(খণ্ড: ১)
নাকযুদ দারিমী আলাল মারীসী - তাহকীক আল-আলমায়ী
(পৃষ্ঠা: -)
نقض الدارمي على المريسي - ت الألمعي القسم: العقيدة
الكتاب: نقض الإمام أبي سعيد عثمان بن سعيد على المريسي الجهمي العنيد فيما افترى على الله عز وجل من التوحيد
المؤلف: أبو سعيد عثمان بن سعيد بن خالد بن سعيد الدارمي السجستاني (ت 280هـ)
الناشر: مكتبة الرشد للنشر والتوزيع
المحقق: رشيد بن حسن الألمعي
الطبعة: الطبعة الأولى 1418هـ - 1998م
عدد الأجزاء: 2
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-মারিসির ওপর আদ-দারিমির খণ্ডন - আল-লামায়ির সম্পাদনা বিভাগ: আক্বীদা
বই: তাওহীদ বা একত্ববাদ সম্পর্কে আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লার ওপর একগুঁয়ে জাহমি আল-মারিসি যে মিথ্যা অপবাদ আরোপ করেছে, তার বিরুদ্ধে ইমাম আবু সাঈদ উসমান ইবনে সাঈদের খণ্ডন
লেখক: আবু সাঈদ উসমান ইবনে সাঈদ ইবনে খালিদ ইবনে সাঈদ আদ-দারিমি আস-সিজিস্তানি (মৃত্যু ২৮০ হিজরি)
প্রকাশক: মাকতাবাতুর রুশদ পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন
গবেষক ও সম্পাদক: রাশিদ বিন হাসান আল-লামায়ি
সংস্করণ: প্রথম সংস্করণ ১৪১৮ হিজরি - ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ২
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ١)
নাকযুদ দারিমী আলাল মারীসী - তাহকীক আল-আলমায়ী
(পৃষ্ঠা: ١)
المجلد الأول
مُقَدمَات:
مُقَدّمَة المشرف على التَّحْقِيق:إِن الْحَمد لله نحمده، ونستعينه، وَنَسْتَغْفِرهُ، ونعوذ بِاللَّه من شرور أَنْفُسنَا وَمن سيئات أَعمالنَا، من يهده الله فَلَا مضل لَهُ، وَمن يضلل فَلَا هادي لَهُ، وَأشْهد أَن لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شريك لَهُ، وَأشْهد أَن مُحَمَّدًا عَبده وَرَسُوله، سيد الْأَوَّلين والآخرين، قدوتنا وإمامنا صلى الله وَسلم وَبَارك عَلَيْهِ وعَلى آله وَأَصْحَابه وَأَتْبَاعه وأعوانه.
أما بعد:
فَإِن الله تَعَالَى تولى حفظ كِتَابه بِنَفسِهِ الْكَرِيمَة، فَقَالَ تَعَالَى: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُون} وَلم يكل ذَلِك إِلَى غَيره، فَهُوَ مَحْفُوظ بحفط الله تَعَالَى.
وَحفظ الله تَعَالَى لِلْقُرْآنِ الْكَرِيم حفظ لهَذَا الدَّين، الَّذِي أَصله وأساسه الْإِيمَان بِاللَّه وبربوبيته وأسمائه وَصِفَاته وأفعاله، وتوحيد الله وإخلاص الدَّين لَهُ، وَصرف الْعباد بِجَمِيعِ أَنْوَاعهَا لله، وَالْإِيمَان بِالْيَوْمِ الآخر والبعث بعد الْمَوْت، والحساب وَالْجَزَاء وَالْجنَّة وَالنَّار، والايمان بِقدر الله خَيره وشره.
وَمن حفظ الله تَعَالَى لِلْقُرْآنِ الْكَرِيم حفظه للسّنة المطهرة، فَإِن السّنة
প্রথম খণ্ডভূমিকা:সম্পাদনা তত্ত্বাবধানকারীর ভূমিকা:নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তার কোনো পথভ্রষ্টকারী নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তার কোনো পথপ্রদর্শক নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবুদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল, তিনি পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের নেতা এবং আমাদের আদর্শ ও ইমাম। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ, অনুসারী ও সাহায্যকারীদের ওপর আল্লাহর রহমত, শান্তি ও বরকত বর্ষিত হোক।
অতঃপর:
নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা স্বয়ং তাঁর মহান সত্তার মাধ্যমে তাঁর কিতাব সংরক্ষণের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: "নিশ্চয়ই আমিই কুরআন অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই তার সংরক্ষণকারী।" তিনি এটি অন্য কারো ওপর ন্যস্ত করেননি, বরং এটি আল্লাহ তাআলার নিজস্ব সংরক্ষণের মাধ্যমেই সংরক্ষিত।
আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে পবিত্র কুরআনের এই সংরক্ষণ মূলত এই দ্বীনেরই সংরক্ষণ, যার মূল ও ভিত্তি হলো আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস এবং তাঁর প্রভুত্ব, তাঁর নামসমূহ, গুণাবলি ও কার্যাবলির প্রতি বিশ্বাস স্থাপন; আল্লাহর একত্ববাদ প্রতিষ্ঠা ও তাঁর জন্য দ্বীনকে একনিষ্ঠ করা এবং সকল প্রকার ইবাদতকে কেবল আল্লাহর জন্য নিবেদন করা; পরকাল ও মৃত্যুর পর পুনরুত্থান, হিসাব-নিকাশ, প্রতিদান, জান্নাত ও জাহান্নামের প্রতি বিশ্বাস রাখা এবং আল্লাহর নির্ধারিত ভাগ্যের ভালো ও মন্দের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা।
আর আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে পবিত্র কুরআনের সংরক্ষণের অন্তর্ভুক্ত হলো পবিত্র সুন্নাহর সংরক্ষণ, কেননা সুন্নাহ...
(খণ্ড: ١)
নাকযুদ দারিমী আলাল মারীসী - তাহকীক আল-আলমায়ী
(পৃষ্ঠা: ٢)
الْوَحْي الثَّانِي.. {وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى، إِنْ هُوَ إِلَاّ وَحْيٌ يُوحَى} حَيْثُ أَمر الله تَعَالَى فِي الْقُرْآن الْكَرِيم بِالْأَخْذِ بِالسنةِ، فَقَالَ: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} وَقَالَ تَعَالَى: {قُلْ أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ فَإِنْ تَوَلَّوا فَإِنَّمَا عَلَيْهِ مَا حُمِّلَ وَعَلَيْكُمْ مَا حُمِّلْتُمْ وَإِنْ تُطِيعُوهُ تَهْتَدُواُ وَمَا عَلَى الرَّسُولِ إِلَاّ الْبَلاغُ الْمُبِين} ، وَقَالَ تَعَالَى: {قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُم} .
فَالله تَعَالَى حفظ دينه بِحِفْظ كِتَابه وَسنة نبيه مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم، فَهَيَّأَ الله الصَّحَابَة رضوَان الله عَلَيْهِم وقيضهم ووفقهم وهداهم لنصر دين الله، فحفظوا كتاب الله وَسنة نبيه، وَجَاهدُوا فِي سَبِيل الله لإعلاء كلمة الله، ففتحوا الْبلدَانِ، وكسروا ملك كسْرَى، وَقصرُوا ملك قَيْصر، ثمَّ نزحوا إِلَى الْبِلَاد الْمَفْتُوحَة، وانتقلوا إِلَيْهَا فَعَلمُوا النَّاس دين الله، ونشروا الْإِسْلَام فِي مَشَارِق الأَرْض وَمَغَارِبهَا، ثمَّ تَبِعَهُمْ على ذَلِك التابعون وأتباعهم، وَمن بعدهمْ من الْأَئِمَّة وَالْعُلَمَاء، يحيون مَا اندثر من الْإِسْلَام، ويجدون لهَذِهِ الْأمة دينهَا، وينصرون النَّاس بِالْحَقِّ، ويردون الْبدع والشبه والضلالات، ويكشفون للنَّاس زيفها وزيغها ولبسها الْحق بِالْبَاطِلِ.
كَمَا قَالَ الإِمَام أَحْمد رحمه الله فِي خطْبَة كِتَابه الرَّد على الْجَهْمِية والزنادقة: "الْحَمد لله الَّذِي جعل فِي كل زمَان فَتْرَة من الرُّسُل بقايا من أهل الْعلم، يدعونَ من ضل إِلَى الْهدى، ويصبرون مِنْهُم على الْأَذَى، يحيون بِكِتَاب الله الْمَوْتَى، ويبصرون بِنور الله أهل الْعَمى، فكم من قَتِيل لإبليس قد أحيوه، وَكم من ضال تائه قد هدوه، فَمَا أحسن أَثَرهم على
দ্বিতীয় ওহী... {আর তিনি নিজ খেয়াল-খুশি থেকে কোনো কথা বলেন না। তা তো কেবল ওহী, যা তাঁর নিকট পাঠানো হয়।} যেহেতু আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে সুন্নাহ গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছেন, তাই তিনি বলেছেন: {রাসূল তোমাদের যা প্রদান করেন তা তোমরা গ্রহণ করো, আর যা থেকে তিনি তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো।} আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {বলুন, “তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো।” এরপর যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে তাঁর ওপর অর্পিত দায়িত্বের জন্য তিনিই দায়ী এবং তোমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্বের জন্য তোমরাই দায়ী। আর যদি তোমরা তাঁর আনুগত্য করো তবে তোমরা সঠিক পথ পাবে। আর রাসূলের দায়িত্ব তো কেবল স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেওয়া।} আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {বলুন, “তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবাসো তবে আমার অনুসরণ করো, তাহলে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন।”}।
সুতরাং আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাব এবং তাঁর নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ সংরক্ষণের মাধ্যমে তাঁর দ্বীনকে হেফাযত করেছেন। আল্লাহ সাহাবীগণকে (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) প্রস্তুত করেছেন, তাঁদের এ কাজে নিয়োজিত করেছেন, তাওফীক দিয়েছেন এবং আল্লাহর দ্বীনকে সাহায্য করার জন্য হিদায়াত দিয়েছেন। ফলে তাঁরা আল্লাহর কিতাব ও তাঁর নবীর সুন্নাহ সংরক্ষণ করেছেন এবং আল্লাহর বাণীকে সমুন্নত করার জন্য আল্লাহর পথে জিহাদ করেছেন। তাঁরা বিভিন্ন দেশ জয় করেছেন, কিসরার রাজত্ব চূর্ণ করেছেন এবং কায়সারের রাজত্বকে সংকুচিত করেছেন। এরপর তাঁরা বিজিত দেশগুলোতে ছড়িয়ে পড়েন এবং সেখানে স্থানান্তরিত হয়ে মানুষকে আল্লাহর দ্বীন শিক্ষা দেন। তাঁরা পৃথিবীর পূর্ব ও পশ্চিমে ইসলাম প্রচার করেন। অতঃপর এ কাজে তাঁদের অনুসরণ করেন তাবেঈগণ ও তাবে-তাবেঈগণ এবং তাঁদের পরবর্তী ইমাম ও আলেমগণ। তাঁরা ইসলামের বিলুপ্তপ্রায় বিষয়গুলোকে পুনর্জীবিত করেন, এই উম্মতের জন্য তাদের দ্বীনকে সংস্কার করেন, মানুষকে সত্যের মাধ্যমে সাহায্য করেন এবং বিদআত, সংশয় ও পথভ্রষ্টতা প্রতিহত করেন। তাঁরা মানুষের কাছে এগুলোর অসারতা, বক্রতা এবং সত্যের সাথে মিথ্যার মিশ্রণকে উন্মোচিত করে দেন।
যেমনটি ইমাম আহমাদ রহিযাহুল্লাহ তাঁর 'জাহমিয়্যাহ ও যিনদীকদের খণ্ডন' নামক গ্রন্থের ভূমিকায় বলেছেন: "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি রাসূলদের আগমনের মধ্যবর্তী প্রতিটি বিরতিকালে ইলমওয়ালাদের একদল অবশিষ্ট অংশ রেখে দিয়েছেন, যাঁরা পথভ্রষ্টদের হিদায়াতের দিকে আহ্বান করেন এবং তাঁদের পক্ষ থেকে আসা দুঃখ-কষ্টে ধৈর্য ধারণ করেন। তাঁরা আল্লাহর কিতাবের মাধ্যমে মৃতদের (অন্তরকে) জীবিত করেন এবং আল্লাহর নূরের মাধ্যমে অন্ধদের দৃষ্টি দান করেন। ইবলিসের হাতে নিহত কত মৃতকে তাঁরা জীবন দান করেছেন এবং কত বিভ্রান্ত পথহারাকে তাঁরা হিদায়াত দিয়েছেন! মানুষের ওপর তাঁদের প্রভাব কতই না উত্তম..."
(খণ্ড: ١)
নাকযুদ দারিমী আলাল মারীসী - তাহকীক আল-আলমায়ী
(পৃষ্ঠা: ٣)
النَّاس، وأقبح النَّاس عَلَيْهِم، ينفون عَن كتاب الله تَحْرِيف الغالين، وانتحال المبطلين، وَتَأْويل الْجَاهِلين، الَّذين عقدوا ألوية الْبدع، وأطلقوا عقال الْفِتْنَة، فهم مُخْتَلفُونَ فِي الْكتاب، مخالفون للْكتاب، مجمعون على مُقَارنَة الْكتاب، يَقُول على الله وَفِي الله وَفِي كتاب الله بِغَيْر علم، يَتَكَلَّمُونَ بالمتشابه من الْكَلَام، ويخدعون جهال النَّاس بِمَا يشبهون عَلَيْهِم، فنعوذ بِاللَّه من فتن الضَّالّين" ا. هـ.
وَمن هَؤُلَاءِ الْأَئِمَّة وَالْعُلَمَاء الأفذاذ الَّذين حفظ الله بهم العقيدة السلفية المستمدة من الْكتاب وَالسّنة الإِمَام الْحَافِظ النَّاقِد، وَأحد الْأَعْلَام الثِّقَات الْأَثْبَات: أَبُو سعيد عُثْمَان بن سعيد التَّمِيمِي الدَّارمِيّ السجسْتانِي: من عُلَمَاء الْقرن الثَّالِث الهجري، قَالَ عَنهُ الذَّهَبِيّ: "كَانَ لهجًا بِالسنةِ بَصيرًا بالمناظرة جذعًا فِي أعين المبتدعة" ا. هـ.
وَكتابه هَذَا -الَّذِي بَين أَيْدِينَا- الْمُسَمّى: بِالرَّدِّ على بشر المريسي، أَو نَقْضُ الْإِمَامِ أَبِي سَعِيدٍ، عُثْمَانَ بن سعيد، على المريسي الجهمي العنيد، فِيمَا افترى عَلَى اللَّهِ عز وجل مَنْ التَّوْحِيد- يعْتَبر هَذَا الْكتاب بأجزائه الثَّلَاثَة من أهم الْكتب المصنفة فِي العقيدة على مَذْهَب أهل السّنة وَالْجَمَاعَة، فَهُوَ يسْتَدلّ بِالْآيَاتِ القرآنية، وبالأحاديث النَّبَوِيَّة، وبالآثار السلفية، وبالآدلة الْعَقْلِيَّة فِي بَيَان المعتقد الْحق، وَفِي رد شبه المبتدعة، ودحض أباطيلهم.
وَيعْتَبر هَذ الْكتاب من الْكتب الحديثية، بِالْإِضَافَة إِلَى بَيَان العقيدة السلفية، حَيْثُ إِن الْمُؤلف يروي الاحاديث والْآثَار بِالْأَسَانِيدِ.
وَهَذَا الْكتاب يرد فِيهِ الْمُؤلف على بشر المريسي، وعَلى ابْن الثَّلْجِي، وعَلى الْمعَارض الَّذِي ينْقل أَقْوَاله المبتدعة، وَهَؤُلَاء الثَّلَاثَة جهمية،
মানুষের মধ্যে, এবং তাদের প্রতি সবচেয়ে কদর্য মানুষ; তারা আল্লাহর কিতাব থেকে সীমালঙ্ঘনকারীদের বিকৃতি, বাতিলপন্থীদের মিথ্যা দাবি এবং জাহেলদের অপব্যাখ্যা দূর করেন, যারা বিদআতের ঝাণ্ডা উত্তোলন করেছে এবং ফিতনার রশি খুলে দিয়েছে। তারা কিতাব সম্পর্কে মতভেদকারী, কিতাবের বিরোধী এবং কিতাব ত্যাগের ব্যাপারে একমত। তারা আল্লাহ সম্পর্কে এবং আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে জ্ঞান ছাড়াই কথা বলে। তারা অস্পষ্ট বা দ্ব্যর্থবোধক কথা বলে এবং যা তারা অস্পষ্ট করে তোলে তার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে ধোঁকা দেয়। আমরা পথভ্রষ্টদের ফিতনা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। (সমাপ্ত)
আর সেই সকল ইমাম এবং অনন্য আলেমদের অন্তর্ভুক্ত—যাদের মাধ্যমে আল্লাহ কিতাব ও সুন্নাহ থেকে আহরিত সালাফি আকিদাহ সংরক্ষণ করেছেন—হলেন ইমাম, হাফিজ, সমালোচক এবং নির্ভরযোগ্য ও সুদৃঢ় ব্যক্তিত্বদের অন্যতম: আবু সাঈদ উসমান ইবনে সাঈদ আত-তামিমি আদ-দারিমি আস-সিজিস্তানি। তিনি হিজরি তৃতীয় শতাব্দীর আলেমদের একজন। ইমাম যাহাবি তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "তিনি সুন্নাহর প্রতি অত্যন্ত অনুরাগী, বিতর্কশাস্ত্রে পারদর্শী এবং বিদআতিদের চোখে অত্যন্ত অপ্রিয় বা কণ্টকস্বরূপ ছিলেন।" (সমাপ্ত)
তাঁর এই কিতাবটি—যা আমাদের সামনে রয়েছে—যার নাম: "বিশর আল-মারিসির প্রতিবাদ", অথবা "তাওহিদ সম্পর্কে মহান আল্লাহর ওপর সে যে অপবাদ আরোপ করেছে, তার প্রেক্ষিতে জেহমি একগুঁয়ে মারিসির বিরুদ্ধে ইমাম আবু সাঈদ উসমান ইবনে সাঈদের খণ্ডন"—এই কিতাবটি তার তিনটি খণ্ডসহ আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মাযহাব অনুযায়ী আকিদাহ বিষয়ক রচিত গুরুত্বপূর্ণ কিতাবসমূহের অন্যতম বিবেচিত হয়। এতে তিনি সত্য আকিদাহ বর্ণনায় এবং বিদআতিদের সংশয় খণ্ডনে ও তাদের বাতিল মতবাদসমূহ ধূলিসাৎ করতে কুরআনের আয়াত, নববী হাদিস, সালাফি আসার এবং যৌক্তিক দলীলসমূহ দ্বারা প্রমাণ পেশ করেছেন।
সালাফি আকিদাহ বর্ণনার পাশাপাশি এই কিতাবটি হাদিস শাস্ত্রীয় কিতাবসমূহেরও অন্তর্ভুক্ত বলে বিবেচিত, কারণ লেখক এখানে হাদিস এবং আসারসমূহ সনদসহ বর্ণনা করেছেন।
এই কিতাবে লেখক বিশর আল-মারিসি, ইবনুত থালজি এবং সেই বিরোধীর প্রতিবাদ করেছেন যে বিদআতিদের বক্তব্যসমূহ উদ্ধৃত করে; আর এই তিনজনই হলো জাহমিয়া।
(খণ্ড: ١)
নাকযুদ দারিমী আলাল মারীসী - তাহকীক আল-আলমায়ী
(পৃষ্ঠা: ٤)
فالكتاب رد على الْجَهْمِية والمبتدعة، مثل كِتَابه الآخر: الرَّد على الْجَهْمِية، وَقد أثنى الْعلمَاء على هذَيْن الْكِتَابَيْنِ، ونقلوا عَنْهُمَا، واستشهدوا بِمَا فيهمَا، كَمَا قَالَ الْعَلامَة ابْن قيم الجوزية رَحمَه الله تَعَالَى: "كتابا الدَّارمِيّ: النَّقْض على بشر المريسي، وَالرَّدّ عَليّ الْجَهْمِية، من أجل الْكتب المصنفة فِي السّنة وعلومها، وَيَنْبَغِي لكل طَالب سنة مُرَاده الْوُقُوف على مَا كَانَ عَلَيْهِ الصَّحَابَة والتابعون وَالْأَئِمَّة أَن يقْرَأ الْكِتَابَيْنِ كِتَابيه، وَكَانَ شيخ الْإِسْلَام ابْن تَيْمِية رحمه الله يُوصي بِهَذَيْنِ الْكِتَابَيْنِ أَشد الْوَصِيَّة، ويعظمهما جدًّا، وفيهَا من تَقْرِير التَّوْحِيد والأسماء وَالصِّفَات بِالْعقلِ وَالنَّقْل مَا لَيْسَ فِي غَيرهمَا" ا. هـ.
وَكَانَ شيخ الْإِسْلَام ابْن تَيْمِية رحمه الله ينْقل من هَذَا الْكتاب الصفحات فِي مؤلفات وردوده، كَمَا فِي كِتَابه الَّذِي لَا نَظِير لَهُ فِي بَاب: "اجْتِمَاع الْعقل وَالنَّقْل"، وكما نقل عَنهُ الْعَلامَة ابْن الْقيم فِي كِتَابه: "اجْتِمَاع الجيوش الإسلامية على غَزْو المعطلة والجهمية"، وكما نقل غيرههما من أهل الْعلم.
وَقد قَامَ الباحث: الشَّيْخ الدكتور/ رشيد بن حسن بن مُحَمَّد الألمعي/ بتحقيق هَذَا الْكتاب تَحْقِيقا علميًّا، نَالَ بِهِ دَرَجَة علمية من كُلية أصُول الدَّين بالرياض التابعة لجامعة الإِمَام مُحَمَّد بن سعود الإسلامية.
وَقد بذل الباحث فِي هَذَا الْكتاب جهدًا يشْكر عَلَيْهِ، حَيْثُ حقق نَص الْكتاب، وَذَلِكَ بِمُقَابلَة مخطوطات الْكتاب ومطبوعاته، وعلق على من يحْتَاج إِلَى تَعْلِيق، وَترْجم للرواة والأعلام، ومعظمهم من رجال الْكتب السِّتَّة؛ لِأَن الْمُؤلف يروي الْأَحَادِيث بِالْأَسَانِيدِ- وَخرج الْأَحَادِيث،
সুতরাং এই কিতাবটি জাহমিয়া ও বিদআতিদের প্রতি একটি খণ্ডন, ঠিক যেমনটি তাঁর অন্য কিতাব: 'আর-রাদ আলাল জাহমিয়া' (জাহমিয়াদের প্রতি উত্তর)। ওলামায়ে কেরাম এই কিতাব দুটির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন, এ দুটি থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন এবং এ দুটিতে যা রয়েছে তা থেকে দলিল পেশ করেছেন। যেমন আল্লামা ইবনুল কায়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহু তাআলা) বলেছেন: "দারিমীর কিতাব দুটি: 'আন-নাকদ আলা বিশর আল-মারীসী' এবং 'আর-রাদ আলাল জাহমিয়া', সুন্নাহ ও এর ইলমসমূহের ওপর রচিত শ্রেষ্ঠ কিতাবগুলোর অন্তর্ভুক্ত। সুন্নাহর প্রত্যেক এমন ছাত্র, যে সাহাবী, তাবিঈ ও ইমামগণ যে আদর্শের ওপর ছিলেন তা অবগত হতে চায়, তার উচিত তাঁর (দারিমীর) এই কিতাব দুটি পড়া। শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) এই কিতাব দুটির ব্যাপারে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে অসিয়ত করতেন এবং এগুলোকে অনেক মর্যাদা দিতেন। এগুলোতে যুক্তি ও দলিলের মাধ্যমে তাওহীদ এবং আসমা ও সিফাত (নাম ও গুণাবলি)-এর এমন সব বিশ্লেষণ রয়েছে যা অন্য কোথাও নেই।" সমাপ্ত।
শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর বিভিন্ন রচনা ও খণ্ডনমূলক গ্রন্থে এই কিতাব থেকে পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা উদ্ধৃত করতেন, যেমনটি তিনি করেছেন তাঁর এই বিষয়ের অদ্বিতীয় গ্রন্থ: 'ইজতিমাউল আকলি ওয়ান নাকল'-এ। তদ্রূপ আল্লামা ইবনুল কায়্যিম তাঁর কিতাব: 'ইজতিমাউল জুইউশিল ইসলামিয়্যাহ আলা গাযউইল মুআত্তিলাতি ওয়াল জাহমিয়্যাহ'-তে এটি থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন এবং অন্যান্য আহলে ইলমগণও তা করেছেন।
গবেষক শায়খ ডক্টর রশিদ বিন হাসান বিন মুহাম্মাদ আল-আলমায়ি এই কিতাবটির একটি বৈজ্ঞানিক সম্পাদনা (তাহকীক) সম্পন্ন করেছেন, যার মাধ্যমে তিনি ইমাম মুহাম্মাদ বিন সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের রিয়াদস্থ ধর্মতত্ত্ব অনুষদ (উসুলুদ্দীন) থেকে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
গবেষক এই কিতাবটির পেছনে প্রশংসনীয় শ্রম ব্যয় করেছেন, যেখানে তিনি কিতাবের মূল পাঠ পাণ্ডুলিপি ও মুদ্রিত কপির সাথে তুলনা করার মাধ্যমে যাচাই করেছেন এবং যেখানে টীকা প্রয়োজন ছিল সেখানে টীকা দিয়েছেন। তিনি বর্ণনাকারী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের জীবনীও আলোচনা করেছেন, যাঁদের অধিকাংশই কুতুবে সিত্তাহর বর্ণনাকারী; কারণ লেখক সনদসহ হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং তিনি হাদীসগুলোর উৎস (তাখরীজ) বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ١)
নাকযুদ দারিমী আলাল মারীসী - তাহকীক আল-আলমায়ী
(পৃষ্ঠা: ٥)
وَعَزاهَا إِلَى مصادرها، وَنقل حكم الْعلمَاء عَلَيْهَا، وَإِذا لم يجد حكما للْعُلَمَاء، فَإِنَّهُ يدرس السَّنَد والمتن، ويتبعه بالشواهد والمتابعات، ثمَّ على الحَدِيث بِبَيَان دَرَجَته بِالنِّسْبَةِ إِلَى إِسْنَاده وَمَتنه، وَقَامَ بِوَضْع خَاتِمَة موجزة ضمنهَا بعض الاقتراحات والملحوظات، ثمَّ فِي النِّهَايَة ختم الْكتاب بفهارس عديدة.
وَهَذَا الْكتاب كتاب عَظِيم، وطلاب الْعلم بحاجة ماسة إِلَيْهِ، وَقد نفد من الْأَسْوَاق، وَكثر السُّؤَال عَنهُ من كثير من طلبة الْعلم، وَهُوَ الْآن بطبع لأوّل مرّة محققًا تَحْقِيقا علميًّا، فأسال الله أَن ينفع بِهِ، وَأَن يُبَارك فِي الجهود، وَأَن يَجْعَل الْأَعْمَال خَالِصَة لوجهه الْكَرِيم، وَأَن يرزقنا الْعلم النافع وَالْعَمَل الصَّالح، وَالْإِخْلَاص فِي الْعَمَل، والصدق فِي القَوْل، وَأَن يخْتم لنا بِخَير، وَأَن يجعلنا هداة مهتدين، إِنَّه ولي ذَلِك والقادر عَلَيْهِ، وَصلى الله وَسلم على عَبده وَرَسُوله نَبينَا مُحَمَّد وعَلى آله وَأَصْحَابه وَأَتْبَاعه بِإِحْسَان.
المشرف على تَحْقِيق الْكتاب
عبد الْعَزِيز بن عبد الله بن عبد الرَّحْمَن الراجحي
عُضْو هَيْئَة التدريس بجامعة الإِمَام مُحَمَّد بن سعود الإسلامية
19/ 6/ 1418هـ
তিনি এগুলোকে এগুলোর মূল উৎসের দিকে সম্বন্ধ করেছেন এবং এগুলোর ওপর আলেমদের সিদ্ধান্ত উদ্ধৃত করেছেন। যদি তিনি আলেমদের কোনো সিদ্ধান্ত না পেয়ে থাকেন, তবে তিনি এর সনদ ও মতন নিয়ে গবেষণা করেছেন এবং এর সাথে শাহেদ ও মুতাবিআত যুক্ত করেছেন। অতঃপর সনদ ও মতনের নিরিখে হাদীসটির মান বর্ণনা করেছেন। তিনি একটি সংক্ষিপ্ত উপসংহার প্রদান করেছেন যাতে কিছু প্রস্তাবনা ও পর্যবেক্ষণ অন্তর্ভুক্ত করেছেন। পরিশেষে তিনি গ্রন্থটি বিভিন্ন নির্ঘণ্ট দ্বারা সমাপ্ত করেছেন।
এই গ্রন্থটি একটি মহান কিতাব এবং ইলম অন্বেষণকারীদের জন্য এটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। বাজার থেকে এর কপি শেষ হয়ে গিয়েছিল এবং অনেক ইলম অন্বেষী এর ব্যাপারে বারবার জিজ্ঞাসা করছিলেন। এখন এটি প্রথমবারের মতো বৈজ্ঞানিক পন্থায় সম্পাদিত হয়ে মুদ্রিত হচ্ছে। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি এর মাধ্যমে উপকার সাধন করেন, প্রচেষ্টাসমূহে বরকত দান করেন এবং আমলগুলোকে একমাত্র তাঁর সম্মানিত চেহারার জন্য কবুল করেন। তিনি যেন আমাদের উপকারী জ্ঞান ও নেক আমল দান করেন এবং কাজে ইখলাস ও কথায় সততা নসিব করেন। তিনি যেন আমাদের শেষ পরিণাম উত্তম করেন এবং আমাদের সঠিক পথপ্রাপ্ত ও পথপ্রদর্শক বানান। নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক ও এর ওপর সর্বশক্তিমান। আল্লাহ তাঁর বান্দা ও রাসূল আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ, সাহাবীগণ ও নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারীদের ওপর দরূদ ও সালাম বর্ষণ করুন।
গ্রন্থটির সম্পাদনা ও গবেষণার তত্ত্বাবধায়ক
আব্দুল আযীয বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আর-রাজহী
সদস্য, শিক্ষক পরিষদ, ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
১৯/ ০৬/ ১৪১৮ হিজরী
(খণ্ড: ١)
নাকযুদ দারিমী আলাল মারীসী - তাহকীক আল-আলমায়ী
(পৃষ্ঠা: ٧)
بسم الله الرحمن الرحيم
مُقَدّمَة الْكتاب:وَإِن الْحَمد لله، نحمده، ونستعينه، وَنَسْتَغْفِرهُ ونستهديه، ونعوذ بِاللَّه من شرور أَنْفُسنَا وَمن سيئات أَعمالنَا من يهده الله فَلَا مضل لَهُ وَمن يضلل فَلَا هادي لَهُ، وَبعد:
لقد كَانَ من فضل الله وتوفيقه أَن حظيت بِالْقبُولِ لمواصلة الدراسات الْعليا بقسم العقيدة والمذاهب المعاصرة فِي كُلية أصُول الدَّين وأنهيت المرحلة التمهيدية بنجاح وَللَّه الْحَمد، وَكَانَ عَليّ بعد هَذَا أَن أتقدم بمخطط لرسالة أستكمل بهَا الْجُزْء المتبقي من هَذِه المرحلة.
وجال فِي ذهني جملَة من الموضوعات الْمُخْتَلفَة الَّتِي تعالج جَوَانِب العقيدة والمذاهب المعاصرة لَعَلَّ من أبرزها "القبوريون عقيدتهم وَحكم الْإِسْلَام فيهم" فَلَقَد أردْت أَن أَقف من خلال هَذَا الْمَوْضُوع على ضلال هَذِه الطوائف وشبهاتهم وَمَا يتعلقون بِهِ من أَوْهَام، وَمَا يعتقدونه من خرافات ضَالَّة مَا زَالَت حَتَّى يَوْمنَا هَذَا فِي كثير من الْبلدَانِ الإسلامية.
كَمَا بدا لي أَن أطرق مَوْضُوع "الحكم بِغَيْر مَا أنزل الله"؛ لأقف على مدى مَا يتْركهُ هَذَا الْمنْهَج السائد فِي كثير من الدول الإسلامية وَغير الإسلامية من أثر سيئ. كَمَا جال فِي ذهني غير هَذَا وَذَاكَ مِمَّا لَهُ صلَة بالعقيدة والمذاهب المعاصرة.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
গ্রন্থের ভূমিকা:নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি, তাঁরই কাছে ক্ষমা চাই এবং তাঁরই কাছে হেদায়াত কামনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের আমলের মন্দ দিকগুলো থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হেদায়াত দান করেন তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে বিভ্রান্ত করেন তাকে পথ প্রদর্শন করার কেউ নেই। অত:পর:
আল্লাহর অনুগ্রহ ও তৌফিকের মাধ্যমেই উসুলুদ্দীন অনুষদের আকিদাহ ও সমকালীন মতবাদ বিভাগে উচ্চতর শিক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছি এবং সফলতার সাথে প্রাথমিক পর্যায় শেষ করেছি, আলহামদুলিল্লাহ। এরপর আমার দায়িত্ব ছিল একটি গবেষণাপত্রের খসড়া জমা দেওয়া, যার মাধ্যমে আমি এই পর্যায়ের অবশিষ্ট অংশ সম্পন্ন করতে পারি।
আকিদাহ ও সমকালীন মতবাদের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করে এমন অনেকগুলো বিষয় আমার মনে ঘুরপাক খাচ্ছিল, যার মধ্যে সম্ভবত সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিল "কবরপূজারী: তাদের আকিদাহ এবং তাদের ব্যাপারে ইসলামের বিধান"। আমি এই বিষয়ের মাধ্যমে এই দলগুলোর পথভ্রষ্টতা, তাদের সংশয় এবং তারা যে সকল অলীক কল্পনার সাথে জড়িয়ে আছে, তা জানতে চেয়েছিলাম। এছাড়া তারা যে সকল ভ্রান্ত কুসংস্কারে বিশ্বাস করে, যা বর্তমান সময় পর্যন্ত অনেক মুসলিম দেশে বিদ্যমান রয়েছে।
তেমনিভাবে আমার কাছে "আল্লাহর অবতীর্ণ বিধান ব্যতীত বিচারকার্য পরিচালনা" বিষয়টি নিয়ে কাজ করার কথা মনে হয়েছিল; যাতে অনেক মুসলিম ও অমুসলিম দেশে প্রচলিত এই ব্যবস্থার সুদূরপ্রসারী কুপ্রভাব সম্পর্কে জানতে পারি। এ ছাড়াও আকিদাহ ও সমকালীন মতবাদের সাথে সম্পর্কিত আরও অনেক বিষয় আমার ভাবনায় এসেছিল।
(খণ্ড: ١)
নাকযুদ দারিমী আলাল মারীসী - তাহকীক আল-আলমায়ী
(পৃষ্ঠা: ٨)
وتجولت فِي جنبات المكتبات الجامعية وَغير الجامعية، وتأملت كثيرا مَا المخطوطات الَّتِي تزخر بهَا جامعاتنا وَللَّه الْحَمد، ووقفت على عدد من الْمَشَايِخ الأفاضل فِي الجامعة وَدَار الْإِفْتَاء لاستشارتهم والإفادة من توجيهاتهم، وَكَانَ لرحابة الصَّدْر لَدَى كثير مِنْهُم أثر جلي أَجِدهُ فِي نَفسِي وَلَا أنساه.
وَمن جملَة مَا حظيت بِهِ من توجيهات وآراء عقدت الْعَزْم على أَن يكون مَوْضُوع رسالتي تَحْقِيقا لمخطوط أعيش من خلاله على جهد علم من أَعْلَام الْمُسلمين الجهابذة، وَهُوَ ينافح عَن معتقده وَدينه فِي مُوَاجهَة المبتدعة.
وَلَا شكّ أَن إحْيَاء التراث الإسلامي الَّذِي يتَضَمَّن الْفَهم الصَّحِيح للعقيدة الإسلامية ضَرُورَة ملحة وخاصة فِي وقتنا هَذَا الَّذِي نلمس فِيهِ -وَللَّه الْحَمد- معالم يقظة إسلامية فِي شَتَّى أنحاء الْبِلَاد الإسلامية.
وَعَلِيهِ فَلَا بُد لهَذِهِ الْأمة من مفاهيم سليمَة ومعالم صَحِيحَة فِي طَرِيق عودتها إِلَى الله تبين لَهَا الْمنْهَج السَّلِيم فِي فهم الأَصْل الَّذِي تنبي عَلَيْهِ جَمِيع الْأَعْمَال وَالْقَاعِدَة الأساسية لبِنَاء الْمُجْتَمع الإسلامي السَّلِيم أَلا وَهِي العقيدة الصَّحِيحَة.
وَنحن نعتقد اعتقادًا جَازِمًا أَن الْمنْهَج السَّلِيم والاعتقاد الصَّحِيح الَّذِي يجب أَن نقدمه للْأمة، هُوَ مَا كَانَ عَلَيْهِ أهل السّنة وَالْجَمَاعَة من الِاعْتِقَاد الصَّحِيح المستمد من الْفَهم الصَّحِيح لكتاب الله وَسنة رَسُوله.
ونعتقد أَيْضا أَنه لم ينل هَذِه الْأمة مَا نالها إِلَّا نتيجة انحرافها وعدولها عَمَّا كَانَ عَلَيْهِ سلف هَذِه الْأمة من طَهَارَة الْقلب ونقاء السريرة وَصفاء الِاعْتِقَاد.
আমি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের লাইব্রেরিগুলোর চারপাশ ঘুরে বেড়িয়েছি এবং আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আল্লাহর প্রশংসায় যে বিপুল সংখ্যক পাণ্ডুলিপিতে সমৃদ্ধ, তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের এবং দারুল ইফতাহর বেশ কয়েকজন সম্মানিত শাইখের কাছে তাঁদের পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা গ্রহণ করার জন্য উপস্থিত হয়েছি। তাঁদের অনেকেরই প্রশস্ত হৃদয়ের এক স্পষ্ট প্রভাব আমি নিজের মধ্যে অনুভব করি এবং যা আমি কখনো ভুলব না।
সেইসব প্রাপ্ত দিকনির্দেশনা ও মতামতের প্রেক্ষিতে আমি এই সংকল্প করেছি যে, আমার গবেষণাপত্রের বিষয়বস্তু হবে একটি পাণ্ডুলিপির তাহকিক (সম্পাদনা), যার মাধ্যমে আমি মুসলিম উম্মাহর একজন প্রাজ্ঞ মণীষীর ইলমি প্রচেষ্টাকে হৃদয়ে ধারণ করতে পারি, যিনি বিদআতিদের মোকাবেলায় তাঁর আকিদা ও দ্বীনকে রক্ষা করেছেন।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ইসলামি আকিদার সঠিক বুঝ সম্বলিত ইসলামি ঐতিহ্য বা তুরাস পুনর্জীবিত করা একটি জরুরি প্রয়োজন। বিশেষ করে আমাদের বর্তমান সময়ে, যখন আমরা—আল্লাহর প্রশংসায়—মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে একটি ইসলামি জাগরণের চিহ্ন লক্ষ্য করছি।
অতএব, আল্লাহর দিকে ফিরে আসার পথে এই উম্মাহর জন্য সঠিক ধারণা এবং সহিহ পথনির্দেশনা থাকা আবশ্যক, যা তাদের সামনে সেই মূল ভিত্তিটি বোঝার সঠিক মানহাজ স্পষ্ট করবে যার ওপর সমস্ত আমল এবং একটি সুস্থ ইসলামি সমাজ গঠনের মৌলিক ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত; আর তা হলো সহিহ আকিদা।
আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, সঠিক মানহাজ এবং সহিহ আকিদা যা আমাদের উম্মাহর কাছে পেশ করা উচিত, তা হলো আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের সেই সহিহ আকিদা, যা আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূলের সুন্নাহর সঠিক বুঝ থেকে উৎসারিত।
আমরা আরও বিশ্বাস করি যে, এই উম্মাহ আজ যে বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছে, তা কেবল তাদের বিচ্যুতি এবং এই উম্মাহর সালাফগণ যে হৃদয়ের পবিত্রতা, অন্তরের পরিচ্ছন্নতা এবং আকিদার বিশুদ্ধতার ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন, তা থেকে সরে আসারই ফল।
(খণ্ড: ١)
নাকযুদ দারিমী আলাল মারীসী - তাহকীক আল-আলমায়ী
(পৃষ্ঠা: ٩)
فَلَقَد كَانَ للمخلفات الوثنية والمناهج الفلسفية، وانضواء عدد من المغرضين الَّذين اندسوا فِي صُفُوف الْمُسلمين وَالْإِسْلَام مِنْهُم برَاء، كَانَ لهَذَا وَلغيره الْأَثر الْبَالِغ على الآمة الإسلامية مُنْذُ فجر التَّارِيخ الإسلامي.
وَقد قيض الله الْأمة على فترات من الزَّمن من أبنائها المخلصين من يذود عَن حمى الْإِسْلَام وحرماته جهادًا بِالسَّيْفِ والقلم وَاللِّسَان مُنْذُ فجر الْإِسْلَام إِلَى الْيَوْم وَإِلَى أَن تقوم السَّاعَة بِمَشِيئَة الله.
وَقد كَانَ الإِمَام عُثْمَانُ بْنُ سَعِيدٍ الدَّارَمِيُّ رحمه الله أحد هَؤُلَاءِ الأفذاذ الَّذين حفظ الله بهم عقيدة هَذِه الْأمة، وَكتابه هَذَا يعد فِي أَوَائِل المصنفات الَّتِي صنفت فِي بَيَان حَقِيقَة مَا كَانَ عَلَيْهِ سلف هَذِه الْأمة من سَلامَة الِاعْتِقَاد، مَعَ مَا اشْتَمَل من الْآيَات القرآنية وَالْأَحَادِيث النَّبَوِيَّة الشَّرِيفَة وآثار السّلف مُضَافا إِلَيْهِ الا ستدالال الْعقلِيّ فِي رد شبه الْمُخَالفين لأهل السّنة وَالْجَمَاعَة ودحض أباطيلهم، وَلِهَذَا كَانَ على قدر كَبِير من الأهمية والنفع اللَّذين شهد بهما لَهُ المنصفون.
وَقد وَقع اخْتِيَاري على هَذَا الْكتاب لأَقوم بتحقيقه وَالتَّعْلِيق عَلَيْهِ بأجزائه الثَّلَاثَة ليَكُون مَوْضُوعا لرسالتي لنيل دَرَجَة التخصص فِي العقيدة" الماجستير" فِي كُلية أصُول الدَّين بالرياض.
وَقد قسمت الْعَمَل فِي تَحْقِيق هَذَا الْكتاب إِلَى قسمَيْنِ:
الْقسم الأول: وَقد اشْتَمَل على بَابَيْنِ:
الْبَاب الأول: عرفت فِيهِ بالمؤلف وخصميه المريسي وَابْن الثَّلْجِي:
وَيَقَع فِي ثَلَاثَة فُصُول:
الْفَصْل الأول: عرفت فِيهِ بالمؤلف فِي مبحثين:
মূর্তিপূজার অবশিষ্ট প্রভাব, দার্শনিক মতাদর্শ এবং এমন কিছু কুচক্রী লোকের অনুপ্রবেশ যারা মুসলিমদের কাতারে ঢুকে পড়েছিল অথচ ইসলাম তাদের থেকে মুক্ত—এসব কিছুর এবং অন্যান্য বিষয়ের সুদূরপ্রসারী প্রভাব ইসলামী ইতিহাসের উষালগ্ন থেকেই মুসলিম উম্মাহর ওপর বিদ্যমান ছিল।
আল্লাহ তাআলা বিভিন্ন সময়ে এই উম্মতের মধ্য থেকে এমন কিছু নিষ্ঠাবান সন্তানকে নির্ধারণ করেছেন যারা ইসলামের সীমানা ও এর পবিত্রতা রক্ষায় তলোয়ার, কলম এবং জিহ্বার মাধ্যমে জিহাদ করে আসছেন; যা ইসলামের সূচনালগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত অব্যাহত আছে এবং আল্লাহর ইচ্ছায় কিয়ামত পর্যন্ত চলতে থাকবে।
ইমাম উসমান ইবনে সাঈদ আদ-দারিমি (রাহিমাহুল্লাহ) ছিলেন সেই সব ক্ষণজন্মা ব্যক্তিদের একজন যাদের মাধ্যমে আল্লাহ এই উম্মতের আকিদাহ সংরক্ষণ করেছেন। তাঁর এই বইটি এই উম্মতের সালাফদের সঠিক আকিদাহর স্বরূপ বর্ণনায় রচিত প্রাথমিক গ্রন্থগুলোর মধ্যে অন্যতম। এতে রয়েছে কুরআনের আয়াত, নবিজির হাদিস এবং সালাফদের আসার (বাণী ও কর্ম)। এর পাশাপাশি আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের বিরোধীদের সংশয় খণ্ডন এবং তাদের বাতিল মতবাদসমূহ ধূলিসাৎ করার জন্য যৌক্তিক প্রমাণাদিও উপস্থাপন করা হয়েছে। এ কারণেই ইনসাফগার ব্যক্তিবর্গ এই কিতাবটির গুরুত্ব ও উপযোগিতার সাক্ষ্য দিয়েছেন।
আমি এই কিতাবটি নির্বাচন করেছি যাতে এর তিনটি খণ্ডের তাহকিক (গবেষণামূলক সম্পাদনা) ও তালীক (টীকা) করার কাজ সম্পন্ন করতে পারি, যা রিয়াদের কুল্লিয়াতু উসুলুদ্দিনে (ধর্মতত্ত্ব অনুষদ) আকিদাহ বিষয়ে আমার মাস্টার্স বা বিশেষজ্ঞ ডিগ্রি অর্জনের গবেষণাপত্রের বিষয়বস্তু হয়।
এই কিতাবটির তাহকিকের কাজকে আমি দুটি ভাগে বিভক্ত করেছি:
প্রথম ভাগ: এটি দুটি অধ্যায় নিয়ে গঠিত:
প্রথম অধ্যায়: এখানে আমি লেখক এবং তাঁর দুই প্রতিপক্ষ আল-মারিসি ও ইবনে আস-সালজি সম্পর্কে পরিচয় দিয়েছি:
এটি তিনটি পরিচ্ছেদে বিন্যস্ত:
প্রথম পরিচ্ছেদ: এতে আমি দুটি অনুচ্ছেদে লেখকের পরিচয় তুলে ধরেছি:
(খণ্ড: ١)
নাকযুদ দারিমী আলাল মারীসী - তাহকীক আল-আলমায়ী
(পৃষ্ঠা: ١٠)
المبحث الأول: عصره السياسي والعملي.
المبحث الثَّانِي: حَيَاته:
تناولت فِيهِ التَّعْرِيف باسم الْمُؤلف وكنيته، وَنسبه ومولده، وَطَلَبه للْعلم، وشيوخه، وتلاميذه، وَمَا نقل عَنهُ من الْفَوَائِد والغرائب، واعتزازه بمكانته فِي الْعلم، والعلوم الَّتِي برز فِيهَا، وثناء الْعلمَاء عَلَيْهِ، وموقفه من المبتدعة، ثمَّ وَفَاته، وآثاره.
الْفَصْل الثَّانِي: عرفت فِيهِ بالمريسي فِي مبحثين:
المبحث الأول: عصر المريسي السياسي والعلمي.
المبحث الثَّانِي: حَيَاته:
تناولت فِيهِ التَّعْرِيف باسمه، وَنسبه، وكنيته، ومولده، ونشأته، وَصفته، وَطَلَبه للْعلم، وشيوخه، ومناظراته، وعقيدته، وموقف الْعلمَاء مِنْهُ، ووفاته واستبشار النَّاس بِمَوْتِهِ، وآثاره،
الْفَصْل الثَّالِث: عرفت فِيهِ بِابْن الثَّلْجِي فِي مبحثين:
المبحث الأول: عصر ابْن الثَّلْجِي السياسي والعملي.
المبحث الثَّانِي: حَيَاته:
وتناولت فِيهِ التَّعْرِيف باسمه، وكنيته، وَنسبه، ومولده، وَطَلَبه للْعلم وشيوخه، وتلاميذه، وَبَعض مَا نسب إِلَيْهِ من الرِّوَايَات، وعقيدته، وموقفه من الْعلمَاء، ثمَّ فَاتَهُ وآثاره.
الْبَاب الثَّانِي: عرفت فِيهِ بِالْكتاب المخطوطة فِي فصلين:
الْفَصْل الأول: التَّعْرِيف بِالْكتاب:
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর রাজনৈতিক ও ব্যবহারিক যুগ।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর জীবন:
আমি এতে লেখকের নাম ও কুনিয়াত (উপনাম), তাঁর বংশপরিচয় ও জন্ম, জ্ঞান অন্বেষণ, তাঁর শিক্ষকগণ, ছাত্রগণ, তাঁর থেকে বর্ণিত বিভিন্ন জ্ঞানগর্ভ ফায়েদা ও বিরল তথ্যাদি, ইলমি ক্ষেত্রে নিজের অবস্থানের প্রতি তাঁর আত্মমর্যাদাবোধ, যেসব শাস্ত্রে তিনি পারদর্শিতা অর্জন করেছিলেন, তাঁর প্রশংসায় আলেমদের উক্তি, বিদআতিদের প্রতি তাঁর অবস্থান, অতঃপর তাঁর ইন্তেকাল এবং তাঁর রচনাবলী তুলে ধরেছি।
দ্বিতীয় অধ্যায়: এতে আমি দুটি পরিচ্ছেদে আল-মারীসী সম্পর্কে পরিচয় প্রদান করেছি:
প্রথম পরিচ্ছেদ: আল-মারীসীর রাজনৈতিক ও জ্ঞানতাত্ত্বিক যুগ।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর জীবন:
আমি এতে তাঁর নাম, বংশপরিচয়, কুনিয়াত (উপনাম), জন্ম, শৈশব ও কৈশোর, শারীরিক বৈশিষ্ট্য, জ্ঞান অন্বেষণ, তাঁর শিক্ষকগণ, তাঁর মুনাজারা (বিতর্ক) সমূহ, তাঁর আকিদা, তাঁর সম্পর্কে আলেমদের অবস্থান, তাঁর ইন্তেকাল এবং তাঁর মৃত্যুতে জনমানুষের আনন্দ প্রকাশ ও তাঁর রচনাবলী সম্পর্কে আলোচনা করেছি।
তৃতীয় অধ্যায়: এতে আমি দুটি পরিচ্ছেদে ইবনুত থালজি সম্পর্কে পরিচয় প্রদান করেছি:
প্রথম পরিচ্ছেদ: ইবনুত থালজির রাজনৈতিক ও ব্যবহারিক যুগ।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর জীবন:
আমি এতে তাঁর নাম, কুনিয়াত (উপনাম), বংশপরিচয়, জন্ম, জ্ঞান অন্বেষণ ও শিক্ষকগণ, তাঁর ছাত্রগণ, তাঁর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত কিছু বর্ণনা, তাঁর আকিদা, আলেমদের প্রতি তাঁর অবস্থান, অতঃপর তাঁর ইন্তেকাল ও রচনাবলী সম্পর্কে আলোচনা করেছি।
দ্বিতীয় খণ্ড: এতে আমি দুটি অধ্যায়ে পাণ্ডুলিপিভুক্ত গ্রন্থটি সম্পর্কে পরিচয় প্রদান করেছি:
প্রথম অধ্যায়: গ্রন্থটির পরিচয়:
(খণ্ড: ١)
নাকযুদ দারিমী আলাল মারীসী - তাহকীক আল-আলমায়ী
(পৃষ্ঠা: ١١)
وَقد تضمن: اسْم الْكتاب، ونسبته إِلَى الْمُؤلف، وموضوعه، وَسبب التَّأْلِيف، وتاريخ تأليفه، ومنهج الْمُؤلف فِي هَذَا الْكتاب، وَقِيمَته العلمية.
الْفَصْل الثَّانِي: التَّعْرِيف بالمخطوطة:
ويتضمن: عدد نسخ المخطوطة، والتعريف بالنسخ، وتاريخ النّسخ وَالنُّسْخَة الأَصْل وَسبب اخْتِيَارهَا، والسماعات على النّسخ، ونماذج من المخطوطات.
الْقسم الثَّانِي: "الْكتاب محققًا".
والمنهج الَّذِي اتبعته فِي تَحْقِيقه وَالتَّعْلِيق عَلَيْهِ مَا يَلِي:
1- عزو الْآيَات إِلَى موَاضعهَا فِي كتاب الله الْكَرِيم.
2- تَخْرِيج الْأَحَادِيث والْآثَار:
فقد أورد الْمُؤلف كثيرا مِنْهُ فِي كِتَابه هَذَا بأسانيدها، وَلم يذكر مخرجيها مِمَّا اضطرني إِلَى الْبَحْث عَنْهَا فِي مظان وجودهَا وَقد وقفت على أَكْثَرهَا وَللَّه الْحَمد وَاتَّبَعت فِي تخريخها وَالْحكم عَلَيْهَا مَا يَلِي:
أ- إِذا كَانَ الحَدِيث مخرجا فِي الصَّحِيحَيْنِ أَو أَحدهمَا اكتفيت بالعزو إِلَيْهِ فِي مَكَان وجوده مُبينًا اللَّفْظ الَّذِي ورد بِهِ إِن كَانَ فِيهِ اخْتِلَاف وَلَا أطيل بعد هَذَا فِي الْإِشَارَة إِلَى أَمَاكِن وجوده فِي غَيرهمَا.
ب- إِذا كَانَ فِي غَيرهمَا فِي كتب الصِّحَاح وَالْمَسَانِيد والجوامع والمستدركات وَنَحْوهَا، فَإِنِّي أُشير إِلَى مَكَان وجوده فِيهَا مستفيدًا من ذكر الحكم عَلَيْهِ من بعض الْمُحدثين كالترمذي وَالْحَاكِم وَغَيرهمَا.
এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে: গ্রন্থের নাম, লেখকের প্রতি এর নিসবত বা সম্বন্ধ, এর বিষয়বস্তু, রচনার কারণ, রচনার তারিখ, এই গ্রন্থে লেখকের অনুসৃত পদ্ধতি এবং এর জ্ঞানতাত্ত্বিক গুরুত্ব।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: পাণ্ডুলিপি পরিচিতি:
এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে: পাণ্ডুলিপির কপির সংখ্যা, কপিগুলোর পরিচিতি, অনুলিপি করার তারিখ ও মূল পাণ্ডুলিপি এবং তা নির্বাচনের কারণ, কপিগুলোর ওপর শ্রবণলিপি (সামাআত) এবং পাণ্ডুলিপির কিছু নমুনা।
দ্বিতীয় অংশ: "সম্পাদিত গ্রন্থ"।
গ্রন্থটি সম্পাদনা ও এর ওপর টীকা প্রদানের ক্ষেত্রে আমি যে পদ্ধতি অনুসরণ করেছি তা নিম্নরূপ:
১- আল্লাহর কিতাব (কুরআন মাজীদ)-এ আয়াতগুলোর মূল স্থান নির্দেশ করা।
২- হাদীস ও আসারসমূহের তাখরীজ (উৎস নির্দেশ) করা:
লেখক এই গ্রন্থে সনদসহ অনেক হাদীস ও আসার উল্লেখ করেছেন, কিন্তু তিনি সেগুলোর মূল সংকলনকারীদের নাম উল্লেখ করেননি। ফলে আমি সেগুলোর সম্ভাব্য উৎসগুলোতে অনুসন্ধান করতে বাধ্য হয়েছি এবং আলহামদুলিল্লাহ আমি সেগুলোর অধিকাংশ খুঁজে পেয়েছি। এগুলোর তাখরীজ ও সেগুলোর ব্যাপারে হুকুম (মান) বর্ণনায় আমি নিম্নোক্ত পদ্ধতি অবলম্বন করেছি:
ক- হাদীসটি যদি সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম) বা এর কোনো একটিতে উদ্ধৃত হয়ে থাকে, তবে আমি সেই মূল উৎসের উদ্ধৃতি দিয়েই ক্ষান্ত হয়েছি; যদি কোনো শব্দগত পার্থক্য থাকে তবে তা স্পষ্ট করে দিয়েছি এবং এরপর অন্য কোনো কিতাবে এর অবস্থান বর্ণনায় দীর্ঘসূত্রিতা করিনি।
খ- যদি হাদীসটি সহীহাইন ছাড়া অন্যান্য সিহাহ্, মাসানিদ, জাওয়ামি, মুস্তাদরাক বা এই জাতীয় কিতাবসমূহে থাকে, তবে আমি সেগুলোতে এর অবস্থান নির্দেশ করেছি এবং ইমাম তিরমিযী, ইমাম হাকিম ও অন্যান্য মুহাদ্দিসগণের দেওয়া হুকুম উল্লেখ করার মাধ্যমে উপকৃত হয়েছি।
(খণ্ড: ١)
নাকযুদ দারিমী আলাল মারীসী - তাহকীক আল-আলমায়ী
(পৃষ্ঠা: ١٢)
ج- إِذا لم أَقف لأحد من الْمُحدثين على حكم الحَدِيث أَو الْأَثر فَإِنِّي أبين دَرَجَته بِالنّظرِ إِلَى إِسْنَاده وَمَتنه، ثمَّ أتبعه بِمَا أَقف عَلَيْهِ من الشواهد والمتابعات الَّتِي تعضده وتقوي مَعْنَاهُ إِن وجدت.
3- شرح الْكَلِمَات الغريبة وَبَيَان مدلولاتها من خلال كتب اللُّغَة.
4- التَّعْرِيف بالأماكن والبلدان الْوَارِدَة فِي الْكتاب.
5- تَرْجَمَة الْأَعْلَام.
فقد أورد الْمُؤلف فِي كِتَابه هَذَا مئات الْأَشْخَاص ترجمت للكثرة الكاثرة مِنْهُم، وَلم يفتني إِلَّا النزر الْيَسِير جدًّا، وَلَا أَدعِي أَنِّي قد أصبت فِي كل الَّذين ترجمت لَهُم وحسبي أَنِّي بذلت الْجهد فِي ذَلِك.
وَلما كَانَ مُعظم المترجم لَهُم فِي هَذَا الْكتاب فِي تعريفهم عَمَدت إِلَى تقريب السِّتَّة، وَكنت بحاجة إِلَى الِاخْتِصَار فِي تعريفهم عَمَدت إِلَى تقريب التَّهْذِيب لِابْنِ حجر كمصدر أساسي للتَّرْجَمَة، إِذْ هُوَ من أَجود المختصرات النافعة فِي تراجم الرِّجَال خَاصَّة، وَهُوَ يُعْطي المراجع عصارة الْأَقْوَال فِي الشَّخْص المترجم لَهُ من حَيْثُ الْجرْح وَالتَّعْدِيل.
وَقد سرت على الِاصْطِلَاح الَّذِي اتبعهُ ابْن حجر فِي كِتَابه التَّقْرِيب من اسْتِعْمَال الرموز الدَّالَّة على الْأَلْفَاظ، وَهِي:
"خَ" للْبُخَارِيّ، فَإِن كَانَ الحَدِيث عِنْده مُعَلّقا"خت"، وللبخاري فِي الْأَدَب الْمُفْرد"بخ"، وَفِي خلق أَفعَال الْعباد"عخ" وَفِي جُزْء الْقِرَاءَة "ز"، فِي رفع الْيَدَيْنِ "ي"، وَلمُسلم "م"، وَلأبي دَاوُد "د"، وَفِي الْمَرَاسِيل "مد"، وَفِي فَضَائِل الْأَنْصَار "صد" وَفِي النَّاسِخ "خد"، وَفِي الْقدر
গ- যদি আমি কোনো মুহাদ্দিসের নিকট থেকে হাদীস বা আসারের ওপর কোনো হুকুম না পাই, তবে আমি এর সনদ ও মতন পর্যালোচনার মাধ্যমে তার স্তর বর্ণনা করি; এরপর আমি যা পাই তার মধ্য থেকে এমন শাহিদ ও মুতাবাআত (সমর্থক ও সহায়ক বর্ণনা) এর অনুগামী করি যা একে সমর্থন দেয় এবং এর অর্থকে শক্তিশালী করে, যদি তা পাওয়া যায়।
৩- দুর্লভ শব্দাবলির ব্যাখ্যা এবং ভাষাতত্ত্বের কিতাবসমূহের আলোকে সেগুলোর অর্থ স্পষ্টীকরণ।
৪- কিতাবে বর্ণিত স্থান ও শহরসমূহের পরিচয় প্রদান।
৫- বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের জীবনী আলোচনা।
কেননা লেখক এই কিতাবে শত শত ব্যক্তির কথা উল্লেখ করেছেন, আমি তাদের বিশাল একটি অংশের জীবনী আলোচনা করেছি এবং খুব সামান্যই আমার দৃষ্টি এড়িয়ে গেছে। আমি দাবি করি না যে যাদের জীবনী আমি লিখেছি তাদের সবার ক্ষেত্রে আমি নির্ভুল হয়েছি, তবে আমার জন্য এটুকুই যথেষ্ট যে আমি এ বিষয়ে যথাসাধ্য প্রচেষ্টা ব্যয় করেছি।
যেহেতু এই কিতাবে যাদের জীবনী আলোচিত হয়েছে তাদের অধিকাংশই কুতুবে সিত্তার অন্তর্ভুক্ত, এবং তাদের পরিচয়ের ক্ষেত্রে আমার সংক্ষিপ্তকরণের প্রয়োজন ছিল, তাই আমি জীবনী আলোচনার প্রধান উৎস হিসেবে ইবনে হাজারের ‘তাকরীবুত তাহযীব’ কিতাবটি গ্রহণ করেছি। কেননা এটি বিশেষত রাবীদের জীবনীর ক্ষেত্রে অন্যতম চমৎকার ও উপকারী সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ; এটি অনুসন্ধানকারীকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জরাহ ও তাদীল সংক্রান্ত বক্তব্যের নির্যাস প্রদান করে।
আমি ইবনে হাজার তাঁর ‘তাকরীব’ কিতাবে শব্দাবলির পরিবর্তে যে সংকেত চিহ্নগুলো ব্যবহারের পরিভাষা অনুসরণ করেছেন, সেটিই গ্রহণ করেছি; আর সেগুলো হলো:
"খ" বুখারীর জন্য, যদি হাদীসটি তাঁর নিকট মুআল্লাক হিসেবে থাকে তবে "খত", বুখারীর ‘আল-আদাবুল মুফরাদ’-এর জন্য "বখ", ‘খালকু আফআলিল ইবাদ’-এর জন্য "আখ", ‘জুযউল কিরাআত’-এর জন্য "য", ‘রাফউল ইয়াদাইন’-এর জন্য "ই", মুসলিমের জন্য "ম", আবু দাউদের জন্য "দ", ‘আল-মারাসিল’-এর জন্য "মদ", ‘ফাদায়িলুল আনসার’-এর জন্য "সদ", ‘আন-নাসিখ’-এর জন্য "খদ", এবং ‘আল-কদর’ এর জন্য...
(খণ্ড: ١)
নাকযুদ দারিমী আলাল মারীসী - তাহকীক আল-আলমায়ী
(পৃষ্ঠা: ١٣)
"قد"، وَفِي التفرد "ف"، وَفِي الْمسَائِل "ل"، وَفِي مُسْند مَالك "كد"، وللترمذي "ت"، وَفِي الشَّمَائِل لَهُ "تمّ"، وللنسائي "س"، وَفِي مُسْند عَليّ لَهُ "عس" وَفِي التَّفْسِير لَهُ "فق ".
كَمَا أَنه اسْتعْمل الرَّمْز "ع"‘ إِذا أخرج لَهُ أَصْحَاب الْكتب السِّتَّة، وَالرَّمْز "ع" إِذا أخرج لَهُ الْأَرْبَعَة، وَلما كَانَ هَذَا الرَّمْز كِتَابَته بالآلة الكاتبة فقد صرحت فِيهِ بِذكر لفظ "الْأَرْبَعَة".
ثمَّ قَالَ: وَمن لَيست لَهُ عِنْدهم رِوَايَة مرقوم عَلَيْهِ "تَمْيِيز".
كَمَا أَنه سَار فِي الطَّبَقَات على اعْتِبَار أَن من كَانَ من الأولى وَالثَّانيَِة فهم قبل الْمِائَة، وَإِن كَانَ من الثَّالِثَة إِلَى آخر الثَّامِنَة فهم بعد الْمِائَة، وَإِن كَانَ من التَّاسِعَة إِلَى آخر الطَّبَقَات فهم بعد الْمِائَتَيْنِ وَمن ندر عَن ذَلِك بَينه.
وَقد سرت فِي تَحْدِيد الْوَفَاة لأغلب التراجم على اصْطِلَاح ابْن حجر هَذَا وَرُبمَا أثبت أَحْيَانًا سنة الْوَفَاة حسب مَدْلُول الِاصْطِلَاح.
وَلم أقتصر على تقريب ابْن حجر، فكثيرًا مَا أستعين بالمطولات فِي بَابه وبغيرها من كتب التراجم الْمُخْتَلفَة.
وَإِذا ترجمت لشخص أَو عرفت براو، وتكرر اسْمه مرّة أخري، أَشرت إِلَى مَوضِع تَقْدِيمه فِي الْكتاب.
6- تناولت بالتعريف الْملَل والنحل وَالْفرق والأديان الَّتِي وَردت فِي الْكتاب.
7- الْمُقَابلَة: وَاتَّبَعت فِيهَا مَا يَلِي:
أ- اعتمدت إِحْدَى النّسخ أصلا وَذكرت الفروق الَّتِي فِي النّسخ
'কাদ', এবং 'আত-তাফাররুদ'-এর ক্ষেত্রে 'ফা', এবং 'আল-মাসাইল'-এর ক্ষেত্রে 'লাম', এবং 'মুসনাদে মালিক'-এর ক্ষেত্রে 'কাফ-দাল', এবং তিরমিযীর জন্য 'তা', এবং তাঁর 'আশ-শামাইল'-এর জন্য 'তা-মিম', এবং নাসাঈর জন্য 'সিন', এবং তাঁর 'মুসনাদে আলী'-র জন্য 'আইন-সিন' এবং তাঁর 'আত-তাফসীর'-এর জন্য 'ফা-কাফ'।
তেমনিভাবে তিনি 'আইন' প্রতীকটি ব্যবহার করেছেন যখন কুতুবে সিত্তা বা ছয়টি কিতাবের সংকলকগণ হাদিসটি বর্ণনা করেছেন, এবং 'আইন' প্রতীকটি ব্যবহার করেছেন যখন চারজন (সুনান চতুষ্টয়) তা বর্ণনা করেছেন। তবে যেহেতু টাইপরাইটারে এই প্রতীকটি লেখার ক্ষেত্রে অস্পষ্টতা ছিল, তাই আমি সেখানে সরাসরি 'আল-আরবাআহ' (চারজন) শব্দটি উল্লেখ করে দিয়েছি।
অতঃপর তিনি বলেছেন: যাদের কোনো বর্ণনা তাদের নিকট নেই, তাদের নামের ওপর 'তাময়িয' শব্দ লিখে চিহ্নিত করা হয়েছে।
তেমনিভাবে তিনি স্তরবিন্যাসের (তাবাকাত) ক্ষেত্রে এই নীতি অনুসরণ করেছেন যে, যারা প্রথম ও দ্বিতীয় স্তরের অন্তর্ভুক্ত তারা হিজরি ১০০ সালের পূর্বের, আর যারা তৃতীয় থেকে অষ্টম স্তরের শেষ পর্যন্ত তারা ১০০ সালের পরের, এবং যারা নবম থেকে সর্বশেষ স্তর পর্যন্ত তারা ২০০ সালের পরের। আর এর ব্যতিক্রম যা ঘটেছে তা তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন।
অধিকাংশ জীবনীর মৃত্যুসন নির্ধারণের ক্ষেত্রে আমি ইবনে হাজারের এই পরিভাষা অনুসরণ করেছি এবং কখনো কখনো পরিভাষার অর্থ অনুযায়ী সরাসরি মৃত্যুসন সাব্যস্ত করেছি।
আমি কেবল ইবনে হাজারের 'তাকরীব'-এর ওপর সীমাবদ্ধ থাকিনি, বরং প্রায়শই এই বিষয়ের বিস্তারিত গ্রন্থসমূহ এবং অন্যান্য বিভিন্ন জীবনীগ্রন্থের সহায়তা নিয়েছি।
আমি যখন কোনো ব্যক্তির জীবনী আলোচনা করেছি বা কোনো বর্ণনাকারীর পরিচয় দিয়েছি এবং পুনরায় তাঁর নাম এসেছে, তখন কিতাবের পূর্ববর্তী যে স্থানে তাঁর পরিচয় দেওয়া হয়েছে সেই স্থানের প্রতি নির্দেশ করেছি।
৬- আমি কিতাবে উল্লেখিত বিভিন্ন মতবাদ, উপদল, ফেরকা ও ধর্মসমূহের পরিচয় তুলে ধরেছি।
৭- মুকাবিলা (পাণ্ডুলিপি তুলনা): এক্ষেত্রে আমি নিম্নোক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করেছি:
ক- আমি পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যে একটিকে মূল হিসেবে গ্রহণ করেছি এবং অন্যান্য পাণ্ডুলিপিতে থাকা পাঠভেদসমূহ উল্লেখ করেছি।
(খণ্ড: ١)
নাকযুদ দারিমী আলাল মারীসী - তাহকীক আল-আলমায়ী
(পৃষ্ঠা: ١٤)
الْأُخْرَى فِي الْحَاشِيَة، وَإِذا كَانَ مَا فِي النّسخ الْأُخْرَى هُوَ الْأَقْرَب للصَّوَاب أَو بِهِ يَتَّضِح الْمَعْنى ذكرت ذَلِك.
ب- إِذا كَانَ مَا فِي الأَصْل مِمَّا لَا يحْتَمل الصَّوَاب كَمَا لَو كَانَ خطأ فِي أَيَّة قرآنية أَو خطأ نحويًّا أَو نَحْو ذَلِك، فَإِنِّي أثبت الصَّوَاب وأشير إِلَى خطأ نُسْخَة الأَصْل فِي الْحَاشِيَة، وَإِن كَانَ مِمَّا يحْتَمل التَّوْجِيه أثْبته فِي الأَصْل وَذكرت تَوْجِيه ذَلِك فِي الْحَاشِيَة، وَقد أترك التَّوْجِيه فِي بعض الفروق لفظته الْقَارئ.
ج- عمد نَاسخ الأَصْل إِلَى اصْطِلَاحَات الْخط الْقَدِيم فِي كِتَابَته فَهُوَ يغْفل الْهمزَة فِي نَحْو لفظ الرُّؤْيَة وَقَائِل وَشَيْء وَنَحْو ذَلِك، وَيتْرك ألف الْمَدّ فِي نَحْو مُعَاوِيَة وَإِسْحَاق، وَيتْرك الإعجام لبَعض الْحُرُوف الْمُعْجَمَة إِلَى غير ذَلِك مِمَّا يعرف مُرَاده بِهِ خلال السِّيَاق وَتَأمل النّسخ الْأُخْرَى، وَكتب التراجم، وَقد طوعت الْخط الْقَدِيم الَّذِي كتبه نَاسخ الأَصْل إِلَى اصْطِلَاحَات الْإِمْلَاء الحديثة من غير أَن أذكر فروق الأَصْل لِئَلَّا تطول بذلك الْحَوَاشِي.
8- قُمْت بِوَضْع خَاتِمَة موجزة ضمنتها بعض الاقتراحات والملاحظات.
9- قُمْت بِعَمَل فهارس اشْتَمَلت على مَا يَلِي:
أ- فهرس الْآيَات القرآنية.
ب- فهرس الْأَحَادِيث والْآثَار.
ج- فهرس الْفرق والأديان.
د- فهرس الْكَلِمَات الغريبة.
অন্যান্য পাণ্ডুলিপিগুলোর পাঠ টিকায় উল্লেখ করা হয়েছে। আর যদি অন্য পাণ্ডুলিপিগুলোতে যা আছে তা-ই সঠিকের নিকটতর হয় অথবা তার মাধ্যমে অর্থ অধিকতর স্পষ্ট হয়, তবে আমি তা উল্লেখ করেছি।
খ- মূল পাণ্ডুলিপিতে যা আছে তা যদি নির্ভুল হওয়ার সম্ভাবনা না রাখে, যেমন কুরআনের আয়াতে ভুল কিংবা ব্যাকরণগত ভুল অথবা অনুরূপ কিছু, তবে আমি সঠিক পাঠটি মূল পাঠে স্থাপন করেছি এবং মূল পাণ্ডুলিপির ভুলটি টিকায় নির্দেশ করেছি। আর যদি এমন হয় যা কোনো ব্যাখ্যা বা দৃষ্টিভঙ্গির সম্ভাবনা রাখে, তবে আমি তা মূল পাঠে বহাল রেখেছি এবং টিকায় তার ব্যাখ্যা উল্লেখ করেছি। কখনো কখনো পাঠকের কাছে স্পষ্ট এমন কিছু পার্থক্যের ক্ষেত্রে ব্যাখ্যা বর্জন করেছি।
গ- মূল পাণ্ডুলিপির লিপিকার তার লেখায় প্রাচীন লিখনরীতির পরিভাষাগুলো অনুসরণ করেছেন। তিনি 'রুইয়াহ' (দর্শন), 'কাইল' (বক্তা) এবং 'শাই' (বস্তু) এর মতো শব্দগুলোতে হামযা বর্জন করেছেন; 'মুআবিয়াহ' ও 'ইসহাক' এর মতো শব্দে মদের আলিফ ছেড়ে দিয়েছেন; এবং কিছু নুকতাযুক্ত বর্ণের নুকতা বর্জন করেছেন। এজাতীয় বিষয়গুলোর উদ্দেশ্য প্রাসঙ্গিক আলোচনা, অন্যান্য পাণ্ডুলিপি পর্যবেক্ষণ এবং জীবনীগ্রন্থসমূহের পর্যালোচনার মাধ্যমে জানা যায়। আমি মূল পাণ্ডুলিপির লিপিকারের ব্যবহৃত প্রাচীন লিখনরীতিকে আধুনিক বানানরীতির অনুগামী করেছি এবং মূলের সাথে এর পার্থক্যগুলো উল্লেখ করিনি, যাতে এর কারণে টীকাগুলো দীর্ঘ না হয়ে যায়।
৮- আমি একটি সংক্ষিপ্ত উপসংহার প্রদান করেছি, যাতে কিছু প্রস্তাবনা ও পর্যবেক্ষণ অন্তর্ভুক্ত করেছি।
৯- আমি নির্ঘণ্ট বা সূচিপত্র তৈরি করেছি, যাতে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:
ক- কুরআনের আয়াতসমূহের সূচি।
খ- হাদীস ও আসারের (সাহাবী ও তাবিঈদের বাণী) সূচি।
গ- দল ও ধর্মসমূহের সূচি।
ঘ- দুর্লভ বা কঠিন শব্দাবলির সূচি।
(খণ্ড: ١)
নাকযুদ দারিমী আলাল মারীসী - তাহকীক আল-আলমায়ী
(পৃষ্ঠা: ١٥)
هـ- فهرس المصطلحات.
وفهرس الْأَشْعَار والأمثال، والقبائل، والبلدان واللغات وَنَحْوهَا.
ز- فهرس أَسمَاء الْكتب.
ح- فهرس الْأَعْلَام.
ط- فهرس المراجع.
ي- فهرس الموضوعات.
وَبعد: فَالْحق أَن مثلي يقصر بَاعه دون الْوُصُول إِلَى مَا يتطلع إِلَيْهِ ذَوُو النهم العلمي وَأَصْحَاب الهمم الْعَالِيَة، وحسبي أَنِّي قد بذلت الْجهد فَإِن أصبت فَمن الله، وَإِن أَخْطَأت فَمن نَفسِي وَمن الشَّيْطَان، وَالله وَرَسُوله بريئان مِنْهُ.
وَلَعَلَّ من أبرز مَا واجهته من صعوبات حصولي على النُّسْخَة المخطوطة الَّتِي اعْتمد عَلَيْهَا الشَّيْخ مُحَمَّد حَامِد الفقي فِي طبعه لهَذَا الْكتاب، وأحسب أَنَّهَا ضمن ممتلكات أحفاده فِي مصر، وَكنت قد بذلت مَا أمكنني للحصول عَلَيْهَا من بعض أحفاده واستعنت بِبَعْض من لَهُم بهم وجاهة وصلَة، إِلَّا أَن ذَلِك لم يجد بِشَيْء، وَقد أغناني عَن الْمَزِيد من الاستجداء أَن المطبوعة الَّتِي قَامَ بطبعها حَامِد الفقي مُقَابلَة عَلَيْهَا فاكتفيت بهَا مستعينًا بطبعة أُخْرَى قَامَ بطبعها ضمن مَجْمُوع عقائد السّلف كل من الأستاذين عَليّ سامي النشار وعمار الطَّالِبِيُّ.
كَمَا أَن من الصعوبات الَّتِي واجهتها هُوَ ذَلِك الْجهد الَّذِي كنت أبذله.
ঙ- পরিভাষা নির্ঘণ্ট।
এবং কবিতা, প্রবাদ-প্রবচন, গোত্র, জনপদ, ভাষা ও ইত্যাদির নির্ঘণ্ট।
চ- গ্রন্থনামের নির্ঘণ্ট।
ছ- ব্যক্তিবর্গের নির্ঘণ্ট।
জ- তথ্যসূত্র নির্ঘণ্ট।
ঝ- বিষয়বস্তু নির্ঘণ্ট।
অতঃপর: সত্য কথা এই যে, আমার মতো ব্যক্তির সক্ষমতা জ্ঞানপিপাসু ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী ব্যক্তিদের প্রত্যাশা পূরণ করার পর্যায়ে পৌঁছাতে অক্ষম। আমার জন্য এটুকুই যথেষ্ট যে আমি সাধ্যমতো শ্রম ব্যয় করেছি; সুতরাং আমি যদি সঠিক হয়ে থাকি তবে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর যদি ভুল করে থাকি তবে তা আমার নিজের পক্ষ থেকে এবং শয়তানের পক্ষ থেকে; আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তা থেকে মুক্ত।
আমি যেসব প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়েছি তার মধ্যে সম্ভবত অন্যতম হলো সেই পাণ্ডুলিপিটি সংগ্রহ করা যার ওপর ভিত্তি করে শেখ মুহাম্মদ হামিদ আল-ফিকি এই গ্রন্থটি মুদ্রণ করেছিলেন। আমার ধারণা এটি মিশরে তাঁর বংশধরদের মালিকানাধীন রয়েছে। আমি তাঁর কিছু বংশধরের কাছ থেকে এটি সংগ্রহের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করেছিলাম এবং যাদের সাথে তাঁদের সখ্যতা ও জানাশোনা রয়েছে এমন কিছু ব্যক্তির সাহায্যও নিয়েছিলাম, কিন্তু তাতে কোনো ফল আসেনি। হামিদ আল-ফিকি কর্তৃক প্রকাশিত মুদ্রিত সংস্করণটি যেহেতু ওই পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে সম্পাদিত ছিল, তাই তা আমাকে অধিক অনুনয়-বিনয় করা থেকে নিষ্কৃতি দিয়েছে। ফলে আমি সেটির ওপরই নির্ভর করেছি এবং পাশাপাশি উস্তাদ আলি সামি আল-নাশশার ও আম্মার আল-তালিবি কর্তৃক 'সালাফদের আকাইদ সমষ্টির' অন্তর্ভুক্ত মুদ্রিত অন্য একটি সংস্করণেরও সহায়তা নিয়েছি।
তেমনিভাবে আমি যেসব সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিলাম তা হলো সেই শ্রম যা আমি ব্যয় করছিলাম।
(খণ্ড: ١)
নাকযুদ দারিমী আলাল মারীসী - তাহকীক আল-আলমায়ী
(পৃষ্ঠা: ١٦)
للحصول على تَرْجَمَة علم الْتبس عليّ، أَو أثر لم أَقف على من ذكره.
وَهَذَانِ الْأَمر من أظهر العقبات الَّتِي كَانَت تواجهني، وَكم كنت أسر عِنْدَمَا أظفر بِحَدِيث أَو أثر طَال بحثي عَنهُ، أَو تميز لي علم عَن غَيره مِمَّا يلتبس كثيرا على من بَاعه قصير مثلي فِي علم الرِّجَال.
وَلَقَد كَانَ لشيخي الْفَاضِل عبد الْعَزِيز الراجحي -بعد الله- أكبر الْأَثر فِي تذليل مَا واجهني من صعوبات، أفدت كثيرا من ثاقب رَأْيه، وَحسن درايته، وسديد توجيهات، مَعَ حرصه على الْوَقْت أَن يذهب سدى، فجزاه الله عني خير الْجَزَاء، وأجزل لَهُ المثوبة فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَة إِنَّه تَعَالَى سميع مُجيب.
كَمَا أتقدم بالشكر الجزيل لجامعة الإِمَام مُحَمَّد بن سعود الإسلامية ممثلة فِي كُلية أصُول الدَّين، على إتاحة هَذِه الفرصة لي، سَائِلًا الله تَعَالَى أَن يَجْعَل عَمَلي هَذَا خَالِصا لوجهه الْكَرِيم، إِنَّه تَعَالَى سميع قريب مُجيب، وَآخر دعوانا أَن الْحَمد لله رب الْعَالمين وَصلى الله وَسلم على نَبينَا مُحَمَّد وعَلى آله وَصَحبه أجميعن.
কোনো আলেম (ব্যক্তি)-এর জীবনী খুঁজে পাওয়া যা আমার নিকট অস্পষ্ট ছিল, অথবা এমন কোনো বর্ণনা (আছার) যার উল্লেখকারী সম্পর্কে আমি অবগত ছিলাম না।
এই দু’টি বিষয় ছিল আমার সামনে আসা স্পষ্টতম প্রতিবন্ধকতাসমূহের অন্তর্ভুক্ত। আমি কতটা আনন্দিত হতাম যখন আমি এমন কোনো হাদিস বা আছার লাভ করতাম যার অনুসন্ধান আমি দীর্ঘকাল ধরে করেছি, অথবা যখন একজন আলেমকে অন্যজন থেকে পৃথক করতে সক্ষম হতাম—যা ইলমুর রিজাল (ব্যক্তিত্ব পরিচিতি শাস্ত্র) শাস্ত্রে আমার মতো স্বল্পজ্ঞানী ব্যক্তির নিকট প্রায়শই অস্পষ্ট মনে হয়।
আমার সামনে আসা প্রতিবন্ধকতাসমূহ সহজ করার ক্ষেত্রে—আল্লাহর পরে—আমার সম্মানিত শাইখ আবদুল আজিজ আল-রাজহির অনেক বড় অবদান ছিল। আমি তাঁর প্রখর মেধা, উত্তম প্রজ্ঞা এবং সঠিক দিকনির্দেশনা থেকে প্রভূত উপকৃত হয়েছি; সেই সঙ্গে সময়ের অপচয় না করার ক্ষেত্রে তাঁর যে গভীর আগ্রহ ছিল তাও আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। আল্লাহ তাআলা আমার পক্ষ থেকে তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন এবং দুনিয়া ও আখিরাতে তাঁর সওয়াব ও পুরস্কার বহুগুণ বৃদ্ধি করে দিন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও কবুলকারী।
সেই সঙ্গে আমি ইমাম মুহাম্মাদ বিন সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের উসুলুদ দ্বীন অনুষদকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি আমাকে এই সুযোগ প্রদান করার জন্য। আমি আল্লাহ তাআলার নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমার এই আমলটিকে কেবল তাঁর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কবুল করেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, অতি নিকটবর্তী এবং প্রার্থনা কবুলকারী। আমাদের শেষ প্রার্থনা হলো, সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং তাঁর সকল সাহাবীর ওপর।
(খণ্ড: ١)
নাকযুদ দারিমী আলাল মারীসী - তাহকীক আল-আলমায়ী
(পৃষ্ঠা: ٢١)
الْقسم الأول:
الْبَاب الأول: التَّعْرِيف بالمؤلف والمريسي وَابْن الثَّلْجِي
الْفَصْل الأول: التَّعْرِيف بالدارمي
المبحث الأول: عصره السياسي والعلميأَولا: عصره السياسي:
عَاشَ الدَّارمِيّ رحمه الله فِي الفترة مَا بَين بداية خلَافَة الْمَأْمُون إِلَى بداية خلَافَة المعتضد بِاللَّه، وسأتناول على سَبِيل الإيجاز جملَة من الْحَوَادِث السياسية، الَّتِى حدثت فِي هَذِه الفترة مبتدئًا بخلافة الْمَأْمُون.
1- الْمَأْمُون "198-218":
وَفِي عَهده واجه بعض الصعوبات، كَانَ من أبرزها اسْتِقْلَال الدولة الزيادية عَن الْخلَافَة العباسية، كَمَا قَامَ الزط بمناوأة السلطة مستفيدين من الْفِتْنَة الَّتِي قَامَت بَين الْأمين والمأمون، وَقَامَ أَبُو السَّرَايَا فِي الْكُوفَة سنة 199 بالدعوة لأحد العلويين، وقاد مؤيديه ضد وَالِي الْعرَاق الْحسن بن سهل، وأوقع بِهِ الْهَزِيمَة.
وَقَامَت فِي عَهده فتْنَة القَوْل بِخلق الْقُرْآن وَأَرَادَ حمل النَّاس على القَوْل بذلك متأثرًا بخلصائه وأصفيائه من الْمُعْتَزلَة، إِلَى أَن توفّي بِبِلَاد بيزنطة فِي آخر غَزَوَاته سنة 218 موصيًا بالخلافة من بعده للمعتصم1.
2- المعتصم "218-227":
ولي الْخلَافَة بعد أَخِيه الْمَأْمُون، وَكَانَ من أبرز المشكلات الَّتِي واجهت
--------------------------------------------
প্রথম বিভাগ:প্রথম অধ্যায়: লেখক, আল-মারিসি এবং ইবনুত থালজীর পরিচয়প্রথম পরিচ্ছেদ: আদ-দারিমীর পরিচয়প্রথম অনুচ্ছেদ: তাঁর রাজনৈতিক ও ইলমী যুগপ্রথমত: তাঁর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট:
আদ-দারিমী (রহিমাহুল্লাহ) আল-মামুনের খিলাফতের শুরু থেকে আল-মুতাদিদ বিল্লাহর খিলাফতের শুরু পর্যন্ত সময়কালে বসবাস করেছেন। আমি আল-মামুনের খিলাফত থেকে শুরু করে এই সময়ে ঘটিত রাজনৈতিক ঘটনাবলি সংক্ষেপে তুলে ধরব।
১- আল-মামুন "১৯৮-২১৮":
তাঁর শাসনামলে তিনি কিছু সমস্যার সম্মুখীন হন, যার মধ্যে অন্যতম ছিল আব্বাসীয় খিলাফত থেকে জিয়াদী রাষ্ট্রের স্বাধীনতা লাভ। এছাড়া আল-আমিন এবং আল-মামুনের মধ্যকার ফিতনার সুযোগ নিয়ে জুত জাতি কর্তৃপক্ষের বিরোধিতা শুরু করে। ১৯৯ হিজরীতে আবুস সারায়া কুফায় জনৈক আলভীর পক্ষে দাওয়াত দেন এবং ইরাকের ওয়ালী আল-হাসান ইবনে সাহলের বিরুদ্ধে তাঁর অনুসারীদের নেতৃত্ব দিয়ে তাকে পরাজিত করেন।
তাঁর আমলেই কুরআন সৃষ্টির মতবাদের (খালকে কুরআন) ফিতনা শুরু হয়। তিনি তাঁর মুতাযিলা ঘনিষ্ঠ মিত্র ও বন্ধুদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে মানুষকে এই মতবাদে বাধ্য করতে চেয়েছিলেন। ২১৮ হিজরীতে তাঁর শেষ অভিযানের সময় বাইজান্টাইন অঞ্চলে তিনি মৃত্যুবরণ করেন এবং তাঁর পরবর্তী খলীফা হিসেবে আল-মুতাসিমের নাম অসিয়ত করে যান।১
২- আল-মুতাসিম "২১৮-২২৭":
তিনি তাঁর ভাই আল-মামুনের পর খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর মোকাবিলা করা সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর মধ্যে ছিল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
নাকযুদ দারিমী আলাল মারীসী - তাহকীক আল-আলমায়ী
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
المعتصم فتْنَة الزط سبق ذكرهم، حَيْثُ استولوا على الْبَصْرَة وفرضوا المكوس الجائرة على السفن مِمَّا تسبب فِي منع وُصُول الأقوات والمؤن إِلَيّ بَغْدَاد، كَمَا تمّ فِي عهد محاربة ثورات بابك الخرمي وَمَا زيار والأفشين وَأسسَ مَدِينَة سامر. وَلَعَلَّ من أبرز الْأَحْدَاث فِي عصره فتح عمورية الْمَشْهُورَة، إِلَّا أَن من أظهر السلبيات الَّتِي وَقعت فِي عَهده هِيَ أَنه كَانَ يدني الْمُعْتَزلَة وينتصر لآرائهم1.
3- الواثق "227-232":
ولي الْخلَافَة بعد وَالِده، وَلم تدم أَكثر من سِتّ سنوات فِيهَا سيرة وَالِده من الِانْتِصَار للمعتزلة، وتشدد فِي فرض آرائه مِمَّا أثار أهل بَغْدَاد عَلَيْهِ، كَمَا لَا حَظّ المؤرخون فِي عَهده الضعْف الَّذِي شَاب السياسة الإدارية إِلَى أَن توفّي سنة 232 2.
4- المتَوَكل على الله "232-247":
وَهُوَ أَخُو الواثق، تولى الْخلَافَة بعده ولقب بالمتوكل على الله، وَكَانَت خِلَافَته بداية لما يُسمى بعصر نُفُوذ الأتراك، وَكَانَ فِي أول أمره يدني مِنْهُ أَحْمد بن أبي دؤاد المعتزلي حَتَّى جعله كَبِير الْقُضَاة، وَفِي سنة 237 غضب عَلَيْهِ وَقبض ضيَاعه وأمواله وحبسه، وَفِي عَهده أَمر بترك الجدل الَّذِي أثير فِي عهد الْمَأْمُون والمعتصم، وَكتب بذلك إِلَى الْأَمْصَار الإسلامية مِمَّا كَانَ لَهُ أكبر الْأَثر فِي نفوس الْمُسلمين، وَحدث فِي عَهده
--------------------------------------------
মুতাসিমের শাসনামলে জুত বিদ্রোহ সংঘটিত হয়েছিল যা পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে তারা বসরা দখল করে নিয়েছিল এবং জাহাজগুলোর ওপর অন্যায়ভাবে কর আরোপ করেছিল, যার ফলে বাগদাদে খাদ্য ও রসদ পৌঁছানো বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এছাড়া তার যুগে বাবাক আল-খুররামি, মাজইয়ার ও আফশিনের বিদ্রোহ দমনের যুদ্ধ পরিচালিত হয়েছিল এবং তিনি সামাররা শহর প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সম্ভবত তার যুগের অন্যতম উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলো বিখ্যাত আম্মুরিয়াহ বিজয়। তবে তার শাসনামলের অন্যতম স্পষ্ট নেতিবাচক দিক হলো এই যে, তিনি মুতাজিলাদের সান্নিধ্য দান করতেন এবং তাদের মতাদর্শকে বিজয়ী করার চেষ্টা করতেন১।
৩- আল-ওয়াসিক "২২৭-২৩২":
তিনি তার পিতার পরে খিলাফতের দায়িত্ব লাভ করেন। তার শাসনকাল ছয় বছরের বেশি স্থায়ী হয়নি, যাতে মুতাজিলাদের পক্ষাবলম্বন করার ক্ষেত্রে তার পিতার পদাঙ্কই অনুসৃত হয়েছিল। তিনি তার মতাদর্শ চাপিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে কঠোরতা অবলম্বন করেন, যা বাগদাদবাসীকে তার বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ করে তোলে। একইভাবে ইতিহাসবিদগণ তার যুগে প্রশাসনিক নীতিতে দুর্বলতা লক্ষ্য করেছেন, যা ২৩২ হিজরিতে তার মৃত্যু পর্যন্ত বজায় ছিল২।
৪- আল-মুতাওয়াক্কিল আলাল্লাহ "২৩২-২৪৭":
তিনি আল-ওয়াসিকের ভাই, তার পরবর্তী খলিফা এবং আল-মুতাওয়াক্কিল আলাল্লাহ উপাধিতে ভূষিত হন। তার খিলাফতকাল ছিল তথাকথিত তুর্কি প্রভাবের যুগের সূচনা। শাসনের শুরুতে তিনি মুতাজিলা আহমাদ বিন আবি দুয়াদকে নিজের ঘনিষ্ঠ করেছিলেন এমনকি তাকে প্রধান বিচারপতিও নিযুক্ত করেছিলেন। ২৩৭ হিজরিতে তিনি তার ওপর অসন্তুষ্ট হন এবং তার ভূ-সম্পত্তি ও ধন-সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে তাকে কারারুদ্ধ করেন। তার শাসনামলে তিনি আল-মামুন ও আল-মুতাসিমের যুগে সূচিত বিতর্কসমূহ বর্জন করার নির্দেশ দেন এবং এ বিষয়ে ইসলামী জনপদগুলোতে ফরমান পাঠিয়ে দেন, যা মুসলমানদের মনে অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল। তার যুগে সংঘটিত হয়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
নাকযুদ দারিমী আলাল মারীসী - তাহকীক আল-আলমায়ী
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
مجاعات شَدِيدَة إِثْر عواصف شملت بَغْدَاد وَالْبَصْرَة والكوفة وَغَيرهَا، وأغار الرّوم على دمياط ثمَّ آسيا فغزوا قيلقيا، واغتيل سنة 247 وَيُقَال: إِن ذَلِك كَانَ بتدبير من ابْنه والأتراك1.
5- الْمُنْتَصر بِاللَّه "247-248":
تولى الْخلَافَة بعد أَبِيه فبادر بخلع أَخَوَيْهِ المعتز والمؤيد من ولَايَة الْعَهْد، وَمَال إِلَى العلويين وسمح لَهُم بزيارة قبر الْحُسَيْن، وَأدنى مِنْهُ الأتراك ثمَّ مَا لبث أَن قلب لَهُم ظهر الْمِجَن، فأرادو قَتله فتآمروا مَعَ طبيبه على قَتله بالسم وَكَانَ ذَلِك، فَمَاتَ سنة 248 وعمره 26 عَاما2.
6- المستعين بِاللَّه "248-252":
اجْتمع رَأْي التّرْك على تَوْلِيَة الْخلَافَة لِأَحْمَد بن مُحَمَّد بن المعتصم، وَكَانَ يبلغ من الْعُمر 28 عَاما، ولقبوه بالمستعين بِاللَّه، وَلَعَلَّ ذَلِك رَاجع إِلَى اطمئنانهم إِلَيْهِ ففضلوه على أَبنَاء المتَوَكل إِلَّا أَنه أَرَادَ أَن يتَخَلَّص مِنْهُم، فَلَمَّا شعروا بذلك انقسموا إِلَى حزبين: حزب اتجه إِلَى بَغْدَاد وَأما الآخر فَأَرَادَ العودة إِلَى سامرا إِلَّا أَنه رفض فَقَامَ الَّذين عارضوه بخلعه وتولية ابْن عَمه المعتز بن المتَوَكل.
وَقَامَت الْحَرْب بَين الْفَرِيقَيْنِ واستمرت عدَّة أشهر وانتهت بانتصار المعارضين للمستعين الْمَعْزُول، فَأخْرج إِلَى وَاسِط ثمَّ مَا لبث أَن قتل سنة
--------------------------------------------
বগদাদ, বসরা, কুফা ও অন্যান্য অঞ্চলে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের পর ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। রোমানরা দিময়াত ও পরবর্তীতে এশিয়া আক্রমণ করে এবং কিলিকিয়া জয় করে। ২৪৭ হিজরিতে তাকে (আল-মুতাওয়াক্কিলকে) হত্যা করা হয়; বলা হয়ে থাকে যে এটি ছিল তাঁর পুত্র এবং তুর্কিদের যৌথ ষড়যন্ত্র।১
৫- আল-মুনতাসির বিল্লাহ "২৪৭-২৪৮":
তিনি তাঁর পিতার পর খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি দ্রুত তাঁর দুই ভাই আল-মুতায ও আল-মুয়াইয়াদকে উত্তরাধিকার থেকে পদচ্যুত করেন। তিনি আলীয়দের প্রতি অনুরাগী ছিলেন এবং তাঁদেরকে হুসাইন (রা.)-এর কবর জিয়ারতের অনুমতি প্রদান করেন। তিনি তুর্কিদের তাঁর নিকটবর্তী করেন, কিন্তু শীঘ্রই তিনি তাদের প্রতি শত্রুতাপূর্ণ আচরণ শুরু করেন। ফলে তারা তাঁকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয় এবং তাঁর চিকিৎসকের সাথে যোগসাজশে তাঁকে বিষপ্রয়োগে হত্যার ষড়যন্ত্র করে। এভাবেই ২৪৮ হিজরিতে ২৬ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়।২
৬- আল-মুস্তাইন বিল্লাহ "২৪৮-২৫২":
তুর্কিরা আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আল-মু’তাসিমকে খিলাফতে নিযুক্ত করার ব্যাপারে একমত হয়। তাঁর বয়স ছিল ২৮ বছর এবং তাঁরা তাঁকে 'আল-মুস্তাইন বিল্লাহ' উপাধিতে ভূষিত করেন। সম্ভবত তাঁর প্রতি তুর্কিদের আস্থার কারণেই তাঁরা তাঁকে আল-মুতাওয়াক্কিলের সন্তানদের ওপর প্রাধান্য দিয়েছিলেন। তবে তিনি তাঁদের থেকে মুক্ত হতে চেয়েছিলেন। যখন তাঁরা বিষয়টি বুঝতে পারলেন, তখন তাঁরা দুই দলে বিভক্ত হয়ে পড়লেন: এক দল বাগদাদের দিকে যাত্রা করল, আর অন্য দল সামাররায় ফিরে যেতে চাইল। কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করলে বিরোধীরা তাঁকে পদচ্যুত করে এবং তাঁর চাচাতো ভাই আল-মুতায ইবনুল মুতাওয়াক্কিলকে খলিফা নিযুক্ত করে।
উভয় পক্ষের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয় এবং কয়েক মাস স্থায়ী হয়। শেষ পর্যন্ত পদচ্যুত আল-মুস্তাইনের বিরোধীরা জয়ী হয়। তাঁকে ওয়াসিতে নির্বাসিত করা হয় এবং শীঘ্রই ... হিজরিতে তাঁকে হত্যা করা হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
নাকযুদ দারিমী আলাল মারীসী - তাহকীক আল-আলমায়ী
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
252 1.
7- المعتز بِاللَّه "252-255":
وَكَانَت فَتْرَة حكمه محكمَة الْقَبْض بأيدي الأتراك، يعزلون من يُرِيدُونَ ويصنعون مَا شَاءُوا، وَكَانَ متخوفًا مِنْهُم لَا يَأْمَن جانبهم، وَيذكر أَن جمَاعَة مِنْهُم دخلُوا عَلَيْهِ فِي حجرته، فضربوه بالدبابيس وعلقوه فِي الشَّمْس وَأشْهدُوا على خلعه وَأَعْطوهُ الْعَهْد والأمان، ثمَّ مَا لَبِثُوا أَن قَتَلُوهُ صبرا سنة 255 2.
8- الْمُهْتَدي بن الواثق "255-256":
تولى بعد مقتل أَخِيه وأبى أهل بَغْدَاد مبايعته وَقَامُوا ضِدّه إِلَّا أَنه اسْتَطَاعَ أَن يهدئ ثائرتهم إِلَى أَن بَايعُوهُ. كَمَا ثار فِي عَهده الْجند لتأخر عطائهم، وثار العلويون فِي أنحاء مُخْتَلفَة من الْخلَافَة، إِلَّا أَن أخطر الثورات فِي عَهده كَانَت ثورة الزنج، وَالَّتِي بدأت فِي عَهده واستمرت زهاء أَرْبَعَة عشر عَاما، ثمَّ مَا لبث أَن أسر ثمَّ خلع، ثمَّ عذب حتي مَاتَ سنة 256 3.
--------------------------------------------
২৫২ ১.
৭- আল-মুতাজ বিল্লাহ "২৫২-২৫৫":
তাঁর শাসনকাল ছিল তুর্কিদের কঠোর কবজায়, তারা যাকে চাইত তাকে পদচ্যুত করত এবং যা ইচ্ছা তাই করত। তিনি তাদের ব্যাপারে ভীত ছিলেন এবং তাদের দিক থেকে নিরাপদ বোধ করতেন না। বর্ণিত আছে যে, তাদের একটি দল তাঁর কক্ষে প্রবেশ করে তাঁকে মুগুর দিয়ে আঘাত করে এবং রোদে ঝুলিয়ে রাখে। তারা তাঁকে পদচ্যুত করার সাক্ষী রাখে এবং তাঁকে প্রতিশ্রুতি ও নিরাপত্তা প্রদান করে, কিন্তু তার অল্প সময় পরেই তারা ২৫৫ হিজরিতে তাঁকে বন্দি অবস্থায় হত্যা করে। ২.
৮- আল-মুহতাদী বিন আল-ওয়াসিক "২৫৫-২৫৬":
তিনি তাঁর ভাইয়ের হত্যাকাণ্ডের পর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বাগদাদবাসী তাঁর বায়আত গ্রহণ করতে অস্বীকার করে এবং তাঁর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, তবে তিনি তাদের ক্ষোভ প্রশমিত করতে সক্ষম হন যতক্ষণ না তারা তাঁর বায়আত গ্রহণ করে। তাঁর আমলে বেতন বিলম্বিত হওয়ার কারণে সৈন্যরা বিদ্রোহ করে এবং খিলাফতের বিভিন্ন অঞ্চলে আলবীয়রা বিদ্রোহ করে। তবে তাঁর আমলের সবচেয়ে বিপজ্জনক বিদ্রোহ ছিল জানজ বিদ্রোহ, যা তাঁর আমলেই শুরু হয়েছিল এবং প্রায় চৌদ্দ বছর স্থায়ী হয়েছিল। অতঃপর বেশি সময় পার না হতেই তাঁকে বন্দি করা হয়, তারপর পদচ্যুত করা হয় এবং ২৫৬ হিজরিতে মৃত্যু পর্যন্ত তাঁকে নির্যাতন করা হয়। ৩.
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
নাকযুদ দারিমী আলাল মারীসী - তাহকীক আল-আলমায়ী
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
9- الْمُعْتَمد على الله "256-279":
تولى الْخلَافَة بعد أَن أخرج فِي القلعة وَذَلِكَ سنة 256، وَفِي عَهده شهِدت الدولة أحداثًا هَامة من أبرزها:
أ- ثورة الزنج.
ب- قيام طَائِفَة شِيعِيَّة جَدِيدَة هِيَ الشِّيعَة الاثنا عشرِيَّة.
كَمَا ظَهرت شخصية مُوسَى بن بغا على مسرح الْأَحْدَاث فِي التَّارِيخ العباسي، وَكَذَلِكَ كَانَ لشخصية أَحْمد بن طولون وَالِي مصر أَثَرهَا الْبَالِغ أَيْضا فِي هَذَا الْعَصْر1.
10- المعتضد بِاللَّه "279-289":
تولى الْخلَافَة بعد الْمُعْتَمد على الله حكمه بالميل إِلَى العلويين، وَكثر فِي عَهده الخارجون على الْخلَافَة، فَقَامَ عَمْرو بن اللَّيْث الصفار أحد زعماء الصفارية وَاسْتولى على كثير من بِلَاد الْفرس، كَمَا ظهر القرامطة بقيادة حمدَان قرمط فِي الْكُوفَة، وَفِي الْبَحْرين على يَد أبي سعيد الجنابي، كَمَا نشر ابْن حَوْشَب فِي الْيمن الدعْوَة للمهدي، وَأَبُو عبد الله الشيعي صَاحب الدعْوَة الفاطمية فِي الْمغرب، كَمَا منع فِي عَهده بيع كتب الفلسفة، وَمنع الْقصاص والمنجمين من الْجُلُوس فِي الطرقات اتقاء الْفِتْنَة والبلبلة فِي أوساط الْعَامَّة2.
--------------------------------------------
৯- আল-মু'তামিদ আলাল্লাহ "২৫৬-২৭৯":
২৫৬ হিজরিতে দুর্গ থেকে মুক্ত হওয়ার পর তিনি খেলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর শাসনামলে রাষ্ট্র কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সাক্ষী হয়, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
ক- জাঞ্জ বিদ্রোহ।
খ- শিয়াদের একটি নতুন উপদলের উদ্ভব, যা হলো দ্বাদশী শিয়া (ইসনা আশারিয়া)।
তেমনিভাবে আব্বাসীয় ইতিহাসের ঘটনাবলির মঞ্চে মুসা ইবনে বুগার ব্যক্তিত্বের প্রকাশ ঘটে এবং মিসরের গভর্নর আহমদ ইবনে তুলুনের ব্যক্তিত্বেরও এই যুগে অত্যন্ত গভীর প্রভাব ছিল।১
১০- আল-মু'তাদিদ বিল্লাহ "২৭৯-২৮৯":
আল-মু'তামিদ আলাল্লাহর পর তিনি খেলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর শাসনকাল ছিল আলবীয়দের (আলী রা.-এর বংশধর) প্রতি অনুরাগী। তাঁর যুগে খেলাফতের বিরুদ্ধে বিদ্রোহকারীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। সাফফারি নেতাদের অন্যতম আমর ইবনে লাইস আস-সাফফার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠেন এবং পারস্যের অনেক এলাকা দখল করে নেন। একইভাবে কুফায় হামদান কারমাতের নেতৃত্বে এবং বাহরাইনে আবু সাঈদ আল-জান্নাবীর হাতে কারামাতিদের উত্থান ঘটে। ইবনে হাওশাব ইয়ামেনে মাহদীর দাওয়াত প্রচার করেন এবং আবু আব্দুল্লাহ আশ-শিয়ী মাগরিবে ফাতেমি দাওয়াত প্রচার করেন। এছাড়া তাঁর যুগে দর্শনের বই বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয় এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ফিতনা ও বিভ্রান্তি এড়ানোর জন্য গল্পকার ও জ্যোতিষীদের রাস্তায় বসতে নিষেধ করা হয়।২
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
নাকযুদ দারিমী আলাল মারীসী - তাহকীক আল-আলমায়ী
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
ثَانِيًا: عصره العلمي:
عني الْإِسْلَام بِالْعلمِ ودعا إِلَيْهِ وحث على طلبه وَفِي ذَلِك أنزلت آيَات صَرِيحَة، تَدْعُو إِلَى التَّعَلُّم والتفكر والتدبر فِي ملكوت الله وآياته، وَفِي الْعَصْر العباسي حدث ازدهار ملموس فِي حَيَاة الْمُجْتَمع الإسلامي فِي النواحي العلمية والفكرية، وبرزت الْعِنَايَة باللغة الْعَرَبيَّة وفروعها الْمُخْتَلفَة واتجهت الْعِنَايَة بِصفة خَاصَّة إِلَى السّنة النَّبَوِيَّة دراسة وتدوينًا، وبرز فِي عُلُوم الحَدِيث رجال أَمْثَال: البُخَارِيّ، وَمُسلم وَأَبُو دَاوُد، وَالتِّرْمِذِيّ، وَالنَّسَائِيّ، وَابْن مَاجَه، كَمَا ظهر أَصْحَاب الْمذَاهب الْأَرْبَعَة: أَبُو حنيفَة وَمَالك، وَالشَّافِعِيّ، وَأحمد بن حَنْبَل، وحظت السِّيرَة النَّبَوِيَّة بعناية المؤرخين الْمُسلمين واشتهر فِي مجَال التَّارِيخ كثير من الْمُسلمين من: ابْن سعد وَعبد الْملك بن هِشَام والطبري وَغَيرهم.
وَلم تقف عناية الْمُسلمين على حد الْعُلُوم الدِّينِيَّة واللغوية بل امتدت إِلَى أفرع الْعلم من فلك وطب وهندسة ورياضيات وَغَيرهَا.
وانتشرت دور الْعلم وخزائن الْحِكْمَة فِي عواصم الأقاليم الإسلامية، وَلَعَلَّ أول بَيت للحمكة عرفه الْمُسلمُونَ هُوَ بَيت الحكمه الَّذِي أسسه العباسيون فِي بَغْدَاد وازدهر بِصفة خَاصَّة فِي زمن الْمَأْمُون. وَفِي عهد المتَوَكل أنشئت خزانَة الْحِكْمَة، وَكَانَ الَّذِي انشأها الْفَتْح بن خاقَان وَزِير الْخَلِيفَة المتَوَكل.
وانتشرت دور الْكتب الْعَامَّة مِنْهَا والخاصة، وَكَانَت عامرة بالكتب فِي فروع الْعلم الْمُخْتَلفَة، وَبلغ عدد الْكتب فِي بَعْضهَا أَكثر من "مليون" كتاب، وَإِلَى جَانب هَذَا انتشرت محَال الوراقة وتجويد الْخط كمراكز
দ্বিতীয়: তাঁর জ্ঞানতাত্ত্বিক যুগ:
ইসলাম জ্ঞানের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছে, এর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে এবং তা অর্জনে উৎসাহিত করেছে। এ প্রসঙ্গে এমন সব সুস্পষ্ট আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে, যা শিক্ষা গ্রহণ এবং আল্লাহর রাজত্ব ও তাঁর নিদর্শনাবলি সম্পর্কে চিন্তা ও গবেষণার আহ্বান জানায়। আব্বাসীয় যুগে ইসলামি সমাজের বৈজ্ঞানিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক জীবনে এক দৃশ্যমান সমৃদ্ধি ঘটেছিল। আরবি ভাষা ও এর বিভিন্ন শাখার প্রতি বিশেষ মনোযোগ পরিলক্ষিত হয় এবং বিশেষভাবে নবিজির সুন্নাহর পঠন-পাঠন ও তা সংকলনের দিকে গুরুত্বারোপ করা হয়। হাদিসশাস্ত্রে ইমাম বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসায়ি ও ইবনে মাজাহর মতো মণীষীগণ আত্মপ্রকাশ করেন। পাশাপাশি চার মাজহাবের ইমামগণও আবির্ভূত হন: আবু হানিফা, মালিক, শাফেয়ি এবং আহমাদ বিন হাম্বল। নবিজির জীবনী (সিরাত) মুসলিম ঐতিহাসিকদের বিশেষ মনোযোগ লাভ করে এবং ইতিহাসের ক্ষেত্রে ইবনে সাদ, আব্দুল মালিক বিন হিশাম, তাবারিসহ আরও অনেক মুসলিম মণীষী খ্যাতি অর্জন করেন।
মুসলিমদের এই মনোযোগ কেবল ধর্মীয় ও ভাষাগত শাস্ত্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা জ্যোতির্বিদ্যা, চিকিৎসা, প্রকৌশল ও গণিতসহ বিজ্ঞানের অন্যান্য শাখায়ও বিস্তৃত হয়েছিল।
ইসলামি ভূখণ্ডের রাজধানীগুলোতে জ্ঞানগৃহ ও প্রজ্ঞার ভাণ্ডারসমূহ ছড়িয়ে পড়েছিল। সম্ভবত মুসলিমদের পরিচিত প্রথম ‘বায়তুল হিকমাহ’ ছিল সেটিই, যা আব্বাসীয়রা বাগদাদে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং যা বিশেষভাবে আল-মামুনের সময়ে সমৃদ্ধি লাভ করেছিল। খলিফা মুতাওয়াক্কিলের যুগে ‘খিজানাতুল হিকমাহ’ প্রতিষ্ঠিত হয়; আর এটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন খলিফা মুতাওয়াক্কিলের উজির আল-ফাতহ বিন খাকান।
সাধারণ ও ব্যক্তিগত পাঠাগারসমূহ ছড়িয়ে পড়েছিল এবং সেগুলো বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখার কিতাবপত্রে সমৃদ্ধ ছিল। কোনো কোনো পাঠাগারে কিতাবের সংখ্যা ‘দশ লক্ষ’ ছাড়িয়ে গিয়েছিল। এর পাশাপাশি পাণ্ডুলিপি প্রস্তুতকারী এবং হস্তাক্ষর শিল্পের উৎকর্ষ সাধনের দোকানগুলো কেন্দ্র হিসেবে ছড়িয়ে পড়েছিল
(খণ্ড: ١)
নাকযুদ দারিমী আলাল মারীসী - তাহকীক আল-আলমায়ী
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
للْعلم والثقافة، وَقد أحصى اليعقوبي فِي بَغْدَاد 278هـ أَكثر من مائَة من محَال الوراقة1.
وَلَقَد كَانَ من أبرز السلبيات اتساع دَائِرَة التَّرْجَمَة فِي هَذَا الْعَصْر وخاصة فِي عصر الْمَأْمُون، فقد كَانَ مُولَعا بالعلوم والفلسفة وَترْجم فِي عَهده كثير من الْعُلُوم الفارسية واليونانية وَغَيرهَا، وطالعها النَّاس فتأثر بهَا من تأثر، وَفِي ذَلِك يَقُول الشهرستاني: "ثمَّ طالع بعد ذَلِك شُيُوخ الْمُعْتَزلَة كتب الفلاسفة حِين نشرت أَيَّام الْمَأْمُون، فخلطت مناهجها بمناهج الْكَلَام وأفردتها فنًّا من فنون الْعلم وسمتها باسم الْكَلَام"2.
كَمَا ظهر من بعض الْخُلَفَاء العباسيين التأثر الشَّديد بآراء الْمُعْتَزلَة، فاستعانوا بهم وناصروهم، وَحَتَّى إِن ابْن أبي دؤاد المعتزلي كَانَ من كبار قُضَاة المعتصم والواثق، كَمَا أَن من أبرز السلبيات الَّتِي مني بهَا هَذَا الْعَصْر هُوَ مَا حدث من فتْنَة القَوْل بِخلق الْقُرْآن، حَيْثُ أَرَادَ الْمَأْمُون حمل النَّاس على القَوْل بِهَذِهِ الْمقَالة كَمَا يَقُول أَصْحَابه الْمُعْتَزلَة الَّذين اخْتَار مِنْهُم وزراءه وقضاته وخلصاءه وَأكْرمهمْ أبلغ الْإِكْرَام.
وَفِي سنة 218 بدا لَهُ أَن يَدْعُو النَّاس بِقُوَّة السُّلْطَان إِلَى اعتناق القَوْل بِخلق الْقُرْآن قهرا، وابتدأ ذَلِك بإرسال كتبه وَهُوَ بالرقة إِلَى إِسْحَاق ين إِبْرَاهِيم نَائِبه فِي بَغْدَاد بامتحان الْفُقَهَاء والمحدثين وليحملهم على أَن
--------------------------------------------
জ্ঞান ও সংস্কৃতির প্রসারে; ইয়াকুবি ২৭৮ হিজরিতে বাগদাদে একশোরও বেশি কাগজ ও বইয়ের দোকান (ওয়ারাকা) গণনা করেছেন।১
আর এই যুগের অন্যতম প্রধান নেতিবাচক দিক ছিল অনুবাদের পরিধি বিস্তৃত হওয়া, বিশেষ করে মামুনের আমলে। তিনি বিজ্ঞান ও দর্শনের প্রতি অত্যন্ত অনুরাগী ছিলেন এবং তাঁর শাসনামলে পারস্য, গ্রীক ও অন্যান্য ভাষার অনেক বিজ্ঞান অনূদিত হয়েছিল। মানুষ সেগুলো পাঠ করে এবং যারা প্রভাবিত হওয়ার তারা প্রভাবিত হয়। এ প্রসঙ্গে শাহরাস্তানি বলেন: "এরপর মুতাজিলাদের শায়খগণ দার্শনিকদের বইগুলো অধ্যয়ন করেন যখন সেগুলো মামুনের আমলে প্রচারিত হয়। ফলে তারা দর্শনের পদ্ধতিগুলোকে ইলমুল কালামের পদ্ধতির সাথে মিশ্রিত করে ফেলে এবং একে বিজ্ঞানের একটি স্বতন্ত্র শাখা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে এর নাম দেয় 'কালাম'।"২
তেমনি কিছু আব্বাসীয় খলিফাদের মধ্যে মুতাজিলাদের মতাদর্শের দ্বারা তীব্র প্রভাব লক্ষ্য করা যায়, ফলে তারা তাদের সাহায্য গ্রহণ করেন এবং সমর্থন দেন। এমনকি মুতাজিলা ইবনে আবি দুয়াদ মুতাসিম ও ওয়াসিকের অন্যতম প্রধান বিচারক ছিলেন। এছাড়া এই যুগ যে সব বড় নেতিবাচক পরিস্থিতির শিকার হয়েছিল, তার মধ্যে অন্যতম হলো 'কুরআন সৃষ্টির' (খালকে কুরআন) ফিতনা। মামুন চেয়েছিলেন মানুষকে এই মতবাদে বাধ্য করতে, যেমনটি তাঁর মুতাজিলা সঙ্গীরা বলতেন, যাদের মধ্য থেকে তিনি তাঁর মন্ত্রী, বিচারক ও ঘনিষ্ঠদের বেছে নিয়েছিলেন এবং তাঁদের অত্যন্ত সম্মান প্রদর্শন করেছিলেন।
আর ২১৮ হিজরিতে তিনি রাজশক্তি প্রয়োগ করে মানুষকে জোরপূর্বক কুরআন সৃষ্টির আকিদা গ্রহণে বাধ্য করার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি যখন রাক্কায় ছিলেন, তখন বাগদাদে তাঁর প্রতিনিধি ইসহাক বিন ইব্রাহিমের কাছে পত্র পাঠিয়ে এর সূচনা করেন, যাতে ফকিহ ও মুহাদ্দিসদের পরীক্ষা করা হয় এবং তাঁদের বাধ্য করা হয় যে—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
নাকযুদ দারিমী আলাল মারীসী - তাহকীক আল-আলমায়ী
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
يَقُولُوا: إِن الْقُرْآن مَخْلُوق، وَكَانَ فِي مُقَدّمَة من ابْتُلِيَ بذلك الإِمَام أَحْمد بن حَنْبَل رحمه الله وَمُحَمّد بن نوح، حَيْثُ سيقا مكبلين بالحديد إِلَى طرطوس للقاء الْمَأْمُون، فَتوفي ابْن نوح فِي الطَّرِيق، ووافت الْمَأْمُون الْمنية قبل أَن يصل إِلَيْهِ الإِمَام أَحْمد، إِلَّا أَنه لم يودع الدُّنْيَا من غير أَن يُوصي أَخَاهُ المعتصم بالاستمساك بمذهبه فِي الْقُرْآن ودعوة النَّاس إِلَيْهِ بِقُوَّة السُّلْطَان.
وَبلغ الْبلَاء أشده والمحنة أقصاها فِي عهد المعتصم ثمَّ الواثق، وتحاوزت الْفِتْنَة الإِمَام أَحْمد إِلَى غَيره من الْفُقَهَاء أَمْثَال يُوسُف الْبُوَيْطِيّ الْفَقِيه الْمصْرِيّ صَاحب الإِمَام الشَّافِعِي الَّذِي مَاتَ فِي أصفاده لما امْتنع عَن القَوْل بِخلق الْقُرْآن، وأمثال نعيم بن حَمَّاد الَّذِي مَاتَ فِي سجن الواثق مُقَيّدا لذَلِك1.
إِلَى أَن جَاءَ عهد المتَوَكل وَفِي ذَلِك يَقُول المَسْعُودِيّ: "وَلما أفضت الْخلَافَة إِلَى المتَوَكل أَمر بترك النّظر والمباحثة فِي الْجِدَال، وَالتّرْك لما كَانَ عَلَيْهِ النَّاس فِي أَيَّام المعتصم والواثق والمأمون، وَأمر النَّاس بِالتَّسْلِيمِ والتقليد، وَأمر شُيُوخ الْمُحدثين بِالتَّحْدِيثِ وَإِظْهَار السّنة وَالْجَمَاعَة" 2.
--------------------------------------------
তারা বলত যে: কুরআন সৃষ্ট; আর এই পরীক্ষার মাধ্যমে যাদেরকে পরীক্ষা করা হয়েছিল তাদের অগ্রভাগে ছিলেন ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) এবং মুহাম্মদ বিন নূহ। আল-মামুনের সাথে সাক্ষাতের জন্য তাঁদের উভয়কে লৌহশৃঙ্খলে আবদ্ধ অবস্থায় তারতুসের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। পথিমধ্যে ইবনে নূহ ইন্তেকাল করেন। ইমাম আহমাদ আল-মামুনের নিকট পৌঁছানোর পূর্বেই আল-মামুনের মৃত্যু হয়; তবে তিনি তাঁর ভাই আল-মুতাসিমকে কুরআনের বিষয়ে তাঁর মতাদর্শে অবিচল থাকতে এবং রাষ্ট্রীয় শক্তির মাধ্যমে মানুষকে সেদিকে আহ্বান করার অসিয়ত না করে দুনিয়া ত্যাগ করেননি।
আল-মুতাসিম এবং এরপর আল-ওয়াছিকের শাসনামলে এই বিপদ তীব্রতর এবং পরীক্ষা চরম পর্যায়ে পৌঁছায়। এই ফিতনা ইমাম আহমাদ ছাড়িয়ে অন্যান্য ফকিহদের মাঝেও বিস্তার লাভ করে; যেমন ইমাম শাফেয়ীর ছাত্র মিশরীয় ফকিহ ইউসুফ আল-বুওয়াইতি, যিনি কুরআন সৃষ্ট হওয়ার কথা বলতে অস্বীকৃতি জানানোয় শৃঙ্খলিত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। অনুরূপভাবে নুআইম বিন হাম্মাদ, যিনি একই কারণে আল-ওয়াছিকের কারাগারে বন্দী অবস্থায় ইন্তেকাল করেন।১
অবশেষে আল-মুতাওয়াক্কিলের যুগ আসে; এই প্রসঙ্গে আল-মাসউদী বলেন: "যখন খিলাফতের দায়িত্ব আল-মুতাওয়াক্কিলের নিকট হস্তান্তরিত হলো, তখন তিনি বিতর্ক ও তাত্ত্বিক আলোচনা বর্জন করার নির্দেশ দিলেন এবং আল-মুতাসিম, আল-ওয়াছিক ও আল-মামুনের যুগে মানুষ যে মতাদর্শের ওপর ছিল তা ত্যাগের আদেশ দিলেন। তিনি মানুষকে (শরয়ি দলীলের প্রতি) আত্মসমর্পণ ও অনুসরণের নির্দেশ দিলেন এবং প্রবীণ মুহাদ্দিসগণকে হাদিস বর্ণনা করার ও আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মতাদর্শ প্রকাশ করার আদেশ দিলেন।" ২
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
নাকযুদ দারিমী আলাল মারীসী - তাহকীক আল-আলমায়ী
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
المبحث الثَّانِي: حَيَاتهاسْمه، وكنيته، وَنسبه:
هُوَ الإِمَام الْعَلامَة، الْحَافِظ النَّاقِد، شيخ تِلْكَ الديار1. وَأحد الْأَعْلَام الثِّقَات2 أَبُو سعيد عُثْمَان بن سعيد بن خَالِد بن سعيد التَّمِيمِي الدَّارمِيّ3 السجسْتانِي4 مُحدث هراة وَتلك الْبِلَاد5.
وِلَادَته:
قَالَ الذَّهَبِيّ: ولد قبل الْمِائَتَيْنِ بِيَسِير6، وعاش فِي جرجان وهراة7
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর জীবননাম, উপনাম এবং বংশপরিচয়:
তিনি হলেন ইমাম, আল্লামা, হাফেজ, নাকেদ (সমালোচক), সেই সব জনপদের শায়খ১। এবং প্রথিতযশা নির্ভরযোগ্য ইমামগণের অন্যতম২ আবু সাঈদ উসমান ইবন সাঈদ ইবন খালিদ ইবন সাঈদ আত-তামীমী আদ-দারেমী৩ আস-সিজিস্তানী৪, হেরাত এবং সেই সব অঞ্চলের মুহাদ্দিস৫।
জন্ম:
আয-যাহাবী বলেন: তিনি দুইশত হিজরির কিছুকাল পূর্বে জন্মগ্রহণ করেন৬ এবং জুরজান ও হেরাতে বসবাস করেন৭
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
নাকযুদ দারিমী আলাল মারীসী - তাহকীক আল-আলমায়ী
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
رحلته فِي طلب الْعلم وشيوخه:
كَانَ الدَّارمِيّ وَاسع الرحلة طوف وَلَقي الْكِبَار1 وَسمع خلقا كثيرا بالحرمين، وَالشَّام ومصر وَالْعراق، والجزيزة وبلاد الْعَجم2، أَخذ الْأَدَب عَن ابْن الْأَعرَابِي وَالْفِقْه عَن الْبُوَيْطِيّ3، وَأخذ علم الحَدِيث وَعلله عَن عَليّ وَيحيى وَأحمد، وفَاق أهل زَمَانه4.
ويتبين لنا من أَسَانِيد الْأَحَادِيث الْوَارِدَة فِي هَذَا الْكتاب أَن الْمُؤلف قد رُوِيَ عَن عشرات من الْعلمَاء، وَقد أَشَارَ الْعلمَاء الَّذين ترجموا لحياة الْمُؤلف رحمه الله إِلَى أَنه قد تتلمذ وروى عَن عدد كَبِير من الجهابذة الْأَعْلَام وبرز فِي كثير من الْعُلُوم الْمُخْتَلفَة، وَكَانَ على رَأس من تلقى عَنْهُم: الإِمَام أَحْمد بن حَنْبَل5 وَعلي بن الْمَدِينِيّ6 ويحي بن معِين، وَإِسْحَاق بن رَاهَوَيْه7 وَأَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ8 وَغَيرهم.
ولشهرة هَؤُلَاءِ الْأَعْلَام وَكَثْرَة ورودهم فِي ثنايا الْكتاب، فقد عَمَدت إِلَى الْعزو إِلَى مَوَاضِع تَرْجَمَة جملَة مِنْهُم فِي حَوَاشِي هَذَا الْمُحَقق مكتفيًا بذلك عَن إِفْرَاد تَرْجَمَة لكل مِنْهُم فِي هَذَا الْمَوْضُوع.
--------------------------------------------
ইলম অন্বেষণে তাঁর সফর এবং তাঁর শিক্ষকগণ:
দারেমি ইলম অর্জনের জন্য ব্যাপক সফর করেছিলেন। তিনি দেশ-বিদেশ পরিভ্রমণ করেছেন এবং প্রথিতযশা আলেমদের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন। তিনি হারামাইন, সিরিয়া, মিসর, ইরাক, জাজিরা এবং অনারব দেশসমূহে বহু সংখ্যক উস্তাদের নিকট থেকে ইলম শ্রবণ করেছেন। তিনি ইবনুল আরাবি থেকে আদব (সাহিত্য) এবং বুওয়াইতি থেকে ফিকহ অর্জন করেছেন। এছাড়া তিনি আলী, ইয়াহইয়া এবং আহমাদ থেকে ইলমে হাদিস ও হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি (ইলাল) সংক্রান্ত জ্ঞান অর্জন করেন এবং স্বীয় যুগের আলেমদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেন।
এই কিতাবে বর্ণিত হাদিসসমূহের সনদ থেকে আমাদের কাছে স্পষ্ট হয় যে, লেখক বহু সংখ্যক আলেম থেকে বর্ণনা করেছেন। লেখকের জীবনীকারগণ উল্লেখ করেছেন যে, তিনি বহু প্রথিতযশা আলেমদের নিকট শিক্ষা লাভ করেছেন এবং তাঁদের থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বিভিন্ন বিদ্যায় পারদর্শিতা অর্জন করেছিলেন। যাঁদের নিকট তিনি ইলম অর্জন করেছেন তাঁদের মধ্যে অগ্রগণ্য হলেন: ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল, আলী বিন আল-মাদিনী, ইয়াহইয়া বিন মাঈন, ইসহাক বিন রাহওয়াইহ, আবু বকর বিন আবি শায়বাহ এবং আরও অনেকে।
এই প্রখ্যাত আলেমদের খ্যাতি এবং কিতাবের বিভিন্ন স্থানে তাঁদের নাম বারবার আসার কারণে আমি এই তাহকিককৃত পাণ্ডুলিপির টীকায় তাঁদের জীবনীর উদ্ধৃতি প্রদান করাকেই যথেষ্ট মনে করেছি, এবং এখানে প্রত্যেকের জন্য আলাদা জীবনী উল্লেখ করা থেকে বিরত থেকেছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
নাকযুদ দারিমী আলাল মারীসী - তাহকীক আল-আলমায়ী
(পৃষ্ঠা: ٣١)
فقد سمع بالعراق سُلَيْمَان بن حَرْب1، ومُوسَى بن إِسْمَاعِيل التَّبُوذَكِي2 وَمُحَمّد بن كثير وَسُهيْل بن بكار3 بِالْبَصْرَةِ وَكتب الحَدِيث بهَا مَعَ يحي بن معِين.
وَسمع أَبَا الرّبيع الزهْرَانِي4 والهيثم بن خَارِجَة5 نزيلًا بَغْدَاد، وَسمع بِالشَّام هِشَام بن عمار6، وَسليمَان بن عبد الرَّحْمَن التَّمِيمِي، وَهِشَام بن خَالِد، وَحَمَّاد بن الحرستاني بِدِمَشْق.
وَسمع أَبَا توبه، وَالربيع بن نَافِع7 بحلب.
وَأَبا الْيَمَان الْحِمصِي، وَيحيى بن صَالح الوحاظي، وحيوة بن شُرَيْح8 وَإِبْرَاهِيم بن الْعَلَاء بن زبر، وَالربيع بن روح، وَيزِيد بن عبد ربه بحمص، وَأَبا جَعْفَر مُوسَى بن إِسْمَاعِيل النُّفَيْلِي بحران.
وَمُحَمّد بن عبد الله بن بكر الْخُزَاعِيّ الْمَقْدِسِي، ومحبوب بن مُوسَى الْأَنْطَاكِي9.
وَكتب مَعَه بِالشَّام الْحسن بن عَليّ، أَبُو عَليّ الْخلال الْحلْوانِي،
--------------------------------------------
তিনি ইরাকে সুলাইমান ইবন হারব১ এবং মুসা ইবন ইসমাঈল আত-তাবুযাকী২-এর নিকট এবং বসরায় মুহাম্মদ ইবন কাসীর ও সুহাইল ইবন বাক্কার৩-এর নিকট শ্রবণ করেছেন এবং সেখানে ইয়াহইয়া ইবন মাঈনের সাথে হাদিস লিপিবদ্ধ করেছেন।
তিনি বাগদাদে অবস্থানরত আবু রাবী আল-যাহরানী৪ এবং হাইসাম ইবন খারিজা৫-এর নিকট শ্রবণ করেছেন; সিরিয়ার দামেস্কে হিশাম ইবন আম্মার৬, সুলাইমান ইবন আবদুর রহমান আত-তামীমী, হিশাম ইবন খালিদ এবং হাম্মাদ ইবন আল-হারাস্তানী-এর নিকট শ্রবণ করেছেন।
এবং তিনি হালবে আবু তাওবাহ ও রাবী ইবন নাফি৭-এর নিকট শ্রবণ করেছেন।
এবং হিমসে আবুল ইয়ামান আল-হিমসী, ইয়াহইয়া ইবন সালিহ আল-উহাযী, হাইওয়াহ ইবন শুরাইহ৮, ইবরাহীম ইবন আল-আলা ইবন যাবর, রাবী ইবন রূহ ও ইয়াযীদ ইবন আবদে রাব্বিহি-এর নিকট; আর হাররানে আবু জাফর মুসা ইবন ইসমাঈল আন-নুফাইলী-এর নিকট শ্রবণ করেছেন।
এবং মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন বকর আল-খুযাঈ আল-মাকদিসী ও মাহবূব ইবন মুসা আল-আন্তাকী৯-এর নিকট (শ্রবণ করেছেন)।
সিরিয়ায় তাঁর সাথে আল-হাসান ইবন আলী আবু আলী আল-খাল্লাল আল-হুলওয়ানী (হাদিস) লিপিবদ্ধ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
নাকযুদ দারিমী আলাল মারীসী - তাহকীক আল-আলমায়ী
(পৃষ্ঠা: ٣٢)
وَمُحَمّد بن صَالح كيلجة الْبَغْدَادِيّ.
وَسمع بخراسان إِسْحَاق بن رَاهَوَيْه.
وروى أَيْضا فِي رحلاته هَذِه عَن خلائق، مِنْهُم: عبد الله بن رَجَاء الغداني الْبَصْرِيّ1 وفروة بن أبي المغراء، وَمُحَمّد بن الْمنْهَال الْحزَامِي، وَعمر بن عون الوَاسِطِيّ الْبَصْرِيّ2، وَمُسلم بن إِبْرَاهِيم الْبَصْرِيّ. ومسدد بن مسرهد3 وَغَيرهم4.
تلاميذه:
روى عَنهُ ابْن خُزَيْمَة وَهُوَ من شُيُوخه، وروى عَنهُ أَبُو عَمْرو: أَحْمد بن الْحِيرِي، وَمُحَمّد بن إِبْرَاهِيم الصرام، ومؤمل بن الْحُسَيْن، وَأحمد بن مُحَمَّد بن الْأَزْهَر، وَمُحَمّد بن يُوسُف الْهَرَوِيّ، وَأَبُو إِسْحَاق بن ياسين، وَمُحَمّد بن إِسْحَاق الْهَرَوِيّ، وَأحمد بن مُحَمَّد بن عَبدُوس الطرائفي، وَأَبُو النَّضر مُحَمَّد بن مُحَمَّد الطوسي الْفَقِيه، وحامد الرفاء وَأحمد بن مُحَمَّد الْعَنْبَري وَأَبُو الْفضل يَعْقُوب القراب، وَخلق كثير من أهل هراة ونيسابور5 وسأتناول جملَة مِنْهُم بالتعريف.
--------------------------------------------
এবং মুহাম্মদ বিন সলিহ কাইলাজাহ আল-বাগদাদী।
তিনি খুরাসানে ইসহাক বিন রাহওয়াইহ-এর নিকট (হাদিস) শ্রবণ করেছেন।
তিনি তাঁর এই সফরসমূহে আরও বহু বর্ণনাকারীর নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন: আবদুল্লাহ বিন রাজা আল-গাদানি আল-বাসরি, ফারওয়া বিন আবিল মাগরা, মুহাম্মদ বিন আল-মিনহাল আল-হিযামি, উমর বিন আউন আল-ওয়াসিতি আল-বাসরি, মুসলিম বিন ইবরাহিম আল-বাসরি, মুসাদ্দাদ বিন মুসারহাদ এবং আরও অনেকে।
তাঁর ছাত্রগণ:
ইবনে খুজাইমা তাঁর নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন, অথচ তিনি তাঁর শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। এছাড়া বর্ণনা করেছেন আবু আমর আহমদ বিন আল-হিরি, মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম আস-সাররাম, মুআম্মাল বিন আল-হুসাইন, আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আল-আযহার, মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আল-হারাওয়ি, আবু ইসহাক বিন ইয়াসিন, মুহাম্মদ বিন ইসহাক আল-হারাওয়ি, আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আবদুস আত-তারাইফি, আবুল নাদর মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আত-তুসি আল-ফকিহ, হামিদ আর-রাফফা, আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-আনবারি, আবুল ফজল ইয়াকুব আল-কাররাব এবং হেরাত ও নিশাপুরের অসংখ্য লোক। আমি তাঁদের মধ্য থেকে কয়েকজনের পরিচিতি বর্ণনা করব।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
নাকযুদ দারিমী আলাল মারীসী - তাহকীক আল-আলমায়ী
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
1- ابْن خُزَيْمَة:
هُوَ الْحَافِظ الْكَبِير، إِمَام الْأَئِمَّة شيخ الْإِسْلَام، أَبُو بكر مُحَمَّد بن إِسْحَاق ابْن حزيمة بن الْمُغيرَة النَّيْسَابُورِي. ولد سنة 223 وعني فِي حداثته بِالْحَدِيثِ وَالْفِقْه حَتَّى صَار يضْرب بِهِ الْمثل فِي سَعَة الْعلم والإتقان، وانتهت إِلَيْهِ الْإِمَامَة وَالْحِفْظ فِي عصره بخراسان، سمع من إِسْحَاق بن رَاهَوَيْه، وَمُحَمّد بن حميد، وَلم يحدث عَنْهُمَا لصغره، وَسمع من مَحْمُود بن غيلَان وَأحمد بن منيع وَغَيرهم، وَحدث عَنهُ الشَّيْخَانِ خَارج صَحِيحَيْهِمَا، وَمُحَمّد بن عبد الله بن عبد الحكم أحد شُيُوخه وَغَيرهم. قَالَ الْحَاكِم/ ومصنفاته تزيد على مائَة وَأَرْبَعين كتاب سوى الْمسَائِل، والمسائل المصنفة مائَة جُزْء. توفّي فِي ثَانِي ذِي الْقعدَة سنة311 وَهُوَ فِي تسع وَثَمَانِينَ سنة1.
2- أَبُو الْعَبَّاس السجْزِي:
الإِمَام الْحَافِظ، أَبُو الْعَبَّاس، أَحْمد بن مُحَمَّد بن الْأَزْهَر بن حريق السجْزِي. روى عَن سعيد بن يَعْقُوب الطَّالقَانِي، وَعلي بن حجر وَأبي حَفْص الفلاس وَغَيرهم وَعنهُ أَبُو بكر بن عَليّ الْحَافِظ وَعبد الْعَزِيز بن مُحَمَّد بن مُسلم، وَطَائِفَة لكنه رَوَاهُ كَمَا قَالَ الذَّهَبِيّ. توفّي سنة 312 2.
3- أَبُو عَمْرو الْحِيرِي:
الْحَافِظ الإِمَام الرّحال أَحْمد بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ حَفْص بن مُسلم
--------------------------------------------
1- ইবনে খুজাইমা:
তিনি হলেন সুমহান হাফিজ, ইমামগণের ইমাম (ইমামুল আইম্মাহ), শাইখুল ইসলাম, আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক ইবনে খুজাইমা ইবনে মুগিরা আন-নায়সাবুরি। তিনি ২২৩ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং শৈশব থেকেই হাদিস ও ফিকহের প্রতি গভীর মনোনিবেশ করেন, যার ফলে জ্ঞানের বিশালতা ও নিখুঁতত্বের ক্ষেত্রে তিনি এক প্রবাদপুরুষে পরিণত হন। তাঁর যুগে খুরাসানে ইমামত ও হাদিস মুখস্থকরণের নেতৃত্ব তাঁর মাধ্যমেই পূর্ণতা পায়। তিনি ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ ও মুহাম্মাদ ইবনে হুমাইদ থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন, তবে অল্প বয়সের কারণে তাঁদের থেকে বর্ণনা করেননি। তিনি মাহমুদ ইবনে গাইলান, আহমাদ ইবনে মানি' এবং অন্যান্যদের কাছ থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন। শাইখাইন (বুখারি ও মুসলিম) তাঁদের ‘সহিহ’ গ্রন্থদ্বয়ের বাইরে তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। এছাড়া তাঁর অন্যতম শিক্ষক মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল হাকাম ও অন্যান্যরাও তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। আল-হাকিম বলেন: মাসায়েল (ধর্মীয় সমস্যাবলি) বাদে তাঁর গ্রন্থ সংখ্যা একশ চল্লিশটিরও বেশি, আর মাসায়েল সম্পর্কিত রচনাগুলো একশ খণ্ডে বিভক্ত। তিনি ৩১১ হিজরির ২রা জিলকদ উননব্বই বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।১
2- আবু আব্বাস আস-সিজজি:
ইমাম ও হাফিজ, আবু আব্বাস আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আজহার ইবনে হারিক আস-সিজজি। তিনি সাঈদ ইবনে ইয়াকুব আত-তালিকানি, আলি ইবনে হুজর, আবু হাফস আল-ফাল্লাস ও অন্যান্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে আবু বকর ইবনে আলি আল-হাফিজ, আব্দুল আজিজ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে মুসলিম এবং একটি দল বর্ণনা করেছেন; তবে ইমাম জাহাবি যেমনটি বলেছেন, তিনি সেভাবেই তা বর্ণনা করেছেন। তিনি ৩১২ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।২
3- আবু আমর আল-হিরি:
হাফিজ, ইমাম ও পর্যটক আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনে হাফস ইবনে মুসলিম
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
নাকযুদ দারিমী আলাল মারীসী - তাহকীক আল-আলমায়ী
(পৃষ্ঠা: ٣٤)
النَّيْسَابُورِي الْحِيرِي كَانَ شيخ نيسابور فِي الحشمة والثروة والتزكية سمع مُحَمَّد بن رَافع، وَمُحَمّد بن سعيد الهطار، وطبقتهم بالعراق والحجاز وَالْجِبَال وخراسان، وارتحل الكهولة بالطلبة إِلَى عُثْمَان الدَّارمِيّ فَقَرَأَ عَلَيْهِ الْمسند، مَاتَ فِي ذِي الْقعدَة سنة 317 وَهُوَ فِي عشر التسعين1.
4- الطرائفي:
الشَّيْخ الْمسند الْأمين، أَبُو الْحسن أَحْمد بن مُحَمَّد عَبدُوس بن سَلمَة الْعَنزي النَّيْسَابُورِي الطرائفي، سمع مُحَمَّد بن أشرش وَالسري ايْنَ خُزَيْمَة، وارتحل إِلَى عُثْمَان بن سعيد الدَّارمِيّ فَأكْثر عَنهُ.
حدث عَنهُ: أَبُو عَليّ الْحَافِظ، وَالْحَاكِم، وَابْن محمش، والسلمي وَغَيرهم.
قَالَ الْحَاكِم: كَانَ صَدُوقًا، قَالَ لي: أَقمت بِبَغْدَاد سنة284 على التِّجَارَة فَلم أسمع بهَا شَيْئا قَالَ: وَتُوفِّي فِي رَمَضَان سنة346 2.
تلطفه بتلاميذه:
لقد قيض الله لهَذَا الْأمة من سلفنا الصَّالح عُلَمَاء أجلاء ملؤوا الدُّنْيَا بعلمهم، وَمَعَ مَا يمتازون بِهِ من جد ونشاط وحيوية وحرص على الْوَقْت وَجهد فِي سَبِيل تعلم الْعلم وتعليمه، إِلَّا أَنهم كانو على قدر كَبِير من اللطف بتلاميذهم ومراعاة أَحْوَالهم، كَيفَ لَا وهم وَصِيَّة رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم،
--------------------------------------------
আন-নাইসাবুরী আল-হীরী। তিনি মর্যাদা, সম্পদ এবং আত্মশুদ্ধিতে নাইসাবুরের শায়খ ছিলেন। তিনি মুহাম্মদ বিন রাফে, মুহাম্মদ বিন সাঈদ আল-হিত্তার এবং ইরাক, হিজাজ, জিবাল ও খুরাসানের তাদের সমসাময়িকদের নিকট থেকে (হাদিস) শ্রবণ করেছেন। তিনি প্রৌঢ় বয়সে জ্ঞানান্বেষণের উদ্দেশ্যে উসমান আদ-দারিমীর নিকট সফর করেন এবং তাঁর নিকট 'আল-মুসনাদ' পাঠ করেন। তিনি ৩১৭ হিজরির জিলকদ মাসে মৃত্যুবরণ করেন, তখন তাঁর বয়স ছিল নব্বইয়ের কোঠায়।১
৪- আত-তারাইফি:
শায়খ, মুসনিদ, বিশ্বস্ত, আবুল হাসান আহমদ বিন মুহাম্মদ আবদুস বিন সালামাহ আল-আনাজি আন-নাইসাবুরী আত-তারাইফি। তিনি মুহাম্মদ বিন আশরাশ এবং আস-সাররি ইবনে খুজাইমাহর নিকট থেকে শুনেছেন এবং উসমান বিন সাঈদ আদ-দারিমীর নিকট সফর করে তাঁর থেকে প্রচুর বর্ণনা গ্রহণ করেছেন।
তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন: আবু আলী আল-হাফিয, আল-হাকিম, ইবনে মাহমিশ, আস-সুলামি এবং অন্যান্যগণ।
আল-হাকিম বলেন: তিনি অত্যন্ত সত্যবাদী ছিলেন। তিনি আমাকে বলেছেন: "আমি ২৮৪ হিজরিতে ব্যবসার উদ্দেশ্যে বাগদাদে অবস্থান করেছিলাম, তবে সেখানে আমি কোনো হাদিস শ্রবণ করিনি।" তিনি বলেন: তিনি ৩৪৬ হিজরির রমজান মাসে মৃত্যুবরণ করেন।২
ছাত্রদের প্রতি তাঁর কোমলতা:
নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা এই উম্মতের জন্য আমাদের সালাফে সালেহীনদের মধ্য থেকে এমন মহান আলেমদের নিয়োজিত করেছেন যারা তাদের জ্ঞান দ্বারা পৃথিবীকে পরিপূর্ণ করেছেন। কঠোর পরিশ্রম, উদ্যম, প্রাণচাঞ্চল্য, সময়ের প্রতি গুরুত্ব প্রদান এবং জ্ঞান অর্জন ও বিতরণের পথে নিরলস প্রচেষ্টায় তারা যেমন অনন্য বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ছিলেন, তেমনি তারা তাদের ছাত্রদের প্রতি অত্যন্ত কোমল ছিলেন এবং তাদের অবস্থার প্রতি লক্ষ্য রাখতেন। তা হবেই না কেন, অথচ ছাত্ররা তো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিশেষ নির্দেশিত আমানত।
--------------------------------------------