(খণ্ড: ১)
বুহূছুন ফী তারীখিস সুন্নাতিল মুশাররাফাহ
(পৃষ্ঠা: -)
بحوث في تاريخ السنة المشرفة القسم: علوم الحديث
الكتاب: بحوث في تاريخ السنة المشرفة
المؤلف: أكرم بن ضياء العمري
الناشر: بساط - بيروت
الطبعة: الرابعة
عدد الصفحات: 285
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
সম্মানিত সুন্নাহর (السنة) ইতিহাসের ওপর গবেষণা বিভাগ: হাদিস বিজ্ঞান (علوم الحديث)
বই: সম্মানিত সুন্নাহর (السنة) ইতিহাসের ওপর গবেষণা
লেখক: আকরাম বিন জিয়া আল-উমারি
প্রকাশক: বিসাত - বৈরুত
সংস্করণ: চতুর্থ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৮৫
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
বুহূছুন ফী তারীখিস সুন্নাতিল মুশাররাফাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
مقدمات
تقديم للأستاذ عبد الكريم زيدان…مقدمات:
تقديم: للأستاذ الدكتور عبد الكريم زيدان
1- السنة النبوية، في اصطلاح الفقهاء، ما صدر عن النبي صلى الله عليه وسلم -غير القرآن- من قول أو فعل أو تقرير. وهي وحي إلهي قال تعالى: {وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى، إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى} فهي كالقرآن الكريم من جهة أن الإثنين وحي إلهي، والفرق بينهما أن القرآن الكريم، وحي إلهي باللفظ والمعنى، بينما السنة وحي بالمعنى دون اللفظ.
2- والسنة وهي وحي إلهي -واجبة الاتباع ومصدر أصيل- بعد القرآن، للأحكام الشرعية، وعلى هذا دل القرآن وانعقد الإجماع، ففي القرآن نصوص كثيرة جدا تبين هذا المعنى وتلزم الناس باتباع السنة وتصرح بأن الانقياد لها انقياد لله، وأن التمرد عليها علامة الانسلاخ من الإيمان، وإن المسلم لا خيار له فيما يقضي به القرآن أو تقضي به السنة، فمن هذه النصوص القرآنية قول الله تبارك وتعالى:
أ- {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ} .
ب- {مَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} .
ج- {فَلا وَرَبِّكَ لا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا} .
উপস্থাপনা
অধ্যাপক আব্দুল কারীম যায়দানের ভূমিকা…ভূমিকা:
উপস্থাপনা: প্রফেসর ডক্টর আব্দুল কারীম যায়দান
১- ফকীহদের পরিভাষায় সুন্নাহ (السنة) হলো—কুরআন ব্যতীত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে, তা কথা, কাজ কিংবা মৌন সম্মতি (تقرير) হোক। এটি ঐশী ওহী (وحي); মহান আল্লাহ বলেন: {তিনি নিজ প্রবৃত্তি থেকে কথা বলেন না। তা তো কেবল ওহী (وحي), যা তাঁর নিকট প্রেরণ করা হয়}। সুতরাং এটি কুরআন কারীমের মতোই এই দিক থেকে যে, উভয়টিই ঐশী ওহী (وحي); তবে উভয়ের মধ্যে পার্থক্য হলো, কুরআন কারীম শব্দ ও অর্থ উভয় দিক থেকেই ঐশী ওহী (وحي), অন্যদিকে সুন্নাহ (السنة) হলো কেবল অর্থগত দিক থেকে ওহী (وحي), শব্দের দিক থেকে নয়।
২- সুন্নাহ (السنة) যেহেতু ঐশী ওহী (وحي)—তাই এটি অনুসরণ করা অপরিহার্য (واجب) এবং শরয়ী বিধানের (الأحكام الشرعية) ক্ষেত্রে কুরআনের পরে এটি একটি মৌলিক উৎস। এর ওপর কুরআন প্রমাণ পেশ করে এবং এর ওপর ইজমা (الإجماع) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কুরআনে এমন অনেক নস (نصوص) বা সুস্পষ্ট পাঠ রয়েছে যা এই অর্থ স্পষ্ট করে এবং মানুষকে সুন্নাহ (السنة) অনুসরণে বাধ্য করে। সেগুলোতে স্পষ্টভাবে ঘোষণা করা হয়েছে যে, সুন্নাহর আনুগত্য করা মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করা, আর তা থেকে বিমুখ হওয়া ঈমান থেকে বিচ্যুত হওয়ার লক্ষণ। কুরআন বা সুন্নাহ (السنة) যা ফয়সালা করে দেয়, সে ব্যাপারে একজন মুসলিমের নিজস্ব কোনো পছন্দ বা ইখতিয়ার থাকে না। এ জাতীয় কিছু কুরআনী নস (نصوص) হলো মহান আল্লাহর বাণী:
ক- {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসুলের আনুগত্য করো}।
খ- {রাসুল তোমাদের যা প্রদান করেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো}।
গ- {আপনার পালনকর্তার শপথ, তারা ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ না তারা তাদের পারস্পরিক বিবাদের ক্ষেত্রে আপনাকে বিচারক হিসেবে মেনে নেয়, অতঃপর আপনার ফয়সালার ব্যাপারে তাদের মনে কোনো দ্বিধা না থাকে এবং তারা তা পূর্ণরূপে মেনে নেয়}।
(খণ্ড: ১)
বুহূছুন ফী তারীখিস সুন্নাতিল মুশাররাফাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
هـ- {وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمْرًا أَنْ يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ} .
ولم يختلف المسلمون في القديم والحديث في حجية السنة ووجوب اتباعها وكونها مصدرًا للتشريع.
3- والأحكام التي جاءت بها السنة أنواع، منها ما هو موافق لما في القرآن ومؤكد له مثل حرمة أكل مال الغير بغير حق والنهي عن الزنا وعقوق الوالدين وشهادة الزور ونحو ذلك.
ومنها ما هو مبين ومفصل لمجمل القرآن، كالسنة التي بينت عدد ركعات الصلاة وهيأتها، حيث جاءت الصلاة في القرآن مجملة، وكالسنة التي بينت مقادير الزكاة وشروطها وأصناف المال الذي تجب فيه الزكاة. ومنها –أي: من السنة- أحكام قيدت مطلق القرآن أو خصصت عامه، كقطع اليد في السرقة جاء مطلقًا في القرآن فقيدته السنة إلى الرسغ، ومثل تحريم الميتة جاء عامًّا في القرآن فخصصته السنة بما عدا ميتة البحر والجراد.
ومن السنة ما هو أحكام جديدة لم يذكرها القرآن الكريم، وإنما جاءت بها السنة مثل الحكم بشاهد ويمين ووجوب الدية على العاقلة ونحو ذلك. وهذا النوع من الأحكام واجب الاتباع كباقي أنواع السنة الأخرى. وقد ثبت عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: "ألا وأني أوتيت القرآن ومثله معه"، أي: أني أوتيت القرآن وأوتيت مثله -أي السنة- في وجوب اتباعها.
4- تدوين السنة: لم تدون السنة في عصر النبي صلى الله عليه وسلم ولم يتخذ الرسول الكريم كتابًا يكتبون ما يصدر عنه، كما فعل بالنسبة للقرآن الكريم، إذ اتخذ له كتابا يكتبون ما ينزل عليه من آيات القرآن. كما أن النبي صلى الله عليه وسلم لم يأمر بكتاباها، بل وقد نهى عن كتابتها في أول الأمر ثم أباح لمن يشاء أن يكتب منها ما يريد، ومن هؤلاء الذين كتبوا شيئًا من السنة النبوية
ঙ- {আর আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো বিষয়ে ফয়সালা করলে কোনো মুমিন পুরুষ কিংবা মুমিন নারীর জন্য সেই বিষয়ে নিজেদের পক্ষ থেকে কোনো ইখতিয়ার বা সিদ্ধান্তের অধিকার থাকে না।}।
প্রাচীনকাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত সুন্নাহর প্রামাণ্যতা (حجية), এটি অনুসরণ করার আবশ্যকতা এবং একে শরীয়তের উৎস হিসেবে গণ্য করার বিষয়ে মুসলিমদের মাঝে কোনো মতভেদ ছিল না।
৩- সুন্নাহ যেসকল বিধানসমূহ (أحكام) নিয়ে এসেছে তা কয়েক প্রকার। এর মধ্যে কিছু হলো যা কুরআনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং তার সমর্থক; যেমন—অন্যায়ভাবে অন্যের সম্পদ গ্রাস করার হারাম হওয়া (নিষেধাজ্ঞা), জিনা (ব্যভিচার), পিতামাতার অবাধ্যতা, মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া এবং এজাতীয় অন্যান্য বিষয়।
আবার কিছু হলো কুরআনের সংক্ষিপ্ত (مجمل) বিষয়ের স্পষ্টকারী (مبين) ও বিস্তারিত বিবরণদানকারী (مفصل); যেমন—ঐ সুন্নাহ যা নামাজের রাকাত সংখ্যা এবং তার নিয়ম পদ্ধতি বর্ণনা করেছে। কেননা কুরআনে নামাজের কথা সংক্ষিপ্ত (مجمل) আকারে এসেছে। তদ্রূপ সুন্নাহ যাকাতের পরিমাণ, তার শর্তাবলি এবং কোন কোন সম্পদে যাকাত ওয়াজিব হয় তা বর্ণনা করেছে। আবার সুন্নাহর মাঝে এমন কিছু বিধানসমূহ (أحكام) রয়েছে যা কুরআনের নিঃশর্ত (مطلق) বিধানকে শর্তযুক্ত (مقيد) করেছে অথবা এর সাধারণ (عام) বিধানকে বিশেষায়িত (مخصص) করেছে। যেমন—চুরির অপরাধে হাত কাটার বিধান কুরআনে নিঃশর্ত (مطلق) ভাবে এসেছে, অতঃপর সুন্নাহ তাকে কবজি পর্যন্ত সীমাবদ্ধ বা শর্তযুক্ত (مقيد) করেছে। আবার মৃত প্রাণী হারাম হওয়ার বিধান কুরআনে সাধারণভাবে (عام) এসেছে, এরপর সুন্নাহ একে সমুদ্রের মৃত প্রাণী এবং পঙ্গপাল ব্যতীত অন্য সবকিছুর জন্য নির্দিষ্ট বা বিশেষায়িত (مخصص) করেছে।
আবার সুন্নাহর মাঝে এমন কিছু নতুন বিধানসমূহ (أحكام) রয়েছে যা পবিত্র কুরআনে উল্লেখ করা হয়নি, বরং শুধুমাত্র সুন্নাহর মাধ্যমেই তা সাব্যস্ত হয়েছে; যেমন—একজন সাক্ষী ও কসমের ভিত্তিতে ফয়সালা প্রদান করা এবং আকিলাহ (রক্তপণের দায়িত্বশীল আত্মীয়স্বজন)-এর ওপর দিয়াত (রক্তপণ) প্রদান ওয়াজিব হওয়া ইত্যাদি। এই প্রকারের বিধানসমূহ (أحكام) অনুসরণ করা সুন্নাহর অন্যান্য প্রকারের মতোই আবশ্যক। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "জেনে রেখো! আমাকে কুরআন প্রদান করা হয়েছে এবং এর সাথে এর অনুরূপ আরেকটি জিনিসও দেওয়া হয়েছে।" অর্থাৎ অনুসরণের বাধ্যবাধকতার ক্ষেত্রে আমাকে কুরআনের মতো আরেকটি বস্তু -অর্থাৎ সুন্নাহ- প্রদান করা হয়েছে।
৪- সুন্নাহ সংকলন (تدوين): নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে সুন্নাহ সংকলন (تدوين) করা হয়নি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর থেকে যা কিছু প্রকাশ পেত তা লিখে রাখার জন্য কোনো লেখক নিযুক্ত করেননি, যেভাবে তিনি পবিত্র কুরআনের ক্ষেত্রে করেছিলেন। পবিত্র কুরআনের আয়াত নাজিল হওয়ার সময় তা লিখে রাখার জন্য তিনি লেখক নিযুক্ত করেছিলেন। তদ্রূপ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুন্নাহ লিখে রাখার আদেশও দেননি, বরং প্রাথমিক পর্যায়ে তিনি তা লিখতে নিষেধ করেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি যে লিখতে চায় তাকে তার যা ইচ্ছা লিখে রাখার অনুমতি দিয়েছিলেন। আর যারা সুন্নাহর কিছু অংশ লিখেছিলেন তাদের মধ্যে হলেন...
(খণ্ড: ১)
বুহূছুন ফী তারীখিস সুন্নাতিল মুশাররাফাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
عبد الله بن عمرو بن العاص. فقد روى عنه الإمام أحمد في مسنده أنه قال: كنت أكتب كل شيء أسمعه من رسول الله صلى الله عليه وسلم أريد حفظه فنهتني قريش فقالوا: إنك تكتب كل شيء تسمعه من رسول الله صلى الله عليه وسلم ورسول الله صلى الله عليه وسلم بشر يتكلم في الغضب والرضا، فأمسكت عن الكتاب فذكرت ذلك لرسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: "اكتب فوالذي نفسي بيده ما خرج من إلا حق".
5- وبالرغم من عدم تدوين السنة في عصر النبوة، فإنها كانت محفوظة في صدور الصحابة الكرام، كل واحد حفظ منها ما تيسر له، ومن فاته شيء منها علمه غيره، وقد بلغوا ما حفظوه إلى غيرهم وهكذا لم يفقد من السنة شيء.
6- وظلت السنة غير مدونة في عصر الخلفاء الراشدين، يتناقلها المسلمون بالمشافهة والسماع، وقيل: إن الإمام عمر بن الخطاب هم بكتابتها ولكن لم يفعل.
7- وفي زمن عمر بن عبد العزيز، الخليفة الأموي المشهور، جرت محاولة لتدوين السنة. فقد كتب هذا الخليفة إلى قاضيه في المدينة المنورة أبي بكر محمد بن عمرو بن حزم: "أن انظر ما كان من حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم أو سنة فاكتبه، فإني خفت دروس العلم وذهاب العلماء". إلا أن عمر بن عبد العزيز توفي قل أن ينفذ أمره.
8- وفي عصر الدولة العباسية ابتدأ العلماء بتدوين السنة وقد جاء تدوينهم لها مختلطًا بأقوال الصحابة وفتاويهم، وقد كتب على هذا النحو سفيان الثوري في الكوفة، والليث بن سعد في مصر، ومالك بن أنس في المدينة، ولم يصل إلينا مما كتبوه إلا القليل. ولعل أتم ما وصل إلينا من هذا النوع من التدوين موطأ الإمام مالك بن أنس، حيث نجد فيه السنة النبوية وفتاوى الصحابة وأقضيتهم، بل ونجد فيه بعض أقوال فقهاء التابعين وبعض آرائه هو وترجيحاته.
আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস। ইমাম আহমদ তার মুসনাদে তার থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেন: "আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছ থেকে যা কিছু শুনতাম তা মুখস্থ করার উদ্দেশ্যে লিখে রাখতাম। অতঃপর কুরাইশরা আমাকে এটি করতে নিষেধ করল এবং তারা বলল, 'তুমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর থেকে যা শুনছ তার সবই কি লিখছ? অথচ রাসূলুল্লাহ (সা.) একজন মানুষ, তিনি ক্রোধ ও সন্তুষ্টি উভয় অবস্থাতেই কথা বলেন।' তখন আমি লেখা থেকে বিরত থাকলাম এবং বিষয়টি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে উল্লেখ করলাম। তিনি বললেন: 'তুমি লেখো, সেই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ, এই মুখ থেকে সত্য ব্যতীত আর কিছুই নির্গত হয় না।'"
5- নবুওয়তের যুগে সুন্নাহ সংকলিত (تدوين) না হওয়া সত্ত্বেও তা সম্মানিত সাহাবায়ে কেরামের অন্তরে সংরক্ষিত ছিল। তাদের প্রত্যেকেই যেটুকু সহজ হয়েছে তা মুখস্থ করেছেন এবং যার কোনো অংশ অজানা থেকে গেছে তিনি অন্যের কাছ থেকে তা জেনে নিয়েছেন। তারা যা মুখস্থ করেছেন তা অন্যদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন এবং এভাবেই সুন্নাহর কোনো কিছুই হারিয়ে যায়নি।
6- খুলাফায়ে রাশেদীনের যুগেও সুন্নাহ অসংকলিত (غير مدونة) ছিল, যা মুসলমানরা মৌখিক বর্ণনা (مشافهة) এবং শ্রবণের (سماع) মাধ্যমে একে অপরের কাছে পৌঁছে দিতেন। বর্ণিত আছে যে, ইমাম উমর ইবনুল খাত্তাব এটি লিখে রাখার সংকল্প করেছিলেন কিন্তু তা করেননি।
7- বিখ্যাত উমাইয়া খলিফা উমর ইবনে আব্দুল আজিজের সময়ে সুন্নাহ সংকলনের (تدوين) একটি প্রচেষ্টা চালানো হয়। এই খলিফা মদিনা মুনাওয়ারার বিচারক আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আমর ইবনে হাযমকে লিখেছিলেন: "রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিস বা সুন্নাহর যা কিছু বিদ্যমান তা তালাশ করো এবং লিখে রাখো, কারণ আমি ইলমের বিলুপ্তি ও আলেমদের বিদায়ের আশঙ্কা করছি।" তবে উমর ইবনে আব্দুল আজিজ তার নির্দেশ বাস্তবায়িত হওয়ার পূর্বেই ইন্তেকাল করেন।
8- আব্বাসীয় যুগে উলামায়ে কেরাম সুন্নাহ সংকলন (تدوين) শুরু করেন এবং তাদের এই সংকলন সাহাবায়ে কেরামের বক্তব্য ও ফতোয়ার সাথে মিশ্রিত ছিল। কুফায় সুফিয়ান সাওরী, মিশরে লাইস ইবনে সাদ এবং মদিনায় মালিক ইবনে আনাস এই পদ্ধতিতেই লিখেছিলেন। তাদের এই সংকলনগুলোর খুব সামান্যই আমাদের পর্যন্ত পৌঁছেছে। সম্ভবত এই ধরনের সংকলনের মধ্যে আমাদের কাছে যা পৌঁছেছে তার মধ্যে ইমাম মালিক ইবনে আনাসের মুয়াত্তা সবচাইতে পূর্ণাঙ্গ। সেখানে আমরা সুন্নাহ-এ-নববী, সাহাবায়ে কেরামের ফতোয়া ও বিচারিক সিদ্ধান্তসমূহ দেখতে পাই; এমনকি সেখানে তাবেয়ী ফকিহদের কিছু বক্তব্য এবং তাঁর নিজস্ব কিছু মতামত ও অগ্রাধিকারপ্রদত্ত সিদ্ধান্তসমূহও (ترجيحات) পাওয়া যায়।
(খণ্ড: ১)
বুহূছুন ফী তারীখিস সুন্নাতিল মুশাররাফাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
9- وفي نهاية القرن الثاني للهجرة اتجه العلماء في تدوين السنة إلى أفرادها بالذكر والتدوين وتمييزها عن غيرها. وقد سلك العلماء في هذا النهج طريقة المسانيد، أي: جمع الأحاديث التي رواها كل صحابي على حدة وإن اختلفت موضوعات مروياته.
10- ثم ظهرت طريقة جديدة في تدوين السنة وهي تدوينها مرتبة على أبواب الفقه، وهذه الطريقة تسهل على الفقيه عمله؛ لأنها تضع بين يديه كل ما ورد في السنة عن الموضوع الذي يريد بحثه أو الاطلاع عليه. ومن هذه المدونات على هذه الطريقة، صحيح البخاري ومسلم وسنن أبي داود وغيرها.
11- علم الجرح والتعديل: وقد قام علماء الحديث بعمل مبرور إذ أنشئوا علم الجرح والتعديل أو علم الرجال، وهذا العلم مما انفرد به المسلمون ولا نظير له عند غيرهم والغرض منه الكشف عن أحوال رواة السنة وتمييز الصادق من الكاذب والضابط من الواهم والموثوق بروايته من المطعون فيها. وقد كان السبب في إنشاء هذا العلم الجليل أن أعداء الإسلام -وهم كثيرون- أرادوا الكيد للإسلام والنيل منه وتلويث معانيه عن طريق تلفيق الأحاديث وإسنادها إلى النبي صلى الله عليه وسلم كذبًا، والتشكيك في رواة السنة لهدم السنة وصرف المسلمين عنها.
فأفزع هذا الصنيع الخبيث، علماء الحديث، فنهض جميع منهم للكشف عن رواة السنة وتمييز صحيحها من مكذوبها فأنشئوا هذا العلم -علم الجرح والتعديل- ويقوم هذا العلم على دراسة مستفيضة لأحوال الرواة والتحري عن ميولهم وصفاتهم وأخلاقهم ونشأتهم وعقائدهم، وقد بذل علماء هذا الفن جهدًا عظيمًا جدًّا وتحملوا في سبيل ذلك التعب والسفر الطويل والرحلات المتعددة للتحري والتنقيب عن أحوال الرواة ودراسة حياتهم والسؤال عنهم. وقد كان علماء الجرح والتعديل في دراستهم لأحوال الرواة في غاية التجرد عن الهوى والموضوعية في البحث ولم تؤثر فيهم روابط الصداقة أو القرابة أو الاشتراك بالموطن
9- দ্বিতীয় হিজরি শতাব্দীর শেষের দিকে আলেমগণ সুন্নাহকে পৃথকভাবে উল্লেখ ও সংকলনের মাধ্যমে লিপিবদ্ধ করতে এবং অন্যান্য বিষয় থেকে একে আলাদা করার দিকে মনোনিবেশ করেন। এই পন্থায় আলেমগণ মুসনাদ (المسانيد) পদ্ধতি অনুসরণ করেন, অর্থাৎ: প্রতিটি সাহাবীর বর্ণিত হাদিসগুলো পৃথকভাবে একত্রে সংকলন করা, যদিও তাঁদের বর্ণিত হাদিসগুলোর বিষয়বস্তু ভিন্ন ভিন্ন হয়।
10- এরপর সুন্নাহ সংকলনের একটি নতুন পদ্ধতির উদ্ভব হয়, আর তা হলো ফিকহ-এর অধ্যায় (أبواب الفقه) অনুযায়ী বিন্যস্ত করে লিপিবদ্ধ করা। এই পদ্ধতি ফকিহদের কাজ সহজ করে দেয়; কারণ এটি তাঁদের সামনে গবেষণার জন্য বা জানার জন্য সুন্নাহর সংশ্লিষ্ট বিষয়বস্তুর সবকিছু উপস্থাপন করে। এই পদ্ধতিতে রচিত সংকলনগুলোর মধ্যে রয়েছে সহীহ বুখারী, মুসলিম, সুনানে আবু দাউদ এবং অন্যান্য।
11- জারহ ও তা'দিল (الجرح والتعديل) শাস্ত্র: হাদিস বিশারদগণ একটি মহৎ কাজ আঞ্জাম দিয়েছেন যখন তাঁরা জারহ ও তা'দিল (الجرح والتعديل) শাস্ত্র বা ইলমুর রিজাল (علم الرجال) শাস্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। এই শাস্ত্রটি মুসলিমদের এক অনন্য বৈশিষ্ট্য এবং অন্য কোনো জাতির মধ্যে এর কোনো নজির নেই। এর উদ্দেশ্য হলো সুন্নাহর বর্ণনাকারীদের (رواة) অবস্থা উন্মোচন করা এবং সত্যবাদীকে (الصادق) মিথ্যাবাদী (الكاذب) থেকে, প্রখর স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন (الضابط) বর্ণনাকারীকে ভ্রান্ত ধারণা পোষণকারী (الواهم) থেকে এবং যার বর্ণনা নির্ভরযোগ্য (الموثوق بروايته) তাকে যার বর্ণনা প্রশ্নবিদ্ধ (المطعون فيها) তা থেকে পৃথক করা। এই মহান শাস্ত্র সৃষ্টির কারণ ছিল ইসলামের শত্রুগণ—যাঁরা সংখ্যায় অনেক—তাঁরা ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে, এর অবমাননা করতে এবং মিথ্যা হাদিস তৈরি করে তা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি মিথ্যাভাবে আরোপ করার মাধ্যমে ইসলামের মর্মার্থকে কলুষিত করতে চেয়েছিল। এছাড়াও তারা সুন্নাহর বর্ণনাকারীদের (رواة) ব্যাপারে সংশয় তৈরি করে সুন্নাহকে ধ্বংস করতে এবং মুসলমানদের তা থেকে বিমুখ করতে চেয়েছিল।
এই জঘন্য কর্মকাণ্ড হাদিস বিশারদদের আতঙ্কিত করে তোলে, ফলে তাঁদের সকলে সুন্নাহর বর্ণনাকারীদের (رواة) পরিচয় উন্মোচন করতে এবং সহিহ (صحيح) হাদিসকে বানোয়াট (مكذوب) হাদিস থেকে পৃথক করতে সচেষ্ট হন। ফলে তাঁরা এই শাস্ত্র—জারহ ও তা'দিল (الجرح والتعديل) শাস্ত্র—প্রতিষ্ঠা করেন। এই শাস্ত্র বর্ণনাকারীদের (الرواة) অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত অধ্যয়ন এবং তাঁদের ঝোঁক, গুণাবলী, চরিত্র, বেড়ে ওঠা ও আকিদা বা বিশ্বাসের অনুসন্ধানের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। এই শিল্পের আলেমগণ অত্যন্ত বিশাল পরিশ্রম করেছেন এবং এই পথে ক্লান্তি, দীর্ঘ সফর এবং বর্ণনাকারীদের (الرواة) অবস্থা অনুসন্ধান, তাঁদের জীবন নিয়ে গবেষণা ও তাঁদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বহু সফর করেছেন। জারহ ও তা'দিল (الجرح والتعديل) শাস্ত্রের আলেমগণ বর্ণনাকারীদের (الرواة) অবস্থা পর্যালোচনার ক্ষেত্রে প্রবৃত্তি থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত ছিলেন এবং গবেষণায় বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রেখেছিলেন। বন্ধুত্বের সম্পর্ক, আত্মীয়তা কিংবা জন্মভূমির একতা তাঁদের ওপর কোনো প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি।
(খণ্ড: ১)
বুহূছুন ফী তারীখিস সুন্নাতিল মুশাররাফাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
والمذهب؛ لأن سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم أعلى وأغلى في نظرهم من كل اعتبار آخر، فكانا -لهذا كله- يفصحون أحوال رواة السنة النبوية فحصًا مجردًا موضوعيًّا لا تهمهم النتيجة التي يصلون إليها وإنما يهمهم شيء واحد هو الوصول إلى حقيقة وصفات من يدرسونه ومدى الوثوق بروايته، فكانوا في دراستهم هذه كالكيميائي في مصنعه وهو يفحص مادة من المواد ليعرف خصائصها ولا تهمه النتيجة التي يصل إليها ولا نوع الصفات التي ستظهر عليها المادة التي يفصحها. فإذا ما أنهى العالم دراسته حول رواة الحديث، أعطى لكل منهم رمزًا يشير إلى خلاصة ما توصل إليه فيقول، هذا ثقة، وهذا عدل، أو هذا لين الحديث، أو هذا لا بأس بحديثه، أو هذا كذاب، أو هذا سيئ الحفظ، أو هذا أصابه ضعف في ذاكرته بشيخوخته، وهذه الدراسة المضنية الخالصة المجردة من الهوى والمقرونة بتقوى الله والإخلاص له والحرص الشديد على تجريد السنة الصحيحة مما علق بها، استطاع علماء الجرح والتعديل -بعون الله- أن يميزوا صحيح السنة من مكذوبها، وأن يردوا كيد أعداء الإسلام الذين أرادوا هدمه بهدم السنة والتشكيك بها وصرف المسلمين عنها.
12- إن هذا العلم -علم الجرح والتعديل- لا يزال علما نافعًا يحتاج إليه المسلمون في كل وقت، لا سيما في زماننا هذا، حيث اتجه المستشرقون ومن تأثر بهم إلى شن الغارة على السنة النبوية ورواتها وإثارة الشكوك حولهم وحولها بأسلوب ناعم مسموم خبيث يتظاهر أصحابه بالتجرد والبحث العلمي الموضوعي. ولهذا صار لزامًا على كل مسلم يقف على تشكيك هؤلاء المستشرقين وأتباعهم في السنة ورواتها، أن يرجع إلى مصنفات علماء الجرح والتعديل ليقف على حقيقة رواة السنة والموثوق به منهم والمطعون فيه، العدل والمجروح؛ لأن هذه الحقيقة، حقيقة رواة السنة، يستحيل أن نجدها عند المستشرقين المكذبين لرسالة محمد صلى الله عليه وسلم وإنما نجدها عند أتباعه وخدام سنته والمؤمنين به، عند علماء الحديث وعلى وجه التحديد عند علماء الجرح والتعديل.
এবং মতবাদ; কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ তাঁদের দৃষ্টিতে অন্য যে কোনো বিবেচনার ঊর্ধ্বে ও অধিক মূল্যবান ছিল। এই সকল কারণেই তাঁরা নববী সুন্নাহর বর্ণনাকারীদের অবস্থা অত্যন্ত নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠভাবে যাচাই করতেন; তাঁরা কী ফলাফলে উপনীত হচ্ছেন সেটি তাঁদের নিকট মুখ্য ছিল না, বরং তাঁদের একমাত্র লক্ষ্য ছিল যাঁর সম্পর্কে তাঁরা গবেষণা করছেন তাঁর প্রকৃত অবস্থা ও গুণাবলি এবং তাঁর বর্ণনার নির্ভরযোগ্যতার মাত্রা উদ্ঘাটন করা। তাঁদের এই গবেষণার ক্ষেত্রে তাঁরা ছিলেন ল্যাবরেটরিতে কর্মরত একজন রসায়নবিদের মতো, যিনি কোনো পদার্থের বৈশিষ্ট্য জানার জন্য তা পরীক্ষা করেন এবং পরীক্ষার ফলাফল বা পদার্থের গুণাবলি কী প্রকাশ পাবে তা নিয়ে তাঁর কোনো পূর্বনির্ধারিত পক্ষপাত থাকে না। যখন কোনো আলেম হাদিসের বর্ণনাকারীদের নিয়ে তাঁর গবেষণা সমাপ্ত করতেন, তখন তিনি তাঁদের প্রত্যেকের জন্য একটি পারিভাষিক শব্দ প্রদান করতেন যা তাঁর গবেষণালব্ধ সারসংক্ষেপ নির্দেশ করত। তিনি বলতেন: ইনি নির্ভরযোগ্য (ثقة), আর ইনি ন্যায়পরায়ণ (عدل), অথবা ইনি শিথিল বর্ণনাকারী (لين الحديث), অথবা এর বর্ণনায় কোনো সমস্যা নেই (لا بأس بحديثه), কিংবা ইনি চরম মিথ্যাবাদী (كذاب), অথবা ইনি মন্দ স্মৃতিশক্তি সম্পন্ন (سيئ الحفظ), কিংবা বার্ধক্যজনিত কারণে তাঁর স্মৃতিশক্তিতে দুর্বলতা (ضعف) দেখা দিয়েছে। এই কঠোর পরিশ্রমলব্ধ, প্রবৃত্তিহীন ও একনিষ্ঠ গবেষণা যা আল্লাহর তাকওয়া, ইখলাস এবং বিশুদ্ধ সুন্নাহকে বিজাতীয় মিশ্রণ থেকে মুক্ত করার প্রবল আগ্রহের সাথে সম্পন্ন হয়েছিল—এর মাধ্যমেই জারহ ও তা'দিল (الجرح والتعديل) শাস্ত্রের ইমামগণ আল্লাহর সাহায্যে সুন্নাহর বিশুদ্ধ (صحيح) অংশকে মিথ্যা আরোপিত (مكذوب) অংশ থেকে পৃথক করতে সক্ষম হয়েছেন। এবং তাঁরা ইসলামের সেই শত্রুদের ষড়যন্ত্র রুখে দিতে পেরেছেন যারা সুন্নাহকে ধ্বংস করে এবং এ নিয়ে সংশয় সৃষ্টি করে মুসলিমদের তা থেকে বিমুখ করার মাধ্যমে ইসলামকে মিটিয়ে দিতে চেয়েছিল।
12- নিশ্চয়ই এই জ্ঞান—অর্থাৎ জারহ ও তা'দিল বিদ্যা (علم الجرح والتعديل)—একটি অত্যন্ত উপকারী জ্ঞান যা মুসলিমদের প্রতি যুগে প্রয়োজন, বিশেষ করে আমাদের বর্তমান সময়ে; যেখানে প্রাচ্যবিদগণ এবং তাঁদের দ্বারা প্রভাবিত ব্যক্তিবর্গ অত্যন্ত সূক্ষ্ম, বিষাক্ত ও জঘন্য পন্থায় নববী সুন্নাহ এবং এর বর্ণনাকারীদের ওপর আক্রমণ চালাচ্ছে এবং তাঁদের সম্পর্কে নানাবিধ সংশয় সৃষ্টি করছে, যেখানে তারা বাহ্যিকভাবে নিরপেক্ষতা ও বস্তুনিষ্ঠ বৈজ্ঞানিক গবেষণার ছদ্মবেশ ধারণ করে। এ কারণেই প্রত্যেক মুসলিমের জন্য এটি অপরিহার্য যে, যখনই সে সুন্নাহ ও এর বর্ণনাকারীদের ব্যাপারে প্রাচ্যবিদ ও তাদের অনুসারীদের কোনো সংশয়ের সম্মুখীন হবে, সে যেন জারহ ও তা'দিল শাস্ত্রের ইমামদের রচিত গ্রন্থরাজির শরণাপন্ন হয়। যাতে সে সুন্নাহর বর্ণনাকারীদের প্রকৃত অবস্থা, তাঁদের মধ্যে কারা নির্ভরযোগ্য (الموثوق به) এবং কারা সমালোচিত (المطعون فيه), কে ন্যায়পরায়ণ (العدل) আর কে ত্রুটিযুক্ত (المجروح)—তা জানতে পারে। কারণ বর্ণনাকারীদের সম্পর্কে এই ধ্রুব সত্য কখনোই সেই প্রাচ্যবিদদের নিকট পাওয়া সম্ভব নয় যারা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রিসালাতকে অস্বীকার করে। বরং এটি পাওয়া যাবে তাঁর অনুসারী, তাঁর সুন্নাহর খাদেম এবং তাঁর প্রতি বিশ্বাস স্থাপনকারীদের নিকট, তথা হাদিস বিশারদ এবং সুনির্দিষ্টভাবে জারহ ও তা'দিল (الجرح والتعديل) শাস্ত্রের ইমামগণের নিকট।
(খণ্ড: ১)
বুহূছুন ফী তারীখিস সুন্নাতিল মুশাররাফাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
13- والسنة النبوية، بعد هذا، لا تزال بحاجة إلى المزيد من التبيين والإشاعة بين الناس والكتابة فيها، وكل جهد مبذول فيما يتعلق بها لهو جهد مشكور مرضي عند الله تعالى. وأحسب أن هذا الكتاب الذي أقدم له، نوع من هذا الجهد المشكور الذي نرجو لمؤلفه جميل المثوبة وجزيل الأجر من الله وأن ينفع الله تعالى به المسلمين، والحمد لله رب العالمين.
بغداد، في: جمادى الآخرة 1387هـ.
عبد الكريم زيدان
17 أيلول "سبتمبر" 1967م.
13- আর সুন্নাহ-ই-নাবাবিয়া এরপরও মানুষের মাঝে অধিকতর ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ ও প্রচার-প্রসার এবং এ বিষয়ে লেখনীর প্রয়োজনীয়তা রাখে। সুন্নাহ সংশ্লিষ্ট যে কোনো ব্যয়িত শ্রম আল্লাহ তাআলার নিকট প্রশংসিত ও সন্তুষ্টির যোগ্য। আমি মনে করি যে কিতাবটির ভূমিকা আমি পেশ করছি, তা এ প্রকারের এক প্রশংসনীয় প্রচেষ্টারই অংশ। আমরা এর লেখকের জন্য আল্লাহর নিকট উত্তম প্রতিদান ও অফুরন্ত সওয়াবের আশা করি এবং প্রার্থনা করি যেন আল্লাহ তাআলা এর দ্বারা মুসলিমদের উপকৃত করেন। আর সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
বাগদাদ, জমাদিউল আখিরা ১৩৮৭ হিজরি।
আব্দুল কারিম যাইদান
১৭ সেপ্টেম্বর ১৯৬৭ খ্রিস্টাব্দ।
(খণ্ড: ১)
বুহূছুন ফী তারীখিস সুন্নাতিল মুশাররাফাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
مقدمة الطبعة الرابعة:تمتاز هذه الطبعة الرابعة بإضافات علمية مهمة، واستدراكات كثيرة، فإنني ألحقت بها كل ما عثرت عليه من معلومات جديدة من الكتب المحققة التي صدرت أخيرًا أو المخطوطات التي عثر عليها حديثًا مما وقفت عليه.
وما زالت أمنيتي أن أكمل الفترات اللاحقة من تاريخ السنة المشرفة بعد القرن الخامس الهجري أو يقوم بإكمالها سواي على نفس هذا النمط لتسهيل مراجعتها والإفادة منها والتعرف على مظان المخطوطات منها في المكتبات، وليتمكن الباحث من معرفة قيمة كل كتاب وأهميته، وخاصة طلبة الدراسات العليا المعنيين بتحقيق نصوص التراث. فقد آن الأوان للقيام بدراسات شاملة تعني بتقويم كتب التراث وترشد إلى ما يستحق منها التقديم بالتحقيق والنشر وما مكانه التأخير أو الإهمال، ولا بد من وضع مقاييس دقيقة للاختيار، فبعض كتب التراث لا تضيف جديدا إلى فنونها التي تنتمي إليها، وبعضها منثور في سواها من المطبوع، وبعضها هزيل في مادته سقيم في أسلوبه، فالعناية بما سوى هذه الكتب أولى وأجدى، ولا شك أن من أبرز المقاييس في الاختبار ملاحظة قيمة الإضاة العلمية التي تحتويها المخطوطة وذلك للتكامل المكتبة التراثية وتنحصر المادة العلمية التي ورثناها عن أسلافنا في كل علم وفن فإن التقدم في دراساتنا، لا بد أن يحكمه مبدأ تراكم المعرفة وما يتطلبه من معرفة مقدار الإضافة العلمية في كل كتاب إلى الفن الذي صنف فيه وذلك تمهيدًا لكتابة الموسوعات
চতুর্থ সংস্করণের ভূমিকা:এই চতুর্থ সংস্করণটি গুরুত্বপূর্ণ তাত্ত্বিক সংযোজন এবং প্রচুর সংশোধনী (استدراكات) দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। কারণ আমি এতে সেই সমস্ত নতুন তথ্য যুক্ত করেছি যা সম্প্রতি প্রকাশিত সম্পাদিত (محقق) গ্রন্থাবলি অথবা সম্প্রতি আবিষ্কৃত পাণ্ডুলিপি (مخطوطات) থেকে আমার হস্তগত হয়েছে।
আমার আকাঙ্ক্ষা রয়ে গেছে যে, আমি হিজরি পঞ্চম শতাব্দীর পরবর্তী সম্মানিত সুন্নাহর ইতিহাসের পর্যায়গুলো সম্পন্ন করব, অথবা আমার পরিবর্তে অন্য কেউ এই একই পদ্ধতিতে এটি সম্পন্ন করবেন; যাতে এর পর্যালোচনা ও তা থেকে উপকৃত হওয়া সহজ হয় এবং গ্রন্থাগারগুলোতে এগুলোর পাণ্ডুলিপিগুলোর (مخطوطات) প্রাপ্তিস্থান (مظان) সম্পর্কে পরিচিত হওয়া যায়, এবং যাতে গবেষকগণ প্রতিটি গ্রন্থের মান ও গুরুত্ব সম্পর্কে জানতে পারেন, বিশেষ করে ঐতিহ্যের মূল পাঠ্যসমূহ সম্পাদনার (تحقيق) সাথে সংশ্লিষ্ট উচ্চতর গবেষণার ছাত্ররা। তাই এখন সময় এসেছে একটি ব্যাপকভিত্তিক অধ্যয়ন পরিচালনার, যা ঐতিহ্যের গ্রন্থাবলির মূল্যায়নের প্রতি গুরুত্ব দেবে এবং নির্দেশনা প্রদান করবে যে, এর মধ্যে কোনগুলো সম্পাদনা (تحقيق) ও প্রকাশের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাওয়ার যোগ্য এবং কোনগুলোর স্থান হচ্ছে বিলম্বিত করা বা উপেক্ষা করা। আর নির্বাচনের ক্ষেত্রে সূক্ষ্ম মানদণ্ড নির্ধারণ করা অপরিহার্য; কারণ ঐতিহ্যের কিছু গ্রন্থ সংশ্লিষ্ট শাস্ত্রে কোনো নতুনত্ব যোগ করে না, আবার কিছু গ্রন্থের বিষয়বস্তু অন্যান্য মুদ্রিত গ্রন্থের মাঝে ছড়িয়ে আছে, আর কিছু গ্রন্থ বিষয়বস্তুর দিক থেকে দুর্বল এবং রচনাশৈলীর দিক থেকে ত্রুটিপূর্ণ (سقيم)। সুতরাং এই ধরনের বই বাদে অন্যগুলোর প্রতি যত্নবান হওয়া অধিকতর উত্তম ও ফলপ্রসূ। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, নির্বাচনের ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান মানদণ্ড হলো পাণ্ডুলিপিতে (مخطوطة) বিদ্যমান তাত্ত্বিক সংযোজনের মান পর্যবেক্ষণ করা, যাতে ঐতিহ্যবাহী গ্রন্থাগার পূর্ণতা লাভ করে। প্রতিটি জ্ঞান ও শাস্ত্রে আমাদের পূর্বসূরিদের কাছ থেকে আমরা যে তাত্ত্বিক উপাদান উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছি তা সুনির্দিষ্ট। অতএব আমাদের গবেষণার অগ্রগতি অবশ্যই জ্ঞানের পুঞ্জীভবন (تراكم المعرفة) নীতি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতে হবে; আর এর জন্য প্রয়োজন প্রতিটি গ্রন্থে সংশ্লিষ্ট শাস্ত্রে যে তাত্ত্বিক সংযোজন করা হয়েছে তার পরিমাণ সম্পর্কে জানা, যাতে বিশ্বকোষ (موسوعات) রচনার পথ প্রশস্ত হয়।
(খণ্ড: ১)
বুহূছুন ফী তারীখিস সুন্নাতিল মুশাররাফাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
التي تمهد للدراسات العميقة الشاملة التي تهدف إلى إبراز قيم التراث وعناصره.
الأصلية وقدراته على تأصيل نهضتنا المعاصرة ودفعها بنفس الوقت إلى الأمام.
إننا بحاجة إلى حركة نقدية واسعة وواعية تتمكن من إرسال دعائم نهضتنا الفكرية على أساس راسخ من التأكيد على الجذور وإحيائها تمهيدًا لإقامة بناء صرح حضاري شامخ فوقها بعيدًا عن التقوقع والانغلاق والاكتفاء بالوقوف على الأطلال.
فالربط بين الأصالة والمعاصرة ومراعاة مبدأ تراكم المعرفة وتحديد الإضافات العلمية هي أسس لازمة لترشيد حركتنا الفكرية الحديثة والله يقول الحق وهو يهدي إلى سواء السبيل.
المؤلف: د. أكرم العمري
যা গভীর ও ব্যাপক গবেষণার পথ প্রশস্ত করে, যার লক্ষ্য হলো ঐতিহ্য (تراث)-এর মূল্যবোধ এবং এর উপাদানগুলোকে ফুটিয়ে তোলা।
এর মৌলিকতা এবং আমাদের সমসাময়িক নবজাগরণকে সুদৃঢ় করার সক্ষমতা এবং একই সাথে একে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।
আমাদের একটি ব্যাপক ও সচেতন সমালোচনামূলক (نقدية) আন্দোলনের প্রয়োজন, যা শেকড়ের ওপর গুরুত্বারোপ ও তা পুনরুজ্জীবিত করার একটি সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক জাগরণের স্তম্ভগুলোকে স্থাপন করতে সক্ষম হবে। এর উদ্দেশ্য হলো তার ওপর একটি সুউচ্চ সভ্যতার সৌধ নির্মাণ করা, যা হবে সংকীর্ণতা ও আবদ্ধতা থেকে মুক্ত এবং কেবল ধ্বংসাবশেষের ওপর দাঁড়িয়ে থাকার সীমাবদ্ধতা পরিহারকারী।
সুতরাং মৌলিকতা (أصالة) ও আধুনিকতার (معاصرة) মধ্যে সমন্বয় সাধন করা, জ্ঞান সঞ্চয়নের নীতি অনুসরণ করা এবং বৈজ্ঞানিক সংযোজনগুলো নির্দিষ্ট করা আমাদের আধুনিক বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলনকে সঠিক পথে পরিচালনার জন্য অপরিহার্য ভিত্তি; আর আল্লাহ সত্য বলেন এবং তিনিই সঠিক পথ প্রদর্শন করেন।
লেখক: ড. আকরাম আল-উমারি
(খণ্ড: ১)
বুহূছুন ফী তারীখিস সুন্নাতিল মুশাররাফাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
مقدمة الطبعة الثالثة:صدرت الطبعة الأولى سنة 1387هـ، 1967م، وصدرت الطبعة الثانية سنة 1392هـ، 1972م وفيها إضافات أساسية على الطبعة الأولى، وقد نفدت الطبعتان، وكنت قد اعتزمت إكمال الفترة التي يتناولها البحث عند طبعه ثالثة ومدها إلى العصور الحديثة، وعدم الاقتصار على تاريخ السنة حتى نهاية القرن الخامس الهجري، ولكن انشغالي بأبحاث أخرى وما يتطلبه متابعة تاريخ السنة في القرون التالية على فترة البحث من جهد كبير بسبب التزامي باستقصاء سائر ما ألف مع تحليل ما بقي منه من مخطوط أومطبوع -خاصة في نطاق علم الرجال- لذلك لم يتيسر لي تنفيذ ما اعتزمته، فرأيت أن أقنع في الطبعة الثالثة ببعض الإضافات والفوائد التي وقعت لي بعد الطبعة الثانية آملًا أن يعينني الله عز وجل على إكمال هذا العمل في طبعة رابعة ليشتمل على تاريخ السنة في مراحل تاريخها المختلفة، والله أسأل أن يتقبل عملي إنه نعم المولى ونعم النصير.
21 جمادى الأولى 1395هـ.
1 حزيران "يونيو" 1975م.
المؤلف: د. أكرم العمري.
তৃতীয় সংস্করণের ভূমিকা:প্রথম সংস্করণ ১৩৮৭ হিজরি মোতাবেক ১৯৬৭ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়েছিল এবং দ্বিতীয় সংস্করণ ১৩৯২ হিজরি মোতাবেক ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়েছিল, যাতে প্রথম সংস্করণের ওপর কিছু মৌলিক সংযোজন ছিল। বর্তমানে উভয় সংস্করণই নিঃশেষ হয়ে গেছে। আমি ইচ্ছা করেছিলাম যে, তৃতীয় সংস্করণ প্রকাশের সময় গবেষণার আওতাভুক্ত সময়কাল পূর্ণ করব এবং একে আধুনিক যুগ পর্যন্ত বিস্তৃত করব, যাতে সুন্নাহর ইতিহাস কেবল হিজরি পঞ্চম শতাব্দীর শেষ পর্যন্ত সীমাবদ্ধ না থাকে। কিন্তু অন্যান্য গবেষণায় ব্যস্ততা এবং গবেষণার পরবর্তী শতাব্দীগুলোতে সুন্নাহর ইতিহাস অনুসরণের জন্য যে বিশাল শ্রমের প্রয়োজন—বিশেষ করে রচিত সকল গ্রন্থের অনুসন্ধানসহ পাণ্ডুলিপি বা মুদ্রিত আকারে যা অবশিষ্ট আছে তার বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে আমার দায়বদ্ধতার কারণে, বিশেষ করে রাবিদের জীবনী ও মূল্যায়ন শাস্ত্র (علم الرجال)-এর ক্ষেত্রে—তাই আমার পক্ষে সংকল্পটি বাস্তবায়ন করা সহজ হয়নি। এমতাবস্থায়, আমি তৃতীয় সংস্করণে দ্বিতীয় সংস্করণের পর প্রাপ্ত কিছু নতুন সংযোজন ও তাত্ত্বিক ফায়দার ওপর সন্তুষ্ট থাকাই সমীচীন মনে করেছি; এই আশায় যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাকে চতুর্থ সংস্করণে এই কাজ পূর্ণ করার তাওফিক দান করবেন যাতে এটি ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে সুন্নাহর ইতিহাসকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারে। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমার এই আমল কবুল করেন, নিশ্চয়ই তিনি উত্তম অভিভাবক এবং উত্তম সাহায্যকারী।
২১ জুমাদাল উলা ১৩৯৫ হিজরি।
১ জুন ১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দ।
লেখক: ড. আকরাম আল-উমরি।
(খণ্ড: ১)
বুহূছুন ফী তারীখিস সুন্নাতিল মুশাররাফাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
مقدمة الطبعة الثانية:صدرت الطبعة الأولى من كتابي: "بحوث في تاريخ السنة المشرفة" في سنة 1387هـ "1967م" وقد أضفت إليه خلال السنوات الخمس المنصرمة مادة جديدة ليست بالقليلة بسبب استمراري في دراسة كتب علم الرجال ومتابعة ما طبع منها متأخرًا وما اكتشف من مخطوطاتها حديثا، وساعدني على ذلك انهماكي في دراسة: "موارد الخطيب البغدادي في تاريخ بغداد" حيث أمدتني هذه الدراسة بإضافات أساسية أيضًا. كما رأيت أن أوسع فصل "تدوين الحديث" ليشتمل على دراسة كتب الرواية المهمة المتداولة، كما أضفت فصلًا من مقدمتي لكتاب: "طبقات خليفة بن خياط" يتناول: "أسس تنظيم كتب علم الرجال" وذلك لصلته الوثيقة بمباحث الكتاب. ولا بد هنا من التنويه بفضل السيد صبحي البدري السامرائي الذي وضع مكتبته -العامرة بصورة مخطوطات كتب رجال الحديث- في خدمة هذا البحث فأفدت من ذلك سواء في الطبعة الأولى أو فيما استدركته في الطبعة الثانية. وفي الختام لا يسعني إلا الابتهال إلى الله تعالى أن يتقبل مني هذا الجهد المتواضع في خدمة علم الحديث.
بغداد
15 تموز "يوليو" 1972
المؤلف: د. أكرم العمري
দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকা:আমার গ্রন্থ "বুহুস ফি তারিখিস সুন্নাহ আল-মুশাররাফাহ"-এর প্রথম সংস্করণ ১৩৮৭ হিজরি (১৯৬৭ খ্রিস্টাব্দ) সালে প্রকাশিত হয়েছিল। গত পাঁচ বছরে আমি এতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ নতুন তথ্য যুক্ত করেছি। এর কারণ হলো বর্ণনাকারী বিষয়ক শাস্ত্রের (علم الرجال) গ্রন্থাবলি নিয়ে আমার নিরবচ্ছিন্ন গবেষণা এবং এই শাস্ত্রের যেসব গ্রন্থ সম্প্রতি মুদ্রিত হয়েছে কিংবা যেসব পাণ্ডুলিপি (مخطوطات) নতুন আবিষ্কৃত হয়েছে, সেগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা। "তারিখু বাগদাদ গ্রন্থে খতিব আল-বাগদাদির উৎসসমূহ" শীর্ষক আমার নিবিড় গবেষণাটি এক্ষেত্রে আমাকে প্রভূত সাহায্য করেছে; এই অধ্যয়ন থেকেও আমি বেশ কিছু মৌলিক সংযোজন গ্রহণ করেছি। এছাড়া আমি "হাদিস সংকলন" (تدوين الحديث) অধ্যায়টিকে আরও বিস্তৃত করা উপযুক্ত মনে করেছি, যাতে বর্তমানে প্রচলিত গুরুত্বপূর্ণ বর্ণনা (رواية) সংক্রান্ত গ্রন্থাবলির ওপর আলোচনা অন্তর্ভুক্ত হয়। পাশাপাশি আমি খলিফা বিন খাইয়াত রচিত "তাবাকাত" গ্রন্থের ভূমিকার একটি অংশ এখানে যুক্ত করেছি যা "বর্ণনাকারী বিষয়ক শাস্ত্রের (علم الرجال) গ্রন্থসমূহের বিন্যাস পদ্ধতি" নিয়ে আলোচনা করে; কেননা এই গ্রন্থের মূল প্রতিপাদ্যের সাথে এর নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। এখানে জনাব সুবহি আল-বাদরি আল-সামাররাই-এর অনুগ্রহের কথা উল্লেখ করা আবশ্যক, যিনি তাঁর সমৃদ্ধ পাঠাগারটি—যা হাদিসের বর্ণনাকারীদের (رجال الحديث) জীবনচরিত সংক্রান্ত গ্রন্থের পাণ্ডুলিপিতে (مخطوطات) পূর্ণ—এই গবেষণার কাজে ব্যবহারের সুযোগ করে দিয়েছেন। এর ফলে আমি প্রথম সংস্করণের পাশাপাশি দ্বিতীয় সংস্করণের পরিমার্জনেও বিশেষভাবে উপকৃত হয়েছি। পরিশেষে, মহান আল্লাহর দরবারে বিনীত প্রার্থনা করি, তিনি যেন হাদিস শাস্ত্রের খিদমতে আমার এই বিনম্র প্রচেষ্টা কবুল করে নেন।
বাগদাদ
১৫ জুলাই ১৯৭২
লেখক: ডক্টর আকরাম আল-উমারি
(খণ্ড: ১)
বুহূছুন ফী তারীখিস সুন্নাতিল মুশাররাফাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
مقدمة الطبعة الأولى:الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على نبيه الكريم.
هذا البحث كان مقدمة لرسالتي للماجستير التي تناولت تحقيق ودراسة كتاب: "الطبقات"، لـ"خليفة بن خياط"، وقد استهدفت في المقدمة بيان دوافع ظهور علم الرجال مما جرني إلى بحث حركة الوضع في الحديث وعرض جهود العلماء في مقاومة حركة الوضع بالتأكيد على الإسناد ومعرفة الرجال، كما عرضت لوصف وتحليل كتب الرجال المصنفة خلال القرون: الثالث والرابع والخامس، للهجرة؛ وذلك لبيان مكانة كتاب الطبقات بين هذه المؤلفات الكثيرة.
ولما نشرت كتاب الطبقات اقتصرت في مقدمته على ما يتعلق به فقط وأرجأت نشر بقية مقدمة الرسالة لتظهر في هذا الكتاب المستقل بعد أن أضفت إليها بحثًا عن الرحلة في طلب العلم وآخر عن تدوين الحديث ليكتمل الموضوع فيعرض إلى مختلف الجوانب لجهود العلماء التي بذلوها في الحفاظ على السنة المطهرة.
ولا يسعني هنا إلا أن أتقدم بجزيل الشكر والامتنان لأستاذي الفاضل الدكتور صالح أحمد العلي الذي تفضل بالإشراف على رسالتي وبذل الكثير من وقته وجهده في ذلك.
وللأساتذة الأفاضل الدكتور عبد العزيز الدوري والدكتور حسن إبراهيم حسن والدكتور جواد علي، لتجشمهم عناء قراءة الرسالة ومناقشتها.
প্রথম সংস্করণের ভূমিকা:সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর সম্মানিত নবীর ওপর।
এই গবেষণাটি ছিল আমার মাস্টার্স থিসিসের ভূমিকা, যা খলিফা ইবনে খাইয়্যাত-এর 'আল-তাবাকাত' গ্রন্থটির যাচাই-বাছাই (تحقيق) ও পর্যালোচনার ওপর ভিত্তি করে রচিত হয়েছিল। আমি এই ভূমিকায় বর্ণনাকারী বিষয়ক শাস্ত্রের (علم الرجال) বিকাশের কারণসমূহ স্পষ্ট করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলাম, যা আমাকে হাদিস জালকরণের (الوضع) তৎপরতা নিয়ে গবেষণা এবং সনদ (الإسناد) ও বর্ণনাকারীদের (الرجال) পরিচয়ের ওপর গুরুত্বারোপের মাধ্যমে জালকরণ (الوضع) প্রতিরোধের ক্ষেত্রে উলামায়ে কেরামের প্রচেষ্টাসমূহ তুলে ধরার দিকে পরিচালিত করেছে। এছাড়াও আমি হিজরি তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শতাব্দীতে সংকলিত বর্ণনাকারী বিষয়ক (الرجال) গ্রন্থসমূহের বিবরণ ও বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেছি; যেন এই বিশাল রচনাসম্ভারের মাঝে 'আল-তাবাকাত' গ্রন্থের মর্যাদা স্পষ্ট হয়।
যখন আমি 'আল-তাবাকাত' গ্রন্থটি প্রকাশ করি, তখন এর ভূমিকাকে শুধুমাত্র ওই গ্রন্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছিলাম এবং থিসিসের ভূমিকার অবশিষ্ট অংশ প্রকাশ স্থগিত রেখেছিলাম, যাতে তা একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ হিসেবে প্রকাশিত হতে পারে। এরপর আমি এর সাথে জ্ঞান অন্বেষণে সফর (الرحلة) এবং হাদিস সংকলন (تدوين) সংক্রান্ত আরও দুটি গবেষণা যুক্ত করেছি, যেন বিষয়টি পূর্ণতা পায় এবং পবিত্র সুন্নাহ সংরক্ষণে উলামায়ে কেরামের ব্যয় করা বিভিন্নমুখী প্রচেষ্টার চিত্র ফুটে ওঠে।
এখানে আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষক ড. সালিহ আহমদ আল-আলী-এর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও ঋণ স্বীকার করছি, যিনি অত্যন্ত অনুগ্রহের সাথে আমার থিসিসের তত্ত্বাবধান করেছেন এবং এর জন্য তাঁর অনেক সময় ও শ্রম ব্যয় করেছেন।
সেইসাথে শ্রদ্ধেয় অধ্যাপকবৃন্দ ড. আবদুল আজিজ আল-দুরি, ড. হাসান ইবরাহিম হাসান এবং ড. জাওয়াদ আলী-এর প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি, থিসিসটি পাঠ করার এবং এর ওপর আলোচনায় অংশগ্রহণের কষ্ট স্বীকার করার জন্য।
(খণ্ড: ১)
বুহূছুন ফী তারীখিস সুন্নাতিল মুশাররাফাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وللأستاذ الفاضل الدكتور جمال الدين الشيال، الذي تفضل بقراءة الرسالة وتقديرها.
وللصديق الفاضل الحاج صبحي السامرائي الذي أعارني مشكورًا المخطوطات التركية المصورة.
وللأخ السيد عادل أوزبك علي، الذي ترجم لي بعض النصوص عن اللغة التركية.
وختامًا أشكر إدارة وعمال مطبعة الإرشاد لما بذلوه من جهد في إخراج الكتاب.
والله المسئول أن يأخذ بأيدينا لما يحبه ويرضاه، إنه نعم المولى ونعم النصير.
بغداد في: جمادى الآخرة 1387هـ
أيلول "سبتمبر" 1967م.
المؤلف: د. أكرم العمري
এবং শ্রদ্ধেয় অধ্যাপক ডক্টর জামালুদ্দিন আশ-শায়্যালকে [ধন্যবাদ জানাচ্ছি], যিনি এই গবেষণাপত্রটি পাঠ ও মূল্যায়নের অনুগ্রহ করেছেন।
এবং শ্রদ্ধেয় বন্ধু আলহাজ্ব সুবহি আল-সামাররাইকে, যিনি আমাকে তুর্কি পাণ্ডুলিপিসমূহের অনুলিপি ধার দিয়ে কৃতজ্ঞতাপাশে আবদ্ধ করেছেন।
এবং ভাই জনাব আদিল উজবেক আলীকে, যিনি আমার জন্য তুর্কি ভাষা থেকে কিছু পাঠ্য অনুবাদ করে দিয়েছেন।
পরিশেষে, আমি আল-ইরশাদ ছাপাখানার ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ও কর্মীদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি, এই গ্রন্থটি প্রকাশের ক্ষেত্রে তাদের শ্রমের জন্য।
আর মহান আল্লাহর কাছেই প্রার্থনা, তিনি যেন আমাদের হাত ধরে সেই পথে পরিচালিত করেন যা তিনি পছন্দ করেন এবং যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন; নিশ্চয়ই তিনি উত্তম অভিভাবক এবং শ্রেষ্ঠ সাহায্যকারী।
বাগদাদ: জুমাদাল আখিরাহ ১৩৮৭ হিজরি
সেপ্টেম্বর ১৯৬৭ খ্রিস্টাব্দ।
লেখক: ড. আকরাম আল-উমারি
(খণ্ড: ১)
বুহূছুন ফী তারীখিস সুন্নাতিল মুশাররাফাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
الوضع في الحديث:
تمهيد:الحديث هو ما أثر عن النبي صلى الله عليه وسلم من قول أو فعل أو تقرير أو صفة خلقية أو خلقية أو سيرة سواء كان قبل البعثة أو بعدها1.
وقد اهتم الصحابة والتابعون ومن تلاهم من العلماء بحفظ أحاديث النبي صلى الله عليه وسلم وتناقلها جيلًا بعد جيل لما لها من أثر بالغ في الدين2، فتفاصيل حياة النبي صلى الله عليه وسلم وملامح شخصيته وشمائله وسيرته ذات أهمية كبيرة في حياة المسلمين العملية؛ لأنهم مأمورون بالاقتداء به في حياتهم الخاصة والعامة: {لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَة} 3 كما أنهم مأمورون بطاعة النبي صلى الله عليه وسلم: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} 4.
والحديث يعتبر المصدر الثاني للتشريع الإسلامي بعد القرآن5، فهو يبين
--------------------------------------------
হাদিস জালকরণ (الوضع):
ভূমিকা:নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত কথা, কাজ, অনুমোদন (تقرير), শারীরিক বা চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য অথবা জীবনচরিতকে হাদিস বলা হয়, তা নবুয়ত প্রাপ্তির পূর্বের হোক কিংবা পরের১।
সাহাবীগণ, তাবেয়ীগণ এবং তাঁদের পরবর্তী আলেমগণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদিসসমূহ সংরক্ষণ এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে তা পৌঁছে দেওয়ার ব্যাপারে অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছেন; কেননা দ্বীনের ক্ষেত্রে এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব রয়েছে২। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জীবনের বিস্তারিত বিবরণ, তাঁর ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্যসমূহ, শামায়েল ও সিরাত মুসলমানদের বাস্তব জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; কারণ তাঁরা তাঁদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে তাঁর অনুসরণ করতে আদিষ্ট: {তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ} ৩। তেমনিভাবে তাঁরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আনুগত্য করতেও আদিষ্ট: {রাসূল তোমাদের যা দেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো} ৪।
হাদিসকে কুরআনের পর ইসলামি শরিয়ত প্রণয়নের (التشريع) দ্বিতীয় উৎস হিসেবে গণ্য করা হয়৫, এটি বর্ণনা করে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
বুহূছুন ফী তারীখিস সুন্নাতিল মুশাররাফাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
القرآن ويفصل الأحكام المجملة التي وردت فيه، ويقيد المطلق، ويخصص العام، ويقرر أحكامًا لم ينص عليها الكتاب. ولا يمكن أن يتكامل تصور الإسلام وفهمه بدون الحديث.
ولهذه الأهمية البالغة للحديث عني المسلمون بحفظه وفهمه في حياة النبي صلى الله عليه وسلم وبعد وفاته واستمر هذا الاهتمام بالحديث في الأجيال التالية.
وقد تعرض الحديث إلى محاولات قوية للتلاعب فيه والدس عليه، فقد سعى البعض إلى استغلاله لمآربهم السياسية أو المذهبية أو الشخصية، فظهرت حركة الوضع في الحديث التي هددت هذا الأصل الكبير من أصول الإسلام بالتحريف، ولكن العلماء بذلوا جهودًا جبارة في تمحيص الحديث ونقده، وتمييز الصحيح من الموضوع، وقد نجحوا في مهمتهم هذه إلى حد كبير.
وقد أدت حركة الوضع التي كادت أن تهدم السنة إلى نتاج إيجابية أثرت في إشادة صرح السنة وبناء علوم الحديث، فقد دفعت العلماء لاتخاذ ما يلزم لحفظ الحديث وتنقيته ومنع التلاعب فيه فنشطوا في تدوينه بنطاق واسع في فترة مبكرة منذ أواخر القرن الأول وخلال القرن الثاني الهجري، وخلال الجهود التي بذلت في فترة التدوين لتمييز الأحاديث ظهرت قواعد نقد الحديث ثم تبلورت هذه القواعد على مر الزمن حيث ظهرت بشكل منسق ودقيق في كتب مصطلح الحديث، كما تجمعت الملاحظات المنوعة عن رواة الحديث في كتب الرجال.
--------------------------------------------
আল-কুরআন এবং এটি তাতে বর্ণিত সংক্ষিপ্ত (مجملة) বিধানসমূহের ব্যাখ্যা প্রদান করে, শর্তহীন (مطلق) বিষয়কে শর্তযুক্ত (مقيد) করে, সাধারণ (عام) বিষয়কে বিশেষায়িত (خاص) করে এবং এমন সব বিধান নির্ধারণ করে যা কিতাবে (কুরআনে) স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়নি। হাদিস ব্যতিরেকে ইসলামের পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা ও উপলব্ধি সম্ভব নয়।
হাদিসের এই অপরিসীম গুরুত্বের কারণে মুসলমানগণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবদ্দশায় এবং তাঁর ইন্তেকালের পর এটি সংরক্ষণ ও অনুধাবনের ব্যাপারে যত্নবান ছিলেন এবং পরবর্তী প্রজন্মগুলোতেও হাদিসের প্রতি এই আগ্রহ অব্যাহত থাকে।
হাদিস বিকৃতি ও এতে মিথ্যা অনুপ্রবেশ করানোর প্রবল প্রচেষ্টার সম্মুখীন হয়েছিল। কেউ কেউ এটিকে তাদের রাজনৈতিক, মাযহাবী বা ব্যক্তিগত হীন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার চেষ্টা করেছিল, ফলে হাদিসে জালকরণের (الوضع) আন্দোলনের উদ্ভব ঘটে যা ইসলামের অন্যতম এই মহান মূলনীতিকে বিকৃতির হুমকির মুখে ফেলে দেয়। কিন্তু উলামায়ে কেরাম হাদিস যাচাই-বাছাই ও সমালোচনার (نقد) ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রচেষ্টা চালিয়েছেন এবং সঠিক (صحيح) হাদিসকে জাল (موضوع) থেকে পৃথক করেছেন। তারা এই মিশনে বহুলাংশে সফল হয়েছেন।
জালকরণের (الوضع) সেই আন্দোলন যা সুন্নাহকে ধ্বংসের উপক্রম করেছিল, তার ফলে কিছু ইতিবাচক ফলাফল অর্জিত হয় যা সুন্নাহর ভিত্তি সুদৃঢ় করতে এবং হাদিস বিজ্ঞানের (علوم الحديث) ভিত্তি নির্মাণে প্রভাব ফেলে। এটি পণ্ডিতদের হাদিস সংরক্ষণ, বিশুদ্ধকরণ এবং এতে কারচুপি রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে উদ্বুদ্ধ করে। ফলে তারা প্রথম হিজরি শতাব্দীর শেষভাগ এবং দ্বিতীয় শতাব্দী জুড়ে ব্যাপক পরিসরে হাদিস সংকলনের কাজে সক্রিয় হন। সংকলন যুগে হাদিসসমূহ পৃথক করার প্রচেষ্টার মাধ্যমেই হাদিস সমালোচনার (نقد) নিয়মাবলী প্রকাশ পায়। পরবর্তীতে এই নিয়মগুলো সময়ের ব্যবধানে আরও সুসংগঠিত রূপ লাভ করে এবং হাদিসের পরিভাষা (مصطلح الحديث) সংক্রান্ত গ্রন্থগুলোতে সুবিন্যস্ত ও নিখুঁতভাবে উপস্থাপিত হয়। তেমনিভাবে বর্ণনাকারীদের (رواة) সম্পর্কে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ বর্ণনাকারী মূল্যায়ন (الرجال) বিষয়ক গ্রন্থগুলোতে সংগৃহীত হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
বুহূছুন ফী তারীখিস সুন্নাতিল মুশাররাফাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
ولخطورة حركة الوضع وأثرها في تطور دراسات الحديث وتبلور علومه ومنها علم الرجال فإن تناولها سيكون بشيء من التفصيل.
হাদিস জালকরণ (الوضع) আন্দোলনের ভয়াবহতা এবং হাদিস গবেষণার বিবর্তন ও এর শাস্ত্রসমূহের—যার অন্যতম হলো বর্ণনাকারী মূল্যায়ন বিদ্যা (علم الرجال)—বিকাশে এর প্রভাবের কারণে, এই বিষয়টি কিছুটা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হবে।
(খণ্ড: ১)
বুহূছুন ফী তারীখিস সুন্নাতিল মুশাররাফাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
بدء الوضع:الحديث الموضوع هو المختلق المصنوع، واعتبره المحدثون شر الأحاديث الضعيفة1، أما الوضاعون فهم الذين تعمدوا الكذب لا لأنهم أخطئوا ولا لأنهم رووا عن كذاب2، ولم يقع الوضع في حياة النبي صلى الله عليه وسلم إذا لم يصح في ذلك شيء، وقد غلب على ظن أحمد أمين أن حديث: "من كذب عليَّ متعمدًا فليتبوأ مقعده من النار" 3 إنما قيل في حادثة زور فيها على الرسول4، ولكن ما ذهب إليه لا سند له في روايات التاريخ ولا في سياق الحديث، فالنبي صلى الله عليه وسلم إنما قال ذلك حين أمر أصحابه بالتبليغ عنه، وفيه دلالة على أن النبي صلى الله عليه وسلم توقع ما سيكون من كذب عليه فحذر من ذلك، ونهى أصحابه إلى أخذ الحيطة والتيقظ في قبول الأحاديث، ولم يصح دليل على أنه قاله في حادثة تزوير معينة5.
ولا شك أن تعلق الصحابة بالإسلام وما بذلوه من تضحيات جسام في النفس والمال والأولاد يقطع بإخلاصهم ونزاهتهم وصدقهم وعدالتهم، قال البراء: "ما كل ما نحدثكم عن رسول الله صلى الله عليه وسلم سمعناه منه، منه ما سمعناه منه، ومنه ما حدثنا أصحابنا ونحن لا نكذب"6. "وذكر أنس حديثا فقال له رجل: أنت سمعت عن رسول الله صلى الله عليه وسلم؟ قال: نعم أو حدثني من لا يكذب، والله
--------------------------------------------
জালকরণের (الوضع) সূচনা:জাল হাদিস (الموضوع) হলো বানোয়াট (المختلق) ও কৃত্রিম (المصنوع) কথা; হাদিস বিশারদগণ (المحدثون) একে দুর্বল (الضعيفة) হাদিসসমূহের মধ্যে নিকৃষ্টতম গণ্য করেছেন।১ আর হাদিস জালকারীগণ (الوضاعون) হলেন তারা, যারা ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছেন; তারা ভুলবশত কিংবা কোনো চরম মিথ্যাবাদীর (كذاب) পক্ষ থেকে বর্ণনা করার কারণে এমনটি করেননি।২ নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবদ্দশায় হাদিস জালকরণের (الوضع) কোনো ঘটনা ঘটেনি, যেহেতু এ বিষয়ে বিশুদ্ধ (يصح) কোনো কিছু প্রমাণিত হয়নি। আহমদ আমীন ধারণা করেছেন যে, "যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার প্রতি মিথ্যারোপ করবে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়" ৩ হাদিসটি মূলত রাসুলের প্রতি কোনো জালিয়াতির ঘটনার প্রেক্ষিতে বলা হয়েছিল।৪ কিন্তু তার এই অভিমতের স্বপক্ষে ঐতিহাসিক বর্ণনাসমূহ বা হাদিসের প্রেক্ষাপটে কোনো ভিত্তি বা সনদ (سند) নেই। মূলত নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটি তখন বলেছিলেন যখন তিনি তাঁর সাহাবিদের তাঁর পক্ষ থেকে প্রচারের নির্দেশ দিয়েছিলেন। এতে ইঙ্গিত রয়েছে যে, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নামে ভবিষ্যতে হতে যাওয়া মিথ্যাচারের আশঙ্কা করেছিলেন, তাই তিনি এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন এবং তাঁর সাহাবিদের হাদিস গ্রহণের ক্ষেত্রে সতর্কতা ও সচেতনতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছেন। কোনো নির্দিষ্ট জালিয়াতির ঘটনার প্রেক্ষিতে তিনি এটি বলেছিলেন বলে কোনো প্রমাণ বিশুদ্ধ (يصح) হিসেবে সাব্যস্ত হয়নি।৫
নিঃসন্দেহে ইসলামের সাথে সাহাবিদের সংশ্লিষ্টতা এবং জান-মাল ও সন্তানের যে বিশাল ত্যাগ তারা স্বীকার করেছেন, তা তাদের একনিষ্ঠতা, পবিত্রতা, সত্যবাদিতা ও ন্যায়পরায়ণতাকে (عدالة) নিশ্চিত করে। বারা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: "আমরা আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে যা বর্ণনা করি তার সবই যে সরাসরি তাঁর থেকে শুনেছি তা নয়; কিছু তাঁর থেকে সরাসরি শুনেছি, আর কিছু আমাদের সাথিরা (সাহাবিরা) আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আর আমরা মিথ্যা বলি না।"৬ আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু একটি হাদিস উল্লেখ করলে এক ব্যক্তি তাঁকে জিজ্ঞাসা করল: "আপনি কি এটি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ, অথবা আমাকে এমন ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন যিনি মিথ্যা বলেন না, আল্লাহর কসম..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
বুহূছুন ফী তারীখিস সুন্নাতিল মুশাররাফাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
ما كنا نكذب ولا ندري ما الكذب"1، وكان أنس يغضب إذا سئل عن حديث أسمعه من النبي صلى الله عليه وسلم ويقول: ما كان بعضنا يكذب على بعض2. وقال ابن عباس "إنا كنا نحدث عن رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا لم يكن يكذب عليه، فلما ركب الناس الصعب والذلول تركنا الحديث عنه"3.
وكذلك لا توجد أدلة على وقوع الوضع في خلافة أبي بكر وعمر، ولا شك أن كثرة الصحابة الكبار ووحدة الأمة في هذه الفترة المبكرة منعت ظهور الوضع في الحديث.
ومع أن حركة الردة تهيئ ظرفًا مناسبًا للوضع، إلا أنه لم يصل إلينا دليل على أحاديث وضعت وشاعت في تلك الفترة، وعلى أية حال فليس المقصود ما وضع في الأوساط غير المسلمة بل الوضع بين المسلمين، فعلى فرض قيام البعض من المرتدين بوضع الحديث فإن انعدام إمكانية شيوعها بين المسلمين يمنع أثرها، ولم يكن أمام حركة الردة زمن طويل لكي تعمق الانقسام بلى سرعان ما قضى عليها أبو بكر الصديق رضي الله عنه فعادت وحدة الأمة متماسكة قوية.
--------------------------------------------
"আমরা মিথ্যা বলতাম না এবং মিথ্যা কী তা আমরা জানতামও না।"১ আর আনাস (রা.) রাগান্বিত হতেন যখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হতো যে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সরাসরি হাদিস শুনেছেন কি না, এবং তিনি বলতেন: "আমাদের কেউ একে অপরের ওপর মিথ্যা আরোপ করত না।"২ আর ইবনে আব্বাস (রা.) বলেছেন, "আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে ততক্ষণ হাদিস বর্ণনা করতাম যতক্ষণ তাঁর ওপর মিথ্যা আরোপ করা হতো না। কিন্তু মানুষ যখন বাছবিচারহীন হয়ে সব পথে (ভালো-মন্দ) চলতে শুরু করল, তখন আমরা তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করা ছেড়ে দিলাম (বা সতর্ক হলাম)।"৩
অনুরূপভাবে, আবু বকর ও উমর (রা.)-এর খিলাফতকালে জালকরণ (الوضع) সংঘটিত হওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না। নিঃসন্দেহে এই প্রাথমিক যুগে প্রবীণ সাহাবীদের বিপুল উপস্থিতি এবং উম্মাহর ঐক্য হাদিসে জালকরণ (الوضع)-এর উদ্ভবকে প্রতিহত করেছিল।
যদিও রিদদাহ আন্দোলন জালকরণ (الوضع)-এর জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছিল, তথাপি উক্ত সময়ে হাদিস জাল করা হয়েছে এবং তা ছড়িয়ে পড়েছে এমন কোনো প্রমাণ আমাদের কাছে পৌঁছেনি। যাই হোক, অমুসলিমদের মাঝে যা জাল করা হয়েছে তা এখানে উদ্দেশ্য নয়, বরং মুসলিমদের মধ্যে জালকরণ (الوضع)-ই মূল আলোচনার বিষয়। সুতরাং তর্কের খাতিরে যদি ধরেও নেওয়া হয় যে কিছু ধর্মত্যাগী হাদিস জাল করেছিল, তবুও মুসলিমদের মাঝে তা ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ না থাকায় এর কোনো প্রভাব পড়েনি। আর রিদদাহ আন্দোলনের হাতে বিভক্তি গভীর করার মতো দীর্ঘ সময়ও ছিল না; বরং আবু বকর সিদ্দিক (রা.) দ্রুতই একে নির্মূল করেন, ফলে উম্মাহর ঐক্য পুনরায় সুসংহত ও শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
বুহূছুন ফী তারীখিস সুন্নাতিল মুশাররাফাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
أثر الخلافات السياسية في الوضع:وقد حدث في النصف الثاني من خلافة عثمان رضي الله عنه اختلاف وشقاق كبير، إذ نقم البعض على عثمان فاشتعلت الفتنة وأسفرت عن مقتل عثمان، ولكن ما أحدثته من تصدع في المجتمع الإسلامي ظل أثره باقيًا، فقد ولدت الأحقاد وأزالت الصفاء من نفوس الكثيرين، ومع ذلك فنحن لا نجد في خلافة عثمان روايات تشير إلى الوضع في الحديث، وأما ما حكاه أبو ثور الفهمي قال:
জালকরণ (الوضع)-এর ওপর রাজনৈতিক মতভেদের প্রভাব:উসমান (রা.)-এর খিলাফতের দ্বিতীয়ার্ধে এক বিশাল মতভেদ ও বিভেদ দেখা দিয়েছিল; কেননা কিছু লোক উসমান (রা.)-এর প্রতি অসন্তুষ্ট হয়েছিল, ফলে ফিতনা প্রজ্বলিত হয় এবং এর পরিণতিতে উসমান (রা.) নিহত হন। তবে এটি মুসলিম সমাজে যে ফাটল সৃষ্টি করেছিল, তার প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হয়েছিল; এটি বিদ্বেষের জন্ম দিয়েছিল এবং অনেকের অন্তর থেকে নির্মলতা দূর করে দিয়েছিল। তা সত্ত্বেও উসমান (রা.)-এর খিলাফতকালে আমরা এমন কোনো বর্ণনা (روايات) খুঁজে পাই না যা হাদিস জালকরণ (الوضع)-এর প্রতি ইঙ্গিত করে। আর আবু সাওর আল-ফাহমি যা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১)
বুহূছুন ফী তারীখিস সুন্নাতিল মুশাররাফাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
قدمت على عثمان فصعد ابن عديس1 المنبر وقال ألا إن عبد الله بن مسعود حدثني أنه سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: ألا إن عثمان أضل من عبيدة على بعلها2، فأخبرت عثمان، فقال: كذب والله ابن عديس ما سمعها من ابن مسعود ولا سمعها ابن مسعود من رسول الله صلى الله عليه وسلم قط3. فإن هذه الرواية لا تصح من جهة الإسناد ففيه انقطاع وهو من طريق ابن لهيعة وهو مفرط في التشيع والرواية في مثالب عثمان رضي الله عنه، مما يوافق هواه، ولا تقبل منه، وبذلك يتبين أن الوضع في الحديث ازداد بعد ذلك على أثر الفتن السياسية التي وقعت بين المسلمين كموقعة الجمل وصفين والنهروان حيث كانت هذه الأحداث مبعث نشوء الأحزاب السياسية كالشيعة والخوارج، ولما لم تسعفها نصوص القرآن والحديث دائمًا لجأ بعض منتحليها إلى الكذب، ولما لم يجدوا مجالا للتلاعب بكتاب الله المحفوظ في الصدور فضلًا عن أن تدوينه وجمعه تم قبل الفتنة، لذلك لجئوا إلى الوضع في الحديث الذي تأخر جمعه عن القرآن ونجد اختلافًا بين علماء القرن الأول حول تدوينه فمنهم من كان لا يرى كتابه.
--------------------------------------------
আমি উসমানের নিকট উপস্থিত হলাম। তখন ইবনে উদাইস১ মিম্বরে আরোহণ করলেন এবং বললেন: জেনে রেখো, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ আমাকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছেন: সাবধান! উসমান তার স্বামীর প্রতি উবাইদাহর চেয়েও বেশি পথভ্রষ্ট।২ অতঃপর আমি উসমানকে সংবাদটি জানালাম। তিনি বললেন: আল্লাহর কসম, ইবনে উদাইস মিথ্যা বলেছে; সে ইবনে মাসউদের থেকে এটি শোনেনি এবং ইবনে মাসউদও কখনও আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এটি শোনেননি।৩ এই বর্ণনাটি সনদ (إسناد)-এর দিক থেকে বিশুদ্ধ নয় (لا تصح), কারণ এতে বিচ্ছিন্নতা (انقطاع) রয়েছে। এটি ইবনে লাহিয়া-র সূত্রে বর্ণিত, যিনি চরমপন্থী শিয়া মতাবলম্বী ছিলেন। বর্ণনাটি উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিন্দাসূচক যা বর্ণনাকারীর প্রবৃত্তির অনুকূল, তাই তার থেকে এটি গ্রহণ করা হবে না। এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয় যে, মুসলমানদের মধ্যে সংঘটিত রাজনৈতিক ফিতনাসমূহ—যেমন উটের যুদ্ধ (জামাল), সিফফিন ও নাহরাওয়ানের যুদ্ধের ফলে হাদিসে মিথ্যা আরোপ বা জালকরণ (الوضع)-এর প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। কেননা এই ঘটনাগুলোই শিয়া ও খারিজিদের মতো রাজনৈতিক দলগুলোর উৎপত্তির কারণ ছিল। যখন কুরআন ও হাদিসের ভাষ্য সবসময় তাদের অনুকূলে থাকত না, তখন এই দলগুলোর অন্তর্ভুক্ত কিছু স্বার্থান্বেষী মিথ্যাচারের আশ্রয় নিত। যেহেতু তারা অন্তরে সংরক্ষিত আল্লাহর কিতাব নিয়ে কারসাজি করার কোনো সুযোগ পায়নি—বিশেষ করে এর সংকলন ও একত্রিত করার কাজ ফিতনার পূর্বেই সম্পন্ন হয়েছিল—তাই তারা হাদিসের মধ্যে মিথ্যা আরোপ বা জালকরণ (الوضع)-এর পথ বেছে নেয়, যার সংকলন কুরআনের চেয়ে দেরিতে হয়েছিল। আমরা প্রথম শতাব্দীর আলেমদের মধ্যে হাদিস লিপিবদ্ধ করার বিষয়ে মতভেদ দেখতে পাই; তাদের মধ্যে কেউ কেউ এটি লিখে রাখার পক্ষে ছিলেন না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
বুহূছুন ফী তারীখিস সুন্নাতিল মুশাররাফাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الحديث بل يقتصر على حفظه ومذكراته شفاهًا ومنهم من كان يكتب الحديث1 ولكن ما دوِّن من الحديث حتى نهاية خلافة الراشدين كان أقل بكثير مما لم يدون، فكانت هذه ثغرة نفذ منها أهل الأهواء إلى تحقيق أغراضهم. ومع تبلور هذه الفرق نمت كمية الأحاديث الموضوعة التي بلغت مداها في القرنين الثاني والثالث الهجريين كما تدل على ذلك أسماء الوضاعين التي أوردتها كتب الموضوعات وكتب الضعفاء. لقد وضع بعض الشيعة أحاديث في فضل علي والطعن في معاوية2 كما وضع بعض خصومهم أحاديث في فضائل أبي بكر وعمر وعثمان ومعاوية ردًّا على من ينتقص منهم3، وعندما كثر سب الصحابة وضعت أحاديث في فضل الصحابة جميعًا أو في فضل جمع منهم4، وهذه الأحاديث تعكس الصراع الفكري والسياسي بين الأحزاب المختلفة، وكثير منها وضع في القرن الثاني والثالث الهجريين لكنها تتناول في الغالب مواضيع تتصل بأحداث النصف الأول من القرن الأول الهجري5، وكانت المناقشات المتأخرة بين الفرق والأحزاب المتصارعة هي السبب في لجوء بعضها إلى الوضع في الحديث، وكانت مسألة الخلافة المحور الذي تدور حوله كثير من الموضوعات6 وكما وضع بعض الشيعة وبعض خصومهم أحاديث لتأييد آرائهم، فقد وضعت أحاديث أيضًا لصالح العباسيين وبعضها أريد منه إلقاء اليأس في قلوب
--------------------------------------------
হাদিস সংরক্ষণের ক্ষেত্রে তারা কেবল মুখস্থ এবং মৌখিক আলোচনার ওপর সীমাবদ্ধ থাকতেন, আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ হাদিস লিখেও রাখতেন। তবে খুলাফায়ে রাশিদিনের খিলাফতের শেষ সময় পর্যন্ত হাদিসের যা কিছু সংকলিত হয়েছিল, তা অসংকলিত অংশের তুলনায় অনেক কম ছিল। আর এটিই ছিল একটি ছিদ্রপথ, যা প্রবৃত্তি পূজারীরা তাদের হীন উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য ব্যবহার করেছিল। এই দলগুলোর আত্মপ্রকাশের সাথে সাথে জাল (الموضوعة) হাদিসের পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে থাকে, যা দ্বিতীয় ও তৃতীয় হিজরি শতাব্দীতে চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছেছিল। যেমনটি জাল হাদিস বিষয়ক গ্রন্থসমূহ এবং দুর্বল বর্ণনাকারীদের (الضعفاء) জীবনী বিষয়ক গ্রন্থসমূহে উল্লিখিত জালকারীদের (الوضاعين) নামসমূহ থেকে প্রমাণিত হয়। শিয়াদের কেউ কেউ আলীর ফযিলত এবং মুয়াবিয়ার কুৎসা রটনা করে হাদিস জাল করেছিল। তেমনিভাবে তাদের বিরোধীদের কেউ কেউ আবু বকর, উমর, উসমান ও মুয়াবিয়ার ফযিলত সম্পর্কে হাদিস জাল করেছিল তাদের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়ার জন্য যারা তাঁদের মানহানি করত। যখন সাহাবায়ে কিরামকে গালি দেওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পেল, তখন সকল সাহাবীর ফযিলত কিংবা তাঁদের একটি বড় দলের শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে হাদিস জাল করা হয়েছিল। এই হাদিসগুলো বিভিন্ন দলের মধ্যকার বুদ্ধিবৃত্তিক ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের প্রতিফলন ঘটায়। এগুলোর অনেকগুলোই দ্বিতীয় ও তৃতীয় হিজরি শতাব্দীতে জাল করা হয়েছিল, তবে এগুলোর অধিকাংশ বিষয়বস্তুই প্রথম হিজরি শতাব্দীর প্রথমার্ধের ঘটনাপ্রবাহের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিল। বিবদমান দল ও উপদলগুলোর মধ্যকার পরবর্তীকালীন বিতর্কগুলোই ছিল কোনো কোনো দলের পক্ষ থেকে হাদিস জালকরণের (الوضع) আশ্রয় নেওয়ার মূল কারণ। খিলাফতের বিষয়টিই ছিল অনেক জাল বর্ণনার (الموضوعات) মূল কেন্দ্রবিন্দু। যেভাবে শিয়া ও তাদের বিরোধীরা নিজেদের মতাদর্শ সমর্থনের জন্য হাদিস জাল করেছিল, তেমনিভাবে আব্বাসীয়দের স্বার্থেও হাদিস জাল করা হয়েছিল; যার কোনো কোনোটির উদ্দেশ্য ছিল মানুষের হৃদয়ে হতাশা সঞ্চার করা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
বুহূছুন ফী তারীখিস সুন্নাতিল মুশাররাফাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
العلويين وإقعادهم عن المطالبة بالخلافة1، وقد أكثر بعض الشيعة من وضع الحديث ولذلك حذر منهم بعض العلماء مثل أبي حنيفة2 وعبد الله بن المبارك3 ومالك4 وشريك بن عبد الله5 ويزيد بن هارون6 والشافعي7.
لقد كان العراق وخاصة الكوفة ميدانًا لوضع الحديث وتناقل الموضوعات، فقد حملت الكوفة العبء الأكبر في الحرب مع أهل الشام عندما اتخذها الإمام "علي" عاصمة، وقد ظلت بعده مركز المعارضة للحكم الأموي، فكان وضعها ملائمًا لظهور عناصر طموحة سعت إلى استغلال الظروف للوثوب إلى السلطة.
وفي هذا المجتمع المشحون بالأحقاد السياسية نمت الأحاديث الموضوعة لدعم وجهة نظر المعارضة ولانتقاص الأمويين والنيل منهم، فهذا المختار الثقفي يقول لرجل من الأنصار ضع لي حديث عن النبي صلى الله عليه وسلم أني كائن بعده خليفة، وطالب له ثأر ولده، وهذه عشرة آلاف درهم وخلعة ومركوب وخادم! وقد رفض الأنصاري أن يضع حديثًا عن النبي، وأراد أن يضعه عن أحد الصحابة بأجر أقل8، وقد وجد بعض المشعوذين مجالًا خصبًا في هذه البيئة للتصدر في حلقات العلم فيذكر عاصم الأحول "ت 142هـ" أنه شهد مجلسًا يتصدره أعجمي لا يحسن نطق العربية، ومع ذلك فهو شيخ يجلس الناس في حضرته كأن على رؤوسهم الطير9.
--------------------------------------------
আলাউয়িগণ এবং তাদের খিলাফতের দাবি থেকে বিরত রাখা ১, কতিপয় শিয়া হাদিস জাল করার (وضع الحديث) ক্ষেত্রে অতি বাড়াবাড়ি করেছিল, ফলে ইমাম আবু হানিফা ২, আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক ৩, মালিক ৪, শারিক বিন আবদুল্লাহ ৫, ইয়াজিদ বিন হারুন ৬ এবং শাফেয়ি ৭-এর মতো অনেক আলিম তাদের ব্যাপারে সতর্ক করেছেন।
ইরাক এবং বিশেষ করে কুফা ছিল হাদিস জাল করার এবং বানোয়াট (موضوعات) বর্ণনা আদান-প্রদানের চারণভূমি। যখন ইমাম "আলী" কুফাকে রাজধানী হিসেবে গ্রহণ করেন, তখন সিরিয়াবাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের মূল ভার কুফাকেই বহন করতে হয়েছিল। তাঁর পরবর্তী সময়েও এটি উমাইয়া শাসনের বিরুদ্ধে বিরোধিতার কেন্দ্র হিসেবে টিকে ছিল, ফলে উচ্চাকাঙ্ক্ষী ব্যক্তিবর্গের ক্ষমতা দখলের সুবিধার্থে পরিস্থিতি অনুকূলে ছিল।
রাজনৈতিক বিদ্বেষে পূর্ণ এই সমাজে বিরোধী মতাদর্শকে সমর্থন করতে এবং উমাইয়াদের মানহানি ও হেয় করার জন্য জাল (موضوع) হাদিসগুলো বৃদ্ধি পায়। যেমন মুখতার সাকাফি জনৈক আনসারি ব্যক্তিকে বলেছিলেন: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ থেকে আমার জন্য একটি হাদিস জাল (وضع) করুন যে, তাঁর পরে আমিই খলিফা হব এবং তাঁর সন্তানের রক্তের প্রতিশোধ গ্রহণকারী হব; বিনিময়ে এই দশ হাজার দিরহাম, একটি পোশাক, একটি বাহন ও একজন খাদেম গ্রহণ করুন!" সেই আনসারি ব্যক্তি নবীজির নামে হাদিস জাল করতে অস্বীকার করেন এবং কম পারিশ্রমিকে কোনো সাহাবির নামে তা জাল করতে চেয়েছিলেন ৮। এই পরিবেশে কতিপয় প্রতারক ইলমি মজলিসগুলোতে নেতৃত্বের জন্য অনুকূল পরিবেশ খুঁজে পেয়েছিল। আসিম আল-আহওয়াল (মৃ. ১৪২ হি.) বর্ণনা করেন যে, তিনি এমন একটি মজলিস প্রত্যক্ষ করেছিলেন যার নেতৃত্বে ছিলেন একজন অনারব ব্যক্তি যিনি আরবি ঠিকমতো উচ্চারণ করতে পারতেন না, তা সত্ত্বেও তিনি ছিলেন একজন শাইখ (شيخ), যাঁর উপস্থিতিতে মানুষ অত্যন্ত নিবিষ্ট চিত্তে বসে থাকত ৯।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
বুহূছুন ফী তারীখিস সুন্নাতিল মুশাররাফাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وبسبب تصدر هؤلاء الجهلة ظهر التلاعب بالأحكام مما يدل على قلة الورع والجرأة على الشرع وأحكامه ومحاولة التلفت من نظامه. وقد أتى ابن عباس بكتاب فيه قضاء علي فمحاه إلا قدر ذراع1، ويذكر الأعمش "ت148" أنه رأى شيخًا كوفيًّا يحرف قضاء "علي" في المطلقة ثلاثًا ويزعم أن الناس حملوه على ذلك2.
ولقد أدت كثرة الوضع للحديث في الكوفة إلى إعطاء فكرة سيئة عن العراق كمركز مهم من مراكز العلم والرواية في العالم الإسلامي آنذاك، فتدهورت سمعة العراقيين العلمية في الأمصار المختلفة منذ فترة مبكرة فقالت عائشة رضي الله عنها: "يا أهل العراق أهل الشام خير منكم خرج إليهم نفر من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم كثير فحدثونا بما نعرف، وخرج إليكم نفر قليل من أصحابه فحدثتمونا بما نعرف وبما لا نعرف"3 وقدم جماعة من أهل العراق إلى عبد الله بن عمرو بن العاص بمكة طالبين إليه أن يحدثهم فقال لهم: إن من أهل العراق قومًا يكذبون ويكذبون ويسخرون4 وقال الزهري "ت 114هـ": إذا سمعت بالحديث العراقي فأردد به ثم أردد به5.
وقد كان من نتيجة ذلك أن ضربت السلطة في دمشق العزلة العلمية عليهم فلم تستفهم فيما يستجد من أقضية وأحداث بل اعتمدت على علماء الشام والمدينة فقط يقول الأوزاعي: "كانت الخلفاء بالشام فإذا كانت الحادثة سألوا عنها علماء أهل الشام وأهل المدينة، وكانت أحاديث العراق لا تجاوز جدور بيوتهم، فمتى كان علماء أهل الشام يحملون عن خوارج أهل العراق"6 وهو يريد بالخوارج الخارجين على السنة ولعله أراد بذلك الخارجين على السلطة
--------------------------------------------
এই সব অজ্ঞ ব্যক্তিদের অগ্রভাগে আসার কারণে বিধানাবলীর (আহকাম) ক্ষেত্রে কারসাজি পরিলক্ষিত হয়, যা তাকওয়া বা পরহেজগারির স্বল্পতা, শরীয়ত ও এর বিধানাবলীর ব্যাপারে ধৃষ্টতা এবং এর নিয়ম-শৃঙ্খলা থেকে এড়িয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টাকেই নির্দেশ করে। ইবনে আব্বাস (রা.)-এর নিকট একটি কিতাব আনা হয়েছিল যাতে আলী (রা.)-এর বিচারিক ফয়সালাসমূহ ছিল। তিনি এক হাত পরিমাণ জায়গা ছাড়া বাকি সব মুছে ফেলেছিলেন।১ আমাশ (রাহ.) (মৃত: ১৪৮ হি.) উল্লেখ করেন যে, তিনি কুফার একজন বৃদ্ধ লোককে তিন তালাকপ্রাপ্তা নারীর ক্ষেত্রে আলী (রা.)-এর ফয়সালা বিকৃত করতে দেখেছেন; সেই ব্যক্তি দাবি করছিল যে, লোকেরা তাকে এটি করতে বাধ্য করেছে।২
কুফায় হাদিস জাল করার (الوضع) ব্যাপকতা তৎকালীন ইসলামি বিশ্বের ইলম ও বর্ণনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ইরাক সম্পর্কে একটি নেতিবাচক ধারণার জন্ম দিয়েছিল। ফলে প্রাথমিক যুগ থেকেই বিভিন্ন জনপদে ইরাকিদের ইলমি বা জ্ঞানগত সুখ্যাতি হ্রাস পেতে থাকে। আয়েশা (রা.) বলেছিলেন: "হে ইরাকবাসী! সিরিয়াবাসীরা তোমাদের চেয়ে উত্তম। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর অনেক সাহাবী তাদের কাছে গিয়েছিলেন, তারা আমাদের কাছে এমন বিষয় বর্ণনা করেছেন যা আমরা জানি। আর তোমাদের কাছে তাঁর অল্প কিছু সাহাবী গিয়েছিলেন, কিন্তু তোমরা আমাদের কাছে এমন সব বিষয় বর্ণনা করছ যা আমরা জানি এবং এমন কিছুও বলছ যা আমরা জানি না।"৩ ইরাকবাসীদের একটি দল মক্কায় আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.)-এর কাছে এসে তাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করার অনুরোধ করলে তিনি তাদের বলেছিলেন: "নিশ্চয়ই ইরাকবাসীদের মধ্যে এমন একদল লোক আছে যারা মিথ্যা (يكذبون) বলে, মিথ্যা ছড়ায় এবং উপহাস করে।"৪ ইমাম যুহরী (রাহ.) (মৃত: ১১৪ হি.) বলেন: "যখন তুমি কোনো ইরাকি হাদিস শুনবে, তখন তা প্রত্যাখ্যান (أردد) করবে, পুনরায় তা প্রত্যাখ্যান (أردد) করবে।"৫
এর ফলশ্রুতিতে দামেস্কের শাসকগোষ্ঠী তাদের ওপর একটি ইলমি বা জ্ঞানতাত্ত্বিক বিচ্ছিন্নতা আরোপ করে। তারা নতুন কোনো ফয়সালা বা ঘটনার উদ্ভব হলে তাদের কাছে কোনো ব্যাখ্যা চাইত না; বরং কেবল সিরিয়া ও মদীনার আলেমদের ওপরই নির্ভর করত। ইমাম আওযাঈ (রাহ.) বলেন: "খলিফাগণ সিরিয়ায় অবস্থান করতেন। যখন কোনো ঘটনা ঘটত, তখন তারা সিরিয়া ও মদীনার আলেমদের কাছে সে বিষয়ে জিজ্ঞাসা করতেন। ইরাকের হাদিসগুলো তাদের ঘরের দেয়াল অতিক্রম করত না। সিরিয়ার আলেমগণ কবেই বা ইরাকের খারেজিদের (خوارج) থেকে বর্ণনা গ্রহণ (يحملون) করেছেন?"৬ এখানে 'খারেজি' বলতে তিনি সুন্নাহ থেকে বিচ্যুতদের বুঝিয়েছেন, অথবা সম্ভবত তিনি এর দ্বারা রাষ্ট্রক্ষমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহকারীদের উদ্দেশ্য করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
বুহূছুন ফী তারীখিস সুন্নাতিল মুশাররাফাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
في دمشق ويمكن أيضًا أنه أراد فرقة الخوارج المعروفة. ولكن ينبغي ألا يبالغ في أثر هذه العزلة، فليست السلطة الأموية هي المسئولة عن إساءة سمعة العراقيين العلمية بل لعل إهمالها إياهم وعدم استفتائهم في الأحداث يعود إلى ضعف الثقة بهم أكثر مما يعود إلى أمور السياسة، وما كان بوسع السلطة أن تمنع أحدًا من الاتصال بالعراقيين والأخذ عنهم، ثم إن ضعف الثقة بروايات العراق استمر فيما بعد حتى صرح علماء أعلام بأنهم كانوا يرومون الاستغناء عن مرويات العراقيين فهذا عبد الله بن المبارك "ت180هـ" يقول: "ما دخلت الشام إلا لأستغني عن حديث أهل الكوفة"1.
وهذا مالك بن أنس فقيه المدينة العظيم لم يرو عن أحد من الكوفييين سوى عبد الله بن إدريس الذي كان على مذهبه، وكان يقول في ذلك كما لم يرو أولونا عن أوليهم كذلك لا يروي آخرونا عن آخريهم2 وكلام مالك صريح في أن عدم رواية العلماء عن الكوفيين ليست ظاهرة برزت في جيله بل أن جيله كان يتابع الأقدمين في عدم الأخذ عنهم.
وقد حذر مالك كما حذر علماء بلدان أخرى من الأحاديث التي مصدرها العراق حتى رأى مالك إنزالها منزلة أحاديث أهل الكتاب أي لا تصدق ولا تكذب3. وقد ذكر له عبد الرحمن بن مهدي أن ما سمعه من الحديث بالمدينة خلال أربعين يومًا يسمعه في يوم واحد بالعراق فكان جواب مالك: من أين لنا دار الضرب التي عندكم؟ تضربون بالليل وتنفقون بالنهار4 وهكذا عزا مالك كثرة الأحاديث التي يتداولها العراقيون إلى الوضع في الحديث في حين يتشدد أهل المدينة في قبول الحديث وروايته فلا يسلم منه إلا القليل وهذا التدقيق في الحديث هو الذي أكسب علم المدينة ثقة علماء المدن الإسلامية
--------------------------------------------
দামেস্কে এবং এমনটিও হতে পারে যে তিনি সুপরিচিত খারেজি (الخوارج) দলকে বুঝিয়েছেন। তবে এই বিচ্ছিন্নতার প্রভাবকে অতিরঞ্জিত করা উচিত নয়; ইরাকিদের ইলমি ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়ার পেছনে কেবল উমাইয়া শাসনকর্তৃপক্ষ দায়ী ছিল না, বরং বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহে তাদের অবহেলা করা ও তাদের ফতোয়া গ্রহণ না করা সম্ভবত রাজনীতির চেয়ে তাদের ওপর আস্থার অভাবের (ضعف الثقة) কারণেই বেশি ছিল। ইরাকিদের সাথে যোগাযোগ করতে এবং তাদের থেকে জ্ঞান গ্রহণ করতে কাউকে বাধা দেওয়ার ক্ষমতা কর্তৃপক্ষের ছিল না। তাছাড়া ইরাকি বর্ণনার (روايات) ওপর আস্থার অভাব পরবর্তীকালেও বজায় ছিল, এমনকি প্রখ্যাত আলেমগণ স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন যে তারা ইরাকিদের বর্ণনাসমূহ (مرويات) ছাড়াই চলতে চেয়েছিলেন। যেমন আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক (মৃত্যু ১৮০ হিজরি) বলেন: "আমি সিরিয়ায় কেবল কুফাবাসীদের হাদিস থেকে অমুখাপেক্ষী হওয়ার জন্যই এসেছি।"১।
মদিনার মহান ফকিহ (فقيه) মালিক ইবনে আনাসও আবদুল্লাহ ইবনে ইদ্রিস ব্যতীত অন্য কোনো কুফাবাসীর থেকে বর্ণনা (يرو) করেননি, যিনি তাঁর মাযহাবের (مذهب) অনুসারী ছিলেন। তিনি এ বিষয়ে বলতেন, "যেভাবে আমাদের পূর্বসূরিরা তাদের পূর্বসূরিদের থেকে বর্ণনা করেননি, তেমনি আমাদের উত্তরসূরিরাও তাদের উত্তরসূরিদের থেকে বর্ণনা করবেন না।"২ ইমাম মালিকের এই বক্তব্য স্পষ্ট যে, কুফাবাসীদের থেকে আলেমদের বর্ণনা (رواية) না করা কেবল তাঁর প্রজন্মের কোনো নতুন প্রপঞ্চ ছিল না, বরং তাঁর প্রজন্ম তাদের থেকে জ্ঞান গ্রহণ না করার ক্ষেত্রে পূর্ববর্তীদেরই অনুসরণ করছিল।
অন্যান্য অঞ্চলের আলেমদের মতো মালিকও ইরাক থেকে আগত হাদিসগুলো সম্পর্কে সতর্ক করেছেন, এমনকি তিনি সেগুলোকে আহলে কিতাবের (أهل الكتاب) হাদিসের মর্যাদায় গণ্য করতেন—অর্থাৎ সেগুলোকে সত্য বলেও গণ্য করা হবে না, আবার মিথ্যা বলেও নয়।৩ আবদুর রহমান ইবনে মাহদি তাঁকে উল্লেখ করেছিলেন যে, মদিনায় চল্লিশ দিনে যে পরিমাণ হাদিস তিনি শোনেন, ইরাকে তা একদিনেই শোনা যায়। তদুত্তরে ইমাম মালিক বলেন: "আপনাদের মতো আমাদের টাঁকশাল কোথায়? আপনারা রাতে মুদ্রা তৈরি করেন এবং দিনে তা খরচ করেন।"৪ এভাবেই ইমাম মালিক ইরাকিদের মধ্যে প্রচলিত হাদিসের আধিক্যকে হাদিস জালকরণের (الوضع) সাথে সম্পৃক্ত করেছেন, যেখানে মদিনাবাসীরা হাদিস গ্রহণ ও বর্ণনার (رواية) ক্ষেত্রে অত্যন্ত কঠোর ছিলেন, ফলে খুব অল্প সংখ্যকই তা থেকে উত্তীর্ণ হতো। আর হাদিসের ক্ষেত্রে এই সূক্ষ্ম যাচাই-বাছাই মদিনার ইলমকে অন্যান্য ইসলামী শহরের আলেমদের নিকট বিশ্বস্ত করে তুলেছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
বুহূছুন ফী তারীখিস সুন্নাতিল মুশাররাফাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
المختلفة وهو الذي جعل السلطة في دمشق تعتمد على فتاويهم وتسألهم عما يستجد لها من أحداث، في حين شوه كثرة الوضع سمعة العراق ليس في المدينة فقط وإنما في المراكز العلمية الأخرى أيضًا فهذا سفيان ابن عيينة إمام أهل مكة يقول: "من أراد شيئًا لا يعرف حقه من باطله فعليه بأهل العراق"1 وهو يعني اختلاط الصحيح بالموضوع بشكل يصعب تمييزه على طالب العلم، ولكن أساتيذ العلم يحسنون تنقية الحديث فيستلون الصحيح من بين الموضوعات بحنكة وحذق، نعم لقد كان رواج الموضوعات في العراق بنطاق واسع لا تلاه في مكان آخر، وكان للدور السياسي الذي لعبه العراق أثر كبير في ذلك ففيه حدث أعمق تصدع في بناء المجتمع الإسلامي حيث انقسم المسلمون في أعقاب صفين إلى جمهور وخوارج وشيعة، وعلى أرضه كانت أحداث الفتن الدامية والثورات اللاهبة التي اتصلت طيلة الحكم الأموي، فكانت بواعث الوضع قوية لخدمة الواقع السياسي، كما شاركت عوامل الوضع الأخرى التي سيأتي الكلام عنها في إنماء كمية الأحاديث الموضوعة في العراق؟ ولكن هل فقدت الثقة بعلم العراق نهائيًّا؟ هل استغنى العلماء حقًّا عن العراق وهو مركز مهم من مراكز العلم في الدولة الإسلامية؟ وهل يكفي حدوث الوضع في العراق إلى ضرب العزلة العلمية عليه وعدم الأخذ عنه؟
لقد كان نصيب الكوفة من الصحابة كبيرًا إذ هبط فيها ثلاثمائة من أصحاب الشجرة وسبعون من أهل بدر2 وكان منهم عبد الله بن مسعود أحد كبار فقهاء الصحابة ومحدثيهم، وكان الحسن البصري إذا سئل عن أهل البصرة وأهل الكوفة يبدأ بأهل الكوفة3.
ويمكن تقويم دور العراق في حمل الرواية ونصيبه من ذلك من قول علي بن المديني: "دار حديث الثقات على ستة: رجلان بالبصرة ورجلان بالكوفة
--------------------------------------------
ভিন্নতর (প্রেক্ষাপট), যা দামেস্কের কর্তৃপক্ষকে তাদের ফতোয়ার ওপর নির্ভরশীল করেছিল এবং নতুন উদ্ভূত পরিস্থিতির বিষয়ে তাদের কাছে প্রশ্ন পাঠাতে উদ্বুদ্ধ করেছিল। পক্ষান্তরে, হাদিস জালকরণের (الوضع) আধিক্য কেবল মদিনাতেই নয় বরং অন্যান্য ইলমি কেন্দ্রগুলোতেও ইরাকের সুনাম ক্ষুণ্ণ করেছিল। মক্কাবাসীদের ইমাম সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ বলেন: "যে ব্যক্তি এমন কিছু চায় যার সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য করা যায় না, সে যেন ইরাকবাসীদের শরণাপন্ন হয়।"১ এর দ্বারা তিনি সহিহ (صحيح) হাদিসের সাথে জাল (موضوع) হাদিসের এমন সংমিশ্রণ বুঝিয়েছেন যা একজন তালিবে ইলমের জন্য পার্থক্য করা কঠিন ছিল। কিন্তু ইলমের উস্তাদগণ অত্যন্ত দক্ষতা ও বিচক্ষণতার সাথে হাদিস যাচাই-বাছাই করতে পারতেন এবং জাল বিষয়সমূহের (موضوعات) মধ্য থেকে সহিহ (صحيহ) হাদিস বের করে আনতেন। হ্যাঁ, ইরাকে জাল বিষয়সমূহের (موضوعات) ব্যাপক প্রচলন ছিল যা অন্য কোথাও দেখা যেত না। এর পেছনে ইরাকের রাজনৈতিক ভূমিকার বড় প্রভাব ছিল। কারণ সেখানেই ইসলামি সমাজের কাঠামোতে গভীর ফাটল দেখা দিয়েছিল, যেখানে সিফফিনের যুদ্ধের পর মুসলমানরা জুমহুর (সাধারণ মুসলিম সমাজ), খারেজি ও শিয়া—এই তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল। আর এই ভূখণ্ডেই রক্তক্ষয়ী ফিতনা ও জ্বলন্ত বিপ্লবগুলো সংঘটিত হয়েছিল যা পুরো উমাইয়া শাসনামল জুড়ে অব্যাহত ছিল। ফলে রাজনৈতিক বাস্তবতার সেবায় হাদিস জালকরণের (الوضع) অনুপ্রেরণা ছিল অত্যন্ত প্রবল। তেমনিভাবে হাদিস জালকরণের (الوضع) অন্যান্য উপাদানগুলোও (যা সামনে আলোচিত হবে) ইরাকে জাল (موضوع) হাদিসের সংখ্যা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছিল। কিন্তু ইরাকের ইলমের ওপর থেকে কি আস্থা পুরোপুরি উঠে গিয়েছিল? ওলামায়ে কেরাম কি সত্যিই ইরাকের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করতে পেরেছিলেন, অথচ তা ছিল ইসলামি খিলাফতের ইলমের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র? ইরাকে জালকরণের (الوضع) ঘটনাগুলো কি সেই অঞ্চলের ওপর বৈজ্ঞানিক বিচ্ছিন্নতা চাপিয়ে দেওয়ার এবং সেখান থেকে হাদিস গ্রহণ না করার জন্য যথেষ্ট ছিল?
কুফায় সাহাবায়ে কেরামের বিশাল অংশ অবস্থান করেছিলেন। সেখানে বাইয়াতে শাজারার তিনশত জন এবং সত্তর জন বদরি সাহাবি অবস্থান গ্রহণ করেছিলেন।২ তাঁদের মধ্যে ছিলেন আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ, যিনি ছিলেন সাহাবিদের মধ্যে অন্যতম বড় ফকিহ ও মুহাদ্দিস। হাসান বসরিকে যখন বসরা ও কুফাবাসীদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হতো, তিনি কুফাবাসীদের দিয়েই শুরু করতেন।৩
হাদিস বর্ণনার (رواية) ক্ষেত্রে ইরাকের ভূমিকা এবং তাতে তাদের অংশ আলী ইবনুল মাদিনীর এই উক্তি থেকে মূল্যায়ন করা যায়: "নির্ভরযোগ্য (ثقات) বর্ণনাকারীদের হাদিস ছয়জনকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে: যার মধ্যে দুইজন বসরার এবং দুইজন কুফার...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
বুহূছুন ফী তারীখিস সুন্নাতিল মুশাররাফাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
ورجلان بالحجاز فأما اللذان بالبصرة فقتادة ويحيى بن أبي كثير، وأما اللذان بالكوفة فأبو إسحاق والأعمش، وأما اللذان بالحجاز فالزهري وعمرو بن دينار.
ثم صار حديث هؤلاء إلى اثني عشر منهم بالبصرة سعيد بن أبي عروبة، وشعبة بن الحجاج ومعمر بن راشد، وحماد بن سلمة، وجرير بن حازم، وهشام الدستوائي، وصار بالكوفة إلى الثوري وابن عيينة وإسرائيل، وصار بالحجاز إلى ابن جريج ومحمد بن إسحاق ومالك، فصار حديث هؤلاء كلهم إلى يحيى بن معين1، وقد لعب هؤلاء العلماء الكبار الذين عاشوا في العراق دورًا مهما في تمييز الحديث وبيان الصحيح من الموضوع وبذلك حفظوا للعراق مكانته العلمية. قال ابن تيمية بعد أن ذكر كذب أهل الكوفة "ومع هذا إنه كان في الكوفة وغيرها من الثقات الأكابر كثير"2.
ومن ثم فإن العلماء نقلوا عن ثقات الكوفيين وفيهم بعض الشيعة الذين امتازوا بالصدق والورع قيل ليحيى بن معين: إن أحمد بن حنبل يرد حديث عبيد الله بن موسى للتشيع فأقسم يحيى أن عبد الرزاق أغلى في ذلك منه مائة ضعف وأن ما سمعه من عبد الرزاق أضعاف ما سمعه من عبيد الله3. وذكر حسين الأشقر أمام يحيى بن معين فقال كان من الشيعة الغالية الكبار فلما سئل عن حديثه قال: لا بأس به وذكر كتابته عنه4. وهكذا ميز العلماء بين العقائد والأخلاق فالصادق يؤخذ عنه ولو كان شيعيًّا أو خارجيًّا أو قدريًّا أو مرجئًا إلا أنهم اشترطوا ألا يكون داعية يسعي إلى بث عقيدته؛ لأن ذلك يحفزه إلى الكذب.
إن إهمال رواية العراقيين خسارة جسيمة فدور العراق في حمل العلم
--------------------------------------------
এবং হিজাজে ছিলেন দুইজন ব্যক্তি। বসরার সেই দুইজন হলেন কাতাদাহ এবং ইয়াহইয়া বিন আবি কাসির; কুফার সেই দুইজন হলেন আবু ইসহাক এবং আল-আ’মাশ; আর হিজাজের সেই দুইজন হলেন আল-জুহরি এবং আমর বিন দিনার।
অতঃপর তাঁদের হাদিসসমূহ বারোজন ব্যক্তির নিকট স্থানান্তরিত হয়। বসরার মধ্যে তাঁরা হলেন সাঈদ বিন আবি আরুবাহ, শু’বাহ বিন আল-হাজ্জাজ, মা’মার বিন রাশিদ, হাম্মাদ বিন সালামাহ, জারির বিন হাজিম এবং হিশাম আদ-দাস্তুওয়াই। কুফায় তা আস-সাওরি, ইবন উয়াইনাহ এবং ইসরাইলের নিকট পৌঁছেছিল। হিজাজে ইবন জুরাইজ, মুহাম্মাদ বিন ইসহাক এবং মালিকের নিকট পৌঁছেছিল। অবশেষে এই সকল ব্যক্তিদের হাদিস ইয়াহইয়া বিন মাঈনের নিকট সংগৃহীত হয় ১, এবং ইরাকে বসবাসকারী এই মহান উলামাগণ হাদিস যাচাই-বাছাই এবং জাল (موضوع) হাদিস থেকে বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিস পৃথক করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন; এর মাধ্যমে তাঁরা ইরাকের জ্ঞানতাত্ত্বিক মর্যাদা রক্ষা করেছেন। কুফাবাসীদের মিথ্যাচারের কথা উল্লেখ করার পর ইবন তাইমিয়্যাহ বলেছেন, "তা সত্ত্বেও কুফা ও অন্যান্য স্থানে অনেক বড় বড় নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি (الثقات) বিদ্যমান ছিলেন" ২।
ফলে উলামাগণ কুফার নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের (ثقات) থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন, যাদের মধ্যে এমন কিছু শিয়াও ছিলেন যারা সত্যবাদিতা ও পরহেজগারির জন্য বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ছিলেন। ইয়াহইয়া বিন মাঈনকে বলা হয়েছিল যে, আহমাদ বিন হাম্বল শিয়া মতাবলম্বী হওয়ার কারণে উবাইদুল্লাহ বিন মুসার হাদিস প্রত্যাখ্যান করেন। তখন ইয়াহইয়া শপথ করে বলেছিলেন যে, আবদুর রাজ্জাক এ বিষয়ে তাঁর চেয়ে একশত গুণ বেশি কট্টর ছিলেন এবং তিনি আবদুর রাজ্জাকের নিকট থেকে উবাইদুল্লাহর তুলনায় বহু গুণ বেশি হাদিস শুনেছেন ৩। ইয়াহইয়া বিন মাঈনের সামনে হুসাইন আল-আশকার সম্পর্কে আলোচনা করা হলে বলা হলো যে, তিনি বড় মাপের চরমপন্থী শিয়াদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। যখন তাঁর হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো, তিনি বললেন: "এতে কোনো সমস্যা নেই (لا بأس به)" এবং তাঁর থেকে হাদিস লিখে রাখার কথা উল্লেখ করেন ৪। এভাবেই উলামাগণ আকিদাহ ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করেছেন; সুতরাং সত্যবাদী (صادق) ব্যক্তির থেকে হাদিস গ্রহণ করা যাবে, চাই তিনি শিয়া, খারিজি, কাদারি কিংবা মুরজিয়া হোন না কেন। তবে তাঁরা শর্তারোপ করেছেন যে, বর্ণনাকারীকে যেন স্বীয় মতবাদ প্রচারকারী বা আহ্বায়ক (داعية) না হতে হয় যে নিজের আকিদাহ ছড়িয়ে দিতে সচেষ্ট থাকে; কারণ তা তাকে মিথ্যা বলতে প্ররোচিত করতে পারে।
ইরাকিদের বর্ণনা বর্জন করা একটি অপূরণীয় ক্ষতি, কারণ ইলম বহনের ক্ষেত্রে ইরাকের ভূমিকা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
বুহূছুন ফী তারীখিস সুন্নাতিল মুশাররাফাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
خطير لا يمكن إغفاله ويكفي لتصور ذلك قول علي بن المديني: "لو تركت أهل البصرة لحال القدر وتركت أهل الكوفة لذلك الرأي –يعني: التشيع- خربت الكتب"1.
وهكذا عندما تم تدوين الصحاح فإنها حوت مرويات العراقيين وبينهم عدد من الشيعة منهم ممن نقل البخاري عنهم في الصحيح: عبد الرزاق الصنعاني وجرير بن عبد الحميد الضبي وإسماعيل بن أبان وخالد بن مخلد وعلي بن الجعد والفضل بن دكين وعباد بن يعقوب وآخرون غيرهم. وأما مسلم فقد قال أبو عبد الله محمد بن يعقوب: "إن كتاب أستاذي – يعني: مسلم بن الحجاج- ملآن من حديث الشيعة"2.
إن ظهور مرويات العراقيين في كتب الصحاح يدل على نجاح علماء العراق في تنقية السنة وتمييز الصحيح من الموضوع ومعرفة الرجال الثقات من المتهمين.
--------------------------------------------
এটি এমন এক গুরুতর বিষয় যা উপেক্ষা করার উপায় নেই এবং এটি অনুধাবনের জন্য আলী ইবনুল মাদীনির উক্তিটিই যথেষ্ট: "যদি আমি বসরার অধিবাসীদের তাকদির (القدر) সংক্রান্ত মতবাদের কারণে বর্জন করতাম এবং কুফার অধিবাসীদের সেই মতাদর্শের—অর্থাৎ শিয়া মতবাদের (التشيع)—কারণে বর্জন করতাম, তবে কিতাবসমূহ ধ্বংস হয়ে যেত"১।
আর এভাবেই যখন সহীহ গ্রন্থসমূহ সংকলিত হলো, তখন তাতে ইরাকিদের বর্ণনাসমূহ (مرويات) অন্তর্ভুক্ত হলো। তাদের মধ্যে বেশ কিছু শিয়া মতাবলম্বীও ছিলেন, যাদের মধ্য থেকে বুখারি তাঁর সহীহ গ্রন্থে বর্ণনা গ্রহণ করেছেন: আবদুর রাজ্জাক আস-সানআনি, জারীর ইবনে আব্দুল হামিদ আদ-দাব্বি, ইসমাইল ইবনে আবান, খালিদ ইবনে মাখলাদ, আলী ইবনে আল-জা'দ, ফাদল ইবনে দুকাইন, আব্বাদ ইবনে ইয়াকুব এবং আরও অনেকে। আর ইমাম মুসলিম সম্পর্কে আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব বলেন: "আমার উস্তাদ—অর্থাৎ মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ—এর কিতাবটি শিয়াদের হাদিসে পরিপূর্ণ"২।
সহীহ গ্রন্থগুলোতে ইরাকিদের বর্ণনাসমূহের (مرويات) উপস্থিতি একথাই প্রমাণ করে যে, ইরাকের আলেমগণ সুন্নাহকে পরিশোধন করতে, সঠিক (صحيح) বর্ণনাকে জাল (موضوع) বর্ণনা থেকে পৃথক করতে এবং অভিযুক্তদের (المتهمين) মধ্য থেকে নির্ভরযোগ্য (الثقات) বর্ণনাকারীদের শনাক্ত করতে সফল হয়েছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
বুহূছুন ফী তারীখিস সুন্নাতিল মুশাররাফাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
دور الخوارج في الوضع:لم يلعب الخوارج دورًا مهمًا في حركة الوضع لاعتقادهم أن مرتكب الكبيرة كافر ولهذا السبب لا يوجد في كتب الموضوعات أدلة على وضع الخوارج للحديث1.
ولم ترد عن أئمة الحديث أقوال تدين الخوارج إلا ما نقل عن ابن لهيعة أنه سمع شيخًا من الخوارج وهو يقول: إن هذه الأحاديث دين فانظروا عمن تأخذون دينكم فإنا كنا إذا هوينا أمرًا صيرناه حديثًا2.
--------------------------------------------
জালকরণে (الوضع) খারিজিদের ভূমিকা:হাদিস জালকরণের (الوضع) আন্দোলনে খারিজিরা তেমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেনি; কারণ তাদের বিশ্বাস ছিল যে কবিরা গুনাহকারী ব্যক্তি কাফির (كافر)। এই কারণে জাল (الموضوعات) হাদিস বিষয়ক গ্রন্থগুলোতে খারিজিদের হাদিস জালকরণের (الوضع) সপক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না ১।
হাদিস বিশারদ ইমামগণের কাছ থেকে খারিজিদের অভিযুক্ত করে এমন কোনো বক্তব্য বর্ণিত হয়নি, কেবল ইবনে লাহিয়াহ্ থেকে বর্ণিত এই বর্ণনাটি ব্যতীত যে, তিনি খারিজিদের এক শায়খের কাছ থেকে শুনেছেন যে সে বলছিল: "নিশ্চয়ই এই হাদিসসমূহ হলো দ্বীন, সুতরাং তোমরা কার কাছ থেকে তোমাদের দ্বীন গ্রহণ করছ তা লক্ষ্য করো। কারণ আমরা যখন কোনো বিষয় পছন্দ করতাম, তখন সেটাকে হাদিসে রূপান্তর করে দিতাম" ২।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
বুহূছুন ফী তারীখিস সুন্নাতিল মুশাররাফাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
وكذلك ما حدث به الأعمش، قال: جالست إياس بن معاوية فحدثني بحديث قلت: من يذكر هذا؟ فضرب لي رجلًا من الحرورية. فقلت: إلي تضرب هذا المثل، تريد أن أكنس الطريق بثوبي فلا أدع بعرة ولا خنفساء إلا حملتها1. في حين وردت نصوص تشير إلى صدقهم، فقد كان سليمان بن الأشعث يقول:
"ليس في أصحاب الأهواء أصح حديثًا من الخوارج، ثم ذكر عمران بن حطان وأبا حسان الأعرج"2 ويقول ابن تيمية: "الخوارج مع مروقهم من الدين فهم أصدق الناس، حتى قيل: إن حديثهم أصح الحديث"3.
فلو صح ما نقل عن ابن لهيعة فإن دور الخوارج في الوضع ضئيل جدًّا ولا يعدو أن يكون هوى لفرد منهم وليس صفة تعمهم.
--------------------------------------------
একইভাবে আমাশ যা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইয়াস ইবন মুয়াবিয়ার সাথে বসলাম। তিনি আমাকে একটি হাদিস শোনালেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম: এটি আর কে বর্ণনা করেছেন? তখন তিনি হারুরিয়্যাহ সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তির উদাহরণ দিলেন। আমি বললাম: আপনি কি আমার ক্ষেত্রে এই উদাহরণ দিচ্ছেন? আপনি কি চান আমি আমার কাপড় দিয়ে রাস্তা ঝাড়ু দেই আর উটের বিষ্ঠা কিংবা গোবরে পোকা কিছুই বাদ না দিয়ে কুড়িয়ে নেই?1 অথচ এমন কিছু বর্ণনা পাওয়া যায় যা তাদের সত্যবাদিতার দিকে ইঙ্গিত করে। সুলাইমান ইবন আশ'আস বলতেন:
"প্রবৃত্তি পূজারীদের (أصحاب الأهواء) মধ্যে খারেজিদের চেয়ে বিশুদ্ধতম (أصح) হাদিস আর কারো নয়। এরপর তিনি ইমরান ইবন হিত্তান ও আবু হাসসান আল-আরাজের কথা উল্লেখ করেন।"2 ইবন তাইমিয়্যাহ বলেন: "খারেজিরা দ্বীন থেকে বিচ্যুত হওয়া সত্ত্বেও তারা অধিকতর সত্যবাদী, এমনকি বলা হয়েছে: তাদের হাদিস বিশুদ্ধতম (أصح) হাদিস।"3.
ইবন লাহিয়াহ থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তা যদি সহিহ (صح) হয়, তবে হাদিস জালকরণের (الوضع) ক্ষেত্রে খারেজিদের ভূমিকা অত্যন্ত নগণ্য এবং তা তাদের কোনো ব্যক্তির খেয়ালখুশি ছাড়া আর কিছুই নয়, এটি তাদের কোনো সাধারণ বৈশিষ্ট্য নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
বুহূছুন ফী তারীখিস সুন্নাতিল মুশাররাফাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
الخلافات الكلامية:وقد تضافرت جملة عوامل أخرى في تنمية الأحاديث الموضوعة كان من بينها ظهور الفرق الكلامية المتعددة كالقدرية والمرجئة والجهمية والمشبهة الممثلة ثم حركة المعتزلة التي ازداد سلطانها في العصر العباسي، ولئن أعطت المناظرات العميقة بين هذه الفرق متعة ذهنية لأرباب العقول المتعطشة فإنها فتحت بابًا من أبواب الفتن، وساهمت في تمزيق كيان المجتمع الإسلامي، كما أنها ضخمت.
কালামশাস্ত্রীয় মতভেদসমূহ:জাল (موضوع) হাদিসসমূহের প্রসারের ক্ষেত্রে আরও একগুচ্ছ উপাদান সম্মিলিতভাবে কাজ করেছিল, যার মধ্যে অন্যতম ছিল কাদারিয়া, মুরজিয়া, জাহমিয়া এবং মুসাব্বিহা-মুমাসসিলার মতো বিভিন্ন কালামশাস্ত্রীয় দলসমূহের আত্মপ্রকাশ; এরপর আসে মুতাজিলা আন্দোলন, আব্বাসীয় যুগে যাদের প্রভাব-প্রতিপত্তি বৃদ্ধি পেয়েছিল। যদিও এই দলগুলোর মধ্যকার গভীর বিতর্কসমূহ জ্ঞানপিপাসু প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিদের বুদ্ধিবৃত্তিক আনন্দ প্রদান করেছিল, কিন্তু তা ফিতনার একটি দ্বার উন্মোচন করেছিল এবং মুসলিম সমাজের সংহতি বিনষ্ট করতে ভূমিকা রেখেছিল, সেই সাথে এটি (জাল হাদিসের পরিমাণকে) আরও স্ফীত করে তুলেছিল।