(খণ্ড: ১) আল-মুগনী ফী তাসরীফিল আফআল (পৃষ্ঠা: -)
المغني في تصريف الأفعال   (محمد عبد الخالق عضيمة)

القسم: النحو والصرف


الكتاب: المغني في تصريف الأفعال

المؤلف: محمّدُ بنُ عبدِ الخالقِ بنِ عليِّ بنِ عضيمةَ (ت 1403هـ)

الناشر: دار الحديث- القاهرة

الطبعة: الثانية 1420هـ-1999م

عدد الصفحات: 24

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-মুগনি ফি তাসরিফিল আফআল (ক্রিয়া রূপান্তরে পর্যাপ্ততা)   (মুহাম্মাদ আব্দুল খালেক আদিমাহ)

বিভাগ: নাহু ও সরফ (ব্যাকরণ ও রূপান্তরবিদ্যা)


কিতাব: আল-মুগনি ফি তাসরিফিল আফআল

গ্রন্থকার: মুহাম্মাদ বিন আব্দুল খালেক বিন আলী বিন আদিমাহ (মৃত্যু ১৪০৩ হিজরি)

প্রকাশক: দারুল হাদিস- কায়রো

সংস্করণ: দ্বিতীয় ১৪২০ হিজরি-১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৪

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-মুগনী ফী তাসরীফিল আফআল (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌المقدمات

‌‌مقدمة الطبعة الثالثة

…

مقدمة الطبعة الثالثة:

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على أشرف المرسلين، وخاتم النبيين.

وبعد:

فقد كانت الطبعة الثانية للمغني سنة 1955م، ثم تمت بعد ذلك طباعة كتب نحوية وصرفية كانت مخطوطة كالخصائص، والمنصف شرح تصريف المازني لأبي الفتح، وإيضاح علل النحو للزجاجي.

كذلك استطعت في هذه الفترة قراءة هذه الكتب: المخصص لابن سيده، إصلاح المنطق لابن السكيت، وتهذيبه للتبريزي، مجالس ثعلب، الاقتضاب شرح أدب الكتاب لابن السيد، وشرح الجواليقي لأدب الكاتب، أسرار العربية للأنباري، الروض الأنف للسهيلي، بدائع الفوائد لابن القيم، البرهان للزركشي، نفح الطيب للمقري، ألف با للبلوي، شرح أفعال ابن القوطية للسرقسطي، سفر السعادة وسفير الإفادة للسخاوي "وهما من مخطوطات دار الكتب".

وقد رأيت أن يكون لقراءاتي في هذه الكتب أثرها في هذه النشرة، وسيلمح القارئ ذلك مبثوثا منثورا في تضاعيف الكتاب.
ভূমিকাসমূহ

তৃতীয় সংস্করণের ভূমিকা

…

তৃতীয় সংস্করণের ভূমিকা:

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক শ্রেষ্ঠ রাসূল ও সর্বশেষ নবীর ওপর।

অত:পর:

আল-মুগনী-এর দ্বিতীয় সংস্করণ ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়েছিল। এরপর নাহু (ব্যাকরণ) এবং সরফ (রূপতত্ত্ব) বিষয়ক এমন কিছু গ্রন্থ মুদ্রিত হয়েছে যা ইতিপূর্বে পাণ্ডুলিপি (مخطوطة) আকারে ছিল; যেমন: আল-খাসাইস, আবুল ফাতাহ প্রণীত আল-মুনসিফ শারহু তাসরিফ আল-মাজিনি এবং আজ-জাজ্জাজি রচিত ইদাহু ইলাল আন-নাহু।

অনুরূপভাবে, এই সময়ের মধ্যে আমি এই গ্রন্থগুলো অধ্যয়ন করতে সক্ষম হয়েছি: ইবনে সিদাহর আল-মুখাসসাস, ইবনুল সিক্কিতের ইসলাহুল মানতিক এবং আত-তিবরিজি কর্তৃক এর তাহজিব (পরিমার্জিত সংস্করণ), মাজালিসু ছালাব, ইবনুস সাইয়্যিদ রচিত আল-ইকতিদাব শারহু আদাবিল কিতাব, আল-জাওয়ালিকি রচিত শারহু আদাবিল কাতিব, আল-আনবারির আসরারুল আরাবিয়্যাহ, আস-সুহাইলি রচিত আর-রাওদুল উনুফ, ইবনুল কাইয়্যিমের বাদা’ইউ আল-ফাওয়াইদ, আজ-যারকাশি রচিত আল-বুরহান, আল-মাকরির নাফহুত তীব, আল-বালউয়ির আলিফ বা, আস-সারাকুস্তি রচিত শারহু আফআল ইবনুল কুতীয়্যাহ, আস-সাখাভির সাফারুস সা’আদাহ ওয়া সাফীরুল ইফাদাহ "এবং এ দুটি দারুল কুতুবের সংরক্ষিত পাণ্ডুলিপি (مخطوطات) সমূহের অন্তর্ভুক্ত"।

আমি সংকল্প করেছি যে, এই গ্রন্থগুলোতে আমার পাঠ ও অধ্যয়নের প্রভাব যেন এই সংস্করণে প্রতিফলিত হয়। পাঠকগণ গ্রন্থের বিভিন্ন স্থানে তা বিস্তৃতভাবে ছড়িয়ে থাকতে লক্ষ্য করবেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুগনী ফী তাসরীফিল আফআল (পৃষ্ঠা: ৬)
هذا وقد اتصل تدريسي لكتابي منذ تأليفه إلى اليوم، وقد أحدثت تغييرا في أسلوب عرض بعض الأبواب، على ضوء ما هدتني إليه التجربة، ودلني عليه ترداد النظر في الكتاب.

لقد كتبت في الإلحاق بحثا ضافيا أرسيت فيه قواعده، وجلوت غامضه، ولعله أوسع ما كتب عن هذا الموضوع، فحديثه في كتب الصرف لا يعدو أن يكون غمغمة لا تبين، وهمهمة لا تتضح، وبمتابعة القراءة عثرت على ما يكشف الغموض في ناحية، كما عثرت على ما استعصى على فهمه، وقد سجلت كل ذلك لعل غيري يستطيع أن يجد له حلا.

ويذكر النحويون أن توكيد أفعال الطلب كثير وقد رجعت إلى أسلوب القرآن الكريم، فوجدت أن توكيد الطلب فيه قليل، فأفعال الأمر تجاوزت مواضعها 1840 موضعا في القرآن، وخلت كلها من التوكيد بالنون في القراءات السبعية والعشرية، وقد عرضت لذلك بتفصيل.

وقد ألزمت نفسي أن أعرض عند كل قاعدة في كتابي لأسلوب القرآن في قراءاته المختلفة حتى يكون القارئ على بينة في ذلك.

وفي رأيي أنه لا يجمل بالمتخصص في مادته العاكف على دراستها أن تكون طبعات كتابه صورة واحدة، لا أثر فيها لتهذيب أو قراءات جديدة. فإن القعود عن تجديد القراءة سمة من سمات الهمود، ولون من ألون الجمود.

أسأل الله العون والتوفيق،

محمد عبد الخالق عضيمة

19 من صفر سنة 1382هـ

21 من يوليو سنة 1962م
এই গ্রন্থটি রচনার পর থেকে আজ পর্যন্ত আমার পাঠদান অব্যাহত রয়েছে। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা এবং এই কিতাবটি বারবার পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রাপ্ত নির্দেশনার আলোকে আমি এর কিছু অধ্যায়ের উপস্থাপনা পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনেছি।

আমি সংযুক্তি (الإلحاق) বিষয়ে একটি সমৃদ্ধ গবেষণা লিখেছি, যেখানে আমি এর নিয়মাবলি প্রতিষ্ঠা করেছি এবং এর অস্পষ্ট বিষয়গুলো উন্মোচন করেছি। সম্ভবত এই বিষয়ে লিখিত এটিই সবচেয়ে বিস্তৃত আলোচনা। কেননা সরফ শাস্ত্রের কিতাবসমূহে এ সংক্রান্ত আলোচনা অস্পষ্ট এবং অস্পষ্ট গুঞ্জনের চেয়ে বেশি কিছু নয়। ক্রমাগত পাঠের মাধ্যমে আমি একদিকে যেমন অস্পষ্টতা দূরকারী বিষয়ের সন্ধান পেয়েছি, তেমনি এমন কিছু বিষয়ও পেয়েছি যা বোঝা দুঃসাধ্য ছিল; আমি এই সবকিছুই লিপিবদ্ধ করেছি যাতে আমার পরে অন্য কেউ এগুলোর সমাধান খুঁজে পায়।

ব্যাকরণবিদগণ (النحويون) উল্লেখ করেন যে, অনুরোধসূচক ক্রিয়ার (أفعال الطلب) তাকিদ (توكيد) বা গুরুত্ব প্রদান অধিক হয়ে থাকে। কিন্তু আমি পবিত্র কুরআনের রচনাশৈলী পর্যালোচনা করে দেখেছি যে, তাতে এই তাকিদ (توكيد) সামান্যই হয়েছে। যেমন—পবিত্র কুরআনে আদেশসূচক ক্রিয়া (أفعال الأمر) ১৮৪০টিরও বেশি স্থানে এসেছে, যার সবকটিই সাবয়া (সাতটি) ও আশারা (দশটি) কিরাআতে (القراءات السبعية والعشرية) তাকিদ-যুক্ত নুন (نون التوكيد) হতে মুক্ত ছিল। আমি বিষয়টি বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করেছি।

আমি প্রতিটি নিয়মের ক্ষেত্রে পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন কিরাআতের পদ্ধতি উপস্থাপন করাকে নিজের জন্য আবশ্যক করে নিয়েছি, যাতে পাঠক এ বিষয়ে সুস্পষ্ট জ্ঞান লাভ করতে পারেন।

আমার মতে, কোনো বিষয়ে বিশেষজ্ঞ এবং সেই বিষয়ের অধ্যয়নে নিবিষ্ট ব্যক্তির জন্য এটি শোভনীয় নয় যে, তার কিতাবের প্রতিটি সংস্করণ হুবহু একই রকম হবে এবং তাতে কোনো পরিমার্জন কিংবা নতুন গবেষণার প্রতিফলন থাকবে না। কেননা অধ্যয়ন বা পর্যালোচনার আধুনিকায়ন থেকে বিরত থাকা স্থবিরতার অন্যতম লক্ষণ এবং জড়তার একটি ধরণ।

আমি আল্লাহর কাছে সাহায্য ও তাওফিক (التوفيق) কামনা করছি।

মুহাম্মদ আব্দুল খালেক আজীমাহ

১৯ সফর, ১৩৮২ হিজরি

২১ জুলাই, ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১) আল-মুগনী ফী তাসরীফিল আফআল (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌مقدمة الطبعة الأولى

‌‌مدخل

…

مقدمة الطبعة الأولى:

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله، والصلاة والسلام على سيدنا رسول الله، أما بعد:

فهذه البحوث ثمرة دراسة مستوعبة، نفضت لها ما وصل إلي من كتب النحو والصرف، أرجو أن يكون فيها غناء في دراسة تصريف الفعل، وقد حرصت غاية الحرص على أن أذكر مراجع كل مسألة في كتابي، إذ أرى أنه يجمل بنا في تناول البحوث العلمية أن نكشف عن منابعها، ونشير إلى مصادرها.

كما نهجت نهجًا جديدًا هو: الإكثار من الاستشهاد بالقرآن الكريم، وقراءاته المختلفة؛ فإن نحاتنا السابقين قد استبد بجهدهم الاستشهاد بالشعر، بل جاوز كثير منهم حده فتطاول على القراء، ونسب إليهم اللحن في قراءاتهم1.

وما من شك في أن الاستشهاد بقراءات القرآن الكريم فيه عضد وتأييد لقواعد النحو ودعم لشواهدها، وفيه رد على هذه الصيحات المنكرة التي تنبعث بين الحين والحين، تنادي بالإعراض عن دراسة النحو والصرف،

--------------------------------------------

1 كتبت عن هذا الموضوع بإفاضة في رسالتي عن أبي العباس المبرد وأثره في علوم العربية.
প্রথম সংস্করণের ভূমিকা

প্রবেশিকা

…

প্রথম সংস্করণের ভূমিকা:

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা আল্লাহর রাসুলের প্রতি। অতঃপর:

এই গবেষণাসমূহ একটি সম্যক অধ্যয়নের ফল, যার জন্য আমি আমার নিকট পৌঁছানো নাহু ও সরফ বিষয়ক গ্রন্থাবলি মন্থন করেছি। আমি আশা করি, ক্রিয়ার রূপান্তর পর্যালোচনায় এটি যথেষ্ট হবে। আমি আমার গ্রন্থে প্রতিটি বিষয়ের তথ্যসূত্র উল্লেখ করার ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করেছি; কারণ আমি মনে করি যে, বৈজ্ঞানিক গবেষণার আলোচনায় আমাদের উচিত এর উৎসসমূহ উন্মোচিত করা এবং এর মূল তথ্যাদি নির্দেশ করা।

পাশাপাশি আমি একটি নতুন পথ অবলম্বন করেছি, তা হলো: পবিত্র কুরআন এবং এর বিভিন্ন কিরাত থেকে অধিক পরিমাণে উদ্ধৃতি প্রদান করা; কেননা আমাদের পূর্ববর্তী ব্যাকরণবিদদের প্রচেষ্টা মূলত কাব্যের উদ্ধৃতি প্রদানের দ্বারা প্রভাবিত ছিল, এমনকি তাদের অনেকে সীমা অতিক্রম করে কিরাত পাঠকদের ওপর চড়াও হয়েছেন এবং তাদের কিরাতের মধ্যে ভাষাগত ভুল আরোপ করেছেন।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, পবিত্র কুরআনের কিরাতসমূহ থেকে উদ্ধৃতি গ্রহণ করা নাহুর নিয়মাবলির জন্য শক্তিশালী সহায়ক ও সমর্থন এবং এর প্রমাণাদির জন্য বড় ভিত্তি। পাশাপাশি এটি সেই গর্হিত (منكر) শোরগোলগুলোর বিরুদ্ধে একটি জবাব, যা মাঝেমধ্যে শোনা যায় এবং যা নাহু ও সরফ অধ্যয়ন থেকে বিমুখ হওয়ার আহ্বান জানায়।

--------------------------------------------

১. আমি এই বিষয়ে আমার 'আবু আব্বাস আল-মুবররাদ এবং আরবি ভাষার জ্ঞানবিজ্ঞানে তার প্রভাব' শীর্ষক অভিসন্দর্ভে বিস্তারিতভাবে লিখেছি।
(খণ্ড: ১) আল-মুগনী ফী তাসরীফিল আফআল (পৃষ্ঠা: ৮)
زاعمة أن لغة العرب في غنى عما شرع النحويون من قوانين، ورسموا من قواعد، واصطنعوا من شواهد.

وعلم الله، ما واتاني جمع هذه القراءات عفوا صفوا، ولا وافاني رهوا سهوا، وإنما كان ثمرة جهود متصلة في سنوات طوال، جاورت فيها بيت الله الحرام، فعكفت على دراسة ما يتصل بأسلوب القرآن الكريم، وجدت المصنفين الذين عرضوا لفهرسة ألفاظه قد وقفت جهودهم عند حصر ألفاظ الأفعال والأسماء وإحصاء آياتها، وتركوا جمع الحروف وإحصاء آياتها مع ما لها من عظم الأثر وجليل الخطر في الدراسات النحوية، كما تركوا هذا الإحصاء في الضمائر وأسماء الإشارة والأسماء الموصولة وبعض الظروف، فكمَّلت هذا النقص، ثم أحصيت ما وصل إلينا من قراءاته المختلفة، وما ذكره اللغويون والنحويون فيما يتعلق بأسلوبه، ثم نثرت ذلك كله على أبواب النحو والصرف.

وفي النية -إن كان في العمر بقية- أن أخرج كتابا يتناول دراسة أسلوب القرآن الكريم دراسة تعتمد على الاستقراء. أرجو الله أن يوفقني في إتمامه، ويعينني على إخراجه، إنه نعم المولى ونعم النصير.

22 من ربيع الأول سنة 1375هـ

7 من نوفمبر سنة 1955م
এই দাবি করে যে, আরবী ভাষা ব্যাকরণবিদদের প্রণীত নিয়ম-কানুন, অঙ্কিত মূলনীতি এবং উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণাদির মুখাপেক্ষী নয়।

আল্লাহর শপথ, এই কিরাতসমূহ সংগ্রহ করা আমার জন্য অনায়াসসাধ্য ছিল না এবং তা সহজলভ্য কোনো বিষয় হিসেবে আমার কাছে আসেনি; বরং এটি ছিল দীর্ঘ বছরের নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টার ফসল। সে সময় আমি পবিত্র কাবাগৃহের সন্নিকটে অবস্থান করছিলাম এবং পবিত্র কুরআনের বাচনভঙ্গি সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি অধ্যয়নে নিবিষ্ট ছিলাম। আমি লক্ষ্য করেছি যে, যেসব লেখক কুরআনের শব্দাবলির নির্ঘণ্ট প্রস্তুত করেছেন, তাঁদের প্রচেষ্টা কেবল ক্রিয়া ও বিশেষ্য পদসমূহ চিহ্নিত করা এবং সেগুলোর আয়াত গণনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। তাঁরা অব্যয়সমূহ সংগ্রহ এবং সেগুলোর আয়াত গণনা করার বিষয়টি ছেড়ে দিয়েছেন, অথচ ব্যাকরণিক গবেষণায় এগুলোর গুরুত্ব অত্যন্ত গভীর ও তাৎপর্যপূর্ণ। একইভাবে তাঁরা সর্বনাম, নির্দেশক বিশেষ্য, সংযোজক বিশেষ্য এবং কিছু অব্যয়ের পরিসংখ্যানও বাদ দিয়েছেন। ফলে আমি এই অপূর্ণতা পূরণ করেছি। অতঃপর আমাদের কাছে পৌঁছানো বিভিন্ন কিরাতসমূহ এবং পবিত্র কুরআনের শৈলী সম্পর্কে ভাষাবিদ ও ব্যাকরণবিদদের বক্তব্যসমূহ সংকলিত করেছি। এরপর সেই সমস্ত বিষয়কে আমি ব্যাকরণ ও রূপতত্ত্বের অধ্যায় অনুযায়ী বিন্যস্ত করেছি।

আমার অন্তরে এই ইচ্ছা আছে—যদি জীবনের অবশিষ্ট সময় অনুকূলে থাকে—এমন একটি গ্রন্থ প্রকাশ করার যা আরোহী পদ্ধতির ভিত্তিতে পবিত্র কুরআনের বাচনভঙ্গির ওপর একটি গবেষণামূলক আলোচনা উপস্থাপন করবে। আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাকে এটি সম্পন্ন করার তাওফিক দান করেন এবং এটি প্রকাশে সাহায্য করেন। নিশ্চয়ই তিনি উত্তম অভিভাবক এবং উত্তম সাহায্যকারী।

২২ রবিউল আউয়াল, ১৩৭৫ হিজরি

৭ নভেম্বর, ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১) আল-মুগনী ফী তাসরীফিল আফআল (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌التفكير في وضع قواعد النحو والصرف وسببه:

‌‌شيوع اللحن في المفردات والأساليب:

كانت العرب تنطق على سجيتها، وبما توحي إليها سليقتها، لا تتعثر ألسنتها في خطأ، ولا يشوب صفو كلامها لحن. ولما انتشر الإسلام وخالط العرب العجم فسدت السليقة العربية، وبدأ اللحن يدبّ إلى الألسنة، وشمل هذا اللحن المفردات والأساليب.

سمع أبو عمرو بن العلاء رجلا ينشد قول المرقش الأصغر:

ومن يلق خيرا يحمد الناس أمره … ومن يغوَ لا يعدم على الغيّ لائما

فقال: أقوّمك أم أتركك تتسكّع في طُمّتك؟ فقال: بل قوِّمني، فقال: قل: ومن يغوِ "بكسر الواو" ألا ترى إلى قول الله عز وجل: {وَعَصَى آدَمُ رَبَّهُ فَغَوَى} 1، وروي أن نبطيا سئل: لِمَ اشتريت هذه الأتان؟ فقال: أركبها وتلَد لي، بفتح اللام2.

--------------------------------------------

1 طبقات الزبيدي 29، وشرح فصيح ثعلب 4، وفي شرح القاموس قال أبو عبيد: بعضهم يقول: غوي يغوى كرضي يرضى، وليست بالمعروفة، وانظر أفعال ابن القطاع 2/ 443، وعبث الوليد 28.

2 عيون الأخبار 2/ 159، البيان والتبيين 1/ 74، وقد عقد الجاحظ بابا للحن في كتابه 2/ 10.
ব্যাকরণ (نحو) ও শব্দরূপতত্ত্বের (صرف) নিয়মাবলি প্রণয়নের চিন্তা ও তার কারণ:

শব্দভাণ্ডার ও বাক্যরীতিতে ভাষাগত ভুলের (لحن) প্রাদুর্ভাব:

আরবরা তাদের সহজাত প্রকৃতি (سليقة) এবং তাদের সহজাত প্রবৃত্তি যা নির্দেশ করত সে অনুযায়ী কথা বলত। তাদের জিহ্বা কোনো ভুল করতে হোঁচট খেত না এবং তাদের সাবলীল কথোপকথনে কোনো ভাষাগত ভুল (لحن) পরিলক্ষিত হতো না। কিন্তু যখন ইসলামের প্রসার ঘটল এবং আরবরা অনারবদের (عجم) সাথে মেলামেশা শুরু করল, তখন আরবদের সেই বিশুদ্ধ সহজাত প্রকৃতি (سليقة) কলুষিত হয়ে পড়ল এবং মুখে মুখে ভাষাগত ভুল (لحن) প্রকাশ পেতে লাগল। এই ভুলগুলো শব্দভাণ্ডার ও বাক্যরীতি উভয় ক্ষেত্রকেই গ্রাস করেছিল।

আবু আমর ইবনুল আলা জনৈক ব্যক্তিকে আল-মুরাক্কিশ আল-আসগারের একটি কবিতা আবৃত্তি করতে শুনলেন:

যে ব্যক্তি কল্যাণের দেখা পায়, মানুষ তার কাজের প্রশংসা করে ... আর যে ব্যক্তি পথভ্রষ্ট হয়, সে তার বিভ্রান্তির জন্য কোনো নিন্দুকের অভাব বোধ করে না।

তখন তিনি বললেন: "আমি কি তোমাকে সংশোধন করে দেব নাকি তোমাকে তোমার মূর্খতার মধ্যে লক্ষ্যহীনভাবে পড়ে থাকতে দেব?" সে বলল: "বরং আপনি আমাকে সংশোধন করে দিন।" তিনি বললেন: "তুমি 'ওয়াও' বর্ণে কাসরা (জের) দিয়ে 'ইয়াগবি' বলো। তুমি কি মহান আল্লাহর বাণীর প্রতি লক্ষ করোনি: {আর আদম তার রবের অবাধ্য হলো, ফলে সে পথভ্রষ্ট হলো}।" বর্ণিত আছে যে, একজন নবতী (نبطي) ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করা হলো: "তুমি কেন এই গাধাটি কিনেছ?" সে উত্তর দিল: "আমি এর ওপর আরোহণ করি এবং এটি আমার জন্য বাচ্চা প্রসব করবে (তাদালা)"—এখানে সে 'লাম' বর্ণে ফাতহা (যবর) ব্যবহার করে ভুল উচ্চারণ করেছিল।

--------------------------------------------

১ তবাকাত আল-জুবাইদি ২৯, এবং শারহু ফাসিহ ছালাব ৪; শারহুল কামুস-এ আবু উবাইদ বলেছেন: কেউ কেউ 'রাদিয়া ইয়ারদা' এর ওজনে 'গাউইয়া ইয়াগওয়া' বলে থাকেন, তবে এটি সুপরিচিত নয়। আরও দেখুন আফআল ইবনুল কাত্তাউ ২/৪৪৩, এবং আবাতুল ওয়ালিদ ২৮।

২ উয়ুনুল আখবার ২/১৫৯, আল-বায়ান ওয়াত তাবয়িন ১/৭৪; আল-জাহিজ তাঁর গ্রন্থ আল-বায়ান ওয়াত তাবয়িন এর ২য় খণ্ডের ১০ম পৃষ্ঠায় ভাষাগত ভুল (لحن) সংক্রান্ত একটি বিশেষ অধ্যায় রচনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুগনী ফী তাসরীফিল আফআল (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌أقدم كتاب وصلنا اسمه كان في موضوع صرفي:

عصفت حوادث الأيام بالكتب التي سبقت تأليف كتاب سيبويه، فلم يصل إلينا منها سوى أسمائها.

وأقدمها كان في موضوع صرفي، وهو كتاب الهمز1 لعبد الله2 بن أبي إسحاق الحضرمي "المتوفى سنة 117هـ"، ويعتبره الزبيدي في الطبقة الثالثة البصرية، ويعتبر سيبويه في الطبقة السادسة منها.

ثم وافانا كتاب سيبويه مستوعبا أبواب النحو والصرف، حتى مسائل التمارين، وما استطاع أحد ممن جاء بعده أن يزيد عليه بابًا جديدًا.

عاجلت المنية سيبويه وهو في رونق الشباب وربيع العمر، فلم يتمكن من قراءة كتابه لغيره3.

ترك سيبويه للعلماء كتابه، فأقبلوا على دراسته وروايته وشرحه واستظهاره إقبالا منقطع النظير4، وبلغ الأمر بمن كان يحفظه أنه كان يختمه مرة كل خمسة عشر يومًا.

--------------------------------------------

1 المزهر 2/ 247.

2 النحوي المقرئ، قال ابن سلام: أول من بعج النحو ومد القياس وشرح العلل، أخذ عنه أبو عمرو بن العلاء، وعيسى بن عمر الثقفي، ويونس بن حبيب، وأبو الخطاب الأخفش الأكبر.

3 بغية الوعاة 366، وقال في 181 في ترجمة إبراهيم بن سفيان الزيادي المتوفى سنة 249: إنه قرأ كتاب سيبويه على سيبويه، ولم يتمه، ومثله في معجم الأدباء 1/ 158.

4 من مظاهر العناية بكتاب سيبويه أن بلغ عدد النحويين الذين عرف عنهم أنهم فقهوا هذا الكتاب ودرسوه 150 نحويا، شرحه منهم خمسون نحويا، وشرح شواهده سبعة عشر نحويا، وكان يحفظه ويستظهره عشرة، وهذا فيما أحصيت، ولولا خوف الإطالة لذكرت أسماء هؤلاء.
‌‌আমাদের কাছে পৌঁছানো প্রাচীনতম গ্রন্থটি ছিল শব্দরূপতত্ত্ব (صرف) বিষয়ক:

সিবওয়াইহ-এর গ্রন্থ রচনার পূর্ববর্তী বইগুলো কালের বিবর্তনে হারিয়ে গেছে, সেগুলোর কেবল নাম ব্যতীত অন্য কিছু আমাদের কাছে পৌঁছেনি।

আর এগুলোর মধ্যে প্রাচীনতম গ্রন্থটি ছিল শব্দরূপতত্ত্ব (صرف) বিষয়ক; সেটি হলো আব্দুল্লাহ ইবনে আবি ইসহাক আল-হাদরামি (মৃত্যু ১১৭ হি.) রচিত ‘কিতাবুল হামজ’। আয-যুবাইদি তাকে বসরার তৃতীয় স্তরের (الطبقة) এবং সিবওয়াইহ-কে বসরার ষষ্ঠ স্তরের (الطبقة) অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য করেন।

এরপর সিবওয়াইহ-এর কিতাব আমাদের কাছে আসে, যা ব্যাকরণ (نحو) ও শব্দরূপতত্ত্ব (صرف)-এর সকল অধ্যায়, এমনকি অনুশীলনীর মাসআলাগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করেছে। তার পরবর্তী কেউ এতে নতুন কোনো অধ্যায় সংযোজন করতে সক্ষম হননি।

যৌবনের প্রারম্ভে এবং জীবনের বসন্তকালেই সিবওয়াইহ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন, ফলে তিনি অন্য কাউকে নিজের কিতাবটি পড়ে শোনানোর সুযোগ পাননি।

সিবওয়াইহ আলেমদের জন্য তার কিতাবটি রেখে যান, ফলে তারা এর অধ্যয়ন, বর্ণনা (رواية), ব্যাখ্যা (شرح) ও মুখস্থকরণের (استظهار) প্রতি নজিরবিহীনভাবে মনোনিবেশ করেন। অবস্থা এমন হয়েছিল যে, যারা এটি মুখস্থ রাখতেন, তারা প্রতি পনের দিনে একবার এটি পূর্ণ পাঠ বা খতম করতেন।

--------------------------------------------

১. আল-মিযহার ২/২৪৭।

২. তিনি ছিলেন বৈয়াকরণ ও ক্বারী (المقرئ)। ইবনে সালাম বলেন: তিনি প্রথম ব্যক্তি যিনি ব্যাকরণ (نحو) শাস্ত্রকে উন্মোচিত করেছেন, পদ্ধতিগত অনুমান বা কিয়াস (القياس)-কে বিস্তৃত করেছেন এবং এর কার্যকারণ (العلل) ব্যাখ্যা করেছেন। আবু আমর ইবনে আলা, ঈসা ইবনে উমর আস-সাকাফি, ইউনুস ইবনে হাবিব এবং আবুল খাত্তাব আল-আখফাশ আল-আকবার তার নিকট থেকে জ্ঞানার্জন করেছেন।

৩. বুগইয়াতুল উয়াত ৩৬৬। সেখানে ১৮১ পৃষ্ঠায় ২৪৯ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী ইব্রাহিম ইবনে সুফিয়ান আজ-জিয়াদি-র জীবনীতে বলা হয়েছে যে: তিনি সিবওয়াইহ-এর কাছেই সিবওয়াইহ-এর কিতাবটি পড়েছিলেন, তবে তা সম্পন্ন করতে পারেননি। মুজামুল উদাবা ১/১৫৮-তেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।

৪. সিবওয়াইহ-এর কিতাবের প্রতি বিশেষ গুরুত্বের বহিঃপ্রকাশ হলো এই যে, যেসব বৈয়াকরণ এই কিতাবটি গভীরভাবে অনুধাবন ও অধ্যয়ন করেছেন বলে জানা যায়, তাদের সংখ্যা ১৫০-এ পৌঁছেছে। তাদের মধ্যে ৫০ জন এর ব্যাখ্যা (شرح) লিখেছেন এবং ১৭ জন এর কাব্যিক প্রমাণসমূহের (شواهد) ব্যাখ্যা লিখেছেন। আর ১০ জন এটি সম্পূর্ণ মুখস্থ (استظهار) রাখতেন। এটি আমার করা পরিসংখ্যান অনুযায়ী; দীর্ঘ হওয়ার ভয় না থাকলে আমি তাদের নাম উল্লেখ করতাম।
(খণ্ড: ১) আল-মুগনী ফী তাসরীফিল আফআল (পৃষ্ঠা: ১১)
اتصلت العناية بكتاب سيبويه جيلا بعد جيل وطبقة بعد طبقة، فشرّق وغرّب حتى قال أبو حيان: من لا يقرئ في كتاب سيبويه لا يعرف شيئا عند الأندلسيين.

وبهرهم الكتاب حتى قال المازني: من أراد أن يؤلف كتابًا كبيرًا في النحو بعد كتاب سيبويه فليستحِ.

وقد ألف المبرد كتابه المقتضب1 على نظام كتاب سيبويه جامعًا للنحو والصرف.

وما زال كتاب سيبويه على كثرة ما ألف بعده من كتب النحو هو المنبع الصافي لمن جاء بعده، فلم تتغير بهجته، ولم تخلق جدته، وما ذهب بهاؤه، وما خمد سناؤه، فهو كالدوحة الباسقة وغيره أغصان لها وفروع، وكالنهر المتدفق يغذي فروعه وجداوله، ولو ألزم المؤلفون أنفسهم أن يصرحوا بما أخذوه من كتاب سيبويه لتردد اسمه في كل مسألة عرضوا لها.

ونرى فيما بين أيدينا من كتب النحو ما ينسب الرأي إلى من تأخر عن سيبويه كالسيرافي والجزولي على حين أنه مذكور في كتاب سيبويه، وبعض المؤلفين ينسب إليه خلاف ما في كتابه2.

--------------------------------------------

1 كتاب في أربعة أجزاء، بدار الكتب المصرية، بالتصوير الشمسي، عن نسخة بالأستانة، وقد نسخت لنفسي منه نسخة.

2 ينظر توكيد الفعل وبناؤه للمفعول في كتابنا.
সিবওয়াইহর কিতাবের প্রতি জ্ঞানতাত্ত্বিক মনোযোগ প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে এবং স্তরে স্তরে (طبقة) অব্যাহত রয়েছে। এটি পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত সর্বত্র এমনভাবে ছড়িয়ে পড়েছে যে, আবু হাইয়ান বলেছেন: আন্দালুসবাসীদের নিকট যে ব্যক্তি সিবওয়াইহর কিতাব পাঠদান করে না, সে মূলত কিছুই জানে না।

এই কিতাবটি পাঠকদের এমনভাবে বিমোহিত করেছিল যে মাজিনী বলেছেন: সিবওয়াইহর কিতাবের পর নাহুশাস্ত্রে কেউ যদি কোনো বৃহৎ গ্রন্থ রচনা করার ইচ্ছা পোষণ করে, তবে তার লজ্জিত হওয়া উচিত।

মুবাররাদ তার আল-মুকতাদাব ১ গ্রন্থটি সিবওয়াইহর কিতাবের বিন্যাস ও পদ্ধতি অনুসারে রচনা করেছেন, যেখানে তিনি নাহু ও সারফ উভয় শাস্ত্রকে একত্রিত করেছেন।

সিবওয়াইহর কিতাবের পরে নাহু শাস্ত্রের অসংখ্য গ্রন্থ রচিত হওয়া সত্ত্বেও এটি পরবর্তী যুগের আলেমদের জন্য এক স্বচ্ছ ও নির্মল ঝর্ণাধারা হিসেবেই রয়ে গেছে। এর সৌন্দর্য ম্লান হয়নি, এর অভিনবত্ব পুরনো হয়নি, এর জৌলুস হারিয়ে যায়নি এবং এর জ্যোতি স্তিমিত হয়ে পড়েনি। এটি একটি বিশাল মহীরুহের ন্যায়, আর অন্যান্য গ্রন্থগুলো এর শাখা-প্রশাখা মাত্র। এটি একটি প্রবহমান নদীর মতো যা তার শাখা ও উপ-শাখাগুলোকে পুষ্ট করে। লেখকরা যদি সিবওয়াইহর কিতাব থেকে যা গ্রহণ করেছেন তা স্পষ্টভাবে স্বীকার করতে নিজেদের বাধ্য করতেন, তবে তাদের আলোচিত প্রতিটি মাসআলায় (مسألة) তার নাম বারবার উচ্চারিত হতো।

আমাদের নিকট বিদ্যমান নাহু শাস্ত্রের গ্রন্থগুলোতে আমরা এমন অনেক মতামত দেখি যা সিবওয়াইহর পরবর্তী যুগের আলেমদের—যেমন সিরাফী ও জাযুলী—দিকে নিসবত করা হয়েছে, অথচ তা সিবওয়াইহর কিতাবেই স্পষ্টভাবে বর্ণিত আছে। এমনকি কোনো কোনো লেখক সিবওয়াইহর দিকে এমন কিছু নিসবত করেছেন যা তার কিতাবে থাকা বর্ণনার সম্পূর্ণ বিপরীত ২।

--------------------------------------------

১. চার খণ্ডে সম্বলিত একটি গ্রন্থ, যা দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ-তে সংরক্ষিত আস্তানা’র পাণ্ডুলিপির ছায়াচিত্র (تطوير شمسي) থেকে সংগৃহীত। আমি নিজের জন্য এর একটি অনুলিপি (نسخة) তৈরি করে নিয়েছি।

২. দ্রষ্টব্য: আমাদের কিতাবে ‘ক্রিয়ার তাকিদ এবং মাজহুল (مبني للمفعول) ক্রিয়া গঠন’ সংক্রান্ত আলোচনা।
(খণ্ড: ১) আল-মুগনী ফী তাসরীফিল আফআল (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌قيمة كتاب سيبويه وأثره:

ساير الصرف النحو ولم يتخلف عنه، يقول أبو الفتح في مقدمة المنصف: لا تجد كتابا في النحو إلا والتصريف في آخره.

وكان لبعض النحويين هوى خاص بعلم الصرف فاشتهر به، وذلك كشهرة معاذ بن مسلم الهراء1 الكوفي "المتوفى سنة 190" في صياغة الأبنية ومسائل التمرين، كما كانت هناك ظروف خاصة جعلت بعض النحويين يقبلون على الصرف، ويتفرغون له.

فقد روي أن أبا علي الفارسي اجتاز بالموصل، فمر بالجامع وأبو الفتح بن جني في حلقة يقرئ النحو وهو شاب، فسأله أبو علي عن مسألة في التصريف، فقصّر فيها، فقال له أبو علي: تزبّبت وأنت حِصْرِم، فأقبل على التصريف فلم يكن في شيء من علومه أكمل منه في التصريف، ولم يتكلم أحد في التصريف أدق كلامًا منه.

--------------------------------------------

1 من أعيان النحاة، أخذ عنه الكسائي، وروى الحديث عن جعفر الصادق، وكان يبيع الثياب الهروية، فقيل له: الهراء، وعمر طويلا.
সিবওয়াইহ-এর গ্রন্থের মর্যাদা ও এর প্রভাব:

রূপতত্ত্ব ব্যাকরণের সমান্তরালে চলেছে এবং তা থেকে পিছিয়ে থাকেনি। আবু আল-ফাতহ ‘আল-মুনসিফ’ গ্রন্থের ভূমিকায় বলেন: আপনি ব্যাকরণের এমন কোনো গ্রন্থ পাবেন না যার শেষে রূপতত্ত্ব আলোচিত হয়নি।

কোনো কোনো ব্যাকরণবিদের রূপতত্ত্বের প্রতি বিশেষ ঝোঁক ছিল এবং তারা এর মাধ্যমেই প্রসিদ্ধি লাভ করেন। যেমন শব্দগঠন ও অনুশীলনমূলক মাসআলাসমূহের ক্ষেত্রে কুফার মুয়ায বিন মুসলিম আল-হাররা (মৃত্যু ১৯০ হিজরি) প্রসিদ্ধ ছিলেন। এছাড়া কিছু বিশেষ পরিস্থিতিও ছিল যা অনেক ব্যাকরণবিদকে রূপতত্ত্বের প্রতি অনুরাগী করে তুলেছিল এবং তারা এর জন্য নিজেদের নিবেদিত করেছিলেন।

বর্ণিত হয়েছে (روي) যে, আবু আলী আল-ফারিসি মোসুল অতিক্রম করার সময় একটি মসজিদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন আবু আল-ফাতহ ইবনে জিননি যুবক বয়সে একটি পাঠচক্রে ব্যাকরণ পড়াচ্ছিলেন। আবু আলী তাকে রূপতত্ত্বের একটি মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন, কিন্তু তিনি তাতে যথাযথ উত্তর দিতে পারলেন না। তখন আবু আলী তাকে বললেন: "তুমি পরিপক্ক হওয়ার আগেই কিশমিশ হয়ে গিয়েছ।" এরপর তিনি রূপতত্ত্বের গবেষণায় মনোনিবেশ করেন। পরবর্তীতে তার অর্জিত জ্ঞানসমূহের মধ্যে রূপতত্ত্বের চেয়ে অধিক পূর্ণাঙ্গ আর কিছু ছিল না এবং রূপতত্ত্ব বিষয়ে তার চেয়ে সূক্ষ্ম আলোচনা আর কেউ করতে পারেননি।

--------------------------------------------

১. তিনি প্রথিতযশা ব্যাকরণবিদদের অন্যতম ছিলেন। আল-কিসায়ি তার নিকট থেকে ইলম অর্জন করেছেন এবং তিনি জাফর আস-সাদিক থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি হাররা (হেরাত অঞ্চলের) কাপড় বিক্রি করতেন, তাই তাকে 'আল-হাররা' বলা হতো। তিনি দীর্ঘায়ু লাভ করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুগনী ফী তাসরীফিল আফআল (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌المؤلفون الذين أفردوا الصرف بتأليف مستقل:

وكان الأندلسيون قبل محمد بن يحيى الرباحي "المتوفى سنة 358" لا ينظرون في إمالة ولا إدغام ولا تصريف ولا أبنية، ولا يجيبون في شيء منها، فلما عاد محمد بن يحيى الرباحي من رحلته إلى المشرق نهج لهم سبيل النظر، وأعلمهم بما عليه أهل هذا الشأن في المشرق من استقصاء الفن بوجوهه، واستيفائه على حدوده1.

لم آل جهدًا ولم أدخر وسعًا في سبيل البحث عن النحويين الذين أفردوا الصرف بتأليف مستقل.

استقريت لذلك: طبقات اللغويين والنحويين للزبيدي، ومعجم الأدباء

--------------------------------------------

1 طبقات الزبيدي 237.
সেই সকল লেখক যারা সরফ (ইলমুত তাসরিফ) বিষয়ে স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন:

মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া আল-রাবাহি (মৃত্যু ৩৫৮ হিজরি)-এর পূর্বে আন্দালুসীয়গণ ইমালাহ (إمالة), ইদগাম (إدغام), রূপান্তর (تصريف) কিংবা শব্দের গঠন (أبنية) বিষয়ে গভীর চিন্তা-গবেষণা করতেন না এবং এ সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে সমাধানও প্রদান করতেন না। অতঃপর মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া আল-রাবাহি যখন প্রাচ্য সফর শেষে ফিরে এলেন, তিনি তাদের জন্য গবেষণার পথ উন্মোচন করলেন এবং প্রাচ্যের এই শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞগণ কীভাবে এই শিল্পের প্রতিটি দিক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অনুসন্ধান ও এর নির্ধারিত সীমারেখাসহ তা পূর্ণাঙ্গরূপে আয়ত্ত করেছেন, সে সম্পর্কে তাদের অবহিত করলেন।১

আমি সেই সকল ব্যাকরণবিদদের অনুসন্ধানে কোনো প্রচেষ্টাই বাকি রাখিনি এবং সম্ভাব্য সকল উপায়ে চেষ্টা করেছি, যারা সরফ বিষয়ে স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন।

এ লক্ষ্যে আমি নিম্নোক্ত গ্রন্থসমূহ বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করেছি: জুবাইদির তাবাকাতুল লুগাউয়্যিন ওয়ান নাহুয়্যিন এবং মু'জামুল উদাবা।

--------------------------------------------

১. তাবাকাতু জুবাইদি, পৃষ্ঠা ২৩৭।
(খণ্ড: ১) আল-মুগনী ফী তাসরীফিল আফআল (পৃষ্ঠা: ১৩)
لياقوت، وبغية الوعاة للسيوطي، وكشف الظنون وذيله، وانتهى بي هذا الاستقراء إلى ما سأذكره من أصحاب هذه الأسماء مرتبًا لها ترتيب وفياتهم.

1- علي بن المبارك الأحمر1 الكوفي "المتوفى سنة 194" صنف التصريف.

2- يحيى بن زياد المعروف بالفراء2 "المتوفى سنة 207" صنف التصريف، ذكره أبو علي الفارسي، خزانة الأدب 2/ 259.

3- بكر بن محمد أبو عثمان المازني "المتوفى سنة 249" صنف التصريف، شرحه ابن جني في المنصف.

--------------------------------------------

1 من أصحاب الكسائي، وخلفه في تأديب أولاد الرشيد، كان يحفظ أربعين ألف شاهد في النحو.

2 أعلم الكوفيين بالنحو بعد الكسائي، أخذ عن يونس وأهل الكوفة.
ইয়াকুতের মুজামুল উদাবা, সুয়ূতী রচিত বুগয়াতুল উয়াত, কাশফুয যুনুন ও এর পরিশিষ্ট; এই গভীর অনুসন্ধান (استقراء) আমাকে এই নামগুলোর অধিকারী ব্যক্তিদের সম্পর্কে যা উল্লেখ করতে যাচ্ছি সে পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছে, যা আমি তাদের মৃত্যুসন অনুযায়ী ক্রমানুসারে সাজিয়েছি।

১- আলী বিন আল-মুবারক আল-আহমার আল-কুফি "মৃত্যু ১৯৪ হিজরি", তিনি আত-তাসরীফ রচনা করেছেন।

২- ইয়াহইয়া বিন যিয়াদ, যিনি আল-ফাররা নামে পরিচিত "মৃত্যু ২০৭ হিজরি", তিনি আত-তাসরীফ রচনা করেছেন; আবু আলী আল-ফারিসী এটি খিজানাতুল আদাব ২/২৫৯ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

৩- বকর বিন মুহাম্মাদ আবু উসমান আল-মাযিনী "মৃত্যু ২৪৯ হিজরি", তিনি আত-তাসরীফ রচনা করেছেন, যা ইবনু জিন্নি আল-মুনসিফ গ্রন্থে ব্যাখ্যা করেছেন।

--------------------------------------------

১ আল-কিসাঈ-এর অন্যতম সঙ্গী এবং হারুনুর রশীদের সন্তানদের শিষ্টাচার শিক্ষাদানে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন। তিনি ব্যাকরণ শাস্ত্রে চল্লিশ হাজার কাব্যিক প্রমাণ (شاهد) মুখস্থ রাখতেন।

২ আল-কিসাঈ-এর পর কুফাবাসীদের মধ্যে ব্যাকরণ শাস্ত্রে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী ব্যক্তি; তিনি ইউনুস ও কুফার অধিবাসীদের নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুগনী ফী তাসরীফিল আফআল (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌الحديث عن تصريف المازني:

التعريف بتصريف المازني:

بدأ المازني كتابه بالحديث عن أبنية المجرد، وكان حديثا موجزا ليس فيه ما في كتاب سيبويه من تفصيل، وقد بسط القول في الإلحاق في غير موضع من كتابه: 1/ 36، 38، 40، 41، 44، 46، 47، 49، 83، 84، 85، 176، 178، 180.

ثم تحدث عن همزة الوصل ومواضعها، ثم انتقل إلى الحديث عن صيغ الزوائد في الأفعال وحروف الزيادة ومواضعها، ثم تكلم عن أقسام الفعل المعتل ومضارعها واسم فاعلها ومفعولها، وما يعرض لها من إعلال، وفي
মাযিনির তাসরিফ (রূপান্তর বিদ্যা) সম্পর্কিত আলোচনা:

মাযিনির তাসরিফ-এর পরিচিতি:

মাযিনি তাঁর গ্রন্থটি মুজাররাদ (অতিরিক্ত বর্ণহীন) গঠনশৈলীর আলোচনার মাধ্যমে শুরু করেছেন। এটি ছিল একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা, যাতে সিবাওয়াইহ-এর কিতাবে বিদ্যমান বিস্তারিত বর্ণনা ছিল না। তিনি তাঁর গ্রন্থের বিভিন্ন স্থানে ইলহাক (সংযোজন) সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন: ১/ ৩৬, ৩৮, ৪০, ৪১, ৪৪, ৪৬, ৪৭, ৪৯, ৮৩, ৮৪, ৮৫, ১৭৬, ১৭৮, ১৮০।

অতঃপর তিনি হামজাতুল ওয়াসল এবং এর প্রয়োগস্থলসমূহ নিয়ে আলোচনা করেছেন। এরপর তিনি ক্রিয়ার অতিরিক্ত রূপসমূহ, অতিরিক্ত বর্ণসমূহ ও সেগুলোর অবস্থান সংক্রান্ত আলোচনায় নিবিষ্ট হয়েছেন। পরবর্তী পর্যায়ে তিনি দুর্বল ক্রিয়ার প্রকারভেদ, সেগুলোর মুদারে (বর্তমান-ভবিষ্যৎকাল), ইসম ফায়িল (কর্তৃবাচক বিশেষ্য) ও ইসম মাফউল (কর্মবাচক বিশেষ্য) এবং সেগুলোতে সংঘটিত হওয়া ইল্লাল (বর্ণগত পরিবর্তন) সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। আর এতে
(খণ্ড: ১) আল-মুগনী ফী তাসরীফিল আফআল (পৃষ্ঠা: ১৪)
ثنايا حديثه عن الأجوف، تكلم عن اسم الفاعل من الأجوف المهموز نحو جاءٍ وما فيه من خلاف، وتبع ذلك أن تكلم عن بعض أمثلة القلب المكاني، وقد عرض للمضاعف، وبعض مسائل الإدغام، أما مسائل الإعلال والإبدال فهي كثيرة منثورة في أضعاف الكتاب، وكذلك مسائل التمارين.

وقد تكلم عن بعض مسائل في التصغير، كتصغير نحو قبائل وخطايا علمين، وتصغير آدم أئمة، ثم قال في 2-88: وإنما كتبت لك شيئا من التصغير هنا؛ لأن هذا التصغير يجري مجرى الجمع.

فتصريف المازني كما ترى: لم يستوعب أبواب الصرف ولا مسائله، كما استوعب ذلك سيبويه، لهذا لا أقر الأستاذ إبراهيم مصطفى وزميله على قولهما في 3-276: وبعد سيبويه جاء أبو عثمان المازني فجمع في كتابه المسمى التصريف -وهو متن هذا الكتاب- كل مباحث علم التصريف.

وقولهما في 3-288: تصريف "المازني" على صغره أجمع كتاب لعلم التصريف. وقولهما في 3-316: وهو من علم التصريف ككتاب سيبويه من علم النحو، في أن كلا منهما أصل في علمه هذا في النحو، وذاك في التصريف، وما في تصريف المازني إنما هو صدى لما في كتاب سيبويه، فإذا قال سيبويه في 2-398: ألا ترى أنهم لم يجيئوا بشيء من الثلاثة على مثال الخمسة نحو ضربِّب، قال المازني في تصريفه 1-175: ولم أسمع من كلام العرب شيئًا من الثلاثة بلغ به الخمسة من موضع اللام. وإذا وقفنا في كتاب سيبويه على نصوص متعارضة متضاربة في زيادة الهمزة المتصدرة أربعة أصول وجدنا صدى ذلك في تصريف المازني، وسيأتي بيان ذلك في موضعه، وقد يعرض المازني في تصريفه لخلاف سيبويه مع غيره، فيعلق على الخلاف المشهور بين سيبويه والأخفش في المحذوف من اسم المفعول من
ফাঁপা শব্দের (الأجوف) আলোচনার প্রেক্ষিতে, তিনি ফাঁপা এবং হামযাযুক্ত শব্দের (الأجوف المهموز) 'ইসম ফায়িল' (اسم الفاعل) তথা কর্তৃবাচক বিশেষ্য—যেমন 'জা-ইন' (جاءٍ)—সম্পর্কে আলোচনা করেছেন এবং এ নিয়ে কী কী মতভেদ রয়েছে তা উল্লেখ করেছেন। এরপর তিনি অক্ষর পরিবর্তনের (القلب المكاني) কিছু উদাহরণ নিয়ে কথা বলেছেন এবং দ্বিত্বাক্ষরবিশিষ্ট শব্দ (المضاعف) ও সন্ধি বা বিলোপের (الإدغام) কিছু মাসআলা উপস্থাপন করেছেন। আর রূপান্তর (الإعلال) ও অক্ষর বিনিময়ের (الإبدال) মাসআলাগুলো পুরো বই জুড়েই ছড়িয়ে রয়েছে, তেমনিভাবে অনুশীলনীমূলক মাসআলাগুলোও।

তিনি ক্ষুদ্রার্থবোধক শব্দ গঠনের (التصغير) কিছু মাসআলা নিয়েও আলোচনা করেছেন, যেমন নামবাচক বিশেষ্য হিসেবে 'কাবায়িল' (قبائل) এবং 'খাতায়া' (خطايا)-এর ক্ষুদ্রার্থ রূপ, এবং 'আদম' (آدم) ও 'আইম্মাহ' (أئمة)-এর ক্ষুদ্রার্থ রূপান্তর। এরপর তিনি ২-৮৮ পৃষ্ঠায় বলেন: "আমি এখানে আপনার জন্য ক্ষুদ্রার্থবোধক শব্দ গঠনের (التصغير) কিছু বিষয় লিখেছি; কারণ এই ক্ষুদ্র রূপান্তরটি (التصغير) বহুবচনের (الجمع) পদ্ধতির অনুরূপ।"

সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, মাযিনির 'তাসরিফ' গ্রন্থটি সরফ বা রূপতত্ত্বের (الصرف) সকল অধ্যায় বা মাসআলাকে সিবওয়াইহ-এর মতো বিস্তারিতভাবে ধারণ করেনি। এই কারণে আমি উস্তাদ ইব্রাহিম মুস্তফা এবং তাঁর সহকর্মীর ৩-২৭৬ পৃষ্ঠার এই বক্তব্যের সাথে একমত হতে পারছি না: "সিবওয়াইহ-এর পর আবু উসমান আল-মাযিনি আসলেন এবং তাঁর 'আত-তাসরিফ' নামক কিতাবে—যা এই গ্রন্থের মূল পাঠ—সরফ বা রূপতত্ত্বের (التصريف) সকল বিষয়বস্তু একত্রিত করলেন।"

এবং ৩-২৮৮ পৃষ্ঠায় তাদের এই বক্তব্য: "মাযিনির 'তাসরিফ' গ্রন্থটি আকারে ছোট হওয়া সত্ত্বেও সরফ বা রূপতত্ত্ব (التصريف) বিজ্ঞানের সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ কিতাব।" আবার ৩-৩১৬ পৃষ্ঠায় তাদের বক্তব্য: "সরফ বা রূপতত্ত্ব (التصريف) বিজ্ঞানে এই কিতাবটি তেমনই, যেমন নাহু বা বাক্যতত্ত্ব (النحو) বিজ্ঞানে সিবওয়াইহ-এর কিতাব; যার প্রতিটিই স্ব স্ব বিজ্ঞানে মূল ভিত্তি হিসেবে গণ্য।" মূলত মাযিনির 'তাসরিফ' গ্রন্থে যা আছে তা সিবওয়াইহ-এর কিতাবেরই প্রতিধ্বনি। সিবওয়াইহ যখন ২-৩৯৮ পৃষ্ঠায় বলেন: "আপনি কি দেখছেন না যে, তারা তিন অক্ষরবিশিষ্ট মূল থেকে পাঁচ অক্ষরের ওজনে 'দারব্বিব' (ضربِّب)-এর মতো কোনো শব্দ আনেনি?", তখন মাযিনি তাঁর 'তাসরিফ' গ্রন্থের ১-১৭৫ পৃষ্ঠায় বলেন: "আমি আরবদের কথায় এমন কোনো তিন অক্ষরবিশিষ্ট শব্দ শুনিনি যা লাম-বর্ণের (اللام) আধিক্যের মাধ্যমে পাঁচ অক্ষরে পৌঁছেছে।" সিবওয়াইহ-এর কিতাবে যখন আমরা চারটি মূল বর্ণের শুরুতে হামযার (الهمزة) আধিক্য নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাই, তখন মাযিনির 'তাসরিফ' গ্রন্থেও তার প্রতিফলন দেখতে পাই, যার বিস্তারিত বিবরণ যথাস্থানে আসবে। মাযিনি মাঝে মাঝে তাঁর 'তাসরিফ' গ্রন্থে অন্যদের সাথে সিবওয়াইহ-এর মতভেদও উল্লেখ করেছেন, যেমন তিনি সিবওয়াইহ এবং আখফাশের মধ্যকার সেই প্রসিদ্ধ মতভেদের ওপর মন্তব্য করেছেন যা 'ইসম মাফউল' (اسم المفعول) তথা কর্মবাচক বিশেষ্য থেকে বিলুপ্ত বর্ণ নিয়ে ছিল।
(খণ্ড: ১) আল-মুগনী ফী তাসরীফিল আফআল (পৃষ্ঠা: ১৫)
الأجوف الثلاثي بقوله ج1 ص288: وكلا القولين حسن جميل، وقول الأخفش أقيس ويعلق على خلاف الخليل في نحو جاءٍ بقوله ج2 ص53: وكلا القولين حسن جميل.

وللمازني آراء انفرد بها، وخالف الجمهور فيها نذكر طرفا منها:

1- يرى المازني أن واو الحيوان أصلية، وليست مبدلة من الياء، كما يراه الخليل ج2 ص284- 285.

2- يرى الجمهور في صياغة أفعل التفضيل من نحو: أمّ قلب الهمزة الثانية واوا، فيقول: أوَمّ ويقلب المازني الهمزة الثانية ياء فيقول: أيَمّ ج2 ص315، 316، 318.

3- تصغير أيمة عند الجمهور أويمة، وعند المازني أييمة ج2 ص 318.

وقد ضعف أبو الفتح هذه الآراء في المنصف.

ويقول أبو الفتح عن تصريف المازني ج1 ص5:

ولما كان هذا الكتاب الذي قد شرعت في تفسيره وبسطه من أنفس كتب الصرف وأسدها، عريقا في الإيجاز والاختصار، عاريا من الحشو والإكثار، متخلصا من كزازة ألفاظ المتقدمين، مرتفعا عن تخليط كثير من المتأخرين، قليل الألفاظ، كثير المعاني.

ويقول عنه في ج1 ص172: هذا الكتاب هو للمبتدئ كما هو للمنتهي، وفي موضع آخر ج1ص135 يقول: فهذا تفضيل ما أجمله أبو عثمان وقد تعجرف فيه، ولكنه كان يخاطب من يثق بفهمه ومعرفته، ويثني أبو الفتح على أبي عثمان المازني فيقول ج2 ص310:
তিন অক্ষরের আজওয়াফ সম্পর্কে তিনি ১ম খণ্ড, ২৮৮ পৃষ্ঠায় বলেছেন: উভয় বক্তব্যই হাসান (حسن) ও চমৎকার, এবং আখফাশের বক্তব্যটি অধিক নিয়মসিদ্ধ। আর 'জা-ইন' শব্দের ক্ষেত্রে খলিলের ভিন্নমতের ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে ২য় খণ্ড, ৫৩ পৃষ্ঠায় তিনি বলেছেন: উভয় বক্তব্যই হাসান (حسن) ও চমৎকার।

মাযিনির এমন কিছু স্বতন্ত্র অভিমত রয়েছে যাতে তিনি জমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠদের বিরোধিতা করেছেন, আমরা তার কিছু অংশ উল্লেখ করছি:

১- মাযিনি মনে করেন যে, 'হাইওয়ান' শব্দের 'ওয়াও' বর্ণটি মূলগত, এটি 'ইয়া' থেকে পরিবর্তিত হয়ে আসেনি, যেমনটি খলিল মনে করেন (২য় খণ্ড, ২৮৪-২৮৫ পৃষ্ঠা)।

২- 'আম্মা' জাতীয় শব্দ থেকে 'আফআলুত তাফদিল' গঠনের ক্ষেত্রে জমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠদের অভিমত হলো দ্বিতীয় হামযাহকে 'ওয়াও'-এ রূপান্তর করা, ফলে তারা বলেন: 'আওয়াম্মু'। পক্ষান্তরে মাযিনি দ্বিতীয় হামযাহকে 'ইয়া'-তে রূপান্তর করেন এবং বলেন: 'আইয়াম্মু' (২য় খণ্ড, ৩১৫, ৩১৬, ৩১৮ পৃষ্ঠা)।

৩- জমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠদের মতে 'আইম্মাহ' শব্দের 'তাসগির' বা ক্ষুদ্রার্থবোধক রূপ হলো 'উয়াইম্মাহ', আর মাযিনির মতে তা হলো 'উয়াইয়িম্মাহ' (২য় খণ্ড, ৩১৮ পৃষ্ঠা)।

আবুল ফাতহ 'আল-মুনসিফ' গ্রন্থে এই অভিমতগুলোকে দুর্বল (ضعيف) বলে অভিহিত করেছেন।

মাযিনির 'তাসরিফ' সম্পর্কে আবুল ফাতহ ১ম খণ্ড, ৫ পৃষ্ঠায় বলেন:

যেহেতু এই গ্রন্থটি—যার ব্যাখ্যা ও বিশদ বিশ্লেষণ আমি শুরু করেছি—সরফ বা রূপতত্ত্বের অন্যতম মূল্যবান ও সঠিক কিতাব, যা সংক্ষেপণ ও সংক্ষিপ্তসার হিসেবে অত্যন্ত প্রাচীন, অনর্থক বর্ণনা ও বাহুল্যবর্জিত, পূর্বসূরীদের কঠিন শব্দাবলি থেকে মুক্ত এবং উত্তরসূরীদের অনেকের বিভ্রান্তি থেকে ঊর্ধ্বে; এর শব্দ প্রয়োগ সামান্য হলেও তা অর্থবহতায় সমৃদ্ধ।

তিনি এই গ্রন্থ সম্পর্কে ১ম খণ্ড, ১৭২ পৃষ্ঠায় বলেন: এই কিতাবটি যেমন প্রারম্ভিক শিক্ষার্থীর জন্য, তেমনি এটি উচ্চতর পর্যায়ের পণ্ডিতদের জন্যও। অন্য এক স্থানে (১ম খণ্ড, ১৩৫ পৃষ্ঠা) তিনি বলেন: এটি আবু উসমানের সংক্ষিপ্ত বর্ণনার বিস্তারিত রূপ যেখানে তিনি কিছুটা জটিলতা পরিহার করেননি; তবে তিনি এমন ব্যক্তিদের সম্বোধন করছিলেন যাদের বোধশক্তি ও জ্ঞানের ওপর তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة) হিসেবে আস্থা রাখতেন। আবুল ফাতহ আবু উসমান আল-মাযিনির প্রশংসা করে ২য় খণ্ড, ৩১০ পৃষ্ঠায় বলেন:
(খণ্ড: ১) আল-মুগনী ফী তাসরীফিল আফআল (পৃষ্ঠা: ১৬)
إن أبا عثمان قدوة وحجة، وقد أخذ عن جملة أهل العلم كأبي زيد وأبي عبيدة والأصمعي وأبي عمر الجرمي وأبي الحسن الأخفش وغيرهم، ممن هو في هذه الطبقة، مع ما كان عليه من التوقف والتحري والعفاف.

وكم كنا نود للمازني أن يتحرج عن الطعن في القراء، فلا يضمن كتابه شيئا منه، حتى يتلاءم مع ما كان عليه من التوقف والتحري والعفاف، ولكنه أسهم في هذه الحملة الآثمة، قال في كتابه ج1 ص 107:

فأما قراءة من قرأ من أهل المدينة "معائش" بالهمز فهي خطأ فلا يلتفت إليها، وإنما أخذت عن نافع بن أبي نعيم ولم يكن يدري ما العربية، وله أحرف يقرؤها لحنا نحوا من هذا "ونافع قارئ المدينة ومن القراء السبعة".

ولم يقنع المازني بهذا القدر، وإنما سولت له نفسه أن يختم كتابه بالطعن على القراء، في أنهم يتعلقون بالألفاظ ويجهلون المعاني، قال في ج3 ص340، 341:

قال أبو عثمان: والتصريف إنما ينبغي أن ينظر فيه من قد نقب في العربية، فإن فيه إشكالًا وصعوبة على من ركبه، غير ناظر في غيره من النحو، وإنما هو والإدغام والإمالة فضل من فضول العربية، وأكثر من يسأل عن الإدغام والإمالة القراء للقرآن، فيصعب عليهم لأنهم لم يعملوا أنفسهم فيما هو دونه من العربية، فربما سأل الرجل منهم عن المسألة قد سأل عنها بعض العلماء فكتب لفظه، فإن أجابه غير ذلك العالم بمعناه وخالف لفظه كان عنده مخطئًا، فلا يلتفت إلى قوله أخطأت، فإنما يحمله على ذلك جهله بالمعاني وتعلقه بالألفاظ.
নিশ্চয়ই আবু উসমান একজন আদর্শ এবং প্রমাণ (حجة), তিনি আবু যাইদ, আবু উবাইদাহ, আসমায়ী, আবু উমর আল-জারমি, আবু হাসান আল-আখফাশ এবং এই স্তরের (الطبقة) আরও বহু জ্ঞানীর কাছ থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন। এর পাশাপাশি তার মধ্যে সতর্কতা (التوقف), সূক্ষ্ম অনুসন্ধান (التحري) এবং চারিত্রিক পবিত্রতা (العفاف) বিদ্যমান ছিল।

আমরা কতই না আকাঙ্ক্ষা করতাম যদি আল-মাজিনি কিরাত পাঠকদের সমালোচনা (الطعن) করা থেকে বিরত থাকতেন এবং তার কিতাবে এর কোনো কিছু অন্তর্ভুক্ত না করতেন, যাতে তা তার সতর্কতা (التوقف), অনুসন্ধান (التحري) ও চারিত্রিক পবিত্রতার (العفاف) সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতো। কিন্তু তিনি এই অন্যায় অভিযানে অংশ নিয়েছেন। তিনি তার কিতাবের ১ম খণ্ড, ১০৭ পৃষ্ঠায় বলেছেন:

“মদিনাবাসীদের মধ্য থেকে যারা হামজাহ যোগে 'মাআ-ইশ' (معائش) পড়েছেন, তাদের সেই কিরাত (قراءة) ভুল (خطأ); সুতরাং এর প্রতি ভ্রুক্ষেপ করা যাবে না। এটি মূলত নাফি ইবনে আবি নুয়াইমের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে, অথচ তিনি জানতেন না আরবি ভাষা (العربية) কী। তার এমন কিছু বর্ণ রয়েছে যা তিনি ব্যাকরণগত ভুল (لحنا) সহকারে পাঠ করেন। উল্লেখ্য, নাফি হলেন মদিনার কারি এবং সাবআ কিরাতের (القراء السبعة) অন্যতম ইমাম।”

আল-মাজিনি কেবল এতেই সন্তুষ্ট হননি, বরং তার প্রবৃত্তি তাকে কিতাবটি কিরাত পাঠকদের সমালোচনার (الطعن) মাধ্যমে শেষ করতে প্ররোচিত করেছে; যেখানে তিনি দাবি করেছেন যে তারা কেবল শব্দের প্রতি আসক্ত এবং অর্থের ব্যাপারে অজ্ঞ। তিনি ৩য় খণ্ড, ৩৪০-৩৪১ পৃষ্ঠায় বলেছেন:

আবু উসমান বলেন: শব্দরূপান্তর বা সরফ (التصريف) নিয়ে কেবল তাদেরই আলোচনা করা উচিত যারা আরবি ভাষায় (العربية) ব্যুৎপত্তি লাভ করেছেন। কেননা যারা নাহু বা ব্যাকরণ (النحو) না বুঝে সরফ নিয়ে পড়ে, তাদের জন্য এটি বেশ জটিল ও কঠিন। ইদগাম (الإدغام) এবং ইমালাহ (الإمالة) হলো আরবি ভাষার অতিরিক্ত বিষয় মাত্র। আর ইদগাম ও ইমালাহ সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন করেন কোরআনের কারিগণ। এটি তাদের কাছে কঠিন মনে হয় কারণ তারা আরবির অন্যান্য প্রাথমিক বিষয়গুলোতে নিজেদের পারদর্শী করেননি। তাই তাদের কেউ যখন কোনো বিষয়ে প্রশ্ন করেন এবং কোনো আলেম তার উত্তর দেন, তখন তিনি কেবল সেই আলেম থেকে শোনা নির্দিষ্ট শব্দগুলোই লিখে রাখেন। এরপর অন্য কোনো আলেম যদি তাকে একই বিষয়ের উত্তর দেন কিন্তু শব্দ পরিবর্তন করে কেবল মূল অর্থটি বুঝিয়ে বলেন, তখন সেই কারি তাকে ভুলকারী (مخطئًا) মনে করেন। তাই তার 'আপনি ভুল করেছেন' বলাটির প্রতি ভ্রুক্ষেপ করার প্রয়োজন নেই; কেননা অর্থের প্রতি তার অজ্ঞতা এবং শব্দের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তিই তাকে এমনটা বলতে বাধ্য করে।
(খণ্ড: ১) আল-মুগনী ফী তাসরীফিল আফআল (পৃষ্ঠা: ১৭)
والمازني أستاذ المبرد، وقد تأثر المبرد بأستاذه فحاكاه، في الطعن على القراء، قال في المقتضب 1/ 46:

فأما قراءة من قرأ "معائش" فهمز فإنه غلط، وإنما هذه القراءة منسوبة إلى نافع بن أبي نعيم، ولم يكن له علم بالعربية، وله في القرآن حروف قد وقف عليها، كما كان لذلك تأثيره عند ابن جني في كتبه.

في النسخة المطبوعة 2-35: وسألت الخليل، والمازني لم يدرك الخليل، ويظهر أن في الكلام سقطا، ففي 2-128: قال -أبو عثمان: قال -يعني سيبويه: وسألت الخليل.
আল-মাজিনী ছিলেন আল-মুবররাদের উস্তাদ। আল-মুবররাদ তার উস্তাদ দ্বারা প্রভাবিত হয়ে কিরাত পাঠকদের (القراء) সমালোচনা করার ক্ষেত্রে তাকে অনুসরণ করেছেন। তিনি আল-মুকতাদাব (১/৪৬)-এ বলেন:

“আর যারা ‘মাআইশ’ শব্দটিকে হামজা দিয়ে পাঠ করেছেন, তাদের সেই কিরাতটি ভুল (غلط)। মূলত এই কিরাতটি নাফে ইবনে আবি নুয়াইমের দিকে সম্বন্ধযুক্ত, অথচ আরবি ভাষায় তার পর্যাপ্ত জ্ঞান ছিল না। কুরআনের বেশ কিছু শব্দ বা বর্ণের (حروف) ক্ষেত্রে তার এমন কিছু অবস্থান রয়েছে যা ইবনে জিন্নির কিতাবসমূহেও প্রভাব ফেলেছে।”

মুদ্রিত সংস্করণের ২/৩৫ পৃষ্ঠায় রয়েছে: “আমি খলীলকে জিজ্ঞাসা করেছি”, অথচ আল-মাজিনী খলীলের সাক্ষাৎ পাননি (অর্থাৎ তিনি খলীলের যুগ পাননি)। এতে প্রতীয়মান হয় যে, মূল পাঠ্যে কোনো অংশ বাদ পড়া (سقط) রয়েছে। কারণ ২/১২৮ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে: আবু উসমান বলেন— অর্থাৎ সিবওয়াইহি বলেন: “আমি খলীলকে জিজ্ঞাসা করেছি।”
(খণ্ড: ১) আল-মুগনী ফী তাসরীফিল আফআল (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌الحديث عن المنصف لابن جني

…

الحديث عنم المنصف لابن الجني:

التعريف بالمنصف شرح تصريف المازني:

بسط أبو الفتح على عادته القول في شرح تصريف المازني، فجاء كتابه في ثلاثة أجزاء: الأول والثاني في شرح التصريف، والثالث في شرح الغريب وبعض مسائل التمارين.

ويمتاز أسلوب ابن جني بالوضوح والعبارة المبسوطة، وقد تحدث عن المنصف في كتابه الخصائص، فقال في 2/ 288: وقد ذكرنا هذا الموضع في كتابنا في شرح تصريف المازني، وبين الكتابين مسائل مشتركة كثيرة.

وهذه بعض ملاحظات على المنصف:

1- يظهر لي أن أبا الفتح لم يقف على نصوص كتاب سيبويه في الهمزة المتصدرة وبعدها أربعة أصول، فهو يحكي عن سيبويه أنه يرى أصالة
‌‌ইবনে জিন্নি রচিত আল-মুনসিফ সম্পর্কে আলোচনা

…

ইবনে জিন্নির আল-মুনসিফ সম্পর্কে আলোচনা:

আল-মাজিনির তাসরিফ-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ আল-মুনসিফ-এর পরিচিতি:

আবুল ফাতহ তার প্রথা অনুযায়ী আল-মাজিনির তাসরিফ-এর ব্যাখ্যায় বিশদ আলোচনা করেছেন, যার ফলে তার কিতাবটি তিনটি খণ্ডে বিন্যস্ত হয়েছে: প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড তাসরিফ-এর ব্যাখ্যায়, এবং তৃতীয় খণ্ডটি গারিব (বিরল শব্দাবলি) ও অনুশীলনীমূলক কিছু মাসআলার ব্যাখ্যায়।

ইবনে জিন্নির লিখনশৈলী স্পষ্টতা এবং প্রাঞ্জল বর্ণনার জন্য বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। তিনি তার আল-খাসাইস গ্রন্থে আল-মুনসিফ সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেছেন (২/২৮৮): "আমরা আল-মাজিনির তাসরিফ-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে এই বিষয়টি উল্লেখ করেছি।" এই উভয় গ্রন্থের মধ্যে অনেক অভিন্ন মাসআলা বিদ্যমান।

আল-মুনসিফ সম্পর্কে কিছু পর্যবেক্ষণ নিম্নরূপ:

1- আমার নিকট প্রতীয়মান হয় যে, আবুল ফাতহ শব্দের শুরুতে হামজাহ এবং এরপর চারটি মূলবর্ণ থাকা সংক্রান্ত সিবাওয়াইহ-র কিতাবের মূল পাঠসমূহ সম্পর্কে অবগত হতে পারেননি। তাই তিনি সিবাওয়াইহ-র বরাতে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি এর মৌলিকত্বকে
(খণ্ড: ১) আল-মুগনী ফী তাসরীফিল আফআল (পৃষ্ঠা: ১৮)
الهمزة في نحو إبراهيم وإسماعيل، وذكر ذلك في كتابه التصريف الملوكي 3، وفي المنصف 1-144.

وفي كتاب سيبويه نص صريح يفيد زيادة هذه الهمزة. قال في 2-343: فالهمزة إذا لحقت أولا رابعة فصاعدًا فهي مزيدة أبدًا عندهم، وتصغير سيبويه لإبراهيم وإسماعيل على بريهيم وسميعيل، كما ذكر في كتابه 2-120، يشهد لزيادة الهمزة، وإلا كان صغرهما على أبيريه وأسيميع كما يقول المبرد، والسيوطي في الهمع 2-192 يقول: الهمزة زائدة فيهما عند سيبويه.

وأبو الفتح في المنصف 1-148 يقول عن تصغير سيبويه: تخليط في الكلمة؛ لأنها أعجمية خارجة عن أصول كلامهم "ينظر كتابنا في زيادة الهمزة، ففيه نصوص كثيرة".

2- كذلك يظهر لي أن أبا الفتح لم يرجع إلى كتاب المقتضب للمبرد، فقد نسب إليه القول بجواز تصحيح عين اسم المفعول من الأجوف الواوي الثلاثي مطلقًا، ونقل رد أبي علي على المبرد في موضعين من المنصف "1-278-285" وتخطئته له، وجعله مما خالف القياس والسماع، وأن سبيله سبيل من قال: قام زيدًا، وضربت زيد.

وبالرجوع إلى المقتضب نرى أن المبرد يجيز ذلك في الضرورة فقط، قال في 36: فأما الواو فإن ذلك لا يجوز فيها كراهة للضمة بين الواوين، وذلك أنه كان يلزمه أن يقول مقوُول؛ فلهذا لم يجز في الواو ما جاز في الياء هذا قول البصريين أجمعين، ولست أراه ممتنعا عند الضرورة إذ كان قد جاء في الكلام مثله، فإذا اضطر الشاعر أجرى هذا على ذاك.
ইব্রাহিম ও ইসমাইলের মতো শব্দে হামজাটি অতিরিক্ত (مزيدة), এবং তিনি তা তাঁর তসরিফ আল-মুলুকি ৩ এবং আল-মুনসিফ ১-১৪৪ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

সিবওয়াইহ-এর কিতাবে একটি সুস্পষ্ট পাঠ (نص) রয়েছে যা এই হামজার অতিরিক্ত (زيادة) হওয়ার বিষয়টি ব্যক্ত করে। তিনি ২-৩৪৩ পৃষ্ঠায় বলেছেন: হামজা যখন শব্দের শুরুতে যুক্ত হয়ে চার বা ততোধিক বর্ণের শব্দ গঠিত হয়, তখন তা তাদের নিকট সর্বদা অতিরিক্ত (مزيدة) হিসেবে গণ্য হয়। সিবওয়াইহ কর্তৃক ইব্রাহিম ও ইসমাইলের ক্ষুদ্রার্থ রূপ (تصغير) 'বুরিহিম' ও 'সুমাইঈল' হিসেবে গঠন করা—যেমনটি তাঁর কিতাবের ২-১২০ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে—হামজার অতিরিক্ত হওয়ারই প্রমাণ দেয়। অন্যথায় মুবাররাদের মতানুসারে শব্দ দুটির ক্ষুদ্রার্থ রূপ হতো 'উবাইরিহ' ও 'উসাইমিঈ'। সুয়ূতী হামউল-হামি ২-১৯২ গ্রন্থে বলেছেন: সিবওয়াইহ-এর মতে এই শব্দ দুটিতে হামজাটি অতিরিক্ত (زائدة)।

আবু আল-ফাতহ আল-মুনসিফ ১-১৪৮ গ্রন্থে সিবওয়াইহ-এর ক্ষুদ্রার্থ রূপ (تصغير) সম্পর্কে বলেছেন: এটি শব্দের মধ্যে বিশৃঙ্খলা (تخليط) সৃষ্টি করা; কারণ এগুলো অনারবীয় (أعجمية) শব্দ যা তাদের ভাষাতাত্ত্বিক মূলনীতির (أصول) বহির্ভূত। "হামজার আধিক্য বিষয়ে আমাদের কিতাবটি দেখুন, সেখানে অনেক পাঠ (نصوص) বিদ্যমান।"

2- একইভাবে আমার নিকট প্রতীয়মান হয় যে, আবু আল-ফাতহ মুবাররাদের আল-মুকতাদাব কিতাবটি দেখেননি। কারণ তিনি তাঁর দিকে এই মতটি আরোপ করেছেন যে, তিন অক্ষর বিশিষ্ট আজওয়াফ ওয়াবী (الأجوف الواوي الثلاثي) শব্দের ইসমে মাফউলের আইন বর্ণকে (عين اسم المفعول) নিঃশর্তভাবে সহিহ বা অপরিবর্তিত রাখা বৈধ। তিনি আল-মুনসিফ-এর দুটি স্থানে (১-২৭৮-২৮৫) মুবাররাদের ওপর আবু আলীর খণ্ডন এবং তাকে ভুল সাব্যস্ত করার (تخطئته) বিষয়টি উদ্ধৃত করেছেন। তিনি এটিকে যৌক্তিক নিয়ম (قياس) এবং ভাষিক বর্ণনা (سماع)-এর পরিপন্থী বলে গণ্য করেছেন এবং বিষয়টিকে 'ক্বামা জাইদান' (قام زيدًا) এবং 'দবারাবতু জাইদ' (ضربت زيد) বলার সমতুল্য সাব্যস্ত করেছেন।

আল-মুকতাদাব পর্যালোচনা করলে আমরা দেখতে পাই যে, মুবাররাদ এটি কেবল কাব্যের প্রয়োজন (ضرورة) এর খাতিরেই বৈধ মনে করেন। তিনি ৩৬ পৃষ্ঠায় বলেছেন: 'ওয়াও'-এর ক্ষেত্রে এটি বৈধ নয়, কারণ দুটি 'ওয়াও'-এর মাঝে 'দাম্মাহ' হওয়া অপছন্দনীয়। এমতাবস্থায় তাকে 'মাকউউল' (مقوُول) বলতে হতো; এ কারণেই 'ওয়াও'-এর ক্ষেত্রে সেটি বৈধ হয়নি যা 'ইয়া'-এর ক্ষেত্রে বৈধ হয়েছে। এটি সকল বসরীয় (البصريين) ভাষাবিদদের সর্বসম্মত অভিমত। তবে আমি একে কাব্যের প্রয়োজন (ضرورة) এর ক্ষেত্রে অসম্ভব মনে করি না, যেহেতু আরবী ভাষায় এর অনুরূপ দৃষ্টান্ত বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং যখন কবি নিরুপায় হন, তখন তিনি এক নিয়মকে অন্য নিয়মের ওপর প্রয়োগ করেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুগনী ফী তাসরীফিল আফআল (পৃষ্ঠা: ১৯)
ولو رجعنا إلى كتاب سيبويه 2-366 لوجدنا فيه مثل ما قال المبرد، وإن كان المبرد نفسه يقول: إن رأي البصريين أجمعين عدم جواز ذلك، وهذا هو نص كتاب سيبويه 2-366 وقد جاء مفعول على الأصل فهذا أجدر أن يلزمه الأصل، قالوا: مخيوط، ولا يستنكر أن تجيء الواو على الأصل.

وممن نسب إلى المبرد الجواز مطلقا ابن يعيش في شرح المفصل 10-80، والأشموني 3-358.

ومما يتصل بهذا أن أبا الفتح في كتابه: سر الصناعة قد نسب إلى المبرد أنه أخرج الهاء من حروف الزيادة، ثم تابعه على ذلك من جاء بعده والمبرد في غير موضع من المقتضب يصرح بأن الهاء حرف من حروف الزيادة "تراجع زيادة الهاء من الكتاب".

4- محمد بن يزيد أبو العباس المبرد "المتوفى سنة 286" ألف التصريف1.

5- محمد بن أحمد بن كيسان "المتوفى سنة 299" صنف التصريف2.

6- أحمد بن سهل أبو زيد البلخي "المتوفى سنة 322" ألف كتاب النحو والتصريف3.

--------------------------------------------

1 أخذ عن المازني وأبي حاتم السجستاني، وكان فصيحا، صاحب نوادر وظرافة ولباقة.

2 كان يحفظ في النحو المذهبين البصري والكوفي؛ لأنه أخذ عن المبرد وثعلب.

3 كان يجمع إلى العلوم القديمة العلوم الحديثة، يسلك في مصنفاته طريق الفلاسفة، وذكرته هنا لأنه جعل التصريف جزءا من اسم كتابه.
আমরা যদি সিবওয়াইহ-এর কিতাবের (২-৩৬৬) দিকে দৃষ্টিপাত করি, তবে সেখানে আল-মুবররাদ যা বলেছেন তারই অনুরূপ বর্ণনা পাব। যদিও আল-মুবররাদ নিজে বলেছেন যে, বসরী পণ্ডিতদের সকলের অভিমত হলো এটি অনুমোদিত না হওয়া (عدم جواز ذلك)। আর এটিই হলো সিবওয়াইহ-এর কিতাবের (২-৩৬৬) মূল পাঠ: "এটি মূল অনুযায়ী মফঊল (مفعول) রূপে এসেছে, তাই এটি মূল (أصل) অনুসরণ করার অধিক উপযোগী। তারা বলেন: 'মাখইউত' (مخيوط); আর 'ওয়াও' বর্ণটি মূল (أصل) অনুযায়ী আসাকে অস্বীকার করা যায় না।"

যারা আল-মুবররাদের দিকে নিরঙ্কুশ বৈধতার (الجواز مطلقا) বিষয়টি নিসবত করেছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন ইবনুল ইয়ায়িশ তার 'শরহুল মুফাসসাল' (১০-৮০) গ্রন্থে এবং আল-আশমুনি (৩-৩৫৮)।

এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয় হলো, আবুল ফাতহ তার 'সিররুস সিনাআ' কিতাবে আল-মুবররাদের প্রতি নিসবত করেছেন যে, তিনি 'হা' বর্ণটিকে অতিরিক্ত বর্ণ (حروف الزيادة) সমূহের তালিকা থেকে বের করে দিয়েছেন। পরবর্তীতে যারা এসেছেন তারা এ বিষয়ে তার অনুসরণ করেছেন। অথচ আল-মুবররাদ 'আল-মুকতাদাব' গ্রন্থের একাধিক স্থানে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন যে, 'হা' বর্ণটি অতিরিক্ত বর্ণ (حروف الزيادة) সমূহের একটি ("কিতাব থেকে অতিরিক্ত 'হা' বিষয়ক আলোচনাটি দেখে নিন")।

৪- মুহাম্মদ ইবনে ইয়াযিদ আবু আল-আব্বাস আল-মুবররাদ (মৃত্যু: ২৮৬ হিজরি) 'আত-তাসরীফ' রচনা করেছেন।

৫- মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে কাইসান (মৃত্যু: ২৯৯ হিজরি) 'আত-তাসরীফ' সংকলন করেছেন।

৬- আহমদ ইবনে সাহল আবু যাইদ আল-বালখি (মৃত্যু: ৩২২ হিজরি) 'আন-নাহওয়ু ওয়াত তাসরীফ' গ্রন্থটি রচনা করেছেন।

--------------------------------------------

১. তিনি আল-মাযিনি এবং আবু হাতিম আস-সিজিস্তানি থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত বাকপটু, বিরল জ্ঞানের অধিকারী, রসিক এবং মার্জিত স্বভাবের।

২. তিনি ব্যাকরণের ক্ষেত্রে বসরী ও কুফী উভয় মাযহাবই মুখস্থ রাখতেন; কারণ তিনি আল-মুবররাদ এবং সা'লাব উভয়ের নিকট থেকে শিক্ষা লাভ করেছিলেন।

৩. তিনি প্রাচীন বিজ্ঞানের সাথে আধুনিক বিজ্ঞানের সমন্বয় ঘটাতেন এবং তার গ্রন্থাবলীতে দার্শনিকদের পদ্ধতি অনুসরণ করতেন। আমি তাকে এখানে উল্লেখ করেছি কারণ তিনি 'তাসরীফ' শব্দটিকে তার কিতাবের নামের অংশ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুগনী ফী তাসরীফিল আফআল (পৃষ্ঠা: ২০)
7- أحمد بن محمد أبو جعفر الطبري، كان ببغداد "المتوفى سنة 304"، له كتاب التصريف1.

8- ولأحمد بن محمد بن يزداد بن رستم 304 كتاب في التصريف.

9- أبو علي الفارسي "المتوفى سنة 377" صنف التكملة في التصريف2.

10- علي بن عيسى الرماني "المتوفى سنة 384" صنف كتاب التصريف3.

11- أبو الفتح عثمان بن جني4 "المتوفى سنة 392" له التصريف الملوكي، وشروحه كثيرة، والخصائص، وسر الصناعة، وغيرها.

--------------------------------------------

1 سكن بغداد، وحدث بها عن نصير بن يوسف، وهاشم بن عبد العزيز صاحبي الكسائي.

2 أخذ عن الزجاج وابن السراج، وهو شيخ ابن جني والربعي، وله مصنفات كثيرة.

3 أخذ عن الزجاج وابن السراج وابن دريد، وكان يمزج كلامه في النحو بالمنطق حتى قال فيه أبو علي: إن كان النحو ما يقوله الرماني فليس معنا منه شيء، وإن كان النحو ما نقوله نحن فليس معه منه شيء.

4 أديب نحوي قال عنه المتنبي: هذا رجل لا يعرف قدره كثير من الناس، وتتجلى براعة ابن جني الأدبية في كتابه الخصائص وإذا كان عبد القاهر قد ألف في البلاغة -وصلتها بالأدب وثيقة- بأسلوب أدبي، فقد تناول أبو الفتح مسائل صرفية بأسلوب أدبي رائع لا يقل عن أسلوب عبد القاهر إن لم يفقه أحيانًا، ومن شاء فليرجع إلى هذه الصفحات من الخصائص 14-114-197-223-316-317-518-554 على أنه قد يؤثر جزالة اللفظ فيأتي بالغريب من الألفاظ أحيانًا.
7- আহমদ বিন মুহাম্মদ আবু জাফর আল-তাবারী, তিনি বাগদাদে ছিলেন "মৃত্যুবরণ করেছেন (المتوفى) ৩০৪ হিজরিতে", তাঁর 'কিতাবুত তাসরিফ' নামক একটি গ্রন্থ রয়েছে।১

8- এবং আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন ইয়াজদাদ বিন রুস্তমের (মৃত্যু ৩০৪ হিজরি) 'তাসরিফ' বিষয়ে একটি গ্রন্থ রয়েছে।

9- আবু আলী আল-ফারিসী "মৃত্যুবরণ করেছেন (المتوفى) ৩৭৭ হিজরিতে" 'আত-তাকমিলা ফিত তাসরিফ' রচনা করেছেন।২

10- আলী বিন ঈসা আল-রুম্মানী "মৃত্যুবরণ করেছেন (المتوفى) ৩৮৪ হিজরিতে" 'কিতাবুত তাসরিফ' রচনা করেছেন।৩

11- আবু আল-ফাতহ উসমান বিন জিন্নি৪ "মৃত্যুবরণ করেছেন (المتوفى) ৩৯২ হিজরিতে"। তাঁর 'আত-তাসরিফ আল-মুলুকী' রয়েছে, যার অনেক ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছে; এছাড়া 'আল-খাসাইস', 'সিররুস সিনাআহ' সহ অন্যান্য গ্রন্থও রয়েছে।

--------------------------------------------

১ তিনি বাগদাদে বসবাস করতেন এবং সেখানে কিসায়ীর দুই ছাত্র নুসায়ের বিন ইউসুফ ও হাশিম বিন আবদুল আজিজ থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدث)।

২ তিনি আজ-জাজ্জাজ এবং ইবনুল সাররাজ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। তিনি ইবনে জিন্নি ও আর-রাবিয়ীর শিক্ষক ছিলেন এবং তাঁর অসংখ্য রচনা রয়েছে।

৩ তিনি আজ-জাজ্জাজ, ইবনুল সাররাজ এবং ইবনে দুরায়দ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। তিনি নাহু বা ব্যাকরণ আলোচনার সাথে যুক্তিবিদ্যা মিশ্রিত করতেন, এমনকি এ বিষয়ে আবু আলী বলেছিলেন: "যদি নাহু তা-ই হয় যা রুম্মানী বলেন, তবে আমাদের কাছে নাহুর কিছুই নেই; আর নাহু যদি তা-ই হয় যা আমরা বলি, তবে তাঁর কাছে নাহুর কিছুই নেই।"

৪ তিনি একজন সাহিত্যিক ও ব্যাকরণবিদ ছিলেন, যাঁর সম্পর্কে আল-মুতানাব্বি বলেছিলেন: "ইনি এমন একজন ব্যক্তি যাঁর মর্যাদা অধিকাংশ মানুষ জানে না।" ইবনে জিন্নির সাহিত্যিক পারদর্শিতা তাঁর 'আল-খাসাইস' গ্রন্থে ফুটে ওঠে। আবদুল কাহের যদি অলঙ্কারশাস্ত্রে—যার সাথে সাহিত্যের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে—সাহিত্যিক শৈলীতে লিখে থাকেন, তবে আবু আল-ফাতহ রূপতত্ত্বের (সারফ) বিষয়গুলোকে এমন চমৎকার সাহিত্যিক শৈলীতে উপস্থাপন করেছেন যা আবদুল কাহেরের শৈলীর চেয়ে কোনো অংশে কম নয়, বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাঁকে ছাড়িয়ে গেছে। যারা ইচ্ছুক তারা 'আল-খাসাইস' গ্রন্থের ১৪, ১১৪, ১৯৭, ২২৩, ৩১৬, ৩১৭, ৫১৮, ৫৫৪ পৃষ্ঠাগুলো দেখে নিতে পারেন; তবে তিনি শব্দের গাম্ভীর্যকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে মাঝেমধ্যে বিরল শব্দ (الغريب) ব্যবহার করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুগনী ফী তাসরীফিল আফআল (পৃষ্ঠা: ২১)
12- محمد بن علي الهراشي1 "المتوفى سنة 425" له كتاب في التصريف.

13- الحسن بن أحمد بن عبد الله بن البناء2 "المتوفى سنة 477" ألف غيث التصريف.

14- محمد بن أحمد البيهقي "المتوفى سنة 485" له كتاب في التصريف مجدول3.

15- أحمد بن محمد الميداني "المتوفى سنة 518" له كتاب نزهة الطرف في علم الصرف4.

16- محمد بن علي الحلي، المعروف بابن حميدة "المتوفى سنة 550" من كتبه كتاب في التصريف5.

17- إبراهيم بن محمد الخوارزمي "ولد سنة 559" له كتاب تعريف شواهد التصريف6.

--------------------------------------------

1 أديب نحوي، شرح ديوان المتنبي.

2 المقرئ الحافظ اللغوي، صنف 500 مصنف.

3 أديب فيلسوف رياضي، ألف كتابًا في المخروطات الهندسية.

4 عالم أديب نحوي لغوي، صاحب كتاب الأمثال، وكتابه نزهة الطرف مطبوع بمطبعة الجوائب سنة 1299هـ في مجموع مع كتاب الأنموذج للزمخشري، وقواعد الإعراب لابن هشام.

5 قرأ على ابن الخشاب، وله معرفة جيدة بالنحو واللغة.

6 له شرح كليلة ودمنة بالفارسية، وكتب أخرى.
12- মুহম্মদ ইবনে আলী আল-হারাশি১ "মৃত্যু ৪২৫ হিজরী", রূপতত্ত্ব (تصريف) বিষয়ে তাঁর একটি গ্রন্থ রয়েছে।

13- হাসান ইবনে আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আল-বান্না২ "মৃত্যু ৪৭৭ হিজরী", তিনি 'গাইসুত তাসরীফ' রচনা করেছেন।

14- মুহম্মদ ইবনে আহমদ আল-বাইহাকী "মৃত্যু ৪৮৫ হিজরী", রূপতত্ত্ব (تصريف) বিষয়ে ছকবদ্ধ (مجدول) আকারে তাঁর একটি গ্রন্থ রয়েছে৩।

15- আহমদ ইবনে মুহম্মদ আল-মাইদানী "মৃত্যু ৫১৮ হিজরী", ইলমুস সরফ (علم الصرف) বিষয়ে তাঁর 'নুজহাতুত তরফ' নামক একটি গ্রন্থ রয়েছে৪।

16- মুহম্মদ ইবনে আলী আল-হিল্লি, যিনি ইবনে হুমাইদাহ নামে পরিচিত "মৃত্যু ৫৫০ হিজরী", রূপতত্ত্ব (تصريف) বিষয়ক একটি গ্রন্থ তাঁর রচনাবলীর অন্তর্ভুক্ত৫।

17- ইব্রাহিম ইবনে মুহম্মদ আল-খাওয়ারিজমি "জন্ম ৫৫৯ হিজরী", তাঁর 'তা’রিফু শাওয়াতিদুত তাসরীফ' নামক একটি গ্রন্থ রয়েছে৬।

--------------------------------------------

১ সাহিত্যিক (أديب) ও ব্যাকরণবিদ (نحوي), তিনি দিওয়ানুল মুতানাব্বি-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ লিখেছেন।

২ ক্বারি (مقرئ), হাফেজ (حافظ) ও ভাষাবিদ (لغوي), তিনি ৫০০টি গ্রন্থ রচনা করেছেন।

৩ সাহিত্যিক (أديب), দার্শনিক (فيلسوف) ও গণিতবিদ (رياضي), তিনি জ্যামিতিক বক্ররেখার ওপর একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন।

৪ আলেম (عالم), সাহিত্যিক (أديب), ব্যাকরণবিদ (نحوي) ও ভাষাবিদ (لغوي), তিনি 'আল-আমসাল' গ্রন্থের লেখক। তাঁর 'নুজহাতুত তরফ' গ্রন্থটি ১২৯৯ হিজরীতে জাওয়াইব প্রেসে যামাখশারীর 'আল-উনুযাজ' এবং ইবনে হিশামের 'কাওয়ায়িদুল ই’রাব' গ্রন্থের সাথে একত্রে একটি সংকলনে মুদ্রিত হয়েছে।

৫ তিনি ইবনুল খাশশাবের নিকট পাঠ গ্রহণ করেছেন এবং ব্যাকরণ (نحو) ও ভাষা (لغة) সম্পর্কে তাঁর উত্তম জ্ঞান ছিল।

৬ ফারসি ভাষায় তাঁর 'কালিলা ওয়া দিমনা'র ব্যাখ্যা এবং অন্যান্য গ্রন্থ রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-মুগনী ফী তাসরীফিল আফআল (পৃষ্ঠা: ২২)
18- الحسن بن صافي الملقب بملك النحاة "المتوفى سنة 558" له كتاب المقتصد في التصريف1.

19- عبد الرحمن بن محمد أبو البركات كمال الدين الأنباري "المتوفى سنة 577" من مؤلفاته الوجيز في التصريف، وميزان العربية2.

20- الحسن بن محمد الصاغاني "المتوفى سنة 577" له كتاب في التصريف3.

21- عبد الله بن الحسين أبو البقاء العكبري "المتوفى سنة 616" من مؤلفاته نزهة الطرف في إيضاح قانون الصرف، والترصيف في علم التصريف4.

22- عثمان بن عمرو جمال الدين بن الحاجب "المتوفى سنة 646" صنف الشافية5.

--------------------------------------------

1 برع في النحو، وكان ذكيا فصيحا، وكان عنده عجب بنفسه وتيه بعلمه، لقب نفسه ملك النحاة، وكان يسخط على من يخاطبه بغير ذلك.

2 قرأ على ابن الشجري وأبي منصور الجواليقي، وله مؤلفات كثيرة منها كتاب الإنصاف المعروف، وأسرار العربية.

3 ولد بلاهور ودخل بغداد، وذهب إلى الهند والحجاز واليمن، كان إليه المنتهى في اللغة.

4 أديب نحوي فقيه، له شرح ديوان المتنبي وإعراب القرآن الكريم، مطبوعان.

5 ولد بإسنا، وكان مشهورا بالذكاء وبالنحو والأصول والفقه، ورُزقت مصنفاته قبولا حسنا، ومن أشهر شراح الشافية شرح الرضي، فهو يغني عن غيره ولا يغني غيره عنه.
18- আল-হাসান ইবনে সাফি, যাকে 'মালিকুন নুহাত' (ব্যাকরণবিদদের রাজা) উপাধি দেওয়া হয়েছিল "মৃত্যু ৫৫৮ হিজরী"। তার 'আল-মুকতাসিদ ফিত তাসরিফ' নামক একটি গ্রন্থ রয়েছে।

19- আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ আবুল বারাকাত কামালুদ্দিন আল-আনবারি "মৃত্যু ৫৭৭ হিজরী"। তার রচনাবলির মধ্যে রয়েছে 'আল-ওয়াজিজ ফিত তাসরিফ' এবং 'মিজানুল আরাবিয়্যাহ'।

20- আল-হাসান ইবনে মুহাম্মদ আস-সাগানি "মৃত্যু ৫৭৭ হিজরী"। সরফ শাস্ত্রের ওপর তার একটি গ্রন্থ রয়েছে।

21- আবদুল্লাহ ইবনে আল-হুসাইন আবুল বাকা আল-উকবারি "মৃত্যু ৬১৬ হিজরী"। তার রচনাবলির মধ্যে রয়েছে 'নুজহাতুত তরফ ফি ইদাহি কানুনিল সরফ' এবং 'আত-তারসিফ ফি ইলমিত তাসরিফ'।

22- উসমান ইবনে আমর জামালুদ্দিন ইবনুল হাজিব "মৃত্যু ৬৪৬ হিজরী"। তিনি 'আশ-শাফিয়াহ' রচনা করেন।

--------------------------------------------

1 তিনি ব্যাকরণশাস্ত্রে পারদর্শিতা অর্জন করেছিলেন এবং তিনি অত্যন্ত বুদ্ধিমান ও প্রাঞ্জলভাষী ছিলেন। তার মধ্যে আত্মঅহংকার ও নিজ ইলমের প্রতি বড়ত্ববোধ ছিল। তিনি নিজেকে 'মালিকুন নুহাত' উপাধি দিয়েছিলেন এবং কেউ তাকে এই নাম ছাড়া সম্বোধন করলে তিনি অসন্তুষ্ট হতেন।

2 তিনি ইবনুশ শাজারি এবং আবু মনসুর আল-জাওয়ালিকির নিকট পাঠ গ্রহণ করেছেন। তার বহু গ্রন্থ রয়েছে, যার মধ্যে প্রসিদ্ধ 'আল-ইনসাফ' এবং 'আসরারুল আরাবিয়্যাহ' অন্যতম।

3 তিনি লাহোরে জন্মগ্রহণ করেন এবং বাগদাদে প্রবেশ করেন। তিনি ভারত, হিজাজ ও ইয়েমেন ভ্রমণ করেন। ভাষাবিজ্ঞানে তিনি চূড়ান্ত শিখরে পৌঁছেছিলেন।

4 তিনি একজন সাহিত্যিক, ব্যাকরণবিদ ও ফকিহ (فقيه)। তার 'দিওয়ানে মুতানাব্বি'র ব্যাখ্যাগ্রন্থ এবং 'ইরাবুল কুরআনিল কারিম' মুদ্রিত অবস্থায় রয়েছে।

5 তিনি ইসনায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বুদ্ধিমত্তা, ব্যাকরণ, মূলনীতি (أصول) এবং ফিকহ (فقه) শাস্ত্রে প্রসিদ্ধ ছিলেন। তার রচনাবলি ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেছে। 'আশ-শাফিয়াহ'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহের মধ্যে আর-রাদীয়ের ব্যাখ্যাগ্রন্থটি সর্বাধিক প্রসিদ্ধ; এটি অন্য সব ব্যাখ্যাগ্রন্থের প্রয়োজন মিটিয়ে দেয়, কিন্তু অন্য কোনোটি এর অভাব পূরণ করতে পারে না।
(খণ্ড: ১) আল-মুগনী ফী তাসরীফিল আফআল (পৃষ্ঠা: ২৩)
23- محمد بن عبد الله بن مالك1 "المتوفى سنة 672" نظم لامية الأفعال، وهي قصيدة على روي واحد، تكلم فيها على تصريف الأفعال وأبنية المصادر والمشتقات: اسم الفاعل والمفعول واسمي الزمان والمكان والآلة، وله ضروري التصريف وشرحه كما شرحه ابن إياز والسيوطي.

24- ولأبي الذبيح إسماعيل بن محمد الحضرمي التميمي "المتوفى سنة 676" أساس التصريف.

25- علي بن مؤمن أبو الحسن بن عصفور "المتوفى سنة 696" صنف الممتع في التصريف، وهو مخطوط، والمقرب شرحه لم يتم2.

ولأبي حيان كتاب اسمه "المبدع الملخص من الممتع" وهو مخطوط بدار الكتب المصرية، ولمحمد بن يحيى بن هشام الخضراوي "المتوفى سنة 646" النقض على الممتع.

ولأحمد بن يوسف اللبلي "المتوفى سنة 691" كتاب في التصريف، ضاهى به الممتع.

26- عبد الوهاب بن إبراهيم الخزرجي الزنجاني مؤلف "شرح الهادي" أكثر الجاربردي من النقل عنه.

--------------------------------------------

1 ولد بجيان الأندلس سنة 600 ثم رحل إلى الشام وأقام بدمشق، وسمع من السخاوي وغيره، وكان إمامًا في القراءات واللغة والنحو، وصادفت مؤلفاته قبولًا حسنًا في كل عصورها.

2 حامل لواء العربية في زمانه، انقطع للنحو، أخذ عن الدباج والشلوبين.
২৩- মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মালিক (মৃত্যু ৬৭২ হিজরি) ‘লামিয়াতুল আফআল’ রচনা করেন। এটি একটি একক অন্ত্যমিলবিশিষ্ট কবিতা, যেখানে তিনি ক্রিয়ার রূপান্তর (তাসরিফ), মাসদারের গঠন এবং বিভিন্ন ব্যুৎপন্ন শব্দ (মুশতাক্কাত): ইসমুল ফায়েল, ইসমুল মাফউল, ইসমুয যামান, ইসমুল মাকান ও ইসমুল আলাহ সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। তাঁর আরও রয়েছে ‘দরুরি আত-তাসরিফ’ ও এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ; যেমনটি ইবনে ইয়াজ ও সুয়ূতী ব্যাখ্যা করেছেন।

২৪- আবুয যাবিহ ইসমাঈল ইবনে মুহাম্মাদ আল-হাদরামি আত-তামিমী (মৃত্যু ৬৭৬ হিজরি) ‘আসাস আত-তাসরিফ’ রচনা করেন।

২৫- আলী ইবনে মুমিন আবুল হাসান ইবনে উসফুর (মৃত্যু ৬৯৬ হিজরি) ‘আল-মুমতি ফিল তাসরিফ’ রচনা করেন, যা একটি পাণ্ডুলিপি; তবে তাঁর ‘আল-মুকাররিব’ গ্রন্থের ব্যাখ্যাটি সম্পন্ন হয়নি।

আবু হাইয়ানের একটি কিতাব রয়েছে যার নাম ‘আল-মুবদি আল-মুলাখখাস মিনাল মুমতি’, এটি মিশরের দারুল কুতুব-এ পাণ্ডুলিপি হিসেবে সংরক্ষিত। মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে হিশাম আল-খাদরাওয়ী (মৃত্যু ৬৪৬ হিজরি) ‘আল-মুমতি’র ওপর ‘আন-নাকদ আলাল মুমতি’ নামক একটি সমালোচনাগ্রন্থ রচনা করেছেন।

আহমদ ইবনে ইউসুফ আল-লাব্লি (মৃত্যু ৬৯১ হিজরি) তাসরিফ বিষয়ে একটি কিতাব লিখেছেন, যা ‘আল-মুমতি’র সমপর্যায়ের।

২৬- আবদুল ওয়াহহাব ইবনে ইব্রাহিম আল-খাযরাজি আয-যানজানি ‘শারহুল হাদি’র রচয়িতা; আল-জারবারদি তাঁর থেকে প্রচুর উদ্ধৃতি গ্রহণ করেছেন।

--------------------------------------------

১ তিনি ৬০০ হিজরিতে আন্দালুসের জিয়ান শহরে জন্মগ্রহণ করেন, অতঃপর সিরিয়া ভ্রমণ করে দামেস্কে বসবাস করেন। তিনি সাখাভী ও অন্যান্যদের নিকট থেকে শ্রবণ (سماع) করেছেন। তিনি ক্বিরাআত, ভাষা ও ব্যাকরণ শাস্ত্রে একজন ইমাম (إمام) ছিলেন এবং তাঁর রচনাবলি সকল যুগে অত্যন্ত সমাদৃত হয়েছে।

২ তিনি তাঁর সময়ের আরবি ভাষার ঝাণ্ডাবাহী ছিলেন এবং নাহু শাস্ত্রের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন। তিনি আদ-দাব্বাজ ও আশ-শালুবিন থেকে শিক্ষা গ্রহণ (أخذ) করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুগনী ফী তাসরীফিল আফআল (পৃষ্ঠা: ২৪)
ومؤلف تصريف العزي المشهور، كان ببغداد "المتوفى سنة 654" وشرحه سعد الدين التفتازاني وغيره.

27- وللشيخ أحمد بن محمود الجندي "المتوفى سنة 700" عقود الجواهر في علم التصريف.

28- ولحسام الدين حسين بن علي "المتوفى سنة 710" النجاح في التصريف.

29- محمد بن يوسف الإمام أثير الدين أبو حيان "المتوفى سنة 745" صنف المبدع من الممتع، ونهاية الإعراب في التصريف، والإعراب1 لم يكمله.

30- ولابن هشام "المتوفى سنة 761" كفاية التعريف في علم التصريف.

ثم تتابعت المؤلفات بعد ذلك في الصرف، فألف:

31- أحمد بن علي بن مسعود كتابه "المراح في التصريف"، ويقول السيوطي في بغية الوعاة: لم أقف له على ترجمة 151.

ولعبد الجليل بن فيروز الغزنوي لباب التصريف.

--------------------------------------------

1 نحوي عصره ولغويه ومفسره، ومحدثه ومقرئه ومؤرخه وأديبه، ولد بالأندلس سنة 654، ورحل إلى مصر.
এবং প্রসিদ্ধ ‘তাসরিফ আল-ইজ্জি’ গ্রন্থের রচয়িতা বাগদাদে অবস্থান করতেন "মৃত্যু ৬৫৪ হিজরী", এবং সা'দ আল-দিন আত-তাফতাজানি ও অন্যান্যরা এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করেছেন।

২৭- শায়খ আহমদ বিন মাহমুদ আল-জুন্দি "মৃত্যু ৭০০ হিজরী" ইলমুত তাসরিফের ওপর ‘উকুদুল জাওয়াহির’ গ্রন্থটি রচনা করেছেন।

২৮- হুসামুদ্দিন হুসাইন বিন আলি "মৃত্যু ৭১০ হিজরী" ‘আন-নাজাহ ফিত তাসরিফ’ গ্রন্থটি রচনা করেছেন।

২৯- মুহাম্মাদ বিন ইউসুফ ইমাম আসিরুদ্দিন আবু হাইয়ান "মৃত্যু ৭৪৫ হিজরী" ‘আল-মুবদি মিনাল মুমতি’, ‘নিহায়াতুল ই'রাব ফিত তাসরিফ’ এবং ‘আল-ই'রাব’১ রচনা করেন, তবে শেষোক্তটি তিনি পূর্ণ করতে পারেননি।

৩০- ইবন হিশাম "মৃত্যু ৭৬১ হিজরী" ইলমুত তাসরিফের ওপর ‘কিফায়াতুত তারিফ’ গ্রন্থটি রচনা করেছেন।

অতঃপর সরফ শাস্ত্রে ধারাবাহিকভাবে বহু গ্রন্থ রচিত হয়, এর মধ্যে রয়েছে:<

৩১- আহমদ বিন আলি বিন মাসউদ তার গ্রন্থ ‘আল-মারা ফিত তাসরিফ’ রচনা করেন। সুয়ূতি ‘বুগইয়াতুল উয়াত’ গ্রন্থে বলেন: আমি তার কোনো জীবনী (ترجمة) খুঁজে পাইনি ১৫১।

এবং আব্দুল জলিল বিন ফিরোজ আল-গজনভির রয়েছে ‘লুবাবুত তাসরিফ’।

--------------------------------------------

১ তিনি ছিলেন তার যুগের শ্রেষ্ঠ ব্যাকরণবিদ, ভাষাবিদ, মুফাসসির, হাদিস বিশারদ (محدث), ক্বারী, ঐতিহাসিক ও সাহিত্যিক। তিনি ৬৫৪ হিজরীতে আন্দালুসে জন্মগ্রহণ করেন এবং মিশরে সফর করেন।