(খণ্ড: ১)
তাফসীর ইবনে আবী হাতিম
(পৃষ্ঠা: -)
تفسير ابن أبي حاتم القسم: التفسير
الكتاب: تفسير القرآن العظيم لابن أبي حاتم
المؤلف: أبو محمد عبد الرحمن بن محمد بن إدريس بن المنذر التميمي، الحنظلي، الرازي ابن أبي حاتم (ت 327هـ)
المحقق: أسعد محمد الطيب
الناشر: مكتبة نزار مصطفى الباز - المملكة العربية السعودية
الطبعة: الثالثة - 1419 هـ
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
_________
[تنبيه]
1- الجزء الأصيل من الكتاب (عن مخطوطات) هو
* من الفاتحة إلى الرعد
* من (المؤمنون) إلى العنكبوت
والباقي جمعه المحقق من تفسير ابن كثير والدر المنثور وغيره
2- الأرقام من حديث 8327 إلى 10100 بها خلط وتكرار شديد في المطبوع فلا يعتمد عليها، وينبغي العزو إلى الجزء والصفحة في هذه المواضع
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
তাফসীর ইবনে আবী হাতিম বিভাগ: তাফসীর
গ্রন্থ: তাফসীরুল কুরআনিল আযীম লি-ইবনি আবী হাতিম
লেখক: আবু মুহাম্মদ আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন ইদরীস বিন আল-মুনযির আত-তামীমী, আল-হানযালী, আর-রাযী ইবনে আবী হাতিম (মৃত্যু: ৩২৭ হিজরী)
সম্পাদক: আসআদ মুহাম্মদ আত-তাইয়িব
প্রকাশক: মাকতাবাতু নিযার মুস্তফা আল-বায - সৌদি আরব বাদশাহী
সংস্করণ: তৃতীয় - ১৪১৯ হিজরী
[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
_________
[সতর্কবার্তা]
১- গ্রন্থের মূল অংশ (পাণ্ডুলিপি হতে প্রাপ্ত) হলো:
* সূরা আল-ফাতিহা থেকে সূরা আর-রাদ পর্যন্ত
* সূরা আল-মুমিনুন থেকে সূরা আল-আনকাবুত পর্যন্ত
এবং অবশিষ্ট অংশগুলো সম্পাদক তাফসীরে ইবনে কাসীর, আদ-দুররুল মানসুর ও অন্যান্য উৎস থেকে সংকলন করেছেন
২- ক্রমিক নম্বর ৮৩২৭ থেকে ১০১০০ পর্যন্ত বর্ণনায় মুদ্রিত কপিতে চরম বিশৃঙ্খলা ও পুনরাবৃত্তি রয়েছে, তাই সেগুলোর ওপর নির্ভর করা যাবে না، বরং এসব ক্ষেত্রে খণ্ড ও পৃষ্ঠা নম্বরের উদ্ধৃতি দেওয়া বাঞ্ছনীয়
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ١)
তাফসীর ইবনে আবী হাতিম
(পৃষ্ঠা: -)
ـ[تفسير القرآن العظيم لابن أبي حاتم]ـ
المؤلف: أبو محمد عبد الرحمن بن محمد بن إدريس بن المنذر التميمي، الحنظلي، الرازي ابن أبي حاتم (المتوفى: 327هـ)
المحقق: أسعد محمد الطيب
الناشر: مكتبة نزار مصطفى الباز - المملكة العربية السعودية
الطبعة: الثالثة - 1419 هـ
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
ইবনে আবী হাতিম প্রণীত তাফসীরুল কুরআনিল আযীম
লেখক: আবু মুহাম্মাদ আবদুর রহমান বিন মুহাম্মাদ বিন ইদরীস বিন আল-মুনযির আত-তামীমী, আল-হানযালী, আর-রাযী ইবনে আবী হাতিম (মৃত্যু: ৩২৭ হিজরী)
সম্পাদক: আসআদ মুহাম্মাদ আত-তাইয়িব
প্রকাশক: মাকতাবাতু নিযার মুস্তফা আল-বায - সৌদি আরব রাজ্য
সংস্করণ: তৃতীয় - ১৪১৯ হিজরী
[গ্রন্থের সংখ্যাবিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
(খণ্ড: ١)
তাফসীর ইবনে আবী হাতিম
(পৃষ্ঠা: ٣)
الجزء الأول
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة الناشرالحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على سيدنا محمد خاتم الأنبياء والمرسلين، النبي الأمى العربي المكي الهادي الأمين، وعلى آله وأصحابه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين وبعد، قال تعالى:
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَنْزَلَ عَلَى عَبْدِهِ الكتاب ولم يجعل له عوجا قيما لِيُنْذِرَ بَأْسًا شَدِيدًا مِنْ لَدُنْهُ وَيُبَشِّرَ الْمُؤْمِنِينَ الَّذِينَ يَعْمَلُونَ الصَّالِحَاتِ أَنَّ لَهُمْ أجرا حسنا ماكثين فيه أبدا ف له الحمد في الأولى والآخرة اللهم ربنا لك الحمد ملء السموات وملء الأرض وملء ما شئت من شيء بعد.
الحمد لله الذي أرسل رسله مُّبَشِّرِينَ وَمُنذِرِينَ لِئَلَاّ يَكُونَ لِلنَّاسِ عَلَى اللهِ حُجَّةٌ بَعْدَ الرسل.
فقد بَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى جميع الثقلين الإنس والجن مبلغا لهم عن الله عز وجل ما أوحاه إليه من هذا الكتاب العزيز الذي لا يَأْتِيهِ الْبَاطِلُ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ وَلا من خلفه تنزيل من حكيم حميد وقد أعلمهم فيه عن الله تعالى أنه ندبهم إلى فهمه فقال تعالى: أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ وَلَوْ كَانَ مِنْ عِنْدِ غَيْرِ اللَّهِ لَوَجَدُوا فيه اختلافا كثيرا وقال تعالى: كتاب أنزلناه إليك مبارك ليدبروا آياته وليتذكر أولوا الألباب فالواجب على العلماء الكشف عن معاني كلام الله وتفسير ذلك وطلبه من مظانه وتعلم ذلك وتعليمه.
فعلينا أيها المسلمون أن نأتمر بما أمرنا الله به من تعلم كتاب الله المنزل إلينا وتعليمه، وتفهمه وتفهيمه، فعلى الله تعالى لين القلوب وهداها بالإيمان وتخليصها من الذنوب والمعاصي، والله المؤول المسئول أن يفعل بنا هذا إنه جواد كريم.
প্রথম খণ্ড
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
প্রকাশকের ভূমিকাসকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি, যিনি নবী ও রাসূলগণের মোহর, উম্মী, আরবীয়, মক্কী, হিদায়াতকারী ও বিশ্বস্ত নবী। আরও বর্ষিত হোক তাঁর পরিবারবর্গ, সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন তাঁদের সবার প্রতি। অতঃপর মহান আল্লাহ বলেন:
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি তাঁর বান্দার প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করেছেন এবং তাতে কোনো বক্রতা রাখেননি। একে করেছেন সুপ্রতিষ্ঠিত, যাতে তিনি তাঁর পক্ষ থেকে এক কঠিন শাস্তি সম্পর্কে সতর্ক করতে পারেন এবং মুমিনদেরকে, যারা সৎকর্ম করে, সুসংবাদ দিতে পারেন যে, তাদের জন্য রয়েছে উত্তম প্রতিদান, যাতে তারা চিরকাল অবস্থান করবে। সুতরাং ইহকাল ও পরকালে সমস্ত প্রশংসা তাঁরই। হে আল্লাহ, আমাদের পালনকর্তা! আপনার জন্যই সকল প্রশংসা; আকাশমন্ডলী পূর্ণ করে, পৃথিবী পূর্ণ করে এবং এরপর আপনি যা চান তা পূর্ণ করে।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর রাসূলগণকে সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে প্রেরণ করেছেন, যাতে রাসূলগণের পর আল্লাহর বিরুদ্ধে মানুষের কোনো অজুহাত না থাকে।
নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মানুষ ও জিন—উভয় সম্প্রদায়ের নিকট প্রেরিত হয়েছেন। তিনি তাদের কাছে পরাক্রমশালী মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে সেই মহাগ্রন্থ পৌঁছে দিয়েছেন যা তিনি তাঁর প্রতি ওহী করেছেন। এটি এমন এক মহাগ্রন্থ যার কাছে কোনো মিথ্যা আসতে পারে না—না তার সম্মুখ থেকে, আর না তার পেছন থেকে; এটি প্রজ্ঞাময়, চিরপ্রশংসিত আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। আল্লাহ তাআলা এতে তাঁদেরকে জানিয়েছেন যে, তিনি তাঁদেরকে এই কিতাব অনুধাবনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। মহান আল্লাহ বলেন: "তবে কি তারা কুরআন নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করে না? যদি তা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারও পক্ষ থেকে হতো, তবে তারা এতে অনেক মতভেদ দেখতে পেত।" আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: "এটি একটি বরকতময় কিতাব, যা আমি আপনার প্রতি নাযিল করেছি, যাতে তারা এর আয়াতসমূহ নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করে এবং যাতে বোধসম্পন্ন ব্যক্তিগণ উপদেশ গ্রহণ করে।" অতএব, আলেমদের ওপর আবশ্যিক কর্তব্য হলো আল্লাহর বাণীর মর্মার্থ উন্মোচন করা, তার ব্যাখ্যা প্রদান করা, উপযুক্ত উৎস থেকে তা অনুসন্ধান করা এবং তা শিক্ষা করা ও শিক্ষা দেওয়া।
হে মুসলিম সম্প্রদায়! আমাদের প্রতি অবতীর্ণ আল্লাহর কিতাব শিক্ষা করা ও শিক্ষা দেওয়া এবং তা অনুধাবন করা ও অনুধাবন করানোর ব্যাপারে আল্লাহ আমাদের যে নির্দেশ দিয়েছেন, তা পালন করা আমাদের কর্তব্য। হৃদয়ের কোমলতা দান করা, ঈমানের মাধ্যমে তাকে সঠিক পথ দেখানো এবং গুনাহ ও পাপাচার থেকে তাকে মুক্ত করা মহান আল্লাহরই কাজ। আল্লাহর কাছেই আমাদের একান্ত প্রত্যাশা ও প্রার্থনা যে, তিনি যেন আমাদের জন্য এটি কবুল করেন; নিশ্চয়ই তিনি অত্যন্ত দাতা ও মহানুভব।
(খণ্ড: ١)
তাফসীর ইবনে আবী হাতিম
(পৃষ্ঠা: ٤)
لهذا فإن أحسن طرق التفسير أن يفسر القرآن بالقرآن فما أجمل في مكان فإنه قد بسط في موضع آخر فإن أعياك ذلك فعليك بالسنة فإنها شارحة للقرآن وموضحة له.
لقد دأبت المكتبة ولا تزال في نشر العلوم الإسلامية النافعة لا سيما العلوم التي تتعلق بكتاب الله عز وجل.
ولما كان علم التفسير هو من أشرف العلوم لتعلقه بأشرف كتاب سماوي أنزل من عند الله عز وجل، رأت المكتبة أن تقوم بنشر تفسير لكتاب المولى جلت قدرته وعلاه يفهمه القارئ العام والخاص. وقد قامت المكتبة بمقابلة نسخ التفسير على عدة مخطوطات، هادفة الوصول إلي نسخة موثوقة.
والمكتبة إذ تقدم إلى الأمة الإسلامية هذا التفسير راجية من المولى عز وجل أن يكتب لهذا العمل في صحائف أعمال كل من عمل به وأن يقبله الله ويجعله في ميزان الحسنات وأن ينفع المسلمين به في كل أنحاء الأرض يَوْمَ لا يَنْفَعُ مَالٌ وَلا بَنُونَ إِلا من أتى الله بقلب سليم.
مكتبة نزار مصطفى الباز 1/ 9/ 1417 هـ
এ কারণে তাফসীরের সর্বোত্তম পদ্ধতি হলো কুরআনকে কুরআনের মাধ্যমেই ব্যাখ্যা করা। কেননা যা এক স্থানে সংক্ষেপে বর্ণিত হয়েছে, অন্য স্থানে তা বিস্তারিত আলোচিত হয়েছে। আর যদি তা আপনাকে ক্লান্ত করে (অর্থাৎ সেখানে না পান), তবে আপনার কর্তব্য হলো সুন্নাহর শরণাপন্ন হওয়া; কেননা সুন্নাহ হলো কুরআনের ব্যাখ্যাকারী ও বিশদ বর্ণনাকারী।
এই মাকতাবা (প্রকাশনী) সর্বদা উপকারী ইসলামি জ্ঞান প্রচারের কাজে নিয়োজিত রয়েছে এবং থাকবে, বিশেষ করে সেই সকল জ্ঞান যা মহান আল্লাহ তাআলার কিতাবের সাথে সংশ্লিষ্ট।
যেহেতু তাফসীর শাস্ত্রটি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ সর্বশ্রেষ্ঠ আসমানি কিতাবের সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়ার কারণে অন্যতম শ্রেষ্ঠ একটি জ্ঞান, তাই মাকতাবা মহান প্রভুর কিতাবের এমন একটি তাফসীর প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিয়েছে যা সাধারণ ও বিশেষ—উভয় স্তরের পাঠক অনুধাবন করতে পারবেন। মাকতাবা একটি নির্ভরযোগ্য সংস্করণে পৌঁছানোর লক্ষ্যে তাফসীরের এই কপিটিকে বেশ কিছু পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে সম্পাদনা করেছে।
মুসলিম উম্মাহর সামনে এই তাফসীরটি পেশ করার প্রাক্কালে মাকতাবা মহান প্রভুর নিকট এই প্রার্থনা জানাচ্ছে যে, তিনি যেন এই কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলের আমলনামায় এর সওয়াব লিপিবদ্ধ করেন, আল্লাহ যেন এটি কবুল করেন এবং একে নেক আমলের পাল্লায় যুক্ত করেন। আর বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তের মুসলিমদের এর দ্বারা সেই দিনে উপকৃত করেন, যেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনো উপকারে আসবে না, বরং কেবল সেই ব্যক্তিই উপকৃত হবে যে আল্লাহর কাছে পরিশুদ্ধ অন্তর নিয়ে উপস্থিত হবে।
মাকতাবা নিযার মুস্তফা আল-বায ১/ ৯/ ১৪১৭ হিজরী।
(খণ্ড: ١)
তাফসীর ইবনে আবী হাতিম
(পৃষ্ঠা: ٥)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمةإن الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره ونتوب إليه، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا. من يهد اللَّهُ فَلا مُضِلَّ لَهُ، وَمَنْ يُضْلِلْ فَلا هادي له. ونشهد أن سيدنا محمدا عبده ورسوله، صلى الله عليه وسلم وعلى آله وصحبه وسلم تسليما كثيرا.
(أما بعد) فقد جعل الله القرآن العظيم هدى من الضلالة، ونورا للقلوب، وشفاء لما في الصدور، ورحمة لقوم يؤمنون، أخرج الله به من شاء من ظلمات الغي والجهل إلى نور الإيمان والعلم.
فالقرآن هو آخر الكتب لذا فقد اشتمل على العلوم والمعارف النافعة وإن من أنفع علوم القرآن علم التفسير فبه نتدبر معانيه، والعمل بما فيه، والاهتداء بهديه، والائتمار بأوامره والبعد عن نواهيه، وتصديق أخباره، والاعتبار بقصصه.
فكان سلف الأمة يرجعون إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِيمَا أشكل عليهم فيبين لهم المراد، ويوضح لهم المعنى.
عن ابن مسعود رضي الله عنه، قَالَ: إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كان يقرئهم العشر فلا يجاوزونها إلى عشر أخرى حتى يتعلموا ما فيها من العمل، فيعلمنا القرآن والعمل جميعا.
ولما كان تفسير القرآن الكريم من أهم العلوم التي يحتاجها المسلمون علماء ومتعلمين، فقد قيض الله عز وجل في كل عصر علماء، قاموا بأعباء ذلك الأمر
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।
ভূমিকানিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি, তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই এবং তাঁরই নিকট তওবা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই। আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর অগণিত দরূদ ও সালাম বর্ষণ করুন।
(অতঃপর) আল্লাহ তাআলা মহান কুরআনকে পথভ্রষ্টতা থেকে হিদায়াত, অন্তরের নূর, বক্ষস্থিত ব্যাধির আরোগ্য এবং মুমিন সম্প্রদায়ের জন্য রহমত হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। এর মাধ্যমে আল্লাহ যাকে ইচ্ছা গোমরাহী ও মূর্খতার অন্ধকার থেকে ঈমান ও ইলমের নূরের দিকে বের করে আনেন।
কুরআন হলো সর্বশেষ আসমানী কিতাব, তাই এটি সমস্ত উপকারী জ্ঞান ও প্রজ্ঞাকে শামিল করেছে। আর কুরআনের অন্যতম সর্বাধিক উপকারী জ্ঞান হলো 'তাফসীর' শাস্ত্র। কেননা এর মাধ্যমেই আমরা কুরআনের মর্মার্থ নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করতে পারি, এর বিধান অনুযায়ী আমল করতে পারি, এর হিদায়াত দ্বারা পরিচালিত হতে পারি, এর আদেশসমূহ পালন ও নিষেধসমূহ বর্জন করতে পারি এবং এর সংবাদসমূহকে সত্য বলে বিশ্বাস করাসহ এর ঘটনাবলী থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারি।
এই উম্মতের পূর্বসূরি তথা সালাফে সালেহীনগণ কোনো বিষয়ে অস্পষ্টতা দেখা দিলে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর শরণাপন্ন হতেন; ফলে তিনি তাঁদের নিকট উদ্দেশ্য ব্যক্ত করতেন এবং মর্মার্থ স্পষ্ট করে দিতেন।
ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন তাঁদেরকে দশটি আয়াত পড়াতেন, তখন তাঁরা পরবর্তী দশটি আয়াতে যেতেন না যতক্ষণ না তাঁরা সেই দশ আয়াতের আমল সম্পর্কে শিক্ষা লাভ করতেন। এভাবে তিনি আমাদের কুরআন এবং আমল উভয়টিই একসাথে শিক্ষা দিতেন।
যেহেতু আল-কুরআনের তাফসীর আলিম এবং শিক্ষার্থী—সকল মুসলিমের জন্য প্রয়োজনীয় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞান, তাই আল্লাহ তাআলা প্রতিটি যুগে এমন সব আলিমদের মনোনীত করেছেন, যারা এই মহান জিম্মাদারির গুরুভার বহন করেছেন।
(খণ্ড: ١)
তাফসীর ইবনে আবী হাতিম
(পৃষ্ঠা: ٦)
العظيم، فاعتنوا بدراسة القرآن، فعرفوا تأويله وتنزيله، وأسباب نزوله، وفضائله، وأحكامه، وبينوا المحكم من المتشابه والناسخ من المنسوخ.
ومن هؤلاء الإمام عبد الرحمن بن أبى حاتم الرازي الذي جمع في تفسيره أقوال السلف مسندة إليهم مع الدقة والأمانة في الأداء، بانتقائه أصح الأسانيد، مقتصرا على النقل المجرد من أي رأى وترجيح. فهذه ميزة عظيمة لهذا التفسير الفريد.
وفي الختام أدعو الله العلي العظيم أن يرحم مؤلف هذا التفسير وأن يسكنه فسيح جناته، إنه هو السميع العليم
…والحمد لله رب العالمين.
أسعد محمد الطيب
মহান [গ্রন্থ], তাঁরা কুরআনের নিবিড় অধ্যয়নে সচেষ্ট হয়েছিলেন; ফলে তাঁরা এর ব্যাখ্যা ও অবতরণ-তত্ত্ব, অবতীর্ণ হওয়ার প্রেক্ষাপট, এর মাহাত্ম্য ও বিধানাবলি সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান লাভ করেছিলেন। তাঁরা এর দ্ব্যর্থহীন ও রূপক এবং রহিতকারী ও রহিতকৃত বিষয়গুলো বিশদভাবে বর্ণনা করেছেন।
আর তাঁদেরই একজন হলেন ইমাম আবদুর রহমান ইবনে আবি হাতিম আর-রাজি, যিনি তাঁর তাফসির গ্রন্থে সালাফ বা পূর্বসূরিগণের উক্তিগুলো যথাযথ সূক্ষ্মতা ও বিশ্বস্ততার সাথে সনদসহ সংকলন করেছেন। তিনি সর্বাধিক বিশুদ্ধ সনদসমূহ নির্বাচন করেছেন এবং কোনো প্রকার ব্যক্তিগত মতামত বা প্রাধান্যারোপ ব্যতিরেকে কেবল বর্ণনার উদ্ধৃতি দেওয়ার ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছেন। এটিই এই অনন্য তাফসির গ্রন্থের এক মহৎ বৈশিষ্ট্য।
পরিশেষে, আমি সুউচ্চ ও মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যে, তিনি এই তাফসিরের রচয়িতাকে রহমত দান করুন এবং তাঁকে জান্নাতের সুপ্রশস্ত উদ্যানে স্থান দিন; নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।
…এবং সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
আসআদ মুহাম্মদ আল-তাইয়িব
(খণ্ড: ١)
তাফসীর ইবনে আবী হাতিম
(পৃষ্ঠা: ٧)
ترجمة المؤلف
اسمه ونسبه:هو عبد الرحمن بن محمد بن إدريس بن المنذر الحنظلي الرازي، يكنى أبا محمد، واشتهر بابن أبى حاتم.
أصلهم من أصبهان، ثم انتقلوا إلى الري وهي بلدة كبيرة من بلاد الديلم «1» .
ولادته:ولد سنة أربعين ومائتين «2» .
نشأته:نشأ ابن أبى حاتم في رعاية والده، الذي غرس فيه روح العلم والتقى، فحفظ القرآن الكريم في صغره.
قال ابن أبى حاتم: «لم يدعني أبي أشتغل في الحديث حتى قرأت القرآن على الفضل بن شاذان ثم كتب الحديث» «3» .
عبادته وتقواهقال أبو عبد الله القزويني:
(إذا صليت مع عبد الرحمن فسلم إليه نفسك يعمل بها ما يشاء) .
وقال أحمد بن عبد الله النيسابوري:
(كنا عند عبد الرحمن وهو يقرأ علينا الجرح والتعديل الذي صنفه، فدخل يوسف ابن الحسين الرازي فجلس وقال: يا أبا محمد، ما هذا؟
قال: أظهر أحوال العلماء من كان ثقة ومن كان غير ثقة.
فقال له يوسف: أما استحيت من الله تعالى تذكر أقواما قد حطوا رواحلهم في الجنة أو عند الله منذ مائة عام أو مائتي سنة، تغتابهم؟
গ্রন্থকারের জীবনী
তাঁর নাম ও বংশপরিচয়:তিনি হলেন আবদুর রহমান বিন মুহাম্মাদ বিন ইদ্রিস বিন আল-মুনজির আল-হানজালি আল-রাজি। তাঁর উপনাম (কুনিয়াত) আবু মুহাম্মাদ এবং তিনি ইবনে আবি হাতিম নামেই সমধিক পরিচিত।
তাঁদের আদি নিবাস ছিল ইসফাহান। পরবর্তীতে তাঁরা ‘রাই’ শহরে চলে যান, যা দাইলাম অঞ্চলের একটি বৃহৎ শহর ছিল «১» ।
তাঁর জন্ম:তিনি ২৪০ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন «২» ।
তাঁর লালন-পালন ও বেড়ে ওঠা:ইবনে আবি হাতিম তাঁর পিতার তত্ত্বাবধানে লালিত-পালিত হন, যিনি তাঁর মাঝে জ্ঞান ও তাকওয়ার চেতনা সঞ্চারিত করেছিলেন। ফলে তিনি শৈশবেই পবিত্র কুরআন হিফজ সম্পন্ন করেন।
ইবনে আবি হাতিম বলেন: "আমার পিতা আমাকে হাদিস চর্চায় আত্মনিয়োগ করতে দেননি যতক্ষণ না আমি ফজল বিন শাযানের নিকট কুরআন পাঠ (হিফজ) সম্পন্ন করেছি; এরপর আমি হাদিস লিপিবদ্ধ করেছি" «৩» ।
তাঁর ইবাদত ও তাকওয়াআবু আবদুল্লাহ আল-কাযউইনি বলেন:
(আপনি যখন আবদুর রহমানের সাথে সালাত আদায় করবেন, তখন আপনার নিজেকে তাঁর কাছে সঁপে দিন; তিনি তা নিয়ে যা ইচ্ছা করবেন)।
আহমাদ বিন আবদুল্লাহ আন-নিশাপুরি বলেন:
(আমরা আবদুর রহমানের নিকট উপস্থিত ছিলাম এবং তিনি তাঁর সংকলিত ‘আল-জারহ ওয়াত-তাদিল’ গ্রন্থটি আমাদের পড়ে শোনাচ্ছিলেন। এমন সময় ইউসুফ ইবনুল হুসাইন আল-রাজি প্রবেশ করে বসলেন এবং বললেন: হে আবু মুহাম্মাদ! এটা কী?
তিনি বললেন: আলেমদের অবস্থা স্পষ্ট করছি—কে নির্ভরযোগ্য ছিলেন আর কে নির্ভরযোগ্য ছিলেন না।
তখন ইউসুফ তাঁকে বললেন: আপনি কি আল্লাহ তাআলাকে লজ্জা পান না যে, আপনি এমন সব লোকেদের গীবত করছেন যারা আজ থেকে একশ বা দুশ বছর আগে জান্নাতে বা আল্লাহর সান্নিধ্যে নিজেদের আবাস গেড়েছেন?)
(খণ্ড: ١)
তাফসীর ইবনে আবী হাতিম
(পৃষ্ঠা: ٨)
فبكى عبد الرحمن، وقال:
يا أبا يعقوب، والله لو طرق سمعي هذا الكلام قبل أن أصنفه، ما صنفته! وارتعد وسقط الكتاب من يده ولم يقرأ في ذلك المجلس «1» .
رحلاته العلمية:قال ابن أبى حاتم:
رحل بي أبى سنة خمس وخمسين ومائتين وما احتلمت بعد، فلما بلغنا ذا الحليفة احتلمت، فسر أبي حيث أدركت حجة الإسلام، فسمعت في هذه السنة من محمد بن عبد الرحمن المقرئ.
فهذه كانت أول رحلة للإمام عبد الرحمن، وفي عام ستين ومائتين ذهب إلى مكة المكرمة، وفيها سمع من محمد بن حماد الطهراني.
وفي عام اثنين وستين ومائتين رحل إلى بلدان السواحل والشام ومصر.
وفي عام 264 هـ رحل إلى أصبهان ولقى في هذه الرحلة يونس بن حبيب «2» .
تلاميذه «3»
1- أبو حاتم محمد بن حبان البستي المتوفى سنة 354 هـ.
2- عبد الله بن عدي الجرجاني المتوفى سنة 365 هـ.
3- أبو محمد عبد الله بن محمد بن حبان (أبو الشيخ) المتوفى سنة 369 هـ.
4- القاضي يوسف بن القاسم الميانجي المتوفى سنة 375 هـ.
5- محمد بن إسحاق النيسابوري (الحاكم الكبير) المتوفى سنة 378 هـ.
6- محمد بن إسحاق بن مندة المتوفى سنة 395 هـ.
تحمله الشدائد في تحصيل العلم:قال ابن أبى حاتم:
তখন আবদুর রহমান কেঁদে ফেললেন এবং বললেন:
হে আবু ইয়াকুব, আল্লাহর কসম, যদি এই কথাগুলো এই গ্রন্থটি সংকলন করার আগে আমার কানে আসত, তবে আমি তা সংকলন করতাম না! তিনি কেঁপে উঠলেন এবং তাঁর হাত থেকে বইটি পড়ে গেল এবং সেই মজলিসে তিনি আর কিছু পাঠ করলেন না «১» ।
তাঁর জ্ঞানার্জনের সফরসমূহ:ইবনে আবি হাতেম বলেন:
আমার পিতা আমাকে সাথে নিয়ে ২৫৫ হিজরি সনে সফরে বের হন, তখনো আমি সাবালক হইনি। যখন আমরা যুল-হুলাইফায় পৌঁছালাম, তখন আমি সাবালকত্ব লাভ করি। এতে আমার পিতা আনন্দিত হলেন যে, আমি ইসলামের হজ পালনের উপযুক্ত হয়েছি। এই বছর আমি মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান আল-মুহরি থেকে হাদিস শ্রবণ করি।
এটিই ছিল ইমাম আবদুর রহমানের প্রথম সফর। ২৬০ হিজরি সনে তিনি মক্কাতুল মুকাররমায় গমন করেন এবং সেখানে মুহাম্মদ ইবনে হাম্মাদ আত-তেহরানি থেকে শ্রবণ করেন।
এবং ২৬২ হিজরি সনে তিনি উপকূলীয় অঞ্চলসমূহ, সিরিয়া এবং মিশরে সফর করেন।
২৬৪ হিজরিতে তিনি আসবাহান সফর করেন এবং এই সফরে ইউনুস ইবনে হাবিবের সাথে সাক্ষাৎ করেন «২» ।
তাঁর ছাত্রবৃন্দ «৩»
১- আবু হাতেম মুহাম্মদ ইবনে হিব্বান আল-বুস্তি, মৃত্যু ৩৫৪ হিজরি।
২- আবদুল্লাহ ইবনে আদি আল-জুরজানি, মৃত্যু ৩৬৫ হিজরি।
৩- আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হিব্বান (আবুশ শাইখ), মৃত্যু ৩৬৯ হিজরি।
৪- কাজি ইউসুফ ইবনে কাসিম আল-মিয়ানাজি, মৃত্যু ৩৭৫ হিজরি।
৫- মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক আন-নিসাবুরি (আল-হাকিম আল-কাবির), মৃত্যু ৩৭৮ হিজরি।
৬- মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ইবনে মানদাহ, মৃত্যু ৩৯৫ হিজরি।
জ্ঞানার্জনে তাঁর কষ্টসহিষ্ণুতা:ইবনে আবি হাতেম বলেন:
(খণ্ড: ١)
তাফসীর ইবনে আবী হাতিম
(পৃষ্ঠা: ٩)
(كنا بمصر سبعة أشهر لم نأكل فيها مرقة، كل نهارنا مقسم لمجالس الشيوخ وبالليل للنسخ والمقابلة، قال: فأتينا يوما أنا ورفيق لي شيخا. فقالوا: هو عليل. فرأينا في طريقنا سمكا أعجبنا فاشتريناه، فلما صرنا إلى البيت حضر وقت مجلس فلم يمكننا إصلاحه، ومضينا إلى المجلس فلم نزل حتى أتى عليه ثلاثة أيام وكاد أن يتغير، فأكلناه نيئا. لم يكن لنا فراغ أن نعطيه من يشويه! ثم قال: لا يستطاع العلم براحة الجسد «1» .
أقوال العلماء في علمهقال أبو يعلي الخليلي:
(أخذ أبو محمد علم أبيه وأبى زرعة، وكان بحرا في العلوم ومعرفة الرجال حتى في الفقه وفي اختلاف الصحابة والتابعين وعلماء الأمصار «2» .
وقال الذهبي عنه:
(كان بحرا لا تكدره الدلاء) «3» .
وقال أحمد بن علي القرضي:
(ما رأيت أحدا ممن عرف عبد الرحمن ذكر عنه جهالة قط) «4» .
وقال ابن كثير:
(كان من العبادة والزهد والورع والحفظ على جانب كبير) «5» .
وفاته:توفى- رحمه الله سنة 327 هـ بمدينة الري وبلغ من العمر 87 عاما، رحمه الله وأسكنه فسيح جناته «6» .
مصنفاته1- آداب الشافعي ومناقبه- طبع.
(আমরা মিশরে সাত মাস অবস্থান করেছি, যেখানে আমরা কোনোদিন ঝোল (রান্না করা খাবার) খাইনি। আমাদের পুরো দিনটি শায়খদের পাঠদান মজলিসের জন্য এবং রাতগুলো পান্ডুলিপি অনুলিখন ও মূলপাঠের সাথে মিলিয়ে দেখার (মুসাবালা) জন্য নির্ধারিত ছিল। তিনি বলেন: একদিন আমি এবং আমার এক সঙ্গী জনৈক শায়খের নিকট গেলাম। আমাদের বলা হলো যে তিনি অসুস্থ। ফেরার পথে আমরা কিছু মাছ দেখে পছন্দ করলাম এবং তা কিনে নিলাম। যখন ঘরে ফিরলাম, তখন অন্য একটি মজলিসের সময় হয়ে গেল, ফলে সেটি প্রস্তুত করার সুযোগ হলো না। আমরা মজলিসে চলে গেলাম এবং এভাবেই তিন দিন পার হয়ে গেল, মাছটি প্রায় নষ্ট হওয়ার উপক্রম হলো। অতঃপর আমরা সেটি কাঁচাই খেয়ে ফেললাম; সেটি কাউকে দিয়ে পুড়িয়ে নেওয়ার মতো অবসরও আমাদের ছিল না! অতঃপর তিনি বললেন: শরীরের আরাম-আয়েশ দিয়ে ইলম (জ্ঞান) অর্জন সম্ভব নয়) «১» .
তাঁর জ্ঞান সম্পর্কে উলামায়ে কিরামের মন্তব্যআবু ইয়ালা আল-খালিলি বলেন:
(আবু মুহাম্মদ তাঁর পিতা এবং আবু যুর'আ-র নিকট থেকে ইলম অর্জন করেছেন। তিনি ইলমের এক বিশাল সমুদ্র এবং বর্ণনাকারীদের পরিচয় (রিজাল শাস্ত্র), ফিকহ শাস্ত্র এবং সাহাবী, তাবিঈ ও বিভিন্ন অঞ্চলের উলামায়ে কিরামের মতপার্থক্য সম্পর্কে গভীর জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন) «২»।
ইমাম আয-যাহাবি তাঁর সম্পর্কে বলেন:
(তিনি ছিলেন এমন এক জ্ঞান-সমুদ্র যাকে কোনো বালতি দিয়ে ঘোলা করা যায় না) «৩»।
আহমদ বিন আলী আল-কারযি বলেন:
(আবদুর রহমানকে যারা চেনেন, তাদের কাউকেই আমি দেখিনি যারা তাঁর সম্পর্কে কখনো কোনো অজ্ঞতার উল্লেখ করেছেন) «৪»।
ইবনে কাসীর বলেন:
(তিনি ইবাদত, যুহদ (সংসারবিরাগ), পরহেজগারি এবং মুখস্থশক্তির ক্ষেত্রে সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী ছিলেন) «৫»।
মৃত্যু:তিনি —আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন— ৩২৭ হিজরী সনে রাই শহরে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। আল্লাহ তাঁকে রহম করুন এবং তাঁর জান্নাতের সুপ্রশস্ত স্থানে বসবাস দান করুন «৬»।
তাঁর রচনাবলী১- আদাবুশ শাফিঈ ওয়া মানাকিবুহু - মুদ্রিত।
(খণ্ড: ١)
তাফসীর ইবনে আবী হাতিম
(পৃষ্ঠা: ١٠)
2- بيان خطأ محمد بن إسماعيل البخاري في تاريخه- طبع.
3- المعرفة- طبع.
4- علل الحديث- طبع.
5- زهد الثمانية من التابعين- طبع.
6- المراسيل- طبع.
7- اصول السنه واعتقاد الدين.
8- الرد على الجهمية.
9- فضائل الإمام أحمد.
10- فوائد أهل الري.
أهمية تفسير ابن أبى حاتم1- امتاز هذا التفسير بأنه جمع بين دفتيه تفسير الكتاب بالسنة وآثار الصحابة والتابعين بالإسناد.
2- اختار أصح الأسانيد.
3- به روايات كثيرة لا توجد لدى غيره وبأسانيده، وانفرد بها، ويدل على هذا أنه من خلال جمع مروياته مثلا من كتاب الدر المنثور للسيوطي نجد أن السيوطي يذكر الرواية ولم ينسبها إلى غير ابن أبى حاتم، وكذلك ابن كثير.
4- حفظ لنا تفسير ابن أبى حاتم كثيرا من التفاسير المفقودة مثل تفسير سعيد بن جبير ومقاتل بن حيان وغيرهما.
5- إن معظم التفاسير تنقل عنه كثيرا من الآثار والروايات التي أوردها، فهو مصدر أصيل معتمد لدى جمهور علماء التفسير في كل العصور بعده.
منهج ابن أبى حاتم في تفسيرهنلاحظ منهجه من مقدمة كتابه حيث قال:
تحريت إخراج التفسير بِأَصَحِّ الْأَخْبَارِ إِسْنَادًا وَأَشْبَهِهَا مَتْنًا، فَإِذَا وَجَدْتُ التفسير عن
২- মুহাম্মাদ বিন ইসমাঈল আল-বুখারীর তাঁর 'তারিখ' গ্রন্থে কৃত ভুলসমূহের বর্ণনা - মুদ্রিত।
৩- আল-মা'রিফাহ - মুদ্রিত।
৪- ইলালুল হাদীস - মুদ্রিত।
৫- তাবিঈদের মধ্য হতে আটজন যাহিদের (দুনিয়াবিমুখ) জীবনী - মুদ্রিত।
৬- আল-মারাসীল - মুদ্রিত।
৭- উসূলে সুন্নাহ ও ইতিকাদুদ দ্বীন (সুন্নাহর মূলনীতি ও দ্বীনের আকিদা)।
৮- আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ (জাহমিয়্যাহ সম্প্রদায়ের খণ্ডন)।
৯- ইমাম আহমদের ফযিলতসমূহ।
১০- রায় অঞ্চলের অধিবাসীদের থেকে প্রাপ্ত ফায়েদাহসমূহ।
ইবন আবী হাতিমের তাফসীরের গুরুত্ব১- এই তাফসীরটি অনন্য হওয়ার কারণ হলো, এটি সুন্নাহ এবং সাহাবী ও তাবিঈদের আসারের (বর্ণনার) মাধ্যমে কুরআনের তাফসীরকে সনদসহ দুই মলাটের মাঝে একত্রিত করেছে।
২- তিনি সবচেয়ে বিশুদ্ধ সনদসমূহ নির্বাচন করেছেন।
৩- এতে এমন অনেক বর্ণনা রয়েছে যা তাঁর সনদসহ অন্য কারও কাছে পাওয়া যায় না এবং এগুলোতে তিনি একক। এর প্রমাণ এই যে, সুয়ূতী রহ.-এর 'আদ-দুররুল মানসুর' গ্রন্থে তাঁর সংগৃহীত বর্ণনাগুলো একত্রিত করলে দেখা যায় যে, সুয়ূতী কোনো বর্ণনা উল্লেখ করে তা কেবল ইবন আবী হাতিমের দিকেই সম্পৃক্ত করেছেন; একইভাবে ইবন কাসীর রহ.-ও করেছেন।
৪- ইবন আবী হাতিমের তাফসীর আমাদের জন্য অনেক বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া তাফসীর সংরক্ষণ করেছে, যেমন সাঈদ ইবন জুবাইর এবং মুকাতিল ইবন হাইয়্যান ও অন্যদের তাফসীর।
৫- অধিকাংশ তাফসীর গ্রন্থ তাঁর বর্ণিত অনেক আসার ও রেওয়ায়েত উদ্ধৃত করে থাকে। ফলে এটি পরবর্তী সকল যুগের জমহুর তাফসীর বিশারদদের নিকট একটি মৌলিক ও নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে গণ্য।
ইবন আবী হাতিমের তাফসীরের মানহাজ (পদ্ধতি)আমরা তাঁর গ্রন্থের ভূমিকা থেকেই তাঁর পদ্ধতি সম্পর্কে অবগত হতে পারি, যেখানে তিনি বলেছেন:
আমি সবচেয়ে বিশুদ্ধ সনদ এবং সামঞ্জস্যপূর্ণ মতন সংবলিত বর্ণনাগুলোর মাধ্যমে তাফসীর সংকলনের প্রয়াস চালিয়েছি। সুতরাং যখন আমি তাফসীর পেয়েছি...
(খণ্ড: ١)
তাফসীর ইবনে আবী হাতিম
(পৃষ্ঠা: ١١)
رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَمْ أَذْكُرْ مَعَهُ أَحَدًا مِنَ الصِّحَابَةِ مِمَّنْ أَتَى بِمِثْلِ ذَلِكَ، وَإِذَا وَجَدْتُهُ عَنِ الصِّحَابَةِ فَإِنْ كانوا متفقين ذكرت أَعْلَاهُمْ دَرَجَةً بِأَصَحِّ الْأَسَانِيدِ، وَسَمَّيْتُ مُوَافِقِيهِمْ بِحَذْفِ اْلِإْسَنادِ، وَإِنْ كَانُوا مُخْتَلِفِينَ ذَكَرْتُ اخْتِلَافَهُمْ وَذَكَرْتُ لِكُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمْ إِسْنَادًا، وَسَمَّيْتُ مُوَافِقِيهِمْ بَحَذْفِ الْإِسْنَادِ، فَإِنْ لَمْ أَجِدْ عَنِ الصِّحَابَةِ وَوَجَدْتُهُ عَنِ التَّابِعِينَ عَمِلْتُ فِيمَا أَجِدُ عَنْهُمْ مَا ذكرته من المثال في الصحابة.
استفادة المفسرين من ابن أبى حاتمفقد أخذ عنه الحسين بن مسعود البغوي في كتابه معالم التنزيل، وشيخ الإسلام ابن تيمية في مجموع الفتاوى، والحافظ ابن كثير نقل عنه في كتابه تفسير القرآن العظيم الشيء الكثير.
وابن حجر العسقلاني في كتابه فتح الباري، وأما السيوطي فقال: فقد لخصت تفسير ابن أبى حاتم في كتابي، وهو الدر المنثور.
والإمام الشوكاني في فتح القدير استفاد منه كثيرا، وغير ذلك من الكتب.
منهجي في تحقيق الكتاب
القسم الأول:(تحقيق الموجود من تفسير ابن أبي حاتم) ، فالموجود من هذا التفسير ما يلي:
- من سورة الفاتحة إلى نهاية سورة الرعد.
- من سورة المؤمنون إلى نهاية العنكبوت.
1- نسخ المخطوط:
نظرا لكون الموجود نسخة واحدة كان النسخ صعبا بعض الشيء، والذي سهل علي النسخ المراجع التي نقلت من هذا التفسير كابن كثير والدر المنثور، أما السقط الموجود بالنسخة فأكملته كما يلي:
1- سقط لوحة من الأصل المصور على ميكروفيلم من سورة البقرة، فأكملته من كتاب تفسير ابن أبي حاتم- سورة البقرة، تحقيق الدكتور أحمد عبد الله الزهراني، طبعة مكتبة الدار بالمدينة المنورة- وكذلك تحقيق الدكتور حكمت بشير
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীসের সাথে আমি এমন কোনো সাহাবীর কথা উল্লেখ করিনি যিনি অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। যখন আমি সাহাবীগণ থেকে কোনো বর্ণনা পেয়েছি, তখন তাঁরা যদি একমত হন, তবে আমি সবচেয়ে বিশুদ্ধ সনদে তাঁদের মধ্যে সর্বোচ্চ মর্যাদাবান সাহাবীর বর্ণনা উল্লেখ করেছি এবং সনদ বাদ দিয়ে তাঁদের সাথে ঐকমত্য পোষণকারী অন্যান্যদের নাম উল্লেখ করেছি। আর যদি তাঁরা মতভেদ করে থাকেন, তবে আমি তাঁদের মতপার্থক্য এবং তাঁদের প্রত্যেকের জন্য একটি করে সনদ উল্লেখ করেছি এবং সনদ বাদ দিয়ে তাঁদের সাথে একমত পোষণকারীদের নাম উল্লেখ করেছি। অতঃপর যদি আমি সাহাবীগণ থেকে কোনো বর্ণনা না পেয়ে তা তাবেঈদের থেকে পাই, তবে আমি তাঁদের ক্ষেত্রেও সাহাবীগণের বর্ণনার ক্ষেত্রে উল্লিখিত পদ্ধতিই অনুসরণ করেছি।
ইবনে আবি হাতিমের গ্রন্থ থেকে মুফাসসিরগণের উপকৃত হওয়াহুসাইন ইবনে মাসউদ আল-বাগাভী তাঁর 'মাআলিমুত তানজীল' গ্রন্থে তাঁর থেকে বর্ণনা গ্রহণ করেছেন। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া তাঁর 'মাজমুউল ফাতাওয়া' গ্রন্থে এবং হাফেজ ইবনে কাসীর তাঁর 'তাফসীরুল কুরআনিল আযীম' গ্রন্থে তাঁর থেকে প্রচুর পরিমাণে উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন।
ইবনে হাজার আল-আসকালানী তাঁর 'ফাতহুল বারী' গ্রন্থে (উদ্ধৃতি দিয়েছেন), আর সুয়ূতী বলেছেন: "আমি ইবনে আবি হাতিমের তাফসীরকে সংক্ষেপ করে আমার 'আদ-দুররুল মানসুর' গ্রন্থে সংকলন করেছি।"
ইমাম শাওকানী তাঁর 'ফাতহুল কাদির' গ্রন্থে তা থেকে প্রচুর উপকৃত হয়েছেন। এছাড়াও অন্যান্য বহু গ্রন্থে তাঁর থেকে উপকৃত হওয়া হয়েছে।
গ্রন্থটির সম্পাদনায় (তাহকীক) আমার অনুসৃত পদ্ধতি
প্রথম অংশ:(ইবনে আবি হাতিমের তাফসীরের বিদ্যমান অংশের সম্পাদনা); এই তাফসীরের যতটুকু অংশ বর্তমানে পাওয়া যায় তা নিম্নরূপ:
- সূরা আল-ফাতিহা থেকে সূরা আর-রা'দ-এর শেষ পর্যন্ত।
- সূরা আল-মুমিনুন থেকে সূরা আল-আনকাবুত-এর শেষ পর্যন্ত।
১- পাণ্ডুলিপি অনুলিখন:
বিদ্যমান কপিটি একটি মাত্র পাণ্ডুলিপি হওয়ায় তা অনুলিখন করা কিছুটা কঠিন ছিল। তবে ইবনে কাসীর এবং আদ-দুররুল মানসুরের মতো যে সকল আকর গ্রন্থে এই তাফসীর থেকে উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে, সেগুলো আমার জন্য এই অনুলিখনের কাজটিকে সহজ করে দিয়েছে। আর মূল পাণ্ডুলিপিতে যে সকল অংশ বিলুপ্ত ছিল, তা আমি নিম্নোক্তভাবে পূরণ করেছি:
১- সূরা বাকারার মাইক্রোফিল্মে ধারণকৃত মূল পাণ্ডুলিপির একটি পৃষ্ঠা বিলুপ্ত ছিল। আমি তা ডক্টর আহমদ আব্দুল্লাহ আয-যাহরানী সম্পাদিত এবং মদীনা মুনাওয়ারার মাকতাবাতুদ দার থেকে প্রকাশিত 'তাফসীরু ইবনে আবি হাতিম' (সূরা বাকারা) এবং ডক্টর হিকমত বশীরের তাহকীক থেকে পূরণ করেছি।
(খণ্ড: ١)
তাফসীর ইবনে আবী হাতিম
(পৃষ্ঠা: ١٢)
لسورة آل عمران، طبعة مكتبة الدار بالمدينة المنورة فقد استفدت استفادة كبيره منها وخاصة في تصحيح الأسانيد، لأن كثيرا من الأسانيد كثيرة الدوران.
2- هنالك سقط من لوحة رقم 114- 115 بها آخر سورة الأعراف وأول سورة الأنفال. فأكملتها من رسالتي الأخ حمد احمد أبي بكر والدكتور عيادة الكبيسي نظرا لأن هؤلاء الأفاضل الكرام استطاعوا الحصول عليها وتصويرها من مصادرها الأصلية.
- قمت بتخريج الأحاديث المرفوعة.
- اكتفيت بتخريج الروايات والآثار من التفاسير المطبوعة التي نقل منها المؤلف مثل: تفسير عبد الرزاق، وتفسير سفيان الثوري، وتفسير مجاهد.
أما التفاسير المفقودة التي أخذ منها المؤلف، فجعلت تفسير ابن أبى حاتم هو الأصل لهذا، ولم أحل إلى التفاسير التي جاءت بعده إلا في حالة تصحيح النص.
- ذكرت الحكم علي الحديث أو الأثر بما قاله العلماء مثل: الحافظ ابن كثير في تفسيره والسيوطي، وكذلك ما قاله ابن حجر في فتح الباري، والحاكم في مستدركه، والترمذي في جامعه.
القسم الثاني:(جمع الروايات المفقودة من التفسير) :
أ- اعتمدت في جمع الروايات علي الكتب الآتية:
1- تفسير القرآن العظيم لابن كثير.
2- الدر المنثور للسيوطي.
3- فتح الباري لابن حجر العسقلاني.
4- تغليق التعليق لابن حجر العسقلاني.
5- فتح القدير للشوكاني.
সূরা আলে ইমরানের ক্ষেত্রে, মদিনা মুনাওয়ারার মাকতাবাতুদ দার সংস্করণ থেকে আমি ব্যাপকভাবে উপকৃত হয়েছি, বিশেষ করে সনদসমূহ সংশোধনের ক্ষেত্রে; কারণ অনেক সনদই বারংবার আবর্তিত হয়েছে।
২- পাণ্ডুলিপির ১১৪-১১৫ নম্বর পাতায় কিছু অংশ বাদ পড়েছিল, যাতে সূরা আল-আরাফের শেষাংশ এবং সূরা আল-আনফালের প্রথমাংশ ছিল। আমি তা ভাই হামাদ আহমদ আবু বকর এবং ডক্টর ইয়াদাহ আল-কুবাইসির অভিসন্দর্ভ থেকে পূর্ণ করেছি; কারণ এই সম্মানিত গুণীজনরা মূল উৎস থেকে তা সংগ্রহ ও কপি করতে সক্ষম হয়েছিলেন।
- আমি মারফু হাদীসসমূহের তাখরিজ (উৎস নির্দেশ) সম্পন্ন করেছি।
- লেখক যেসব মুদ্রিত তাফসীর থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন, যেমন: তাফসীরে আব্দুর রাজ্জাক, তাফসীরে সুফিয়ান সাওরি এবং তাফসীরে মুজাহিদ; আমি সেই সব কিতাব থেকে বর্ণনা ও আসারসমূহের (সাহাবী ও তাবিঈদের উক্তি) তাখরিজ করার ওপরই যথেষ্ট করেছি।
আর লেখক যেসব বিলুপ্ত তাফসীর থেকে উদ্ধৃতি গ্রহণ করেছেন, সেক্ষেত্রে আমি ইবনে আবি হাতেমের তাফসীরকে মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছি। মূল পাঠ সংশোধনের প্রয়োজন ব্যতীত এর পরবর্তী তাফসীরগ্রন্থগুলোর দিকে আমি রেফারেন্স প্রদান করিনি।
- হাদীস বা আসারের গুণাগুণ তথা হুকুম নির্ধারণের ক্ষেত্রে আমি উলামায়ে কেরামের বক্তব্য উল্লেখ করেছি; যেমন: হাফেজ ইবনে কাসীর তার তাফসীরে এবং সুয়ূতী যা বলেছেন, অনুরূপভাবে ইবনে হাজার ফাতহুল বারীতে, হাকেম তার মুসতাদরাকে এবং তিরমিযী তার জামে-তে যা উল্লেখ করেছেন।
দ্বিতীয় অংশ:(তাফসীরের বিলুপ্ত বর্ণনাগুলো সংগ্রহ করা):
ক- বর্ণনাগুলো সংগ্রহের ক্ষেত্রে আমি নিম্নোক্ত কিতাবগুলোর ওপর নির্ভর করেছি:
১- ইবনে কাসীরের তাফসীরুল কুরআনিল আজিম।
২- সুয়ূতীর আদ-দুররুল মানসুর।
৩- ইবনে হাজার আসকালানীর ফাতহুল বারী।
৪- ইবনে হাজার আসকালানীর তাগলীকুত তালীক।
৫- শাওকানীর ফাতহুল কাদীর।
(খণ্ড: ١)
তাফসীর ইবনে আবী হাতিম
(পৃষ্ঠা: ١٣)
وصف المخطوطاعتمدت في تحقيق تفسير ابن ابي حاتم نسخه وحيده من عدة أجزاء نسخه صورتها من معهد البحوث العلمية بجامعة أم القرى ونسخة مكررة منها وأوضح قليلا في كثير من صفحاتها من الأخ الأستاذ/ محمد بن عبد الله الحوثي جزاه الله خيرا.
1- جزء يبدأ من سورة الأنفال الى سورة الرعد عدد الأوراق 260 ورقة في كل صفحة 23 سطر وخطها مغربي وأصلها بالمكتبة المحمودية بالمدينة المنورة برقم 50 تفسير ورقمها بمعهد البحوث 108 تفسير 2- جزء به تفسير سورة المؤمنون الى نهاية تفسير سورة العنكبوت عدد الأوراق 284 ورقه في كل صفحه 24 سطر وخطها مغربي وأصلها بدار الكتب المصرية برقم 15 تفسير. ورقمها بمعهد البحوث 106 تفسير.
3- جزء يبدأ من أول المصحف الى جزء من سورة آل عمران عدد الأوراق 248 ورقه في كل صفحه 23 سطر خطها مغربي وأصلها بدار الكتب المصرية برقم 15 تفسير ورقمها بمعهد البحوث 104 تفسير.
4- جزء به تفسير سورة المائدة الى بعض من سورة الأنفال عدد الأوراق 243 ورقة في كل صفحه 24 سطر خطها مغربي.
أصلها بالمكتبة المحمودية برقم 49 تفسير ورقمها بمعهد البحوث 107 تفسير.
5- جزء به تفسير سورتا آل عمران والنساء.
عدد الأوراق 205 ورقة في كل صفحه 23 سطر خطها نسخي معتاد أصلها بمكتبة أياصوفيا بتركيا.
পাণ্ডুলিপির বিবরণইবনে আবি হাতিমের তাফসীর সম্পাদনার (তাহকীক) ক্ষেত্রে আমি বিভিন্ন খণ্ডের সমন্বয়ে গঠিত একটি অনন্য পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি। এই পাণ্ডুলিপিটির একটি অনুলিপি আমি উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈজ্ঞানিক গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে সংগ্রহ করেছি। এছাড়া শ্রদ্ধেয় ভাই উস্তাদ মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-হাউসী—আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দান করুন—এর নিকট থেকে এর একটি অনুলিপি পেয়েছি, যার অনেক পৃষ্ঠা মূল অনুলিপির তুলনায় কিছুটা বেশি স্পষ্ট।
১- একটি খণ্ড যা সূরা আল-আনফাল থেকে শুরু হয়ে সূরা আর-রাদ পর্যন্ত বিস্তৃত। এর পত্রসংখ্যা ২৬০। প্রতি পৃষ্ঠায় ২৩টি লাইন এবং এর লিপি মাগরিবী। এর মূল কপিটি মদিনা মুনাওয়ারার মাহমুদিয়া লাইব্রেরিতে ৫০ নম্বর তাফসীর হিসেবে সংরক্ষিত এবং গবেষণা ইনস্টিটিউটে এর নম্বর ১০৮ তাফসীর। ২- একটি খণ্ড যাতে সূরা আল-মুমিনুন থেকে সূরা আল-আনকাবুত-এর শেষ পর্যন্ত তাফসীর রয়েছে। এর পত্রসংখ্যা ২৮৪। প্রতি পৃষ্ঠায় ২৪টি লাইন এবং এর লিপি মাগরিবী। এর মূল কপিটি মিশরের 'দারুল কুতুব'-এ ১৫ নম্বর তাফসীর হিসেবে সংরক্ষিত এবং গবেষণা ইনস্টিটিউটে এর নম্বর ১০৬ তাফসীর।
৩- একটি খণ্ড যা মুসহাফের শুরু থেকে সূরা আলে ইমরানের একটি অংশ পর্যন্ত বিস্তৃত। এর পত্রসংখ্যা ২৪৮। প্রতি পৃষ্ঠায় ২৩টি লাইন এবং এর লিপি মাগরিবী। এর মূল কপিটি মিশরের 'দারুল কুতুব'-এ ১৫ নম্বর তাফসীর হিসেবে সংরক্ষিত এবং গবেষণা ইনস্টিটিউটে এর নম্বর ১০৪ তাফসীর।
৪- একটি খণ্ড যাতে সূরা আল-মায়েদা থেকে সূরা আল-আনফাল-এর কিছু অংশ পর্যন্ত তাফসীর রয়েছে। এর পত্রসংখ্যা ২৪৩। প্রতি পৃষ্ঠায় ২৪টি লাইন এবং এর লিপি মাগরিবী।
এর মূল কপিটি মাহমুদিয়া লাইব্রেরিতে ৪৯ নম্বর তাফসীর হিসেবে সংরক্ষিত এবং গবেষণা ইনস্টিটিউটে এর নম্বর ১০৭ তাফসীর।
৫- একটি খণ্ড যাতে সূরা আলে ইমরান এবং সূরা আন-নিসা-এর তাফসীর রয়েছে।
এর পত্রসংখ্যা ২০৫। প্রতি পৃষ্ঠায় ২৩টি লাইন এবং এর লিপি প্রচলিত নাসখী। এর মূল কপিটি তুরস্কের আয়া সোফিয়া লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত।
(খণ্ড: ١)
তাফসীর ইবনে আবী হাতিম
(পৃষ্ঠা: ١٤)
مقدمة المؤلفبِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ، وَصَلَّى اللَّهُ عَلَى مُحَمَّدٍ وَآلِهِ.
قَالَ الشَّيْخُ الْإِمَامُ «الْحَافِظُ» أَبُو مُحَمَّدٍ ابْنُ الْإِمَامِ الْحَافِظِ الْكَبِيرِ أَبِى حَاتِمٍ- مُحَمَّدِ بْنِ إِدْرِيسَ الرَّازِيُّ- رحمه الله وَرَضِيَ عَنْهُ:
الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ، وَصَلَّى اللَّهُ عَلَى مُحَمَّدٍ خَاتِمِ الْأَنْبِيَاءِ وَعَلَى آلِهِ أَجْمَعِينَ.
سَأَلَنِي جَمَاعَةٌ ِمْن إِخْوَانِي إِخْرَاجَ تَفْسِيرِ الْقُرْآنِ مُخْتَصَرًا بأصح الأسانيد، وحذف الطرق والشواهد والحروف والروايات، وَتَنْزِيلِ السُّوَرِ، وَأَنْ نَقْصِدَ لِإِخْرَاجِ التَّفْسِيرِ مُجَرَّدًا دُونَ غَيْرِهِ، مُتَقَصِّينَ تَفْسِيرَ الْآيِ حَتَّى لَا نَتْرُكَ حَرْفًا مِنَ الْقُرْآنِ يُوجَدُ لَهُ تَفْسِيرٌ إِلَّا أُخْرِجَ ذَلِكَ.
فَأَجَبْتُهُمْ إِلَى مُلْتَمَسِهِمْ، وَبِاللَّهِ التَّوْفِيقِ، وَإِيَّاهُ نَسْتَعِينُ، وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ.
فَتَحَرَّيْتُ إِخْرَاجَ ذَلِكَ بِأَصَحِّ الْأَخْبَارِ إِسْنَادًا، وَأَشْبَهِهَا مَتْنًا، فَإِذَا وَجَدْتُ التَّفْسِيرَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَمْ أَذْكُرْ مَعَهُ أَحَدًا مِنَ الصِّحَابَةِ مِمَّنْ أَتَى بِمِثْلِ ذَلِكَ، وَإِذَا وَجَدْتُهُ عَنِ الصِّحَابَةِ فَإِنْ كَانُوا مُتَّفِقِينَ ذَكَرْتُهُ عَنْ أَعْلَاهُمْ دَرَجَةً بِأَصَحِّ الْأَسَانِيدِ، وَسَمَّيْتُ مُوَافِقِيهِمْ بِحَذْفِ اْلِإْسَنادِ.
وَإِنْ كَانُوا مُخْتَلِفِينَ ذَكَرْتُ اخْتِلَافَهُمْ وَذَكَرْتُ لِكُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمْ إِسْنَادًا، وَسَمَّيْتُ مُوَافِقِيهِمْ بَحَذْفِ الْإِسْنَادِ، فَإِنْ لَمْ أَجِدْ عَنِ الصِّحَابَةِ وَوَجَدْتُهُ عَنِ التَّابِعِينَ عَمِلْتُ فِيمَا أَجِدُ عَنْهُمْ مَا ذَكَرْتُهُ مِنَ الْمِثَالِ فِي الصِّحَابَةِ، وَكَذَا أَجْعَلُ الْمِثَالَ فِي أَتْبَاعِ التَّابِعِينَ وَأَتْبَاعِهِمْ. جَعَلَ اللَّهُ ذَلِكَ لِوَجْهِهِ خاَلِصًا، وَنَفَعَ بِهِ.
فَأَمَّا مَا ذَكَرْنَا عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ فِي سُورَةِ الْبَقَرَةِ بِلَا إِسْنَادٍ فَهُوَ مَا:
حَدَّثَنَا عِصَامُ بْنُ رَوَّادٍ الْعَسْقَلانِيُّ ثنا آدَمُ عَنْ أَبِي جَعْفَرٍ الرَّازِيِّ عَنِ الرَّبِيعِ بْنِ أَنَسٍ عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ.
লেখকের ভূমিকাপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো উপায় ও কোনো শক্তি নেই। আল্লাহ দরুদ বর্ষণ করুন মুহাম্মাদ ও তাঁর পরিবারবর্গের ওপর।
শায়খ, ইমাম, হাফেজ আবু মুহাম্মাদ—যিনি মহান ইমাম ও হাফেজ আবু হাতিম মুহাম্মাদ ইবনে ইদরিস আর-রাজীর পুত্র—(আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন এবং তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বলেন:
সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক শেষ নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর সকল পরিজনের ওপর।
আমার একদল দ্বীনি ভাই আমার কাছে আবেদন জানিয়েছেন যেন আমি বিশুদ্ধতম সনদসমূহের ভিত্তিতে সংক্ষেপে আল-কুরআনের একটি তাফসীর সংকলন করি; যেখানে দীর্ঘ সূত্রসমূহ, অতিরিক্ত সমর্থনমূলক বর্ণনা, বিভিন্ন পাঠরীতি ও বর্ণনাধারা এবং সূরাসমূহের অবতরণ সংক্রান্ত বাহুল্য বর্জন করা হবে। আমাদের উদ্দেশ্য হবে কেবল মূল তাফসীরটুকুই তুলে ধরা, অন্য কিছু নয়। আয়াতের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে আমরা পূর্ণ অনুসন্ধান চালাব, যেন কুরআনের এমন কোনো শব্দ বাদ না পড়ে যার কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়, অথচ আমরা তা উল্লেখ করিনি।
আমি তাঁদের আবেদনে সাড়া দিয়েছি। আল্লাহই তাওফীক দানকারী এবং আমরা কেবল তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করি। আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো উপায় ও কোনো শক্তি নেই।
আমি সনদ বা বর্ণনাসূত্রের দিক থেকে বিশুদ্ধতম এবং পাঠের দিক থেকে অধিক নির্ভরযোগ্য বর্ণনাগুলো সংকলনের চেষ্টা করেছি। আমি যখন রাসূলুল্লাহ (আল্লাহ তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন) থেকে কোনো তাফসীর পেয়েছি, তখন তাঁর সাথে একই ধরণের ব্যাখ্যা প্রদানকারী কোনো সাহাবীর নাম উল্লেখ করিনি। আর যখন তা সাহাবীগণের নিকট থেকে পেয়েছি এবং তাঁরা কোনো বিষয়ে একমত হয়েছেন, তখন আমি তাঁদের মধ্যে সুউচ্চ মর্যাদাবান সাহাবীর পক্ষ থেকে তা বিশুদ্ধতম সনদে উল্লেখ করেছি এবং যারা তাঁর সাথে একমত হয়েছেন তাঁদের সনদ বর্জন করে কেবল নাম উল্লেখ করেছি।
যদি তাঁরা কোনো বিষয়ে মতভেদ করেন, তবে আমি তাঁদের মতভিন্নতা এবং তাঁদের প্রত্যেকের জন্য একটি করে সনদ উল্লেখ করেছি এবং যারা তাঁদের সাথে একমত হয়েছেন তাঁদের নাম উল্লেখ করেছি সনদ ছাড়াই। যদি আমি সাহাবীগণের পক্ষ থেকে কোনো ব্যাখ্যা না পেয়ে তাবিঈগণের পক্ষ থেকে পাই, তবে তাঁদের ক্ষেত্রেও আমি সাহাবীগণের ক্ষেত্রে বর্ণিত পদ্ধতির অনুরূপ আমল করেছি। তদ্রূপ তাবি-তাবিঈন ও তাঁদের পরবর্তী প্রজন্মের বর্ণনার ক্ষেত্রেও একই পদ্ধতি অবলম্বন করেছি। আল্লাহ যেন এই কাজকে কেবল তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন এবং এর মাধ্যমে কল্যাণ দান করেন।
আর সূরা আল-বাকারায় আবুল আলিয়া থেকে আমি সনদ ছাড়া যা কিছু উল্লেখ করেছি, তা নিম্নরূপ:
আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসাম ইবনে রাওয়াদ আল-আসকালানী, তিনি বর্ণনা করেছেন আদম থেকে, তিনি আবু জাফর আর-রাজী থেকে, তিনি রাবী ইবনে আনাস থেকে, তিনি আবুল আলিয়া থেকে।
(খণ্ড: ١)
তাফসীর ইবনে আবী হাতিম
(পৃষ্ঠা: ١٥)
وَمَا ذَكَرْنَا فِيهِ عَنِ السُّدِّىِّ بِلَا إِسْنَادٍ فَهُوَ مَا:
حَدَّثَنَا أَبُو زُرْعَةَ عَمْرُو بْنُ حَمَّادِ بْنِ طَلْحَةَ ثنا أَسْبَاطٌ عَنِ السدى.
وَمَا ذَكَرْنَا عَنِ الرَّبِيعِ بْنِ أَنَسٍ بِلَا إِسْنَادٍ فَهُوَ مَا:
حَدَّثَنَا أَبِي ثنا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الدَّشْتَكِيُّ ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي جَعْفَرٍ عَنْ أَبِيهِ عَنِ الرَّبِيعِ بْنِ أَنَسٍ.
وَمَا ذَكًرْنَا فِيهِ عَنْ مُقَاتِلٍ فَهُوَ مَا:
قَرَأْتُ عَلَى مُحَمَّدِ بْنِ الْفَضْلِ بْنِ مُوسَى، عَنْ مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ شَقِيقٍ، عَنْ مُحَمَّدُ بْنُ مُزَاحِمٍ، عَنْ بُكَيْرِ بْنِ مَعْرُوفٍ، عن مقاتل.
আর আমরা এতে আস-সুদ্দী থেকে সনদবিহীনভাবে যা কিছু উল্লেখ করেছি, তা হলো সেই বর্ণনা যা:
আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু যুরআ আমর ইবনে হাম্মাদ ইবনে তালহা, তিনি আসবাত থেকে, তিনি আস-সুদ্দী থেকে।
আর আর-রাবী ইবনে আনাস থেকে আমরা সনদবিহীনভাবে যা কিছু উল্লেখ করেছি, তা হলো সেই বর্ণনা যা:
আমাদের নিকট আমার পিতা বর্ণনা করেছেন, তিনি আহমাদ ইবনে আব্দুর রহমান আদ-দাশতাকী থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আবু জাফর থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আর-রাবী ইবনে আনাস থেকে।
আর এতে মুকাতিল থেকে আমরা যা কিছু উল্লেখ করেছি, তা হলো সেই বর্ণনা যা:
আমি মুহাম্মদ ইবনে ফাযল ইবনে মূসার নিকট পাঠ করেছি, তিনি মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে হাসান ইবনে শাকীক থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে মুযাহিম থেকে, তিনি বুকাইর ইবনে মারূফ থেকে, তিনি মুকাতিল থেকে।
(খণ্ড: ١)
তাফসীর ইবনে আবী হাতিম
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
[سورة] فاتحة الكتاب
تفسير قوله: بسم الله
[الوجه الأول] 1 - حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ طَاهِرٍ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلَاءِ- يَعْنِي أَبَا كُرَيْبٍ- الهمداني، ثنا عثمان بْنُ سَعِيدٍ- يَعْنِي الزَّيَّاتَ- الْكُوفِيَّ، ثنا بِشْرُ بْنُ عُمَارَةَ عَنْ أَبِي رَوْقٍ، عَنِ الضحاك، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: أَوَّلُ مَا نَزَلَ جِبْرِيلُ عَلى مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَهُ جِبْرِيلُ قُلْ: بِسْمِ اللَّهِ يَا مُحَمَّدُ. يَقُولُ: اقْرَأْ بِذِكْرِ رَبِّكَ، قُمْ وَاقْعُدْ بِذِكْرِهِ «1» .
وَالوجه الثَّانِي:2 - حَدَّثَنَا أَبِي، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بن ابْنَةِ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبِي سُلَيْمَانَ، ثنا أَبِي، عَنْ جُوَيْبِرٍ، عَنِ الضَّحَّاكِ فِي قَوْلِهِ: بِسْمِ اللَّهِ قَالَ: الْبَاءُ مِنْ بَهَاءِ اللَّهِ وَالسِّينُ مِنْ سَنَاءِ اللَّهِ وَالْمِيمُ مِنْ مُلْكِ اللَّهِ. وَاللَّهُ: يَا إِلَهَ الْخَلْقِ «2» .
3 - حَدَّثَنَا عِصَامُ بْنُ رَوَّادِ بْنِ الْجَرَّاحِ الْعَسْقَلانِيُّ، ثنا آدَمُ، ثنا أَبُو هِلالٍ الرَّاسِبِيُّ، ثنا حَيَّانُ الأَعْرَجُ عَنْ أَبِي الشَّعْثَاءِ جَابِرِ بْنِ زَيْدٍ فِي قَوْلِهِ: بِسْمِ اللَّهِ قَالَ: اسْمُ اللَّهِ الأَعْظَمُ هُوَ اللَّهُ. أَلا تَرَى أَنَّهُ فِي جَمِيعِ الْقُرْآنِ يَبْدَأُ بِهِ قَبْلَ كُلِّ اسْمٍ «3» .
قَوْلُهُ عز وجل: الرَّحْمَنِ4 - حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ طَاهِرٍ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلَاءِ- يَعْنِي أَبَا كُرَيْبٍ- الْهَمْدَانِيَّ، ثنا عُثْمَانُ بْنُ سَعِيدٍ- يَعْنِي الزَّيَّاتَ- الْكُوفِيَّ ثنا بِشْرُ بْنُ عُمَارَةَ عَنْ أَبِي رَوْقٍ، عَنِ الضَّحَّاكِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: أَوَّلُ مَا نَزَلَ جِبْرِيلُ عَلى مُحَمَّدٍ- صلى الله عليه وسلم قَالَ لَهُ جِبْرِيلُ قُلْ يَا مُحَمَّدُ بِسْمِ اللَّهِ. يَقُولُ: اقْرَأْ بِذِكْرِ رَبِّكَ وَقُمْ وَاقْعُدْ بِذِكْرِهِ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنُ، قَالَ يَقُولُ: الرَّحْمَنُ: الْفَعْلانُ مِنَ الرَّحْمَةِ، وَهُوَ مِنْ كَلامِ الْعَرَبِ.
5 - حَدَّثَنَا أَبِي، ثنا جَعْفَرِ بْنِ مُسَافِرٍ ثنا زَيْدُ بْنُ الْمُبَارَكِ الصَّنْعَانِيُّ، ثنا سَلامُ بْنُ وَهْبٍ الْجَنَدِيُّ ثنا أَبِي عَنْ طَاوُسٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ- صلى الله عليه وسلم عَنْ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ فَقَالَ: هُوَ اسْمٌ مِنْ أَسْمَاءِ اللَّهِ، وَمَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ اسْمِ اللَّهِ إِلا كَمَا بَيْنَ سَوَادِ الْعَيْنَيْنِ وَبَيَاضِهِمَا مِنَ القرب.
[সুরা] ফাতিহাতুল কিতাববিসমিল্লাহ-এর তাফসীর[প্রথম পরিচ্ছেদ] ১ - আলী ইবনে তাহির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি মুহাম্মাদ ইবনুল আলা—অর্থাৎ আবু কুরাইব—আল-হামদানি থেকে, তিনি উসমান ইবনে সাঈদ—অর্থাৎ আল-যায়্যাত—আল-কুফি থেকে, তিনি বিশর ইবনে উমারা থেকে, তিনি আবু রওক থেকে, তিনি যাহহাক থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: জিবরাঈল (আ.) যখন সর্বপ্রথম মুহাম্মদ (সা.)-এর নিকট অবতীর্ণ হলেন, তখন তিনি তাকে বললেন: হে মুহাম্মদ, আপনি বলুন: ‘বিসমিল্লাহ’ (আল্লাহর নামে শুরু করছি)। এর অর্থ হলো: আপনি আপনার রবের স্মরণে পাঠ করুন এবং তাঁরই স্মরণে দাঁড়ান ও বসুন।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ:২ - আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি মুহাম্মাদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আবদিল মালিক ইবনে আবি সুলাইমানের কন্যার পুত্র থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি জুওয়াইবির থেকে, তিনি যাহহাক থেকে ‘বিসমিল্লাহ’ প্রসঙ্গে বর্ণনা করেন: তিনি বলেছেন, (বিসমিল্লাহর) ‘বা’ হলো আল্লাহর সৌন্দর্য (বাহা), ‘সীন’ হলো আল্লাহর মহিমা (সানা) এবং ‘মীম’ হলো আল্লাহর রাজত্ব (মুলক)। আর ‘আল্লাহ’ অর্থ: হে সৃষ্টির ইলাহ।
৩ - ইসাম ইবনে রাওয়াদ ইবনুল জাররাহ আল-আসকালানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আদম থেকে, তিনি আবু হিলাল আল-রাসিবি থেকে, তিনি হাইয়ান আল-আ'রাজ থেকে, তিনি আবুশ শা'সা জাবির ইবনে যায়েদ থেকে ‘বিসমিল্লাহ’ প্রসঙ্গে বর্ণনা করেন: তিনি বলেন: আল্লাহর ইসমে আযম বা মহান নাম হলো ‘আল্লাহ’। আপনি কি লক্ষ্য করেন না যে, সমগ্র কুরআনে প্রতিটি নামের আগে এটি দিয়ে শুরু করা হয়েছে?
মহান আল্লাহর বাণী: আর-রাহমান৪ - আলী ইবনে তাহির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি মুহাম্মাদ ইবনুল আলা—অর্থাৎ আবু কুরাইব—আল-হামদানি থেকে, তিনি উসমান ইবনে সাঈদ—অর্থাৎ আল-যায়্যাত—আল-কুফি থেকে, তিনি বিশর ইবনে উমারা থেকে, তিনি আবু রওক থেকে, তিনি যাহহাক থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: জিবরাঈল (আ.) যখন সর্বপ্রথম মুহাম্মদ (সা.)-এর নিকট অবতীর্ণ হলেন, তখন তিনি তাকে বললেন: হে মুহাম্মদ, আপনি বলুন: ‘বিসমিল্লাহ’। তিনি বলছেন: আপনার রবের স্মরণে পাঠ করুন এবং তাঁরই স্মরণে দাঁড়ান ও বসুন। ‘বিসমিল্লাহির রহমান’; তিনি বলেন: ‘আর-রাহমান’ শব্দটি ‘রাহমত’ থেকে ‘ফালান’ ওজনে গঠিত, যা আরবদের ভাষাভুক্ত।
৫ - আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি জাফর ইবনে মুসাফির থেকে, তিনি যায়েদ ইবনুল মুবারক আস-সানআনি থেকে, তিনি সালাম ইবনে ওয়াহাব আল-জানাদি থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাউস থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, উসমান ইবনে আফফান (রা.) রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম’ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি বললেন: এটি আল্লাহর নামসমূহের মধ্য হতে একটি নাম। এর এবং আল্লাহর মহান নামের মধ্যকার দূরত্ব কেবল চোখের মণি ও তার শুভ্রাংশের মধ্যবর্তী দূরত্বের ন্যায় নিকটবর্তী।
(খণ্ড: ١)
তাফসীর ইবনে আবী হাতিম
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
قَوْلُهُ: الرَّحِيمِ6 - حَدَّثَنَا ابْنُ طَاهِرٍ ثنا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاءِ- يَعْنِي أَبَا كُرَيْبٍ الهمداني- ثنا عُثْمَانُ بْنُ سَعِيدٍ- يَعْنِي الزَّيَّاتَ- ثنا بِشْرُ بْنُ عُمَارَةَ، عَنْ أَبِي رَوْقٍ، عَنِ الضَّحَّاكِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: أَوَّلُ مَا نَزَلَ جِبْرِيلُ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَهُ جِبْرِيلُ: قُلْ: بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ، يَقُولُ: الرَّحِيمِ: الرَّقِيقُ الرَّفِيقُ لِمَنْ أَحَبَّ أَنْ يَرْحَمَهُ، الْبَعِيدُ الشَّدِيدُ عَلَى مَنْ أَحَبَّ أَنْ يُعَنِّفَ عَلَيْهِ الْعَذَابَ.
7 - حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدِ بْنُ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ الْقَطَّانُ، ثنا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ حَدَّثَنِي، أَبُو الأَشْهَبِ عَنِ الْحَسَنِ، قَالَ: الرَّحْمَنِ اسْمٌ لَا يَسْتَطِيعُ النَّاسُ أَنْ يَنْتَحِلُوهُ، تَسَمَّى بِهِ تبارك وتعالى.
قَوْلُهُ عز وجل: الْحَمْدُ لله
[الوجه الأول] 8 - حَدَّثَنَا أَبِي، ثنا أَبُو مَعْمَرٍ الْمِنْقَرِيُّ ثنا عَبْدُ الْوَارِثِ، ثنا عَلِيُّ بْنُ زَيْدِ بْنِ جُدْعَانَ عَنْ يُوسُفَ بْنِ مِهْرَانَ قَالَ: قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: الْحَمْدُ لِلَّهِ كَلِمَةُ الشُّكْرِ، وَإِذَا قَالَ الْعَبْدُ:
الْحَمْدُ لِلَّهِ، قَالَ: شَكَرَنِي عَبْدِي.
9 - حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ طَاهِرٍ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاءِ- يَعْنِي أَبَا كُرَيْبٍ- ثنا عُثْمَانُ بْنُ سَعِيدٍ- يَعْنِي الزَّيَّاتَ- ثنا بِشْرُ بْنُ عُمَارَةَ، عَنْ أَبِي رَوْقٍ، عَنِ الضَّحَّاكِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ: الْحَمْدُ لِلَّهِ هُوَ الشُّكْرُ لِلَّهِ، الاسْتِجْدَاءُ لِلَّهِ، وَالإِقْرَارُ لَهُ بِنِعَمِهِ وَابْتِدَائِهِ وَغَيْرِ ذَلِكَ.
الْوَجْهُ الثَّانِي:10 - حَدَّثَنَا أَبِي، ثنا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، ثنا وُهَبٌ ثنا سُهَيْلُ بْنُ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ عَنِ السَّلُولِيِّ عَنْ كَعْبٍ قَالَ: الْحَمْدُ لِلَّهِ ثَنَاءٌ عَلَى اللَّهِ.
الْوَجْهُ الثَّالِثُ:11 - حَدَّثَنَا أَبِي، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحِيمِ الْفَارِسِيُّ، ثنا بَزِيعٌ أَبُو حَازِمٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ- يعْنِي أَبَا بَسْطامٍ- عَنِ الضَّحَّاكِ قَالَ: الْحَمْدُ رِدَاءُ الرَّحْمَنِ.
তাঁর বাণী: আর-রাহীম৬ - আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইবনে তাহির, তিনি বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনুল আলা থেকে—অর্থাৎ আবু কুরায়ব আল-হামদানী—তিনি বর্ণনা করেছেন উসমান ইবনে সাঈদ থেকে—অর্থাৎ আয-যায়্যাত—তিনি বর্ণনা করেছেন বিশর ইবনে উমারা থেকে, তিনি আবু রওক থেকে, তিনি আদ-দাহহাক থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: জিবরাঈল (আ.) যখন সর্বপ্রথম নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট অবতীর্ণ হলেন, তখন জিবরাঈল তাঁকে বললেন: বলুন: ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম’। তিনি বলেন: ‘আর-রাহীম’ অর্থ: যাকে তিনি দয়া করতে পছন্দ করেন তার প্রতি অত্যন্ত কোমল ও দয়ালু; আর যার ওপর তিনি কঠোর শাস্তি দিতে পছন্দ করেন তার প্রতি অত্যন্ত কঠোর ও প্রবল।
৭ - আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু সাঈদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান, তিনি বর্ণনা করেছেন যায়েদ ইবনুল হুবাব থেকে, তিনি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল আশহাব থেকে, তিনি হাসান (বসরী) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ‘আর-রহমান’ এমন একটি নাম যা মানুষ নিজের জন্য ব্যবহার করতে পারে না, বরকতময় ও সুউচ্চ আল্লাহ এই নামে স্বয়ং অভিহিত হয়েছেন।
মহান আল্লাহর বাণী: আল-হামদুলিল্লাহ
[প্রথম প্রেক্ষিত] ৮ - আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আমার পিতা, তিনি বর্ণনা করেছেন আবু মা’মার আল-মিনকারী থেকে, তিনি বর্ণনা করেছেন আব্দুল ওয়ারিস থেকে, তিনি আলী ইবনে যায়েদ ইবনে জুদআন থেকে, তিনি ইউসুফ ইবনে মিহরান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ইবনে আব্বাস (রাযি.) বলেছেন: ‘আল-হামদুলিল্লাহ’ হলো কৃতজ্ঞতার বাক্য। যখন কোনো বান্দা বলে: ‘আল-হামদুলিল্লাহ’, তখন আল্লাহ বলেন: ‘আমার বান্দা আমার কৃতজ্ঞতা আদায় করেছে।’
৯ - আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আলী ইবনে তাহির, তিনি বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনুল আলা থেকে—অর্থাৎ আবু কুরায়ব—তিনি বর্ণনা করেছেন উসমান ইবনে সাঈদ থেকে—অর্থাৎ আয-যায়্যাত—তিনি বর্ণনা করেছেন বিশর ইবনে উমারা থেকে, তিনি আবু রওক থেকে, তিনি আদ-দাহহাক থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেন: ‘আল-হামদুলিল্লাহ’ হলো আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা, আল্লাহর কাছে যাঞ্চা করা এবং তাঁর নিআমতরাজি, সৃষ্টিজগত শুরু করা এবং অন্যান্য বিষয়ের স্বীকৃতি প্রদান করা।
দ্বিতীয় প্রেক্ষিত:১০ - আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আমার পিতা, তিনি বর্ণনা করেছেন মুসা ইবনে ইসমাইল থেকে, তিনি বর্ণনা করেছেন ওহাব থেকে, তিনি সুহাইল ইবনে আবু সালিহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আস-সালুলী থেকে, তিনি কাব (আল-আহবার) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ‘আল-হামদুলিল্লাহ’ হলো আল্লাহর প্রশংসা।
তৃতীয় প্রেক্ষিত:১১ - আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আমার পিতা, তিনি বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আব্দুর রহীম আল-ফারিসী থেকে, তিনি বর্ণনা করেছেন বযী’ আবু হাযিম থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে আব্দুর রহমান থেকে—অর্থাৎ আবু বাসতাম—তিনি আদ-দাহহাক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ‘আল-হামদু’ (প্রশংসা) হলো পরম দয়াময় আল্লাহর চাদর।
(খণ্ড: ١)
তাফসীর ইবনে আবী হাতিম
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
الْوَجْهُ الرَّابِعُ:12 - حَدَّثَنَا أَبِي، ثنا أَبُو مَعْمَرٍ الْقَطِيعِيُّ ثنا حَفْصٌ عَنْ حَجَّاجٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: قَالَ عُمَرُ: قَدْ عَلِمْنَا سُبْحَانَ اللَّهِ، وَلا إِلَهَ إِلا اللَّهُ، فَمَا الْحَمْدُ لِلَّهِ؟ فَقَالَ عَلِيٌّ: كَلِمَةٌ رَضِيَهَا اللَّهُ لِنَفْسِهِ. قَالَ أَبُو مُحَمَّدٍ: كَذَا رَوَاهُ أَبُو مَعْمَرٍ الْقَطِيعِيُّ، عَنْ حَفْصٍ.
13 - وَحَدَّثَنَا بِهِ الأَشَجُّ فَقَالَ: ثنا حَفْصٌ. وَخَالَفَهُ فِيهِ، فَقال فِيهِ: قَالَ عُمَرُ لِعَلِيٍّ رضي الله عنهما وَأَصْحَابُهُ عِنْدَهُ: لَا إِلَهَ إِلا اللَّهُ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ، قَدْ عَرَفْنَاهَا، فَمَا سُبْحَانَ اللَّهِ؟ فَقَالَ عَلِيٌّ: كَلِمَةٌ أَحَبَّهَا لِنَفْسِهِ، وَرَضِيَهَا لِنَفْسِهِ، وَأَحَبَّ أَنْ تُقَالَ.
قَوْلُهُ تَعَالَى: رَبِّ الْعَالَمِينَ
[الوجه الأول] 14 - حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ طَاهِرٍ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ العلا- يعني- أبا كريب- ثنا عثمان ابن سَعِيدٍ- يَعْنِي الزَّيَّاتَ- ثنا بِشْرُ بْنُ عُمَارَةَ عَنْ أَبِي رَوْقٍ عَنِ الضَّحَّاكِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: ثُمَّ قَالَ جِبْرِيلُ عليه السلام: قَالَ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ، قَالَ: يَا مُحَمَّدُ، لَهُ الْخَلْقُ كُلُّهُ، السَّمَاوَاتُ كُلُّهُنَّ وَمَنْ فِيهِنَّ، وَالأَرْضُونَ كُلُّهُنَّ وَمَنْ فِيهِنَّ، وَمَا بَيْنَهُنَّ مِمَّا يُعْلَمُ وَمِمَّا لَا يُعْلَمُ.
وَالوجه الثَّانِي:15 - حَدَّثَنَا أَبِي، ثنا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، ثنا أَبُو جَعْفَرٍ الرَّازِيُّ عَنِ الرَّبِيعِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ: رَبِّ الْعَالَمِينَ. قَالَ: الإِنْسُ عَالَمٌ، وَالْجِنُّ عَالَمٌ، وَمَا سِوَى ذَلِكَ ثَمَانِيَةَ عَشَرَ أَلْفَ عَالَمٍ، أَوْ أَرْبَعَةَ عَشَر أَلْفَ عَالَمٍ، مِنَ الْمَلائِكَةِ عَلَى الأَرْضِ. وَالأَرْضُ أَرْبَعُ زَوَايَا، فَفِي كُلِّ زَاوِيَةٍ ثَلاثَةُ آلافِ عَالَمٍ، وَخَمْسُمِائَةِ عَالَمٍ خَلقَهُمْ لِعِبَادَتِهِ.
16 - حَدَّثَنَا أَبِي، ثنا هِشَامُ بْنُ خَالِدٍ، ثنا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، ثنا الْفُرَاتُ بْنُ الْوَلِيدِ، عَنْ مُعتب «1» بْنِ سُمَيٍّ، عَنْ تَبِيعٍ، فِي قَوْلِهِ: رَبِّ الْعَالِمِينَ، قَالَ: الْعَالَمِينَ أَلْفُ أُمَّةٍ، فَسُتُّمِائَةٍ فِي الْبَحْرِ، وَأَرْبَعُمِائَةٍ فِي الْبَرِّ.
17 - حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حَرْبٍ الْمَوْصِلِيُّ، ثنا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ عَنْ حُسَيْنِ بْنِ وَاقِدٍ عَنْ مَطَرٍ الْوَرَّاقِ، عَنْ قَتَادَةَ فِي قَوْلِ اللَّهِ: رَبِّ الْعَالَمِينَ قَالَ: مَا وَصَفَ من خلقه.
চতুর্থ দিক:১২ - আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবু মামার আল-কাতিয়ী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি হাফস থেকে, তিনি হাজ্জাজ থেকে, তিনি ইবনে আবি মুলাইকাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: উমর (রা.) বললেন, 'আমরা সুবহানাল্লাহ এবং লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ-এর অর্থ জেনেছি, কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ কী?' তখন আলী (রা.) বললেন, 'এটি এমন এক বাক্য যা আল্লাহ নিজের জন্য পছন্দ করেছেন।' আবু মুহাম্মদ বলেন, আবু মামার আল-কাতিয়ী হাফস থেকে এভাবেই বর্ণনা করেছেন।
১৩ - আল-আশাজ্জও আমাদের কাছে এটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন যে, হাফস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি (আবু মামার থেকে) ভিন্নভাবে বর্ণনা করেছেন; তিনি তাতে উল্লেখ করেন যে, উমর (রা.) আলী (রা.)-কে বললেন—সে সময় তাঁর কাছে তাঁর সঙ্গীরাও উপস্থিত ছিলেন—'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ এবং আল্লাহু আকবার—এগুলো তো আমরা জেনেছি, কিন্তু সুবহানাল্লাহ কী?' তখন আলী (রা.) বললেন, 'এটি এমন এক বাক্য যা আল্লাহ নিজের জন্য ভালোবেসেছেন, নিজের জন্য পছন্দ করেছেন এবং এটি উচ্চারিত হোক তা তিনি পছন্দ করেন।'
আল্লাহ তাআলার বাণী: সৃষ্টিজগতের রব (রাব্বিল আলামীন)
[প্রথম দিক] ১৪ - আলী ইবনে তাহির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি মুহাম্মদ ইবনুল আলা—অর্থাৎ আবু কুরায়ব—থেকে, তিনি উসমান ইবনে সাঈদ—অর্থাৎ আল-যাইয়্যাত—থেকে, তিনি বিশর ইবনে উমারাহ থেকে, তিনি আবু রাওক থেকে, তিনি যাহহাক থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: অতঃপর জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) বললেন: 'সমস্ত প্রশংসা সৃষ্টিজগতের রব আল্লাহর জন্য' (আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামীন)। তিনি বললেন, 'হে মুহাম্মদ! সমস্ত সৃষ্টি তাঁরই; সকল আসমান এবং তাতে যারা আছে, সকল জমিন এবং তাতে যারা আছে এবং এই দুইয়ের মাঝে যা কিছু আছে—তা পরিচিত হোক বা অপরিচিত—সবই তাঁর সৃষ্টি।'
এবং দ্বিতীয় দিক:১৫ - আমাদের পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি উবায়দুল্লাহ ইবনে মুসা থেকে, তিনি আবু জাফর আর-রাজি থেকে, তিনি রাবী ইবনে আনাস থেকে, তিনি আবুল আলিয়া থেকে 'সৃষ্টিজগতের রব' (রাব্বিল আলামীন) সম্পর্কে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: মানবজাতি একটি জগত, জিনজাতি একটি জগত এবং এছাড়া ফেরেশতাদের আরও আঠারো হাজার কিংবা চৌদ্দ হাজার জগত পৃথিবীতে রয়েছে। পৃথিবীর চারটি কোণ রয়েছে, প্রতিটি কোণে সাড়ে তিন হাজার জগত রয়েছে যাদের তিনি তাঁর ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছেন।
১৬ - আমাদের পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি হিশাম ইবনে খালিদ থেকে, তিনি ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম থেকে, তিনি ফুরাত ইবনে ওয়ালিদ থেকে, তিনি মু'তিব (১) ইবনে সুমাই থেকে, তিনি তাবি' থেকে আল্লাহ তাআলার বাণী 'রাব্বিল আলামীন' সম্পর্কে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: 'আল-আলামীন' বা জগতসমূহ হলো এক হাজার জাতি; যার মধ্যে ছয়শ সমুদ্রে এবং চারশ স্থলে বাস করে।
১৭ - আলী ইবনে হারব আল-মাওসিলি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি যায়েদ ইবনুল হুবাব থেকে, তিনি হুসাইন ইবনে ওয়াকিদ থেকে, তিনি মাতার আল-ওয়াররাক থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে আল্লাহর বাণী 'রাব্বিল আলামীন' প্রসঙ্গে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: তিনি তাঁর সৃষ্টির যা কিছু বর্ণনা করেছেন (তা-ই আলামীন বা জগতসমূহ)।
(খণ্ড: ١)
তাফসীর ইবনে আবী হাতিম
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
الْوَجْهُ الثَّالِثُ:أن العالمين: الْجِنُّ وَالْإِنْسُ. فَقَطْ.
18 - حَدَّثَنَا، أَبِي، ثنا أَبُو غَسَّانَ مَالِكُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، ثنا قَيْسٌ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، فِي قَوْلُهُ رَبِّ الْعَالَمِينَ قَالَ: الْجِنُّ وَالإِنْسُ- وَرُوِيَ عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ بِإِسْنَادٍ لَا يُعْتَمَدُ عَلَيْهِ مِثْلُهُ- وَرُوِيَ عَنْ مُجَاهِدٍ مثله.
قوله الرحمن
[الوجه الأول] 19 - حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ الأَشَجُّ ثنا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ عَنْ عَنْبَسَةَ قَاضِي الرِّيِّ عَنْ مُطَرِّفٍ عَنْ سَعْدِ بْنِ إِسْحَاقَ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ- صلى الله عليه وسلم يَقُولُ اللَّهُ: قَسَمْتُ الصَّلاةَ بَيْنِي وَبَيْنَ عَبْدِي، فَإِذَا قَالَ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ، قَالَ: مَدَحَنِي عَبْدِي، وَإِذَا قَالَ، الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ قَالَ: أَثْنَى عَلَيَّ عَبْدِي «1» .
الْوَجْهُ الثَّانِي:20 - حَدَّثَنَا أَبِي، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمِنَ الْعَرْزَمِيُّ، ثنا أَبِي، عَنْ جُوَيبرٍ، عَنِ الضَّحَّاكِ فِي قَوْلِهِ: الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ قَالَ: الرَّحْمَنِ بِجَمِيعِ خَلْقِهِ، وَالرَّحِيمِ بِالْمُؤْمِنِينَ خَاصَّةً.
الْوَجْهُ الثَّالِثُ:
21 - حُدِّثْتُ عَنْ كَثِيرِ بْنِ شِهَابٍ، عَنِ الْحَكَمِ بْنِ هِشَامٍ حَدَّثَنِي خَالِدُ بْنُ صَفْوَانَ التَّمِيمِيُّ فِي قَوْلِهِ: الرَّحْمِنَ الرَّحِيمِ قَالَ: هُمَا رَقِيقَانِ أَحَدُهُمَا أَرَقُّ مِنَ الآخَرِ.
الْوَجْهُ الرَّابِعُ:22 - أَخْبَرَنَا أَبُو سَعِيدِ بْنُ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ الْقَطَّانُ، ثنا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ، حَدَّثَنِي أَبُو الأَشْهَبِ، عَنِ الْحَسَنِ قَالَ: الرَّحْمَنِ اسْمٌ لا يَسْتَطِيعُ النَّاسُ أَنْ يَنْتَحِلُوهُ «2» .
তৃতীয় পরিচ্ছেদ:নিশ্চয় জগতসমূহ (আল-আলামীন) হলো: কেবল জিন ও মানব জাতি।
১৮ - আমাদের নিকট আমার পিতা বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু গাসসান মালিক ইবনে ইসমাঈল থেকে, তিনি কায়স থেকে, তিনি আতা ইবনুল সাইব থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাযি.) থেকে ‘রব্বুল আলামীন’ (জগতসমূহের প্রতিপালক) বাণী প্রসঙ্গে বর্ণনা করেন: তিনি বলেন, (এর অর্থ) জিন ও মানব জাতি। অনুরুপ আলী ইবনে আবি তালিব (রাযি.) থেকে এমন সনদে বর্ণিত হয়েছে যার ওপর নির্ভর করা যায় না এবং মুজাহিদ থেকেও অনুরুপ বর্ণিত হয়েছে।
মহান আল্লাহর বাণী: আর-রহমান (পরম করুণাময়)
[প্রথম পরিচ্ছেদ] ১৯ - আমাদের নিকট আবু সাঈদ আল-আশাজ বর্ণনা করেছেন, তিনি জায়েদ ইবনুল হুবাব থেকে, তিনি রাই শহরের বিচারক আম্বাসা থেকে, তিনি মুতাররিফ থেকে, তিনি সাদ ইবনে ইসহাক থেকে, তিনি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, আল্লাহ তাআলা বলেন: ‘আমি নামাজকে (সূরা ফাতিহা) আমার এবং আমার বান্দার মধ্যে বণ্টন করেছি। অতঃপর যখন সে বলে—সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, তখন আল্লাহ বলেন—আমার বান্দা আমার প্রশংসা করল। আর যখন সে বলে—তিনি পরম করুণাময়, অতিশয় দয়ালু, তখন আল্লাহ বলেন—আমার বান্দা আমার গুণকীর্তন করল।’
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ:২০ - আমাদের নিকট আমার পিতা বর্ণনা করেছেন, তিনি মুহাম্মদ ইবনে আব্দুর রহমান আল-আরজামি থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি জুওয়াইবির থেকে, তিনি যাহহাক থেকে ‘আর-রহমান আর-রাহীম’ বাণী প্রসঙ্গে বর্ণনা করেন: তিনি বলেন, ‘আর-রহমান’ সকল সৃষ্টির প্রতি করুণাময় এবং ‘আর-রাহীম’ বিশেষভাবে মুমিনদের প্রতি দয়ালু।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ:
২১ - আমার নিকট কাসীর ইবনে শিহাব থেকে বর্ণনা করা হয়েছে, তিনি হাকাম ইবনে হিশাম থেকে, তিনি বর্ণনা করেছেন খালিদ ইবনে সাফওয়ান আত-তামিমি থেকে ‘আর-রহমান আর-রাহীম’ প্রসঙ্গে: তিনি বলেন, এই দুটিই কোমলতা ও মমতাপূর্ণ নাম, যার একটি অপরটির তুলনায় অধিক সূক্ষ্ম ও গভীর।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ:২২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সাঈদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান, তিনি জায়েদ ইবনুল হুবাব থেকে, তিনি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আল-আশহাব থেকে, তিনি হাসান (বসরী) থেকে বর্ণনা করেন: তিনি বলেন, ‘আর-রহমান’ এমন একটি নাম যা মানুষ নিজের জন্য দাবি করতে বা গ্রহণ করতে সমর্থ নয়।
(খণ্ড: ١)
তাফসীর ইবনে আবী হাতিম
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
قَوْلُهُ: مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ23 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ المقري ثنا سُفْيَانُ عَنِ الْعَلاءِ، عَنْ أَبِيهِ أَوْ غَيْرِهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ- صلى الله عليه وسلم قَالَ: قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: كَتَبْتُ الصَّلاةَ بَيْنِي وَبَيْنَ عَبْدِي، فَإِذَا قَالَ الْعَبْدُ: مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ قَالَ: فَوَّضَ عَبْدِي وَأَثْنَى عَلَيَّ.
24 - حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ طَاهِرٍ ثنا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاءِ يَعْنِي أَبَا كُرَيْبٍ- ثنا عُثْمَانُ بْنُ سَعِيدٍ الزَّيَّاتُ ثنا بِشْرُ بْنُ عُمَارَةَ عَنْ أَبِي رَوْقٍ عَنِ الضَّحَّاكِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ يَقُولُ: لَا يَمْلِكُ أَحَدٌ فِي ذَلِكَ الْيَوْمِ مَعَهُ حُكْمًا كَمُلْكِهِمْ فِي الدُّنْيَا.
قَوْلُهُ: يَوْمِ الدِّينِ25 - حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ طَاهِرٍ بِهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ فِي قَوْلِهِ: يَوْمِ الدِّينِ قَالَ: الدِّينُ يَوْمُ حِسَابِ الْخَلائِقِ، وَهُوَ يَوْمُ الْقِيَامَةِ يُدِينُهُمْ بَأَعْمَالِهِمْ إِنْ خَيْرًا فَخَيْرٌ، وَإِنْ شر شرا إِلا مَنْ عَفَا عَنْهُ.
26 - حَدَّثَنَا، أَبِي ثنا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلانَ، ثنا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ حُمَيْدٍ الأَعْرَجِ فِي قَوْلِ اللَّهِ مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ قَالَ: يَوْمُ الْجَزَاءِ.
قَوْلُهُ: إِيَّاكَ نَعْبُدُ27 - حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ طَاهِرٍ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاءِ، ثنا عُثْمَانُ بْنُ سَعِيدٍ، ثنا بِشْرُ بْنُ عُمَارَةَ عَنْ أَبِي رَوْقٍ عَنِ الضَّحَّاكِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ جِبْرِيلُ عليه السلام: قُلْ يَا مُحَمَّدُ، وَهُوَ جِمَاعُ إِيَّاكَ نَعْبُدُ. يَعْنِي إِيَّاكَ نُوَحِّدُ وَنَخَافُ وَنَرْجُو يَا رَبَّنَا لَا غَيْرَكَ.
28 - حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حَرْبٍ، ثنا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ، عَنْ حُسَيْنِ بْنِ وَاقِدٍ عَنْ مَطَرٍ، عَنْ قَتَادَةَ إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ دَلَّ عَلى نَفْسِهِ أَنَّهُ كَذَا فَقُولُوا.
29 - حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الصَّبَّاحِ، ثنا عَبْدُ الْوَهَّابِ عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ قَتَادَةَ فِي قَوْلِهِ: إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ قَالَ: يَأْمُرُكُمْ أَنْ تُخْلِصُوا لَهُ الْعِبَادَةَ، وَأَنْ تَسْتَعِينُوهُ عَلَى أَمَرَكُمْ.
قوله: وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ30 - حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ طَاهِرٍ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاءِ، ثنا عُثْمَانُ بْنُ سَعِيدٍ، ثنا بِشْرُ بْنُ عُمَارَةَ عَنْ أَبِي رَوْقٍ، عَنِ الضَّحَّاكِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ: وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ قَالَ: عَلَى طَاعَتِكَ وَعَلَى أُمُورِنَا كُلِّهَا.
তাঁর বাণী: প্রতিফল দিবসের মালিক২৩ - মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে ইয়াযীদ আল-মুকরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি সুফিয়ান থেকে, তিনি আল-আলা থেকে, তিনি তাঁর পিতা অথবা অন্য কারো থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: মহান আল্লাহ বলেছেন: আমি সালাতকে (সুরা ফাতিহাকে) আমার ও আমার বান্দার মাঝে দুই ভাগে বণ্টন করেছি। অতঃপর যখন বান্দা বলে: প্রতিফল দিবসের মালিক; তখন আল্লাহ বলেন: আমার বান্দা আমার ওপর পূর্ণ ক্ষমতা সোপর্দ করেছে এবং আমার প্রশংসা করেছে।
২৪ - আলী ইবনে তাহির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি মুহাম্মাদ ইবনুল আলা অর্থাৎ আবু কুরায়ব থেকে, তিনি উসমান ইবনে সাঈদ আয-যাইয়াত থেকে, তিনি বিশর ইবনে উমারা থেকে, তিনি আবু রওক থেকে, তিনি দাহহাক থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন: প্রতিফল দিবসের মালিক—এর অর্থ হলো সেই দিনে তাঁর সাথে কেউ কোনো কর্তৃত্ব বা শাসনের মালিক হবে না যেমন দুনিয়াতে তাদের রাজত্ব ছিল।
তাঁর বাণী: প্রতিফল দিবস২৫ - আলী ইবনে তাহির আমাদের নিকট উক্ত সূত্রে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, আল্লাহর বাণী: প্রতিফল দিবস—সম্পর্কে তিনি বলেন: 'দীন' হলো সৃষ্টির হিসাব গ্রহণের দিন, আর তা হলো কিয়ামতের দিন; তিনি তাদের আমলের ভিত্তিতে তাদের প্রতিফল দেবেন—যদি আমল ভালো হয় তবে ভালো প্রতিফল, আর যদি মন্দ হয় তবে মন্দ প্রতিফল, তবে যাকে তিনি ক্ষমা করবেন সে ব্যতীত।
২৬ - আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি মাহমুদ ইবনে গাইলান থেকে, তিনি সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনা থেকে, তিনি হুমাইদ আল-আ’রাজ থেকে আল্লাহর বাণী: প্রতিফল দিবসের মালিক—সম্পর্কে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: এর অর্থ হলো প্রতিদানের দিন।
তাঁর বাণী: আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি২৭ - আলী ইবনে তাহির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি মুহাম্মাদ ইবনুল আলা থেকে, তিনি উসমান ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি বিশর ইবনে উমারা থেকে, তিনি আবু রওক থেকে, তিনি দাহহাক থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: জিবরাঈল আলাইহিস সালাম বলেছেন: হে মুহাম্মাদ, আপনি বলুন; আর এটিই হলো 'আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি'-এর মূল নির্যাস। অর্থাৎ হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা কেবল আপনারই একত্ববাদ ঘোষণা করি, আপনাকে ভয় করি এবং আপনার কাছেই আশা রাখি, অন্য কারো কাছে নয়।
২৮ - আলী ইবনে হারব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি যায়েদ ইবনুল হুবাব থেকে, তিনি হুসাইন ইবনে ওয়াকিদ থেকে, তিনি মাতার থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে বর্ণনা করেন: 'আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি এবং কেবল আপনারই সাহায্য চাই'—এর মাধ্যমে আল্লাহ নিজের পরিচয় দিয়েছেন যে তিনি এমনই, অতএব তোমরা এভাবেই বলো।
২৯ - হাসান ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে সাব্বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আব্দুল ওয়াহহাব থেকে, তিনি সাঈদ থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে আল্লাহর বাণী: আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি এবং কেবল আপনারই সাহায্য চাই—সম্পর্কে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: তিনি তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন যেন তোমরা তাঁর জন্য ইবাদতকে একনিষ্ঠ করো এবং তোমাদের যাবতীয় বিষয়ে তাঁর সাহায্য প্রার্থনা করো।
তাঁর বাণী: এবং আমরা কেবল আপনারই সাহায্য চাই৩০ - আলী ইবনে তাহির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি মুহাম্মাদ ইবনুল আলা থেকে, তিনি উসমান ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি বিশর ইবনে উমারা থেকে, তিনি আবু রওক থেকে, তিনি দাহহাক থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন: এবং আমরা কেবল আপনারই সাহায্য চাই—তিনি বলেন: আপনার আনুগত্যের ক্ষেত্রে এবং আমাদের যাবতীয় বিষয়ের ওপর (আপনার সাহায্য চাই)।
(খণ্ড: ١)
তাফসীর ইবনে আবী হাতিম
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
قوله: اهْدِنَا31 - بِهِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ جِبْرِيلُ: قُلْ يَا مُحَمَّدُ: اهْدِنَا يَقُولُ: ألهمنا.
قوله: الصراط المستقيم
[الوجه الأول] 32 - حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَرَفَةَ، حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ الْيَمَانِ، عَنْ حَمْزَةَ الزَّيَّاتِ، عَنْ سَعْدٍ الطَّائِيِّ، عَنِ ابْنِ أَخِي الحرث الأَعْوَرِ، عَنِ الْحَارِثِ قَالَ: دَخَلْتُ عَلَى عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ فَقَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ- صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: الصِّرَاطُ الْمُسْتَقِيمُ كِتَابُ اللَّهِ «1» .
وَالْوَجْهُ الثَّانِي:33 - حَدَّثَنَا أَبِي، ثنا أَبُو صَالِحٍ كَاتِبُ اللَّيْثِ، حَدَّثَنِي مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ أَنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ حَدَّثَهُ عَنْ أَبِيهِ، عَنْ نَوَّاسِ بْنِ سَمْعَانَ الأَنْصَارِيِّ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ- صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَال: ضَرَبَ اللَّهُ مَثَلا صِرَاطًا مُسْتَقِيمًا، وَالصِّرَاطُ الإِسْلامُ «2» .
وَالوجه الثَّالِثُ:34 - حَدَّثَنَا سَعْدَانُ بْنُ نَصْرٍ الْبَغْدَادِيُّ، ثنا أَبُو النَّضْرِ هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ، أنبأ حمزة ابن الْمُغِيرَةِ، عَنْ عَاصِمٍ الأَحْوَلِ، عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ قَالَ: هُوَ النَّبِيُّ- صلى الله عليه وسلم وَصَاحِبَاهُ مِنْ بَعْدِهِ. قَالَ عَاصِمٌ: فَذَكَرْنَا ذَلِكَ لِلْحَسَنِ فَقَالَ: صَدَقَ أَبُو الْعَالِيَةِ وَنَصَحَ» .
وَالوجه الرَّابِعُ:35 - ثنا يَحْيَى بْنُ عَبْدَكَ، ثنا خَالِدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمَخْزُومِيُّ ثنا عُمَرُ بْنُ ذَرٍّ عَنْ مُجَاهِدٍ فِي قَوْلِهِ الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ قَالَ: الْحَقَّ.
36 - حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْحُسَيْنِ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاءِ أَبُو كُرَيْبٍ، ثنا عُثْمَانُ بْنُ سَعِيدٍ الزَّيَّاتُ، ثنا بِشْرُ بْنُ عُمَارَةَ ثنا أَبُو رَوْقٍ عَنِ الضَّحَّاكِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ: اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ يَقُولُ: أَلْهِمْنَا دِينَكَ الْحَقَّ، وَهُوَ لَا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ له «4» .
তাঁর বাণী: আমাদের হিদায়াত দিন৩১ - এর মাধ্যমে ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: জিবরাঈল (আ.) বলেছেন: হে মুহাম্মদ, আপনি বলুন: ‘আমাদের হিদায়াত দিন’—এর অর্থ: আমাদের অন্তরে ইলহাম (অনুপ্রেরণা) দান করুন।
তাঁর বাণী: সরল পথ (সিরাত আল-মুস্তাকিম)
[প্রথম দিক] ৩২ - হাসান বিন আরাফাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি ইয়াহইয়া বিন আল-য়ামান থেকে, তিনি হামজা আল-যাইয়াত থেকে, তিনি সাদ আত-তায়ী থেকে, তিনি আল-হারিস আল-আওয়ারের ভ্রাতুষ্পুত্র থেকে, তিনি আল-হারিস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আলী বিন আবি তালিব (রা.)-এর নিকট প্রবেশ করলাম, তখন তিনি বললেন: আমি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: “সরল পথ হলো আল্লাহর কিতাব।”
দ্বিতীয় দিক:৩৩ - আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি লাইসের লেখক আবু সালিহ থেকে, তিনি মুয়াবিয়া বিন সালিহ থেকে, তিনি আবদুর রহমান বিন জুবায়ের বিন নুফায়ের থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি নাওয়াস বিন সামআন আল-আনসারি থেকে, তিনি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: “আল্লাহ তাআলা একটি সরল পথের উদাহরণ দিয়েছেন; আর সেই সরল পথ হলো ইসলাম।”
তৃতীয় দিক:৩৪ - সা'দান বিন নাসর আল-বাগদাদি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু নসর হাশিম বিন কাসিম থেকে, তিনি হামজা ইবনুল মুগিরা থেকে, তিনি আসিম আল-আহওয়াল থেকে, তিনি আবুল আলিয়াহ থেকে ‘আমাদের সরল পথে পরিচালিত করুন’ সম্পর্কে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: তিনি হলেন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর পরবর্তী তাঁর দুই সঙ্গী (আবু বকর ও উমর)। আসিম বলেন: আমরা হাসান (বসরি)-এর কাছে বিষয়টি উল্লেখ করলে তিনি বললেন: আবুল আলিয়াহ সত্য বলেছেন এবং সঠিক উপদেশ দিয়েছেন।
চতুর্থ দিক:৩৫ - ইয়াহইয়া বিন আবদাকা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি খালিদ বিন আবদুর রহমান আল-মাখজুমি থেকে, তিনি উমর বিন যার থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে ‘সরল পথ’ প্রসঙ্গে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: সত্য।
৩৬ - আলী বিন আল-হুসাইন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি মুহাম্মদ বিন আল-আ’লা আবু কুরাইব থেকে, তিনি উসমান বিন সাঈদ আল-যাইয়াত থেকে, তিনি বিশর বিন উমারা থেকে, তিনি আবু রওক থেকে, তিনি দাহহাক থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন: ‘আমাদের সরল পথে পরিচালিত করুন’ এর অর্থ হলো: আমাদের আপনার সত্য দ্বীনের প্রতি অনুপ্রাণিত করুন, আর তা হলো—আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই।
(খণ্ড: ١)
তাফসীর ইবনে আবী হাতিম
(পৃষ্ঠা: ٣١)
قوله: صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ37 - بِهِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ: صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ يَقُولُ: طَرِيقَ مَنْ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ.
قَوْلُهُ تَعَالَى: أَنْعَمْتَ عليهم
[الوجه الأول] 38 - وَبِهِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ: قَوْلُهُ: أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ يَقُولُ: الْمَلائِكَةِ وَالنَّبِيِّينَ وَالصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ الَّذِينَ أَطَاعُونِي وَعَبَدُونِي.
وَالْوَجْهُ الثَّانِي39 - حَدَّثَنَا أَبِي، ثنا أَبُو حُذَيْفَةَ، ثنا شِبْلٌ، عَنِ ابْنِ أَبِي نَجِيحٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ:
صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ قَالَ: هُمُ الْمُؤْمِنُونَ.
قَوْلُهُ: غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ40 - حَدَّثَنَا عَلانُ بْنُ الْمُغِيرَةِ الْمِصْرِيُّ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ غُنْدَرٌ، ثنا شُعْبَةُ قَالَ: سَمِعْتُ سِمَاكَ بْنَ حَرْبٍ يَقُولُ: سَمِعْتُ عَبَّادَ بْنَ حُبَيْشٍ يُحَدِّثُ عَنْ عَدِيِّ بْنِ حَاتِمٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ- صلى الله عليه وسلم: الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ: الْيَهُودُ، وَلا الضَّالِّينَ: النَّصَارَى. قَالَ أَبُو سعيد: وَلا أَعْلَمُ بَيْنَ الْمُفَسِّرِينَ فِي هَذَا الْحَرْفِ اخْتِلافًا «1» .
قوله تَعَالَى: وَلا الضَّالِّينَ41 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمَّارِ بْنِ الْحَارِثِ، ثنا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَعْدٍ الدَّشْتَكِيُّ، أَنْبَأَ عَمْرُو بْنُ أَبِي قَيْسٍ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، عَنْ عَبَّادِ بْنِ حُبَيْشٍ، عَنْ عَدِيِّ بْنِ حَاتِمٍ قَالَ: أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ- صلى الله عليه وسلم وَهُوَ جَالِسٌ فِي الْمَسْجِدِ فَقَالَ: إِنَّ الْيَهُودَ مَغْضُوبٌ عَلَيْهِمْ، وَالنَّصَارَى ضُلالٌ.
42 - حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْحُسَيْنِ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاءِ أَبُو كُرَيْبٍ، ثنا عُثْمَانُ بْنُ سَعِيدٍ، ثنا بِشْرُ بْنُ عُمَارَةَ، ثنا أَبُو رَوْقٍ عَنِ الضَّحَّاكِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ: وغير طريق الظالمين، وَهُمُ النَّصَارَى الَّذِينَ أَضَلَّهُمُ اللَّهُ بِعِزِّيَّتِهِمْ عَلَيْهِ، يَقُولُ: فَأَلْهِمْنَا دِينَكَ الْحَقَّ، وَهُوَ لَا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ حَتَّى لَا تَغْضَبَ عَلَيْنَا كَمَا غَضِبْتَ عَلَى الْيَهُودِ، وَلا تُضِلَّنَا كَمَا أَضْلَلْتَ النَّصَارَى فَتُعَذِّبَنَا كَمَا تُعَذِّبُهُمْ. يَقُولُ: امْنَعْنَا مِنْ ذَلِكَ بِرِفْقِكَ وَرَحْمَتِكَ وَرِقَّتِكَ وَقُدْرَتِكَ. قَالَ أَبُو مُحَمَّدٍ: وَلا أَعْلَمُ فِي هَذَا الحرف اختلافا بين المفسرين.
তাঁর বাণী: সেই সমস্ত লোকদের পথ যাদের ওপর আপনি অনুগ্রহ করেছেন৩৭ - একই সূত্রে ইবনে আব্বাস (রাযি.) থেকে বর্ণিত: ‘সেই সমস্ত লোকদের পথ যাদের ওপর আপনি অনুগ্রহ করেছেন’—তিনি বলেন: এর অর্থ হলো, সেই ব্যক্তিদের রাস্তা যাদের আপনি নেয়ামত দান করেছেন।
মহান আল্লাহর বাণী: যাদের ওপর আপনি অনুগ্রহ করেছেন
[প্রথম ব্যাখ্যা] ৩৮ - এবং একই সূত্রে ইবনে আব্বাস (রাযি.) থেকে বর্ণিত: ‘যাদের ওপর আপনি অনুগ্রহ করেছেন’—তিনি বলেন: তারা হলেন ফেরেশতাগণ, নবীগণ, সত্যনিষ্ঠগণ এবং শহীদগণ যারা আমার আনুগত্য করেছেন এবং আমার ইবাদত করেছেন।
দ্বিতীয় ব্যাখ্যা৩৯ - আমাদের নিকট আমার পিতা বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু হুযাইফা থেকে, তিনি শিবল থেকে, তিনি ইবনে আবি নাজহি থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেন: ‘সেই সমস্ত লোকদের পথ যাদের ওপর আপনি অনুগ্রহ করেছেন’—তিনি বলেন: তারা হলেন মুমিনগণ।
তাঁর বাণী: তাদের পথ নয় যাদের ওপর আপনার ক্রোধ আপতিত হয়েছে৪০ - আমাদের নিকট আল্লান ইবনুল মুগীরা আল-মিসরী বর্ণনা করেছেন, তিনি আহমদ ইবনে হাম্বল থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে জাফর গুন্দার থেকে, তিনি শু'বা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি সিমাক ইবনে হারবকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আব্বাদ ইবনে হুবাইশকে আদি ইবনে হাতিম (রাযি.) থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ‘যাদের ওপর ক্রোধ আপতিত হয়েছে’ তারা হলো ইহুদি জাতি, এবং ‘যারা পথভ্রষ্ট’ তারা হলো নাসারা (খ্রিস্টান) জাতি। আবু সাঈদ বলেন: এই আয়াতাংশের ব্যাখ্যায় মুফাসসিরদের মধ্যে কোনো মতভেদ আছে বলে আমার জানা নেই।
মহান আল্লাহর বাণী: এবং যারা পথভ্রষ্ট নয়৪১ - আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে আম্মার ইবনুল হারিস বর্ণনা করেছেন, তিনি আবদুর রহমান ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে সা'দ আদ-দাশতাকী থেকে, তিনি আমর ইবনে আবি কায়স থেকে, তিনি সিমাক ইবনে হারব থেকে, তিনি আব্বাদ ইবনে হুবাইশ থেকে, তিনি আদি ইবনে হাতিম (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট আসলাম যখন তিনি মসজিদে উপবিষ্ট ছিলেন। তখন তিনি বললেন: নিশ্চয় ইহুদিরা ক্রোধের শিকার এবং নাসারারা পথভ্রষ্ট।
৪২ - আমাদের নিকট আলী ইবনুল হুসাইন বর্ণনা করেছেন, তিনি মুহাম্মদ ইবনুল আলা আবু কুরাইব থেকে, তিনি উসমান ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি বিশর ইবনে উমারা থেকে, তিনি আবু রওক থেকে, তিনি যাহহাক থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেন: এবং জালিমদের পথ নয়—আর তারা হলো সেই নাসারা যাদেরকে আল্লাহ তাদের ঔদ্ধত্যের কারণে পথভ্রষ্ট করেছেন। তিনি বলেন: (এর অর্থ হলো) আপনি আমাদের আপনার সত্য দ্বীনের ইলহাম (অনুপ্রেরণা) দিন, আর তা হলো ‘একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তাঁর কোনো অংশীদার নেই’; যাতে আপনি আমাদের ওপর রাগান্বিত না হন যেমনটি ইহুদিদের ওপর রাগান্বিত হয়েছেন, এবং আমাদের পথভ্রষ্ট না করেন যেমনটি নাসারাদের পথভ্রষ্ট করেছেন, যার ফলে আপনি আমাদের আজাব দেবেন যেমনটি তাদের আজাব দিয়েছেন। তিনি বলেন: আপনার অনুগ্রহ, করুণা, মমতা ও কুদরতের মাধ্যমে আমাদের তা থেকে রক্ষা করুন। আবু মুহাম্মদ বলেন: এই আয়াতাংশের ব্যাখ্যায় মুফাসসিরদের মধ্যে কোনো মতভেদ আছে বলে আমার জানা নেই।
(খণ্ড: ١)
তাফসীর ইবনে আবী হাতিম
(পৃষ্ঠা: ٣٢)
سُورَةُ الْبَقَرَةِ2 بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
قَوْلُهُ: الماختلف في تفسيره على أوجه:
[الوجه الأول]فَمِنْهُمْ مَنْ قَالَ: أَنَا اللَّهُ أَعْلَمُ.
43 - حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ الأَشَجُّ، ثنا وَكِيعٌ، عَنْ شَرِيكٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ أنس الضُّحَى، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ الم قَالَ: أَنَا اللَّه أَعْلَمُ. قَالَ أَبُو مُحَمَّدٍ: وَكَذَا فَسَّرَهُ سعيد بن جبير والضحاك.
[الوجه الثاني]وَمَنْ فَسَّرَهُ عَلَى أَنَّهُ اسْمٌ مِنْ أَسْمَاءِ اللَّهُ.
44 - حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الصَّبَّاحِ، ثنا يَحْيَى بْنُ عَبَّادٍ، ثنا شُعْبَةُ، عَنِ السُّدِّيِّ قَالَ: بَلَغَنِي عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّهُ قَالَ: الم اسْمٌ مِنْ أَسْمَاءِ اللَّهِ الأَعْظَمِ.
45 - حَدَّثَنَا أَبُو زُرْعَةَ، ثنا عَمْرُو بْنُ حَمَّادِ بْنِ طَلْحَةَ القناد «1» بْنُ نَصْرٍ، عَنِ السُّدِّيِّ الم: أَمَّا الم فَهُوَ حَرْفٌ اشْتُقَّ مِنْ حُرُوفِ اسْمِ اللَّهِ.
46 - حَدَّثَنَا أَبِي، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ أَبِي رِزْمَةَ ثنا أَبِي ثنا عِيسَى بْنُ عُبَيْدٍ، عَنْ حُسَيْنِ بْنِ عُثْمَانَ الْمُزَنِيِّ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: الم وحم ون، وَنَحْوِهَا: أَسْمَاءُ اللَّهِ مُقَطَّعَةً.
47 - حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْحُسَيْنِ ثنا أَبُو بَكْرٍ وَعُثْمَانُ ابْنَا أَبِي شَيْبَةَ قَالا: ثنا سُوَيْدُ بْنُ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي عَوَانَةَ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ سَالِمٍ، عَنْ عامر أنه سئل عن الم، والر، وحم، وص. قَالَ: هِيَ اسْمٌ مِنْ أَسْمَاءِ اللَّهِ مُقَطَّعَةً بِالْهِجَاءِ، فَإِذَا وَصَلْتَهَا كَانَتِ اسْمًا مِنْ أَسْمَاءِ اللَّهِ.
48 - حَدَّثَنِي أَبِي، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ مَعْمَرٍ، ثنا عَيَّاشُ بْنُ زِيَادٍ الْبَاهِلِيُّ، ثنا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي بِشْرٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ فِي قَوْلِهِ: ألم، وحم، ون، قال: اسم مقطع.
সূরা আল-বাকারা২ পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।
তাঁর বাণী: আলিফ, লাম, মীমএর ব্যাখ্যায় কয়েকটি অভিমত রয়েছে:
[প্রথম অভিমত]তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন: (এর অর্থ) আমি আল্লাহ, অধিক পরিজ্ঞাত।
৪৩ - আমাদের নিকট আবু সাঈদ আল-আশাজ্জ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ওয়াকী‘ বর্ণনা করেছেন, শারীক থেকে, তিনি আতা ইবনুস সাইব থেকে, তিনি আনাস আদ-দুহা থেকে, তিনি ইবনু আব্বাস (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি ‘আলিফ, লাম, মীম’ প্রসঙ্গে বলেছেন: আমি আল্লাহ, অধিক পরিজ্ঞাত। আবু মুহাম্মাদ বলেন: সাঈদ ইবনু জুবায়ের এবং দাহহাকও অনুরুপ ব্যাখ্যা করেছেন।
[দ্বিতীয় অভিমত]আর যারা এর ব্যাখ্যা করেছেন যে, এটি আল্লাহর নামসমূহের মধ্য থেকে একটি নাম।
৪৪ - আমাদের নিকট আল-হাসান ইবনু মুহাম্মাদ ইবনুস সাব্বাহ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ইয়াহইয়া ইবনু আব্বাদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট শু'বাহ বর্ণনা করেছেন, আস-সুদ্দী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ইবনু আব্বাস (রাযি.) থেকে আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, তিনি বলেছেন: ‘আলিফ, লাম, মীম’ হলো আল্লাহর সুমহান নামসমূহের একটি নাম।
৪৫ - আমাদের নিকট আবু যুরআ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আমর ইবনু হাম্মাদ ইবনু তালহা আল-কান্নাদ বর্ণনা করেছেন, ইবনু নাসর থেকে, তিনি আস-সুদ্দী থেকে বর্ণনা করেন যে, ‘আলিফ, লাম, মীম’ সম্পর্কে তিনি বলেন: ‘আলিফ, লাম, মীম’ হলো এমন অক্ষর যা আল্লাহর নামের অক্ষরসমূহ থেকে নেওয়া হয়েছে।
৪৬ - আমাদের নিকট আমার পিতা বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল আযীয ইবনু আবী রিযমাহ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আমার পিতা বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ঈসা ইবনু উবায়দ বর্ণনা করেছেন, তিনি হুসাইন ইবনু উসমান আল-মুযানী থেকে, তিনি সালিম ইবনু আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ‘আলিফ-লাম-মীম’, ‘হা-মীম’ এবং ‘নূন’ ও এর অনুরুপ বর্ণগুলো হলো আল্লাহর বিচ্ছিন্ন নামসমূহ।
৪৭ - আমাদের নিকট আলী ইবনুল হুসাইন বর্ণনা করেছেন, আবু বকর ও উসমান—আবু শায়বাহর দুই পুত্র—উভয়েই বলেছেন: আমাদের নিকট সুওয়াইদ ইবনু আমর বর্ণনা করেছেন, আবু আওয়ানাহ থেকে, তিনি ইসমাঈল ইবনু সালিম থেকে, তিনি আমির থেকে বর্ণনা করেন যে, তাঁকে ‘আলিফ-লাম-মীম’, ‘আলিফ-লাম-রা’, ‘হা-মীম’ এবং ‘সোয়াদ’ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। তিনি বললেন: এগুলো বানান অনুযায়ী বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আল্লাহর নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত; যখন তুমি এগুলোকে একত্রে যুক্ত করবে, তখন তা আল্লাহর নামসমূহের একটি নামে রূপান্তরিত হবে।
৪৮ - আমার নিকট আমার পিতা বর্ণনা করেছেন, আমার নিকট মুহাম্মাদ ইবনু মামার বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আইয়াশ ইবনু যিয়াদ আল-বাহিলী বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট শু'বাহ বর্ণনা করেছেন, আবু বিশর থেকে, তিনি সাঈদ ইবনু জুবায়ের থেকে, তিনি ইবনু আব্বাস (রাযি.) থেকে তাঁর বাণী: ‘আলিফ-লাম-মীম’, ‘হা-মীম’ এবং ‘নূন’ সম্পর্কে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: এগুলো হলো বিচ্ছিন্ন নাম।
(খণ্ড: ١)
তাফসীর ইবনে আবী হাতিম
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
[الوجه الثالث]وَمَنْ فَسَّرَهُ عَلَى اسْمٍ مِنْ أَسْمَاءِ اللَّهِ وَآلائِهِ وَبَلائِهِ:
49 - حَدَّثَنَا عِصَامُ بْنُ رَوَّادِ بْنِ الْجَرَّاحِ الْعَسْقَلانِيُّ، ثنا آدَمُ بْنُ أَبِي إِيَاسٍ، ثنا أَبُو جَعْفَرٍ الرَّازِيُّ، عَنِ الرَّبِيعِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ فِي قَوْلِهِ الم قَالَ: هَذِهِ الْأَحْرُفُ الثَّلَاثَةُ مِنَ التِّسْعَةِ وَالْعِشْرِينَ حَرْفًا دَارَتْ فِيهَا الأَلْسُنُ كُلُّهَا لَيْسَ مِنْهَا حَرْفٌ إِلا وَهُوَ مِفْتَاحُ اسْمٍ مِنْ أَسْمَائِهِ، وَلَيْسَ مِنْهَا حَرْفٌ إِلا وَهُوَ فِي آلائِهِ، وَلَيْسَ مِنْهَا حَرْفٌ إِلا وَهُوَ فِي مُدَّةِ أقوام وآجالهم. وقال عيسى بن مَرْيَمَ- صلى الله عليه وسلم وَعَجِبَ فَقَالَ: وَأَعْجَبُ أَنَّهُمْ يَنْطِقُونَ بِأَسْمَائِهِ وَيَعِيشُونَ فِي رِزْقِهِ، فَكَيْفَ يَكْفُرُونَ بِهِ؟ فَالأَلِفُ مِفْتَاحُ اسْمِهِ: اللَّهِ. وَاللامُ مِفْتَاحُ اسْمِهِ: لَطِيفٍ. وَالْمِيمُ مِفْتَاحُ اسْمِهِ: مَجِيدٍ. فَالأَلِفُ آلاءُ اللَّهِ، وَاللامُ لُطْفُ اللَّهِ، وَالْمِيمُ مَجْدُ اللَّهِ فَالأَلِفُ سِتَّةٌ، وَاللامُ ثَلاثُونَ، وَالْمِيمُ أَرْبَعُونَ. قَالَ أَبُو مُحَمَّدٍ: وَرُوِيَ عَنِ الرَّبِيعِ بْنِ أَنَسٍ مِثْلُ ذَلِكَ.
[الوجه الرابع]وَمَنْ فَسَّرَهُ عَلَى اسْمِ الْقُرْآنِ:
50 - حَدَّثَنَا، أَبِي ثنا أَبُو حُذَيْفَةَ، ثنا شِبْلٌ، عَنِ ابْنِ أَبِي نَجِيحٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ:
الم اسْمٌ مِنْ أَسْمَاءِ الْقُرْآنِ. وَكَذَا فَسَّرَهُ قَتَادَةُ، «1» وَزَيْدُ بْنُ أسلم.
[الوجه الخامس]وَمَنْ فَسَّرَهُ عَلى فَوَاتِحِ الْقُرْآنِ:
51 - حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ الْحَسَنِ، ثنا إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حَاتِمٍ الْهَرَوِيُّ، ثنا حَجَّاجُ بْنُ مُحَمَّدٍ. قَالَ ابْنُ جُرَيْجٍ إِنَّهَا عَنْ مُجَاهِدٍ أَنَّهُ قَالَ: الم هِيَ فَوَاتِحُ يَفْتَتِحُ اللَّهُ بِهَا الْقُرْآنَ.
[الْوَجْهُ السادس]وَمَنْ فَسَّرَهُ عَلَى الْقَسَمِ:
52 - حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ الأَشَجُّ ثنا ابْنُ عُلَيَّةَ عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ عَنْ عِكْرِمَةَ: الم قَسَمٌ.
قوله: ذَلِكَ الْكِتَابُ53 - بِهِ عَنْ عِكْرِمَةَ: ذَلِكَ الْكِتَابُ قَالَ: هَذَا الْكِتَابُ. قَالَ: وَهَكَذَا فَسَّرَهُ سَعِيدُ ابن جُبَيْرٍ وَالسُّدِّيُّ وَمُقَاتِلُ بْنُ حَيَّانَ وَزَيْدُ بْنُ أَسْلَمَ.
[তৃতীয় অভিমত]এবং যারা এর ব্যাখ্যা আল্লাহর নামসমূহ, তাঁর নিআমতরাজি এবং তাঁর পরীক্ষার ভিত্তিতে করেছেন:
৪৯ - আমাদের নিকট ইসাম বিন রাওয়াদ বিন আল-জাররাহ আল-আসকালানি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আদম বিন আবি ইয়াস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আবু জাফর আর-রাজি বর্ণনা করেছেন রাবি' বিন আনাস থেকে, তিনি আবুল আলিয়া থেকে আল্লাহর বাণী 'আলিফ লাম মিম' সম্পর্কে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: এই তিনটি বর্ণ সেই উনত্রিশটি বর্ণের অন্তর্ভুক্ত যার ওপর সমস্ত ভাষা আবর্তিত হয়। এগুলোর প্রতিটি বর্ণই আল্লাহর কোনো একটি নামের চাবিকাঠি; এগুলোর প্রতিটি বর্ণই তাঁর নিআমতরাজির অন্তর্ভুক্ত; এবং এগুলোর প্রতিটি বর্ণই বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর স্থিতিকাল ও আয়ুষ্কালের সাথে সংশ্লিষ্ট। ঈসা বিন মারইয়াম (আলাইহিস সালাম) বিস্ময় প্রকাশ করে বলেছিলেন: "আশ্চর্য যে, তারা তাঁর নামসমূহ উচ্চারণ করে এবং তাঁর দেওয়া রিজিকে জীবনধারণ করে, অথচ কীভাবে তারা তাঁকে অস্বীকার করে?" সুতরাং 'আলিফ' হলো তাঁর নাম 'আল্লাহ'-এর চাবিকাঠি, 'লাম' হলো তাঁর নাম 'লাতিফ'-এর চাবিকাঠি এবং 'মিম' হলো তাঁর নাম 'মাজিদ'-এর চাবিকাঠি। 'আলিফ' দ্বারা আল্লাহর নিআমতরাজি (আলা-উল্লাহ), 'লাম' দ্বারা আল্লাহর দয়া (লুতফুল্লাহ) এবং 'মিম' দ্বারা আল্লাহর মহিমা (মাজদুল্লাহ) বুঝায়। 'আলিফ' হলো ছয়, 'লাম' হলো ত্রিশ এবং 'মিম' হলো চল্লিশ। আবু মুহাম্মদ বলেন: রাবি' বিন আনাস থেকেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
[চতুর্থ অভিমত]এবং যারা এর ব্যাখ্যা করেছেন কুরআনের একটি নাম হিসেবে:
৫০ - আমাদের নিকট আমার পিতা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আবু হুজাইফা বর্ণনা করেছেন, তিনি শিবল থেকে, তিনি ইবনে আবি নাজিহ থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেন:
'আলিফ লাম মিম' হলো কুরআনের নামসমূহের মধ্য থেকে একটি নাম। কাতাদাহ এবং জায়েদ বিন আসলামও অনুরূপ ব্যাখ্যা করেছেন।
[পঞ্চম অভিমত]এবং যারা এর ব্যাখ্যা করেছেন কুরআনের প্রারম্ভিকা হিসেবে:
৫১ - আমাদের নিকট হুসাইন বিন হাসান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট ইবরাহিম বিন আব্দুল্লাহ বিন হাতিম আল-হারাউই বর্ণনা করেছেন, তিনি হাজ্জাজ বিন মুহাম্মদ থেকে বর্ণনা করেন। ইবনে জুরাইজ বলেন যে, এটি মুজাহিদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: 'আলিফ লাম মিম' হলো কুরআনের এমন প্রারম্ভিকা যা দ্বারা আল্লাহ কুরআন শুরু করেন।
[ষষ্ঠ অভিমত]এবং যারা এর ব্যাখ্যা করেছেন শপথ হিসেবে:
৫২ - আমাদের নিকট আবু সাঈদ আল-আশাজ বর্ণনা করেছেন, তিনি ইবনে উলাইয়্যাহ থেকে, তিনি খালিদ আল-হাজ্জা থেকে, তিনি ইকরিমা থেকে বর্ণনা করেন: 'আলিফ লাম মিম' একটি শপথ।
তাঁর বাণী: সেই কিতাব (জালিকাল কিতাব)৫৩ - একই সূত্রে ইকরিমা থেকে বর্ণিত: 'সেই কিতাব' (জালিকাল কিতাব) বলতে তিনি বুঝিয়েছেন 'এই কিতাব' (হাযাল কিতাব)। তিনি বলেন: সাঈদ বিন জুবাইর, সুদ্দি, মুকাতিল বিন হাইয়ান এবং জায়েদ বিন আসলামও অনুরূপ ব্যাখ্যা করেছেন।
(খণ্ড: ١)
তাফসীর ইবনে আবী হাতিম
(পৃষ্ঠা: ٣٤)
قوله: الْكِتَابَ54 - حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الصَّبَّاحِ، ثنا أَسْبَاطُ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنِ الْهُذَلِيِّ- يَعْنِي أَبَا بَكْرٍ- عَنِ الْحَسَنِ فِي قَوْلِ اللَّهِ: الْكِتَابُ قَالَ: الْقُرْآنُ. قَالَ أَبُو مُحَمَّدٍ:
وَرُوِيَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ مِثْلُ ذَلِكَ.
قَوْلُهُ: لَا رَيْبَ فِيهِ55 - حَدَّثَنَا أَبِي، ثنا أَبُو الْيَمَانِ الْحَكَمُ بْنُ نَافِعٍ، ثنا حُرَيْزُ بْنُ عُثْمَانَ عَنْ عَبْدِ الرحمن ابْنَ أَبِي عَوْفٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مَسْعُودٍ الْفَزَارِيِّ، عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ قَالَ:
الرَّيْبُ- يَعْنِي الشَّكَّ- مِنَ الْكُفْرِ. قَالَ أَبُو مُحَمَّدٍ: وَلا أَعْلَمُ فِي هَذَا الْحَرْفِ اخْتِلافًا بَيْنَ الْمُفَسِّرِينَ مِنْهُمُ ابْنُ عَبَّاسٍ، وَسَعِيدُ بْنُ جُبَيْرٍ، وَأَبُو مَالِكٍ، وَنَافِعٌ مَوْلَى ابْنِ عُمَرَ، وَعَطَاءُ بْنُ أَبِي رَبَاحٍ، وَأَبُو الْعَالِيَةِ، وَالرَّبِيعُ بْنُ أَنَسٍ، وَقَتَادَةُ، وَمُقَاتِلُ بْنُ حَيَّانَ، وَالسُّدِّيُّ، وَإِسْمَاعِيلُ بْنُ أبي خالد.
قوله: هدىاختلف في تفسيره على أوجه:
[الوجه الأول]فمنهم من قال: هدى مِنَ الضَّلَالَةِ.
56 - حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ أَبِي الرَّبِيعِ، أنا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنِي الثَّوْرِيُّ، عَنْ بَيَانٍ.
57 - وَحَدَّثَنَا أَبِي، ثنا أَبُو نُعَيْمٍ وَعِيسَى بْنُ جَعْفَرٍ قَالا: ثنا سُفْيَانُ، عَنْ بَيَانٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ فِي قَوْلِهِ: هُدًى قال: من الضلالة.
[الوجه الثاني]وَمَنْ فَسَّرَهُ عَلَى نُورٍ:
58 - حَدَّثَنَا أَبُو زُرْعَةَ، ثنا عَمْرُو بْنُ حَمَّادِ بْنِ طَلْحَةَ الْقَنَّادُ، ثنا أَسْبَاطُ بْنُ نَصْرٍ، عَنِ السُّدِّيِّ: وَأَمَّا هدى للمتقين نور للمتقين.
[الوجه الثالث]وَمَنْ فَسَّرَهُ عَلَى تِبْيَانٍ لِلْمُتَّقِينَ:
59 - حَدَّثَنَا أَبُو زُرْعَةَ، ثنا يَحْيَى بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُكَيْرٍ، ثنا ابْنُ لَهِيعَةَ، عن عَطَاءُ ابْنُ دِينَارٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ: هُدًى لِلْمُتَّقِينَ تبيان للمتقين.
قوله: للمتقين[الوجه الأول]
60 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سِنَانٍ، ثنا أَبُو النَّضْرِ هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ، ثنا أَبُو عَقِيلٍ عَبْدُ الله ابن عَقِيلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ يَزِيدَ وَعَطِيَّةَ بْنِ قَيْسٍ، عَنْ عَطِيَّةَ
তাঁর বাণী: আল-কিতাব (গ্রন্থ)৫৪ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাসান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আস-সাব্বাহ, তিনি আসবাত ইবনে মুহাম্মদ হতে, তিনি আল-হুযালী—অর্থাৎ আবু বকর—হতে, তিনি আল-হাসান (বসরি) হতে আল্লাহর বাণী ‘আল-কিতাব’ প্রসঙ্গে বর্ণনা করেন; তিনি বলেন: এটি হলো কুরআন। আবু মুহাম্মদ (ইবনে আবি হাতিম) বলেন: ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) হতেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
তাঁর বাণী: এতে কোনো সন্দেহ নেই৫৫ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমার পিতা, তিনি আবু আল-ইয়ামান আল-হাকাম ইবনে নাফি হতে, তিনি হুরায়জ ইবনে উসমান হতে, তিনি আবদুর রহমান ইবনে আবি আওফ হতে, তিনি আবদুর রহমান ইবনে মাসউদ আল-ফাজারি হতে, তিনি আবু আদ-দারদা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণনা করেন; তিনি বলেন:
‘আর-রাইব’—অর্থাৎ সন্দেহ—কুফরির অন্তর্ভুক্ত। আবু মুহাম্মদ বলেন: এই শব্দের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে মুফাসসিরগণের মধ্যে আমি কোনো মতভেদ জানি না; তাদের মধ্যে রয়েছেন ইবনে আব্বাস, সাঈদ ইবনে জুবায়ের, আবু মালিক, ইবনে উমরের মুক্তদাস নাফি, আতা ইবনে আবি রাবাহ, আবুল আলীয়াহ, আর-রাবী ইবনে আনাস, কাতাদাহ, মুকাতিল ইবনে হাইয়ান, আস-সুদ্দী এবং ইসমাইল ইবনে আবি খালিদ।
তাঁর বাণী: হুদঁন (পথনির্দেশক)এর ব্যাখ্যায় বিভিন্ন অভিমত বর্ণিত হয়েছে:
[প্রথম অভিমত]তাদের মধ্যে কেউ বলেছেন: এটি হলো পথভ্রষ্টতা হতে মুক্তি বা হিদায়াত।
৫৬ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাসান ইবনে আবি আর-রাবী, তিনি আব্দুর রাজ্জাক হতে, তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আস-সাওরি হতে, তিনি বায়ান হতে।
৫৭ - এবং আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমার পিতা, তিনি আবু নুআইম ও ঈসা ইবনে জাফর হতে; তাঁরা বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান, তিনি বায়ান হতে, তিনি আশ-শা’বী হতে আল্লাহর বাণী ‘হুদঁন’ প্রসঙ্গে বর্ণনা করেন; তিনি বলেন: পথভ্রষ্টতা হতে মুক্তি।
[দ্বিতীয় অভিমত]আর যারা এর ব্যাখ্যা ‘নূর’ বা আলো হিসেবে করেছেন:
৫৮ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু জুরআহ, তিনি আমর ইবনে হাম্মাদ ইবনে তালহা আল-কান্নানি হতে, তিনি আসবাত ইবনে নাসর হতে, তিনি আস-সুদ্দী হতে বর্ণনা করেন: ‘মুত্তাকীদের জন্য পথনির্দেশ’ এর অর্থ হলো ‘মুত্তাকীদের জন্য নূর বা জ্যোতি’।
[তৃতীয় অভিমত]আর যারা এর ব্যাখ্যা ‘মুত্তাকীদের জন্য সুস্পষ্ট বর্ণনা’ হিসেবে করেছেন:
৫৯ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু জুরআহ, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে বুকাইর হতে, তিনি ইবনে লাহীআহ হতে, তিনি আতা ইবনে দীনার হতে, তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়ের হতে বর্ণনা করেন: ‘মুত্তাকীদের জন্য পথনির্দেশ’ অর্থ হলো ‘মুত্তাকীদের জন্য সুস্পষ্ট বর্ণনা’।
তাঁর বাণী: মুত্তাকীদের জন্য[প্রথম অভিমত]
৬০ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনে সিনান, তিনি আবু আন-নাদর হাশিম ইবনে আল-কাসিম হতে, তিনি আবু আকিল আব্দুল্লাহ ইবনে আকিল হতে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে ইয়াজিদ হতে, তিনি রাবীআহ ইবনে ইয়াজিদ ও আতিয়্যাহ ইবনে কায়স হতে, তারা আতিয়্যাহ হতে...
(খণ্ড: ١)
তাফসীর ইবনে আবী হাতিম
(পৃষ্ঠা: ٣٥)
السَّعْدِيِّ وَكَانَ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ- صلى الله عليه وسلم قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ- صلى الله عليه وسلم: لَا يَكُونُ الرَّجُلُ مِنَ الْمُتَّقِينَ حَتَّى يَدَعَ مَا لَا بَأْسَ بِهِ حَذَرًا لِمَا بِهِ الْبَأْسُ «1» .
الْوَجْهُ الثَّانِي:61 - حَدَّثَنَا أَبِي، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عِمْرَانَ، ثنا إِسْحَاقُ بْنُ سُلَيْمَانَ الرَّازِيُّ، عَنِ المغيرة ابن مُسْلِمٍ، عَنْ مَيْمُونٍ، عَنْ أَبِي حَمْزَةَ قَالَ: كُنْتُ جَالِسًا عِنْدَ أَبِي وَائِلٍ فَدَخَلَ عَلَيْنَا رَجُلٌ يُقَالُ لَهُ أَبُو عَفِيفٍ مِنْ أَصْحَابِ مُعَاذٍ. فَقَالَ لَهُ شَقِيقُ بْنُ سَلَمَةَ: يَا أَبَا عَفِيفٍ، أَلا تُحَدِّثُنَا عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ؟ قَالَ: بَلَى، سَمِعْتُهُ يَقُولُ: يُحْبَسُ النَّاسُ يوم القيامة في نقيع وَاحِدٍ فَيُنَادِي مُنَادٍ: أَيْنَ الْمُتَّقُونَ؟ فَيَقُومُونَ فِي كَنَفِ الرَّحْمَنِ، لَا يَحْتَجِبُ اللَّهُ مِنْهُمْ وَلا يَسْتَتِرُ. قُلْتُ: مَنِ الْمُتَّقُونَ؟ قَالَ: قَوْمٌ اتَّقَوَا الشِّرْكَ وَعِبَادَةَ الأَوْثَانِ، وَأَخْلَصُوا لِلَّهِ الْعِبَادَةَ فَيَمُرُّونَ إِلَى الْجَنَّةِ.
الْوَجْهُ الثَّالِثُ:62 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، أَنْبَأَ أَبُو غَسَّانَ مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو زُنَيْجٌ، ثنا سَلَمَةُ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ قَالَ: فِيمَا حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي مُحَمَّدٍ مَوْلَى زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ أَوْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: يَقُولُ اللَّهُ سُبْحَانَهُ وَبِحَمْدِهِ: هُدًى لِلْمُتَّقِينَ أَيِ الَّذِينَ يَحْذَرُونَ مِنَ اللَّهِ عُقُوبَتَهُ فِي تَرْكِ مَا يَعْرِفُونَ مِنَ الْهُدَى وَيَرْجُونَ رَحْمَتَهُ بِالتَّصْدِيقِ بِمَا جَاءَ مِنْهُ.
وَالوجه الرَّابِعُ:63 - حَدَّثَنَا أَبُو زُرْعَةَ، ثنا عَمْرُو بْنُ حَمَّادِ بْنِ طَلْحَةَ الْقَنَّادُ، ثنا أَسْبَاطٌ، عَنِ السُّدِّيِّ: هُدًى لِلْمُتَّقِينَ نُورٌ لِلْمُتَّقِينَ، وَهُمُ الْمُؤْمِنُونَ.
64 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى ثنا الْعَبَّاسُ بْنُ الْوَلِيدِ، ثنا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ حدثني سعيد ابن أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ فِي قَوْلِهِ: هُدًى لِلْمُتَّقِينَ مَنْ هُمْ؟ نَعَتَهُمُ اللَّهُ، فَأَثْبَتَ نَعْتَهُمْ وَوَصْفَهُمْ. قَالَ: الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِالْغَيْبِ.
قَوْلُهُ تَعَالَى: الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ65 - حَدَّثَنَا أَبُو زُرْعَةَ، ثنا عَمْرُو بْنُ حَمَّادٍ، ثنا أَسْبَاطٌ، عَنِ السُّدِّيِّ قَوْلُهُ: الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بالغيب فهم المؤمنون من العرب.
আস-সাদী, যিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীগণের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "কোনো ব্যক্তি ততক্ষণ পর্যন্ত মুত্তাকীদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে ক্ষতির ভয়ে ক্ষতিকর নয় এমন বিষয়কেও বর্জন করে।" (১)।
দ্বিতীয় দিক:৬১ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমার পিতা, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে ইমরান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি ইসহাক ইবনে সুলাইমান আর-রাযী থেকে, তিনি মুগীরা ইবনে মুসলিম থেকে, তিনি মাইমুন থেকে, তিনি আবু হামযাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আবু ওয়াইলের নিকট উপবিষ্ট ছিলাম, এমতাবস্থায় আমাদের নিকট আবু আফীফ নামক এক ব্যক্তি প্রবেশ করলেন, যিনি মুয়ায (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সঙ্গীগণের একজন ছিলেন। শাকীক ইবনে সালামাহ তাকে বললেন: হে আবু আফীফ! আপনি কি আমাদের নিকট মুয়ায ইবনে জাবাল (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে কোনো হাদীস বর্ণনা করবেন না? তিনি বললেন: অবশ্যই, আমি তাকে বলতে শুনেছি: কিয়ামতের দিন মানুষকে একটি সমতল প্রান্তরে সমবেত করা হবে, তখন একজন ঘোষণাকারী আহ্বান করবেন: মুত্তাকীরা কোথায়? তখন তারা পরম করুণাময়ের আশ্রয়ে দণ্ডায়মান হবেন, আল্লাহ তাদের থেকে আড়ালে থাকবেন না এবং নিজেকে গোপন করবেন না। আমি জিজ্ঞেস করলাম: মুত্তাকী কারা? তিনি বললেন: তারা এমন এক সম্প্রদায় যারা শিরক ও মূর্তিপূজা থেকে বেঁচে থেকেছে এবং একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর ইবাদত করেছে, অতঃপর তারা জান্নাতের দিকে চলে যাবে।
তৃতীয় দিক:৬২ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া, তাকে সংবাদ দিয়েছেন আবু গাসসান মুহাম্মদ ইবনে আমর যুনাইজ, তিনি বর্ণনা করেছেন সালামাহ থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক থেকে, তিনি বলেন: আমাকে যা বর্ণনা করেছেন যায়েদ ইবনে সাবিতের মুক্তদাস মুহাম্মদ ইবনে আবু মুহাম্মদ, তিনি ইকরিমাহ অথবা সাঈদ ইবনে জুবাইর থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেছেন: "মুত্তাকীদের জন্য পথপ্রদর্শক", অর্থাৎ যারা আল্লাহর পক্ষ থেকে হেদায়েত হিসেবে যা জেনেছে তা বর্জন করার ক্ষেত্রে তাঁর শাস্তিকে ভয় করে এবং তাঁর পক্ষ থেকে যা এসেছে তা সত্য বলে বিশ্বাসের মাধ্যমে তাঁর রহমতের আশা করে।
চতুর্থ দিক:৬৩ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু যুরআহ, তিনি আমর ইবনে হাম্মাদ ইবনে তালহা আল-কান্নাদ থেকে, তিনি আসবাত থেকে, তিনি সুদ্দী থেকে বর্ণনা করেন: "মুত্তাকীদের জন্য পথপ্রদর্শক" অর্থাৎ মুত্তাকীদের জন্য নূর (আলো), আর তারা হলেন মুমিনগণ।
৬৪ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া, তিনি আব্বাস ইবনুল ওয়ালীদ থেকে, তিনি ইয়াযীদ ইবনে যুরাই' থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে আবু আরুবাহ থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে আল্লাহর বাণী "মুত্তাকীদের জন্য পথপ্রদর্শক" প্রসঙ্গে বর্ণনা করেন: তারা কারা? আল্লাহ তাদের গুণাবলি বর্ণনা করেছেন, অতঃপর তিনি তাদের গুণ ও বৈশিষ্ট্য সাব্যস্ত করেছেন। তিনি বলেছেন: "যারা অদৃশ্যে বিশ্বাস স্থাপন করে।"
মহান আল্লাহর বাণী: যারা বিশ্বাস স্থাপন করে৬৫ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু যুরআহ, তিনি আমর ইবনে হাম্মাদ থেকে, তিনি আসবাত থেকে, তিনি সুদ্দী থেকে আল্লাহর বাণী "যারা অদৃশ্যে বিশ্বাস স্থাপন করে" প্রসঙ্গে বর্ণনা করেছেন: তারা হলেন আরবদের মধ্য হতে মুমিনগণ।
(খণ্ড: ١)
তাফসীর ইবনে আবী হাতিম
(পৃষ্ঠা: ٣٦)
قوله: بالغيب
[الوجه الأول] 66 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سِنَانٍ، ثنا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ عَنْ عُمَارَةَ بْنِ عُمَيْرٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ قَالَ: ذَكَرُوا أَصْحَابَ مُحَمَّدٍ وَإِيمَانَهُمْ عِنْدَ عَبْدِ اللَّهِ. فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ: إِنَّ أَمْرَ مُحَمَّدٍ كَانَ بَيِّنًا لِمَنْ رَآهُ، وَالَّذِي لَا إِلَهَ غَيْرُهُ مَا آمَنَ مُؤْمِنٌ أَفْضَلَ مِنْ إِيمَانٍ بِغَيْبٍ. ثُمَّ قَرَأَ: الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِالْغَيْبِ إِلَى قَوْلِهِ: يُنْفِقُونَ.
67 - حَدَّثَنَا عِصَامُ بْنُ رَوَّادٍ، ثنا آدَمُ الْعَسْقَلانِيُّ، ثنا أَبُو جَعْفَرٍ الرَّازِيُّ عَنِ الرَّبِيعِ ابن أَنَسٍ، عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ فِي قَوْلِهِ: الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِالْغَيْبِ قَالَ: يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَمَلائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ وَجَنَّتِهِ وَنَارِهِ وَلِقَائِهِ. وَيُؤْمِنُونَ بِالْحَيَاةِ بَعْدَ الْمَوْتِ، وَبِالْبَعْثِ. فَهَذَا غَيْبٌ كُلُّهُ.
68 - حَدَّثَنَا أَبُو زُرْعَةَ، ثنا عَمْرُو بْنُ حَمَّادٍ ثنا أَسْبَاطٌ، عَنِ السُّدِّيِّ: أَمَّا الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِالْغَيْبِ فَهُمُ الْمُؤْمِنُونَ مِنَ الْعَرَبِ. أَمَّا الْغَيْبُ: فَمَا غَابَ عَنِ الْعِبَادِ مِنْ أَمْرِ الْجَنَّةِ وَأَمْرِ النَّارِ وَمَا ذُكِرَ فِي الْقُرْآنِ، لَمْ يَكُنْ تَصْدِيقُهُمْ بِذَلِكَ مِنْ قِبَلِ أَصْلِ كِتَابٍ أَوْ عِلْمٍ كَانَ عِنْدَهُمْ.
الْوَجْهُ الثَّانِي:69 - حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ الأَشَجُّ، ثنا أَبُو أَحْمَدَ الزُّبَيْرِيُّ، عَنْ سُفْيَانَ عَنْ عَاصِمٍ عَنْ زِرٍّ. قَالَ: الْغَيْبُ الْقُرْآنُ.
70 - حَدَّثَنَا أَبُو زُرْعَةَ، ثنا صَفْوَانُ، ثنا الْوَلِيدُ، ثنا عُثْمَانُ بْنُ الأَسْوَدِ عَنْ عطاء ابن أَبِي رَبَاحٍ فِي قَوْلِ اللَّهِ عز وجل: الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِالْغَيْبِ فَقَالَ: مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ، فَقَدْ آمَنَ بِالْغَيْبِ.
وَالوجه الثَّالِثُ:71 - حَدَّثَنَا أَبِي، ثنا شِهَابُ بْنُ عَبَّادٍ، ثنا إِبْرَاهِيمُ بْنُ حُمَيْدٍ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ: يُؤْمِنُونَ بِالْغَيْبِ قَالَ: بِغَيْبِ الإِسْلامِ.
وَالوجه الرَّابِعُ:72 - حَدَّثَنَا أَبِي، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ مُوسَى بْنِ نُفَيْعٍ الْحَرَشِيُّ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ: الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِالْغَيْبِ قَالَ: بالقدر.
তাঁর বাণী: অদৃশ্যের প্রতি[প্রথম দিক] ৬৬ - আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে সিনান, তিনি আবু মুয়াবিয়া থেকে, তিনি আমাশ থেকে, তিনি উমারা ইবনে উমায়ের থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনে ইয়াজিদ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ (ইবনে মাসউদ)-এর নিকট মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীগণ এবং তাঁদের ঈমান সম্পর্কে আলোচনা করা হচ্ছিল। তখন আবদুল্লাহ বললেন: মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বিষয়টি তাঁর প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছে সুস্পষ্ট ছিল। সেই সত্তার কসম, যাঁর ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই, অদৃশ্যের (গায়েবের) প্রতি ঈমান আনার চেয়ে শ্রেষ্ঠ কোনো ঈমান কোনো মুমিনই আনেনি। অতঃপর তিনি পাঠ করলেন: "যারা অদৃশ্যের প্রতি ঈমান আনে" থেকে "ব্যয় করে" পর্যন্ত।
৬৭ - আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইসাম ইবনে রাওয়াদ, তিনি আদম আল-আসকালানি থেকে, তিনি আবু জাফর আর-রাজি থেকে, তিনি রাবী ইবনে আনাস থেকে, তিনি আবুল আলিয়া থেকে আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে বর্ণনা করেন: "যারা অদৃশ্যের প্রতি ঈমান আনে"। তিনি বলেন: তারা আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ, পরকাল, তাঁর জান্নাত, তাঁর জাহান্নাম এবং তাঁর সাক্ষাতের ওপর ঈমান আনে। তারা মৃত্যুর পরবর্তী জীবন এবং পুনরুত্থানের ওপরও ঈমান আনে। এ সবই হলো অদৃশ্য বা গায়েব।
৬৮ - আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু জুরআহ, তিনি আমর ইবনে হাম্মাদ থেকে, তিনি আসবাত থেকে, তিনি সুদ্দী থেকে বর্ণনা করেন: "যারা অদৃশ্যের প্রতি ঈমান আনে" তারা হলো আরবদের মধ্য থেকে যারা ঈমান এনেছে। আর অদৃশ্য বা গায়েব হলো: জান্নাত ও জাহান্নামের বিষয়াবলী এবং কুরআনে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে যা বান্দাদের নিকট থেকে লুক্কায়িত রাখা হয়েছে। তাদের এই বিশ্বাস কোনো পূর্ববর্তী কিতাব বা তাদের নিকট থাকা কোনো প্রাচীন জ্ঞানের ভিত্তিতে ছিল না।
দ্বিতীয় দিক:৬৯ - আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু সাঈদ আল-আশাজ, তিনি আবু আহমদ আল-যুবাইরি থেকে, তিনি সুফিয়ান থেকে, তিনি আসিম থেকে, তিনি জির থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: অদৃশ্য (গায়েব) হলো কুরআন।
৭০ - আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু জুরআহ, তিনি সাফওয়ান থেকে, তিনি ওয়ালিদ থেকে, তিনি উসমান ইবনে আসওয়াদ থেকে, তিনি আতা ইবনে আবি রাবাহ থেকে মহান আল্লাহর বাণী: "যারা অদৃশ্যের প্রতি ঈমান আনে" সম্পর্কে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: যে আল্লাহর ওপর ঈমান এনেছে, সে অদৃশ্যের ওপরই ঈমান এনেছে।
তৃতীয় দিক:৭১ - আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আমার পিতা, তিনি শিহাব ইবনে আব্বাদ থেকে, তিনি ইব্রাহিম ইবনে হুমাইদ থেকে, তিনি ইসমাইল ইবনে আবি খালিদ থেকে বর্ণনা করেন: "যারা অদৃশ্যের প্রতি ঈমান আনে" সম্পর্কে তিনি বলেন: ইসলামের অদেখা বিষয়াবলীর ওপর ঈমান আনা।
চতুর্থ দিক:৭২ - আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আমার পিতা, তিনি মুহাম্মদ ইবনে মুসা ইবনে নুফাই আল-হারাশি থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে জাফর থেকে, তিনি জায়েদ ইবনে আসলাম থেকে বর্ণনা করেন: "যারা অদৃশ্যের প্রতি ঈমান আনে" সম্পর্কে তিনি বলেন: তকদির বা ভাগ্যের ওপর ঈমান আনা।
(খণ্ড: ١)
তাফসীর ইবনে আবী হাতিম
(পৃষ্ঠা: ٣٧)
وَالوجه الْخَامِسُ:73 - حَدَّثَنَا أَبِي ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمُسْنَدِيُّ، ثنا إِسْحَاقُ بْنُ إِدْرِيسَ، أَخْبَرَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ مَحْمُودِ بْنِ سَلَمَةَ الأَنْصَارِيُّ، أَخْبَرَنِي جَعْفَرُ بْنُ مَحْمُودٍ عَنْ جَدَّتِهِ تُوَيْلَةَ ابْنَةِ أَسْلَمَ قَالَتْ: صَلَّيْتُ الظُّهْرَ أَوِ الْعَصْرَ فِي مَسْجِدِ بَنِي حَارِثَةَ فَاسْتَقْبَلْنَا مَسْجِدَ إِيلِيَا فَصَلَّيْنَا سَجْدَتَيْنِ ثُمَّ جَاءَنَا مَنْ يخْبِرُنَا أَنّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَدِ اسْتَقْبَلَ الْبَيْتَ الْحَرَامَ، فَتَحَوَّلَ الرِّجَالُ مَكَانَ النِّسَاءِ، وَالنِّسَاءُ مَكَانَ الرِّجَالِ، فَصَلَّيْنَا السَّجْدَتَيْنِ الباقيتين مستقبلي الْبَيْتِ الْحَرَامِ. قَالَ إِبْرَاهِيمُ: فَحَدَّثَنِي رِجَالٌ مِنْ بَنِي حَارِثَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ- صلى الله عليه وسلم حِينَ بَلَغَهُ ذَلِكَ قَالَ: أُولَئِكَ قَوْمٌ آمَنُوا بِالْغَيْبِ «1» .
قَوْلُهُ: وَيُقِيمُونَ الصَّلاةَ74 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، ثنا أَبُو غَسَّانَ مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو زُنَيْجٌ، ثنا سَلَمَةُ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ قَالَ فِيمَا حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي مُحَمَّدٌ مَوْلَى، زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ عَنْ عِكْرِمَةَ أَوْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ: يَقُولُ اللَّهُ سبحانه وتعالى وَبِحَمْدِهِ الَّذِينَ َيُقِيمُونَ الصَّلاةَ أَيْ يُقِيمُونَ الصَّلاةَ بِفَرْضِهَا.
75 - حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الصَّبَّاحِ، ثنا عَبْدُ الْوَهَّابِ- يَعْنِي ابْنَ عَطَاءٍ- الْخَفَّافَ، عَنْ سَعِيدٍ عَنْ قَتَادَةَ وَيُقِيمُونَ الصَّلاةَ وَإِقَامَةُ الصَّلاةِ: الْمُحَافَظَةُ عَلَى مَوَاقِيتِهَا وَوُضُوئِهَا وَرُكُوعِهَا وَسُجُودِهَا.
76 - قَرَأْتُ عَلَى مُحَمَّدِ بْنِ الْفَضْلِ بْنِ مُوسَى، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ شَقِيقٍ، ثنا أَبُو وَهْبٍ مُحَمَّدُ بْنُ مُزَاحِمٍ، ثنا بُكَيْرُ بْنُ مَعْرُوفٍ، عَنْ مُقَاتِلِ بْنِ حيان، قوله:
ويقيمون الصَّلاةَ وَإِقَامَتُهَا الْمُحَافَظَةُ عَلَى مَوَاقِيتِهَا، وَإِسْبَاغُ الطُّهُورِ فِيهَا، وَتَمَامُ رُكُوعِهَا وَسُجُودِهَا، وَتِلاوَةُ الْقُرْآنِ فِيهَا، وَالتَّشَهُّدِ وَالصَّلاةِ عَلَى النَّبِيِّ- صلى الله عليه وسلم فَهَذَا إِقَامَتُهَا.
قَوْلُهُ: وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنْفِقُونَ
[الوجه الأول] 77 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، أَنْبَأَ أَبُو غَسَّانَ مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو زُنَيْجٌ، ثنا سَلَمَةُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ- قَالَ: فِيمَا حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي مُحَمَّدٌ مَوْلَى زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ أَوْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ: يَقُولُ اللَّهُ سُبْحَانَهُ وَبِحَمْدِهِ: وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنْفِقُونَ يُؤْتَوْنَ الزَّكَاةَ احْتِسَابًا لَهَا.
পঞ্চম দিক:৭৩ - আমাদের নিকট আমার পিতা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আল-মুসনাদী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট ইসহাক ইবনে ইদরিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাকে ইবরাহিম ইবনে জাফর ইবনে মাহমুদ ইবনে সালামাহ আল-আনসারী সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আমাকে জাফর ইবনে মাহমুদ তার দাদি তুওয়াইলা বিনতে আসলাম থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি বনী হারিসাহর মসজিদে জোহর অথবা আসরের সালাত আদায় করছিলাম, তখন আমরা ইলিয়া (বায়তুল মাকদিস) মসজিদের দিকে মুখ করে ছিলাম। আমরা দুই রাকাত সালাত আদায় করলাম, এরপর একজন সংবাদবাহক এসে আমাদের সংবাদ দিলেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এখন পবিত্র কাবা গৃহের (বায়তুল হারাম) দিকে মুখ করেছেন। তখন পুরুষরা নারীদের স্থানে এবং নারীরা পুরুষদের স্থানে সরে গেল এবং আমরা অবশিষ্ট দুই রাকাত পবিত্র কাবা গৃহের দিকে মুখ করে আদায় করলাম। ইবরাহিম বলেন: বনী হারিসাহর কিছু লোক আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট যখন এই সংবাদ পৌঁছালো তখন তিনি বললেন: "ওরাই সেই সম্প্রদায় যারা অদৃশ্যের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছে।"
মহান আল্লাহর বাণী: এবং তারা সালাত কায়েম করে৭৪ - আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আবু গাসসান মুহাম্মদ ইবনে আমর জুনাইজ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট সালামাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন যা আমার নিকট জায়েদ ইবনে সাবিতের মুক্তদাস মুহাম্মদ ইবনে আবি মুহাম্মদ বর্ণনা করেছেন ইকরিমা অথবা সাঈদ ইবনে জুবাইর থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন: আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাঁর প্রশংসাসহ বলেন: "যারা সালাত কায়েম করে" অর্থাৎ যারা সালাতকে তার ফরজসমূহসহ যথাযথভাবে আদায় করে।
৭৫ - আমাদের নিকট হাসান ইবনে মুহাম্মদ ইবনাস সাব্বাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আবদুল ওয়াহহাব (অর্থাৎ ইবনে আতা আল-খাফফাফ) সাঈদ থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে বর্ণনা করেন: "এবং তারা সালাত কায়েম করে" - আর সালাত কায়েম করা হলো: এর নির্ধারিত সময়ের প্রতি যত্নশীল হওয়া এবং এর অজু, রুকু ও সিজদা যথাযথভাবে পালন করা।
৭৬ - আমি মুহাম্মদ ইবনুল ফজল ইবনে মুসার কাছে পড়েছি, আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনুল হাসান ইবনে শাকীক বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবু ওয়াহব মুহাম্মদ ইবনে মুযাহিম বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট বুকাইর ইবনে মা’রুফ মুকাতিল ইবনে হাইয়্যান থেকে তাঁর এই বক্তব্য সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন:
"এবং তারা সালাত কায়েম করে" - এর কায়েম করা হলো এর সময়ের প্রতি যত্নশীল হওয়া, এতে পরিপূর্ণভাবে পবিত্রতা অর্জন করা, এর রুকু ও সিজদা পূর্ণাঙ্গ করা, এতে কুরআন তিলাওয়াত করা এবং তাশাহহুদ পাঠ ও নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর দরুদ পাঠ করা; আর এটাই হলো সালাত কায়েম করা।
মহান আল্লাহর বাণী: এবং আমি তাদেরকে যে রিযিক দান করেছি তা থেকে তারা ব্যয় করে
[প্রথম দিক] ৭৭ - আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া বর্ণনা করেছেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু গাসসান মুহাম্মদ ইবনে আমর জুনাইজ, আমাদের নিকট সালামাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন যা আমার নিকট জায়েদ ইবনে সাবিতের মুক্তদাস মুহাম্মদ ইবনে আবি মুহাম্মদ বর্ণনা করেছেন ইকরিমা অথবা সাঈদ ইবনে জুবাইর থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন: আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাঁর প্রশংসাসহ বলেন: "এবং আমি তাদেরকে যে রিযিক দান করেছি তা থেকে তারা ব্যয় করে" অর্থাৎ তারা সওয়াবের আশায় জাকাত প্রদান করে।
(খণ্ড: ١)
তাফসীর ইবনে আবী হাতিম
(পৃষ্ঠা: ٣٨)
الْوَجْهُ الثَّانِي:78 - حَدَّثَنَا أَبُو زُرْعَةَ، ثنا عَمْرُو بْنُ حَمَّادٍ ثنا أَسْبَاطٌ، عَنِ السُّدِّيِّ: وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنْفِقُونَ فَهِيَ نَفَقَةُ الرَّجُلِ عَلَى أَهْلِهِ، وَهَذَا قَبْلَ أَنْ تَنْزِلَ الزَّكَاةُ.
الْوَجْهُ الثَّالِثُ:79 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى أَنْبَأَ الْعَبَّاسُ بْنُ الْوَلِيدِ، ثنا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ ثنا سَعِيدٌ عَنْ قَتَادَةَ: وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنْفِقُونَ فَأَنْفِقُوا مِمَّا أَعْطَاكُمُ اللَّهُ، فَإِنَّمَا هَذِهِ الأَمْوَالُ عَوَارٍ وَوَدَائِعُ عِنْدَكَ يَا ابْنَ آدَمَ أَوْشَكْتَ أَنْ تُفَارِقَهَا.
قَوْلُهُ تَعَالَى: وَالَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِمَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ وَمَا أُنْزِلَ مِنْ قَبْلِكَ80 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى أَنْبَأَ أَبُو غَسَّانَ مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو زُنَيْجٌ، ثنا سَلَمَةُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، قَالَ فِيمَا حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي مُحَمَّدٍ عَنْ عِكْرِمَةَ أَوْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ: وَالَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِمَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ وَمَا أُنْزِلَ مِنْ قَبْلِكَ أَيْ يُصَدِّقُونَكَ بِمَا جِئْتَ مِنَ اللَّهِ، وَمَا جَاءَ بِهِ مَنْ قَبْلَكَ مِنَ الْمُرْسَلِينَ، لَا يُفَرِّقُونَ بَيْنَهُمْ وَلا يَجْحَدُونَ بِمَا جَاءُوهُمْ بِهِ مِنْ رَبِّهِمْ.
81 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى أَنْبَأَ الْعَبَّاسُ بْنُ الْوَلِيدِ، ثنا يَزِيدُ ثنا سَعِيدٌ عَنْ قَتَادَةَ قَوْلُهُ: وَالَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِمَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ وَمَا أُنْزِلَ مِنْ قَبْلِكَ فَآمَنُوا بِالْفُرْقَانِ وَبِالْكُتُبِ الَّتِي قَدْ خَلَتْ قَبْلَهُ مِنَ التَّوْرَاةِ وَالزَّبُورِ وَالإِنْجِيلِ.
قَوْلُهُ تَعَالَى: وَبِالآخِرَةِ هُمْ يُوقِنُونَ82 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى أَنْبَأَ أَبُو غَسَّانَ، مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو ثنا سَلَمَةُ، عَنْ مُحَمَّدِ ابْنَ إِسْحَاقَ قَالَ فِيمَا حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي مُحَمَّدٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ أَوْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ: وَبِالآخِرَةِ هُمْ يُوقِنُونَ أَيْ بِالْبَعْثِ وَالْقِيَامَةِ وَالْجَنَّةِ وَالنَّارِ وَالْحِسَابِ وَالْمِيزَانِ. أَيْ هَؤُلاءِ الَّذِينَ يَزْعُمُونَ أَنَّهُمْ آمَنُوا بِمَا كَانَ قَبْلَكَ وَيَكْفُرُونَ بِمَا جَاءَكَ مِنْ رَبِّكَ.
83 - حَدَّثَنَا أَبُو زُرْعَةَ، ثنا عَمْرُو بْنُ حَمَّادٍ، ثنا أَسْبَاطٌ عَنِ السُّدِّيِّ: وَبِالآخِرَةِ هُمْ يُوقِنُونَ هَؤُلاءِ الْمُؤْمِنُونَ مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ.
দ্বিতীয় দিক:৭৮ - আমাদের নিকট আবু যুরআহ বর্ণনা করেছেন, তিনি আমর ইবনে হাম্মাদ থেকে, তিনি আসবাত থেকে, তিনি সুদ্দী থেকে বর্ণনা করেন: "এবং আমি তাদেরকে যে রিযিক দান করেছি তা হতে তারা ব্যয় করে" - এটি হলো পরিবারের জন্য ব্যক্তির ব্যয়; আর এটি যাকাতের বিধান অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বের বিষয়।
তৃতীয় দিক:৭৯ - আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া বর্ণনা করেছেন, তিনি আব্বাস ইবনে ওয়ালিদ থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি ইয়াযিদ ইবনে যুরাই’ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি সাঈদ থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে বর্ণনা করেন: "এবং আমি তাদেরকে যে রিযিক দান করেছি তা হতে তারা ব্যয় করে" - সুতরাং আল্লাহ তোমাদের যা দান করেছেন তা হতে তোমরা ব্যয় করো। হে আদম সন্তান! এই সম্পদগুলো তোমার নিকট কেবল ধারস্বরূপ এবং গচ্ছিত আমানত, যা অচিরেই তোমাকে ছেড়ে চলে যেতে হবে।
মহান আল্লাহর বাণী: আর যারা ঈমান আনে তাতে যা আপনার প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে এবং যা আপনার পূর্বে অবতীর্ণ হয়েছে৮০ - আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু গাসসান মুহাম্মদ ইবনে আমর যুনাইয থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি সালামাহ থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন যে বিষয়ে মুহাম্মদ ইবনে আবি মুহাম্মদ আমার নিকট ইকরিমা অথবা সাঈদ ইবনে জুবায়েরের সূত্রে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন: "আর যারা ঈমান আনে তাতে যা আপনার প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে এবং যা আপনার পূর্বে অবতীর্ণ হয়েছে" অর্থাৎ তারা আল্লাহর পক্ষ থেকে আপনি যা নিয়ে এসেছেন এবং আপনার পূর্ববর্তী রাসূলগণ যা নিয়ে এসেছেন তাতে আপনাকে সত্যয়ন করে। তারা তাদের মধ্যে কোনো পার্থক্য করে না এবং তাদের রবের পক্ষ থেকে তারা যা নিয়ে এসেছেন তা অস্বীকার করে না।
৮১ - আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া বর্ণনা করেছেন, তিনি আব্বাস ইবনে ওয়ালিদ থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি ইয়াযিদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি সাঈদ থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে এই বাণী সম্পর্কে বর্ণনা করেন: "আর যারা ঈমান আনে তাতে যা আপনার প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে এবং যা আপনার পূর্বে অবতীর্ণ হয়েছে" - তারা ফুরকান (কুরআন) এবং তার পূর্বে অতিবাহিত হওয়া কিতাবসমূহ যেমন তাওরাত, যাবুর ও ইঞ্জিলের প্রতি ঈমান এনেছে।
মহান আল্লাহর বাণী: এবং তারা পরকালের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করে৮২ - আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু গাসসান মুহাম্মদ ইবনে আমর থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি সালামাহ থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন যে বিষয়ে মুহাম্মদ ইবনে আবি মুহাম্মদ আমার নিকট ইকরিমা অথবা সাঈদ ইবনে জুবায়েরের সূত্রে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন: "এবং তারা পরকালের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করে" অর্থাৎ পুনরুত্থান, কিয়ামত, জান্নাত, জাহান্নাম, হিসাব ও মিযানের প্রতি। এর দ্বারা উদ্দেশ্য সেই সব লোক যারা দাবি করে যে তারা আপনার পূর্ববর্তী বিষয়গুলোর ওপর ঈমান এনেছে অথচ আপনার রবের পক্ষ থেকে আপনার নিকট যা এসেছে তা তারা অস্বীকার করে।
৮৩ - আমাদের নিকট আবু যুরআহ বর্ণনা করেছেন, তিনি আমর ইবনে হাম্মাদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি আসবাত থেকে, তিনি সুদ্দী থেকে বর্ণনা করেন: "এবং তারা পরকালের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করে" - এরা হলো আহলে কিতাবের অন্তর্ভুক্ত মুমিনগণ।
(খণ্ড: ١)
তাফসীর ইবনে আবী হাতিম
(পৃষ্ঠা: ٣٩)
قوله: أولئك على هدى من ربهم
[الوجه الأول] 84 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، أَنْبَأَ أَبُو غَسَّانَ مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو، وثنا سَلَمَةُ عَنْ مُحَمَّدِ ابْنَ إِسْحَاقَ قَالَ: فِيمَا حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي مُحَمَّدٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ أَوْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ: أُولَئِكَ عَلَى هُدًى مِنْ رَبِّهِمْ أَيْ عَلَى نُورٍ مِنْ رَبِّهِمْ، وَاسْتِقَامَةٍ عَلَى مَا جَاءَهُمْ.
وَالوجه الثَّانِي:85 - حَدَّثَنَا أَبِي، ثنا أَبُو هَارُونَ الْبَكَّاءُ، ثنا ابْنُ لَهِيعَةَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ دِينَارٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ فِي قَوْلِهِ: أُولَئِكَ عَلَى هُدًى مِنْ رَبِّهِمْ قَالَ: عَلَى بَيِّنَةٍ مِنْ رَبِّهِمْ.
قَوْلُهُ تَعَالَى: وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ86 - حَدَّثَنَا أَبِي، ثنا يَحْيَى بْنُ عُثْمَانَ بْنِ صَالِحٍ الْمِصْرِيُّ، ثنا أَبِي ثنا ابْنُ لَهِيعَةَ، حَدَّثَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُغِيرَةِ، عَنْ أَبِي الْهَيْثَمِ- وَاسْمُهُ سُلَيْمَانُ بْنُ عَبْدٍ- عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَقِيلَ لَهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ: إِنَّا نَقْرَأُ مِنَ الْقُرْآنِ فَنَكَادُ أَنْ نَيْأَسَ «1» - أَوْ كَمَا قَالَ: فَقَالَ- أَلا أُخْبِرُكُمْ عَنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ وَأَهْلِ النَّارِ؟
قَالُوا: بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ. فَقَالَ: الم ذَلِكَ الْكِتَابُ لَا رَيْبَ فِيهِ هُدًى لِلْمُتَّقِينَ- إِلَى قَوْلِهِ- الْمُفْلِحُونَ هَؤُلاءِ أَهْلُ الجنة. قالوا إنا نرجو أَنْ نَكُونَ هَؤُلاءِ. ثُمَّ قَالَ: إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا سَوَاءٌ عَلَيْهِمْ- إِلَى قَوْلِهِ- عَظِيمٌ هَؤُلاءِ أَهْلُ النَّارِ، لَسْنَا هُمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: أَجَلْ.
87 - حَدَّثَنَا عِصَامُ بْنُ رَوَّادِ بْنِ الْجَرَّاحِ الْعَسْقَلانِيُّ، ثنا آدَمُ بْنُ أَبِي إِيَاسٍ، ثنا أَبُو جَعْفَرٍ الرَّازِيُّ، عَنِ الرَّبِيعِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ قَالَ: هَذِهِ الأَرْبَعُ الآيَاتِ مِنْ فَاتِحَةِ السُّورَةِ- فِي الْمُؤْمِنِينَ.
88 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى أَنْبَأَ أَبُو غَسَّانَ مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو زُنَيْجٌ ثنا سَلَمَةُ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ قَالَ فِيمَا حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي مُحَمَّدٍ عَنْ عِكْرِمَةَ أَوْ سَعِيدِ بْنُ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ: وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ أَيِ الَّذِينَ أَدْرَكُوا مَا طَلَبُوا، وَنَجَوْا مِنْ شر ما منه هربوا.
আল্লাহর বাণী: তারা তাদের রবের পক্ষ থেকে হিদায়াতের ওপর রয়েছে
[প্রথম দিক] ৮৪ - আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু গাসসান মুহাম্মদ ইবনে আমর থেকে অবহিত হয়েছেন, আর সালামাহ আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে আবি মুহাম্মদ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি ইকরিমাহ অথবা সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেছেন: "তারা তাদের রবের পক্ষ থেকে হিদায়াতের ওপর রয়েছে" অর্থাৎ তাদের রবের পক্ষ থেকে আগত নূরের ওপর এবং তাদের কাছে যা এসেছে তার ওপর অবিচলতার ওপর রয়েছে।
দ্বিতীয় দিক:৮৫ - আমাদের নিকট আমার পিতা বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু হারুন আল-বাক্কা থেকে, তিনি ইবনে লাহিয়াহ থেকে, তিনি আতা ইবনে দিনার থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন: "তারা তাদের রবের পক্ষ থেকে হিদায়াতের ওপর রয়েছে", তিনি বলেন: তাদের রবের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট প্রমাণের ওপর।
আল্লাহ তাআলার বাণী: আর তারাই হলো সফলকাম৮৬ - আমাদের নিকট আমার পিতা বর্ণনা করেছেন, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে উসমান ইবনে সলিহ আল-মিসরি থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি ইবনে লাহিয়াহ থেকে, তিনি উবাইদুল্লাহ ইবনে মুগিরাহ থেকে, তিনি আবু হাইসাম (তার নাম সুলাইমান ইবনে আবদ) থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁকে বলা হলো: হে আল্লাহর রাসূল, আমরা কুরআন পাঠ করি এবং প্রায় হতাশ হয়ে পড়ি—অথবা তিনি যেমনটি বলেছিলেন। তখন তিনি বললেন—আমি কি তোমাদের জান্নাতী এবং জাহান্নামীদের সম্পর্কে সংবাদ দেব না?
তারা বললেন: অবশ্যই, হে আল্লাহর রাসূল। তখন তিনি বললেন: "আলিফ লাম মীম, এটি সেই কিতাব যাতে কোনো সন্দেহ নেই, মুত্তাকীদের জন্য হিদায়াত"—থেকে—"সফলকাম" পর্যন্ত। এরা হলো জান্নাতী। তারা বললেন: আমরা আশা করি যে আমরা তাদের অন্তর্ভুক্ত হব। এরপর তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই যারা কুফরী করেছে তাদের জন্য সমান"—থেকে—"মহাশাস্তি" পর্যন্ত। এরা হলো জাহান্নামী। (সাহাবীগণ বললেন) আমরা কি তাদের অন্তর্ভুক্ত নই, হে আল্লাহর রাসূল? তিনি বললেন: হ্যাঁ (অর্থাৎ তোমরা তাদের অন্তর্ভুক্ত নও)।
৮৭ - আমাদের নিকট ইসাম ইবনে রাওয়াদ ইবনুল জাররাহ আল-আসকালানি বর্ণনা করেছেন, তিনি আদম ইবনে আবি ইয়াস থেকে, তিনি আবু জাফর আর-রাজি থেকে, তিনি রাবি ইবনে আনাস থেকে, তিনি আবুল আলিয়াহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সূরার প্রারম্ভের এই চারটি আয়াত মুমিনদের সম্পর্কে।
৮৮ - আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু গাসসান মুহাম্মদ ইবনে আমর জুনাইজ থেকে অবহিত হয়েছেন, তিনি সালামাহ থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক থেকে, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে আবি মুহাম্মদ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি ইকরিমাহ অথবা সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেছেন: "আর তারাই হলো সফলকাম" অর্থাৎ যারা যা অন্বেষণ করেছিল তা লাভ করেছে এবং যে অনিষ্ট থেকে পলায়ন করেছিল তা থেকে মুক্তি পেয়েছে।