(খণ্ড: ১) আত-তাওযীহুল আবহার লিতাযকিরাতি ইবনিল মুলাক্কিন ফী ইলমিল আসার (পৃষ্ঠা: -)
التوضيح الأبهر لتذكرة ابن الملقن في علم الأثر   (السخاوي)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: التوضيح الأبهر لتذكرة ابن الملقن في علم الأثر

المؤلف: شمس الدين أبو الخير محمد بن عبد الرحمن بن محمد بن أبي بكر بن عثمان بن محمد السخاوي (ت 902هـ)

الناشر: مكتبة أضواء السلف

الطبعة: الأولى - 1418 هـ - 1998م

عدد الصفحات: 138

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আত-তাওদিহ আল-আবহার লি-তাযকিরাতি ইবনিল মুলাক্কিন ফি ইলমিল আসার   (আস-সাখাভী)

বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث)


কিতাব: আত-তাওদিহ আল-আবহার লি-তাযকিরাতি ইবনিল মুলাক্কিন ফি ইলমিল আসার

লেখক: শামসুদ্দিন আবুল খায়ের মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন আবি বকর বিন উসমান বিন মুহাম্মদ আস-সাখাভী (মৃ. ৯০২ হিজরি)

প্রকাশক: মাকতাবাতু আদওয়াউস সালাফ

সংস্করণ: প্রথম - ১৪১৮ হিজরি - ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৩৮

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আত-তাওযীহুল আবহার লিতাযকিরাতি ইবনিল মুলাক্কিন ফী ইলমিল আসার (পৃষ্ঠা: ٣)
المقدمات

 

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله حق حمده والصلاة والسلام على محمد نبينا وعبده.

وبعد:

فإن من شرف المرء أن يسير على منهج السلف الصالح ويقتدي بهم ويخدم ما تركه أولئك العلماء ليستفيد منه الخلف ويقف على آرائهم التي سطروها لنا في كتبهم.

وكان للباحث الأخ عبد الله بن محمد عبد الرحيم شرف خدمة هذا الكتاب الذي بين أيدينا، فتناوله تصحيحًا وشرحًا وتعقيبًا وتعقبًا على من سبقه في تحقيق هذا الكتاب المفيد على صغر حجمه وقلة مادته فكان كالمفتاح للمبتدئ والتذكير للمنتهي، ولم أجد بعد قراءتي له موضعًا انتقده فيه في ضبط النص؛ لأنه قام بضبطه كما ينبغي لا كما يجي. ومع هذا فلم يترك موضعًا يحتاج إلى زيادة أو أيضًاح إلا وقام بها في الحاشية تسهيلا للباحث المستفيد منه، فجاء عمله كاملًا والكمال لله وحده عز وجل فنرجو من المولى العلي القدير أن يثيبه على قدر نيته وأن ينفع به طلاب العلم في هذا التخصص العزيز.

أما الكتاب فهو شرح موجز لكتاب ابن الملقن المعروف بـ "التذكرة" ومؤلفه الإمام المشهور في علم الحديث الإمام السخاوي المتوفى سنة 902هـ أبدع في شرح غامضه، وأيضًاح مبهمه ومشكله وأتى فيه بما لا نجد نظيره في كتابه "فتح المغيث" فصار مكملًا له، والله يثيبه على جهده إنه ولي ذلك والقادر عليه.

كتبه د/ عبد الرحيم بن محمد القشقري

الأستاذ المشارك بكلية الحديث الشريف

ورئيس قسم علوم الحديث

حرر في 7/ 10/ 1417هـ
উপক্রমণিকা

 

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যেমনটি তাঁর প্রশংসার প্রকৃত হক, আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী ও তাঁর বান্দা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর।

অতঃপর:

নিশ্চয়ই এটি একজন ব্যক্তির জন্য সম্মানের বিষয় যে, সে পুণ্যবান পূর্বসূরিদের (السلف الصالح) মানহাজ বা পদ্ধতির ওপর চলবে, তাঁদের অনুসরণ করবে এবং সেই সকল ওলামায়ে কেরামের রেখে যাওয়া ঐতিহ্যের খিদমত করবে, যাতে উত্তরসূরিরা তা থেকে উপকৃত হতে পারে এবং কিতাবসমূহে তাঁরা আমাদের জন্য যে সকল মতামত লিপিবদ্ধ করে গেছেন তা অনুধাবন করতে পারে।

গবেষক ভ্রাতা আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আব্দুল রহীম আমাদের সম্মুখে বিদ্যমান এই কিতাবটির খিদমত করার গৌরব অর্জন করেছেন। তিনি কিতাবটির সংশোধন, ব্যাখ্যা (شرح), এবং এই কিতাবের সম্পাদনার (تحقيق) ক্ষেত্রে তাঁর পূর্বসূরিদের কাজের ওপর টীকা ও পর্যালোচনা করেছেন। কিতাবটি আকারে ছোট এবং এর বিষয়বস্তু সংক্ষিপ্ত হওয়া সত্ত্বেও এটি অত্যন্ত উপকারী; যা একজন নবিশ বা শিক্ষার্থীর জন্য চাবিকাঠিস্বরূপ এবং অভিজ্ঞদের জন্য স্মারকস্বরূপ। এটি পাঠ করার পর মূল পাঠের সঠিকতা নিরূপণে (ضبط) আমি এমন কোনো স্থান খুঁজে পাইনি যা সমালোচনার যোগ্য; কারণ তিনি এটি যথাযথভাবে বিন্যস্ত ও পরিমার্জিত (ضبط) করেছেন। এতদসত্ত্বেও, যেখানেই অতিরিক্ত সংযোজন বা ব্যাখ্যার প্রয়োজন ছিল, তিনি গবেষকদের সুবিধার্থে পাদটীকায় (حاشية) তা উল্লেখ করেছেন। ফলে তাঁর কাজটি পূর্ণাঙ্গ হয়েছে, আর পূর্ণতা একমাত্র মহান আল্লাহরই বৈশিষ্ট্য। আমরা মহান রবের নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন তাঁকে তাঁর নিয়ত অনুযায়ী প্রতিদান দান করেন এবং হাদিস শাস্ত্রের এই বিশেষায়িত শাখায় জ্ঞানপিপাসুদের জন্য তাঁকে উপকারী বানান।

আর এই কিতাবটি হলো ইবনুল মুলাক্কিন রচিত 'তাজকিরাহ' নামক গ্রন্থের একটি সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা (شرح)। এর লেখক হলেন হাদিস শাস্ত্রের প্রখ্যাত ইমাম, ইমাম সাখাভী (মৃত্যু: ৯০২ হিজরি), যিনি এর দুর্বোধ্য বিষয়গুলোর ব্যাখ্যা (شرح) এবং অস্পষ্ট ও জটিল বিষয়গুলোর বর্ণনায় চমৎকার নৈপুণ্য দেখিয়েছেন। তিনি এতে এমন সব তথ্য যুক্ত করেছেন যা তাঁর 'ফাতহুল মুগীস' গ্রন্থেও পাওয়া যায় না, ফলে এটি ওই গ্রন্থের একটি পরিপূরক হিসেবে গণ্য হয়েছে। আল্লাহ তাঁর এই প্রচেষ্টার উত্তম প্রতিদান দান করুন, নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর ওপর পূর্ণ ক্ষমতাবান।

লিখেছেন: ড. আব্দুল রহীম বিন মুহাম্মাদ আল-কাশকারী

সহযোগী অধ্যাপক, কুল্লিয়াতুল হাদিস শরীফ

এবং বিভাগীয় প্রধান, হাদিস বিজ্ঞান বিভাগ

লিখিত তারিখ: ৭/১০/১৪১৭ হিজরি।
(খণ্ড: ১) আত-তাওযীহুল আবহার লিতাযকিরাতি ইবনিল মুলাক্কিন ফী ইলমিল আসার (পৃষ্ঠা: ٤)
بسم الله الرحمن الرحيم

‌‌المقدمة:

الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على المبعوث رحمة للعالمين، سيد الأولين والآخرين، النبي الصادق الأمين، وعلى آله وصحبه وأتباعه السائرين على نهجه إلى يوم الدين وسلم تسليمًا كثيرًا.

أما بعد:

فإن الاشتغال بالعلوم الشرعية من أعظم القربات وأجل الطاعات لمن صلحت نيته، واتبع سبيل سلفه الصالح، خاصة السنة النبوية وعلومها -بعد الاهتمام بكتاب الله وعلومه- لذا "كان من أعظم ما يسعى إليه الساعون، ويتنافس في الدعوة إليه المتنافسون، علوم الحديث الكاشف النقاب، عن جمال وجوه مجملات الكتاب، والمدار لتفصيل الحكام، وتبيين أقسام الحلال والحرام؛ إذ مستندها ما صح من الخبار، وثبت حسنه من الآثار، ولا طريق لتعرف ذلك إلا بما اصطُلح عليه من أصول تلك المسالك، ولما كان الشيء يشرف بشرف موضوعه أو بمسيس الحاجة إليه كان فن مصطلح الحديث مما جمع الأمرين وفاز بالشرفين؛ لأنه يُبصِّر
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

‌‌ভূমিকা:

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সেই সত্তার ওপর যাকে বিশ্বজগতের জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরণ করা হয়েছে, যিনি পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের নেতা, সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত নবী, এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবী ও কিয়ামত পর্যন্ত তাঁর প্রদর্শিত পথের অনুসারীদের ওপর। তাঁদের ওপর বর্ষিত হোক অজস্র সালাম।

অতঃপর:

নিশ্চয়ই শারয়ী জ্ঞান চর্চায় আত্মনিয়োগ করা আল্লাহর নৈকট্য লাভের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মাধ্যম এবং মহান ইবাদতসমূহের অন্তর্ভুক্ত তার জন্য যার নিয়ত বিশুদ্ধ এবং যে তার নেককার পূর্বসূরীদের পথ অনুসরণ করে; বিশেষ করে আল্লাহর কিতাব ও এর জ্ঞানসমূহের প্রতি গুরুত্ব প্রদানের পর নববী সুন্নাহ ও এর ইলমসমূহের চর্চা করা। এই কারণে "অন্বেষণকারীদের অন্বেষণের এবং দাওয়াত প্রদানকারীদের প্রতিযোগিতার অন্যতম মহান বিষয় হলো হাদিস বিজ্ঞান, যা কুরআনের সংক্ষিপ্ত বিষয়গুলোর সৌন্দর্যের আবরণ উন্মোচনকারী এবং বিধি-বিধানের বিস্তারিত বর্ণনা ও হালাল-হারামের প্রকারভেদ স্পষ্ট করার মূল ভিত্তি। কারণ এর নির্ভরতা হলো সংবাদসমূহের মধ্যে যা সহিহ (صحيح) এবং বর্ণনাগুলোর মধ্যে যা হাসান (حسن) হিসেবে প্রমাণিত তার ওপর। আর তা জানার কোনো পথ নেই সেই উসুল (أصول) বা মূলনীতিসমূহ ব্যতীত যা এই জ্ঞানপথের বিশেষজ্ঞগণের নিকট পারিভাষিক রূপ লাভ করেছে। আর যেহেতু কোনো বিষয় তার আলোচ্য বিষয়ের মর্যাদা অথবা তার তীব্র প্রয়োজনীয়তার কারণে শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করে, সেহেতু হাদিস শাস্ত্রের পরিভাষা (مصطلح) এমন এক শিল্প যা উভয় বৈশিষ্ট্যকে সমন্বিত করেছে এবং উভয় মর্যাদা জয় করেছে; কারণ এটি দূরদৃষ্টি প্রদান করে...
(খণ্ড: ১) আত-তাওযীহুল আবহার লিতাযকিরাতি ইবনিল মুলাক্কিন ফী ইলমিল আসার (পৃষ্ঠা: ٥)
من سواء السبيل الجواد، ويرقي الهمم لتعرف سنن الرشاد"1.

لذا تنوعت المصنفات من أهل الحديث في هذا الباب، وكثرت وتعددت، فمن مؤلف لها في وريقات، ومن مصنف لها في مجلدة أو مجلدات وهلم جرًّا. ومع هذا لم يثن ذلك الأئمة من التصنيف والتأليف والشرح والتهذيب والتحقيق والتنقيح فيه، وما ذلك إلا إيمانا منهم بوجوب الاستمرار على السنة المتبعة من منهج الأئمة السالفين، وإكمالًا من المتأخرين في التصنيف والتأليف. وقد حاز كتاب الحافظ ابن الصلاح قصب السبق في هذا الفن، فمن متناول له بالتهذيب تارة، وبالاختصار أخرى، وبالتعليق والشرح مرات، وممن اختصره وهذبه الحافظ ابن الملقن وذلك في كتابه "المقنع" كما أشار إليه في مقدمته للتذكرة، ثم اقتضب رسالته المسماة بـ "التذكرة" من كتابه المشار إليه آنفًا، والعلة في الاقتضاب هي أن "يتنبه المبتدي ويتبصر بها المنتهي" "ل1/ أ-ب"، فجاء الإمام السخاوي موضحا لهذه التذكرة محللا لألفاظها، متممًا لفوائدها، جامعًا لمقاصدها فلم يكن مطولًا تطويلًا مملًا، ولا مختصرًا اختصارًا مخلًا، أظهر تبحره في الفن، وعلوِّ كعبه فيه، وأجلى مراد المؤلف من تذكرته، فيسره لمن طالعه وتطلب فيه مراده، فرحمهما الله رحمة واسعة آمين.

ولأجل ذلك عزمت على تحقيقه وإخراجه مع التعليق عليه إكمالًا للفائدة، ليخرج في هذه الحلة الجديدة، تليق بمصنف كهذا، ولا أدعي العصمة في العمل أو السلامة من الخلل، فالكمال عزيز، والخطأ والنقص

--------------------------------------------

1 قواعد التحديث للقاسمي "ص35-36".
সঠিক ও সরল পথের দিশারি, যা উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে উন্নত করে যেন হেদায়েতের সুন্নাহসমূহ জানা যায়।"১

এ কারণেই এই বিষয়ে হাদিস বিশারদদের রচনাসমূহ বৈচিত্র্যময় হয়েছে এবং তা সংখ্যায় যেমন প্রচুর তেমনই বহুমাত্রিক। তাঁদের মধ্যে কেউ এটি সামান্য কয়েক পৃষ্ঠায় লিখেছেন, আবার কেউ এক বা একাধিক খণ্ডে এটি সংকলন করেছেন এবং এ ধারা চলতেই থাকে। তা সত্ত্বেও এটি ইমামগণকে এ বিষয়ে গ্রন্থ রচনা, সংকলন, ব্যাখ্যা (شرح), পরিমার্জন (تهذিব), সম্পাদনা (تحقيق) এবং সংশোধন (تنقيح) থেকে বিরত রাখেনি। এটি কেবল পূর্ববর্তী ইমামদের অনুসৃত পদ্ধতির মানহাজ (منهج) অব্যাহত রাখার আবশ্যকতা এবং পরবর্তী আলেমদের সংকলন ও রচনার কাজকে পূর্ণতা দেওয়ার প্রতি তাঁদের বিশ্বাসের ফলেই সম্ভব হয়েছে। এই শাস্ত্রের ক্ষেত্রে হাফেজ ইবনুস সালাহ-এর কিতাবটি অগ্রগণ্য স্থান অধিকার করেছে; কেউ এটি পরিমার্জন (تهذيب) করেছেন, কেউ সংক্ষেপ (اختصار) করেছেন, আবার কেউ বহুবার এর ওপর টীকা (تعليق) ও ব্যাখ্যা (شرح) লিখেছেন। যাঁরা এটি সংক্ষেপ ও পরিমার্জন (تهذيب) করেছেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন হাফেজ ইবনুল মুলাক্কিন, তিনি তাঁর 'আল-মুকনি' গ্রন্থে এটি করেছেন যেমনটি তিনি তাঁর 'তাজকিরাহ' গ্রন্থের ভূমিকায় ইঙ্গিত দিয়েছেন। অতঃপর তিনি তাঁর পূর্বে উল্লেখিত গ্রন্থ থেকে 'তাজকিরাহ' নামক রিসালাহটি সংক্ষেপ করেছেন। এই সংক্ষেপণের কারণ হলো যেন "শিক্ষানবিশগণ এর মাধ্যমে সচেতন হতে পারে এবং পারদর্শীরা দূরদৃষ্টি লাভ করতে পারে" [পত্র ১/ ক-খ]। অতঃপর ইমাম সাখাভী এসে এই 'তাজকিরাহ'-এর ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন, এর শব্দাবলি বিশ্লেষণ করেছেন এবং এর উপকারিতাসমূহ পূর্ণ করেছেন। এর উদ্দেশ্যসমূহকে এমনভাবে একত্রিত করেছেন যা খুব বেশি দীর্ঘায়িত হয়ে বিরক্তিকর হয়নি, আবার খুব বেশি সংক্ষিপ্ত (اختصار) হয়ে এর মূল উদ্দেশ্যকেও ব্যাহত করেনি। তিনি এই শাস্ত্রে তাঁর গভীর পাণ্ডিত্য এবং উচ্চ মর্যাদা প্রদর্শন করেছেন এবং লেখকের 'তাজকিরাহ'-এর মূল উদ্দেশ্য স্পষ্ট করেছেন। ফলে যারা এটি পাঠ করবে বা এর থেকে কোনো কাঙ্ক্ষিত বিষয় তালাশ করবে, তাদের জন্য তিনি বিষয়টি সহজ করে দিয়েছেন। আল্লাহ তাঁদের উভয়কে প্রশস্ত রহমত দান করুন, আমীন।

সেই লক্ষ্যেই আমি এই কিতাবটির উপকারিতা পূর্ণ করার জন্য এর সম্পাদনা (تحقيق) ও প্রয়োজনীয় টীকা (تعليق) সহ এটি প্রকাশের সংকল্প করেছি, যেন তা এই নতুন আঙ্গিকে এমন এক অবয়বে প্রকাশিত হয় যা এই পর্যায়ের একটি রচনার জন্য উপযুক্ত। আমি আমার কাজের ক্ষেত্রে অভ্রান্ত হওয়া বা ত্রুটিমুক্ত থাকার দাবি করছি না, কেননা পূর্ণতা দুর্লভ এবং ভুল ও অসম্পূর্ণতা...

--------------------------------------------

১. কাসেমীর কাওয়াইদুত তাহদিস, পৃ. ৩৫-৩৬।
(খণ্ড: ১) আত-তাওযীহুল আবহার লিতাযকিরাতি ইবনিল মুলাক্কিন ফী ইলমিল আসার (পৃষ্ঠা: ٦)
وارد، فالمرجوّ من الله -جل وعلا- المغفرة من الزلل، والثواب على العمل، إنه نعم المولى ونعم النصير.

والحمد لله رب العالمين.

وكتب

أبو أسامة عبد الله بن محمد عبد الرحيم

ابن حسين البخاري

المدينة النبوية

فجر الخميس 12/ 9/ 1416هـ
উপস্থাপিত; সুতরাং মহামহিম আল্লাহর নিকট পদস্খলনের জন্য ক্ষমা এবং কর্মের বিনিময়ে সওয়াবের প্রত্যাশা করছি। নিশ্চয়ই তিনি সর্বোত্তম অভিভাবক এবং সর্বোত্তম সাহায্যকারী।

সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

লিখেছেন

আবু উসামা আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ আব্দুর রহিম

ইবনে হুসাইন আল-বুখারি

মদিনা আল-নাবাবিয়া

বৃহস্পতিবার ফজর, ১২/ ০৯/ ১৪১৬ হিজরি
(খণ্ড: ১) আত-তাওযীহুল আবহার লিতাযকিরাতি ইবনিল মুলাক্কিন ফী ইলমিল আসার (পৃষ্ঠা: ٨)
‌‌القسم الأول: قسم الدراسة

‌‌ترجمة ابن الملقن

…

ترجمة ابن الملقن 1

اسمه ونسبه ونسبته:

هو الإمام عمر بن علي بن أحمد بن محمد بن عبد الله، سراج الدين أبو حفص الأنصاري، الوادي آشي، الأندلسي، التكريري الأصل، ثم المصري الشافعي، المعروف بابن النحوي؛ لأن أباه كان عالمًا بالنحو، ويعرف أيضًا بابن الملقن.

وسمي بابن الملقن؛ لأن والده توفي وله من العمر سنة واحدة، فأوصى به إلى الشيخ عيسى المغربي، وكان يلقن القرآن في الجامع الطولوني، فلازمه سراج الدين وصحبه من صِغره، وتزوج من أمه، وكان رحمه الله يغضب من نسبه إليه ولم يكتبه بخطه وإنما كان يكتب ابن النحوي.

مولده:

روى السخاوي في "الضوء اللامع" "6/ 100" أن ابن الملقن كتب بخطه أنه ولد في يوم الخميس الثاني والعشرين من شهر ربيع الأول سنة ثلاث وعشرين وسبعمائة.

--------------------------------------------

1 استفاض جماعة من الإخوة الباحثين في ترجمة ابن الملقن منهم: مقدِّمة نور الدين شريبة لكتاب المؤلف "طبقات الأولياء"، وجاويد أعظم في مقدمته لـ "المقنع"، وإقبال أحمد محمد إسحاق في مقدمته لتحقيق كتاب المؤلف "البدر المنير"، لذا لم أطل في الترجمة خشية التكرار.
প্রথম অংশ: গবেষণা পর্ব

ইবনুল মুলাক্কিনের জীবনী

…

ইবনুল মুলাক্কিনের জীবনী ১

তাঁর নাম, বংশপরিচয় ও নিসবত (সম্বন্ধ):

তিনি হলেন ইমাম উমর বিন আলী বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ, সিরাজুদ্দীন আবু হাফস আল-আনসারী, আল-ওয়াদি আশি, আল-আন্দালুসি, মূলগতভাবে আত-তাকরীরি, অতঃপর আল-মিসরি আশ-শাফিঈ। তিনি ‘ইবনুন্নাহুবি’ নামে পরিচিত ছিলেন; কারণ তাঁর পিতা নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্রের পণ্ডিত ছিলেন। এ ছাড়া তিনি ‘ইবনুল মুলাক্কিন’ হিসেবেও সমধিক পরিচিত।

তাঁকে ‘ইবনুল মুলাক্কিন’ বলা হতো; কারণ তাঁর পিতা যখন ইন্তেকাল করেন তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র এক বছর। তাঁর পিতা শেখ ঈসা আল-মাগরিবির নিকট তাঁর দায়িত্ব অর্পণ করার অসিয়ত করে গিয়েছিলেন। উক্ত শেখ জামে তুলুনিতে কুরআন তালকিন (শিক্ষা প্রদান) করতেন। সিরাজুদ্দীন শৈশব থেকেই তাঁর সান্নিধ্যে ছিলেন এবং শেখ তাঁর মাতাকে বিবাহ করেছিলেন। তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর দিকে সম্বন্ধ করে এই নাম ডাকা পছন্দ করতেন না এবং স্বহস্তে কখনও এটি লিখতেন না; বরং তিনি সর্বদা ‘ইবনুন্নাহুবি’ লিখতেন।

জন্ম:

আস-সাখাভী ‘আয-যাউউল লামি’ (৬/১০০) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন যে, ইবনুল মুলাক্কিন স্বহস্তে লিখেছেন যে তিনি ৭২৩ হিজরির ২২শে রবিউল আউয়াল বৃহস্পতিবার জন্মগ্রহণ করেন।

--------------------------------------------

১ একদল গবেষক ভাই ইবনুল মুলাক্কিনের জীবনী বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন: লেখকের ‘তাবাকাতুল আউলিয়া’ গ্রন্থের ভূমিকায় নূরুদ্দীন শারীবা, ‘আল-মুকনি’ গ্রন্থের ভূমিকায় জাভিদ আজম এবং লেখকের ‘আল-বাদরুল মুনীর’ গ্রন্থের তাহকীক সংবলিত ভূমিকার লেখক ইকবাল আহমদ মুহাম্মদ ইসহাক। তাই পুনরাবৃত্তির আশঙ্কায় আমি জীবনীটি দীর্ঘায়িত করিনি।
(খণ্ড: ১) আত-তাওযীহুল আবহার লিতাযকিরাতি ইবনিল মুলাক্কিন ফী ইলমিল আসার (পৃষ্ঠা: ٩)
نشأته:

لما توفي والده وأوصى به إلى الشيخ عيسى المغربي اعتنى به الشيخ عيسى عناية فائقة أثر في ابن الملقن، ذلك أن الشيخ عيسى كان يلقن القرآن -كما سبق- في جامع طولون، وكان رجلا صالحا، ووافق ذلك أن تزوج الشيخ عيسى بأم ابن المقن، فاعتنى به وبتربيته، واستثمار مال أبيه، فنشأ ابن الملقن في كنفه فحفظ القرآن الكريم والعمدة للمقدسي والمنهاج وغيرها.

رحلاته في طلب العلم:

الرحلة في طلب العلم والحديث خاصة سنة متبعة لدى العلماء من سلف الأمة الصالح؛ إذ يندر أن تجد إمامًا لم يرحل في طلب العلم، لذا نجد الآن الإمام ابن المقن رحل إلى بلدان عدة منها دمشق، ومكة المكرمة، والمدينة المنورة، وبيت المقدس ومصر وغيرها من البلدان.

شيوخه:

لقد مكنت الرحلة لابن الملقن لقاء العلماء والحفاظ في تلك الأمصار والأقطار فقرأ عليهم واستفاد منهم وأجيز، فمن شيوخه:

الحافظ العلائي، وابن سيد الناس، وتقي الدين السبكي، ومغلطاي والعز ابن جماعة، والقطب الحلبي، وأجاز له الحافظ المزي، وجمال الدين الأسنوي، وأبي حيان الغرناطي، والبرهان الرشيدي وغيرهم كثير جدًّا.

فهذه التلمذة على أمثال هؤلاء الأفذاذ من العلماء أثرت في شخصية ابن الملقن العلمية في فنون شتى كالنحو والقراءات والحديث والفقه وأصوله وغيرها من الفنون، لذا تقلد المناصب العديدة كالقضاء والتعليم وغيرها.
তার বেড়ে ওঠা:

যখন তার পিতা ইন্তেকাল করলেন এবং শেখ ঈসা আল-মাগরিবিকে তার দায়িত্ব অর্পণ করার অসিয়ত করে গেলেন, তখন শেখ ঈসা তার প্রতি অত্যন্ত বিশেষ যত্ন নিলেন, যা ইবনে আল-মুলাক্কিনের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। এর কারণ হলো, শেখ ঈসা—যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে—ইবনে তুলুন মসজিদে কুরআন শিক্ষা দিতেন এবং তিনি একজন পুণ্যবান ব্যক্তি ছিলেন। এরই মধ্যে শেখ ঈসা ইবনে আল-মুলাক্কিনের মাতাকে বিবাহ করেন, ফলে তিনি তার এবং তার লালন-পালনের প্রতি যত্নশীল হন এবং তার পিতার সম্পদ যথাযথভাবে বিনিয়োগ করেন। ইবনে আল-মুলাক্কিন তার অভিভাবকত্বে বেড়ে ওঠেন এবং পবিত্র কুরআন, আল-মাকদিসির আল-উমদাহ, আল-মিনহাজ এবং অন্যান্য গ্রন্থ মুখস্থ করেন।

ইলম অন্বেষণে তার সফরসমূহ:

ইলম এবং বিশেষ করে হাদিস অন্বেষণের জন্য দেশভ্রমণ করা উম্মাহর নেককার পূর্বসূরি বা সালাফ (سلف) আলেমদের মাঝে একটি প্রতিষ্ঠিত রীতি; কেননা এমন কোনো ইমামের দেখা মেলা ভার যিনি ইলম অন্বেষণে সফর করেননি। তাই আমরা দেখি যে, ইমাম ইবনে আল-মুলাক্কিন দামেস্ক, মক্কা মুকাররমা, মদিনা মুনাওয়ারা, বায়তুল মাকদিস, মিশরসহ আরও অনেক দেশ সফর করেছেন।

তার উস্তাদগণ:

সফর করার সুবাদে ইবনে আল-মুলাক্কিন বিভিন্ন অঞ্চলের প্রথিতযশা আলেম এবং হাফিজ (حفاظ)গণের সাক্ষাৎ লাভের সুযোগ পান। তিনি তাদের নিকট পাঠ গ্রহণ করেন, তাদের থেকে উপকৃত হন এবং ইজাজত বা অনুমতি (أجيز) প্রাপ্ত হন। তার উস্তাদদের মধ্যে রয়েছেন:

হাফিজ (حافظ) আল-আলাই, ইবনে সাইয়্যেদ আন-নাস, তাকিউদ্দীন আস-সুবকি, মুগলতাই, আল-ইজ্জ ইবনে জামাআহ, আল-কুতুব আল-হালাবি; এছাড়া তাকে ইজাজত বা অনুমতি প্রদান (أجاز) করেছেন হাফিজ (حافظ) আল-মিযযী, জামালুদ্দীন আল-আসনাবি, আবু হাইয়ান আল-গারনাতি, বুরহান আর-রাশিদি এবং আরও অনেকে।

এসকল প্রবাদপ্রতীম আলেমদের নিকট শিক্ষা গ্রহণ ইবনে আল-মুলাক্কিনের জ্ঞানতাত্ত্বিক ব্যক্তিত্বকে বিভিন্ন জ্ঞানশাখায় (فنون) যেমন: ব্যাকরণ (نحو), কিরাত (قراءات), হাদিস, ফিকহ (فقه) ও উসুল (أصول) এবং অন্যান্য বিদ্যায় সমৃদ্ধ করেছিল। একারণেই তিনি বিচারকার্য (قضاء), অধ্যাপনা এবং আরও বিবিধ গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।
(খণ্ড: ১) আত-তাওযীহুল আবহার লিতাযকিরাতি ইবনিল মুলাক্কিন ফী ইলমিল আসার (পৃষ্ঠা: ١٠)
تلامذته:

رجل جمع مثل هذا الجمع، وأخذ عن علماء عصر ومصره، حريٌّ أن يرتحل إليه، ويطلب العلم بين يديه، وكان الأمر كذلك، فقد ذاع صيته وانتشر خبره، فطلبه الطلاب، وأتوه، ليأخذوا عنه ويتتلمذوا عليه، واستفاد منهم كثير، بل صار أكثرهم أئمة يشار إليهم بالبنان، فمنهم:

الحافظ العلامة الثقة البحر أحمد بن علي بن حجر العسقلاني، والحافظ المتقن أحمد بن عبد الرحمن بن الحسين أبو زرعة العراقي، والإمام الحافظ إبراهيم بن محمد بن خليل برهان الدين الطرابلسي المعروف بـ "سبط ابن العجمي"، والحافظ أحمد بن نصر الله بن أحمد التستري، وغيرهم جمّ غفير.

مكانته وثناء العلماء عليه:

رحلة ابن الملقن الواسعة، وأخذه عن العلماء، كوّن لديه قاعدة عريضة في الاطلاع والمعرفة، فكان بذلك واسع الاطلاع غزير العلم في الحديث وعلومه والفقه وأصوله، والنحو وغيرها من الفنون، شهد بنبله وعظيم منزلته الأئمة الأعلام، وحسبك بشهادتهم تزكية، وبيانا لمنزلة هذه العلم الهمام، ومن هؤلاء الأئمة:

الحافظ العلائي حيث قال: "الشيخ الفقيه الإمام العالم المحدث الحافظ سراج الدين شرف الفقهاء والمحدثين فخر الفضلاء".

وقال العراقي: "الشيخ الإمام الحافظ".

وقال ابن فهد المكي: "الإمام العلامة الحافظ شيخ الإسلام وعلم الأئمة الأعلام عمدة المحدثين وقدوة المصنفين".

وقال الحافظ سبط ابن العجمي: "حفاظ مصر أربعة أشخاص وهم
তার ছাত্রগণ:

যিনি এমন এক বিশাল জ্ঞানভাণ্ডার সংকলন করেছিলেন এবং সমকালীন ও নিজ শহরের আলেমদের নিকট থেকে ইলম অর্জন করেছিলেন, তিনি ছিলেন এমন এক ব্যক্তিত্ব যার কাছে (জ্ঞানের সন্ধানে) সফর করা এবং তার নিকট ইলম তলব করা ছিল একান্ত বাঞ্ছনীয়। বাস্তবে তা-ই হয়েছিল; তার সুখ্যাতি চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছিল এবং তার সংবাদ সর্বত্র পৌঁছে গিয়েছিল। ফলে শিক্ষার্থীরা তাকে অন্বেষণ করতে শুরু করে এবং তার নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ ও তার ছাত্রত্ব গ্রহণের উদ্দেশ্যে তার কাছে আসতে থাকে। তাদের মধ্যে অনেকেই উপকৃত হয়েছিলেন, বরং তাদের অধিকাংশ এমন ইমামে পরিণত হয়েছিলেন যাদের দিকে আঙ্গুল দিয়ে ইঙ্গিত করা হতো। তাদের মধ্যে রয়েছেন:

হাফিজ (حافظ), মহাজ্ঞানী (علامة), নির্ভরযোগ্য (ثقة) ও ইলমের অতল সমুদ্র (بحر) আহমাদ বিন আলি বিন হাজার আল-আসকালানি; হাফিজ (حافظ) ও সূক্ষ্ম পারদর্শী (متقন) আহমাদ বিন আব্দুর রহমান বিন আল-হুসাইন আবু যুরআহ আল-ইরাকি; ইমাম ও হাফিজ (حافظ) ইবরাহিম বিন মুহাম্মাদ বিন খলিল বুরহান উদ্দিন আত-তারাবুলসি, যিনি "সিবত ইবনুল আজমি" নামে পরিচিত; হাফিজ (حافظ) আহমাদ বিন নাসরুল্লাহ বিন আহমাদ আত-তুস্তারি এবং আরও অসংখ্য ব্যক্তিত্ব।

তার মর্যাদা এবং তার প্রতি আলেমদের প্রশংসা:

ইবনুল মুলাক্কিনের ব্যাপক সফর এবং আলেমদের নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ তার মধ্যে গভীর পর্যবেক্ষণ ও জ্ঞানের এক বিশাল ভিত্তি তৈরি করেছিল। এর ফলে তিনি হাদিস ও এর জ্ঞানসমূহ, ফিকহ (فقيه) ও এর মূলনীতি (أصول), ব্যাকরণ এবং অন্যান্য বিষয়ে অত্যন্ত গভীর ও বিস্তৃত জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন। প্রথিতযশা ইমামগণ তার শ্রেষ্ঠত্ব ও সুউচ্চ মর্যাদার সাক্ষ্য দিয়েছেন। এই মহান জ্ঞানতাপসের মর্যাদা ও মাহাত্ম্য বর্ণনায় এসব ইমামদের প্রশংসাই (تزكية) আপনার জন্য যথেষ্ট। এসকল ইমামদের মধ্যে রয়েছেন:

হাফিজ (حافظ) আল-আলাই, তিনি বলেন: "তিনি হলেন শায়খ, ফকিহ (فقيه), ইমাম, আলেম (عالم), হাদিস বিশারদ (محدث), হাফিজ (حافظ), সিরাজুদ্দিন, ফকিহ ও হাদিস বিশারদগণের (محدثين) গৌরব এবং গুণীজনদের অহংকার।"

আল-ইরাকি বলেন: "শায়খ, ইমাম, হাফিজ (حافظ)।"

ইবনে ফাহদ আল-মাক্কি বলেন: "ইমাম, মহাজ্ঞানী (علامة), হাফিজ (حافظ), শায়খুল ইসলাম, প্রথিতযশা ইমামগণের আলোকবর্তিকা, হাদিস বিশারদগণের (محدثين) প্রধান অবলম্বন এবং লেখকগণের আদর্শ।"

হাফিজ (حافظ) সিবত ইবনুল আজমি বলেন: "মিসরের হাফিজগণ (حفاظ) চারজন, তারা হলেন..."
(খণ্ড: ১) আত-তাওযীহুল আবহার লিতাযকিরাতি ইবনিল মুলাক্কিন ফী ইলমিল আসার (পৃষ্ঠা: ١١)
من مشايخي: البلقيني وهو أحفظهم لأحاديث الأحكام، والعراقي وهو أعلمهم بالصنعة، والهيثمي وهو أحفهم للأحاديث من حيث هي، وابن الملقن وهو أكثرهم فوائد في الكتابة على الحديث".

وقال الحافظ السيوطي: "الإمام الفقيه ذو التصانيف الكثرة … أحد شيوخ الشافعية وأئمة الحديث … وبرع في الفقه والحديث وصنف فيها الكثير".

وقال ابن شهبة: "الشيخ الإمام العالم العلامة، عمدة المصنفين".

فهذه بعض الأقوال المذكورة في، وهي كافية في بيان قدرة وعلو منزلته أضف إلى ذلك الثروة العلمية الضخمة التي خلفها رحمه الله، وسيأتي ذكر شيء منها.

تصانيفه:

اتفق الأئمة المترجمون على أنه من المكثرين في التصنيف، ولعل ذلك يرجع إلى أنه اشتغل بالتصنيف مبكرا، قال الحافظ ابن حجر في المجمع المؤسس "2/ 312": "واشتغل بالتصنيف وهو شاب فكتب الكثير حتى كان أكثر أهل عصره تصنيفا".

وقال القاضي محمد بن عبد الرحمن العثماني قاضي صفد: "أحد مشايخ الإسلام صاحب المصنفات التي ما فتح على غيره بمثلها في هذه الأوقات". من الضوء اللامع "6/ 102".

وقال الحافظ السخاوي: "واشتهرت في الآفاق تصانيفه، وكان يقول: إنها بلغت ثلثمائة تصنيف، وشغل الناس فيها وفي غيرها قديما، وحدث بالكثير منها وبغيرها من مروياته وانتفع الناس بها انتفاعًا صالحًا من حياته وهلم جرًّا" الضوء اللامع "6/ 103".
"আমার শিক্ষকদের মধ্যে: আল-বুলকিনি, তিনি বিধান সংক্রান্ত (আহকাম) হাদিসসমূহের বিষয়ে তাদের মধ্যে সর্বাধিক মুখস্থকারী (أحفظهم); আল-ইরাকি, তিনি হাদিস শিল্প (الصنعة) বিষয়ে তাদের মধ্যে সর্বাধিক জ্ঞানী (أعلمهم); আল-হাইসামি, তিনি কেবল হাদিসের সত্তাগত দিক থেকে তাদের মধ্যে সর্বাধিক মুখস্থকারী (أحفهم); এবং ইবনুল মুলাক্কিন, তিনি হাদিসের ব্যাখ্যা ও টীকা রচনায় সর্বাধিক উপকারী তথ্যের (فوائد) অধিকারী।"

হাফেজ (الحافظ) সুয়ুতী বলেছেন: "তিনি একজন ফকিহ (الفقيه) ইমাম এবং বহু গ্রন্থের রচয়িতা … শাফেয়ী মাযহাবের অন্যতম শায়খ এবং হাদিসের ইমামগণের অন্যতম … তিনি ফিকহ এবং হাদিস শাস্ত্রে পারদর্শিতা অর্জন করেছেন এবং এ বিষয়ে প্রচুর গ্রন্থ রচনা করেছেন।"

ইবনে শাহবাহ বলেছেন: "তিনি শায়খ, ইমাম, বিজ্ঞ আলেম, আল্লামা এবং গ্রন্থকারদের প্রধান নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিত্ব।"

এগুলো তার সম্পর্কে বর্ণিত কিছু উক্তি, যা তার যোগ্যতা এবং সুউচ্চ মর্যাদা বর্ণনার জন্য যথেষ্ট। এর পাশাপাশি তিনি যে বিশাল জ্ঞানভাণ্ডার রেখে গেছেন (আল্লাহ তার ওপর রহম করুন), তা-ও প্রণিধানযোগ্য, যার কিছু অংশ সামনে উল্লেখ করা হবে।

তার রচনাবলী:

জীবনীকার ইমামগণ এ ব্যাপারে একমত যে, তিনি গ্রন্থ রচনায় অতিপ্রজ বা অধিক রচয়িতা (المكثرين) ছিলেন। সম্ভবত এর কারণ হলো তিনি খুব অল্প বয়সেই লেখালেখির কাজ শুরু করেছিলেন। হাফেজ (الحافظ) ইবনে হাজার 'আল-মুজামুল মুয়াসসিস' (২/৩১২) গ্রন্থে বলেছেন: "তিনি যুবক থাকাবস্থায়ই গ্রন্থ রচনায় আত্মনিয়োগ করেন এবং এত বেশি লিখেছেন যে তিনি তার সমসাময়িকদের মধ্যে সর্বাধিক গ্রন্থ রচয়িতা ছিলেন।"

সাফাদের কাজী মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আল-উসমানী বলেছেন: "তিনি শায়খুল ইসলামদের অন্যতম এবং এমন সব গ্রন্থের রচয়িতা যার অনুরূপ এই সময়ে অন্য কারো জন্য উন্মুক্ত হয়নি।" - আদ-দাও আল-লামি' (৬/১০২)।

হাফেজ (الحافظ) সাখাভী বলেছেন: "তার রচনাবলী দিগন্তজুড়ে খ্যাতি লাভ করেছে। তিনি বলতেন যে, তার রচনার সংখ্যা তিনশতে পৌঁছেছে। মানুষ দীর্ঘকাল ধরে তার রচিত গ্রন্থাবলি এবং অন্যান্য বিষয়ে ব্যাপৃত ছিল। তিনি তার বর্ণিত হাদিসসমূহ (مروياته) এবং অন্যান্য বর্ণনা থেকে প্রচুর হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং মানুষ তার জীবদ্দশা থেকেই এই গ্রন্থগুলো দ্বারা ব্যাপকভাবে উপকৃত হয়েছে এবং তা অদ্যাবধি অব্যাহত রয়েছে।" আদ-দাও আল-লামি' (৬/১০৩)।
(খণ্ড: ১) আত-তাওযীহুল আবহার লিতাযকিরাতি ইবনিল মুলাক্কিন ফী ইলমিল আসার (পৃষ্ঠা: ١٢)
ومن مصنفاته:

1- "عمدة المحتاج إلى كتاب المنهاج" شرح به "منهاج الطالبين" للنووي في الفقه.

2- "خلاصة الفتاوي في تسهيل أسرار الحاوي" أي "الحاوي الصغير في الفقه الشافعي" للقزويني.

3- "البدر المنير في تخريج أحاديث الشرح الكبير" والشرح الكبير للرافعي.

4- "المقنع في علوم الحديث".

5- "الإعلام بفوائد عمدة الأحكام" شرح لعمدة الأحكام لعبد الغني المقدسي وغيرها كثير.

وفاته:

ابتلي رحمه الله باحتراق كتبه، وأكلت النار أكثر مسوداته، فتغير حاله بعدها وكان ذلك سببًا في حجب ابنه له عن التحديث، ثم وافاه الأجل في ليلة الجمعة السادس عشر من شهر ربيع الأول سنة أربع وثمانمائة "804هـ" بالقاهرة، ف-رحمه الله وغفر لنا وله ولجميع المؤمنين.

ينظر في مصادر ترجمته:

إنباء الغمر "5/ 41"، والمجمع المؤسس "2/ 311"، والضوء اللامع "6/ 100"، وابن قاضي شهبة في طبقات الشافعية "4/ 373"، وذيل التقييد للتقي الفاسي "2/ 246"، ولحظ الأحاظ لابن فهد المكي "ص197"، وذيل تذكرة الحفاظ للسيوطي "ص369"، والبدر الطالع للشوكاني "1/ 508"، وشذرات الذهب لابن العماد "7/ 44" والأعلام للزركلي "4/ 57".
তাঁর রচিত গ্রন্থাবলীর মধ্যে রয়েছে:

১- "উমদাতুল মুহতাজ ইলা কিতাবিল মিনহাজ", এটি ইমাম নববীর ফিকহ শাস্ত্রীয় গ্রন্থ "মিনহাজুত তালিবীন"-এর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ।

২- "খুলাসাতুল ফাতাওয়া ফি তাসহীলি আসরারিল হাভী", অর্থাৎ কাজবীনির শাফেয়ী ফিকহের গ্রন্থ "আল-হাভী আস-সগীর"-এর সহজবোধ্য ব্যাখ্যা।

৩- "আল-বদরুল মুনীর ফী তাখরীজ (تخريج) আহাদিসিশ শারহিল কাবীর", এবং এই 'শারহুল কাবীর' গ্রন্থটি ইমাম রাফেয়ীর।

৪- "আল-মুকনি ফী উলূমিল হাদিস (علوم الحديث)"।

৫- "আল-ইলাম বি-ফাওয়ায়িদি উমদাতিল আহকাম", এটি আব্দুল গনি আল-মাকদিসীর "উমদাতুল আহকাম"-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ, এছাড়াও তাঁর আরও অনেক কিতাব রয়েছে।

তাঁর মৃত্যু:

আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন, তিনি তাঁর কিতাবসমূহ ভস্মীভূত হওয়ার পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছিলেন। অগ্নিকাণ্ডে তাঁর অধিকাংশ পাণ্ডুলিপি পুড়ে যায়। এরপর তাঁর অবস্থার পরিবর্তন ঘটে এবং এটিই তাঁর পুত্র কর্তৃক তাঁকে হাদিস বর্ণনা (تحديث) থেকে বিরত রাখার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অতঃপর ৮০৪ হিজরি সনের ১৬ই রবিউল আউয়াল শুক্রবার রাতে কায়রোতে তাঁর মৃত্যু হয়। আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন এবং আমাদের, তাঁকে ও সকল মুমিনকে ক্ষমা করুন।

তাঁর জীবনী (ترجمة) সংক্রান্ত তথ্যের জন্য দেখা যেতে পারে:

ইনবাউল গুমর (৫/৪১), আল-মুজামুল মুয়াসসিস (২/৩১১), আদ-দউউল লামি (৬/১০০), ইবনে কাদি শুহবাহ রচিত তাবাকাতুশ শাফিইয়াহ (৪/৩৭৩), তাকি ফাসির জাইলুত তাকয়িদ (২/২৪৬), ইবনে ফাহাদ মাক্কির লাহজুল আহাজ (পৃ. ১৯৭), সুয়ুতির জাইলু তাযকিরাতিল হুফফাজ (পৃ. ৩৬৯), শাওকানির আল-বদরুত তালি (১/৫০৮), ইবনুল ইমাদের শাযারাতুয যাহাব (৭/৪৪) এবং যারকালির আল-আলাম (৪/৫৭)।
(খণ্ড: ১) আত-তাওযীহুল আবহার লিতাযকিরাতি ইবনিল মুলাক্কিন ফী ইলমিল আসার (পৃষ্ঠা: ١٣)
‌‌ترجمة الإمام السخاوي:

اسمه ونسبه ولقبه:

هو محمد بن عبد الرحمن بن محمد بن أبي بكر بن عثمان بن محمد، السخاوي نسبة إلى سخا بلد غربي الفسطاط، القاهري المولد الشافعي المذهب، نزيل الحرمين الشريفين الملقب بشمس الدين أبو الخير، وأبو عبد الله بن الزين، أو الجلال أبي الفضل وأبي محمد.

مولده:

ولد في ربيع الأول سنة إحدى وثلاثين وثمانمائة، بحارة بهاء الدين علو الدرب، المجاور لمدرسة شيخ الإسلام البلقيني، محل أبيه وجده، ثم تحول منه حين دخل في الرابعة مع أبويه لملك اشتراه أبوه، مجاور لسكن شيخه ابن حجر.

رحلاته:

رحل وجاب ودخل الآفاق والبلدان، فكان صاحب رحلة واسعة، فمن تلك البلدان: حلب ودمشق وقطيا وغزة وبيت المقدس والخليل ونابلس ودمياط ومكة المكرمة والمدينة المنورة، والزبداني وبعلبك وحمص وحماة وسرين وجبرين وطرابلس وغيرها كثير.

شيوخه:

رحلة السخاوي الواسعة لقي في خلالها أئمة العصر من كل بلد ومصر، فقرأ وسمع وأجيز، وقد زادوا على الأربعمائة شيخ فمنهم البرهان ابن خضر، والشهاب أبي العباس الحناوي، تضلع على هذين في صناعة
ইমাম আস-সাখাবীর জীবনী:

নাম, বংশপরিচয় ও উপাধি:

তিনি হলেন মুহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন আবি বকর বিন উসমান বিন মুহাম্মদ। ফুস্তাতের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর ‘সাখা’-র সাথে সম্বন্ধ করে তাঁকে ‘আস-সাখাবী’ বলা হয়। তিনি কায়রোতে জন্মগ্রহণকারী এবং শাফিঈ মাযহাবের অনুসারী ছিলেন। তিনি দুই পবিত্র হারামের (মক্কা ও মদিনা) অধিবাসী ছিলেন এবং শামসুদ্দিন আবু আল-খায়ের, আবু আব্দুল্লাহ বিন আয-যাইন অথবা আল-জালাল আবি আল-ফাদল ও আবি মুহাম্মদ উপাধিতে ভূষিত ছিলেন।

জন্ম:

তিনি ৮৩১ হিজরি সালের রবিউল আউয়াল মাসে বাহাউদ্দিন 'আলু আল-দারব' পাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন, যা শায়খুল ইসলাম আল-বুলকিনির মাদরাসার পার্শ্ববর্তী ছিল এবং তাঁর পিতা ও পিতামহের আবাসস্থল ছিল। অতঃপর চার বছর বয়সে তিনি তাঁর পিতামাতার সাথে তাঁর পিতার ক্রয়কৃত একটি বাসভবনে স্থানান্তরিত হন, যা তাঁর উস্তাদ ইবনে হাজারের বাসভবনের সন্নিকটে ছিল।

সফরসমূহ:

তিনি দেশ-দেশান্তরে সফর ও পরিভ্রমণ করেছেন এবং তিনি এক বিশাল সফরনামার অধিকারী ছিলেন। সেসব দেশ ও শহরের মধ্যে রয়েছে: আলেপ্পো, দামেস্ক, কাতাতিয়া, গাজা, বাইতুল মাকদিস, খলিল (হেব্রন), নাবলুস, দ্যামিয়েটা, মক্কা মুকাররমা, মদিনা মুনাওয়ারা, যাবদানি, বালবাক, হিমস, হামাত, সারিন, জাবরিন, ত্রিপোলি এবং আরও অনেক।

শিক্ষকবৃন্দ:

আস-সাখাবীর এই বিস্তৃত সফরের সময় তিনি প্রতিটি জনপদ ও শহরের সমসাময়িক শ্রেষ্ঠ ইমামদের সাক্ষাৎ লাভ করেন। তিনি তাঁদের নিকট পাঠ গ্রহণ করেছেন, হাদিস শ্রবণ করেছেন এবং অনুমতিপ্রাপ্ত (أجيز) হয়েছেন। তাঁর শায়খ বা শিক্ষকদের সংখ্যা চারশ’রও অধিক ছিল। তাঁদের মধ্যে বুরহান ইবনে খিজর এবং শিহাব আবু আল-আব্বাস আল-হিন্নাওয়ী অন্যতম; এই দুইজনের নিকট তিনি এই শিল্পে (صناعة) ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন।
(খণ্ড: ১) আত-তাওযীহুল আবহার লিতাযকিরাতি ইবনিল মুলাক্কিন ফী ইলমিল আসার (পৃষ্ঠা: ١٤)
الإعراب، وكذا أخذ عن حفيد سيبويه النحوي الشهير الجمال ابن هشام الحنبلي، وأخذ أيضًا عن صالح البلقيني، والشمني الحنفي، وقاسم بن قطلوبغا، والجلال المحلي، ولازم وأكثر عن شيخه شيخ الحفاظ ابن حجر العسقلاني، وهو أجلّ شيوخه وأعظمهم أثرًا فيه، وغيرهم كثير، جمعهم بنفسه في كتاب له أسماه "بغية الراوي فيمن أخذ عنه السخاوي" أو "الامتنان بمشايخ محمد بن عبد الرحمن".

انظرهم في الضوء "8/ 3 وما بعدها".

ثناء العلماء عليه:

اشتهر السخاوي بنباهته وفطنته وحرصه، حتى فاق أقرانه وشهد له بذلك شيخ عصره وأستاذ مصره حافظة الزمان الإمام الهمام ابن حجر رحمه الله، بل كان ينوه بذكره. قال الزين قاسم الحنفي: "وقد كان هذا المصنف -يعني السخاوي- بالرتبة المنيفة في حياة حافظ العصر وأستاذ الزمان، حتى شافهني -أي ابن حجر- بأنه أنبه طلبتي الآن، وقال أيضًا: حتى كان ينوه بذكره ويعرف بعلو فخره ويرجحه على سائر جماعته المنسوبين إلى الحديث وصناعته كما سمعته منه وأثبته بخطي قبل عنه".

وقال الحافظ التقي بن فهد الهاشمي: "زين الحفاظ وعمدة الأئمة الأيقاظ شمس الدنيا والدين ممن اعتنى بخدمة حديث سيد المرسلين واشتهر بذلك في العالمين على طريقة أهل الدين والتقوى فبلغ فيه الغاية القصوى.

وأثنى عليه آخرون كثيرون منهم تلميذه الحافظ عمر بن فهد الهاشمي المكي، وأبو ذر ابن البرهان الحلبي، والبرهان البقاعي، والتقي القلقشندي، والعز الحنبلي والبلقيني، والشاب أحمد بن محمد بن علي الحجازي، والبدر العيني، والتقي الشمني، وصديق حسن خان،
তিনি ইরাব (ব্যাকরণগত বিশ্লেষণ) শিক্ষা করেছেন, আর একইভাবে তিনি প্রখ্যাত বৈয়াকরণ সিবওয়াইহের উত্তরসূরি আল-জামাল ইবনে হিশাম আল-হাম্বলীর নিকট থেকেও জ্ঞান অর্জন করেছেন। তিনি সালিহ আল-বুলকিনি, আশ-শুমুন্নি আল-হানাফি, কাসিম বিন কুতলুবুগা এবং আল-জালাল আল-মাহাল্লির নিকট থেকেও শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। তিনি তাঁর উস্তাদ, হাফেজদের প্রধান (شيخ الحفاظ) ইবনে হাজার আসকালানির সান্নিধ্যে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেছেন এবং তাঁর নিকট থেকে প্রচুর ইলম অর্জন করেছেন; ইবনে হাজার ছিলেন তাঁর উস্তাদদের মধ্যে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এবং তাঁর ওপর প্রভাবের ক্ষেত্রে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ। এ ছাড়াও আরও অনেক উস্তাদ রয়েছেন যাঁদের নাম তিনি নিজেই তাঁর "বুগইয়াতুর রাওয়ি ফিমান আখাযা আনহুস সাখাবি" অথবা "আল-ইমতিনানু বি-মাশায়েখি মুহাম্মাদ বিন আবদির রহমান" নামক কিতাবে একত্রিত করেছেন।

তাঁদের সম্পর্কে দেখুন 'আদ-দাও আল-লামি' গ্রন্থের ৮ম খণ্ডের ৩য় পৃষ্ঠা এবং পরবর্তী পৃষ্ঠাগুলোতে।

তাঁর সম্পর্কে আলেমদের প্রশংসা:

আস-সাখাবি তাঁর প্রখর মেধা, বুদ্ধিমত্তা এবং ইলমের প্রতি একনিষ্ঠ আগ্রহের জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন, এমনকি তিনি তাঁর সমসাময়িকদেরও ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন। তাঁর সময়ের প্রধান শায়খ, মিশরের শ্রেষ্ঠ পণ্ডিত এবং যুগের শ্রেষ্ঠ মুখস্থকারী হাফেজ (حافظة الزمان) ইমাম ইবনে হাজার (রহ.) তাঁর সম্পর্কে এই সাক্ষ্য দিয়েছেন, বরং তিনি তাঁর গুণের কথা সগৌরবে আলোচনা করতেন। যাইন কাসিম আল-হানাফি বলেছেন: "এই লেখক — অর্থাৎ সাখাবি — যুগের প্রধান হাফেজ (حافظ العصر) এবং সময়ের শ্রেষ্ঠ উস্তাদের জীবদ্দশাতেই উচ্চ মর্যাদায় আসীন ছিলেন। এমনকি ইবনে হাজার স্বয়ং আমাকে মৌখিকভাবে বলেছেন যে, 'সে বর্তমানে আমার ছাত্রদের মধ্যে সবচেয়ে মেধাবী'। তিনি আরও বলেছেন: এমনকি তিনি তাঁর কথা গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করতেন, তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে অবহিত করতেন এবং হাদিস ও এর শাস্ত্রীয় কারিগরি (صناعته) বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত তাঁর অন্যান্য সমস্ত সহপাঠীদের ওপর তাঁকে প্রাধান্য দিতেন; যেমনটি আমি তাঁর নিকট থেকে সরাসরি শুনেছি এবং তাঁর পক্ষ থেকে এটি আমার নিজের হাতে লিখে রেখেছি।"

হাফেজ (الحافظ) তাকি বিন ফাহাদ আল-হাশেমি বলেছেন: "তিনি হলেন হাফেজদের (الحفاظ) অলঙ্কার এবং সচেতন ইমামদের অবলম্বন, পৃথিবী ও দ্বীনের সূর্য। তিনি তাঁদের অন্তর্ভুক্ত যারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসের খিদমতে বিশেষ যত্নবান ছিলেন এবং দ্বীনদারি ও তাকওয়ার পথে চলে বিশ্বজুড়ে প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন এবং এই ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছেছেন।"

আরও অনেকেই তাঁর প্রশংসা করেছেন, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন তাঁর ছাত্র হাফেজ (الحافظ) ওমর বিন ফাহাদ আল-হাশেমি আল-মাক্কি, আবু যর ইবনুল বুরহান আল-হালাবি, বুরহান আল-বিকায়ি, তাকি আল-কালকাশান্দি, ইজ্জ আল-হাম্বলি, আল-বুলকিনি, যুবক আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আলি আল-হিজাজি, আল-বদর আল-আইনি, তাকি আশ-শুমুন্নি এবং সিদ্দিক হাসান খান।
(খণ্ড: ১) আত-তাওযীহুল আবহার লিতাযকিরাতি ইবনিল মুলাক্কিন ফী ইলমিল আসার (পৃষ্ঠা: ١٥)
والشوكاني وغيرهم كثير.

مصنفاته:

شرع الحافظ السخاوي في التصنيف قبل وفاة شيخه الحافظ ابن حجر، حيث قال في "الضوء" "8/ 15": "إنه شرع في التصنيف والتخريج قبل الخمسين" أي قبل الخمسين وثمانمئة، وهذا النبوغ المبكر أفاده جدًّا من حيث البراعة في أكثر الفنون، كالفقه والعربية والقراءات والحديث والتاريخ، وله مشاركات في الفرائض وأصول الفقه والتفسير وغيرها.

فهذه البراعة ساعده في التصنيف والتأليف، وقد ذكر البلوي في "ثبته" ص "375" أن علي بن عياد البكري الفيلالي أخبره أن السخاوي كتب له إجازة عامة، وأحاله على فهرسته، وأخبره أن له مائة وستين تأليفا، وأن بينه وبين النبي صلى الله عليه وسلم عشرة رجال في الحديث.

والذي يبدو أن السخاوي لم يقتصر على هذا العدد من المصنفات والمؤلفات، بل تعدت هذا العدد بكثير، فقد ذكر الكتاني في "فهرس الفهارس" "2/ 989" عن ابن روزبهان قوله: " … وله تصانيف تنيف على أربعمائة مجلد، كما ذكر وفصل في كثير من إجازاته، وكان له مائة وعشرون شيخًا في صحيح البخاري".

وقال الزركلي في "الأعلام" "6/ 194": " … وصنف زهاء مئتي كتاب … ".

ومن تلك المؤلفات والمصنفات:

الضوء اللامع لأهل القرن التاسع و"الإعلان بالتوبيخ لمن ذم التاريخ"، والمقاصد الحسنة في بيان كثير من الأحاديث المشتهرة على الألسنة، وفتح المغيث شرح ألفية الحديث، والتحفة اللطيفة في أخبار
আশ-শাওকানি এবং তাঁদের মতো আরও অনেকে।

তাঁর রচনাবলী:

হাফিজ সাখাভি তাঁর উস্তাদ হাফিজ ইবনে হাজারের ইন্তেকালের পূর্বেই গ্রন্থ রচনা শুরু করেছিলেন; যেমনটি তিনি "আদ-দাউ" (৮/১৫) গ্রন্থে বলেছেন: "তিনি পঞ্চাশের পূর্বেই গ্রন্থ রচনা এবং হাদিসের উৎস অনুসন্ধান ও বিশ্লেষণ (تخريج) শুরু করেছিলেন," অর্থাৎ সাড়ে আটশত (৮৫০) হিজরির আগে। এই অকালপক্ব মেধা তাঁকে ফিকহ, আরবি ভাষা, ক্বিরাত, হাদিস এবং ইতিহাসের মতো অধিকাংশ জ্ঞান-শাখায় পারদর্শী হতে দারুণভাবে সাহায্য করেছে। এছাড়াও ফারায়েজ (উত্তরাধিকার আইন), উসুল আল-ফিকহ, তাফসির এবং অন্যান্য বিষয়েও তাঁর অবদান রয়েছে।

এই পারদর্শিতা তাঁকে গ্রন্থ প্রণয়ন ও সংকলনে সহায়তা করেছিল। আল-বালাউয়ি তাঁর "সাবাত" (পৃষ্ঠা ৩৭৫)-এ উল্লেখ করেছেন যে, আলী ইবনে আইয়াদ আল-বাকরি আল-ফিলালি তাঁকে জানিয়েছেন যে, সাখাভি তাঁকে একটি সাধারণ অনুমতিপত্র (إجازة) লিখে দিয়েছিলেন এবং তাঁকে তাঁর কিতাবের তালিকার (ফিহরিস) প্রতি নির্দেশ করেছিলেন। তিনি আরও জানান যে, সাখাভির ১৬০টি রচনা রয়েছে এবং হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে তাঁর ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মধ্যে মাত্র ১০ জন বর্ণনাকারী (رجال) রয়েছেন।

প্রতীয়মান হয় যে, সাখাভির রচনাবলী ও গ্রন্থসমূহ কেবল এই সংখ্যার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং এই সংখ্যাকে বহুলাংশে ছাড়িয়ে গিয়েছিল। কাত্তানি "ফিহরিসুল ফাহারিস" (২/৯৮৯)-এ ইবনে রুজবেহান থেকে বর্ণনা করেছেন যে: " ... তাঁর চারশোরও বেশি খণ্ডের রচনা রয়েছে, যা তিনি তাঁর অনেক অনুমতিপত্রে (إجازة) বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেছেন। সহীহ বুখারী পড়ার ক্ষেত্রে তাঁর একশত বিশজন শায়খ বা শিক্ষক ছিলেন।"

যিরিকলি "আল-আ'লাম" (৬/১৯৪)-এ বলেছেন: " ... তিনি প্রায় দুইশত কিতাব রচনা করেছেন ... "।

তাঁর সেই রচনাবলী ও গ্রন্থসমূহের মধ্যে রয়েছে:

আদ-দাউ আল-লামি লি আহলিল কারনিত তাসি, আল-ই'লান বিত-তাওবিখ লিমান জাম্মাত তারিখ, আল-মাকাসিদ আল-হাসানা ফি বায়ানি কাসিরিম মিনাল আহাদিস আল-মুশতাহারা আলাল আলসিনা, ফাতহুল মুগিস শারহু আলফিয়াতিল হাদিস এবং আত-তুহফাতুল লাতিফা ফি আখবার...
(খণ্ড: ১) আত-তাওযীহুল আবহার লিতাযকিরাতি ইবনিল মুলাক্কিন ফী ইলমিল আসার (পৃষ্ঠা: ١٦)
المدينة الشريفة، وتخريج أحاديث العادلين، وتحرير الجواب عن ضرب الدواب، ورجحان الكفة في ذكر نبذة عن حال أهل الصفة، والجواهر والدرر في ترجمة شيخ الإسلام ابن حجر، والغاية شرح الهداية. وغيرها كثير جدًّا.

وفاته:

توفي رحمه الله بالمدينة النبوية سنة "902هـ" وأسف الناس على موته أشد الأسف، ف-رحمه الله رحمة واسعة آمين.

مصادر ترجمته:

جرت عادة الحفاظ في عصره أن يترجم المرء لنفسه في بعض مؤلفاته، وكان من أولئك الحفاظ الإمام السخاوي رحمه الله حيث ترجم لنفسه في كتابه الضوء اللامع "8/ 2-32"، والتحفة اللطيفة "3/ 630"، وانظر أيضًا لترجمته: شذرات الذهب "8/ 15-17"، والبدر الطالع "2/ 184-187"، فهرس الفهارس للكتاني "2/ 989-993"، وثبت البلوي "ص375"، والتاج المكلل "ص449" وهدية العارفين للبغدادي "2/ 219-221"، ومعجم المؤلفين لكحالة "10/ 150"، والمستدرك على معجم المؤلفين "ص678-679"، والأعلام "6/ 194-195" وغيرها.
আল-মদিনাহ আশ-শরিফাহ, আদিলিনদের হাদিসসমূহের উৎসানুসন্ধান (تخريج), চতুষ্পদ জন্তুকে প্রহার করার বিধানের উত্তর সংশোধন, আহলে সুফফার অবস্থার সারসংক্ষেপ বর্ণনায় পাল্লার ভারি হওয়া, শায়খুল ইসলাম ইবনে হাজারের জীবনীতে মণি ও মুক্তা এবং আল-গায়াহ শারহুল হিদায়াহ। এ ছাড়াও তাঁর গ্রন্থ আরও অনেক।

তাঁর মৃত্যু:

তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) ৯০২ হিজরি সনে মদিনা মুনাওয়ারায় ইন্তেকাল করেন এবং তাঁর মৃত্যুতে মানুষ অত্যন্ত শোক প্রকাশ করেছিল। আল্লাহ তাঁকে প্রশস্ত রহমত দান করুন, আমিন।

তাঁর জীবনীর উৎসসমূহ:

তৎকালীন হাফেজদের (الحفاظ) মাঝে এটি রীতি ছিল যে, কোনো ব্যক্তি তার কোনো কোনো গ্রন্থে নিজের জীবনী লিখতেন। ইমাম সাখাভী (রাহিমাহুল্লাহ) ছিলেন সেই হাফেজদের (الحفاظ) অন্তর্ভুক্ত; তিনি তাঁর ‘আদ-দউ আল-লামি’ (৮/২-৩২) এবং ‘আত-তুহফাতুল লাতিফাহ’ (৩/৬৩০) গ্রন্থে নিজের জীবনী লিপিবদ্ধ করেছেন। এ ছাড়াও তাঁর জীবনীর জন্য দেখুন: শাজারাতুজ জাহাব (৮/১৫-১৭), আল-বদরুত তালি (২/১৮৪-১৮৭), কাত্তানির ফিহরিসুল ফাহারিস (২/৯৮৯-৯৯৩), সাবাতুল বালাওয়ি (পৃ. ৩৭৫), আত-তাজুল মুকাল্লাল (পৃ. ৪৪৯), বাগদাদীর হাদিয়াতুল আরিফিন (২/২১৯-২২১), কাহহালার মুজামুল মুয়াল্লিফিন (১০/১৫০), আল-মুস্তাদরাক আলা মুজামিল মুয়াল্লিফিন (পৃ. ৬৭৮-৬৭৯), আল-আলাম (৬/১৯৪-১৯৫) এবং অন্যান্য।
(খণ্ড: ১) আত-তাওযীহুল আবহার লিতাযকিরাতি ইবনিল মুলাক্কিন ফী ইলমিল আসার (পৃষ্ঠা: ١٧)
‌‌نسخ الكتاب:

وقفت -حسب علمي- على نسختين للكتاب.

الأولى:

مصدرها دار الكتب المصرية، وهي مصورة بمكتبة المخطوطات بالجامعة الإسلامية -بالمدينة النبوية- فلم.

رقمها: "982".

عدد أوراقها:

"10" أوراق ذات وجهين، عدا الورقة الأولى.

ناسخها: العلامة الحافظ الشيخ عبد العزيز بن عمر بن محمد بن فهد المكي الهاشمي.

إمام محدث ثقة بارع، له مصنفات عدة، لازم الإمام السخاوي، وقرأ عليه الكثير من كتبه توفي سنة "921هـ".

له ترجمة في "الضوء اللامع" "4/ 224"، و"شذرات الذهب" "8/ 100"، والكتاني في "فهرس الفهارس" "2/ 754" وانظر مقدمة تحقيق كتاب "غاية المرام بأخبار سلطنة البلد الحرام" لابن فهد "1/ 15-17"، و"الأعلام" "4/ 24".

تاريخها:

نسخت هذه النسخة في حياة المؤلف رحمه الله في يوم الأحد 3/ 6/ 900هـ وعليها سماعات بخط المصنف رحمه الله اعتمدت على هذه النسخة وجعلتها أصلًا، لتقدمها عن الأخرى، ولأن ناسخها من الحفاظ المتقنين، ومن الملازمين للإمام السخاوي ولندرة الأخطاء فيها.

والذي يبدو من صنيع الناسخ في المخطوطة هذه أنه كان يكتب "التذكرة" لابن الملقن، بخط مغاير للخط الذي نسخ به التوضيح، وهذا واضح جدًّا في المخطوط، فنجد "التذكرة" بخط فاتح يصل أحيانًا إلى عدم الوضوح، والتوضيح بخط غامق داكن مميز.
গ্রন্থের পাণ্ডুলিপিসমূহ:

আমার জানামতে, আমি এই গ্রন্থের দুটি পাণ্ডুলিপির সন্ধান পেয়েছি।

প্রথমটি:

এর উৎস হলো দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ, এবং এটি মদিনা মুনাওয়ারার ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাণ্ডুলিপি গ্রন্থাগারে মাইক্রোফিল্ম হিসেবে সংরক্ষিত।

এর নম্বর: "৯৮২"।

এর পত্র সংখ্যা:

১০টি দ্বি-পৃষ্ঠার পত্র, প্রথম পত্রটি ব্যতীত।

এর অনুলিপিকারক: আল্লামা হাফেজ (الحافظ) শেখ আব্দুল আজিজ বিন উমর বিন মুহাম্মদ বিন ফাহদ আল-মাক্কি আল-হাশেমি।

তিনি একজন ইমাম, মুহাদ্দিস (محدث), নির্ভরযোগ্য (ثقة) ও দক্ষ পণ্ডিত ছিলেন। তাঁর বেশ কিছু গ্রন্থ রয়েছে। তিনি ইমাম সাখাভির সার্বক্ষণিক সান্নিধ্যে ছিলেন এবং তাঁর নিকট তাঁর রচিত বহু গ্রন্থ পাঠ করেছেন। তিনি ৯২১ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন।

তাঁর জীবনী রয়েছে 'আদ-দউ আল-লামি' (৪/২২৪), 'শাযারাতুয যাহাব' (৮/১০০) এবং কাত্তানি রচিত 'ফিহরিসুল ফাহারিস' (২/৭৫৪) গ্রন্থে। এছাড়া ইবনে ফাহদ রচিত 'গায়াতুল মারাম বি-আখবারি সালতানাতিল বালাদিল হারাম' গ্রন্থের তাহকিকের ভূমিকা (১/১৫-১৭) এবং 'আল-আলাম' (৪/২৪) দ্রষ্টব্য।

অনুলিপির তারিখ:

এই পাণ্ডুলিপিটি লেখকের (রহিমাহুল্লাহ) জীবদ্দশায় ৯০০ হিজরির ৩/৬ তারিখে রবিবার অনুলিপি করা হয়েছে। এতে লেখকের হস্তাক্ষরে শ্রবণের সনদ (سماعات) রয়েছে। আমি এই পাণ্ডুলিপিটির ওপর নির্ভর করেছি এবং এটিকে মূল ভিত্তি (أصل) হিসেবে গ্রহণ করেছি; কারণ এটি অন্যটির তুলনায় প্রাচীন এবং এর অনুলিপিকারক ছিলেন প্রথিতযশা হাফেজদের (الحفاظ) মধ্যে অন্যতম ও অত্যন্ত নিখুঁত (المتقنين), তদুপরি তিনি ইমাম সাখাভির সার্বক্ষণিক সঙ্গী ছিলেন এবং এতে ভুলের পরিমাণ অত্যন্ত নগণ্য।

এই পাণ্ডুলিপিতে অনুলিপিকারকের কর্মপদ্ধতি থেকে যা প্রতীয়মান হয় তা হলো, তিনি ইবনুল মুলাক্কিন রচিত 'আত-তাযকিরাহ' ভিন্ন একটি হস্তাক্ষরে লিখছিলেন যা 'আত-তাউদিহ' অনুলিপি করার হস্তাক্ষর থেকে আলাদা ছিল। এটি পাণ্ডুলিপিতে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়। আমরা দেখতে পাই যে, 'আত-তাযকিরাহ' হালকা হস্তাক্ষরে লেখা যা কখনো কখনো অস্পষ্ট, আর 'আত-তাউদিহ' গাঢ় ও সুস্পষ্ট হস্তাক্ষরে লিখিত।
(খণ্ড: ১) আত-তাওযীহুল আবহার লিতাযকিরাতি ইবনিল মুলাক্কিন ফী ইলমিল আসার (পৃষ্ঠা: ١٨)
وكذا تتميز النسخة هذه بخطها الجميل المرتب، ورمزت لها بـ "أ".

الثانية: هي كذلك من محفوظات دار الكتب المصرية، منها صورة في مكتبة المخطوطات بالجامعة الإسلامية -بالمدينة النبوية- فلم.

رقمها:

"983".

عدد الأوراق:

"10" ورقات كل ورقة ذات وجهين عدا الورقة الولى والأخيرة، ناسخها: عبد المعطي بن أحمد بن محمد السخاوي. ولم أقف له على ترجمة، وليس هو حفيد السخاوي كما يظن من أول هلة؛ لأن ابن السخاوي أحمد ولد سنة "855هـ" وتوفي بالطاعون سنة "864 هـ" فيكون عمره تسع سنوات، ولم يذكر في ترجمته أنه تزوج أو عقب. ينظر الضوء اللامع "2/ 120".

تاريخها:

نسخت هذه النسخة أيضًا في حياة المصنف ولكن في آخر حياته، بل قبل وفاته بتسعة أيام -البدر الطالع "2/ 186- وكانت في يوم الأحد "5/ 8/ 902هـ".

وعلى هذه النسخة تعليقات كثيرة لعلي الأنصاري، وهي من كتبه، وعليها تملكه، وكذا عليها سماعات تثبت صحتها.

وخطها مقروء لا بأس به، والنسخة مقروءة على المؤلف أو مقابلة على أصل له يدل على ذلك ما جاء في حواشي المخطوطة من تكرار كلمة "بلغ" أو "ثم بلغ" أو قوله "بلغ مقابلة على مؤلفه" كما في "ل/ 7/ أ" وقوله "بلغ مقابلة بحضرة مؤلفه" "ل/ 11/ أ" ورمزت لها بـ "ب".

ومع هذا فإنه لا يوجد هناك فرق يذكر بين النسختين "أ" و"ب" لأن النسختين معروضتان على المؤلف فنتج عن هذا قلة الأخطاء.

ومما يجب الإشارة إليه أن "التوضيح" طبع بتحقيق وتعليق/ حسن
অনুরূপভাবে, এই পাণ্ডুলিপিটি (نسخة) তার সুন্দর ও সুশৃঙ্খল হস্তাক্ষরের মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত এবং আমি একে "আলিফ" দ্বারা চিহ্নিত করেছি।

দ্বিতীয়টি: এটিও মিসরের দারুল কুতুব-এর সংরক্ষিত সংগ্রহশালা থেকে প্রাপ্ত, যার একটি মাইক্রোফিল্ম কপি মদিনা মুনাওয়ারার ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাণ্ডুলিপি লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত আছে।

এর নম্বর:

"৯৮৩"।

পৃষ্ঠাসংখ্যা:

"১০" পৃষ্ঠা, প্রথম ও শেষ পৃষ্ঠা ব্যতীত প্রতিটি পৃষ্ঠার দুই পার্শ্ব রয়েছে; এর অনুলিপিকার (ناسخ): আবদুল মু’তি ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আস-সাখাভি। আমি তার কোনো জীবনী (ترجمة) খুঁজে পাইনি; আর তিনি ইমাম সাখাভির নাতি নন, যেমনটি প্রথম দেখায় মনে হতে পারে। কারণ, সাখাভির পুত্র আহমদ ৮৫৫ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৮৬৪ হিজরিতে প্লেগ রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন; ফলে তার বয়স ছিল মাত্র নয় বছর এবং তার জীবনীতে (ترجمة) তিনি বিবাহ করেছেন বা তার কোনো সন্তান ছিল বলে উল্লেখ করা হয়নি। দ্রষ্টব্য: আদ-দাউ আল-লামি "২/ ১২০"।

তারিখ:

এই পাণ্ডুলিপিটিও (نسخة) গ্রন্থকারের জীবদ্দশায় অনুলিপি করা হয়েছে, তবে তার জীবনের একেবারে শেষভাগে, বরং তার ইন্তেকালের মাত্র নয় দিন পূর্বে—আল-বাদরুত তালি "২/ ১৮৬"—এবং দিনটি ছিল রবিবার "৫/ ৮/ ৯০২ হিজরি"।

এই পাণ্ডুলিপিটির (نسخة) ওপর আলি আল-আনসারির অনেক টীকা (تعليقات) রয়েছে এবং এটি তার সংগ্রহভুক্ত গ্রন্থগুলোর অন্তর্ভুক্ত ছিল। এর ওপর তার মালিকানা স্বত্ব এবং শ্রবণ পাঠের (سماعات) বিবরণ রয়েছে, যা এর বিশুদ্ধতা (صحة) প্রমাণ করে।

এর হস্তাক্ষর বেশ পাঠযোগ্য। পাণ্ডুলিপিটি (نسخة) হয় লেখকের কাছে পাঠ করা হয়েছে অথবা লেখকের মূল কপির সাথে মিলিয়ে দেখা (مقابلة) হয়েছে। পাণ্ডুলিপির পার্শ্বটীকায় (حواشي) বারবার "বালাগা" (بلغ) বা "সুম্মা বালাগা" (ثم بلغ) শব্দের ব্যবহার অথবা "লেখকের কপির সাথে মিলিয়ে দেখা (مقابلة) সম্পন্ন হয়েছে" এমন বাক্য—যেমনটি পৃষ্ঠা "৭/ আলিফ"-এ রয়েছে এবং "লেখকের উপস্থিতিতে মিলিয়ে দেখা (مقابلة) সম্পন্ন হয়েছে" যেমনটি পৃষ্ঠা "১১/ আলিফ"-এ রয়েছে—তা একথাই প্রমাণ করে। আমি একে "বা" দ্বারা চিহ্নিত করেছি।

তবুও "আলিফ" এবং "বা" এই উভয় পাণ্ডুলিপির (نسختين) মধ্যে উল্লেখযোগ্য কোনো পার্থক্য নেই; কারণ উভয় পাণ্ডুলিপিই (النسختين) লেখকের কাছে পেশ করা হয়েছিল, ফলে এতে ভুলের পরিমাণ অত্যন্ত নগণ্য।

আরও একটি বিষয় উল্লেখ করা আবশ্যক যে, "আত-তাওজিহ" গ্রন্থটি হাসান-এর তাহকিক (تحقيق) ও টীকা (تعليق) সহকারে প্রকাশিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আত-তাওযীহুল আবহার লিতাযকিরাতি ইবনিল মুলাক্কিন ফী ইলমিল আসার (পৃষ্ঠা: ١٩)
إسماعيل الجمل، نشر دار التقوى، واعتمد المحقق على نسخة واحدة محفوظة بدار الكتب المصرية إلا أنها نسخة مغايرة للنسختين اللتين اعتمدتهما، فجاء عمله مشوبًا بالنقص خاصة في قراءة المخطوط، وحتى لا يقال أن هذا القول خالٍ من التدليل، سأذكر مثالين على سبيل التدليل لا الحصر:

جاء في المطبوع من "التوضيح" "ص26": " … وقت واحد لغيره المتوصل به … ".

مع أن الصواب والوارد في النسختين قوله: " … واحد لعزة -بالزاي والتاء المربوطة- التوصل -بدون ميم- به … ". وانظر فتح المغيث "3/ 356".

وأيضًا في الصفحة نفسها أخطأ في قراءة كلمة من تعريف المصحف حيث قال: " … والمصحف زيادة … ". بالزاي هكذا- والصواب كما في النسختين والموافق لتعريف المصحف والمصطلح عليه عند أهل الفن "تارة" بالتاء والراء ثم التاء المربوطة.

ولعله لا يسعني في هذا المقام إلا أن أشكره على عمله ونسأل الله له التوفيق.

وأقول للقارئ الكريم قارن بين التحقيقين والتعليقين ثم احكم.

والله الموفق والهادي إلى سواء السبيل.
ইসমাইল আল-জামাল, এটি দারুত তাকওয়া থেকে প্রকাশিত হয়েছে। মুহাক্কিক (المحقق) মিশরের দারুল কুতুব-এ সংরক্ষিত একটি পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছেন, তবে সেটি আমার ব্যবহৃত পাণ্ডুলিপি দুটির চেয়ে ভিন্ন ছিল। ফলে পাণ্ডুলিপি পাঠের (قراءة المخطوط) ক্ষেত্রে বিশেষ করে তার কাজটি ত্রুটিযুক্ত হয়েছে। আমার এই বক্তব্যটি যেন প্রমাণহীন না মনে হয়, সেজন্য আমি দৃষ্টান্ত হিসেবে কেবল দুটি উদাহরণ উল্লেখ করছি:

আত-তাওদিহ-এর মুদ্রিত সংস্করণের ২৬ পৃষ্ঠায় এসেছে: " … ওয়াকতুন ওয়াহিদুন লিগাইরিহি আল-মুতাওয়াসসিলু বিহি … "।

অথচ সঠিক পাঠ এবং পাণ্ডুলিপিদ্বয়ে যা বর্ণিত হয়েছে তা হলো: " … ওয়াহিদুন লি-ইযযাহ —যা 'যা' এবং 'তা-এ মারবুতাহ' বর্ণ দিয়ে গঠিত— আত-তাওয়াসসুলু —'মীম' বর্ণ ব্যতীত— বিহি … "। দেখুন ফাতহুল মুগীস ৩/৩৫৬।

এছাড়াও একই পৃষ্ঠায় তিনি মুসাহহাফ (المصحف)-এর সংজ্ঞা প্রদান করতে গিয়ে একটি শব্দ পাঠ করতে ভুল করেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন: " … ওয়াল মুসাহহাফু যিয়াদাতুন … "। এখানে তিনি 'যা' বর্ণ ব্যবহার করেছেন—অথচ সঠিক পাঠ হলো—যা পাণ্ডুলিপিদ্বয়ে রয়েছে এবং এই শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞগণের (أهل الفن) নিকট মুসাহহাফ (المصحف)-এর সংজ্ঞা ও প্রচলিত পরিভাষার (المصطلح) সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ—তা হলো "তরাতান", যা 'তা' এবং 'রা' এর পর 'তা-এ মারবুতাহ' বর্ণ দিয়ে গঠিত।

এই অবস্থায় তার এই কাজের জন্য তাকে ধন্যবাদ জানানো ছাড়া আমার আর কিছু করার নেই এবং আমরা আল্লাহর নিকট তার তাওফিক কামনা করি।

আমি সম্মানিত পাঠককে বলব, আপনি উভয় সম্পাদনা (تحقيق) ও উভয় টিকা (تعليق) তুলনা করুন এবং এরপর নিজেই বিচার করুন।

আল্লাহই তাওফিকদাতা এবং সঠিক পথের দিশারী।
(খণ্ড: ১) আত-তাওযীহুল আবহার লিতাযকিরাতি ইবনিল মুলাক্কিন ফী ইলমিল আসার (পৃষ্ঠা: ٢٠)
‌‌عملي في التحقيق:

1- اعتمدت النسخة "أ" أصلًا -كما أشرت آنفًا.

2- جعلت النسخة "ب" نسخة مساعدة.

3- أثبت الصواب في المتن إن كان ما في "أ" خطأًً، وأجعله بين معقوفتين [] ، وأشير في الحاشية إلى مصدر التصويب.

4- استأنست بالطبعة المحققة من التوضيح المشار إليها آنفًا، وأبين في الحاشية -أحيانًا- ما ورد فيها من خطأ في التعليق أو القراءة للمخطوطة ونحوه.

5- قمت بمقارنة ما بين النسخ "أ" و"ب" والمطبوع من التوضيح وكذا بالطبعات الثلاث لـ"تذكرة" ابن الملقن التي تعتبر -أي التذكرة- أصل التوضيح فبعد المقارنة أثبت الصواب في المتن -كما أشرت آنفًا- وأنبه على الخطأ إن ورد في إحدى الطبعات الثلاث من التذكرة إن وجد وهذا لم ألتزمه على الدوام.

والطبعات الثلاث هي:

الأولى: طبعة علي حسن عبد الحميد.

والثانية: محمد عزيز شمس.

والثالثة: المضمنة ثبت البلوي.

6- عزوت الآيات إلى مواطنها من كتاب الله عز وجل.

7- خرجت الأحاديث الواردة والحكم عليها حسب القواعد الحديثية.
সম্পাদনায় (تحقيق) আমার কর্মপদ্ধতি:

১- আমি 'ক' (أ) পাণ্ডুলিপিকে মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছি—যেমনটি আমি ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি।

২- আমি 'খ' (ب) পাণ্ডুলিপিকে সহায়ক পাণ্ডুলিপি হিসেবে গ্রহণ করেছি।

৩- যদি 'ক' পাণ্ডুলিপিতে কোনো ভুল থাকে, তবে আমি মূল পাঠে (متن) সঠিক পাঠটি সাব্যস্ত করেছি এবং তা তৃতীয় বন্ধনী []-এর মধ্যে রেখেছি। আর টীকায় (حاشية) সংশোধনের উৎসের দিকে ইঙ্গিত করেছি।

৪- আমি ইতিপূর্বে উল্লিখিত 'আত-তাওদিহ'-এর সম্পাদিত (المحققة) সংস্করণ থেকে সহায়তা নিয়েছি এবং মাঝেমধ্যে টীকায় (حاشية) সেটিতে উল্লিখিত ব্যাখ্যা বা পাণ্ডুলিপি (المخطوطة) পাঠের ভুলসমূহ এবং এ জাতীয় বিষয়গুলো স্পষ্ট করেছি।

৫- আমি 'ক' ও 'খ' পাণ্ডুলিপি এবং 'আত-তাওদিহ'-এর মুদ্রিত সংস্করণের মধ্যে তুলনা করেছি। পাশাপাশি ইবনুল মুলাক্কিনের 'তাযকিরাহ'-এর তিনটি সংস্করণের সাথেও তুলনা করেছি, যা (অর্থাৎ তাযকিরাহ) 'আত-তাওদিহ'-এর মূল উৎস হিসেবে গণ্য। তুলনার পর—যেমনটি আগে বলেছি—আমি মূল পাঠে (متن) সঠিকটি সাব্যস্ত করেছি এবং 'তাযকিরাহ'-এর তিনটি সংস্করণের কোনোটিতে ভুল থাকলে সে ব্যাপারে সতর্ক করেছি; তবে এটি আমি সবক্ষেত্রে অনুসরণ করিনি।

সংস্করণ তিনটি হলো:

প্রথম: আলি হাসান আব্দুল হামিদ সম্পাদিত সংস্করণ।

দ্বিতীয়: মুহাম্মদ আজীজ শামস সম্পাদিত সংস্করণ।

তৃতীয়: যা 'সাবাতুল বালাউয়ী'-তে অন্তর্ভুক্ত।

৬- আমি পবিত্র কুরআনের আয়াতগুলোকে মহান আল্লাহর কিতাবের সংশ্লিষ্ট স্থলের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছি।

৭- আমি বর্ণিত হাদিসসমূহের উৎস নির্দেশ (تخريج) করেছি এবং হাদিস শাস্ত্রের মূলনীতি (القواعد الحديثية) অনুযায়ী সেগুলোর মান নির্ধারণ (حكم) করেছি।
(খণ্ড: ১) আত-তাওযীহুল আবহার লিতাযকিরাতি ইবনিল মুলাক্কিন ফী ইলমিল আসার (পৃষ্ঠা: ٢١)
8- ما كان في الصحيحين أو أحدهما أكتفى بعزوه، دون التوسع في العزو والتخريج، إلا ما شذ.

9- ترجمت لجميع الرجال والأعلام الواردين في الكتاب إلا ما سهى عنه البصر.

10- علقت على الكتاب بما أراه يزيل اللبس -إن وجد- ويوضح المعنى ويفيد القارئ الكريم.

11- بينت بعض الغريب الوارد في المتن ولم ألتزمه.

12- جعلت عناوين جانبية بجوار المبحث مساهمة في ترتيب وتنسيق مباحث الكتاب ليسهل الرجوع إليها.

13- شكلت في الغالب أواخر الكلمات ليقرأ النص قراءة صحيحة.

14- ميزت بين "التذكرة" وشرحها "التوضيح" حيث جعلت التذكرة بخط عريض أسود بين قوسين هكذا () ، وأما شرح "التوضيح" فبخط عادي أقل منه عرضا.

16- أعددت فهارس في نهاية الكتاب ترشد الطالب لطلبه ومطلبه، وهي:

أ- فهرس للآيات.

ب- فهرس للأحاديث.

ج- فهرس التراجم.

د- فهرس لمباحث الكتاب ومحتوياته.

هـ- فهرس للمصادر.

و فهرس عام.
8- সহিহাইন (বুখারি ও মুসলিম) অথবা এই দুইটির যেকোনো একটিতে যা রয়েছে, আমি কেবল তার সূত্রোল্লেখের ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছি; সূত্রোল্লেখ ও হাদিসের উৎস যাচাই (تخريج)-এর ক্ষেত্রে বিস্তৃতি পরিহার করেছি, তবে বিরল (شاذ) ক্ষেত্রগুলো এর ব্যতিক্রম।

9- আমি কিতাবে বর্ণিত সকল বর্ণনাকারী এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের জীবনী (ترجمة) সংকলন করেছি, তবে দৃষ্টির অগোচরে রয়ে যাওয়া বিষয়গুলো ভিন্ন কথা।

10- আমি কিতাবটির ওপর এমনভাবে টীকা প্রদান করেছি যা আমার মতে অস্পষ্টতা—যদি থাকে—দূর করবে, অর্থকে সুস্পষ্ট করবে এবং সম্মানিত পাঠককে উপকৃত করবে।

11- আমি মূল পাঠে (متن) বর্ণিত কিছু দুর্বোধ্য শব্দের (غريب) ব্যাখ্যা প্রদান করেছি, তবে সর্বত্র তা করার আবশ্যকতা গ্রহণ করিনি।

12- কিতাবের আলোচ্য বিষয়গুলোর বিন্যাস ও সুশৃঙ্খল উপস্থাপনার সুবিধার্থে আমি মূল আলোচনার পাশে পার্শ্ব-শিরোনাম যুক্ত করেছি, যাতে সেগুলোর উদ্ধৃতি গ্রহণ সহজ হয়।

13- পাঠটি যেন সঠিকভাবে পড়া যায়, সেজন্য আমি অধিকাংশ ক্ষেত্রে শব্দের শেষাক্ষরে হরকত বা স্বরচিহ্ন প্রদান করেছি।

14- আমি 'আত-তাযকিরাহ' এবং এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'আত-তাওদিহ'-এর মধ্যে পার্থক্য বজায় রেখেছি; যেখানে 'আত-তাযকিরাহ'-এর অংশটুকুকে বন্ধনীর মধ্যে এভাবে () মোটা কালো হরফে লিখেছি, আর 'আত-তাওদিহ' ব্যাখ্যার অংশটুকুকে সাধারণ ও অপেক্ষাকৃত চিকন হরফে লিখেছি।

16- আমি কিতাবের শেষে কতগুলো নির্ঘণ্ট প্রস্তুত করেছি যা শিক্ষার্থীকে তার কাঙ্ক্ষিত বিষয় খুঁজে পেতে সাহায্য করবে, সেগুলো হলো:

ক- কুরআনের আয়াতের নির্ঘণ্ট।

খ- হাদিসের নির্ঘণ্ট।

গ- জীবনীসমূহের (ترجمة) নির্ঘণ্ট।

ঘ- কিতাবের আলোচ্য বিষয় ও সূচিপত্র।

ঙ- তথ্যসূত্রের নির্ঘণ্ট।

চ- সাধারণ নির্ঘণ্ট।
(খণ্ড: ১) আত-তাওযীহুল আবহার লিতাযকিরাতি ইবনিল মুলাক্কিন ফী ইলমিল আসার (পৃষ্ঠা: ٢٢)
والله أسأل التوفيق والسداد، والقبول في القول والعمل، وأن يرزقنا الإخلاص في السر والعلانية، ويرحم مؤلف الكتاب ومحققه وقارئه وجميع المؤمنين. آمين.
আমি আল্লাহর নিকট তাওফিক ও সঠিক পথে অটল থাকার এবং কথা ও কর্মে কবুলিয়ত প্রার্থনা করছি। তিনি যেন আমাদের গোপনে ও প্রকাশ্যে একনিষ্ঠতা নসিব করেন এবং এই গ্রন্থের লেখক, মুহাক্কিক, পাঠক ও সকল মুমিনদের প্রতি রহম করেন। আমিন।
(খণ্ড: ১) আত-তাওযীহুল আবহার লিতাযকিরাতি ইবনিল মুলাক্কিন ফী ইলমিল আসার (পৃষ্ঠা: ٢٣)
‌‌توثيق نسبة الكتاب:

لا شك في نسبة الكتاب للإمام السخاوي -عليه رحمة الله- إذ إن هناك جملة من الأدلة تثبت صحة نسبته إليه، مع العلم أن لم يذكره ضمن مؤلفاته الكثيرة التي سردها لما ترجم لنفسه في الضوء، ومع ذلك قال في ترجمة ابن الملقن من الضوء "6/ 100" ما نصه: " … وله فيه -أي علوم الحديث- أيضًا التذكرة في كراسة رأيتها....".

إليك -أخي القارئ- بعض الأدلة المثبتة صحة نسبة الكتاب للمؤلف رحمه الله منها:

1- السماعات الموجودة على الكتاب.

2- على الكتاب تصويبات بخط المؤلف رحمه الله.

3- الكتاب، بل النسختان معروضتان على المؤلف وفيهما ما يدل على المقابلة كما سبق بيانه.

4- إسناد المؤلف إلى ابن الملقن؛ حيث رواها عن شيخه ابن حجر وشيخه ابن حجر رواها عن شيخه ابن الملقن.

5- اعتمد الإمام السخاوي في شرحه "للتذكرة" على نسخة بخط الحافظ الجمال ابن ظهيرة، وهي نسخة مقروءة على ابن الملقن سنة "777هـ" في رمضان بالناصرية بالقاهرة، فنسخة شيخه ابن حجر ونسخة ابن ظهيرة ليس بينهما اختلاف، ولو وجد لذكره رحمه الله.

6- بعد المقارنة بين المطبوعات الثلاث من التذكرة وبين التوضيح مع أصله التذكرة وبين التوضيح مع أصله التذكرة نجد التوافق بينهما في جلّ بل أغلب الكتاب إلا نادرًا.
‌গ্রন্থের সম্বন্ধকরণের নির্ভরযোগ্যতা (توثيق):

ইমাম সাখাভী (রহিমাহুল্লাহ)-এর প্রতি এই গ্রন্থের সম্বন্ধকরণের বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই—কেননা তাঁর প্রতি এর সম্বন্ধের সঠিকতা (صحة) প্রমাণ করার জন্য একগুচ্ছ দলিল রয়েছে। যদিও এটি জানা প্রয়োজন যে, তিনি 'আদ-দাও' গ্রন্থে নিজের জীবনী রচনার সময় তাঁর অসংখ্য রচনার তালিকায় এটি উল্লেখ করেননি। তা সত্ত্বেও তিনি 'আদ-দাও' (৬/১০০) গ্রন্থে ইবনে আল-মুলাক্কিনের জীবনীতে যা বলেছেন তার ভাষ্য হলো: " … এবং তাঁর এতে—অর্থাৎ হাদিস বিজ্ঞান (علوم الحديث)—বিষয়েও ‘আত-তাযকিরাহ’ নামক একটি পুস্তিকা রয়েছে যা আমি দেখেছি...."।

হে পাঠক—লেখকের (রহিমাহুল্লাহ) প্রতি গ্রন্থটির সম্বন্ধকরণের সঠিকতা (صحة) প্রমাণকারী কিছু দলিল নিচে উপস্থাপন করা হলো:

১- কিতাবটির ওপর বিদ্যমান শ্রবণলিপি (السماعات)।

২- কিতাবটির ওপর লেখকের (রহিমাহুল্লাহ) স্বহস্তাক্ষরে করা সংশোধনসমূহ (تصويبات)।

৩- কিতাবটি, বরং এর উভয় পাণ্ডুলিপিই (نسخة) লেখকের নিকট পেশ করা হয়েছে এবং সেগুলোতে মোকাবিলা বা পাঠ-যাচাইয়ের (المقابلة) প্রমাণ রয়েছে যেমনটি ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে।

৪- ইবনে আল-মুলাক্কিন পর্যন্ত লেখকের সনদ (إسناد); যেখানে তিনি এটি তাঁর উস্তাদ ইবনে হাজার থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর উস্তাদ ইবনে হাজার এটি বর্ণনা করেছেন তাঁর উস্তাদ ইবনে আল-মুলাক্কিন থেকে।

৫- ইমাম সাখাভী 'আত-তাযকিরাহ' এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে হাফিজ (الحافظ) জামাল ইবনে জাহিরার হস্তলিপিতে লিখিত একটি পাণ্ডুলিপির (نسخة) ওপর নির্ভর করেছেন, যা কায়রোর নাসেরিয়াতে ৭৭৭ হিজরি সালের রমজান মাসে ইবনে আল-মুলাক্কিনের সামনে পাঠ করা হয়েছিল। সুতরাং তাঁর উস্তাদ ইবনে হাজারের পাণ্ডুলিপি (نسخة) ও ইবনে জাহিরার পাণ্ডুলিপির (نسخة) মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই, আর যদি থাকত তবে তিনি (রহিমাহুল্লাহ) তা অবশ্যই উল্লেখ করতেন।

৬- 'আত-তাযকিরাহ'-এর তিনটি মুদ্রিত সংস্করণ এবং এর মূল গ্রন্থ 'আত-তাযকিরাহ'-সহ 'আত-তাওদিহ'-এর মধ্যে তুলনা করার পর আমরা কিতাবটির অধিকাংশ, বরং প্রায় পুরোটাতেই মিল খুঁজে পাই, সামান্য কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া।
(খণ্ড: ১) আত-তাওযীহুল আবহার লিতাযকিরাতি ইবনিল মুলাক্কিন ফী ইলমিল আসার (পৃষ্ঠা: ٢٤)
7- المقارن بين شرح الإمام السخاوي هنا وبين ما سطره في كتابه النافع "فتح المغيث" يجد توافقًا في الشرح والتعليق، وعلى سبيل المثال تعريفه للمقطوع والشاذ، وترجيحه في الكتابين لمذهب الشافعي في تعريف الشاذ، والتغاير بين المتواتر والمشهور حيث قال في الكتابين: "قال شيخنا: إن كل متواتر مشهور ولا عكس" وغيره كثير، وستجده واضحًا في الكتاب مع التعليق عليه.

8- ما ذكره في آخر التوضيح بقوله: " … وتم هذا التوضيح المناسب لها … " ثم ختمه بقوله "قال وكتبه محمد السخاوي … ".

9- ذكر عمر كحالة في "المستدرك على معجم المؤلفين" "ص678" عند ترجمة الإمام السخاوي أن من جملة آثار الإمام السخاوي هذا الكتاب حيث قال: "ويضاف إلى آثاره … -ثم ساق جملة من كتبه ومنها- التوضيح الأبهر لتذكرة ابن الملقن على الأثر".

وفي نظري أن هذه الدلائل تكفي في إثبات صحة النسبة إليه، والله أعلم.
7- ইমাম সাখাভীর এখানকার ব্যাখ্যা এবং তাঁর উপকারী গ্রন্থ "ফাতহুল মুগীস"-এ তিনি যা লিপিবদ্ধ করেছেন, এই দুইয়ের মধ্যে তুলনাকারী ব্যক্তি ব্যাখ্যা ও টীকায় অভিন্নতা খুঁজে পাবেন। উদাহরণস্বরূপ: বিচ্ছিন্ন (مقطوع) এবং ব্যতিক্রমী (شاذ) এর সংজ্ঞা প্রদান এবং উভয় গ্রন্থে 'ব্যতিক্রমী' (شاذ) এর সংজ্ঞায় ইমাম শাফেয়ীর মাযহাবকে প্রাধান্য দেওয়া। এছাড়া মুতাওয়াতির (متواتر) ও প্রসিদ্ধ (مشهور)-এর মধ্যকার পার্থক্য নিরূপণ, যেখানে তিনি উভয় গ্রন্থে বলেছেন: "আমাদের শাইখ বলেছেন: প্রত্যেক মুতাওয়াতির (متواتر)-ই প্রসিদ্ধ (مشهور), কিন্তু এর বিপরীতটি সত্য নয়।" এমন আরও অনেক উদাহরণ রয়েছে, যা টীকাসহ এই গ্রন্থে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠবে।

8- "আত-তাওদীহ"-এর শেষে তাঁর এই বক্তব্য: " … এবং এর জন্য উপযুক্ত এই ব্যাখ্যা সমাপ্ত হলো … " অতঃপর তিনি এই বলে শেষ করেছেন যে, "মুহাম্মাদ সাখাভী এটি বলেছেন এবং লিখেছেন … "।

9- উমর কাহহালা "আল-মুস্তাদরাক আলা মু'জামিল মুয়াল্লিফীন" (পৃষ্ঠা ৬৭৮)-এ ইমাম সাখাভীর জীবনী বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন যে, ইমাম সাখাভীর রচনাবলির মধ্যে এই গ্রন্থটিও অন্তর্ভুক্ত। সেখানে তিনি বলেন: "তাঁর রচনাবলির সাথে আরও যুক্ত করা হয় … -অতঃপর তিনি তাঁর বেশ কিছু গ্রন্থের নাম উল্লেখ করেন যার মধ্যে ছিল- আত-তাওদীহুল আবহার লি-তাযকিরাতি ইবনিল মুলাক্কিন আলাল আসার"।

আমার দৃষ্টিতে এই প্রমাণগুলো তাঁর প্রতি এই কিতাবের সম্পৃক্ততার সঠিকতা প্রমাণের জন্য যথেষ্ট। আর আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) আত-তাওযীহুল আবহার লিতাযকিরাতি ইবনিল মুলাক্কিন ফী ইলমিল আসার (পৃষ্ঠা: ٢٦)
‌‌القسم الثاني: قسم التحقيق

‌‌النص المحقق

…

بسم الله الرحمن الرحيم

[و] 1 صلى الله على سيدنا محمد "وآله وصحبه وسلم تسليمًا"2.

قال شيخنا شيخ الإسلام -أوحدُ العلماء الأعلام، خاتمة الحفاظ بلا نزاع، والمنفرد في سائر الأقطار بالإجماع، شمس الدين أبو الخير محمد بن الشيخ المقري "المرحوم"3 زين الدين عبد الرحمن بن محمد بن أبي بكر السخاوي القاهري الشافعي أدام الله النفع بعلومه آمين.

الحمد لله وكفى، وسلام على عباده الذين اصطفى، وبعد:

فهذا تعليق لطيف على "التذكرة"4 التي أشير فيها لكثير من أنواع

--------------------------------------------

1 من "ب" وهو الصواب، وانظر "رصف المباني في شرح حروف المعاني" للمالقي ص"378".

2 من قوله "وآله...." إلخ ساقط من "ب"، والسطر كله من أوله إلى آخره ساقط أيضًا من المطبوعة.

3 الأولى والأصوب ترك مثل هذا التعبير؛ إذ لا نعلم هل هو من المرحومين أولًا؟ وإن كنا نسأل الله له ذلك، فالواجب أن نقيد القول بالمشيئة. والله أعلم.

4 المسماة بـ "التذكرة في علوم الحديث" نشرت بتحقيق الأستاذ على بن حسن علي عبد الحميد -دار عمان- الأردن، اعتمد في تحقيقه على نشرتين مطبوعتين كما ذكر ص"5"، ولم يعتمد على مخطوط.

وحققت أيضًا من الشيخ محمد عزيز شمس ضمن "روائع التراث" "ص27- ص44" واعتمد في تحقيقه على أربع نسخ خطية فجاء عمله أتقن من تحقيق الشيخ علي حسن عبد الحميد، ولعل الشيخ علي حسن لم يطلع على المخطوطات الموجودة للكتاب، فالله أعلم، وهي موجودة كاملة في "ثبت البلوي" من ص "360-396".
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সম্পাদনা (تحقيق) বিভাগ

সম্পাদিত মূলপাঠ

…

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

[এবং] ১ আমাদের নেতা মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার ও তাঁর সাথীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও পূর্ণ শান্তি বর্ষিত হোক ২।

আমাদের শায়খ, শায়খুল ইসলাম (شيخ الإسلام) —প্রথিতযশা আলেমদের মধ্যে অনন্য, কোনো বিতর্ক ছাড়াই হাফেজদের সর্বশেষ ব্যক্তিত্ব (خاتمة الحفاظ), সর্বসম্মতভাবে সকল ভূখণ্ডে অদ্বিতীয়, শামসুদ্দিন আবুল খায়ের মুহাম্মাদ বিন শায়খ আল-মুকরি, "মরহুম" ৩ যয়নুদ্দিন আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মাদ বিন আবি বকর আস-সাখাবি আল-কাহিরি আশ-শাফেয়ি (আল্লাহ তাঁর ইলম দ্বারা উপকার অব্যাহত রাখুন, আমিন) বলেছেন:

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং তিনিই যথেষ্ট, আর তাঁর মনোনীত বান্দাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। অতঃপর:

এটি "আত-তাযকিরাহ" ৪ এর ওপর একটি সংক্ষিপ্ত টীকা (تعليق), যেখানে হাদিসের অনেক প্রকারের (أنواع) দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।

--------------------------------------------

১ এটি 'বা' (ب) পাণ্ডুলিপি থেকে নেওয়া হয়েছে এবং এটিই সঠিক। দেখুন মালেকি রচিত 'রাসফ আল-মাবানি ফি শারহ হুরুফ আল-মাআনি', পৃষ্ঠা ৩৭৮।

২ "তাঁর পরিবার..." এখান থেকে শেষ পর্যন্ত অংশটুকু 'বা' (ب) পাণ্ডুলিপিতে নেই। এছাড়াও পুরো লাইনটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মুদ্রিত কপিতে নেই।

৩ এই ধরনের অভিব্যক্তি বর্জন করাই উত্তম ও অধিকতর সঠিক; কারণ আমরা জানি না তিনি প্রকৃতপক্ষে রহমতপ্রাপ্তদের (مرحوم) অন্তর্ভুক্ত কি না? যদিও আমরা আল্লাহর কাছে তাঁর জন্য তা প্রার্থনা করি, তবুও কথাটিকে আল্লাহর ইচ্ছার (مشيئة) সাথে শর্তযুক্ত রাখা আবশ্যক। আল্লাহই ভালো জানেন।

৪ যার নাম 'আত-তাযকিরাহ ফি উলুমিল হাদিস'। এটি ওস্তাদ আলী বিন হাসান আলী আব্দুল হামিদের সম্পাদনায় (تحقيق) জর্দানের দার আম্মান থেকে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি তাঁর সম্পাদনায় (تحقيق) দুটি মুদ্রিত কপির ওপর নির্ভর করেছেন যেমনটি তিনি ৫ নং পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন, কিন্তু তিনি কোনো পাণ্ডুলিপির (مخطوط) ওপর নির্ভর করেননি।

এটি শায়খ মুহাম্মাদ আজিজ শামস কর্তৃক 'রাওয়ায়েউত তুরাস' (পৃষ্ঠা ২৭-৪৪) এর অন্তর্ভুক্ত হিসেবেও সম্পাদিত (تحقيق) হয়েছে। তিনি তাঁর সম্পাদনায় (تحقيق) চারটি পাণ্ডুলিপির (مخطوط) ওপর নির্ভর করেছেন, ফলে শায়খ আলী হাসান আব্দুল হামিদের সম্পাদনার (تحقيق) চেয়ে তাঁর কাজটি অধিকতর নিখুঁত হয়েছে। সম্ভবত শায়খ আলী হাসান কিতাবটির বিদ্যমান পাণ্ডুলিপিগুলো (مخطوطات) সম্পর্কে অবগত ছিলেন না, আল্লাহই ভালো জানেন। এটি পূর্ণাঙ্গভাবে 'সাবাতুল বালাউয়ি'র ৩৬০-৩৯৬ পৃষ্ঠায় পাওয়া যায়।
(খণ্ড: ১) আত-তাওযীহুল আবহার লিতাযকিরাতি ইবনিল মুলাক্কিন ফী ইলমিল আসার (পৃষ্ঠা: ٢٧)
علوم الحديث، وأنبأني بها أستاذي إمام الأئمة أبو الفضل ابن حجر1 عن مؤلفها السراج أبي حفص عمر بن أبي الحسن الأنصاري الشافعي ابن النحوي الشهير بابن الملقن -رحمهما الله ونفعنا ببركاتهما-. سئلت فيه وأنا بمكة في أثناء سنة تسعمائة، ناسبت به في الإشارة المتن، معتمدا في المتن نسخة بخط الحافظ الجمال ابن ظهيرة2 قرأ فيا على مؤلفها في رمضان سنة سبع وسبعين وسبعائة بالناصرية من القاهرة3.

--------------------------------------------

قال السخاوي عند ترجمة ابن الملقن: "وله في -أي علوم الحديث- التذكرة في كراسة رأيتها". "الضوء اللامع" "6/ 100".

1 هو الحافظ الإمام أحمد بن علي بن محمد بن محمد علي بن أحمد العسقلاني الأصل، المصري المولد والمنشأ، نزيل القاهرة، ولد في شعبان سنة ثلاث وسبعين وسبعمائة، رحل وصنف، توفي سنة ثمانمائة واثنان وخمسين "852هـ" للهجرة النبوية.

وهو غني عن التعريف، وقد ترجم لنفسه رحمه الله في كتابه "رفع الإصر عن قضاة مصر" "1/ 85".

وترجم له الإمام السخاوي ترجمة حافلة في كتاب "الجواهر والدرر في ترجمة شيخ الإسلام ابن حجر".

وكذا في الضوء اللامع "2/ 36-40".

2 هو محمد بن عبد الله بن ظهيرة بن أحمد بن عطية بن ظهيرة بن مرزوق بن محمد بن علي بن عليان المخزومي، جمال الدين أبو حامد، المكي الشافعي.

إمام ثقة حافظ قاضي مكة وخطيبها وناظر حرمها وأوقافها، وصاحب الفتوى بها، ويسمى بـ "حافظ الحجاز وفقيهه وشيخ الإسلام به" ت "817هـ".

انظر "العقد الثمين" - الفاسي "2/ 52" وابن حجر في "المجمع المؤسس" "3/ ترجمة رقم 681"، والسخاوي في "الضوء اللامع" "8/ 92"، وابن فهد في "لحظ الألحاظ" "ص253".

3 المدرسة الناصرية بالقاهرة. تقع في باب العيد بالقاهرة، ابتدأها العادل كتبغا، وأتمها الناصر محمد بن قلاوون سنة "703" =
হাদিস বিজ্ঞান (علوم الحديث), আর এর সংবাদ আমাকে দিয়েছেন আমার উস্তাদ, ইমামগণের ইমাম আবুল ফজল ইবনে হাজার, এর লেখক আল-সিরাজ আবু হাফস উমর বিন আবুল হাসান আল-আনসারি আল-শাফিঈ ইবনুন নাহবি, যিনি ইবনুল মুলাক্কিন নামে পরিচিত —আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি রহমত বর্ষণ করুন এবং তাঁদের বরকত দ্বারা আমাদের উপকৃত করুন— এর সূত্রে। আমি যখন মক্কায় ছিলাম, নয়শত হিজরি সনের মাঝামাঝি সময়ে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হয়েছিলাম; আমি এর মাধ্যমে মূল পাঠের (المتن) ইঙ্গিতের সাথে সামঞ্জস্য বিধান করেছি, যেখানে মূল পাঠের (المتن) ক্ষেত্রে আমি হাফিজ (الحافظ) আল-জামাল ইবনে জুহাইরার হস্তলিপি সম্বলিত একটি পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি, যা কায়রোর নাসেরিয়াতে সাতশত ৭৭ হিজরি সনের রমজান মাসে লেখকের সামনে পাঠ করা হয়েছিল।

--------------------------------------------

আস-সাখাভি ইবনুল মুলাক্কিনের জীবনীতে বলেন: "হাদিস বিজ্ঞানে তাঁর 'আত-তাযকিরাহ' নামক এক ক্যারেটের (পুস্তিকা) একটি পাণ্ডুলিপি রয়েছে যা আমি দেখেছি।" "আদ-দউ আল-লামি" (৬/১০০)।

১. তিনি হলেন হাফিজ (الحافظ) ইমাম আহমদ বিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আলী বিন আহমদ আল-আসকালানি, যাঁর মূল নিবাস আসকালান, জন্ম ও বেড়ে ওঠা মিসরে এবং বসবাস ছিল কায়রোতে। তিনি সাতশত ৭৩ হিজরির শাবান মাসে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ইলম অর্জনে দেশ-বিদেশে ভ্রমণ করেছেন এবং বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন। তিনি ৮৫২ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

তিনি কোনো পরিচয়ের মুখাপেক্ষী নন, তিনি নিজেই তাঁর 'রাফউল ইসর আন কুদাতু মিসর' গ্রন্থে (১/৮৫) নিজের জীবনী বর্ণনা করেছেন।

ইমাম আস-সাখাভি 'আল-জাওয়াহির ওয়াদ-দুরার ফি তারজামাতি শাইখিল ইসলাম ইবনে হাজার' গ্রন্থে তাঁর একটি বিস্তারিত জীবনী আলোচনা করেছেন।

অনুরূপভাবে 'আদ-দউ আল-লামি' গ্রন্থেও (২/৩৬-৪০) তা বর্ণিত হয়েছে।

২. তিনি হলেন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন জুহাইরা বিন আহমদ বিন আতিয়্যা বিন জুহাইরা বিন মারজুক বিন মুহাম্মদ বিন আলী বিন আলিয়ান আল-মাখজুমি, জামালুদ্দিন আবু হামিদ, আল-মাক্কি আল-শাফিঈ।

তিনি ছিলেন একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) ইমাম, হাফিজ (حافظ), মক্কার কাজি ও খতিব, মক্কার হারাম ও এর ওয়াকফসমূহের তত্ত্বাবধায়ক এবং মক্কার প্রধান মুফতি। তাঁকে "হিজাজের হাফিজ (حافظ), ফকিহ (فقيه) এবং সেখানকার শায়খুল ইসলাম" হিসেবে অভিহিত করা হয়। মৃত্যু: ৮১৭ হিজরি।

দেখুন: ফাসি রচিত 'আল-ইকদুত সামিন' (২/৫২), ইবনে হাজার রচিত 'আল-মুজাম আল-মুআসসিস' (৩/ জীবনী নং ৬৮১), আস-সাখাভি রচিত 'আদ-দউ আল-লামি' (৮/৯২) এবং ইবনে ফাহাদ রচিত 'লাহযুল আলহায' (পৃ. ২৫৩)।

৩. কায়রোর আল-মাদরাসা আল-নাসেরিয়্যাহ। এটি কায়রোর বাবুল ঈদে অবস্থিত, এর নির্মাণ কাজ শুরু করেছিলেন আল-আদিল কিতবুগা এবং ৭০৩ হিজরিতে এর সমাপ্তি ঘটান আন-নাসির মুহাম্মদ বিন কালাউন।
(খণ্ড: ১) আত-তাওযীহুল আবহার লিতাযকিরাতি ইবনিল মুলাক্কিন ফী ইলমিল আসার (পৃষ্ঠা: ٢٨)
ووصف القارئ بالشيخ العالم الفاضل جمال الإسلام نفع الله تعالى به، سائلا من الله الانتفاع به إنه القادر على كل شيء.

(الله أحمد على نعمائه) [الجمة] 1 المترادفة المسلسلة، (وأشكره على آلائه) أي نعمه الوافرة المتصلة التي لعدم انفكاكها أكد بالتعبير عنها، كما أتى بالشكر بعد الحمد الذي لا يكون منا إلا شكرا، وإن فرق بأن النعماء ما ظهر، والآلآء ما بطن، (وأصلي على أشرف الخلق محمد وآله) من الصحابة والذرية والقرابة وسائر مقتفيه، (وأسلم) تسليما.

(وبعد، فهذه تذكرة في علوم الحديث) التي هي القواعد المعرِّفة بحال الراوي والمروي2 (يتنبه بها المبتدي) لما كان غافلا عنه، (ويتبصر بها) أي بإشاراتها في الجملة، (المنتهي) بحيث يكون هو الأحق بالتذكر بها من المبتدي، (اقتضبتها) أي اختطفتها مستعجلا اختصارا، (من

--------------------------------------------

انظر "الخطط" للمقريزي "4/ 221"، والضوء اللامع "10/ 297".

1 في الأصل "الجملة"، والتصويب من "ب".

2 قال ابن جماعة محمد بن أبي بكر الشافعي "ت819هـ": "علم الحديث: علم بقوانين يعرف بها أحوال السند والمتن … " بواسطة "تدريب الراوي" السيوطي "1/ 41".

وقال الحافظ ابن حجر رحمه الله "ت852هـ": "وأولى التعاريف لعلم الحديث: معرفة القواعد التي يتوصل بها إلى معرفة حال الراوي والمروي" "النكت" "1/ 225".

وقال الحافظ السيوطي في "البحر الذي زخر في شرح ألفية الأثر": "حد ابن جماعة أحسن" "1/ 183".

قلت: وهذا تعريف علم الحديث دراية.
তিনি পাঠককে শায়খ, আলিম, ফযিলতপ্রাপ্ত এবং ইসলামের সৌন্দর্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন, আল্লাহ তাআলা তাঁর মাধ্যমে উপকার করুন—এই প্রার্থনা জানিয়ে। আল্লাহর কাছে এর দ্বারা উপকৃত হওয়ার তৌফিক কামনা করছি, নিশ্চয়ই তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান।

(আমি আল্লাহর প্রশংসা করছি তাঁর নেয়ামতরাজির জন্য) [যা প্রচুর] ১ পর্যায়ক্রমিক ও নিরবচ্ছিন্ন, (এবং তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি) অর্থাৎ তাঁর সেই অঢেল ও অবিরাম অনুগ্রহ, যা অবিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে তিনি তা তাকিদ দিয়ে ব্যক্ত করেছেন। ঠিক যেমন প্রশংসার পর শুকরিয়া শব্দ আনা হয়েছে, যা আমাদের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ছাড়া আর কিছুই নয়। যদিও পার্থক্য করা হয় এই মর্মে যে, নেয়ামত হলো যা প্রকাশ্য এবং আল-আলা (অনুগ্রহ) হলো যা অপ্রকাশ্য। (এবং আমি দরুদ পাঠ করছি সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মুহাম্মাদ ও তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর) যারা সাহাবী, বংশধর, নিকটাত্মীয় এবং তাঁর অন্যান্য অনুসারী, (এবং আমি সালাম পেশ করছি) যথাযোগ্য সালাম।

(অতঃপর, এটি হাদিস শাস্ত্রের বিষয়াবলীর ওপর একটি স্মারকপুস্তিকা) যা মূলত বর্ণনাকারী (راوي) এবং বর্ণিত বিষয়ের (مروي) ২ অবস্থা জানার নিয়মাবলি। (এর মাধ্যমে প্রারম্ভিক শিক্ষার্থী সতর্ক হবে) সে সব বিষয়ে যা থেকে সে গাফেল ছিল, (এবং এর দ্বারা অন্তর্দৃষ্টি লাভ করবে) অর্থাৎ এর সামগ্রিক ইঙ্গিতগুলোর মাধ্যমে, (উচ্চতর পর্যায়ের অভিজ্ঞ আলেমগণ) এমনভাবে যে তারা প্রারম্ভিক শিক্ষার্থীর চেয়ে এর দ্বারা শিক্ষা গ্রহণে অধিক উপযুক্ত হবেন। (আমি এটি সংকলন করেছি) অর্থাৎ সংক্ষিপ্ত করার উদ্দেশ্যে দ্রুততার সাথে চয়ন করেছি, (থেকে

--------------------------------------------

দ্রষ্টব্য: মাকরিজি রচিত "আল-খুতাত" (৪/২২১) এবং "আদ-দাউউল লামি" (১০/২৯৭)।

১. মূলে ছিল "আল-জুমলাহ", "বা" পাণ্ডুলিপি থেকে এটি সংশোধন করা হয়েছে।

২. ইবনুল জামায়াহ মুহাম্মাদ বিন আবি বকর আশ-শাফিয়ি (মৃত্যু: ৮১৯ হিজরি) বলেছেন: "হাদিস শাস্ত্র হলো এমন কিছু নিয়মাবলির জ্ঞান যার মাধ্যমে সনদ (سند) ও মতনের (متن) অবস্থা জানা যায়..." সিয়ুতির "তাদরিবুর রাবি" (১/৪১)-এর বরাতে।

হাফিজ ইবনে হাজার (রহ.) (মৃত্যু: ৮৫২ হিজরি) বলেছেন: "হাদিস শাস্ত্রের সবচেয়ে উত্তম সংজ্ঞা হলো: এমন কিছু মূলনীতি জানা যার মাধ্যমে বর্ণনাকারী (راوي) এবং বর্ণিত বিষয়ের (مروي) অবস্থা সম্পর্কে অবগত হওয়া যায়।" "আন-নুকাত" (১/২২৫)।

হাফিজ সিয়ুতি তাঁর "আল-বাহরুল্লাজি যাখার ফি শারহি আলফিয়াতিল আসার" গ্রন্থে বলেছেন: "ইবনুল জামায়াহর প্রদত্ত সংজ্ঞাটিই অধিকতর উত্তম।" (১/১৮৩)।

আমি বলছি: এটি হলো বর্ণনা সংশ্লিষ্ট হাদিস শাস্ত্রের (علم الحديث دراية) সংজ্ঞা।
(খণ্ড: ১) আত-তাওযীহুল আবহার লিতাযকিরাতি ইবনিল মুলাক্কিন ফী ইলমিল আসার (পৃষ্ঠা: ٢٩)
المقنع1 تأليفي) الذي اختصرت فيه ابن الصلاح مع زيادات وتتمات وهو شهير في مجلد.

(وإلى الله) سبحانه (أرغب في النفع بها) لقارئها وسامعها وكاتبها ومطالعها وحافظها، (إنه) أي النفع، (بيده والقادر عليه) لا يرغب لغيرٍ فيه.

(أقسامه) أي الحديث المضاف إلى النبي صلى الله عليه وسلم قولًا أو فعلًا أو تقريرًا أو وصفًا حتى الحركات والسكنات في اليقظة والمنام2 (ثلاثة) بالنظر لما استقر الأمر عليه؛ إذ جمهور المتقدمين لم يذكروا الثاني3.

--------------------------------------------

1 واسمه "المقنع في علوم الحديث" حققه جاويد أعظم عبد العظيم في رسالة للماجستير، جامعة أم القرى بمكة المكرمة عام 1401هـ. وطبع أيضًا بتحقيق الشيخ عبد الله بن يوسف الجديع عن دار فواز للنشر -الأحساء- بالمملكة العربية السعودية 1413هـ.

نعم فكتاب "المنقع" مختصر لكتاب ابن الصلاح، وكتاب الحافظ ابن الصلاح قال عنه ابن حجر: "فلهذا عكف الناس عليه وساروا بسيره فلا يحصى كم ناظم له ومختصر ومستدرك عليه ومقتصر، ومعارض له ومنتصر" "النزهة ص51 مع النكت"، ومؤلفه هو الحافظ الفقيه أبو عمرو تقي الدين عثمان بن عبد الرحمن بن عثمان بن موسى الكردي الشهرزوري، نزيل دمشق. شهرته تغني عن تعريفه "ت 463".

ينظر لترجمته: تذكرة الحفاظ "4/ 1430"، ومقدمة عثر في تحقيقه لكتاب "علوم الحديث لابن الصلاح".

2 قلت: وهذا تعريف علم الحديث رواية. وانظر التدريب "1/ 40-41" وقواعد التحديث القاسمي "ص75" وقواعد في علوم الحديث -التهانوي "ص23".

وما ذكره الإمام السخاوي هنا هو عين ما في فتح المغيث "1/ 8" من تعريفه للحديث دون الإشارة إلى أنه حد لعلم الحديث رواية.

3 يقصد الحسن، إلا أن بعض الأئمة المتقدمين استخدم وأطلق هذا اللفظ على أن =
(আল-মুকনি'১ আমার সংকলিত) যাতে আমি ইবনে আল-সালাহর গ্রন্থের সংক্ষেপ করেছি এবং সাথে কিছু সংযোজন ও পরিশিষ্ট যুক্ত করেছি; এটি এক খণ্ডে প্রসিদ্ধ।

(এবং আল্লাহর নিকট) সুবহানাহু (আমি এর মাধ্যমে উপকারের আশা রাখি) এর পাঠক, শ্রবণকারী, লেখক, পর্যালোচনাকারী এবং মুখস্থকারীর জন্য। (নিশ্চয়ই এটি) অর্থাৎ উপকার, (তাঁর হাতে এবং তিনি এর উপর ক্ষমতাবান); এ বিষয়ে তিনি ছাড়া অন্য কারো কাছে প্রার্থনা করা হয় না।

(এর প্রকারভেদ) অর্থাৎ নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে সম্বন্ধযুক্ত হাদিস, যা তাঁর কথা, কাজ, অনুমোদন অথবা বৈশিষ্ট্য, এমনকি জাগ্রত ও নিদ্রা অবস্থায় তাঁর নড়াচড়া ও স্থিরতাকেও অন্তর্ভুক্ত করে২ (তা তিন প্রকার) যা পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সেই হিসেবে; কেননা পূর্ববর্তী (متقدمون) আলেমদের অধিকাংশ দ্বিতীয় প্রকারটির কথা উল্লেখ করেননি৩।

--------------------------------------------

১ এর নাম হলো "আল-মুকনি' ফী উলূমিল হাদিস", যা জাওয়েদ আজম আব্দুল আজিম উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়, মক্কা মোকাররমা থেকে ১৪০১ হিজরিতে তাঁর মাস্টার্স থিসিসে সম্পাদনা (تحقيق) করেছেন। এটি শেখ আব্দুল্লাহ বিন ইউসুফ আল-জুদি-এর সম্পাদনায় (تحقيق) দার ফাওয়াজ পাবলিকেশন - আল-আহসা - সৌদি আরব থেকে ১৪১৩ হিজরিতে মুদ্রিত হয়েছে।

হ্যাঁ, "আল-মুকনি'" গ্রন্থটি ইবনে আল-সালাহর গ্রন্থের সংক্ষেপিত রূপ। হাফেজ ইবনে হাজার ইবনে আল-সালাহর কিতাব সম্পর্কে বলেছেন: "এ কারণে মানুষ এর প্রতি নিবিষ্ট হয়েছে এবং তাঁর পথ অনুসরণ করেছে, ফলে এটি কতজন ছন্দবদ্ধ করেছেন, সংক্ষেপ করেছেন, পরিশিষ্ট (مستدرك) লিখেছেন এবং কতজন এর সংক্ষেপণ, বিরোধিতা বা পক্ষাবলম্বন করেছেন তার ইয়ত্তা নেই" (আন-নুজহা, পৃষ্ঠা ৫১, আন-নুকাতি-সহ)। এর লেখক হলেন ফকিহ হাফেজ আবু আমর তাকিউদ্দিন উসমান বিন আব্দুর রহমান বিন উসমান বিন মুসা আল-কুর্দি আশ-শাহরাজুরি, যিনি দামেস্কে বসবাস করতেন। তাঁর পরিচিতির জন্য তাঁর খ্যাতিই যথেষ্ট (মৃত্যু ৪৬৩ হিজরি)।

তাঁর জীবনী দেখুন: তাযকিরাতুল হুফফাজ (৪/১৪৩০) এবং "উলূমুল হাদিস লি ইবনে আল-সালাহ" এর সম্পাদনার (تحقيق) ভূমিকা।

২ আমি বলছি: এটি হলো বর্ণনা সংক্রান্ত হাদিস শাস্ত্রের (علم الحديث رواية) সংজ্ঞা। দেখুন: আত-তাদরীব (১/৪০-৪১), কাসেমীর কাওয়ায়েদুত তাহদিস (পৃষ্ঠা ৭৫) এবং থানভীর কাওয়ায়েদ ফী উলূমিল হাদিস (পৃষ্ঠা ২৩)।

ইমাম সাখাভি এখানে যা উল্লেখ করেছেন, তা মূলত ফাতহুল মুগিস (১/৮) গ্রন্থে উল্লিখিত হাদিসের সংজ্ঞার অনুরূপ, যেখানে এটি যে বর্ণনা সংক্রান্ত হাদিস শাস্ত্রের (علم الحديث رواية) সংজ্ঞা সেদিকে কোনো ইঙ্গিত দেওয়া হয়নি।

৩ তিনি হাসান (حسن) প্রকারটিকে উদ্দেশ্য করেছেন, তবে কিছু পূর্ববর্তী (متقدمون) ইমামগণ এই শব্দটি ব্যবহার করেছেন এবং প্রয়োগ করেছেন এই অর্থে যে =
(খণ্ড: ১) আত-তাওযীহুল আবহার লিতাযকিরাতি ইবনিল মুলাক্কিন ফী ইলমিল আসার (পৃষ্ঠা: ٣٠)
(صحيح وحسن وضعيف) وما عداها مما سيشار لعدِّه شامل "أكثره"1 لكل ما يتوقف عليه القبول والرد منها.

(فالصحيح) : لذاته وكذا لغيره، (ما سلم من الطعن في إسناده ومتنه) إذ هو المتصل السند بالعدل التام الضبط أو القاصر عنه إذا اعتُضد من غير شذوذ ولا علة2.

والإسناد أو السند: هو الطريق الموصل للمتن3.

--------------------------------------------

مراده الحسن اللغوي، وبعضهم مراده بالحسن الحديث الصحيح الغريب، والصحيح مطلقا، وليس المعنى الاصطلاحي.

ينظر في هذه المسألة ما كتبه شيخنا العالم الدكتور ربيع بن هادي المدخلي حفظه الله في كتابه الماتع النافع "تقسيم الحديث إلى صحيح وحسن وضعيف" فهو شافٍ وافٍ.

1 ساقط من "ب".

2 نعم هذا التعريف جمع بين تعريف الحديث الصحيح لذاته وكذا تعريف الحديث الحسن لذاته؛ إذ الصحيح لغيره الذي أشار إليه المصنف إنما هو الحديث الحسن المعتضد بمثله، إذ صحح لأمر أجنبي عنه، فالاشتراك بين الصحيح والحسن في جميع الصفات العليا للقبول، والافتراق في صفة واحدة منها وهي الضبط، فالصحيح تام الضبط، والحسن قصر عن تمام الضبط.

3 قال السيوطي في ألفيته ص "2":

والسند الإخبار عن طريق

متن كالإسناد لدى فريق

قال بدر الدين ابن جماعة في "المنهل الروي" ص"29": "وأما السند: فهو الإخبار عن طريق المتن، وهو مأخوذ إما: من السند وهو ما ارتفع وعلا عن سفح الجبل؛ لأن المسند يرفعه إلى قائله، أو: من قول: فلان سند أي معتمد، فسمي الإخبار عن طريق المتن سندا لاعتماد الحفاظ في صحة الحديث وضعفه عليه.

وأما الإسناد: فهو رفع الحديث إلى قائله، والمحدثون يستعملون السند والإسناد لشيء واحد".
(সহিহ (صحيح), হাসান (حسن) এবং জইফ (ضعيف)) এবং এগুলি ব্যতীত যা কিছু গণনার জন্য ইঙ্গিত করা হবে, তার "অধিকাংশ"১ এমন সব বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে যার ওপর এগুলোর গ্রহণযোগ্যতা (القبول) ও বর্জনযোগ্যতা (الرد) নির্ভরশীল।

(সুতরাং সহিহ (صحيح)): তা লি-জাতিহি (لذاته) হোক কিংবা লি-গয়রিহি (لغيره) হোক, (তা হলো এমন হাদিস যার ইসনাদ (إسناد) ও মতন (متন) কোনো প্রকার সমালোচনা থেকে মুক্ত) যেহেতু এটি এমন অবিচ্ছিন্ন (متصل) সনদ (سند) যা পূর্ণ স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন (التام الضبط) ন্যায়পরায়ণ (العدل) বর্ণনাকারী কর্তৃক বর্ণিত, অথবা যার স্মৃতিশক্তিতে কিছুটা ঘাটতি রয়েছে যদি তা অন্য কোনো সূত্রের মাধ্যমে শক্তিশালী হয় এবং তা শায (شذوذ) ও ত্রুটি (علة) মুক্ত হয়।২

আর ইসনাদ (إسناد) বা সনদ (سند) হলো: মতন (متন) পর্যন্ত পৌঁছানোর পথ।৩

--------------------------------------------

তাঁর উদ্দেশ্য হলো শাব্দিক অর্থের হাসান (حسن), আবার কারো কারো মতে হাসান দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সহিহ গারিব (صحيح غريب) হাদিস এবং সাধারণভাবে সহিহ (صحيح) হাদিস, এটি পারিভাষিক (اصطلاحي) অর্থে নয়।

এই মাসআলার ক্ষেত্রে আমাদের শাইখ আলিম ডক্টর রবি ইবনে হাদি আল-মাদখালি (আল্লাহ তাঁকে হিফাজত করুন) তাঁর উপভোগ্য ও উপকারী কিতাব "হাদিসকে সহিহ, হাসান ও জইফ-এ বিভাজন"-এ যা লিখেছেন তা দেখা যেতে পারে; এটি একটি পর্যাপ্ত ও পরিপূর্ণ আলোচনা।

১. "বা" (ب) পাণ্ডুলিপি থেকে বিলুপ্ত।

২. হ্যাঁ, এই সংজ্ঞাটি সহিহ লি-জাতিহি (صحيح لذاته) হাদিসের সংজ্ঞার পাশাপাশি হাসান লি-জাতিহি (حسن لذاته) হাদিসের সংজ্ঞাকে একত্রিত করেছে; কারণ সহিহ লি-গয়রিহি (صحيح لغيره) যার দিকে গ্রন্থকার ইঙ্গিত করেছেন, তা মূলত সেই হাসান (حسن) হাদিস যা সমমানের অন্য কোনো সূত্রের মাধ্যমে শক্তিশালী হয়েছে, যেহেতু একে বাহ্যিক কোনো বিষয়ের কারণে সহিহ গণ্য করা হয়েছে। সুতরাং গ্রহণযোগ্যতার (القبول) সকল উচ্চতর বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রে সহিহ ও হাসানের মধ্যে মিল রয়েছে, আর এগুলোর মাঝে পার্থক্য কেবল একটি বৈশিষ্ট্যে আর তা হলো স্মৃতিশক্তি (ضبط)। সহিহ (صحيح) হলো পূর্ণ স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন (تام الضبط), আর হাসান (حسن) পূর্ণ স্মৃতিশক্তির চেয়ে কিছুটা কম।

৩. সুয়ূতি তাঁর আলফিয়্যাহ-র ২ পৃষ্ঠায় বলেছেন:

সনদ হলো মতনের পথ সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া,

একদল আলিমের নিকট এটি ইসনাদের মতোই।

বদরুদ্দিন ইবনে জামাআ 'আল-মানহালুর রাওয়ি' এর ২৯ পৃষ্ঠায় বলেছেন: "আর সনদ (سند) হলো: মতনের পথ সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া। শব্দটি হয় 'সানাদ' থেকে নেওয়া হয়েছে যার অর্থ হলো যা পাহাড়ের পাদদেশ থেকে উপরে উঠে গেছে; কারণ বর্ণনাকারী একে বক্তা পর্যন্ত উন্নীত করেন। অথবা এটি 'অমুক ব্যক্তি আমার সনদ' কথাটি থেকে এসেছে যার অর্থ হলো নির্ভরযোগ্য (معتمد)। সুতরাং মতনের পথ বর্ণনাকারী সংবাদকে সনদ (سند) বলা হয় কারণ হাদিসের বিশুদ্ধতা (صحة) ও দুর্বলতা (ضعف) নির্ণয়ে হাফিজগণ এর ওপর নির্ভর করেন।

আর ইসনাদ (إسناد) হলো: হাদিসকে তার বক্তা পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া। মুহাদ্দিসগণ সনদ (سند) এবং ইসনাদ (إسناد) শব্দ দুটিকে একই অর্থে ব্যবহার করেন।"
(খণ্ড: ১) আত-তাওযীহুল আবহার লিতাযকিরাতি ইবনিল মুলাক্কিন ফী ইলমিল আসার (পৃষ্ঠা: ٣١)
المتن: هو الغاية التي ينتهي إليها1.

(ومنه) أي من الصحيح لذاته مما هو أعلى مراتبه، (المتفق عليه: وهو ما أودعه الشيخان) البخاري ومسلم2 (في صحيحهما) الذي أولهما أصحهما لا [عند] 3 كل الأمة، وإن تضمن اتفاقها لتلقيها لهما

--------------------------------------------

ونقل السيوطي في التدريب "1/ 41-42" كلام ابن جماعة، وذكر أن الطيبي قاله أيضًا.

وهو قول ابن الملقن أيضًا في "المقنع" "1/ 110-111"، وانظر "منهج ذوي النظر" الترمسي "ص7" وإسعاف ذوي الوطر بشرح نظم الدرر في علم الأثر، للشيخ محمد علي آدم "1/ 13-14".

1 قال الناظم السيوطي في ألفيته ص"3":

والمتن ما انتهى إليه السند … من الكلام والحديث قيدوا

وقال ابن جماعة في المنهل الروي ص"29": "أما المتن في اصطلاح المحدثين: ما ينتهي إليه غاية السند من الكلام، وهو مأخوذ إما من المماتنة وهي: المباعدة في الغاية لأن المتن غاية السند، أو: من متنت الكبش إذا شققت جلدة بيضته واستخرجتها، وكأن المسند استخرج المتن بسنده، أو من المتن وهو ما صلب وارتفع من الأرض؛ لأن المسند يقويه بالسند ويرفعه إلى قائل، أو من تمتين القوس بالعصب وهو شها به وإصلاحها؛ لأن المسند يقوي الحديث بسنده".

وذكره السيوطي في تدريب "1/ 42"، وانظر إسعاف ذوي النظر "1/ 14" ومنهج ذوي النظر "ص8".

2 البخاري: هو أبو عبد الله محمد بن إسماعيل ن إبراهيم بن المغيرة بن بردزبة الجعفي مولاهم.

ولد يوم الجمعة 13/ 10/ 194هـ وتوفي يوم السبت غرة شوال 256هـ.

ومسلم: هو أبو الحسين مسلم بن الحجاج بن مسلم القشيري النيسابوري ولد سنة "204هـ" وتوفي سنة "261هـ" من شهر رجب.

صاحبا الصحيحين، وهما غنيان عن التعريف.

وانظر تذكرة الحفاظ "2/ 555" و"2/ 588".

3 ما بين المعقوفتين من عندي وهو غير موجود في النسختين ولا في المطبوعة؛ إذ =
মাতন (متن): এটি হলো সেই প্রান্তসীমা যেখানে সনদ (سند) গিয়ে শেষ হয়১।

(এবং এর অন্তর্ভুক্ত) অর্থাৎ স্বয়ং সহিহ (صحيح لذاته)-এর অন্তর্ভুক্ত যা এর উচ্চতর স্তরের মাঝে পরিগণিত, (মুত্তাফাকুন আলাইহি (متفق عليه): আর এটি হলো তা যা দুই শায়খ) বুখারি ও মুসলিম২ (তাঁদের উভয় সহিহ গ্রন্থে সন্নিবেশিত করেছেন) যার মধ্যে প্রথমটি অধিক সহিহ, কেবল সমগ্র উম্মতের [নিকট] ৩ নয়, বরং এটি উম্মতের ঐকমত্যকেও শামিল করে যেহেতু তাঁরা এটি গ্রহণ করে নিয়েছেন।

--------------------------------------------

সুয়ুতি 'তাদরিবুত রাওয়ি' (১/ ৪১-৪২) গ্রন্থে ইবনে জামাআহ-এর বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে, আল-তিবি-ও একই কথা বলেছেন।

এটি 'আল-মুকনি' (১/ ১১০-১১১) গ্রন্থে ইবনে আল-মুলাক্কিন-এরও অভিমত। আরও দেখুন: আল-তুরমুসি রচিত 'মানহাজু যাউয়িন নজর' (পৃ. ৭) এবং শেখ মুহাম্মদ আলী আদম রচিত 'ইসআফু যাউয়িল ওয়াতার বি-শারহি নাযমিদ দুরার ফি ইলমিল আসার' (১/ ১৩-১৪)।

১ আল-সুয়ুতি তাঁর 'আলফিয়্যাহ' (পৃ. ৩) গ্রন্থে বলেন:

মাতন (متن) হলো যার কাছে সনদ (سند) গিয়ে পৌঁছেছে... বক্তব্যের মধ্য হতে, আর হাদিস বিশারদগণ একে সীমাবদ্ধ করেছেন।

ইবনে জামাআহ 'আল-মানহালুর রাওয়ি' (পৃ. ২৯) গ্রন্থে বলেন: "মুহাদ্দিসগণের পরিভাষায় মাতন (متن) হলো: বক্তব্যের সেই প্রান্তসীমা যেখানে সনদ (سند) গিয়ে শেষ হয়। শব্দটি সম্ভবত 'মুমাতানাহ' থেকে গৃহীত যার অর্থ হলো প্রান্তসীমায় দূরত্ব বজায় রাখা, কারণ মাতন (متن) হলো সনদ (سند)-এর শেষ সীমা; অথবা এটি 'মাতান্তুল কাবশ' থেকে এসেছে যার অর্থ যখন তুমি ভেড়ার অণ্ডকোষের চামড়া চিরে তা বের করে আনো, যেন মুসনিদ (مسند) তার সনদ (سند)-এর মাধ্যমে মাতন (متن)-কে বের করে আনেন; অথবা এটি 'মাতন' থেকে এসেছে যার অর্থ ভূমির শক্ত ও উঁচু অংশ, কারণ মুসনিদ (مسند) সনদ (سند)-এর মাধ্যমে একে শক্তিশালী করেন এবং একে বক্তা পর্যন্ত পৌঁছে দেন; অথবা এটি লিগামেন্টের মাধ্যমে ধনুককে মজবুত (তামতিন) করা ও সংশোধন করা থেকে এসেছে, কারণ মুসনিদ (مسند) তাঁর সনদ (سند)-এর মাধ্যমে হাদিসকে শক্তিশালী করেন।"

সুয়ুতি এটি 'তাদরিব' (১/ ৪২) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। আরও দেখুন: 'ইসআফু যাউয়িন নজর' (১/ ১৪) এবং 'মানহাজু যাউয়িন নজর' (পৃ. ৮)।

২ বুখারি: তিনি হলেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল ইবনে ইব্রাহিম ইবনে আল-মুগিরা ইবনে বারদিযবাহ আল-জু'ফি, তাঁদের মুক্ত দাস।

তিনি জন্ম নেন ১৯৪ হিজরি সনের ১৩/ ১০/ ১৯৪ তারিখে শুক্রবার এবং মৃত্যুবরণ করেন ২৫৬ হিজরি সনের পহেলা শাওয়াল শনিবার।

মুসলিম: তিনি হলেন আবুল হুসাইন মুসলিম ইবনে আল-হাজ্জাজ ইবনে মুসলিম আল-কুশাইরি আন-নাইসাবুরি। তিনি ২০৪ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২৬১ হিজরি সনের রজব মাসে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁরা উভয় সহিহ গ্রন্থের রচয়িতা এবং তাঁরা সুপরিচিত।

আরও দেখুন: 'তাজকিরাতুল হুফফাজ' (২/ ৫৫৫) এবং (২/ ৫৮৮)।

৩ তৃতীয় বন্ধনীভুক্ত অংশটি আমার সংযোজন যা উভয় পাণ্ডুলিপি বা মুদ্রিত কপিতে নেই; যেহেতু...
(খণ্ড: ১) আত-তাওযীহুল আবহার লিতাযকিরাতি ইবনিল মুলাক্কিন ফী ইলমিল আসার (পৃষ্ঠা: ٣٢)
إلا ما علل مما أجيب عنه بالقبول، بل ما فيهما إلا ما استُثنيَ قطعي دون مطلق الصحيح فنظري1، ثم إنه على مراتب فأعلاها ما اتفق على تواتره، وإن اشترك مع عداه في مسمى إفادة العلم، ثم المشهور.

--------------------------------------------

أرى أنه بدون إضافة توضيحية بمثل هذا لا يستقيم المعنى، فيكون المعنى بعد إضافة كلمة [عند] ، أن صحيح البخاري -المسند منه دون التعاليق وأقوال الصحابة والتابعين- مقدم على صحيح مسلم لدى جمهور المحدثين لا عند كلهم؛ إذ خالف في ذلك جماعة من الأئمة من أهل المغرب كأبي محمد بن حزم وغيره -فتح المغيث "1/ 28-33"- ولم يختلفوا جميعا في أصحيتهما وتقديمهما على كل الصحاح، قال الناظم السيوطي في ألفيته "ص10":

وليس في الكتب أصح منهما … بعد القرآن ولهذا قدما

فلو قال قائل ما القول إذن عن مقولة الإمام الشافعي رحمه الله: "ما أعلم في الأرض كتابا في العلم أكثر صوابا من كتاب مالك" وفي لفظ عنه: "ما بعد كتاب الله أصح من موطأ مالك"؟.

فيقال: "إنما قال ذلك قبل وجود كتابي البخاري ومسلم" قاله ابن الصلاح رحمه الله "علوم الحديث" "ص18".

وأجاب ابن حجر رحمه الله بجواب مطول حول أو من صنف في الصحيح المجرد، ومن تقديم مالك على البخاري ومسلم رحمه الله انظره في النكت "1/ 276-281" وانظر أيضًا التدريب "1/ 88-94"، والمقنع لابن الملقن "1/ 57-60" و"منهج ذوي النظر" "ص20".

1 ينظر رسالة الشيخ حافظ ثناء الله الزاهدي "أحاديث الصحيحين بين الظن واليقين" فإنها رسالة نافعة"؛ حيث ذكر القائلين بإفادة أحاديث الصحيحين للقطع، وذكر مقالاتهم وقد زادوا على الستة عشر عالما، ثم عقب بذكر أدلتهم على ذلك.

ثم ذكر القائلين بإفادتها الظن وهما الإمام النووي وابن برهان ولم يزد عليهما، ثم عقب بذكر أدلتهما، ثم ناقش الموضوع مناقشة علمية، واختتم بحثه بالقول بأن أحاديث الصحيحين تفيد القطع لقوة أدلة القائلين بذلك، وهو الحق والصواب. فليراجع فإنه مهم.
কেবল সেসব ত্রুটিযুক্ত (علل) বর্ণনা ব্যতিরেকে যেগুলোর ব্যাপারে গ্রহণযোগ্য উত্তর দেওয়া হয়েছে। বরং এই দুই কিতাবে যা কিছু রয়েছে—ব্যতিক্রমগুলো ছাড়া—তা অকাট্য (قطعي) জ্ঞান প্রদান করে, যা সাধারণ সহিহ (صحيহ) এর মতো তাত্ত্বিক (نظري) পর্যায়ের নয়। অতঃপর এটি বিভিন্ন স্তরে বিন্যস্ত; যার সর্বোচ্চ স্তর হলো যার মুতাওয়াতির (تواتر) হওয়ার ব্যাপারে ঐক্যমত্য হয়েছে, যদিও তা নিশ্চিত জ্ঞান প্রদানের (إفادة العلم) ক্ষেত্রে অন্যদের সাথে একই পর্যায়ভুক্ত হয়। অতঃপর প্রসিদ্ধ (مشهور) হাদিস।

--------------------------------------------

আমি মনে করি যে, এরুপ ব্যাখ্যামূলক সংযোজন ছাড়া অর্থ সুস্পষ্ট হয় না। সুতরাং [নিকটে] শব্দটি যোগ করার পর অর্থটি দাঁড়াবে: সহিহ বুখারি—এর মুসনাদ অংশ, তাআলীক ও সাহাবি-তাবেয়িদের বক্তব্য ব্যতীত—অধিকাংশ মুহাদ্দিসের নিকট সহিহ মুসলিমের ওপর অগ্রগণ্য, সকলের নিকট নয়। কেননা মাগরিবের একদল ইমাম যেমন আবু মুহাম্মদ ইবন হাজম ও অন্যান্যরা এর ভিন্নমত পোষণ করেছেন—ফাতহুল মুগিস (১/২৮-৩৩)। তবে তাঁরা এই দুই কিতাব সর্বাধিক সহিহ (صحيح) হওয়া এবং অন্য সকল সহিহ গ্রন্থের ওপর এদের প্রাধান্য থাকার ব্যাপারে দ্বিমত করেননি। আল্লামা সুয়ুতি তাঁর আলফিয়্যাহ কাব্যে (পৃ. ১০) বলেছেন:

“কুরআনের পর এই দুই কিতাবের চেয়ে সহিহ (صحيহ) আর কোনো কিতাব নেই, এ কারণেই এগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।”

এখন যদি কেউ প্রশ্ন করে, ইমাম শাফিয়ি (রহ.)-এর এই উক্তির ব্যাপারে কী বলা হবে: “আমি পৃথিবীতে জ্ঞানের ক্ষেত্রে মালিকের কিতাব অপেক্ষা সঠিকতর কোনো কিতাব জানি না।” অন্য বর্ণনায় তাঁর থেকে এসেছে: “আল্লাহর কিতাবের পর মালিকের মুওয়াত্তার চেয়ে সহিহ (صحيহ) আর কিছু নেই।”?

এর উত্তরে বলা হবে: “তিনি এ কথাটি বুখারি ও মুসলিমের কিতাবদ্বয় সংকলিত হওয়ার পূর্বে বলেছিলেন।” এটি ইবনুস সালাহ (রহ.) তাঁর উলূমুল হাদিস (পৃ. ১৮) গ্রন্থে বলেছেন।

আর ইবন হাজার (রহ.) কেবল সহিহ (صحيহ) হাদিস সংকলনের বিষয়ে এবং ইমাম মালিককে বুখারি ও মুসলিমের ওপর অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে একটি দীর্ঘ উত্তর প্রদান করেছেন; দেখুন: আন-নুকাত (১/২৭৬-২৮১), আত-তাদরীব (১/৮৮-৯৪), ইবনুল মুলাক্কিনের আল-মুকনি (১/৫৭-৬০) এবং মানহাজু যবিন নাযার (পৃ. ২০)।

১. শেখ হাফেজ সানাউল্লাহ জাহেদি-র রিসালাহ ‘আহাদিসুস সহিহাইন বাইনাল যন্নি ওয়াল ইয়াকীন’ দেখা যেতে পারে, এটি একটি উপকারী রিসালাহ। সেখানে তিনি সেইসব আলেমদের কথা উল্লেখ করেছেন যারা এই দুই কিতাবের হাদিসসমূহ অকাট্য (قطعي) জ্ঞান প্রদান করে বলে মত দিয়েছেন। তিনি তাঁদের উক্তিগুলো উল্লেখ করেছেন এবং তাঁদের সংখ্যা ১৬ জনেরও বেশি। এরপর তিনি তাঁদের দলিলগুলো বর্ণনা করেছেন।

অতঃপর তিনি সেইসব আলেমদের কথা উল্লেখ করেছেন যারা এগুলো ধারণা বা প্রবল ধারণা (ظن) প্রদান করে বলে মনে করেন; তাঁরা হলেন ইমাম নববী এবং ইবন বুরহান, তিনি এই দুইজন ছাড়া আর কারো নাম উল্লেখ করেননি। এরপর তিনি তাঁদের দলিলসমূহ বর্ণনা করে বিষয়টি নিয়ে ইলমি আলোচনা করেছেন। পরিশেষে তিনি এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, এই দুই কিতাবের হাদিসসমূহ অকাট্য (قطعي) জ্ঞান প্রদান করে, কারণ যারা এই মত পোষণ করেন তাঁদের দলিলসমূহ অত্যন্ত শক্তিশালী; আর এটাই সত্য ও সঠিক। সুতরাং বিষয়টি দেখা উচিত কারণ এটি গুরুত্বপূর্ণ।
(খণ্ড: ১) আত-তাওযীহুল আবহার লিতাযকিরাতি ইবনিল মুলাক্কিন ফী ইলমিল আসার (পৃষ্ঠা: ٣٣)
(والحسن) : أي لذاته، (ما كان إسناده) أي طريقه ولو في بعض رواته (دون الأول في الحفظ) أي الضبط، (والإتقان) إذ هو والصحيح سواء إلا في تمام الضبط، وإن أريد تعريفه لذاته ولغيره فهو: ما اتصل سنده بالعدل القاصر في الضبط أو بالمضعف بما عدا الكذب1، إذا اعتضد من غير شذوذ ولا علة.

(ويعُمُّه و) الصحيح، (الذي قبله) مما زاده، وقال إنه من النفائس، (اسم الخبر القوي) وهما محتج بهما وإن كان الثاني لا يلحق الأول في

--------------------------------------------

1 وهو ما عبر عنه الترمذي في "العلل الصغير" الملحق بآخر "الجامع" "5/ 758" بقوله: "وما قلنا في كتابنا حديث حسن فإنما أردنا به حسن إسناده عندنا: كل حديث يروى لا يكون في إسناده من يتهم بالكذب، ولا يكون الحديث شاذًّا، ويرى من غير وجه نحو ذاك، فهو عندنا حسن".

وانظر النكت "1/ 387 وما بعدها"، وفتح المغيث "1/ 72 وما بعدها".

وقال الناظم السيوطي في ألفيته ص"15":

إلى الصحيح أي لغيره كما … يرقى إلى الحسن الذي قد وسما

ضعفا لسوء حفظ أو إرسال أو … تدليس أو جهالة إذا رأوا

مجيئة من جهة أخرى وما … كان لفسق أو يرى متهما

يرقى عن الإنكار بالتعدد … بل ربما يصير كالذي بدي

واستدرك الشيخ أحمد شاكر رحمه الله وبين أن الضعف إذا كان بسبب سوء حفظ الراوي أو نحو ذلك فإنه يرقى إلى درجة الحسن أوالصحة بتعدد طرقه إن كانت كذلك، وأما إذا كان ضعف الحديث لفسق الراوي أو اتهامه بالكذب ثم جاء من طرق أخرى من هذا النوع، فإنه لا يرقى إلى الحسن، بل يزداد ضعفا إلى ضعف وبذلك يتبين خطأ المؤلف هنا -يقصد السيوطي- وخطؤه في كثير من كتبه في الحكم على أحاديث ضعاف بالترقي إلى الحسن مع هذه العلة القوية "شرح ألفية الحديث -أحمد شاكر- ص"15-16". وانظر الباعث الحثيث - لأحمد شاكر "1/ 135".
(হাসান (الحسن)): অর্থাৎ সত্তাগতভাবে, (যার সনদ (إسناد)): অর্থাৎ যার পথ যদিও বা তার বর্ণনাকারীদের (رواة) কারো ক্ষেত্রে (স্মরণশক্তির দিক থেকে প্রথম প্রকারের চেয়ে নিচে হয়): অর্থাৎ আয়ত্ত (ضبط) ও (নির্ভুলতার (الإتقان)) ক্ষেত্রে। কেননা হাসান (الحسن) এবং সহিহ (الصحيح) পূর্ণ আয়ত্ত (ضبط) ব্যতিরেকে বাকি সব বিষয়ে সমান। আর যদি এর সংজ্ঞা সত্তাগত এবং অন্য কারণে—এই উভয় প্রকারের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে প্রদান করা হয়, তবে তা হলো: যার সনদ (سند) এমন ন্যায়নিষ্ঠ (عدل) বর্ণনাকারীর মাধ্যমে সংযুক্ত যার আয়ত্তশক্তি (ضبط) কিছুটা কম অথবা এমন দুর্বল (مضعف) বর্ণনাকারী যার দুর্বলতা মিথ্যাচার (الكذب)১ ব্যতীত অন্য কোনো কারণে, যখন তা অন্যান্য সূত্রের দ্বারা শক্তিশালী হয় এবং তাতে কোনো বিচ্যুতি (شذوذ) কিংবা ত্রুটি (علة) না থাকে।

(এবং যা একে ও) এর পূর্ববর্তী সহিহ (الصحيح) প্রকারকে (একইসাথে অন্তর্ভুক্ত করে), যা তিনি বৃদ্ধি করেছেন এবং বলেছেন যে তা মূল্যবান বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত, তা হলো (শক্তিশালী সংবাদ (الخبر القوي) নাম)। আর এ উভয় প্রকারই দলীল হিসেবে গ্রহণযোগ্য (محتج بهما), যদিও দ্বিতীয়টি প্রথমটির সমপর্যায়ে পৌঁছে না।

--------------------------------------------

১ এটিই ইমাম তিরমিযী "জামি" কিতাবের শেষে সংযুক্ত "ইলালুস সাগির" (৫/৭৫৮)-এ ব্যক্ত করেছেন এভাবে: "আমরা আমাদের কিতাবে যে হাদিসকে হাসান বলেছি, তা দ্বারা আমাদের নিকট তার সনদের হাসান (حسن) হওয়া উদ্দেশ্য: এমন প্রতিটি হাদিস যা বর্ণিত হয়েছে এবং যার সনদে (إسناد) এমন কেউ নেই যার ওপর মিথ্যাচারের (الكذب) অভিযোগ রয়েছে, আর হাদিসটি বিচ্যুতিপূর্ণ (شاذًّا) নয় এবং অনুরূপ হাদিস অন্য সূত্র থেকেও বর্ণিত হয়েছে, তবে তা আমাদের নিকট হাসান।"

দেখুন: আন-নুকাত (১/৩৮৭ এবং পরবর্তী পৃষ্ঠা), এবং ফাতহুল মুগিস (১/৭২ এবং পরবর্তী পৃষ্ঠা)।

এবং ছন্দকার সুয়ূতী তার আলফিয়্যাহ-র ১৫ পৃষ্ঠায় বলেন:

সহিহ-এর দিকে অর্থাৎ অন্য কোনো কারণে, যেমন … হাসান (الحسن) স্তরে উন্নীত হয় যাকে চিহ্নিত করা হয়েছে

মন্দ স্মরণশক্তি (سوء حفظ), বিচ্ছিন্নতা (إرسال), গোপন করা (تدليس) অথবা বর্ণনাকারী অজ্ঞাত (جهالة) হওয়ার কারণে দুর্বল (ضعفا) হিসেবে, যখন তারা দেখেন

অন্য কোনো সূত্র থেকে এর আগমন। আর যা পাপাচার (فسق) অথবা অভিযুক্ত (متهما) হওয়ার কারণে হয়েছে

তা একাধিক সূত্রের মাধ্যমে প্রত্যাখ্যাত (الإنكار) হওয়া থেকে উপরে ওঠে, বরং কখনো তা পূর্বেরটির মতো হয়ে যায়।

শেখ আহমদ শাকির (রহ.) এর ওপর সংশোধনী দিয়েছেন এবং স্পষ্ট করেছেন যে, দুর্বলতা (الضعف) যদি বর্ণনাকারীর মন্দ স্মরণশক্তি (سوء حفظ) বা এই জাতীয় কারণে হয়, তবে তা একাধিক সূত্রের মাধ্যমে হাসান (الحسن) বা সহিহ (الصحة) স্তরে উন্নীত হয়। পক্ষান্তরে, যদি হাদিসের দুর্বলতা বর্ণনাকারীর পাপাচার (فسق) বা তার ওপর মিথ্যাচারের (الكذب) অভিযোগের কারণে হয় এবং এরপর এই ধরণের অন্য কোনো সূত্র থেকেও তা বর্ণিত হয়, তবে তা হাসান (الحسن) স্তরে উন্নীত হবে না; বরং দুর্বলতার ওপর দুর্বলতা বৃদ্ধি পাবে। এর মাধ্যমে এখানে লেখকের (সুয়ূতী) ভুল এবং তার অনেক কিতাবে এমন শক্তিশালী ত্রুটি (العلة القوية) থাকা সত্ত্বেও দুর্বল হাদিসগুলোকে হাসানের স্তরে উন্নীত করার হুকুম প্রদানের ভুলটি স্পষ্ট হয়। "শারহু আলফিয়্যাতিল হাদিস - আহমদ শাকির - পৃষ্ঠা ১৫-১৬"। এবং দেখুন: আল-বায়িসুল হাসিস - আহমদ শাকির (১/১৩৫)।