القسم: التخريج والأطراف
الكتاب: ذيل القول المسدد في الذب عن المسند للإمام أحمد
المؤلف: قاضي الملك محمد صبغة الله بن محمد غوث بن محمد ناصر الدين المدارسي الهندي الشافعي (ت 1280هـ)
الناشر: مكتبة ابن تيمية - القاهرة
الطبعة: الأولى، 1401
عدد الصفحات: 89
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
বিভাগ: তাখরিজ ও আতরাফ
বই: ইমাম আহমদের মুসনাদের প্রতিরক্ষায় 'যাইলুল কাওলুল মুসাদ্দাদ'
লেখক: কাজিউল মুলক মুহাম্মদ সিবগাতুল্লাহ বিন মুহাম্মদ গাউস বিন মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আল-মাদরাসি আল-হিন্দি আশ-শাফিয়ি (মৃত্যু ১২৮০ হিজরি)
প্রকাশক: মাকতাবাতু ইবনে তাইমিয়্যাহ - কায়রো
সংস্করণ: প্রথম, ১৪০১
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮৯
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
সুয়ূতী বলেছেন যে, এর সমর্থনে আরও বর্ণনা রয়েছে। তাবারানী বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনুল মুআল্লা আদ-দিমাশকী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হিশাম ইবনে আম্মার, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুয়াবিয়া ইবনে ইয়াহইয়া আল-আতরাবুলুসী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুয়াবিয়া ইবনে সাঈদ, তিনি ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবীব থেকে, তিনি মারসাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-ইয়াযানী থেকে, তিনি আবু রুহাম আস-সাময়ী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, "অসুস্থ ব্যক্তির সেবা-শুশ্রূষার পূর্ণতা হলো তুমি তোমার হাত তার ওপর রাখবে এবং তাকে জিজ্ঞাসা করবে যে সে কেমন আছে।" বায়হাকী তাঁর 'সুনান' গ্রন্থে বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তাহের আল-ফকীহ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু হামিদ ইবনে বিলাল, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মুগীরাহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুর রহমান ইবনে ইয়াজিদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাঈল ইবনে আব্দুল্লাহ, তিনি আবু সালেহ থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর এক সাহাবীকে দেখতে গেলেন এবং ফিরে আসলেন, আমি তখন তাঁর সাথে ছিলাম। তিনি তার হাত ধরলেন এবং তার কপালে নিজের হাত রাখলেন, আর তিনি একে অসুস্থ ব্যক্তির সেবা-শুশ্রূষার পূর্ণতা মনে করতেন। ইবনুস সুন্নী এটি আবু মুগীরাহ-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। আবু ইয়ালা বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যাকারিয়া, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হুশাইম, তিনি আমাশ থেকে, তিনি আবুদ্দুহা থেকে, তিনি মাসরূক থেকে এবং তিনি আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন কোনো অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যেতেন, তখন তিনি ব্যথার স্থানে নিজের হাত রাখতেন, অতঃপর বলতেন: "আল্লাহর নামে, কোনো অসুবিধা নেই।" এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। মারওয়াযী 'আল-জানায়েয' গ্রন্থে বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-কাওয়ারীরী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান ইবনে হাবীব, তিনি ইবনে জুরাইজ থেকে এবং তিনি আতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "ইবাদতের পূর্ণতা হলো তুমি অসুস্থ ব্যক্তির ওপর তোমার হাত রাখবে।" সমাপ্ত।
আমি বলি, হাফেজ আসকালানী বলেছেন: আয়েশা থেকে বর্ণিত আবু ইয়ালার হাদিসটির সনদ হাসান। সমাপ্ত। এর সমর্থনে আরও বর্ণনা রয়েছে যা বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে জুআইদ-এর সূত্রে আয়েশা বিনতে সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস থেকে এবং তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন তাঁর মক্কায় অসুস্থতা থাকাকালীন। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে দেখতে এসেছিলেন। সাদ বলেন: অতঃপর তিনি তাঁর হাত আমার কপালের ওপর রাখলেন এবং আমার মুখ ও পেটে হাত বুলিয়ে দিলেন, তারপর বললেন: "হে আল্লাহ! সাদকে সুস্থ করে দিন।" (পুরো হাদিসটি)।
আর দ্বিতীয় অংশের সমর্থনে ইবনে মাসউদের একটি হাদিস রয়েছে যা তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনে আবদাহ আদ-দাব্বী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে সুলাইম আত-তায়েফী, তিনি সুফিয়ান থেকে, তিনি মনসুর থেকে, তিনি এক ব্যক্তি থেকে এবং তিনি ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে ও তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন...
আমি মানুষের সালাত আদায়ের সাত বছর আগে সালাত আদায় করেছি। এটি ইবনুল জাওযী তাঁর 'আল-মাওযুআত' গ্রন্থে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল বাকী আল-বাযযার-এর সূত্রে উল্লেখ করেছেন; তিনি আমাদের জানিয়েছেন ইবরাহীম ইবনে উমর আল-বারমাকী থেকে, তিনি আমাদের জানিয়েছেন আবু মুহাম্মাদ ইবনে মাসী থেকে, তিনি আমাদের বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে মারযূক থেকে, তিনি আমাদের বর্ণনা করেছেন ইসমাঈল ইবনে ইবরাহীম ইবনে বাসসাম থেকে, তিনি বলেন যে আমি শুআইব ইবনে সাফওয়ান থেকে শুনেছি, তিনি আজলাহ থেকে, তিনি সালামাহ ইবনে কুহাইল থেকে, তিনি হাব্বাহ ইবনে জুওয়াইন থেকে, তিনি আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি (আলী) বলেছেন: "আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে এই উম্মতের কোনো ব্যক্তি আল্লাহর ইবাদত করার পাঁচ বা সাত বছর আগে তাঁর ইবাদত করেছি।" আজলাহ সম্পর্কে বলা হয়েছে তিনি 'মুনকারুল হাদীস' (হাদীস বর্ণনায় প্রত্যাখ্যাত) এবং হাব্বাহ হাদীসের ক্ষেত্রে অত্যন্ত দুর্বল ও কট্টর শিয়া মতাবলম্বী।
আমি (গ্রন্থকার) বলছি: এটি তাঁর হাদীসকে 'মাওযু' (জাল) হওয়ার অনিবার্য দাবি রাখে না। আল্লামা সুয়ূতী বলেছেন: চার সুনান গ্রন্থে আজলাহ থেকে হাদীস বর্ণিত হয়েছে এবং ইবনে মাঈন ও ইজলী তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন। আবু হাতিম বলেছেন: তিনি শক্তিশালী নন। নাসাঈ বলেছেন: তিনি দুর্বল। ইবনে আদী বলেছেন: তিনি সত্যবাদী শিয়া। আর হাব্বাহ-কে অধিকাংশ মুহাদ্দিস দুর্বল বলেছেন, তবে ইজলী তাঁকে নির্ভরযোগ্য তাবিঈ বলেছেন। তাবারানী বলেন: বলা হয় যে তাঁর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল। ইবনে আদী বলেন: আমি তাঁর এমন কোনো 'মুনকার' বর্ণনা দেখিনি যা সীমা অতিক্রম করেছে।
হাদীসটি ইমাম হাকিমও সংকলন করেছেন; আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু উমর আয-যাহিদ, তিনি বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনে হিশাম আল-মারওয়াযী থেকে, তিনি আবু ইবরাহীম আত-তারজুমানী থেকে, তিনি শুআইব ইবনে সাফওয়ান থেকে উক্ত সূত্রে। ইমাম যাহাবী 'তালখিসুল মুস্তাদরাক' গ্রন্থে এর পর্যালোচনা করে বলেছেন যে, খাদিজা, আবু বকর, বিলাল এবং যায়িদ রাদিয়াল্লাহু আনহুম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রেরিত হওয়ার শুরুতেই ঈমান এনেছিলেন এবং তাঁর সাথে আল্লাহর ইবাদত করেছিলেন। যাহাবী বলেন: সম্ভবত শ্রোতা শুনতে ভুল করেছেন এবং আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু হয়তো বলেছিলেন "আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ইবাদত করেছি যখন আমার বয়স ছিল সাত বছর", আর বর্ণনাকারী যা শুনেছেন তা সঠিকভাবে আয়ত্ত করতে পারেননি। তাবারানী 'আল-আওসাত' গ্রন্থে বলেছেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আহমাদ, তিনি বর্ণনা করেছেন আব্দুর রহমান ইবনে সালিহ আল-আযদী থেকে, তিনি আমর ইবনে হাশিম আল-জানাবী থেকে, তিনি আজলাহ থেকে, তিনি সালামাহ ইবনে কুহাইল থেকে, তিনি হাব্বাহ ইবনে জুওয়াইন আল-উরানী থেকে, তিনি আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে তিনি বলেছেন: "হে আল্লাহ! আপনি জানেন যে এই উম্মতের কেউ আমার আগে আপনার ইবাদত করেনি। আমি এই উম্মতের অন্য কেউ আপনার ইবাদত করার ছয় বছর আগে আপনার ইবাদত করেছি।" সুয়ূতীর বক্তব্য এখানেই শেষ।
আমি (গ্রন্থকার) বলছি: যাহাবী যে সমালোচনা করেছেন তা কেবল আজলাহ-এর সূত্রের বর্ণনার ওপরই প্রযোজ্য। কিন্তু ইমাম আহমাদ যা বর্ণনা করেছেন তার ক্ষেত্রে এই সমালোচনা প্রযোজ্য নয়; কারণ তাঁর "সাত" বলার দ্বারা উদ্দেশ্য হতে পারে যে...
তিনি শক্তিশালী নন। আহমাদ বলেন: আমাদের নিকট আফফান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাম্মাদ (অর্থাৎ ইবনে সালামাহ) বর্ণনা করেছেন, তিনি সাবিত থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে উমর (আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (আল্লাহর সালাত ও শান্তি তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) এক ব্যক্তিকে বললেন, "তুমি কি অমুক অমুক কাজ করেছ?" সে বলল, "না, সেই সত্তার কসম যিনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, আমি তা করিনি।" তখন জিবরাঈল (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) তাঁকে বললেন, "সে এটি করেছে, তবে 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই'—একথা বলার কারণে তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে।" হাম্মাদ বলেন, তিনি এটি ইবনে উমর থেকে সরাসরি শোনেননি, তাঁদের মাঝে একজন ব্যক্তি (অর্থাৎ সাবিত) রয়েছেন। বায়হাকীও এটি বর্ণনা করেছেন।
আহমাদ বলেন: হাসান ইবনে মুসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাম্মাদ ইবনে সালামাহ আতা ইবনে সাইব থেকে, তিনি আবু ইয়াহইয়া থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেন যে, দুই ব্যক্তি নবী (আল্লাহর সালাত ও শান্তি তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-এর কাছে বিবাদে লিপ্ত হলো। আল্লাহর রাসূল (আল্লাহর সালাত ও শান্তি তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) বাদীর কাছে প্রমাণ চাইলেন, কিন্তু তার কাছে কোনো প্রমাণ ছিল না। ফলে তিনি বিবাদীর নিকট শপথ চাইলেন। সে আল্লাহর নামে শপথ করল—যিনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। তখন আল্লাহর রাসূল (আল্লাহর সালাত ও শান্তি তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) বললেন, "তুমি নিশ্চয়ই এটি করেছ, তবে একনিষ্ঠভাবে 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই'—একথা বলার কারণে তোমাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে।"
আহমাদ বলেন: আফফান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাম্মাদ ইবনে সালামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, এরপর তিনি অনুরূপ উল্লেখ করেন।
আহমাদ বলেন: হাসান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাম্মাদ ইবনে সালামাহ সাবিত আল-বুনানী থেকে, তিনি ইবনে উমর (আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে, তিনি নবী (আল্লাহর সালাত ও শান্তি তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে এতে তিনি বলেছেন: জিবরাঈল (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) আমাকে জানিয়েছেন যে, "নিশ্চয়ই তুমি তা করেছ, কিন্তু আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন।"
আহমাদ বলেন: আসওয়াদ ইবনে আমির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শারীক আতা ইবনে সাইব থেকে, তিনি আবু ইয়াহইয়া আল-আরাজ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: দুই ব্যক্তি নবী (আল্লাহর সালাত ও শান্তি তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-এর কাছে বিবাদ নিয়ে এলো। তাঁদের একজনের ওপর শপথ করার দায়িত্ব পড়ল। সে আল্লাহর নামে শপথ করে বলল—যিনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই—যে তার কাছে বাদীর কিছুই নেই। তিনি বলেন: তখন জিবরাঈল নবী (আল্লাহর সালাত ও শান্তি তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-এর নিকট অবতীর্ণ হলেন এবং বললেন, "নিশ্চয়ই সে মিথ্যাবাদী, নিশ্চয়ই তার কাছে বাদীর হক (অধিকার) রয়েছে।" অতঃপর তিনি তাকে তার হক দিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিলেন। আর তার শপথের কাফফারা হলো তার এই উপলব্ধি যে 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই', অথবা তার এই সাক্ষ্য প্রদান।
আহমাদ বলেন: হাশিম ইবনুল কাসিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শারীক আতা ইবনে সাইব থেকে, তিনি আবু ইয়াহইয়া আল-আরাজ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: দুই ব্যক্তি বিবাদে লিপ্ত হলো এবং তাদের একজনের ওপর শপথ বর্তাল। সে আল্লাহর নামে শপথ করে বলল—যিনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই—যে তার ওপর তার কোনো হক নেই। তখন জিবরাঈল (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) অবতীর্ণ হলেন এবং বললেন, "তাকে নির্দেশ দিন যেন সে তাকে তার হক প্রদান করে, কারণ হকটি তার কাছেই রয়েছে এবং সে মিথ্যা বলেছে।" আর কাফফারা...
তাদের উভয়ের প্রতি আল্লাহ সন্তুষ্ট হোন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি মদ পান করবে, তার চল্লিশ রাতের সালাত কবুল হবে না। এরপর সে যদি তাওবা করে, তবে আল্লাহ তার তাওবা কবুল করবেন। এরপর সে যদি পুনরায় পান করে, তবে আল্লাহ পুনরায় তার প্রতি (শাস্তি নিয়ে) ফিরে আসবেন। যদি সে আবার তাওবা করে, তবে আল্লাহ তার তাওবা কবুল করবেন। এরপর সে যদি আবারও পান করে, তবে আল্লাহর জন্য এটি আবশ্যক হয়ে যায় যে, তিনি তাকে খবাল নদী (নাহরুল খাবাল) থেকে পান করাবেন।" জিজ্ঞাসা করা হলো, "খবাল নদী কী?" তিনি বললেন, "জাহান্নামীদের শরীর নিসৃত পুঁজ।"
আবু দাউদ আত-তায়ালিসি এটি তার মুসনাদে বর্ণনা করেছেন। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাম, আতা ইবনুল সায়িব থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে উবাইদ ইবনে উমাইর থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি ইবনে উমর (তাদের উভয়ের প্রতি আল্লাহ সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেন যে, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "যে ব্যক্তি মদ পান করবে, তার চল্লিশ রাতের সালাত কবুল হবে না। এরপর সে যদি তাওবা করে, তবে আল্লাহ তার তাওবা কবুল করবেন। সে যদি পুনরায় পান করে, তবে তার চল্লিশ রাতের সালাত কবুল হবে না। এরপর সে যদি তাওবা করে, তবে আল্লাহ তার তাওবা কবুল করবেন। এমতাবস্থায় আল্লাহর জন্য এটি আবশ্যক হয়ে যায় যে, তিনি তাকে খবাল কাদা (ত্বীনাতুল খাবাল) থেকে পান করাবেন।" জিজ্ঞাসা করা হলো, "হে আবু আবদুর রহমান! খবাল কাদা কী?" তিনি বললেন, "জাহান্নামীদের শরীর নিসৃত পুঁজ।"
ইমাম তিরমিজি এটি বর্ণনা করেছেন। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন কুতাইবাহ, তিনি জারীর থেকে, তিনি আতা ইবনুল সায়িব থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে উবাইদ ইবনে উমাইর থেকে, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে উমর (তাদের উভয়ের প্রতি আল্লাহ সন্তুষ্ট হোন) বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি মদ পান করবে, তার চল্লিশ সকালের (দিনের) সালাত কবুল হবে না। এরপর সে যদি তাওবা করে, তবে আল্লাহ তার তাওবা কবুল করবেন। এরপর সে যদি পুনরায় পান করে, তবে আল্লাহ তার চল্লিশ সকালের সালাত কবুল করবেন না। এরপর সে যদি তাওবা করে, তবে আল্লাহ তার তাওবা কবুল করবেন। পুনরায় যদি সে পান করে, তবে আল্লাহ তার চল্লিশ সকালের সালাত কবুল করবেন না। এরপর সে যদি তাওবা করে, তবে আল্লাহ তার তাওবা কবুল করবেন। অতঃপর সে যদি চতুর্থবার পুনরায় পান করে, তবে আল্লাহ তার চল্লিশ সকালের সালাত কবুল করবেন না; এমতাবস্থায় সে যদি তাওবাও করে, আল্লাহ তার তাওবা কবুল করবেন না এবং তাকে খবাল নদী থেকে পান করাবেন।" জিজ্ঞাসা করা হলো, "হে আবু আবদুর রহমান! খবাল নদী কী?" তিনি বললেন, "জাহান্নামীদের শরীর নিসৃত পুঁজের একটি নদী।"
ইমাম তিরমিজি বলেন, এই হাদিসটি হাসান। আল-হাকিমও এটি বর্ণনা করেছেন এবং একে সহিহ বলেছেন। হাফেজ আল-মুনজিরি তার এই সহিহ বলার ওপর কোনো আপত্তি করেননি। আবু ইয়ালা এটি যুহাইর থেকে এবং তিনি জারীর থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তিনি মুহাম্মদ ইবনে বাশার থেকেও বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু আমির থেকে, তিনি আইয়ুব ইবনে সাবিত থেকে, তিনি খালিদ ইবনে কায়সান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি ইবনে উমরকে (তাদের উভয়ের প্রতি আল্লাহ সন্তুষ্ট হোন) বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি মদ পান করল এবং মাতাল হলো, তার চল্লিশ দিনের সালাত কবুল হবে না। আর সে যদি এই অবস্থায় মারা যায়, তবে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।" এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।
ইমাম নাসাঈ এটি বর্ণনা করেছেন। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর ইবনে আলী, তিনি সুরাইজ ইবনে ইউনুস থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে আবদুল মালিক থেকে, তিনি আলা থেকে—আর তিনি হলেন আলা ইবনুল মুসায়্যিব—তিনি ফুযাইল থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি ইবনে উমর (তাদের উভয়ের প্রতি আল্লাহ সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি মদ পান করল কিন্তু মাতাল হলো না, যতক্ষণ তার উদরে বা রগসমূহে এর কোনো অংশ অবশিষ্ট থাকবে, ততক্ষণ তার সালাত কবুল হবে না। আর সে যদি এমতাবস্থায় মারা যায়, তবে কাফের হয়ে মারা যাবে। আর যদি সে মাতাল হয়, তবে তার চল্লিশ দিনের সালাত কবুল হবে না।"