(খণ্ড: ১)
ফিকহুন নিকাহ ওয়াল ফারাঈদ
(পৃষ্ঠা: -)
فقه النكاح والفرائض القسم: الفرائض والوصايا
الكتاب: فقه النكاح والفرائض
المؤلف: محمد عبد اللطيف قنديل
الناشر: -
الطبعة: -
عدد الصفحات: 364
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
বিবাহ ও ফারায়েজের ফিকহ বিভাগ: ফারায়েজ ও ওসিয়তসমূহ
বই: বিবাহ ও ফারায়েজের ফিকহ
লেখক: মুহাম্মদ আব্দুল লতিফ কান্দিল
প্রকাশক: -
সংস্করণ: -
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৬৪
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
ফিকহুন নিকাহ ওয়াল ফারাঈদ
(পৃষ্ঠা: ১)
ال
مقدمة:التمهيد:
الحمد لله الذي هدانا للإسلام، وأنعم علينا بنعمة الإيمان الصلاة والسلام على رسول الله صلى الله عليه وسلم وعلى آله وصحبه ومن اهتدى بهديه وصار على نهجه بإحسان إلى يوم الدين.
وبعد؛
فإن الشريعة الإسلامية قد امتازت عن الشرائع السماوية السابقة لكونها أوفى الشرائع بتحقيق مصالح العباد وإسعادهم، وقد جعلها الحق سبحانه وتعالى خاتمة الشرائع لما اشتملت عليه من مروه ويسر، وبما تضمنته من قواعد كلية ومبادئ عامة تتفق مع طبائع البشر في كل بيئة وعصر، فقد رفعت الأغلال عن كاهل العباد وكونت منهم أمة سجل التاريخ لها آيات مشرقة وصحائف خالدة، وقضت بتعاليمها الربانية السمحة على كل ما كان يعانيه العالم من ظلم وذل وإرهاق فأخرجت الناس من ظلمات الجهل إلى نور المعرفة، وهدت العباد إلى طريق الله المستقيم.
لذا كان لزاما على علماء هذه الأمة الذين هم ورثة الأنبياء أن يبينوا دقائق هذه الشريعة الغراء وأصولها للناس في كل مناحي الحياة.
ونظرا لأن الزواج معنى جُبل عليه الإنسان لتكوين الأسر التي هي لبنة من لبنات المجتمع، وهذا أمر دعت إليه جميع الشرائع والأديان لما يترتب عليه من المحافظة على الأعراض والأنساب.
ভূমিকা:প্রারম্ভিকা:
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমাদের ইসলামের প্রতি হিদায়াত দিয়েছেন এবং ঈমানের নেয়ামত দ্বারা আমাদের ধন্য করেছেন। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁর হিদায়াত অনুসরণ করবেন ও তাঁর পথে চলবেন তাদের ওপর।
অতঃপর;
নিশ্চয়ই ইসলামী শরীয়ত পূর্ববর্তী আসমানী শরীয়তসমূহের তুলনায় স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত, কারণ এটি বান্দাদের কল্যাণ সাধন ও তাদের সৌভাগ্য নিশ্চিতকরণে সর্বাধিক পূর্ণাঙ্গ শরীয়ত। সত্য ও পবিত্র সত্তা আল্লাহ তাআলা একে সর্বশেষ শরীয়ত হিসেবে নির্ধারণ করেছেন এর নমনীয়তা ও সহজতার কারণে এবং এর অন্তর্ভুক্ত এমন সব মৌলিক নিয়ম ও সাধারণ নীতিমালা রয়েছে যা প্রতিটি পরিবেশ ও যুগে মানব প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এটি বান্দাদের কাঁধ থেকে শৃঙ্খলসমূহ অপসারিত করেছে এবং তাদের নিয়ে এমন এক উম্মাহ গঠন করেছে যার জন্য ইতিহাস উজ্জ্বল নিদর্শন ও অমর অধ্যায়সমূহ লিপিবদ্ধ করেছে। এটি তার উদার রব্বানী শিক্ষার মাধ্যমে বিশ্ব যে জুলুম, লাঞ্ছনা ও নিপীড়নের শিকার ছিল তা দূর করেছে, ফলে মানুষকে অজ্ঞতার অন্ধকার থেকে জ্ঞানের আলোর দিকে বের করে এনেছে এবং বান্দাদের আল্লাহর সরল পথের দিশা দিয়েছে।
তাই এই উম্মতের আলেমগণ, যারা নবীদের উত্তরাধিকারী, তাদের জন্য আবশ্যক ছিল জীবনের সকল ক্ষেত্রে মানুষের কাছে এই উজ্জ্বল শরীয়তের সূক্ষ্ম বিষয়াবলী ও এর মূলনীতিসমূহ বর্ণনা করা।
যেহেতু বিবাহ এমন একটি বিষয় যার প্রতি মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি রয়েছে পরিবার গঠনের উদ্দেশ্যে, যা সমাজের একেকটি ভিত্তিপ্রস্তর; আর এটি এমন এক বিষয় যার দিকে সকল শরীয়ত ও ধর্ম আহ্বান জানিয়েছে, কারণ এর মাধ্যমেই সম্মান ও বংশধারা সংরক্ষিত হয়।
(খণ্ড: ১)
ফিকহুন নিকাহ ওয়াল ফারাঈদ
(পৃষ্ঠা: ২)
لذا كان هذا العقد من أهم العقود خطرا وأرفعها قدرا لأنه به يجمع الشمل ويتم الشوق وتتكون الأسرة التي هي نواة المجتمع الإنساني ويتم الترابط بين الأسر، ومن ثم فإنه يشترط فيه ما لا يشترط في غيره من اشتراط الولي والإشهاد والإعلان بين الناس حيث يقول صلى الله عليه وسلم: "كل نكاح لم يحضره أربعة فهو سفاح، خاطب، وولي، وشاهدي عدل".
ويقول أيضا: "أعلنوا النكاح ولو بالدف".
فالشارع الحكيم إحطاط لهذا العقد ما لم يحطاط لغيره من سائر العقود، فمن أجل ذلك أبيح فيه الضرب بالدف وإظهار معالم البشر والسرور في جو إسلامي كله طهر وبهجة وعفاف.
وإنني بتوفيق من المولى جل جلاله في هذه المحاضرات سأتناول الحديث عن النكاح، والطلاق، والخلع، والرجعة، والعدة، والإيلاء، والظهار، والكفارة، واللعان، والفرائض.
وحيث إن الدراسة معظمها إن لم تكن كلها من مظاهر تكريم الإسلام للمرأة فإنني سأقدم لهذه الدراسة بذكر حال المرأة قبل الإسلام وبعده بإيجاز أملا في أن تعود المرأة المسلمة إلى التمسك بمبادئ دينها ولتعلم أن الإسلام كرمها في جميع مناحي حياتها، ليكون علمها بذل حجة عليها أمام الله عز وجل مستعينا بالله وحده راجيا منه العون والتوفيق، وأن يجعل هذا العمل خالصا لوجهه الكريم إنه ولي ذلك
তাই এই চুক্তিটি গুরুত্বের দিক থেকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং মর্যাদার দিক থেকে সুউচ্চ। কেননা এর মাধ্যমেই বিচ্ছিন্নরা একত্রিত হয়, আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয় এবং পরিবার গঠিত হয় যা মানব সমাজের মূল ভিত্তি, আর এর মাধ্যমেই পরিবারগুলোর মধ্যে বন্ধন সুদৃঢ় হয়। সেই সূত্র ধরেই এই চুক্তিতে এমন কিছু শর্তারোপ করা হয়েছে যা অন্য চুক্তিতে করা হয় না; যেমন অভিভাবকের উপস্থিতি, সাক্ষী রাখা এবং লোকজনের মাঝে ঘোষণা দেওয়া। যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে বিবাহে চারজন উপস্থিত থাকে না তা ব্যভিচার; তারা হলো: বর, অভিভাবক এবং দুজন ন্যায়পরায়ণ সাক্ষী।"
তিনি আরও বলেন: "তোমরা বিবাহের ঘোষণা দাও, এমনকি দফ বাজিয়ে হলেও।"
সুতরাং প্রজ্ঞাময় বিধানদাতা এই চুক্তির সুরক্ষায় এমন সতর্কতা অবলম্বন করেছেন যা অন্য কোনো চুক্তির ক্ষেত্রে করেননি। এই কারণেই এতে দফ বাজানো এবং পবিত্রতা, আনন্দ ও সতীত্বপূর্ণ এক ইসলামী পরিবেশে আনন্দের বহিঃপ্রকাশ ঘটানো বৈধ করা হয়েছে।
আমি মহান রবের তৌফিকে এই লেকচারগুলোতে বিবাহ, তালাক, খুলা, রাজআত, ইদ্দত, ইলা, জিহার, কাফফারা, লিআন এবং উত্তরাধিকার আইন নিয়ে আলোচনা করব।
যেহেতু এই আলোচনার অধিকাংশ—বরং প্রায় পুরোটাই—নারীর প্রতি ইসলামের সম্মান প্রদর্শনের বহিঃপ্রকাশ, তাই আমি এই পর্যালোচনার শুরুতে ইসলাম-পূর্ব ও ইসলাম-পরবর্তী যুগে নারীর অবস্থা সংক্ষেপে উল্লেখ করব। এটি এই প্রত্যাশায় যে, মুসলিম নারী যেন তার দ্বীনের আদর্শ আঁকড়ে ধরার দিকে ফিরে আসে এবং জানতে পারে যে ইসলাম তাকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সম্মানিত করেছে; যাতে তার এই জ্ঞান মহান ও মহিমান্বিত আল্লাহর সামনে তার পক্ষে প্রমাণ স্বরূপ হয়। আমি একমাত্র আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করছি এবং তাঁর নিকটই সহায়তা ও তৌফিক কামনা করছি। তিনি যেন এই কাজটিকে একান্তই তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন। নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক।
(খণ্ড: ১)
ফিকহুন নিকাহ ওয়াল ফারাঈদ
(পৃষ্ঠা: ৩)
والقادر عليه فإن أصبت الهدف المنشود فبتوفيق المولى -جلال جلاله- وإن كانت الأخرى فمن نفسي والشيطان.
"وما توفيقي إلا بالله عليه توكلت وإليه أنيب"
دكتور:
محمد عبد اللطيف محمد قنديل
مدرس الفقه الشافعي بقسم الفقه العام
كلية الدراسات الإسلامية والعربية بنات بالإسكندرية
جامعة الأزهر
এবং এর ওপর তিনি সক্ষম। সুতরাং আমি যদি কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারি তবে তা মহান প্রতিপালকের—তাঁর মহিমা সুউচ্চ—তৌফিকের মাধ্যমেই। আর যদি অন্যথা হয়, তবে তা আমার নিজের এবং শয়তানের পক্ষ থেকে।
“আর আমার তৌফিক কেবল আল্লাহরই সাহায্যে; তাঁরই ওপর আমি ভরসা করেছি এবং তাঁরই অভিমুখী হই”
ডক্টর:
মুহাম্মদ আব্দুল লতিফ মুহাম্মদ কান্দিল
শিক্ষক, শাফিঈ ফিকহ, সাধারণ ফিকহ বিভাগ
ইসলামি ও আরবি শিক্ষা অনুষদ (ছাত্রী শাখা), আলেকজান্দ্রিয়া
আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়
(খণ্ড: ১)
ফিকহুন নিকাহ ওয়াল ফারাঈদ
(পৃষ্ঠা: ৪)
المرأة قبل الإسلام:إننا إذا نظرنا بعين الاعتبار إلى صفحات التاريخ في حال المرأة قبل الإسلام فإننا نجد أن الملل القديمة كانت تنظر إلى المرأة نظرة كلها تحقير وإهانة مما لا يتفق مع آدميتها كإنسانه، بل كانت تعاملها بأبشع أنواع الظلم وتسومها سوء العذاب وتدفع بها نحو الهواية والذل والهوان وإليكم توضيح ذلك.
المرأة عن اليونان:
كان اليونانيون ينظرون إلى المرأة على أنها إنسانة حقيرة مسلوبة الحرية لا حقوق ولا أهلية لها تباع وتشترى في الأسواق، مما أدى إلى انتشار دور البغاء فتبوأ العاهرات والمومسات مكانة عالية، وشاعت الفاحشة بين الرجال والنساء حتى أصبح الزنا أمرا مألوفا غير منكر، وليس ذلك فحسب، بل انتشر بينهم اللواط بين الرجال والشباب انتشار السم في الدم.
ونتيجة لهذا الانحطاط الأخلاقي انهارت هذه الإمبراطورية وكأنها لم تكن شيئا يذكر.
وصدق الله العظيم حيث قال في محكم التنزيل: {وَكَذَلِكَ أَخْذُ رَبِّكَ إِذَا أَخَذَ الْقُرَى وَهِيَ ظَالِمَةٌ إِنَّ أَخْذَهُ أَلِيمٌ شَدِيدٌ} 1.
--------------------------------------------
ইসলামপূর্ব যুগে নারী:আমরা যদি ইসলামপূর্ব যুগে নারীর অবস্থার ইতিহাসের পাতায় গভীরভাবে লক্ষ্য করি, তবে দেখতে পাই যে প্রাচীন জাতিগুলো নারীর প্রতি চরম অবজ্ঞা ও লাঞ্ছনার দৃষ্টিতে দেখত, যা মানুষ হিসেবে তার মানবিকতার সাথে সংগতিপূর্ণ ছিল না। বরং তারা তার সাথে জঘন্যতম জুলুম করত, তাকে নিকৃষ্টতম যাতনা দিত এবং তাকে ধ্বংস, লাঞ্ছনা ও অবমাননার দিকে ঠেলে দিত। নিচে এর বিশদ বিবরণ দেওয়া হলো।
গ্রিকদের নিকট নারী:
গ্রিকরা নারীকে একজন তুচ্ছ মানুষ হিসেবে গণ্য করত, যার কোনো স্বাধীনতা ছিল না, ছিল না কোনো অধিকার বা যোগ্যতা; তাকে হাটে-বাজারে কেনাবেচা করা হতো। এর ফলে বেশ্যালয়গুলো ছড়িয়ে পড়ে এবং দেহপজীবিনী ও গণিকারা উচ্চ মর্যাদা লাভ করে। নারী-পুরুষের মধ্যে অশ্লীলতা এমনভাবে ছড়িয়ে পড়ে যে ব্যভিচার একটি স্বাভাবিক ও অনিন্দনীয় বিষয়ে পরিণত হয়। শুধু তাই নয়, বরং পুরুষ ও যুবকদের মধ্যে সমকামিতা রক্তের বিষের মতো ছড়িয়ে পড়েছিল।
এই নৈতিক অবক্ষয়ের ফলে এই সাম্রাজ্য এমনভাবে ধসে পড়েছিল যেন তার কোনো অস্তিত্বই ছিল না।
মহান আল্লাহ সত্যই বলেছেন, যখন তিনি তাঁর অকাট্য অবতীর্ণ বাণীতে বলেন: {আর তোমার প্রতিপালকের পাকড়াও এমনই হয়ে থাকে যখন তিনি কোনো জনপদকে তার জুলুমরত অবস্থায় পাকড়াও করেন; নিশ্চয় তাঁর পাকড়াও অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক ও কঠোর।} ১।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিকহুন নিকাহ ওয়াল ফারাঈদ
(পৃষ্ঠা: ৫)
المرأة عن الرومان:
كان الرومان ينظرون إلى المرأة على أنها شيطانة وأنها رجس لا سلطان لها على أنوثتها يجب ألا تأكل اللحم ولا تتكلم ولا تضحك، وكان للرجل الحق الكامل في أن يتصرف في أبنائه وزوجته كيفما يشاء يبيع من يشاء ويقتل منهم من يشاء لا سلطان عليه ويدخل على أسرته من يشاء ويطرد من أبناءه من يشاء أو يعذبهم فاستشرى الفساد، وانشرت بيوت الدعارة وراجت تجارة الخمور.
فكانت النتيجة أن تمزقت هذه الدولة شر ممزق وانهارت شر انهيار.
المرأة عند الإغريق:
كانت المرأة عندهم تعد مخلوقا حقيرا لا تصلح لغير النسل وخدمة المنزل، وإذا كانت ولودا استعيرت من زوجها لتلد للوطن أولاد من رجل آخر.
المرأة عند الهنود:
جاء في شريعة "مانو" الهندية أن الوباء والموت والسم والأفاعي كل ذلك خير من المرأة، ويجب أن تكون المرأة في طفولتها لأبيها وفي شبابها لزوجها، وفي تأيمها لأبنائها، وفي ثكلها لأقرباء بعلها ولا يجوز ترك أمرها لها.
রোমানদের নিকট নারী:
রোমানরা নারীকে শয়তানি সত্তা এবং অপবিত্র হিসেবে গণ্য করত। তার নিজ নারীত্বের ওপর তার কোনো কর্তৃত্ব ছিল না; তার জন্য গোশত খাওয়া, কথা বলা ও হাসা নিষিদ্ধ ছিল। পুরুষের তার সন্তান ও স্ত্রীর ব্যাপারে পূর্ণ অধিকার ছিল যে, সে তাদের সাথে যেমন ইচ্ছা আচরণ করতে পারত। সে যাকে ইচ্ছা বিক্রি করতে পারত এবং তাদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা হত্যা করতে পারত, তার ওপর কারও কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না। সে তার পরিবারে যাকে ইচ্ছা প্রবেশ করাতে পারত এবং তার সন্তানদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা বের করে দিতে পারত কিংবা তাদের নির্যাতন করতে পারত। ফলে পাপাচার ছড়িয়ে পড়েছিল, বেশ্যালয় বিস্তৃত হয়েছিল এবং মদের ব্যবসা রমরমা হয়ে উঠেছিল।
এর ফলশ্রুতিতে এই রাষ্ট্রটি চরমভাবে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় এবং চূড়ান্তভাবে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।
গ্রিকদের নিকট নারী:
তাদের নিকট নারী এক তুচ্ছ সৃষ্টি হিসেবে বিবেচিত হতো, যে বংশবিস্তার ও গৃহস্থালি কাজ ছাড়া অন্য কোনো কাজের যোগ্য ছিল না। যদি সে সন্তান জন্মদানে সক্ষম হতো, তবে রাষ্ট্রের জন্য অন্য কোনো পুরুষের মাধ্যমে সন্তান লাভের উদ্দেশ্যে তাকে তার স্বামীর কাছ থেকে ধার নেওয়া হতো।
ভারতীয়দের নিকট নারী:
ভারতীয় "মনু" সংহিতায় উল্লেখ আছে যে, মহামারি, মৃত্যু, বিষ ও সাপ—এসবই নারীর চেয়ে উত্তম। শৈশবে নারী তার পিতার অধীনে, যৌবনে স্বামীর অধীনে, স্বামীহারা অবস্থায় সন্তানদের অধীনে এবং সহায়হীন অবস্থায় তার স্বামীর আত্মীয়স্বজনের অধীনে থাকতে বাধ্য। তার নিজের বিষয়াদি তার নিজের কর্তৃত্বে রাখা বৈধ নয়।
(খণ্ড: ১)
ফিকহুন নিকাহ ওয়াল ফারাঈদ
(পৃষ্ঠা: ৬)
وفيها أيضا أن المرأة إذا خلت برجل مدة تكفي لإنتاج بيضة يجب عليها أن تقوم بحرق جسدها على مقربة من جسد زوجها المحروق أو يحكمون عليها بالموت.
المرأة عن اليهود:
يعتبر اليهود المرأة لعنة فهي التي أغوت آدم حتى أكل من الشجرة فطرد بسبب ذلك من الجنة، لذلك فهي مجرد خادمة ليس لها حقوق أو أهلية، وكانوا لا يورثونها، وإذا حاضت فإنها تكون نجسة، وكل ما تلمسه بيدها ينجس بنجاستها، بل كان بعضهم يطردها من البيت فإذا ما طهرت من حيضها رجعت إلى بيتها.
المرأة عن النصارى:
يرى النصارى أن المرأة باب الشيطان، ناقضة لقانون الله مشوهة لصورة الله "الرجل" فهي مخلوق نجس يحرم عليها قراءة كتاب العهد الجديد خلقت لخدمة الرجل.
المرأة عن الفارسيين:
كانت المرأة عند أهل فارس في انحطاط وذلة، فهي سبب هيجان الشرور التي توجب العذاب والسخط لدى الآلهة، ولهذا يبيحون عليها أن تعيش تحت أنواع الظلم، وكانت المرأة في مذهب فارس تحت سلطة الزوج من حقه أن يتصرف فيها كما يتصرف في ماله ومتاعه.
এতে আরও রয়েছে যে, যদি একজন নারী কোনো পুরুষের সাথে এমন সময়কাল নির্জনে অবস্থান করে যা একটি ডিম্বাণু উৎপাদনের জন্য যথেষ্ট, তবে তার জন্য তার মৃত স্বামীর দাহকৃত দেহের নিকটবর্তী স্থানে নিজের দেহ পুড়িয়ে ফেলা আবশ্যক, নতুবা তারা তাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করবে।
ইহুদিদের নিকট নারী:
ইহুদিরা নারীকে অভিশাপ মনে করে; কেননা সে-ই আদমকে প্রলুব্ধ করেছিল যার ফলে তিনি (নিষিদ্ধ) বৃক্ষ থেকে ভক্ষণ করেন এবং জান্নাত থেকে বহিষ্কৃত হন। এই কারণে সে কেবল একজন সেবিকা মাত্র, যার কোনো অধিকার বা আইনগত যোগ্যতা নেই। তারা তাকে কোনো মিরাস বা উত্তরাধিকার প্রদান করত না। সে ঋতুবতী হলে অপবিত্র হয়ে যেত এবং সে তার হাত দিয়ে যা কিছু স্পর্শ করত তা-ই তার অপবিত্রতার কারণে অপবিত্র হয়ে পড়ত। এমনকি তাদের কেউ কেউ তাকে ঘর থেকে বের করে দিত; অতঃপর যখন সে ঋতুস্রাব থেকে পবিত্র হতো তখন সে ঘরে ফিরে আসত।
খ্রিষ্টানদের নিকট নারী:
খ্রিষ্টানরা মনে করে যে, নারী হলো শয়তানের প্রবেশদ্বার, আল্লাহর বিধান লঙ্ঘনকারী এবং আল্লাহর প্রতিচ্ছবি ‘পুরুষ’-এর বিকৃত রূপ। সে এক অপবিত্র সৃষ্টি, যার জন্য ‘নিউ টেস্টামেন্ট’ পাঠ করা নিষিদ্ধ এবং সে কেবল পুরুষের সেবার জন্যই সৃজিত।
পারস্যবাসীদের নিকট নারী:
পারস্যবাসীদের নিকট নারী ছিল চরম হীনতা ও লাঞ্ছনার পাত্রী। সে হলো অশুভ বা মন্দের প্ররোচনার কারণ, যা দেবতাদের নিকট শাস্তি ও অসন্তোষকে অনিবার্য করে তোলে। এই কারণে তারা তার ওপর সব ধরনের জুলুম-অবিচার চালানো বৈধ মনে করত। পারস্যের ধর্মে নারী স্বামীর পূর্ণ কর্তৃত্বে ছিল; স্বামী তার ব্যাপারে যথেচ্ছ ব্যবহারের অধিকার রাখত, যেমনটি সে তার ধন-সম্পদ ও আসবাবপত্রের ক্ষেত্রে করে থাকে।
(খণ্ড: ১)
ফিকহুন নিকাহ ওয়াল ফারাঈদ
(পৃষ্ঠা: ৭)
وكان له أن يحكم بقتلها، مع أن تعدد الزوجات أيضا كان شائعا عندهم بدون شرط أو تحديد.
المرأة في جاهلية العرب:
كان العرب في الجاهلية يعتبرون المرأة جزءًا من الثروة، ولهذا فإن الأرملة كانت تعد ميراثا لابن المورث، وكان تعدد الزوجات شائعا في جميع القبائل العربية بدون شرط أو تحديد.
وليس ذلك فحسب بل كانت معظم القبائل العربية يظلمون المرأة ظلما أبشع مما تعرضت له المرأة عند غيرهم فكانوا يؤدون البنات وهن أحياء مخافة العار أو الفقر يذكرنا القرآن الكريم بهذا الظلم الشنيع للمرأة فيقول: {وَإِذَا بُشِّرَ أَحَدُهُمْ بِالْأُنْثَى ظَلَّ وَجْهُهُ مُسْوَدًّا وَهُوَ كَظِيمٌ، يَتَوَارَى مِنَ الْقَوْمِ مِنْ سُوءِ مَا بُشِّرَ بِهِ أَيُمْسِكُهُ عَلَى هُونٍ أَمْ يَدُسُّهُ فِي التُّرَابِ أَلَا سَاءَ مَا يَحْكُمُونَ} 1.
ومن المؤلم أنه لم يفعل ذلك الرجل منهم فحسب، بل كانت المرأة منهم عندما يحين وقت وضعها تجلس على شفا حفرة وتضع مولودها على رأس هذه الحفرة فإن كان المولود أنثى رمت بها في الحفرة وردت عليها التراب، وإن كان المولود غلاما أبقت عليه.
ولم يكن ظلم العرب الجاهليين للمرأة يقف عند وأدها فحسب بل كانت كل جوانب حياة المرأة كلها ظلم.
--------------------------------------------
এবং তার অধিকার ছিল তাকে হত্যার আদেশ দেওয়ার, যদিও তাদের মধ্যে কোনো শর্ত বা সীমাবদ্ধতা ছাড়াই বহুবিবাহও প্রচলিত ছিল।
জাহেলী যুগে আরব নারী:
জাহেলিয়াতের যুগে আরবরা নারীকে সম্পদের অংশ হিসেবে গণ্য করত। এই কারণে বিধবা নারীকে মৃত ব্যক্তির পুত্রের উত্তরাধিকার হিসেবে গণ্য করা হতো। আর সমস্ত আরব গোত্রে কোনো শর্ত বা সীমাবদ্ধতা ছাড়াই বহুবিবাহ প্রচলিত ছিল।
শুধু তাই নয়, বরং অধিকাংশ আরব গোত্র নারীর ওপর এমন জঘন্য জুলুম করত যা অন্য জাতির নারীদের ওপর করা জুলুমের চেয়েও ভয়াবহ ছিল। তারা লজ্জার ভয়ে বা দারিদ্র্যের আশঙ্কায় কন্যা সন্তানদের জীবন্ত সমাহিত করত। পবিত্র কুরআন নারীর প্রতি এই ঘৃণ্য জুলুমের কথা আমাদের স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলে: “যখন তাদের কাউকে কন্যা সন্তানের সুসংবাদ দেওয়া হয়, তখন তার মুখমণ্ডল কালো হয়ে যায় এবং সে অসহনীয় মনস্তাপে ক্লিষ্ট হয়। তাকে যে সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে, তার গ্লানি হেতু সে নিজ কওম থেকে আত্মগোপন করে। সে কি হীনতা সত্ত্বেও তাকে রেখে দেবে, নাকি মাটির নিচে পুঁতে ফেলবে? সাবধান! তারা যা ফয়সালা করে তা কতই না মন্দ।” ১।
এটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক যে, কেবল তাদের পুরুষরাই এমন কাজ করত না, বরং তাদের নারীরাও যখন সন্তান প্রসবের সময় হতো, তখন একটি গর্তের কিনারে বসত এবং সেই গর্তের মুখেই সন্তান প্রসব করত। যদি নবজাতকটি কন্যা হতো, তবে সে তাকে গর্তে ফেলে দিত এবং মাটি চাপা দিত; আর যদি নবজাতকটি পুত্র হতো, তবে তাকে জীবিত রাখত।
জাহেলী যুগের আরবদের নারীর প্রতি জুলুম কেবল জীবন্ত সমাহিত করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং নারীর জীবনের প্রতিটি দিকই ছিল জুলুমে পরিপূর্ণ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিকহুন নিকাহ ওয়াল ফারাঈদ
(পৃষ্ঠা: ৮)
المرأة في ظل الإسلام:عندما أشرق نور الإسلام على الوجود، كان العالم ينقسم إلى قسمين:
القسم الأول:
قسم متحضر كالإمبراطورية الرومانية والفارسية وشعوب مصر والهند والحبشة والصين.
وكانت المرأة عند هذه الشعوب كالأسير ليست لها حرية الإرادة محرومة من جميع الحقوق على النحو الذي ذكرناه بالتفصيل السابق.
القسم الثاني:
قسم مختلف كالقبائل في إفريقيا وبقية الأقطار في البلدان المختلفة حضاريا والعرب في الجزيرة العربية، فالمرأة عند هذه الشعوب لا تعتبر إنسانا بل هي متطفلة على المجتمع وتعامل كما تتعامل الحيوانات الأهلية التي يستخدمونها وفي أوقات المجاعة كان يصنع من جسدها ولائم دسمة يتغذون بها، ويؤدها العرب حية مخافة العار والفقر.
إلى أن أشرق الإسلام بنوره فكرَّم المرأة جنينا وكرَّمها طفلة كرَّمها زوجة وكرَّمها أما بعد أن كانت سلعة لا قيمة لها في هذا الكون على مر العصور والأزمنة.
فما أكثر الآيات القرآنية التي يقرن فيها ذكر الرجل بذكر المرأة منها قوله تعالى: {وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً} 1.
--------------------------------------------
ইসলামের ছায়ায় নারী:যখন অস্তিত্বের ওপর ইসলামের আলো উদ্ভাসিত হলো, তখন বিশ্ব দুটি ভাগে বিভক্ত ছিল:
প্রথম ভাগ:
রোমান ও পারস্য সাম্রাজ্য এবং মিশর, ভারত, হাবশা (আবিসিনিয়া) ও চীনের জনগণের মতো সভ্য সমাজসমূহ।
এই জাতিগুলোর কাছে নারী ছিল একজন বন্দীর মতো, যার ইচ্ছার কোনো স্বাধীনতা ছিল না এবং সে সমস্ত অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল, যেমনটি আমরা পূর্বে বিস্তারিত উল্লেখ করেছি।
দ্বিতীয় ভাগ:
আফ্রিকার বিভিন্ন গোত্র এবং সভ্যতার দিক থেকে ভিন্নতর বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চল ও আরব উপদ্বীপের আরবদের মতো বৈচিত্র্যময় সমাজসমূহ। এই জাতিগুলোর কাছে নারী মানুষ হিসেবে গণ্য হতো না, বরং সে ছিল সমাজের ওপর এক পরজীবী এবং তাকে গৃহপালিত পশুর মতো বিবেচনা করা হতো যা তারা ব্যবহার করত। এমনকি দুর্ভিক্ষের সময় তার দেহ দিয়ে চর্বিযুক্ত ভোজ তৈরি করা হতো যা তারা আহার করত। আর আরবরা লজ্জার গ্লানি ও দারিদ্র্যের ভয়ে তাকে জীবিত সমাহিত করত।
অবশেষে ইসলাম তার আলো নিয়ে উদ্ভাসিত হলো এবং নারীকে ভ্রূণ হিসেবে সম্মানিত করল, তাকে শিশু হিসেবে সম্মানিত করল, তাকে স্ত্রী হিসেবে সম্মানিত করল এবং তাকে মা হিসেবে সম্মানিত করল—অথচ দীর্ঘ কাল ও যুগ ধরে এই মহাবিশ্বে সে ছিল মূল্যহীন এক পণ্য।
পবিত্র কুরআনে কতই না আয়াত রয়েছে যেখানে পুরুষের আলোচনার সাথে নারীর আলোচনাকে যুক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে মহান আল্লাহর বাণী হলো: {এবং তাদের উভয় হতে বহু নর ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন} ১।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিকহুন নিকাহ ওয়াল ফারাঈদ
(পৃষ্ঠা: ৯)
ومنها قوله تعالى: {وَاللَّهُ جَعَلَ لَكُمْ مِنْ أَنْفُسِكُمْ أَزْوَاجًا وَجَعَلَ لَكُمْ مِنْ أَزْوَاجِكُمْ بَنِينَ وَحَفَدَةً} 1.
وهذا هو الحبيب المصطفى صلى الله عليه وسلم يقول فيما يرويه أبو داود والترمذي وأحمد من حديث عائشة رضي الله عنهما: "إنما النساء شقائق الرجال".
ويوصينا بالنساء خيرا فيقول في الحديث المتفق عليه من حديث أبي هريرة: "استوصوا بالنساء خيرا فإن المرأة خلقت من ضلع أعوج، وإن أعوج ما في الضلع أعلاه، فإن ذهبت تقيمه كسرته وإن تركته لم يزل أعوج، فاستوصوا بالنساء خيرًا".
والفضل ما شهدت به الأعداء، يقول المستشرق: آندريه سرفيه في كتابه عن الإسلام ونفسية المسلمين: من أراد أن يتحقق من عناية محمد -صلى الله عليه سلم- فليقرأ خطبته في مكة التي أوصى فيها بالنساء.
والتي يقول فيها: "أيها الناس: فإن لكم على نسائكم حقا، ولهن عليكم حقا، لكم عليهن ألا يُوطِئنَ فُرشَكم أحد تكرهونه، وعليهن ألا يأتين بفاحشة مبينة، فإن فعلن فقد أذن لكم أن تهجروهن في المضاجع وتضربوهن ضربا غير مبرح، فإن انتهين فلهن رزقهن وكسوتهن بالمعروف، واستوصوا بالنساء خيرًا فإنهن عوان لكم لا يملكن لأنفسهن شيئا، وإنما أخذتموهن بأمانة الله، واستحللتم فروجهن بكلمة الله،
--------------------------------------------
এর মধ্যে মহান আল্লাহর বাণী: {আর আল্লাহ তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের জন্য জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের স্ত্রীদের থেকে তোমাদের জন্য পুত্র ও পৌত্রাদি দান করেছেন} ১।
আর ইনিই হলেন প্রিয়তম মুস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), যিনি আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত এবং আবু দাউদ, তিরমিযী ও আহমাদ কর্তৃক সংকলিত হাদীসে বলেন: "নিশ্চয়ই নারীরা পুরুষদের অর্ধাঙ্গিনী।"
এবং তিনি আমাদের নারীদের প্রতি সদয় হওয়ার অসিয়ত করে আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত মুত্তাফাকুন আলাইহি হাদীসে বলেন: "তোমরা নারীদের সাথে উত্তম আচরণের অসিয়ত গ্রহণ করো, কেননা নারীকে বাঁকা পাঁজরের হাড় থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। আর পাঁজরের হাড়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাঁকা অংশ হলো এর উপরের অংশ। সুতরাং তুমি যদি তা সোজা করতে যাও তবে তা ভেঙে ফেলবে, আর যদি তা ছেড়ে দাও তবে তা বাঁকা থেকেই যাবে। অতএব, নারীদের সাথে উত্তম আচরণের উপদেশ গ্রহণ করো।"
আর শ্রেষ্ঠত্ব তাই যা শত্রুরাও স্বীকার করে। প্রাচ্যবিদ আন্দ্রে সার্ভিয়ে ইসলাম এবং মুসলমানদের মনস্তত্ত্ব বিষয়ক তাঁর গ্রন্থে বলেন: "যে ব্যক্তি মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যত্নের বিষয়টি নিশ্চিত করতে চায়, সে যেন মক্কায় প্রদত্ত তাঁর সেই ভাষণটি পাঠ করে যেখানে তিনি নারীদের সম্পর্কে অসিয়ত করেছেন।"
যাতে তিনি বলেন: "হে লোকসকল: তোমাদের স্ত্রীদের ওপর তোমাদের যেমন অধিকার রয়েছে, তেমনি তোমাদের ওপরও তাদের অধিকার রয়েছে। তোমাদের স্ত্রীদের ওপর তোমাদের অধিকার হলো—তোমরা অপছন্দ করো এমন কাউকে তারা তোমাদের বিছানায় স্থান দেবে না। আর তাদের ওপর কর্তব্য হলো—তারা স্পষ্ট কোনো অশ্লীলতায় লিপ্ত হবে না। যদি তারা তা করে, তবে আল্লাহ তোমাদের অনুমতি দিয়েছেন যে, তোমরা শয্যায় তাদের বর্জন করবে এবং তাদের প্রহার করবে—তবে তা যেন যন্ত্রণাদায়ক না হয়। অতঃপর যদি তারা বিরত হয়, তবে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী তাদের ভরণপোষণ ও পোশাক-পরিচ্ছদ প্রদান করা তোমাদের দায়িত্ব। আর তোমরা নারীদের সাথে উত্তম আচরণের অসিয়ত গ্রহণ করো, কারণ তারা তোমাদের নিকট আশ্রিতার মতো যারা নিজেদের জন্য কোনো কিছুর অধিকার রাখে না। তোমরা তাদেরকে আল্লাহর আমানত হিসেবে গ্রহণ করেছ এবং আল্লাহর বাণীর মাধ্যমে তাদের লজ্জাস্থানকে নিজেদের জন্য বৈধ করে নিয়েছ।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিকহুন নিকাহ ওয়াল ফারাঈদ
(পৃষ্ঠা: ১০)
فاعقلوا أيها الناس قولي، فإني قد بلغت، وقد تركت فيكم ما إن تمسكتم به لن تضلوا بعدي أبدا كتاب الله وسنة رسوله".
لقد احترم الإسلام آدمية المرأة فقرر المساواة التامة بينها وبين الرجل في الإنسانية والنسب البشري، وجعلها تتمتع بجميع حقوقها من الإرث وجميع العقد المالية من بيع وخلافه وليس لأحد أن يمنعها من ذلك، ثم احترم الإسلام رأيها واستمع إليها وجعلها تعبر عن رأيها وكل ما تريد بصدق وصراحة وتدافع عن جميع حقوقها المشروعة وأعطاها حرية الكلام وإبداع الرأي والاستجابة إليها مما يطول المقام لذكره مع أدلته.
ومع هذا التكريم الإلهي للمرأة في ظل الإسلام فإننا نرى ونسمع بكل وقاحة الدعاوى المعاصرة التي ينادي بها أعداء الإسلام وأعداء المرأة والمجتمع من أهل الشر والفساد يوجهون مطاعنهم للإسلام من خلال خمسة مطاعن كلها تخص المرأة "الحجاب، وتعدد الزوجات، الطلاق، وتنصيف الإرث، وتنصيف الشهادة".
وهذا كله من مكر الماسونية اليهودية التي نجحت في القضاء على المرأة الأوروبية، وهي اليوم تتجه إلى المرأة في العالم الإسلامي، ولقد نجحت بعض الشيء بواسطة المستعمر الخبيث وبواسطة جمعيات النهضة النسائية التي تعمل بشعار الماسونية وتسير في ركابها وتنفذ أوامرها تارة باسم المساواة البريئة، وتارة باسم التقدم وركب الحضارة، وتارة باسم السياسة وهكذا تُسير الماسونية جمعيات النهضة النسائية في العالم الإسلامي.
"হে লোকসকল! তোমরা আমার কথাগুলো অনুধাবন করো, নিশ্চয়ই আমি পৌঁছে দিয়েছি। আমি তোমাদের মাঝে এমন কিছু রেখে যাচ্ছি যা আঁকড়ে ধরলে তোমরা আমার পরে কখনও পথভ্রষ্ট হবে না; তা হলো আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূলের সুন্নাহ।"
নিশ্চয়ই ইসলাম নারীর মানবিকতাকে সম্মান জানিয়েছে, তাই তা মানবিকতা ও মানবীয় বংশপরম্পরার ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের মাঝে পূর্ণ সমতা নির্ধারণ করেছে। ইসলাম নারীকে উত্তরাধিকার এবং ক্রয়-বিক্রয়সহ সকল আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে তার সকল অধিকার ভোগের সুযোগ করে দিয়েছে এবং এ বিষয়ে তাকে বাধা দেওয়ার অধিকার কারও নেই। অতঃপর ইসলাম নারীর মতামতকে সম্মান দিয়েছে, তার কথা শ্রবণ করেছে এবং তাকে তার মতামত ও যা কিছু সে চায় তা সত্যনিষ্ঠা ও স্পষ্টভাবে প্রকাশ করার সুযোগ দিয়েছে। সে তার সকল বৈধ অধিকারের পক্ষে অবস্থান নিতে পারে। ইসলাম তাকে বাকস্বাধীনতা, মতামত প্রদানের স্বাধীনতা এবং তার মতের প্রতি গুরুত্ব প্রদানের অধিকার দান করেছে, যা বিস্তারিত বর্ণনা করতে গেলে এবং দলিলসহ উল্লেখ করতে গেলে আলোচনা দীর্ঘ হয়ে যাবে।
ইসলামের ছায়াতলে নারীর এই ঐশী সম্মান থাকা সত্ত্বেও আমরা অত্যন্ত নির্লজ্জতার সাথে সেই সমসাময়িক দাবিগুলো শুনতে ও দেখতে পাই, যা ইসলামের শত্রু এবং নারী ও সমাজের শত্রু অনিষ্টকারী ও ফাসাদ সৃষ্টিকারীরা উত্থাপন করে থাকে। তারা পাঁচটি বিষয়ের মাধ্যমে ইসলামের প্রতি তাদের আক্রমণ পরিচালনা করে, যার প্রতিটিই নারী সংশ্লিষ্ট: "হিজাব, বহুবিবাহ, তালাক, উত্তরাধিকারের অর্ধেক অংশ এবং সাক্ষ্যের অর্ধেক অংশ।"
আর এ সবই হলো ইয়াহুদি ফ্রিম্যাসনারির চক্রান্ত, যা ইউরোপীয় নারীদের ধ্বংস করতে সফল হয়েছে। আজ তারা মুসলিম বিশ্বের নারীদের দিকে লক্ষ্যস্থির করেছে। তারা খবীস উপনিবেশবাদী এবং নারী জাগরণী সংস্থাগুলোর মাধ্যমে কিছুটা সফলও হয়েছে, যারা ফ্রিম্যাসনারির স্লোগান নিয়ে কাজ করে, তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে এবং তাদের আদেশ বাস্তবায়ন করে—কখনও তা নিস্পাপ সমতার নামে, কখনও প্রগতি ও সভ্যতার অগ্রগতির নামে, আবার কখনও রাজনীতির নামে। এভাবেই ফ্রিম্যাসনারি মুসলিম বিশ্বের নারী জাগরণী সংস্থাগুলোকে পরিচালিত করছে।
(খণ্ড: ১)
ফিকহুন নিকাহ ওয়াল ফারাঈদ
(পৃষ্ঠা: ১১)
ولكنهم: {وَيَمْكُرُونَ وَيَمْكُرُ اللَّهُ وَاللَّهُ خَيْرُ الْمَاكِرِينَ} 1.
ولكنهم: {يُرِيدُونَ لِيُطْفِئُوا نُورَ اللَّهِ بِأَفْوَاهِهِمْ وَاللَّهُ مُتِمُّ نُورِهِ وَلَوْ كَرِهَ الْكَافِرُونَ} .
فأحذري أختي المسلمة فأنت المستهدفة أولًا وآخرًا وتمسكي بتعاليم دينك، وإياك ثم إياك ثم إياك أن تنخدعي يوما ما ويجرفك تيار ما يسمونه بالتحضر، وليس هو بتحضر، بل هو الفساد الأخلاقي الذي ينذر بعقاب الله عز وجل نسأل الله العظيم أن يحفظ علينا ديننا وأن يحفظنا من شر أعدائنا وأن يجعل كيدهم في نحورهم.
إنه نعم المولى نعم النصير
কিন্তু তারা: {তারা চক্রান্ত করে এবং আল্লাহও কৌশল করেন, আর আল্লাহ সর্বোত্তম কৌশলী} ১।
কিন্তু তারা: {তারা তাদের মুখের ফুৎকারে আল্লাহর নূর নিভিয়ে দিতে চায়, কিন্তু আল্লাহ তাঁর নূরকে পূর্ণতা দান করবেন, যদিও কাফিররা তা অপছন্দ করে}।
সুতরাং হে মুসলিম বোন, আপনি সতর্ক হোন, কেননা আপনিই হলেন আদ্যোপান্ত লক্ষ্যবস্তু। আপনি আপনার দ্বীনের শিক্ষার ওপর অবিচল থাকুন। খবরদার, খবরদার, খবরদার! কখনো যেন আপনি প্রবঞ্চিত না হন এবং তথাকথিত আধুনিকতার স্রোতে ভেসে না যান। এটি কোনো আধুনিকতা নয়, বরং এটি হলো চারিত্রিক অবক্ষয় যা মহান আল্লাহর শাস্তির সংকেত দেয়। আমরা মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের দ্বীনকে রক্ষা করেন এবং আমাদের শত্রুদের অনিষ্ট থেকে আমাদের হিফাযত করেন এবং তাদের ষড়যন্ত্র তাদের নিজেদের দিকেই ফিরিয়ে দেন।
নিশ্চয়ই তিনি উত্তম অভিভাবক এবং উত্তম সাহায্যকারী।
(খণ্ড: ১)
ফিকহুন নিকাহ ওয়াল ফারাঈদ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
مقدمات النكاح
المقدمة الأولى: الاختيار…مقدمات النكاح:
لعقد النكاح مقدمتان:
المقدمة الأولى: الاختيار
الاختيار: خار يخير صار ذا خير، وخار الله لك من الأمر: جعل الله لك فيه الخير، وأنت بالخيار: أي اختر ما شئت، والاختيار: طلب الخير يقول المولى جل جلاله:
{وَمِنْ آَيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُمْ مِنْ أَنْفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِتَسْكُنُوا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُمْ مَوَدَّةً وَرَحْمَةً} 1.
في هذه الآية الكريمة يخبرنا ربنا عز وجل بأن الزجة سكن لزوجها، وحرث له، كما قال تعالى: {نِسَاؤُكُمْ حَرْثٌ لَكُمْ} 2.
وشريكة حياته، وربة بيته، وأم أولاده، ومهوى فؤاده وموضع سره ونجواه، وهي أهم ركن من أركان الأسرة؛ لأنها المنجبة للأولاد، ويرث عنها أولادها الكثير من المزايا والصفات، وفي أحضانها يجد أولادها عواطف الأمومة، وتتربى ملكاتهم، ويكتسبون الكثير من العادات والتقاليد، ويعرفون أمور دينهم، لذلك وغيره حث الإسلام الرجل عند اختيار شريكة حياته أن يتحرى الدقة عند اختيارها وفقا لما حث عليه الإسلام.
--------------------------------------------
বিবাহের ভূমিকাপ্রথম ভূমিকা: নির্বাচন…বিবাহের ভূমিকা:
বিবাহ চুক্তির দুটি ভূমিকা বা ধাপ রয়েছে:
প্রথম ভূমিকা: নির্বাচন
নির্বাচন: 'খারা ইয়াখিরু' অর্থ কল্যাণময় হওয়া। আর 'আল্লাহ আপনার জন্য বিষয়টি নির্বাচন করেছেন' অর্থ: আল্লাহ আপনার জন্য তাতে কল্যাণ রেখেছেন। আর 'আপনি নির্বাচনের অধিকারে আছেন' অর্থ: আপনার যা ইচ্ছা তা বেছে নিন। আর নির্বাচন (ইখতিয়ার) অর্থ হলো: কল্যাণ অনুসন্ধান করা। মহান রব্বুল আলামীন বলেন:
{আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে অন্যতম হলো যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকে জোড়া সৃষ্টি করেছেন যাতে তোমরা তাদের নিকট প্রশান্তি লাভ করো এবং তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন} ১।
এই পবিত্র আয়াতে আমাদের প্রতিপালক মহান আল্লাহ আমাদের জানাচ্ছেন যে, স্ত্রী তার স্বামীর জন্য প্রশান্তিস্থল এবং তার শস্যক্ষেত্র, যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {তোমাদের স্ত্রীগণ তোমাদের জন্য শস্যক্ষেত্র} ২।
এবং সে তার জীবনসঙ্গিনী, গৃহকর্ত্রী, তার সন্তানদের জননী, তার হৃদয়ের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু এবং তার গোপন কথা ও নিভৃত আলাপের আধার। সে পরিবারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ; কারণ সে-ই সন্তান প্রসবকারী, আর সন্তানরা তার থেকেই অনেক বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলী উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করে। তার কোলেই সন্তানরা মাতৃত্বের মমতা খুঁজে পায়, তাদের প্রতিভা বিকশিত হয়, তারা বহু আচার-আচরণ ও ঐতিহ্য অর্জন করে এবং তাদের দ্বীনের বিষয়গুলো জানতে পারে। একারণে এবং আরও অন্যান্য কারণে ইসলাম পুরুষকে তার জীবনসঙ্গিনী নির্বাচনের সময় ইসলামের নির্দেশনা অনুযায়ী সূক্ষ্মভাবে যাচাই-বাছাই করতে উৎসাহিত করেছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিকহুন নিকাহ ওয়াল ফারাঈদ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وأهم الصفات التي تختار الزوجة لأجلها أهمها:
1- أن تكون ذات دين وخلق فاضل نظرًا لأن عقد النكاح عقد يدوم العمر كله فإن الشارع الحكيم جعل له مقدمات وجه إلى الاختيار وجعله مرحلة تسبق الخطبة والعقد حيث يقول صلى الله عليه وسلم: "تخيروا لنطفكم فأنكحوا الأكفاء وأنكحوا إليهم".
وفَصَّلَ صلى الله عليه وسلم ما يدور بنفس كل من ينشد شريكة حياته فقال: "تنكح المرأة لأربع؛ لمالها ولحسبها ولجمالها ولدينها فأظفر بذات الدين تربت يداك" وللعلماء في المعنى المراد من قوله صلى الله عليه وسلم: "ترتب يداك" تأويلات ثلاثة:
أحدها: أن تربت بمعنى استغنت فتكن دعاء من رسول الله صلى الله عليه وسلم لمن يتمثل أمره، وإن كان معناها لغة "افتقرت" فتصير من أسماء الأضداد.
الثاني: أن معناه تربت يدالك إن لم تظفر بذات الدين؛ لأن من لم يظفر بذات الدين سلبت منه البركة فافتقرت يداه.
الثالث: أنها كلمة تخف على ألسنة العرب في خواتيم الكلام، ولا يريدون بها دعاء ولا ذما فيقولون: ما أشعره قاتله الله، وما رماه شلت يداه ففي هذا الحديث النبوي الشريف بين النبي صلى الله عليه وسلم الرغبة التي تدور في نفس كل باحث عن الزواج فبين أن من الناس من يرغب في ذات المال وليستفيد بمالها، ومنهم من يؤثر ذات الحسب
যেসব গুরুত্বপূর্ণ গুণের কারণে স্ত্রী নির্বাচন করা হয়, তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো:
১- দীনদার ও উত্তম চরিত্রের অধিকারী হওয়া। যেহেতু বিবাহের চুক্তি এমন এক চুক্তি যা সারা জীবন স্থায়ী হয়, তাই প্রজ্ঞাময় শরিয়ত প্রণেতা এর জন্য কিছু প্রারম্ভিক বিষয় রেখেছেন এবং নির্বাচনের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন। একে তিনি প্রস্তাব ও বিবাহের পূর্ববর্তী একটি ধাপ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। যেমনটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "তোমরা তোমাদের বংশধরদের জন্য উত্তম পাত্রী নির্বাচন করো, সমমর্যাদাসম্পন্নদের মধ্যে বিবাহ করো এবং তাদের নিকট বিয়ের প্রস্তাব পাঠাও।"
জীবনসঙ্গিনী অন্বেষণকারী প্রত্যেকের মনে যা কিছু আবর্তিত হয়, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তা বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করে বলেছেন: "নারীদেরকে চারটি গুণের কারণে বিবাহ করা হয়: তার ধন-সম্পদ, তার আভিজাত্য, তার সৌন্দর্য এবং তার দীনদারি। সুতরাং তুমি দীনদার নারীকেই গ্রহণ করে সফল হও, অন্যথায় তোমার হাত ধূলিময় হোক।" রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী "তোমার হাত ধূলিময় হোক" এর অর্থ সম্পর্কে আলেমদের তিনটি ব্যাখ্যা রয়েছে:
প্রথমত: এখানে 'ধূলিময় হওয়া' (তারিবাত) অর্থ হলো সম্পদশালী হওয়া। সে ক্ষেত্রে এটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পক্ষ থেকে সেই ব্যক্তির জন্য দোয়া হবে যে তাঁর নির্দেশ পালন করে। যদিও আভিধানিক দৃষ্টিকোণ থেকে এর অর্থ 'দরিদ্র হওয়া', সে ক্ষেত্রে এটি বিপরীতার্থক শব্দের (আল-আদদাদ) অন্তর্ভুক্ত হবে।
দ্বিতীয়ত: এর অর্থ হলো তুমি যদি দীনদার নারীকে লাভ করতে না পারো তবে তোমার হাত ধূলিময় (রিক্ত) হোক। কারণ যে ব্যক্তি দীনদার নারীকে পেল না, তার থেকে বরকত ছিনিয়ে নেওয়া হলো এবং তার হাত অভাবগ্রস্ত হয়ে পড়ল।
তৃতীয়ত: এটি এমন একটি বাক্য যা আরবদের কথোপকথনের শেষে অভ্যাসবশত উচ্চারিত হয়, এর দ্বারা তারা কোনো অভিশাপ বা নিন্দা উদ্দেশ্য করে না। যেমন তারা বলে থাকে: "সে কত বড় কবি, আল্লাহ তাকে সংহার করুন!", এবং "তার লক্ষ্য কত নির্ভুল, তার হাত অবশ হোক!" এই মহান নববী হাদিসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিবাহ প্রত্যাশী প্রতিটি মানুষের মনের আকাঙ্ক্ষা তুলে ধরেছেন। তিনি বর্ণনা করেছেন যে, মানুষের মধ্যে কেউ কেউ সম্পদশালী নারীকে পছন্দ করে যাতে তার সম্পদ দ্বারা উপকৃত হওয়া যায়, আবার কেউ কেউ আভিজাত্যকে অগ্রাধিকার দেয়।
(খণ্ড: ১)
ফিকহুন নিকাহ ওয়াল ফারাঈদ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
ليشرف بمصاهرة أهلها، ومنهم من يؤثر الجمال لتمتلأ نفسه بهجة وسرور إذا نظر إليها، ومنهم من يفضل ذات الدين والخلق.
ورسولنا -صلوات ربي وسلامه عليه- يحث راغبي الزواج على اختيار ذات الدين والخلق الفاضل، وواضح أنه ليس معنى الظفر بذات الدين قصر الاختيار عليه والعدول عما سواه من الصفات الأخرى، وإنما القصد اعتبار الدين أساسا في الاختيار، ولا يمنع هذا من التطلع بعد ذلك إلى شيء من الاعتبارات الأخرى.
أما إذا كان اختيار من يرغب في الزواج الجمال وحده فذلك أمر لا يحقق الحياة الزوجية السعيدة؛ لأن الجمال كثيرا ما يولد الغيرة والشك، فضلا عن أنه عرضة للزوال فتزول الرغبة بزواله وتغيره.
كما أن اعتبار المال وحده أساس للاختيار أو الحسب كذلك لا تتحقق معهما الحياة الزوجية المنشودة ويُعَرِض الزوجة للتعالي على زوجها والطغيان فتفسد بينهما الحياة الزوجية وإلى هذا المعنى ينبهنا النبي صلى الله عليه وسلم فيقول: "لا تزوجوا النساء لحسنهن فعسى حسنهن أن يُرْدِيهن، ولا تزوجوهن لأموالهن فعسى أموالهن أن تُطْغيهن، ولكن تزوجهن على الدين ولأمة سوداء ذات دين أفضل".
فأفضل كنز يحصل عليه الرجل في حياته هو المرأة الصالحة ذات الدين يقول صلى الله عليه وسلم: "ألا أخبركم بخير ما يكنز المرء؟ المرأة الصالحة؛ إذا نظر إليها سرته وإذا غاب عنها حفظته، وإذا أمرها أطاعته".
কেউ তাদের পরিবারের সাথে বৈবাহিক সম্পর্কের মাধ্যমে সম্মানিত হতে চান, আবার কেউ সৌন্দর্যের গুরুত্ব দেন যাতে তাকে দেখলে মন আনন্দ ও খুশিতে ভরে ওঠে, আবার কেউ দ্বীনদার ও উন্নত চরিত্রের অধিকারিনীকে অগ্রাধিকার দেন।
আর আমাদের রাসূল -তাঁর ওপর আমার প্রতিপালকের রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক- বিবাহেচ্ছুদের দ্বীনদার ও উত্তম চরিত্রের অধিকারিনীকে বেছে নিতে উৎসাহিত করেছেন। এটি স্পষ্ট যে, দ্বীনদার স্ত্রীকে পাওয়ার অর্থ এই নয় যে, নির্বাচন কেবল এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা এবং অন্য কোনো গুণাবলি বর্জন করা; বরং উদ্দেশ্য হলো দ্বীনকে নির্বাচনের মূল ভিত্তি হিসেবে গণ্য করা। আর এটি এর পরে অন্যান্য বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখতে বাধা দেয় না।
তবে যদি বিবাহেচ্ছুক ব্যক্তি কেবল সৌন্দর্যকেই নির্বাচনের ভিত্তি বানায়, তবে তা সুখী দাম্পত্য জীবন নিশ্চিত করে না; কারণ সৌন্দর্য প্রায়শই ঈর্ষা ও সন্দেহের জন্ম দেয়। তদুপরি, এটি ক্ষণস্থায়ী, ফলে সৌন্দর্যের বিনাশ বা পরিবর্তনের সাথে সাথে আগ্রহও বিলীন হয়ে যায়।
একইভাবে কেবল সম্পদ বা বংশমর্যাদাকে নির্বাচনের ভিত্তি বানালে কাঙ্ক্ষিত দাম্পত্য জীবন অর্জিত হয় না এবং এটি স্ত্রীকে তার স্বামীর ওপর অহংকার ও অবাধ্যতায় প্ররোচিত করে, ফলে তাদের মধ্যকার দাম্পত্য জীবন নষ্ট হয়ে যায়। এই অর্থেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সতর্ক করে বলেছেন: "তোমরা নারীদের তাদের সৌন্দর্যের কারণে বিবাহ করো না, কেননা হতে পারে তাদের সৌন্দর্যই তাদের ধ্বংসের কারণ হবে। তাদের সম্পদের লোভেও বিবাহ করো না, কারণ হতে পারে তাদের সম্পদ তাদের অবাধ্য করে তুলবে। বরং তোমরা দ্বীনদারির ভিত্তিতে তাদের বিবাহ করো। একজন কৃষ্ণবর্ণের দ্বীনদার দাসীও (অন্যদের চেয়ে) উত্তম।"
সুতরাং একজন মানুষ তার জীবনে যে শ্রেষ্ঠ সম্পদ লাভ করে, তা হলো দ্বীনদার পুণ্যবতী নারী। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমি কি তোমাদের মানুষের শ্রেষ্ঠ সম্পদ সম্পর্কে অবহিত করব না? তা হলো পুণ্যবতী নারী; যার দিকে তাকালে সে তাকে আনন্দিত করে, সে অনুপস্থিত থাকলে তার হেফাজত করে এবং তাকে কোনো আদেশ করলে সে তা মান্য করে।"
(খণ্ড: ১)
ফিকহুন নিকাহ ওয়াল ফারাঈদ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
فهذا دليل على اختيار صاحبة الدين؛ لأن ذلك عامل رئيسي في إسعاد الحياة الزوجية ليتحقق بذلك السكن والمودة والرحمة من منطلق قوله تعالى: {وَمِنْ آَيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُمْ مِنْ أَنْفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِتَسْكُنُوا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُمْ مَوَدَّةً وَرَحْمَةً} 1.
وعلى العكس من ذلك إذا لم يكن كل من الزوجين على جانب كبير من الخلق والدين فإن ذلك يعرض الحياة الزوجية للتقوض والانهدام.
فليكن الأساس الأول للاختيار عند الزواج هو الدين؛ لأن ذلك يحقق للرجل هدفين عظيمين:
أولهما: إسعاد الرجل.
ثانيهما: تنشئة الأولاد نشأة صالحة تتميز بالاستقامة وحسن الخلق لذا قال -صلى الله عليه سلم: "تخيروا لنطفكم فأنكحوا الأكفاء، وأنكحوا إليهم".
2- أن تكون بكرًا:
بكارة الجارية عذرتها، وأصله من ابتكار الفاكهة وهو أكل باكروتها ومنه: ابتكر الخطبة: أدرك أولها، وبكَّر بالصلاة صلاها في أول وقتها، والبكر: بفتح الباء الفتي القوي من الإبل، والباكورة أول الفاكهة.
والبِكْرُ: هي العذارء الباقية على حالها الأول لم تفض بكارتها أو التي زالت عذرتها بغير وطء كإصبع أو زيادة طمث أو النزول من أعلى إلى أسفل.
--------------------------------------------
সুতরাং এটি দ্বীনদার নারীকে নির্বাচনের একটি দলিল; কারণ দাম্পত্য জীবনকে সুখী করার ক্ষেত্রে এটি একটি প্রধান উপাদান, যাতে মহান আল্লাহর এই বাণীর আলোকে প্রশান্তি, ভালোবাসা ও রহমত অর্জিত হয়: "এবং তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে অন্যতম হলো এই যে, তিনি তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের জন্য জোড়া সৃষ্টি করেছেন যাতে তোমরা তাদের নিকট প্রশান্তি লাভ করো এবং তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন।" ১।
এর বিপরীতে, স্বামী-স্ত্রীর প্রত্যেকের মধ্যে যদি উত্তম চরিত্র ও দ্বীনদারির বড় অংশ না থাকে, তবে তা দাম্পত্য জীবনকে ভেঙে পড়া ও ধ্বংস হওয়ার মুখে ঠেলে দেয়।
অতএব বিবাহের ক্ষেত্রে নির্বাচনের প্রথম ভিত্তি যেন হয় দ্বীন; কেননা তা পুরুষের জন্য দুটি মহান উদ্দেশ্য সাধন করে:
প্রথমটি: পুরুষকে সুখী করা।
দ্বিতীয়টি: সন্তানদের এমনভাবে নেককার হিসেবে গড়ে তোলা যা সততা ও সচ্চরিত্র দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। এ কারণেই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের বীর্যের জন্য উপযুক্ত পাত্রী নির্বাচন করো, সমমর্যাদাসম্পন্নদের সাথে বিবাহ করো এবং তাদের কাছে বিবাহের প্রস্তাব দাও।"
২- কুমারী হওয়া:
কুমারিত্ব হলো সতীত্ব। এর মূল ব্যুৎপত্তি হলো কোনো ফলের প্রথম অংশ আস্বাদন করা। এখান থেকেই বলা হয়: 'খুতবায় ইবতিকার করা' অর্থাৎ এর প্রথমাংশ পাওয়া। আর 'সালাতে বাক্কারা' মানে সালাতকে তার প্রথম সময়ে আদায় করা। ‘আল-বাকর’ (বা বর্ণে ফাতহা দিয়ে) হলো উটের শক্তিশালী তরুণ শাবক, আর ‘আল-বাকুরা’ হলো মৌসুমের প্রথম ফল।
আর 'আল-বিকর' (কুমারী) হলো সেই কুমারী নারী যে তার আদি অবস্থায় অবশিষ্ট আছে এবং যার কুমারিত্ব নষ্ট হয়নি, অথবা যার সতীত্ব সহবাস ব্যতীত অন্য কোনো কারণে নষ্ট হয়েছে, যেমন আঙুল, অতিরিক্ত ঋতুস্রাব কিংবা ওপর থেকে নিচে পড়ে যাওয়ার কারণে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিকহুন নিকাহ ওয়াল ফারাঈদ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
ويستدل على اختيار البكر بما رواه جابر في الصحيحين عن رسول الله -صلى الله عليه سلم- أنه قال له: "هلا بكرًا تلاعبها وتلاعبك".
وقوله -صلى الله عليه سلم: "عليكم بالأبكار فإنهن أعذب أفواها وأنتق أرحامًا وأرضى باليسير".
وفي رواية أخرى: "عليكم بالأبكار فإنهن أطيب أفواها وأضيق أرحامًا وأرضى باليسير من الجماع".
وقوله -صلى الله عليه سلم: "أنتق أرحاما" أي أكثر أولادًا يقال للمرأة كثيرة الأولاد ناتق.
وفي الحرص على الزواج بالمرأة البكر ثلاث فوائد:
الفائدة الأولى: أنها تحب زوجها الأول وتألفه؛ لأن النفس البشرية مجبولة على الأنس بأول مألوف، بخلاف المرأة التي مارست الرجال وسبق لها الزواج فربما لا ترضى ببعض الأوصاف في زوجها الثاني والتي تخالف ما ألفته في زوجه الأول فيؤدي إلى أن تكره الزوج الثاني.
الفائدة الثانية: أن البكر تكون كاملة التودد لزوجها.
الفائدة الثالثة: أن البكر لا تحن إلا للزوج الأول:
وفي ذلك يقول الشاعر:
نقل فؤادك حيث شئت من الهوى
… ما الحب إلا للحبيب الأول
كم منزل في الأرض يألفه الفتى
… وحنينه أبدًا لأول منزل
কুমারী নির্বাচনের সপক্ষে জাবির (রা.) বর্ণিত সহীহাইনের সেই হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করা হয় যাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বলেছিলেন: "তুমি কেন কোনো কুমারীকে বিয়ে করলে না, যার সাথে তুমি খেলাধুলা করতে এবং সেও তোমার সাথে খেলাধুলা করত?"
এবং তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী: "তোমরা কুমারীদের গ্রহণ করো, কেননা তাদের মুখ অধিক মিষ্টি, তাদের জরায়ু অধিক সন্তানপ্রসূ এবং তারা অল্পে অধিক তুষ্ট।"
অন্য এক বর্ণনায় এসেছে: "তোমরা কুমারীদের গ্রহণ করো, কেননা তাদের মুখ অধিক পবিত্র, তাদের জরায়ু অধিক সংকীর্ণ এবং তারা সামান্য মিলনেই অধিক সন্তুষ্ট হয়।"
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী "অধিক সন্তানপ্রসূ জরায়ু" এর অর্থ হলো অধিক সন্তানদানকারী। অধিক সন্তানবতী নারীকে 'নাতিক' বলা হয়।
কুমারী নারীকে বিবাহ করার আগ্রহের পেছনে তিনটি উপকারিতা রয়েছে:
প্রথম উপকারিতা: সে তার প্রথম স্বামীকে ভালোবাসে এবং তার প্রতি অনুগত হয়; কারণ মানুষের স্বভাবজাত প্রবৃত্তি হলো প্রথম পরিচিতজনের প্রতি আসক্ত হওয়া। পক্ষান্তরে যে নারী পুরুষের সংশ্রব পেয়েছে এবং পূর্বে বিবাহিত ছিল, সে হয়তো তার দ্বিতীয় স্বামীর এমন কিছু গুণাবলিতে সন্তুষ্ট নাও হতে পারে যা তার প্রথম স্বামীর মাঝে থাকা গুণের বিপরীত, ফলে এটি দ্বিতীয় স্বামীর প্রতি অনীহা সৃষ্টির কারণ হতে পারে।
দ্বিতীয় উপকারিতা: কুমারী নারী তার স্বামীর প্রতি পূর্ণ সোহাগিনী হয়ে থাকে।
তৃতীয় উপকারিতা: কুমারী নারী কেবল প্রথম স্বামীর প্রতিই ব্যাকুলতা অনুভব করে।
এ প্রসঙ্গে কবি বলেন:
তোমার হৃদয়কে অনুরাগের যেখানে ইচ্ছা ধাবিত করো,
… ভালোবাসা তো কেবল প্রথম প্রিয়তমের জন্যই।
পৃথিবীতে কত গৃহের সাথেই না যুবক অভ্যস্ত হয়,
… অথচ তার চিরন্তন আকুলতা কেবল প্রথম গৃহটির তরেই থাকে।
(খণ্ড: ১)
ফিকহুন নিকাহ ওয়াল ফারাঈদ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
إلا إذا كان هناك ما يدعو الرجل إلى نكاح الثيب كأن كانت له زوجة وفارقها بالموت أو الطلاق وتركت له أبناء يحتاجون إلى من تتولى تربيتهم فالثيب أفضل قال جابر رضي الله عنه لرسول الله صلى الله عليه وسلم: هلك أبي وترك سبع بنات، أو تسع بنات فكرهت أن أجيئهن بمثلهن، فتزوجت ثيبا، فقال صلى الله عليه وسلم: "بارك الله لك".
ووجه الدلالة: هو أن الرسول صلى الله عليه وسلم عندما علم حاجة جابر إلى نكاح الثيب لتقوم على تربية أخواته أقره على ذلك ودعا له بالبركة.
3- أن تكون جميلة:
أي باعتبار الطبع فيما يظهر ولو سوداء مثلا؛ لأن من مقاصد النكاح العفة وهي لا تحصل إلا بجمال حسب طبعه ولقوله صلى الله عليه وسلم: "تنكح المرأة لأربع؛ لمالها ولحسبها ولجمالها ولدينها فاظفر بذات الدين تربت يداك".
ولكن يكره اختيار بارعة الجمال؛ لأنها إما أن تزهو أي تتكبر بجمالها أو تمتد الأعين إليها.
والمراد بالجمال: الوصف القائم بالذات المستحسن لذوي الطباع السليمة.
وقال الأصمعي: الحسن في العينين، والجمال في الأنف والخد، والملاحة في الفم.
وهذا هو الفرق بين الحسن، والجمال، والملاحة.
তবে যদি এমন কোনো কারণ থাকে যা কোনো পুরুষকে অকুমারী (বিধবা বা তালাকপ্রাপ্তা) নারীকে বিবাহ করার দিকে আহ্বান করে, যেমন তার একজন স্ত্রী ছিলেন এবং মৃত্যু বা তালাকের মাধ্যমে তাদের বিচ্ছেদ ঘটেছে এবং তিনি এমন কিছু সন্তান রেখে গেছেন যাদের লালন-পালনের জন্য কাউকে প্রয়োজন, তবে অকুমারী নারীই উত্তম। জাবির (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলেন: "আমার পিতা মৃত্যুবরণ করেছেন এবং সাতজন বা নয়জন কন্যা সন্তান রেখে গেছেন। তাই আমি তাদের নিকট তাদের মতোই কাউকে (অর্থাৎ কোনো কুমারীকে) নিয়ে আসা অপছন্দ করলাম, ফলে আমি একজন অকুমারী নারীকে বিবাহ করলাম।" রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "আল্লাহ তোমার জন্য বরকত দান করুন।"
দলিল গ্রহণের প্রেক্ষিত হলো: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন জাবিরের বোনদের লালন-পালনের জন্য অকুমারী নারীকে বিবাহের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে জানতে পারলেন, তখন তিনি তাকে তাতে সমর্থন দিলেন এবং তার জন্য বরকতের দোয়া করলেন।
৩- সুন্দরী হওয়া:
অর্থাৎ বাহ্যিক স্বভাবের বিবেচনায় সৌন্দর্য, যদিও সে উদাহরণস্বরূপ কৃষ্ণাঙ্গ হয়; কারণ বিবাহের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো চারিত্রিক পবিত্রতা রক্ষা করা, আর তা নিজ স্বভাব অনুযায়ী সৌন্দর্য ছাড়া পূর্ণরূপে অর্জিত হয় না। এবং রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণীর কারণে: "চারটি গুণের কারণে কোনো নারীকে বিবাহ করা হয়; তার সম্পদ, তার বংশমর্যাদা, তার সৌন্দর্য এবং তার দ্বীনদারির জন্য। অতএব তুমি দ্বীনদার নারীকে লাভ করো, তোমার হাত ধুলোমলিন হোক (অর্থাৎ তুমি সফল হও)।"
কিন্তু অত্যাধিক রূপবতী নারীকে নির্বাচন করা অপছন্দনীয়; কারণ সে হয় নিজের সৌন্দর্যের কারণে অহংকার করতে পারে অথবা অন্যের কুনজর তার দিকে পড়তে পারে।
আর সৌন্দর্য বলতে উদ্দেশ্য হলো: সত্তাগতভাবে বিদ্যমান এমন গুণ যা সুস্থ স্বভাবসম্পন্ন ব্যক্তিদের নিকট পছন্দনীয়।
আসমায়ী বলেন: 'হুসন' (রূপ) থাকে দুই চোখে, 'জামাল' (সৌন্দর্য) থাকে নাক ও গালে এবং 'মালাহাত' (লাবণ্য) থাকে মুখে।
আর এটাই হলো হুসন, জামাল এবং মালাহাত-এর মধ্যকার পার্থক্য।
(খণ্ড: ১)
ফিকহুন নিকাহ ওয়াল ফারাঈদ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وحث النبي صلى الله عليه وسلم الرجال عند اختيارهم أن تكون المرأة المختارة جميلة حيث قال صلى الله عليه وسلم في الحديث المتفق عليه: "تنكح المرأة لأربع" ومن بينها "الجمال" ولا يتعارض هذا مع ما أخرجه ابن ماجه والبزار والدارقطني من حديث عبد الله بن عمرو رضي الله عنهما مرفوعا عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "لا تنكحوا النساء لحسنهن فلعله يُرْدِهن، ولا لمالهن فلعله يُطغهن، وانكحوا للدين".
وذلك لأن الحديث المتفق عليه والذي يرغب في صفة الجمال عند اختيار شريكة الحياة القصد منه الإخبار من النبي صلى الله عليه وسلم بما يفعله الناس في العادة أنهم يرغبون في هذه الخصال الأربع وآخرها ذات الدين.
أما الحديث الثاني والذي ظاهره النهي عن اختيار ذات الجمال والمال ذلك؛ لأن كلا منهما عرضة للزوال فلا معنى لإيثار شيء من ذلك على الدين والخلق.
4- ألا تكون صاحبة ولد من زوج سابق:
لما روي أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال لزيد بن حارثة: "لا تتزوج خمسًا: شَهْبَرة وهي الطويلة المهزولة، ولا لَهْبَرة وهي الزرقاء البذية، ولا نَهْبَرة وهو العجوز المدبرة، ولا هَنْدَرة وهي القصيرة الدميمة،
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুরুষদের জীবনসঙ্গিনী নির্বাচনের সময় সুন্দরী নারী নির্বাচনের প্রতি উৎসাহিত করেছেন। যেমন তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুত্তাফাকুন আলাইহি হাদিসে বলেছেন: "নারীকে চারটি গুণের কারণে বিবাহ করা হয়" এবং এর মধ্যে "সৌন্দর্য" অন্যতম। এটি ইবনে মাজাহ, বাজ্জার ও দারাকুতনি কর্তৃক আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রাযিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে মারফু সূত্রে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীর সাথে সাংঘর্ষিক নয় যে: "তোমরা নারীদের তাদের সৌন্দর্যের কারণে বিবাহ করো না, কারণ সম্ভবত তা তাদের ধ্বংসের কারণ হবে। তাদের সম্পদের কারণেও বিবাহ করো না, কারণ সম্ভবত তা তাদের অবাধ্য করে তুলবে। বরং তোমরা দ্বীনদারীর ভিত্তিতে বিবাহ করো।"
এর কারণ হলো, মুত্তাফাকুন আলাইহি হাদিসটিতে জীবনসঙ্গিনী নির্বাচনের ক্ষেত্রে সৌন্দর্যের গুণটির প্রতি যে আগ্রহ দেখানো হয়েছে, তার উদ্দেশ্য হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক সাধারণ মানুষের অভ্যাসের সংবাদ প্রদান করা যে, তারা সাধারণত এই চারটি গুণের প্রতি আগ্রহী হয় এবং তাদের মধ্যে সর্বশেষটি হলো দ্বীনদারিতা।
পক্ষান্তরে দ্বিতীয় হাদিসটির বাহ্যিক অর্থে সৌন্দর্য ও সম্পদশালিনী নারী নির্বাচনের ক্ষেত্রে যে নিষেধ এসেছে, তার কারণ হলো এই দুটির প্রতিটিই বিলীন হওয়ার সম্ভাবনা রাখে। তাই দ্বীন ও চরিত্রের ওপর এগুলোর কোনোটিকে প্রাধান্য দেওয়ার কোনো অর্থ হয় না।
৪- পূর্বের স্বামীর কোনো সন্তান না থাকা:
যেহেতু বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যায়েদ বিন হারিসাকে বলেছিলেন: "পাঁচ ধরণের নারীকে বিবাহ করো না: শাহবারাহ অর্থাৎ দীর্ঘকায় জীর্ণশীর্ণ নারী; লাহবারাহ অর্থাৎ নীল চোখ বিশিষ্ট কটুভাষী নারী; নাহবারাহ অর্থাৎ বার্ধক্যে উপনীত বৃদ্ধা নারী; এবং হানদারাহ অর্থাৎ খর্বাকায় কুৎসিত নারী,
(খণ্ড: ১)
ফিকহুন নিকাহ ওয়াল ফারাঈদ
(পৃষ্ঠা: ২০)
ولا لفوتا وهي ذات الولد من غيرك".
وقوله صلى الله عليه وسلم: "الزرقاء" أي في العين.
"البذية": أي في اللسان.
وقد قيل: النساء ثلاثة؛ واحدة لك، وواحدة عليك، وواحدة لا لك ولا عليك.
أما التي لك فهي البكر، وأما التي عليك فهي الثيب التي لها ولد من غيرك، وأما التي لا لك ولا عليك فهي الثيب التي ليس لها ولد من غيرك.
وقال بعض العلماء يكره نكاح خمسة:
أنانة: أي كثيرة الأنين والتشكي وتعصب رأسها كل ساعة فنكاح المريضة والمتمرضة لا خير فيه.
وحنانة: وهي التي تحن إلى زوج آخر كل ساعة.
وحداقة: وهي التي ترمي بعينها إلى كل شيء تكلف زوجها شراءه.
وبراقة: وهيا التي تعمل على تجميل وجهها وتزينه، وقيل: هي التي تغضب على الطعام ولا تأكل إلا وحدها تشتغل بنفسها في كل شيء.
والشداقة: وهي التي تتشدق كثيرا بالكلام.
5- ألا تكون أعلى منه قدرًا ونسبًا ومالًا وجاهًا ولا أصغر منه سنا.
لأن ذلك كله يؤدي إلى ترافعها عليه وعدم احترامه وربما يؤدي ذلك إلى النشوز والمخالفة والهجر في المضجع وعدم تمكينه من المباشرة فيؤدي كل ذلك إلى قطع العشرة.
এবং ‘লাফুতাহ’ নয়, আর সে হলো এমন নারী যার অন্য স্বামী থেকে সন্তান রয়েছে।
এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "নীল নয়না", অর্থাৎ যার চোখের বর্ণ নীল।
"অশ্লীল ভাষিণী": অর্থাৎ যার জিহ্বায় কুরুচিপূর্ণতা রয়েছে।
বলা হয়ে থাকে: নারী তিন প্রকার; এক প্রকার তোমার অনুকূলে, এক প্রকার তোমার প্রতিকূলে এবং এক প্রকার তোমার অনুকূলেও নয়, প্রতিকূলেও নয়।
যে তোমার অনুকূলে সে হলো কুমারী। আর যে তোমার প্রতিকূলে সে হলো এমন বিবাহিতা নারী যার অন্য স্বামী থেকে সন্তান রয়েছে। আর যে তোমার অনুকূলেও নয়, প্রতিকূলেও নয় সে হলো এমন বিবাহিতা নারী যার অন্য স্বামী থেকে কোনো সন্তান নেই।
কোনো কোনো আলেম বলেছেন, পাঁচ ধরনের নারীকে বিয়ে করা অপছন্দনীয়:
আন্নানাহ (বিলাপকারিণী): অর্থাৎ যে অধিক বিলাপ ও অভিযোগ করে এবং প্রতি মুহূর্তে মাথায় পট্টি বেঁধে রাখে; সুতরাং প্রকৃত অসুস্থ কিংবা অসুস্থতার ভানকারিনীকে বিয়ে করার মধ্যে কোনো কল্যাণ নেই।
হান্নানাহ (ব্যাকুলকারিণী): সে হলো ঐ নারী যে প্রতি মুহূর্তে অন্য (পূর্বের) স্বামীর প্রতি ব্যাকুলতা প্রকাশ করে।
হাদ্দাক্বাহ (লোলুপদৃষ্টিসম্পন্না): সে হলো ঐ নারী যে প্রতিটি জিনিসের ওপর দৃষ্টি নিক্ষেপ করে এবং তা ক্রয় করার জন্য তার স্বামীকে বাধ্য করে।
বাররাক্বাহ (প্রসাধনপ্রিয়): সে হলো ঐ নারী যে সর্বদা স্বীয় মুখমণ্ডল ঘষামাজা ও সাজসজ্জায় ব্যস্ত থাকে। বলা হয়ে থাকে: সে হলো ঐ নারী যে খাবারের ওপর রাগ করে এবং একা ছাড়া আহার করে না, সে সর্বদাই নিজের কাজে নিমগ্ন থাকে।
শাদ্দাক্বাহ (বাচাল): সে হলো ঐ নারী যে মুখ বাঁকিয়ে অত্যাধিক কথা বলে।
৫- নারী যেন মর্যাদা, বংশ, সম্পদ ও সম্মানে পুরুষের চেয়ে উচ্চ না হয় এবং বয়সে তার চেয়ে ছোট না হয়।
কেননা এই সব কিছুই তার ওপর শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ এবং তাকে সম্মান না করার দিকে ধাবিত করে। সম্ভবত এটি অবাধ্যতা, বিরোধিতা, শয্যা বর্জন এবং সহবাসে বাধা প্রদানের দিকে নিয়ে যায়; ফলে এই সব কিছু দাম্পত্য জীবন ছিন্ন হওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
(খণ্ড: ১)
ফিকহুন নিকাহ ওয়াল ফারাঈদ
(পৃষ্ঠা: ২১)
فالأولى أن يختار الرجل إما من هي مثلة في المنزلة، أو من هي دونه فيها ليعظم قدره عندها وليحقق معها القوامة التي عبر عنها القرآن الكريم حيث يقول ربنا جل جلاله {الرِّجَالُ قَوَّامُونَ عَلَى النِّسَاءِ بِمَا فَضَّلَ اللَّهُ بَعْضَهُمْ عَلَى بَعْضٍ وَبِمَا أَنْفَقُوا مِنْ أَمْوَالِهِمْ} 1.
6- ألا يكون في حلها خلاف:
ينبغي على الرجل عند اختيار شريكه حياته أن يختار التي تحل له قولا واحدا ويبتعد عن اختيار المختلف في حلها كالتي زنى هو بها أو تمتع بأمها، أو التي زنى بها أصله أو فرعه، أو التي شك في تحريمها عليه بسبب الرضاع المحرم.
7- أن تكون ولودا ودودا:
وقوله صلى الله عليه وسلم: "تزوجوا الولود الودود".
وقوله صلى الله عليه وسلم: "سوداء ولود خير من حسناء عقيم".
وتعرف البكر بأقاربها من النساء، والودود التي تتودد لزوجها بحبها له بسبب ما تتصف به من صفات حميدة.
8- ألا يكن لها مطلق يرغب في نكاحها:
لأن ذلك يؤدي في الغالب إلى إفساد العلاقة الزوجية بينها وبين الزوج الثاني لها بسبب رغبتها وحنينها إلى الزوج الأول.
9- أن تكون خفيفة المهر:
لقوله صلى الله عليه وسلم: "أعظم النساء بركة أيسرهن مؤنة".
--------------------------------------------
সুতরাং উত্তম হলো, পুরুষ এমন একজনকে বেছে নেবে যে হয় তার সমমর্যাদার অথবা তার চেয়ে নিচু মর্যাদার, যাতে তার কাছে তার (স্বামীর) গুরুত্ব বৃদ্ধি পায় এবং তার সাথে সেই ‘কাওয়ামাহ’ (কর্তৃত্ব) বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় যা পবিত্র কুরআনে বর্ণিত হয়েছে। আমাদের মহান রব বলেন: “পুরুষেরা নারীদের ওপর কর্তৃত্বশীল, যেহেতু আল্লাহ তাদের এককে অপরের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন এবং যেহেতু তারা তাদের সম্পদ থেকে ব্যয় করে।” ১।
৬- তার বৈধতা নিয়ে যেন কোনো মতভেদ না থাকে:
জীবনসঙ্গিনী নির্বাচনের সময় পুরুষের উচিত এমন নারীকে বেছে নেওয়া যার বৈধতা সর্বসম্মত এবং যার বৈধতা নিয়ে মতভেদ রয়েছে তাকে পরিহার করা। যেমন—যার সাথে সে নিজে ব্যভিচার করেছে অথবা যার মায়ের সাথে শারীরিক সম্পর্ক করেছে, অথবা যার সাথে তার পূর্বপুরুষ বা বংশধর ব্যভিচার করেছে, কিংবা দুগ্ধপানজনিত কারণে হারাম হওয়ার বিষয়ে সন্দেহ রয়েছে।
৭- অধিক সন্তানদাত্রী ও প্রেমময়ী হওয়া:
এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: “তোমরা অধিক সন্তানদাত্রী ও অধিক প্রেমময়ী নারীকে বিবাহ করো।”
এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: “অধিক সন্তানদাত্রী কৃষ্ণাঙ্গ নারী বন্ধ্যা সুন্দরী নারীর চেয়ে উত্তম।”
কুমারী নারীর অবস্থা তার নিকটাত্মীয় নারীদের মাধ্যমে জানা যায়; আর প্রেমময়ী হলো সেই নারী যে তার প্রশংসনীয় গুণাবলির কারণে স্বামীর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করে এবং তার প্রিয়পাত্রী হয়ে ওঠে।
৮- তার যেন এমন কোনো তালাকদাতা (প্রাক্তন স্বামী) না থাকে যে তাকে পুনরায় বিবাহ করতে আগ্রহী:
কারণ এটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে দ্বিতীয় স্বামীর সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার দিকে নিয়ে যায়, যেহেতু তার মনে প্রথম স্বামীর প্রতি আকাঙ্ক্ষা ও অনুরাগ বিদ্যমান থাকে।
৯- মোহরানা স্বল্প হওয়া:
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীর কারণে: “সর্বাধিক বরকতময় নারী হচ্ছে সে, যার ব্যয়ভার (মোহরানা) সবচাইতে সহজ।”
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিকহুন নিকাহ ওয়াল ফারাঈদ
(পৃষ্ঠা: ২২)
قال عروة: أول شؤم المرأة أن يكثر صداقها.
10- ألا تكون ذات قرابة قريبة:
لقوله صلى الله عليه وسلم: "ولا تنكحوا القرابة القريبة، فإن الولد يخلق ضاويًا" أي نحيفا. وذلك لضعف الشهوة وقال ابن الصلاح: لم أجد لهذا الحديث أصلا معتمدا، فينبغي ألا يكون لهذه الصفة أثر عند الاختيار لعدم وجود دليل يعتمد عليه، بل الثابت خلافه لأن الرسول صلى الله عليه وسلم تزوج بزينب بنت جحش رضي الله عنهما وهي بنت عمته، وزوج ابنته فاطمة رضي الله عنها لعلي بن أبي طالب وهو ابن عمه.
ومن ثم فلا أرى بأسا من زواج القريبة، وإن كان الطب الحديث أثبت أن هناك عوامل وراثية بين الزوجين القريبين تؤدي أحيانا إلى حدوث تشوهات خلقية لأبنائهما، ولكنه في نفس الوقت قد توصل بفضل الله عز وجل ثم بفضل الاختراعات العلمية الحديثة إلى الوسائل العلاجية قبل الزواج إلى التغلب على هذه الظاهرة التي قد يصاب بها الجنين الناتج عن زواج الأقارب.
ثم قال الخطيب الشربيني -يرحمه الله- بعد أن أورد هذه الصفات التي تختار على أساسها المرأة عند الاقتران بها، وهذه الصفات كلها قل أن يجدها الشخص في نساء الدنيا، وإنما توجد في نساء الجنان فنسأل الله تعالى ألا يحرمنا منهن". ا. هـ.
উরওয়া বলেছেন: নারীর প্রথম অশুভ দিক হলো তার মোহর অত্যধিক হওয়া।
১০- নিকটাত্মীয় না হওয়া:
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীর কারণে: "তোমরা নিকটাত্মীয়কে বিবাহ করো না, কেননা এতে সন্তান দুর্বল ও ক্ষীণকায় হয়ে জন্মায়।" অর্থাৎ রোগা বা পাতলা। আর এটি কামনার দুর্বলতার কারণে হয়ে থাকে। ইবনে আস-সালাহ বলেছেন: আমি এই হাদিসের কোনো নির্ভরযোগ্য ভিত্তি খুঁজে পাইনি, তাই বিবাহের পাত্রী নির্বাচনের ক্ষেত্রে এই গুণটির কোনো প্রভাব থাকা উচিত নয়, কারণ এর সপক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য দলিল নেই; বরং এর বিপরীতটিই প্রমাণিত। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যয়নব বিনতে জাহাশ রাদিয়াল্লাহু আনহুমাকে বিবাহ করেছিলেন, যিনি ছিলেন তাঁর ফুফাতো বোন; এবং তিনি তাঁর কন্যা ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে আলী ইবনে আবি তালিবের সাথে বিবাহ দিয়েছিলেন, যিনি ছিলেন তাঁর চাচাতো ভাই।
ফলে আমি নিকটাত্মীয়কে বিবাহ করাতে কোনো দোষ দেখি না, যদিও আধুনিক চিকিৎসাশাস্ত্র এটি প্রমাণ করেছে যে, নিকটাত্মীয় দম্পতির মধ্যে এমন কিছু বংশগত কারণ থাকে যা কখনও কখনও সন্তানদের জন্মগত ত্রুটির দিকে নিয়ে যায়, তবে একই সাথে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার অনুগ্রহে এবং আধুনিক বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবনের মাধ্যমে বিবাহের পূর্বে এমন কিছু চিকিৎসাগত উপায় উদ্ভাবিত হয়েছে যার দ্বারা নিকটাত্মীয়ের বিবাহের ফলে ভ্রূণের আক্রান্ত হওয়ার এই সমস্যাটি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।
অতঃপর খতিব আশ-শিরবিনী—আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন—বিবাহের জন্য নারী নির্বাচনের ভিত্তি হিসেবে এই গুণাবলি উল্লেখ করার পর বলেন: "আর এই সমস্ত গুণাবলির সবই দুনিয়ার নারীদের মাঝে পাওয়া দুষ্কর, বরং এগুলো জান্নাতের নারীদের মধ্যেই পাওয়া যায়। আমরা মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের তাদের থেকে বঞ্চিত না করেন।" সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১)
ফিকহুন নিকাহ ওয়াল ফারাঈদ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
والاختيار كما يتحقق من جانب الرجل على ما جرى عليه العرف والعادة بصفته الطالب والمرأة المطلوبة.
فإنه -أي الاختيار- يتحقق كذلك من جانب المرأة، إما بنفسها أو بوليها، وأساس الاختيار واحد، فإنه ينبغي أن تختار المرأة الزوج الصالح الذي تأمن معه على نفسه ومالها وعرضها وتسعد بحياة زوجية مستقرة في كنف زوجها دون أن تجري وراء المظاهر الخادعة والنزعات الطائشة فإذا جعلت المرأة اختيار شريك حياتها أساسه الجاه والثراء دون اكتراث بما رواء ذلك، فإن هذا الاختيار غالبا ما يعرضها للهزات العنيفة ويجعل حياتها الزوجية مع هذا الزوج غير مستقرة ولا مستديمة.
ومن ثم كان لزاما عليها عند اختيارها للزوج المنشود أن يكون ذلك الزوج في المقام الأول صاحب خلق ودين ثم الاعتبارات الأخرى مطلوبة في الزوج ولكن في المرتبة التالية لذلك.
فلتنظر إلى المقارنة البلاغية اللطيفة في قوله -عز من قائل- {وَالطَّيِّبَاتُ لِلطَّيِّبِينَ وَالطَّيِّبُونَ لِلطَّيِّبَاتِ} 1.
فهذه المقابلة الرائعة تبين لنا بيانا لا شك فيه بأنه يجب على كل من الزوجين أن يختار لنفسه من يناسبه حتى يتم الأنس والوئام والمنشود في الحياة الزوجية الصالحة، لو كان الاختيار من جانب الزوج فقط لاكتفى القرآن الكريم بقوله: {وَالطَّيِّبَاتُ لِلطَّيِّبِينَ} .
--------------------------------------------
প্রচলিত প্রথা ও অভ্যাস অনুযায়ী পুরুষ যেমন অন্বেষণকারী এবং নারী যেমন অন্বেষিত হওয়ার সূত্রে পুরুষের পক্ষ থেকে জীবনসঙ্গিনী নির্বাচন সম্পন্ন হয়।
ঠিক একইভাবে এই নির্বাচন নারীর পক্ষ থেকেও সম্পন্ন হয়, হয় সে নিজে করে অথবা তার অভিভাবকের মাধ্যমে। নির্বাচনের ভিত্তি অভিন্ন; নারীর উচিত এমন একজন সৎ স্বামী নির্বাচন করা, যার নিকট সে নিজের জীবন, সম্পদ ও সম্ভ্রমের ব্যাপারে নিরাপদ বোধ করবে এবং মরীচিকা সদৃশ বাহ্যিক চাকচিক্য ও অস্থির লালসার পেছনে না ছুটে স্বামীর আশ্রয়ে একটি স্থিতিশীল দাম্পত্য জীবনে সুখী হবে। নারী যদি তার জীবনসঙ্গী নির্বাচনের ভিত্তি কেবল পদমর্যাদা ও ধন-সম্পদকে বানায় এবং এর পেছনের বিষয়গুলোর তোয়াক্কা না করে, তবে এই নির্বাচন তাকে প্রায়ই প্রচণ্ড অস্থিরতার মুখে ফেলে দেয় এবং এই স্বামীর সাথে তার দাম্পত্য জীবনকে অস্থিতিশীল ও ক্ষণস্থায়ী করে তোলে।
আর তাই কাঙ্ক্ষিত স্বামী নির্বাচনের সময় নারীর জন্য এটি অপরিহার্য যে, সেই স্বামী প্রথমত চরিত্রবান ও দ্বীনদার হবে; এরপর স্বামীর মধ্যে অন্যান্য বিষয়গুলো কাম্য হতে পারে, তবে তা অবশ্যই পরবর্তী স্তরে।
মহান আল্লাহর এই বাণীতে বিদ্যমান সূক্ষ্ম আলংকারিক তুলনাটির দিকে লক্ষ্য করুন— "পবিত্র নারীগণ পবিত্র পুরুষদের জন্য এবং পবিত্র পুরুষগণ পবিত্র নারীদের জন্য।" ১।
এই চমৎকার সামঞ্জস্য বিধান আমাদের সামনে নিঃসংশয়ভাবে স্পষ্ট করে দেয় যে, স্বামী-স্ত্রী উভয়ের প্রত্যেকেরই উচিত নিজের জন্য উপযুক্ত সঙ্গীকে নির্বাচন করা, যাতে একটি নেককার দাম্পত্য জীবনে কাঙ্ক্ষিত হৃদ্যতা ও সম্প্রীতি পূর্ণতা পায়। যদি নির্বাচন কেবল স্বামীর পক্ষ থেকেই হতো, তবে কুরআন মজিদ শুধু এটুকু বলেই ক্ষান্ত হতো যে: "পবিত্র নারীগণ পবিত্র পুরুষদের জন্য।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিকহুন নিকাহ ওয়াল ফারাঈদ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
من غير احتياج إلى إيراد العبارة الثانية {وَالطَّيِّبُونَ لِلطَّيِّبَاتِ} فالرجل يسعد في حياته وتسعد معه المرأة إذا كان كل منهما على خلق ودين، وإلى هذا المعنى يقول ربنا حل جلاله: {وَأَنْكِحُوا الْأَيَامَى مِنْكُمْ وَالصَّالِحِينَ مِنْ عِبَادِكُمْ} 1.
كما أن نبينا المصطفى صلى الله عليه وسلم يقول: "إذا جاءكم من ترضون دينه وخلفه فزوجوه إلا تفعلوا تكن فتنة في الارض وفساد كبير".
وكما قيل: إن صاحب الدين إذا أحب أكرم وإذا كره لم يظلم.
فعلى الولي أن يختار لمن له عليها ولاية صاحب الدين والخلق والشرف؛ لأنه إن عاشرها عاشرها بالمعروف، وإن فارقها فارقها بإحسان.
ورحم الله تعالى الإمام الجليل أبا حامد الغزالي الذي قال في الإحياء: والاحتياط في حقها أهم؛ لأنها رقيقة بالنكاح لا مخلص لها، والزوج قادر على الطلاق بكل حال، فمن زوج ابنته ظالمًا أو فاسقًا أو مبتدعًا أو شارب خمر فقد جنى على دينه وتعرض لسخط الله تعالى لما قطع من الرحم وسوء الاختيار.
قال رجل للحسن بن علي رضي الله عنهما: إن لي بنتا فمن ترى أن أزوجها له؟ فقال له الحسن رضي الله عنه: زوجها ممن يتقي الله فإن أحبها أكرمها وإن أبغضها لم يظلمها.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় বাক্যটি—"এবং পবিত্র পুরুষগণ পবিত্র নারীদের জন্য"—উল্লেখ করার প্রয়োজন ছাড়াই বলা যায় যে, পুরুষ তার জীবনে সুখী হয় এবং নারীও তার সাথে সুখী হয় যখন তাদের উভয়েই সচ্চরিত্র ও দ্বীনদারির ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকে। আর এই অর্থেই আমাদের রব মহান মহিমান্বিত সত্তা ইরশাদ করেন: "তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহহীন এবং তোমাদের দাস-দাসীদের মধ্যে যারা সৎকর্মশীল, তাদের বিবাহ সম্পাদন করো।" ১।
তেমনিভাবে আমাদের মনোনীত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: "তোমাদের নিকট যদি এমন কোনো ব্যক্তি (বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে) আসে যার দ্বীনদারি ও চরিত্রের ব্যাপারে তোমরা সন্তুষ্ট, তবে তার সাথে বিবাহ দাও। যদি তোমরা তা না করো, তবে জমিনে ফিতনা ও বড় ধরনের বিপর্যয় সৃষ্টি হবে।"
আর যেমনটি বলা হয়েছে: নিশ্চয়ই দ্বীনদার ব্যক্তি যখন (স্ত্রীকে) ভালোবাসে তখন তাকে সম্মানিত করে, আর যখন তাকে অপছন্দ করে তখন তার প্রতি জুলুম করে না।
সুতরাং অভিভাবকের দায়িত্ব হলো, তার অভিভাবকত্বের অধীন নারীর জন্য দ্বীনদার, সচ্চরিত্রবান ও মর্যাদাশীল পাত্র নির্বাচন করা; কারণ সে যদি তার সাথে ঘরসংসার করে তবে তা সদাচারের সাথে করবে, আর যদি তাকে বিচ্ছিন্ন করে দেয় তবে তা মহানুভবতার সাথেই করবে।
আল্লাহ তাআলা মহান ইমাম আবু হামিদ আল-গাজালির প্রতি রহম করুন, যিনি 'ইহয়া' গ্রন্থে বলেছেন: "নারীর অধিকারের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা অধিক গুরুত্বপূর্ণ; কারণ সে বিবাহের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে যায় যেখান থেকে তার নিষ্কৃতির কোনো উপায় থাকে না, অথচ স্বামী সর্বাবস্থায় তালাক প্রদানে সক্ষম। অতএব, যে ব্যক্তি তার কন্যাকে কোনো জালেম, ফাসেক, বিদয়াতি অথবা মদ্যপায়ীর নিকট বিবাহ দিল, সে মূলত তার দ্বীনের ওপর অপরাধ করল এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করার ও মন্দ নির্বাচনের কারণে সে আল্লাহ তাআলার অসন্তুষ্টির সম্মুখীন হলো।"
এক ব্যক্তি হাসান ইবনে আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে বললেন: আমার একটি কন্যা আছে, আপনি কার নিকট তাকে বিবাহ দেওয়ার পরামর্শ দেন? হাসান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাকে বললেন: "তাকে এমন পাত্রের নিকট বিবাহ দাও যে আল্লাহকে ভয় করে। কারণ সে যদি তাকে ভালোবাসে তবে সম্মানিত করবে, আর যদি তাকে অপছন্দ করে তবে তার প্রতি জুলুম করবে না।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিকহুন নিকাহ ওয়াল ফারাঈদ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وقالت عائشة رضي الله عنها النكاح رق فلينظر أحدكم أين يضع كريمته.
كما يقول صلى الله عليه وسلم: "من زوج كريمته من فاسق فقد قطع رحمها".
مرحلة الاختيار:
هذا الاختيار الذي حث عليه الإسلام الجانبين راغبي الزواج أو أحدهما أشبه بالعمل التحضيري الذي يبيح شرعا التعرف من أحد الزوجين على الآخر والنظر إليه، من أن يكون ذلك مظهر خارجي أن يشعر به الآخر حتى لا يتأذى إذا ما حدث إعراض.
وفي هذا يحدثنا الصحابي الجليل جابر بن عبد الله رضي الله عنه فيقول: "خطبت امرأة فكنت أختبئ لها حتى رأيت منها ما دعاني إلى نكاحها فتزوجتها" كما يقول صلى الله عليه وسلم: "إذا خطب أحدكم امرأة فلا جناح عليه أن ينظر منها إذا أراد الخطبة وإن كانت لا تعلم".
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, "বিবাহ হলো এক প্রকার দাসত্ব; অতএব তোমাদের প্রত্যেকের দেখা উচিত সে তার প্রিয় কন্যাকে কোথায় অর্পণ করছে।"
যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: "যে ব্যক্তি তার প্রিয় কন্যাকে কোনো পাপাচারীর সাথে বিবাহ দিল, সে যেন তার আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করল।"
নির্বাচন পর্যায়:
ইসলাম বিবাহে আগ্রহী উভয় পক্ষকে অথবা তাদের যেকোনো একজনকে যে নির্বাচনের ব্যাপারে উৎসাহিত করেছে, তা একটি প্রস্তুতিমূলক কাজের সদৃশ; যা শরীয়তগতভাবে হবু স্বামী-স্ত্রীর একে অপরের সম্পর্কে জানার এবং তাকে দেখার অনুমতি দেয়। এটি এমন এক বাহ্যিক পন্থায় হওয়া উচিত যা অন্যজন টের পাবে না, যাতে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হলে সে মনে কষ্ট না পায়।
এ বিষয়ে মহান সাহাবী জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু আমাদের নিকট বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আমি একজন নারীকে বিবাহের প্রস্তাব দিলাম, অতঃপর আমি তার জন্য লুকিয়ে থাকতাম যতক্ষণ না তার মধ্যে এমন কিছু দেখলাম যা আমাকে তাকে বিবাহের দিকে আকৃষ্ট করল, এরপর আমি তাকে বিবাহ করলাম।" যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: "তোমাদের কেউ যখন কোনো নারীকে বিবাহের প্রস্তাব দেয়, তখন সে যদি বিবাহের উদ্দেশ্যে তাকে দেখে নেয় তবে তাতে কোনো দোষ নেই, যদিও সে (নারীটি) তা না জানে।"
(খণ্ড: ১)
ফিকহুন নিকাহ ওয়াল ফারাঈদ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
المقدمة الثانية: الخطبة
مدخل…المقدمة الثانية الخطبة:
بعد المقدمة الأولى للنكاح، وهي الاختيار تأتي المقدمة الثانية "الخطبة".
تعريفها:
الخطبة -بكسر الخاء وضمها- مأخوذة من خطب -بضم الخاء- لكن خصت الخطبة بضم الخاء بالكلام المنثور أو المسجوع الموجه إلى الغير، ومنها خطبة المنبر.
দ্বিতীয় ভূমিকা: বিয়ের প্রস্তাবসূচনা…দ্বিতীয় ভূমিকা: বিয়ের প্রস্তাব:
বিয়ের প্রথম ভূমিকা অর্থাৎ সঙ্গী নির্বাচনের পর দ্বিতীয় ভূমিকা ‘বিয়ের প্রস্তাব’ প্রদানের বিষয়টি আসে।
এর সংজ্ঞা:
খিতবাহ শব্দটি—খা বর্ণে জের এবং পেশ উভয় যোগে—‘খুতব’ (খা বর্ণে পেশ যোগে) শব্দ থেকে উদ্ভূত। তবে পেশ-যুক্ত ‘খুতবাহ’ শব্দটি অন্যদের উদ্দেশ্যে দেওয়া গদ্যময় বা ছন্দোবদ্ধ বক্তব্যের জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে, যার অন্তর্ভুক্ত হলো মিম্বারের ভাষণ।
(খণ্ড: ১)
ফিকহুন নিকাহ ওয়াল ফারাঈদ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وخصت الخطبة -بكسر الخاء- بخطبة المرأة للزواج، ومنه قوله تعالى: {وَلا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ فِيمَا عَرَّضْتُمْ بِهِ مِنْ خِطْبَةِ النِّسَاءِ} 1.
والخطبة في الاصطلاح: التماس الخاطب النكاح من جهة المخطوبة.
ويفهم من التعريف الاصطلاحي للخطبة أنها لا تكون إلا من جانب الرجل فقط ولا تكون من جانب المرأة ولكن إذا ظهرت للمرأة من تراه أصلح لها ولم تظهر منه رغبة مع أنه أهل للزواج فلا مانع شرعا من أن تتقدم وتظهر رغبتها في الزواج منها بنفسها أو بولي من أوليائها أو برسول الله من جهتها.
يوضح لنا ذلك القرآن الكريم حين عرضه لموقف شعيب عليه السلام مع موسى عليه السلام حيث قال شعيب له: {إِنِّي أُرِيدُ أَنْ أُنْكِحَكَ إِحْدَى ابْنَتَيَّ هَاتَيْنِ عَلَى أَنْ تَأْجُرَنِي ثَمَانِيَ حِجَجٍ} 2.
وتلك هي السيدة خديجة بنت خوليد رضي الله عنها فهي التي خطبت النبي صلى الله عليه وسلم قبل الرسالة وأظهرت رغبتها في التزوج منه، ولم يعرف أنه صلى الله عليه وسلم كان يفكر في ذلك.
وروى البخاري وغيره من حديث سهل بن سعد الساعدي أن امرأة جاءت إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالت: يا رسول الله جئت أهب نفسي منك -أو لك. على خلاف في الروايات.
فقال لها النبي صلى الله عليه وسلم: "ما لي في النساء من حاجة" يقول أهل العلم: إن عدم إنكار النبي صلى الله عليه وسلم على عرضها نفسها
--------------------------------------------
'খুতবাহ' (খ-এর নিচে জের দিয়ে) শব্দটি বিশেষত বিবাহের জন্য নারীকে প্রস্তাব প্রদানের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। এর অন্তর্ভুক্ত হলো মহান আল্লাহর বাণী: "নারীদের নিকট তোমাদের বিবাহের প্রস্তাব ইঙ্গিতে প্রকাশ করায় তোমাদের কোনো পাপ নেই।" ১।
পারিভাষিক অর্থে 'খুতবাহ' হলো: বিবাহপ্রার্থীর পক্ষ থেকে যাকে বিবাহ করা হবে তার নিকট বিবাহের আবেদন করা।
খুতবাহর পারিভাষিক সংজ্ঞা থেকে এটিই বোঝা যায় যে, এটি কেবল পুরুষের পক্ষ থেকেই হয়ে থাকে, নারীর পক্ষ থেকে নয়। তবে কোনো নারীর নিকট যদি এমন কাউকে প্রকাশ পায় যাকে সে নিজের জন্য অধিক যোগ্য মনে করে, কিন্তু সেই পুরুষের পক্ষ থেকে কোনো আগ্রহ প্রকাশ পায়নি যদিও সে বিবাহের উপযুক্ত, এমতাবস্থায় সেই নারী নিজে অথবা তার কোনো অভিভাবকের মাধ্যমে কিংবা তার পক্ষ থেকে প্রেরিত কোনো প্রতিনিধির মাধ্যমে বিবাহের প্রস্তাব পেশ করতে ও বিবাহের আগ্রহ প্রকাশ করতে শরয়ি কোনো বাধা নেই।
পবিত্র কুরআন আমাদের নিকট এটি স্পষ্ট করে যখন তা মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর সাথে শুআইব (আলাইহিস সালাম)-এর অবস্থান তুলে ধরে; যেখানে শুআইব তাকে বলেছিলেন: "আমি আমার এই দুই কন্যার একজনকে তোমার সাথে বিবাহ দিতে চাই এই শর্তে যে, তুমি আট বছর আমার কাজ করে দেবে।" ২।
আর তিনি হলেন সাইয়্যেদাহ খাদিজা বিনতে খুয়াইলিদ (রাযিয়াল্লাহু আনহা); তিনিই নবুওয়াত প্রাপ্তির পূর্বে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে প্রস্তাব দিয়েছিলেন এবং তাঁর সাথে বিবাহের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছিলেন, অথচ এটি জানা যায় না যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তখন এ বিষয়ে কোনো চিন্তা করছিলেন।
ইমাম বুখারি ও অন্যান্যরা সাহল ইবনে সাদ আস-সাঈদি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এক নারী আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল! আমি নিজেকে আপনার নিকট নিবেদন করতে (দান করতে) এসেছি।" —বর্ণনাসমূহে শব্দের কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে।
তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বললেন: "নারীদের প্রতি আমার কোনো প্রয়োজন নেই।" আলেমগণ বলেন: সেই নারীর পক্ষ থেকে নিজেকে পেশ করার বিষয়টিতে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আপত্তি না করা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিকহুন নিকাহ ওয়াল ফারাঈদ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
عليه ورغبتها في الزواج من دليل على جواز خطبة المرأة لمن تراه أهلا للزواج به.
وكذلك أخرج البخاري بسنده عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه قال: أتيت عثمان بن عفان فعرضت عليه حفصه، فقال: سأنظر في أمري، فقال: قد بدا لي ألا أتزوج يومي هذا، قال عمر: فلقيت أبا بكر الصديق رضي الله عنه فقلت: إن شئت زوجتك بنت عمر، فصمت أبو بكر، فلم يرجع إليَّ شيئا وكنت أوجد عليه من عثمان.
فعمر بن الخطاب رضي الله عنه عندما توفي زوج ابنته حفصة اهتم بشأنها بعد انقضاء عدتها من زوجها المتوفى عنها وهي في ريعان شبابها فعرضها على كبار الصحابة دون حياء ولا تردد فتزوجها النبي صلى الله عليه وسلم فهل ثقلت مؤنة حفصة على أبيها عمر رضي الله عنه لدرجة أن يعرضها بنفسه على من هم في مثل سنه؟ أم أنه يختار لها الأصلح دينا ودنيا.
فليكن لكم أيها الأولياء في سلفكم الصالح القدوة الحسنة حتى تسعدوا بناتكم وحتى يجد الشباب والفتيات الطريق الحلال لتكوين أسرة سعيدة يسعد بسعادتها المجتمع.
إلا أن المرأة في الغالب يمعنها حياؤها أن تعرض نفسها على من تراه أهلا لنكاحها، وكذلك يستحيي واليها من ذلك، لكن قد يحدث هذا العرض وإظهار الرغبة من أمها أو أختها فإذا ما صادف العرض ما في نفس الرجل فإنه يتقدم لخطبتها، فالدين لا يمنع المرأة من خطبة من تراه أهلا
তার প্রতি তাঁর আগ্রহ এবং তাঁর সাথে বিবাহের ইচ্ছা প্রকাশ এই বিষয়ের প্রমাণ যে, কোনো নারী যাকে বিবাহের যোগ্য মনে করেন, তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া বৈধ।
একইভাবে ইমাম বুখারি তাঁর সনদে উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি উসমান ইবনে আফফানের কাছে গেলাম এবং তাঁর কাছে হাফসাকে (বিয়ের জন্য) পেশ করলাম। তিনি বললেন: আমি আমার বিষয়টি বিবেচনা করে দেখব। এরপর তিনি বললেন: আমার কাছে এখন মনে হচ্ছে যে আজ আমি বিয়ে করব না। উমর বলেন: এরপর আমি আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর সাথে সাক্ষাৎ করলাম এবং বললাম: আপনি চাইলে আমি উমরের কন্যার সাথে আপনার বিয়ে দেব। আবু বকর চুপ থাকলেন এবং আমাকে কোনো উত্তর দিলেন না। এতে আমি উসমানের চেয়েও তাঁর ওপর অধিক মনোক্ষুণ্ণ হলাম।
সুতরাং উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর কন্যার স্বামী যখন মারা গেলেন, তখন হাফসা তাঁর অকাল যৌবনে বিধবা হওয়ার পর ইদ্দত পার হলে উমর তাঁর বিষয়ে চিন্তিত হলেন। তিনি কোনো লজ্জা বা দ্বিধা ছাড়াই বড় বড় সাহাবিদের কাছে তাঁকে বিয়ের জন্য পেশ করলেন। পরিশেষে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বিয়ে করলেন। হাফসার ভরণ-পোষণের বোঝা কি তাঁর পিতা উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর কাছে এতই ভারি হয়ে গিয়েছিল যে, তিনি নিজে তাঁর সমবয়সীদের কাছে তাঁকে পেশ করলেন? নাকি তিনি তাঁর জন্য দ্বীন ও দুনিয়ার দিক থেকে সবচেয়ে কল্যাণকর পাত্র নির্বাচন করছিলেন।
হে অভিভাবকগণ! আপনাদের জন্য আপনাদের সালাফে সালেহীন বা নেককার পূর্বসূরিদের মাঝে উত্তম আদর্শ রয়েছে। যাতে আপনারা আপনাদের কন্যাদের সুখী করতে পারেন এবং যাতে যুবক-যুবতীরা একটি সুখী পরিবার গঠনের হালাল পথ খুঁজে পায়, যার সুখে সমাজও সুখী হবে।
তবে নারী সাধারণত তার লজ্জার কারণে যাকে বিবাহের যোগ্য মনে করে তার কাছে নিজেকে পেশ করতে সংকুচিত হয়, আবার তার অভিভাবকও এ বিষয়ে লজ্জা বোধ করেন। কিন্তু এই প্রস্তাব পেশ করা এবং আগ্রহ প্রকাশ করা তার মা বা বোনের পক্ষ থেকেও হতে পারে। আর যদি সেই প্রস্তাব পুরুষের মনের ইচ্ছার সাথে মিলে যায়, তবে সে তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেবে। সুতরাং ধর্ম কোনো নারীকে যাকে সে যোগ্য মনে করে তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিতে বাধা দেয় না।
(খণ্ড: ১)
ফিকহুন নিকাহ ওয়াল ফারাঈদ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
لنكاحها وإن كان العرف والعادة يمنعان من ذلك، ومع هذا شاع على ألسنة الناس "اخطب لابنتك ولا تخطب لابنك"، مما يدل على أن الناس يريدون التوجه إلى ما يحث عليه الدين لا العرف والعادة.
তার বিবাহের জন্য, যদিও প্রচলিত প্রথা ও রীতিনীতি তা থেকে বাধা প্রদান করে। তবে এতদসত্ত্বেও মানুষের মুখে এটি প্রসিদ্ধ যে, "তোমার কন্যার জন্য বিবাহের প্রস্তাব দাও, তোমার পুত্রের জন্য নয়।" যা একথারই প্রমাণ দেয় যে, মানুষ প্রচলিত প্রথা ও রীতিনীতির চেয়ে দীনের উৎসাহিত বিষয়ের দিকেই ধাবিত হতে চায়।
(খণ্ড: ১)
ফিকহুন নিকাহ ওয়াল ফারাঈদ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
مشروعية خطبة النساء…مشروعية الخطبة:
يستدل على مشروعية الخطبة من الكتاب والسنة. فمن الكتاب قوله تعالى: {وَلا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ فِيمَا عَرَّضْتُمْ بِهِ مِنْ خِطْبَةِ النِّسَاءِ أَوْ أَكْنَنْتُمْ فِي أَنْفُسِكُمْ} 1.
ووجه الدلالة من الآية الكريمة أنها أجازت التعريض بالخطبة للمتوفى عنها زوجها وهي في عدتها، فإذا أجاز التعريض بخطبة المعتدة من وفاة فمن باب أولى يجوز في حق الخالية، ومن السنة قوله صلى الله عليه وسلم: "إذا خطب أحدكم امرأة فإن استطاع أن ينظر فيها إلى ما يدعوه إلى نكاحها فليفعل".
فدل الحديث بصريح اللفظ على مشروعية الخطبة فضلا عما فيه من أحكام أخرى ستفصل في حينها إن شاء الله تعالى.
حكمها والحكمة الشرعية من مشروعيتها:
قال الخطيب الشربيني في مغني المحتاج: قال الغزالي: هي مستحبة وقيل: هي كالنكاح إذ الوسائل كالمقاصد، وأقول: الأصل في الخطبة أنها مستحبة بيد أنها تأخذ حكم النكاح فإن كان النكاح حراما كانت
--------------------------------------------
নারীদের বিয়ের প্রস্তাব প্রদানের বৈধতা…বিয়ের প্রস্তাবের বৈধতা:
কুরআন এবং সুন্নাহ থেকে বিয়ের প্রস্তাবের বৈধতার দলিল পেশ করা হয়। কুরআন থেকে মহান আল্লাহর বাণী: "তোমরা যদি অস্পষ্টভাবে (ইঙ্গিতে) নারীদের বিয়ের প্রস্তাব দাও অথবা তোমাদের মনে গোপন রাখ, তবে তোমাদের কোনো পাপ নেই।" ১
সম্মানিত এই আয়াতের নির্দেশনার দিকটি হলো, এটি সেই নারীর ক্ষেত্রে ইশারায় বিয়ের প্রস্তাব প্রদানকে বৈধ করেছে যার স্বামী মারা গেছে এবং সে তার ইদ্দত পালন করছে। সুতরাং মৃত্যুর কারণে ইদ্দত পালনরত নারীর ক্ষেত্রে যদি ইশারায় প্রস্তাব দেওয়া বৈধ হয়, তবে যে নারী ইদ্দত থেকে মুক্ত তার ক্ষেত্রে এটি আরও বেশি সঙ্গতভাবে বৈধ হবে। আর সুন্নাহ থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "যখন তোমাদের কেউ কোনো নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়, তখন সে যদি তার এমন কিছুর দিকে তাকাতে সক্ষম হয় যা তাকে তার সাথে বিবাহে উৎসাহিত করে, তবে সে যেন তা করে।"
এই হাদিসটি তার স্পষ্ট শব্দের মাধ্যমে বিয়ের প্রস্তাব প্রদানের বৈধতাকে প্রমাণ করে। এছাড়া এতে অন্যান্য বিধানও রয়েছে যা ইনশাআল্লাহ যথাসময়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।
এর বিধান এবং এর বৈধতার নেপথ্যে শরয়ি হিকমত:
খতিব আশ-শিরবিনি 'মুগনি আল-মুহতাজ' গ্রন্থে বলেছেন: ইমাম গাজালি বলেছেন: এটি মুস্তাহাব। আবার বলা হয়েছে: এটি বিবাহের মতোই, যেহেতু মাধ্যমসমূহ লক্ষ্যের পর্যায়ভুক্ত। আর আমি বলছি: বিয়ের প্রস্তাবের ক্ষেত্রে মূল বিধান হলো এটি মুস্তাহাব, তবে এটি বিবাহের বিধানই গ্রহণ করে। সুতরাং বিবাহ যদি হারাম হয় তবে (প্রস্তাব প্রদানও হারাম হবে)...
--------------------------------------------