(খণ্ড: ১)
আল-আসারুল মাশহুর আনিল ইমাম মালিক রাহিমাহুল্লাহ ফী সিফাতিল ইস্তিওয়া
(পৃষ্ঠা: -)
الأثر المشهور عن الإمام مالك رحمه الله في صفة الاستواء القسم: العقيدة
الكتاب: الأثر المشهور عن الإمام مالك رحمه الله في صفة الاستواء دراسة تحليلية
المؤلف: عبد الرزاق بن عبد المحسن البدر
الناشر: الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة
الطبعة: السنة الثالثة والثلاثون، العدد الحادي عشر بعد المائة، 1421هـ/2000م
عدد الصفحات: 69
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইমাম মালিক (রহিমাহুল্লাহ) থেকে আল্লাহর উপরে উঠার গুণ সম্পর্কে বর্ণিত প্রসিদ্ধ বর্ণনা বিভাগ: আকীদা
গ্রন্থ: আল্লাহর উপরে উঠার গুণ সম্পর্কে ইমাম মালিক (রহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত প্রসিদ্ধ বর্ণনা: একটি বিশ্লেষণমূলক অধ্যয়ন
লেখক: আব্দুর রাজ্জাক বিন আব্দুল মুহসিন আল-বাদর
প্রকাশক: মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
সংস্করণ: তেত্রিশতম বর্ষ, ১১১তম সংখ্যা, ১৪২১ হিজরি/২০০০ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৯
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-আসারুল মাশহুর আনিল ইমাম মালিক রাহিমাহুল্লাহ ফী সিফাতিল ইস্তিওয়া
(পৃষ্ঠা: ১৩)
مقدمة…الأثر المشهور عن الإمام مالك رحمه الله في صفة الاستواء دراسة تحليلية
بقلم: عبد الرزاق بن عبد المحسن البدر
بسم الله الرحمن الرحيم
إنَّ الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيّئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضلّ له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أنّ محمداً عبده ورسوله.
{يأَيُّهَا الذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا الله حَقَّ تُقَاتِهِ ولا تَمُوتُنَّ إلَاّ وأنتُم مُسْلِمُونَ} .
{يأيّها الناسُ اتّقُوا ربَّكمُ الَّذي خَلَقَكُم مِن نَفْسٍ واحِدَةٍ وخَلَقَ مِنْها زَوْجَها وبَثَّ مِنْهُما رِجالاً كَثِيراً وَنِساءً واتَّقُوا اللهََ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ والأَرْحامَ إِنَّ اللهَ كان عَلَيْكُمْ رَقِيباً} .
{يَأَيُّهَا الَّذِينَءَامَنُوا اتَّقُوا اللهَ وقُولُوا قَوْلاً سَدِيداً يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمالَكمْ ويَغْفِرْ لَكمْ ذُنوبَكُمْ ومَن يُطِعِ اللهَ ورَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزاً عَظِيماً} .
أما بعد، فلا ريب في عِظم فضل وكبر شرف العلم بأسماء الله وصفاته الواردة في كتابه وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم وفهمها فهماً صحيحاً سليماً بعيداً عن تحريفات المحرّفين وتأويلات الجاهلين؛ إذ إنَّ شرف العلم تابعٌ لشرف معلومه، وما من ريب أنَّ أجَلَّ معلوم وأعظمه وأكبره هو الله الذي لا إله إلاّ هو رب العالمين، وقيّوم السموات والأرضين، الملك الحقّ المبين، الموصوف بالكمال كلّه، المنزَّه عن كلِّ عيب ونقص، وعن كلِّ تمثيل وتشبيه في كماله {ذَالِكُمْ اللهُ رَبِّي عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْهِ أُنِيبُ فَاطِرُ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ جَعَلَ لَكُمْ مِنْ أَنفُسِكُمْ أَزْوَاجًا وَمِنَ الأَنْعَامِ أَزْوَاجًا يَذْرَؤُكُمْ فِيهِ لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ البَصِيرُ} 1.
ولا ريب أنَّ العلم بالله تعالى وبأسمائه وصفاته وأفعاله أجَلُّ العلوم وأفضلُها وأشرفُها، ونسبة ذلك إلى سائر العلوم كنسبة معلومه إلى سائر المعلومات،
--------------------------------------------
ভূমিকা…ইমাম মালিক (রহিমাহুল্লাহ) থেকে আল্লাহর উপরে উঠার (ইসতিওয়া) গুণ সম্পর্কে বর্ণিত প্রসিদ্ধ বর্ণনা: একটি বিশ্লেষণমূলক গবেষণা
লিখন: আবদুর রাজ্জাক বিন আব্দুল মুহসিন আল-বাদর
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই সাহায্য চাই এবং তাঁরই কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ দেখান তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসুল।
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।}
{হে মানুষ! তোমরা তোমাদের সেই রবের তাকওয়া অবলম্বন করো, যিনি তোমাদের একটি প্রাণ থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তা থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয় থেকে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে যাচনা করো এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর পর্যবেক্ষক।}
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করল।}
অতঃপর, আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নাহে বর্ণিত আল্লাহর নাম ও গুণাবলি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা এবং বিকৃতি ও জাহিলদের অপব্যাখ্যা থেকে দূরে থেকে সেগুলোর সঠিক বুঝ অর্জন করার ফযিলত ও শ্রেষ্ঠত্ব অত্যন্ত মহান—এতে কোনো সন্দেহ নেই। কারণ জ্ঞানের শ্রেষ্ঠত্ব নির্ভর করে যার সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা হচ্ছে তাঁর মর্যাদার ওপর। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, সবচেয়ে মহান ও শ্রেষ্ঠতম জ্ঞাত সত্তা হলেন আল্লাহ, যিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, যিনি সকল জগতের রব, আসমান ও জমিনের ধারক, প্রকাশ্য সত্য মালিক। তিনি সর্বপ্রকার পূর্ণতায় গুণান্বিত, সকল দোষ ও ত্রুটিমুক্ত এবং আপন পূর্ণতায় সকল প্রকার উপমা ও সাদৃশ্য থেকে পবিত্র। {তিনিই আল্লাহ, আমার রব; তাঁরই ওপর আমি ভরসা করি এবং তাঁরই অভিমুখী হই। তিনি আসমান ও জমিনের স্রষ্টা; তিনি তোমাদের মধ্য থেকেই তোমাদের জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং চতুষ্পদ জন্তুর মধ্য থেকেও জোড়া সৃষ্টি করেছেন। এভাবেই তিনি তোমাদের বংশ বিস্তার করেন। কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়; তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।} ১।
আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আল্লাহ তাআলা, তাঁর নামসমূহ, গুণাবলি এবং কার্যাবলি সম্পর্কে জ্ঞানার্জন হলো শ্রেষ্ঠতম ও মহত্তম জ্ঞান। অন্য সকল জ্ঞানের তুলনায় এ জ্ঞানের মর্যাদা ঠিক তেমন, যেমন অন্য সব কিছুর তুলনায় স্বয়ং আল্লাহর মর্যাদা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আসারুল মাশহুর আনিল ইমাম মালিক রাহিমাহুল্লাহ ফী সিফাতিল ইস্তিওয়া
(পৃষ্ঠা: ১৪)
والعلم به – سبحانه - هو أصل كلِّ علم، وهو أصل علم العبد بسعادته وكماله ومصالح دنياه وآخرته، والجهل به مستلزم للجهل بنفسه ومصالحها وكمالها وما تزكو به، فالعلم به – سبحانه - عنوان سعادة العبد في الدنيا والآخرة، والجهل به أصل شقاوته في الدنيا والآخرة، ومن عرف الله عرف ما سواه، ومن جهل ربّه فهو لما سواه أجهل، قال الله تعالى: {وَلَا تَكُونُوا كالَّذِينَ نَسُوا اللهَ فَأَنسَاهُمْ أَنفُسَهُمْ} 1، وقد دلّت هذه الآية على معنى شريف عظيم، وهو أنَّ من نسيَ ربَّه أنساه ذاتَه ونفسَه فلم يعرف حقيقته ولا مصالحه، بل نسي ما به صلاحه وفلاحه في معاشه ومعاده فصار معطَّلاً مهملاً2.
ولهذا فإنَّ العناية بفهم هذا العلم وضبطه وعدم الغلط فيه أمر متأكّد على كلِّ مسلم، وقد كان أئمّة المسلمين، الصحابة ومن تبعهم بإحسان على نهجٍ واحدٍ في هذا العلم وعلى طريقة واحدة، ليس بينهم في ذلك نزاع ولا خلاف، "بل كلُّهم [بحمد الله] على إثبات ما نطق به الكتاب والسنة كلمةً واحدةً من أوّلهم إلى آخرهم، لم يسوموها تأويلاً، ولم يحرّفوها عن موضعها تبديلاً، ولم يُبدوا لشيء منها إبطالاً، ولا ضربوا لها أمثالاً، ولم يدفعوا في صدورها وأعجازها، ولم يقل أحدٌ منهم يجب صرفها عن حقائقها وحملها على مجازها، بل تلقّوها بالقبول والتسليم، وقابلوها بالإيمان والتعظيم، وجعلوا الأمر فيها كلَّها أمراً واحداً، وأجرَوْها على سنن واحد، ولم يفعلوا كما فعل أهل الأهواء والبدع حيث جعلوا القرآن عِضين، وأقرّوا ببعضها وأنكروا بعضَها من غير فُرقان مبين"3.
بل زاد المعطِّلة على ذلك فجعلوا جحد الصفات وتعطيل الربّ عنها توحيداً، وجعلوا إثباتها لله تشبيهاً وتجسيماً وتركيباً، فسمّوا الباطل باسم الحق
--------------------------------------------
তাঁর —পবিত্র ও মহান— বিষয়ক জ্ঞানই হলো সকল জ্ঞানের মূল, এবং এটিই হলো বান্দার নিজের সৌভাগ্য, পূর্ণতা এবং দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ বিষয়ক জ্ঞানের মূল ভিত্তি। তাঁর সম্পর্কে অজ্ঞতা নিজের সত্তা, এর কল্যাণ, পূর্ণতা এবং যা দিয়ে আত্মা পরিশুদ্ধ হয় সে সম্পর্কে অজ্ঞতাকে অনিবার্য করে তোলে। সুতরাং তাঁর —পবিত্র ও মহান— বিষয়ক জ্ঞানই হলো দুনিয়া ও আখেরাতে বান্দার সৌভাগ্যের পরিচায়ক, আর তাঁর সম্পর্কে অজ্ঞতাই হলো দুনিয়া ও আখেরাতে তার দুর্ভাগ্যের মূল কারণ। যে ব্যক্তি আল্লাহকে চিনেছে, সে তাঁর ব্যতীত অন্য সবকিছুকেও চিনতে পেরেছে। আর যে ব্যক্তি তার রব সম্পর্কে অজ্ঞ থেকেছে, সে অন্য সব বিষয়ে আরও বেশি অজ্ঞ। মহান আল্লাহ বলেন: {আর তোমরা তাদের মতো হয়ো না যারা আল্লাহকে ভুলে গিয়েছে, ফলে আল্লাহও তাদের নিজেদের কথা ভুলিয়ে দিয়েছেন} ১। এই আয়াতটি একটি মহৎ ও মহান অর্থের দিকে নির্দেশ করে, আর তা হলো: যে ব্যক্তি তার রবকে ভুলে যায়, আল্লাহ তাকে তার নিজের সত্তা ও নফস সম্পর্কে ভুলিয়ে দেন; ফলে সে তার নিজের প্রকৃত স্বরূপ ও নিজের কল্যাণ সম্পর্কে জানতে পারে না। বরং সে তার জীবন ও মরণের সংশোধন ও সফলতার পথই ভুলে যায়, ফলে সে অকেজো ও অবহেলিত হয়ে পড়ে ২।
এই কারণে এই জ্ঞান অনুধাবনের প্রতি যত্নশীল হওয়া, তা আয়ত্ত করা এবং এতে কোনো প্রকার ভুল না করা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য সুনিশ্চিতভাবে জরুরি। মুসলিমদের ইমামগণ—সাহাবীগণ এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করেছেন—এই জ্ঞানের ক্ষেত্রে একই আদর্শ ও একই পদ্ধতির ওপর অটল ছিলেন। তাঁদের মধ্যে এই বিষয়ে কোনো বিবাদ বা মতভেদ ছিল না। "বরং তাঁরা সকলে [আল্লাহর প্রশংসায়] কিতাব ও সুন্নাহ যা ব্যক্ত করেছে তা সাব্যস্ত করার ব্যাপারে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত একমত ছিলেন। তাঁরা সেগুলোর কোনো অপব্যাখ্যা করেননি, সেগুলোকে স্বস্থান থেকে পরিবর্তন বা বিকৃত করেননি, সেগুলোর কোনো কিছুকে বাতিল সাব্যস্ত করেননি, সেগুলোর জন্য কোনো উদাহরণ পেশ করেননি এবং সেগুলোর কোনো অংশকে অগ্রাহ্য করেননি। তাঁদের কেউ এ কথা বলেননি যে, সেগুলোকে সেগুলোর প্রকৃত অর্থ থেকে সরিয়ে রূপক অর্থে গ্রহণ করা আবশ্যক। বরং তাঁরা তা কবুল ও আত্মসমর্পণের সাথে গ্রহণ করেছেন এবং ঈমান ও সম্মানের সাথে তার সম্মুখীন হয়েছেন। তাঁরা এই সকল বিষয়কে একই মানদণ্ডে বিচার করেছেন এবং একই পদ্ধতিতে পরিচালনা করেছেন। তাঁরা প্রবৃত্তিপূজারী ও বিদআতিদের মতো আচরণ করেননি, যারা কুরআনকে খণ্ড-বিখণ্ড করেছে এবং সুস্পষ্ট কোনো প্রমাণ ছাড়াই এর কিছু অংশ স্বীকার করেছে আর কিছু অংশকে অস্বীকার করেছে" ৩।
বরং গুণাবলী অস্বীকারকারীরা (মুয়াত্তিলা) এর চেয়েও এক ধাপ এগিয়ে গিয়ে গুণাবলী অস্বীকার করা এবং রবকে তা থেকে রিক্ত করাকেই 'তাওহীদ' নাম দিয়েছে; আর আল্লাহর জন্য গুণাবলী সাব্যস্ত করাকে তারা 'সাদৃশ্য প্রদান' (তাশবিহ), 'দেহায়ন' (তাজসিম) ও 'সংমিশ্রণ' (তারকিব) হিসেবে গণ্য করেছে। এভাবে তারা বাতিলকে সত্যের নামে নামকরণ করেছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আসারুল মাশহুর আনিল ইমাম মালিক রাহিমাহুল্লাহ ফী সিফাতিল ইস্তিওয়া
(পৃষ্ঠা: ১৫)
ترغيباً فيه، وزخرفاً ينفقونه به، وسمّوا الحقَّ باسم الباطل تنفيراً عنه، والناس أكثرهم مع ظاهر السكّة، ليس لهم نقد النقّاد1.
ولا يأمن جانب الغلط في هذا الباب الخطير من لا يتعرّف على نهج السلف ويسلك طريقتهم، فهي طريقة سالمة مأمونة مشتملة على العلم والحكمة، وكلامهم في التوحيد وغيره قليلٌ كثيرُ البركة2، فهم لا يتكلّفون، بل يعظِّمون النصوص، ويعرفون لها حرمتها، ويقفون عندها، ولا يتجاوزونها برأي أو عقل أو وَجْدٍ أو غير ذلك.
فهم بحقٍّ الأئمةُ العدول والشهود الأثبات، ولا يزال بحمد الله في كلِّ زمان بقايا منهم "يدعون من ضلَّ إلى الهدى، ويصبرون منهم على الأذى، يُحيون بكتاب الله الموتى، ويبصِّرون بنور الله أهلَ العمى، فكم من قتيل لإبليس قد أحيوه، وكم من ضالٍّ تائهٍ قد هدوه، فما أحسن أثرهم على الناس وأقبح أثر الناس عليهم، ينفون عن عباد الله تحريف الغالين، وانتحال المبطلين، وتأويل الجاهلين، الذين عقدوا ألوية البدعة، وأطلقوا عِقال الفتنة، فهم مختلفون في الكتاب، مخالفون للكتاب، مجمعون على مفارقة الكتاب، يقولون على الله، وفي الله، وفي كتاب الله بغير علم، يتكلّمون بالمتشابه من الكلام، ويخدعون جهّال الناس بما يشبّهون عليهم، فنعوذ بالله من فتن المضلّين"3.
ولهذا فإنَّ دراسة آثار هؤلاء وأقوالهم المنقولة عنهم في نصر السنة وتقرير التوحيد والردّ على أهل الأهواء يُعدّ من أنفع ما يكون لطالب العلم، للتمييز بين الحقّ والباطل، والسنة والبدعة، والهدى والضلال؛ لأنَّ هؤلاء الأئمة قد مضوا
--------------------------------------------
মানুষের মনে আগ্রহ সৃষ্টি এবং একে চাকচিক্যময় করে প্রচার করার উদ্দেশ্যে তারা সত্যকে মিথ্যার নামে অভিহিত করেছে যাতে মানুষ তা থেকে বিমুখ হয়। অধিকাংশ মানুষ মুদ্রার বাহ্যিক রূপ দেখেই সন্তুষ্ট থাকে, তাদের কাছে পারদর্শী সমালোচকদের মতো পরখ করার ক্ষমতা নেই১।
এই বিপজ্জনক বিষয়ে ভুলের হাত থেকে সে-ই নিরাপদ নয়, যে সালাফদের আদর্শ সম্পর্কে অবগত নয় এবং তাঁদের পথ অনুসরণ করে না। কারণ তাঁদের পথ নিরাপদ ও নিশ্চিত, যা জ্ঞান ও হিকমতে পরিপূর্ণ। তাওহীদ এবং অন্যান্য বিষয়ে তাঁদের কথা সংখ্যায় অল্প হলেও বরকতে পরিপূর্ণ২। তাঁরা কোনো কৃত্রিমতা করেন না, বরং তাঁরা দলীলসমূহকে যথাযথ সম্মান করেন, এর মর্যাদা অনুধাবন করেন এবং এর সীমানাতেই থেমে যান। তাঁরা নিজেদের রায় (মতামত), বিবেক-বুদ্ধি, আধ্যাত্মিক অনুভূতি বা অন্য কিছুর মাধ্যমে তা অতিক্রম করেন না।
তাঁরাই প্রকৃতপক্ষে ন্যায়নিষ্ঠ ইমাম এবং সত্যের নির্ভরযোগ্য সাক্ষী। আল্লাহর প্রশংসায়, প্রতিটি যুগে তাঁদের কিছু উত্তরসূরি অবশিষ্ট থাকেন যারা "পথভ্রষ্টদের হেদায়েতের দিকে আহ্বান করেন, তাদের পক্ষ থেকে আসা কষ্টের ওপর ধৈর্য ধারণ করেন, আল্লাহর কিতাবের মাধ্যমে মৃতদের (অন্তরকে) পুনর্জীবিত করেন এবং আল্লাহর নূরের মাধ্যমে অন্ধদের চক্ষু দান করেন। ইবলিসের হাতে প্রাণ হারানো কত মানুষকে তাঁরা পুনর্জীবিত করেছেন! আর কত পথহারা বিভ্রান্তকে তাঁরা সঠিক পথ দেখিয়েছেন! মানুষের ওপর তাঁদের অবদান কতই না উত্তম, আর তাঁদের ওপর মানুষের আচরণ কতই না জঘন্য! তাঁরা আল্লাহর বান্দাদের থেকে সীমালঙ্ঘনকারীদের বিকৃতি, বাতিলপন্থীদের মিথ্যাচার এবং মূর্খদের অপব্যাখ্যা দূর করেন। যারা বিদআতের পতাকা উড্ডীন করেছে এবং ফিতনার রশি খুলে দিয়েছে। তারা কিতাব সম্পর্কে মতভেদকারী, কিতাবের বিরোধী এবং কিতাব বর্জনের ব্যাপারে একমত। তারা আল্লাহ সম্পর্কে এবং আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে জ্ঞান ছাড়াই কথা বলে। তারা অস্পষ্ট ও সংশয়যুক্ত কথা বলে এবং সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্তির মাধ্যমে প্রতারিত করে। আমরা পথভ্রষ্টদের ফিতনা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করি"৩।
একারণেই সুন্নাহর বিজয়, তাওহীদের প্রতিষ্ঠা এবং প্রবৃত্তি পূজারিদের খণ্ডন করার ক্ষেত্রে এই মহামনীষীদের রেখে যাওয়া নিদর্শন ও তাঁদের বর্ণিত বাণীসমূহ অধ্যয়ন করা একজন ইলম অন্বেষীর জন্য সর্বাধিক উপকারী বিষয় হিসেবে গণ্য হয়, যাতে সত্য ও মিথ্যার মাঝে, সুন্নাহ ও বিদআতের মাঝে এবং হেদায়েত ও পথভ্রষ্টতার মাঝে পার্থক্য করা যায়; কারণ এই ইমামগণ চলে গেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আসারুল মাশহুর আনিল ইমাম মালিক রাহিমাহুল্লাহ ফী সিফাতিল ইস্তিওয়া
(পৃষ্ঠা: ১৬)
في معتقدهم على ما كان عليه رسول الله صلى الله عليه وسلم وصحابته من بعده، فهم بنبيّهم محمد صلى الله عليه وسلم مقتدون، وعلى منهاجه سالكون، ولطريقته مقتفون، وعن الأهواء والبدع المضلّة معرضون، وعلى الصراط المستقيم والمحجّة البيضاء سائرون، يوصي بذلك أولُهم آخرَهم، ويقتدي اللاحقُ بالسابق؛ ولهذا "لو طالعتَ جميع كتبهم المصنّفة من أوّلهم إلى آخرهم، قديمهم وحديثهم - مع اختلاف بلدانهم وزمانهم، وتباعد ما بينهم في الديار، وسكون كلّ واحد منهم قطراً من الأقطار - وجدتَهم في بيان الاعتقاد على وتيرة واحدة ونمطٍ واحد، يجرون فيه على طريقة واحدة، لا يحيدون عنها، ولا يميلون فيها، قولهم في ذلك واحد، ونقلهم واحد، لا ترى بينهم اختلافاً، ولا تفرّقاً في شيء ما وإن قلّ، بل لو جمعتَ جميعَ ما جرى على ألسنتهم ونقلوه عن سلفهم وجدته كأنّه جاء من قلب واحد، وجرى على لسانٍ واحد"1، والسبب في ذلك هو لزوم الجميع سنة النبي صلى الله عليه وسلم، وبُعدُهم عن الأهواء والبدع، فهم كما قال الأوزاعي رحمه الله: "ندور مع السنة حيث دارت"2، فهذا شأنهم وديدنُهم، يدورون مع السنة حيث دارت نفياً أو إثباتاً، فلا يثبتون إلَاّ ما ثبت في الكتاب والسنة، ولا ينفون إلَاّ ما نفي في الكتاب والسنة، لا يتجاوزون القرآن والحديث.
وهؤلاء الأئمة لم يكفّوا عن الخوض فيما خاض فيه من سواهم لعجز منهم عن ذلك أو لضعف وعدم قدرة بل الأمر كما قال عمر بن عبد العزيز رحمه الله: "
… فإنَّ السابقين عن علم وقفوا، وببصر نافذ كفّوا، وكانوا هم أقوى على البحث ولم يبحثوا"3. ومن كان على نهج هؤلاء فهو في طريق آمنة
--------------------------------------------
তাদের বিশ্বাসের ক্ষেত্রে তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর পরবর্তী সাহাবীগণ যে বিষয়ের ওপর ছিলেন, তার ওপর প্রতিষ্ঠিত। তারা তাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুসরণকারী, তাঁর মানহাজ বা পদ্ধতির ওপর বিচরণকারী, তাঁর তরীকার অনুসারী, প্রবৃত্তি ও পথভ্রষ্ট বিদআতসমূহ থেকে বিমুখ এবং সিরাত-ই মুস্তাকীম ও উজ্জ্বল রাজপথের ওপর পথিক। তাদের পূর্ববর্তীগণ পরবর্তীগণকে এর উপদেশ দেন এবং পরবর্তীরা পূর্ববর্তীদের অনুসরণ করেন। এই কারণেই, "যদি আপনি তাদের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত, প্রাচীন ও আধুনিক—সকল সংকলিত কিতাবসমূহ অধ্যয়ন করেন—তাদের দেশ ও সময়ের ভিন্নতা, ভূখণ্ডের দূরত্ব এবং তাদের একেক জন একেক অঞ্চলে বসবাস করা সত্ত্বেও—তবে আপনি আকিদাহ বর্ণনার ক্ষেত্রে তাদেরকে একই ধারা ও একই পদ্ধতিতে পাবেন। তারা এতে একই পথে চলেন, তা থেকে বিচ্যুত হন না এবং তাতে ঝুঁকে পড়েন না। এই বিষয়ে তাদের বক্তব্য এক, তাদের বর্ণনা এক; আপনি তাদের মধ্যে কোনো মতবিরোধ দেখবেন না এবং সামান্যতম কোনো বিভেদও পাবেন না। বরং আপনি যদি তাদের মুখে যা উচ্চারিত হয়েছে এবং তারা তাদের সালাফদের থেকে যা বর্ণনা করেছেন তা সব একত্রিত করেন, তবে দেখবেন তা যেন একটি হৃদয় থেকে এসেছে এবং একটি জবান দিয়েই উচ্চারিত হয়েছে।"১ এর কারণ হলো সবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা এবং প্রবৃত্তি ও বিদআত থেকে তাদের দূরত্ব। তারা যেমনটি আওযায়ী রহিমাহুল্লাহ বলেছেন: "সুন্নাহ যেদিকে ঘোরে আমরাও সেদিকেই ঘুরি।"২ এটিই তাদের অবস্থা ও চিরচেনা অভ্যাস; সুন্নাহ যেদিকে ঘোরে তারাও সেদিকেই ঘোরে, চাই তা কোনো বিষয়কে সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে হোক বা নাকচ করার ক্ষেত্রে। তারা কিতাব ও সুন্নাহতে যা সাব্যস্ত হয়েছে তা ছাড়া অন্য কিছু সাব্যস্ত করেন না এবং কিতাব ও সুন্নাহতে যা নাকচ করা হয়েছে তা ছাড়া অন্য কিছু নাকচ করেন না। তারা কুরআন ও হাদীসকে অতিক্রম করেন না।
এই ইমামগণ অন্যদের মতো গভীর আলোচনায় লিপ্ত হওয়া থেকে যে বিরত ছিলেন, তা তাদের অক্ষমতা বা দুর্বলতা বা অসামর্থ্যের কারণে নয়। বরং বিষয়টি হলো যেমনটি ওমর বিন আব্দুল আজিজ রহিমাহুল্লাহ বলেছেন: "
… নিশ্চয়ই পূর্বসূরিগণ জ্ঞানের ভিত্তিতেই থেমে গিয়েছিলেন এবং তীক্ষ্ণ দূরদর্শিতার সাথেই তারা বিরত হয়েছিলেন। তারা গবেষণায় অধিক শক্তিশালী হওয়া সত্ত্বেও গবেষণা করেননি।"৩ আর যে ব্যক্তি তাদের এই পদ্ধতির ওপর থাকবে, সে নিরাপদ পথে থাকবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আসারুল মাশহুর আনিল ইমাম মালিক রাহিমাহুল্লাহ ফী সিফাতিল ইস্তিওয়া
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وسبيل سالمة، قال محمد بن سيرين رحمه الله: "كانوا يقولون: إذا كان الرجل على الأثر فهو على الطريق"1.
ولما كان الأمر بهذه المثابة وعلى هذا القدر من الأهمية أحببت أن أقدّم دراسة لأحد الآثار المرويّة عن السلف الصالح رحمهم الله في تقرير التوحيد وردّ البدع والأهواء؛ ليكون - إن شاء الله - أنموذجاً للتدليل على عِظم فائدة العناية بآثار السلف وعظم ما يحصله من عُنيَ بذلك من فوائد وثمار ومنافع.
ولهذا نشطت في إعداد هذه الدراسة للأثر المشهور عن الإمام مالك رحمه الله عند ما جاءه رجل وقال له: يا أبا عبد الله {الرَّحْمَنُ عَلَى العَرْشِ اسْتَوَى} كيف استوى؟، فتأثّر مالك – رحمه الله من هذه المسألة الشنيعة وعلاه الرحضاء [أي العَرَق] ، وقال في إجابته لهذا السائل: "الاستواء غير مجهول، والكيف غير معقول، والإيمان به واجب، والسؤال عنه بدعة"، وأمر بالسائل أن يُخرج من مجلسه، وهو أثر عظيمُ النفع جليلُ الفائدة.
ويمكن أن أحدِّد أهمّ الدوافع التي شجّعت لتقديم هذه الدراسة لهذا الأثر خاصة في النقاط التالية:
أوّلاً: أنَّ هذا الأثر قد تلقّاه الناس بالقبول، فليس في أهل السنة والجماعة من ينكره، كما يذكر ذلك شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله -2، بل إنَّ أهل العلم قد ائتمّو به واستجودوه واستحسنوه3.
ثانياً: أنَّه من أنبل جواب وقع في هذه المسألة وأشدّه استيعاباً؛ لأَنَّ فيه نبذ التكييف وإثبات الاستواء المعلوم في اللغة على وجه يليق بالله عز وجل4.
--------------------------------------------
এবং এটি একটি নিরাপদ পথ। মুহাম্মাদ ইবনে সিরিন (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "তারা বলতেন: যদি কোনো ব্যক্তি আছারের (পূর্বসূরিদের পদাঙ্ক) ওপর থাকে, তবে সে সঠিক পথেই আছে।"১।
যেহেতু বিষয়টি এই পর্যায়ের এবং এতটুকু গুরুত্বের অধিকারী, তাই আমি তাওহিদ প্রতিষ্ঠা এবং বিদআত ও প্রবৃত্তি খণ্ডন বিষয়ে সালাফে সালেহীন (রহিমাহুমুল্লাহ) থেকে বর্ণিত একটি আছারের ওপর একটি গবেষণা উপস্থাপন করতে চেয়েছি; যাতে এটি - ইনশাআল্লাহ - সালাফদের আছারসমূহের প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার সুমহান উপকারিতা এবং যারা এর প্রতি যত্নবান হন তাদের অর্জিত মহান ফায়দা ও ফলাফল প্রমাণের জন্য একটি নমুনা হিসেবে বিবেচিত হয়।
এজন্যই আমি ইমাম মালিক (রহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত সেই প্রসিদ্ধ আছারটির ওপর এই গবেষণাটি প্রস্তুত করতে আগ্রহী হয়েছি, যখন একজন ব্যক্তি তাঁর কাছে এসে বলেছিল: হে আবু আব্দুল্লাহ! {রহমান আরশের ওপর উঠেছেন} তিনি কীভাবে উঠেছেন? তখন ইমাম মালিক (রহিমাহুল্লাহ) এই জঘন্য প্রশ্নে অত্যন্ত প্রভাবিত হলেন এবং ঘর্মাক্ত হয়ে পড়লেন [অর্থাৎ তাঁর শরীর থেকে ঘাম ঝরতে লাগল]। তারপর তিনি সেই প্রশ্নকারীকে উত্তরে বললেন: "উঠা (ইস্তিউয়া) অজানা নয়, এর ধরন (কাইফিয়াত) অবোধগম্য, এর ওপর ঈমান আনা ওয়াজিব এবং এ সম্পর্কে প্রশ্ন করা বিদআত।" এরপর তিনি প্রশ্নকারীকে তাঁর মজলিস থেকে বের করে দেওয়ার নির্দেশ দিলেন। এটি অত্যন্ত উপকারী এবং উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন একটি আছার।
বিশেষ করে এই আছারটির ওপর এই গবেষণাটি উপস্থাপন করতে উৎসাহিত করার পেছনে প্রধান কারণগুলো আমি নিম্নলিখিত পয়েন্টগুলোর মাধ্যমে নির্ধারণ করতে পারি:
প্রথমত: এই আছারটিকে সর্বস্তরের মানুষ গ্রহণযোগ্য হিসেবে গ্রহণ করেছেন, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মধ্যে এমন কেউ নেই যে একে অস্বীকার করে, যেমনটি শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) উল্লেখ করেছেন -২। বরং আহলে ইলমগণ একে অনুসরণ করেছেন এবং একে অতি উত্তম ও ভালো বলে গণ্য করেছেন৩।
দ্বিতীয়ত: এটি এই বিষয়ে দেওয়া উত্তরসমূহের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং অত্যন্ত অর্থবহ ও ব্যাপক; কারণ এতে ধরন বর্ণনাকে (তাকিয়িফ) বর্জন করা হয়েছে এবং ভাষাগতভাবে সুপরিচিত 'উঠা' (ইস্তিউয়া) কে এমনভাবে সাব্যস্ত করা হয়েছে যা মহান আল্লাহর শানের উপযোগী৪।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আসারুল মাশহুর আনিল ইমাম মালিক রাহিমাহুল্লাহ ফী সিফাতিল ইস্তিওয়া
(পৃষ্ঠা: ১৮)
ثالثاً: أنَّ قوله هذا ليس خاصّاً بصفة الاستواء، بل هو بمثابة القاعدة التي يمكن أن تُقال في جميع الصفات.
رابعاً: محاولة أهل البدع في القديم والحديث تبديل معناه وتحريف مراده بطرق متكلّفة وسبل مختلفة.
خامساً: محاولة أحد جهّال المعاصرين التشكيك في ثبوته والطعن في أسانيده.
سادساً: التنبيه إلى أنَّ بعض أتباع الأئمة في الفروع لم يوَفَّقوا إلى العناية بمذهب أئمّتهم في الأصول، ولهذا ترى في بعض من يتعصّبون إلى مذهب الإمام مالك رحمه الله في الفروع من يخالفه في أصول الدين، ويفارقه في أساس المعتقد بسبب غلبة الأهواء وانتشار البدع.
إلى غير ذلك من الأسباب، وقد جعلت هذه الدراسة بعنوان:
(الأثر المشهور عن الإمام مالك رحمه الله في صفة الاستواء دراسة تحليلية)
أما الهدف من هذه الدراسة فهي إعطاء هذا الأثر مكانته اللائقة به واستخراج الدروس والقواعد العلمية المستفادة منه، والردّ على تحريفات المناوئين، وتشكيكات المحرّفين.
وقسمته إلى تمهيد وأربعة فصول وخاتمة على النحو التالي:
التمهيد، وفيه ثلاثة مباحث:
المبحث الأول: ترجمة موجزة للإمام مالك بن أنس رحمه الله.
المبحث الثاني: في ذِكر معتقد أهل السنة والجماعة في صفة الاستواء بإيجاز.
المبحث الثالث: في بيان أهمية القواعد وعِظم نفعها في معرفة صفات الباري.
তৃতীয়ত: তাঁর এই বক্তব্যটি কেবল 'উঠা'র (ইস্তিওয়া) সিফাতের জন্য নির্দিষ্ট নয়, বরং এটি একটি মূলনীতির মতো যা সমস্ত সিফাতের ক্ষেত্রে বলা যেতে পারে।
চতুর্থত: প্রাচীন ও বর্তমান যুগের বিদআতপন্থীদের কৃত্রিম পদ্ধতি ও বিভিন্ন উপায়ে এর অর্থ পরিবর্তন এবং এর উদ্দেশ্য বিকৃত করার অপচেষ্টা।
পঞ্চমত: বর্তমান যুগের জনৈক অজ্ঞ ব্যক্তির এর নির্ভরযোগ্যতা সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ এবং এর সনদসমূহ নিয়ে কটূক্তি করার অপচেষ্টা।
ষষ্ঠত: এ বিষয়ে সতর্ক করা যে, শাখা-প্রশাখাগত (ফুরু) মাসআলায় ইমামগণের অনুসারীদের মধ্যে কেউ কেউ আকিদাগত বা মৌলিক বিষয়ে (উসুল) তাঁদের ইমামদের মাযহাবের প্রতি যত্নবান হওয়ার তাওফিক পাননি। এই কারণেই যারা ইমাম মালিক (রাহিমাহুল্লাহ)-এর ফিকহি মাযহাব নিয়ে গোঁড়ামি করে, তাদের মধ্যে এমন কাউকে দেখা যায় যারা দ্বীনের মৌলিক আকিদায় তাঁর বিরোধিতা করে এবং প্রবৃত্তির প্রাবল্য ও বিদআতের প্রসারের কারণে মৌলিক বিশ্বাসের ক্ষেত্রে তাঁর থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়ে।
এ ছাড়া আরও অন্যান্য কারণ রয়েছে। আমি এই গবেষণার শিরোনাম দিয়েছি:
(ইমাম মালিক রাহিমাহুল্লাহ হতে বর্ণিত 'উঠা'র সিফাত সংক্রান্ত প্রসিদ্ধ বর্ণনাটি: একটি বিশ্লেষণাত্মক অধ্যয়ন)
এই গবেষণার লক্ষ্য হলো এই বর্ণনাটিকে তার যথাযোগ্য মর্যাদা প্রদান করা এবং এ থেকে শিক্ষণীয় বিষয় ও ইলমি মূলনীতিসমূহ আহরণ করা, আর বিরোধীদের বিকৃতি এবং অপব্যাখ্যাকারীদের সংশয়সমূহের জবাব দেওয়া।
আমি একে একটি ভূমিকা, চারটি অধ্যায় এবং একটি উপসংহারে নিম্নোক্তভাবে বিন্যস্ত করেছি:
ভূমিকা, এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: ইমাম মালিক ইবনে আনাস রাহিমাহুল্লাহ-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ‘উঠা’র সিফাত সম্পর্কে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদা সংক্ষেপে উল্লেখ করা।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: মহান স্রষ্টার সিফাতসমূহ জানার ক্ষেত্রে মূলনীতিসমূহের গুরুত্ব ও এর বিশাল উপকারিতা বর্ণনা করা।
(খণ্ড: ১)
আল-আসারুল মাশহুর আনিল ইমাম মালিক রাহিমাহুল্লাহ ফী সিফাতিল ইস্তিওয়া
(পৃষ্ঠা: ১৯)
الفصل الأول: في تخريج هذا الأثر، وبيان ثبوته، وذكر الشواهد عليه من الكتاب والسنة وأقوال السلف الصالح، وفيه أربعة مباحث:
المبحث الأول: تخريج الأثر، وبيان ثبوته عن الإمام مالك
رحمه الله.
المبحث الثاني: ذكر الشواهد عليه من الكتاب والسنة.
المبحث الثالث: ذكر نظائر هذا الأثر ممّا جاء عن السلف الصالح.
المبحث الرابع: ذكر كلام أهل العلم في التنويه بهذا الأثر، وتأكيدهم على أهميّته، وجعله قاعدة من قواعد توحيد الأسماء والصفات.
الفصل الثاني: في ذكر معنى هذا الأثر، وبيان مدلوله وما يُستفاد منه من ضوابط في توحيد الأسماء والصفات، وفيه أربعة مباحث:
المبحث الأول: في معنى قوله: "الاستواء غير مجهول" والضوابط المستفادة منه.
المبحث الثاني: في معنى قوله: "الكيف غير معقول" والضوابط المستفادة منه.
المبحث الثالث: في معنى قوله: "الإيمان به واجب" والضوابط المستفادة منه.
المبحث الرابع: في معنى قوله: "السؤال عنه بدعة" والضوابط المستفادة منه.
الفصل الثالث: في إبطال تحريفات أهل البدع لهذا الأثر.
الفصل الرابع: في ذكر فوائد عامة مأخوذة من هذا الأثر، وفيه ثلاثة مباحث:
المبحث الأول: ذكر ما في قولهم: "حتى علاه الرّحضاء" من فائدة.
المبحث الثاني: ذكر ما في قوله: "ما أراك إلَاّ مبتدعاً" من فائدة.
প্রথম অধ্যায়: এই আসারের (বর্ণনার) উৎস বিশ্লেষণ, এর প্রামাণ্যতা বর্ণনা এবং এর সপক্ষে কুরআন, সুন্নাহ ও সালাফে সালেহীনের উক্তি থেকে প্রমাণাদি উল্লেখ; এতে চারটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: আসারের উৎস বিশ্লেষণ এবং ইমাম মালিক (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে এর প্রামাণ্যতা বর্ণনা।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কুরআন ও সুন্নাহ থেকে এর সপক্ষে প্রমাণাদি উল্লেখ।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সালাফে সালেহীনের নিকট থেকে বর্ণিত এই আসারের অনুরূপ বর্ণনাগুলোর উল্লেখ।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: এই আসারের প্রশংসায় আলেমগণের বক্তব্য উল্লেখ, এর গুরুত্বের ওপর তাঁদের জোর প্রদান এবং এটিকে আসমা ওয়া সিফাতের তাওহীদের অন্যতম মূলনীতি হিসেবে গণ্য করা।
দ্বিতীয় অধ্যায়: এই আসারের অর্থ উল্লেখ, এর তাৎপর্য বর্ণনা এবং আসমা ওয়া সিফাতের তাওহীদের ক্ষেত্রে এ থেকে প্রাপ্ত মূলনীতিসমূহের বর্ণনা; এতে চারটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর এই উক্তি: "ইস্তিওয়া (উঠা) অজ্ঞাত নয়"-এর অর্থ এবং এ থেকে প্রাপ্ত মূলনীতিসমূহ।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর এই উক্তি: "এর ধরণ বোধগম্য নয়"-এর অর্থ এবং এ থেকে প্রাপ্ত মূলনীতিসমূহ।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর এই উক্তি: "এর ওপর ঈমান আনা ওয়াজিব"-এর অর্থ এবং এ থেকে প্রাপ্ত মূলনীতিসমূহ।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: তাঁর এই উক্তি: "এ সম্পর্কে প্রশ্ন করা বিদআত"-এর অর্থ এবং এ থেকে প্রাপ্ত মূলনীতিসমূহ।
তৃতীয় অধ্যায়: এই আসারের ক্ষেত্রে বিদআতিদের অপব্যাখ্যাসমূহ খণ্ডন।
চতুর্থ অধ্যায়: এই আসার থেকে প্রাপ্ত সাধারণ শিক্ষাসমূহ উল্লেখ; এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁদের এই উক্তি: "এমনকি তিনি ঘামিয়ে গেলেন"-এর মধ্যে নিহিত শিক্ষা উল্লেখ।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর এই উক্তি: "আমি তোমাকে বিদআতি ছাড়া আর কিছু মনে করছি না"-এর মধ্যে নিহিত শিক্ষা উল্লেখ।
(খণ্ড: ১)
আল-আসারুল মাশহুর আনিল ইমাম মালিক রাহিমাহুল্লাহ ফী সিফাতিল ইস্তিওয়া
(পৃষ্ঠা: ২০)
المبحث الثالث: ذكر ما في قوله: "أخرجوه عنِّي" من فائدة.
الخاتمة: وفيها خلاصة البحث وأهمّ نتائجه.
هذا وإني أسأل الله الكريم أن يتقبّل مني هذا العمل بقبول حسن، وأن يجعله لوجهه خالصاً، وللحق موافقاً، وأن يغفر لي ولوالديّ وللإمام مالكٍ ولجميع أئمة المسلمين، وللمسلمين والمسلمات، والمؤمنين والمؤمنات الأحياء منهم والأموات، إنَّه هو الغفور الرحيم.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: "তাকে আমার নিকট হতে বের করে দাও" - তাঁর এই উক্তির মধ্যে যে শিক্ষা ও উপকারিতা রয়েছে তার বর্ণনা।
উপসংহার: এতে রয়েছে গবেষণার সারসংক্ষেপ এবং এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলসমূহ।
পরিশেষে, আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি যেন তিনি আমার পক্ষ থেকে এই আমলটিকে উত্তমভাবে কবুল করেন এবং একে একান্তভাবে তাঁর চেহারার জন্য নিবেদিত ও সত্যের অনুগামী করেন। আর তিনি যেন আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে, ইমাম মালিককে এবং মুসলিমদের সকল ইমামকে এবং সকল মুসলিম পুরুষ ও নারী ও মুমিন পুরুষ ও নারীকে—তাদের মধ্যে যারা জীবিত এবং যারা মৃত—সকলকে ক্ষমা করেন। নিশ্চয়ই তিনি পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
(খণ্ড: ১)
আল-আসারুল মাশহুর আনিল ইমাম মালিক রাহিমাহুল্লাহ ফী সিফাতিল ইস্তিওয়া
(পৃষ্ঠা: ২১)
*
تمهيد
المبحث الأول: ترجمة موجزة للإمام مالك بن أنس رحمه الله…تمهيد:
لعل من الحسن قبل الشروع في الموضوع أن أُمهِّد بذكر بعض الأمور المهمّة بين يديه، وذلك من خلال المباحث التالية:
المبحث الأول: ترجمة موجزة للإمام مالك بن أنس رحمه الله -1.
أولاً: نسبه:
هو شيخ الإسلام، حجّة الأمة، إمام دار الهجرة، أبو عبد الله مالك بن أنس بن مالك بن أبي عامر بن عَمرو بن الحارث بن غيمان بن خُثيل بن عَمرو بن الحارث، وهو ذو أصبح بن عوف بن مالك بن زيد بن شدّاد بن زرعة، وهو حِمير الأصغر، الحِميري ثم الأصبحي المدني، حليف بني تَيم من قريش، فهم حلفاء عثمان أخي طلحة بن عبيد الله أحدِ العشرة.
وأمُّه هي عالية بنت شريك الأزدية.
وأعمامه هم: أبو سُهيل نافع، وأُويس، والربيع، والنضر، أولاد أبي عامر.
ثانياً: مولده:
قال الذهبي رحمه الله: "مولد مالك على الأصح في سنة ثلاث وتسعين، عام موتِ أنس خادم رسول الله صلى الله عليه وسلم، ونشأ في صَون ورفاهية وتجمّل".
--------------------------------------------
*
ভূমিকা
প্রথম পরিচ্ছেদ: ইমাম মালিক ইবনে আনাস রহিমাহুল্লাহ-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী…ভূমিকা:
মূল বিষয়ে প্রবেশের পূর্বে তার প্রারম্ভে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনা করা সংগত মনে করছি, যা নিম্নোক্ত পরিচ্ছেদসমূহের মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:
প্রথম পরিচ্ছেদ: ইমাম মালিক ইবনে আনাস রহিমাহুল্লাহ-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী -১.
প্রথমত: তাঁর বংশ পরিচয়:
তিনি হলেন শাইখুল ইসলাম, উম্মতের হুজ্জাত, ইমামে দারুল হিজরত, আবু আব্দুল্লাহ মালিক ইবনে আনাস ইবনে মালিক ইবনে আবি আমির ইবনে আমর ইবনে হারিস ইবনে গায়মান ইবনে খুসাইল ইবনে আমর ইবনে হারিস। তিনি যূ আসবাহ ইবনে আউফ ইবনে মালিক ইবনে যাইদ ইবনে শাদ্দাদ ইবনে যুরআহ-এর বংশধর; যিনি হিমইয়ার আল-আসগার নামে পরিচিত। তিনি হিমইয়ারি ও পরবর্তীতে আসবাহি মাদানি এবং কুরাইশ বংশের বনু তাইম গোত্রের মিত্র ছিলেন। তাঁরা ছিলেন আশারায়ে মুবাশশারার অন্যতম সাহাবি তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহর ভাই উসমানের মিত্র।
তাঁর মাতা হলেন আলিয়া বিনতে শারিক আল-আযদিয়্যাহ।
তাঁর চাচারা হলেন: আবু সুহাইল নাফি, উওয়াইস, রাবি এবং নাযর—তাঁরা সকলে আবু আমিরের পুত্র।
দ্বিতীয়ত: তাঁর জন্ম:
ইমাম যাহাবি রহিমাহুল্লাহ বলেন: "অধিকতর সঠিক মত অনুযায়ী মালিকের জন্ম ৯৩ হিজরি সনে, যে বছর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খাদেম আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর মৃত্যু হয়েছিল। তিনি অত্যন্ত যত্ন, সচ্ছলতা ও আভিজাত্যের মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠেন।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আসারুল মাশহুর আনিল ইমাম মালিক রাহিমাহুল্লাহ ফী সিফাতিল ইস্তিওয়া
(পৃষ্ঠা: ২২)
ثالثاً: نشأته وطلبه للعلم:
طلب مالكٌ العلمَ وهو ابن بضع عشرة سنة، وتأهّل للفتيا، وجلس للإفادة وله إحدى وعشرون سنة، وحدّث عنه جماعة وهو حيٌّ شابٌّ طريٌّ، وقصدَه طلبة العلم من الآفاق في آخر دولة أبي جعفر المنصور وما بعد ذلك، وازدحموا عليه في خلافة الرشيد، إلى أن مات.
رابعاً: شيوخه:
طلب الإمام مالك رحمه الله العلمَ وهو حدَثٌ بُعيد موت القاسم وسالم، فأخذ عن نافع، وسعيد المقبري، وعامر بن عبد الله ابن الزبير، وابن المنكدر، والزهري، وعبد الله بن دينار، وخلق.
وقد أحصى الذهبي رحمه الله شيوخه الذين روى عنهم في الموطأ وذكر إلى جنب كلِّ واحد منهم عدد ما روى عنه الإمام مالك ورتّبهم على حروف المعجم.
خامساً: تلاميذه:
قال الذهبي رحمه الله: "وقد كنت أفردتُ أسماء الرواة عنه في جزء كبير يُقارب عددهم ألفاً وأربع مائة، فلنذكر أعيانهم، حدّث عنه من شيوخه: عمّه أبو سُهيل، ويحيى بن أبي كثير، والزهري، ويحيى بن سعيد، ويزيد بن الهاد، وزيد بن أبي أُنيسة، وعمر بن محمد بن زيد، وغيرهم، ومن أقرانه: معمر، وابن جريج، وأبو حنيفة، وعمرو بن الحارث، والأوزاعي، وشعبة، والثوري
… "، وذكر آخرين.
سادساً: مؤلفاته:
من مؤلفاته رحمه الله:
1- الموطأ.
2- رسالة في القدر كتبها إلى ابن وهب.
তৃতীয়ত: তাঁর বেড়ে ওঠা এবং জ্ঞান অন্বেষণ:
মালিক দশ বছরের কিছু বেশি বয়সে জ্ঞান অন্বেষণ শুরু করেন এবং ফতোয়া প্রদানের যোগ্যতা অর্জন করেন। তিনি একুশ বছর বয়সে জ্ঞান বিতরণের জন্য বসেন। তিনি জীবিত এবং প্রাণবন্ত যুবক থাকাকালে একদল লোক তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। আবু জাফর আল-মনসুরের শাসনামলের শেষ দিকে এবং তার পরবর্তী সময়ে দিগন্তের প্রান্ত থেকে জ্ঞান অন্বেষণকারীরা তাঁর উদ্দেশ্যে সফর শুরু করেন এবং হারুনুর রশীদের খিলাফতকাল থেকে তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত তাঁরা তাঁর নিকট ভিড় জমাতে থাকেন।
চতুর্থত: তাঁর শিক্ষকবৃন্দ:
ইমাম মালিক (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর কিশোর বয়সে কাসিম ও সালিমের মৃত্যুর কিছুকাল পরেই জ্ঞান অন্বেষণ শুরু করেন। ফলে তিনি নাফে‘, সাঈদ আল-মাকবুরি, আমির বিন আব্দুল্লাহ ইবনুল জুবাইর, ইবনুল মুনকাদির, জুহরি, আব্দুল্লাহ বিন দিনার এবং আরও অনেকের নিকট থেকে জ্ঞান লাভ করেন।
ইমাম যাহাবি (রাহিমাহুল্লাহ) আল-মুওয়াত্তা গ্রন্থে ইমাম মালিক যাঁদের থেকে বর্ণনা করেছেন এমন শিক্ষকদের তালিকা নিরূপণ করেছেন এবং প্রত্যেকের নামের পাশে ইমাম মালিক তাঁর থেকে কতটি বর্ণনা করেছেন তা উল্লেখ করেছেন এবং তাঁদের বর্ণানুক্রমে সাজিয়েছেন।
পঞ্চমত: তাঁর ছাত্রবৃন্দ:
ইমাম যাহাবি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: "আমি তাঁর থেকে বর্ণনাকারীদের নাম একটি বড় খণ্ডে পৃথকভাবে সংকলন করেছি যাদের সংখ্যা প্রায় চৌদ্দশ; এখন আমি তাঁদের মধ্যকার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ করছি। তাঁর শিক্ষকদের মধ্যে যাঁরা তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন তাঁরা হলেন: তাঁর চাচা আবু সুহাইল, ইয়াহইয়া বিন আবু কাসির, জুহরি, ইয়াহইয়া বিন সাঈদ, ইয়াজিদ বিন আল-হাদ, যাইদ বিন আবু উনাইসা, উমর বিন মুহাম্মাদ বিন যাইদ এবং আরও অনেকে। আর তাঁর সমসাময়িকদের মধ্যে রয়েছেন: মা’মার, ইবনু জুরাইজ, আবু হানিফা, আমর বিন আল-হারিস, আওজায়ি, শু’বাহ, সাওরি
… ", এবং তিনি আরও অনেকের কথা উল্লেখ করেছেন।
ষষ্ঠত: তাঁর রচনাবলি:
তাঁর (রাহিমাহুল্লাহ) রচনাবলির মধ্যে রয়েছে:
১- আল-মুওয়াত্তা।
২- তাকদির (ভাগ্যলিপি) বিষয়ে একটি পত্র যা তিনি ইবনু ওয়াহবের নিকট লিখেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-আসারুল মাশহুর আনিল ইমাম মালিক রাহিমাহুল্লাহ ফী সিফাতিল ইস্তিওয়া
(পৃষ্ঠা: ২৩)
3- مؤلف في النجوم ومنازل القمر.
4- رسالة في الأقضية.
5- رسالة إلى أبي غسان بن مطرّف.
6- جزء في التفسير.
وأما ما نقله عنه كبار أصحابه من المسائل والفتاوى والفوائد فشيءٌ كثيرٌ.
سابعاً: ثناء العلماء عليه:
1- قال الشافعي: "العِلمُ يدور على ثلاثة: مالك، والليث، وابن عيينة".
2- وروي عن الأوزاعي أنه كان إذا ذكر مالكاً يقول:
"عالم العلماء، ومفتي الحرمين".
3- وعن بقيّة أنَّه قال: "ما بقي على وجه الأرض أعلم بسنّةٍ ماضية منك يا مالك".
4- وقال أبو يوسف: "ما رأيت أعلمَ من أبي حنيفة، ومالك، وابن أبي ليلى".
5- وذكر أحمد بن حنبل مالكاً فقدّمه على الأوزاعي، والثوري، والليث، وحماد، والحَكم، في العلم، وقال: "هو إمام في الحديث، وفي الفقه".
6- وقال القطّان: "هو إمام يُقتدى به".
7- وقال ابن معين: "مالكٌ من حُجج الله على خلقه".
8- وقال أسد بن الفرات: "إذا أردتَ الله والدارَ الآخرة فعليك بمالكٍ".
ثامناً: أقواله في السنة:
1- قال مطرّف بن عبد الله: سمعتُ مالكاً يقول: "سنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم ووُلاة الأمر بعده سُنناً، الأخذُ بها اتّباع لكتاب الله، واستكمالٌ بطاعة الله، وقوّةٌ على دين الله، ليس لأحد تغييرها، ولا تبديلُها، ولا النّظرُ في شيء خالفها، من
৩- নক্ষত্ররাজিক এবং চাঁদের মঞ্জিলসমূহ সম্পর্কিত একটি সংকলন।
৪- বিচারিক রায় সম্পর্কিত একটি পুস্তিকা।
৫- আবু গাসসান বিন মুতাররিফ-এর নিকট লিখিত একটি পত্র।
৬- তাফসীর বিষয়ক একটি খণ্ড।
আর তাঁর বড় বড় শাগরিদগণ তাঁর থেকে যে সকল মাসআলা, ফতোয়া এবং শিক্ষণীয় বিষয় বর্ণনা করেছেন তা সংখ্যায় প্রচুর।
সপ্তম: তাঁর প্রশংসায় ওলামায়ে কেরামের উক্তি:
১- শাফেয়ী বলেন: "ইলম তিন ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়: মালিক, লাইস এবং ইবনে উয়াইনা।"
২- আওযাঈ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি যখন মালিকের কথা উল্লেখ করতেন তখন বলতেন:
"আলেমদের আলেম এবং দুই হারামের মুফতী।"
৩- বাকিয়্যাহ থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেছেন: "হে মালিক! পৃথিবীর বুকে আপনার চেয়ে অতীত সুন্নাহ সম্পর্কে অধিক জ্ঞানী আর কেউ অবশিষ্ট নেই।"
৪- আবু ইউসুফ বলেন: "আমি আবু হানীফা, মালিক এবং ইবনে আবী লায়লা-এর চেয়ে বড় আলেম আর দেখিনি।"
৫- আহমাদ বিন হাম্বল মালিকের কথা উল্লেখ করে তাঁকে ইলমের ক্ষেত্রে আওযাঈ, সাওরী, লাইস, হাম্মাদ এবং হাকাম-এর ওপর অগ্রাধিকার দিয়েছেন এবং বলেছেন: "তিনি হাদীস এবং ফিকহ উভয় ক্ষেত্রেই একজন ইমাম।"
৬- কাত্তান বলেন: "তিনি এমন একজন ইমাম যাকে অনুসরণ করা হয়।"
৭- ইবনে মাঈন বলেন: "মালিক তাঁর সৃষ্টির ওপর আল্লাহর অন্যতম প্রমাণ স্বরূপ।"
৮- আসাদ বিন আল-ফুরাত বলেন: "যদি তুমি আল্লাহ এবং পরকাল কামনা করো, তবে তুমি মালিকের পথ অবলম্বন করো।"
অষ্টম: সুন্নাহ সম্পর্কে তাঁর উক্তি:
১- মুতাররিফ বিন আব্দুল্লাহ বলেন: আমি মালিককে বলতে শুনেছি: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর পরবর্তী শাসকগণ অনেক সুন্নাহ (আদর্শ) নির্ধারণ করে গেছেন, যা গ্রহণ করা আল্লাহর কিতাবের অনুসরণ, আল্লাহর আনুগত্যের পূর্ণতা এবং আল্লাহর দ্বীনের ওপর শক্তিশালী অবস্থান গ্রহণের শামিল। এগুলো পরিবর্তন বা রূপান্তর করার অধিকার কারো নেই এবং এগুলোর পরিপন্থী কোনো বিষয়ে দৃষ্টি দেওয়ারও সুযোগ নেই। যে"
(খণ্ড: ১)
আল-আসারুল মাশহুর আনিল ইমাম মালিক রাহিমাহুল্লাহ ফী সিফাতিল ইস্তিওয়া
(পৃষ্ঠা: ২৪)
اهتدى بها فهو مهتدٍ، ومن استنصر بها فهو منصور، ومن تركها اتّبع غير سبيل المؤمنين، وولاّه الله ما تولّى، وأصلاه جهنّم وساءت مصيراً".
2- وروى إسحاق بن عيسى عن مالك رحمه الله أنَّه قال:
"أكلّما جاءنا رجلٌ أجدلُ من رجل تركنا ما نزل به جبريل على محمد صلى الله عليه وسلم لجدلِه".
3- وقال أبو ثور: سمعت الشافعيَّ يقول: "كان مالك إذا جاءه بعض أهل الأهواء قال: أمَا إني على بيّنة من ديني، وأمَّا أنت فشاكٌّ، اذهب إلى شاكٍّ مثلكَ فخاصمه".
4- وقال يحيى بن خلف الطَرسوسي: "كنت عند مالك فدخل عليه رجل، فقال: يا أبا عبد الله ما تقول فيمن يقول: القرآن مخلوق؟ فقال مالك: زنديق، اقتلوه، فقال: يا أبا عبد الله، إنّما أحكي كلاماً سمعته، قال: إنّما سمعته منك، وعظَّم هذا القول".
5- وروى ابن وهب عن مالك رحمه الله أنّه قال: "الناس ينظرون إلى الله عز وجل يوم القيامة بأعينهم".
6- وقال القاضي عياض: قال معنٌ: "انصرف مالكٌ يوماً فلحقَه رجلٌ يُقال له: أبو الجويرية، متّهمٌ بالإرجاء، فقال: اسمع مني، قال: احذر أن أشهد عليك، قال: والله ما أريد إلَاّ الحق، فإن كان صواباً فقُل به، أو فتكلّم، قال: فإن غلبتني، قال: اتبعني، قال: فإن غلبتُك، قال: اتّبعتُك، قال: فإن جاء رجل فكلّمنا، فغلبنا؟ قال: اتّبعناه، فقال مالك: يا هذا، إنَّ الله بعث محمداً صلى الله عليه وسلم بدين واحد، وأراك تتنقّل".
7- وعن مالك قال: "الجدالُ في الدِّين ينشئ المراء، ويذهب بنور العلم من القلب ويقسّي، ويورث الضِّغن".
تاسعاً: وفاته:
قال القعنبي: "سمعتهم يقولون: عُمر مالك تسع وثمانون سنة، مات سنة تسع وسبعين ومائة".
যে এর মাধ্যমে হেদায়েত প্রাপ্ত হয়, সে-ই হেদায়েতপ্রাপ্ত। যে এর মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করে, সে সাহায্যপ্রাপ্ত। আর যে একে বর্জন করে, সে মুমিনদের পথ ছাড়া ভিন্ন পথ অনুসরণ করে। আল্লাহ তাকে সেদিকেই পরিচালিত করেন যেদিকে সে ফিরে যায় এবং তাকে জাহান্নামে দগ্ধ করবেন, আর তা কতই না মন্দ আবাস।
২- ইসহাক ইবনে ঈসা মালেক (রহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন:
"যখনই আমাদের কাছে পূর্বের ব্যক্তির চেয়ে অধিক বাকপটু কোনো লোক আসে, তখন কি আমরা তার বিতর্কের কারণে জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট যা নিয়ে অবতীর্ণ হয়েছিলেন তা বর্জন করব?"
৩- আবু সাওর বলেন: আমি শাফেয়ীকে বলতে শুনেছি: "মালেকের কাছে যখন প্রবৃত্তিপূজারীদের কেউ আসত, তখন তিনি বলতেন: আমি তো আমার দ্বীনের ব্যাপারে সুস্পষ্ট প্রমাণের ওপর আছি, আর তুমি হলে সংশয়বাদী। তোমার মতো কোনো সংশয়বাদীর কাছে যাও এবং তার সাথে বিতর্ক করো।"
৪- ইয়াহইয়া ইবনে খালাফ আত-তারসূসী বলেন: "আমি মালেকের নিকট ছিলাম, তখন এক ব্যক্তি তাঁর কাছে প্রবেশ করল এবং বলল: হে আবু আব্দুল্লাহ, যে ব্যক্তি বলে 'কুরআন সৃষ্টি (মাখলুক)', তার ব্যাপারে আপনি কী বলেন? মালেক বললেন: সে যিনদীক, তাকে হত্যা করো। সে ব্যক্তি বলল: হে আবু আব্দুল্লাহ, আমি তো কেবল একটি কথা বর্ণনা করছি যা আমি শুনেছি। তিনি বললেন: আমি তো তা তোমার থেকেই শুনলাম। আর তিনি এই কথাটিকে অত্যন্ত গুরুতর মনে করলেন।"
৫- ইবনে ওয়াহাব মালেক (রহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "কিয়ামতের দিন মানুষ তাদের নিজেদের চোখে আল্লাহর দিকে তাকাবে।"
৬- কাজী ইয়াদ বলেন: মা'ন বলেছেন: "একদিন মালেক ফিরে যাচ্ছিলেন, তখন আবু আল-জুয়াইরিয়াহ নামক এক ব্যক্তি তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করল, যার বিরুদ্ধে ইরজা (মুরজিয়া মতবাদ)-এর অভিযোগ ছিল। সে বলল: আমার কথা শুনুন। তিনি বললেন: সাবধান হও, পাছে আমি তোমার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিই। সে বলল: আল্লাহর কসম, আমি সত্য ছাড়া আর কিছুই চাই না। যদি তা সঠিক হয় তবে আপনি তা মেনে নিন, অথবা কথা বলুন। তিনি বললেন: যদি তুমি আমাকে তর্কে হারিয়ে দাও? সে বলল: তবে আপনি আমার অনুসরণ করবেন। তিনি বললেন: আর যদি আমি তোমাকে হারিয়ে দিই? সে বলল: আমি আপনার অনুসরণ করব। সে বলল: যদি অন্য কোনো লোক আসে এবং আমাদের সাথে কথা বলে আমাদের হারিয়ে দেয়? তিনি বললেন: তবে আমরা তার অনুসরণ করব। তখন মালেক বললেন: হে লোক! আল্লাহ তাআলা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে একটি মাত্র দ্বীন দিয়ে পাঠিয়েছেন, আর আমি দেখছি তুমি এক ধর্ম থেকে অন্য ধর্মে স্থানান্তরিত হচ্ছ।"
৭- মালেক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "দ্বীনের ব্যাপারে বিতর্ক বাদানুবাদ সৃষ্টি করে, অন্তর থেকে ইলমের নূর বা জ্যোতি দূর করে দেয়, অন্তরকে কঠিন করে এবং বিদ্বেষ তৈরি করে।"
নবম: তাঁর মৃত্যু:
আল-কা'নাবী বলেন: "আমি তাঁদের বলতে শুনেছি: মালেকের বয়স হয়েছিল উননব্বই বছর, তিনি একশত উনআশি হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন।"
(খণ্ড: ১)
আল-আসারুল মাশহুর আনিল ইমাম মালিক রাহিমাহুল্লাহ ফী সিফাতিল ইস্তিওয়া
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وقال إسماعيل بن أبي أُويس: "مرض مالك، فسألتُ بعض أهلنا عما قال عند الموت، قالوا: تشهّد، ثم قال: {للهِ الأَمْرُ مِن قَبْلُ وَمِن بَعْدُ} 1، وتوفي صبيحة أربع عشرة من ربيع الأول سنة تسع وسبعين ومائة، فصلَّى عليه الأمير عبد الله بن محمد بن إبراهيم بن محمد بن علي بن عبد الله بن عباس الهاشمي، وَلَد زينب بنت سليمان العباسية، ويُعرف بأمِّه"، رواها محمد بن سعد عنه، ثم قال: "وسألتُ مصعباً، فقال: بل مات في صفر، فأخبرني معن بن عيسى بمثل ذلك".
وقال أبو مصعب الزهري: "مات لعشر مضت من ربيع الأول سنة تسع".
وقال محمد بن سحنون: "مات في حادي عشر ربيع الأول".
وقال ابن وهب: "مات لثلاث عشرة خلت من ربيع الأول".
قال القاضي عياض: "الصحيح وفاته في ربيع الأول يوم الأحد لتمام اثنين وعشرين يوماً من مرضه".
قال الذهبي: "تواترت وفاتُه في سنة تسع، فلا اعتبار لقول من غلِط وجعلها في سنة ثمان وسبعين، ولا اعتبار بقول حبيب كاتبه، ومطرِّف فيما حكي عنه، فقالا: سنة ثمانين ومائة".
ونقل عن القاضي عياض أنَّ أسد بن الفرات قال: "رأيتُ مالكاً بعد موته، وعليه طويلة وثياب خضر وهو على ناقة، يطير بين السماء والأرض، فقلت: يا أبا عبد الله، أليس قد متَّ؟ قال: بلى، فقلت: فإلامَ صِرتَ؟، فقال: قدِمتُ على ربي وكلّمني كفاحاً، وقال: سلني أعطِك، وتمنَّ عليَّ أُرضِك".
فرحمه الله، وغفر له، وأسكنه الفردوس الأعلى من الجنّة.
--------------------------------------------
ইসমাইল ইবনে আবি উওয়াইস বলেছেন: "মালিক অসুস্থ হলেন, তখন আমি আমাদের পরিবারের কয়েকজনকে জিজ্ঞাসা করলাম তিনি মৃত্যুর সময় কী বলেছিলেন। তারা বললেন: তিনি শাহাদাহ পাঠ করলেন, এরপর বললেন: {সকল সিদ্ধান্ত আল্লাহরই, পূর্বের এবং পরেরও} ১। তিনি ১৭৯ হিজরির ১৪ই রবিউল আউয়াল সকালে ইন্তেকাল করেন। আমির আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আলি ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস আল-হাশিমী তাঁর জানাযার নামাজ পড়ান। তিনি জয়নাব বিনতে সুলাইমান আব্বাসীয়র সন্তান ছিলেন এবং তিনি তাঁর মায়ের নামে পরিচিত ছিলেন।" মুহাম্মাদ ইবনে সাদ এটি তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। এরপর তিনি বলেন: "আমি মুসআবকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, তিনি বললেন: বরং তিনি সফর মাসে মারা গেছেন। মান ইবনে ঈসাও আমাকে অনুরূপ সংবাদ দিয়েছেন।"
আবু মুসআব আজ-জুহরি বলেছেন: "তিনি ১৭৯ হিজরির ১০ই রবিউল আউয়াল ইন্তেকাল করেন।"
মুহাম্মাদ ইবনে সাহনুন বলেছেন: "তিনি ১১ই রবিউল আউয়াল মারা গেছেন।"
ইবনে ওয়াহাব বলেছেন: "তিনি রবিউল আউয়াল মাসের ১৩ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর মারা গেছেন।"
কাযী আইয়াজ বলেছেন: "সঠিক মত হলো তাঁর মৃত্যু রবিউল আউয়াল মাসে, রবিবার দিনে, তাঁর অসুস্থতার ২২ দিন পূর্ণ হওয়ার মাথায়।"
ইমাম আয-যাহাবি বলেছেন: "১৭৯ হিজরিতে তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিরবচ্ছিন্নভাবে বর্ণিত (মুতাওয়াতির)। সুতরাং যারা ভুল করে একে ১৭৮ হিজরি বলেছেন, তাদের কথার কোনো গুরুত্ব নেই। তেমনিভাবে তাঁর লেখক হাবিব এবং মুতাররিফ থেকে যা বর্ণিত হয়েছে যে তারা বলেছেন ১৮০ হিজরি, তারও কোনো গুরুত্ব নেই।"
কাযী আইয়াজ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, আসাদ ইবনে আল-ফুরাত বলেছেন: "আমি মালিককে তাঁর মৃত্যুর পর স্বপ্নে দেখেছি; তাঁর মাথায় একটি দীর্ঘ টুপি এবং পরনে সবুজ পোশাক ছিল এবং তিনি একটি উষ্ট্রীর পিঠে চড়ে আকাশ ও পৃথিবীর মাঝখানে উড়ছিলেন। আমি বললাম: হে আবু আবদুল্লাহ, আপনি কি মারা যাননি? তিনি বললেন: হ্যাঁ। আমি বললাম: তবে আপনার কী অবস্থা হলো? তিনি বললেন: আমি আমার রবের নিকট উপস্থিত হলাম এবং তিনি আমার সাথে সরাসরি কথা বললেন। তিনি বললেন: আমার কাছে চাও, আমি তোমাকে দেব; আমার কাছে আকাঙ্ক্ষা করো, আমি তোমাকে সন্তুষ্ট করব।"
আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন, তাঁকে ক্ষমা করুন এবং জান্নাতুল ফিরদাউসের সর্বোচ্চ স্তরে তাঁকে স্থান দান করুন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আসারুল মাশহুর আনিল ইমাম মালিক রাহিমাহুল্লাহ ফী সিফাতিল ইস্তিওয়া
(পৃষ্ঠা: ২৬)
المبحث الثاني: في ذكر معتقد أهل السنة والجماعة في صفة الاستواء بإيجازالاستواء صفةٌ من صفات الكمال الثابتة لذي العظمة والجلال – سبحانه -، وقد دلّ النقل على هذه الصفة حيث أثبتها الربٌّ – سبحانه - لنفسه في كتابه، وأثبتها له رسوله صلى الله عليه وسلم في سنّته، وأجمع على ثبوتها المسلمون.
وقد وردت هذه الصفة في القرآن الكريم في مواطن عديدة، وكان ورودها فيه على نوعين: تارة معدّاة بـ (على) ، وتارة معدّاة بـ (إلى) .
1- أمّا النوع الأول: وهو مجيئها معدّاة بـ (على) فقد ورد في القرآن الكريم في سبعة مواضع، حيث تمدّح بها الرب – سبحانه -، وجعلها من صفات كماله وجلاله، وقرنها بما يبهر العقول من صفات الجلال والكمال، مما يدل على ثبوت هذه الصفة العظيمة لله ثبوت غيرها من الصفات.
قال الشيخ العلاّمة محمد الأمين الشنقيطي رحمه الله: "اعلموا أنَّ هذه الصفة التي هي الاستواء صفةُ كمال وجلال تمدّح بها ربُّ السموات والأرض، والقرينة على أنّها صفة كمال وجلال أنَّ الله ما ذكرها في موضع من كتابه إلَاّ مصحوبة بما يبهر العقول من صفات جلاله وكماله التي هي منها، وسنضرب مثلاً بذكر الآيات:
فأوّل سورة ذكر الله فيها صفة الاستواء حسب ترتيب المصحف سورة الأعراف قال: {إِنَّ رَبَّكُمُ اللهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ يُغْشِي الَّيلَ النَّهَارَ يَطْلُبُهُ حَثِيثاً وَالشَّمْسَ وَالقَمَرَ وَالنُّجُومَ مُسَخَّرَاتٍ بِأَمْرِهِ أَلَا لَهُ الخَلْقُ
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সংক্ষেপে ইস্তিওয়া (উঠা) গুণের ব্যাপারে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদা প্রসঙ্গেইস্তিওয়া (উঠা) হলো মহানুভবতা ও মহিমার অধিকারী আল্লাহর—তিনি পবিত্র—জন্য সাব্যস্ত পূর্ণতার গুণাবলির একটি। বর্ণনা এই গুণের ওপর প্রমাণ পেশ করেছে, যেখানে রব—তিনি পবিত্র—নিজের জন্য তাঁর কিতাবে এটি সাব্যস্ত করেছেন, এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সুন্নাহতে এটি সাব্যস্ত করেছেন, আর মুসলিমগণ এটি সাব্যস্ত হওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।
এই গুণটি পবিত্র কুরআনের অনেক স্থানে বর্ণিত হয়েছে এবং এতে এর ব্যবহার ছিল দুই প্রকার: কখনো 'আলা' (উপরে) অব্যয় যোগে, আবার কখনো 'ইলা' (দিকে) অব্যয় যোগে।
১- প্রথম প্রকার: যা 'আলা' (উপরে) অব্যয় যোগে এসেছে। এটি পবিত্র কুরআনের সাতটি স্থানে বর্ণিত হয়েছে, যেখানে রব—তিনি পবিত্র—এর মাধ্যমে নিজের প্রশংসা করেছেন এবং একে তাঁর পূর্ণতা ও মহিমার গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তিনি একে মহিমা ও পূর্ণতার এমন সব গুণের সাথে যুক্ত করেছেন যা বুদ্ধিকে বিমোহিত করে, যা আল্লাহর জন্য অন্যান্য গুণের মতো এই মহান গুণটি সাব্যস্ত হওয়ার ওপর প্রমাণ পেশ করে।
শাইখ আল-আল্লামা মুহাম্মাদ আল-আমিন আশ-শিনকিতি রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন: "জেনে রাখুন যে, এই গুণটি—যা হলো ইস্তিওয়া (উঠা)—এটি পূর্ণতা ও মহিমার একটি গুণ, যার মাধ্যমে আসমান ও জমিনের রব নিজের প্রশংসা করেছেন। এটি যে পূর্ণতা ও মহিমার গুণ তার প্রমাণ হলো, আল্লাহ তাঁর কিতাবের কোনো স্থানেই এটি উল্লেখ করেননি যেখানে এর সাথে তাঁর মহিমা ও পূর্ণতার এমন সব গুণ যুক্ত নেই যা বুদ্ধিকে বিমোহিত করে, আর এটিও সেই গুণাবলিরই অন্তর্ভুক্ত। আমরা আয়াতগুলো উল্লেখ করে উদাহরণ দিচ্ছি:
মুসহাফের বিন্যাস অনুযায়ী প্রথম যে সূরায় আল্লাহ ইস্তিওয়া (উঠা) গুণের কথা উল্লেখ করেছেন তা হলো সূরা আল-আরাফ। তিনি বলেছেন: {নিশ্চয়ই তোমাদের রব হলেন আল্লাহ, যিনি আসমান ও জমিন ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তিনি আরশের উপর উঠেছেন। তিনি রাত দিয়ে দিনকে ঢেকে দেন, যা একে দ্রুত অনুসরণ করে; আর সূর্য, চন্দ্র ও নক্ষত্ররাজি তাঁরই আদেশের অনুগত। জেনে রেখো, সৃষ্টি ও আদেশ তাঁরই...}
(খণ্ড: ১)
আল-আসারুল মাশহুর আনিল ইমাম মালিক রাহিমাহুল্লাহ ফী সিফাতিল ইস্তিওয়া
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وَالأَمْرُ تَبَارَكَ اللهُ رَبُّ العَالَمِينَ} 1، فهل لأحد أن ينفي شيئاً من هذه الصفات الدالة على الجلال والكمال.
الموضع الثاني في سورة يونس قال: {إِنَّ رَبَّكُمُ اللهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ يُدَبِّرُ الأَمْرَ مَا مِن شَفِيعٍ إِلَاّ مِن بَعْدِ إِذْنِهِ ذَلِكُمُ اللهُ رَبُّكُمْ فَاعْبُدُوهُ أَفَلَا تَذَكَّرُونَ إِلَيْهِ مَرْجِعُكُمْ جَمِيعاً وَعْدَ اللهِ حَقاًّ إِنَّهُ يَبْدَؤُا الخَلْقَ ثُمَّ يُعِيدُهُ لِيَجْزِيَ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ بِالْقِسْطِ وَالَّذِينَ كَفَرُوا لَهُمْ شَرَابٌ مِنْ حَمِيمٍ وَعَذَابٌ أَلِيمٌ بِمَا كَانُوا يَكْفُرُونَ هُوَ الَّذِي جَعَلَ الشَّمْسَ ضِيَاءً وَالقَمَرَ نُوراً وَقَدَّرَهُ مَنَازِلَ لِتَعْلَمُوا عَدَدَ السِّنِينَ وَالْحِسَابَ مَا خَلَقَ اللهُ ذَلِكَ إِلَاّ بِالْحَقِّ يُفَصِّلُ الآيَاتِ لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ إِنَّ فِي اخْتِلافِ الَّيْلِ وَالنَّهَارِ وَمَا خَلَقَ اللهُ فِي السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ لآيَاتٍ لِقَوْمٍ يَتَّقُونَ} 2.
فهل لأحد أن ينفيَ شيئاً من هذه الصفات الدالة على هذا من الكمال والجلال.
الموضع الثالث في سورة الرعد في قوله جلّ وعلا: {اللهُ الَّذِي رَفَعَ السَّمَوَاتِ بِغَيْرِ عَمَدٍ تَرَوْنَهَا ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى العَرْشِ وَسَخَّرَ الشَّمْسَ وَالقَمَرَ كُلٌّ يَجْرِي لأَجَلٍ مُسَمَّى يُدَبِّرُ الأَمْرَ يُفَصِّلُ الآيَاتِ لَعَلَّكُمْ بِلِقَآءِ رَبِّكُمْ تُوقِنُونَ وَهُوَ الَّذِي مَدَّ الأَرْضَ وَجَعَلَ فِيهَا رَوَاسِيَ وَأَنْهَاراً وَمِن كُلِّ الثَّمَرَاتِ جَعَلَ فِيهَا زَوْجَيْنِ اثْنَيْنِ يُغْشِي الَّيْلَ النَّهَارَ إِنَّ فِي ذَلِكَ لآيَاتٍ لِقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ وَفِي الأَرْضِ قِطَعٌ مُتَجَاوِرَاتٌ وَجنَّاتٌ مِنْ أَعْنَابٍ وَزَرْعٌ وَنَخِيلٌ صِنْوَانٌ وَغَيْرُ صِنْوَانٍ يُسْقَى بِمَآءٍ وَاحِدٍ وَنُفَضِّلُ بَعْضَهَا عَلَى بَعْضٍ فِي الأُكُلِ إِنَّ فِي ذَلِكَ لآيَاتٍ لِقَوْمٍ يَعْقِلُونَ} 3، وفي القراءة الأخرى: {وَزَرْعٌ وَنَخِيلٌ صِنْوَانٌ وَغَيْرُ
--------------------------------------------
...এবং নির্দেশ তাঁরই। বরকতময় আল্লাহ, বিশ্বজগতের প্রতিপালক।} ১, সুতরাং মহিমা ও পূর্ণতার পরিচায়ক এই গুণাবলির কোনো কিছুকে অস্বীকার করার অধিকার কি কারও আছে?
দ্বিতীয় স্থানটি সূরা ইউনুসে, তিনি বলেছেন: {নিশ্চয়ই তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহ, যিনি আসমান ও জমিন ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, তারপর আরশের উপর উঠেছেন। তিনি সকল বিষয় পরিচালনা করেন। তাঁর অনুমতি ব্যতীত সুপারিশ করার কেউ নেই। তিনিই আল্লাহ, তোমাদের প্রতিপালক; অতএব তোমরা তাঁর ইবাদত করো। তবুও কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে না? তাঁরই কাছে তোমাদের সকলের প্রত্যাবর্তন। আল্লাহর ওয়াদা সত্য; নিশ্চয়ই তিনিই সৃষ্টির সূচনা করেন, তারপর তা পুনরায় সৃষ্টি করবেন যাতে যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে তাদের ন্যায়বিচারের সাথে প্রতিদান দিতে পারেন। আর যারা কুফরি করেছে, তাদের জন্য রয়েছে ফুটন্ত পানীয় এবং যন্ত্রণাদায়ক আজাব, কারণ তারা কুফরি করত। তিনিই সূর্যকে তেজদীপ্ত এবং চাঁদকে আলোকময় করেছেন এবং তার জন্য কক্ষপথ নির্ধারণ করেছেন যাতে তোমরা বছরের গণনা ও হিসাব জানতে পারো। আল্লাহ এগুলো কেবল যথাযথভাবেই সৃষ্টি করেছেন। তিনি জ্ঞানবান সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শনসমূহ বিশদভাবে বর্ণনা করেন। নিশ্চয়ই রাত ও দিনের আবর্তনে এবং আসমান ও জমিনে আল্লাহ যা কিছু সৃষ্টি করেছেন তাতে মুত্তাকী সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শনাবলি রয়েছে।} ২।
সুতরাং এই পূর্ণতা ও মহিমার পরিচায়ক এই গুণাবলির কোনো কিছুকে অস্বীকার করার অধিকার কি কারও আছে?
তৃতীয় স্থানটি সূরা আর-রা'দে, প্রতাপশালী ও মহান আল্লাহর বাণীতে: {আল্লাহই আসমানসমূহকে কোনো খুঁটি ছাড়াই ঊর্ধ্বে স্থাপন করেছেন যা তোমরা দেখতে পাচ্ছো, তারপর তিনি আরশের উপর উঠেছেন এবং সূর্য ও চাঁদকে নিয়মাধীন করেছেন; প্রত্যেকেই এক নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত আবর্তন করে। তিনি সকল বিষয় পরিচালনা করেন, তিনি নিদর্শনসমূহ বিশদভাবে বর্ণনা করেন যাতে তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের সাথে সাক্ষাৎ সম্পর্কে নিশ্চিত বিশ্বাস করতে পারো। আর তিনিই জমিনকে বিস্তৃত করেছেন এবং তাতে অটল পাহাড় ও নদ-নদী স্থাপন করেছেন এবং প্রত্যেক প্রকারের ফল সৃষ্টি করেছেন জোড়ায় জোড়ায়। তিনি দিনকে রাত দিয়ে ঢেকে দেন। নিশ্চয়ই এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শনাবলি রয়েছে। আর জমিনে রয়েছে পাশাপাশি অবস্থিত বিভিন্ন ভূখণ্ড এবং আঙুর বাগান, শস্যক্ষেত ও খেজুর গাছ—যার কিছু একই মূল থেকে উৎপন্ন আর কিছু ভিন্ন ভিন্ন মূল থেকে, যা একই পানি দ্বারা সেচ করা হয়। আর আমি স্বাদে একটিকে অন্যটির ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়ে থাকি। নিশ্চয়ই এতে বোধশক্তিসম্পন্ন সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শনাবলি রয়েছে।} ৩, এবং অন্য কিরাআতে: {এবং শস্যক্ষেত ও খেজুর গাছসমূহ একই মূল থেকে বা ভিন্ন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আসারুল মাশহুর আনিল ইমাম মালিক রাহিমাহুল্লাহ ফী সিফাতিল ইস্তিওয়া
(পৃষ্ঠা: ২৮)
صِنْوَانٍ تُسْقِى بِمَآءٍ وَاحِدٍ وَنُفَضِّلُ بَعْضَهَا عَلَى بَعْضٍ فِي الأُكُلِ إِنَّ فِي ذَلِكَ لآيَاتٍ لِقَوْمٍ يَعْقِلُونَ} .
فهل لأحد أن ينفي شيئاً من هذه الصفات الدالة على الجلال والكمال.
الموضع الرابع في سورة طه: {طَهَ مَا أَنزَلْنَا عَلَيْكَ القُرآنَ لِتَشْقَى إِلَاّ تَذْكِرَةً لِمَن يَخْشَى تَنْزِيلاً مِمَّنْ خَلَقَ الأَرْضَ وَالسَّمَوَاتِ العُلَى الرَّحْمَنُ عَلَى العَرْشِ اسْتَوَى لَهُ مَا فِي السَّمَوَاتِ وَمَا فِي الأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا وَمَا تَحْتَ الثَّرَى وَإِن تَجْهَرْ بِالقَوْلِ فَإِنَّهُ يَعْلَمُ السِّرَّ وَأَخْفَى اللهُ لَا إِلَهَ إِلَاّ هُوَ لَهُ الأَسْمَآءُ الحُسْنَى} 1.
فهل لأحد أن ينفي شيئاً من هذه الصفات الدالة على الجلال والكمال.
الموضع الخامس في سورة الفرقان في قوله: {وَتَوَكَّلْ عَلَى الحَيِّ الَّذِي لَا يَمُوتُ وَسَبِّحْ بِحَمْدِهِ وَكَفَى بِهِ بِذُنُوبِ عِبَادِهِ خَبِيراً الَّذِي خَلَقَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا فِي سِتَّةِ أَيَّاٍم ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى العَرْشِ الرَّحْمَنُ فَاسْأَلْ بِهِ خَبِيراً} 2.
فهل لأحد أن ينفي شيئاً من هذه الصفات الدالة على هذا من الكمال والجلال.
--------------------------------------------
...যুগ্ম শাখা বিশিষ্ট এবং যা একই পানিতে সিঞ্চিত হয়, আর আমি স্বাদের দিক থেকে সেগুলোর একটিকে অন্যটির ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করি। নিশ্চয়ই এতে বুদ্ধিমান সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শনাবলী রয়েছে।}
তবে কি কারও পক্ষে মহিমা ও পূর্ণতার পরিচায়ক এই গুণাবলির কোনো কিছু অস্বীকার করা সম্ভব?
চতুর্থ স্থানটি সূরা ত্ব-হা-তে: {ত্ব-হা, আমি আপনার প্রতি কুরআন এই জন্য অবতীর্ণ করিনি যে আপনি কষ্ট পাবেন। বরং তাকে উপদেশস্বরূপ (অবতীর্ণ করেছি) তার জন্য যে ভয় করে। এটি তাঁর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ, যিনি পৃথিবী ও সুউচ্চ আকাশসমূহ সৃষ্টি করেছেন। পরম করুণাময় আরশের উপর উঠেছেন। আসমানসমূহে যা আছে, পৃথিবীতে যা আছে, এই দুইয়ের মাঝে যা আছে এবং মাটির নিচে যা আছে তা সবই তাঁর। যদি আপনি উচ্চকণ্ঠে কথা বলেন, তবে তিনি তো গোপন ও অতি গোপন বিষয়ও জানেন। আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তাঁরই রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ।} ১।
তবে কি কারও পক্ষে মহিমা ও পূর্ণতার পরিচায়ক এই গুণাবলির কোনো কিছু অস্বীকার করা সম্ভব?
পঞ্চম স্থানটি সূরা আল-ফুরকানে মহান আল্লাহর এই বাণীতে: {আর আপনি সেই চিরঞ্জীবের ওপর ভরসা করুন যিনি মৃত্যুবরণ করবেন না এবং তাঁর প্রশংসাসহ পবিত্রতা ঘোষণা করুন। তাঁর বান্দাদের গুনাহ সম্পর্কে খবর রাখার জন্য তিনিই যথেষ্ট। যিনি আসমানসমূহ, জমিন এবং এই দুইয়ের মাঝে যা কিছু আছে তা ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর পরম করুণাময় আরশের উপর উঠেছেন। সুতরাং তাঁর সম্পর্কে আপনি কোনো অভিজ্ঞ ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করুন।} ২।
তবে কি কারও পক্ষে পূর্ণতা ও মহিমার পরিচায়ক এই গুণাবলির কোনো কিছু অস্বীকার করা সম্ভব?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আসারুল মাশহুর আনিল ইমাম মালিক রাহিমাহুল্লাহ ফী সিফাতিল ইস্তিওয়া
(পৃষ্ঠা: ২৯)
الموضع السادس في سورة السجدة في قوله تعالى: {أَمْ يَقولُونَ افْتَرَاهُ بَلْ هُوَ الحَقُّ مِن رَّبِّكَ لِتُنذِرَ قَوْماً مَا أَتَاهُمْ مِن نَذِيرٍ مِن قَبْلِكَ لَعَلَّهُمْ يَهْتَدُونَ اللهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى العَرْشِ مَا لَكُمْ مِن دُونِهِ مِن وَلِيٍّ وَلَا شَفِيعٍ أَفَلَا تَتَذَكَّرُونَ يُدَبِّرُ الأَمْرَ مِنَ السَّمَآءِ إِلَى الأَرْضِ ثُمَّ يَعْرُجُ إِلَيْهِ فِي يَوْمٍ كَانَ مِقْدَارُهُ أَلْفَ سَنَةٍ مِمَّا تَعُدُّونَ ذَلِكَ عَالِمُ الغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ العَزِيزُ الرَّحِيمُ الَّذِي أَحْسَنَ كُلَّ شَيْءٍ خَلَقَهُ وَبَدَأَ خَلْقَ الإِنسَانِ مِن طِينٍ ثُمَّ جَعَلَ نَسْلَهُ مِن سُلَالَةٍ مِن مَآءٍ مَهِينٍ ثُمَّ سَوَّاهُ وَنَفَخَ فِيهِ مِن رُوحِهِ وَجَعَلَ لَكْمُ السَّمْعَ وَالأَبْصَارَ وَالأَفْئِدَةَ قَلِيلاً مَا تَشْكُرُونَ} 1.
فهل لأحد أن ينفي شيئاً من هذه الصفات الدالة على هذا من الجلال والكمال.
الموضع السابع في سورة الحديد في قوله تعالى: {هُوَ الأَوَّلُ وَالآخِرُ وَالظَّاهِرُ وَالبَاطِنُ وَهُوَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ هُوَ الَّذِي خَلَقَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى العَرْشِ يَعْلَمُ مَا يَلِجُ فِي الأَرْضِ وَمَا يَخْرُجُ مِنْهَا وَمَا يَنزِلُ مِنَ السَّمَآءِ وَمَا يَعْرُجُ فِيهَا وَهُوَ مَعَكُمْ أَيْنَمَا كُنتُمْ وَاللهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ} 23.
أما النوع الثاني: وهو مجيئها معدّاة بـ (إلى) فقد ورد في القرآن في موطنين:
--------------------------------------------
ষষ্ঠ স্থানটি হলো সূরা আস-সাজদাহর মধ্যে মহান আল্লাহর এই বাণীতে: {নাকি তারা বলে যে, এটি সে নিজে রচনা করেছে? বরং তা তোমার রবের পক্ষ থেকে আগত সত্য, যাতে তুমি এমন এক সম্প্রদায়কে সতর্ক করতে পার যাদের কাছে তোমার পূর্বে কোনো সতর্ককারী আসেনি, যেন তারা হিদায়াত পায়। আল্লাহ তিনি, যিনি আসমানসমূহ, জমিন এবং এ দুয়ের মধ্যবর্তী যা কিছু আছে সব ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তিনি আরশের উপর উঠেছেন। তিনি ছাড়া তোমাদের কোনো অভিভাবক নেই এবং কোনো সুপারিশকারীও নেই; তবুও কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে না? তিনি আকাশ থেকে পৃথিবী পর্যন্ত সমস্ত বিষয় পরিচালনা করেন, অতঃপর তা তাঁর দিকেই উপরে উঠে যায় এমন এক দিনে, যার পরিমাণ তোমাদের গণনা অনুযায়ী এক হাজার বছর। তিনি দৃশ্য ও অদৃশ্যের পরিজ্ঞাত, মহাপরাক্রমশালী, পরম দয়ালু। যিনি তাঁর প্রতিটি সৃষ্টিকে উত্তম করেছেন এবং কাদা থেকে মানুষের সৃষ্টি শুরু করেছেন। অতঃপর তিনি তার বংশধারা এক তুচ্ছ পানির নির্যাস থেকে সৃষ্টি করেছেন। তারপর তিনি তাকে সুঠাম করেছেন এবং তাতে তাঁর পক্ষ থেকে রুহ ফুঁকে দিয়েছেন। আর তিনি তোমাদের জন্য কান, চোখ ও অন্তঃকরণসমূহ দিয়েছেন; তোমরা খুব সামান্যই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো।} ১।
তবে কি কারো পক্ষে সম্ভব মহিমা ও পূর্ণতার পরিচায়ক এই গুণাবলির (সিফাত) কোনো কিছুকে অস্বীকার করা?
সপ্তম স্থানটি হলো সূরা আল-হাদিদের মধ্যে মহান আল্লাহর এই বাণীতে: {তিনিই আদি, তিনিই অন্ত, তিনিই প্রকাশ্য ও তিনিই গোপন এবং তিনি সর্ববিষয়ে সম্যক পরিজ্ঞাত। তিনিই সেই সত্তা যিনি আসমানসমূহ ও জমিন ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তিনি আরশের উপর উঠেছেন। তিনি জানেন যা জমিনে প্রবেশ করে এবং যা তা থেকে বের হয়, আর যা আকাশ থেকে নাজিল হয় এবং যা তাতে উপরে উঠে যায়। তোমরা যেখানেই থাকো না কেন, তিনি তোমাদের সাথেই আছেন। আর তোমরা যা কিছু করো আল্লাহ তা দেখেন।} ২ ৩।
আর দ্বিতীয় প্রকার: যা (ইলা) অব্যয় যোগে ব্যবহূত হয়েছে, তা কুরআনের দুটি স্থানে বর্ণিত হয়েছে:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আসারুল মাশহুর আনিল ইমাম মালিক রাহিমাহুল্লাহ ফী সিফাতিল ইস্তিওয়া
(পৃষ্ঠা: ৩০)
الأول في سورة البقرة، قال الله تعالى: {هُوَ الَّذِي خَلَقَ لَكُمْ مَا فِي الأَرْضِ جَمِيعاً ثُمَّ اسْتَوَى إِلَى السَّمَآءِ فَسَوَّاهُنَّ سَبْعَ سَمَوَاتٍ وَهُوَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ} 1.
الثاني: في سورة فُصّلت، قال الله تعالى: {ثُمَّ اسْتَوَى إِلَى السَّمَآءِ وَهِيَ دُخَانٌ فَقَالَ لَهَا وَلِلأَرْضِ ائْتِيَا طَوْعاً أَوْ كَرْهاً قَالَتَا أَتَيْنَا طَآئِعِينَ} 2.
والاستواء معناه معلوم في لغة العرب، لا يجهله أحد منهم، والله قد خاطب عباده في القرآن الكريم بكلام عربيٍّ مبين، والاستواء معناه في اللغة العلوّ والارتفاع3.
ولهذا فإنَّ مذهب السلف في الاستواء هو إثباته لله عز وجل كما أثبته لنفسه، وكما أثبته له رسوله صلى الله عليه وسلم من غير تحريف ولا تعطيل، ومن غير تكييف ولا تمثيل، بل يؤمنون بأنَّ الله مستو على عرشه استواء يليق بجلاله وكماله، ولا يشبه استواء أحد من خلقه - تعالى الله عن ذلك -، ومعنى الاستواء عندهم العلوّ والارتفاع، ولا خلاف بينهم في ذلك.
قال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله: "وكلام السلف والأئمة ومن نقل مذهبهم في هذا الأصل كثير يوجد في كتب التفسير والأصول.
--------------------------------------------
প্রথমটি সূরা আল-বাকারায়, মহান আল্লাহ বলেছেন: {তিনিই সেই সত্তা যিনি তোমাদের জন্য জমিনে যা কিছু আছে তা সব সৃষ্টি করেছেন, তারপর তিনি আকাশের দিকে উঠলেন এবং সেগুলোকে সাত আকাশে সুবিন্যস্ত করলেন। আর তিনি প্রতিটি বিষয় সম্পর্কে সম্যক পরিজ্ঞাত।} ১।
দ্বিতীয়টি: সূরা ফুসসিলাত-এ, মহান আল্লাহ বলেছেন: {অতঃপর তিনি আকাশের দিকে উঠলেন যখন তা ছিল ধোঁয়াবিশেষ। তারপর তিনি আকাশ ও পৃথিবীকে বললেন: তোমরা উভয়ে আসো ইচ্ছায় হোক বা অনিচ্ছায়। তারা বলল: আমরা অনুগত হয়ে আসলাম।} ২।
আর আরবি ভাষায় ইস্তিওয়ার অর্থ সুপরিচিত, তাদের কেউ এ সম্পর্কে অজ্ঞ নয়। আল্লাহ তাঁর বান্দাদের সাথে পবিত্র কুরআনে সুস্পষ্ট আরবি ভাষায় সম্বোধন করেছেন। আর অভিধানে ইস্তিওয়ার অর্থ হলো উচ্চতা ও উপরে উঠা ৩।
এই কারণে ইস্তিওয়ার ক্ষেত্রে সালাফদের নীতি হলো তা মহান আল্লাহর জন্য সাব্যস্ত করা, যেভাবে তিনি নিজের জন্য সাব্যস্ত করেছেন এবং যেভাবে তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর জন্য সাব্যস্ত করেছেন—কোনো বিকৃতি ও অস্বীকার ব্যতীত এবং কোনো ধরন নির্ধারণ ও সাদৃশ্য প্রদান ছাড়াই। বরং তারা বিশ্বাস করেন যে, আল্লাহ তাঁর আরশের উপর উঠেছেন এমন এক উঠা যা তাঁর মহিমা ও পূর্ণতার উপযোগী, এবং তা তাঁর সৃষ্টির কারও উঠার মতো নয়—আল্লাহ তা থেকে বহু ঊর্ধ্বে। তাঁদের নিকট ইস্তিওয়ার অর্থ হলো উচ্চতা ও উপরে উঠা এবং এ বিষয়ে তাঁদের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই।
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "এই মূলনীতির বিষয়ে সালাফ ও ইমামগণ এবং যারা তাঁদের মাযহাব বর্ণনা করেছেন তাঁদের বক্তব্য তাফসির ও উসুলের কিতাবসমূহে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আসারুল মাশহুর আনিল ইমাম মালিক রাহিমাহুল্লাহ ফী সিফাতিল ইস্তিওয়া
(পৃষ্ঠা: ৩১)
قال إسحاق بن راهويه: حدّثنا بشر بن عمر: سمعت غير واحد من المفسّرين يقولون: " {الرَّحْمَنُ عَلَى العَرْشِ اسْتَوَى} : أي ارتفع"1.
وقال البخاري في صحيحه: قال أبو العالية: "استوى إلى السماء: ارتفع"، قال: وقال مجاهد: "استوى: علا على العرش"2.
وقال الحسين بن مسعود البغوي في تفسيره المشهور: "وقال ابن عباس وأكثر مفسري السلف: استوى إلى السماء: ارتفع إلى السماء، وكذلك قال الخليل بن أحمد"3.
وروى البيهقي في كتاب الصفات قال: قال الفرّاء: "ثم استوى، أي صعد، قاله ابن عباس، وهو كقولك للرجل: كان قاعداً فاستوى قائماً"4.
وروى الشافعي في مسنده عن أنس رضي الله عنه أنَّ النبي صلى الله عليه وسلم قال عن يوم الجمعة: "وهو اليوم الذي استوى فيه ربّكم على العرش"5.
--------------------------------------------
ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ বলেছেন: বিশর ইবনে উমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: আমি একাধিক মুফাসসিরকে বলতে শুনেছি: "{দয়াময় আরশের উপর উঠেছেন}: অর্থাৎ তিনি উপরে উঠেছেন"১।
ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে বলেছেন: আবুল আলিয়াহ বলেছেন: "আসমানের দিকে উঠেছেন: অর্থাৎ উপরে উঠেছেন", তিনি বলেছেন: মুজাহিদ বলেছেন: "ইস্তাওয়া: অর্থাৎ আরশের উপর উঠেছেন"২।
হুসাইন ইবনে মাসউদ আল-বাগাবী তাঁর প্রসিদ্ধ তাফসীর গ্রন্থে বলেছেন: "ইবনে আব্বাস এবং সালফে সালেহীনের অধিকাংশ মুফাসসির বলেছেন: আসমানের দিকে উঠেছেন: অর্থাৎ আসমানের দিকে উপরে উঠেছেন। খলীল ইবনে আহমাদও অনুরূপ কথা বলেছেন"৩।
বাইহাকী 'কিতাবুস সিফাত'-এ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-ফাররা বলেছেন: "অতঃপর উঠেছেন, অর্থাৎ উপরে উঠেছেন। ইবনে আব্বাস এটি বলেছেন। এটি তেমনই যেমন আপনি একজন লোক সম্পর্কে বলেন: সে বসা ছিল, তারপর উঠে দাঁড়াল"৪।
ইমাম শাফেয়ী তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সা.) জুমার দিন সম্পর্কে বলেছেন: "এটি সেই দিন যে দিনে তোমাদের রব আরশের উপর উঠেছেন"৫।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আসারুল মাশহুর আনিল ইমাম মালিক রাহিমাহুল্লাহ ফী সিফাতিল ইস্তিওয়া
(পৃষ্ঠা: ৩২)
والتفاسير المأثورة عن النبي صلى الله عليه وسلم والصحابة والتابعين مثل تفسير محمد بن جرير الطبري، وتفسير عبد الرحمن بن إبراهيم المعروف بدُحيم، وتفسير عبد الرحمن بن أبي حاتم، وتفسير أبي بكر بن المنذر، وتفسير أبي بكر عبد العزيز، وتفسير أبي الشيخ الأصبهاني، وتفسير أبي بكر بن مردويه، وما قبل هؤلاء من التفاسير مثل تفسير أحمد بن حنبل وإسحاق بن إبراهيم، وبقي بن مخلد وغيرهم، ومن قبلهم مثل تفسير عبد بن حميد، وتفسير سُنيد، وتفسير عبد الرزاق، ووكيع بن الجراح فيها من هذا الباب الموافق لقول المثبتين ما لا يكاد يُحصى، وكذلك الكتب المصنّفة في السنة التي فيها آثار النبي صلى الله عليه وسلم والصحابة والتابعين"1.
وجاء عن الخليل بن أحمد قال: "أتيت أبا ربيعة الأعرابي وكان من أعلم من رأيت وكان على سطح فلما رأيناه أشرنا إليه بالسلام، فقال: استووا، فلم ندر ما قال، فقال لنا شيخ عنده: يقول لكم: ارتفعوا، قال الخليل: هذا من قوله تعالى: {ثُمَّ اسْتَوَى إِلَى السَّمَآءِ وَهِيَ دُخَانٌ} " 2، أي: ارتفع وعلا3.
والاستواء سواء عُدّيَ بـ"إلى" أو بـ"على" فمعناه العلو والارتفاع، قال شيخ الإسلام ابن تيمية – رحمه الله: "ومن قال: استوى بمعنى عَمَدَ، ذكره في قوله: {ثُمَّ اسْتَوَى إِلَى السَّمَآءِ وَهِيَ دُخَانٌ} ؛ لأنَّه عُدي بحرف الغاية، كما يقال: عمدت إلى كذا، وقصدت إلى كذا، ولا يقال: عمدت على كذا ولا قصدت عليه، مع أنَّ ما ذُكر في تلك الآية لا يُعرف في اللغة أيضاً، ولا هو قول أحد من
--------------------------------------------
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), সাহাবী এবং তাবিঈদের থেকে বর্ণিত তাফসীরসমূহ যেমন মুহাম্মদ ইবনে জারীর আত-তবারীর তাফসীর, আব্দুর রহমান ইবনে ইবরাহীম—যিনি দুহাইম নামে পরিচিত—তাঁর তাফসীর, আব্দুর রহমান ইবনে আবি হাতিমের তাফসীর, আবু বকর ইবনুল মুনযিরের তাফসীর, আবু বকর আব্দুল আযীযের তাফসীর, আবুশ শাইখ আল-আসফাহানীর তাফসীর, আবু বকর ইবনে মারদুইয়াহ-এর তাফসীর এবং এদের পূর্ববর্তী তাফসীরসমূহ যেমন আহমাদ ইবনে হাম্বল এবং ইসহাক ইবনে ইবরাহীম, বাকী ইবনে মাখলাদ ও অন্যদের তাফসীর, আর তাদেরও পূর্বের যেমন আব্দ ইবনে হুমাইদ, সুনাইদ, আব্দুর রাজ্জাক এবং ওয়াকী ইবনুল জাররাহ-এর তাফসীর—এই সবগুলোতে এই অধ্যায় সম্পর্কিত সিফাত সাব্যস্তকারীদের বক্তব্যের সপক্ষে এতো অধিক বর্ণনা রয়েছে যা গণনা করা প্রায় অসম্ভব। তেমনিভাবে সুন্নাহর ওপর সংকলিত কিতাবসমূহ যেগুলোতে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), সাহাবী এবং তাবিঈদের আসার (বর্ণনা) রয়েছে।"1.
খলীল ইবনে আহমাদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমি আবু রাবিআ আল-আরাবীর কাছে আসলাম, তিনি আমার দেখা সবচেয়ে জ্ঞানী ব্যক্তিদের একজন ছিলেন। তিনি একটি ছাদের ওপর ছিলেন। যখন আমরা তাকে দেখলাম, আমরা তাকে সালামের মাধ্যমে ইশারা করলাম। তখন তিনি বললেন: তোমরা উপরে উঠো। আমরা তিনি কী বললেন তা বুঝতে পারলাম না। তখন তাঁর কাছে থাকা একজন বৃদ্ধ আমাদের বললেন: তিনি তোমাদের বলছেন: তোমরা উপরে উঠে আসো। খলীল বলেন: এটি মহান আল্লাহর এই বাণী থেকেই এসেছে: {অতঃপর তিনি আকাশের দিকে উঠলেন, যখন তা ছিল ধোঁয়াচ্ছন্ন} " 2, অর্থাৎ: তিনি উপরে উঠলেন এবং সমুন্নত হলেন।3.
আর 'উঠা' (ইস্তিওয়া) শব্দটি 'ইলা' (দিকে) বা 'আলা' (উপরে) অব্যয় যোগে ব্যবহৃত হোক না কেন, তার অর্থ হলো সমুন্নত হওয়া এবং উপরে উঠা। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ—রাহিমাহুল্লাহ—বলেন: "আর যারা বলে যে 'ইস্তিওয়া' অর্থ লক্ষ্য করা বা ইচ্ছা করা, তারা এটি আল্লাহর এই বাণীর ক্ষেত্রে উল্লেখ করে: {অতঃপর তিনি আকাশের দিকে উঠলেন, যখন তা ছিল ধোঁয়াচ্ছন্ন}; কারণ এটি গন্তব্যসূচক অব্যয় দ্বারা ব্যবহৃত হয়েছে, যেমন বলা হয়: আমি অমুক জিনিসের দিকে লক্ষ্য করেছি, বা অমুক বিষয়ের ইচ্ছা করেছি। অথচ 'আলা' অব্যয় যোগে 'অমুক জিনিসের দিকে লক্ষ্য করেছি' বা 'ইচ্ছা করেছি' বলা হয় না। তা সত্ত্বেও উক্ত আয়াতে যা উল্লেখ করা হয়েছে তাও ভাষাগতভাবে পরিচিত নয়, এবং এটি কারো বক্তব্যও নয় যে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আসারুল মাশহুর আনিল ইমাম মালিক রাহিমাহুল্লাহ ফী সিফাতিল ইস্তিওয়া
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
مفسريّ السلف؛ بل المفسِّرون من السلف قولهم بخلاف ذلك - كما قدّمناه عن بعضهم –"1، وقد حكى ابن القيم رحمه الله إجماع السلف على ذلك2.
فهذا ملخَّص معتقد أهل السنة والجماعة في هذه الصفة، ومن أراد الاطّلاع على كلام أهل العلم في هذه الصفة موسّعاً فليطالع الكتب التي أُفرِدت في ذلك وهي كثيرة جداًّ، وكما قال السفاريني رحمه الله: "وقد أكثر العلماء من التصنيف، وأجلبوا بخيلهم ورَجِلِهم من التأليف، في ثبوت العلوّ والاستواء ونبّهوا على ذلك بالآيات والحديث وما حوى، فمنهم الراوي الأخبارَ بالأسانيد، ومنهم الحاذفُ لها وأتى بكلِّ لفظٍ مفيدٍ، ومنهم المُطَوِّل المُسهِب، ومنهم المُختصِر والمتوسِّط والمهذِّب، فمن ذلك (مسألة العلوّ) لشيخ الإسلام ابن تيمية، و (العلوّ) للإمام الموفق صاحب التصانيف السنيّة، و (الجيوش الإسلاميّة) للإمام المحقق ابن قيِّم الجوزية، و (كتاب العرش) للحافظ شمس الدين الذهبي صاحب الأنفاس العليّة، وما لا أُحصي عدّهم إلاّ بكُلْفة، والله تعالى الموفِّق"3.
--------------------------------------------
সালাফের মুফাসসিরগণ; বরং সালাফের মধ্য থেকে মুফাসসিরগণের বক্তব্য এর বিপরীত—যেমনটি আমরা তাদের কয়েকজনের উদ্ধৃতি দিয়ে পূর্বে উল্লেখ করেছি—১ এবং ইবনুল কায়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) এ বিষয়ে সালাফের ইজমা (ঐক্যমত) বর্ণনা করেছেন।২
এটিই হলো এই সিফাত (বৈশিষ্ট্য) সম্পর্কে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদার সংক্ষিপ্তসার। আর যে ব্যক্তি এই সিফাত সম্পর্কে আহলে ইলমদের বক্তব্য বিস্তারিতভাবে জানতে চায়, সে যেন সেই গ্রন্থগুলো অধ্যয়ন করে যা এই বিষয়ে বিশেষভাবে রচিত হয়েছে এবং এ ধরনের গ্রন্থ অনেক। যেমনটি ইমাম আস-সাফফারিনী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আলেমগণ এ বিষয়ে প্রচুর গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং আল্লাহর উচ্চমর্যাদা ও উঠার (ইস্তিওয়া) প্রমাণে তারা তাদের সকল সামর্থ্য দিয়ে লেখনী পরিচালনা করেছেন। তারা আল-কুরআনের আয়াত, হাদিস এবং এর অন্তর্ভুক্ত বিষয়াদির মাধ্যমে এ ব্যাপারে সজাগ করেছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ সনদসহ বর্ণনাগুলো উল্লেখ করেছেন, আবার কেউ কেউ সনদ বাদ দিয়ে কেবল প্রতিটি উপকারী শব্দ নিয়ে এসেছেন। তাদের মধ্যে কেউ দীর্ঘ বিস্তারিত আলোচনা করেছেন, আবার কেউ সংক্ষিপ্ত, মধ্যমপন্থী ও সুবিন্যস্ত আলোচনা করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ-এর (মাসআলাতুল উলুউ), সুন্নাহভিত্তিক গ্রন্থাবলির রচয়িতা ইমাম আল-মুওয়াফ্ফাক-এর (আল-উলুউ), মুহাক্কিক ইমাম ইবনুল কায়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ-এর (আল-জিউশুল ইসলামিয়্যাহ) এবং উচ্চমর্যাদার অধিকারী হাফেজ শামসুদ্দিন আয-যাহাবী-এর (কিতাবুল আরশ)। এগুলো ছাড়া আরও এত অসংখ্য গ্রন্থ রয়েছে যা গণনা করা আমার পক্ষে কঠিন। আর আল্লাহ তাআলাই তাওফিকদাতা।"৩।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আসারুল মাশহুর আনিল ইমাম মালিক রাহিমাহুল্লাহ ফী সিফাতিল ইস্তিওয়া
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
وفي الصحيح في حديث الخوارج: "ألا تأمنوني وأنا أمين من في السماء يأتيني خبر السماء صباحاً ومساءً"1، وفي حديث الرقية الذي رواه أبو داود وغيره "ربّنا الله الذي في السماء، تقدّس اسمك، أمرك في السماء والأرض، كما رحمتُك في السماء اجعل رحمتَك في الأرض، اغفر لنا حوبنا وخطايانا، أنت رب الطيبين، أنزل رحمة من رحمتك، وشفاء من شفاءك على هذا الوجع" قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إذا اشتكى أحد منكم أو اشتكى أخ له فليقل: ربنا الله الذي في السماء
… "، وذكره2، إلى أمثال ذلك مما لا يحصيه إلاّ الله، مما هو من أبلغ المتواترات اللفظية والمعنوية"3.
فليس لمسلمٍ يؤمن بوحي الله وتنزيله ويؤمن بما جاء به رسوله صلى الله عليه وسلم أن يجحد شيئاً من ذلك أو يتعرَّض له بردٍّ أو تحريفٍ أو نحو ذلك، بل الواجب هو القبول والتسليم والإيمان والتعظيم، و"القول الشامل في جميع هذا الباب: أن يوصف الله بما وصف به نفسه أو وصفه به رسوله، وبما وصفه به السابقون الأولون لا يُتجاوز القرآن والحديث.
قال الإمام أحمد رضي الله عنه: "لا يوصف إلَاّ بما وصف به نفسه أو وصفه به رسوله صلى الله عليه وسلم لا يُتجاوز القرآن والحديث"، ومذهب السلف أنّهم يصفون الله بما وصف به نفسه وبما وصفه به رسوله من غير تحريف ولا تعطيل، ومن غير تكييف ولا تمثيل، ونعلم أنَّ ما وصف الله به من ذلك فهو حقٌّ ليس فيه لُغْزٌ ولا أحَاجي، بل معناه يعرف من حيث يعرف مقصود المتكلّم بكلامه، لا سيما إذا كان المتكلّم أعلم الخلق بما يقول، وأفصح الخلق في بيان العلم،
--------------------------------------------
এবং সহিহ গ্রন্থে খারেজিদের সংক্রান্ত হাদিসে রয়েছে: "তোমরা কি আমাকে আমানতদার মনে করো না, অথচ যিনি আসমানে আছেন আমি তাঁর আমানতদার? আমার কাছে সকাল-সন্ধ্যায় আসমানের খবর আসে।" এবং রুকইয়াহ (ঝাড়ফুঁক) সংক্রান্ত হাদিসে, যা আবু দাউদ ও অন্যরা বর্ণনা করেছেন: "আমাদের রব আল্লাহ যিনি আসমানে আছেন, আপনার নাম পবিত্র হোক, আসমান ও জমিনে আপনার নির্দেশ কার্যকর, আসমানে যেমন আপনার রহমত রয়েছে তেমনি জমিনেও আপনার রহমত বর্ষণ করুন, আমাদের গুনাহ ও পাপাচার ক্ষমা করুন, আপনি পবিত্রদের রব, আপনার রহমত থেকে রহমত এবং আপনার আরোগ্য থেকে আরোগ্য এই ব্যথার ওপর অবতীর্ণ করুন।" রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে কেউ যদি অসুস্থ হয় অথবা তার কোনো ভাই অসুস্থ হয় তবে সে যেন বলে: আমাদের রব আল্লাহ যিনি আসমানে আছেন
... ", এবং তিনি এটি উল্লেখ করেছেন—অনুরূপ আরও অনেক বর্ণনা রয়েছে যা আল্লাহ ছাড়া কেউ গণনা করতে পারবে না, যা শাব্দিক ও অর্থগত দিক থেকে অত্যন্ত সুষ্পষ্ট মুতাওয়াতির বর্ণনার অন্তর্ভুক্ত।
সুতরাং আল্লাহর ওহি ও তাঁর অবতীর্ণ কিতাবের ওপর ঈমান রাখে এবং তাঁর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা নিয়ে এসেছেন তার ওপর ঈমান রাখে এমন কোনো মুসলমানের জন্য এটি জায়েজ নয় যে সে এর কোনো কিছু অস্বীকার করবে কিংবা তা প্রত্যাখ্যান, বিকৃতি বা এই জাতীয় কোনো কিছুর মাধ্যমে মোকাবিলা করবে। বরং ওয়াজিব বা আবশ্যক হলো তা গ্রহণ করা, আত্মসমর্পণ করা, ঈমান আনা এবং সম্মান প্রদর্শন করা। আর এই সমগ্র বিষয়ে সামগ্রিক কথা হলো: আল্লাহকে সেই সব গুণেই গুণান্বিত করা হবে যা দ্বারা তিনি নিজেকে গুণান্বিত করেছেন অথবা তাঁর রসূল তাঁকে গুণান্বিত করেছেন, এবং যা দ্বারা প্রথম যুগের অগ্রবর্তীগণ তাঁকে গুণান্বিত করেছেন; এ ক্ষেত্রে কুরআন ও হাদিসকে অতিক্রম করা যাবে না।
ইমাম আহমাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন: "আল্লাহ নিজেকে যেভাবে বর্ণনা করেছেন অথবা তাঁর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে যেভাবে বর্ণনা করেছেন, তা ছাড়া অন্য কোনো বিশেষণে তাঁকে বর্ণিত করা যাবে না; কুরআন ও হাদিসকে এ ক্ষেত্রে অতিক্রম করা যাবে না।" আর সালাফদের মাযহাব হলো, তারা আল্লাহকে সেই সব গুণেই গুণান্বিত করেন যা দিয়ে তিনি নিজেকে গুণান্বিত করেছেন এবং যা দিয়ে তাঁর রসূল তাঁকে গুণান্বিত করেছেন—কোনো প্রকার বিকৃতি, অর্থহীনতা, ধরন নির্ধারণ বা সাদৃশ্য প্রদান ছাড়াই। আমরা জানি যে, আল্লাহ নিজেকে যা দ্বারা গুণান্বিত করেছেন তা সত্য, এতে কোনো রহস্য বা ধাঁধা নেই। বরং এর অর্থ সেভাবেই বোঝা যায় যেভাবে বক্তার কথার উদ্দেশ্য বোঝা যায়, বিশেষ করে যখন বক্তা তাঁর কথা সম্পর্কে সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে বেশি অবগত হন এবং জ্ঞান বর্ণনায় সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাঞ্জল হন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আসারুল মাশহুর আনিল ইমাম মালিক রাহিমাহুল্লাহ ফী সিফাতিল ইস্তিওয়া
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
وأفصح الخلق في البيان والتعريف والدلالة والإرشاد، وهو سبحانه مع ذلك ليس كمثله شيء، لا في نفسه المقدّسة المذكورة بأسمائه وصفاته، ولا في أفعاله، فكما نتيقّن أنَّ الله سبحانه له ذات حقيقة، وله أفعال حقيقة، فكذلك له صفات حقيقة وهو ليس كمثله شيء لا في ذاته، ولا في صفاته، ولا في أفعاله، وكل ما أوجب نقصاً أو حدوثاً فإنَّ الله منزَّهٌ عنه حقيقة، فإنَّه سبحانه مستحقٌ للكمال الذي لا غاية فوقه، ويمتنع عليه الحدوث لامتناع العدم عليه، واستلزام الحدوث سابقة العدم، ولافتقار المحدَث إلى محدِث، ولوجوب وجوده بنفسه سبحانه وتعالى.
ومذهب السلف بين التعطيل والتمثيل، فلا يمثِّلون صفات الله بصفات خلقه كما لا يمثِّلون ذاته بذات خلقه، ولا ينفون عنه ما وصف به نفسه ووصفه به رسوله فيعطِّلوا أسماءه الحسنى وصفاته العليا ويحرِّفوا الكلم عن مواضعه ويلحدوا في أسماء الله وآياته، وكل واحد من فريقي التعطيل والتمثيل فهو جامع بين التعطيل والتمثيل، أما المعطِّلون فإنَّهم لم يفهموا من أسماء الله وصفاته إلاّ ما هو اللاّئق بالمخلوق، ثم شرعوا في نفي تلك المفهومات، فقد جمعوا بين التعطيل والتمثيل، مثّلوا أوّلاً وعطّلوا آخراً، وهذا تشبيه وتمثيل منهم للمفهوم من أسمائه وصفاته بالمفهوم من أسماء خلقه وصفاتهم، وتعطيل لما يستحقُّه هو سبحانه من الأسماء والصفات اللاّئقة بالله سبحانه وتعالى"1.
ويمكن تلخيص الأقسام الممكنة في آيات الصفات وأحاديثها في ستة أقسام ذكرها شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله، وكل قسم منها عليه طائفة من أهل القبلة وهي:
--------------------------------------------
তিনি বর্ণনা, পরিচিতি দান, প্রমাণ উপস্থাপন এবং পথপ্রদর্শনের ক্ষেত্রে সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে প্রাঞ্জল ভাষী। তা সত্ত্বেও মহান আল্লাহ এমন যে, তাঁর সদৃশ কিছুই নেই; না তাঁর সেই পবিত্র সত্তায় যা তাঁর নাম ও গুণাবলির মাধ্যমে বর্ণিত, আর না তাঁর কার্যাবলিতে। সুতরাং যেভাবে আমরা সুনিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করি যে, মহান আল্লাহর একটি প্রকৃত সত্তা রয়েছে এবং তাঁর প্রকৃত কার্যাবলি রয়েছে, তেমনিভাবে তাঁর প্রকৃত গুণাবলিও রয়েছে। তাঁর সত্তা, তাঁর গুণাবলি এবং তাঁর কার্যাবলি—কোনো কিছুতেই তাঁর সদৃশ কেউ নেই। আর যা কিছু ত্রুটি বা নতুনত্বের (সৃষ্টি হওয়া) আবশ্যকতা তৈরি করে, আল্লাহ প্রকৃতপক্ষেই তা থেকে পবিত্র। কারণ তিনি এমন পূর্ণতার অধিকারী যার ঊর্ধ্বে কোনো সীমা নেই। তাঁর ক্ষেত্রে নতুনত্বের আবির্ভাব অসম্ভব, কারণ তাঁর ক্ষেত্রে অনস্তিত্ব থাকা অসম্ভব। আর নতুনত্বের জন্য পূর্বে অনস্তিত্ব থাকা অপরিহার্য এবং প্রতিটি নতুন বিষয়ের জন্য একজন অস্তিত্বদানকারীর প্রয়োজন হয়; অথচ মহান আল্লাহর অস্তিত্ব তাঁর নিজের মাধ্যমেই হওয়া সুনিশ্চিত ও অনিবার্য।
আর সালাফদের মাযহাব হলো ‘তাতিল’ (গুণাবলি অস্বীকার করা) এবং ‘তামসিল’ (সাদৃশ্য প্রদান করা)-এর মাঝামাঝি। তাঁরা আল্লাহর গুণাবলিকে তাঁর সৃষ্টির গুণাবলির সাথে তুলনা করেন না, যেমন তাঁরা তাঁর সত্তাকে তাঁর সৃষ্টির সত্তার সাথে তুলনা করেন না। আর তাঁরা আল্লাহ নিজের জন্য যা বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর রাসূল তাঁর জন্য যা বর্ণনা করেছেন তা অস্বীকার করেন না; যাতে তাঁরা আল্লাহর সুন্দর নামসমূহ ও সুউচ্চ গুণাবলিকে অর্থহীন না করে দেন, শব্দের অর্থ বিকৃত না করেন এবং আল্লাহর নাম ও তাঁর নিদর্শনসমূহে পথভ্রষ্টতা অবলম্বন না করেন। আর গুণাবলি অস্বীকারকারী এবং সাদৃশ্য প্রদানকারী—উভয় দলই প্রকৃতপক্ষে অস্বীকার এবং সাদৃশ্য প্রদানকে একত্রিত করে ফেলেছে। অস্বীকারকারীদের ক্ষেত্রে কথা হলো, তারা আল্লাহর নাম ও গুণাবলি থেকে কেবল সৃষ্টির উপযুক্ত অর্থই বুঝেছে, তারপর তারা সেই অর্থসমূহকে অস্বীকার করতে শুরু করেছে। ফলে তারা সাদৃশ্য প্রদান এবং অস্বীকারকরণ—উভয়কেই একত্রিত করেছে। তারা প্রথমে সাদৃশ্যারোপ করেছে এবং শেষে অস্বীকার করেছে। আর এটি হচ্ছে আল্লাহর নাম ও গুণাবলির অর্থকে সৃষ্টির নাম ও গুণাবলির অর্থের সাথে তাদের পক্ষ থেকে সাদৃশ্য প্রদান, এবং মহান আল্লাহর শানে উপযুক্ত নাম ও গুণাবলি যা তিনি পাওয়ার যোগ্য, তা অস্বীকার করা।১
সিফাত বা গুণাবলি সংক্রান্ত আয়াত ও হাদিসসমূহের সম্ভাব্য প্রকারভেদগুলোকে ছয়টি ভাগে সংক্ষিপ্ত করা সম্ভব, যা শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ.) উল্লেখ করেছেন। আর এর প্রতিটি প্রকারের ওপর আহলে কিবলার একেকটি দল রয়েছে। সেগুলো হলো:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আসারুল মাশহুর আনিল ইমাম মালিক রাহিমাহুল্লাহ ফী সিফাতিল ইস্তিওয়া
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
قسمان يقولان: تجرى نصوص الصفات على ظواهرها.
وقسمان يقولان: إنَّ نصوص الصفات على خلاف ظاهرها، أي ظاهرها غير مراد.
وقسمان: يسكتون.
أما الأولون فقسمان:
أحدهما: من يجريها على ظاهرها ويجعل ظاهرها من جنس صفات المخلوقين، فهؤلاء المشبِّهة، ومذهبهم باطل أنكره السلف، وإليهم يتوجّه الردّ بالحق.
الثاني: من يجريها على ظاهرها اللاّئق بجلال الله، كما يجري ظاهر اسم العليم والقدير والرب والإله والموجود والذات ونحو ذلك على ظاهرها اللاّئق بجلال الله، فإنَّ ظواهر هذه الصفات في حق المخلوق إمَّا جوهر محدَث، وإمَّا عرَض قائم به.
فالعلم والقدرة والكلام والمشيئة والرحمة والرضا والغضب ونحو ذلك في حق العبد أعراضٌ، والوجه واليد والعين في حقه أجسام، فإذا كان الله موصوفاً عند عامة أهل الإثبات بأنَّ له علماً وقدرةً وكلاما ومشيئة وإن لم يكن ذلك عرَضاً يجوز عليه ما يجوز على صفات المخلوقين جاز أن يكون وجه الله ويداه صفات ليست أجساماً يجوز عليها ما يجوز على صفات المخلوقين.
وهذا هو المذهب الذي حكاه الخطابي وغيره عن السلف، وعليه يدل كلام جمهورهم، وكلام الباقين لا يخالفه، وهو أمر واضحٌ، فإنَّ الصفات كالذات، فكما أنَّ ذات الله ثابتة حقيقة من غير أن تكون من جنس المخلوقات، فصفاته ثابتة حقيقة من غير أن تكون من جنس صفات المخلوقات
…وأما القسمان اللذان ينفيان ظاهرها، أعني الذين يقولون ليس لها في الباطن
দুটি গোষ্ঠী বলে: সিফাত বা গুণাবলি সংক্রান্ত পাঠগুলো তাদের প্রকাশ্য অর্থের ওপর পরিচালিত হবে।
আর দুটি গোষ্ঠী বলে: সিফাত সংক্রান্ত পাঠগুলো তাদের প্রকাশ্য অর্থের বিপরীত, অর্থাৎ এগুলোর প্রকাশ্য অর্থ উদ্দেশ্য নয়।
এবং অপর দুটি গোষ্ঠী: তারা মৌনতা অবলম্বন করে।
প্রথমোক্তরা আবার দুই ভাগে বিভক্ত:
প্রথমত: যারা সেগুলোকে প্রকাশ্য অর্থের ওপর প্রয়োগ করে এবং সেই প্রকাশ্য অর্থকে সৃষ্টির গুণাবলির সমজাতীয় মনে করে; এরাই হলো 'মুশাব্বিহা' (সাদৃশ্যদানকারী), এবং তাদের মতবাদ বাতিল যা সালফে সালেহীন প্রত্যাখ্যান করেছেন, আর তাদের বিরুদ্ধেই সত্যের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানানো হয়।
দ্বিতীয়ত: যারা সেগুলোকে আল্লাহর মহিমার উপযুক্ত প্রকাশ্য অর্থের ওপর প্রয়োগ করে; যেমনটি 'আল-আলিম' (সর্বজ্ঞ), 'আল-কাদির' (সর্বশক্তিমান), 'রব', 'ইলাহ', 'বিদ্যমান' এবং 'সত্তা' (জাত) প্রভৃতি নামের প্রকাশ্য অর্থকে আল্লাহর মহিমার উপযুক্ত অর্থের ওপর প্রয়োগ করা হয়। কেননা, সৃষ্টির ক্ষেত্রে এই গুণাবলিগুলোর প্রকাশ্য অর্থ হয় কোনো নবসৃষ্ট সারবস্তু (জওহর), নতুবা তার সাথে সংশ্লিষ্ট কোনো আপতিক বৈশিষ্ট্য (আরদ)।
অতএব বান্দার ক্ষেত্রে জ্ঞান, ক্ষমতা, কথা, ইচ্ছা, দয়া, সন্তুষ্টি, ক্রোধ প্রভৃতি হলো আপতিক বৈশিষ্ট্য (আরদ); আর তার ক্ষেত্রে মুখমণ্ডল, হাত ও চোখ হলো দেহ বা অবয়ব। সুতরাং সাধারণ 'আহলুল ইসবাত' (গুণাবলি সাব্যস্তকারী) এর নিকট আল্লাহ যদি এই গুণে গুণান্বিত হন যে, তাঁর জ্ঞান, ক্ষমতা, কথা ও ইচ্ছা রয়েছে—যদিও তা এমন কোনো আপতিক বৈশিষ্ট্য নয় যার ওপর সৃষ্টির গুণাবলির ন্যায় বিধানসমূহ প্রযোজ্য হয়—তবে আল্লাহর মুখমণ্ডল ও আল্লাহর দুই হাত এমন সিফাত হওয়া সম্ভব যা কোনো দেহ নয় এবং যার ওপর সৃষ্টির গুণাবলির বিধিবিধান কার্যকর হয় না।
আর এটাই হলো সেই মাযহাব যা খাত্তাবি এবং অন্যান্যরা সালফে সালেহীন থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁদের অধিকাংশের বক্তব্য একথাই নির্দেশ করে, আর অন্যদের বক্তব্যও এর পরিপন্থী নয়। এটি একটি সুস্পষ্ট বিষয়; কেননা গুণাবলি হলো সত্তার (জাত) অনুরূপ। সুতরাং আল্লাহর সত্তা যেমন সৃষ্টির সমজাতীয় হওয়া ছাড়াই প্রকৃতপক্ষে সাব্যস্ত, ঠিক তেমনি তাঁর সিফাত বা গুণাবলিও সৃষ্টির গুণাবলির সমজাতীয় হওয়া ছাড়াই প্রকৃতপক্ষে সাব্যস্ত
…আর যে দুটি গোষ্ঠী এর প্রকাশ্য অর্থকে অস্বীকার করে, অর্থাৎ যারা বলে যে প্রকৃতপক্ষে এগুলোর কোনো...
(খণ্ড: ১)
আল-আসারুল মাশহুর আনিল ইমাম মালিক রাহিমাহুল্লাহ ফী সিফাতিল ইস্তিওয়া
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
مدلول هو صفة الله تعالى قط، وأنَّ الله لا صفة له ثبوتية، بل صفاته إما سلبية وإما إضافية وإما مركبة منهما، أو يثبتون بعض الصفات وهي الصفات السبعة أو الثمانية أوالخمسة عشر أو يثبتون الأحوال دون الصفات، ويقرّون من الصفات الخبرية بما في القرآن دون الحديث، على ما قد عرف من مذاهب المتكلّمين، فهؤلاء قسمان:
قسم: يتأوّلونها ويُعيِّنون المراد مثل قولهم: استوى بمعنى استولى، أو بمعنى علوّ المكانة والقدر، أو بمعنى ظهور نوره للعرش، أو بمعنى انتهاء الخلق إليه، إلى غير ذلك من معاني المتكلِّمين.
وقسم: يقولون: الله أعلم بما أراد بها، لكنا نعلم أنَّه لم يرد إثبات صفة خارجية عما علمناه.
وأما القسمان الواقفان:
فقوم: يقولون: يجوز أن يكون ظاهرها المراد اللاّئق بجلال الله، ويجوز أن لا يكون المراد صفة الله ونحو ذلك، وهذه طريقة كثير من الفقهاء وغيرهم.
وقوم: يمسكون عن هذا كله ولا يزيدون على تلاوة القرآن وقراءة الحديث معرضين بقلوبهم وألسنتهم عن هذه التقديرات.
فهذه الأقسام الستة لا يمكن أن يخرج الرجل عن قسم منها"1.
والصواب في ذلك هو طريق السلف الصالح رحمهم الله، إثباتُ ما أثبته الله لنفسه وما أثبته له رسولُه صلى الله عليه وسلم من صفات الكمال ونعوت الجلال من غير تحريفٍ ولا تعطيلٍ، ومن غير تكييفٍ ولا تمثيلٍ، ونفيُ ما نفاه الله عن نفسه وما نفاه عنه رسولُه صلى الله عليه وسلم من النقائص والعيوب، إثباتٌ بلا تمثيلٍ وتنزيهٌ بلا تعطيلٍ على حدِّ قوله تعالى: {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ} .
--------------------------------------------
তারা মনে করে যে এর অর্থ মোটেও মহান আল্লাহর গুণ নয়, এবং আল্লাহর কোনো ইতিবাচক গুণ নেই; বরং তাঁর গুণগুলো হয় নেতিবাচক, অথবা আপেক্ষিক, অথবা এই দুটির সমন্বয়। অথবা তারা কিছু গুণ সাব্যস্ত করে—যা কি না সাতটি, আটটি বা পনেরোটি গুণ—অথবা তারা গুণের পরিবর্তে কেবল অবস্থাসমূহ (আহওয়াল) সাব্যস্ত করে। তারা ইলমুল কালামের পণ্ডিতদের (মুতাকাল্লিমীন) মাযহাব অনুযায়ী কুরআন থেকে প্রাপ্ত সংবাদমূলক গুণাবলি স্বীকার করলেও হাদিসের গুণাবলি অস্বীকার করে। এরা দুই ভাগে বিভক্ত:
এক দল: যারা এগুলোর অপব্যাখ্যা করে এবং একটি সুনির্দিষ্ট অর্থ নির্ধারণ করে দেয়। যেমন তারা বলে: 'উঠা' (ইস্তিওয়া) অর্থ হলো 'কর্তৃত্ব গ্রহণ করা' (ইস্তাওলা), অথবা মর্যদা ও সম্মানের উচ্চতা, অথবা আরশের নিকট তাঁর নূরের প্রকাশ ঘটা, অথবা তাঁর কাছে সৃষ্টির পরিসমাপ্তি ঘটা—ইত্যাদি মুতাকাল্লিমদের নানাবিধ অর্থ।
অন্য এক দল: তারা বলে, আল্লাহ যা ইচ্ছা করেছেন তা আল্লাহই ভালো জানেন। তবে আমরা জানি যে, আমরা যা জানি তার বাইরে তিনি অন্য কোনো বাহ্যিক গুণ সাব্যস্ত করা উদ্দেশ্য করেননি।
আর যারা এ বিষয়ে বিরত থাকে (ওয়াফিফীন), সেই দুই দল হলো:
এক দল: তারা বলে, এগুলোর বাহ্যিক অর্থই আল্লাহর মহিমার জন্য উপযুক্ত হওয়া সম্ভব, আবার এ দ্বারা আল্লাহর গুণ উদ্দেশ্য না হওয়াও সম্ভব—এই জাতীয় কথাবার্তা। এটি অনেক ফকিহ এবং অন্যদের অনুসৃত পথ।
অন্য দল: তারা এই সবকিছু থেকে বিরত থাকে। তারা কেবল কুরআন তিলাওয়াত এবং হাদিস পাঠের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে এবং তাদের অন্তর ও জিহ্বা দিয়ে এই সকল আনুমানিক ব্যাখ্যা থেকে বিমুখ থাকে।
এই ছয়টি শ্রেণির বাইরে কোনো ব্যক্তির থাকা সম্ভব নয়১।
এ ক্ষেত্রে সঠিক পথ হলো সালাফে সালেহীনদের (আল্লাহ তাঁদের রহমত করুন) পথ। তা হলো আল্লাহ নিজের জন্য যা সাব্যস্ত করেছেন এবং তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর জন্য পূর্ণতার যেসব গুণ ও মহিমার যেসব বৈশিষ্ট্য সাব্যস্ত করেছেন, তা কোনো বিকৃতি (তাহরিফ) ও অস্বীকার (তা’তিল) ছাড়াই এবং কোনো ধরন নির্ধারণ (তাকয়িফ) ও সদৃশকরণ (তামসিল) ছাড়াই সাব্যস্ত করা। আর আল্লাহ নিজের ব্যাপারে যা অস্বীকার করেছেন এবং তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর ব্যাপারে যেসব ত্রুটি ও দোষ অস্বীকার করেছেন, তা অস্বীকার করা। কোনো সদৃশকরণ ছাড়াই সাব্যস্ত করা এবং কোনো অস্বীকার ছাড়াই পবিত্রতা ঘোষণা করা—মহান আল্লাহর এই বাণীর অনুরূপ: "কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়, আর তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আসারুল মাশহুর আনিল ইমাম মালিক রাহিমাহুল্লাহ ফী সিফাতিল ইস্তিওয়া
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
المبحث الثالث: في بيان أهميّة القواعد وعظم نفعها في معرفة صفات الباريلا ريب أنَّ معرفةَ القواعد والأصول والضوابط الكليّة الجامعة يُعدُّ من أعظم العلوم وأجلِّها نفعاً وأكثرها فائدةً، ذلك أنَّ "الأصول والقواعد للعلوم بمنزلة الأساس للبنيان والأصول للأشجار لا ثبات لها إلاّ بها، والأصول تبنى عليها الفروع، والفروع تثبت وتتقوّى بالأصول، وبالقواعد والأصول يثبت العلم ويقوى وينمي نماءً مطَّرداً، وبها تُعرف مآخذ الأصول، وبها يحصل الفرقان بين المسائل التي تشتبه كثيراً، كما أنَّها تجمع النظائر والأشباه التي من جمال العلم جَمعُها"1 إلى غير ذلك من الفوائد العظيمة والمنافع الجليلة التي لا تحصى.
بل إنَّ "من محاسن الشريعة وكمالها وجمالها وجلالها: أنَّ أحكامَها الأصوليَّة والفروعية والعبادات والمعاملات وأمورها كلّها لها أصولٌ وقواعدُ تَضبِطُ أحكامَها وتَجمعُ مُتفرِّقَها وتَنشر فروعَها وتَردُّها إلى أصولها"2.
والقاعدة: هي أمرٌ كلّيٌّ ينطبق على جزئيّاتٍ كثيرةٍ تُفهم أحكامُها منها3.
فإذا ضُبطت القاعدةُ وفُهم الأصلُ أمكن الإلمام بكثيرٍ من المسائل التي هي بمثابة الفرع لهذه القاعدة، وأُمن الخلطُ بين المسائل التي قد تشتبه، وكان فيها تسهيلٌ لفهم العلم وحفظه وضبطه، وبها يكون الكلام مبنياًّ على علمٍ متينٍ وعدلٍ وإنصافٍ.
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: স্রষ্টার গুণাবলি উপলব্ধির ক্ষেত্রে মূলনীতিসমূহের গুরুত্ব ও এর মহান উপকারিতার বর্ণনানিঃসন্দেহে সর্বজনীন ও ব্যাপক মূলনীতি, উসুল এবং বিধিবিধান সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা অন্যতম মহান ইলম এবং সর্বাধিক কল্যাণকর ও উপকারী বিষয়। কেননা, "ইলমের জন্য উসুল ও কায়দা (মূলনীতিসমূহ) দালানের জন্য ভিত্তিস্বরূপ এবং গাছের জন্য শিকড়স্বরূপ; এগুলি ব্যতীত কোনো স্থায়িত্ব নেই। উসুলের ওপর ফুরু' (শাখা-প্রশাখা) নির্মিত হয় এবং উসুলের মাধ্যমেই ফুরু' সুপ্রতিষ্ঠিত ও শক্তিশালী হয়। মূলনীতি ও উসুলের মাধ্যমে ইলম সুপ্রতিষ্ঠিত ও শক্তিশালী হয় এবং এটি ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পায়। এর মাধ্যমেই উসুলের উৎসসমূহ জানা যায় এবং এর মাধ্যমেই প্রায়শই সাদৃশ্যপূর্ণ মাসআলাসমূহের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করা সম্ভব হয়। যেমন এটি ইলমের সৌন্দর্য যে এটি সমজাতীয় ও সদৃশ বিষয়সমূহকে একত্রিত করে"১ - এছাড়া আরও অসংখ্য মহান ফায়দা ও মহান উপকারিতা রয়েছে।
বরং "শরীয়তের সৌন্দর্য, এর পূর্ণতা, নান্দনিকতা এবং মহত্ত্বের অন্যতম দিক হলো: এর মৌলিক ও শাখা-প্রশাখাগত বিধিবিধান, ইবাদত, মুয়ামালাত (লেনদেন) এবং এর সমস্ত বিষয়ের এমন কিছু উসুল ও কায়দা রয়েছে যা এর বিধানগুলোকে সুসংগঠিত করে, এর বিক্ষিপ্ত অংশগুলোকে একত্রিত করে, এর শাখাগুলোকে প্রসারিত করে এবং সেগুলোকে পুনরায় তাদের মূলের দিকে ফিরিয়ে নিয়ে যায়"২।
আর ‘কায়দা’ (মূলনীতি) হলো: এমন একটি সর্বজনীন বিষয় যা অনেকগুলো আংশিক বা বিশেষ বিষয়ের ওপর প্রযোজ্য হয়, যার মাধ্যমে ঐ বিষয়গুলোর বিধান বোঝা যায়৩।
সুতরাং যখন মূলনীতি আয়ত্ত করা হয় এবং উসুল অনুধাবন করা হয়, তখন এমন অনেক মাসআলা সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান লাভ করা সম্ভব হয় যা এই কায়দার শাখা হিসেবে গণ্য। এতে করে পরস্পর সাদৃশ্যপূর্ণ মাসআলাগুলোর মধ্যে সংমিশ্রণ ঘটার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায় এবং ইলম বোঝা, মুখস্থ রাখা ও আয়ত্ত করা সহজ হয়। এর মাধ্যমেই কোনো কথা সুদৃঢ় জ্ঞান, ইনসাফ ও ন্যায়বিচারের ওপর ভিত্তি করে বলা সম্ভব হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আসারুল মাশহুর আনিল ইমাম মালিক রাহিমাহুল্লাহ ফী সিফাতিল ইস্তিওয়া
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
ولذا يقول شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله: "لا بُدَّ أنْ يكون مع الإنسان أصولٌ كليّةٌ تُردُّ إليها الجزئيّات؛ ليتكلّم بعلمٍ وعدلٍ، ثمّ يعرف الجزئيّات كيف وقعت، وإلاّ فيبقى في كذبٍ وجهلٍ في الجزئيّات، وجهلٍ وظُلمٍ في الكليّات فيتولّد فسادٌ عظيمٌ"1.
لأجل هذا عُني أهل العلم كثيراً بوضع القواعد وجَمعها في الفنون المختلفة، فلا تكاد تجد فناًّ من الفنون إلاّ وله قواعدُ كثيرةٌ وضوابطُ عديدةٌ تَجمع مُتَفرِّقَه، وتُزيل مشتَبهَه، وتُنير معالمَه، وتُيسِّر فهمَه وحِفظَه وضبطَه2، "ويحصل بها من النفع والفائدة على اختصارها ما لا يحصل في الكلام الطويل"3.
ولهذا فإنَّه يترتَّب على العناية بالقواعد المأثورة والأصول الكليّة المنقولة عن السلف الصالح رحمهم الله من الفوائد والمنافع ما لا يعلمه إلاّ الله؛ لأنَّ فيها كما يقال وضعُ النقاط على الحروف، وفيها تجليةٌ للأُمور، وتوضيحٌ للمسائل، وإزالةٌ للّبْس، وأَمْنٌ من الخَلْط، إلى غير ذلك من الفوائد.
--------------------------------------------
আর এই কারণেই শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: "মানুষের নিকট এমন কিছু মৌলিক মূলনীতি থাকা আবশ্যক যার দিকে খুঁটিনাটি বিষয়গুলোকে ফিরিয়ে নেওয়া যায়; যাতে সে ইলম ও ইনসাফের সাথে কথা বলতে পারে এবং খুঁটিনাটি বিষয়গুলো কীভাবে সংঘটিত হয়েছে তা জানতে পারে। অন্যথায় সে খুঁটিনাটি বিষয়ে মিথ্যা ও মূর্খতার মধ্যে এবং মূলনীতির ক্ষেত্রে মূর্খতা ও অবিচারের মধ্যে থেকে যাবে, যার ফলে মহা বিপর্যয় সৃষ্টি হবে।"১
এই কারণেই আহলুল ইলমগণ বিভিন্ন শাস্ত্রে নিয়মাবলী প্রণয়ন ও সেগুলো সংকলনের প্রতি অনেক গুরুত্ব প্রদান করেছেন। আপনি প্রায় এমন কোনো শাস্ত্রই পাবেন না যাতে অনেক নিয়ম ও নীতিমালা নেই যা তার বিক্ষিপ্ত বিষয়গুলোকে একত্রিত করে, তার অস্পষ্টতা দূর করে, তার চিহ্নসমূহকে আলোকিত করে এবং তার অনুধাবন, মুখস্থকরণ ও আয়ত্ত করাকে সহজ করে দেয়২, "এবং এর সংক্ষিপ্ততা সত্ত্বেও এর মাধ্যমে এমন উপকার ও ফায়দা অর্জিত হয় যা দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমেও অর্জিত হয় না"৩।
আর এই কারণেই সালাফে সালেহীন (রাহিমাহুমুল্লাহ) থেকে বর্ণিত নীতিমালা এবং মৌলিক মূলনীতিসমূহের প্রতি যত্নবান হওয়ার ফলে এমন সব উপকার ও কল্যাণ অর্জিত হয় যা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানেন না। কেননা এর মধ্যে রয়েছে—যেমনটি বলা হয়—অক্ষরের ওপর নুকতা বসানো, বিষয়াবলীর উন্মোচন, মাসআলাসমূহের স্পষ্টীকরণ, অস্পষ্টতা দূরীকরণ এবং বিভ্রান্তিকর সংমিশ্রণ থেকে সুরক্ষা সহ আরও নানাবিধ ফায়দা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আসারুল মাশহুর আনিল ইমাম মালিক রাহিমাহুল্লাহ ফী সিফাতিল ইস্তিওয়া
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
الفصل الأوَّل: في تخريج هذا الأثر، وبيان ثبوته وذكر الشواهد عليه من الكتاب والسنة وأقوال السلف الصالح
المبحث الأوَّل: تخريج هذا الأثر وبيان ثبوته عن الإمام مالك رحمه الله -
لقد اشتهر هذا الأثر عن الإمام مالك رحمه الله شهرة بالغة، ورواه عنه طائفة من تلاميذه، وهو مرويٌّ عنه من طرق عديدة، وقد حَظِي باستحسان أهل العلم، وتلقَّوه بالقبول، وهو مخرَّج في كتب عديدة من كتب السنة.
وفيما يلي ذكرٌ لما وقفت عليه من طرق لهذا الأثر مع ذكر مخرِّجيها، وما وقفت عليه من كلام أهل العلم في بيان ثبوته.
1-رواية جعفر بن عبد الله1
قال الحافظ أبو نعيم في الحلية: حدّثنا محمد بن علي بن مسلم العقيلي، ثنا القاضي أبو أميَّة الغلابي، ثنا سلمة بن شبيب2، ثنا مهدي بن جعفر3، ثنا جعفر بن عبد الله قال: كنا عند مالك بن أنس فجاءه رجل فقال: يا أبا عبد الله
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: এই বর্ণনাটির তাখরিজ (উৎস নির্ণয়), এর প্রামাণিকতা বর্ণনা এবং কুরআন, সুন্নাহ ও সালাফে সালেহীনের বক্তব্য থেকে এর স্বপক্ষে প্রমাণসমূহ উল্লেখ
প্রথম অনুচ্ছেদ: ইমাম মালিক (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে এই বর্ণনাটির তাখরিজ এবং তাঁর থেকে এর প্রামাণিকতার বর্ণনা -
ইমাম মালিক (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত এই বর্ণনাটি অত্যন্ত প্রসিদ্ধি লাভ করেছে এবং তাঁর একদল ছাত্র এটি তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। এটি তাঁর থেকে বহু সূত্রে বর্ণিত হয়েছে এবং এটি ইলম অন্বেষণকারীগণের নিকট সমাদৃত হয়েছে ও তাঁরা এটি কবুল করে নিয়েছেন। এটি সুন্নাহর বহু গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে।
নিম্নে এই বর্ণনার যে সকল সূত্র আমার নজরে এসেছে এবং এর সংকলকদের নাম, সেই সাথে এর প্রামাণিকতা সম্পর্কে আহলে ইলমদের বক্তব্য উল্লেখ করা হলো।
১-জাফর ইবনে আবদুল্লাহর বর্ণনা
হাফিজ আবু নুআইম 'হিলইয়াহ' গ্রন্থে বলেছেন: মুহাম্মাদ ইবনে আলী ইবনে মুসলিম আল-উকায়লী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, কাজী আবু উমাইয়া আল-গালাবী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সালামাহ ইবনে শাবিব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মাহদী ইবনে জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, জাফর ইবনে আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা মালিক ইবনে আনাসের নিকট উপস্থিত ছিলাম, এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি তাঁর কাছে এসে বলল: হে আবু আবদুল্লাহ
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আসারুল মাশহুর আনিল ইমাম মালিক রাহিমাহুল্লাহ ফী সিফাতিল ইস্তিওয়া
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
{الرَّحْمَنُ عَلَى العَرْشِ اسْتَوَى} كيف استوى؟، فما وجد مالك من شيء ما وجد من مسألته، فنظر إلى الأرض وجعل ينكتُ بعود في يده حتى علاه الرّحضاء يعني العرق ثمَّ رفع رأسه ورمى بالعود وقال:"الكيف منه غير معقول، والاستواء منه غير مجهول، والإيمان به واجب، والسؤال عنه بدعة"، وأمر به فأُخرج1.
ورواه الإمام أبو إسماعيل الصابوني في كتابه (عقيدة السلف) قال: أخبرنا أبو محمد المخلدي العدل، حدّثنا أبو بكر عبد الله بن محمد بن مسلم الإسفراييني، حدّثنا أبو الحسين علي بن الحسن، حدّثنا سلمة بن شبيب به، وذكر نحوَه، إلاّ أنّه قال:"الكيف غير معلوم"2.
ورواه أيضاً الإمام الصابوني من طريق أخرى قال: أخبرنا به جدّي أبو حامد أحمد بن إسماعيل، عن جدّ والدي الشهيد، وأبو عبد الله محمد بن عدي بن حمدويه الصابوني، حدّثنا محمد بن أحمد ابن أبي عون النسوي، حدّثنا سلمة بن شبيب به3.
ورواه الحافظ اللالكائي في شرح الاعتقاد من طريق علي بن الربيع التميمي المقري قال: ثنا عبد الله بن أبي داود قال: ثنا سلمة ابن شبيب به، باللفظ السابق4.
--------------------------------------------
{পরম করুণাময় আরশের উপর উঠেছেন} তিনি কীভাবে উঠেছেন? ইমাম মালিক (রহ.) এই প্রশ্নের দ্বারা যতটা বিচলিত হয়েছিলেন, অন্য কোনো কিছুতে ততটা হননি। তিনি মাটির দিকে তাকিয়ে রইলেন এবং হাতে থাকা একটি কাঠি দিয়ে মাটিতে খুঁড়তে লাগলেন, যতক্ষণ না তিনি ঘামে ভিজে গেলেন। তারপর তিনি মাথা তুললেন এবং কাঠিটি ছুড়ে ফেলে দিয়ে বললেন: "এর ধরণ (কাইফ) বোধগম্য নয়, আর 'উঠা' (ইস্তিওয়া) অজানা নয়, এর প্রতি ঈমান আনা ওয়াজিব এবং এ সম্পর্কে প্রশ্ন করা বিদআত।" অতঃপর তিনি লোকটির ব্যাপারে নির্দেশ দিলেন এবং তাকে বের করে দেওয়া হলো।১
ইমাম আবু ইসমাইল আস-সাবুনী তাঁর 'আকিদাতুস সালাফ' গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আল-মাখলাদী আল-আদল, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু বকর আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন মুসলিম আল-ইসফরাইনি, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু আল-হুসাইন আলী বিন আল-হাসান, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন সালামাহ বিন শাবীব-এর মাধ্যমে—এবং তিনি অনুরূপ বর্ণনা করেছেন, তবে তিনি বলেছেন: "ধরণ (কাইফ) অজ্ঞাত।"২
ইমাম আস-সাবুনী অন্য সূত্রেও এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমার দাদা আবু হামিদ আহমদ বিন ইসমাইল এটি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি আমার পিতার শহীদ দাদা থেকে, এবং আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আদি বিন হামদুয়াহ আস-সাবুনী থেকে, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ বিন আহমদ ইবনে আবি আউন আন-নাসায়ী, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন সালামাহ বিন শাবীব-এর মাধ্যমে।৩
হাফেজ আল-লালকাঈ 'শারহুল ইতিকাদ' গ্রন্থে আলী বিন আর-রবি' আত-তামীমি আল-মুকরি-এর সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবদুল্লাহ বিন আবি দাউদ, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন সালামাহ বিন শাবীব পূর্বোক্ত শব্দে।৪
--------------------------------------------