(খণ্ড: ১)
আল-মুফীদ ফী মুহিম্মাতিত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: -)
المفيد في مهمات التوحيد القسم: العقيدة
الكتاب: المفيد في مهمات التوحيد
المؤلف: الدكتور عبد القادر بن محمد عطا صوفي
الناشر: دار الاعلام
الطبعة: الأولى 1422هـ- 1423هـ
عدد الصفحات: 231
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-মুফীদ ফী মুহিম্মাতিত তাওহীদ বিভাগ: আকীদা
কিতাব: আল-মুফীদ ফী মুহিম্মাতিত তাওহীদ
লেখক: ডক্টর আব্দুল কাদির বিন মুহাম্মদ আতা সূফী
প্রকাশক: দারুল ইলাম
সংস্করণ: প্রথম ১৪২২ হিজরি- ১৪২৩ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৩১
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-মুফীদ ফী মুহিম্মাতিত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ৫)
مقدمة…بسم الله الرحمن الرحيم
إن الحمد لله، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا. من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له. وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدا صلى الله عليه وسلم عبده ورسوله. {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [آل عمران: 102] ، {يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} [النساء: 1] ، {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا، يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} [الأحزاب: 70-71] .
"أما بعد: فإن خير الحديث كتاب الله، وخير الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم، وشر الأمور محدثاتها، وكل بدعة ضلالة" 1، "وكل ضلالة في النار"2.
ثم أما بعد: فإن الله عز وجل بعث نبينا محمدا صلى الله عليه وسلم بالهدى ودين الحق بين يدي الساعة بشيرا ونذيرا، وداعيا إلى الله بإذنه وسراجا منيرا. أرسله ربه عز وجل على حين فترة من الرسل، ودروس من الكتب، وقلة من العلم؛ حين حرف الكلم، وبدلت الشرائع، واستند كل قوم إلى أهوائهم وآرائهم، ليخرج الناس من الظلمات إلى النور. فأشرقت الأرض برسالته صلى الله عليه وسلم بعد ظلمتها، وتألفت بها القلوب بعد شتاتها وتفرقها، وفتح الله بها أعينا عميا، وآذانا صما، وقلوبا غلفا، وفرق بين الحق والباطل، والهدى والضلال، والرشاد والغي، والصدق والكذب، والمعروف والمنكر، وطريق أولياء الله السعداء، وأعداء الله الأشقياء.
--------------------------------------------
ভূমিকা…পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর বান্দা ও রাসুল। {হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না} [আলে ইমরান: ১০২], {হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের উভয় থেকে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে যাচনা করো এবং আত্মীয়তার বন্ধন (ছিন্ন করা) থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন} [নিসা: ১], {হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য লাভ করল} [আহযাব: ৭০-৭১]।
"অতঃপর: নিশ্চয়ই সর্বোত্তম কথা হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নবউদ্ভুদ বিষয়সমূহ, আর প্রতিটি বিদআত হলো ভ্রষ্টতা" ১, "এবং প্রতিটি ভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম" ২।
অতঃপর: মহান আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কিয়ামতের প্রাক্কালে সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী এবং আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহ্বানকারী ও উজ্জ্বল প্রদীপ হিসেবে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন। তাঁর মহান প্রতিপালক তাঁকে এমন এক সময়ে পাঠিয়েছেন যখন দীর্ঘকাল কোনো রাসুলের আগমন হয়নি, কিতাবসমূহের চর্চা বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল এবং ইলমের স্বল্পতা দেখা দিয়েছিল; যখন বাণীসমূহকে বিকৃত করা হয়েছিল, শরিয়ত পরিবর্তন করা হয়েছিল এবং প্রতিটি গোষ্ঠী তাদের খেয়ালখুশি ও নিজস্ব মতামতের ওপর নির্ভর করছিল; যাতে তিনি মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন। ফলে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রিসালাতের মাধ্যমে পৃথিবী তার অন্ধকারের পর আলোকিত হলো, এবং এর মাধ্যমে অন্তরসমূহ তাদের বিচ্ছিন্নতা ও অনৈক্যের পর সুসংগঠিত হলো। আল্লাহ এর মাধ্যমে অন্ধ চোখ, বধির কান এবং মোহরাচ্ছন্ন অন্তরসমূহ উন্মুক্ত করে দিলেন। তিনি এর মাধ্যমে সত্য ও মিথ্যা, হিদায়াত ও ভ্রষ্টতা, সঠিক পথ ও বিপথগামিতা, সত্যবাদিতা ও মিথ্যাচার, সৎকাজ ও অসৎকাজ এবং আল্লাহর সৌভাগ্যবান বন্ধু ও আল্লাহর হতভাগ্য শত্রুদের পথের মধ্যে পার্থক্য করে দিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুফীদ ফী মুহিম্মাতিত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ৬)
ولم يمت رسولنا صلى الله عليه وسلم حتى بين للناس جميع ما يحتاجون إليه، فتركهم على مثل البيضاء ليلها كنهارها، لا يزيغ بعده عنها إلا هالك.
وقد اعتصم أصحابه من بعده بكتاب ربهم سبحانه وتعالى، وسنة نبيهم صلى الله عليه وسلم، ودعوا الناس إليهما بالحكمة والموعظة الحسنة. ومن بعدهم قام علماء أمته صلى الله عليه وسلم بمهمة الدعوة إلى الله عز وجل خير قيام؛ فوضحوا للناس أمور دينهم، وكان من أجل ما وضحوه العقيدة، التي أولوها قدرا كبيرا من جهودهم، وجهادهم، وتعليمهم، وتأليفهم. ورغبة مني في التشبه بهم -رغم قصر الباع، وقلة البضاعة- كتبت هذه الورقات المقتبسة من كتبهم1، سائلا الله عز وجل أن يجعلها خالصة لوجهه الكريم، وفي ميزان حسناتي يوم الدين، وصلى الله على محمد وعلى آله وأصحابه أجمعين.
أبها في 29/ 9/ 1422هـ
--------------------------------------------
এবং আমাদের রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ততক্ষণ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেননি যতক্ষণ না তিনি মানুষের জন্য তাদের প্রয়োজনীয় যাবতীয় বিষয় বর্ণনা করেছেন। ফলে তিনি তাদেরকে এক স্বচ্ছ শুভ্র পথের ওপর রেখে গেছেন যার রাত তার দিনের মতোই উজ্জ্বল; তাঁর পর ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছাড়া আর কেউ তা থেকে বিচ্যুত হয় না।
আর তাঁর সাহাবীগণ তাঁর পরবর্তী সময়ে তাঁদের প্রতিপালক সুবহানাহু ওয়া তাআলার কিতাব ও তাঁদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরেছিলেন এবং প্রজ্ঞা ও সদুপদেশের মাধ্যমে মানুষকে সেই দুইটির দিকে আহ্বান জানিয়েছিলেন। তাঁদের পরবর্তী সময়ে তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মতের আলিমগণ মহান আল্লাহর দিকে দাওয়াতের দায়িত্ব সর্বোত্তমভাবে পালন করেছেন। ফলে তাঁরা মানুষের নিকট তাদের দ্বীনের বিষয়াবলি স্পষ্ট করেছেন। আর তাঁরা যা স্পষ্ট করেছেন তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল আকীদা, যার প্রতি তাঁরা তাঁদের প্রচেষ্টা, সংগ্রাম, শিক্ষা ও রচনার এক বিশাল অংশ নিবেদন করেছেন। আর তাঁদের সাদৃশ্য অবলম্বনের আকাঙ্ক্ষায়—সামর্থ্যের সীমাবদ্ধতা ও জ্ঞানের স্বল্পতা সত্ত্বেও—আমি তাঁদের কিতাবসমূহ থেকে সংগৃহীত এই পৃষ্ঠাগুলো লিখেছি। আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি যেন তিনি একে একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন এবং বিচার দিবসে আমার নেক আমলের পাল্লায় যুক্ত করেন। আল্লাহ মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীর ওপর রহমত বর্ষণ করুন।
আবহা, ২৯/৯/১৪২২ হিজরী।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুফীদ ফী মুহিম্মাতিত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ৮)
تمهيد
المبحث الأول: تعريف ببعض المصطلحات
المسألة الأولى: في بيان معنى العقيدة…المبحث الأول: تعريف بعض المصطلحات
المسألة الأولى: في بيان معنى العقيدة في اللغة والاصطلاح
قبل الحديث عن مصادر العقيدة، وذكر بعض خصائصها، لا بد من وقفتين:
الوقفة الأولى: في معنى العقيدة لغة
مادة "عقد" تدور بين عدة معان، منها: الربط والشد، والعهد، والملامة، والتأكيد1.
1- الربط والشد بقوة. يقال: عقد الحبل، يعقده عقدا، إذا ربطه وشده بقوة.
2- العهد. يقال: بين هذه القبيلة وتلك عقد أي: عهد. وجمعه عقود. ومنه قوله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَوْفُوا بِالْعُقُود} [المائدة: من الآية 1] ؛ أي: أوفوا بالعهود التي أكدتموها.
3- الملازمة. يقال: عقد قلبه على الشيء، أو عقد قلبه الشيء، إذا لزمه. ومن هذا الباب قوله صلى الله عليه وسلم: "الخيل معقود في نواصيها الخير إلى يوم القيامة" 2؛ فمعقود في نواصيها أي: ملازم لها، حتى لكأنه عقد عليها.
4- التأكيد. يقال: عقد البيع، إذا أكده. ومنه العقد المكتوب في البيع؛ إذ هو لم يكتب إلا بعد إيقاع البيع وتأكيده.
الوقفة الثانية: في بيان معنى العقيدة اصطلاحا
بعد أن عرفنا بعض معاني العقيدة في اللغة، لنا أن نتساءل: ما هو معنى العقيدة الذي تعارف عليه أهل العلم؛ إذ من المعلوم أن لكل علم مصطلحاته الخاصة به، والتي تعد جزءا من منهجيته؟.
--------------------------------------------
উপস্থাপনাপ্রথম পরিচ্ছেদ: কয়েকটি পরিভাষার পরিচয়প্রথম বিষয়: আকিদাহ শব্দের অর্থ বর্ণনায়...প্রথম পরিচ্ছেদ: কয়েকটি পরিভাষার পরিচয়
প্রথম বিষয়: আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে আকিদাহ শব্দের অর্থ বর্ণনায়
আকিদাহর উৎসসমূহ এবং এর কিছু বৈশিষ্ট্য আলোচনা করার আগে দুটি বিষয়ে আলোকপাত করা প্রয়োজন:
প্রথম আলোকপাত: আভিধানিক অর্থে আকিদাহর মর্মার্থ
'আ-কা-দা' মূলধাতুটি কয়েকটি অর্থকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়, যার মধ্যে রয়েছে: বাঁধা ও মজবুত করা, অঙ্গীকার, অবিচ্ছেদ্যতা এবং সুনিশ্চিত করা১।
১- শক্তভাবে বাঁধা ও মজবুত করা। বলা হয়: সে দড়িটি বেঁধেছে, যখন সে তা শক্তভাবে বাঁধে ও মজবুত করে।
২- অঙ্গীকার বা প্রতিশ্রুতি। বলা হয়: এই গোত্র ও ওই গোত্রের মধ্যে 'আকদ' বা চুক্তি রয়েছে অর্থাৎ অঙ্গীকার রয়েছে। এর বহুবচন হলো 'উকুুদ'। এ থেকেই আল্লাহ তাআলার বাণী: {হে মুমিনগণ! তোমরা অঙ্গীকারসমূহ পূর্ণ করো} [সূরা আল-মায়িদাহ: আয়াত ১-এর অংশ]; অর্থাৎ: তোমরা যে অঙ্গীকারগুলো সুদৃঢ় করেছ তা পূর্ণ করো।
৩- অবিচ্ছেদ্যতা। বলা হয়: সে কোনো বিষয়ের ওপর তার অন্তরকে নিবিষ্ট করেছে, অথবা কোনো বিষয় তার অন্তরে গেঁথে নিয়েছে, যখন সেটি তার সাথে অবিচ্ছেদ্য হয়ে যায়। এই পরিধি থেকেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "কিয়ামত পর্যন্ত ঘোড়ার কপালে কল্যাণ আবদ্ধ রয়েছে" ২; এখানে কপালে আবদ্ধ থাকার অর্থ হলো: তা ঘোড়ার সাথে অবিচ্ছেদ্যভাবে লেগে আছে, এমনকি যেন তা তার সাথে বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
৪- সুনিশ্চিত করা। বলা হয়: সে বিক্রয়চুক্তি সম্পন্ন করেছে, যখন সে তা সুনিশ্চিত করেছে। বিক্রয়কার্যে লিখিত চুক্তি বা 'আকদ' এখান থেকেই এসেছে; কেননা বিক্রয় সম্পন্ন হওয়া ও তা সুনিশ্চিত করার পরই কেবল এটি লেখা হয়।
দ্বিতীয় আলোকপাত: পারিভাষিক অর্থে আকিদাহর মর্মার্থ বর্ণনা
আভিধানিক অর্থে আকিদাহর কয়েকটি অর্থ জানার পর আমরা প্রশ্ন করতে পারি: আকিদাহর সেই অর্থটি কী যা বিদগ্ধ উলামায়ে কেরামের নিকট সুপরিচিত? কেননা এটি সর্বজনবিদিত যে, প্রতিটি শাস্ত্রেরই নিজস্ব কিছু পরিভাষা থাকে, যা সেই শাস্ত্রের পদ্ধতিগত কাঠামোর অংশ হিসেবে গণ্য হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুফীদ ফী মুহিম্মাতিত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ৯)
فنجيب: العقيدة اصطلاحا هي:
1- التصديق الجازم فيما يجب لله عز وجل من الوحدانية، والربوبية، والإفراد بالعبادة، والإيمان بأسمائه الحسنى، وصفاته العليا1.
2- تصميم القلب، والاعتقاد الجازم الذي لا يخالطه شك في المطالب الإلهية، والنبوات، وأمور المعاد، وغيرها مما يجب الإيمان به2. والمطالب الإلهية: الإيمان بالله في ربوبيته، وألوهيته، وأسمائه وصفاته.
3- ما عقد الإنسان قلبه عليه، ودان لله عز وجل به3.
س: ما هو الرابط بين المعنى اللغوي، والمعنى الاصطلاحي؟
ج: الارتباط بينهما ظاهر؛ لأن هذا الذي جزم بالشيء، وصمم عليه، قد ألزمه قلبه، وربطه عليه، وشده بقوة، بحيث لا يتفلت منه أبدا.
--------------------------------------------
আমরা উত্তর দিব: পারিভাষিক অর্থে আকিদাহ হলো:
১- আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার জন্য ওয়াজিব এমন একত্ববাদ, রুবুবিয়্যাহ (প্রভুত্ব), ইবাদতে এককত্ব এবং তাঁর সুন্দর নামসমূহ ও সুউচ্চ গুণাবলির প্রতি সুদৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করা।১
২- অন্তরের দৃঢ় সংকল্প এবং এমন অটল বিশ্বাস যাতে ইলাহী বিষয়াবলি, নবুওয়াতসমূহ, পরকাল সংক্রান্ত বিষয়াদি এবং ঈমান আনা ওয়াজিব এমন অন্যান্য বিষয়ের ক্ষেত্রে কোনো সন্দেহের অবকাশ থাকে না।২ আর ইলাহী বিষয়াবলি হলো: আল্লাহর রুবুবিয়্যাহ, উলুহিয়্যাহ এবং তাঁর নাম ও গুণাবলির প্রতি ঈমান আনা।
৩- মানুষ তার অন্তরে যা দৃঢ়ভাবে গেঁথে নিয়েছে এবং যার মাধ্যমে সে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার আনুগত্য করে।৩
প্রশ্ন: আভিধানিক অর্থ ও পারিভাষিক অর্থের মধ্যে সম্পর্ক কী?
উত্তর: উভয়ের মধ্যে সম্পর্ক স্পষ্ট; কারণ যে ব্যক্তি কোনো বিষয়ে দৃঢ় নিশ্চয়তা পোষণ করে এবং সংকল্পবদ্ধ হয়, সে তার অন্তরকে এর ওপর আবদ্ধ করে নিয়েছে এবং এর সাথে শক্তভাবে বেঁধে নিয়েছে, যাতে এটি কখনোই ছুটে না যায়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুফীদ ফী মুহিম্মাতিত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ৯)
المسألة الثانية: في بيان بعض المسميات التى أطلقت على العقيدة الإسلامية
مدخل…المسألة الثانية: في بيان بعض المسميات التي أطلقت على العقيدة الإسلامية
الملاحظ أن العقيدة لم ترد بلفظها في الكتاب والسنة، وإن كانت قد وردت مادتها، كما في قول الله سبحانه وتعالى: {لا يُؤَاخِذُكُمُ اللَّهُ بِاللَّغْوِ فِي أَيْمَانِكُمْ وَلَكِنْ يُؤَاخِذُكُمْ بِمَا عَقَّدْتُمُ الْأَيْمَانَ} [المائدة: من الآية89] ؛ أي: يؤاخذكم إذا حنثتم في الأيمان التي وثقتموها وأكدتموها.
وكما في قوله صلى الله عليه وسلم: "الخيل معقود في نواصيها الخير إلى يوم القيامة" 1؛ أي: ملازم لها إلى يوم القيامة.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় মাসআলা: ইসলামি আকিদার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত কিছু নামকরণের বর্ণনায়ভূমিকা…দ্বিতীয় মাসআলা: ইসলামি আকিদার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত কিছু নামকরণের বর্ণনায়
লক্ষ্যণীয় যে, আকিদা শব্দটি তার নিজস্ব শব্দরূপে কুরআন ও সুন্নাহতে আসেনি, যদিও এর মূল ধাতু (মাদ্দাহ) ব্যবহৃত হয়েছে। যেমন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার বাণীতে: "তোমাদের অর্থহীন শপথের জন্য আল্লাহ তোমাদের পাকড়াও করবেন না, কিন্তু যে শপথ তোমরা দৃঢ়ভাবে করো, সেগুলোর জন্য তিনি তোমাদের পাকড়াও করবেন" [সূরা আল-মায়িদাহ: ৮৯ নং আয়াতের অংশবিশেষ]; অর্থাৎ: তোমরা যে শপথগুলো সুদৃঢ় ও নিশ্চিত করেছিলে, তা ভঙ্গ করলে তিনি তোমাদের পাকড়াও করবেন।
এবং যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীতে: "ঘোড়ার কপালে কিয়ামত পর্যন্ত কল্যাণ বেঁধে দেওয়া হয়েছে" ১; অর্থাৎ: কিয়ামত পর্যন্ত কল্যাণ এর সাথে অবিচ্ছেদ্য হয়ে থাকবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুফীদ ফী মুহিম্মাতিত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ১০)
كذلك، لم يستخدم علماء الأمة في القرون المفضلة مصطلح "عقيدة"، وإنما استخدموا مصطلحات أخرى. وأول من استخدم هذا المصطلح -فيما أعلم- هو الإمام أبو حاتم الرازي "ت327هـ" فقي كتابه الذي وسمع بـ"أصل السنة واعتقاد الدين"، وتلاه الإمام أبو بكر الإسماعيلي "ت371هـ" الذي وسم كتابه بـ"اعتقاد أئمة الحديث"، وتبعه الأئمة؛ كأبي القاسم اللالكائي "ت418هـ" في كتابه "شرح أصول اعتقاد أهل السنة والجماعة"، وأبي عثمان الصابوني "ت449هـ" في كتابه "عقيدة السلف أصحاب الحديث"، وأبي بكر البيهقي "ت458هـ" في كتابه "الاعتقاد على مذهب السلف أهل السنة والجماعة"، وقوام السنة الأصبهاني "ت535هـ" في كتابه "الحجة في بيان المحجة وشرح عقيدة أهل السنة، وغيرهم.
ولنا وقفات مع المصطلحات الأخرى التي استخدما العلماء بدلا من مصطلح "العقيدة"، "ومن ثمرة الوقوف على أسماء هذا العلم: معرفة مصادره الأصيلة"1.
--------------------------------------------
একইভাবে, শ্রেষ্ঠ শতাব্দীগুলোর উম্মতের আলেমগণ "আকিদাহ" পরিভাষাটি ব্যবহার করেননি, বরং তাঁরা অন্যান্য পরিভাষা ব্যবহার করেছেন। আর আমার জানামতে সর্বপ্রথম এই পরিভাষাটি ব্যবহার করেছেন ইমাম আবু হাতিম আল-রাজি (মৃত্যু ৩২৭ হিজরি) তাঁর সেই কিতাবে যার নাম তিনি দিয়েছেন "আসলুস সুন্নাহ ওয়া ইতিকাদুদ দ্বীন"। তাঁর পরে এসেছেন ইমাম আবু বকর আল-ইসমাঈলি (মৃত্যু ৩৭১ হিজরি), যিনি তাঁর কিতাবের নাম রেখেছেন "ইতিকাদু আইম্মাতিল হাদিস"। এরপর অন্যান্য ইমামগণ তাঁর অনুসরণ করেছেন; যেমন আবু কাসিম আল-লালকাঈ (মৃত্যু ৪১৮ হিজরি) তাঁর "শারহু উসুলু ইতিকাদি আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ" কিতাবে, আবু উসমান আস-সাবুনী (মৃত্যু ৪৪৯ হিজরি) তাঁর "আকিদাতুস সালাফ আসহাবুল হাদিস" কিতাবে, আবু বকর আল-বাইহাকী (মৃত্যু ৪৫৮ হিজরি) তাঁর "আল-ইতিকাদ আলা মাযহাবিস সালাফ আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ" কিতাবে, এবং কিওয়ামুস সুন্নাহ আল-আসবাহানী (মৃত্যু ৫৩৫ হিজরি) তাঁর "আল-হুজ্জাহ ফি বায়ানিল মাহাজ্জাহ ওয়া শারহু আকিদাতি আহলিস সুন্নাহ" কিতাবে এবং আরও অনেকে।
আলেমগণ "আকিদাহ" পরিভাষার পরিবর্তে যেসব অন্যান্য পরিভাষা ব্যবহার করেছেন, সেগুলো নিয়ে আমাদের কিছু আলোচনার অবকাশ রয়েছে। "আর এই শাস্ত্রের নামসমূহ জানার অন্যতম সুফল হলো: এর মৌলিক উৎসসমূহ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা।"১।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুফীদ ফী মুহিম্মাতিত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ১০)
الوقفة الأولى: مع مسمى "التوحيد"
تعريف التوحيد لغة واصطلاحا:
هو في اللغة مصدر من: وحد يوحد توحيدا؛ إذا أفرده وجعله واحدا1. وهذا لا يتحقق إلا بنفي وإثبات؛ نفي الحكم عما سوى الموحد، وإثباته له. فنقول مثلا في توحيد الألوهية: لا يتم للإنسان التوحيد، حتى يشهد أن لا إله إلا الله، فينفي الألوهية عما سوى الله، ويثبتها لله وحده2.
--------------------------------------------
প্রথম আলোচনা: "তাওহীদ" শব্দটির পরিচয় নিয়েতাওহীদের শাব্দিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞা:
শাব্দিক অর্থে এটি ‘ওয়াহহাদা-ইউওয়াহহিডু-তাওহীদ’ ক্রিয়ামূল থেকে উৎপন্ন একটি মাসদার (ক্রিয়া বিশেষ্য); এর অর্থ হলো কোনো কিছুকে একক করা এবং তাকে এক হিসেবে গণ্য করা ১। আর এটি অস্বীকৃতি (নফী) এবং স্বীকৃতি (ইসবাত) ব্যতীত অর্জিত হয় না; অর্থাৎ যাকে একক সাব্যস্ত করা হচ্ছে তিনি ব্যতীত অন্য সবার থেকে সংশ্লিষ্ট বিধানকে অস্বীকার করা এবং শুধুমাত্র তাঁর জন্যই তা সাব্যস্ত করা। উদাহরণস্বরূপ, তাওহীদুল উলুহিয়্যাহর ক্ষেত্রে আমরা বলি: কোনো ব্যক্তির তাওহীদ ততক্ষণ পূর্ণ হয় না, যতক্ষণ না সে সাক্ষ্য দেয় যে ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই’। এর মাধ্যমে সে আল্লাহ ব্যতীত অন্য সকলের থেকে উলুহিয়্যাহ বা ইলাহ হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে এবং তা একমাত্র আল্লাহর জন্যই সাব্যস্ত করে ২।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুফীদ ফী মুহিম্মাতিত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ১১)
فعلى هذا: يطلق الواحد على المنفرد بخصائصه عما سواه. يقول ابن فارس: "وحد: الواو والحاء والدال: أصل واحد يدل على الانفراد. من ذلك: الوحدة، وهو واحد قبيلته: إذا لم يكن فيهم مثله. قال الشاعر:
يا واحد العرب الذي
… ما في الأنام له نظير
ولقيت القوم موحد موحد، ولقيت الرجل وحده. ولا يضاف إلا في قوله: نسيج وحده"1.
والتوحيد في الاصطلاح: إفراد الله بما تفرد به، وبما أمر أن يفرد به؛ فنفرده في ملكه وأفعاله فلا رب سواه ولا شريك له، ونفرده في ألوهيته فلا يستحق العبادة إلا هو، ونفرده في أسمائه وصفاته فلا مثيل له في كماله ولا نظير له2.
مدى المطابقة بين التوحيد والعقيدة:
حين المقارنة بين "العقيدة"، و"التوحيد" كمصطلحين، نجد أن العقيدة ليست مقصورة على توحيد الله تعالى فحسب، بل هي تشمل التوحيد وزيادة، فيدخل فيها مباحث شتى؛ كالرسل ورسالاتهم، والملائكة وأعمالهم، والكتب السماوية، واليوم الآخر وما فيه، والقضاء والقدر وما يتعلق به، والإمامة، والصحابة. بل يدخل فيها أيضا: موقف المسلمين من الفرق الضالة، وغير ذلك.
فهذا العلم الواسع بما يتضمنه من مباحث، وما يحويه من جزئيات يسمى "التوحيد"
أيضا، كما سماه بذلك علماء المسلمين. ولو تأملنا مدى المطابقة بين كلمة "توحيد"، وبين مفردات العقيدة، لوجدناها جزئية. وهذا يثير تساؤلا مفاده: إذاكانت المطابقة بين كلمة "توحيد" ومصطلح "عقيدة" بما يحويه من مباحث جزئية، فلماذا سمي علم العقيدة بـ"التوحيد"؟ ولم أطلق العلماء في القرون الماضية على ما صنفوه من كتب في علم العقيدة اسم "التوحيد"؟
--------------------------------------------
এর ওপর ভিত্তি করে: 'একক' শব্দটি এমন সত্তার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় যিনি তাঁর স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যে অন্যদের থেকে পৃথক। ইবনে ফারিস বলেন: "ওয়াহাদা: ওয়াও, হা এবং দাল—এটি এমন একটি মূল শব্দ যা একাকীত্ব বা অনন্যতা বোঝায়। এ থেকেই এসেছে: 'আল-ওয়াহদাহ' (একাকীত্ব), এবং তিনি তাঁর গোত্রের মধ্যে 'একক': যদি তাদের মধ্যে তাঁর মতো আর কেউ না থাকে। কবি বলেছেন:
হে আরবের সেই একক ব্যক্তিত্ব যার
… সৃষ্টিজগতের মধ্যে কোনো নজির নেই
এবং আমি লোকজনের সাথে একে একে সাক্ষাৎ করেছি, আর লোকটির সাথে একাকী সাক্ষাৎ করেছি। আর এটি সম্বন্ধযুক্ত (ইজাফত) হয় না কেবল এই কথাটি ছাড়া: 'নাসিজু ওয়াহদিহি' (অনন্যসাধারণ ব্যক্তি)।"১।
আর পরিভাষায় তাওহীদ হলো: আল্লাহকে সেই সব বিষয়ে এক বলে সাব্যস্ত করা যাতে তিনি একক এবং যেসব বিষয়ে তাঁকে একক সাব্যস্ত করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। অতএব, আমরা তাঁর রাজত্ব এবং কার্যাবলীতে তাঁকে একক সাব্যস্ত করব, সুতরাং তিনি ছাড়া আর কোনো পালনকর্তা নেই এবং তাঁর কোনো অংশীদার নেই। আমরা তাঁকে তাঁর উলুহিয়্যাত বা উপাস্য হওয়ার ক্ষেত্রে একক সাব্যস্ত করব, সুতরাং তিনি ছাড়া আর কেউ ইবাদতের যোগ্য নয়। এবং আমরা তাঁকে তাঁর নাম ও গুণাবলীতে একক সাব্যস্ত করব, সুতরাং তাঁর পূর্ণতায় তাঁর কোনো সদৃশ বা নজির নেই।২।
তাওহীদ এবং আকিদার মধ্যে সামঞ্জস্যের পরিধি:
যখন পারিভাষিক শব্দ হিসেবে "আকিদা" এবং "তাওহীদ"-এর মধ্যে তুলনা করা হয়, তখন আমরা দেখতে পাই যে আকিদা কেবল আল্লাহ তায়ালার তাওহীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি তাওহীদ এবং আরও অনেক বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে। এর মধ্যে বিভিন্ন আলোচনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে; যেমন রাসুলগণ ও তাঁদের রিসালাত, ফেরেশতাগণ ও তাঁদের কার্যাবলী, আসমানী কিতাবসমূহ, পরকাল ও তার মধ্যকার ঘটনাবলী, ভাগ্য (কাদা ও কদর) এবং এ সংক্রান্ত বিষয়াদি, ইমামত এবং সাহাবায়ে কিরাম। এমনকি এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে: পথভ্রষ্ট দলগুলোর ব্যাপারে মুসলিমদের অবস্থান এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়।
সুতরাং এই বিশাল জ্ঞান-শাখাটি এর অন্তর্ভুক্ত বিষয়াবলী এবং খুটিনাটি বিষয়সহ "তাওহীদ" নামেও অভিহিত হয়, যেভাবে মুসলিম উলামাগণ একে নামকরণ করেছেন। আমরা যদি "তাওহীদ" শব্দ এবং আকিদার বিষয়বস্তুগুলোর মধ্যে সামঞ্জস্যের পরিধি নিয়ে চিন্তা করি, তবে আমরা দেখব যে এটি আংশিক। আর এটি একটি প্রশ্নের জন্ম দেয় যে: যদি "তাওহীদ" শব্দ এবং এর অন্তর্ভুক্ত বিষয়াবলীর সাথে "আকিদা" পরিভাষার সামঞ্জস্য কেবল আংশিক হয়, তবে আকিদা শাস্ত্রকে কেন "তাওহীদ" বলা হলো? এবং বিগত শতাব্দীগুলোতে উলামাগণ আকিদা বিষয়ে রচিত তাঁদের গ্রন্থগুলোর নাম কেন "তাওহীদ" রেখেছিলেন?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুফীদ ফী মুহিম্মাতিত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ১২)
والجواب: إن تسمية العقيدة بالتوحيد من باب تسمية الشيء بأشرف أجزائه؛ لأن توحيد الله عز وجل هو أشرف مباحث علم العقيدة. أما المباحث الأخرى؛ من إيمان بالملائكة، والكتب، والرسل، واليوم الآخر، والقضاء والقدر، ومباحث الإمامة، والصحابة، وغيرها، فهي تعتمد عليه، وتستند إليه؛ إذ هو أساسها وجوهرها، فهي تدخل فيه بالاستلزام.
الفرق بين العقيدة والتوحيد:
والآن، وقد فرغنا من بيان معنى العقيدة والتوحيد، نتساءل: ما الفرق بين المعنيين؟ فنقول: العقيدة أعم من جهة موضوعها؛ إذ هي تشمل التوحيد، وغيره من المباحث؛ فيدخل فيها أركان الإيمان الستة، ويدخل فيها ردود علماء الإسلام على الديانات الأخرى، والفرق، والتيارات المعاصرة، وغيرها. بخلاف التوحيد الذي يقتصر على توحيد الله عز وجل، وهو أشرف أجزاء العقيدة. ويلاحظ أيضا أن مباحث الإيمان بالكتب، والرسل، واليوم الآخر، والقضاء والقدر يدخل في إطار العقيدة بالمطابقة. أما في التوحيد فيدخل فيه بالاستلزام؛ إذ يلزم من إيمانك بالله عز وجل أن تؤمن بملائكته، وكتبه، ورسله، والمغيبات التي أخبر الله عنها، وأخبرت عنها رسله، وبالقدر الذي يجريه الله في عباده وفق إرادته ومشيئته.
مؤلفات في العقيدة تحت مسمى التوحيد:
1- استخدم الإمام البخاري؛ محمد بن إسماعيل "ت256هـ" هذا المصطلح، حين سمى الكتاب الذي خرج فيه أحاديث العقيدة -في الجامع الصحيح- بـ"كتاب التوحيد".
2- وأبو العباس أحمد بن عمر بن سريج البغدادي "ت306هـ" سمى الكتاب الذي صنفه في العقيدة بـ"كتاب التوحيد".
3- وأبو بكر محمد بن إسحاق بن خزيمة النيسابوري "ت311هـ" ألف كتابا في العقيدة وسمه بـ"كتاب التوحيد وإثبات صفات الرب عز وجل".
4- وأبو عبد الله محمد بن إسحاق بن منده "ت395هـ" ألف كتابه الموسوم بـ"كتاب التوحيد ومعرفة اسماء الله عز وجل وصفاته على الاتفاق والتفرد".
ثم تتابعت الكتب المؤلفة تحت هذا الاسم.
উত্তর: আকিদাকে তাওহিদ নামকরণ করা মূলত কোনো বিষয়কে তার শ্রেষ্ঠ অংশের নামে নামকরণ করার অন্তর্ভুক্ত; কারণ মহান আল্লাহর তাওহিদ হলো আকিদা শাস্ত্রের সবচেয়ে সম্মানিত আলোচ্য বিষয়। আর অন্যান্য বিষয়সমূহ; যেমন—ফেরেশতাগণের প্রতি ঈমান, কিতাবসমূহ, রাসুলগণ, পরকাল, ভাগ্য বা তাকদির, ইমামত ও সাহাবীগণের আলোচনা এবং অন্যান্য বিষয়সমূহ এর ওপরই নির্ভরশীল এবং এগুলোর মূল ভিত্তি হলো তাওহিদ; যেহেতু এটিই এগুলোর ভিত্তি ও সারবস্তু, তাই এগুলো অনিবার্যভাবেই তাওহিদের অন্তর্ভুক্ত।
আকিদা ও তাওহিদের মধ্যে পার্থক্য:
এখন আকিদা ও তাওহিদের অর্থ বর্ণনা শেষ করার পর আমরা প্রশ্ন করতে পারি: এই দুটি অর্থের মধ্যে পার্থক্য কী? আমরা বলব: আলোচ্য বিষয়ের দিক থেকে আকিদা অধিক ব্যাপক; কারণ এটি তাওহিদ ও অন্যান্য সকল বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে। এর মধ্যে ঈমানের ছয়টি রুকন অন্তর্ভুক্ত হয়, এবং অন্যান্য ধর্ম, দল-উপদল ও সমকালীন মতবাদসমূহের বিরুদ্ধে ইসলামি আলেমগণের খণ্ডনমূলক আলোচনা ইত্যাদিও এর অন্তর্ভুক্ত হয়। পক্ষান্তরে তাওহিদ শুধু মহান আল্লাহর একত্ববাদের বর্ণনায় সীমাবদ্ধ, যা আকিদার শ্রেষ্ঠতম অংশ। আরও লক্ষণীয় যে, কিতাবসমূহ, রাসুলগণ, পরকাল এবং তাকদীরের ওপর ঈমানের বিষয়গুলো আকিদার কাঠামোর মধ্যে সরাসরি অন্তর্ভুক্ত। তবে তাওহিদের ক্ষেত্রে এগুলো অনিবার্যতার ভিত্তিতে অন্তর্ভুক্ত হয়; কেননা মহান আল্লাহর প্রতি আপনার ঈমান আনার অনিবার্য দাবি হলো আপনি তাঁর ফেরেশতা, কিতাব, রাসুল এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসুলগণ যেসব অদৃশ্যের সংবাদ দিয়েছেন তার প্রতি ঈমান আনবেন এবং আল্লাহ তাঁর বান্দাদের ওপর তাঁর ইচ্ছা ও অভিপ্রায় অনুযায়ী যে তাকদির কার্যকর করেন তার প্রতিও ঈমান আনবেন।
তাওহিদ শিরোনামে আকিদা বিষয়ক গ্রন্থসমূহ:
১- ইমাম বুখারি; মুহাম্মদ বিন ইসমাইল (মৃত্যু ২৫৬ হি.) এই পরিভাষাটি ব্যবহার করেছেন, যখন তিনি তাঁর 'জামে সহিহ'-এর আকিদা বিষয়ক হাদিসগুলোর সংকলনটির নাম দিয়েছেন "তাওহিদ অধ্যায়"।
২- আবুল আব্বাস আহমদ বিন উমর বিন সুরাইজ আল-বাগদাদি (মৃত্যু ৩০৬ হি.) আকিদা বিষয়ে তাঁর রচিত গ্রন্থের নাম রেখেছেন "তাওহিদ গ্রন্থ"।
৩- আবু বকর মুহাম্মদ বিন ইসহাক বিন খুজাইমাহ আন-নিশাপুরি (মৃত্যু ৩১১ হি.) আকিদার ওপর একটি গ্রন্থ রচনা করেন এবং সেটির নামকরণ করেন "তাওহিদ এবং মহান রবের গুণাবলি সাব্যস্তকরণ গ্রন্থ"।
৪- আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইসহাক বিন মানদাহ (মৃত্যু ৩৯৫ হি.) তাঁর রচিত গ্রন্থের নাম দিয়েছেন "তাওহিদ এবং ঐকমত্য ও একক বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে মহান আল্লাহর নাম ও গুণাবলির পরিচয় বিষয়ক গ্রন্থ"।
এরপর এই নামে গ্রন্থ রচনার ধারা অব্যাহত থাকে।
(খণ্ড: ১)
আল-মুফীদ ফী মুহিম্মাতিত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الوقفة الثانية: مع مسمى "أصول الدين"
من مسميات هذا العلم: أصول الدين.
المراد بأصول الدين:
نلاحظ أن مصطلح "أصول الدين" مركب من مضاف، ومضاف إليه. فهو إذًا مركب إضافي.
ولا يمكن التوصل إلى معنى المركب إلا بتحليل أجزائه المركب منها، وهي "أصول"، و"دين".
أما الأصول: فمفردها أصل. ومعناه لغة: أساس الشيء1. أو ما يبتنى عليه غيره؛ كأساس المنزل، وأصل الشجرة، ونحو ذلك2. والأصل اصطلاحا: ما له فرع؛ لأن الفرع لا ينشأ إلا عن أصل3.
والدين في اللغة: الذل والخضوع. والمراد به دين الإسلام، وطاعة الله، وعبادته وتوحيده، وامتثال المأمور، واجتناب المحظور، وكل ما يتعبد الله عز وجل به4.
فتكون أصول الدين -على هذا: القواعد والأسس التي تصح بها العبادة، وتتحقق بها طاعة الله ورسوله بامتثال المأمور، واجتناب المحظور؛ لأن الاعتقاد هو الأصل الذي ينبني عليه قبول الأعمال وصحتها.
فأصول الدين: هي ما يقوم وينبني عليه الدين. والدين الإسلامي يقوم على عقيدة التوحيد. ومن هنا سمي علم التوحيد أو علم العقيدة بـ"علم أصول الدين".
--------------------------------------------
দ্বিতীয় বিরতি: "উসুলুদ দীন" নামকরণ প্রসঙ্গেএই শাস্ত্রের অন্যতম নাম হলো: উসুলুদ দীন।
উসুলুদ দীন দ্বারা উদ্দেশ্য:
আমরা লক্ষ্য করি যে, "উসুলুদ দীন" পরিভাষাটি মুদাফ (সম্বন্ধ পদ) এবং মুদাফ ইলাইহি (সম্বন্ধী পদ) এর সমন্বয়ে গঠিত। সুতরাং এটি একটি সম্বন্ধসূচক যৌগিক শব্দ।
আর কোনো যৌগিক শব্দের অর্থে পৌঁছানো সম্ভব নয় এর গঠনকারী অংশগুলো বিশ্লেষণ করা ব্যতীত; আর তা হলো "উসুল" এবং "দীন"।
"উসুল" এর কথা যদি বলি: এর একবচন হলো "আসল"। আভিধানিক অর্থে এর মানে হলো: কোনো বস্তুর ভিত্তি১। অথবা যার ওপর অন্য কিছু গড়ে ওঠে; যেমন ঘরের ভিত্তি, গাছের মূল এবং এই জাতীয় কিছু২। আর পারিভাষিক অর্থে আসল হলো: যার শাখা রয়েছে; কারণ শাখা কেবল মূল থেকেই উদ্ভূত হয়৩।
আর আভিধানিক অর্থে "দীন" হলো: হীনতা ও বশ্যতা স্বীকার। আর এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ইসলাম ধর্ম, আল্লাহর আনুগত্য, তাঁর ইবাদত ও একত্ববাদ, আদেশ পালন, নিষিদ্ধ বিষয় বর্জন এবং এমন প্রতিটি বিষয় যার মাধ্যমে মহান আল্লাহর ইবাদত করা হয়৪।
সুতরাং এই আলোকে উসুলুদ দীন হলো: সেই সকল নিয়ম ও ভিত্তি যার মাধ্যমে ইবাদত শুদ্ধ হয় এবং আদেশ পালন ও নিষেধ বর্জনের মাধ্যমে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য অর্জিত হয়; কারণ বিশ্বাস বা আকিদাই হলো সেই মূল ভিত্তি যার ওপর আমল কবুল হওয়া এবং আমল সঠিক হওয়া নির্ভর করে।
অতএব, উসুলুদ দীন হলো: যার ওপর দীন দণ্ডায়মান এবং প্রতিষ্ঠিত। আর ইসলাম ধর্ম তাওহীদের আকিদার ওপর প্রতিষ্ঠিত। এখান থেকেই তাওহীদ শাস্ত্র বা আকিদা শাস্ত্রকে "ইলমে উসুলুদ দীন" নামে অভিহিত করা হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুফীদ ফী মুহিম্মাতিত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الحقيقة الشرعية لأصول الدين:
المفهوم الحق لمصطلح أصول الدين، هو أصول الإيمان الستة المذكورة في قوله سبحانه وتعالى: {لَيْسَ الْبِرَّ أَنْ تُوَلُّوا وُجُوهَكُمْ قِبَلَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ وَلَكِنَّ الْبِرَّ مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَالْمَلائِكَةِ وَالْكِتَابِ وَالنَّبِيِّينَ} [البقرة: من الآية 177] ، وفي قوله عز وجل: {إِنَّا كُلَّ شَيْءٍ خَلَقْنَاهُ بِقَدَرٍ} [القمر: 49] ، وهي التي أجاب بها رسول الله صلى الله عليه وسلم جبريل حين سأله عن الإيمان، فقال: "الإيمان أن تؤمن بالله، وملائكته، وكتبه، ورسله، واليوم الآخر، وتؤمن بالقدر خيره وشره" 1. فهذه الأصول الستة هي التي يقوم عليها إيمان العبد، وتصح بها عبادته.
مؤلفات في العقيدة تحت مسمى "أصول الدين":
لعل أول من استخدم هذا المصطلح لعلم العقيدة -وإن لم يشتهر وقتها- هو الإمام الشافعي رحمه الله "ت204هـ"؛ حيث قال في مفتتح كتابه "الفقه الأكبر": "هذا كتاب ذكرنا فيه ظواهر المسائل في أصول الدين، التي لا بد للمكلف من معرفتها، والوقوف عليها.
1- وهذه التسمية استخدمها أيضا الإمام أبو الحسن الأشعري "ت329هـ"، حين وسم كتابه الذي أبان فيه عن عقيدة أهل السنة والجماعة بـ"الإبانة عن أصول الديانة".
2- وكذا استخدمها أبو حاتم الرازي "ت327هـ" في كتابه "أصل السنة والاعتقاد الدين".
3- ومن بعدهما عبيد الله بن محمد بن بطة العكبري "ت387هـ" في كتابه: "الشرح والإبانة عن أصول الديانة"، وهو الكتاب الذي يعرف بـ"الإبانة الصغرى".
4- وعبد القاهر البغدادي "ت429هـ" في كتابه "أصول الدين". وغيرهم.
ملاحظة: يلاحظ أن العقيدة -ههنا- سميت بـ"أصول الدين" تمييزا لها عن الفروع.
وينبغي أن لا يرد على بالك أن الأصول هي التي تؤخذ ويعمل بها فحسب، ويمكن الاستغناء عن الفروع. فهذا الفهم خطأ؛ لأن الدين كل لا يتجزأ. وقد عاب الله على أهل الكتاب أنهم يؤمنون ببعض الكتاب، ويكفرون ببعضه الآخر، فقال: {أَفَتُؤْمِنُونَ بِبَعْضِ الْكِتَابِ وَتَكْفُرُونَ بِبَعْضٍ فَمَا جَزَاءُ مَنْ يَفْعَلُ ذَلِكَ مِنْكُمْ إِلَّا خِزْيٌ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ يُرَدُّونَ إِلَى أَشَدِّ الْعَذَابِ وَمَا اللَّهُ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعْمَلُونَ} [البقرة: من الآية 85] .
--------------------------------------------
দ্বীনের মূলনীতিসমূহের (উসুলুদ্দীনের) শরয়ি হাকিকত:
উসুলুদ্দীন পরিভাষাটির সঠিক ধারণা হলো ঈমানের সেই ছয়টি মূল ভিত্তি, যা মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার এই বাণীতে উল্লেখিত হয়েছে: {সদয় আচরণ এই নয় যে, তোমরা তোমাদের মুখ পূর্ব বা পশ্চিম দিকে ফিরাবে; বরং পুণ্যবান সেই যে ঈমান এনেছে আল্লাহর প্রতি, পরকালের প্রতি, ফেরেশতাগণের প্রতি, কিতাবসমূহের প্রতি ও নবীগণের প্রতি} [সূরা বাকারা: আয়াত ১৭৭-এর অংশ], এবং মহান পরাক্রমশালী আল্লাহর এই বাণীতে: {নিশ্চয় আমি প্রত্যেক বস্তু সৃষ্টি করেছি নির্ধারিত তকদির অনুযায়ী} [সূরা ক্বামার: ৪৯]। আর এগুলো সেই বিষয় যেগুলোর মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিবরাঈল আলাইহিস সালামের প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিলেন যখন তিনি তাঁকে ঈমান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন: "ঈমান হলো এই যে, আপনি ঈমান আনবেন আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাগণের প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি, তাঁর রাসূলগণের প্রতি, পরকালের প্রতি এবং ঈমান আনবেন তকদিরের ভালো ও মন্দের প্রতি।" ১। সুতরাং এই ছয়টি মূল ভিত্তিই হলো সেই বিষয় যার ওপর বান্দার ঈমান প্রতিষ্ঠিত হয় এবং যার মাধ্যমে তার ইবাদত শুদ্ধ হয়।
"উসুলুদ্দীন" শিরোনামের অধীনে আক্বিদা বিষয়ক গ্রন্থসমূহ:
সম্ভবত ইমাম শাফেঈ রহমাতুল্লাহি আলাইহি (মৃত্যু ২০৪ হিজরি) সর্বপ্রথম আক্বিদা শাস্ত্রের জন্য এই পরিভাষাটি ব্যবহার করেছেন—যদিও তখন এটি প্রসিদ্ধ ছিল না। তিনি তাঁর "আল-ফিকহুল আকবার" গ্রন্থের শুরুতে বলেছেন: "এটি এমন একটি গ্রন্থ যাতে আমরা দ্বীনের মূলনীতিসমূহের (উসুলুদ্দীনের) প্রকাশ্য মাসআলাগুলো উল্লেখ করেছি, যা প্রত্যেক মুকাল্লাফের (শরয়ি বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তি) জানা এবং সে সম্পর্কে অবগত হওয়া আবশ্যক।"
১- এই নামকরণটি ইমাম আবুল হাসান আল-আশআরী (মৃত্যু ৩২৯ হিজরি) ও ব্যবহার করেছেন, যখন তিনি তাঁর সেই গ্রন্থটির নামকরণ করেছেন "আল-ইবানাহ আন উসুলিদ দিয়ানাহ" (দ্বীনের মূলনীতিসমূহের বর্ণনা), যার মধ্যে তিনি আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আক্বিদা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন।
২- অনুরূপভাবে আবু হাতিম আর-রাজি (মৃত্যু ৩২৭ হিজরি) তাঁর "আসলুস সুন্নাহ ওয়া ইতিকাদুদ দ্বীন" গ্রন্থে এটি ব্যবহার করেছেন।
৩- তাঁদের পরবর্তী সময়ে উবায়দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে বাত্তাহ আল-উতবারী (মৃত্যু ৩৮৭ হিজরি) তাঁর গ্রন্থ: "আশ-শারহু ওয়াল ইবানাহ আন উসুলিদ দিয়ানাহ" (দ্বীনের মূলনীতিসমূহের ব্যাখ্যা ও বর্ণনা)-তে এটি ব্যবহার করেছেন, যা "আল-ইবানাহ আস-সুগরা" নামে পরিচিত।
৪- এবং আব্দুল কাহের আল-বাগদাদী (মৃত্যু ৪২৯ হিজরি) তাঁর "উসুলুদ্দীন" গ্রন্থে এটি ব্যবহার করেছেন। এ ছাড়াও অন্যান্যরা।
দ্রষ্টব্য: লক্ষণীয় যে, এখানে আক্বিদাকে "ফুরু" বা শাখা-প্রশাখা থেকে পৃথক করার জন্য "উসুলুদ্দীন" বা "দ্বীনের মূলনীতি" নামে অভিহিত করা হয়েছে।
আপনার মনে এমন ধারণা আসা উচিত নয় যে, কেবল মূলনীতিগুলোই গ্রহণ করা হবে এবং তদনুযায়ী আমল করা হবে আর শাখা-প্রশাখাগুলো বর্জন করা যাবে। কারণ এই উপলব্ধি ভুল; যেহেতু দ্বীন একটি অবিভাজ্য পূর্ণাঙ্গ সত্তা। আল্লাহ তাআলা আহলে কিতাবদের নিন্দা করেছেন কারণ তারা কিতাবের কিছু অংশের প্রতি ঈমান আনত এবং অন্য কিছু অংশ অস্বীকার করত। তিনি বলেছেন: {তবে কি তোমরা কিতাবের কিছু অংশে ঈমান আনো এবং কিছু অংশ অস্বীকার করো? তোমাদের মধ্যে যারা এরূপ করে তাদের একমাত্র প্রতিফল পার্থিব জীবনে লাঞ্ছনা এবং কিয়ামতের দিন তাদের কঠিনতম শাস্তির দিকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে। আর তোমরা যা করো আল্লাহ সে সম্পর্কে গাফেল নন} [সূরা বাকারা: আয়াত ৮৫-এর অংশ]।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুফীদ ফী মুহিম্মাতিত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
الوقفة الثالثة: مع مسمى "السنة"
من مسميات العقيدة: السنة.
تعريف السنة لغة واصطلاحا:
السنة لغة من سن يسن ويسن سنا، فهو مسنون. وسن الأمر: بينه. وهي تأني لعدة معان1، منها:
1- الطريقة المسلوكة، سواء أكانت محمود أم مذمومة. ومنه قوله صلى الله عليه وسلم: "من سن في الإسلام سنة حسنة فله أجرها وأجر من عمل بها بعده، من غير أن ينقص من أجورهم شيء. ومن سن في الإسلام سنة سيئة كان عليه وزرها ووزر من عمل بها بعده، من غير أن ينقص من أوزارهم شيء" 2.
2- السيرة، وسنة رسول الله صلى الله عليه وسلم: سيرته التي كان يتحراها. فما ثبت عنه من قول، أو فعل، أو وصف، أو تقرير، قيل له سنة. يقول ابن الأثير: "وقد تكرر في الحديث ذكر السنة وما تصرف منها. والأصل منها: السيرة والطريقة"3.
--------------------------------------------
তৃতীয় বিরতি: "সুন্নাহ" নামকরণের ব্যাপারেআকিদাহর নামসমূহের মধ্যে একটি হলো: সুন্নাহ।
আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে সুন্নাহর সংজ্ঞা:
আভিধানিক অর্থে সুন্নাহ শব্দটি 'সান্না', 'ইয়াসুন্নু' বা 'ইয়াসিননু', 'সান্নান' ধাতু থেকে নির্গত, যার অর্থ করা হয়েছে 'মাসনুন'। আর 'সান্নাল আম্র' অর্থ হলো সে বিষয়টি স্পষ্ট করেছে। এটি কয়েকটি অর্থে ব্যবহৃত হয়, যার মধ্যে রয়েছে:
১- অনুসৃত পথ, তা প্রশংসনীয় হোক বা নিন্দনীয়। এর অন্তর্ভুক্ত হলো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী: "যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো উত্তম রীতির সূচনা করবে, সে এর সওয়াব পাবে এবং তার পরে যারা সেই অনুযায়ী আমল করবে তাদের সওয়াবও সে পাবে, তবে এতে তাদের সওয়াব থেকে বিন্দুমাত্র কমানো হবে না। আর যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো মন্দ রীতির সূচনা করবে, তার উপর সেই মন্দ কাজের গুনাহ বর্তাবে এবং তার পরে যারা সেই অনুযায়ী আমল করবে তাদের গুনাহও তার ওপর বর্তাবে, তবে এতে তাদের গুনাহ থেকে বিন্দুমাত্র কমানো হবে না।" ২।
২- জীবনচরিত, আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ হলো তাঁর জীবনচরিত যা তিনি অনুসরণ করতেন। সুতরাং তাঁর থেকে যা কিছু কথা, কাজ, বৈশিষ্ট্য বা মৌন সম্মতি হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে, তাকেই সুন্নাহ বলা হয়। ইবনুল আসীর বলেন: "হাদিসে সুন্নাহ শব্দটির উল্লেখ এবং এর বিভিন্ন রূপ বারবার এসেছে। এর মূল অর্থ হলো: জীবনচরিত ও পথ।" ৩।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুফীদ ফী মুহিম্মাতিত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
3- العادة. ومنه قوله عز وجل: {سُنَّةَ مَنْ قَدْ أَرْسَلْنَا قَبْلَكَ مِنْ رُسُلِنَا وَلا تَجِدُ لِسُنَّتِنَا تَحْوِيلًا} [الإسراء: 77] ؛ أي: هكذا عادتنا في الذين كفروا برسلنا وآذوهم، بخروج الرسول من بين أظهرهم، يأتيهم العذاب1.
أما السنة عند الأصوليين: فهي ما قاله رسول الله صلى الله عليه وسلم، أو فعله، أو قرر عليه2.
المناسبة بين مسمى السنة، ومسمى العقيدة:
لأهمية وخطورة مسائل الاعتقاد التي هي أصل الدين، وعليها يبنى غيرها من أعمال الإسلام، أطلق العلماء لفظ "السنة" على ما وافق الكتاب والسنة من قضايا الاعتقاد.
يقول شيخ الإسلام ابن تيمية: "ولفظ السنة في كلام السلف يتناول السنة في العبادات، وفي الاعتقادات. وإن كان كثير ممن صنف في السنة يقصدون الكلام في الاعتقادات"3.
ولما كانت السنة مصدرا من مصادر العقيدة -كما سيأتي، وطريقة من طرق إثبات العقيدة الصحيحة، اعتبر العلماء معنى السنة: اتباع العقيدة الصحيحة، وأطلقوا على عقيدة السلف الصالح اسم السنة، بسبب اتباعهم لطريقة رسول الله صلى الله عليه وسلم وأصحابه رضي الله عنهم في ذلك.
يقول ابن رجب الحنبلي رحمه الله: "السنة: طريقة النبي صلى الله عليه وسلم التي كان عليها هو وأصحابه، وغيرهم، السنة: عبارة عما سلم من الشبهات في الاعتقادات، خاصة في مسائل الإيمان بالله، وملائكته، وكتبه، ورسله، واليوم الآخر. وكذلك مسائل القدر، وفضائل الصحابة.
وصنفوا في هذا العلم تصانيف، وسموها كتب السنة"4.
--------------------------------------------
৩- অভ্যাস বা রীতি। আর এ থেকেই মহান আল্লাহর বাণী: "আপনার পূর্বে আমি আমার রসূলদের মধ্যে যাদেরকে পাঠিয়েছিলাম তাদের ক্ষেত্রে নিয়ম এমনই ছিল এবং আপনি আমার নিয়মে কোনো পরিবর্তন পাবেন না।" [আল-ইসরা: ৭৭]; অর্থাৎ: আমাদের রসূলদেরকে যারা অস্বীকার করেছে এবং তাদের কষ্ট দিয়েছে, তাদের ব্যাপারে আমাদের রীতি এমনই যে, রসূল তাদের মধ্য থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর তাদের ওপর আযাব নেমে আসে।১
পক্ষান্তরে উসুলবিদদের নিকট সুন্নাহ হলো: যা আল্লাহর রসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক) বলেছেন, অথবা করেছেন, অথবা যাতে তিনি মৌনসম্মতি প্রদান করেছেন।২
সুন্নাহ ও আকিদাহ নামকরণের মধ্যে সামঞ্জস্য:
আকিদাহ বা বিশ্বাসের বিষয়গুলোর গুরুত্ব ও সংবেদনশীলতার কারণে, যা দ্বীনের মূল এবং যার ওপর ইসলামের অন্যান্য আমলসমূহ নির্মিত হয়, উলামায়ে কেরাম আকিদাহর সেই বিষয়গুলোকে 'সুন্নাহ' শব্দে অভিহিত করেছেন যা কুরআন ও সুন্নাহর সাথে সংগতিপূর্ণ।
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন: "সালাফদের পরিভাষায় সুন্নাহ শব্দটি ইবাদত ও আকিদাহ—উভয় ক্ষেত্রের সুন্নাহকে অন্তর্ভুক্ত করে। যদিও যারা সুন্নাহ বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন, তাদের অনেকে আকিদাহর বিষয়ে আলোচনা করাকেই উদ্দেশ্য করেছেন।"৩
যেহেতু সুন্নাহ হলো আকিদাহর অন্যতম উৎস—যেমনটি সামনে আসবে—এবং সঠিক আকিদাহ প্রমাণের অন্যতম পথ, তাই উলামায়ে কেরাম সুন্নাহর অর্থ সাব্যস্ত করেছেন: সঠিক আকিদাহর অনুসরণ। আর সালাফে সালেহীনের আকিদাহকে তারা 'সুন্নাহ' নামে অভিহিত করেছেন, কারণ তারা এই বিষয়ে আল্লাহর রসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক) এবং তাঁর সাহাবীগণের (আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) পদ্ধতির অনুসরণ করেছিলেন।
ইবনে রজব হাম্বলী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বলেন: "সুন্নাহ হলো নবী (তাঁর ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক)-এর সেই পথ যার ওপর তিনি নিজে এবং তাঁর সাহাবীগণ ও অন্যান্যরা ছিলেন। সুন্নাহ হলো বিশ্বাসের ক্ষেত্রে সংশয় থেকে মুক্ত থাকা, বিশেষ করে আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রসূলগণ এবং পরকালের প্রতি ঈমানের বিষয়গুলোতে। অনুরূপভাবে তাকদীরের বিষয়সমূহ এবং সাহাবীগণের মর্যাদার ক্ষেত্রেও।
আর তাঁরা এই ইলমের বিষয়ে অনেক কিতাব রচনা করেছেন এবং সেগুলোর নাম দিয়েছেন 'সুন্নাহর কিতাব'।"৪
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুফীদ ফী মুহিম্মাতিত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
فإطلاق اسم السنة على مباحث الاعتقاد، يشعر بأهمية العقيدة؛ إذ هي أصل الدين، والمخالف فيها على خطر عظيم1.
مؤلفات في العقيدة تحت مسمى "السنة":
ساد اصطلاح السنة في القرن الثالث الهجري، في عصر إمام أهل السنة أحمد بن حنبل، حين ظهرت الفرق، وراجت عقائد المبتدعة. فأخذ العلماء يطلقون على أصول الدين ومسائل العقيدة اسم "السنة" تمييزا لها عن مقولات الفرق. وأذكر فيما يلي بعضا من المصنفات التي كتبوها تحت مسمى السنة:
1- السنة لابن أبي شيبة "ت235هـ".
2- السنة لأحمد بن حنبل "ت241هـ".
3- السنة للأثرم؛ أبي بكر أحمد بن محمد بن هانئ البغدادي "ت273هـ".
4- السنة لأبي علي حنبل بن إسحاق بن حنبل بن هلال "ت273هـ".
5- السنة لأبي داود سليمان بن الأشعث السجستاني "ت275هـ".
--------------------------------------------
আকিদার বিষয়সমূহের ওপর 'সুন্নাহ' নাম ব্যবহার করা আকিদার গুরুত্বকে অনুধাবন করায়; কেননা এটি দ্বীনের মূল ভিত্তি, আর এতে বিরোধিতাকারী মহা বিপদের সম্মুখীন১।
'সুন্নাহ' নামে আকিদা বিষয়ক রচনাবলি:
হিজরি তৃতীয় শতাব্দীতে আহলে সুন্নাহর ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বলের যুগে 'সুন্নাহ' পরিভাষাটি প্রচলিত হয়, যখন বিভিন্ন দল-উপদলের আবির্ভাব ঘটেছিল এবং বিদআতিদের আকিদাগুলো বিস্তার লাভ করেছিল। তাই উলামায়ে কেরাম দ্বীনের মূলনীতি এবং আকিদার মাসআলাগুলোর ওপর 'সুন্নাহ' নামটি প্রয়োগ করতে শুরু করেন, যাতে সেগুলোকে বিভিন্ন দল-উপদলের মতবাদ থেকে পৃথক করা যায়। নিচে আমি 'সুন্নাহ' নামে তাদের রচিত কিছু গ্রন্থের নাম উল্লেখ করছি:
১- ইবনে আবি শায়বার 'আস-সুন্নাহ' (মৃত্যু ২৩৫ হি.)।
২- আহমাদ ইবনে হাম্বলের 'আস-সুন্নাহ' (মৃত্যু ২৪১ হি.)।
৩- আল-আছরাম আবু বকর আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে হানি আল-বাগদাদির 'আস-সুন্নাহ' (মৃত্যু ২৭৩ হি.)।
৪- আবু আলী হাম্বল ইবনে ইসহাক ইবনে হাম্বল ইবনে হিলালের 'আস-সুন্নাহ' (মৃত্যু ২৭৩ হি.)।
৫- আবু দাউদ সুলাইমান ইবনে আশআস আস-সিজিস্তানির 'আস-সুন্নাহ' (মৃত্যু ২৭৫ হি.)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুফীদ ফী মুহিম্মাতিত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
الوقفة الرابعة: مع مسمى "الفقه الأكبر"
من المسميات التي أطلقت على العقيدة: الفقه الأكبر.
تعريف الفقه لغة واصطلاحا:
الفقه في اللغة: الفهم. يقول ابن فارس: "فقه: الفاء والقاف والهاء أصل واحد صحيح، يدل على إدراك الشيء والعلم به. تقول: فقهت الحديث أفقهه. وكل علم بشيء فهو فقه. ثم اختص بذلك علم الشريعة، فقيل لكل عالم بالحلال والحرام: فقيه"1.
--------------------------------------------
চতুর্থ আলোচনা: "আল-ফিকহুল আকবার" নামকরণ নিয়েআকিদাহর জন্য ব্যবহৃত নামগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো: আল-ফিকহুল আকবার।
ফিকহ-এর শাব্দিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞা:
অভিধানে ফিকহ হলো: বুঝা বা উপলব্ধি করা। ইবনে ফারিস বলেন: "ফিকহ: ফা, ক্বফ এবং হা একটি সঠিক মূল শব্দ, যা কোনো বিষয় উপলব্ধি করা এবং তা সম্পর্কে জানার প্রতি নির্দেশ করে। আপনি বলতে পারেন: 'আমি কথাটি বুঝেছি'। আর কোনো কিছু সম্পর্কে প্রতিটি জ্ঞানই হলো ফিকহ। পরবর্তীতে এটি শরীয়াহর জ্ঞানের সাথে নির্দিষ্ট হয়ে যায়, ফলে হালাল ও হারাম সম্পর্কে অবগত প্রত্যেক আলিমকে 'ফকীহ' বলা হয়।"১
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুফীদ ফী মুহিম্মাতিত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
ولقد كان الفقه يطلق في القرون الأولى على العلم بأحكام الشريعة كلها. ومنه قوله صلى الله عليه وسلم: "من يرد الله به خيرا يفقهه في الدين" 1. وكذا دعاؤه صلى الله عليه وسلم لابن عمه ابن عباس رضي الله عنهما كان عاما في الدين كله، لا في مسائل الحلال والحرام فحسب، في قوله: "اللهم فقهه في الدين وعلمه التأويل"2.
والملاحظ أن المتأخرين خصوا اسم "الفقه" بمعرفة مسائل الحلال والحرام، وغيرها.
سبب تسمية العقيدة بالفقه الأكبر:
سمى العلماء العقيدة بالفقه الأكبر مقارنة بفقه الفروع. فقولنا "الفقه الأكبر" يشعر بأن هناك فقها آخر ليس بأكبر، وهو فقه ما أطلق عليه اسم الفروع.
مؤلفات في القعيدة تحت مسمى "الفقه الأكبر":
أول من استخدم مصطلح "الفقه الأكبر" هو الإمام أبو حنيفة؛ النعمان بن ثابت "ت150هـ"؛ فقد روي عنه كتاب بهذا الاسم، وهو مشهور عند أصحابه3، بحث فيه رحمه الله بعض مسائل الاعتقاد.
وكذلك ينسب للإمام الشافعي؛ محمد بن إدريس "ت204هـ" كتاب باسم "الفقه الأكبر"، عرض فيه مسائل الاعتقاد بالتفصيل4.
ملاحظة: يرد على هذه التسمية ما ورد على تسمية "أصول الدين"؛ فقد يظن البعض أن تسمية العقيدة بالفقه الأكبر، يعني إهمال الفقه الآخر -مسائل الأحكام، والحلال والحرام-؛ لأنه أصغر مقارنة بالأكبر. وهذا الفهم غير صحيح؛ لأن تسمية العقيدة بالفقه الأكبر يعني الاهتمام بها، والبدء بتصحيحها قبل القيام بأداء الأعمال، ولا يعني -بحال- إهمال أداء الأعمال، ومعرفة أدلتها التفصيلية؛ لأن دين الإسلام كل لا يتجزأ، ولا يمكن الاستغناء عن بعضه، والاكتفاء بالبعض الآخر.
--------------------------------------------
প্রাথমিক শতাব্দীগুলোতে শরীয়তের সমস্ত বিধানের জ্ঞানকেই 'ফিকহ' বলা হতো। এর অন্তর্ভুক্ত হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে তিনি দ্বীনের গভীর প্রজ্ঞা দান করেন।" ১। একইভাবে তাঁর চাচাতো ভাই ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা-এর জন্য তাঁর দু'আটিও ছিল সামগ্রিকভাবে পুরো দ্বীনের জন্য, কেবল হালাল-হারামের মাসআলাসমূহের জন্য নয়; তিনি বলেছিলেন: "হে আল্লাহ! তাকে দ্বীনের গভীর প্রজ্ঞা দান করুন এবং তাকে কিতাবের ব্যাখ্যা শিক্ষা দিন।" ২。
লক্ষ্যণীয় যে, পরবর্তীকালের আলিমগণ 'ফিকহ' পরিভাষাটিকে কেবল হালাল-হারাম এবং অন্যান্য বিধান সংক্রান্ত মাসআলা জানার জন্য নির্দিষ্ট করেছেন।
আকিদাহকে 'আল-ফিকহুল আকবার' নামকরণের কারণ:
আলিমগণ শাখা-প্রশাখার ফিকহ-এর তুলনায় আকিদাহকে 'আল-ফিকহুল আকবার' বা শ্রেষ্ঠ ফিকহ নামে অভিহিত করেছেন। আমাদের 'আল-ফিকহুল আকবার' বলাটা ইঙ্গিত দেয় যে, এখানে এমন অন্য একটি ফিকহও রয়েছে যা 'আকবার' বা শ্রেষ্ঠ নয়, আর তা হলো সেই ফিকহ যাকে শাখা-প্রশাখার ফিকহ বলা হয়।
আকিদাহর ক্ষেত্রে 'আল-ফিকহুল আকবার' শিরোনামে রচিত গ্রন্থসমূহ:
সর্বপ্রথম 'আল-ফিকহুল আকবার' পরিভাষাটি ব্যবহার করেন ইমাম আবু হানিফা নুমান ইবনে সাবিত (মৃত্যু ১৫০ হিজরি); তাঁর থেকে এই নামে একটি কিতাব বর্ণিত হয়েছে, যা তাঁর অনুসারীদের নিকট সুপ্রসিদ্ধ। ৩। সেখানে তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) বিশ্বাসের কিছু মাসআলা নিয়ে আলোচনা করেছেন।
অনুরূপভাবে ইমাম শাফেয়ী মুহাম্মদ ইবনে ইদরীস (মৃত্যু ২০৪ হিজরি)-এর প্রতিও 'আল-ফিকহুল আকবার' নামে একটি কিতাব সম্বন্ধযুক্ত করা হয়, যেখানে তিনি আকিদাহর মাসআলাসমূহ বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছেন। ৪।
দ্রষ্টব্য: এই নামকরণের ক্ষেত্রে সেই একই আপত্তি আসতে পারে যা 'উসূলুদ দ্বীন' নামকরণের ক্ষেত্রে এসেছিল। কেউ কেউ মনে করতে পারেন যে, আকিদাহকে 'আল-ফিকহুল আকবার' বলার অর্থ হলো অন্য ফিকহকে—অর্থাৎ বিধানাবলী এবং হালাল-হারামের মাসআলাসমূহকে—অবহেলা করা; যেহেতু তা 'আকবার' বা শ্রেষ্ঠের তুলনায় ছোট। এই ধারণাটি সঠিক নয়। কারণ আকিদাহকে 'আল-ফিকহুল আকবার' বলার উদ্দেশ্য হলো এর প্রতি অধিক গুরুত্ব প্রদান করা এবং আমল শুরু করার আগে আকিদাহ সংশোধনের মাধ্যমে শুরু করা। এর মানে কোনোভাবেই আমল বর্জন করা বা সেগুলোর বিস্তারিত দলিল জানার গুরুত্ব কমিয়ে দেওয়া নয়। কারণ ইসলাম ধর্ম একটি অবিভাজ্য পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা, এর একাংশকে বাদ দিয়ে অন্য অংশ গ্রহণ করার কোনো সুযোগ নেই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুফীদ ফী মুহিম্মাতিত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
المسألة الثالثة: في بيان بعض المسميات التي أطلقت على حملة العقيدة الإسلامية
الوقفة الأولى: أهل السنة والجماعة…المسألة الثالثة: في بيان بعض المسميات التي أطلقت على حملة العقيدة الإسلامية:
عرفنا بعض المسميات التي أطلقت على علم العقيدة الإسلامية.
وثمة مسميات أطلقت على أهل العقيدة الصحيحة وحملتها. سأذكر بعضها في الوقفات التالية:
الوقفة الأولى: أهل السنة والجماعة
من المسميات التي أطلقت على حملة العقيدة الصحيحة: أهل السنة والجماعة.
التعريف بأهل السنة والجماعة:
هذا المسمى يجمع وصفين اثنين لأصحابه، وهما السنة، والجماعة.
والسنة قد تقدم معناها اللغوي، وذكرنا أن العلماء يعرفونها اصطلاحا بأنها: ما نقل عن رسول الله صلى الله عليه وسلم من قول أو فعل أو وصف أو تقرير1.
والسنة قد تطلق على ما يقابل البدعة، كقولهم: طلاق السنة كذا، وطلاق البدعة كذا، وفلان على سنة -إذا وافق التنزيل والأثر في القول والفعل-، وفلان على بدعة -إذا عمل خلاف ذلك-2. وهاتان الكلمتان -السنة والبدعة- تستعملان دائما ككلمتين متضادتين؛ لأن السنة هي الطريق التي كان عليها رسول الله صلى الله عليه وسلم وأصحابه رضي الله عنهم، والبدعة هي ترك تلك الطريق والانحراف عنها.
وقد ورد في الأثر ذكر السنة مقابل البدعة؛ من ذلك ما قاله رسول الله صلى الله عليه وسلم: "ما أحدث قوم بدعة، إلا رفع مثلها من السنة" 3. وما قاله ابن عباس رضي الله عنهما:
--------------------------------------------
তৃতীয় মাসআলাহ: ইসলামী আকিদা বহনকারীদের উপর যেসকল নাম প্রয়োগ করা হয়েছে তার বর্ণনায়
প্রথম বিরতি: আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত...তৃতীয় মাসআলাহ: ইসলামী আকিদা বহনকারীদের উপর যেসকল নাম প্রয়োগ করা হয়েছে তার বর্ণনায়:
আমরা ইসলামী আকিদা শাস্ত্রের উপর প্রযুক্ত কিছু নাম সম্পর্কে জেনেছি।
আর সহীহ আকিদার অনুসারী ও বাহকদের উপরও কিছু নাম প্রয়োগ করা হয়েছে। আমি পরবর্তী বিরতিসমূহে সেগুলোর মধ্য থেকে কিছু উল্লেখ করব:
প্রথম বিরতি: আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত
সহীহ আকিদা বহনকারীদের ওপর যেসকল নাম প্রয়োগ করা হয় তার অন্যতম হলো: আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত।
আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের পরিচয়:
এই নামটি এর অধিকারীদের জন্য দুটি বৈশিষ্ট্যকে একত্রিত করে, তা হলো: সুন্নাহ এবং জামাআত।
সুন্নাহ-এর শাব্দিক অর্থ ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে, এবং আমরা উল্লেখ করেছি যে উলামায়ে কিরাম এর পারিভাষিক সংজ্ঞায় বলেন: যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কথা, কাজ, গুণাবলি অথবা মৌনসম্মতি হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।১
সুন্নাহ শব্দটি কখনো বিদআতের বিপরীতেও ব্যবহৃত হয়, যেমন তাদের উক্তি: সুন্নাহসম্মত তালাক এরূপ, আর বিদআতী তালাক এরূপ। এবং অমুক ব্যক্তি সুন্নাহর ওপর আছেন—যদি তার কথা ও কাজে ওহী এবং আসারের মিল থাকে—আর অমুক ব্যক্তি বিদআতের ওপর আছেন—যদি সে এর বিপরীত কাজ করে।২ এই শব্দ দুটি—সুন্নাহ ও বিদআত—সর্বদা পরস্পর বিপরীত শব্দ হিসেবে ব্যবহৃত হয়; কারণ সুন্নাহ হলো সেই পথ যার ওপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) ছিলেন, আর বিদআত হলো সেই পথ পরিত্যাগ করা এবং তা থেকে বিচ্যুত হওয়া।
আসারে বিদআতের বিপরীতে সুন্নাহর উল্লেখ এসেছে; তার মধ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বলেছেন: "কোনো জাতি যখনই কোনো বিদআত উদ্ভাবন করে, তখনই তার সমপরিমাণ সুন্নাহ তুলে নেওয়া হয়।" ৩ এবং ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) যা বলেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুফীদ ফী মুহিম্মাতিত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ২০)
"ما يأتي على الناس من عام إلا أحدثوا فيه بدعة، وأماتوا فيه سنة، حتى تحيى البدع، وتموت السنن"1.
فالسنة بهذا المعنى، تشمل ما كان عليه رسول الله صلى الله عليه وسلم، وخلفاؤه الراشدون رضي الله عنهم، وصحابته الكرام رضي الله عنهم من الاعتقادات، والأعمال، والأقوال.
أما الجماعة في اللغة: فهي مأخوذة من الجمع؛ وهو ضم الشيء بتقريب بعضه من بعض؛ يقال: جمعته فاجتمع. قال ابن فارس: "الجيم والميم والعين أصل واحد، يدل على تضام الشيء"2. والجماعة: العدد الكثير من الناس، أو القوم المجتمعون على أمر ما، أو طائفة يجمعهم غرض واحد3.
والجماعة شرعا هم: الرسول صلى الله عليه وسلم، وأصحابه رضي الله عنهم، والتابعون، وتابعوهم بإحسان4.
وأهل الشيء هم: أخص الناس به. يقول أهل اللغة: أهل الرجل: أخص الناس به، وأهل البيت: سكانه، وأهل الإسلام: من يدين به، وأهل المذهب: من يدين به5.
وبإمكاننا بعدما علمنا معنى أهل، والسنة، والجماعة، أن نعرف أهل السنة والجماعة بأنهم المتبعون لمنهج الرسول صلى الله عليه وسلم وأصحابه في الأصول والفروع6.
وقيل: هم من كان على مثل ما كان عليه النبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه اعتقادا وقولا وفعلا؛ لأن رسول الله صلى الله عليه وسلم سئل عن الفرقة الناجية، فأجاب مرة بأنها ما كان عليه هو وأصحابه، وأخرى قال: هي الجماعة7.
--------------------------------------------
"মানুষের কাছে এমন কোনো বছর আসে না যাতে তারা নতুন কোনো বিদআত (নব-উদ্ভাবন) তৈরি করে না এবং সুন্নাতকে বিলুপ্ত করে না, এভাবে একসময় বিদআতগুলো জীবিত হয় এবং সুন্নাতগুলো বিলুপ্ত হয়ে যায়।"১।
এই অর্থে সুন্নাত বলতে সেই বিশ্বাস, কাজ ও কথাকে বোঝায় যার উপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তাঁর খোলাফায়ে রাশেদিন এবং তাঁর সম্মানিত সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) ছিলেন।
শাব্দিক অর্থে জামাআত: এটি 'জাম' শব্দ থেকে উদ্ভূত; যার অর্থ হলো এক বস্তুকে অন্য বস্তুর নিকটে এনে একত্রিত করা; যেমন বলা হয়: আমি একে একত্রিত করেছি ফলে তা একত্রিত হয়েছে। ইবনে ফারিস বলেন: "জিম, মিম এবং আইন— এই তিনটি বর্ণ একটি মূল উৎস, যা কোনো কিছু একত্রিত হওয়াকে বোঝায়"২। আর জামাআত হলো: বহু সংখ্যক মানুষ, অথবা কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ একদল মানুষ, অথবা এমন একটি দল যাদেরকে কোনো একটি উদ্দেশ্য একত্রিত করেছে৩।
শরীয়তের পরিভাষায় জামাআত হলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তাঁর সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম), তাবেয়ীগণ এবং নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারীগণ৪।
কোনো জিনিসের 'আহল' (অধিকারী/অনুসারী) বলতে সেই জিনিসের সাথে সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের বোঝায়। ভাষাবিদগণ বলেন: কোনো ব্যক্তির 'আহল' হলো তার সাথে সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিগণ, 'আহলুল বাইত' হলো ঘরের বাসিন্দা, 'আহলুল ইসলাম' হলো যারা ইসলামের অনুসারী এবং 'আহলুল মাজহাব' হলো যারা সেই মাযহাবের অনুসারী৫।
আহল, সুন্নাত এবং জামাআত— এই শব্দগুলোর অর্থ জানার পর আমরা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতকে এভাবে সংজ্ঞায়িত করতে পারি যে: তাঁরা হলেন সেই সকল ব্যক্তি যারা মৌলিক (উসুল) এবং শাখা-প্রশাখাগত (ফুরু) সকল বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীদের মানহাজ বা পদ্ধতির অনুসারী৬।
আবার বলা হয়েছে: তাঁরা হলেন সেই সকল ব্যক্তি যারা বিশ্বাস, কথা এবং কাজের ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীদের আদর্শের ওপর অটল। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মুক্তিপ্রাপ্ত দল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি একবার উত্তর দিয়েছিলেন যে, তা হলো সেই পথ যার ওপর তিনি নিজে এবং তাঁর সাহাবীগণ রয়েছেন; আবার অন্য সময় বলেছেন: তা হলো জামাআত৭।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুফীদ ফী মুহিম্মাতিত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ২১)
وقيل: "هم الذين اجتمعوا على الأخذ بسنة النبي صلى الله عليه وسلم، والعمل بها ظاهرا وباطنا في القول والعمل والاعتقاد"1.
ملاحظة: لا يقصد بالجماعة هنا مجموع الناس وعامتهم، ولا أغلبهم، ولا سوادهم، ما لم يجتمعوا على الحق؛ لأن الجماعة هي التمسك بالكتاب والسنة، ولو كنت وحدك، كما قال عبد الله بن مسعود رضي الله عنه: "إنما الجماعة ما وافق طاعة الله، وإن كنت وحدك"2.
يقول عبد الرحمن بن إسماعيل، المعروف بأبي شامة "ت665هـ: "وحيث جاء الأمر بلزوم الجماعة فالمراد به لزوم الحق واتباعه، وإن كان المتمسك به قليلا، والمخالف كثيرا؛ لأن الحق الذي كانت عليه الجماعة الأولى من النبي صلى الله عليه وسلم، وأصحابه رضي الله عنهم، ولا تنظر إلى كثرة أهل الباطل بعدهم"3.
--------------------------------------------
এবং বলা হয়েছে: "তারা হলেন ঐ সকল ব্যক্তি যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ গ্রহণ করার ব্যাপারে এবং কথা, কাজ ও বিশ্বাসের ক্ষেত্রে বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণভাবে তার ওপর আমল করার ব্যাপারে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন।"১।
দ্রষ্টব্য: এখানে 'জামায়াত' বলতে সাধারণ মানুষের সমষ্টি, কিংবা তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ বা জনতাকে বোঝানো হয়নি, যতক্ষণ না তারা সত্যের (হক) ওপর ঐক্যবদ্ধ হয়; কারণ জামায়াত হলো কিতাব ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা, যদিও আপনি একাকী হন। যেমনটি আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন: "জামায়াত কেবল তা-ই যা আল্লাহর আনুগত্যের অনুকূল হয়, যদিও আপনি একাকী হন।"২।
আবু শামা নামে পরিচিত আব্দুর রহমান ইবনে ইসমাইল (মৃত্যু ৬৬৫ হি.) বলেন: "যেখানেই জামায়াতবদ্ধ থাকার আদেশ এসেছে, সেখানে সত্যকে আঁকড়ে ধরা ও তার অনুসরণ করাই উদ্দেশ্য, যদিও তা ধারণকারী সংখ্যায় অল্প হয় এবং বিরোধিতাকারী অধিক হয়; কারণ সত্য (হক) হলো তা-ই যার ওপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) অর্থাৎ প্রথম জামায়াত প্রতিষ্ঠিত ছিল। সুতরাং তাদের পরবর্তী বাতিলপন্থীদের সংখ্যাধিক্যের দিকে তাকাবেন না।"৩।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুফীদ ফী মুহিম্মাতিত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ২১)
الوقفة الثانية: السلفمن المسميات التي أطلقت على حملة العقيدة الصحيحة: السلف.
التعريف بهم:
السلف في اللغة: جمع سالف، والسالف: المتقدم. والسلف: الجماعة المتقدمون1.
قال ابن فارس: "سلف: السين واللام والفاء أصل يدل على تقدم وسبق. من ذلك: السلف الذين مضوا، والقوم السلاف: المتقدمون"2.
فالسلف -إذًا- من سلف يسلف سلفا وسلوفا أي: تقدم3.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় আলোচনা: সালাফসহীহ আকিদার বাহকদের যেসব নামে অভিহিত করা হয় তার অন্যতম হলো: সালাফ।
তাদের পরিচয়:
আভিধানিক অর্থে সালাফ: এটি 'সালিফ' শব্দের বহুবচন, আর 'সালিফ' অর্থ হলো অগ্রগামী। আর সালাফ হলো: পূর্ববর্তী একদল লোক১।
ইবনে ফারিস বলেছেন: "সালাফ: সীন, লাম এবং ফা এমন এক মূল যা অগ্রগমন ও পূর্ববর্তিতার প্রমাণ দেয়। এর থেকেই এসেছে: 'আস-সালাফ' যারা গত হয়েছেন, এবং 'আস-সুলাফ' সম্প্রদায়: যারা অগ্রগামী"২।
সুতরাং সালাফ শব্দটি 'সালাফা', 'ইয়াসলুফু', 'সালাফান' এবং 'সুলুফান' থেকে এসেছে অর্থাৎ: সে অগ্রগামী হয়েছে৩।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুফীদ ফী মুহিম্মাতিত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ২২)
وسلف كل إنسان: من تقدمه من آبائه وذوي قرابته الذين هم فوقه في السن والفضل، وأحدهم سالف1. وقيل: من تقدمه بالموت من آبائه وذوي قرابته. ولهذا سمي الصدر الأول من التابعين بالسلف الصالح2. هذا عن السلف في اللغة.
أما السلف في الاصطلاح: فقد اختلف العلماء في تحديد المراد بهم، نتيجة اختلافهم في تحديد الزمن الذي ينسبون إليه، إلى عدة أقوال:
1- القول الأول: أنهم الصحابة رضي الله عنهم فقط، وهو قول عدد من شراح الرسالة لابن أبي زيد القيرواني3.
2- القول الثاني: أنهم الصحابة والتابعون. وممن ذهب إلى هذا أبو حامد الغزالي، حين قال: "اعلم أن الحق الصريح الذي لا مراء فيه عند أهل البصائر، هو مذهب السلف؛ أعني مذهب الصحابة والتابعين"4.
3- القول الثالث: أنهم الصحابة، والتابعون، وتابعوا التابعين؛ أي: القرون الثلاثة التي أثبت لها رسول الله صلى الله عليه وسلم الخيرية بقوله: "خير الناس قرني، ثم الذين يلونهم، ثم الذين يلونهم" 5.
وإلى هذا القول ذهب عدد كبير من أهل العلم؛ كالإمام الشوكاني، والإمام السفاريني، وغيرهما5.
ملاحظة:
يلاحظ على هذه الأقوال جميعها أنها تدخل من كان في القرون الأولى في مسمى السلف. ولكن ليس كل من كان في ذلك الزمن يسمى سلفيا، إذ المعروف أن الفرق ظهرت
--------------------------------------------
প্রত্যেক মানুষের সালাফ হলেন: তাঁর পূর্ববর্তী সেই সমস্ত পিতৃপুরুষ এবং নিকটাত্মীয় যারা বয়স এবং শ্রেষ্ঠত্বের দিক থেকে তাঁর উপরে, তাঁদের একজনকে বলা হয় 'সালেফ'। আর বলা হয়েছে: তাঁর সেই সমস্ত পিতৃপুরুষ এবং নিকটাত্মীয় যারা তাঁর পূর্বে মৃত্যুবরণ করেছেন। এই কারণেই তাবেয়ীদের প্রথম প্রজন্মকে 'সালাফে সালেহীন' (সৎ পূর্বসূরি) নামকরণ করা হয়েছে। এটি হচ্ছে শাব্দিক অর্থে সালাফের পরিচয়।
আর পারিভাষিক অর্থে সালাফ: তাঁদের দ্বারা কী উদ্দেশ্য তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে আলেমগণ মতভেদ করেছেন, যার কারণ হলো যে সময়ের সাথে তাঁদের সম্পর্ক যুক্ত করা হয় তা নির্ধারণে মতপার্থক্য। এ বিষয়ে কয়েকটি অভিমত রয়েছে:
১- প্রথম মত: তাঁরা কেবল সাহাবায়ে কেরাম (রাযিয়াল্লাহু আনহুম), আর এটি ইবনে আবি যায়েদ আল-কায়রাওয়ানির 'আর-রিসালা' গ্রন্থের বেশ কিছু ব্যাখ্যাকারকের অভিমত।
২- দ্বিতীয় মত: তাঁরা হলেন সাহাবী এবং তাবেয়ীগণ। যারা এই মত পোষণ করেছেন তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আবু হামিদ আল-গাজালি; তিনি যখন বলেন: "জেনে রাখো যে, অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তিদের নিকট যে স্পষ্ট সত্যের ব্যাপারে কোনো বিতর্ক নেই, তা হলো সালাফদের মাযহাব; অর্থাৎ সাহাবী ও তাবেয়ীদের মাযহাব।"
৩- তৃতীয় মত: তাঁরা হলেন সাহাবী, তাবেয়ী এবং তাবে-তাবেয়ীগণ; অর্থাৎ সেই তিন যুগ যাদের শ্রেষ্ঠত্বের সাক্ষ্য রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে দিয়েছেন: "মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম হলো আমার যুগের লোক, এরপর যারা তাদের পরবর্তী, এরপর যারা তাদের পরবর্তী।"
আলেমদের একটি বড় দল এই মতের দিকে গিয়েছেন; যেমন ইমাম শাওকানি, ইমাম সাফফারিনি এবং আরও অনেকে।
দ্রষ্টব্য:
এই সব কটি মতের ক্ষেত্রে লক্ষ্য করা যায় যে, এগুলো প্রথম শতাব্দীগুলোতে বিদ্যমান ব্যক্তিদের 'সালাফ' সংজ্ঞার আওতাভুক্ত করে। তবে সেই যুগে অবস্থানকারী সকলকেই 'সালাফি' বলা হয় না, কারণ এটি সর্বজনবিদিত যে বিভিন্ন ফিরকার উদ্ভব ঘটেছিল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুফীদ ফী মুহিম্মাতিত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
في القرون الأولى، فـ"ليس السبق الزمني كافيا في تعيين السلف، بل لا بد أن يضاف إلى هذا السبق الزمني موافقة الرأي للكتاب والسنة نصا وروحا. فمن خالف رأيه الكتاب والسنة، فليس بسلفي، وإن عاش بين ظهراني الصحابة والتابعين"1.
ويصح أن يضاف إلى أهل القرون المفضلة الموافقين للكتاب والسنة، من وافق الكتاب والسنة، ونهج نهج أولئك الكرام، واتبع آثارهم ومروياتهم الصحيحة التي أبانوا بها الحق.
فلا شك أنه داخل في مفهوم هذه الكلمة "السلف". ولقد وفق الإمام السفاريني رحمه الله حين حدد مذهب السلف بأنه "ما كان عليه الصحابة الكرام رضوان الله عليهم، وأعيان التابعين لهم بإحسان، وأتباعهم، وأئمة الدين ممن شهد له بالإمامة، وعرف عظم شأنه في الدين، وتلقى الناس كلامهم خلفا عن سلف، دون من رمي ببدعة، أو شهر بلقب غير مرضي؛ مثل: الخوارج، والروافض، والقدرية، والمرجئة، والجبرية، والجهمية، والمعتزلة، والكرامية، ونحو هؤلاء"2.
إذًا: ليس المراد بالسلف أهل القرون المفضلة فحسب، بل يدخل فيهم كل من وافق الكتاب والسنة، ونهج منهج الصحابة رضي الله عنهم.
مفهوم الخلف عند علماء السلف:
الخلف في اللغة هو من جاء خلف المتقدم، سواء أكان تأخره في الزمن، أو في الرتبة3.
وإذا أطلقت كلمة "الخلف" في مقابل كلمة "السلف" يراد بها: "من رمي ببدعة، أو شهر بلقب غير مرضي"1، كما تقدمت عبارة الإمام السفاريني في ذلك. فمن انحرف عن الكتاب والسنة، ومال عن طريقة الصحابة رضي الله عنهم، فلم يتخذها منهجا له، فهو خلفي، وإن عاش بين ظهراني الصحابة.
--------------------------------------------
প্রথম শতাব্দীগুলোর ক্ষেত্রে, "সালাফ নির্ধারণে কেবল সময়ের অগ্রগামিতাই যথেষ্ট নয়, বরং এই সময়ের অগ্রগামিতার সাথে শব্দে ও মর্মে কিতাব ও সুন্নাহর সাথে মতাদর্শের মিল থাকাও আবশ্যক। সুতরাং যার মতাদর্শ কিতাব ও সুন্নাহর বিরোধী হবে, সে সালাফী নয়, যদিও সে সাহাবী ও তাবিঈদের যুগে বসবাস করে থাকে।"১
যারা কিতাব ও সুন্নাহর অনুসারী ছিলেন—এমন শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের মানুষের সাথে তাদেরকেও অন্তর্ভুক্ত করা সঠিক হবে, যারা কিতাব ও সুন্নাহর সাথে একমত হয়েছেন, সেই সম্মানিত ব্যক্তিবর্গের পথ অনুসরণ করেছেন এবং তাদের সেই সকল বিশুদ্ধ বর্ণনা ও আছার অনুসরণ করেছেন যার মাধ্যমে তারা সত্যকে সুস্পষ্ট করেছেন।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, তারা "সালাফ" শব্দের এই সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত। ইমাম সাফারিনী (রহিমাহুল্লাহ) অত্যন্ত সঠিকভাবে সালাফদের মাযহাবের পরিচয় দিয়েছেন এই বলে যে, "সালাফদের মাযহাব হলো তা-ই, যার ওপর সম্মানিত সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম), নিষ্ঠার সাথে তাদের অনুসারী বিশিষ্ট তাবিঈগণ, তাদের অনুসারীগণ এবং দ্বীনের সেই সকল ইমামগণ ছিলেন যাদের ইমামতের ব্যাপারে সাক্ষ্য প্রদান করা হয়েছে, দ্বীনের ক্ষেত্রে যাদের সুমহান মর্যাদার কথা সুবিদিত এবং পরবর্তীগণ পূর্ববর্তীদের থেকে যাদের কথা গ্রহণ করে আসছেন। তবে তাদের অন্তর্ভুক্ত নয় যারা বিদআতের অভিযোগে অভিযুক্ত কিংবা যারা কোনো অপ্রীতিকর উপাধিতে পরিচিত; যেমন: খাওয়ারিজ, রাফেযী, কাদারিয়্যাহ, মুরজিয়াহ, জাবরিয়্যাহ, জাহমিয়্যাহ, মুতাজিলা, কাররামিয়্যাহ এবং তাদের সমগোত্রীয় ব্যক্তিবর্গ।"২
সুতরাং: সালাফ বলতে কেবল শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের যুগের লোকদেরই বোঝায় না, বরং যারা কিতাব ও সুন্নাহর সাথে একমত পোষণ করেছেন এবং সাহাবায়ে কিরামের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) পথ অনুসরণ করেছেন তারা সবাই এর অন্তর্ভুক্ত।
সালাফী আলেমদের নিকট খালাফ-এর ধারণা:
আভিধানিকভাবে খালাফ হলো সে, যে অগ্রবর্তীদের পরে আসে, চাই সেই পশ্চাদগামিতা সময়ের দিক থেকে হোক কিংবা পদমর্যাদার দিক থেকে হোক।৩
আর যখন সালাফ শব্দের বিপরীতে খালাফ শব্দটি ব্যবহার করা হয়, তখন এর দ্বারা উদ্দেশ্য হয়: "যারা বিদআতের অভিযোগে অভিযুক্ত কিংবা যারা কোনো অপ্রীতিকর উপাধিতে পরিচিত", যেমনটি এ বিষয়ে ইমাম সাফারিনীর বক্তব্যে পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে। অতএব, যে ব্যক্তি কিতাব ও সুন্নাহ থেকে বিচ্যুত হয় এবং সাহাবায়ে কিরামের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) পথ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় ও সেটাকে নিজের পথ হিসেবে গ্রহণ করে না, সে-ই হলো খালাফী, যদিও সে সাহাবীদের যুগে বসবাস করে থাকে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুফীদ ফী মুহিম্মাতিত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الوقفة الثالثة: أهل الحديثمن المسميات التي أطلقت على حملة العقيدة الصحيحة: أهل الحديث.
التعريف بهم:
الحديث في اللغة: ضد القديم. ويستعمل في كثير الكلام وقليله1.
وهو في الاصطلاح: ما أثر عن النبي صلى الله عليه وسلم من قول، أو فعل، أو تقرير، أو صفة2.
وأهل الحديث: هم المنسوبون إليه بسبب اتباعهم له؛ فهم كل من جعل كلام رسول الله صلى الله عليه وسلم مصدرا من مصادر التلقي، يستفيدون منه عقائد الإسلام الصحيحة، ويبنون عليه، سواء أكانوا علماء حديث، أو فقه، أو أصول، أو سوى ذلك.
يقول الإمام الصابوني "ت449هـ": "إن أصحاب الحديث المتمسكين بالكتاب والسنة، حفظ الله أحياءهم، ورحم أمواتهم"3.
ويقول شيخ الإسلام ابن تيمية "ت728هـ": "ونحن لا نعني بأهل الحديث المقتصرين على سماعه، أو كتابته، أو روايته، بل نعني بهم: كل من كان أحق بحفظه، ومعرفته، وفهمه ظاهرا وباطنا، واتباعه باطنا وظاهرا. وكذا أهل القرآن"4.
فأهل الحديث هم الذين اتبعوا آثار الصحابة رضي الله عنهم، والتابعين لهم بإحسان، وكان لهم عناية خاصة بأحاديث رسول الله صلى الله عليه وسلم: جمعا، وحفظا، ورواية، وفهما، وعملا في الظاهر والباطن.
--------------------------------------------
তৃতীয় আলোচনা: আহলে হাদীসসঠিক আকীদার অনুসারীদের যে সকল নামে অভিহিত করা হয়, তার মধ্যে অন্যতম হলো: আহলে হাদীস।
তাদের পরিচয়:
অভিধানে হাদীস হলো: প্রাচীন বা পুরাতনের বিপরীত। এটি অধিক এবং অল্প কথা উভয় অর্থেই ব্যবহৃত হয়।১
পারিভাষিক অর্থে হাদীস হলো: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত তাঁর কথা, কাজ, মৌন সমর্থন অথবা বৈশিষ্ট্য।২
আর আহলে হাদীস হলেন তাঁরাই, যাঁরা হাদীস অনুসরণের কারণে এর সাথে সম্পৃক্ত হয়েছেন। তাঁরা হলেন এমন প্রত্যেক ব্যক্তি, যাঁরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীকে দ্বীন গ্রহণের অন্যতম উৎস হিসেবে গণ্য করেন, তা থেকে ইসলামের বিশুদ্ধ আকীদা আহরণ করেন এবং তার ওপর ভিত্তি স্থাপন করেন; চাই তারা হাদীস বিশারদ হোন, কিংবা ফকীহ, অথবা উসূলবিদ (মূলনীতিবিদ), অথবা অন্য কেউ হোন।
ইমাম সাবুনী (মৃত্যু: ৪৪৯ হিজরী) বলেন: "নিশ্চয়ই কিতাব ও সুন্নাহর ধারক-বাহক হাদীসের অনুসারীদের জীবিতদের আল্লাহ রক্ষা করুন এবং মৃতদের ওপর রহম করুন।"৩
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (মৃত্যু: ৭২৮ হিজরী) বলেন: "আহলে হাদীস বলতে আমরা কেবল তাদেরই বুঝাই না, যারা শুধু হাদীস শ্রবণ, লিখন বা বর্ণনা করেন; বরং তাদের দ্বারা আমরা সেই সকল ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করি, যারা হাদীস মুখস্থ রাখা, জানা এবং বাহ্যিকভাবে ও অভ্যন্তরীণভাবে তা অনুধাবন করা এবং প্রকাশ্য ও গোপনে তা অনুসরণ করার বিষয়ে সর্বাধিক হকের অধিকারী। কুরআনওয়ালাদের (আহলে কুরআন) ক্ষেত্রেও বিষয়টি তদ্রূপ।"৪
সুতরাং আহলে হাদীস হলেন তাঁরাই, যাঁরা সাহাবী (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) এবং নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারী তাবেয়ীদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস সংগ্রহ, সংরক্ষণ, বর্ণনা, অনুধাবন এবং প্রকাশ্য ও গোপনে তা আমল করার ক্ষেত্রে তাঁদের বিশেষ গুরুত্ব ও যত্ন ছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুফীদ ফী মুহিম্মাতিত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
المبحث الثاني: مصادر العقيدة الإسلاميةالعقيدة الإسلامية لها مصدران فقط، هما: كتاب الله عز وجل، وما صح من سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم.
وليس للعقيدة مصدر ثالث؛ لأن إجماع السلف الصالح لا يكون إلا على الكتاب والسنة1.
يقول الإمام البيهقي "ت458هـ": "فأما أهل السنة، فمعولهم فيما يعتقدون: الكتاب والسنة"2.
ويقول العلامة صديق حسن خان رحمه الله: "للإسلام أصلان فقط؛ القرآن، والسنة الصحيحة"3. ويعقب على ذلك بقوله: "وإنما حصرنا الأصول في كتاب الله تعالى، وسنة الرسول صلى الله عليه وسلم؛ لأن الأمة مأمورة بهما"3.
وما على الأمة إلا الاعتصام بما أمرت بالاعتصام به؛ كتاب ربها، وسنة نبيها صلى الله عليه وسلم؛ إذ الاعتصام بهما سبب للعصمة من الوقوع في الخطأ والانحراف والزلل، وسبب للعصمة من الوقوع في الاضطراب في فهم العقيدة، ولأنه يجمع الأمة ولا يفرقها. يقول الله سبحانه وتعالى: {فَمَنِ اتَّبَعَ هُدَايَ فَلا يَضِلُّ وَلا يَشْقَى} [طه من آية 123] .
ولا ريب أن الاعتصام بالكتاب والسنة من أعظم ما من الله به على هذه الأمة، كما قال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله في معرض حديثه عن السلف الصالح: "وكان من أعظم ما أنعم الله به عليهم: اعتصامهم بالكتاب والسنة"4.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইসলামি আকিদার উৎসসমূহইসলামি আকিদার উৎস মাত্র দুইটি, আর তা হলো: মহান ও মহিমান্বিত আল্লাহর কিতাব এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহর মধ্য থেকে যা সহীহ সাব্যস্ত হয়েছে।
আকিদার জন্য তৃতীয় কোনো উৎস নেই; কারণ সালাফে সালেহীনের ইজমা (ঐক্যমত) কেবল কুরআন ও সুন্নাহর ওপর ভিত্তি করেই হয়ে থাকে১।
ইমাম বায়হাকী (মৃত্যু ৪৫৮ হিজরী) বলেন: "পক্ষান্তরে আহলুস সুন্নাহর ক্ষেত্রে বিষয় হলো, তারা যা বিশ্বাস করে তাতে তাদের নির্ভরতা হলো: কুরআন ও সুন্নাহ"২।
আল্লামা সিদ্দিক হাসান খান (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "ইসলামের মূলনীতি মাত্র দুইটি; কুরআন ও সহীহ সুন্নাহ"৩। এর ধারাবাহিকতায় তিনি বলেন: "আমরা মূলনীতিসমূহকে কেবল মহান আল্লাহর কিতাব এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহর মধ্যে এ কারণেই সীমাবদ্ধ করেছি যে, উম্মতকে এই দুইটির অনুসরণের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে"৩।
আর উম্মতের ওপর কেবল সেই জিনিসকে মজবুতভাবে আঁকড়ে থাকা আবশ্যক যেটির নির্দেশ তাকে প্রদান করা হয়েছে; অর্থাৎ তাদের রবের কিতাব এবং তাদের নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নাহ। কেননা এই দুইটিকে আঁকড়ে ধরা ভুল, বিচ্যুতি ও পদস্খলনে নিপতিত হওয়া থেকে সুরক্ষার মাধ্যম এবং আকিদা বোঝার ক্ষেত্রে অস্থিরতায় পড়া থেকে পরিত্রাণের কারণ। আর যেহেতু এটি উম্মতকে ঐক্যবদ্ধ করে, বিচ্ছিন্ন করে না। মহান আল্লাহ বলেন: {অতঃপর যে আমার প্রদর্শিত পথের অনুসরণ করবে, সে পথভ্রষ্ট হবে না এবং কষ্টে নিপতিত হবে না} [সূরা ত্বহা: ১২৩ আয়াতাংশ]।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা মহান আল্লাহ কর্তৃক এই উম্মতের ওপর কৃত শ্রেষ্ঠতম অনুগ্রহসমূহের অন্তর্ভুক্ত। যেমনটি শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) সালাফে সালেহীনের আলোচনা প্রসঙ্গে বলেছেন: "আল্লাহ তাদের ওপর যে সব শ্রেষ্ঠ নেয়ামত দান করেছেন তার মধ্যে অন্যতম ছিল: তাদের কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা"৪।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুফীদ ফী মুহিম্মাতিত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
منزلة العقل ومجالاته في الإسلام:
الله عز وجل امتن على الإنسان بنعمة العقل الذي ميزه به عن سائر الحيوانات. وهذه النعمة هي التي ترفع صاحبها إلى مستوى التكاليف الشرعية الإلهية، وتؤهله لإدراكها وفهمها1.
وليس ثمة عقيدة تقوم على احترام العقل الإنساني، وتكريمه، والاعتماد عليه في فهم النصوص كالعقيدة الإسلامية، ويبدو هذا واضحا في آيات كثيرة من كتاب الله، مدح الله عز وجل فيها العقل، ورفع من شأنه، من خلال توجيهه إلى النظر، والتفكر، والتدبر، والتأمل2.
ولكن لما كان للعقول في إدراكها حد تنتهي إليه لا تتعداه، لم يجعل الله لها سبيلا إلى الإدراك في كل مطلوب3؛ فلم يجعل لها سبيلا لإدراك أغلب مسائل الاعتقاد؛ إذ لا يمكن للعقول أن تستقل بمعرفتها لولا مجيء الوحي بها وبأدلتها العقلية. وما على العقول إلا فهمها وتدبرها.
وأيضا، فإن كثيرا من مسائل الاعتقاد لا تدرك العقول حقيقتها وكيفياتها، ولو فهمت أدلتها وتدبرتها؛ كالروح التي في أجسادنا: عسر على الناس التعبير عن حقيقتها لما لم يشهدوا لها نظيرا4. وكذا صفات ربنا عز وجل، رغم أننا فهمنا معانيها بعقولنا من اعتبار الغائب بالشاهد، إلا أن حقيقتها وكيفياتها لا تدركه عقولنا؛ لأن العلم بكيفية الصفة يستلزم العلم بكيفية الموصوف. والموصوف عز وجل ليس كمثله شيء؛ فهو متصف بصفات الكمال التي لا يماثله فيها شيء5. وكذا ما أخبر الله جل جلاله عنه من أمور الآخرة؛ كالجنة ونعيمها، والنار وجحيمها، وغير ذلك من المغيبات، ليست من مدارك العقل، ولا في متناوله، مع أن العقل يقر بها، ولا يحيلها6.
--------------------------------------------
ইসলামে আকলের (বুদ্ধিবৃত্তি) মর্যাদা ও এর ক্ষেত্রসমূহ:
মহান আল্লাহ মানুষকে আকল বা বুদ্ধিবৃত্তির নেয়ামত দ্বারা ধন্য করেছেন, যার মাধ্যমে তিনি তাকে অন্যান্য সকল প্রাণী থেকে পৃথক করেছেন। আর এই নেয়ামতই এর অধিকারীকে ঐশ্বরিক শরয়ি বিধানের (তাকলিফ) স্তরে উন্নীত করে এবং সেগুলোকে উপলব্ধি ও অনুধাবন করার যোগ্য করে তোলে।১
ইসলামী আকিদার মতো এমন কোনো আকিদা নেই যা মানবীয় আকলকে সম্মান প্রদর্শন, মর্যাদা দান এবং নস (মূল পাঠ) অনুধাবনের ক্ষেত্রে এর ওপর নির্ভরতার ওপর প্রতিষ্ঠিত। আল্লাহর কিতাবের অনেক আয়াতে এটি সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়, যেখানে মহান আল্লাহ আকলের প্রশংসা করেছেন এবং দৃষ্টিপাত, চিন্তা-গবেষণা, তদ্ব্বুর ও ধ্যানের দিকে নির্দেশ করার মাধ্যমে এর মর্যাদা বৃদ্ধি করেছেন।২
তবে আকলের উপলব্ধির যেহেতু একটি নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে যা সে অতিক্রম করতে পারে না, তাই আল্লাহ প্রতিটি কাঙ্ক্ষিত বিষয় উপলব্ধির জন্য এর কোনো পথ রাখেননি৩; ফলে আকিদার অধিকাংশ বিষয় উপলব্ধির জন্য তিনি এর কোনো পথ রাখেননি; কেননা ওহী এবং তার বুদ্ধিবৃত্তিক দলীলসমূহ না আসলে আকল স্বতন্ত্রভাবে সেগুলোর জ্ঞান লাভ করতে সমর্থ হতো না। আকলের দায়িত্ব কেবল সেগুলো অনুধাবন ও চিন্তা-গবেষণা করা।
এছাড়াও, আকিদার অনেক বিষয়ের হাকিকত (প্রকৃত স্বরূপ) ও কাইফিয়্যাত (ধরণ) আকল উপলব্ধি করতে পারে না, যদিও সে সেগুলোর দলীলসমূহ বুঝে থাকে এবং তা নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করে; যেমন আমাদের দেহের অভ্যন্তরে থাকা রূহ: মানুষের জন্য এর হাকিকত বর্ণনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে যেহেতু তারা এর কোনো সদৃশ দেখেনি।৪। অনুরূপভাবে আমাদের মহান রবের গুণাবলি, যদিও আমরা দৃশ্যমান বস্তুর মাধ্যমে অদৃশ্যের ব্যাখ্যার বিচারে আমাদের আকল দ্বারা সেগুলোর অর্থ বুঝেছি, কিন্তু সেগুলোর হাকিকত ও কাইফিয়্যাত আমাদের আকল উপলব্ধি করতে পারে না; কারণ গুণের কাইফিয়্যাত জানা সত্তার (মাওসুফ) কাইফিয়্যাত জানার ওপর নির্ভরশীল। আর মহান সত্তার সদৃশ কিছুই নেই; তিনি এমন সব পূর্ণতাগুণের অধিকারী যাতে কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়।৫। অনুরূপভাবে মহান আল্লাহ আখেরাতের যেসব বিষয় সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন; যেমন জান্নাত ও তার নেয়ামতসমূহ, জাহান্নাম ও তার উত্তাপ এবং অন্যান্য গায়বি বিষয়সমূহ, সেগুলো আকলের উপলব্ধির বিষয় নয় এবং এর নাগালের মধ্যে নয়, যদিও আকল এগুলোকে স্বীকার করে এবং এগুলোকে অসম্ভব মনে করে না।৬
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুফীদ ফী মুহিম্মাতিত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وإذا كان كذلك، فالعقل مطالب بالتسليم للنصوص الشرعية الصريحة، ولولم يفهمها أو يدرك الحكمة التي فيها؛ فالأمر ورد بقبولها والإيمان بها. فإذا سمعنا شيئا من أمور الدين، وعقلناه، وفهمناه، فمن الله التوفيق، وله الحمد والشكر على ذلك. ومالم ندركه أو نفهمه، آمنا به وصدقناه1.
درء تعارض العقل الصحيح والنقل الصريح:
بقي أن نتساءل: هل يتعارض العقل الصحيح -السليم من الشبهات والأهواء- مع النص الصحيح الصريح؟ والجواب: تعارض النص الصريح من الكتاب والسنة مع العقل الصحيح غير متصور أصلا، بل هو مستحيل. فإذا توهم التعارض بسبب عدم فهم للنقل، أو فساد في العقل، فإن الوحي مقدم ومحكم. يقول شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله:
"فيأخذ المسلمون جميع دينهم -من الاعتقادات والعبادات وغير ذلك- من كتاب الله، وسنة رسوله، وما اتفق عليه سلف الأمة وأئمتها. وليس ذلك مخالفا للعقل الصريح؛ فإن ما خالف العقل الصريح فهو باطل. وليس في الكتاب والسنة والإجماع باطل. ولكن فيه ألفاظ قد لا يفهمها بعض الناس، أو يفهمون منها معنى باطلا، فالآفة منهم، لا من الكتاب والسنة"2.
--------------------------------------------
আর যদি বিষয়টি এরূপই হয়, তবে সুস্পষ্ট শারঈ দলীলসমূহের নিকট আত্মসমর্পণ করা বিবেকের জন্য অপরিহার্য, যদিও সে তা বুঝতে না পারে কিংবা এর অন্তনিহিত হিকমত অনুধাবন করতে সক্ষম না হয়; কেননা এগুলো গ্রহণ করার এবং এগুলোর ওপর ঈমান আনার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। সুতরাং যখন আমরা দ্বীনের কোনো বিষয় শ্রবণ করি এবং তা বুদ্ধিবৃত্তিক উপায়ে উপলব্ধি ও অনুধাবন করি, তবে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে তাওফীকস্বরূপ; আর সেজন্য তাঁরই প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা প্রাপ্য। আর যা আমরা অনুধাবন করতে বা বুঝতে পারি না, আমরা তার ওপর ঈমান আনি এবং তা সত্য বলে বিশ্বাস করি ১।
সঠিক বিবেক এবং সুস্পষ্ট দলীল (নাকল)-এর মধ্যকার দ্বন্দ্ব নিরসন:
একটি প্রশ্ন বাকি থেকে যায়: সঠিক বিবেক—যা সংশয় ও প্রবৃত্তি থেকে মুক্ত—তা কি বিশুদ্ধ ও সুস্পষ্ট দলীল বা নসের সাথে দ্বন্দ্বে লিপ্ত হতে পারে? এর উত্তর হলো: কিতাব ও সুন্নাহর সুস্পষ্ট দলীল এবং সঠিক বিবেকের মধ্যে দ্বন্দ্ব হওয়া আদতেই অকল্পনীয়, বরং এটি অসম্ভব। যদি দলীল বুঝতে না পারা বা বিবেকের ত্রুটির কারণে কোনো দ্বন্দ্বের ধারণা তৈরি হয়, তবে ওহী-কেই অগ্রগণ্য ও মীমাংসাকারী (মুহকাম) হিসেবে গণ্য করা হবে। শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন:
"মুসলিমগণ তাদের পূর্ণ দ্বীন—আকীদা, ইবাদত এবং অন্যান্য বিষয়—আল্লাহর কিতাব, তাঁর রাসূলের সুন্নাহ এবং উম্মতের সালাফ ও ইমামগণ যে বিষয়ের ওপর একমত হয়েছেন তা থেকে গ্রহণ করবেন। আর এটি সুস্পষ্ট বিবেকের পরিপন্থী নয়; কারণ যা সুস্পষ্ট বিবেকের পরিপন্থী তা বাতিল। আর কিতাব, সুন্নাহ ও ইজমার মধ্যে কোনো বাতিল বিষয় নেই। তবে এতে এমন কিছু শব্দ থাকতে পারে যা হয়তো কিছু মানুষ বুঝতে পারে না, অথবা তারা সেগুলো থেকে কোনো বাতিল অর্থ গ্রহণ করে; এমতাবস্থায় ত্রুটিটি তাদের নিজস্ব, কিতাব ও সুন্নাহর নয়" ২।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুফীদ ফী মুহিম্মাতিত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
المبحث الثالث: ذكر بعض خصائص العقيدة الإسلامية
المسالة الأولى: من خصائص العقيدة الإسلامية: أنها توقيفية…المبحث الثالث: من خصائص العقيدة الإسلامية
التعريف بـ"خصائص":
الخصائص جمع خصيصه. يقال: خصه بالشيء خصا وخصوصا وخصوصية، وخصيصي. واختصه بكذا؛ أي: خصه به، فاختص، وتخصص، أي: تفرد1.
والخصيصة: هي الصفة البارزة المميزة. فإذا قلنا: خصائص العقيدة، فمرادنا: صفاتها البارزة التي تنفرد بها، وتميزها عن بقية العقائد.
وللعقيدة الإسلامية سمات بارزة تميزها عن بقية العقائد، سأقتصر على ذكر بعضها.
ولبيان هذه الخصائص، قسمت هذا المبحث إلى أربع مسائل:
المسألة الأولى: أنها توقيفية.
المسألة الثانية: أنها غيبية.
المسألة الثالثة: التكامل والشمول.
المسألة الرابعة: أنها وسطية.
المسألة الأولى: من خصائص العقيدة الإسلامية أنها توقيفية
معنى التوقيف في اللغة:
التوقيف لغة مأخوذة من الوقف. يقال: وقف الدار، إذا حبسها. والتوقيف في الحج: وقوف الناس في المواقف. وموقف الرجل: وقوفه في أي مكان حيث كان2.
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ইসলামী আকিদার কিছু বৈশিষ্ট্যের আলোচনাপ্রথম মাসআলা: ইসলামী আকিদার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো: এটি তাওকিফিয়্যাহ (ঐশীভাবে নির্ধারিত)...তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ইসলামী আকিদার বৈশিষ্ট্যসমূহ
"খাসায়েস" (বৈশিষ্ট্যসমূহ) এর সংজ্ঞা:
’খাসায়েস’ (الخصائص) শব্দটি ’খাসিসাহ’ (خصيصه)-এর বহুবচন। বলা হয়ে থাকে: অমুককে কোনো বিষয়ে ‘খাস’ (خصه) করা হয়েছে, যার অর্থ হলো তাকে নির্দিষ্ট করা হয়েছে। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তাকে কোনো বিষয়ে একক বা অনন্য হিসেবে সাব্যস্ত করা।
‘খাসিসাহ’ (الخصيصة) হলো এমন কোনো প্রকাশ্য গুণ যা কোনো বস্তুকে অন্যদের থেকে আলাদা করে চিনিয়ে দেয়। অতএব আমরা যখন বলি ‘আকিদার বৈশিষ্ট্যসমূহ’, তখন আমাদের উদ্দেশ্য হলো এর এমন সব প্রকাশ্য গুণাবলি যা কেবল এর মাঝেই বিদ্যমান এবং একে অন্যান্য আকিদা থেকে পৃথক করে।
ইসলামী আকিদার এমন কিছু সুস্পষ্ট বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা একে অন্যান্য আকিদা থেকে পৃথক করে। আমি এখানে সেগুলোর মধ্য থেকে কেবল কয়েকটির বর্ণনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকব।
এই বৈশিষ্ট্যসমূহ সুস্পষ্ট করার লক্ষ্যে আমি এই পরিচ্ছেদটিকে চারটি মাসআলায় বিভক্ত করেছি:
প্রথম মাসআলা: এটি তাওকিফিয়্যাহ (ঐশীভাবে নির্ধারিত)।
দ্বিতীয় মাসআলা: এটি গায়েব বা অদৃশ্য বিষয় সম্পর্কিত।
তৃতীয় মাসআলা: এর পূর্ণতা ও ব্যাপকতা।
চতুর্থ মাসআলা: এটি মধ্যপন্থা অবলম্বনকারী।
প্রথম মাসআলা: ইসলামী আকিদার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এটি তাওকিফিয়্যাহ (ঐশীভাবে নির্ধারিত)
অভিধানে 'তাওকিফ' এর অর্থ:
শাব্দিক দিক থেকে ‘তাওকিফ’ (التوقيف) শব্দটি ‘ওয়াকফ’ (الوقف) থেকে গৃহীত। বলা হয়ে থাকে: ‘তিনি বাড়িটি ওয়াকফ করেছেন’, অর্থাৎ যখন তিনি তা (মালিকানা থেকে) স্থগিত বা অবরুদ্ধ করে দেন। হজের ক্ষেত্রে ‘তাওকিফ’ বলতে বোঝায় মানুষের নির্দিষ্ট স্থানসমূহে (মাওয়াকিফ) অবস্থান করা। আর মানুষের ‘মাওকিফ’ হলো তার অবস্থান করার স্থান, সেটি যেখানেই হোক না কেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুফীদ ফী মুহিম্মাতিত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
المراد من كون العقيدة الإسلامية توقيفية:
المراد من كون العقيدة توقيفية: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قد أوقف أمته على مباحث العقيدة، فلم يترك لهم شيئا إلا بينه1. فيجب على الأمة أن تقف عند الحدود التي حدها وبينها2.
ما الذي يلزم من كون العقيدة توقيفية:
لقد بين رسول الله صلى الله عليه وسلم العقيدة بالقرآن والسنة، فما ترك منها شيئا إلا بينه. ويلزم من هذا:
1- أن نحدد مصادر العقيدة، بأنها الكتاب والسنة فقط.
2- أن نلتزم بما جاء في الكتاب والسنة فقط. فليس لأحد أن يحدث أمرا من أمور الدين، زاعما أن هذا الأمر يجب التزامه أو اعتقاده؛ فإن الله عز وجل أكمل الدين، وانقطع الوحي، وختمت النبوة، يقول تعالى: {الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْأِسْلامَ دِينًا} [المائدة: من الآية 3] ، ويقول صلى الله عليه وسلم: "من أحدث في أمرنا هذا ما ليس منه فهو رد" 3. وهذا الحديث قاعدة من قواعد الدين، وأصل من أصول العقيدة4.
3- أن نلتزم بألفاظ العقيدة الواردة في الكتاب والسنة، ونتجنب الألفاظ المحدثة التي أحدثها المبتدعة؛ إذ العقيدة توقيفية، فهي مما لا يعلمه إلا الله5.
--------------------------------------------
ইসলামী আকিদা তাওকিফিয়্যাহ (ওহীনির্ভর) হওয়ার উদ্দেশ্য:
আকিদা তাওকিফিয়্যাহ হওয়ার অর্থ হলো: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উম্মতকে আকিদার সকল বিষয়ের ওপর সুস্পষ্টভাবে অবগত করেছেন, তিনি কোনো কিছুই বর্ণনা করা ছাড়া ছাড়েননি।১ সুতরাং উম্মতের জন্য আবশ্যক হলো তিনি যে সীমা নির্ধারণ ও বর্ণনা করেছেন তার ওপর অটল থাকা।২
আকিদা তাওকিফিয়্যাহ হওয়া থেকে যা আবশ্যক হয়:
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরআন ও সুন্নাহর মাধ্যমে আকিদা বর্ণনা করেছেন, এর কোনো কিছুই তিনি অস্পষ্ট রাখেননি। আর এ থেকে যা আবশ্যক হয় তা হলো:
১- আকিদার উৎস হিসেবে কেবল কুরআন ও সুন্নাহকে নির্ধারণ করা।
২- কেবল কুরআন ও সুন্নাহতে যা এসেছে তার ওপর অটল থাকা। সুতরাং দ্বীনের ব্যাপারে নতুন কিছু উদ্ভাবন করার অধিকার কারো নেই, এই দাবি করে যে সেই বিষয়টি পালন করা বা বিশ্বাস করা আবশ্যক; কেননা আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা দ্বীনকে পূর্ণ করেছেন, ওহী বন্ধ হয়ে গেছে এবং নবুওয়াত সমাপ্ত হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন: {আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের ওপর আমার নেয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম} [সূরা আল-মায়িদাহ: আয়াত ৩ এর অংশ], এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: "যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনের মধ্যে এমন নতুন কিছু উদ্ভাবন করবে যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত।" ৩। এই হাদিসটি দ্বীনের অন্যতম একটি মূলনীতি এবং আকিদার অন্যতম একটি ভিত্তি।৪
৩- কুরআন ও সুন্নাহতে আকিদা সংক্রান্ত যে শব্দাবলি এসেছে তা মেনে চলা এবং বিদআতিদের উদ্ভাবিত নতুন পরিভাষাগুলো বর্জন করা; যেহেতু আকিদা তাওকিফিয়্যাহ, তাই এটি এমন বিষয় যা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না।৫
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুফীদ ফী মুহিম্মাতিত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
المسألة الثانية: من خصائص العقيدة الإسلامية أنها غيبيةمعنى الغيب في اللغة:
الغيب لغة: من غاب غيبا، وغيبة، وغيبوبة، وغيابا، خلاف شهد وحضر. يقال: غابت الشمس، إذا غربت واستترت عن العين. والغيب: كل ما غاب عنك، وهو خلاف الشهادة1.
المراد من كون العقيدة الإسلامية غيبية2:
1- أنها تبحث في قضايا غيبية لا مجال للعقل في إدراكها، ومبناها على التسليم والتصديق المطلق بما جاء عن الله عز وجل، وعن رسوله صلى الله عليه وسلم ظاهرا وباطنا. "بعض قضايا العقيدة غيب".
2- أن أهلها يقفون في أمرها على ما جاء عن الله، وعن رسوله صلى الله عليه وسلم، فهم يؤمنون بالغيب.
وقد وصفهم الله عز وجل بذلك في قوله: {الم، ذَلِكَ الْكِتَابُ لا رَيْبَ فِيهِ هُدًى لِلْمُتَّقِينَ، الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِالْغَيْبِ} [البقرة: 1-3] .
ما الذي يلزم من كون العقيدة الإسلامية غيبية:
لما كانت أغلب قضايا العقيدة غيب بالنسبة لنا، لزمنا كمؤمنين بالغيب:
1- أن نسلم لله عز وجل، ولرسوله صلى الله عليه وسلم. والتسليم لله ولرسوله يتمثل في التسليم بما في الكتاب والسنة.
2- أن لا نخوض ولا نجادل في العقيدة ونصوصها -لأنها غيب- إلا بقدر البيان، وإقامة الحجة، مع التزام منهج السلف في ذلك3.
3- أن لا نؤول نصوص العقيدة، ولا نصرفها عن ظاهرها بغير دليل شرعي ثابت عن المعصوم صلى الله عليه وسلم.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় মাসয়ালাহ: ইসলামি আকিদাহর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এটি অদৃশ্য সংক্রান্ত (গায়েবি)ভাষাগতভাবে ‘গায়েব’-এর অর্থ:
অভিধান অনুযায়ী ‘গায়েব’ শব্দটি ‘গবা’, ‘গাইবান’, ‘গাইবাতান’, ‘গাইবুবাতান’ ও ‘গিয়াবান’ থেকে এসেছে, যা ‘শাহাদাহ’ (উপস্থিতি বা দৃশ্যমান) এর বিপরীত। বলা হয়ে থাকে: ‘সূর্য ডুবে গেছে’ (গাবাতিল শামসু), যখন তা অস্তমিত হয় এবং চোখের আড়ালে চলে যায়। আর গায়েব হলো: যা কিছু আপনার থেকে অনুপস্থিত বা অদৃশ্য, এবং তা দৃশ্যমানের বিপরীত।১
ইসলামি আকিদাহ অদৃশ্য সংক্রান্ত (গায়েবি) হওয়ার তাৎপর্য:২
১- এটি এমন সব গায়েবি বা অদৃশ্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করে যা অনুধাবন করার ক্ষেত্রে মানব বিবেকের কোনো সুযোগ নেই। এর ভিত্তি হলো মহান আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে যা কিছু এসেছে, প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্যভাবে সেগুলোর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ ও সত্যয়ন করা। “আকিদাহর কিছু বিষয় গায়েবি বা অদৃশ্য।”
২- আকিদাহর অনুসারীরা এর প্রতিটি বিষয়ে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশনার ওপর সীমাবদ্ধ থাকেন; ফলে তারা অদৃশ্যে (গায়েব) বিশ্বাস করেন।
মহান আল্লাহ তাদের এ গুণের বর্ণনা দিয়ে বলেন: {আলিফ-লাম-মীম। এটি সেই কিতাব যাতে কোনো সন্দেহ নেই, মুত্তাকিদের জন্য পথপ্রদর্শক। যারা অদৃশ্যে (গায়েব) ঈমান আনে।} [সূরা আল-বাকারাহ: ১-৩]
ইসলামি আকিদাহ অদৃশ্য সংক্রান্ত হওয়ার দাবি বা প্রয়োজনীয়তা:
যেহেতু আকিদাহর অধিকাংশ বিষয় আমাদের কাছে অদৃশ্য, তাই অদৃশ্যে বিশ্বাসী হিসেবে আমাদের জন্য যা আবশ্যক তা হলো:
১- মহান আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি আত্মসমর্পণ করা। আর আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি আত্মসমর্পণ বলতে কুরআন ও সুন্নাহর বিধানের প্রতি আত্মসমর্পণকে বোঝায়।
২- আকিদাহ ও এর নসসমূহ (দলিলাদি) নিয়ে অহেতুক গভীরে না যাওয়া এবং বিতর্ক না করা—কেননা এটি অদৃশ্য বিষয়—তবে বিষয়ের স্পষ্টীকরণ এবং প্রমাণ উপস্থাপনের প্রয়োজনে সালাফদের পদ্ধতি অনুসরণ করে আলোচনা করা যেতে পারে।৩
৩- আকিদাহর নস বা মূল পাঠের অপব্যাখ্যা (তাবিল) না করা এবং নিষ্পাপ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে কোনো সুসাব্যস্ত শরয়ি দলিল ছাড়া সেগুলোকে বাহ্যিক অর্থ থেকে বিচ্যুত না করা।
--------------------------------------------