(খণ্ড: ১)
আল-ইসলাম ওয়াল হারাকাতুল হাদ্দামাতুল মুআসিরাহ
(পৃষ্ঠা: -)
الإسلام والحركات الهدامة المعاصرة القسم: كتب عامة
الكتاب: الإسلام والحركات الهدامة المعاصرة
المؤلف: عبد المحسن بن حمد بن عبد المحسن بن عبد الله بن حمد العباد البدر
الناشر: الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة
الطبعة: السنة السابعة العدد الثالث محرم 1395 هـ يناير 1975 م
عدد الصفحات: 37
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইসলাম ও সমকালীন ধ্বংসাত্মক আন্দোলনসমূহ বিভাগ: সাধারণ গ্রন্থাবলি
গ্রন্থ: ইসলাম ও সমকালীন ধ্বংসাত্মক আন্দোলনসমূহ
লেখক: আবদুল মুহসিন বিন হামাদ বিন আবদুল মুহসিন বিন আবদুল্লাহ বিন হামাদ আল-আব্বাদ আল-বদর
প্রকাশক: মদিনা মুনাওয়ারা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়
সংস্করণ: সপ্তম বর্ষ, তৃতীয় সংখ্যা, মুহাররাম ১৩৯৫ হিজরি, জানুয়ারি ১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৭
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা বিন্যাস মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-ইসলাম ওয়াল হারাকাতুল হাদ্দামাতুল মুআসিরাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
الإسلام والحركات الهدامة المعاصرة
بقلم الشيخ: عبد القادر شيبة الحمد المدرس بكلية الشريعة بالجامعة.
الحمد لله رب العالمين، والعاقبة للمتقين، والصلاة والسلام الأتمان الأكملان على سيد المرسلين، وخاتم النبيين، وإمام المهتدين، وعلى آله وصحابته الطيبين الطاهرين، ومن سلك سبيلهم، وترسم خطاهم، ونهج مناهجهم إلى يوم الدين أما بعد:
فإن الحركات الهدامة قد استشرى خِطرها، واتسع نطاق ضررها، وأصبحت محاربتها ألزم من محاربة جميع الأمراض الفتاكة، والأوبئة المبيدة، لأن شرها على الإنسانية أكثر من شر تلك الأمراض وهذه الأوبئة؛ لأن هذه الحركات تمسخ الإنسان وهو لا يدري، وتجعله أحط من بهيمة الأنعام، وهو يعد نفسه أو يعده غيره من العقلاء. وقد تنوعت أساليب هذه الحركات واختلفت أشكاله، وأخطر هذه الحركات في هذا العصر الماسونية وفروعها من الشيوعية والاشتراكية، والصهيونية التي تنبع من عين واحدة وإن اختلفت مظاهرها، وتعمل لهدف واحد وإن تغايرت أساليبها، حتى صار بعض الناس يحسب - بسبب هذا التغاير المظهري - أنها حركات متعادية، وهي في الواقع مؤسسة يهودية عالمية.
وأساس هذه الحركات هي
ইসলাম ও সমসাময়িক ধ্বংসাত্মক আন্দোলনসমূহলিখেছেন শায়খ: আব্দুল কাদির শায়বাহ আল-হামদ বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীয়াহ অনুষদের শিক্ষক।
যাবতীয় প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং শুভ পরিণাম মুত্তাকীদের জন্য। আর পূর্ণাঙ্গ ও সর্বাঙ্গীণ সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক রাসূলগণের সরদার, নবীগণের সমাপ্তি এবং হেদায়েতপ্রাপ্তদের ইমামের ওপর; আর তাঁর পরিবারবর্গ, পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন সাহাবীগণ এবং কিয়ামত দিবস পর্যন্ত যারা তাঁদের পথ অনুসরণ করবেন, তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করবেন এবং তাঁদের আদর্শ ও কর্মপন্থা অবলম্বন করবেন, তাঁদের সকলের ওপর। অতঃপর:
নিশ্চয়ই ধ্বংসাত্মক আন্দোলনসমূহের বিপদ প্রকট আকার ধারণ করেছে এবং এর ক্ষতির পরিধি বিস্তৃত হয়েছে। এগুলোর মোকাবিলা করা সকল প্রাণঘাতী ব্যাধি ও সংহারক মহামারীর মোকাবিলা করার চেয়েও অধিক আবশ্যক হয়ে পড়েছে। কারণ মানবতার জন্য এগুলোর অনিষ্ট ঐসব ব্যাধি ও মহামারীর অনিষ্টের চেয়েও অধিক। কেননা এই আন্দোলনগুলো মানুষকে তার অগোচরেই বিকৃত করে দেয় এবং তাকে চতুষ্পদ জন্তুর চেয়েও হীনতর স্তরে নামিয়ে আনে, অথচ সে নিজেকে অথবা অন্য কেউ তাকে বুদ্ধিমানদের অন্তর্ভুক্ত গণ্য করে। এই আন্দোলনগুলোর কৌশল বিচিত্র এবং এর রূপসমূহ ভিন্ন ভিন্ন। এ যুগে এই আন্দোলনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বিপজ্জনক হলো ফ্রিম্যাসনারি এবং কমিউনিজম, সমাজতন্ত্র ও জায়নবাদের মতো এর শাখাগুলো; যা মূলত একই উৎস থেকে উৎসারিত, যদিও এর বাহ্যিক প্রকাশ ভিন্ন ভিন্ন এবং এগুলো একই লক্ষ্য অর্জনে কাজ করে, যদিও এদের কর্মপদ্ধতি বিচিত্র। এমনকি বাহ্যিক এই ভিন্নতার কারণে কিছু লোক মনে করে যে—এই বাহ্যিক রূপভেদের কারণে—এগুলো পরস্পর শত্রুভাবাপন্ন আন্দোলন, অথচ বাস্তবে এগুলো একটি বৈশ্বিক ইহুদি সংস্থা।
আর এই আন্দোলনগুলোর ভিত্তি হলো
(খণ্ড: ১)
আল-ইসলাম ওয়াল হারাকাতুল হাদ্দামাতুল মুআসিরাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
الماسونية، وهي جمعية سرية يهودية الأصل، ومعنى (ماسون) أو فرسون:
(البناءون الأحرار)
وقد أسس المحفل الأعظم لهذه الجمعية لأول مرة في بريطانيا عام 1717م، وقد زعم دعاتها أنهم يهدفون إلى مبادئ ثلاث، هي الحرية والإخاء والمساواة، ومقصودهم من الحرية في الواقع أن يتحرر الناس من أديانهم، وأن يرتكب الإنسان ما شاء له هواه دون رادع أو زاجر، وأن يخالف جميع ما تأمر به الشرائع، وأن تفعل المرأة ما شاءت من الزيغ والرجس والفساد والتهتك والانحلال تحت ستار هذه الحرية.
كما أن مقصودهم من الإخاء هو محاربة روح التمسك بالدين، وأنه لا فرق بين يهودي ونصراني ومسلم ومجوسي وبوذي ودهري وملحد؛ فالناس كلهم إخوان، وعليهم أن يحاربوا أي استمساك بأي دين، ويسمون من يلتزم مبادئ دينه بأنه متعصب مذموم. كما أن مقصودهم من المساواة كذلك هو ملء قلوب الفقراء بالحقد والضغينة ضد من وسع الله عليهم من الأغنياء، وملء قلوب الأغنياء بالحقد والضغينة على الفقراء.
وبعد مائتي سنة تقريبا من وجود المحفل الأعظم الماسوني في بريطانيا، انتشرت المحافل في العالم ولا سيما في فرنسا وروسيا وأمريكا والهند، حتى صار في أمريكا وحدها عام 1907م أكثر من خمسين محفلا ماسونيا رئيسيا تتبعها آلاف المحافل. وقد نشرت المخابرات الإيطالية عام 1927م في عهد موسوليني أنها اكتشفت 36 ألف جمعية ماسونية في العالم يتبعها ملايين الناس.
وقد عمد الماسان إلى اصطياد رجال ونساء في فخاخهم من جميع الديانات ممن يأملون فيهم أن يخدموا أهدافهم في بلادهم، فإذا تمت تجاربهم على العضو، وأيقنوا أنه يمكن أن يكون عبدا مطيعا لمبادئهم وأغراضهم، بذلوا كل ممكن لديهم لتنصيبه في مركز حساس في بلاده، وبذلوا حوله كل ما يستطيعون من وسائل الدعاية لتركيزه، وصار له عندهم وصف؛ كسكرتير أعظم، أو أستاذ أعظم، أو
ফ্রিম্যাসোনারি হলো মূলত ইহুদি বংশোদ্ভূত একটি গোপন সংগঠন, আর 'ম্যাসন' বা 'ফারসুন' শব্দের অর্থ হলো:
(মুক্ত স্থপতি)
১৭১৭ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটেনে প্রথমবারের মতো এই সংগঠনের 'গ্র্যান্ড লজ' প্রতিষ্ঠিত হয়। এর প্রচারকরা দাবি করে যে, তাদের লক্ষ্য হলো তিনটি মূলনীতি; যথা: স্বাধীনতা, ভ্রাতৃত্ব এবং সাম্য। কিন্তু তাদের স্বাধীনতার প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো মানুষকে তাদের ধর্ম থেকে বিমুক্ত করা এবং মানুষ যেন কোনো প্রকার বাধা বা শাসন ছাড়াই নিজ প্রবৃত্তির খেয়ালখুশি মতো কাজ করতে পারে, সকল শরয়ি বিধানের বিরোধিতা করতে পারে এবং নারীরাও যেন এই স্বাধীনতার আড়ালে সত্যবিচ্যুতি, কলুষতা, ফাসাদ, নির্লজ্জতা ও চারিত্রিক অবক্ষয়ের পথে যা ইচ্ছা তা-ই করতে পারে।
তেমনিভাবে ভ্রাতৃত্বের দ্বারা তাদের উদ্দেশ্য হলো ধর্মনিষ্ঠার স্পৃহার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা। তাদের মতে ইহুদি, খ্রিস্টান, মুসলিম, অগ্নিপূজক, বৌদ্ধ, বস্তুবাদী ও নাস্তিকের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ নেই; বরং সকল মানুষই ভাই ভাই। তারা যে কোনো ধর্মের প্রতি অবিচল থাকার বিরুদ্ধে লড়াই করা আবশ্যক মনে করে এবং যারা নিজ ধর্মের মূলনীতিসমূহ মেনে চলে, তাদের তারা 'নিন্দনীয় কট্টরপন্থী' হিসেবে অভিহিত করে। একইভাবে সাম্যের মাধ্যমে তাদের উদ্দেশ্য হলো ধনীদের বিরুদ্ধে গরিবদের অন্তরে ঘৃণা ও বিদ্বেষের সঞ্চার করা এবং গরিবদের বিরুদ্ধে ধনীদের অন্তরেও শত্রুতা ও বিদ্বেষের বিষবাষ্প ছড়িয়ে দেওয়া।
ব্রিটেনে গ্র্যান্ড ম্যাসনিক লজ প্রতিষ্ঠার প্রায় দুইশ বছর পর সারাবিশ্বে, বিশেষ করে ফ্রান্স, রাশিয়া, আমেরিকা ও ভারতে এর শাখাগুলো ছড়িয়ে পড়ে। ১৯০৭ সাল নাগাদ কেবল আমেরিকাতেই পঞ্চাশটির বেশি প্রধান ম্যাসনিক লজ গড়ে ওঠে, যার অধীনে ছিল আরও হাজার হাজার উপ-শাখা। ১৯২৭ সালে মুসোলিনির শাসনামলে ইতালীয় গোয়েন্দা সংস্থা প্রকাশ করে যে, তারা বিশ্বে ৩৬ হাজার ম্যাসনিক সংগঠন শনাক্ত করেছে, যার সদস্য সংখ্যা কয়েক মিলিয়ন।
ফ্রিম্যাসনরা সব ধর্ম থেকেই এমন সব নারী ও পুরুষদের তাদের ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করে, যাদের মাধ্যমে তারা নিজ নিজ দেশে তাদের লক্ষ্য হাসিল করার আশা রাখে। যখন কোনো সদস্যের ওপর তাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন হয় এবং তারা নিশ্চিত হয় যে সে তাদের আদর্শ ও উদ্দেশ্যের একনিষ্ঠ অনুগত দাসে পরিণত হতে পারবে, তখন তারা তাকে তার দেশের গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল পদে অধিষ্ঠিত করার জন্য সম্ভাব্য সকল প্রচেষ্টা চালায়। তারা তার অবস্থান সুসংহত করার জন্য প্রচার-প্রচারণার সকল মাধ্যম নিয়োগ করে। তাদের কাছে তখন তার বিশেষ পদবি থাকে; যেমন: গ্র্যান্ড সেক্রেটারি, গ্র্যান্ড মাস্টার অথবা...
(খণ্ড: ১)
আল-ইসলাম ওয়াল হারাকাতুল হাদ্দামাতুল মুআসিরাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
قطب أعظم في المحفل الماسوني الذي ينتمي إليه. ولا يصل العضو إلى هذه المراتب إلا بعد اختبار شاق.
فهم في بادئ دعوة العضو وبعد أن يدرسوه نفسيا يدخل العضو في سرداب طويل، قد ملئ بالجماجم الإنسانية المعلقة، والسيوف والخناجر التي تكاد تمس رأسه ورقبته، ويمر به من تحتها وجوانبها ويقال له: هذه رأس من باحوا بالسر، ثم تعصب عيناه ويتسلمه رجلان قويان نشيطان، ويضعان حبلا في عنقه كأنهما يريدان شنقه وهو مستسلم لهما، ثم يدفعانه إلى غرفة سوداء، فيرفعان غطاء عينيه ليرى صندوقا، ثم يدخلانه في الصندوق وحبل المشنقة في عنقه، فإذا وجدوا منه استسلاما كاملا فعلوا به كقوم لوط، فإذا لم يجدوا منه أية مقاومة اعتبر ناجحا، وأعطي الدرجة الماسونية التي يستحق.
وقد بدأ الماسون في تشكيل هيئات أخرى لتظهر في صورة غير ماسونية، وقد كان من أخطرها الشيوعية الحديثة، والاشتراكية، والصهيونية، فهذه المذاهب الثلاثة تلتقي مع الماسونية في أغراضها وأهدافها وإن تشكلت بأشكال مختلفة، وتظاهرت في بعض الأحيان بأنها متعادية، فالأفعى الرمزية هي الشعار اليهودي الصهيوني الشيوعي الماسوني، والمنجل الشيوعي شبيه بالمطرقة والسندان الماسوني، وماركس داعي الشيوعية والاشتراكية، ولينين وعصابته التي قامت بالانقلابات الشيوعي جلهم من اليهود؛ بل أكثر أعضاء الحكومة الروسية في نصف القرن الماضي عاماهم إما يهود، أو متزوجون بيهوديات؛ ولذلك رأينا دعاة الاشتراكية في البلاد العربية - مع اختلافهم - يرددون نفس شعار الماسون، فهتافهم: الحرية، والوحدة، والاشتراكية، وهي في الحقيقة عين ما يردده الماسان في هتافهم "الحرية، والإخاء، والمساواة".
فالهدف الأول لم يختلف حتى في الاسم، والهدف الثاني معناه عندهما واحد، وكذلك الهدف الثالث؛ والغرض الحقيقي للماسونية والصهيونية هو السيطرة على العالم بعد إشاعة الانحلال الأخلاقي، والتسلط على اقتصادياته، والعمل على قيام دولة يهودية، وإعادة بناء هيكل سليمان عليه السلام.
وقد مثل اليهود الصهيونيون والماسون
তিনি যে ম্যাসোনিক লজের অন্তর্ভুক্ত, সেখানে তিনি একজন 'মহা কুতুব' (সর্বোচ্চ পদমর্যাদা)। কোনো সদস্যই কঠোর পরীক্ষা ছাড়া এই স্তরে পৌঁছাতে পারে না।
কোনো সদস্যকে আহ্বানের শুরুতে এবং তাকে মানসিকভাবে পর্যবেক্ষণ করার পর, তাকে একটি দীর্ঘ সুড়ঙ্গে প্রবেশ করানো হয়। সেটি ঝোলানো মানুষের খুলি এবং তলোয়ার ও খঞ্জরে পূর্ণ থাকে যা প্রায় তার মাথা ও ঘাড় স্পর্শ করে। তাকে এগুলোর নিচ দিয়ে ও পাশ দিয়ে অতিক্রম করানো হয় এবং বলা হয়: "এগুলো তাদের মাথা যারা গোপন তথ্য ফাঁস করে দিয়েছিল"। এরপর তার চোখ বেঁধে দেওয়া হয় এবং দুজন শক্তিশালী ও চটপটে লোক তাকে গ্রহণ করে। তারা তার গলায় দড়ি পরিয়ে দেয় যেন তাকে ফাঁসি দিতে চায়, আর সে তাদের কাছে আত্মসমর্পণ করে। এরপর তারা তাকে একটি কালো কক্ষে নিয়ে যায়, সেখানে তার চোখের বাঁধন খুলে দেওয়া হয় যেন সে একটি বাক্স দেখতে পায়। তারপর তারা তাকে বাক্সের ভেতর ঢোকায় আর ফাঁসির দড়ি তার গলায় থাকে। যদি তারা তার মধ্যে পূর্ণ আত্মসমর্পণ দেখতে পায়, তবে তারা তার সাথে লূত (আলাইহিস সালাম)-এর সম্প্রদায়ের মতো জঘন্য আচরণ করে। যদি তারা তার পক্ষ থেকে কোনো প্রতিরোধ না পায়, তবে তাকে সফল বিবেচনা করা হয় এবং তাকে প্রাপ্য ম্যাসোনিক পদমর্যাদা প্রদান করা হয়।
ম্যাসনরা অন্যান্য সংস্থা গঠন করতে শুরু করেছে যাতে সেগুলোকে অম্যাসোনিক রূপে প্রকাশ করা যায়। এগুলোর মধ্যে সবথেকে বিপজ্জনক হলো আধুনিক সাম্যবাদ (কমিউনিজম), সমাজতন্ত্র (সোশ্যালিজম) এবং জায়নবাদ। এই তিনটি মতাদর্শ তাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের ক্ষেত্রে ম্যাসনতন্ত্রের সাথে একীভূত হয়, যদিও সেগুলো ভিন্ন ভিন্ন রূপে গঠিত এবং কখনো কখনো একে অপরের শত্রু হিসেবে জাহির করে। প্রতীকি সর্প হলো ইহুদি, জায়নবাদী, সাম্যবাদী ও ম্যাসোনিক প্রতীক। সাম্যবাদী কাস্তে ম্যাসোনিক হাতুড়ি ও নেহাইয়ের (অ্যাভিল) সদৃশ। সাম্যবাদ ও সমাজতন্ত্রের প্রবক্তা মার্ক্স, এবং লেনিন ও তার দল যারা সাম্যবাদী বিপ্লব ঘটিয়েছিল, তাদের অধিকাংশ ছিল ইহুদি। বরং গত অর্ধশতাব্দীতে রুশ সরকারের অধিকাংশ সদস্যই হয় ইহুদি ছিল, অথবা ইহুদি নারীকে বিবাহকারী ছিল। এজন্যই আমরা আরব দেশগুলোতে সমাজতন্ত্রের প্রবক্তাদের দেখেছি—মতনৈক্য থাকা সত্ত্বেও—তারা ম্যাসনদের একই স্লোগান পুনরাবৃত্তি করে। তাদের স্লোগান হলো: "স্বাধীনতা, ঐক্য ও সমাজতন্ত্র"; যা প্রকৃতপক্ষে ম্যাসনদের উচ্চারিত স্লোগান "স্বাধীনতা, ভ্রাতৃত্ব ও সাম্য"-এর হুবহু প্রতিচ্ছবি।
প্রথম লক্ষ্যটি নামের দিক থেকেও ভিন্ন নয়, দ্বিতীয় লক্ষ্যের অর্থও উভয়ের কাছে অভিন্ন, এবং তৃতীয় লক্ষ্যটিও তাই। ম্যাসনতন্ত্র ও জায়নবাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো চারিত্রিক অবক্ষয় ছড়িয়ে দেওয়ার পর বিশ্বকে নিয়ন্ত্রণ করা, বিশ্ব অর্থনীতির ওপর আধিপত্য বিস্তার করা, একটি ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা চালানো এবং সুলাইমান (আলাইহিস সালাম)-এর উপাসনালয় (হায়কাল) পুনর্নির্মাণ করা।
জায়নবাদী ইহুদি ও ম্যাসনরা চিত্রিত করেছে...
(খণ্ড: ১)
আল-ইসলাম ওয়াল হারাকাতুল হাদ্দামাতুল মুআসিরাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
حركتهم بأفعى زحف رأسها من فلسطين ليبتلع العالم، وقد بقي ذنبها في فلسطين، حتى إذا ما التقى رأس الأفعى بذنبها يكون اليهود قد أطبقوا على العالم وسيطروا عليه بشتى الوسائل ومختلف المظاهر، كما ثبت أن جميع دعاة الشيوعية وخاصة في البلاد العربية كانوا يهودا، وأكثرهم بعث من روسيا السوفيتية، فقد اتضح أن أول دعاة الشيوعية في سوريا ولبنان كان يهوديا بولونيا يدعى (جوزيف برجز) ثم (الياهو تيبر) وهو يهودي من ليتوانيا؛ وكذلك (نخمان ليتفتسكي) كان يهوديا روسيا، وقد جاء هؤلاء الثلاثة إلى بيروت عن طريق حيفا، وعملوا على تأسيس حزب شيوعي في سوريا ولبنان، على أن يكون تابعا للحزب الشيوعي اليهودي في فلسطين، وبعد بضع عشرة سنة صار تابعا للحزب الشيوعي الفرنسي، فلما أنشأت روسيا سفارة لها في سوريا ولبنان صار هذا الحزب يتبعها مباشرة.
وفي عام 1922م قدم إلى الاسكندرية بمصر يهودي روسي اسمه (جوزيف روزنتال) وقد جاء من الاتحاد السوفيتي، وأنشأ محلا لبيع المجوهرات، وكانت له ابنة تدعى (شارلوت) أخذت هي وأبوها في الدعوة للشيوعية حتى اعتقلت بعد انكشاف أمرها، فاعترفت بأنها تقوم بنشر الشيوعية وفقا للتعليمات التي تتلقاها من الاتحاد السوفيتي. وقد جاء بعدهما (هنري كوريل) اليهودي، و (ايلي شوارتز) اليهودي، و (ريمون دويك) اليهودي وغير هؤلاء من اليهود.
كما قدم إلى العراق من موسكو أحد الضباط الروس واسمه (بتروف) وافتتح حانوتا للخياطة وتسمى باسم (بطرس أبو ناصر) وأسس الحزب الشيوعي العراقي، ولذلك كانت روسيا الشيوعية، وأمريكا الرأسمالية أسرع دول العالم للاعتراف بما يسمى (دولة إسرائيل) وكان عدد الجنرالات الروس المحاربين مع اليهود عام 1948م لا يقل عن عدد الجنرالات الأمريكيين المحاربين لتثبيت اليهود في أرض فلسطين، وذلك كله أثر من آثار المخطط الماسوني الخطير.
كما رأينا كمال جنبلاط الاشتراكي المعروف يدعو إلى اتحاد يهودي عربي فيدرالي
তাদের এই তৎপরতাকে একটি সাপের সাথে তুলনা করা হয়েছে যার মাথা ফিলিস্তিন থেকে বিশ্বকে গ্রাস করার জন্য অগ্রসর হচ্ছে, আর এর লেজ ফিলিস্তিনেই রয়ে গেছে; যাতে করে যখন সাপের মাথা তার লেজের সাথে মিলিত হবে, তখন ইহুদিরা বিভিন্ন মাধ্যম ও নানাবিধ পন্থায় বিশ্বকে করায়ত্ত করবে এবং এর ওপর আধিপত্য বিস্তার করবে। যেভাবে এটি প্রমাণিত হয়েছে যে, কমিউনিজমের সকল প্রচারক বিশেষ করে আরব দেশগুলোতে ইহুদি ছিল এবং তাদের অধিকাংশকেই সোভিয়েত রাশিয়া থেকে পাঠানো হয়েছিল। এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, সিরিয়া ও লেবাননে কমিউনিজমের প্রথম প্রচারক ছিল একজন পোলিশ ইহুদি যার নাম (জোসেফ বার্গস), এরপর (ইলিয়াহু টিবার) যে লিথুনিয়ার একজন ইহুদি ছিল; তেমনিভাবে (নাখমান লিটভিটস্কি) একজন রুশ ইহুদি ছিল। তারা তিনজন হাইফা হয়ে বৈরুতে এসেছিল এবং সিরিয়া ও লেবাননে একটি কমিউনিস্ট পার্টি প্রতিষ্ঠার কাজ করেছিল, যেন তা ফিলিস্তিনের ইহুদি কমিউনিস্ট পার্টির অনুসারী হয়। প্রায় এক যুগ পর এটি ফরাসি কমিউনিস্ট পার্টির অনুসারী হয়ে যায়। যখন রাশিয়া সিরিয়া ও লেবাননে তাদের দূতাবাস স্থাপন করে, তখন এই পার্টি সরাসরি তাদের অনুসারী হতে শুরু করে।
১৯২২ সালে মিশরের আলেকজান্দ্রিয়ায় (জোসেফ রোজেনথাল) নামক একজন রুশ ইহুদি আসে, সে সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে এসেছিল এবং একটি গয়নার দোকান খোলে। তার (শার্লট) নামক এক কন্যা ছিল; সে এবং তার পিতা কমিউনিজমের দাওয়াত দিতে শুরু করে যতক্ষণ না তার আসল পরিচয় প্রকাশ হওয়ার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তখন সে স্বীকারোক্তি দেয় যে, সে সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে প্রাপ্ত নির্দেশিকা অনুযায়ী কমিউনিজম প্রচার করছে। তাদের পর ইহুদি (হেনরি কুরিয়েল), ইহুদি (এলি শোয়ার্টজ), ইহুদি (র্যামন্ড ডুইক) এবং এদের ছাড়াও আরও অন্যান্য ইহুদিরা এসেছিল।
একইভাবে মস্কো থেকে (পেট্রোভ) নামক একজন রুশ কর্মকর্তা ইরাকে আসেন এবং একটি দর্জির দোকান খোলেন ও (পুতরুস আবু নাসির) নাম গ্রহণ করেন এবং ইরাকি কমিউনিস্ট পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন। এ কারণেই কমিউনিস্ট রাশিয়া এবং পুঁজিবাদী আমেরিকা তথাকথিত ‘ইসরায়েল রাষ্ট্র’কে স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে বিশ্বের দ্রুততম রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছিল। ১৯৪৮ সালে ইহুদিদের পক্ষে যুদ্ধরত রুশ জেনারেলদের সংখ্যা ফিলিস্তিনের মাটিতে ইহুদিদের সুসংহত করার জন্য যুদ্ধরত আমেরিকান জেনারেলদের চেয়ে কম ছিল না। আর এ সবই হলো বিপজ্জনক ফ্রিম্যাসনরি ষড়যন্ত্রের প্রভাবের অংশ।
যেমনটি আমরা প্রখ্যাত সমাজতান্ত্রিক নেতা কামাল জুম্বলাতকে একটি ইহুদি-আরব ফেডারেল ইউনিয়নের আহ্বান জানাতে দেখেছি।
(খণ্ড: ১)
আল-ইসলাম ওয়াল হারাকাতুল হাদ্দামাতুল মুআসিরাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
فيدرالي في أرض فلسطين، مع دمج هذا الاتحاد في الدول العربية؛ فقد ألقى كمال جنبلاط هذا محاضرة بعنوان (دور القومية في تقوية المجتمعات الحرة أو في تقويضها) باللغة الفرنسية في ميلانو عام 1954م، ثم عاد وألقاها في شهر مايو سنة 1956م باللغة العربية في (حلقة دراسات مفاهيم الحرية) برعاية المركز الإقليمي في الشرق الأوسط للمنظمة العالمية لحرية الثقافة في لبنان، وقد اقترح كمال جنبلاط في هذه المحاضرة إقامة اتحاد فدرالي عربي يهودي فلسطيني، ليحل معضلة مشكلة فلسطين وقال: "بينما كان من الواجب حل المعضلة على أساس قومية متفتحة إنسانيا، وهي وحدها الوصفة المحكمة التي يمكن الإشارة بها في هذه المنطقة الحساسة من العالم على أساس اتحاد فدرالي عربي يهودي فلسطيني، يفسح مجال إدخال فلسطين ودمجها معنويا إن لم يكن سياسيا في مجموعة بلدان الشرق الأدنى، وقد نشرت هذه المحاضرة في كتاب (دراسات) الذي أصدرته (حلقة دراسات مفاهيم الحرية) .
وقد رحبت الدوائر اليهودية آنذاك باقتراح كمال جنبلاط، فقد نشرت جريدة (هاعولام زاده) اليهودية في أواخر عام 1956م في فلسطين المحتلة تقريرا نص على وجوب حل قضية فلسطين على أساس توطين النازحين في الضفة الغربية وغزة بعد تحويلها إلى وطن فلسطيني يرتبط (بإسرائيل) في اتحاد فدرالي يكون منطلقا لاتحاد أشمل مع الدول العربية وفي 8/6/1972م أعرب شمعون بيرز وزير المواصلات اليهودي في فلسطين المحتلة عن أمله بأن يقوم اتحاد يضم دولة يهودية وأخرى عربية في فلسطين، وقال الوزير الصهيوني: "إني آمل بأن أرى قيام أسس لدولة اتحادية جديدة، يعيش فيها العرب واليهود معا في قطاعين مختلفين، يكون لكل منهما برلمانه وحكومته، وكل منهما يتحدث اللغة التي يفضلها، ويتعبد على طريقته". وقد تنبه مجلس النواب الأردني لهذه الدسيسة، وناقشها في جلسة المجلس بتاريخ 11/6/1972م، أي بعد إعلان الوزير الصهيوني بثلاثة أيام.
وبهذه المناسبة أحب أن ألفت الانتباه إلى أن كمال جنبلاط يسعى مع زعماء الشيوعيين في الجنوب العربي
ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে একটি ফেডারেল ইউনিয়ন গঠন এবং এই ইউনিয়নকে আরব রাষ্ট্রগুলোর সাথে একীভূত করা; কামাল জুমলাত ১৯৫৪ সালে মিলানোতে ফরাসি ভাষায় 'মুক্ত সমাজকে শক্তিশালীকরণে বা ধ্বংসে জাতীয়তাবাদের ভূমিকা' শীর্ষক একটি বক্তৃতা প্রদান করেন। পরবর্তীতে ১৯৫৬ সালের মে মাসে তিনি লেবাননে 'সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার জন্য বিশ্ব সংস্থা'র (World Congress for Cultural Freedom) মধ্যপ্রাচ্য আঞ্চলিক কেন্দ্রের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত 'স্বাধীনতা ধারণার অধ্যয়ন চক্রে' আরবি ভাষায় পুনরায় সেই বক্তৃতাটি প্রদান করেন। এই বক্তৃতায় কামাল জুমলাত ফিলিস্তিন সমস্যার জটিলতা নিরসনের জন্য একটি আরব-ইহুদি-ফিলিস্তিনি ফেডারেল ইউনিয়ন গঠনের প্রস্তাব করেন এবং বলেন: "যেখানে মানবিক ও উদার জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে এই সমস্যার সমাধান করা উচিত ছিল, আর বিশ্বের এই সংবেদনশীল অঞ্চলে একমাত্র এটিই হতে পারে একটি সুসংহত (محكمة) ব্যবস্থাপত্র যা নির্দেশ করা যেতে পারে; একটি আরব-ইহুদি-ফিলিস্তিনি ফেডারেল ইউনিয়নের ভিত্তিতে, যা রাজনৈতিকভাবে না হলেও অন্তত আত্মিক বা আদর্শিকভাবে ফিলিস্তিনকে নিকট প্রাচ্যের দেশগুলোর অন্তর্ভুক্ত ও একীভূত করার পথ প্রশস্ত করবে।" এই বক্তৃতাটি 'স্বাধীনতা ধারণার অধ্যয়ন চক্র' কর্তৃক প্রকাশিত 'দিরাসাত' নামক গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে।
তৎকালীন সময়ে ইহুদি মহল কামাল জুমলাতের এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছিল। ১৯৫৬ সালের শেষদিকে অধিকৃত ফিলিস্তিনে ইহুদি পত্রিকা 'হা-ওলাম হাজে' একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে যেখানে বলা হয় যে, পশ্চিম তীর এবং গাজাকে একটি ফিলিস্তিনি জন্মভূমিতে রূপান্তরের পর সেখানে বাস্তুচ্যুতদের পুনর্বাসনের ভিত্তিতে ফিলিস্তিন সমস্যার সমাধান করা উচিত। এই জন্মভূমিটি একটি ফেডারেল ইউনিয়নের মাধ্যমে (ইসরায়েলের) সাথে যুক্ত থাকবে, যা আরব দেশগুলোর সাথে একটি বৃহত্তর ইউনিয়নের প্রারম্ভবিন্দু হিসেবে কাজ করবে। ৮/৬/১৯৭২ তারিখে অধিকৃত ফিলিস্তিনের ইহুদি যোগাযোগমন্ত্রী শিমন পেরেজ ফিলিস্তিনে একটি ইহুদি রাষ্ট্র ও একটি আরব রাষ্ট্র নিয়ে গঠিত একটি ইউনিয়নের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। সেই জায়নবাদী মন্ত্রী বলেন: "আমি একটি নতুন ফেডারেল রাষ্ট্রের ভিত্তি গঠিত হতে দেখার আশা করি, যেখানে আরব এবং ইহুদিরা দুটি ভিন্ন অঞ্চলে একত্রে বসবাস করবে; যাদের প্রত্যেকের নিজস্ব সংসদ ও সরকার থাকবে এবং প্রত্যেকে তাদের পছন্দমতো ভাষায় কথা বলবে ও নিজ নিজ পদ্ধতিতে উপাসনা করবে।" জর্ডানের প্রতিনিধি পরিষদ এই ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে সচেতন ছিল এবং জায়নবাদী মন্ত্রীর ঘোষণার তিন দিন পর ১১/৬/১৯৭২ তারিখে পরিষদের অধিবেশনে এটি নিয়ে আলোচনা করেছিল।
এই প্রসঙ্গে আমি এ বিষয়টির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই যে, কামাল জুমলাত দক্ষিণ আরবের কমিউনিস্ট নেতাদের সাথে নিয়ে এই প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন...
(খণ্ড: ১)
আল-ইসলাম ওয়াল হারাকাতুল হাদ্দামাতুল মুআসিরাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
لإعادة مجد القرامطة، وبعث مذهبهم من جديد؛ فقد نشرت جريدة النهار للمدعو كمال جنبلاط امتداحا لدولة القرامطة، وأنهم كمنظمة ثورية كان لهم موقع الريادة في الدعوة إلى المساواة. وطبعا كمال جنبلاط درزي، وأخص عقائد الدروز أن خالق السماوات والأرض هو الحاكم العبيدي المجنون اليهودي، تعالى الله عما يقولون علوا كبيرا.
ولم يكن كمال جنبلاط وحده في هذا الميدان المنحرف الهدام، بل قد نشرت جريدة السياسة الكويتية حديثا للمدعو/ عبد الله عبد الرزاق باذيب، وزير السياحة والثقافة والآثار في حكومة عدن الشيوعية في 15/2/73م اعتز فيه بأن حكومته منسوبة للقرامطة وقال: "يقولون إننا من القرامطة
… ليكن، نحن نعتز بهذا الأصل ونؤكد عليه، إذ نمثل استطرادا في مجتمعنا لذلك الطموح إلى الاشتراكية الذي بدأ من أيام القرامطة"، ويكرر قائلا: "نعتز بأصلنا القرمطي، القرامطة عبروا منذ القدم عن طموح شعبنا العربي لمجتمع اشتراكي".
على أن المؤرخين مطبقون على أن القرامطة ليس لهم في التاريخ العربي أي مجد، بل تاريخهم أسوا تاريخ مر بالأمة العربية، علما بأنهم ليسوا من العرب، بل هم جماعة من فروخ المجوس، واليهود أرادوا القضاء على الإسلام، فلما صار لهم دولة عاثوا في الأرض فسادا، واستولوا على البحرين وهجر، وأخافوا البلاد، وروعوا العباد. قال ابن كثير رحمه الله في حوادث سنة ثمان وسبعين ومائتين هجرية: " وفيها تحركت القرامطة، وهم فرقة من الزنادقة الملاحدة أتباع الفلاسفة من الفرس الذين يعتقدون نبوة زرادشت ومزدك، وكانا يبيحان المحرمات، ثم هم بعد ذلك أتباع كل ناعق إلى باطل، وفي سنة سبع عشرة وثلثمائة اشتدت شوكتهم، وتمكنوا من الوصول إلى الكعبة والناس يوم التروية، فما شعروا إلا والقرامطة برئاسة المدعو بابي طاهر الجنابي قد انتهبوا أموالهم، وقتلوا كل من وجدوا من الحجيج في رحاب مكة وشعابها، وفي المسجد الحرام وفي جوف الكعبة، وجلس أميرهم أبو طاهر الجنابي على باب الكعبة والرجال تصرع حوله، والسيوف تعمل في المسجد الحرام في الشهر الحرام في يوم التروية، ويقول هذا الملعون: أنا الله وبالله
কারামাতিয়াদের (القرامطة) হৃত গৌরব পুনরুদ্ধার এবং তাদের মতবাদ (مذهب) পুনর্জীবিত করার লক্ষ্যে 'আন-নাহার' নামক সংবাদপত্রে কামাল জুম্বলাত নামক এক ব্যক্তির একটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে কারামাতিয়া রাষ্ট্রের ভূয়সী প্রশংসা করা হয়েছে এবং দাবি করা হয়েছে যে, একটি বিপ্লবী সংগঠন হিসেবে সাম্য ও সমতার আহ্বানে তাদের অগ্রণী ভূমিকা ছিল। প্রকৃতপক্ষে কামাল জুম্বলাত একজন দ্রুজ পন্থী, আর দ্রুজদের প্রধান বিশ্বাস হলো—আসমান ও জমিনের স্রষ্টা হচ্ছেন উবাইদি শাসক আল-হাকিম (যিনি উন্মাদ ও ইহুদি বংশোদ্ভূত ছিলেন)। তারা যা বলে আল্লাহ তা থেকে বহু ঊর্ধ্বে এবং অতিশয় মহান।
এই বিভ্রান্তিকর ও ধ্বংসাত্মক পথে কামাল জুম্বলাত একাই ছিলেন না, বরং কুয়েতের 'আস-সিয়াসা' নামক সংবাদপত্রে ১৫/০২/১৯৭৩ তারিখে এডেনের তৎকালীন কমিউনিস্ট সরকারের পর্যটন, সংস্কৃতি ও প্রত্নতত্ত্ব মন্ত্রী আব্দুল্লাহ আব্দুল রাজ্জাক বাযীব-এর একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছিল। সেখানে তিনি গর্বভরে নিজের সরকারকে কারামাতিয়াদের সাথে সম্পৃক্ত করে বলেন: "লোকে বলে আমরা কারামাতিয়াদের উত্তরসূরি
… তা-ই হোক, আমরা এই মূলভিত্তির জন্য গর্ববোধ করি এবং এর ওপর গুরুত্বারোপ করি। কেননা আমরা আমাদের সমাজে সেই সমাজতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষারই সম্প্রসারিত রূপ যা কারামাতিয়াদের সময় থেকে শুরু হয়েছিল।" তিনি পুনরায় বলেন: "আমরা আমাদের কারামাতি শেকড়ের জন্য গর্বিত। প্রাচীনকাল থেকেই কারামাতিয়ারা সমাজতান্ত্রিক সমাজ গঠনে আমাদের আরব জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে তুলে ধরেছে।"
অথচ ঐতিহাসিকগণ এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, আরব ইতিহাসে কারামাতিয়াদের নূন্যতম কোনো গৌরব নেই; বরং তাদের ইতিহাস আরব জাতির ইতিহাসের সবচেয়ে নিকৃষ্টতম অধ্যায়। উল্লেখ্য যে, তারা জাতিগতভাবে আরব ছিল না, বরং তারা ছিল অগ্নিপূজক ও ইহুদিদের বংশধর যারা ইসলামকে সমূলে ধ্বংস করতে চেয়েছিল। যখনই তারা কোনো রাষ্ট্রের অধিকারী হয়েছে, তখনই তারা পৃথিবীতে ফিতনা ও বিপর্যয় ছড়িয়েছে। তারা বাহরাইন ও হাজার অঞ্চল দখল করে নিয়েছিল এবং জনপদে ভীতি ও বিভীষিকা সৃষ্টি করেছিল। ইমাম ইবনে কাসীর (রাহিমাহুল্লাহ) ২৭৮ হিজরীর ঘটনাবলি প্রসঙ্গে বলেন: "এই বছর কারামাতিয়াদের তৎপরতা শুরু হয়। তারা ছিল পারস্যের দার্শনিকদের অনুসারী একদল জিন্দিক (زنادقة) ও নাস্তিক (ملاحدة), যারা জরথুস্ত্র ও মাজদাকের নবুওয়তে বিশ্বাস করত এবং হারাম বিষয়গুলোকে হালাল মনে করত। এরপর তারা প্রত্যেক ভ্রান্ত আহ্বানকারীর অনুসারী হয়ে পড়ে। ৩১৭ হিজরীতে তাদের শক্তি চরম আকার ধারণ করে। তারা ইয়াওমুত তারবিয়াহ (يوم التروية) বা হজের অষ্টম দিনে কাবার চত্বরে পৌঁছাতে সক্ষম হয়। হাজীরা বুঝে ওঠার আগেই আবু তাহের আল-জান্নাবীর নেতৃত্বে কারামাতিয়ারা তাদের ধন-সম্পদ লুণ্ঠন করে এবং মক্কার আঙিনা ও পাহাড়ের উপত্যকায় হাজীদের নির্বিচারে হত্যা করে। এমনকি মসজিদুল হারাম এবং কাবার ভেতরেও তারা হত্যাকাণ্ড চালায়। তাদের নেতা আবু তাহের আল-জান্নাবী কাবার দরজায় বসে ছিল আর তার চারপাশে মানুষের লাশ স্তূপ করা হচ্ছিল। হারাম মাস এবং ইয়াওমুত তারবিয়াহ-র মতো পবিত্র দিনে মসজিদুল হারামে তলোয়ার দিয়ে মানুষ হত্যা করা হচ্ছিল। তখন সেই অভিশপ্ত ব্যক্তি বলছিল: 'আমিই আল্লাহ এবং আল্লাহর কসম...'"
(খণ্ড: ১)
আল-ইসলাম ওয়াল হারাকাতুল হাদ্দামাতুল মুআসিরাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
أنا، أنا أخلق الخلق وأفنيهم أنا، ولم يدع أحد طائفا أو متعلقا بأستار الكعبة إلا قتله؛ ثم أمر بإلقاء القتلى في بئر زمزم، وأمر بقلع باب الكعبة ونزع كسوتها عنها، ثم أمر بأن يقلع الحجر الأسود، فجاء قرمطي فضرب الحجر بمثقل في يده وهو يقول: أين الطير الأبابيل؟ أين الحجارة من سجيل؟ ثم قلع الحجر الأسود، وأخذوه معهم، فمكث عندهم اثنتين وعشرين سنة. وقد اعتز عبد الله باذيب بعلي بن الفضل الذي تغلب على اليمن، وزعم أنه طلع من يافع، وقد جهل أو تجاهل هذا المغرور أن علي بن الفضل هذا كان يعمل هو وأتباعه عمل قوم لوط، ويحرض نساءه على الزنا والدعارة، ويرغب أتباعه كالشيوعيين المحدثين في وقاع أمهاتهم وأخواتهم وبناتهم؛ إذ يقول في قصيدته المشهورة:
ولا تمنعي نفسك المعرسين
… من الأقربين ومن أجنبي
فكيف حللت لهذا الغريب
… وصرت محرمة للأب
أليس الغراس لمن ربه
… ورواه في الزمن المجدب
وقد أرجع ابن كثير وغيره من المؤرخين أصل القرامطة إلى اليهود والمجوس، وذكروا أنه بعد أن أظهر الله الإسلام، وبسط رواقه على أرض فارس، تشاور جماعة من المجوس والمزدكية، وشرذمة من الثنوية، وطائفة من ملاحدة الفلاسفة، وبعض اليهود في حيلة يدفعون بها في نحر الإسلام، ويعملون بها على تشتيت شمل المسلمين، فاتفقوا على انتحال مذهب يستمد أصوله من أصول الفلاسفة، وقواعد المزدكية، وعقائد الثنوية واليهود، ورأوا أن أنجع الوسائل لتحقيق أهدافهم أن يتمسحوا بالانتساب إلى نصرة آل البيت، بيت النبي صلى الله عليه وسلم، وأن يختاروا رجلا يزعمون للرعاع بأنه من آل البيت، وأنه يجب على كافة الخلق مبايعته، وتتعين عليهم طاعته، مدعين أنه خليفة رسول الله صلى الله عليه وسلم، وأنه معصوم عن الخطأ؛ وقد تذرعوا بذلك إلى استدراج العامة لينسلخوا من الدين، فإن أراد أحد أن يتمسك بظاهر القرآن ومتواتر الأخبار، أخبروه أن تلك الظواهر لها أسرار وبواطن، وأن أمارة الأحمق الانخداع بظواهرها،
আমি, আমিই সৃষ্টিসমূহ সৃষ্টি করি এবং আমিই তাদের বিনাশ করি। তিনি কাবার কোনো তাওয়াফকারী বা কাবার গিলাফ আঁকড়ে ধরা ব্যক্তিকে হত্যা না করে ছাড়লেন না; অতঃপর তিনি নিহতদের জমজম কূপে নিক্ষেপ করার নির্দেশ দিলেন এবং কাবার দরজা উপড়ে ফেলার ও তার গিলাফ খুলে ফেলার আদেশ দিলেন। এরপর তিনি হাজরে আসওয়াদ উপড়ে ফেলার নির্দেশ দিলেন। তখন একজন কারমাতি (قرمطي) এগিয়ে এসে তার হাতের একটি ভারী বস্তু দিয়ে পাথরের ওপর আঘাত করতে করতে বলছিল: "কোথায় আবাবিল পাখি? কোথায় সিজ্জীলের পাথর?" এরপর সে হাজরে আসওয়াদ উপড়ে ফেলল এবং তারা সেটি সাথে করে নিয়ে গেল; যা তাদের নিকট বাইশ বছর যাবত রক্ষিত ছিল। আব্দুল্লাহ বা-জীব আলী ইবনুল ফাদলের মাধ্যমে গৌরব বোধ করতেন, যে ইয়েমেনের ওপর আধিপত্য বিস্তার করেছিল। সে দাবি করেছিল যে সে ইয়াফে থেকে প্রকাশ পেয়েছে। এই মোহগ্রস্ত ব্যক্তিটি জানতেন না অথবা জেনেও না জানার ভান করেছেন যে, এই আলী ইবনুল ফাদল এবং তার অনুসারীরা লুত সম্প্রদায়ের ন্যায় কর্ম করত। সে তার নারীদের ব্যভিচার ও অশ্লীলতায় প্ররোচিত করত এবং আধুনিক কমিউনিস্টদের ন্যায় তার অনুসারীদের নিজেদের মা, বোন ও কন্যাদের সাথে কামাচারে লিপ্ত হতে উৎসাহিত করত; যেমনটি সে তার প্রসিদ্ধ কবিতায় বলেছে:
বিয়ের উপযুক্ত নারীদের নিকটাত্মীয় ও পরপুরুষদের থেকে বিরত রেখো না
… কীভাবে তুমি এই আগন্তুকের জন্য বৈধ হলে
… আর নিজের পিতার জন্য হলে নিষিদ্ধ?
ফসল কি তার প্রাপ্য নয় যে তার মালিক
… এবং যে তাকে অনাবৃষ্টির সময়ে সিক্ত করেছে?
ইবনে কাসীর এবং অন্যান্য ঐতিহাসিকগণ কারমাতিদের মূল উৎস ইহুদি ও মজুসদের (অগ্নিউপাসক) দিকে নিহিত বলে উল্লেখ করেছেন। তারা বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহ যখন ইসলামকে বিজয়ী করলেন এবং পারস্যের ভূমিতে এর প্রভাব বিস্তার করলেন, তখন একদল মজুস ও মাজদাকিয়াহ, একদল দ্বৈতবাদী এবং একদল নাস্তিক দার্শনিক ও কিছু ইহুদি একত্রিত হয়ে ইসলামের মূলে আঘাত হানার এক কৌশল নিয়ে পরামর্শ করল। তারা মুসলমানদের ঐক্য বিনষ্ট করার পরিকল্পনা করল। তারা এমন একটি মতবাদ উদ্ভাবনের বিষয়ে একমত হলো যা দার্শনিকদের মূলনীতি, মাজদাকিয়াহদের নিয়ম এবং দ্বৈতবাদী ও ইহুদিদের আকিদা থেকে সংগৃহীত। তারা দেখল যে, তাদের লক্ষ্য অর্জনের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পরিবার তথা আহলে বায়তের সাহায্যের দোহাই দিয়ে তাদের প্রতি নিজেদের সম্বন্ধ জুড়ে দেওয়া। তারা সাধারণ মানুষের সামনে এমন এক ব্যক্তিকে বেছে নিল যাকে তারা আহলে বায়তের সদস্য বলে দাবি করবে এবং প্রচার করবে যে সকল মানুষের ওপর তার হাতে বায়আত গ্রহণ করা এবং তার আনুগত্য করা অপরিহার্য। তারা দাবি করল যে সে আল্লাহর রাসুলের স্থলাভিষিক্ত এবং সে ভুলত্রুটি থেকে সুরক্ষিত তথা নিষ্পাপ (معصوم)। তারা এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে প্ররোচিত করে দ্বীন থেকে বিচ্যুত করার কৌশল অবলম্বন করল। যদি কেউ কুরআনের বাহ্যিক (ظاهر) রূপ এবং সংবাদের অবিচ্ছিন্ন (متواتر) ধারাকে আঁকড়ে ধরতে চাইত, তবে তারা তাকে প্রবোধ দিত যে, এই বাহ্যিক রূপের কিছু রহস্য ও অভ্যন্তরীণ (بواطن) অর্থ রয়েছে এবং বাহ্যিক রূপে বিভ্রান্ত হওয়া হলো মূর্খের লক্ষণ।
(খণ্ড: ১)
আল-ইসলাম ওয়াল হারাকাতুল হাদ্দামাতুল মুআসিরাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وأن الفطن هو من لا يرى هذه الظواهر، وإنما يتبع الإمام في تفسير الباطن، فكان هؤلاء الباطنيون كما قيل عنهم: ظاهرهم الرفض، وباطنهم الكفر المحض. وقد اتفقت كلمة الناس عنهم أنهم كانوا يسلطون أتباعهم على الشهوات، وقضاء الملذات، وانتهاك الحرمات، وأنهم كانوا يستبيحون كل محرم، وكان لهم ليلة يجتمعون فيها رجالهم ونساؤهم، ويطفئون سرجهم، ثم يتناهبون النساء، وأنهم كانوا يؤمنون برجل في جاهلية الفرس قبل الإسلام يدعى شروين، ويزعمون أنه كان نبيا، وأنه أفضل من رسول الله صلى الله عليه وسلم ومن جميع الأنبياء عليهم الصلاة والسلام. هذا وقد قسمت الماسونية جمعياتها حسب مخططاتها وأغراضها، فبعض هذه الجمعيات لإثارة الطلاب، وبعضها للاستيلاء على أفكار الصحفيين والكتاب والمؤلفين، وبعضها لإثارة العمال والفلاحين، وبعضها مختصة بالعسكريين، وبعضها لإحداث الانقلابات في الدول، إلى غير ذلك؛ فالماسون كانوا وراء الثورة الفرنسية، وهم وراء مذبحة استنبول التي ذبح فيها 68 ألف مسلم عام 1908م، وهم كذلك وراء حرب البلقان عام 1912م، والتي أثارت كذلك الحرب العالمية الأولى، وهم كذلك مدبروا الانقلاب ضد السلطان عبد الحميد، وهم مزيلوا الخلافة الإسلامية.
وقد يؤيد الماسون دعوات ليسوا في الأصل منشئيها إذا وجدوا أن هذه الدعوات تخدم بعض أغراضهم ولو إلى حين؛ ولذلك أيدوا داروين النصراني في نظريته التطور والارتقاء، وبذلوا كل دعاية ممكنة لترويج مذهبه الفاسد، لأنه يحدث بلبلة ضد الأديان، كما أيدوا كذلك دعاة القومية العربية مع أنها في الواقع أسسها دعاة النصرانية، وعقدوا لها أول مؤتمر في باريس عام 1910م، ومع أنها كذلك تخالف بعض مبادئهم ضد الأمميين، لكنها لما كان ترويجها يحطم روح الدين في نفوس أهلها، ويؤدي إلى محاربة الأديان، قام الماسون بالترويج والدعاية لها. كما أيدوا القاديانية التي أنشئت لتكون كالخراج الحار في جسم الأمة الإسلامية؛ كما أيدوا البهائية التي تدعوا صراحة للتجمع الصهيوني في فلسطين، إذ قام رئيس هذه العصابة - عباس المسمى بعبد البهاء - يعمل على إنشاء وطن قومي لليهود في فلسطين، وفي ذلك يقول في (مفاوضات عبد البهاء) ص59: "وفي زمان ذلك العصن الممتاز، وفي
তারা মনে করে যে বুদ্ধিমান ব্যক্তি তিনি, যিনি এই বাহ্যিক বিষয়গুলোকে দেখেন না, বরং কেবল ইমামের অভ্যন্তরীণ ব্যাখ্যার অনুসরণ করেন। তাই এই বাতেনী গোষ্ঠী সম্পর্কে যেমন বলা হয়ে থাকে: তাদের প্রকাশ্য রূপ হলো রাফয (الرفض) এবং তাদের অভ্যন্তরীণ রূপ হলো নিছক কুফর (الكفر المحض)। তাদের সম্পর্কে মানুষের মধ্যে এই ঐকমত্য রয়েছে যে, তারা তাদের অনুসারীদের কুপ্রবৃত্তি চরিতার্থ করা, লালসা মেটানো এবং পবিত্রতা ও নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ লঙ্ঘনে প্ররোচিত করত। তারা প্রতিটি হারাম বিষয়কে বৈধ মনে করত। তাদের এমন এক রাত ছিল যখন তাদের পুরুষ ও নারীরা একত্রে সমবেত হতো, বাতি নিভিয়ে ফেলত এবং এরপর নারীদের নিয়ে লিপ্ত হতো। তারা ইসলামের পূর্বে পারস্যের জাহেলিয়াত যুগের 'শরউইন' নামক এক ব্যক্তির ওপর বিশ্বাস রাখত এবং দাবি করত যে সে একজন নবী ছিল এবং সে আল্লাহর রাসুল ও সকল নবীগণের চেয়েও শ্রেষ্ঠ ছিল। অন্যদিকে, ফ্রিম্যাসনরি তাদের পরিকল্পনা ও উদ্দেশ্য অনুযায়ী বিভিন্ন সংস্থায় বিভক্ত। এর মধ্যে কিছু সংস্থা শিক্ষার্থীদের উত্তেজিত করার জন্য, কিছু সাংবাদিক, লেখক ও গ্রন্থকারদের চিন্তাধারা দখলের জন্য, কিছু শ্রমিক ও কৃষকদের উসকে দেওয়ার জন্য, কিছু সামরিক বাহিনীর জন্য নির্দিষ্ট এবং কিছু রাষ্ট্রে অভ্যুত্থান ঘটানোর জন্য নিয়োজিত। ফরাসি বিপ্লবের নেপথ্যে ফ্রিম্যাসনরা ছিল; ১৯০৮ সালে ইস্তাম্বুলের গণহত্যা যেখানে ৬৮ হাজার মুসলিমকে হত্যা করা হয়, তার পেছনেও তারা ছিল। একইভাবে ১৯১২ সালের বলকান যুদ্ধের পেছনেও তারা ছিল, যা প্রথম বিশ্বযুদ্ধকে ত্বরান্বিত করেছিল। সুলতান আব্দুল হামিদের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের পরিকল্পনাকারী এবং ইসলামি খিলাফত বিলুপ্তকারীও ছিল এই ফ্রিম্যাসনরা।
ফ্রিম্যাসনরা এমন অনেক মতবাদকে সমর্থন করে থাকে যার মূল উদ্যোক্তা তারা নয়, যদি তারা দেখে যে সেই মতবাদগুলো সাময়িকভাবে হলেও তাদের উদ্দেশ্য হাসিলে সহায়ক। এই কারণেই তারা খ্রিষ্টান ডারউইনকে তার বিবর্তনবাদ ও ক্রমবিকাশ তত্ত্বে সমর্থন দিয়েছিল এবং তার ভ্রান্ত (فاسد) মতবাদ প্রচারের জন্য সম্ভাব্য সব ধরণের প্রচারণা চালিয়েছিল, কারণ এটি ধর্মের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। একইভাবে তারা আরব জাতীয়তাবাদের প্রবক্তাদেরও সমর্থন করেছিল, যদিও বাস্তবে এর ভিত্তি স্থাপন করেছিল খ্রিষ্টানরা এবং ১৯১০ সালে প্যারিসে এর প্রথম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। যদিও এটি অ-ইহুদিদের প্রতি তাদের কিছু নীতির পরিপন্থী ছিল, কিন্তু যেহেতু এর প্রচার জনগণের মনে ধর্মীয় চেতনা ধ্বংস করে এবং ধর্মের বিরুদ্ধে যুদ্ধের পথ প্রশস্ত করে, তাই ফ্রিম্যাসনরা এর প্রচার ও প্রসারে লিপ্ত হয়েছিল। তারা কাদিয়ানীবাদকেও সমর্থন করেছিল, যা মুসলিম উম্মাহর দেহে একটি বিষফোঁড়া হিসেবে তৈরি করা হয়েছিল। একইভাবে তারা বাহাউল্লাহবাদকেও সমর্থন করেছিল, যা ফিলিস্তিনে জায়নবাদী সমাবেশের জন্য প্রকাশ্য আহ্বান জানায়। কারণ এই চক্রের প্রধান—আব্বাস, যাকে আব্দুল বাহা বলা হয়—ফিলিস্তিনে ইহুদিদের জন্য একটি জাতীয় আবাসভূমি গড়ে তোলার কাজ করেছিল। এ বিষয়ে সে (মুফাওয়াদাত আব্দুল বাহা) গ্রন্থের ৫৯ পৃষ্ঠায় বলে: "সেই শ্রেষ্ঠ শাখার সময়ে এবং..."
(খণ্ড: ১)
আল-ইসলাম ওয়াল হারাকাতুল হাদ্দামাতুল মুআসিরাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
تلك الدورة سيجتمع بنو إسرائيل في الأرض المقدسة، وتكون أمة اليهود التي تفرقت في الشرق والغرب والجنوب والشمال مجتمعة" ثم يقول: "فانظروا الآن تأتي طوائف اليهود إلى الأرض المقدسة، ويتملكون الأرض والقرى ويسكنون فيها، ويزدادون تدريجيا إلى أن تصير فلسطين جميعا وطنا لهم" وقد ذكر صاحب دائرة معارف القرن العشرين "الرابع عشر في الجزء الثاني ص377
… أن بعض دعاة البهائية فسر الفقرة الثانية من الإصحاح الثالث والثلاثين من سفر التثنية التي تقول: "جاء الرب من سيناء، وأشرق من ساعير، وتلألأ من جبل فاران// فقال: فهذه الآية المباركة تدل دلالة واضحة أن بين يدي الساعة وقدام مجيء القيامة، لابد أن يتجلى الله على الخلق أربع مرات، ويظهر أربع ظهورات حتى يكمل بني إسرائيل وينتهي أمرهم إلى الرب الجليل، فيجمع شتيتهم من أقصى البلاد، ويدفع عنهم كل العباد، ويسكنهم في الأرض المقدسة، ويرجع موازينهم القديمة//.
ومن أهم وسائل الماسون لتحقيق أغراضهم هو الاستيلاء على جميع وسائل الدعاية في العالم، من الصحافة والإذاعة والكتابة والتلفزيون وغيرها من شئون الإعلام، كما أن من أعظم وسائلهم الاستيلاء على المناصب الحساسة في إدارات الدول، بوضع رجال خبراء من اليهود أو مؤيديهم في تلك المناصب.
أما الصهيونية نسبة لصهيون، وهو جبل يقع في جنوب بيت المقدس، والصهيونية حركة يهودية تسعى بكل الوسائل إلى إعادة بناء الهيكل على أنقاض المسجد الأقصى، والسعي إلى السيطرة على العالم وحكمه من القدس أولا، ثم روما ثانيا على يد ملك من اليهود يكون من نسل سليمان. والصهيونية كما أشرت سابقا: هي إحدى فروع الماسونية، وقد برزت قرونها في القرن السابع عشر الميلادي باسم حركة منشة بن إسرائيل، وبدأت بالدعوة إلى توطين اليهود في بريطانيا تمهيدا لنقلهم إلى فلسطين، وقد استطاعت هذه الحركة أن تسخر الإنجليز لتحقيق أهداف اليهود. وقد نشطت في فرنسا في عهد نابليون بعد الثورة الفرنسية التي كان الماسون من ورائها؛ ففي سنة 1798م وجه أحد
"সেই আবর্তনে বনী ইসরাঈল পবিত্র ভূমিতে সমবেত হবে এবং পূর্ব, পশ্চিম, দক্ষিণ ও উত্তর দিকে ছড়িয়ে পড়া ইহুদি জাতি একতাবদ্ধ হবে।" অতঃপর তিনি বলেন: "এখন দেখুন, ইহুদিদের দলগুলো পবিত্র ভূমিতে আগমন করছে, তারা জমি ও জনপদগুলো দখল করে সেখানে বসবাস করছে এবং ধীরে ধীরে তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যতক্ষণ না সমগ্র ফিলিস্তিন তাদের স্বদেশে পরিণত হয়।" 'বিংশ শতাব্দীর বিশ্বকোষ'-এর লেখক চতুর্দশ খণ্ড, দ্বিতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৭৭-এ উল্লেখ করেছেন যে
… বাহাই ধর্ম প্রচারকদের কেউ কেউ দ্বিতীয় বিবরণের তেত্রিশতম অধ্যায়ের দ্বিতীয় অনুচ্ছেদের ব্যাখ্যা করেছেন যাতে বলা হয়েছে: "প্রভু সিনাই থেকে এসেছেন, সায়ীর থেকে প্রকাশিত হয়েছেন এবং পারান পর্বত থেকে উদ্ভাসিত হয়েছেন// অতঃপর তিনি বলেন: এই বরকতময় অনুচ্ছেদটি সুস্পষ্টভাবে নির্দেশ করে যে, কিয়ামতের (القيامة) প্রাক্কালে এবং মহাপ্রলয়ের আগমনে মহান আল্লাহ অবশ্যই সৃষ্টির সামনে চারবার প্রকাশিত হবেন এবং চারবার আবির্ভূত হবেন, যতক্ষণ না বনী ইসরাঈল পূর্ণতা লাভ করে এবং তাদের বিষয়াদি মহান রবের নিকট সমাপ্ত হয়। অতঃপর তিনি পৃথিবীর দূর-দূরান্ত থেকে তাদের বিচ্ছিন্ন জনসমষ্টিকে একত্রিত করবেন, তাদের থেকে সকল শত্রুতা দূর করবেন এবং তাদের পবিত্র ভূমিতে পুনর্বাসিত করবেন ও তাদের প্রাচীন মর্যাদা ফিরিয়ে দেবেন।//
ফ্রিম্যাসনদের লক্ষ্য অর্জনের অন্যতম প্রধান উপায় হলো বিশ্বের যাবতীয় প্রচার মাধ্যম দখল করা, যেমন সংবাদমাধ্যম, রেডিও, লেখা ও টেলিভিশনসহ গণমাধ্যমের সকল বিষয়। একইভাবে তাদের অন্যতম বৃহৎ কৌশল হলো রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের সংবেদনশীল পদগুলো নিজেদের আয়ত্তে নেওয়া, যেখানে ইহুদি বিশেষজ্ঞ বা তাদের সমর্থকদের নিয়োজিত করা হয়।
জায়নবাদ শব্দটি 'জায়ন' পাহাড়ের সাথে সম্পর্কিত, যা বায়তুল মুকাদ্দাসের দক্ষিণে অবস্থিত। জায়নবাদ একটি ইহুদি আন্দোলন যা আল-আকসা মসজিদের ধ্বংসাবশেষের ওপর তাদের উপাসনালয় পুনঃনির্মাণের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালায় এবং জেরুজালেম থেকে বিশ্ব শাসন ও নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা করে, পরবর্তীতে সুলায়মান (আ.)-এর বংশধর একজন ইহুদি রাজার নেতৃত্বে রোম পর্যন্ত তা বিস্তৃত করার লক্ষ্য রাখে। জায়নবাদ যেমনটি আমি ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি, ফ্রিম্যাসনরির একটি শাখা। সপ্তদশ শতাব্দীতে 'মানাশাহ বিন ইসরাঈল আন্দোলন' হিসেবে এর বিকাশ ঘটে এবং ফিলিস্তিনে ইহুদিদের স্থানান্তরের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ব্রিটেনে তাদের পুনর্বাসনের ডাক দিয়ে এর সূচনা হয়। এই আন্দোলনটি ইহুদিদের স্বার্থ হাসিলের জন্য ইংরেজদের ব্যবহার করতে সক্ষম হয়েছিল। ফরাসি বিপ্লবের পর নেপোলিয়নের আমলে এটি ফ্রান্সেও সক্রিয় হয়ে ওঠে, যে বিপ্লবের নেপথ্যে ফ্রিম্যাসনরা ছিল। ১৭৯৮ সালে একজন...
(খণ্ড: ১)
আল-ইসলাম ওয়াল হারাকাতুল হাদ্দামাতুল মুআসিরাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
زعماء الصهيونية خطابا يعتبره اليهود دستور الصهيونية، وقد جاء فيه: "هيا بنا أيها الإخوان لتجديد هيكل أورشليم، إن عددنا يبلغ ستة ملايين منتشرين في أقطار العالم، وفي حوزتنا ثروات طائلة واسعة، وممتلكات عظيمة، فيجب أن نتذرع بكل ما لدينا من الوسائل لاستعادة بلادنا، إنه يجب العمل وإقامة مجلس ينتخبه اليهود المقيمون في بلدان أوربا وآسيا وأفريقيا، واللجنة الممثلة لليهود المقيمين في هذه البلدان يمكنها أن تبحث في مهمتها وتتخذ ما تراه من القرارات، وعلى اليهود أن يقبلوا هذه القرارات، ويجعلوها قانونا يخضعون له". وقد حدد الوطن القومي لليهود بفلسطين وسيناء إلى النيل من أرض مصر، ثم يقول: "فهذا المركز يجعلنا قابضين على ناصية تجارة الهند وبلاد العرب وأفريقيا، مع سهولة الاتصال ببلاد أوربا"، ثم يختم خطابه بقوله: أيها الإسرائيليون: "لقد قربت الساعة التي ينتهي فيها حالتكم التعسة، وإن الفرصة الآن سانحة، فحاذروا أن تفلت من أيديكم". وقد عمل اليهود بكل الوسائل على شراء الأراضي في فلسطين، وبناء المستعمرات بمساعدة كبار اليهود من الإنجليز مثل: درزائيلي اليهودي الإنجليزي الذي تنصر وصار رئيسا للوزارة البريطانية. ثم نشطت الصهيونية بقيادة هرتزل الذي يلقبونه "بأبي الصهيونية الحديثة" وهو صحفي نمساوي، وقد حاول هرتسل هذا أن يدفع للسلطان عبد الحميد خمسة ملايين ليرة ذهبية عثمانية هدية للخزينة السلطانية الخاصة، وعشرين مليونا كقرض من الجمعية اليهودية للحكومة العثمانية لمدة تعينها الحكومة العثمانية، وقد تنبه السلطان عبد الحميد إلى خطر هذه الحركة الإجرامية، ورفض أي وعد باستيطان اليهود في أرض فلسطين؛ ففكر اليهود في إقامة وطن مؤقت في سيناء أو يوغنده، ولكن المؤتمر اليهودي السادس المنعقد سنة 1903م رفض هذه الفكرة وأصر على أرض فلسطين، ومات هرتزل سنة 1904م بعد أن وضع كثيرا من الوسائل لتحقيق هدفهم الخبيث؛ ومن أهم هذه الوسائل وجوب عقد مؤتمر في كل عام يضم قادة الحركة الصهيونية، وقد انعقد أول مؤتمر لهم في مدينة بال بسويسرا عام 1897م واتخذ هذا
জায়নবাদী নেতাদের একটি ভাষণ, যা ইহুদিদের কাছে জায়নবাদের সংবিধান হিসেবে গণ্য হয়; তাতে বলা হয়েছে: "হে ভ্রাতৃগণ! এসো আমরা জেরুজালেমের হাইকাল পুনর্নির্মাণ করি। আমাদের সংখ্যা এখন ষাট লক্ষে পৌঁছেছে এবং আমরা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে আছি। আমাদের অধিকারে রয়েছে বিশাল ধন-সম্পদ ও অঢেল ভূ-সম্পত্তি। সুতরাং আমাদের দেশকে পুনরুদ্ধার করার জন্য সম্ভাব্য সকল উপায় অবলম্বন করা আমাদের জন্য আবশ্যক। আমাদের কর্মতৎপর হতে হবে এবং ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকায় বসবাসরত ইহুদিদের দ্বারা নির্বাচিত একটি পরিষদ গঠন করতে হবে। এই দেশগুলোতে বসবাসকারী ইহুদিদের প্রতিনিধিত্বকারী কমিটি তাদের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য নিয়ে আলোচনা করতে পারবে এবং প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবে। আর ইহুদিদের কর্তব্য হলো এই সিদ্ধান্তসমূহ মেনে নেওয়া এবং সেগুলোকে এমন একটি আইনে পরিণত করা যার প্রতি তারা অনুগত থাকবে।" ইহুদিদের জাতীয় আবাসভূমি হিসেবে ফিলিস্তিন এবং সিনাই থেকে মিশরের নীল নদ পর্যন্ত অঞ্চলকে নির্ধারণ করা হয়েছে। এরপর তিনি বলেন: "এই ভৌগোলিক অবস্থানটি আমাদের ভারত, আরব ভূখণ্ড এবং আফ্রিকার বাণিজ্যের মূল নিয়ন্ত্রক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে, সেই সাথে ইউরোপের দেশগুলোর সাথে যোগাযোগের পথও সুগম হবে।" এরপর তিনি ভাষণটি এই বলে শেষ করেন: "হে বনী ইসরায়েল! তোমাদের এই দুর্দশাগ্রস্ত অবস্থার অবসানের সময় নিকটবর্তী। এখন এক সুবর্ণ সুযোগ উপস্থিত হয়েছে, তাই সাবধান! এই সুযোগ যেন তোমাদের হাতছাড়া না হয়।" ইহুদিরা ফিলিস্তিনের ভূমি ক্রয় এবং সেখানে বসতি স্থাপনের জন্য সম্ভাব্য সকল প্রচেষ্টা চালায়। এক্ষেত্রে তারা প্রভাবশালী ব্রিটিশ ইহুদিদের সহায়তা গ্রহণ করে, যেমন: ব্রিটিশ ইহুদি ডিসরাইলি, যিনি খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেছিলেন এবং পরবর্তীতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। অতঃপর থিওডোর হার্জলের নেতৃত্বে জায়নবাদী তৎপরতা বৃদ্ধি পায়, যাকে তারা "আধুনিক জায়নবাদের জনক" বলে আখ্যায়িত করে। তিনি ছিলেন একজন অস্ট্রীয় সাংবাদিক। এই হার্জল সুলতান আব্দুল হামিদের রাজকীয় বিশেষ কোষাগারের জন্য উপহারস্বরূপ পাঁচ মিলিয়ন উসমানীয় স্বর্ণমুদ্রা এবং উসমানীয় সরকারের জন্য ইহুদি সমিতির পক্ষ থেকে সরকারের নির্ধারিত মেয়াদের জন্য বিশ মিলিয়ন ঋণ প্রদানের প্রস্তাব পেশ করেছিলেন। সুলতান আব্দুল হামিদ এই অপরাধমূলক আন্দোলনের বিপদ সম্পর্কে সজাগ ছিলেন এবং ফিলিস্তিনের মাটিতে ইহুদিদের বসতি স্থাপনের যেকোনো সম্ভাবনাকে নাকচ করে দেন। ফলে ইহুদিরা সিনাই অথবা উগান্ডায় একটি সাময়িক আবাসভূমি গড়ার কথা চিন্তা করে। কিন্তু ১৯০৩ সালে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ ইহুদি সম্মেলন এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে এবং ফিলিস্তিনের ভূমির ওপরই অনড় থাকে। ১৯০৪ সালে হার্জল মৃত্যুবরণ করেন, তবে এর আগেই তিনি তাদের ঘৃণ্য লক্ষ্য অর্জনের জন্য অনেকগুলো কর্মপন্থা নির্ধারণ করে যান। এই উপায়গুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল প্রতি বছর একটি সম্মেলন আয়োজন করা যেখানে জায়নবাদী আন্দোলনের নেতারা একত্রিত হবেন। ১৮৯۷ সালে সুইজারল্যান্ডের ব্যাসেল শহরে তাদের প্রথম সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং এটি...
(খণ্ড: ১)
আল-ইসলাম ওয়াল হারাকাতুল হাদ্দামাতুল মুআসিরাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
غير أن قباذ استطاع أن يعود إلى الملك وأن يحبس أخاه، فقوي شر المزدكية من جديد، واستمرت إلى أن قتل قباذ وتولى بعده ابنه أنوشروان الذي ولد في عهده رسول الله صلى الله عليه وسلم، فلما استقل بالملك وجلس على السرير قال لخواصه: "إني عاهدت الله إذا صار إلي الملك ألا أبقي على أحد من المزدكية الذين أفسدوا أموال الناس ونساءهم"، وكان عند سريره رجل مزدكي فقال: "أتقتل الناس جميعا؟ " فنظر إليه أنوشروان وقال له: "أتذكر يا ابن الخبيثة يوم طلبت من أبي أن يأذن لك في المبيت عند أمي فأذن لك، ولما ذهبت إلى حجرتها لحقت بك وقبلت رجلك وتضرعت إليك حتى وهبتها لي ورجعت؟ " فأقر الرجل أمام الحاشية بما قال الملك، فأمر بقتله فضربت عنقه وأحرقت جثته، ثم أمر أنوشروان باستئصال شأفة المزدكية وقضى عليهم.
كما عرفت الشيوعية في العصر الحديث في صور متقاربة بزعامة رجال تكاد تتشابه ظروف حياتهم مع حياة مزدك الفارسي، وأشهر هؤلاء كارل ماركس المولود عام 1818م من أبوين يهوديين، غير أن اباه أظهر أنه تنصر وترك دين اليهودية، وكذلك فعل ابنه كارل ماركس، وقد وصف "أوتورهل"ماركس بأنه كان على الدوام متقلبا حقودا لا يزال في تصرفه عرضة لتأثير سوء الهضم والانتفاخ، وهياج الصفراء، وكان موسوسا يغلو كجميع الموسوسين في الشعور بمتاعبه الحسدية، وقد كان كارل ماركس يهمل دروسه، وينقطع عن معهده الأسابيع المتواصلة متابعا لما شذ من الآراء التي يبنيها اليوم ويهدمها غدا؛ أو باحثا عن اللذة الجنسية والمتاع الجسدي، وقد شغف أولا بدراسة القانون ثم تركه وشغف بدراسة الفلسفة ثم تركها، واشتغل بدراسة المذاهب الاقتصادية وحصل على دكتوراه بالمراسلة من جامعة جينا الألمانية عام 1841م.
وكان ماركس أيام حياته الدراسية عالة على أبيه "هرشل" فلما مات أبوه صار عالة على أمه وأخته حتى عجزتا عن مواصلة الإنفاق عليه، فصار يلجأ إلى الاستدانة من أقربائه وأصدقائه، وبخاصة من انجلز الذي صار قرينه
তবে কুব্বাদ পুনরায় রাজক্ষমতায় ফিরে আসতে সক্ষম হন এবং তাঁর ভাইকে কারারুদ্ধ করেন। ফলে মাজদাকবাদের অনিষ্ট নতুন করে বৃদ্ধি পায় এবং কুব্বাদের মৃত্যু পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকে। তাঁর পর তাঁর পুত্র আনুশিরওয়ান ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন, যাঁর যুগে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তিনি যখন স্বাধীনভাবে রাজকার্য পরিচালনা শুরু করলেন এবং সিংহাসনে আরোহণ করলেন, তখন তাঁর ঘনিষ্ঠ পারিষদবর্গকে বললেন: "আমি আল্লাহর নিকট অঙ্গীকার করেছি যে, আমি যদি রাজক্ষমতা লাভ করি তবে মাজদাকপন্থীদের কাউকেই জীবিত রাখব না, যারা মানুষের সম্পদ ও নারীদের কলুষিত করেছে।" তখন তাঁর সিংহাসনের নিকট অবস্থানরত একজন মাজদাকপন্থী লোক বলল: "আপনি কি সকল মানুষকে হত্যা করবেন?" আনুশিরওয়ান তার দিকে তাকিয়ে বললেন: "হে পাপাচারিণীর পুত্র! তোমার কি সেই দিনের কথা মনে আছে, যখন তুমি আমার পিতার নিকট আমার মায়ের সাথে রাত কাটানোর অনুমতি চেয়েছিলে এবং তিনি তোমাকে অনুমতি দিয়েছিলেন? অতঃপর তুমি যখন তাঁর প্রকোষ্ঠে গেলে, তখন আমি তোমার পিছু নিলাম এবং তোমার পায়ে ধরে অনুনয়-বিনয় করলাম, ফলে তুমি তাঁকে আমার নিকট অর্পণ করে ফিরে আসলে।" লোকটি রাজসভার সকলের সামনে রাজার কথার সত্যতা স্বীকার করল। রাজা তখন তাকে হত্যার নির্দেশ দিলেন; তার শিরচ্ছেদ করা হলো এবং মৃতদেহটি পুড়িয়ে ফেলা হলো। এরপর আনুশিরওয়ান মাজদাকিয়াদের সমূলে বিনাশ করার নির্দেশ দিলেন এবং তাদের অবসান ঘটালেন।
তেমনিভাবে আধুনিক যুগেও কমিউনিজম বা সাম্যবাদ অনুরূপ কিছু রূপে পরিচিতি লাভ করেছে, যার নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তিদের জীবনধারা পারস্যের মাজদাকের জীবন পরিস্থিতির সাথে প্রায় সাদৃশ্যপূর্ণ। এদের মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হলেন কার্ল মার্কস, যিনি ১৮১৮ সালে ইহুদি পিতা-মাতার ঘরে জন্মগ্রহণ করেন। তবে তাঁর পিতা বাহ্যিকভাবে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেছিলেন এবং ইহুদি ধর্ম ত্যাগ করেছিলেন; তাঁর পুত্র কার্ল মার্কসও একই পথ অনুসরণ করেন। 'অটো রুহল' মার্কসকে এমন এক ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন যিনি সর্বদা অস্থিরমতি ও বিদ্বেষপরায়ণ ছিলেন। তাঁর আচরণে প্রায়শই বদহজম, পেটফাঁপা এবং পিত্তরোগের প্রভাব পরিলক্ষিত হতো। তিনি শুচিবায়ুগ্রস্ত ছিলেন এবং এ ধরনের রোগীদের মতোই নিজের শারীরিক কষ্ট নিয়ে অতিরঞ্জন করতেন। কার্ল মার্কস তাঁর পড়াশোনায় অবহেলা করতেন এবং দিনের পর দিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতেন। তিনি এমন সব বিচ্ছিন্ন (شاذ) মতবাদের অনুসারী ছিলেন যা আজ তিনি নিজে তৈরি করতেন আবার কাল তা ভেঙে ফেলতেন; অথবা তিনি যৌন লালসা ও শারীরিক আনন্দ অন্বেষণে মগ্ন থাকতেন। প্রথমে তিনি আইনশাস্ত্র অধ্যয়নে মনোনিবেশ করলেও পরবর্তীতে তা ছেড়ে দর্শনের প্রতি অনুরাগী হন। এরপর সেটিও বর্জন করে অর্থনীতি বিষয়ক মতবাদসমূহ নিয়ে চর্চা শুরু করেন এবং ১৮৪১ সালে জার্মানির জেনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডাকযোগের মাধ্যমে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন।
ছাত্রজীবনে মার্কস তাঁর পিতা 'হার্শেল'-এর গলগ্রহ ছিলেন। পিতার মৃত্যুর পর তিনি তাঁর মা ও বোনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন, এমনকি একপর্যায়ে তাঁরাও তাঁর ভরণপোষণ চালাতে অক্ষম হয়ে পড়েন। এমতাবস্থায় তিনি তাঁর আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুবান্ধবদের থেকে ঋণ গ্রহণ করতে শুরু করেন, বিশেষ করে এঙ্গেলসের নিকট থেকে, যিনি তাঁর ঘনিষ্ঠ সঙ্গী বা সহযোগী (قرين) হিসেবে পরিচিতি পান।
(খণ্ড: ১)
আল-ইসলাম ওয়াল হারাকাতুল হাদ্দামাতুল মুআসিরাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
غير أن قباذ استطاع أن يعود إلى الملك وأن يحبس أخاه، فقوي شر المزدكية من جديد، واستمرت إلى أن قتل قباذ وتولى بعده ابنه أنوشروان الذي ولد في عهده رسول الله صلى الله عليه وسلم، فلما استقل بالملك وجلس على السرير قال لخواصه: "إني عاهدت الله إذا صار إلي الملك ألا أبقي على أحد من المزدكية الذين أفسدوا أموال الناس ونساءهم"، وكان عند سريره رجل مزدكي فقال: "أتقتل الناس جميعا؟ " فنظر إليه أنوشروان وقال له: "أتذكر يا ابن الخبيثة يوم طلبت من أبي أن يأذن لك في المبيت عند أمي فأذن لك، ولما ذهبت إلى حجرتها لحقت بك وقبلت رجلك وتضرعت إليك حتى وهبتها لي ورجعت؟ " فأقر الرجل أمام الحاشية بما قال الملك، فأمر بقتله فضربت عنقه وأحرقت جثته، ثم أمر أنوشروان باستئصال شأفة المزدكية وقضى عليهم.
كما عرفت الشيوعية في العصر الحديث في صور متقاربة بزعامة رجال تكاد تتشابه ظروف حياتهم مع حياة مزدك الفارسي، وأشهر هؤلاء كارل ماركس المولود عام 1818م من أبوين يهوديين، غير أن اباه أظهر أنه تنصر وترك دين اليهودية، وكذلك فعل ابنه كارل ماركس، وقد وصف "أوتورهل"ماركس بأنه كان على الدوام متقلبا حقودا لا يزال في تصرفه عرضة لتأثير سوء الهضم والانتفاخ، وهياج الصفراء، وكان موسوسا يغلو كجميع الموسوسين في الشعور بمتاعبه الحسدية، وقد كان كارل ماركس يهمل دروسه، وينقطع عن معهده الأسابيع المتواصلة متابعا لما شذ من الآراء التي يبنيها اليوم ويهدمها غدا؛ أو باحثا عن اللذة الجنسية والمتاع الجسدي، وقد شغف أولا بدراسة القانون ثم تركه وشغف بدراسة الفلسفة ثم تركها، واشتغل بدراسة المذاهب الاقتصادية وحصل على دكتوراه بالمراسلة من جامعة جينا الألمانية عام 1841م.
وكان ماركس أيام حياته الدراسية عالة على أبيه "هرشل" فلما مات أبوه صار عالة على أمه وأخته حتى عجزتا عن مواصلة الإنفاق عليه، فصار يلجأ إلى الاستدانة من أقربائه وأصدقائه، وبخاصة من انجلز الذي صار قرينه
তবে কুবাদ পুনরায় রাজত্ব ফিরে পেতে এবং স্বীয় ভ্রাতাকে কারারুদ্ধ করতে সক্ষম হন, ফলে মাজদাকপন্থীদের উপদ্রব পুনরায় বৃদ্ধি পায়। কুবাদ নিহত হওয়া এবং তার পুত্র আনুশিরওয়ানের ক্ষমতা গ্রহণ পর্যন্ত এই অবস্থা চলতে থাকে, যাঁর শাসনকালেই আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ভূমিষ্ঠ হয়েছিলেন। আনুশিরওয়ান যখন পূর্ণ ক্ষমতা লাভ করে সিংহাসনে সমাসীন হলেন, তখন তিনি তার পারিষদবর্গকে বললেন: "আমি আল্লাহর সাথে অঙ্গীকার করেছি যে, যদি আমি রাজত্ব ফিরে পাই তবে মাজদাকপন্থীদের কাউকেই রেহাই দেব না, যারা মানুষের সম্পদ ও নারীদের কলুষিত করেছে।" সে সময় তার সিংহাসনের পাশে একজন মাজদাকী ব্যক্তি দাঁড়িয়ে ছিল, সে বলে উঠল: "আপনি কি তবে সব মানুষকে হত্যা করবেন?" আনুশিরওয়ান তার দিকে তাকিয়ে বললেন: "হে পাপিষ্ঠার পুত্র, তোমার কি মনে আছে সেই দিনটির কথা, যখন তুমি আমার পিতার কাছে আমার মায়ের সাথে রাত্রিযাপনের অনুমতি চেয়েছিলে এবং তিনি তোমাকে অনুমতিও দিয়েছিলেন? অতঃপর যখন তুমি তার কক্ষে প্রবেশ করলে, আমি তোমার পিছু নিলাম এবং তোমার পায়ে পড়ে কান্নাকাটি করলাম, যতক্ষণ না তুমি তাকে আমার জন্য ছেড়ে দিলে এবং ফিরে এলে?" লোকটি রাজন্যবর্গের সামনে বাদশাহর বক্তব্যের সত্যতা স্বীকার করল। তখন বাদশাহ তাকে হত্যার আদেশ দিলেন; ফলে তার শিরশ্ছেদ করা হলো এবং তার মৃতদেহ পুড়িয়ে ফেলা হলো। এরপর আনুশিরওয়ান মাজদাকপন্থীদের সমূলে উৎপাটনের নির্দেশ দিলেন এবং তাদের চিরতরে নির্মূল করলেন।
তেমনিভাবে আধুনিক যুগেও কমিউনিজম বা সাম্যবাদ কাছাকাছি রূপে এমন কিছু ব্যক্তিদের নেতৃত্বে আত্মপ্রকাশ করেছে, যাদের জীবনধারা পারস্যের মাজদাকের জীবনযাত্রার সাথে প্রায় সাদৃশ্যপূর্ণ। এই ব্যক্তিদের মধ্যে সর্বাধিক পরিচিত হলেন কার্ল মার্কস, যিনি ১৮১৮ খ্রিস্টাব্দে এক ইহুদি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তবে তার পিতা বাহ্যিকভাবে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেন এবং ইহুদি ধর্ম ত্যাগ করেন; তার পুত্র কার্ল মার্কসও অনুরূপ করেছিলেন। 'অটো রুহল' মার্কসকে এমনভাবে চিত্রায়িত করেছেন যে, তিনি সর্বদা অস্থিরমতি ও বিদ্বেষপরায়ণ ছিলেন; তার আচরণ সর্বদা বদহজম, পেট ফাঁপা এবং পিত্তের উত্তেজনার দ্বারা প্রভাবিত হতো। তিনি ছিলেন বাতিকগ্রস্ত এবং সকল বাতিকগ্রস্ত ব্যক্তির ন্যায় তিনিও তার ঈর্ষাপরায়ণ যন্ত্রণার অনুভূতিতে বাড়াবাড়ি করতেন। কার্ল মার্কস তার পড়াশোনায় অবহেলা করতেন এবং টানা কয়েক সপ্তাহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অনুপস্থিত থেকে এমন সব বিচ্যুত (شاذ) মতাদর্শ অনুসরণ করতেন যা তিনি আজ গড়তেন তো কাল ভাঙতেন; অথবা তিনি যৌন লালসা ও দৈহিক সুখের সন্ধানে লিপ্ত থাকতেন। তিনি প্রথমে আইন শাস্ত্রের প্রতি অনুরাগী ছিলেন, পরে তা ছেড়ে দিয়ে দর্শনের প্রতি ঝুঁকে পড়েন। এরপর তাও ছেড়ে দিয়ে তিনি অর্থনৈতিক মতবাদসমূহ নিয়ে গবেষণায় মগ্ন হন এবং ১৮৪১ সালে জার্মানির জেনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডাকযোগে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।
ছাত্রাবস্থায় মার্কস তার পিতা 'হারশেল'-এর ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। পিতার মৃত্যুর পর তিনি তার মা ও বোনের গলগ্রহ হয়ে পড়েন, শেষ পর্যন্ত তারা তার ভরণ-পোষণের ব্যয়ভার বহনে অসমর্থ হয়ে পড়েন। এমতাবস্থায় তিনি তার আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদের নিকট হতে ঋণ গ্রহণ শুরু করেন, বিশেষত এঙ্গেলসের নিকট হতে, যিনি তার নিত্যসঙ্গী হয়েছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইসলাম ওয়াল হারাকাতুল হাদ্দামাতুল মুআসিরাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
في الدعوة إلى الشيوعية. وكان أصدقاؤه إذا ضاقوا من طلباته حاولوا أن يكلفوه ببعض الأعمال التي قد تدر عليه ببعض الرزق، ولكنه كان يبوء بالفشل في كل عمل يسند إليه.
وكان ماركس قد تعرف على فتاة أثناء دراسته للحقوق في جامعة بون تدعى جيني، ولم يكن أحد قد اشتم منه رائحة نزعته الشيوعية إلى ذلك الحين. وكان عمره لا يتجاوز العشرين، وقد وقعت الفتاة في قلبه وهام بها، ولم يكن في أول أمره ذلك يفكر في الزواج منها لأنها من طبقة فوق طبقة أهله، والتقاليد تقف حجر عثرة في سبيله، غير أن الفتاة رغبت في الزواج منه ولم تعبأ بالفوارق الطبقية التي توجد بينهما. وقد أعلنت الفتاة أنها لن تتخلى عنه مهما كانت الفوارق، وأنها راضية به على أي حال. وعلى الرغم من تحقيق هذا الحلم فقد بدأ ماركس يشعر بالحقد الثائر نحو نظام الطبقات الذي كاد يحول بينه وبين جيني، وقد بدأت مشكلة المعاش - له ولزوجته - تتعقد أمام ماركس، فقد زادت نفقاته ولم يتحسن إنتاجه، ولاسيما بعد أن صار ذا أولاد، وقد صورت زوجته جيني ما صارت إليه هي وزوجها من البؤس وتعاسة العيش في كتاب إلى صديق لها تطلب منه أن يمد لها المساعدة؛ قالت فيه:
"ائذن لي أن أصف لك يوما من أيام هذه الحياة وسترى أن غيرنا لم يقاس ما قاسينا، فأنا مريضة سقيمة، ومع أن ثديي وظهري بهما أوجاع وآلام بالغة، فأنا مضطرة إلى أن أرضع طفلي الرابع الحديث الولادة، لأنني لا أستطيع أن أدفع أجرة مرضعة، ولكن طفلي كان يرضع الحزن والألم والوجع، فيتلوى من المرض ليلا ونهارا، ومع هذا الفقر والحاجة فقد دخلت علينا صاحبة المنزل وطلبت منا أجرة البيت، كما طالبت بما علينا لها من القروض، ولما كنا عاجزين عن الدفع فقد حجزت على كل ما نملك في البيت حتى فراش الطفل، وباعته بما لها علينا من الدين. ثم طردتنا إلى الشارع والمطر ينهمر بغزارة، والبرد قارس لا يرحم، وبذل زوجي ماركس كل ما في وسعه من جهد فلم نجد من يقبل إيواءنا"؛ كما كتبت جيني مرة أخرى تصف إحدى ليالي البؤس التي مرت بها وبماركس فتقول: "أحست ابنتنا
সাম্যবাদের দাওয়াতের ক্ষেত্রে। যখন তাঁর বন্ধুরা তাঁর অভাব-অনটনের কারণে অতিষ্ঠ হয়ে পড়তেন, তখন তাঁরা তাঁকে এমন কিছু কাজে নিয়োগ করার চেষ্টা করতেন যা থেকে তাঁর কিছু জীবিকা অর্জিত হতে পারে; কিন্তু তাঁকে যে দায়িত্বই অর্পণ করা হতো, তিনি তাতেই ব্যর্থতায় পর্যবসিত হতেন।
মার্কস যখন বন বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে অধ্যয়ন করছিলেন, তখন জেনি নামক এক তরুণীর সাথে তাঁর পরিচয় হয়। তখন পর্যন্ত কেউ তাঁর মধ্যে সাম্যবাদী চিন্তাধারার কোনো আভাস পায়নি। তখন তাঁর বয়স বিশ বছরের অধিক ছিল না। তরুণীটি তাঁর হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছিলেন এবং তিনি তাঁর প্রেমে মগ্ন হয়েছিলেন। শুরুতে তিনি তাঁকে বিবাহের কথা চিন্তা করেননি, কারণ মেয়েটি তাঁর পরিবারের তুলনায় উচ্চ সামাজিক স্তরের অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং সামাজিক প্রথা তাঁর পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তবে মেয়েটি তাঁকে বিবাহ করতে আগ্রহী ছিল এবং তাদের মধ্যকার শ্রেণিগত ব্যবধানকে কোনো গুরুত্ব দেয়নি। সে ঘোষণা করেছিল যে, ব্যবধান যাই হোক না কেন, সে তাঁকে পরিত্যাগ করবে না এবং যেকোনো পরিস্থিতিতেই সে তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট। এই স্বপ্ন পূরণ হওয়া সত্ত্বেও মার্কস সেই শ্রেণিপ্রথার প্রতি তীব্র ঘৃণা পোষণ করতে শুরু করেন, যা প্রায় তাঁর ও জেনির মাঝে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছিল। অতঃপর মার্কস ও তাঁর স্ত্রীর জীবনধারণের সমস্যা আরও জটিল আকার ধারণ করতে থাকে; তাঁর ব্যয় বৃদ্ধি পায় কিন্তু আয় বাড়েনি, বিশেষ করে সন্তান হওয়ার পর। তাঁর স্ত্রী জেনি তাঁদের চরম দারিদ্র্য ও মানবেতর জীবনযাত্রার চিত্র তুলে ধরে তাঁর এক বন্ধুর নিকট সাহায্যের আবেদন জানিয়ে একটি পত্র লিখেছিলেন; তাতে তিনি বলেছিলেন:
"আমাকে আমাদের জীবনের একটি দিনের বর্ণনা দেওয়ার অনুমতি দিন, তবেই আপনি অনুধাবন করতে পারবেন যে আমরা যে কষ্টের সম্মুখীন হয়েছি, অন্য কেউ তা করেনি। আমি অত্যন্ত রুগ্ন ও অসুস্থ; আমার বক্ষ ও পিঠে তীব্র বেদনা থাকা সত্ত্বেও আমি আমার চতুর্থ নবজাতক সন্তানকে স্তন্যপান করাতে বাধ্য হচ্ছি, কারণ আমি কোনো ধাত্রীর পারিশ্রমিক দিতে অক্ষম। কিন্তু আমার শিশুটি যেন কেবল দুঃখ, বেদনা আর কষ্টই পান করছিল; সে দিনরাত রোগের যন্ত্রণায় ছটফট করত। এই চরম দারিদ্র্য ও অভাবের মাঝে গৃহকর্ত্রী উপস্থিত হয়ে আমাদের নিকট ঘরভাড়া দাবি করেন এবং আমাদের নিকট তাঁর পাওনা ঋণ পরিশোধের তাগাদা দেন। আমরা তা পরিশোধে অসমর্থ হওয়ায় তিনি ঘরের সর্বস্ব এমনকি শিশুর শয্যা পর্যন্ত ক্রোক করে নেন এবং ঋণের বিনিময়ে তা বিক্রয় করে দেন। এরপর তিনি আমাদের রাস্তায় বের করে দেন, অথচ তখন মুষলধারে বৃষ্টি বর্ষিত হচ্ছিল এবং প্রচণ্ড হাড়কাঁপানো শীত অনুভূত হচ্ছিল। আমার স্বামী মার্কস সাধ্যমতো সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়েও আমাদের আশ্রয় দেওয়ার মতো কাউকে খুঁজে পাননি।" জেনি পুনরায় তাঁর ও মার্কসের জীবনের একটি দুর্বিষহ রাতের বর্ণনা দিয়ে লিখেছিলেন: "আমাদের কন্যা অনুভব করল...
(খণ্ড: ১)
আল-ইসলাম ওয়াল হারাকাতুল হাদ্দামাতুল মুআসিরাহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
بنزلة شعبية، وصارعت الموت ثلاثة أيام ثم ماتت، وأخذنا نبكي عليها، ولم يكن لدينا ما نجهزها ونكفنها به، وأبقينا الجثة حتى نجد ما نستعين به على دفنها، ومضيت إلى جار فرنسي مهاجر فأعطاني جنيهين
… وا أسفاه!! وفدت ابنتنا إلى الدنيا فلم تجد مهدا، وعندما غادرت الدنيا لم تجد كفنا". ويبدو أن الماسون قد استغلوا هذه الحوادث، وأثاروا في ماركس هذه الدوافع حتى حدت به أن يكون داعيا لمصارعة الطبقات، عنيدا في الدعوة إلى الشيوعية، عبدا ضارعا أمام محراب المادية، ينفث سمومه في نواح متعددة من أوربا، ولاسيما إنجلترا، حتى هلك عام 1883م، غير أن دعوته لم تنجح في أوربا، حتى قام اليهود الروس بالثورة الشيوعية ضد القياصرة من آل رومانوف بقيادة اليهودي لينين عام 1917م تحقيقا لمقررات الماسونية والصهيونية، وقد جعل السوفيت المادة الأولى من دستورهم أنه لا إله والكون مادة؛ والمادية في نظر الماركسيين تعني عدم الإيمان بالغيب، وإنكار جميع المظاهر الدينية والمذاهب الروحية والمنازع الأخلاقية، وحرب التقاليد ونظام الزواج والأسرة، وقد كان ماركس يرى أنه لابد لقيام المجتمع الشيوعي من خمسة أركان يبنى عليها وهي:
1- استيلاء الطبقة الكادحة من العمال والفلاحين على مقاليد الحكم في أول الأمر.
2- تأميم وسائل الإنتاج ومصادر الثروة.
3- القضاء على رأس المال.
4- القضاء على الطبقات.
5- ثم القضاء على الحكومة.
غير أن نظام الماركسيين ينص على "أن قيام حكومة العمال والفلاحين هو شيء مؤقت، وأنه حركة انتقالية إلى مرحلة الشيوعية الحقيقة التي لا تبقى فيها حكومة، وإنما ينطلق الشعب حرا بلا حكومة ولا سلطان". بيد أن واقع الشيوعية لم ير هذه النظرية مطبقة في قطر من الأقطار التي بليت بهذا النظام، فجميع البلاد التي صارت إلى الشيوعية قامت حكومتها من جنس الحكومات التي كانت في تلك البلاد قبل الحكم الشيوعي؛ ففي روسيا مثلا كان الدور الذي قام به العمال والفلاحون هو إشعال نار الثورة ضد الحكم القيصري والقضاء عليه، فلما تم لرؤساء الحزب الشيوعي ما أرادوا من سقوط عرش آل رومانوف، قبض رؤساء الحزب الشيوعي على زمام الحكم، وأزاحوا العمال
"শ্বাসনালীর প্রদাহে আক্রান্ত হয়ে সে তিন দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে মারা গেল। আমরা তার জন্য বিলাপ করতে লাগলাম, অথচ তাকে দাফনের জন্য প্রস্তুত করার বা কাফন পরানোর মতো কোনো সম্বল আমাদের কাছে ছিল না। দাফনকার্য সম্পন্ন করার জন্য কোনো সহায়তা পাওয়ার আশায় আমরা মৃতদেহটি ফেলে রেখেছিলাম। এরপর আমি একজন অভিবাসী ফরাসি প্রতিবেশীর কাছে গেলাম এবং সে আমাকে দুই পাউন্ড দিল
… হায় আফসোস!! আমাদের কন্যা এই পৃথিবীতে এসেছিল কিন্তু কোনো দোলনা পায়নি, আর যখন সে পৃথিবী ছেড়ে চলে গেল তখন সে কাফনও পায়নি।" এটা প্রতীয়মান হয় যে, ফ্রিম্যাসনরা এই ঘটনাগুলোকে কাজে লাগিয়েছিল এবং মার্কসের মাঝে এই প্রবণতাগুলো এমনভাবে উসকে দিয়েছিল যা তাকে শ্রেণি সংগ্রামের আহ্বানকারী, কমিউনিজমের একগুঁয়ে প্রচারক এবং বস্তুবাদের বেদীর সামনে এক বিনীত দাসে পরিণত করেছিল। তিনি ইউরোপের বিভিন্ন প্রান্তে, বিশেষ করে ইংল্যান্ডে তার বিষবাষ্প ছড়াতে থাকেন, অবশেষে ১৮৮৩ সালে তার মৃত্যু হয়। তবে ইউরোপে তার এই আহ্বান সফল হয়নি, যতক্ষণ না রুশ ইহুদিরা ১৯১৭ সালে ইহুদি লেনিনের নেতৃত্বে ফ্রিম্যাসনরি ও জায়নবাদের সিদ্ধান্তসমূহ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে রোমানভ বংশীয় জারদের বিরুদ্ধে সাম্যবাদী বিপ্লব পরিচালনা করে। সোভিয়েতরা তাদের সংবিধানের প্রথম অনুচ্ছেদে উল্লেখ করেছিল যে, কোনো ইলাহ নেই এবং মহাবিশ্ব কেবলই বস্তু। মার্কসবাদীদের দৃষ্টিতে বস্তুবাদের অর্থ হলো অদৃশ্যের বিষয় (الغيب)-এর প্রতি বিশ্বাস না রাখা এবং সমস্ত ধর্মীয় অনুষঙ্গ, আধ্যাত্মিক মতবাদ ও নৈতিক মূল্যবোধকে অস্বীকার করা, আর ঐতিহ্য, বিবাহ ব্যবস্থা ও পরিবার প্রথার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা। মার্কস মনে করতেন যে, সাম্যবাদী সমাজ গঠনের জন্য পাঁচটি স্তম্ভ অপরিহার্য যার ওপর এটি প্রতিষ্ঠিত হবে, সেগুলো হলো:
1- প্রথম পর্যায়ে শাসনক্ষমতার চাবিকাঠি শ্রমিক ও কৃষক তথা মেহনতি শ্রেণির হস্তগত করা।
2- উৎপাদনের উপায় ও সম্পদের উৎসসমূহ রাষ্ট্রীয়করণ করা।
3- পুঁজির বিলোপ ঘটানো।
4- শ্রেণি বৈষম্য দূর করা।
5- অতঃপর সরকারের বিলুপ্তি ঘটানো।
তবে মার্কসবাদীদের নীতিতে উল্লেখ রয়েছে যে, "শ্রমিক ও কৃষকদের সরকার গঠন একটি সাময়িক বিষয় এবং এটি প্রকৃত কমিউনিজমের স্তরে পৌঁছানোর একটি অন্তর্বর্তীকালীন পর্যায়, যেখানে কোনো সরকার অবশিষ্ট থাকবে না; বরং জনগণ কোনো সরকার বা কর্তৃত্ব ছাড়াই স্বাধীনভাবে চলবে।" কিন্তু কমিউনিজমের বাস্তবতায় এই তত্ত্বের প্রয়োগ এমন কোনো দেশে দেখা যায়নি যা এই ব্যবস্থার কবলে পড়েছে। কারণ যে সকল দেশ কমিউনিজমের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, সেখানে পূর্ববর্তী দেশগুলোর শাসনব্যবস্থার মতোই সরকার গঠিত হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, রাশিয়ায় শ্রমিক ও কৃষকদের ভূমিকা ছিল জার শাসনের বিরুদ্ধে বিপ্লবের অগ্নিশিখা প্রজ্বলিত করা এবং তা সমূলে উৎপাটন করা। যখন কমিউনিস্ট পার্টির নেতাদের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী রোমানভ রাজবংশের পতন সম্পন্ন হলো, তখন কমিউনিস্ট পার্টির নেতারা শাসনের লাগাম কুক্ষিগত করলেন এবং শ্রমিকদের সরিয়ে দিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইসলাম ওয়াল হারাকাতুল হাদ্দামাতুল মুআসিরাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
والفلاحين من الطريق، وردوهم مدحورين إلى المصانع والمزارع، ليقاسوا تحت نيران الحزب الشيوعي أشد ألوان المهانة والإرهاق.
وقد قام العمال والفلاحون بعدة ثورات كانت تقابل بأنكى صنوف القمع والإرهاب، ولم تمنع وسائل التعذيب الإجرامية هؤلاء من أن يقوم الكثير منهم بإحراق المحاصيل، وتبديد الماشية والأموال حتى لا تقع في يد هؤلاء الحكام المستبدين. وقد حاول ستالين أن يقضي على ثورات الطبقة الكادحة بألوان شتى من أنواع القتل والحبس والنفي في مجاهل سيبيريا، والتهديد والوعيد فلم يفلح؛ وفي منشور له في هذا الصدد يقول: "لكي يضمن الكولخوزيون "المزارعون" لأنفسهم الحياة والعيشة، يتطلب ذلك منهم أن يعملوا في الكولخوزات "المزارع التعاونية" ويحافظوا عليها، ولا ينسوا مسؤوليتهم تجاهها!! " ولما قال العمال لستالين: "لقد وعدتمونا بأن تكون الحكومة من العمال والفلاحين فلم لا تنفذون وعودكم؟ " قال ستالين: "لقد انتقلت السلطة، وتركزت في يد حزب واحد هو حزبنا، ولن يشاركنا في توجيه الدولة أي فئة أخرى؛ وهذا ما نعنيه بالدكتاتورية العمالية. وهكذا نرى المخطط الأول من المخططات التي رسمت للمجتمع الشيوعي لم تكن إلا حبرا على ورق - كما يقولون - بل صار العمال والفلاحون في المجتمع الشيوعي أحط أنواع العمال والفلاحين في العالم.
أما تأميم وسائل الإنتاج ومصادر الثروة ثم القضاء على رأس المال ثم القضاء على الطبقات، فقد كانت سلب الغني من الأغنياء وإدامة الفقر والمسكنة للمساكين والفقراء، والذين يزورون برلين الشرقية وبرلين الغربية يذكرون أنهم إذا تجاوزوا سور برلين إلى الشرق، صاروا كالمنتقلين من النهار إلى الليل؛ فالمحال مقفرة، والشوارع تكاد تكون خالية، ومظاهر سوء الحالة الاقتصادية لا يكاد يخفى على ذي عينين. ومع أن الشيوعيين
এবং পথচারী ও কৃষকদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দেয়া হলো এবং তাদের বিতাড়িত অবস্থায় কলকারখানা ও খামারগুলোতে ফেরত পাঠানো হলো, যাতে তারা কমিউনিস্ট পার্টির আগুনের নিচে চরম লাঞ্ছনা ও ক্লিষ্টতার স্বাদ গ্রহণ করে।
শ্রমিক ও কৃষকরা বেশ কয়েকটি বিপ্লব সংঘটিত করেছিল যা চরম দমন-পীড়ন ও সন্ত্রাসের মাধ্যমে মোকাবিলা করা হয়। অপরাধমূলক নির্যাতনের এই পদ্ধতিগুলো তাদের অনেককে ফসল পুড়িয়ে ফেলা এবং গবাদি পশু ও সম্পদ বিনষ্ট করা থেকে বিরত রাখতে পারেনি, যাতে সেগুলো এই স্বৈরাচারী শাসকদের হাতে না পড়ে। স্ট্যালিন মেহনতি শ্রেণীর এই বিপ্লবগুলোকে হত্যা, কারারুদ্ধ করা এবং সাইবেরিয়ার অজানা অঞ্চলে নির্বাসনের বিভিন্ন পন্থায় এবং হুমকি-ধামকির মাধ্যমে নির্মূল করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তিনি সফল হননি। এই প্রসঙ্গে তার একটি ইশতেহারে তিনি বলেন: "কোলখোজবাসী (কৃষক) নিজেদের জীবন ও জীবিকা নিশ্চিত করার জন্য কোলখোজগুলোতে (সমবায় খামার) কাজ করা এবং সেগুলো রক্ষা করা প্রয়োজন, এবং তাদের প্রতি তাদের দায়িত্ব ভুলে যাওয়া উচিত নয়!!" যখন শ্রমিকরা স্ট্যালিনকে বলেছিল: "আপনি আমাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে সরকার হবে শ্রমিক ও কৃষকদের, তাহলে কেন আপনি আপনার প্রতিশ্রুতি পূরণ করছেন না?" স্ট্যালিন বললেন: "ক্ষমতা হস্তান্তরিত হয়েছে এবং একটি মাত্র দলের হাতে কেন্দ্রীভূত হয়েছে, যা আমাদের দল। অন্য কোনো গোষ্ঠী রাষ্ট্র পরিচালনায় আমাদের সাথে অংশ নেবে না; শ্রমিক একনায়কতন্ত্র বলতে আমরা এটাই বুঝি।" এভাবে আমরা দেখি যে কমিউনিস্ট সমাজের জন্য প্রণীত প্রথম পরিকল্পনাটি ছিল নিছক কাগজে-কলমে—যেমনটি বলা হয়ে থাকে—বরং কমিউনিস্ট সমাজে শ্রমিক ও কৃষকরা বিশ্বের সবচেয়ে নিকৃষ্ট স্তরের শ্রমিক ও কৃষকে পরিণত হয়েছে।
আর উৎপাদনের মাধ্যম ও সম্পদের উৎসসমূহের জাতীয়করণ, এরপর পুঁজি নির্মূল এবং তারপর শ্রেণী বিলোপের বিষয়টি আসলে ছিল ধনীদের কাছ থেকে সম্পদ ছিনিয়ে নেওয়া এবং দরিদ্র ও নিঃস্বদের জন্য দারিদ্র্য ও দুর্দশাকে দীর্ঘস্থায়ী করা। যারা পূর্ব বার্লিন এবং পশ্চিম বার্লিন ভ্রমণ করেন তারা উল্লেখ করেন যে, তারা যখন বার্লিন প্রাচীর পার হয়ে পূর্ব দিকে যান, তখন তারা যেন দিন থেকে রাতে প্রবেশ করেন; দোকানপাট জনশূন্য, রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা, এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অবনতির চিহ্ন কোনো চক্ষুষ্মান ব্যক্তির কাছে গোপন থাকে না। যদিও কমিউনিস্টরা...
(খণ্ড: ১)
আল-ইসলাম ওয়াল হারাকাতুল হাদ্দামাতুল মুআসিরাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
قد بذلوا كل جهدهم للقضاء على النظام الطبقي، فإن المجتمع الشيوعي يتمثل فيه ما يتمثل في غيره من نظام الطبقات؛ فلا يزال روسيا - مثلا - طبقة العمال والفلاحين، وطبقة القادة العسكريين، وطبقة البوليس السري والمخابرات، وطبقة العمال والأكاديميين، وطبقة المهندسين، وطبقة الفنانين والرقاصين، وطبقة زعماء الحزب الشيوعي؛ وقد وجدت هذه الطبقات في المجتمع الشيوعي بحسب تفاوت الدخل الذي قدرته الحكومة لهؤلاء حسب ميزان الاحتياج الذي صنعوه، فقد جعل المعدل الوسط لحاجة العمال والفلاحين ما بين 600 إلى 700روبل، كما جعل المعدل الوسط للفنانين والرقاصين يتراوح ما بين 1400 إلى 2000روبل، وجعل المعدل الوسط للقادة العسكريين والمهندسين ما بين 4000 إلى 7000روبل؛ وبعد الحرب العالمية الثانية بدأت الحكومة الشيوعية ببناء منازل ومنح سيارة وسائق لبعض الطبقات.
أما إلغاء الحكومة فيقول ماركس: "وبعد أن تزول المنازعات بين الطبقات زوالا نهائيا خلال التطور، وبعد أن يتركز الإنتاج كله في أيدي الأفراد المتشاركين، عندئذ تفقد السلطة العامة طابعها السياسي" ثم يقول: " والدولة هي سلطة الطبقة المنظمة، تزول بزوال الطبقة، وعندئذ يكون عهد الشيوعية بكل ما تعني الكلمة
… " ويقول: "الشيوعية هي عهد تسوده الحرية، وعصر يزدهر فيه الإنسان أكمل ازدهار، فهو يحتم مع زوال الطبقات زوال الحكومة". ونحن لا نستطيع أن نجزم هل كان ماركس متمتعا بقواه العقلية حينما يخرج على الناس بمثل هذه النظرية التي لا يعرفها التاريخ البشري في المجتمعات المتمدنة أو الهمجية على حد سواء، وحتى ولو فرض وجودها في مجتمع بدائي همجي فهل يجيز العقل وجود مثلها في مجتمع ذي حاجات متفاوتة، بل وإلحاح في طلب الكماليات. وهل ظن ماركس والذين خططوا له أن فطر الناس المتباينة، وطبائعهم المتنازعة سيئول بها الحال إلى الزوال؟ فيعيش الناس في الأرض يأكلون من نباتاتها المختلفة، ولحوم حيواناتها المتغايرة الطبائع ثم يصيرون في نفس الوقت كملائكة السماء. ولا نذهب بعيدا لنراجع نحن أو غيرنا في ذلك حوادث التاريخ، وإنما
তারা শ্রেণী বিন্যাস বিলোপ করার জন্য তাদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা ব্যয় করেছে, তথাপি কমিউনিস্ট সমাজে অন্যান্য সমাজের ন্যায় শ্রেণী বৈষম্য পরিলক্ষিত হয়। উদাহরণস্বরূপ রাশিয়ায় এখনও শ্রমিক ও কৃষক শ্রেণী, সামরিক নেতা শ্রেণী, গুপ্ত পুলিশ ও গোয়েন্দা বাহিনী শ্রেণী, শ্রমিক ও শিক্ষাবিদ শ্রেণী, প্রকৌশলী শ্রেণী, শিল্পী ও নৃত্যশিল্পী শ্রেণী এবং কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃবৃন্দের শ্রেণী বিদ্যমান রয়েছে। কমিউনিস্ট সমাজে এই শ্রেণীগুলোর উদ্ভব হয়েছে সরকারের নির্ধারিত আয়ের পার্থক্যের ভিত্তিতে, যা তারা তাদের তৈরিকৃত প্রয়োজনের মানদণ্ড অনুযায়ী নির্ধারণ করেছে। শ্রমিক ও কৃষকদের প্রয়োজনের গড় হার ৬০০ থেকে ৭০০ রুবল নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে শিল্পী ও নৃত্যশিল্পীদের গড় হার ১৪০০ থেকে ২০০০ রুবল এবং সামরিক নেতা ও প্রকৌশলীদের গড় হার ৪০০০ থেকে ৭০০০ রুবলের মধ্যে রাখা হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর কমিউনিস্ট সরকার নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণীর জন্য আবাসন নির্মাণ এবং গাড়ি ও চালক প্রদান করা শুরু করে।
সরকার বিলুপ্ত করার বিষয়ে মার্কস বলেন: "বিবর্তনের মাধ্যমে শ্রেণীসমূহের মধ্যবর্তী বিরোধ চূড়ান্তভাবে দূর হওয়ার পর এবং উৎপাদন ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে অংশীদারী ব্যক্তিদের হাতে কেন্দ্রীভূত হওয়ার পর, জনকর্তৃত্ব তার রাজনৈতিক বৈশিষ্ট্য হারাবে।" অতঃপর তিনি বলেন: "রাষ্ট্র হলো একটি সুসংগঠিত শ্রেণীর ক্ষমতা, যা সেই শ্রেণীর বিলুপ্তির সাথে সাথে বিলুপ্ত হয়ে যায়। তখন শব্দটির প্রকৃত অর্থেই কমিউনিজমের যুগ সূচিত হবে
… " তিনি আরও বলেন: "কমিউনিজম হলো এমন এক যুগ যেখানে স্বাধীনতা বিরাজ করবে এবং এটি এমন এক সময় যখন মানুষের পূর্ণাঙ্গ বিকাশ ঘটবে। তাই শ্রেণী বিলোপের সাথে সাথে সরকারের বিলুপ্তিও অনিবার্য।" আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি না যে, মার্কস যখন মানুষের সামনে এমন একটি তত্ত্ব পেশ করেছিলেন তখন তিনি সুস্থ মস্তিষ্কে ছিলেন কি না; কারণ মানব ইতিহাস সভ্য বা অসভ্য কোনো সমাজেই এমন তত্ত্বের নজির জানে না। এমনকি যদি কোনো আদিম অসভ্য সমাজে এর অস্তিত্ব ধরেও নেওয়া হয়, তবে বিবেক কি এমন একটি সমাজে এর অস্তিত্ব মেনে নিতে পারে যেখানে চাহিদাগুলো বৈচিত্র্যময় এবং বিলাসদ্রব্য প্রাপ্তির তীব্র আকাঙ্ক্ষা বিদ্যমান? মার্কস এবং যারা তার জন্য পরিকল্পনা করেছিলেন, তারা কি মনে করেছিলেন যে মানুষের ভিন্নতর স্বভাব এবং তাদের পরস্পরবিরোধী প্রকৃতি বিলুপ্ত হয়ে যাবে? ফলে মানুষ পৃথিবীতে বসবাস করবে, বিভিন্ন উদ্ভিদ এবং বিচিত্র স্বভাবের পশুর মাংস ভক্ষণ করবে, অথচ একই সাথে তারা আসমানের ফেরেশতাদের মতো হয়ে যাবে? এ বিষয়ে আমরা বা অন্য কেউ ইতিহাসের ঘটনাবলি পর্যালোচনার জন্য বেশি দূরে যাব না, বরং
(খণ্ড: ১)
আল-ইসলাম ওয়াল হারাকাতুল হাদ্দামাতুল মুআসিরাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
نلقي نظرة عابرة على واقع الحكومة في المجتمع الشيوعي لنرى أن الحكومة في المجتمع الشيوعي تسير في طريق الدكتاتورية إلى حد لا نظير له في المجتمعات الأخرى، وفي ذلك يقول ستالين: "إن تقرير المصير لأي فرد أو أمة أو جماعة يجب ألا يتضارب مع حق الحزب الذي يمثل الجماهير الكادحة في أن يحكم حكما دكتاتوريا" هذا وكثير من الناس لا يفرقون بين الشيوعية والاشتراكية؛ فروسيا وبلاد أوربا الشرقية الشيوعية يطلق عليها اسم البلاد الاشتراكية، إلا أن بعض الناس يفرق بين الشيوعية والاشتراكية في الجملة من وجوه:
1- أن الاشتراكية هي الخطوة الأولى للشيوعية.
2- أن الاشتراكية لا تمانع في قيام حكومة "البروليتاريا" العمال والفلاحين، بخلاف الشيوعية الحقيقة فإنها لا تجيز أي نوع من الحكومات.
3- أن الشيوعية لا تبيح أي نوع من الملكيات، بخلاف الاشتراكية فإنها تجيز بعض الملكيات الفردية في حدود ضيقة وعلى قواعد تؤدي في النهاية إلى تلاشي هذه الملكية.
هذا ولم يزعم زاعم - مهما كان - أن الإسلام والشيوعية قد يلتقيان، فلم نسمع إلى الآن صوتا واحدا يقول: إن الإسلام لا يتنافى مع الشيوعية؛ إذ أصل الشيوعية إنكار ألوهية خالق السماوات والأرض وإنكار الدين، وإنما سمعنا أن بعض الناس - وقد يكونون من المنتسبين للإسلام أو للعلم - يزعمون أن الإسلام لا يتنافى مع الاشتراكية، وقد يتعامون عن أن الاشتراكية مذهب خاص، ذاتية هذا المذهب تخالف ذاتية الإسلام في روحه وصورته، وأن ثلاثة عشر قرنا مرت على الإسلام والمسلمين ولم يعثر على كلمة الاشتراكية في كتب الإسلام التي تجاوزت آلاف الملايين، سواء كانت كتب الفقه أو التفسير أو الحديث أو سائر كتب العلم الإسلامية، ولا وجود لها قبل وجود دعاتها الماسونيين. كما يتجاهلون أن الإسلام - وهو دين الله الحقلا - قد أتى بجميع ما يسعد الناس في معاشهم ومعادهم، وأن رسول الله صلى الله عليه وسلم لم يترك بابا من أبواب
আমরা সাম্যবাদী সমাজের শাসনব্যবস্থার বাস্তবতার ওপর এক নজর বুলিয়ে দেখি যে, সাম্যবাদী সমাজে সরকার এমন এক স্বৈরতন্ত্রের পথে পরিচালিত হয় যার নজির অন্য কোনো সমাজে পাওয়া যায় না। এ প্রসঙ্গে স্টালিন বলেন: "যেকোনো ব্যক্তি, জাতি বা গোষ্ঠীর আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার যেন মেহনতী জনতার প্রতিনিধিত্বকারী দলের একনায়কতান্ত্রিকভাবে শাসন করার অধিকারের সাথে সাংঘর্ষিক না হয়।" অথচ অনেক মানুষ সাম্যবাদ ও সমাজতন্ত্রের মধ্যে পার্থক্য করেন না; ফলে রাশিয়া ও পূর্ব ইউরোপের সাম্যবাদী দেশগুলোকে সমাজতান্ত্রিক দেশ হিসেবে অভিহিত করা হয়। তবে কিছু মানুষ সাম্যবাদ ও সমাজতন্ত্রের মধ্যে সাধারণত কয়েকটি দিক থেকে পার্থক্য করে থাকেন:
1- সমাজতন্ত্র হলো সাম্যবাদের প্রথম ধাপ।
2- সমাজতন্ত্র শ্রমিক ও কৃষকদের সমন্বয়ে গঠিত "প্রলেতারিয়েত" (সর্বহারা) সরকার গঠনে বাধা দেয় না, পক্ষান্তরে প্রকৃত সাম্যবাদ কোনো প্রকার সরকার ব্যবস্থাকেই বৈধতা দেয় না।
3- সাম্যবাদ কোনো প্রকার মালিকানাকেই বৈধতা দেয় না, অন্যদিকে সমাজতন্ত্র অত্যন্ত সংকীর্ণ পরিসরে এবং এমন কিছু মূলনীতির ভিত্তিতে ব্যক্তিগত মালিকানাকে অনুমোদন দেয় যা পরিশেষে এই মালিকানার বিলুপ্তি ঘটায়।
এ পর্যন্ত কোনো দাবিদারই—সে যেই হোক না কেন—দাবি করেনি যে ইসলাম ও সাম্যবাদ কখনো একত্রিত হতে পারে। আমরা এখন পর্যন্ত এমন একটি কণ্ঠস্বরও শুনিনি যা বলে যে: ইসলাম সাম্যবাদের সাথে সাংঘর্ষিক নয়। কেননা সাম্যবাদের মূল ভিত্তিই হলো আসমান ও জমিনের স্রষ্টার উলুহিয়্যাত বা প্রভুত্ব অস্বীকার করা এবং দ্বীনকে অস্বীকার করা। বরং আমরা শুনেছি যে কিছু লোক—যারা হয়তো ইসলাম বা ইলমের সাথে সম্পৃক্ত—দাবি করে থাকে যে ইসলাম সমাজতন্ত্রের সাথে সাংঘর্ষিক নয়। তারা হয়তো এই সত্যটি দেখেও না দেখার ভান করে যে, সমাজতন্ত্র একটি বিশেষ মতবাদ, যার সত্তাগত বৈশিষ্ট্য ইসলামি রূহ ও অবয়বের পরিপন্থী। ইসলাম ও মুসলিমদের ওপর তেরোশ বছর অতিবাহিত হয়ে গেছে অথচ কোটি কোটি ইসলামি কিতাব, চাই তা ফিকহ, তাফসির, হাদিস বা অন্যান্য ইসলামি ইলমের কিতাব হোক না কেন, তাতে কোথাও 'সমাজতন্ত্র' শব্দটি খুঁজে পাওয়া যায়নি। ফ্রিম্যাসন আহ্বানকারীদের আবির্ভাবের পূর্বে এর কোনো অস্তিত্ব ছিল না। তেমনি তারা এ বিষয়টিও উপেক্ষা করে যে ইসলাম—যা আল্লাহর সত্য দ্বীন—মানুষের ইহকালীন ও পরকালীন কল্যাণের জন্য যা কিছু প্রয়োজন তার সবকিছুই নিয়ে এসেছে। আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কল্যাণের এমন কোনো দরজাই বাকি রাখেননি...
(খণ্ড: ১)
আল-ইসলাম ওয়াল হারাকাতুল হাদ্দামাতুল মুআসিরাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
الخير إلا دل الناس عليه، ولا بابا من أبواب الشر إلا حذر الناس منه، بيد أن جماعة من هؤلاء يقولون: إن بعض نصوص القرآن كقوله تعالى: {كَيْ لا يَكُونَ دُولَةً بَيْنَ الْأَغْنِيَاءِ} (الحشر: من الآية7) وكقول رسول الله صلى الله عليه وسلم: "الناس شركاء في ثلاثة: في الماء والنار والكلأ" تدل على صحة المذهب الاشتراكي، وهذا إن دل على شيء فإنما يدل على جهل هؤلاء بحقيقة الإسلام عموما، وبمعنى هذه الآية وذلك الحديث خصوصا؛ فإن الآية نزلت تشرح مصرف الفيء، وهو نوع خاص له طابع خاص من بين الأموال الإسلامية، وأما الحديث فقد بين موضع الشركة وهو الماء والنار والكلأ، ولفظ الحديث يدل بمفهومه على أن ما عدا هذه الأشياء الثلاثة من الأموال والأشياء التي يمكن أن يتملكها الإنسان لا اشتراك فيها، على أن صريح القرآن وصحيح وصريح السنة يدل بما لا مجال للشك فيه على حفظ ممتلكات الناس وأموالهم إلا برضا منهم، وفي ذلك يقول الله عز وجل: {وَلا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُمْ بَيْنَكُمْ بِالْبَاطِلِ وَتُدْلُوا بِهَا إِلَى الْحُكَّامِ لِتَأْكُلُوا فَرِيقاً مِنْ أَمْوَالِ النَّاسِ بِالْأِثْمِ وَأَنْتُمْ تَعْلَمُونَ} (البقرة:188) وكما قال رسول الله صلى الله عليه وسلم في حجة الوداع: " … ألا أن دماءكم وأموالكم وأعراضكم حرام عليكم كحرمة يومكم هذا، في بلدكم هذا، في شهركم هذا، ألا هل بلغت اللهم فاشهد" وكما قال صلى الله عليه وسلم: "من غصب شبرا من أرض طوقه الله بسبع أرضين يوم القيامة" وتاريخ أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم كالزبير بن العوام الذي مات عن أرض الغابة وإحدى عشرة دارا بالمدينة، ودارين بالبصرة، ودار بالكوفة، ودار بمصر، وقد كان عليه دين يبلغ ألفي ألف ومائتي ألف "أي مليونين وربع تقريبا" وأن عبد الله بن الزبير رضي الله عنهما حصر مال أبيه فوجده خمسين ألف ألف "أي خمسين مليونا" ومائتي ألف، والزبير من المبشرين بالجنة. وكذلك عبد الرحمن بن عوف رضي الله عنه، وهو أحد العشرة كذلك رضي الله عنهم قد كان نصيب نسائه من تركته فوق ستين ألفا. ومعنى ذلك أن تركته
কল্যাণের এমন কোনো দিক নেই যার প্রতি তিনি মানুষকে দিকনির্দেশনা দেননি এবং অকল্যাণের এমন কোনো পথ নেই যা থেকে তিনি মানুষকে সতর্ক করেননি। তবে এদের মধ্যে একদল লোক দাবি করে যে, কুরআনের কিছু নস (نصوص) যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {যাতে সম্পদ শুধু তোমাদের ধনীদের মধ্যেই আবর্তিত না হয়} (আল-হাশর: ৭) এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "মানুষ তিনটি বিষয়ে অংশীদার: পানি, আগুন ও ঘাস" সমাজতান্ত্রিক মতাদর্শের শুদ্ধতা (صحة) নির্দেশ করে। এটি যদি কিছু প্রমাণ করে তবে তা সাধারণভাবে ইসলামের হাকিকত সম্পর্কে এবং বিশেষভাবে এই আয়াত ও হাদিসটির মর্মার্থ সম্পর্কে এদের অজ্ঞতাই প্রমাণ করে। কারণ এই আয়াতটি ‘ফাই’ (যুদ্ধলব্ধ সম্পদ) ব্যয়ের খাতের ব্যাখ্যায় নাযিল হয়েছে, যা ইসলামি অর্থব্যবস্থার এক বিশেষ ধরনের সম্পদ। আর হাদিসটিতে অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রটি স্পষ্ট করা হয়েছে, যা হলো— পানি, আগুন ও ঘাস। হাদিসের শব্দগুলো তার মর্মার্থের (مفهوم) মাধ্যমে একথাই নির্দেশ করে যে, এই তিনটি বিষয় ছাড়া অন্য সকল সম্পদ বা বিষয় যা মানুষ মালিকানাধীন করতে পারে তাতে কোনো অংশীদারিত্ব নেই। তাছাড়া কুরআনের সুস্পষ্ট (صريح) বাণী এবং সুন্নাহর সঠিক (صحيح) ও সুস্পষ্ট (صريح) বর্ণনা কোনো প্রকার সন্দেহাতীতভাবে মানুষের সম্পদ ও মালিকানা রক্ষার নির্দেশ দেয়, যদি না তারা সন্তুষ্টচিত্তে তা প্রদান করে। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ বলেন: {তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না এবং মানুষের ধনের কিয়দংশ জেনেশুনে অন্যায়ভাবে গ্রাস করার উদ্দেশ্যে তা বিচারকদের কাছে পেশ করো না} (আল-বাকারাহ: ১৮৮)। বিদায় হজের ভাষণে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেমনটি বলেছিলেন: " … জেনে রেখো, তোমাদের রক্ত, তোমাদের সম্পদ এবং তোমাদের ইজ্জত তোমাদের জন্য পবিত্র (حرام), যেমন পবিত্র তোমাদের আজকের এই দিন, তোমাদের এই শহর এবং তোমাদের এই মাস। সাবধান, আমি কি পৌঁছে দিয়েছি? হে আল্লাহ! আপনি সাক্ষী থাকুন।" যেমন তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন: "যে ব্যক্তি কারো এক বিঘত জমি জবরদস্তি দখল করবে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা সাত তবক জমিন তার গলায় ঝুলিয়ে দেবেন।" রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের ইতিহাসও এর সাক্ষী, যেমন যুবাইর ইবনুল আওয়াম (রা.), যিনি গাবাহর এক টুকরো জমি, মদিনায় এগারোটি বাড়ি, বসরায় দুটি বাড়ি, কুফায় একটি এবং মিশরে একটি বাড়ি রেখে মৃত্যুবরণ করেছিলেন। তাঁর ঋণের পরিমাণ ছিল বাইশ লক্ষ (অর্থাৎ প্রায় সোয়া দুই মিলিয়ন)। আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর (রা.) তাঁর পিতার সম্পদের হিসাব করে দেখেছিলেন তা ছিল পাঁচ কোটি (অর্থাৎ পঞ্চাশ মিলিয়ন) দুই লক্ষ। অথচ যুবাইর (রা.) ছিলেন জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্তদের একজন। তদ্রূপ আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা.), তিনিও দশজন সুসংবাদপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রীদের অংশই ছিল ষাট হাজার দিরহামের উপরে। এর অর্থ হলো তাঁর রেখে যাওয়া সম্পদ...
(খণ্ড: ১)
আল-ইসলাম ওয়াল হারাকাতুল হাদ্দামাতুল মুআসিরাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
تجاوزت أربعمائة وثمانين ألفا؛ ولا طعن على أحد في ذلك ما دام يأخذه من حل ويضعه في حل، ويؤدي حق الله فيه. وقد أكمل الله الدين، وأتم الشريعة، فلا حاجة معها لمذاهب مستوردة أتعست أهلها، وجلبت الشقاء للمبتلين بها، والحق يقول: {الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الإِسْلامَ دِيناً} (المائدة: من الآية3)
والسلام عليكم ورحمة الله وبركاته.
তা চার লক্ষ আশি হাজার ছাড়িয়ে গেছে; এ বিষয়ে কারো প্রতি কোনো সমালোচনা (طعن) নেই যতক্ষণ পর্যন্ত তিনি তা বৈধ (حل) উৎস থেকে গ্রহণ করেন ও বৈধ (حل) খাতে ব্যয় করেন এবং তাতে আল্লাহর প্রাপ্য হক আদায় করেন। আল্লাহ দ্বীনকে পূর্ণতা দান করেছেন এবং শরীয়তকে (شريعة) সম্পূর্ণ করেছেন, তাই এর পাশাপাশি এমন কোনো আমদানিকৃত মতবাদের (مذاهب) প্রয়োজন নেই যা এর অনুসারীদের দুর্দশাগ্রস্ত করেছে এবং যারা তাতে লিপ্ত হয়েছে তাদের জন্য দুর্ভাগ্য বয়ে এনেছে; আর পরম সত্য (আল্লাহ) বলেন: {আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম, তোমাদের প্রতি আমার নেয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম} (আল-মায়িদা: আয়াত ৩-এর অংশ বিশেষ)
আপনাদের ওপর শান্তি, আল্লাহর রহমত ও তাঁর বরকত বর্ষিত হোক।