(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতিশ শারইয়াহ ফিশ শুউনিল দুস্তুরিয়াহ ওয়াল খারিজিয়াহ ওয়াল মালিইয়াহ
(পৃষ্ঠা: -)
السياسة الشرعية في الشئون الدستورية والخارجية والمالية القسم: السياسة الشرعية والقضاء
الكتاب: السياسة الشرعية في الشئون الدستورية والخارجية والمالية
المؤلف: عبد الوهاب خلاف (ت 1375هـ)
الناشر: دار القلم
الطبعة: 1408 هـ- 1988م
عدد الصفحات: 155
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
সাংবিধানিক, বৈদেশিক ও আর্থিক বিষয়ে শরীয়াহ ভিত্তিক রাজনীতি বিভাগ: শরীয়াহ ভিত্তিক রাজনীতি এবং বিচারব্যবস্থা
গ্রন্থ: সাংবিধানিক, বৈদেশিক ও আর্থিক বিষয়ে শরীয়াহ ভিত্তিক রাজনীতি
লেখক: আব্দুল ওয়াহহাব খাল্লাফ (মৃ. ১৩৭৫ হি.)
প্রকাশক: দার আল-কালাম
সংস্করণ: ১৪০৮ হি.- ১৯৮৮ খ্রি.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৫৫
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যুল হিজ্জাহ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতিশ শারইয়াহ ফিশ শুউনিল দুস্তুরিয়াহ ওয়াল খারিজিয়াহ ওয়াল মালিইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
مقدمة:الحمد لله رب العالمين وصلى على سيد المرسلين، سيدنا محمد الصادق الأمين وعلى آله وصحبه وسلم:
في شهر جمادى الأولى سنة 1342 للهجرة "ديسمبر سنة 1923 للميلاد" ابتدأت الدراسة في قسم التخصص بالقضاء الشرعي للعلماء المختارين من خريجي مدرسة القضاء والأزهر المعمور.
وكان من حسن حظي عهد إلي بدراسة مادة من المواد التي قررت دراستها في هذا القسم وهي السياسة الشرعية.
بدأنا في دراسة هذا العلم الناشئ الذي لم يدرس من قبل فيما نعلم وليس بين أيدينا سوى منهج دروسه الذي ينتظم عدة بحوث في مختلف الشئون لا تظهر بينها وحدة جامعة ولا صلات ترتبها ترتيب مسائل العلم الواحد.
لهذا عنينا أول دراستنا بنظرة عامة نستكشف بها الوحدة التي ألفت بين هذه البحوث والصلة التي نظمتها بعنوان واحد لنتعرف الرسم الذي يحد علم السياسة الشرعية ونميز موضوع البحث فيه ونقف على الغاية التي يوصل إليها.
وقد استبان لنا أن كلمة "السياسة الشرعية" اختلف المراد بها في عبارات علماء المسلمين:
উপক্রমণিকা:সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক রাসূলগণের সরদার, আমাদের নেতা সত্যবাদী ও আমানতদার মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর।
১৩৪২ হিজরি সনের জুমাদাল উলা মাসে (ডিসেম্বর ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দ), মাদরাসাতুল কাযা এবং সমৃদ্ধ আল-আযহারের গ্র্যাজুয়েটদের মধ্য থেকে নির্বাচিত আলেমদের (علماء) জন্য শারয়ী বিচারব্যবস্থা (القضاء الشرعي) বিষয়ক বিশেষায়িত বিভাগে পাঠদান শুরু হয়।
আমার জন্য এটি পরম সৌভাগ্যের বিষয় ছিল যে, এই বিভাগে পাঠদানের জন্য নির্ধারিত বিষয়গুলোর মধ্যে একটির দায়িত্ব আমাকে অর্পণ করা হয়েছিল, আর তা হলো শারয়ী রাজনীতি (السياسة الشرعية)।
আমরা এই উদীয়মান জ্ঞানশাখাটি অধ্যয়ন শুরু করি যা আমাদের জানামতে ইতিপূর্বে (স্বতন্ত্র শাস্ত্র হিসেবে) অধীত হয়নি। আমাদের হাতে এর পাঠ্যক্রম ব্যতীত অন্য কিছু ছিল না, যা বিভিন্ন বিষয়ের এমন কিছু গবেষণাকে অন্তর্ভুক্ত করেছিল যার মধ্যে কোনো সামষ্টিক ঐক্য বা এমন কোনো যোগসূত্র পরিলক্ষিত হচ্ছিল না যা একটি শাস্ত্রীয় বিজ্ঞানের বিন্যাস অনুযায়ী সেগুলোকে সুসংবদ্ধ করবে।
একারণে আমাদের অধ্যয়নের শুরুতেই আমরা একটি সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির ওপর সবিশেষ গুরুত্বারোপ করেছি, যাতে আমরা সেই তাত্ত্বিক ঐক্যটি খুঁজে পেতে পারি যা এই বিবিধ গবেষণাগুলোকে একত্রিত করেছে এবং সেই যোগসূত্রটি উদ্ঘাটন করতে পারি যা এগুলোকে একটি সাধারণ শিরোনামের অধীনে বিন্যস্ত করেছে। এর উদ্দেশ্য ছিল শারয়ী রাজনীতি (السياسة الشرعية) বিজ্ঞানের পরিচয় ও সীমারেখা চিহ্নিত করা, এর গবেষণার বিষয়বস্তু পৃথকভাবে নিরূপণ করা এবং এর চূড়ান্ত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে অবগত হওয়া।
আমাদের নিকট এটি সুস্পষ্ট হয়েছে যে, মুসলিম আলেমদের (علماء) পরিভাষায় 'শারয়ী রাজনীতি (السياسة الشرعية)' শব্দটির মাধ্যমে কী উদ্দেশ্য নেওয়া হয়েছে সে বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে:
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতিশ শারইয়াহ ফিশ শুউনিল দুস্তুরিয়াহ ওয়াল খারিজিয়াহ ওয়াল মালিইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
فالفقهاء أرادوا بها التوسعة على ولاة الأمر في أن يعلموا ما تقتضي به المصلحة مما لا يخالف أصول الدين وإن لم يقم عليه دليل خاص.
قال صاحب البحر في باب حد الزنا:
"وظاهر كلامهم ههنا أن السياسة: هي فعل شيء من الحاكم لمصلحة يراها وإن لن يرد بذلك الفعل دليل جزئي".
فالسياسة الشرعية على هذا هي العمل بالمصالح المرسلة لأن المصلحة المرسلة هي التي لم يقم من الشارع دليل على اعتبارها أو إلغائها.
وغير الفقهاء أرادوا بها معنى أعم من هذا يتبادر من اللفظ ويتصل باستعماله اللغوي وهو تدبير مصالح العباد على وفق الشرع.
قال المقريزي في خططه: "ويقال ساس الأمر سياسة بمعنى قام به وهو سائس من قوم ساسة وسوس. وسوسه القوم جعلوه يسوسهم
…"فهذا أصل وضع السياسة في اللغة. ثم رسمت بأنها القانون الموضوع لرعاية الآداب والمصالح وانتظام الأحوال. والسياسة نوعان سياسة عادلة تخرج الحق من الظالم الفاجر فهي من الأحكام الشرعية علمها من عملها وجهلها من جهلها. وقد صنف الناس في السياسة الشرعية كتبًا متعددة. والنوع الآخر سياسة ظالمة فالشريعة تحرمها".
ولما كان هذان المعنيان غير متباينين وبينهما صلة وثيقة من ناحية أن تدبير المصالح على الوجه الأكمل لا يتم إلا إذا كان ولاة الأمر في سعة من العمل بالمصالح المرسلة، وكذلك البحوث المقررة هي شعب من
ফকিহগণ এর মাধ্যমে শাসকবর্গের জন্য পরিধি প্রশস্ত করতে চেয়েছেন যাতে তারা জনকল্যাণ (مصلحة) অনুযায়ী যা প্রয়োজন তা জানতে পারেন, যা দ্বীনের মূলনীতির (أصول الدين) পরিপন্থী নয়, যদিও এর সপক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট দলিল (دليل خاص) বিদ্যমান না থাকে।
আল-বাহর গ্রন্থের লেখক ব্যভিচারের দণ্ড (حد الزنا) অধ্যায়ে বলেছেন:
"এখানে তাঁদের বক্তব্যের বাহ্যিক মর্ম হলো, সিয়াসাত (سياسة) বলতে শাসকের জনকল্যাণের (مصلحة) নিরিখে এমন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করাকে বোঝায় যা তিনি সমীচীন মনে করেন, যদিও সেই পদক্ষেপের বিষয়ে কোনো আংশিক দলিল (دليل جزئي) বর্ণিত হয়নি।"
এই সংজ্ঞা অনুযায়ী, সিয়াসাত শারইয়াহ (السياسة الشرعية) হলো অসংজ্ঞায়িত জনকল্যাণ (المصالح المرسلة) অনুযায়ী আমল করা। কারণ অসংজ্ঞায়িত জনকল্যাণ (المصلحة المرسلة) হলো তা-ই, যার সপক্ষে শরয়ি বিধানদাতার পক্ষ থেকে কোনো সমর্থন বা বর্জনের দলিল (دليل) প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
আর ফকিহগণ ব্যতীত অন্যান্য আলিমগণ এর মাধ্যমে শব্দটির ভাষাগত ব্যবহারের সাথে সম্পৃক্ত এমন একটি সাধারণ অর্থ গ্রহণ করেছেন যা শব্দ থেকেই সহজে অনুধাবন করা যায়; আর তা হলো শরয়ি বিধান অনুযায়ী বান্দাদের কল্যাণের (مصالح) ব্যবস্থা করা।
আল-মাকরিজি তার আল-খিতাত গ্রন্থে বলেছেন: "বলা হয়, সে বিষয়টির সিয়াসাত (سياسة) করেছে, যার অর্থ হলো সে তা সম্পাদন করেছে। সে হলো পরিচালক (سائس), যা 'সাসাহ' (ساسة) ও 'সুউস' (سوس) গোত্রীয়। আর লোকেরা তাকে পরিচালক (سوسه) নিযুক্ত করেছে..."
…"ভাষার ক্ষেত্রে সিয়াসাত শব্দের মৌলিক বুৎপত্তি এটাই। অতঃপর একে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে এভাবে যে, এটি হলো শিষ্টাচার ও জনকল্যাণ (المصالح) রক্ষা এবং সামগ্রিক অবস্থার শৃঙ্খলা আনয়নের জন্য প্রণীত আইন। আর সিয়াসাত দুই প্রকার: এক. ন্যায়সংগত রাজনীতি (سياسة عادلة) যা পাপাচারী জালেমের কাছ থেকে অধিকার উদ্ধার করে; এটি শরয়ি বিধানের (الأحكام الشرعية) অন্তর্ভুক্ত। যারা এর চর্চা করেছে তারা তা জানে, আর যারা এ সম্পর্কে অজ্ঞ থেকেছে তারা তা জানে না। সিয়াসাত শারইয়াহ সম্পর্কে ওলামায়ে কেরাম বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন। আর অন্য প্রকারটি হলো অবিচারমূলক রাজনীতি (سياسة ظالمة), শরিয়ত যা হারাম করেছে।"
যেহেতু এই দুটি অর্থের মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই এবং এদের মধ্যে একটি নিবিড় সম্পর্ক বিদ্যমান—এই দিক থেকে যে, জনকল্যাণের (المصالح) ব্যবস্থাপনা ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ রূপ পায় না যতক্ষণ না শাসকবর্গ অসংজ্ঞায়িত জনকল্যাণ (المصالح المرسلة) অনুযায়ী কাজ করার অবকাশ পান। তদ্রূপ নির্ধারিত গবেষণাগুলো হলো এর একটি শাখা...
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতিশ শারইয়াহ ফিশ শুউনিল দুস্তুরিয়াহ ওয়াল খারিজিয়াহ ওয়াল মালিইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
المعنيين فليس ما منع أن يراد بالسياسة الشرعية معنى يعم المعنيين وينتظم جميع البحوث المقررة. وعلى هذا فعلم السياسة الشرعية علم يبحث فيما عما تدبر به شئون الدولة الإسلامية من القوانين والنظم التي تتفق وأصول الإسلام، وإن لم يقم على كل تدبير دليل خاص.
وموضوعه:
النظم والقوانين التي تتطلبها شئون الدولة من حيث مطابقتها لأصول الدين وتحقيقها مصالح الناس وحاجاتهم.
وغايته:
الوصول إلى تدبير شئون الدولة الإسلامية بنظم من دينها. والإبانة عن كفاية الإسلام بالسياسة العادلة وتقبله رعاية مصالح الناس في مختلف العصور والبلدان.
على ضوء هذه الغاية أخذنا في دراسة تلك البحوث بعد أن قسمنا شئون الدولة إلى عدة أقسام: من دستورية، وخارجية، ومالية وغيرها، وجمعنا بين مباحث كل شأن من هذه الشئون. وراعينا في بحث أكثر الشئون المقارنة والمقابلة بين ما شرعه الإسلام وما وضع من النظم الحديثة تدبيرًا لها. وقد تم لنا البحث في ثلاثة من تلك الشئون وهي الشئون الدستورية والخارجية والمالية. وها هي نقدمها للباحثين لا ندعي أننا بلغنا في بحثها حد الكمال أو قاربناه ولكنا والحمد لله على توفيقه مهدنا السبيل وخطونا أولى الخطوات.
وأسأل الله أن يهيئ لهذا العلم من يقدره حتى تسنح الفرصة لإعادة دراسته في معهد من معاهد التعليم العالي وتأخذ بحوثه حظها من السعة
উভয় অর্থের প্রেক্ষিতে, 'সিয়াসাহ শারইয়্যাহ' (শরয়ি রাজনীতি) বলতে এমন একটি অর্থ গ্রহণ করতে কোনো বাধা নেই যা উভয় অর্থকে অন্তর্ভুক্ত করে এবং সকল নির্ধারিত গবেষণাকে সুশৃঙ্খলভাবে ধারণ করে। এই ভিত্তিতে, সিয়াসাহ শারইয়্যাহ হলো এমন একটি বিজ্ঞান যা ইসলামি রাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় কার্যাবলি পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় আইন ও বিধিবিধান নিয়ে আলোচনা করে, যা ইসলামের মূলনীতির (أصول) সাথে সংগতিপূর্ণ, যদিও প্রতিটি পদক্ষেপের জন্য কোনো নির্দিষ্ট দলিল (دليل) বিদ্যমান না থাকে।
এর আলোচ্য বিষয়:
রাষ্ট্রীয় কার্যাবলির জন্য প্রয়োজনীয় বিধিবিধান ও আইনসমূহ, যা দ্বীনের মূলনীতির (أصول) সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ার প্রেক্ষিতে এবং মানুষের জনস্বার্থ ও প্রয়োজনসমূহ পূরণের বিচারে।
এর উদ্দেশ্য:
নিজস্ব দ্বীনি ব্যবস্থার আলোকে ইসলামি রাষ্ট্রের কার্যাবলি পরিচালনার লক্ষ্যে পৌঁছানো এবং ন্যায়বিচারপূর্ণ রাজনীতির মাধ্যমে ইসলামের পর্যাপ্ততা এবং বিভিন্ন যুগে ও জনপদে মানুষের স্বার্থ সংরক্ষণে এর উপযোগিতা স্পষ্ট করা।
এই উদ্দেশ্যের আলোকে, আমরা রাষ্ট্রীয় কার্যাবলিকে কয়েকটি ভাগে—যেমন: সাংবিধানিক, পররাষ্ট্রীয়, আর্থিক এবং অন্যান্য—বিভক্ত করার পর সেই গবেষণাগুলো শুরু করেছি এবং প্রতিটি ক্ষেত্রের সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে একত্রিত করেছি। অধিকাংশ বিষয় আলোচনার ক্ষেত্রে আমরা ইসলামি শরিয়ত কর্তৃক নির্ধারিত বিধান এবং তা পরিচালনার জন্য প্রণীত আধুনিক ব্যবস্থার মধ্যে তুলনামূলক ও বৈপরীত্যমূলক আলোচনার প্রতি লক্ষ্য রেখেছি। আমরা এর মধ্যে তিনটি বিষয় অর্থাৎ সাংবিধানিক, পররাষ্ট্রীয় এবং আর্থিক বিষয়গুলোর ওপর গবেষণা সম্পন্ন করেছি। এখন সেগুলো আমরা গবেষকদের সামনে পেশ করছি। আমরা এই দাবি করি না যে, আমাদের গবেষণা পূর্ণাঙ্গতার স্তরে পৌঁছেছে বা তার কাছাকাছি গিয়েছে; তবে আল্লাহর তাওফিকে আমরা পথ সুগম করেছি এবং প্রাথমিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি।
আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যে, তিনি এই বিদ্যার জন্য এমন উপযুক্ত লোক তৈরি করে দিন যারা এর মর্যাদা দেবে, যাতে কোনো উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এটি পুনর্পাঠের সুযোগ তৈরি হয় এবং এর গবেষণার ক্ষেত্রগুলো বিস্তৃতি লাভ করে।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতিশ শারইয়াহ ফিশ শুউনিল দুস্তুরিয়াহ ওয়াল খারিজিয়াহ ওয়াল মালিইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
والتمحيص ويتجلى للمسلمين أن دينهم القويم لا يقصر عن مصلحة ولا يضيق بحاجة وأنه كفيل بالسياسة العادلة جامع لخيري الأولى والآخرة.
عبد الوهاب خلاف.
এবং সূক্ষ্ম যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে মুসলিমদের নিকট এটি সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, তাদের সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীন কোনো জনকল্যাণ সাধনে অপূর্ণতা রাখে না এবং কোনো প্রয়োজন মেটাতে সংকুচিত হয় না; বরং এটি ন্যায়সংগত শাসনব্যবস্থার নিশ্চয়তা প্রদানকারী এবং ইহকাল ও পরকাল—উভয় জগতের কল্যাণের সমন্বয়কারী।
আবদুল ওয়াহহাব খাল্লাফ।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতিশ শারইয়াহ ফিশ শুউনিল দুস্তুরিয়াহ ওয়াল খারিজিয়াহ ওয়াল মালিইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
محتويات الكتاب:5 المقدمة
11 تمهيد
13 التشريع الإسلامي والاجتهاد
24 الإسلام كفيل بالسياسة العادلة
29 السياسة الشرعية الدستورية
31 شكل الحكومة الإسلامية والدعائم التي تقوم عليها
37 حقوق الأفراد
49 السلطات ومصدرها ومن يتولاها
59 الخلافة، وجوبها وشروطها
69 السياسة الشرعية الخارجية
73 العلاقة بالدول غير الإسلامية
91 أحكام الإسلام الحربية مقارنة بالقانون الدولي
97 أحكام الإسلام السلمية
107 السياسة الشرعية المالية
119 شروط عدلها
111 أسس الموارد الإسلامية
121 الموارد المالية الإسلامية
134 المصارف المالية الإسلامية
144 جباية الإيراد وصرفه في مصارفه
148 نبذة من تاريخ بيت مال المسلمين
গ্রন্থের সূচিপত্র:৫ ভূমিকা
১১ উপক্রমণিকা
১৩ ইসলামী আইন প্রণয়ন (التشريع الإسلامي) এবং ইজতিহাদ (الاجتهاد)
২৪ ইসলাম ইনসাফপূর্ণ রাজনীতির নিশ্চয়তা প্রদানকারী
২৯ সাংবিধানিক শরিয়াহ্ ভিত্তিক রাজনীতি (السياسة الشرعية)
৩১ ইসলামী সরকারের স্বরূপ এবং যেসব স্তম্ভের ওপর এটি প্রতিষ্ঠিত
৩৭ ব্যক্তিবর্গের অধিকারসমূহ
৪৯ রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষসমূহ, তাদের উৎস এবং তা পরিচালনাকারীগণ
৫৯ খিলাফত (الخلافة), এর আবশ্যকতা (وجوب) এবং শর্তাবলি
৬৯ বৈদেশিক শরিয়াহ্ ভিত্তিক রাজনীতি (السياسة الشرعية)
৭৩ অনৈসলামিক রাষ্ট্রসমূহের সাথে সম্পর্ক
৯১ আন্তর্জাতিক আইনের তুলনায় ইসলামের যুদ্ধ সংক্রান্ত বিধানসমূহ
৯৭ ইসলামের শান্তিকালীন বিধানসমূহ
১০৭ আর্থিক শরিয়াহ্ ভিত্তিক রাজনীতি (السياسة الشرعية)
১১৯ এর ইনসাফের শর্তাবলি
১১১ ইসলামী সম্পদের উৎসসমূহের মূলভিত্তি
১২১ ইসলামী আর্থিক সম্পদসমূহ
১৩৪ ইসলামী আর্থিক ব্যয়ের খাতসমূহ (المصارف المالية)
১৪৪ রাজস্ব সংগ্রহ এবং সংশ্লিষ্ট খাতে এর ব্যয়
১৪৮ মুসলিমদের বায়তুল মাল (بيت المال) এর ইতিহাসের সংক্ষিপ্ত রূপরেখা
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতিশ শারইয়াহ ফিশ শুউনিল দুস্তুরিয়াহ ওয়াল খারিজিয়াহ ওয়াল মালিইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
تمهيد
التشريع الإسلامى والاجتهاد…التشريع الإسلامي والاجتهاد:
كان رسول الله صلى الله عليه وسلم في حياته مرجع المسلمين في تدبير شئونهم العامة: من تشريع، وقضاء، وتنفيذ. وكان قانونه في هذا التدبير ما ينزل عليه من ربه، وما يهديه إليه اجتهاده ونظره في المصالح، وما يشير به أولو الرأي من صحابته فيما ليس فيه تنزيل. وكان التدبير بهذه المصادر يتسع لحاجات الأمة ويكفل تحقيق مصالحها.
وقد ترك الرسول صلى الله عليه وسلم في أمته هاديين لا يضل من اهتدى بما في تدبير شئونهما وهما: كتاب الله، وسنته. وأقام منارًا ثالثًا يستضاء به -فيما ليس فيه نص من كتاب أو سنة- وهو: الاجتهاد الذي مهد طريقه، ودعا إليه بقوله، وعمله، وإقراره. ذلك لأنه صلى الله عليه وسلم كثيرًا ما كان يبلغ الأحكام مقرونة بعللها والمصالح التي تقتضيها، وفي هذا إيذان بارتباط الأحكام بالمصالح، ولفت إلى أن الغاية إنما هي: جلب المنافع، ودرء المفاسد. فمن أمثلة هذا قوله في النهي عن الجمع بين المرأة وعمتها: "إنكم إن فعلتك ذلك قطعتم أرحامكم". وقوله في النهي عن ادخار لحوم الأضاحي ثم إباحتها: "إنما نهيتكم من أجل الدافة". وقوله في الهرة وطهارة سؤرها: "إنها من الطوافين عليكم والطوافات". فهذا ونظائره في الكتاب والسنة مما فيه نص على علة الحكم أو إشارة إليها كان تمهيدًا للسبيل إلى الاجتهاد لأنه بهذه العلل يتوصل إلى إلحاق الأشباه بالأشباه، وتعرف الحكم في كل موضع لا نص فيه. وقد أقر
ভূমিকা
ইসলামি আইনবিধান (التشريع) ও গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত (الاجتهاد)…ইসলামি আইনবিধান (التشريع) ও গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত (الاجتهاد):
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর জীবদ্দশায় মুসলিমদের সাধারণ বিষয়াবলি—যেমন আইনবিধান (تشريع), বিচারকার্য (قضاء) এবং তা বাস্তবায়নের (تنفيذ) ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য আশ্রয়স্থল (مرجع) ছিলেন। এই ব্যবস্থাপনায় তাঁর মূলনীতি ছিল তাঁর রবের পক্ষ থেকে তাঁর ওপর যা অবতীর্ণ ওহী (تنزيل) হতো, জনকল্যাণের (مصالح) নিরিখে তাঁর নিজস্ব গবেষণা (اجتهاد) ও বিচার-বিবেচনা এবং যেসব বিষয়ে কোনো ওহী নাজিল হয়নি, সেসব ক্ষেত্রে তাঁর অভিজ্ঞ সাহাবীদের পরামর্শ। এই সকল উৎসের ভিত্তিতে পরিচালিত ব্যবস্থাপনা উম্মাহর প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম ছিল এবং তাদের স্বার্থ ও কল্যাণ নিশ্চিত করত।
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর উম্মতের জন্য এমন দুটি পথপ্রদর্শক রেখে গেছেন, যা অনুসরণ করলে কেউ পথভ্রষ্ট হবে না; সেগুলো হলো: আল্লাহর কিতাব ও তাঁর সুন্নাহ (سنة)। এছাড়া তিনি তৃতীয় একটি আলোকবর্তিকাও স্থাপন করেছেন, যা থেকে কিতাব বা সুন্নাহর কোনো অকাট্য প্রমাণ (نص) না থাকলে আলো গ্রহণ করা যায়; আর তা হলো: গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত (الاجتهاد), যার পথ তিনি সুগম করেছেন এবং নিজের কথা, কর্ম ও মৌনসম্মতির (إقرار) মাধ্যমে এর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। এর কারণ হলো, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রায়শই শরয়ি বিধানসমূহকে (الأحكام) সেগুলোর কার্যকর কারণ (علل) ও সংশ্লিষ্ট জনকল্যাণের (المصالح) সাথে যুক্ত করে প্রচার করতেন। এতে বিধানসমূহের সাথে জনকল্যাণের সম্পৃক্ততার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে এবং এই বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে যে, মূল লক্ষ্য হলো: কল্যাণ আনয়ন (جلب المنافع) ও অকল্যাণ নিরসন (درء المفاسد)। এর একটি উদাহরণ হলো, কোনো নারীকে তার ফুপুর সাথে একত্রে বিবাহ করা নিষিদ্ধ করার ক্ষেত্রে তাঁর উক্তি: "তোমরা যদি এমনটি করো, তবে তোমরা তোমাদের আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করবে।" এছাড়া কুরবানির পশুর মাংস জমিয়ে রাখা নিষিদ্ধ করার পর পুনরায় তা বৈধ করার ক্ষেত্রে তাঁর উক্তি: "আমি তোমাদের কেবল বহিরাগত অভাবী লোকদের (الدافة) আগমনের কারণে তা নিষেধ করেছিলাম।" বিড়াল এবং তার উচ্ছিষ্টের পবিত্রতা সম্পর্কে তাঁর উক্তি: "এটি তোমাদের আশেপাশে বিচরণকারী ও বিচরণকারিণীদের অন্তর্ভুক্ত।" কিতাব ও সুন্নাহর এই জাতীয় উদাহরণগুলো—যেখানে বিধানের কার্যকর কারণের (علة الحكم) ওপর অকাট্য বর্ণনা (نص) বা ইঙ্গিত রয়েছে—গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্তের (الاجتهاد) পথ প্রশস্তকারী ছিল। কারণ, এই কারণগুলোর (علل) মাধ্যমেই সাদৃশ্যপূর্ণ বিষয়গুলোকে একে অপরের সাথে সংযুক্ত করা এবং যে ক্ষেত্রে কোনো অকাট্য প্রমাণ (نص) নেই, সেখানকার বিধান অবগত হওয়া সম্ভব হয়। তিনি অনুমোদন দিয়েছেন (أقر)
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতিশ শারইয়াহ ফিশ শুউনিল দুস্তুরিয়াহ ওয়াল খারিজিয়াহ ওয়াল মালিইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الرسول صلى الله عليه وسلم اجتهاد من اجتهد في حضرته من صحابته. ويقال للمجتهد: إن أصبت أجران، وإن اخطأت فلك أجر. وكان ينهى عن الشيء لمصلحة تقضي بتحريمه ثم يبيحه إذا تبدلت الحال وصارت المصلحة في إباحته، كما في حديث "كنت نهيتكم عن زيارة القبور، ألا فزوروها". ولما خرج صحابيان في سفر وحضرتهما الصلاة وليس معهما ماء وصليا ثم وجدا الماء في الوقت وأعاد أحدهما ولم يعد الآخر صوبهما النبي صلى الله عليه وسلم وقال للذي لم يعد: "أصبت السنة، وأجزأتك صلاتك"، وقال للآخر "لك الأجر مرتين".
هذا كله وكثير من مثله بث في نفوس المسلمين أن غاية الشرع إنما هي المصلحة، وحيثما وجدت المصلحة فثم شرع الله. وأنار لهم أن السبيل إلى تحقيق المصالح حيث لا نص إنما هو اجتهاد الرأي.
وقد ظهرت هذه الروح فيما سلكه الراشدون بعد وفاة الرسول صلى الله عليه وسلم في تدبير العامة للدولة فكانوا يهتدون في نظمهم وسائر تصرفاتهم بما شرع الله في كتابه، وعلى لسان رسوله. وإن حدث لهم ما ليس له حكم في كتاب ولا سنة اجتهدوا رأيهم واتبعوا ما أدى إليه اجتهادهم مما رأوا فيه مصلحة الأمة ولا يخالف روح الدين. وكثيرًا ما كان اجتهاد أحدهم يخالف اجتهاد صاحبه بل قد يخالف ما يفهم من ظاهر النص.
وما أتهم مجتهد منهم أنه على غير الحق أو تنكب طريقه، ما دامت الغاية: المصلحة وعدل الله، والوسيلة: اجتهاد الرأي وإنعام النظر.
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উপস্থিতিতে তাঁর সাহাবীদের মধ্য থেকে যারা গবেষণা (اجتهاد) করেছেন, তাদের সেই প্রচেষ্টাকে সমর্থন করেছেন। আর গবেষকের (مجتهد) সম্পর্কে বলা হয়: যদি তুমি সঠিক হও তবে তোমার জন্য রয়েছে দ্বিগুণ সওয়াব, আর যদি ভুল করো তবে তোমার জন্য রয়েছে একটি সওয়াব। তিনি কোনো বিষয়কে এমন কোনো জনকল্যাণের (مصلحة) কারণে নিষেধ করতেন যা সেটিকে নিষিদ্ধ (تحريم) করার দাবি রাখত, অতঃপর পরিস্থিতি পরিবর্তিত হলে এবং তার অনুমোদনের (إباحة) মধ্যে জনকল্যাণ নিহিত থাকলে তিনি তা বৈধ করে দিতেন; যেমনটি হাদিসে এসেছে: "আমি তোমাদের কবর জিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম, এখন তোমরা জিয়ারত করো।" যখন দুই সাহাবী সফরে বের হলেন এবং নামাজের সময় হলো অথচ তাদের কাছে পানি ছিল না, তারা নামাজ আদায় করলেন। এরপর ওয়াক্ত থাকতেই তারা পানি পেলেন; তখন তাদের একজন নামাজ পুনরায় আদায় করলেন এবং অন্যজন করলেন না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের উভয়কেই সঠিক বললেন এবং যিনি পুনরায় আদায় করেননি তাকে বললেন: "তুমি সুন্নাহ (سنة) অনুসরণ করেছ এবং তোমার নামাজ যথেষ্ট হয়েছে", আর অন্যজনকে বললেন: "তোমার জন্য দ্বিগুণ সওয়াব।"
এই সব কিছু এবং এই জাতীয় আরও অনেক বিষয় মুসলমানদের মনে এই বিশ্বাস গেঁথে দিয়েছে যে, শরিয়তের মূল লক্ষ্য হলো জনকল্যাণ (مصلحة), আর যেখানেই জনকল্যাণ বিদ্যমান, সেখানেই আল্লাহর শরিয়ত। এটি তাদের জন্য এই পথকেও আলোকিত করেছে যে, যেখানে কোনো অকাট্য প্রমাণ (نص) নেই, সেখানে জনকল্যাণ অর্জনের পথ হলো সুচিন্তিত অভিমত প্রয়োগের মাধ্যমে গবেষণা (اجتهاد الرأي)।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তেকালের পর খুলাফায়ে রাশিদিন রাষ্ট্রীয় সাধারণ বিষয়াদি পরিচালনার ক্ষেত্রে যে পথ অনুসরণ করেছিলেন, তাতেও এই চেতনার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। তারা তাদের প্রশাসনিক ব্যবস্থা ও যাবতীয় কর্মকাণ্ডে আল্লাহর কিতাবে এবং তাঁর রাসূলের মাধ্যমে প্রবর্তিত বিধান দ্বারা পরিচালিত হতেন। যদি তাদের সামনে এমন কোনো পরিস্থিতির উদ্ভব হতো যার কোনো বিধান কিতাব বা সুন্নাহতে নেই, তবে তারা নিজেদের সুচিন্তিত অভিমত দ্বারা গবেষণা (اجتهاد) করতেন এবং তাদের গবেষণালব্ধ ফলাফলের অনুসরণ করতেন যেটিকে তারা উম্মতের জন্য কল্যাণকর (مصلحة) মনে করতেন এবং যা দ্বীনের চেতনার বিরোধী নয়। অনেক ক্ষেত্রেই তাদের একজনের গবেষণা (اجتهاد) তাঁর অন্য সঙ্গীর গবেষণার বিপরীত হতো, এমনকি কখনো কখনো তা অকাট্য প্রমাণের (نص) বাহ্যিক রূপের পরিপন্থীও হতো।
তাদের মধ্য থেকে কোনো গবেষককে (مجتهد) কখনো এই অপবাদ দেওয়া হয়নি যে তিনি সত্যের ওপর নেই বা সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত লক্ষ্য ছিল জনকল্যাণ (مصلحة) ও আল্লাহর ন্যায়বিচার, এবং মাধ্যম ছিল সুচিন্তিত অভিমতের ভিত্তিতে গবেষণা (اجتهاد الرأي) ও গভীর অভিনিবেশ।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতিশ শারইয়াহ ফিশ শুউনিল দুস্তুরিয়াহ ওয়াল খারিজিয়াহ ওয়াল মালিইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
اجتهد أبو بكر فاستخلف على المسلمين عمر. واجتهد عمر فلم يستخلف واحدًا، وترك الأمر شورى بين ستة. فاجتهاد أحدهما غير اجتهاد صاحبه، واجتهادهما معًا غير ما فعل الرسول صلى الله عليه وسلم لأنه لم يستخلف واحدًا كما فعل أبو بكر ولم يترك الشورى لستة كما فعل عمر وما رمي واحدًا منهما بأنه خالف شرع الله لأنه توخى المصلحة، واجتهد ما استطاع.
اجتهد عمر وأمضى الطلاق الثالث على من طلق زوجه ثلاثًا بكلمة واحدة، ولم يكن ليخفى عليه قول الله في كتابه: {الطَّلاقُ مَرَّتَانِ} [البقرة: 229] وإن الثلاث في زمن الرسول صلى الله عليه وسلم وأبى بكر وصدر من خلافته نفسه كانت تعتبر واحدة، وإن رجلًا على عهد الرسول صلى الله عليه وسلم طلق امرأته ثلاثًا فبلغ الرسول صلى الله عليه وسلم ذلك فقال: "أيلعب بكتاب الله وأنا بين أظهركم" لم يكن ليخفى عليه من ذلك شيء ولكنه رأى الناس أكثروا من هذا اللعب فألزمهم بنتائجه، ردعًا لهم أو تقليلًا لألاعيبهم. وهذا هو الذي عناه بقوله رضي الله عنه: "إن الناس قد استعجلوا في شيء كانت لهم فيه أناة فلو أنا أمضيناه عليهم" فأمضاه عليهم. ولهذا قال ابن تيمية: "إن سياسة عمر قضت بأن ألزم المطلق ثلاثًا بكلمة واحدة بالثلاث، وسد عليهم باب التحليل ليزدجروا ويرتدعوا، ولو علم أن الناس يتتابعون في التحليل لرأي أن إقرارهم على ما كان عليه الأمر زمن الرسول صلى الله عليه وسلم وأبي بكر وصدرًا من خلافته أولى".
আবু বকর ইজতিহাদ (اجتهاد) করলেন এবং মুসলমানদের ওপর উমরকে স্থলাভিষিক্ত করলেন। উমর ইজতিহাদ (اجتهاد) করলেন কিন্তু তিনি কোনো একজনকে স্থলাভিষিক্ত করেননি, বরং বিষয়টি ছয়জনের মধ্যে শুরা (شورى) বা পরামর্শের ওপর ছেড়ে দিলেন। সুতরাং তাদের একজনের ইজতিহাদ (اجتهاد) অন্যজনের ইজতিহাদ (اجتهاد) থেকে ভিন্ন ছিল এবং তাদের উভয়ের ইজতিহাদ (اجتهاد) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা করেছিলেন তার থেকে ভিন্ন ছিল। কারণ তিনি আবু বকরের মতো একজনকে স্থলাভিষিক্ত করেননি এবং উমরের মতো ছয়জনের শুরার (شورى) ওপরও বিষয়টি ছেড়ে যাননি। তাদের কাউকেই আল্লাহর বিধান লঙ্ঘন করার দায়ে অভিযুক্ত করা হয়নি, কারণ তারা জনকল্যাণ (مصلحة) অন্বেষণ করেছিলেন এবং সাধ্যমতো ইজতিহাদ (اجتهاد) করেছিলেন।
উমর ইজতিহাদ (اجتهاد) করলেন এবং এক শব্দে তিন তালাক প্রদানকারীর ওপর তিন তালাকই কার্যকর করলেন। আল্লাহর কিতাবের এই বাণী তাঁর কাছে অজানা ছিল না যে: {তালাক হলো দুইবার} [আল-বাকারা: ২২৯]। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সময়ে, আবু বকরের যুগে এবং তাঁর নিজের খিলাফতের প্রথমাংশেও এক শব্দে তিন তালাককে এক তালাক হিসেবেই গণ্য করা হতো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে এক ব্যক্তি তাঁর স্ত্রীকে তিন তালাক দিলে বিষয়টি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট পৌঁছাল। তখন তিনি বললেন: "আমি তোমাদের মাঝে থাকা অবস্থায় কি আল্লাহর কিতাব নিয়ে খেলা করা হচ্ছে?" এর কোনো কিছুই তাঁর কাছে অজানা ছিল না, কিন্তু তিনি দেখলেন যে মানুষ এই খেলা বা তামাশা অধিক মাত্রায় করছে, তাই তিনি তাদের দমনের জন্য অথবা তাদের এই খেলা কমানোর উদ্দেশ্যে এর ফলাফল তাদের ওপর অবধারিত করে দিলেন। আর তিনি রাজিয়াল্লাহু আনহু তাঁর এই কথার মাধ্যমে এটিই বুঝিয়েছিলেন যে: "মানুষ এমন একটি বিষয়ে তাড়াহুড়া করছে যাতে তাদের জন্য ধৈর্য ও অবকাশ ছিল; অতএব আমরা যদি তা তাদের ওপর কার্যকর করে দিতাম!" ফলে তিনি তা তাদের ওপর কার্যকর করেন। এজন্যই ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন: "উমরের নীতি এই সিদ্ধান্ত দিয়েছিল যে, এক শব্দে তিন তালাক প্রদানকারীর ওপর তিন তালাকই কার্যকর করা হবে এবং তাদের জন্য তাহলীল (تحليل) বা বৈধকরণের পথ বন্ধ করে দেওয়া হবে যাতে তারা বিরত থাকে ও শিক্ষা গ্রহণ করে। তিনি যদি জানতেন যে মানুষ তাহলীল (تحليل)-এর দিকে অবিরত ধাবিত হবে, তবে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবু বকর এবং তাঁর নিজের খিলাফতের প্রথমাংশের অবস্থার ওপর বহাল রাখাকেই অধিক উত্তম মনে করতেন।"
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতিশ শারইয়াহ ফিশ শুউনিল দুস্তুরিয়াহ ওয়াল খারিজিয়াহ ওয়াল মালিইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
اجتهد عثمان وجدد أذانًا ثانيًا لفريضة الجمعة لم يكن على عهد الرسول لأنه قضت به المصلحة في إعلام الناس بالصلاة بعدما تزايد عددهم وتباعدت دورهم: وجمع الناس على قراءة القرآن بحرف واحد هو ما دون في المصحف الإمام ولم يكن ليخفى عليه أن القرآن أنزل على سبعة أحرف. وأن الرسول قال لقارئين بحرفين متغايرين: "هكذا أنزل، وهكذا أنزل". ولكنه خشي فتنة الخلف بعد تباعد أطراف الدولة وتفرق الحفاظ في الأمصار واستشهادهم في الجهاد فمنع ما كان مباحًا.
اجتهد علي وحرق الرافضة وما كان خفيًّا عليه حكم الله في قتل الكافر ولكنه رأى المصلحة في الزجر عن الجرم الشنيع بالعقاب الشنيع وهو التحريق.
وكذلك كان الشأن في القضاء وطرق الحكم، فكانوا يعتمدون على كل دليل يطمئن إليه القلب ويهدي إلى العدل والحق لا يقفون عند أدلة خاصة ظاهرة من بينة أو إقرار أن نكول. فقد قضى عمر برجم الجارية التي ظهرت حاملًا ولا زوج لها ولا سيدًا اكتفاء بهذه الأمارة. وحكموا بحد السرقة على من وجد المسروق في يده اعتمادًا على هذه القرينة. وقد وفى ابن القيم هذا المقام بما لا مزيد عليه في كتابه "الطرق الحكمية في السياسة الشرعية".
وكانوا كذلك بنظرون في التنفيذ إلى ما تقتضي به المصلحة وحال الناس، فقد عطل عمر تنفيذ حد السارق في عام المجاعة وأسقط سهم المؤلفة قلوبهم لما أعز الله الإسلام. وهذه السبيل التي سلكها المسلمون
উসমান (রা.) ইজতিহাদ (اجتهاد) করেছিলেন এবং জুমার ফরজ সালাতের জন্য দ্বিতীয় আজান প্রবর্তন করেছিলেন যা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে ছিল না। কারণ লোকসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া এবং তাদের ঘরবাড়ি দূরে দূরে হওয়ার ফলে সালাতের সময় সম্পর্কে মানুষকে অবগত করার ক্ষেত্রে জনকল্যাণ (مصلحة) এর দাবি ছিল। তিনি মানুষকে একটি হরফ (حرف)-এর ভিত্তিতে কুরআন পাঠের ওপর ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন, যা মুসহাফুল ইমামে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। কুরআন যে সাতটি হরফ (أحرف)-এ অবতীর্ণ হয়েছে, তা তার কাছে অজানা ছিল না। আর রাসূলুল্লাহ (সা.) ভিন্ন ভিন্ন দুই পদ্ধতিতে পাঠকারী দুই ব্যক্তিকে বলেছিলেন: "এভাবেই অবতীর্ণ হয়েছে, এভাবেই অবতীর্ণ হয়েছে।" কিন্তু রাষ্ট্রের সীমানা বৃদ্ধি পাওয়া, বিভিন্ন অঞ্চলে হাফেজদের ছড়িয়ে পড়া এবং জিহাদের ময়দানে তাদের শাহাদাত বরণ করার পর তিনি বিভেদের ফেতনার আশঙ্কা করেছিলেন; ফলে তিনি ইতিপূর্বে যা বৈধ (مباح) ছিল তা নিষিদ্ধ করেছিলেন।
আলী (রা.) ইজতিহাদ (اجتهاد) করেছিলেন এবং রাফেজি (الرافضة)-দের পুড়িয়ে দিয়েছিলেন। কাফের হত্যার ব্যাপারে আল্লাহর হুকুম তার কাছে অজানা ছিল না, কিন্তু তিনি জঘন্য অপরাধ দমনে জঘন্য শাস্তির মাধ্যমে সতর্ক করার মধ্যে জনকল্যাণ (مصلحة) দেখেছিলেন, আর তা হলো অগ্নিসংযোগ।
বিচারকার্য এবং শাসনের পদ্ধতির ক্ষেত্রেও বিষয়টি অনুরূপ ছিল। তারা এমন প্রতিটি দলীল (دليل)-এর ওপর নির্ভর করতেন যা অন্তরকে আশ্বস্ত করে এবং ন্যায়বিচার ও সত্যের পথে পরিচালিত করে; তারা কেবল সাক্ষ্য (بينة), স্বীকারোক্তি (إقرار) কিংবা শপথ অস্বীকার (نكول)-এর মতো সুনির্দিষ্ট প্রকাশ্য প্রমাণের ওপরই সীমাবদ্ধ থাকতেন না। উমর (রা.) সেই দাসীর ক্ষেত্রে রজম (رجم)-এর দণ্ডাদেশ দিয়েছিলেন যে গর্ভবতী হয়েছিল অথচ তার কোনো স্বামী বা মালিক ছিল না; তিনি এই আলামত (أمارة)-কেই যথেষ্ট মনে করেছিলেন। চুরিকৃত মাল যার হাতে পাওয়া গেছে তার ওপর তারা চুরির হদ (حد) প্রয়োগের বিধান দিয়েছেন এই কারিনা (قرينة) বা পারিপার্শ্বিক প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে। ইবনুল কায়্যিম তার গ্রন্থ "আত-তুরুকুল হুকমিয়্যাহ ফিস সিয়াসাহ আশ-শরঈয়্যাহ"-তে এ বিষয়ে এমন বিস্তারিত আলোচনা করেছেন যা আর কোনো সংযোজনের অবকাশ রাখে না।
অনুরূপভাবে তারা আইন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও জনকল্যাণ (مصلحة) এবং মানুষের অবস্থার প্রতি লক্ষ্য রাখতেন। উমর (রা.) দুর্ভিক্ষের বছরে চোরের হদ (حد) স্থগিত করেছিলেন এবং আল্লাহ যখন ইসলামকে শক্তিশালী ও বিজয়ী করলেন তখন মুআল্লাফাতুল কুলুব (المؤلفة قلوبهم)-দের জন্য নির্ধারিত অংশ রহিত করেছিলেন। আর এটিই ছিল মুসলমানদের অনুসৃত পথ।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতিশ শারইয়াহ ফিশ শুউনিল দুস্তুরিয়াহ ওয়াল খারিজিয়াহ ওয়াল মালিইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
أول أمرهم في التشريع والقضاء والتنفيذ كانت السبيل القويم في تدبير شئون الدولة. وكانت لا تضيق بحادث أو حاجة. ولا تقصر عن تحقيق أية مصلحة. ولا عن مسايرة الزمن في تطوراته، ومراعاة ما تقتضيه تغيرات الأزمان والأحوال. ويسلكونها ما شعر واحد بقصور الشريعة الإسلامية عن مصالح الناس ولا رميت بحاجتها إلى غيرها، وما عرف إذ ذاك حكم شرعي وآخر سياسي وإنما كانت الأحكام كلها شرعية مصدرها ما شرعه الله في كتابه وعلى لسان رسوله وما اهتدى إليه أولو الرأي باجتهادهم الذي تحروا به المصلحة، وبذلوا أقصى الجهد لتحقيقها، والله ما شرع الشرائع إلا لمصلحة عباده.
جاء بعد هذا عصر التزم فيه مجتهدو الفقهاء طرقًا خاصة في الاجتهاد ووضعوا شروطًا ورسومًا للمصالح الواجب اعتبارها. وسواء أكان الباعث لهم على هذا زيادة حرصهم على أن لا يتعدوا شرع الله أم اتهامهم عقولهم بالقصور على السابقين أم غير ذلك فإن هذا الالتزام قيد من حرية المجتهد وضيق دائرة الاجتهاد، وقضى بإغفال مراعاة كثير من المصالح المرسلة: وهي التي لم يرد في الشرع دليل بشأنها ولم يشهد الشارع باعتبارها ولا بإلغائها وبعد أن كان مجتهدو الصحابة يعملون لمطلق المصلحة لا لقيام شاهد بالاعتبار، وهاديهم في هذا فطرة سليمة ونظر صحح، صار الاعتبار لمصالح خاصة والمرجع إلى قواعد موضوعة. وبهذا بدأت تضيق دائرة التشريع وتلتزم في القضاء طرق خاصة للوصول إلى الحق وتغل اليد عن تنفيذ ما قد يكون فيه بعض الإصلاح.
বিধান প্রণয়ন (تشريع), বিচারকার্য (قضاء) এবং প্রয়োগের (تنفيذ) ক্ষেত্রে তাঁদের প্রাথমিক অবস্থাটি ছিল রাষ্ট্রীয় কার্যাবলি পরিচালনার জন্য একটি সঠিক ও ঋজু পথ। এটি কোনো আকস্মিক ঘটনা বা প্রয়োজনে সংকুচিত হয়ে পড়ত না এবং কোনো জনকল্যাণ (مصلحة) সাধনে পিছপা হতো না। এটি সময়ের বিবর্তনকে ধারণ করতে এবং কাল ও পরিস্থিতির পরিবর্তনের চাহিদার প্রতি লক্ষ্য রাখতেও ব্যর্থ হতো না। তাঁরা যখন এই পথ অনুসরণ করতেন, তখন কেউ মানুষের জনকল্যাণ সাধনে ইসলামি শরিয়তের কোনো অপূর্ণতা অনুভব করত না এবং একে অন্য কিছুর মুখাপেক্ষী হওয়ার অপবাদও দেওয়া হতো না। তখন শারয়ী বিধান এবং রাজনৈতিক বিধানের মধ্যে কোনো বিভাজন পরিচিত ছিল না; বরং সকল বিধানই ছিল শারয়ী, যার উৎস ছিল আল্লাহ যা তাঁর কিতাবে এবং তাঁর রাসুলের জবানে বিধিবদ্ধ করেছেন এবং বিজ্ঞ পণ্ডিতগণ (أولو الرأي) তাঁদের গবেষণার (اجتهاد) মাধ্যমে যে দিশা লাভ করেছেন। তাঁরা এই গবেষণার মাধ্যমে জনকল্যাণ (مصلحة) অন্বেষণ করতেন এবং তা বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করতেন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর বান্দাদের কল্যাণার্থেই শরিয়তসমূহ প্রবর্তন করেছেন।
এর পরে এমন এক যুগ এলো যখন মুজতাহিদ (مجتهد) ফকিহগণ গবেষণার (اجتهاد) ক্ষেত্রে বিশেষ কিছু পদ্ধতি অনুসরণ করতে শুরু করলেন এবং তাঁরা সেই সব কল্যাণের জন্য নির্দিষ্ট শর্ত ও নিয়মাবলি নির্ধারণ করলেন যা বিবেচনা করা আবশ্যক। তাঁদের এই আচরণের কারণ আল্লাহর বিধান লঙ্ঘন না করার ব্যাপারে অতিরিক্ত সতর্কতা হোক, অথবা পূর্ববর্তীদের তুলনায় নিজেদের বুদ্ধিবৃত্তিক সীমাবদ্ধতার ধারণা হোক কিংবা অন্য কিছু—এই বাধ্যবাধকতা মুজতাহিদের (مجتهد) স্বাধীনতাকে শৃঙ্খলিত করে ফেলে এবং গবেষণার (اجتهاد) পরিধিকে সংকীর্ণ করে দেয়। এর ফলে তা অনেক অবারিত জনকল্যাণের (المصالح المرسلة) প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করার পথ প্রশস্ত করে; আর অবারিত জনকল্যাণ (المصالح المرسلة) হলো সেই বিষয় যার ব্যাপারে শরিয়তে কোনো সুনির্দিষ্ট দলিল (دليل) আসেনি এবং শরিয়তদাতা (شارع) এটি গ্রহণ বা বর্জনের ব্যাপারে কোনো সাক্ষ্য প্রদান করেননি। সাহাবায়ে কিরাম যেখানে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অপেক্ষা না করে বিশুদ্ধ ফিতরাত এবং সঠিক দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে নিরঙ্কুশ জনকল্যাণের (مصلحة) ওপর ভিত্তি করে কাজ করতেন, সেখানে পরবর্তীকালে সুনির্দিষ্ট কল্যাণসমূহ বিবেচনার বিষয় হয়ে দাঁড়ায় এবং নির্ধারিত মূলনীতির দিকে প্রত্যাবর্তনের ধারা শুরু হয়। এর মাধ্যমে বিধান প্রণয়নের পরিধি সংকুচিত হতে থাকে এবং বিচারকার্যে সত্যে পৌঁছানোর জন্য সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি অবলম্বন বাধ্যতামূলক করা হয়, যা কোনো কোনো সংস্কারমূলক কাজ বাস্তবায়নের পথকে রুদ্ধ করে দেয়।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতিশ শারইয়াহ ফিশ শুউনিল দুস্তুরিয়াহ ওয়াল খারিজিয়াহ ওয়াল মালিইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وكان هؤلاء المجتهدون في بعض الأحوال بحرج هذه القيود وضيق قواعدهم بمصالح العباد فكانوا يخرجون من هذا الضيق بما يدعونه الاستحسان. ومن أمثلة هذا عقد المزارعة فهو على قواعد اجتهادهم باطل لكنهم لما رأوه ضروريًا لمصالح الناس أجازوه بطريق الاستحسان، وما هذا الاستحسان إلا بقية من روح الاجتهاد الفطري الذي كان سبيل السلف الأول.
وبإغفال المصالح المرسلة في التشريع وإلغاء اعتبار القرائن والأمارات في القضاء والتزام طرائق خاصة للوصول إلى الحق وتنفيذه ظهر الفقه الإسلامي بمظهر القاصر عن تدبير شئون الدولة الذي لا يتسع لمصالح الناس ولا يساير الزمن وتطوراته وأخذ الولاة السياسيون ورجال السلطة التنفيذية في الدولة ينظرون إلى مصالح الناس المطلقة ويدبرونها بما يكفلها من النظم والقوانين غير ملتزمين ما التزمه أولئك المجتهدون. وأكثر ما عنوا بسعته الطرق الحكمية وقوانين العقوبات لأن أكبر همهم توطيد الأمن والضرب على أيدي المجرمين. ولا بد لهذا من الأخذ بالقرائن والاكتفاء بالأمارات والخروج عن قيود الفقهاء. ومن ذلك الحين بدأ المسلمون يرون بينهم نوعين من النظم والأحكام:
أحدهما:
ما استنبطه الفقهاء المجتهدون على وفق أصولهم وقيودهم.
ثانيهما:
ما لجأ إليه الولاة السياسيون لتحقيق المصالح المطلقة ومسايرة الزمن، وكان هذا النوع الثاني يتبع حال واضعيه؛ فتارة يكون
এবং এই মুজতাহিদগণ (المجتهدون) কোনো কোনো অবস্থায় এই সকল বিধি-নিষেধের সংকীর্ণতা এবং জনগণের কল্যাণের ক্ষেত্রে তাদের মূলনীতির সীমাবদ্ধতার কারণে সমস্যার সম্মুখীন হতেন। ফলে তারা এই সংকীর্ণতা থেকে উত্তরণের জন্য যাকে ইসতিহসান (استحسان) বলা হয়, তার আশ্রয় নিতেন। এর একটি উদাহরণ হলো মুজারাআ (ভাগচাষ) চুক্তি; এটি তাদের ইজতিহাদের (اجتهاد) মূলনীতি অনুযায়ী বাতিল (باطل), কিন্তু মানুষের প্রয়োজনে একে আবশ্যক বিবেচনা করে তারা ইসতিহসান (استحسان) পদ্ধতিতে এর অনুমতি দিয়েছেন। আর এই ইসতিহসান (استحسان) হলো জন্মগত ইজতিহাদের (اجتهاد) সেই চেতনার অবশিষ্টাংশ মাত্র, যা প্রথম যুগের সালাফদের অনুসৃত পথ ছিল।
এবং আইন প্রণয়নে মাসালিহে মুরসালা (المصالح المرسلة) বা জনকল্যাণকে উপেক্ষা করার কারণে এবং বিচারকার্যে পারিপার্শ্বিক তথ্যপ্রমাণ ও আলামতসমূহের (القرائن والأمارات) উপযোগিতা বাতিল করার ফলে, এবং সত্যে পৌঁছানো ও তা বাস্তবায়নের জন্য বিশেষ কিছু পদ্ধতি পালনে বাধ্য থাকার দরুন, ইসলামী ফিকহ (فقه) রাষ্ট্রের বিষয়াদি পরিচালনায় এমন এক অক্ষম রূপে প্রতীয়মান হলো যা জনকল্যাণের জন্য পর্যাপ্ত ছিল না এবং সময়ের বিবর্তন ও চাহিদার সাথেও সংগতিপূর্ণ ছিল না। ফলে রাজনৈতিক শাসক এবং রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগের ব্যক্তিবর্গ জনগণের সামগ্রিক কল্যাণের প্রতি দৃষ্টি দিতে শুরু করলেন এবং তারা সেই মুজতাহিদগণের (المجتهدون) অনুসৃত সীমাবদ্ধতাগুলো পরিহার করে বিভিন্ন নিয়ম ও আইনের মাধ্যমে তা পরিচালনা করতে লাগলেন। তারা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন বিচারিক পদ্ধতি এবং দণ্ডবিধির পরিধি বিস্তারের ওপর; কারণ তাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল নিরাপত্তা সুসংহত করা এবং অপরাধীদের কঠোর হস্তে দমন করা। আর এর জন্য পারিপার্শ্বিক প্রমাণাদি (القرائن) গ্রহণ করা, আলামতসমূহের (الأمارات) ওপর নির্ভর করা এবং ফকিহদের সীমাবদ্ধতা থেকে বেরিয়ে আসা অনিবার্য ছিল। সেই সময় থেকেই মুসলিমরা তাদের মাঝে দুই ধরনের ব্যবস্থা ও বিধান পরিলক্ষিত করতে শুরু করল:
প্রথমটি:
যা ফকিহ ও মুজতাহিদগণ (المجتهدون) তাদের মূলনীতি (أصول) ও বিধিনিষেধ অনুযায়ী উদ্ভাবন (استنباط) করেছেন।
দ্বিতীয়টি:
যা রাজনৈতিক শাসকগণ সামগ্রিক কল্যাণ সাধন ও সময়ের সাথে তাল মেলাতে গ্রহণ করেছিলেন; এবং এই দ্বিতীয় প্রকারটি এর প্রণেতাদের অবস্থার অনুবর্তী ছিল, ফলে তা কখনো...
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতিশ শারইয়াহ ফিশ শুউনিল দুস্তুরিয়াহ ওয়াল খারিজিয়াহ ওয়াল মালিইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
في حدود الاعتدال مراعى فيه تحقيق المصالح غير متجاوز به حدود الدين وأصوله الكلية، وتارة يكون مراعى فيه الأغراض والمصالح الجزئية.
ثم زاد قصور الفقه الإسلامي عن مصالح الناس بإغلاق باب الاجتهاد واقتصار الفقهاء على حمل الناس أن يتبعوا ما استنبطه أئمتهم في عصورهم السالفة دون نظر إلى ما بين الأزمان والأحوال من تفاوت.
فاتسعت مسافة الخلف بين الفقه ومصالح الناس في كثير من الشئون، واتجه ولاة الأمر في الدولة الإسلامية إلى مسايرة الزمن ومراعاة المصالح بتشريع ما يحققها مما يتفق وأصول الدين وإن لم يوافق أقوال الفقهاء المتبوعين.
وعلى هذا النهج سارت وزارة الحقانية في مصر فيما عدلته من بعض أحكام الأحوال الشخصية: في الطلاق ودعوى النسب ونفقة المعتدة وسن الحضانة وموت المفقود. وأبانت في المذكرة الإيضاحية لهذا التعديل أن الوجهة هي جلب المصلحة أو رفع الضرر العام. وجاء في تلك المذكرة ما نصه:
"من الواجب حماية الشريعة المطهرة وحماية الناس من الخروج عليها وقد تكلفت بسعادة الناس دينًا وأخرى وأنها بأصولها تسع الأمم في جميع الأزمنة والأمكنة متى فهمت على حقيقتها وطبقت على بصيرة وهدى.
পরিমিতিবোধের সীমার মধ্যে এতে জনস্বার্থ (مصالح) অর্জনের বিষয়টি বিবেচনা করা হয়েছে, যা দ্বীনের সীমানা এবং এর সামগ্রিক মূলনীতিসমূহ (أصول) অতিক্রম করে না; আবার কখনও এতে আংশিক লক্ষ্য ও স্বার্থসমূহ বিবেচনা করা হয়।
অতঃপর ইজতিহাদের (اجتهاد) দ্বার রুদ্ধ করে দেওয়া এবং ফকিহগণ মানুষকে তাদের পূর্ববর্তী যুগের ইমামদের উদ্ভাবিত বিধানসমূহ অনুসরণে সীমাবদ্ধ রাখার ফলে মানুষের কল্যাণের ক্ষেত্রে ইসলামি ফিকহের অপূর্ণতা আরও বৃদ্ধি পায়; এক্ষেত্রে তারা সময়ের পরিবর্তন ও পরিস্থিতির ভিন্নতার দিকে লক্ষ্য রাখেননি।
ফলশ্রুতিতে অনেক বিষয়ে ফিকহ এবং জনস্বার্থের মধ্যে ব্যবধান প্রকট হয়ে ওঠে। ইসলামি রাষ্ট্রের শাসকবর্গ সময়ের দাবি পূরণ এবং দ্বীনের মূলনীতির (أصول) সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ আইন প্রণয়নের মাধ্যমে জনস্বার্থ (مصالح) রক্ষার পথ গ্রহণ করেন, যদিও তা অনুসরণীয় ফকিহদের মতামতের সাথে সংগতিপূর্ণ ছিল না।
এই পথ অনুসরণ করেই মিশরের বিচার মন্ত্রণালয় ব্যক্তিগত আইনের কিছু বিধান সংশোধন করেছে, যথা: তালাক, বংশপরিচয়ের দাবি, ইদ্দত পালনকারিণীর খোরপোশ, শিশু লালন-পালনের (حضانة) বয়স এবং নিখোঁজ ব্যক্তির মৃত্যু ঘোষণা। এই সংশোধনীর ব্যাখ্যাপত্রে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, এর মূল লক্ষ্য হলো জনকল্যাণ (مصلحة) নিশ্চিত করা অথবা সাধারণ ক্ষতি (ضرر) দূর করা। উক্ত ব্যাখ্যাপত্রের পাঠ ছিল নিম্নরূপ:
"পবিত্র শরিয়তকে রক্ষা করা এবং মানুষকে এর অবাধ্যতা থেকে বাঁচানো ওয়াজিব। এটি ইহকাল ও পরকালে মানুষের সৌভাগ্যের দায়িত্ব নিয়েছে। শরিয়ত তার মূলনীতিসমূহের (أصول) মাধ্যমে সব যুগের ও সব স্থানের জাতিসমূহের জন্য প্রশস্ত, যদি তা সঠিকভাবে উপলব্ধি করা হয় এবং প্রজ্ঞা ও হেদায়েতের সাথে প্রয়োগ করা হয়।"
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতিশ শারইয়াহ ফিশ শুউনিল দুস্তুরিয়াহ ওয়াল খারিজিয়াহ ওয়াল মালিইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
ومن السياسة أن الشرعية أن يفتح للجمهور باب الرحمة من الشريعة نفسها وأن يرجع إلى آراء لتعالج الأمراض الاجتماعية كلما استعصى مرض منها حتى يشعر الناس بأن في الشريعة مخرجًا من الضيق وفرجًا من الشدة".
وعلى هذا الأساس ومراعة للمصلحة العامة منع من مباشرة عقد الزواج أو المصادقة عليه ما لم تكن سن الزوجة ست عشرة سنة وسن الزوج ثماني عشرة سنة وقت العقد ومنع من سماع الشهود على بعض الوقائع والتزام لإثباتها أوراق تدل على صحتها.
وهذا التعديل في الأحكام والطرق الحكمية مما قصد به درء المفاسد وجلب المصالح وروعي فيه موافقة أصول الدين وإن لم يتفق وأقوال الأئمة الأربعة المجتهدين. وهذه الخطة في تدبير الشئون هي السياسة الشرعية.
فالسياسة الشرعية:
هي تدبير الشئون العامة للدولة الإسلامية بما يكفل تحقيق المصالح ودفع المضار مما لا يتعدى حدود الشريعة أو أصولها الكلية وإن لم يتفق وأقوال الأئمة المجتهدين. وبعبارة أخرى هي متابعة السلف الأول في مراعاة المصالح ومسايرة الحوادث. والمراد بالشئون العامة للدولة كل ما تتطلبه حياتها من نظم، سواء أكانت دستورية أم مالية أم تشريعية أم قضائية أم تنفيذية، وسواء أكانت من شئونها الداخلية أم علاقاتها الخارجية. فتدبير هذه الشئون والنظر في أسسها ووضع قواعدها بما يتفق وأصول الشرع هو السياسة الشرعية.
শরয়ি রাজনীতির একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো স্বয়ং শরিয়ত থেকেই জনগণের জন্য রহমতের দ্বার উন্মোচন করা এবং সামাজিক ব্যাধিগুলো যখনই দুঃসাধ্য হয়ে ওঠে, তখন সেগুলো নিরাময়ের জন্য এমন সব মতামতের দিকে প্রত্যাবর্তন করা যাতে মানুষ অনুভব করতে পারে যে শরিয়তেই সংকীর্ণতা থেকে উত্তরণের পথ এবং কঠিন অবস্থা থেকে মুক্তির উপায় রয়েছে।
এই মূলনীতির ভিত্তিতে এবং জনস্বার্থের প্রতি লক্ষ্য রেখে, বিবাহের সময় কনের বয়স ষোলো বছর এবং বরের বয়স আঠারো বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত বিবাহের চুক্তি সম্পাদন বা এর সত্যায়ন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া নির্দিষ্ট কিছু ঘটনার ক্ষেত্রে কেবল সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং সেগুলো প্রমাণের জন্য সত্যতা নির্দেশক দলিলাদি উপস্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
বিধান এবং বিচারিক পদ্ধতির এই সংশোধন মূলত অনিষ্ট প্রতিরোধ এবং জনকল্যাণ সাধনের উদ্দেশ্যেই করা হয়েছে। এতে দ্বীনের মূলনীতিসমূহের সাথে সংগতি রক্ষার বিষয়টি বিবেচনা করা হয়েছে, যদিও তা চারজন মুজতাহিদ ইমামের মতামতের সাথে হুবহু না মেলে। রাষ্ট্রীয় বিষয়াদি পরিচালনার এই কর্মপন্থাকেই শরয়ি রাজনীতি বলা হয়।
শরয়ি রাজনীতি হলো:
ইসলামি রাষ্ট্রের সাধারণ বিষয়াদি এমনভাবে পরিচালনা করা যা জনকল্যাণ নিশ্চিত করে এবং ক্ষতি প্রতিরোধ করে, যা শরিয়তের সুনির্ধারিত সীমা বা এর সামগ্রিক মূলনীতিসমূহ অতিক্রম করে না; যদিও তা মুজতাহিদ ইমামগণের মতামতের সাথে সংগতিপূর্ণ না হয়। অন্য কথায়, এটি হলো জনস্বার্থ রক্ষা এবং উদ্ভূত পরিস্থিতির সাথে তাল মেলাতে সালাফে সালেহিন বা পূর্বসূরিদের অনুসরণ করা। রাষ্ট্রের সাধারণ বিষয়াদি বলতে একটি রাষ্ট্রের জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা ও শৃঙ্খলাকে বোঝায়; চাই তা সাংবিধানিক, আর্থিক, আইনি, বিচার বিভাগীয় কিংবা নির্বাহী হোক এবং চাই তা অভ্যন্তরীণ বিষয় হোক বা বৈদেশিক সম্পর্ক সংক্রান্ত। সুতরাং শরিয়তের মূলনীতির সাথে সংগতি রেখে এই সকল বিষয় পরিচালনা করা, সেগুলোর ভিত্তি পর্যালোচনা করা এবং নিয়ম-কানুন প্রণয়ন করাই হলো শরয়ি রাজনীতি।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতিশ শারইয়াহ ফিশ শুউনিল দুস্তুরিয়াহ ওয়াল খারিজিয়াহ ওয়াল মালিইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
وليس يوجد مانع شرعي من الأخذ بكل ما يدرأ المفاسد ويحقق المصالح في أي شأن من شئون الدولة ما دام لا يتعدى حدود الشريعة ولا يخرج عن قوانينها العامة. وهذه أقوال بعض العلماء التي توضح هذه الوجهة: فقد نقل علاء الدين في كتابه معين الحكام عن الإمام القرافي قال:
"واعلم أن التوسعة على الحكام في الأحكام السياسية ليس مخالفًا للشرع، بل تشهد له القواعد الشرعية من وجوه:
أحدها:
أن الفساد قد كثر وانتشر بخلاف العصر الأول ومقتضى ذلك اختلاف الأحكام بحيث لا تخرج عن الشرع بالكلية لقوله صلى الله عليه وسلم: "لا ضرر ولا ضرار" وترك هذه القوانين يؤدي إلى الضرر.. ويؤكد ذلك جميع النصوص الواردة بنفي الحرج.
وثانيها:
أن المصلحة المرسلة قال بها جمع من العلماء وهي المصلحة التي لم يشهد الشارع باعتبارها ولا بإلغائها. ويؤكد العمل بالمصالح المرسلة أن الصحابة -رضوان الله عليهم- عملوا أمورًا لمطلق المصلحة لا لتقدم شاهد بالاعتبار، نحو كتابة المصحف، وولاية العهد من أبي بكر لعمر، وتدوين الدواوين، وعمل السكة، واتخاذ السجن، وغير ذلك من كثير لم يتقدم فيه أمر أو نظير وإنما فعل لمطلق المصلحة.
وثالثها:
أن الشرع شدد في الشهادة أكثر من الرواية واشترط في الشهادة العدد والحرية لتوهم العداوة، ووسع في كثير من العقود كالعارية والمساقاة للضرورة، ولم يقبل في الشهادة بالزنا إلا أربعة وقبل في القتل
রাষ্ট্রীয় যে কোনো বিষয়ে অনিষ্ট রোধ এবং জনকল্যাণ নিশ্চিত করে এমন প্রতিটি বিষয় গ্রহণ করার ক্ষেত্রে কোনো শরয়ী বাধা নেই, যতক্ষণ না তা শরীয়তের সীমা অতিক্রম করে বা এর সাধারণ বিধিবিধানের বাইরে চলে যায়। আর উলামায়ে কেরামের কিছু বক্তব্য এই দৃষ্টিভঙ্গিকে স্পষ্ট করে: আলাউদ্দিন তাঁর মুয়ীনুল হুক্কাম গ্রন্থে ইমাম আল-কারাফী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:
"জেনে রাখুন যে, রাজনৈতিক বিধিবিধানের ক্ষেত্রে শাসকদের জন্য সুযোগ ও প্রশস্ততা রাখা শরীয়ত পরিপন্থী নয়, বরং শরয়ী মূলনীতিসমূহ বিভিন্ন দিক থেকে এর সাক্ষ্য দেয়:
প্রথমত:
প্রথম যুগের তুলনায় বর্তমানে বিপর্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে ও ছড়িয়ে পড়েছে এবং এর দাবি হলো বিধিবিধানে ভিন্নতা আনা, যাতে তা পুরোপুরি শরীয়ত বহির্ভূত না হয়; কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "ক্ষতি করা যাবে না এবং ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া যাবে না।" আর এই আইনগুলো বর্জন করা ক্ষতির দিকে নিয়ে যায়। সংকীর্ণতা দূরীকরণের লক্ষ্যে বর্ণিত সকল অকাট্য পাঠ (نصوص) বা দলীলসমূহও একে সুদৃঢ় করে।
দ্বিতীয়ত:
একদল আলেম জনকল্যাণ (المصلحة المرسلة) এর সপক্ষে মত দিয়েছেন, আর তা হলো এমন জনকল্যাণ যার গ্রহণযোগ্যতা বা বর্জনের ব্যাপারে শরীয়ত প্রণেতার পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায় না। জনকল্যাণ (المصلحة المرسلة) অনুযায়ী আমল করার বিষয়টিকে এটি আরও শক্তিশালী করে যে, সাহাবায়ে কেরাম (রা.) নিছক জনকল্যাণের স্বার্থে এমন কিছু কাজ করেছেন যার স্বপক্ষে পূর্ববর্তী কোনো বিশেষ দলীল বা সাক্ষ্য ছিল না। যেমন: কুরআন সংকলন, আবু বকর (রা.) কর্তৃক ওমর (রা.)-কে খিলাফতের উত্তরাধিকারী মনোনীত করা, রাষ্ট্রীয় দপ্তরসমূহ প্রতিষ্ঠা করা, মুদ্রা তৈরি করা, কারাগার নির্মাণ করা এবং এমন আরও অনেক কিছু যেগুলোর ক্ষেত্রে ইতিপূর্বে কোনো আদেশ বা নজির ছিল না, বরং তা কেবল নিছক জনকল্যাণের স্বার্থেই করা হয়েছিল।
তৃতীয়ত:
শরীয়ত বর্ণনা (رواية) এর তুলনায় সাক্ষ্য (شهادة) প্রদানের ক্ষেত্রে অধিক কড়াকড়ি আরোপ করেছে এবং শত্রুতার আশঙ্কায় সাক্ষ্য (شهادة) প্রদানের ক্ষেত্রে সংখ্যা ও স্বাধীনতার শর্তারোপ করেছে। আবার প্রয়োজনের খাতিরে অনেক চুক্তির ক্ষেত্রে যেমন আরিয়াহ (العارية) এবং মুসাকাত (المساقاة) এর ক্ষেত্রে প্রশস্ততা দান করেছে। ব্যভিচারের সাক্ষ্য (شهادة) প্রদানের ক্ষেত্রে চারজন ব্যতীত কবুল করা হয়নি, তবে হত্যার ক্ষেত্রে কবুল করা হয়েছে...
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতিশ শারইয়াহ ফিশ শুউনিল দুস্তুরিয়াহ ওয়াল খারিজিয়াহ ওয়াল মালিইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
اثنين لأن القصد الستر وإن كان الدم أعظم. وهذه المباينات والاختلافات كثيرة في الشرع لاختلاف الأحوال، فلذلك ينبغي أن يراعى اختلاف الأحوال في الأزمان فتكون المناسبة الواقعة في هذه القوانين السياسية مما شهدت لها القواعد بالاعتبار".
ونقل ابن القيم في كتابه الطرق الحكمية عن ابن عقيل قال:
"السياسة ما كان فعلًَا يكون معه الناس أقرب إلى الصلاح وأبعد عن الفساد وإن لم يضعه الرسول ولا نزل به وحي. ومن قال: لا سياسة إلا بما نطق به الشرع فقد غلط وغلط الصحابة. فقد جرى من الخلفاء الراشدين ما لا يجحده عالم بالسنن وكفى تحريق علي الزنادقة وتحريق عثمان المصاحف ونفي عمر نصر بن الحجاج".
قال ابن القيم في الطرق الحكمية: "وهذا موضع مزلة أقدام ومضلة أفهام، وهو مقام ضنك ومعترك صعب فرط فيه طائفة فعطلوا الحدود وضيعوا الحقوق وجرءوا أهل الفجور على الفساد وجعلوا الشريعة قاصرة لا تقوم بمصالح العباد محتاجة إلى غيرها، وسدوا على نفوسهم طرقًا صحيحة من طرق معرفة الحق والتنفيذ له وعطلوها مع علمهم وعلم غيرهم قطعًا أنه حق مطابق للواقع ظنًا منهم منافاتها لقواعد الشرع. ولعمر الله إنها لم تناف ما جاء به الرسول صلى الله عليه وسلم وإن نافت ما فهموه من شريعته باجتهادهم. والذي أوجب لهم ذلك نوع تقصير في معرفة الشريعة وتقصير في معرفة الواقع وتنزيل أحدهما على الآخر، فلما رأى ولاة الأمور ذلك وأن الناس لا يستقيم لهم أمرهم إلا بأمر وراء ما فهمه هؤلاء من الشريعة أحدثوا من أوضاع سياستهم شرًا طويلًا وفسادًا
...দুইজন; কারণ উদ্দেশ্য হলো গোপন রাখা, যদিও রক্তের বিষয়টি (অপরাধ হিসেবে) অধিক গুরুতর। শরিয়তে অবস্থার পরিবর্তনের কারণে এই ধরণের পার্থক্য ও বৈচিত্র্য প্রচুর দেখা যায়। তাই বিভিন্ন যুগে অবস্থার পরিবর্তনের প্রতি লক্ষ্য রাখা বাঞ্ছনীয়, যাতে এই রাজনৈতিক আইনগুলোর মধ্যে বিদ্যমান উপযোগিতা এমন হয় যার সপক্ষে শরিয়তের মূলনীতিসমূহ সাক্ষ্য দেয়।
ইবনুল কাইয়্যিম তাঁর 'আত-তুরুক আল-হুকমিয়্যাহ' গ্রন্থে ইবনে আকীল থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:
"রাজনীতি (سياسة) হলো এমন কাজ যার মাধ্যমে মানুষ কল্যাণের অধিকতর নিকটবর্তী হয় এবং অনিষ্ট থেকে অধিকতর দূরে থাকে, যদিও রাসূলুল্লাহ (সা.) তা প্রবর্তন করেননি এবং এ ব্যাপারে কোনো ওহি (وحي) নাজিল হয়নি। যে ব্যক্তি বলে: 'শরিয়ত যা ব্যক্ত করেছে তা ছাড়া কোনো রাজনীতি নেই', সে ভুল করেছে এবং সাহাবীদেরও ভুল সাব্যস্ত করেছে। কেননা খুলাফায়ে রাশিদীনের পক্ষ থেকে এমন সব পদক্ষেপ গৃহীত হয়েছে যা হাদিস বিশারদ কোনো আলেম অস্বীকার করতে পারবেন না। এ ক্ষেত্রে আলীর (রা.) যিন্দিকদের পুড়িয়ে মারা, উসমানের (রা.) মুসহাফসমূহ পুড়িয়ে ফেলা এবং উমরের (রা.) নাসর বিন হাজ্জাজকে নির্বাসিত করাই যথেষ্ট।"
ইবনুল কাইয়্যিম 'আত-তুরুক আল-হুকমিয়্যাহ' গ্রন্থে বলেন: "এটি এমন এক পদস্খলনের স্থান এবং বিভ্রান্তিকর উপলব্ধির ক্ষেত্র, যা অত্যন্ত সংকীর্ণ ও এক কঠিন রণক্ষেত্র। এখানে একদল চরম অবহেলা করেছে, ফলে তারা দণ্ডবিধি (حدود) স্থগিত করেছে, মানুষের অধিকারসমূহ নষ্ট করেছে এবং পাপাচারীদের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিতে সাহসী করে তুলেছে। তারা শরিয়তকে অপূর্ণাঙ্গ হিসেবে উপস্থাপন করেছে যা বান্দাদের কল্যাণ সাধনে সক্ষম নয় এবং অন্যের মুখাপেক্ষী। তারা সত্য জানা ও তা বাস্তবায়নের সঠিক পথগুলো নিজেদের জন্য রুদ্ধ করে দিয়েছে এবং সেগুলো অকার্যকর করে ফেলেছে, অথচ তারা এবং অন্যরাও নিশ্চিতভাবে জানতেন যে তা বাস্তবসম্মত সত্য; তাদের ধারণা ছিল যে এগুলো শরিয়তের মূলনীতির পরিপন্থী। আল্লাহর কসম, এগুলো রাসূলুল্লাহ (সা.) যা নিয়ে এসেছেন তার পরিপন্থী নয়, যদিও তা তাদের নিজস্ব ইজতিহাদ (اجتهاد) দ্বারা অনুধাবিত শরিয়তের পরিপন্থী হতে পারে। তাদের এই পরিণতির কারণ হলো শরিয়ত সম্পর্কে জ্ঞানের অপরিপক্কতা এবং বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে সম্যক ধারণার অভাব, আর একটিকে অন্যটির ওপর প্রয়োগ করতে না পারা। যখন শাসকগণ দেখলেন যে, এই লোকেরা শরিয়ত সম্পর্কে যা বুঝেছে তার বাইরে অন্য কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে মানুষের বিষয়াদি সুচারুভাবে পরিচালিত হচ্ছে না, তখন তারা তাদের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দীর্ঘস্থায়ী অনিষ্ট ও বিশৃঙ্খলা তৈরি করে ফেলল"
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতিশ শারইয়াহ ফিশ শুউনিল দুস্তুরিয়াহ ওয়াল খারিজিয়াহ ওয়াল মালিইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
عريضًا فتفاقم الأمر وتعذر استدراكه وعز على العالمين بحقائق الشرع تخليص النفوس من ذلك واستنفاذها من تلك المهالك. وأفرطت طائفة أخرى قابلت هذه الطائفة فسوغت من ذلك ما ينافي حكم الله ورسوله وكلا الطائفتين أتيت من قبل تقصيرها في معرفة ما بعث الله به رسوله وأنزل به كتبه، فإن الله -سبحانه- أرسل رسله وأنزل كتبه ليقوم الناس بالقسط وهو العدل الذي قامت به الأرض والسماوات فإذا ظهرت أمارات العدل وأسفر وجهه بأي طريق كان فثم شرع الله ودينه والله -سبحانه- أعلم وأحكم وأعدل أن يخص طرق العدل وأماراته وأعلامه بشيء ثم ينفي ما هو أظهر منها وأقوى دلالة وأبين أمارة فلا يجعله منها ولا يحكم عند وجودها وقيامها بموجبها بل قد بين سبحانه وتعالى بما شرعه من الطرق أن مقصوده إقامة العدل بين عباده وقيام الناس بالقسط فأي طريق استخرج بها العدل والقسط فهي من الدين وليست مخالفة له، فلا يقال إن السياسة العادلة مخالفة لما نطق به الشرع بل موافقة لما جاء به بل هي جزء من أجزائه ونحن نسميها سياسة تبعًا لمصطلحكم، وإنما هي عدل الله ورسوله ظهر بهذه الأمارات والعلامات".
বিষয়টি অতি বিস্তৃত হয়ে পড়ল, ফলে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করল এবং তা সংশোধন করা অসম্ভব হয়ে পড়ল। শরীয়তের নিগুঢ় রহস্য সম্পর্কে অবগত আলিমদের পক্ষে এই অবস্থা থেকে মানুষের নফসকে নিষ্কৃতি দেওয়া এবং এই ধ্বংসাত্মক পথ থেকে তাদের রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ল। অপর এক দল এর বিপরীতে চরম বাড়াবাড়ি করল এবং তারা এমন সব বিষয়কে বৈধ করে নিল যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিধানের পরিপন্থী। মূলত এই উভয় দলই আল্লাহ তাঁর রাসূলকে যা দিয়ে পাঠিয়েছেন এবং তাঁর কিতাবসমূহ অবতীর্ণ করেছেন, তা অনুধাবনে ব্যর্থতার কারণেই বিভ্রান্ত হয়েছে। কেননা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর রাসূলগণকে পাঠিয়েছেন এবং কিতাবসমূহ অবতীর্ণ করেছেন যাতে মানুষ ইনসাফ (قسط) কায়েম করে; আর এটিই সেই ন্যায়বিচার (عدل), যার ওপর আসমান ও জমিন প্রতিষ্ঠিত। সুতরাং যখনই ন্যায়বিচারের আলামতসমূহ প্রকাশ পাবে এবং যেকোনো পথেই হোক না কেন তার রূপ স্পষ্ট হবে, সেখানেই আল্লাহর শরীয়ত ও তাঁর দ্বীন বিদ্যমান। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এ ব্যাপারে সর্বাধিক পরিজ্ঞাত, প্রজ্ঞাবান এবং ন্যায়পরায়ণ যে, তিনি ন্যায়বিচারের পথ, আলামত ও চিহ্নসমূহকে কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ করবেন, অতঃপর যা তার চেয়েও অধিক স্পষ্ট, শক্তিশালী প্রমাণ (دلالة) এবং সুস্পষ্ট আলামত সম্পন্ন—তাকে শরীয়তের বহির্ভূত করবেন; অথবা তাকে ন্যায়বিচারের অন্তর্ভুক্ত করবেন না কিংবা তার উপস্থিতিতে সেই অনুযায়ী বিধান প্রদান করবেন না। বরং তিনি তাঁর প্রবর্তিত বিধানের মাধ্যমে এটি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তাঁর মূল উদ্দেশ্য হলো বান্দাদের মধ্যে ন্যায়বিচার (عدل) প্রতিষ্ঠা করা এবং মানুষের ইনসাফ (قسط) কায়েম করা। অতএব, যে কোনো পদ্ধতির মাধ্যমেই ন্যায় ও ইনসাফ সুপ্রতিষ্ঠিত হোক না কেন, তা দ্বীনেরই অন্তর্ভুক্ত এবং তা দ্বীন পরিপন্থী নয়। সুতরাং এটি বলা যাবে না যে, ন্যায়সঙ্গত প্রশাসনিক নীতি (سياسة) শরীয়তের ভাষ্যের পরিপন্থী; বরং তা শরীয়ত যা নিয়ে এসেছে তারই অনুকূল এবং এর একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমরা তোমাদের ব্যবহৃত পরিভাষা অনুযায়ী একে 'নীতি' (سياسة) বলে অভিহিত করি, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এটি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নির্ধারিত ন্যায়বিচার (عدل), যা এই সকল আলামত ও নিদর্শনের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতিশ শারইয়াহ ফিশ শুউনিল দুস্তুরিয়াহ ওয়াল খারিজিয়াহ ওয়াল মালিইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الإسلام كفيل بالسياسة العادلة:السياسة العادلة لأية أمة هي تدبير شئونها الداخلية والخارجية بالنظم والقوانين التي تكفل الأمن لأفرادها وجماعاتها والعدل بينهم، وتضمن تحقيق مصالحهم وتمهيد السبيل لرقيهم وتنظيم علاقتهم بغيرهم.
والإسلام كفيل بهذه السياسة تصلح أصوله أن تكون أسسًا للنظم العادلة وتتسع لتحقيق مصالح الناس في كل زمان وفي أي مكان.
وبرهان ذلك أمران:
أحدهما:
أن الأصل الأول والمصدر العام للإسلام وهو كتاب الله تعالى لم يتعرض فيه لتفصيل الجزئيات بل نص فيه على الأسس الثابتة والقواعد الكلية التي يبنى عليها تنظيم الشئون العامة للدولة. وهذه الأسس والقواعد قلما تختلف فيها أمة من أمة أو زمان من زمان. أما التفصيلات التي تختلف فيها الأمم باختلاف أحوالها وأزمانها فقد سكت عنها لتكون كل أمة في سعة من أن تراعى فيها مصالحها الخاصة وما تقتضيه حالها.
ففي نظام الحكم لم يفصل القرآن الكريم نظامًا لشكل الحكومة، ولا لتنظيم سلطانها ولا لاختيار أولى الحل والعقد فيها. وإنما اكتفى بالنص على الدعائم الثابتة التي ينبغي أن تعتمد عليها نظم كل حكومة عادلة ولا تختلف فيها أمة عن أمة فقرر العدل في قوله سبحانه: {وَإِذَا حَكَمْتُمْ بَيْنَ النَّاسِ أَنْ تَحْكُمُوا بِالْعَدْلِ} 1، والشورى في قوله عز شأنه: {وَشَاوِرْهُمْ فِي الْأَمْرِ} 2، والمساواة في قوله سبحانه: {إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ إِخْوَةٌ} 3. أما ما عدا هذه الأسس من النظم التفصيلية فقد سكت
--------------------------------------------
ইসলাম ন্যায়বিচারপূর্ণ রাজনীতির নিশ্চয়তা প্রদানকারী:যেকোনো জাতির জন্য ন্যায়বিচারপূর্ণ রাজনীতি বলতে বুঝায় এমন এক ব্যবস্থা ও আইনের মাধ্যমে তার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক বিষয়াবলি পরিচালনা করা, যা তার ব্যক্তি ও সমষ্টির নিরাপত্তা এবং তাদের মাঝে ইনসাফ নিশ্চিত করে; পাশাপাশি তাদের স্বার্থ রক্ষা, উন্নতির পথ প্রশস্ত করা এবং অন্যদের সাথে তাদের সম্পর্ক সুসংগঠিত করার নিশ্চয়তা দেয়।
ইসলাম এই রাজনীতির পূর্ণ নিশ্চয়তা প্রদান করে। এর মূলনীতিসমূহ (أصول) ন্যায়বিচারপূর্ণ ব্যবস্থার ভিত্তি হওয়ার উপযুক্ত এবং যেকোনো যুগে ও যেকোনো স্থানে মানুষের সামষ্টিক কল্যাণ সাধনে সক্ষম।
এর প্রমাণ দুইটি বিষয়:
প্রথমত:
ইসলামের প্রথম ভিত্তি ও সাধারণ উৎস অর্থাৎ আল্লাহর কিতাবে খুঁটিনাটি বিষয়াদির বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়নি, বরং এতে রাষ্ট্রীয় সাধারণ কার্যাবলি পরিচালনার জন্য সুদৃঢ় ভিত্তি ও সামগ্রিক মূলনীতিসমূহের (القواعد الكلية) সুস্পষ্ট বর্ণনা (نص) দেওয়া হয়েছে। এই ভিত্তি ও মূলনীতিগুলো বিভিন্ন জাতি বা সময়ের প্রেক্ষিতে খুব সামান্যই পরিবর্তিত হয়। তবে সময়ের পরিবর্তন ও অবস্থার ভিন্নতার কারণে জাতিসমূহের মধ্যে যেসব খুঁটিনাটি বিষয়ে পার্থক্য দেখা দেয়, সে ব্যাপারে নীরবতা অবলম্বন করা হয়েছে; যেন প্রতিটি জাতি তাদের বিশেষ কল্যাণ ও পরিস্থিতির চাহিদা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশস্ততা পায়।
শাসনব্যবস্থার ক্ষেত্রে পবিত্র কুরআন কোনো সুনির্দিষ্ট সরকারি কাঠামো, ক্ষমতার বিন্যাস কিংবা আহলুল হাল্লি ওয়াল আকদ (أهل الحل والعقد) বা সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ব্যক্তিবর্গ নির্বাচনের পদ্ধতির বিস্তারিত বর্ণনা দেয়নি। বরং এটি কেবল সেই চিরন্তন স্তম্ভগুলোর সুস্পষ্ট বর্ণনার (نص) ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছে যার ওপর প্রতিটি ন্যায়নিষ্ঠ সরকারের ভিত্তি হওয়া আবশ্যক এবং যা এক জাতি থেকে অন্য জাতিতে ভিন্ন হয় না। ফলে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা ন্যায়বিচার সম্পর্কে নির্দেশ দিয়েছেন তাঁর এই বাণীতে: "আর যখন তোমরা মানুষের মধ্যে বিচার করবে, তখন ন্যায়বিচারের সাথে বিচার করবে" ১; এবং পরামর্শ সম্পর্কে ইরশাদ করেছেন: "এবং কাজে তাদের সাথে পরামর্শ করো" ২; আর সাম্য সম্পর্কে ইরশাদ করেছেন: "নিশ্চয়ই মুমিনরা পরস্পর ভাই ভাই" ৩। আর এসব মূল ভিত্তি ব্যতীত অন্যান্য বিস্তারিত প্রশাসনিক পদ্ধতির ব্যাপারে নীরবতা অবলম্বন করা হয়েছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতিশ শারইয়াহ ফিশ শুউনিল দুস্তুরিয়াহ ওয়াল খারিজিয়াহ ওয়াল মালিইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
عنها ليتسع لأولي الأمر أن يضعوا نظمهم ويشكلوا حكومتهم ويكونوا مجالسهم بما يلائم حالهم ويتفق ومصالحهم، غير متجاوزين حدود العدل والشورى.
وفي القانون الجنائي لم يحدد عقوبات مقدرة إلا لخمس فئات من المجرمين، الذين يحاربون الله ورسوله ويسعون في الأرض فسادًا، والذين يقتلون النفس بغير حق. والذين يرمون المحصنات الغافلات. والزانية والزاني. والسارق والسارقة.
أما سائر الجرائم -من جنايات وجنح ومخالفات- فلم يحدد لها عقوبات وإنما ترك لأولي الأمر أن يقدروا عقوباتها بما يرونه كفيلًا بصيانة الأمن وردع المجرم واعتبار غيره، لأن هذه التقديرات مما تختلف باختلاف البيئات والأمم والأزمان فمهد السبيل لولاة كل أمة أن يقرروا العقوبات بما يلائم حال الأمة ويوصل إلى الغرض من العقوبة. وأرشد الله -سبحانه- إلى أصل عام لا تختلف فيه الأمم وهو أن تكون العقوبة على قدر الجريمة، فقال عز من قائل: {وَإِنْ عَاقَبْتُمْ فَعَاقِبُوا بِمِثْلِ مَا عُوقِبْتُمْ بِهِ} 1، وقال: {فَمَنِ اعْتَدَى عَلَيْكُمْ فَاعْتَدُوا عَلَيْهِ بِمِثْلِ مَا اعْتَدَى عَلَيْكُمْ} 2.
وفي قانون المعاملات اكتفى بالنص على إباحة ما يقتضيه تبادل الحاجات ودفع الضرورات فأحل البيع والإجارة والرهن وغيرها من عقود المعاملات وأشار إلى الأساس الذي ينبغي أن تبنى عليه تلك المبادلات وهو التراضي فقال عز شأنه: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُمْ
--------------------------------------------
তাদের বিষয়ে (সংক্ষিপ্ততা অবলম্বন করা হয়েছে) যাতে দায়িত্বশীলদের (أولي الأمر) জন্য সুযোগ প্রশস্ত হয় যে তারা তাদের শাসনব্যবস্থা প্রণয়ন করতে পারেন, সরকার গঠন করতে পারেন এবং তাদের অবস্থা ও জনস্বার্থের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ পরিষদ গঠন করতে পারেন; তবে তারা যেন ন্যায়বিচার ও পরামর্শের (شورى) সীমা অতিক্রম না করেন।
আর ফৌজদারি আইনে মাত্র পাঁচটি শ্রেণির অপরাধী ব্যতীত কোনো নির্ধারিত শাস্তি (عقوبات مقدرة) সুনির্দিষ্ট করা হয়নি; যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টিতে লিপ্ত হয়, যারা অন্যায়ভাবে কোনো প্রাণ নাশ করে, যারা সতী-সাধ্বী উদাসীন নারীদের প্রতি অপবাদ আরোপ করে, ব্যভিচারিণী ও ব্যভিচারী এবং চোর ও চোরনী।
তবে অন্যান্য সকল অপরাধ—তা গুরুতর অপরাধ (جنايات), মাঝারি অপরাধ (جنح) বা সামান্য অপরাধ (مخالفات) যা-ই হোক না কেন—সেগুলোর জন্য কোনো শাস্তি সুনির্দিষ্ট করা হয়নি। বরং তা দায়িত্বশীলদের (أولي الأمر) ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে যেন তারা নিরাপত্তা রক্ষা, অপরাধীকে দমন এবং অন্যদের জন্য দৃষ্টান্ত স্থাপনের ক্ষেত্রে যথেষ্ট হয় এমনভাবে শাস্তি নির্ধারণ করতে পারেন। কেননা এই দণ্ড নির্ধারণের বিষয়টি পরিবেশ, জাতি এবং সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে ভিন্নতর হয়। ফলে এটি প্রতিটি জাতির শাসকদের জন্য সেই পথ প্রশস্ত করে দিয়েছে যাতে তারা তাদের জাতির অবস্থার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং শাস্তির লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হয় এমন দণ্ডাদেশ প্রদান করতে পারেন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা এমন একটি সাধারণ মূলনীতির (أصل عام) দিকে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন যা সকল জাতির ক্ষেত্রেই অভিন্ন, আর তা হলো শাস্তি হতে হবে অপরাধের সমপরিমাণ। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ বলেন: {আর যদি তোমরা শাস্তি দাও, তবে ঠিক ততটুকুই শাস্তি দাও যতটুকু তোমাদেরকে দেওয়া হয়েছিল} ১, এবং তিনি আরও বলেন: {সুতরাং যে কেউ তোমাদের ওপর আক্রমণ করবে, তোমরাও তার ওপর অনুরূপ আক্রমণ করো যেমনটি সে তোমাদের ওপর করেছে} ২।
আর লেনদেনের বিধানে (قانون المعاملات) পারস্পরিক প্রয়োজন পূরণ ও অপরিহার্যতা দূরীকরণে যা বৈধ হওয়া প্রয়োজন কেবল সেই সংশ্লিষ্ট বর্ণনাই যথেষ্ট মনে করা হয়েছে। ফলে তিনি ক্রয়-বিক্রয় (بيع), ইজারা (إجارة), বন্ধক (رهন) এবং অন্যান্য লেনদেনের চুক্তিকে (عقود المعاملات) হালাল করেছেন। আর তিনি সেই ভিত্তির দিকেও ইঙ্গিত করেছেন যার ওপর এই বিনিময়সমূহ প্রতিষ্ঠিত হওয়া বাঞ্ছনীয়, আর তা হলো পারস্পরিক সন্তুষ্টি (تراضي)। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ বলেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা একে অপরের সম্পদ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতিশ শারইয়াহ ফিশ শুউনিল দুস্তুরিয়াহ ওয়াল খারিজিয়াহ ওয়াল মালিইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
بَيْنَكُمْ بِالْبَاطِلِ إِلَّا أَنْ تَكُونَ تِجَارَةً عَنْ تَرَاضٍ مِنْكُمْ} 1. أما الأحكام التفصيلية لجزئيات هذه المعاملات فلولاة الأمر في كل أمة أن يفصلوها حسب أحوالها على أساس التراضي.
وكذلك اكتفى بالنص على منع المعاملات التي تفضي إلى النزاع وتوقع في العدواة والبغضاء فحرم الربا والميسر على أساس دفع الضرر وقطع أسباب الشحناء وسكت عن تفصيل الأحكام الجزئية لهذه المعاملات ليتسنى أن يكون تفصيلها في كل أمة على وفق حالها.
وفي النظام المالي فرض في أموال ذوي المال وعلى رءوس بعض الأنفس ضرائب وجهها في مصارف ثمانية مرجعها إلى سد نفقات المنافع العامة ومعونة المعوزين وترك تفصيل الترتيب لهذه الموارد وتصريفها في مصارفها لكل أمة تتبع فيه ما يلائمها.
وفي السياسة الخارجية أجمل علاقة المسلمين بغيرهم في قوله سبحانه: {لا يَنْهَاكُمُ اللَّهُ عَنِ الَّذِينَ لَمْ يُقَاتِلُوكُمْ فِي الدِّينِ وَلَمْ يُخْرِجُوكُمْ مِنْ دِيَارِكُمْ أَنْ تَبَرُّوهُمْ وَتُقْسِطُوا إِلَيْهِمْ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُقْسِطِينَ، إِنَّمَا يَنْهَاكُمُ اللَّهُ عَنِ الَّذِينَ قَاتَلُوكُمْ فِي الدِّينِ وَأَخْرَجُوكُمْ مِنْ دِيَارِكُمْ وَظَاهَرُوا عَلَى إِخْرَاجِكُمْ أَنْ تَوَلَّوْهُمْ وَمَنْ يَتَوَلَّهُمْ فَأُولَئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ} 2. فالقرآن الكريم لم ينص في الشئون العامة على تفصيل الجزئيات، وما كان هذا لنقص فيه أو قصور وإنما هو الحكمة بالغة حتى يتسير لكل أمة أن تفصل نظمها على وفق حالها وما تقتضيه مصالحها على ألا تتجاوز في تفصيلها حدود الدعائم التي ثبتها، فهذا الذي يظن أنه نقص هو غاية الكمال في نظام التقنين الذي يتقبل مصالح الناس كافة ولا يحول دون أي إصلاح.
--------------------------------------------
{তোমাদের মধ্যে অন্যায়ভাবে (একে অপরের সম্পদ গ্রাস করো না), তবে তোমাদের পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে ব্যবসা হলে ভিন্ন কথা} ১। আর এই লেনদেনগুলোর খুঁটিনাটি বিস্তারিত বিধানের ক্ষেত্রে প্রত্যেক জাতির শাসনকর্তাদের অধিকার রয়েছে যে, তারা পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে নিজ নিজ অবস্থা অনুযায়ী সেগুলোকে বিস্তারিতভাবে নির্ধারণ করবে।
অনুরূপভাবে, বিবাদ সৃষ্টি করে এবং শত্রুতা ও ঘৃণা তৈরি করে এমন লেনদেন নিষিদ্ধ করার ব্যাপারে মূল ভাষ্যের ওপরই সীমাবদ্ধ থাকা হয়েছে; ফলে ক্ষতি নিরসন এবং পারস্পরিক বিদ্বেষের কারণগুলো দূর করার ভিত্তিতে সুদ ও জুয়া হারাম করা হয়েছে। আর এই লেনদেনগুলোর খুঁটিনাটি বিস্তারিত বিধান বর্ণনার ক্ষেত্রে নীরবতা অবলম্বন করা হয়েছে, যাতে প্রতিটি জাতির পক্ষে তাদের নিজ নিজ অবস্থা অনুযায়ী বিস্তারিত বিধান তৈরি করা সম্ভব হয়।
আর্থিক ব্যবস্থার ক্ষেত্রে, সম্পদশালীদের সম্পদে এবং নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির ওপর কর আরোপ করা হয়েছে, যা আটটি ব্যয়ের খাতে নির্দিষ্ট করা হয়েছে; যার মূল লক্ষ্য হলো জনকল্যাণমূলক ব্যয় নির্বাহ এবং অভাবগ্রস্তদের সাহায্য করা। তবে এই উৎসগুলোর বিন্যাস এবং নিজ নিজ খাতে তা ব্যয়ের বিস্তারিত পদ্ধতি প্রতিটি জাতির জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে, যাতে তারা তাদের জন্য উপযোগী পথ অনুসরণ করতে পারে।
পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে মুসলমানদের সাথে অন্যদের সম্পর্কের বিষয়টি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাঁর বাণীতে সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন: {দীনের ব্যাপারে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি এবং তোমাদেরকে তোমাদের ঘরবাড়ি থেকে বের করে দেয়নি, তাদের প্রতি সদয় ব্যবহার ও ন্যায়বিচার করতে আল্লাহ তোমাদের নিষেধ করেন না; নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়পরায়ণদের ভালোবাসেন। আল্লাহ কেবল তাদের সাথে বন্ধুত্ব করতে নিষেধ করেন, যারা দীনের ব্যাপারে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে, তোমাদেরকে তোমাদের ঘরবাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে এবং তোমাদেরকে বের করে দেওয়ার কাজে একে অপরকে সাহায্য করেছে। যারা তাদের সাথে বন্ধুত্ব করে, তারাই তো যালিম} ২। সুতরাং কুরআন কারীম সাধারণ বিষয়াবলীতে খুঁটিনাটি বিস্তারিত বর্ণনা প্রদান করেনি। এটি কুরআনের কোনো ত্রুটি বা সীমাবদ্ধতা নয়, বরং এটি এক সুগভীর প্রজ্ঞার অংশ, যাতে প্রতিটি জাতির পক্ষে তাদের অবস্থা এবং জনস্বার্থের দাবি অনুযায়ী তাদের নিজস্ব ব্যবস্থা প্রণয়ন করা সহজ হয়; তবে শর্ত হলো এই বিস্তারিত বিন্যাস যেন কুরআনের নির্ধারিত মৌলিক স্তম্ভগুলোর সীমা অতিক্রম না করে। সুতরাং যে বিষয়টিকে ত্রুটি বলে মনে করা হয়, তা মূলত আইন প্রণয়ন ব্যবস্থার এক চরম পূর্ণতা, যা সকল মানুষের কল্যাণকে ধারণ করে এবং কোনো সংস্কারের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতিশ শারইয়াহ ফিশ শুউনিল দুস্তুরিয়াহ ওয়াল খারিজিয়াহ ওয়াল মালিইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
والثاني أن الإسلام أبان بكثير من أحكامه وحكمه وآياته أن غايته هي تحقيق مصالح الناس ورفع الضرر عنهم، ومقصوده إقامة العدل بينهم ومنع عدوان بعضهم على بعض. يتبين هذا من حكم التشريع التي نص عليها مع الأحكام في مثل قوله تعالى: {وَلَكُمْ فِي الْقِصَاصِ حَيَاةٌ} 1، وقوله سبحانه: {إِنَّمَا يُرِيدُ الشَّيْطَانُ أَنْ يُوقِعَ بَيْنَكُمُ الْعَدَاوَةَ وَالْبَغْضَاءَ فِي الْخَمْرِ وَالْمَيْسِرِ وَيَصُدَّكُمْ عَنْ ذِكْرِ اللَّهِ وَعَنِ الصَّلاةِ فَهَلْ أَنْتُمْ مُنْتَهُونَ} 2، وقول الرسول صلى الله عليه وسلم في منع بيع الثمر قبل أن يبدو صلاحه: "أرأيت إذا منع الله الثمرة بم يأخذ أحدكم مال أخيه". بل إن العبادات نفسها قرن التكليف بها بما يدل على أن المقصود منها إصلاح حال الناس، كما قال تعالى في حكمة الصلاة: {إِنَّ الصَّلاةَ تَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكَرِ} 3، وفي الصيام: {لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ} 4، وفي الزكاة: {خُذْ مِنْ أَمْوَالِهِمْ صَدَقَةً تُطَهِّرُهُمْ وَتُزَكِّيهِمْ بِهَا} 5، وفي الحج: {لِيَشْهَدُوا مَنَافِعَ لَهُمْ وَيَذْكُرُوا اسْمَ اللَّهِ فِي أَيَّامٍ مَعْلُومَاتٍ عَلَى مَا رَزَقَهُمْ مِنْ بَهِيمَةِ الْأَنْعَامِ} 6.
وينطق بهذا قوله تعالى: {يُرِيدُ اللَّهُ بِكُمُ الْيُسْرَ وَلا يُرِيدُ بِكُمُ الْعُسْرَ} 7، وقوله عز شأنه: {مَا جَعَلَ عَلَيْكُمْ فِي الدِّينِ مِنْ حَرَجٍ} ، وقول الرسول صلى الله عليه وسلم: "لا ضرر ولا ضرار"، وقوله صلى الله عليه وسلم: "بعثت بالحنيفية السمحة".
وإذا كان الإسلام غايته ومقصده إصلاح حال الناس وإقامة العدل فيهم وخطته وطريقته اليسر بهم ورفع الحرج عنهم فهو بلا ريب كفيل
--------------------------------------------
দ্বিতীয়ত, ইসলাম তার বহু বিধান, প্রজ্ঞা এবং আয়াতের মাধ্যমে এটি ব্যক্ত করেছে যে, এর লক্ষ্য হলো মানুষের কল্যাণ সাধন করা এবং তাদের থেকে ক্ষতি দূর করা; আর এর উদ্দেশ্য হলো তাদের মধ্যে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা এবং একে অপরের ওপর সীমালঙ্ঘন প্রতিরোধ করা। শরিয়ত প্রবর্তনের সেই হিকমত বা প্রজ্ঞা থেকে এটি স্পষ্ট হয়, যা বিভিন্ন বিধানের সাথে উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর তোমাদের জন্য কিসাসের মধ্যে জীবন নিহিত রয়েছে} ১, এবং মহান আল্লাহর বাণী: {শয়তান তো কেবল এটাই চায় যে, মদ ও জুয়ার মাধ্যমে তোমাদের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করবে এবং তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণ ও সালাত থেকে বিরত রাখবে; সুতরাং তোমরা কি নিবৃত্ত হবে?} ২। এছাড়া ফল পরিপক্ক হওয়ার লক্ষণ প্রকাশের পূর্বে তা বিক্রয় নিষিদ্ধ করার ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী: "তুমি কি ভেবে দেখেছ, যদি আল্লাহ ফল উৎপাদনে বাধা দেন, তবে তোমাদের কেউ তার ভাইয়ের সম্পদ কোন অধিকারে গ্রহণ করবে?" বস্তুত ইবাদতগুলোর পালনের নির্দেশ প্রদানের সময় সেগুলোর সাথে এমন বিষয় যুক্ত করে দেওয়া হয়েছে যা নির্দেশ করে যে, এগুলোর মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষের অবস্থার সংশোধন। যেমন সালাতের হিকমত সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {নিশ্চয়ই সালাত অশ্লীল ও মন্দ কাজ (منكر) থেকে বিরত রাখে} ৩, সিয়ামের ক্ষেত্রে: {যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো} ৪, জাকাতের ক্ষেত্রে: {তাদের সম্পদ থেকে সদকা গ্রহণ করো, যা দ্বারা তুমি তাদেরকে পবিত্র করবে এবং পরিশোধিত করবে} ৫, এবং হজের ক্ষেত্রে: {যাতে তারা তাদের কল্যাণের স্থানগুলোতে উপস্থিত হতে পারে এবং নির্দিষ্ট দিনগুলোতে আল্লাহর নাম স্মরণ করতে পারে সেই চতুষ্পদ জন্তুর ওপর যা তিনি তাদেরকে রিজিক হিসেবে দিয়েছেন} ৬।
এ বিষয়ে আল্লাহ তাআলার এই বাণী সাক্ষ্য দেয়: {আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ করতে চান এবং তোমাদের জন্য কঠিন করতে চান না} ৭, এবং মহান প্রতিপালকের বাণী: {তিনি দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের ওপর কোনো সংকীর্ণতা রাখেননি}। আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী: "ক্ষতি করা যাবে না এবং ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া যাবে না", এবং তাঁর বাণী: "আমি সহজ ও একনিষ্ঠ দ্বীন সহকারে প্রেরিত হয়েছি।"
আর ইসলামের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য যদি হয় মানুষের অবস্থার সংশোধন ও তাদের মাঝে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা, এবং তার পরিকল্পনা ও পদ্ধতি যদি হয় তাদের প্রতি সহজতা অবলম্বন ও তাদের থেকে সংকীর্ণতা দূর করা, তবে নিঃসন্দেহে তা নিশ্চয়তা প্রদানকারী...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতিশ শারইয়াহ ফিশ শুউনিল দুস্তুরিয়াহ ওয়াল খারিজিয়াহ ওয়াল মালিইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
بكل سياسة عادلة ويجد كل مصلح في أصوله وكلياته لكل ما يريد من إصلاح ولا يقصر عن تدبير شأن من شئون الدولة.
ورب قائل: إذا كان الإسلام كفيلًا بالسياسة العادلة يتقبل كل نظام تقتضيه مصالح أية أمة، ولا يقصر عن تدبير شأن من شئونها، فلماذا اضطرت بعض الدول الإسلامية إلا الأخذ بقوانين غيرها، ولم يكن الإسلام مصدرها في سن نظمها وتشريع قوانينها، وبعبارة أخص لماذا نرى دولة إسلامية مثل مصر تأخذ من غيرها قوانين المعاملات والعقوبات وتحقيق الجنايات وطرق المرافعات ونظم الإجراءات؟
والجواب:
إن هذا ليس منشؤه قصور الإسلام ولكن تقصير المسلمين، وذلك أن الإسلام بما نص عليه من الأحكام وبما وضعه من الأصول للاستنباط، وبما أرشد إليه من اعتبار المصالح، فيه غناء لكل دولة إسلامية لو أن المسلمين وفقوا وكان لهم في كل عصر جمعية تشريعية مؤلفة من خيرة أهل العلم بأصول الدين والبصر بأمور الدنيا وعهد إليهم أن يسايروا تطورات الناس والأزمان ويستنبطوا للوقائع المختلفة الأحكام التي تتفق ومصالح الناس، ولا تخالف أصول الدين ولكنهم فرطوا في هذا فتصدى للاستنباط من هو غير أهل له وعمت فوضى الاجتهاد الفردي واضطروا لمعالجة هذه الفوضى بسد باب الاجتهاد والاقتصار على فهم وتطبيق ما استنبط الأئمة المجتهدون السابقون، وكان من نتائج هذا الوقوف تركهم وما وقفوا عنده ومسايرة الزمن بالقوانين والنظم التي تقتضيها المصلحة.
প্রতিটি ন্যায়পরায়ণ নীতিতে এবং প্রতিটি সংস্কারক এর মূলনীতি (أصول) ও সামগ্রিক বিধানাবলীতে তার কাঙ্ক্ষিত সকল সংস্কার খুঁজে পান এবং এটি রাষ্ট্রের কোনো বিষয় পরিচালনায় পিছপা হয় না।
হয়তো কেউ বলবেন: ইসলাম যদি ন্যায়পরায়ণ রাজনীতির জিম্মাদার হয় এবং যেকোনো জাতির কল্যাণার্থে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে এবং এর কোনো বিষয় পরিচালনায় ত্রুটি না করে, তবে কেন কিছু মুসলিম দেশ অন্যের আইন গ্রহণে বাধ্য হলো? কেন তাদের নিয়ম-কানুন প্রণয়ন ও আইন রচনায় ইসলাম মূল উৎস হিসেবে থাকল না? বিশেষ করে বলতে গেলে, আমরা কেন মিশরের মতো একটি মুসলিম রাষ্ট্রকে লেনদেন, দণ্ডবিধি, অপরাধ তদন্ত, মামলার পদ্ধতি এবং আইনি প্রক্রিয়ার নিয়মাবলী অন্যের কাছ থেকে গ্রহণ করতে দেখি?
উত্তর:
এর মূল কারণ ইসলামের অপূর্ণতা নয়, বরং মুসলিমদের অবহেলা। কেননা ইসলাম যে সমস্ত বিধান (أحكام) বর্ণনা করেছে এবং বিধান আহরণের (استنباط) জন্য যে মূলনীতি (أصول) নির্ধারণ করেছে, আর জনকল্যাণের প্রতি যে দিকনির্দেশনা দিয়েছে, তাতে প্রতিটি মুসলিম রাষ্ট্রের জন্য পর্যাপ্ত উপাদান বিদ্যমান ছিল। যদি মুসলিমরা তাওফিক প্রাপ্ত হতো এবং প্রতি যুগে তাদের একটি আইনসভা থাকত—যা দ্বীনের মূলনীতি (أصول الدين) বিষয়ে অভিজ্ঞ শ্রেষ্ঠ আলিম এবং দুনিয়াবি বিষয়ে বিচক্ষণ ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত হতো এবং তাদের ওপর দায়িত্ব অর্পণ করা হতো যেন তারা মানুষ ও সময়ের পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে চলে এবং বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষাপটে এমন সব বিধান আহরণ (استنباط) করে যা মানুষের কল্যাণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং দ্বীনের মূলনীতির পরিপন্থী নয়। কিন্তু তারা এক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শন করেছে, ফলে বিধান আহরণের (استنباط) জন্য এমন ব্যক্তিরা এগিয়ে এসেছে যারা এর যোগ্য ছিল না। এতে ব্যক্তিগত গবেষণার (اجتهاد) ক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয় এবং এই বিশৃঙ্খলা নিরসনের জন্য তারা গবেষণার (اجتهاد) দরজা বন্ধ করে দিতে এবং পূর্ববর্তী গবেষক (مجتهد) ইমামগণ যা আহরণ (استنباط) করে গেছেন তার অনুধাবন ও প্রয়োগের ওপর সীমাবদ্ধ থাকতে বাধ্য হয়। এই স্থবিরতার অন্যতম ফলাফল হলো এই যে, মানুষ তাদের এবং তাদের স্থবিরতাকে বর্জন করেছে এবং জনকল্যাণের প্রয়োজনে নতুন আইন ও ব্যবস্থার মাধ্যমে সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে চলেছে।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতিশ শারইয়াহ ফিশ শুউনিল দুস্তুরিয়াহ ওয়াল খারিজিয়াহ ওয়াল মালিইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
السياسة الشرعية الدستورية
أولا: شكل الحكومة الإسلامية ودعائمها…أولًا: شكل الحكومة الإسلامية ودعائمها
اتفقت كلمة علماء القانون على أنه لا بد من تحديد علاقة القوة الحاكمة بالأمة المحكومة حتى يمكن التوفيق بين سلطان الحاكم وحرية المحكوم، ومن اختلاف هذه العلاقات اختلفت أشكال الحكومات وتنوعت إلى دستورية واستبدادية، وتعددت أشكال كل واحدة من النوعين.
والناظر في آيات الكتاب الكريم وصحاح السنة يتبين أن الحكومة الإسلامية دستورية وأن الأمر فيها ليس خاصًا بفرد وإنما هو للأمة ممثلة في أولى الحل والعقد لأن الله -سبحانه- جعل أمر المسلمين شورى بينهم وساق وصفهم بهذا مساق الأوصاف الثابتة والسجايا اللازمة كأنه شأن الإسلام ومن مقتضايته، فقال عز من قائل في سورة الشورى: {وَالَّذِينَ اسْتَجَابُوا لِرَبِّهِمْ وَأَقَامُوا الصَّلاةَ وَأَمْرُهُمْ شُورَى بَيْنَهُمْ وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنْفِقُونَ} 1، وأمر الرسول المعصوم أن يشاور في الأمر فقال سبحانه: {فَاعْفُ عَنْهُمْ وَاسْتَغْفِرْ لَهُمْ وَشَاوِرْهُمْ فِي الْأَمْرِ} 2، وجعل الطاعة لأولي الأمر والمرجع إليهم فقال عز شأنه: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ} 3، وقال: {وَلَوْ رَدُّوهُ إِلَى الرَّسُولِ وَإِلَى أُولِي الْأَمْرِ مِنْهُمْ لَعَلِمَهُ الَّذِينَ يَسْتَنْبِطُونَهُ مِنْهُمْ} 4.
ووردت في السنة عدة أحاديث تدوعو إلى الشورى، وكان عمله صلى الله عليه وسلم وسنن الراشدين من بعده على التشاور وعدم الاستقلال بالأمور.
--------------------------------------------
সাংবিধানিক শরয়ি রাজনীতিপ্রথমত: ইসলামি সরকারের রূপ ও তার ভিত্তি…প্রথমত: ইসলামি সরকারের রূপ ও তার ভিত্তি
আইন বিশেষজ্ঞগণ এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, শাসক গোষ্ঠীর সাথে শাসিত জাতির সম্পর্কের সীমা নির্ধারণ করা অপরিহার্য, যাতে শাসকের কর্তৃত্ব ও শাসিতের স্বাধীনতার মধ্যে সমন্বয় করা সম্ভব হয়। এই সম্পর্কের ভিন্নতার কারণে সরকারের রূপ ভিন্ন ভিন্ন হয় এবং তা সাংবিধানিক ও স্বৈরতান্ত্রিক—এই দুই ভাগে বিভক্ত হয়; আবার এই দুই প্রকারের প্রতিটিরই একাধিক রূপ রয়েছে।
পবিত্র কুরআনের আয়াতসমূহ এবং বিশুদ্ধ (صحيح) সুন্নাহর দিকে দৃষ্টিপাত করলে এটি স্পষ্ট হয় যে, ইসলামি সরকার হলো সাংবিধানিক এবং এর শাসন ব্যবস্থা কোনো বিশেষ ব্যক্তির জন্য নির্দিষ্ট নয়; বরং তা 'আহলুল হাল্লি ওয়াল আকদ' (সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও প্রয়োগের অধিকারী ব্যক্তিবর্গ)-এর প্রতিনিধিত্বে উম্মাহ বা জাতির জন্য নির্ধারিত। কারণ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা মুসলিমদের বিষয়াবলিকে তাদের পারস্পরিক পরামর্শের ভিত্তিতে সাব্যস্ত করেছেন এবং তাদের এই গুণটিকে একটি স্থায়ী বৈশিষ্ট্য ও অপরিহার্য স্বভাব হিসেবে উল্লেখ করেছেন; যেন এটি ইসলামেরই একটি অবিচ্ছেদ্য বিষয় ও এর দাবি। মহান আল্লাহ সুরা আশ-শুরা-তে বলেন: {আর যারা তাদের রবের আহবানে সাড়া দেয়, সালাত কায়েম করে এবং যাদের বিষয়াবলি নিজেদের মধ্যে পরামর্শের ভিত্তিতে সম্পন্ন হয়, আর আমি তাদেরকে যে রিজিক দিয়েছি তা থেকে তারা ব্যয় করে} ১। তিনি তাঁর নিষ্পাপ রাসুলকে বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ করার নির্দেশ দিয়ে বলেন: {সুতরাং আপনি তাদের ক্ষমা করুন, তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাদের সাথে পরামর্শ করুন} ২। আল্লাহ উলুল আমর বা দায়িত্বশীলদের আনুগত্য করার এবং বিষয়াদি তাদের নিকট ন্যস্ত করার নির্দেশ দিয়ে বলেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো, রাসুলের আনুগত্য করো এবং তোমাদের মধ্যকার উলুল আমরের আনুগত্য করো} ৩। তিনি আরও বলেন: {আর তারা যদি তা রাসুলের এবং তাদের মধ্যকার উলুল আমরের কাছে পেশ করত, তবে তাদের মধ্যে যারা তা উদঘাটন করে, তারা অবশ্যই তা জানত} ৪।
সুন্নাহর মধ্যে এমন অনেক হাদিস বর্ণিত হয়েছে যা পরামর্শের প্রতি উদ্বুদ্ধ করে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কর্মপন্থা এবং তাঁর পরবর্তী খুলাফায়ে রাশিদিনের নীতি ছিল পারস্পরিক পরামর্শ করা এবং কোনো বিষয়ে এককভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতিশ শারইয়াহ ফিশ শুউনিল দুস্তুরিয়াহ ওয়াল খারিজিয়াহ ওয়াল মালিইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
وكذلك تضافرت الأدلة على أن الرياسة في الحكومة الإسلامية ليست حقًا لقريش ولا لغير قريش لم يرد في القرآن الكريم ولا في السنة الصحيحة ما يدل على أن أمر المسلمين بعد رسول الله يكون في أسرة خاصة ولأفراد معينيين ومقتضى ترك هذا التعيين أن يكون أمر الرياسة العليا موكلًا إلى الأمة تختار له من تشاء. ورسول الله صلى الله عليه وسلم لم يستخلف على الناس أحدًا ولو كان الأمر وراثيًا لعهد به إلى صاحبه.
والمسلمون لما اجتمعوا في سقيفة بني ساعدة على أثر وفاة الرسول واختلفوا فيمن يلي الأمر بعده كانت حجج الفريقين المختلفين ناطقة بأنهم لا يعرفون الأمر حقًا لمعين حتى إن بعض الأنصار دعا إلى بيعة سعد بن عبادة، وبعضهم قال للمهاجرين: منا أمير ومنكم أمير وأبو بكر لما حجهم بأن الأئمة من قريش لم يحجهم به على أنه نص من الدين ولكن على أنه نظر صحيح لما لقريش إذ ذاك من العصبية والمنعة. وقد بين أبو بكر نفسه وجهة هذا النظر إذ قال: "إن هذا الأمر إن تولته الأوس نفسته عليهم الخزرج وإن تولته الخزرج نفسته عليهم الأوس ولا تدين العرب إلا لهذا الحي من قريش" ولو كان نصًا من الدين ما خفي على جميع من كان في السقيفة من الأنصار والمهاجرين ما عدا أبا بكر وما احتاج أبو بكر إلى حديث المنافسة بين الأوس والخزرج وما ساغ لعمر أن يقول وهو يفكر زمن خلافته فيمن يستخلفه: "لو كان سالم مولى حذيفة حيًا لوليته" إذ كيف يولي مولى بعدما سمع في السقيفة أن الأئمة من قريش. ويؤيد هذا النصوص الواردة بالاعتماد على الأعمال لا على الأنساب وبالتبرؤ من عصبيته الجاهلية وبأن أكرم الناس عند الله أتقاهم.
তেমনিভাবে বহু প্রমাণ একীভূত হয়েছে যে, ইসলামী সরকারের নেতৃত্ব কুরাইশ বা কুরাইশ ব্যতীত অন্য কারো (একচ্ছত্র) অধিকার নয়। পবিত্র কুরআন কিংবা সহিহ (صحيحة) সুন্নাহয় এমন কোনো প্রমাণ বর্ণিত হয়নি যা নির্দেশ করে যে, রাসূলুল্লাহর পর মুসলিমদের নেতৃত্ব কোনো বিশেষ পরিবার বা নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য নির্ধারিত। এই নির্ধারণ না থাকার দাবি হলো যে, সর্বোচ্চ নেতৃত্বের বিষয়টি উম্মাহর ওপর ন্যস্ত থাকবে, তারা যাকে ইচ্ছা নির্বাচন করবে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মানুষের ওপর কাউকে স্থলাভিষিক্ত করে যাননি; যদি বিষয়টি উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্য হতো, তবে তিনি তাঁর কোনো নিকটাত্মীয়ের অনুকূলে এর অছিয়ত করে যেতেন।
রাসূলুল্লাহর ওফাতের পর মুসলিমরা যখন সকিফাহ বনি সায়েদাতে সমবেত হলেন এবং তাঁর পরবর্তী নেতৃত্ব নিয়ে মতবিরোধ করলেন, তখন বিবদমান উভয় পক্ষের যুক্তিসমূহ একথাই বলছিল যে, তারা এই নেতৃত্বকে নির্দিষ্ট কারো অধিকার হিসেবে জানতেন না। এমনকি কোনো কোনো আনসার সদস্য সাদ ইবনে উবাদাহর হাতে বায়আত গ্রহণের আহ্বান জানান, এবং তাদের কেউ কেউ মুহাজিরদের উদ্দেশ্য করে বলেন: "আমাদের মধ্য থেকে একজন আমির থাকবে এবং তোমাদের মধ্য থেকে একজন আমির থাকবে।" আবু বকর যখন তাদের সামনে যুক্তি দেন যে ইমামগণ কুরাইশ থেকে হবেন, তখন তিনি একে দ্বীনের কোনো নস (نص) হিসেবে পেশ করেননি, বরং তৎকালীন সময়ে কুরাইশদের প্রভাব ও সংহতির কারণে একে একটি সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে পেশ করেছিলেন। আবু বকর নিজেই এই দৃষ্টিভঙ্গির কারণ ব্যাখ্যা করেছিলেন যখন তিনি বলেন: "যদি আউস গোত্র এই নেতৃত্বের দায়িত্ব গ্রহণ করে, তবে খাযরাজ গোত্র তাদের প্রতি ঈর্ষান্বিত হবে; আর খাযরাজ গোত্র গ্রহণ করলে আউস গোত্র তাদের প্রতি ঈর্ষান্বিত হবে। আরবগণ কুরাইশদের এই গোত্র ছাড়া অন্য কারো বশ্যতা স্বীকার করবে না।" যদি এটি দ্বীনের কোনো নস (نص) হতো, তবে আবু বকর ছাড়া সকিফাহতে উপস্থিত আনসার ও মুহাজিরদের কারো কাছেই তা গোপন থাকত না, এবং আবু বকরেরও আউস ও খাযরাজের মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা সংক্রান্ত হাদিস উল্লেখ করার প্রয়োজন হতো না। এমনকি ওমরের পক্ষেও এটা বলা সঙ্গত হতো না—যখন তিনি তাঁর খিলাফতের সময় উত্তরসূরি নির্ধারণ নিয়ে ভাবছিলেন—যে: "যদি হুযাইফার মুক্তদাস (مولى) সালেম জীবিত থাকত, তবে আমি তাকেই দায়িত্ব অর্পণ করতাম।" কেননা সকিফাহতে "ইমামগণ কুরাইশ থেকে হবেন" এ কথা শোনার পর তিনি কীভাবে একজন মুক্তদাসকে (مولى) দায়িত্ব প্রদানের কথা ভাবতে পারেন? বংশমর্যাদার পরিবর্তে কর্মের ওপর গুরুত্বারোপ, জাহিলি গোত্রপ্রীতির সাথে সম্পর্কহীনতা এবং আল্লাহর নিকট সবচেয়ে সম্মানিত সেই ব্যক্তি যে সবচেয়ে বেশি পরহেযগার—এ সংক্রান্ত নসসমূহ (النصوص) এই বিষয়কেই সমর্থন করে।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতিশ শারইয়াহ ফিশ শুউনিল দুস্তুরিয়াহ ওয়াল খারিজিয়াহ ওয়াল মালিইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
وكذلك قرر الإسلام مسئولية رجال الحكومة أمام الأمة وهذا واضح من النصوص التي يطلب بها من الأمة نصح ولاة الأمر والأخذ على أيدي ظالميهم كقوله صلى الله عليه وسلم: "إن الله يرضى لكم ثلاثًا ويسخط لكم ثلاثًا يرضى لكم أن تعبدوه وحده ولا تشركوا به شيئًا وأن تعتصموا بحبل الله جميعًا ولا تفرقوا، وأن تناصحوا من ولاه الله أمركم" وقوله: "إن الناس إذا رأوا الظالم فلم يأخذوا على يديه أوشك أن يعمهم الله بعقاب من عنده". وهذه المسئولية من نتائج الشورى إذ لولا أن للأمة حق الرقابة على الحاكم ما أمر أن يستشيرها.
والخلفاء الراشدون كانوا يقرون هذه المسئولية فأبو بكر أول ما ولي الخلافة قال: إني وليت عليكم ولست بخيركم فإن أحسنت فاعينوني وإن صدقت فقوموني. وعمر لما ولي الخلافة قال: من رأى منكم في اعوجاجًا فليقومه. قال له أعرابي: والله لو رأينا فيك اعوجاجًا لقومناه بسيوفنا. وكثير من الأحاديث والآثار متضافرة على تقرير هذه المسئولية.
وقد استنتج الأستاذ الإمام رحمه الله من إيجاب المشاورة على الحكام وإيجاب النصح على المحكومين أن النظام النيابي واجب في الإسلام قائلًا: "إن النصح والشورى لا يتمان إلا بقيام فئة خاصة من الناس تشاور وتناصح إذ ليس في وسع جمهور الأمة القيام بهما. وإذا كان ذلك الواجب المفروض على الحكام والمحكومين لا يتم إلا بوجود هذه الفئة كان تخصيص فريق من الأمة لهذا العمل واجبًا عملًا بالأصل المتفق عليه: "ما لم يتم الواجب إلا به فهو واجب".
একইভাবে ইসলাম উম্মাহর নিকট সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করেছে। এটি সেই সকল দলীল (نصوص) থেকে স্পষ্ট যাতে উম্মাহর পক্ষ থেকে শাসকদের সদুপদেশ প্রদান এবং যালিমদের হাত ধরে বাধা দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। যেমন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের জন্য তিনটি বিষয়ে সন্তুষ্ট হন এবং তিনটি বিষয়ে অসন্তুষ্ট হন। তিনি সন্তুষ্ট হন যে, তোমরা কেবল তাঁরই ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরীক করবে না, তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরবে এবং বিচ্ছিন্ন হবে না, আর আল্লাহ যাকে তোমাদের বিষয়ের দায়িত্ব দিয়েছেন তাকে সদুপদেশ প্রদান করবে।" তাঁর আরও বাণী: "মানুষ যখন কোনো যালিমকে দেখে অথচ তার হাত ধরে বাধা দেয় না, অচিরেই আল্লাহ তাঁর পক্ষ থেকে তাদের সকলকে আযাব দিয়ে পরিবেষ্টন করবেন।" এই দায়বদ্ধতা হলো পরামর্শের অন্যতম ফলাফল, কারণ যদি উম্মাহর জন্য শাসকের ওপর নজরদারির অধিকার না থাকত, তবে তাকে পরামর্শ করার নির্দেশ দেওয়া হতো না।
খুলাফায়ে রাশিদুনও এই দায়বদ্ধতাকে স্বীকৃতি দিতেন। আবু বকর প্রথম যখন খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করলেন তখন বললেন: "আমি তোমাদের ওপর দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছি, অথচ আমি তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম নই। যদি আমি ভালো কাজ করি তবে আমাকে সহযোগিতা করো, আর যদি আমি ভুল করি তবে আমাকে সংশোধন করে দিও।" উমর যখন খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করলেন তখন বললেন: "তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি আমার মাঝে কোনো বিচ্যুতি দেখবে, সে যেন তা সোজা করে দেয়।" তখন এক মরুবাসী আরব তাকে লক্ষ্য করে বলল: "আল্লাহর কসম! যদি আমরা আপনার মধ্যে কোনো বিচ্যুতি দেখতাম, তবে আমাদের তলোয়ার দিয়ে তা সোজা করে দিতাম।" এই দায়বদ্ধতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে অনেক হাদিস এবং বর্ণনা (آثار) পরস্পর সহায়ক হিসেবে বিদ্যমান।
উস্তাযুল ইমাম রাহিমাহুল্লাহ শাসকদের ওপর পরামর্শ করা এবং শাসিতদের ওপর সদুপদেশ প্রদান করা আবশ্যক (واجب) হওয়ার বিষয়টি থেকে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, ইসলামে প্রতিনিধিত্বমূলক ব্যবস্থা আবশ্যক (واجب)। তিনি বলেছেন: "সদুপদেশ এবং পরামর্শ কেবল তখনই পূর্ণতা পায় যখন একদল বিশেষ মানুষ তা সম্পাদন করে, কারণ সাধারণ জনগণের পক্ষে এই দুটি কাজ সম্পাদন করা সম্ভব নয়। আর যেহেতু শাসক ও শাসিতদের ওপর অর্পিত এই আবশ্যক (واجب) দায়িত্বটি উক্ত বিশেষ গোষ্ঠী ছাড়া সম্পন্ন হওয়া সম্ভব নয়, তাই এই কাজের জন্য উম্মাহর একটি দলকে নির্দিষ্ট করা সেই স্বীকৃত মূলনীতি (أصل)-এর আলোকে আবশ্যক (واجب) হয়ে যায়, যা হলো: 'যে মাধ্যম ছাড়া কোনো ওয়াজিব কাজ সম্পন্ন হয় না, সেই মাধ্যমটিও ওয়াজিব'।"
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতিশ শারইয়াহ ফিশ শুউনিল দুস্তুরিয়াহ ওয়াল খারিজিয়াহ ওয়াল মালিইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
ومن هذا يتبين أن دعائم الحكومة في الإسلام هي الشورى ومسئولية أولي الأمر واستمداد الرئاسة العليا من البيعة العامة.
وهذه دعائم تعتمد عليها كل حكومة عادلة لأن مرجعها كلها أن يكون أمر الأمة بيدها وأن تكون هي مصدر السلطات.
وقد قضت الحكمة ان تقرر هذه الدعائم غير مفصلة لأن تفصيلها مما يختلف باختلاف الأزمان والبيئات. فالله أمر بالشورى وسكت عن تفصيلها ليكون ولاة الأمر في كل أمة في سعة من وضع نظمها بما يلائم حالها، فهم الذين يقرون نظام انتخاب رجالها والشرائط اللازمة فيمن ينتخب وكيفية قيامهم بواجبهم وغير ذلك مما تتحقق به الشورى ويتوصل به إلى الاشتراك في الأمر اشتراكًا يحقق أمر المسلمين شورى بينهم.
وكذلك نظام المسئولية وكيف يؤدي رجال الشورى واجب النصح وتقديم ما يمكن أن يطرأ، ترك تفصيله لتراعى فيه المصلحة ومقتضيات الزمن.
ومثله البيعة ومن يتولاها وشرائطها وكل ما يتعلق بها مما يحقق الغرض منها، وإذًا لا يمكن القول بأن في الإسلام قصورًا عن مسايرة الزمن في شكل الحكومة الملائمة لأن الإسلام أقر أسسًا عادلة لا تختلف فيها أمة عن أمة، وأفسح للناس في أن يقرروا على هذه الأسس ما يرونه -من التفصيلات- كفيلًا بمصالحهم وملائمًا لأحوالهم.
এর থেকে এটি স্পষ্ট হয় যে, ইসলামে সরকারের স্তম্ভসমূহ হলো পরামর্শ (الشورى), উলিল আমর বা দায়িত্বশীলদের (أولي الأمر) জবাবদিহিতা এবং সাধারণ আনুগত্যের শপথ (البيعة العامة) থেকে সর্বোচ্চ নেতৃত্ব গ্রহণ।
এগুলো এমন স্তম্ভ যার ওপর প্রতিটি ন্যায়পরায়ণ সরকার নির্ভরশীল; কারণ এগুলোর সারকথা হলো উম্মাহ বা জাতির বিষয়াদি জাতির হাতে থাকা এবং জাতিই হবে সকল ক্ষমতার উৎস।
প্রজ্ঞা বা হিকমতের দাবি ছিল যে, এই স্তম্ভগুলোর রূপরেখা বিস্তারিতভাবে বর্ণনা না করা; কেননা এর বিস্তারিত বিবরণ সময় ও পরিবেশের ভিন্নতার সাথে পরিবর্তিত হয়। আল্লাহ পরামর্শ (الشورى)-এর নির্দেশ দিয়েছেন কিন্তু এর বিস্তারিত পদ্ধতি সম্পর্কে নীরব থেকেছেন, যাতে প্রতিটি জাতির শাসকগণ তাদের অবস্থার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নিয়ম নির্ধারণে প্রশস্ততা পায়। ফলে তারাই এর সদস্যদের নির্বাচন পদ্ধতি, প্রার্থীদের প্রয়োজনীয় শর্তাবলী, তাদের দায়িত্ব পালনের পদ্ধতি এবং অন্যান্য বিষয় নির্ধারণ করবেন যার মাধ্যমে পরামর্শ (الشورى) বাস্তবায়িত হয় এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় এমন অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয় যা মুসলিমদের বিষয়াদিকে তাদের পারস্পরিক পরামর্শের ভিত্তিতে সম্পন্ন করে।
অনুরূপভাবে, জবাবদিহিতার ব্যবস্থা এবং শুরার সদস্যগণ কীভাবে উপদেশের দায়িত্ব পালন করবেন ও সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলা করবেন—তার বিস্তারিত বিবরণও ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, যাতে এতে জনকল্যাণ (المصلحة) ও সময়ের দাবি বিবেচনা করা যায়।
অনুরূপভাবে আনুগত্যের শপথ (البيعة), যারা এটি পরিচালনা করবেন, এর শর্তাবলী এবং এর উদ্দেশ্য সাধনের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়ের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। সুতরাং এটি বলা সম্ভব নয় যে, উপযুক্ত শাসনব্যবস্থার রূপরেখা প্রণয়নে ইসলাম সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে অক্ষম; কারণ ইসলাম এমন কিছু ন্যায়সংগত মূলনীতি নির্ধারণ করেছে যা জাতিভেদে ভিন্ন হয় না, বরং মানুষকে সুযোগ করে দিয়েছে যাতে তারা এই মূলনীতিগুলোর ওপর ভিত্তি করে তাদের স্বার্থ রক্ষাকারী এবং অবস্থার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিস্তারিত নিয়মাবলী নির্ধারণ করতে পারে।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতিশ শারইয়াহ ফিশ শুউনিল দুস্তুরিয়াহ ওয়াল খারিজিয়াহ ওয়াল মালিইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
وإذا كان المسلمون أهملوا تنظيم هذه الشورى حتى ذهبت روحها وجرؤ بعضهم أن يقول إنها مندوبة لا محتومة، وأغفلوا المسئولية حتى استقل بأمرهم ولاتهم وخرست الألسنة عن النصيحة وصمت الآذان عن سماعها. وأضاعوا البيعة ومسخوها حتى جعلوها أمرًا صوريًا لا يحقق الغرض منها ولا يشعر بإرادة الأمة.
إذا كانوا قد فعلوا هذا حتى ظهرت حكوماتهم في كثير من الأزمان على أشكال بعيدة عن شكل الحكومات الدستورية فليس هذا من الإسلام ولكنه من إهمال المسلمين.
আর মুসলমানরা যদি এই পরামর্শ (الشورى) ব্যবস্থাকে এমনভাবে অবহেলা করে থাকে যে এর প্রাণশক্তি বিলীন হয়ে গেছে এবং তাদের কেউ কেউ এমন কথা বলার দুঃসাহস দেখিয়েছে যে, এটি কেবল সুপারিশকৃত (مندوبة), কোনো অপরিহার্য (محتومة) বিষয় নয়; এবং তারা দায়িত্ববোধকে উপেক্ষা করেছে যার ফলে তাদের শাসকরা তাদের বিষয়াবলীতে একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিকারী হয়ে পড়েছে এবং উপদেশ (النصيحة) প্রদানের জিহ্বা স্তব্ধ হয়ে গেছে ও তা শোনার কান বধির হয়ে গেছে। আর তারা আনুগত্যের শপথ (البيعة) বিনষ্ট করেছে এবং একে বিকৃত করে এমন এক আনুষ্ঠানিক বিষয়ে পরিণত করেছে যা এর মূল উদ্দেশ্য পূরণ করে না এবং জাতির ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটায় না।
তারা যদি এমনটি করে থাকে যার ফলে বিভিন্ন যুগে তাদের শাসনব্যবস্থা সাংবিধানিক শাসনরীতির রূপ থেকে অনেক দূরে সরে গেছে, তবে এটি ইসলামের শিক্ষা নয়; বরং এটি মুসলমানদের অবহেলারই ফল।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতিশ শারইয়াহ ফিশ শুউনিল দুস্তুরিয়াহ ওয়াল খারিজিয়াহ ওয়াল মালিইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
ثانيا: حقوق الأفراد
مدخل…ثانيًا: حقوق الأفراد
من الأسس التي تبنى عليها النظم الدستورية كفالة حقوق الأفراد والمساواة بينهم في التمتع بها، ولا يخلو قانون أساسي لحكومة دستورية من تقرير الحرية والمساواة وتشريع الأحكام الكفيلة بتحقيقها وصونها.
وجميع الحقوق على تعددها ترجع إلى أمرين عامين:
الأول:
الحرية الشخصية.
الثاني:
المساواة بين الأفراد في الحقوق المدنية والسياسية.
দ্বিতীয়ত: ব্যক্তিবর্গের অধিকারভূমিকা…দ্বিতীয়ত: ব্যক্তিবর্গের অধিকার
সাংবিধানিক ব্যবস্থা যে সকল ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়, তার অন্যতম হলো ব্যক্তিবর্গের অধিকার নিশ্চিত করা এবং সেই অধিকারসমূহ ভোগের ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে সাম্য বজায় রাখা। কোনো সাংবিধানিক সরকারের মৌলিক আইন স্বাধীনতা ও সাম্যের ঘোষণা এবং তা বাস্তবায়ন ও সংরক্ষণের নিশ্চয়তা প্রদানকারী বিধি-বিধান প্রণয়ন করা থেকে মুক্ত থাকে না।
বিবিধ প্রকারের সকল অধিকার মূলত দুটি সাধারণ বিষয়ের দিকে প্রত্যাবর্তন করে:
প্রথম:
ব্যক্তিগত স্বাধীনতা।
দ্বিতীয়:
নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারের ক্ষেত্রে ব্যক্তিবর্গের মধ্যে সাম্য।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতিশ শারইয়াহ ফিশ শুউনিল দুস্তুরিয়াহ ওয়াল খারিজিয়াহ ওয়াল মালিইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
الحرية الشخصية:المراد من الحرية الشخصية أن يكون الشخص قادرًا على التصرف في شئون نفسه وفي كل كل ما يتعلق بذاته، آمنًا من الاعتداء عليه في نفس أو عرض أو مال أو مأوى أو أي حق من حقوقه، على أن لا يكون في تصرفه عدوان على غيره. ومن هذا التعريف يتبين أن الحرية الشخصية تتحقق بتحقيق أمور؛ وأنها معنى مكون من حريات عدة وهي: حرية الذات، وحرية المأوى، وحرية الملك، وحرية الاعتقاد، وحرية الرأي، وحرية التعليم. ففي تأمين الفرد على هذه الحريات كفالة لحريته الشخصية، وهذا ما قرره الإسلام في شأن هذه الحريات.
الحرية الفردية أو حرية الذات:
في أحكام الإسلام ما يقرر هذه الحرية ويؤمن الفرد على ذاته من أي اعتداء: وذلك أن الإسلام حد حدودًا بأوامره ونواهيه، وشرع لمجاوزة هذه الحدود عقوبات، بعضها مقدرة وهي الحدود، وبعضها موكول تقديره إلى ولاة الأمر وهي التعازير. فلا جريمة إلا في تعدي حدود الله، ولا عقوبة إلا على وفق ما شرع الله. واتفقت كلمة علماء الإسلام على أن العقوبات مما لا تثبت بالرأي والقياس وأنها لا تثبت إلا بالنص، وجاء في القرآن الكريم قوله عز شأنه: {فَلا عُدْوَانَ إِلَّا عَلَى الظَّالِمِينَ} 1، وقوله تعالى: {فَمَنِ اعْتَدَى عَلَيْكُمْ فَاعْتَدُوا عَلَيْهِ بِمِثْلِ مَا اعْتَدَى عَلَيْكُمْ} 2 ففي النهي عن العدوان إلا وعلى ظالم وفي الأمر بأن يكون الاعتداء على الظالم مماثلًا لاعتدائه لا يزيد، وفي قصر الجريمة على مخالفة حدود الله، ومنع تشريع العقوبات بالرأي والقياس كفالة للحرية الفردية وتأمين من الاعتداء على الذات. وجميع ما في كتاب الله وسنة رسوله، من النهي عن الظلم والإيذاء للمسلم والذمي، يؤيد حرية الذات وأمان الإنسان من أذى غيره.
--------------------------------------------
ব্যক্তিগত স্বাধীনতা:ব্যক্তিগত স্বাধীনতা বলতে বোঝায় যে, কোনো ব্যক্তি তার নিজের বিষয়াবলীতে এবং তার নিজের সাথে সম্পর্কিত প্রতিটি বিষয়ে এমনভাবে পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হবে যেখানে সে তার জীবন, সম্মান, সম্পদ, বাসস্থান বা তার অন্য যেকোনো অধিকারের ওপর আক্রমণ থেকে নিরাপদ থাকবে; শর্ত থাকে যে তার কার্যাবলীর মাধ্যমে অন্য কারো ওপর কোনো সীমালঙ্ঘন হবে না। এই সংজ্ঞা থেকে স্পষ্ট হয় যে, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা কয়েকটি বিষয়ের বাস্তবায়নের মাধ্যমে অর্জিত হয়; আর এটি মূলত কতগুলো স্বাধীনতার সমন্বয়ে গঠিত একটি ধারণা, আর সেগুলো হলো: নিজস্ব সত্তার স্বাধীনতা, বাসস্থানের স্বাধীনতা, মালিকানার স্বাধীনতা, বিশ্বাসের স্বাধীনতা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং শিক্ষার স্বাধীনতা। ব্যক্তির জন্য এই স্বাধীনতাগুলো নিশ্চিত করার মধ্যেই তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতার নিশ্চয়তা নিহিত রয়েছে; আর ইসলাম এই স্বাধীনতাগুলোর ব্যাপারে এটিই সাব্যস্ত করেছে।
ব্যক্তিগত স্বাধীনতা বা নিজস্ব সত্তার স্বাধীনতা:
ইসলামি বিধানে এমন কিছু বিষয় রয়েছে যা এই স্বাধীনতাকে সুপ্রতিষ্ঠিত করে এবং ব্যক্তির সত্তাকে যেকোনো ধরনের আক্রমণ থেকে নিরাপদ রাখে: আর তা হলো, ইসলাম তার আদেশ ও নিষেধের মাধ্যমে কিছু সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে এবং এই সীমা অতিক্রম করার জন্য শাস্তির বিধান প্রণয়ন করেছে। এর মধ্যে কিছু শাস্তি নির্ধারিত (حدود), আর কিছু শাস্তির ভার শাসকবর্গের বিবেচনার ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে যা বিবেচনামূলক দণ্ড (تعازير)। সুতরাং আল্লাহর নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন করা ব্যতীত কোনো অপরাধ নেই এবং আল্লাহর বিধিবদ্ধ বিধান অনুযায়ী ব্যতীত কোনো শাস্তি নেই। ইসলামি স্কলারগণ এই বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, শাস্তি এমন একটি বিষয় যা নিজস্ব রায় (رأي) বা তুলনা (قياس)-এর মাধ্যমে সাব্যস্ত হয় না, বরং এটি কেবল সুস্পষ্ট পাঠ (نص) দ্বারা প্রমাণিত হয়। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: {সুতরাং সীমালঙ্ঘনকারীদের ব্যতীত আর কারো বিরুদ্ধে কোনো শত্রুতা নেই} ১, এবং আল্লাহ তাআলা আরো ইরশাদ করেছেন: {কাজেই যে ব্যক্তি তোমাদের ওপর আক্রমণ করবে, তোমরাও তার ওপর অনুরূপ আক্রমণ করবে যেরূপ সে তোমাদের ওপর করেছে} ২। সুতরাং জালিম ব্যতীত অন্যের ওপর আক্রমণ করতে নিষেধ করা, এবং জালিমের ওপর আক্রমণের পরিমাণ যেন তার কৃত আক্রমণের সমান হয় এবং তার বেশি না হয়—সেই নির্দেশ প্রদান করা, আর অপরাধকে কেবল আল্লাহর সীমা লঙ্ঘনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা এবং নিজস্ব রায় (رأي) ও তুলনা (قياس)-এর মাধ্যমে শাস্তির বিধান প্রণয়ন করা নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে ব্যক্তিগত স্বাধীনতার নিশ্চয়তা এবং ব্যক্তির নিজস্ব সত্তার ওপর আক্রমণ থেকে নিরাপত্তা প্রদান করা হয়েছে। আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসুলের সুন্নাহ (سنة)-তে মুসলিম ও জিম্মি (ذمي)-দের ওপর জুলুম করা ও কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকার যে নির্দেশ রয়েছে, তার সবই ব্যক্তির নিজস্ব সত্তার স্বাধীনতা এবং অন্যের ক্ষতি থেকে মানুষের নিরাপত্তার বিষয়টিকেই সমর্থন করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতিশ শারইয়াহ ফিশ শুউনিল দুস্তুরিয়াহ ওয়াল খারিজিয়াহ ওয়াল মালিইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
حرية المأوى:
في أحكام الإسلام ما يكفل هذه الحرية فإن النفي والإبعاد عقوبة لم يذكرها القرآن الكريم إلا جزاء للذين يحاربون الله ورسوله ويسعون في الأرض فسادًا. قال تعالى: {إِنَّمَا جَزَاءُ الَّذِينَ يُحَارِبُونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيَسْعَوْنَ فِي الْأَرْضِ فَسَادًا أَنْ يُقَتَّلُوا أَوْ يُصَلَّبُوا أَوْ تُقَطَّعَ أَيْدِيهِمْ وَأَرْجُلُهُمْ مِنْ خِلافٍ أَوْ يُنْفَوْا مِنَ الْأَرْضِ ذَلِكَ لَهُمْ خِزْيٌ فِي الدُّنْيَا وَلَهُمْ فِي الْآخِرَةِ عَذَابٌ عَظِيمٌ} 1.
وفي القرآن الكريم والسنة تقرير حرمة المسكن قال تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تَدْخُلُوا بُيُوتًا غَيْرَ بُيُوتِكُمْ حَتَّى تَسْتَأْنِسُوا وَتُسَلِّمُوا عَلَى أَهْلِهَا ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ، فَإِنْ لَمْ تَجِدُوا فِيهَا أَحَدًا فَلا تَدْخُلُوهَا حَتَّى يُؤْذَنَ لَكُمْ وَإِنْ قِيلَ لَكُمُ ارْجِعُوا فَارْجِعُوا هُوَ أَزْكَى لَكُمْ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ عَلِيمٌ} 2. وقال عليه الصلاة والسلام: "إذا استأذن أحدكم ثلاثًا فلم يؤذن له فليرجع".
حرية الملكية:
الإسلام أقر هذه الحرية وكفلها بأحكام عدة:
منه أن كل ما شرعه الله من التصرفات التي تفيد نقل ملكية العين أو منفعتها، من بيع وإجارة وقرض وغيره، جعل أساس صحته ونفاذه حرية المتصرف ورضاه واختياره. فالركن الأول لصحة المبادلات المالية التراضي والأصل في هذا قوله عز شأنه: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُمْ بَيْنَكُمْ بِالْبَاطِلِ إِلَّا أَنْ تَكُونَ تِجَارَةً عَنْ تَرَاضٍ مِنْكُمْ} 3.
--------------------------------------------
বাসস্থানের স্বাধীনতা:
ইসলামের বিধানাবলির (أحكام) মধ্যে এমন কিছু বিষয় রয়েছে যা এই স্বাধীনতাকে নিশ্চিত করে; কেননা নির্বাসন ও বহিষ্কার এমন এক দণ্ড, যা পবিত্র কুরআনে কেবল তাদের শাস্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করে বেড়ায়। মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয়ই যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং পৃথিবীতে ধ্বংসাত্মক কাজ করে বেড়ায়, তাদের শাস্তি এই যে, তাদেরকে হত্যা করা হবে অথবা ক্রুশবিদ্ধ করা হবে অথবা বিপরীত দিক থেকে তাদের হাত ও পা কেটে ফেলা হবে অথবা তাদেরকে দেশ থেকে নির্বাসিত করা হবে। এটি তাদের জন্য পার্থিব লাঞ্ছনা এবং পরকালে তাদের জন্য রয়েছে মহাশাস্তি।} ১।
পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহতে আবাসের পবিত্রতা ও অলঙ্ঘনীয়তা স্বীকৃত হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদের গৃহ ব্যতীত অন্য কারো গৃহে প্রবেশ করো না, যতক্ষণ না তোমরা অনুমতি গ্রহণ করো এবং গৃহবাসীদের সালাম দাও। এটিই তোমাদের জন্য উত্তম, যাতে তোমরা উপদেশ গ্রহণ করো। অতঃপর যদি তোমরা সেখানে কাউকে না পাও, তবে তাতে প্রবেশ করো না যতক্ষণ না তোমাদের অনুমতি দেওয়া হয়। আর যদি তোমাদের বলা হয় "ফিরে যাও", তবে তোমরা ফিরে যাবে; এটিই তোমাদের জন্য অধিকতর পবিত্র। আর তোমরা যা করো সে সম্পর্কে আল্লাহ সম্যক অবগত।} ২। এবং তাঁর (রাসূলুল্লাহর) ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক, তিনি বলেছেন: "তোমাদের কেউ যদি তিনবার অনুমতি প্রার্থনা করে এবং তাকে অনুমতি না দেওয়া হয়, তবে সে যেন ফিরে যায়।"
মালিকানার স্বাধীনতা:
ইসলাম এই স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং বিভিন্ন বিধানের (أحكام) মাধ্যমে তা সুনিশ্চিত করেছে:
তার মধ্যে একটি হলো, আল্লাহ তাআলা কোনো বস্তুর মালিকানা বা তার উপযোগিতা হস্তান্তরের নিমিত্তে যেসব লেনদেন প্রবর্তন করেছেন—যেমন ক্রয়-বিক্রয়, ইজারা (ভাড়া), ঋণ এবং অন্যান্য—সেগুলোর সঠিক হওয়া (صحة) ও কার্যকর হওয়ার (نفاذ) মূল ভিত্তি করা হয়েছে লেনদেনকারীর স্বাধীনতা, সম্মতি ও পছন্দকে। সুতরাং আর্থিক বিনিময়ের সঠিক হওয়ার (صحة) প্রথম রুকন বা স্তম্ভ হলো পারস্পরিক সন্তুষ্টি। এ বিষয়ে মূল ভিত্তি হলো মহান আল্লাহর বাণী: {হে মুমিনগণ! তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না, তবে তোমাদের পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে ব্যবসা হলে ভিন্ন কথা।} ৩।
--------------------------------------------