(খণ্ড: ১) যাইলুল কাওলিল মুসাদ্দাদ (পৃষ্ঠা: -)
ذيل القول المسدد   (صبغة الله المدراسي الهندي)

القسم: التخريج والأطراف


الكتاب: ذيل القول المسدد في الذب عن المسند للإمام أحمد

المؤلف: قاضي الملك محمد صبغة الله بن محمد غوث بن محمد ناصر الدين المدارسي الهندي الشافعي (ت 1280هـ)

الناشر: مكتبة ابن تيمية - القاهرة

الطبعة: الأولى، 1401

عدد الصفحات: 89

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

যাইলুল কাওলুল মুসাদ্দাদ   (সিবগাতুল্লাহ আল-মাদরাসি আল-হিন্দি)

বিভাগ: তাখরিজ ও আতরাফ


বই: ইমাম আহমদের মুসনাদের প্রতিরক্ষায় 'যাইলুল কাওলুল মুসাদ্দাদ'

লেখক: কাজিউল মুলক মুহাম্মদ সিবগাতুল্লাহ বিন মুহাম্মদ গাউস বিন মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আল-মাদরাসি আল-হিন্দি আশ-শাফিয়ি (মৃত্যু ১২৮০ হিজরি)

প্রকাশক: মাকতাবাতু ইবনে তাইমিয়্যাহ - কায়রো

সংস্করণ: প্রথম, ১৪০১

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮৯

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) যাইলুল কাওলিল মুসাদ্দাদ (পৃষ্ঠা: -)
الكتاب: ذيل القول المسدد في الذب عن المسند للإمام أحمد

المؤلف: قاضي الملك محمد صبغة الله بن محمد غوث بن محمد ناصر الدين المدارسي الهندي الشافعي

الناشر: مكتبة ابن تيمية - القاهرة

الطبعة: الأولى، 1401

عدد الأجزاء: 1

[الكتاب مدقق إملائيا وترقيمه موافق للمطبوع]
কিতাব: ইমাম আহমদের মুসনাদ রক্ষায় 'আল-কাওলুল মুসাদ্দাদ'-এর পরিশিষ্ট

লেখক: কাজিউল মুলক মুহাম্মদ সিবগাতুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ গাওস ইবনে মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আল-মাদরাসি আল-হিন্দি আশ-শাফিয়ি

প্রকাশক: মাকতাবাতু ইবনি তাইমিয়্যাহ - কায়রো

সংস্করণ: প্রথম, ১৪০১

খণ্ড সংখ্যা: ১

[কিতাবটি বানান সংশোধন করা হয়েছে এবং এর সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
(খণ্ড: ১) যাইলুল কাওলিল মুসাদ্দাদ (পৃষ্ঠা: ৪৮)
‌‌بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم

قَالَ الشَّيْخ الإِمَام والحبر الْهمام بَقِيَّة الْمُحدثين وَالِدي صبغة الله بن مُحَمَّد غوث بن مُحَمَّد نَاصِر الدَّين أدخلهم الله فِي أَعلَى عليين

وَللَّه الْحَمد أَن الْحَافِظ الْعِرَاقِيّ ذكر تِسْعَة أَحَادِيث واستدرك عَلَيْهِ الْحَافِظ الْعَسْقَلَانِي وَزَاد خَمْسَة عشر حَدِيثا فَصَارَ الْمَجْمُوع أَرْبَعَة وَعشْرين حَدِيثا وَقد ذكر الْحَافِظ جلال الدَّين السُّيُوطِيّ فِي كِتَابه النكت البديعات عَلَى الموضوعات أَن فِي مَوْضُوعَات ابْن الْجَوْزِيّ ثَمَانِيَة وَثَلَاثِينَ حَدِيثا من مُسْند الإِمَام أَحْمد رضي الله عنه وَهَا أَنا أذكر الْأَحَادِيث الَّتِي فَاتَت الْحَافِظ الْعَسْقَلَانِي رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى وَهِي هَذِه

 

‌‌الحَدِيث الأول

قَالَ الإِمَام أَحْمد رضي الله عنه حَدثنَا أَبُو الْمثنى معَاذ بن معَاذ الْعَنْبَري ثَنَا حَمَّاد بن سَلمَة ثَنَا ثَابت الْبنانِيّ عَن أنس بن مَالك رضي الله عنه عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ فِي قَوْله تَعَالَى {فَلَمَّا تجلى ربه للجبل} قَالَ قَالَ هَكَذَا يَعْنِي أَنه أخرج طرف الْخِنْصر قَالَ أَحْمد أرانا معَاذ قَالَ فَقَالَ لَهُ حميد الطَّوِيل مَا تُرِيدُ إِلَى هَذَا يَا أَبَا مُحَمَّد قَالَ فَضرب صَدره ضَرْبَة شَدِيدَة وَقَالَ من أَنْت يَا حميد وَمَا أَنْت يَا حميد يحدثني بِهِ أنس بن مَالك عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ فَنَقُول أَنْت تُرِيدُ إِلَيْهِ وَرَوَاهُ أَيْضا عَن روح عَن حَمَّاد أوردهُ ابْن الْجَوْزِيّ فِي الموضوعات من طَرِيق ابْن عدي قَالَ حَدثنَا عَلّي بن أَحْمد بن بسطَام ثَنَا هَدِيَّة ثَنَا حَمَّاد بن سَلمَة ثَنَا ثَابت البنائي عَن أنس رضي الله عنه أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ قَرَأَ {فَلَمَّا تجلى ربه للجبل جعله دكا} قَالَ أخرج خِنْصره عَلَى إبهامه فساخ الْجَبَل وَنقل عَن
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

শায়খ, ইমাম, বিজ্ঞ পণ্ডিত, মুহাদ্দিসগণের উত্তরসূরি, আমার পিতা সিবগাতুল্লাহ ইবন মুহাম্মাদ গাওস ইবন মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দিন (আল্লাহ তাঁদেরকে জান্নাতের সর্বোচ্চ স্তরে দাখিল করুন) বলেন:

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য; হাফেজ আল-ইরাকি নয়টি হাদিস উল্লেখ করেছেন এবং হাফেজ আল-আসকালানি তা পরিমার্জন করে আরও পনেরোটি হাদিস বৃদ্ধি করেছেন, ফলে মোট সংখ্যা চব্বিশটি হয়েছে। হাফেজ জালালুদ্দিন আস-সুয়ূতি তাঁর ‘আন-নুকাতুল বাদিআত আলাল মাওদুআত’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, ইবনুল জাওযির ‘মাওদুআত’ গ্রন্থে ইমাম আহমাদ (রা.)-এর মুসনাদ থেকে আটত্রিশটি হাদিস রয়েছে। আর আমি এখানে সেই হাদিসগুলো উল্লেখ করছি যা হাফেজ আল-আসকালানি (রহ.)-এর নিকট বাদ পড়েছিল, আর সেগুলো হলো এই:

 

প্রথম হাদিস

ইমাম আহমাদ (রা.) বলেন, আমাদের নিকট আবু আল-মুসান্না মুয়ায ইবন মুয়ায আল-আনবারি বর্ণনা করেছেন, তিনি হাম্মাদ ইবন সালামাহ থেকে, তিনি সাবিত আল-বুনানি থেকে, তিনি আনাস ইবন মালিক (রা.) থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন: {যখন তাঁর রব পাহাড়ের প্রতি জ্যোতি প্রকাশ করলেন}, তিনি বললেন: তিনি এমনটি করলেন—অর্থাৎ তিনি তাঁর কনিষ্ঠ আঙুলের অগ্রভাগ বের করলেন। আহমাদ বলেন, মুয়ায আমাদের তা দেখালেন। তিনি (মুয়ায) বলেন, তখন হুমাইদ আত-তবিল তাঁকে বললেন, “হে আবু মুহাম্মাদ, আপনি এটি দিয়ে কী বুঝাতে চান?” তখন তিনি তাঁর বুকে এক জোরালো আঘাত করলেন এবং বললেন, “হে হুমাইদ, তুমি কে? আর হে হুমাইদ, তুমি কী? আমার কাছে আনাস ইবন মালিক নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে এটি বর্ণনা করছেন, আর আমরা বলছি তুমি এটি দিয়ে কী বুঝাতে চাও?” তিনি এটি রাওহ-এর সূত্রে হাম্মাদ থেকেও বর্ণনা করেছেন। ইবনুল জাওযি এটি ‘মাওদুআত’ গ্রন্থে ইবন আদির সূত্রে উল্লেখ করেছেন; তিনি বলেন, আমাদের নিকট আলি ইবন আহমাদ ইবন বিসতাম বর্ণনা করেছেন, তিনি হাদিয়া থেকে, তিনি হাম্মাদ ইবন সালামাহ থেকে, তিনি সাবিত আল-বানানি থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) {যখন তাঁর রব পাহাড়ের প্রতি জ্যোতি প্রকাশ করলেন, তখন তা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেল} পাঠ করলেন এবং বললেন: তিনি তাঁর বৃদ্ধাঙ্গুলির ওপর কনিষ্ঠ আঙুল রাখলেন, ফলে পাহাড়টি ধসে পড়ল। এবং থেকে বর্ণিত...
(খণ্ড: ১) যাইলুল কাওলিল মুসাদ্দাদ (পৃষ্ঠা: ৪৯)
ابْن عدي قَالَ كَانَ ابْن أبي العرجاء ربيب حَمَّاد بن سَلمَة فَكَانَ يدس فِي كتبه هَذِه الْأَحَادِيث

قلت قَالَ الْحَافِظ السُّيُوطِيّ فِي اللآلئ المصنوعة هَذَا الحَدِيث صَحِيح رَوَاهُ خلق عَن حَمَّاد بن سَلمَة وَأخرجه الْأَئِمَّة من طرق عَنهُ وصححوه ثمَّ ذكر طَرِيق أَحْمد قَالَ وَأخرجه التِّرْمِذِيّ من طَرِيق سُلَيْمَان بن حَرْب عَن حَمَّاد وَقَالَ حسن صَحِيح غَرِيب وَأخرجه ابْن أبي عَاصِم فِي السّنة من طَرِيق أَسد بن مُوسَى وحجاج بن الْمنْهَال كِلَاهُمَا عَن حَمَّاد وَأخرجه ابْن مرْدَوَيْه فِي التَّفْسِير من طَرِيق مُسلم بن إِبْرَاهِيم عَن حَمَّاد وَأخرجه الْحَاكِم فِي الْمُسْتَدْرك من طَرِيق عَفَّان بن مُسلم وَسليمَان بن حَرْب كِلَاهُمَا عَن حَمَّاد وَأخرجه الْبَيْهَقِيّ فِي كتاب الرُّؤْيَة من طَرِيق سُلَيْمَان بن حَرْب وَمن طَرِيق مُحَمَّد بن كثير عَن حَمَّاد وَأخرجه الضياء الْمَقْدِسِي فِي المختارة وَصَححهُ وَقد ذكر الزَّرْكَشِيّ فِي تَخْرِيج الرَّافِعِيّ أَن تَصْحِيحه أَعلَى مرتبَة من تَصْحِيح الْحَاكِم وَأَنه قريب من تَصْحِيح التِّرْمِذِيّ وَابْن حبَان وَقَالَ ابْن طَاهِر فِي تذكرة الْحفاظ أورد ابْن عدي هَذَا الحَدِيث فِي تَرْجَمَة حَمَّاد بن سَلمَة وَلَعَلَّه أَشَارَ إِلَى تفرده بِهِ وَحَمَّاد إِمَام ثِقَة وَقَالَ الْبَيْهَقِيّ بعد تَخْرِيجه وَقد رَوَى عَن ابْن عَبَّاس رضي الله عنهما مَوْقُوفا ثمَّ أخرج من طَرِيق عَمْرو ابْن طَلْحَة عَن أَسْبَاط عَن السّديّ عَن عِكْرِمَة عَن ابْن عَبَّاس رضي الله عنهما فِي قَوْله تَعَالَى {فَلَمَّا تجلى ربه للجبل جعله دكا} قَالَ تجلى مِنْهُ مثل طرف الْخِنْصر فَجعل الْجَبَل دكا وَأخرجه الْحَاكِم وَصَححهُ وَأخرجه الطَّبَرَانِيّ فِي السّنة من طَرِيق عَمْرو بن مُحَمَّد الْعَنْقَزِي عَن أَسْبَاط ثمَّ وجدت لحماد بن سَلمَة مُتَابعًا عَن ثَابت ابْن أنس بِهِ وَأخرجه ابْن مرْدَوَيْه أَيْضا من طَرِيق شُعَيْب بن عبد الحميد الطَّحَّان عَن قُرَّة بن عِيسَى عَن الْأَعْمَش عَن رجل عَن أنس رضي الله عنه بِهِ وَورد أَيْضا من حَدِيث ابْن عمر أخرجه ابْن مرْدَوَيْه من طَرِيق الْمسيب بن شريك عَن ابْن الْبَيْلَمَانِي عَن أَبِيه عَن ابْن عمر رضي الله عنهما مَرْفُوعا بِهِ انْتَهَى كَلَام السُّيُوطِيّ

قلت مَا نقل أَنه درس فِي كتبه فَلَا يَصح وَإِنَّمَا نَقله مُحَمَّد بن شُجَاع
ইবনে আদি বলেন, ইবনে আবিল আরজা হাম্মাদ ইবনে সালামাহর সৎ ছেলে ছিল। সে তার কিতাবগুলোতে এই হাদিসগুলো ঢুকিয়ে দিত।

আমি বলি, হাফেজ সুয়ূতী 'আল-লাআলিল মাসনূআহ' গ্রন্থে বলেছেন যে, এই হাদিসটি সহিহ। বহু লোক হাম্মাদ ইবনে সালামাহ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং ইমামগণ তাঁর থেকে বিভিন্ন সূত্রে এটি বের করেছেন এবং একে সহিহ বলেছেন। এরপর তিনি আহমদের সূত্রটি উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, তিরমিযী এটি সুলাইমান ইবনে হারবের মাধ্যমে হাম্মাদ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন এটি হাসান সহিহ গারিব। ইবনে আবি আসিম 'আস-সুন্নাহ' গ্রন্থে আসাদ ইবনে মুসা এবং হাজ্জাজ ইবনুল মিনহাল—উভয়ের সূত্রে হাম্মাদ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। ইবনে মারদুওয়াইহ 'তাফসির' গ্রন্থে মুসলিম ইবনে ইবরাহিমের সূত্রে হাম্মাদ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। হাকেম 'আল-মুস্তাদরাক' গ্রন্থে আফফান ইবনে মুসলিম এবং সুলাইমান ইবনে হারব—উভয়ের সূত্রে হাম্মাদ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। বায়হাকী 'কিতাবুর রুয়ইয়াহ' গ্রন্থে সুলাইমান ইবনে হারবের সূত্রে এবং মুহাম্মদ ইবনে কাসিরের সূত্রে হাম্মাদ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। যিয়া আল-মাকদিসী 'আল-মুখতারাহ' গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন এবং একে সহিহ বলেছেন। যারকাশী 'তাখরিজ আল-রাফিঈ' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর সহিহ বলা হাকেমের সহিহ বলার চেয়ে উচ্চ পর্যায়ের এবং এটি তিরমিযী ও ইবনে হিব্বানের সহিহ বলার কাছাকাছি। ইবনে তাহের 'তাজকিরাত আল-হুফফাজ' গ্রন্থে বলেছেন, ইবনে আদি এই হাদিসটি হাম্মাদ ইবনে সালামাহর জীবনীতে উল্লেখ করেছেন এবং সম্ভবত তিনি এর মাধ্যমে তাঁর একক বর্ণনার দিকে ইঙ্গিত করেছেন; অথচ হাম্মাদ একজন নির্ভরযোগ্য ইমাম। বায়হাকী এটি বের করার পর বলেছেন যে, এটি ইবনে আব্বাস (রাদিআল্লাহু আনহুমা) থেকে মাওকুফ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। এরপর তিনি আমর ইবনে তালহার সূত্রে আসবাত থেকে, তিনি সুদ্দী থেকে, তিনি ইকরামা থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস (রাদিআল্লাহু আনহুমা) থেকে মহান আল্লাহর বাণী "অতঃপর যখন তার প্রতিপালক পাহাড়ের ওপর জ্যোতি প্রকাশ করলেন, তখন তা চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিলেন" সম্পর্কে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন—আল্লাহ তাঁর কনিষ্ঠ আঙুলের অগ্রভাগের মতো জ্যোতি প্রকাশ করেছিলেন, ফলে পাহাড়টি চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গিয়েছিল। হাকেম এটি বর্ণনা করেছেন এবং সহিহ বলেছেন। তাবারানী 'আস-সুন্নাহ' গ্রন্থে আমর ইবনে মুহাম্মদ আল-আনকাযীর সূত্রে আসবাত থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। এরপর আমি হাম্মাদ ইবনে সালামাহর জন্য সাবিত ইবনে আনাসের সূত্রে একটি সমান্তরাল বর্ণনা পেয়েছি। ইবনে মারদুওয়াইহ এটি শুআইব ইবনে আব্দুল হামিদ আত-তাহহান—কুররাহ ইবনে ঈসা—আ'মাশ—এক ব্যক্তি—আনাস (রাদিআল্লাহু আনহু)-এর সূত্রেও বর্ণনা করেছেন। এছাড়া এটি ইবনে ওমরের হাদিস থেকেও বর্ণিত হয়েছে; ইবনে মারদুওয়াইহ এটি মুসাইয়্যিব ইবনে শারীক—ইবনুল বাইলামানি—তাঁর পিতা—ইবনে ওমর (রাদিআল্লাহু আনহুমা)-এর সূত্রে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সুয়ূতী-এর কথা এখানেই শেষ।

আমি বলি, তার কিতাবসমূহে অনুপ্রবেশ করানোর বিষয়টি যা বর্ণিত হয়েছে তা সঠিক নয়; বরং এটি কেবল মুহাম্মদ ইবনে শুজা বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) যাইলুল কাওলিল মুসাদ্দাদ (পৃষ্ঠা: ৫০)
بن الثَّلْجِي قَالَ الذَّهَبِيّ فِي الْمِيزَان ابْن الثَّلْجِي لَيْسَ بمصدق عَلَى حَمَّاد وَأَمْثَاله وَقد أتهم

قَالَ الإِمَام أَحْمد حَدثنَا خلف بن الْوَلِيد ثَنَا ابْن الْمُبَارك وَعلي ابْن إِسْحَاق أَنبأَنَا ابْن الْمُبَارك عَن يَحْيَى بن أَيُّوب عَن عبيد الله بن زحر عَن عَلّي بن يزِيد عَن الْقَاسِم عَن أبي أُمَامَة رضي الله عنه عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ قَالَ من تَمام العيادة للْمَرِيض أَن يضع أحدكُم يَده عَلَى جَبهته أَو يَده فيسأله كَيفَ هُوَ وَتَمام تحياتكم بَيْنكُم المصافحة أوردهُ ابْن الْجَوْزِيّ فِي الموضوعات من طَرِيق الْعقيلِيّ ثَنَا أَحْمد بن إِبْرَاهِيم الْقرشِي ثَنَا سُلَيْمَان بن عبد الرَّحْمَن ثَنَا عبد الْأَعْلَى بن مُحَمَّد التَّاجِر ثَنَا يَحْيَى بن سعيد عَن الزُّهْرِيّ عَن أبي أُمَامَة قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ إِن من تَمام العيادة أَن تضع يدك عَلَى الْمَرِيض وَتقول كَيفَ أَصبَحت كَيفَ أمسيت وَأعله بِعَبْد الْأَعْلَى وَنقل عَن الْعقيلِيّ قَالَ عبد الْأَعْلَى يروي عَن يَحْيَى بن سعيد أَحَادِيث مَنَاكِير لَا يُتَابع عَلَيْهَا وَلَا أصُول لَهَا مِنْهَا هَذَا الحَدِيث قَالَ وَقد رَوَى عبيد الله بن زحر عَن عَلّي بن يزِيد عَن الْقَاسِم عَن أبي أُمَامَة فَذكر الحَدِيث الْمَذْكُور وَقَالَ عبيد الله لَيْسَ بِشَيْء وَكَذَا شَيْخه

قلت حَدِيث عبد الْأَعْلَى أخرجه ابْن السّني فِي عمل الْيَوْم وَاللَّيْلَة وَحَدِيث عَلّي بن يزِيد أخرجه التِّرْمِذِيّ أَيْضا قَالَ حَدثنَا سُوَيْد بن نصر نَا عبد الله يَعْنِي ابْن الْمُبَارك فَذكر الحَدِيث الْمُتَقَدّم بِتَمَامِهِ وَقَالَ إِسْنَاده لَيْسَ بِالْقَوِيّ وَنقل عَن البُخَارِيّ أَن عبيد الله بن زحر وَكَذَا الْقَاسِم ثقتان لَكِن عَلّي بن يزِيد ضَعِيف

قلت قَالَ ابْن الْجَوْزِيّ قَاسم مَتْرُوك قَالَ السُّيُوطِيّ قَاسم رَوَى لَهُ الْأَرْبَعَة وَقَالَ فِي الْمِيزَان قد وَثَّقَهُ ابْن معِين من وُجُوه عِنْده قَالَ الْجِرْجَانِيّ كَانَ خيارا فَاضلا أدْرك أَرْبَعِينَ من الْمُهَاجِرين وَالْأَنْصَار وَقَالَ التِّرْمِذِيّ ثِقَة وَقَالَ يَعْقُوب بن شيبَة مِنْهُم من يُضعفهُ عَلّي بن يزِيد لم يتهم بِالْكَذِبِ وَمن ثمَّ قَالَ الْحَافِظ الْعَسْقَلَانِي فِي فتح الْبَارِي حَدِيث التِّرْمِذِيّ سَنَده لين
ইবনে আল-ছালজি। আয-যাহাবি 'আল-মিজান' গ্রন্থে বলেছেন, ইবনে আল-ছালজি হাম্মাদ ও তার সমপর্যায়ের বর্ণনাকারীদের বিষয়ে নির্ভরযোগ্য নন এবং তিনি অভিযুক্ত হয়েছেন।

ইমাম আহমাদ বলেছেন, আমাদের নিকট খালাফ ইবনুল ওয়ালিদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট ইবনুল মুবারক বর্ণনা করেছেন এবং আলি ইবনে ইসহাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে ইবনুল মুবারক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইয়াহইয়া ইবনে আইয়ুব থেকে, তিনি উবাইদুল্লাহ ইবনে যাহর থেকে, তিনি আলি ইবনে ইয়াজিদ থেকে, তিনি আল-কাসিম থেকে, তিনি আবু উমামাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "রোগী দেখার পূর্ণতা হলো তোমাদের কেউ যেন তার হাত রোগীর কপালে বা তার হাতের ওপর রাখে এবং জিজ্ঞাসা করে সে কেমন আছে। আর তোমাদের মধ্যকার অভিবাদনের পূর্ণতা হলো মুসাফাহা করা।" ইবনুল জাওজি এটি 'আল-মাওযুয়াত' গ্রন্থে আল-উকাইলির সূত্রে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, আমাদের নিকট আহমাদ ইবনে ইবরাহিম আল-কুরাশি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট সুলাইমান ইবনে আব্দুর রহমান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আব্দুল আ'লা ইবনে মুহাম্মদ আত-তাজির বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ বর্ণনা করেছেন যুহরি থেকে, তিনি আবু উমামাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই রোগী দেখার পূর্ণতা হলো তুমি রোগীর ওপর তোমার হাত রাখবে এবং বলবে, তুমি কেমন সকাল অতিবাহিত করলে এবং কেমন সন্ধ্যা অতিবাহিত করলে।" তিনি আব্দুল আ'লার কারণে এটিকে ত্রুটিপূর্ণ বলেছেন এবং আল-উকাইলি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আব্দুল আ'লা ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে এমন সব অগ্রহণযোগ্য (মুনকার) হাদিস বর্ণনা করেন যেগুলোর কোনো অনুসরণকারী নেই এবং কোনো ভিত্তি নেই; এই হাদিসটিও তার অন্তর্ভুক্ত। তিনি বলেন, উবাইদুল্লাহ ইবনে যাহর আলি ইবনে ইয়াজিদ থেকে, তিনি আল-কাসিম থেকে এবং তিনি আবু উমামাহ থেকে উল্লেখ করেছেন। এরপর তিনি উক্ত হাদিসটি উল্লেখ করেন এবং বলেন যে, উবাইদুল্লাহ উল্লেখযোগ্য কেউ নন এবং তার উস্তাদও তদ্রূপ।

আমি বলছি, আব্দুল আ'লার হাদিসটি ইবনুস সুন্নি 'আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। আর আলি ইবনে ইয়াজিদের হাদিসটি আত-তিরমিজিও বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, আমাদের নিকট সুওয়াইদ ইবনে নাসর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ অর্থাৎ ইবনুল মুবারক বর্ণনা করেছেন। এরপর তিনি পূর্বোক্ত পূর্ণ হাদিসটি উল্লেখ করেন এবং বলেন যে, এর সনদ শক্তিশালী নয়। তিনি ইমাম বুখারি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, উবাইদুল্লাহ ইবনে যাহর এবং আল-কাসিম উভয়েই নির্ভরযোগ্য, তবে আলি ইবনে ইয়াজিদ দুর্বল।

আমি বলছি, ইবনুল জাওজি বলেছেন যে কাসিম পরিত্যক্ত। সুয়ুতি বলেছেন, চার ইমাম (সুনান চতুষ্টয়) কাসিমের হাদিস বর্ণনা করেছেন। 'আল-মিজান' গ্রন্থে বলা হয়েছে যে, ইবনে মাঈন তার নিকট বিদ্যমান বিভিন্ন দিক থেকে তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন। আল-জির্জানি বলেছেন, তিনি একজন উত্তম ও ফযিলতপূর্ণ ব্যক্তি ছিলেন, তিনি চল্লিশজন মুহাজির ও আনসারি সাহাবীর সাক্ষাৎ পেয়েছেন। আত-তিরমিজি তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন। ইয়াকুব ইবনে শাইবাহ বলেন, তাদের মধ্যে কেউ কেউ তাকে দুর্বল বলেছেন। আলি ইবনে ইয়াজিদ মিথ্যাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত হননি। আর এই কারণেই হাফেজ আসকালানি 'ফাতহুল বারি'তে বলেছেন, তিরমিজির হাদিসের সনদটি নমনীয়।
(খণ্ড: ১) যাইলুল কাওলিল মুসাদ্দাদ (পৃষ্ঠা: ৫১)
وَقَالَ السُّيُوطِيّ وَله شَوَاهِد قَالَ الطَّبَرَانِيّ ثَنَا أَحْمد بن الْمُعَلَّى الدِّمَشْقِي حَدثنَا هِشَام بن عمار ثَنَا مُعَاوِيَة بن يَحْيَى الأطرابلسي ثَنَا مُعَاوِيَة ابْن سعيد عَن يزِيد بن أبي حبيب عَن مرْثَد بن عبد الله الْيَزنِي عَن أبي رهم السمعي رضي الله عنه قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ إِن من تَمام عِيَادَة الْمَرِيض أَن تضع يدك عَلَيْهِ وتسأله كَيفَ هُوَ وَقَالَ الْبَيْهَقِيّ فِي سنَنه أَنبأَنَا أَبُو طَاهِر الْفَقِيه أَنبأَنَا أَبُو حَامِد بن بِلَال ثَنَا مُحَمَّد ابْن يَحْيَى ثَنَا أَبُو الْمُغيرَة ثَنَا عبد الرَّحْمَن بن يزِيد ثَنَا إِسْمَاعِيل بن عبد الله عَن أبي صَالح عَن أبي هُرَيْرَة رضي الله عنه قَالَ عَاد رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ رجلا من أَصْحَابه وَرجع وَأَنا مَعَه فَقبض عَلَى يَده وَوضع يَده عَلَى جَبهته وَكَانَ يرَى ذَلِك من تَمام عِيَادَة الْمَرِيض وَأخرجه ابْن السّني من طَرِيق أبي الْمُغيرَة وَقَالَ أَبُو يعْلى حَدثنَا زَكَرِيَّا نَا هشيم عَن الْأَعْمَش عَن أبي الضُّحَى عَن مَسْرُوق عَن عَائِشَة رضي الله عنها قَالَت كَانَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ إِذا عَاد مَرِيضا يضع يَده عَلَى الْمَكَان الَّذِي يألم ثمَّ يَقُول باسم الله لَا بَأْس رِجَاله موثوقون وَقَالَ الْمروزِي فِي الْجَنَائِز حَدثنَا القواريري ثَنَا سُفْيَان بن حبيب ابْن جريج عَن عَطاء قَالَ من تَمام الْعِبَادَة أَن تضع يدك عَلَى الْمَرِيض انْتَهَى

قلت قَالَ الْحَافِظ الْعَسْقَلَانِي حَدِيث أبي يعْلى عَن عَائِشَة سَنَده حسن انْتَهَى وَمن شواهده مَا رَوَاهُ البُخَارِيّ فِي صَحِيحه من طَرِيق الجعيد عَن عَائِشَة بنت سعد بن أبي وَقاص عَن أَبِيهَا فِي شكواه الَّذِي اشْتَكَى بِمَكَّة وَأَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ جَاءَ يعودهُ قَالَ سعد ثمَّ وضع يَده عَلَى جَبهته ثمَّ مسح وَجْهي وبطني ثمَّ قَالَ اللَّهُمَّ أشف سَعْدا الحَدِيث

وَأما الْقطعَة الثَّانِيَة فلهَا شَاهد من حَدِيث ابْن مَسْعُود رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ قَالَ حَدثنَا أَحْمد بن عَبده الضَّبِّيّ ثَنَا يَحْيَى بن سليم الطَّائِفِي عَن سُفْيَان عَن مَنْصُور عَن رجل عَن ابْن مَسْعُود رضي الله عنه عَن النَّبِي صَلَّى الله عَلَيْهِ

সুয়ূতী বলেছেন যে, এর সমর্থনে আরও বর্ণনা রয়েছে। তাবারানী বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনুল মুআল্লা আদ-দিমাশকী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হিশাম ইবনে আম্মার, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুয়াবিয়া ইবনে ইয়াহইয়া আল-আতরাবুলুসী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুয়াবিয়া ইবনে সাঈদ, তিনি ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবীব থেকে, তিনি মারসাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-ইয়াযানী থেকে, তিনি আবু রুহাম আস-সাময়ী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, "অসুস্থ ব্যক্তির সেবা-শুশ্রূষার পূর্ণতা হলো তুমি তোমার হাত তার ওপর রাখবে এবং তাকে জিজ্ঞাসা করবে যে সে কেমন আছে।" বায়হাকী তাঁর 'সুনান' গ্রন্থে বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তাহের আল-ফকীহ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু হামিদ ইবনে বিলাল, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মুগীরাহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুর রহমান ইবনে ইয়াজিদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাঈল ইবনে আব্দুল্লাহ, তিনি আবু সালেহ থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর এক সাহাবীকে দেখতে গেলেন এবং ফিরে আসলেন, আমি তখন তাঁর সাথে ছিলাম। তিনি তার হাত ধরলেন এবং তার কপালে নিজের হাত রাখলেন, আর তিনি একে অসুস্থ ব্যক্তির সেবা-শুশ্রূষার পূর্ণতা মনে করতেন। ইবনুস সুন্নী এটি আবু মুগীরাহ-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। আবু ইয়ালা বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যাকারিয়া, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হুশাইম, তিনি আমাশ থেকে, তিনি আবুদ্দুহা থেকে, তিনি মাসরূক থেকে এবং তিনি আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন কোনো অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যেতেন, তখন তিনি ব্যথার স্থানে নিজের হাত রাখতেন, অতঃপর বলতেন: "আল্লাহর নামে, কোনো অসুবিধা নেই।" এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। মারওয়াযী 'আল-জানায়েয' গ্রন্থে বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-কাওয়ারীরী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান ইবনে হাবীব, তিনি ইবনে জুরাইজ থেকে এবং তিনি আতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "ইবাদতের পূর্ণতা হলো তুমি অসুস্থ ব্যক্তির ওপর তোমার হাত রাখবে।" সমাপ্ত।

আমি বলি, হাফেজ আসকালানী বলেছেন: আয়েশা থেকে বর্ণিত আবু ইয়ালার হাদিসটির সনদ হাসান। সমাপ্ত। এর সমর্থনে আরও বর্ণনা রয়েছে যা বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে জুআইদ-এর সূত্রে আয়েশা বিনতে সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস থেকে এবং তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন তাঁর মক্কায় অসুস্থতা থাকাকালীন। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে দেখতে এসেছিলেন। সাদ বলেন: অতঃপর তিনি তাঁর হাত আমার কপালের ওপর রাখলেন এবং আমার মুখ ও পেটে হাত বুলিয়ে দিলেন, তারপর বললেন: "হে আল্লাহ! সাদকে সুস্থ করে দিন।" (পুরো হাদিসটি)।

আর দ্বিতীয় অংশের সমর্থনে ইবনে মাসউদের একটি হাদিস রয়েছে যা তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনে আবদাহ আদ-দাব্বী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে সুলাইম আত-তায়েফী, তিনি সুফিয়ান থেকে, তিনি মনসুর থেকে, তিনি এক ব্যক্তি থেকে এবং তিনি ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে ও তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন...

(খণ্ড: ১) যাইলুল কাওলিল মুসাদ্দাদ (পৃষ্ঠা: ৫২)
وَسلم قَالَ من تَمام التَّحِيَّة الْأَخْذ بِالْيَدِ قَالَ التِّرْمِذِيّ هَذَا حَدِيث غَرِيب لَا نعرفه إِلَّا من حَدِيث يَحْيَى بن سليم عَن سُفْيَان

 

‌‌الحَدِيث الثَّالِث

قَالَ الإِمَام أَحْمد حَدثنَا روح ثَنَا مَرْزُوق أَبُو عبد الله الشَّامي ثَنَا سعيد رجل من أهل الشَّام ثَنَا ثَوْبَان رضي الله عنه عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ قَالَ إِذْ أصَاب أحدكُم الْحمى وَإِن الْحمى قِطْعَة من النَّار فليطفئها عَنهُ بِالْمَاءِ الْبَارِد وليستقبل نَهرا جَارِيا يسْتَقْبل جريه بِالْمَاءِ فَيَقُول باسم الله اللَّهُمَّ اشف عَبدك وَصدق رَسُولك بعد صَلَاة الْفجْر قبل طُلُوع الشَّمْس فيغتمس فِيهِ ثَلَاث غمسات ثَلَاثَة أَيَّام فَإِن لم يبرأ فِي ثَلَاث فَخمس وَإِن لم يبرأ فِي خمس فسبع فَإِن لم يبرأ فِي سبع فتسع فَإِنَّهُ لَا يكَاد يُجَاوز التسع بِإِذن الله عز وجل أوردهُ ابْن الْجَوْزِيّ فِي الموضوعات من طَرِيق هناد بن إِبْرَاهِيم النَّسَفِيّ ثَنَا بن إِبْرَاهِيم ثَنَا أَبُو الْوَفَاء الْمسيب ابْن مُحَمَّد بن عَلّي الْقُضَاعِي ثَنَا أَبُو عبد الرَّحْمَن عبد الله بن عمر بن عَلّي الْجَوْهَرِي الْمروزِي ثَنَا يَحْيَى بن ساسويه الْمروزِي ثَنَا مُحَمَّد بن النَّضر حَدثنَا ابْن رَجَاء عَن أبي طَاهِر عَن مَرْزُوق أبي عبد الله الْحِمصِي عَن ثَوْبَان رضي الله عنه أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ قَالَ النيرَان ثَلَاث نَار تَأْكُل وتشرب ونار تَأْكُل وَلَا تشرب ونار تشرب وَلَا تَأْكُل فَأَما النَّار الَّتِي تَأْكُل وتشرب فجهنم وَأما النَّار الَّتِي تَأْكُل وَلَا تشرب فَنَار الدُّنْيَا وَأما الَّتِي تشرب وَلَا تَأْكُل فالحمى فَإِذا وجد أحدكُم فَليقمْ إِلَى بِئْر فليستق مِنْهَا دلوا وليصبه عَلَيْهِ وَليقل اللَّهُمَّ اشف عَبدك وَصدق رَسُولك يفعل ذَلِك ثَلَاث غدوات فَإِذا ذهبت وَإِلَّا يفعل سبع غدوات فَإِنَّهَا ستذهب إِن شَاءَ الله تَعَالَى قَالَ ابْن الْجَوْزِيّ لَا يَصح فِيهِ مَجْهُولُونَ وضعفاء وَمِنْهُم سَلمَة بن رَجَاء لَيْسَ بِشَيْء انْتَهَى

قلت كَذَا وَقع فِي النُّسْخَة الْمَوْجُودَة عِنْدِي قَوْله عَن مَرْزُوق أبي عبد الله الْحِمصِي عَن ثَوْبَان وَلم يذكر الْوَاسِطَة بَين مَرْزُوق وثوبان
...এবং (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, "সালামের পূর্ণতা হলো হাত ধরা (মুসাফাহা করা)।" ইমাম তিরমিযী বলেছেন, এটি একটি গরীব হাদীস, যা ইয়াহইয়া ইবনে সুলাইম এর মাধ্যমে সুফিয়ান থেকে বর্ণিত হওয়া ছাড়া আমরা চিনি না।

 

‌‌তৃতীয় হাদীস

ইমাম আহমাদ বলেন, আমাদের নিকট রূহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট মারযুক আবু আব্দুল্লাহ আশ-শামী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট সিরিয়ার অধিবাসী সাঈদ নামক এক ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন, তিনি সাওবান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের কারো যখন জ্বর হয়—আর জ্বর হলো আগুনের একটি অংশ—তখন সে যেন শীতল পানি দ্বারা তা নির্বাপিত করে। সে যেন একটি প্রবহমান নদীর কাছে যায় এবং পানির স্রোতের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ফজর সালাতের পর সূর্যোদয়ের আগে বলে: 'আল্লাহর নামে, হে আল্লাহ! আপনার বান্দাকে আরোগ্য দান করুন এবং আপনার রাসূলকে সত্যয়ন করুন।' এরপর সে তাতে তিন দিন তিনবার ডুব দেবে। যদি তিন দিনে আরোগ্য না হয় তবে পাঁচ দিন, যদি পাঁচ দিনে আরোগ্য না হয় তবে সাত দিন, আর যদি সাত দিনেও আরোগ্য না হয় তবে নয় দিন। মহান আল্লাহর ইচ্ছায় নয় দিনের বেশি সময় অতিবাহিত হবে না।" ইবনুল জাওযী এটি 'আল-মাওযুয়াত' গ্রন্থে হান্নাদ ইবনে ইব্রাহীম আন-নাসাফী-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন: আমাদের নিকট ইবনে ইব্রাহীম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আবুল ওয়াফা আল-মুসায়্যিব ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আলী আল-কুযায়ী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আবু আব্দুর রহমান আব্দুল্লাহ ইবনে উমর ইবনে আলী আল-জাওহারী আল-মারওয়াযী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট ইয়াহইয়া ইবনে সাসাউয়াহ আল-মারওয়াযী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট মুহাম্মাদ ইবনে আন-নাযর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট ইবনে রাজা আবু তাহের থেকে, তিনি মারযুক আবু আব্দুল্লাহ আল-হিমসী থেকে, তিনি সাওবান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আগুন তিন প্রকার; এমন আগুন যা খায় ও পান করে, এমন আগুন যা খায় কিন্তু পান করে না এবং এমন আগুন যা পান করে কিন্তু খায় না। যে আগুন খায় ও পান করে তা হলো জাহান্নাম। আর যে আগুন খায় কিন্তু পান করে না তা হলো দুনিয়ার আগুন। আর যে আগুন পান করে কিন্তু খায় না তা হলো জ্বর। সুতরাং তোমাদের কেউ যখন তা অনুভব করে, সে যেন একটি কূপের কাছে যায় এবং সেখান থেকে এক বালতি পানি তোলে এবং তা নিজের গায়ে ঢেলে দেয়, আর বলে: 'হে আল্লাহ! আপনার বান্দাকে আরোগ্য দিন এবং আপনার রাসূলকে সত্যয়ন করুন।' সে এরূপ করবে তিন সকাল। যদি জ্বর চলে যায় (তবে ভালো), অন্যথায় সাত সকাল করবে। ইনশাআল্লাহ তা চলে যাবে।" ইবনুল জাওযী বলেন: এটি সহীহ নয়। এর বর্ণনাকারীদের মধ্যে অজ্ঞাত ও দুর্বল ব্যক্তি রয়েছে। তাদের মধ্যে সালামাহ ইবনে রাজা একজন, যিনি নির্ভরযোগ্য নন। সমাপ্ত।

আমি (গ্রন্থকার) বলছি: আমার কাছে থাকা পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই এসেছে যে, "মারযুক আবু আব্দুল্লাহ আল-হিমসী থেকে, তিনি সাওবান থেকে বর্ণনা করেছেন", আর মারযুক ও সাওবানের মধ্যবর্তী মাধ্যমটি উল্লেখ করা হয়নি।
(খণ্ড: ১) যাইলুল কাওলিল মুসাদ্দাদ (পৃষ্ঠা: ৫৩)
وَهُوَ سعيد بن زرْعَة الْحِمصِي فَأَما سقط سعيد من نُسْخَة أَو رَوَاهُ كَذَلِك فَلْينْظر وَسَلَمَة بن رَجَاء من رجال البُخَارِيّ قَالَ أَبُو حَاتِم مَا بِهِ بَأْس وَقَالَ أَبُو زرْعَة صَدُوق وَمَعَ هَذَا فقد أخرجه أَحْمد من طَرِيق لَيْسَ فِيهِ سَلمَة وَحَدِيث أَحْمد رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ عَن أَحْمد بن سعيد الْأَشْقَر المرابطي عَن روح بن عبَادَة بِهِ وَقَالَ حَدِيث غَرِيب وَفِي بعض نسخ التِّرْمِذِيّ حسن غَرِيب وَأخرجه ابْن السّني فِي عمل الْيَوْم وَاللَّيْلَة وَقد عزاهُ السُّيُوطِيّ فِي جمع الْجَوَامِع إِلَى الطَّبَرَانِيّ فِي الْكَبِير والضياء الْمَقْدِسِي فِي كتاب المختارة

ومرزوق أَبُو عبد الله الْحِمصِي وَشَيْخه سعيد بن زرْعَة قيل مَجْهُولَانِ وَقَالَ الْحَافِظ الْعَسْقَلَانِي فِي التَّقْرِيب إِن مرزوقا لَا بَأْس بِهِ وَقَالَ فِي سعيد إِنَّه مَسْتُور وَقَالَ فِي فتح الْبَارِي إِن سعيدا مُخْتَلف فِيهِ وَقد ذكرهمَا ابْن حبَان فِي الثِّقَات وَقَالَ السُّيُوطِيّ فِي النكت البديعات إِن رِجَاله ثِقَات معروفون فَهُوَ عَلَى شَرط الْحسن قَالَ وَله شَاهد من مُرْسل مَنْصُور بن وهب الْمعَافِرِي وَمن مُرْسل مَكْحُول أخرجه سعيد بن مَنْصُور بن وهب الْمعَافِرِي وَمن مُرْسل مَكْحُول أخرجه سعيد بن مَنْصُور فِي سنَنه

 

‌‌الحَدِيث الرَّابِع

قَالَ الإِمَام أَحْمد حَدثنَا إِسْحَاق بن يُوسُف ثَنَا أَبُو جناب عَن زَاذَان عَن جرير بن عبد الله رضي الله عنه قَالَ خرجنَا مَعَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ فَلَمَّا بَرَزْنَا من الْمَدِينَة إِذا رَاكب يوضع نحونا فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ كَأَن هَذَا الرَّاكِب إيَّاكُمْ يُرِيد قَالَ فَانْتَهَى إِلَيْنَا الرجل فَسلم فَرددْنَا عَلَيْهِ فَقَالَ لَهُ النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ من أَيْن أَقبلت قَالَ من أَهلِي وَوَلَدي وعشيرتي قَالَ فَأَيْنَ تُرِيدُ قَالَ أُرِيد رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ قَالَ فقد أصبته قَالَ يَا رَسُول الله عَلمنِي مَا الْإِيمَان قَالَ تشهد أَن لَا إِلَه إِلَّا الله وَأَن مُحَمَّدًا رَسُول الله وتقيم الصَّلَاة وتؤتي الزَّكَاة وتصوم رَمَضَان وتحج الْبَيْت قَالَ أَقرَرت قَالَ ثمَّ إِن بعيرة دخلت يَده فِي شبكة جرذان فهوى بعير وَهوى الرجل فَوَقع عَلَى هامته فَمَاتَ فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ عَلّي بِالرجلِ قَالَ فَوَثَبَ
তিনি হলেন সাঈদ বিন যুরআহ আল-হিমসি। সাঈদ নামটি পান্ডুলিপি থেকে বাদ পড়ে গেছে অথবা তিনি এভাবেই বর্ণনা করেছেন, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। সালামাহ বিন রাজা বুখারীর বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত। আবু হাতিম বলেছেন: তার মাঝে কোনো সমস্যা নেই। আবু যুরআহ বলেছেন: তিনি সত্যবাদী। তা সত্ত্বেও ইমাম আহমদ এমন এক সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন যেখানে সালামাহ নেই। আহমদের হাদীসটি তিরমিযী আহমদ বিন সাঈদ আল-আশকার আল-মুরাবিতী থেকে, তিনি রূহ বিন উবাদাহ থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন এটি গারীব হাদীস। তিরমিযীর কোনো কোনো নুসখায় এটি হাসান গারীব। ইবনে সুন্নী এটি 'আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ'-তে বর্ণনা করেছেন। সুয়ূতী 'জামউল জাওয়ামি'-তে এটি তাবারানীর 'আল-কাবীর' এবং দিয়া আল-মাকদিসীর 'আল-মুখতারা' গ্রন্থের দিকে নিসবত করেছেন।

মারযুক আবু আব্দুল্লাহ আল-হিমসি এবং তার শাইখ সাঈদ বিন যুরআহ সম্পর্কে বলা হয়েছে যে তারা অজ্ঞাত। হাফেজ আসকালানী 'তাকরীব' গ্রন্থে বলেছেন যে মারযুক এর মাঝে কোনো সমস্যা নেই এবং সাঈদ সম্পর্কে বলেছেন যে তিনি মাস্টুর (যাঁর সততা পরিলক্ষিত কিন্তু পাণ্ডিত্যের গভীরতা অপ্রকাশিত)। তিনি 'ফাতহুল বারী'তে বলেছেন যে সাঈদ সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে। ইবনে হিব্বান তাদের উভয়কে 'আস-সিকাত' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। সুয়ূতী 'আন-নুখাতুল বাদীআত' গ্রন্থে বলেছেন যে এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য ও পরিচিত, তাই এটি হাসানের শর্তে পড়ে। তিনি বলেন, মানসুর বিন ওয়াহাব আল-মা'আফিরীর মুরসাল বর্ণনা এবং মাকহুলের মুরসাল বর্ণনা থেকে এর শাহেদ (সমর্থনকারী বর্ণনা) রয়েছে যা সাঈদ বিন মানসুর বিন ওয়াহাব আল-মা'আফিরী বর্ণনা করেছেন এবং মাকহুলের মুরসাল থেকে যা সাঈদ বিন মানসুর তার সুনানে সংকলন করেছেন।

 

‌চতুর্থ হাদীস

ইমাম আহমদ বলেন: ইসহাক বিন ইউসুফ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবু জানাব আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন যাদান থেকে, তিনি জারীর বিন আব্দুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে বের হলাম। যখন আমরা মদীনার বাইরে বের হলাম, তখন হঠাৎ দেখা গেল এক আরোহী আমাদের দিকে দ্রুত গতিতে এগিয়ে আসছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: মনে হচ্ছে এই আরোহী তোমাদেরকেই খুঁজছে। তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: লোকটি আমাদের কাছে পৌঁছে সালাম দিল, আমরা তার সালামের উত্তর দিলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞাসা করলেন: তুমি কোথা থেকে এসেছ? সে বলল: আমার পরিবার, সন্তান ও আত্মীয়স্বজনদের কাছ থেকে। তিনি বললেন: তুমি কোথায় যাওয়ার ইচ্ছা করেছ? সে বলল: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে যাওয়ার ইচ্ছা করেছি। তিনি বললেন: তবে তুমি তাকে পেয়ে গেছ। সে বলল: হে আল্লাহর রাসূল, আমাকে শিখিয়ে দিন ঈমান কী? তিনি বললেন: তুমি এই সাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল, সালাত কায়েম করবে, যাকাত প্রদান করবে, রমযানের রোযা রাখবে এবং বায়তুল্লাহর হজ পালন করবে। সে বলল: আমি তা স্বীকার করলাম। তিনি বলেন: এরপর তার উটের পা (হাত) একটি ইঁদুরের গর্তে ঢুকে গেল, ফলে উটটি হেলে পড়ে গেল এবং লোকটিও পড়ে গেল এবং তার মাথার তালুর ওপর আঘাত পেয়ে সে মারা গেল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: লোকটিকে আমার কাছে নিয়ে এসো। তিনি বলেন: এরপর দ্রুত...
(খণ্ড: ১) যাইলুল কাওলিল মুসাদ্দাদ (পৃষ্ঠা: ৫৪)
إِلَيْهِ عمار بن يَاسر وَحُذَيْفَة فأقعداه فَقَالَا يَا رَسُول الله قبض الرجل قَالَ فَأَعْرض عَنهُ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ ثمَّ قَالَ لَهما رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ أما رَأَيْتُمَا إعراضي عَن الرجل فَإِنِّي رَأَيْت ملكَيْنِ يدسان فِي فِيهِ من ثمار الحنة فَعلمت أَنه مَاتَ جائعا ثمَّ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ هَذَا وَالله من الَّذين قَالَ الله عز وجل {الَّذين آمنُوا وَلم يلبسوا إِيمَانهم بظُلْم أُولَئِكَ لَهُم الْأَمْن وهم مهتدون} قَالَ فاحتملناه إِلَى المَاء فغسلناه وحنطناه وحملناه إِلَى الْقَبْر قَالَ فجَاء رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ حَتَّى جلس عَلَى شَفير الْقَبْر قَالَ فَقَالَ الحدوا وَلَا تشقوا فَإِن اللَّحْد لنا والشق لغيرنا

وَقَالَ الإِمَام أَحْمد حَدثنَا أسود بن عَامر ثَنَا عبد الحميد بن أبي جَعْفَر الْفراء عَن ثَابت عَن زَاذَان عَن جرير بن عبد الله البَجلِيّ رضي الله عنه قَالَ خرجنَا مَعَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ من الْمَدِينَة فَبَيْنَمَا نَحن نسير إِذْ رفع لنا شخص فَذكر نَحوه إِلَّا أَنه قَالَ وَقعت يَد بكره فِي بعض تِلْكَ الَّتِي تحفر الجرذان وَقَالَ فِيهِ هَذَا مِمَّن عمل قَلِيلا وَأجر كثيرا وَقَالَ حَدثنَا عَفَّان ثَنَا حَمَّاد بن سَلمَة عَن الْحجَّاج عَن عَمْرو بن مرّة عَن زَاذَان عَن بن عبد الله البَجلِيّ رضي الله عنه أَن رجلا جَاءَ فَدخل فِي الْإِسْلَام فَكَانَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ يُعلمهُ الْإِسْلَام وَهُوَ فِي مسيره فَدخل خف بعيره فِي جُحر يَرْبُوع فوقصه بعيره فَمَاتَ فَأَتَى عَلَيْهِ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ فَقَالَ عمل قَلِيلا وَأجر كثيرا قَالَهَا حَمَّاد ثَلَاثًا اللَّحْد لنا والشق لغيرنا وَقَالَ حَدثنَا عَفَّان ثَنَا عبد الْوَاحِد ثَنَا الْحجَّاج بن أَرْطَأَة ثَنَا عُثْمَان البَجلِيّ عَن زَاذَان فَذكر الحَدِيث أوردهُ ابْن الْجَوْزِيّ فِي الموضوعات من طَرِيق الْخَطِيب قَالَ أَنبأَنَا أَبُو مُحَمَّد الْحسن بن عَلّي بن بشار السابوري ثَنَا أَبُو بكر مُحَمَّد بن أَحْمد بن محمويه العسكري ثَنَا مُحَمَّد بن الْوَلِيد الْأَنْطَاكِي ثَنَا مُوسَى بن دَاوُد ثَنَا مُحَمَّد بن عبد الْملك عَن مُحَمَّد بن الْمُنْكَدر عَن جَابر بن
আম্মার ইবন ইয়াসির এবং হুযাইফা তার নিকট গেলেন এবং তাকে বসিয়ে দিলেন। তারা বললেন, "হে আল্লাহর রাসূল, লোকটির প্রাণ হরণ করা হয়েছে।" বর্ণনাকারী বলেন, তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার থেকে বিমুখ হলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের উভয়কে বললেন, "তোমরা কি লোকটির থেকে আমার বিমুখ হওয়া দেখেছ? আমি দেখলাম দুইজন ফেরেশতা তার মুখে জান্নাতের ফল পুরে দিচ্ছেন, তখন আমি বুঝতে পারলাম সে ক্ষুধার্ত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছে।" অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, "আল্লাহর কসম, এ ব্যক্তি সেই ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত যাদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেছেন: 'যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের ঈমানকে অন্যায়ের সাথে মিশ্রিত করেনি, তাদের জন্যই নিরাপত্তা এবং তারাই সঠিক পথপ্রাপ্ত'।" বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর আমরা তাকে পানির নিকট বহন করে নিয়ে গেলাম, তাকে গোসল করালাম, সুগন্ধি মাখালাম এবং কবরের দিকে বহন করে নিয়ে গেলাম। তিনি বলেন, এরপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আসলেন এবং কবরের পাড়ে বসলেন। তিনি বললেন, "তোমরা লাহাদ কবর খনন করো এবং সিন্দুক কবর করো না; কেননা লাহাদ আমাদের জন্য এবং সিন্দুক কবর অন্যদের জন্য।"

ইমাম আহমাদ বলেন, আমাদের নিকট আসওয়াদ ইবন আমির বর্ণনা করেছেন, তিনি আব্দুল হামিদ ইবন আবি জাফর আল-ফাররা থেকে, তিনি সাবিত থেকে, তিনি যাদান থেকে, তিনি জারীর ইবন আব্দুল্লাহ আল-বাজালী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে মদীনা থেকে বের হলাম। আমরা যখন পথ চলছিলাম, তখন আমাদের সামনে একজন ব্যক্তি প্রকাশ পেল... এরপর তিনি অনুরূপ বর্ণনা করলেন, তবে তিনি বলেছেন, তার উটের বাচ্চার সামনের পা ইঁদুরের গর্তের মতো কোনো একটি গর্তে পড়ে গেল। এবং তাতে তিনি বলেছেন, "এ ব্যক্তি অল্প আমল করেছে কিন্তু অধিক প্রতিদান লাভ করেছে।" এবং তিনি (ইমাম আহমাদ) বলেন, আমাদের নিকট আফফান বর্ণনা করেছেন, তিনি হাম্মাদ ইবন সালামাহ থেকে, তিনি হাজ্জাজ থেকে, তিনি আমর ইবন মুররাহ থেকে, তিনি যাদান থেকে, তিনি ইবন আব্দুল্লাহ আল-বাজালী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি এসে ইসলাম গ্রহণ করল। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে পথ চলতে চলতেই ইসলাম শিক্ষা দিচ্ছিলেন। এমতাবস্থায় তার উটের পা মরু-ইঁদুরের গর্তে ঢুকে গেল, ফলে উটটি তাকে ফেলে দিল এবং সে মারা গেল। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার নিকট এলেন এবং বললেন, "সে অল্প আমল করেছে এবং অধিক প্রতিদান লাভ করেছে।" হাম্মাদ এটি তিনবার বললেন। "লাহাদ আমাদের জন্য এবং সিন্দুক কবর অন্যদের জন্য।" এবং তিনি (ইমাম আহমাদ) বলেন, আমাদের নিকট আফফান বর্ণনা করেছেন, তিনি আব্দুল ওয়াহিদ থেকে, তিনি হাজ্জাজ ইবন আরতাহ থেকে, তিনি উসমান আল-বাজালী থেকে, তিনি যাদান থেকে হাদীসটি উল্লেখ করেছেন। ইবনুল জাওযী এটি 'আল-মাওজুয়াত' গ্রন্থে খতীবের সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি (খতীব) বলেছেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আল-হাসান ইবন আলী ইবন বাশার আস-সাবুরী, তিনি বর্ণনা করেছেন আবু বকর মুহাম্মদ ইবন আহমদ ইবন মাহমুওয়াইহ আল-আসকারী থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনুল ওয়ালীদ আল-আনতাকী থেকে, তিনি মুসা ইবন দাউদ থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবন আব্দুল মালেক থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনুল মুনকাদির থেকে, তিনি জাবির ইবন...
(খণ্ড: ১) যাইলুল কাওলিল মুসাদ্দাদ (পৃষ্ঠা: ৫৫)
عبد الله رضي الله عنهما قَالَ خرجنَا مَعَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ عَلَى إبل أكلت نَوى فَبينا نَحن نسير فِي مسيرنا إِذا نَحن بِرَاكِب مقبل فَقَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ أخال الرجل يُرِيدكُمْ فَوقف ووقفنا فَإِذا بأعرابي عَلَى قعُود لَهُ فَقُلْنَا من أَيْن أقبل الرجل فَقَالَ أَقبلت من أَهلِي وَمَالِي أُرِيد مُحَمَّدًا فَقُلْنَا هَذَا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ فَقَالَ يَا رَسُول الله أعرض عَلّي الْإِسْلَام فَقَالَ نشْهد أَن لَا إِلَه إِلَّا الله وَأَنِّي رَسُول الله فَقَالَ أَقرَرت قَالَ ونؤمن بِالْجنَّةِ وَالنَّار والبعث والحساب فَقَالَ وأقررت فَجعل لَا يعرف شَيْئا من شرائع الْإِسْلَام إِلَّا قَالَ أَقرَرت فَبينا نَحن كَذَلِك إِذا وَقعت يَد بعيرة فِي شبكة فَإِذا الْبَعِير لجنبه وَإِذا الرجل لرأسه فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ أدركوا صَاحبكُم فابتدرناه فَسبق إِلَيْهِ عمار بن يَاسر وَحُذَيْفَة بن الْيَمَان رضي الله عنهما فَإِذا الرجل قد مَاتَ فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ اغسلوا صَاحبكُم فغسلناه وَرَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ معرض عَنهُ وكفناه وَصَلى عَلَيْهِ النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ فَلَمَّا فَرغْنَا قَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ هَذَا الَّذِي تَعب قَلِيلا وَنعم طَويلا هَذَا من الَّذين آمنُوا وَلم يلبسوا إِيمَانهم بظُلْم قُلْنَا رَأَيْنَاك أَعرَضت عَنهُ وَنحن نغسله قَالَ إِنِّي أَحسب أَن صَاحبكُم مَاتَ جائعا إِنِّي رَأَيْت زوجتيه من الْحور الْعين وهما يدسان فِي فِيهِ ثمار الْجنَّة قَالَ ابْن الْجَوْزِيّ لَا يَصح وَالْحمل فِيهِ عَلَى مُحَمَّد بن عبد الْملك الْأنْصَارِيّ الضَّرِير الْمَدِينِيّ كَانَ يضع الحَدِيث

قلت جرير بن عبد الله رضي الله عنه وَإِن لم يتَعَرَّض لَهُ ابْن الْجَوْزِيّ لَكِن حكمه عَلَى الْمَتْن بِالْوَضْعِ يَقْتَضِي أَن يكون جَمِيع طرقه عِنْده مَوْضُوعا وَقد رد عَلَيْهِ الْحَافِظ السُّيُوطِيّ وَجعل حَدِيث أَحْمد شَاهدا لَهُ والطرق الثَّلَاثَة الَّتِي رَوَاهَا أَحْمد وَإِن كَانَ فِيهَا مقَال لَكِن بَعْضهَا يُقَوي بَعْضًا وَله شَاهد عِنْد ابْن أبي حَاتِم فِي تَفْسِيره والحكيم التِّرْمِذِيّ فِي نَوَادِر الْأُصُول من طَرِيق سعيد بن جُبَير عَن ابْن عَبَّاس وَأخرجه ابْن أبي حَاتِم من مُرْسل بكر بن سوَادَة وَأخرجه عبد بن حميد فِي تَفْسِيره من مُرْسل إِبْرَاهِيم الَّتِي كِلَاهُمَا بِاخْتِصَار وَالطَّرِيق الثَّلَاثَة عِنْد أَحْمد كلهَا تَدور عَلَى زَاذَان أبي عمر الْكِنْدِيّ قَالَ ابْن معِين ثِقَة وَقَالَ ابْن عدي أَحَادِيثه لَا بَأْس بهَا وَقَالَ الْحَافِظ
আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে এমন উটে আরোহণ করে বের হলাম যা খেজুরের আঁটি খেয়েছিল। পথ চলা অবস্থায় হঠাৎ আমরা একজন আরোহীকে সামনে থেকে আসতে দেখলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমার মনে হয় লোকটি তোমাদেরই খুঁজছে। তিনি থামলেন এবং আমরাও থামলাম। দেখা গেল এক বেদুইন তার উটের পিঠে আরোহী। আমরা জিজ্ঞেস করলাম, লোকটি কোথা থেকে এসেছে? সে বলল, আমি আমার পরিবার ও ধন-সম্পদ ছেড়ে এসেছি, আমি মুহাম্মদকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খুঁজছি। আমরা বললাম, ইনিই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তখন সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল, আমার কাছে ইসলাম পেশ করুন। তিনি বললেন, সাক্ষ্য দাও যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল। সে বলল, আমি স্বীকার করলাম। তিনি বললেন, আর আমরা জান্নাত, জাহান্নাম, পুনরুত্থান এবং হিসাবের প্রতি ঈমান আনি। সে বলল, আমি স্বীকার করলাম। ইসলামের বিধিবিধানের যা-ই তার সামনে উপস্থাপন করা হচ্ছিল, সে কেবল বলছিল, আমি স্বীকার করলাম। আমরা এ অবস্থায় ছিলাম, হঠাৎ তার উটনীর পা একটি গর্তে পড়ে গেল, ফলে উটনীটি কাত হয়ে পড়ে গেল এবং লোকটি তার মাথার ওপর আছড়ে পড়ল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমাদের সঙ্গীর সাহায্য করো। আমরা দ্রুত তার দিকে গেলাম। আম্মার বিন ইয়াসির এবং হুজাইফা বিন ইয়ামান রাদিয়াল্লাহু আনহুমা তার কাছে আগে পৌঁছালেন। দেখা গেল লোকটি মারা গেছেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমাদের সঙ্গীকে গোসল দাও। আমরা তাকে গোসল দিলাম, আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার থেকে বিমুখ হয়ে ছিলেন। আমরা তাকে কাফন পরালাম এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জানাজা পড়ালেন। যখন আমরা শেষ করলাম, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এই সেই ব্যক্তি যে অল্প পরিশ্রম করেছে এবং দীর্ঘকাল নেয়ামত ভোগ করবে। এ হলো তাদের অন্তর্ভুক্ত যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের ঈমানকে জুলুমের সাথে মিশ্রিত করেনি। আমরা বললাম, আমরা আপনাকে দেখলাম যে, যখন আমরা তাকে গোসল দিচ্ছিলাম তখন আপনি তার থেকে বিমুখ হয়েছিলেন। তিনি বললেন, আমার ধারণা তোমাদের সঙ্গী ক্ষুধার্ত অবস্থায় মারা গেছেন। আমি জান্নাতের হুরদের মধ্য থেকে তার দুই স্ত্রীকে দেখলাম, তারা তার মুখে জান্নাতের ফল পুরে দিচ্ছিল। ইবনুল জাওজি বলেন, এটি সহিহ নয়; এর দায়ভার মুহাম্মদ বিন আব্দুল মালিক আল-আনসারি আদ-দারির আল-মাদিনির ওপর, সে হাদিস জাল করত।

আমি বলছি, জারীর বিন আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদিস সম্পর্কে যদিও ইবনুল জাওজি আলোচনা করেননি, কিন্তু মতন বা মূল পাঠের ওপর তার জাল হওয়ার হুকুম এটাই দাবি করে যে, তার নিকট এর সকল সূত্রই জাল। তবে হাফেজ সুয়ুতি তার প্রতিবাদ করেছেন এবং আহমদের হাদিসকে এর স্বপক্ষে সাক্ষী হিসেবে গ্রহণ করেছেন। আহমদের বর্ণিত তিনটি সূত্রের মধ্যে সমালোচনা থাকলেও একটি অপরটিকে শক্তিশালী করে। ইবনে আবি হাতেমের তাফসির এবং হাকিম তিরমিযীর নাওয়াদিরুল উসুলে সাঈদ বিন জুবাইর সূত্রে ইবনে আব্বাস থেকে এর স্বপক্ষে সাক্ষী রয়েছে। ইবনে আবি হাতেম এটি বকর বিন সাওয়াদার মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং আব্দ বিন হুমাইদ এটি ইব্রাহিমের মুরসাল হিসেবে সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন। আহমদের নিকট তিনটি সূত্রই জাযান আবু উমর আল-কিন্দি কেন্দ্রিক। ইবনে মাঈন তাকে নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) বলেছেন, ইবনে আদি বলেছেন তার হাদিসে কোনো সমস্যা নেই এবং হাফেজ বলেছেন...
(খণ্ড: ১) যাইলুল কাওলিল মুসাদ্দাদ (পৃষ্ঠা: ৫৬)
الْعَسْقَلَانِي فِي التَّقْرِيب إِنَّه صَدُوق قلت وَهُوَ من رجال مُسلم وَقد رَوَى عَنهُ أَبُو جناب يَحْيَى بن أبي حَيَّة الْكَلْبِيّ قَالَ يَحْيَى وَعُثْمَان ابْن سعيد وَالنَّسَائِيّ وَالدَّارَقُطْنِيّ إِنَّه ضَعِيف وَقَالَ يَحْيَى بن معِين مرّة لَيْسَ بِهِ بَأْس إِلَّا أَنه كَانَ يُدَلس وَكَذَا قَالَ أَبُو نعيم وَقَالَ يَحْيَى مرّة هُوَ صَدُوق وَقَالَ الْحَافِظ الْعَسْقَلَانِي ضَعَّفُوهُ لِكَثْرَة تدليسه

وَأما الطَّرِيق الثَّالِث فَأوردهُ من طَرِيق الْحجَّاج بن أَرْطَأَة من وَجْهَيْن أَحدهمَا عَن عَمْرو بن مرّة وَهُوَ ثِقَة وَالثَّانِي عَن عُثْمَان بن عُمَيْر البَجلِيّ أبي الْيَقظَان الْكُوفِي الْأَعْمَى وَهُوَ ضَعِيف لَكِن لم يتهم بِالْوَضْعِ أما الْحجَّاج بن أَرْطَأَة فقد اخْتلفُوا فِيهِ قَالَ الْعَسْقَلَانِي إِنَّه صَدُوق لَكِن كثير التَّدْلِيس

وَأما الطَّرِيق الثَّانِي وَهُوَ طَرِيق ثَابت عَن زَاذَان فَلم أَقف عَلَى حَال رِجَاله وَهَذِه الطّرق تقوى بَعْضهَا بَعْضًا وَالله أعلم

 

‌‌الحَدِيث الْخَامِس

قَالَ الإِمَام أَحْمد حَدثنَا مُحَمَّد بن جَعْفَر ثَنَا شُعْبَة عَن عَمْرو بن أبي حَكِيم عَن عبد الله بن بُرَيْدَة عَن يَحْيَى بن يعمر عَن أبي الْأسود الدؤَلِي قَالَ كَانَ معَاذ رضي الله عنه بِالْيمن فَارْتَفعُوا إِلَيْهِ فِي يَهُودِيّ مَاتَ وَترك أَخَاهُ مُسلما فَقَالَ معَاذ إِنِّي سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ يَقُول إِن الْإِسْلَام يزِيد وَلَا ينقص فورثه وَقَالَ حَدثنَا يَحْيَى بن سعيد عَن شُعْبَة ثنى عَمْرو بن أبي حَكِيم عَن عبد الله بن بُرَيْدَة عَن يَحْيَى بن يعمر عَن أبي الْأسود قَالَ أَتَى معَاذ رضي الله عنه يَهُودِيّ وَارثه مُسلم فَقَالَ سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ يَقُول أَو قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ الْإِسْلَام يزِيد وَلَا ينقص فورثه أوردهُ ابْن الْجَوْزِيّ فِي الموضوعات من طَرِيق الجوزقاني قَالَ أَنبأَنَا أَبُو نصر الصَّواف أَنبأَنَا أَبُو الْقَاسِم بن مُحَمَّد الْوراق ثَنَا أَبُو الْحُسَيْن بن عُثْمَان ثَنَا مُحَمَّد بن الْحُسَيْن ثَنَا الْقَاسِم اللَّيْث مُحَمَّد بن المُهَاجر ثَنَا يزِيد بن هَارُون ثَنَا حَمَّاد بن سَلمَة عَن خَالِد الْحذاء عَن عَمْرو بن كردِي عَن عبد الله بن بُرَيْدَة عَن يَحْيَى ابْن يعمر عَن أبي الْأسود عَن معَاذ بن جبل رضي الله عنه أَنه كَانَ يُورث الْمُسلم من الْكَافِر وَيَقُول سَمِعت رَسُول الله
আসকালানী 'আত-তাকরীব' গ্রন্থে বলেছেন যে তিনি সত্যবাদী। আমি বলি, তিনি ইমাম মুসলিমের রাবীদের অন্তর্ভুক্ত। তাঁর থেকে আবু জানাব ইয়াহইয়া ইবনে আবি হাইয়্যাহ আল-কালবী বর্ণনা করেছেন। ইয়াহইয়া, উসমান ইবনে সাঈদ, আন-নাসাঈ এবং আদ-দারা কুতনী বলেছেন যে তিনি দুর্বল। ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন একবার বলেছেন যে তাঁর মধ্যে কোনো সমস্যা নেই, তবে তিনি তাদলীস করতেন। আবু নুয়াইমও অনুরূপ বলেছেন। ইয়াহইয়া অন্য এক সময়ে বলেছেন তিনি সত্যবাদী। হাফিজ আসকালানী বলেছেন, অধিক তাদলীস করার কারণে মুহাদ্দিসগণ তাঁকে দুর্বল বলেছেন।

আর তৃতীয় সূত্রটি তিনি হাজ্জাজ ইবনে আরতাত-এর সূত্রে দুটি দিক থেকে উল্লেখ করেছেন। একটি আমর ইবনে মুররাহ থেকে, যিনি নির্ভরযোগ্য (সিকাহ)। দ্বিতীয়টি উসমান ইবনে উমাইর আল-বাজালী আবু ইয়াকজান আল-কূফী আল-আমা থেকে, যিনি দুর্বল, তবে হাদীস জাল করার অভিযোগে অভিযুক্ত নন। আর হাজ্জাজ ইবনে আরতাত সম্পর্কে মুহাদ্দিসগণের মতভেদ রয়েছে। আসকালানী বলেছেন যে তিনি সত্যবাদী, তবে অধিক তাদলীসকারী।

আর দ্বিতীয় সূত্রটি যা যাদান থেকে প্রমাণিত, সেটির রাবীদের অবস্থা সম্পর্কে আমি অবগত হতে পারিনি। এই সূত্রসমূহ একে অপরকে শক্তিশালী করে। আল্লাহই ভালো জানেন।

 

‌‌পঞ্চম হাদীস

ইমাম আহমাদ বলেছেন, মুহাম্মাদ ইবনে জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শু’বা আমর ইবনে আবি হাকীম থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে বুরাইদাহ থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ামুর থেকে, তিনি আবুল আসওয়াদ আদ-দুয়ালী থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, মুয়াজ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ইয়ামানে ছিলেন। সেখানে এক ইহুদী ব্যক্তি মারা গেল এবং সে তার এক মুসলিম ভাইকে রেখে গেল। তখন মুয়াজ বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি যে, "ইসলাম বৃদ্ধি পায় এবং কমে না।" অতঃপর তিনি তাকে উত্তরাধিকার প্রদান করলেন। এবং তিনি বলেছেন, ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট শু’বা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি আমর ইবনে আবি হাকীম থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে বুরাইদাহ থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ামুর থেকে, তিনি আবুল আসওয়াদ থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, মুয়াজ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট জনৈক ইহুদীর উত্তরাধিকারের বিষয় আনা হলো যার ওয়ারিশ একজন মুসলিম। তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি অথবা তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, "ইসলাম বৃদ্ধি পায় এবং কমে না।" অতঃপর তিনি তাকে উত্তরাধিকার প্রদান করলেন। ইবনুল জাওযী এটি 'আল-মাওযুআত' গ্রন্থে আল-জাওযাকানীর সূত্রে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, আবু নাসর আস-সাওয়াফ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবুল কাসিম ইবনে মুহাম্মাদ আল-ওয়াররাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবুল হুসাইন ইবনে উসমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবনে আল-হুসাইন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-কাসিম আল-লাইস মুহাম্মাদ ইবনে আল-মুহাজির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াযিদ ইবনে হারুন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ ইবনে সালামাহ খালিদ আল-হাজ্জা থেকে, তিনি আমর ইবনে কুর্দী থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে বুরাইদাহ থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ামুর থেকে, তিনি আবুল আসওয়াদ থেকে, তিনি মুয়াজ ইবনে জাবাল (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি কাফিরের উত্তরাধিকার মুসলিমকে প্রদান করতেন এবং বলতেন, আমি রাসূলুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি...
(খণ্ড: ১) যাইলুল কাওলিল মুসাদ্দাদ (পৃষ্ঠা: ৫৭)
صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم َ يَقُول الْإِسْلَام يزِيد وَلَا ينقص قَالَ ابْن الْجَوْزِيّ إِنَّه بَاطِل وَالْمُتَّهَم بِهِ مُحَمَّد بن المُهَاجر

قلت قَالَ السُّيُوطِيّ فِي اللآلئ إِن مُحَمَّد بن المُهَاجر برِئ مِنْهُ فقد أخرجه الطَّبَرَانِيّ ثَنَا دَاوُد بن مُحَمَّد بن صَالح الْمروزِي ثَنَا إِبْرَاهِيم ابْن الْحجَّاج الشَّامي ثَنَا حَمَّاد بن سَلمَة بِهِ وَأخرجه أَبُو دَاوُد الطَّيَالِسِيّ فِي مُسْنده ثَنَا شُعْبَة عَن عَمْرو بن أبي حَكِيم عَن عبد الله بن بُرَيْدَة عَن يَحْيَى بن يعمر عَن أبي الْأسود الدئلي عَن معَاذ بن جبل بِهِ وَأخرجه أَحْمد فِي مُسْنده ثَنَا مُحَمَّد بن جَعْفَر ثَنَا شُعْبَة بِهِ وَأخرجه الْحَاكِم وَصَححهُ وَلم يتعقبه الذَّهَبِيّ انْتَهَى وَأخرجه أَبُو دَاوُد السجسْتانِي فِي سنَنه من وَجْهَيْن قَالَ حَدثنَا مُسَدّد ثَنَا عبد الْوَارِث عَن عَمْرو بن أبي حَكِيم الوَاسِطِيّ ثَنَا عبد الله بن بُرَيْدَة أَن أَخَوَيْنِ اخْتَصمَا إِلَى يَحْيَى بن يعمر يَهُودِيّ وَمُسلم فورث الْمُسلم مِنْهُمَا وَقَالَ حَدثنِي أَبُو الْأسود أَن رجلا حَدثهُ أَن معَاذًا رضي الله عنه قَالَ سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ يَقُول الْإِسْلَام يزِيد وَلَا ينقص فورث الْمُسلم وَقَالَ حَدثنَا مُسَدّد ثَنَا يَحْيَى بن سعيد عَن شُعْبَة عَن عَمْرو بن أبي حَكِيم عَن عبد الله بن بُرَيْدَة عَن يَحْيَى بن يعمر عَن أبي الْأسود الدئلي أَن معَاذًا رضي الله عنه أَتَى بميراث يَهُودِيّ وَأَنه مُسلم بِمَعْنَاهُ انْتَهَى

قلت قد سكت أَبُو دَاوُد عَلَى هَذَا الحَدِيث فَهُوَ عِنْده صَالح وَظهر من رِوَايَته أَن أَبَا الْأسود إِنَّمَا رَوَى عَنهُ بِوَاسِطَة وَمن ثمَّ قَالَ الْحَافِظ الْعَسْقَلَانِي فِي فتح الْبَارِي إِنَّه تعقب الْحَاكِم تَصْحِيحه بِأَن فِيهِ انْقِطَاعًا بَين أبي الْأسود ومعاذ لَكِن سَمَاعه مِنْهُ مُمكن قَالَ وَقد زعم الجوزقاني أَنه بَاطِل وَهُوَ مجازفة قَالَ وَقَالَ الْقُرْطُبِيّ فِي الْمُفْهم هُوَ كَلَام يُحْكَى وَلَا يروي كَذَا قَالَ وَقد رَوَاهُ من قدمت ذكره فَكَأَنَّهُ مَا وقف عَلَى ذَلِك انْتَهَى وَقَالَ فِي تسديد الْقوس بعد مَا ذكر حَدِيث معَاذ وَفِي الْبَاب عَن ابْن مَسْعُود وَأبي هُرَيْرَة انْتَهَى

قلت وَله شَاهد من حَدِيث عَائِذ بن عَمْرو الْمُزنِيّ رضي الله عنه أَنه صلى الله عليه وسلم َ قَالَ الْإِسْلَام يَعْلُو وَلَا يعْلى رَوَاهُ الدَّارَقُطْنِيّ وَمُحَمّد بن هَارُون الرَّوْيَانِيّ فِي مُسْنده قَالَ الْحَافِظ الْعَسْقَلَانِي فِي الْفَتْح سَنَده
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, "ইসলাম বৃদ্ধি পায় এবং হ্রাস পায় না।" ইবনুল জাওযী বলেছেন, এটি বাতিল এবং এর জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন মুহাম্মদ ইবনুল মুহাজির।

আমি বলছি, আল-সুয়ূতী 'আল-লাআলী' গ্রন্থে বলেছেন যে, মুহাম্মদ ইবনুল মুহাজির এই অভিযোগ থেকে মুক্ত। কেননা আল-তাবারানী এটি বর্ণনা করেছেন— দাউদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সালেহ আল-মারওয়াযী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ইব্রাহিম ইবনুল হাজ্জাজ আল-শামী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ ইবনে সালামাহ তাঁর মাধ্যমে এটি বর্ণনা করেছেন। আবু দাউদ আল-তায়ালিসি তাঁর মুসনাদে এটি বর্ণনা করেছেন— শু'বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমর ইবনে আবি হাকিম থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে বুরাইদাহ থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ামুর থেকে, তিনি আবুল আসওয়াদ আদ-দুয়ালি থেকে, তিনি মুয়াজ ইবনে জাবাল (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। এবং ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদে এটি বর্ণনা করেছেন— মুহাম্মদ ইবনে জাফর আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, শু'বাহ তাঁর মাধ্যমে এটি বর্ণনা করেছেন। আল-হাকিম এটি বর্ণনা করেছেন এবং একে সহীহ বলেছেন এবং আয-যাহাবী এর কোনো বিরোধিতা করেননি। সমাপ্ত। এবং আবু দাউদ আস-সিজিস্তানি তাঁর সুনানে এটি দুইভাবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন— মুসাদ্দাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল ওয়ারিস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমর ইবনে আবি হাকিম আল-ওয়াসিতি থেকে, আবদুল্লাহ ইবনে বুরাইদাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, এক ইয়াহুদি এবং এক মুসলিম দুই ভাই ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ামুরের কাছে বিচার নিয়ে এল, তখন তিনি তাদের মধ্যে মুসলিমকে উত্তরাধিকার প্রদান করলেন। এবং তিনি বললেন— আবুল আসওয়াদ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, জনৈক ব্যক্তি তাঁকে হাদীস শুনিয়েছেন যে, মুয়াজ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, "ইসলাম বৃদ্ধি পায় এবং হ্রাস পায় না।" অতঃপর তিনি মুসলিমকে উত্তরাধিকার দিলেন। এবং তিনি বললেন— মুসাদ্দাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শু'বাহ থেকে, তিনি আমর ইবনে আবি হাকিম থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে বুরাইদাহ থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ামুর থেকে, তিনি আবুল আসওয়াদ আদ-দুয়ালি থেকে যে, মুয়াজ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর কাছে এক ইয়াহুদির উত্তরাধিকার সংক্রান্ত বিষয় আনা হয়েছিল এবং উত্তরাধিকারী ছিল মুসলিম— এই মর্মে। সমাপ্ত।

আমি বলছি, আবু দাউদ এই হাদীসের ব্যাপারে নীরবতা অবলম্বন করেছেন, সুতরাং এটি তাঁর নিকট 'সালিহ' (গ্রহণযোগ্য)। তাঁর বর্ণনা থেকে এটি প্রকাশ পেয়েছে যে, আবুল আসওয়াদ মূলত মাধ্যম মারফত তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। আর একারণেই হাফিজ আল-আসকালানি 'ফাতহুল বারী'-তে বলেছেন যে, তিনি (আসকালানি) আল-হাকিমের সহীহ বলার ব্যাপারে আপত্তি করেছেন এই বলে যে, এতে আবুল আসওয়াদ এবং মুয়াজের মাঝে বিচ্ছিন্নতা রয়েছে, তবে তাঁর থেকে শ্রবণ করা সম্ভব। তিনি বলেছেন, আল-জাওযাকানি দাবি করেছেন যে এটি বাতিল, আর এটি একটি অতিরঞ্জন। তিনি আরও বলেছেন, আল-কুরতুবী 'আল-মুফহিম' গ্রন্থে বলেছেন: এটি এমন কথা যা লোকমুখে বর্ণিত হয় কিন্তু হাদীস হিসেবে বর্ণিত নয়। তিনি (আসকালানি) বলেন, অথচ যাদের কথা আমি পূর্বে উল্লেখ করেছি তারা এটি বর্ণনা করেছেন, তাই মনে হয় তিনি (কুরতুবী) এ সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। সমাপ্ত। এবং তিনি 'তাসদীদুল ক্বাউস' গ্রন্থে মুয়াজের হাদীস উল্লেখ করার পর বলেছেন— এই অধ্যায়ে ইবনে মাসউদ এবং আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকেও বর্ণনা রয়েছে। সমাপ্ত।

আমি বলছি, আয়িয ইবনে আমর আল-মুযানী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদীস থেকে এর একটি শাহেদ (সমর্থনকারী বর্ণনা) রয়েছে যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "ইসলাম বিজয়ী হয় এবং বিজিত হয় না।" এটি বর্ণনা করেছেন আদ-দারা কুতনী এবং মুহাম্মদ ইবনে হারুন আর-রুইয়ানী তাঁর মুসনাদে। হাফিজ আল-আসকালানি 'আল-ফাতহ' গ্রন্থে বলেছেন, এর সনদ...
(খণ্ড: ১) যাইলুল কাওলিল মুসাদ্দাদ (পৃষ্ঠা: ৫৮)
حسن وَأوردهُ البُخَارِيّ فِي كتاب الْجَنَائِز من صَحِيحه فِي بَاب إِذا أسلم الصَّبِي فَمَاتَ هَل يصلى عَلَيْهِ تَعْلِيقا وَرَوَاهُ أَبُو يعْلى الخليلي فِي فَوَائده وَزَاد فِي أَوله قصَّة وَهِي أَن عَائِذ بن عَمْرو جَاءَ يَوْم الْفَتْح مَعَ أَبَا سُفْيَان بن حَرْب فَقَالَت الصَّحَابَة هَذَا أَبُو سُفْيَان وعائذ بن عَمْرو فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ هَذَا عَائِذ بن عَمْرو وَأَبُو سُفْيَان الْإِسْلَام أعز من ذَلِك الْإِسْلَام يَعْلُو وَلَا يعْلى وَأخرج أَحْمد بن منيع بِسَنَد قوي عَن معَاذ رضي الله عنه أَنه كَانَ يُورث الْمُسلم من الْكَافِر بِغَيْر عكس وَأخرج مُسَدّد عَنهُ أَن أَخَوَيْنِ اخْتَصمَا إِلَيْهِ مُسلم ويهودي مَاتَ أَبوهُمَا يَهُودِيّا فخار ابْنه الْيَهُودِيّ مَاله فنازعه الْمُسلم فورث معَاذ الْمُسلم

تَنْبِيه عَمْرو بن كردِي الَّذِي رَوَى عَن ابْن بُرَيْدَة هُوَ عَمْرو بن أبي حَكِيم الوَاسِطِيّ أَبُو سعيد يُقَال مولَى لآل الزُّبَيْر وَقَالَ ابْن حبَان مولَى الأزد رَوَى عَن عِكْرِمَة وَابْن بُرَيْدَة وَابْن مجلز رَوَى عَنهُ خَالِد الْحذاء وَشعْبَة فَأَما شُعْبَة فَيَقُول ثَنَا عَمْرو بن أبي حَكِيم وَأما خَالِد الْحذاء فَيَقُول عَمْرو بن كردِي قَالَ أَبُو حَاتِم صَالح الحَدِيث وَقَالَ الْعَسْقَلَانِي فِي التَّقْرِيب إِنَّه ثِقَة وَلِحَدِيث معَاذ هَذَا طَرِيق آخر رَوَاهُ الدَّارَقُطْنِيّ ثَنَا الْحسن بن أَحْمد بن سعيد الرهاوي ثَنَا عبد الْمُنعم ابْن أَحْمد ثَنَا عمار بن مطرف ثَنَا حَمَّاد عَن خَالِد الْحذاء عَن عَمْرو بن كردِي عَن عبد الله بن يَحْيَى بن يعمر عَن أبي الْأسود الدئلي عَن معَاذ بن جبل رضي الله عنه قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ الْإِيمَان يزِيد وَينْقص أوردهُ ابْن الْجَوْزِيّ فِي الموضوعات من طَرِيق الدَّارَقُطْنِيّ وَقَالَ عمار مُنكر الحَدِيث وَأَحَادِيثه بَوَاطِيلُ وَتعقبه السُّيُوطِيّ فِي النكت بِأَن لَا مدْخل لعمَّار فِي هَذَا الحَدِيث فقد أخرجه أَحْمد وَأَبُو دَاوُد من وَجه آخر جيد عَن معَاذ وَسكت عَلَيْهِ أَبُو دَاوُد فَهُوَ صَالح عِنْده وَله شَوَاهِد أخرجه الْبَيْهَقِيّ فِي شعب الْإِيمَان عَن أبي هُرَيْرَة وَابْن عَبَّاس وَأبي الدَّرْدَاء رضي الله عنهم مَرْفُوعا انْتَهَى

قلت لفظ حَدِيث معَاذ رضي الله عنه عِنْد أَحْمد وَأبي دَاوُد الْإِسْلَام يزِيد وَلَا ينقص بِزِيَادَة لَا النافية عَلَى ينقص وَكَأن الرَّاوِي وهم فِي هَذِه الرِّوَايَة يزِيد وَينْقص نعم رَوَى ابْن النجار عَن عبد الله بن أبي أَوْفَى
হাসান (হাদিসটি)। ইমাম বুখারি এটি তাঁর সহিহ গ্রন্থের জানাজা অধ্যায়ে 'যদি শিশু ইসলাম গ্রহণ করে এবং মারা যায় তবে তার জানাজা পড়া হবে কি না' শিরোনামের অনুচ্ছেদে মুয়াল্লাক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আবু ইয়ালা আল-খালিলি এটি তাঁর 'ফাওয়াইদ' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং এর শুরুতে একটি ঘটনা যুক্ত করেছেন। সেটি হলো, মক্কা বিজয়ের দিন আইয বিন আমর আবু সুফিয়ান বিন হারবের সাথে আসলেন। তখন সাহাবীগণ বললেন, "এই হলো আবু সুফিয়ান এবং আইয বিন আমর।" তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, "এই হলো আইয বিন আমর এবং আবু সুফিয়ান। ইসলাম এর চেয়েও বেশি সম্মানিত। ইসলাম বিজয়ী হয়, পরাজিত হয় না।" আহমদ বিন মানি' একটি শক্তিশালী সনদে মুয়াজ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি মুসলিমকে কাফিরের উত্তরাধিকারী করতেন, কিন্তু এর বিপরীতটি করতেন না। মুসাদ্দাদ তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, দুইজন ভাই তাঁর কাছে বিচার নিয়ে এলো—একজন মুসলিম এবং অন্যজন ইহুদি। তাদের পিতা ইহুদি হিসেবে মারা গিয়েছিলেন। তার ইহুদি পুত্রটি সম্পদ গ্রহণ করে নিয়েছিল, ফলে মুসলিম ভাইটি তার সাথে বিবাদে লিপ্ত হলো। তখন মুয়াজ মুসলিম ভাইটিকে উত্তরাধিকারী করে দিলেন।

সতর্কবার্তা: আমর বিন কুরদি, যিনি ইবনে বুরাইদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি হলেন আমর বিন আবি হাকিম আল-ওয়াসিতি আবু সাঈদ। বলা হয় যে তিনি জুবায়ের পরিবারের মুক্তদাস ছিলেন, আর ইবনে হিব্বান বলেছেন তিনি আযদ গোত্রের মুক্তদাস ছিলেন। তিনি ইকরিমাহ, ইবনে বুরাইদাহ এবং ইবনে মুজলায থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে খালিদ আল-হাদ্দা এবং শু’বাহ বর্ণনা করেছেন। শু’বাহ বলতেন, "আমাদের কাছে আমর বিন আবি হাকিম হাদিস বর্ণনা করেছেন", আর খালিদ আল-হাদ্দা বলতেন "আমর বিন কুরদি"। আবু হাতিম বলেছেন তিনি হাদিস বর্ণনায় নির্ভরযোগ্য (সালিহ)। আসকালানি 'তাকরিব' গ্রন্থে বলেছেন যে তিনি নির্ভরযোগ্য (সিকাহ)। মুয়াজের এই হাদিসটির আরেকটি সূত্র রয়েছে যা দারা কুতনি বর্ণনা করেছেন: আল-হাসান বিন আহমদ বিন সাঈদ আল-রুহাবি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের কাছে আব্দুল মুনইম বিন আহমদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের কাছে আম্মার বিন মুতাররিফ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের কাছে হাম্মাদ বর্ণনা করেছেন খালিদ আল-হাদ্দা থেকে, তিনি আমর বিন কুরদি থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন ইয়াহইয়া বিন ইয়ামুর থেকে, তিনি আবুল আসওয়াদ আদ-দুয়ালি থেকে, তিনি মুয়াজ বিন জাবাল (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "ঈমান বৃদ্ধি পায় এবং হ্রাস পায়।" ইবনুল জাওজি এটি দারা কুতনির সূত্রে 'আল-মাওযুয়াত' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন যে আম্মার নামক বর্ণনাকারী অগ্রহণযোগ্য (মুনকারুল হাদিস) এবং তার হাদিসগুলো বাতিল। সুয়ূতি 'আন-নুয়াকাত' গ্রন্থে এর প্রতিবাদ করে বলেছেন যে, এই হাদিসে আম্মারের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই; কারণ আহমদ এবং আবু দাউদ অন্য একটি উত্তম সূত্রের মাধ্যমে মুয়াজ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। আবু দাউদ এটি বর্ণনা করে নিশ্চুপ থেকেছেন, তাই তাঁর নিকট এটি গ্রহণযোগ্য (সালিহ)। এর সমর্থনে আরও কিছু বর্ণনা রয়েছে যা বায়হাকি 'শুয়াবুল ঈমান' গ্রন্থে আবু হুরায়রা, ইবনে আব্বাস এবং আবু দারদা (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এখানেই শেষ।

আমি বলছি, আহমদ ও আবু দাউদের নিকট মুয়াজ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিসের শব্দ হলো: "ইসলাম বৃদ্ধি পায় এবং হ্রাস পায় না", যেখানে 'হ্রাস পায়' শব্দের আগে না-বোধক 'লা' যুক্ত আছে। মনে হচ্ছে রাবী এই বর্ণনায় "বৃদ্ধি পায় এবং হ্রাস পায়" শব্দে ভ্রম করেছেন। তবে হ্যাঁ, ইবনে নাজ্জার আব্দুল্লাহ বিন আবি আওফা থেকে বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১) যাইলুল কাওলিল মুসাদ্দাদ (পৃষ্ঠা: ৫৯)
والديلمي فِي مُسْند الفردوس عَن أبي هُرَيْرَة مَرْفُوعا الْإِيمَان قَول وَعمل يزِيد وَينْقص وَزَاد فِي رِوَايَة أبي هُرَيْرَة فَمن قَالَ غير ذَلِك فَهُوَ مُبْتَدع وَالْحَدِيثَانِ ضعيفان وَالله أعلم

 

‌‌الحَدِيث السَّادِس

قَالَ الإِمَام أَحْمد حَدثنَا مُوسَى بن دَاوُد ثَنَا ابْن لَهِيعَة عَن يزِيد بن أبي حبيب عَن عبد الرَّحْمَن بن حسان مخيس بن ظبْيَان عَن رجل من جذام عَن مَالك بن عتاهية رضي الله عنه قَالَ سَمِعت النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ يَقُول إِذا لَقِيتُم عاشرا فَاقْتُلُوهُ وَقَالَ حَدثنَا قُتَيْبَة بن سعيد بِهَذَا الحَدِيث يَعْنِي عَن ابْن لَهِيعَة وَقصر عَن بعض الْإِسْنَاد وَقَالَ يَعْنِي بذلك الصَّدَقَة يَأْخُذهَا عَلَى غير حَقّهَا انْتَهَى وَالْمرَاد بِبَعْض الْإِسْنَاد أَنه لم يذكر مخيسا وَلَا عبد الرَّحْمَن بن حسان وَكَذَا رَوَاهُ الْبَغَوِيّ عَن إِبْرَاهِيم بن سعيد الْجَوْهَرِي وَغَيره عَن مُوسَى بن دَاوُد وَقَالَ فِي آخِره يَعْنِي عشار الْمُشْركين وَأخرجه ابْن مَنْدَه من طَرِيق مكي بن إِبْرَاهِيم عَن ابْن لَهِيعَة عَن يزِيد بن أبي حبيب عَن مخيس بن ظبْيَان عَن عبد الرَّحْمَن بن حسان عَن رجل من جذام عَن مَالك بن عتابة بِهِ فَقدم مخيسا فِي السَّنَد عَلَى عبد الرَّحْمَن وَكَذَا أوردهُ ابْن أبي حثْمَة عَن مُحَمَّد بن مُعَاوِيَة عَن ابْن لَهِيعَة وَأخرجه ابْن شاهين من طَرِيق ابْن أبي حثْمَة وَمن طَرِيق أُخْرَى عَن ابْن لَهِيعَة كَذَلِك وَأوردهُ ابْن الْجَوْزِيّ فِي الموضوعات من طَرِيق مُحَمَّد بن نَاصِر أَنبأَنَا عبد الْوَهَّاب بن مُحَمَّد بن إِسْحَاق بن مَنْدَه ثَنَا أبي أَنبأَنَا عبد الله بن مُحَمَّد بن الْحَارِث الْمحَاربي ثَنَا حمدَان بن ذِي النُّون الْبَلْخِي عَن مَالك بن عتاهية قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ إِن لَقِيتُم عشارا فَاقْتُلُوهُ قَالَ إِنَّه مَوْضُوع فِيهِ مَجَاهِيل وَقد رَوَاهُ قُتَيْبَة عَن ابْن لَهِيعَة فَلم يذكر مخيسا وَلَا عبد الرَّحْمَن بن حسان وَابْن لَهِيعَة ذَاهِب الحَدِيث

قلت تعقبه الْجلَال فِي النكت بِأَنَّهُ أخرجه احْمَد فِي مُسْنده وَالْبُخَارِيّ فِي تَارِيخه وَالطَّبَرَانِيّ بِسَنَد رِجَاله معروفون وَفِيه ابْن لَهِيعَة وَهُوَ من رجال مُسلم فِي المتابعات وَفِيه كَلَام كثير وَالصَّوَاب أَنه حسن الحَدِيث انْتَهَى
আদ-দাইলামি মুসনাদুল ফিরদাউস গ্রন্থে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন: ঈমান হলো কথা ও কাজের নাম, যা বৃদ্ধি পায় এবং হ্রাস পায়। আবু হুরায়রা (রা.)-এর বর্ণনায় আরও বর্ধিত অংশ রয়েছে যে, যে ব্যক্তি এর ব্যতিক্রম বলবে সে বিদআতী। আর হাদিস দুটিই দুর্বল। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

 

‌‌ষষ্ঠ হাদিস

ইমাম আহমদ বলেছেন, মুসা বিন দাউদ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন ইবনে লাহিয়াহ আমাদের নিকট ইয়াজিদ বিন আবি হাবিব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি আব্দুর রহমান বিন হাসান মুখায়েস বিন জাবিয়ান থেকে, তিনি জুজাম গোত্রের এক ব্যক্তি থেকে, তিনি মালিক বিন আতাহিয়া (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি— "যখন তোমরা কোনো আশার (দশমাংশ কর আদায়কারী)-এর সাথে সাক্ষাৎ করবে, তখন তাকে হত্যা করো।" তিনি আরও বলেন, কুতাইবাহ বিন সাঈদ আমাদের নিকট এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন, অর্থাৎ ইবনে লাহিয়াহ থেকে, তবে তিনি সনদের কিছু অংশ বাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো এমন সদকা বা কর, যা অন্যায়ভাবে গ্রহণ করা হয়। সমাপ্ত। আর সনদের কিছু অংশ বাদ দেওয়ার অর্থ হলো তিনি মুখায়েস ও আব্দুর রহমান বিন হাসানের নাম উল্লেখ করেননি। অনুরূপভাবে আল-বাগাওয়ী এটি ইবরাহিম বিন সাঈদ আল-জাওহারী ও অন্যান্যদের থেকে, তারা মুসা বিন দাউদ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি এর শেষে বলেছেন: অর্থাৎ মুশরিকদের কর সংগ্রাহক। ইবনে মান্দাহ এটি মাক্কি বিন ইবরাহিম-ইবনে লাহিয়াহ-ইয়াজিদ বিন আবি হাবিব-মুখায়েস বিন জাবিয়ান-আব্দুর রহমান বিন হাসান-জুজাম গোত্রের এক ব্যক্তি-মালিক বিন আতাবাহ সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি সনদে মুখায়েসকে আব্দুর রহমানের আগে উল্লেখ করেছেন। ইবনে আবি হাসমাহ একইভাবে মুহাম্মদ বিন মুয়াবিয়া থেকে, তিনি ইবনে লাহিয়াহ থেকে এটি উল্লেখ করেছেন। ইবনে শাহীন এটি ইবনে আবি হাসমাহ-এর সূত্রে এবং ইবনে লাহিয়াহ-এর অন্য একটি সূত্রেও একইভাবে বর্ণনা করেছেন। ইবনে আল-জাওযী এটি 'আল-মাওজুআত' গ্রন্থে মুহাম্মদ বিন নাসের-আব্দুল ওয়াহহাব বিন মুহাম্মদ বিন ইসহাক বিন মান্দাহ-তার পিতা-আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন হারিস আল-মুহারিবি-হামদান বিন জুন-নুন আল-বালখি-মালিক বিন আতাহিয়া সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যদি তোমরা কোনো আশার (কর সংগ্রাহক)-এর সাক্ষাৎ পাও, তবে তাকে হত্যা করো।" তিনি (ইবনে আল-জাওযী) বলেছেন: এটি বানোয়াট, এর সনদে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা রয়েছেন। আর কুতাইবাহ এটি ইবনে লাহিয়াহ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি মুখায়েস ও আব্দুর রহমান বিন হাসানের নাম উল্লেখ করেননি; আর ইবনে লাহিয়াহ-এর হাদিস গ্রহণযোগ্য নয়।

আমি বলছি: আল-জালাল 'আন-নুয়াকাত' গ্রন্থে এর সমালোচনা করে বলেছেন যে, ইমাম আহমদ এটি তার মুসনাদে, বুখারী তার ইতিহাসে এবং তাবারানি এমন সনদে বর্ণনা করেছেন যার বর্ণনাকারীরা সুপরিচিত। এতে ইবনে লাহিয়াহ রয়েছেন, যিনি ইমাম মুসলিমের 'মুতাবায়াত'-এর বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত। তাকে নিয়ে অনেক মতভেদ থাকলেও সঠিক কথা হলো তার হাদিস 'হাসান'। সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) যাইলুল কাওলিল মুসাদ্দাদ (পৃষ্ঠা: ৬০)
‌‌الحَدِيث السَّابِع

قَالَ عبد الله بن أَحْمد بن حَنْبَل حَدثنَا أبي ثَنَا عبد الله بن مُحَمَّد وسمعته أَنا من عبد الله بن مُحَمَّد بن شيبَة ثَنَا مُحَمَّد بن فُضَيْل عَن يزِيد بن أبي زِيَاد عَن سُلَيْمَان بن عَمْرو بن الْأَحْوَص قَالَ أَخْبرنِي رب هَذَا الدَّار أَبُو هِلَال قَالَ سَمِعت أَبَا بَرزَة رضي الله عنه قَالَ كُنَّا مَعَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ فِي سفر فَسمع رجلَيْنِ يتغنيان وَأَحَدهمَا يُجيب الآخر وَهُوَ يَقُول

لَا يزَال حواي تلوح عِظَامه رَوَى الْحر عَنهُ أَن يحن فيقبرا فَقَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ من هما قَالَ فَقَالُوا فلَان وَفُلَان قَالَ فَقَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ اللَّهُمَّ أركسهما ركسا ودعهما إِلَى النَّار دَعَا أوردهُ ابْن الْجَوْزِيّ فِي الموضوعات من طَرِيق أبي يعْلى ثَنَا عَلّي بن الْمُنْذر ثَنَا ابْن فُضَيْل ثَنَا يزِيد بن أبي زِيَاد عَن سُلَيْمَان بن عَمْرو ابْن الْأَحْوَص عَن ابْن أبي بَرزَة رضي الله عنه قَالَ كُنَّا مَعَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ فَسمع صَوت غناء فَقَالَ انْظُرُوا مَا هَذَا فَصَعدت فَنَظَرت فَإِذا مُعَاوِيَة وَعَمْرو بن الْعَاصِ يتغنيان فَجئْت فَأخْبرت النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ فَقَالَ اللَّهُمَّ أركسهما فِي الْفِتْنَة ركسا اللَّهُمَّ دعهما إِلَى النَّار دَعَا قَالَ ابْن الْجَوْزِيّ لَا يَصح يزِيد بن أبي زِيَاد كَانَ يلقن بِآخِرهِ فيتلقن

قلت يزِيد بن أبي زِيَاد احْتج بِهِ الْأَرْبَعَة وَرَوَى لَهُ مُسلم مَقْرُونا وَقد مر عَن الْحَافِظ الْعَسْقَلَانِي أَنه قَالَ يزِيد وَإِن ضعفه بَعضهم من قبل حفظه فَلَا يلْزم أَن كل مَا يحدث بِهِ مَوْضُوع قَالَ الْجلَال السُّيُوطِيّ مَا قَالَه ابْن الْجَوْزِيّ لَا يَقْتَضِي الْوَضع قَالَ وَله شَاهد من حَدِيث ابْن عَبَّاس رضي الله عنهما رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ فِي الْكَبِير حَدثنَا أَحْمد بن عَلّي ابْن الْجَارُود الْأَصْبَهَانِيّ ثَنَا عبد الله بن عباد عَن سعيد الْكِنْدِيّ حَدثنَا عِيسَى ابْن الْأسود النَّخعِيّ عَن لَيْث عَن طَاوس عَن ابْن عَبَّاس رضي الله عنهما قَالَ سمع النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ صَوت رجلَيْنِ وسَاق نَحْو سِيَاق أَحْمد وَسَمَّى الرجلَيْن
সপ্তম হাদিস

আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে হাম্বল বলেন, আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন—এবং আমি নিজেও তা আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে শায়বাহ থেকে শুনেছি—তিনি বলেন, মুহাম্মদ ইবনে ফুুদাইল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াযিদ ইবনে আবি যিয়াদ থেকে, তিনি সুলাইমান ইবনে আমর ইবনুল আহওয়াস থেকে, তিনি বলেন, আমাকে এই ঘরের মালিক আবু হিলাল সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আমি আবু বারযাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলতে শুনেছি যে, আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে এক সফরে ছিলাম। তখন তিনি দুই ব্যক্তিকে গান গাইতে শুনলেন, যাদের একজন অন্যজনের গানের উত্তর দিচ্ছিল এবং সে বলছিল:

'হাওয়া এর হাড়গুলো সর্বদা চমকাতে থাকবে, মুক্ত মানুষ তার থেকে বর্ণনা করেছে যে সে ব্যাকুল হবে এবং তাকে কবরে রাখা হবে।' তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, "এরা দুইজন কে?" বর্ণনাকারী বলেন, তারা বলল, "অমুক এবং অমুক।" তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, "হে আল্লাহ! তাদের উভয়কে পুরোপুরি অধঃপতিত করুন এবং তাদের ধাক্কা দিয়ে আগুনের দিকে ঠেলে দিন।" ইবনুল জাওযী এটি 'আল-মাওযুআত' গ্রন্থে আবু ইয়া’লার সূত্রে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, আলী ইবনুল মুনযির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে ফুদাইল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াযিদ ইবনে আবি যিয়াদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুলাইমান ইবনে আমর ইবনুল আহওয়াস থেকে, তিনি ইবনে আবি বারযাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে ছিলাম, তখন তিনি গানের শব্দ শুনতে পেলেন। তিনি বললেন, "দেখো তো এটা কী?" আমি উপরে উঠে তাকালাম এবং দেখলাম মুয়াবিয়া ও আমর ইবনুল আস গান গাইছেন। আমি ফিরে এসে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে খবর দিলাম। তখন তিনি বললেন, "হে আল্লাহ! তাদের উভয়কে ফিতনার মধ্যে পুরোপুরি নিমজ্জিত করুন। হে আল্লাহ! তাদের ধাক্কা দিয়ে আগুনের দিকে ঠেলে দিন।" ইবনুল জাওযী বলেন, এটি সহিহ নয়; ইয়াযিদ ইবনে আবি যিয়াদ শেষ বয়সে বিভ্রান্ত হয়ে যেতেন এবং তাকে যা শেখানো হতো তাই গ্রহণ করতেন।

আমি বলছি, ইয়াযিদ ইবনে আবি যিয়াদ থেকে সুনানের চার ইমাম দলিল গ্রহণ করেছেন এবং ইমাম মুসলিম তাঁর থেকে অন্য বর্ণনাকারীর সাথে সংযুক্ত অবস্থায় বর্ণনা করেছেন। হাফেজ আসকালানী থেকে আগেই বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন—যদিও কেউ কেউ তাঁর মুখস্থ শক্তির দুর্বলতার কারণে তাঁকে দুর্বল বলেছেন, তবে এর মানে এই নয় যে তাঁর বর্ণিত প্রতিটি হাদিসই জাল। জালালুদ্দিন সুয়ুতী বলেন, ইবনুল জাওযী যা বলেছেন তা জাল হওয়ার দাবি রাখে না। তিনি বলেন, ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হাদিস থেকে এর একটি সমর্থক বর্ণনা রয়েছে, যা তাবারানি 'আল-কাবীর' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আহমদ ইবনে আলী ইবনুল জারুদ আল-আসফাহানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাদ সাঈদ আল-কিন্দি থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ঈসা ইবনুল আসওয়াদ আন-নাখায়ি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন লাইস থেকে, তিনি তাউস থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দুই ব্যক্তির কণ্ঠস্বর শুনতে পেলেন... এরপর তিনি আহমদের বর্ণনার অনুরূপ বর্ণনা পেশ করেন এবং ওই দুই ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেন।
(খণ্ড: ১) যাইলুল কাওলিল মুসাদ্দাদ (পৃষ্ঠা: ৬১)
مُعَاوِيَة وَعَمْرو بن الْعَاصِ وَرَوَاهُ ابْن قَانِع فِي مُعْجَمه حَدثنَا مُحَمَّد بن عَبدُوس بن كَامِل ثَنَا عبد الله ابْن عمر ثَنَا سعيد أَبُو الْعَبَّاس التَّيْمِيّ ثَنَا سيف بن عمر ثنى أَبُو عمر مولَى إِبْرَاهِيم بن طَلْحَة عَن زيد بن أسلم عَن صَالح شقران رضي الله عنه قَالَ بَيْنَمَا نَحن لَيْلَة فِي سفر إِذْ سمع النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ صَوتا فَذكر الحَدِيث وَسَمَّى الرجلَيْن مُعَاوِيَة بن رَافع وَعَمْرو بن رِفَاعَة وَقَالَ فِي آخر الحَدِيث فَمَاتَ عَمْرو بن رِفَاعَة قبل أَن يقدم النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ من السّفر قَالَ الْجلَال هَذِه الرِّوَايَة أزالت الْإِشْكَال وبينت أَن الْوَهم وَقع فِي الحَدِيث فِي لَفظه وَاحِدَة وَهِي قَوْله ابْن الْعَاصِ وَإِنَّمَا هُوَ ابْن رِفَاعَة أحد الْمُنَافِقين وَكَذَلِكَ مُعَاوِيَة بن رَافع أحد الْمُنَافِقين انْتَهَى

 

‌‌الحَدِيث الثَّامِن

قَالَ الإِمَام أَحْمد حَدثنَا ابْن نمير أَنبأَنَا إِسْمَاعِيل ويعلى بن عبيد قَالَا ثَنَا إِسْمَاعِيل عَن نفيع عَن أنس رضي الله عنه قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ مَا من أحد يَوْم الْقِيَامَة غَنِي وَلَا فَقير إِلَّا ود إِنَّمَا كَانَ أُوتِيَ من الدُّنْيَا قوتا قَالَ يعْلى فِي الدُّنْيَا رَوَاهُ ابْن مَاجَه حَدثنَا مُحَمَّد بن عبد الله بن نمير نَا أبي ويعلى عَن إِسْمَاعِيل بن أبي خَالِد عَن أنس رضي الله عنه قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ مَا من غَنِي وَلَا فَقير إِلَّا ود يَوْم الْقِيَامَة أَنه يُؤْتَى من الدُّنْيَا قوتا رَوَاهُ أَيْضا عبد بن حميد وَأَبُو نعيم فِي الحلبة أوردهُ ابْن الْجَوْزِيّ فِي الموضوعات من طَرِيق ابْن حبَان حَدثنَا عبد الْكَرِيم بن عمر الْخطابِيّ ثَنَا أَحْمد بن يُونُس بن الْمسيب ثَنَا يعْلى بن عبيد ثَنَا إِسْمَاعِيل بن أبي خَالِد عَن نفيع عَن انس رضي الله عنه قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ مَا مِنْكُم من أحد غَنِي وَلَا فَقير إِلَّا يود يَوْم الْقِيَامَة أَنه أُوتِيَ فِي الدُّنْيَا قوتا قَالَ نفيع يَعْنِي ابْن الْحَارِث أَبُو دَاوُد أَعْمَى مترو

قلت رَمَاه بَعضهم بِالْوَضْعِ وَبَعْضهمْ بِأَنَّهُ مَتْرُوك وَبَعْضهمْ بِأَنَّهُ لَيْسَ بِشَيْء وَبَعْضهمْ بِأَنَّهُ ضَعِيف وَذكره ابْن حبَان فِي كتاب الثِّقَات وَقَالَ فِي كتاب الضُّعَفَاء يروي عَن الثِّقَات الموضوعات انْتَهَى فَلَا يحكم عَلَى حَدِيثه بِالْوَضْعِ نظرا لذَلِك وَله شَاهد من حَدِيث ابْن مَسْعُود رضي الله عنه عِنْد الْخَطِيب قَالَ أَنبأَنَا عبد الْملك بن مُحَمَّد بن عبد الله الْوَاعِظ أَنبأَنَا عبد الْبَاقِي بن قَانِع ثَنَا عمر بن إِبْرَاهِيم الْحَافِظ ثَنَا أَحْمد بن إِبْرَاهِيم الْقطيعِي
মুয়াবিয়া এবং আমর বিন আস; এবং ইবনে কানি' তাঁর মু'জামে এটি বর্ণনা করেছেন: আমাদের নিকট মুহাম্মাদ বিন আবদুস বিন কামিল বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আবদুল্লাহ ইবনে উমর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট সাঈদ আবুল আব্বাস আত-তায়মি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট সাইফ বিন উমর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাকে ইব্রাহিম বিন তালহার মুক্তদাস আবু উমর বর্ণনা করেছেন যায়েদ বিন আসলাম থেকে, তিনি সালিহ শাকরান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: একদিন রাতে আমরা সফরে ছিলাম, এমতাবস্থায় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একটি শব্দ শুনতে পেলেন। অতঃপর তিনি হাদীসটি উল্লেখ করেন এবং দুই ব্যক্তির নাম মুয়াবিয়া বিন রাফে' এবং আমর বিন রিফা'আ হিসেবে উল্লেখ করেন। হাদীসের শেষে বলা হয়েছে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সফর থেকে ফিরে আসার আগেই আমর বিন রিফা'আ মারা যান। জালাল (সুয়ূতী) বলেন: এই বর্ণনাটি অস্পষ্টতা দূর করে দিয়েছে এবং স্পষ্ট করেছে যে হাদীসটির একটি শব্দে ভুল হয়েছে, আর তা হলো তাঁর কথা 'ইবনুল আস'; অথচ তিনি মূলত মুনাফিকদের একজন আমর বিন রিফা'আ। একইভাবে মুয়াবিয়া বিন রাফেও মুনাফিকদের একজন। সমাপ্ত।

 

‌‌অষ্টম হাদীস

ইমাম আহমাদ বলেন: ইবনে নুমাইর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসমাইল এবং ইয়া'লা বিন উবাইদ, তাঁরা বলেন আমাদের নিকট ইসমাইল নুফাই' থেকে, তিনি আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, কিয়ামতের দিন ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে প্রত্যেকেই এই কামনা করবে যে, তাকে যদি দুনিয়াতে কেবল জীবনধারণের উপযোগী খাদ্যই দেওয়া হতো! ইয়া'লা 'দুনিয়াতে' কথাটি বলেছেন। এটি ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন: মুহাম্মাদ বিন আবদুল্লাহ বিন নুমাইর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আমার পিতা এবং ইয়া'লা ইসমাইল বিন আবু খালিদ থেকে, তিনি আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে এমন কেউ নেই যে কিয়ামতের দিন এই কামনা করবে না যে, তাকে যদি দুনিয়াতে জীবনধারণের উপযোগী খাদ্যই দেওয়া হতো। এটি আবদ বিন হুমাইদ এবং আবু নুআইম আল-হিলইয়াহ-তে বর্ণনা করেছেন। ইবনুল জাওযী এটি আল-মাওযু'াত (জাল হাদীসসমূহ) গ্রন্থে ইবনে হিব্বানের সূত্রে উদ্ধৃত করেছেন: আব্দুল কারীম বিন উমর আল-খাত্তাবি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আহমাদ বিন ইউনুস বিন আল-মুসাইয়িব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট ইয়া'লা বিন উবাইদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট ইসমাইল বিন আবু খালিদ নুফাই' থেকে, তিনি আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, তোমাদের মধ্যে ধনী-দরিদ্র এমন কেউ নেই যে কিয়ামতের দিন এই কামনা করবে না যে, তাকে দুনিয়াতে কেবল জীবনধারণের উপযোগী খাদ্য দেওয়া হতো। নুফাই' অর্থাৎ ইবনুল হারিস আবু দাউদ আল-আ'মা, সে পরিত্যক্ত (মাতরুক)।

আমি বলি: তাদের কেউ কেউ তাঁর প্রতি জালকরণের (হাদীস জাল করা) অভিযোগ এনেছেন, কেউ তাঁকে পরিত্যক্ত (মাতরুক) বলেছেন, কেউ বলেছেন সে কিছুই নয়, আবার কেউ তাঁকে দুর্বল বলেছেন। ইবনে হিব্বান তাঁকে 'আস-সিকাত' (নির্ভরযোগ্যদের তালিকা) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং 'আদ-দুয়াফা' (দুর্বলদের তালিকা) গ্রন্থে বলেছেন যে, সে নির্ভরযোগ্যদের সূত্রে জাল বর্ণনা করে। সমাপ্ত। সুতরাং এ কারণে তাঁর হাদীসকে জাল বলে হুকুম দেওয়া হবে না। আর খতীবের নিকট ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদীস থেকে এর একটি সাক্ষ্যমূলক বর্ণনা (শাহিদ) রয়েছে। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল মালিক বিন মুহাম্মাদ বিন আবদুল্লাহ আল-ওয়া'ইয, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল বাকি বিন কানি', তিনি বলেন আমাদের নিকট উমর বিন ইব্রাহিম আল-হাফিয বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আহমাদ বিন ইব্রাহিম আল-কাতি'য়ী বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) যাইলুল কাওলিল মুসাদ্দাদ (পৃষ্ঠা: ৬২)
ثَنَا عباد بن الْعَوام ثَنَا سُفْيَان بن حُسَيْن عَن يسَار عَن أبي وَائِل عَن عبد الله رضي الله عنه قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ مَا من أحد إِلَّا وَهُوَ يتَمَنَّى يَوْم الْقِيَامَة أَنه كَانَ يَأْكُل فِي الدُّنْيَا قوتا وَقَالَ أَبُو نعيم حَدثنَا عبد الله بن مُحَمَّد بن أبي سهل ثَنَا عبد الله بن مُحَمَّد الْعَبْسِي ثَنَا عباد بن الْعَوام بِهِ فَذكره مَوْقُوفا

 

‌‌الحَدِيث التَّاسِع

قَالَ عبد الله بن أَحْمد بن حَنْبَل حَدثنِي يَحْيَى بن عُثْمَان يَعْنِي الْحَرْبِيّ أَبُو زَكَرِيَّا حَدثنَا إِسْمَاعِيل بن عَيَّاش عَن رجل قد سَمَّاهُ عَن مُحَمَّد بن يُوسُف عَن عَمْرو بن عُثْمَان بن عَفَّان عَن أَبِيه رضي الله عنه قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ الصبحة تمنع الرزق وَقَالَ حَدثنِي إِبْرَاهِيم الترجماني ثَنَا إِسْمَاعِيل بن عَيَّاش عَن ابْن أبي فَرْوَة عَن مُحَمَّد بن يُوسُف عَن عَمْرو بن عُثْمَان بن عَفَّان عَن أَبِيه رضي الله عنه قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ الصبحة تمنع الرزق وَهَذَا الحَدِيث أخرجه الْبَيْهَقِيّ أَيْضا فِي الشّعب وَقَالَ رَوَاهُ مسلمة بن عَلّي عَن ابْن عَيَّاش عَن رجل هُوَ ابْن أبي فَرْوَة عَن إِسْحَاق بن عبد الله بن أبي طَلْحَة عَن أنس بن مَالك مَرْفُوعا وَقَالَ خلط ابْن أبي فَرْوَة فِي إِسْنَاده انْتَهَى وَأوردهُ ابْن الْجَوْزِيّ فِي الموضوعات من طَرِيق ابْن عدي حَدثنَا الْحُسَيْن بن أَحْمد ابْن مَنْصُور وسجادة ثَنَا يَحْيَى بن عُثْمَان ثَنَا إِسْمَاعِيل بن عَيَّاش عَن ابْن أبي فَرْوَة عَن مُحَمَّد بن يُوسُف عَن عَمْرو بن عُثْمَان بن عَفَّان عَن أَبِيه مَرْفُوعا بِهِ وَقَالَ ابْن أبي فَرْوَة إِسْحَاق مَتْرُوك

قلت ابْن أبي فَرْوَة هُوَ إِسْحَاق بن عبد الله بن أبي فَرْوَة الْأمَوِي مَوْلَاهُم الْمدنِي رَوَى لَهُ أَبُو دَاوُد وَالتِّرْمِذِيّ تكلمُوا فِيهِ لَكِن لم يتهم بِالْكَذِبِ نعم لَهُ مَنَاكِير وعد ابْن عدي هَذَا الحَدِيث من مَنَاكِيره وَكَونه مُنْكرا لَا يسْتَلْزم أَن يكون مَوْضُوعا وَقَالَ السُّيُوطِيّ والْحَدِيث لَهُ طَرِيق أُخْرَى
আব্বাদ ইবনুল আওয়াম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি সুফিয়ান ইবনে হুসাইন থেকে, তিনি ইয়াসার থেকে, তিনি আবু ওয়ািল থেকে, তিনি আবদুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "কিয়ামতের দিন এমন কোনো ব্যক্তি নেই যে এই আকাঙ্ক্ষা করবে না যে, সে যদি পৃথিবীতে শুধু বেঁচে থাকার মতো ন্যূনতম খাবার গ্রহণ করত।" এবং আবু নুআইম বলেছেন, আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবু সাহল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আল-আবাসি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্বাদ ইবনুল আওয়াম আমাদের নিকট একইভাবে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি একে মাওকুফ (সাহাবীর উক্তি) হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

 

‌‌নবম হাদিস

আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে হাম্বল বলেন, ইয়াহইয়া ইবনে উসমান অর্থাৎ আল-হারবি আবু জাকারিয়া আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসমাইল ইবনে আইয়াশ আমাদের নিকট জনৈক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেছেন যার নাম তিনি উল্লেখ করেছেন, তিনি মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ থেকে, তিনি আমর ইবনে উসমান ইবনে আফফান থেকে, তিনি তাঁর পিতা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "ভোরে ঘুমানো রিজিককে বাধাগ্রস্ত করে।" এবং তিনি বলেন, ইব্রাহিম আত-তারজুমানি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসমাইল ইবনে আইয়াশ আমাদের নিকট ইবনে আবু ফারওয়া থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ থেকে, তিনি আমর ইবনে উসমান ইবনে আফফান থেকে, তিনি তাঁর পিতা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "ভোরে ঘুমানো রিজিককে বাধাগ্রস্ত করে।" আল-বায়হাকিও 'শুআবুল ঈমান' গ্রন্থে এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, মাসলামা ইবনে আলি এটি ইবনে আইয়াশ থেকে, তিনি জনৈক ব্যক্তি—যিনি ইবনে আবু ফারওয়া—থেকে, তিনি ইসহাক ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবু তালহা থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এবং তিনি বলেছেন, ইবনে আবু ফারওয়া এর সনদে গোলমাল করেছেন (সমাপ্ত)। ইবনে আল-জাওজি একে 'আল-মাওদুআত' গ্রন্থে ইবনে আদির সূত্রে উল্লেখ করেছেন— আল-হুসাইন ইবনে আহমদ ইবনে মনসুর ও সাজ্জাদাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া ইবনে উসমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসমাইল ইবনে আইয়াশ আমাদের নিকট ইবনে আবু ফারওয়া থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ থেকে, তিনি আমর ইবনে উসমান ইবনে আফফান থেকে, তিনি তাঁর পিতার সূত্রে মারফু হিসেবে এটি বর্ণনা করেছেন। ইবনে আল-জাওজি বলেন, ইবনে আবু ফারওয়া ইসহাক হলো পরিত্যক্ত।

আমি বলছি, ইবনে আবু ফারওয়া হলেন ইসহাক ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবু ফারওয়া আল-উমাবি মাওলাহুম আল-মাদানি। আবু দাউদ ও তিরমিজি তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। মুহাদ্দিসগণ তাঁর সমালোচনা করেছেন, তবে তিনি মিথ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত নন। হ্যাঁ, তাঁর বর্ণিত কিছু হাদিস মুনকার রয়েছে। ইবনে আদি এই হাদিসটিকে তাঁর মুনকার বর্ণনার অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তবে কোনো হাদিস মুনকার হওয়ার অর্থ এই নয় যে তা বানোয়াট হতে হবে। সুয়ুতি বলেছেন, এই হাদিসের অন্য আরও সূত্র রয়েছে।
(খণ্ড: ১) যাইলুল কাওলিল মুসাদ্দাদ (পৃষ্ঠা: ৬৩)
قَالَ أَبُو نعيم فِي الْحِلْية حَدثنَا عبد الله بن مُحَمَّد ابْن جَعْفَر ثَنَا الْحسن بن عَلّي بن نصر الطوسي ثَنَا مُحَمَّد بن أسلم ثَنَا حُسَيْن ابْن الْوَلِيد ثَنَا سُلَيْمَان بن أَرقم عَن الزُّهْرِيّ عَن سعيد بن الْمسيب عَن عُثْمَان بن عَفَّان رضي الله عنه مَرْفُوعا إِن الصبحة تمنع الرزق قَالَ وَله شَوَاهِد أخرج الديلمي من طَرِيق أصبغ بن نباتة عَن أنس مَرْفُوعا لَا تناموا عَن طلب أرزاقكم فِيمَا بَين صَلَاة الْفجْر إِلَى طُلُوع الشَّمْس قَالَ فَسئلَ أنس رضي الله عنه عَن مَعْنَى هَذَا الحَدِيث فَقَالَ يسبح وَيكبر ويستغفر سبعين مرّة فَعِنْدَ ذَلِك ينزل الرزق وَرَوَى الْبَيْهَقِيّ فِي الشّعب من طَرِيق عبد الْملك بن هَارُون بن عنترة عَن أَبِيه عَن جده عَن فَاطِمَة بنت النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ قَالَت مر بِي رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ وَأَنا مُضْطَجِعَة فحركني بِرجلِهِ وَقَالَ يَا بنية قومِي وأشهدي رزق رَبك وَلَا تَكُونِي من الغافلين فَإِن الله تَعَالَى يقسم أرزاق الله مَا بَين طُلُوع الْفجْر إِلَى طُلُوع الشَّمْس قَالَ الْبَيْهَقِيّ سَنَده ضَعِيف وَرَوَاهُ من طَرِيق أُخْرَى عَن عبد الْملك بن عنترة عَن أَبِيه عَن جده عَن عَلّي رضي الله عنه قَالَ دخل رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ عَلَى فَاطِمَة عَلَى أَبِيهَا وَعَلَيْهَا الصَّلَاة وَالسَّلَام بعد أَن صَلَّى الصُّبْح وَهِي نَائِمَة فَذكر مَعْنَاهُ وَذكر السُّيُوطِيّ آثارا تشهد لذَلِك

تَنْبِيه إِنَّمَا أدرجنا حَدِيث زَوَائِد الْمسند من جملَة أَحَادِيث الْمسند تبعا لِلْحَافِظِ الْعَسْقَلَانِي فَإِنَّهُ عده من جملَة أَحَادِيث الْمسند وَكَذَا هُوَ أورد أَحَادِيث الزَّوَائِد فِي أَطْرَاف الْمسند

 

‌‌الحَدِيث العاشر

قَالَ الإِمَام أَحْمد حَدثنَا مُحَمَّد بن جَعْفَر ثَنَا شُعْبَة وحجاج عَن شُعْبَة عَن سَلمَة بن كهيل قَالَ سَمِعت حَبَّة العرني قَالَ سَمِعت عليا رضي الله عنه يَقُول أَنا أول رجل صَلَّى مَعَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ وَقَالَ حَدثنَا أَبُو سعيد مولَى بني هَاشم حَدثنَا يَحْيَى بن سَلمَة يَعْنِي ابْن كهيل قَالَ سَمِعت أبي يحدث عَن حَبَّة العرني قَالَ رَأَيْت عليا رضي الله عنه ضحك عَلَى الْمِنْبَر فَذكر قصَّة لِأَبِيهِ ثمَّ قَالَ اللَّهُمَّ لَا أعرف أَن عبدا لَك من هَذِه الْأمة عَبدك قبلي غير نبيك صلى الله عليه وسلم َ ثَلَاث مرار
আবু নুয়াইম 'হিলইয়াহ' গ্রন্থে বলেছেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে জাফর, তিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাসান ইবনে আলী ইবনে নাসর আত-তুসি, তিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আসলাম, তিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হুসাইন ইবনুল ওয়ালিদ, তিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুলাইমান ইবনে আরকাম, তিনি যুহরী থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে, তিনি উসমান ইবনে আফফান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে: "ভোরবেলার ঘুম রিযিক বন্ধ করে দেয়।" তিনি (আবু নুয়াইম) বলেন, এর আরও সাক্ষ্যমূলক বর্ণনা রয়েছে। দাইলামি আসবাগ ইবনে নুবাতাহ-এর সূত্রে আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন: "তোমরা ফজর সালাত থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত সময়ের মধ্যে রিযিক অন্বেষণ করা থেকে বিরত থেকে ঘুমিয়ে থেকো না।" তিনি বলেন, অতঃপর আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে এই হাদিসের অর্থ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন: "(এই সময়ে) সত্তর বার তাসবীহ, তাকবীর এবং ইস্তিগফার পাঠ করবে, তখন রিযিক নাজিল হয়।" আর বায়হাকী 'শুআবুল ঈমান' গ্রন্থে আব্দুল মালিক ইবনে হারুন ইবনে আনতারা, তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কন্যা ফাতিমা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যখন আমি শুয়ে ছিলাম। তিনি আমাকে তাঁর পা দিয়ে নাড়া দিলেন এবং বললেন: "হে প্রিয় কন্যা! ওঠো, তোমার রবের রিযিকের সাক্ষী হও এবং গাফেলদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না। কেননা মহান আল্লাহ ফজর উদয় থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত সময়ের মধ্যে আল্লাহর দেওয়া রিযিকসমূহ বণ্টন করেন।" বায়হাকী বলেন, এর সনদ দুর্বল। তিনি এটি অন্য সূত্রে আব্দুল মালিক ইবনে আনতারা, তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফজর সালাত আদায়ের পর ফাতিমা (তাঁর এবং তাঁর পিতার ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক)-এর নিকট প্রবেশ করলেন যখন তিনি ঘুমন্ত ছিলেন। অতঃপর তিনি অনুরূপ অর্থ উল্লেখ করেছেন। আর সুয়ূতী এ বিষয়ে সাক্ষ্য দানকারী আরও কিছু বর্ণনা উল্লেখ করেছেন।

সতর্কবার্তা: আমরা হাফেজ আসকালানীর অনুসরণে মুসনাদের অতিরিক্ত (যাওয়াইদ) হাদিসগুলোকে মুসনাদের মূল হাদিসগুলোর অন্তর্ভুক্ত করেছি। কারণ তিনি সেগুলোকে মুসনাদের হাদিসসমূহের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে গণ্য করেছেন এবং একইভাবে তিনি 'আতরাফুল মুসনাদ' গ্রন্থেও অতিরিক্ত হাদিসগুলো উল্লেখ করেছেন।

 

‌‌দশম হাদিস

ইমাম আহমাদ বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে জাফর, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শু’বা ও হাজ্জাজ, তাঁরা শু’বা থেকে, তিনি সালামা ইবনে কুহাইল থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি হাব্বাহ আল-আরানিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলতে শুনেছি, "আমিই প্রথম ব্যক্তি যে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে সালাত আদায় করেছি।" এবং তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন বনু হাশেমের মুক্তদাস আবু সাঈদ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে সালামা অর্থাৎ ইবনে কুহাইল, তিনি বলেন আমি আমার পিতাকে হাব্বাহ আল-আরানি থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে মিম্বারের ওপর হাসতে দেখেছি। অতঃপর তিনি তাঁর পিতার একটি ঘটনা উল্লেখ করলেন এবং এরপর বললেন: "হে আল্লাহ! আমি জানি না যে এই উম্মতের মধ্যে আপনার কোনো বান্দা আপনার নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ব্যতীত আমার আগে আপনার ইবাদত করেছে।" তিনি এটি তিনবার বললেন।
(খণ্ড: ১) যাইলুল কাওলিল মুসাদ্দাদ (পৃষ্ঠা: ৬৪)
لقد صليت قبل أَن يُصَلِّي النَّاس سبعا أوردهُ ابْن الْجَوْزِيّ فِي الموضوعات من طَرِيق مُحَمَّد بن عبد الْبَاقِي الْبَزَّار أَنبأَنَا إِبْرَاهِيم بن عمر الْبَرْمَكِي أَنبأَنَا أَبُو مُحَمَّد بن ماسي ثَنَا أَحْمد بن عبد الرَّحْمَن بن مَرْزُوق ثَنَا إِسْمَاعِيل بن إِبْرَاهِيم ابْن بسام سَمِعت شُعَيْب بن صَفْوَان عَن أجلح عَن سَلمَة بن كهيل عَن جُوَيْن عَن عَلّي رضي الله عنه قَالَ عبدت الله مَعَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ قبل أَن يعبده رجل من هَذِه الْأمة خمس سِنِين أَو سبع سِنِين قَالَ الْأَجْلَح مُنكر الحَدِيث وحبة واه فِي الحَدِيث غال فِي التَّشَيُّع

قلت هَذَا لَا يَقْتَضِي أَن يكون حَدِيثه مَوْضُوعا قَالَ السُّيُوطِيّ الْأَجْلَح رَوَى لَهُ الْأَرْبَعَة وَوَثَّقَهُ ابْن معِين وَالْعجلِي وَقَالَ أَبُو حَاتِم لَيْسَ بِالْقَوِيّ وَقَالَ النَّسَائِيّ ضَعِيف وَقَالَ ابْن عدي شيعي صَدُوق وحبة ضعفه الْأَكْثَر وَقَالَ الْعجلِيّ تَابِعِيّ ثِقَة وَقَالَ الطَّبَرَانِيّ يُقَال لَهُ رُؤْيَة وَقَالَ ابْن عدي مَا رَأَيْت لَهُ مُنْكرا قد جَاوز الْحَد

والْحَدِيث أخرجه الْحَاكِم حَدثنَا أَبُو عمر الزَّاهِد ثَنَا مُحَمَّد بن هِشَام الْمروزِي ثَنَا أَبُو إِبْرَاهِيم الترجماني ثَنَا شُعَيْب بن صَفْوَان بِهِ قَالَ وَتعقبه الذَّهَبِيّ فِي تَلْخِيص الْمُسْتَدْرك بِأَن خَدِيجَة وَأَبا بكر وبلالا وزيدا رضي الله عنهم آمنُوا أول مَا بعث النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ وعبدوا الله مَعَه قَالَ يَعْنِي الذَّهَبِيّ وَلَعَلَّ السّمع أَخطَأ وَيكون عَلّي رضي الله عنه قَالَ عبدت الله مَعَ رَسُوله صلى الله عليه وسلم َ ولي سبع سِنِين وَلم يضْبط الرَّاوِي مَا سمع وَقَالَ الطَّبَرَانِيّ فِي الْأَوْسَط حَدثنَا أَحْمد ثَنَا عبد الرَّحْمَن بن صَالح الْأَزْدِيّ ثَنَا عَمْرو بن هَاشم الْجَنبي عَن الْأَجْلَح عَن سَلمَة بن كهيل عَن حَبَّة ابْن جُوَيْن العرني عَن عَلّي رضي الله عنه أَنه قَالَ اللَّهُمَّ إِنَّك تعلم أَنه لم يعبدك أحد من هَذِه الْأمة قبلي وَلَقَد عبدتك قبل أَن يعبدك أحد من هَذِه الْأمة سِتّ سِنِين انْتَهَت عبارَة السُّيُوطِيّ

قلت مَا تعقب بِهِ الذَّهَبِيّ إِنَّمَا يتَوَجَّه عَلَى من رَوَاهُ من طَرِيق الْأَجْلَح وَأما مَا رَوَاهُ الإِمَام أَحْمد فَلَا يتَوَجَّه عَلَيْهِ ذَلِك فَإِن قَوْله سبعا يُمكن أَن

আমি মানুষের সালাত আদায়ের সাত বছর আগে সালাত আদায় করেছি। এটি ইবনুল জাওযী তাঁর 'আল-মাওযুআত' গ্রন্থে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল বাকী আল-বাযযার-এর সূত্রে উল্লেখ করেছেন; তিনি আমাদের জানিয়েছেন ইবরাহীম ইবনে উমর আল-বারমাকী থেকে, তিনি আমাদের জানিয়েছেন আবু মুহাম্মাদ ইবনে মাসী থেকে, তিনি আমাদের বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে মারযূক থেকে, তিনি আমাদের বর্ণনা করেছেন ইসমাঈল ইবনে ইবরাহীম ইবনে বাসসাম থেকে, তিনি বলেন যে আমি শুআইব ইবনে সাফওয়ান থেকে শুনেছি, তিনি আজলাহ থেকে, তিনি সালামাহ ইবনে কুহাইল থেকে, তিনি হাব্বাহ ইবনে জুওয়াইন থেকে, তিনি আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি (আলী) বলেছেন: "আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে এই উম্মতের কোনো ব্যক্তি আল্লাহর ইবাদত করার পাঁচ বা সাত বছর আগে তাঁর ইবাদত করেছি।" আজলাহ সম্পর্কে বলা হয়েছে তিনি 'মুনকারুল হাদীস' (হাদীস বর্ণনায় প্রত্যাখ্যাত) এবং হাব্বাহ হাদীসের ক্ষেত্রে অত্যন্ত দুর্বল ও কট্টর শিয়া মতাবলম্বী।

আমি (গ্রন্থকার) বলছি: এটি তাঁর হাদীসকে 'মাওযু' (জাল) হওয়ার অনিবার্য দাবি রাখে না। আল্লামা সুয়ূতী বলেছেন: চার সুনান গ্রন্থে আজলাহ থেকে হাদীস বর্ণিত হয়েছে এবং ইবনে মাঈন ও ইজলী তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন। আবু হাতিম বলেছেন: তিনি শক্তিশালী নন। নাসাঈ বলেছেন: তিনি দুর্বল। ইবনে আদী বলেছেন: তিনি সত্যবাদী শিয়া। আর হাব্বাহ-কে অধিকাংশ মুহাদ্দিস দুর্বল বলেছেন, তবে ইজলী তাঁকে নির্ভরযোগ্য তাবিঈ বলেছেন। তাবারানী বলেন: বলা হয় যে তাঁর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল। ইবনে আদী বলেন: আমি তাঁর এমন কোনো 'মুনকার' বর্ণনা দেখিনি যা সীমা অতিক্রম করেছে।

হাদীসটি ইমাম হাকিমও সংকলন করেছেন; আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু উমর আয-যাহিদ, তিনি বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনে হিশাম আল-মারওয়াযী থেকে, তিনি আবু ইবরাহীম আত-তারজুমানী থেকে, তিনি শুআইব ইবনে সাফওয়ান থেকে উক্ত সূত্রে। ইমাম যাহাবী 'তালখিসুল মুস্তাদরাক' গ্রন্থে এর পর্যালোচনা করে বলেছেন যে, খাদিজা, আবু বকর, বিলাল এবং যায়িদ রাদিয়াল্লাহু আনহুম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রেরিত হওয়ার শুরুতেই ঈমান এনেছিলেন এবং তাঁর সাথে আল্লাহর ইবাদত করেছিলেন। যাহাবী বলেন: সম্ভবত শ্রোতা শুনতে ভুল করেছেন এবং আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু হয়তো বলেছিলেন "আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ইবাদত করেছি যখন আমার বয়স ছিল সাত বছর", আর বর্ণনাকারী যা শুনেছেন তা সঠিকভাবে আয়ত্ত করতে পারেননি। তাবারানী 'আল-আওসাত' গ্রন্থে বলেছেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আহমাদ, তিনি বর্ণনা করেছেন আব্দুর রহমান ইবনে সালিহ আল-আযদী থেকে, তিনি আমর ইবনে হাশিম আল-জানাবী থেকে, তিনি আজলাহ থেকে, তিনি সালামাহ ইবনে কুহাইল থেকে, তিনি হাব্বাহ ইবনে জুওয়াইন আল-উরানী থেকে, তিনি আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে তিনি বলেছেন: "হে আল্লাহ! আপনি জানেন যে এই উম্মতের কেউ আমার আগে আপনার ইবাদত করেনি। আমি এই উম্মতের অন্য কেউ আপনার ইবাদত করার ছয় বছর আগে আপনার ইবাদত করেছি।" সুয়ূতীর বক্তব্য এখানেই শেষ।

আমি (গ্রন্থকার) বলছি: যাহাবী যে সমালোচনা করেছেন তা কেবল আজলাহ-এর সূত্রের বর্ণনার ওপরই প্রযোজ্য। কিন্তু ইমাম আহমাদ যা বর্ণনা করেছেন তার ক্ষেত্রে এই সমালোচনা প্রযোজ্য নয়; কারণ তাঁর "সাত" বলার দ্বারা উদ্দেশ্য হতে পারে যে...

(খণ্ড: ১) যাইলুল কাওলিল মুসাদ্দাদ (পৃষ্ঠা: ৬৫)
يكون المُرَاد بِهِ سَبْعَة أَيَّام وَلَا مَانع من أَن يتَقَدَّم إِسْلَام عَلّي رضي الله عنه عَلَى غَيره بسبعة أَيَّام عِنْد من يَقُول إِنَّه أول النَّاس إسلاما وَعَلَى هَذَا فَالْحَدِيث من قسم الْمَعْلُول لَا الْمَوْضُوع وَالله أعلم

 

‌‌الحَدِيث الْحَادِي عشر

قَالَ الإِمَام أَحْمد حَدثنَا وَكِيع وَعبد الرَّحْمَن قَالَا ثَنَا سُفْيَان عَن مُصعب بن مُحَمَّد عَن يعْلى بن أبي يَحْيَى عَن فَاطِمَة بنت حُسَيْن عَن أَبِيهَا قَالَ عبد الرَّحْمَن حُسَيْن بن عَلّي رضي الله عنهما قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ للسَّائِل حق وَإِن جَاءَ عَلَى فرس وَرَوَاهُ أَبُو دَاوُد حَدثنَا مُحَمَّد بن كثير أخبرنَا سُفْيَان بِهِ وَسكت عَلَيْهِ أَبُو دَاوُد فَهُوَ عِنْده صَالح وَأخرج أَبُو يعْلى حَدثنَا أَبُو خَيْثَمَة نَا وَكِيع نَا سُفْيَان بِهِ وَأخرجه الضياء الْمَقْدِسِي أَيْضا فِي كِتَابه المختارة وَأورد ابْن الْجَوْزِيّ هَذَا الحَدِيث فِي الموضوعات بِغَيْر سَنَد وَقَالَ نقلت من خطّ القَاضِي أبي يعْلى قَالَ نقلت من خطّ أبي حَفْص الْبَرْمَكِي قَالَ سَمِعت أَبَا بكر أَحْمد بن مُحَمَّد الصيدلاني يَقُول سَمِعت أَبَا بكر الْمروزِي يَقُول سَمِعت أَبَا عبد الله أَحْمد بن حَنْبَل يَقُول أَرْبَعَة أَحَادِيث تَدور عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ فِي الْأَسْوَاق لَيْسَ لَهَا أصل فَذكر مِنْهَا هَذَا الحَدِيث

قلت نقل الْحَافِظ السُّيُوطِيّ فِي اللآلئ عَن الْحَافِظ أبي الْفضل الْعِرَاقِيّ فِي نكته عَلّي ابْن الصّلاح قَالَ لَا يَصح هَذَا الْكَلَام عَن احْمَد فَإِنَّهُ قد أخرج الحَدِيث الْمَذْكُور فِي مُسْنده عَن الْحُسَيْن قَالَ وَهُوَ إِسْنَاد جيد وَرِجَاله ثِقَات انْتَهَى وَكَذَا جزم بِصِحَّتِهِ غير وَاحِد لَكِن قَالَ ابْن عبد الْبر إِنَّه لَيْسَ بِقَوي انْتَهَى

قلت فِي سَنَده يعْلى بن أبي يَحْيَى قَالَ أَبُو حَاتِم مَجْهُول وَوَثَّقَهُ ابْن حبَان وَرَوَى أَبُو دَاوُد حَدثنَا مُحَمَّد بن رَافع نَا يَحْيَى بن آدم نَا زُهَيْر عَن شيخ قَالَ رَأَيْت سُفْيَان عِنْده عَن فَاطِمَة بنت حُسَيْن عَن أَبِيهَا عَن عَلّي رضي الله عنهم عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ مثله وَفِيه راو لم يسم وَقد رَوَاهُ إِسْحَاق بن رَاهَوَيْه من طَرِيق فَاطِمَة عَن جدَّتهَا فَاطِمَة الْكُبْرَى عَلَى أَبِيهَا
এর দ্বারা উদ্দেশ্য হতে পারে সাত দিন এবং আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর ইসলাম গ্রহণ অন্যের তুলনায় সাত দিন আগে হওয়াতে কোনো বাধা নেই তাদের নিকট যারা বলেন যে তিনি প্রথম ইসলাম গ্রহণকারী। আর এই ভিত্তিতে হাদিসটি 'মআলুল' (ত্রুটিযুক্ত) পর্যায়ের, 'মাউযু' (জাল) নয়। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

 

‌‌একাদশ হাদিস

ইমাম আহমাদ বলেন, আমাদের নিকট ওয়াকি এবং আবদুর রহমান হাদিস বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন, আমাদের নিকট সুফিয়ান মুসআব ইবনে মুহাম্মাদ থেকে, তিনি ইয়ালা ইবনে আবি ইয়াহইয়া থেকে, তিনি ফাতিমা বিনতে হুসাইন থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন। আবদুর রহমান বলেন, হুসাইন ইবনে আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "সাহায্যপ্রার্থীর হক রয়েছে, যদিও সে ঘোড়ায় চড়ে আসে।" এবং এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মুহাম্মাদ ইবনে কাসির বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট সুফিয়ান এর মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন। আর আবু দাউদ এ সম্পর্কে নীরবতা পালন করেছেন, সুতরাং এটি তাঁর নিকট 'সালিহ' (গ্রহণযোগ্য)। আবু ইয়ালাও এটি বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবু খাইসামা বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ওয়াকি বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট সুফিয়ান এর মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন। যিয়া আল-মাকদিসিও তাঁর 'আল-মুখতারা' কিতাবে এটি বর্ণনা করেছেন। ইবনুল জাওযি এই হাদিসটি 'আল-মাউযুআত' গ্রন্থে সনদ ছাড়াই উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন, আমি কাজী আবু ইয়ালা-র হাতের লেখা থেকে নকল করেছি, তিনি বলেছেন, আমি আবু হাফস আল-বারমাকি-র হাতের লেখা থেকে নকল করেছি, তিনি বলেছেন, আমি আবু বকর আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ আস-সাইদালানিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি আবু বকর আল-মারওয়াযিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি আবু আব্দুল্লাহ আহমাদ ইবনে হাম্বলকে বলতে শুনেছি: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত চারটি হাদিস বাজারে প্রচলিত রয়েছে যেগুলোর কোনো ভিত্তি নেই।" অতঃপর তিনি সেগুলোর মধ্যে এই হাদিসটি উল্লেখ করেন।

আমি বলছি, হাফিজ সুয়ুতি 'আল-লাআলি' গ্রন্থে হাফিজ আবু ফজল আল-ইরাকি থেকে তাঁর 'নুকাত আলা ইবনুস সালাহ' গ্রন্থের বরাতে উদ্ধৃত করেছেন যে, তিনি বলেছেন, আহমাদ (ইবনে হাম্বল) থেকে এই বক্তব্যটি সহিহ নয়। কেননা তিনি তাঁর মুসনাদে হুসাইন থেকে উক্ত হাদিসটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন এটি একটি উত্তম (জায়্যিদ) সনদ এবং এর বর্ণনাকারীরা নির্ভরযোগ্য (সিকাহ)। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। অনুরূপভাবে একাধিক ব্যক্তি এর বিশুদ্ধতার ব্যাপারে দৃঢ় মত দিয়েছেন, তবে ইবনে আবদিল বার বলেছেন এটি শক্তিশালী নয়। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।

আমি বলছি, এর সনদে ইয়ালা ইবনে আবি ইয়াহইয়া রয়েছেন, আবু হাতিম তাঁকে 'মাজহুল' (অপরিচিত) বলেছেন এবং ইবনে হিব্বান তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন। আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মুহাম্মাদ ইবনে রাফে বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ইয়াহইয়া ইবনে আদম বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট জুহাইর জনৈক শায়খ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি সুফিয়ানকে দেখেছি তাঁর নিকট ফাতিমা বিনতে হুসাইন থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আর এতে এমন একজন বর্ণনাকারী আছেন যার নাম উল্লেখ করা হয়নি। ইসহাক ইবনে রাহাওয়াইহ ফাতিমার সূত্রে তাঁর দাদি ফাতিমা আল-কুবরা থেকে তাঁর পিতার (নবীজির) বরাতে এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) যাইলুল কাওলিল মুসাদ্দাদ (পৃষ্ঠা: ৬৬)
وَعَلَيْهَا الصَّلَاة وَالسَّلَام وَقد جعل بَعضهم هَذَا الِاضْطِرَاب سَبَب الضعْف وَلَيْسَ ذَلِك بقادح فَإِن الْحُسَيْن رضي الله عنه من صغَار الصَّحَابَة فَرُبمَا يثبت الْوَاسِطَة بَينه وَبَين النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ وَرُبمَا أسْقطه فَيكون من مَرَاسِيل الصَّحَابَة وَله شَاهد من حَدِيث ابْن عَبَّاس رضي الله عنهما أخرجه ابْن عدي من رِوَايَة إِبْرَاهِيم بن يزِيد عَن سُلَيْمَان الْأَحول عَن طَاوس عَن ابْن عَبَّاس رضي الله عنهما بِهِ مَرْفُوعا وَمن حَدِيث الهرماس أخرجه الطَّبَرَانِيّ من رِوَايَة عُثْمَان بن فائد عَن عِكْرِمَة بن عمار عَن الهرماس بن زِيَاد عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ بِهِ وَعُثْمَان ضَعِيف وَرَوَاهُ الإِمَام مَالك فِي الْمُوَطَّأ عَن زيد بن أسلم أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ قَالَ أعْطوا السَّائِل وَإِن جَاءَ عَلَى فرس وَهَذَا شَاهد قوي لحَدِيث يعْلى وَقد وَصله ابْن عدي من طَرِيق عبد الله بن زيد بن أسلم عَن أَبِيه عَن أبي صَالح عَن أبي هُرَيْرَة رضي الله عنه وَلَكِن عبد الله بن زيد ضَعِيف وَرَوَاهُ أَيْضا من طَرِيق عمر بن يزِيد الْمَدَائِنِي عَن عَطاء عَن أبي هُرَيْرَة وَعمر أَيْضا ضَعِيف وَرَوَاهُ الدَّارَقُطْنِيّ فِي الْأَفْرَاد من طَرِيق الْحسن بن عَلّي الْهَاشِمِي عَن الْأَعْرَج عَن أبي هُرَيْرَة مَرْفُوعا لَا يمنعن أحدكُم السَّائِل أَن يُعْطِيهِ وَإِن كَانَ فِي يَده قلبا من ذهب وَقَالَ تفرد بِهِ الْحسن عَن الْأَعْرَج انْتَهَى وَالْحسن ضَعِيف وَهُوَ فِي مُسْند الفردوس أَيْضا وَبِالْجُمْلَةِ لَا شكّ فِي صِحَّته نظرا إِلَى مَجْمُوع طرقه وَالله أعلم

 

‌‌الحَدِيث الثَّانِي عشر

حَدِيث ثَوْبَان رضي الله عنه فِي النَّهْي عَن التآمر أورد ابْن الْجَوْزِيّ فِي الموضوعات من طَرِيق ابْن عدي حَدثنَا هبيل بن مُحَمَّد ثَنَا عبد الله ابْن عبد الْجَبَّار الخبائري ثَنَا سعيد بن سِنَان ثنى رَاشد بن سعد عَن ثَوْبَان رضي الله عنه قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ لَا تسكن الكفور فَإِن سَاكن الكفور كساكن الْقُبُور وَلَا تؤمرن عَلَى عشرَة فَإِن من تَأمر عَلَى عشرَة جَاءَ يَوْم الْقِيَامَة مغلولة يَدَاهُ إِلَى عُنُقه فكه الْحق أَو أوبقه الظُّلم قَالَ لَا يَصح سعيد بن سِنَان مَتْرُوك
তাঁর প্রতি সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক। কেউ কেউ এই বর্ণনার ভিন্নতাকে (ইজতিরাব) দুর্বলতার কারণ হিসেবে গণ্য করেছেন, কিন্তু তা ত্রুটিপূর্ণ নয়। কেননা হুসাইন (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ছোট সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন; ফলে কখনও তিনি নিজের ও নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মাঝে বর্ণনাকারীর মাধ্যম উল্লেখ করেছেন, আবার কখনও তা বাদ দিয়েছেন। এমতাবস্থায় এটি 'মারাসিলুস সাহাবা' (সাহাবীদের মুরসাল) এর অন্তর্ভুক্ত হবে। ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর বর্ণিত হাদিস থেকে এর স্বপক্ষে একটি সমর্থনকারী বর্ণনা রয়েছে। এটি ইবনে আদি, ইব্রাহিম বিন ইয়াজিদ-এর সূত্রে সুলাইমান আল-আহওয়াল থেকে, তিনি তাউস থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন। হিরমাস-এর হাদিস থেকেও এর বর্ণনা পাওয়া যায়; তাবারানি এটি উসমান বিন ফায়েদ-এর সূত্রে ইকরিমা বিন আম্মার থেকে, তিনি হিরমাস বিন যিয়াদ থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন। তবে উসমান একজন দুর্বল বর্ণনাকারী। ইমাম মালিক 'মুয়াত্তা'-তে যায়েদ বিন আসলাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "সাহায্যপ্রার্থীকে দান করো, যদিও সে ঘোড়ায় চড়ে আসে।" এটি ইয়া'লার হাদিসের জন্য একটি শক্তিশালী সমর্থক বর্ণনা। ইবনে আদি একে মুত্তাসিল (সংযুক্ত) হিসেবে বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন যায়েদ বিন আসলাম-এর সূত্রে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু সালেহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে। কিন্তু আব্দুল্লাহ বিন যায়েদ দুর্বল। তিনি এটি উমর বিন ইয়াজিদ আল-মাদায়িনি-এর সূত্রে আতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন; উমরও দুর্বল। দারাকুতনি 'আল-আফরাদ'-এ হাসান বিন আলী আল-হাশিমির সূত্রে আল-আ'রাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন: "তোমাদের কেউ যেন সাহায্যপ্রার্থীকে দান করা থেকে বিরত না থাকে, যদিও তার হাতে স্বর্ণের কঙ্কন থাকে।" তিনি বলেছেন, এটি আল-আ'রাজ থেকে বর্ণনায় হাসান একক। সমাপ্ত। হাসান একজন দুর্বল বর্ণনাকারী। এটি মুসনাদুল ফিরদাউসেও রয়েছে। সামগ্রিকভাবে, এর সমস্ত সূত্রের প্রতি লক্ষ্য করলে এর বিশুদ্ধতার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। আল্লাহই ভালো জানেন।

 

‌‌দ্বাদশ হাদিস

নেতৃত্ব গ্রহণ করার নিষেধাজ্ঞা বিষয়ে সাওবান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস। ইবনুল জাওজি 'আল-মাওযুয়াত'-এ ইবনে আদির সূত্রে উল্লেখ করেছেন: আমাদের কাছে হাবিল বিন মুহাম্মদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের কাছে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল জাব্বার আল-খাবাইরি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের কাছে সাঈদ বিন সিনান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাকে রাশিদ বিন সাদ বর্ণনা করেছেন সাওবান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা জনবিচ্ছিন্ন পল্লীতে বসবাস করো না, কেননা পল্লীবাসী কবরের বাসিন্দার মতো। আর তোমরা দশজনের ওপরও নেতৃত্ব গ্রহণ করো না; কারণ যে ব্যক্তি দশজনের ওপর নেতৃত্ব দেবে, কিয়ামতের দিন সে এমন অবস্থায় উপস্থিত হবে যে তার দুই হাত তার ঘাড়ের সাথে শিকলবদ্ধ থাকবে। হয় তার ন্যায়বিচার তাকে মুক্ত করবে অথবা তার অন্যায় তাকে ধ্বংস করবে।" তিনি বলেন, এটি সহীহ নয়। সাঈদ বিন সিনান পরিত্যক্ত।
(খণ্ড: ১) যাইলুল কাওলিল মুসাদ্দাদ (পৃষ্ঠা: ৬৭)
قلت سعيد بن سِنَان من رجال ابْن ماجة قَالَ أَحْمد ضَعِيف وَقَالَ يَحْيَى لَيْسَ بِثِقَة وَقَالَ مرّة لَيْسَ بِشَيْء وَقَالَ البُخَارِيّ مُنكر الحَدِيث وَقَالَ النَّسَائِيّ مَتْرُوك لَكِن لَهُ طَرِيقا أُخْرَى فَيبرأ سعيد ابْن سِنَان من عهدته وَالْجُمْلَة الْأَخِيرَة أخرجهَا الإِمَام أَحْمد قَالَ حَدثنَا أَبُو الْيَمَان ثَنَا إِسْمَاعِيل بن عَيَّاش عَن يزِيد بن أبي مَالك عَن لُقْمَان بن عَامر عَن أبي أُمَامَة رضي الله عنه قَالَ مَا من رجل يَلِي أَمر عشرَة فَمَا فَوق ذَلِك إِلَّا أَتَى الله عز وجل مغلولا إِلَى عُنُقه فكه بره أَو أوبقه إثمه قَالَ الْحَافِظ الْمُنْذِرِيّ فِي التَّرْغِيب والترهيب رُوَاته ثِقَات إِلَّا يزِيد بن أبي مَالك وَقَالَ فِي تَرْجَمَة يزِيد بن أبي مَالك الدِّمَشْقِي إِنَّه ثِقَة وَقَالَ بَعضهم لين وَقَالَ الْحَافِظ الهيثمي يزِيد بن أبي مَالك وثقة ابْن حبَان وَغَيره وَبَقِيَّة رِجَاله ثِقَات وَقد رمز السُّيُوطِيّ فِي الْجَامِع الصَّغِير أَنه حسن

قلت إِسْمَاعِيل بن عَيَّاش ثِقَة ثَبت فِي أهل الشَّام وَشَيْخه يزِيد شَامي وَله شَوَاهِد من رِوَايَة عدَّة من الصَّحَابَة قَالَ الإِمَام أَحْمد حَدثنَا مُحَمَّد بن جَعْفَر ثَنَا شُعْبَة عَن يزِيد بن أبي زِيَاد عَن عِيسَى عَن رجل عَن سعد بن عبَادَة رضي الله عنه عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ أَنه قَالَ مَا من أَمِير عشرَة إِلَّا أَتَى الله تَعَالَى مغلولا يَوْم الْقِيَامَة لَا يُطلقهُ إِلَّا الْعدْل وَأخرج عبد الله فِي زوائده حَدثنَا خلف بن الْوَلِيد ثَنَا خَالِد عَن يزِيد بن أبي زِيَاد عَن عِيسَى بن قَائِد عَن رجل عَن سعد بن عبَادَة رضي الله عنه قَالَ سَمِعت غير مرّة وَلَا مرَّتَيْنِ يَقُول قَالَ رَسُول لله صلى الله عليه وسلم َ مَا من أَمِير عشرَة إِلَّا يُؤْتَى يَوْم الْقِيَامَة مغلولا لَا يفكه من ذَلِك الغل إِلَّا الْعدْل وَقَالَ الإِمَام أَحْمد حَدثنَا يَحْيَى بن سعيد عَن ابْن عجلَان قَالَ ثنى سعيد عَن أبي هُرَيْرَة قَالَ وَسمعت أبي يحدث عَن أبي هُرَيْرَة قَالَ أَحْمد وَقلت ليحيى كِلَاهُمَا عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ قَالَ نعم قَالَ مَا من أَمِير عشرَة إِلَّا يُؤْتَى يَوْم الْقِيَامَة مغلولا لَا يفكه إِلَّا الْعدْل أَو يوبقه الْجور رِجَاله رجال الصَّحِيح وَرَوَى الْحَاكِم أَيْضا عَن أبي هُرَيْرَة رضي الله عنه مَرْفُوعا
আমি বলছি, সাঈদ বিন সিনান ইবনে মাজাহ-র বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত। আহমাদ বলেছেন তিনি দুর্বল এবং ইয়াহইয়া বলেছেন তিনি নির্ভরযোগ্য নন, আর তিনি একবার বলেছেন তিনি তুচ্ছ। বুখারী বলেছেন তিনি মুনকারুল হাদিস এবং নাসাঈ বলেছেন তিনি পরিত্যক্ত, কিন্তু এই হাদিসের অন্যান্য সূত্র রয়েছে যার ফলে সাঈদ বিন সিনান এই দায় থেকে মুক্তি পান। আর শেষ বাক্যটি ইমাম আহমাদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবুল ইয়ামান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট ইসমাঈল বিন আইয়াশ ইয়াজিদ বিন আবু মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি লুকমান বিন আমির থেকে, তিনি আবু উমামাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: এমন কোনো লোক নেই যে দশ বা ততোধিক ব্যক্তির বিষয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করে, কিন্তু সে মহান আল্লাহর নিকট তার ঘাড়ের সাথে হাত শৃঙ্খলিত অবস্থায় উপস্থিত হবে না; তার পুণ্য তাকে মুক্ত করবে অথবা তার পাপ তাকে ধ্বংস করবে। হাফেজ মুনজিরি 'আত-তারগিব ওয়াত-তারহিব' গ্রন্থে বলেছেন এর বর্ণনাকারীরা নির্ভরযোগ্য কেবল ইয়াজিদ বিন আবু মালিক ব্যতীত। তিনি ইয়াজিদ বিন আবু মালিক আদ-দিমাশকির জীবনীতে বলেছেন যে তিনি নির্ভরযোগ্য, আর কেউ কেউ তাকে শিথিল বলেছেন। হাফেজ হাইসামি বলেছেন, ইয়াজিদ বিন আবু মালিককে ইবনে হিব্বান ও অন্যান্যরা নির্ভরযোগ্য বলেছেন এবং তার অন্যান্য বর্ণনাকারীরা নির্ভরযোগ্য। সুয়ূতী 'আল-জামি আস-সগির' গ্রন্থে এটিকে হাসান হিসেবে ইঙ্গিত করেছেন।

আমি বলছি, ইসমাঈল বিন আইয়াশ সিরিয়াবাসীদের বর্ণনার ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য ও সুদৃঢ় এবং তার উস্তাদ ইয়াজিদও একজন সিরিয়াবাসী। আর বেশ কয়েকজন সাহাবীর বর্ণনা থেকে এর সমর্থনকারী বর্ণনা রয়েছে। ইমাম আহমাদ বলেন, আমাদের নিকট মুহাম্মাদ বিন জাফর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট শু'বাহ ইয়াজিদ বিন আবু যিয়াদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি ঈসা থেকে, তিনি এক ব্যক্তি থেকে, তিনি সা'দ বিন উবাদাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে তিনি বলেছেন: এমন কোনো দশজনের নেতা নেই যে কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহর নিকট হাত শৃঙ্খলিত অবস্থায় উপস্থিত হবে না, ন্যায়বিচার ব্যতীত অন্য কিছু তাকে মুক্ত করবে না। আব্দুল্লাহ তার 'যাওয়ায়েদ' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট খালাফ বিন ওয়ালিদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট খালিদ ইয়াজিদ বিন আবু যিয়াদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি ঈসা বিন কায়িদ থেকে, তিনি এক ব্যক্তি থেকে, তিনি সা'দ বিন উবাদাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি একবার বা দুবার নয় বরং তার চেয়ে বেশি বলতে শুনেছি যে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: এমন কোনো দশজনের নেতা নেই যাকে কিয়ামতের দিন হাত শৃঙ্খলিত অবস্থায় আনা হবে না, ন্যায়বিচার ব্যতীত অন্য কিছু তাকে সেই শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করবে না। ইমাম আহমাদ বলেন, আমাদের নিকট ইয়াহইয়া বিন সাঈদ ইবনে আজলান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমার নিকট সাঈদ আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণনা করেছেন। আহমাদ বলেন: আমি আমার পিতাকে আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি। আহমাদ বলেন: আমি ইয়াহইয়াকে বললাম, উভয় বর্ণনা কি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে? তিনি বললেন: হ্যাঁ। তিনি বলেছেন: এমন কোনো দশজনের নেতা নেই যাকে কিয়ামতের দিন হাত শৃঙ্খলিত অবস্থায় আনা হবে না, ন্যায়বিচার তাকে মুক্ত করবে অথবা অন্যায় তাকে ধ্বংস করবে। এর বর্ণনাকারীরা সহীহ গ্রন্থের বর্ণনাকারী। হাকীমও আবু হুরাইরাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে মারফূ হিসেবে এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) যাইলুল কাওলিল মুসাদ্দাদ (পৃষ্ঠা: ৬৮)
مَا من أحد يُؤمر عَلَى عشرَة فَصَاعِدا إِلَّا جَاءَ يَوْم الْقِيَامَة فِي الأصفاد والأغلال حَتَّى يفكه عدله أَو يوبقه جوره صَححهُ الْحَاكِم وَأقرهُ الذَّهَبِيّ وَغَيره وَرَوَاهُ عَنهُ الْبَزَّار وَالطَّبَرَانِيّ فِي الْأَوْسَط وَالْبَيْهَقِيّ فِي الشّعب والخطيب فِي رُوَاة مَالك وَأَبُو الْعَبَّاس السراج فِي مُسْنده بطرق مُخْتَلفَة قَالَ الْحَافِظ الْمُنْذِرِيّ رجال الْبَزَّار رجال الصَّحِيح وَرَوَاهُ الْحَاكِم فِي الكنى عَن كَعْب بن عجْرَة نَحوه مَرْفُوعا وَرَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ فِي الْأَوْسَط عَن ابْن عَبَّاس من وَجْهَيْن وَعَن بُرَيْدَة وَأبي الدَّرْدَاء رضي الله عنهم مَرْفُوعا

وَأما الْجُمْلَة الأولَى وَهُوَ قَوْله لَا تسكن الكفور فَلم يروه الإِمَام أَحْمد لَكِن رَوَاهُ البُخَارِيّ فِي الْأَدَب الْمُفْرد قَالَ حَدثنَا أَحْمد بن عَاصِم ثَنَا حَيْوَة ثَنَا بَقِيَّة ثنى صَفْوَان قَالَ سَمِعت رَاشد بن سعد يَقُول سَمِعت ثَوْبَان رضي الله عنه يَقُول قَالَ لي رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ لَا تسكنوا الكفور فَإِن سَاكن الكفور كساكن الْقُبُور وَقَالَ قَالَ أَحْمد الكفور الْقرى وَقَالَ حَدثنَا إِسْحَاق ثَنَا بَقِيَّة ثنى صَفْوَان قَالَ سَمِعت رَاشد بن سعد ثَوْبَان رضي الله عنه قَالَ قَالَ لي النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ يَا ثَوْبَان لَا تسكن الكفور فَإِن سَاكن الكفور كساكن الْقُبُور

قلت بَقِيَّة هُوَ ابْن الْوَلِيد وَصَفوَان هُوَ ابْن عَمْرو الكسكي رمز السُّيُوطِيّ فِي الْجَامِع الصَّغِير لحسنه وَتعقبه عبد الرءوف الْمَنَاوِيّ وَأعله بِبَقِيَّة وَرَاشِد بن سعد

قلت بَقِيَّة من الْحفاظ الْأَعْلَام ثِقَة عِنْد الْجُمْهُور لكنه مُدَلّس قَالَ النَّسَائِيّ وَغَيره إِذا قَالَ ثَنَا ونا فَهُوَ ثِقَة وَإِذا قَالَ عَن فَلَيْسَ بِحجَّة وَقَالَ غير وَاحِد من الْأَئِمَّة إِنَّه ثِقَة إِذا رَوَى عَن الثِّقَات وَقَالَ ابْن عدي إِذا رَوَى عَن أهل الشَّام فَهُوَ ثَبت انْتَهَى وَهَا هُنَا شَيْخه صَفْوَان بن عَمْرو ثِقَة من أهل حمص وَرَوَاهُ بِلَفْظ التحديث وَأما رَاشد بن سعد وثقة ابْن معِين وَأَبُو حَاتِم وَابْن سعد وَقَالَ أَحْمد لَا بَأْس بِهِ
যাকেই দশ বা ততোধিক ব্যক্তির উপর দায়িত্ব অর্পণ করা হয়, কিয়ামতের দিন তাকে শিকল ও বেড়ি পরা অবস্থায় উপস্থিত করা হবে, যতক্ষণ না তার ন্যায়বিচার তাকে মুক্তি দেয় অথবা তার জুলুম তাকে ধ্বংস করে দেয়। ইমাম হাকেম একে সহীহ বলেছেন এবং আয-যাহাবী ও অন্যান্যরা তা সমর্থন করেছেন। আল-বাযযার, আত-তাবারানি 'আল-আওসাত' গ্রন্থে, আল-বাইহাকি 'শুআবুল ঈমান' গ্রন্থে, আল-খতিব 'রুওয়াতু মালিক' গ্রন্থে এবং আবু আল-আব্বাস আস-সাররাজ তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে বিভিন্ন সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। হাফেজ আল-মুনযিরি বলেছেন, বাযযারের বর্ণনাকারীগণ সহীহ গ্রন্থের বর্ণনাকারী। হাকেম 'আল-কুনা' গ্রন্থে কাব ইবনে উজরাহ থেকে অনুরূপ মারফু হাদিস বর্ণনা করেছেন। আত-তাবারানি 'আল-আওসাত' গ্রন্থে ইবনে আব্বাস থেকে দুটি সূত্রে এবং বুরাইদাহ ও আবু দারদা (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে মারফু সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন।

আর প্রথম বাক্যটি, যা হলো তাঁর বাণী: 'তুমি গ্রামগুলোতে বসবাস করো না', তা ইমাম আহমাদ বর্ণনা করেননি; তবে ইমাম বুখারী 'আল-আদাবুল মুফরাদ' গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমাদের কাছে আহমাদ বিন আসিম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের কাছে হাইওয়াহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের কাছে বাকিয়াহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন সাফওয়ান আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন আমি রাশিদ বিন সাদকে বলতে শুনেছি যে, আমি সাওবান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) কে বলতে শুনেছি যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে বলেছেন: 'তোমরা গ্রামগুলোতে (শহর থেকে বিচ্ছিন্ন লোকালয়) বসবাস করো না, কারণ গ্রামবাসী হচ্ছে কবরবাসীর ন্যায়।' আহমাদ (বিন আসিম) বলেন, 'আল-কুফুর' অর্থ গ্রাম। তিনি (বুখারী) আরও বলেন, আমাদের কাছে ইসহাক বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের কাছে বাকিয়াহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন সাফওয়ান আমাকে শুনিয়েছেন, তিনি বলেন আমি রাশিদ বিন সাদ থেকে শুনেছি, তিনি সাওবান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে বলেছেন: 'হে সাওবান! তুমি গ্রামগুলোতে বসবাস করো না, কেননা গ্রামবাসী হচ্ছে কবরবাসীর ন্যায়'।

আমি (গ্রন্থকার) বলছি, এখানে 'বাকিয়াহ' হলেন ইবনে আল-ওয়ালিদ এবং 'সাফওয়ান' হলেন ইবনে আমর আল-কাসকি। সুয়ূতী 'আল-জামি আস-সগির' গ্রন্থে হাদিসটিকে 'হাসান' (উত্তম) হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, কিন্তু আবদুর রউফ আল-মুনাওয়ি এর সমালোচনা করেছেন এবং বাকিয়াহ ও রাশিদ বিন সাদের কারণে একে ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্ত করেছেন।

আমি বলছি, বাকিয়াহ হলেন প্রখ্যাত হাফেজগণের অন্তর্ভুক্ত এবং জমহুর (অধিকাংশ) ওলামার মতে তিনি নির্ভরযোগ্য (সিকাহ), তবে তিনি একজন 'মুদাল্লিস'। ইমাম নাসায়ি ও অন্যান্যরা বলেছেন, তিনি যখন 'হাদ্দাসানা' (আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন) এবং 'আখবারানা' (আমাদের সংবাদ দিয়েছেন) শব্দ ব্যবহার করেন, তখন তিনি নির্ভরযোগ্য; কিন্তু যখন তিনি 'আন' (হতে) শব্দ ব্যবহার করেন, তখন তা দলিল হিসেবে গণ্য হয় না। আইম্মাহগণের (ইমামদের) মধ্যে একাধিক ব্যক্তি বলেছেন যে, তিনি যখন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের থেকে বর্ণনা করেন, তখন তিনি নির্ভরযোগ্য। ইবনে আদি বলেন, তিনি যখন সিরিয়াবাসীদের থেকে বর্ণনা করেন তখন তিনি সুপ্রতিষ্ঠিত। আর এখানে তাঁর উস্তাদ সাফওয়ান বিন আমর হলেন হিমস শহরের একজন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী এবং তিনি এখানে সরাসরি শ্রুতির (হাদ্দাসানা) শব্দে বর্ণনা করেছেন। আর রাশিদ বিন সাদের ক্ষেত্রে কথা হলো, ইবনে মাঈন, আবু হাতিম এবং ইবনে সাদ তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন এবং ইমাম আহমাদ বলেছেন যে তাঁর বর্ণনায় কোনো সমস্যা নেই।
(খণ্ড: ১) যাইলুল কাওলিল মুসাদ্দাদ (পৃষ্ঠা: ৬৯)
وَقَالَ الدَّارَقُطْنِيّ يعْتَبر بِهِ لَا بَأْس بِهِ قَالَ الذَّهَبِيّ فِي الْمِيزَان وشذ ابْن حزم فَقَالَ ضَعِيف انْتَهَى وَقد رَوَى الْبَيْهَقِيّ فِي الشّعب أَبُو نعيم فِي الْحِلْية وَالطَّبَرَانِيّ فِي الْأَوْسَط حَدِيث ثَوْبَان رضي الله عنه بالجملتين مَعًا بأسانيد لَيْسَ فِيهَا سعيد بن سِنَان وَالله أعلم

تَنْبِيه قَالَ الْحَافِظ السُّيُوطِيّ فِي اللآلئ فِي بَاب الِابْتِدَاء وَأعلم أَنه جرت عَادَة الْحفاظ كالحاكم وَابْن حبَان والعقيلي وَغَيرهم أَنهم يحكمون عَلَى حَدِيث بِالْبُطْلَانِ من حيثية سَنَد مَخْصُوص لكَون راوية اخْتلف فِي ذَلِك السَّنَد لذَلِك الْمَتْن وَيكون ذَلِك الْمَتْن مَعْرُوفا من وَجه آخر ويذكرون ذَلِك فِي تَرْجَمَة ذَلِك الرَّاوِي يجرحونه بِهِ فيغتر ابْن الْجَوْزِيّ بذلك وَيحكم عَلَى الْمَتْن بِالْوَضْعِ مُطلقًا ويورده فِي كتاب الموضوعات وَلَيْسَ هَذَا بلائق وَقد عَابَ عَلَيْهِ النَّاس ذَلِك آخِرهم الْحَافِظ ابْن حجر انْتَهَى وَإِنَّمَا نبهنا عَلَى ذَلِك لما نذْكر أَحَادِيث من هَذَا الْقَبِيل

 

‌‌الحَدِيث الثَّالِث عشر

حَدِيث أنس رضي الله عنه قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ يَا فلَان فعلت كَذَا وَكَذَا قَالَ لَا وَالله الَّذِي لَا إِلَه إِلَّا هُوَ مَا فعلته وَالنَّبِيّ صلى الله عليه وسلم َ يعلم أَنه فعله فَقَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ كفر الله ذَنْبك بصدقك بِلَا إِلَه إِلَّا هُوَ أوردهُ ابْن الْجَوْزِيّ فِي الموضوعات من طَرِيق ابْن عدي حَدثنَا عَلّي بن الْقَاسِم ثَنَا طالوت ثَنَا الْحَارِث أَبُو قدامَة ثَنَا ثَابت الْبنانِيّ عَن أنس رضي الله عنه بِهِ وَقَالَ أَبُو قدامَة لَيْسَ بِشَيْء

قلت الْحَارِث بن عبيد أَبُو قدامَة رَوَى لَهُ مُسلم وَأَبُو دَاوُد وَالتِّرْمِذِيّ وَلم يتهم بِالْوَضْعِ قَالَ ابْن مهْدي مَا رَأَيْت إِلَّا خيرا وَقَالَ أَحْمد مُضْطَرب الحَدِيث وَقَالَ ابْن معِين ضَعِيف وَقَالَ مرّة لَيْسَ بِشَيْء وَقَالَ النَّسَائِيّ وَغَيره لَيْسَ بِالْقَوِيّ وَقَالَ ابْن حبَان كَانَ مِمَّن كثر وهمه وَقَالَ الْحَافِظ الْعَسْقَلَانِي فِي التَّقْرِيب صَدُوق يُخطئ انْتَهَى وَهَذِه الصِّيَغ لَا تَقْتَضِي أَن يحكم عَلَى حَدِيثه بِالْوَضْعِ وَقد أخرجه عبد بن حميد فِي مُسْنده عَن مُسلم ابْن إِبْرَاهِيم عَن الْحَارِث بن عبيد بِهِ وَأخرجه الْبَيْهَقِيّ فِي سنَنه وَقَالَ
এবং আদ-দারা কুতনী বলেছেন, তাকে নির্ভরযোগ্য হিসেবে গণ্য করা যায়, তার মধ্যে কোনো সমস্যা নেই। আয-যাহাবী ‘আল-মিজান’ গ্রন্থে বলেছেন, ইবনে হাজম বিচ্ছিন্ন মত পোষণ করেছেন এবং তাকে দুর্বল বলেছেন। সমাপ্ত। আল-বায়হাকী ‘আশ-শুআব’ গ্রন্থে, আবু নুআইম ‘আল-হিলইয়া’ গ্রন্থে এবং তাবারানি ‘আল-আওসাত’ গ্রন্থে সাওবান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসটি উভয় বাক্যসহ এমন সব সনদে বর্ণনা করেছেন যেগুলোতে সাঈদ ইবনে সিনান নেই। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

সতর্কতা: হাফেজ আস-সুয়ূতী ‘আল-লাআলি’ গ্রন্থের প্রারম্ভিক অধ্যায়ে বলেছেন, জেনে রাখুন যে হাফেজগণ যেমন আল-হাকিম, ইবনে হিব্বান, আল-উকাইলি এবং অন্যদের অভ্যাস হলো তারা কোনো নির্দিষ্ট সনদের ভিত্তিতে একটি হাদিসকে বাতিল বলে রায় দেন, কারণ সেই মতন (মূল পাঠ)-এর ওই সনদে বর্ণনাকারী নিয়ে মতভেদ রয়েছে; অথচ ওই মতনটি অন্য কোনো দিক থেকে সুপরিচিত থাকে। তারা ওই বর্ণনাকারীর জীবনীতে এটি উল্লেখ করেন এবং এর মাধ্যমে তাকে দোষারোপ করেন। এরপর ইবনে আল-জাওযি এতে বিভ্রান্ত হন এবং মতনটির ওপর ঢালাওভাবে জাল হওয়ার হুকুম দিয়ে দেন এবং তা ‘আল-মাওদুআত’ (জাল হাদিস বিষয়ক) গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত করেন। এটি সঙ্গত নয়। মানুষ এ কারণে তার সমালোচনা করেছেন, যাদের মধ্যে সর্বশেষ ব্যক্তি হলেন হাফেজ ইবনে হাজার। সমাপ্ত। আমরা এই বিষয়টি সম্পর্কে এজন্যই সতর্ক করলাম যেহেতু আমরা এই পর্যায়ের কিছু হাদিস উল্লেখ করব।

 

‌‌ত্রয়োদশ হাদিস

আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: হে অমুক, তুমি কি অমুক কাজ করেছ? সে বলল: না, আল্লাহর কসম যিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই, আমি তা করিনি। অথচ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জানতেন যে সে তা করেছে। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: ‘তিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই’ এই বাক্যের প্রতি তোমার সত্যনিষ্ঠার কারণে আল্লাহ তোমার গুনাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন। ইবনে আল-জাওযি এটি ইবনে আদি-এর সূত্রে ‘আল-মাওদুআত’ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন—আলী ইবনুল কাসিম আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি তালুত থেকে, তিনি হারিস আবু কুদামাহ থেকে, তিনি সাবিত আল-বুনানি থেকে এবং তিনি আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। আর আবু কুদামাহ সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, তিনি কিছুই নন।

আমি বলছি: হারিস ইবনে উবাইদ আবু কুদামাহ-এর হাদিস মুসলিম, আবু দাউদ ও তিরমিযি বর্ণনা করেছেন এবং তার বিরুদ্ধে হাদিস জাল করার অভিযোগ নেই। ইবনে মাহদি বলেছেন: আমি তার মাঝে কল্যাণ ছাড়া কিছু দেখিনি। আহমাদ বলেছেন: তিনি হাদিসের ক্ষেত্রে বিশৃঙ্খল। ইবনে মাঈন বলেছেন: তিনি দুর্বল। একবার তিনি বলেছেন: তিনি কিছুই নন। নাসাঈ ও অন্যান্যরা বলেছেন: তিনি শক্তিশালী নন। ইবনে হিব্বান বলেছেন: তিনি এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যাদের অনেক ভ্রম হতো। হাফেজ আল-আসকালানি ‘আত-তাকরীব’ গ্রন্থে বলেছেন: তিনি সত্যবাদী তবে ভুল করেন। সমাপ্ত। এই পরিভাষাগুলো তার হাদিসকে জাল হিসেবে বিচার করার দাবি রাখে না। আবদ ইবনে হুমাইদ তার মুসনাদে মুসলিম ইবনে ইব্রাহিম থেকে এবং তিনি হারিস ইবনে উবাইদ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। আল-বায়হাকী তার সুনান গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন:
(খণ্ড: ১) যাইলুল কাওলিল মুসাদ্দাদ (পৃষ্ঠা: ৭০)
لَيْسَ بِالْقَوِيّ وَقَالَ أَحْمد حَدثنَا عَفَّان حَدثنَا حَمَّاد يَعْنِي ابْن سَلمَة نَا ثَابت عَن عبد الله بن عمر رضي الله عنهما أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ قَالَ لرجل فعلت كَذَا وَكَذَا قَالَ لَا وَالَّذِي لَا إِلَه إِلَّا هُوَ مَا فعلت فَقَالَ لَهُ جبرئيل عليه السلام قد فعل وَلَكِن قد غفر لَهُ بقول لَا إِلَه إِلَّا هُوَ قَالَ حَمَّاد لم يسمع هَذَا من ابْن عمر بَينهمَا رجل يَعْنِي ثَابتا أخرجه الْبَيْهَقِيّ أَيْضا وَقَالَ أَحْمد حَدثنَا حسن بن مُوسَى ثَنَا حَمَّاد بن سَلمَة عَن عَطاء بن السَّائِب عَن أبي يَحْيَى عَن ابْن عَبَّاس رضي الله عنهما أَن رجلَيْنِ اخْتَصمَا إِلَى النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ فَسَأَلَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ الْمُدَّعِي الْبَيِّنَة فَلم يكن لَهُ بَيِّنَة فاستحلف الْمَطْلُوب فَحلف بِاللَّه الَّذِي لَا إِلَه إِلَّا هُوَ فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ أَنْت قد فعلت وَلَكِن غفر لَك بإخلاصك قَول لَا إِلَه إِلَّا هُوَ وَقَالَ أَحْمد حَدثنَا عَفَّان ثَنَا حَمَّاد بن سَلمَة فَذكر مثله وَقَالَ أَحْمد حَدثنَا حسن ثَنَا حَمَّاد بن سَلمَة عَن ثَابت الْبنانِيّ عَن ابْن عمر رضي الله عنهما عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ بِمثلِهِ إِلَّا أَنه قَالَ أَخْبرنِي جبرئيل عليه السلام أَنَّك قد فعلت وَلَكِن الله غفر لَك وَقَالَ أَحْمد حَدثنَا أسود بن عَامر ثَنَا شريك عَن عَطاء بن السَّائِب عَن أبي يَحْيَى الْأَعْرَج عَن ابْن عَبَّاس رضي الله عنهما قَالَ اخْتصم إِلَى النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ رجلَانِ فَوَقَعت الْيَمين عَلَى أَحدهمَا فَحلف بِاللَّه الَّذِي لَا إِلَه إِلَّا هُوَ مَا لَهُ عِنْده شَيْء قَالَ فَنزل جبرئيل عَلّي النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ فَقَالَ إِنَّه كَاذِب إِن لَهُ عِنْده حَقه فَأمره أَن يُعْطِيهِ حَقه وَكَفَّارَة يَمِينه مَعْرفَته أَن لَا إِلَه إِلَّا الله أَو شَهَادَته وَقَالَ أَحْمد حَدثنَا هَاشم بن الْقَاسِم حَدثنَا شريك عَن عَطاء بن السَّائِب عَن أبي يَحْيَى الْأَعْرَج عَن ابْن عَبَّاس رضي الله عنهما قَالَ اخْتصم رجلَانِ فدارت الْيَمين عَلَى أَحدهمَا فَحلف بِاللَّه الَّذِي لَا إِلَه إِلَّا هُوَ مَا لَهُ عَلَيْهِ حق فَنزل جبرئيل عليه السلام فَقَالَ مره ليعطه حَقه فَإِن الْحق قبله وَهُوَ كَاذِب وَكَفَّارَة

তিনি শক্তিশালী নন। আহমাদ বলেন: আমাদের নিকট আফফান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাম্মাদ (অর্থাৎ ইবনে সালামাহ) বর্ণনা করেছেন, তিনি সাবিত থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে উমর (আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (আল্লাহর সালাত ও শান্তি তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) এক ব্যক্তিকে বললেন, "তুমি কি অমুক অমুক কাজ করেছ?" সে বলল, "না, সেই সত্তার কসম যিনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, আমি তা করিনি।" তখন জিবরাঈল (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) তাঁকে বললেন, "সে এটি করেছে, তবে 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই'—একথা বলার কারণে তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে।" হাম্মাদ বলেন, তিনি এটি ইবনে উমর থেকে সরাসরি শোনেননি, তাঁদের মাঝে একজন ব্যক্তি (অর্থাৎ সাবিত) রয়েছেন। বায়হাকীও এটি বর্ণনা করেছেন।

আহমাদ বলেন: হাসান ইবনে মুসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাম্মাদ ইবনে সালামাহ আতা ইবনে সাইব থেকে, তিনি আবু ইয়াহইয়া থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেন যে, দুই ব্যক্তি নবী (আল্লাহর সালাত ও শান্তি তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-এর কাছে বিবাদে লিপ্ত হলো। আল্লাহর রাসূল (আল্লাহর সালাত ও শান্তি তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) বাদীর কাছে প্রমাণ চাইলেন, কিন্তু তার কাছে কোনো প্রমাণ ছিল না। ফলে তিনি বিবাদীর নিকট শপথ চাইলেন। সে আল্লাহর নামে শপথ করল—যিনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। তখন আল্লাহর রাসূল (আল্লাহর সালাত ও শান্তি তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) বললেন, "তুমি নিশ্চয়ই এটি করেছ, তবে একনিষ্ঠভাবে 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই'—একথা বলার কারণে তোমাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে।"

আহমাদ বলেন: আফফান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাম্মাদ ইবনে সালামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, এরপর তিনি অনুরূপ উল্লেখ করেন।

আহমাদ বলেন: হাসান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাম্মাদ ইবনে সালামাহ সাবিত আল-বুনানী থেকে, তিনি ইবনে উমর (আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে, তিনি নবী (আল্লাহর সালাত ও শান্তি তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে এতে তিনি বলেছেন: জিবরাঈল (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) আমাকে জানিয়েছেন যে, "নিশ্চয়ই তুমি তা করেছ, কিন্তু আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন।"

আহমাদ বলেন: আসওয়াদ ইবনে আমির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শারীক আতা ইবনে সাইব থেকে, তিনি আবু ইয়াহইয়া আল-আরাজ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: দুই ব্যক্তি নবী (আল্লাহর সালাত ও শান্তি তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-এর কাছে বিবাদ নিয়ে এলো। তাঁদের একজনের ওপর শপথ করার দায়িত্ব পড়ল। সে আল্লাহর নামে শপথ করে বলল—যিনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই—যে তার কাছে বাদীর কিছুই নেই। তিনি বলেন: তখন জিবরাঈল নবী (আল্লাহর সালাত ও শান্তি তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-এর নিকট অবতীর্ণ হলেন এবং বললেন, "নিশ্চয়ই সে মিথ্যাবাদী, নিশ্চয়ই তার কাছে বাদীর হক (অধিকার) রয়েছে।" অতঃপর তিনি তাকে তার হক দিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিলেন। আর তার শপথের কাফফারা হলো তার এই উপলব্ধি যে 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই', অথবা তার এই সাক্ষ্য প্রদান।

আহমাদ বলেন: হাশিম ইবনুল কাসিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শারীক আতা ইবনে সাইব থেকে, তিনি আবু ইয়াহইয়া আল-আরাজ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: দুই ব্যক্তি বিবাদে লিপ্ত হলো এবং তাদের একজনের ওপর শপথ বর্তাল। সে আল্লাহর নামে শপথ করে বলল—যিনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই—যে তার ওপর তার কোনো হক নেই। তখন জিবরাঈল (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) অবতীর্ণ হলেন এবং বললেন, "তাকে নির্দেশ দিন যেন সে তাকে তার হক প্রদান করে, কারণ হকটি তার কাছেই রয়েছে এবং সে মিথ্যা বলেছে।" আর কাফফারা...

(খণ্ড: ১) যাইলুল কাওলিল মুসাদ্দাদ (পৃষ্ঠা: ৭১)
يَمِينه مَعْرفَته بِاللَّه أَنه لَا إِلَه إِلَّا هُوَ أَو شَهَادَته أَنه لَا إِلَه إِلَّا هُوَ وَرَوَى أَبُو دَاوُد حَدثنَا مُوسَى بن إِسْمَاعِيل نَا حَمَّاد فَذكر مثل حَدِيث حسن ابْن مُوسَى وَسكت عَلَيْهِ فَهُوَ عِنْده صَالح وَرِجَال سَنَده ثِقَات قَالَ الْبَيْهَقِيّ إِن كَانَ صَحِيحا فالمقصود مِنْهُ الْبَيَان أَن الذَّنب وَإِن عظم لم يكن مُوجبا للنار مَتى مَا صحت العقيدة وَكَانَ مِمَّن سبقت لَهُ الْمَغْفِرَة وَقَالَ لَيْسَ هَذَا التَّعْيِين لأحد بعد النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ انْتَهَى

قلت وَيحْتَمل أَن الرجل كَانَ كَافِرًا أَو منافقا فأخلص التَّوْحِيد فَقبل ذَلِك مِنْهُ وَجب مَا كَانَ قبله من الْمعاصِي فَلَمَّا خفى التَّأْوِيل عَلَى ابْن الْجَوْزِيّ حكم بِوَضْعِهِ وَالله أعلم

 

‌‌الحَدِيث الرَّابِع عشر

حَدِيث أبي هُرَيْرَة رضي الله عنه قَالَ سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ يَقُول فِي هَذِه الْآيَة {وفرش مَرْفُوعَة} قَالَ غلظ كل فرَاش مِنْهَا مَا بَين السَّمَاء وَالْأَرْض أوردهُ ابْن الْجَوْزِيّ فِي الموضوعات من طَرِيق الْخَطِيب حَدثنَا أَحْمد بن أبي جَعْفَر ثَنَا عبد الله بن مُحَمَّد بن سِنَان ثَنَا جَعْفَر ابْن جبر ثَنَا أبي عَن الْحسن عَن أبي هُرَيْرَة رضي الله عنه بِهِ قَالَ لَا يَصح جبر وَابْنه مَتْرُوكَانِ وَالْمُتَّهَم بِهِ عبد الله بن مُحَمَّد بن سِنَان قَالَ ابْن حبَان يضع الحَدِيث ويقبله ويسرقه

قلت أخرجه الإِمَام أَحْمد من وَجه يَصح قَالَ حَدثنَا حسن ثَنَا ابْن لَهِيعَة ثَنَا دراج عَن أبي الْهَيْثَم عَن أبي سعيد الْخُدْرِيّ رضي الله عنه عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَنه قَالَ {وفرش مَرْفُوعَة} وَالَّذِي نَفسِي بِيَدِهِ أَن ارتفاعها كَمَا بَين السَّمَاء وَالْأَرْض وَأَن مَا بَين السَّمَاء وَالْأَرْض مسيرَة خَمْسمِائَة عَام وَأخرج التِّرْمِذِيّ حَدثنَا أَبُو كريب ثَنَا رشدين بن سعد عَن عَمْرو ابْن الْحَارِث عَن دراج عَن أبي الْهَيْثَم بِهِ نَحوه قَالَ التِّرْمِذِيّ هَذَا حَدِيث
তাঁর ডান হাত হলো আল্লাহ সম্পর্কে তাঁর জ্ঞান যে তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই অথবা তাঁর সাক্ষ্য প্রদান যে আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন— মুসা ইবনে ইসমাইল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ (বর্ণনা করেছেন), অতঃপর তিনি হাসান ইবনে মুসার হাদীসের অনুরূপ উল্লেখ করেছেন এবং এর ওপর নীরব থেকেছেন; সুতরাং এটি তাঁর নিকট গ্রহণযোগ্য (সালেহ) এবং এর সনদের বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (সিকাহ)। বায়হাকী বলেছেন, যদি এটি সহীহ হয় তবে এর উদ্দেশ্য হলো এই বর্ণনা করা যে, গুনাহ যত বড়ই হোক না কেন, তা জাহান্নামকে অবধারিত করে না যতক্ষণ আকিদা সঠিক থাকে এবং সে এমন ব্যক্তি হয় যার জন্য পূর্বেই ক্ষমা নির্ধারিত হয়েছে। তিনি আরও বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরে এই নির্দিষ্টকরণ আর কারো জন্য নেই। সমাপ্ত।

আমি (গ্রন্থকার) বলি, সম্ভাবনা রয়েছে যে লোকটি কাফের বা মুনাফিক ছিল, অতঃপর সে একনিষ্ঠভাবে তাওহীদ গ্রহণ করে, ফলে তার থেকে তা কবুল করা হয়েছে এবং তার পূর্বের সকল পাপ মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। যখন ইবনুল জাওযীর নিকট এই ব্যাখ্যাটি অস্পষ্ট ছিল, তখন তিনি একে জাল (মাওদু) হওয়ার হুকুম দিয়েছেন। আল্লাহই ভালো জানেন।

 

‌‌চতুর্দশ হাদীস

আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদীস, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এই আয়াতের ব্যাপারে বলতে শুনেছি— {এবং উন্নত শয্যাসকল}, তিনি বলেছেন: প্রতিটি শয্যার পুরুত্ব আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী দূরত্বের সমান। ইবনুল জাওযী এটি 'আল-মাওদুআত' কিতাবে খতীবের সূত্রে উল্লেখ করেছেন— আহমাদ ইবনে আবি জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে সিনান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, জাফর ইবনে জবর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি তাঁর পিতার সূত্রে, তিনি হাসানের সূত্রে, তিনি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি (ইবনুল জাওযী) বলেছেন: এটি সহীহ নয়; জবর এবং তার পুত্র উভয়েই পরিত্যক্ত (মাতরুক), আর আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে সিনান এই হাদীসে অভিযুক্ত ব্যক্তি। ইবনে হিব্বান বলেছেন, সে হাদীস জাল করে, গ্রহণ করে এবং চুরি করে।

আমি (গ্রন্থকার) বলি, ইমাম আহমাদ এটি এমন এক সূত্রে বর্ণনা করেছেন যা সহীহ। তিনি বলেছেন: হাসান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে লাহীআ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, দাররাজ আবুল হাইসামের সূত্রে আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: {এবং উন্নত শয্যাসকল}, সেই সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ, সেগুলোর উচ্চতা আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী দূরত্বের সমান এবং আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী দূরত্ব হলো পাঁচশ বছরের পথ। তিরমিযী এটি বর্ণনা করেছেন— আবু কুরাইব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, রুশদীন ইবনে সাদ আমর ইবনুল হারিসের সূত্রে দাররাজ থেকে, তিনি আবুল হাইসাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তিরমিযী বলেছেন, এই হাদীসটি...
(খণ্ড: ১) যাইলুল কাওলিল মুসাদ্দাদ (পৃষ্ঠা: ৭২)
حسن غَرِيب لَا نعرفه إِلَّا من حَدِيث رشدين قَالَ السُّيُوطِيّ وَقد رَأَيْته من حَدِيث غَيره عِنْد أَحْمد فَلَو رَأَى التِّرْمِذِيّ طَرِيق أَحْمد أَيْضا لصححه قَالَ وَقد صَححهُ ابْن حبَان فَأخْرجهُ فِي صَحِيحه من طَرِيق ابْن لَهِيعَة وَصَححهُ الضياء الْمَقْدِسِي فَأخْرجهُ فِي المختارة من طَرِيق رشدين قَالَ وَأخرجه أَيْضا النَّسَائِيّ وَالْبَيْهَقِيّ وَالْبَيْهَقِيّ فِي الْبَعْث انْتَهَى

قلت دراج ضعفه أَبُو حَاتِم وَالدَّارَقُطْنِيّ وَوَثَّقَهُ يَحْيَى بن معِين وَعلي بن الْمَدِينِيّ وَغَيرهمَا وَصحح حَدِيثه عَن أبي الْهَيْثَم التِّرْمِذِيّ وَاحْتج بِهِ ابْن خُزَيْمَة وَابْن حبَان فِي صَحِيحهمَا وَالْحَاكِم وَغَيرهم وَأما رشدين فتكلموا فِيهِ لَكِن قَالَ أَحْمد لَيْسَ بِهِ بَأْس فِي الرَّقَائِق وَقَالَ أَيْضا أَرْجُو أَنه صَالح الحَدِيث وَحسن لَهُ التِّرْمِذِيّ

 

‌‌الحَدِيث الْخَامِس عشر

إِن الله يبْعَث المتكبرين يَوْم الْقِيَامَة فِي صور الذَّر لهوانهم عَلَى الله تطؤهم الْجِنّ وَالْإِنْس وَالدَّوَاب بأرجلها حَتَّى يقْضِي الله بَين عباده فَيدْخل أهل الْجنَّة الْجنَّة وَأهل النَّار النَّار ويعذبون يَوْم الْقِيَامَة فِي وَادي جَهَنَّم أوردهُ ابْن الْجَوْزِيّ فِي الموضوعات من طَرِيق ابْن عدي حَدثنَا ابْن أبي سُوَيْد ثَنَا شَيبَان ثَنَا الْحسن بن دِينَار عَن الخصيب بن جحدر عَن عمرَان بن سُلَيْمَان عَن عَوْف بن مَالك الْأَشْجَعِيّ رضي الله عنه عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ فَذكره قَالَ ابْن الْجَوْزِيّ الخصيب مَتْرُوك وَكَذَا الْحسن انْتَهَى

قلت قد أخرجه الإِمَام أَحْمد من وَجه آخر قَالَ حَدثنَا يَحْيَى بن سعيد عَن ابْن عجلَان ثنى عَمْرو بن شُعَيْب عَن أَبِيه عَن جده رضي الله عنه عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ قَالَ يحْشر المتكبرون يَوْم الْقِيَامَة أَمْثَال الذَّر فِي صور النَّاس يعلوهم كل شَيْء من الصغار حَتَّى يدْخلُونَ سجنا فِي جَهَنَّم يُقَال لَهُ بولس تعلوهم نَار الأنيار يسقون من طِينَة الخبال عصارة أهل النَّار وَأخرج التِّرْمِذِيّ عَن سُوَيْد بن نصر عَن ابْن الْمُبَارك عَن مُحَمَّد بن عجلَان بِهِ وَحسنه وَأخرج النَّسَائِيّ أَيْضا عَن سُوَيْد بِهِ وَله شَاهد من حَدِيث جَابر
এটি হাসান গরিব, যা রুশদাইনের হাদিস ব্যতীত আমাদের জানা নেই। সুয়ূতী বলেছেন, আমি এটি আহমদের নিকট অন্য হাদিসেও দেখেছি। যদি তিরমিজি আহমদের সূত্রটিও দেখতেন, তবে তিনি একে সহিহ বলতেন। তিনি (সুয়ূতী) আরও বলেন, ইবনে হিব্বান একে সহিহ বলেছেন এবং তার সহিহ গ্রন্থে ইবনে লাহিয়া-র সূত্রে বর্ণনা করেছেন। দিয়া আল-মাকদিসিও একে সহিহ বলেছেন এবং তার ‘আল-মুখতারা’ গ্রন্থে রুশদাইনের সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি আরও বলেন, নাসাঈ ও বায়হাকি এটি বর্ণনা করেছেন এবং বায়হাকি তার ‘আল-বাস’ গ্রন্থেও এটি এনেছেন। সমাপ্ত।

আমি বলছি, দাররাজকে আবু হাতিম ও দারাকুতনি দুর্বল বলেছেন, তবে ইয়াহইয়া ইবনে মাইন, আলি ইবনুল মাদিনি এবং অন্যান্যরা তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন। আবু হাইসামের সূত্রে তার বর্ণিত হাদিসকে তিরমিজি সহিহ বলেছেন এবং ইবনে খুজাইমা ও ইবনে হিব্বান তাদের সহিহ গ্রন্থে এবং হাকেম ও অন্যান্যরা তার বর্ণনার মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন। আর রুশদাইনের ব্যাপারে অনেকে সমালোচনা করেছেন, তবে আহমদ বলেছেন যে, ‘রাকাইক’ (মন বিগলিত হওয়ার বিষয়াবলি) এর ক্ষেত্রে তার বর্ণনায় কোনো সমস্যা নেই। তিনি আরও বলেছেন, আমি আশা করি তিনি হাদিসের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য এবং তিরমিজি তার হাদিসকে হাসান বলেছেন।

 

‌‌পঞ্চদশ হাদিস

নিশ্চয়ই আল্লাহ কিয়ামতের দিন অহংকারী ব্যক্তিদের ক্ষুদ্র পিপীলিকার অবয়বে পুনরুত্থিত করবেন আল্লাহর কাছে তাদের তুচ্ছতার কারণে। জীন, মানুষ ও চতুষ্পদ জন্তুরা তাদের নিজ নিজ পা দিয়ে তাদের পদদলিত করবে যতক্ষণ না আল্লাহ বান্দাদের মধ্যে ফয়সালা করেন। অতঃপর জান্নাতবাসীরা জান্নাতে এবং জাহান্নামবাসীরা জাহান্নামে প্রবেশ করবে এবং কিয়ামতের দিন তাদের জাহান্নামের এক উপত্যকায় শাস্তি দেওয়া হবে। ইবনে জাওজি একে ‘আল-মাওদুআত’ (জাল হাদিসসমূহ) গ্রন্থে ইবনে আদির সূত্রে উল্লেখ করেছেন: ইবনে আবি সুওয়াইদ আমাদের বলেছেন, শায়বান আমাদের বলেছেন, হাসান ইবনে দিনার আমাদের বলেছেন খাসিব ইবনে জাহদার থেকে, তিনি ইমরান ইবনে সুলাইমান থেকে, তিনি আউফ ইবনে মালিক আল-আশজায়ি (আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে, তিনি নবী (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তার ওপর বর্ষিত হোক) থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। ইবনে জাওজি বলেছেন: খাসিব পরিত্যক্ত এবং হাসানও তদ্রূপ। সমাপ্ত।

আমি বলছি, ইমাম আহমদ অন্য সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে সাইদ আমাদের বলেছেন ইবনে আজলান থেকে, তিনি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন আমর ইবনে শুআইব থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি তার দাদা (আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে, তিনি নবী (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তার ওপর বর্ষিত হোক) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: কিয়ামতের দিন অহংকারী ব্যক্তিদের মানুষের আকৃতিতে ক্ষুদ্র পিপীলিকার ন্যায় সমবেত করা হবে। তুচ্ছতার কারণে প্রতিটি বস্তু তাদের ওপর উঠে যাবে, শেষ পর্যন্ত তারা জাহান্নামের ‘বুলাস’ নামক একটি কারাগারে প্রবেশ করবে। আগুনের চরম শিখা তাদের ঢেকে ফেলবে এবং তাদের ‘ত্বিনাতুল খাবাল’ অর্থাৎ জাহান্নামীদের দেহনিঃসৃত নির্যাস পান করানো হবে। তিরমিজি এটি সুওয়াইদ ইবনে নসর থেকে, তিনি ইবনুল মুবারক থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে আজলান থেকে বর্ণনা করেছেন এবং একে হাসান বলেছেন। নাসাঈ-ও সুওয়াইদ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং জাবিরের হাদিস থেকে এর সাক্ষ্যমূলক বর্ণনা রয়েছে।
(খণ্ড: ১) যাইলুল কাওলিল মুসাদ্দাদ (পৃষ্ঠা: ৭৩)
بن عبد الله رضي الله عنهما عِنْد الْبَزَّار وَأبي هُرَيْرَة رضي الله عنه عِنْد الْبَزَّار وَأبي الْقَاسِم بن صصري فِي أَمَالِيهِ

 

‌‌الحَدِيث السَّادِس عشر

حَدِيث أبي بَرزَة رضي الله عنه قَالَ لَو لم يبْق من أَجلي إِلَّا يَوْم وَاحِد للقيت الله بِزَوْجَة فَإِنِّي سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ يَقُول شِرَاركُمْ عُزَّابُكُمْ أوردهُ ابْن الْجَوْزِيّ فِي الموضوعات من طَرِيق ابْن عدي حَدثنَا عمر بن سِنَان ثَنَا أَبُو يُوسُف مُحَمَّد بن أَحْمد الرقي ثَنَا خَالِد بن إِسْمَاعِيل عَن عبيد الله بن عمر عَن صَالح مولَى التَّوْأَمَة عَن أبي بَرزَة رضي الله عنه بِهِ قَالَ صَالح مَجْرُوح وخَالِد يضع

قلت قَالَ الإِمَام أَحْمد حَدثنَا عبد الرَّزَّاق ثَنَا مُحَمَّد بن رَاشد عَن مَكْحُول عَن رجل عَن أبي ذَر رضي الله عنه قَالَ دخل عَلَى رَسُول صلى الله عليه وسلم َ رجل يُقَال لَهُ عَكَّاف بن بسر التَّمِيمِي فَقَالَ لَهُ النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ يَا عَكَّاف هَل لَك من زَوْجَة قَالَ لَا الحَدِيث وَفِيه أَنه صلى الله عليه وسلم َ قَالَ إِن سنتنا النِّكَاح شِرَاركُمْ عُزَّابُكُمْ وأرذال مَوْتَاكُم عُزَّابُكُمْ الحَدِيث وَرِجَاله ثِقَات إِلَّا أَن فِيهِ رجلا لم يسم وَقد أخرجه عبد الرَّزَّاق فَسَماهُ غُضَيْف بن الْحَارِث وَقَالَ الْحَافِظ الْعَسْقَلَانِي فِي أَطْرَاف الْمسند الرجل الْمُبْهم هُوَ غُضَيْف بن الْحَارِث سَمَّاهُ مُحَمَّد بن أبي السرى عَن عبد الرَّزَّاق وَذكره ابْن مَنْدَه فِي الْمعرفَة عَنهُ وَلِلْحَدِيثِ طرق غير هَذِه انْتَهَى وَله شَاهد عِنْد الطَّبَرَانِيّ رَوَاهُ فِي مُسْند الشاميين والعقيلي من طَرِيق برد بن سيار عَن مَكْحُول عَن عَطِيَّة بن بسر عَن عَكَّاف بن ودَاعَة فَذكر الحَدِيث بِطُولِهِ وَرَوَاهُ أَبُو يعْلى وَابْن مَنْدَه من طَرِيق بَقِيَّة عَن مُعَاوِيَة بن يَحْيَى عَن سُلَيْمَان بن مُوسَى عَن مَكْحُول عَن غُضَيْف بن الْحَارِث عَن عَطِيَّة ابْن بسر الْمَازِني قَالَ جَاءَ عَكَّاف بن ودَاعَة الْهِلَالِي الحَدِيث وَفِيه بَقِيَّة رَوَاهُ بالعنعنة وَمُعَاوِيَة وَهُوَ الصَّدَفِي ضَعِيف وَهَكَذَا رَوَاهُ ابْن السكن من طَرِيق بَقِيَّة بِهَذَا الْإِسْنَاد إِلَّا أَنه قَالَ عَن عَطِيَّة بسر عَن عَكَّاف وَهَكَذَا رَوَاهُ يُوسُف الغساني عَن سُلَيْمَان بِهَذَا الْإِسْنَاد لَكِن
...ইবনে আব্দুল্লাহ (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বাজ্জারের নিকট এবং আবু হুরায়রা (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বাজ্জারের নিকট এবং আবুল কাসেম বিন সসরি তাঁর 'আমালি' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

 

‌‌ষোড়শ হাদিস

আবু বারযাহ (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: যদি আমার জীবনের কেবল একটি দিনও অবশিষ্ট থাকত, তবে আমি স্ত্রীর সাহচর্যে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করতে পছন্দ করতাম; কারণ আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি যে, "তোমাদের মধ্যে নিকৃষ্টতম তারা যারা অবিবাহিত।" ইবনুল জাওজি এটি 'মাওদুআত' (জাল হাদিসসমূহ) গ্রন্থে ইবনে আদির সূত্রে উল্লেখ করেছেন: আমাদের নিকট উমর বিন সিনান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আবু ইউসুফ মুহাম্মদ বিন আহমদ আর-রাক্কি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট খালিদ বিন ইসমাইল উবাইদুল্লাহ বিন উমর হতে, তিনি সালেহ মাওলা আত-তাওআমাহ হতে, তিনি আবু বারযাহ (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) হতে এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি (ইবনুল জাওজি) বলেন: সালেহ সমালোচিত (মাজরুহ) এবং খালিদ হাদিস জালকারী।

আমি বলি: ইমাম আহমদ বলেছেন, আমাদের নিকট আব্দুর রাজ্জাক বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট মুহাম্মদ বিন রাশিদ মাকহুল হতে, তিনি এক ব্যক্তি হতে, তিনি আবু যার (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আক্কাফ বিন বিসর আত-তামিমি নামক এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট প্রবেশ করলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বললেন: "হে আক্কাফ, তোমার কি কোনো স্ত্রী আছে?" সে বলল: না। (এটি একটি দীর্ঘ হাদিস), যাতে রয়েছে যে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই বিয়ে আমাদের সুন্নাহ; তোমাদের মধ্যে যারা অবিবাহিত তারা নিকৃষ্ট এবং তোমাদের মৃতদের মাঝে যারা অবিবাহিত তারা অধম।" এই হাদিসের বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য, তবে এতে একজন ব্যক্তি রয়েছেন যার নাম উল্লেখ করা হয়নি। আব্দুর রাজ্জাক এটি বর্ণনা করার সময় তাঁর নাম 'গুদাইফ বিন আল-হারিস' বলে উল্লেখ করেছেন। হাফেজ আসকালানি 'আতরাফুল মুসনাদ' গ্রন্থে বলেছেন: অস্পষ্ট ব্যক্তিটি হলেন গুদাইফ বিন আল-হারিস; মুহাম্মদ বিন আবুস সাররি আব্দুর রাজ্জাকের সূত্রে তাঁর নাম উল্লেখ করেছেন এবং ইবনে মানদাহ 'আল-মা’রিফা' গ্রন্থে তাঁর বরাতে এটি উল্লেখ করেছেন। এই হাদিসের আরও কিছু সূত্র রয়েছে (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। তাবারানির নিকট এর একটি সমর্থক বর্ণনা (শাহিদ) রয়েছে, যা তিনি 'মুসনাদুশ শামিয়্যিন'-এ বর্ণনা করেছেন। উকাইলি এটি বুরদ বিন সাইয়ার-এর সূত্রে মাকহুল হতে, তিনি আতিয়্যাহ বিন বিসর হতে এবং তিনি আক্কাফ বিন ওয়াদাআহ হতে বর্ণনা করেছেন এবং পূর্ণ হাদিসটি উল্লেখ করেছেন। আবু ইয়ালা ও ইবনে মানদাহ বাকিয়্যাহ-এর সূত্রে মুয়াবিয়া বিন ইয়াহইয়া হতে, তিনি সুলায়মান বিন মুসা হতে, তিনি মাকহুল হতে, তিনি গুদাইফ বিন আল-হারিস হতে এবং তিনি আতিয়্যাহ বিন বিসর আল-মাজেনি হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আক্কাফ বিন ওয়াদাআহ আল-হিলালি এলেন... (হাদিস)। এই সনদে বাকিয়্যাহ রয়েছেন যিনি সরাসরি শ্রুতির উল্লেখ ছাড়াই (আন'আনা করে) বর্ণনা করেছেন এবং মুয়াবিয়া আস-সাদাফি দুর্বল। ইবনে সাকান বাকিয়্যাহ-এর সূত্রে এই সনদেই অনুরূপ বর্ণনা করেছেন, তবে তিনি আতিয়্যাহ (পুত্র) বিসর হতে এবং তিনি আক্কাফ হতে বলে উল্লেখ করেছেন। ইউসুফ আল-গাসসানিও সুলায়মান হতে এই সনদেই বর্ণনা করেছেন, কিন্তু...
(খণ্ড: ১) যাইলুল কাওলিল মুসাদ্দাদ (পৃষ্ঠা: ৭৪)
لم يذكر غضيفا قَالَ ابْن مَنْدَه وَرَوَاهُ أشعت عَن مُعَاوِيَة بن يَحْيَى عَن رجل من بجيلة عَن سُلَيْمَان بن مُوسَى زَاد فِيهِ رجلا بَينهمَا وَأكْثر الروَاة سموا عَكَّاف بن ودَاعَة الْهِلَالِي وشذ مُحَمَّد بن رَاشد فَقَالَ عَكَّاف بن بسر قَالَ الْحَافِظ فِي الْإِصَابَة الطّرق الْمَذْكُورَة كلهَا لَا تَخْلُو من ضعف واضطراب وَله شَاهد من حَدِيث ابْن عَبَّاس رضي الله عنهما وَرَوَاهُ الديلمي بِسَنَد ضَعِيف بِمثل حَدِيث أبي ذَر رضي الله عنه سَوَاء وَالله أعلم

 

‌‌الحَدِيث السَّابِع عشر

أورد ابْن الْجَوْزِيّ فِي الموضوعات من طَرِيق الطَّبَرَانِيّ حَدثنَا معَاذ ابْن الْمثنى ثَنَا مُسَدّد ثَنَا خَالِد عَن يزِيد بن أبي زِيَاد عَن مُجَاهِد عَن عبد الله ابْن عمر رضي الله عنهما قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ من شرب الْخمر فَجَعلهَا فِي بَطْنه لم تقبل صَلَاة سبعا فَإِن مَاتَ فِيهِنَّ مَاتَ كَافِرًا فَإِذا ذهب عقله عَن شَيْء من الْفَرَائِض لم تقبل مِنْهُ صَلَاة أَرْبَعِينَ يَوْمًا فَإِن فِيهَا مَاتَ كَافِرًا قَالَ لَا يَصح وَيزِيد مَتْرُوك

قلت أخرجه النَّسَائِيّ من طَرِيق يزِيد بن أبي زِيَاد أَيْضا لَكِن جعله من مُسْند عبد الله بن عَمْرو بن الْعَاصِ رضي الله عنهما وَأورد من طَرِيق الدَّارَقُطْنِيّ حَدثنَا مُحَمَّد بن الْقَاسِم بن زَكَرِيَّا ثَنَا بن يَعْقُوب أَنبأَنَا عَمْرو بن ثَابت عَن الْأَعْمَش عَن مُجَاهِد عَن عبد الله بن عمر رضي الله عنهما مَرْفُوعا من شرب الْخمر لم تقبل لَهُ صَلَاة أَرْبَعِينَ يَوْمًا فَإِن مَاتَ فِيهَا مَاتَ كَافِرًا مَا دَامَ فِي عروقه مِنْهَا شَيْء قَالَ تفرد بِهِ عباد عَن عَمْرو وهما مَتْرُوكَانِ قَالَ وَقد رَوَى نَحوه عَن إِبْرَاهِيم بن عبد الله المصِّيصِي من حَدِيث ابْن عَمْرو كَانَ المصِّيصِي يسرق الحَدِيث ويسويه قَالَ وَفِي حَدِيث عَطاء بن السَّائِب من حَدِيث ابْن عمر نَحوه إِلَّا أَنه لم يذكر الْكفْر إِلَّا أَن عَطاء اخْتَلَط فِي آخر عمره فَقَالَ يَحْيَى لَا يحْتَج بحَديثه

قلت حَدِيث عَطاء الْمَذْكُور أخرجه الإِمَام أَحْمد حَدثنَا عبد الرازق ثَنَا معمر عَن عَطاء بن السَّائِب عَن عبد الله بن عبيد بن عُمَيْر عَن ابْن عمر
তিনি গুদাইফ-কে উল্লেখ করেননি। ইবনে মান্দাহ বলেছেন: আশআছ এটি মুয়াবিয়া ইবনে ইয়াহইয়া থেকে, তিনি বাজিলা গোত্রের এক ব্যক্তি থেকে, তিনি সুলায়মান ইবনে মুসা থেকে বর্ণনা করেছেন, এতে তিনি তাদের মাঝে একজন অতিরিক্ত ব্যক্তি যোগ করেছেন। অধিকাংশ বর্ণনাকারী তার নাম আক্কাফ ইবনে ওয়াদাআ আল-হিলালী উল্লেখ করেছেন, তবে মুহাম্মদ ইবনে রাশিদ বিচ্ছিন্ন মত পোষণ করে তাকে আক্কাফ ইবনে বুসর বলেছেন। আল-হাফিয ‘আল-ইসাবাহ’ গ্রন্থে বলেছেন: উল্লিখিত সকল সূত্রই দুর্বলতা ও অসংলগ্নতা মুক্ত নয়। ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হাদীসে এর একটি সমর্থক বর্ণনা রয়েছে। দাইলামী এটি একটি দুর্বল সনদে আবু যর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।

 

‌‌সপ্তদশ হাদীস

ইবনুল জাওযী ‘আল-মাওযুআত’ গ্রন্থে তাবারানীর সূত্রে উল্লেখ করেছেন: মুআয ইবনুল মুসান্না আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, মুসাদ্দাদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, খালিদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইয়াযীদ ইবনে আবি যিয়াদ থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “যে ব্যক্তি মদ পান করল এবং তা তার পেটে প্রবেশ করাল, সাত দিন পর্যন্ত তার সালাত কবুল হবে না। যদি সে এই সময়ের মধ্যে মারা যায়, তবে সে কাফির অবস্থায় মারা যাবে। আর যদি তার জ্ঞান কোনো ফরয কাজ থেকে লোপ পায়, তবে তার চল্লিশ দিনের সালাত কবুল হবে না এবং যদি সে এই সময়ের মধ্যে মারা যায়, তবে কাফির অবস্থায় মারা যাবে।” তিনি বলেছেন: এটি সহীহ নয় এবং ইয়াযীদ পরিত্যক্ত।

আমি বলছি: নাসায়ী এটি ইয়াযীদ ইবনে আবি যিয়াদের সূত্রেই বর্ণনা করেছেন, তবে তিনি একে আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর মুসনাদ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি দারাকুত্বনীর সূত্রে বর্ণনা করেছেন: মুহাম্মদ ইবনুল কাসিম ইবনে যাকারিয়া আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, ইবনে ইয়াকুব আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আমর ইবনে সাবিত আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমাশ থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে মারফূ হিসেবে বর্ণনা করেছেন যে: “যে ব্যক্তি মদ পান করল, চল্লিশ দিন পর্যন্ত তার সালাত কবুল হবে না। যদি সে এই সময়ের মধ্যে মারা যায়, তবে সে কাফির অবস্থায় মারা যাবে যতক্ষণ তার শিরায় এর কিছু অবশিষ্ট থাকে।” তিনি বলেন: আমরের নিকট থেকে আব্বাদ এককভাবে এটি বর্ণনা করেছেন এবং তারা উভয়েই পরিত্যক্ত। তিনি আরও বলেন: ইব্রাহিম ইবনে আব্দুল্লাহ আল-মাসসীসী থেকেও ইবনে আমরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে; মাসসীসী হাদীস চুরি করতেন এবং তা জাল করতেন। তিনি বলেন: ইবনে উমরের হাদীস থেকে আতা ইবনে সাইবের বর্ণনায়ও এর অনুরূপ রয়েছে, তবে তিনি কুফরের কথা উল্লেখ করেননি। কিন্তু আতা তার জীবনের শেষ দিকে বিভ্রান্ত হয়ে গিয়েছিলেন, তাই ইয়াহইয়া বলেছেন: তার হাদীস দলীল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়।

আমি বলছি: আতার উল্লিখিত হাদীসটি ইমাম আহমাদ বর্ণনা করেছেন: আব্দুর রাজ্জাক আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, মা’মার আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আতা ইবনে সাইব থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে উবাইদ ইবনে উমাইর থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে।
(খণ্ড: ১) যাইলুল কাওলিল মুসাদ্দাদ (পৃষ্ঠা: ৭৫)
رَضِيَ اللَّهُ عَنْهما أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ قَالَ من شرب الْخمر لم تقبل لَهُ صَلَاة أَرْبَعِينَ لَيْلَة فَإِن تَابَ تَابَ الله عَلَيْهِ فَإِن عَاد عَاد الله لَهُ فَإِن تَابَ تَابَ الله عَلَيْهِ فَإِن عَاد كَانَ حَقًا عَلَى الله أَن يسْقِيه من نهر الخبال قيل وَمَا نهر الخبال قَالَ صديد أهل النَّار وَأخرجه أَبُو دَاوُد الطَّيَالِسِيّ فِي مُسْنده حَدثنَا همام عَن عَطاء بن السَّائِب عَن عبد الله بن عبيد بن عُمَيْر عَن أَبِيه عَن ابْن عمر رضي الله عنهما سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ يَقُول من شرب الْخمر لم تقبل لَهُ صَلَاة أَرْبَعِينَ لَيْلَة فَإِن تَابَ تَابَ الله عَلَيْهِ فَإِن عَاد لم تقبل لَهُ صَلَاة أَرْبَعِينَ لَيْلَة فَإِن تَبًّا تَابَ الله عَلَيْهِ وَكَانَ حَقًا عَلَى الله أَن يسْقِيه من طِينَة الخبال قيل يَا أَبَا عبد الرَّحْمَن مَا طِينَة الخبال قَالَ صديد أهل النَّار وَأخرجه التِّرْمِذِيّ أخبرنَا قُتَيْبَة ثَنَا جرير عَن عَطاء بن السَّائِب عَن عبد الله بن عبيد بن عُمَيْر عَن أَبِيه قَالَ قَالَ عبد الله بن عمر رضي الله عنهما قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ من شرب الْخمر لم تقبل لَهُ صَلَاة أَرْبَعِينَ صباحا فَإِن تَابَ تَابَ الله عَلَيْهِ فَإِن عَاد لم يقبل الله لَهُ صَلَاة أَرْبَعِينَ صباحا فَإِن تَابَ تَابَ الله عَلَيْهِ فَإِن عَاد لم يقبل الله لَهُ صَلَاة أَرْبَعِينَ صباحا فَإِن تَابَ تَابَ الله عَلَيْهِ فَإِن عَاد الرَّابِعَة لم يقبل الله لَهُ صَلَاة أَرْبَعِينَ صباحا فَإِن تَابَ لم يتب الله عَلَيْهِ وسقاه من نهر الخبال قيل يَا أَبَا عبد الرَّحْمَن وَمَا نهر الخبال قَالَ نهر من صديد أهل النَّار قَالَ التِّرْمِذِيّ هَذَا حَدِيث حسن وَأخرجه الْحَاكِم أَيْضا وَصَححهُ وَلم يتعقب الْحَافِظ الْمُنْذِرِيّ عَلَى تَصْحِيحه وَأخرجه أَبُو يعْلى عَن زُهَيْر عَن جرير بِهِ مثله وَأخرج أَيْضا عَن مُحَمَّد بن بشار نَا أَبُو عَامر نَا أَيُّوب بن ثَابت عَن خَالِد بن كيسَان قَالَ سَمِعت ابْن عمر رضي الله عنهما يَقُول قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ من شرب خمرًا فَسَكِرَ لم تقبل لَهُ صَلَاة أَرْبَعِينَ يَوْمًا فَإِن مَاتَ مِنْهَا دخل النَّار رِجَاله ثِقَات وَأخرجه النَّسَائِيّ أخبرنَا أَبُو بكر بن عَلّي ثَنَا سُرَيج بن يُونُس ثَنَا يَحْيَى بن عبد الْملك عَن الْعَلَاء عَن الْعَلَاء وَهُوَ ابْن الْمسيب عَن فُضَيْل عَن مُجَاهِد ابْن عمر رضي الله عنهما قَالَ من شرب الْخمر فَلم ينتش لم تقبل لَهُ صَلَاة من دَامَ فِي جَوْفه أَو عروقه مِنْهَا شَيْء وَإِن مَاتَ مَاتَ كَافِرًا وَإِن انتشى لم تقبل لَهُ صَلَاة أَرْبَعِينَ

তাদের উভয়ের প্রতি আল্লাহ সন্তুষ্ট হোন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি মদ পান করবে, তার চল্লিশ রাতের সালাত কবুল হবে না। এরপর সে যদি তাওবা করে, তবে আল্লাহ তার তাওবা কবুল করবেন। এরপর সে যদি পুনরায় পান করে, তবে আল্লাহ পুনরায় তার প্রতি (শাস্তি নিয়ে) ফিরে আসবেন। যদি সে আবার তাওবা করে, তবে আল্লাহ তার তাওবা কবুল করবেন। এরপর সে যদি আবারও পান করে, তবে আল্লাহর জন্য এটি আবশ্যক হয়ে যায় যে, তিনি তাকে খবাল নদী (নাহরুল খাবাল) থেকে পান করাবেন।" জিজ্ঞাসা করা হলো, "খবাল নদী কী?" তিনি বললেন, "জাহান্নামীদের শরীর নিসৃত পুঁজ।"

আবু দাউদ আত-তায়ালিসি এটি তার মুসনাদে বর্ণনা করেছেন। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাম, আতা ইবনুল সায়িব থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে উবাইদ ইবনে উমাইর থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি ইবনে উমর (তাদের উভয়ের প্রতি আল্লাহ সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেন যে, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "যে ব্যক্তি মদ পান করবে, তার চল্লিশ রাতের সালাত কবুল হবে না। এরপর সে যদি তাওবা করে, তবে আল্লাহ তার তাওবা কবুল করবেন। সে যদি পুনরায় পান করে, তবে তার চল্লিশ রাতের সালাত কবুল হবে না। এরপর সে যদি তাওবা করে, তবে আল্লাহ তার তাওবা কবুল করবেন। এমতাবস্থায় আল্লাহর জন্য এটি আবশ্যক হয়ে যায় যে, তিনি তাকে খবাল কাদা (ত্বীনাতুল খাবাল) থেকে পান করাবেন।" জিজ্ঞাসা করা হলো, "হে আবু আবদুর রহমান! খবাল কাদা কী?" তিনি বললেন, "জাহান্নামীদের শরীর নিসৃত পুঁজ।"

ইমাম তিরমিজি এটি বর্ণনা করেছেন। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন কুতাইবাহ, তিনি জারীর থেকে, তিনি আতা ইবনুল সায়িব থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে উবাইদ ইবনে উমাইর থেকে, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে উমর (তাদের উভয়ের প্রতি আল্লাহ সন্তুষ্ট হোন) বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি মদ পান করবে, তার চল্লিশ সকালের (দিনের) সালাত কবুল হবে না। এরপর সে যদি তাওবা করে, তবে আল্লাহ তার তাওবা কবুল করবেন। এরপর সে যদি পুনরায় পান করে, তবে আল্লাহ তার চল্লিশ সকালের সালাত কবুল করবেন না। এরপর সে যদি তাওবা করে, তবে আল্লাহ তার তাওবা কবুল করবেন। পুনরায় যদি সে পান করে, তবে আল্লাহ তার চল্লিশ সকালের সালাত কবুল করবেন না। এরপর সে যদি তাওবা করে, তবে আল্লাহ তার তাওবা কবুল করবেন। অতঃপর সে যদি চতুর্থবার পুনরায় পান করে, তবে আল্লাহ তার চল্লিশ সকালের সালাত কবুল করবেন না; এমতাবস্থায় সে যদি তাওবাও করে, আল্লাহ তার তাওবা কবুল করবেন না এবং তাকে খবাল নদী থেকে পান করাবেন।" জিজ্ঞাসা করা হলো, "হে আবু আবদুর রহমান! খবাল নদী কী?" তিনি বললেন, "জাহান্নামীদের শরীর নিসৃত পুঁজের একটি নদী।"

ইমাম তিরমিজি বলেন, এই হাদিসটি হাসান। আল-হাকিমও এটি বর্ণনা করেছেন এবং একে সহিহ বলেছেন। হাফেজ আল-মুনজিরি তার এই সহিহ বলার ওপর কোনো আপত্তি করেননি। আবু ইয়ালা এটি যুহাইর থেকে এবং তিনি জারীর থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তিনি মুহাম্মদ ইবনে বাশার থেকেও বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু আমির থেকে, তিনি আইয়ুব ইবনে সাবিত থেকে, তিনি খালিদ ইবনে কায়সান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি ইবনে উমরকে (তাদের উভয়ের প্রতি আল্লাহ সন্তুষ্ট হোন) বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি মদ পান করল এবং মাতাল হলো, তার চল্লিশ দিনের সালাত কবুল হবে না। আর সে যদি এই অবস্থায় মারা যায়, তবে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।" এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।

ইমাম নাসাঈ এটি বর্ণনা করেছেন। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর ইবনে আলী, তিনি সুরাইজ ইবনে ইউনুস থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে আবদুল মালিক থেকে, তিনি আলা থেকে—আর তিনি হলেন আলা ইবনুল মুসায়্যিব—তিনি ফুযাইল থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি ইবনে উমর (তাদের উভয়ের প্রতি আল্লাহ সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি মদ পান করল কিন্তু মাতাল হলো না, যতক্ষণ তার উদরে বা রগসমূহে এর কোনো অংশ অবশিষ্ট থাকবে, ততক্ষণ তার সালাত কবুল হবে না। আর সে যদি এমতাবস্থায় মারা যায়, তবে কাফের হয়ে মারা যাবে। আর যদি সে মাতাল হয়, তবে তার চল্লিশ দিনের সালাত কবুল হবে না।"