(খণ্ড: ১)
বাইনাল আকীদাতি ওয়াল কিয়াদাহ
(পৃষ্ঠা: -)
بين العقيدة والقيادة (محمود شيت خطاب)
القسم: كتب عامة
الكتاب: بين العقيدة والقيادة
المؤلف: اللواء الرّكن محمود شيت خطابْ
الناشر: دار القلم - دمشق، الدار الشامية - بيروت
الطبعة: الأولى، 1419 هـ - 1998 م
عدد الصفحات: 608
أعده للشاملة: مهاجي جمال
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 12 محرم 1433
আকিদাহ ও নেতৃত্বের মাঝে (মাহমুদ শিত খাত্তাব)
বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ
বই: আকিদাহ ও নেতৃত্বের মাঝে
লেখক: মেজর জেনারেল মাহমুদ শিত খাত্তাব
প্রকাশক: দারুল কলম - দামেস্ক, আদ-দারুশ শামিয়্যাহ - বৈরুত
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৯ হিজরি - ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬০৮
শামিলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: মাহাজি জামাল
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির সাথে সংগতিপূর্ণ]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ১২ মুহাররম ১৪৩৩
(খণ্ড: ১)
বাইনাল আকীদাতি ওয়াল কিয়াদাহ
(পৃষ্ঠা: ১)
بَيْنَ العَقِيدَة والقِيَادَة تَأليفاللواء الرّكنمحمود شيت خطابْ دار القلمدمشق الدار الشاميةبيروت
আকিদাহ ও নেতৃত্বের মাঝে রচনামেজর জেনারেলমাহমুদ শীত খাত্তাব দারুল কলমদামেস্ক আদ-দারুশ শামিয়্যাহবৈরুত
(খণ্ড: ১)
বাইনাল আকীদাতি ওয়াল কিয়াদাহ
(পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১)
বাইনাল আকীদাতি ওয়াল কিয়াদাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
الطّبعَة الأولى1419 هـ - 1998 م
প্রথম সংস্করণ১৪১৯ হিজরি - ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
বাইনাল আকীদাতি ওয়াল কিয়াদাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
الإهْدَاءإلى القائد:الذي يرفع راية الإسلام فوق المسجد الأقصى.ويستعيد الأرض المقدسة للعرب، من إسرائيل. محمود شيت خطابْ
উৎসর্গসেই নেতার প্রতি:যিনি মসজিদুল আকসার ওপর ইসলামের পতাকা উত্তোলন করবেন।এবং ইসরায়েলের কাছ থেকে আরবদের জন্য পবিত্র ভূমি পুনরুদ্ধার করবেন। মাহমুদ শিত খাত্তাব
(খণ্ড: ১)
বাইনাল আকীদাতি ওয়াল কিয়াদাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
بسم الله الرحمن الرحيم {وَلَيَنصُرَنَّ اللََّهُ مَن يَنصُرُهُ إِنَّ اللََّهَ لَقَوِيٌّ عَزِيزٌ (40) الَّذِينَ إِنمَّكَّنَّاهُمْ فِي الْأَرْضِ أَقَامُوا الصَّلَاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ وَأَمَرُوا بِالْمَعْرُوفِ وَنَهَوْاعَنِ الْمُنكَرِ وَلِلَّهِ عَاقِبَةُ الْأُمُورِ (41)}[الحج 22: 40 - 41]
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। {আর আল্লাহ অবশ্যই তাকে সাহায্য করবেন যে তাঁকে সাহায্য করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরম শক্তিমান, মহাপরাক্রমশালী। (৪০) তারা এমন লোক যাদেরকে আমি যদিজমিনে কর্তৃত্ব দান করি, তবে তারা সালাত কায়েম করবে, জাকাত প্রদান করবে এবং সৎকাজের আদেশ দিবে ওঅসৎকাজ হতে নিষেধ করবে। আর সকল কাজের পরিণাম আল্লাহরই নিয়ন্ত্রণে। (৪১)}[আল-হাজ্জ ২২: ৪০ - ৪১]
(খণ্ড: ১)
বাইনাল আকীদাতি ওয়াল কিয়াদাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
هذا الكتابهذا الكتاب بين العقيدة والقيادة، يدل بلفظه على موضوعه، فالعنوان يدل على ما حواه الكتاب، وهو الصلة الوثيقة بين عقيدة القائد، وقيادته؛ وأن القيادة الرشيدة لا بدَّ أن تدفعها عقيدة مؤمنة وقلب لم يركس في المعاصي، ونفس لم تُدنَّس بالفسوق والانحراف، وإرادة حازمة قوية ضابطة غير خاضعة لهوى يهوِي بها؛ بل هي سيدة على النفس، حاكمة لها.والكتاب دعوة للقادة، إلى أن يؤمنوا بالله تعالى، ورسله الأكرمين، وأن يكون لهم إيمان بالله، يعقدون العزم على الاستمساك بأمر الله تعالى ونهيه، وأن يكون للقائد مَثَلٌ ديني عالٍ يسمُو إليه، ويتبعه جنده في إيمانه، كما يتبعون قيادته، وإنهم في هذه الحال يتبعونه رَغَباً لا رَهَباً، وتكون طاعتهم له نابعة من إيمان، ليكون لجهادهم معنى سام عالٍ، ولا يكون قسراً وكرهاً، لمجرَّد النظام العسكري الملزم.وأن القلوب المؤمنة هي التي تبتغي النصر، وتصل إليه؛ والله يؤيد بنصره من يشاء.فكل القادة الذين قادوا معارك الفتح كانوا من المؤمنين، كذلك الذين صدُّوا غارات المعتدين .. من هؤلاء القادة: أسد بن الفرات فاتح جزيرة صقلية، وصلاح الدين الأيوبي محرر القدس وقاهر الصليبيين، وقطز قاهر التتار، ومحمدٌ الفاتح فاتح القسطنطينية. ***
এই বইএই বইটি আকিদাহ ও নেতৃত্বের মধ্যে (সমন্বয়), এর শব্দাবলি দিয়েই এর বিষয়বস্তুকে নির্দেশ করে। শিরোনামটিই বইয়ের ভেতরকার বিষয়বস্তুর ইঙ্গিত দেয়, আর তা হলো নেতার আকিদাহ ও তার নেতৃত্বের মধ্যকার নিবিড় সম্পর্ক; এবং সঠিক নেতৃত্বের চালিকাশক্তি হতে হবে একজন বিশ্বাসী ব্যক্তির আকিদাহ এবং এমন এক হৃদয় যা পাপে নিমজ্জিত হয়নি, এমন এক আত্মা যা পাপাচার ও বিচ্যুতি দ্বারা কলুষিত হয়নি, এবং এমন এক দৃঢ়, শক্তিশালী ও সুশৃঙ্খল সংকল্প যা প্রবৃত্তির বশীভূত নয়; বরং এটি আত্মার ওপর নিয়ন্ত্রণকারী ও শাসনকর্তা স্বরূপ।এই বইটি নেতাদের প্রতি একটি আহ্বান যাতে তারা মহান আল্লাহ ও তাঁর সম্মানিত রাসুলগণের ওপর ঈমান আনেন এবং আল্লাহর প্রতি তাদের এমন বিশ্বাস থাকে যার ফলে তারা মহান আল্লাহর আদেশ ও নিষেধসমূহকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরার সংকল্প করেন। একজন নেতার যেন একটি উচ্চতর ধর্মীয় আদর্শ থাকে যার দিকে তিনি ধাবিত হন, এবং তার সৈন্যরা যেমন তার নেতৃত্ব অনুসরণ করে, তেমনি যেন তার ঈমানকেও অনুসরণ করে। এমতাবস্থায় তারা তার অনুসরণ করবে আগ্রহ থেকে, ভীতি থেকে নয়; এবং তাদের আনুগত্য উৎসারিত হবে ঈমান থেকে, যাতে তাদের জিহাদ এক মহৎ ও উচ্চতর অর্থ লাভ করে এবং তা কেবল বাধ্যতামূলক সামরিক শৃঙ্খলার কারণে জবরদস্তি বা অনিচ্ছাকৃত না হয়।আর মুমিন হৃদয়গুলোই বিজয় কামনা করে এবং তা অর্জন করে; আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তাঁর সাহায্য দ্বারা শক্তিশালী করেন।বিজয়ের লড়াইগুলোতে নেতৃত্বদানকারী সকল নেতাই ছিলেন মুমিন, ঠিক তেমনি যারা আক্রমণকারীদের প্রতিহত করেছিলেন তারাও ছিলেন মুমিন। এই নেতাদের মধ্যে রয়েছেন: সিসিলি দ্বীপ বিজয়ী আসাদ বিন আল-ফুরাত, কুদস মুক্তকারী ও ক্রুসেডারদের দমনকারী সালাহউদ্দীন আইয়ুবী, তাতারদের দমনকারী কুতুজ এবং কনস্টান্টিনোপল বিজয়ী মুহাম্মদ আল-ফাতিহ। ***
(খণ্ড: ১)
বাইনাল আকীদাতি ওয়াল কিয়াদাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
تقديمللأستَاذ الجَليل العَلاّمَة محمّد أبو زَهرَةبسم الله الرحمن الرحيم الحمد لله الذي خلق الإنسان من صلصال من حمأ مسنون، وخلق الجانَّ من مارجٍ من نار، وطرد إبليس من رحمته، فكانت العداوة بينه وبين آدم وبنيه، قال سبحانه: {اهْبِطَا مِنْهَا جَمِيعًا بَعْضُكُمْ لِبَعْضٍ عَدُوٌّ}، فكانت العداوة المستمرة بين الخير والشر؛ وجعل على أهل الخير أن يدفعوا الشر، ولا يستسلموا؛ وجعل الأرض يرثها عباد الله الصالحون: {وَلَوْلَا دَفْعُ اللَّهِ النَّاسَ بَعْضَهُمْ بِبَعْضٍ لَّفَسَدَتِ الأَرْضُ وَلَكِنَّ اللَّهَ ذُو فَضْلٍ عَلَى الْعَالَمِينَ}.والصلاة والسلام على محمد، الذي قاد جيش الخير، وحارب الشر، وعلّم بقيادته في الحرب الفاضلة التي تقطر فيها الدماء، ولا ينحل فيها رباط الفضيلة المقدس: ما يجب أن يكون عليه القائد؛ وحمل اللواء من بعده حواريوه الأمجاد، الذين حاربوا بالعقيدة أولاً وبالسيف ثانياً؛ والخُلق الكريم هو الذي ساد وحكم في الحرب والسلم على سواء، صلوات الله وسلامه عليهم أجمعين.
উপস্থাপনাশ্রদ্ধেয় শিক্ষক, মহাজ্ঞানী মুহাম্মদ আবু জাহরার পক্ষ থেকেপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি মানুষকে দুর্গন্ধযুক্ত কাদা থেকে তৈরি পোড়ামাটির মতো শুষ্ক মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং জিনকে সৃষ্টি করেছেন আগুনের শিখা থেকে। তিনি ইবলিসকে তাঁর রহমত থেকে বিতাড়িত করেছেন, ফলে তার এবং আদমের ও তাঁর সন্তানদের মধ্যে শত্রুতা তৈরি হলো। মহান আল্লাহ বলেন: "তোমরা সকলেই এখান থেকে নেমে যাও, তোমাদের একে অপর হবে অপরের শত্রু।" এভাবেই ভালো ও মন্দের মধ্যে নিরন্তর শত্রুতা চলতে থাকল; আর তিনি পুণ্যবানদের ওপর মন্দকে প্রতিহত করার দায়িত্ব অর্পণ করলেন এবং তারা যেন আত্মসমর্পণ না করে। তিনি পৃথিবীকে আল্লাহর নেককার বান্দাদের উত্তরাধিকারী বানালেন: "আর আল্লাহ যদি মানুষের একদলকে অন্য দল দ্বারা প্রতিহত না করতেন, তবে পৃথিবী বিপর্যস্ত হয়ে যেত; কিন্তু আল্লাহ বিশ্বজগতের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু।"দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর, যিনি কল্যাণের বাহিনীর নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং অকল্যাণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন। তিনি তাঁর নেতৃত্বের মাধ্যমে সেই মহৎ যুদ্ধে—যেখানে রক্ত ঝরে কিন্তু সচ্চরিত্রের পবিত্র বন্ধন ছিন্ন হয় না—শিখিয়েছেন একজন নেতার কেমন হওয়া উচিত। তাঁর পরে তাঁর মহিমান্বিত সহচরগণ ঝাণ্ডা বহন করেছেন, যারা প্রথমে আকিদা দিয়ে এবং পরে তলোয়ার দিয়ে লড়াই করেছেন। যুদ্ধ এবং শান্তি উভয় অবস্থাতেই মহান চরিত্রই আধিপত্য বিস্তার করেছিল ও শাসন করেছিল। তাঁদের সবার ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১)
বাইনাল আকীদাতি ওয়াল কিয়াদাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
1 - أما بعد، فقد أطلعني صديقي الكريم اللواء الركن محمود شيت خطاب على كتابه القيم "بين العقيدة والقيادة"، واستمعت إلى بعض قليل منه في مؤتمر مجمع البحوث الإسلامية.وإن الكتاب يكون صورة من كاتبه في تفكيره في المعقول، ومظهراً لذوقه وإدراكه في المنقول؛ ولا ينفصل الكتاب الذي يكون ثمرة لجهود كاتبه، عن صاحبه؛ كما لا ينفصل السبب عن المسبب واللازم عن الملزوم لأنه صورة منه، وصورة طور من أطوار نفسه.ولا يمكن أن يتبين الأثر إلا إذا تعرضنا بالبيان لمن أوجده.ولذا كان لا بد أن نتعرض بكلمة للكاتب، قبل أن نتصدى للمكتوب، كما لا نعرف النتائج من غير معرفة مقدماتها.2 - وإن صديقي الكريم اللواء الركن محمود شيت خطاب، القائد العظيم المدرك، والوزير المخلص - وقليل ما هم - سعدْتُ بمعرفته من نحو أربع سنين أو أقل، والمدة في الحالين لا تزيد؛ ولكني بمجرد أن التقيت به أحسست بأني أعرفه منذ سنين تعد بالعشرات، لا بالآحاد، وكأن الأرواح قد تعارفت قبل أن تتلاقى الأشباح، وكأن الصورة قد رأيتها، وما لقيتها؛ لأن الأرواح تتألف وتسبق الائتلاف، وتتقارب وتسبق الاقتراب؛ ولذلك سرعان ما تصادقنا عندما التقيت به، وكأن صداقتنا ترجع بالماضي إلى آماد، لا إلى وقت قريب.إذا اجتمعنا منفردَيْن أو في جمع، وتبادلنا الأفكار، أحسست بأني لا أنوي فكرة إلا سبقني إليها، وقد أُسارع إلى القول بما في خاطره، قبل أن يبديه؛ وكان ذلك لامتزاج نفوسنا، وصفاء ما في نفسه،
১ - অতঃপর, আমার সম্মানিত বন্ধু মেজর জেনারেল মাহমুদ শিত খাত্তাব আমাকে তাঁর মূল্যবান গ্রন্থ "আকিদা ও নেতৃত্বের মাঝে" দেখিয়েছেন এবং আমি ইসলামি গবেষণা পরিষদের এক সম্মেলনে এর কিয়দংশ শ্রবণ করেছি।নিশ্চয়ই কোনো গ্রন্থ তার লেখকের বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তাধারারই একটি প্রতিফলন এবং বর্ণিত বিষয়ের ক্ষেত্রে তাঁর রুচি ও উপলব্ধির বহিঃপ্রকাশ; যে গ্রন্থটি লেখকের প্রচেষ্টার ফসল, তা তার সত্তা থেকে বিচ্ছিন্ন হতে পারে না; যেমন কার্যকারণ তার উৎস থেকে এবং অনস্বীকার্য বিষয় তার অপরিহার্য সত্তা থেকে বিচ্ছিন্ন হয় না, কারণ এটি তাঁরই একটি প্রতিচ্ছবি এবং তাঁর আত্মিক বিকাশের একটি পর্যায়ের চিত্র।আর কোনো কাজের প্রভাব ততক্ষণ পর্যন্ত স্পষ্ট হয় না, যতক্ষণ না আমরা তার কারিগর সম্পর্কে আলোচনা করি।সেজন্যই লেখনী সম্পর্কে আলোকপাত করার পূর্বে লেখক সম্পর্কে কিছু বলা অপরিহার্য, ঠিক যেভাবে ভূমিকা জানা ব্যতীত ফলাফল সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা সম্ভব নয়।২ - আমার পরম শ্রদ্ধেয় বন্ধু মেজর জেনারেল মাহমুদ শিত খাত্তাব, যিনি একজন বিজ্ঞ মহান সেনাপতি এবং একজন একনিষ্ঠ মন্ত্রী — আর তাঁদের মতো মানুষ খুবই নগণ্য — প্রায় চার বছর বা তার কিছু কম সময় আগে তাঁর সাথে পরিচিত হওয়ার সৌভাগ্য আমার হয়েছিল, এবং উভয় ক্ষেত্রেই এই সময়কাল খুব দীর্ঘ নয়; কিন্তু তাঁর সাথে সাক্ষাতের মুহূর্তেই আমার মনে হয়েছিল যেন আমি তাঁকে বহু দশক ধরে চিনি, মাত্র কয়েক বছর ধরে নয়। যেন দেহগুলোর মিলনের পূর্বেই রুহগুলোর মধ্যে পরিচয় হয়ে গিয়েছিল, আর যেন আমি তাঁর অবয়ব আগেই দেখেছিলাম যদিও ইতিপূর্বে চাক্ষুষ দেখা হয়নি; কারণ আত্মাসমূহ পরস্পর সখ্যতা গড়ে তোলে এবং মিলনের পূর্বেই তাদের মধ্যে হৃদ্যতা ও নৈকট্য সৃষ্টি হয়। এই কারণেই তাঁর সাথে সাক্ষাতের সাথে সাথেই আমাদের মধ্যে গভীর বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে, যেন আমাদের এই মৈত্রী সুদূর অতীত থেকে বহমান, নিকট অতীতের কোনো বিষয় নয়।যখনই আমরা একান্তে অথবা কোনো সমাবেশে মিলিত হয়েছি এবং চিন্তাধারা বিনিময় করেছি, আমি অনুভব করেছি যে কোনো চিন্তার উদয় হওয়ামাত্রই তিনি তাতে আমার অগ্রগামী হয়েছেন, আবার কখনও তিনি মনের ভাব প্রকাশ করার পূর্বেই আমি তা ব্যক্ত করে ফেলেছি; আর এটি সম্ভব হয়েছে আমাদের আত্মার সম্মিলন এবং তাঁর অন্তরের স্বচ্ছতার কারণে।
(খণ্ড: ১)
বাইনাল আকীদাতি ওয়াল কিয়াদাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
وابتعاده عن الالتواء في القول أو الفكر أو الاتجاه، فهو يسير بفكره وقوله وعمله في خط مستقيم، كاستقامة قامته؛ والخط المستقيم يعرف ابتداؤه، كما يُعرَف وسطه وانتهاؤه.وكانت مجالس نتبادل فيها الحديث على نور من الله، وروحانية نفوس، واستقامة قلوب بيننا؛ فكنت أتذكر في هذه الصحبة قول النبي صلى الله عليه وسلم: "إن لله ناساً ما هم بأنبياء ولا شهداء، يغبطهم الأنبياء والشهداء لمكانهم من الله"، قيل: "ومن هم يا رسول الله"؟ قال: "قوم تحابُّوا بروح من الله على غير أرحام تربطهم، ولا أموال يتعاطونها؛ والله إنهم لنور، وإنهم لعلى نور؛ لا يخافون إذا خاف الناس، ولا يحزنون إذا حزن الناس"، ثم تلا قوله تعالى: {أَلا إِنَّ أَوْلِيَاء اللَّهِ لَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ}.تذكرت هذا الأثر النبوي إذ اكتمل بالعمل جمعنا، لكني ولست ممن يتسامى إلى هذه المكانة، وأحسب أن صاحبي يتسامى إليها، أو إني أرجو ذلك له.3 - وقد جمع الله تعالى لصديقنا اللواء خطاب من الصفات ما تسمو به واحدة منها عن سفساف الأمور، وتتجه به إلى معاليها.أولها: الإخلاص في القول والعمل؛ والإخلاص إذا كان في قلب أشرق، وقذف الله تعالى فيه بنور الحكمة، وكان تفكيره مستقيماً، ولسانه قويماً، وعمله حكيماً، فلا يكون التواء، ولا عوج.وثانيها: الإدراك الواسع، والعلم بما حوله، وتعرف الأمور من وجوهها، وإداركها من مصادرها؛ فقلمه نقي، وله فكر ألمعي.
এবং কথা, চিন্তা বা গতিপথের বক্রতা থেকে তাঁর দূরত্ব; তিনি তাঁর চিন্তা, কথা ও কর্মে সরল পথে চলেন, যেমন তাঁর দেহের ঋজুতা; আর সরল রেখার শুরু যেমন চেনা যায়, তেমনি তার মধ্যভাগ ও সমাপ্তিও জানা যায়।আমাদের মাঝে এমন কিছু মজলিস ছিল যেখানে আমরা আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত নূর, আত্মার আধ্যাত্মিকতা এবং অন্তরের সরলতার ভিত্তিতে কথা বিনিময় করতাম; এই সান্নিধ্যে থাকাকালে আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণী স্মরণ করতাম: "নিশ্চয়ই আল্লাহর এমন কিছু বান্দা আছেন যারা নবীও নন এবং শহীদও নন, কিন্তু আল্লাহর কাছে তাদের উচ্চ মর্যাদার কারণে নবী ও শহীদগণ তাদের দেখে ঈর্ষা করবেন।" জিজ্ঞাসা করা হলো: "হে আল্লাহর রাসূল, তারা কারা?" তিনি বললেন: "তারা এমন এক সম্প্রদায় যারা কোনো আত্মীয়তার বন্ধন বা কোনো ধন-সম্পদ লেনদেনের উদ্দেশ্য ছাড়াই আল্লাহর রুহ (ভালোবাসা) এর মাধ্যমে একে অপরকে ভালোবাসে; আল্লাহর কসম, তারা অবশ্যই জ্যোতির্ময় এবং তারা জ্যোতির ওপরেই রয়েছে; মানুষ যখন ভীত হয় তারা তখন ভীত হয় না এবং মানুষ যখন দুঃখিত হয় তারা তখন দুঃখিত হয় না।" এরপর তিনি মহান আল্লাহর এই বাণী পাঠ করলেন: {জেনে রেখো, নিশ্চয়ই আল্লাহর বন্ধুদের কোনো ভয় নেই এবং তারা দুঃখিতও হবে না}।আমি এই নববী বর্ণনাটি স্মরণ করলাম যখন কর্মতৎপরতার মাধ্যমে আমাদের এই জমায়েত পূর্ণতা পেল; তবে আমি সেই স্তরের কেউ নই যারা এমন উচ্চ মর্যাদায় আরোহণ করেন, কিন্তু আমি মনে করি আমার সঙ্গী এই স্তরে উন্নীত হচ্ছেন অথবা আমি তাঁর জন্য এটি আকাঙ্ক্ষা করি।৩ - আল্লাহ তাআলা আমাদের বন্ধু মেজর জেনারেল খাত্তাবের মাঝে এমন কিছু গুণ একত্রিত করেছেন যার যে কোনো একটিই মানুষকে তুচ্ছ বিষয় থেকে ঊর্ধ্বে নিয়ে যায় এবং উচ্চতর লক্ষ্যের দিকে পরিচালিত করে।প্রথমটি হলো: কথায় ও কাজে ইখলাস (নিষ্ঠা); আর ইখলাস যখন কোনো অন্তরে স্থান পায় তখন তা আলোকিত হয় এবং আল্লাহ তাআলা তাতে প্রজ্ঞার নূর ঢেলে দেন। তখন তাঁর চিন্তা হয় সঠিক, তাঁর ভাষা হয় ঋজু এবং তাঁর কাজ হয় প্রজ্ঞাপূর্ণ; সেখানে কোনো বক্রতা বা বিচ্যুতি থাকে না।দ্বিতীয়টি হলো: ব্যাপক বোধশক্তি, পারিপার্শ্বিক বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান, বিষয়সমূহকে সেগুলোর যথাযথ রূপ অনুযায়ী চেনা এবং সেগুলোর মূল উৎস থেকে তা অনুধাবন করা; তাঁর কলম স্বচ্ছ এবং তাঁর চিন্তাশক্তি অত্যন্ত প্রখর।
(খণ্ড: ১)
বাইনাল আকীদাতি ওয়াল কিয়াদাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
قائد يعرف خصمه، ويدرك مراميه، حتى أنه ليتوقع الحرب أو الهجوم من عدوه في ميقاتها قبل أن يعلنها، وقبل أن يفكر فيها من سيكونون حطبها؛ لأنه يعلم الخصم، ومآربه، وحاله، ويتعرف من ذلك مآله .. علم بهجوم اليهود سنة 1967 قبل أن يعلنوه، وقبل أن يقدره الذين كانوا في زعمهم يدبرون الأمور، ويلبسون لكلٍّ لبوسها.وثالثها: إيمان صادق بالله، ورسوله النبي الأمين؛ ولذلك يتتبع سيرة السالفين، ويجعل منهم نوراً يهتدي به، ويعلم منه أعلام الهداية.ويكمل هذه الصفات التي هي منه بمنزلة السجايا والملكات؛ همة عالية، وتجربة ماضية، وخبرة بالعلم والحروب، وخصوصاً ما كان بين العرب واليهود.وهو عالم في العربية، وملم إلماماً عظيماً بشؤون الدين، وقارئ يتقصَّى الحقائق فيما يقرأ؛ يتعرف ما تسطره الأقلام، وما وراء ما تسطره؛ ينفر من تقليد الفرنجة ويُؤْثِر ما في القرآن والسنة وما كان عليه السلف الصالح؛ وهو ممن يُؤْثِرون الاتباع، ولا يرضَوْن عن الابتداع؛ سلفي في إيمانه وعمله، قوي في تفكيره، يهضم ما جدّ في العصر، بما في قلبه من إيمان راسخ، واتباع مستقيم .. وله مع كل هذا قلم بارع مصور، وكتابته من قبيل السهل الممتنع؛ وفقه الله تعالى وهداه.4 - هذه إشارة تعريف بالكاتب؛ فلننظر إلى الكتاب، ونتجه إليه بدراسة موجزة موضوعية، وليست شخصية؛ فننظر إلى المكتوب من غير أن نكون متأثرين بشخصية الكاتب إلا بمقدار أن الأثر من نوع
একজন নেতা যিনি তাঁর প্রতিপক্ষকে চেনেন এবং তাঁর উদ্দেশ্যসমূহ উপলব্ধি করেন; এমনকি তিনি তাঁর শত্রুর পক্ষ থেকে যুদ্ধ বা আক্রমণের ব্যাপারে সঠিক সময়ে তা ঘোষণা করার পূর্বেই এবং যারা সেই যুদ্ধের ইন্ধন হবে তারা তা নিয়ে চিন্তা করার পূর্বেই অনুমান করতে পারেন। কারণ তিনি প্রতিপক্ষ, তার লক্ষ্য ও অবস্থা সম্পর্কে জানেন এবং তা থেকে তার পরিণতিও অনুধাবন করতে পারেন। তিনি ১৯৬৭ সালে ইহুদিদের আক্রমণের ব্যাপারে তারা ঘোষণা করার পূর্বেই অবগত ছিলেন, এবং যারা নিজেদের ধারণা মতে বিষয়সমূহ পরিচালনা করছিল এবং সকল পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকার দাবি করছিল, তাদের অনুমানের পূর্বেই তিনি তা জানতেন।তৃতীয়ত: আল্লাহ এবং তাঁর রাসুল, আমানতদার নবীর প্রতি সত্যনিষ্ঠ ঈমান; এই কারণে তিনি পূর্বসূরিদের জীবনী অনুসরণ করেন এবং তাঁদেরকে এমন এক আলো হিসেবে গ্রহণ করেন যার মাধ্যমে তিনি পথনির্দেশ লাভ করেন এবং তাঁদের থেকে হিদায়াতের নিশানাসমূহ শিক্ষা করেন।এই গুণাবলি—যা তাঁর মধ্যে মজ্জাগত স্বভাব ও সহজাত প্রতিভার মতো—তাকে পূর্ণতা দান করেছে: উচ্চ সংকল্প, অতীত অভিজ্ঞতা এবং জ্ঞান ও যুদ্ধবিদ্যা, বিশেষত আরব ও ইহুদিদের মধ্যকার বিষয়সমূহ সম্পর্কে গভীর অভিজ্ঞতা।তিনি আরবি ভাষায় একজন পণ্ডিত এবং দ্বীনি বিষয়ে অত্যন্ত পারদর্শী। তিনি এমন একজন পাঠক যিনি পাঠ্য বিষয়ের তথ্যানুসন্ধান করেন; কলম যা লিখে এবং লেখার আড়ালে যা নিহিত থাকে তা তিনি উপলব্ধি করেন। তিনি পশ্চিমাদের অনুকরণ থেকে বিমুখ থাকেন এবং কুরআন, সুন্নাহ ও সালাফে সালেহীন যে আদর্শের ওপর ছিলেন তাকেই প্রাধান্য দেন। তিনি তাঁদের অন্তর্ভুক্ত যাঁরা অনুসরণকে প্রাধান্য দেন এবং দ্বীনি বিষয়ে নব উদ্ভাবনকে পছন্দ করেন না। তিনি তাঁর বিশ্বাস ও কর্মে সালাফি, চিন্তায় শক্তিশালী; আপন হৃদয়ে প্রোথিত সুদৃঢ় ঈমান এবং সঠিক অনুসরণের মাধ্যমে তিনি এ যুগের নতুন বিষয়গুলোকে আত্মস্থ করেন। এসবের পাশাপাশি তাঁর রয়েছে এক চমৎকার ও চিত্ররূপময় লেখনী; তাঁর রচনাশৈলী সহজ-সাবলীল অথচ অনুকরণাতীত। মহান আল্লাহ তাঁকে তাওফিক দান করুন ও হিদায়াত দিন।৪ - এটি লেখকের একটি পরিচয়মূলক সংকেত; এখন আমরা কিতাবটির দিকে দৃষ্টিপাত করি এবং একটি সংক্ষিপ্ত ও বস্তুনিষ্ঠ অধ্যয়নের মাধ্যমে এর দিকে অগ্রসর হই, যা ব্যক্তিগত নয়। সুতরাং আমরা লেখকের ব্যক্তিত্ব দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে বরং লিখিত বিষয়ের দিকে এমনভাবে তাকাব যেন সেই প্রভাবটি কেবল সেই নির্দিষ্ট ধরণের হয়...
(খণ্ড: ১)
বাইনাল আকীদাতি ওয়াল কিয়াদাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
المؤثر، وأنه جاء نموذجاً من صورته وفكره.والكتاب "بين العقيدة والقيادة" يدل بلفظه على موضوعه، فالعنوان يدل على ما حواه الكتاب؛ وهو الصلة الوثيقة بين عقيدة القائد، وقيادته، وأن القيادة الرشيدة لا بد أن تدفعها عقيدة مؤمنة وقلب لم يركس في المعاصي، ونفس لم تُدنَّس بالفسوق والانحراف، وإرادة حازمة قوية ضابطة غير خاضعة لهوى يهوي بها؛ بل هي سيدة على النفس، حاكمة لها. والكتاب دعوة إيجابية، ومرد حاسم على سلبية سادت في الجند العربي.أما الإيجابية في الكتاب، فهو دعوة للقادة العرب، إلى أن يؤمنوا بالله تعالى، ورسله الأكرمين؛ وأن يكون لهم إيمان بالله، يعقدون العزم على الاستمساك بأمر الله تعالى ونهيه؛ وأن يكون للقائد مثل ديني عالٍ يسمو إليه، ويتبعه جنده في إيمانه كما يتبعون قيادته؛ وإنهم في هذه الحال يتبعونه رَغَباً لا رَهَباً، وتكون طاعتهم له من إيمان؛ ليكون لجهادهم معنى سام عالٍ، ولا يكون قسراً وكرهاً، لمجرد النظام العسكري الملزم.أما الرد على السلبية السائدة في الجيوش العربية، فمن المقرر عند بعض القادة، أنه لا صلة بين العقيدة والنصر؛ ولذلك لم يكونوا مستشعرين بشعار الإيمان، وربما كان منهم من يجاهد بالفسوق والعصيان، ولا يرعى مركزاً تقتضيه قيادته من أخلاق فاضلة، وقيم إنسانية عالية؛ بل يحسبون أن النصر للآلة الفاتكة، ومن يحرك الآلة، ولا يحسبون أن القلوب المؤمنة هي التي تبتغي النصر، وتصل إليه، والله يؤيد بنصره من يشاء.
প্রভাবশালী, এবং এটি তার ভাবমূর্তি ও চিন্তাধারার একটি আদর্শ রূপ হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।"বাইনাল আকিদাহ ওয়াল কিয়াদাহ" (আকিদা ও নেতৃত্বের মাঝে) বইটি তার নামের মাধ্যমেই তার আলোচ্য বিষয়কে নির্দেশ করে। সুতরাং শিরোনামটি বইয়ের অন্তর্নিহিত বিষয়বস্তুর দিকে ইঙ্গিত দেয়; আর তা হলো নেতার আকিদা এবং তার নেতৃত্বের মধ্যকার নিবিড় সম্পর্ক। সঠিক নেতৃত্ব অবশ্যই একটি বিশ্বাসী আকিদা এবং এমন এক হৃদয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হতে হবে যা পাপে নিমজ্জিত হয়নি, এবং এমন এক নফস বা সত্তার মাধ্যমে যা পাপাচার ও বিচ্যুতি দ্বারা কলুষিত হয়নি। পাশাপাশি প্রয়োজন এক দৃঢ়, শক্তিশালী ও নিয়ন্ত্রিত ইচ্ছা যা এমন কোনো কুপ্রবৃত্তির বশীভূত নয় যা তাকে অধঃপতিত করে; বরং তা হবে নফসের ওপর জয়ী ও তার শাসনকর্তা। বইটি একটি ইতিবাচক আহ্বান এবং আরব সৈন্যদের মাঝে বিরাজমান নেতিবাচকতার বিরুদ্ধে এক চূড়ান্ত প্রতিরোধ।বইটির ইতিবাচক দিক হলো, এটি আরব নেতাদের প্রতি মহান আল্লাহ তাআলা ও তাঁর সম্মানিত রাসুলগণের ওপর ঈমান আনার এক আহ্বান; এবং আল্লাহর প্রতি তাদের এমন ঈমান থাকা উচিত যার মাধ্যমে তারা মহান আল্লাহর আদেশ ও নিষেধকে আঁকড়ে ধরার দৃঢ় সংকল্প করবে। নেতার জন্য একটি উচ্চতর ধর্মীয় আদর্শ থাকা আবশ্যক যা তাকে মহিমান্বিত করবে, এবং তার সৈন্যরা যেভাবে তার নেতৃত্ব অনুসরণ করে, ঠিক সেভাবেই তার ঈমানকেও অনুসরণ করবে। এই অবস্থায় তারা ভয়ের কারণে নয়, বরং স্বতঃস্ফূর্তভাবে তার অনুসরণ করবে এবং তার প্রতি তাদের আনুগত্য হবে ঈমান থেকে উৎসারিত; যাতে তাদের জিহাদের একটি মহৎ ও উচ্চতর অর্থ থাকে এবং তা যেন কেবল বাধ্যতামূলক সামরিক শৃঙ্খলার কারণে জবরদস্তি বা অনিচ্ছাকৃত না হয়।আর আরব সেনাবাহিনীতে বিরাজমান নেতিবাচকতার জবাব হলো এই যে, কোনো কোনো নেতার নিকট এটি প্রতিষ্ঠিত ধারণা যে, আকিদা ও বিজয়ের মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই। এই কারণেই তারা ঈমানের স্লোগান অনুভব করত না। এমনকি তাদের মধ্যে কেউ কেউ পাপাচার ও অবাধ্যতায় লিপ্ত হয়েই জিহাদ করত এবং তাদের নেতৃত্বের দাবিকৃত উন্নত চরিত্র ও উচ্চতর মানবিক মূল্যবোধের মর্যাদা রক্ষা করত না। বরং তারা মনে করে যে, বিজয় কেবল মারণাস্ত্র এবং যারা এই যন্ত্র পরিচালনা করে তাদের জন্য। তারা এটা মনে করে না যে, মুমিন হৃদয়ই বিজয়ের আকাঙ্ক্ষা করে এবং তাতে উপনীত হয়। আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তাঁর সাহায্যের মাধ্যমে শক্তিশালী করেন।
(খণ্ড: ১)
বাইনাল আকীদাতি ওয়াল কিয়াদাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
ولقد رأينا رجال حرب في أيامنا يدخلون الحرب، ولا يذكرون الله في كلامهم، ولا طلب النصر من الله؛ والله يؤيد بنصره من يشاء، وهو العزيز الحكيم.ولقد منُوا بالهزيمة النكراء، ولم يرعووا عن غيّهم، واستمروا على عصيانهم؛ والشعوب تكتوي بنارهم.5 - وإنه في سبيل الدعوة الإيجابية إلى الإيمان، والرد على الدعوة السلبية التي تبرر عصيان القادة وفسوقهم عن أمر ربهم - استعان المؤلف بآراء قواد البلاد الأوروبية المشهورين الذين نادَوْا بضرورة إيمان القائد بعقيدة، يتبعه على إيمانه بها جنده طوعاً واختياراً، لا قسراً وإجباراً.ولقد أكثر من ذكر كلام مونتكومري كبير قواد الحرب العالمية الثانية، وهو الذي كان على مقربة من أرض العرب؛ الذي انتصر في الصحراء الغربية بمصر.فقد كان ذلك القائد العظيم مؤمناً بدينه المسيحي أشد الإيمان، مستمسكاً بعقيدته أشد الاستمساك، ويرى أن سر النصر في هذه القيادة المؤمنة.ولقد قيل، ويقال: كيف يدعي مونتكومري أو غيره أنه مؤمن، وهو يعتقد التثليث، وهذا اعتقاد باطل؛ لقد قيل ذلك، وهذا خطأ في الفهم.إن الأمر في الاعتقاد ليس في كونه صحيحاً، إنما هو في قوة الإذعان بعد الجزم والتصديق اليقيني. فمن يعتقد بدين اعتقاداً جازماً
আমরা আমাদের যুগে এমন কিছু সমরকুশলীকে দেখেছি যারা যুদ্ধে লিপ্ত হয়, অথচ তাদের কথাবার্তায় আল্লাহর কথা উল্লেখ করে না এবং আল্লাহর কাছে বিজয় প্রার্থনাও করে না; অথচ আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তাঁর সাহায্যের মাধ্যমে শক্তিশালী করেন এবং তিনি মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।তারা শোচনীয় পরাজয়ের সম্মুখীন হয়েছে, তবুও তারা তাদের পথভ্রষ্টতা থেকে নিবৃত্ত হয়নি এবং তাদের অবাধ্যতায় অটল রয়েছে; আর সাধারণ জনগণ তাদের অনলে দগ্ধ হচ্ছে।৫ - আর ঈমানের দিকে ইতিবাচক দাওয়াতের পথে এবং সেই নেতিবাচক দাওয়াতের খণ্ডনকল্পে—যা নেতৃবৃন্দের অবাধ্যতা ও তাদের প্রতিপালকের আদেশের বিরুদ্ধাচরণকে বৈধতা দেয়—লেখক ইউরোপীয় দেশসমূহের সেই সকল বিখ্যাত সেনাপতিদের মতামতের সহায়তা নিয়েছেন, যারা নেতার একটি আকিদার প্রতি মুমিন বা বিশ্বাসী হওয়ার আবশ্যকতা তুলে ধরেছেন, যাতে তাঁর সৈন্যরা সেই বিশ্বাসের কারণে স্বেচ্ছায় ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাঁকে অনুসরণ করে, কোনো বলপ্রয়োগ বা জবরদস্তির মাধ্যমে নয়।তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অন্যতম প্রধান সেনাপতি মন্টগোমারির বক্তব্য প্রচুর পরিমাণে উদ্ধৃত করেছেন, যিনি আরব ভূমির সন্নিকটেই অবস্থান করছিলেন এবং মিশরের পশ্চিম মরুভূমিতে জয়লাভ করেছিলেন।সেই মহান সেনাপতি তাঁর খ্রিস্টধর্মের প্রতি অত্যন্ত সুদৃঢ় মুমিন ছিলেন এবং নিজ আকিদাকে কঠোরভাবে আঁকড়ে ধরতেন; তিনি মনে করতেন যে বিজয়ের রহস্য এই মুমিন নেতৃত্বের মধ্যেই নিহিত।বলা হয়েছে এবং বলা হয়ে থাকে যে: মন্টগোমারি বা অন্য কেউ কীভাবে মুমিন হওয়ার দাবি করতে পারে অথচ সে ত্রিত্ববাদে বিশ্বাসী, যা একটি বাতিল আকিদা; এ কথা বলা হয়েছে বটে, তবে এটি অনুধাবনের ক্ষেত্রে একটি ভুল।বিশ্বাসের বিষয়টি তা সঠিক হওয়ার ওপর নির্ভর করে না, বরং তা নির্ভর করে দৃঢ় নিশ্চয়তা ও সুনিশ্চিত সত্যায়নের পর আনুগত্যের শক্তির ওপর। সুতরাং যে ব্যক্তি কোনো ধর্মের প্রতি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস স্থাপন করে...
(খণ্ড: ১)
বাইনাল আকীদাতি ওয়াল কিয়াদাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
مستيقناً مذعناً لاعتقاده، فهو حامل عقيدة، وإن كانت مخطئة؛ نعم إنه يجب عليه أن يطلب الحق ويهتدي بهديه، وإنه مؤاخذ فيما إذا قصر في طلب الحق، أو وصل إليه ولم يؤمن به جهلاً أو عصبية، أو قال: {بَلْ نَتَّبِعُ مَا أَلْفَيْنَا عَلَيْهِ آبَاءنَا أَوَلَوْ كَانَ آبَاؤُهُمْ لَا يَعْقِلُونَ شَيْئاً وَلَا يَهْتَدُونَ}.ولكنه ما دام معتقداً عقيدة تدفعه وتبعده عن الشهوات، فعنده عقيدة، وهو خير ممن لا اعتقاد له، ولقد قرر الفقهاء أن من له دين خير ممن لا دين له.ولقد التقى الإمام محمد عبده في أثناء رحلاته بعابدة زاهدة، فاسترعاها سمت الإمام رضي الله عنه ونور إيمانه، فقالت: "ما كنت أظن في غير الكاثوليكية تديناً".فهذه وأشباهها لها عقيدة، وإن كانت غير صحيحة.وأبو بكر الصديق - رضي الله تعالى عنه - قال لقائده الذي أرسله إلى الشام، قال له: "إنك ستجد قوماً زعموا أنهم حبسوا أنفسهم في الصوامع، فدعهم وما زعموا".وإن هذا يدل على أن الاعتقاد له أثر في توجيه النفس سواء أكان صحيحاً سليماً، كالعقيدة الإسلامية الطاهرة المستقيمة، أم كانت غيرها؛ فإنها باعثة على العمل مانعة للشهوات، إن كان فيها زهاوة؛ فلا ضير على الكاتب أن يستشهد على قوة العقيدة وأثرها في القيادة بكلام القواد الغربيين وعلى رأسهم مونتكومري، لأنه انتصر في أقرب معركة إلينا، ولأنه لا يزال حياً يُرجَع إليه فيما يقول.وقد علل الكاتب الكبير إيثاره الابتداء بالقواد الغربيين،
নিজের বিশ্বাসের প্রতি সুনিশ্চিত ও অনুগত হয়ে থাকলে তিনি একজন আকিদা পোষণকারী, যদিও সেই আকিদা ভুল হয়ে থাকে। হ্যাঁ, তার ওপর সত্য অনুসন্ধান করা এবং তার মাধ্যমে হেদায়েত প্রাপ্ত হওয়া ওয়াজিব; এবং সত্য অনুসন্ধানে অবহেলা করলে, অথবা সত্য তার কাছে পৌঁছানোর পর অজ্ঞতা বা গোঁড়ামির কারণে তাতে বিশ্বাস না করলে, কিংবা সে যদি বলে: "বরং আমরা তাই অনুসরণ করব যার ওপর আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদের পেয়েছি। যদিও তাদের পিতৃপুরুষরা কিছুই বুঝত না এবং তারা সৎপথপ্রাপ্তও ছিল না"—তবে এ জন্য তাকে জবাবদিহি করতে হবে।কিন্তু যতক্ষণ পর্যন্ত সে এমন আকিদা পোষণ করে যা তাকে তাড়িত করে এবং প্রবৃত্তি থেকে দূরে রাখে, ততক্ষণ সে আকিদা সম্পন্ন ব্যক্তি; আর সে আকিদাহীন ব্যক্তির চেয়ে উত্তম। ফকিহগণ সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে, যার ধর্ম আছে সে ধর্মহীনের চেয়ে উত্তম।ইমাম মুহাম্মাদ আবদুহ তার সফরের সময় একজন নিবেদিতপ্রাণ নারী ইবাদতকারীর সাক্ষাৎ পেয়েছিলেন। ইমামের (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) গাম্ভীর্য এবং তাঁর ঈমানের নূর তাকে আকৃষ্ট করেছিল। তখন তিনি বলেছিলেন: "আমি ভাবিনি যে ক্যাথলিক মতবাদ ছাড়া অন্য কোথাও ধার্মিকতা থাকতে পারে।"সুতরাং এই নারী এবং তাঁর অনুরূপ যারা আছে তাদের আকিদা রয়েছে, যদিও তা সঠিক নয়।আর আবু বকর সিদ্দিক (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) সিরিয়ায় প্রেরিত তাঁর সেনাপতিকে বলেছিলেন: "তুমি এমন একদল লোককে পাবে যারা দাবি করে যে তারা মঠে নিজেদের আবদ্ধ করে রেখেছে, সুতরাং তারা যা দাবি করে সেই অবস্থায় তাদের ছেড়ে দাও।"এটি একথারই প্রমাণ দেয় যে, আকিদা বা বিশ্বাসের প্রভাব রয়েছে আত্মাকে পরিচালিত করার ক্ষেত্রে; তা সঠিক ও নির্ভুল হোক—যেমন পবিত্র ও ঋজু ইসলামি আকিদা—কিংবা অন্য কিছু হোক। কারণ আকিদাতে যদি তেজস্বিতা থাকে তবে তা কর্মে উদ্দীপনা যোগায় এবং প্রবৃত্তিকে দমন করে। সুতরাং আকিদার শক্তি এবং নেতৃত্বের ওপর এর প্রভাব সম্পর্কে পশ্চিমা সেনাপতিদের বক্তব্য থেকে লেখকের উদাহরণ পেশ করাতে কোনো দোষ নেই, যাদের শীর্ষে রয়েছেন মন্টগোমারি; কারণ তিনি আমাদের নিকটবর্তী সময়ের যুদ্ধে বিজয়ী হয়েছেন এবং তিনি এখনও জীবিত আছেন যার ফলে তাঁর বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব।বিখ্যাত লেখক পশ্চিমা সেনাপতিদের দিয়ে শুরু করার ক্ষেত্রে নিজের অগ্রাধিকারের কারণ ব্যাখ্যা করেছেন,
(খণ্ড: ১)
বাইনাল আকীদাতি ওয়াল কিয়াদাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وخصوصاً مونتكومري؛ بأن كثيرين من الشرقيين أو البارزين منهم يفصلون العقيدة عن القيادة، والأخلاق الفاضلة عن الجندية المجاهدة، ويحسبون أنهما لا يتلازمان؛ وأن القائد المنتصر قد يكون غير متدين، وسكيراً، يعربد، ولا يؤمن، ولكنه يجيد فنون الحرب، وإلى سير قواد الغرب يرددون ذلك. وإذا كان بعض القواد انتصر في بعض المواقع مع أنه منحرف في دينه وخلقه، فإن ذلك لا يعد نظاماً مطرداً؛ بل هو نتيجة خطأ العدو، وليس ثمرة قيادة حكيم.وضرب الكاتب الكبير بسيف الفضيلة، تلك الترهات الباطلة.وفوق ذلك فإن ما ذكره من سيرة القواد العظام، وخصوصاً مونتكومري وديجول، من أخبار، وما نقله من أقوال لهما ولغيرهما:يدل على أن الأخلاق الفاضلة للقائد والجند -بل للشعب نفسه- هي أساس النجاح في الحروب؛ فلا نجاح لقائد لا أخلاق له.6 - وإن الاستمساك بالفضائل في القائد قد وضحه مونتكومري في عبارات نيّرة واضحة يدركها المؤمنون مثال كاتبنا الكبير اللواء الركن خطاب.وخلاصة ما يدعو إليه مونتكومري كما يتبيّن من كتابه:أولاً- أن العقيدة في القائد المؤمن بعقيدته هي سر نجاحه، وهي التي تدفعه إلى الجهاد؛ لأن المحارب يتقدم بنفسه لحماية مجتمعه، فلا بد أن تكون له قوة تحمله على تقديم نفسه في سبيل مثل عالية تجعله يقدم نفسه راضياً مطمئناً.وثانياً- بأن العقيدة تدفع إلى العدل، ولا يدفع الجندي إلى
বিশেষ করে মন্টগোমারি; অনেক প্রাচ্যবাসী বা তাদের মধ্যকার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা আকিদাকে (বিশ্বাস) নেতৃত্ব থেকে এবং সচ্চরিত্রকে মুজাহিদ সৈনিকত্ব থেকে পৃথক করেন। তারা মনে করেন যে এই দুইটির মধ্যে কোনো অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক নেই। তারা মনে করেন যে একজন বিজয়ী সেনাপতি ধর্মহীন, মদ্যপ, উচ্ছৃঙ্খল এবং অবিশ্বাসী হতে পারেন, তবে তিনি যুদ্ধবিদ্যায় পারদর্শী হতে পারেন; এবং তারা পশ্চিমা সেনাপতিদের জীবনী থেকে এর উদাহরণ টেনে থাকেন। যদি কোনো সেনাপতি তার ধর্ম ও চরিত্রে বিচ্যুত হওয়া সত্ত্বেও কোনো যুদ্ধে জয়ী হন, তবে তাকে একটি শাশ্বত নিয়ম হিসেবে গণ্য করা যাবে না; বরং এটি শত্রুর ভুলের ফলাফল, কোনো প্রজ্ঞাবান নেতৃত্বের ফসল নয়।আর মহান লেখক সচ্চরিত্রের তলোয়ার দিয়ে সেই বাতিল অসার উক্তিগুলোকে খণ্ডন করেছেন।এর ঊর্ধ্বে, তিনি মহান সেনাপতিদের—বিশেষ করে মন্টগোমারি ও দ্য গলের—জীবনী থেকে যে সব সংবাদ উল্লেখ করেছেন এবং তাদের ও অন্যদের থেকে যে সব বাণী উদ্ধৃত করেছেন:তা নির্দেশ করে যে সেনাপতি ও সৈন্যদল—বরং খোদ জনগণের—সচ্চরিত্রই হলো যুদ্ধে সাফল্যের মূল ভিত্তি; চরিত্রহীন কোনো সেনাপতির পক্ষে কোনো সাফল্য নেই।৬ - আর সেনাপতির সচ্চরিত্র আঁকড়ে ধরার বিষয়টি মন্টগোমারি অত্যন্ত উজ্জ্বল ও স্পষ্ট ভাষায় বর্ণনা করেছেন, যা আমাদের মহান লেখক মেজর জেনারেল খাত্তাবের মতো বিশ্বাসীরা উপলব্ধি করতে পারেন।মন্টগোমারি যা কিছুর দিকে আহ্বান জানিয়েছেন, তার সারসংক্ষেপ যেমনটি তার বই থেকে স্পষ্ট হয়:প্রথমত- স্বীয় আকিদায় বিশ্বাসী সেনাপতির আকিদাই হলো তার সাফল্যের রহস্য, যা তাকে জিহাদে উদ্বুদ্ধ করে। কারণ একজন যোদ্ধা তার সমাজকে রক্ষা করতে নিজের জীবন বিলিয়ে দিতে এগিয়ে আসে; তাই তার মাঝে এমন এক শক্তি থাকা আবশ্যক যা তাকে মহান আদর্শের পথে নিজের জীবন উৎসর্গ করতে উদ্বুদ্ধ করবে, যা তাকে সন্তুষ্ট চিত্তে ও প্রশান্ত হৃদয়ে জীবন বিসর্জন দিতে অনুপ্রাণিত করবে।দ্বিতীয়ত- আকিদা ন্যায়বিচারের দিকে ধাবিত করে, আর সৈনিককে কোনো কিছুই...
(খণ্ড: ১)
বাইনাল আকীদাতি ওয়াল কিয়াদাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
الرضا إلا أن يحس بأنه يعمل في ظل عدالة لا تحابي ولا تماري، ولا تضنّ على أن يُعطى كل ذي حق حقه.ثالثاً- أن العقيدة وإخلاص المؤمن لها، وإذعانه لما تتقاضاه منه؛ تجعله حريصاً على جنده، يحنو عليهم ويقرب منهم؛ والقائد يقود نفوساً، ولا يرصّ بنياناً؛ ومن يقود النفوس عليه أن يدنو منها ويحنو عليها.ورابعاً- أن العقيدة تجعل القائد كالكاهن لا يفكر في نفسه ولا في ماله، ولا في أي مأرب من أمور الدنيا، غير أن ينتصر في ميدان يحسب أنه فيه يحمي الفضيلة؛ وبذلك يعلو في نفسه ويسمو.ولقد نقل اللواء الركن محمود شيت خطاب أن مونتكومري قال في وصف نفس القائد المؤمن: "يجب أن يكون خادماً للحقيقة، وأن تكون هذه الحقيقة لغرض عام يقصد به النفع العام، ويروض نفسه على ذلك، حتى يكون له ملكة نفسية، من شأنها أن توحي إلى الآخرين بأن يتبعوه".ذلك أن النواحي المعنوية أو النفسية، تسري إلى النفوس كما يسري الماء الطاهر من المكان العالي إلى ما دونه، فيتقدم الجند طائعين واثقين مطمئنين، لأن وجدانهم يتبع وجدانه، فهم خاضعون لنفسه ونزوعه إلى الخير والفضيلة الإنسانية قبل أن يخضعوا لما يأمر وينهى.وإن القائد يجب أن يكون ضابطاً لنفسه صبوراً، وإن الجنود من ورائه يضبطون نفوسهم بضابط الصبر، وإن المحاربة تكون بالمصابرة، كما تكون بالمقاتلة؛ بل إن أساس القوة في المقاتلة هو المصابرة. هكذا
সন্তোষ তখনই অনুভূত হয় যখন সে অনুভব করে যে সে এমন এক ন্যায়বিচারের ছায়াতলে কাজ করছে যা কোনো পক্ষপাতিত্ব করে না এবং কোনো বিবাদ করে না, আর প্রত্যেক হকদারকে তার পাওনা প্রদানে কোনো কার্পণ্য করে না।তৃতীয়ত— আকিদাহ এবং এর প্রতি মুমিনের একনিষ্ঠতা ও এর দাবিসমূহের প্রতি তার আনুগত্য তাকে তার সৈন্যদের ব্যাপারে যত্নশীল করে তোলে; সে তাদের প্রতি মমতা প্রদর্শন করে এবং তাদের নিকটবর্তী হয়। নেতা মূলত মানুষের আত্মাকে পরিচালিত করেন, কোনো জড় অট্টালিকা নির্মাণ করেন না। আর যিনি আত্মাকে পরিচালিত করেন, তাকে অবশ্যই তাদের নিকটবর্তী হতে হয় এবং তাদের প্রতি মমতা প্রদর্শন করতে হয়।চতুর্থত— আকিদাহ একজন নেতাকে এমন এক নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তির ন্যায় গড়ে তোলে যে নিজের ব্যাপারে, নিজের সম্পদের ব্যাপারে কিংবা দুনিয়াবী কোনো হীন স্বার্থের ব্যাপারে চিন্তা করে না; বরং তার লক্ষ্য থাকে কেবল এমন এক ময়দানে বিজয় লাভ করা যেখানে সে পুণ্য ও নৈতিকতা রক্ষা করছে বলে মনে করে। এর মাধ্যমে সে নিজের ভেতরে উন্নত ও মহিমান্বিত হয়।মেজর জেনারেল মাহমুদ শীত খাত্তাব বর্ণনা করেছেন যে, মন্টগোমারি একজন বিশ্বাসী নেতার মানসিক অবস্থার বর্ণনায় বলেছেন: "তাকে অবশ্যই সত্যের সেবক হতে হবে এবং এই সত্য হতে হবে এমন এক সাধারণ লক্ষ্যের জন্য যার উদ্দেশ্য জনকল্যাণ। তাকে এ ব্যাপারে নিজেকে অভ্যস্ত করে তুলতে হবে, যেন তার মাঝে এমন এক চারিত্রিক গুণাবলি তৈরি হয় যা অন্যদের তাকে অনুসরণ করতে উদ্বুদ্ধ করবে।"কেননা আধ্যাত্মিক বা মানসিক দিকগুলো মানুষের অন্তরে সেভাবেই প্রবাহিত হয় যেভাবে উচ্চস্থান থেকে পবিত্র পানি নিচু স্থানের দিকে প্রবাহিত হয়। ফলে সৈন্যরা আনুগত্য, আস্থা ও প্রশান্তির সাথে অগ্রসর হয়; কারণ তাদের বিবেক তার বিবেকের অনুগামী হয়। তারা তার আদেশ ও নিষেধের অনুগত হওয়ার আগেই তার ব্যক্তিত্ব এবং কল্যাণ ও মানবিক সদ্গুণের প্রতি তার অনুরাগের বশীভূত হয়।নিশ্চয়ই নেতাকে আত্মসংযমী ও ধৈর্যশীল হতে হবে, আর তার অনুসারী সৈন্যরাও ধৈর্যের মাধ্যমে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ করবে। যুদ্ধ যেমন লড়াইয়ের মাধ্যমে হয়, তেমনি পরম ধৈর্যের মাধ্যমেও সম্পন্ন হয়; বরং লড়াইয়ের শক্তির মূল ভিত্তিই হলো ধৈর্য। এভাবেই...
(খণ্ড: ১)
বাইনাল আকীদাতি ওয়াল কিয়াদাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
يقرر مونتكومري .. وقد نادى من قبله القرآن الكريم بالصبر، فقال تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ اصْبِرُواْ وَصَابِرُواْ وَرَابِطُواْ وَاتَّقُواْ اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ}.وإن تربية النفس مع الصبر، وتربية القائد أو الجندي مع ضبطها أمران متلازمان؛ وضبط النفس ألا تفزع ولا تطمع، وأن تقمع شهواتها وملاذَّها، وألاّ تيأس في هزيمة، ولا تأشر وتبطر وتزدهي في نصر؛ وأن تتلقى السراء بثباتِ جأش، والضراء بعزيمة تعلو، ولا تهبط؛ ولقد قال تعالى في وصف الإنسان الذي لا ينال سجية ضبط النفس: {وَلَئِنْ أَذَقْنَا الإِنْسَانَ مِنَّا رَحْمَةً ثُمَّ نَزَعْنَاهَا مِنْهُ إِنَّهُ لَيَئُوسٌ كَفُورٌ (9) وَلَئِنْ أَذَقْنَاهُ نَعْمَاء بَعْدَ ضَرَّاء مَسَّتْهُ لَيَقُولَنَّ ذَهَبَ السَّيِّئَاتُ عَنِّي إِنَّهُ لَفَرِحٌ فَخُورٌ (10) إِلَاّ الَّذِينَ صَبَرُواْ وَعَمِلُواْ الصَّالِحَاتِ أُوْلَئِكَ لَهُم مَّغْفِرَةٌ وَأَجْرٌ كَبِيرٌ}.وإن الصبر وضبط النفس لا يظهران إلا عند الصدمات، كما قال صلى الله عليه وسلم: "إنما الصبر عند الصدمة الأولى".7 - ومونتكومري يرى أن العقيدة يجب أن تكون العنصر الأساسي في تربية الشعب، وخصوصاً صغاره؛ ويرى أن تربية العقيدة يجب أن تبدأ من قبل السادسة من عمره؛ وأنه يجب أن يُربَّى على الجلاد، وعلى الضبط، وألا تمتاع نفسه بالملاهي انمياعاً.ويستفاد من كلامه أن اللهو في ذاته باطل، إلا أن يكون في ظل الإيمان، والاعتقاد؛ وأن تكون للنفس إرادة تسيطر على اللهو والملاهي.ويذكر أنه يجب أن تُربَّى البنات على الاحتشام والتمسك بالاعتقاد، والإيمان؛ ويقول في ذلك عن بنات جيله مادحاً لهن: "إن
মন্টগোমারি সিদ্ধান্ত প্রদান করেন... আর তার পূর্বে পবিত্র কুরআন ধৈর্যের আহ্বান জানিয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা ধৈর্য ধারণ করো, ধৈর্যের প্রতিযোগিতা করো, (সীমান্তে) সজাগ ও সদা প্রস্তুত থাকো এবং আল্লাহকে ভয় করো, যেন তোমরা সফলকাম হতে পারো।}ধৈর্যের সাথে আত্মার (নফসের) তরবিয়ত এবং আত্মনিয়ন্ত্রণের সাথে নেতা বা সৈনিকের তরবিয়ত অবিচ্ছেদ্য দুটি বিষয়; আর আত্মনিয়ন্ত্রণ হলো—ভীত না হওয়া এবং লোভ না করা, কুপ্রবৃত্তি ও ভোগবিলাসকে দমন করা, পরাজয়ে হতাশ না হওয়া এবং বিজয়ে দম্ভ, অহংকার ও আত্মগরিমা প্রদর্শন না করা; স্বাচ্ছন্দ্যকে স্থিরচিত্তে গ্রহণ করা এবং বিপদকে সুদৃঢ় সংকল্পের সাথে মোকাবিলা করা, যা কেবল বৃদ্ধি পায়, হ্রাস পায় না। আত্মনিয়ন্ত্রণের গুণ লাভ করেনি এমন মানুষের বর্ণনায় মহান আল্লাহ বলেন: {আমি যদি মানুষকে আমার পক্ষ থেকে কোনো রহমতের স্বাদ আস্বাদন করাই এবং পরে তা তার থেকে ছিনিয়ে নেই, তবে সে হতাশ ও অকৃতজ্ঞ হয়ে পড়ে। আর যদি তার ওপর আপতিত দুঃখ-কষ্টের পর তাকে সুখের স্বাদ আস্বাদন করাই, তবে সে অবশ্যই বলবে যে, আমার থেকে বিপদ দূর হয়ে গেছে; তখন সে উল্লসিত ও অহংকারী হয়ে ওঠে। কিন্তু যারা ধৈর্য ধারণ করেছে এবং সৎকাজ করেছে, তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও মহা পুরস্কার।}ধৈর্য ও আত্মনিয়ন্ত্রণ কেবল আঘাত বা বিপদের মুহূর্তেই প্রকাশ পায়, যেমনটি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "ধৈর্য তো কেবল প্রথম আঘাতের মুহূর্তেই।"৭ - মন্টগোমারি মনে করেন যে, আকিদা বা বিশ্বাসই হওয়া উচিত জাতির, বিশেষ করে শিশুদের তরবিয়তের মূল ভিত্তি। তিনি মনে করেন, আকিদার শিক্ষা তার বয়স ছয় বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই শুরু হওয়া উচিত; তাকে কষ্টসহিষ্ণুতা ও শৃঙ্খলার ওপর গড়ে তুলতে হবে এবং বিনোদনের মাধ্যমে যেন তার নফস বা সত্তা শিথিল হয়ে না পড়ে।তাঁর বক্তব্য থেকে এটিই প্রতীয়মান হয় যে, বিনোদন বা খেল-তামাশা স্বয়ং অসার, যদি না তা ঈমান ও আকিদার ছায়াতলে হয়; আর নফসের এমন সংকল্প শক্তি থাকতে হবে যা বিনোদন ও খেল-তামাশাকে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম।তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, কন্যা সন্তানদের শালীনতা এবং আকিদা ও ঈমানের প্রতি অবিচল থাকার ওপর গড়ে তুলতে হবে। এই প্রসঙ্গে তিনি তাঁর প্রজন্মের কন্যাদের প্রশংসা করে বলেন: "নিশ্চয়..."
(খণ্ড: ১)
বাইনাল আকীদাতি ওয়াল কিয়াদাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
البنات لم يكنَّ ليسمح لهن بالخروج من البيت وحدهن والذهاب مع الأولاد إلى المراقص وغيرها".وهكذا تجد كثيراً من المناهج التي يرسمها للجيش وللناس؛ ليكون منهم القواد الأقوياء في حربهم وأخلاقهم وعقائدهم التي ينالون بها النصر للفضيلة، ولقومهم ولعقيدتهم معاً.وإنا ونحن نقرأ ما كتبه اللواء الركن محمود شيت خطاب عن مونتكومري نحس بأننا نقرأ في كتاب "قوت القلوب" لأبي طالب المكي، أو "إحياء علوم الدين" للغزالي، أو كتاب "موعظة المؤمنين"، أو كتاب "تهذيب الأخلاق وتطهير الأعراق" لابن مسكويه، ولكن الحق في الأخلاق والفضيلة واحد يظهر بعلم المؤمن بدينه المذعن لعقيدته.وإن الكاتب المؤمن اللواء الركن محمود شيت خطاب ينقل ذلك لكي يُفقِّه قومنا ما يجب أن يكون، ما يجب أن يتبع لقوم يريدون أن يكونوا مجاهدين؛ والعدو جاثم في أرضهم، وبلادهم محتلة، ويسوم العدو أهل البلاد الخسف والهوان؛ ومنا من ينظر ويسترجع، ومنا من لا يعتبر، ومنا من يعادي، ومنا من يقاتل المجاهدين، ومنا من يقتل المؤمنين فرادى وجماعات، ومنا من يلهو ويلعب؛ ويجمع أهل اللهو من شرق البلاد وغربها، ليستمتع بلهوهم، ويشتهر بين الناس ما يلهو به ويلعب، والطامة أنه بعد أن نكس العرب والإسلام نجد الإذاعات المرئية وغير المرئية لا عمل لها إلا قصص الحب الماجن، وإلا الأغاني المثيرة للغريزة الجنسية، والتي تكون بنغمات نسائية لا تكون إلا في المخادع بين الرجال والنساء.
"মেয়েদের একা ঘর থেকে বের হতে এবং ছেলেদের সাথে নাচঘর বা অন্য কোথাও যেতে অনুমতি দেওয়া হতো না।"এভাবেই আপনি অনেক কর্মপদ্ধতি খুঁজে পাবেন যা তিনি সেনাবাহিনী এবং জনগণের জন্য প্রণয়ন করেছেন; যাতে তাদের মধ্য থেকে এমন শক্তিশালী নেতা তৈরি হয় যারা তাদের যুদ্ধ, চরিত্র এবং আকিদাহর ক্ষেত্রে শক্তিশালী হবে, যার মাধ্যমে তারা চারিত্রিক শ্রেষ্ঠত্ব, তাদের জাতি এবং তাদের আকিদাহর জন্য সমভাবে বিজয় অর্জন করবে।মেজর জেনারেল মাহমুদ শীত খাত্তাব মন্টগোমারি সম্পর্কে যা লিখেছেন, তা পড়ার সময় আমাদের মনে হয় যেন আমরা আবু তালিব আল-মাক্কির 'কুতুল কুলুব', গাজালির 'ইহইয়াউ উলুমিদ্দীন', 'মাওয়িজাতুল মুমিনীন' অথবা ইবনে মিসকাওয়াইহ-এর 'তাহজিবুল আখলাক ওয়া তাতহিরুল আ'রাক' গ্রন্থ পাঠ করছি। তবে চরিত্র ও গুণের ক্ষেত্রে সত্য এক ও অভিন্ন, যা মুমিনের দ্বীন সম্পর্কিত জ্ঞান এবং তার আকিদাহর প্রতি আনুগত্যের মাধ্যমেই প্রকাশ পায়।মুমিন লেখক মেজর জেনারেল মাহমুদ শীত খাত্তাব এগুলো বর্ণনা করেছেন যাতে আমাদের জাতিকে বোঝানো যায় যে তাদের কেমন হওয়া উচিত এবং যারা মুজাহিদ হতে চায় তাদের কী অনুসরণ করা উচিত; অথচ শত্রু তাদের ভূমি দখল করে বসে আছে, তাদের দেশ অধিকৃত এবং শত্রু দেশের অধিবাসীদের ওপর চরম লাঞ্ছনা ও অপমান চাপিয়ে দিচ্ছে। আমাদের মধ্যে কেউ কেউ কেবল দেখছে এবং আফসোস করছে, কেউ কেউ শিক্ষা গ্রহণ করছে না, কেউ শত্রুতা করছে, কেউ মুজাহিদদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে, কেউ মুমিনদেরকে একা বা দলবদ্ধভাবে হত্যা করছে, আবার কেউ কেউ আমোদ-প্রমোদে লিপ্ত। তারা দেশের পূর্ব-পশ্চিম থেকে আমোদপ্রিয় লোকদের একত্র করে তাদের নাচ-গানে মত্ত থাকে এবং তাদের এই খেল-তামাশা মানুষের মধ্যে পরিচিতি পায়। সবচেয়ে বড় বিপদ হলো, আরব ও ইসলামের এই চরম বিপর্যয়ের পরেও আমরা দেখতে পাই যে, দৃশ্যমান ও অদৃশ্য প্রচারমাধ্যমগুলোর অশ্লীল প্রেমের গল্প এবং যৌন উত্তেজনা সৃষ্টিকারী গান প্রচার করা ছাড়া আর কোনো কাজ নেই, যা এমন নারীসুলভ সুরে গাওয়া হয় যা কেবল নারী-পুরুষের একান্ত কক্ষেই শোভা পায়।
(খণ্ড: ১)
বাইনাল আকীদাতি ওয়াল কিয়াদাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
والإذاعات المرئية فيها الأجسام العارية، والرقصات الكاشفة المغرية، فإذا نبَّهنا إلى ما في ذلك من دعوات صارخة ضد الفضيلة، قال المهيمنون الذين يقودون هذا المجون ويشجعونه: إنه يشتمنا. إذا كان ذلك التنبيه الرقيق أو العنيف شتماً، فنحن نرضى بذلك؛ وخير لنا أن نقوم بالكلام -اللائم أياً كان وصفه- من أن نرى الشر ولا نستنكره، ونستمع إلى الدعوات لظهور البنات والنساء عارية أرجلهن إلى أنصاف أفخاذهن، وبين ما يقرره مونتكومري .. نجد إلى أي حد انحدرنا، ولا حول ولا قوة إلا بالله.وكل ذلك، وأرضنا محتلة، وعدونا يساورنا بالقوة؛ ونحن لاهون.إن كتابة مونتكومري، وغيره من القواد العظام، وطريق نصرهم، وما يجب أن تتحلى به الشعوب التي تعرضت للغزو: درس للذين يقودون البلاد ليعرفوا ما يجب التخلي عنه، وما يجب التحلي به؛ إن النصر لا يكون بالرقص والغناء الذي يغري بالأهواء والشهوات، ويثير الغرائز، ويخدر النفس، فلا تتجه إلى الواجب.إن المقاييس قد اضطربت، وميزان الرجال هو الذي يدل على مقدار إدراك الآفة ومقدار حدها، وتحرير إرادتها.إن الرجل من أهل المجون يموت، فتقوم الصحف والمحافل وتُعقَد الندوات في ذكر مناقبه؛ ويموت العالم الجليل الذي يدين له الجيل، فلا يظفر من الصحافة التي تتبع الحكومة إلا بخبر عارض، أو لمحة خاطفة، وهو يسجل للأمة مجدها؛ فمجد الأمم ليس بالغناء
চাক্ষুষ সম্প্রচার মাধ্যমগুলোতে রয়েছে নগ্ন শরীর এবং অনাবৃত ও প্রলুব্ধকর নৃত্য। যখন আমরা এগুলোর মধ্যে বিদ্যমান সচ্চরিত্রের বিরুদ্ধে এই প্রকাশ্য আহ্বানের ব্যাপারে সতর্ক করি, তখন এই অশ্লীলতার নেতৃত্বদানকারী ও উৎসাহদানকারী প্রভাবশালীরা বলে: সে আমাদের গালি দিচ্ছে। যদি সেই কোমল কিংবা কঠোর সতর্কবাণী গালি হয়ে থাকে, তবে আমরা তাতেই সন্তুষ্ট; আর আমাদের জন্য মন্দ দেখেও তা অস্বীকার না করার চেয়ে নিন্দামূলক কথা বলা—তার বর্ণনা যাই হোক না কেন—অধিকতর উত্তম। আমরা সেই সব আহ্বান শুনছি যেখানে মেয়ে ও নারীরা তাদের উরুর অর্ধেক পর্যন্ত পা উন্মুক্ত করে আবির্ভূত হচ্ছে। মন্টগোমারি যা স্থির করেছেন এবং আমাদের বর্তমান অবস্থার মধ্যে আমরা দেখতে পাই যে আমরা কতটা নিচে নেমে গিয়েছি। আর আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো উপায় নেই এবং কোনো শক্তি নেই।আর এই সব কিছু এমন অবস্থায় ঘটছে যখন আমাদের ভূখণ্ড অধিকৃত এবং শত্রু আমাদের শক্তির মাধ্যমে আক্রমণ করছে; অথচ আমরা উদাসীনতায় মগ্ন।মন্টগোমারি এবং অন্যান্য মহান সেনাপতিদের লেখা, তাদের বিজয়ের পথ এবং আগ্রাসনের শিকার জাতিগুলোর যে গুণে গুণান্বিত হওয়া আবশ্যক, তা যারা দেশ পরিচালনা করছেন তাদের জন্য একটি শিক্ষা; যাতে তারা জানতে পারেন কী বর্জন করা উচিত এবং কী গ্রহণ করা উচিত। নিশ্চয়ই বিজয় সেই নাচ-গানের মাধ্যমে অর্জিত হয় না যা কুপ্রবৃত্তি ও লালসাকে উসকে দেয়, প্রবৃত্তিগুলোকে উত্তেজিত করে এবং নফসকে মোহাবিষ্ট করে ফেলে, ফলে তা কর্তব্যের দিকে ধাবিত হতে পারে না।মানদণ্ডগুলো বিশৃঙ্খল হয়ে পড়েছে। মানুষের মানদণ্ডই বলে দেয় দুর্যোগ অনুধাবনের মাত্রা এবং ইচ্ছাশক্তি মুক্তির পরিমাণ কতটা।পাপাচারী ও অশ্লীল ব্যক্তিদের কেউ মারা গেলে সংবাদপত্র ও সভা-সমাবেশ সরগরম হয়ে ওঠে এবং তার গুণকীর্তনে সেমিনারের আয়োজন করা হয়। আর যখন এমন একজন শ্রদ্ধেয় আলেম মারা যান যার কাছে বর্তমান প্রজন্ম ঋণী, তখন তিনি সরকার নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যমগুলোর কাছ থেকে কেবল একটি আকস্মিক সংবাদ বা সামান্য সংক্ষিপ্ত খবর ছাড়া আর কিছুই পান না; অথচ তিনি জাতির জন্য গৌরবময় ইতিহাস রচনা করে যান। কেননা জাতির গৌরব গানের মাধ্যমে অর্জিত হয় না।
(খণ্ড: ১)
বাইনাল আকীদাতি ওয়াল কিয়াদাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
والرقص والتهريج، إنما مجد الأمم بعلمائها، وهم قمة الإنسانية، وهداتها.ولكن عمّ سيل المجون حتى طمّ؛ ولذلك تخلفنا، وانهوينا إلى منهوى سحيق.من أجل ذلك كتب اللواء الركن محمود شيت خطاب، ونقل ما نقل عن قادة الحرب وقادة الفكر من أوروبا وغيرها؛ وإن في ذلك لعبرة لأولي الأبصار، {إِنَّ فِي ذَلِكَ لَذِكْرَى لِمَن كَانَ لَهُ قَلْبٌ أَوْ أَلْقَى السَّمْعَ وَهُوَ شَهِيدٌ}.8 - وإن اللواء الركن محمود شيت خطاب لا يكتفي بما ذكر من قادة الغرب، وإن كان لذلك مكانه، وفيه عبرته لمن يعتبر.بل اتجه من بعد إلى القادة من المسلمين، وذكر مقدار العقيدة في نصرهم.وقد وجد أمامه دعوة النبي صلى الله عليه وسلم إلى الجهاد الذي لا يقصد به إلا وجه الله، فقد ذكر صلى الله عليه وسلم في محاورة بينه وبين أصحابه يفصِّل حال المحاربين، ومقامهم في الجهاد عند الله؛ وسئل عن الرجل يقاتل شجاعة، ويقاتل حمية، ويقاتل رياءً؛ أي ذلك في سبيل الله؟ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "من قاتل لتكون كلمة الله هي العليا، فهو في سبيل الله".يروى أن رجلاً أراد الجهاد في سبيل الله تعالى، وهو يبتغي عرضاً من أعراض الدنيا، فقال عليه السلام: "لا أجر له"، فأعادها عليه ثلاثاً؛ كل ذلك، وهو يقول: "لا أجر له".
নাচ-গান এবং ভাঁড়ামো নয়, বরং জাতিসমূহের গৌরব নিহিত থাকে তাদের আলিমদের মাঝে; তাঁরাই মানবতার শিখর এবং তাঁদের পথপ্রদর্শক।কিন্তু অশ্লীলতার বন্যা এত ব্যাপক হয়েছে যে তা সবকিছুকে গ্রাস করে ফেলেছে; আর একারণেই আমরা পিছিয়ে পড়েছি এবং এক অতল গহ্বরে পতিত হয়েছি।এজন্যই মেজর জেনারেল মাহমুদ শীত খাত্তাব এটি লিখেছেন এবং ইউরোপ ও অন্যান্য অঞ্চলের যুদ্ধনায়ক ও চিন্তাবিদদের থেকে যা উদ্ধৃত করার তা করেছেন; আর নিশ্চয়ই এতে অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য শিক্ষা রয়েছে, "নিশ্চয়ই এতে উপদেশ রয়েছে তার জন্য, যার হৃদয় আছে অথবা যে মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ করে এবং সে উপস্থিত থাকে।"৮ - আর নিশ্চয়ই মেজর জেনারেল মাহমুদ শীত খাত্তাব কেবল পাশ্চাত্য নেতাদের বর্ণনার ওপরই ক্ষান্ত হননি, যদিও তার একটি বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে এবং যারা শিক্ষা গ্রহণ করতে চায় তাদের জন্য তাতে শিক্ষা রয়েছে।বরং এরপর তিনি মুসলিম সেনাপতিদের প্রতি মনোনিবেশ করেছেন এবং তাঁদের বিজয়ে আকিদার গুরুত্ব বর্ণনা করেছেন।আর তিনি তাঁর সামনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জিহাদের দাওয়াতকে পেয়েছেন, যার উদ্দেশ্য কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ছাড়া আর কিছুই নয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর এবং তাঁর সাহাবীদের মধ্যে এক সংলাপে যোদ্ধাদের অবস্থা এবং আল্লাহর নিকট জিহাদে তাঁদের মর্যাদার বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন; তাঁকে এমন ব্যক্তি সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে সাহসিকতা প্রদর্শনের জন্য যুদ্ধ করে, স্বজাত্যবোধ বা আত্মমর্যাদার জন্য যুদ্ধ করে এবং লোক দেখানোর জন্য যুদ্ধ করে; এদের মধ্যে কোনটি আল্লাহর পথে? তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহর কালিমাকে সর্বোচ্চ করার লক্ষ্যে যুদ্ধ করে, সেই আল্লাহর পথে।"বর্ণিত আছে যে, এক ব্যক্তি মহান আল্লাহর পথে জিহাদ করার ইচ্ছা পোষণ করেছিল, অথচ সে পার্থিব কোনো উদ্দেশ্য কামনা করছিল; তখন নবী আলাইহিস সালাম বললেন: "তার জন্য কোনো প্রতিদান নেই।" প্রশ্নকারী তিনবার প্রশ্নটি পুনরাবৃত্তি করলেন; প্রতিবারই তিনি বললেন: "তার জন্য কোনো প্রতিদান নেই।"
(খণ্ড: ১)
বাইনাল আকীদাতি ওয়াল কিয়াদাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
إنها ليست العقيدة في أولى درجاتها، إنما العقيدة في أعلى سماتها، إنها التجرد لله سبحانه وتعالى، وإنها أعلى من الحقيقة، التي يدعو إليها مونتكومري؛ وإن ذلك مؤداه أن يخرج المجاهد قائداً أو مقوداً لا يجعل لشخصه مكاناً في مقصده، بل تفنى نفسه في الجهاد.وإذا كان بعض القواد يقول: إن القائد يجب أن يكون في نيته كالكاهن لا يعرف إلا العبادة لله تعالى في جهاده؛ فإن النبي صلى الله عليه وسلم قد قال ما هو أعلى من هذا، فقد عدّ صلى الله عليه وسلم الجهاد أفضل العبادات.وعدّ عليه السلام المستشهد في سبيل الله تعالى قد فاز بالجنة، وكان المجاهدون من أصحابه إذا أوشكوا على الشهادة نادى أحدهم: فزت ورب الكعبة.فالعقيدة لم تكن صفة القائد وحده، بل صفة كل جندي يحارب في سبيل الله، ولقد قال صلى الله عليه وسلم: "لكل أمة رهبانية، ورهبانية أمتي في الجهاد".وإن المجاهد المخلص المؤمن المتقد الذهن، يتفق مع الراهب في ناحية، ويختلف عنه في ناحيتين:أما ناحية الاتفاق فهي أن كل واحد منهما يتجه إلى عبادة مخلصة لا يبتغي عرضاً من أعراض الدنيا، ولا مأرباً شخصياً فيها، ولكن رضا الله على اتجاه مستقيم في جانب المجاهد، وعلى انحراف في جانب الراهب، لأن الرهبانية ابتدعها الذين أخذوها جزءاً من دينهم، كما قال تعالى في أتباع المسيح عليه السلام: {وَجَعَلْنَا فِي قُلُوبِ الَّذِينَ اتَّبَعُوهُ رَأْفَةً وَرَحْمَةً وَرَهْبَانِيَّةً ابْتَدَعُوهَا مَا كَتَبْنَاهَا عَلَيْهِمْ إِلَّا ابْتِغَاء رِضْوَانِ اللَّهِ فَمَا رَعَوْهَا حَقَّ رِعَايَتِهَا}.
এটি কেবল আকিদার প্রাথমিক স্তরে নয়, বরং এটি আকিদার সর্বোচ্চ বৈশিষ্ট্য। এটি মহান আল্লাহর জন্য সম্পূর্ণ নিবেদিত হওয়া। এটি মন্টগোমারি যে সত্যের দিকে আহ্বান করেন তার চেয়েও উচ্চতর। এর তাৎপর্য হলো, একজন মুজাহিদ—সে নেতা হোক বা অনুসারী—নিজের উদ্দেশ্যে নিজের সত্তাকে কোনো স্থান দেয় না, বরং জিহাদের ময়দানে নিজের প্রাণকে বিলীন করে দেয়।যদি কোনো কোনো সেনাপতি বলেন যে: সেনাপতির নিয়ত একজন ধর্মযাজকের মতো হওয়া উচিত যে তার জিহাদে আল্লাহ তাআলার ইবাদত ছাড়া আর কিছুই জানে না; তবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চেয়েও উচ্চতর কথা বলেছেন। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিহাদকে সর্বোত্তম ইবাদত হিসেবে গণ্য করেছেন।তিনি (আলাইহিস সালাম) আল্লাহর পথে শহীদ হওয়া ব্যক্তিকে জান্নাত লাভে সফল হিসেবে গণ্য করেছেন। তাঁর সাহাবীদের মধ্য থেকে মুজাহিদগণ যখন শাহাদাতের নিকটবর্তী হতেন, তখন তাদের কেউ কেউ চিৎকার করে বলতেন: কাবার রবের কসম, আমি সফল হয়েছি।সুতরাং এই আকিদা বা বিশ্বাস কেবল সেনাপতির গুণ নয়, বরং আল্লাহর পথে লড়াই করা প্রত্যেক সৈনিকের গুণ। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "প্রত্যেক উম্মতের জন্য বৈরাগ্য রয়েছে, আর আমার উম্মতের বৈরাগ্য হলো জিহাদ।"একজন একনিষ্ঠ মুমিন ও প্রখর মেধাসম্পন্ন মুজাহিদ একজন বৈরাগীর সাথে এক দিকে একমত হন এবং দুই দিকে ভিন্নমত পোষণ করেন:মিলের দিকটি হলো এই যে, তাদের প্রত্যেকেই একনিষ্ঠ ইবাদতের দিকে মনোনিবেশ করেন, তারা দুনিয়াবী কোনো তুচ্ছ উদ্দেশ্য বা ব্যক্তিগত স্বার্থ কামনা করেন না, বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করেন। তবে মুজাহিদের ক্ষেত্রে এটি সঠিক পথের ওপর প্রতিষ্ঠিত, আর বৈরাগীর ক্ষেত্রে এটি বিচ্যুতি। কারণ বৈরাগ্যবাদকে তারাই উদ্ভাবন করেছে যারা একে তাদের ধর্মের অংশ হিসেবে গ্রহণ করেছিল, যেমনটি আল্লাহ তাআলা ঈসা আলাইহিস সালামের অনুসারীদের সম্পর্কে বলেছেন: "এবং যারা তাঁর অনুসরণ করেছিল তাদের অন্তরে আমি মমতা ও দয়া দিয়েছিলাম, আর তারা বৈরাগ্যবাদ উদ্ভাবন করেছিল যা আমি তাদের ওপর ফরজ করিনি। তারা কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এটি করেছিল, কিন্তু তারা এটি যথাযথভাবে পালন করেনি।"
(খণ্ড: ১)
বাইনাল আকীদাতি ওয়াল কিয়াদাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
والناحيتان اللتان يفترق فيهما المجاهد عن الراهب، فهما: أولاً أن الراهب عبادته لنفع نفسه ولشخصه، وهي أقرب إلى أن تكون سلبية؛ أما المجاهد فعبادته في جهاده في نفع أمته، ورفع الحق وخفض الباطل؛ فعبادته إيجابية، تدافع عن حياة غيره، وهي إيثار لا أثرة فيها ولا ما يشبه الأثرة، والذاتية؛ بل فيها تقديم النفس للنفع العام، ولله وللحق، احتساباً، وبيعاً لها بأن له الجنة.والناحية الثانية المفرقة بين الرهبنة والجهاد: أن الرهبنة فناء، ولذلك تسمى موتاً حكمياً؛ أما الجهاد فقوة في الحياة، وطلب لحياة الآخرين، وإن كان فيه موت حقيقي، فهو موت لينال المجاهد أعلى درجات الحياة، وليكوّن من موته حياة عزيزة كريمة لأهل دينه، وتكون كلمة الله تعالى هي العليا.9 - ولقد تكلم اللواء الركن محمود شيت خطاب في قيادة النبي صلى الله عليه وسلم وهو أفضل قائد رآه الوجود الإنساني، وتكلم في قيادة السلف الصالح أبي بكر وعمر وسعد بن أبي وقاص وغيرهم من الأبدال الذين شروا أنفسهم لله تعالى بما عنده.وقد كانت عدة النصر عندهم ليست السيوف البتارة وحدها، ولا النبال التي تقطع الأفئدة؛ إنما كانت العدة الإيمان والصبر، كما قال فارس المسلمين علي بن أبي طالب كرم الله وجهه.ولنقل كلامه في هذا كاملاً، والمناسبة التي قاله فيها هي أنه تكاثر الفرس على المؤمنين، فخشي عمر على أهل الإيمان، فأراد أن يخرج معهم إلى الميدان، فاستشار أصحاب رسول الله، فمنهم من وافق على
যে দুটি দিক দিয়ে একজন মুজাহিদ একজন সন্ন্যাসী থেকে পৃথক হন, তা হলো: প্রথমত, সন্ন্যাসীর ইবাদত কেবল নিজের ও নিজের ব্যক্তিত্বের উপকারের জন্য, যা প্রায় নিষ্ক্রিয় হওয়ার কাছাকাছি; পক্ষান্তরে মুজাহিদের ইবাদত হলো তার জিহাদের মাধ্যমে নিজ উম্মাহর কল্যাণ সাধন এবং সত্যকে সমুন্নত ও মিথ্যাকে পরাভূত করা। সুতরাং তার ইবাদত ইতিবাচক, যা অন্যের জীবনকে সুরক্ষা দেয়। এটি এমন এক আত্মত্যাগ যাতে কোনো স্বার্থপরতা বা আত্মকেন্দ্রিকতার লেশমাত্র নেই। বরং এতে বৃহত্তর কল্যাণে, আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্তে এবং সত্যের তরে জান্নাতের বিনিময়ে নিজের জীবনকে বিলিয়ে দেওয়ার মানসিকতা নিহিত।সন্ন্যাসবাদ ও জিহাদের মধ্যে পার্থক্যকারী দ্বিতীয় দিকটি হলো: সন্ন্যাসবাদ হলো বিলীন হওয়া, যে কারণে একে রূপক মৃত্যু বলা হয়; পক্ষান্তরে জিহাদ হলো জীবনের শক্তি এবং অন্যের জীবনের নিরাপত্তা অন্বেষণ। যদিও এতে প্রকৃত মৃত্যু বিদ্যমান, তবুও এটি এমন এক মৃত্যু যার মাধ্যমে মুজাহিদ জীবনের সর্বোচ্চ মর্যাদা লাভ করেন এবং তার এই মৃত্যুর মধ্য দিয়ে নিজ ধর্মাবলম্বীদের জন্য এক সম্মানিত ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত হয়, যাতে মহান আল্লাহর বাণীই সুউচ্চ থাকে।৯ - মেজর জেনারেল মাহমুদ শীত খাত্তাব নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নেতৃত্ব সম্পর্কে আলোচনা করেছেন, যিনি মানব ইতিহাসের শ্রেষ্ঠতম সেনাপতি। তিনি সালফে সালেহীন—আবু বকর, উমর, সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস এবং অন্যান্য আবদাল (পুণ্যবান ব্যক্তি) সম্পর্কে আলোচনা করেছেন, যারা আল্লাহর কাছে থাকা প্রতিদানের বিনিময়ে নিজেদের জীবনকে আল্লাহর পথে সঁপে দিয়েছিলেন।তাদের নিকট বিজয়ের উপকরণ কেবল ধারালো তলোয়ার কিংবা কলিজা বিদীর্ণকারী তীর ছিল না; বরং প্রকৃত পাথেয় ছিল ঈমান ও ধৈর্য, যেমনটি মুসলিমদের বীর সেনানী আলী ইবনে আবি তালিব (আল্লাহ তার মুখমণ্ডলকে সম্মানিত করুন) বলেছেন।এ বিষয়ে তার পূর্ণ বক্তব্য আমরা তুলে ধরছি। যে প্রেক্ষাপটে তিনি এটি বলেছিলেন তা হলো—পারস্য বাহিনী মুমিনদের ওপর সংখ্যাধিক্যে প্রবল হয়ে উঠেছিল, তখন উমর (রা.) মুমিনদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হলেন। তিনি নিজেই তাদের সাথে রণক্ষেত্রে বের হতে চাইলেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের পরামর্শ চাইলেন। তখন তাদের মধ্যে কেউ কেউ এই মর্মে একমত হলেন যে...
(খণ্ড: ১)
বাইনাল আকীদাতি ওয়াল কিয়াদাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
خروجه، ومنهم من خالفه الخروج، وعلى رأسهم علي -كرم الله وجهه- قال له:"إن هذا الأمر لم يكن عنصره ولا خذلانه بكثرة ولا قلة، وهو دين الله الذي أظهره، وجنده الذي أعده وأمده، حتى بلغ ما بلغ، وطلع حيثما طلع؛ ونحن على موعد من الله، والله منجز وعده، وناصر جنده؛ ومكان القيِّم من الأمر مكان النظام من الخرز، بجمعه وبضمه، فإذا انقطع النظام تفرق الخرز، ثم لم يجتمع بحذافيره. والعرب وإن كانوا قليلاً هم كثيرون بالإسلام عزيزون بالاجتماع؛ فكن قطباً، واستدر الرحى بالعرب، وأَصْلِهم دونك نار الحرب؛ فإنك إن شخصت من هذه الأرض انقضّت عليك العرب من أطرافها وأقطارها، حتى يكون ما تدع وراءك من العَورات، أهم إليك مما بين يديك. إن الأعاجم إن ينظروا إليك غداً يقولوا: "هذه أصل العرب، فإن قطعتموه استرحتم. فيكون ذلك أشد لكَلَبِهِم عليك وطمعهم فيك؛ فأما ما ذكرت من سير القوم إلى قتال المسلمين، فإن الله تعالى أكره لمسيرهم منك، وهو أقدر على تغيير ما يكره؛ وأما ما ذكرت من عددهم، فإنا لم نقاتل بالكثرة، وإنما كنا نقاتل بالنصر والمعونة".ولسنا نذكر ما في الخِطاب من حكمة السياسة والقيادة، وإنما ننظر إلى ما تبين عنه كل كلمة من كلماته: من أن قوة الإيمان والصبر، والاعتقاد الجازم، كل هذا يرد الكثرة، والاعتبار ليس للقوة والكثرة، إنما الأمر لله والاعتقاد والصبر، وأخذ الأهبة، والله يحب الصابرين وينصرهم، لأنه اشترى منهم أنفسهم وأموالهم بقوة إيمانهم بأن لهم الجنة.
তার অভিযানে বের হওয়া, এবং তাদের মধ্যে কেউ কেউ তার বের হওয়ার বিরোধিতা করেছিলেন, যাদের অগ্রভাগে ছিলেন আলী -আল্লাহ তাঁর চেহারাকে মর্যাদাবান করুন- তিনি তাকে বললেন:"নিশ্চয়ই এই বিষয়টি (ইসলামের বিজয়) সংখ্যাধিক্য বা সল্পতার কারণে বিজয়ী বা লাঞ্ছিত হয়নি। এটি আল্লাহর দ্বীন যাকে তিনি প্রকাশ করেছেন, এবং তাঁর সৈন্যবাহিনী যাকে তিনি প্রস্তুত করেছেন ও সাহায্য করেছেন, এমনকি তা যেখানে পৌঁছানোর সেখানে পৌঁছেছে এবং যেখানে উদিত হওয়ার সেখানে উদিত হয়েছে। আমরা আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি ওয়াদার ওপর রয়েছি, আর আল্লাহ তাঁর ওয়াদা পূরণকারী এবং তাঁর বাহিনীর সাহায্যকারী। আর এই বিষয়ের নেতৃত্বের অবস্থান হলো তসবির দানায় সুতোর অবস্থানের মতো, যা সেগুলোকে একত্রিত করে ও গেঁথে রাখে। যদি সুতো ছিঁড়ে যায়, তবে দানাগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং পুনরায় সেগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে একত্রিত হয় না। আরবগণ সংখ্যায় কম হলেও ইসলামের কারণে তারা অনেক এবং ঐক্যের মাধ্যমে তারা শক্তিশালী। সুতরাং আপনি কেন্দ্রবিন্দু হোন এবং আরবদের মাধ্যমে যুদ্ধের যাঁতাকল ঘোরান, আর তাদের আপনার স্থলে যুদ্ধের আগুনে নিয়োজিত করুন। কেননা আপনি যদি এই ভূমি ত্যাগ করেন, তবে আরবরা এর চারপাশ ও সকল প্রান্ত থেকে আপনার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়বে, এমনকি আপনার পেছনে ফেলে আসা দুর্বল দিকগুলো আপনার সামনের শত্রুর চেয়েও আপনার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়াবে। অনারবরা যদি আগামীকাল আপনাকে দেখে তবে তারা বলবে: 'এ হলো আরবদের মূল ভিত্তি, যদি তোমরা একে বিচ্ছিন্ন করতে পারো তবে তোমরা শান্তিতে থাকবে।' ফলে এটি তাদের হিংস্রতা এবং আপনার প্রতি তাদের লোভকে আরও বাড়িয়ে দেবে। আর মুসলিমদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শত্রুবাহিনীর আসার ব্যাপারে আপনি যা উল্লেখ করেছেন, তবে আল্লাহ তাআলা তাদের সেই অভিযানকে আপনার চেয়েও বেশি অপছন্দ করেন, এবং তিনি যা অপছন্দ করেন তা পরিবর্তন করতে অধিক সক্ষম। আর তাদের সংখ্যার ব্যাপারে আপনি যা বলেছেন, তবে আমরা সংখ্যার আধিক্য দিয়ে লড়াই করি না, বরং আমরা কেবল বিজয় ও ঐশী সাহায্যের মাধ্যমে লড়াই করি।"আমরা এই ভাষণে বিদ্যমান রাজনৈতিক ও নেতৃত্বসুলভ প্রজ্ঞা নিয়ে আলোচনা করছি না, বরং আমরা কেবল এর প্রতিটি শব্দের মাধ্যমে যা স্পষ্ট হয়েছে তা লক্ষ্য করছি: আর তা হলো ঈমান ও ধৈর্যের শক্তি এবং দৃঢ় বিশ্বাস—এই সবকিছুই সংখ্যাধিক্যকে প্রতিহত করে। মানদণ্ড শক্তি বা সংখ্যার আধিক্য নয়, বরং মূল বিষয়টি আল্লাহর ইচ্ছাধীন এবং বিশ্বাস ও ধৈর্যের ওপর নির্ভরশীল, সাথে যথাযথ প্রস্তুতি গ্রহণ করা। আর আল্লাহ ধৈর্যশীলদের ভালোবাসেন এবং তাদের সাহায্য করেন, কারণ তিনি তাদের জান্নাতের বিনিময়ে তাদের ঈমানের শক্তির মাধ্যমে তাদের জান ও মাল ক্রয় করে নিয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
বাইনাল আকীদাতি ওয়াল কিয়াদাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
10 - ولقد أشار اللواء الركن الكاتب العظيم العبقري في إيمانه وجهاده وقلمه إلى ما كان من القواد المسلمين، الذين شقوا بنور السيف والعقيدة والكتاب المبين نورَ الظلام المتكاثف، وانسابوا في الأرض بقوة الاعتقاد ونور الهداية أولاً، وبالإقدام على الموت طلباً للحياة العزيزة الكريمة ثانياً، وإزالة لطغيان الأكاسرة والقياصرة ليغزوا الشعوب التي مُنِيت بحكمهم ثالثاً؛ فكانت العقيدة ونور الحق مع الاستعداد هي التي تأتي لهم بنصر الله العزيز الحكيم.وإن العقيدة وحدها هي التي دفعت قتيبة بن مسلم لأن ينساب بجيوشه المؤمنة من أرض العرب إلى أن يصل إلى الصين، ويجتاز بلاد ما وراء النهر والهند هادياً مؤمناً مجاهداً يحمل في قلبه إيماناً، وفي يده سيفاً بتاراً يشق ظلام الشرك والجهالة.وهذا موسى بن نصير، ورئيس أركان حربه طارق بن زياد المؤمن، يسير قاطعاً شمال إفريقية حتى يصل طارق إلى المغرب، ويجتاز البحر بجيشه، حتى يصل إلى ساحل الأندلس، فيحرق سفنه، ولم يبق له ولجنده إلا العقيدة المؤمنة الدافعة، والسيوف المشهورة المحاربة؛ ويقول في قوة إيمان، وسر الحقيقة ينطقه: "العدو أمامكم، والبحر وراءكم". وهو بهذا يبث فيهم روح الإيمان والفداء والإقدام.فيتقدمون بقوة الإيمان والعقيدة، وقوة القيادة في أرض الأندلس فتحاً وعمارة ورفعاً للواء الحق والإيمان، ويسير من ورائه رئيسه موسى بن نصير، مجانباً طريقه؛ ولكنّ الطمع في الغنائم ممن وراء هذا الجيش الفاتح العظيم، يسحب الجندي المؤمن والقائد المجرب،
১০ - মহিমান্বিত লেখক, দূরদর্শী মেজর জেনারেল, যিনি তার ঈমান, জিহাদ ও লেখনীর মাধ্যমে সেই মুসলিম সেনাপতিদের কথা উল্লেখ করেছেন, যারা তরবারি, আকিদা এবং সুস্পষ্ট কিতাবের নূরের সাহায্যে ঘনীভূত অন্ধকারের আবরণ বিদীর্ণ করেছিলেন। তারা পৃথিবীতে বিচরণ করেছিলেন প্রথমত বিশ্বাসের শক্তি ও হিদায়াতের আলো নিয়ে, দ্বিতীয়ত মর্যাদাপূর্ণ ও সম্মানিত জীবনের সন্ধানে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করার সাহসিকতা নিয়ে এবং তৃতীয়ত কিসরা ও কায়সারদের জুলুম নির্মূল করে তাদের শাসনে পিষ্ট জাতিসমূহকে জয় করার লক্ষ্যে। সুতরাং আকিদা এবং হকের আলোর সাথে লড়াইয়ের প্রস্তুতিই তাদের জন্য পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময় আল্লাহর সাহায্য বয়ে এনেছিল।কেবল আকিদাই কুতাইবা ইবনে মুসলিমকে উদ্বুদ্ধ করেছিল যেন তিনি তার মুমিন বাহিনী নিয়ে আরবের ভূমি থেকে চীনের সীমানা পর্যন্ত অগ্রসর হন। তিনি মাওয়ারাননহর ও ভারতের ভূখণ্ড অতিক্রম করেছিলেন একজন হিদায়াতকারী, মুমিন ও মুজাহিদ হিসেবে; যার অন্তরে ছিল ঈমান এবং হাতে ছিল এক তীক্ষ্ণ তরবারি, যা শিরক ও মূর্খতার অন্ধকারকে বিদীর্ণ করছিল।আর এই যে মূসা ইবনে নুসাইর এবং তার প্রধান সেনাপতি মুমিন তারেক ইবনে জিয়াদ; তিনি উত্তর আফ্রিকা পাড়ি দিয়ে মাগরিব পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন। এরপর তার বাহিনী নিয়ে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে আন্দালুসিয়ার উপকূলে উপনীত হন এবং নিজের জাহাজগুলো পুড়িয়ে ফেলেন। তখন তার ও তার সৈন্যদের জন্য কেবল উদ্বুদ্ধকারী ঈমানি আকিদা এবং কোষমুক্ত যুদ্ধের তরবারি ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট ছিল না। তিনি ঈমানের শক্তিতে এবং অন্তরের সত্যের তাগিদে বলেছিলেন: "শত্রু তোমাদের সামনে, আর সমুদ্র তোমাদের পেছনে।" এর মাধ্যমে তিনি তাদের মধ্যে ঈমান, আত্মত্যাগ ও সাহসিকতার চেতনা সঞ্চার করেছিলেন।অতঃপর তারা ঈমান ও আকিদার শক্তি এবং নেতৃত্বের দৃঢ়তায় আন্দালুসিয়ার ভূমিতে বিজয়, আবাদ ও সত্য ও ঈমানের পতাকা উত্তোলনের উদ্দেশ্যে অগ্রসর হন। তার পিছু পিছু তার প্রধান মূসা ইবনে নুসাইরও ভিন্ন পথে অগ্রসর হন। কিন্তু এই মহান বিজয়ী বাহিনীর পশ্চাতে থাকাদের মনে গনিমতের লোভ মুমিন সৈন্য ও অভিজ্ঞ সেনাপতিকে টেনে ধরছিল,
(খণ্ড: ১)
বাইনাল আকীদাতি ওয়াল কিয়াদাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
ويذهب هذه الجولة التي أدخلت الإسلام في غصنه الرطيب الأندلسي، وتجيء من بعد ذلك جولات بقيادات معتقدة مؤمنة، حتى يصل عبد الرحمن الغافقي بجند الإسلام إلى جنوب فرنسا ويصاقب وسطها؛ ولكن يجيء الجزر بعد المد، ويقف الغزو، لأن النفوس قد عراها التردد، بعد الاعتقاد، والطمع بعد الإيمان، والانغماس في الشهوات، بعد العزيمة القوية، والضبط الكامل، والصبر الناصر.11 - عندما خلت نفوس القواد من العقيدة، وصار الذي يحرك القائد حب الغلب وحب السلطان، وتنازعوا أمرهم، وصار بأسهم بينهم شديداً، تحسبهم جميعاً وقلوبهم شتى، وظهرت النزعات الإقليمية؛ عندما كان ذلك، صار المسلمون يُغزَون، ولا يفتحون، وصاروا يُرامون ممن كانوا هم يفتحون بلادهم.كانت الحروب الصليبية في الشرق، وأخذوا بيت المقدس، فعندئذ تحركت همم بعض القواد، وتقدم جند مؤمنون بقيادة قواد يؤمنون ويعتقدون ويذعنون لأمر الله ونهيه.تقدم محمود نور الدين الزنكي، وكان مؤمناً، كثير الركوع قانتاً عابداً ضارعاً، فأخذ وجه الحرب يتغير، وتكاتفت جنود أوروبا بملوكها.وحمل الراية معه ومن بعده يوسف صلاح الدين الأيوبي، وبقوة إيمانه وإخلاصه جمع العرب، وقادهم بقوة العقيدة، وحكمة القيادة والشرف العسكري، حتى استرد بيت المقدس من غاصبيه؛ وقد ذكر كل ذلك القائد المؤمن اللواء الركن محمود شيت خطاب في بيان رائع،
আন্দালুসের সজীব ও সতেজ শাখায় ইসলামকে প্রবেশ করানো এই অভিযানটি অতিক্রান্ত হয় এবং এরপর ঈমানদার ও আকিদাবান নেতৃত্বের অধীনে আরও অনেক অভিযান পরিচালিত হয়, এমনকি আব্দুর রহমান আল-গাফেকি ইসলামের সৈন্যবাহিনী নিয়ে দক্ষিণ ফ্রান্সে পৌঁছান এবং এর মধ্যাঞ্চলের নিকটবর্তী হন। কিন্তু জোয়ারের পর ভাটা আসে এবং বিজয় অভিযান থেমে যায়; কারণ বিশ্বাসের পর অন্তরে দ্বিধা, ঈমানের পর লোভ এবং দৃঢ় সংকল্প, পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও বিজয়ী ধৈর্যের পর কামনার সাগরে নিমজ্জিত হওয়ার প্রবৃত্তি দেখা দিয়েছিল।১১ - যখন সেনাপতিদের অন্তর আকিদা বা বিশ্বাসশূন্য হয়ে পড়ল এবং বিজয় ও ক্ষমতার মোহ সেনাপতিদের চালিকাশক্তি হয়ে দাঁড়াল, তারা নিজেদের মধ্যে বিবাদে লিপ্ত হলো এবং তাদের পারস্পরিক শত্রুতা তীব্র আকার ধারণ করল—তুমি তাদের ঐক্যবদ্ধ মনে করবে কিন্তু তাদের অন্তর ছিল বিচ্ছিন্ন—এবং আঞ্চলিকতাবাদ প্রকাশ পেল; যখন এমন পরিস্থিতি হলো, তখন মুসলিমরা আক্রান্ত হতে লাগল, তারা আর বিজয়ী হতে পারল না এবং যাদের দেশ তারা ইতিপূর্বে জয় করেছিল, তাদের পক্ষ থেকেই তারা নিগৃহীত হতে শুরু করল।প্রাচ্যে তখন ক্রুসেড যুদ্ধ চলছিল এবং তারা বায়তুল মাকদিস দখল করে নিয়েছিল; এমতাবস্থায় কিছু সেনাপতির সংকল্প জাগ্রত হলো এবং এমন কিছু সেনাপতির নেতৃত্বে মুমিন সৈন্যরা এগিয়ে এল যারা ঈমান রাখত, আকিদা পোষণ করত এবং আল্লাহর আদেশ ও নিষেধের পূর্ণ অনুগত ছিল।মাহমুদ নূরুদ্দিন জানকি সামনে এগিয়ে এলেন, তিনি ছিলেন একজন মুমিন এবং অধিক রুকুকারী, অনুগত ইবাদতকারী ও রোনাজারি করা প্রার্থনাকারী। ফলে যুদ্ধের মোড় ঘুরে যেতে শুরু করল, যদিও ইউরোপের সৈন্যরা তাদের রাজাদের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল।তাঁর সাথে এবং তাঁর পরে ইউসুফ সালাহউদ্দিন আইয়ুবী এই ঝাণ্ডা বহন করেন। তিনি তাঁর ঈমানি শক্তি ও ইখলাসের মাধ্যমে আরবদের ঐক্যবদ্ধ করেন এবং আকিদার শক্তি, নেতৃত্বের প্রজ্ঞা ও সামরিক মর্যাদার মাধ্যমে তাদের পরিচালিত করেন, এমনকি শেষ পর্যন্ত দখলদারদের হাত থেকে বায়তুল মাকদিস পুনরুদ্ধার করেন। মুমিন সেনাপতি মেজর জেনারেল মাহমুদ শিত খাত্তাব এক চমৎকার বর্ণনায় এই সমস্ত বিষয় উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
বাইনাল আকীদাতি ওয়াল কিয়াদাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وأسلوب حكيم، وكأنه يقول للناس اليوم: "مَن لنا بقائد معتقد مؤمن يصنع ما صنع صلاح الدين. وقد كان أمام صلاح الدين جند صليبي، وملوك أقوياء؛ ونحن الآن أمامنا من لُعِنوا في الدنيا والآخرة، ومَن ضربت عليهم الذلة أينما ثُقفوا، فمن لنا بمن يجمع بين العقيدة والقيادة؟ اللهم هيىء لنا من أمرنا رشداً".12 - ولقد كانت والصليبية تضرب، وإن تكسرت رماحها، غزوة التتار الذين انحطوا كالصخرة من الصين إلى أرض الإسلام، لا يلوون على شيء إلا حطموه، ولا على صالح إلا أفسدوه، ولا على أرض طيبة إلا جعلوا عاليها سافلها.انسابوا في البلاد الإسلامية، وأزالوا الخلافة من بغداد.ولكن (قطز) بالعقيدة والإيمان، والقيادة الحكيمة: حَطَّم صخرتهم في (عين جالوت)، وجعل السيوف تعمل في أقفيتهم، لأول مرة من اندفاعهم المنتصر السريع.وتوالت هجماتهم، ولكن توالى مع ذلك في دفعهم القواد المؤمنون، ومن أعظمهم إيماناً السلطان الناصر قلاوون الذي كان يحمل السيف في أحد أجنحة الحرب مع اللواء شيخ الإسلام تقي الدين بن تيمية، الفقيه السلفي، الذي ينير قلوب الجند في الميدان.13 - وإن القائد المؤمن اللواء الركن محمود شيت خطاب يبين أنه في وسط الجو الذي كما وقف فيه المسلمون وقفة المدافعين عن أرضهم ودينهم، بزغ نجم قوي يهاجم، ولا ينتظر حتى يدافع، لأنه قال علي كرم الله وجهه: خير الدفاع ما كان هجوماً.
এবং এক বিজ্ঞ পদ্ধতি, যেন তিনি আজ মানুষকে বলছেন: "আমাদের জন্য এমন একজন বিশ্বাসী আকিদাধারী নেতা কোথায়, যিনি সালাহুদ্দিন যা করেছিলেন তা করবেন? সালাহুদ্দিনের সামনে ছিল ক্রুসেডার বাহিনী এবং শক্তিশালী রাজন্যবর্গ; আর এখন আমাদের সামনে রয়েছে তারা যারা দুনিয়া ও আখেরাতে অভিশপ্ত এবং যাদের ওপর লাঞ্ছনা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে যেখানেই তাদের পাওয়া যায়। সুতরাং আমাদের জন্য এমন কে আছে যে আকিদা ও নেতৃত্বের সমন্বয় ঘটাবে? হে আল্লাহ, আমাদের জন্য আমাদের কাজে সঠিক পথের ব্যবস্থা করে দিন।"১২ - ক্রুসেডারদের আঘাত যখন চলছিল, যদিও তাদের বর্শা ভেঙে গিয়েছিল, তখন তাতারদের আক্রমণ শুরু হলো যারা চীনের দিক থেকে ইসলামি ভূমিতে পাথরের মতো ধসে পড়েছিল। তারা যা কিছুরই সম্মুখীন হয়েছে তা চূর্ণ-বিচূর্ণ করেছে, কোনো কল্যাণকর বস্তুকে বিনষ্ট না করে ছাড়েনি এবং কোনো পবিত্র ভূমিকে লণ্ডভণ্ড না করে অবশিষ্ট রাখেনি।তারা ইসলামি ভূখণ্ডসমূহে ছড়িয়ে পড়ল এবং বাগদাদ থেকে খিলাফতের অবসান ঘটাল।কিন্তু (কুতুজ) আকিদা, ঈমান ও বিজ্ঞ নেতৃত্বের মাধ্যমে ‘আইন জালুত’-এ তাদের সেই পাথরসদৃশ শক্তিকে চূর্ণ করে দিলেন এবং তাদের দ্রুত বিজয়ী অগ্রযাত্রার পর প্রথমবারের মতো তাদের পশ্চাদ্দেশ থেকে তলোয়ারের আঘাত হানলেন।তাদের হামলা অব্যাহত ছিল, কিন্তু সেই সাথে তাদের প্রতিরোধে মুমিন সেনাপতিদের ধারাও বজায় থাকল। তাদের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ ঈমানদার ছিলেন সুলতান নাসির কালাউন, যিনি যুদ্ধের ময়দানের এক পার্শ্বে তরবারি ধারণ করেছিলেন এবং তাঁর সাথে ছিলেন সেনাপতি শায়খুল ইসলাম তাকিউদ্দীন ইবনে তাইমিয়্যাহ—সেই সালাফি ফকিহ, যিনি রণক্ষেত্রে সৈন্যদের অন্তরসমূহকে আলোকিত করছিলেন।১৩ - আর মুমিন সেনাপতি মেজর জেনারেল মাহমুদ শীত খাত্তাব বর্ণনা করেন যে, এমন এক পরিস্থিতির মাঝে যেখানে মুসলমানরা তাদের ভূমি ও দ্বীন রক্ষার জন্য প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে দাঁড়িয়েছিল, সেখানে এক শক্তিশালী নক্ষত্রের উদয় ঘটল যে আক্রমণ করে এবং প্রতিরক্ষার অপেক্ষায় বসে থাকে না। কারণ আলী (আল্লাহ তাঁর মুখমণ্ডলকে সম্মানিত করুন) বলেছেন: সর্বোত্তম প্রতিরক্ষা হলো আক্রমণ।
(খণ্ড: ১)
বাইনাল আকীদাতি ওয়াল কিয়াদাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
ذلكم النجم الذي سطع في هذا الديجور هو (محمد الفاتح)، الذي فتح القسطنطينية، وقد رامها من قبل معاوية بن أبي سفيان وملوك بني أمية من بعده، ورامها العباسيون في صدر دولتهم.جاء محمد الفاتح فافتتحها، ودخل الإسلام في ربوع أوروبا من الشرق، كما دخلها في الأندلس من الغرب، وما كان ذلك إلا بقوة إيمانه؛ وكان يدفع قيادته عقيدة قوية جعلته يذعن لما أمر الله تعالى به فيأتمر، وينهاه عنه فينتهي.وجاء من بعد ذلك دخول الإسلام شرق أوروبا في بلاد البلقان.ولما تخلى القواد الأتراك عن الاعتقاد، وعن تسربلهم سربال التقوى في حروبهم، وصار مقصدهم أن تزداد رقعة سلطانهم؛ تخلى عنهم النصر جزاء بما كسبوا.أما بعد، فكتاب صديقنا العظيم اللواء الركن محمود شيت خطاب، كتاب حق وصدق؛ يرشد القواد، ويعلِّم الجند، ويهدي إلى الرشاد. وما أحوج المسلمين والعرب إلى أن يدرسوا ما فيه ويغترفوا مغازيه. وقد ضرب الأمثال الرائعة وجمع الأدلة المقنعة من هنا وهناك في كتابه القيم ليدركه كل معتبِر، ويستبصر به كل مستبصِر؛ والقيادات في أشد الحاجة للأخذ بتعليمه، والسير على نهجه.اللهم احفظ للمسلمين وللعرب ذلك القائد هادياً ومعلماً، وأمدّ في أجله .. والله تعالى هو الهادي إلى سواء السبيل. محَمّد أبو زَهرَة
সেই উজ্জ্বল নক্ষত্র, যা এই ঘোর অন্ধকারে উদিত হয়েছিল, তিনি হলেন (মুহাম্মদ আল-ফাতিহ), যিনি কনস্টানটিনোপল জয় করেছিলেন। ইতিপূর্বে মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান এবং তাঁর পরবর্তী উমাইয়া রাজগণ এটি জয়ের আকাঙ্ক্ষা করেছিলেন, আর আব্বাসীয়রাও তাঁদের শাসনের প্রথমাংশে এর সঙ্কল্প করেছিল।মুহাম্মদ আল-ফাতিহ আসলেন এবং এটি জয় করলেন। ফলে ইউরোপের পূর্বাঞ্চল দিয়ে সেখানে ইসলামের প্রবেশ ঘটল, যেমনটি পশ্চিমাঞ্চল দিয়ে আন্দালুসে প্রবেশ করেছিল। আর তা সম্ভব হয়েছিল কেবল তাঁর ঈমানের শক্তির বদৌলতে; তাঁর নেতৃত্ব পরিচালিত হয়েছিল এক সুদৃঢ় আকিদার মাধ্যমে, যা তাঁকে আল্লাহ তাআলার আদেশের সামনে অবনত করেছিল—ফলে তিনি তা পালন করতেন এবং যা থেকে তিনি নিষেধ করেছেন তা থেকে বিরত থাকতেন।এরপর পূর্ব ইউরোপের বলকান রাষ্ট্রসমূহে ইসলামের পদযাত্রা শুরু হয়।কিন্তু যখন তুর্কি সেনাপতিরা আকিদা এবং তাঁদের যুদ্ধবিগ্রহে তাকওয়ার ভূষণ পরিত্যাগ করল, আর তাঁদের লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ালো কেবল নিজেদের রাজত্বের সীমানা বৃদ্ধি করা; তখন তাঁদের কৃতকর্মের প্রতিফল হিসেবে বিজয় তাঁদের ছেড়ে চলে গেল।অতঃপর, আমাদের মহান বন্ধু মেজর জেনারেল মাহমুদ শীত খাত্তাবের এই কিতাবটি একটি সত্য ও নিষ্ঠাপূর্ণ গ্রন্থ; এটি সেনাপতিদের পথপ্রদর্শন করে, সৈনিকদের শিক্ষা দান করে এবং সঠিক পথের দিশা দেয়। মুসলিম ও আরবদের জন্য এই কিতাবে যা রয়েছে তা অধ্যয়ন করা এবং এর মর্মার্থ অনুধাবন করা আজ কতই না প্রয়োজন! তিনি তাঁর এই মূল্যবান গ্রন্থে চমৎকার সব উদাহরণ পেশ করেছেন এবং বিভিন্ন স্থান থেকে অকাট্য সব দলিল সংগ্রহ করেছেন, যাতে প্রত্যেক উপদেশ গ্রহণকারী তা উপলব্ধি করতে পারে এবং প্রত্যেক দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তি এর দ্বারা অন্তর্দৃষ্টি লাভ করতে পারে। বর্তমান নেতৃত্ব এর শিক্ষা গ্রহণ করা এবং এর পদাঙ্ক অনুসরণের ক্ষেত্রে চরম মুখাপেক্ষী।হে আল্লাহ! মুসলিম ও আরবদের জন্য এই নেতাকে পথপ্রদর্শক ও শিক্ষক হিসেবে সংরক্ষিত রাখুন এবং তাঁর হায়াত বৃদ্ধি করে দিন। আর আল্লাহ তাআলাই সঠিক পথের দিশারী। মুহাম্মদ আবু জাহরা
(খণ্ড: ১)
বাইনাল আকীদাতি ওয়াল কিয়াদাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
بسم الله الرحمن الرحيم مقَدمَة المؤلفْ(1)الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على الرسول القائد، وعلى آله وأصحابه أجمعين.تتابعت أسئلة قائد السرية التي انتسبت إليها، في أول لقاء به، وأول يوم رأيته وتعرفت إليه: "هل تعاقر الخمر؟ هل تلعب الميسر؟ هل تغازل الغيد الحسان"؟.وتكرر جوابي على أسئلته المتعاقبة بالنفي، فظهرت على وجهه بوادر خيبة الأمل، وندب حظه العاثر لالتحاقي بسريته، ثم عبس وتولىّ وهو يقول: "لماذا أصبحتَ ضابطاً؟! ولماذا اخترت سلاح الفرسان؟! ولماذا تعيش؟! الأفضل لك أن تموت".كان ذلك أول درس عملي تلقيته من قائد سريتي، في أول يوم من حياتي العسكرية العملية في الوحدات العاملة، ثم توالت عليّ الدروس المماثلة كاللحن المكرر يعاد على مسامعي صباح مساء.ولم أباغت بما سمعته من قائد السرية، فقد تكاثرت عليّ نصائح
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। লেখকের ভূমিকা(১)সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক সেনাপতি রাসুলের ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীর ওপর।আমি যে সৈন্যদলে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিলাম, তার কমান্ডারের সাথে প্রথম সাক্ষাতে এবং তাকে দেখা ও চেনার প্রথম দিনে তিনি একের পর এক প্রশ্ন করতে লাগলেন: "তুমি কি মদ্যপান করো? তুমি কি জুয়া খেলো? তুমি কি সুন্দরী রমণীদের সাথে প্রেম নিবেদন করো?"তার ক্রমাগত প্রশ্নগুলোর জবাবে আমি বারবার না-সূচক উত্তর দিলাম। এতে তার চেহারায় নিরাশার চিহ্ন ফুটে উঠল এবং আমার মতো একজন তার দলে যোগ দেওয়ার কারণে তিনি নিজের দুর্ভাগ্যকে দোষারোপ করতে লাগলেন। এরপর তিনি ভ্রুকুটি করলেন ও মুখ ফিরিয়ে নিলেন এবং বলতে লাগলেন: "তুমি কেন অফিসার হলে?! কেন তুমি অশ্বারোহী বাহিনী বেছে নিলে?! আর তুমি কেনই বা বেঁচে আছো?! তোমার জন্য মরে যাওয়াই উত্তম।"সক্রিয় ইউনিটে আমার কর্মমুখর সামরিক জীবনের প্রথম দিনে আমার কোম্পানি কমান্ডারের কাছ থেকে পাওয়া এটিই ছিল প্রথম ব্যবহারিক শিক্ষা। এরপর সকাল-সন্ধ্যা পুনরাবৃত্তি হওয়া সুরের মতো অনুরূপ পাঠগুলো আমার কানে বারবার বাজতে লাগল।কোম্পানি কমান্ডারের কাছ থেকে যা শুনলাম তাতে আমি মোটেও বিস্মিত হইনি, কারণ আমার কাছে উপদেশের আধিক্য ছিল...
(খণ্ড: ১)
বাইনাল আকীদাতি ওয়াল কিয়াদাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
المجربين منذ اعتزمت الالتحاق بالكلية العسكرية: أن أبتعد عن تعاليم الدين الحنيف، وأكيِّف نفسي لتلائم مناخ العسكريين.وبعد تخرجي ضابطاً في الكلية العسكرية سنة 1938، التحقتبمدرسة الخيالة في بغداد، فانهالت عليّ الدعوات الشخصية الرسمية التييسيل الخمر فيها أنهاراً، وانهالت معها عَلَيَّ النصائح والانتقادات؛وكان اعتذاري عن حضور تلك الحفلات يقابَل بالنقد اللاذع والسخطالمرير.ولكنني كنت أتلقى النصح تارة والنقد تارة أخرى، من لِداتي الذين لم يتجاوزوا العشرين وهم شباب في عمر الورد، لا ينقصهم المال والفراغ؛ ولم كن أتوقع أبداً أن أسمع نفس النصح أو النقد من قائد سرية تجاوز الأربعين من عمره، وأمضى في الخدمة العسكرية ما يزيد على العشرين عاماً!!.وشاء القدر ألا يطول استغرابي من تصرف قائد السرية، لأنني وجدت تصرَّف قائد الكتيبة نحوي، وهو الذي تجاوز الخمسين من عمره، وكان ضابطاً مخضرماً قضى شطراً من خدمته العسكرية في الجيش العثماني وشهد الحرب العالمية الأولى، لا يختلف في شيء عن تصرف قائد السرية نحوي، كلاهما يأمر بالمنكر وينهى عن المعروف.وكان من تقاليد الجيش أن تولم الوحدات لضباطها الجدد وليمة، تطلق عليها اسم: "وليمة التعارف والاستقبال"، تقدم فيها الخمر مع ما لذَّ وطاب من الأطعمة الشهية، وقد يصاحب ذلك أنغام الموسيقى والرقص زيادة في الحفاوة والتكريم!.
যখন থেকে আমি সামরিক কলেজে যোগ দেওয়ার সংকল্প করলাম, অভিজ্ঞদের পক্ষ থেকে আমি এই পরামর্শই পাচ্ছিলাম যে: আমি যেন এই নিষ্ঠাপূর্ণ দ্বীনের শিক্ষা থেকে দূরে সরে যাই এবং নিজেকে সামরিক পরিবেশের উপযোগী করে গড়ে তুলি।১৯৩৮ সালে সামরিক কলেজ থেকে অফিসার হিসেবে স্নাতক হওয়ার পর, আমি যোগ দিলামবাগদাদের অশ্বারোহী বিদ্যালয়ে; সেখানে আমার ওপর ব্যক্তিগত ও সরকারি দাওয়াতের বর্ষণ শুরু হলো যাতেমদের নহর বয়ে যেত, আর সেই সাথে আমার ওপর বর্ষিত হতে লাগল উপদেশ ও সমালোচনাও;ঐ সমস্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত না হওয়ার জন্য আমার অপারগতা প্রকাশ করা তীব্র সমালোচনা ও তিক্তঅসন্তোষের সম্মুখীন হতো।তবে আমি কখনও উপদেশ আবার কখনও সমালোচনা পাচ্ছিলাম আমার সমবয়সীদের কাছ থেকে, যাদের বয়স বিশ পার হয়নি এবং যারা ছিল প্রস্ফুটিত তারুণ্যের অধিকারী; যাদের অর্থ ও অবসরের কোনো অভাব ছিল না। কিন্তু আমি কখনও আশা করিনি যে, একই ধরণের উপদেশ বা সমালোচনা আমি একজন কোম্পানি কমান্ডারের কাছ থেকে শুনব যার বয়স চল্লিশের বেশি এবং সামরিক চাকুরিতে বিশ বছরেরও বেশি সময় অতিবাহিত করেছেন!!তাকদিরের ইচ্ছায় কোম্পানি কমান্ডারের আচরণে আমার এই বিস্ময় বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না; কারণ আমি আমার প্রতি ব্যাটালিয়ন কমান্ডারের আচরণও তেমনই দেখতে পেলাম। তাঁর বয়স ছিল পঞ্চাশের বেশি এবং তিনি ছিলেন একজন প্রবীণ অফিসার যিনি তাঁর সামরিক চাকুরির একটি অংশ উসমানীয় সেনাবাহিনীতে কাটিয়েছেন এবং প্রথম বিশ্বযুদ্ধ প্রত্যক্ষ করেছেন। আমার প্রতি তাঁর আচরণ কোম্পানি কমান্ডারের আচরণের চেয়ে মোটেও ভিন্ন ছিল না; তাঁরা উভয়েই মন্দ কাজের আদেশ দিচ্ছিলেন এবং ভালো কাজে বাধা দিচ্ছিলেন।সেনাবাহিনীর একটি ঐতিহ্য ছিল যে, ইউনিটগুলো তাদের নতুন অফিসারদের জন্য একটি ভোজের আয়োজন করত, যার নাম দেওয়া হতো: "পরিচিতি ও অভ্যর্থনা ভোজ"। সেখানে সুস্বাদু সব খাবারের সাথে মদ পরিবেশন করা হতো; আর আতিথেয়তা ও সম্মান প্রদর্শনের আতিশয্যে তার সাথে কখনও কখনও বাদ্যযন্ত্রের সুর ও নাচও যোগ করা হতো!
(খণ্ড: ১)
বাইনাল আকীদাতি ওয়াল কিয়াদাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
واستدعاني قائد السرية قبيل انتهاء الدوام الرسمي، وبلّغني بأن الكتيبة ستقيم وليمة التعارف والاستقبال في دار الضباط مساء؛ فلم أستطع التخلف عن حضورها، لأنها أقيمت من أجلي وأجل خمسة ضباط آخرين جدد، هم زملاء دورتي في الكلية العسكرية ومدرسة الخيالة.وقبل أن يسمح لي قائد السرية بالانصراف، غمز عينيه وهو يبتسم ابتسامة الواثق بنفسه ويقول: "لعلك تراجع فكرك اليوم، ولعلني أهديك إلى سر الحياة".وشهدتُ الحفلة مع زملائي في الوقت الموعود، وقَدِمَ قائد الكتيبة يتبختر، فاستقبله الضباط وقوفاً، ثم قَدّم إليه قادة السرايا ضباطهم الجدد، وقدَّمني قائد سريتي قائلاً: "الملازم ضابط خام، يدعي أنه لم يذق طعم الخمر في حياته".وقال قائد الكتيبة: "كيف يكون في سلاح الفرسان ولا يعاقرالخمر؟! هذا غير معقول".وتحرَّج موقفي، وتجمّع الضباط من حولي يرجونني ويطالبونني، ثم يلحون ويلحون، وجاء قائد الكتيبة وقد ملأ كاساً بالخمر، وأمر أن أبدأ صفحة جديدة من حياتي العسكرية بشرب المدام، وأن أتخلى عن تزمُّتي لأصبح ضابطاً حقاً … ثم أقسم بشرفه العسكري أن أفعل، وأقسم قائد سريتي ألا أرد يد القائد الهمام!.وكان الليل البهيم قد أرخى سدوله، وكانت السماء صافية تتلألأ على صفحاتها النجوم، وكانت مياه (دجلة) تعكس النجوم فتزيدها بهاءً ورونقاً.
সরকারি দাপ্তরিক সময় শেষ হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে কোম্পানি কমান্ডার আমাকে ডেকে পাঠালেন এবং জানালেন যে, ব্যাটালিয়ন সন্ধ্যায় অফিসার্স ক্লাবে একটি পরিচিতি ও অভ্যর্থনা ভোজের আয়োজন করবে। আমি সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত না হয়ে পারলাম না, কারণ এটি আমার এবং আরও পাঁচজন নতুন অফিসারের সম্মানে আয়োজন করা হয়েছিল, যারা সামরিক কলেজ এবং অশ্বারোহী স্কুলে আমার কোর্সের সহপাঠী ছিল।কোম্পানি কমান্ডার আমাকে বিদায় দেওয়ার আগে আত্মবিশ্বাসের সাথে হাসিমুখে চোখ টিপে বললেন, "হয়তো আজ তুমি তোমার চিন্তা পরিবর্তন করবে, আর সম্ভবত আমি তোমাকে জীবনের রহস্যের সন্ধান দেব।"আমি নির্ধারিত সময়ে সহকর্মীদের সাথে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হলাম। ব্যাটালিয়ন কমান্ডার সদম্ভে হেঁটে আসলেন এবং অফিসাররা দাঁড়িয়ে তাঁকে অভ্যর্থনা জানালেন। এরপর কোম্পানি কমান্ডারগণ তাঁদের নতুন অফিসারদের তাঁর সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন। আমার কোম্পানি কমান্ডার আমার পরিচয় দিয়ে বললেন, "এই সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট একজন কাঁচা অফিসার, সে দাবি করছে যে জীবনে কখনো মদের স্বাদ গ্রহণ করেনি।"ব্যাটালিয়ন কমান্ডার বললেন, "অশ্বারোহী বাহিনীতে থেকে কেউ মদ পান করবে না, এটা কীভাবে সম্ভব?! এটা অবিশ্বাস্য।"আমার অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ল। অফিসাররা আমার চারপাশে ভিড় করে অনুরোধ ও দাবি জানাতে লাগল, এরপর তারা বারবার পিড়াপিড়ি করতে থাকল। ব্যাটালিয়ন কমান্ডার একটি গ্লাস মদ দিয়ে পূর্ণ করে এগিয়ে এলেন এবং আদেশ দিলেন যেন আমি শরাব পানের মাধ্যমে আমার সামরিক জীবনের এক নতুন অধ্যায় শুরু করি এবং আমার গোঁড়ামি ত্যাগ করে একজন প্রকৃত অফিসার হই … এরপর তিনি তাঁর সামরিক সম্মানের শপথ করে বললেন আমি যেন তা করি, আর আমার কোম্পানি কমান্ডার শপথ করলেন যে আমি যেন এই বীর কমান্ডারের হাত ফিরিয়ে না দিই।গাঢ় অন্ধকার রাত তখন তার পর্দা নামিয়ে দিয়েছে, আকাশ ছিল পরিষ্কার এবং তার বুকে নক্ষত্ররাজি ঝিকমিক করছিল। দজলা নদীর পানি নক্ষত্রগুলোর প্রতিফলন ঘটাচ্ছিল, যা তাদের সৌন্দর্য ও উজ্জ্বলতা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছিল।