(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল আরবাঈন আন-নববিয়্যাহ মাআ মা জাদা আলাইহা ইবনে রাজাব ওয়া আলাইহাশ শারহুল মুজাজুল মুফিদ (পৃষ্ঠা: -)
الأحاديث الأربعين النووية مع ما زاد عليها ابن رجب وعليها الشرح الموجز المفيد   (عبد الله بن صالح المحسن)

القسم: كتب السنة


الكتاب: الأحاديث الأربعين النووية مع ما زاد عليها ابن رجب وعليها الشرح الموجز المفيد

المؤلف: عبد الله بن صالح المحسن

الناشر: الجامعة الإسلامية، المدينة المنورة

الطبعة: الثالثة، 1404هـ/1984م

عدد الصفحات: 94

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইমাম নববীর চল্লিশ হাদিস এবং ইবনে রজব কর্তৃক বর্ধিত অংশসহ সংক্ষিপ্ত ও উপকারী ব্যাখ্যা   (আবদুল্লাহ বিন সালেহ আল-মুহসিন)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


বই: ইমাম নববীর চল্লিশ হাদিস এবং ইবনে রজব কর্তৃক বর্ধিত অংশসহ সংক্ষিপ্ত ও উপকারী ব্যাখ্যা

লেখক: আবদুল্লাহ বিন সালেহ আল-মুহসিন

প্রকাশক: ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়, মদিনা মুনাওয়ারা

সংস্করণ: তৃতীয়, ১৪০৪ হি./১৯৮৪ খ্রি.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৪

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সংগতিপূর্ণ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল আরবাঈন আন-নববিয়্যাহ মাআ মা জাদা আলাইহা ইবনে রাজাব ওয়া আলাইহাশ শারহুল মুজাজুল মুফিদ (পৃষ্ঠা: ٤)
بسم الله الرحمان الرحيم

‌‌مقدمة

الحمد لله رب العالمين والصلاة في والسلام على النبي الكريم، وعلى آله وصحا بته والتابعين.

أما بعد:

فلما كانت أحاديث الأربعين النووية عليها عدة شروح وتعليقات منها شيء لم يف بالمهم من المعاني ومنها ما هو مطول، لذا فقد رأيت أن أضع شرحا موجزا على الطريقة الحديثة للتدريس مع ثمانية الأحاديث التين زادها ابن رجب. فوضعت أولا متن الحديث. ثم مفرداته، ثم فوائده. ثم الشرح الموجز للحديث، ثم ما تيسر مما قيل من أبيات الشعر النافعة حول معنى الحديث.

وأسأل الله العظيم رب العرش العظيم رب العالمين أن يكون عملي هذا عملا مثمرا نافعا عاجلا وآجلا. إنه سميع قريب مجيب وصلى الله على سيدنا محمد وآله وصحبه وسلم المؤلف

عبد الله بن صالح المحسن

المدرس بالجامعة الإسلامية- المدينة المنورة
পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে।

‌‌ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক সম্মানিত নবী, তাঁর পরিবারবর্গ, তাঁর সঙ্গীগণ এবং অনুসারীদের ওপর।

অতঃপর:

যেহেতু ইমাম নববীর আরবাঈন (চল্লিশ হাদীস) এর ওপর একাধিক ব্যাখ্যা ও টীকা রয়েছে, যার কোনোটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থসমূহ বর্ণনায় অপূর্ণাঙ্গ এবং কোনোটি অত্যন্ত দীর্ঘ; তাই আমি আধুনিক শিক্ষাদান পদ্ধতিতে একটি সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যেখানে ইবনে রজব কর্তৃক বর্ধিত আটটি হাদীসও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আমি প্রথমে হাদীসের মূল পাঠ স্থাপন করেছি, এরপর শব্দার্থ, তারপর এর শিক্ষা ও উপকারিতা, এরপর হাদীসের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা এবং সবশেষে হাদীসের মর্মার্থের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ যা সহজলভ্য হয়েছে এমন কিছু উপকারী কবিতাংশ উল্লেখ করেছি।

আমি মহান আরশের অধিপতি, বিশ্বজগতের প্রতিপালক মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমার এই কাজটিকে ইহকাল ও পরকালে একটি ফলপ্রসূ ও উপকারী কাজ হিসেবে কবুল করেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, অতি নিকটবর্তী এবং প্রার্থনা কবুলকারী। আল্লাহ আমাদের নেতা মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সঙ্গীগণের ওপর সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন। ইতি লেখক

আব্দুল্লাহ বিন সালেহ আল-মুহসিন

শিক্ষক, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়- মদীনা মুনাওয়ারা।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল আরবাঈন আন-নববিয়্যাহ মাআ মা জাদা আলাইহা ইবনে রাজাব ওয়া আলাইহাশ শারহুল মুজাজুল মুফিদ (পৃষ্ঠা: ٣)
‌‌تمهيد

…

بسم الله الرحمن الرحيم

تقريظ:

الحمد لله وحده والصلاة والسلام على من لا نبي بعده.

وبعد:

فقد اطلعت على هذا الشرح العظيم الذي شرح به الأربعين حديثا النووية مع الثمانية التي زادها الحافظة ابن رجب أخونا فضيلة الشيخ عبد الله بن صالح المحسن المدرس بالجامعة الإسلامية بمدينة النبي عليه الصلاة والسلام، ولقد أفاد وأجاد في حل ألفاظها حلا متناسبا مع مستوى رواد العلم في المدارس وغيرها، وقد سهل عليهم الطريق إلى فهمها حيث سلك في ترتيبها ما يلي:

(1) شرح مفرداتها.

(2) بيان الفوائد المأخوذة من كل واحد منها.

(3) المعنى الإجمالي لكل حديث.

(4) ذكر بعض الأبيات التي تسير في ركب كل حديث.

فينبغي لطلاب العلم النبوي المسابقة إلى اقتنائه وقراءته. هذا وأسأل الله العلي القدير أن ينفع بهذا الشرح الوجيز من قرأه أو كتبها وأن يجزى جامعه خير الجزاء آمين.

الراجي عفو ربه

حماد بن محمد الأنصاري

المدرس بالجامعة الإسلامية- المدينة المنورة
ভূমিকা

...

পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে

প্রশংসাপত্র:

সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর উপর যাঁর পরে আর কোনো নবী নেই।

অতঃপর:

আমি এই মহান ব্যাখ্যাগ্রন্থটি পর্যালোচনা করেছি যার মাধ্যমে আমাদের ভাই, নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের শহরের ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সম্মানিত শাইখ আবদুল্লাহ বিন সালিহ আল-মুহসিন আরবাঈন আন-নববী এবং হাফিজ ইবনে রজব (রাহিমাহুল্লাহ) কর্তৃক সংযোজিত আটটি হাদীসসহ মোট আটচল্লিশটি হাদীসের ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি এর শব্দাবলি বিশ্লেষণে অত্যন্ত উপকার করেছেন এবং দক্ষতা প্রদর্শন করেছেন যা মাদ্রাসা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ইলম অন্বেষণকারীদের স্তরের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি তাদের জন্য এগুলো বোঝার পথ সহজ করেছেন এবং এর বিন্যাসে নিম্নোক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন:

(১) শব্দাবলির ব্যাখ্যা।

(২) প্রতিটি হাদীস থেকে আহরিত শিক্ষণীয় বিষয়সমূহের বর্ণনা।

(৩) প্রতিটি হাদীসের সামগ্রিক মর্মার্থ।

(৪) প্রতিটি হাদীসের বিষয়ের সাথে সংগতিপূর্ণ কিছু কাব্য পঙক্তির উল্লেখ।

অতএব, নববী ইলমের শিক্ষার্থীদের উচিত এটি সংগ্রহ করা ও পাঠ করার ক্ষেত্রে অগ্রগামী হওয়া। পরিশেষে, আমি সুউচ্চ ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যে, তিনি যেন এই সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যাগ্রন্থের মাধ্যমে এর পাঠক ও লেখককে উপকৃত করেন এবং এর সংকলককে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন। আমীন।

স্বীয় রবের ক্ষমার আশাবাদী

হাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ আল-আনসারী

শিক্ষক, ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়- মদিনা মুনাওয়ারা
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল আরবাঈন আন-নববিয়্যাহ মাআ মা জাদা আলাইহা ইবনে রাজাব ওয়া আলাইহাশ শারহুল মুজাজুল মুফিদ (পৃষ্ঠা: ٥)
‌‌الحديث الأول:

عن أمير المؤمنين أبي حفص عمر بن الخطاب رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول:" إنما الأعمال بالنيات وإنما لكل امريء ما نوى، فمن كانت هجرته إلى الله ورسوله فهجرته إلى الله ورسوله ومن كانت هجرته لدنيا يصيبها أو امرأة ينكحها فهجرته إلى ما هاجر إليه" متفق عليه.

المفردات:

إنما: للحصر، وهو إثباتا الحكم في المذكور ونفيه عما سواه. الأعمال: البدنية من الأقوال والأفعال المفتقرة إلى النية. النيات: جمع نية، وهي لغة: القصد، وشرعا عزم القلب على الشيء مقترنا بفعله. امريء: شخص. ما نوى: ما قصد من خير أو شر. الهجرة لغة: الترك، وشرعا: الانتقال من بلد الشرك إلى بلد الإسلام أو من بلد المعاصي إلى بلد الاستقامة. يصيبها: يحصلها. دنيا: ما على وجه الأرض مع الهوى والجو، والمراد هنا المال خاصة، وسميت دنيا لقرب زوالها، أو لأنها قبل الآخرة. ينكحها: يتزوجها. إلى ما هاجر إليه: من قصد دنيا أو امرأة، أو غير ذلك.

الفوائد:

(1) إنه لا يجوز الإقدام على أي عمل حتى يعرف الإنسان حكمه.

(2) لا يجوز التوكيل في نفس النية.
প্রথম হাদিস:

আমিরুল মুমিনীন আবু হাফস উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল, আর প্রত্যেক ব্যক্তি তাই পাবে যার সে নিয়ত করবে। সুতরাং যার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যে হবে, তবে তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে। আর যার হিজরত হবে দুনিয়া অর্জনের জন্য অথবা কোনো নারীকে বিয়ে করার জন্য, তবে তার হিজরত সেই উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে যার জন্য সে হিজরত করেছে।" (বুখারি ও মুসলিম)।

শব্দার্থ:

ইন্নামা: সীমাবদ্ধকরণের জন্য ব্যবহৃত হয়, যা কেবল উল্লেখিত বিষয়ের ক্ষেত্রে বিধানটি সাব্যস্ত করে এবং তা ছাড়া অন্য সব কিছু থেকে তা নাকচ করে। আমলসমূহ: শারীরিক কাজ যা কথা ও কাজের অন্তর্ভুক্ত এবং যার সম্পাদনে নিয়তের প্রয়োজন হয়। নিয়তসমূহ: এটি 'নিইয়্যাত' শব্দের বহুবচন, যার শাব্দিক অর্থ: সংকল্প। আর শরয়ি পরিভাষায় এর অর্থ: কোনো কাজ করার সাথে সাথে হৃদয়ে সেই কাজের দৃঢ় সংকল্প করা। ব্যক্তি: মানুষ। যা সে নিয়ত করেছে: ভালো বা মন্দের মধ্য থেকে সে যা সংকল্প করেছে। হিজরত শাব্দিক অর্থ: ত্যাগ করা। আর শরয়ি পরিভাষায় এর অর্থ: শিরকের দেশ থেকে ইসলামের দেশে চলে যাওয়া অথবা পাপাচারের দেশ থেকে পুণ্য ও দ্বীনের ওপর অবিচল থাকার দেশে স্থানান্তরিত হওয়া। অর্জন করা: তা লাভ করা। দুনিয়া: প্রবৃত্তি ও পরিবেশসহ পৃথিবীর উপরিভাগে যা কিছু আছে; এখানে বিশেষভাবে সম্পদ উদ্দেশ্য। এর নাম 'দুনিয়া' রাখা হয়েছে এর দ্রুত বিলীন হয়ে যাওয়ার কারণে, অথবা এটি আখেরাতের পূর্বে হওয়ার কারণে। বিয়ে করা: তাকে বিবাহ করা। যার দিকে সে হিজরত করেছে: দুনিয়া বা নারী অথবা অন্য যা কিছুর সে সংকল্প করেছে।

শিক্ষণীয় বিষয়সমূহ:

(১) কোনো বিষয়ের বিধান না জানা পর্যন্ত মানুষের জন্য কোনো কাজে প্রবৃত্ত হওয়া জায়েজ নয়।

(২) স্বয়ং নিয়তের ক্ষেত্রে অন্য কাউকে প্রতিনিধি নিয়োগ করা জায়েজ নয়।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল আরবাঈন আন-নববিয়্যাহ মাআ মা জাদা আলাইহা ইবনে রাজাব ওয়া আলাইহাশ শারহুল মুজাজুল মুফিদ (পৃষ্ঠা: ٦)
(3) إن الغافل عن النية لا يصح منه العمل، وإن جميع الأعمال الشرعية لا تعتبر إلا بالنية.

(4) لا تجوز النيابة في العبادات إلا ما خصه دليل.

(5) فضل الهجرة من بلد الشرك إلى بلد الإسلام ابتغاء مرضاة الله تعالى أو من بلد تعمل فيها المعاصي إلى بلد مستقيم أهلها.

(6) الإخلاص في اعمل لله تعالى والحذر من الرياء والسمعة، والعمل لأجل الدنيا.

(7) إن النية محلها القلب والتلفظ بها بدعة.

الموجز:

هذا الحديث قاعدة عظيمة من قواعد الدين جليل القدر كثير الفوائد لأنه من الأحاديث الجامعة التي عليها مدار الإسلام وقد بين الرسول صلى الله عليه وسلم في هذا الحديث أن جميع الأعمال الشرعية المفتقرة إلى النية أقوالها وأفعالها الصادرة من كل مؤمن لا تصح ولا تقبل بدون النية. لأن النية هي الأساس والميزان للأعمال والأقوال كلها. فإذا صلحت النية صلح العمل، وإذا فسدت فسد العمل، فإذا كانت النية صالحة والعمل موافقا للشرع فالعمل مقبول وإن كانت يقصد بها غير ذلك فالعمل مردود. ثم إنا لرسول الله صلى الله عليه وسلم فصل في هذا الحديث بتفصيل! كالمثال بأن من هاجر إلى دار الإسلام حبا لله تعالى. ورغبة في الإسلام وتعلم الدين والعمل به حصل له جزاء ما نوى. وإن كان قصده وهدفه أمورا دنيوية كدنيا يصيبها أو امرأة يتزوجها فجزاؤه على حسب مقاصده، والله سبحانه يعلم السر وأخفى، وسيجازى كل عامل بعمله إن خيرا فخير، وان شرا فشر.

شعر:

وإذا أعلنت أمرا حسنا … فليكن أحسن منه ما تسر

فمسر الخير موسوم به … ومسر الشر موسوم بشر
(৩) নিয়ত সম্পর্কে উদাসীন ব্যক্তির কোনো আমল সহীহ হয় না এবং সকল শরয়ি আমল নিয়ত ব্যতীত গ্রহণযোগ্য হয় না।

(৪) ইবাদতের ক্ষেত্রে প্রতিনিধি নিয়োগ বৈধ নয়, তবে যে বিষয়কে দলিল নির্দিষ্ট করেছে তা ভিন্ন।

(৫) মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে শিরকের ভূখণ্ড থেকে ইসলামের ভূখণ্ডে হিজরত করার ফজিলত, অথবা এমন ভূখণ্ড থেকে হিজরত করা যেখানে পাপাচার হয় এমন ভূখণ্ডের দিকে যেখানে অধিবাসীরা সঠিক পথের অনুসারী।

(৬) মহান আল্লাহর জন্য আমলের ক্ষেত্রে একনিষ্ঠতা (ইখলাস) অবলম্বন করা এবং রিয়া (লৌকিকতা), সুমআ (খ্যাতি) ও দুনিয়াবি স্বার্থে আমল করা থেকে সতর্ক থাকা।

(৭) নিশ্চয়ই নিয়তের স্থান হলো অন্তর এবং তা মুখে উচ্চারণ করা বিদআত।

সারসংক্ষেপ:

এই হাদিসটি দ্বীনের মূলনীতিসমূহের মধ্যে একটি মহান মূলনীতি, যা অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও বহুবিধ কল্যাণবহ। কারণ এটি সেই সকল অর্থবহ হাদিসের অন্তর্ভুক্ত যার ওপর ইসলামের আবর্তন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই হাদিসে স্পষ্ট করেছেন যে, নিয়তের মুখাপেক্ষী সকল শরয়ি আমল—মুমিন ব্যক্তির মুখ নিঃসৃত বাণী হোক কিংবা কৃত কাজ হোক—তা নিয়ত ব্যতীত সহীহ ও কবুলযোগ্য হবে না। কারণ নিয়ত হলো সকল কথা ও কাজের ভিত্তি এবং মানদণ্ড। সুতরাং নিয়ত বিশুদ্ধ হলে আমল বিশুদ্ধ হয়, আর নিয়ত দূষিত হলে আমলও দূষিত হয়। যখন নিয়ত নেক হয় এবং আমল শরীয়ত অনুযায়ী হয়, তখন আমল কবুল হয়; আর যদি এর মাধ্যমে অন্য কিছু উদ্দেশ্য করা হয়, তবে আমল প্রত্যাখ্যাত হয়। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই হাদিসে উদাহরণসহ বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন। যেমন যে ব্যক্তি মহান আল্লাহর ভালোবাসা এবং ইসলামের প্রতি অনুরাগ ও দ্বীন শিক্ষা ও আমল করার লালসায় দারুল ইসলামে হিজরত করবে, সে যা নিয়ত করেছে তার প্রতিদান সে প্রাপ্ত হবে। আর যদি তার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য হয় পার্থিব কোনো বিষয়, যেমন দুনিয়া হাসিল করা অথবা কোনো নারীকে বিবাহ করা, তবে তার প্রতিদান হবে তার লক্ষ্য অনুযায়ী। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা গোপন ও অতি গোপন সবকিছুই পরিজ্ঞাত, এবং তিনি প্রত্যেক আমলকারীকে তার আমল অনুযায়ী প্রতিদান দেবেন—যদি কল্যাণকর হয় তবে কল্যাণ, আর যদি মন্দ হয় তবে মন্দ প্রতিদান।

কবিতা:

যখন তুমি কোনো ভালো বিষয় প্রকাশ করো … তবে তোমার গোপন বিষয়টি যেন তার চেয়েও উত্তম হয়।

কেননা কল্যাণ গোপনকারী সেই কল্যাণের মাধ্যমেই পরিচিত হয় … আর মন্দ গোপনকারী মন্দের মাধ্যমেই পরিচিত হয়।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল আরবাঈন আন-নববিয়্যাহ মাআ মা জাদা আলাইহা ইবনে রাজাব ওয়া আলাইহাশ শারহুল মুজাজুল মুফিদ (পৃষ্ঠা: ٧)
آخر:

وإن امرأ ابتاع الدنيا بدينه … لمنقلب منها بصفقة خاسر

آخر:

فإن كنت مشغولا بشيء فلاتكن … بغير الذي يرضي به الله تشغل

فلن يصحب الإنسان من قبل موته … ولا بعده إلا الذي كان يعمل
অন্যটি:

আর যদি কোনো ব্যক্তি তার দ্বীনের বিনিময়ে দুনিয়া ক্রয় করে … তবে সে তা থেকে এক ক্ষতিগ্রস্ত সওদা নিয়ে প্রত্যাবর্তনকারী হবে।

অন্যটি:

যদি তুমি কোনো বিষয়ে ব্যস্ত থাকো, তবে এমন বিষয় … যাতে আল্লাহ সন্তুষ্ট হন তা ব্যতীত অন্য কিছুতে ব্যস্ত হয়ো না।

কেননা মৃত্যুর পূর্বে … কিংবা পরে মানুষের সাথে তার কৃতকর্ম ছাড়া আর কিছুই সঙ্গী হবে না।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল আরবাঈন আন-নববিয়্যাহ মাআ মা জাদা আলাইহা ইবনে রাজাব ওয়া আলাইহাশ শারহুল মুজাজুল মুফিদ (পৃষ্ঠা: ٧)
‌‌الحديث الثاني:

عن عمر رضي الله عنه أيضا قال:"بينما نحن جلوس عند رسول الله صلى الله عليه وسلم ذات يوم إذ طلع علينا رجل شديد بياض الثياب شديد سواد الشعر لا نرى عليه أثر السفر ولا يعرفه منا أحد، حتى جلس إلى النبي صلى الله عليه وسلم. فأسند ركبتيه إلى ركبتيه، ووضع كفيه على فخذيه وقال: يا محمد. أخبرني عن الإسلام، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم الإسلام أن تشهد أن لا إله إلا الله وأن محمدا رسول الله. وتقيم الصلاة، وتؤتي الزكاة وتصوم رمضان، وتحج البيت إن استطعت إليه سبيلا، قال: صدقت؟ فعجبنا له يسأله ويصدقه، وقال: فأخبرني عن الإيمان قال: أن تؤمن بالله وملائكته وكتبه ورسله واليوم الآخر وتؤمن بالقدر خيره وشره قال: صدقت. قال: فأخبرني عن الإحسان، قال: أن تعبد الله كأنك تراه فإن لم تكن تراه فإنه يراك، قال: فأخبرني عن الساعة، قال: ما المسئول عنها بأعلم من السائل قال فأخبرني عن أماراتها؟ قال: أن تلد الأمة ربتها وأن تر الحفاة العراة العالة رعاء الشاء يتطاولون في البنيان. ثم انطلق فلبثنا مليا، ثم قال: يا عمر أتدري من السائل؟ قلت الله ورسوله أعلم، قال: فإنه جبريل أتاكم يعلمكم دينكم" رواه مسلم.
দ্বিতীয় হাদিস:

উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে আরও বর্ণিত, তিনি বলেন: "একদা আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট উপবিষ্ট ছিলাম, এমতাবস্থায় আমাদের সামনে এক ব্যক্তি উপস্থিত হলেন যার পোশাক ছিল ধবধবে সাদা এবং চুল ছিল কুচকুচে কালো। তার মাঝে সফরের কোনো চিহ্ন পরিলক্ষিত হচ্ছিল না এবং আমাদের মধ্য থেকে কেউ তাকে চিনত না। অবশেষে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সমীপে বসলেন। তিনি নিজের দুই হাঁটু তাঁর দুই হাঁটুর সাথে মেলালেন এবং নিজের দুই হাতের তালু তাঁর দুই উরুর ওপর রাখলেন এবং বললেন: হে মুহাম্মদ, আমাকে ইসলাম সম্পর্কে বলুন। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: ইসলাম হলো এই সাক্ষ্য প্রদান করা যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল; আর সালাত কায়েম করা, জাকাত প্রদান করা, রমজানের সিয়াম পালন করা এবং সামর্থ্য থাকলে বায়তুল্লাহর হজ সম্পাদন করা। তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। আমরা তাঁর বিষয়ে আশ্চর্যান্বিত হলাম যে, তিনি নিজেই তাঁকে প্রশ্ন করছেন আবার নিজেই তাঁর সত্যায়ন করছেন। তিনি বললেন: আমাকে ঈমান সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেন: তা হলো এই যে, আপনি আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ এবং শেষ দিবসের ওপর ঈমান আনবেন এবং ভাগ্যের ভালো ও মন্দের ওপর ঈমান আনবেন। তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। তিনি বললেন: আমাকে ইহসান সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেন: তা হলো আল্লাহর ইবাদত এমনভাবে করা যেন আপনি তাঁকে দেখছেন, আর যদি আপনি তাঁকে দেখতে না পান তবে নিশ্চয়ই তিনি আপনাকে দেখছেন। তিনি বললেন: আমাকে কিয়ামত সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেন: এ বিষয়ে যাকে প্রশ্ন করা হচ্ছে তিনি প্রশ্নকারীর চেয়ে অধিক অবগত নন। তিনি বললেন: তবে আমাকে এর আলামতসমূহ সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেন: দাসী তার মনিবকে প্রসব করবে এবং আপনি দেখবেন নগ্নপদ, বস্ত্রহীন ও নিঃস্ব মেষপালকরা সুউচ্চ অট্টালিকা নির্মাণে একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করছে। অতঃপর তিনি চলে গেলেন এবং আমরা দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করলাম। তারপর তিনি বললেন: হে উমর, আপনি কি জানেন প্রশ্নকারী কে ছিলেন? আমি বললাম: আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই সর্বাপেক্ষা ভালো জানেন। তিনি বললেন: ইনি ছিলেন জিবরাঈল, তিনি তোমাদেরকে তোমাদের দ্বীন শেখাতে এসেছিলেন।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল আরবাঈন আন-নববিয়্যাহ মাআ মা জাদা আলাইহা ইবনে রাজাব ওয়া আলাইহাশ শারহুল মুজাজুল মুফিদ (পৃষ্ঠা: ٨)
المفردات:

بينما: ظرف زمان بمعنى المفاجأة، إذ طلع: إذ ظهر. رجل: هو بصورة شخص من جنسنا أثر السفر: علامات السفر من غبرة وشعث، فعجبنا له يسأله ويصدقه: فتعجبنا من أمره، لأن المفروض أن السائل لا يعلم ما يسأل عنه، وبالقدر: ما قدره الله وقضاه من خير وشر، عن الساعة: قيام الساعة، أماراتها: علاماتها الدالة على مجيئها، الأمة: المملوكة، ربتها: سيدتها، الحفاة: جمع حاف وهو من لا نعل في رجله، العراة: جمع عار وهو من لا شيء على جسده، العالة: جمع عائل وهو الفقير، رعاء الشاء: رعاة الغنم، يتطاولون في البنيان: يتباهون ويتفاخرون برفع المباني، لبثنا: مكثنا، مليا: زمنا طويلا قبل ثلاثة أيام.

الفوائد:

(1) إن الملائكة يتشكلون بما شاءوا من الصور.

(2) آداب المتعلم والمسترشد مع العالم.

(3) إن الإسلام والإيمان إذا اجتمعا يفسر الإسلام بالأعمال الظاهرة والإيمان بالأعمال الباطنة.

(4) إن الإسلام والإيمان والإحسان كل يسمى دينا.

(5) إن الساعة من الأمور التي استأثر الله بعلمها {إِنَّ اللَّهَ عِنْدَهُ عِلْمُ السَّاعَة} .

(6) إن من علامات الساعة كثرة السراري وأولادها، أو عقوق الأولاد لأمهاتهم كأنهن عندهم إماء.

(7) وجوب الإيمان بالقدر وأن ما قدره الله على الإنسان من خير أو شر يجب الرضى به.

(8) ترك الإنسان الخوض في الأمور التي ليس عنده علم بها.
শব্দার্থ:

বাইনামা (যখন): এটি আকস্মিকতা অর্থ প্রদানকারী সময়ের অব্যয়; যখন উদিত হলো: অর্থাৎ যখন প্রকাশ পেল। ব্যক্তি: তিনি আমাদের মানব প্রজাতির অবয়বে ছিলেন। সফরের চিহ্ন: ধুলোবালি ও আলুথালু বেশের ন্যায় ভ্রমণের লক্ষণসমূহ। আমরা তার বিষয়ে বিস্মিত হলাম যে তিনি তাকে প্রশ্ন করছেন আবার তার সত্যায়নও করছেন: আমরা তার বিষয়ে আশ্চর্যান্বিত হলাম, কারণ সাধারণত ধারণা করা হয় যে প্রশ্নকারী যা জিজ্ঞাসা করেন সে সম্পর্কে তিনি অবগত নন। আর তকদির: আল্লাহ কল্যাণ ও অকল্যাণের যা কিছু নির্ধারণ ও ফয়সালা করেছেন। কিয়ামত সম্পর্কে: কিয়ামত সংঘটিত হওয়া প্রসঙ্গে। এর আলামতসমূহ: এর আগমনের প্রমাণবাহী লক্ষণসমূহ। দাসী: মালিকানাধীন নারী। তার কর্ত্রী: তার মালকিন। নগ্নপদ: এটি 'হাফি' শব্দের বহুবচন, যার অর্থ যার পায়ে কোনো জুতো নেই। বস্ত্রহীন: এটি 'আরি' শব্দের বহুবচন, যার অর্থ যার শরীরে কোনো পোশাক নেই। নিঃস্ব: এটি 'আইল' শব্দের বহুবচন, যার অর্থ দরিদ্র। মেষপালক: যারা ছাগল বা ভেড়া চড়ায়। অট্টালিকা নির্মাণে প্রতিযোগিতা করবে: সুউচ্চ দালানকোঠা নির্মাণের মাধ্যমে দম্ভ ও গর্ব প্রকাশ করবে। আমরা অবস্থান করলাম: আমরা বিলম্ব করলাম। দীর্ঘক্ষণ: তিন দিন পর্যন্ত দীর্ঘ সময়কাল।

শিক্ষা ও উপকারিতা:

(১) ফেরেশতারা তাদের ইচ্ছানুযায়ী যেকোনো রূপ ধারণ করতে পারেন।

(২) আলেমের নিকট শিক্ষার্থীর এবং পথনির্দেশ প্রত্যাশীর আদব বা শিষ্টাচার।

(৩) যখন ইসলাম ও ঈমান একত্রে উল্লেখ করা হয়, তখন ইসলাম দ্বারা প্রকাশ্য আমলসমূহ এবং ঈমান দ্বারা অভ্যন্তরীণ আমলসমূহকে বোঝানো হয়।

(৪) ইসলাম, ঈমান ও ইহসান—সবগুলোকেই 'দ্বীন' হিসেবে অভিহিত করা হয়।

(৫) কিয়ামত এমন বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত যার জ্ঞান আল্লাহ নিজের জন্য নির্দিষ্ট রেখেছেন: {নিশ্চয় আল্লাহর নিকট কিয়ামতের জ্ঞান রয়েছে}।

(৬) কিয়ামতের অন্যতম আলামত হলো দাসীর সংখ্যা ও তাদের সন্তানের আধিক্য হওয়া, অথবা সন্তানদের নিজ মায়েদের সাথে অবাধ্যতামূলক আচরণ করা, যেন মায়েরা তাদের নিকট দাসী সমতুল্য।

(৭) তকদিরের প্রতি ঈমান আনা ওয়াজিব এবং মানুষের জন্য আল্লাহ কল্যাণ বা অকল্যাণের যা কিছু নির্ধারণ করেছেন তার ওপর সন্তুষ্ট থাকা আবশ্যক।

(৮) যে বিষয়ে মানুষের জ্ঞান নেই, সে বিষয়ে অনধিকার চর্চা বা গভীরে প্রবেশ করা বর্জন করা।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল আরবাঈন আন-নববিয়্যাহ মাআ মা জাদা আলাইহা ইবনে রাজাব ওয়া আলাইহাশ শারহুল মুজাজুল মুফিদ (পৃষ্ঠা: ٩)
(9) كراهية ما لا تدعو إليه الحاجة من تطويل البناء وزخرفته.

(10) الإخبار بأن من علامات الساعة أن تفتح الدنيا على أهل البادية والفاقة فتنصرف همهم إلى تشييد المباني وليس لهم هم إلا ذلك.

الموجز:

يخبرنا عمر ابن الخطاب رضي الله تعالى عنه في حديث جبريل المشهور هذا بأن جبريل عليه السلام خرج عليهم بصورة رجل لا يعرف وهم جلوس عند النبي صلى الله عليه وسلم فجلس بين يدي النبي صلى ألله عليه وسلم جلسة المتعلم المسترشد فسأله عن الإسلام والإيمان والإحسان فأجابه بهذه الأركان التي تتضمن الإقرار بالشهادتين والمحافظة على الصلوات الخمس وأداء الزكاة لمستحقيها وصيام شهر رمضان بنية صادقة وأداء فريضة الحج على المستطيع والإيمان بأن الله هو الخالق الرازق، المتصف بالكمال المنزه عن النقص. وأن الملائكة خلقهم الله عباد مكرمون لا يعصون الله تعالى وبأمره يعملون، والإيمان بالكتب المنزلة على الرسل من عند الله تعالى وبالرسل المبلغين عن الله دينه وأن الإنسان يعبد الله كأنه يشاهده سبحانه، فإن لم يقم بهذه العبادة فليعبد الله تعالى خوفا منه لعلمه أنه مطلع لا تخفي عليه خافية، وأن علم الساعة لا يعلمه أحد من الخلق وأن من علامات الساعة كثر في السراري وأولادها أو كثرة عقوق الأولاد لأمهاتهم يعاملونهن معاملة الإماء، وأن رعاة الغنم والفقراء تبسط لهم الدنيا في آخر الزمان فيتفاخرون وفي زخرفة المباني وتشييدها. وكل هذه الأسئلة والأجوبة عليها لتعليم هذا الدين الحنيف من جبريل لقول رسول الله صلى الله عليه وسلم "هذا جبريل أتاكم يعلمكم دينكم".

شعر:

وما المرء إلا حيث يجعل نفسه … ففي صالح الأعمال نفسك فاجعل
(৯) প্রয়োজন নেই এমন সুউচ্চ ইমারত নির্মাণ এবং তার সাজসজ্জার অপছন্দনীয়তা।

(১০) এ সংবাদ প্রদান করা যে, কিয়ামতের অন্যতম নিদর্শন হলো মরুবাসী ও অভাবী লোকদের নিকট দুনিয়ার প্রাচুর্য উন্মুক্ত হবে, ফলে তাদের একমাত্র চিন্তা হবে দালানকোঠা নির্মাণ এবং এ ছাড়া তাদের অন্য কোনো লক্ষ্য থাকবে না।

সারসংক্ষেপ:

উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু জিবরীলের এই প্রসিদ্ধ হাদিসে আমাদের সংবাদ দিচ্ছেন যে, জিবরীল আলাইহিস সালাম এমন এক ব্যক্তির আকৃতিতে তাদের নিকট প্রকাশ পেলেন যাকে কেউ চিনত না, এমতাবস্থায় তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে উপবিষ্ট ছিলেন। অতঃপর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে একজন পথপ্রত্যাশী শিক্ষার্থীর ন্যায় বসলেন এবং তাঁকে ইসলাম, ঈমান ও ইহসান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি তাকে এই রুকনগুলোর মাধ্যমে উত্তর দিলেন যা দুই শাহাদাতের স্বীকৃতি প্রদান, পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের হিফাযত করা, হকদারদের নিকট যাকাত প্রদান করা, সৎ নিয়তে রমযান মাসের সিয়াম পালন করা এবং সামর্থ্যবানের জন্য হজ পালন করাকে অন্তর্ভুক্ত করে। আর এই বিশ্বাস রাখা যে, আল্লাহই স্রষ্টা ও রিযিকদাতা, তিনি পূর্ণতার গুণে গুণান্বিত এবং সকল ত্রুটি থেকে পবিত্র। আর ফেরেশতাগণ আল্লাহর এমন এক সৃষ্টি যারা সম্মানিত বান্দা, তারা আল্লাহর অবাধ্য হয় না এবং তাঁর নির্দেশেই কাজ করে। আর আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে রাসূলগণের উপর অবতীর্ণ কিতাবসমূহের প্রতি বিশ্বাস এবং আল্লাহর দ্বীন প্রচারকারী রাসূলগণের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা। আর মানুষ আল্লাহর ইবাদত করবে যেন সে তাঁকে দেখছে, সুবহানাহু; যদি সে এভাবে ইবাদত করতে না পারে, তবে সে যেন আল্লাহ তাআলার ভয়ে তাঁর ইবাদত করে, যেহেতু সে জানে যে আল্লাহ সবকিছু পর্যবেক্ষণ করছেন এবং তাঁর নিকট কোনো গোপন বিষয়ই গোপন থাকে না। আর কিয়ামতের জ্ঞান সৃষ্টিজগতের কারোরই নেই। কিয়ামতের অন্যতম নিদর্শন হলো দাসীদের সংখ্যা ও তাদের সন্তানদের আধিক্য অথবা সন্তানদের পক্ষ থেকে মায়েদের প্রতি নাফরমানি বা অবাধ্যতা বৃদ্ধি পাওয়া, তারা মায়েদের সাথে দাসীর ন্যায় আচরণ করবে। আর শেষ যামানায় মেষপালক ও দরিদ্রদের জন্য দুনিয়ার প্রাচুর্য উন্মুক্ত হবে এবং তারা অট্টালিকা নির্মাণ ও তার সাজসজ্জা নিয়ে পারস্পরিক গর্ব করবে। এই সমস্ত প্রশ্ন ও তার উত্তরগুলো ছিল জিবরীলের পক্ষ থেকে এই নিষ্ঠাপূর্ণ (হানিফ) দ্বীন শিক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে, কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "ইনি জিবরীল, তোমাদের তোমাদের দ্বীন শিক্ষা দিতে তোমাদের নিকট এসেছিলেন।"

কবিতা:

মানুষ নিজেকে যেখানে স্থাপন করে সে সেখানেই অবস্থান করে … অতএব তুমি নিজেকে সৎ আমলের মধ্যে স্থাপন করো।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল আরবাঈন আন-নববিয়্যাহ মাআ মা জাদা আলাইহা ইবনে রাজাব ওয়া আলাইহাশ শারহুল মুজাজুল মুফিদ (পৃষ্ঠা: ١٠)
‌‌الحديث الثالث:

عن أبي عبد الرحمن عبد الله بن عمر بن الخطاب رضي الله عنهما قال"سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول:"بني الإسلام على خمس شهادة أن لا إله إلا الله وأن محمدا رسول الله، وإقام الصلاة وإيتاء الزكاة وحج البيت، وصوم رمضان" رواه البخاري ومسلم.

المفردات:

بني: أسس. على خمس: على دعائم خمس، إقام الصلاة: أي آداؤها والمحافظة عليها، إيتاء الزكاة: إعطاؤها لمستحقيها. بيت الله: الكعبة. رمضان: شهر رمضان، والمراد صوم نهاره بنية.

الفوائد:

(1) معرفة أركان الإسلام والعمل بها.

(2) أن هذه الفروض الخمسة فرض على الأعيان المكلفين.

(3) أن ما سواها كالأعمال الظاهرة متممات ومكملات إلا ما خصه دليل بالوجوب.

(4) جواز إطلاق رمضان من غير لفظ شهر.

الموجز:

يرشدنا النبي صلى الله عليه وسلم إلى أن الإسلام مبناه وأساسه على خمسة دعائم لا يصح بدونها وهي: الإقرار لله تعالى بالوحدانية. ولنبيه بالرسالة، والمحافظة على الصلوات الخمس مع القيام بشروطها وأركانها وواجباتها وإعطاء الزكاة لمستحقيها عند وجوبها وصيام شهر
তৃতীয় হাদিস:

আবু আবদুর রহমান আবদুল্লাহ ইবনে উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, "আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: 'ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে স্থাপিত: এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল, সালাত কায়েম করা, যাকাত প্রদান করা, বাইতুল্লাহর হজ করা এবং রমজানের সিয়াম পালন করা।'" বুখারী ও মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন।

শব্দার্থ:

স্থাপিত: ভিত্তি রাখা হয়েছে। পাঁচটি স্তম্ভের ওপর: পাঁচটি খুঁটির ওপর। সালাত কায়েম করা: অর্থাৎ তা আদায় করা এবং তার প্রতি যত্নবান হওয়া। যাকাত প্রদান করা: এর হকদারদের তা প্রদান করা। বাইতুল্লাহ: কাবা ঘর। রমজান: রমজান মাস, আর এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো নিয়তসহ দিনের বেলায় সিয়াম পালন করা।

উপকারিতা:

(১) ইসলামের রুকনসমূহ সম্পর্কে অবগত হওয়া এবং সে অনুযায়ী আমল করা।

(২) এই পাঁচটি বিধান প্রত্যেক মুকাল্লাফ ব্যক্তির ওপর ব্যক্তিগতভাবে ফরজ।

(৩) এগুলো ছাড়া অন্যান্য প্রকাশ্য আমলসমূহ হলো পরিপূরক ও পূর্ণতাদানকারী, তবে দলীল দ্বারা যেগুলোকে ওয়াজিব সাব্যস্ত করা হয়েছে সেগুলো ব্যতীত।

(৪) 'মাস' শব্দ যুক্ত না করে কেবল 'রমজান' বলা বৈধ।

সারসংক্ষেপ:

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন যে, ইসলামের কাঠামো ও ভিত্তি পাঁচটি স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত যা ছাড়া তা শুদ্ধ হয় না। সেগুলো হলো: আল্লাহ তাআলার একত্বের স্বীকৃতি প্রদান করা, তাঁর নবীর রিসালাতের স্বীকৃতি প্রদান করা, সালাতের শর্তাবলী, রুকন ও ওয়াজিবসমূহ যথাযথভাবে পালনের মাধ্যমে পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের হেফাজত করা, যাকাত ওয়াজিব হওয়ার সময় তার হকদারদের তা প্রদান করা এবং মাসের সিয়াম পালন করা...
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল আরবাঈন আন-নববিয়্যাহ মাআ মা জাদা আলাইহা ইবনে রাজাব ওয়া আলাইহাশ শারহুল মুজাজুল মুফিদ (পৃষ্ঠা: ١١)
رمضان بنية صادقة وأداء فريضة الحج لمن استطاع إليه سبيلا من زاد وراحلة وغير ذلك، وما سوى هذه الخمس فهي من التكميل والتزيين إلا ما خصه دليل بالوجوب فلزام علينا فعله.

شعر:

خسر الذي ترك الصلاة وخابا … وأبا مغادا صالحا ومآبا

إن كان يجحدها فحسبك أنه … أضحى بربك كافرا مرتابا

آخر:

إذا خزن المال البخيل فإنه … سيورثه غما ويعقبه وزرا

آخر:

وكن متصدقا سرا وجهرا … ولا تبخل وكن سمحا وهوبا

تجد ما قدمته يداك ظلا … إذا ما اشتد بالناس الكروبا
রমজান মাস একনিষ্ঠ নিয়তের সাথে পালন করা এবং যার সামর্থ্য আছে তার জন্য পাথেয় ও বাহন ইত্যাদির মাধ্যমে হজের ফরজ আদায় করা; আর এই পাঁচটি বিষয় ছাড়া অন্য যা কিছু আছে তা পরিপূরক ও সৌন্দর্যমন্ডিত করার অন্তর্ভুক্ত, তবে কোনো দলিল যদি কোনো বিষয়কে ওয়াজিব বা আবশ্যক বলে সাব্যস্ত করে, তবে তা পালন করা আমাদের জন্য অনিবার্য।

কবিতা:

সেই ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত ও ব্যর্থ হয়েছে যে সালাত বর্জন করেছে … এবং সে উত্তম প্রত্যাবর্তনস্থল ও ঠিকানা প্রত্যাখ্যান করেছে

যদি সে একে অস্বীকার করে তবে তোমার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে … সে তোমার রবের সাথে কুফরি করল ও সংশয়বাদী হয়ে গেল

অন্যটি:

কৃপণ ব্যক্তি যখন সম্পদ জমা করে রাখে তখন নিশ্চয়ই তা … তাকে বিষণ্ণতা দেবে এবং পরিণামে তার জন্য গুনাহের বোঝা বয়ে আনবে

অন্যটি:

তুমি গোপনে ও প্রকাশ্যে সদকা করো … আর কৃপণ হয়ো না বরং উদার ও দানশীল হও

তোমার হাত যা আগে পাঠিয়েছে তা ছায়া হিসেবে পাবে … যখন মানুষের ওপর বিপদ-আপদ চরম আকার ধারণ করবে
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল আরবাঈন আন-নববিয়্যাহ মাআ মা জাদা আলাইহা ইবনে রাজাব ওয়া আলাইহাশ শারহুল মুজাজুল মুফিদ (পৃষ্ঠা: ١١)
‌‌الحديث الرابع:

عن أبي عبد الرحمن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه قال: حدثنا رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو الصادق المصدوق "إن أحدكم يجمع خفقه في بطن أفه أربعين يوما نطفة ثم يكون علقة مثل ذلك ثم يكون مضغة مثل ذلك ثم يرسل إليه الملك فينفخ فيه الروح ويؤمر بأربع كلمات بكتب رزقه وأجله وعمله وشقي أو سعيد، فو الله الذي لا إله غيره إن أحدكم ليعمل بعمل أهل الجنة حتى ما يكون بينه وبينها إلا ذراع فيسبق عليه الكتاب فيعمل بعمل أهل النار فيدخلها، وإن أحدكم ليعمل بعمل أهل النار حتى ما يكون بينه وبينها إلا ذراع فيسبق عليه الكتاب فيعمل بعمل أهل الجنة فيدخلها" متفق عليه.
চতুর্থ হাদিস:

আবু আবদুর রহমান আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন—আর তিনি সত্যবাদী ও (আল্লাহর পক্ষ থেকে) প্রত্যায়িত সত্যবাদী—"নিশ্চয়ই তোমাদের প্রত্যেকের সৃষ্টির উপাদান নিজ মায়ের পেটে চল্লিশ দিন পর্যন্ত বীর্যবিন্দু হিসেবে জমা করা হয়, অতঃপর তা অনুরূপ সময়ের জন্য জমাট রক্তে পরিণত হয়, অতঃপর তা অনুরূপ সময়ের জন্য মাংসপিণ্ডে পরিণত হয়। এরপর তার নিকট ফেরেশতা পাঠানো হয় এবং তিনি তাতে রুহ (আত্মা) ফুঁকে দেন। আর তাকে চারটি বিষয় লিখে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়: তার রিজিক (জীবিকা), তার আয়ুষ্কাল, তার আমল এবং সে কি হতভাগা নাকি সৌভাগ্যবান। আল্লাহর কসম, যিনি ছাড়া আর কোনো সত্য ইলাহ নেই, তোমাদের কেউ জান্নাতিদের মতো আমল করতে থাকে এমনকি তার ও জান্নাতের মধ্যে মাত্র এক হাত ব্যবধান অবশিষ্ট থাকে, এমতাবস্থায় তার ওপর লিখিত তাকদির প্রবল হয়, ফলে সে জাহান্নামিদের মতো আমল করে এবং তাতে প্রবেশ করে। আর তোমাদের কেউ জাহান্নামিদের মতো আমল করতে থাকে এমনকি তার ও জাহান্নামের মধ্যে মাত্র এক হাত ব্যবধান অবশিষ্ট থাকে, এমতাবস্থায় তার ওপর লিখিত তাকদির প্রবল হয়, ফলে সে জান্নাতিদের মতো আমল করে এবং তাতে প্রবেশ করে।" (বুখারি ও মুসলিম কর্তৃক ঐক্যমত পোষণকৃত)।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল আরবাঈন আন-নববিয়্যাহ মাআ মা জাদা আলাইহা ইবনে রাজাব ওয়া আলাইহাশ শারহুল মুজাজুল মুফিদ (পৃষ্ঠা: ١٢)
المفردات:

الصادق: المخبر بالحق، المصدوق: صدقه الله وعده، يجمع خلقه: بعد الانتشار في الرحم من ماء المرأة ومني الرجل، في بطن أمه: في رحمها، نطفة: منيا علقة: قطعة دم، مضغة: قطعة لحم بقدر اللقمة التي تمضغ، مثل ذلك: الزمن وهو أربعون يوما، يرسل إليه الملك الموكل بالرحم يكتب رزقه: تقديره قليلا أو كثيرا وأجله: منتهى عمره يعمل بعمل أهل الجنة: من الطاعات، ويعمل بعمل أهل النار: من المعاصي، حتى ناصبة، وما نافية ويجوز رفع يكون على أن حتى ابتدائية، يسبق عليه الكتاب: الذي كتب فيه مصيره.

الفوائد:

(1) الإشارة إلى علم المبدأ والمعاد وبيان ما يتعلق بالإنسان وحاله من شقاوة وسعادة وفقر وغنى.

(2) جواز القسم على الخبر الصادق لتأكيده في نفس السامع.

(3) الإيمان بالبعث والنشور بعد الموت.

(4) إثبات القدر والإيمان به.

(5) القناعة بما قدر الله للعبد من الرزق وعدم الحرص الشديد ما دام الرزق مقدرا مع فعل الأسباب.

(7) الخوف من سوء الخاتمة.

(8) إن التوبة تهدم ما قبلها.

(9) إن السعادة والشقاوة قد سبق الكتاب بهما وأن كلا ميسر لما خلق له.
শব্দার্থ:

সত্যবাদী: যিনি সত্য সংবাদ প্রদান করেন। সত্যপ্রতিপন্ন: আল্লাহ যার নিকট করা তাঁর ওয়াদা সত্যে পরিণত করেছেন। তাঁর সৃষ্টিকে একত্রিত করা হয়: পুরুষের বীর্য ও নারীর জলীয় পদার্থ জরায়ুতে বিচ্ছুরিত হওয়ার পর। তার মায়ের পেটে: অর্থাৎ তার জরায়ুতে। শুক্রবিন্দু: বীর্য। রক্তপিণ্ড: জমাট রক্ত। মাংসপিণ্ড: এক লোকমা পরিমাণ চিবানো মাংসের ন্যায় গোশতের টুকরো। তার অনুরূপ: অর্থাৎ সময়কাল, যা চল্লিশ দিন। তার নিকট জরায়ুর দায়িত্বে নিয়োজিত ফেরেশতাকে পাঠানো হয়। তার রিজিক লিখে দেন: তার নির্ধারণ, তা পরিমাণে কম হোক বা বেশি। এবং তার আয়ু: তার জীবনের পরিসমাপ্তি। জান্নাতবাসীদের আমল করে: আনুগত্যমূলক কাজসমূহ। এবং জাহান্নামবাসীদের আমল করে: পাপাচারসমূহ। এমনকি, 'মা' অব্যয়টি না-বোধক এবং 'হওয়া' ক্রিয়াটি পেশযুক্ত হওয়া বৈধ এই ভিত্তিতে যে 'এমনকি' এখানে প্রারম্ভিক অব্যয়; তাকদীর তার ওপর বিজয়ী হয়: যাতে তার পরিণাম লেখা হয়েছে।

উপকারিতা ও শিক্ষাসমূহ:

(১) সৃষ্টির সূচনা ও পুনরুত্থান বিষয়ক জ্ঞানের প্রতি ইঙ্গিত এবং মানুষের দুর্ভাগ্য, সৌভাগ্য, দারিদ্র্য ও প্রাচুর্য সংক্রান্ত অবস্থার বর্ণনা।

(২) শ্রোতার অন্তরে সত্য সংবাদের গুরুত্ব দৃঢ় করার জন্য শপথ করার বৈধতা।

(৩) মৃত্যুর পর পুনরুত্থান ও হাশরের প্রতি ঈমান।

(৪) তাকদীর সাব্যস্ত করা এবং এর ওপর ঈমান আনা।

(৫) আল্লাহ বান্দার জন্য যে রিজিক নির্ধারণ করেছেন তাতে সন্তুষ্ট থাকা এবং রিজিক নির্ধারিত থাকা অবস্থায় উপায়-উপকরণ অবলম্বনের পাশাপাশি অতিরিক্ত লোভ না করা।

(৭) মন্দ পরিণতির (খাতেমা) ভয় রাখা।

(৮) নিশ্চয়ই তাওবা পূর্ববর্তী সকল পাপকে মিটিয়ে দেয়।

(৯) নিশ্চয়ই সৌভাগ্য ও দুর্ভাগ্য পূর্বেই কিতাবে লিপিবদ্ধ হয়েছে এবং প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য সেই পথ সহজ করে দেওয়া হয় যার জন্য তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল আরবাঈন আন-নববিয়্যাহ মাআ মা জাদা আলাইহা ইবনে রাজাব ওয়া আলাইহাশ শারহুল মুজাজুল মুফিদ (পৃষ্ঠা: ١٣)
الموجز:

في هذا الحديث بيان مبدأ الإنسان في بطن أمه وتنقله من طور إلا طور آخر من منى إلى علقة إلى مضغة مخلقة وغير مخلقة ثم يرسل إليه الملك فينفخ فيه الروح فتسرى في جسمه فيبتديء بالحركة ويكتب الملك ما له من رزق في دار الدنيا قليلا أو كثيرا حتى يموت ويكتب مقدار عمره ومنتهاه وماذا يعمل من خير وشر ومباح وسعادة وشقاوة، ثم إن الرسول صلى الله عليه وسلم بين مال الإنسان بأنه إما إلى جنة أو إلى نار، وجاء صلى الله عليه وسلم بمثل يخوف من سوء الخاتمة معناه أن من بني آدم من يعمل كل عمره في طاعة الله فإذا حان قبض روحه أشرك بالله أو كفر فمات فكان من أهل النار وآخر عمل كل عمره بالكفر وفعل المعاصي وعند قرب أجله أسلم وتاب وأناب إلى الله تعالى، فمات فصار من أهل الجنة فعلى كل مسلم أن يخشى من سوء الخاتمة، نسأل الله حسن الخاتمة.

شعر:

واعلم والله بأنك آخذ كل الذي … لك في الكتاب محبر مسطور

ما زاد امرئ في رزقه … حرص ولا أزرى به التقصير

وعلى المؤمن فعل الأسباب، قالت الشاعر، مقتبسا من معنى القرآن الكريم:

ألم تر أن الله قال لمريم … وهزي إليك الجذع يساقط الرطبا

ولو شاء أدنى الجذع من غير هزه … إليها ولكن كل شيء له سببا

وعلى المؤمن الرضا بما قدر الله تعالى، قال الشاعر:

ليس عندي إلا الرضا بما قدر … الله فيما أحببته أو كرهته

ولو أني حرصت جهدي أن … أدافع أمرا مقدرا ما دفعته

فأرى أن أرد ذاك إلى من … عنده علم كل ما قد جهلته
সারসংক্ষেপ:

এই হাদীসে মায়ের গর্ভে মানুষের সৃষ্টির সূচনা এবং এক পর্যায় থেকে অন্য পর্যায়ে তার রূপান্তরের বর্ণনা রয়েছে; বীর্য থেকে রক্তপিণ্ড, এরপর মাংসপিণ্ড যা গঠিত হয় অথবা অগঠিত থাকে। অতঃপর তার নিকট ফেরেশতা পাঠানো হয় এবং তিনি তাতে প্রাণ ফুঁকে দেন, ফলে তা তার দেহে সঞ্চারিত হয় এবং সে নড়াচড়া শুরু করে। আর ফেরেশতা দুনিয়ার জীবনে তার জন্য নির্ধারিত রিজিক লিখে দেন—তা কম হোক বা বেশি—যতক্ষণ না সে মৃত্যুবরণ করে। তিনি তার আয়ুর পরিমাণ ও এর পরিসমাপ্তি এবং সে কী কী ভালো-মন্দ বা বৈধ কাজ করবে এবং তার সৌভাগ্য ও দুর্ভাগ্যের বিষয়সমূহ লিখে দেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মানুষের পরিণতির কথা বর্ণনা করেছেন যে, তা হয় জান্নাত হবে নতুবা জাহান্নাম। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মন্দ পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করার জন্য একটি উদাহরণ পেশ করেছেন, যার অর্থ হলো—আদম সন্তানদের মধ্যে কেউ কেউ সারা জীবন আল্লাহর আনুগত্যে অতিবাহিত করে, কিন্তু যখন তার প্রাণ হরণের সময় উপস্থিত হয়, তখন সে আল্লাহর সাথে শিরক করে অথবা কুফরি করে এবং সেই অবস্থায় মারা যায়; ফলে সে জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত হয়। আবার অন্য কেউ সারা জীবন কুফরি ও পাপে লিপ্ত থাকে, কিন্তু মৃত্যুর নিকটবর্তী সময়ে সে ইসলাম গ্রহণ করে, তওবা করে এবং মহান আল্লাহর দিকে ফিরে আসে; অতঃপর সে মৃত্যুবরণ করে জান্নাতবাসীদের অন্তর্ভুক্ত হয়। সুতরাং প্রত্যেক মুসলিমের উচিত মন্দ পরিণতিকে ভয় করা। আমরা আল্লাহর কাছে উত্তম পরিণতির প্রার্থনা করি।

কবিতা:

জেনে রেখো, আল্লাহর শপথ! তোমার জন্য কিতাবে যা সুবিন্যস্ত ও লিপিবদ্ধ করা হয়েছে, তুমি অবশ্যই তা প্রাপ্ত হবে।

কোনো ব্যক্তির লোভ তার রিজিক বাড়িয়ে দেয় না, আর শৈথিল্যও তাকে তা থেকে বঞ্চিত করে না।

আর মুমিনের কর্তব্য হলো উপায় অবলম্বন করা। কবি পবিত্র কুরআনের মর্মার্থ থেকে উদ্ধৃত করে বলেছেন:

তুমি কি দেখনি যে আল্লাহ মারইয়ামকে বলেছিলেন, … ‘তুমি তোমার দিকে খেজুরের কাণ্ড ধরে নাড়া দাও, তা তোমার ওপর তাজা পাকা খেজুর ঝরিয়ে দেবে’।

তিনি চাইলে কোনো প্রকার নাড়া দেওয়া ছাড়াই কাণ্ডটিকে তার নিকটবর্তী করে দিতে পারতেন, … কিন্তু প্রতিটি বিষয়েরই একটি কার্যकारण বা উপায় রয়েছে।

আর মুমিনের কর্তব্য হলো মহান আল্লাহর ফয়সালায় সন্তুষ্ট থাকা। কবি বলেছেন:

আল্লাহ যা নির্ধারিত করেছেন তাতে সন্তুষ্ট থাকা ছাড়া আমার আর কিছু নেই, … তা আমার প্রিয় হোক কিংবা অপ্রিয়।

যদি আমি আমার সর্বাত্মক প্রচেষ্টায় কোনো নির্ধারিত বিষয়কে … প্রতিহত করতে চাইতাম, তবে তা কখনোই সরাতে পারতাম না।

তাই আমি সংগত মনে করি সেই বিষয়টিকে তাঁর কাছেই ফিরিয়ে দেওয়া, … যাঁর কাছে সেই সবকিছুর জ্ঞান রয়েছে যা আমার অজ্ঞাত।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল আরবাঈন আন-নববিয়্যাহ মাআ মা জাদা আলাইহা ইবনে রাজাব ওয়া আলাইহাশ শারহুল মুজাজুল মুফিদ (পৃষ্ঠা: ١٤)
‌‌الحديث الخامس:

عن أم المؤمنين أم عبد الله عائشة رضي الله عنها قالت: قال: رسول الله صلى الله عليه وسلم: "من أحدث في أمرنا هذا ما ليس منه فهو رد " متفق عليه.

وفي رواية لمسلم: " من عمل عملا ليس عليه أمرنا فهو رد".

المفردات:

أحدث: أنشأ واخترع، في أمرنا: في ديننا، رد: مردود غير مقبول من إطلاق المصدر وإرادة اسم المفعول.

الفوائد:

(1) الحث على الإتباع والتحذير من الابتداع.

(2) رد كل محدثة في الدين وأنه لا فرق بين ما يحدثه الإنسان أو يحدثه غيره ويعمل به.

(3) أن كل ما وافق الشرع أو تضمنته القواعد العامة ليس بمردود.

(4) إبطال جميع العقود المنهي عنها.

(5) أن حكم الحاكم لا يغير الحقائق فلا يحل حراما ولا يحرم حلالا وإن نفذ ظاهرا.

الموجز:

يرشدنا هذا الحديث على أن كل من تعبد بشيء لم يشرعه الله ورسوله أو أحدث في الدين ما لا يشهد له أصل من أصوله السنة أو القواعد
পঞ্চম হাদিস:

উম্মুল মুমিনীন উম্মে আবদুল্লাহ আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনের বিষয়ে নতুন কিছু উদ্ভাবন করল যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত।" মুত্তাফাকুন আলাইহি (বুখারি ও মুসলিম)।

এবং মুসলিমের এক বর্ণনায় রয়েছে: "যে ব্যক্তি এমন কোনো আমল করল যাতে আমাদের (শরীয়তের) নির্দেশনা নেই, তা প্রত্যাখ্যাত।"

শব্দার্থ:

উদ্ভাবন করল: সূচনা করল ও আবিষ্কার করল; আমাদের বিষয়ে: আমাদের দ্বীনের মধ্যে; প্রত্যাখ্যাত: বর্জনীয় ও অগ্রহণযোগ্য; এখানে ক্রিয়ামূল (মাসদার) ব্যবহার করে কর্মবাচক বিশেষ্যের (ইসমুল মাফউল) অর্থ গ্রহণ করা হয়েছে।

শিক্ষা ও উপকারিতা:

(১) সুন্নাহর অনুকরণের প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং বিদআতের (নতুন উদ্ভাবন) ব্যাপারে সতর্কীকরণ।

(২) দ্বীনের মধ্যে প্রতিটি নব-উদ্ভাবিত বিষয় প্রত্যাখ্যাত। এক্ষেত্রে ব্যক্তি নিজে তা উদ্ভাবন করুক কিংবা অন্য কেউ উদ্ভাবন করুক আর সে তা অনুযায়ী আমল করুক—উভয়ই সমান।

(৩) যা কিছু শরীয়তের অনুকূল অথবা শরীয়তের সাধারণ মূলনীতিসমূহের অন্তর্ভুক্ত, তা প্রত্যাখ্যাত নয়।

(৪) শরীয়ত কর্তৃক নিষিদ্ধ সকল প্রকার চুক্তি ও লেনদেন বাতিল বলে গণ্য হওয়া।

(৫) বিচারকের ফয়সালা প্রকৃত সত্যকে পরিবর্তন করতে পারে না; সুতরাং তা কোনো হারামকে হালাল করতে পারে না এবং কোনো হালালকেও হারাম করতে পারে না, যদিও তা বাহ্যিকভাবে কার্যকর করা হয়।

সারসংক্ষেপ:

এই হাদিসটি আমাদের এই নির্দেশনা দেয় যে, যে ব্যক্তি এমন কিছুর মাধ্যমে ইবাদত করল যা আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল বিধিবদ্ধ করেননি, অথবা দ্বীনের মধ্যে এমন কিছু নতুন উদ্ভাবন করল যার সপক্ষে সুন্নাহর কোনো মূল ভিত্তি বা শরীয়তের কোনো সাধারণ নিয়ম নেই (তা অগ্রহণযোগ্য)।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল আরবাঈন আন-নববিয়্যাহ মাআ মা জাদা আলাইহা ইবনে রাজাব ওয়া আলাইহাশ শারহুল মুজাজুল মুফিদ (পৃষ্ঠা: ١٥)
العامة فإن ذلك مردود على صاحبه وهو آثم في ذلك وكل شيء من المعاملات إذا حدث فيه ما يفسد العقد لمخالفته الحكم الشرعي يجب رده على صاحبه فليحذر كل مسلم الابتداع في الدين وليتمسك بهدي سيد المرسلين صلى الله عليه وسلم.

شعر:

وكن لسنة خير الخلق متبعا … فإنها لنجاة العبد عنوان

فهو الذي شملت للخلق أنعمه … وعمهم منه في الدارين إحسان

ومذ أتى أبصرت عمى القلوب به … سبل الهدى ووعت للحق آذان
সাধারণের ক্ষেত্রে তা তার কর্তার উপরেই প্রত্যাখ্যাত এবং সে এতে পাপী। আর লেনদেনের অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি বিষয়, যাতে এমন কিছু ঘটে যা শরয়ি বিধানের পরিপন্থী হওয়ার কারণে চুক্তিকে বাতিল করে দেয়, তবে তা তার মালিকের নিকট ফেরত দেয়া আবশ্যক। অতএব প্রত্যেক মুসলিমের উচিত দ্বীনের মধ্যে নবউদ্ভাবন থেকে সতর্ক থাকা এবং রাসূলগণের সরদার সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রদর্শিত পথকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা।

কবিতা:

সৃষ্টির সেরা মানবের সুন্নাহর অনুসারী হও … কেননা তা বান্দার মুক্তির সোপান।

তিনিই সেই সত্তা যাঁর অনুগ্রহরাজি সৃষ্টিজগতকে পরিবেষ্টন করেছে … এবং উভয় জগতে তাঁর ইহসান বা কল্যাণ তাদের জন্য ব্যাপক হয়েছে।

আর তিনি যখন থেকে এসেছেন, তাঁর মাধ্যমে অন্ধ অন্তরসমূহ হিদায়াতের পথ দেখতে পেয়েছে এবং কানসমূহ সত্যবাণী গ্রহণ করেছে।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল আরবাঈন আন-নববিয়্যাহ মাআ মা জাদা আলাইহা ইবনে রাজাব ওয়া আলাইহাশ শারহুল মুজাজুল মুফিদ (পৃষ্ঠা: ١٥)
‌‌الحديث السادس:

عن أبي عبد الله النعمان بن بشير رضي الله عنهما. قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "إن الحلال بين وإن الحرام بين وبينهما أمور مشتبهات لا يعلمهن كثير من الناس، فمن اتقى الشبهات فقد استبرأ لدينه وعرضه ومن وقع في الشبهات وقع في الحرام، كالراعي يرعى حول الحمى يوشك أن يقع فيه، ألا وإن لكل مللك حمى ألا وإن جفي الله محارمه ألا وإن في الجسد مضغة إذا صلحت صلح الجسد كله وإذا فسدت فسد الجسد كله ألا وهى القلب" متفق عليه.

المفردات:

بين: ظاهر، أمور: شئون وأحوال، مشتبهات: ليس واضحا حلها ولا حرمتها، فمن اتقى الشبهات تركها، هنا أوقع الظاهر موقع
ষষ্ঠ হাদীস:

আবু আব্দুল্লাহ নু'মান ইবনে বাশীর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "নিশ্চয়ই হালাল স্পষ্ট এবং হারামও স্পষ্ট। আর এই উভয়ের মাঝে রয়েছে বহু সন্দেহজনক বিষয়, যা অধিকাংশ মানুষ জানে না। সুতরাং যে ব্যক্তি সন্দেহজনক বিষয়সমূহ থেকে বেঁচে থাকল, সে তার দীন ও সম্মানকে রক্ষা করল। আর যে ব্যক্তি সন্দেহজনক বিষয়ে লিপ্ত হলো, সে হারামে পতিত হলো। তার উদাহরণ সেই রাখালের ন্যায় যে সংরক্ষিত চারণভূমির আশেপাশে পশু চরায়, অচিরেই সে তার ভেতরে ঢুকে পড়ার উপক্রম হয়। জেনে রেখো, প্রত্যেক রাজারই একটি সংরক্ষিত সীমানা থাকে। আরও জেনে রেখো, আল্লাহর সংরক্ষিত সীমানা হলো তাঁর হারামকৃত বিষয়সমূহ। সাবধান, শরীরের মধ্যে একটি মাংসপিণ্ড রয়েছে; যদি তা সংশোধিত হয় তবে পুরো শরীরই সংশোধিত হয়, আর যদি তা কলুষিত হয় তবে পুরো শরীরই কলুষিত হয়। জেনে রেখো, সেটি হলো অন্তর।" বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত।

শব্দার্থ:

স্পষ্ট: প্রকাশ্য। বিষয়সমূহ: কার্যাদি ও অবস্থাসমূহ। সন্দেহজনক বিষয়সমূহ: যার হালাল বা হারাম হওয়া স্পষ্ট নয়। সুতরাং যে ব্যক্তি সন্দেহজনক বিষয়সমূহ হতে বেঁচে থাকল: তা বর্জন করল। এখানে প্রকাশ্য শব্দটিকে নির্দিষ্ট স্থানে রাখা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল আরবাঈন আন-নববিয়্যাহ মাআ মা জাদা আলাইহা ইবনে রাজাব ওয়া আলাইহাশ শারহুল মুজাজুল মুফিদ (পৃষ্ঠা: ١٦)
المضمر تعظيما لشأنها لتجنب الشبهات. استبرأ لدينه: طلب براءة في يسر من النقص، وعرضه بحفظه عما يعاب عليه، الحمى: المحظور على غير مالكه، يرتع فيه: أن تأكل ماشيته منه. ألا حرف استفتاح يدل على تحقيق ما بعده، مضغة: قطعة لحم والمراد القلب وسمي قلبا لتقلبه في الأمور من حال إلى حال أخرى، الحمى: المحمى من إطلاق المصدر على اسم المفعول.

الفوائد:

(1) الحث على فعل الحلال واجتناب الحرام والشبهات.

(2) أن الشبهات لا يعلمها إلا القليل من الناس.

(3) المحافظة على أمور الدين ومراعاة المروءة الإنسانية.

(4) أن من لم يتوق الشبهات في كسبه ومعاشه فقد عرض نفسه إما للوقع في عرضه أو الوقوع في الحرام.

(5) سد كل ذريعة تؤدى إلى الحرام والمحرمات.

(6) الحث على إصلاح القلب وأن بصلاحه يصلح كل شيء وبفساده يفسد كل شيء من الإنسان.

(7) أن العقل في القلب {فَتَكُونَ لَهُمْ قُلُوبٌ يَعْقِلُونَ بِهَا}

(8) إن اختيار طيب الكسب يدلك على صلاح القلب.

الموجز:

يرشدنا هذا الحديث أن ما أحله الله ورسوله وحزمه الله ورسوله كل بين واضح وإنما الخوف على المسلم من الأشياء المشتبهة التي تخفي على كثير من الناس فمن ترك الأشياء التي ليست واضحة الحل ولا واضحة الحرمة، فقد تم له براءة دينه والبعد عن وقوعه في الحرام وصيانة عرضه عن كلام الناس بما يعيبون عليه بسبب ارتكابه هذا المشتبه، ومن لم يجتنب المشتبهات، فقد عرض نفسه إما في الوقوع في الحرام أو اغتياب
সন্দেহ এড়ানোর লক্ষ্যে এর গুরুত্বের প্রতি সম্মান জানিয়ে বিষয়টি উহ্য রাখা হয়েছে। তার দ্বীনের জন্য পবিত্রতা চাইল: অর্থাৎ সাবলীলভাবে সকল ত্রুটি থেকে মুক্তি চাইল; এবং তার সম্মান রক্ষা করল সেই বিষয় থেকে যা তাকে দোষী করে। সংরক্ষিত এলাকা: যা মালিক ছাড়া অন্যের জন্য নিষিদ্ধ। তাতে বিচরণ করে: অর্থাৎ তার গবাদি পশু সেখান থেকে ভক্ষণ করে। জেনে রেখো: এটি একটি প্রারম্ভিক অব্যয় যা তার পরবর্তী সংবাদের ধ্রুব সত্যতা প্রকাশ করে। গোশতের টুকরো: এক খণ্ড মাংস এবং এখানে উদ্দেশ্য হলো অন্তর; বিভিন্ন বিষয়ে এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় দ্রুত পরিবর্তিত হওয়ার কারণে একে অন্তর (কলব) বলা হয়। সংরক্ষিত চারণভূমি: এখানে ক্রিয়ামূল ব্যবহৃত হয়ে কর্মবাচক বিশেষ্যের অর্থ প্রদান করছে।

উপকারিতা:

(১) হালাল কাজ করার এবং হারাম ও সন্দেহযুক্ত বিষয় বর্জন করার প্রতি উৎসাহ প্রদান।

(২) সন্দেহযুক্ত বিষয়সমূহ অল্প সংখ্যক মানুষ ছাড়া অধিকাংশ মানুষই জানে না।

(৩) দ্বীনি বিষয়সমূহের হেফাজত করা এবং মানবিক শিষ্টাচার বজায় রাখা।

(৪) যে ব্যক্তি তার উপার্জন ও জীবনযাত্রায় সন্দেহযুক্ত বিষয় থেকে বেঁচে থাকে না, সে নিজেকে হয় নিজের সম্মানের হানি অথবা হারামে লিপ্ত হওয়ার ঝুঁকির সম্মুখীন করে।

(৫) হারাম ও নিষিদ্ধ বিষয়ের দিকে পরিচালিত করে এমন প্রতিটি পথ বন্ধ করা।

(৬) অন্তর সংশোধনের প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং এই যে, অন্তরের সংশোধনের মাধ্যমে মানুষের সবকিছু সংশোধিত হয় এবং এর কলুষতার মাধ্যমে সবকিছু কলুষিত হয়।

(৭) বিবেক বা বুদ্ধি অন্তরের মধ্যে থাকে {যাতে তাদের এমন অন্তর হয় যা দ্বারা তারা অনুধাবন করতে পারে}

(৮) উত্তম ও পবিত্র উপার্জন বেছে নেওয়া অন্তরের সংশোধনের পরিচয় দেয়।

সারসংক্ষেপ:

এই হাদিস আমাদের এই নির্দেশনা দেয় যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যা হালাল করেছেন এবং যা হারাম করেছেন তার সবই সুস্পষ্ট ও পরিষ্কার। তবে একজন মুসলিমের জন্য ভয়ের বিষয় হলো সেই সব সন্দেহযুক্ত বস্তু যা অনেক মানুষের কাছে অস্পষ্ট। সুতরাং যে ব্যক্তি এমন বিষয়গুলো বর্জন করল যার হালাল বা হারাম হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট নয়, তার দ্বীন নিষ্কলঙ্ক হলো, সে হারামে লিপ্ত হওয়া থেকে দূরে থাকল এবং এই সন্দেহযুক্ত কাজে লিপ্ত হওয়ার কারণে মানুষ তাকে নিয়ে যেসব নিন্দা করতে পারত, তা থেকে তার সম্মান সংরক্ষিত হলো। আর যে ব্যক্তি সন্দেহযুক্ত বিষয়সমূহ বর্জন করল না, সে নিজেকে হয় হারামে লিপ্ত হওয়া অথবা গীবতের শিকার হওয়ার সম্মুখীন করল।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল আরবাঈন আন-নববিয়্যাহ মাআ মা জাদা আলাইহা ইবনে রাজাব ওয়া আলাইহাশ শারহুল মুজাজুল মুফিদ (পৃষ্ঠা: ١٧)
الناس له، ثم إن الرسول صلى الله عليه وسلم ضرب مثلا لمن يرتكب الشبهات كراع يرعى إبله أو غنمه قرب أرض قد حماها الغير فتوشك ماشيته أن ترتع بهذا الحمى لجودته وقربها منه، وأشار النبي صلى الله عليه وسلم إلى أن الأعمال الظاهرة تدل على الأعمال الباطنة من صلاح وفساد فقال إن في الجسد مضغة وهى القلب يصلح بصلاحها ويفسد بفسادها، فإذا فعل الإنسان بجوارحه الطاعات وعمل الخيرات دل ذلك على صلاح قلبه، وإذا فعل المعاصي وارتكب المنكرات وتجنب الطاعات دل ذلك على فساد قلبه، ومما قيل في إصلاح القلب.

شعر:

دواء قلبك خمس عند قسوته … فدم عليها تفز بالخير والظفر

خلاء بطن وقرآن تدبره كذا … تضرع باك ساعة السحر

كذا قيامك جنح الليل أوسطه … وأن تجالس أهل الخير والخبر

آخر:

إذا دعتك النفس يوما … وكان عليها للخلاف طريق

فخالف هواها ما استطعت فإنما … هواها عدو والخلاف صديق
মানুষের জন্য তা; অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সন্দেহযুক্ত বিষয়ে লিপ্ত ব্যক্তির জন্য এমন এক রাখালের উদাহরণ পেশ করেছেন, যে তার উট বা বকরি এমন এক সংরক্ষিত ভূমির নিকট চরায় যা অন্য কেউ নিজের জন্য নির্দিষ্ট করে রেখেছে। ফলে তার গবাদিপশু সেই চারণভূমির সজীবতা ও নৈকট্যের কারণে সেখানে ঢুকে পড়ার উপক্রম হয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন যে, বাহ্যিক আমলসমূহ অভ্যন্তরীণ সংশোধন বা কলুষতার পরিচায়ক। তিনি বলেছেন, নিশ্চয়ই শরীরে একটি মাংসপিণ্ড রয়েছে—আর তা হলো অন্তর; সেটি সংশোধিত হলে সমগ্র দেহ সংশোধিত হয় এবং সেটি কলুষিত হলে সমগ্র দেহ কলুষিত হয়। সুতরাং মানুষ যখন তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাধ্যমে আনুগত্য ও সৎকাজ সম্পাদন করে, তখন তা তার অন্তরের বিশুদ্ধতার প্রমাণ দেয়। আর যখন সে পাপাচার ও গর্হিত কাজে লিপ্ত হয় এবং আনুগত্য বর্জন করে, তখন তা তার অন্তরের কলুষতার প্রমাণ দেয়। অন্তর সংশোধনের বিষয়ে যা বলা হয়েছে:

কবিতা:

তোমার অন্তরের কঠোরতার সময় এর ঔষধ হলো পাঁচটি … সুতরাং তাতে অটল থাকো, তবেই তুমি কল্যাণ ও সফলতা লাভ করবে।

পেট খালি রাখা, গভীর ধ্যানের সাথে কুরআন তিলাওয়াত করা … এবং শেষ রাতে ক্রন্দনরত অবস্থায় রোনাজারি করা।

তেমনি রাতের মধ্যভাগে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করা … এবং নেককার ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সান্নিধ্যে বসা।

অন্যত্র বলা হয়েছে:

যদি কোনোদিন প্রবৃত্তি তোমাকে প্ররোচিত করে … এবং তার বিরোধিতা করার সুযোগ থাকে,

তবে সাধ্যমতো তার খেয়াল-খুশির বিরোধিতা করো, কেননা … প্রবৃত্তি হলো শত্রু আর তার বিরোধিতা করাই হলো প্রকৃত বন্ধু।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল আরবাঈন আন-নববিয়্যাহ মাআ মা জাদা আলাইহা ইবনে রাজাব ওয়া আলাইহাশ শারহুল মুজাজুল মুফিদ (পৃষ্ঠা: ١٧)
‌‌الحديث السابع:

عن أبي رقية تميم بن أوس الداري رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "الدين النصيحة، قلنا لمن يا رسول الله؟ قال لله ولكتابه ولرسوله ولأئمة المسلمين وعامتهم" رواه مسلم.

المفردات:

الدين: دين الإسلام، النصيحة: تصفية النفس من الغش
সপ্তম হাদীস:

আবু রুকাইয়া তামীম বিন আউস আদ-দারী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "দ্বীন হলো কল্যাণকামিতা।" আমরা বললাম: কার জন্য হে আল্লাহর রাসূল? তিনি বললেন: "আল্লাহর জন্য, তাঁর কিতাবের জন্য, তাঁর রাসূলের জন্য, মুসলিমদের ইমামগণের জন্য এবং তাদের সাধারণ জনগণের জন্য।" ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন।

শব্দার্থ:

দ্বীন: ইসলাম ধর্ম, কল্যাণকামিতা: অন্তরকে প্রতারণা থেকে মুক্ত করা।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল আরবাঈন আন-নববিয়্যাহ মাআ মা জাদা আলাইহা ইবনে রাজাব ওয়া আলাইহাশ শারহুল মুজাজুল মুফিদ (পৃষ্ঠা: ١٨)
للمنصوح له، قلنا: معشر السامعين من الصحابة، لله: الإيمان بالله ونفي الشريك عنه، الإيمان بالقرآن والعمل به، ولرسوله محمد صلى الله عليه وسلم بتصديقه وإتباعه، وللأئمة المسلمين: ولاة المسلمين وعامتهم: جميع المسلمين.

الفوائد:

(1) الأمر بالنصيحة وأنه بولغ فيها حتى جعلت كأنها الدين كله للاعتناء بها.

(3) إن النصيحة تسمى دينا وإسلاما.

(3) إن على العالم أن يأتي بالأمر المهم إجمالا ثم يأتي به تفصيلا ليتأهب السامع فيتطلع إلى بيان هذا المجمل فيكون أوقع في النفس وأدعى للقبول.

(4) إن النصيحة واجبة على كل مسلم لأخيه المسلم في كل حال وزمان ومكان.

(5) إن النصيحة لأئمة المسلمين مساعدتهم على الحق وإرشادهم فيما جهلوه أو غفلوا عنه والوفاء بعهدهم وامتثال أمرهم على الحق.

الموجز:

يخبرنا النبي الكريم صلى الله عليه وسلم أن الدين الحنيف قد أمرنا بإخلاص النصيحة وبأن نؤمن ونعترف بوحدانية الله سبحانه وتعالى وننزهه عن النقائص ونصفه بصفات الكمال، وأن القرآن كلامه منزل غير مخلوق، نعمل بحكمه ونؤمن بمتشابهه ونصدق الرسول صلى الله عليه وسلم بما جاء به ونمتثل أمره ونجتنب ما نهى عنه وننصح لأئمة المسلمين بمعاونتهم على الحق وإرشادهم عما جهلوه ونذكرهم ما نسوه أو غفلوا عنه. ونرشد عامة المسلمين إلى الحق ونكف عنهم الأذى منا ومن
উপদেশপ্রাপ্ত ব্যক্তির উদ্দেশ্যে আমরা বললাম: হে সাহাবীগণের মধ্য থেকে শ্রবণকারী দল, আল্লাহর জন্য (নসিহত) হলো: আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা এবং তাঁর কোনো অংশীদার থাকাকে অস্বীকার করা, কুরআনের প্রতি ঈমান আনা এবং তদনুযায়ী আমল করা, আর তাঁর রাসূল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য হলো: তাঁকে সত্য বলে বিশ্বাস করা ও তাঁর অনুসরণ করা, আর মুসলিম ইমামগণের জন্য হলো: মুসলিমদের শাসকবর্গ এবং তাদের সাধারণ জনগণের জন্য: অর্থাৎ সকল মুসলিম।

শিক্ষাসমূহ:

(1) নসিহতের নির্দেশ এবং এর ওপর অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করা, এমনকি এর প্রতি অধিক যত্নশীল হওয়ার তাগিদে একে যেন পূর্ণ দ্বীন হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

(3) নসিহতকে দ্বীন ও ইসলাম হিসেবে নামকরণ করা হয়।

(3) আলেমের উচিত কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় প্রথমে সংক্ষেপে পেশ করা এবং পরে তা বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা, যাতে শ্রোতা সচেতন হতে পারে এবং উক্ত সংক্ষেপিত বিষয়ের বর্ণনার প্রতি আগ্রহী হয়, যা হৃদয়ে অধিক প্রভাব ফেলে এবং গ্রহণের ক্ষেত্রে অধিক সহায়ক হয়।

(4) নসিহত করা প্রত্যেক মুসলিমের ওপর তার মুসলিম ভাইয়ের জন্য সকল অবস্থায়, সময়ে এবং স্থানে ওয়াজিব।

(5) মুসলিম ইমামদের প্রতি নসিহত হলো সত্যের পথে তাদেরকে সাহায্য করা, তারা যা জানেন না বা যা থেকে গাফেল রয়েছেন সে বিষয়ে তাদেরকে দিকনির্দেশনা দেওয়া, তাদের সাথে কৃত অঙ্গীকার পূরণ করা এবং সত্যের ওপর তাদের আদেশ পালন করা।

সারসংক্ষেপ:

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সংবাদ দিচ্ছেন যে, এই একনিষ্ঠ দ্বীন আমাদের নসিহতকে একনিষ্ঠভাবে পালনের আদেশ দিয়েছে। আর যেন আমরা ঈমান আনি ও আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার একত্ববাদের স্বীকৃতি দেই, তাঁকে সকল ত্রুটি থেকে পবিত্র জ্ঞান করি এবং তাঁকে পরিপূর্ণতার গুণাবলীতে গুণান্বিত করি। আর কুরআন হলো তাঁর কালাম যা অবতীর্ণ হয়েছে, মাখলুক (সৃষ্টি) নয়; আমরা এর বিধান অনুযায়ী আমল করব এবং এর অস্পষ্ট বিষয়গুলোর (মুতাশাবিহাত) ওপর ঈমান আনব। আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা নিয়ে এসেছেন তাতে আমরা তাঁকে সত্য বলে বিশ্বাস করব, তাঁর আদেশ পালন করব এবং যা তিনি নিষেধ করেছেন তা থেকে বিরত থাকব। আমরা মুসলিম ইমামদের প্রতি নসিহত করব সত্যের কাজে তাদেরকে সাহায্য করার মাধ্যমে, তারা যা জানেন না সে বিষয়ে তাদের দিকনির্দেশনা দিয়ে এবং তারা যা ভুলে গেছেন বা যা থেকে গাফেল হয়েছেন সে সম্পর্কে তাদেরকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে। আর আমরা সাধারণ মুসলিমদের সত্যের দিকে পরিচালিত করব এবং আমাদের পক্ষ থেকে ও অন্যদের পক্ষ থেকে তাদের কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকব।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল আরবাঈন আন-নববিয়্যাহ মাআ মা জাদা আলাইহা ইবনে রাজাব ওয়া আলাইহাশ শারহুল মুজাজুল মুফিদ (পৃষ্ঠা: ١٩)
غيرنا على حسب الاستطاعة ونأمرهم بالمعروف وننهاهم عن المنكر والجامع للنصح لهم أن نحب لهم ما يحب كل فرد منا لنفسه.

شعر:

وإن امرءا لم يصف لله قلبه … لفي وحشة من كل نظرة ناظر

وان امرءا لم يرتحل ببضاعة … إلى داره الأخرى فليس بتاجر

آخر:

لقد نصحت لأقوام وقلت لهم … إني أنا النذير فلا يغرركم أحد

آخر:

ذهب النصيح لربه ونبيه … وإمامه نصحا تحقق عزمه

فالصالحون على الذهاب تتابعوا … فكأنهم عقد تناثر نظمه
আমরা আমাদের সাধ্য অনুযায়ী অন্যদের সংশোধন করব এবং আমরা তাদের সৎ কাজের আদেশ দেব ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করব। তাদের প্রতি কল্যাণকামিতার মূল সারমর্ম হলো, আমাদের প্রত্যেকে নিজের জন্য যা পছন্দ করে, তাদের জন্যও যেন তা-ই পছন্দ করে।

কবিতা:

যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য নিজের অন্তরকে পরিচ্ছন্ন করেনি … সে প্রতিটি দৃষ্টিদাতার দৃষ্টিতে এক ভয়াবহ নিঃসঙ্গতায় নিমজ্জিত।

আর যে ব্যক্তি কোনো পাথেয় নিয়ে তার পরকালের ঘরের দিকে পাড়ি জমায়নি … সে তো কোনো প্রকৃত ব্যবসায়ী নয়।

অন্য কবি:

আমি বহু জাতিকে নসিহত করেছি এবং তাদের বলেছি … নিশ্চয় আমি একজন সতর্ককারী, সুতরাং কেউ যেন তোমাদের প্রতারিত না করে।

অন্য একজন:

নিজ প্রতিপালক ও তাঁর নবির প্রতি সেই হিতাকাঙ্ক্ষী বিদায় নিয়েছেন … এবং তাঁর ইমামের প্রতিও, যাঁর কল্যাণকামিতার সংকল্প পূর্ণ হয়েছিল।

পুণ্যবান ব্যক্তিরা ধারাবাহিকভাবে বিদায় নিয়েছেন … তারা যেন একটি ছিঁড়ে যাওয়া হারের ছড়িয়ে পড়া দানা।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল আরবাঈন আন-নববিয়্যাহ মাআ মা জাদা আলাইহা ইবনে রাজাব ওয়া আলাইহাশ শারহুল মুজাজুল মুফিদ (পৃষ্ঠা: ١٩)
‌‌الحديث الثامن:

عن ابن عمر رضي الله عنهما أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "أمرت أن أقاتل الناس حتى يشهدوا أن لا إله إلا الله وأن محمدا رسول الله ويقيموا الصلاة ويؤتوا الزكاة فإذا فعلوا ذلك عصموا مني دماءهم وأموالهم إلا بحق الإسلام وحسابهم على الله تعالى" متفق عليه.

المفردات:

أمرت: أمرني ربي، أن أقاتل: بأن أقاتل لأن حذف الجار مع أن كثيرا، الناس: المشركين، ويقيموا الصلاة: يحافظوا عليها، فإذا فعلوا ذلك: عبر بالفعل عما بعضه قولا تغليبا، عصموا: منعوا وحفظوا، إلا بحق الإسلام: العمل بما يقتضيه الإسلام، وحسابهم على الله: الله يحاسبهم على ما في سرائرهم لأنه المطلع على ما في القلوب.
অষ্টম হাদীস:

ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমি মানুষের সাথে যুদ্ধ করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল, আর তারা সালাত কায়েম করে এবং যাকাত প্রদান করে। সুতরাং তারা যখন তা করবে, তখন তারা আমার থেকে তাদের রক্ত ও সম্পদ নিরাপদ করে নেবে, ইসলামের হক ব্যতীত। আর তাদের হিসাব মহান আল্লাহর জিম্মায়।" বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত।

শব্দার্থ:

আমি আদিষ্ট হয়েছি: আমার প্রতিপালক আমাকে আদেশ করেছেন; আমি যুদ্ধ করব: অর্থাৎ যাতে আমি যুদ্ধ করি, কারণ 'আন' অব্যয়ের সাথে পূর্ববর্তী অব্যয় উহ্য থাকা একটি প্রচলিত ব্যাকরণিক রীতি; মানুষ: অর্থাৎ মুশরিকরা; এবং তারা সালাত কায়েম করে: অর্থাৎ তার যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও পাবন্দি করা; সুতরাং তারা যখন তা করবে: এখানে 'কাজ' শব্দটির মাধ্যমে এমন কিছু প্রকাশ করা হয়েছে যার কিছু অংশ 'বলা' (মৌখিক স্বীকৃতি), যা ব্যাপকতা বুঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে; তারা রক্ষা করবে: অর্থাৎ তারা সুরক্ষা ও হিফাযত করবে; ইসলামের হক ব্যতীত: অর্থাৎ ইসলামের দাবি অনুযায়ী আমল করা; আর তাদের হিসাব আল্লাহর ওপর: আল্লাহ তাদের গোপন বিষয়ের হিসাব গ্রহণ করবেন, কেননা তিনি অন্তরের অবস্থা সম্পর্কে পূর্ণ অবগত।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল আরবাঈন আন-নববিয়্যাহ মাআ মা জাদা আলাইহা ইবনে রাজাব ওয়া আলাইহাশ শারহুল মুজাজুল মুফিদ (পৃষ্ঠা: ٢٠)
الفوائد:

(1) إن من شرط الإسلام التلفظ بالشهادتين.

(3) أنه لا يكف عن قتال المشركين إلا بالنطق بهما.

(3) مقاتلة تارك الصلاة والزكاة.

(4) أن الإسلام يعصم الدم والمال.

(5) إن الأحكام تجرى على الظواهر والله يتولى السرائر.

(6) مؤاخذة من أتى بالشهادتين وأقام الصلاة وآتى الزكاة بالحقوق الإسلامية من قصاص وحد وغير ذلك.

(7) ترك تكفير أهل البدع المقرين بالتوحيد الملتزمين شرائع الإسلام.

الموجز:

يبين لنا هذا الحديث بأن الله تعالى أمر بقتل الكفار حتى يشهدوا بأن لا معبود بحق إلا الله وحده لا شريك له، ولمحمد صلى الله عليه وسلم بالرسالة والعمل بمقتضى هذه الشهادة من المحافظة على الصلوات الخمس وإنفاق الزكاة عند وجوبها، فإذا قاموا بهذه الأركان مع ما أوجب الله عليهم فقد منعوا وحفظوا دماءهم من القتل وأموالهم لعصمتها بالإسلام إلا بحق الإسلام بأن يصدر من أحد ما تحكم شريعة الإسلام بمؤاخذته من قصاص أو حد أو غير ذلك، ومن فعل ما أمر به بنية صادقة خالصة فهو المؤمن ومن فعلها تقية وخوفا على ماله ودمه فهو المنافق والله يعلم ما يسره فيحاسبه {فَإِنَّهُ يَعْلَمُ السِّرَّ وَأَخْفَى} . شعر:

وإذا أعلنت أمرا حسنا … فليكن أحسن منه ما تسر

فمسر الخير موسوم به … ومسر الشر موسوم بشر
উপকারিতাগুলো:

(১) ইসলামের অন্যতম শর্ত হলো দুই শাহাদাত (কালিমা) মুখে উচ্চারণ করা।

(৩) কালিমা পাঠ না করা পর্যন্ত মুশরিকদের সাথে যুদ্ধ করা থেকে বিরত হওয়া যাবে না।

(৩) সালাত ও জাকাত বর্জনকারীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা।

(৪) ইসলাম জান ও মালের নিরাপত্তা প্রদান করে।

(৫) যাবতীয় বিধান বাহ্যিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয় এবং আল্লাহ গোপন বিষয়গুলোর হিসাব গ্রহণ করেন।

(৬) যে ব্যক্তি দুই শাহাদাত পাঠ করেছে, সালাত কায়েম করেছে এবং জাকাত প্রদান করেছে, তাকে ইসলামের হকের কারণে পাকড়াও করা যাবে—যেমন কিসাস (রক্তপণ), দণ্ডবিধি এবং অনুরূপ অন্যান্য বিধান।

(৭) তাওহিদের স্বীকৃতি প্রদানকারী এবং ইসলামের শরিয়ত পালনকারী বিদআতিদের কাফির সাব্যস্ত করা বর্জন করা।

সারসংক্ষেপ:

এই হাদিসটি আমাদের নিকট স্পষ্ট করে যে, আল্লাহ তাআলা কাফিরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য দেয় যে, এক আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো উপাস্য নেই এবং মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর রাসুল; সেই সাথে তারা এই সাক্ষ্যের দাবি অনুযায়ী পাঁচ ওয়াক্ত সালাত যথাযথভাবে আদায় করে এবং ওয়াজিব হওয়ার সময় জাকাত প্রদান করে। অতঃপর যখন তারা এই রুকনসমূহ এবং আল্লাহ তাদের ওপর যা ফরজ করেছেন তা সম্পাদন করবে, তখন তারা তাদের জীবনকে হত্যা হওয়া থেকে এবং তাদের সম্পদকে রক্ষা করল, যেহেতু ইসলামের কারণে তা নিরাপদ ও সংরক্ষিত। তবে ইসলামের হকের বিষয়টি ভিন্ন, অর্থাৎ যদি কারো থেকে এমন কিছু প্রকাশ পায় যার কারণে ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী তাকে শাস্তি প্রদান করা আবশ্যক হয়, যেমন কিসাস, দণ্ডবিধি বা অন্য কিছু। আর যে ব্যক্তি নির্দেশিত কাজগুলো সত্য ও বিশুদ্ধ নিয়তে পালন করবে সে-ই মুমিন, আর যে ব্যক্তি নিজের সম্পদ ও প্রাণের ভয়ে আত্মরক্ষার্থে তা করবে সে মুনাফিক; আল্লাহ তার মনের গোপন বিষয় জানেন এবং সেই অনুযায়ী তার হিসাব গ্রহণ করবেন। {কেননা তিনি জানেন গোপন বিষয় এবং যা তার চেয়েও অতি গোপন}। কবিতা:

যদি তুমি কোনো ভালো বিষয় প্রকাশ করো … তবে যা তুমি গোপন করো তা যেন তার চেয়েও উত্তম হয়

কেননা কল্যাণ গোপনকারী কল্যাণের বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয় … আর মন্দ গোপনকারী মন্দের বৈশিষ্ট্যেই চিহ্নিত হয়
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল আরবাঈন আন-নববিয়্যাহ মাআ মা জাদা আলাইহা ইবনে রাজাব ওয়া আলাইহাশ শারহুল মুজাজুল মুফিদ (পৃষ্ঠা: ٢١)
‌‌الحديث التاسع:

عن أبي هريرة عبد الرحمن بن صخر رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "ما نهيتكم عنه فاجتنبوه وما أمرتكم به فأتوا منه ما استطعتم، فإنما أهلك الذين من قبلكم كثرة مسائلهم واختلافهم على أنبيائهم" متفق عليه.

المفردات:

فاجتنبوه: ابتعدوا عنه، استطعتم ،أطقتم، من قبلكم: من الأمم السابقة، واختلافهم على أنبيائهم: مخالفتهم لأنبيائهم.

الفوائد:

(1) الأمر بامتثال الأوامر واجتناب النواهي.

(2) إن النهى أشد من الأمر لأن النهى لم يرخص كما ارتكاب شيء منه والأمر قيد بالاستطاعة.

(3) إن العاجز عن الواجب أو بعضه يسقط عنه ما عجز عنه، {لا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْساً إِلَاّ وُسْعَهَا} .

(4) النهي عن كثرة إيراد المسائل على جهة التعنت والتكلف وإثارة الفتن من المغيبات أو المشتبهات، أما السؤال عما يقع بالإنسان في أمر دينه أو دنياه فيجب السؤال عنه.

(5) تحذير هذه الأمة من مخالفتها لنبيها كما وقع للأمم التي قبلها فيهلكوا كما هلكوا.
নবম হাদীস:

আবু হুরায়রা আবদুর রহমান ইবনে সাখর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "আমি তোমাদেরকে যা থেকে নিষেধ করেছি তা পরিহার করো এবং যা আমি তোমাদেরকে আদেশ করেছি তা তোমাদের সাধ্যমতো পালন করো। নিশ্চয়ই তোমাদের পূর্ববর্তীরা তাদের অতিরিক্ত প্রশ্ন এবং তাদের নবীদের সাথে মতবিরোধ করার কারণেই ধ্বংস হয়েছে।" বুখারী ও মুসলিম।

শব্দার্থ:

তা পরিহার করো: তা থেকে দূরে থাকো, তোমরা সক্ষম হও: তোমরা সামর্থ্য রাখো, তোমাদের পূর্ববর্তীরা: পূর্ববর্তী উম্মতগণ থেকে, নবীদের সাথে তাদের মতবিরোধ: তাদের নবীদের বিরোধিতা করা।

উপকারিতা:

(১) নির্দেশসমূহ পালন এবং নিষেধসমূহ বর্জন করার আদেশ।

(২) নিশ্চয়ই নিষেধ আদেশের চেয়েও কঠোর, কেননা নিষিদ্ধ কোনো কিছু করার অনুমতি দেওয়া হয়নি, পক্ষান্তরে আদেশকে সামর্থ্যের সাথে শর্তযুক্ত করা হয়েছে।

(৩) নিশ্চয়ই কোনো ওয়াজিব বা তার কোনো অংশ পালনে যে অক্ষম, তার থেকে সেই অক্ষমতার অংশটি রহিত হয়ে যায়; "আল্লাহ কোনো সত্তার ওপর তার সামর্থ্যের বাইরে বোঝা চাপিয়ে দেন না।"

(৪) হঠকারিতা, অহেতুক কষ্টকল্পনা এবং গায়েব বা অস্পষ্ট বিষয়সমূহ নিয়ে ফিতনা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত প্রশ্ন করা থেকে নিষেধ। তবে মানুষের দ্বীন বা দুনিয়ার বিষয়ে যা ঘটে সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা ওয়াজিব।

(৫) এই উম্মতকে তাদের নবীর বিরোধিতা করা থেকে সতর্ক করা, যেমনটি তাদের পূর্ববর্তী উম্মতদের ক্ষেত্রে ঘটেছিল; যাতে তারা ধ্বংস না হয় যেমন ঐ উম্মতগুলো ধ্বংস হয়েছিল।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল আরবাঈন আন-নববিয়্যাহ মাআ মা জাদা আলাইহা ইবনে রাজাব ওয়া আলাইহাশ শারহুল মুজাজুল মুফিদ (পৃষ্ঠা: ٢٢)
الموجز:

هذا الحديث قاعدة من قواعد الدين ومن جوامع الكلم، فالرسول صلى الله عليه وسلم دلنا على أنه إذا نهانا عن شيء وجب علينا اجتنابه جملة واحدة بدون استثناء، وإذا أمرنا بشيء فلنأت منه ما نطيق ولم يكلفنا بشيء نعجز عنه وهذا من سماحة الدين ويسره حيث إن الله تعالى لا يكلف نفسا إلا وسعها، ثم أشار إلى شيء كالمثل عظة لنا بأن لا نكون كبعض الأمم السابقة حينما أكثروا من الأسئلة على أنبيائهم مع مخالفتهم لهم عاقبهم الله بأنواع من الهلاك والدمار فلا نكون مثلهم فنهلك كما هلكوا {وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعاً وَلا تَفَرَّقُوا} .

شعر:

صبرا جميلا ما أقرب الفرجا … من راقب الله في الأمور نجا

من صدق لم ينله أذا … ومن رجاه يكون حيث رجا
সারসংক্ষেপ:

এই হাদিসটি দ্বীনের মূলনীতিসমূহের একটি এবং জাওয়ামিউল কালিম (সংক্ষিপ্ত অথচ ব্যাপক অর্থবোধক বাক্য)-এর অন্তর্ভুক্ত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নির্দেশনা দিয়েছেন যে, তিনি যখন আমাদের কোনো কিছু থেকে নিষেধ করেন, তখন কোনো ব্যতিক্রম ছাড়াই তা সম্পূর্ণরূপে বর্জন করা আমাদের জন্য আবশ্যক। আর যখন তিনি আমাদের কোনো বিষয়ে আদেশ করেন, তখন যেন আমরা আমাদের সাধ্যমতো তা পালন করি। তিনি আমাদের এমন কোনো কাজের দায়িত্ব দেননি যা পালনে আমরা অক্ষম। এটি এই দ্বীনের উদারতা ও সহজসাধ্যতারই বহিঃপ্রকাশ, কেননা মহান আল্লাহ কোনো ব্যক্তিকেই তার সাধ্যাতীত কোনো কাজের ভার অর্পণ করেন না। অতঃপর তিনি আমাদের উপদেশের জন্য একটি দৃষ্টান্ত প্রদান করেছেন যেন আমরা পূর্ববর্তী কিছু উম্মতের মতো না হই, যারা তাদের নবীদের নিকট অত্যধিক প্রশ্ন করত এবং সেই সাথে তাদের অবাধ্যতাও করত। ফলে আল্লাহ তাদের বিভিন্ন প্রকার বিনাশ ও ধ্বংসের মাধ্যমে শাস্তি প্রদান করেছিলেন। অতএব আমরা যেন তাদের মতো না হই, অন্যথায় আমরাও তাদের মতোই ধ্বংস হয়ে যাব। "তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে শক্তভাবে ধারণ করো এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না।"

কবিতা:

সুন্দর ধৈর্য ধারণ করো, মুক্তি কতই না নিকটবর্তী! … যে ব্যক্তি সকল বিষয়ে আল্লাহকে ভয় করে চলে, সে নাজাত পায়।

যে সত্যনিষ্ঠ থাকে, কোনো অনিষ্ট তাকে স্পর্শ করে না; … আর যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি আশা পোষণ করে, তিনি তার আশানুসারেই হয়ে থাকেন।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল আরবাঈন আন-নববিয়্যাহ মাআ মা জাদা আলাইহা ইবনে রাজাব ওয়া আলাইহাশ শারহুল মুজাজুল মুফিদ (পৃষ্ঠা: ٢٢)
‌‌الحديث العاشر:

في أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إن الله طيب لا يقبل إلا طيبا، كان الله أمر المؤمنين بما أمر به المرسلين فقال تعالى: {يَا أَيُّهَا الرُّسُلُ كُلُوا مِنَ الطَّيِّبَاتِ وَاعْمَلُوا صَالِحاً} ، وقال تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُلُوا مِنْ طَيِّبَاتِ مَا رَزَقْنَاكُمْ} ، ثم ذكر الرجل يطيل السفر أشعث أغبر يمد يديه إلى السماء يا رب يا رب ومطعمه حرام ومشربه حرام وملبسه حرام وغذي بالحرام فأنى يستجاب له" رواه مسلم.

المفردات:

طيب: مقدس منزه عن النقائص والعيوب، أشعث: ثائر الرأس،
দশম হাদীস:

আবু হুরাইরাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ পবিত্র, তিনি পবিত্র বস্তু ব্যতীত অন্য কিছু গ্রহণ করেন না। আর আল্লাহ মুমিনদের সেই আদেশই দিয়েছেন যা তিনি রাসূলগণকে আদেশ করেছিলেন। মহান আল্লাহ বলেছেন: {হে রাসূলগণ! তোমরা পবিত্র বস্তুসমূহ থেকে আহার করো এবং সৎকাজ করো।} এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: {হে মুমিনগণ! আমি তোমাদের যে রিযিক দিয়েছি তা থেকে পবিত্র বস্তুসমূহ আহার করো।} অতঃপর তিনি এমন এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করলেন যে দীর্ঘ সফর করে, যার চুল উসকো-খুসকো ও দেহ ধূলিমলিন, সে আকাশের দিকে নিজের হাত প্রসারিত করে ডাকছে: হে আমার রব! হে আমার রব! অথচ তার খাবার হারাম, তার পানীয় হারাম, তার পোশাক হারাম এবং সে হারামের মাধ্যমেই পুষ্ট হয়েছে; তবে কীভাবে তার দুআ কবুল করা হবে?" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

শব্দার্থ:

তৈয়্যেব: পবিত্র ও সকল প্রকার ত্রুটি ও দোষ থেকে মুক্ত। আশআস: অবিন্যস্ত বা উসকো-খুসকো চুল বিশিষ্ট।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল আরবাঈন আন-নববিয়্যাহ মাআ মা জাদা আলাইহা ইবনে রাজাব ওয়া আলাইহাশ শারহুল মুজাজুল মুফিদ (পৃষ্ঠা: ٢٣)
أغبر: متغير اللون لطول سفره، يمد يديه: يرفعهما بالدعاء إلى الله، غذي: تغذى جسمه من الحرام، فأنى يستجاب له: من أين يستجاب لمن هذه صفته، مطعمه: مأكوله، مشربه: مشروبه، ملبسه: لباسه، وغذي بالحرام: ما يغذي جسمه وروحه.

الفوائد:

(1) إن الصدقة إذا كانت من حرام لا يقبلها الله.

(2) الأمر بإخلاص العمل لله عز وجل.

(3) الحث على الإنفاق من الحلال والنهى عن الإنفاق من الحرام

وإباحة الأكل من الطيبات.

(4) إن الإنسان إذا أكل طيبا قاصدا به القوة على الطاعة وإحياء نفسه فإنه يثاب على ذلك.

(5) في الحديث بيان شروط الدعاء وموانعه.

(6) إن من أسباب استجابة الدعاء أكل الحلال واجتناب الحرام.

(7) استحباب رفع اليدين إلى السماء عند إرادة الدعاء.

(8) مشروعية الإلحاح في الدعاء وبذكر ربوبيته.

(9) إباحة أكل الطيبات في شرع من قبلنا من الأمم.

الموجز:

يفيدنا هذا الحديث بأن الله سبحانه منزه عن النقائص والعيوب موصوف بصفات الكمال، فلا يتقرب إليه بصدقة من حرام أو ما فيه شبهة أو بالرديء من الطعام، وأن الله قد أباح للمؤمنين الأكل من الطيبات. كما أباحه للمرسلين مع العمل الصالح والشكر لله على نعمه. ثم بين الرسول صلى الله عليه وسلم أن الله كما يحب الإنفاق من الطيب الخيار لا يحب من الأعمال إلا طيبها، ثم ذكر شيئا كالمثال تحذيرا لأمته
ধূলিধূসরিত: দীর্ঘ সফরের কারণে শরীরের বর্ণ পরিবর্তিত হয়েছে এমন, তার হাত দুটি প্রসারিত করে: আল্লাহর নিকট দোয়ার জন্য হাত দুটি উত্তোলন করে, লালিত-পালিত হয়েছে: তার শরীর হারাম দ্বারা পুষ্ট হয়েছে, তবে কীভাবে তার দোয়া কবুল হবে: যার এই বৈশিষ্ট্য রয়েছে তার দোয়া কোথা থেকে কবুল হবে, তার খাদ্য: যা সে আহার করে, তার পানীয়: যা সে পান করে, তার পোশাক: যা সে পরিধান করে, এবং হারাম দ্বারা পালিত হয়েছে: যা তার শরীর ও আত্মাকে পুষ্ট করে।

উপকারিতা সমূহ:

(১) দান যদি হারাম উপার্জন থেকে হয়, তবে আল্লাহ তা কবুল করেন না।

(২) মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর জন্য আমল একনিষ্ঠ করার নির্দেশ।

(৩) হালাল থেকে ব্যয় করার উৎসাহ প্রদান এবং হারাম থেকে ব্যয় করতে নিষেধ করা এবং পবিত্র বস্তু আহার করা বৈধ হওয়া।

(৪) মানুষ যখন ইবাদতের শক্তি অর্জন এবং জীবন ধারণের উদ্দেশ্যে পবিত্র খাবার গ্রহণ করে, তখন সে এর জন্য সওয়াব লাভ করে।

(৫) হাদিসটিতে দোয়ার শর্তাবলি ও প্রতিবন্ধকসমূহের বর্ণনা রয়েছে।

(৬) দোয়ার কবুলিয়তের অন্যতম কারণ হলো হালাল আহার এবং হারাম বর্জন।

(৭) দোয়া করার সময় আকাশের দিকে হাত উত্তোলন করা মুস্তাহাব।

(৮) দোয়ায় কাকুতি-মিনতি করা এবং আল্লাহর রুবুবিয়ত (প্রভুত্ব) উল্লেখ করার বৈধতা।

(৯) আমাদের পূর্ববর্তী উম্মতগণের শরিয়তেও পবিত্র বস্তু আহার করা বৈধ ছিল।

সারসংক্ষেপ:

এই হাদিসটি আমাদের শিক্ষা দেয় যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা সমস্ত দোষ-ত্রুটি থেকে পবিত্র এবং সকল পূর্ণতার গুণাবলিতে গুণান্বিত। তাই হারাম, সন্দেহযুক্ত বা নিকৃষ্ট খাবার সদকা করার মাধ্যমে তাঁর নৈকট্য অর্জন করা যায় না। আল্লাহ মুমিনদের জন্য পবিত্র বস্তুসমূহ আহার করা বৈধ করেছেন, যেমনটি তিনি রাসুলগণের জন্য সৎ আমল এবং আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায়ের নির্দেশের পাশাপাশি বৈধ করেছিলেন। এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহ যেমন উত্তম ও শ্রেষ্ঠ বস্তু ব্যয় করা পছন্দ করেন, তেমনি আমলের মধ্যে কেবল উত্তম আমলই পছন্দ করেন। এরপর তিনি স্বীয় উম্মতকে সতর্ক করার জন্য একটি উদাহরণ পেশ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল আরবাঈন আন-নববিয়্যাহ মাআ মা জাদা আলাইহা ইবনে রাজাব ওয়া আলাইহাশ শারহুল মুজাজুল মুফিদ (পৃষ্ঠা: ٢٤)
من الحرام فقال: إن الرجل يطيل السفر، أي في وجوه الطاعات من حج وجهاد واكتساب معيشة أشعث الرأس مغبر اللون من طول سفره يمد يديه إلى السماء بالدعاء إلى الله والتضرع إليه والتذلل بين يديه، ومع ذلك لا يستجاب له لعدم طيب كسبه حيث أن مطعمه ومشربه حرام، فليحذر كل مؤمن أن يكون بهذه الصفة المانعة من الدعاء.

وقيل في هذا المعنى:

شعر:

إذا حججت بمال أصله سحت … فما حججت ولكن حجت العير

لا يقبل الله إلا كل صالحة … ما كل من حج بيت الله مبرور

آخر:

وطعام سوء من مكاسب مرة … يعمي الفؤاد بدائه ويصمه

فلكيف يفلح عابد وعظامه … نشأت على السحت الحرام ولحمه

آخر:

واذكر مناقشة الحساب فإنه … لابد يحصى ما جنيت ويكتب

لم ينسه الملكان حين نسيته … بل أثبتاه وأنت لاه تلعب
হারাম সম্পর্কে তিনি বললেন: নিশ্চয়ই কোনো ব্যক্তি দীর্ঘ সফর করে, অর্থাৎ হজ্জ, জিহাদ ও জীবিকা উপার্জনের মতো আনুগত্যের পথে; তার মাথার চুল উস্কোখুস্কো এবং দীর্ঘ সফরের কারণে শরীরের বর্ণ ধুলোমলিন; সে আকাশের দিকে তার হাত প্রসারিত করে আল্লাহর কাছে দুআ করে, তাঁর নিকট রোনাজারি করে এবং তাঁর সামনে নিজেকে অত্যন্ত বিনম্রভাবে পেশ করে। এতদসত্ত্বেও তার দুআ কবুল হয় না তার উপার্জনের পবিত্রতা না থাকার কারণে, যেহেতু তার খাদ্য ও পানীয় হারাম। সুতরাং প্রতিটি মুমিনের উচিত সতর্ক থাকা যেন সে এমন বৈশিষ্ট্যের অধিকারী না হয় যা দুআ কবুল হওয়ার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।

এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে:

কবিতা:

তুমি যদি এমন সম্পদ দিয়ে হজ্জ করো যার উৎস হারাম … তবে তুমি হজ্জ করোনি বরং গাধা হজ্জ করেছে।

আল্লাহ কেবল প্রতিটি সৎ কাজই কবুল করেন … আল্লাহর ঘরের হজ্জ পালনকারী সকলেই মাবরুর (কবুলযোগ্য) হয় না।

অন্যজন বলেন:

তিক্ত উপার্জন হতে প্রাপ্ত মন্দ আহার … তার ব্যাধি দিয়ে অন্তরকে অন্ধ ও বধির করে দেয়।

তবে ইবাদতকারী কীভাবে সফল হবে যখন তার হাড় … ও মাংস হারাম ও অবৈধ উপার্জনে গড়ে উঠেছে?

অন্যজন বলেন:

আর হিসাবের সূক্ষ্ম বিচারের কথা স্মরণ করো, কেননা … তুমি যা অর্জন করেছ তা অবশ্যই গণনা করা হবে এবং লিখে রাখা হবে।

যখন তুমি তা ভুলে গেছ তখন দুই ফেরেশতা তা ভুলে যাননি … বরং তুমি যখন উদাসীন খেলায় মত্ত ছিলে তখন তারা তা লিপিবদ্ধ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল আরবাঈন আন-নববিয়্যাহ মাআ মা জাদা আলাইহা ইবনে রাজাব ওয়া আলাইহাশ শারহুল মুজাজুল মুফিদ (পৃষ্ঠা: ٢٤)
‌‌الحديث الحادي عشر:

عن أبي محمد الحسن بن على بن أبي طالب سبط رسول الله صلى ألله عليه وسلم وريحانته رضي الله عنهما قال: حفظت من رسول الله صلى الله عليه وسلم:"دع ما يريبك إلى ما لا يريبك" رواه الترمذي والنسائي وقال الترمذي حديث صحيح.
একাদশ হাদীস:

আবু মুহাম্মাদ আল-হাসান ইবনে আলী ইবনে আবী তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত—যিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দৌহিত্র এবং তাঁর সুগন্ধি ফুলস্বরূপ (অত্যন্ত প্রিয়পাত্র) ছিলেন—তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে মুখস্থ করেছি: "যা তোমাকে সন্দেহে নিপতিত করে তা বর্জন করো এবং যা তোমাকে সন্দেহে নিপতিত করে না তার দিকে অগ্রসর হও।" ইমাম তিরমিযী ও নাসাঈ এটি বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম তিরমিযী একে সহীহ হাদীস বলেছেন।