(খণ্ড: ১) আল-আসফারুল মুকাদ্দাসাহ ইনদাল ইয়াহুদ ওয়া আসারুহা ফী ইনহিরাফিহিম আরদুন ওয়া নাকদুন (পৃষ্ঠা: -)
الأسفار المقدسة عند اليهود وأثرها في انحرافهم عرض ونقد   (محمود قدح)

القسم: كتب عامة


الكتاب: الأسفار المقدسة عند اليهود وأثرها في انحرافهم عرض ونقد

المؤلف: محمود بن عبد الرحمن قدح

الناشر: الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة

الطبعة: السنة الثالثة والثلاثون - العدد (111) 1421هـ 2001م.

عدد الصفحات: 385

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইহুদিদের নিকট পবিত্র গ্রন্থসমূহ এবং তাদের বিচ্যুতিতে এর প্রভাব: উপস্থাপনা ও পর্যালোচনা   (মাহমুদ কাদাহ)

বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ


বই: ইহুদিদের নিকট পবিত্র গ্রন্থসমূহ এবং তাদের বিচ্যুতিতে এর প্রভাব: উপস্থাপনা ও পর্যালোচনা

লেখক: মাহমুদ বিন আব্দুর রহমান কাদাহ

প্রকাশক: মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়

সংস্করণ: তেত্রিশতম বর্ষ - সংখ্যা (১১১) ১৪২১ হিজরি ২০০১ খ্রিস্টাব্দ.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৮৫

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামেলা-তে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-আসফারুল মুকাদ্দাসাহ ইনদাল ইয়াহুদ ওয়া আসারুহা ফী ইনহিরাফিহিম আরদুন ওয়া নাকদুন (পৃষ্ঠা: ৩১৩)
الأسفار المقدسة عند اليهود وأثرها في انحرافهم عرض ونقد

تأليف

د. محمود عبد الرحمن قدح عضو هيئة التدريس بالجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة

‌‌مقدمة:

الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على خاتم الأنبياء والمرسلين وعلى آله وصحبه أجمعين.

أما بعد:

فهذه دراسة موجزة عن موضوع (الأسفار المقدسة عند اليهود - عرض ونقد - وأثرها في انحرافهم) سرت فيها على خطى علمائنا المتقدمين- الذين قاموا بهدي من القرآن الكريم والسنة النبوية المطهرة ببيان مواطن التحريف والتبديل في كتب أهل الكتاب - إقامة للحجة وإلزاماً للبينة ومجادلة بالتي هي أحسن - ليحيى من حيّ عن بينة ويهلك من هلك عن بينة - وتحذيراً لإخواننا المسلمين من كيد أعدائنا. قال تعالى: {لَتَجِدَنّ أَشَدّ النّاسِ عَدَاوَةً لّلّذِينَ آمَنُواْ الْيَهُودَ وَالّذِينَ أَشْرَكُواْ..} 1، لأن اليهود أعداء الحق والفضيلة والخير منذ ظهورهم قال تعالى: {لُعِنَ الّذِينَ كَفَرُواْ مِن بَنِيَ إِسْرَائِيلَ عَلَىَ لِسَانِ دَاوُودَ وَعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ ذَلِكَ بِمَا عَصَوْا وّكَانُواْ يَعْتَدُون كَانُواْ لَا يَتَنَاهَوْنَ عَن مّنكَرٍ فَعَلُوهُ لَبِئْسَ مَا كَانُواْ يَفْعَلُونَ} 2.

واليهود أعداؤنا ماضياً وحاضراً ومستقبلاً، فحينما بعث نبينا محمد صلى الله عليه وسلم سارع اليهود إلى تكذيبه وإنكار رسالته مع أنهم يعرفونه كما يعرفون أبناءهم،

--------------------------------------------

1 سورة المائدة، آية 82.

2 سورة المائدة، آية 78-79.
ইহুদিদের নিকট পবিত্র গ্রন্থসমূহ এবং তাদের বিচ্যুতিতে এর প্রভাব: একটি পর্যালোচনা ও সমালোচনা

রচনায়

ড. মাহমুদ আব্দুর রহমান কদাহ, মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মণ্ডলীর সদস্য

‌‌ভূমিকা:

সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক সর্বশেষ নবী ও রাসুলগণের প্রতি এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর প্রতি।

অতঃপর:

এটি ‘ইহুদিদের নিকট পবিত্র গ্রন্থসমূহ—পর্যালোচনা ও সমালোচনা—এবং তাদের বিচ্যুতিতে এর প্রভাব’ শীর্ষক একটি সংক্ষিপ্ত গবেষণা। এতে আমি আমাদের পূর্বসূরি আলেমগণের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছি—যাঁরা পবিত্র কুরআন ও পবিত্র সুন্নাহর নির্দেশনায় আহলে কিতাবদের কিতাবসমূহের বিকৃতি ও পরিবর্তনের স্থানসমূহ স্পষ্ট করার মাধ্যমে—হুজ্জত কায়েম, প্রমাণ সুনিশ্চিতকরণ এবং উত্তম পন্থায় বিতর্কের দায়িত্ব পালন করেছেন—যাতে যে ধ্বংস হয় সে যেন সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতেই ধ্বংস হয় এবং যে জীবিত থাকে সে যেন সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতেই বেঁচে থাকে—এবং আমাদের শত্রুদের ষড়যন্ত্র থেকে আমাদের মুসলিম ভাইদের সতর্ক করার লক্ষ্যে। মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয় আপনি মুমিনদের প্রতি শত্রুতায় মানুষের মধ্যে ইহুদি ও মুশরিকদেরকেই সবচেয়ে কঠোর পাবেন...} ১। কারণ ইহুদিরা তাদের আবির্ভাবের সময় থেকেই সত্য, নৈতিকতা ও কল্যাণের শত্রু। মহান আল্লাহ বলেন: {বনী ইসরাঈলের মধ্যে যারা কুফরি করেছিল তাদের ওপর দাউদ ও মারয়াম-পুত্র ঈসার মুখে অভিশাপ দেওয়া হয়েছে। এটি এজন্য যে, তারা অবাধ্যতা করত এবং সীমালঙ্ঘন করত। তারা একে অন্যকে সেই মন্দ কাজ হতে বিরত রাখত না যা তারা করত। তারা যা করত তা কতই না নিকৃষ্ট।} ২।

ইহুদিরা অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যতে আমাদের শত্রু; তাই যখন আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রেরিত হলেন, তখন ইহুদিরা তাঁকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করতে এবং তাঁর রিসালাতকে অস্বীকার করতে তড়িঘড়ি করল, যদিও তারা তাঁকে চিনত যেমন তারা তাদের সন্তানদের চেনে।

--------------------------------------------

১ সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত ৮২।

২ সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত ৭৮-৭৯।
(খণ্ড: ১) আল-আসফারুল মুকাদ্দাসাহ ইনদাল ইয়াহুদ ওয়া আসারুহা ফী ইনহিরাফিহিম আরদুন ওয়া নাকদুন (পৃষ্ঠা: ৩১৪)
بل قالوا لقريش عبدة الأصنام بأنهم أهدى سبيلاً من محمد صلى الله عليه وسلم، وحاربوا النبي صلى الله عليه وسلم بشتى الوسائل بالشبهات والشكوك والكيد والنفاق، والاغتيال والقتال والسحر والسم.

وهم أعداؤنا حاضراً باحتلالهم أولى القبلتين ومسرى رسول الله صلى الله عليه وسلم وثالث المساجد التي تشد الرِّحال إليها وقتلهم المسلمين وتشريدهم واحتلالهم ديارنا.

وأعداؤنا مستقبلاً فقد أخبرنا النبي صلى الله عليه وسلم بأن المسيح الدجال سيتبعه عند خروجه سبعون ألفاً من يهود أصبهان، فهم جند الدجال وأعوانه، كما أخبرنا الصادق المصدوق صلى الله عليه وسلم بأنه: "لا تقوم الساعة حتى تقاتلوا اليهود، حتى يقول الحجر -وراءه يهودي-: يا مسلم هذا يهودي ورائي فاقتله" 1.

وهم أعداء السلام وأصحاب الفتن والخصام قال تعالى: {وَقَالَتِ الْيَهُودُ يَدُ اللهِ مَغْلُولَةٌ غُلّتْ أَيْدِيهِمْ وَلُعِنُواْ بِمَا قَالُواْ بَلْ يَدَاهُ مَبْسُوطَتَانِ يُنفِقُ كَيْفَ يَشَآءُ وَلَيَزِيدَنّ كَثِيراً مّنْهُم مّآ أُنزِلَ إِلَيْكَ مِن رّبّكَ طُغْيَاناً وَكُفْراً وَأَلْقَيْنَا بَيْنَهُمُ الْعَدَاوَةَ وَالْبَغْضَآءَ إِلَىَ يَوْمِ الْقِيَامَةِ كُلّمَآ أَوْقَدُواْ نَاراً لّلْحَرْبِ أَطْفَأَهَا اللهُ وَيَسْعَوْنَ فِي الأرْضِ فَسَاداً وَاللهُ لَا يُحِبّ الْمُفْسِدِين َ} 2.

وقد بينت في هذه الدراسة بعض الأسس والمرتكزات الدينية التي ينطلق منها اليهود في فسادهم وعداوتهم الفضيلة والناس جميعاً، وبذلك تتضح الرؤية في التعامل معهم والحذر والتحذير منهم.

وقسمت الدراسة إلى ثلاثة مباحث كالآتي:

--------------------------------------------

1 أخرجه البخاري (انظر: فتح الباري 6/103) ، ومسلم 4/2238،2239، عن أبي هريرة رضي الله عنه.

2 سورة المائدة، آية 64.
বরং তারা মূর্তিপূজারী কুরাইশদের বলেছিল যে, তারা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর চেয়েও অধিক সঠিক পথে রয়েছে। তারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বিরুদ্ধে নানাবিধ উপায়ে যুদ্ধ করেছে—সন্দেহ ও সংশয় তৈরি করে, চক্রান্ত ও কপটতা (نفاق)-এর মাধ্যমে, এবং গুপ্তহত্যা, সরাসরি যুদ্ধ, জাদু ও বিষ প্রয়োগের মাধ্যমে।

তারা বর্তমানে আমাদের শত্রু, কারণ তারা আমাদের প্রথম কিবলা, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ইসরা বা নৈশ ভ্রমণের স্থান এবং সেই তৃতীয় মসজিদ দখল করে রেখেছে যেটির উদ্দেশ্যে সওয়াবের নিয়তে সফর করার বিধান রয়েছে। তারা মুসলিমদের হত্যা করছে, তাদের বাস্তুচ্যুত করছে এবং আমাদের ভূখণ্ড দখল করে রেখেছে।

তারা ভবিষ্যতেও আমাদের শত্রু; কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, মসীহ দাজ্জাল যখন আত্মপ্রকাশ করবে তখন ইসফাহানের সত্তর হাজার ইহুদি তার অনুসরণ করবে। তারা দাজ্জালের সৈন্য ও সহযোগী হবে। যেমনটি সত্যবাদী ও সত্যপ্রত্যায়িত (الصادق المصدوق) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের জানিয়েছেন যে: "ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না তোমরা ইহুদিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে; এমনকি পাথর—যার পেছনে ইহুদি লুকিয়ে থাকবে—সেটিও বলবে: হে মুসলিম, এই যে আমার পেছনে ইহুদি, তাকে হত্যা করো" ১।

তারা শান্তির শত্রু এবং ফিতনা (فتنة) ও বিবাদের হোতা। মহান আল্লাহ বলেন: {আর ইহুদিরা বলে, আল্লাহর হাত রুদ্ধ হয়ে গেছে। তাদের হাতই রুদ্ধ হোক এবং তাদের এই উক্তির জন্য তারা অভিশপ্ত হোক। বরং তাঁর উভয় হাত প্রসারিত, তিনি যেভাবে ইচ্ছা দান করেন। তোমার রবের পক্ষ থেকে তোমার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে, তা তাদের অনেকের অবাধ্যতা ও কুফরি (كفر) বৃদ্ধি করবে। আর আমি তাদের মধ্যে কিয়ামত পর্যন্ত শত্রুতা ও বিদ্বেষ ঢেলে দিয়েছি। যখনই তারা যুদ্ধের আগুন প্রজ্বলিত করে, আল্লাহ তা নির্বাপিত করে দেন। তারা পৃথিবীতে বিপর্যয় (فساد) সৃষ্টি করে বেড়ায়। আর আল্লাহ বিপর্যয় (فساد) সৃষ্টিকারীদের ভালোবাসেন না} ২।

আমি এই গবেষণায় এমন কিছু ধর্মীয় ভিত্তি ও মূলনীতির বর্ণনা দিয়েছি যেগুলোর ওপর ভিত্তি করে ইহুদিরা তাদের বিপর্যয় (فساد) এবং নৈতিকতা ও সমগ্র মানবতার প্রতি তাদের শত্রুতা পরিচালনা করে। এর মাধ্যমে তাদের সাথে আচরণের ক্ষেত্রে দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট হবে এবং তাদের সম্পর্কে সতর্ক থাকা ও অন্যদের সতর্ক করার বিষয়টি প্রতীয়মান হবে।

গবেষণাটি নিম্নোক্ত তিনটি পরিচ্ছেদে (مباحث) বিভক্ত করা হয়েছে:

--------------------------------------------

১ এটি বর্ণনা (أخرجه) করেছেন বুখারি (দেখুন: ফাতহুল বারি ৬/১০৩) এবং মুসলিম ৪/২২৩৮, ২২৩৯, আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত।

২ সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত ৬৪।
(খণ্ড: ১) আল-আসফারুল মুকাদ্দাসাহ ইনদাল ইয়াহুদ ওয়া আসারুহা ফী ইনহিরাফিহিম আরদুন ওয়া নাকদুন (পৃষ্ঠা: ৩১৫)
- المبحث الأول: الإيمان بالكتب الإلهية.

- المبحث الثاني: الأسفار المقدسة عند اليهود عرض ونقد.

- المبحث الثالث: أثر الأسفار المقدسة في انحراف اليهود.

وبالله التوفيق والسداد

-وكتبه

-د. محمود بن عبد الرحمن قدح
- প্রথম পরিচ্ছেদ: আসমানি কিতাবসমূহের ওপর ঈমান আনা।

- দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইহুদিদের নিকট পবিত্র ধর্মগ্রন্থসমূহ: উপস্থাপনা ও সমালোচনা।

- তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ইহুদিদের বিচ্যুতিতে পবিত্র ধর্মগ্রন্থসমূহের প্রভাব।

আর আল্লাহর নিকটই তাওফিক ও সঠিক পথের প্রার্থনা।

- এটি লিখেছেন

- ড. মাহমুদ বিন আব্দুর রহমান কদাহ্
(খণ্ড: ১) আল-আসফারুল মুকাদ্দাসাহ ইনদাল ইয়াহুদ ওয়া আসারুহা ফী ইনহিরাফিহিম আরদুন ওয়া নাকদুন (পৃষ্ঠা: ৩১৬)
‌‌الإيمان بالكتب الإلهية

‌‌مدخل

…

المبحث الأول: الإيمان بالكتب الإلهية

إن من حكمة الله عز وجل ورحمته بعباده أن بعث أنبياء ورسلاً لهدايتهم ودعوتهم إلى الخير، وإقامة حجته على خلقه، وأنزل عليهم كتباً ليبيّنوا للناس ما أنزل إليهم من الهدى والنور، وما تتضمنه من أحكام الله عز وجل العادلة، ووصاياه النافعة، وأوامره ونواهيه الكفيلة بإصلاح البشرية وإسعادها في الدنيا والآخرة.

وتمهيداً لموضوع دراستنا (الأسفار المقدسة عند اليهود وأثرها في انحرافهم - عرض ونقد) ، فإنه يجدر بنا أن ندرس بإيجاز ثلاث مسائل مهمة لنتبين موقف الإسلام من الكتب الإلهية، وهي:

1 - الإيمان بالكتب السماوية.

2 - وقوع التحريف والتبديل في الكتب السماوية السابقة على القرآن الكريم.

3 - حكم قراءة المسلم في التوراة والأناجيل المحرّفة.
‌‌ঐশী কিতাবসমূহের ওপর বিশ্বাস (إيمان)

‌‌ভূমিকা

…

প্রথম পরিচ্ছেদ: ঐশী কিতাবসমূহের ওপর বিশ্বাস (إيمان)

নিশ্চয়ই আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার প্রজ্ঞা এবং তাঁর বান্দাদের প্রতি তাঁর করুণার অন্যতম নিদর্শন হলো যে, তিনি নবী ও রাসূলগণকে পাঠিয়েছেন তাদের হিদায়াত ও কল্যাণের পথে দাওয়াত প্রদানের জন্য এবং তাঁর সৃষ্টির ওপর তাঁর প্রমাণ (حجة) প্রতিষ্ঠার জন্য। তিনি তাঁদের ওপর কিতাবসমূহ অবতীর্ণ করেছেন যাতে তাঁরা মানুষের জন্য তাঁদের প্রতি অবতীর্ণ হিদায়াত ও নূর বর্ণনা করতে পারেন এবং তাতে বিদ্যমান আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার ন্যায়নিষ্ঠ বিধানসমূহ, উপকারী উপদেশসমূহ এবং তাঁর আদেশ ও নিষেধসমূহ সুস্পষ্ট করতে পারেন, যা মানবজাতির সংশোধন এবং দুনিয়া ও আখেরাতে তাদের সৌভাগ্য নিশ্চিত করার জন্য যথেষ্ট।

আমাদের গবেষণার বিষয়বস্তু (ইহুদিদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থসমূহ এবং তাদের বিচ্যুতিতে এর প্রভাব - পর্যালোচনা ও সমালোচনা)-এর ভূমিকা হিসেবে আমাদের জন্য তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় (مسائل) সংক্ষেপে আলোচনা করা সমীচীন হবে, যাতে ঐশী কিতাবসমূহের ব্যাপারে ইসলামের অবস্থান স্পষ্ট হয়। সেগুলো হলো:

1 - আসমানি কিতাবসমূহের ওপর বিশ্বাস (إيمان) স্থাপন।

2 - আল-কুরআনের পূর্ববর্তী আসমানি কিতাবসমূহে বিকৃতি (تحريف) ও পরিবর্তন (تبديل) সাধিত হওয়া।

3 - বিকৃত (محرفة) তাওরাত ও ইঞ্জিল পাঠ করার ব্যাপারে একজন মুসলিমের জন্য বিধান (حكم)।
(খণ্ড: ১) আল-আসফারুল মুকাদ্দাসাহ ইনদাল ইয়াহুদ ওয়া আসারুহা ফী ইনহিরাফিহিম আরদুন ওয়া নাকদুন (পৃষ্ঠা: ৩১৬)
المطلب الأول:‌‌ الإيمان بالكتب الإلهية السماوية

إن من أركان الإيمان الستة الإيمان بالكتب التي أنزلها الله عز وجل على أنبيائه ورسله، وبأنها حق وصدق وهدى ونور وبيان وشفاء ورحمة للخلق وهداية لهم ليصلوا بها إلى سعادتهم في الدنيا والآخرة.
প্রথম পরিচ্ছেদ:‌‌ আসমানি ঐশী গ্রন্থসমূহের প্রতি ঈমান

ঈমানের ছয়টি মূলস্তম্ভের (أركان) অন্যতম হলো মহান আল্লাহ তাঁর নবি ও রাসুলগণের ওপর যে কিতাবসমূহ অবতীর্ণ করেছেন সেগুলোর প্রতি ঈমান আনা এবং এই বিশ্বাস পোষণ করা যে, সেগুলো সত্য (حق), যথার্থ (صدق), পথনির্দেশ (هدى), জ্যোতি (نور), সুস্পষ্ট বর্ণনা (بيان), নিরাময় (شفاء) এবং সৃষ্টিজগতের জন্য রহমত (رحمة) ও হিদায়াত স্বরূপ; যাতে এর মাধ্যমে তারা ইহকাল ও পরকালে তাদের পরম সৌভাগ্য লাভ করতে পারে।
(খণ্ড: ১) আল-আসফারুল মুকাদ্দাসাহ ইনদাল ইয়াহুদ ওয়া আসারুহা ফী ইনহিরাফিহিম আরদুন ওয়া নাকদুন (পৃষ্ঠা: ৩১৭)
والإيمان بما علمنا اسمه منها باسمه كالقرآن الكريم الذي نُزّل على محمد صلى الله عليه وسلم والإنجيل الذي نُزّل على عيسى صلى الله عليه وسلم، والزّبور الذي نُزّل على داود صلى الله عليه وسلم، والتوراة التي أنزلت على موسى صلى الله عليه وسلم، وصحف إبراهيم صلى الله عليه وسلم.1

والإيمان بأن لله كتبا أنزلها على أنبيائه لا يعرف أسماءها وعددها إلا الله، قال عز وجل: {كَانَ النّاسُ أُمّةً وَاحِدَةً فَبَعَثَ اللهُ النّبِيّينَ مُبَشّرِينَ وَمُنذِرِينَ وَأَنزَلَ مَعَهُمُ الْكِتَابَ بِالْحَقّ ليَحْكُمَ بَينَ النّاسِ فِيما اختَلَفُوا فِيهِ وَما اخْتَلَفَ فيه إلاّ الّذِينَ أُوتُوهُ مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَتْهُم البَيِّنَاتُ بَغْياً بَيْنَهُم فَهَدَى الله الَّذِينَءَامَنُوا لمِا اختَلَفُوا فِيهِ مِن الحَقِّ بإذْنِهِ والله يَهْدِي مَن يَشَاءُ إِلى صِراطٍ مُسْتَقِيمٍ} 2.

وأما كيفية إيماننا بالكتب السماوية، فإنا نؤمن بالكتب السماوية السابقة إيماناً مجملاً، يكون بالإقرار بها بالقلب واللسان، وأن منها ما فُقد واندثر، ومنها ما حُرِّف وغُيِّر، وأنها منسوخة بالقرآن الكريم.

وأما القرآن الكريم فنؤمن به إيماناً مفصلاً، يكون بالإقرار به بالقلب واللسان، وإتباع ما جاء فيه، وتحكيمه في كل كبيرة وصغيرة، وأن الله تعالى قد

--------------------------------------------

1 ورد أن الكتب السماوية المعروفة بأسمائها قد أنزلت في شهر رمضان المبارك في حديث واثلة رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "أنزلت صحف إبراهيم أوّل ليلة من رمضان، وأنزلت التوراة لستٍ مضين من رمضان، وأنزل الإنجيل لثلاث عشرة ليلة خلت من رمضان، وأنزل الزبور لثمان عشرة خلت من رمضان، وأنزل القرآن لأربع وعشرين خلت من رمضان". أخرجه الإمام أحمد 4/107، وابن عساكر.

قال الهيثمي في المجمع 1/197: "رواه أحمد والطبراني في الكبير والأوسط، وفيه عمران بن داود القطان، ضعفه يحيى ووثقه ابن حبان، وقال أحمد: أرجو أن يكون صالح الحديث، وبقية رجاله ثقات".

قال الشيح الألباني: إسناده حسن، رجاله ثقات، وله شاهد من حديث ابن عباس مرفوعاً نحوه أخرجه ابن عساكر. (انظر: سلسلة الأحاديث الصحيحة 4/104 ح1575) .

2 سورة البقرة، آية 213.
আর ঐসব কিতাবের ওপর ঈমান আনা যাদের নাম আমরা জানি, যেমন: কুরআনুল কারীম যা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর অবতীর্ণ হয়েছে, ইনজিল যা ঈসা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর অবতীর্ণ হয়েছে, যাবুর যা দাউদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর অবতীর্ণ হয়েছে, তাওরাত যা মূসা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর অবতীর্ণ হয়েছে এবং ইব্রাহিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সহীফাসমূহ।১

এবং এই ঈমান রাখা যে আল্লাহর এমন অনেক কিতাব রয়েছে যা তিনি তাঁর নবীদের ওপর অবতীর্ণ করেছেন, যেগুলোর নাম ও সংখ্যা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানেন না। মহান আল্লাহ বলেন: {মানুষ ছিল এক উম্মত, অতঃপর আল্লাহ সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে নবীদের প্রেরণ করলেন এবং মানুষের মধ্যে যে বিষয়ে মতভেদ সৃষ্টি হয়েছিল তার মীমাংসা করার জন্য সত্যসহ তাঁদের সাথে কিতাব অবতীর্ণ করলেন। আর যাদের কিতাব দেওয়া হয়েছিল, তাদের কাছে স্পষ্ট নিদর্শনসমূহ আসার পর তারা কেবল নিজেদের মধ্যকার বিদ্বেষবশত তাতে মতভেদ করেছিল। অতঃপর আল্লাহ তাঁর নির্দেশে মুমিনদের সেই সত্যের দিকে পরিচালিত করলেন যে বিষয়ে তারা মতভেদে লিপ্ত হয়েছিল। আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সরল পথের দিকে পরিচালিত করেন} ২।

আসমানী কিতাবসমূহের ওপর আমাদের ঈমান আনার পদ্ধতি হলো—আমরা পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবসমূহের ওপর সামগ্রিকভাবে (مجمل) ঈমান আনব, যা অন্তর ও জিহ্বা দিয়ে স্বীকৃতির মাধ্যমে হবে। আর এ বিশ্বাস রাখা যে, সেগুলোর কোনোটি হারিয়ে গেছে বা বিলুপ্ত হয়েছে এবং কোনোটিতে বিকৃতি ও পরিবর্তন ঘটানো হয়েছে, আর সেগুলো কুরআনুল কারীম দ্বারা রহিত হয়েছে।

আর কুরআনুল কারীমের ওপর আমরা বিস্তারিতভাবে (مفصل) ঈমান আনব, যা অন্তর ও জিহ্বা দিয়ে স্বীকৃতির মাধ্যমে হবে এবং এতে যা এসেছে তা অনুসরণ করা এবং ছোট-বড় সকল বিষয়ে একে বিচারক হিসেবে গ্রহণ করার মাধ্যমে হবে। আর আল্লাহ তাআলা...

--------------------------------------------

১ বর্ণিত হয়েছে যে, পরিচিত আসমানী কিতাবসমূহ রমজান মাসে অবতীর্ণ হয়েছে। ওয়াসিলা রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদিসে এসেছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "ইব্রাহিমের সহীফাসমূহ রমজানের প্রথম রাতে অবতীর্ণ হয়েছে, তাওরাত রমজানের ছয় দিন অতিবাহিত হওয়ার পর, ইনজিল রমজানের তেরো রাত অতিবাহিত হওয়ার পর, যাবুর রমজানের আঠারো দিন অতিবাহিত হওয়ার পর এবং কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে রমজানের চব্বিশ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর।" এটি ইমাম আহমদ ৪/১০৭ এবং ইবনে আসাকির বর্ণনা করেছেন।

হায়সামি মাজমা-তে (১/১৯৭) বলেছেন: "এটি আহমদ এবং তাবারানি আল-কাবীর ও আল-আওসাতে বর্ণনা করেছেন। এর বর্ণনাকারীদের মধ্যে ইমরান বিন দাউদ আল-কাত্তান রয়েছেন, ইয়াহইয়া তাঁকে দুর্বল (ضعفه) বলেছেন এবং ইবনে হিব্বান তাঁকে নির্ভরযোগ্য (وثقه) বলেছেন। আর আহমদ বলেছেন: আমি আশা করি তিনি হাদিসের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য (صالح الحديث), আর এর অবশিষ্ট বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (ثقات)।"

শেখ আলবানি বলেছেন: এর সনদ (إسناد) হাসান (حسن), বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (ثقات), এবং ইবনে আব্বাস থেকে মারফূ (مرفوعاً) সূত্রে এর একটি সমর্থক বর্ণনা (شاهد) রয়েছে যা ইবনে আসাকির বর্ণনা করেছেন। (দেখুন: সিলসিলা আল-আহাদিস আস-সহিহা ৪/১০৪, হাদিস নং ১৫৭৫)।

২ সূরা আল-বাকারা, আয়াত ২১৩।
(খণ্ড: ১) আল-আসফারুল মুকাদ্দাসাহ ইনদাল ইয়াহুদ ওয়া আসারুহা ফী ইনহিরাফিহিম আরদুন ওয়া নাকদুন (পৃষ্ঠা: ৩১৮)
تكفَّل بحفظه، لا يأتيه الباطل من بين يديه ولا من خلفه، وأنه كلام الله منزّل غير مخلوق، منه بدأ وإليه يعود، وأنه ناسخ لما قبله من الكتب السماوية، قال الله تعالى: {وَأَنزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقّ مُصَدّقاً لّمَا بَيْنَ يَدَيْهِ مِنَ الكِتَابِ وَمُهَيْمِناً عَلَيْهِ … } 1، أي حاكماً عليه، وعلى هذا فلا يجوز العمل بأي حكم من أحكام الكتب السماوية إلَاّ ما أقره منها القرآن الكريم والسنة النبوية الصحيحة2.

--------------------------------------------

1 سورة المائدة، آية 48.

2 انظر: شرح العقيدة الطحاوية ص350، شرح لمعة الاعتقاد ص77-85 لابن عثيمين، الإرشاد إلى صحيح الاعتقاد ص149-151.
তিনি এর সংরক্ষণের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন, যার সামনে বা পেছন থেকে কোনো মিথ্যা বা বাতিল আসতে পারে না; এটি আল্লাহর কালাম, যা অবতীর্ণ কিন্তু সৃষ্ট নয়; তাঁর থেকেই এর সূচনা এবং তাঁর দিকেই এর প্রত্যাবর্তন। আর এটি তার পূর্ববর্তী সকল আসমানি কিতাবসমূহের রহিতকারী (ناسخ)। আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেছেন: {আর আমি আপনার প্রতি সত্যসহ কিতাব অবতীর্ণ করেছি, যা এর পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যায়নকারী এবং সেগুলোর ওপর তদারককারী (مهيمن) … } ১, অর্থাৎ সেগুলোর ওপর কর্তৃত্বশীল। এর ভিত্তিতে, পূর্ববর্তী আসমানি কিতাবসমূহের কোনো বিধানের ওপর আমল করা বৈধ নয়, কেবল কুরআনুল কারিম এবং সহিহ (صحيح) সুন্নাহ যা সাব্যস্ত করেছে তা ব্যতীত ২।

--------------------------------------------

১ সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত ৪৮।

২ দেখুন: শারহুল আকিদাহ আত-তাহাবিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ৩৫০; ইবনে উসাইমীন রচিত শারহু লুমআতিল ই'তিকাদ, পৃষ্ঠা ৭৭-৮৫; আল-ইরশাদ ইলা সহিহিল ই'তিকাদ, পৃষ্ঠা ১৪৯-১৫১।
(খণ্ড: ১) আল-আসফারুল মুকাদ্দাসাহ ইনদাল ইয়াহুদ ওয়া আসারুহা ফী ইনহিরাফিহিম আরদুন ওয়া নাকদুন (পৃষ্ঠা: ৩১৮)
‌‌وقوع التحريف في الكتب السماوية السابقة عل القرآن الكريم

…

المطلب الثاني: وقوع التحريف في الكتب السماوية السابقة على القرآن الكريم.

لقد تضافرت الأدلة والبراهين على تحريف أهل الكتاب للتوراة والإنجيل وغيرها من الكتب المتقدمة، والآيات القرآنية كثيرة في ذلك منها: قوله تعالى: { … قُلْ مَنْ أَنزَلَ الْكِتَابَ الّذِي جَآءَ بِهِ مُوسَىَ نُوراً وَهُدًى لّلنّاسِ تَجْعَلُونَهُ قَرَاطِيسَ تُبْدُونَهَا وَتُخْفُونَ كَثِيراً … } 1، وقوله تعالى: {فَبِمَا نَقْضِهِم مّيثَاقَهُمْ لَعنّاهُمْ وَجَعَلْنَا قُلُوبَهُمْ قَاسِيَةً يُحَرّفُونَ الْكَلِمَ عَن مّوَاضِعِهِ وَنَسُواْ حَظّا مّمّا ذُكِرُواْ بِهِ وَلَا تَزَالُ تَطّلِعُ عَلَىَ خَآئِنَةٍ مّنْهُمْ إِلاّ قَلِيلاً مّنْهُمُ فَاعْفُ عَنْهُمْ وَاصْفَحْ إِنّ اللهَ يُحِبّ الْمُحْسِنِينَ وَمِنَ الّذِينَ قَالُواْ إِنّا نَصَارَىَ أَخَذْنَا مِيثَاقَهُمْ فَنَسُواْ حَظّاً مّمّا ذُكِرُواْ بِهِ فَأَغْرَيْنَا بَيْنَهُمُ الْعَدَاوَةَ وَالْبَغْضَآءَ إِلَىَ يَوْمِ الْقِيَامَةِ وَسَوْفَ يُنَبّئُهُمُ اللهُ بِمَا كَانُواْ يَصْنَعُونَ يَا أَهْلَ الْكِتَابِ قَدْ جَآءَكُمْ رَسُولُنَا يُبَيّنُ لَكُمْ كَثِيراً مّمّا كُنْتُمْ تُخْفُونَ مِنَ الْكِتَابِ وَيَعْفُواْ عَن كَثِيرٍ قَدْ جَآءَكُمْ مّنَ اللهِ نُورٌ وَكِتَابٌ مّبِينٌ} 2.

--------------------------------------------

1 سورة الأنعام، آية 91.

2 سورة المائدة، آية 13-15.
পবিত্র কুরআনের পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবসমূহে বিকৃতি (تحريف) সংঘটিত হওয়া

…

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: পবিত্র কুরআনের পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবসমূহে বিকৃতি (تحريف) সংঘটিত হওয়া।

আহলে কিতাব কর্তৃক তাওরাত, ইঞ্জিল এবং অন্যান্য পূর্ববর্তী কিতাবসমূহ বিকৃতি (تحريف) সাধনের ব্যাপারে অসংখ্য দলিল ও প্রমাণ বিদ্যমান। এ বিষয়ে কুরআনের আয়াতসমূহ অনেক, যার মধ্যে রয়েছে আল্লাহ তাআলার এই বাণী: { … আপনি বলুন, কে সেই কিতাব অবতীর্ণ করেছেন যা মূসা নিয়ে এসেছিলেন মানুষের জন্য আলোকবর্তিকা ও পথনির্দেশক হিসেবে? যা তোমরা বিভিন্ন কাগজে লিপিবদ্ধ করে রাখো, যার কিছু অংশ তোমরা প্রকাশ করো এবং অনেক কিছু গোপন করো … } ১, এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: {অতঃপর তাদের অঙ্গীকার ভঙ্গের কারণে আমি তাদের ওপর লানত করেছি এবং তাদের অন্তরকে কঠোর করে দিয়েছি। তারা শব্দসমূহকে তাদের যথাযথ স্থান থেকে বিকৃত (يحرفون) করে এবং তাদের যা উপদেশ দেওয়া হয়েছিল তার একটি বড় অংশ তারা ভুলে গিয়েছে। তুমি সর্বদা তাদের অল্প সংখ্যক লোক ব্যতীত অন্যদের পক্ষ থেকে কোনো না কোনো খেয়ানতের খবর পেতে থাকবে; সুতরাং তুমি তাদের ক্ষমা করো এবং উপেক্ষা করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ মুহসিনদের ভালোবাসেন। আর যারা বলে 'আমরা নাসারা', আমি তাদের থেকেও অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলাম, অতঃপর তাদের যা উপদেশ দেওয়া হয়েছিল তার একটি বড় অংশ তারা ভুলে গিয়েছে। ফলে আমি তাদের মধ্যে কিয়ামত পর্যন্ত শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করে দিয়েছি। আর অচিরেই আল্লাহ তাদের জানিয়ে দেবেন যা তারা করত। হে আহলে কিতাব! অবশ্যই তোমাদের কাছে আমার রাসূল এসেছেন, কিতাবের যা তোমরা গোপন করতে তিনি তার অনেক কিছু তোমাদের কাছে স্পষ্ট করেন এবং অনেক কিছু মার্জনা করেন। অবশ্যই আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে নূর ও সুস্পষ্ট কিতাব এসেছে।} ২।

--------------------------------------------

১ সূরা আল-আনআম, আয়াত ৯১।

২ সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত ১৩-১৫।
(খণ্ড: ১) আল-আসফারুল মুকাদ্দাসাহ ইনদাল ইয়াহুদ ওয়া আসারুহা ফী ইনহিরাফিহিম আরদুন ওয়া নাকদুন (পৃষ্ঠা: ৩১৯)
وقد أجمع المسلمون على وقوع التحريف في التوراة والإنجيل وغيرهما من الكتب السابقة، إما عمداً وإما خطأً في ترجمتها أو في تفسيرها أو تأويلها، إلا أن علماء المسلمين قد اختلفوا في مقدار التحريف فيها:

فقال بعضهم: إن كثيراً مما في التوراة والإنجيل باطل ليس من كلام الله.

ومنهم من قال: بل ذلك قليل.

وقال بعضهم: لم يحرف أحد شيئاً من حروف الكتب وإنما حرفوا معانيها بالتأويل.

وقال بعضهم: كانت توجد نسخ صحيحة للتوراة والإنجيل بقيت إلى عهد النبي صلى الله عليه وسلم، ونسخ كثيرة محرفة.

وقال الجمهور: بأنه بُدِّل بعض ألفاظها وحُرِّف1.

والذي أراه - والله أعلم - أن تحريفاً كثيراً قد وقع في كتبهم إلا أنه لا تزال فيها بقايا من الوحي الإلهي وهي كثيرة أيضاً، ولا سبيل لمعرفتها إلا بموافقتها لما في القرآن الكريم والسنة الصحيحة.

وأما أنواع التحريف في كتبهم فهو: تحريف بالتبديل، وتحريف بالزيادة، وتحريف بالنقصان، وتحريف بتغيير المعنى دون اللفظ، والشواهد على ذلك كثيرة.

وإلى جانب التحريف فإن هناك وسائل أخرى ذكرها القرآن الكريم لا تقل خطورة في تأثيرها عن التحريف والتبديل، ومن هذه الوسائل2 ما يلي:

--------------------------------------------

1 للتوسع انظر: مجموع الفتاوى 13/102-105، الجواب الصحيح 1/356، 367، 2/5، 3/246 للإمام ابن تيمية، وهداية الحيارى 105 لابن القيم، تفسير ابن كثير 1/520، فتح الباري 17/523-526.

2 انظر: علاقة الإسلام باليهودية ص43-45، د. محمد خليفة.
তৌরাত, ইঞ্জিল এবং পূর্ববর্তী অন্যান্য কিতাবসমূহে বিকৃতি (تحريف) সংঘটিত হওয়ার বিষয়ে মুসলিমগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন; তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হোক কিংবা এর অনুবাদ, ব্যাখ্যা বা মর্মোদ্ধারে (تأويل) ভুলের কারণে হোক। তবে মুসলিম উলামায়ে কিরাম এতে বিকৃতির (تحريف) পরিমাণের ব্যাপারে মতভেদ করেছেন:

তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন: তৌরাত ও ইঞ্জিলে যা রয়েছে তার অধিকাংশ বিষয়ই বাতিল (باطل) এবং তা আল্লাহর বাণী নয়।

আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন: বরং এর পরিমাণ সামান্য।

কেউ কেউ বলেছেন: কেউ এই কিতাবগুলোর কোনো অক্ষর পরিবর্তন করেনি, বরং তারা ব্যাখ্যার (تأويل) মাধ্যমে এর অর্থ বিকৃত (تحريف) করেছে।

জনৈক আলিম বলেছেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগ পর্যন্ত তৌরাত ও ইঞ্জিলের কিছু বিশুদ্ধ (صحيحة) পাণ্ডুলিপি বিদ্যমান ছিল, পাশাপাশি অনেক বিকৃত (محرفة) পাণ্ডুলিপিও ছিল।

আর জুমহুর (الجمهور) বা অধিকাংশ উলামায়ে কিরাম বলেছেন: এর কিছু শব্দ পরিবর্তন ও বিকৃত (حرف) করা হয়েছে।১

আমার নিকট যা প্রতীয়মান হয়—আর আল্লাহই ভালো জানেন—তাদের কিতাবসমূহে অনেক বিকৃতি (تحريف) সংঘটিত হয়েছে, তবে তাতে এখনো ঐশী ওহীর অবশিষ্টাংশ বিদ্যমান রয়েছে এবং তাও পরিমাণে অনেক। আর কুরআন মাজীদ ও সহিহ (صحيحة) সুন্নাহর সাথে মিল থাকা ছাড়া তা চেনার অন্য কোনো উপায় নেই।

তাদের কিতাবসমূহে বিকৃতির (تحريف) প্রকারগুলো হলো: পরিবর্তনের মাধ্যমে বিকৃতি (تحريف بالتبديل), সংযোজনের মাধ্যমে বিকৃতি (تحريف بالزيادة), বিয়োজনের মাধ্যমে বিকৃতি (تحريف بالنقصان), এবং শব্দের পরিবর্তন ছাড়াই অর্থের পরিবর্তনের মাধ্যমে বিকৃতি। এর স্বপক্ষে অনেক প্রমাণ রয়েছে।

বিকৃতির (تحريف) পাশাপাশি এমন আরও কিছু মাধ্যম রয়েছে যা কুরআন মাজীদে বর্ণিত হয়েছে এবং প্রভাবের দিক থেকে সেগুলো বিকৃতি (تحريف) ও পরিবর্তনের (تبديل) চেয়ে কোনো অংশে কম বিপজ্জনক নয়। সেই মাধ্যমগুলোর২ মধ্যে রয়েছে:

--------------------------------------------

১ বিস্তারিত জানতে দেখুন: মাজমুউল ফাতাওয়া ১৩/১০২-১০৫, আল-জাওয়াবুস সহিহ ১/৩৫৬, ৩৬৭, ২/৫, ৩/২৪৬ (ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহর), হিদায়াতুল হায়ারা ১০৫ (ইবনুল কাইয়্যিম), তাফসিরে ইবনে কাসির ১/৫২০, ফাতহুল বারী ১৭/৫২৩-৫২৬।

২ দেখুন: ইলাকাতুল ইসলাম বিল ইয়াহুদিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ৪৩-৪৫, ড. মুহাম্মদ খলিফা।
(খণ্ড: ১) আল-আসফারুল মুকাদ্দাসাহ ইনদাল ইয়াহুদ ওয়া আসারুহা ফী ইনহিরাফিহিম আরদুন ওয়া নাকদুন (পৃষ্ঠা: ৩২০)
1- الإخفاء: قال تعالى: {تَجْعَلُونَهُ قَرَاطِيسَ تُبدُونَهَا وَتُخْفُونَ كَثِيراً … } 1، وقال تعالى: {يَا أَهْلَ الْكِتَابِ قَدْ جَآءكُمْ رَسُولُنَا يُبَيّنُ لَكُمْ كَثِيراً مّمّا كُنْتُمْ تُخْفُونَ مِنَ الْكِتَابِ وَيَعْفُواْ عَن كَثِيرٍ قَدْ جَآءكُمْ مّنَ اللهِ نُورٌ وَكِتَابٌ مّبِينٌ} 2.

2- الكتمان: قال تعالى: {الّذِينَ آتَيْنَاهُمُ الْكِتَابَ يَعْرِفُونَهُ كَمَا يَعْرِفُونَ أَبْنَاءَهُمْ وَإِنّ فَرِيقاً مّنْهُمْ لَيَكْتُمُونَ الْحَقّ وَهُمْ يَعْلَمُونَ} 3، وقال تعالى: {وَإِذَ أَخَذَ اللهُ مِيثَاقَ الّذِينَ أُوتُواْ الْكِتَابَ لَتُبَيّنُنّهُ لِلنّاسِ وَلَا تَكْتُمُونَهُ فَنَبَذُوهُ وَرَآءَ ظُهُورِهِمْ وَاشْتَرَوْاْ بِهِ ثَمَناً قَلِيلاً فَبِئْسَ مَا يَشْتَرُونَ} 4.

3- إلباس الحق بالباطل: قال تعالى: {يَأَهْلَ الْكِتَابِ لِمَ تَلْبِسُونَ الْحَقّ بِالْبَاطِلِ وَتَكْتُمُونَ الْحَقّ وَأَنْتُمْ تَعْلَمُونَ} 5، وقال تعالى: {وَلَا تَلْبِسُواْ الْحَقّ بِالْبَاطِلِ وَتَكْتُمُواْ الْحَقّ وَأَنْتُمْ تَعْلَمُونَ} 6.

4- الكذب والتكذيب: قال تعالى: {قُلْ فَأْتُواْ بِالتّوْرَاةِ فَاتْلُوهَا إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ فَمَنِ افْتَرَىَ عَلَى اللهِ الْكَذِبَ مِن بَعْدِ ذَلِكَ فَأُوْلَئِكَ هُمُ الظّالِمُونَ} 7، وقال تعالى: {وَيَقُولُونَ عَلَى اللهِ الْكَذِبَ وَهُمْ يَعْلَمُونَ..} 8.

--------------------------------------------

1 سورة الأنعام، آية 91.

2 سورة المائدة، آية 15.

3 سورة البقرة، آية 146.

4 سورة آل عمران، آية 187.

5 سورة آل عمران، آية 71.

6 سورة البقرة، آية 42.

7 سورة آل عمران، آية 93-94.

8 سورة آل عمران، آية 78.
1- গোপন করা (إخفاء): মহান আল্লাহ বলেন: {তোমরা তাকে বিচ্ছিন্ন কাগজে লিপিবদ্ধ করো, যার কিছু অংশ তোমরা প্রকাশ করো এবং অনেক অংশই গোপন করো (تخفون)...} ১, এবং মহান আল্লাহ বলেন: {হে কিতাবীগণ! তোমাদের কাছে আমার রাসুল এসেছেন, কিতাবের যা কিছু তোমরা গোপন করতে (تخفون) তার অনেক কিছুই তিনি তোমাদের কাছে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করছেন এবং অনেক কিছু এড়িয়ে যাচ্ছেন। আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে একটি নূর এবং সুস্পষ্ট কিতাব এসেছে} ২।

2- লুকিয়ে রাখা (كتمان): মহান আল্লাহ বলেন: {যাদেরকে আমি কিতাব দিয়েছি, তারা তাকে তেমনিভাবে চিনে যেমন তারা তাদের সন্তানদের চিনে। আর তাদের একটি দল অবশ্যই জেনে-বুঝে সত্যকে লুকিয়ে রাখে (ليكتمون)} ৩, এবং মহান আল্লাহ বলেন: {আর যখন আল্লাহ আহলে কিতাবদের থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করলেন যে, তোমরা অবশ্যই তা মানুষের কাছে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করবে এবং তা লুকিয়ে রাখবে না (ولا تكتمونه), তখন তারা তা তাদের পিঠের পিছনে নিক্ষেপ করল এবং সামান্য মূল্যে তা বিক্রয় করে দিল। সুতরাং তারা যা ক্রয় করল তা কতই না নিকৃষ্ট!} ৪।

3- সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশ্রিত করা (إلباس الحق بالباطل): মহান আল্লাহ বলেন: {হে কিতাবীগণ! কেন তোমরা সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশ্রিত করছ (تلبسون) এবং সত্য গোপন করছ (تكتمون), অথচ তোমরা তা জানো?} ৫, এবং মহান আল্লাহ বলেন: {তোমরা সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশ্রিত করো না (ولا تلبسوا) এবং জেনে-বুঝে সত্য গোপন করো না (وتكتموا)} ৬।

4- মিথ্যা (كذب) এবং মিথ্যাপ্রতিপন্ন করা (تكذيب): মহান আল্লাহ বলেন: {বলো, তোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে তাওরাত নিয়ে এসো এবং তা পাঠ করো। এরপর যারা আল্লাহর ওপর মিথ্যা (كذب) অপবাদ আরোপ করবে, তারাই জালেম} ৭, এবং মহান আল্লাহ বলেন: {এবং তারা জেনে-বুঝে আল্লাহর ওপর মিথ্যা (كذب) বলে...} ৮।

--------------------------------------------

১ সূরা আল-আনআম, আয়াত ৯১।

২ সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত ১৫।

৩ সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত ১৪৬।

৪ সূরা আল-ইমরান, আয়াত ১৮৭।

৫ সূরা আল-ইমরান, আয়াত ৭১।

৬ সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত ৪২।

৭ সূরা আল-ইমরান, আয়াত ৯৩-৯৪।

৮ সূরা আল-ইমরান, আয়াত ৭৮।
(খণ্ড: ১) আল-আসফারুল মুকাদ্দাসাহ ইনদাল ইয়াহুদ ওয়া আসারুহা ফী ইনহিরাফিহিম আরদুন ওয়া নাকদুন (পৃষ্ঠা: ৩২১)
5- لوي الألسنة بالكتاب: قال تعالى: {وَإِنّ مِنْهُمْ لَفَرِيقاً يَلْوُونَ أَلْسِنَتَهُمْ بِالْكِتَابِ لِتَحْسَبُوهُ مِنَ الْكِتَابِ وَمَا هُوَ مِنَ الْكِتَابِ وَيَقُولُونَ هُوَ مِنْ عِنْدِ اللهِ وَمَا هُوَ مِنْ عِندِ اللهِ وَيَقُولُونَ عَلَى الله الكَذِبَ وَهُمْ يَعْلَمُون} 1.

6- التعطيل: المقصود به تعطيل أحكام التوراة والإنجيل وعدم إقامتها والعمل بها. قال تعالى: {وَلَوْ أَنّهُمْ أَقَامُواْ التّوْرَاةَ وَالإِنْجِيلَ وَمَآ أُنزِلَ إِلَيهِمْ مّن رّبّهِمْ لأكَلُواْ مِن فَوْقِهِمْ وَمِن تَحْتِ أَرْجُلِهِم مّنْهُمْ أُمّةٌ مّقْتَصِدَةٌ وَكَثِيرٌ مّنْهُمْ سَآءَ مَا يَعْمَلُونَ} 2، وقال تعالى: {قُلْ يَأَهْلَ الْكِتَابِ لَسْتُمْ عَلَىَ شَيْءٍ حَتّىَ تُقِيمُواْ التّوْرَاةَ وَالإِنْجِيلَ وَمَآ أُنزِلَ إِلَيْكُمْ مّن رّبّكُمْ…} 3. وقال تعالى: {مَثَلُ الّذِينَ حُمّلُواْ التّوْرَاةَ ثُمّ لَمْ يَحْمِلُوهَا كَمَثَلِ الْحِمَارِ يَحْمِلُ أَسْفَاراً بِئْسَ مَثَلُ الْقَوْمِ الّذِينَ كَذّبُواْ بِآيَاتِ اللهِ وَاللهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظّالِمِينَ} 4.

7- الإيمان ببعض الكتاب والكفر بالبعض الآخر: قال تعالى: { … أَفَتُؤْمِنُونَ بِبَعْضِ الْكِتَابِ وَتَكْفُرُونَ بِبَعْضٍ … } 5.

8- الإهمال: قال تعالى: {وَلَما جَآءَهُمْ رَسُولٌ مّنْ عِندِ اللهِ مُصَدّقٌ لّمَا مَعَهُمْ نَبَذَ فَرِيقٌ مّنَ الّذِينَ أُوتُواْ الْكِتَابَ كِتَابَ اللهِ وَرَآءَ ظُهُورِهِمْ كَأَنّهُمْ لَا يَعْلَمُونَ} 6.

--------------------------------------------

1 سورة آل عمران، آية 78.

2 سورة المائدة، آية 66.

3 سورة المائدة، آية 68.

4 سورة الجمعة، آية 5.

5 سورة البقرة، آية 85.

6 سورة البقرة، آية 101.
৫- কিতাব পাঠে জিহ্বা বক্র করা: মহান আল্লাহ বলেন: {আর তাদের মধ্যে এমন এক দল রয়েছে যারা কিতাব পাঠ করার সময় নিজেদের জিহ্বাকে বক্র করে, যাতে তোমরা সেটিকে কিতাবের অংশ মনে করো, অথচ তা কিতাবের অংশ নয়। তারা বলে যে এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে, অথচ তা আল্লাহর পক্ষ থেকে নয়। তারা জেনেশুনে আল্লাহর ওপর মিথ্যা (كذب) আরোপ করে।} ১।

৬- অকার্যকর করা (تعطيل): এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তাওরাত ও ইঞ্জিলের বিধানসমূহকে অকার্যকর করে রাখা এবং তা প্রতিষ্ঠা ও অনুসরণ না করা। মহান আল্লাহ বলেন: {আর যদি তারা তাওরাত, ইঞ্জিল এবং তাদের রবের পক্ষ থেকে তাদের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তা প্রতিষ্ঠা করত, তবে তারা অবশ্যই তাদের ওপর থেকে এবং তাদের পায়ের নিচ থেকে রিজিক লাভ করত। তাদের মধ্যে একটি পরিমিতিবোধ সম্পন্ন দল রয়েছে, আর তাদের অধিকাংশ যা করছে তা অত্যন্ত মন্দ।} ২। এবং মহান আল্লাহ বলেন: {বলুন, হে আহলে কিতাবগণ! তোমরা কোনো কিছুর ওপর প্রতিষ্ঠিত নও যতক্ষণ না তোমরা তাওরাত, ইঞ্জিল এবং তোমাদের রবের পক্ষ থেকে যা অবতীর্ণ হয়েছে তা প্রতিষ্ঠা করো...} ৩। এবং মহান আল্লাহ বলেন: {যাদেরকে তাওরাত বহনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, অতঃপর তারা তা বহন করেনি, তাদের উদাহরণ সেই গাধার মতো যে কিতাবের বোঝা বহন করে। যারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছে তাদের উদাহরণ কতই না মন্দ! আর আল্লাহ জালিম সম্প্রদায়কে হিদায়াত দেন না।} ৪।

৭- কিতাবের কিছু অংশের ওপর ঈমান আনা এবং অন্য অংশের সাথে কুফরি (كفر) করা: মহান আল্লাহ বলেন: { ... তবে কি তোমরা কিতাবের কিছু অংশের ওপর ঈমান আনো এবং কিছু অংশকে অস্বীকার করো? ... } ৫।

৮- অবহেলা (إهمال): মহান আল্লাহ বলেন: {আর যখন তাদের কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন একজন রাসূল আসলেন যিনি তাদের কাছে যা আছে তা সত্যায়ন করেন, তখন যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছিল তাদের একদল আল্লাহর কিতাবকে তাদের পিঠের পেছনে নিক্ষেপ করল, যেন তারা কিছুই জানে না।} ৬।

--------------------------------------------

১ সূরা আলে ইমরান, আয়াত ৭৮।

২ সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত ৬৬।

৩ সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত ৬৮।

৪ সূরা আল-জুমুআহ, আয়াত ৫।

৫ সূরা আল-বাক্বারাহ, আয়াত ৮৫।

৬ সূরা আল-বাক্বারাহ, আয়াত ১০১।
(খণ্ড: ১) আল-আসফারুল মুকাদ্দাসাহ ইনদাল ইয়াহুদ ওয়া আসারুহা ফী ইনহিরাফিহিম আরদুন ওয়া নাকদুন (পৃষ্ঠা: ৩২২)
وكذلك قوله تعالى: {وَإِذْ أَخَذَ الله مِيثَاقَ الَّذِينَ أُوتُوا الكِتَابَ لَتُبَيِّنُنَّهُ لِلنَّاسِ وَلا تَكْتُمُونَهُ فَنَبَذُوهُ وَرَاءَ ظُهُورِهِم وَاشْتَرَوْا بِهِ ثمَناً قَلِيلاً فَبِئْسَ مَا يَشْتَرُونَ} 1.

9- الظن: قال تعالى: {وَمِنْهُمْ أُمّيّونَ لَا يَعْلَمُونَ الْكِتَابَ إِلاّ أَمَانِيّ وَإِنْ هُمْ إِلاّ يَظُنّونَ} 2.

10- النسيان 3: قال تعالى: {فَبِمَا نَقْضِهِم مّيثَاقَهُمْ لَعنّاهُمْ وَجَعَلْنَا قُلُوبَهُمْ قَاسِيَةً يُحَرّفُونَ الْكَلِمَ عَن مّوَاضِعِهِ وَنَسُواْ حَظّا مّمّا ذُكِرُواْ بِهِ … } 4.

11- التزوير: قال الله تعالى: {فَوَيْلٌ للذِينَ يَكْتُبُون الْكِتَابَ بِأَيْدِيهِمْ ثُمّ يَقُولُونَ هَذَا مِنْ عِنْدِ اللهِ لِيَشْتَرُواْ بِهِ ثَمَناً قَلِيلاً فَوَيْلٌ لّهُمْ مّمّا كَتَبَتْ أَيْدِيهِمْ وَوَيْلٌ لّهُمْ مّمّا يَكْسِبُونَ} 5.

وتوضح هذه الوسائل مجتمعة الطرق التي تحوّلت بها التوراة والإنجيل وغيرها من كتب إلهية سماوية إلى كتب بشرية خطها رجال الدين من اليهود والنصارى بأيديهم.

--------------------------------------------

1 سورة آل عمران، آية 187.

2 سورة البقرة، آية 78.

3 انظر: علاقة الإسلام باليهودية ص43-45 د. محمد خليفة حسن.

4 سورة المائدة، آية 13.

5 سورة البقرة، آية 79.
অনুরূপভাবে মহান আল্লাহর বাণী: {আর স্মরণ করো, যখন আল্লাহ কিতাবধারীদের নিকট থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলেন যে, তোমরা অবশ্যই তা মানুষের কাছে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করবে এবং তা গোপন করবে না। অতঃপর তারা তা তাদের পেছনে ছুড়ে ফেলে দিল এবং এর বিনিময়ে সামান্য মূল্য গ্রহণ করল। সুতরাং তারা যা ক্রয় করে তা কতই না নিকৃষ্ট!} ১।

৯- ধারণা (الظن): মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর তাদের মধ্যে এমন কতগুলো নিরক্ষর লোক আছে যারা মিথ্যা আকাঙ্ক্ষা ছাড়া কিতাব সম্পর্কে কোনো জ্ঞান রাখে না এবং তারা কেবল অমূলক ধারণাই (الظن) পোষণ করে।} ২।

১০- বিস্মৃতি (النسيان) ৩: মহান আল্লাহ বলেছেন: {অতঃপর তাদের অঙ্গীকার ভঙ্গের কারণে আমি তাদের ওপর লানত করেছি এবং তাদের হৃদয়কে কঠোর করে দিয়েছি। তারা শব্দসমূহকে তাদের স্বস্থান থেকে বিকৃত করে এবং তাদের যে উপদেশ দেওয়া হয়েছিল, তার একাংশ তারা বিস্মৃত (النسيان) হয়েছে … } ৪।

১১- জালিয়াতি (التزوير): মহান আল্লাহ তাআলা বলেন: {সুতরাং সেই সব লোকদের জন্য দুর্ভোগ, যারা নিজ হাতে কিতাব লেখে, তারপর সামান্য মূল্য লাভের উদ্দেশ্যে বলে যে, ‘এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে’। সুতরাং তাদের হাত যা লিখেছে তার জন্য তাদের প্রতি দুর্ভোগ এবং তারা যা উপার্জন করে তার জন্য তাদের প্রতি দুর্ভোগ।} ৫।

এই মাধ্যমগুলো সম্মিলিতভাবে সেই পদ্ধতিগুলোকে স্পষ্ট করে যার মাধ্যমে তাওরাত, ইঞ্জিল এবং অন্যান্য আসমানি কিতাবগুলো মানব রচিত কিতাবে রূপান্তরিত হয়েছে, যা ইহুদি ও খ্রিষ্টান ধর্মযাজকরা নিজ হাতে লিপিবদ্ধ করেছে।

--------------------------------------------

১. সূরা আলে ইমরান, আয়াত ১৮৭।

২. সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত ৭৮।

৩. দেখুন: আলাকাতুল ইসলাম বিল ইয়াহুদিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ৪৩-৪৫, ড. মুহাম্মদ খলিফা হাসান।

৪. সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত ১৩।

৫. সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত ৭৯।
(খণ্ড: ১) আল-আসফারুল মুকাদ্দাসাহ ইনদাল ইয়াহুদ ওয়া আসারুহা ফী ইনহিরাফিহিম আরদুন ওয়া নাকদুন (পৃষ্ঠা: ৩২২)
‌‌حكم قراءة المسلم في التوراة والإنجيل المحرفة وما شابهها

…

المطلب الثالث: حكم قراءة المسلم في التوراة والأناجيل المحرفة وما شابهها.

بعد أن علمنا من المطلبين السابقين أن الكتب السماوية السابقة قد حرّفت وبُدّلت ونُسخت بالقرآن الكريم، فإن سؤالاً مهماً يتبادر إلى الذهن هو: ما حكم إطلاع المسلم وقراءته الكتب المقدسة عند أهل الكتاب؟
বিকৃত (محرف) তাওরাত, ইঞ্জিল এবং অনুরূপ কিতাবসমূহ পাঠ করার ব্যাপারে একজন মুসলিমের জন্য বিধান

…

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: বিকৃত (محرف) তাওরাত, ইঞ্জিলসমূহ এবং অনুরূপ কিতাবসমূহ পাঠ করার ব্যাপারে একজন মুসলিমের জন্য বিধান।

পূর্ববর্তী দুই পরিচ্ছেদ থেকে আমরা যখন জানতে পারলাম যে, পূর্ববর্তী আসমানি কিতাবসমূহ বিকৃত (محرف) ও পরিবর্তিত (مبدل) করা হয়েছে এবং পবিত্র কুরআনের মাধ্যমে তা রহিত (منسوخ) করা হয়েছে, তখন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন মনে উদয় হয়: আহলে কিতাবদের নিকট যে সকল কিতাব পবিত্র হিসেবে গণ্য, সেগুলো একজন মুসলিমের দেখা এবং পাঠ করার বিধান কী?
(খণ্ড: ১) আল-আসফারুল মুকাদ্দাসাহ ইনদাল ইয়াহুদ ওয়া আসারুহা ফী ইনহিরাফিহিম আরদুন ওয়া নাকদুন (পৃষ্ঠা: ৩২৩)
وبالرجوع إلى نصوص الكتاب والسنة المتعلقة بهذه المسألة نجد أدلة ظاهرها التعارض، فبعضها يفيد الجواز والآخر يفيد المنع، وسأبدأ بأدلة المنع ثم أدلة الجواز ثم أبين ما يترجح منها مستعيناً بالله عز وجل.

- أما أدلة المنع من قراءة كتب أهل الكتاب فهي:

- عن جابر بن عبد الله أن عمر بن الخطاب رضي الله عنه أتى النبي صلى الله عليه وسلم بكتاب أصابه من بعض أهل الكتاب فقرأه على النبي صلى الله عليه وسلم فغضب، فقال: "أمتهوكون1 فيها يا ابن الخطاب؟! والذي نفسي بيده لقد جئتكم بها بيضاء نقية، لا تسألوهم عن شيء فيخبرونكم بحق فتكذبوا به أو بباطل فتصدقوا به، والذي نفسي بيده لو أن موسى كان حياً ما وسعه إلا أن يتبعني" 2.

- وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال: كان أهل الكتاب يقرؤن التوراة بالعبرانية ويفسرونها بالعربية لأهل الإسلام، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "لا تصدقوا أهل الكتاب ولا تكذبوهم وقولوا: {آمنا بالله وما أنزل إلينا وما أنزل إلى إبراهيم وإسماعيل وإسحاق ويعقوب والأسباط وما أوتي موسى وعيسى وما أوتي النبيون من ربهم لا نفرق بين أحد منهم ونحن له مسلمون} 3 الآية"4

--------------------------------------------

1 التَّهوك كالتهور، وهو الوقوع في الأمر بغير رويّة، وقيل: التحيّر.

انظر: النهاية في غريب الحديث 5/282 لابن الأثير.

2 أخرجه الإمام احمد 3/387 والدارمي 1/115، وابن أبي شيبة ح26421، وابن عبد البر في جامع بيان العلم 2/42، والبزار وأبو يعلى والبيهقي في شعب الإيمان. قال الحافظ ابن حجر في الفتح 13/334: "رجاله موثقون إلا أن في مجالد ضعفاً". وبمثله قاله الهيثمي في المجمع 1/179.

قال الشيخ الألباني: وفيه مجالد بن سعيد وفيه ضعف، ولكن الحديث حسن عندي لأنه له طرقاً كثيرة عند اللالكائي والهروي وغيرهما. (انظر: المشكاة ح177، والإرواء 6/34 ح1589)

3 سورة البقرة: 126.

4 أخرجه البخاري (انظر: فتح 5/291، 8/170) ، والبيهقي في السنن الكبرى 10/) 163.
এই মাসআলা (বিষয়) সংশ্লিষ্ট কুরআন ও সুন্নাহর ভাষ্যসমূহের প্রতি দৃষ্টিপাত করলে আমরা এমন কিছু প্রমাণ দেখতে পাই যার আপাতদৃষ্টিতে বৈপরীত্য পরিলক্ষিত হয়। এর কিছু দলিল বৈধতা নির্দেশ করে এবং অন্যগুলো নিষেধ জ্ঞাপন করে। আমি মহান আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করে প্রথমে নিষেধের দলিলসমূহ এবং এরপর বৈধতার দলিলসমূহ উল্লেখ করব, অতঃপর এর মধ্যে যা অগ্রগণ্য তা স্পষ্ট করব।

- আহলে কিতাবদের কিতাবসমূহ পাঠ করার ক্ষেত্রে নিষেধের দলিলগুলো হলো:

- জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত যে, উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) আহলে কিতাবদের কাছ থেকে পাওয়া একটি কিতাব নিয়ে নবী (সা.)-এর নিকট আসলেন এবং তা নবী (সা.)-কে পড়ে শোনালেন। এতে তিনি রাগান্বিত হলেন এবং বললেন: "হে খাত্তাবের পুত্র! তোমরা কি এই দ্বীনের ব্যাপারে বিভ্রান্তিতে ১ আছো?! সেই সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ, আমি তোমাদের নিকট একটি উজ্জ্বল ও পরিচ্ছন্ন দ্বীন নিয়ে এসেছি। তোমরা তাদের কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসা করো না, নতুবা তারা হয়তো তোমাদের কাছে কোনো সত্য বলবে অথচ তোমরা তা অস্বীকার করে বসবে, অথবা তারা কোনো মিথ্যা বলবে আর তোমরা তা সত্য বলে গ্রহণ করে নেবে। সেই সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ, যদি মূসা (আ.) জীবিত থাকতেন, তবে আমার অনুসরণ করা ছাড়া তাঁর কোনো গত্যান্তর থাকতো না।" ২

- আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আহলে কিতাবরা ইবরানি (হিব্রু) ভাষায় তাওরাত পাঠ করত এবং মুসলিমদের জন্য আরবিতে তার ব্যাখ্যা করত। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন: "তোমরা আহলে কিতাবদেরকে বিশ্বাস করো না এবং তাদের মিথ্যাপ্রতিপন্নও করো না। বরং তোমরা বলো: {আমরা ঈমান এনেছি আল্লাহর প্রতি এবং আমাদের প্রতি যা নাজিল করা হয়েছে এবং যা ইব্রাহিম, ইসমাইল, ইসহাক, ইয়াকুব ও তাঁর বংশধরদের প্রতি নাজিল করা হয়েছে এবং যা মূসা ও ঈসা-কে প্রদান করা হয়েছে এবং যা অন্যান্য নবীগণকে তাঁদের রবের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে। আমরা তাঁদের কারও মধ্যে কোনো পার্থক্য করি না এবং আমরা তাঁরই প্রতি অনুগত (মুসলিম)} ৩ আয়াতটি।" ৪

--------------------------------------------

১ 'আত-তাহাউক' হলো 'আত-তাহাউয়ুর'-এর মতো, যার অর্থ পরিণাম চিন্তা না করে কোনো কাজে লিপ্ত হওয়া। কারও মতে এর অর্থ বিভ্রান্তি।

দেখুন: ইবনুল আসিরের আন-নিহায়াহ ফি গারিবিল হাদিস, ৫/২৮২।

২ ইমাম আহমাদ (৩/৩৮৭), দারেমি (১/১১৫), ইবনে আবি শাইবাহ (হা. ২৬৪২১), জামে বয়ানিল ইলম-এ ইবনে আব্দুল বার (২/৪২), আল-বাজার, আবু ইয়ালা এবং শুআবুল ঈমান-এ বায়হাকি এটি বর্ণনা করেছেন। হাফেজ ইবনে হাজার ফাতহুল বারী-তে (১৩/৩৩৪) বলেছেন: "এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (موثقون), তবে মুজালিদ নামক বর্ণনাকারীর মধ্যে দুর্বলতা (ضعف) রয়েছে।" অনুরুপ কথা হাইসামি মাজমাউয যাওয়াইদ-এ (১/১৭৯) বলেছেন।

শেখ আলবানি বলেছেন: এতে মুজালিদ ইবনে সাঈদ রয়েছেন এবং তাঁর মধ্যে দুর্বলতা (ضعف) আছে, কিন্তু হাদিসটি আমার নিকট হাসান (حسن), কারণ আল-লালকায়ী, আল-হারাউই ও অন্যদের কিতাবে এর অনেকগুলো সূত্র (طرق) রয়েছে। (দেখুন: মিশকাত হা. ১৭৭ এবং ইরওয়াউল গালিল ৬/৩৪ হা. ১৫৮৯)।

৩ সূরা আল-বাকারা: ১২৬।

৪ বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন (দেখুন: ফাতহুল বারী ৫/২৯১, ৮/১৭০) এবং বায়হাকি সুনানুল কুবরা-তে (১০/১৬৩)।
(খণ্ড: ১) আল-আসফারুল মুকাদ্দাসাহ ইনদাল ইয়াহুদ ওয়া আসারুহা ফী ইনহিরাফিহিম আরদুন ওয়া নাকদুন (পৃষ্ঠা: ৩২৪)
- وعن ابن عباس رضي الله عنهما قال: يا معشر المسلمين، كيف تسألون أهل الكتاب وكتابكم الذي أنزل على نبيه صلى الله عليه وسلم أحْدَثُ الأخبار بالله تقرؤنه لم يُشبْ؟! وقد حدثكم الله أن أهل الكتاب بدَّلوا ما كتب الله وغيروا بأيديهم الكتاب فقالوا: {هَذَا مِنْ عِنْدِ اللهِ لِيَشْتَرُواْ بِهِ ثَمَناً قَلِيلاً} 1، أفلا ينهاكم بما جاءكم من العلم عن مساءلتهم؟ ولا والله ما رأينا منهم رجلاً قطُّ يسألكم عن الذي أنزل عليكم2.

- وعن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه قال: "لا تسألوا أهل الكتاب، فإنهم لن يهدوكم وقد أضلوا أنفسهم، فتكذبوا بحق أو تصدقوا بباطل" 3.

- وأما أدلة جواز الإطلاع على كتب أهل الكتاب فمنها:

قال تعالى: {فَإِن كُنتَ فِي شَكّ مّمّآ أَنزَلْنَآ إِلَيْكَ فَاسْأَلِ الّذِينَ يَقْرَءُونَ الْكِتَابَ مِن قَبْلِكَ لَقَدْجَاءَكَ الحَقُّ مِنْ رَبِّكَ فَلا تَكُونَنَّ مِنَ المُمْترين 4} 5.

وقال تعالى: {وَيَقُولُ الّذِينَ كَفَرُواْ لَسْتَ مُرْسَلاً قُلْ كَفَىَ بِاللهِ شَهِيداً بَيْنِي وَبَيْنَكُمْ وَمَنْ عِندَهُ عِلْمُ الْكِتَابِ} 6.

--------------------------------------------

1 سورة البقرة، آية 79.

2 أخرجه البخاري (انظر: فتح الباري 5/291) ، وابن عبد البر في جامع بيان العلم 2/41) .

3 أخرجه ابن عبد البر في جامع بيان العلم 2/41، وقال الحافظ ابن حجر: أخرجه عبد الرزاق من طريق حريث بن ظهير فذكره، وأخرجه سفيان الثوري من هذا الوجه، وسنده حسن. (انظر: فتح الباري 6/334) .

4 المراد من قوله تعالى: {فَإِن كُنتَ فِي شَكّ} على سبيل الفرض والتقدير، إذ الشك لا يتصور منه صلى الله عليه وسلم أبداً لعصمته، ولذا قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "لا أشك ولا أسأل"، كذا قاله ابن عباس وقتادة وسعيد بن جبير والحسن البصري. (انظر: تفسير ابن كثير 2/448) .

5 سورة يونس، آية 94.

6 سورة الرعد، آية 43.
- ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "হে মুসলিম সম্প্রদায়! তোমরা কীভাবে আহলে কিতাবদের নিকট জিজ্ঞাসা করো? অথচ তোমাদের কিতাব, যা তোমাদের নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওপর অবতীর্ণ হয়েছে, তা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ সংবাদ, যা তোমরা তিলাওয়াত করো এবং তাতে কোনো প্রকার বিকৃতি ঘটেনি। আল্লাহ তো তোমাদের জানিয়ে দিয়েছেন যে, আহলে কিতাবরা আল্লাহর নাযিলকৃত কিতাব পরিবর্তন করেছে এবং তারা নিজ হাতে কিতাব লিখে তা বিকৃত করে বলেছে: 'এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে', যাতে তারা এর বিনিময়ে নগণ্য মূল্য গ্রহণ করতে পারে। তোমাদের নিকট যে জ্ঞান এসেছে, তা কি তোমাদেরকে তাদের কাছে কোনো কিছু জিজ্ঞাসা করতে নিষেধ করে না? আল্লাহর কসম! আমরা তো তাদের কোনো ব্যক্তিকে কখনো দেখিনি যে তোমাদের ওপর যা অবতীর্ণ হয়েছে সে সম্পর্কে তোমাদেরকে কিছু জিজ্ঞাসা করেছে।"

- আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "তোমরা আহলে কিতাবদের নিকট জিজ্ঞাসা করো না, কেননা তারা কখনোই তোমাদের সঠিক পথ দেখাবে না যেখানে তারা নিজেরাই পথভ্রষ্ট হয়েছে। এমতাবস্থায় (তাদের কাছে জিজ্ঞাসা করলে) তোমরা হয়তো কোনো সত্যকে অস্বীকার করে বসবে অথবা কোনো বাতিলকে সত্য বলে বিশ্বাস করে নেবে।"

- আর আহলে কিতাবদের কিতাবসমূহ দেখার বৈধতার স্বপক্ষে দলীলসমূহের মধ্যে রয়েছে:

আল্লাহ তাআলা বলেন: "অতঃপর আমি আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ করেছি সে বিষয়ে আপনি যদি সন্দেহের মধ্যে থাকেন, তবে আপনার পূর্বের কিতাব যারা পাঠ করে তাদেরকে জিজ্ঞাসা করুন। অবশ্যই আপনার রবের নিকট থেকে আপনার কাছে সত্য এসেছে, সুতরাং আপনি সংশয়বাদীদের অন্তর্ভুক্ত হবেন না।"

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: "আর যারা কুফরি করেছে তারা বলে: আপনি প্রেরিত রাসূল নন। বলুন: আমার ও তোমাদের মধ্যে সাক্ষী হিসেবে আল্লাহ এবং যার নিকট কিতাবের জ্ঞান রয়েছে তারা যথেষ্ট।"

--------------------------------------------

১. সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত ৭৯।

২. এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন (দেখুন: ফাতহুল বারি ৫/২৯১) এবং ইবনে আবদিল বার জামি বায়ানি ইলম (২/৪১) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

৩. এটি ইবনে আবদিল বার জামি বায়ানি ইলম (২/৪১) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: এটি আবদুর রাজ্জাক হরাইস ইবনে জুহাইর এর সূত্র (طريق) থেকে বর্ণনা করেছেন এবং সুফিয়ান সাওরিও এই একই দিক (وجه) থেকে এটি বর্ণনা করেছেন, আর এর সনদ (سند) হাসান (حسن)। (দেখুন: ফাতহুল বারি ৬/৩৩৪)।

৪. মহান আল্লাহর বাণী: "যদি আপনি সন্দেহের মধ্যে থাকেন" এর অর্থ হলো এটি একটি অনুমান বা সম্ভাবনা হিসেবে বলা হয়েছে। কেননা তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিষ্পাপ হওয়ার কারণে তাঁর থেকে সন্দেহ পোষণ করা কখনোই কল্পনা করা যায় না। এই কারণে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছিলেন: "আমি সন্দেহ করি না এবং আমি জিজ্ঞাসাও করি না।" ইবনে আব্বাস, কাতাদা, সাঈদ ইবনে জুবায়ের এবং হাসান বসরি এরূপই বলেছেন। (দেখুন: তাফসিরে ইবনে কাসির ২/৪৪৮)।

৫. সূরা ইউনুস, আয়াত ৯৪।

৬. সূরা আর-রাদ, আয়াত ৪৩।
(খণ্ড: ১) আল-আসফারুল মুকাদ্দাসাহ ইনদাল ইয়াহুদ ওয়া আসারুহা ফী ইনহিরাফিহিম আরদুন ওয়া নাকদুন (পৃষ্ঠা: ৩২৫)
قال تعالى: {وَاسْأَلْ مَنْ أَرْسَلْنَا مِن قَبْلِكَ مِن رّسُلِنَا أَجَعَلْنَا مِن دُونِ الرّحْمَنِ آلِهَةً يُعْبَدُونَ} 1.

- وعن عبد الله بن عمرو رضي الله عنهما أن النبي صلى الله عليه وسلم قال:

"بلغوا عني ولو آية، وحدثوا عن بني إسرائيل ولا حرج، ومن كذب عَلَيَّ متعمداً فليتبوأ مقعده من النار" 2. والتحديث عن بني إسرائيل يقتضي النظر في كتبهم.

- وعن عطاء بن يسار قال: "لقيت عبد الله بن عمرو بن العاص رضي الله عنهما قلت: أخبرني عن صفة رسول الله صلى الله عليه وسلم في التوراة. قال: أجل، والله إنه لموصوف في التوراة ببعض صفته في القرآن، يا أيها النبي إنا أرسلناك شاهداً ومبشراً ونذيراً، وحرزاً3 للأميين، أنت عبدي ورسولي، سميتك المتوكل، ليس بفظ ولا غليظ … الخ"4.

- وورد أن عبد الله بن عمرو رضي الله عنهما أصاب يوم اليرموك زاملتين من كتب أهل الكتاب فكان يحدِّث منهما5.

--------------------------------------------

1 سورة الزخرف، آية 45.

2 أخرجه البخاري. (انظر: فتح الباري 6/496) ، والإمام أحمد 2/159، والترمذي ح2669، والدارمي 1/136، وابن عبد البر في جامع بيان العلم 2/40.

3 وحرزاً: أي حافظاً، وأصل الحرز، الموضع الحصين، يقال: أحرزت الشيء أحْرزُه إحرازاً، إذا حفظته وضممته إليك وصنته عن الأخذ.

انظر: النهاية في غريب الحديث 1/366، فتح الباري 4/343.

4 رواه البخاري (انظر: فتح الباري 4/343) ، وأحمد 2/174.

5 انظر: مجموع الفتاوى (مقدمة في أصول التفسير) 13/366، فتح الباري 1/207، قال ابن تيمية: وقد فهم الصحابي الجليل عبد الله بن عمرو من الحديث السابق الذي رواه عن النبي صلى الله عليه وسلم: " … حدّثوا عن بني إسرائيل ولا حرج … " الإذن في ذلك، ولكن هذه الأحاديث الإسرائيلية تذكر للاستشهاد لا للاعتقاد، فإنها على ثلاثة أقسام:

أحدها: ما علمنا صحته مما بأيدينا مما يشهد له بالصدق، فذلك صحيح.

والثاني: ما علمنا كذبه بما عندنا مما يخالفه.

والثالث: ما هو مسكوت عنه لا من هذا القبيل ولا من هذا القبيل، فلا نؤمن به، ولا نكذبه، وتجوز حكايته لما تقدم، وغالب ذلك مما لا فائدة فيه تعود إلى أمر ديني، ولهذا يختلف علماء أهل الكتاب في مثل هذا كثيراً.

انظر: مجموع فتاوى شيخ الإسلام ابن تيمية 13/366،367.
আল্লাহ তাআলা বলেন: {আপনার পূর্বে আমি আমার রাসূলগণের মধ্যে যাদের পাঠিয়েছিলাম, তাদের জিজ্ঞেস করুন, পরম করুণাময় ব্যতীত আমি কি অন্য কোনো উপাস্য স্থির করেছিলাম যাদের ইবাদত করা হতো?} ১.

- আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:

"আমার পক্ষ থেকে পৌঁছে দাও, যদিও তা একটি আয়াত হয়। আর বনী ইসরাঈল থেকে বর্ণনা করো, এতে কোনো দোষ নেই। আর যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করে, সে যেন আগুনের মধ্যে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।" ২। আর বনী ইসরাঈল থেকে বর্ণনা করার দাবি হলো তাদের কিতাবসমূহের প্রতি দৃষ্টিপাত করা।

- আতা ইবনে ইয়াসার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমি আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর সাথে সাক্ষাৎ করলাম এবং বললাম: তাওরাতে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আমাকে বলুন। তিনি বললেন: হ্যাঁ, আল্লাহর শপথ! কুরআনে তাঁর যে কিছু গুণের বর্ণনা রয়েছে, তাওরাতেও তিনি ঠিক সেভাবেই বিশেষায়িত হয়েছেন: হে নবী! আমি আপনাকে সাক্ষী, সুসংবাদদাতা, সতর্ককারী এবং উম্মীদের জন্য রক্ষাকবচ (حرزاً) ৩ হিসেবে পাঠিয়েছি। আপনি আমার বান্দা ও রাসূল, আমি আপনার নাম রেখেছি মুতাওয়াক্কিল। তিনি রূঢ় বা কঠোর স্বভাবের নন … ইত্যাদি" ৪।

- আরও বর্ণিত হয়েছে যে, আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) ইয়ারমুকের যুদ্ধের দিন আহলে কিতাবদের কিতাব সম্বলিত দুটি উটের বোঝা পেয়েছিলেন এবং তিনি সেগুলো থেকে বর্ণনা করতেন। ৫

--------------------------------------------

১ সূরা আয-যুখরুফ, আয়াত ৪৫।

২ এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন। (দেখুন: ফাতহুল বারি ৬/৪৯৬), এবং ইমাম আহমাদ ২/১৫৯, তিরমিযি হাদিস নং ২৬৬৯, দারেমি ১/১৩৬, ইবনে আব্দুল বার এর জামি’ বায়ানিল ইলম ২/৪০।

৩ রক্ষাকবচ (حرزاً): অর্থাৎ হেফাযতকারী; 'হিরয' শব্দের মূল অর্থ হলো সুরক্ষিত স্থান। বলা হয়: আমি কোনো কিছুকে হেফাযত (إحرازاً) করলাম, যখন তা রক্ষা করা হয়, নিজের সাথে গুছিয়ে রাখা হয় এবং অন্যের ছিনিয়ে নেওয়া থেকে তা সুরক্ষিত রাখা হয়।

দেখুন: আন-নিহায়া ফি গারিবিল হাদিস ১/৩৬৬, ফাতহুল বারি ৪/৩৪৩।

৪ এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন (দেখুন: ফাতহুল বারি ৪/৩৪৩), এবং আহমাদ ২/১৭৪।

৫ দেখুন: মাজমুউল ফাতাওয়া (মুকাদ্দিমাহ ফি উসুলিত তাফসির) ১৩/৩৬৬, ফাতহুল বারি ১/২০৭। ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন: মহান সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে আমর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত পূর্বোক্ত হাদিস— " … বনী ইসরাঈল থেকে বর্ণনা করো, এতে কোনো দোষ নেই … "— থেকে এর অনুমতি বুঝতে পেরেছিলেন। তবে এই ইসরাঈলী বর্ণনাগুলো সাক্ষ্য প্রদানের জন্য উল্লেখ করা হয়, বিশ্বাসের জন্য নয়। কারণ এগুলো তিন প্রকার:

এক: যার বিশুদ্ধতা (صحة) আমাদের নিকট বিদ্যমান দলীলের মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি যা এর সত্যতার (صدق) সাক্ষ্য দেয়; সুতরাং তা সঠিক (صحيح)।

দুই: যার মিথ্যা (كذب) হওয়া আমরা আমাদের কাছে থাকা দলীলের মাধ্যমে জানতে পেরেছি যা এর পরিপন্থী।

তিন: যে বিষয়ে নীরবতা অবলম্বন করা হয়েছে, যা এই প্রকারের কোনোটিরই অন্তর্ভুক্ত নয়; সুতরাং আমরা তাতে বিশ্বাসও করি না, আবার তাকে মিথ্যা (نكذبه) প্রতিপন্ন করি না। পূর্বোক্ত হাদিসের কারণে এর বর্ণনা করা জায়েজ। এগুলোর অধিকাংশ এমন বিষয় যার কোনো ধর্মীয় উপকারিতা নেই। একারণেই আহলে কিতাবদের আলেমগণ এ জাতীয় বিষয়ে অনেক মতভেদ করে থাকেন।

দেখুন: শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর মাজমুউ ফাতাওয়া ১৩/৩৬৬-৩৬৭।
(খণ্ড: ১) আল-আসফারুল মুকাদ্দাসাহ ইনদাল ইয়াহুদ ওয়া আসারুহা ফী ইনহিরাফিহিম আরদুন ওয়া নাকদুন (পৃষ্ঠা: ৩২৬)
وإزاء هذه النصوص التي ظاهرها التعارض بين النهي والجواز في النظر في كتب أهل الكتاب، فقد ذكر العلماء أقوالاً في الترجيح والجمع بين تلك النصوص:

قال الحافظ ابن حجر في شرحه لقول النبي صلى الله عليه وسلم: " … وحدثوا عن بني إسرائيل ولا حرج … " أي لا ضيق عليكم في الحديث عنهم لأنه كان تقدم منه صلى الله عليه وسلم الزجر عن الأخذ عنهم والنظر في كتبهم، ثم حصل التوسع في ذلك، وكأن النهي وقع قبل استقرار الأحكام الإسلامية والقواعد الدينية خشية الفتنة، ثم لما زال المحذور وقع الإذن في ذلك لما في سماع الأخبار التي كانت في زمانهم من الاعتبار1.

وقال بعضهم: إن الأمر بالإباحة والجواز ليس على إطلاقه، فإن جاء ما في كتبهم موافقاً لما في شرعنا صدّقناه وجازت روايته، وما جاء مخالفاً لما في شرعنا كذّبناه وحرمت روايته إلا لبيان بطلانه، وما سكت عنه شرعنا توقفنا فيه فلا نحكم عليه بصدق ولا بكذب وتجوز روايته، وتذكر للاستشهاد لا للاعتقاد2.

والأولى في هذه المسألة الجمع بين النصوص المتعارضة، لأن فيه العمل بالنصوص كلها، أما القول بالنسخ ففيه الأخذ ببعض النصوص وترك لبعضها، وطريقة الجمع بينها تكون بالتفصيل في المسألة على النحو الآتي:

1- حكم المقروء من كتب أهل الكتاب.

--------------------------------------------

1 انظر: فتح الباري 6/498.

2 انظر: فتح الباري 6/499، 12/334.
আহলে কিতাবদের কিতাবসমূহ দেখার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা (نهي) ও বৈধতার (جواز) মধ্যে আপাত বিরোধপূর্ণ এসব মূলপাঠের (نصوص) বিপরীতে ওলামায়ে কেরাম এই মূলপাঠগুলোর (نصوص) মধ্যে প্রাধান্য দান (ترجيح) এবং সমন্বয় (جمع) সাধনের ক্ষেত্রে কতগুলো অভিমত উল্লেখ করেছেন:

হাফেজ ইবনে হাজার নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: " ...বনী ইসরাঈল থেকে বর্ণনা করো, এতে কোনো দোষ নেই... " এর ব্যাখ্যায় বলেন, অর্থাৎ তাদের থেকে হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে তোমাদের ওপর কোনো সংকীর্ণতা নেই। কারণ পূর্বে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পক্ষ থেকে তাদের থেকে গ্রহণ করা এবং তাদের কিতাবসমূহ দেখার ব্যাপারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা (زجر) ছিল, পরবর্তীতে এ বিষয়ে প্রশস্ততা আসে। সম্ভবত ফিতনার আশঙ্কায় ইসলামি বিধান (أحكام) এবং ধর্মীয় মূলনীতিসমূহ (قواعد) সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার পূর্বে এই নিষেধাজ্ঞা (نهي) প্রদান করা হয়েছিল। অতঃপর যখন সেই আশঙ্কার কারণ দূর হয়ে গেল, তখন তাদের সময়কার সংবাদগুলো শোনার মাঝে যেহেতু শিক্ষা গ্রহণের অবকাশ রয়েছে, তাই সেটির অনুমতি (إذن) প্রদান করা হয়েছে।১

কেউ কেউ বলেছেন: বৈধতা (إباحة) ও অনুমতির (جواز) বিষয়টি নিরঙ্কুশ (إطلاق) নয়। সুতরাং তাদের কিতাবে যা বর্ণিত হয়েছে তা যদি আমাদের শরিয়তের অনুকূল হয়, তবে আমরা তা সত্য বলে গ্রহণ করব এবং তার বর্ণনা (رواية) করা বৈধ (جائز)। আর যা আমাদের শরিয়তের পরিপন্থী হবে, আমরা তা প্রত্যাখ্যান করব এবং তার বাতিল হওয়া স্পষ্ট করা ব্যতীত বর্ণনা (رواية) করা হারাম (حرام) হবে। আর যে বিষয়ে আমাদের শরিয়ত নিশ্চুপ রয়েছে, সে ক্ষেত্রে আমরা কোনো সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া থেকে বিরত (توقف) থাকব; সুতরাং আমরা সেটাকে সত্য বা মিথ্যা কোনোটিই বলব না, তবে তার বর্ণনা (رواية) করা বৈধ (جائز)। আর এটি সাক্ষ্য বা সমর্থন (استشهاد) হিসেবে উল্লেখ করা যাবে, বিশ্বাসের (اعتقاد) জন্য নয়।২

এই মাসআলার ক্ষেত্রে উত্তম পন্থা হলো বিরোধপূর্ণ (متعارضة) মূলপাঠগুলোর (نصوص) মধ্যে সমন্বয় (جمع) সাধন করা, কারণ এতে সকল দলিলের ওপর আমল করা সম্ভব হয়। পক্ষান্তরে রহিতকরণের (نسخ) কথা বললে কিছু মূলপাঠ (نصوص) গ্রহণ করা এবং কিছু বর্জন করা হয়। আর এগুলোর মধ্যে সমন্বয় (جمع) করার পদ্ধতি হলো বিষয়টি নিয়ে নিম্নে বর্ণিত উপায়ে বিস্তারিত আলোচনা করা:

১- আহলে কিতাবদের কিতাব থেকে পঠিত বিষয়ের বিধান (حكم)।

--------------------------------------------

১ দেখুন: ফাতহুল বারী ৬/৪৯৮।

২ দেখুন: ফাতহুল বারী ৬/৪৯৯, ১২/৩৩৪।
(খণ্ড: ১) আল-আসফারুল মুকাদ্দাসাহ ইনদাল ইয়াহুদ ওয়া আসারুহা ফী ইনহিরাফিহিম আরদুন ওয়া নাকদুন (পৃষ্ঠা: ৩২৭)
2- حال القارئ لها.

3- قصد القارئ ونيته من القراءة فيها.

1- فأما بالنسبة لحكم المقروء منها فإنه على ثلاثة أنواع:

أ - نوع يجوز تصديقه وروايته، وهو ما جاء في كتبهم موافقاً لما في شرعنا.

ب - ونوع يحرم روايته إلا بشرط تكذيبه وبيان بطلانه، وهو ما جاء في كتبهم مخالفاً لما في شرعنا.

ج - ونوع يتوقف فيه، لا يحكم عليه بصدق ولا بكذب وتجوز روايته وتذكر للاستشهاد لا للإعتقاد، وهوما سكت عنه شرعنا.

2- وأما حال القارئ لكتبهم فإنه يجوز لأهل العلم من الراسخين في الإيمان والعلم وعلى هذا الصنف من الناس نحمل نصوص الجواز والإباحة في قراءة كتب أهل الكتاب، ولا يجوز لمن لم يكن من الصنف الأول كالعامي الغرِّ والشاب الغمر من الناس ومن في حكمهم فهؤلاء تحمل عليهم نصوص المنع وعدم الجواز.

3- وأما بالنسبة لقصد القارئ ونيته ممن يجوز لهم القراءة، فإنه لا يجوز للقارئ إذا كان النظر فيها على وجه التعظيم والتفخيم لها، أو إذا كان يتشاغل بذلك دون غيرها مما هو مطلوب من علوم الشرع.

وأما إذا كان قصد القارئ معرفة ما في كتبهم من الشر لتوقيه وتحذير الناس منه، أو الرد على المخالف وإلزام اليهود والنصارى بطلان دينهم وتحريف كتبهم ونسخ شريعتهم والتصديق بمحمد صلى الله عليه وسلم بما يستخرج من البشارات في كتبهم، فهذا جائز يدل عليه النصوص الشرعية وفعل الأئمة كابن حزم وابن تيمية وابن القيم وغيرهم في النقل من كتب أهل الكتاب، ولولا اعتقاد الأئمة جواز النظر فيها لما فعلوه وتواردوا عليه.
২- এটি পাঠকারীর অবস্থা সম্পর্কে।

৩- এটি পাঠ করার ক্ষেত্রে পাঠকারীর উদ্দেশ্য ও নিয়ত সম্পর্কে।

১- এর মধ্যে যা পাঠ করা হয় তার বিধানের ক্ষেত্রে তা তিন প্রকার:

ক - এক প্রকার যা বিশ্বাস বা সত্যয়ন (تصديق) করা এবং বর্ণনা (رواية) করা বৈধ (جائز); আর তা হলো তাদের কিতাবসমূহে এমন বিষয় আসা যা আমাদের শরয়ি বিধানের সাথে সংগতিপূর্ণ।

খ - আর এক প্রকার যার বর্ণনা (رواية) করা হারাম (حرام), তবে তা মিথ্যা প্রতিপন্ন করা এবং এর অসারতা (بطلان) বর্ণনা করার শর্তে বর্ণনা করা যেতে পারে; আর তা হলো তাদের কিতাবসমূহে এমন কিছু আসা যা আমাদের শরয়ি বিধানের পরিপন্থী।

গ - এবং এক প্রকার যার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তহীন থাকা বা থামা (توقف) আবশ্যক; এর ওপর সত্য বা মিথ্যার কোনো হুকুম বা বিধান (حكم) আরোপ করা যাবে না। তবে তা বর্ণনা (رواية) করা বৈধ (جائز) এবং এটি সাক্ষ্য হিসেবে উপস্থাপনের (استشهاد) জন্য উল্লেখ করা যাবে, বিশ্বাসের (اعتقاد) জন্য নয়; আর তা হলো ওইসব বিষয় যা সম্পর্কে আমাদের শরয়ি বিধান নীরবতা অবলম্বন করেছে।

২- আর তাদের কিতাবসমূহ পাঠকারীর অবস্থার ক্ষেত্রে বিধান হলো, যারা ঈমান ও ইলমের ক্ষেত্রে সুপ্রতিষ্ঠিত (راسخون) এমন আলিমদের (أهل العلم) জন্য তা পাঠ করা বৈধ (جائز)। মানুষের এই শ্রেণির ওপরই আহলে কিতাবদের কিতাব পাঠ করার বৈধতা (جواز) ও অনুমতির (إباحة) সংশ্লিষ্ট নসসমূহ (نصوص) প্রয়োগ করা হবে। তবে যারা প্রথম শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত নয়, যেমন—অসচেতন সাধারণ মানুষ (عامي) এবং অনভিজ্ঞ যুবক ও তাদের সমপর্যায়ভুক্ত ব্যক্তিরা, তাদের জন্য তা বৈধ নয়। এদের ওপরই নিষেধাজ্ঞা ও অবৈধতা (عدم الجواز) সংক্রান্ত নসসমূহ (نصوص) প্রযোজ্য হবে।

৩- আর যাদের জন্য তা পাঠ করা বৈধ (جائز), তাদের উদ্দেশ্য ও নিয়তের ক্ষেত্রে কথা হলো, পাঠকারীর জন্য তা পাঠ করা বৈধ হবে না যদি তা দেখার উদ্দেশ্য হয় কিতাবগুলোর প্রতি সম্মান ও মর্যাদা প্রদর্শন করা, অথবা যদি সে অন্যান্য প্রয়োজনীয় শরয়ি ইলম (علوم الشرع) বাদ দিয়ে কেবল তা নিয়েই মগ্ন থাকে।

কিন্তু যদি পাঠকারীর উদ্দেশ্য হয় তাদের কিতাবসমূহের মন্দ বিষয়গুলো সম্পর্কে অবগত হওয়া যাতে তা থেকে বেঁচে থাকা যায় এবং মানুষকে সতর্ক করা যায়, অথবা বিরোধীদের খণ্ডন (رد) করা এবং ইয়াহুদি ও নাসারাদের ওপর তাদের ধর্মের অসারতা (بطلان), কিতাবসমূহের বিকৃতি (تحريف) ও তাদের শরিয়ত রহিত (نسخ) হওয়ার বিষয়টি অকাট্যভাবে প্রমাণ করা এবং তাদের কিতাবসমূহ থেকে প্রাপ্ত সুসংবাদের মাধ্যমে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নবুওয়াতের সত্যয়ন (تصديق) করা, তবে তা বৈধ (جائز)। শরয়ি নসসমূহ (نصوص شرعية) এবং ইমামগণ যেমন—ইবনে হাজম, ইবনে তাইমিয়্যাহ, ইবনুল কায়্যিম ও অন্যান্যদের আহলে কিতাবদের কিতাব থেকে উদ্ধৃতি দেওয়ার আমল এর প্রমাণ বহন করে। যদি ইমামগণ এগুলো পাঠ করার বৈধতায় (جواز) বিশ্বাসী না হতেন, তবে তারা তা করতেন না এবং ধারাবাহিকভাবে এর ওপর অটল থাকতেন না।
(খণ্ড: ১) আল-আসফারুল মুকাদ্দাসাহ ইনদাল ইয়াহুদ ওয়া আসারুহা ফী ইনহিরাফিহিম আরদুন ওয়া নাকদুন (পৃষ্ঠা: ৩২৮)
وذلك القصد داخل ضمن ما أمرنا به الله عز وجل في قوله تعالى: {ادْعُ إِلِىَ سَبِيلِ رَبّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ وَجَادِلْهُم بِالّتِي هِيَ أَحْسَنُ إِنَّ رَبَّكَ هُوَ أَعْلَمُ بمِنْ ضَلَّ عَنْ سَبِيلِهِ وَهُوَ أَعْلَمُ بِالمُهْتَدِينَ} 1. وقوله تعالى: {وَلَا تُجَادِلُوَاْ أَهْلَ الْكِتَابِ إِلاّ بِالّتِي هِيَ أَحْسَنُ إلا الذين ظلموا منهم وقولوا آمنا بالذي أنزل إلينا وأنزل إليكم وإلهنا وإلهكم واحد ونحن له مسلمون} 2.

والمجادلة المحمودة التي أمرنا بها هي التي تكون عن علم وبصيرة وهدي وذلك يقتضي النظر في كتبهم لإلزامهم الحجة وإقامة البينة عليهم والله أعلى وأعلم3.

--------------------------------------------

1 سورة النحل، آية 125.

2 سورة العنكبوت، آية 46.

3 للتوسع في هذا الموضوع يراجع: مصنف ابن أبي شيبة 5/312، 318، جامع بيان العلم 2/40-42 للإمام ابن عبد البر، مجموع الفتاوى 13/366 للإمام ابن تيمية، فتح الباري 6/498، 13/333-335، 523-526 للحافظ ابن حجر، الإسرائيليات في التفسير والحديث - د. محمد الذهبي، الإسرائيليات والموضوعات في كتب التفسير- د. محمد أبو شهبة، الإسرائيليات وأثرها في كتب التفسير - د. رمزي نعناعة.
এবং এই উদ্দেশ্যটি আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার সেই নির্দেশের অন্তর্ভুক্ত যা তিনি তাঁর মহান বাণীতে প্রদান করেছেন: "তোমার প্রতিপালকের পথের দিকে হিকমত ও সদুপদেশের মাধ্যমে আহ্বান করো এবং তাদের সাথে বিতর্ক করো উত্তম পন্থায়। নিশ্চয় তোমার প্রতিপালক ভালো জানেন কে তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং তিনি হিদায়াতপ্রাপ্তদের সম্পর্কেও ভালো জানেন।" ১। এবং মহান আল্লাহর বাণী: "তোমরা কিতাবধারীদের সাথে উত্তম পন্থা ব্যতীত বিতর্ক করো না, তবে তাদের মধ্যে যারা জুলুম করে তারা ব্যতীত। আর তোমরা বলো, আমরা ঈমান এনেছি যা আমাদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে এবং যা তোমাদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে তার ওপর। আমাদের ইলাহ ও তোমাদের ইলাহ তো একই, আর আমরা তাঁরই প্রতি আত্মসমর্পণকারী।" ২।

আর প্রশংসনীয় বিতর্ক (المجادلة المحمودة) — যার আদেশ আমাদের দেওয়া হয়েছে — তা হলো যা জ্ঞান (علم), অন্তর্দৃষ্টি (بصيرة) এবং সঠিক নির্দেশনার (هدي) ভিত্তিতে হয়। আর এটি তাদের ওপর অকাট্য দলীল (الحجة) প্রতিষ্ঠিত করা এবং প্রমাণ (البينة) উপস্থাপনের লক্ষ্যে তাদের কিতাবসমূহ পর্যালোচনার দাবি রাখে। আর আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞাত ৩।

--------------------------------------------

১. সূরা আন-নাহল, আয়াত ১২৫।

২. সূরা আল-আনকাবুত, আয়াত ৪৬।

৩. এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্য দেখুন: মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বাহ ৫/৩১২, ৩১৮; ইমাম ইবনে আব্দুল বার রচিত জামিউ বায়ানিল ইলম ২/৪০-৪২; ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ রচিত মাজমুউল ফাতাওয়া ১৩/৩৬৬; হাফিজ ইবনে হাজার রচিত ফাতহুল বারী ৬/৪৯৮, ১৩/৩৩৩-৩৩৫, ৫২৩-৫২৬; ড. মুহাম্মদ আল-যাহাবি রচিত আল-ইসরাইলিয়্যাত ফিত তাফসির ওয়াল হাদিস; ড. মুহাম্মদ আবু শাহবাহ রচিত আল-ইসরাইলিয়্যাত ওয়াল মাউদুয়াত ফি কুতুবিত তাফসির; ড. রামজি না'নাআহ রচিত আল-ইসরাইলিয়্যাত ওয়া আসারুহা ফি কুতুবিত তাফসির।
(খণ্ড: ১) আল-আসফারুল মুকাদ্দাসাহ ইনদাল ইয়াহুদ ওয়া আসারুহা ফী ইনহিরাফিহিম আরদুন ওয়া নাকদুন (পৃষ্ঠা: ৩২৯)
‌‌الأسفار عند اليهود عرض ونقد

‌‌التعريف بالأسفار المقدسة عند اليهود

…

المبحث الثاني الأسفار المقدسة عند اليهود - عرض ونقد

المطلب الأول: التعريف بالأسفار المقدسة عند اليهود.

إن الكتب المقدسة عند اليهود تنقسم على وجه الإجمال إلى قسمين هما:

الأول: التوراة وما يتبعها من أسفار الأنبياء المقدسة عند اليهود، وهذا القسم يسميه اليهود بعدة أسماء منها:

1- أهمها وأشهرها (التناخ) ويكتبونها بالعبرية (ت، ن،ك) وهي حروف اختصار من الألفاظ (توراة) ، نبوئيم (الأنبياء) ، كتوبيم (الكتب) وهي الأجزاء الثلاثة الكبيرة التي يتألف منها العهد القديم كما سيأتي تفصيله إن شاء الله تعالى.

2- (المقرا) ومعناه: النص المقروء، لأنهم مطالبون بقراءته في عباداتهم والرجوع إلى الأحكام الشرعية فيها التي تنظم حياتهم.

3- (المِسُورَه) أو (المِسُورِتْ) وهو عندهم صفة علمية خاصة، يعنون بذلك النص المقدس المروي عن الأسلاف رواية متواترة - على حد زعمهم - ارتضتها أجيال العلماء ورفضت ما عداها1.

الثاني: التلمود: الذي يعتبره اليهود مصدراً من مصادر التشريع اليهودي ومن أسفارهم المقدسة لديهم، ويتكون من جزئين أحدهما يسمى المِشْنا أو المشْنَة، والثاني الجمارا أو الجمارة.

--------------------------------------------

1 انظر: الفكر الديني اليهودي ص62،63 د. حسن ظاظا.
ইহুদিদের কিতাবসমূহ: উপস্থাপনা ও সমালোচনা

ইহুদিদের পবিত্র কিতাবসমূহের পরিচিতি

…

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইহুদিদের পবিত্র কিতাবসমূহ - উপস্থাপনা ও সমালোচনা

প্রথম অনুচ্ছেদ: ইহুদিদের পবিত্র কিতাবসমূহের পরিচিতি।

ইহুদিদের পবিত্র কিতাবসমূহ সামগ্রিকভাবে দুটি ভাগে বিভক্ত, সেগুলো হলো:

প্রথম: তাওরাত এবং এর অনুবর্তী নবীদের কিতাবসমূহ যা ইহুদিদের নিকট পবিত্র। এই বিভাগটিকে ইহুদিরা কয়েকটি নামে অভিহিত করে থাকে, তার মধ্যে রয়েছে:

১- এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রসিদ্ধ হলো (তানাক), যা তারা হিব্রু বর্ণে (ত, ন, ক) লিখে থাকে। এটি মূলত তাওরাহ (তাওরাত), নেভী’ইম (নবীগণ) এবং কেতুভিম (গ্রন্থসমূহ) শব্দত্রয়ের আদ্যক্ষরের সমষ্টি। এগুলো ওল্ড টেস্টামেন্টের সেই তিনটি বড় অংশ যা নিয়ে এটি গঠিত, যেমনটি ইনশাআল্লাহ সামনে বিস্তারিতভাবে আসবে।

২- (মিকরা), যার অর্থ হলো: পঠিত পাঠ; কারণ তারা তাদের উপাসনায় এটি পাঠ করতে এবং তাদের জীবন পরিচালনাকারী শরয়ি বিধানাবলির জন্য এর দিকে ফিরে যেতে আদিষ্ট।

৩- (মাসোরাহ) বা (মাসোরেত), এটি তাদের নিকট একটি বিশেষ ইলমি পরিভাষা। এর দ্বারা তারা সেই পবিত্র পাঠকে বোঝায় যা পূর্ববর্তীদের নিকট থেকে ধারাবাহিক বর্ণনা (رواية متواترة) সূত্রে প্রাপ্ত — তাদের দাবি অনুযায়ী — যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম আলেমগণ গ্রহণ করে নিয়েছেন এবং এ ছাড়া অন্য সব কিছুকে বর্জন করেছেন।১

দ্বিতীয়: তালমুদ: যাকে ইহুদিরা ইহুদি শরয়ি আইনের অন্যতম উৎস এবং তাদের পবিত্র কিতাবসমূহের অন্তর্ভুক্ত মনে করে। এটি দুটি অংশ নিয়ে গঠিত; যার একটিকে বলা হয় মিশনা এবং দ্বিতীয়টিকে গেমারা।

--------------------------------------------

১ দেখুন: আল-ফিকর আদ-দ্বীনি আল-ইয়াহুদি, পৃ. ৬২, ৬৩; ড. হাসান জাজা।
(খণ্ড: ১) আল-আসফারুল মুকাদ্দাসাহ ইনদাল ইয়াহুদ ওয়া আসারুহা ফী ইনহিরাফিহিম আরদুন ওয়া নাকদুন (পৃষ্ঠা: ৩৩০)
وهناك أسفار أخرى كثيرة عند اليهود لم تدخل ضمن الأسفار القانونية التي يتكوّن منها كتاب اليهود المقدس، وإن كانوا يحيطون تلك الأسفار الغير معترف بها -ويسمونها بـ (الكتب غير القانونية) أو (الأبوكريفا) - بكثير من العناية والاهتمام ويجعلونها استمراراً لتاريخهم.

وسوف نبدأ الحديث - إن شاء الله تعالى - بشيء من التفصيل عن القسم الأول عرضاً ونقداً ثم نتلوه بالقسم الثاني.

فأما القسم الأول: فإنه يندرج تحت ما يسمّى بـ (الكتاب المقدس) The Bible الذي يبذل النصارى جهوداً جبارة وخبيثة في سبيل ترجمته بمختلف اللغات واللهجات ونشره وتوزيعه في جميع أنحاء العالم.

وهذا الكتاب المزعوم بأنه مقدس ينقسم إلى قسمين رئيسين هما:

الأول: يسمى (العهد القديم1 أو العتيق) Old Testament ويحتوي على الأسفار المنسوبة إلى موسى والأنبياء من بعده الذين كانوا قبل عيسى عليهم الصلاة والسلام.

الثاني: يسمى (العهد الجديد) New Testament ويحتوي على الأناجيل وما يتبعها من الأسفار المنسوبة إلى الحواريين وتلامذتهم.

وهذا التقسيم والتسمية من النصارى الذين يقدسون العهد القديم والجديد، ومجموعهما هو الكتاب المقدس عندهم، ويعتقدونه وحياً كُتب بإلهام من الروح القدس لمؤلفيها.

1 العهد: هو الميثاق، ومعنى ذلك أن هذه الأسفار تعتبر ميثاقاً أخذه الله على الناس ليؤمنوا ويعملوا به، وأخذ هذا المعنى من سفر الخروج في التوراة 24/8 وفيه (وأخذ موسى الدم ورشه على الشعب وقال: هو ذا دم العهد الذي قطعه الرب معكم على جميع هذه الأقوال) .
ইহুদিদের কাছে আরও অনেক পুস্তক (أسفار) রয়েছে যা তাদের পবিত্র গ্রন্থ গঠনকারী প্রামাণিক পুস্তকসমূহের (الأسفار القانونية) অন্তর্ভুক্ত হয়নি। যদিও তারা এই অস্বীকৃত পুস্তকগুলোকে—যাকে তারা 'অপ্রামাণিক কিতাবসমূহ' (الكتب غير القانونية) বা 'অ্যাপোক্রিফা' (الأبوكريفا) বলে অভিহিত করে—অত্যন্ত যত্ন ও গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে এবং সেগুলোকে তাদের ইতিহাসেরই ধারাবাহিকতা মনে করে।

ইনশাআল্লাহ তাআলা, আমরা প্রথম বিভাগ সম্পর্কে উপস্থাপনা ও সমালোচনার (نقداً) মাধ্যমে বিস্তারিত আলোচনা শুরু করব, অতঃপর তার ধারাবাহিকতায় দ্বিতীয় বিভাগ নিয়ে আলোচনা করব।

প্রথম বিভাগটি হলো: এটি তথাকথিত 'পবিত্র বাইবেল' (الكتاب المقدس)-এর অন্তর্ভুক্ত, যা বিভিন্ন ভাষা ও উপভাষায় অনুবাদ করতে এবং সারা বিশ্বে তা প্রচার ও বিতরণের জন্য খ্রিস্টানরা বিশাল ও ধূর্ত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

পবিত্র বলে দাবিকৃত এই কিতাবটি প্রধানত দুটি ভাগে বিভক্ত, সেগুলো হলো:

প্রথমটি: একে 'পুরাতন নিয়ম' (العهد القديم) বা 'প্রাচীন নিয়ম' (العتيق) বলা হয়। এটি মুসা ও তাঁর পরবর্তী ঈসা (আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর পূর্ববর্তী নবীদের প্রতি সম্বন্ধযুক্ত (المنسوبة) পুস্তকসমূহ (الأسفار) ধারণ করে।

দ্বিতীয়টি: একে 'নতুন নিয়ম' (العهد الجديد) বলা হয়। এতে ইনজিলসমূহ এবং হাওয়ারীগণ (الحواريين) ও তাঁদের শিষ্যদের প্রতি সম্বন্ধযুক্ত (المنسوبة) পরবর্তী পুস্তকসমূহ রয়েছে।

এই বিভাজন ও নামকরণ খ্রিস্টানদের পক্ষ থেকে, যারা পুরাতন ও নতুন নিয়ম উভয়কেই পবিত্র জ্ঞান করে। তাদের নিকট এ দুইয়ের সমষ্টিই হলো পবিত্র বাইবেল। তারা বিশ্বাস করে যে, এটি এমন এক ওহি (وحي), যা এর লেখকদের প্রতি পবিত্র আত্মার (الروح القدس) অনুপ্রেরণায় (إلهام) লিপিবদ্ধ হয়েছে।

১. নিয়ম (العهد): এর অর্থ হলো অঙ্গীকার (الميثاق)। এর তাৎপর্য হলো, এই পুস্তকসমূহকে (الأسفار) একটি অঙ্গীকার (ميثاقاً) হিসেবে গণ্য করা হয় যা আল্লাহ মানুষের নিকট থেকে গ্রহণ করেছেন যাতে তারা ঈমান আনে এবং সে অনুযায়ী আমল করে। এই অর্থটি তাওরাতের যাত্রাপুস্তক (سفر الخروج) ২৪/৮ থেকে নেওয়া হয়েছে, যেখানে রয়েছে: (অতঃপর মুসা রক্ত নিয়ে তা জনগণের ওপর ছিটিয়ে দিলেন এবং বললেন: দেখ, এই হলো সেই নিয়মের (العهد) রক্ত, যা এই সকল বাক্যের ভিত্তিতে প্রভু তোমাদের সাথে সম্পাদন করেছেন)।
(খণ্ড: ১) আল-আসফারুল মুকাদ্দাসাহ ইনদাল ইয়াহুদ ওয়া আসারুহা ফী ইনহিরাফিহিম আরদুন ওয়া নাকদুন (পৃষ্ঠা: ৩৩১)
أما اليهود فإنهم لا يقدسون إلا العهد القديم فقط، وهو الكتاب المقدس عندهم، ولا يعترفون بالعهد الجديد ويكفرون به لكفرهم بالمسيح عليه الصلاة والسلام وقولهم بأنهم قتلوه وصلبوه، لذلك سوف تتركز دراستنا في هذا البحث على العهد القديم أو ما يسميه اليهود بـ (التناخ، أو المقرا، أو المسورت) ويشتمل على ستة وثلاثين سفراً يقسمه اليهود باعتبار محتوياته إلى ثلاثة أقسام رئيسة.

ومما يجدر التنبيه إليه أن اليهود والنصارى قد وضعوا مصطلحات خاصة بكتبهم المقدسة لديهم ليسهل عليهم الوقوف والرجوع إلى نصوصها، ومن تلك المصطلحات:

السفر: ويعني (الكتاب أو الباب) ، وجمعه أسفار، وله عنوان أو مسمى، فيقال مثلاً: سفر التكوين، سفر أرميا ونحوه.

الإصحاح: ويعني (الفَصْل) ، حيث إن السفر يشتمل على عدّة إصحاحات، ولكل إصحاح رقم، فيقال مثلاً: الإصحاح الأول، الإصحاح الثاني، وهكذا. وقد يرمز للإصحاح بالرمز (صح) .

الفقرة: وتعني (العبارة أو النص) ، فالإصحاح الواحد يحتوي على عدة فقرات أو نصوص مرقّمة.

كما تختصر تلك المصطلحات في عدة رموز، مثاله:

(تك 7/21-35) ، ومعناه سفر التكوين، الإصحاح السابع، الفقرات من الفقرة الحادية والعشرين إلى الفقرة الخامسة والثلاثين.
ইহুদিদের ক্ষেত্রে বলা যায় যে, তারা কেবল পুরাতন নিয়ম বা ওল্ড টেস্টামেন্টকেই পবিত্র জ্ঞান করে এবং এটিই তাদের নিকট পবিত্র ধর্মগ্রন্থ। তারা নতুন নিয়ম বা নিউ টেস্টামেন্টকে স্বীকৃতি দেয় না এবং তা প্রত্যাখ্যান করে; কারণ তারা মসীহ (আলাইহিস সালাম)-কে অস্বীকার করে এবং দাবি করে যে তারা তাঁকে হত্যা ও ক্রুশবিদ্ধ করেছে। তাই এই গবেষণায় আমাদের আলোচনা মূলত পুরাতন নিয়ম অথবা ইহুদিরা যাকে (তানাক, মিকরা বা মাসোরেত) বলে থাকে, তার ওপর কেন্দ্রীভূত হবে। এটি ছত্রিশটি খণ্ড (سفر) নিয়ে গঠিত, যা ইহুদিরা বিষয়বস্তুর ভিত্তিতে তিনটি প্রধান ভাগে বিভক্ত করে।

এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, ইহুদি ও খ্রিস্টানরা তাদের পবিত্র গ্রন্থগুলোর জন্য বিশেষ কিছু পরিভাষা নির্ধারণ করেছে যাতে সেগুলোর মূল পাঠ্যসমূহ খুঁজে বের করা ও সেগুলোর উদ্ধৃতি প্রদান করা সহজ হয়। সে সকল পরিভাষার কয়েকটি হলো:

খণ্ড (سفر): এর অর্থ হলো (বই বা অধ্যায়), এবং এর বহুবচন হলো আসফার (أسفار)। এর নির্দিষ্ট শিরোনাম বা নাম থাকে, যেমন বলা হয়: আদিপুস্তক, ইয়ারমিয়া ইত্যাদি।

পরিচ্ছেদ (إصحاح): এর অর্থ হলো (বিভাগ)। যেহেতু একটি খণ্ড (سفر) একাধিক পরিচ্ছেদ (إصحاح) নিয়ে গঠিত এবং প্রতিটি পরিচ্ছেদের (إصحاح) একটি নম্বর থাকে। যেমন বলা হয়: প্রথম পরিচ্ছেদ, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ ইত্যাদি। পরিচ্ছেদকে (إصحاح) সংক্ষেপে (صح) প্রতীক দ্বারাও প্রকাশ করা হয়।

অনুচ্ছেদ (فقرة): এর অর্থ হলো (উক্তি বা মূল পাঠ)। একটি পরিচ্ছেদ (إصحاح) বেশ কিছু নম্বরযুক্ত অনুচ্ছেদ (فقرة) বা পাঠ নিয়ে গঠিত হয়।

আবার এই পরিভাষাগুলোকে বিভিন্ন প্রতীকের মাধ্যমেও সংক্ষেপ করা হয়, উদাহরণস্বরূপ:

(তক ৭/২১-৩৫), এর অর্থ হলো আদিপুস্তক, সপ্তম পরিচ্ছেদ (إصحاح), একুশতম অনুচ্ছেদ (فقرة) থেকে পঁয়ত্রিশতম অনুচ্ছেদ (فقرة) পর্যন্ত।
(খণ্ড: ১) আল-আসফারুল মুকাদ্দাসাহ ইনদাল ইয়াহুদ ওয়া আসারুহা ফী ইনহিরাফিহিম আরদুন ওয়া নাকদুন (পৃষ্ঠা: ৩৩২)
تقسيم اليهود لأسفارهم المقدسة (العهد القديم)

بحسب محتوياته

(1) التوراة: ويشتمل على خمسة أسفار هي:

1- سفر التكوين (50 إصحاحاً)

2- سفر الخروج (40 إصحاحاً)

3- سفر اللاويين (27 إصحاحاً)

4- العدد (36 إصحاحاً)

5- التثنية (34 إصحاحاً)

(2) أسفار الأنبياء

أسفار الأنبياء الأول (المتقدمين) وهي:

1- سفر يشوع (يوشع بن نون) (24 إصحاحاً)

2- سفر القضاة (21 إصحاحاً)

3- سفر صموئيل الأول (31 إصحاحاً)

سفر صموئيل الثاني (24 إصحاحاً)

4- سفر الملوك الأول (22 إصحاحاً)

سفر الملوك الثاني (25 إصحاحاً)

أسفار الأنبياء الأُخر (المتأخرون) وهي:

1- سفر أشعيا (66 إصحاحاً)

2- سفر ارميا (52 إصحاحاً)

3- سفر حزقيال (48 إصحاحاً)

4- أسفار الأنبياء الصغار أو الاثني عشر نبياً وهي:

1/ سفر هوشع (14إصحاحاً)

2/سفر يوئيل (3 إصحاحات)

3/ سفر عاموس (9إصحاحات)

4/ سفر عوبديا (إصحاح واحد)

5/ سفر يونان (4 إصحاحات)

6/ سفر ميخا (7 إصحاحات)

7/ سفر ناحوم (3 إصحاحات)

8/ سفر حبقوق (3 إصحاحات)

9/ سفر صفنيا (3 إصحاحات)

10/ سفر حجاي (إصحاحان)

11/سفر زكريا (14 إصحاحاً)

12/ سفر ملاخي (4 إصحاحات)

(3) الكتب (كتب الحكمة) : وتشتمل على الأسفار الآتية:

1- مزامير داود (150 مزموراً)

2- أمثال سليمان (31 إصحاحاً)

3- سفر أيوب (42 إصحاحاً)

4- نشيد الأناشيد (8 إصحاحات)

5- سفر روث (راعوث) (4 إصحاحات)

6- مراثي أرميا (5 إصحاحات)

7- سفر الجامعة (12 إصحاحاً)

8- سفر إستير (10 إصحاحات)

9- سفر دانيال (12 إصحاحاً)

10- سفر عزرا (10 إصحاحات)

11- سفر نحميا (13 إصحاحاً)

12- سفر أخبار الأيام، وينقسم إلى قسمين:

أخبار الأيام الأول (29 إصحاحاً) ، أخبار الأيام الثاني (36 إصحاحاً)

--------------------------------------------

1 انظر: قاموس الكتاب المقدس ص467، الفكر الديني اليهودي ص12،32،45-47. د. حسن ظاظا.
ইহুদিদের পবিত্র কিতাবসমূহের (পুরানো নিয়ম) বিভাজন

বিষয়বস্তু অনুযায়ী

(১) তওরাত: এতে পাঁচটি কিতাব অন্তর্ভুক্ত, যথা:

১- আদিপুস্তক (৫০টি অধ্যায়)

২- যাত্রাপুস্তক (৪০টি অধ্যায়)

৩- লেবীয় পুস্তক (২৭টি অধ্যায়)

৪- গণনা পুস্তক (৩৬টি অধ্যায়)

৫- দ্বিতীয় বিবরণ (৩৪টি অধ্যায়)

(২) নবীদের কিতাবসমূহ

পূর্ববর্তী (المتقدمين) নবীদের কিতাবসমূহ, সেগুলো হলো:

১- যিহোশূয়ের কিতাব (ইউশা বিন নুন) (২৪টি অধ্যায়)

২- বিচারকর্তৃগণের কিতাব (২১টি অধ্যায়)

৩- প্রথম শমূয়েল (৩১টি অধ্যায়)

দ্বিতীয় শমূয়েল (২৪টি অধ্যায়)

৪- প্রথম রাজাবলি (২২টি অধ্যায়)

দ্বিতীয় রাজাবলি (২৫টি অধ্যায়)

পরবর্তী (المتأخرون) নবীদের কিতাবসমূহ, সেগুলো হলো:

১- যিশাইয়র কিতাব (৬৬টি অধ্যায়)

২- যিরমিয়র কিতাব (৫২টি অধ্যায়)

৩- হিজকিয়েলের কিতাব (৪৮টি অধ্যায়)

৪- ছোট নবীদের কিতাবসমূহ বা বারোজন নবীর কিতাব, সেগুলো হলো:

১/ হোশেয়-এর কিতাব (১৪টি অধ্যায়)

২/ যোয়েল-এর কিতাব (৩টি অধ্যায়)

৩/ আমোস-এর কিতাব (৯টি অধ্যায়)

৪/ ওবদীয়-এর কিতাব (১টি অধ্যায়)

৫/ যোনা-এর কিতাব (৪টি অধ্যায়)

৬/ মীখা-এর কিতাব (৭টি অধ্যায়)

৭/ নাহূম-এর কিতাব (৩টি অধ্যায়)

৮/ হবক্কূক-এর কিতাব (৩টি অধ্যায়)

৯/ সফনিয়-এর কিতাব (৩টি অধ্যায়)

১০/ হগয়-এর কিতাব (২টি অধ্যায়)

১১/ যাকারিয়া-এর কিতাব (১৪টি অধ্যায়)

১২/ মালাখি-এর কিতাব (৪টি অধ্যায়)

(৩) অন্যান্য কিতাবসমূহ (প্রজ্ঞা বিষয়ক কিতাব): এতে নিচের কিতাবগুলো অন্তর্ভুক্ত:

১- দাউদের যবুর (১৫০টি স্তোত্র)

২- সুলায়মানের হিতোপদেশ (৩১টি অধ্যায়)

৩- আইয়ুবের কিতাব (৪২টি অধ্যায়)

৪- শ্রেষ্ঠ গীত (৮টি অধ্যায়)

৫- রূতের কিতাব (৪টি অধ্যায়)

৬- যিরমিয়র বিলাপ (৫টি অধ্যায়)

৭- উপদেশক (১২টি অধ্যায়)

৮- ইষ্টেরের কিতাব (১০টি অধ্যায়)

৯- দানিয়েলের কিতাব (১২টি অধ্যায়)

১০- ইযরা বা উযায়েরের কিতাব (১০টি অধ্যায়)

১১- নহিমিয়ের কিতাব (১৩টি অধ্যায়)

১২- বংশাবলি, এটি দুই ভাগে বিভক্ত:

প্রথম বংশাবলি (২৯টি অধ্যায়), দ্বিতীয় বংশাবলি (৩৬টি অধ্যায়)

--------------------------------------------

১ দেখুন: কামুসুল কিতাবিল মুকাদ্দাস, পৃষ্ঠা ৪৬৭; আল-ফিকরুদ্দীন আল-ইয়াহুদি, পৃষ্ঠা ১২, ৩২, ৪৫-৪৭। ড. হাসান জাজা।
(খণ্ড: ১) আল-আসফারুল মুকাদ্দাসাহ ইনদাল ইয়াহুদ ওয়া আসারুহা ফী ইনহিরাফিহিম আরদুন ওয়া নাকদুন (পৃষ্ঠা: ৩৩৭)
وهذه النصوص غير القانونية أو الكتابات الخارجة أو الأسفار المخفية هي كالآتي1:

1- أسفار تاريخية تشمل: سفر أسدراس الأول، سفر المكابيين الأول والثاني، وإضافات إلى سفر دانيال (وهذه الإضافات هي نشيد الثلاثة الفتية المقدسين، وتتمة سفر دانيال، وقصة سوسن العفيفة، وقصة بيل) ، وبقية سفر أستير، ورسالة أرميا، وصلاة منسي.

2- أسفار قصصية تحوي أساطير وهي: سفر باروخ، وسفر طوبيت، وسفر يهوديت.

3- أسفار رُوءوِيَّة: أسدراس الثاني.

4- سفران تعليميان وهما: سفر حكمة سليمان، وسفر حكمة يشوع بن سيراخ.
এই অপ্রামাণিক পাঠ্যসমূহ বা বহির্ভূত রচনাগুলো অথবা লুকায়িত কিতাবগুলো নিম্নরূপ ১:

১- ঐতিহাসিক কিতাবসমূহ, যার অন্তর্ভুক্ত হলো: প্রথম এসড্রাস পুস্তক, প্রথম ও দ্বিতীয় মাকাবীয় পুস্তক, এবং দানিয়েল পুস্তকের অতিরিক্ত অংশ (এই অতিরিক্ত অংশগুলো হলো: তিন পবিত্র যুবকের সঙ্গীত, দানিয়েল পুস্তকের অবশিষ্টাংশ, সতী সুসানা-এর কাহিনী এবং বেল-এর কাহিনী), এষ্টের পুস্তকের অবশিষ্টাংশ, যিরমিয়-এর পত্র এবং মনঃশি-এর প্রার্থনা।

২- কাহিনীভিত্তিক কিতাবসমূহ যা উপকথা ধারণ করে, সেগুলো হলো: বারুক-এর পুস্তক, টোবিট-এর পুস্তক এবং জুডিথ-এর পুস্তক।

৩- দর্শন সম্পর্কিত কিতাবসমূহ: দ্বিতীয় এসড্রাস।

৪- শিক্ষা ও প্রজ্ঞা বিষয়ক দুটি কিতাব, যেগুলো হলো: সুলাইমান-এর প্রজ্ঞা এবং যীশু বিন সিরাখ-এর প্রজ্ঞা।
(খণ্ড: ১) আল-আসফারুল মুকাদ্দাসাহ ইনদাল ইয়াহুদ ওয়া আসারুহা ফী ইনহিরাফিহিম আরদুন ওয়া নাকদুন (পৃষ্ঠা: ৩৩৩)
المطلب الثاني:‌‌ عرض موجز لمحتويات الأسفار:

القسم الأول: التوراة: في اللغة: كلمة عبرانية بمعنى الشريعة والتعليم، وتسمى بكتب موسى أو الأسفار الخمسة أو الناموس (ومعناه القانون) أو البنتاتيك Pentateuch (وهي كلمة يونانية تعني الأسفار الخمسة) 1.

وأما في اصطلاح اليهود والنصارى: فالتوراة هي الأسفار الخمسة (التكوين، الخروج، اللاويين، العدد، التثنية) التي كتبها موسى عليه الصلاة والسلام.

وأما في اصطلاح المسلمين: فالتوراة2 هي الكتاب الذي أنزله الله عز وجل على رسوله موسى عليه الصلاة والسلام فيه الهدى والنور للناس، ولكن اليهود حرّفوه وبدلوه، وقد نسخه الله بالقرآن الكريم المنزل على خاتم الأنبياء والمرسلين (ز) .

محتويات الأسفار الخمسة بإيجاز:

1- سفر التكوين: ويقع في (50) إصحاحاً، وفيه قصة خلق العالم وتكوينه، وقصص آدم عليه الصلاة والسلام وذريته ونوح عليه الصلاة والسلام وإبراهيم عليه الصلاة والسلام وذريته، وينتهي باستقرار بني إسرائيل في مصر ووفاة يوسف عليه الصلاة والسلام.

2- سفر الخروج: ويقع في (40) إصحاحاً، وفيه قصة موسى عليه الصلاة والسلام وخروجه ببني إسرائيل من مصر، وتاريخ بني إسرائيل في أرض التيه، وفيه الوصايا العشر وطائفة من الأحكام والتشريعات.

1 انظر: قاموس الكتاب المقدس ص235،339،609،801،808، السنن القويم في تفسير العهد القديم 1/1.

2 ورد في الصحيحين وغيرهما أن الله عز وجل كتب التوراة بيده. (انظر: صحيح البخاري مع الفتح 11/505، 13/422، وصحيح مسلم 4/2032-2044) .
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ:‌‌ গ্রন্থসমূহের (আসফার) বিষয়বস্তুর সংক্ষিপ্ত উপস্থাপনা:

প্রথম অংশ: তাওরাত: আভিধানিক অর্থে: এটি একটি হিব্রু শব্দ যার অর্থ বিধান ও শিক্ষা। একে মূসা (আ.)-এর কিতাবসমূহ বা পঞ্চপুস্তক অথবা নামুস (যার অর্থ আইন) অথবা পেন্টাটিউক Pentateuch (এটি একটি গ্রিক শব্দ যার অর্থ পঞ্চপুস্তক) বলা হয়। ১

আর ইহুদি ও খ্রিস্টানদের পরিভাষায়: তাওরাত হলো সেই পাঁচটি পুস্তক (আদিপুস্তক, যাত্রাপুস্তক, লেবীয় পুস্তক, গণনা পুস্তক, দ্বিতীয় বিবরণ) যা মূসা আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম লিখেছিলেন।

আর মুসলমানদের পরিভাষায়: তাওরাত২ হলো সেই কিতাব যা আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তাঁর রাসূল মূসা আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম-এর ওপর অবতীর্ণ করেছেন, যাতে মানুষের জন্য হেদায়াত ও নূর ছিল। কিন্তু ইহুদিরা তা বিকৃত ও পরিবর্তন করেছে এবং আল্লাহ তাআলা সর্বশেষ নবী ও রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওপর অবতীর্ণ পবিত্র কুরআনের মাধ্যমে তা রহিত (نسخ) করেছেন।

পঞ্চপুস্তকের বিষয়বস্তুর সংক্ষিপ্ত বিবরণ:

১- আদিপুস্তক: এটি ৫০টি অধ্যায়ে বিভক্ত। এতে বিশ্ব সৃষ্টি ও গঠনের কাহিনী, আদম আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম ও তাঁর বংশধর, নূহ আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম এবং ইবরাহিম আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম ও তাঁর বংশধরের কাহিনী বর্ণিত হয়েছে। এটি মিসরে বনী ইসরায়েলের বসবাস এবং ইউসুফ আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম-এর ইন্তেকালের মাধ্যমে শেষ হয়েছে।

২- যাত্রাপুস্তক: এটি ৪০টি অধ্যায়ে বিভক্ত। এতে মূসা আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম-এর কাহিনী, বনী ইসরায়েলকে নিয়ে তাঁর মিসর থেকে বের হওয়া এবং 'তিহ' প্রান্তরে বনী ইসরায়েলের ইতিহাস বর্ণিত হয়েছে। এতে দশ আজ্ঞা এবং একদল বিধান ও আইনকানুন রয়েছে।

১ দেখুন: কামুস আল-কিতাব আল-মুকাদ্দাস, পৃষ্ঠা ২৩৫, ৩৩৯, ৬০৯, ৮০১, ৮০৮; আস-সুনান আল-কাউয়িম ফি তাফসির আল-আহদ আল-কাদিম ১/১।

২ সহীহাইন ও অন্যান্য গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে, আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা নিজ হাতে তাওরাত লিখেছেন। (দেখুন: ফাতহুল বারীসহ সহীহ বুখারী ১১/৫০৫, ১৩/৪২২ এবং সহীহ মুসলিম ৪/২০৩২-২০৪৪)।
(খণ্ড: ১) আল-আসফারুল মুকাদ্দাসাহ ইনদাল ইয়াহুদ ওয়া আসারুহা ফী ইনহিরাফিহিম আরদুন ওয়া নাকদুন (পৃষ্ঠা: ৩৩৪)
3- سفر اللاّويين: ويقع في (27) إصحاحاً، شغل معظمه بشئون العبادات وخاصة ما تعلق منها بالأضحية والقرابين والطقوس الكهنوتية التي كانت موكولة إلى سبط لاوي بن يعقوب، ومن ثمّ نسب إليهم.

4- سفر العدد: ويقع في (36) إصحاحاً، وقد شغل معظمه بالعدِّ والإحصاء عن قبائل بني إسرائيل وجيوشهم وكثير مما يمكن إحصاؤه من شئونهم، ويتخلل ذلك بعض الأحكام.

5- سفر التثنية: ويقع في (34) إصحاحاً، وقد أعيد فيه ذكر الوصايا العشر مرة ثانية، وفيه الأحكام والتشريعات المتنوعة، وينتهي هذا السفر بوفاة موسى عليه الصلاة والسلام ودفنه، وبه تنتهي التوراة.

وأسماء هذه الأسفار الخمسة مأخوذة عن نسخة التوراة باللغة اليونانية، أما في النسخة العبرية للتوراة المعتمدة عند اليهود فإن هذه الأسفار تسمّى بالكلمات التي في بداية كل سفر منها كالآتي:

- سفر التكوين، يسمى (براشيت) أي [في البدء] .

- وسفر الخروج يسمى (اله شموت) أي [وهذه أسماء] .

- وسفر اللاويين يسمى (ويقرا) أي [ودعا] .

- وسفر العدد يسمى (بمدبر) أي [في البرية] .

- وسفر التثنية يسمى (اله هدبريم) أي [هذا هو الكلام] 1.

القسم الثاني: أسفار الأنبياء، وتنقسم إلى قسمين هما:-

(1) أسفار الأنبياء الأول (المتقدمين) : وتتضمن تاريخ بني إسرائيل وما جرى لهم من الحوادث منذ دخولهم فلسطين بقيادة يشوع (يوشع) فتى موسى

--------------------------------------------

1 انظر: السنن القويم في تفسير أسفار العهد القديم 1/1.
৩- লেভীয় পুস্তক: এটি (২৭)টি অধ্যায়ে বিভক্ত। এর অধিকাংশ অংশই ইবাদত সংক্রান্ত বিষয়াদি, বিশেষ করে কুরবানি, উৎসর্গ এবং যাজকীয় রীতিনীতি নিয়ে গঠিত যা ইয়াকুব (আ.)-এর পুত্র লেভী (লাউয়ি)-র বংশধরদের ওপর ন্যস্ত ছিল; আর এ কারণেই এটি তাদের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে।

৪- গণনা পুস্তক: এটি (৩৬)টি অধ্যায়ে বিভক্ত। এর অধিকাংশ বনী ইসরাঈলের গোত্রসমূহ, তাদের সেনাবাহিনী এবং তাদের সংখ্যাতাত্ত্বিক বহুবিধ বিষয়াদির গণনা ও পরিসংখ্যান নিয়ে গঠিত; এর মাঝে মাঝে কিছু বিধানও বর্ণিত হয়েছে।

৫- দ্বিতীয় বিবরণ: এটি (৩৪)টি অধ্যায়ে বিভক্ত। এতে দ্বিতীয়বারের মতো দশ আজ্ঞা উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বিভিন্ন প্রকার বিধি-বিধান ও আইন-কানুন রয়েছে। এই পুস্তকটি মুসা (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর মৃত্যু ও দাফনের আলোচনার মাধ্যমে শেষ হয়েছে এবং এর মাধ্যমেই তাওরাত সমাপ্ত হয়েছে।

এই পাঁচটি পুস্তকের নাম তাওরাতের গ্রিক সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে। তবে ইহুদিদের নিকট নির্ভরযোগ্য (المعتمدة) হিব্রু সংস্করণে এই পুস্তকগুলোকে প্রতিটি পুস্তকের শুরুতে থাকা শব্দাবলি দ্বারা নামকরণ করা হয়েছে, যা নিম্নরূপ:

- আদিপুস্তক, যাকে বলা হয় (ব্রাশিট) অর্থাৎ [শুরুতে]।

- যাত্রাপুস্তক, যাকে বলা হয় (এলে শেমোত) অর্থাৎ [এবং এগুলোই নাম]।

- লেভীয় পুস্তক, যাকে বলা হয় (ওয়ায়েকরা) অর্থাৎ [এবং তিনি ডাকলেন]।

- গণনা পুস্তক, যাকে বলা হয় (বেমিদবার) অর্থাৎ [প্রান্তরে]।

- দ্বিতীয় বিবরণ, যাকে বলা হয় (এলে হাদ্দেবারিম) অর্থাৎ [এই হলো কথাগুলো] ১।

দ্বিতীয় অংশ: নবীদের কিতাবসমূহ। এটি দুই ভাগে বিভক্ত, যথা:-

(১) পূর্ববর্তী (المتقدمين) নবীদের কিতাবসমূহ: এতে বনী ইসরাঈলের ইতিহাস এবং মুসা (আ.)-এর সহচর ইউশা (ইউশা) ইবনে নূনের নেতৃত্বে তাদের ফিলিস্তিনে প্রবেশের পর থেকে তাদের জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনাবলি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

--------------------------------------------

১ দেখুন: আস-সুনান আল-কাউয়িম ফি তাফসির আসফার আল-আহদ আল-কাদিম ১/১।
(খণ্ড: ১) আল-আসফারুল মুকাদ্দাসাহ ইনদাল ইয়াহুদ ওয়া আসারুহা ফী ইনহিরাফিহিম আরদুন ওয়া নাকদুন (পৃষ্ঠা: ৩৩৫)
عليهما الصلاة والسلام إلى خروجهم منها في السبي البابلي، ومنها حوادث عهد القضاة وعهد الملوك وعهد انقسام مملكة بني إسرائيل وبناء هيكل سليمان عليه السلام وتدميره في الغزو البابلي، ويتخلل ذلك بعض الوصايا والأحكام والتشريعات.

(2) - أسفار الأنبياء الأُخر (المتأخرين) : وتتضمن تاريخ بني إسرائيل وتراثهم أثناء فترة السبي البابلي ثم عودة بعضهم إلى فلسطين تحت ظل الحكم الفارسي ثم إعادة بناء هيكل سليمان مرة ثانية، وبها بعض الوصايا والنبؤات والأحكام.

القسم الثالث: أسفار الكتب أو كتب الحكمة، وهي مجموعة أسفار يغلب عليها الطابع الأدبي شعراً أو نثراً وبعضها يتضمن تراثاً من القصص والحكم والمواعظ والأدعية، وفيها تمجيد بطولاتهم في الاستقرار بفلسطين.

ومن أسفار الكتب سفرا أخبار الأيام الأول والثاني وفيهما تلخيص للوقائع التاريخية الواردة في الأسفار السابقة منذ بدء الخليقة إلى عودة اليهود من السبي البابلي في أيام قورش ملك الفرس (أي بدءاً من أسفار التوراة إلى آخر أسفار الأنبياء الأُخر) .

ومما تجدر الإشارة إليه أن لليهود أسفاراً مقدسة أخرى تسمى بـ (الأبوكريفا Apocrypha) أي الكتب غير القانونية أو المخفية التي لم تقبل عندما تقرر تسجيل أسفار العهد القديم في وضعها الذي ذكرناه كأجزاء معتمدة من هذا الكتاب المقدس عندهم، ويسميها بعض الباحثين من اليهود (الكتابات الخارجة) ، ولكن بأية سلطة وبناء على أي مقياس أخرجت هذه النصوص؟!؟! 1

--------------------------------------------

1 انظر: الفكر الديني اليهودي ص62 د. حسن ظاظا، بتصرف بسيط.
তাঁদের ওপর শান্তি ও আশীর্বাদ বর্ষিত হোক—ব্যাবিলনীয় বন্দীদশা থেকে তাঁদের নির্গমন পর্যন্ত। এর মধ্যে বিচারকগণের যুগ, রাজন্যবর্গ বা রাজাদের যুগ এবং বনী ইসরায়েলের রাজ্য বিভক্তি ও সুলায়মান (আ.)-এর হাইকাল নির্মাণ ও ব্যাবিলনীয় আক্রমণে তা ধ্বংস হওয়ার ঘটনাবলি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মাঝে কিছু অসিয়ত, বিধান (أحكام) এবং শরয়ি কানুন (تشريعات) বিধৃত হয়েছে।

(২) - অন্যান্য (الأُخر) নবীদের কিতাবসমূহ (পরবর্তী (المتأخرين)): এতে ব্যাবিলনীয় বন্দীদশার সময় বনী ইসরায়েলের ইতিহাস ও তাদের ঐতিহ্য, অতঃপর পারস্য শাসনের অধীনে তাদের একাংশের ফিলিস্তিনে প্রত্যাবর্তন এবং দ্বিতীয়বার সুলায়মানি হাইকাল পুনর্নির্মাণের বিবরণ রয়েছে। এতে কিছু অসিয়ত, ভবিষ্যদ্বাণী এবং বিধান (أحكام) অন্তর্ভুক্ত আছে।

তৃতীয় বিভাগ: কিতাবসমূহ বা প্রজ্ঞার গ্রন্থাবলি; এটি এমন একগুচ্ছ কিতাব যাতে পদ্য বা গদ্যের সাহিত্যিক ঢঙের প্রাধান্য লক্ষ্য করা যায়। এর কোনো কোনোটিতে ঐতিহাসিক কাহিনী, প্রজ্ঞা (حكم), নসিহত (مواعظ) এবং দোয়ার ঐতিহ্য বিদ্যমান। এতে ফিলিস্তিনে তাদের স্থায়িত্ব ও বীরত্বগাথার বিবরণ রয়েছে।

এই কিতাবসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো 'বংশাবলি'র (আখবারুল আইয়াম) প্রথম ও দ্বিতীয় কিতাব। এতে সৃষ্টির শুরু থেকে পারস্য সম্রাট সাইরাসের রাজত্বকালে ব্যাবিলনীয় বন্দীদশা থেকে ইহুদিদের প্রত্যাবর্তন পর্যন্ত পূর্ববর্তী কিতাবগুলোতে বর্ণিত ঐতিহাসিক ঘটনাবলির সারসংক্ষেপ রয়েছে (অর্থাৎ তাওরাতের কিতাবসমূহ থেকে শুরু করে অন্যান্য (الأُخر) নবীদের শেষ কিতাব পর্যন্ত)।

উল্লেখযোগ্য যে, ইহুদিদের আরও কিছু পবিত্র কিতাব রয়েছে যেগুলোকে 'অ্যাপোক্রিফা' (Apocrypha) বা অপ্রামাণিক (غير قانونية) কিংবা লুকায়িত (مخفية) কিতাব বলা হয়। ওল্ড টেস্টামেন্ট বা পুরাতন নিয়মের কিতাবসমূহ যখন তাদের নিকট পবিত্র কিতাবের অনুমোদিত অংশ হিসেবে সংকলিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তখন এই কিতাবগুলো গ্রহণ করা হয়নি। ইহুদি গবেষকদের কেউ কেউ এগুলোকে 'বহির্ভূত লেখনী' বলে অভিহিত করেন। কিন্তু কোন কর্তৃত্বে এবং কিসের মানদণ্ডের (مقياس) ভিত্তিতে এই পাঠ্যগুলোকে বাদ দেওয়া হয়েছিল?! ১

--------------------------------------------

১ দেখুন: ড. হাসান জাজা রচিত 'আল-ফিকর আদ-দ্বীনি আল-ইয়াহুদি', পৃষ্ঠা ৬২; সামান্য পরিমার্জিত।
(খণ্ড: ১) আল-আসফারুল মুকাদ্দাসাহ ইনদাল ইয়াহুদ ওয়া আসারুহা ফী ইনহিরাফিহিম আরদুন ওয়া নাকদুন (পৃষ্ঠা: ৩৩৬)
((وبعض هذه الأسفار الخفية غير مقدس ولا معتمد في نظر اليهود، بينما بعضها الآخر مقدس أي معترف بأنه موحى به ومعتمد في نظرهم، ولكن رأى أحبارهم وجوب إخفائه وقرروا أنه لا يجوز أن يقف عليه الجمهور ولا أن يدرج في أسفار العهد القديم، وإلى هذا يشير الله عز وجل في القرآن الكريم فقال تعالى: {وَمَا قَدَرُواْ اللهَ حَقّ قَدْرِهِ إِذْ قَالُواْ مَآ أَنزَلَ اللهُ عَلَىَ بَشَرٍ مّن شَيْءٍ قُلْ مَنْ أَنزَلَ الْكِتَابَ الّذِي جَآءَ بِهِ مُوسَىَ نُوراً وَهُدًى لّلنّاسِ تَجْعَلُونَهُ قَرَاطِيسَ تُبْدُونَهَا وَتُخْفُونَ كَثِيراً … } 1، وإذ يقول: {يَا أَهْلَ الْكِتَابِ قَدْ جَآءَكُمْ رَسُولُنَا يُبَيّنُ لَكُمْ كثِيراً مّمّا كُنْتُمْ تُخْفُونَ مِنَ الْكِتَابِ} 2، وإذ يقول: {إِنّ الّذِينَ يَكْتُمُونَ مَآ أَنزَلْنَا مِنَ الْبَيّنَاتِ وَالْهُدَىَ مِن بَعْدِ مَا بَيّنّاهُ لِلنّاسِ فِي الْكِتَابِ أُولََئِكَ يَلعَنُهُمُ اللهُ وَيَلْعَنُهُمُ اللاّعِنُونَ} 3، وإذ يقول: {إِنّ الّذِينَ يَكْتُمُونَ مَآ أَنزَلَ اللهُ مِنَ الْكِتَابِ وَيَشْتَرُونَ بِهِ ثَمَناً قَلِيلاً أُولََئِكَ مَا يَأْكُلُونَ فِي بُطُونِهِمْ إِلاّ النّارَ وَلَا يُكَلّمُهُمُ اللهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلَا يُزَكّيهِمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} 4.

ومن هذا يظهر أن السفر قد يكون خفياً ومقدساً في آن واحد عند اليهود. وفي هذا يختلف الاصطلاح اليهودي بعض الاختلاف في مدلول كلمة ((الخفي)) عن الاصطلاح المسيحي. فالمسيحيون يطلقون كلمة ((الخفي)) apocryphe على كل سفر يرون أنه غير مقدس أي غير موصى به)) 5.

--------------------------------------------

1 سورة الأنعام، آية 90.

2 سورة المائدة، آية 15.

3 سورة البقرة، آية 159.

4 سورة البقرة، آية 174.

5 انظر: الأسفار المقدسة في الأديان السابقة للإسلام ص23.
((এবং এই গোপন (الخفي) কিতাবসমূহের কিছু অংশ ইহুদিদের দৃষ্টিতে পবিত্র (مقدس) নয় এবং নির্ভরযোগ্য (معتمد) নয়; অন্যদিকে এগুলোর অন্য কিছু অংশ পবিত্র (مقدس), অর্থাৎ তাদের দৃষ্টিতে তা ওহীপ্রাপ্ত (موحى به) হিসেবে স্বীকৃত এবং নির্ভরযোগ্য (معتمد)। তবে তাদের পণ্ডিতগণ তা গোপন রাখা আবশ্যক মনে করেছেন এবং সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে, জনসাধারণের জন্য তা অবগত হওয়া বৈধ নয় এবং তা পুরাতন নিয়মের কিতাবসমূহের অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না। মহান আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা পবিত্র কুরআনে এই দিকেই ইঙ্গিত করে বলেছেন: {তারা আল্লাহকে যথাযথ মর্যাদা দেয়নি, যখন তারা বলেছিল: আল্লাহ কোনো মানুষের ওপর কিছুই অবতীর্ণ করেননি। আপনি বলুন: মূসা যে কিতাব নিয়ে এসেছিলেন তা কে অবতীর্ণ করেছিলেন? যা মানুষের জন্য আলো ও পথনির্দেশ স্বরূপ ছিল, তোমরা তা বিচ্ছিন্ন পাতায় লিপিবদ্ধ করতে, যার কিছু অংশ তোমরা প্রকাশ করতে এবং অনেক কিছুই তোমরা গোপন করতে … } ১, এবং তিনি আরও বলেন: {হে কিতাবধারীগণ, অবশ্যই তোমাদের কাছে আমাদের রাসূল এসেছেন, কিতাবের যা কিছু তোমরা গোপন করতে তিনি তার অনেক কিছুই তোমাদের কাছে প্রকাশ করছেন} ২, এবং তিনি আরও বলেন: {নিশ্চয় যারা আমরা অবতীর্ণ করা সুস্পষ্ট নিদর্শন ও হিদায়াত গোপন করে, কিতাবে মানুষের জন্য তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করার পর; তারা এমন যে আল্লাহ তাদের অভিশাপ দেন এবং অভিশাপ প্রদানকারীরাও তাদের অভিশাপ দেয়} ৩, এবং তিনি আরও বলেন: {নিশ্চয় আল্লাহ কিতাব থেকে যা অবতীর্ণ করেছেন যারা তা গোপন করে এবং এর বিনিময়ে তুচ্ছ মূল্য গ্রহণ করে, তারা কেবল নিজেদের পেটে আগুন ভক্ষণ করে। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাদের সাথে কথা বলবেন না এবং তাদের পবিত্র করবেন না, আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি} ৪।

এর থেকে প্রতীয়মান হয় যে, ইহুদিদের নিকট একটি কিতাব একই সাথে গোপন (الخفي) এবং পবিত্র (مقدس) হতে পারে। এক্ষেত্রে 'গোপন' (الخفي) শব্দটির অর্থগত প্রয়োগে ইহুদি পরিভাষা খ্রিস্টীয় পরিভাষা থেকে কিছুটা ভিন্ন। কারণ খ্রিস্টানরা 'গোপন' (apocryphe) শব্দটি এমন প্রত্যেকটি কিতাবের ক্ষেত্রে ব্যবহার করে যা তাদের মতে পবিত্র (مقدس) নয়, অর্থাৎ যা নির্দেশিত নয়)) ৫।

--------------------------------------------

১ সূরা আল-আনআম, আয়াত ৯০।

২ সূরা আল-মায়েদাহ, আয়াত ১৫।

৩ সূরা আল-বাকারা, আয়াত ১৫৯।

৪ সূরা আল-বাকারা, আয়াত ১৭৪।

৫ দেখুন: ইসলামের পূর্ববর্তী ধর্মসমূহে পবিত্র কিতাবসমূহ, পৃষ্ঠা ২৩।
(খণ্ড: ১) আল-আসফারুল মুকাদ্দাসাহ ইনদাল ইয়াহুদ ওয়া আসারুহা ফী ইনহিরাফিহিম আরদুন ওয়া নাকদুন (পৃষ্ঠা: ৩৩৭)
المطلب الثالث:‌‌ نقد التوراة المحرفة وما يتبعها من الأسفار

لقد ذكرنا فيما سبق بعض آيات القرآن الكريم الصريحة في أن اليهود قد حرفوا التوراة وغيرها من كتب الله المنزلة على أنبيائه من بني إسرائيل، ولقد انطلق علماؤنا المسلمون من تلك الآيات وغيرها من نصوص القرآن الكريم والسنة النبوية المطهرة في نقدهم للتوراة وما يتبعها من الأسفار المقدسة عند اليهود، واستخرجوا منها الأدلة والشواهد على تحقيق ما ذكره الله عز وجل في القرآن الكريم من وقوع التحريف والتبديل والكذب في كتبهم، ونستطيع أن نقرر بكل ثقة أن الأسبقية في نقد التوراة والأناجيل والكتب الأخرى المحرفة كان لعلمائنا المسلمين بهدي من القرآن الكريم الذي وضع أصول ذلك النقد

--------------------------------------------

1 انظر: قاموس الكتاب المقدس ص19، الفكر الديني اليهودي ص65، الأسفار المقدسة ص23.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: বিকৃত (محرفة) তাওরাত এবং এর অনুবর্তী কিতাবসমূহের সমালোচনা

আমরা ইতিপূর্বে পবিত্র কুরআনের এমন কিছু সুস্পষ্ট আয়াত উল্লেখ করেছি যেগুলোতে বর্ণিত হয়েছে যে, ইহুদিরা তাওরাত এবং বনী ইসরাঈলের নবীগণের ওপর অবতীর্ণ আল্লাহর অন্যান্য কিতাবসমূহ বিকৃত (حرفوا) করেছে। আমাদের মুসলিম উলামায়ে কেরাম সেই আয়াতসমূহ এবং পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর অন্যান্য পাঠ্য বা নাস (نصوص) এর আলোকে ইহুদিদের নিকট পবিত্র বলে গণ্য তাওরাত ও এর অনুবর্তী কিতাবসমূহের সমালোচনা পরিচালনা করেছেন। মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে তাদের কিতাবসমূহে বিকৃতি (التحريف), পরিবর্তন (التبديل) এবং মিথ্যা (الكذب) আরোপের যে বিবরণ দিয়েছেন, তাঁরা সেসব থেকে তার সপক্ষে প্রমাণ ও সাক্ষ্যসমূহ উদঘাটন করেছেন। আমরা পূর্ণ আস্থার সাথে এটি সাব্যস্ত করতে পারি যে, তাওরাত, ইঞ্জিল এবং অন্যান্য বিকৃত (المحرفة) কিতাবসমূহের সমালোচনায় আমাদের মুসলিম উলামায়ে কেরামই অগ্রণী ছিলেন; আর এটি সম্ভব হয়েছে পবিত্র কুরআনের দিকনির্দেশনার মাধ্যমে, যা এই সমালোচনার মূলনীতি (أصول) প্রণয়ন করেছে।

--------------------------------------------

১. দেখুন: কামুসুল কিতাবিল মুকাদ্দাস, পৃষ্ঠা ১৯; আল-ফিকরুদ্দীনি আল-ইয়াহুদী, পৃষ্ঠা ৬৫; আল-আসফারুল মুকাদ্দাসাহ, পৃষ্ঠা ২৩।