(খণ্ড: ১)
তাইসীরু মুসতালাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: -)
تيسير مصطلح الحديث القسم: علوم الحديث
الكتاب: تيسير مصطلح الحديث
المؤلف: محمود الطحان
الناشر: مكتبة المعارف للنشر والتوزيع
الطبعة: الطبعة العاشرة 1425 هـ-2004 م
عدد الصفحات: 296
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
তৈসীর মুসতালাহিল হাদিস বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث)
গ্রন্থ: তৈসীর মুসতালাহিল হাদিস
লেখক: মাহমুদ আত-তাহহান
প্রকাশক: মাকতাবাতুল মাআরিফ পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন
সংস্করণ: দশম সংস্করণ, ১৪২৫ হিজরি-২০০৪ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৯৬
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
তাইসীরু মুসতালাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
المقدمات:
مقدمة الطبعة العاشرة:الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على سيدنا محمد بن عبد الله، وعلى آله وصحبه ومن والاه.
أما بعد: فإن الله تعالى -وله الحمد والمنة- قد كتب لهذا الكتاب النجاح والقبول، لدى طلبة العلم عامة، ولدى طلبة الحديث وعلومه خاصة.
وقد قررته كثير من الجامعات العربية وغيرها على طلابها، حتى نفدت منه طبعات متعددة على مدار سبع وعشرين سنة، ولما أراد أخونا الشيخ سعد الراشد -أثابه الله- صاحب مكتبة المعارف بالرياض، وهو الذي له حق نشر الكتاب -أن يعيد طبع الكتاب الطبعة العاشرة، طلب مني أن أعيد النظر فيه، وأن أعدل ما أرى تعديله، وأن أزيد ما يزيد الكتاب وضوحا. أجبته إلى طلبه، فأعدت النظر فيه، ونقحته، وزدت فيه ما رأيت الحاجة ماسة إليه. فجاء بحمد الله تعالى -في نظري- مناسبا جيدا إن شاء الله تعالى، والكمال لله تعالى وحده.
বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম
উপক্রমণিকা:
দশম সংস্করণের ভূমিকা:সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা আবদুল্লাহর পুত্র মুহাম্মদের ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ ও যারা তাঁর অনুসারী হয়েছেন তাদের ওপর।
অতঃপর: আল্লাহ তাআলা—তাঁরই জন্য সমস্ত প্রশংসা ও অনুগ্রহ—এই কিতাবটিকে সাধারণ জ্ঞান অন্বেষণকারী এবং বিশেষভাবে হাদিস ও হাদিস শাস্ত্রের বিজ্ঞানসমূহের (علوم الحديث) ছাত্রদের নিকট সফলতা ও গ্রহণযোগ্যতা দান করেছেন।
অনেক আরব ও অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় তাদের ছাত্রদের জন্য এটি পাঠ্যসূচিভুক্ত করেছে, এমনকি বিগত সাতাশ বছর ধরে এর একাধিক সংস্করণ নিঃশেষিত হয়ে গেছে। আর যখন রিয়াদের মাকতাবাতুল মা’আরিফ-এর স্বত্বাধিকারী আমাদের ভাই শেখ সাদ আল-রশিদ—আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন—যিনি এই কিতাবটি প্রকাশের অধিকার রাখেন, তিনি যখন কিতাবটির দশম সংস্করণ পুনর্মুদ্রণ করার ইচ্ছা করলেন, তখন তিনি আমার কাছে অনুরোধ জানালেন যেন আমি এটি পুনর্বিবেচনা করি, যেখানে সংশোধন প্রয়োজন তা সংশোধন করি এবং কিতাবটির স্পষ্টতা বৃদ্ধি পায় এমন কিছু সংযোজন করি। আমি তাঁর অনুরোধ রক্ষা করলাম, অতঃপর আমি এটি পুনরায় পর্যবেক্ষণ করলাম, পরিমার্জন করলাম এবং যে বিষয়গুলোর একান্ত প্রয়োজন অনুভব করেছি তা এতে সংযোজন করলাম। ফলে আল্লাহর প্রশংসায় এটি—আমার দৃষ্টিতে—যথাযথ ও মানসম্পন্ন হয়েছে, ইনশাআল্লাহ। আর সকল পূর্ণতা কেবল একমাত্র মহান আল্লাহর জন্য।
(খণ্ড: ১)
তাইসীরু মুসতালাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৪)
وأسأله تعالى أن يديم نفع طلبة العلم به، إنه تعالى خير مسئول والحمد لله رب العالمين.
الكويت 21/ 8/ 1423هـ
الموافق 27/ 10/ 2002م
وكتبه
العبد الضعيف، راجي عفو ربه المنان
أبو حفص محمود بن أحمد الطحان.
এবং আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি এর মাধ্যমে জ্ঞানান্বেষীদের উপকৃত হওয়ার ধারা অব্যাহত রাখেন; নিশ্চয়ই তিনি প্রার্থনা শ্রবণকারী হিসেবে সর্বোত্তম এবং সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
কুয়েত, ২১/ ০৮/ ১৪২৩ হিজরি
মোতাবেক ২৭/ ১০/ ২০০২ খ্রিস্টাব্দ
লিখেছেন
এই দুর্বল (ضعيف) বান্দা, তার পরম দাতা প্রতিপালকের ক্ষমার প্রত্যাশী
আবু হাফস মাহমুদ বিন আহমদ আত-তাহহান।
(খণ্ড: ১)
তাইসীরু মুসতালাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة الطبعة الأولى:الحمد لله الذي مَنَّ على المسلمين بإنزال القرآن الكريم، وتكفل بحفظه في الصدور والسطور إلى يوم الدين، وجعل من تتمة حفظه حفظ سنة سيد المرسلين.
والصلاة والسلام على سيدنا ونبينا محمد الذي أوكل الله إليه تبيان ما أراده من التنزيل الحكيم، بقوله تعالى: {وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ} [سورة النحل: 44] فقام صلى الله عليه وسلم مبينا له بأقواله، وأفعاله، وتقريراته، بأسلوب واضح مبين.
والرضَا عن الصحابة الذين تلقوا السنة النبوية عن النبي الكريم، فوعوها، ونقلوها للمسلمين كما سمعوها، خالصة من شوائب التحريف والتبديل.
والرحمة والمغفرة للسلف الصالح الذين تناقلوا السنة المطهرة جيلا عن جيل، ووضعوا لسلامة نقلها وروايتها قواعد وضوابط دقيقة لتخليصها من تحريف المبطلين.
والجزاء الخيِّر لمن خَلَفَ السلف من علماء المسلمين الذين تلقوا قواعد رواية السنة وضوابطها عن السلف، فهذبوها ورتبوها وجمعوها في مصنفات مستقلة، سميت فيما بعد بـ "علم مصطلح الحديث"1.
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
প্রথম সংস্করণের ভূমিকা:সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি কুরআনুল কারীম অবতীর্ণ করে মুসলিমদের ওপর অনুগ্রহ করেছেন এবং কিয়ামত পর্যন্ত অন্তর ও পান্ডুলিপিতে তা সংরক্ষণের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন; আর সেই সংরক্ষণের পূর্ণতা হিসেবে রাসুলদের সরদারের সুন্নাহ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেছেন।
আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা ও নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর, যাঁকে মহান আল্লাহ তাঁর প্রজ্ঞাপূর্ণ ওহীর উদ্দেশ্য বর্ণনা করার দায়িত্ব অর্পণ করেছেন। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: "আর আমি আপনার প্রতি যিকির অবতীর্ণ করেছি, যাতে আপনি মানুষের জন্য যা অবতীর্ণ করা হয়েছে তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে দেন এবং যাতে তারা চিন্তা-গবেষণা করে।" [সুরা আন-নাহল: ৪৪]। অতঃপর তিনি (সা.) তাঁর কথা, কাজ এবং মৌনসম্মতি (تقريرات)-এর মাধ্যমে অত্যন্ত স্পষ্ট ও প্রাঞ্জল পদ্ধতিতে তা বর্ণনা করেছেন।
আর সন্তুষ্টি বর্ষিত হোক সেই সাহাবীগণের ওপর, যাঁরা নবী কারীমের কাছ থেকে সুন্নাহ অর্জন করেছেন, অতঃপর তা হৃদয়ে ধারণ করেছেন এবং কোনো প্রকার বিকৃতি ও পরিবর্তনের কালিমা ছাড়াই ঠিক যেভাবে শুনেছেন সেভাবেই মুসলিমদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন।
আর রহমত ও মাগফিরাত বর্ষিত হোক সালাফে সালেহীনের ওপর, যাঁরা এই পবিত্র সুন্নাহকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম একে অপরের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন এবং এর নির্ভুল স্থানান্তর ও বর্ণনার (رواية) জন্য অত্যন্ত সূক্ষ্ম নিয়ম ও নীতিমালা প্রণয়ন করেছেন, যাতে একে বাতিলপন্থীদের বিকৃতি থেকে রক্ষা করা যায়।
আর উত্তম প্রতিদান ওই সকল পরবর্তী মুসলিম আলেমদের জন্য, যাঁরা সালাফে সালেহীনের নিকট থেকে সুন্নাহ বর্ণনার (رواية) নিয়ম-কানুন ও নীতিমালা গ্রহণ করেছেন। অতঃপর তাঁরা সেগুলোকে পরিমার্জিত ও বিন্যস্ত করেছেন এবং স্বতন্ত্র কিতাবসমূহে সংকলিত করেছেন, যা পরবর্তীতে "ইলমে মুসতালাহুল হাদিস (علم مصطلح الحديث)"১ নামে পরিচিতি লাভ করেছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাইসীরু মুসতালাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৬)
أما بعد: فعندما كُلِّفت منذ سنوات بتدريس علم "مصطلح الحديث" في كلية الشريعة، بالجامعة الإسلامية في المدينة المنورة، وكان المقرر تدريس كتاب "علوم الحديث" لابن الصلاح، ثم قررت الجامعة مختصَرَهُ: كتاب "التقريب" للنووي، وجدت مع الطلبة بعض الصعوبات في تدريس هذين الكتابين -على جلالتهما، وغزارة فوائدهما- دراسة نظامية. فمن هذه الصعوبات التطويل في بعض الأبحاث، لا سيما في كتاب ابن الصلاح1. ومنها الاختصار في البعض الآخر، لا سيما في كتاب النووي2، ومنها صعوبة العبارة، ومنها عدم تكامل بعض الأبحاث3، وذلك كترك التعريف مثلا، أو إغفال المثال، أو عدم الفائدة من هذا البحث، أو ذاك، أو عدم التعريج على ذكر أشهر المصنفات، وما أشبه ذلك، ووجدت غيرهما من كتب الأقدمين في هذا الفن كذلك، بل إن بعض تلك الكتب غير شامل لجميع علوم الحديث، وبعضها غير مهذب ولا مرتب، وعذرهم في ذلك هو إما وضوح الأمور التي تركوها بالنسبة لهم، أو الحاجة لتطويل بعض الأبحاث، بالنسبة لزمنهم، أو غير ذلك مما نعرفه أو لا نعرفه.
فرأيت أن أضع بين أيدي الطلبة في كليات الشريعة كتابا سهلا في مصطلح الحديث وعلومه، ييسر عليهم فهم قواعد هذا الفن
--------------------------------------------
অতঃপর: কয়েক বছর আগে যখন আমাকে মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের শরিয়াহ অনুষদে "হাদিসের পরিভাষা (مصطلح الحديث)" শাস্ত্রটি পড়ানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়, তখন নির্ধারিত পাঠ্য ছিল ইবনুস সালাহর "উলূমুল হাদিস" গ্রন্থটি। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় এর সংক্ষিপ্ত রূপ ইমাম নববীর "আত-তাকরীব" গ্রন্থটি পাঠ্য হিসেবে নির্ধারণ করে। আমি এই দুটি কিতাব—তাদের শ্রেষ্ঠত্ব এবং প্রচুর উপকারিতা থাকা সত্ত্বেও—নিয়মতান্ত্রিক পাঠদানের ক্ষেত্রে ছাত্রদের সাথে নিয়ে কিছু সমস্যার সম্মুখীন হই। এই অসুবিধাগুলোর মধ্যে রয়েছে কিছু আলোচনার দীর্ঘায়ন, বিশেষ করে ইবনুস সালাহর কিতাবে১। আবার কিছু ক্ষেত্রে রয়েছে অতি সংক্ষিপ্তকরণ, বিশেষ করে ইমাম নববীর কিতাবে২। এছাড়া ভাষার জটিলতা এবং কিছু আলোচনার অসম্পূর্ণতাও৩ অন্যতম কারণ ছিল। যেমন—সংজ্ঞা (تعريف) প্রদান না করা, উদাহরণ বাদ দেওয়া কিংবা সংশ্লিষ্ট আলোচনার উদ্দেশ্য বা ফায়দা বর্ণনা না করা, অথবা বিখ্যাত গ্রন্থসমূহের নাম উল্লেখ না করা ইত্যাদি। আমি এই শাস্ত্রে পূর্বসূরিদের অন্যান্য কিতাবেও একই বিষয় লক্ষ্য করেছি। এমনকি কিছু কিতাব হাদিস বিজ্ঞানের (علوم الحديث) সকল বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করেনি, আবার কোনোটি সুবিন্যস্ত বা সুশৃঙ্খল নয়। এ ক্ষেত্রে তাদের ওজর বা কারণ হতে পারে যে, তারা যে বিষয়গুলো ছেড়ে দিয়েছেন তা তাদের নিকট অত্যন্ত স্পষ্ট ছিল, অথবা তাদের সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে কিছু আলোচনার দীর্ঘায়নের প্রয়োজন ছিল, কিংবা অন্য কোনো কারণ যা আমাদের জানা বা অজানা।
তাই আমি শরিয়াহ অনুষদের শিক্ষার্থীদের সামনে হাদিসের পরিভাষা (مصطلح الحديث) ও হাদিস বিজ্ঞান (علوم الحديث) বিষয়ে একটি সহজ গ্রন্থ উপস্থাপনের সংকল্প করলাম, যা তাদের জন্য এই শাস্ত্রের নীতিমালা (قواعد) বোঝা সহজতর করবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাইসীরু মুসতালাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৭)
ومصطلحاته، وذلك بتقسيم كل بحث إلى فقرات مرقمة متسلسلة، مبتدئا بتعريفه، ثم بمثاله، ثم بأقسامه مثلا
… مختتما بفقرة "أشهر المصنفات فيه" كل ذلك بعبارة سهلة، وأسلوب علمي واضح، ليس فيه تعقيد ولا غموض. ولم أعرج على كثير من الخلافات والأقوال وبسط المسائل؛ مراعاة للحصص الزمنية القليلة المخصصة لهذا العلم في كليات الشريعة، وكليات الدراسات الإسلامية.
وسميته "تيسير مصطلح الحديث" ولست أرى أن هذا الكتاب يغني عن كتب العلماء الأقدمين في هذا الفن، إنما قصدت أن يكون مفتاحا لها، ومذكرا بما فيها، وميسرا للوصول إلى فهم معانيها. وتظل كتب الأئمة والعلماء الأقدمين مرجعا للعلماء والمتخصصين في هذا الفن، ومَعِينًا فَيَّاضًا ينهلون منه.
ولا يفوتني أن أذكر أنه صدرت في الآونة الأخيرة كتب لبعض الباحثين، فيها الفوائد الغزيرة، لا سيما الرد على شبه المستشرقين والمنحرفين، لكن بعضها مطول، وبعضها مختصرا جدا، وبعضها غير مستوعب، فأردت أن يكون كتابي هذا وسطا بين التطويل والاختصار، ومستوعبا لجميع الأبحاث.
والجديد في كتابي هذا هو:
1- التقسيم؛ أي تقسيم كل بحث إلى فقرات مرقمة، مما يسهل على الطالب فهمه1.
--------------------------------------------
এবং এর পরিভাষাগুলো (مصطلحات); আর তা প্রতিটি আলোচনাকে সুশৃঙ্খলভাবে নম্বরযুক্ত অনুচ্ছেদে বিভক্ত করার মাধ্যমে সম্পাদিত হয়েছে। এর সূচনা করা হয়েছে সংজ্ঞা (تعريف) দিয়ে, এরপর উদাহরণ (مثال), অতঃপর এর প্রকারভেদ (أقسام) - উদাহরণস্বরূপ
… এবং পরিশেষে "এ বিষয়ে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহ" অনুচ্ছেদের মাধ্যমে সমাপ্তি টানা হয়েছে। এই সবকিছুই অত্যন্ত সহজ সাবলীল ভাষায় এবং একটি সুস্পষ্ট তাত্ত্বিক পদ্ধতিতে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা জটিলতা ও অস্পষ্টতামুক্ত। আমি অনেক মতভেদ, উক্তি এবং মাসআলার বিস্তারিত বর্ণনার অবতারণা করিনি; শরীয়াহ অনুষদ এবং ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদসমূহে এই শাস্ত্রের জন্য নির্ধারিত স্বল্প সময়ের প্রতি লক্ষ্য রেখে।
আমি এর নামকরণ করেছি "তাইসির মুসতালাহিল হাদিস" এবং আমি মনে করি না যে এই গ্রন্থটি এই শাস্ত্রের পূর্বসূরি আলিমগণের কিতাবসমূহ থেকে অমুখাপেক্ষী করে দেবে। বরং আমার উদ্দেশ্য হলো এটি যেন সেই কিতাবগুলোর জন্য একটি চাবিকাঠি হয়, সেগুলোর বিষয়বস্তু স্মরণ করিয়ে দেয় এবং সেগুলোর অর্থ বোঝার পথ সুগম করে। আর ইমামগণ এবং পূর্ববর্তী আলিমগণের কিতাবসমূহ এই শাস্ত্রের আলিম ও বিশেষজ্ঞগণের জন্য মূল উৎস হিসেবে এবং একটি প্রবহমান ঝরনাধারা হিসেবেই থাকবে, যেখান থেকে তারা জ্ঞান আহরণ করবেন।
আমি এটি উল্লেখ করতে ভুলছি না যে, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু গবেষকের বই প্রকাশিত হয়েছে যেগুলোতে প্রচুর উপকারিতা রয়েছে, বিশেষ করে প্রাচ্যবিদ ও পথভ্রষ্টদের সংশয়ের খণ্ডন। কিন্তু সেগুলোর কিছু অনেক দীর্ঘ, কিছু অতি সংক্ষিপ্ত এবং কিছু আবার অপূর্ণাঙ্গ; তাই আমি চেয়েছি আমার এই কিতাবটি যেন দীর্ঘায়ন ও সংক্ষিপ্তকরণের মাঝে মধ্যমপন্থা অবলম্বনকারী এবং সকল আলোচনার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থ হয়।
আমার এই কিতাবের নতুনত্ব হলো:
1- বিন্যাস; অর্থাৎ প্রতিটি আলোচনাকে নম্বরযুক্ত অনুচ্ছেদে বিভক্ত করা, যা শিক্ষার্থীর জন্য তা বোঝা সহজ করে দেয়।১
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাইসীরু মুসতালাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৮)
2- التكامل في كل بحث، من حيث الهيكل العام للبحث، من ذكر التعريف، والمثال، و
… إلخ
3- الاستيعاب لجميع أبحاث المصطلح ما أمكن بشكل مختصر.
أما من حيث التبويب والترتيب فقد استفدت من طريقة الحافظ ابن حجر في النخبة وشرحها، فإنه خير ترتيب توصل إليه رحمه الله وكان جل اعتمادي في المادة العلمية على "علوم الحديث" لابن الصلاح، ومختصره "التقريب" للنووي، وشرحه "التدريب" للسيوطي.
وجعلت الكتاب من مقدمة، وأربعة أبواب:
الباب الأول: في الخبر1.
والباب الثاني: في الجرح والتعديل.
والباب الثالث: في الرواية وأصولها.
والباب الرابع: في الإسناد، ومعرفة الرواة.
وإنني إذ أقدم هذا الجهد المتواضع لأبنائنا الطلبة، اعترف بعجزي وتقصيري في إعطاء هذا العلم حقه، ولا أبرئ نفسي من الزلل والخطأ، فالرجاء ممن يطلع فيه على زلة وخطأ أن ينبهني عليه مشكورا؛ لعلي أتداركه. وأرجو الله تعالى أن ينفع به الطلبة والمشتغلين بالحديث، وأن يجعله خالصا لوجهه الكريم. إنه سبحانه سميع مجيب.
--------------------------------------------
২- প্রতিটি আলোচনার পূর্ণাঙ্গতা, আলোচনার সাধারণ কাঠামোর দিক থেকে, যেমন সংজ্ঞা, উদাহরণ এবং
… ইত্যাদি উল্লেখ করা।
৩- পরিভাষা (المصطلح) সংক্রান্ত সকল বিষয়ের যথাসম্ভব সংক্ষিপ্ত ও পূর্ণাঙ্গ উপস্থাপনা।
অধ্যায় বিন্যাস ও ক্রমানুসরণের ক্ষেত্রে আমি হাফেজ ইবনে হাজার-এর 'নুখবাহ' এবং এর ব্যাখ্যাগ্রন্থের পদ্ধতি থেকে উপকৃত হয়েছি; কেননা এটিই তাঁর (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) উদ্ভাবিত সর্বোত্তম বিন্যাস। আর ইলমি উপকরণের ক্ষেত্রে আমার মূল নির্ভরতা ছিল ইবনে সালাহ-এর 'উলুমুল হাদিস', নববী-এর এর সংক্ষেপিত রূপ 'আত-তাক্বরীব' এবং সুয়ূতী-এর এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'আত-তাদরীব'-এর ওপর।
আমি গ্রন্থটিকে একটি ভূমিকা ও চারটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত করেছি:
প্রথম অধ্যায়: সংবাদ (الخبر) প্রসঙ্গে।১
দ্বিতীয় অধ্যায়: জারহ ও তা’দীল (الجرح والتعديل) প্রসঙ্গে।
তৃতীয় অধ্যায়: বর্ণনা (الرواية) এবং এর মূলনীতি (أصول) প্রসঙ্গে।
চতুর্থ অধ্যায়: সনদ (الإسناد) এবং বর্ণনাকারীদের (الرواة) পরিচিতি প্রসঙ্গে।
আমাদের ছাত্র ভাইদের নিকট এই বিনম্র প্রচেষ্টা উপস্থাপন করার সময় আমি এই ইলমের যথাযথ হক আদায়ে আমার অক্ষমতা ও ত্রুটি স্বীকার করছি। আমি নিজেকে বিচ্যুতি ও ভুল থেকে মুক্ত মনে করি না। তাই যারা এতে কোনো বিচ্যুতি বা ভুল লক্ষ্য করবেন, কৃতজ্ঞতার সাথে আমাকে তা অবহিত করার অনুরোধ রইল; যাতে আমি তা সংশোধন করতে পারি। আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি এর মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও হাদিস চর্চাকারীদের উপকৃত করেন এবং এটিকে শুধুমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও কবুলকারী।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাইসীরু মুসতালাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ১০)
المقدمة العلمية
في نشأة علم المصطلح، وأشهر المصنفات فيه
نبذة تاريخية عن نشأة علم المصطلح، والأطوار التي مر بها…المقدمة العلمية:
في نشأة علم المصطلح، وأشهر المصنفات فيه:
نبذة تاريخية: نشأة علم المصطلح، والأطوار التي مر بها
يلاحظ الباحث المتفحص أن الأسس والأركان الأساسية لعلم الرواية، ونقل الأخبار موجودة في الكتاب العزيز، والسنة النبوية، فقد جاء في القرآن الكريم قوله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنْ جَاءَكُمْ فَاسِقٌ بِنَبَأٍ فَتَبَيَّنُوا} [سورة الحجرات: 6] ، وجاء في السنة النبوية قوله صلى الله عليه وسلم: "نضر الله امرأً سمع منا شيئا فبلغه كما سمع؛ فرب مبلغ أوعى من سامع" 1 وفي رواية: "فرب حامل فقه إلى من هو أفقه منه، ورب حامل فقه ليس بفقيه" 2.
ففي هذه الآية الكريمة، وهذا الحديث الشريف مبدأ التثبت في أخذ الأخبار، وكيفية ضبطها، بالانتباه لها، ووعيها، والتدقيق في نقلها للآخرين.
وامتثالا لأمر الله تعالى ورسوله صلى الله عليه وسلم، فقد كان الصحابة رضي الله عنهم يثبتون في نقل الأخبار وقبولها، ولا سيما إذا شكوا في صدق الناقل لها. فظهر بناءً على هذا موضوع العناية بالإسناد وقيمته
--------------------------------------------
জ্ঞানতাত্ত্বিক ভূমিকা (المقدمة العلمية)
পরিভাষা বিজ্ঞানের (علم المصطلح) উৎপত্তি এবং এর প্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহ প্রসঙ্গে
পরিভাষা বিজ্ঞানের (علم المصطلح) উৎপত্তি এবং এর বিবর্তনের পর্যায়সমূহ সম্পর্কে একটি ঐতিহাসিক সংক্ষিপ্ত রূপরেখা…জ্ঞানতাত্ত্বিক ভূমিকা (المقدمة العلمية):
পরিভাষা বিজ্ঞানের (علم المصطلح) উৎপত্তি এবং এর প্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহ প্রসঙ্গে:
ঐতিহাসিক সংক্ষিপ্ত রূপরেখা: পরিভাষা বিজ্ঞানের (علم المصطلح) উৎপত্তি এবং এর বিবর্তনের পর্যায়সমূহ
একজন সতর্ক গবেষক লক্ষ্য করেন যে, বর্ণনা বিজ্ঞানের (علم الرواية) এবং সংবাদ আদান-প্রদানের মৌলিক ভিত্তি ও স্তম্ভসমূহ মহাগ্রন্থ আল-কুরআন এবং সুন্নাহর মধ্যে বিদ্যমান রয়েছে। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: "হে মুমিনগণ! যদি কোনো ফাসিক ব্যক্তি তোমাদের কাছে কোনো খবর নিয়ে আসে, তবে তোমরা তা যাচাই করো" [সূরা আল-হুজুরাত: ৬]। আর সুন্নাহর মধ্যে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণী এসেছে: "আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সতেজ ও উজ্জ্বল রাখুন, যে আমাদের থেকে কিছু শুনল, অতঃপর তা হুবহু পৌঁছে দিল যেভাবে সে শুনেছিল; কেননা অনেক সময় যার কাছে পৌঁছানো হয় সে শ্রবণকারীর চেয়েও অধিক সংরক্ষণকারী হয়ে থাকে" ১। অন্য একটি বর্ণনায় (رواية) এসেছে: "অনেক সময় জ্ঞানের বাহক এমন ব্যক্তির কাছে ইলম পৌঁছে দেয় যে তার চেয়েও অধিক সমঝদার, আবার অনেক জ্ঞানের বাহক নিজে সমঝদার (ফকিহ) নয়" ২।
সুতরাং এই আয়াতে কারীমা এবং এই হাদিস শরীফের মধ্যে সংবাদ গ্রহণের ক্ষেত্রে সত্যতা যাচাইয়ের (التثبت) নীতি এবং তা মনোযোগ সহকারে শ্রবণ ও উপলব্ধির মাধ্যমে যথাযথ সংরক্ষণের (ضبط) পদ্ধতি এবং অন্যদের কাছে তা পৌঁছানোর ক্ষেত্রে সূক্ষ্ম যাচাইয়ের মূলনীতি বিদ্যমান রয়েছে।
আল্লাহ তাআলা এবং তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশ পালনার্থে সাহাবীগণ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) সংবাদ বর্ণনা এবং তা গ্রহণের ক্ষেত্রে সত্যতা যাচাই (التثبت) করতেন, বিশেষ করে যখন তাঁরা বর্ণনাকারীর সত্যবাদিতা সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করতেন। এর ওপর ভিত্তি করেই সনদের (الإسناد) প্রতি গুরুত্বারোপ এবং এর মূল্যের বিষয়টি প্রকাশ পায়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাইসীরু মুসতালাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ১১)
في قبول الأخبار أو ردِّها. فقد جاء في مقدمة صحيح مسلم عن ابن سيرين: "قال: لم يكونوا يسألون عن الإسناد، فلما وقعت الفتنة قالوا: سموا لنا رجالكم، فينظر إلى أهل السنة فيؤخذ حديثهم، وينظر إلى أهل البدع فلا يؤخذ حديثهم"1.
وبناء على أن الخبر لا يُقبَل إلا بعد معرفة سنده، فقد ظهر علم الجرح والتعديل، والكلام على الرواة، ومعرفة المتصل أو المنقطع من الأسانيد، ومعرفة العلل الخفية، وظهر الكلام في بعض الرواة، لكن على قلة، لقلة الرواة المجروحين في أول الأمر.
ثم توسع العلماء في ذلك، حتى ظهر البحث في علوم كثيرة تتعلق بالحديث من ناحية ضبطه وكيفية تحمله وأدائه، ومعرفة ناسخه من منسوخه، وغريبه، وغير ذلك، إلا أن ذلك كان يتناقله العلماء شفويا.
ثم تطور الأمر، وصارت هذه العلوم تكتب وتسجل، لكن في أمكنة متفرقة من الكتب ممزوجة بغيرها من العلوم الأخرى، كعلم الأصول، وعلم الفقه، وعلم الحديث. مثل كتاب "الرسالة" وكتاب "الأم" كلاهما للإمام الشافعي.
وأخيرا لما نضجت العلوم، واستقر الاصطلاح، واستقل كل فن عن غيره، وذلك في القرن الرابع الهجري، وأفرد العلماء علم المصطلح في كتاب مستقل، وكان من أول من أفرده بالتصنيف
--------------------------------------------
সংবাদ (خبر) গ্রহণ অথবা প্রত্যাখ্যানের ক্ষেত্রে। সহীহ মুসলিম-এর মুকাদ্দামায় ইবনে সিরীন থেকে বর্ণিত হয়েছে: "তিনি বলেন: তারা সনদ (إسناد) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন না, কিন্তু যখন ফিতনা দেখা দিল, তখন তারা বললেন: আমাদের নিকট তোমাদের বর্ণনাকারীদের (رجال) নাম উল্লেখ করো। তখন আহলুস সুন্নাহর দিকে লক্ষ্য করা হতো এবং তাদের হাদিস গ্রহণ করা হতো, আর বিদআতপন্থীদের দিকে লক্ষ্য করা হতো এবং তাদের হাদিস গ্রহণ করা হতো না।"১।
সংবাদ (خبر) কেবল তার সনদ (سند) জানার পরেই গ্রহণীয় হওয়ার ওপর ভিত্তি করে জারহ ও তাদীল (الجرح والتعديل) শাস্ত্রের উদ্ভব ঘটে, সেই সাথে বর্ণনাকারীদের (رواة) বিষয়ে আলোচনা এবং সনদগুলোর নিরবচ্ছিন্ন (متصل) বা বিচ্ছিন্ন (منقطع) হওয়া সম্পর্কে জ্ঞান এবং গোপন ত্রুটিসমূহ (العلل الخفية) জানার আবশ্যকতা দেখা দেয়। কিছু বর্ণনাকারীর বিষয়ে আলোচনা শুরু হলেও তা ছিল সীমিত পরিসরে, কারণ শুরুর দিকে দোষযুক্ত (مجروحين) বর্ণনাকারীদের সংখ্যা ছিল নগণ্য।
পরবর্তীতে ওলামায়ে কেরাম এ বিষয়ে ব্যাপক গবেষণা করেন, যার ফলে হাদিসের নির্ভুলতা (ضبط), হাদিস গ্রহণ (تحمله) ও প্রদানের (أدائه) পদ্ধতি, রহিতকারী (ناسخه) ও রহিত (منسوخه) সংক্রান্ত জ্ঞান, এবং কঠিন শব্দাবলি (غريبه) ইত্যাদি সংক্রান্ত বহু শাস্ত্রের উদ্ভব ঘটে। তবে এগুলো ওলামায়ে কেরাম মৌখিকভাবেই আদান-প্রদান করতেন।
এরপর পরিস্থিতির ক্রমবিকাশ ঘটে এবং এই শাস্ত্রগুলো লিপিবদ্ধ হতে শুরু করে। তবে তখন এগুলো বিভিন্ন বইয়ের ভিন্ন ভিন্ন স্থানে অন্যান্য শাস্ত্র যেমন—উসুল শাস্ত্র (علم الأصول), ফিকহ শাস্ত্র (علم الفقه) ও হাদিস শাস্ত্রের সাথে মিশ্রিত অবস্থায় ছিল। যেমন ইমাম শাফিঈর 'আর-রিসালা' ও 'আল-উম্ম' গ্রন্থদ্বয়।
পরিশেষে চতুর্থ হিজরি শতাব্দীতে যখন জ্ঞানসমূহ পূর্ণতা লাভ করল, পরিভাষা (اصطلاح) স্থায়িত্ব পেল এবং প্রতিটি শাস্ত্র স্বতন্ত্র রূপ ধারণ করল, তখন ওলামায়ে কেরাম পরিভাষা শাস্ত্রকে (علم المصطلح) স্বতন্ত্র কিতাব হিসেবে বিন্যস্ত করেন। আর যারা প্রথম এটিকে স্বতন্ত্র বিষয় হিসেবে সংকলন করেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাইসীরু মুসতালাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ১২)
القاضي أبو محمد الحسن بن عبد الرحمن بن خلاد الرامهرمزي المتوفى سنة 360هـ في كتابه "المحدث الفاصل بين الراوي والواعي".
وسأذكر أشهر المصنفات في علم المصطلح من حين إفراده بالتصنيف إلى يومنا هذا.
কাজী আবু মুহাম্মদ আল-হাসান ইবনে আবদুর রহমান ইবনে খাল্লাদ আর-রামাহুরমুযী (মৃত্যু ৩৬০ হিজরি) তাঁর "আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল বাইনার রাবি ওয়াল ওয়া’য়ি" গ্রন্থে।
আমি পরিভাষা শাস্ত্রের (علم المصطلح) প্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহ এটি স্বতন্ত্র বিষয় হিসেবে সংকলিত হওয়ার সময় থেকে বর্তমান পর্যন্ত উল্লেখ করব।
(খণ্ড: ১)
তাইসীরু মুসতালাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ১৩)
أشهر المصنفات في علم المصطلح:1- المحدث الفاصل بين الراوي والواعي:
صنفه القاضي أبو محمد الحسن بن عبد الرحمن بن خلاد الرامهرمزي المتوفى سنة 360هـ لكنه لم يستوعب أبحاث المصطلح كلها، وهذا شأن من يفتتح التصنيف في أي علم غالبا.
2- معرفة علوم الحديث:
صنفه أبو عبد الله محمد بن عبد الله الحاكم النيسابوري، المتوفى سنة 405هـ، لكنه لم يهذب الأبحاث، ولم يرتبها الترتيب الفني المناسب.
3- المستخرج على معرفة علوم الحديث:
صنفه أبو نعيم أحمد بن عبد الله الأصبهاني، المتوفى سنة 430هـ، استدرك فيه على الحاكم ما فاته في كتابه "معرفة علوم الحديث" من قواعد هذا الفن، لكنه ترك أشياء يمكن للمتعقب أن يستدركها عليه أيضا.
4- الكفاية في علم الرواية:
صنفه أبو بكر أحمد بن علي بن ثابت الخطيب البغدادي، المشهور، المتوفى سنة 463هـ، وهو كتاب حافل بتحرير مسائل هذا الفن، وبيان قواعد الرواية، ويعد من أَجَلِّ مصادر هذا العلم.
ইলমে মুসতালাহ (হাদিস শাস্ত্রের পরিভাষা বিজ্ঞান)-এর প্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহ:1- আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল বাইনার রাবী ওয়াল ওয়ায়ী:
এটি রচনা করেছেন আল-কাজি আবু মুহাম্মদ আল-হাসান বিন আব্দুর রহমান বিন খাল্লাদ আর-রামাহুরমুজি (ওফাত ৩৬০ হিজরি)। তবে তিনি পরিভাষা (المصطلح) সংক্রান্ত সকল আলোচনা এতে অন্তর্ভুক্ত করতে পারেননি; আর কোনো শাস্ত্রের সূচনালগ্নে গ্রন্থ রচনার ক্ষেত্রে সাধারণত এমনটিই হয়ে থাকে।
2- মা'রিফাতু উলুমিল হাদিস:
এটি রচনা করেছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-হাকিম আন-নাইসাপুরি (ওফাত ৪০৫ হিজরি)। তবে তিনি এই শাস্ত্রের আলোচনাগুলোকে সুবিন্যস্ত করেননি এবং যথাযথ কারিগরি ক্রমে সাজাননি।
3- আল-মুস্তাখরাজ আলা মা'রিফাতু উলুমিল হাদিস:
এটি রচনা করেছেন আবু নুয়াইম আহমদ বিন আব্দুল্লাহ আল-আসবাহানি (ওফাত ৪৩০ হিজরি)। তিনি আল-হাকিমের 'মা'রিফাতু উলুমিল হাদিস' গ্রন্থে এই শাস্ত্রের যেসকল নিয়মাবলি বাদ পড়েছিল, তা এখানে সংযোজন করেছেন। তবে তিনিও এমন কিছু বিষয় বাকি রেখেছেন যা পরবর্তীতে কোনো পর্যালোচনাকারী সংযোজন করতে পারেন।
4- আল-কিফায়া ফি ইলমির রিওয়ায়াহ:
এটি বিখ্যাত আলেম আবু বকর আহমদ বিন আলী বিন সাবিত আল-খতিব আল-বাগদাদি (ওফাত ৪৬৩ হিজরি) রচনা করেছেন। এটি এই শাস্ত্রের মাসয়ালাগুলোর বিশ্লেষণ এবং বর্ণনা (الرواية)-র নিয়মাবলি বর্ণনায় একটি সমৃদ্ধ গ্রন্থ। একে এই শাস্ত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উৎস হিসেবে গণ্য করা হয়।
(খণ্ড: ১)
তাইসীরু মুসতালাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ১৪)
5- الجامع لأخلاق الرواي وآداب السامع:
صنفه الخطيب البغدادي أيضا، وهو كتاب يبحث في آداب الرواية، كما هو واضح من تسميته. وهو فريد في بابه، قيم في أبحاثه ومحتوياته.
وقَلَّ فنٌّ من فنون علوم الحديث إلا وصنف الخطيب فيه كتابا مفردا. فكان كما قال الحافظ أبو بكر بن نقطة: "كل من أنصف عَلِمَ أن المحدثين بعد الخطيب عيال على كتبه".
6- الإلماع إلى معرفة أصول الرواية وتقييد السماع:
صنفه القاضي عياض بن موسى اليحصبي، المتوفى سنة 544هـ، وهو كتاب غير شامل لجميع أبحاث المصطلح، بل هو مقصور على ما يتعلق بكيفية التحمل والأداء، وما يتفرع عنهما، لكنه جيد في بابه، حسن التنسيق والترتيب.
7- ما لا يسع المحدث جهله:
صنفه أبو حفص عمر بن عبد المجيد الميانجي، المتوفى سنة 580هـ، وهو جزء صغير، ليس فيه كبير فائدة.
8- علوم الحديث:
صنفه أبو عمرو عثمان بن عبد الرحمن الشهرزوري، المشهور بابن الصلاح، المتوفى سنة 643هـ، وكتابه هذا مشهور بين الناس بـ "مقدمة ابن الصلاح" وهو من أجود الكتب في المصطلح. جمع فيه مؤلفه ما تفرق في غيره من كتب الخطيب ومن تقدمه، فكان
5- আল-জামি লি-আখলাকির রাওয়ি ওয়া আদাবিস সামি:
এটিও আল-খতিব আল-বাগদাদি রচনা করেছেন। এটি বর্ণনার আদব (آداب الرواية) বিষয়ক একটি গ্রন্থ, যা এর নাম থেকেই সুস্পষ্ট। এটি নিজ বিষয়ের ক্ষেত্রে অনন্য এবং এর গবেষণা ও বিষয়বস্তুর দিক থেকে অত্যন্ত মূল্যবান।
হাদিস বিজ্ঞানের এমন খুব কম শাখাই আছে যেখানে খতিব আল-বাগদাদি কোনো স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেননি। তাই হাফিজ আবু বকর বিন নুকতা যেমনটি বলেছেন: "প্রত্যেক ন্যায়নিষ্ঠ ব্যক্তিই অবগত যে, খতিব আল-বাগদাদির পরবর্তী সকল হাদিসবিশারদ (المحدثين) তাঁর কিতাবসমূহের ওপর নির্ভরশীল।"
6- আল-ইলমা ইলা মা'রিফাতি উসুলির রিওয়ায়াত ওয়া তাকিয়িদিস সামা:
এটি কাজি আইয়াজ ইবনে মুসা আল-ইয়াহসুবি (মৃত্যু ৫৪৪ হিজরি) রচনা করেছেন। এটি হাদিস পরিভাষার (المصطلح) সকল গবেষণাকে অন্তর্ভুক্ত করে না; বরং এটি কেবল হাদিস গ্রহণ (التحمل) ও প্রদানের (الأداء) পদ্ধতি এবং এ থেকে উদ্ভূত বিষয়াবলির মধ্যেই সীমাবদ্ধ। তবে এটি নিজ বিষয়ে চমৎকার এবং এর বিন্যাস ও ক্রমবিন্যাস অত্যন্ত সুন্দর।
7- মা লা ইয়াসাউল মুহাদ্দিসা জাহলুহু:
এটি আবু হাফস উমর বিন আব্দুল মাজিদ আল-মায়ানজি (মৃত্যু ৫৮০ হিজরি) রচনা করেছেন। এটি একটি ক্ষুদ্র পুস্তিকা (جزء), যাতে বিশেষ কোনো উপকারিতা নেই।
8- উলূমুল হাদিস:
এটি আবু আমর উসমান ইবনে আব্দুর রহমান আশ-শাহরাজুরি রচনা করেছেন, যিনি ইবনুস সালাহ নামে পরিচিত (মৃত্যু ৬৪৩ হিজরি)। তাঁর এই কিতাবটি মানুষের কাছে "মুকাদ্দিমাহ ইবনুস সালাহ" নামে প্রসিদ্ধ এবং এটি হাদিস পরিভাষা (المصطلح) বিষয়ক শ্রেষ্ঠ কিতাবগুলোর অন্যতম। লেখক এতে আল-খতিব এবং তাঁর পূর্ববর্তীদের অন্যান্য কিতাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বিষয়গুলোকে একত্রিত করেছেন, ফলে এটি...
(খণ্ড: ১)
তাইসীরু মুসতালাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ১৫)
كتابا حافلا بالفوائد، لكنه لم يرتبه على الوضع المناسب؛ لأنه أملاه شيئا فشيئا، وهو مع هذا عمدة من جاء بعده من العلماء، فكم من مختصِرٍ له، وناظم، ومعارض له، ومنتصر.
9- التقريب والتيسير لمعرفة سنن البشير النذير:
صنفه محيي الدين يحيى بن شرف النووي، المتوفى سنة 676هـ، وكتابه هذا اختصار لكتاب "علوم الحديث" لابن الصلاح، وهو كتاب جيد، لكنه مغلق العبارة أحيانا.
10- تدريب الراوي في شرح تقريب النواوي:
صنفه جلال الدين عبد الرحمن بن أبي بكر السيوطي، المتوفى سنة 911هـ، وهو شرح لكتاب تقريب النواوي، كما هو واضح من اسمه، جمع فيه مؤلفه من الفوائد الشيء الكثير.
11- نظم الدرر في علم الأثر:
صنفها زين الدين عبد الرحيم بن الحسين العراقي، المتوفى سنة 806هـ، ومشهورة باسم "ألفية العراقي" نظم فيها "علوم الحديث" لابن الصلاح، وزاد عليه، وهي جيدة غزيرة الفوائد، وعليها شروح متعددة، منها شرحان للمؤلف نفسه.
12- فتح المغيث في شرح ألفية الحديث:
صنفه محمد بن عبد الرحمن السخاوي، المتوفى سنة
এটি একটি উপকারে ভরপুর গ্রন্থ, তবে তিনি একে যথাযথ বিন্যাসে সাজাতে পারেননি; কারণ তিনি এটি পর্যায়ক্রমে শ্রুতিলিপি (إملاء) হিসেবে প্রদান করেছিলেন। তা সত্ত্বেও, এটি পরবর্তী যুগের আলেমদের নিকট মূল ভিত্তি (عمدة) হিসেবে গণ্য। এর বহু সংক্ষেপকারী (مختصر), কাব্যে রূপান্তরকারী (ناظم), সমালোচক (معارض) এবং সমর্থনকারী (منتصر) রয়েছেন।
৯- আত-তাক্বরীব ওয়াত-তাইসীর লি-মা'রিফাতি সুনানিল বাশিরিন নাযীর:
এটি রচনা করেছেন মুহিউদ্দীন ইয়াহইয়া ইবনে শরাফ আন-নববী, যিনি ৬৭৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর এই কিতাবটি ইবনে আস-সালাহ-এর "উলুমুল হাদিস" কিতাবের একটি সংক্ষেপ (اختصار)। এটি একটি চমৎকার গ্রন্থ, তবে এর বর্ণনাভঙ্গি কখনো কখনো দুর্বোধ্য (مغلق العبارة)।
১০- তাদরীবুর রাবী ফি শারহি তাক্বরীবিন নববী:
এটি রচনা করেছেন জালালুদ্দীন আব্দুর রহমান ইবনে আবু বকর আস-সুয়ূতী, যিনি ৯১১ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। এটি ইমাম নববীর তাক্বরীব কিতাবের একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ (شرح), যা এর নাম থেকেই স্পষ্ট। লেখক এতে প্রচুর জ্ঞানগর্ভ ও উপকারী বিষয় সংগ্রহ করেছেন।
১১- নাযমুদ দুরার ফি ইলমিল আসার:
এটি রচনা করেছেন যাইনুদ্দীন আব্দুর রহীম ইবনুল হুসাইন আল-ইরাকী, যিনি ৮০৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। এটি "আলফিয়াতুল ইরাকী" নামে প্রসিদ্ধ। এতে তিনি ইবনে আস-সালাহ-এর "উলুমুল হাদিস"-কে কাব্যে রূপান্তর (نظم) করেছেন এবং তাতে অতিরিক্ত কিছু বিষয় সংযোজন করেছেন। এটি অত্যন্ত চমৎকার ও বহুবিধ উপকারে সমৃদ্ধ। এর ওপর একাধিক ব্যাখ্যাগ্রন্থ (شرح) রয়েছে, যার মধ্যে দুটি খোদ লেখকেরই রচিত।
১২- ফাতহুল মুগীস ফি শারহি আলফিয়াতিল হাদিস:
এটি রচনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আব্দুর রহমান আস-সাখাবী, যিনি মৃত্যুবরণ করেছেন...
(খণ্ড: ১)
তাইসীরু মুসতালাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ১৬)
902هـ، وهو شرح على ألفية العراقي. وهو من أوفى شروح الألفية وأجودها.
12- نخبة الفكر في مصطلح أهل الأثر:
صنفه الحافظ ابن حجر العسقلاني، المتوفى سنة 852هـ، وهو جزء صغير مختصر جدًّا، لكنه من أنفع المختصرات وأجودها ترتيبا، ابتكر فيه مؤلفه طريقة في الترتيب والتقسيم لم يسبق إليها، وقد شرحه مؤلفه بشرح سماه "نزهة النظر" كما شرحه غيره.
14- المنظومة البيقونية:
صنفها عمر بن محمد البيقوني، المتوفى سنة 1080هـ، وهي من المنظومات المختصرة؛ إذ لا تتجاوز أربعة وثلاثين بيتا، وتعد من المختصرات النافعة المشهورة، وعليها شروح متعددة.
15- قواعد التحديث:
صنفه محمد جمال الدين القاسمي، المتوفى سنة 1332هـ وهو كتاب محرر مفيد.
وهناك مصنفات أخرى كثيرة، يطول ذكرها، اقتصرت على ذكر المشهور منها. فجزى الله الجميع عنا وعن المسلمين خير الجزاء.
৯০২ হিজরি, এবং এটি আলফিয়াতুল ইরাকি-এর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ। এটি আলফিয়ার ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোর মধ্যে অন্যতম পরিপূর্ণ ও চমৎকার একটি গ্রন্থ।
১২- নুখবাতুল ফিকার ফি মুসতালাহি আহলিল আসার:
এটি হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানি (মৃত্যু: ৮৫২ হিজরি) রচনা করেছেন। এটি একটি ক্ষুদ্র ও অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত (مختصر) পুস্তিকা, তবে এটি বিন্যাসের দিক থেকে অত্যন্ত উপকারী ও চমৎকার সংক্ষিপ্তসারগুলোর (مختصرات) মধ্যে অন্যতম। এর লেখক এতে বিন্যাস ও বিভাজনের এমন এক নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন যা ইতিপূর্বে আর কেউ করেননি। লেখক নিজেই এর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করেছেন যার নাম ‘নুজহাতুন নাযার’, এছাড়াও অন্যান্যরা এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ লিখেছেন।
১৪- আল-মানযুমাহ আল-বাইকুনিয়্যাহ:
এটি উমর ইবনে মুহাম্মদ আল-বাইকুনি (মৃত্যু: ১০৮০ হিজরি) রচনা করেছেন। এটি সংক্ষিপ্ত ছন্দবদ্ধ কাব্যগুলোর (منظومات) অন্তর্ভুক্ত; কারণ এর শ্লোক সংখ্যা চৌত্রিশটির বেশি নয়। এটি একটি প্রসিদ্ধ ও উপকারী সংক্ষিপ্তসার (مختصرات) হিসেবে গণ্য হয় এবং এর একাধিক ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছে।
১৫- কাওয়ায়েদুত তাহদিস:
এটি মুহাম্মদ জামালুদ্দিন আল-কাসিমি (মৃত্যু: ১৩৩২ হিজরি) রচনা করেছেন এবং এটি একটি সুবিন্যস্ত ও উপকারী গ্রন্থ।
এছাড়াও আরও অনেক গ্রন্থ রয়েছে যেগুলোর বর্ণনা অনেক দীর্ঘ হবে, তাই আমি কেবল প্রসিদ্ধ গ্রন্থগুলো উল্লেখ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছি। আল্লাহ তাআলা আমাদের পক্ষ থেকে এবং সকল মুসলিমের পক্ষ থেকে তাদের সকলকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।
(খণ্ড: ১)
তাইসীরু মুসতালাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ১৭)
تعريفات أولية:1- علم المصطلح:
هو علم بأصول وقواعد، يعرف بها أحوال السند والمتن، ومن حيث القبول والرد.
2- موضوعه:
موضوعه: السند والمتن من حيث القبول والرد.
3- ثمرته:
وثمرته: تمييز الصحيح من السقيم من الأحاديث.
4- الحديث:
أ- لغةً: الجديد، ويجمع على أحاديث، على خلاف القياس.
ب- اصطلاحا: ما أضيف إلى النبي صلى الله عليه وسلم من قول، أو فعل، أو تقرير، أو صفة.
5- الخبر:
أ- لغة: النبأ، وجمعه أخبار.
ب- اصطلاحا: فيه ثلاثة أقوال، وهي:
1- هو مرادف للحديث: أي أن معناها واحد اصطلاحا.
প্রাথমিক সংজ্ঞাসমূহ:১- পরিভাষা শাস্ত্র (علم المصطلح):
এটি এমন এক শাস্ত্র যা কিছু মূলনীতি ও নিয়মের সমষ্টি, যার মাধ্যমে সনদ (السند) ও মতনের (المتن) অবস্থা এবং তা গ্রহণ (القبول) বা বর্জনের (الرد) দিকটি জানা যায়।
২- এর আলোচ্য বিষয়:
এর আলোচ্য বিষয় হলো: গ্রহণ (القبول) ও বর্জনের (الرد) দিক থেকে সনদ (السند) এবং মতন (المتن)।
৩- এর ফলাফল:
এর ফলাফল হলো: হাদিসসমূহের মধ্য থেকে সহিহ (الصحيح) ও রুগ্ণ (السقيم) হাদিসকে পৃথক করা।
৪- হাদিস:
ক- শাব্দিক অর্থ: নতুন, এর বহুবচন হলো 'আহাদিস', যা ব্যাকরণগত সাধারণ নিয়মের বহির্ভূত।
খ- পারিভাষিক অর্থ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি যা কিছু সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে—চাই তা কথা, কাজ, মৌন সম্মতি (التقرير) কিংবা গুণাগুণ হোক।
৫- খবর (الخبر):
ক- শাব্দিক অর্থ: সংবাদ, এর বহুবচন হলো 'আখবার'।
খ- পারিভাষিক অর্থ: এ ব্যাপারে তিনটি অভিমত রয়েছে, যথা:
১- এটি হাদিসের সমার্থক (مرادف): অর্থাৎ পারিভাষিক অর্থে উভয়ের অর্থ অভিন্ন।
(খণ্ড: ১)
তাইসীরু মুসতালাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ১৮)
2- مغاير له: أي فالحديث: ما جاء عن النبي صلى الله عليه وسلم، والخبر: ما جاءه عن غيره.
3- أعلم منه: أي فالحديث: ما جاء عن النبي صلى الله عليه وسلم، والخبر: ما جاء عنه أو عن غيره.
6- الأثر:
أ- لغة: بقية الشيء.
ب- اصطلاحا: فيه قولان؛ هما:
1- هو مرادف للحديث: أي أن معناهما واحد اصطلاحا.
2- مغاير له: وهو ما أضيف إلى الصحابة والتابعين من أقوال أو أفعال.
7- الإسناد: له معنيان:
أ- عزو الحديث إلى قائله مسندا.
ب- سلسلة الرجال الموصِّلة للمتن، وهو بهذا المعنى مرادف للسند.
8- السند:
أ- لغةً: المعتمد، وسمي كذلك؛ لأن الحديث يستند إليه، ويعتمد عليه.
ب- اصطلاحًا: سلسلة الرجال الموصلة للمتن.
2- হাদিস থেকে ভিন্ন হওয়া: অর্থাৎ হাদিস হলো যা নবী (সা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, আর খবর (الخبر) হলো যা অন্য কারো থেকে বর্ণিত হয়েছে।
3- খবরের অর্থ হাদিসের চেয়ে ব্যাপক হওয়া: অর্থাৎ হাদিস হলো যা নবী (সা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, আর খবর (الخبر) হলো যা তাঁর থেকে অথবা অন্য কারো থেকে বর্ণিত হয়েছে।
6- আছার (الأثر):
ক- শাব্দিক অর্থ (لغة): কোনো বস্তুর অবশিষ্টাংশ।
খ- পারিভাষিক অর্থ (اصطلاحاً): এ বিষয়ে দুটি অভিমত রয়েছে; সেগুলো হলো:
1- এটি হাদিসের সমার্থক (مرادف): অর্থাৎ পারিভাষিক অর্থে উভয়ের অর্থ অভিন্ন।
2- এটি হাদিসের ভিন্ন হওয়া: আর তা হলো সাহাবী ও তাবেয়ীদের বক্তব্য বা কর্মের দিকে যা সম্বন্ধযুক্ত করা হয়।
7- ইসনাদ (الإسناد): এর দুটি অর্থ রয়েছে:
ক- হাদিসকে তার প্রবক্তার দিকে সনদসহ (مسنداً) সম্বন্ধযুক্ত করা।
খ- মতন (المتن) পর্যন্ত পৌঁছানোর বর্ণনাকারীদের ধারাবাহিকতা; আর এই অর্থে এটি সনদের (السند) সমার্থক।
8- সনদ (السند):
ক- শাব্দিক অর্থ (لغة): নির্ভরযোগ্য বা অবলম্বন (المعتمد); একে এই নামকরণ করা হয়েছে কারণ হাদিস এর ওপর ভিত্তি করে এবং এর ওপর নির্ভর করে।
খ- পারিভাষিক অর্থ (اصطلاحاً): মতন (المتن) পর্যন্ত পৌঁছানোর বর্ণনাকারীদের ধারাবাহিকতা।
(খণ্ড: ১)
তাইসীরু মুসতালাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ১৯)
9- المتن:
أ- لغةً: ما صلب وارتفع من الأرض.
ب- اصطلاحًا: ما ينتهي إليه السند من الكلام.
10- المسنَد: "بفتح النون".
أ- لغةً: اسم مفعول، من أسند الشيء إليه، بمعنى: عزاه ونسبه إليه.
ب- اصطلاحًا: له ثلاثة معانٍ:
1- كل كتاب جمع فيه مرويات كل صحابي على حدة.
2- الحديث المرفوع المتصل سندا.
3- أن يراد به "السند" فيكون بهذا المعنى مصدرا ميميا.
11- المسنِد: "بكسر النون".
هو من يروي الحديث بسنده، سواء أكان عنده علم به، أم ليس له إلا مجرد الرواية.
12- المحدِّث:
هو من يشتغل بعلم الحديث رواية ودراية، ويطَّلِع على كثير من الروايات، وأحوال رواتها.
13- الحافظ:
فيه قولان:
أ- مرادف للمحدِّث عند كثير من المحدثين.
9- মূলপাঠ (متن):
ক- শাব্দিক অর্থ (لغةً): ভূমির শক্ত ও উঁচু অংশ।
খ- পারিভাষিক অর্থ (اصطلاحًا): সনদ বা সূত্রের (سند) শেষ প্রান্তের মূল বক্তব্য।
10- মুসনাদ: "নূন বর্ণে জবরসহ"।
ক- শাব্দিক অর্থ (لغةً): এটি একটি কর্মবাচক বিশেষ্য (اسم مفعول), যা ‘কোনো কিছুকে সম্বন্ধ করা’ থেকে ব্যুৎপন্ন; এর অর্থ হলো: কোনো বিষয়কে অন্য কারো দিকে ধাবিত করা বা সম্বন্ধযুক্ত করা।
খ- পারিভাষিক অর্থ (اصطلاحًا): এর তিনটি অর্থ রয়েছে:
1- এমন প্রত্যেক কিতাব যেখানে প্রত্যেক সাহাবীর (صحابي) বর্ণিত হাদিসসমূহ পৃথক পৃথকভাবে সংকলন করা হয়েছে।
2- মারফু (مرفوع) হাদিস যার সনদ বা সূত্র (سند) নিরবচ্ছিন্ন (متصل)।
3- এর দ্বারা ‘সূত্র’ (سند) উদ্দেশ্য হওয়া; সেক্ষেত্রে এই অর্থে এটি একটি মাসদারে মিমি (مصدر ميمي) হিসেবে গণ্য হবে।
11- মুসনিদ (مسند): "নূন বর্ণে যেরসহ"।
যিনি হাদিসকে তার সনদসহ (سند) বর্ণনা করেন; চাই সেই হাদিস সম্পর্কে তার জ্ঞান থাকুক বা কেবল বর্ণনাই (رواية) তার সম্বল হোক।
12- মুহাদ্দিস (محدث):
যিনি হাদিস শাস্ত্রের রিওয়ায়াত (رواية) এবং দিরায়াত (دراية) উভয় দিক নিয়ে ব্যাপৃত থাকেন এবং প্রচুর সংখ্যক বর্ণনা ও বর্ণনাকারীদের (رواة) অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত অবগত থাকেন।
13- হাফেজ (حافظ):
এ বিষয়ে দুটি অভিমত রয়েছে:
ক- অধিকাংশ মুহাদ্দিসের (محدثين) নিকট এটি মুহাদ্দিস (محدث) শব্দের সমার্থক।
(খণ্ড: ১)
তাইসীরু মুসতালাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ২০)
ب- وقيل: هو أرفع درجة من المحدث، بحيث يكون ما يعرفه في كل طبقة أكثر مما يجهله.
14- الحاكم:
هو: من أحاط علما بجميع الأحاديث، حتى لا يفوته منها إلا اليسير، وهذا على رأي بعض أهل العلم.
খ- এবং বলা হয়েছে: তিনি মুহাদ্দিস (المحدث)-এর চেয়ে উচ্চতর স্তরের, যাতে প্রতিটি স্তরে (طبقة) তাঁর জানা বিষয়গুলো অজানা বিষয়ের তুলনায় অধিক হয়।
১৪- আল-হাকিম (الحاكم):
তিনি হলেন: যিনি সমস্ত হাদিস সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান রাখেন, যাতে সামান্য কিছু ব্যতীত কোনো কিছুই তাঁর অগোচরে থাকে না; আর এটি কোনো কোনো পণ্ডিতের (أهل العلم) অভিমত।
(খণ্ড: ১)
তাইসীরু মুসতালাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الباب الأول: الخبر
الفصل الأول: تقسيم الخبر بالنسبة لوصوله إلينا
المبحث الأول: الخبر المتواتر…الباب الأول: الخبر
الفصل الأول: تقسيم الخبر بالنسبة لوصوله إلينا
تمهيد:
ينقسم الخبر بالنسبة لوصوله إلينا إلى قسمين:
1- فإن كان له طرق غير محصورة بعدد معين، فهو المتواتر.
2- وإن كان له طرق محصورة بعدد معين، فهو الآحاد.
ولكل منهما أقسام وتفاصيل، سأذكرها وأبسطها إن شاء الله تعالى، بمبحثين، وهما.
المبحث الأول: الخبر المتواتر
1- تعريفه:
أ- لغةً: هو اسم فاعل، مشتق من التواتر، أي التتابع، تقول: تواتر المطر، أي تتابع نزوله.
ب- اصطلاحًا: ما رواه عدد كثير، تُحِيل العادة تواطُؤَهم على الكذب.
2- شرح التعريف:
ومعنى التعريف: أن المتواتر هو الحديث أو الخبر الذي يرويه في
প্রথম অধ্যায়: সংবাদ (خبر)প্রথম পরিচ্ছেদ: আমাদের নিকট পৌঁছানোর প্রেক্ষিতে সংবাদের (خبر) প্রকারভেদপ্রথম পরিচ্ছেদ: মুতাওয়াতির (متواتر) সংবাদ (خبر)…প্রথম অধ্যায়: সংবাদ (خبر)
প্রথম পরিচ্ছেদ: আমাদের নিকট পৌঁছানোর প্রেক্ষিতে সংবাদের (خبر) প্রকারভেদ
ভূমিকা:
আমাদের নিকট পৌঁছানোর সূত্রের সংখ্যার ভিত্তিতে সংবাদকে (خبر) দুই ভাগে ভাগ করা হয়:
1- যদি সংবাদটির এমন অনেকগুলো সূত্র থাকে যা কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা দ্বারা সীমাবদ্ধ নয়, তবে তা মুতাওয়াতির (متواتر)।
2- আর যদি এর সূত্রগুলো নির্দিষ্ট সংখ্যা দ্বারা সীমাবদ্ধ থাকে, তবে তা আহাদ (آحاد)।
এদের প্রত্যেকটির বিভিন্ন প্রকারভেদ ও বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে, যা আমি ইনশাআল্লাহ তাআলা দুটি পরিচ্ছেদে বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করব। সেগুলো হলো:
প্রথম পরিচ্ছেদ: মুতাওয়াতির (متواتر) সংবাদ (خبر)
1- সংজ্ঞা:
ক- শাব্দিক অর্থ: এটি একটি ‘ইসমে ফায়েল’ (কর্তৃবাচক বিশেষ্য), যা ‘তাওয়াতুর’ (تواتر) শব্দ থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ ধারাবাহিকতা। যেমন বলা হয়: বৃষ্টি ‘তাওয়াতুর’ (تواتر) হয়েছে, অর্থাৎ বৃষ্টির ধারা অনবরত বা ধারাবাহিকভাবে বর্ষিত হয়েছে।
খ- পারিভাষিক অর্থ: যা এমন এক বিশাল সংখ্যক বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন, যাদের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক অভ্যাসের ভিত্তিতে মিথ্যা বলার জন্য ঐক্যবদ্ধ হওয়া অসম্ভব।
2- সংজ্ঞার ব্যাখ্যা:
সংজ্ঞার তাৎপর্য হলো: মুতাওয়াতির (متواتر) হলো এমন হাদিস বা সংবাদ (خبر) যার বর্ণনায়...
(খণ্ড: ১)
তাইসীরু মুসতালাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ২৪)
كل طبقة من طبقات سنده رواة كثيرون، يحكم العقل عادة باستحالة أن يكون أولئك الرواة قد اتفقوا على اختلاق هذا الخبر.
3- شروطه:
يتبين من شرح التعريف أن التواتر لا يتحقق في الخبر إلا بشروط أربعة وهي:
أ- أن يرويه عدد كثير، وقد اختلف في أقل الكثرة على أقوالٍ، المختار أنه عشرة أشخاص1.
ب- أن توجد هذه الكثرة في جميع طبقات السند.
ج- أن تحيل العادة تواطؤهم على الكذب2.
د- أن يكون مستند خبرهم الحس؛ كقولهم: سمعنا، أو رأينا، أو لمسنا، أو
… أما إن كان مستند خبرهم العقل، كالقول بحدوث العالم مثلا، فلا يسمى الخبر حينئذ متواترا.
4- حُكْمُهُ:
المتواتر يفيد العلم الضروري، أي العلم اليقيني الذي يضطر الإنسان إلى التصديق به تصديقا جازما، كمن يشاهد الأمر بنفسه؛ فإنه لا يتردد
--------------------------------------------
এর সনদের (سند) প্রতিটি স্তরেই (طبقة) এমন বহু সংখ্যক বর্ণনাকারী (رواة) থাকেন যে, বুদ্ধি সাধারণত এটি অসম্ভব মনে করে যে, সেই বর্ণনাকারীরা (رواة) এই সংবাদটি কৃত্রিমভাবে উদ্ভাবন করার বিষয়ে একমত হয়েছেন।
৩- এর শর্তসমূহ:
সংজ্ঞার ব্যাখ্যা থেকে এটি স্পষ্ট হয় যে, চারটি শর্ত পূরণ হওয়া ব্যতীত কোনো সংবাদের ক্ষেত্রে মুতাওয়াতির (متواتر) হওয়া বাস্তবায়িত হয় না। সেগুলো হলো:
ক- বিপুল সংখ্যক বর্ণনাকারী (رواة) এটি বর্ণনা করবেন। বর্ণনাকারীদের সর্বনিম্ন সংখ্যার ব্যাপারে বিভিন্ন মতভেদ রয়েছে; তবে গ্রহণযোগ্য মত হলো এটি দশ জন ব্যক্তি হতে হবে।
খ- সনদের (سند) প্রতিটি স্তরেই (طبقة) এই আধিক্য বিদ্যমান থাকা।
গ- সাধারণ অভ্যাসের আলোকে তাদের সকলের মিথ্যা (كذب) বলার ওপর ঐকমত্য পোষণ করা অসম্ভব হওয়া।
ঘ- তাদের সংবাদের ভিত্তি যেন হয় ইন্দ্রিয়লব্ধ অনুভূতি; যেমন তাদের এই বলা যে: 'আমরা শুনেছি', অথবা 'আমরা দেখেছি', অথবা 'আমরা স্পর্শ করেছি', অথবা
… পক্ষান্তরে যদি তাদের সংবাদের ভিত্তি হয় যুক্তি বা বুদ্ধি, যেমন বিশ্ব সৃষ্টির নশ্বরতার কথা বলা, তবে সেক্ষেত্রে সেই সংবাদকে মুতাওয়াতির (متواتر) বলা হবে না।
৪- এর বিধান:
মুতাওয়াতির (متواتر) সংবাদ অত্যাবশ্যকীয় জ্ঞান (العلم الضروري) প্রদান করে, অর্থাৎ এমন নিশ্চিত জ্ঞান যা মানুষকে দৃঢ়ভাবে তা বিশ্বাস করতে বাধ্য করে, যেমন কোনো ব্যক্তি নিজে কোনো বিষয় প্রত্যক্ষ করলে যেরকম বিশ্বাস জন্মে; ফলে সে এ ব্যাপারে কোনো দ্বিধা বোধ করে না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাইসীরু মুসতালাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ২৫)
في تصديقه، فكذلك الخبر المتواتر، لذلك كان المتواتر كله مقبولا، ولا حاجة إلى البحث عن أحوال رواته.
5- أقسامه:
ينقسم الخبر المتواتر إلى قسمين هما: لفظي، ومعنوي:
أ- المتواتر اللفظي: وهو ما تواتر لفظه ومعناه.
مثل حديث: "من كذب علي متعمدا فليتبوأ مقعده من النار" 1. رواه بضعة وسبعون صحابيا. ثم استمرت هذه الكثرة -بل زادت- في باقي طبقات السند.
ب- المتواتر المعنوي: هو ما تواتر معناه دون لفظه.
مثل: أحاديث رفع اليدين في الدعاء، فقد ورد عنه صلى الله عليه وسلم نحو مائة حديث، كل حديث منها فيه: أنه رفع يديه في الدعاء، لكنها في قضايا مختلفة، فكل قضية منها لم تتواتر، والقدر المشترك بينها -وهو الرفع عند الدعاء- تواتر باعتبار مجموع الطرق2.
6- وجوده:
--------------------------------------------
তাকে সত্য বলে মেনে নেওয়ার ক্ষেত্রেও একইভাবে মুতাওয়াতির খবর (الخبر المتواتر)-এর বিষয়টি প্রযোজ্য। এই কারণে সকল মুতাওয়াতির (المتواتر) খবরই গ্রহণযোগ্য (مقبول) এবং এর বর্ণনাকারীদের (رواة) অবস্থা সম্পর্কে অনুসন্ধান করার কোনো প্রয়োজন নেই।
৫- এর প্রকারভেদ:
মুতাওয়াতির খবর (الخبر المتواتر) দুই ভাগে বিভক্ত, সেগুলো হলো: শব্দগত (لفظي) এবং অর্থগত (معنوي):
ক- শব্দগত মুতাওয়াতির (المتواتر اللفظي): এটি হলো সেই হাদিস যার শব্দ এবং অর্থ উভয়ই মুতাওয়াতির (تواتر) পর্যায়ে পৌঁছেছে।
যেমন হাদিস: "যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়"। এটি সত্তর জনেরও বেশি সাহাবি (صحابي) বর্ণনা করেছেন। এরপর সনদের (السند) বাকি স্তরগুলোতেও (طبقات) এই আধিক্য অব্যাহত ছিল—বরং আরও বৃদ্ধি পেয়েছিল।
খ- অর্থগত মুতাওয়াতির (المتواتر المعنوي): এটি হলো সেই হাদিস যার শব্দ নয় বরং কেবল অর্থ মুতাওয়াতির (تواتر) পর্যায়ে পৌঁছেছে।
যেমন: দোয়ার সময় হাত তোলার হাদিসসমূহ। এ প্রসঙ্গে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রায় একশটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে। এর প্রতিটি হাদিসেই উল্লেখ আছে যে, তিনি দোয়ার সময় হাত তুলেছেন, তবে সেগুলো ভিন্ন ভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষাপটে ছিল। ফলে প্রতিটি একক ঘটনা মুতাওয়াতির (تواتر) পর্যায়ে পৌঁছায়নি, তবে সেগুলোর মধ্যকার অভিন্ন বিষয় (القدر المشترك)—অর্থাৎ দোয়ার সময় হাত তোলা—সমস্ত সূত্রগুলোর (الطرق) সমষ্টির বিচারে মুতাওয়াতির (تواتر) হিসেবে গণ্য।
৬- এর অস্তিত্ব:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাইসীরু মুসতালাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ২৬)
يوجد عدد لا بأس به من الأحاديث المتواترة، منها حديث الحوض، وحديث المسح على الخفين، وحديث رفع اليدين في الصلاة، وحديث: " نضر الله امرأ"، وغيرها كثير؛ لكن لو نظرنا إلى عدد أحاديث الآحاد لوجدنا أن الأحاديث المتواترة قليلة جدا بالنسبة إليها.
7- أشهر المصنفات فيه:
لقد اعتنى العلماء بجمع الأحاديث المتواترة وجعلها في مصنف مستقل؛ ليسهل على الطالب الرجوع إليها، فمن تلك المصنفات:
أ- الأزهار المتناثرة في الأخبار المتواترة: السيوطي، وهو مرتب على الأبواب.
ب- قطف الأزهار: للسيوطي أيضا، وهو تلخيص للكتاب السابق.
ج- نظم المتناثر من الحديث المتواتر: لمحمد بن جعفر الكتاني.
উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মুতাওয়াতির (متواتر) হাদিস বিদ্যমান রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হাউজ সংক্রান্ত হাদিস, মোজার ওপর মাসাহ করার হাদিস, নামাজে হাত তোলার (রাফউল ইয়াদাইন) হাদিস এবং "আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সজীব ও উজ্জ্বল রাখুন..." শীর্ষক হাদিসসহ আরও অনেক হাদিস। তবে আমরা যদি আহাদ (آحاد) হাদিসের সংখ্যার দিকে লক্ষ্য করি, তবে দেখব যে সেগুলোর তুলনায় মুতাওয়াতির (متواتر) হাদিসের সংখ্যা খুবই কম।
৭- এ বিষয়ের প্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহ:
আলেমগণ মুতাওয়াতির (متواتر) হাদিসগুলো সংগ্রহ করতে এবং সেগুলোকে স্বতন্ত্র গ্রন্থে সংকলিত করতে যত্নবান হয়েছেন; যাতে শিক্ষার্থীর জন্য সেগুলো খুঁজে পাওয়া সহজ হয়। এ জাতীয় গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে:
ক- আল-আজহার আল-মুতানাসিরাহ ফিল আখবার আল-মুতাওয়াতিরাহ: সুয়ূতি রচিত; এটি অধ্যায়ভিত্তিক (আবওয়াব) বিন্যস্ত।
খ- কাতফুল আজহার: এটিও সুয়ূতি রচিত এবং এটি পূর্বোক্ত কিতাবটির সংক্ষিপ্তসার।
গ- নাজমুল মুতানাসির মিনাল হাদিস আল-মুতাওয়াতির: মুহাম্মদ ইবনে জাফর আল-কাত্তানি রচিত।
(খণ্ড: ১)
তাইসীরু মুসতালাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ২৭)
المبحث الثاني: خبر الآحاد1- تعريفه:
أ- لغةً: الآحاد: جمع أحد، بمعنى: الواحد، وخبر الواحد هو: ما يرويه شخص واحد.
ب- اصطلاحًا: هو ما لم يجمع شروط المتواتر1.
2- حكمه:
يفيد العلم النظري؛ أي العلم المتوقف على النظر والاستدلال.
هذا ولخبر الآحاد تقسيمان، كل تقسيم باعتبار. وسأذكر هذين التقسيمين في الفصل الثاني.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: খবরুল আহাদ (خبر الآحاد)১- এর সংজ্ঞা:
ক- শাব্দিক অর্থ: আহাদ (آحاد) শব্দটি আহাদ (أحد)-এর বহুবচন, যার অর্থ: এক। আর খবরুল ওয়াহিদ হলো: যা একজন ব্যক্তি বর্ণনা করেন।
খ- পারিভাষিক অর্থ: এটি এমন বিষয় যা মুতাওয়াতির (متواتر)-এর শর্তাবলি পূরণ করেনি।১
২- এর বিধান:
এটি তাত্ত্বিক জ্ঞান (العلم النظري) প্রদান করে; অর্থাৎ এমন জ্ঞান যা পর্যবেক্ষণ ও দলীল-প্রমাণের ওপর নির্ভরশীল।
খবরুল আহাদ (خبر الآحاد)-এর দুটি প্রকারভেদ রয়েছে, প্রতিটি প্রকারভেদ ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচ্য। আমি দ্বিতীয় অধ্যায়ে এই দুই প্রকারভেদ সম্পর্কে আলোচনা করব।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাইসীরু মুসতালাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৩০)
الفصل الثاني: تقسيما خبر الآحاد
المبحث الأول: تقسيم خبر الآحاد بالنسبة إلى عدد طرقه
المطلب الأول: المشهور…الفصل الثاني: تقسيم خبر الآحاد
المبحث الأول: تقسيم خبر الآحاد بالنسبة إلى عدد طرقه
المطلب الأول: المشهور
1- تعريفه:
أ- لغةً: هو اسم مفعول من "شهرت الأمر" إذا أعلنته وأظهرته، وسمي بذلك لظهوره.
ب- اصطلاحًا: ما رواه ثلاثة فأكثر -في كل طبقة- ما يبلغ حد التواتر1.
2- مثاله: حديث: "إن الله لا يقبض العلم انتزاعا ينتزعه من صدور العلماء، ولكن يقبض العلم بقبض العلماء، حتى إذا لم يبق عالما اتخذ الناس رءوسا جُهَّالًا، فسُئِلوا فأفتوا بغير علم، فضلوا وأضلوا" 2.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় অধ্যায়: খবরুল আহাদ (خبر الآحاد)-এর দুই প্রকার বিভাজনপ্রথম পরিচ্ছেদ: বর্ণনার সূত্রের সংখ্যার ভিত্তিতে খবরুল আহাদ (خبر الآحاد)-এর প্রকারভেদপ্রথম বিষয়: মশহুর (مشهور)…দ্বিতীয় অধ্যায়: খবরুল আহাদ (خبر الآحاد)-এর বিভাজন
প্রথম পরিচ্ছেদ: বর্ণনার সূত্রের সংখ্যার ভিত্তিতে খবরুল আহাদ (خبر الآحاد)-এর প্রকারভেদ
প্রথম বিষয়: মশহুর (مشهور)
১- এর সংজ্ঞা:
ক- আভিধানিক অর্থ: এটি "শাহারতুল আমরা" (আমি বিষয়টি প্রকাশ করলাম) বাক্য থেকে আগত কর্মবাচক বিশেষ্য বা ইসমে মাফউল (اسم مفعول); এর সুখ্যাতি ও প্রসারের কারণে একে এই নামে নামকরণ করা হয়েছে।
খ- পারিভাষিক অর্থ: যা প্রত্যেক স্তরে (طبقة) অন্তত তিনজন বা তার অধিক বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন, যতক্ষণ না তা মুতাওয়াতির (تواتر) এর পর্যায়ে পৌঁছায়।
২- এর উদাহরণ: হাদিস: "নিশ্চয়ই আল্লাহ (মানুষের) অন্তর থেকে টেনে বের করে নেওয়ার মাধ্যমে জ্ঞান কবজ করবেন না; বরং তিনি আলেমদের মৃত্যুর মাধ্যমেই জ্ঞান উঠিয়ে নেবেন। এমনকি যখন কোনো আলেম অবশিষ্ট থাকবে না, তখন মানুষ মূর্খদের নেতা হিসেবে গ্রহণ করবে। এরপর তাদের নিকট ফতোয়া চাওয়া হলে তারা জ্ঞান ছাড়াই ফতোয়া প্রদান করবে, ফলে তারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট হবে এবং অন্যকেও পথভ্রষ্ট করবে।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাইসীরু মুসতালাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৩২)
3- المستفيض:
أ- لغةً: اسم فاعل، من "استفاض" مشتق من فاض الماء وسمي بذلك لانتشاره.
ب- اصطلاحًا: اختلف في تعريفه على ثلاثة أقوال، وهي:
- هو مرادف للمشهور.
- هو أخص منه؛ لأنه يشترط في المستفيض أن يستوي طرفا إسناده، ولا يشترط ذلك في المشهور.
- هو أعم منه، أي هو عكس القول الثاني.
4- المشهور غير الاصطلاحي:
ويقصد به ما اشتهر على الألسنة من غير شروط تعتبر؛ فيشمل:
أ- ما له إسناد واحد.
ب- وما له أكثر من إسناد.
ج- وما لا يوجد له إسناد أصلا.
5- أنواع المشهور غير الاصطلاحي:
له أنواع كثيرة، أشهرها:
أ- مشهور بين أهل الحديث خاصة: ومثاله: حديث أنس:
৩- মুস্তাফিয (المستفيض):
ক- শাব্দিক অর্থে (لغةً): এটি একটি কর্তাবাচক বিশেষ্য (اسم فاعل), যা "ইস্তিফাদা" শব্দ থেকে গৃহীত। এটি মূলত 'পানি উপচে পড়া' বা 'প্রবাহিত হওয়া' থেকে নির্গত এবং এর ব্যাপক প্রচার ও প্রসারের কারণে একে এই নামে নামকরণ করা হয়েছে।
খ- পারিভাষিক অর্থে (اصطلاحًا): এর সংজ্ঞার ক্ষেত্রে তিনটি অভিমত রয়েছে, যথা:
- এটি মশহুর (المشهور)-এর সমার্থক।
- এটি মশহুর অপেক্ষা অধিক বিশিষ্ট বা সুনির্দিষ্ট (أخص); কারণ মুস্তাফিয (المستفيض)-এর শর্ত হলো এর সনদের (إسناد) উভয় প্রান্তের বর্ণনাকারী সংখ্যা সমান হতে হবে, যা মশহুর (المشهور)-এর ক্ষেত্রে শর্ত নয়।
- এটি মশহুর অপেক্ষা অধিক সাধারণ বা ব্যাপক (أعم); অর্থাৎ এটি দ্বিতীয় মতের বিপরীত।
৪- অ-পারিভাষিক মশহুর (المشهور غير الاصطلاحي):
এর দ্বারা এমন সব হাদিসকে বোঝানো হয় যা কোনো নির্দিষ্ট শর্ত ছাড়াই মানুষের মুখে মুখে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে; এর অন্তর্ভুক্ত হলো:
ক- যার কেবল একটি মাত্র সনদ (إسناد) রয়েছে।
খ- যার একাধিক সনদ (إسناد) রয়েছে।
গ- যার আদৌ কোনো মূল সনদ (إسناد) নেই।
৫- অ-পারিভাষিক মশহুর (المشهور غير الاصطلاحي)-এর প্রকারভেদ:
এর অনেক প্রকার রয়েছে, যার মধ্যে প্রসিদ্ধতম হলো:
ক- বিশেষ করে হাদিস বিশারদদের নিকট মশহুর (مشهور): এর উদাহরণ হলো আনাস-এর বর্ণিত হাদিস:
(খণ্ড: ১)
তাইসীরু মুসতালাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قنت شهرا بعد الركوع يدعو على رعل وذكوان1.
ب- مشهور بين أهل الحديث، والعلماء، والعوام: مثاله: "المسلم من سلم المسلمون من لسانه ويده" 2.
ج- مشهور بين الفقهاء: مثاله: حديث: "أبغض الحلال إلى الله الطلاق" 3.
د- مشهور بين الأصوليين: مثاله: حديث: "رفع عن أمتي الخطأ والنسيان وما استكرهوا عليه". صححه ابن حبان، والحاكم.
هـ- مشهور بين النحاة: مثاله: حديث: "نعم العبد صهيب، لو لم يخف الله لم يعصه". لا أصل له.
و مشهور بين العامة: مثاله: حديث "العجلة من الشيطان".
أخرجه الترمذي وحسنه.
6- حكم المشهور:
المشهور الاصطلاحي وغير الاصطلاحي لا يوصف بكونه صحيحًا أو غير صحيح ابتداء، لكن بعد البحث يتبين أن منه
--------------------------------------------
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকু’র পর এক মাস কুনুত পাঠ করেছিলেন এবং রি’ল ও যাকওয়ান গোত্রের বিরুদ্ধে বদদোয়া করেছিলেন১।
খ- হাদিস বিশারদ, আলিম এবং সাধারণ জনগণের মাঝে প্রসিদ্ধ (مشهور): এর উদাহরণ হলো: "প্রকৃত মুসলিম সেই ব্যক্তি, যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিমরা নিরাপদ থাকে।" ২
গ- ফকিহগণের নিকট প্রসিদ্ধ (مشهور): এর উদাহরণ হলো হাদিস: "আল্লাহর নিকট সবচেয়ে অপ্রিয় হালাল কাজ হলো তালাক।" ৩
ঘ- উসুলবিদদের নিকট প্রসিদ্ধ (مشهور): এর উদাহরণ হলো হাদিস: "আমার উম্মতের ভুলবশত কাজ, বিস্মৃতি এবং জবরদস্তিমূলক কাজ ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে।" একে ইবনে হিব্বান এবং হাকেম সহিহ (صححه) সাব্যস্ত করেছেন।
ঙ- ব্যাকরণবিদদের নিকট প্রসিদ্ধ (مشهور): এর উদাহরণ হলো হাদিস: "সুহাইব কতই না উত্তম বান্দা, যদি সে আল্লাহকে ভয় না-ও করত, তবুও তাঁর অবাধ্য হতো না।" এর কোনো ভিত্তি নেই (لا أصل له)।
চ- সাধারণ মানুষের নিকট প্রসিদ্ধ (مشهور): এর উদাহরণ হলো হাদিস "তাড়াহুড়ো শয়তানের পক্ষ থেকে।"
তিরমিজি এটি বর্ণনা করেছেন এবং একে হাসান (حسنه) বলেছেন।
৬- প্রসিদ্ধ (المشهور) হাদিসের বিধান:
পারিভাষিক ও অপারিভাষিক প্রসিদ্ধ (المشهور) হাদিসকে শুরুতেই সহিহ (صحيح) বা অ-সহিহ (غير صحيح) হিসেবে গুণান্বিত করা যায় না, বরং অনুসন্ধানের পর প্রতীয়মান হয় যে এর মধ্যে রয়েছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাইসীরু মুসতালাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
الصحيح، ومنه الحسن، ومنه الضعيف، ومنه الموضوع أيضا لكن إن صح المشهور الاصطلاحي، فتكون له ميزة ترجحه على العزيز والغريب.
7- أشهر المصنفات فيه:
المراد بالمصنفات في الأحاديث المشهورة هي الأحاديث المشهورة على الألسنة، وليست المشهورة اصطلاحا؛ لأنه يؤلف العلماء كتبا في جمع الأحاديث المشهورة اصطلاحا. ومن هذه المصنفات:
أ- المقاصد الحسنة، فيما اشتهر على الألسنة، للسخاوي.
ب- كشف الخفاء، ومزيل الإلباس، فيما اشتهر من الحديث على ألسنة الناس، للعجلوني.
ج- تمييز الطيب من الخبيث، فيما يدور على ألسنة الناس من الحديث، لابن الدَّيْبَع الشيباني.
সহিহ (صحيح), এর অন্তর্ভুক্ত হাসান (حسن), আবার এর মধ্যে দুর্বল (ضعيف) এবং জাল (موضوع) হাদিসও রয়েছে। তবে যদি পারিভাষিক মাশহুর (المشهور الاصطلاحي) হাদিসটি বিশুদ্ধ (صحيح) হয়, তবে আজিজ (عزيز) ও গারিব (غريب) হাদিসের তুলনায় এটি বিশেষত্বের অধিকারী হয় যা একে অগ্রাধিকার দান করে।
৭- এ বিষয়ের প্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহ:
মাশহুর হাদিস বিষয়ক গ্রন্থাবলি দ্বারা উদ্দেশ্য হলো মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত প্রসিদ্ধ হাদিসসমূহ, পারিভাষিক মাশহুর (المشهور اصطلاحا) হাদিস নয়; কেননা আলেমগণ পারিভাষিক মাশহুর (المشهور اصطلاحا) হাদিসসমূহ সংকলনে গ্রন্থ রচনা করেন। এ সকল গ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
ক- আস-সাখাভী রচিত 'আল-মাকাসিদুল হাসানা ফিমা ইশতাহারা আলাল আলসিনাহ'।
খ- আল-আজলুনী রচিত 'কাশফুল খাফা ওয়া মুজিলুল ইলবাস ফিমা ইশতাহারা মিনাল হাদিস আলা আলসিনাতিন নাস'।
গ- ইবনে দাইবা আশ-শায়বানী রচিত 'তাময়ীয়ুত তাইয়িব মিনাল খাবিস ফিমা ইয়াদুরু আলা আলসিনাতিন নাস মিনাল হাদিস'।
(খণ্ড: ১)
তাইসীরু মুসতালাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
المطلب الثاني: العزيز1- تعريفه:
أ- لغة: هو صفة مشبهة، من "عز يعز" بالكسر، أي قل وندر، أو من "عز يعز" بالفتح، أي قوي واشتد، وسمي بذلك إما لقلة وجوده وندرته، وإما لقوته، بمجيئه من طريق آخر.
ب- اصطلاحا: أن لا يقل رواته عن اثنين في جميع طبقات السند.
2- شرح التعريف:
يعني ألا يوجد في طبقة من طبقات السند أقل من اثنين؛ أما إن وجد في بعض طبقات السند ثلاثة فأكثر فلا يضر، بشرط أن تبقى ولو طبقة واحدة فيها اثنان؛ لأن العبرة لأقل طبقة من طبقات السند.
هذا التعريف هو الراجح، كما حرره الحافظ ابن حجر1، وقال بعض العلماء: إن العزيز: هو رواية اثنين أو ثلاثة، فلم يفصلوه عن المشهور في بعض صوره.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আজিজ (العزيز)১- এর সংজ্ঞা:
ক- শাব্দিক অর্থ: এটি একটি গুণবাচক শব্দ (صفة مشبهة), যা "আজ্জা ইয়া'ইজ্জু" (عز يعز) থেকে উদ্গত যার অর্থ হলো—অল্প হওয়া বা দুর্লভ হওয়া; অথবা এটি "আজ্জা ইয়া'আজ্জু" (عز يعز) থেকে উদ্গত যার অর্থ হলো—শক্তিশালী হওয়া বা প্রবল হওয়া। এর এরূপ নামকরণের কারণ হয় এর স্বল্পতা ও দুর্লভতা, অথবা অন্য একটি সূত্রের মাধ্যমে আসার কারণে এর শক্তিশালী হওয়া।
খ- পারিভাষিক অর্থ: সনদের (السند) প্রতিটি স্তরে (طبقات) বর্ণনাকারীর সংখ্যা দুইয়ের কম না হওয়া।
২- সংজ্ঞার ব্যাখ্যা:
অর্থাৎ সনদের (السند) কোনো স্তরেই (طبقة) যেন দুইয়ের কম বর্ণনাকারী না থাকে। তবে যদি সনদের কোনো স্তরে তিনজন বা তার বেশি থাকে তবে তাতে কোনো অসুবিধা নেই, শর্ত হলো অন্তত একটি স্তরে হলেও যেন দুইজন থাকে; কারণ সনদের (السند) সর্বনিম্ন স্তরের সংখ্যাই এখানে বিবেচ্য।
এটিই গ্রহণযোগ্য (الراجح) সংজ্ঞা, যা হাফিজ (الحافظ) ইবনে হাজার বিশ্লেষণ করেছেন। এবং কোনো কোনো আলেম বলেছেন: আজিজ (العزيز) হলো দুই বা তিনজনের বর্ণনা, ফলে তাঁরা একে কিছু ক্ষেত্রে মশহুর (المشهور) থেকে পৃথক করেননি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাইসীরু মুসতালাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
3- مثاله:
ما رواه الشيخان من حديث أنس، والبخاري من حديث أبي هريرة؛ أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "لا يؤمن أحدكم حتى أكون أحب إليه من والده، وولده، والناس أجمعين" 1.
ورواه عن أنس قتادة وعبد العزيز بن صهيب، ورواه عن قتادة شعبة وسعيد، ورواه عن عبد العزيز إسماعيل بن علية وعبد الوارث، ورواه عن كلٍّ جماعة.
4- أشهر المصنفات فيه:
لم يصنف العلماء مصنفات خاصة بالحديث العزيز، والظاهر ذلك لقلته، ولعدم حصول فائدة مهمة من تلك المصنفات.
وهذا رسم توضيحي للمثال.
--------------------------------------------
৩- এর উদাহরণ:
শায়খাইন (দুই শাইখ) আনাস (রা.)-এর হাদিস থেকে এবং বুখারি আবু হুরায়রা (রা.)-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন যে; আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না আমি তার নিকট তার পিতা, তার সন্তান এবং সকল মানুষের চেয়ে অধিক প্রিয় হই" ১।
আর আনাস (রা.) থেকে এটি কাতাদাহ ও আব্দুল আজিজ বিন সুহাইব বর্ণনা করেছেন। কাতাদাহ থেকে শু'বাহ ও সাঈদ বর্ণনা করেছেন। আর আব্দুল আজিজ থেকে ইসমাইল ইবনে উলইয়্যাহ ও আব্দুল ওয়ারিস বর্ণনা করেছেন। এবং তাদের প্রত্যেকের থেকে একদল বর্ণনাকারী এটি বর্ণনা করেছেন।
৪- এই বিষয়ে প্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহ:
আলেমগণ আজিজ (عزيز) হাদিস নিয়ে বিশেষ কোনো স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেননি। দৃশ্যত এর কারণ হলো এই প্রকারের হাদিসের স্বল্পতা এবং এ ধরনের গ্রন্থ থেকে বিশেষ কোনো গুরুত্বপূর্ণ ফায়দা অর্জিত না হওয়া।
এটি উদাহরণের একটি চিত্রায়ন মাত্র।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাইসীরু মুসতালাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
فهذا حديث يسمى "عزيزا"؛ لأنه لم يقل رواته عن اثنين في جميع طبقات السند، وإن زاد في بعض طبقات السند عن اثنين.
সুতরাং এটি এমন একটি হাদিস যাকে "আজিজ (عزيز)" বলা হয়; কারণ সনদের (سند) প্রতিটি স্তরে (طبقات) এর বর্ণনাকারীদের (رواة) সংখ্যা দুইয়ের কম নয়, যদিও সনদের (سند) কোনো কোনো স্তরে (طبقات) তা দুইয়ের অধিক হতে পারে।