(খণ্ড: ১) আল-ইলহাদ ওয়াজ জুলমু ফিল মাসজিদিল হারাম বাইনাল ইরাদাতি ওয়াত তানফীজ (পৃষ্ঠা: ১৪৯)
ذلك من الأمور التي تكون في القُرى، والمدن العامرة بالسكان.

والمسجد الحرام: الذي يضم في جنباته الكعبة المشرفة، ومقام إبراهيم، وحجر إسماعيل عليهما السلام، وبئر زمزم، والركن اليماني، والحجر الأسود، وما يحيط بكل ذلك من ساحات، وأروقة، وما ينتظم فيها من صفوف المصلين خلف إمام واحد مهما اتَّسعت دائرة المصلِّين حول البيت المعمور، وما استحدث ويستحدث من ساحات حول المسجد الحرام تكتظ بالمصلين عند كثرة الآمِّين للمسجد الحرام في موسم الحج والعمرة وغيرهما.

فإذا اتصلت الصفوف من هناك إلى حيث من يؤم المصلين فهو من المسجد الحرام، عيناً، وحكماً.

بعد ذلك ندرك أن لكل منهما وصفاً قائماً بذاته، وخصوصيته ثابتة لا تجوز على أحدهما بدل الآخر، أو يشتركان فيه.

جاء في الأثر عن ابن عمر قوله: إن الله عز وجل اختار الكلام فاختار القرآن، واختار البلاد فاختار الحرم، واختار الحرم فاختار المسجد، واختار المسجد فاختار موضع البيت1.

والكعبة من المسجد قِبْلة المسلمين أينما وجدوا، وحيث ما حلوا تنفيذاً لقوله تعالى: {قَدْ نَرَى تَقَلُّبَ وَجْهِكَ فِي السَّمَاءِ فَلَنُوَلِّيَنَّكَ قِبْلَةً تَرْضَاهَا فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ وَحَيْثُ مَا كُنْتُمْ فَوَلُّوا وُجُوهَكُمْ شَطْرَهُ} [البقرة/144] ، وقوله تعالى: {وَمِنْ حَيْثُ خَرَجْتَ فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ} [البقرة/150] .

قال الإمام الشافعي: (شطره) جهته في كلام العرب، وكذلك (تلقاءه) أي: استقبل تلقاءه، وجهته.

--------------------------------------------

1 انظر المطالب العالية لابن حجر (1/363) .
এটি এমন বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত যা গ্রাম ও জনাকীর্ণ শহরগুলোতে ঘটে থাকে।

আর মসজিদুল হারাম হলো: যা তার চারপাশ জুড়ে মহিমান্বিত কাবা, মাকামে ইবরাহিম, হিজর ইসমাইল (আলাইহিমাস সালাম), জমজম কূপ, রুকনে ইয়ামানি, হাজরে আসওয়াদ এবং এই সবকিছুকে ঘিরে থাকা চত্বর ও বারান্দাগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে। এছাড়া বায়তুল মামুরের চারদিকে মুসল্লিদের পরিধি যত বড়ই হোক না কেন, এক ইমামের পেছনে মুসল্লিদের কাতারগুলো সেখানে সুশৃঙ্খলভাবে দাঁড়িয়ে থাকে। আর মসজিদুল হারামের চারপাশে যে নতুন চত্বরগুলো নির্মিত হয়েছে বা হচ্ছে, যা হজ, ওমরাহ এবং অন্যান্য মৌসুমে আগত মানুষের ভিড়ে পূর্ণ হয়ে থাকে, সেগুলোও এর অন্তর্ভুক্ত।

সুতরাং সেখান থেকে ইমামতি করা ব্যক্তি পর্যন্ত যদি কাতারগুলো সংযুক্ত থাকে, তবে তা দৃশ্যত এবং বিধানগতভাবে মসজিদুল হারামের অংশ হিসেবে গণ্য হবে।

এরপর আমরা বুঝতে পারি যে, তাদের প্রত্যেকেরই নিজস্ব স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ও নির্দিষ্ট বিশেষত্ব রয়েছে, যা একজনের পরিবর্তে অন্যের ওপর প্রয়োগ করা বৈধ নয়, কিংবা তারা উভয়ই এতে অংশীদার হতে পারে না।

ইবনে উমর থেকে বর্ণিত একটি বর্ণনায় (الأثر) বলা হয়েছে: "নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ বাণীসমূহের মধ্য থেকে কুরআনকে মনোনীত করেছেন, ভূখণ্ডের মধ্য থেকে হারামকে মনোনীত করেছেন, হারামের মধ্য থেকে মসজিদকে মনোনীত করেছেন এবং মসজিদের মধ্য থেকে কাবার স্থানকে মনোনীত করেছেন।"১

আর মসজিদের অন্তর্ভুক্ত কাবা হলো মুসলিমদের কিবলা, তারা যেখানেই থাকুক বা যে প্রান্তেই অবস্থান করুক না কেন; যা আল্লাহ তাআলার এই বাণীর বাস্তবায়ন: {আমি অবশ্যই আপনার মুখমন্ডল বারবার আকাশের দিকে ফিরতে দেখছি। অতএব আমি অবশ্যই আপনাকে এমন কিবলার দিকে ফিরিয়ে দেব যা আপনি পছন্দ করেন। সুতরাং আপনি মসজিদুল হারামের দিকে মুখ ফিরান এবং তোমরা যেখানেই থাক না কেন, সেদিকেই মুখ ফিরাও} [আল-বাকারা/১৪৪], এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আর আপনি যেখান থেকেই বের হোন না কেন, মসজিদুল হারামের দিকে আপনার মুখ ফিরান} [আল-বাকারা/১৫০]।

ইমাম শাফেঈ বলেছেন: আরবদের পরিভাষায় 'শাতরাহু' অর্থ হলো তার দিক, তেমনিভাবে 'তিলক্বাউহু' অর্থ হলো: তার সামনে থাকা বা তার অভিমুখী হওয়া।

--------------------------------------------

১. দেখুন: ইবনে হাজারের মাতালিবুল আলিয়া (১/৩৬৩)।